সপ্তম খণ্ড : ১ করিন্থীয় (1Cor)
অষ্টম খণ্ড : ২ করিন্থীয় (2Cor)
ত্রয়োদশ খণ্ড : ১ থিষলনীকীয় (1Thess)
চতুর্দশ খণ্ড : ২ থিষলনীকীয় (2Thess)
ত্রয়োবিংশ খণ্ড : ১ ইউহোন্না (1John)
চর্তুবিংশ খণ্ড : ২ ইউহোন্না (2John)
পঞ্চবিংশ খণ্ড : ৩ ইউহোন্না (3John)
সপ্তবিংশ খণ্ড : প্রকাশিত কালাম (Rev)
MyBible.zone@language: bn
MyBible.zone@chapter.string: ― %s ―
MyBible.zone@chapter.string.ps: ― %s ―
MyBible.zone@digits0-9: ০১২৩৪৫৬৭৮৯
MyBible.zone@detailed.info: Kitabul Muqaddas (BACIB) Copyright © Biblical Aids to Churches in Bangladesh, 2013
1
আদিতে আল্লাহ্ আসমান ও দুনিয়া সৃষ্টি করলেন।
2
দুনিয়া আকারবিহীন ও শূন্য ছিল এবং অন্ধকারে ঢাকা গভীর পানির উপরে ছিল, আর আল্লাহ্র রূহ্ পানির উপরে বিচরণ করছিলেন।
3 আল্লাহ্ বললেন, আলো হোক; তাতে আলো হল।
4 তখন আল্লাহ্ আলো উত্তম দেখলেন এবং আল্লাহ্ অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করলেন।
5 আল্লাহ্ আলোর নাম ‘দিন’ ও অন্ধকারের নাম ‘রাত’ রাখলেন। আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে তা প্রথম দিন হল।
6
পরে আল্লাহ্ বললেন, পানির মধ্যে একটা শূন্যস্থান সৃষ্টি হোক ও পানিকে দু’ভাগে বিভক্ত করুক।
7 আল্লাহ্ এভাবে একটা শূন্যস্থান সৃষ্টি করে শূন্যস্থানের উপরের পানি থেকে শূন্যস্থানের নিচের পানি বিভক্ত করলেন; তাতে সেরকম হল।
8 পরে আল্লাহ্ শূন্যস্থানের নাম আসমান রাখলেন আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে দ্বিতীয় দিন হল।
9
পরে আল্লাহ্ বললেন, আসমানের নিচস্থ সমস্ত পানি একটি স্থানে সংগৃহীত হোক ও স্থল প্রকাশিত হোক; তাতে সেরকম হল।
10 তখন আল্লাহ্ স্থলের নাম ভূমি ও জমাকৃত পানির নাম সমুদ্র রাখলেন; আর আল্লাহ্ দেখলেন যে, তা উত্তম।
11 পরে আল্লাহ্ বললেন, ভূমি ঘাস, বীজ উৎপাদন করে এমন ওষধি ও বীজসুদ্ধ নিজ নিজ জাত অনুসারে ফল উৎপাদন করে এমন সব ফলের গাছ ভূমির উপরে উৎপন্ন করুক; তাতে সেরকম হল।
12 ফলত ভূমি ঘাস, নিজ নিজ জাত অনুসারে বীজ উৎপাদনকারী ওষধি ও নিজ নিজ জাত অনুসারে বীজসুদ্ধ ফল উৎপাদন করে এমন গাছ উৎপন্ন করলো; আর আল্লাহ্ দেখলেন যে, সেসব উত্তম।
13 আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে তা তৃতীয় দিন হল।
14
পরে আল্লাহ্ বললেন, রাত থেকে দিনকে পৃথক করার জন্য আসমানের শূন্যস্থানে জ্যোতির্গণ সৃষ্টি হোক; সেসব চিহ্নের জন্য, ঋতুর জন্য এবং দিনের ও বছরের জন্য হোক।
15 এছাড়া, দুনিয়াতে আলো দেবার জন্য প্রদীপ বলে তা আসমানের শূন্যস্থানে থাকুক; তাতে সেরকম হল।
16 ফলত আল্লাহ্ দিনের উপরে কর্তৃত্ব করতে একটি মহাজ্যোতি ও রাতের উপরে কর্তৃত্ব করতে তার চেয়ে ক্ষুদ্র একটি জ্যোতি— এই দুটি বড় জ্যোতি এবং নক্ষত্রগুলো সৃষ্টি করলেন।
17 আর দুনিয়াতে আলো দেবার জন্য, দিন ও রাতের উপরে কর্তৃত্ব করার জন্য,
18 এবং আলো থেকে অন্ধকার পৃথক করার জন্য আল্লাহ্ ঐ জ্যোতির্গণকে আসমানের শূন্যস্থানে স্থাপন করলেন। আল্লাহ্ দেখলেন যে, সেসব উত্তম।
19 আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে চতুর্থ দিন হল।
20
পরে আল্লাহ্ বললেন, পানি বিভিন্ন জাতের জীবন্ত প্রাণীকুলে ভরে উঠুক এবং ভূমির উপরে আসমানের শূন্যস্থানে পাখিগুলো উড়ে বেড়াক।
21 তখন আল্লাহ্ বড় বড় তিমি ও পানিতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাতের জীবন্ত প্রাণীকুল এবং নানা জাতের পাখির সৃষ্টি করলেন। পরে আল্লাহ্ দেখলেন যে, সেসব উত্তম।
22 আর আল্লাহ্ তাদের দোয়া করে বললেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, সমুদ্রের পানি পরিপূর্ণ কর এবং দুনিয়াতে পাখিদেরও বৃদ্ধি হোক।
23 আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে পঞ্চম দিন হল।
24
পরে আল্লাহ্ বললেন, ভূমি বিভিন্ন জাতের প্রাণী, অর্থাৎ নিজ নিজ জাত অনুসারে গৃহপালিত পশু, সরীসৃপ ও বন্য পশু উৎপন্ন করুক; তাতে সেরকম হল।
25 ফলত আল্লাহ্ নিজ নিজ জাত অনুসারে বন্য পশু ও নিজ নিজ জাত অনুসারে গৃহপালিত পশু ও নিজ নিজ জাত অনুসারে যাবতীয় ভূচর সরীসৃপ সৃষ্টি করলেন; আর আল্লাহ্ দেখলেন যে, সেসব উত্তম।
26
পরে আল্লাহ্ বললেন, আমরা আমাদের প্রতিমূর্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মানুষ সৃষ্টি করি; আর তারা সমুদ্রের মাছের উপরে, আসমানের পাখিগুলোর উপরে, পশুদের উপরে, সমস্ত দুনিয়ার উপরে ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় সরীসৃপের উপরে কর্তৃত্ব করুক।
27 পরে আল্লাহ্ তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষ সৃষ্টি করলেন; আল্লাহ্র প্রতিমূর্তিতেই তাকে সৃষ্টি করলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করে তাদেরকে সৃষ্টি করলেন।
28 পরে আল্লাহ্ তাদেরকে দোয়া করলেন; আল্লাহ্ বললেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও এবং দুনিয়া পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর আর সমুদ্রের মাছের উপরে, আসমানের পাখিগুলোর উপরে এবং ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্তৃত্ব কর।
29 আল্লাহ্ আরও বললেন, দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে অবস্থিত যাবতীয় বীজ উৎপাদনকারী ওষধি ও যাবতীয় বীজসুদ্ধ ফলদায়ী গাছ তোমাদেরকে দিলাম, তা তোমাদের খাদ্য হবে।
30 আর যাবতীয় ভূচর পশু ও আসমানের যাবতীয় পাখি ও ভূমিতে যাবতীয় গমনশীল কীট, এসব প্রাণীর খাবারের জন্য সবুজ সমস্ত ওষধি গাছ দিলাম। তাতে সেরকম হল।
31 পরে আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্ট সমস্ত বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও সকাল হলে ষষ্ঠ দিন হল।
1
এভাবে আসমান ও দুনিয়া এবং তার মধ্যকার সমস্ত কিছুর সৃষ্টির কাজ সমাপ্ত হল।
2 পরে আল্লাহ্ সপ্তম দিনে তাঁর কাজ থেকে নিবৃত্ত হলেন, সেই সপ্তম দিনে তাঁর কৃত সমস্ত কাজ থেকে বিশ্রাম করলেন।
3 আর আল্লাহ্ সেই সপ্তম দিনকে দোয়া করে পবিত্র করলেন, কেননা সেই দিনে আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্ট ও কৃত সমস্ত কাজ থেকে বিশ্রাম করলেন।
4
সৃষ্টির সময়ে যেদিন মাবুদ আল্লাহ্ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করলেন, তখনকার আসমান ও দুনিয়ার বিবরণ এই—
5 সেই সময়ে দুনিয়াতে কোন উদ্ভিদ হত না আর ক্ষেতের কোন ফসলও উৎপন্ন হত না, কেননা মাবুদ আল্লাহ্ দুনিয়াতে তখনও বৃষ্টি বর্ষণ করেন নি আর ভূমিতে কৃষিকর্ম করতে কোন মানুষ ছিল না।
6 তবে ভূমির নিচ থেকে উৎসারিত পানির ধারা উঠে সমস্ত ভূতলকে ভিজিয়ে দিত।
7 আর মাবুদ আল্লাহ্ মাটির ধূলি দিয়ে আদমকে (অর্থাৎ মানুষকে) সৃষ্টি করলেন এবং তার নাসিকায় ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন; তাতে মানুষ জীবন্ত প্রাণী হল।
8
আর মাবুদ আল্লাহ্ পূর্ব দিকে, আদনে, একটি বাগান প্রস্তুত করলেন এবং সেই স্থানে তাঁর সৃষ্ট ঐ মানুষটিকে রাখলেন।
9 আর মাবুদ আল্লাহ্ ভূমি থেকে সব জাতের সুদৃশ্য ও সুখাদ্যদায়ক গাছ এবং সেই বাগানের মধ্যস্থানে জীবন-বৃক্ষ ও নেকী-বদী-জ্ঞানের বৃক্ষ উৎপন্ন করলেন।
10
আর বাগানে সেচ দেবার জন্য আদন থেকে একটি নদী বের হল এবং সেটি সেখান থেকে বিভক্ত হয়ে চারটি শাখানদীতে বিভক্ত হল।
11 প্রথম নদীর নাম পীশোন; এই নদীটি সমস্ত হবীলা দেশ বেষ্টন করে,
12 সেখানে সোনা পাওয়া যায়, আর সেই দেশের সোনা উত্তম এবং সেই স্থানে গুগ্গুল ও গোমেদমণি জন্মে।
13 দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন; এই নদীটি সমস্ত কূশ দেশ বেষ্টন করে।
14 তৃতীয় নদীর নাম হিদ্দেকল; এটি আশেরিয়া দেশের সম্মুখ দিয়ে প্রবাহিত হয়। চতুর্থ নদীর নাম ফোরাত।
15
পরে মাবুদ আল্লাহ্ আদমকে নিয়ে আদন বাগানের কৃষিকর্ম করার ও তা রক্ষা করার জন্য সেখানে রাখলেন।
16 আর মাবুদ আল্লাহ্ আদমকে এই হুকুম দিলেন, তুমি এই বাগানের সমস্ত গাছের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করো;
17 কিন্তু নেকী-বদী-জ্ঞানের বৃক্ষের ফল ভোজন করো না, কেননা যেদিন তার ফল খাবে সেদিন মরবেই মরবে।
18
আর মাবুদ আল্লাহ্ বললেন, মানুষের একাকী থাকা ভাল নয়, আমি তার জন্য তার অনুরূপ সহকারিণী সৃষ্টি করবো।
19 আর মাবুদ আল্লাহ্ মাটি থেকে যে সব বন্য পশু ও আসমানের পাখি সৃষ্টি করেছিলেন, আদম তাদের কি কি নাম রাখবেন তা জানতে সেগুলোকে তাঁর কাছে আনলেন। তখন আদম যে জীবন্ত প্রাণীর যে নাম রাখলেন সেটির সেই নাম হল।
20 আদম যাবতীয় গৃহপালিত পশুর, আসমানের পাখির ও যাবতীয় বন্য পশুর নাম রাখলেন, কিন্তু মানুষের জন্য তাঁর অনুরূপ কোন সহকারিণী পাওয়া গেল না।
21 পরে মাবুদ আল্লাহ্ আদমকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন; আর তিনি তাঁর একখানি পাঁজরের হাড় নিলেন এবং মাংস দিয়ে সেই স্থান পূর্ণ করলেন।
22 মাবুদ আল্লাহ্ আদম থেকে নেওয়া সেই পাঁজরের হাড় দিয়ে এক জন স্ত্রীলোক সৃষ্টি করলেন ও তাঁকে আদমের কাছে আনলেন।
23 তখন আদম বললেন, এবার হয়েছে; ইনি আমার অস্থির অস্থি ও মাংসের মাংস; এঁর নাম হবে নারী, কেননা ইনি নর থেকে গৃহীত হয়েছেন।
24 এই কারণে মানুষ তার পিতামাতাকে ত্যাগ করে তার স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হবে এবং তারা একাঙ্গ হবে।
25 ঐ সময়ে আদম ও তাঁর স্ত্রী উভয়ে উলঙ্গ থাকতেন এবং তাঁদের কোন লজ্জাবোধ ছিল না।
1
মাবুদ আল্লাহ্র সৃষ্ট ভূচর প্রাণীদের মধ্যে সাপ সবচেয়ে ধূর্ত ছিল। সে ঐ নারীকে বললো, আল্লাহ্ কি সত্যিই বলেছেন, তোমরা এই বাগানের কোন গাছের ফল খেয়ো না?
2 নারী সাপকে বললেন, আমরা এই বাগানের সমস্ত গাছের ফল খেতে পারি;
3 কেবল বাগানের মাঝখানে যে গাছটি আছে তার ফলের বিষয় আল্লাহ্ বলেছেন, তোমরা তা ভোজন করো না, স্পর্শও করো না, করলে মরবে।
4 তখন সাপ নারীকে বললো, কোনক্রমে মরবে না;
5 কেননা আল্লাহ্ জানেন, যেদিন তোমরা তা খাবে সেদিন তোমাদের চোখ খুলে যাবে, তাতে তোমরা আল্লাহ্র মত হয়ে নেকী-বদীর জ্ঞান লাভ করবে।
6 নারী যখন দেখলেন, ঐ গাছটির ফল সুখাদ্যদায়ক ও দেখতেও খুবই আকর্ষণীয়, আর সেটি জ্ঞানদায়ী বৃক্ষ বলে আকাঙ্খা করার মত, তখন তিনি তার ফল পেড়ে ভোজন করলেন। পরে সেই ফল তাঁর স্বামীকে দিলে তিনিও ভোজন করলেন।
7 তাতে তাঁদের উভয়ের চোখ খুলে গেল এবং তাঁরা বুঝতে পারলেন যে তাঁরা উলঙ্গ; আর ডুমুরের পাতা সেলাই করে ঘাগ্রা প্রস্তুত করে নিলেন।
8
পরে তাঁরা মাবুদ আল্লাহ্র আওয়াজ শুনতে পেলেন, সন্ধ্যার বাতাস যখন বইতে শুরু করছিল তখন মাবুদ বাগানে বেড়াচ্ছিলেন। তাতে আদম ও তাঁর স্ত্রী মাবুদ আল্লাহ্র সম্মুখ থেকে চলে গিয়ে বাগানের গাছগুলোর মধ্যে লুকালেন।
9 তখন মাবুদ আল্লাহ্ আদমকে ডেকে বললেন, তুমি কোথায়?
10
তিনি বললেন, আমি বাগানে তোমার আওয়াজ শুনে ভয় পেয়েছি, কারণ আমি উলঙ্গ, তাই নিজেকে লুকিয়েছি।
11
তিনি বললেন, তুমি যে উলঙ্গ তা তোমাকে কে বললো? যে গাছের ফল ভোজন করতে তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তুমি কি তার ফল ভোজন করেছ?
12
তাতে আদম বললেন, তুমি আমার সঙ্গীনী করে যে স্ত্রী দিয়েছ, সে আমাকে ঐ গাছের ফল দিয়েছিল, তাই খেয়েছি।
13
তখন মাবুদ আল্লাহ্ নারীকে বললেন, তুমি এ কি করলে?
নারী বললেন, সাপ আমাকে ভুলিয়েছিল, তাই খেয়েছি।
14
পরে মাবুদ আল্লাহ্ সাপকে বললেন, তুমি এই কাজ করেছ, এজন্য গৃহপালিত ও বন্য পশুদের মধ্যে তোমাকে সবচেয়ে বেশি বদদোয়া দেওয়া হল; তুমি বুকে হাঁটবে এবং সারা জীবন ধূলি ভোজন করবে।
15 আর আমি তোমাতে ও নারীতে এবং তোমার বংশে ও তার বংশে পরস্পর শত্রুতা জন্মাব; সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে এবং তুমি তার পায়ের গোড়ালি চূর্ণ করবে।
16
পরে তিনি নারীকে বললেন, আমি তোমার গর্ভবেদনা অতিশয় বৃদ্ধি করবো, তুমি বেদনাতে সন্তান প্রসব করবে। স্বামীর প্রতি তোমার বাসনা থাকবে এবং সে তোমার উপরে কর্তৃত্ব করবে।
17
আর তিনি আদমকে বললেন, যে গাছের ফলের বিষয়ে আমি তোমাকে বলেছিলাম, তুমি তা ভোজন করো না, তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনে সেই গাছের ফল ভোজন করেছ। তাই তোমার দরুন ভূমিকে বদদোয়া দেওয়া হল; তুমি সারা জীবন কষ্ট করে তা ভোগ করবে;
18 আর তাতে তোমার জন্য কাঁটা ও শেয়ালকাঁটা জন্মাবে এবং তুমি ক্ষেতের ওষধি ভোজন করবে।
19 তুমি যে মাটি থেকে গৃহীত হয়েছ, যে পর্যন্ত সেই মাটিতে ফিরে না যাবে, ততদিন তুমি ঘর্মাক্ত মুখে আহার করবে; কেননা তুমি ধূলি এবং ধূলিতে ফিরে যাবে।
20
পরে আদম তাঁর স্ত্রীর নাম হাওয়া (জীবিত) রাখলেন, কেননা তিনি জীবিত সকলের মা হলেন।
21 আর মাবুদ আল্লাহ্ আদম ও তাঁর স্ত্রীর জন্য চামড়ার পোশাক প্রস্তুত করে তাঁদেরকে পরালেন।
22
আর মাবুদ আল্লাহ্ বললেন, দেখ, মানুষ নেকী-বদীর জ্ঞান লাভ করার বিষয়ে আমাদের এক জনের মত হল; এখন যেন সে হাত বাড়িয়ে জীবন-বৃক্ষের ফলও পেড়ে ভোজন করে অনন্তজীবী না হয়!
23 সেজন্য মাবুদ আল্লাহ্ তাঁকে আদন বাগান থেকে বের করে দিলেন যেন তিনি যা থেকে গৃহীত সেই মাটিতে কৃষিকর্ম করেন।
24 এভাবে আল্লাহ্ মানুষকে তাড়িয়ে দিলেন এবং জীবন-বৃক্ষের পথ রক্ষা করার জন্য আদন বাগানের পূর্ব দিকে কারুবীদেরকে ও ঘূর্ণায়মান তেজোময় তলোয়ার রাখলেন।
1
পরে আদম তাঁর স্ত্রী হাওয়ার সঙ্গে মিলিত হলে পর তিনি গর্ভবতী হয়ে কাবিলকে প্রসব করে বললেন, মাবুদের সহায়তায় আমি পুত্র সন্তান লাভ করলাম।
2 পরে তিনি হাবিল নামে তার সহোদরকে প্রসব করলেন। হাবিল ভেড়ার পাল চরাত, আর কাবিল ভূমিতে কৃষি কাজ করতো।
3 পরে কালানুক্রমে কাবিল উপহার হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে ভূমির ফল উৎসর্গ করলো।
4 আর হাবিলও নিজের পালের প্রথমজাত কয়েকটি পশু ও তাদের চর্বি কোরবানী করলো। তখন মাবুদ হাবিল ও তার উপহার কবুল করলেন;
5 কিন্তু কাবিল ও তার উপহার কবুল করলেন না; এজন্য কাবিল ভীষণ ক্রুদ্ধ হল আর মুখ বিষণ্ন করে রইলো।
6 তাতে মাবুদ কাবিলকে বললেন, তুমি কেন ক্ষুব্ধ হয়েছ? তোমার মুখ কেন বিষণ্ন হয়েছে?
7 যদি সদাচরণ করো, তবে কি কবুল করা হবে না? আর যদি সদাচরণ না করো, তবে গুনাহ্ দরজায় ওৎ পেতে বসে রয়েছে। তোমার প্রতি তার বাসনা থাকবে এবং তুমি তার উপরে কর্তৃত্ব করবে।
8
আর কাবিল তার ভাই হাবিলের সঙ্গে কথাবার্তা বললো; পরে তারা মাঠে গেলে কাবিল তার ভাই হাবিলের বিরুদ্ধে উঠে তাকে খুন করলো।
9 পরে মাবুদ কাবিলকে বললেন, তোমার ভাই হাবিল কোথায়? সে জবাব দিল, আমি জানি না; আমার ভাইয়ের রক্ষক কি আমি?
10 তিনি বললেন, তুমি এ কি করেছ? তোমার ভাইয়ের রক্ত ভূমি থেকে আমার কাছে কাঁদছে।
11 আর এখন, যে ভূমি তোমার হাত থেকে তোমার ভাইয়ের রক্ত গ্রহণ করার জন্য নিজের মুখ খুলেছে, সেই ভূমিতে তুমি বদদোয়াগ্রস্ত হলে।
12 ভূমিতে কৃষিকর্ম করলেও তা তার শক্তি দিয়ে তোমার সেবা আর করবে না; তুমি দুনিয়াতে পলাতক ও ভ্রমণকারী হবে।
13
তাতে কাবিল মাবুদকে বললো, আমার অপরাধের ভার অসহ্য।
14 দেখ, আজ তুমি ভূতল থেকে আমাকে তাড়িয়ে দিলে, আর তোমার দৃষ্টি থেকে আমি লুকিয়ে থাকব। আমি দুনিয়াতে পলাতক ও ভ্রমণকারী হব, আর আমাকে যে পাবে সেই আমাকে খুন করবে।
15
তাতে মাবুদ তাকে বললেন, এজন্য কাবিলকে যে খুন করবে, সে সাত গুণ প্রতিফল পাবে। আর মাবুদ কাবিলের জন্য একটি চিহ্ন রাখলেন, যেন কেউ তাকে পেলে খুন না করে।
16
পরে কাবিল মাবুদের সম্মুখ থেকে প্রস্থান করে আদনের পূর্ব দিকে নোদ নামক একটি দেশে বাস করতে লাগল।
17
আর কাবিল তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে পর সে গর্ভবতী হয়ে হনোককে প্রসব করলো। আর কাবিল একটি নগর নির্মাণ করে তার পুত্রের নাম অনুসারে তার নাম হনোক রাখল।
18 হনোকের পুত্র ঈরদ, ঈরদের পুত্র মহূয়ায়েল, মহূয়ায়েলের পুত্র মথূশায়েল ও মথূশায়েলের পুত্র লামাক।
19
লামাক দু’জন স্ত্রী গ্রহণ করলো, এক জন স্ত্রীর নাম আদা ও অন্য জনের নাম সিল্লা।
20 আদার গর্ভে যাবল জন্মগ্রহণ করলো, সে তাঁবুবাসী পশুপালকদের আদিপুরুষ ছিল। তার ভাইয়ের নাম যূবল;
21 যারা বীণা ও বাঁশী বাজায় সে তাদের আদিপুরুষ ছিল।
22 আর সিল্লার গর্ভে তূবল-কাবিল জন্মগ্রহণ করলো, সে ব্রোঞ্জের ও লোহার নানা রকম অস্ত্র তৈরি করতো; তূবল-কাবিলের বোনের নাম নয়মা।
23
আর লামাক তার দুই স্ত্রীকে বললো,
আদা ও সিল্লা, তোমরা আমার কথা শোন,
লামাকের স্ত্রীদ্বয়, আমার কথায় কান দাও;
কারণ আমি আঘাতের প্রতিশোধে পুরুষকে,
প্রহারের প্রতিশোধে যুবককে হত্যা করেছি।
24
যদি কাবিলের খুনের প্রতিফল সাত গুণ হয়,
তবে লামাকের খুনের প্রতিফল সাতাত্তর গুণ হবে।
25
পরে আদম পুনর্বার তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে পর তিনি পুত্র প্রসব করলেন ও তার নাম শিস রাখলেন। কেননা তিনি বললেন, কাবিল কর্তৃক নিহত হাবিলের পরিবর্তে আল্লাহ্ আমাকে আর একটি সন্তান দিলেন।
26 পরে শিসের পুত্র জন্মগ্রহণ করলো, আর তিনি তার নাম আনুশ রাখলেন। সেই সময় লোকেরা মাবুদের নামে এবাদত করতে আরম্ভ করলো।
1
আদমের বংশের বর্ণনা এই— যেদিন আল্লাহ্ মানুষ সৃষ্টি করলেন, সেদিন আল্লাহ্র সাদৃশ্যেই তাঁকে সৃষ্টি করলেন;
2 পুরুষ ও স্ত্রী করে মানবজাতি সৃষ্টি করলেন, তিনি সেই সৃষ্টিদিনে তাঁদের দোয়া করে নাম দিলেন আদম।
3
পরে আদম এক শত ত্রিশ বছর বয়সে তাঁর নিজের সাদৃশ্যে ও প্রতিমূর্তিতে পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম শিস রাখলেন।
4 শিসের জন্মের পর আদম আট শত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
5 সর্বমোট আদমের নয় শত ত্রিশ বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
6
শিস এক শত পাঁচ বছর বয়সে আনুশের জন্ম দিলেন।
7 আনুশের জন্মের পর শিস আট শত সাত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
8 সর্বমোট শিসের নয় শত বারো বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
9
আনুশ নব্বই বছর বয়সে কৈননের জন্ম দিলেন।
10 কৈননের জন্মের পর আনুশ আট শত পনের বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
11 সর্বমোট আনুশের নয় শত পাঁচ বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
12
কৈনন সত্তর বছর বয়সে মাহলাইলের জন্ম দিলেন।
13 মাহলাইলের জন্মের পর কৈনন আট শত চল্লিশ বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
14 সর্বমোট কৈননের নয় শত দশ বছর বয়স হলে তাঁর মৃত্যু হল।
15
মাহলাইল পঁয়ষট্টি বছর বয়সে ইয়ারুদের জন্ম দিলেন।
16 ইয়ারুদের জন্মের পর মাহলাইল আট শত ত্রিশ বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
17 সর্বমোট মাহলাইলের আট শত পঁচানব্বই বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
18
ইয়ারুদ এক শত বাষট্টি বছর বয়সে হনোকের জন্ম দিলেন।
19 হনোকের জন্মের পর ইয়ারুদ আট শত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
20 সর্বমোট ইয়ারুদের নয় শত বাষট্টি বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
21
হনোক পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মুতাওশালেহের জন্ম দিলেন।
22 মুতাওশালেহের জন্মের পর হনোক তিন শত বছর আল্লাহ্র সঙ্গে গমনাগমন করলেন এবং আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
23 সর্বমোট হনোক তিন শত পঁয়ষট্টি বছর রইলেন।
24 হনোক আল্লাহ্র সঙ্গে গমনাগমন করতেন। পরে তিনি আর রইলেন না, কেননা আল্লাহ্ তাঁকে নিজের কাছেই তুলে নিলেন।
25
মুতাওশালেহ এক শত সাতাশি বছর বয়সে লামাকের জন্ম দিলেন।
26 লামাকের জন্মের পর মুতাওশালেহ সাত শত বিরাশি বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
27 সর্বমোট মুতাওশালেহের নয় শত ঊনসত্তর বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
28
লামাক এক শত বিরাশি বছর বয়সে পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম নূহ্ (বিশ্রাম) রাখলেন;
29 কেননা তিনি বললেন, মাবুদ কর্তৃক বদদোয়াগ্রস্ত ভূমি থেকে আমাদের যে পরিশ্রম ও কষ্ট হয়, সেই বিষয়ে এই ছেলেটিই আমাদের সান্ত্বনা দেবে।
30 নূহের জন্মের পর লামাক পাঁচ শত পঁচানব্বই বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
31 সর্বমোট লামাকের সাত শত সাতাত্তর বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
32
পরে নূহ্ পাঁচ শত বছর বয়সে সাম, হাম ও ইয়াফসের জন্ম দিলেন।
1
এভাবে যখন দুনিয়াতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল ও অনেক কন্যা জন্মগ্রহণ করলো,
2 তখন আল্লাহ্র পুত্রেরা মানুষের কন্যাদের সুন্দরী দেখে যার যাকে ইচ্ছা তাকে বিয়ে করতে লাগল।
3 তাতে মাবুদ বললেন, আমার রূহ্ মানুষের মধ্যে চিরকাল ধরে অবস্থান করবেন না, কেননা তারা মরণশীল; পক্ষান্তরে তাদের সময় এক শত বিশ বছর হবে।
4 সেই সময় দুনিয়াতে মহাবীরেরা ছিল এবং তার পরেও আল্লাহ্র পুত্রেরা মানুষের কন্যাদের সংগে মিলিত হলে তাদের গর্ভে সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। তারাই ছিল সেকালের প্রসিদ্ধ বীর।
5
আর মাবুদ দেখলেন, দুনিয়াতে মানব-জাতির নাফরমানী অত্যধিক এবং তাদের অন্তঃকরণের সমস্ত কল্পনা সবসময় কেবল মন্দ।
6 তাই মাবুদ দুনিয়াতে মানবজাতি সৃষ্টি করার দরুন অনুশোচনা করলেন ও মনে কষ্ট পেলেন।
7 তখন মাবুদ বললেন, আমি যে মানুষকে সৃষ্টি করেছি তাকে দুনিয়া থেকে মুছে ফেলবো; মানুষের সঙ্গে পশু, সরীসৃপ জীব ও আসমানের পাখিদেরকেও মুছে ফেলবো; কেননা তাদের সৃষ্টি করার দরুন আমার অনুশোচনা হচ্ছে।
8 কিন্তু নূহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করলেন।
9
নূহের বংশ-বৃত্তান্ত এই। নূহ্ তাঁর সময়কার লোকদের মধ্যে ধার্মিক ও খাঁটি লোক ছিলেন এবং তিনি আল্লাহ্র সঙ্গে গমনাগমন করতেন।
10 নূহ্ সাম, হাম ও ইয়াফস নামে তিন পুত্রের জন্ম দেন।
11
সেই সময় দুনিয়া আল্লাহ্র দৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো এবং দুনিয়া জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ হয়েছিলো।
12 আর আল্লাহ্ দুনিয়ার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, সে ভ্রষ্ট হয়েছে, কেননা দুনিয়ার সমস্ত প্রাণী তাদের আচার-আচরণে কলুষিত হয়েছিল।
13
তখন আল্লাহ্ নূহ্কে বললেন, আমি সমস্ত প্রাণী ধ্বংস করে ফেলতে মনস্থির করেছি, কেননা তাদের দ্বারা দুনিয়া জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ হয়েছে; আর দেখ, আমি দুনিয়ার সঙ্গে তাদেরকে বিনষ্ট করবো।
14 তুমি গোফর কাঠ দিয়ে একটি জাহাজ তৈরি কর; সেই জাহাজের মধ্যে কুঠরী তৈরি করবে ও তার ভিতরে ও বাইরে আলকাতরা দিয়ে লেপন করবে।
15 এইভাবে তা তৈরি করবে। জাহাজ লম্বায় তিন শত হাত, চওড়ায় পঞ্চাশ হাত ও উচ্চতায় ত্রিশ হাত হবে।
16 তার ছাদের এক হাত নিচে জানালা প্রস্তুত করে রাখবে ও জাহাজের পাশে দরজা রাখবে; তার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা তৈরি করবে।
17 আর দেখ, আসমানের নিচে প্রাণবায়ুবিশিষ্ট যত জীবজন্তু আছে, তাদের সকলকে বিনষ্ট করার জন্য আমি দুনিয়ার উপরে বন্যা নিয়ে আসবো, আর দুনিয়ার সকলে প্রাণত্যাগ করবে।
18 কিন্তু তোমার সঙ্গে আমি আমার নিয়ম স্থির করবো; তুমি তোমার পুত্ররা, স্ত্রী ও পুত্রবধূদেরকে সঙ্গে নিয়ে সেই জাহাজে প্রবেশ করবে।
19 সমস্ত জীবজন্তুর স্ত্রী-পুরুষ জোড়া জোড়া নিয়ে তাদের প্রাণ রক্ষা করার জন্য তোমার সঙ্গে সেই জাহাজে প্রবেশ করাবে;
20 সব জাতের পাখি ও সব জাতের পশু ও সব জাতের ভূচর সরীসৃপ জোড়া জোড়া প্রাণ রক্ষা করার জন্য তোমার কাছে আসবে।
21 আর তোমার ও তাদের আহারের জন্য তুমি সব রকমের খাবার জিনিস এনে তোমার কাছে মজুদ করবে।
22 তাতে নূহ্ সেরকম করলেন, আল্লাহ্র হুকুম অনুসারেই সমস্ত কাজ করলেন।
1
আর মাবুদ নূহ্কে বললেন, তুমি সপরিবারে জাহাজে প্রবেশ করো, কেননা এই কালের লোকদের মধ্যে আমার সাক্ষাতে তোমাকেই ধার্মিক দেখেছি।
2 তুমি পাক-পবিত্র পশুর স্ত্রী-পুরুষ নিয়ে প্রত্যেক জাতের সাত জোড়া করে এবং নাপাক পশুর স্ত্রী-পুরুষ নিয়ে প্রত্যেক জাতের এক জোড়া করে,
3 এবং আসমানের পাখিদেরও স্ত্রী-পুরুষ নিয়ে প্রত্যেক জাতের সাত জোড়া করে, সারা দুনিয়াতে তাদের বংশ রক্ষা করার জন্য নিজের সঙ্গে রাখ।
4 কেননা সাত দিন পর আমি দুনিয়াতে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত বৃষ্টি বর্ষণ করে আমার সৃষ্ট যাবতীয় প্রাণীকে দুনিয়া থেকে মুছে ফেলবো।
5 তখন নূহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে সমস্ত কাজ করলেন।
6
নূহের ছয় শত বছর বয়সে দুনিয়াতে বন্যা আরম্ভ হল।
7 বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নূহ্ ও তাঁর পুত্ররা এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূরা জাহাজে প্রবেশ করলেন।
8 নূহের প্রতি আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে পাক ও নাপাক পশুর,
9 এবং পাখির ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবের স্ত্রী-পুরুষ জোড়া জোড়া করে জাহাজে নূহের কাছে প্রবেশ করলো।
10 পরে সেই সাত দিন গত হলে দুনিয়াতে বন্যা আরম্ভ হল।
11
নূহের বয়সের ছয় শত বছরের দ্বিতীয় মাসের সপ্তদশ দিনে ভূগর্ভস্থ সমস্ত উৎসমুখ খুলে গেল এবং আসমানের জানালাগুলো খুলে গেল;
12 তাতে দুনিয়াতে চল্লিশ দিন আর চল্লিশ রাত ভীষণ বৃষ্টি হল।
13 সেদিন নূহ্ এবং সাম, হাম ও ইয়াফস নামে নূহের পুত্ররা এবং তাঁদের সঙ্গে নূহের স্ত্রী ও তিন পুত্রবধূ জাহাজে প্রবেশ করলেন।
14 আর তাঁদের সঙ্গে সব জাতের বন্য পশু, সব জাতের গৃহপালিত পশু, সব জাতের ভূচর সরীসৃপ ও সব জাতের পাখি, সব জাতের খেচর,
15 প্রাণবায়ুবিশিষ্ট সব রকমের জীবজন্তু জোড়ায় জোড়ায় জাহাজে নূহের কাছে প্রবেশ করলো।
16 ফলত তাঁর প্রতি আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে সমস্ত প্রাণীর স্ত্রী-পুরুষ প্রবেশ করলো। পরে মাবুদ তাঁর পেছনের দরজা বন্ধ করে দিলেন।
17
আর চল্লিশ দিন পর্যন্ত দুনিয়াতে বন্যা হল; তাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাহাজ ভাসালে তা মাটি ছেড়ে উপরে ভেসে উঠলো।
18 পরে পানি প্রবল হয়ে দুনিয়াতে অতিশয় বৃদ্ধি পেল এবং জাহাজ পানির উপরে ভাসতে লাগল।
19 আর দুনিয়াতে পানি অত্যন্ত প্রবল হল, আসমানের নিচে সমস্ত মহাপর্বত ডুবে গেল।
20 তার উপরে পনের হাত পানি উঠে প্রবল হল, পর্বতগুলো ডুবে গেল।
21 তাতে ভূচর যাবতীয় প্রাণী— পাখি, গৃহপালিত ও বন্য পশু, ভূচর সরীসৃপ এবং মানুষ সকলই মারা গেল।
22 স্থলচর যত জীবন্ত প্রাণী ছিল, সকলেই মারা গেল।
23 এভাবে দুনিয়া নিবাসী সমস্ত প্রাণী— মানুষ, পশু, সরীসৃপ ও আসমানের পাখি দুনিয়া থেকে মুছে গেল, কেবল নূহ্ ও তাঁর সঙ্গী জাহাজের প্রাণীরা বেঁচে রইলেন।
24 আর পানি দুনিয়ার উপরে এক শত পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত প্রবল থাকলো।
1
আর আল্লাহ্ নূহ্কে ও তাঁর সঙ্গে জাহাজে অবস্থিত বন্য পশু ও গৃহপালিত পশুদের কথা স্মরণ করলেন; আল্লাহ্ দুনিয়াতে বায়ু বহালেন, তাতে পানি কমতে আরম্ভ করলো।
2 আর ভূগর্ভের সমস্ত উৎস ও আসমানের জানালাগুলো বন্ধ হল এবং আসমানের মহাবৃষ্টি নিবৃত্ত হল।
3 আর পানি ক্রমশ ভূমির উপর থেকে সরে গিয়ে এক শত পঞ্চাশ দিনের শেষে হ্রাস পেল।
4 তাতে সপ্তম মাসে, সপ্তদশ দিনে অরারট পর্বতমালার একটি শৃঙ্গে জাহাজ আট্কে রইলো।
5 পরে দশম মাস পর্যন্ত পানি ক্রমশ সরে হ্রাস পেল; ঐ দশম মাসের প্রথম দিনে পর্বতমালার চূড়া দেখা গেল।
6
চল্লিশ দিন গত হলে নূহ্ তাঁর নিজের তৈরি জাহাজের জানালা খুলে একটা দাঁড়কাক ছেড়ে দিলেন;
7 তাতে সে উড়ে ভূমির উপরিস্থ পানি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত যত্রতত্র উড়ে বেড়াতে লাগল।
8 আর ভূমির উপরে পানি হ্রাস পেয়েছে কি না, তা জানবার জন্য তিনি নিজের কাছ থেকে একটি কবুতর ছেড়ে দিলেন।
9 তাতে সমস্ত দুনিয়া পানিতে ঢাকা থাকাতে কবুতরটি পা রাখার কোন স্থান পেল না, তাই জাহাজে তাঁর কাছে ফিরে আসল। তখন তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে ধরলেন ও জাহাজের ভিতরে নিজের কাছে রাখলেন।
10 পরে তিনি আর সাত দিন বিলম্ব করে জাহাজ থেকে সেই কবুতরটি পুনর্বার ছেড়ে দিলেন,
11 আর সেই কবুতরটি সন্ধ্যাকালে তাঁর কাছে ফিরে আসল; দেখ, তার ঠোঁটে জলপাই গাছের একটি নতুন পাতা ছিল; এতে নূহ্ বুঝলেন যে, ভূমির উপরে পানি হ্রাস পেয়েছে।
12 পরে তিনি আর সাত দিন বিলম্ব করে সেই কবুতরটি পুনরায় ছেড়ে দিলেন, তখন সে তাঁর কাছে আর ফিরে আসল না।
13
নূহের বয়সের ছয় শত এক বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে ভূমির উপরে পানি শুকিয়ে গেল; তাতে নূহ্ জাহাজের ছাদ খুলে দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, ভূতলের পানি সমপূর্ণভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে।
14 পরে দ্বিতীয় মাসের সাতাশ দিনে ভূমি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেল।
15
পরে আল্লাহ্ নূহ্কে বললেন,
16 তুমি তোমার স্ত্রী, পুত্রদের ও পুত্রবধূদেরকে সঙ্গে নিয়ে জাহাজ থেকে নেমে বাইরে যাও।
17 আর তোমার সঙ্গে যত পশু, পাখি ও ভূচর সরীসৃপ প্রভৃতি জীবজন্তু আছে, সেই সকলকে তোমার সঙ্গে বাইরে আন, তারা দুনিয়াকে প্রাণীময় করুক এবং দুনিয়াতে তারা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হোক।
18 তখন নূহ্ তাঁর পুত্রদের এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূদেরকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন।
19 আর নিজ নিজ জাতি অনুসারে প্রত্যেক পশু, সরীসৃপ ও পাখি, সমস্ত ভূচর প্রাণী জাহাজ থেকে বের হল।
20
পরে নূহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন এবং সব রকম পাক-পবিত্র পশু ও সব রকম পাক-পবিত্র পাখি থেকে কতগুলো নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে আগুনে পুড়িয়ে কোরবানী করলেন।
21 তাতে মাবুদ তার সৌরভের ঘ্রাণ নিলেন, আর মাবুদ মনে মনে বললেন, আমি মানবজাতি জন্য ভূমিকে আর বদদোয়া দেব না, কারণ বাল্যকাল থেকে মানুষের মনস্কল্পনা দুষ্ট; যেমন করলাম, তেমন আর কখনও সমস্ত প্রাণীকে সংহার করবো না।
22 যে পর্যন্ত দুনিয়া থাকবে, সেই পর্যন্ত শস্য বপনের ও শস্য কাটবার সময়, শীত ও উত্তাপ, গ্রীষ্মকাল ও হেমন্তকাল, দিবা ও রাত— এই সকলের অবসান হবে না।
1
পরে আল্লাহ্ নূহ্কে ও তাঁর পুত্রদেরকে দোয়া করে বললেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, দুনিয়া পরিপূর্ণ করো।
2 দুনিয়ার যাবতীয় প্রাণী ও আসমানের যাবতীয় পাখি তোমাদেরকে ভয় পাবে ও ভয়ে কাঁপতে থাকবে; সমস্ত ভূচর জীব ও সমুদ্রের সমস্ত মাছ তোমাদেরই হাতে দেওয়া হল।
3 প্রত্যেক গমনশীল প্রাণী তোমাদের খাদ্য হবে; আমি সবুজ ওষধির মত সেসব তোমাদেরকে দিলাম।
4 কিন্তু প্রাণসহ অর্থাৎ রক্তসহ গোশ্ত ভোজন করো না।
5 আর তোমাদের রক্তপাত হলে আমি তোমাদের প্রাণের পক্ষে অবশ্য তার প্রতিশোধ নেব; সকল পশুর কাছ থেকে তার প্রতিশোধ নেব এবং সকল মানুষের কাছ থেকে আমি মানুষের প্রাণের প্রতিশোধ নেব।
6 যে কেউ মানুষের রক্তপাত করবে, মানুষ কর্তৃক তার রক্তপাত করা যাবে; কেননা আল্লাহ্ তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন।
7 তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, দুনিয়াকে প্রাণীময় করো ও তার মধ্যে বেড়ে উঠ।
8
পরে আল্লাহ্ নূহ্কে ও তাঁর সঙ্গী পুত্রদেরকে বললেন,
9 দেখ, তোমাদের সঙ্গে তোমাদের ভাবী বংশের সঙ্গে ও তোমাদের সঙ্গী যাবতীয় প্রাণীর সঙ্গে
10 পাখি, গৃহপালিত ও বন্য পশু, অর্থাৎ দুনিয়ার যত প্রাণী জাহাজ থেকে বের হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমি আমার নিয়ম স্থির করবো।
11 আমি তোমাদের সঙ্গে আমার এই নিয়ম স্থির করলাম, বন্যা দ্বারা সমস্ত প্রাণীকে আর মুছে ফেলা হবে না এবং দুনিয়াকে বিনাশ করার জন্য বন্যা আর হবে না।
12 আল্লাহ্ আরও বললেন, আমি তোমাদের সঙ্গে ও তোমাদের সঙ্গী যাবতীয় প্রাণীর সঙ্গে চিরস্থায়ী পুরুষ-পরম্পরার জন্য যে নিয়ম স্থির করলাম, তার চিহ্ন এই—
13 আমি মেঘে আমার ধনু স্থাপন করবো, তা-ই দুনিয়ার সঙ্গে আমার নিয়মের চিহ্ন হবে।
14 যখন আমি দুনিয়ার উপরে মেঘের সঞ্চার করবো, তখন মেঘের মধ্যে সেই রংধনু দেখা যাবে;
15 তাতে তোমাদের সঙ্গে ও মরণশীল সমস্ত প্রাণীর সঙ্গে আমার যে নিয়ম আছে তা আমার স্মরণ হবে এবং সকল প্রাণীকে বিনাশ করার জন্য বন্যা আর হবে না।
16 আর রংধনু দেখা দিলে আমি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবো; তাতে জীবন্ত যত প্রাণী দুনিয়াতে আছে তাদের সঙ্গে স্থাপিত আমার চিরস্থায়ী নিয়ম আমি স্মরণ করবো।
17 আল্লাহ্ নূহ্কে বললেন, দুনিয়ার সমস্ত প্রাণীর সঙ্গে আমার স্থাপিত নিয়মের এই চিহ্ন হবে।
18
নূহের যে পুত্রেরা জাহাজ থেকে বের হলেন, তাঁদের নাম সাম, হাম ও ইয়াফস; আর হাম ছিলেন কেনানের পিতা;
19 এই তিন জন নূহের পুত্র, এঁদেরই বংশ সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়লো।
20
পরে নূহ্ কৃষিকর্ম শুরু করে প্রথমেই একটি আঙ্গুর ক্ষেত করলেন।
21 আর তিনি আঙ্গুর-রস পান করে মাতাল হলেন এবং তাঁবুর মধ্যে উলংগ হয়ে পড়ে রইলেন।
22 তখন কেনানের পিতা হাম নিজের পিতার উলঙ্গতা দেখে বাইরে এসে তার দুই ভাইকে সংবাদ দিল।
23 তাতে সাম ও ইয়াফস একটি কাপড় নিয়ে নিজেদের কাঁধে রেখে পিছু হেঁটে পিতার উলঙ্গতা আচ্ছাদন করলেন; পিছনের দিকে মুখ থাকাতে তাঁরা পিতার উলঙ্গতা দেখলেন না।
24 পরে নূহ্ আঙ্গুর-রসের ঘুম থেকে জেগে উঠে তাঁর নিজের প্রতি কনিষ্ঠ পুত্রের আচরণ অবগত হলেন।
25 আর তিনি বললেন,
কেনান বদদোয়াগ্রস্ত হোক,
সে তার ভাইদের গোলামদের গোলাম হবে।
26
তিনি আরও বললেন,
সামের আল্লাহ্ মাবুদ কর্তৃক দোয়া
লাভ করুন;
কেনান তার গোলাম হোক।
27
আল্লাহ্ ইয়াফসকে সমপ্রসারিত করুন;
সে সামের তাঁবুতে বাস করুক,
আর কেনান তার গোলাম হোক।
28
বন্যার পরে নূহ্ তিন শত পঞ্চাশ বছর জীবিত থাকলেন।
29 সর্বমোট নূহের নয় শত পঞ্চাশ বছর বয়স হলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
1
নূহের পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফসের বংশ-বৃত্তান্ত এই। বন্যার পরে তাঁদের সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করলো।
2 ইয়াফসের সন্তান— গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, তূবল, মেশক ও তীরস।
3 গোমরের সন্তান— অস্কিনস, রীফৎ ও তোগর্ম।
4 যবনের সন্তান— ইলীশা, তর্শীশ, সাইপ্রাস ও দোদানীম।
5 এদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন জাতির দ্বীপ-নিবাসীরা নিজ নিজ দেশে স্ব স্ব ভাষা অনুসারে নিজ নিজ জাতির নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হল।
6
আর হামের সন্তান— কূশ, মিসর, পূট ও কেনান। কূশের সন্তান— সবা, হবীলা, সপ্তা, রয়মা ও সপ্তকা।
7 রয়মার সন্তান— সবা ও দদান।
8 নমরূদ কূশের পুত্র; তিনি দুনিয়াতে সর্বপ্রথম শক্তিশালী যোদ্ধা হয়েছিলেন।
9 তিনি মাবুদের সাক্ষাতে শক্তিমান শিকারী হলেন; সেজন্য লোকে বলে, মাবুদের সাক্ষাতে শক্তিমান শিকারী নমরূদের মত।
10 শিনিয়র দেশে ব্যাবিলন, এরক, অক্কদ ও কল্নী, এসব স্থান তাঁর রাজ্যের প্রথম অংশ ছিল।
11 সেই দেশ থেকে তিনি আশেরিয়া দেশে গিয়ে নিনেভে,
12 রহোবোৎ-পুরী, কেলহ এবং নিনেভে ও কেলহের মধ্যস্থিত রেষণ নগর নির্মাণ করলেন; সেটা মহানগর।
13 আর লিডীয়, অনামীয়,
14 লহাবীয়, নপ্তুহীয়, পথ্রোষীয়, ফিলিস্তিনীদের আদিপুরুষ কস্লূহীয় এবং ক্রীটীয়রা— এসব মিসরের সন্তান।
15
কেনানের জ্যেষ্ঠ পুত্র সিডন, তার পর হেৎ,
16 যিবূষীয়, আমোরীয়, গির্গাশীয়, হিব্বীয়, অর্কীয়, সীনীয়, অর্বদীয়, সমারীয় ও হমাতীয়।
17 পরে কেনানীয়দের গোষ্ঠীগুলো ছড়িয়ে পড়লো।
18 সিডন থেকে গরারের দিকে গাজা পর্যন্ত,
19 এবং সাদুম, আমুরা, অদ্মা ও সবোয়ীমের দিকে লাশা পর্যন্ত কেনানীয়দের সীমা ছিল।
20 নিজ নিজ গোষ্ঠী, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারে এরা হামের সন্তান।
21
যে সাম এবরের সকল সন্তানের আদিপুরুষ আর ইয়াফসের জ্যেষ্ঠ ভাই, তাঁরও সন্তান সন্ততি ছিল।
22
সামের এসব সন্তান— ইলাম, আশেরিয়া, আরফাখশাদ, লূদ ও অরাম।
23 অরামের সন্তান— ঊষ, হূল, গেথর ও মশ।
24 আর আরফাখশাদ শেলহের জন্ম দিলেন ও শেলহ এবরের জন্ম দিলেন।
25 এবরের দুই পুত্র; এক জনের নাম পেলগ (ভাগ), কেননা সেই সময় দুনিয়া বিভক্ত হল; তাঁর ভাইয়ের নাম ইয়াকতান।
26 আর ইয়াকতানের পুত্ররা হল অল্মোদদ, শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ,
27 হদোরাম ঊষল, দিক্ল,
28 ওবল, অবীমায়েল, সাবা , ওফীর, হবীলা ও যোববের জন্ম দিলেন;
29 এরা সকলে ইয়াকতানের সন্তান।
30 মেষা থেকে পূর্ব দিকের সফার পর্বত পর্যন্ত তাদের বসতি ছিল।
31 নিজ নিজ গোষ্ঠী, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারে এসব সামের সন্তান।
32
নিজ নিজ বংশ ও জাতি অনুসারে এরা নূহের সন্তানদের গোষ্ঠী; এবং বন্যার পরে এদের থেকে উৎপন্ন নানা জাতি দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
1
সারা দুনিয়াতে একটি ভাষা ও একই রকম শব্দ ছিল।
2 পরে লোকেরা পূর্ব দিকে ভ্রমণ করতে করতে শিনিয়র দেশে একটি সমভূমি পেয়ে সেই স্থানে বসতি স্থাপন করলো;
3 আর পরস্পর বললো, এসো, আমরা ইট প্রস্তুত করে আগুনে পুড়িয়ে নিই; তাতে ইট তাদের পাথর ও মেটে তেল তাদের চুন হল।
4 পরে তারা বললো, এসো, আমরা নিজেদের জন্য একটি নগর ও আকাশ ছোঁয়া একটি উচ্চগৃহ নির্মাণ করে নিজেদের নাম বিখ্যাত করি, যেন আমরা সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে না পড়ি।
5 পরে মানুষেরা যে নগর ও উচ্চগৃহ নির্মাণ করছিল তা দেখতে মাবুদ নেমে আসলেন।
6 আর মাবুদ বললেন, দেখ, তারা সকলে এক জাতি ও একই ভাষাভাষী; তারা কি করতে পারে এ তার শুরু মাত্র। এর পরে তারা যা কিছু করতে সঙ্কল্প করবে তা থেকে ক্ষান্ত হবে না।
7 এসো, আমরা নিচে গিয়ে সেই স্থানে তাদের ভাষায় বিভেদ সৃষ্টি করি, যেন তারা এক জন অন্য জনের ভাষা বুঝতে না পারে।
8 আর মাবুদ সেখান থেকে সারা দুনিয়াতে তাদেরকে ছড়িয়ে দিলেন এবং তারা নগর নির্মাণ থেকে নিবৃত্ত হল।
9 এজন্য সেই নগরের নাম ব্যাবিলন (বিভেদ) হল; কেননা সেই স্থানে মাবুদ সমস্ত দুনিয়ার ভাষায় বিভেদ জন্মিয়েছিলেন এবং সেই স্থান থেকে মাবুদ তাদেরকে সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
10
সামের বংশ-বৃত্তান্ত এই। সাম এক শত বছর বয়সে, বন্যার দুই বছর পরে, আর-ফাখশাদের জন্ম দিলেন।
11 আরফাখশাদের জন্মের পর সাম পাঁচ শত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
12
আরফাখশাদের পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে শেলহের জন্ম দিলেন।
13 শেলহের জন্মের পর আরফাখশাদ চার শত তিন বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
14
শেলহ ত্রিশ বছর বয়সে এবরের জন্ম দিলেন।
15 এবরের জন্মের পর শেলহ চার শত তিন বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
16
এবর চৌত্রিশ বছর বয়সে পেলগের জন্ম দিলেন।
17 পেলগের জন্মের পর এবর চার শত ত্রিশ বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
18
পেলগ ত্রিশ বছর বয়সে রিয়ূর জন্ম দিলেন।
19 রিয়ূর জন্মের পর পেলগ দুই শত নয় বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
20
রিয়ূ বত্রিশ বছর বয়সে সরূগের জন্ম দিলেন।
21 সরূগের জন্মের পর রিয়ূ দুই শত সাত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
22
সরূগ ত্রিশ বছর বয়সে নাহোরের জন্ম দিলেন।
23 নাহোরের জন্মের পর সরূগ দুই শত বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
24
নাহোর ঊনত্রিশ বছর বয়সে তেরহের জন্ম দিলেন।
25 তেরহের জন্মের পর নাহোর এক শত ঊনিশ বছর জীবিত থেকে আরও পুত্র ও কন্যার জন্ম দিলেন।
26
তেরহ সত্তর বছর বয়সে ইব্রাম, নাহোর ও হারণের জন্ম দিলেন।
27
তেরহের বংশ-বৃত্তান্ত এই। তেরহ ইব্রাম, নাহোর ও হারণের জন্ম দিলেন।
28 আর হারণ লূতের জন্ম দিলেন। কিন্তু হারণ তাঁর নিজের পিতা তেরহের সাক্ষাতে নিজের জন্মস্থান কল্দীয় দেশের ঊরে প্রাণত্যাগ করলেন।
29 ইব্রাম ও নাহোর উভয়েই বিয়ে করলেন; ইব্রামের স্ত্রীর নাম সারী ও নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্কা। এই স্ত্রী হারণের কন্যা;
30 হারণ মিল্কার ও ইষ্কার পিতা। সারী বন্ধ্যা ছিলেন, তাঁর সন্তান হল না।
31
আর তেরহ তাঁর পুত্র ইব্রামকে ও হারণের পুত্র অর্থাৎ তাঁর পৌত্র লূতকে এবং পুত্রবধূ ইব্রামের স্ত্রী সারীকে সঙ্গে নিলেন; তাঁরা একসঙ্গে কেনান দেশে যাবার জন্য কল্দীয় দেশের ঊর থেকে যাত্রা করলেন; আর হারণ নগর পর্যন্ত গিয়ে সেখানে বাস করলেন।
32 পরে তেরহের দুই শত পাঁচ বছর বয়স হলে ঐ হারণ নগরে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
1
মাবুদ ইব্রামকে বললেন, তুমি তোমার দেশ, আত্মীয়-স্ব্বজন ও পিতার বাড়ি-ঘর পরিত্যাগ করে আমি যে দেশ তোমাকে দেখাই সেই দেশে চল।
2 আমি তোমার মধ্য থেকে একটি মহাজাতি উৎপন্ন করবো এবং তোমাকে দোয়া করে তোমার নাম মহৎ করবো; তাতে তুমি দোয়ার আকর হবে।
3 যারা তোমাকে দোয়া করবে তাদের আমি দোয়া করবো; যে কেউ তোমাকে বদদোয়া দেবে তাকে আমি বদদোয়া দেব। তোমার মধ্য দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত জাতি দোয়া লাভ করবে।
4
পরে ইব্রাম মাবুদের সেই কথা অনুসারে যাত্রা করলেন; লূতও তাঁর সঙ্গে গেলেন। হারণ থেকে প্রস্থান করার সময় ইব্রামের পঁচাত্তর বছর বয়স হয়েছিল।
5 ইব্রাম তাঁর স্ত্রী সারীকে ও ভাতিজা লূতকে এবং হারণে তাঁরা যে ধন উপার্জন করেছিলেন, ও যে সব গোলাম-বাঁদী লাভ করেছিলেন, সেই সমস্ত নিয়ে কেনান দেশে যাবার জন্য যাত্রা করলেন এবং কেনান দেশে আসলেন।
6 আর ইব্রাম নানা দেশ দিয়ে যেতে যেতে শিখিমে, মোরির এলোন গাছের কাছে উপস্থিত হলেন। সেই সময় কেনানীয়েরা সেই দেশে বাস করতো।
7 পরে মাবুদ ইব্রামকে দর্শন দিয়ে বললেন, আমি তোমার বংশকে এই দেশ দেব; আর যিনি ইব্রামকে দর্শন দিয়েছিলেন ইব্রাম সেই মাবুদের উদ্দেশে সেই স্থানে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
8 পরে তিনি ঐ স্থান ত্যাগ করে পর্বতে গিয়ে বেথেলের পূর্ব দিকে তাঁর তাঁবু স্থাপন করলেন; তার পশ্চিমে বেথেল ও পূর্ব দিকে অয় নগর ছিল; তিনি সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে এক কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন ও মাবুদের এবাদত করলেন।
9 পরে ইব্রাম ক্রমে ক্রমে দক্ষিণে গমন করলেন।
10
দেশে দুর্ভিক্ষ হলে পর ইব্রাম মিসরে প্রবাস করতে যাত্রা করলেন; কেননা (কেনান) দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
11 আর ইব্রাম যখন মিসরে প্রবেশ করতে উদ্যত হন, তখন তাঁর স্ত্রী সারীকে বললেন, তুমি দেখতে খুব সুন্দরী;
12 এজন্য মিসরীয়েরা যখন তোমাকে দেখবে তখন তুমি যে আমার স্ত্রী এই ভেবে আমাকে মেরে ফেলবে, আর তোমাকে জীবিত রাখবে।
13 আরজ করি, এই কথা বলো যে, তুমি আমার বোন; যেন তোমার অনুরোধে আমার মঙ্গল হয় ও তোমার জন্য আমার প্রাণ বাঁচে।
14 পরে ইব্রাম মিসরে প্রবেশ করলে মিসরীয়েরা দেখতে পেল যে, ঐ নারী খুবই সুন্দরী।
15 আর ফেরাউনের কর্মকর্তারা তাঁকে দেখে ফেরাউনের কাছে তাঁর প্রশংসা করলেন; তাতে সারীকে ফেরাউনের প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হল।
16 আর তাঁর অনুরোধে তিনি ইব্রামের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলেন; তাতে ইব্রাম ভেড়া, গরু, গাধা-গাধী ও উট এবং গোলাম-বাঁদী লাভ করলেন।
17
কিন্তু ইব্রামের স্ত্রী সারীর জন্য মাবুদ ফেরাউন ও তাঁর পরিবারের উপরে ভীষণ উৎপাত ঘটালেন।
18 তাতে ফেরাউন ইব্রামকে ডেকে বললেন, আপনি আমার সঙ্গে এ কি ব্যবহার করলেন? উনি আপনার স্ত্রী, এই কথা আমাকে কেন বলেন নি?
19 ওঁকে আপনার বোন কেন বললেন? আমি তো ওঁকে বিয়ে করতে নিয়েছিলাম। এখন আপনার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান।
20 তখন ফেরাউন লোকদেরকে তাঁর বিষয়ে হুকুম দিলেন, আর তারা সর্বস্ব সহ তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে বিদায় করলো।
1
পরে ইব্রাম ও তাঁর স্ত্রী সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে লূতের সঙ্গে মিসর থেকে কেনান দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রা করলেন।
2 ইব্রাম পশুধনে এবং সোনা ও রূপায় অতিশয় ধনবান ছিলেন।
3 পরে তিনি দক্ষিণ থেকে বেথেলের দিকে যেতে যেতে বেথেলের ও অয়ের মধ্যবর্তী যে স্থানে আগে তাঁর তাঁবু খাটিয়ে ছিল,
4 সেই স্থানে তাঁর পূর্বনির্মিত কোরবানগাহ্র কাছে উপস্থিত হলেন। সেখানে ইব্রাম মাবুদের এবাদত করলেন।
5 ইব্রামের সহযাত্রী লূতেরও অনেক গরু-ছাগলের পাল, ভেড়ার পাল এবং তাঁবু ছিল।
6 তাদের একত্রে বাস করার পক্ষে সেই দেশটি ছোট হল, কেননা তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি থাকাতে তাঁরা একত্রে বাস করতে পারলেন না।
7 ফলে ইব্রামের পশুপালকদের ও লূতের পশুপালকদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হত। সেই সময় সেই দেশে কেনানীয়েরা ও পরিষীয়েরাও বাস করতো।
8
তাতে ইব্রাম লূতকে বললেন, আরজ করি, তোমার ও আমার মধ্যে এবং তোমার পশুপালকদের ও আমার পশুপালকদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ না হোক; কেননা আমরা পরস্পর জ্ঞাতি।
9 তোমার সম্মুখে তো সমস্ত দেশটি পড়ে আছে। আরজ করি, আমার কাছ থেকে পৃথক হও; হয়, তুমি বামে যাও, আমি ডানে যাই; নয়, তুমি ডানে যাও, আমি বামে যাই।
10
তখন লূত চোখ তুলে দেখলেন, জর্ডানের সমস্ত অঞ্চল সোয়র পর্যন্ত সর্বত্র যথেষ্ট পানি আছে এবং তা মাবুদের বাগানের মত, মিসর দেশের মত, কেননা সেই সময় মাবুদ সাদুম ও আমুরা বিনষ্ট করেন নি।
11 অতএব লূত নিজের জন্য জর্ডানের সমস্ত অঞ্চল মনোনীত করে পূর্ব দিকে প্রস্থান করলেন; এভাবে তাঁরা পরস্পর একে অন্যের কাছ থেকে পৃথক হলেন।
12 ইব্রাম কেনান দেশে থাকলেন এবং লূত সেই অঞ্চলের নগরগুলোর মধ্যে থেকে সাদুমের কাছ পর্যন্ত তাঁবু স্থাপন করতে লাগলেন।
13 সাদুমের লোকেরা ভীষণ দুষ্ট ছিল ও মাবুদের বিরুদ্ধে মহা গুনাহ্ করছিল।
14
ইব্রামের কাছ থেকে লূত পৃথক হলে পর মাবুদ ইব্রামকে বললেন, এই যে স্থানে তুমি আছ, এই স্থান থেকে চোখ তুলে উত্তর-দক্ষিণে ও পূর্ব-পশ্চিমে দৃষ্টিপাত করো;
15 কেননা এই যে সমস্ত দেশ তুমি দেখতে পাচ্ছ, এই স্থান আমি তোমাকে ও যুগে যুগে তোমার বংশকে দেব।
16 আর দুনিয়ার ধূলিকণা মত তোমার বংশ বৃদ্ধি করবো; কেউ যদি দুনিয়ার ধূলি গণনা করতে পারে তবে তোমার বংশও গণনা করা যাবে।
17 উঠ, এই দেশের দৈর্ঘ্যপ্রস্থ ঘুরে দেখ, কেননা আমি তোমাকেই এই দেশ দেব।
18
তখন ইব্রাম তাঁবু তুলে হেবরনে অবস্থিত মম্রির এলোন বনের কাছে গিয়ে বাস করলেন এবং সেখানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
1
শিনিয়রের বাদশাহ্ অম্রাফল, ইল্লাসরের বাদশাহ্ অরিয়োক, এলমের বাদশাহ্ কদর্লায়োমর
2 এবং গোয়ীমের বাদশাহ্ তিদিয়লের সময়ে ঐ বাদশাহ্রা সাদুমের বাদশাহ্ বিরা, আমুরার বাদশাহ্ বির্শা, অদ্মার বাদশাহ্ শিনাব, সবোয়িমের বাদশাহ্ শিমেবর ও বিলার অর্থাৎ সোয়রের বাদশাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করলেন।
3 এঁরা সকলে সিদ্দীম উপত্যকাতে অর্থাৎ লবণ-সমুদ্রে একত্র হয়েছিলেন।
4 এঁরা বারো বছর পর্যন্ত কদর্লায়োমরের গোলামী থেকে ত্রয়োদশ বছরে বিদ্রোহী হন।
5 পরে চতুর্দশ বছরে কদর্লায়োমর ও তাঁর সহায় বাদশাহ্রা এসে অস্তরোৎ-কর্ণয়িমে রফায়ীয়দেরকে, হমে সুষীয়দেরকে, শাবিকিরিয়াথয়িমে এমীয়দেরকে
6 ও মরু-ভূমির পাশে অবস্থিত এল-পারণ পর্যন্ত সেয়ীর পর্বতে সেখানকার হোরীয়দেরকে আঘাত করলেন।
7 পরে সেই স্থান থেকে ফিরে ঐনমিষ্পটে অর্থাৎ কাদেশে গিয়ে আমালেকীয়দের সমস্ত দেশকে এবং হৎসসোন-তামর নিবাসী ইমোরীয়দেরকে আঘাত করলেন।
8 আর সাদুমের বাদশাহ্, আমুরার বাদশাহ্, অদ্মার বাদশাহ্, সবোয়িমের বাদশাহ্ ও বিলার অর্থাৎ সোয়রের বাদশাহ্ বের হয়ে এলমের কদর্লায়োমর বাদশাহ্র,
9 গোয়ীমের বাদশাহ্ তিদিয়লের, শিনিয়রের বাদশাহ্ অম্রাফলের ও ইল্লাসরের বাদশাহ্ অরিয়োকের সঙ্গে পাঁচ জন বাদশাহ্ চার জন বাদশাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ‘সিদ্দীম উপত্যকাতে’ সৈন্য স্থাপন করলেন।
10 ঐ সিদ্দীম উপত্যকাতে মেটে তেলের অনেক খাত ছিল; আর সাদুম ও আমুরার বাদশাহ্রা পালিয়ে গেলেন। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই মেটে তেলের খাতে পড়ে গেলেন এবং অবশিষ্টেরা পর্বতে পালিয়ে গেলেন।
11 আর দুশমনরা সাদুম ও আমুরার সমস্ত সম্পত্তি ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ে প্রস্থান করলেন।
12 বিশেষতঃ তাঁরা ইব্রামের ভ্রাতুষ্পুত্র লূতকে ও তাঁর সমস্ত সম্পদ নিয়ে গেলেন, কেননা তিনি সাদুমে বাস করছিলেন।
13
তখন এক জন লোক পালিয়ে এসে ইবরানী ইব্রামকে সংবাদ দিল; ঐ সময়ে তিনি ইষ্কোলের ভাই ও আনেরের ভাই আমোরীয় মম্রির এলোন বনে বাস করছিলেন এবং তাঁরা ইব্রামের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
14 ইব্রাম যখন শুনলেন যে, তাঁর জ্ঞাতিকে ধরে নিয়ে গেছে তখন তিনি তাঁর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে এমন তিন শত আঠার জন যুদ্ধে প্রশিক্ষণ পাওয়া গোলামকে নিয়ে দান পর্যন্ত তাড়া করে নিয়ে গেলেন।
15 পরে রাতের বেলায় তাঁর গোলামদেরকে দুই দলে ভাগ করে তিনি দুশমনদেরকে আঘাত করলেন এবং দামেস্কের উত্তরে অবস্থিত হোবা পর্যন্ত তাড়িয়ে দিলেন।
16 তিনি সমস্ত সম্পদ, আর তাঁর জ্ঞাতি লূত ও তাঁর সমস্ত সম্পদ এবং স্ত্রীলোকদেরকে ও লোক সকলকে ফিরিয়ে আনলেন।
17
ইব্রাম কদর্লায়োমরকে ও তাঁর সঙ্গী বাদশাহ্দেরকে জয় করে ফিরে আসলে পর সাদুমের বাদশাহ্ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শাবী উপত্যকায় অর্থাৎ বাদশাহ্র উপত্যকায় গমন করলেন।
18 তখন শালেমের বাদশাহ্ মাল্কীসিদ্দিক রুটি ও আঙ্গুর-রস বের করে আনলেন; তিনি ছিলেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র ইমাম।
19 তিনি ইব্রামকে দোয়া করে বললেন, ইব্রাম বেহেশত ও দুনিয়ার অধিকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র দোয়ার পাত্র হোন,
20 আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ ধন্য হোন, যিনি আপনার বিপক্ষদেরকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন। তখন ইব্রাম সমস্ত দ্রব্যের দশমাংশ তাঁকে দিলেন।
21 আর সাদুমের বাদশাহ্ ইব্রামকে বললেন, সমস্ত মানুষ আমাকে দিন, ধন-সম্পদ আপনার জন্য নিন।
22 তখন ইব্রাম সাদুমের বাদশাহ্কে জবাবে বললেন, আমি বেহেশত ও দুনিয়ার অধিকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে হাত উঠিয়ে বলছি,
23 আমি আপনার কিছুই নেব না, এক গাছি সুতা বা জুতার ফিতাও নেব না; পাছে আপনি বলেন, আমি ইব্রামকে ধনবান করেছি।
24 কেবল (আমার) যুবকেরা যা খেয়েছে তা নেব এবং যে ব্যক্তিরা আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন, আনের, ইষ্কোল ও মম্রি, তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ পাপ্য অংশ গ্রহণ করুন।
1
ঐ ঘটনার পরে দর্শনের মধ্য দিয়ে মাবুদের কালাম ইব্রামের কাছে নাজেল হল। মাবুদ বললেন, ইব্রাম, ভয় করো না, আমিই তোমার ঢাল ও তোমার মহাপুরস্কার।
2 ইব্রাম বললেন, হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি আমাকে কি দেবে? আমি তো নিঃসন্তান অবস্থায় দিন যাপন করছি এবং এই দামেস্কের ইলীয়েষর আমার বাড়ির ওয়ারিশ হবে।
3 আর ইব্রাম বললেন, দেখ, তুমি আমাকে সন্তান দিলে না এবং আমার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে এমন এক জন গোলাম আমার ওয়ারিশ হবে।
4 তখন দেখ, তাঁর কাছে মাবুদের কালাম নাজেল হল, যথা, ঐ ব্যক্তি তোমার ওয়ারিশ হবে না, কিন্তু যে তোমার ঔরসে জন্মাবে, সেই তোমার ওয়ারিশ হবে।
5 পরে তিনি তাঁকে বাইরে এনে বললেন, তুমি আসমানে দৃষ্টিপাত করে যদি তারা গণনা করতে পার তবে গণনা করে বল। তিনি তাঁকে আরও বললেন, ঐ তারার মতই তোমার বংশ হবে।
6 তখন তিনি মাবুদের উপর ঈমান আনলেন, আর মাবুদ তাঁর পক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন।
7
আর তাঁকে বললেন, যিনি এই দেশের অধিকার দেবার জন্য কলদীয় দেশের ঊর থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন, আমি সেই মাবুদ।
8 তখন তিনি বললেন, হে সার্বভৌম মাবুদ, আমি যে এর অধিকারী হব তা কিসে জানবো?
9 তিনি তাঁকে বললেন, তুমি তিন বছরের একটি গাভী, তিন বছরের একটি ছাগী, তিন বছরের একটি ভেড়া এবং একটি ঘুঘু ও একটি কবুতরের বাচ্চা আমার কাছে আন।
10 পরে তিনি সেই সমস্ত তাঁর কাছে এনে দুই দুই খণ্ড করলেন এবং এক একটি খণ্ডের সম্মুখে অন্য অন্য খণ্ডটি রাখলেন, কিন্তু পাখিগুলোকে দ্বিখণ্ড করলেন না।
11 পরে হিংস্র পাখিগুলো সেই মৃত পশুদের উপরে পড়লে ইব্রাম তাদেরকে তাড়িয়ে দিলেন।
12
পরে সূর্যাস্তের সময়ে ইব্রাম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন; আর দেখ, ঘুমের মধ্যেই তিনি ত্রাস ও অন্ধকারে আক্রান্ত হলেন।
13 তখন তিনি ইব্রামকে বললেন, নিশ্চয় জেনো, তোমার সন্তানেরা পরদেশে প্রবাসী থাকবে এবং বিদেশী লোকদের গোলামীর কাজ করবে; লোকে চার শত বছর পর্যন্ত তাদেরকে দুঃখ দেবে;
14 আবার তারা যে জাতির গোলাম হবে, আমিই সেই জাতির উপর গজব নাজেল করবো; তারপর তারা যথেষ্ট সম্পদ নিয়ে বের হবে।
15 আর তুমি শান্তিতে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে চলে যাবে ও শুভ বৃদ্ধাবস্থায় কবর পাবে।
16 আর তোমার বংশের চতুর্থ পুরুষ এই দেশে ফিরে আসবে; কেননা আমোরীয়দের অপরাধ এখনও সমপূর্ণ হয় নি।
17
পরে সূর্য অস্তগত ও অন্ধকার হলে দেখ, ধোঁয়ায় ভরা চুলা ও জ্বলন্ত উল্কা ঐ দু’টি খণ্ডশ্রেণীর মধ্য দিয়ে চলে গেল।
18 সেদিন মাবুদ ইব্রামের সঙ্গে নিয়ম স্থির করে বললেন, আমি মিসরের নদী থেকে মহানদী ফোরাত পর্যন্ত এই দেশ তোমার বংশকে দিলাম;
19 কেনীয়, কনিষীয়, কদমোনীয়,
20 হিট্টিয়, পরিষীয়, রফায়ীয়,
21 আমোরীয়, কেনানীয়, গির্গাশীয় ও যিবূষীয় লোকদের দেশ দিলাম।
1
ইব্রামের স্ত্রী সারী নিঃসন্তান ছিলেন এবং হাজেরা নামে তাঁর এক জন মিসরীয়া বাঁদী ছিল।
2 তাতে সারী ইব্রামকে বললেন, দেখ, মাবুদ আমাকে বন্ধ্যা করেছেন; আরজ করি, তুমি আমার বাঁদীর কাছে গমন কর; কি জানি, এর মধ্য দিয়ে আমি পুত্রবতী হতে পারবো। তখন ইব্রাম সারীর কথায় সম্মত হলেন।
3 এভাবে কেনান দেশে ইব্রাম দশ বছর বাস করলে পর ইব্রামের স্ত্রী সারী নিজের বাঁদী মিসরীয় হাজেরাকে নিয়ে নিজের স্বামী ইব্রামের সঙ্গে বিয়ে দিলেন।
4 পরে ইব্রাম হাজেরার সংগে মিলিত হলে সে গর্ভবতী হল; আর নিজের গর্ভ হয়েছে দেখে নিজের বেগম সাহেবাকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে লাগল।
5 তাতে সারী ইব্রামকে বললেন, আমার প্রতি কৃত এই অন্যায় তোমাতেই ফলুক; আমি নিজের বাঁদীকে তোমার আলিঙ্গনে তুলে দিয়েছিলাম, সে নিজেকে গর্ভবতী দেখে আমাকে তুচ্ছ জ্ঞান করছে; মাবুদই তোমার ও আমার বিচার করুন!
6 তখন ইব্রাম সারীকে বললেন, দেখ, তোমার বাঁদী তোমারই হাতে; তোমার যা ভাল মনে হয়, তার প্রতি তা-ই করো। তাতে সারী হাজেরাকে দুঃখ দিলেন, আর সে তাঁর কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
7
পরে মাবুদের ফেরেশতা মরুপ্রান্তরের মধ্যে একটি পানির উৎসের কাছে, শূরের পথে যে পানির উৎস আছে তার কাছে তাকে পেয়ে বললেন,
8 হে সারীর বাঁদী হাজেরা, তুমি কোথা থেকে আসলে এবং কোথায় যাবে? তাতে সে বললো, আমি নিজের বেগম সাহেবা সারীর কাছ থেকে পালাচ্ছি।
9 তখন মাবুদের ফেরেশতা তাকে বললেন, তুমি তোমার বেগম সাহেবার কাছে ফিরে গিয়ে নম্রভাবে তার বশীভূতা হও।
10 মাবুদের ফেরেশতা তাকে আরও বললেন, আমি তোমার বংশের এমন বৃদ্ধি করবো যে, তা গণনা করে শেষ করা যাবে না।
11 মাবুদের ফেরেশতা তাকে আরও বললেন, দেখ, তুমি গর্ভবতী হয়েছে, তুমি পুত্র প্রসব করবে ও তার নাম ইসমাইল (আল্লাহ্ শুনেন) রাখবে, কেননা মাবুদ তোমার দুঃখের কথা শুনলেন।
12 আর সে বন্য গর্দভের মত স্বাধীন হবে; সে সকলের বিরোধিতা করবে ও সকলে তার বিরুদ্ধে যাবে; সে তার সকল ভাইয়ের পূর্ব দিকে বসতি করবে।
13 পরে হাজেরা, যিনি তার সঙ্গে কথা বললেন, সেই মাবুদের এই নাম রাখল, তুমি দর্শনকারী আল্লাহ্; কেননা সে বললো, যিনি আমাকে দর্শন করেন, আমি কি এই স্থানেই তাঁকে দর্শন করি নি?
14 এই কারণে সেই কূপের নাম বের-লহয়-রোয়ী (জীবন্ত দর্শক; যিনি আমায় দেখছেন, তাঁর কূপ) হল; দেখ, তা কাদেশ ও বেরদের মধ্যে রয়েছে।
15
পরে হাজেরা ইব্রামের জন্য পুত্র প্রসব করলো; আর ইব্রাম হাজেরার গর্ভজাত সেই পুত্রের নাম ইসমাইল রাখলেন।
16 ইব্রামের ছিয়াশি বছর বয়সে হাজেরা ইব্রামের জন্য ইসমাইলকে প্রসব করলো।
1
ইব্রামের নিরানব্বই বছর বয়সে মাবুদ তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ্, তুমি আমার সাক্ষাতে গমনাগমন করে সিদ্ধ হও।
2 আর আমি তোমার সঙ্গে আমার নিয়ম স্থির করবো ও তোমার বংশ অতিশয় বৃদ্ধি করবো।
3 তখন ইব্রাম উবুড় হয়ে সেজ্দা করলেন; আর আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে আলাপ করে বললেন, দেখ,
4 আমিই তোমার সঙ্গে আমার নিয়ম স্থির করছি, তুমি বহুজাতির আদিপিতা হবে।
5 তোমার নাম ইব্রাম (মহাপিতা) আর থাকবে না, কিন্তু তোমার নাম ইব্রাহিম (বহু লোকের পিতা) হবে; কেননা আমি তোমাকে বহুজাতির আদিপিতা করলাম।
6 আমি তোমাকে অতিশয় ফলবান করবো এবং তোমা থেকে বহুজাতি সৃষ্টি করবো; আর বাদশাহ্রা তোমা থেকে উৎপন্ন হবে।
7 আমি তোমার সঙ্গে ও পুরুষানুক্রমে তোমার ভাবী বংশের সঙ্গে যে নিয়ম স্থাপন করবো তা চিরকালের নিয়ম হবে; ফলত আমি তোমার আল্লাহ্ ও তোমার ভাবী বংশের আল্লাহ্ হবো।
8 তুমি এই যে কেনান দেশে প্রবাস করছো, এর সমস্তটাই আমি তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারের জন্য দেব, আর আমি তাদের আল্লাহ্ হবো।
9
আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে আরও বললেন, তুমিও আমার নিয়ম পালন করবে; তুমি ও তোমার ভাবী বংশ পুরুষানুক্রমে তা পালন করবে।
10 তোমাদের সঙ্গে ও তোমার ভাবী বংশের সঙ্গে কৃত আমার যে নিয়ম তোমরা পালন করবে তা এই— তোমাদের প্রত্যেক পুরুষের খৎনা করতে হবে।
11 তোমরা নিজ নিজ পুরুষাঙ্গের সম্মুখের চামড়া কর্তন করবে; তা-ই তোমাদের সঙ্গে আমার নিয়মের চিহ্ন হবে।
12 পুরুষানুক্রমে তোমাদের প্রত্যেক পুত্র-সন্তানের আট দিন বয়সে খৎনা করতে হবে এবং যারা তোমার বংশ নয়, এমন বিদেশীদের মধ্যে তোমাদের বাড়িতে জন্ম হয়েছে এমন লোক কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রয় করা লোকেরও খৎনা করতে হবে।
13 তোমার বাড়িতে জন্ম হয়েছে এমন লোক কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রয় করা হয়েছে এমন লোকদের খৎনা করা তোমার অবশ্য কর্তব্য; আর তোমাদের দেহে বিদ্যমান আমার নিয়ম চিরকালের নিয়ম হবে।
14 কিন্তু যার পুরুষাঙ্গের সম্মুখের চামড়া কাটা না হবে, এমন খৎনা-না-করানো পুরুষ নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে; কারণ সে আমার নিয়ম ভঙ্গ করেছে।
15
আর আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে বললেন, তুমি তোমার স্ত্রী সারীকে আর সারী বলে ডেকো না; তার নাম সারা (রাণী) হল।
16 আর আমি তাকে দোয়া করবো এবং তার মধ্য থেকে একটি পুত্রও তোমাকে দেব; আমি তাকে দোয়া করবো, তাতে সে অনেক জাতির (আদিমাতা) হবে, তার মধ্য থেকে লোকবৃন্দের বাদশাহ্গণ উৎপন্ন হবে।
17 তখন ইব্রাহিম সেজ্দায় পড়ে হাসলেন, মনে মনে বললেন, শতবর্ষ বয়স্ক পুরুষের কি সন্তান হবে? আর নব্বই বছর বয়স্কা সারা কি প্রসব করবে?
18 পরে ইব্রাহিম আল্লাহ্কে বললেন, ইসমাইলই তোমার গোচরে বেঁচে থাকুক।
19 তখন আল্লাহ্ বললেন, তোমার স্ত্রী সারা অবশ্য তোমার জন্য পুত্র প্রসব করবে এবং তুমি তার নাম ইস্হাক (হাস্য) রাখবে। আর আমি তার সঙ্গে আমার নিয়ম স্থাপন করবো, তা তার ভাবী বংশের পক্ষে চিরস্থায়ী নিয়ম হবে।
20 আর ইসমাইলের বিষয়েও তোমার মুনাজাত শুনলাম; দেখ, আমি তাকে দোয়া করলাম এবং তাকে ফলবান করে তার অতিশয় বংশবৃদ্ধি করবো; তা থেকে বারো জন বাদশাহ্ উৎপন্ন হবে ও আমি তাকে বড় জাতি করবো।
21 কিন্তু আগামী বছরের এই ঋতুতে সারা তোমার জন্য যাকে প্রসব করবে, সেই ইস্হাকের সঙ্গে আমি আমার নিয়ম স্থাপন করবো।
22 পরে কথাবার্তা শেষ করে আল্লাহ্ ইব্রাহিমের কাছ থেকে ঊর্ধ্বগমন করলেন।
23
পরে ইব্রাহিম তাঁর পুত্র ইসমাইলকে ও নিজের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে এমন লোক ও মূল্য দ্বারা ক্রয় করা সকল লোককে, ইব্রাহিমের বাড়িতে যত পুরুষ ছিল, তাদের সকলকে নিয়ে আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে সেই দিনে তাদের খৎনা করালেন।
24 ইব্রাহিমের যখন খৎনা করানো হল সেই সময় তাঁর বয়স হয়েছিল নিরানব্বই বছর।
25 আর তাঁর পুত্র ইসমাইলের খৎনা করানোর সময় তার বয়স হয়েছিল তের বছর।
26 একই দিনে ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র ইসমাইলের খৎনা করানো হয়েছিল।
27 আর তাঁর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে এবং বিদেশীদের কাছ থেকে মূল্য দ্বারা ক্রয় করা হয়েছে বাড়ির এমন সকল পুরুষদেরও সেই সময় খৎনা করা হল।
1
পরে মাবুদ মম্রির এলোন বনের কাছে তাঁকে দর্শন দিলেন। তিনি দুপুর বেলা তাঁবুর দরজায় বসেছিলেন;
2 আর চোখ তুলে দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, তিন জন পুরুষ তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখামাত্র তিনি তাঁবুর দরজা থেকে তাঁদের কাছ দৌড়ে গিয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম জানিয়ে বললেন,
3 হে মালিক, আরজ করি, যদি আমি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি তবে আপনার এই গোলামের কাছ থেকে অগ্রসর হবেন না।
4 আরজ করি, কিঞ্চিৎ পানি আনিয়ে দিই, আপনারা পা ধুইয়ে এই গাছের নিচে বিশ্রাম করুন,
5 এবং কিছু খাদ্য এনে দিই, তা দ্বারা পরিতৃপ্তি লাভ করুন, পরে পথে অগ্রসর হবেন; কেননা এরই জন্য আপনার গোলামের কাছে এসেছেন। তখন তাঁরা বললেন, যা বললে, তা-ই করো।
6 তাতে ইব্রাহিম তখনই তাঁবুতে সারার কাছে গিয়ে বললেন, শীঘ্র তিন মাণ উত্তম ময়দা নিয়ে রুটি প্রস্তুত কর।
7 পরে ইব্রাহিম দৌড়ে পশুপাল থেকে উৎকৃষ্ট কচি একটি বাছুর নিয়ে গোলামকে দিলে পর সে তা শীঘ্র রান্না করলো।
8 তখন তিনি দই, দুধ ও রান্না-করা গোশ্ত নিয়ে তাঁদের সম্মুখে দিলেন এবং তাঁদের কাছে গাছের নিচে দাঁড়ালেন ও তাঁরা ভোজন করলেন।
9
আর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার স্ত্রী সারা কোথায়? তিনি বললেন, দেখুন, তিনি তাঁবুতে আছেন।
10 তাতে তাঁদের এক ব্যক্তি বললেন, এই ঋতু পুনরায় উপস্থিত হলে আমি অবশ্য তোমার কাছে ফিরে আসবো; আর দেখ, তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্র হবে। এই কথা সারা তাঁবুর দরজায় তাঁর পিছনে থেকে শুনলেন।
11 সেই সময়ে ইব্রাহিম ও সারা বৃদ্ধ ছিলেন ও দু’জনেরই যথেষ্ট বয়স হয়েছিল এবং সারার স্ত্রীধর্ম নিবৃত্ত হয়েছিল।
12 অতএব সারা মনে মনে হেসে বললেন, আমার এই শীর্ণ দশার পরে কি এমন আনন্দ হবে? আমার মালিকও তো বৃদ্ধ।
13 তখন মাবুদ ইব্রাহিমকে বললেন, সারা কেন এই কথা বলে হাসল যে, আমি কি সত্যিই প্রসব করবো, আমি যে বৃদ্ধা?
14 কোন কাজ কি মাবুদের পক্ষে অসাধ্য? নিরূপিত সময়ে এই ঋতু আবার উপস্থিত হলে আমি তোমার কাছে ফিরে আসবো, আর সারার পুত্র হবে।
15 তাতে সারা অস্বীকার করে বললেন, আমি তো হাসি নি; কেননা তিনি ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বললেন, অবশ্য হেসেছিলে।
16
পরে সেই ব্যক্তিরা সেখান থেকে উঠে সাদুমের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, আর ইব্রাহিম তাঁদেরকে বিদায় দিতে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চললেন।
17 তাতে মাবুদ বললেন, আমি যা করবো, তা কি ইব্রাহিমের কাছ থেকে লুকাবো?
18 ইব্রাহিমের মধ্য থেকে মহান ও বলবান একটি জাতি উৎপন্ন হবে এবং দুনিয়ার সমস্ত জাতি তার মধ্য দিয়েই দোয়া লাভ করবে।
19 কেননা আমি তাকে মনোনীত করেছি, যেন সে নিজের ভাবী সন্তানদেরকে ও পরিবারদেরকে হুকুম করে, যেন তারা ধর্মসঙ্গত ও ন্যায্য আচরণ করতে করতে মাবুদের পথে চলে; এভাবে মাবুদ যেন ইব্রাহিমের বিষয়ে কথিত নিজের কালাম সফল করেন।
20
পরে মাবুদ বললেন, সাদুম ও আমুরার বিরুদ্ধে ভীষণ কান্নাকাটি হচ্ছে এবং তাদের গুনাহ্ অতিশয় ভারী;
21 আমি নিচে গিয়ে দেখব, আমার কাছে আগত কান্নাকাটি অনুসারে তারা সর্বতোভাবে করেছে কি না; যদি না করে থাকে তাও জানতে পারবো।
22
পরে সেই ব্যক্তিরা সেখান থেকে ফিরে সাদুমের দিকে গমন করলেন; কিন্তু ইব্রাহিম তখনও মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন।
23 পরে ইব্রাহিম কাছে গিয়ে বললেন, আপনি কি দুষ্টের সঙ্গে ধার্মিককেও সংহার করবেন?
24 সেই নগরের মধ্যে যদি পঞ্চাশ জন ধার্মিক পাওয়া যায়, তবে আপনি কি সেখানকার পঞ্চাশ জন ধার্মিকের অনুরোধে সেই স্থানের প্রতি দয়া না করে তা বিনষ্ট করবেন?
25 দুষ্টের সঙ্গে ধার্মিকের বিনাশ করা, এই রকম কাজ আপনার কাছ থেকে দূরে থাকুক; ধার্মিককে দুষ্টের সমান করা আপনার কাছ থেকে দূরে থাকুক। সমস্ত দুনিয়ার বিচারকর্তা কি ন্যায়বিচার করবেন না?
26 মাবুদ বললেন, আমি যদি সাদুমের মধ্যে পঞ্চাশ জন ধার্মিক লোক দেখি, তবে তাদের অনুরোধে সেই সমস্ত স্থানের প্রতি দয়া করবো।
27 ইব্রাহিম জবাবে বললেন, দেখুন, ধূলি ও ভস্মমাত্র যে আমি, আমি মালিকের সঙ্গে কথা বলতে সাহসী হয়েছি।
28 কি জানি, পঞ্চাশ জন ধার্মিকের পাঁচ জন কম হবে; সেই পাঁচ জন কম হওয়ার দরুন আপনি কি সমস্ত নগর বিনষ্ট করবেন? তিনি বললেন, সেই স্থানে পঁয়তাল্লিশ জন পেলে আমি তা বিনষ্ট করবো না।
29 তিনি তাঁকে আবার বললেন, সেই স্থানে যদি চল্লিশ জন পাওয়া যায়? তিনি বললেন, সেই চল্লিশ জনের অনুরোধে তা করবো না।
30 আবার তিনি বললেন, মালিক বিরক্ত হবেন না, আমি আরও বলি; যদি সেখানে ত্রিশ জন পাওয়া যায়? তিনি বললেন, সেখানে ত্রিশ জন পেলে তা করবো না।
31 তিনি বললেন, দেখুন, মালিকের কাছে আমি সাহসী হয়ে পুনর্বার বলি, যদি সেখানে বিশ জন পাওয়া যায়? তিনি বললেন, সেই বিশ জনের অনুরোধে তা বিনষ্ট করবো না।
32 তিনি বললেন, মালিক ক্রুদ্ধ হবেন না, আমি কেবল আর এই এক বার বলি; যদি সেখানে দশ জন পাওয়া যায়? তিনি বললেন, সেই দশ জনের অনুরোধে তা বিনষ্ট করবো না।
33 তখন মাবুদ ইব্রাহিমের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে প্রস্থান করলেন; আর ইব্রাহিম স্বস্থানে ফিরে আসলেন।
1
পরে সন্ধ্যাকালে ঐ দুই জন ফেরেশতা সাদুমে আসলেন। তখন লূত সাদুমের নগরদ্বারে বসেছিলেন, আর তাঁদেরকে দেখে তাঁদের কাছ যাবার জন্য উঠলেন এবং ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম জানিয়ে বললেন,
2 হে আমার প্রভুরা, আরজ করি, দয়া করে আপনাদের এই গোলামের গৃহে পদার্পণ করুন ও হাত-পা ধুয়ে নিয়ে রাত্রি যাপন করুন; পরে খুব ভোরে উঠে নিজেদের যাত্রাপথে অগ্রসর হবেন। তাঁরা বললেন, না, আমরা চকেই রাত্রি যাপন করবো।
3 কিন্তু লূত অতিশয় আগ্রহ দেখালে তাঁরা তাঁর সঙ্গে গেলেন ও তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন; তাতে তিনি তাঁদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করলেন ও খামিহীন রুটি প্রস্তুত করলেন, আর তাঁরা ভোজন করলেন।
4 পরে তাঁদের শুতে যাবার আগে ঐ নগরের পুরুষেরা, সাদুমের আবাল বৃদ্ধ সমস্ত লোক চতুর্দিক থেকে এসে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করলো এবং লূতকে ডেকে বললো,
5 আজ রাতে যে দুই ব্যক্তি তোমার বাড়িতে আসল তারা কোথায়? তাদেরকে বের করে আমাদের কাছে আন, আমরা তাদের পরিচয় নেব।
6 তখন লূত বাড়ির দরজার বাইরে তাদের কাছে এসে পিছনের দরজা বন্ধ করে বললেন,
7 ভাইয়েরা, আরজ করি, এমন দুর্ব্যবহার করো না।
8 দেখ, আমার দু’টি কুমারী কন্যা আছে, তাদেরকে তোমাদের কাছে আনি, তোমাদের দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয় তা করো, কিন্তু সেই ব্যক্তিদের প্রতি কিছুই করো না, কেননা এজন্য তাঁরা আমার বাড়িতে মেহমান হয়ে এসেছেন।
9 তখন তারা বললো, সরে যা। আরও বললো, এ একাকী প্রবাস করতে এসে আমাদের বিচারকর্তা হয়েছে! এখন তাদের চেয়ে তোর প্রতি আরও দুর্ব্যবহার করবো। এই বলে তারা লূতের উপরে ভীষণ চড়াও হয়ে দরজা ভাঙ্গতে গেল।
10 তখন সেই দুই ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে লূতকে ঘরের মধ্যে নিজেদের কাছে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করলেন;
11 আর বাড়ির দরজার নিকটবর্তী ছোট ও বড় সমস্ত লোককে অন্ধতায় আহত করলেন; তাতে তারা দরজা খুঁজতে খুঁজতে পরিশ্রান্ত হল পড়লো।
12
পরে সেই ব্যক্তিরা লূতকে বললেন, এই স্থানে তোমার আর কে কে আছে? তোমার জামাতা ও পুত্র-কন্যা যত জন এই নগরে আছে, তাদের সকলকে এই স্থান থেকে নিয়ে যাও।
13 কেননা আমরা এই স্থান ধ্বংস করে ফেলব; কারণ মাবুদের সাক্ষাতে এই লোকদের বিরুদ্ধে ভীষণ কান্নাকাটি উঠেছে, তাই মাবুদ এই শহর উচ্ছিন্ন করতে আমাদেরকে পাঠিয়েছেন।
14 তখন লূত বাইরে গিয়ে, যারা তাঁর কন্যাদেরকে বিয়ে করবে বলে ঠিক হয়েছিল, তাঁর সেই ভাবী জামাতাদেরকে বললেন, উঠ, এই স্থান থেকে বের হও, কেননা মাবুদ এই নগর ধ্বংস করে ফেলবার জন্য তৈরি হয়ে আছেন। কিন্তু তাঁর জামাতারা তাঁকে উপহাসকারী বলে জ্ঞান করলো।
15
পরে প্রভাত হলে সেই ফেরেশতারা লূতকে তাড়া দিলেন, বললেন, উঠ, তোমার স্ত্রীকে ও এই যে কন্যা দু’টি এখানে আছে, এদেরকে নিয়ে যাও, অন্যথায় এই নগরের উপর যে গজব নেমে আসছে তাতে তোমরাও বিনষ্ট হবে।
16 কিন্তু তিনি ইতস্ততঃ করতে লাগলেন; তাঁতে তাঁর প্রতি মাবুদের করুণার জন্য সেই ব্যক্তিরা তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ও কন্যা দু’টির হাত ধরে নগরের বাইরে নিয়ে গেলেন।
17 এভাবে তাঁদেরকে বের করে তিনি লূতকে বললেন, প্রাণ রক্ষার জন্য পালিয়ে যাও, পিছনের দিকে দৃষ্টিপাত করো না; এই সমস্ত অঞ্চলের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থেকো না; পর্বতে পালিয়ে যাও, তা না হলে বিনষ্ট হবে।
18 তাতে লূত তাঁদেরকে বললেন, হে আমার মালিক, এমন না হোক।
19 দেখুন, আপনার গোলাম আপনার কাছে অনুগ্রহ লাভ করেছে; আমার প্রাণ রক্ষা করে আপনি আমার প্রতি আপনার মহাদয়া প্রকাশ করেছেন; কিন্তু আমি পর্বতে পালিয়ে যেতে পারব না; কি জানি, সেই বিপদ এসে পড়লে আমিও মারা পরবো।
20 দেখুন, পালাবার জন্য ঐ নগরটি নিকটবর্তী, সেটি ক্ষুদ্র; ওখানে পালাবার অনুমতি দিন, তা হলে আমার প্রাণ বাঁচবে; সেটি কি ক্ষুদ্র নয়?
21 তিনি বললেন, ভাল, আমি এই বিষয়েও তোমার অনুরোধ রক্ষা করলাম। ঐ যে নগরের কথা বললে, আমি সেটি উৎপাটন করবো না।
22 শীঘ্রই ঐ স্থানে পালিয়ে যাও, কেননা তুমি ঐ স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি কিছু করতে পারি না। এজন্য সেই স্থানের নাম সোয়র (ক্ষুদ্র) হল।
23
দেশের উপরে সূর্য উদিত হলে লূত সোয়রে প্রবেশ করলেন,
24 এমন সময়ে মাবুদ নিজের কাছ থেকে, আসমান থেকে, সাদুমের ও আমুরার উপরে গন্ধক ও আগুন বর্ষিয়ে সেই সমুদয় নগর,
25 সমস্ত অঞ্চল, নগরের সমস্ত লোক ও সেই ভূমিতে জাত সমস্ত বস্তু উৎপাটন করলেন।
26 আর লূতের স্ত্রী তাঁর পিছনে পড়ে পিছন দিকে দৃষ্টিপাত করলো, আর লবণস্তম্ভ হয়ে গেল।
27
আর ইব্রাহিম খুব ভোরে উঠে আগে যে স্থানে মাবুদের সাক্ষাতে দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে গমন করলেন;
28 এবং সাদুম ও আমুরার দিকে ও সেই অঞ্চলের সমস্ত ভূমির দিকে চেয়ে দেখলেন, আর দেখ, ভাটির ধোঁয়ার মত সেই দেশের ধোঁয়া উঠছে।
29 এভাবে সেই অঞ্চলে অবস্থিত সমস্ত নগরের বিনাশকালে আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে স্মরণ করে, যে যে নগরে লূত বাস করতেন, সেই সেই নগরের উৎপাটনকালে উৎপাটনের মধ্য থেকে লূতকে রক্ষা করলেন।
30
পরে লূত ও তাঁর দু’টি কন্যা সোয়র থেকে পর্বতে উঠে গিয়ে সেখানে থাকলেন; কেননা তিনি সোয়রে বাস করতে ভয় পেলেন, আর তিনি ও তাঁর সেই দুই কন্যা গুহার মধ্যে বাস করতে লাগলেন।
31 পরে তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা কনিষ্ঠা কন্যাকে বললো, আমাদের পিতা বৃদ্ধ এবং জগৎ-সংসারের ব্যবহার অনুসারে আমাদেরকে বিয়ে করতে এই দেশে কোন পুরুষ নেই;
32 এসো, আমরা পিতাকে আঙ্গুর-রস পান করিয়ে তাঁর সঙ্গে শয়ন করি, এভাবে পিতার বংশ রক্ষা করবো।
33 তাতে তারা সেই রাতে তাদের পিতাকে আঙ্গুর-রস পান করালো, পরে তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা পিতার সঙ্গে শয়ন করতে গেল; কিন্তু তার শয়ন ও উঠে যাওয়া লূত টের পেলেন না।
34 আর পরদিন জ্যেষ্ঠা কন্যা কনিষ্ঠা কন্যাকে বললো, দেখ, গত রাতে আমি পিতার সঙ্গে শয়ন করেছিলাম; এসো, আমরা আজ রাতেও পিতাকে আঙ্গুর-রস পান করাই; পরে তুমি গিয়ে তাঁর সঙ্গে শয়ন কর, এভাবে পিতার বংশ রক্ষা করবো।
35 একই ভাবে তারা সেই রাতেও পিতাকে আঙ্গুর-রস পান করাল; পরে কনিষ্ঠা কন্যা তাঁর সঙ্গে শয়ন করলো; কিন্তু তার শয়ন ও উঠে যাওয়া লূত টের পেলেন না।
36 এভাবে লূতের দুই কন্যাই নিজেদের পিতার দ্বারা গর্ভবতী হল।
37 পরে জ্যেষ্ঠা কন্যা পুত্র প্রসব করে তার নাম মোয়াব রাখল; সে এখনকার মোয়াবীয়দের আদিপিতা।
38 আর কনিষ্ঠা কন্যাও পুত্র প্রসব করে তার নাম বিন্-অম্মি রাখল, সে এখনকার অম্মোনীয়দের আদিপিতা।
1
আর ইব্রাহিম সেই স্থান থেকে দক্ষিণ দেশে যাত্রা করে কাদেশ ও শূরের মধ্যস্থানে থাকলেন ও গরারে প্রবাস করলেন।
2 আর ইব্রাহিম তাঁর স্ত্রী সারার বিষয়ে বললেন, এ আমার বোন; তাতে গরারের বাদশাহ্ আবিমালেক লোক পাঠিয়ে সারাকে গ্রহণ করলেন।
3 কিন্তু রাতে আল্লাহ্ স্বপ্নযোগে আবিমালেকের কাছে এসে বললেন, দেখ, ঐ যে নারীকে গ্রহণ করেছ, তার জন্য তুমি মৃত্যুর পাত্র, কেননা সে এক ব্যক্তির স্ত্রী।
4 তখনও আবিমালেক তাঁর কাছে যান নি; তাই তিনি বললেন, হে মালিক, যে জাতি নির্দোষ, তাকেও কি আপনি হত্যা করবেন?
5 সেই ব্যক্তি কি আমাকে বলে নি, এ আমার বোন? এবং সেই স্ত্রীও কি বলে নি, এ আমার ভাই? আমি যা করেছি তা সরল অন্তরে করেছি; আমার হাত কলংকমুক্ত।
6 তখন আল্লাহ্ স্বপ্নযোগে তাঁকে বললেন, তুমি সরল অন্তরে এই কাজ করেছ তা আমিও জানি, তাই আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করতে আমি তোমাকে বারণ করলাম; এজন্য তাকে স্পর্শ করতে দিলাম না।
7 অতএব এখন সেই ব্যক্তির স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দেও, কেননা সে একজন নবী; আর সে তোমার জন্য মুনাজাত করবে, তাতে তুমি বাঁচবে; কিন্তু যদি তাকে ফিরিয়ে না দেও, তবে জেনো, তুমি ও তোমার সকলে নিশ্চয়ই মরবে।
8
পরে আবিমালেক খুব ভোরে উঠে তাঁর সমস্ত গোলামকে ডেকে ঐ সমস্ত বৃত্তান্ত তাদের বললেন; তাতে তারা ভীষণ ভয় পেল।
9 পরে আবিমালেক ইব্রাহিমকে ডেকে এনে বললেন, আপনি আমাদের সঙ্গে এ কি ব্যবহার করলেন? আমি আপনার কাছে কি দোষ করেছি যে, আপনি আমাকে ও আমার রাজ্যকে এমন মহা গুনাহ্গার করলেন? আপনি আমার প্রতি অনুচিত কাজ করলেন।
10 আবিমালেক ইব্রাহিমকে আরও বললেন, আপনি কি চিন্তা করে এমন কাজ করলেন?
11 তখন ইব্রাহিম বললেন, আমি ভেবেছিলাম, এই স্থানের লোকদের আল্লাহ্ভয় নেই, অতএব এরা আমার স্ত্রীর লোভে আমাকে হত্যা করবে।
12 আর সে আমার বোন এই কথাও সত্যি বটে; কেননা সে আমার পিতৃকন্যা, কিন্তু মাতৃকন্যা নয়, পরে আমার স্ত্রী হয়েছে।
13 আর যখন আল্লাহ্ আমাকে পৈতৃক বাসভূমি থেকে বের করে এনেছিলেন, তখন আমি তাকে বলেছিলাম, আমার প্রতি তোমার এই দয়া করতে হবে, আমরা যে যে স্থানে যাব, সেই সেই স্থানে তুমি আমার বিষয়ে বলো, এই আমার ভাই।
14 তখন আবিমালেক ভেড়া, গরু ও গোলাম-বাঁদী আনিয়ে ইব্রাহিমকে দান করলেন এবং তাঁর স্ত্রী সারাকেও ফিরিয়ে দিলেন;
15 আর আবিমালেক বললেন, দেখুন, আমার দেশ আপনার সম্মুখে আছে আপনার যেখানে ইচ্ছা সেখানে বাস করুন।
16 আর তিনি সারাকে বললেন, দেখুন আমি আপনার ভাইকে এক হাজার থান রূপা দিলাম; দেখুন, আপনার সমস্ত সঙ্গীর কাছে প্রমাণিত হল যে, আপনি কোন দোষ করেন নি; সকল বিষয়ে আপনার বিচার নিষ্পত্তি হল।
17 পরে ইব্রাহিম আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করলেন, আর আল্লাহ্ আবিমালেককে ও তাঁর স্ত্রীকে ও তাঁর বাঁদীদেরকে সুস্থ করলেন; তাতে তারা আবার প্রসব করার ক্ষমতা ফিরে পেলেন।
18 কেননা ইব্রাহিমের স্ত্রী সারার জন্য মাবুদ আবিমালেকের বাড়িতে সমস্ত গর্ভ রোধ করেছিলেন।
1
পরে মাবুদ তাঁর কালাম অনুসারে সারার তত্ত্বাবধান করলেন; মাবুদ যা বলেছিলেন সারার প্রতি তাই করলেন।
2 আর সারা গর্ভবতী হয়ে আল্লাহ্র উক্ত নিরূপিত সময়ে ইব্রাহিমের বৃদ্ধকালে তাঁর জন্য পুত্র প্রসব করলেন।
3 তখন ইব্রাহিম সারার গর্ভজাত তাঁর পুত্রের নাম ইস্হাক (হাস্য) রাখলেন।
4 পরে ঐ পুত্র ইস্হাকের আট দিন বয়সে ইব্রাহিম আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে তার খৎনা করলেন।
5 ইব্রাহিমের এক শত বছর বয়সে তাঁর পুত্র ইস্হাকের জন্ম হয়।
6 আর সারা বললেন, আল্লাহ্ আমার মুখে হাসি ফুটালেন; যে কেউ এই কথা শুনবে সেও আমার সঙ্গে হাসবে।
7 তিনি আরও বললেন, সারা বালকদেরকে স্তন পান করাবে এমন কথা ইব্রাহিমকে কে বলতে পারতো? কেননা আমি তাঁর বৃদ্ধকালে তাঁর জন্য পুত্র প্রসব করলাম।
8
পরে বালকটি বড় হয়ে স্তন্য পান ত্যাগ করলো; আর যেদিন ইস্হাক স্তন্য পান ত্যাগ করলো, সেদিন ইব্রাহিম মহাভোজ প্রস্তুত করলেন।
9 একদিন মিসরীয়া হাজেরা ইব্রাহিমের জন্য যে পুত্র প্রসব করেছিল, সারা তাকে পরিহাস করতে দেখলেন।
10 তাতে তিনি ইব্রাহিমকে বললেন, তুমি ঐ বাঁদীকে ও ওর পুত্রকে দূর করে দেও; কেননা আমার পুত্র ইস্হাকের সঙ্গে ঐ বাঁদীর পুত্র ওয়ারিশ হবে না।
11 এই কথায় ইব্রাহিম তাঁর পুত্রের বিষয়ে ভীষণ অসন্তুষ্ট হলেন।
12 আর আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে বললেন, ঐ বালকের বিষয়ে ও তোমার ঐ বাঁদীর বিষয়ে অসন্তুষ্ট হয়ো না; সারা তোমাকে যা বলছে, তার সেই কথা শুন; কেননা ইস্হাকের বংশই তোমার বংশ বলে আখ্যাত হবে।
13 আর ঐ বাঁদীর পুত্র হতেও আমি একটি জাতি উৎপন্ন করবো, কারণ সে তোমার বংশজাত।
14 পরে ইব্রাহিম খুব ভোরে উঠে রুটি ও পানিতে পূর্ণ একটি কুপা নিয়ে হাজেরার কাঁধে দিলেন এবং বালকটিকে তার হাতে দিয়ে তাকে বিদায় দিলেন। তাতে সে প্রস্থান করে বের্-শেবা মরুপ্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
15
পরে কুপার পানি শেষ হলে পর সে একটি ঝোপের নিচে বালকটিকে ফেলে রাখল;
16 আর সে নিজে তার সম্মুখ থেকে অনেকটা দূরে, অনুমান এক তীর দূরে গিয়ে বসলো, কারণ সে বললো, বালকটির মৃত্যু আমি দেখব না। আর সে তার সম্মুখ থেকে দূরে বসে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।
17 তখন আল্লাহ্ বালকটির কান্নার আওয়াজ শুনলেন; আর আল্লাহ্র ফেরেশতা আকাশ থেকে ডেকে হাজেরাকে বললেন, হাজেরা, তোমার কি হল? ভয় করো না, বালকটি যেখানে আছে, আল্লাহ্ সেই স্থান থেকে ওর কান্নার আওয়াজ শুনলেন;
18 তুমি উঠে বালকটিকে তুলে নেও; কারণ আমি ওকে একটি মহাজাতি করবো।
19 তখন আল্লাহ্ তার চোখ খুলে দিলেন, তাতে সে পানিতে পূর্ণ একটি কূপ দেখতে পেল, আর সেখানে গিয়ে কুপাতে পানি পূর্ণ করে বালকটিকে পান করাল।
20
পরে আল্লাহ্ বালকটির সহবর্তী হলেন, আর সে বড় হয়ে উঠলো এবং মরুপ্রান্তরে থেকে তীরন্দাজ হল।
21 সে পারণ মরু-প্রান্তরে বাস করতে লাগল। আর তার মা তার বিয়ের জন্য মিসর দেশ থেকে একটি কন্যা আনলো।
22
সেই সময়ে আবিমালেক এবং তাঁর সেনাপতি ফীখোল ইব্রাহিমকে বললেন, আপনি যা কিছু করেন তাতেই আল্লাহ্ আপনার সহবর্তী হন।
23 অতএব আপনি এখন এই স্থানে আল্লাহ্র কসম খেয়ে আমাকে বলুন যে, আমার প্রতি এবং আমার পুত্র ও পৌত্রের প্রতি বেঈমানী করবেন না; আমি আপনার প্রতি যেমন রহম করেছি, আপনিও আমার প্রতি ও আপনার প্রবাসস্থান এই দেশের প্রতি ঠিক তেমনি রহম করবেন।
24 তখন ইব্রাহিম বললেন, কসম করবো।
25 কিন্তু আবিমালেকের গোলামেরা একটি পানিপূর্ণ কূপ সবলে অধিকার করেছিল, এজন্য ইব্রাহিম আবিমালেককে অনুযোগ করলেন।
26 তাতে আবিমালেক বললেন, এই কাজ কে করেছে, তা আমি জানি না; আপনিও আমাকে জানান নি এবং আমিও কেবল আজ এই কথা শুনলাম।
27
পরে ইব্রাহিম ভেড়া ও গরু নিয়ে আবিমালেককে দিলেন এবং উভয়ে একটি চুক্তি স্থির করলেন।
28 আর ইব্রাহিম পাল থেকে সাতটা ভেড়ীর বাচ্চা পৃথক করে রাখলেন।
29 আবিমালেক তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি অভিপ্রায়ে এই সাতটি ভেড়ীর বাচ্চা পৃথক করে রাখলেন?
30
তিনি বললেন, আমি যে এই কূপটি খনন করেছি, তার প্রমাণ হিসেবে আমার কাছ থেকে এই সাতটি ভেড়ীর বাচ্চা আপনাকে গ্রহণ করতে হবে।
31 এজন্য তিনি সেই স্থানের নাম বের্-শেবা (কসমের কূপ) রাখলেন, কেননা সেই স্থানে তাঁরা উভয়ে শপথ করলেন ও কসম খেলেন।
32 এভাবে তাঁরা বের্-শেবাতে নিয়ম স্থির করলেন; পরে আবিমালেক ও তাঁর সেনাপতি ফীখোল ফিলিস্তিনীদের দেশে ফিরে গেলেন।
33 পরে ইব্রাহিম বের্-শেবায় ঝাউ গাছ রোপণ করে সেই স্থানে অনাদি অনন্ত আল্লাহ্ মাবুদের এবাদত করলেন।
34 আর ইব্রাহিম ফিলিস্তিনীদের দেশে অনেক দিন প্রবাস করলেন।
1
এসব ঘটনার পরে আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে পরীক্ষা করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, হে ইব্রাহিম; জবাবে তিনি বললেন, দেখুন, এই আমি।
2 তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার পুত্রকে, তোমার একমাত্র পুত্রকে, যাকে তুমি মহব্বত কর, সেই ইস্হাককে নিয়ে মোরিয়া দেশে যাও এবং সেখানকার যে এক পর্বতের কথা আমি তোমাকে বলবো, তার উপরে তাকে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করো।
3 পরে ইব্রাহিম খুব ভোরে উঠে গাধা সাজিয়ে দুই জন গোলাম ও তাঁর পুত্র ইস্হাককে সঙ্গে নিলেন, পোড়ানো-কোরবানীর জন্য কাঠ কাটলেন, আর উঠে আল্লাহ্র নির্দিষ্ট স্থানের দিকে গমন করলেন।
4 তৃতীয় দিনে ইব্রাহিম চোখ তুলে দূর থেকে সেই স্থান দেখলেন।
5 তখন ইব্রাহিম তাঁর গোলামদেরকে বললেন, তোমরা গাধাগুলো নিয়ে এই স্থানে থাক; আমি ও যুবক, আমরা ঐ স্থানে গিয়ে সেজ্দা করি, পরে তোমাদের কাছে ফিরে আসবো।
6 তখন ইব্রাহিম পোড়ানো-কোরবানীর কাঠ নিয়ে তাঁর পুত্র ইস্হাকের কাঁধে দিলেন এবং নিজের হাতে আগুন ও ছোরা নিলেন; পরে উভয়ে একত্রে চলে গেলেন।
7 ইস্হাক নিজের পিতা ইব্রাহিমকে বললেন, আব্বা! তিনি বললেন, হে বৎস, দেখ, এই আমি। তখন তিনি বললেন, দেখুন, আগুন ও কাঠ আছে, কিন্তু পোড়ানো-কোরবানীর জন্য ভেড়ার বাচ্চা কোথায়?
8 ইব্রাহিম বললেন, বৎস, আল্লাহ্ নিজেই পোড়ানো-কোরবানীর জন্য ভেড়ার বাচ্চা যুগিয়ে দেবেন। পরে উভয়ে একসঙ্গে চলে গেলেন।
9
আল্লাহ্ যে স্থানের কথা বলেছিলেন সেখানে উপস্থিত হলে ইব্রাহিম সেখানে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করে কাঠ সাজালেন, পরে তাঁর পুত্র ইস্হাককে বেঁধে কোরবানগাহ্র কাঠের উপরে রাখলেন।
10 পরে ইব্রাহিম হাত বাড়িয়ে তাঁর পুত্রকে জবেহ্ করার জন্য ছোরা গ্রহণ করলেন।
11 এমন সময়ে আকাশ থেকে মাবুদের ফেরেশতা তাঁকে ডেকে বললেন, ইব্রাহিম, ইব্রাহিম! তিনি বললেন, দেখুন, এই আমি।
12 তখন তিনি বললেন, যুবকটির প্রতি তোমার হাত বাড়িয়ো না, ওর প্রতি কিছুই করো না, কেননা এখন আমি বুঝলাম, তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর, আমাকে নিজের একমাত্র পুত্রকে দিতেও অসম্মত হও নি।
13 তখন ইব্রাহিম চোখ তুলে চাইলেন, আর দেখ, তাঁর পিছনের দিকে একটি ভেড়া রয়েছে এবং তার শিং ঝোপে আবদ্ধ; পরে ইব্রাহিম গিয়ে সেই ভেড়াটি নিয়ে তাঁর পুত্রের পরিবর্তে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করলেন।
14 ইব্রাহিম সেই স্থানের নাম রাখলেন ইয়াহ্ওয়েহ্-যিরি (মাবুদ যোগাবেন)। এজন্য এখনও লোকে বলে, মাবুদের পর্বতে মাবুদই যুগিয়ে দেন।
15
পরে মাবুদের ফেরেশতা দ্বিতীয়বার আকাশ থেকে ইব্রাহিমকে ডেকে বললেন, মাবুদ বলছেন,
16 তুমি এই কাজ করলে, আমাকে তোমার একমাত্র পুত্রকে দিতে অসম্মত হলে না, এজন্য আমি আমারই নামে কসম খেয়ে বলছি,
17 আমি অবশ্যই তোমাকে দোয়া করবো এবং আসমানের তারার মত ও সমুদ্র-তীরের বালুকণার মত তোমার বংশ অতিশয় বৃদ্ধি করবো; তোমার বংশ দুশমনদের নগরগুলো অধিকার করবে;
18 আর তোমার বংশের মধ্য দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত জাতি দোয়া লাভ করবে; কারণ তুমি আমার হুকুম পালন করেছ।
19 পরে ইব্রাহিম তাঁর গোলামদের কাছে ফিরে গেলেন এবং সকলে উঠে একত্রে বের-শেবাতে গিয়ে সেখানে বাস করলেন।
20
ঐ ঘটনার পরে ইব্রাহিমের কাছে এই সংবাদ এলো, দেখুন, আপনার ভাই নাহোরের জন্য মিল্কাও পুত্রদেরকে প্রসব করেছেন;
21 তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ঊষ ও তার ভাই বূষ ও অরামের পিতা কমূয়েল,
22 এবং কেষদ, হসো, পিল্দশ, যিদলফ ও বথূয়েল। বথূয়েলের কন্যা রেবেকা।
23 ইব্রাহিমের ভাই নাহোরের জন্য মিল্কা, এই আট জনকে প্রসব করেন।
24 আর রূমা নামে তাঁর উপপত্নী টেবহ, গহম, তহশ এবং মাখা এদের প্রসব করলো।
1
সারার বয়স এক শত সাতাশ বছর হয়েছিল; এটাই ছিল সারার জীবনকাল।
2 পরে সারা কেনান দেশের কিরিয়থর্বে অর্থাৎ হেবরনে ইন্তেকাল করলেন। এতে ইব্রাহিম সারার জন্য কাঁদতে ও শোক করতে এলেন।
3 পরে ইব্রাহিম তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহের সম্মুখ থেকে উঠে গিয়ে হেতের সন্তানদের বললেন,
4 আমি আপনাদের মধ্যে বিদেশী ও প্রবাসী; আপনাদের মধ্যে আমাকে কবরস্থানের অধিকার দিন; আমি আমার সম্মুখ থেকে আমার স্ত্রীর লাশ কবর দিই।
5 তখন হেতের সন্তানেরা ইব্রাহিমকে জবাব দিলেন,
6 হে মালিক, আমাদের কথা শুনুন; আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহ্ নিযুক্ত বাদশাহ্স্বরূপ; আপনার স্ত্রীর লাশ আমাদের কবরস্থানের মধ্যে আপনার কাঙ্খিত কবরে রাখুন, আপনার স্ত্রীর লাশ কবর দেবার জন্য আমাদের কেউ নিজের কবর দান করতে অস্বীকার করবে না।
7 তখন ইব্রাহিম উঠে সেই দেশের লোকদের কাছ, অর্থাৎ হেতের সন্তানদের সামনে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালেন ও সম্ভাষণ করে বললেন,
8 আমার সম্মুখ থেকে আমার স্ত্রীর লাশকে কবরে রাখতে যদি আপনাদের সম্মতি হয় তবে আমার কথা শুনুন। আপনারা আমার জন্য সোহরের পুত্র ইফ্রোণের কাছে নিবেদন করুন;
9 তাঁর ক্ষেতের প্রান্তে মক্পেলা গুহা আছে, আপনাদের মধ্যে আমার কবরস্থানের অধিকার হিসেবে তিনি আমাকে তা-ই দিন; সমপূর্ণ মূল্য নিয়ে দিন।
10 তখন ইফ্রোণ হেতের সন্তানদের মধ্যে বসে ছিলেন; আর হেতের যত সন্তান তাঁর নগরদ্বারে প্রবেশ করলেন, তাঁদের শুনিয়ে সেই হিট্টিয় ইফ্রোণ ইব্রাহিমকে জবাব দিলেন,
11 হে আমার মালিক, তা হবে না; আমার কথা শুনুন, আমি সেই ক্ষেত ও সেখানকার গুহা আপনাকে দান করলাম; আমি নিজের জাতির সন্তানদের সম্মুখেই আপনাকে তা দিলাম, আপনার স্ত্রীর লাশ দাফন করুন।
12 তখন ইব্রাহিম সেই দেশের লোকদের সম্মুখে মাটিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন,
13 আর সেই দেশের সকলকে শুনিয়ে ইফ্রোণকে বললেন, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, নিবেদন করি, আমার কথা শুনুন, আমি সেই ক্ষেতের মূল্য দিই, আপনি আমার কাছ থেকে তা গ্রহণ করুন, পরে আমি সেই স্থানে আমার স্ত্রীর লাশ দাফন করব।
14 তখন ইফ্রোণ ইব্রাহিমকে বললেন,
15 হে আমার মালিক, আমার কথা শুনুন, সেই ভূমির মূল্য চার শত শেকল রূপামাত্র; এতে আপনার ও আমার কি আসে যায়? আপনি আপনার স্ত্রীর লাশ দাফন করুন।
16 তখন ইব্রাহিম ইফ্রোণের কথায় রাজী হলেন; ইফ্রোণ হেতের সন্তানদের কর্ণগোচরে যে রূপার কথা বলেছিলেন, ইব্রাহিম বণিকদের মধ্যে প্রচলিত মাপ অনুযায়ী চার শত শেকল রূপা ওজন করে ইফ্রোণকে দিলেন।
17
এভাবে মম্রির সম্মুখে মক্পেলায় ইফ্রোণের যে ক্ষেত ছিল, সেই ক্ষেত, সেখানকার গুহা ও সেই ক্ষেতের সমস্ত গাছ, তার চতুর্সীমার অন্তর্গত সমস্ত গাছ,
18 এই সব কিছুতে হেতের সন্তানদের সম্মুখে তাঁর নগর-দ্বারে প্রবেশকারী সকলের সম্মুখে, ইব্রাহিমের স্বত্বাধিকার স্থিরীকৃত হল।
19 তারপর ইব্রাহিম কেনান দেশের মম্রির, অর্থাৎ হেবরনের সম্মুখে মক্পেলা ক্ষেতে অবস্থিত গুহাতে তাঁর স্ত্রী সারাকে দাফন করলেন।
20 এভাবে কবর-স্থানের অধিকার হিসেবে সেই ক্ষেতে ও সেখানকার গুহাতে ইব্রাহিমের অধিকার হেতের সন্তানদের দ্বারা স্থিরীকৃত হল।
1
সেই সময় ইব্রাহিম বৃদ্ধ ও অনেক বয়স্ক ছিলেন এবং মাবুদ ইব্রাহিমকে সমস্ত বিষয়ে দোয়া করেছিলেন।
2 তখন ইব্রাহিম তাঁর গোলামকে, তাঁর সমস্ত বিষয়ের ভার যার উপর রয়েছে বাড়ির সেই প্রাচীনকে বললেন, সবিনয়ে বলি, তুমি আমার ঊরুর নিচে হাত দাও;
3 আমি তোমাকে বেহেশত ও দুনিয়ার আল্লাহ্ মাবুদের নামে এই কসম করাই, যে কেনানীয় লোকদের মধ্যে আমি বাস করছি, তুমি আমার পুত্রের বিয়ের জন্য তাদের কোন কন্যা গ্রহণ করবে না,
4 কিন্তু আমার দেশে, আমার জ্ঞাতিদের কাছে গিয়ে আমার পুত্র ইস্হাকের জন্য একটি কন্যা আনবে।
5 তখন সেই গোলাম তাঁকে বললেন, কি জানি, আমার সঙ্গে এই দেশে আসতে কোন কন্যা সম্মত হবে কি না; আপনি যে দেশ ছেড়ে এসেছেন, আপনার পুত্রকে কি আবার সেই দেশে নিয়ে যাব?
6 তখন ইব্রাহিম তাঁকে বললেন, সাবধান, কোনক্রমে আমার পুত্রকে আবার সেখানে নিয়ে যেও না।
7 মাবুদ, বেহেশতের আল্লাহ্, যিনি আমাকে পিতার বাড়ি-ঘর ও জন্মভূমি থেকে বের করে এনেছেন, আমার সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং এমন কসম খেয়েছেন যে, আমি তোমার বংশকে এই দেশ দেব, তিনিই তোমার আগে তাঁর ফেরেশতা পাঠিয়ে দেবেন; তাতে তুমি আমার পুত্রের জন্য সেখান থেকে একটি কন্যা আনতে পারবে।
8 যদি কোন কন্যা তোমার সঙ্গে আসতে সম্মত না হয়, তবে তুমি আমার এই কসম থেকে মুক্ত হবে; কিন্তু কোনক্রমে আমার পুত্রকে আবার সেই দেশে নিয়ে যেও না।
9 তাতে সেই গোলাম তাঁর মালিক ইব্রাহিমের ঊরুর নিচে হাত দিয়ে সেই বিষয়ে কসম করলেন।
10
পরে সেই গোলাম তাঁর মালিকের উটগুলোর মধ্য থেকে দশটা উট ও তাঁর মালিকের সব রকম উত্তম দ্রব্য হাতে নিয়ে প্রস্থান করলেন, অরাম-নহরয়িম দেশে, নাহোরের নগরে যাত্রা করলেন।
11 সন্ধ্যাকালে যে সময়ে স্ত্রীলোকেরা পানি তুলতে বের হয়, সেই সময় তিনি নগরের বাইরে পানিপূর্ণ কূপের কাছে উটগুলোকে বসিয়ে রাখলেন,
12 এবং বললেন, হে মাবুদ, আমার মালিক ইব্রাহিমের আল্লাহ্, বিনয় সহকারে বলি, আজ আমার সম্মুখে শুভফল উপস্থিত করো, আমার মালিক ইব্রাহিমের প্রতি তোমার অটল মহব্বত প্রকাশ কর।
13 দেখ, আমি এই পানিপূর্ণ কূপের কাছে দাঁড়িয়ে আছি এবং এই নগরবাসীদের কন্যারা পানি তুলতে বাইরে আসছে;
14 অতএব যে কন্যাকে আমি বলবো, আপনার কলসী নামিয়ে আমাকে পানি পান করান, সে যদি বলে, পান করুন, আপনার উটগুলোকেও পান করাব, তবে তোমার গোলাম ইস্হাকের জন্য তোমার নিরূপিত কন্যা সে-ই হোক; এতে আমি জানবো যে, তুমি আমার মালিকের প্রতি অটল মহব্বত প্রকাশ করলে।
15
এই কথা বলতে না বলতে, দেখ, রেবেকা কলসী কাঁধে বাইরে এলেন। তিনি ইব্রাহিমের নাহোর নামক ভাইয়ের স্ত্রী মিল্কার পুত্র বথূয়েলের কন্যা।
16 সেই কন্যা দেখতে বড়ই সুন্দরী এবং অবিবাহিতা ও কুমারী ছিলেন। তিনি কূপে নেমে কলসী পূর্ণ করে উঠে আসছেন,
17 এমন সময়ে সেই গোলাম দৌড়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আরজ করি, আপনার কলসী থেকে আমাকে কিঞ্চিৎ পানি পান করতে দিন।
18 তিনি বললেন, জনাব, পান করুন। এই বলে তিনি শীঘ্র কলসীটা হাতের উপরে নামিয়ে তাঁকে পান করতে দিলেন।
19 আর তাঁকে পান করাবার পর বললেন, যতক্ষণ আপনার উটগুলোর পানি পান সমাপ্ত না হয়, ততক্ষণ আমি ওদের জন্যও পানি তুলবো।
20 পরে তিনি শীঘ্র চৌবাচ্চায় কলসীর পানি ঢেলে পুনরায় পানি তুলতে কূপের কাছে দৌড়ে গিয়ে তাঁর উটগুলোর জন্য পানি তুললেন।
21 তাতে সেই পুরুষ তাঁর প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে, মাবুদ তাঁর যাত্রা সফল করেন কি না, তা জানবার জন্য নীরব রইলেন।
22
উটগুলোকে পানি পান করানো হলে পর সেই পুরুষ অর্ধেক তোলা পরিমিত স্ব্বর্ণের নথ এবং দশ তোলা পরিমিত দুই হাতের সোনার বালা নিয়ে বললেন, আপনি কার কন্যা?
23 অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন, আপনার পিতার বাড়িতে কি আমাদের রাত্রি যাপনের স্থান আছে?
24 তিনি জবাবে বললেন, আমি সেই বথূয়েলের কন্যা, যিনি মিল্কার পুত্র, যাঁকে তিনি নাহোরের জন্য প্রসব করেছিলেন।
25 তিনি আরও বললেন, খড় ও ভুষি আমাদের কাছে যথেষ্ট আছে এবং রাত্রি যাপনের স্থানও আছে।
26 তখন সেই ব্যক্তি ভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে মাবুদকে সেজ্দা করে বললেন,
27 আমার মালিক ইব্রাহিমের আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, তিনি আমার মালিকের সঙ্গে তাঁর অটল মহব্বত প্রকাশ করতে ও বিশ্বস্ততা দেখাতে নিবৃত্ত হন নি; মাবুদ আমাকেও পথ দেখিয়ে আমার মালিকের জ্ঞাতিদের বাড়িতে আনলেন।
28
পরে সেই কন্যা দৌড়ে গিয়ে তাঁর মায়ের বাড়ির লোকদেরকে এসব কথা জানালেন।
29 রেবেকার লাবন নামে এক ভাই ছিলেন; তিনি বাইরে ঐ ব্যক্তির উদ্দেশে কূপের কাছে দৌড়ে গেলেন।
30 নথ ও বোনের হাতে বালা দেখে এবং সেই ব্যক্তি আমাকে এই এই কথা বললেন, আপন বোন রেবেকার মুখে এই কথা শুনে, তিনি সেই পুরুষের কাছে গেলেন, আর দেখ, তিনি কূপের কাছে উটগুলোর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
31 তখন লাবন বললেন, হে মাবুদের দোয়ার পাত্র, আসুন, কেন বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন? আমি তো আপনাদের ঘর এবং উটগুলোর জন্যও স্থান প্রস্তুত করেছি।
32 তখন ঐ ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে উটগুলোর আচ্ছাদন খুলে তিনি উটগুলোর জন্য পোয়াল ও কলাই দিলেন এবং তাঁর ও তাঁর সঙ্গী লোকদের পা ধোবার পানি দিলেন।
33
পরে তাঁর সম্মুখে খাদ্যদ্রব্য রাখা হল, কিন্তু তিনি বললেন, আমার কথা না বলে আমি আহার করবো না। লাবন বললেন, বলুন।
34
তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমি ইব্রাহিমের গোলাম;
35 মাবুদ আমার মালিককে অনেক দোয়া করেছেন, এতে তিনি ধনবান হয়েছেন এবং মাবুদ তাঁকে ছাগল-ভেড়া ও গরুর পাল এবং রূপা ও সোনা, গোলাম ও বাঁদী, উট ও গাধা দিয়েছেন।
36 আমার মালিকের স্ত্রী সারা বৃদ্ধকালে তাঁর জন্য একটি পুত্র প্রসব করেছেন, তাঁকেই তিনি তাঁর সর্বস্ব দিয়েছেন।
37 আমার মালিক আমাকে কসম করিয়ে বললেন, আমি যাদের দেশে বাস করছি, তুমি আমার পুত্রের জন্য সেই কেনানীয়দের কোন কন্যা এনো না;
38 কিন্তু আমার পিতৃকুলের ও আমার গোষ্ঠীর কাছে গিয়ে আমার পুত্রের জন্য কন্যা এনো।
39 তখন আমি মালিককে বললাম, কি জানি, কোন কন্যা আমার সঙ্গে আসবে কিনা।
40 তিনি বললেন, আমি যাঁর সাক্ষাতে গমনাগমন করি, সেই মাবুদ তোমার সঙ্গে তাঁর ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমার যাত্রা সফল করবেন। তুমি আমার গোষ্ঠী ও আমার পিতৃকুল থেকে আমার পুত্রের জন্য কন্যা আনবে।
41 তা করলে এই কসম থেকে মুক্ত হবে; আমার গোষ্ঠীর কাছে গেলে যদি তারা কন্যা না দেয়, তবে তুমি এই কসম থেকে মুক্ত হবে।
42
আর আজ আমি ঐ কূপের কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে মাবুদ, আমার মালিক ইব্রাহিমের আল্লাহ্, তুমি যদি আমার এই যাত্রা সফল করো,
43 তবে দেখ, আমি এই পানিপূর্ণ কূপের কাছে দাঁড়িয়ে আছি, অতএব পানি তুলবার জন্য আগত যে কন্যাকে আমি বলবো, আপনার কলসী থেকে আমাকে কিঞ্চিৎ পানি পান করতে দেন,
44 তিনি যদি বলেন, আপনিও পান করুন এবং আপনার উটগুলোর জন্যও আমি পানি তুলে দেব; তবে তিনি সেই কন্যা হোন, যাঁকে মাবুদ আমার মালিকের পুত্রের জন্য মনোনীত করেছেন।
45
এই কথা আমি মনে মনে বলতে না বলতে, দেখ, রেবেকা কলসী কাঁধে বাইরে এলেন; পরে তিনি কূপে নেমে পানি তুললে আমি বললাম, আরজ করি, আমাকে পানি পান করান।
46 তখন তিনি শীঘ্র কাঁধ থেকে কলসী নামিয়ে বললেন, পান করুন, আমি আপনার উটগুলোকেও পান করাবো। তখন আমি পান করলাম; আর তিনি উটগুলোকেও পান করালেন।
47 পরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার কন্যা? তিনি বললেন, আমি বথূয়েলের কন্যা, তিনি নাহোরের পুত্র, যাঁকে মিল্কা তাঁর জন্য প্রসব করেছিলেন। তখন আমি তাঁর নাকে নথ ও হাতে বালা পরিয়ে দিলাম।
48 আর মস্তক নত করে মাবুদের উদ্দেশ্যে সেজ্দা করলাম এবং যিনি আমার মালিকের পুত্রের জন্য তাঁর ভাইয়ের কন্যাকে গ্রহণ করার জন্য আমাকে সঠিক পথে আনলেন, আমার মালিক ইব্রাহিমের আল্লাহ্ সেই মাবুদের প্রশংসা করলাম।
49 অতএব আপনারা যদি এখন আমার মালিকের সঙ্গে দয়া ও সত্য ব্যবহার করতে সম্মত হন, তা বলুন; আর যদি না হন, তাও বলুন; তাতে আমি অন্য কোথাও চেষ্টা করতে পারবো।
50
তখন লাবন ও বথূয়েল জবাবে বললেন, মাবুদ থেকে এই ঘটনা হল, আমরা ভাল-মন্দ কিছুই বলতে পারি না।
51 ঐ দেখুন, রেবেকা আপনার সামনেই আছে; ওকে নিয়ে প্রস্থান করুন; এই আপনার মালিকের পুত্রের স্ত্রী হোক, যেমন মাবুদ বলেছেন।
52
তাঁদের কথা শুনে ইব্রাহিমের গোলাম মাবুদের উদ্দেশে ভূমিতে সেজ্দা করলেন।
53 পরে সেই গোলাম রূপার ও সোনার অলংকার ও কাপড় বের করে রেবেকাকে দিলেন এবং তাঁর ভাই ও মাকে বহুমূল্য দ্রব্য দিলেন।
54 আর তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা ভোজন পান করে সেখানে রাত্রিবাস করলেন; পরে তাঁরা প্রাতঃকালে উঠলে তিনি বললেন, আমার মালিকের কাছে যেতে আমাকে বিদায় দিন।
55 তাতে রেবেকার ভাই ও মা বললেন, কন্যাটি আমাদের কাছে কিছুদিন থাকুক, কমপক্ষে দশ দিন থাকুক, পরে যাবে।
56 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, আমাকে বিলম্ব করাবেন না, কেননা মাবুদ আমার যাত্রা সফল করলেন; আমাকে বিদায় দিন; আমি নিজের মালিকের কাছে যাই।
57 তাতে তাঁরা বললেন, আমরা কন্যাকে ডেকে তার সাক্ষাতেই জিজ্ঞাসা করি।
58 পরে তাঁরা রেবেকাকে ডেকে বললেন, তুমি কি এই ব্যক্তির সঙ্গে যাবে? তিনি বললেন, যাব।
59 তখন তাঁরা তাঁদের বোন রেবেকা ও তাঁর ধাত্রীকে এবং ইব্রাহিমের গোলামকে ও তাঁর লোকদেরকে বিদায় দিলেন।
60 আর রেবেকাকে দোয়া করে বললেন,
তুমি আমাদের বোন,
হাজার হাজার ও লক্ষ লক্ষ
সন্তানের মা হও;
তোমার বংশ তার দুশমনদের
নগর অধিকার করুক।
61
পরে রেবেকা ও তাঁর বাঁদীরা উঠলেন এবং উটে চড়ে সেই মানুষটির সঙ্গে যাত্রা করলেন। এভাবে সেই গোলাম রেবেকাকে নিয়ে প্রস্থান করলেন।
62
আর ইস্হাক বের্-লহয়্-রোয়ী নামক স্থানে গিয়ে ফিরে এসেছিলেন, কেননা তিনি দক্ষিণ দেশে বাস করছিলেন।
63 ইস্হাক সন্ধ্যাকালে ধ্যান করতে মাঠে গিয়েছিলেন, পরে চোখ তুলে চাইলেন, আর দেখ, কতগুলো উট আসছে।
64 রেবেকা চোখ তুলে যখন ইস্হাককে দেখলেন তখন উট থেকে নামলেন এবং সেই গোলামকে জিজ্ঞাসা করলেন,
65 আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ক্ষেতের মধ্য দিয়ে আসছেন, উনি কে? গোলাম বললেন, উনি আমার মালিক। তখন রেবেকা চাদর নিয়ে নিজেকে আচ্ছাদন করলেন।
66 পরে সেই গোলাম যা যা করে এসেছেন সেই সব কাজের বিবরণ ইস্হাককে দিলেন।
67 তখন ইস্হাক রেবেকাকে গ্রহণ করে তাঁর মা সারার তাঁবুতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করলেন এবং তাঁকে মহব্বত করলেন। তাতে ইস্হাক মাতৃবিয়োগের শোক থেকে সান্ত্বনা পেলেন।
1
ইব্রাহিম কটুরা নাম্নী আর একটি রমণীকে বিয়ে করেন।
2 তিনি তাঁর জন্য সিম্রণ, যক্ষণ, মদান, মাদিয়ান, যিশ্বক ও শূহ নামে এই সকল সন্তান প্রসব করলেন।
3 যক্ষণ থেকে সাবা ও দদান জন্মে। আশেরিয়া, লটুশীয় ও লিয়ূম্মীয় লোকেরা দদানের সন্তান।
4 মাদিয়ানের সন্তান ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ ও ইল্দায়া; এসব কটূরার সন্তান।
5 আর ইব্রাহিম ইস্হাককে নিজের সর্বস্ব দিলেন।
6 কিন্তু তাঁর উপপত্নীদের সন্তানদেরকে ইব্রাহিম ভিন্ন ভিন্ন দান দিয়ে তাঁর জীবন কালেই তাঁর পুত্র ইস্হাকের কাছ থেকে তাদেরকে পূর্ব দিকে, পূর্বদেশে প্রেরণ করলেন।
7
ইব্রাহিম মোট একশত পঁচাত্তর বছর জীবিত ছিলেন।
8 পরে ইব্রাহিম বৃদ্ধ ও পূর্ণ আয়ু লাভ করে শুভ বৃদ্ধাবস্থায় প্রাণত্যাগ করে আপন লোকদের কাছে গৃহীত হলেন।
9 আর তাঁর পুত্র ইস্হাক ও ইসমাইল মম্রির সম্মুখে হেতীয় সোহরের পুত্র ইফ্রোণের ক্ষেতের মক্পেলা গুহাতে তাঁকে দাফন করলেন।
10 ইব্রাহিম হেতের সন্তানদের কাছ থেকে সেই ক্ষেত ক্রয় করেছিলেন। সেই স্থানে ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী সারাকে দাফন করা হয়।
11 ইব্রাহিমের ইন্তেকালের পর আল্লাহ্ তাঁর পুত্র ইস্হাককে দোয়া করলেন এবং ইস্হাক বের্-লহয়্-রোয়ীর কাছে বাস করলেন।
12
এই হল ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের বংশ-বৃত্তান্ত: সারার বাঁদী মিসরীয়া হাজেরা ইব্রাহিমের জন্য তাঁকে প্রসব করেছিল।
13 নিজ নিজ নাম ও গোষ্ঠী অনুসারে ইসমাইলের সন্তানদের নাম হচ্ছে— ইসমাইলের জ্যেষ্ঠ পুত্র নবায়োৎ, পরে কায়দার, অদ্বেল, মিব্সম,
14 মিশ্ম, দুমা, মসা,
15 হদদ, তেমা, যিটূর, নাফীশ ও কেদমা।
16 এরা সবাই ইসমাইলের সন্তান; আর তাঁদের গ্রাম ও তাঁবুপল্লী অনুসারে তাঁদের এই এই নাম; তাঁরা নিজ নিজ জাতি অনুসারে বারো জন গোষ্ঠীপতি ছিলেন।
17 ইসমাইলের জীবনকাল একশত সাঁইত্রিশ বছর ছিল; মৃত্যুর পর তিনি আপন লোকদের কাছে সংগৃহীত হলেন।
18 আর তাঁর সন্তানেরা হবীলা থেকে আসিরিয়ার দিকে মিসরের সম্মুখস্থ শূর পর্যন্ত বসতি করলো; তিনি তাঁর সকল ভাইয়ের সম্মুখে বসতিস্থান পেলেন।
19
ইব্রাহিমের পুত্র ইস্হাকের বংশ-বৃত্তান্ত হচ্ছে— ইব্রাহিম ইস্হাককে জন্ম দিয়েছিলেন।
20 চল্লিশ বছর বয়সে ইস্হাক অরামীয় বথূয়েলের কন্যা অরামীয় লাবনের বোন রেবেকাকে পদ্দন্-অরাম থেকে আনিয়ে বিয়ে করেন।
21 ইস্হাকের স্ত্রী বন্ধ্যা হওয়াতে তিনি তাঁর জন্য মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন। তাতে মাবুদ তাঁর মুনাজাত শুনলেন, তাঁর স্ত্রী রেবেকা গর্ভবতী হলেন।
22 পরে তাঁর গর্ভের মধ্যে শিশুরা জড়াজড়ি শুরু করলে, তিনি বললেন, যদি এই রকম হয় তবে আমি কেন বেঁচে আছি? আর তিনি মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে গেলেন।
23 তখন মাবুদ তাঁকে বললেন,
তোমার জঠরে দু’টি জাতি আছে,
ও তোমার উদর থেকে দু’টি বংশ
পৃথক হবে;
এক বংশ অন্য বংশের চেয়ে বলবান হবে,
ও জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠের গোলাম হবে।
24
পরে প্রসবকাল সমপূর্ণ হল, আর দেখ, তাঁর গর্ভে যমজ পুত্র।
25 যে প্রথমে ভূমিষ্ঠ হল, সে লাল রংয়ের এবং তার সর্বাঙ্গ লোমশ কাপড়ের মত ছিল। তার নাম ইস্ (লোমশ) রাখা হল।
26 পরে তার ভাই ভূমিষ্ঠ হল। তার হাত ইসের পায়ের গোড়ালি ধরেছিল, আর তার নাম ইয়াকুব (গোড়ালি-ধরা) হল; ইস্হাকের ষাট বছর বয়সে এই যমজ পুত্র হল।
27
পরে সেই বালকেরা বড় হলে ইস্ নিপুণ শিকারী হলেন ও মরুপ্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেন; কিন্তু ইয়াকুব ছিলেন শান্ত, তিনি তাঁবুতে বাস করতেন।
28 শিকার করে আনা হরিণের গোশ্ত খেতে পছন্দ করতেন বলে ইস্হাক ইস্কে ভালবাসতেন কিন্তু রেবেকা ইয়াকুবকে ভালবাসতেন।
29
একদিন ইয়াকুব ডাল রান্না করেছেন, এমন সময়ে ইস্ ক্লান্ত হয়ে মরুপ্রান্তর থেকে এসে ইয়াকুবকে বললেন, আমি ক্লান্ত,
30 আরজ করি, ঐ লাল, ঐ লাল দিয়ে আমার উদর পূর্ণ করো। এজন্য তাঁর নাম ইদোম (লাল) খ্যাত হল।
31 তখন ইয়াকুব বললেন, আজ তোমার জ্যেষ্ঠাধিকার আমার কাছ বিক্রি করো।
32 ইস্ বললেন, দেখ, আমি মৃতপ্রায়, জ্যেষ্ঠাধিকারে আমার কি লাভ?
33 ইয়াকুব বললেন, তুমি আজ আমার কাছে কসম খাও। তাতে তিনি তাঁর কাছে কসম খেলেন। এভাবে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার ইয়াকুবের কাছে বিক্রি করলেন।
34 আর ইয়াকুব ইস্কে রুটি ও মসুড়ের রান্না করা ডাল দিলেন এবং তিনি ভোজন পান করলেন, পরে উঠে চলে গেলেন। এভাবে ইস্ তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার তুচ্ছ করলেন।
1
আগে ইব্রাহিমের সময়ে যে দুর্ভিক্ষ হয়, তারপর দেশে আর একটি দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হল। তখন ইস্হাক গরারে ফিলিস্তিনীদের বাদশাহ্ আবিমালেকের কাছে গেলেন।
2 আর মাবুদ তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, তুমি মিসর দেশে নেমে যেও না, আমি তোমাকে যে দেশের কথা বলবো সেখানে থাক।
3 এই দেশে বাস কর; আমি তোমার সহবর্তী হয়ে তোমাকে দোয়া করবো, কেননা আমি তোমাকে ও তোমার বংশকে এই সমস্ত দেশ দেব এবং তোমার পিতা ইব্রাহিমের কাছে যে কসম খেয়েছিলাম, তা সফল করবো।
4 আমি আসমানের তারাগুলোর মত তোমার বংশ বৃদ্ধি করবো, তোমার বংশকে এসব দেশ দেব ও তোমার বংশের মধ্য দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত জাতি দোয়া লাভ করবে।
5 কারণ ইব্রাহিম আমার কালাম মেনে আমার দাবী, আমার হুকুম, আমার বিধি ও আমার নিয়মগুলো পালন করেছে।
6
পরে ইস্হাক গরারে বাস করলেন।
7 আর সেই স্থানের লোকেরা তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, উনি আমার বোন; কারণ, ইনি আমার স্ত্রী, এই কথা বলতে তিনি ভয় পেলেন, ভাবলেন কি জানি এই স্থানের লোকেরা রেবেকার জন্য আমাকে হত্যা করবে; কেননা তিনি দেখতে সুন্দরী ছিলেন।
8 কিন্তু সেই স্থানে অনেক দিন বাস করলে পর কোন এক সময়ে ফিলিস্তিনীদের বাদশাহ্ আবিমালেক জানালা দিয়ে দেখতে পেলেন যে, ইস্হাক তাঁর স্ত্রী রেবেকাকে আদর করছেন।
9 তখন আবিমালেক ইস্হাককে ডাকিয়ে বললেন, দেখুন, ঐ নারী অবশ্য আপনার স্ত্রী; তবে আপনি বোন বলে তাঁর পরিচয় কেন দিয়েছিলেন? জবাবে ইস্হাক বললেন, আমি ভেবেছিলাম, কি জানি তাঁর জন্য আমার মৃত্যু হবে।
10 তখন আবিমালেক বললেন, আপনি আমাদের সঙ্গে এ কি ব্যবহার করলেন? যে কোন লোক আপনার স্ত্রীর সঙ্গে অনায়াসে শয়ন করতে পারতো; তা হলে আপনি আমাদেরকে দোষী করতেন।
11 পরে আবিমালেক সমস্ত লোককে এই হুকুম দিলেন, যে কেউ এই ব্যক্তিকে কিম্বা এঁর স্ত্রীকে স্পর্শ করবে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
12
আর ইস্হাক সেই দেশে কৃষিকর্ম করে সেই বছর শত গুণ শস্য পেলেন এবং মাবুদ তাঁকে দোয়া করলেন।
13 তিনি খুব ধনী হয়ে উঠলেন এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে অতিশয় ধনবান হলেন;
14 আর তাঁর অনেক গরু-ছাগলের পাল, ভেড়ার পাল এবং অনেক গোলাম বাঁদী হল; আর ফিলিস্তিনীরা তাঁর প্রতি ঈর্ষা করতে লাগল।
15 তাঁর পিতা ইব্রাহিমের সময়ে তাঁর গোলামেরা যে সব কূপ খনন করেছিল, ফিলিস্তিনীরা সেই সমস্ত ভরাট করে ধূলিতে পরিপূর্ণ করেছিল।
16 পরে আবিমালেক ইস্হাককে বললেন, আমাদের কাছ থেকে প্রস্থান করুন, কেননা আপনি আমাদের চেয়ে বেশি বলবান হয়েছেন।
17
পরে ইস্হাক সেখান থেকে যাত্রা করলেন ও গরারের উপত্যকাতে তাঁবু স্থাপন করে সেই স্থানে বাস করলেন।
18 আর ইস্হাক তাঁর পিতা ইব্রাহিমের সময়ে খনন করা কূপগুলো আবার খনন করলেন; কারণ ইব্রাহিমের মৃত্যুর পরে ফিলিস্তিনীরা সেসব ভরাট করে ফেলেছিল; আর তাঁর পিতা সেসব কূপের যে যে নাম রেখেছিলেন, তিনিও সেটির সেই নামই রাখলেন।
19 সেই উপত্যকায় ইস্হাকের গোলামেরা মাটি খুঁড়ে পানির উৎস বিশিষ্ট একটি কূপ পেল।
20 তাতে গরারীয় পশুপালকেরা ইস্হাকের পশুপালকদের সঙ্গে বিবাদ করে বললো, এই পানি আমাদের; অতএব তিনি সেই কূপের নাম এষক (বিবাদ) রাখলেন, যেহেতু তারা তাঁর সঙ্গে বিবাদ করেছিল।
21 পরে তাঁর গোলামেরা আর একটি কূপ খনন করলে তারা সেটির জন্যও বিবাদ করলো; তাতে তিনি সেটির নাম সিট্না (বিপক্ষতা) রাখলেন।
22 তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করে অন্য একটি কূপ খনন করলেন; সেটির জন্য তারা বিবাদ করলো না; তাই তিনি সেটির নাম রহোবোৎ (প্রশস্ত স্থান) রেখে বললেন, এখন মাবুদ আমাদেরকে প্রশস্ত স্থান দিলেন, আমরা দেশে ফলবন্ত হবো।
23
পরে তিনি সেখান থেকে বের্-শেবাতে উঠে গেলেন।
24 সেই রাতে মাবুদ তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, আমি তোমার পিতা ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ভয় করো না, কেননা আমি আমার গোলাম ইব্রাহিমের অনুরোধে তোমার সহবর্তী, আমি তোমাকে দোয়া করবো ও তোমার বংশ বৃদ্ধি করবো।
25 পরে ইস্হাক সেই স্থানে কোরবানগাহ্ তৈরি করে মাবুদের এবাদত করলেন, আর সেই স্থানে তিনি তাঁবু স্থাপন করলেন; তাঁর গোলামেরা সেখানে একটি কূপ খনন করলো।
26
আবিমালেক তাঁর মন্ত্রি অহূষৎ ও সেনাপতি ফীকোলকে সঙ্গে নিয়ে গরার থেকে ইস্হাকের কাছে আসলেন।
27 তখন ইস্হাক তাঁদেরকে বললেন, আপনারা আমার কাছে কি জন্য এসেছেন? আপনারা তো আমাকে হিংসা করে আপনাদের মধ্য থেকে দূর করে দিয়েছেন।
28 তাঁরা বললেন, আমরা স্পষ্টই দেখলাম, মাবুদ আপনার সহবর্তী, এজন্য বললাম, আমাদের মধ্যে, অর্থাৎ আমাদের ও আপনার মধ্যে একটি শপথ হোক, আর আমরা একটি চুক্তি স্থির করি।
29 আমরা যেমন আপনাকে স্পর্শ করি নি ও আপনার মঙ্গল ছাড়া কোন অমঙ্গল করি নি, বরং আপনাকে শান্তিতে বিদায় করেছি, তেমনি আপনিও আমাদের কোন ক্ষতি করবেন না; আপনিই এখন মাবুদের দোয়ার পাত্র।
30 তখন ইস্হাক তাঁদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করলে তাঁরা ভোজন পান করলেন।
31 পরে তাঁরা খুব ভোরে উঠে পরস্পর কসম করলেন; তখন ইস্হাক তাঁদেরকে বিদায় করলে তাঁরা শান্তিতে তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করলেন।
32
সেদিন ইস্হাকের গোলামেরা এসে তাদের খনন করা কূপের বিষয়ে সংবাদ দিয়ে তাঁকে বললো, পানি পেয়েছি।
33 আর তিনি তার নাম শিবিয়া (কসম) রাখলেন, এজন্য এখন পর্যন্ত সেই নগরের নাম বের্-শেবা রয়েছে।
34
আর ইস্ চল্লিশ বছর বয়সে হিট্টিয় বেরির ইহুদীৎ নাম্নী কন্যাকে এবং হিট্টিয় এলোনের বাসমৎ নাম্নী কন্যাকে বিয়ে করলেন।
35 এরা ইস্হাকের ও রেবেকার মনের দুঃখের কারণ হল।
1
পরে ইস্হাক বৃদ্ধ হলে চোখ নিস্তেজ হওয়ায় আর দেখতে পেতেন না; তখন তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইস্কে ডেকে বললেন, বৎস; জবাবে তিনি বললেন, দেখুন, এই তো আমি।
2 তখন ইস্হাক বললেন, দেখ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি; কোন দিন আমার মৃত্যু হয়, জানি না।
3 এখন আরজ করি, তোমার অস্ত্র, তূণ ও ধনুক নিয়ে প্রান্তরে যাও, আমার জন্য হরিণ শিকার করে আন।
4 আর আমি যেরকম ভালবাসি, সেই রকম সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করে আমার কাছে আন, আমি ভোজন করবো, যেন মৃত্যুর আগে আমার প্রাণ তোমাকে দোয়া করে।
5
যখন ইস্হাক তাঁর পুত্র ইস্কে এই কথা বলছিলেন তখন রেবেকা তা শুনছিলেন। অতএব ইস্ হরিণ শিকার করে আনবার জন্য প্রান্তরে গমন করলে পর,
6 রেবেকা তাঁর পুত্র ইয়াকুবকে বললেন, দেখ, তোমার ভাই ইস্কে তোমার পিতা যা বলেছেন, আমি শুনেছি;
7 তিনি বলেছেন, তুমি আমার জন্য হরিণ শিকার করে এনে সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করো, তাতে আমি ভোজন করে মৃত্যুর আগে মাবুদের সাক্ষাতে তোমাকে দোয়া করবো।
8 হে আমার পুত্র, এখন আমি তোমাকে যা হুকুম করি, আমার সেই কথা শোন,
9 তুমি পালে গিয়ে সেখান থেকে উত্তম দু’টি ছাগলের বাচ্চা আন, তোমার পিতা যেরকম ভালবাসেন, সেই রকম সুস্বাদু খাদ্য আমি প্রস্তুত করে দিই;
10 পরে তুমি তোমার পিতার কাছে তা নিয়ে যাও, তিনি তা ভোজন করুন, যেন তিনি মৃত্যুর আগে তোমাকে দোয়া করেন।
11 তখন ইয়াকুব তাঁর মা রেবেকাকে বললেন, দেখ, আমার ভাই ইস্ লোমশ, কিন্তু আমি লোমহীন।
12 কি জানি, পিতা আমাকে স্পর্শ করবেন, আর আমি তাঁর দৃষ্টিতে প্রবঞ্চক বলে গণ্য হব; তা হলে আমি আমার প্রতি দোয়া ডেকে না এনে বদদোয়া ডেকে আনবো।
13 কিন্তু তাঁর মা বললেন, বৎস, সেই বদদোয়া আমাতেই লাগুক, কেবল আমার কথা শোন, একটি ছাগলের বাচ্চা নিয়ে এসো।
14
পরে ইয়াকুব গিয়ে ছাগলের বাচ্চা এনে মাকে দিলেন, আর তাঁর পিতা যেরকম ভালবাসতেন, মা সেই রকম সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করলেন।
15 আর ঘরে তাঁর কাছে জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসের যে যে সুন্দর পোশাক ছিল, রেবেকা তা নিয়ে কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াকুবকে পরিয়ে দিলেন।
16 আর ঐ দু’টি ছাগলের বাচ্চার চামড়া নিয়ে তাঁর হাতে ও গলদেশের লোমহীন স্থানে জড়িয়ে দিলেন।
17 আর তিনি যে সুস্বাদু খাদ্য ও রুটি তৈরি করেছিলেন তা তাঁর পুত্র ইয়াকুবের হাতে দিলেন।
18
পরে তিনি তাঁর পিতার কাছে গিয়ে বললেন, আব্বা। তিনি জবাবে বললেন, দেখ, এই যে আমি; বৎস, তুমি কে?
19 ইয়াকুব তাঁর পিতাকে বললেন, আমি আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইস্; আপনি আমাকে যা হুকুম করেছিলেন, তা করেছি। আরজ করি, আপনি উঠে বসুন এবং আমার আনীত হরিণের গোশ্ত ভোজন করুন, যেন আপনার প্রাণ আমাকে দোয়া করে।
20 তখন ইস্হাক তাঁর পুত্রকে বললেন, বৎস কেমন করে এত শীঘ্র সেটি পেলে? তিনি বললেন, আপনার আল্লাহ্ মাবুদ আমার সম্মুখে শুভফল উপস্থিত করলেন।
21 ইস্হাক ইয়াকুবকে বললেন, বৎস, কাছে এসো; আমি তোমাকে স্পর্শ করে বুঝি, তুমি সত্যিই আমার পুত্র ইস্ কি না।
22 তখন ইয়াকুব তাঁর পিতা ইস্হাকের কাছে গেলে তিনি তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, স্বর তো ইয়াকুবের, কিন্তু হাত ইসের হাত।
23 বাস্তবিক তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন না, কারণ ভাই ইসের হাতের মত তাঁর হাত লোমযুক্ত ছিল; অতএব তিনি তাঁকে দোয়া করলেন।
24 তিনি বললেন, তুমি কি বাস্তবিকই আমার পুত্র ইস্? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
25 তখন ইস্হাক বললেন, আমার কাছে আন; আমি পুত্রের আনীত হরিণের গোশ্ত ভোজন করি, যেন আমার প্রাণ তোমাকে দোয়া করে। তখন তিনি গোশ্ত আনলে ইস্হাক ভোজন করলেন এবং আঙ্গুর-রস এনে দিলে তা পান করলেন।
26 পরে তাঁর পিতা ইস্হাক বললেন, বৎস, আরজ করি, কাছে এসে আমাকে চুম্বন করো।
27 তখন তিনি কাছে গিয়ে চুম্বন করলেন, আর ইস্হাক তাঁর কাপড়ের গন্ধ নিয়ে তাঁকে দোয়া করে বললেন,
দেখ, আমার পুত্রের সুগন্ধ
মাবুদের দোয়াযুক্ত ক্ষেত্রের সুগন্ধের মত।
28
আল্লাহ্ আসমানের শিশির থেকে
ও ভূমির সরসতা থেকে তোমাকে দিন;
প্রচুর শস্য ও আঙ্গুর-রস তোমাকে দিন।
29
লোকবৃন্দ তোমার গোলাম হোক,
জাতিরা তোমাকে ভূমিতে উবুড় হয়ে
সালাম করুক;
তুমি তোমার জ্ঞাতিদের মালিক হও,
তোমার ভাইয়েরা তোমাকে ভূমিতে
উবুড় হয়ে সালাম করুক।
যে কেউ তোমাকে বদদোয়া দেয়,
সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক;
যে কেউ তোমাকে দোয়া করে,
সে দোয়াযুক্ত হোক।
30
ইস্হাক যখন ইয়াকুবের প্রতি দোয়া শেষ করলেন, তখন ইয়াকুব তাঁর পিতা ইস্হাকের সম্মুখ থেকে যেতে না যেতেই তাঁর ভাই ইস্ শিকার করে ঘরে আসলেন।
31 তিনিও সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করে পিতার কাছে এনে বললেন, আব্বা, আপনি উঠে পুত্রের আনীত হরিণের গোশ্ত ভোজন করুন, যেন আপনার প্রাণ আমাকে দোয়া করে।
32 তখন তাঁর পিতা ইস্হাক বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইস্।
33 তখন ইস্হাক ভীষণ ভয়ে কাঁপতে লাগলেন, বললেন, তবে সে কে, যে আমার কাছে শিকার করে হরিণের গোশ্ত এনেছিল? আমি তোমার আসবার আগেই তা ভোজন করে তাকে দোয়া করেছি, আর সেই দোয়ার ফল সে পাবেই।
34 পিতার এই কথা শুনামাত্র ইস্ অতিশয় ব্যাকুলচিত্তে ভীষণভাবে চিৎকার করতে লাগলেন এবং তাঁর পিতাকে বললেন, আব্বা, আমাকে, আমাকেও দোয়া করুন।
35 ইস্হাক বললেন, তোমার ভাই ছলনা করে এসে তোমার দোয়া হরণ করেছে।
36 ইস্ বললেন, তার নাম কি ইয়াকুব (বঞ্চক) নয়? বাস্তবিক সে দু’বার আমাকে প্রবঞ্চনা করেছে; সে আমার জ্যেষ্ঠাধিকার হরণ করেছিল এবং দেখুন, এখন আমার দোয়াও হরণ করেছে। তিনি আবার বললেন, আপনি কি আমার জন্য কোন দোয়াই রাখেন নি?
37 তখন ইস্হাক জবাবে ইস্কে বললেন, দেখ, আমি তাকে তোমার মালিক করেছি এবং তার জ্ঞাতি সকলকে তারই গোলাম করেছি, আর তাকে শস্য ও আঙ্গুর-রস দিয়ে সবল করেছি; বৎস, এখন তোমার জন্য আর কি করতে পারি?
38 ইস্ আবার তাঁর পিতাকে বললেন, আব্বা, আপনার কি কেবল ঐ একটি দোয়া ছিল? আব্বা, আমাকে, আমাকেও দোয়া করুন। এই বলে ইস্ চিৎকার করে কান্না করতে লাগলেন।
39
তখন তাঁর পিতা ইস্হাক জবাবে বললেন,
দেখ, তোমার বসতি ভূমির
সরসতাবিহীন হবে,
উপরিস্থ আসমানের শিশিরবিহীন হবে।
40
তুমি তলোয়ার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করবে
এবং তোমার ভাইয়ের গোলাম হবে;
কিন্তু যখন তুমি আস্ফালন করবে,
তোমার ঘাড় থেকে তার যোঁয়ালি
ফেলে দেবে।
41
ইয়াকুব তাঁর পিতার কাছ থেকে দোয়া লাভ করেছিলেন বলে ইস্ ইয়াকুবকে হিংসা করতে লাগলেন। আর ইস্ মনে মনে বললেন, আমার পিতৃশোকের কাল প্রায় উপস্থিত, তারপর আমার ভাই ইয়াকুবকে খুন করবো।
42 জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসের এই রকম কথাবার্তা রেবেকা শুনতে পেলেন, তাতে তিনি লোক পাঠিয়ে কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াকুবকে ডাকিয়ে বললেন, দেখ, তোমার ভাই ইস্ তোমাকে খুন করার আশাতেই মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
43 এখন, হে বৎস, আমার কথা শোন; উঠ, হারণে আমার ভাই লাবনের কাছ পালিয়ে যাও;
44 সেখানে কিছু কাল থাক, যে পর্যন্ত তোমার ভাইয়ের ক্রোধ নিবৃত্ত না হয়।
45 তোমার প্রতি ভাইয়ের ক্রোধ নিরসন হলে এবং তুমি তার প্রতি যা করেছ, তা সে ভুলে গেলে আমি লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে তোমাকে আনাবো; এক দিনে তোমাদের দুই জনকেই কেন হারাব?
46
রেবেকা ইস্হাককে বললেন, এই হিট্টিয় কন্যাদের বিষয় আমার প্রাণে ঘৃণা হচ্ছে; যদি ইয়াকুবও এদের মত কোন হিট্টিয় কন্যাকে, এই দেশীয় কন্যাদের মধ্যে কোন কন্যাকে বিয়ে করে তবে প্রাণ ধারণে আমার কি লাভ?
1
তখন ইস্হাক ইয়াকুবকে ডেকে দোয়া করলেন এবং এই হুকুম দিয়ে তাঁকে বললেন, তুমি কেনান দেশীয় কোন কন্যাকে বিয়ে করো না।
2 উঠ, পদ্দন-অরামে তোমার নানা বথূয়েলের বাড়িতে গিয়ে সেই স্থানে তোমার মামা লাবনের কোন কন্যাকে বিয়ে করো।
3 আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তোমাকে দোয়া করে ফলবান ও তোমার সংখ্যা বৃদ্ধি করুন, যেন তুমি বহু জাতির পিতা হয়ে উঠো।
4 তিনি ইব্রাহিমের দোয়া তোমাকে ও তোমার সঙ্গে তোমার বংশকে দিন; যেন তোমার প্রবাসস্থান এই যে দেশ আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে দিয়েছেন, তা তোমার অধিকারে আসে।
5 পরে ইস্হাক ইয়াকুবকে বিদায় করলে পর তিনি পদ্দন-অরামে অরামীয় বথূয়েলের পুত্র এবং ইয়াকুব ও ইসের মা রেবেকার ভাই লাবনের কাছে যাত্রা করলেন।
6
ইস্ যখন দেখলেন, ইস্হাক ইয়াকুবকে দোয়া করে বিয়ের জন্য কন্যা গ্রহণ করতে পদ্দন-অরামে বিদায় করেছেন এবং দোয়া করার সময় কেনানীয় কোন কন্যাকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন,
7 আর ইয়াকুব পিতা-মাতার হুকুম মেনে পদ্দন-অরামে যাত্রা করেছেন।
8 তখন ইস্ দেখলেন যে, কেনানীয় কন্যারা তাঁর পিতা ইস্হাকের অসন্তোষের পাত্রী;
9 সেই জন্য দুই স্ত্রী থাকলেও ইস্ ইসমাইলের কাছে গিয়ে ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের কন্যা, নবায়োতের বোন, মহলৎকে বিয়ে করলেন।
10
ইয়াকুব বের্-শেবা থেকে বের হয়ে হারণের দিকে যাত্রা করলেন,
11 এবং কোন এক স্থানে পৌঁছিলে সূর্য অস্তগত হওয়াতে সেখানে রাত্রিবাস করলেন। আর তিনি সেখানকার একটি পাথর খণ্ড নিয়ে বালিশ করে সেই স্থানে ঘুমাবার জন্য শুয়ে পড়লেন।
12 পরে তিনি স্বপ্ন দেখলেন: দুনিয়ার উপরে একটি সিঁড়ি স্থাপিত, তার মাথাটি আসমানে গিয়ে ঠেকেছে, আর দেখ, তা দিয়ে আল্লাহ্র ফেরেশতারা উঠছেন ও নামছেন।
13 আর দেখ, মাবুদ তার উপরে দণ্ডায়মান; তিনি বললেন, আমি মাবুদ, তোমার পিতা ইব্রাহিমের আল্লাহ্ ও ইস্হাকের আল্লাহ্; এখানে যে ভূমিতে তুমি শয়ন করে আছ, সেই ভূমি আমি তোমাকে ও তোমার বংশকে দেব।
14 তোমার বংশ দুনিয়ার ধূলিকণার মত অসংখ্য হবে এবং তুমি পশ্চিম ও পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়বে এবং তোমার মধ্য দিয়ে ও তোমার বংশের মধ্য দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত গোষ্ঠী দোয়া লাভ করবে।
15 আর দেখ, আমি তোমার সহবর্তী, যে যে স্থানে তুমি যাবে, সেই সেই স্থানে তোমাকে রক্ষা করবো ও পুনর্বার এই দেশে আনবো; কেননা আমি তোমাকে যা যা বললাম, তা যতক্ষণ সফল না করি ততক্ষণ তোমাকে ত্যাগ করবো না।
16 পরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে পর ইয়াকুব বললেন, অবশ্য এই স্থানে মাবুদ আছেন, আর আমি তা বুঝতে পারি নি।
17 আর তিনি ভয় পেয়ে বললেন, এই কেমন ভয়াবহ স্থান! এটি নিশ্চয়ই আল্লাহ্র গৃহ, এটি বেহেশতের দরজা।
18
পরে ইয়াকুব খুব ভোরে উঠে বালিশের জন্য যে পাথরটি ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়ে স্তম্ভরূপে স্থাপন করে তার উপর তেল ঢেলে দিলেন।
19 আর সেই স্থানের নাম বেথেল (আল্লাহ্র গৃহ) রাখলেন, কিন্তু আগে ঐ নগরের নাম ছিল লূস।
20 আর ইয়াকুব মানত করে এই প্রতিজ্ঞা করলেন, যদি আল্লাহ্ আমার সহবর্তী হন, আমার এই গন্তব্য পথে আমাকে রক্ষা করেন এবং আহারের জন্য খাদ্য ও পরিধানের জন্য পোশাক দেন,
21 আর আমি যদি সহিসালামতে পিত্রালয়ে ফিরে আসতে পারি, তবে মাবুদ আমার আল্লাহ্ হবেন,
22 এবং এই যে পাথরটি আমি স্তম্ভরূপে স্থাপন করেছি, এখানেই আল্লাহ্র গৃহ হবে; আর তুমি আমাকে যা কিছু দেবে তার দশমাংশ আমি তোমাকে অবশ্য দেব।
1
পরে ইয়াকুব সেই স্থান থেকে যাত্রা করে পূর্ব দিকে বসবাসকারীদের দেশে গমন করলেন।
2 সেখানে দেখলেন, মাঠের মধ্যে একটি কূপ আছে, আর দেখ, তার কাছে ভেড়ার তিনটি পাল শয়ন করে রয়েছে; কারণ লোকে ভেড়ার পালগুলোকে সেই কূপের পানি পান করাতো, আর সেই কূপের মুখে একটি বড় পাথর ছিল।
3 সেই স্থানে পালগুলোকে একত্র করা হলে পর লোকে কূপের মুখ থেকে পাথরখানি সরিয়ে ভেড়াগুলোকে পানি পান করাতো, পরে পুনর্বার কূপের মুখে যথাস্থানে সেই পাথরটি রাখতো।
4
আর ইয়াকুব তাদেরকে বললেন, ভাইয়েরা, তোমরা কোন্ স্থানের লোক? তারা বললো, আমরা হারণ-নিবাসী।
5 তখন তিনি বললেন, নাহোরের পৌত্র লাবনকে কি চেনো?
6 তারা বললো, চিনি। তিনি বললেন, তাঁর মঙ্গল তো? তারা বললো, মঙ্গল; দেখ, তাঁর কন্যা রাহেলা ভেড়ার পাল নিয়ে আসছেন।
7 তখন তিনি বললেন, দেখ, এখনও অনেক বেলা আছে; পশুপাল একত্র করার সময় হয় নি; তোমরা ভেড়াগুলোকে পানি পান করিয়ে পুনর্বার চরাতে নিয়ে যাও।
8 তারা বললো, যতক্ষণ পালগুলো একত্র না হয়, ততক্ষণ আমরা তা করতে পারি না; পরে কূপের মুখ থেকে পাথরখানি সরানো হয়; তখন আমরা ভেড়াগুলোকে পানি পান করাই।
9
ইয়াকুব তাদের সঙ্গে এরকম কথাবার্তা বলছেন, এমন সময়ে রাহেলা তাঁর পিতার ভেড়ার পাল নিয়ে উপস্থিত হলেন, কেননা তিনি সেই ভেড়ার পাল চরাতেন।
10 তখন ইয়াকুব তাঁর মামা লাবনের কন্যা রাহেলাকে ও মামার ভেড়ার পালকে দেখামাত্র কাছে গিয়ে কূপের মুখ থেকে পাথরখানি সরিয়ে তাঁর মামা লাবনের ভেড়ার পালকে পানি পান করালেন।
11 পরে ইয়াকুব রাহেলাকে চুম্বন করে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন।
12 আর তিনি যে তাঁর পিতার আত্মীয় ও রেবেকার পুত্র, ইয়াকুব রাহেলাকে এই পরিচয় দিলে রাহেলা দৌড়ে গিয়ে তাঁর পিতাকে সংবাদ দিলেন।
13
তাতে লাবন তাঁর ভাগ্নে ইয়াকুবের সংবাদ পেয়ে দৌড়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। তিনি তাঁকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। পরে ইয়াকুব তাঁকে উক্ত সমস্ত বৃত্তান্ত জানালেন।
14 তাতে লাবন বললেন, তুমি প্রকৃতপক্ষেই আমার অস্থি ও আমার মাংস। পরে ইয়াকুব তাঁর বাড়িতে একমাস বাস করলেন।
15
পরে লাবন ইয়াকুবকে বললেন, তুমি আত্মীয় বলে কি বিনা বেতনে আমার গোলামীর কাজ করবে? বলো কি বেতন নেবে?
16 লাবনের দু’টি কন্যা ছিলেন; জ্যেষ্ঠার নাম লেয়া ও কনিষ্ঠার নাম রাহেলা।
17 লেয়া সুনয়না, কিন্তু রাহেলা রূপবতী ও সুন্দরী ছিলেন।
18 আর ইয়াকুব রাহেলাকে বেশি মহব্বত করতেন, এজন্য তিনি জবাবে বললেন, আপনার কনিষ্ঠা কন্যা রাহেলার জন্য আমি সাত বছর আপনার গোলামীর কাজ করবো।
19 লাবন বললেন, অন্য পাত্রকে দান করার চেয়ে তোমাকে দান করা উত্তম বটে; আমার কাছে থাক।
20 এভাবে ইয়াকুব রাহেলার জন্য সাত বছর গোলামীর কাজ করলেন; রাহেলার প্রতি তাঁর ভালবাসার জন্য এক এক বছর তাঁর কাছে এক এক দিন মনে হল।
21
পরে ইয়াকুব লাবনকে বললেন, আমার নিয়মিত কাল সমপূর্ণ হল, এখন আমার স্ত্রী আমাকে দিন, আমি তার কাছে গমন করবো।
22 তখন লাবন ঐ স্থানের সমস্ত লোককে একত্র করে একটা মেজবানী দিলেন।
23 আর সন্ধ্যাকালে তিনি তাঁর কন্যা লেয়াকে তাঁর কাছ এনে দিলেন আর ইয়াকুব তাঁর কাছে গমন করলেন।
24 আর লাবন সিল্পা নাম্নী নিজের বাঁদীকে তাঁর কন্যা লেয়ার বাঁদী বলে তাকেও লেয়ার সঙ্গে দিলেন।
25 আর প্রভাত হলে দেখা গেল তিনি লেয়া। তাতে ইয়াকুব লাবনকে বললেন, আপনি আমার সঙ্গে এ কি ব্যবহার করলেন? আমি কি রাহেলার জন্য আপনার গোলামীর কাজ করি নি? তবে কেন আমাকে ঠকালেন?
26 তখন লাবন বললেন, জ্যেষ্ঠ মেয়ের আগে কনিষ্ঠ মেয়েকে দান করা আমাদের এই স্থানের নিয়মে নেই।
27 তুমি এর বিয়ের সপ্তাহটি পূর্ণ করো; পরে আরও সাত বছর আমার গোলামীর কাজ স্বীকার করবে, সেজন্য আমরা রাহেলাকেও তোমায় দান করবো।
28 ইয়াকুব তাই করলেন, তাঁর সপ্তাহ পূর্ণ করলেন; পরে লাবন তাঁর সঙ্গে তাঁর কন্যা রাহেলার বিয়ে দিলেন।
29 আর লাবন বিল্হা নাম্নী নিজের বাঁদীকে রাহেলার বাঁদী বলে তাঁকে দিলেন।
30 তখন ইয়াকুব রাহেলার কাছেও গমন করলেন এবং লেয়ার চেয়ে রাহেলাকে বেশি ভালবাসলেন। তিনি আরও সাত বছর লাবনের কাছে গোলামীর কাজ করলেন।
31
পরে মাবুদ লেয়াকে অবহেলা করা হচ্ছে দেখে তাঁর গর্ভ মুক্ত করলেন কিন্তু রাহেলা বন্ধ্যা হলেন।
32 আর লেয়া গর্ভবর্তী হয়ে পুত্র প্রসব করলেন ও তার নাম রূবেণ (পুত্রকে দেখ) রাখলেন; কেননা তিনি বললেন, মাবুদ আমার দুঃখ দেখেছেন; এখন আমার স্বামী আমাকে ভালবাসবেন।
33 পরে তিনি পুনর্বার গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করে বললেন, মাবুদ শুনেছেন যে আমি ঘৃণার পাত্রী, তাই আমাকে এই পুত্রও দিলেন; আর তার নাম শিমিয়োন (তিনি শোনেন) রাখলেন।
34 আবার তিনি গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করে বললেন, এবার আমার স্বামী আমাতে আসক্ত হবেন, কেননা আমি তাঁর জন্য তিনটি পুত্র প্রসব করেছি; অতএব তার নাম লেবি (আসক্ত) রাখা হল।
35 পরে পুনর্বার তাঁর গর্ভ হলে তিনি পুত্র প্রসব করে বললেন, এবার আমি মাবুদের স্তব গান করি; অতএব তিনি তার নাম এহুদা (স্তব) রাখলেন। তারপর তাঁর গর্ভ নিবৃত্ত হল।
1
রাহেলা যখন দেখলেন, তিনি ইয়াকুবের জন্য কোন সন্তান জন্ম দিতে পারেন নি, তখন তিনি বোনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে ইয়াকুবকে বললেন, আমাকে সন্তান দাও, নতুবা আমি মরবো।
2 তাতে রাহেলার প্রতি ইয়াকুব ভীষণ রেগে গিয়ে বললেন, আমি কি আল্লাহ্র প্রতিনিধি? তিনিই তোমাকে গর্ভফল দিতে অস্বীকার করেছেন।
3 তখন রাহেলা বললেন, দেখ, আমার বাঁদী বিল্হা আছে, ওর কাছে গমন কর, যেন সে পুত্র প্রসব করে আমার কোলে দেয় এবং তার দ্বারা আমিও পুত্রবতী হই।
4 এই বলে তিনি তাঁর সঙ্গে নিজের বাঁদী বিল্হার বিয়ে দিলেন।
5 তখন ইয়াকুব তার কাছে গমন করলেন, আর বিল্হা গর্ভবতী হয়ে ইয়াকুবের জন্য পুত্র প্রসব করলো।
6 তখন রাহেলা বললেন, আল্লাহ্ আমার বিচার করলেন এবং আমার মুনাজাত শুনে আমাকে পুত্র দিলেন; অতএব তিনি তার নাম দান (বিচার) রাখলেন।
7 পরে রাহেলার বাঁদী বিল্হা পুনর্বার গর্ভধারণ করে ইয়াকুবের জন্য দ্বিতীয় পুত্র প্রসব করলো।
8 তখন রাহেলা বললেন, আমি বোনের সঙ্গে আল্লাহ্ সম্বন্ধীয় মল্লযুদ্ধ করে জয়লাভ করলাম; আর তিনি তার নাম নপ্তালি (মল্লযুদ্ধ) রাখলেন।
9
পরে নিজের গর্ভনিবৃত্তি হয়েছে বুঝতে পেরে লেয়া নিজের বাঁদী সিল্পাকে ইয়াকুবের সঙ্গে বিয়ে দিলেন।
10 তাতে লেয়ার বাঁদী সিল্পা ইয়াকুবের জন্য একটি পুত্র প্রসব করলো।
11 তখন লেয়া বললেন, সৌভাগ্য জন্ম লাভ করলো; আর তার নাম গাদ (সৌভাগ্য) রাখলেন।
12 পরে লেয়ার বাঁদী সিল্পা ইয়াকুবের জন্য দ্বিতীয় পুত্র প্রসব করলো।
13 তখন লেয়া বললেন, আমি সুখী, যুবতীরা আমাকে সুখী বলবে; আর তিনি তার নাম আশের (ধন্য) রাখলেন।
14
আর গম কাটবার সময়ে রূবেণ বাইরে গিয়ে ক্ষেতে দূদাফল পেয়ে তার মা লেয়াকে এনে দিল; তাতে রাহেলা লেয়াকে বললেন, তোমার পুত্র যে দূদাফল এনেছে তা থেকে আমাকে কয়েকটা দাও।
15 তাতে তিনি বললেন, তুমি আমার স্বামীকে হরণ করেছ, এটা কি তুচ্ছ করার মত বিষয়? আমার পুত্রের দূদাফলও কি হরণ করবে? তখন রাহেলা বললেন, তবে তোমার পুত্রের দূদাফলের পরিবর্তে তিনি আজ রাতে তোমার সঙ্গে শয়ন করবেন।
16 পরে সন্ধ্যাকালে ক্ষেত থেকে ইয়াকুবের আসবার সময়ে লেয়া বাইরে তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, আমার কাছে আসতে হবে, কেননা আমি আমার পুত্রের দূদাফল দিয়ে তোমাকে ভাড়া করেছি; তাই সেই রাতে তিনি তাঁর সঙ্গে শয়ন করলেন।
17 আর আল্লাহ্ লেয়ার মুনাজাত শুনলেন আর তিনি গর্ভবতী হয়ে ইয়াকুবের জন্য পঞ্চম পুত্র প্রসব করলেন।
18 তখন লেয়া বললেন, আমি স্বামীকে আমার বাঁদী দিয়েছিলাম, তার বেতন আল্লাহ্ আমাকে দিলেন; আর তিনি তার নাম ইষাখর্ (বেতন) রাখলেন।
19
পরে লেয়া পুনর্বার গর্ভধারণ করে ইয়াকুবের জন্য ষষ্ঠ পুত্র প্রসব করলেন।
20 তখন লেয়া বললেন, আল্লাহ্ আমাকে উত্তম যৌতুক দিলেন, এখন আমার স্বামী আমার সঙ্গে বাস করবেন, কেননা আমি তাঁর জন্য ছয়টি পুত্র প্রসব করেছি; আর তিনি তার নাম সবূলূন (বাস) রাখলেন।
21 তারপর তাঁর একটি কন্যা জন্মগ্রহণ করলো, আর তিনি তার নাম দীণা রাখলেন।
22
আর আল্লাহ্ রাহেলাকে স্মরণ করলেন, আল্লাহ্ তাঁর মুনাজাত শুনলেন, তাঁর গর্ভ মুক্ত করলেন।
23 তখন তাঁর গর্ভ হলে তিনি পুত্র প্রসব করে বললেন, আল্লাহ্ আমার দুর্নাম হরণ করেছেন।
24 আর তিনি তার নাম ইউসুফ (বৃদ্ধি) রাখলেন, বললেন, মাবুদ আমাকে আরও একটি পুত্র দিন।
25
আর রাহেলার গর্ভে ইউসুফ জন্মগ্রহণ করলে পর ইয়াকুব লাবনকে বললেন, আমাকে বিদায় করুন, আমি স্বস্থানে, নিজের দেশে, প্রস্থান করি;
26 আমি যাদের জন্য আপনার গোলামীর কাজ করেছি, আমার সেই স্ত্রীদের ও সন্তানদের আমাকে দিন ও আমাকে চলে যেতে দিন; কেননা আমি যেভাবে পরিশ্রম করে আপনার গোলামী করেছি, তা আপনি জানেন।
27 তখন লাবন তাঁকে বললেন, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি তবে থাক; কেননা আমি অনুভবে জানলাম, তোমার অনুরোধে মাবুদ আমাকে দোয়া করলেন।
28 তিনি আরও বললেন, তোমার বেতন স্থির করে আমাকে বলো, আমি দেব।
29 তখন ইয়াকুব তাঁকে বললেন, আমি যেভাবে আপনার গোলামীর কাজ করেছি এবং আমার কাছে আপনার যেরকম পশুধন হয়েছে তা আপনি জানেন।
30 কেননা আমার আসবার আগে আপনার অল্প সম্পত্তি ছিল, এখন বৃদ্ধি পেয়ে প্রচুর হয়েছে; আমার যত্নে মাবুদ আপনাকে দোয়া করেছেন; কিন্তু আমি নিজের পরিবারের জন্য কবে সঞ্চয় করবো?
31 তাতে লাবন বললেন, আমি তোমাকে কি দেব? ইয়াকুব বললেন, আপনি আমাকে আর কিছুই না দিয়ে যদি আমার জন্য এক কাজ করেন তবে আমি আপনার পশুদেরকে পুনর্বার চরাব ও পালন করবো।
32 আজ আমি আপনার সমস্ত পশুপালের মধ্য দিয়ে যাবো; আমি ভেড়াগুলোর মধ্যে বিন্দুচিহ্নিত, বড় বড় ছাপযুক্ত ও কালো রংয়ের এবং ছাগলগুলোর মধ্যে বড় বড় ছাপযুক্ত ও বিন্দুচিহ্নিতগুলোকে পৃথক করবো; সেগুলো আমার বেতন হবে।
33 এর পরে আপনি যখন আমার বেতন যাচাই করার জন্য আসবেন, তখন আমার ধার্মিকতা আমার পক্ষে উত্তর দেবে; ফলত ছাগলগুলোর মধ্যে বিন্দু-চিহ্নিত, বা বড় বড় ছাপযুক্ত ছাড়া ও ভেড়াগুলোর মধ্যে কালো ছাড়া যা থাকবে, সেগুলো আমার চুরির মাল বলে গণ্য হবে।
34 তখন লাবন বললেন, দেখ, তোমার কথা অনুসারেই হোক।
35 পরে তিনি সেদিন রেখাঙ্কিত ও বড় বড় ছাপযুক্ত ছাগলগুলো এবং বিন্দুচিহ্নিত ও বড় বড় ছাপযুক্ত, যাতে যাতে কিঞ্চিৎ সাদা রংয়ের ছিল, এমন ছাগীগুলো এবং কালো রংয়ের ভেড়াগুলো পৃথক করে তাঁর পুত্রদের হাতে দিলেন,
36 এবং নিজের ও ইয়াকুবের মধ্যে তিন দিনের পথ ব্যবধান রাখলেন। এরপর ইয়াকুব লাবনের অবশিষ্ট পশুপাল চরাতে লাগলেন।
37
ইয়াকুব লিব্নী, লুস ও আর্মোণ গাছের সরস ডাল কেটে তার ছাল খুলে কাঠের সাদা রেখা বের করলেন।
38 পরে যে স্থানে পশুপাল পানি পান করার জন্য আসে, সেই স্থানে পালের সম্মুখে চৌবাচ্চার মধ্যে ঐ ছালশূন্য রেখাবিশিষ্ট ডালগুলো রাখতে লাগলেন; তাতে পানি পান করার সময়ে তারা গর্ভধারণ করতো।
39 আর সেই ডালের কাছে তাদের গর্ভধারণের ফলে রেখাঙ্কিত ও বিন্দুচিহ্নিত ও বড় বড় ছাপযুক্ত বাচ্চা জন্মগ্রহণ করতো।
40 পরে ইয়াকুব সেসব বাচ্চা পৃথক করতেন এবং লাবনের রেখাঙ্কিত ও কালো রংয়ের ভেড়ার প্রতি ভেড়ীগুলোর দৃষ্টি রাখতেন; এভাবে তিনি লাবনের পালের সঙ্গে না রেখে নিজের পালকে পৃথক করতেন।
41 আর বলবান সমস্ত পশু যেন ডালের কাছে গর্ভধারণ করে, এজন্য চৌবাচ্চার মধ্যে পশুদের সম্মুখে ঐ ডাল রাখতেন;
42 কিন্তু দুর্বল পশুদের সম্মুখে রাখতেন না। তাতে দুর্বল পশুগুলো লাবনের ও বলবান পশুগুলো ইয়াকুবের হত।
43 আর ইয়াকুব খুব ধনী হয়ে উঠলেন। তাঁর পশু ও গোলাম-বাঁদী এবং উট ও গাধা ছিল যথেষ্ট।
1
তিনি লাবনের পুত্রদের এই কথা শুনতে পেলেন, ইয়াকুব আমাদের পিতার সর্বস্ব হরণ করেছে এবং তার এই সমস্ত ঐশ্বর্য হয়েছে আমাদের পিতার ধন থেকে।
2 পরে ইয়াকুব লাবনের মুখ দেখে বুঝতে পারলেন যে, তার প্রতি লাবনের মনোভাব আর আগের মত নেই।
3 আর মাবুদ ইয়াকুবকে বললেন, তুমি তোমার পৈতৃক দেশে জ্ঞাতিদের কাছে ফিরে যাও, আমি তোমার সহবর্তী হবো।
4 অতএব ইয়াকুব লোক পাঠিয়ে মাঠে পশুদের কাছে রাহেলা ও লেয়াকে ডাকিয়ে বললেন,
5 আমি তোমাদের পিতার মুখ দেখে বুঝতে পারছি যে, আমার প্রতি তার মনোভাব আগের মত নেই, কিন্তু আমার পিতার আল্লাহ্ আমার সহবর্তী রয়েছেন।
6 আর তোমরা জান, আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তোমাদের পিতার গোলামীর কাজ করেছি।
7 অথচ তোমাদের পিতা আমার সংগে প্রবঞ্চনা করে দশবার আমার বেতন পরিবর্তন করেছেন; কিন্তু আল্লাহ্ তাঁকে আমার কোনো ক্ষতি করতে দেন নি।
8 কেননা যখন তিনি বলতেন, বিন্দুচিহ্নিত সমস্ত পশু তোমার বেতনস্বরূপ হবে, তখন সমস্ত পাল বিন্দুচিহ্নিত বাচ্চা প্রসব করতো; আর যখন বলতেন, রেখাঙ্কিত সমস্ত পশু তোমার বেতনস্বরূপ হবে, তখন সমস্ত ভেড়া রেখাঙ্কিত বাচ্চা প্রসব করতো।
9 এভাবে আল্লাহ্ তোমাদের পিতার পশুধন নিয়ে আমাকে দিয়েছেন।
10
পশুদের গর্ভধারণকালে আমি স্বপ্নে চোখ তুলে দেখলাম, পালের মধ্যে স্ত্রী-পশুদের উপরে যত পুরুষ-পশু উঠছে সকলেই রেখাঙ্কিত, বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্র-বিচিত্র।
11 তখন আল্লাহ্র ফেরেশতা স্বপ্নে আমাকে বললেন, হে ইয়াকুব; তখন আমি বললাম, দেখুন, এই আমি।
12 তিনি বললেন, তোমার চোখ মেলে দেখ, স্ত্রী-পশুদের উপরে যত পুরুষ-পশু উঠছে, সকলেই রেখাঙ্কিত, বড় বড় ছাপযুক্ত ও চিত্রবিচিত্র; কেননা, লাবন তোমার প্রতি যা যা করে, তা সকলই আমি দেখলাম।
13 যে স্থানে তুমি স্তম্ভকে তেল দিয়ে অভিষেক করেছ ও আমার কাছে মানত করেছ সেই বেথেলের আল্লাহ্ আমি; এখন উঠ, এই দেশ ত্যাগ করে তোমার জন্মভূমিতে ফিরে যাও।
14 তখন রাহেলা ও লেয়া জবাবে তাঁকে বললেন, পিতার বাড়িতে আমাদের কি আর কিছু অংশ ও অধিকার আছে?
15 আমরা কি তাঁর কাছে বিদেশিনীরূপে গণ্য নই? তিনি তো আমাদেরকে বিক্রি করেছেন এবং যা পেয়েছেন নিজেই ভোগ করেছেন।
16 আল্লাহ্ আমাদের পিতার কাছ থেকে যে সমস্ত ধন হরণ করেছেন, সে সবই আমাদের ও আমাদের সন্তানদের। অতএব আল্লাহ্ তোমাকে যা কিছু বলেছেন, তুমি তা-ই করো।
17
তখন ইয়াকুব উঠে তাঁর সন্তানদের ও স্ত্রীদেরকে উটে চড়িয়ে,
18 নিজের উপার্জিত সমস্ত পশুসম্পদ ও ধন, অর্থাৎ পদ্দন-অরামে যে পশু ও যে সম্পত্তি উপার্জন করেছিলেন, তা নিয়ে কেনান দেশে তাঁর পিতা ইস্হাকের কাছে যাত্রা করলেন।
19
সেই সময় লাবন ভেড়ার লোম কাটবার জন্য গিয়েছিলেন; তখন রাহেলা তাঁর পিতার দেবমূর্তিগুলোকে চুরি করলেন।
20 আর ইয়াকুব নিজের পলায়নের কোন সংবাদ না দিয়ে অরামীয় লাবনের সংগে প্রবঞ্চনা করলেন।
21 তিনি নিজের সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে গেলেন এবং (ফোরাত) নদী পার হয়ে গিলিয়দ পর্বত সম্মুখে রেখে চলতে লাগলেন।
22
পরে তৃতীয় দিনে লাবন ইয়াকুবের
23 পলায়নের সংবাদ পেয়ে এবং তাঁর জ্ঞাতিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে সাত দিনের পথ তাঁর পিছনে ধাবমান হয়ে গিলিয়দ পর্বতে তাঁর দেখা পেলেন।
24 কিন্তু আল্লাহ্ রাতে স্বপ্নযোগে অরামীয় লাবনের কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বললেন, সাবধান, ইয়াকুবকে ভাল-মন্দ কিছুই বলো না।
25
লাবন যখন ইয়াকুবের দেখা পেলেন, তখন ইয়াকুবের তাঁবু পর্বতের উপরে স্থাপিত ছিল; তাতে লাবনও জ্ঞাতিবর্গের সঙ্গে গিলিয়দ পর্বতের উপরে তাঁবু স্থাপন করলেন।
26 পরে লাবন ইয়াকুবকে বললেন, তুমি কেন এমন কাজ করলে? আমার সংগে প্রবঞ্চনা করে আমার কন্যাদেরকে কেন যুদ্ধবন্দীদের মত নিয়ে আসলে?
27 তুমি আমার সংগে প্রবঞ্চনা করে কেন গোপনে পালালে? কেন আমাকে সংবাদ দিলে না? দিলে আমি তোমাকে আহ্লাদ ও গান এবং তবল ও বীণার বাদ্য সহকারে বিদায় দিতাম।
28 তুমি আমাকে আমার পুত্র কন্যাদেরকে চুম্বনও করতে দিলে না; তুমি বোকার মত কাজ করেছ।
29 তোমাদের ক্ষতি করতে আমি সক্ষম; কিন্তু গত রাতে তোমাদের পৈতৃক আল্লাহ্ আমাকে বললেন, সাবধান, ইয়াকুবকে ভাল-মন্দ কিছুই বলো না।
30 এখন পিত্রালয়ে যাবার আকাঙক্ষায় তোমার মন ব্যাকুল হওয়াতে তুমি যাত্রা করলে বটে; কিন্তু আমার দেবমূর্তিগুলোকে কেন চুরি করলে?
31
ইয়াকুব লাবনকে জবাব দিলেন, আমি ভয় পেয়েছিলাম; কারণ ভেবেছিলাম, পাছে আপনি আমার কাছ থেকে আপনার কন্যাদেরকে বল প্রয়োগ করে কেড়ে নেন।
32 আপনি যার কাছে আপনার দেবমূর্তিগুলো পাবেন, সে বাঁচবে না। আমাদের জ্ঞাতিদের সামনে খোঁজ করে আমার কাছে আপনার যা আছে, তা নিয়ে নিন। বাস্তবিক ইয়াকুব জানতেন না যে, রাহেলা সেগুলো চুরি করেছেন।
33
তখন লাবন ইয়াকুবের তাঁবুতে ও লেয়ার তাঁবুতে ও দুই বাঁদীর তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু কিছু পেলেন না। পরে তিনি লেয়ার তাঁবু থেকে রাহেলার তাঁবুতে প্রবেশ করলেন।
34 কিন্তু রাহেলা সেই দেব-মূর্তিগুলোকে নিয়ে উটের গদীর ভিতরে রেখে তাদের উপরে বসে ছিলেন; সেজন্য লাবন তাঁর তাঁবুর সকল স্থান হাতড়ালেও সেগুলোকে পেলেন না।
35 তখন রাহেলা পিতাকে বললেন, মালিক, আপনার সাক্ষাতে আমি উঠতে পারলাম না বলে বিরক্ত হবেন না, কেননা এখন আমার মাসিকের সময়। এভাবে তিনি খোঁজ করলেও সেই দেবমূর্তিগুলোকে পেলেন না।
36
তখন ইয়াকুব ক্রুদ্ধ হয়ে লাবনের সঙ্গে বিবাদ করতে লাগলেন। ইয়াকুব লাবনকে বললেন, আমার অধর্ম ও গুনাহ্ কি যে, আপনি অগ্নিমূর্তি ধারণ করে আমার পিছনে তাড়া করে এসেছেন?
37 আপনি আমার সকল সামগ্রী হাত্ড়ে আপনার বাড়ির কোন্ জিনিস পেলেন? আমার ও আপনার এই আত্মীয়দের সামনে তা রাখুন, এঁরা উভয় পক্ষের বিচার করুন।
38 এই বিশ বছর আমি আপনার কাছে আছি; আপনার ভেড়ীগুলোর কি ছাগীগুলোর গর্ভপাত হয় নি এবং আমি আপনার পালের ভেড়াগুলোকে ভোজন করি নি;
39 বন্য পশুদের দ্বারা ছিন্নভিন্ন কোন ভেড়া আপনার কাছে আনতাম না; সেই ক্ষতি নিজেই স্বীকার করতাম; দিনে কিম্বা রাতে যা চুরি হত, আপনি আমার কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ নিতেন।
40 আমার এরকম দশা হত, আমি দিনের গরমে পুড়েছি ও রাতের শীতে কেঁপেছি; ঘুম আমার চোখ থেকে দূরে পালিয়ে যেত।
41 এই বিশ বছর আমি আপনার বাড়িতে রয়েছি; আপনার দুই কন্যার জন্য চৌদ্দ বছর ও আপনার পশুপালের জন্য ছয় বছর গোলামের কাজ করেছি; এর মধ্যে আপনি দশ বার আমার বেতন পরিবর্তন করেছেন।
42 আমার পৈতৃক আল্লাহ্, ইব্রাহিমের আল্লাহ্ ও ইস্হাকের উপাস্য যদি আমার পক্ষ না হতেন, তবে অবশ্য এখন আপনি আমাকে খালি হাতে বিদায় করতেন। আল্লাহ্ আমার দুঃখ ও হাতের পরিশ্রম দেখেছেন, এজন্য গত রাতে আপনাকে ধম্কে দিয়েছেন।
43
তখন লাবন জবাবে ইয়াকুবকে বললেন, এই কন্যারা আমারই কন্যা, এই বালকেরা আমারই বালক এবং এই পশুপাল আমারই পশুপাল; যা যা দেখছ, এই সকলই আমার। এখন আমার এই কন্যাদেরকে ও এদের প্রসূত বালকদেরকে নিয়ে আমি কি করবো?
44 এসো, তোমার মধ্যে ও আমার মধ্যে একটি চুক্তি স্থির করি, তা তোমার ও আমার সাক্ষী হয়ে থাকবে।
45 তখন ইয়াকুব একটি পাথর নিয়ে স্তম্ভরূপে স্থাপন করলেন।
46 আর ইয়াকুব তাঁর জ্ঞাতিবর্গকে বললেন, আপনারাও পাথর সংগ্রহ করুন। তাতে তারা পাথর এনে একটি স্তূপ করলেন এবং সেই স্থানে ঐ স্তূপের কাছে ভোজন করলেন।
47 তখন লাবন তার নাম যিগর্-সাহদূথা (সাক্ষী-স্তূপ) রাখলেন, কিন্তু ইয়াকুব তার নাম গল্-এদ (সাক্ষী-স্তূপ) রাখলেন।
48 তখন লাবন বললেন, এই স্তূপ আজ তোমার ও আমার সাক্ষী হয়ে থাকলো।
49 এজন্য তার নাম গিলিয়দ এবং মিস্পা (প্রহরী-স্থান) রাখা হল; কেননা তিনি বললেন, আমরা একজন আরেক জনের কাছ থেকে পৃথক হলে মাবুদ আমার ও তোমার প্রহরী হয়ে থাকবেন।
50 তুমি যদি আমার কন্যাদের দুঃখ দাও, আর যদি আমার কন্যা ছাড়া অন্য স্ত্রীকে বিয়ে কর, তবে কোন মানুষ আমাদের কাছে থাকবে না বটে, কিন্তু দেখ, আল্লাহ্ আমার ও তোমার সাক্ষী হবেন।
51
লাবন ইয়াকুবকে আরও বললেন, এই স্তূপ আর এই স্তম্ভ দেখ, আমার ও তোমার মধ্যে আমি তা স্থাপন করলাম।
52 ক্ষতি করার জন্য আমিও এই স্তূপ পার হয়ে তোমার কাছে যাব না এবং তুমিও এই স্তূপ ও এই স্তম্ভ পার হয়ে আমার কাছে আসবে না, এর সাক্ষী এই স্তূপ ও এর সাক্ষী এই স্তম্ভ;
53 ইব্রাহিমের আল্লাহ্, নাহোরের আল্লাহ্ ও তাঁদের পিতার আল্লাহ্ আমাদের মধ্যে বিচার করবেন। তখন ইয়াকুব তাঁর পিতা ইস্হাকের যিনি উপাস্য তাঁর নামে কসম করলেন।
54 পরে ইয়াকুব সেই পর্বতে পশু-কোরবানী করে আহার করতে তাঁর আত্মীয়দেরকে দাওয়াত করলেন, তাতে তাঁরা ভোজন করে পর্বতে রাত্রি যাপন করলেন।
55
পরে লাবন খুব ভোরে উঠে তাঁর পুত্র কন্যাদেরকে চুম্বন ও দোয়া করে স্বস্থানে ফিরে গেলেন।
1
ইয়াকুব নিজের পথে অগ্রসর হলে আল্লাহ্র ফেরেশতারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।
2 তখন ইয়াকুব তাঁদেরকে দেখে বললেন, এটা আল্লাহ্র সৈন্য-শিবির। অতএব সেই স্থানের নাম মহনয়িম (দুই সৈন্য-শিবির) রাখলেন।
3
তারপর ইয়াকুব তাঁর আগে সেয়ীর দেশের ইদোম অঞ্চলে তাঁর ভাই ইসের কাছে দূত পাঠালেন।
4 তিনি তাদেরকে এই হুকুম করলেন, তোমরা আমার মালিক ইস্কে বলবে, আপনার গোলাম ইয়াকুব আপনাকে জানালেন, আমি প্রবাসে এই পর্যন্ত লাবনের কাছে ছিলাম।
5 আমার গরু, গাধা, ভেড়ার পাল ও গোলাম বাঁদী আছে, আর আমি মালিকের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভের জন্য আপনাকে সংবাদ পাঠালাম।
6
পরে দূতেরা ইয়াকুবের কাছে ফিরে এসে বললো, আমরা আপনার ভাই ইসের কাছে গিয়েছিলাম; আর তিনি চার শত লোক নিয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছেন।
7 তখন ইয়াকুব ভীষণ ভয় পেলেন ও অস্থির হয়ে উঠলেন, আর যে সমস্ত লোক তাঁর সঙ্গে ছিল, তাদেরকে ও গোমেষাদির সমস্ত পাল ও উটগুলোকে ভাগ করে দুই দল করলেন,
8 বললেন, ইস্ এসে যদি এক দলকে প্রহার করেন, তবু অন্য দল অবশিষ্ট থেকে রক্ষা পাবে।
9
তখন ইয়াকুব বললেন, হে আমার পিতা ইব্রাহিমের আল্লাহ্ ও আমার পিতা ইস্হাকের আল্লাহ্, তুমি মাবুদ নিজে আমাকে বলেছিলে, তোমার দেশে জ্ঞাতিদের কাছে ফিরে যাও, তাতে আমি তোমার মঙ্গল করবো।
10 তুমি এই গোলামের প্রতি যে সমস্ত অটল মহব্বত ও যে সমস্ত বিশ্বস্ততা দেখিয়েছ, আমি তার কিছুরই যোগ্য নই; কেননা আমি নিজের লাঠিখানি নিয়ে এই জর্ডান পার হয়েছিলাম, এখন দুই দল হয়েছি।
11 আরজ করি, আমার ভাইয়ের হাত থেকে, ইসের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো, কেননা আমি তাকে ভয় করি, পাছে সে এসে আমাকে ও পুত্রদের সঙ্গে তাদের মায়েদেরকে হত্যা করে।
12 তুমিই তো বলেছ, আমি অবশ্য তোমার মঙ্গল করবো এবং সমুদ্রতীরস্থ যে বালি গণনা করা যায় না, তার মত তোমার বংশ বৃদ্ধি করবো।
13
পরে ইয়াকুব সেই স্থানে রাত্রি যাপন করলেন; তাঁর কাছে যা ছিল, তার কতকগুলো নিয়ে তাঁর ভাই ইসের জন্য এই উপহার প্রস্তুত করলেন;
14 দুই শত ছাগী ও বিশটি ছাগল, দুই শত ভেড়ী ও বিশটি ভেড়া,
15 বাচ্চা সহ দুগ্ধবতী ত্রিশটি উট, চল্লিশটি গাভী ও দশটি বৃষ এবং বিশটি গাধী ও দশটি গাধার বাচ্চা।
16 পরে তিনি তাঁর এক এক গোলামের হাতে এক একটি পাল দিয়ে তাদেরকে এই হুকুম দিলেন, তোমরা আমার আগে পার হয়ে যাও এবং মধ্যে মধ্যে ফাঁক রেখে প্রত্যেক পাল পৃথক কর।
17 পরে তিনি অগ্রবর্তী গোলামকে এই হুকুম দিলেন, আমার ভাই ইসের সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হলে তিনি যখন জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কার গোলাম? কোথায় যাচ্ছ? আর তোমার সম্মুখস্থ এই সমস্ত কার?
18 তখন তুমি বলবে, এসব আপনার গোলাম ইয়াকুবের; তিনি উপহার হিসেবে এসব আমার মালিক ইসের জন্য প্রেরণ করলেন; আর দেখুন, তিনিও আমাদের পিছনে আসছেন।
19 পরে তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় এবং অন্যান্য পালের সঙ্গে যে গোলামরা যাচ্ছিল তাদেরকেও হুকুম দিয়ে বললেন, ইসের সঙ্গে দেখা হলে তোমরা এই এই রকম কথা বলো।
20 আরও বলো, দেখুন, আপনার গোলাম ইয়াকুবও আমাদের পিছনে আসছেন। কেননা তিনি বললেন, আমি আগে উপহার পাঠিয়ে তাঁকে শান্ত করবো, তারপর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো, তাতে তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেও করতে পারেন।
21 অতএব তাঁর আগে উপহারের জিনিস পার হয়ে গেল, কিন্তু নিজে সেই রাতে দলের মধ্যে থাকলেন।
22
পরে তিনি রাতে উঠে তাঁর দুই স্ত্রী, দুই বাঁদী ও এগারো জন পুত্রকে নিয়ে পারঘাটায় গিয়ে যব্বোক নদী পার হলেন।
23 তিনি তাঁদেরকে নদী পার করিয়ে তাঁর সমস্ত জিনিস পারে পাঠিয়ে দিলেন।
24 আর ইয়াকুব সেখানে একাকী রইলেন এবং এক জন পুরুষ প্রভাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করলেন;
25 কিন্তু তাঁকে জয় করতে পারলেন না দেখে, তিনি ইয়াকুবের ঊরুর জোড়ায় আঘাত করলেন। তাঁর সঙ্গে এরকম মল্লযুদ্ধ করাতে ইয়াকুবের ঊরুর হাড় স্থানচ্যুত হল।
26 পরে সেই পুরুষ বললেন, আমাকে ছাড়, কেননা প্রভাত হয়ে আসছে। ইয়াকুব বললেন, আপনি আমাকে দোয়া না করলে আপনাকে ছাড়বো না।
27 পুনরায় তিনি বললেন, তোমার নাম কি? তিনি জবাব দিলেন, ইয়াকুব।
28 তিনি বললেন, তুমি ইয়াকুব নামে আর আখ্যাত হবে না, বরং ইসরাইল (আল্লাহ্র সঙ্গে যুদ্ধকারী) নামে আখ্যাত হবে; কেননা তুমি আল্লাহ্র ও মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছ।
29 তখন ইয়াকুব জিজ্ঞাসা করে বললেন, আরজ করি, আপনার নাম কি? তিনি বললেন, কি জন্য আমার নাম জিজ্ঞাসা কর? পরে সেখানে ইয়াকুবকে দোয়া করলেন।
30 তখন ইয়াকুব সেই স্থানের নাম রাখলেন পনূয়েল (আল্লাহ্র মুখ); কেননা তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্কে সামনাসামনি দেখলাম, তবুও আমার প্রাণ বাঁচলো।
31
পরে তিনি পনূয়েল পার হলে সূর্যোদয় হল। আর ঊরুর জোড়া স্থানচ্যুত হওয়ায় তিনি খোঁড়াতে লাগলেন।
32 এই কারণে বনি-ইসরাইলরা আজও ঊরুর জোড়ার উপরিস্থ ঊরুসন্ধির শিরা ভোজন করে না, কেননা তিনি ইয়াকুবের ঊরুর জোড়ায় অর্থাৎ ঊরুসন্ধির শিরায় আঘাত করেছিলেন।
1
পরে ইয়াকুব চোখ তুলে চেয়ে দেখলেন, ইস্ আসছেন, আর তাঁর সঙ্গে চার শত লোক। তখন তিনি বালকদেরকে ভাগ করে লেয়া, রাহেলা ও দুই বাঁদীর হাতে দিলেন;
2 সকলের সম্মুখে দুই বাঁদী ও তাদের সন্তানদেরকে, তার পিছনে লেয়া ও তাঁর সন্তানদেরকে, সকলের পিছনে রাহেলা ও ইউসুফকে রাখলেন।
3 পরে তিনি নিজে সকলের আগে গিয়ে সাতবার ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করতে করতে তাঁর ভাইয়ের কাছে উপস্থিত হলেন।
4
তখন ইস্ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দৌড়ে এসে তাঁর গলা ধরে আলিঙ্গন ও চুম্বন করলেন এবং উভয়েই কাঁদলেন।
5 পরে ইস্ চোখ তুলে নারীদের ও বালকদেরকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এরা তোমার কে? তিনি বললেন, আল্লাহ্ অনুগ্রহ করে আপনার গোলামকে এসব সন্তান দিয়েছেন।
6 তখন বাঁদীরা ও তাদের সন্তানেরা কাছে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলো;
7 তারপর লেয়া ও তাঁর সন্তানেরা কাছে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন; শেষে ইউসুফ ও রাহেলা কাছে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন।
8 পরে ইস্ জিজ্ঞাসা করলেন, আমি যে সমস্ত পশুপাল দেখলাম, সেই সমস্ত কিসের জন্য? তিনি বললেন, মালিকের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভের জন্য।
9 তখন ইস্ বললেন, আমার যথেষ্ট আছে, ভাই, তোমার যা তা তোমার থাকুক।
10 ইয়াকুব বললেন, তা নয়, আরজ করি, আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে আমার হাত থেকে উপহার গ্রহণ করুন; কেননা আমি আল্লাহ্র মুখ দর্শনের মত আপনার মুখ দর্শন করলাম, আপনিও আমার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন।
11 আরজ করি, আপনার কাছে যে উপহার আনা হয়েছে তা গ্রহণ করুন; কেননা আল্লাহ্ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমার সবই আছে। এভাবে সাধ্যসাধনা করলে ইস্ তা গ্রহণ করলেন।
12
পরে ইস্ বললেন, এসো, আমরা যাই; আমি তোমার আগে আগে যাব।
13 তিনি তাঁকে বললেন, আমার মালিক জানেন, এই বালকেরা কোমল এবং যে সমস্ত দুগ্ধবতী ভেড়ী ও গাভী আমার সঙ্গে আছে; একদিন মাত্র বেগে চালালে সকল পালই মরে যাবে।
14 নিবেদন করি, হে আমার মালিক, আপনি আপনার গোলামের আগে গমন করুন; আর আমি যতক্ষণ সেয়ীরে আমার মালিকের কাছে উপস্থিত না হই, ততক্ষণ আমার অগ্রবর্তী পশুদের এবং এই বালকদের চলবার শক্তি অনুসারে ধীরে ধীরে চালাই।
15
ইস্ বললেন, তবে আমার সঙ্গী কতগুলো লোক তোমার কাছে রেখে যাই। তিনি বললেন, তাতেই বা প্রয়োজন কি? আমার মালিকের দৃষ্টিতে আমি অনুগ্রহ পেলেই হল।
16
আর ইস্ সেদিন সেয়ীরের পথে ফিরে গেলেন।
17 কিন্তু ইয়াকুব সুক্কোতে গমন করে নিজের জন্য বাড়ি ও পশুদের জন্য কয়েকটি কুটির তৈরি করলেন, এজন্য সেই স্থান সুক্কোৎ (কুটিরগুলো) নামে আখ্যাত আছে।
18
পরে ইয়াকুব পদ্দন্-অরাম থেকে এসে সহিসালামতে কেনান দেশের শিখিম নগরে উপস্থিত হলেন এবং নগরের বাইরে তাঁবু স্থাপন করলেন।
19 পরে শিখিমের পিতা হমোরের সন্তানদেরকে রূপার এক শত কসীতা (মুদ্রা) দিয়ে তিনি তাঁর তাঁবু স্থাপনের জন্য ভূমিখণ্ড ক্রয় করলেন।
20 তিনি সেই স্থানে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করে তার নাম এল্-ইলাহী-ইসরাইল (আল্লাহ্, ইসরাইলের আল্লাহ্) রাখলেন।
1
আর লেয়ার কন্যা দীণা, যাকে তিনি ইয়াকুবের জন্য প্রসব করেছিলেন, সেই দেশের কন্যাদের সঙ্গে দেখা করতে বাইরে গেল।
2 আর হিব্বীয় হমোর নামক দেশাধিপতির পুত্র শিখিম তাকে দেখতে পেল এবং তাকে অপহরণ করে, তার সঙ্গে শয়ন করে তার ইজ্জত নষ্ট করলো।
3 আর ইয়াকুবের কন্যা দীণার প্রতি শিখিম অনুরক্ত হওয়াতে তাকে মহব্বত করলো ও মিষ্ট কথা বললো।
4 পরে শিখিম তাঁর পিতা হমোরকে বললো, তুমি আমার সঙ্গে বিয়ে দেবার জন্য এই কন্যাকে গ্রহণ কর।
5
আর ইয়াকুব শুনলেন, সে তাঁর কন্যা দীণার ইজ্জত নষ্ট করেছে; ঐ সময়ে তাঁর পুত্ররা মাঠে পশুপালের সঙ্গে ছিল; আর ইয়াকুব তাদের আগমন পর্যন্ত এই ব্যাপারে নীরব থাকলেন।
6 পরে শিখিমের পিতা হমোর ইয়াকুবের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য আসল।
7 ইয়াকুবের পুত্ররাও ঐ সংবাদ পেয়ে মাঠ থেকে এসেছিল; তারা ক্ষুব্ধ ও ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়েছিল, কেননা ইয়াকুবের কন্যার সঙ্গে শয়ন করে শিখিম ইসরাইলের প্রতি অত্যন্ত অন্যায় করেছিল।
8
তখন হমোর তাদের বললো, তোমাদের সেই কন্যার প্রতি আমার পুত্র শিখিমের প্রাণ আসক্ত হয়েছে; নিবেদন করি আমার পুত্রের সঙ্গে তার বিয়ে দাও।
9 তোমরা আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা কর; তোমাদের কন্যাদের আমাদেরকে দান কর এবং আমাদের কন্যাদেরকে তোমরা গ্রহণ কর।
10 আর আমাদের সঙ্গে বাস করো; এই দেশ তোমাদের সম্মুখেই রইলো, তোমরা এখানে বসতি ও বাণিজ্য কর, এখানে অধিকার গ্রহণ কর।
11 আর শিখিম দীণার পিতাকে ও ভাইদেরকে বললো, আমার প্রতি তোমাদের অনুগ্রহ দৃষ্টি হোক; তা হলে যা বলবে, তা-ই দেব।
12 যৌতুক ও দান যত বেশি চাইবে, তোমাদের কথা অনুসারে তা-ই দেব; কোন মতে আমার সঙ্গে ঐ কন্যার বিয়ে দাও।
13
কিন্তু সে তাদের বোন দীণার ইজ্জত নষ্ট করেছিল বলে ইয়াকুবের পুত্ররা ছলপূর্বক আলাপ করে শিখিমকে ও তার পিতা হামোরকে উত্তর দিল;
14 তারা তাদেরকে বললো, খৎনা করানো হয় নি এমন লোককে যে আমাদের বোন দিই, এমন কাজ আমরা করতে পারি না; করলে আমাদের দুর্নাম হবে।
15 কেবল এই কাজ করলে আমরা তোমাদের কথায় সম্মত হবো; আমাদের মত তোমরা প্রত্যেক পুরুষের যদি খৎনা করাও,
16 তবে আমরা আমাদের কন্যাদের তোমাদের দেব এবং তোমাদের কন্যাদের আমরা গ্রহণ করবো ও তোমাদের সঙ্গে বাস করে এক জাতি হবো।
17 কিন্তু যদি খৎনার বিষয়ে আমাদের কথা না শোন, তবে আমরা আমাদের ঐ কন্যাকে নিয়ে চলে যাব।
18
তখন তাদের এই কথায় হমোর ও তার পুত্র শিখিম সন্তুষ্ট হল।
19 আর সেই যুবক অবিলম্বে সেই কাজ করলো, কেননা সে ইয়াকুবের কন্যার প্রতি আসক্ত হয়েছিল; আর সে ছিল তাঁর পিতৃকূলে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত।
20 পরে হমোর ও তার পুত্র শিখিম তার নগরের দ্বারে এসে নগর-নিবাসীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে বললো,
21 সেই লোকদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই; অতএব তারা এই দেশে বাস ও বাণিজ্য করুক; কেননা দেখ, তাদের সম্মুখে দেশটি সুপ্রশস্ত; এসো, আমরা তাদের কন্যাদেরকে গ্রহণ করি ও আমাদের কন্যাদের তাদেরকে দিই।
22 কিন্তু তাদের একটি পণ আছে, আমাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষ যদি তাদের মত খৎনা করানো হয় তবে তারা আমাদের সঙ্গে বাস করে এক জাতি হতে সম্মত আছে।
23 আর তাদের ধন, সম্পত্তি ও সমস্ত পশু কি আমাদের হবে না? আমরা তাদের কথায় সম্মত হলেই তারা আমাদের সঙ্গে বাস করবে।
24 তখন হমোর ও তার পুত্র শিখিমের কথায় তার নগরের দ্বার দিয়ে যে সমস্ত লোক বাইরে যেত তারা সম্মত হল, আর তার নগর-দ্বার দিয়ে যে সকল পুরুষ বাইরে যেত তাদের খৎনা করানো হল।
25
পরে তৃতীয় দিনে যখন তারা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিল তখন দীণার সহোদর শিমিয়োন ও লেবি, ইয়াকুবের এই দুই পুত্র নিজ নিজ তলোয়ার নিয়ে নির্ভয়ে নগর আক্রমণ করে সমস্ত পুরুষকে হত্যা করলো।
26 তারা হমোর ও তার পুত্র শিখিমকে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করে শিখিমের বাড়ি থেকে দীণাকে নিয়ে চলে এলো।
27 ওরা তাদের বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছিল, এজন্য ইয়াকুবের পুত্ররা নিহত লোকদের কাছে গিয়ে নগর লুট করলো।
28 তারা ওদের ভেড়া, গরু ও গাধাগুলো এবং নগরস্থ ও ক্ষেতের যাবতীয় দ্রব্য হরণ করলো;
29 আর ওদের শিশু ও স্ত্রীদেরকে বন্দী করে ওদের সমস্ত ধন ও বাড়ির সর্বস্ব লুট করলো।
30 তখন ইয়াকুব শিমিয়োন ও লেবিকে বললেন, তোমরা এই দেশ-নিবাসী কেনানীয় ও পরিষীয়দের কাছে আমাকে ভীষণ ঘৃণার পাত্র করে অস্থির করে তুললে; আমার লোক অল্প, তারা আমার বিরুদ্ধে একত্র হয়ে আমাকে আঘাত করবে; আর আমি সপরিবারে ধ্বংস হবো।
31 তারা জবাবে বললো, আমাদের বোনের সঙ্গে কি পতিতার মত ব্যবহার করা তার উচিত হয়েছিল?
1
পরে আল্লাহ্ ইয়াকুবকে বললেন, উঠ, বেথেলে গিয়ে সেই স্থানে বাস কর এবং তোমার ভাই ইসের সম্মুখ থেকে তোমার পলায়নকালে যে আল্লাহ্ তোমাকে দর্শন দিয়েছিলেন, তাঁর উদ্দেশে সেই স্থানে কোরবানগাহ্ তৈরি কর।
2 তখন ইয়াকুব তাঁর পরিজন ও সঙ্গীদের বললেন, তোমাদের কাছে যে সমস্ত বিজাতীয় দেবমূর্তি আছে সেগুলো দূর কর এবং পাক-পবিত্র হও ও অন্য পোশাক পর।
3 আর এসো, আমরা উঠে বেথেলে যাই; যে আল্লাহ্ আমার সঙ্কটের দিনে আমাকে মুনাজাতের উত্তর দিয়েছিলেন এবং আমার যাত্রা পথে সহবর্তী ছিলেন, তাঁর উদ্দেশে আমি সেই স্থানে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করবো।
4 তাতে তারা তাদের কাছে যেসব বিজাতীয় দেবমূর্তি ও কানের গহনা ছিল, তা সবই ইয়াকুবকে দিল এবং তিনি ঐ সকল শিখিমের নিকটবর্তী এলা গাছের তলে পুঁতে রাখলেন।
5
পরে তাঁরা সেখান থেকে যাত্রা করলেন। তখন চারদিকের নগরগুলোতে আল্লাহ্ থেকে বিপদ উপস্থিত হল, তাই সেখানকার লোকেরা ইয়াকুবের পুত্রদের পিছনে তাড়া করে এলো না।
6 পরে ইয়াকুব ও তাঁর সঙ্গীরা সকলে কেনান দেশের লূস নগরে অর্থাৎ বেথেলে উপস্থিত হলেন।
7 সেখানে তিনি একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করে সেই স্থানের নাম এল্-বৈথেল (বৈথেলের আল্লাহ্) রাখলেন; কারণ ভাইয়ের সম্মুখ থেকে তাঁর পলায়নকালে আল্লাহ্ সেই স্থানে তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন।
8 সে সময় রেবেকার ধাত্রী দবোরার মৃত্যু হল এবং বেথেলের অধঃস্থিত অলোন গাছের তলে তার কবর হল। সেই স্থানের নাম অলোন্-বাখুৎ (রোদন-বৃক্ষ) রাখা হল।
9
পদ্দন্-অরাম থেকে ইয়াকুব ফিরে আসলে আল্লাহ্ তাঁকে পুনর্বার দর্শন দিয়ে দোয়া করলেন।
10 ফলত আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তোমার নাম ইয়াকুব; লোকে তোমাকে আর ইয়াকুব বলবে না, তোমার নাম ইসরাইল হবে; আর তিনি তাঁর নাম ইসরাইল রাখলেন।
11 আল্লাহ্ তাঁকে আরও বললেন, আমিই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্, তুমি প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও; তোমার মধ্য থেকে একটি জাতি, এমন কি, বহুজাতি উৎপন্ন হবে, আর তোমার বংশ থেকে অনেক বাদশাহ্ উৎপন্ন হবে।
12 আর আমি ইব্রাহিম ও ইস্হাককে যে দেশ দান করেছি সেই দেশ তোমাকে ও তোমার ভবিষ্যৎ বংশকে দেব।
13 সেই স্থানে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলে আল্লাহ্ তাঁর কাছ থেকে উপরের দিকে উঠে গেলেন।
14 আর ইয়াকুব সেই কথোপকথন স্থানে একটি স্তম্ভ, পাথরের স্তম্ভ, স্থাপন করে তার উপরে পেয় নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন ও তেল ঢেলে দিলেন।
15 যে স্থানে আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, ইয়াকুব সেই স্থানের নাম রাখলেন বেথেল ।
16
পরে তাঁরা বেথেল থেকে প্রস্থান করলেন, আর ইফ্রাথে উপস্থিত হবার অল্প পথ অবশিষ্ট থাকতে রাহেলার প্রসব-বেদনা হল এবং তাঁর প্রসব করতে বড় কষ্ট হল।
17 আর প্রসব বেদনা কঠিন হলে ধাত্রী তাঁকে বললো, ভয় করো না, কারণ এবারও তোমার পুত্র সন্তান হবে।
18 পরে তাঁর মৃত্যু হল, আর তাঁর মৃত্যুর সময়ে তিনি পুত্রের নাম বিনোনী (আমার কষ্টের পুত্র) রাখলেন, কিন্তু তার পিতা তার নাম বিন্ইয়ামীন (ডান হাতের পুত্র) রাখলেন।
19 এভাবে রাহেলার মৃত্যু হল এবং ইফ্রাথ অর্থাৎ বেথেলহেমের পথের পাশে তাঁকে দাফন করা হল।
20 পরে ইয়াকুব তাঁর কবরের উপরে একটি স্তম্ভ স্থাপন করলেন, রাহেলার সেই সমাধিস্তম্ভ আজও আছে।
21
পরে ইসরাইল সেখান থেকে যাত্রা করলেন এবং মিগ্দল-এদরের অপর পাশে তাঁবু স্থাপন করলেন।
22 সেই দেশে ইসরাইলের অবস্থিতিকালে রূবেণ গিয়ে তাঁর পিতার উপপত্নী বিল্হার সঙ্গে শয়ন করলো এবং ইসরাইল তা শুনতে পেলেন।
23
ইয়াকুবের বারো জন পুত্র। লেয়ার সন্তান; ইয়াকুবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণ এবং শিমিয়োন, লেবি, এহুদা, ইষাখর ও সবূলূন।
24 রাহেলার সন্তান; ইউসুফ ও বিন্ইয়ামীন।
25 রাহেলার বাঁদী বিল্হার সন্তান; দান ও নপ্তালি।
26 লেয়ার বাঁদী সিল্পার সন্তান; গাদ ও আশের। এরা ইয়াকুবের পুত্র, পদ্দন্-অরামে জন্মগ্রহণ করেছিল।
27
পরে কিরিয়থর্বের অর্থাৎ হেবরনের নিকটবর্তী মম্রি নামক যে স্থানে ইব্রাহিম ও ইস্হাক প্রবাস করেছিলেন, সেই স্থানে ইয়াকুব তাঁর পিতা ইস্হাকের কাছে উপস্থিত হলেন।
28
ইস্হাকের বয়স এক শত আশি বছর হয়েছিল।
29 পরে ইস্হাক বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে প্রাণত্যাগ করে আপন লোকদের কাছে গৃহীত হলেন এবং তাঁর পুত্র ইস্ ও ইয়াকুব তাঁকে দাফন করলেন।
1
ইসের অর্থাৎ ইদোমের বংশ-বৃত্তান্ত এই।
2 ইস্ কেনানীয়দের দু’টি কন্যাকে, অর্থাৎ হিট্টিয় এলোনের কন্যা আদা ও হিব্বীয় সিবিয়োনের পৌত্রী অনার কন্যা অহলীবামাকে বিয়ে করলেন।
3 এছাড়া, নবায়োতের বোনকে, অর্থাৎ ইসমাইলের বাসমৎ নাম্নী কন্যাকেও বিয়ে করলেন।
4 আর ইসের জন্য আদা ইলীফস ও বাসমৎ রূয়েলকে প্রসব করে,
5 এবং অহলীবামা যিয়ূশ, যালম ও কোরহকে প্রসব করে; ইসের এই পুত্ররা কেনান দেশে জন্মগ্রহণ করে।
6
পরে ইস্ তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের ও গৃহস্থিত অন্য সকল প্রাণীকে নিয়ে এবং তাঁর সমস্ত পশু-সম্পদ ও কেনান দেশে উপার্জিত সমস্ত সম্পদ নিয়ে ভাই ইয়াকুবের কাছ থেকে আর একটা দেশে প্রস্থান করলেন।
7 কেননা তাঁদের প্রচুর সম্পদ থাকাতে একত্রে বাস করার পক্ষে দেশ ছোট হল এবং পশুধন এত বেশী ছিল যে, সেই প্রবাস-দেশে তাদের স্থান কুলালো না।
8 এভাবে ইস্ সেয়ীর পর্বতে বাস করলেন; তিনিই ইদোম।
9
এই হল সেয়ীর পর্বতস্থ ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ ইসের বংশ-বৃত্তান্ত:
10 ইসের সন্তানদের নাম এই: ইসের স্ত্রী আদার পুত্র ইলীফস ও ইসের স্ত্রী বাসমতের পুত্র রূয়েল।
11 ইলীফসের পুত্র তৈমন, ওমার, সফো, গয়িতম ও কনস।
12 ইসের পুত্র ইলীফসের তিম্না নাম্নী এক জন উপপত্নী ছিল, সে ইলীফসের জন্য আমালেককে প্রসব করলো। এরা ইসের স্ত্রী আদার সন্তান।
13 রূয়েলের পুত্র নহৎ, সেরহ, শম্ম ও মিসা; এরা ইসের স্ত্রী বাসমতের সন্তান।
14 সিবিয়োনের পৌত্রী অনার কন্যা, যে অহলীবামা ইসের স্ত্রী ছিল, তার সন্তান যিয়ূশ, যালম ও কোরহ।
15
ইসের সন্তানদের দলপতিরা— ইসের জ্যেষ্ঠ পুত্র যে ইলীফস, তার পুত্র দলপতি তৈমন, দলপতি ওমার,
16 দলপতি সফো, দলপতি কনস, দলপতি কোরহ, দলপতি গয়িতম ও দলপতি আমালেক; ইদোম দেশের ইলীফস বংশীয় এই দলপতিরা আদার সন্তান।
17 ইসের পুত্র রূয়েলের সন্তান দলপতি নহৎ, দলপতি সেরহ, দলপতি শম্ম ও দলপতি মিসা; ইদোম দেশের রূয়েল বংশীয় এই দলপতিরা ইসের স্ত্রী বাসমতের সন্তান।
18 আর ইসের স্ত্রী অহলীবামার সন্তান দলপতি যিয়ূশ, দলপতি যালম ও দলপতি কোরহ; অনার কন্যা যে অহলীবামা ইসের স্ত্রী ছিল, এই দলপতিরা তার সন্তান।
19 এরা ইসের অর্থাৎ ইদোমের সন্তান ও এরা তাদের দলপতি।
20
সেই দেশ-নিবাসী হোরীয় সেয়ীরের সন্তান লোটন,
21 শোবল, শিবিয়োন, অনা, দিশোন, এৎসর ও দীশন; সেয়ীরের এই পুত্ররা ইদোম দেশের হোরীয় বংশোদ্ভব দলপতি ছিলেন।
22 লোটনের পুত্র হোরি ও হেমম এবং তিম্না লোটনের বোন ছিল।
23 আর শোবলের পুত্র অল্বন, মানহৎ, এবল, শফো ও ওনম।
24 সিবিয়োনের পুত্র অয়া ও অনা; এই অনা তাঁর পিতা সিবিয়োনের গাধা চরাবার সময়ে মরুপ্রান্তরে গরম পানির ফোয়ারা আবিষ্কার করেছিল।
25 অনার পুত্র দিশোন ও অনার কন্যা অহলীবামা।
26 দিশোনের পুত্র হিম্দন,
27 ইশ্বন, যিত্রণ ও করাণ। এৎসরের পুত্র বিল্হন, সাবন ও আকন।
28 দীশনের পুত্র ঊষ ও অরাণ।
29 হোরীয় বংশোদ্ভূত দলপতিরা এই: দলপতি লোটন, দলপতি শোবল, দলপতি সিবিয়োন,
30 দলপতি অনা, দলপতি দিশোন, দলপতি এৎসর ও দলপতি দীশন। এঁরা সেয়ীর দেশের হোরীয় বংশোদ্ভূত দলপতি।
31
বনি-ইসরাইলদের উপরে কোন বাদশাহ্ রাজত্ব করার আগে এঁরা ইদোম দেশের বাদশাহ্ ছিলেন।
32 বিয়োরের পুত্র বেলা ইদোম দেশে রাজত্ব করেন, তাঁর রাজধানীর নাম দিন্হাবা।
33 বেলার মৃত্যুর পর তাঁর পদে বসরা-নিবাসী সেরহের পুত্র যোবব রাজত্ব করেন।
34 যোববের মৃত্যুর পর তৈমন দেশীয় হূশম তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
35 হূশমের মৃত্যুর পর বদদের পুত্র যে হদদ মোয়াব দেশে মাদিয়ানকে আঘাত করেছিলেন, তিনি তাঁর পদে রাজত্ব করেন; তাঁর রাজধানীর নাম অবীৎ।
36 হদদের মৃত্যুর পর মস্রেকা-নিবাসী সম্ল তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
37 সম্লের মৃত্যুর পর (ফোরাত) নদীর নিকটবর্তী রহোবোৎ-নিবাসী শৌল তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
38 শৌলের মৃত্যুর পর অক্বোরের পুত্র বাল্-হানন তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
39 অক্বোরের পুত্র বাল্হাননের মৃত্যুর পর হদর তাঁর পদে রাজত্ব করেন; তাঁর রাজধানীর নাম পায়ূ ও স্ত্রীর নাম মহেটবেল, সে মট্রেদের কন্যা ও মেষাহবের নাত্নী।
40
গোষ্ঠী, স্থান ও নাম ভেদে ইস্ থেকে উৎপন্ন যে সকল দলপতি ছিলেন, তাঁদের নাম হল: দলপতি তিম্ন, দলপতি অল্বা, দলপতি যিথেৎ,
41 দলপতি অহলীবামা, দলপতি এলা, দলপতি পীনোন,
42 দলপতি কনস, দলপতি তৈমন, দলপতি মিব্সর,
43 দলপতি মগ্দীয়েল ও দলপতি ঈরম। এঁরা নিজ নিজ বসতি দেশে, নিজ নিজ বসতি স্থানভেদে ইদোমের দলপতি ছিলেন। ইদোমীয়দের আদিপুরুষ ইসের বৃত্তান্ত সমাপ্ত।
1
সেই সময় ইয়াকুব তাঁর পিতার প্রবাস-দেশ কেনানে বাস করছিলেন।
2
ইয়াকুবের বংশ-বৃত্তান্ত হচ্ছে: ইউসুফ সতের বছর বয়সে তার ভাইদের সঙ্গে পশুপাল চরাত; সে বাল্যকালে নিজের সৎমা বিল্হার ও সিল্পার পুত্রদের সহচর ছিল এবং ইউসুফ তাদের খারাপ আচার-আচরণের বিষয় পিতাকে জানাতেন।
3
ইউসুফ ইসরাইলের বৃদ্ধাবস্থার সন্তান, এজন্য ইসরাইল সকল পুত্রের চেয়ে তাকে বেশি ভালবাসতেন এবং তাকে একখানি লম্বা কোর্তা তৈরি করে দিয়েছিলেন
4 কিন্তু তার ভাইয়েরা যখন দেখলো যে, পিতা তাদের চেয়ে ইউসুফকে বেশি ভালবাসেন, তখন তাকে হিংসা করতে লাগল, তার সঙ্গে ভালভাবে কথা বলতে পারতো না।
5
আর ইউসুফ স্বপ্ন দেখে তাঁর ভাইদেরকে তা বললো; এতে তারা তাকে আরও বেশি হিংসা করতে লাগল।
6 সে তাদেরকে বললো, আমি যে একটি স্বপ্ন দেখেছি দয়া করে তা শোন।
7 দেখ, আমরা ক্ষেতে আটি বাঁধছিলাম, আর দেখ, আমার আটি উঠে দাঁড়িয়ে রইলো এবং দেখ, তোমাদের সমস্ত আটি আমার আটিকে চারদিকে ঘিরে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালো।
8 এতে তার ভাইয়েরা তাকে বললো, তুই কি সত্যিই আমাদের বাদশাহ্ হবি? আমাদের উপরে সত্যি কর্তৃত্ব করবি? ফলে তারা তার স্বপ্ন ও তার কথার জন্য তাকে আরও হিংসা করতে লাগল।
9
পরে সে আরও একটি স্বপ্ন দেখে ভাইদেরকে তার বৃত্তান্ত বললো। সে বললো, দেখ, আমি আর একটি স্বপ্ন দেখলাম, দেখ, সূর্য, চন্দ্র ও এগারটি নক্ষত্র আমাকে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালো।
10 সে তার পিতা ও ভাইদেরকে এর বৃত্তান্ত বললো, তাতে তার পিতা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি এ কেমন স্বপ্ন দেখলে? আমি, তোমার মা ও তোমার ভাইয়েরা, আমরা কি বাস্তবিক তোমার কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখাতে আসবো?
11 আর তার ভাইয়েরা তার প্রতি ঈর্ষা করতে লাগল, কিন্তু তার পিতা সেই কথা মনে রাখলেন।
12
একদিন তার ভাইয়েরা পিতার পশুপাল চরাতে শিখিমে গিয়েছিল।
13 তখন ইসরাইল ইউসুফকে বললেন, তোমার ভাইয়েরা কি শিখিমে পশুপাল চরাচ্ছে না? এসো, আমি তাদের কাছে তোমাকে পাঠাই।
14 সে বললো, দেখুন, এ আমি। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি গিয়ে তোমার ভাইদের কুশল ও পশুপালের কুশল জেনে আমাকে সংবাদ এনে দাও। এভাবে তিনি হেবরনের উপত্যকা থেকে ইউসুফকে পাঠালে সে শিখিমে উপস্থিত হল।
15
তখন এক জন লোক তাকে দেখতে পেল, আর দেখ, সে মরুপ্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে; সেই লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করলো, কিসের খোঁজ করছো?
16 সে বললো, আমার ভাইদের খোঁজ করছি; অনুগ্রহ করে আমাকে বলো, তারা কোথায় পশুপাল চরাচ্ছেন।
17 সেই ব্যক্তি বললো, তারা এই স্থান থেকে চলে গেছে, কেননা ‘চল, দোথনে যাই’, তাদের এই কথা শুনেছিলাম। পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদের পেছন পেছন গিয়ে দোথনে তাদের দেখা পেল।
18 তারা দূর থেকে তাকে দেখতে পেল এবং সে কাছে উপস্থিত হবার আগে তাকে মেরে ফেলবার জন্য ষড়যন্ত্র করলো।
19 তারা পরস্পর বললো, ঐ দেখ, স্বপ্ন দর্শনকারী হুজুর আসছেন;
20 এখন এসো, আমরা ওকে খুন করে একটা গর্তে ফেলে দিই; পরে বলবো, কোন হিংস্র জন্তু তাকে খেয়ে ফেলেছে; তাতে দেখবো, ওর স্বপ্নের কি হয়।
21 রূবেণ এই কথা শুনে তাদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করার জন্য বললো, না, আমরা ওকে প্রাণে মারব না।
22 আর রূবেণ তাদেরকে বললো, তোমরা রক্তপাত করো না, ওকে মরুভূমির এই গর্তের মধ্যে ফেলে দাও, কিন্তু ওর গায়ে হাত তুলো না। এভাবে রূবেণ তাদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে পিতার কাছে ফিরে পাঠাবার চেষ্টা করলো।
23
পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদের কাছে আসলে তারা তার শরীর থেকে সেই পোশাক, সেই লম্বা কোর্তাখানি খুলে নিল;
24 আর তাকে ধরে গর্তের মধ্যে ফেলে দিল। সেই গর্তটি ছিল শূন্য, তাতে পানি ছিল না।
25
পরে তারা আহার করতে বসলো এবং চোখ তুলে চাইল, আর দেখ, গিলিয়দ থেকে এক দল ইসমাইলীয় ব্যবসায়ী আসছে; তারা উটে করে সুগন্ধি দ্রব্য, গুগ্গুল ও গন্ধরস নিয়ে মিসর দেশে যাচ্ছিল।
26 তখন এহুদা তাঁর ভাইদেরকে বললো, আমাদের ভাইকে খুন করে তা গোপন করলে আমাদের কি লাভ?
27 এসো, আমরা ঐ ইসমাইলীয়দের কাছে তাকে বিক্রি করি, আমরা তার গায়ে হাত তুলবো না; কেননা সে আমাদের ভাই, আমাদের দেহে একই রক্ত বইছে। এতে তার ভাইয়েরা সম্মত হল।
28 পরে মাদিয়ানীয় বণিকেরা কাছে আসলে ওরা ইউসুফকে গর্ত থেকে টেনে তুললো এবং বিশটি রূপার মুদ্রার বিনিময়ে সেই ইসমাইলীয়দের কাছে ইউসুফকে বিক্রি করলো; আর তারা ইউসুফকে মিসর দেশে নিয়ে গেল।
29
পরে রূবেণ গর্তের কাছে ফিরে গেল, আর দেখ, ইউসুফ সেখানে নেই; তখন সে তার পোশাক ছিঁড়লো,
30 আর ভাইদের কাছে ফিরে এসে বললো, যুবকটি নেই, এবার আমি! আমি কোথায় যাই?
31 পরে তারা ইউসুফের সেই কোর্তাখানি নিয়ে একটা ছাগল মেরে তার রক্তে তা ডুবালো;
32 আর লোক পাঠিয়ে সেই কোর্তাখানি পিতার কাছে উপস্থিত করে বললো, আমরা এটা কুড়িয়ে পেয়েছি, পরীক্ষা করে দেখ এটি তোমার পুত্রের পোশাক কি না?
33 তিনি চিনতে পেরে বললেন, এই তো আমার পুত্রেরই পোশাক; কোন হিংস্র জন্তু তাকে খেয়ে ফেলেছে, ইউসুফের দেহ অবশ্যই খণ্ডবিখণ্ড হয়েছে।
34 তখন ইয়াকুব তাঁর কাপড় ছিঁড়ে কোমরে চট পরে পুত্রের জন্য অনেক দিন পর্যন্ত শোক করলেন।
35 আর তাঁর সমস্ত পুত্রকন্যা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে চাইলেও তিনি প্রবোধ না মেনে বললেন, আমি শোক করতে করতে পুত্রের কাছে পাতালে নামবো। এভাবে তাঁর পিতা তাঁর জন্য কাঁদতে লাগলেন।
36 অপরদিকে ঐ মাদিয়ানীয়েরা ইউসুফকে মিসরে নিয়ে গিয়ে ফেরাউনের কর্মকর্তা রক্ষী সৈন্যের সেনাপতি পোটীফরের কাছে বিক্রি করলো।
1
ঐ সময়ে এহুদা তাঁর ভাইদের কাছ থেকে প্রস্থান করে অদুল্লমীয় হীরা নামে একটি লোকের কাছে গেল।
2 সেই স্থানে শূয় নামে এক জন কেনানীয় পুরুষের কন্যাকে দেখে এহুদা তাকে বিয়ে করে তার সঙ্গে মিলিত হল ।
3 পরে সে গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করলো ও এহুদা তার নাম রাখল এর।
4 পরে পুনর্বার তার গর্ভ হলে সে পুত্র প্রসব করে তার নাম রাখল ওনন।
5 পুনর্বার তার গর্ভ হলে সে পুত্র প্রসব করে তার নাম শেলা রাখল; এর জন্মগ্রহণ করার সময় এহুদা কষীবে ছিল।
6 পরে এহুদা তামর নাম্নী একটি কন্যাকে এনে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র এরের সঙ্গে বিয়ে দিল।
7 কিন্তু এহুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র এর মাবুদের দৃষ্টিতে দূরাচারী হওয়াতে মাবুদ তাকে মেরে ফেললেন।
8 তাতে এহুদা ওননকে বললো, তুমি তোমার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গমন করো ও তার প্রতি দেবরের কর্তব্য সাধন করে নিজের ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করো।
9 কিন্তু ঐ বংশ নিজের হবে না বুঝে ওনন ভাবীর কাছে গমন করলেও ভাইয়ের বংশ উৎপন্ন করার অনিচ্ছাতে ভূমিতে বীর্যপাত করলো।
10 তার সেই কাজ মাবুদের দৃষ্টিতে মন্দ হওয়াতে তিনি তাকেও মেরে ফেললেন।
11 তখন এহুদা পুত্রবধূ তামরকে বললো, যে পর্যন্ত আমার পুত্র শেলা বড় না হয়, সেই পর্যন্ত তুমি তোমার পিত্রালয়ে গিয়ে বিধবা হিসেবে জীবন যাপন করো। কেননা সে বললো, পাছে ভাইদের মত তারও মৃত্যু হয়। অতএব তামর পিত্রালয়ে গিয়ে বাস করলো।
12
এর অনেক দিন পরে শূয়ের কন্যা এহুদার স্ত্রী মারা গেল, পরে এহুদা সান্ত্বনা লাভ করে তার বন্ধু অদুল্লমীয় হীরার সঙ্গে তিম্নায় যারা তাঁর ভেড়ার লোম কাটছিল, তাদের কাছে চললো।
13 তখন কেউ তামরকে বললো, দেখ, তোমার শ্বশুর তাঁর ভেড়ার লোম কাটতে তিম্নায় যাচ্ছেন।
14 তখন সে বিধবার কাপড়-চোপড় ত্যাগ করে আবরণ দ্বারা নিজেকে আচ্ছাদন করলো ও গায়ে কাপড় দিয়ে তিম্নার পথের পার্শ্বস্থিত ঐনয়িমের প্রবেশস্থানে বসে রইলো; কারণ সে দেখতে পেল, শেলা বড় হলেও তার সঙ্গে তার বিয়ে হল না।
15 পরে এহুদা তাকে দেখে পতিতা মনে করলো, কেননা সে মুখ আচ্ছাদন করেছিল।
16 অতএব সে পুত্রবধূকে চিনতে না পারাতে পথের পার্র্শ্বে তার কাছে গিয়ে বললো, এসো, তোমার সঙ্গে শয়ন করি। তামর বললো, আমার সঙ্গে শয়ন করার জন্য তুমি কি দিতে পারবে?
17 সে বললো, পাল থেকে একটি ছাগলের বাচ্চা পাঠিয়ে দেব। তামর বললো, যতক্ষণ তা না পাঠাও ততক্ষণ আমার কাছে কি কিছু বন্ধক রাখবে?
18 সে বললো, কি বন্ধক রাখবো? তামর বললো, তোমার এই মোহর ও সুতা ও হাতের লাঠি। তখন সে তাকে সেগুলো দিয়ে তার সঙ্গে শয়ন করলো; তাতে সে তার দ্বারা গর্ভবতী হল।
19 পরে সে উঠে চলে গেল এবং সেই আবরণ ত্যাগ করে নিজের বিধবার পোশাক পরলো।
20
পরে এহুদা সেই স্ত্রীলোকের কাছ থেকে বন্ধক রাখা জিনিসগুলো নেবার জন্য তাঁর অদুল্লমীয় বন্ধুর হাতে ছাগলের বাচ্চাটি পাঠিয়ে দিল, কিন্তু সে তাকে খুঁজে পেল না।
21 তখন সে সেখানকার লোকদের জিজ্ঞাসা করলো, ঐনয়িমে পথের পাশে যে পতিতা ছিল, সে কোথায়? তারা বললো, এই স্থানে কোন পতিতা আসে নি।
22 পরে সে এহুদার কাছে ফিরে গিয়ে বললো, আমি তাকে পেলাম না এবং সেখানকার লোকেরাও বললো, এই স্থানে কোন পতিতা আসে নি।
23 তখন এহুদা বললো, তার কাছে যা আছে সে তা রাখুক, নতুবা আমরা লজ্জায় পড়বো। দেখ, আমি এই ছাগলের বাচ্চাটি পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি তাকে পেলে না।
24
প্রায় তিন মাস পরে কেউ এহুদাকে বললো, তোমার পুত্রবধূ তামর জেনাকারিণী হয়েছে, আরও দেখ, জেনার কারণে তার গর্ভ হয়েছে। তখন এহুদা বললো, তাকে বাইরে এনে পুড়িয়ে দাও।
25 পরে বাইরে আনবার সময়ে সে শ্বশুরকে বলে পাঠাল, যার এসব বস্তু, সেই পুরুষ থেকে আমার গর্ভ হয়েছে। সে আরও বললো, এই মোহর, সুতা ও লাঠি কার? চেয়ে দেখ।
26 তখন এহুদা সেগুলো চিনতে পেরে বললো, সে আমার চেয়েও বেশি ধার্মিকা, কেননা আমি তাকে আমার পুত্র শেলাকে দিই নি। এর পরে এহুদা তার সঙ্গে আর শয়ন করলো না।
27
পরে তামরের প্রসবকাল উপস্থিত হল, আর দেখ, তার গর্ভে যমজ সন্তান।
28 তার প্রসবকালে একটি বালক হাত বের করলো; তাতে ধাত্রী সেই হাত ধরে লাল রংয়ের সুতা বেঁধে বললো, এই প্রথমে ভূমিষ্ঠ হল।
29 কিন্তু সে তার হাত টেনে নিলে দেখ, তার ভাই ভূমিষ্ঠ হল; তখন ধাত্রী বললো, তুমি কিভাবে নিজে বাধা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসলে? অতএব তার নাম পেরস (বাধা ভাঙ্গা) হল।
30 পরে হাতে লাল রংয়ের সুতা বাঁধা অবস্থায় তার ভাই ভূমিষ্ঠ হলে তার নাম হল সেরহ।
1
ইউসুফ মিসর দেশে আনীত হলে পর, যে ইসমাইলীয়েরা তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে ফেরাউনের কর্মচারী পোটীফর তাঁকে ক্রয় করলেন; ইনি ছিলেন রক্ষী সৈন্যদলের সেনাপতি, এক জন মিসরীয় লোক।
2 মাবুদ ইউসুফের সহবর্তী ছিলেন এবং তিনি সফল-কাম হলেন ও তাঁর মিসরীয় মালিকের বাড়িতে রইলেন।
3 আর মাবুদ তাঁর সহবর্তী আছেন এবং তিনি যা কিছু করেন মাবুদ তাঁর হাতে তা সফল করছেন, এটা তাঁর মালিক দেখলেন।
4 অতএব ইউসুফ তাঁর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করলেন ও তাঁর পরিচারক হলেন এবং তিনি ইউসুফকে নিজের বাড়ির প্রধান করে তাঁর হাতে তাঁর সমস্ত বিষয়-সম্পত্তির দিলেন।
5 যখন থেকে তিনি ইউসুফের হাতে নিজের বাড়ির ও সমস্ত বিষয়-সম্পত্তির ভার দিলেন, তখন থেকে মাবুদ ইউসুফের অনুরোধে সেই মিসরীয় ব্যক্তির বাড়ির প্রতি দোয়া করলেন; বাড়িতে ও ক্ষেতে অবস্থিত তাঁর সমস্ত সম্পদের প্রতি মাবুদের দোয়া বর্ষিত হল।
6 অতএব তিনি ইউসুফের হাতে তাঁর সমস্ত বিষয়-সম্পত্তির ভার দিলেন; তিনি নিজের খাদ্যদ্রব্য ছাড়া আর কোন কিছুরই খোঁজ-খবর নিতেন না। ইউসুফ রূপবান ও সুন্দর ছিলেন।
7
এসব ঘটনার পর ইউসুফের প্রতি তাঁর মালিকের স্ত্রীর নজর পড়লো; আর তাঁকে বললো, আমার সঙ্গে শয়ন করো।
8 কিন্তু তিনি অস্বীকার করে তাঁর মালিকের স্ত্রীকে বললেন, দেখুন, এই বাড়িতে আমার হাতে কি কি আছে আমার মালিক তা জানেন না। তিনি আমারই হাতে সর্বস্ব রেখেছেন;
9 এই বাড়িতে আমার চেয়ে বড় কেউই নেই। তিনি সমস্ত কিছুর মধ্যে কেবল আপনাকেই আমার অধীনা করেন নি, কারণ আপনি তাঁর স্ত্রী। অতএব আমি কিভাবে এই মহাদুষ্কর্ম করতে ও আল্লাহ্র বিরুদ্ধে গুনাহ্ করতে পারি?
10 সে প্রতিদিন ইউসুফকে সেই কথা বললেও তিনি তার সঙ্গে শয়ন করতে কিম্বা সঙ্গে থাকতে তার কথায় সম্মত হতেন না।
11 পরে এক দিন ইউসুফ কাজ করার জন্য বাড়ির মধ্যে গেলেন; বাড়ির লোকদের মধ্যে অন্য কেউ সেখানে ছিল না,
12 তখন সে ইউসুফের কাপড় ধরে বললো, আমার সঙ্গে শয়ন কর; কিন্তু ইউসুফ তার হাতে তাঁর কাপড়টি ফেলে বাইরে পালিয়ে গেলেন।
13 তখন ইউসুফ তার হাতে কাপড়টি ফেলে বাইরে পালিয়ে গেলেন দেখে, সে তার ঘরের লোকদেরকে ডেকে বললো,
14 দেখ, তিনি আমাদের সঙ্গে রঙ্গ করতে এক জন ইবরানী পুরুষকে এনেছেন; সে আমার সঙ্গে শয়ন করার জন্য আমার কাছে এসেছিল, তাতে আমি চিৎকার করে উঠলাম;
15 আমার চিৎকার শুনে সে আমার কাছে তার কাপড়টা ফেলে বাইরে পালিয়ে গেল।
16 আর যে পর্যন্ত তাঁর মালিক ঘরে না এলেন, সেই পর্যন্ত সেই স্ত্রীলোক তাঁর কাপড় নিজের কাছে রেখে দিল।
17 পরে সেই কথানুসারে তাঁকে বললো, তুমি যে ইবরানী গোলামকে আমাদের কাছে এনেছ, সে আমার সঙ্গে রঙ্গ করতে আমার কাছে এসেছিল;
18 পরে আমি চিৎকার করে উঠলে সে আমার কাছে তার কাপড়টা ফেলে বাইরে পালিয়ে গেল।
19
তাঁর মালিক যখন তাঁর স্ত্রীর এই কথা শুনলেন যে, ‘তোমার গোলাম আমার প্রতি এরকম ব্যবহার করেছে,’ তখন তিনি রেগে আগুন হয়ে গেলেন।
20 এই কারণে ইউ-সুফের মালিক তাঁকে নিয়ে কারাগারে রাখ-লেন; সেই স্থানে বাদশাহ্র বন্দীরা থাকতো; তাতে তিনি সেই কারাগারে থাকলেন।
21 কিন্তু মাবুদ ইউসুফের সহবর্তী ছিলেন এবং তাঁর প্রতি মহব্বতে অটল রইলেন ও তাঁকে কারারক্ষকের দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র করলেন।
22 তাতে কারারক্ষক কারাগারের সমস্ত বন্দীর ভার ইউসুফের হাতে দিলেন, আর সেখানকার লোকদের সমস্ত কাজ ইউসুফের হুকুম অনুসারে চলতে লাগল।
23 কারারক্ষক তাঁর হস্তগত কোন বিষয়ে লক্ষ্য করতেন না, কেননা মাবুদ তাঁর সহবর্তী ছিলেন এবং তিনি যা কিছু করতেন মাবুদ তা সফল করতেন।
1
ঐ সকল ঘটনার পরে মিসরের বাদশাহ্র পানপাত্র-বাহক ও প্রধান খাদ্যপ্রস্তুতকারক তাদের মালিক মিসরের বাদশাহ্র বিরুদ্ধে অপরাধ করলো।
2 তাতে ফেরাউন তাঁর সেই দুই কর্মচারীর প্রতি, ঐ প্রধান পানপাত্র-বাহক ও প্রধান খাদ্য-প্রস্তুতকারকের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন,
3 এবং তাদেরকে বন্দী করে রক্ষী সৈন্যদের সেনাপতির বাড়ির কারাগারে, ইউসুফ যে স্থানে বন্দী ছিলেন সেই স্থানে রাখলেন।
4 তাতে রক্ষক সেনাপতি তাদের জন্য ইউসুফকে নিযুক্ত করলেন, আর তিনি তাদের পরিচর্যা করতে লাগলেন। এভাবে তারা কিছু দিন কারাগারে রইলো।
5
পরে মিসরের বাদশাহ্র পানপাত্র-বাহক ও প্রধান খাদ্যপ্রস্তুতকারক, যাদের কারাগারে আটক করা হয়েছিল সেই দু’জনে এক রাতে দুই রকম অর্থবিশিষ্ট দু’টি স্বপ্ন দেখলো।
6 আর ইউসুফ খুব ভোরে তাদের কাছে এসে তাদেরকে দেখলেন, তারা বিষণ্ন।
7 তখন তাঁর সঙ্গে ফেরাউনের যে দুই কর্মচারী তাঁর মালিকের বাড়িতে কারাগারে আটক ছিল, তাদেরকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আজ আপনাদের মুখ বিষণ্ন কেন?
8 তারা জবাবে বললো, আমরা স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু এর অর্থ বলে দেবার কেউ নেই। ইউসুফ তাদেরকে বললেন, অর্থ বলে দেবার শক্তি কি আল্লাহ্র কাছ থেকে আসে না? অনুরোধ করছি, স্বপ্নের বৃত্তান্ত আমাকে বলুন।
9
তখন প্রধান পানপাত্র-বাহক ইউসুফকে তার স্বপ্নের বৃত্তান্ত জানালো; সে তাঁকে বললো, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমার সম্মুখে একটি আঙ্গুর লতা।
10 সেই আঙ্গুরলতার তিনটি ডাল; তা যেন পল্লবিত হল ও তাতে ফুল হল এবং স্তবকে স্তবকে তার ফল হয়ে পাকলো।
11 তখন আমার হাতে ফেরাউনের পানপাত্র ছিল, আর আমি সেই আঙ্গুর-ফল নিয়ে সেগুলো থেকে রস বের করে ফেরাউনের হাতে সেই পাত্র দিলাম।
12 ইউসুফ তাকে বললেন, এর অর্থ এই; ঐ তিনটি ডাল তিন দিন বুঝায়।
13 তিন দিনের মধ্যে ফেরাউন আপনাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আপনাকে আগের পদে নিযুক্ত করবেন; আর আপনি আগের রীতি অনুসারে পানপাত্র-বাহক হয়ে পুনর্বার ফেরাউনের হাতে পানপাত্র দেবেন।
14 কিন্তু আরজ করি, যখন আপনার মঙ্গল হবে তখন আমাকে স্মরণে রাখবেন এবং আমার প্রতি দয়া করে ফেরাউনের কাছে আমার কথা বলে আমাকে এই স্থান থেকে উদ্ধার করবেন।
15 কেননা ইবরানীদের দেশ থেকে আমাকে নিতান্তই চুরি করে আনা হয়েছে; আর এই স্থানেও আমি কিছুই করি নি যার জন্য এই কারাকূপে আটক থকতে হয়।
16
প্রধান খাদ্যপ্রস্তুতকারক যখন দেখল, তার অর্থ ভাল, তখন সে ইউসুফকে বললো, আমিও স্বপ্ন দেখেছি; আমার মাথার উপরে রুটির তিনটি ডালি।
17 তার উপরের ডালিতে ফেরাউনের জন্য সকল প্রকার রুটি ছিল; আর সমস্ত পাখি আমার মাথার উপরকার ডালি থেকে তা নিয়ে খেয়ে ফেললো।
18 ইউসুফ জবাব দিলেন, এর অর্থ এই,
19 সেই তিনটি ডালিতে তিন দিন বুঝায়। তিন দিনের মধ্যে ফেরাউন আপনার দেহ থেকে মাথা কেটে ফেলে আপনাকে গাছে টাঙ্গিয়ে দেবেন এবং পাখিরা আপনার দেহ থেকে মাংস খাবে।
20
পরে তৃতীয় দিনে ফেরাউনের জন্মদিনে তিনি তাঁর সমস্ত গোলামের জন্য ভোজ প্রস্তুত করলেন এবং তাঁর গোলামদের মধ্যে প্রধান পানপাত্র-বাহক ও প্রধান খাদ্য-প্রস্তুতকারককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন।
21 তিনি প্রধান পানপাত্র-বাহককে তার নিজের পদে পুনর্বার নিযুক্ত করলেন, তাতে সে ফেরাউনের হাতে পানপাত্র দিতে লাগল;
22 কিন্তু তিনি প্রধান খাদ্য-প্রস্তুতকারককে গাছে টাঙ্গিয়ে দিলেন; যেমন ইউসুফ তাদেরকে অর্থ বলেছিলেন।
23 কিন্তু প্রধান পানপাত্র-বাহক ইউসুফের কথা স্মরণে রাখল না, ভুলে গেল।
1
দুই বছর পরে ফেরাউন একটি স্বপ্ন দেখলেন।
2 দেখলেন, তিনি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছেন, আর সেই নদী থেকে সাতটা হৃষ্টপুষ্ট সুন্দর গাভী উঠলো ও খাগড়া বনে চরতে লাগল।
3 সেগুলোর পরে, আর সাতটা কৃশ ও বিশ্রী গাভী নদী থেকে উঠলো ও নদীর তীরে ঐ গাভীদের কাছে দাঁড়ালো।
4 পরে সেই কৃশ, বিশ্রী গাভীরা ঐ সাতটা হৃষ্টপুষ্ট সুন্দর গাভীকে খেয়ে ফেললো। তখন ফেরাউনের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
5 তারপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন এবং দ্বিতীয়বার স্বপ্ন দেখলেন যে, এক বোঁটাতে সাতটি পুষ্ট উত্তম শীষ উঠলো।
6 সেগুলোর পরে, পূর্বীয় বায়ুতে শুকিয়ে যাওয়া অন্য সাতটি ক্ষীণ শীষ উঠলো।
7 আর এই ক্ষীণ শীষগুলো ঐ সাতটা পুষ্ট শীষকে গ্রাস করলো। পরে ফেরাউনের ঘুম ভেঙ্গে গেল, আর দেখ, তা স্বপ্নমাত্র।
8
পরে সকাল বেলায় তাঁর মন অস্থির হল; আর তিনি লোক পাঠিয়ে মিসরের সমস্ত জাদুকর ও সেখানকার সমস্ত জ্ঞানী লোককে ডাকালেন; আর ফেরাউন তাঁদের কাছে সেই স্বপ্নবৃত্তান্ত বললেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই ফেরাউনকে তার অর্থ বলতে পারলেন না।
9
তখন প্রধান পানপাত্র-বাহক ফেরাউনকে বললো, আজ আমার নিজের দোষ মনে পড়ছে।
10 ফেরাউন তাঁর দুই গোলামের প্রতি, আমার ও প্রধান খাদ্যপ্রস্তুতকারকের প্রতি ক্রোধান্বিত হয়ে আমাদেরকে রক্ষক সেনাপতির বাড়িতে কারাগারে আটক করে রেখেছিলেন।
11 আর সে ও আমি এক রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং দু’জনের স্বপ্নের দুই রকম অর্থ হল।
12 তখন সেই স্থানে রক্ষক সেনাপতির গোলাম এক জন ইবরানী যুবক আমাদের সঙ্গে ছিল। তাকে স্বপ্নবৃত্তান্ত বললে সে আমাদেরকে তার অর্থ বলে দিল, দু’জনের স্বপ্নের অর্থই বলে দিল।
13 আর সে আমাদেরকে যেরকম অর্থ বলেছিল, ঠিক সেইমত সব কিছু ঘটলো; বাদশাহ্ আমাকে আগের পদে নিযুক্ত করলেন ও তাকে গাছে টাঙ্গিয়ে দিলেন।
14
তখন ফেরাউন ইউসুফকে ডেকে পাঠালে লোকেরা কারাগার থেকে শীঘ্র তাঁকে বের করে আনলো। পরে তিনি দাড়ি কামিয়ে অন্য পোশাক পরে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হলেন।
15 তখন ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি, তার অর্থ করতে পারে এমন কেউ নেই। কিন্তু তোমার বিষয়ে আমি শুনেছি যে, তুমি স্বপ্ন শুনলে তার অর্থ করতে পার।
16 জবাবে ইউসুফ ফেরাউনকে বললেন, তা আমার অসাধ্য, আল্লাহ্ই ফেরাউনকে মঙ্গল-যুক্ত উত্তর দেবেন।
17 তখন ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, দেখ, আমি স্বপ্নে নদীর তীরে দাঁড়িয়েছিলাম।
18 আর দেখ, নদী থেকে সাতটা হৃষ্টপুষ্ট সুন্দর গাভী উঠে খাগড়া বনে চরতে লাগল।
19 সেগুলোর পরে কৃশ ও খুব বিশ্রী ও হাড্ডিসার অন্য সাতটা গাভী উঠলো; আমি সমস্ত মিসর দেশে সেরকম বিশ্রী গাভী কখনও দেখি নি।
20 আর এই কৃশ ও বিশ্রী গাভীরা সেই আগের হৃষ্টপুষ্ট সাতটা গাভীকে খেয়ে ফেললো।
21 কিন্তু তারা এদের উদরস্থ হলে পর, উদরস্থ যে হয়েছে, এমন মনে হল না, কেননা এরা আগের মত বিশ্রীই রইলো।
22 তখন আমার নিদ্রাভঙ্গ হল। পরে আমি আর একটি স্বপ্ন দেখলাম; আর দেখ, একটি বোঁটায় পুষ্ট উত্তম সাতটি শীষ উঠলো।
23 আর সেগুলোর পরে ম্লান, ক্ষীণ ও পূর্বীয় বায়ুতে শোষিত সাতটি শীষ উঠলো।
24 আর এই ক্ষীণ শীষগুলো সেই উত্তম সাতটি শীষকে গ্রাস করলো। এই স্বপ্ন আমি জাদুকরদেরকে বলেছিলাম, কিন্তু কেউই এর অর্থ আমাকে বলতে পারল না।
25
তখন ইউসুফ ফেরাউনকে বললেন, ফেরাউনের স্বপ্ন দু’টি আসলে এক, আল্লাহ্ যা করতে উদ্যত হয়েছেন তা-ই ফেরাউনকে জানিয়েছেন।
26 ঐ সাতটি উত্তম গাভী সাত বছর এবং ঐ সাতটি উত্তম শীষও সাত বছর; দু’টি স্বপ্নই আসলে এক।
27 আর তার পিছনে যে সাতটি কৃশ ও বিশ্রী গাভী উঠলো, তারাও সাত বছর; আর পূর্বীয় বায়ূতে শোষিত যে সাতটি কৃশ শীষ উঠলো, তা দুর্ভিক্ষের সাত বছর হবে।
28 আমি ফেরাউনকে এ-ই বললাম; আল্লাহ্ যা করতে উদ্যত হয়েছেন তা ফেরাউনকে দেখিয়েছেন।
29 দেখুন, সমস্ত মিসর দেশে সাত বছর শস্যের অতিশয় প্রাচুর্য হবে।
30 তার পরের সাত বছর এমন দুর্ভিক্ষ হবে যে, মিসর দেশে শস্যের অতিশয় প্রাচুর্যের কথা লোকে ভুলে যাবে এবং সেই দুর্ভিক্ষে দেশ নষ্ট হবে।
31 আর সেই পরবর্তী দুর্ভিক্ষের দরুন আগেকার শস্যের অতিশয় প্রাচুর্যের কথা মনে পড়বে না; কারণ তা ভীষণ কষ্টকর হবে।
32 আর ফেরাউনের কাছে দু’বার স্বপ্ন দেখাবার অর্থ এই: আল্লাহ্ এটা স্থির করেছেন এবং আল্লাহ্ এটা শীঘ্র ঘটাবেন।
33 অতএব এখন ফেরাউন এক জন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান লোকের খোঁজ করে তাঁকে মিসর দেশের উপরে নিযুক্ত করুন।
34 আর ফেরাউন এই কাজ করুন; দেশে কর্মাধ্যক্ষদের নিযুক্ত করে যে সাত বছর শস্যের প্রাচুর্য হবে, সেই সময়ে মিসর দেশ থেকে শস্যের পঞ্চমাংশ গ্রহণ করুন।
35 তাঁরা সেই আগামী শুভ বছরগুলোর জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করুন ও ফেরাউনের অধীনে নগরে নগরে খাদ্যের জন্য শস্য সঞ্চয় করুন ও রক্ষা করুন।
36 এভাবে মিসর দেশে যে দুর্ভিক্ষ হবে, সেই দুর্ভিক্ষের সাত বছরের জন্য সেই খাদ্যশস্য দেশের জন্য সঞ্চিত থাকবে, তাতে দুর্ভিক্ষে দেশ বিনষ্ট হবে না।
37
তখন ফেরাউন ও তাঁর সমস্ত গোলামের দৃষ্টিতে এই কথা উত্তম মনে হল।
38 আর ফেরাউন তাঁর গোলামদেরকে বললেন, এঁর মত পুরুষ, যাঁর অন্তরে আল্লাহ্র রূহ্ আছেন, এমন আর কাকে পাব?
39 তখন ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে এসব জানিয়েছেন, অতএব তোমার মত সুবুদ্ধি ও জ্ঞানবান আর কে আছে?
40 তুমিই আমার বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হও; আমার সমস্ত লোক তোমার হুকুম পালন করবে, কেবল সিংহাসনে আমি তোমা থেকে বড় থাকব।
41 ফেরাউন ইউসুফকে আরও বললেন, দেখ, আমি তোমাকে সমস্ত মিসর দেশের উপরে নিযুক্ত করলাম।
42 পরে ফেরাউন হাত থেকে তাঁর সীলমোহরযুক্ত আংটি খুলে ইউসুফের হাতে দিলেন, তাঁকে মসীনা কাপড়ের শুভ্র পোশাক পরালেন এবং তাঁর গলায় সোনার হার দিলেন।
43 আর তাঁকে তাঁর নিজের দ্বিতীয় রথে আরোহণ করালেন এবং লোকেরা তাঁর আগে আগে ‘হাঁটু পাত, হাঁটু পাত’ বলে ঘোষণা করলো। এভাবে তিনি সমস্ত মিসর দেশের শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত হলেন।
44 ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, আমি ফেরাউন, তোমার হুকুম ছাড়া সমস্ত মিসর দেশে কোন লোক হাত কি পা তুলতে পারবে না।
45 আর ফেরাউন ইউসুফের নাম রাখলেন সাফনৎ-পানেহ এবং তাঁর সঙ্গে ওন নগর-নিবাসী পোটীফেরঃ নামক পুরোহিতের আসনৎ নাম্নী কন্যার বিয়ে দিলেন। পরে ইউসুফ সারা মিসর দেশে পরিভ্রমণ করলেন।
46
ইউসুফ ত্রিশ বছর বয়সে মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের সেবায় নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে ইউসুফ ফেরাউনের কাছ থেকে প্রস্থান করে মিসর দেশের সর্বত্র ভ্রমণ করলেন।
47 আর সেই শস্যের প্রাচুর্যের সাত বছর ভূমিতে পর্যাপ্ত শস্য জন্মালো।
48 মিসর দেশে উপস্থিত সেই সাত বছরে সমস্ত শস্য সংগ্রহ করে তিনি প্রতি নগরে সঞ্চয় করলেন; যে নগরের চার সীমায় যে শস্য হল, সেই নগরে তা সঞ্চয় করলেন।
49 এভাবে ইউসুফ সমুদ্রের বালুকণার মত এমন প্রচুর শস্য সংগ্রহ করলেন যে তা পরিমাপ করা বন্ধ করে দিলেন, কেননা তা অপরিমেয় ছিল।
50
দুর্ভিক্ষ শুরু হবার আগে ইউসুফের দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করলো; ওন্-নিবাসী পুরোহিত পোটীফেরের ইমামের কন্যা আসনৎ তাঁর জন্য তাদের প্রসব করলেন।
51 আর ইউসুফ তাদের জ্যেষ্ঠের নাম মানশা (বিস্মৃতিজনক) রাখলেন, কেননা তিনি বললেন, আল্লাহ্ আমার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও আমার সমস্ত পিতৃকুলের বিস্মৃতি ঘটিয়েছেন। পরে দ্বিতীয় পুত্রের নাম আফরাহীম (ফলবান) রাখলেন,
52 কেননা তিনি বললেন, আমার দুঃখভোগের দেশে আল্লাহ্ আমাকে ফলবান করেছেন।
53
পরে মিসর দেশে উপস্থিত শস্যের প্রাচুর্যের সাত বছর শেষ হল,
54 এবং ইউসুফ যেমন বলেছিলেন, তেমনি দুর্ভিক্ষের সাত বছর আরম্ভ হল। সকল দেশে দুর্ভিক্ষ আরম্ভ হল, কিন্তু সমস্ত মিসর দেশে খাদ্য ছিল।
55 পরে সমস্ত মিসর দেশে দুর্ভিক্ষ হলে লোকেরা ফেরাউনের কাছে খাদ্যের জন্য কান্নাকাটি করতে লাগল, তাতে ফেরাউন মিসরীয়দের সকলকে বললেন, তোমরা ইউসুফের কাছে যাও; তিনি তোমাদেরকে যা বলেন, তা-ই কর।
56 তখন সমস্ত দেশেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আর ইউসুফ সকল স্থানের গোলা খুলে মিসরীয়দের কাছে শস্য বিক্রি করতে লাগলেন; আর মিসর দেশে দুর্ভিক্ষ প্রবল হয়ে উঠলো।
57 সমস্ত দেশের লোকেরা মিসর দেশে ইউসুফের কাছে শস্য ক্রয় করতে আসল, কেননা সমস্ত দেশেই দুর্ভিক্ষ প্রবল হয়েছিল।
1
আর ইয়াকুব দেখলেন যে, মিসর দেশে শস্য আছে, তাই ইয়াকুব তাঁর পুত্রদেরকে বললেন, তোমরা এক জন অন্যজনের দিকে তাকিয়ে আছ কেন?
2 তিনি আরও বললেন, দেখ, আমি শুনলাম, মিসরে শস্য আছে, তোমরা সেখানে যাও, আমাদের জন্য শস্য ক্রয় করে আন; তা হলে আমরা বাঁচবো, মরবো না।
3 পরে ইউসুফের দশ জন ভাই শস্য ক্রয় করতে মিসরে গেলেন।
4 কিন্তু ইয়াকুব ইউসুফের সহোদর বিন্ইয়ামীনকে ভাইদের সঙ্গে পাঠালেন না; কেননা তিনি বললেন, পাছে এর বিপদ ঘটে।
5
যারা মিসর দেশে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ইসরাইলের পুত্ররাও শস্য কিনবার জন্য গেলেন, কেননা কেনান দেশেও দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
6
সেই সময় ইউসুফই ঐ দেশের শাসনকর্তা ছিলেন, তিনিই দেশীয় সমস্ত লোকের কাছে শস্য বিক্রি করছিলেন; অতএব ইউসুফের ভাইয়েরা তাঁর কাছে গিয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালেন।
7 তখন ইউসুফ তাঁর ভাইদেরকে দেখে চিনলেন, কিন্তু তাঁদের কাছে অপরিচিত লোকের মত ব্যবহার করলেন ও কর্কশভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা কোথা থেকে এসেছো? তাঁরা বললেন, কেনান দেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য কিনতে এসেছি।
8 বাস্তবিক ইউসুফ তাঁর ভাইদেরকে চিনলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন না।
9 ইউসুফ তাঁদের বিষয়ে যে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা তাঁর স্মরণ হল; আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা গুপ্তচর, দেশের অরক্ষিত স্থানগুলো দেখতে এসেছ।
10 তাঁরা বললেন, না, মালিক, আপনার এই গোলামেরা খাদ্যদ্রব্য কিনতে এসেছে;
11 আমরা সকলে এক পিতার সন্তান; আমরা সৎ লোক, আপনার এই গোলামেরা গুপ্তচর নয়।
12 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, না, না, তোমরা দেশের অরক্ষিত স্থানগুলো দেখতে এসেছ।
13 তাঁরা বললেন, আপনার এই গোলামেরা বারো ভাই, কেনান দেশ-নিবাসী একজনের পুত্র; দেখুন, আমাদের ছোট ভাই এখন পিতার কাছে আছে এবং এক জন নেই।
14 তখন ইউসুফ তাঁদেরকে বললেন, আমি যে তোমাদেরকে বললাম, তোমরা গুপ্তচর, তা-ই বটে।
15 এতেই তোমাদের পরীক্ষা হয়ে যাবে; আমি ফেরাউনের প্রাণের কসম দিয়ে বলছি, তোমাদের ছোট ভাই এখানে না আসলে তোমরা এই স্থান থেকে বের হতে পারবে না।
16 তোমাদের এক জনকে পাঠিয়ে তোমাদের সেই ভাইকে আনাও, তোমরা বন্দী থাকো; এভাবে তোমাদের কথার পরীক্ষা হবে; তোমরা সত্যবাদী কি না, তা জানা যাবে; নতুবা আমি ফেরাউনের প্রাণের কসম খেয়ে বলছি, তোমরা অবশ্যই গুপ্তচর।
17 পরে তিনি তাঁদেরকে তিন দিন কারাগারে বন্দী করে রাখলেন।
18
পরে তৃতীয় দিনে ইউসুফ তাঁদেরকে বললেন, এক কাজ কর, তাতে বাঁচবে; আমি আল্লাহ্কে ভয় করি।
19 তোমরা যদি সৎলোক হও, তবে তোমাদের এক ভাই এই কারাগারে বন্দী থাকুক; তোমরা নিজ নিজ বাড়ির দুর্ভিক্ষের জন্য শস্য নিয়ে যাও;
20 পরে তোমাদের ছোট ভাইকে আমার কাছে এনো; এভাবে তোমাদের কথা প্রমাণিত হলে তোমরা মারা যাবে না। তাঁরা তা-ই করলেন।
21 আর তাঁরা একে অপরকে বললেন, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের ভাইয়ের বিষয়ে অপরাধী, কেননা সে আমাদের কাছে বিনতি করলে আমরা তার প্রাণের কষ্ট দেখেও তা শুনি নি; এজন্য আমাদের উপর এই সঙ্কট উপস্থিত হয়েছে।
22 তখন রূবেণ উত্তরে তাঁদের বললেন, আমি না তোমাদেরকে বলেছিলাম, বালকটির বিরুদ্ধে গুনাহ্ করো না কিন্তু তোমরা তা শোন নি; দেখ, এখন তার রক্তেরও হিসাব দিতে হচ্ছে।
23 কিন্তু ইউসুফ যে তাঁদের এই কথা বুঝতে পারলেন তা তাঁরা জানতে পারলেন না, কেননা দোভাষী দ্বারা উভয় পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছিল।
24 তখন তিনি তাঁদের কাছ থেকে সরে গিয়ে কাঁদলেন; পরে ফিরে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন ও তাঁদের মধ্যে শিমিয়োনকে ধরে তাঁদের সাক্ষাতেই বাঁধলেন।
25
পরে ইউসুফ তাঁদের সমস্ত বস্তায় শস্য ভরতে, প্রত্যেক জনের বস্তায় টাকা ফিরিয়ে দিতে ও তাঁদেরকে পাথেয় দ্রব্য দিতে হুকুম দিলেন; আর তাঁদের জন্য তা-ই করা হল।
26
পরে তাঁরা নিজ নিজ গর্দভের উপরে শস্য চাপিয়ে সেই স্থান থেকে প্রস্থান করলেন।
27 কিন্তু পান্থনিবাসে যখন এক জন তাঁর গাধাকে আহার দিতে বস্তা খুললেন, তখন বস্তার মুখেই নিজের টাকা দেখতে পেলেন।
28 তাতে তিনি ভাইদের বললেন, আমার টাকা ফিরেছে; দেখ, আমার বস্তাতেই রয়েছে। তখন তাঁদের প্রাণ উড়ে গেল ও সকলে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, আল্লাহ্ আমাদের প্রতি এ কি করলেন?
29
পরে তাঁরা কেনান দেশে তাঁদের পিতা ইয়াকুবের কাছে উপস্থিত হলেন ও তাঁদের প্রতি যা যা ঘটেছিল, সেই সমস্ত তাঁকে জানালেন,
30 বললেন, যে ব্যক্তি সেই দেশের শাসনকর্তা, তিনি আমাদের সঙ্গে কর্কশ ভাবে কথা বললেন, আর দেশ অনুসন্ধানকারী গুপ্তচর মনে করলেন।
31 আমরা তাঁকে বললাম, আমরা সৎলোক, গুপ্তচর নই;
32 আমরা বারো ভাই, সকলেই এক পিতার সন্তান; কিন্তু এক জন নেই এবং ছোটটি এখন কেনান দেশে পিতার কাছে আছে।
33 তখন সেই ব্যক্তি, সেই দেশের শাসনকর্তা আমাদেরকে বললেন, এতেই জানতে পারব যে তোমরা সৎলোক; তোমাদের এক ভাইকে আমার কাছে রেখে তোমাদের অনাহারক্লিষ্ট পরিবারের জন্য শস্য নিয়ে যাও।
34 পরে তোমাদের ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো, তাতে বুঝতে পারব যে, তোমরা গুপ্তচর নও, তোমরা সৎ লোক; আর আমি তোমাদের ভাইকে তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তোমরা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।
35
পরে তাঁরা বস্তা থেকে শস্য ঢাললে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ছালায় নিজ নিজ টাকার থলি পেলেন। তখন সেসব টাকার থলি দেখে তাঁরা ও তাঁদের পিতা ভয় পেলেন।
36 আর তাঁদের পিতা ইয়াকুব বললেন, তোমরা আমাকে পুত্রহীন করেছ; ইউসুফ নেই, শিমিয়োন নেই, আবার বিন্-ইয়ামীনকেও নিয়ে যেতে চাইছো; এই সমস্তই আমার প্রতি ঘটছে।
37 তখন রূবেণ তাঁর পিতাকে বললেন, আমি যদি তোমার কাছে তাকে ফিরিয়ে না আনি, তবে আমার দুই পুত্রকে খুন করো; আমার হাতে তাকে দাও; আমি তোমার কাছে তাকে পুনর্বার এনে দেব।
38 তখন তিনি বললেন, আমার পুত্র তোমাদের সঙ্গে যাবে না, কেননা তার সহোদর মারা গেছে, সে একাই বেঁচে আছে। তোমরা যে পথে যাবে, সেই পথে যদি এর কোন বিপদ ঘটে তবে শোকে এই বৃদ্ধ অবস্থায় তোমরা আমাকে পাতালে নামিয়ে দেবে।
1
তখন দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ চলছিলো।
2 আর তাঁরা মিসর দেশ থেকে যে শস্য এনেছিলেন, সেই সমস্ত খাওয়া শেষ হলে তাঁদের পিতা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা আবার যাও, আমাদের জন্য কিছু খাদ্যশস্য ক্রয় করে আন।
3 তখন এহুদা তাঁকে বললেন, সেই ব্যক্তি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে আমাদেরকে বলেছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে না আসলে তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না।
4 যদি তুমি আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকে পাঠাও, তবে আমরা গিয়ে তোমার জন্য খাদ্যশস্য ক্রয় করে আনবো।
5 কিন্তু যদি না পাঠাও তবে যাব না; কেননা সেই ব্যক্তি আমাদেরকে বলেছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে না আসলে তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না।
6 তখন ইসরাইল বললেন, তোমরা আমার সঙ্গে কেন এমন খারাপ আচরণ করলে? ঐ ব্যক্তিকে কেন বলেছো যে, তোমাদের আর এক ভাই আছে?
7 তাঁরা বললেন, তিনি আমাদের বিষয়ে ও আমাদের বংশের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জিজ্ঞাসা করলেন, বললেন, তোমাদের পিতা কি এখনও জীবিত আছেন? তোমাদের কি আরও ভাই আছে? তাতে আমরা সেই কথা অনুসারে উত্তর দিয়েছিলাম। আমরা কেমন করে জানবো যে, তিনি বলবেন, তোমাদের ভাইকে এখানে নিয়ে এসো?
8 এহুদা তাঁর পিতা ইসরাইলকে আরও বললেন, বালকটিকে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও; আমরা প্রস্থান করি, তাতে তুমি ও আমাদের ছেলেমেয়েরা এবং আমরা বাঁচবো, কেউ মরবো না।
9 আমিই তার জামিন হলাম, আমারই হাত থেকে তাকে নিও, আমি যদি তোমার কাছে তাকে না আনি, তোমার সম্মুখে তাকে উপস্থিত না করি, তবে আমি সারা জীবন তোমার কাছে অপরাধী থাকব।
10 এত বিলম্ব না করলে আমরা এর মধ্যে দ্বিতীয়বার ফিরে আসতে পারতাম।
11
তখন তাঁদের পিতা ইসরাইল তাঁদেরকে বললেন, যদি তা-ই হয় তবে এক কাজ করো; তোমরা নিজ নিজ থলিতে এই দেশের উৎকৃষ্ট দ্রব্য— গুগ্গুল, মধু, সুগন্ধি দ্রব্য, গন্ধরস, পেস্তা ও বাদাম কিছু কিছু নিয়ে গিয়ে সেই ব্যক্তিকে উপহার দাও।
12 আর নিজ নিজ হাতে দ্বিগুণ টাকা নাও এবং তোমাদের বস্তার মুখে যে টাকা ফিরে এসেছে, তাও হাতে করে পুনরায় নিয়ে যাও; কি জানি, হয়তোবা তাদের ভুল হয়েছিল।
13 আর তোমাদের ভাইকে নিয়ে যাও, উঠ, পুনর্বার সেই ব্যক্তির কাছে যাও।
14 সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তোমাদেরকে সেই ব্যক্তির কাছে করুণার পাত্র করুন, যেন তিনি তোমাদের অন্য ভাইকে ও বিন্-ইয়ামীনকে ছেড়ে দেন। আর যদি আমাকে পুত্রহীন হতে হয়, তবে পুত্রহীন হলাম।
15
তখন তারা সেই উপহারের জিনিস নিলেন, আর হাতে দ্বিগুণ টাকা ও বিন্ইয়ামীনকে নিয়ে যাত্রা করলেন এবং মিসরে গিয়ে ইউসুফের সম্মুখে দাঁড়ালেন।
16
ইউসুফ তাঁদের সঙ্গে বিন্ইয়ামীনকে দেখে নিজের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে বললেন, এই কয়েকজন লোককে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাও, আর পশু মেরে আয়োজন করো; কেননা এরা মধ্যাহ্নে আমার সঙ্গে আহার করবে।
17 তাতে সেই ব্যক্তি, ইউসুফ যেমন বললেন, সেরকম করলো, তাঁদেরকে ইউসুফের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
18 কিন্তু ইউসুফের বাড়িতে নিয়ে যাওয়াতে তাঁরা ভয় পেলেন ও পরস্পর বললেন, আগে আমাদের বস্তায় যে টাকা ফিরে গিয়েছিল তার জন্যই ইনি আমাদেরকে এখানে এনেছেন; এখন আমাদের আক্রমণ করবেন ও আমাদের গাধাগুলো কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে গোলাম করে রাখবেন।
19 অতএব তাঁরা ইউসুফের বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাছে গিয়ে বাড়ির দরজার কাছে তার সঙ্গে কথা বললেন,
20 বললেন, হুজুর, আমরা আগে খাদ্যশস্য কিনতে এসেছিলাম;
21 পরে পান্থনিবাসে গিয়ে নিজ নিজ বস্তা খুললাম, আর দেখুন, প্রত্যেক জনের বস্তার মুখে তার টাকা, ঠিক পরিমাণেই আমাদের টাকা আছে; পুনরায় তা আমরা নিয়ে এসেছি।
22 এবার খাদ্যশস্য কিনবার জন্য আরও টাকা এনেছি; আমাদের সেই টাকা আমাদের ছালায় কে রেখেছিল, তা আমরা জানি না।
23 সেই ব্যক্তি বললো, তোমাদের মঙ্গল হোক, ভয় করো না; তোমাদের আল্লাহ্, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, তোমাদের বস্তায় তোমাদেরকে গুপ্তধন দিয়েছেন; আমি তোমাদের টাকা পেয়েছি। পরে সে শিমিয়োনকে তাঁদের কাছে আনলো।
24 আর সে তাঁদেরকে ইউসুফের বাড়ির ভিতরে নিয়ে গিয়ে পানি দিল, তাতে তাঁরা পা ধুলেন এবং সে তাঁদের গাধাগুলোকে আহার দিল।
25
আর মধ্যাহ্নে ইউসুফ আসবেন বলে তাঁরা উপহার সাজালেন, কেননা তাঁরা শুনেছিলেন যে, সেখানে তাঁদেরকে আহার করতে হবে।
26
পরে ইউসুফ বাড়িতে আসলে তাঁরা তাদের উপহার বাড়ির মধ্যে তাঁর কাছে আনলেন ও তাঁর সামনে ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালেন।
27 তখন তিনি কুশল জিজ্ঞাসা করে তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের যে বৃদ্ধ পিতার কথা বলেছিলে, তিনি কি কুশলে আছেন? তিনি কি এখনও জীবিত আছেন?
28 তাঁরা বললেন, আপনার গোলাম আমাদের পিতা সহিসালামতে আছেন, তিনি এখনও জীবিত আছেন। পরে তাঁরা ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখালেন।
29 তখন ইউসুফ তাঁর ভাই বিন্ইয়ামীনকে, তাঁর সহোদরকে দেখে বললেন, তোমাদের যে ছোট ভাইয়ের কথা আমাকে বলেছিলে, সে কি এই? আর তিনি বললেন, বৎস, আল্লাহ্ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।
30 তখন ইউসুফ তাড়াতাড়ি করলেন, কেননা তাঁর ভাইয়ের জন্য তাঁর প্রাণ কাঁদছিল, তাই তিনি কাঁদবার জায়গার খোঁজ করলেন, আর নিজের কামরায় প্রবেশ করে সেখানে কাঁদতে লাগলেন।
31 পরে তিনি মুখ ধুয়ে বাইরে আসলেন ও নিজেকে সংযত করে খাদ্য পরিবেশন করতে হুকুম করলেন।
32 তখন তাঁর জন্য পৃথক ও তাঁর ভাইদের জন্য পৃথক এবং তাঁর সঙ্গে ভোজনকারী মিসরীয়দের জন্য পৃথক পরিবেশন করা হল, কেননা ইবরানীদের সঙ্গে মিসরীয়েরা আহার করে না; কারণ তা মিসরীয়দের ঘৃণিত কর্ম।
33 আর তাঁরা ইউসুফের সম্মুখে জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠের স্থানে ও কনিষ্ঠ কনিষ্ঠের স্থানে বসলেন; তখন তাঁরা পরস্পর আশ্চর্য জ্ঞান করলেন।
34 আর তিনি তাঁর সম্মুখ থেকে খাদ্যের অংশ তুলে তাঁদেরকে পরিবেশন করালেন; কিন্তু সকলের অংশ থেকে বিন্ইয়ামীনের অংশ পাঁচ গুণ বেশি ছিল। পরে তাঁরা পান করলেন ও তাঁর সঙ্গে হৃষ্টচিত্ত হলেন।
1
আর ইউসুফ তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে হুকুম করলেন, এই লোকদের বস্তায় যত শস্য ধরে পূর্ণ করে দাও এবং প্রতিজনের টাকা তার বস্তার মুখে রাখ।
2 আর কনিষ্ঠের ছালার মুখে তার শস্য ক্রয়ের টাকার সঙ্গে আমার বাটি অর্থাৎ রূপার বাটি রাখ। তখন সে ইউসুফের উক্ত কথানুসারে কাজ করলো।
3 পর দিন খুব ভোরেই তাঁদের গাধাগুলো সহ তাঁরা বিদায় নিলেন।
4 তাঁরা নগর থেকে বের হয়ে অনেক দূরে যেতে না যেতে ইউসুফ তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে বললেন, উঠ, ঐ লোকদের পিছনে দৌড়ে গিয়ে তাদের সঙ্গ ধরে বলো, তোমরা উপকারের পরিবর্তে কেন অপকার করলে?
5 আমার মালিক যাতে পান করেন ও যা দিয়ে গণা-পড়ার কাজ করেন, এটি কি সেই বাটি নয়? এই কাজ করে তোমরা অপরাধ করেছ।
6
পরে সে তাঁদের নাগাল পেয়ে সেই কথা বললো।
7 তাঁরা বললেন, হুজুর, কেন এমন কথা বলেন? আপনার গোলামেরা যে এমন কাজ করবে, তা দূরে থাকুক।
8 দেখুন, আমরা নিজ নিজ বস্তার মুখে যে টাকা পেয়েছিলাম, তা কেনান দেশ থেকে পুনর্বার আপনার কাছে এনেছি; তবে আমরা কিভাবে আপনার মালিকের বাড়ি থেকে রূপা কি সোনা চুরি করবো?
9 আপনার গোলামদের মধ্যে যার কাছে তা পাওয়া যায় সে অবশ্যই মরবে এবং আমরাও মালিকের গোলাম হবো।
10 সে বললো, ভাল, তোমাদের কথা অনুসারেই হোক; যার কাছে তা পাওয়া যাবে, সে আমার গোলাম হবে, কিন্তু আর সকলে নির্দোষ হবে।
11 তখন তাঁরা শীঘ্র করে নিজেদের বস্তাগুলো ভূমিতে নামিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ বস্তা খুললেন।
12 আর সে জ্যেষ্ঠ থেকে আরম্ভ করে কনিষ্ঠের বস্তা পর্যন্ত খুঁজে দেখলো, আর বিন্ইয়ামীনের বস্তায় সেই বাটি পাওয়া গেল।
13 তখন তাঁরা তাদের কাপড় ছিঁড়লেন ও নিজ নিজ গর্দভে বস্তা চাপিয়ে নগরে ফিরে গেলেন।
14
পরে এহুদা ও তাঁর ভাইয়েরা ইউসুফের বাড়িতে এলেন; তিনি তখনও সেখানে ছিলেন; আর তাঁরা তাঁর সম্মুখে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন।
15 তখন ইউসুফ তাঁদেরকে বললেন, তোমরা এ কেমন কাজ করলে? আমার মত ব্যক্তি অবশ্য গণনা করতে পারে, তা কি তোমরা জান না?
16 এহুদা বললেন, আমরা মালিকের কাছে কি উত্তর দেব? কি কথা বলবো? কিসেই বা নিজেদের নির্দোষ দেখাব? আল্লাহ্ তাঁর গোলামদের অপরাধ প্রকাশ করেছেন, দেখুন, আমরা ও যার কাছে বাটি পাওয়া গেছে, সকলেই মালিকের গোলাম হলাম।
17 ইউসুফ বললেন, না, এমন কাজ আমি কখনও করবো না; যার কাছে বাটি পাওয়া গেছে, সেই আমার গোলাম হবে, কিন্তু তোমরা সহিসালামতে পিতার কাছে প্রস্থান কর।
18
তখন এহুদা কাছে গিয়ে বললেন, হে মালিক, আরজ করি, আপনার গোলামকে মালিকের কাছে একটি কথা বলতে অনুমতি দিন; এই গোলামের প্রতি আপনার ক্রোধ প্রজ্বলিত না হোক, কারণ আপনি ফেরাউনের মত।
19 মালিক এই গোলামদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের পিতা কি ভাই আছে?
20 আমরা মালিককে জবাবে বলেছিলাম, আমাদের বৃদ্ধ পিতা আছেন এবং তাঁর বৃদ্ধাবস্থার একটি কনিষ্ঠ পুত্র আছে; তার সহোদরের মৃত্যু হয়েছে; সে-ই মাত্র তার মায়ের অবশিষ্ট পুত্র; তার পিতা তাকে স্নেহ করেন।
21 পরে আপনি এই গোলামদেরকে বলেছিলেন, তোমরা আমার কাছে তাকে আন, আমি তাকে স্বচক্ষে দেখবো।
22 তখন আমরা মালিককে বলেছিলাম, সেই যুবক পিতাকে ছেড়ে আসতে পারবে না, সে পিতাকে ছেড়ে আসলে পিতা মারা যাবেন।
23 তাতে আপনি এই গোলামদেরকে বলেছিলেন, সেই ছোট ভাইটি তোমাদের সঙ্গে না আসলে তোমরা আমার মুখ আর দেখতে পাবে না।
24 আপনার গোলাম যিনি আমার পিতা, তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে মালিকের সেসব কথা বললাম।
25 পরে আমাদের পিতা বললেন, তোমরা আবার যাও, আমাদের জন্য কিছু খাদ্যশস্য ক্রয় করে আন।
26 আমরা বললাম, যেতে পারব না; যদি ছোট ভাই আমাদের সঙ্গে থাকে তবে যাব; কেননা ছোট ভাইটি সঙ্গে না থাকলে আমরা সেই ব্যক্তির মুখ দেখতে পাব না।
27 তাতে আপনার গোলাম, আমার পিতা বললেন, তোমরা জান, আমার সেই স্ত্রী থেকে দু’টি মাত্র সন্তান জন্মে।
28 তাদের মধ্যে এক জন আমার কাছ থেকে প্রস্থান করলো, আর আমি বললাম, সে নিশ্চয় খণ্ড খণ্ড হয়েছে এবং সেই সময় থেকে আমি তাকে আর দেখতে পাই নি।
29 এখন আমার কাছ থেকে একেও নিয়ে গেলে যদি এর কোন বিপদ ঘটে তবে তোমরা শোকে এই বৃদ্ধ অবস্থায় আমাকে এই পাতালে নামিয়ে দেবে।
30 অতএব আপনার গোলাম যিনি আমার পিতা, আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হলে আমাদের সঙ্গে যদি এই যুবক না থাকে, তবে এই যুবকের প্রাণের সঙ্গে তাঁর প্রাণ বাঁধা আছে বলে,
31 যুবকটি নেই দেখলে তিনি মারা পড়বেন; এভাবে আপনার এই গোলামেরা শোকে বৃদ্ধ অবস্থায় আপনার গোলাম আমাদের পিতাকে পাতালে নামিয়ে দেবে।
32 আবার আপনার গোলাম আমি পিতার কাছে এই যুবকটির জামিন হয়ে বলেছিলাম, আমি যদি তাকে তোমার কাছে না আনি, তবে সারা জীবন পিতার কাছে অপরাধী থাকব।
33 অতএব আরজ করি, মালিকের কাছে এই যুবকটির পরিবর্তে আপনার গোলাম আমি মালিকের গোলাম হয়ে থাকি, কিন্তু এই যুবককে আপনি তার ভাইদের সঙ্গে যেতে দিন।
34 কেননা এই যুবকটি আমার সঙ্গে না থাকলে আমি কিভাবে পিতার কাছে যেতে পারি? অন্যথায় পিতার যে বিপদ ঘটবে, তা-ই আমাকে দেখতে হবে।
1
তখন ইউসুফ তাঁর কাছে দণ্ডায়মান লোকদের সম্মুখে আত্ম-সম্বরণ করতে পারলেন না; তিনি চিৎকার করে বললেন, আমার সম্মুখ থেকে সমস্ত লোককে বের করো। তাতে কেউ তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে থাকলো না, আর তখনই ইউসুফ ভাইদের কাছে নিজের পরিচয় দিতে লাগলেন।
2 তিনি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন; মিসরীয়েরা তা শুনতে পেল ও ফেরাউনের গৃহস্থিত লোকেরাও শুনতে পেল।
3 পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদের বললেন, আমি ইউসুফ; আমার পিতা কি এখনও জীবিত আছেন? এতে তাঁর ভাইয়েরা তাঁর সামনে ভীষণ ভয় পেলেন, উত্তর দিতে পারলেন না।
4
পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদের বললেন, আরজ করি, আমার কাছে এসো। তাঁরা কাছে গেলেন। তিনি বললেন, আমি ইউসুফ, তোমাদের সেই ভাই যাকে তোমরা মিসর-যাত্রীদের কাছে বিক্রি করেছিলে।
5 কিন্তু তোমরা আমাকে এই স্থানে বিক্রি করেছ বলে এখন দুঃখিত বা বিরক্ত হয়ো না; কেননা প্রাণ রক্ষা করার জন্যই আল্লাহ্ তোমাদের আগে আমাকে পাঠিয়েছেন।
6 কারণ দুই বছর থেকে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে; আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত চাষাবাদ কিংবা ফসল হবে না।
7 আর আল্লাহ্ দুনিয়াতে তোমাদের বংশ রক্ষা করতে ও মহা উদ্ধারের দ্বারা তোমাদেরকে বাঁচাতে তোমাদের আগে আমাকে পাঠিয়েছেন।
8 অতএব তোমরাই আমাকে এই স্থানে পাঠিয়েছ তা নয়, আল্লাহ্ই পাঠিয়েছেন এবং আমাকে ফেরাউনের পিতৃস্থানীয়, তাঁর সমস্ত বাড়ির মালিক ও সমস্ত মিসর দেশের উপরে শাসনকর্তা করেছেন।
9 তোমরা শীঘ্র করে আমার পিতার কাছে যাও, তাঁকে বলো, ‘তোমার পুত্র ইউসুফ এই কথা বললো, আল্লাহ্ আমাকে সমস্ত মিসর দেশের মালিক করেছেন; তুমি আমার কাছে চলে এসো, বিলম্ব করো না।
10 তুমি তোমার পুত্র পৌত্রাদি, তোমার গোমেষাদি ও তোমার অন্য যা কিছু আছে তা নিয়ে গোশন প্রদেশে বাস করবে; তুমি আমার কাছেই থাকবে।
11 সেই স্থানে আমি তোমাকে প্রতিপালন করবো, কেননা আরও পাঁচ বছর দুর্ভিক্ষ থাকবে; পাছে তোমার ও তোমার পরিজনের ও তোমার সকল লোকের দৈন্যদশা ঘটে।’
12 আর দেখ, তোমার ও আমার সহোদর বিন্ইয়ামীন চাক্ষুষ দেখছে যে, আমি স্বয়ং তোমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি।
13 অতএব এই মিসর দেশে আমার মহিমা ও তোমরা যা যা দেখেছ, সেসব আমার পিতাকে জানাবে এবং তাঁকে শীঘ্র এই স্থানে আনবে।
14 পরে ইউসুফ তাঁর ভাই বিন্ইয়ামীনের গলা ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং বিন্ইয়ামীনও তাঁর গলা ধরে কাঁদতে লাগলেন।
15 আর ইউসুফ অন্য সকল ভাইকেও চুম্বন করলেন ও তাঁদের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন; তারপর তাঁর ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলেন।
16
আর ইউসুফের ভাইয়েরা এসেছে, ফেরাউনের বাড়িতে এই কথা পৌঁছালে ফেরাউন ও তাঁর গোলামেরা সকলে সন্তুষ্ট হলেন।
17 আর ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, তুমি তোমার ভাইদের বলো, তোমরা এই কাজ কর; তোমাদের পশুদের পিঠে শস্য চাপিয়ে কেনান দেশে গমন কর,
18 এবং তোমাদের পিতাকে ও নিজ নিজ পরিবারকে আমার কাছে নিয়ে এসো; আমি তোমাদেরকে মিসর দেশের উৎকৃষ্ট দ্রব্য দেব, আর তোমরা দেশের সেরা সমস্ত বস্তু ভোগ করবে।
19 এখন তোমার প্রতি আমার এই হুকুম, তোমরা এই কাজ করো, তোমাদের নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীদের জন্য মিসর দেশ থেকে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে গিয়ে তাদের ও তাঁর পিতাকে নিয়ে এসো;
20 আর নিজ নিজ দ্রব্য সামগ্রীর মমতা করো না, কেননা সমস্ত মিসর দেশের উৎকৃষ্ট দ্রব্য তোমাদেরই।
21
তখন ইসরাইলের পুত্ররা তা-ই করলেন। ইউসুফ ফেরাউনের হুকুম অনুসারে তাদেরকে ঘোড়ার গাড়ি দিলেন এবং পাথেয় দ্রব্যও দিলেন;
22 তিনি প্রত্যেক জনকে এক এক জোড়া কাপড় দিলেন, কিন্তু বিন্-ইয়ামীনকে তিন শত রূপার মুদ্রা ও পাঁচ জোড়া কাপড় দিলেন।
23 আর পিতার জন্য দশটি গাধায় চাপিয়ে মিসরের উৎকৃষ্ট দ্রব্য এবং পিতার পাথেয়ের জন্য দশটি গাধীতে চাপিয়ে শস্য ও রুটি প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়ে দিলেন।
24 এভাবে তিনি তাঁর ভাইদেরকে বিদায় দিলে তাঁরা প্রস্থান করলেন; তিনি তাঁদেরকে বলে দিলেন, পথে বিবাদ করো না।
25
পরে তাঁরা মিসর থেকে যাত্রা করে কেনান দেশে তাঁদের পিতা ইয়াকুবের কাছে উপস্থিত হলেন,
26 তাঁরা তাঁকে বললেন, ইউসুফ এখনও জীবিত আছে, আবার সমস্ত মিসর দেশের উপরে সে-ই শাসনকর্তা হয়েছে। কিন্তু তিনি হতবুদ্ধি হয়ে থাকলেন, কারণ তাঁদের কথায় তাঁর বিশ্বাস জন্মগ্রহণ করলো না।
27 কিন্তু ইউসুফ তাঁদেরকে যে সমস্ত কথা বলেছিলেন, সেসব যখন তাঁরা তাঁকে বললেন এবং তাঁকে নিয়ে যাবার জন্য ইউসুফ যে সমস্ত ঘোড়ার গাড়ি পাঠিয়েছিলেন তাও যখন তিনি দেখলেন, তখন তাঁদের পিতা ইয়াকুবের হতবুদ্ধি অবস্থা কেটে গেল।
28 আর ইসরাইল বললেন, এই যথেষ্ট; আমার পুত্র ইউসুফ এখনও জীবিত আছে; আমি মৃত্যুর আগে গিয়ে তাকে দেখব।
1
পরে ইসরাইল তাঁর সর্বস্ব নিয়ে যাত্রা করে বের্-শেবাতে এলেন এবং তাঁর পিতা ইস্হাকের আল্লাহ্র উদ্দেশে কোরবানী করলেন।
2 পরে আল্লাহ্ রাত্রে ইসরাইলকে দর্শন দিয়ে বললেন, হে ইয়াকুব, হে ইয়াকুব! তিনি জবাব দিলেন, দেখ, এই আমি।
3 তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্, তোমার পিতার আল্লাহ্; তুমি মিসরে যেতে ভয় করো না, কেননা আমি সেই স্থানে তোমাকে বড় জাতি করবো।
4 আমিই তোমার সঙ্গে মিসরে যাব এবং আমিই সেই স্থান থেকে তোমাকে ফিরিয়ে আনবো, আর তোমার মৃত্যুর পরে ইউসুফ তোমার চোখের পাতা বন্ধ করে দেবে।
5
পরে ইয়াকুব বের্-শেবা থেকে যাত্রা করলেন। ইসরাইলের পুত্ররা তাঁদের পিতা ইয়াকুবকে এবং নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীদেরকে সেসব ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে গেলেন, যা ফেরাউন তাঁদের বহন করার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
6 পরে তাঁরা, ইয়াকুব ও তাঁর সমস্ত বংশ, তাদের সমস্ত পশু ও কেনান দেশে উপার্জিত সমস্ত ধন-সম্পদ নিয়ে মিসর দেশে পৌঁছালেন।
7 এভাবে ইয়াকুব তাঁর পুত্র-পৌত্র, পুত্রী-পৌত্রী প্রভৃতি সমস্ত বংশকে সঙ্গে করে মিসরে নিয়ে গেলেন।
8
বনি-ইসরাইল, ইয়াকুব ও তাঁর সন্তানেরা, যাঁরা মিসরে গেলেন তাঁদের নাম। ইয়াকুবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণ।
9 রূবেণের পুত্র হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি।
10 শিমিয়োনের পুত্র যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর ও তার কেনানীয়া স্ত্রীজাত পুত্র শৌল।
11 লেবির পুত্র গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
12 এহুদার পুত্র এর, ওনন, শেলা, পেরস ও সেরহ। কিন্তু এর ও ওনন কেনান দেশে মারা গিয়েছিল; আর পেরসের পুত্র হিষ্রোণ ও হামূল।
13 ইষাখরের পুত্র তোলয়, পূয়, যোব ও শিম্রোণ।
14 আর সবূলূনের পুত্র সেরদ, এলোন ও যহলেল।
15 এরা লেয়ার সন্তান; তিনি পদ্দন্-অরামে ইয়াকুবের জন্য এদেরকে ও তাঁর কন্যা দীণাকে প্রসব করেন। ইয়াকুবের এই পুত্র কন্যারা সর্বমোট তেত্রিশ জন।
16
আর গাদের পুত্র সিফিয়োন, হগি, শূনী, ইষ্বোন, এরি, অরোদী ও অরেলী।
17 আশেরের পুত্র যিম্না, যিশ্বা, যিশ্বি, বরিয় ও তাদের বোন সেরহ। বরিয়ের পুত্র হেবর ও মল্কীয়েল।
18 এরা সেই সিল্পপার সন্তান, যাকে লাবন তাঁর কন্যা লেয়াকে দিয়েছিলেন; সে ইয়াকুবের জন্য এদেরকে প্রসব করেছিল। এরা ষোল জন।
19
আর ইয়াকুবের স্ত্রী রাহেলার পুত্র ইউসুফ ও বিন্ইয়ামীন।
20 ইউসুফের পুত্র মানশা ও আফরাহীম মিসর দেশে জন্মেছিল; ওন নগরের পোটীফেরঃ ইমামের কন্যা আসনৎ তাঁর জন্য তাদেরকে প্রসব করেছিলেন।
21 বিন্ইয়ামীনের পুত্র বেলা, বেখর, অস্বেল, গেরা, নামন, এহী, রোশ, মুপ্পীম, হুপ্পীম ও অর্দ।
22 এই চৌদ্দ জন ইয়াকুব থেকে জাত রাহেলার সন্তান।
23 আর দানের পুত্র হূশীম।
24 নপ্তালির পুত্র যহসিয়েল, গূনি, যেৎসর ও শিল্লেম।
25 এরা সেই বিল্হার সন্তান, যাকে লাবন নিজের কন্যা রাহেলাকে দিয়েছিলেন। সে ইয়াকুবের জন্য এদেরকে প্রসব করেছিল; এরা সর্বমোট সাত জন।
26
ইয়াকুবের বংশধর, যারা তাঁর সঙ্গে মিসরে উপস্থিত হল, ইয়াকুবের পুত্রবধূরা ছাড়া তারা সর্বমোট ছেষট্টি জন।
27 মিসরে ইউসুফের যে পুত্রেরা জন্মেছিল, তারা দুই জন। ইয়াকুবের পরিজন, যারা মিসরে গেল, তারা সর্বমোট সত্তর জন।
28
পরে আগে ভাগেই গোশনের পথ দেখাবার জন্য ইয়াকুব তাঁর আগে এহুদাকে ইউসুফের কাছে পাঠালেন; আর তাঁরা গোশন প্রদেশে পৌঁছালেন।
29 তখন ইউসুফ নিজের ঘোড়ার গাড়ি সাজিয়ে গোশনে তাঁর পিতা ইসরাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন; আর তাঁকে দেখা দিয়ে তাঁর গলা ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন।
30 তখন ইসরাইল ইউসুফকে বললেন, এখন আমি স্বচ্ছন্দে মৃত্যুবরণ করবো, কেননা তোমার মুখ দেখতে পেলাম, তুমি এখনও জীবিত আছ।
31 পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদের ও পিতার পরিজনকে বললেন, আমি গিয়ে ফেরাউনকে সংবাদ দেব, তাঁকে বলবো, আমার ভাইয়েরা ও পিতার সমস্ত পরিজন কেনান দেশ থেকে আমার কাছে এসেছেন;
32 তাঁরা ভেড়ার রাখাল, তাঁরা পশুপালন করে থাকেন; আর তাঁদের গোমেষাদি পাল এবং সর্বস্ব এনেছেন।
33 তাতে ফেরাউন তোমাদেরকে ডেকে যখন জিজ্ঞাসা করবেন, তোমাদের পেশা কি?
34 তখন তোমরা বলবে, আপনার এই গোলামেরা পূর্বপুরুষানুক্রমে বাল্যকাল থেকে আজ পর্যন্ত পশুপালন করে আসছি; তাতে তোমরা গোশন প্রদেশে বাস করতে পাবে; কেননা পশুপালক মাত্রেই মিসরীয়দের ঘৃণাস্পদ।
1
পরে ইউসুফ গিয়ে ফেরাউনকে সংবাদ দিলেন, বললেন, আমার পিতা ও ভাইয়েরা নিজ নিজ গোমেষাদির পাল এবং সর্বস্ব কেনান দেশ থেকে নিয়ে এসেছেন; আর দেখুন, তাঁরা গোশন প্রদেশে আছেন।
2 আর তিনি তাঁর ভাইদের মধ্যে পাঁচ জনকে নিয়ে ফেরাউনের সম্মুখে উপস্থিত করলেন।
3 তাতে ফেরাউন ইউসুফের ভাইদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের পেশা কি? তাঁরা ফেরাউনকে বললেন, আপনার এই গোলামেরা পুরুষানুক্রমে পশুপালক।
4 তারা ফেরাউনকে আরও বললেন, আমরা এই দেশে প্রবাস করতে এসেছি, কারণ আপনার এই গোলামদের পশুপালের চরে খাবার ঘাস নেই, কারণ কেনান দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। অতএব আরজ করি, আপনার এই গোলামদেরকে গোশন প্রদেশে বাস করতে দিন।
5 ফেরাউন ইউসুফকে বললেন, তোমার পিতা ও ভাইয়েরা তোমার কাছে এসেছে;
6 মিসর দেশ তোমার সম্মুখে রয়েছে; দেশের উত্তম স্থানে তোমার পিতা ও ভাইদেরকে বাস করাও; তারা গোশন প্রদেশে বাস করুক; আর যদি তাদের মধ্যে যোগ্য লোক পাও, তবে আমার পশুপালের দেখাশুনা করার ভার তাদের উপর দাও।
7
পরে ইউসুফ তাঁর পিতা ইয়াকুবকে আনিয়ে ফেরাউনের সম্মুখে উপস্থিত করলেন, আর ইয়াকুব ফেরাউনকে দোয়া করলেন।
8 তখন ফেরাউন ইয়াকুবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার বয়স কত?
9 ইয়াকুব ফেরাউনকে বললেন, আমার প্রবাসকালের এক শত ত্রিশ বছর হয়েছে; আমার আয়ুর এই অল্প দিনগুলো কষ্টেই কেটেছে এবং আমার পূর্বপুরুষদের প্রবাসকালের আয়ুর মত হয় নি।
10 পরে ইয়াকুব ফেরাউনকে দোয়া করে তাঁর সম্মুখ থেকে বিদায় নিলেন।
11 তখন ইউসুফ ফেরাউনের হুকুম অনুসারে মিসর দেশের উত্তম অঞ্চলে অথাৎ রামিষেষ প্রদেশে অধিকার দিয়ে তাঁর পিতা ও ভাইদেরকে বসিয়ে দিলেন।
12 আর ইউসুফ তাঁর পিতা ও ভাইদেরকে এবং পিতার সমস্ত পরিজনকে তাঁদের পরিবার অনুসারে খাদ্যদ্রব্য দিয়ে প্রতিপালন করলেন।
13
সেই সময় সমগ্র দেশে কোন খাদ্যদ্রব্য ছিল না, কারণ ভীষণ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তাতে দুর্ভিক্ষের দরুন মিসর ও কেনান দেশের লোকেরা হতাশ হয়ে পড়লো।
14 আর মিসর ও কেনান দেশে যত টাকা ছিল, লোকে তা দিয়ে শস্য ক্রয় করাতে ইউসুফ সেই সমস্ত টাকা সংগ্রহ করে ফেরাউনের ভাণ্ডারে আনলেন।
15 মিসর ও কেনান দেশে লোকদের টাকা শেষ হয়ে গেলে মিসরীয়েরা সকলে ইউসুফের কাছে এসে বললো, আমাদেরকে খাদ্যদ্রব্য দিন, আমাদের টাকা শেষ হয়ে গেছে বলে আমরা কি আপনার সম্মুখে মারা যাবো?
16 ইউসুফ বললেন, তোমাদের পশু দাও; যদি টাকা শেষ হয়ে থাকে, তবে তোমাদের পশুর পরিবর্তে তোমাদেরকে খাদ্য দেব।
17 তখন তারা যার যার পশু ইউসুফের কাছে আনলে ইউসুফ ঘোড়া, ভেড়ার পাল, গরুর পাল ও গাধার পরিবর্তে তাদেরকে খাদ্যদ্রব্য দিতে লাগলেন; এভাবে ইউসুফ তাদের সমস্ত পশু নিয়ে সেই বছর খাদ্যদ্রব্য দিয়ে তাদের প্রতিপালন করলেন।
18
আর সেই বছর গত হলে দ্বিতীয় বছরে তারা তাঁর কাছে এসে বললো, আমরা মালিকের কাছে কিছু গোপন করবো না; আমাদের সমস্ত টাকা শেষ হয়ে গেছে এবং পশুধনও মালিকেরই হয়েছে; এখন মালিককে দেবার জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, কেবল আমাদের শরীর ও ভূমি রয়েছে।
19 আমরা নিজ নিজ ভূমি থাকতে আপনার চোখের সম্মুখে কেন মারা যাব? আপনি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আমাদেরকে ও আমাদের ভূমি ক্রয় করে নিন; আমরা নিজ নিজ ভূমির সঙ্গে ফেরাউনের গোলাম হব; আর আমাদেরকে বীজ দিন, তা হলে আমরা বাঁচবো, মারা পড়বো না, ভূমিও নষ্ট হবে না।
20
তখন ইউসুফ মিসরের সমস্ত ভূমি ফেরাউনের জন্য ক্রয় করলেন, কেননা দুর্ভিক্ষের কষ্ট তাদের অসহ্য হওয়াতে মিসরীয়েরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জমি বিক্রি করলো। অতএব ভূমি ফেরাউনের হল।
21 আর তিনি মিসরের এক সীমা থেকে অন্য সীমা পর্যন্ত লোকদেরকে নগরে নগরে প্রবাস করালেন।
22 তিনি কেবল পুরোহিতদের ভূমি ক্রয় করলেন না, কারণ ফেরাউন পুরোহিতদেরকে বৃত্তি দিতেন এবং তারা ফেরাউনের দেওয়া বৃত্তি ভোগ করতো; এজন্য নিজ নিজ ভূমি বিক্রি করলো না।
23
পরে ইউসুফ লোকদেরকে বললেন, দেখ, আমি আজ তোমাদেরকে ও তোমাদের ভূমি ফেরাউনের জন্য ক্রয় করলাম। দেখ, এই বীজ নিয়ে ভূমিতে বপন কর;
24 তাতে যা যা উৎপন্ন হবে, তার পঞ্চমাংশ ফেরাউনকে দিও, অন্য চার অংশ ক্ষেতের বীজের জন্য এবং নিজেদের ও পরিজনদের ও শিশুদের খাদ্যের জন্য তোমাদেরই থাকবে।
25 তাতে তারা বললো, আপনি আমাদের প্রাণ রক্ষা করলেন; আমাদের প্রতি আপনার অনুগ্রহ দৃষ্টি হোক, আমরা ফেরাউনের গোলাম হবো।
26 মিসরের ভূমির সম্বন্ধে ইউসুফ এই ব্যবস্থা স্থাপন করেন, আর এই ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত চলছে যে, পঞ্চমাংশ ফেরাউন পাবেন; কেবল পুরোহিতদের ভূমি ফেরাউনের হয় নি।
27
আর ইসরাইল মিসর দেশে, গোশন অঞ্চলে, বাস করলো, তারা সেখানে অধিকার পেয়ে ফলবন্ত ও বহুবংশ হয়ে উঠলো।
28
মিসর দেশে ইয়াকুব সতেরো বছর জীবিত রইলেন; ইয়াকুবের আয়ুর পরিমাণ এক শত সাতচল্লিশ বছর হল।
29 পরে ইসরাইলের মৃত্যুর সময় সন্নিকট হল; তখন তিনি তাঁর পুত্র ইউসুফকে ডাকিয়ে বললেন, আমি যদি তোমার অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে আরজ করি, তুমি আমার ঊরুর নিচে হাত দাও এবং আমার প্রতি সদয় ও সত্য ব্যবহার কর; মিসরে আমাকে কবর দিও না।
30 আমি যখন আমার পূর্বপুরুষদের কাছে শয়ন করবো, তখন তুমি আমাকে মিসর থেকে নিয়ে গিয়ে তাঁদের কবরস্থানে কবর দিও। ইউসুফ বললেন, আপনি যা বললেন, তা-ই করবো।
31 আর ইয়াকুব তাঁকে কসম করতে বললে, তিনি তাঁর কাছে কসম করলেন। তখন ইসরাইল বিছানার শিয়রের দিকে সেজ্দা পড়লেন।
1
এসব ঘটনার কিছুদিন পর কোন এক জন ইউসুফকে বললো, দেখুন, আপনার পিতা অসুস্থ; তাতে তিনি তাঁর দুই পুত্র মানশা ও আফরাহীমকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন।
2 তখন কেউ ইয়াকুবকে সংবাদ দিয়ে বললো, দেখুন, আপনার পুত্র ইউসুফ এসেছেন; তাতে ইসরাইল দেহের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে বিছানায় উঠে বসলেন।
3 আর ইয়াকুব ইউসুফকে বললেন, কেনান দেশে, লূস নামক স্থানে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আমাকে দর্শন দিয়ে দোয়া করে বলেছিলেন,
4 দেখ, আমি তোমাকে ফলবান ও বহুবংশ করবো, আর তোমার মধ্য থেকে একটি বহু গোষ্ঠীর জাতি সৃষ্টি করবো এবং তোমার ভাবী বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারের জন্য এই দেশ দেব।
5 আর মিসরে তোমার কাছে আমার আসার আগে তোমার যে দুই পুত্র মিসর দেশে জন্মেছে, তারা আমারই; রূবেণ ও শিমিয়োনের মত আফরাহীম ও মানশাও আমারই হবে।
6 কিন্তু তুমি এদের পরে যাদের জন্ম দিয়েছ, তোমার সেই সন্তানেরা তোমারই হবে এবং এই দুই ভাইয়ের নামে এদেরই অধিকারে পরিচিত হবে;
7 আর পদ্দন থেকে আমার আসার সময়ে কেনান দেশে ইফ্রাথে পৌঁছাতে অল্প পথ বাকী থাকতে, পথের মধ্যে আমার কাছে রাহেলা ইন্তেকাল করলো; তাতে আমি সেখানে, ইফ্রাথের, অর্থাৎ বেথেলহেমের পথের পাশে তাঁকে দাফন করলাম।
8
পরে ইসরাইল ইউসুফের দুই পুত্রকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এরা কে?
9 ইউসুফ পিতাকে বললেন, এরা আমার পুত্র, যাদেরকে আল্লাহ্ এই দেশে আমাকে দিয়েছেন। তখন তিনি বললেন, আরজ করি, এদেরকে আমার কাছে আন, আমি এদেরকে দোয়া করবো।
10 তখন ইসরাইল বার্ধক্যের দরুন দৃষ্টি ক্ষীণ হওয়াতে দেখতে পেলেন না; আর তারা কাছে আনীত হলে তিনি তাদেরকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করলেন।
11 পরে ইসরাইল ইউসুফকে বললেন, আমি ভেবেছিলাম, তোমার মুখ আর দেখতে পাব না; কিন্তু দেখ, আল্লাহ্ আমাকে তোমার বংশও দেখালেন।
12 তখন ইউসুফ তাদেরকে ইয়াকুবের কোল থেকে তুলে নিলেন ও ভূমিতে মুখ রেখে পিতাকে সালাম করলেন।
13 পরে ইউসুফ দু’জনকে নিয়ে তাঁর ডান হাত দিয়ে আফরাহীমকে ধরে ইসরাইলের বাম দিকে ও বাম হাত দিয়ে মানশাকে ধরে ইসরাইলের ডান দিকে, তাঁর কাছে উপস্থিত করলেন।
14 তখন ইসরাইল ডান হাত বাড়িয়ে কনিষ্ঠ আফরাহীমের মাথার উপরে রাখলেন এবং বাম হাত মানশার মাথার উপর রাখলেন। এই তাঁর বিবেচনাসিদ্ধ বাহুব্যবহার, কারণ মানশা প্রথমজাত।
15
পরে তিনি ইউসুফকে দোয়া করে বললেন, সেই আল্লাহ্, যাঁর সাক্ষাতে আমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম ও ইস্হাক গমনাগমন করতেন— সেই আল্লাহ্, যিনি প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত আমার পালক হয়ে আসছেন—
16 সেই ফেরেশতা, যিনি আমাকে সমস্ত আপদ থেকে মুক্ত করেছেন, তিনিই এই বালক দু’টিকে দোয়া করুন। এদের দ্বারা আমার নাম ও আমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম ও ইস্হাকের নাম পরিচিত হোক এবং এরা দেশের মধ্যে বহুগোষ্ঠীতে পরিণত হোক।
17
তখন আফরাহীমের মাথায় পিতা ডান হাত দিয়েছেন দেখে ইউসুফ অসন্তুষ্ট হলেন, আর তিনি আফরাহীমের মাথা থেকে মানশার মাথায় স্থাপন করার জন্য পিতার হাত তুলে ধরলেন।
18 ইউসুফ পিতাকে বললেন, আব্বা, এমন নয়, এই প্রথম জাত, এরই মাথায় ডান হাত দিন।
19 কিন্তু তাঁর পিতা অসম্মত হয়ে বললেন, বৎস, তা আমি জানি, আমি জানি; এও এক জাতি হবে এবং মহানও হবে, তবুও এর কনিষ্ঠ ভাই তার চেয়েও মহান হবে ও তার বংশ বহুগোষ্ঠীতে পরিণত হবে।
20 সেদিন তিনি তাদেরকে দোয়া করে বললেন, ইসরাইল জাতি তোমার নাম করে দোয়া করবে, বলবে, আল্লাহ্ তোমাকে আফরাহীম ও মানশার মত করুন। এভাবে তিনি মানশা থেকে আফরাহীমকে প্রধান স্থান দিলেন।
21 পরে ইসরাইল ইউসুফকে বললেন, দেখ, আমার মৃত্যু আসন্ন; কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের সহবর্তী থাকবেন ও তোমাদেরকে আবার তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেশে নিয়ে যাবেন।
22 আর তোমার ভাইদের চেয়ে তোমাকে এক অংশ বেশি দিলাম; এটি আমি নিজের তলোয়ার ও ধনুক দ্বারা আমোরীয়দের হাত থেকে অধিকার করেছি।
1
পরে ইয়াকুব তাঁর পুত্রদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা সমবেত হও, ভবিষ্যতে তোমাদের প্রতি যা ঘটবে তা তোমাদেরকে বলছি।
2
ইয়াকুবের পুত্ররা, সমবেত হও, শোন,
তোমাদের পিতা ইসরাইলের কথা শোন।
3
রূবেণ, তুমি আমার প্রথমজাত,
আমার বল ও আমার শক্তির প্রথম ফল,
মহিমার প্রাধান্য ও শক্তির প্রাধান্য।
4
তুমি যেন অশান্ত পানির মাতামাতি,
তোমার প্রাধান্য থাকবে না;
কেননা তুমি নিজের পিতার
বিছানায় গিয়েছিলে;
তখন অপবিত্র কাজ করেছিলে;
সে আমার বিছানায় গিয়েছিল।
5
শিমিয়োন ও লেবি দুই সহোদর;
তাদের তলোয়ার দৌরাত্মের অস্ত্র।
6
হে আমার প্রাণ! তাদের সভায় যেও না;
হে আমার গৌরব! তাদের সভায়
যোগ দিও না;
কেননা তারা ক্রোধে খুন করলো,
স্বেচ্ছাচারিতায় বৃষের শিরা কেটে দিল।
7
বদদোয়াগ্রস্ত তাদের ক্রোধ,
কেননা তা প্রচণ্ড;
তাদের কোপ, কেননা তা নিষ্ঠুর;
আমি তাদেরকে ইয়াকুবের বংশের
মধ্যে ভাগ করবো,
ইসরাইলের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেব।
8
এহুদা, তোমার ভাইয়েরা তোমারই
স্তব করবে;
তোমার হাত তোমার দুশমনদের
ঘাড় ধরবে;
তোমার পিতৃসন্তানেরা তোমার সম্মুখে
ভূমিতে উবুড় হয়ে সম্মান দেখাবে।
9
এহুদা সিংহের বাচ্চা;
বৎস, তুমি হরিণ শিকার থেকে
উঠে আসলে;
সে শয়ন করলো, ওৎ পেতে রইলো,
সিংহের মত ও সিংহীর মত;
কে তাকে ওঠাবে?
10
এহুদা থেকে রাজদণ্ড যাবে না,
তার চরণযুগলের মধ্য থেকে
বিচারদণ্ড যাবে না,
যে পর্যন্ত শীলো না আসেন;
সমস্ত জাতি তাঁরই অধীনতা
স্বীকার করবে।
11
সে আঙ্গুর লতায় নিজের গাধা বাঁধবে,
নিজের গাধার বাচ্চা বাঁধবে
উত্তম আঙ্গুর লতায়;
সে আঙ্গুর-রসে নিজের পরিচ্ছদ কেচেছে,
আঙ্গুরের রক্তে নিজের কাপড় কেচেছে।
12
তার চোখ আঙ্গুর-রসের চেয়ে লাল,
তার দাঁত দুধের চেয়ে সাদা।
13
সবূলূন সমুদ্রতীরে বাস করবে,
তা পোতাশ্রয়ের তীর হবে,
সিডন পর্যন্ত তার সীমা হবে।
14
ইষাখর বলবান গাধা,
সে খোঁয়াড়ের মধ্যে শয়ন করে।
15
সে দেখলো, বিশ্রামস্থান উত্তম,
দেখল, এই দেশ রমণীয়,
তাই ভার বইতে কাঁধ পেতে দিল,
আর করাধীন গোলাম হল।
16
দান তার লোকবৃন্দের বিচার করবে,
ইসরাইলের এক বংশের মত।
17
দান পথে অবস্থিত সাপ,
সে পথের মধ্যে অবস্থিত ফণী,
যে ঘোড়ার পায়ে দংশন করে,
আর ঘোড়সওয়ার ব্যক্তি উল্টে
পিছনে পড়ে যায়।
18
মাবুদ, আমি তোমার উদ্ধারের
অপেক্ষায় রয়েছি।
19
গাদকে সৈন্যদল আঘাত করবে;
কিন্তু সে তাদের পশ্চাদ্ভাগে
আঘাত করবে।
20
আশের থেকে অতি উত্তম খাদ্য জন্মাবে;
সে বাদশাহ্র উপাদেয় ভক্ষ্য
যুগিয়ে দেবে।
21
নপ্তালি উন্মুক্তা হরিণী,
সে মনোহর কথা বলে।
22
ইউসুফ ফলবান তরুশাখা,
পানির কিনারার পার্শ্বস্থিত
ফলবান তরুশাখা;
তার সমস্ত শাখা প্রাচীর অতিক্রম করে।
23
তীরন্দাজেরা তাকে কঠোর
কষ্ট দিয়েছিল,
তীরের আঘাতে তাকে
উৎপীড়ন করেছিল;
24
কিন্তু তার ধনুক দৃঢ় থাকলো,
তার বাহুযুগল বলবান রইলো,
ইয়াকুবের সেই শক্তিমানে বাহু দ্বারা,
সেই পালকের নামে যিনি ইসরাইলের
শৈল,
25
তোমার পিতার সেই আল্লাহ্র দ্বারা
যিনি তোমার সহায়,
সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ দ্বারা
যিনি তোমাকে দোয়া করবেন—
উপরিস্থ আসমান থেকে নিঃসৃত দোয়ায়,
দুনিয়ার গভীরের উৎস থেকে
নিঃসৃত দোয়ায়,
স্তন ও গর্ভ থেকে নিঃসৃত দোয়ায়।
26
আমার পূর্বপুরুষদের দোয়ার চেয়ে
তোমার পিতার দোয়া উৎকৃষ্ট।
তা চিরন্তন পাহাড়গুলোর সীমা
পর্যন্ত প্রসারিত;
তা বর্তাবে ইউসুফের মাথায়,
ভাইদের থেকে যিনি পৃথক হয়েছিলেন
তাঁর মাথার তালুতে।
27
বিন্ইয়ামীন হিংস্র নেকড়ের মত;
সকালে সে শিকারের পশু খাবে,
সন্ধ্যাকালে সে লুণ্ঠিত দ্রব্য ভাগ করবে।
28
এঁরা সকলে ইসরাইলের বারো বংশ; এঁদের পিতা দোয়া করার সময়ে এই সব কথা বললেন; এঁদের প্রত্যেক জনকে বিশেষ বিশেষ দোয়া করলেন।
29
পরে ইয়াকুব তাঁদেরকে হুকুম দিয়ে বললেন, আমি শীঘ্র আপন লোকদের কাছে গৃহীত হবো।
30 হিট্টিয় ইফ্রোণের ক্ষেতে অবস্থিত গুহাতে আমার পূর্বপুরুষদের কাছে আমার কবর দিও; সেই গুহা কেনান দেশে মম্রির সম্মুখস্থ মক্পেলা ক্ষেতে অবস্থিত; ইব্রাহিম হিট্টিয় ইফ্রোণের কাছ থেকে তা কবরস্থানের অধিকারের জন্য ক্রয় করেছিলেন।
31 সেই স্থানে ইব্রাহিমের ও তাঁর স্ত্রী সারার কবর হয়েছে, সেই স্থানে ইস্হাকের ও তাঁর স্ত্রী রেবেকার কবর হয়েছে এবং সেই স্থানে আমিও লেয়ার কবর দিয়েছি;
32 সেই ক্ষেত ও তার মধ্যবর্তী গুহা হেতের সন্তানদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছিল।
33 ইয়াকুব তাঁর পুত্রদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া সমাপ্ত করার পর বিছানার উপর দুই পা একত্র করলেন ও প্রাণত্যাগ করে নিজের লোকদের কাছে গৃহীত হলেন।
1
তখন ইউসুফ তাঁর পিতার মুখে মুখ দিয়ে কাঁদতে লাগলেন ও তাঁকে চুম্বন করলেন।
2 আর ইউসুফ তাঁর পিতার মৃতদেহে ক্ষয় নিবারক দ্রব্য দিতে নিজের গোলাম চিকিৎসকদেরকে হুকুম করলেন, তাতে চিকিৎসকেরা ইসরাইলের মৃতদেহে ক্ষয় নিবারক দ্রব্য দিল।
3 তারা চল্লিশ দিন ধরে সেই কাজ করলো, কেননা সেই ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিতে চল্লিশ দিন লাগে; আর মিসরীয়েরা তাঁর জন্য সত্তর দিন ধরে শোক করলো।
4
সেই শোকের দিন অতীত হলে ইউসুফ ফেরাউনের পরিজনকে বললেন, যদি আমি আপনাদের অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে ফেরাউনকে এই কথা বলুন,
5 আমার পিতা আমাকে কসম করিয়ে বলেছেন, দেখ, আমি মারা যাচ্ছি, কেনান দেশে আমার জন্য যে কবর খনন করেছি, তুমি আমাকে সেই কবরে রেখো। অতএব আরজ করি, আমাকে যেতে দিন; আমি পিতাকে কবর দিয়ে আবার আসবো।
6 ফেরাউন বললেন, যাও, তোমার পিতা তোমাকে যে কসম করিয়েছেন, তুমি সেই অনুসারে তাঁকে কবর দাও।
7
পরে ইউসুফ তাঁর পিতার কবর দিতে যাত্রা করলেন; আর ফেরাউনের গোলামেরা সকলে— তাঁর বাড়ির বয়ঃজ্যেষ্ঠ ও মিসর দেশের বয়ঃজ্যেষ্ঠরা সকলে— এবং ইউসুফের সকল পরিবার,
8 তাঁর ভাইয়েরা ও তাঁর পিতৃকুল তাঁর সঙ্গে গমন করলেন; তাঁরা গোশন প্রদেশে কেবল তাঁদের বালক-বালিকাদের, ভেড়ার পাল ও গরুরপাল রেখে গেলেন।
9 তাঁর সঙ্গে ঘোড়ার গাড়ি ও ঘোড়সওয়ারা গমন করলো এবং মহা সমাবেশ হল।
10 পরে তাঁরা জর্ডানের পারস্থ আটদের খামারে উপস্থিত হয়ে সেখানে মহাবিলাপ করে কান্নাকাটি করলেন; ইউসুফ সেই স্থানে পিতার উদ্দেশে সাত দিন শোক করলেন।
11 আটদের খামারে তাঁদের সেরকম শোক দেখে সেই দেশ-নিবাসী কেনানীয়েরা বললো, মিসরীয়দের এই অতি দারুণ শোক; এজন্য জর্ডানপারস্থ সেই স্থান আবেল্-মিস্রয়ীম (মিসরীয়দের শোক) নামে আখ্যাত হল।
12 ইয়াকুব তাঁর পুত্রদেরকে যেরকম হুকুম দিয়েছিলেন, তাঁরা সেই অনুসারে তাঁকে দাফন করলো।
13 ফলত তাঁর পুত্ররা তাঁকে কেনান দেশে নিয়ে গেলেন এবং মম্রির সম্মুখস্থ মক্পেলা ক্ষেতের মধ্যবর্তী গুহাতে তাঁকে দাফন করলেন, যা ইব্রাহিম ক্ষেতসহ কবরস্থানের অধিকারের জন্য, হিট্টিয় ইফ্রোণের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন।
14 পিতাকে দাফন করা হলে পর ইউসুফ, তাঁর ভাইয়েরা এবং যত লোক তাঁর পিতাকে দাফন করতে তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন, তাঁরা সকলে মিসরে ফিরে এলেন।
15
পিতার মৃত্যুর পর ইউসুফের ভাইয়েরা বললেন, হয় তো ইউসুফ আমাদেরকে ঘৃণা করবে, আর আমরা তার যে সমস্ত অপকার করেছি তার সমপূর্ণ প্রতিফল আমাদেরকে দেবে।
16 তাঁরা ইউসুফের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, তোমার পিতা মৃত্যুর আগে এই হুকুম দিয়েছিলেন,
17 তোমরা ইউসুফকে এই কথা বলো, তোমার ভাইয়েরা তোমার অপকার করেছে, কিন্তু আরজ করি, তুমি তাদের সেই অধর্ম ও গুনাহ্ মাফ করো। অতএব এখন আমরা আরজ করি, তোমার পিতার আল্লাহ্র এই গোলামদের অধর্ম মাফ করো। তাঁদের এই কথায় ইউসুফ কাঁদতে লাগলেন।
18 পরে তাঁর ভাইয়েরা গিয়ে তাঁর সম্মুখে মাটিতে উবুড় হয়ে বললেন, দেখ, আমরা তোমার গোলাম।
19 তখন ইউসুফ তাঁদেরকে বললেন, ভয় করো না, আমি কি আল্লাহ্র প্রতিনিধি?
20 তোমরা আমার বিরুদ্ধে অনিষ্ট কল্পনা করেছিলে বটে, কিন্তু আল্লাহ্ তা মঙ্গলের কল্পনা করলেন; আজ যেরকম দেখছো, এভাবে অনেক লোকের প্রাণ রক্ষা করাই তাঁর অভিপ্রায় ছিল।
21 তোমরা এখন ভয় পেয়ো না, আমিই তোমাদের ও তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের প্রতিপালন করবো। এভাবে তিনি তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিলেন ও আশ্বস্ত করলেন।
22
পরে ইউসুফ ও তাঁর পিতৃকুল মিসরে বাস করতে থাকলেন; ইউসুফ এক শত দশ বছর জীবিত রইলেন।
23 ইউসুফ আফরাহীমের পৌত্র পর্যন্ত দেখলেন; মানশার মাখীর নামক পুত্রের শিশু সন্তানেরাও ইউসুফের কোলে ভূমিষ্ঠ হল।
24
পরে ইউসুফ তাঁর ভাইদেরকে বললেন, আমার মৃত্যু সন্নিকট, কিন্তু আল্লাহ্ অবশ্য তোমাদের তত্ত্বাবধান করবেন এবং ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের কাছে যে দেশ দিতে কসম খেয়েছেন, তোমাদেরকে এই দেশ থেকে সেই দেশে নিয়ে যাবেন।
25 আর ইউসুফ বনি-ইসরাইলকে এই কসম করালেন, বললেন, আল্লাহ্ অবশ্য তোমাদের তত্ত্বাবধান করবেন, আর তোমরা এই স্থান থেকে আমার অস্থি নিয়ে যাবে।
26 ইউসুফ একশত দশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন; আর লোকেরা তাঁর মৃতদহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিয়ে তা মিসর দেশে একটি কফিন বাক্সের মধ্যে রাখল।
1
ইসরাইলের পুত্ররা, যাঁরা সপরিবারে ইয়াকুবের সঙ্গে মিসর দেশে গিয়েছিলেন, তাঁদের নাম হচ্ছে—
2 রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, এহুদা,
3 ইষাখর, সবূলূন, বিন্ইয়ামীন,
4 দান, নপ্তালি, গাদ ও আশের।
5 ইয়াকুবের বংশ থেকে উৎপন্ন মোট সত্তর জন ছিল এবং ইউসুফ মিসরেই ছিলেন।
6 পরে ইউসুফ, তাঁর ভাইয়েরা ও সমসাময়িক সমস্ত লোক ইন্তেকাল করলো।
7 আর বনি-ইসরাইলরা ফলবান হল, অনেক বৃদ্ধি লাভ করলো ও বহুবংশ হয়ে উঠলো। তারা ভীষণ শক্তিশালী হল এবং তাদের দ্বারা দেশ পরিপূর্ণ হল।
8
পরে মিসরের ক্ষমতায় এক জন নতুন বাদশাহ্ অধিষ্ঠিত হলেন, তিনি ইউসুফের বিষয় কিছুই জানতেন না।
9 তিনি তাঁর লোকদের বললেন, দেখ, আমাদের চেয়ে বনি-ইসরাইলরা সংখ্যায় অনেক বেশি ও বলবান;
10 এসো, আমরা তাদের সঙ্গে কৌশলপূর্ণ আচরণ করি। অন্যথায় তারা বেড়ে উঠবে এবং যুদ্ধ উপস্থিত হলে তারাও দুশমনদের পক্ষে যোগ দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং এই দেশ থেকে চলে যাবে।
11 অতএব কঠিন পরিশ্রম দ্বারা তাদেরকে জুলুম করার জন্য তারা তাদের উপরে শাসকদেরকে নিযুক্ত করলো। তারা ফেরাউনের জন্য ভাণ্ডার নগর পিথোম ও রামিষেষ নামে দু’টি নগর নির্মাণ করলো।
12 কিন্তু তারা শাসকদের দ্বারা যতই নির্যাতিত হতে লাগল, ততই বৃদ্ধি পেতে ও চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল; ফলে বনি-ইসরাইলদের বিষয়ে তাদের মনে ভীষণ ভয় হল।
13 আর মিসরীয়েরা নিষ্ঠুরতার সঙ্গে বনি-ইসরাইলদের দ্বারা গোলামীর কাজ করাতে লাগল;
14 তারা কাদা, ইট ও ক্ষেতের সমস্ত কাজে কঠিন গোলামীর কাজ দ্বারা তাদের প্রাণ অতিষ্ঠ করতে লাগল। ওরা তাদের দ্বারা যেসব গোলামীর কাজ করাতো সে সব করতে গিয়ে সাংঘাতিক নির্দয় ব্যবহার করতো।
15
পরে মিসরের বাদশাহ্ শিফ্রা ও পূয়া নামে দু’জন ইবরানী ধাত্রীকে এই কথা বললেন,
16 যে সময়ে তোমরা ইবরানী স্ত্রীলোকদের সন্তান প্রসব করাবে ও তাদেরকে প্রসব করবার সময় দেখবে, যদি পুত্র-সন্তান হয় তবে তাকে হত্যা করবে; আর যদি কন্যা হয় তবে তাকে জীবিত রাখবে।
17 কিন্তু ঐ ধাত্রীরা আল্লাহ্কে ভয় করতো বলে মিসরের বাদশাহ্র হুকুম পালন না করে পুত্র-সন্তানদের জীবিত রাখতো।
18 তাই মিসরের বাদশাহ্ সেই ধাত্রীদের ডেকে এনে বললেন, এই কাজ কেন করেছ? পুত্র-সন্তানদেরকে কেন জীবিত রাখছো? ধাত্রীরা ফেরাউনকে জবাবে বললো,
19 ইবরানী স্ত্রীলোকেরা মিসরীয় স্ত্রীলোকদের মত নয়। তারা বলবতী; তাদের কাছে ধাত্রী যাবার আগেই তারা প্রসব করে।
20 এতে আল্লাহ্ ঐ ধাত্রীদের মঙ্গল করলেন এবং লোকেরা বৃদ্ধি পেয়ে খুব শক্তিশালী হল।
21 সেই ধাত্রীরা আল্লাহ্কে ভয় করতো বলে তিনি তাদের বংশ বৃদ্ধি করলেন।
22
পরে ফেরাউন তাঁর সমস্ত লোককে এই হুকুম দিলেন, তোমরা ইবরানীদের নবজাত প্রত্যেক পুত্র-সন্তানকে নদীতে নিক্ষেপ করবে কিন্তু প্রত্যেক কন্যাকে জীবিত রাখবে।
1
একবার লেবির কুলের এক জন পুরুষ এক জন লেবীয় কন্যাকে বিয়ে করলেন।
2 আর সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করলেন ও শিশুটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল বলে তিন মাস গোপন করে রাখলেন।
3 পরে আর গোপন করতে না পেরে তিনি একটি নলের তৈরি ঝুড়ি নিয়ে তাতে মেটে তেল ও আল্কাতরা লেপে দিয়ে তার মধ্যে বালকটিকে রাখলেন ও নদীর তীরের নল-বনে তা ভাসিয়ে দিলেন।
4 আর তার কি দশা ঘটে তা দেখবার জন্য তার বোন দূরে দাঁড়িয়ে রইলো।
5
পরে ফেরাউনের কন্যা গোসল করার জন্য নদীতে আসলেন। সে সময় তার সহচরীরা নদীর তীরে বেড়াচ্ছিল। তিনি নল-বনের মধ্যে ঐ ঝুড়িটি দেখে তাঁর বাঁদীকে তা আনতে পাঠালেন।
6 সেটি খুললে পর তিনি তার মধ্যে একটি শিশু দেখতে পেলেন। আরও দেখলেন, শিশুটি কাঁদছে; তিনি তার প্রতি সদয় হয়ে বললেন, এটি ইবরানীদের কোন ছেলে।
7 তখন শিশুটির বোন ফেরাউনের কন্যাকে বললো, আমি গিয়ে কি আপনার জন্য এই ছেলেকে দুধ পান করাতে স্তন্যদাত্রী এক জন ইবরানী স্ত্রীলোককে আপনার কাছে ডেকে আনবো?
8 ফেরাউনের কন্যা বললেন, যাও। তখন সেই মেয়েটি গিয়ে ছেলেটির মাকে ডেকে আনলো।
9 ফেরাউনের কন্যা তাঁকে বললেন, তুমি এই ছেলেটিকে নিয়ে আমার হয়ে দুধ পান করাও; আমি তোমাকে বেতন দেব। তাতে সেই স্ত্রী ছেলেটিকে নিয়ে দুধ পান করাতে লাগলেন।
10 পরে ছেলেটি বড় হলে তিনি তাকে নিয়ে ফেরাউনের কন্যাকে দিলেন; তাতে সে তাঁরই পুত্র হল; আর তিনি তার নাম মূসা [টেনে তোলা] রাখলেন, কেননা তিনি বললেন, আমি তাকে পানি থেকে টেনে তুলেছি।
11
মূসা বড় হওয়ার পর একদিন নিজের ভাইদের কাছে গিয়ে তাদের নিদারুণ পরিশ্রম করতে দেখতে পেলেন। তিনি দেখলেন, এক জন মিসরীয় তাঁর ভাইদের মধ্যে এক জন ইবরানীকে মারধোর করছে।
12 তখন তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ঐ মিসরীয়কে খুন করে বালির মধ্যে পুঁতে রাখলেন।
13 পরে দ্বিতীয় দিন তিনি বাইরে গেলেন, দেখলেন, দু’জন ইবরানী পরসপর ঝগড়া করছে। তিনি দোষী ব্যক্তিকে বললেন, তোমার ভাইকে কেন মারছ?
14 সে বললো, তোমাকে আমাদের উপরে কে শাসক ও বিচারকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেছে? তুমি যেমন সেই মিসরীয়কে খুন করেছ, সেরকম কি আমাকেও খুন করতে চাও? তখন মূসা ভয় পেয়ে ভাবলেন, কথাটা অবশ্যই প্রকাশ হয়ে পড়েছে।
15
পরে ফেরাউন ঐ কথা শুনে মূসাকে হত্যা করতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু মূসা ফেরাউনের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেলেন এবং মাদিয়ান দেশে বাস করতে গিয়ে একটি কূপের কাছে বসলেন।
16
সেখানকার এক জন মাদিয়ানীয় ইমামের সাতটি কন্যা ছিল। তারা সেই স্থানে এসে পিতার ভেড়ার পালকে পানি পান করানোর জন্য পানি তুলে পাত্রগুলো পরিপূর্ণ করলো।
17 তখন ভেড়ার রাখালরা এসে তাদেরকে তাড়িয়ে দিল কিন্তু মূসা উঠে তাদের সাহায্য করলেন এবং তাদের ভেড়ার পালকে পানি পান করালেন।
18 পরে তারা তাদের পিতা রূয়েলের কাছে গেলে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আজ তোমরা কিভাবে এত শীঘ্র ফিরে আসলে?
19 তারা বললো, এক জন মিসরীয় আমাদেরকে ভেড়ার রাখালদের হাত থেকে উদ্ধার করলেন। এছাড়া, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট পানি তুলে ভেড়ার পালকে পানি পান করালেন।
20 তখন তিনি তাঁর কন্যাদেরকে বললেন, সেই লোকটি কোথায়? তোমরা তাঁকে কেন ছেড়ে আসলে? তাঁকে ডেকে নিয়ে এসে খেতে দাও।
21 পরে মূসা সেই ব্যক্তির সঙ্গে বাস করতে সম্মত হলেন, আর তিনি মূসার সঙ্গে তাঁর কন্যা সফুরার বিয়ে দিলেন।
22 পরে তাঁর স্ত্রী সফুরা পুত্র প্রসব করলেন আর মূসা তার নাম গের্শোম [সেখানকার প্রবাসী] রাখলেন, কেননা তিনি বললেন, আমি বিদেশে প্রবাসী হয়েছি।
23
অনেক দিন পরে মিসরের বাদশাহ্র মৃত্যু হল এবং বনি-ইসরাইলরা তাদের গোলামীর দরুন কাতরোক্তি ও কান্নাকাটি করতে লাগল। গোলামীর দরুন তাদের আর্তনাদ আল্লাহ্র কাছে গিয়ে পৌঁছলো।
24 আর আল্লাহ্ তাদের আর্তস্বর শুনলেন এবং ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের সঙ্গে কৃত তাঁর নিয়ম স্মরণ করলেন।
25 ফলত আল্লাহ্ বনি-ইসরাইলদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন আর তাদের প্রতি মনোযোগ দিলেন।
1
মূসা তাঁর শ্বশুর শোয়াইব নামক মাদিয়ানীয় ইমামের ভেড়ার পাল চরাতেন। একদিন তিনি মরুভূমির পিছনে ভাগে ভেড়ার পাল নিয়ে গিয়ে আল্লাহ্র পর্বত সেই হোরেবে উপস্থিত হলেন।
2 আর ঝোপের মাঝখানে আগুনের শিখার মধ্য থেকে মাবুদের ফেরেশতা তাঁকে দর্শন দিলেন; তখন তিনি তাকিয়ে দেখলেন ঝোপ আগুনে জ্বলছে, কিন্তু ঝোপ পুড়ে যাচ্ছে না।
3 তাই মূসা বললেন, আমি এক পাশে গিয়ে এই মহা আশ্চর্য দৃশ্য দেখি, কেন ঝোপ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে না?
4 কিন্তু মাবুদ যখন দেখলেন যে, তিনি দেখবার জন্য এক পাশে যাচ্ছেন তখন ঝোপের মধ্য থেকে আল্লাহ্ তাঁকে ডেকে বললেন, মূসা, মূসা! তিনি জবাবে বললেন, দেখুন, এই তো আমি।
5 তখন মাবুদ বললেন, এই স্থানের নিকটবর্তী হয়ো না, তোমার পা থেকে জুতা খুলে ফেল; কেননা যে স্থানে তুমি দাঁড়িয়ে আছ তা পবিত্র ভূমি।
6 তিনি আরও বললেন, আমি তোমার পিতার আল্লাহ্, ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্। তখন মূসা নিজের মুখ আচ্ছাদন করলেন, কেননা তিনি আল্লাহ্র প্রতি দৃষ্টিপাত করতে ভয় পেয়েছিলেন।
7
পরে মাবুদ বললেন, সত্যিই আমি মিসর দেশে আমার প্রজা বনি-ইসরাইলদের কষ্ট দেখেছি এবং শাসকদের সম্মুখে তাদের কান্নার আওয়াজ শুনেছি; ফলত আমি তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা জানি।
8 আর মিসরীয়দের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করার জন্য এবং সেই দেশ থেকে উঠিয়ে নিয়ে উত্তম ও প্রশস্ত একটি দেশে, অর্থাৎ কেনানীয়, হিট্টিয়, আমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয় লোকেরা যে স্থানে থাকে, সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে তাদেরকে নিয়ে যাবার জন্য নেমে এসেছি।
9 এখন দেখ, বনি-ইসরাইলদের কান্না আমার কাছে উপস্থিত হয়েছে এবং মিসরীয়েরা তাদের প্রতি যে জুলুম করে তা আমি দেখেছি।
10 অতএব এখন এসো, আমি তোমাকে ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করি, তুমি মিসর থেকে আমার লোক বনি-ইসরাইলদের বের করে আনো।
11 মূসা আল্লাহ্কে বললেন, আমি কে যে ফেরাউনের কাছে যাই ও মিসর থেকে বনি-ইসরাইলদেরকে বের করে আনি?
12 তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি তোমার সহবর্তী হব এবং আমি যে তোমাকে প্রেরণ করলাম, তোমার পক্ষে তার এই চিহ্ন হবে; তুমি মিসর থেকে লোকদের বের করে আনার পর তোমরা এই পর্বতে আল্লাহ্র সেবা করবে।
13
পরে মূসা আল্লাহ্কে বললেন, দেখ, আমি যখন বনি-ইসরাইলদের কাছে গিয়ে বলবো, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ তোমাদের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন, তখন যদি তারা জিজ্ঞাসা করে, তাঁর নাম কি? তবে তাদেরকে আমি কি বলবো?
14 আল্লাহ্ মূসাকে বললেন, “আমি যে আছি, সেই আছি;” আরও বললেন, বনি-ইসরাইলদের এরকম বলো, “আছি” তোমাদের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন।
15 আল্লাহ্ মূসাকে আরও বললেন, তুমি বনি-ইসরাইলদের এই কথা বলো, মাবুদ, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্ তোমাদের কাছে আমাকে পাঠিয়েছেন; আমার এই নাম অনন্তকালস্থায়ী এবং এই নাম দ্বারা আমি পুরুষে পুরুষে স্মরণীয়।
16 তুমি যাও, ইসরাইলের প্রাচীনদের একত্র কর, তাদেরকে এই কথা বল, মাবুদ, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, ইব্রাহিমের, ইস্হাকের ও ইয়াকুবের আল্লাহ্ আমাকে দর্শন দিয়ে বললেন, সত্যিই আমি তোমাদের প্রতি মনোযোগ দিয়েছি এবং মিসরে তোমাদের প্রতি যা করা হচ্ছে তা দেখেছি।
17 আর আমি বলেছি, আমি মিসরের নির্যাতন থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করে কেনানীয়দের, হিট্টিয়দের, আমোরীয়দের, পরিষীয়দের, হিব্বীয়দের ও যিবূষীয়দের দেশে— দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে নিয়ে যাব।
18 তারা তোমার কথায় মনোযোগ দেবে; তখন তুমি ও ইসরাইলের প্রাচীন লোকেরা মিসরের বাদশাহ্র কাছে যাবে, তাকে বলবে, ইবরানীদের মাবুদ আল্লাহ্ আমাদেরকে দেখা দিয়েছেন; অতএব আরজ করি, আমাদেরকে অনুমতি দিন যাতে আমরা মরুভূমির মধ্যে তিন দিনের পথ গিয়ে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পশু কোরবানী করতে পারি।
19 কিন্তু আমি জানি, পরাক্রান্ত হাত দেখালেও মিসরের বাদশাহ্ তোমাদের যেতে দেবে না।
20 এর পর আমি হাত বাড়িয়ে দেবো এবং দেশের মধ্যে যে সমস্ত অলৌকিক কাজ করবো তা দিয়ে মিসরকে আঘাত করবো। এর পরে সে তোমাদেরকে যেতে দেবে।
21 আর আমি মিসরীয়দের কাছে এই লোকদেরকে অনুগ্রহের পাত্র করবো; তাতে তোমরা যাত্রাকালে খালি হাতে যাবে না;
22 কিন্তু প্রত্যেক স্ত্রী নিজ নিজ প্রতিবাসিনী কিংবা বাড়িতে প্রবাসিনী স্ত্রীর কাছে রূপার অলংকার, সোনার অলংকার ও কাপড় চাইবে; তোমরা তা দিয়ে নিজ নিজ পুত্র-কন্যাদের সাজাবে; এভাবে তোমরা মিসরীয়দের জিনিস অধিকার করে নেবে।
1
মূসা জবাবে বললেন, কিন্তু দেখুন, তারা আমাকে বিশ্বাস করবে না এবং আমার আহ্বানে মনোযোগ দেবে না, কেননা তারা বলবে, মাবুদ তোমাকে দর্শন দেন নি।
2 তখন মাবুদ তাঁকে বললেন, তোমার হাতে ওটা কি? তিনি বললেন, লাঠি। তখন তিনি বললেন, ওটা ভূমিতে ফেল।
3 পরে মূসা তাঁর লাঠিখানা ভূমিতে ফেললে পর তা সাপ হয়ে গেলো; আর তিনি তার সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেলেন।
4 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, “হাত বাড়িয়ে ওর লেজ ধর”, তখন তিনি হাত বাড়িয়ে ধরলে ওটা তাঁর হাতে লাঠি হল—
5 “যেন তারা বিশ্বাস করে যে, মাবুদ, তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্ তোমাকে দর্শন দিয়েছেন।”
6
পরে মাবুদ তাঁকে আরও বললেন, তুমি পোশাকের নিচে তোমার বুকে হাত দাও। তিনি বুকে হাত দিলেন এবং পরে তা বের করলে দেখা গেল, তাঁর হাত তুষারের মত সাদা কুষ্ঠ হয়েছে।
7 পরে তিনি বললেন, “তুমি পোশাকের নিচে তোমার বুকে হাত দাও”। তিনি আবার বুকে হাত দিলেন এবং পরে বুক থেকে হাত বের করে দেখলেন তা পুনরায় আগের মত হয়ে গেছে।
8 “তারা যদি তোমাকে বিশ্বাস না করে এবং ঐ প্রথম চিহ্নেও মনোযোগ না দেয় তবে দ্বিতীয় চিহ্নে বিশ্বাস করবে।
9 আর এই দু’টি চিহ্নেও যদি বিশ্বাস না করে ও তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয় তবে তুমি নদীর কিছু পানি নিয়ে শুকনো ভূমিতে ঢেলে দিও। তাতে তুমি নদী থেকে যে পানি তুলবে, তা শুকনো ভূমিতে রক্ত হয়ে যাবে।”
10
পরে মূসা মাবুদকে বললেন, হে আমার মালিক! আমি বাক্পটু নই, এর আগেও ছিলাম না, বা এই গোলামের সঙ্গে তোমার আলাপ করার পরেও নই; কারণ আমার জিহ্বায় জড়তা আছে।
11 মাবুদ তাঁকে বললেন, মানুষের মুখ কে তৈরি করেছে? আর বোবা, বধির, দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন বা অন্ধকে কে তৈরি করে? আমি মাবুদই কি করি না?
12 এখন তুমি যাও; আমি তোমার মুখের সহবর্তী হব এবং কি বলতে হবে তা তোমাকে জানাবো।
13 তিনি বললেন, হে আমার মালিক, আরজ করি, যার হাতে পাঠাতে চাও তো পাঠাও।
14 তখন মূসার প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল; তিনি বললেন, তোমার ভাই লেবীয় হারুন কি নেই? আমি জানি সে সুবক্তা; আরও দেখ, সে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছে এবং তোমাকে দেখে আনন্দিত হবে।
15 তুমি তাকে নির্দেশ দেবে ও কি বলতে হবে তা তাকে জানিয়ে দেবে। আমি তোমার ও তার সহায় হব ও কি করতে হবে তা তোমাদের জানাবো।
16 তোমার পক্ষে সে লোকদের কাছে বক্তা হবে; ফলত সে তোমার মুখপাত্র হবে এবং তুমি তার আল্লাহ্স্বরূপ হবে।
17 আর তুমি এই লাঠিটি হাতে নেবে আর এই লাঠি দ্বারাই তোমাকে সেসব চিহ্ন-কাজ করতে হবে।
18
পরে মূসা তাঁর শ্বশুর শোয়াইবের কাছে ফিরে এসে বললেন, আরজ করি, মিসরে অবস্থিত আমার ভাইদের কাছে ফিরে যেতে আমাকে বিদায় দিন। আমি গিয়ে দেখতে চাই তারা এখনও জীবিত আছে কি না। শোয়াইব মূসাকে বললেন, সহিসালামতে যাও।
19 আর মাবুদ মাদিয়ানে মূসাকে বললেন, তুমি মিসরে ফিরে যাও; কেননা যে লোকেরা তোমার প্রাণনাশের চেষ্টা করছিলো, তারা সকলে মারা গেছে।
20 তখন মূসা তাঁর স্ত্রী ও পুত্রদের গাধার পিঠে চড়িয়ে মিসর দেশে ফিরে গেলেন এবং মূসা আল্লাহ্র সেই লাঠিটি নিজের হাতে করে নিলেন।
21
মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি যখন মিসরে ফিরে যাবে, দেখো, আমি তোমার হাতে যে সমস্ত অলৌকিক কাজের ভার দিয়েছি, ফেরাউনের সাক্ষাতে সেসব করো; কিন্তু আমি তার অন্তর কঠিন করবো, সে লোকদেরকে ছেড়ে দেবে না।
22 আর তুমি ফেরাউনকে বলবে, মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইল আমার পুত্র, আমার প্রথমজাত।
23 আমি তোমাকে বলেছি, আমার এবাদত করার জন্য আমার পুত্রকে ছেড়ে দাও; কিন্তু তুমি তাকে ছেড়ে দিতে অসম্মত হলে; দেখ, আমি তোমার পুত্রকে, তোমার প্রথম-জাতকে, হত্যা করবো।
24
পরে পথে পান্থশালায় মাবুদ তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন।
25 তখন সফুরা একখানি পাথরের ছুরি নিয়ে তাঁর পুত্রের পুরুষাংগের সামনের চামড়া কেটে নিলেন এবং তা তাঁর পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে বললেন, আমার পক্ষে তুমি রক্তের বর।
26 আর আল্লাহ্ তাঁকে ছেড়ে দিলেন; তখন সফুরা বললেন, খৎনা সম্বন্ধে তুমি রক্তের বর।
27
তখন মাবুদ হারুনকে বললেন, তুমি মূসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মরুভূমিতে যাও। তাতে তিনি গিয়ে আল্লাহ্র পর্বতে তাঁর দেখা পেয়ে তাঁকে চুম্বন করলেন।
28 মাবুদ মূসাকে প্রেরণ করার সময় যা যা বলেছিলেন সেসব কথা তিনি হারুনকে জানালেন এবং যেসব চিহ্ন-কাজ করার হুকুম দিয়েছিলেন তাও তিনি হারুনকে বুঝিয়ে বললেন।
29
পরে মূসা ও হারুন গিয়ে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রাচীন ব্যক্তিকে একত্র করলেন।
30 মাবুদ মূসাকে যে সমস্ত কথা বলেছিলেন হারুন তাদেরকে সমস্তই জানালেন এবং তিনি লোকদের সম্মুখে সেসব চিহ্ন-কাজ দেখালেন।
31 তাতে লোকেরা ঈমান আনলো; আর মাবুদ বনি-ইসরাইলদের প্রতি তত্ত্বাবধান করেছেন ও তাদের দুঃখ দেখেছেন, এই কথা শুনে তারা মাবুদের উদ্দেশে সেজদা করলো।
1
পরে মূসা ও হারুন গিয়ে ফেরাউনকে বললেন, মাবুদ ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, মরুভূমিতে আমার উদ্দেশে উৎসব করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
2 ফেরাউন বললেন, কে এই মাবুদ যে, আমি তার কথা শুনে ইসরাইলকে ছেড়ে দেব? আমি মাবুদকে জানি না, ইসরাইলকেও ছেড়ে দেব না।
3 তাঁরা বললেন, ইবরানীদের আল্লাহ্ আমাদেরকে দর্শন দিয়েছেন; আমরা আরজ করি, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পশু কোরবানী করার জন্য আমাদেরকে তিন দিনের পথ মরুভূমিতে যেতে দিন, অন্যথায় তিনি মহামারী কি তলোয়ার দ্বারা আমাদেরকে আক্রমণ করবেন।
4 মিসরের বাদশাহ্ তাঁদেরকে বললেন, ওহে মূসা ও হারুন, তোমরা লোকদেরকে কেন তাদের কাজ থেকে নিবৃত্ত করতে চাও? যাও, তোমরা গিয়ে তোমাদের নির্দিষ্ট কাজ কর।
5 ফেরাউন আরও বললেন, দেখ, দেশের লোক এখন অনেক, আর তোমরা তাদেরকে তাদের কাজ থেকে নিবৃত্ত করছো।
6
আর ফেরাউন সেদিন লোকদের কার্যশাসক ও নেতৃবর্গকে এই হুকুম দিলেন,
7 তোমরা ইট তৈরি করার জন্য আগের মত এই লোকদেরকে আর খড়কুটা দিও না; তারা গিয়ে নিজেরাই নিজেদের খড় সংগ্রহ করুক।
8 কিন্তু আগে তাদের যত ইট তৈরি করার ভার ছিল, এখনও সেই ভার দাও; তার কিছুই কম করো না; কেননা তারা অলস, এজন্য কান্নাকাটি করে বলছে, আমরা আমাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে পশু কোরবানী করতে যাই।
9 সেই লোকদের উপরে আরও কঠিন কাজ চাপিয়ে দেওয়া হোক, তারা তাতেই ব্যস্ত থাকুক এবং মিথ্যা কথায় কান না দিক।
10
আর লোকদের কার্যশাসক ও নেতৃবর্গরা বাইরে গিয়ে তাদেরকে বললো, ফেরাউন এই কথা বলেন, আমি তোমাদেরকে খড় দেব না।
11 তোমরা যেখানে পাও, সেখানে গিয়ে খড় সংগ্রহ কর; কিন্তু তাতে তোমাদের কাজ একটুও কমিয়ে দেওয়া হবে না।
12 তাতে লোকেরা খড়ের চেষ্টায় নাড়া সংগ্রহ করতে সমস্ত মিসর দেশে ছড়িয়ে পড়লো।
13 অপরদিকে কার্যশাসকেরা তাড়া দিয়ে বললো, খড় পেলে যেমন করতে, তেমনি এখনও তোমাদের কাজ, নিরূপিত দৈনিক কাজ, প্রতিদিন সমপূর্ণ কর।
14 আর ফেরাউনের কার্যশাসকেরা বনি-ইসরাইলদের যে নেতৃ-বর্গকে তাদের উপরে রেখেছিল, তাদেরও প্রহার করা হল, আর বলা হল, তোমরা আগের মত ইট নির্মাণের বিষয়ে নিরূপিত কাজ আজ ও গতকাল কেন সমপূর্ণ কর নি?
15
তাতে বনি-ইসরাইলদের নেতৃবর্গ এসে ফেরাউনের কাছে কান্নাকাটি করে বললো, আপনার গোলামদের সঙ্গে আপনি এমন ব্যবহার কেন করছেন?
16 লোকেরা আপনার গোলামদেরকে খড় দেয় না, তবুও আমাদের বলে, ইট তৈরি কর; আর দেখুন, আপনার এই গোলামদের মারধর করা হচ্ছে কিন্তু আপনার লোকদেরই দোষ।
17 ফেরাউন বললেন, তোমরা অলস, তাই বলছো, আমরা মাবুদের উদ্দেশে পশু কোরবানী করতে যাই।
18 এখন যাও, কাজ কর, তোমাদেরকে খড় দেওয়া যাবে না, তবুও ইটের পূর্ণ সংখ্যা দিতে হবে।
19 তখন বনি-ইসরাইলদের নেতৃবর্গ দেখলো, তারা বিপাকে পড়েছে, কারণ বলা হয়েছিল, তোমরা প্রত্যেক দিনের কাজের নির্দিষ্ট সংখ্যক ইটের কিছু কম করতে পারবে না।
20
পরে ফেরাউনের কাছ থেকে বের হয়ে আসার সময়ে তারা মূসা ও হারুনের সাক্ষাৎ পেল, তাঁরা পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
21 তারা তাঁদেরকে বললো, মাবুদ তোমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বিচার করুন, কেননা তোমরা ফেরাউনের দৃষ্টিতে ও তাঁর কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে আমাদেরকে ঘৃণার পাত্র করে আমাদের প্রাণনাশ করার জন্য তাদের হাতে তলোয়ার তুলে দিয়েছ।
22
পরে মূসা মাবুদের কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বললেন, হে মাবুদ, তুমি এই লোকদের প্রতি কেন অমঙ্গল করলে? আমাকে কেন পাঠালে?
23 যখন থেকে আমি তোমার নামে কথা বলতে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হয়েছি, তখন থেকে তিনি এই লোকদের অমঙ্গল করছেন, আর তুমি তোমার লোকদের উদ্ধার করার জন্য কিছুই কর নি।
1
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, আমি ফেরাউনের প্রতি যা করবো তা তুমি এখন দেখবে; কেননা শক্তিশালী হাত দেখানো হলে সে লোকদেরকে ছেড়ে দেবে এবং শক্তিশালী হাত দেখানো হলে নিজের দেশ থেকে তাদেরকে দূর করে দেবে।
2
আল্লাহ্ মূসার সঙ্গে আলাপ করে আরও বললেন, আমি মাবুদ;
3 আমি ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ্’ বলে দর্শন দিতাম কিন্তু আমার ইয়াহ্ওয়েহ্ (মাবুদ) নাম নিয়ে তাদেরকে আমার পরিচয় দিতাম না।
4 আর আমি তাদের সঙ্গে এই নিয়ম স্থির করেছি, আমি তাদেরকে কেনান দেশ দেব, যে দেশে তারা প্রবাস করতো, তাদের সেই দেশ দেব।
5 এছাড়া, মিসরীয়দের দ্বারা গোলামীর কাজে নিযুক্ত বনি-ইসরাইলদের কাতরোক্তি শুনে আমার সেই নিয়ম স্মরণ করলাম।
6 অতএব বনি-ইসরাইলদেরকে বল, আমিই মাবুদ, আমি তোমাদেরকে মিসরীয়দের অধীনতা থেকে বের করে আনবো ও তাদের গোলামী থেকে উদ্ধার করবো এবং প্রসারিত বাহু ও মহৎ শাসন দ্বারা তোমাদেরকে মুক্ত করবো।
7 আর আমি তোমাদেরকে আমার লোক হিসেবে গ্রহণ করবো ও তোমাদের আল্লাহ্ হব; তাতে তোমরা জানতে পারবে যে, আমিই মাবুদ, তোমাদের আল্লাহ্, যিনি তোমাদেরকে মিসরীয়দের অধীনতা থেকে বের করে এনেছেন।
8 আর আমি ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে দেবার জন্য যে দেশের বিষয়ে ওয়াদা করেছি, সেই দেশে তোমাদেরকে নিয়ে যাব ও তোমাদের অধিকারের জন্য তা দেব; আমিই মাবুদ।
9 পরে মূসা বনি-ইসরাইলদেরকে সেই কথা বললেন কিন্তু তাদের অন্তর ভেঙ্গে যাওয়াতে ও নিষ্ঠুর গোলামীর কাজের কারণে মূসার কথায় মনোযোগ দিতে পারল না।
10
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
11 তুমি যাও, মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনকে বল, যেন সে তাঁর দেশ থেকে বনি-ইসরাইলদেরকে ছেড়ে দেয়।
12 তখন মূসা মাবুদকে বললেন, যেখানে বনি-ইসরাইলেরা আমার কথায় মনোযোগ দিল না; সেখানে ফেরাউন কিভাবে শোনবেন? আমি যে তোৎলা।
13 আর মাবুদ মূসার ও হারুনের সঙ্গে আলাপ করলেন এবং বনি-ইসরাইলদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনবার জন্য বনি-ইসরাইলদের কাছে এবং মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের কাছে তাঁর বক্তব্য জানিয়ে দিতে তাঁদেরকে হুকুম দিলেন।
14
এসব লোক নিজ নিজ পিতৃকুলপতি: ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণের সন্তান হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি; এরা রূবেণের গোষ্ঠী।
15
শিমিয়োনের পুত্র যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর ও কেনানীয়া স্ত্রীর পুত্র শৌল; এরা শিমিয়োনের গোষ্ঠী।
16
খান্দাননামা অনুসারে লেবির পুত্রদের নাম গের্শোন, কহাৎ ও মরারি; লেবির বয়স এক শত সাঁইত্রিশ বছর হয়েছিল।
17 আর নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে গের্শোনের সন্তান লিব্নি ও শিমিয়ি।
18 কহাতের সন্তান ইমরান, যিষ্হর, হেবরন ও উষীয়েল; কহাতের বয়স এক শত তেত্রিশ বছর হয়েছিল;
19 মরারির সন্তান মহলি ও মূশি; এরা বংশ-তালিকা অনুসারে লেবির গোষ্ঠী।
20 ইমরান আপন ফুফু ইউখাবেজকে বিয়ে করলেন, আর ইনি তাঁর জন্য হারুনকে ও মূসাকে প্রসব করলেন। অম্রমের বয়স এক শত সাঁইত্রিশ বছর হয়েছিল।
21 যিষ্হরের সন্তান কারুন, নেফগ ও সিখ্রি।
22 উষীয়েলের সন্তান মীশায়েল, ইল্সাফন ও সিথ্রি।
23 হারুন অম্মীনাদবের কন্যা নহোশনের বোন ইলীশেবাকে বিয়ে করলেন, আর ইনি তাঁর জন্য নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈথামরকে প্রসব করলেন।
24 আর কারুনের সন্তান অসীর, ইল্কানা অবীয়াসফ; এরা কারুনীয়দের গোষ্ঠী।
25 হারুনের পুত্র ইলিয়াসর পুটীয়েলের এক কন্যাকে বিয়ে করলে তিনি তাঁর জন্য পীনহসকে প্রসব করলেন, এঁরা লেবীয়দের গোষ্ঠী অনুসারে তাদের পিতৃকুলপতি ছিলেন।
26
এই যে হারুন ও মূসা, এঁদেরকেই মাবুদ বললেন, তোমরা বনি-ইসরাইলদেরকে সৈন্যশ্রেণীক্রমে মিসর দেশ থেকে বের কর।
27 এঁরাই বনি-ইসরাইলদেরকে মিসর থেকে বের করে আনবার জন্য মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের সঙ্গে আলোচনা করলেন। এঁরা সেই মূসা ও হারুন।
28
আর মিসর দেশে যেদিন মাবুদ মূসার সঙ্গে আলাপ করেন,
29 সেদিন মাবুদ মূসাকে বললেন, আমিই মাবুদ, আমি তোমাকে যা যা বলি, তা সমস্তই তুমি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনকে বল।
30 আর মূসা মাবুদের সাক্ষাতে বললেন, দেখ, আমি তোৎলা, ফেরাউন কেন আমার কথা শুনবেন?
1
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, দেখ, আমি ফেরাউনের কাছে তোমাকে আল্লাহ্স্বরূপ করে নিযুক্ত করলাম, আর তোমার ভাই হারুন তোমার নবী হবে।
2 আমি তোমাকে যা যা হুকুম করি, তা সবই তুমি হারুনকে বলবে; আর তোমার ভাই হারুন ফেরাউনকে তা বলবে, যেন সে বনি-ইসরাইলদেরকে তাঁর নিজের দেশ থেকে ছেড়ে দেয়।
3 কিন্তু আমি ফেরাউনের অন্তর কঠিন করবো এবং মিসর দেশে আমি বহুসংখ্যক কাজের চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখাব।
4 তবুও ফেরাউন তোমাদের কথায় মনোযোগ দেবে না; আর আমি মিসরে হস্তক্ষেপ করে কঠোর দণ্ড দ্বারা মিসর দেশ থেকে আমার সৈন্যসামন্তকে, আমার লোক বনি-ইসরাইলকে, বের করবো।
5 আমি মিসরের উপরে হাত বাড়িয়ে মিসরীয়দের মধ্য থেকে বনি-ইসরাইলকে বের করে আনলে ওরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
6 পরে মূসা ও হারুন সেরকম করলেন; মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করলেন।
7 ফেরাউনের সঙ্গে আলোচনা করার সময়ে মূসার আশি ও হারুনের তিরাশি বছর বয়স হয়েছিল।
8
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, ফেরাউন যখন তোমাদেরকে বলে,
9 তোমরা নিজেদের পক্ষে কোন অদ্ভুত লক্ষণ দেখাও, তখন তুমি হারুনকে বলো, তোমার লাঠি নিয়ে ফেরাউনের সম্মুখে নিক্ষেপ কর; তাতে তা সাপ হয়ে যাবে।
10 তখন মূসা ও হারুন ফেরাউনের কাছে গিয়ে মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করলেন; হারুন ফেরাউনের ও তাঁর কর্মকর্তাদের সম্মুখে তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তাতে তা সাপ হয়ে গেলো।
11 তখন ফেরাউনও বিদ্বানদেরকে ও গুণিনদেরকে ডাকলেন; তাতে তারা অর্থাৎ মিসরীয় জাদুকরেরাও তাদের জাদুমন্ত্রের জোরে সেই একই কাজ করলো।
12 ফলত তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ লাঠি নিক্ষেপ করলে সেসব সাপ হয়ে গেল কিন্তু হারুনের লাঠি তাদের সমস্ত লাঠিকে গিলে ফেলল।
13 কিন্তু ফেরাউনের অন্তর কঠিন হল, তিনি তাঁদের কথায় মনোযোগ দিলেন না যেমন মাবুদ বলেছিলেন।
14
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, ফেরাউনের অন্তর কঠিন হয়েছে; সে লোকদেরকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করে।
15 তুমি খুব ভোরে ফেরাউনের কাছে যাও; দেখ, সে পানির দিকে যাবে; তুমি তার সঙ্গে দেখা করতে নদীর তীরে থেকো এবং যে লাঠি সাপ হয়ে গিয়েছিল তাও হাতে নিও।
16 আর তাকে বলো, ইবরানীদের মাবুদ আল্লাহ্ আমাকে দিয়ে আপনাকে বলে পাঠিয়েছেন, তুমি আমার লোকদেরকে মরুভূমিতে আমার সেবা করার জন্য ছেড়ে দাও; কিন্তু তুমি এই পর্যন্ত মনোযোগ দাও নি।
17 মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যে মাবুদ, তা তুমি এতে জানতে পারবে; দেখ, আমি আমার হাতের লাঠি দিয়ে নদীর পানিতে আঘাত করবো, তাতে তা রক্ত হয়ে যাবে;
18 আর নদীতে যে সমস্ত মাছ আছে, তারা মরে যাবে এবং নদীতে দুর্গন্ধ হবে; আর নদীর পানি পান করতে মিসরীয়দের ঘৃণা জনা্মবে।
19
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, হারুনকে এই কথা বল, তুমি তোমার লাঠি নিয়ে মিসরের পানির উপরে, দেশের নদী, খাল, বিল ও সমস্ত জলাশয়ের উপরে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও; তাতে সেসব পানি রক্ত হয়ে যাবে এবং মিসর দেশের সর্বত্র কাঠ ও পাথরের পাত্রের পানিও রক্ত হয়ে যাবে।
20
তখন মূসা ও হারুন মাবুদের হুকুম অনুসারে সেরকম করলেন, তিনি লাঠি তুলে ফেরাউনের ও তাঁর কর্মকর্তাদের সম্মুখে নদীর পানিতে আঘাত করলেন; তাতে নদীর সমস্ত পানি রক্ত হয়ে গেলো।
21 তাতে নদীর সমস্ত মাছ মারা গেল ও নদীতে দুর্গন্ধ হল এবং মিসরীয়েরা নদীর পানি পান করতে পারল না; মিসর দেশের সর্বত্র রক্ত হল।
22 তখন মিসরীয় জাদুকরেরাও তাদের জাদুমন্ত্রের জোরে সেই একই কাজ করলে পর ফেরাউনের অন্তর কঠিন হল এবং মাবুদ যেমন বলেছিলেন তেমনি তিনি তাঁদের কথায় মনোযোগ দিলেন না।
23 পরে ফেরাউন নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেন। তিনি সেই দিকে কোন মনোযোগ দিলেন না।
24 আর মিসরীয়েরা সকলে নদীর পানি পান করতে না পারাতে পানির জন্য নদীর আশেপাশে চারদিকে খনন করলো।
1
নদীতে মাবুদ আঘাত করার পর সাত দিন গত হল। পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, আমার সেবা করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
2 যদি ছেড়ে দিতে অসম্মত হও, তবে দেখ, আমি ব্যাঙ দ্বারা তোমার সমস্ত প্রদেশকে আঘাত করবো।
3 নদী ব্যাঙে পরিপূর্ণ হবে; সেসব ব্যাঙ উঠে তোমার বাড়িতে, শয়নাগারে ও বিছানায় এবং তোমার কর্মকর্তাদের বাড়িতে, তোমার লোকদের মধ্যে, তোমার তুন্দুরে ও তোমার আটা মাখবার পাত্রে প্রবেশ করবে;
4 আর তোমার, তোমার লোকদের ও তোমার সমস্ত কর্মকর্তাদের উপরে ব্যাঙ উঠবে।
5 পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, হারুনকে বল, তুমি সমস্ত নদী, খাল ও বিলের উপরে লাঠিসুদ্ধ হাত বাড়িয়ে মিসর দেশের উপরে ব্যাঙ আনাও।
6 তাতে হারুন মিসরের সমস্ত পানির উপরে তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলে পর ব্যাঙেরা উঠে এসে মিসর দেশ ছেয়ে ফেললো।
7 আর জাদুকরেরাও জাদুমন্ত্রের জোরে সেই একই কাজ করে মিসর দেশের উপরে ব্যাঙ আনলো।
8
পরে ফেরাউন মূসা ও হারুনকে ডেকে বললেন, মাবুদের কাছে ফরিয়াদ কর, যেন তিনি আমার কাছ থেকে ও আমার লোকদের কাছ থেকে এসব ব্যাঙ দূর করে দেন, তাতে আমি লোকদেরকে ছেড়ে দেব, যেন তারা মাবুদের উদ্দেশে পশু-কোরবানী করতে পারে।
9 তখন মূসা ফেরাউনকে বললেন, মেহেরবানী করে আমাকে বলুন, আপনার ও আপনার কর্মকর্তাদের ও লোকদের জন্য কখন আমি মুনাজাত করবো যাতে সমস্ত ব্যাঙ আপনার কাছ থেকে ও আপনার সমস্ত ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছিন্ন হয়ে কেবল নদীতে থাকে।
10 তিনি বললেন, আগামীকাল। তখন মূসা বললেন, আপনার কথা অনুসারেই হোক, যেন আপনি জানতে পারেন যে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের মত আর কেউ নেই;
11 ব্যাঙগুলো আপনার কাছ থেকে ও আপনার বাড়ি-ঘর, কর্মকর্তাদের ও লোকদের কাছ থেকে দূর হয়ে কেবল নদীতেই থাকবে।
12 পরে মূসা ও হারুন ফেরাউনের কাছ থেকে বাইরে গেলেন এবং মূসা ফেরাউনের বিরুদ্ধে যেসব ব্যাঙ এনেছিলেন, সেসব বিষয়ে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন।
13 আর মাবুদ মূসার কথা অনুসারে করলেন, তাতে বাড়িতে, প্রাঙ্গণে ও ক্ষেতে সমস্ত ব্যাঙ মারা গেল।
14 তখন লোকেরা সেসব একত্র করে ঢিবি করলে দেশে দুর্গন্ধ হল।
15 কিন্তু ফেরাউন যখন দেখলেন, ব্যাঙের উৎপাত আর নেই, তখন তাঁর অন্তর কঠিন করলেন, তাঁদের কথায় মনোযোগ দিলেন না। মাবুদ যেমন বলেছিলেন তেমনি হল।
16
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, হারুনকে বল, তুমি তোমার লাঠি তুলে ভূমির ধূলিতে প্রহার কর, তাতে সেই ধূলি মশায় পরিণত হয়ে সারা মিসর দেশ ছেয়ে ফেলবে।
17 তখন তাঁরা তা-ই করলেন; হারুন তাঁর লাঠি সহ হাত বাড়িয়ে ভূমির ধূলিতে প্রহার করলেন, তাতে মানুষের ও পশুর উপর মশার উৎপাত দেখা দিল, মিসর দেশের সর্বত্র ভূমির সমস্ত ধূলি মশায় পরিণত হয়ে গেল।
18 তখন জাদুকরেরা তাদের জাদু-মন্ত্রের জোরে মশা উৎপন্ন করার জন্য সেরকম করলো বটে কিন্তু পারল না, আর মানুষ ও পশুর উপর মশার উৎপাত হতে লাগল।
19 তখন জাদুকরেরা ফেরাউনকে বললো, এতে আল্লাহ্র আঙ্গুলের ইশারা আছে। তবুও ফেরাউনের অন্তর কঠিন হল, তিনি তাঁদের কথায় মনোযোগ দিলেন না; যেমন মাবুদ বলেছিলেন।
20
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি খুব ভোরে উঠে গিয়ে ফেরাউনের সম্মুখে দাঁড়াও; দেখ, সে পানির কাছে আসবে; তুমি তাকে এই কথা বল, মাবুদ এই কথা বলেন, আমার সেবা করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
21 যদি আমার লোকদেরকে ছেড়ে না দাও, তবে দেখ, আমি তোমার উপর, তোমার কর্মকর্তাদের উপর, লোকদের ও সমস্ত বাড়ি-ঘরের উপর ডাঁশ মাছির ঝাঁক প্রেরণ করবো; মিসরীয়দের বাড়ি-ঘরগুলো, এমন কি, তাদের বাসভূমিও ডাঁশ মাছিতে পরিপূর্ণ হবে।
22 কিন্তু আমি সেদিন আমার লোকদের নিবাসস্থান গোশন প্রদেশ পৃথক করবো; সেই স্থানে ডাঁশ মাছি থাকবে না; যেন তুমি জানতে পার যে, দুনিয়ার মধ্যে আমিই মাবুদ।
23 আমি আমার লোক ও তোমার লোকদের মধ্যে প্রভেদ করবো; আগামীকাল এই চিহ্ন হবে।
24 পরে মাবুদ সেরকম করলেন, ফেরাউন ও তাঁর কর্মকর্তাদের বাড়িতে ডাঁশ মাছির বড় বড় ঝাঁক উপস্থিত হল; তাতে সমস্ত মিসর দেশে ডাঁশ মাছির ঝাঁক হেতু দেশটার সর্বনাশ হতে লাগল।
25
তখন ফেরাউন মূসা ও হারুনকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা যাও দেশের মধ্যে তোমাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে কোরবানী কর।
26 মূসা বললেন, তা করা উচিত হবে না, কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে মিসরীয়দের ঘৃণাজনক কোরবানী করতে হবে; দেখুন, মিসরীয়দের সাক্ষাতে তাদের ঘৃণাজনক কোরবানী করলে তারা কি আমাদেরকে পাথরের আঘাতে হত্যা করবে না?
27 আমরা তিন দিনের পথ মরুভূমিতে গিয়ে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যে হুকুম দেবেন, সেই অনুসারে তাঁর উদ্দেশে কোরবানী করবো।
28 ফেরাউন বললেন, আমি তোমাদের ছেড়ে দিচ্ছি, তোমরা মরুভূমিতে গিয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী কর; কিন্তু অনেক দূরে যেও না; তোমরা আমার জন্য মিনতি কর।
29 তখন মূসা বললেন, দেখুন, আমি আপনার কাছ থেকে গিয়ে মাবুদের কাছে মিনতি করবো, তাতে ফেরাউন, তাঁর কর্মকর্তাদের ও তাঁর লোকদের কাছ থেকে আগামীকাল ডাঁশ মাছির ঝাঁকগুলো দূরে যাবে; কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য লোকদেরকে ছেড়ে দেবার বিষয়ে ফেরাউন পুনর্বার যেন প্রবঞ্চনা না করেন।
30
পরে মূসা ফেরাউনের কাছ থেকে বাইরে গিয়ে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন।
31 তখন মাবুদ মূসার কথা অনুসারে কাজ করলেন; ফেরাউন, তাঁর কর্মকর্তাদের ও লোকদের কাছ থেকে ডাঁশ মাছির সমস্ত ঝাঁক দূর করলেন; একটিও অবশিষ্ট রইলো না।
32 কিন্তু এবারও ফেরাউন তাঁর অন্তর কঠিন করলেন, লোকদের ছেড়ে দিলেন না।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি ফেরাউনের কাছে গিয়ে তাকে বল, ইবরানীদের মাবুদ আল্লাহ্ এই কথা বলেন, আমার সেবা করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
2 যদি তাদেরকে ছেড়ে দিতে অসম্মত হও, অথবা এখনও বাধা দাও,
3 তবে দেখ, তোমার ক্ষেতে যে সব পশু রয়েছে, অর্থাৎ তোমার ঘোড়া, গাধা, উট, গরুর পাল ও ভেড়ার পালের উপর মাবুদের হাত রয়েছে; কঠিন মহামারী হবে।
4 কিন্তু মাবুদ ইসরাইলের পশু ও মিসরের পশুতে প্রভেদ করবেন; তাতে বনি-ইসরাইলদের কোন পশু মরবে না।
5 আর মাবুদ সময় নির্ধারণ করে বললেন, আগামীকাল মাবুদ দেশে এই কাজ করবেন।
6 পরদিন মাবুদ তা-ই করলেন, তাতে মিসরের সমস্ত পশু মারা গেল কিন্তু বনি-ইসরাইলদের পশুদের মধ্যে একটিও মারা গেল না।
7 তখন ফেরাউন লোক পাঠিয়ে সংবাদ পেলেন যে, বনি-ইসরাইলদের একটি পশুও মারা যায় নি; তবুও ফেরাউনের অন্তর কঠিন হল এবং তিনি লোকদেরকে ছেড়ে দিলেন না।
8
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, তোমরা মুষ্টি পূর্ণ করে ভাটীর ভস্ম নাও এবং মূসা ফেরাউনের সাক্ষাতে তা আসমানের দিকে ছড়িয়ে দিক।
9 তা সমস্ত মিসর দেশব্যাপী সূক্ষ্ম ধূলি হয়ে সেই দেশের সর্বত্র মানুষ ও পশুদের শরীরে ক্ষতযুক্ত স্ফোটক জন্মাবে।
10 তখন তাঁরা ভাটির ভস্ম নিয়ে ফেরাউনের সম্মুখে দাঁড়ালেন এবং মূসা আসমানের দিকে তা ছড়িয়ে দিলেন, তাতে মানুষ ও পশুদের শরীরে ক্ষতযুক্ত স্ফোটক হল।
11 সেই স্ফোটকের দরুন জাদুকরেরা মূসার সম্মুখে দাঁড়াতে পারল না, কারণ জাদুকরদের ও সমস্ত মিসরীয়ের শরীরে স্ফোটক জন্মালো।
12 আর মাবুদ ফেরাউনের অন্তর কঠিন করলেন। তিনি তাদের কথায় মনোযোগ দিলেন না, যেমন মাবুদ মূসাকে বলেছিলেন।
13
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি খুব ভোরে উঠে ফেরাউনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাকে এই কথা বলো, ইবরানীদের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমার সেবা করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও;
14 নতুবা এবার আমি তোমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে এবং তোমার দরবারের লোকদের ও লোকদের মধ্যে আমার সমস্ত রকমের গজব প্রেরণ করবো; যেন তুমি জানতে পার যে, সারা দুনিয়াতে আমার মত আর কেউই নেই।
15 কেননা এত দিনে আমি আমার হাত বাড়িয়ে মহামারী দ্বারা তোমাকে ও তোমার লোকদেরকে আঘাত করতে পারতাম; তা করলে তুমি দুনিয়া থেকে উচ্ছিন্ন হতে।
16 কিন্তু বাস্তবিক আমি এজন্যই তোমাকে স্থাপন করেছি যেন আমার ক্ষমতা তোমাকে দেখাই ও সারা দুনিয়াতে আমার নাম কীর্তিত হয়।
17 এখনও তুমি দম্ভ করে আমার লোকদেরকে ছেড়ে দিতে চাইছো না।
18 দেখ, মিসরের পত্তন থেকে আজ পর্যন্ত যেরকম কখনও হয় নি, সে রকম প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি আমি আগামীকাল এই সময়ে বর্ষাবো।
19 অতএব তুমি এখন লোক পাঠিয়ে ক্ষেতে তোমার পশু ও আর যা কিছু আছে সেই সমস্ত তাড়াতাড়ি আনাও; যে মানুষ ও পশু বাড়ির বাইরে ক্ষেতে থাকবে তাদের উপরে শিলাবৃষ্টি হবে আর তাতে তারা মারা যাবে।
20 তখন ফেরাউনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে মাবুদের কালামে ভয় পেল, সে শীঘ্র তার গোলাম ও পশুদেরকে বাড়ির মধ্যে নিয়ে আসল।
21 আর যে মাবুদের কালামে মনোযোগ দিল না সে তার গোলাম ও পশুদেরকে ক্ষেতে থাকতে দিল।
22
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি আসমানের দিকে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, তাতে মিসর দেশের সর্বত্র শিলাবৃষ্টি হবে, মিসর দেশের মানুষ, পশু ও ক্ষেতের সমস্ত ওষধির উপরে তা বর্ষিত হবে।
23 পরে মূসা তাঁর লাঠি আসমানের দিকে বিস্তার করলে মাবুদ মেঘ-গর্জন করালেন ও শিলাবৃষ্টি বর্ষালেন; আর আগুন ভূমির উপরে বেগে এসে পড়লো। এভাবে মাবুদ মিসর দেশে শিলাবৃষ্টি বর্ষালেন।
24 তাতে শিলা এবং শিলার সঙ্গে মিশানো আগ্নিবৃষ্টিও হওয়াতে তা অতি দুঃসহ হল; এরকম শিলাবৃষ্টি মিসর দেশে রাজ্য স্থাপনের সময় থেকে কখনও হয় নি।
25 তাতে সমস্ত মিসর দেশের ক্ষেতের মানুষ ও পশু সকলেই শিলা দ্বারা আহত হল ও ক্ষেতের সমস্ত ওষধি শিলা-বৃষ্টির আঘাতে নষ্ট ও সমস্ত গাছ ভেঙ্গে গেল।
26 কেবল বনি-ইসরাইলদের বাসস্থান গোশন প্রদেশে শিলাবৃষ্টি হল না।
27
পরে ফেরাউন লোক পাঠিয়ে মূসা ও হারুনকে ডেকে এনে বললেন, এবার আমি গুনাহ্ করেছি; মাবুদ ধর্মময় কিন্তু আমি ও আমার লোকেরাই দোষী।
28 তোমরা মাবুদের কাছে ফরিয়াদ কর; বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি যথেষ্ট হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ছেড়ে দেব, তোমাদের আর বিলম্ব হবে না।
29 তখন মূসা তাঁকে বললেন, আমি নগর থেকে বাইরে গিয়ে আমার দু’হাত মাবুদের কাছে তুলে ধরবো, তাতে মেঘ-গর্জন নিবৃত্ত হবে ও শিলাবৃষ্টি আর হবে না, যেন আপনি জানতে পারেন যে, দুনিয়া মাবুদেরই।
30 কিন্তু আমি জানি, আপনি ও আপনার কর্মকর্তারা, আপনারা এখনও মাবুদ আল্লাহ্কে ভয় করেন না।
31 সেই সময় সব মসিনা ও যব ধ্বংস হল, কেননা যব শীষযুক্ত ও মসিনা পুষ্পিত হয়েছিল।
32 কিন্তু গম ও জনার বড় না হওয়াতে ধ্বংস হল না।
33 পরে ফেরাউনের কাছ থেকে নগরের বাইরে গিয়ে মূসা মাবুদের দিকে তাঁর দু’হাত তুলে ধরলেন, তাতে মেঘ-গর্জন ও শিলাবৃষ্টি নিবৃত্ত হল এবং ভূমিতে আর বৃষ্টির ধারা বর্ষালো না।
34 তখন বৃষ্টি, শিলাবর্ষণ ও মেঘ-গর্জন নিবৃত্ত হল দেখে ফেরাউন আরও গুনাহ্ করলেন, তিনি ও তাঁর কর্মকর্তারা নিজ নিজ অন্তর কঠিন করলেন।
35 ফেরাউনের অন্তর কঠিন হওয়াতে তিনি বনি-ইসরাইলদেরকে যেতে দিলেন না; যেমন মাবুদ মূসার মধ্য দিয়ে বলেছিলেন।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি ফেরাউনের কাছে যাও; কেননা আমি তার ও তার কর্মকর্তাদের অন্তর কঠিন করলাম। আমি তাদের মধ্যে আমার এসব চিহ্ন-কাজ দেখাব,
2 এবং আমি মিসরীয়দের প্রতি যা যা করেছি ও তাদের মধ্যে আমার যে যে প্রমাণ রেখেছি তার বৃত্তান্ত যেন তুমি তোমার পুত্রের ও পৌত্রের কাছে প্রকাশ করতে পার এবং এভাবে তারা জানতে পারবে যে, আমি যে মাবুদ।
3
তখন মূসা ও হারুন ফেরাউনের কাছে গিয়ে বললেন, ইবরানীদের মাবুদ আল্লাহ্ এই কথা বলেন, তুমি আমার সম্মুখে নম্র হতে কত কাল অসম্মত থাকবে? আমার সেবা করার জন্য আমার লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
4 কিন্তু যদি আমার লোকদেরকে ছেড়ে দিতে অসম্মত হও, তবে দেখ, আমি আগামীকাল তোমার সীমাতে পঙ্গপাল নিয়ে আসব।
5 তারা ভূতল এমন আচ্ছন্ন করবে যে, কেউ ভূমি দেখতে পাবে না; আর শিলাবৃষ্টি থেকে যা কিছু রক্ষা পেয়েছে ও অবশিষ্ট তোমাদের যা কিছু আছে তা তারা খেয়ে ফেলবে এবং ক্ষেতে উৎপন্ন তোমাদের গাছগুলো খেয়ে ফেলবে।
6 আর তোমার বাড়ি-ঘর ও তোমার সমস্ত কর্মকর্তাদের বাড়ি-ঘর ও সমস্ত মিসরীয় লোকের বাড়ি-ঘর পঙ্গপালে পরিপূর্ণ হবে; দুনিয়াতে তোমার পূর্বপুরুষদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত কখনও তেমন দেখা যায় নি। তখন তিনি মুখ ঘুরিয়ে ফেরাউনের কাছ থেকে বের হয়ে আসলেন।
7
তখন ফেরাউনের কর্মকর্তারা তাঁকে বললো, এই ব্যক্তি কত কাল আমাদের ফাঁদ হয়ে থাকবে? আল্লাহ্ মাবুদের সেবা করার জন্য এদেরকে ছেড়ে দিন; আপনি কি এখনও বুঝতে পারছেন না যে, মিসর দেশ ছারখার হয়ে গেল?
8 তখন মূসা ও হারুনকে ফেরাউনের কাছে পুনর্বার নিয়ে আসা হল; আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, যাও, তোমরা গিয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সেবা কর; কিন্তু কে কে যাবে?
9 মূসা বললেন, আমরা আমাদের শিশু ও বৃদ্ধদেরকে, আমাদের পুত্রকন্যা এবং গোমেষাদির পালও সঙ্গে নিয়ে যাব, কেননা মাবুদের উদ্দেশে আমাদের উৎসব করতে হবে।
10 তখন ফেরাউন তাঁদেরকে বললেন, যদি আমি তোমাদের ও তোমাদের শিশুদের ছেড়ে দিই তবে মাবুদ তোমাদের সহবর্তী হোন! তোমাদের মনে দুরভিসন্ধি আছে; না, তা কখনও হবে না।
11 মাত্র তোমাদের পুরুষেরা গিয়ে মাবুদের এবাদত করুক; কারণ তোমরা তো এ-ই চাইছো। পরে ফেরাউনের সম্মুখ থেকে তাঁদের দূর করে দেওয়া হল।
12
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি মিসর দেশের উপরে পঙ্গপালের জন্য হাত বাড়িয়ে দাও, তাতে তারা মিসর দেশে এসে ভূমির সমস্ত সবুজ লতাগুল্ম ও গাছপালা খেয়ে ফেলবে, শিলাবৃষ্টি যা কিছু রেখে গেছে তা সবই খেয়ে ফেলবে।
13 তখন মূসা মিসর দেশের উপরে তাঁর লাঠিটি বাড়িয়ে ধরলেন, তাতে মাবুদ সমস্ত দিন ও সমস্ত রাত দেশে পূর্বীয় বায়ু বহালেন, আর সকাল হলে পূর্বীয় বায়ু পঙ্গপাল উড়িয়ে নিয়ে আসলো।
14 তাতে সমস্ত মিসর দেশের উপরে পঙ্গপাল এসে বসতে লাগল ও মিসরের সমস্ত সীমাতে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়লো। তা অত্যন্ত ভয়ানক হল; সেরকম পঙ্গপাল আগে কখনও হয় নি এবং পরেও কখনও হবে না।
15 তারা সমস্ত জায়গা আচ্ছন্ন করে ফেলল, তাতে দেশ অন্ধকার হল এবং ভূমির যে সবুজ লতাগুল্ম ও গাছপালার যে ফল শিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেয়েছিল, সেসব তারা খেয়ে ফেললো; সমস্ত মিসর দেশে গাছ বা ক্ষেতের সমস্ত সবুজ লতাগুল্ম কিছুই রইলো না।
16
তখন ফেরাউন তাড়াতাড়ি মূসা ও হারুনকে ডেকে এনে বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে ও তোমাদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
17 আরজ করি, কেবল এবার আমার গুনাহ্ মাফ কর এবং আমার কাছ থেকে এই মৃত্যুর ছায়াকে দূর করার জন্য তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফরিয়াদ কর।
18 তখন তিনি ফেরাউনের কাছ থেকে বাইরে গিয়ে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন;
19 আর মাবুদ অতি প্রবল পশ্চিম বায়ু আনলেন, তা পঙ্গ-পালদেরকে উঠিয়ে নিয়ে লোহিত সাগরে তাড়িয়ে দিল, তাতে মিসরের সমস্ত সীমাতে একটা পঙ্গপালও অবশিষ্ট রইলো না।
20 কিন্তু মাবুদ ফেরাউনের অন্তর কঠিন করলেন, আর তিনি বনি-ইসরাইলদেরকে ছেড়ে দিলেন না।
21
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি আসমানের দিকে হাত বাড়িয়ে দাও; তাতে মিসর দেশে অন্ধকার হবে ও সেই অন্ধকার সপর্শ করা যাবে।
22 পরে মূসা আসমানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন; তাতে তিন দিন পর্যন্ত সমস্ত মিসর দেশ গাঢ় অন্ধকারে ডুবে রইলো।
23 তিন দিন পর্যন্ত কেউ কারো মুখ দেখতে পেল না এবং কেউ তার স্থান থেকে উঠলো না; কিন্তু বনি-ইসরাইলদের জন্য তাদের বাসস্থানে আলো ছিল।
24
তখন ফেরাউন মূসাকে ডেকে এনে বললেন, যাও, তোমরা গিয়ে মাবুদের সেবা কর; কেবল তোমাদের ভেড়ার পাল ও গরুর পাল থাকুক; তোমাদের শিশুরাও তোমাদের সঙ্গে যাক।
25 মূসা বললেন, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য আমাদের হাতে কোরবানী ও পোড়ানো-কোরবানীর দ্রব্য দেওয়া আপনার কর্তব্য।
26 আমাদের সঙ্গে আমাদের পশুও যাবে, একটি খুরও অবশিষ্ট থাকবে না; কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের এবাদত করার জন্য তাদের মধ্য থেকে কোরবানীর জিনিস নিতে হবে এবং কি কি দিয়ে মাবুদের এবাদত করবো তা সেই স্থানে উপস্থিত না হলে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।
27 কিন্তু মাবুদ ফেরাউনের অন্তর কঠিন করলেন এবং তিনি তাদের ছেড়ে দিতে সম্মত হলেন না।
28 তখন ফেরাউন তাঁকে বললেন, আমার সম্মুখ থেকে দূর হও, সাবধান, আর কখনও আমার মুখ দর্শন করো না; কেননা যেদিন আমার মুখ দেখবে, সেই দিনই তোমার মরণ হবে।
29 মূসা বললেন, ভালই বলেছেন, আমি আপনার মুখ আর কখনও দেখবো না।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, আমি ফেরাউন ও মিসরের উপরে আর একটি গজব নাজেল করবো, তারপর সে তোমাদেরকে এই স্থান থেকে ছেড়ে দেবে এবং ছেড়ে দেবার সময়ে তোমাদেরকে নিশ্চয়ই এই দেশ থেকে একেবারে তাড়িয়ে দেবে।
2 তুমি লোকদের বল, আর প্রত্যেক পুরুষ নিজ নিজ প্রতিবেশীর কাছ থেকে ও প্রত্যেক স্ত্রী নিজ নিজ প্রতিবাসিনীর কাছ থেকে রূপার অলংকার ও সোনার অলংকার চেয়ে নিক।
3 আর মাবুদ মিসরীয়দের কাছে বনি-ইসরাইলদেরকে অনুগ্রহের পাত্র করলেন। এছাড়া, মিসর দেশে মূসা ফেরাউনের কর্মকর্তাদের ও লোকদের দৃষ্টিতে অতি মহান ব্যক্তি হয়ে উঠে ছিলেন।
4
মূসা আরও বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি মধ্য রাতে মিসরের মধ্য দিয়ে গমন করবো।
5 তাতে সিংহাসনে উপবিষ্ট ফেরাউনের প্রথমজাত সন্তান থেকে যাঁতা পেষণকারিণী বাঁদীর প্রথমজাত সন্তান পর্যন্ত মিসর দেশের সকল প্রথমজাত সন্তান মারা যাবে এবং পশুদেরও সমস্ত প্রথমজাত বাচ্চা মারা যাবে।
6 আর সমস্ত মিসর দেশে এমন মহাক্রন্দন হবে যা আগে কখনও হয় নি এবং আর হবে না।
7 কিন্তু সমস্ত বনি-ইসরাইলের মধ্যে মানুষের বা পশুর বিরুদ্ধে একটা কুকুরও ডাকবে না, যেন আপনারা জানতে পারেন যে, মাবুদ মিসরীয়দের ও ইসরাইলের মধ্যে প্রভেদ করেন।
8 আর আপনার এই কর্মকর্তারা সকলে আমার কাছে নেমে আসবে ও ভূমিতে উবুড় হয়ে আমাকে বলবে, তুমি ও তোমার অনুগামী সমস্ত লোক বের হও; তারপর আমি বের হবো। তখন তিনি মহা ক্রোধে ফেরাউনের কাছ থেকে বাইরে গেলেন।
9
আর মাবুদ মূসাকে বলেছিলেন, ফেরাউন তোমার কথায় মনোযোগ দেবে না, যেন মিসর দেশে আমার অলৌকিক লক্ষণ বহুসংখ্যক হয়।
10 মূসা ও হারুন ফেরাউনের সম্মুখে এসব কুদরতি কাজ করেছিলেন কিন্তু মাবুদ ফেরাউনের অন্তর কঠিন করলেন, আর তিনি তাঁর দেশ থেকে বনি-ইসরাইলদেরকে ছেড়ে দিলেন না।
1
আর মাবুদ মিসর দেশে মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 এই মাস তোমাদের প্রথম মাস হবে; বছরের সমস্ত মাসের মধ্যে প্রথম হবে।
3 সমস্ত বনি-ইসরাইলদের এই কথা বল, তোমরা এই মাসের দশম দিনে তোমাদের পিতৃকুল অনুসারে প্রত্যেক গৃহস্থ নিজ নিজ পরিবারের জন্য একটি করে ভেড়ার বাচ্চা নেবে।
4 আর ভেড়ার বাচ্চা ভোজন করতে যদি কারো পরিজন অল্প হয় তবে সে ও তার বাড়ির নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের সংখ্যা অনুসারে একটি ভেড়ার বাচ্চা নেবে। তোমরা একেক জনের ভোজনশক্তি অনুসারে ভেড়ার বাচ্চা নেবে।
5 তোমাদের সেই বাচ্চাটি নিখুঁত ও প্রথম বছরের পুরুষ-বাচ্চা হবে; তোমরা ভেড়ার পালের কিংবা ছাগল পালের মধ্য থেকে তা নেবে;
6 আর এই মাসের চতুর্দশ দিন পর্যন্ত রাখবে; পরে ইসরাইলদের সমস্ত সমাজ সন্ধ্যাবেলা সেই বাচ্চাটি জবেহ্ করবে।
7 আর তারা তার কিঞ্চিত রক্ত নেবে এবং যে যে বাড়িতে ভেড়ার বাচ্চা ভোজন করবে, সেই সেই বাড়ির দরজার দু’টি বাজুতে ও কপালীতে তা লেপে দেবে।
8 পরে সেই রাতে তার গোশ্ত ভোজন করবে; আগুনে সেঁকে খামিহীন রুটি ও তিক্ত শাকের সঙ্গে তা ভোজন করবে।
9 তোমরা তার গোশ্ত কাঁচা কিংবা সিদ্ধ করে খেয়ো না কিন্তু তার মুণ্ড, ঊরু ও অন্তরস্থ ভাগ সহ আগুনে সেঁকে খেয়ো;
10 আর সকাল পর্যন্ত তার কিছুই রেখো না; যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলো।
11
আর তোমরা এভাবে তা ভোজন করবে; কোমরবন্ধনী পরবে, পায়ে জুতা পরবে, হাতে লাঠি নেবে ও দ্রুত তা ভোজন করবে; এটি মাবুদের ঈদুল ফেসাখ।
12 কেননা সেই রাত্রে আমি মিসর দেশের মধ্য দিয়ে যাব এবং মিসর দেশস্থ মানুষের ও পশুর যাবতীয় প্রথমজাত সন্তানকে আঘাত করবো, আর আমি মিসরের যাবতীয় দেবতার বিচার করে দণ্ড দেব; আমিই মাবুদ।
13 অতএব তোমরা যে যে বাড়িতে থাক, তোমাদের পক্ষে ঐ রক্ত চিহ্নস্বরূপ সেই সেই বাড়ির উপরে থাকবে; তাতে আমি যখন মিসর দেশকে আঘাত করবো, তখন সেই রক্ত দেখলে তোমাদেরকে ছেড়ে এগিয়ে যাব, সংহারের আঘাত তোমাদের উপরে পড়বে না।
14
আর এই দিন তোমাদের স্মরণীয় হবে এবং তোমরা এই দিনটি মাবুদের উৎসব বলে পালন করবে; পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী বিধিমতে এই উৎসব পালন করবে।
15 তোমরা সাত দিন খামিহীন রুটি খাবে; প্রথম দিনেই নিজ নিজ বাড়ি থেকে খামি দূর করবে, কেননা যে ব্যক্তি প্রথম দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত খামিযুক্ত খাবার খাবে, সেই প্রাণী ইসরাইল থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
16 আর প্রথম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে এবং সপ্তম দিনেও তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; সেই দু’দিন প্রত্যেক প্রাণীর খাদ্য আয়োজন করা ছাড়া অন্য কোন কাজ করবে না, কেবল সেই কাজ করতে পারবে।
17 এভাবে তোমরা খামিহীন রুটির ঈদ পালন করবে, কেননা এই দিনে আমি তোমাদের বাহিনীদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনলাম; অতএব তোমরা পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী নিয়ম অনুসারে এই দিন পালন করবে।
18
তোমরা প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাকাল থেকে একবিংশ দিনের সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত খামিহীন রুটি ভোজন করো।
19 সাত দিন তোমাদের বাড়িতে যেন খামির লেশমাত্র না থাকে; কেননা কি বিদেশী কি স্বদেশী, যে কোন ব্যক্তি খামিযুক্ত খাবার খাবে, সে ইসরাইলদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
20 তোমরা খামিযুক্ত কোন খাবার খেয়ো না; তোমরা তোমাদের সমস্ত বাসস্থানে খামিহীন রুটি খেও।
21
তখন মূসা ইসরাইলের সমস্ত প্রাচীন লোকদেরকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এক একটি ভেড়ার বাচ্চা বের করে নাও, ঈদুল ফেসাখের কোরবানী কর।
22 আর এক আটি এসোবের ডাল নিয়ে বাটিতে রাখা রক্তে ডুবিয়ে দরজার কপালীতে ও দুই বাজুতে কিঞ্চিত রক্ত লাগিয়ে দেবে এবং প্রভাত পর্যন্ত তোমরা কেউই বাড়ির দরজার বাইরে যাবে না।
23 কেননা মাবুদ মিসরীয়দেরকে আঘাত করার জন্য তোমাদের কাছ দিয়ে গমন করবেন, তাতে দরজার কপালীতে ও দুই বাজুতে সেই রক্ত দেখলে মাবুদ সেই দরজা ছেড়ে সম্মুখে এগিয়ে যাবেন, তোমাদের বাড়িতে সংহারকর্তাকে প্রবেশ করে আঘাত করতে দেবেন না।
24 আর তোমরা ও যুগানুক্রমে তোমাদের সন্তানেরা নিয়ম হিসেবে এই রীতি পালন করবে।
25 আর মাবুদ তাঁর ওয়াদা অনুসারে তোমাদেরকে যে দেশ দেবেন, সেই দেশে যখন প্রবেশ করবে, তখনও এই উৎসবের অনুষ্ঠান করবে।
26 আর তোমাদের সন্তানরা যখন তোমাদেরকে বলবে, তোমাদের এই উৎসবের তাৎপর্য কি?
27 তোমরা বলবে, এটি হচ্ছে মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখের কোরবানী, মিসরীয়দেরকে আঘাত করার সময়ে তিনি মিসরে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত বাড়ি ছেড়ে সম্মুখে এগিয়ে গিয়েছিলেন, আমাদের বাড়ি রক্ষা করেছিলেন। তখন লোকেরা মাবুদকে সেজদা করলো।
28
পরে বনি-ইসরাইলেরা গিয়ে, মাবুদ মূসা ও হারুনকে যেরকম হুকুম করেছিলেন, সেই রকম কাজ করলো।
29
পরে মধ্য রাতে এই ঘটনা ঘটলো: মাবুদ সিংহাসনে উপবিষ্ট ফেরাউনের প্রথম-জাত সন্তান থেকে কারাগারে বন্দীর প্রথমজাত সন্তান পর্যন্ত মিসর দেশস্থ সমস্ত প্রথমজাত সন্তানকে ও পশুর প্রথমজাত বাচ্চাকে মেরে ফেললেন।
30 তাতে ফেরাউন ও তাঁর কর্মকর্তারা এবং সমস্ত মিসরীয় লোক রাত্রে ঘুম থেকে জেগে উঠলো এবং সেখানে মহাক্রন্দনের আওয়াজ উঠলো; কেননা এমন কোন বাড়ি ছিল না যে বাড়ির প্রথমজাত সন্তান মারা যায় নি।
31
তখন সেই রাতেই ফেরাউন মূসা ও হারুনকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা উঠ, বনি-ইসরাইলকে নিয়ে আমার লোকদের মধ্য থেকে বের হও, তোমরা যাও, তোমরা গিয়ে তোমাদের কথা অনুসারে মাবুদের এবাদত কর।
32 তোমাদের কথা অনুসারে ভেড়ার পাল ও গরুর সমস্ত পাল সঙ্গে নিয়ে চলে যাও এবং আমাকেও দোয়া কর।
33
তখন লোকদেরকে শীঘ্র দেশ থেকে বিদায় করার জন্য মিসরীয়েরাও ব্যস্ত হল; কেননা তারা বললো, আমরা সকলে মারা পড়লাম।
34 তাতে ময়দার তালে খামি মেশাবার আগে লোকেরা পাত্রসহ ময়দার তাল নিজ নিজ কাপড়ে বেঁধে কাঁধে নিল।
35 আর বনি-ইসরাইলেরা মূসার কথা অনুসারে কাজ করলো; ফলে তারা মিসরীয়দের কাছে রূপার অলংকার, সোনার অলংকার ও কাপড় চাইলো।
36 আর মাবুদ মিসরীয়দের কাছে তাদেরকে অনুগ্রহের পাত্র করলেন, তাই তারা যা চাইলো, মিসরীয়েরা তাদেরকে তা-ই দিল। এভাবে তারা মিসরীয়দের ধন হরণ করলো।
37
তখন বনি-ইসরাইলেরা শিশু ছাড়া কমবেশ ছয় লক্ষ পদাতিক পুরুষ রামিষেষ থেকে সুক্কোতে যাত্রা করলো।
38 আর তাদের সঙ্গে মিশ্রিত লোকদের বিশাল জনতা এবং ভেড়া ও গরুর পাল সহ বিরাট সংখ্যক পশু প্রস্থান করলো।
39 পরে তারা মিসর থেকে আনা ছানা ময়দার তাল দিয়ে খামিহীন পিঠা প্রস্তুত করলো, কেননা তাতে খামি মিশানো হয় নি, কারণ তারা মিসর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল, সুতরাং বিলম্ব করতে না পারাতে নিজেদের জন্য খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করে নি।
40
বনি-ইসরাইলেরা চার শত ত্রিশ বছর মিসরে বাস করেছিল।
41 সেই চার শত ত্রিশ বছরের শেষে, ঐ দিনে, মাবুদের সমস্ত বাহিনী মিসর দেশ থেকে বের হল।
42 মিসর দেশ থেকে তাদেরকে বের করে আনবার দরুন এই রাত ছিল মাবুদের উদ্দেশে অতীব পালনীয় রাত। সমস্ত বনি-ইসরাইলের পুরুষানুক্রমে এই রাত মাবুদের উদ্দেশে অবশ্য পালনীয়।
43
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, ঈদুল ফেসাখের কোরবানীর নিয়ম এই রকম; বিদেশী কোন লোক তা ভোজন করবে না।
44 কিন্তু কোন ব্যক্তির যে গোলামকে রূপা দ্বারা ক্রয় করা হয়েছে, তার যদি খৎনা হয়ে থাকে তবে সে খেতে পারবে।
45 প্রবাসী কিংবা বেতনজীবী তা খেতে পারবে না।
46 তোমরা একটি বাড়ির মধ্যে তা ভোজন করো; সেই গোশ্তের কিছুই বাড়ির বাইরে নিয়ে যেও না এবং তার একটি অস্থিও ভেঙ্গো না।
47 সমস্ত বনি-ইসরাইল এই ঈদ পালন করবে।
48 আর তোমার সঙ্গে প্রবাসী কোন বিদেশী লোক যদি মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করতে চায়, তবে সে নিজের পরিবারের অন্যান্য পুরুষের সঙ্গে নিজের খৎনা করিয়ে এই ঈদ পালন করার জন্য আগমন করুক, সে তখন দেশজাত লোকের মতই হবে; কিন্তু খৎনা হয় নি এমন কোন লোক তা ভোজন করবে না।
49 স্বজাতির লোকের জন্য ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশী লোকের জন্য একই নিয়ম হবে।
50
সমস্ত বনি-ইসরাইল সেরকম করলো, মাবুদ মূসা ও হারুনকে যা হুকুম করেছিলেন সেই অনুসারেই করলো।
51 এভাবে মাবুদ সেদিন দলে দলে বনি-ইসরাইলদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনলেন।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 বনি-ইসরাইলদের মধ্যে মানুষ কিংবা পশু সে যাই হোক না কেন, গর্ভ উন্মোচক সমস্ত প্রথমজাত ফল আমার উদ্দেশে পবিত্র কর; তা আমারই।
3
আর মূসা লোকদেরকে বললেন, এই দিনটি স্মরণে রেখো, যে দিনে তোমরা মিসর থেকে অর্থাৎ গোলামীর গৃহ থেকে বের হলে, কারণ মাবুদ তাঁর পরাক্রমশালী হাত দিয়ে সেখান থেকে তোমাদেরকে বের করে আনলেন। এই দিনে কোন খামিযুক্ত খাদ্য খাওয়া যাবে না।
4 আবীব মাসের এদিনে তোমরা বের হলে।
5 আর কেনানীয়, হিট্টিয়, আমোরীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়ের যে দেশ তোমাদের দিতে মাবুদ তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছেন, সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে যখন তিনি তোমাকে আনবেন তখন তুমি এই মাসে এই সেবার অনুষ্ঠান পালন করবে।
6 সাত দিন খামিহীন রুটি খেয়ো ও সপ্তম দিনে মাবুদের উদ্দেশে উৎসব করো।
7 সেই সাত দিন খামিহীন রুটি খেতে হবে, তোমার কাছে খামিযুক্ত খাদ্য দেখা না যাক, তোমার সমস্ত সীমার মধ্যে খামি দেখা না যাক।
8 সেই দিনে তুমি তোমার পুত্রকে এটা জানাবে, মিসর থেকে আমরা বের হবার সময়ে মাবুদ আমার প্রতি যা করলেন, এটা তারই জন্য।
9 আর এটি চিহ্নের জন্য তোমার হাতে ও স্মরণ রাখার জন্য তোমার দুই চোখের মাঝখানে থাকবে, যেন মাবুদের শরীয়ত তোমার ঠোঁটস্থ থাকে, কেননা মাবুদ তাঁর পরাক্রমশালী হাত দিয়ে মিসর থেকে তোমাকে বের করেছেন।
10 অতএব তুমি প্রতি বছর যথাসময়ে এই নিয়ম পালন করবে।
11
মাবুদ তোমার কাছে ও তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে যে কসম খেয়েছেন, সেই অনুসারে যখন কেনানীয়দের দেশে প্রবেশ করিয়ে তোমাকে সেই দেশ দেবেন,
12 তখন তুমি গর্ভজাত সমস্ত প্রথম ফল মাবুদের কাছে উপস্থিত করবে এবং তোমার পশুগুলোরও সমস্ত প্রথম গর্ভফলের মধ্যে পুরুষ-বাচ্চাটি মাবুদের হবে।
13 আর গাধার প্রত্যেক প্রথম গর্ভফলের মুক্তির জন্য তার পরিবর্তে ভেড়ার বাচ্চা দেবে; যদি সেটি মুক্ত না কর তবে তার গলা ভেঙে দেবে। তোমার পুত্রদের মধ্যে মানুষের প্রথমজাত সমস্ত সন্তানকে মুক্ত করতে হবে।
14
আর তোমার পুত্র ভবিষ্যতে যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, এটা কেন? তুমি বলবে, মাবুদ তাঁর পরাক্রমশালী হাত দিয়ে আমাদেরকে মিসর থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে বের করে আনলেন।
15 সেই সময় ফেরাউন আমাদেরকে ছেড়ে দেবার বিষয়ে নিষ্ঠুর হলে মাবুদ মিসর দেশে সমস্ত প্রথমজাতকে, মানুষের প্রথমজাত ও পশুর প্রথমজাতকে হত্যা করলেন। এজন্য আমাদের প্রথমজাত পুরুষ বাচ্চাগুলোকে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করি কিন্তু আমাদের প্রথমজাত পুত্রদেরকে মুক্ত করি।
16 এটি চিহ্নস্বরূপ তোমার হাতে ও ভূষণস্বরূপ তোমার দুই চোখের মাঝখানে থাকবে, কেননা মাবুদ তাঁর পরাক্রমশালী হাত দিয়ে আমাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনলেন।
17
আর ফেরাউন লোকদেরকে ছেড়ে দিলে পর, ফিলিস্তিনীদের দেশ দিয়ে সোজা পথ থাকলেও আল্লাহ্ সেই পথে তাদেরকে চালিয়ে নিলেন না, কেননা আল্লাহ্ বললেন, যুদ্ধ দেখলে আবার হয়তো লোকেরা অনুতাপ করে মিসরে ফিরে যেতে পারে!
18 অতএব আল্লাহ্ লোকদেরকে লোহিত সাগরের মরুভূমির পথ দিয়ে গমন করালেন; আর বনি-ইসরাইলরা রণসাজে সজ্জিত হয়ে মিসর দেশ থেকে যাত্রা করলো।
19 আর মূসা ইউসুফের অস্থি নিজের সঙ্গে নিলেন, কেননা তিনি বনি-ইসরাইলদেরকে দৃঢ় কসম খাইয়ে বলেছিলেন, আল্লাহ্ অবশ্য তোমাদের তত্ত্বাবধান করবেন, আর তোমরা তোমাদের সঙ্গে আমার অস্থি এই স্থান থেকে নিয়ে যাবে।
20
পরে তারা সুক্কোৎ থেকে যাত্রা করে মরুভূমির কিনারায় অবস্থিত এথমে শিবির স্থাপন করলো।
21 আর মাবুদ দিনে পথ দেখাবার জন্য মেঘস্তম্ভে থেকে এবং রাতে আলো দেবার জন্য অগ্নিস্তম্ভে থেকে তাদের অগ্রভাগে গমন করতেন যেন তারা দিনরাত চলতে পারে।
22 লোকদের সম্মুখ থেকে দিনের বেলায় মেঘস্তম্ভ ও রাতে অগ্নিস্তম্ভ স্থানান্তর হত না।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে বল, তোমরা ফেরো, পীহহীরোতের সম্মুখে মিগ্দোলের ও সমুদ্রের মধ্যস্থলে বাল্-সফোনের সম্মুখে শিবির স্থাপন কর; তোমরা তার সম্মুখে সমুদ্রের কাছে শিবির স্থাপন কর।
3 তাতে ফেরাউন বনি-ইসরাইলদের বিষয়ে বলবে, তারা দেশের মধ্যে অবরুদ্ধ হল, মরুভূমি তাদের পথ রুদ্ধ করলো।
4 আর আমি ফেরাউনের অন্তর কঠিন করবো, আর সে তোমাদের পিছনে ধাবমান হবে এবং আমি ফেরাউন ও তার সমস্ত সৈন্য দ্বারা মহিমান্বিত হব; আর মিসরীয়েরা জানতে পারবে যে, আমিই মাবুদ। তখন তারা সেরকম করলো।
5
পরে বনি-ইসরাইলরা পালিয়েছে, মিসরের বাদশাহ্কে এই সংবাদ দেওয়া হলে পর তাদের বিষয়ে ফেরাউন ও তাঁর কর্মকর্তাদের মনোভাব পাল্টে গেলো; তাঁরা বললেন, আমরা এ কি করলাম? আমাদের গোলামী থেকে ইসরাইলকে কেন ছেড়ে দিলাম?
6 তখন তিনি তাঁর রথ প্রস্তুত করালেন ও তাঁর লোকদেরকে সঙ্গে নিলেন।
7 আর মনোনীত ছয় শত রথ এবং মিসরের সমস্ত রথ ও সেগুলোর উপরে নিযুক্ত সেনানীদেরকে নিলেন।
8 তখন মাবুদ মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের অন্তর কঠিন করলেন, তাতে তিনি বনি-ইসরাইলদের পিছনে তাড়া করে গেলেন; তখন বনি-ইসরাইলেরা বিজয়ের সঙ্গে বের হচ্ছিল।
9 আর মিসরীয়েরা, ফেরাউনের সমস্ত ঘোড়া ও রথ এবং তাঁর ঘোড়সওয়ারা ও সৈন্যেরা তাদের পিছনে তাড়া করে আসল; আর বনি-ইসরাইল বাল্-সফোনের সম্মুখে পীহহীরোতের কাছে সমুদ্রতীরে শিবির স্থাপন করলে তাদের কাছে গিয়ে উপস্থিত হল।
10
ফেরাউন যখন নিকটবর্তী হলেন, তখন বনি-ইসরাইলেরা চেয়ে দেখলো যে, তাদের পিছনে পিছনে মিসরীয়েরা আসছে; তাতে তারা ভীষণ ভয় পেল, আর বনি-ইসরাইলেরা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল।
11 তখন তারা মূসাকে বললো, মিসরে কবর নেই বলে তুমি কি আমাদের নিয়ে আসলে, যেন আমরা মরুভূমিতে মারা যাই? তুমি আমাদের সঙ্গে এ কেমন ব্যবহার করলে? কেন আমাদেরকে মিসর থেকে বের করলে?
12 আমরা কি মিসর দেশে তোমাকে এই কথা বলি নি, আমাদেরকে থাকতে দাও, আমরা মিসরীয়দের গোলামী করি? কেননা মরুভূমিতে মরণের চেয়ে মিসরীয়দের গোলামী করা আমাদের মঙ্গল।
13 তখন মূসা লোকদেরকে বললেন, ভয় করো না, সকলে স্থির হয়ে দাঁড়াও। মাবুদ আজ তোমাদের কিভাবে নিস্তার করেন, তা দেখ; কেননা আজ যে মিসরীয়দেরকে তোমরা দেখতে পাচ্ছো, এদেরকে আর কখনই দেখবে না।
14 মাবুদ তোমাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করবেন, তোমরা কেবল নীরব থাক।
15
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি আমার কাছে কেন কান্নাকাটি করছো? বনি-ইসরাইলদেরকে অগ্রসর হতে বল।
16 আর তুমি তোমার লাঠি তুলে সমুদ্রের উপরে হাত বাড়িয়ে দাও, সমুদ্রকে দু’ভাগ কর; তাতে বনি-ইসরাইলেরা শুকনো পথে সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করবে।
17 আর দেখ, আমিই মিসরীয়দের অন্তর কঠিন করবো, তাতে তারা এদের পিছনে পিছনে প্রবেশ করবে এবং আমি ফেরাউনের, তার সমস্ত সৈন্যের, তার রথগুলোর ও তার ঘোড়সওয়ারদের দ্বারা মহিমান্বিত হবো।
18 আর ফেরাউন ও তার সমস্ত রথ ও তার ঘোড়সওয়ারদের দ্বারা আমি মহিমান্বিত হলে মিসরীয়েরা জানতে পারবে যে, আমিই মাবুদ।
19
তখন ইসরাইল সৈন্যদের আগে আল্লাহ্র যে ফেরেশতা ছিলেন তিনি সরে গিয়ে তাদের পিছনে গেলেন এবং মেঘস্তম্ভ তাদের সম্মুখ থেকে সরে গিয়ে তাদের পিছনে চলে গেলো।
20 মেঘস্তম্ভটি মিসরের শিবির ও ইসরাইলের শিবির, এই উভয়ের মধ্যে দাঁড়ালো। তাতে সেখানে মেঘ ও অন্ধকার থাকলো, তবু তা রাতে আলো দান করলো। এর ফলে সমস্ত রাতে এক দল অন্য দলের কাছে এলো না।
21
মূসা সমুদ্রের উপরে তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন, তাতে মাবুদ সমস্ত রাত প্রবল পূর্বীয় বায়ু দ্বারা সমুদ্রকে সরিয়ে দিলেন ও তা শুকনো ভূমি করলেন, তাতে পানি দু’ভাগ হয়ে গেলো।
22 আর বনি-ইসরাইলরা শুকনো পথে সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলো এবং তাদের ডানে ও বামে পানি প্রাচীর-স্বরূপ হল।
23 পরে মিসরীয়েরা, ফেরাউনের সমস্ত ঘোড়া ও রথ এবং ঘোড়সওয়াররা ধাবমান হয়ে তাদের পিছনে পিছনে সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলো।
24 কিন্তু রাতের শেষ প্রহরে মাবুদ আগুন ও মেঘস্তম্ভ থেকে মিসরীয়দের সৈন্যের উপরে দৃষ্টিপাত করলেন ও মিসরীয়দের সৈন্যদেরকে ভয় ধরিয়ে দিলেন।
25 আর তিনি তাদের রথের চাকাগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেন, তাতে তারা অতি কষ্টে রথ চালাতে লাগল; তখন মিসরীয়েরা বললো, চল, আমরা ইসরাইলের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাই, কেননা মাবুদ তাদের পক্ষ হয়ে মিসরীয়দের বিপক্ষে যুদ্ধ করছেন।
26
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি সমুদ্রের উপরে হাত বাড়িয়ে দাও; তাতে পানি ফিরে মিসরীয়দের উপরে ও তাদের রথের উপরে ও ঘোড়সওয়ারদের উপরে আসবে।
27 তখন মূসা সমুদ্রের উপরে হাত বাড়িয়ে দিলেন, আর সকাল হতে না হতে সমুদ্র পুনরায় সমান হয়ে গেল; তাতে মিসরীয়েরা তার দিকেই পালিয়ে গেল; আর মাবুদ সমুদ্রের মধ্যে মিসরীয়দেরকে ঠেলে দিলেন।
28 পানি ফিরে এলো ও তাদের রথ ও ঘোড়সওয়ারদেরকে গ্রাস করলো, তাতে ফেরাউনের যে সমস্ত সৈন্য তাদের পিছনে সমুদ্রে নেমেছিল তাদের এক জনও অবশিষ্ট রইলো না।
29 কিন্তু বনি-ইসরাইলরা শুকনো পথে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছিল এবং তাদের ডানে ও বামে পানি প্রাচীরস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
30
এভাবে সেদিন মাবুদ মিসরীয়দের হাত থেকে ইসরাইলকে উদ্ধার করলেন ও ইসরাইল মিসরীয়দেরকে সমুদ্রের ধারে মৃত পড়ে থাকতে দেখলো।
31 আর ইসরাইল মিসরীয়দের প্রতি কৃত মাবুদের মহৎ কাজ দেখলো, তাতে লোকেরা মাবুদকে ভয় করলো এবং মাবুদের ও তাঁর গোলাম মূসার উপর সম্পূর্ণ ঈমান রেখে চলতে লাগল।
1
তখন মূসা ও বনি-ইসরাইলেরা মাবুদের উদ্দেশে এই কাওয়ালী গাইলেন; তাঁরা বললেন,
আমি মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী গাইব;
কেননা তিনি মহিমান্বিত হলেন,
তিনি ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারদেরকে
সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন।
2
মাবুদ আমার বল ও আমার গান,
তিনি আমার উদ্ধার হলেন;
তিনি আমার আল্লাহ্,
আমি তাঁর প্রশংসা করবো;
আমার পিতৃকূলের আল্লাহ্,
আমি তাঁর প্রতিষ্ঠা করবো।
3
মাবুদ বীর যোদ্ধা;
মাবুদ তাঁর নাম।
4
তিনি ফেরাউনের রথগুলো ও
সৈন্যদলকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন;
তাঁর মনোনীত সেনানীরা লোহিত সাগরে
নিমজ্জিত হল।
5
পানির রাশি তাদেরকে আচ্ছাদন করলো;
তারা অগাধ পানিতে পাথরের মত
তলিয়ে গেল।
6
হে মাবুদ, তোমার ডান হাত
পরাক্রমে গৌরবান্বিত;
হে মাবুদ, তোমার ডান হাতখানা
দুশমন চূর্ণকারী।
7
তুমি নিজের মহিমার মহত্ত্বে,
যারা তোমার বিরুদ্ধে উঠে,
তাদেরকে নিপাত করে থাকো;
তোমার প্রেরিত জ্বলন্ত গজব
শুকনো ঘাসের মত
তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।
8
তোমার নাসিকার নিশ্বাসে পানি
রাশীকৃত হল;
সমস্ত স্রোত স্তূপের মত দণ্ডায়মান হল;
সমুদ্র-গর্ভে পানির রাশি ঘনীভূত হল।
9
দুশমন বলেছিল, আমি তাদের পিছনে
তাড়া করবো,
ওদের সঙ্গ ধরে,
লুণ্ঠিত বস্তু ভাগ করে নেব;
ওদের মধ্যে আমার অভিলাষ পূর্ণ হবে;
আমি তলোয়ার উন্মুক্ত করবো,
আমার হাত ওদের বিনাশ করবে।
10
তুমি নিজের বায়ু দ্বারা ফুঁ দিলে,
সমুদ্র তাদেরকে আচ্ছাদন করলো;
তারা প্রবল পানিতে সীসার মত
তলিয়ে গেল।
11
হে মাবুদ, দেবতাদের মধ্যে
কে তোমার মত?
কে তোমার মত পবিত্রতায় আদরণীয়,
প্রশংসায় বিস্ময়কর, আশ্চর্য ক্রিয়াকারী?
12
তুমি তোমার ডান হাত বাড়িয়ে দিলে,
দুনিয়া ওদেরকে গ্রাস করলো।
13
তুমি যে লোকদের মুক্ত করেছ,
তাদের তোমার অটল মহব্বত চালাচ্ছো,
তুমি তোমার পরাক্রমে তাদের
তোমার পবিত্র নিবাসে নিয়ে যাচ্ছ।
14
সমস্ত জাতি এসব শুনলো,
ভীষণ ভয়ে কাঁপতে লাগল,
ফিলিস্তিন-নিবাসীরা আতঙ্কগ্রস্ত
হয়ে পড়লো।
15
তখন ইদোমের দলপতিরা
ভয়ে দিশেহারা হল;
মোয়াবের নেতৃবর্গ কাঁপতে লাগল;
কেনান-নিবাসী সকলে গলে গেল।
16
ত্রাস ও আশংকা তাদের উপরে পড়ছে;
তোমার বাহুবলে তারা পাথরের মত
স্তব্ধ হয়ে আছে;
যাবৎ, হে মাবুদ, তোমার লোকেরা
উত্তীর্ণ না হয়,
যাবৎ তোমার ক্রয় করা লোকেরা
উত্তীর্ণ না হয়।
17
তুমি তাদেরকে নিয়ে যাবে,
তোমার অধিকার-পর্বতে রোপণ করবে,
হে মাবুদ, সেখানে তুমি তোমার
পবিত্র স্থান প্রস্তুত করেছ;
হে মাবুদ, সেখানে তোমার হাত
পবিত্র স্থান স্থাপন করেছে।
18
মাবুদ যুগে যুগে অনন্তকাল
রাজত্ব করবেন।
19
কেননা ফেরাউনের ঘোড়াগুলো তাঁর সমস্ত রথ ও ঘোড়সওয়ারেরা সহ সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলো, আর মাবুদ সমুদ্রের পানি তাদের উপরে ফিরিয়ে আনলেন; কিন্তু বনি-ইসরাইলেরা শুকনো পথে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে গমন করলো।
20
পরে হারুনের বোন মহিলা-নবী মরিয়ম হাতে তম্বুরা নিলেন এবং তাঁর পিছনে পিছনে অন্য স্ত্রীলোকেরা সকলে তম্বুরা নিয়ে নৃত্য করতে করতে বের হল।
21 তখন মরিয়ম লোকদের কাছে গাইলেন,
তোমরা মাবুদের উদ্দেশে গান কর;
কেননা তিনি মহামহিমান্বিত হলেন;
তিনি ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারকে
সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন।
22
আর মূসা ইসরাইলকে লোহিত সাগর থেকে এগিয়ে যেতে বললেন, তাতে তারা শূর মরুভূমিতে গমন করলো। আর তারা তিন দিন মরুভূমিতে যেতে যেতে পানি পেল না।
23 পরে তারা মারাতে উপস্থিত হল কিন্তু মারার পানি পান করতে পারল না, কারণ সেই পানি তিক্ত ছিল। এজন্য তার নাম মারা (তিক্ত) রাখা হল।
24 তখন লোকেরা মূসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললো, আমরা কি পান করবো?
25 তাতে তিনি মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলেন, আর মাবুদ তাঁকে একটা গাছ দেখালেন। তিনি তা নিয়ে পানিতে নিক্ষেপ করলে পানি মিষ্ট হল। সেই স্থানে মাবুদ ইসরাইলের জন্য বিধান ও শাসন নিরূপণ করলেন এবং তাদের পরীক্ষা নিলেন।
26 আর বললেন, তুমি যদি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কথায় সর্তকতার সঙ্গে মনোযোগ দাও, তাঁর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা-ই কর, তাঁর হুকুম মান্য কর ও তাঁর সমস্ত বিধি পালন কর তবে আমি মিসরীয়দের যে সমস্ত রোগে আক্রান্ত করেছিলাম, সেসব রোগ দ্বারা তোমাকে আক্রমণ করতে দেব না; কেননা আমি মাবুদ তোমার সুস্থতাকারী।
27
পরে তারা এলীমে উপস্থিত হল। সেই স্থানে পানির বারোটি ফোয়ারা ও সত্তরটি খেজুর গাছ ছিল। তারা সেই স্থানে পানির কাছে শিবির স্থাপন করলো।
1
পরে তারা এলীম থেকে যাত্রা করলো। আর মিসর দেশ থেকে প্রস্থান করার পর দ্বিতীয় মাসের পঞ্চদশ দিনে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল সীন মরুভূমিতে উপস্থিত হল, তা এলীমের ও তুর পর্বতের মধ্যবর্তী।
2 তখন বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল মরুভূমিতে মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো;
3 আর বনি-ইসরাইলেরা তাঁদেরকে বললো, হায়, হায়, আমরা মিসর দেশে মাবুদের হাতে কেন মরি নি? তখন মাংসের হাঁড়ির কাছে বসতাম, তৃপ্তি পর্যন্ত রুটি ভোজন করতাম, তোমরা তো এ দলটিকে ক্ষুধায় মেরে ফেলবার জন্য আমাদেরকে বের করে এই মরুভূমিতে নিয়ে এসেছো।
4
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, দেখ, আমি তোমাদের জন্য বেহেশত থেকে খাদ্যদ্রব্য বর্ষণ করবো। লোকেরা বাইরে গিয়ে প্রতিদিন সেই দিনের খাদ্য কুড়াবে; এভাবে, তারা আমার শরীয়ত অনুসারে চলবে কি না, এভাবে আমি তাদের পরীক্ষা নেব।
5 ষষ্ঠ দিনে তারা যা আনবে তা প্রস্তুত করলে প্রতিদিন যা কুড়ায় তার দ্বিগুণ হবে।
6 পরে মূসা ও হারুন সমস্ত বনি-ইসরাইলকে বললেন, সন্ধ্যা হলে তোমরা জানবে যে, মাবুদ তোমাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
7 আর সকাল হলে তোমরা মাবুদের মহিমা দেখতে পাবে, কেননা মাবুদের বিরুদ্ধে তোমাদের যে অভিযোগ, তা তিনি শুনেছেন। আমরা কে যে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কর?
8 পরে মূসা বললেন, মাবুদ সন্ধ্যা-বেলায় ভোজন করার জন্য তোমাদেরকে গোশ্ত দেবেন ও খুব ভোরে তৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত খাদ্য দেবেন। মাবুদের বিরুদ্ধে তোমরা যে অভিযোগ করছো, তা তিনি শুনেছেন। আমরা কে? তোমরা যে অভিযোগ করছো তা আমাদের বিরুদ্ধে নয়, মাবুদেরই বিরুদ্ধে করা হচ্ছে।
9
পরে মূসা হারুনকে বললেন, তুমি বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে বল, তোমরা মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত হও; কেননা তিনি তোমাদের অভিযোগ শুনেছেন।
10 পরে হারুন যখন বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে এটা বলছিলেন তখন তারা মরুভূমির দিকে মুখ ফিরালো; আর দেখ, মেঘস্তম্ভের মধ্যে মাবুদের মহিমা দেখা গেলো।
11 আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
12 আমি বনি-ইসরাইলদের অভিযোগ শুনেছি; তুমি তাদেরকে বল, সন্ধ্যাবেলা তোমরা গোশ্ত ভোজন করবে ও খুব ভোরে রুটিতে তৃপ্ত হবে; তখন জানতে পারবে যে, আমি মাবুদ, তোমাদের আল্লাহ্।
13
পরে সন্ধ্যাবেলা ভারুই পাখি উড়ে এসে শিবিরের এলাকাটা ঢেকে ফেলল এবং খুব ভোরে শিবিরের চারদিকে শিশির পড়লো।
14 পরে সেই শিশির শুকিয়ে গেল; আর দেখ, ভূমিতে তুষার কণার মত পাতলা ঝরঝেরে সূক্ষ্ম এক বস্তু মরুভূমির উপরে পড়ে রইলো।
15 আর তা দেখে বনি-ইসরাইল একে অপরকে বললো, ওটা কি? কেননা তা কি, তারা জানত না। তখন মূসা বললেন, ওটা সেই রুটি, যা মাবুদ তোমাদেরকে আহার করার জন্য দিয়েছেন।
16 এরই বিষয়ে মাবুদ এই হুকুম দিয়েছেন, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ভোজনশক্তি অনুসারে তা কুড়াও; তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুর লোকদের সংখ্যা অনুসারে একেক জনের জন্য একেক ওমর পরিমাণে এগুলো কুড়াও।
17 তাতে বনি-ইসরাইলেরা তা-ই করলো; কেউ বেশি আবার কেউ অল্প কুড়ালো।
18 পরে ওমরে তা মাপা হলে, যে বেশি সংগ্রহ করেছিল, তার অতিরিক্ত হল না এবং যে অল্প সংগ্রহ করেছিল, তার অভাব হল না; তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ভোজন ক্ষমতা অনুসারে কুড়িয়েছিল।
19 আর মূসা বললেন, তোমরা কেউ সকাল বেলার জন্য এর কিছু রেখো না।
20 তবুও কেউ কেউ মূসার কথা না মেনে সকাল বেলার জন্য কিছু কিছু রাখল, তখন তাতে কীট জন্মালো ও দুর্গন্ধ হল; আর মূসা তাদের উপরে ক্রুদ্ধ হলেন।
21 এভাবে প্রতিদিন খুব ভোরে তারা নিজ নিজ ভোজনশক্তি অনুসারে কুড়ালো কিন্তু রৌদ্র প্রখর হলে তা গলে যেত।
22
পরে ষষ্ঠ দিনে তারা দ্বিগুণ খাদ্য, প্রত্যেক জনের জন্য দুই ওমর করে কুড়ালো, আর বনি-ইসরাইলদের নেতৃবর্গেরা সকলে এসে মূসাকে তা জানালেন,
23 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, মাবুদ তা-ই বলেছিলেন; আগামীকাল বিশ্রামবার, মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র বিশ্রামবার; তোমাদের যা ভেজে নেবার ভেজে নাও ও যা রান্না করার রান্না কর; আর যা অতিরিক্ত, তা সকাল বেলার জন্য তুলে রাখ।
24 তাতে তারা মূসার হুকুম অনুসারে সকাল পর্যন্ত তা রাখল কিন্তু তাতে দুর্গন্ধ হল না, কীটও জন্মালো না।
25 পরে মূসা বললেন, আজ তোমরা এগুলোই ভোজন কর, কেননা আজ মাবুদের বিশ্রামবার; আজ মাঠে তা পাবে না।
26 তোমরা ছয় দিন তা কুড়াবে কিন্তু সপ্তম দিন বিশ্রামবার, সেদিন তা মিলবে না।
27
তবুও সপ্তম দিনে লোকদের মধ্যে কেউ কেউ তা কুড়াবার জন্য বের হল কিন্তু কিছুই পেল না।
28 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তোমরা আমার হুকুম ও নির্দেশ পালন করতে কত কাল অসম্মত থাকবে?
29 দেখ, মাবুদই তোমাদেরকে বিশ্রামবার দিয়েছেন, তাই তিনি ষষ্ঠ দিনে দুই দিনের খাদ্য তোমাদেরকে দিয়ে থাকেন; তোমাদের প্রত্যেক জন নিজ নিজ স্থানে থাক; সপ্তম দিনে কেউ নিজের স্থান থেকে বাইরে যাবে না।
30 তাতে লোকেরা সপ্তম দিনে বিশ্রাম করলো।
31 আর ইসরাইল-কুল ঐ খাদ্যের নাম ‘মান্না’ রাখল। সেগুলো ধনে বীজের মত, সাদা রংয়ের এবং তার স্বাদ মধু মিশানো পিঠার মত ছিল।
32
পরে মূসা বললেন, মাবুদ এই হুকুম করেছেন, তোমরা তোমাদের বংশধরদের জন্য এগুলো থেকে এক ওমর পরিমাণ তুলে রেখো, যাতে আমি তোমাদেরকে মিসর দেশ থেকে নিয়ে আসবার সময় মরুভূমির মধ্যে যে রুটি ভোজন করাতাম তারা তা দেখতে পায়।
33 তখন মূসা হারুনকে বললেন, তুমি একটা পাত্র নিয়ে পূর্ণ এক ওমর পরিমাণ মান্না মাবুদের সম্মুখে রাখ; তা তোমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য রাখা যাবে।
34 তখন মাবুদ মূসাকে যেরকম হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারে হারুন শরীয়ত-সিন্দুকের কাছে থাকবার জন্য তা তুলে রাখলেন।
35 বনি-ইসরাইলেরা চল্লিশ বছর, যে পর্যন্ত বসতি-এলাকায় উপস্থিত না হল, সেই পর্যন্ত সেই মান্না ভোজন করলো; সেই দেশের সীমাতে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তারা মান্না খেতো।
36 এক ওমর ঐফার দশমাংশ।
1
পরে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল সীন মরুভূমি থেকে যাত্রা করে মাবুদের হুকুম অনুসারে নির্ধারিত সমস্ত উত্তরণস্থান দিয়ে রফীদীমে গিয়ে শিবির স্থাপন করলো। সেই স্থানে লোকদের পান করার পানি ছিল না।
2 এজন্য লোকেরা মূসার সঙ্গে ঝগড়া করে বললো, আমাদেরকে পানি দাও, আমরা পান করবো। মূসা তাদেরকে বললেন, কেন আমার সঙ্গে ঝগড়া করছো? কেন মাবুদকে পরীক্ষা করছো?
3 তখন লোকেরা সেই স্থানে পানির পিপাসায় ব্যাকুল হল, আর মূসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললো, তুমি আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের ও পশুগুলোকে তৃষ্ণা দ্বারা মেরে ফেলতে মিসর থেকে কেন আনলে?
4 আর মূসা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করে বললেন, আমি এই লোকদের জন্য কি করবো? যে কোনো সময় এরা আমাকে পাথর মেরে হত্যা করবে।
5 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি লোকদের আগে যাও, ইসরাইলের কয়েক-জন প্রাচীনকে সঙ্গে নিয়ে, আর যা দিয়ে নদীতে আঘাত করেছিলে সেই লাঠি হাতে নিয়ে যাও।
6 দেখ, আমি হোরেবে সেই শৈলের উপরে তোমার সম্মুখে দাঁড়াবো; তুমি শৈলে আঘাত করবে, তাতে তা থেকে পানি বের হবে, আর লোকেরা পান করবে। তখন মূসা ইসরাইলের প্রাচীনদের সম্মুখে তা-ই করলেন।
7 তিনি সেই স্থানের নাম মঃসা ও মরীবা (পরীক্ষা ও ঝগড়া) রাখলেন, কেননা বনি-ইসরাইল ঝগড়া করেছিল এবং মাবুদকে পরীক্ষা করেছিল, বলেছিল, “মাবুদ আমাদের মধ্যে আছেন কি না?”
8
ঐ সময়ে আমালেক এসে রফীদীমে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল।
9 তাতে মূসা ইউসাকে বললেন, তুমি আমাদের জন্য লোক মনোনীত করে নাও, যাও, আমালেকের সঙ্গে যুদ্ধ কর; আগামীকাল আমি আল্লাহ্র লাঠি হাতে নিয়ে পর্বতের চূড়ায় দাঁড়াবো।
10 পরে ইউসা মূসার হুকুম অনুসারে কাজ করলেন, আমালেকের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন; আর মূসা, হারুন ও হূর পর্বতের চূড়ায় উঠলেন।
11 তখন এরকম হল, মূসা যখন নিজের হাত তুলে ধরেন, তখন ইসরাইল জয়ী হয় কিন্তু মূসা নিজের হাত নামালে আমালেক জয়ী হয়।
12 আর মূসার হাত ভারী হতে লাগল, তখন তাঁরা একখানি পাথর এনে তাঁর নিচে রাখলেন, আর তিনি তার উপরে বসলেন এবং হারুন ও হূর এক জন এক দিকে ও অন্যজন অন্য দিকে তাঁর হাত ধরে রাখলেন। তাতে সূর্য অস্তগত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর হাত স্থির থাকলো।
13 আর ইউসা আমালেককে ও তার লোকদেরকে তলোয়ার দ্বারা পরাজিত করলেন।
14
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, এই কথা স্মরণে রাখার জন্য কিতাবে লেখ এবং ইউসার কর্ণগোচরে আন; কেননা আমি আসমানের নিচে থেকে আমালেকের নাম নিঃশেষে মুছে ফেলবো।
15 পরে মূসা একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করে তার নাম ইয়াহ্-ওয়েহ্-নিঃষি (মাবুদ আমার নিশান) রাখলেন।
16 আর তিনি বললেন, মাবুদের সিংহাসনের উপরে হাত উত্তোলিত হয়েছে; পুরুষানুক্রমে আমালেকের সঙ্গে মাবুদের যুদ্ধ হবে।
1
আর, আল্লাহ্ মূসার পক্ষে ও তাঁর লোক ইসরাইলের পক্ষে যে সমস্ত কাজ করেছেন, মাবুদ ইসরাইলকে মিসর থেকে বের করে এনেছেন, এসব কথা মূসার শ্বশুর মাদিয়ানীয় ইমাম শোয়াইব শুনতে পেলেন।
2 তখন মূসার শ্বশুর শোয়াইব মূসার স্ত্রীকে, পিত্রালয়ে প্রেরিত সফুরাকে ও তাঁর দুই পুত্রকে সঙ্গে নিলেন।
3 ঐ দু’টি পুত্রের মধ্যে একজনের নাম গের্শোম (তত্রপ্রবাসী), কেননা তিনি বলেছিলেন, আমি পরদেশে প্রবাসী হয়েছি।
4 আর একজনের নাম ইলীয়েষর (আল্লাহ্ সহায়), কেননা তিনি বলেছিলেন, আমার পিতার আল্লাহ্ আমার সহায় হয়ে ফেরাউনের তলোয়ার থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন।
5 মূসার শ্বশুর শোয়াইব তাঁর দুই পুত্র ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মরুভূমিতে মূসার কাছে, আল্লাহ্র পর্বতে যে স্থানে তিনি শিবির স্থাপন করেছিলেন, সেই স্থানে আসলেন।
6 আর তিনি মূসাকে বললেন, আমি তোমার শ্বশুর শোয়াইব এবং তোমার স্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে তার দুই পুত্র, আমরা তোমার কাছে এসেছি।
7 তখন মূসা তাঁর শ্বশুরের সঙ্গে দেখা করতে বাইরে গেলেন ও ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম জানিয়ে তাঁকে চুম্বন করলেন এবং একে অপরের কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। পরে তাঁরা তাঁবুতে প্রবেশ করলেন।
8 আর মাবুদ ইসরাইলের জন্য ফেরাউনের প্রতি ও মিসরীয়দের প্রতি যা যা করেছিলেন এবং পথে তাদের যে যে কষ্ট ঘটেছিল ও মাবুদ যেভাবে তাদেরকে উদ্ধার করেছিলেন, সেসব বৃত্তান্ত মূসা তাঁর শ্বশুরকে বললেন।
9 মাবুদ মিসরীয়দের হাত থেকে ইসরাইলকে উদ্ধার করে তাদের যে সমস্ত মঙ্গল করেছিলেন, সেজন্য শোয়াইব আনন্দিত হলেন।
10
তখন শোয়াইব বললেন, মাবুদ ধন্য হোন, যিনি মিসরীয়দের হাত থেকে ও ফেরাউনের হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করেছেন, যিনি মিসরীয়দের অধীনতা থেকে এই লোকদেরকে উদ্ধার করেছেন।
11 এখন আমি জানি সমস্ত দেবতা থেকে মাবুদ মহান; সেই বিষয়ে মহান, যে বিষয়ে ওরা এদের বিপক্ষে গর্ব করতো।
12 পরে মূসার শ্বশুর শোয়াইব আল্লাহ্র উদ্দেশে পোড়ানো কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানী উপস্থিত করলেন এবং হারুন ও ইসরাইলের সমস্ত প্রাচীন ব্যক্তিবৃন্দ এসে আল্লাহ্র সম্মুখে মূসার শ্বশুরের সঙ্গে আহার করলেন।
13
পরদিন মূসা লোকদের বিচার করতে বসলেন, আর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকেরা মূসার কাছে দাঁড়িয়ে রইলো।
14 তখন লোকদের প্রতি মূসা যা যা করছেন, তাঁর শ্বশুর তা দেখে বললেন, তুমি লোকদের প্রতি এ কেমন ব্যবহার করছো? কেন তুমি একাকী আসনে বসে থাক, আর সমস্ত লোক সকাল থেকে সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত তোমার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে?
15 মূসা তাঁর শ্বশুরকে বললেন, লোকেরা খোদায়ী বিচার কি তা জানবার জন্য আমার কাছে আসে;
16 তাদের কোন ঝগড়া হলে তা আমার কাছে উপস্থিত হয়, আর আমি বাদী ও বিবাদীর বিচার করি এবং আল্লাহ্র বিধি ও সমস্ত শরীয়ত তাদেরকে জানাই।
17 তখন মূসার শ্বশুর বললেন, তোমার এই কাজ ভাল নয়।
18 এতে তুমি এবং তোমার সঙ্গী এই লোকেরাও ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কেননা এই কাজ তোমার শক্তি থেকে ভারী; এই কাজ একাকী সম্পন্ন করা তোমার অসাধ্য।
19 এখন আমার কথায় মনোযোগ দাও; আমি তোমাকে পরামর্শ দিই, আর আল্লাহ্ তোমার সহবর্তী হোন। তুমি আল্লাহ্র সম্মুখে লোকদের পক্ষে প্রতিনিধি হও এবং তাদের বিচার আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত কর,
20 আর তাদেরকে বিধি ও শরীয়তের উপদেশ দাও এবং তাদের গন্তব্য পথ ও কর্তব্য কাজ বুঝিয়ে দাও।
21 এছাড়া, তুমি এই লোকদের মধ্য থেকে কর্মদক্ষ পুরুষদেরকে, আল্লাহ্ভীরু, সত্যবাদী ও অন্যায়-লাভ-ঘৃণাকারী ব্যক্তিদেরকে মনোনীত করে লোকদের উপরে সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চাশপতি ও দশপতি করে নিযুক্ত কর।
22 তাঁরা সব সময়ে লোকদের বিচার করবেন; বড় বড় সমস্ত বিচার তোমার কাছে আনবেন কিন্তু ক্ষুদ্র বিচারগুলো তাঁরাই করবেন। তাতে তোমার কাজ লঘু হবে আর তাঁরা তোমার সঙ্গে ভার বইবেন।
23 তুমি যদি এরকম কর এবং আল্লাহ্ তোমাকে এরকম হুকুম দেন তবে তুমি সইতে পারবে এবং এসব লোকও সহিসালামতে তাদের স্থানে গমন করবে।
24
তাতে মূসা তাঁর শ্বশুরের কথায় মনোযোগ দিলেন এবং তিনি যা কিছু বললেন, সেই অনুসারে কাজ করলেন।
25 ফলত মূসা সমস্ত ইসরাইল থেকে কর্মদক্ষ পুরুষদেরকে মনোনীত করে লোকদের উপরে প্রধান, অর্থাৎ সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চাশপতি ও দশপতি করে নিযুক্ত করলেন।
26 তাঁরা সব সময়ে লোকদের বিচার করতেন; কঠিন বিচারগুলো মূসার কাছে আনতেন কিন্তু সাধারণ বিষয়গুলোর বিচার তাঁরাই করতেন।
27
পরে মূসা তাঁর শ্বশুরকে বিদায় করলে তিনি স্বদেশে প্রস্থান করলেন।
1
মিসর দেশ থেকে বনি-ইসরাইলদের বের হবার পর তৃতীয় মাসে, (প্রথম) দিনেই তারা সিনাই মরুভূমিতে উপস্থিত হল।
2 তারা রফীদীম থেকে যাত্রা করে সিনাই মরুভূমিতে উপস্থিত হয়ে ইসরাইলরা সেই স্থানে পর্বতের সম্মুখে শিবির স্থাপন করলো।
3 পরে মূসা আল্লাহ্র কাছে গেলেন, আর মাবুদ পর্বত থেকে তাঁকে ডেকে বললেন, তুমি ইয়াকুবের কুলকে এই কথা বল ও বনি-ইসরাইলদেরকে এটা জানাও।
4 আমি মিসরীয়দের প্রতি যা করেছি এবং যেমন ঈগল পাখি পাখা দ্বারা করে, তেমনি তোমাদেরকে বয়ে আমার কাছে এনেছি, তা তোমরা দেখেছো।
5 এখন যদি তোমরা আমার কথা মান্য কর ও আমার নিয়ম পালন কর তবে তোমরা সমস্ত জাতির মধ্য থেকে আমার নিজস্ব অধিকার হবে, কেননা সমস্ত দুনিয়া আমার।
6 আর আমার জন্য তোমরাই ইমামদের একটি রাজ্য ও পবিত্র একটি জাতি হবে। এসব কথা তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে বল।
7
তখন মূসা এসে লোকদের প্রাচীন ব্যক্তিবর্গকে ডাকালেন ও মাবুদ তাঁকে যা যা হুকুম করেছিলেন, সেসব কথা তাদের সম্মুখে প্রস্তাব করলেন।
8 তাতে লোকেরা সকলেই একসঙ্গে বললো, মাবুদ যা কিছু বলেছেন, আমরা সমস্তই করবো। তখন মূসা মাবুদের কাছে লোকদের কথা নিবেদন করলেন।
9 আর মাবুদ মূসাকে বললেন, দেখ, আমি নিবিড় মেঘে তোমার কাছে আসবো, যেন লোকেরা তোমার সঙ্গে আমার আলাপ শুনতে পায় এবং তোমার উপর চিরকাল ঈমান রাখে। পরে মূসা লোকদের কথা মাবুদকে বললেন।
10
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি লোকদের কাছে গিয়ে আজ ও আগামীকাল তাদেরকে পাক-পবিত্র কর এবং তারা নিজ নিজ পোশাক ধুয়ে নিক,
11 আর তৃতীয় দিনের জন্য সকলে প্রস্তুত হোক; কেননা তৃতীয় দিনে মাবুদ সব লোকের সাক্ষাতে তুর পর্বতের উপরে নেমে আসবেন।
12 আর তুমি লোকদের চারদিকে সীমা নিরূপণ করে এই কথা বলো, তোমরা সাবধান, পর্বতে আরোহণ কিংবা তার সীমা সপর্শ করো না; যে কেউ পর্বত সপর্শ করবে, অবশ্যই তার প্রাণদণ্ড হবে।
13 কোন হাত তাকে সপর্শ করবে না কিন্তু সে অবশ্য পাথরের আঘাতে নিহত কিংবা তীর দ্বারা বিদ্ধ হবে; পশু কিংবা মানুষ সে যাই হোক না কেন সে বাঁচবে না। অনেকক্ষণ তূরীবাদ্য হলে পর তারা পর্বতে উঠবে।
14
পরে মূসা পর্বত থেকে নেমে লোকদের কাছে এসে তাদেরকে পাক-পবিত্র করলেন এবং তারা নিজ নিজ পোশাক ধুয়ে নিল।
15 পরে তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা তৃতীয় দিনের জন্য প্রস্তুত হও; কোন স্ত্রীলোকের কাছে যেও না।
16
পরে তৃতীয় দিন প্রভাত হলে মেঘ-গর্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হতে লাগল; তাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপতে লাগল।
17 পরে মূসা আল্লাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য লোকদেরকে শিবির থেকে বের করলেন, আর তারা পর্বতের তলদেশে দণ্ডায়মান হল;
18 তখন সমস্ত তুর পর্বত ধোঁয়ায় ভরা ছিল; কেননা মাবুদ আগুনের মধ্যে তার উপরে নেমে আসলেন, আর ভাটির ধোঁয়া মত তা থেকে ধোঁয়া উঠতে লাগল এবং সমস্ত পর্বত ভীষণ কাঁপতে লাগল।
19 আর তূরীর আওয়াজ ক্রমশ অতিশয় বৃদ্ধি পেতে লাগল; তখন মূসা কথা বললেন এবং আল্লাহ্ বজ্রের মত আওয়াজ দ্বারা তাঁকে জবাব দিলেন।
20 আর মাবুদ তুর পর্বতে, পাহাড়ের চূড়ায়, নেমে আসলেন এবং মাবুদ মূসাকে সেই পাহাড়ের চূড়ায় ডাকলেন; তাতে মূসা উঠে গেলেন।
21 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি নেমে গিয়ে লোকদেরকে দৃঢ়ভাবে হুকুম কর, যেন তারা মাবুদকে দেখবার জন্য সীমা লঙ্ঘন করে তাঁর দিকে না যায় ও অনেকে মারা না পড়ে।
22 আর ইমামেরা, যারা মাবুদের নিকটবর্তী হয়ে থাকে, তারাও যেন নিজেদের পাক-পবিত্র করে, অন্যথায় মাবুদ তাদেরকে আক্রমণ করবেন।
23 তখন মূসা মাবুদকে বললেন, লোকেরা তুর পর্বতে উঠে আসতে পারে না, কেননা তুমি দৃঢ়ভাবে হুকুম দিয়ে আমাদেরকে বলেছো, পর্বতের সীমা নিরূপণ কর ও তা পবিত্র কর।
24 আর মাবুদ তাঁকে বললেন, যাও, নেমে যাও; পরে হারুনকে সঙ্গে করে তুমি উঠে এসো কিন্তু ইমামেরা ও লোকেরা মাবুদের কাছে উঠে আসার জন্য যেন সীমা লঙ্ঘন না করে, পাছে তিনি তাদেরকে আক্রমণ করেন।
25 তখন মূসা লোকদের কাছে নেমে গিয়ে তাদেরকে এই কথাগুলো বললেন।
1
আল্লাহ্ এ সব কথা বললেন,
2 আমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি মিসর দেশ থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে, তোমাকে বের করে আনলেন।
3
আমার সাক্ষাতে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক।
4
তুমি তোমার জন্য খোদাই করা মূর্তি তৈরি করো না; উপরিস্থ বেহেশতে নিচস্থ দুনিয়াতে ও দুনিয়ার নিচস্থ পানির মধ্যে যা যা আছে, তাদের কোন মূর্তি তৈরি করো না;
5 তুমি তাদের কাছে সেজ্দা করো না এবং তাদের সেবা করো না; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ আমি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্-যোগী আল্লাহ্; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদের উপরে বর্তাই, যারা আমাকে অগ্রাহ্য করে, তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বর্তাই;
6 কিন্তু যারা আমাকে মহব্বত করে ও আমার সমস্ত হুকুম পালন করে, আমি তাদের হাজার পুরুষ পর্যন্ত আমি অটল মহব্বত প্রকাশ করি।
7
তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নাম অনর্থক নিও না, কেননা যে কেউ তাঁর নাম অনর্থক নেয়, মাবুদ তাকে দোষী করবেন।
8
তুমি বিশ্রামবার স্মরণ করে পবিত্র করো।
9 ছয় দিন পরিশ্রম করো, তোমার সমস্ত কাজ করো;
10 কিন্তু সপ্তম দিন তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রামবার। সেদিন তুমি বা তোমার পুত্র বা কন্যা, বা তোমার গোলাম বা বাঁদী, বা তোমার পশু, বা তোমার তোরণদ্বারের মধ্যবর্তী বিদেশী, কেউ কোন কাজ করো না।
11 কেননা মাবুদ আসমান ও দুনিয়া, সমুদ্র ও সেই সবের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্মাণ করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম করলেন। এজন্য মাবুদ বিশ্রামবারকে দোয়া ও পবিত্র করলেন।
12
তোমার পিতা ও মাতাকে সমাদর করো, যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দেবেন, সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
13
খুন করো না।
14
জেনা করো না।
15
চুরি করো না।
16
তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
17
তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে লোভ করো না; প্রতিবেশীর স্ত্রীর প্রতি, কিংবা তার গোলাম বা বাঁদীর প্রতি, কিংবা তার গরুর উপর বা গাধার উপর, প্রতিবেশীর কোন বস্তুতেই লোভ করো না।
18
তখন সমস্ত লোক মেঘ-গর্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধ্বনি ও ধোঁয়ায় ভরা পর্বত দেখে ভয় পেল এবং দূরে দাঁড়িয়ে রইলো।
19 আর তারা মূসাকে বললো, তুমিই আমাদের সঙ্গে কথা বল, আমরা শুনব; কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের সঙ্গে কথা না বলুন, পাছে আমরা মারা পড়ি।
20 মূসা লোকদেরকে বললেন, ভয় করো না; কেননা তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য এবং তোমরা যেন গুনাহ্ না কর, এজন্য তাঁর ভয়াবহতা তোমাদের দৃষ্টিগোচর করার জন্য আল্লাহ্ এসেছেন।
21 তখন লোকেরা দূরে দাঁড়িয়ে রইলো; আর মূসা সেই ঘোর অন্ধকারের কাছে গমন করলেন, যেখানে আল্লাহ্ ছিলেন।
22
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি বনি-ইসরাইলকে এই কথা বল, তোমরা নিজেরাই শুনলে, আমি আসমান থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বললাম।
23 তোমরা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু তৈরি করো না; তোমাদের জন্য রূপার দেবমূর্তি বা সোনার দেবমূর্তি তৈরি করো না।
24
তুমি আমার জন্য মাটির একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করবে এবং তার উপরে তোমার পোড়ানো-কোরবানী, মঙ্গল-কোরবানী, তোমার ভেড়া ও তোমার গরু কোরবানী করবে। আমি যে যে স্থানে আমার নাম স্মরণ করাবো, সেই সেই স্থানে তোমার কাছে এসে তোমাকে দোয়া করবো।
25 তুমি যদি আমার জন্য পাথরের কোরবানগাহ্ তৈরি কর তবে খোদাই করা পাথর দিয়ে তা তৈরি করো না, কেননা তার উপরে অস্ত্র তুললে তুমি তা নাপাক করবে।
26 আর আমার কোরবানগাহ্র উপরে সিঁড়ি দিয়ে উঠবে না, তা করলে হয়তো তার উপরে তোমার নগ্নতা প্রকাশ পাবে।
1
তুমি এসব শাসন তাদের সম্মুখে রাখবে।
2
তুমি ইবরানী গোলাম ক্রয় করলে সে ছয় বছর গোলামী করবে, পরে সপ্তম বছরে বিনামূল্যে মুক্ত হয়ে চলে যাবে।
3 সে যদি একাকী আসে তবে একাকী যাবে; আর যদি সস্ত্রীক আসে তবে তার স্ত্রীও তার সঙ্গে যাবে।
4 যদি তার মালিক তার বিয়ে দেয় এবং সেই স্ত্রী তার জন্য পুত্র বা কন্যা প্রসব করে তবে সেই স্ত্রী ও তার সন্তানদের উপরে তার মালিকের স্বত্ব থাকবে, সে একাকী চলে যাবে।
5 কিন্তু ঐ গোলাম যদি স্পষ্টভাবে বলে, আমি আমার মালিক এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানদেরকে ভালবাসি, মুক্ত হয়ে চলে যাব না,
6 তা হলে তার মালিক তাকে আল্লাহ্র কাছে নিয়ে যাবে এবং সে তাকে কপাটের কিংবা বাজুর কাছে উপস্থিত করবে। সেই স্থানে তার মালিক গুঁজি দ্বারা তার কান বিদ্ধ করবে; তাতে সে চিরকাল সেই মালিকের গোলাম থাকবে।
7
আর কেউ যদি আপন কন্যাকে বাঁদী হিসেবে বিক্রি করে তবে গোলামেরা যেমন যায়, সে সেরকম যাবে না।
8 তার মালিক তাকে নিজের জন্য নিরূপণ করলেও যদি তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তবে সে তাকে মুক্ত হতে দেবে; তার সঙ্গে প্রবঞ্চনা করাতে অন্য জাতির কাছে তাকে বিক্রি করার অধিকার তার হবে না।
9 আর যদি সে আপন পুত্রের জন্য তাকে নিরূপণ করে তবে সে তার সঙ্গে কন্যার মত ব্যবহার করবে।
10 যদি সেই পুত্র অন্য আর এক জন স্ত্রীকেও বিয়ে করে তবে ওর খোরাক-পোশাক এবং সহবাসের বিষয় ত্রুটি করতে পারবে না।
11 আর যদি সে তার প্রতি এই তিনটি কর্তব্য না করে তবে সেই স্ত্রী অমনি মুক্ত হয়ে চলে যাবে; টাকা লাগবে না।
12
কেউ যদি কোন মানুষকে এমন আঘাত করে যে, তার মৃত্যু হয় তবে অবশ্য প্রাণদণ্ড হবে।
13 আর যদি কোন ব্যক্তি অন্যকে খুন করতে চেষ্টা না করে কিন্তু আল্লাহ্ তাকে তার হাতে তুলে দেন তবে যে স্থানে সে পালাতে পারে, এমন স্থান আমি তার জন্য নিরূপণ করবো।
14 কিন্তু যদি কেউ দুঃসাহস করে ছলে তার প্রতিবেশীকে খুন করার জন্য তার উপর চড়াও হয় তবে সেই ব্যক্তি যদি কোরবানগাহ্র কাছে গিয়েও আশ্রয় নেয় তবে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে তার প্রাণদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
15
আর যে কেউ তার পিতাকে বা তার মাতাকে প্রহার করে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
16
আর কেউ যদি কোন মানুষকে চুরি করে বিক্রি করে, কিংবা তার হাতে যদি তাকে পাওয়া যায় তবে তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
17
আর যে কেউ তার পিতা বা তার মাতাকে বদদোয়া দেয় তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
18
আর মানুষেরা ঝগড়া করে এক জন অন্যকে পাথরের আঘাত কিংবা ঘুষি মারলে সে যদি না মারা গিয়ে বিছানায় পড়ে থাকে,
19 আর তারপর উঠে লাঠি অবলম্বন করে বাইরে বেড়ায় তবে সেই আঘাতকারী দণ্ড পাবে না; কেবল তার কর্মক্ষতির ও চিকিৎসার ব্যয় তাকে দিতে হবে।
20
আর কেউ তার গোলামকে কিংবা বাঁদীকে লাঠি দ্বারা প্রহার করলে সে যদি তার হাতে মারা যায় তবে সে অবশ্য দণ্ডনীয় হবে।
21 কিন্তু সে যদি দু’এক দিন বাঁচে তবে তার মালিক দণ্ড ভোগ করবে না, কেননা সে তার সম্পত্তিস্বরূপ।
22
আর পুরুষেরা ঝগড়া করে কোন গর্ভবতী স্ত্রীকে প্রহার করলে যদি তার গর্ভপাত হয় কিন্তু পরে আর কোন বিপদ না ঘটে তবে ঐ স্ত্রীর স্বামীর দাবী অনুসারে অবশ্যই তার অর্থদণ্ড হবে ও সে বিচারকদের বিচার অনুযায়ী টাকা দেবে।
23 কিন্তু যদি কোন বিপদ ঘটে তবে তোমাকে এই দায় পরিশোধ করতে হবে;
24 প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, হাতের বদলে হাত, পায়ের বদলে পা,
25 পোড়ানোর বদলে পোড়ানো, ক্ষতের বদলে ক্ষত, কালশিরার বদলে কালশিরা।
26
আর কেউ তার গোলাম বা বাঁদীর চোখে আঘাত করলে যদি তা নষ্ট হয় তবে তার চোখ নষ্ট হওয়ার জন্য সে তাকে মুক্ত করবে।
27 আর আঘাত দ্বারা তার গোলাম কিংবা বাঁদীর দাঁত ভেঙে ফেললে ঐ দাঁতের জন্য সে তাকে মুক্ত করবে।
28 আর কোন গরু যদি কোন পুরুষ বা স্ত্রীকে শিং দিয়ে আঘাত করলে পর মারা যায় তবে ঐ গরু অবশ্যই পাথরের আঘাতে মেরে ফেলতে হবে এবং তার গোশ্ত অখাদ্য হবে; কিন্তু গরুর মালিক দণ্ড পাবে না।
29
তবে সেই গরুটি আগে শিং দিয়ে আঘাত করতো, এর প্রমাণ পেলেও তার মালিক তাকে সাবধানে না রাখাতে যদি সে কোন পুরুষ কিংবা স্ত্রীকে হত্যা করে তবে সে গরু পাথরের আঘাতে হত্যা করা যাবে এবং তার মালিকেরও প্রাণদণ্ড হবে।
30 যদি তার জন্য কাফ্ফারা নির্ধারিত হয় তবে সে প্রাণের মুক্তির জন্য নির্ধারিত সমস্ত মূল্য দেবে।
31 তার গরু যদি কারো পুত্র বা কন্যাকে শিং দিয়ে আঘাত করে তবে ঐ বিচারানুসারে তার প্রতি করা হবে।
32 আর তার গরু যদি কারো গোলাম কিংবা বাঁদীকে শিং দিয়ে আঘাত করে তবে সে তার মালিককে ত্রিশ শেকল রূপা দেবে এবং গরুটিকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে।
33
আর কেউ যদি কোন কূপ অনাবৃত করে, কূপ খনন করে আবৃত না করে তবে তার মধ্যে কোন গরু কিংবা গাধা পড়লে,
34 সেই কূপের মালিক ক্ষতিপূরণ দেবে, সে পশুর মালিককে মূল্য দেবে কিন্তু ঐ মৃত পশু তারই হবে।
35
আর, একজনের গরু অন্য জনের গরুকে শিং দিয়ে আঘাত করলে সেটা যদি মারা যায় তবে তারা জীবিত গরু বিক্রি করে তার মূল্য দু’ভাগ করবে এবং ঐ মৃত গরুও দু’ভাগ করে নেবে।
36 কিন্তু যদি জানা যায়, সেই গরু আগে শিং দিয়ে আঘাত করতো ও তার মালিক তাকে সাবধানে রাখে নি তবে সে তার পরিবর্তে অন্য গরু দেবে কিন্তু মৃত গরু তারই হবে।
1
যে কেউ গরু কিংবা ভেড়া চুরি করে হত্যা করে, কিংবা বিক্রি করে, সে একটি গরুর বদলে পাঁচটি গরু ও একটি ভেড়ার বদলে চারটি ভেড়া দেবে।
2 আর চোর যদি সিঁধ কাটার সময়ে ধরা পড়ে আহত হয় ও মারা পড়ে তবে তার জন্য রক্তপাতের দোষ হবে না।
3 যদি তার উপরে সূর্য উদিত হয় তবে রক্তপাতের দোষ হবে। ক্ষতিপূরণ করা চোরের কর্তব্য, যদি তার কিছু না থাকে তবে চুরির দরুন সে নিজেই বিক্রি হয়ে যাবে।
4 গরু, গাধা বা ভেড়া, চুরির কোন বস্তু যদি চোরের হাতে জীবিত পাওয়া যায় তবে সে তার দ্বিগুণ ফেরত দেবে।
5
যদি কেউ শস্যক্ষেত কিংবা আঙ্গুর-ক্ষেতে পশু চরায়, আর তার পশু ছেড়ে দিলে যদি তা অন্যের ক্ষেতে চরে তবে সেই ব্যক্তি নিজের ক্ষেতের উত্তম শস্য কিংবা নিজের আঙ্গুর-ক্ষেতের উত্তম ফল দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেবে।
6
কোন জায়গা থেকে যদি আগুন উঠে কাঁটাবনে লেগে কারো শস্যরাশি কিংবা শস্যের ঝাড় কিংবা ক্ষেত পুড়ে যায় তবে সেই যে আগুন জ্বালিয়ে ছিল সে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেবে।
7
কেউ টাকা কিংবা জিনিসপত্র তার প্রতিবেশীর কাছে গচ্ছিত রাখলে যদি তার বাড়ি থেকে কেউ তা চুরি করে এবং সেই চোর ধরা পড়ে তবে সে তার দ্বিগুণ দেবে।
8 যদি চোর ধরা না পড়ে তবে বাড়ির মালিক প্রতিবেশীর দ্রব্যে হাত দিয়েছে কি না, তা জানবার জন্য তাকে আল্লাহ্র সাক্ষাতে আনা হবে।
9
সমস্ত রকমের অপরাধের বিষয়ে, অর্থাৎ গরু কিংবা গাধা কিংবা ভেড়া কিংবা পরনের কাপড়, বা কোন হারানো বস্তুর বিষয়ে যদি কেউ বলে, এটা সেই দ্রব্য তবে উভয়ের কথা আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হবে। আল্লাহ্ যাকে দোষী করবেন, সে তার প্রতিবেশীকে তার দ্বিগুণ দেবে।
10
কেউ যদি তার গাধা কিংবা গরু কিংবা ভেড়া কিংবা কোন পশু প্রতিবেশীর কাছে পালন করার জন্য রাখে এবং লোকের অগোচরে সে পশু মারা যায়, বা আঘাত পায়, কিংবা কেড়ে নেওয়া হয়,
11 তবে ‘আমি প্রতিবেশীর দ্রব্যে হাত দিই নি’, এই বলে এক জন অন্য জনের কাছে মাবুদের নামে কসম করবে, আর পশুর মালিক সেই কসম গ্রাহ্য করবে। ঐ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দেবে না।
12 কিন্তু যদি তার কাছ থেকে তা চুরি হয়ে যায় তবে সে তার মালিককে ক্ষতিপূরণ দেবে।
13 যদি সেটি কেটে ফেলা হয় তবে সে প্রমাণ করার জন্য তা উপস্থিত করুক; সেই কেটে ফেলা পশুর জন্য সে ক্ষতিপূরণ দেবে না।
14
আর কেউ যদি তার প্রতিবেশীর পশু চেয়ে নেয় ও তার মালিক তার সঙ্গে না থাকবার সময়ে সেই পশু আহত হয় কিংবা মারা যায় তবে সে অবশ্য ক্ষতিপূরণ দেবে।
15 যদি তার মালিক তার কাছে থাকে তবে সে ক্ষতিপূরণ দেবে না; তা যদি ভাড়া করা পশু হয় তবে তার ভাড়াতে শোধ হল।
16
আর কাবিন হয় নি এমন কুমারীকে ভুলিয়ে কেউ যদি তার সঙ্গে শয়ন করে তবে সে অবশ্য বিয়ের মোহরানা দিয়ে তাকে বিয়ে করবে।
17 যদি সেই ব্যক্তির সঙ্গে আপন কন্যার বিয়ে দিতে পিতা নিতান্ত অসম্মত হয় তবে বিয়ের মোহরানার ব্যবস্থা অনুসারে তাকে রূপা দিতে হবে।
18
তুমি জাদুকারিণীকে জীবিত রেখো না।
19
পশুর সঙ্গে জেনাকারী ব্যক্তির অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
20
যে ব্যক্তি কেবল মাবুদ ছাড়া কোন দেবতার কাছে কোরবানী করে, সে সমপূর্ণ-ভাবে বিনষ্ট হবে।
21
তুমি বিদেশীর প্রতি অন্যায় করো না, তার প্রতি জুলুম করো না, কেননা মিসর দেশে তোমরাও বিদেশী ছিলে।
22 তোমরা কোন বিধবাকে কিংবা এতিমকে দুঃখ দিও না।
23 তাদেরকে কোনভাবে দুঃখ দিলে যদি তারা আমার কাছে কান্নাকাটি করে তবে আমি অবশ্যই তাদের কান্নায় সাড়া দেব।
24 আর তাতে আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে এবং আমি তোমাদেরকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করবো, তাতে তোমাদের স্ত্রীরা বিধবা ও তোমাদের সন্তানেরা এতিম হবে।
25
তুমি যদি আমার লোকদের মধ্যে তোমার স্বজাতির কোন দীন-দুঃখীকে টাকা ধার দাও তবে তার কাছে সুদখোরের মত হয়ো না; তোমরা তার উপরে সুদ চাপাবে না।
26 যদি তুমি তোমার প্রতিবেশীর গায়ের চাদর বন্ধক রাখ তবে সূর্যাস্তের আগে তা ফিরিয়ে দিও;
27 কেননা তা তার একমাত্র আচ্ছাদন, তার গায়ে দেবার কাপড়; সে কিসে শয়ন করবে? আর যদি সে আমার কাছে কান্নাকাটি করে তবে আমি তার কান্না শুনব, কেননা আমি মমতায় পূর্ণ।
28
তুমি আল্লাহ্র কুফরী করো না এবং স্বজাতির লোকদের নেতাকে বদদোয়া দিও না।
29
তোমার পাকা শস্য ও আঙ্গুর-রস নিবেদন করতে বিলম্ব করো না। তোমার প্রথমজাত পুত্রদের আমাকে দিও।
30 তোমার গরু ও ভেড়া সম্বন্ধেও সেই রকম করো; তা সাত দিন তার মায়ের সঙ্গে থাকবে, অষ্টম দিনে তুমি তা আমাকে দিও।
31
আর তোমরা আমার উদ্দেশে পবিত্র লোক হবে; ক্ষেতে মারা গিয়ে পরে থাকা কোন পশুর গোশ্ত খাবে না; তা কুকুরদের কাছে ফেলে দেবে।
1
তুমি মিথ্যা গুজব ছড়াবে না; অন্যায় সাক্ষী হয়ে দুর্জনের সহায়তা করো না।
2
তুমি দুষ্কর্ম করার জন্য বহু লোকের অনুসরণ করো না এবং বিচারে অন্যায় করার জন্য বহু লোকের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করো না।
3 দরিদ্রের বিচারে তারও পক্ষপাত করো না।
4
তোমার দুশমনের গরু কিংবা গাধাকে পথহারা দেখলে তুমি অবশ্যই তার কাছে তাকে নিয়ে যাবে।
5 তুমি তোমার দুশমনের গাধাকে বোঝার ভারে পড়ে যেতে দেখলে, যদিও তাকে ভারমুক্ত করতে অনিচ্ছুক হও, তবুও অবশ্যই সেটিকে ভারমুক্ত করবে।
6
দরিদ্র প্রতিবেশীর বিচারে তার প্রতি অন্যায় করো না।
7 মিথ্যা বিষয় থেকে দূরে থেকো এবং নির্দোষের বা ধার্মিকের প্রাণ নষ্ট করো না, কেননা আমি দুষ্টকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করবো না।
8 আর তুমি ঘুষ গ্রহণ করো না, কেননা ঘুষ কর্মকর্তাদের চোখ অন্ধ করে এবং ধার্মিকদের সমস্ত কথা উল্টে দেয়।
9
আর তুমি বিদেশীর ওপর জুলুম করো না; তোমরা তো বিদেশীর অন্তর জান, কেননা তোমরা মিসর দেশে বিদেশী ছিলে।
10
তুমি তোমার ভূমিতে ছয় বছর যাবৎ বীজ বপন ও উৎপন্ন শস্য সংগ্রহ করো।
11 কিন্তু সপ্তম বছরে তাকে বিশ্রাম দিও, ফেলে রেখো; তাতে তোমার স্বজাতির দরিদ্ররা খেতে পাবে। আর তারা যা অবশিষ্ট রাখে তা মাঠের পশুতে খাবে। তোমার আঙ্গুর-ক্ষেতের ও জলপাই গাছের বিষয়েও সেরকম করো।
12
তুমি ছয় দিন তোমার কাজ করো কিন্তু সপ্তম দিনে বিশ্রাম করো; যেন তোমার গরু ও গাধা বিশ্রাম পায় এবং তোমার বাড়িতে জন্মেছে এমন বাঁদীর পুত্র ও বিদেশী লোকের প্রাণ জুড়ায়।
13 আমি তোমাদেরকে যা যা বললাম, সমস্ত বিষয়ে সাবধান থেকো। অন্য দেবতাদের নাম মুখে উচ্চারণ করো, তোমাদের মুখে যেন তা শোনা না যায়।
14
তুমি বছরের মধ্যে তিনবার আমার উদ্দেশে ঈদ পালন করো।
15 খামিহীন রুটির ঈদ পালন করো; আমার হুকুম অনুসারে, নির্ধারিত সময়ে, আবীব মাসে সাতদিন খামিহীন রুটি ভোজন করো, কেননা এই মাসে তুমি মিসর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছ। আর কেউ খালি হাতে আমার কাছে উপস্থিত না হোক।
16
আর তুমি শস্য কাটার ঈদ, অর্থাৎ ক্ষেতে যা যা বুনেছ, তার প্রথমে পাকা ফলের উৎসব পালন করো। আর বছরের শেষে ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহের কালে ফলসঞ্চয়ের ঈদ পালন করো।
17 বছরের মধ্যে তিনবার তোমার সমস্ত পুরুষেরা সার্বভৌম মাবুদের সাক্ষাতে উপস্থিত হবে।
18
তুমি আমার কোরবানীর রক্ত খামিযুক্ত দ্রব্যের সঙ্গে নিবেদন করো না; আর আমার উৎসব সম্পর্কীয় চর্বি সকাল পর্যন্ত সমস্ত রাত না থাকুক।
19
তোমার ভূমির প্রথমে পাকা ফলের প্রথম অংশ তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গৃহে এনো। ছাগলের বাচ্চাকে তার মায়ের দুধে রান্না করো না।
20
দেখ, আমি পথে তোমাকে রক্ষা করতে এবং আমি যে স্থান তৈরি করেছি সেই স্থানে তোমাকে নিয়ে যেতে তোমার আগে এক জন ফেরেশতা প্রেরণ করছি।
21 তাঁর কথা মেনে চলবে এবং তাতে মনোযোগ দেবে, তাঁর অসন্তোষ জন্মাবে না; কেননা তিনি তোমাদের অধর্ম মাফ করবেন না; কারণ তাঁর অন্তরে আমার নাম রয়েছে।
22
কিন্তু তুমি যদি নিশ্চয় তাঁর কথা মনযোগ দিয়ে শোন এবং আমি যা যা বলি, সেসব কর তবে আমি তোমার দুশমনদের দুশমন ও তোমার বিপক্ষদের বিপক্ষ হবো।
23
কেননা আমার ফেরেশতা তোমার আগে যাবেন এবং আমোরীয়, হিট্টিয়, পরিষীয়, কেনানীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়ের দেশে তোমাকে প্রবেশ করাবেন; আর আমি তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলব।
24 তুমি তাদের দেবতাদের কাছে সেজ্দা করো না এবং তাদের সেবা করো না ও তাদের কাজের মত কাজ করো না; কিন্তু তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করো এবং তাদের সমস্ত স্তম্ভ ভেঙে ফেলো।
25 তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সেবা করো; তাতে তিনি তোমার খাদ্যে ও পানীয়ে দোয়া করবেন এবং আমি তোমার মধ্য থেকে রোগ দূর করবো।
26 তোমার দেশে কারো গর্ভপাত হবে না এবং কেউ বন্ধ্যা হবে না; আমি তোমার আয়ুর পরিমাণ পূর্ণ করবো।
27 আমি তোমার আগে আমার ত্রাস প্রেরণ করবো এবং তুমি যে সমস্ত জাতির কাছে উপস্থিত হবে তাদেরকে অস্থির করবো ও তোমার দুশমনদেরকে তোমা থেকে ফিরিয়ে দেব।
28 আর আমি তোমার আগে ভিমরুল পাঠাব; তারা হিব্বীয়, কেনানীয় ও হিট্টিয়কে তোমার সম্মুখ থেকে তাড়িয়ে দেবে।
29 কিন্তু দেশ যেন ধ্বংসস্থান না হয় ও তোমার বিরুদ্ধে বন্য পশুর সংখ্যা যেন বৃদ্ধি না পায়, এজন্য আমি এক বছরেই তোমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেব না।
30 তুমি যে পর্যন্ত বর্ধিত হয়ে দেশ অধিকার না কর, সেই পর্যন্ত তোমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে ক্রমে ক্রমে তাড়িয়ে দেব।
31 আর লোহিত সাগর হতে ফিলিস্তিনীদের সমুদ্র পর্যন্ত এবং মরুভূমি হতে ফোরাত নদী পর্যন্ত তোমার সীমা নিরূপণ করবো; কেননা আমি সেই দেশবাসীদেরকে তোমার হাতে তুলে দেব এবং তুমি তোমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে।
32 তাদের সঙ্গে কিংবা তাদের দেবতাদের সঙ্গে কোন চুক্তি স্থাপন করবে না।
33 তারা তোমার দেশে বাস করবে না, অন্যথায় তারা আমার বিরুদ্ধে তোমাকে গুনাহ্ করাবে; কেননা তুমি যদি তাদের দেবতাদের সেবা কর তবে তা অবশ্যই তোমার ফাঁদস্বরূপ হবে।
1
আর তিনি মূসাকে বললেন, তুমি, হারুন, নাদব, অবীহূ এবং ইসরাইলের প্রাচীনদের সত্তর জন, তোমরা মাবুদের কাছে উঠে এসো, আর দূরে থেকে সেজ্দা কর।
2 কেবল মূসা মাবুদের কাছে আসবে কিন্তু ওরা কাছে আসবে না; আর লোকেরা তার সঙ্গে উপরে উঠবে না।
3
তখন মূসা এসে লোকদেরকে মাবুদের সমস্ত কালাম ও সমস্ত অনুশাসন বললেন, তাতে সমস্ত লোক একস্বরে জবাবে বললো, মাবুদ যে সমস্ত কথা বললেন, আমরা সমস্তই পালন করবো।
4 পরে মূসা মাবুদের সমস্ত কালাম লিখলেন এবং খুব ভোরে উঠে পর্বতের পাদদেশে একটি কোরবানগাহ্ ও ইসরাইলের বারো বংশানুসারে বারোটি স্তম্ভ নির্মাণ করলেন।
5 আর তিনি বনি-ইসরাইলদের যুবকদেরকে পাঠালে তারা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী হিসেবে ষাঁড়গুলোকে কোরবানী করলো।
6 তখন মূসা তার অর্ধেক রক্ত নিয়ে থালায় রাখলেন এবং অর্ধেক রক্ত কোরবানগাহ্র উপরে ছিটিয়ে দিলেন।
7 আর তিনি নিয়ম-কিতাবখানি নিয়ে লোকদের কাছে পাঠ করলেন; তাতে তারা বললো, মাবুদ যা যা বললেন, আমরা সমস্তই পালন করবো ও মেনে চলবো।
8 পরে মূসা সেই রক্ত নিয়ে লোকদের উপরে ছিটিয়ে দিয়ে বললেন, দেখ, এই সেই নিয়মের রক্ত, যা মাবুদ তোমাদের সঙ্গে এসব কালাম অনুযায়ী স্থির করেছেন।
9
তখন মূসা ও হারুন, নাদব ও অবীহূ এবং ইসরাইলের প্রাচীন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সত্তর জন উঠে গেলেন;
10 আর তাঁরা ইসরাইলের আল্লাহ্কে দর্শন করলেন; তাঁর চরণতলের স্থান নীলকান্তমণি-নির্মিত শিলা-স্তরের কাজের মত এবং নির্মলতায় সাক্ষাৎ আসমানের মত ছিল।
11 আর তিনি বনি-ইসরাইলদের নেতৃবর্গের উপর হাত ওঠালেন না, বরং তাঁরা আল্লাহ্কে দর্শন করে ভোজন পান করলেন।
12
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি পর্বতে আমার কাছে উঠে এসে এই স্থানে থাকো, তাতে আমি দু’খানা পাথরের ফলক এবং আমার লেখা শরীয়ত ও হুকুম তোমাকে দেব, যেন তুমি লোকদেরকে শিক্ষা দিতে পার।
13 পরে মূসা ও তাঁর পরিচারক ইউসা উঠলেন এবং মূসা আল্লাহ্র পর্বতে উঠলেন।
14 আর তিনি প্রাচীনদের বললেন, আমরা যতক্ষণ তোমাদের কাছে ফিরে না আসি, ততক্ষণ তোমরা আমাদের অপেক্ষায় এই স্থানে থাকো; আর দেখ, হারুন ও হূর তোমাদের কাছে রইলেন; কারো কোন বিবাদের কথা উপস্থিত হলে সে যেন তাঁদের কাছে যায়।
15
মূসা যখন পর্বতে উঠলেন, তখন মেঘে পর্বত আচ্ছন্ন ছিল।
16 আর তুর পর্বতের উপরে মাবুদের মহিমা অবস্থান করছিল। পর্বতটি ছয় দিন মেঘাচ্ছন্ন রইলো; পরে সপ্তম দিনে তিনি মেঘের মধ্য থেকে মূসাকে ডাকলেন।
17 আর বনি-ইসরাইলদের দৃষ্টিতে মাবুদের মহিমা পর্বতের চূড়ায় গ্রাসকারী আগুনের মত প্রকাশিত হল।
18 আর মূসা মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে পর্বতে উঠলেন। মূসা চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সেই পর্বতে অবস্থান করলেন।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে আমার জন্য উপহার সংগ্রহ করতে বল; হৃদয়ের ইচ্ছায় যে নিবেদন করে, তা থেকে তোমরা আমার সেই উপহার গ্রহণ করো।
3 এসব উপহার তাদের থেকে গ্রহণ করবে— সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ,
4 এবং নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সুতা ও ছাগলের লোম;
5 ও পরিশোধিত ভেড়ার চামড়া, শুশুকের চামড়া ও শিটীম কাঠ;
6 প্রদীপের জন্য তেল, অভিষেকের জন্য তেল ও সুগন্ধি ধূপের জন্য গন্ধদ্রব্য,
7 এবং এফোদে ও বুকপাটায় খচিত করার জন্য গোমেদমণি প্রভৃতি পাথর।
8 আর তারা আমার জন্য একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করুক, তাতে আমি তাদের মধ্যে বাস করবো।
9 শরীয়ত-তাঁবুর ও তার সমস্ত দ্রব্যের যে নমুনা আমি তোমাকে দেখাই, সেই অনুসারে তোমরা সমস্তই করবে।
10
তারা শিটীম কাঠের একটি সিন্দুক তৈরি করবে; তা আড়াই হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া ও উচ্চতায় দেড় হাত হবে।
11 পরে তুমি খাঁটি সোনা দিয়ে তা মুড়িয়ে দেবে, তার ভিতর ও বাইরেটা মুড়িয়ে দেবে এবং তার উপরে চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দেবে।
12 আর তার জন্য সোনার চারটি কড়া ছাঁচে ঢেলে তার চারটি পায়াতে দেবে; তার এক পাশে দু’টি কড়া ও অন্য পাশে দু’টি কড়া থাকবে।
13 আর তুমি শিটীম কাঠের দু’টি বহন-দণ্ড করে সোনা দিয়ে মুড়ে দেবে।
14 আর সিন্দুক বহন করার জন্য ঐ বহন-দণ্ড সিন্দুকের দুই পাশের কড়াতে দেবে।
15 সেই বহন-দণ্ড সিন্দুকের কড়াতে থাকবে, তা থেকে বের করা যাবে না।
16 আর আমি তোমাকে যে শরীয়ত-ফলক দেব, তা ঐ সিন্দুকে রাখবে।
17
পরে তুমি খাঁটি সোনা দিয়ে আড়াই হাত লম্বা ও দেড় হাত চওড়া একটি গুনাহ্ আবরণ প্রস্তুত করবে।
18 আর তুমি সোনার দু’টি কারুবী নির্মাণ করবে; গুনাহ্ আবরণের দুই কিনারায় পিটানো কাজ দ্বারা তাদেরকে নির্মাণ করবে।
19 এক প্রান্তে এক কারুবী ও অন্য প্রান্তে অন্য কারুবী, গুনাহ্ আবরণের দুই প্রান্তে তার সাথে অখণ্ড দু’টি কারুবী তৈরি করবে।
20 আর সেই দু’টি কারুবী উপরে পাখা মেলে দিয়ে ঐ পাখা দিয়ে গুনাহ্-আবরণকে ঢেকে রাখবে এবং তাদের মুখ পরসপরের দিকে থাকবে, কারুবীদের দৃষ্টি গুনাহ্ আবরণের দিকে থাকবে।
21 তুমি এই গুনাহ্-আবরণ সেই সিন্দুকের উপরে রাখবে এবং আমি তোমাকে যে শরীয়ত-ফলক দেব তা ঐ সিন্দুকের মধ্যে রাখবে।
22 আর আমি সেই স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো এবং গুনাহ্-আবরণের উপরিভাগ থেকে, সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরিস্থ দুই কারুবীর মধ্য থেকে তোমার সঙ্গে আলাপ করে বনি-ইসরাইলদের প্রতি আমার সমস্ত হুকুম তোমাকে জানাবো।
23
আর তুমি শিটীম কাঠের একটি টেবিল তৈরি করবে; তা দুই হাত লম্বা, এক হাত চওড়া ও দেড় হাত উঁচু হবে।
24 আর খাঁটি সোনা দিয়ে তা মুড়ে দেবে এবং তার চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দেবে।
25 আর তার চারদিকে চার আঙ্গুল পরিমিত একটি বেড় তৈরি করবে এবং বেড়ের চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দেবে।
26 আর সোনার চারটি কড়া করে চার পায়ার চার কোণে রাখবে।
27 টেবিল বহন করার জন্য বহন-দণ্ডের ঘর হবার জন্য ঐ কড়া বেড়ের কাছে থাকবে।
28 আর ঐ টেবিল বহন করার জন্য শিটীম কাঠের দু’টি বহন-দণ্ড করে তা সোনা দিয়ে মুড়ে দেবে।
29 আর টেবিলের থাল, চামচ, ঢাকনা ও ঢালবার জন্য সেঁকপাত্র তৈরি করবে; এসব খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করবে।
30 আর তুমি সেই টেবিলের উপরে আমার সম্মুখে নিয়মিতভাবে দর্শন-রুটি রাখবে।
31
আর তুমি খাঁটি সোনার একটি প্রদীপ-আসন প্রস্তুত করবে; পিটানো কাজ দ্বারা সেই প্রদীপ-আসন প্রস্তুত হবে; তার কাণ্ড, শাখা, গোলাধার, কুঁড়ি ও তার সাথে ফুল অখণ্ড হবে।
32 প্রদীপ-আসনের এক পাশ থেকে তিনটি শাখা ও প্রদীপ-আসনের অন্য পাশ থেকে তিনটি শাখা, এই ছয়টি শাখা তার পাশ থেকে বের হবে।
33 এক শাখায় বাদাম ফুলের মত তিনটি গোলাধার, একটি কুঁড়ি ও একটি ফুল থাকবে এবং অন্য শাখায় বাদাম ফুলের মত তিনটি গোলাধার, একটি কুঁড়ি ও একটি ফুল থাকবে; প্রদীপ-আসন থেকে বের হওয়া ছয়টি শাখায় এরকম হবে।
34 প্রদীপ-আসনে বাদাম ফুলের মত চারটি গোলাধার ও তাদের কুঁড়ি ও ফুল থাকবে।
35 আর প্রদীপ-আসনের যে ছয়টি শাখা বের হবে, তাদের এক শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি, অন্য শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি ও অপর শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি থাকবে।
36 কুঁড়ি ও শাখা তৎসহ অখণ্ড হবে; সমস্ত পিটানোটাই খাঁটি সোনার একই বস্তু হবে।
37 আর তুমি তার সাতটি প্রদীপ তৈরি করবে এবং লোকেরা সেসব প্রদীপ জ্বালালে তার সম্মুখে আলো হবে।
38 আর তার চিমটা ও সমস্ত গুলতরাশ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করতে হবে।
39 এই প্রদীপ-আসন এবং ঐ সমস্ত সামগ্রী এক তালন্ত পরিমিত খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি হবে।
40 দেখো, পর্বতে তোমাকে এই সকলের যেরকম নমুনা দেখান হল, সব কিছু সেভাবে তৈরি করো।
1
আর তুমি দশটি পর্দা দ্বারা একটি শরীয়ত-তাঁবু প্রস্তুত করবে; সেগুলো পাকানো সাদা মসীনা এবং নীল, বেগুনে ও লাল সুতা দিয়ে তৈরি করবে; সেই পর্দাগুলোতে শিল্পীত কারুবীদের আকৃতি থাকবে।
2 প্রত্যেক পর্দা লম্বায় আটাশ হাত ও প্রত্যেক পর্দা চওড়ায় চার হাত হবে; সমস্ত পর্দার এক মাপ হবে।
3 আর একত্র পাঁচটি পর্দার পরসপর যোগ থাকবে এবং অন্য পাঁচটি পর্দার পরসপর যোগ থাকবে।
4 আর জোড়ার স্থানে প্রথম অন্ত্য পর্দার কিনারায় নীল রংয়ের সুতা দিয়ে ঘুণ্টিঘরা করে দেবে এবং জোড়ার স্থানে দ্বিতীয় অন্ত্য পর্দার কিনারায়ও সেরকম করবে।
5 প্রথম পর্দাতে পঞ্চাশটি ঘুণ্টিঘরা করে দেবে এবং জোড়ার স্থানে দ্বিতীয় পর্দার কিনারায়ও পঞ্চাশটি ঘুণ্টিঘরা করে দেবে; সেই দু’টি ঘুণ্টিঘরা শ্রেণী পরসপর সম্মুখীন হবে।
6 আর পঞ্চাশটি সোনার ঘুণ্টি গড়ে ঘুণ্টিতে সমস্ত পর্দা পরসপর আট্কে দেবে; তাতে তা একটিই শরীয়ত-তাঁবু হবে।
7
আর তুমি শরীয়ত-তাঁবুর উপরে আচ্ছাদনের নিমিত্তে তাঁবুর জন্য ছাগলের লোম দিয়ে সমস্ত পর্দা প্রস্তুত করবে, এগারটি পর্দা প্রস্তুত করবে।
8 প্রত্যেক পর্দা লম্বায় ত্রিশ হাত ও প্রত্যেক পর্দা চওড়ায় চার হাত হবে; এই এগারটি পর্দার একই মাপ হবে।
9 পরে পাঁচটি পর্দা পরসপর জোড়া দিয়ে পৃথক রাখবে, অন্য ছয়টি পর্দাও পৃথক রাখবে এবং এদের ষষ্ঠ পর্দা দুই ভাঁজ করে তাঁবুর সম্মুখে রাখবে।
10 আর জোড়ার স্থানে প্রথম অন্ত্য পর্দার কিনারায় পঞ্চাশটি ঘুণ্টিঘরা তৈরি করে দেবে এবং সংযোগকারী দ্বিতীয় পর্দার কিনারায়ও পঞ্চাশটি ঘুণ্টিঘরা তৈরি করে দেবে।
11
পরে ব্রোঞ্জের পঞ্চাশটি ঘুণ্টি গড়ে সেই ঘুণ্টিঘরাতে তা প্রবেশ করিয়ে তাঁবু সংযুক্ত করবে,
12 তাতে তা একই তাঁবু হবে, তাঁবুর পর্দার অতিরিক্ত অংশ, অর্থাৎ যে অর্ধেক পর্দা অতিরিক্ত থাকবে, তা শরীয়ত-তাঁবুর পেছনের পাশে ঝুলে থাকবে।
13 আর তাঁবুর পর্দার দৈর্ঘ্যের যে অংশ এপাশে এক হাত, ওপাশে এক হাত অতিরিক্ত থাকবে, তা আচ্ছাদনের জন্য শরীয়ত-তাঁবুর উপরে এপাশে ওপাশে ঝুলে থাকবে।
14 পরে তুমি তাঁবুর জন্য পরিশোধিত ভেড়ার চামড়ার একটি ছাদ প্রস্তুত করবে, আবার তার উপরে শুশুকের চামড়ার একটি ছাদ প্রস্তুত করবে।
15
পরে তুমি শরীয়ত-তাঁবুর জন্য শিটীম কাঠের দাঁড় করানো তক্তা প্রস্তুত করবে।
16 প্রত্যেক তক্তা লম্বায় দশ হাত ও চওড়ায় দেড় হাত হবে।
17 প্রত্যেক তক্তার পরসপর সংযুক্ত দু’টা করে পায়া থাকবে; এভাবে শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত তক্তা প্রস্তুত করবে।
18 শরীয়ত-তাঁবুর জন্য তক্তা প্রস্তুত করবে, দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ পাশের জন্য বিশটি তক্তা।
19 সেই বিশটি তক্তার নিচে চল্লিশটি রূপার চুঙ্গি গড়ে দেবে; একটি তক্তার নিচে তার দুই পায়ার জন্য দু’টি চুঙ্গি এবং অন্য অন্য তক্তার নিচেও তাদের দু’টা করে পায়ার জন্য দু’টা করে চুঙ্গি হবে।
20 আর শরীয়ত-তাঁবুর দ্বিতীয় পাশের জন্য উত্তর দিকে বিশটি তক্তা;
21 আর সেগুলোর জন্য রূপার চল্লিশটি চুঙ্গি একটি তক্তার নিচে দু’টি চুঙ্গি ও অন্যান্য তক্তার নিচেও দু’টা করে চুঙ্গি হবে।
22 শরীয়ত-তাঁবুর পশ্চিম দিকের পিছনের ভাগের জন্য ছয়খানি তক্তা করবে।
23 আর শরীয়ত-তাঁবুর সেই পিছন দিকের দুই কোণের জন্য দু’খানি তক্তা করবে।
24 সেই দু’টি তক্তার নিচে জোড় হবে এবং সেভাবে মাথাতেও প্রথম কড়ার কাছে জোড় হবে; এরকম দু’টিতেই হবে; তা দুই কোণের জন্য হবে।
25 তক্তা আটখানা হবে ও সেগুলোর রূপার চুঙ্গি ষোলটি হবে; একটি তক্তার নিচে দু’টি চুঙ্গি ও অন্য তক্তার নিচে দু’টি চুঙ্গি থাকবে।
26
আর তুমি শিটীম কাঠের অর্গল প্রস্তুত করবে,
27 শরীয়ত-তাঁবুর এক পাশের তক্তাতে পাঁচটি অর্গল ও অন্য পাশের তক্তাতে পাঁচটি অর্গল এবং শরীয়ত-তাঁবুর পশ্চিম দিকের পিছন ভাগের তক্তাতে পাঁচটি অর্গল দেবে।
28 এবং মধ্যবর্তী অর্গল তক্তাগুলোর মধ্যস্থান দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যাবে।
29 আর ঐ তক্তাগুলো সোনা দিয়ে মোড়াবে ও অর্গলের ঘর হবার জন্য সোনাকড়া তৈরি করবে এবং সমস্ত অর্গল সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেবে।
30 শরীয়ত-তাঁবুর যে নমুনা পর্বতে তোমাকে দেখান হল, সেই অনুসারে তা স্থাপন করবে।
31
আর তুমি নীল, বেগুনে ও লাল এবং পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে একটি পর্দা প্রস্তুত করবে; তা শিল্পীদের কাজ হবে, তাতে কারুবীদের আকৃতি থাকবে।
32 তুমি তা সোনা দিয়ে মোড়ানো শিটীম কাঠের চারটি স্তম্ভের উপরে খাটাবে; সেগুলোর আঁকড়া হবে সোনার এবং সেগুলো রূপার চারটি চুঙ্গির উপরে বসবে।
33 আর ঘুণ্টিগুলোর নিচে পর্দা খাটাবে এবং সেখানে পর্দার ভিতরে শরীয়ত-সিন্দুক আনবে। সেই পর্দা পবিত্র স্থানের ও মহা-পবিত্র স্থানের মধ্যে তোমাদের জন্য প্রভেদ রাখবে।
34 আর মহা-পবিত্র স্থানে সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরে গুনাহ্ আবরণ রাখবে।
35 আর পর্দার বাইরে রাখবে টেবিল ও টেবিলের সম্মুখে শরীয়ত-তাঁবুর পাশে, দক্ষিণ দিকে প্রদীপ-আসন রাখবে এবং উত্তর দিকে টেবিল রাখবে।
36
আর তাঁবুর দরজা জন্য নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দ্বারা শিল্পীদের করা একটি পর্দা প্রস্তুত করবে।
37 আর সেই পর্দার জন্য শিটীম কাঠের পাঁচটি স্তম্ভ তৈরি করে সোনা দিয়ে মোড়াবে ও সোনা দিয়ে তার আঁকড়া প্রস্তুত করবে এবং তার জন্য ব্রোঞ্জের পাঁচটি চুঙ্গি ঢালবে।
1
আর তুমি শিটীম কাঠ দিয়ে পাঁচ হাত লম্বা, পাঁচ হাত চওড়া কোরবানগাহ্ তৈরি করবে। সেই কোরবানগাহ্টি চারকোনা বিশিষ্ট এবং তিন হাত উঁচু হবে।
2 আর তার চার কোণের উপরে শিং করবে, সেই কোরবানগাহ্র সমস্ত শিং তৎসহ অখণ্ড হবে এবং তুমি তা ব্রোঞ্জ দিয়ে মোড়াবে।
3 আর তার ভস্ম নেবার জন্য হাঁড়ি প্রস্তুত করবে এবং তার হাতা, বাটি, ত্রিশূল ও আগুন রাখার পাত্র তৈরি করবে; তার সমস্ত পাত্র ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করবে।
4 আর জালের মত ব্রোঞ্জের একটি ঝাঁঝরি তৈরি করবে এবং সেই ঝাঁঝরির উপরে চার কোণে ব্রোঞ্জের চারটি কড়া প্রস্তুত করবে।
5 এই ঝাঁঝরি নিম্নভাগে কোরবানগাহ্র বেড়ের নিচে রাখবে এবং ঝাঁঝরি কোরবানগাহ্র মধ্য পর্যন্ত থাকবে।
6 আর কোরবানগাহ্র জন্য শিটীম কাঠের বহন-দণ্ড করবে ও তা ব্রোঞ্জ দিয়ে মোড়াবে।
7 আর কড়ার মধ্যে ঐ বহন-দণ্ড দেবে; কোরবানগাহ্ বহনকালে তার দুই পাশে সেই বহন-দণ্ড থাকবে।
8 তুমি ফাঁপা করে তক্তা দিয়ে তা তৈরি করবে; পর্বতে তোমাকে যেরকম দেখান হল, লোকেরা সেভাবে তা তৈরি করবে।
9
তুমি শরীয়ত-তাঁবুর প্রাঙ্গণ নির্মাণ করবে; দক্ষিণ পাশে, দক্ষিণ দিকে পাকানো সাদা মসীনা সুতায় তৈরি পর্দা থাকবে; তার এক পাশের লম্বা এক শত হাত হবে।
10 তার বিশটি স্তম্ভ ও বিশটি চুঙ্গি ব্রোঞ্জের হবে এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকাগুলো হবে রূপার।
11 সেরকম উত্তর পাশে এক শত হাত লম্বা পর্দা হবে, আর তার বিশটি স্তম্ভ ও বিশটি চুঙ্গি ব্রোঞ্জের হবে। সেই স্তম্ভের আঁকড়া ও সমস্ত শলাকা রূপার হবে।
12 প্রাঙ্গণের প্রস্থের জন্য পশ্চিম দিকে পঞ্চাশ হাত পর্দা ও তার দশটি স্তম্ভ ও দশটি চুঙ্গি হবে।
13 প্রাঙ্গণের চওড়া পূর্ব পাশে পূর্ব দিকে পঞ্চাশ হাত হবে।
14 দ্বারের এক পাশের জন্য পনের হাত পর্দা, তিনটি স্তম্ভ ও তিনটি চুঙ্গি হবে।
15 আর অন্য পাশের জন্যও পনের হাত পর্দা, তিনটি স্তম্ভ ও তিনটি চুঙ্গি হবে।
16 আর প্রাঙ্গণের দরজার জন্য নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে তৈরি শিল্পীদের করা বিশ হাত একটি পর্দা ও তার চারটি স্তম্ভ ও চারটি চুঙ্গি হবে।
17 প্রাঙ্গণের চারদিকের সমস্ত স্তম্ভ রূপার শলাকাতে লাগানো হবে ও সেগুলোর আঁকড়া রূপার ও চুঙ্গি ব্রোঞ্জের হবে।
18 প্রাঙ্গণের লম্বা হবে একশত হাত চওড়া সর্বত্র পঞ্চাশ হাত এবং উচ্চতা পাঁচ হাত। তা সমস্তই পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে করা হবে ও তার ব্রোঞ্জের চুঙ্গি হবে।
19 শরীয়ত-তাঁবুর যাবতীয় কাজ সম্বন্ধীয় সমস্ত দ্রব্য ও গোঁজ এবং প্রাঙ্গণের সমস্ত গোঁজ ব্রোঞ্জের হবে।
20
আর তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে এই হুকুম করবে, যেন তারা আলোর জন্য ছেঁচা জলপাইয়ের তেল তোমার কাছে আনে, যাতে নিয়মিতভাবে প্রদীপ জ্বালানো থাকে।
21 আর জমায়েত-তাঁবুতে শরীয়ত-সিন্দুকের সম্মুখে অবস্থিত পর্দার বাইরে হারুন ও তার পুত্ররা সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত মাবুদের সম্মুখে তা প্রস্তুত রাখবে; এটি বনি-ইসরাইলদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
1
আর তুমি আমার ইমাম হবার জন্য বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে তোমার ভাই হারুন ও তার সঙ্গে তার পুত্রদেরকে তোমার কাছে উপস্থিত করবে। হারুন এবং হারুনের পুত্র নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈথামরকে উপস্থিত করবে।
2
আর তোমার ভাই হারুনের গৌরব ও শোভার জন্য তুমি পবিত্র পোশাক প্রস্তুত করবে।
3 আর আমি যাদেরকে দক্ষতায় পূর্ণ করেছি, সেসব দক্ষ শিল্পীদেরকে বল যেন আমার ইমাম হবার জন্য হারুনকে পবিত্র করতে তারা তার পোশাক প্রস্তুত করে।
4 এসব পোশাক তারা প্রস্তুত করবে— বুকপাটা, এফোদ, পরিচ্ছদ, চিত্রিত কোর্তা, পাগড়ী ও কোমরবন্ধনী; তারা আমার ইমামের কাজ করার জন্য তোমার ভাই হারুনের ও তার পুত্রদের জন্য পবিত্র পোশাক প্রস্তুত করবে।
5 তারা সোনা এবং নীল, বেগুনে ও লাল এবং সাদা মসীনা সুতা নেবে।
6
আর তারা সোনা এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে শিল্পীদের কাজ দ্বারা এফোদ প্রস্তুত করবে।
7 তার দুই প্রান্তে পরসপর সংযুক্ত দু’টি স্কন্ধপটি থাকবে; এভাবে তা যুক্ত হবে;
8 এবং তা জোড়া লাগানোর জন্য বুনানি করা যে পটুকা তার উপরে থাকবে, তা তার সঙ্গে অখণ্ড এবং সেই কাপড়ের মত হবে; অর্থাৎ সোনা দিয়ে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে তৈরি করতে হবে।
9 পরে তুমি দু’টি গোমেদ মণি নিয়ে তার উপরে ইসরাইলের পুত্রদের নাম খোদাই করবে।
10 তাদের জন্মক্রম অনুসারে ছয়জনের নাম এক মণির উপরে ও অবশিষ্ট ছয়জনের নাম অন্য মণির উপরে খোদিত হবে।
11 শিল্পকর্ম ও মুদ্রা খোদাই করার মত সেই দু’টি মণির উপরে ইসরাইলের পুত্রদের নাম খোদাই করবে এবং তা দু’টি সোনার জালির উপর বসিয়ে দিতে হবে।
12 আর বনি-ইসরাইলদের স্মরণ করার মণিস্বরূপে তুমি সেই দু’টি মণি এফোদের দু’টি স্কন্ধপটিতে দেবে; তাতে হারুন স্মরণ করাবার জন্য মাবুদের সম্মুখে তার দু’টি কাঁধে তাদের নাম বইবে।
13 আর তুমি দু’টি সোনার জালি তৈরি করবে এবং
14 খাঁটি সোনা দিয়ে পাকানো দু’টি মালার মত শিকল করে সেই পাকানো শিকল সেই দু’টি জালিতে জুড়ে দিতে হবে।
15
শিল্পীদের কাজে বিচার করার বুকপাটা তৈরি করবে; এফোদের কাজ অনুসারে করবে; সোনা এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতার দ্বারা তা প্রস্তুত করবে।
16 তা চারকোনা বিশিষ্ট ও দুই ভাঁজ হবে; সেটি লম্বায় এক বিঘত ও চওড়ায় এক বিঘত হবে।
17 আর তা চার সারি মণিতে খচিত করবে; তার প্রথম সারিতে চুণী, পীতমণি ও মরকত;
18 দ্বিতীয় সারিতে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও হীরক;
19 তৃতীয় সারিতে পেরোজ, যিস্ম ও কটাহেলা;
20 এবং চতুর্থ সারিতে বৈদূর্য, গোমেদ ও সূর্যকান্ত; এসব নিজ নিজ সারিতে সোনা দিয়ে আঁটা হবে।
21 এই মণি ইসরাইলের পুত্রদের নাম অনুযায়ী হবে, তাদের নাম অনুসারে বারোটি হবে; সীলমোহর খোদাই করার মত খোদিত প্রত্যেক মণিতে ঐ বারো বংশের জন্য একেক পুত্রের নাম থাকবে।
22 আর তুমি খাঁটি সোনা দিয়ে বুকপাটার উপরে মালার মত পাকানো দু’টি শিকল তৈরি করে দেবে।
23 আর বুকপাটার উপরে সোনার দু’টি কড়া গড়ে দেবে এবং বুকপাটার দুই প্রান্তে ঐ দু’টি কড়া বাঁধবে।
24 আর বুকপাটার দুই প্রান্তস্থিত দু’টি কড়ার মধ্যে পাকানো সোনার ঐ দু’টি শিকল রাখবে।
25 আর পাকানো শিকলের দুই প্রান্ত সেই দুই জালিতে আট্কে দিয়ে এফোদের সম্মুখে দু’টি স্কন্ধপটির উপরে রাখবে।
26 তুমি সোনার দু’টি কড়া গড়ে বুকপাটার দুই প্রান্তে এফোদের সম্মুখস্থ ভিতরভাগে রাখবে।
27 আরও দু’টি সোনার কড়া গড়ে এফোদের দু’টি স্কন্ধপটির নিচে তার সম্মুখভাগে জোড়ার স্থানে এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে তা রাখবে।
28 তাতে বুকপাটা যেন এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে থাকে, এফোদ থেকে খসে না পড়ে, এজন্য তারা কড়াতে নীল রংয়ের সুতা দিয়ে এফোদের কড়ার সঙ্গে বুকপাটা আট্কে রাখবে।
29 যে সময়ে হারুন পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবে, সেই সময় মাবুদের সম্মুখে নিয়মিতভাবে স্মরণ করাবার জন্য সে বিচার করার বুকপাটাতে ইসরাইলের পুত্রদের নাম তার বুকের উপরে বহন করবে।
30
আর সেই বিচার করার বুকপাটায় তুমি ঊরীম ও তুম্মীম [আলো ও সিদ্ধতা] দেবে; তাতে হারুন যে সময়ে মাবুদের সম্মুখে প্রবেশ করবে, সেই সময় হারুনের বুকের উপরে তা থাকবে এবং হারুন মাবুদের সম্মুখে বনি-ইসরাইলদের বিচার নিয়মিত ভাবে তার বুকের উপরে বইবে।
31
আর তুমি এফোদের সমস্ত পরিচ্ছদ নীল রংয়ের তৈরি করবে।
32 তার মাঝখানে মাথা প্রবেশ করাবার জন্য একটি বড় ছিদ্র থাকবে; বর্মের গলার মত সেই ছিদ্রের চারদিকে তন্তুবায়ের কৃত ধারি থাকবে, তাতে তা ছিঁড়বে না।
33 আর তুমি তার আঁচলায় চারদিকে নীল, বেগুনে ও লাল ডালিম করবে এবং চারদিকে তার মধ্যে মধ্যে সোনার ঘণ্টা থাকবে।
34 ঐ পরিচ্ছদের আঁচলায় চারদিকে একটি সোনার ঘণ্টা ও একটি ডালিম এবং একটি সোনার ঘণ্টা ও একটি ডালিম থাকবে।
35 আর হারুন পরিচর্যা করার জন্য এই পোশাক পরবে; তাতে সে যখন মাবুদের সম্মুখে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবে ও সেই স্থান থেকে যখন বের হবে, তখন ঘণ্টার আওয়াজ শোনা যাবে; তাতে সে মরবে না।
36
আর তুমি খাঁটি সোনার একটি পাত প্রস্তুত করে সীলমোহর খোদাই করার মত তার উপরে ‘মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র’ কথাটি খোদাই করবে।
37 তুমি তা নীল সুতা দিয়ে বেঁধে রাখবে; তা পাগড়ীর উপর সম্মুখ-ভাগেই থাকবে।
38 আর তা হারুনের কপালের উপরে থাকবে, তাতে বনি-ইসরাইলরা তাদের সমস্ত পবিত্র দানে যে সমস্ত দ্রব্য পবিত্র করবে, হারুন সেসব পবিত্র দ্রব্যের অপরাধ বহন করবে এবং তারা যেন মাবুদের কাছে গ্রাহ্য হয়, এজন্য তা সব সময় তার কপালের উপরে থাকবে।
39
আর তুমি চিত্রিত সাদা মসীনা সুতা দিয়ে অঙ্গ রক্ষিণী প্রস্তুত করবে ও সাদা মসীনা সুতা দিয়ে পাগড়ী প্রস্তুত করবে এবং কোমর-বন্ধটি সূচী দ্বারা শিল্পকর্ম করবে।
40
আর হারুনের পুত্রদের জন্য কোর্তা ও কোমরবন্ধনী প্রস্তুত করবে এবং গৌরব ও শোভার জন্য টুপি তৈরি করে দেবে।
41 আর তোমার ভাই হারুন ও তার পুত্রদেরকে সেসব পরাবে এবং তেল দিয়ে তাদেরকে অভিষেক ও হস্তার্পণ করে পবিত্র করবে, তাতে তারা আমার ইমামের কাজ করবে।
42 তুমি তাদের উলঙ্গতার আচ্ছাদন করার জন্য কোমর থেকে ঊরু পর্যন্ত মসী নার জাঙ্গিয়া প্রস্তুত করবে।
43 আর যখন হারুন ও তার পুত্ররা জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করবে, কিংবা পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করার জন্য কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হবে, সেই সময় যেন অপরাধ বয়ে না মারা যায়, এজন্য তারা এই পোশাক পরবে। এটি হারুন ও তার ভাবী বংশের পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
1
আর আমার ইমামের কাজ করার জন্য তাদেরকে পবিত্র করতে তুমি তাদের প্রতি এসব কাজ করবে; নিখুঁত একটি ষাঁড় ও দু’টি ভেড়া নেবে।
2 আর খামিহীন রুটি, তেল মিশানো খামিহীন পিঠা ও তৈলাক্ত খামিহীন চাপাটি গমের ময়দা দিয়ে প্রস্তুত করবে।
3 সেগুলো একটি ডালিতে রাখবে এবং ঐ ষাঁড় ও দু’টি ভেড়ার সঙ্গে আমার কাছে উপস্থিত করবে।
4 আর হারুন ও তার পুত্রদেরকে জমায়েত-তাঁবুর দ্বার-সমীপে এনে গোসল করাবে।
5 আর সেসব পোশাক নিয়ে হারুনকে ইমামের পোশাক, এফোদের পরিচ্ছদ, এফোদ ও বুকপাটা পরাবে এবং এফোদের বুনানি করা পটুকা তাতে আবদ্ধ করবে।
6 আর তার মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দিয়ে পাগড়ীর উপরে পবিত্র মুকুট দেবে।
7 পরে অভিষেকের তেল নিয়ে তার মাথার উপরে ঢেলে তাকে অভিষেক করবে।
8 তুমি তার পুত্রদেরকে এনে কোর্তা পরাবে।
9 হারুন ও তার পুত্রদেরকে কোমরবন্ধনী পরাবে ও তাদের মাথায় টুপি পরিয়ে দেবে। তাতে ইমামের পদে তাদের চিরস্থায়ী অধিকার থাকবে। তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে অভিষেক করবে।
10
পরে তুমি জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে সেই বাছুরকে আনাবে এবং হারুন ও তার পুত্ররা বাছুরটির মাথায় হাত রাখবে।
11 তখন তুমি জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের সম্মুখে ঐ ষাঁড়টি জবেহ্ করবে।
12 পরে বাছুরটির কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে আঙ্গুল দিয়ে কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে দেবে এবং কোরবানগাহ্র গোড়ায় সমস্ত রক্ত ঢেলে দেবে।
13 আর তার অন্ত্রগুলোর উপরি-ভাগের সমস্ত চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো ও দু’টি বৃক্ক ও সেগুলোর উপরিভাগের চর্বি নিয়ে কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে।
14 কিন্তু বাছুরটির গোশ্ত ও তার চামড়া ও গোবর শিবিরের বাইরে আগুনে পুড়িয়ে দেবে; তা গুনাহ্-কোরবানী।
15
পরে তুমি প্রথম ভেড়াটি আনবে এবং হারুন ও তার পুত্ররা সেই ভেড়ার মাথায় হাত রাখবে।
16 পরে তুমি সেই ভেড়াটি জবেহ্ করে তার রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে ছিটিয়ে দেবে।
17 পরে তুমি ভেড়াটি খণ্ড খণ্ড করবে, তার অন্ত্রগুলো ও পাগুলো ধুয়ে নেবে, আর তা সেই খণ্ডগুলোর ও মাথার উপরে রাখবে।
18 পরে সম্পূর্ণ ভেড়াটি কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে; তা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী, মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
19
পরে তুমি দ্বিতীয় ভেড়াটি নেবে এবং হারুন ও তার পুত্ররা ঐ ভেড়ার মাথায় হাত রাখবে।
20 পরে তুমি সেই ভেড়া জবেহ্ করে তার কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে হারুনের ডান কানের লতিতে ও তার পুত্রদের ডান কানের লতিতে ও তাদের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরে দেবে এবং কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
21 পরে কোরবানগাহ্র উপরিস্থিত রক্ত ও অভিষেকের তেলের কিঞ্চিৎ নিয়ে হারুনের উপরে ও তার পোশাকের উপরে এবং তার সঙ্গে তার পুত্রদের উপরে ও তাদের পোশাকের উপরে ছিটিয়ে দেবে। তাতে সে ও তার পোশাক এবং তার সঙ্গে তার পুত্ররা ও তাদের পোশাক পবিত্র হবে।
22
পরে তুমি সেই ভেড়ার চর্বি, লেজ ও অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের চর্বি ও যকৃতের উপরিভাগের অন্ত্রাপ্লাবক ও দু’টি মেটে ও সেগুলোর উপরিভাগের চর্বি ও ডান ঊরু নেবে, কেননা সেটি অভিষেকের ভেড়া।
23 পরে তুমি মাবুদের সম্মুখে রাখা খামিহীন রুটির ডালি থেকে একটি রুটি ও তেল মিশানো একটি পিঠা ও একটি চাপাটি নেবে।
24 সেসব হারুনের হাতে ও তার পুত্রদের হাতে দিয়ে দোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের সম্মুখে তা দোলাবে।
25 পরে তুমি তাদের হাত থেকে তা নিয়ে মাবুদের সম্মুখে সৌরভের জন্য কোরবানগাহে পোড়ানো-কোরবানীর উপরে পুড়িয়ে ফেলবে; তা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার।
26
পরে তুমি হারুনের অভিষেকের ভেড়ার বুকের অংশ নিয়ে দোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের সম্মুখে দোলাবে; তা তোমার অংশ হবে।
27 পরে হারুন ও তার পুত্রদের অভিষেকের ভেড়ার যে দোলনীয় উপহার বুকের অংশ দোলায়িত ও যে উত্তোলনীয় উপহার ঊরু উত্তোলিত হল, তা তুমি পবিত্র করবে।
28 তাতে বনি-ইসরাইলদের থেকে তা হারুন ও তার সন্তানদের চিরস্থায়ী অধিকার হবে, কেননা তা-ই উত্তোলনীয় উপহার। বনি-ইসরাইলদের এই উত্তোলনীয় উপহার তাদের মঙ্গল-কোরবানী থেকে দেয়; এটি মাবুদের উদ্দেশে তাদের উত্তোলনীয় উপহার।
29
আর হারুনের পরে তার পবিত্র পোশাকগুলো তার পুত্রদের হবে; অভিষেক ও পবিত্রকরণের সময়ে তারা তা পরবে।
30 তার পুত্রদের মধ্যে যে তার পদে ইমাম হয়ে পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করতে জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করবে, সে সেই পোশাক সাত দিন পরবে।
31
পরে তুমি সেই অভিষেকের ভেড়ার গোশ্ত নিয়ে কোন পবিত্র স্থানে পাক-পবিত্র করবে,
32 এবং হারুন ও তার পুত্ররা জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে সেই ভেড়ার গোশ্ত ও ডালিতে রাখা সেই রুটি ভোজন করবে।
33 আর অভিষেক দ্বারা তাদেরকে পবিত্র করার জন্য যা দিয়ে কাফ্ফারা করা হল, তা তারা ভোজন করবে; কিন্তু অপর কোন লোক তা ভোজন করবে না, কারণ সেসব পবিত্র বস্তু।
34 আর ঐ অভিষেকের গোশ্ত ও রুটি থেকে যদি সকাল পর্যন্ত কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে সেই অবশিষ্ট অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেবে। কেউ তা ভোজন করবে না, কারণ তা পবিত্র বস্তু।
35
আমি তোমাকে এই যে সমস্ত হুকুম করলাম, সেই অনুসারে হারুনের প্রতি ও তার পুত্রদের প্রতি করবে; সাত দিন তাদের অভিষেক করবে।
36 তুমি কাফ্ফারার জন্য প্রতিদিন গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে এক একটি ষাঁড় কোরবানী করবে; কাফ্ফারা করে কোরবানগাহ্কে পবিত্র করবে, আর তা তেল ঢেলে অভিষেক করবে।
37 তুমি কোরবানগাহ্র জন্য সাত দিন কাফ্ফারা দিয়ে তা পবিত্র করবে; তাতে কোরবানগাহ্ অতি পবিত্র হবে; কেউ যদি কোরবানগাহ্ সপর্শ করে, তাকে পবিত্র হতে হবে।
38
সেই কোরবানগাহ্র উপরে তুমি এ সমস্ত কোরবানী করবে; নিয়মিতভাবে প্রতি-দিন এক বছর বয়সের দু’টি ভেড়ার বাচ্চা;
39 একটি ভেড়ার বাচ্চা খুব ভোরে ও অন্যটি সন্ধ্যাবেলা কোরবানী করবে।
40 আর প্রথম ভেড়ার বাচ্চার সঙ্গে এক হিনের চার ভাগের একভাগ ছেঁচা জলপাইয়ের তেল (ঐফা) পাত্রের দশ ভাগের এক ভাগ ময়দার সংগে মিশিয়ে এবং পেয় উৎসর্গের জন্য হিনের চার ভাগের এক ভাগ আঙ্গুর-রস উৎসর্গ করবে।
41 পরে তৃতীয় ভেড়ার বাচ্চাটি সন্ধ্যাবেলা কোরবানী করবে এবং সকাল বেলার মত শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গের সঙ্গে তাও মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে কোরবানী করবে।
42 এটি তোমাদের পুরুষানুক্রমে নিয়মিত ভাবে (কর্তব্য) পোড়ানো কোরবানী; জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের সম্মুখে, যে স্থানে আমি তোমার সঙ্গে আলাপ করতে তোমাদের কাছে দেখা দেব, সেই স্থানে এ উৎসর্গ করা কর্তব্য।
43 সেখানে আমি বনি-ইসরাইলদের কাছে দেখা দেব এবং আমার মহিমায় তাঁবু পবিত্র হবে।
44 আর আমি জমায়েত-তাঁবু ও কোরবানগাহ্ পবিত্র করবো এবং আমার ইমামের কাজ করার জন্য হারুনকে ও তার পুত্রদেরকে পবিত্র করবো।
45 আর আমি বনি-ইসরাইলদের মধ্যে বাস করবো ও তাদের আল্লাহ্ হবো।
46 তাতে তারা জানবে যে, আমি মাবুদ, তাদের আল্লাহ্, আমি তাদের মধ্যে বাস করার জন্য মিসর দেশ থেকে তাদেরকে বের করে এনেছি; আমিই মাবুদ, তাদের আল্লাহ্।
1
আর তুমি ধূপ জ্বালাবার জন্য শিটীম কাঠ দিয়ে একটি ধূপগাহ্ তৈরি করবে।
2 তা এক হাত লম্বা ও এক হাত চওড়া চারকোনা বিশিষ্ট হবে এবং দুই হাত উঁচু হবে, তার সমস্ত শিং তার সঙ্গে অখণ্ড হবে।
3 আর তুমি সেই ধূপগাহ্, তার উপরের অংশ ও চারপাশ ও শৃঙ্গ খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেবে এবং তার চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দেবে।
4 আর তার কিনারার নিচে দুই কোণের কাছে সোনার দু’টা করে কড়া গড়ে দেবে, দুই পাশে গড়ে দেবে; তা ধূপগাহ্ বহন করার জন্য বহন-দণ্ডের ঘর হবে।
5 আর ঐ বহন-দণ্ড শিটীম কাঠ দিয়ে প্রস্তুত করে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেবে।
6 আর শরীয়ত-সিন্দুকের কাছে থাকা পর্দার অগ্রভাগে, শরীয়ত-সিন্দুকের উপরিস্থ গুনাহ্-আবরণের সম্মুখে তা রাখবে, সেই স্থানে আমি তোমার কাছে দেখা দেবো।
7 আর হারুন তার উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাবে; প্রতি প্রভাতে প্রদীপ পরিষ্কার করার সময়ে সে ঐ ধূপ জ্বালাবে।
8 আর সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ জ্বালাবার সময়ে হারুন ধূপ জ্বালাবে, তাতে তোমাদের পুরুষানুক্রমে মাবুদের সম্মুখে নিয়মিত ভাবে ধূপ জ্বালানো হবে।
9 তোমরা তার উপরে অন্য ধূপ, কিংবা পোড়ানো-কোরবানী, কিংবা শস্য-উৎসর্গ ও অন্যান্য কোরবানী করো না ও তার উপরে পেয় উৎসর্গ ঢেলো না।
10 আর বছরের মধ্যে একবার হারুন তার শিংগুলোর উপর কাফ্ফারার অনুষ্ঠান করবে। তোমাদের পুরুষানুক্রমে বছরের মধ্যে একবার কাফ্ফারার গুনাহ্-কোরবানীর রক্ত দিয়ে তার জন্য কাফ্ফারা দেবে; এই কোরবানগাহ্ মাবুদের উদ্দেশে অতি পবিত্র।
11
পরে মাবুদ মূসাকে এই কথা বললেন,
12 তুমি যখন বনি-ইসরাইলদের সংখ্যা গ্রহণ কর, তখন যাদেরকে গণনা করা যায়, তারা প্রত্যেকে গণনাকালে মাবুদের কাছে নিজ নিজ প্রাণের জন্য কাফ্ফারা দেবে, যেন তাদের মধ্যে গণনাকালে আঘাত না আসে।
13 তাদের দেয় এই; যে কেউ গণনা-করা লোকদের মধ্যে আসবে, সে পবিত্র স্থানের মাপ অনুসারে অর্ধেক শেকল দেবে; বিশ গেরাতে এক শেকল হয়; সেই অর্ধেক শেকল মাবুদের উদ্দেশে উপহার হবে।
14 বিশ বছর বয়স্ক কিংবা তার বেশি বয়স্ক যে কেউ গণনা-করা লোকদের মধ্যে আসবে, সে মাবুদকে ঐ উপহার দেবে।
15 তোমাদের প্রাণের কাফ্ফারা করার জন্য মাবুদকে সেই উপহার দেবার সময়ে ধনবান অর্ধেক শেকলের বেশি দেবে না এবং দরিদ্র তার কম দেবে না।
16 আর তুমি বনি-ইসরাইল থেকে সেই কাফ্ফারার টাকা নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর কাজের জন্য দেবে; তোমাদের প্রাণের কাফ্ফারার নিমিত্ত তা বনি-ইসরাইলদের স্মরণ করার জন্য মাবুদের সম্মুখে থাকবে।
17
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
18 তুমি ধোয়ার জন্য ব্রোঞ্জের একটি পাত্র ও তা বসাবাস জন্য ব্রোঞ্জের আসন প্রস্তুত করবে এবং জমায়েত-তাঁবুর ও কোরবানগাহ্র মধ্যস্থানে রাখবে ও তার মধ্যে পানি দেবে।
19 হারুন ও তার পুত্ররা সেই পাত্রে নিজ নিজ হাত ও পা ধুয়ে নেবে।
20 তারা যেন মারা না পরে, এজন্য জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ কালে পানিতে নিজেদের ধুয়ে নেবে; কিংবা পরিচর্যা করার জন্য, মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার পোড়াবার জন্য কোরবানগাহ্র কাছে আগমনকালে নিজ নিজ হাত ও পা ধুয়ে নেবে,
21 তারা যেন মারা না পড়ে সেজন্য তা করবে, এটি তাদের পক্ষে চিরস্থায়ী নিয়ম, পুরুষানুক্রমে হারুন ও তার বংশের জন্য।
22
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
23 তুমি তোমার কাছে উত্তম উত্তম সুগন্ধি দ্রব্য, অর্থাৎ পবিত্র স্থানের মাপ অনুসারে পাঁচ শত শেকল খাঁটি গন্ধরস, তার অর্ধেক অর্থাৎ আড়াই শত শেকল সুগন্ধি দারুচিনি, আড়াই শত শেকল বচ,
24 পাঁচ শত শেকল সূক্ষ্ম দারুচিনি ও এক হিন জলপাইয়ের তেল নেবে।
25 এ সমস্ত কিছু দ্বারা তুমি অভিষেকের পবিত্র তেল সুগন্ধি-প্রস্তুতকারীর প্রক্রিয়া মতে প্রস্তুত করবে, তা অভিষেকের জন্য পবিত্র তেল হবে।
26 আর তা দিয়ে তুমি জমায়েত-তাঁবু, শরীয়ত-সিন্দুক,
27 টেবিল ও তার সমস্ত পাত্র, প্রদীপ-আসন ও তার সমস্ত পাত্র, ধূপগাহ্,
28 পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ ও তার সমস্ত পাত্র এবং ধোবার পাত্র ও তার আসন অভিষেক করবে।
29 আর এসব বস্তু পবিত্র করবে, তাতে তা অতি পবিত্র হবে; যে কেউ তা সপর্শ করে, তার পবিত্র হওয়া চাই।
30 আর তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে আমার ইমামের কাজ করার জন্য অভিষেক করে পবিত্র করবে।
31 আর বনি-ইসরাইলকে বলবে, তোমাদের পুরুষানুক্রমে আমার জন্য তা পবিত্র অভিষেকের তেল হবে।
32 মানুষের শরীরে তা ঢালা যাবে না এবং তোমরা তার দ্রব্যের পরিমাণ অনুসারে সেরকম আর কোন তেল প্রস্তুত করবে না; তা পবিত্র, তোমাদের পক্ষে পবিত্র হবে।
33 যে কেউ তার মত তেল প্রস্তুত করে ও যে কেউ পরের শরীরে তার কিঞ্চিৎ দেয়, সে তার লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
34
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি তোমার কাছে সুগন্ধি দ্রব্য নেবে— গুগ্গুলু, নখী, কুন্দুরু; এসব সুগন্ধি দ্রব্যের ও খাঁটি লোবানের প্রত্যেকটি সমান ভাগ করে নেবে।
35 আর তা দ্বারা সুগন্ধি-প্রস্তুতকারীর প্রক্রিয়া মতে করা ও লবণ মিশানো একটি খাঁটি পবিত্র সুগন্ধি ধূপ প্রস্তুত করবে।
36 তার কিঞ্চিৎ চূর্ণ করে, যে জমায়েত-তাঁবুতে আমি তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো, তার মধ্যে শরীয়ত-সিন্দুকের সম্মুখে তা রাখবে; তা তোমাদের জ্ঞানে অতি পবিত্র হবে।
37 এবং তুমি যে সুগন্ধি ধূপ প্রস্তুত করবে, তার দ্রব্যের পরিমাণ অনুসারে তোমরা নিজেদের জন্য তা করো না, তা তোমার জ্ঞানে মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে।
38 যে কেউ ঘ্রাণ নেবার জন্য সেই রকম ধূপ প্রস্তুত করবে, সে তার লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 দেখ, আমি এহুদা-বংশীয় হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেলের নাম ধরে ডাকলাম।
3 আর আমি তাকে আল্লাহ্র রূহে— জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, বিদ্যায় ও সমস্ত রকম শিল্প-কৌশলে— পরিপূর্ণ করলাম;
4 যাতে সে কৌশলের কাজ কল্পনা করতে পারে, সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জের কাজ করতে পারে,
5 খচিত করার মণি কাটতে, কাঠ খোদাই করতে ও সমস্ত রকম শিল্পকর্ম করতে পারে।
6 আর দেখ, আমি দান-বংশজাত অহীষামকের পুত্র অহলীয়াবকে তার সহকারী করে দিলাম এবং সমস্ত দক্ষ লোকের অন্তরে বিজ্ঞতা দিলাম। অতএব আমি তোমাকে যা যা হুকুম করেছি, সেসব তারা তৈরি করবে;
7 জমায়েত-তাঁবু, শরীয়ত-সিন্দুক, তার উপরিস্থ গুনাহ্ আবরণ এবং তাঁবুর সমস্ত পাত্র;
8 আর টেবিল ও তার সমস্ত পাত্র, খাঁটি সোনার প্রদীপ-আসন ও তার সমস্ত পাত্র এবং ধূপগাহ্;
9 আর পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ ও তার সমস্ত পাত্র এবং ধোবার পাত্র ও তার গামলা;
10 এবং সূক্ষ্ম শিল্পীত পোশাক, ইমামের কাজ করার জন্য ইমাম হারুনের পবিত্র পোশাক ও তার পুত্রদের পোশাক;
11 এবং অভিষেকের জন্য তেল ও পবিত্র স্থানের জন্য সুগন্ধি ধূপ; আমি তোমাকে যেমন হুকুম করেছি, সেই অনুসারে তারা সবকিছুই করবে।
12
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে আরও এই কথা বল,
13 তোমরা অবশ্য আমার বিশ্রামবার পালন করবে; কেননা তোমাদের পুরুষানুক্রমে আমার ও তোমাদের মধ্যে এই একটি চিহ্ন রইলো, যেন তোমরা জানতে পার যে, আমিই তোমাদের পবিত্রকারী মাবুদ,
14 অতএব তোমরা বিশ্রামবার পালন করবে, কেননা তোমাদের জন্য সেদিন পবিত্র; যে কেউ সেদিন নাপাক করবে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; কারণ যে কেউ ঐ দিনে কাজ করবে, সে তার লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
15 ছয় দিন কাজ করা হবে কিন্তু সপ্তম দিন মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রামের জন্য পবিত্র বিশ্রামবার। সেই বিশ্রামবারে যে কেউ কাজ করবে তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
16 বনি-ইসরাইলরা চিরস্থায়ী নিয়ম বলে পুরুষানুক্রমে বিশ্রামবার মান্য করার জন্য বিশ্রামবার পালন করবে।
17 আমার ও বনি-ইসরাইলদের মধ্যে এটি চিরস্থায়ী চিহ্ন; কেননা মাবুদ ছয় দিনে আসমান ও দুনিয়া নির্মাণ করেছিলেন, আর সপ্তম দিনে বিশ্রাম গ্রহণ করেছিলেন।
18
পরে তিনি তুর পর্বতে মূসার সঙ্গে কথা শেষ করে শরীয়ত-ফলক দু’টি, আল্লাহ্র আঙ্গুল দ্বারা লেখা পাথরের ফলক দু’টি, তাঁকে দিলেন।
1
পর্বত থেকে নামতে মূসার বিলম্ব হচ্ছে দেখে লোকেরা হারুনের কাছে একত্র হয়ে বললো, উঠুন, আমাদের অগ্রগামী হবার জন্য আমাদের জন্য দেবতা তৈরি করুন, কেননা যে মূসা মিসর দেশ থেকে আমাদেরকে বের করে এনেছেন, সেই ব্যক্তির কি হয়েছে তা আমরা জানি না।
2 তখন হারুন তাদেরকে বললেন, তোমরা নিজ নিজ স্ত্রী ও পুত্রকন্যার কানের সোনার গহনা খুলে আমার কাছে আন।
3 তাতে সমস্ত লোক তাদের কান থেকে সোনার সমস্ত কুণ্ডল খুলে হারুনের কাছে আনলো।
4 তখন তিনি তাদের হাত থেকে তা গ্রহণ করে শিল্পাস্ত্রে গঠন করলেন এবং একটি ছাঁচে ঢালা বাছুর নির্মাণ করলেন। তখন লোকেরা বলতে লাগল, হে ইসরাইল, এই তোমার দেবতা, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন।
5 আর হারুন তা দেখে তার সম্মুখে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন এবং হারুন ঘোষণা করে বললেন, আগামীকাল মাবুদের উদ্দেশে উৎসব হবে।
6 আর লোকেরা পরদিন প্রত্যুষে উঠে পোড়ানো-কোরবানী করলো এবং মঙ্গল-কোরবানী আনলো; আর লোকেরা ভোজন পান করতে বসলো, পরে ক্রীড়া করতে উঠলো।
7
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি নেমে যাও, কেননা তোমার যে লোকদেরকে তুমি মিসর থেকে বের করে এনেছ, তারা ভ্রষ্ট হয়েছে।
8 আমি তাদেরকে যে পথে চলবার হুকুম দিয়েছি, তারা শীঘ্রই সেই পথ থেকে সরে গেছে; তারা নিজেদের জন্য একটি ছাঁচে ঢালা বাছুর তৈরি করে তাকে সেজ্দা করেছে এবং তার উদ্দেশে কোরবানী করেছে ও বলেছে, হে ইসরাইল, এই তোমার দেবতা, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন।
9 মাবুদ মূসাকে আরও বললেন, আমি সেই লোকদেরকে দেখলাম; দেখ, তারা একগুঁয়ে জাতি।
10 এখন তুমি ক্ষান্ত হও, তাদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হোক, আমি তাদেরকে সংহার করি, আর তোমার মধ্য থেকে একটি বড় জাতি উৎপন্ন করি।
11
তখন মূসা তাঁর আল্লাহ্ মাবুদকে বিনয় করে বললেন, হে মাবুদ, তোমার যে লোকদেরকে তুমি মহাপরাক্রম ও বলবান হাতে মিসর দেশ থেকে বের করেছ, তাদের বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধ কেন প্রজ্বলিত হবে?
12 মিসরীয়েরা কেন বলবে, অনিষ্টের জন্য, পর্বতময় অঞ্চলে তাদেরকে বিনষ্ট করতে ও দুনিয়া থেকে লোপ করতে, তিনি তাদেরকে বের করে এনেছেন? তুমি নিজের প্রচণ্ড ক্রোধ সংবরণ কর ও তোমার লোকদের অনিষ্টের সিদ্ধান্ত থেকে ক্ষান্ত হও।
13 তুমি নিজের গোলাম ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে স্মরণ কর, যাঁদের কাছে তুমি নিজের নামের কসম খেয়ে বলেছিলে, আমি আসমানের তারাগুলোর মত তোমাদের বংশবৃদ্ধি করবো এবং এই যে সমস্ত দেশের কথা বললাম তা তোমাদের বংশকে দেব, তারা চিরকালের জন্য তা অধিকার করবে।
14 তখন মাবুদ নিজের লোকদের যে অনিষ্ট করার কথা বলেছিলেন, তা থেকে ক্ষান্ত হলেন।
15
পরে মূসা মুখ ফিরালেন, শরীয়তের সেই দু’টি পাথরের ফলক হাতে নিয়ে পর্বত থেকে নামলেন। সেই পাথরের ফলকের এপিঠে ওপিঠে, দুই পিঠেই লেখা ছিল।
16 সেই পাথরের ফলক আল্লাহ্র তৈরি এবং সেই লেখা আল্লাহ্র লেখা, ফলকে খোদাই করা।
17 পরে ইউসা লোকদের কোলাহল শুনে মূসাকে বললেন, শিবিরে যুদ্ধের আওয়াজ হচ্ছে।
18 তিনি বললেন, ওটা তো জয়ধ্বনির আওয়াজ নয়, পরাজয়ের আর্তনাদও নয়; আমি গানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।
19
পরে মূসা শিবিরের কাছে আসলে পর ঐ বাছুর এবং নাচানাচি দেখতে পেলেন। তাতে তিনি ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে পর্বতের তলে তাঁর হাত থেকে সেই দু’খানা পাথরের ফলক নিক্ষেপ করে ভেঙে ফেললেন।
20 আর তাদের তৈরি বাছুর নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন এবং তা ধূলির মত পিষে পানির উপরে ছড়িয়ে বনি-ইসরাইলকে পান করালেন।
21
পরে মূসা হারুনকে বললেন, ঐ লোকেরা তোমার কি করেছিল যে, তুমি ওদের উপরে এমন মহাগুনাহ্ বর্তালে?
22 হারুন বললেন, আমার মালিকের ক্রোধ প্রজ্বলিত না হোক; আপনি লোকদেরকে জানেন যে, তারা দুষ্টতায় আসক্ত।
23 তারা আমাকে বললো, আমাদের অগ্রগামী হবার জন্য আমাদের জন্য দেবতা তৈরি করুন, কেননা যে মূসা মিসর দেশ থেকে আমাদেরকে বের করে এনেছেন, সেই ব্যক্তির কি হল তা আমরা জানি না।
24 তখন আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে যার যে সোনা থাকে, সে তা খুলে দিক। তারা আমাকে দিলে পর আমি তা আগুনে নিক্ষেপ করলে ঐ বাছুরটি বের হয়ে আসল।
25
পরে মূসা দেখলেন, লোকেরা স্বেচ্ছাচারী হয়েছে, কেননা হারুন দুশমনদের মধ্যে বিদ্রূপের জন্য তাদেরকে স্বেচ্ছাচারী হতে দিয়েছিলেন।
26 তখন মূসা শিবিরের দ্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, মাবুদের পক্ষে কে? সে আমার কাছে আসুক। তাতে লেবির সন্তানেরা সকলে তাঁর কাছে একত্র হল।
27 তিনি তাদেরকে বললেন, মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কোমরে তলোয়ার বাঁধ ও শিবিরের মধ্য দিয়ে এক দরজা থেকে অন্য দরজা পর্যন্ত যাতায়াত কর এবং প্রত্যেক জন আপন আপন ভাই, বন্ধু ও প্রতিবেশীকে হত্যা কর।
28 তাতে লেবির সন্তানেরা মূসার কথা অনুসারে সেরকম করলো, আর সেদিন লোকদের মধ্যে কমপক্ষে তিন হাজার লোক মারা পড়লো।
29 কেননা মূসা বলেছিলেন, আজ তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ পুত্র ও ভাইয়ের বিপক্ষ হয়ে মাবুদের উদ্দেশে নিজেদের পবিত্র করবে, তাতে তিনি এই দিনে তোমাদেরকে দোয়া করবেন।
30
পরদিন মূসা লোকদেরকে বললেন, তোমরা মহাগুনাহ্ করলে, এখন আমি মাবুদের কাছে উঠে যাচ্ছি; যদি সম্ভব হয়, তোমাদের গুনাহ্র কাফ্ফারা দেবো।
31 পরে মূসা মাবুদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, হায় হায়, এই লোকেরা মহাগুনাহ্ করেছে, নিজেদের জন্য সোনার দেবমূর্তি তৈরি করেছে।
32 আহা! এখন যদি এদের গুনাহ্ মাফ করতে চাও তবে মাফ কর। আর যদি না কর তবে আমি বিনয় করছি, তোমার লেখা কিতাব থেকে আমার নাম কেটে ফেল।
33 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে, তারই নাম আমি আমার কিতাব থেকে কেটে ফেলবো।
34 এখন যাও, আমি যে দেশের বিষয়ে তোমাকে বলেছি, সেই দেশে লোকদেরকে নিয়ে যাও। দেখ, আমার ফেরেশতা তোমার আগে আগে যাবেন কিন্তু আমি প্রতিফলের দিনে তাদের গুনাহ্র প্রতিফল দেব।
35
মাবুদ লোকদেরকে আঘাত করলেন, কেননা লোকেরা হারুনের কৃত সেই বাছুর তৈরি করেছিল।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, আমি ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের কাছে কসম খেয়ে যে দেশ তাদের বংশকে দিতে ওয়াদা করেছিলাম, সেই দেশে যাও। তুমি মিসর দেশ থেকে যে লোকদেরকে বের করে এনেছ তাদের সঙ্গে এই স্থান থেকে প্রস্থান কর।
2 আমি তোমার আগে এক জন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেব এবং কেনানীয়, আমোরীয়, হিট্টিয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়কে দূর করে দেব।
3 দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে যাও; কিন্তু আমি তোমার মধ্যবর্তী হয়ে যাব না, কেননা তুমি একগুঁয়ে জাতি; গেলে হয়তো পথের মধ্যে তোমাকে সংহার করবো।
4
এই অশুভ কথা শুনে লোকেরা শোক করলো, কেউ অলঙ্কার পরলো না।
5 মাবুদ মূসাকে বলেছিলেন, তুমি বনি-ইসরাইলদেরকে এই কথা বল, তোমরা একগুঁয়ে জাতি, এক নিমিষের জন্য তোমাদের মধ্যে গেলে আমি তোমাদেরকে সংহার করতে পারি; তোমরা এখন নিজ নিজ শরীর থেকে গহনা খুলে ফেল, তাতে জানতে পারব, তোমাদের বিষয়ে আমার কি করা কর্তব্য।
6 তখন বনি-ইসরাইলরা হোরেব পর্বত পর্যন্ত যাত্রাপথে নিজ নিজ সমস্ত গহনা খুলে ফেলল।
7
আর মূসা তাঁবু নিয়ে শিবিরের বাইরে ও শিবির থেকে দূরে স্থাপন করলেন এবং সেই তাঁবুর নাম জমায়েত-তাঁবু রাখলেন। আর মাবুদের কাছ থেকে কেউ কিছু জানতে চাইলে তাদের প্রত্যেক জন শিবিরের বাইরে অবস্থিত সেই জমায়েত-তাঁবুর কাছে গমন করতো।
8 মূসা যখন বের হয়ে সেই তাঁবুর কাছে যেতেন, তখন সমস্ত লোক উঠে প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুর দরজার সম্মুখে দাঁড়াতো এবং যে পর্যন্ত মূসা ঐ তাঁবুতে প্রবেশ না করতেন সেই পর্যন্ত তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত।
9 আর মূসা তাঁবুতে প্রবেশ করলে পর মেঘস্তম্ভ নেমে তাঁবুর দ্বারে অবস্থিতি করতো এবং মাবুদ মূসার সঙ্গে আলাপ করতেন।
10 সমস্ত লোক তাঁবুর দ্বারে অবস্থিত মেঘস্তম্ভ দেখতো ও সমস্ত লোক উঠে প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুর দরজার কাছে থেকে সেজ্দা করতো।
11 আর মানুষ যেমন তার বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করে, তেমনি মাবুদ মূসার সঙ্গে সামনা সামনি আলাপ করতেন। পরে মূসা শিবিরে ফিরে আসতেন কিন্তু নূনের পুত্র ইউসা নামে তাঁর যুব পরিচারক তাঁবুর মধ্য থেকে বাইরে যেতেন না।
12
আর মূসা মাবুদকে বললেন, দেখ, তুমি আমাকে বলছো এই লোকদেরকে নিয়ে যাও কিন্তু আমার সঙ্গী করে যাঁকে প্রেরণ করবে, তাঁর পরিচয় আমাকে দাও নি। তবুও বলছো আমি নাম দ্বারা তোমাকে জানি এবং তুমি আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়েছ।
13 ভাল, যদি তোমার দৃষ্টিতে আমি অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি তবে আরজ করি, আমি যেন তোমাকে জেনে তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হই, এজন্য আমাকে তোমার সমস্ত পথ জানতে দাও এবং এই জাতি যে তোমার লোক তা বিবেচনা কর।
14 তখন তিনি বললেন, আমার উপস্থিতি তোমার সঙ্গে গমন করবেন এবং আমি তোমাকে বিশ্রাম দেব।
15 তাতে তিনি তাঁকে বললেন, তোমার উপস্থিতি যদি সঙ্গে না যান তবে এই স্থান থেকে আমাদেরকে নিয়ে যেও না।
16 কেননা আমি ও তোমার এই লোকেরা যে তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছি, তা কিসে জানা যাবে? আমাদের সঙ্গে তোমার গমন দ্বারা কি নয়? এর দ্বারাই আমি ও তোমার লোকেরা ভূমণ্ডলস্থ যাবতীয় জাতি থেকে বিশিষ্ট।
17
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, এই যে কথা তুমি বললে, তাও আমি করবো, কেননা তুমি আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছে এবং আমি নাম দ্বারা তোমাকে জানি।
18 তখন তিনি বললেন, আরজ করি, তুমি আমাকে তোমার মহিমা দেখতে দাও।
19 আল্লাহ্ বললেন, আমি তোমার সম্মুখে আমার মহত্ত্ব প্রকাশ করবো ও মাবুদের নাম ঘোষণা করবো। আমি যাকে রহম করি, তাকে রহম করবো ও যার প্রতি করুণা করি, তার প্রতি করুণা করবো।
20 আরও বললেন, তুমি আমার মুখ দেখতে পাবে না, কেননা মানুষ আমাকে দেখলে বাঁচতে পারে না।
21 মাবুদ বললেন, দেখ, আমার কাছে একটি স্থান আছে; তুমি ঐ শৈলের উপরে দাঁড়াবে।
22 তাতে তোমার কাছ দিয়ে আমার মহিমা গমনকালে আমি তোমাকে শৈলের একটি ফাটলে রাখবো ও আমার গমনের শেষ পর্যন্ত হাত দিয়ে তোমাকে আচ্ছন্ন করবো;
23 পরে আমি হাত উঠালে, তুমি আমার পিছন ভাগ দেখতে পাবে কিন্তু আমার মুখ দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি আগের মত দু’টি পাথরের ফলক খোদাই করে প্রস্তুত কর; প্রথম যে দু’টি ফলক তুমি ভেঙে ফেলেছ, তাতে যা যা লেখা ছিল, সেসব কথা আমি এই দু’টি ফলকে লিখবো।
2 আর তুমি খুব ভোরে প্রস্তুত হয়ো, খুব ভোরে তুর পর্বতে উঠে এসো ও সেখানে পর্বতের চূড়ায় আমার কাছে উপস্থিত হয়ো।
3 কিন্তু তোমার সঙ্গে অন্য কোন মানুষ উপরে না আসুক এবং এই পর্বতের কোথাও কোন মানুষ দেখা না যাক, আর গোমেষাদির পালও এই পর্বতের সম্মুখে না চরুক।
4
পরে মূসা প্রথম পাথরের মত দু’টি পাথরের ফলক খোদাই করলেন এবং মাবুদের হুকুম অনুসারে খুব ভোরে উঠে তুর পর্বতের উপরে গেলেন ও সেই দু’টি পাথরের ফলক হাতে করে নিলেন।
5 তখন মাবুদ মেঘে নেমে সেই স্থানে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হয়ে মাবুদের নাম ঘোষণা করলেন।
6 ফলত মাবুদ তাঁর সম্মুখ দিয়ে গমন করে ঘোষণা করলেন,
‘মাবুদ, মাবুদ,
স্নেহশীল ও কৃপাময় আল্লাহ্,
ক্রোধ ধীর এবং অটল মহব্বতে
ও বিশ্বস্ততায় মহান;
7
হাজার হাজার পুরুষ পর্যন্ত অটল
মহব্বত রক্ষাকারী।
অপরাধের, অধর্মের ও গুনাহ্র ক্ষমাকারী;
তবুও তিনি অবশ্য গুনাহ্র দণ্ড দেন;
পুত্র পৌত্রদের উপরে, তৃতীয়
ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত,
তিনি পিতৃগণের অপরাধের
প্রতিফল বর্তান।’
8
মূসা তখনই ভূমিতে উবুড় হয়ে সেজ্দা করলেন,
9 আর বললেন, হে মালিক, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করে থাকি তবে আরজ করি, মালিক, আমাদের মধ্যবর্তী হয়ে গমন কর, কারণ এরা একগুঁয়ে জাতি। তুমি আমাদের অপরাধ ও গুনাহ্ মাফ করে তোমার অধিকারের জন্য আমাদেরকে গ্রহণ কর।
10
তখন তিনি বললেন, দেখ, আমি একটি নিয়ম করি; সারা দুনিয়াতে ও যাবতীয় জাতির মধ্যে যে রকম কখনও করা হয় নি, এমন সমস্ত অলৌকিক কাজ আমি তোমার সমস্ত লোকের সাক্ষাতে করবো; তাতে যেসব লোকের মধ্যে তুমি আছ, তারা মাবুদের কাজ দেখবে, কেননা তোমার কাছে যা করবো, তা ভয়ঙ্কর।
11
আজ আমি তোমাকে যা হুকুম করি, তাতে মনোযোগ দাও; দেখ, আমি আমোরীয়, কেনানীয়, হিট্টিয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়কে তোমার সম্মুখ থেকে তাড়িয়ে দেব।
12 সাবধান, যে দেশে তুমি যাচ্ছ, সেই দেশবাসীদের সঙ্গে নিয়ম স্থির করো না, তা করলে তোমার মধ্যে তা ফাঁদস্বরূপ হবে।
13 কিন্তু তোমরা তাদের সমস্ত বেদী ভেঙে ফেলবে, তাদের সমস্ত স্তম্ভ খণ্ড খণ্ড করবে ও সেখানকার সমস্ত আশেরা-মূর্তি কেটে ফেলবে।
14 তুমি অন্য দেবতার কাছে সেজ্দা করো না, কেননা মাবুদ স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী নাম ধারণ করেন; তিনি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্।
15 কি জানি, তুমি সেই দেশবাসী লোকদের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করবে; তা করলে যে সময়ে তারা নিজের দেবতাদের পিছনে চলে জেনা করে ও নিজের দেবতাদের কাছে কোরবানী করে, সেই সময়ে কেউ তোমাকে ডাকলে তুমি তার কোরবানীর জিনিস খাবে;
16 কিংবা তুমি তোমার পুত্রদের জন্য তাদের কন্যাদেরকে গ্রহণ করলে তাদের কন্যারা নিজের দেবতাদের পিছনে চলে জেনা করে তোমার পুত্রদেরকে তাদের দেবতাদের অনুগামী করে জেনা করাবে।
17 তুমি তোমার জন্য ছাঁচে ঢালা কোন দেবতা তৈরি করো না।
18
তুমি খামিহীন রুটির উৎসব পালন করবে। আবীব মাসের যে নির্ধারিত সময়ে যেরকম করতে তোমাকে হুকুম করেছি, সেভাবে তুমি সেই সাত দিন খামিহীন রুটি খাবে, কেননা সেই আবীব মাসে তুমি মিসর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছিলে।
19
প্রথমজাত সমস্ত পুত্র সন্তান এবং গোমেষাদি পালের মধ্যে প্রথমজাত সমস্ত পুরুষ পশু আমার।
20 প্রথমজাত গাধার পরিবর্তে তুমি ভেড়ার বাচ্চা দিয়ে তাকে মুক্ত করবে; যদি মুক্ত না কর তবে তার গলা ভেঙ্গে দেবে। তোমার প্রথমজাত পুত্রদেরকে তুমি মুক্ত করবে। আর কেউ শুন্য হাতে আমার সম্মুখে উপস্থিত হবে না।
21
তুমি ছয় দিন পরিশ্রম করবে কিন্তু সপ্তম দিনে বিশ্রাম করবে; চাষের ও ফসল কাটার সময়েও বিশ্রাম করবে।
22
তুমি সাত সপ্তাহের উৎসব, অর্থাৎ কাটা গমের প্রথমে পাকা ফলের উৎসব এবং বছরের শেষভাগে ফলসংগ্রহের উৎসব পালন করবে।
23
বছরের মধ্যে তিন বার তোমাদের সমস্ত পুরুষ মানুষ ইসরাইলের আল্লাহ্ সার্বভৌম মাবুদের সাক্ষাতে উপস্থিত হবে।
24 কেননা আমি তোমার সম্মুখ থেকে জাতিদেরকে, দূর করে দেব ও তোমার সীমা বাড়িয়ে দেব এবং তুমি বছরের মধ্যে তিনবার তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত হবার জন্য গমন করলে তোমার ভূমিতে কেউ লোভ করবে না।
25
তুমি আমার কোরবানীর রক্ত খামিযুক্ত খাদ্যের সঙ্গে কোরবানী করবে না ও ঈদুল ফেসাখের উৎসবের কোরবানীর জিনিস সকাল পর্যন্ত রাখা যাবে না।
26 তুমি নিজের ভূমির প্রথমে পাকা ফলের অগ্রিমাংশ তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গৃহে আনবে। তুমি ছাগলের বাচ্চাকে তার মায়ের দুধে সিদ্ধ করবে না।
27
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি এসব কালাম লিপিবদ্ধ কর, কেননা আমি এসব কালাম অনুসারে তোমার ও ইসরাইলের সঙ্গে নিয়ম স্থির করলাম।
28 সেই সময়ে মূসা চল্লিশ দিন আর চল্লিশ রাত সেখানে মাবুদের সঙ্গে অবস্থান করলেন, খাদ্য ও পানি গ্রহণ করলেন না; তিনি সেই দু’টি পাথরে উপর নিয়মের কালামগুলো অর্থাৎ দশটি হুকুম লিখলেন।
29
পরে মূসা দু’টি শরীয়ত-ফলক হাতে নিয়ে তুর পর্বত থেকে নামলেন; যখন পর্বত থেকে নামলেন, তখন, মাবুদের সঙ্গে আলাপে তাঁর মুখমণ্ডল যে উজ্জ্বল হয়েছিল, তা মূসা বুঝতে পারলেন না।
30 পরে যখন হারুন ও সমস্ত বনি-ইসরাইল মূসাকে দেখতে পেল, তখন দেখ, তাঁর মুখ উজ্জ্বল, আর তারা তাঁর কাছে আসতে ভয় পেল।
31 কিন্তু মূসা তাদেরকে ডাকলে হারুন ও মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দ তাঁর কাছে ফিরে আসলেন, আর মূসা তাঁদের সঙ্গে আলাপ করলেন।
32 এর পরে বনি-ইসরাইল সকলে তাঁর কাছে আসল; তাতে তিনি তুর পর্বতে কথিত মাবুদের সমস্ত হুকুম তাদেরকে জানালেন।
33 পরে তাদের সঙ্গে কথোপকথন সমাপ্ত হলে মূসা তাঁর মুখে আবরণ দিলেন।
34 কিন্তু মূসা যখন মাবুদের সঙ্গে কথা বলতে ভিতরে তাঁর সম্মুখে যেতেন তখন এবং যতক্ষণ সেখানে থাকতেন ততক্ষণ সেই আবরণ খুলে রাখতেন। পরে যে সমস্ত হুকুম পেতেন, বের হয়ে বনি-ইসরাইলকে তা বলতেন।
35 মূসার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল, এটা বনি-ইসরাইল তাঁর মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করে দেখতো। পরে মূসা মাবুদের সঙ্গে কথা বলতে যে পর্যন্ত না যেতেন, সেই পর্যন্ত তাঁর মুখে পুনর্বার আবরণ দিয়ে রাখতেন।
1
পরে মূসা বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে একত্র করে তাদেরকে বললেন, মাবুদ তোমাদের এসব কালাম পালন করতে হুকুম দিয়েছেন।
2 ছয় দিন কাজ করা যাবে কিন্তু সপ্তম দিন তোমাদের পক্ষে পবিত্র দিন হবে; তা মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রাম করার বিশ্রামবার হবে। যে কেউ সেই দিনে কাজ করবে, তার প্রাণদণ্ড হবে।
3 তোমরা বিশ্রামবারে তোমাদের কোন বাসস্থানে আগুন জ্বালিও না।
4
আর মূসা বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে বললেন, মাবুদ এই হুকুম দিয়েছেন;
5 তোমরা তোমাদের কাছ থেকে মাবুদের জন্য উপহার নাও। যার যেমন ইচ্ছা হয়, সেইমত সে মাবুদের জন্য উপহারস্বরূপ এসব দ্রব্য আনবে—
6 সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জ এবং নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সুতা ও ছাগলের লোম,
7 এবং পরিশোধিত ভেড়ার চামড়া ও শুশুকের চামড়া, শিটীম কাঠ,
8 এবং প্রদীপের জন্য তেল, আর অভিষেকের জন্য তেলের ও সুগন্ধি ধূপের জন্য গন্ধদ্রব্য,
9 এবং এফোদের ও বুক-পাটার জন্য গোমেদ ও অন্যান্য খচিত হবার মণি।
10
তোমাদের প্রত্যেক দক্ষ লোক এসে মাবুদের নির্দেশিত সমস্ত বস্তু তৈরি করুক;
11 শরীয়ত-তাঁবু, শরীয়ত-তাঁবুর তাঁবু, ছাদ, ঘুণ্টী, তক্তা, অর্গল, স্তম্ভ ও চুঙ্গি,
12 সিন্দুক ও তার বহন-দণ্ড, গুনাহ্ আবরণ ও ব্যবধানের পর্দা,
13 টেবিল, তার বহন-দণ্ড ও সমস্ত পাত্র, দর্শন-রুটি,
14 এবং আলোর জন্য প্রদীপ-আসন ও তার সমস্ত পাত্র, প্রদীপ ও প্রদীপের জন্য তেল,
15 এবং ধূপের কোরবানগাহ্ ও তার বহন-দণ্ড এবং অভিষেকের জন্য তেল ও সুগন্ধি ধূপ, শরীয়ত-তাঁবুর প্রবেশ-দ্বারের পর্দা,
16 পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্, তার ব্রোঞ্জের জাল, বহনদণ্ড ও সমস্ত পাত্র এবং ধোবার পাত্র ও তার গামলা,
17 প্রাঙ্গণের পর্দা, তার স্তম্ভ ও চুঙ্গি এবং প্রাঙ্গণের দরজার পর্দা,
18 এবং শরীয়ত-তাঁবুর গোঁজ, প্রাঙ্গণের গোঁজ ও উভয়ের দড়ি,
19 এবং পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করার জন্য সূক্ষ্ম কাজ-করা পোশাক, অর্থাৎ ইমাম হারুনের জন্য পবিত্র পোশাক ও ইমামের কাজ করার জন্য তার পুত্রদের পোশাক।
20
পরে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল মূসার সম্মুখ থেকে প্রস্থান করলো।
21 আর যাদের অন্তরে প্রবৃত্তি ও মনে ইচ্ছা হল, তারা সকলে জমায়েত-তাঁবু নির্মাণের জন্য এবং তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত কাজের ও পবিত্র পোশাকের জন্য মাবুদের উদ্দেশে উপহার আনলো।
22 পুরুষ ও স্ত্রী যত লোক ইচ্ছুক হল, তারা সকলে এসে বলয়, কুণ্ডল, আংটি ও হার, সোনার নানা রকম অলংকার আনলো। যে মাবুদের উদ্দেশে সোনার উপহার আনতে চাইল, সে আনলো।
23 আর যাদের কাছে নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সুতা, ছাগলের লোম, পরিশোধিত ভেড়ার চামড়া ও শুশুকের চামড়া ছিল, তারা প্রত্যেকে তা আনলো।
24 যে রূপা ও ব্রোঞ্জের উপহার উপস্থিত করলো, সে মাবুদের উদ্দেশে সেই উপহার আনলো এবং কাজে ব্যবহার করার জন্য যার কাছে শিটীম কাঠ ছিল, সে তা নিয়ে আসল।
25 আর দক্ষ স্ত্রীলোকেরা নিজ নিজ হাতে সুতা কেটে, তাদের কাটা নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সুতা আনলো।
26 যে সমস্ত স্ত্রীলোক তাদের দক্ষতা ব্যবহারে অনুপ্রাণিত হল তারা সকলে ছাগলের লোমের সুতা কাটলো।
27 নেতৃবর্গ এফোদের ও বুকপাটার জন্য গোমেদ ও অন্যান্য খচিত হবার মণি,
28 এবং প্রদীপের, অভিষেকের তেলের ও সুগন্ধি ধূপের জন্য গন্ধদ্রব্য ও তেল আনলেন।
29 বনি-ইসরাইল ইচ্ছাপূর্বক মাবুদের উদ্দেশে উপহার আনলো, মাবুদ মূসার মধ্য দিয়ে যা যা করতে হুকুম করেছিলেন, তার কোন কাজ করার জন্য যে পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের অন্তরে ইচ্ছা হল তারা প্রত্যেকে উপহার আনলো।
30
পরে মূসা বনি-ইসরাইলদেরকে বললেন, দেখ, মাবুদ এহুদা-বংশীয় হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেলের নাম ধরে ডাকলেন;
31 তিনি তাঁকে আল্লাহ্র রূহে— জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, বিদ্যায় ও সমস্ত রকম শিল্প-কৌশলে পরিপূর্ণ করলেন,
32 যাতে তিনি কৌশলের কাজ কল্পনা করতে, সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জের কাজ করতে,
33 খচিত হবার মণি কাটতে, কাঠ খোদাই করতে ও সমস্ত রকম কৌশলযুক্ত শিল্পকর্ম করতে পারেন।
34 আর এই সমস্ত কাজ শিক্ষা দিতে তাঁর ও দান-বংশীয় অহীষামকের পুত্র অহলীয়াবের অন্তরে প্রবৃত্তি দিলেন।
35 তিনি খোদাই ও শিল্পকর্ম করতে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সুতা দিয়ে সূচিকর্ম করতে ও তাঁতের কাজ করতে, অর্থাৎ যাবতীয় শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম করতে তাঁদের অন্তর বিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ করলেন।
1
অতএব মাবুদের সমস্ত হুকুম অনুসারে পবিত্র স্থানের সমস্ত কাজ কিভাবে করতে হবে, তা জানতে মাবুদ বৎসলেল ও অহলীয়াব এবং আর যাঁদেরকে বিচক্ষণতা ও বুদ্ধি দিয়েছেন, সেসব দক্ষ লোক কাজ করবেন।
2
পরে মূসা বৎসলেল ও অহলীয়াবকে এবং মাবুদ যাঁদের অন্তরে বিচক্ষণতা দিয়েছিলেন, সেই অন্য সমস্ত দক্ষ লোককে ডাকলেন, অর্থাৎ সেই কাজ করার জন্য উপস্থিত থেকে যাঁদের মনে প্রবৃত্তি জন্মালো, তাঁদেরকে ডাকলেন।
3 তাতে তাঁরা পবিত্র স্থানের কাজের উপাদান সম্পন্ন করার জন্য বনি-ইসরাইলদের আনা সমস্ত উপহার মূসার কাছ থেকে গ্রহণ করলেন। আর লোকেরা তখনও প্রতি প্রভাতে তাঁর কাছে স্বেচ্ছায় আরও দ্রব্য নিয়ে আসছিল।
4 তখন পবিত্র স্থানের সকল কাজে নিযুক্ত বিজ্ঞ সমস্ত লোক নিজ নিজ কাজ থেকে এসে মূসাকে বললেন,
5 মাবুদ যা যা তৈরি করতে হুকুম করেছিলেন, লোকেরা সেই কাজের জন্য অতিরিক্ত আরও বস্তু আনছে।
6 তাতে মূসা হুকুম দিয়ে শিবিরের সর্বত্র এই ঘোষণা করে দিলেন যে, পুরুষ কিংবা স্ত্রীলোক পবিত্র স্থানের জন্য আর উপহার প্রস্তুত না করুক।
7 তাতে লোকেরা তাদের উপহার আনা থেকে বিরত হল। কেননা সমস্ত কাজ করার জন্য তাদের যথেষ্ট, এমন কি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রব্য প্রস্তুত ছিল।
8
পরে কাজে নিযুক্ত দক্ষ সমস্ত লোক পাকানো সাদা মসীনা সুতা, নীল, বেগুনে ও লাল সুতায় তৈরি দশটি পর্দা দ্বারা শরীয়ত-তাঁবু প্রস্তুত করলেন। সেই পর্দাগুলোতে শিল্পীদের কৃত কারুবীদের আকৃতি ছিল।
9 প্রত্যেক পর্দা আটাশ হাত লম্বা ও প্রত্যেক পর্দা চার হাত চওড়া, সমস্ত পর্দার মাপ ছিল একই।
10
পরে তিনি তার পাঁচটি পর্দা একত্র যোগ করলেন এবং অন্য পাঁচটি পর্দাও একত্রে যোগ করলেন।
11 আর জোড়ার স্থানে প্রথম অন্ত্য পর্দার কিনারায় নীল রংয়ের ঘুণ্টীঘরা করলেন এবং জোড়ার স্থানের দ্বিতীয় অন্ত্য পর্দার কিনারায়ও ঠিক তা-ই করলেন।
12 প্রথম পর্দাতে পঞ্চাশটি ঘুণ্টীঘরা করলেন এবং জোড়ার স্থানের দ্বিতীয় পর্দার কিনারায়ও পঞ্চাশটি ঘুণ্টীঘরা করলেন; সেই দু’টি ঘুণ্টীঘরাশ্রেণী পরসপর সম্মুখীন হল।
13 পরে তিনি সোনার পঞ্চাশটি ঘুণ্টী তৈরি করে সেই ঘুণ্টিতে পর্দাগুলো পরসপর জোড়া দিলেন; তাতে একটিই শরীয়ত-তাঁবু হল।
14
পরে তিনি শরীয়ত-তাঁবুর উপরে আচ্ছাদন করার তাঁবুর জন্য ছাগলের লোম দিয়ে এগারটি পর্দা প্রস্তুত করলেন।
15 তার প্রত্যেক পর্দা ত্রিশ হাত লম্বা ও চার হাত চওড়া; এগারটি পর্দার একই মাপ ছিল।
16 পরে তিনি পাঁচটি পর্দা পৃথক জোড়া দিলেন ও ছয়টি পর্দা পৃথক জোড়া দিলেন।
17 আর জোড়ার স্থানের অন্ত্য পর্দার কিনারায় পঞ্চাশটি ঘুণ্টীঘরা করলেন এবং দ্বিতীয় জোড়ার স্থানের অন্ত্য পর্দার কিনারায়ও পঞ্চাশটি ঘুণ্টীঘরা করলেন।
18 আর জোড়া দিয়ে একই তাঁবু করার জন্য ব্রোঞ্জের পঞ্চাশটি ঘুণ্টী তৈরি করলেন।
19 পরে পরিশোধিত ভেড়ার চামড়া দিয়ে তাঁবুর একটি ছাদ, আবার তার উপরে শুশুকের চামড়ার একটি ছাদ প্রস্তুত করলেন।
20
পরে তিনি শরীয়ত-তাঁবুর জন্য শিটীম কাঠের দাঁড় করানো তক্তাগুলো তৈরি করলেন।
21 একেক তক্তা লম্বায় দশ হাত ও প্রত্যেক তক্তা চওড়ায় দেড় হাত।
22 প্রত্যেক তক্তাতে পরসপর সংযুক্ত দু’টি করে পায়া ছিল; এভাবে তিনি শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত তক্তা প্রস্তুত করলেন।
23 তিনি শরীয়ত-তাঁবুর জন্য তক্তা প্রস্তুত করলেন, দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ পাশের জন্য বিশটি তক্তা;
24 আর সেই বিশটি তক্তার নিচে রূপার চল্লিশটি চুঙ্গি তৈরি করলেন, একটি তক্তার নিচে তার দু’টি পায়ার জন্য দু’টি চুঙ্গি এবং অন্যান্য তক্তার নিচেও তাদের দু’টি করে পায়ার জন্য দু’টা করে চুঙ্গি তৈরি করলেন।
25 আর শরীয়ত-তাঁবুর দ্বিতীয় পাশের জন্য উত্তর দিকে বিশটি তক্তা করলেন,
26 ও সেগুলোর জন্য চল্লিশটি রূপার চুঙ্গি গড়লেন; একটি তক্তার নিচে দু’টি করে চুঙ্গি ও অন্য অন্য তক্তার নিচেও দু’টি করে চুঙ্গি হল।
27 আর পশ্চিম দিকে শরীয়ত-তাঁবুর পিছন দিকের জন্য ছয়খানি তক্তা করলেন।
28 শরীয়ত-তাঁবুর সেই পিছন দিকের দুই কোণে দু’খানি তক্তা রাখলেন।
29 সেই দু’টি তক্তার নিচে ভাঁজ ছিল, দু’টি এবং সেরকমভাবে মাথাতেও প্রথম কড়ার কাছে অখণ্ড ছিল; এভাবে তিনি দু’টি কোণের তক্তা একসঙ্গে জুড়ে দিলেন।
30 তাতে আটখানি তক্তা এবং সেগুলোর রূপার ষোলটি চুঙ্গি হল, একেক তক্তার নিচে দু’টা করে চুঙ্গি হল।
31
পরে তিনি শিটীম কাঠ দিয়ে অর্গল প্রস্তুত করলেন;
32 শরীয়ত-তাঁবুর এক পাশের তক্তার জন্য পাঁচটি অর্গল, শরীয়ত-তাঁবুর অন্য পাশের তক্তার জন্য পাঁচটি অর্গল এবং পশ্চিম দিকে শরীয়ত-তাঁবুর পিছন দিকের তক্তার জন্য পাঁচটি অর্গল।
33 আর মধ্যবর্তী অর্গলটিকে তক্তাগুলোর মধ্যস্থান দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তার করলেন।
34 পরে তিনি তক্তাগুলো সোনা দিয়ে মুড়লেন এবং অর্গলের ঘর হবার জন্য সোনার কড়া গড়ে অর্গলও সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
35
আর তিনি নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে পর্দা প্রস্তুত করলেন, তাতে কারুবীর আকৃতি করলেন, তা শিল্পীদের কর্ম।
36 আর তার জন্য শিটীম কাঠের চারটি স্তম্ভ তৈরি করে সোনা দিয়ে মুড়লেন এবং তাদের আঁকড়াও সোনা দিয়ে তৈরি করলেন এবং তার জন্য রূপার চারটি চুঙ্গি ঢাললেন।
37 পরে তিনি তাঁবুর দরজার জন্য নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে সূচি-কর্মবিশিষ্ট একটি পর্দা তৈরি করলেন।
38 আর তার পাঁচটি স্তম্ভ ও সেগুলোর আঁকড়া তৈরি করলেন এবং সেগুলোর মাথলা ও শলাকা সোনা দিয়ে মুড়লেন কিন্তু সেগুলোর পাঁচটি চুঙ্গি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করলেন।
1
আর বৎসলেল শিটীম কাঠ দিয়ে সিন্দুক তৈরি করলেন, তা আড়াই হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া ও দেড় হাত উঁচু করা হল;
2 আর ভিতর ও বাইরেটা খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন এবং তার চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দিলেন।
3 আর তার চারটি পায়ার জন্য সোনার চারটি কড়া ঢাললেন; তার এক পাশে দু’টি কড়া ও অন্য পাশে দু’টি কড়া দিলেন।
4 আর তিনি শিটীম কাঠের দু’টি বহন-দণ্ড করে সোনা দিয়ে মুড়লেন,
5 এবং সিন্দুক বহন করার জন্য ঐ বহন-দণ্ড সিন্দুকের দুই পাশের কড়াতে প্রবেশ করালেন।
6
পরে তিনি খাঁটি সোনা দিয়ে গুনাহ্ আবরণ প্রস্তুত করলেন; তা আড়াই হাত লম্বা ও দেড় হাত চওড়া করা হল।
7 আর পিটানো সোনা দিয়ে দু’টি কারুবী নির্মাণ করে গুনাহ্ আবরণের দুই প্রান্তে দিলেন।
8 তার এক প্রান্তে এক কারুবী ও অন্য প্রান্তে অন্য কারুবী, গুনাহ্ আবরণের দুই প্রান্তে তার সাথে অখণ্ড দু’টি কারুবী দিলেন।
9 তাতে সেই দু’টি কারুবী উপরের দিকে পাখা বিস্তার করে ঐ পাখা দ্বারা গুনাহ্ আবরণ আচ্ছাদন করলো এবং তাদের মুখ পরসপরের দিকে রইলো; কারুবীদের দৃষ্টি গুনাহ্ আবরণের দিকে রইলো।
10
পরে তিনি শিটীম কাঠ দিয়ে টেবিল তৈরি করলেন, তা দুই হাত লম্বা, এক হাত চওড়া ও দেড় হাত উঁচু করা হল।
11 আর তা খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়লেন ও তার চার দিকে সোনার কিনারা গড়ে দিলেন।
12 আর তিনি তার জন্য চারদিকে চার আঙ্গুল পরিমিত একটি বেড় তৈরি করলেন ও বেড়ের চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দিলেন।
13 আর তার জন্য সোনার চারটি কড়া ঢেলে তার চার পায়ার চার কোণে রাখলেন।
14 সেই কড়া বেড়ের কাছে ছিল এবং টেবিল বহন করার জন্য বহন-দণ্ডের ঘর হল।
15 পরে তিনি টেবিল বহন করার জন্য শিটীম কাঠ দিয়ে দু’টি বহন-দণ্ড করে সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
16 আর টেবিলের জন্য সমস্ত পাত্র তৈরি করলেন, অর্থাৎ তার থালা, চামচ, ঢালবার জন্য সেঁকপাত্র ও সমস্ত ঢাকনা খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করলেন।
17
পরে তিনি খাঁটি সোনা দিয়ে প্রদীপ-আসন তৈরি করলেন; তার কাণ্ড, শাখা, গোলাধার, কুঁড়ি ও ফুল তার সাথে সংযুক্ত ছিল।
18 সেই প্রদীপ-আসনের এক পাশ থেকে তিনটি শাখা ও প্রদীপ-আসনের অন্য পাশ থেকে তিনটি শাখা, এই ছয়টি শাখা তার পাশ থেকে বের হল।
19 একটি শাখায় বাদাম ফুলের মত তিনটি গোলাধার, একটি কুঁড়ি ও একটি ফুল এবং অন্য শাখায় বাদাম ফুলের মত তিনটি গোলাধার, একটি কুঁড়ি ও একটি ফুল, প্রদীপ-আসন থেকে বের হওয়া ছয়টি শাখায় এরকম হল।
20 আর প্রদীপ-আসনের বাদাম ফুলের মত চারটি গোলাধার ও তাদের কুঁড়ি ও ফুল ছিল।
21 আর প্রদীপ-আসনের যে ছয়টি শাখা বের হল, সেগুলোর এক শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি, অন্য শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি ও অপর শাখাদ্বয়ের নিচে তৎসহ অখণ্ড একটি কুঁড়ি ছিল।
22 এই কুঁড়ি ও শাখা তার সাথে সংযুক্ত ছিল এবং সমস্তই পিটানো খাঁটি সোনার একই বস্তু ছিল।
23 আর তিনি তার সাতটি প্রদীপ এবং তার চিমটা ও শীষদানী খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করলেন।
24 তিনি এই প্রদীপ-আসন এবং ঐ সমস্ত সামগ্রী এক তালন্ত পরিমিত খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করলেন।
25
পরে তিনি শিটীম কাঠ দিয়ে ধূপগাহ্ তৈরি করলেন; তা এক হাত লম্বা, এক হাত চওড়া ও দুই হাত উঁচু চারকোনা বিশিষ্ট; তার সমস্ত শিং তার সঙ্গে অখণ্ড ছিল।
26 পরে সেই কোরবানগাহ্, তার উপরের অংশ, তার চারপাশ ও তার সমস্ত শিং খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে এবং তার চারদিকে সোনার কিনারা গড়ে দিলেন।
27 আর তা বইবার জন্য বহন-দণ্ডের ঘর করে দিতে তার কিনারার নিচে দুই পাশের দুই কোণের কাছে সোনার দুটো করে কড়া গড়ে দিলেন।
28 আর শিটীম কাঠ দিয়ে বহন-দণ্ড প্রস্তুত করলেন ও তা সোনা দিয়ে মুড়লেন।
29
পরে তিনি সুগন্ধি-প্রস্তুতকারীর প্রক্রিয়া অনুসারে অভিষেকের জন্য পবিত্র তেল ও সুগন্ধি দ্রব্যের খাঁটি ধূপ প্রস্তুত করলেন।
1
আর তিনি শিটীম কাঠ দিয়ে যে পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন তা পাঁচ হাত লম্বা, পাঁচ হাত চওড়া ও তিন হাত উঁচু করে একটা চারকোনা বিশিষ্ট কোরবানগাহ্ তৈরি করা হল।
2 আর তার চার কোণের উপরে শিং তৈরি করলেন; সেসব শিং তার সঙ্গে অখণ্ড ছিল; তিনি তা ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়লেন।
3 পরে তিনি কোরবানগাহ্র সমস্ত পাত্র, অর্থাৎ হাঁড়ি, হাতা, বাটি, ত্রিশূল ও অংগারধানী, এসব পাত্র ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করলেন;
4 আর কোরবানগাহ্র জন্য বেড়ের নিচে তলা থেকে মধ্য পর্যন্ত জালির মত কাজ করা ব্রোঞ্জের ঝাঁঝরি প্রস্তুত করলেন।
5 তিনি বহন-দণ্ডের ঘর করে দিতে সেই ব্রোঞ্জের ঝাঁঝরির চার কোণে চারটি কড়া ঢাললেন।
6 পরে তিনি শিটীম কাঠ দিয়ে বহন-দণ্ড তৈরি করে ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়লেন।
7 আর কোরবানগাহ্ বহন করার জন্য তার পাশের কড়াতে ঐ বহন-দণ্ড পরালেন; তিনি ফাঁপা রেখে তা দিয়ে কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
8
যারা জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে সেবা করার জন্য আসত, সেসব স্ত্রীলোকের ব্রোঞ্জের তৈরি আয়না দিয়ে তিনি ধোবার পাত্র ও তার গামলা তৈরি করলেন।
9
তিনি প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করলেন; দক্ষিণ দিকে প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পাশে পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে এক শত হাত পরিমিত পর্দা ছিল।
10 তার বিশটি স্তম্ভ ও বিশটি চুঙ্গি ব্রোঞ্জের এবং সেই স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকাগুলো রূপার ছিল।
11 আর উত্তর দিকের পর্দা এক শত হাত ও তার বিশটি স্তম্ভের আঁকড়া ও সমস্ত শলাকা রূপার ছিল।
12 আর পশ্চিম পাশের পর্দা পঞ্চাশ হাত ও তার দশটি স্তম্ভ ও দশটি চুঙ্গি এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও সমস্ত শলাকা রূপার ছিল।
13 আর পূর্ব দিকে পূর্ব পাশের লম্বা ছিল পঞ্চাশ হাত।
14 প্রাঙ্গণের দরজার এক পাশের জন্য পনের হাত পর্দা, তার তিনটি স্তম্ভ ও তিনটি চুঙ্গি,
15 এবং অন্য পাশের জন্যও সেই একই রকম হবে; প্রাঙ্গণের দরজার এদিক ওদিক পনের হাত পর্দা ও তার তিনটি স্তম্ভ ও তিনটি চুঙ্গি ছিল।
16 প্রাঙ্গণের চারদিকের সমস্ত পর্দা পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে তৈরি।
17 আর স্তম্ভের সমস্ত চুঙ্গি ব্রোঞ্জের, স্তম্ভের আঁকড়া ও সমস্ত শলাকা রূপার ও তার মাথলা রূপায় মোড়ানো এবং প্রাঙ্গণের সমস্ত স্তম্ভ রূপার শলাকায় সংযুক্ত ছিল।
18 আর প্রাঙ্গণের দরজার পর্দা নীল বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতার সূচিকর্মে তৈরি এবং তার লম্বা বিশ হাত, আর প্রাঙ্গণের পর্দার মতই উচ্চতা চওড়া অনুসারে পাঁচ হাত।
19 আর তার চারটি স্তম্ভ ও চারটি চুঙ্গি ব্রোঞ্জের ও আঁকড়া রূপার এবং তার মাথলা রূপায় মোড়ানো ও শলাকা রূপার ছিল।
20 আর শরীয়ত-তাঁবুর ও প্রাঙ্গণের চারদিকের সমস্ত গোঁজ ব্রোঞ্জের ছিল।
21
শরীয়ত-তাঁবুর, সাক্ষ্যের শরীয়ত-তাঁবুর, জিনিসপত্রের বিবরণ এই— মূসার হুকুম অনুসারে সেসব গণনা করা হল; লেবীয়দের কাজ বলে তা ইমাম হারুনের পুত্র ঈথামরের দ্বারা করা হল।
22 আর মাবুদ মূসাকে যে হুকুম দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে এহুদা-বংশজাত হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেল সমস্তই তৈরি করেছিলেন।
23 আর দান-বংশজাত অহীষামকের পুত্র অহলীয়াব তাঁর সহকারী ছিলেন; তিনি খোদাই-কর্মে দক্ষ ও নিপুন কারিগর এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতার শিল্পী ছিলেন।
24
পবিত্র শরীয়ত-তাঁবু নির্মাণের সমস্ত কাজে এসব সোনা ব্যবহৃত হল, উপহারের সমস্ত সোনা পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে ঊনত্রিশ তালন্ত সাত শত ত্রিশ শেকল ছিল।
25 আর মণ্ডলীর গণনা-করা লোকদের রূপা পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত তালন্ত এক হাজার সাত শত পঁচাত্তর শেকল ছিল।
26 গণনা-করা প্রত্যেক লোকের জন্য, অর্থাৎ যারা বিশ বছর বয়স্ক কিংবা তারচেয়ে বেশি বয়স্ক ছিল, সেই ছয় লক্ষ তিন হাজার সাড়ে পাঁচ শত লোকের মধ্যে প্রত্যেক জনের জন্য একেক বেকা, অর্থাৎ পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে অর্ধেক শেকল করে দিতে হয়েছিল।
27 সেই একশত তালন্ত রূপা দিয়ে পবিত্র স্থানের চুঙ্গি ও পর্দার চুঙ্গি তৈরি করা হয়েছিল; এক শত চুঙ্িগর জন্য একশত তালন্ত, একেক চুঙ্িগর জন্য একেক তালন্ত ব্যয় হয়েছিল।
28 আর ঐ এক হাজার সাত শত পঁচাত্তর শেকলে তিনি স্তম্ভগুলোর জন্য আঁকড়া তৈরি করেছিলেন ও তাদের মাথলা মণ্ডিত ও শলাকায় সংযুক্ত করেছিলেন।
29 আর উপহারের ব্রোঞ্জ সত্তর তালন্ত দুই হাজার চার শত শেকল ছিল।
30 তা দ্বারা তিনি জমায়েত-তাঁবুর দরজার চুঙ্গি, ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্ ও তার ব্রোঞ্জের ঝাঁঝরি ও কোরবানগাহ্র সমস্ত পাত্র,
31 এবং প্রাঙ্গণের চারদিকের চুঙ্গি ও প্রাঙ্গণের দরজার চুঙ্গি ও শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত গোঁজ ও প্রাঙ্গণের চারদিকের গোঁজ তৈরি করেছিলেন।
1
পরে শিল্পীরা নীল, বেগুনে ও লাল সুতা দ্বারা পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করার জন্য সূক্ষ্ম কাজ-করা পোশাক প্রস্তুত করলেন, বিশেষ করে হারুনের জন্য পবিত্র পোশাক প্রস্তুত করলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
2 তিনি সোনা দিয়ে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে এফোদ তৈরি করলেন।
3 ফলত তাঁরা সোনা পিটিয়ে পাত করে শিল্পকর্মের নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সুতার মধ্যে বোনার জন্য তা কেটে তার প্রস্তুত করলেন।
4 আর তাঁরা জোড়া দেবার জন্য তার দু’টি স্কন্ধপটি প্রস্তুত করলেন; এর দুই প্রান্তে পরসপর জোড়া দেওয়া হল;
5 আর তা বন্ধ করার জন্য শিল্পকর্মে বোনা যে পটুকা তার উপরে ছিল, তা তার সাথে অখণ্ড এবং সেই কাপড়ের মত ছিল, তা সোনা দিয়ে এবং নীল, বেগুনে লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে প্রস্তুত হল; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
6
পরে তাঁরা খোদিত সীলমোহরের মত ইসরাইলের পুত্রদের নামে খোদিত সোনার জালিতে খচিত দু’টি গোমেদ মণি খোদাই করলেন।
7 আর এফোদের দু’টি স্কন্ধপটির উপরে ইসরাইলের পুত্রদের স্মরণ করার মণিস্বরূপ তা বসালেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
8
পরে এফোদের কাজের মতই তিনি সোনা দিয়ে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে শিল্পকর্মের বুকপাটা তৈরি করলেন।
9 তা চারকোনা বিশিষ্ট; তাঁরা সেই বুকপাটা দুই ভাঁজ করলেন; তা এক বিঘত লম্বা ও এক বিঘত চওড়া ও দুই ভাঁজ করলেন।
10 আর তা চার পঙ্ক্তি মণিতে খচিত করলেন; তার প্রথম পঙ্ক্তিতে চুণী, পীতমণি ও মরকত,
11 দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও হীরক,
12 তৃতীয় পঙ্ক্তিতে পেরোজ, যিস্ম ও কটাহেলা,
13 এবং চতুর্থ পঙ্ক্তিতে বৈদূর্য, গোমেদ ও সূর্যকান্ত ছিল; সোনার জালির মধ্যে এসব মণি খচিত হল।
14 এসব মণি ইসরাইলের পুত্রদের নাম অনুসারে হল, তাঁদের নাম অনুসারে বারোটি হল; সীলমোহর খোদাই করার মত করে খোদিত প্রত্যেক মণিতে বারো বংশের জন্য একেক পুত্রের নাম হল।
15 পরে তাঁরা বুকপাটায় খাঁটি সোনা দিয়ে মালার মত পাকানো দু’টি শিকল তৈরি করলেন।
16 আর সোনার দু’টি জালি ও সোনার দু’টি কড়া তৈরি করে বুকপাটার দুই প্রান্তে সেই দু’টি কড়া আট্কে দিলেন।
17 আর বুকপাটার প্রান্তস্থিত দু’টি কড়ার মধ্যে পাকানো সোনার সেই দু’টি শিকল রাখলেন।
18 এবং পাকানো শিকলের দুই প্রান্ত দুই জালিতে আট্কে দিয়ে এফোদের সম্মুখে দু’টি স্কন্ধপটির উপরে রাখলেন।
19 আর সোনার দু’টি কড়া গড়ে বুকপাটার দুই প্রান্তে ভিতরভাগে এফোদের সম্মুখস্থ প্রান্তে রাখলেন।
20 এবং সোনার দু’টি কড়া গড়ে এফোদের দু’টি স্কন্ধপটির নিচে তার সম্মুখভাগে তার জোড়ের স্থানে এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে রাখলেন।
21 আর বুকপাটা যেন এফোদের শিল্পীত পটুকার উপরে থাকে, এফোদ থেকে খসে না যায়, এজন্য তাঁরা কড়াতে নীল সুতা দিয়ে এফোদের কড়ার সঙ্গে বুকপাটা বেঁধে রাখলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
22
পরে তিনি এফোদের পরিচ্ছদ বুনলেন; তা তন্তুবায়ের কৃত ও সমস্তটাই নীল রংয়ের।
23 আর সেই পরিচ্ছদের গলা তার মধ্যস্থানে ছিল; তা বর্মের গলার মত; তা যেন ছিঁড়ে না যায়, এজন্য সেই গলার চারদিকে ধারি ছিল।
24 আর তাঁরা ঐ পরিচ্ছদের আঁচলে নীল, বেগুনে ও লাল পাকানো সুতা দিয়ে ডালিম তৈরি করলেন।
25 পরে তাঁরা খাঁটি সোনার ঘণ্টা তৈরি করলেন ও সেই ঘণ্টাগুলো ডালিমের মধ্যে মধ্যে পরিচ্ছদের আঁচলের চারদিকে ডালিমের মধ্যে মধ্যে বসিয়ে দিলেন।
26 পরিচর্যা করার পরিচ্ছদের আঁচলে চারদিকে একটি ঘণ্টা ও একটি ডালিম, ঘণ্টা ও একটি ডালিম, এরকম করলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
27
পরে তাঁরা হারুনের ও তাঁর পুত্রদের জন্য সাদা মসীনা সুতা দিয়ে তন্তুবায়ের তৈরি ইমামের পোশাক,
28 ও সাদা মসীনা সুতায় তৈরি পাগড়ী ও সাদা মসীনা সুতায় তৈরি টুপি ও পাকানো সাদা মসীনা সুতায় তৈরি জাঙ্গিয়া প্রস্তুত করলেন।
29 আর পাকানো সাদা মসীনা সুতা দিয়ে এবং নীল, বেগুনে ও লাল সুতা দিয়ে সূচিকর্ম দ্বারা একটি কোমরবন্ধনী প্রস্তুত করলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
30
পরে তাঁরা খাঁটি সোনা দিয়ে পবিত্র মুকুটের পাত প্রস্তুত করলেন এবং খোদাই-করা সীলমোহরের মত তার উপরে লিখলেন, ‘মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র’।
31 পরে সেটি পাগড়ীর উপরে রাখার জন্য তা নীল সুতা দিয়ে বাঁধলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
32
এভাবে জমায়েত-তাঁবুরূপ শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত কাজ সমাপ্ত হল; মূসার প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে বনি-ইসরাইল সমস্ত কাজ করলো।
33 পরে তারা মূসার কাছে ঐ শরীয়ত-তাঁবু আনলো, তাঁবু, তার সঙ্গেকার সমস্ত জিনিস এবং ঘুণ্টী, তক্তা, অর্গল, স্তম্ভ ও চুঙ্গি,
34 পরিশোধিত ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি ছাদ, শুশুকের চামড়া দিয়ে তৈরি ছাদ ও ব্যবধানের পর্দা,
35 এবং শরীয়ত-সিন্দুক ও তার বহন-দণ্ড, গুনাহ্ আবরণ
36 এবং টেবিল, তার সমস্ত পাত্র ও দর্শন-রুটি,
37 খাঁটি সোনার প্রদীপ-আসন, তার সমস্ত প্রদীপ অর্থাৎ প্রদীপগুলো, তার সমস্ত পাত্র ও প্রদীপের জন্য তেল,
38 এবং সোনার ধূপগাহ্, অভিষেকের জন্য তেল, ধূপের সুগন্ধি দ্রব্য ও তাঁবু-দ্বারের পর্দা,
39 ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্, তার ব্রোঞ্জের ঝাঁঝরি, তার বহন-দণ্ড ও সমস্ত পাত্র, ধোবার পাত্র ও তার গামলা,
40 এবং প্রাঙ্গণের পর্দা, তার স্তম্ভ ও চুঙ্গি এবং প্রাঙ্গণ-দ্বারের পর্দা ও তার দড়ি, গোঁজ ও জমায়েত-তাঁবুর জন্য শরীয়ত-তাঁবুর কাজের সমস্ত পাত্র,
41 পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করার জন্য সূক্ষ্ম শিল্পীত পোশাক, ইমাম হারুনের পবিত্র পোশাক ও তাঁর পুত্রদের ইমামের কাজ সম্বন্ধীয় পোশাক।
42 মাবুদ মূসাকে যেমন হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারে বনি-ইসরাইলরা সমস্তই সম্পন্ন করলো।
43 পরে মূসা ঐ সমস্ত কাজের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, তারা করেছে; মাবুদের হুকুম অনুসারেই করেছে; আর মূসা তাদেরকে দোয়া করলেন।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি প্রথম মাসের প্রথম দিনে জমায়েত-তাঁবুরূপ শরীয়ত-তাঁবু স্থাপন করবে।
3 আর তার মধ্যে শরীয়ত-সিন্দুক রেখে পর্দা টাঙ্গিয়ে সেই সিন্দুক আড়াল করবে।
4 পরে টেবিল ভিতরে এনে তার উপরে সাজাবার জিনিস সাজিয়ে রাখবে এবং প্রদীপ-আসন ভিতরে এনে তার সমস্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবে।
5 আর সোনার ধূপগাহ্ সাক্ষ্য-সিন্দুকের সম্মুখে রাখবে এবং শরীয়ত-তাঁবুর দরজার পর্দা টাঙ্গাবে।
6 আর জমায়েত-তাঁবুরূপ শরীয়ত-তাঁবুর দরজার সম্মুখে পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ রাখবে।
7 আর জমায়েত-তাঁবু ও কোরবানগাহ্র মধ্যে ধোবার পাত্র রেখে তার মধ্যে পানি দেবে।
8 আর চারদিকে প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করবে ও প্রাঙ্গণের দ্বারে পর্দা টাঙ্গাবে।
9 পরে অভিষেকের তেল নিয়ে শরীয়ত-তাঁবু ও তার মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু অভিষেক করে তা ও তার সঙ্গেকার সমস্ত জিনিস পবিত্র করবে; তাতে তা পবিত্র হবে।
10 আর তুমি পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত পাত্র অভিষেক করে, কোরবানগাহ্ পবিত্র করবে; তাতে সেই কোরবানগাহ্ অতি পবিত্র হবে।
11 আর তুমি ধোবার পাত্র ও তার গামলা অভিষেক করে পবিত্র করবে।
12
পরে তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে এনে গোসল করাবে।
13 আর হারুনকে সমস্ত পবিত্র পোশাক পরাবে এবং অভিষেক করে পবিত্র করবে, তাতে তারা আমার ইমামের কাজ করবে।
14 আর তার পুত্রদেরকে এনে ইমামের পোশাক পরাবে।
15 আর তাদের পিতাকে যেমন অভিষেক করেছ, তেমনি তাদেরকেও অভিষেক করবে, তাতে তারা আমার ইমামের কাজ করবে; তাদের সেই অভিষেক পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী ইমামতির জন্য হবে।
16
মূসা এরকম করলেন; তিনি মাবুদের সমস্ত হুকুম অনুসারে কাজ করলেন।
17 পরে দ্বিতীয় বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে শরীয়ত-তাঁবু স্থাপিত হল।
18 মূসা শরীয়ত-তাঁবু স্থাপন করলেন, তার চুঙ্গি দিলেন, তক্তা বসালেন, অর্গল ভিতরে দিলেন ও তার সমস্ত স্তম্ভ তুললেন।
19 পরে ঐ শরীয়ত-তাঁবুর উপরে তাঁবু বিস্তার করলেন এবং তাঁবুর উপরে ছাদ দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
20
পরে তিনি সাক্ষ্য-ফলক দু’টি নিয়ে সিন্দুকের মধ্যে রাখলেন, সিন্দুকে বহনদণ্ড দিলেন এবং সিন্দুকের উপরে গুনাহ্ আবরণ রাখলেন।
21 আর শরীয়ত-তাঁবুর মধ্যে সিন্দুক আনলেন এবং ব্যবধানের পর্দা টাঙ্গিয়ে শরীয়ত-সিন্দুক আড়াল করলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
22
পরে তিনি শরীয়ত-তাঁবুর উত্তর পাশে পর্দার বাইরে জমায়েত-তাঁবুতে টেবিল রাখলেন,
23 এবং তার উপরে মাবুদের সম্মুখে রুটি সাজিয়ে রাখলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
24
পরে তিনি জমায়েত-তাঁবুতে টেবিলের সম্মুখে শরীয়ত-তাঁবুর পাশে দক্ষিণ দিকে প্রদীপ-আসন রাখলেন,
25 এবং মাবুদের সম্মুখে প্রদীপ জ্বালালেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
26
পরে তিনি জমায়েত-তাঁবুতে পর্দার সম্মুখে সোনার ধূপগাহ্ রাখলেন,
27 এবং তার উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালালেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
28
পরে তিনি শরীয়ত-তাঁবুর দ্বারে পর্দা টাঙ্গালেন।
29 আর তিনি জমায়েত-তাঁবুরূপ শরীয়ত-তাঁবুর দরজার কাছে পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ রেখে তার উপরে পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ করলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
30
পরে তিনি জমায়েত-তাঁবু ও কোরবানগাহ্র মধ্যস্থানে ধোবার পাত্র রেখে তার মধ্যে ধোবার জন্য পানি দিলেন।
31 তা থেকে মূসা, হারুন ও তাঁর পুত্ররা নিজ নিজ হাত ও পা ধুতেন;
32 যখন তাঁরা জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করতেন, কিংবা কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হতেন, সেই সময় ধুতেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
33 পরে তিনি শরীয়ত-তাঁবু ও কোরবানগাহ্র চারদিকে প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করলেন এবং প্রাঙ্গণের দরজার পর্দা টাঙ্গালেন। এভাবে মূসা কাজ সমাপ্ত করলেন।
34
তখন মেঘ জমায়েত-তাঁবু আচ্ছাদন করলো এবং মাবুদের মহিমা শরীয়ত-তাঁবু পরিপূর্ণ করলো।
35 তাতে মূসা জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করতে পারলেন না, কারণ মেঘ তার উপরে অবস্থান করছিল এবং মাবুদের মহিমা শরীয়ত-তাঁবু পরিপূর্ণ করেছিল।
36
আর শরীয়ত-তাঁবুর উপর থেকে মেঘ নীত হলে বনি-ইসরাইল তাদের প্রত্যেক যাত্রায় অগ্রসর হত;
37 কিন্তু মেঘ যদি উপরে উঠে না যেত তবে যেদিন উপরে উঠে না যেত সেদিন পর্যন্ত তারা যাত্রা করতো না।
38 কেননা সমস্ত ইসরাইল-কুলের দৃষ্টি সীমায় তাদের সমস্ত যাত্রায় দিনের বেলা মাবুদের মেঘ এবং রাতের বেলা আগুন শরীয়ত-তাঁবুর উপরে অবস্থান করতো।
1
মাবুদ জমায়েত-তাঁবু থেকে মূসাকে ডেকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে এই কথা বল, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মাবুদের উদ্দেশে উপহার দিতে চায় তবে সে পশুপাল থেকে, অর্থাৎ গরু কিংবা ভেড়ার পাল থেকে তার নিজের উপহার নিয়ে কোরবানী করুক।
3
সে যদি গরুর পাল থেকে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোন উপহার দেয় তবে নিখুঁত একটি পুরুষ পশু আনবে। মাবুদের সম্মুখে গ্রাহ্য হবার জন্য জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে সে তা আনবে।
4 পরে সে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য আনা পশুটির মাথায় হাত রাখবে আর তা তার কাফ্ফারা হিসেবে তার পক্ষে কবুল করা হবে।
5 পরে সে মাবুদের সম্মুখে সেই ষাঁড় জবেহ্ করবে। হারুনের পুত্র ইমামেরা তার রক্ত নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে স্থাপিত কোরবানগাহ্র উপরে সেই রক্ত চারদিকে ছিটিয়ে দেবে।
6 সে ঐ পোড়ানো-কোরবানীর পশুটির চামড়া খুলে তাকে খণ্ড খণ্ড করবে।
7 পরে ইমাম হারুনের পুত্ররা কোরবানগাহ্র উপরে আগুন রাখবে ও আগুনের উপরে কাঠ সাজাবে।
8 হারুনের পুত্র ইমামেরা সেই কোরবানগাহ্র উপরিস্থ আগুনের ও কাঠের উপরে তার সমস্ত খণ্ড, মাথা ও চর্বি রাখবে;
9 কিন্তু তার অন্ত্রগুলো ও পাগুলো পানিতে ধুয়ে নেবে। পরে ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে সেসব পুড়িয়ে ফেলবে। এটি পোড়ানো-কোরবানী, মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
10
যদি সে ভেড়া কিংবা ছাগলের পাল থেকে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে উপহার দেয় তবে নিখুঁত একটি পুরুষ পশু আনবে।
11 সেটি কোরবানগাহ্র পাশে উত্তর দিকে মাবুদের সম্মুখে জবেহ্ করবে এবং হারুনের পুত্র ইমামেরা কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তার রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
12 পরে সে তা খণ্ড খণ্ড করবে আর ইমাম মাথা ও চর্বি সহ তা কোরবানগাহ্র উপরিস্থ আগুন ও কাঠের উপরে সাজাবে;
13 কিন্তু তার অন্ত্রগুলো ও পাগুলো পানিতে ধুয়ে নেবে। পরে ইমাম সম্পূর্ণ অংশই কোরবানী করে কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে ফেলবে। এটি পোড়ানো-কোরবানী, মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
14
যদি সে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোন পাখি উপহার দেয় তবে ঘুঘু কিংবা কবুতরের বাচ্চাদের মধ্য থেকে তার উপহার দেবে।
15 পরে ইমাম তা কোরবানগাহ্র কাছে এনে তার মাথা মুচড়ে কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে এবং তার রক্ত কোরবানগাহ্র পাশে ঢেলে দেবে।
16 পরে সে তার মলের সঙ্গে পালকগুলো নিয়ে কোরবানগাহ্র পূর্ব পাশে ভস্ম রাখার স্থানে নিক্ষেপ করবে।
17 পরে ওর ডানা ভাঙবে, কিন্তু পাখিটি ছিঁড়ে ফেলবে না। এরপর ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে, আগুনের উপরিস্থ কাঠের উপরে, তাকে পুড়িয়ে ফেলবে। এটি পোড়ানো-কোরবানী, মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
1
কেউ যখন মাবুদের উদ্দেশে শস্য-উৎসর্গ করে তখন মিহি সুজি তার উপহার হবে এবং সে তার উপরে তেল ঢেলে দেবে ও কুন্দুরু দেবে।
2 হারুনের পুত্র ইমামদের কাছে সে তা আনবে এবং সে তা থেকে এক মুষ্টি মিহি সুজি ও তেল এবং সমস্ত কুন্দুরু নেবে। পরে ইমাম সেই কোরবানীর স্মরণ চিহ্ন হিসেবে তা কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে ফেলবে; তা মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
3 এই শস্য-উৎসর্গের অবশিষ্ট অংশ হারুন ও তার পুত্রদের হবে; মাবুদের অগ্নিকৃত উপহার বলে তা অতি পবিত্র।
4
যদি তুমি তুন্দুরে পাক-করা শস্য-উৎসর্গ দাও তবে তেল মিশানো খামিহীন মিহি সুজির পিঠা বা তৈলাক্ত চাপাটি দিতে হবে।
5 যদি তুমি ভাজবার পাত্রে ভাজা শস্য-উৎসর্গ দাও তবে তেল মিশানো খামিহীন মিহি সুজি দিতে হবে।
6 তুমি তা খণ্ড খণ্ড করে তার উপরে তেল ঢেলে দেবে; এটি শস্য-উৎসর্গ।
7
যদি তুমি কড়াইতে পাক-করা শস্য-উৎসর্গ দাও তবে তেলে পাক-করা মিহি সুজি দিতে হবে।
8 এসব দ্রব্যের যে শস্য-উৎসর্গ তুমি মাবুদের উদ্দেশে দেবে তা এনে ইমামকে দিও আর সে তা কোরবানগাহ্র কাছে আনবে।
9 ইমাম সেই শস্য-উৎসর্গের স্মরণ করার অংশ নিয়ে কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে; তা মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
10 সেই শস্য-উৎসর্গের অবশিষ্ট অংশ হারুন ও তার পুত্রদের হবে; মাবুদের অগ্নিকৃত উপহার বলে তা অতি পবিত্র।
11
তোমরা মাবুদের উদ্দেশে যে শস্য-উৎসর্গ আনবে তা খামি দ্বারা প্রস্তুত করা যাবে না, কেননা তোমরা খামি কিংবা মধু, এর কিছুই মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে পুড়িয়ে ফেলবে না।
12 তোমরা অগ্রিমাংশের উপহার হিসেবে তা মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করতে পার, কিন্তু খোশবুর জন্য কোরবানগাহ্র উপরে তা রাখা যাবে না।
13 তুমি তোমার শস্য-উৎসর্গের প্রত্যেকটি দ্রব্যে লবণ দেবে। তুমি তোমার শস্য-উপহারে তোমার আল্লাহ্র নিয়মের লবণ দিতে ত্রুটি করবে না; তোমার যাবতীয় উৎসর্গের সঙ্গে লবণ দেবে।
14
যদি তুমি মাবুদের উদ্দেশে প্রথমে পেকেছে এমন শস্য থেকে শস্য-উৎসর্গ নিবেদন কর তবে তোমার প্রথমে পাকা শস্য থেকে শস্য-উৎসর্গ হিসেবে আগুনে ঝলসানো শীষ অর্থাৎ মোটা করে ভেঙ্গে নেওয়া কোমল শীষ নিবেদন করবে।
15 এছাড়া, তার উপরে তেল ও কুন্দুরু দেবে; এ হল শস্য-উৎসর্গ।
16 পরে ইমাম তার স্মরণ করার অংশ হিসেবে কিছু মোটা করে ভেঙ্গে নেওয়া শস্য, কিছু তেল ও সমস্ত কুন্দুরু পুড়িয়ে ফেলবে; এটি মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার।
1
কারো উপহার যদি মঙ্গল-কোরবানী দেবার জন্য হয় এবং সে গরুর পাল থেকে পুরুষ কিংবা স্ত্রী গরু দেয় তবে সে মাবুদের সম্মুখে নিখুঁত পশু আনবে।
2 সে তার আনা উপহারের মাথায় হাত রেখে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে তাকে জবেহ্ করবে। পরে হারুনের পুত্র ইমামেরা তার রক্ত কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে ছিটিয়ে দেবে।
3 পরে সে মাবুদের উদ্দেশে সেই মঙ্গল-কোরবানী সম্বন্ধীয় অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে। তার পাকস্থলীর উপরি-ভাগের চর্বি ও অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের সমস্ত চর্বি,
4 এবং দু’টি বৃক্ক, তার উপরি-ভাগের চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো বৃক্কের সঙ্গে ছাড়িয়ে নেবে।
5 পরে হারুনের পুত্ররা কোরবানগাহ্র উপরিস্থ আগুন, কাঠ ও আগুনের শিখায় তা ঝলসে নেবে; তা হবে মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার।
6
আর যদি সে মাবুদের উদ্দেশে মঙ্গল-কোরবানী দেবার উপহার তার পাল থেকে কোন পশু দেয় তবে সে নিখুঁত পুরুষ কিংবা স্ত্রী পশু কোরবানী করবে।
7 কেউ যদি উপহার হিসেবে ভেড়ার বাচ্চা দেয় তবে সে মাবুদের সম্মুখে তা আনবে;
8 আর তার কোরবানীর পশুটির মাথায় হাত রেখে জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে তাকে জবেহ্ করবে এবং হারুনের পুত্ররা কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তার রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
9 আর মঙ্গল-কোরবানী থেকে কিছু নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে; ফলত তার চর্বি ও সমস্ত লেজ মেরুদণ্ডের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেবে আর পাকস্থলীর উপরিভাগের চর্বি ও অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের সমস্ত চর্বি,
10 এবং দু’টি বৃক্ক ও তার উপরিভাগের চর্বি এবং কলিজার উপরি-ভাগের অংশগুলো বৃক্কের সঙ্গে ছাড়িয়ে নেবে।
11 পরে ইমাম তা কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে ফেলবে; এটি মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহাররূপ খাদ্য।
12
আর যদি সে উপহার হিসেবে ছাগল দেয় তবে সে তা মাবুদের সম্মুখে আনবে।
13 সে তার মাথায় হাত রেখে জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে তাকে জবেহ্ করবে এবং হারুনের পুত্ররা কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তার রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
14 পরে সে তা থেকে নিজের উপহার, মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে, অর্থাৎ পাকস্থলীর উপরিভাগের চর্বি ও অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের সমস্ত চর্বি,
15 এবং দু’টি বৃক্ক, তার উপরিভাগের চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো বৃক্কের সঙ্গে ছাড়িয়ে নেবে।
16 পরে ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে সেসব পুড়িয়ে ফেলবে; তা খোশবু-যুক্ত অগ্নিকৃত উপহাররূপ খাদ্য; সমস্ত চর্বি মাবুদের।
17 পুরুষানুক্রমে তোমাদের সমস্ত নিবাসে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম হল এই— তোমরা চর্বি ও রক্ত কিছুই ভোজন করবে না।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, কেউ যদি ভুল-বশত গুনাহ্ করে, অর্থাৎ মাবুদের হুকুমে নিষেধ আছে এমন কোন কাজ করে;
3 বিশেষত অভিষিক্ত ইমাম যদি এমন গুনাহ্ করে যাতে লোকদের উপরে দোষ বর্তায়, তবে সে তার নিজের গুনাহ্র জন্য মাবুদের উদ্দেশে নিখুঁত একটি ষাঁড় গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে।
4 পরে সে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের সম্মুখে সেই ষাঁড় আনবে এবং তার মাথায় হাত রেখে মাবুদের সম্মুখে তাকে জবেহ্ করবে।
5 আর অভিষিক্ত ইমাম সেই বাছুরটির কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর মধ্যে যাবে।
6 আর ইমাম সেই রক্তে তার আঙ্গুল ডুবিয়ে পবিত্র স্থানের পর্দার অগ্রভাগে মাবুদের সম্মুখে সাত বার তার কিঞ্চিৎ রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
7 পরে ইমাম সেই রক্তের কিছু নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর মধ্যে মাবুদের সম্মুখে অবস্থিত সুগন্ধি ধূপের কোরবানগাহ্র শিংগুলোতে লাগিয়ে দেবে, পরে বাছুরটির সমস্ত রক্ত নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে অবস্থিত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢালবে।
8 আর গুনাহ্-কোরবানীর বাছুরটির সমস্ত চর্বি, অর্থাৎ পাকস্থলীর উপরিভাগের চর্বি, অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের সমস্ত চর্বি,
9 এবং দু’টি বৃক্ক ও তার উপরিভাগের চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো বৃক্কের সঙ্গে ছাড়িয়ে নেবে।
10 মঙ্গল-কোরবানীর ষাঁড় থেকে যেমন নিতে হয় তেমনি নেবে এবং ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে তা পুড়িয়ে ফেলবে।
11 পরে ঐ বাছুরটির চামড়া, সমস্ত গোশ্ত, মাথা ও পা, অন্ত্র ও গোবর,
12 সবসুদ্ধ বাচ্চাটি নিয়ে শিবিরের বাইরে কোন পাক-পবিত্র স্থানে, ভস্ম ফেলে দেবার স্থানে এনে কাঠের উপরে আগুনে পুড়িয়ে দেবে; ভস্ম ফেলে দেবার স্থানেই তা পুড়িয়ে দিতে হবে।
13
আর ইসরাইলের সমস্ত মণ্ডলী যদি ভুলবশত গুনাহ্ করে এবং তা সমাজের দৃষ্টির অগোচর থাকে এবং মাবুদের হুকুমে নিষেধ আছে এমন কোন কাজ করে যদি দোষী হয়,
14 তবে তাদের কৃত সেই গুনাহ্র বিষয় যখন জানা যাবে তখন সমাজ গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ষাঁড় কোরবানী করবে; লোকেরা জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে তাকে আনবে।
15 পরে মণ্ডলীর প্রাচীনবর্গরা মাবুদের সম্মুখে সেই বাছুরটির মাথায় হাত রাখবে এবং মাবুদের সম্মুখে সেটি জবেহ্ করা যাবে।
16 পরে অভিষিক্ত ইমাম সেই বাছুরটির কিঞ্চিৎ রক্ত জমায়েত-তাঁবুর মধ্যে নিয়ে যাবে।
17 আর ইমাম সেই রক্তে নিজের আঙ্গুল ডুবিয়ে তার কিঞ্চিৎ পর্দার সম্মুখে, মাবুদের সম্মুখে সাতবার ছিটিয়ে দেবে।
18 সে সেই রক্তের কিঞ্চিৎ নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর মধ্যে মাবুদের সম্মুখে অবস্থিত কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে দেবে; পরে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে স্থাপিত কোরবানগাহ্র গোড়ায় অন্য সমস্ত রক্ত ঢেলে দেবে।
19 আর কোরবানী থেকে তার সমস্ত চর্বি নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে ফেলবে।
20 সে ঐ গুনাহ্-কোরবানীর বাছুরকে যেরকম করে, একেও সেরকম করবে। এভাবে ইমাম তাদের জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তাদের গুনাহ্ মাফ করা হবে।
21 পরে সেই বাছুরকে শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রথম বাছুরটি যেমন পুড়িয়ে দিয়েছিল তেমনি তাকেও পুড়িয়ে দেবে; এটি সমাজের গুনাহ্-কোরবানী।
22
আর যদি কোন শাসনকর্তা গুনাহ্ করে, অর্থাৎ ভুলবশত তার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুমে নিষেধ আছে এমন কোন কাজ করে দোষী হয়,
23 তবে তার কৃত সেই গুনাহ্র বিষয় যখন সে জানবে তখন নিজের উপহারস্বরূপ একটি নিখুঁত ছাগল আনবে।
24 পরে ঐ ছাগলের মাথায় হাত রেখে পোড়ানো-কোরবানী জবেহ্ করার স্থানে মাবুদের সম্মুখে তাকে জবেহ্ করবে; এটি হল গুনাহ্-কোরবানী।
25 পরে ইমাম তার আঙ্গুল দ্বারা সেই গুনাহ্-কোরবানীর কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে দেবে এবং তার রক্ত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢেলে দেবে।
26 আর মঙ্গল-কোরবানীর চর্বির মত তার সমস্ত চর্বি নিয়ে কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে; এভাবে ইমাম তার গুনাহ্ মোচনের জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
27
আর সাধারণ লোকদের মধ্যে যদি কেউ ভুলবশত মাবুদের হুকুমে নিষেধ আছে এমন কোন কাজ দ্বারা গুনাহ্ করে দোষী হয়,
28 তবে সে যখন তার কৃত গুনাহ্ জানবে তখন তার কৃত সেই গুনাহ্র জন্য তার নিজের উপহারস্বরূপ পালের মধ্য থেকে একটি নিখুঁত ছাগী আনবে।
29 পরে ঐ গুনাহ্-কোরবানীর জন্য আনা পশুটির মাথায় হাত রেখে পোড়ানো-কোরবানী স্থানে সেই গুনাহ্-কোরবানীর পশু জবেহ্ করবে।
30 পরে ইমাম আঙ্গুল দিয়ে তার কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে লাগিয়ে দেবে এবং তার সমস্ত রক্ত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢেলে দেবে।
31 আর মঙ্গল-কোরবানী থেকে নেওয়া চর্বির মত তার সমস্ত চর্বি ছাড়িয়ে নেবে। পরে ইমাম মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য কোরবানগাহ্র উপরে তা পুড়িয়ে ফেলবে; এভাবে ইমাম তার জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
32
যদি সে গুনাহ্-কোরবানীর উপহার হিসেবে ভেড়ার বাচ্চা আনে তবে একটি নিখুঁত ভেড়ীর বাচ্চা আনবে।
33 আর সেই গুনাহ্-কোরবানীর জন্য আনা পশুটির মাথায় হাত রেখে পোড়ানো-কোরবানী জবেহ্ করার স্থানে সেই গুনাহ্-কোরবানীর পশু জবেহ্ করবে।
34 পরে ইমাম আঙ্গুল দ্বারা সেই গুনাহ্-কোরবানীর কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে দেবে ও সমস্ত রক্ত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢালবে।
35 পরে মঙ্গল-কোরবানীর ভেড়ার বাচ্চার মতই ইমাম এর সমস্ত চর্বি ছাড়িয়ে নেবে এবং মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর রীতি অনুসারে তা কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে; এভাবে ইমাম তার কৃত গুনাহ্র কাফ্ফারা দেবে; তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
1
আর যদি কেউ এভাবে গুনাহ্ করে, সাক্ষী হয়ে, শপথ করাবার কথা শুনলেও যা দেখেছে কিংবা জানে তা সে প্রকাশ না করে তবে সে নিজের অপরাধ বহন করবে।
2 কিংবা যদি কেউ কোন নাপাক জিনিস স্পর্শ করে— সেটা নাপাক জন্তুর মৃতদেহ হোক, কিংবা নাপাক গোমেষাদির মৃতদেহ হোক, কিংবা নাপাক সরীসৃপের মৃতদেহ হোক— সে তা না জানলেও নাপাক হবে এবং সে দোষী হবে।
3 কিংবা মানুষের কোন নাপাকীতা, অর্থাৎ যা দ্বারা মানুষ নাপাক হয়, এমন কিছু যদি কেউ স্পর্শ করে ও তা জানতে না পারে তবে সে তা জানলে পর দোষী হবে।
4 আর কেউ অবিবেচনা-পূর্বক যে কোন বিষয়ে শপথ করুক না কেন, যদি কেউ অবিবেচনাপূর্বক ভাল বা মন্দ কাজ করবো বলে শপথ করে ও তা জানতে না পারে, তবে সে তা জানলে পর সেই বিষয়ে দোষী হবে।
5 আর সেরকম কোন বিষয়ে দোষী হলে সে তার গুনাহ্ স্বীকার করবে।
6 পরে সে গুনাহ্-কোরবানীর জন্য পাল থেকে ভেড়ীর বাচ্চা কিংবা বাচ্চা-ছাগী নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে তার গুনাহ্র জন্য উপযুক্ত দোষ-কোরবানী করবে; তাতে ইমাম তার গুনাহ্ মাফের জন্য কাফ্ফারা দেবে।
7
আর সে যদি ভেড়ীর বাচ্চা আনতে অসমর্থ হয় তবে তার গুনাহ্র জন্য দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা, এই দোষ-কোরবানী মাবুদের কাছে আনবে; তার একটি গুনাহ্র জন্য এবং অন্যটি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য।
8 সে তাদেরকে ইমামের কাছে আনবে ও ইমাম প্রথমে গুনাহ্-কোরবানী করে তার গলা মুচড়ো দেবে, কিন্তু ছিঁড়ে ফেলবে না।
9 পরে গুনাহ্-কোরবানীর কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র শরীরে ছিটাবে এবং অবশিষ্ট রক্ত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢেলে দিতে হবে; এটি হল গুনাহ্-কোরবানী।
10 পরে সে নিয়ম অনুসারে দ্বিতীয়টি পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে; এভাবে ইমাম তার কৃত গুনাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
11
আর সে যদি দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা আনতেও অসমর্থ হয় তবে তার কৃত গুনাহ্র জন্য তার উপহার হিসেবে ঐফার দশ ভাগের এক ভাগ সুজি গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে আনবে; তার উপরে তেল দেবে না ও কুন্দুরু রাখবে না, কেননা তা গুনাহ্-কোরবানী।
12 পরে সে তা ইমামের কাছে আনলে ইমাম তার স্মরণ চিহ্নরূপে তা থেকে এক মুষ্টি নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর রীতি অনুসারে কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে; এ হল গুনাহ্-কোরবানী।
13 এভাবে ইমাম সে যে সমস্ত গুনাহ্ করেছে তার সেই সমস্ত গুনাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে এবং অবশিষ্ট দ্রব্য শস্য-উৎসর্গের মতই ইমামের হবে।
14
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
15 যদি কেউ মাবুদের পবিত্র বস্তুর বিষয়ে ভুলবশত সত্য লঙ্ঘন করে গুনাহ্ করে তবে সে মাবুদের কাছে দোষ-কোরবানী আনবে, পবিত্র স্থানের শেকলের মাপ অনুসারে তোমার নিরূপিত পরিমাণে রূপা দিয়ে পাল থেকে একটি নিখুঁত ভেড়া এনে দোষ-কোরবানী উপস্থিত করবে।
16 আর সে পবিত্র বস্তুর বিষয়ে যে গুনাহ্ করেছে তার পরিশোধ করবে, এছাড়া, পাঁচ অংশের এক অংশও দেবে এবং ইমামের কাছে তা আনবে। পরে ইমাম সেই দোষের জন্য ভেড়া কোরবানী দ্বারা তার জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
17
আর যদি কেউ মাবুদের হুকুম অনুসারে নিষিদ্ধ এমন কোন কাজ করে গুনাহ্ করে তবে সে তা না জানলেও দোষী, সে নিজের অপরাধ বহন করবে।
18 সে তোমার নিরূপিত মূল্য দিয়ে পাল থেকে একটি নিখুঁত ভেড়া এনে দোষ-কোরবানী হিসেবে ইমামের কাছে উপস্থিত করবে এবং সে ভুলবশত অজ্ঞাতসারে যে দোষ করেছে ইমাম তার জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে তার গুনাহ্ মাফ করা হবে।
19 এটি হচ্ছে দোষ-কোরবানী, সে অবশ্য মাবুদের কাছে দোষী।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 কেউ যদি গুনাহ্ করে মাবুদের বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন করে, যদি গচ্ছিত অথবা বন্ধক হিসেবে দেওয়া কিংবা অপহৃত বস্তুর বিষয়ে স্বজাতির কোন লোকের কাছে মিথ্যা কথা বলে,
3 কিংবা স্বজাতির কোন লোকের প্রতি অন্যায় করে, কিংবা হারানো জিনিস পেয়ে সেই বিষয়ে মিথ্যা কথা বলে ও মিথ্যা কসম খেয়ে, এর যে কোন কাজ দ্বারা কোন ব্যক্তি সেই বিষয়ে গুনাহ্ করে,
4 যদি সে এরকম গুনাহ্ করে দোষী হয়ে থাকে তবে সে যা সবলে হরণ করেছে, অথবা অন্যায় দ্বারা পেয়েছে, কিংবা যে গচ্ছিত বস্তু তার কাছ রাখা হয়েছে, কিংবা সে যে হারানো বস্তু পেয়ে রেখেছে,
5 কিংবা যে কোন বিষয়ে সে মিথ্যা কসম খেয়েছে, সেই বস্তু সমপূর্ণ ফিরিয়ে দেবে এবং তার পাঁচ অংশের এক অংশ বেশি ফিরিয়ে দেবে; তার দোষ প্রকাশের দিনে সে দ্রব্যের মালিককে তা দেবে।
6 সে মাবুদের কাছে নিজের দোষ-কোরবানী উপস্থিত করবে, ফলত তোমার নির্ধারিত মূল্য দিয়ে পাল থেকে একটি নিখুঁত ভেড়া দোষ-কোরবানী হিসেবে ইমামের কাছে আনবে।
7 পরে ইমাম মাবুদের সম্মুখে তার জন্য কাফ্ফারা দেবে; তাতে যে কোন কাজ দ্বারা সে দোষী হয়েছে, তার মাফ পাবে।
8
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
9 তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে এই হুকুম দাও যে, পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এ হল ব্যবস্থা; পোড়ানো-কোরবানী প্রভাত পর্যন্ত সমস্ত রাত কোরবানগাহ্র আগুনের উপরে থাকবে এবং কোরবানগাহ্র আগুন জ্বলতে থাকবে।
10 আর ইমাম নিজের পরিধেয় মসীনার পোশাক পরবে ও মসীনার কাপড়ের জাঙ্গিয়া পরবে এবং কোরবানগাহ্র উপরে অগ্নিকৃত পোড়ানো-কোরবানীর যে ভস্ম আছে তা তুলে কোরবানগাহ্র পাশে রাখবে।
11 পরে সে নিজের পোশাক ত্যাগ করে অন্য পোশাক পরে শিবিরের বাইরে কোন পাক-পবিত্র স্থানে ভস্ম নিয়ে যাবে।
12 আর কোরবানগাহ্র উপরিস্থ আগুন জ্বলতে থাকবে, নিভিয়ে ফেলা হবে না; ইমাম প্রতিদিন খুব ভোরে তার উপরে কাঠ জ্বালাবে এবং তার উপরে পোড়ানো-কোরবানী সাজিয়ে দেবে ও মঙ্গল-কোরবানীর চর্বি তাতে পুড়িয়ে ফেলবে।
13 কোরবানগাহ্র উপরে আগুন সব সময় জ্বালিয়ে রাখতে হবে; তা নিভিয়ে ফেলা যাবে না।
14
আর শস্য-উৎসর্গের এই ব্যবস্থা; হারুনের পুত্ররা কোরবানগাহ্র কাছে মাবুদের সম্মুখে তা আনবে।
15 পরে ইমাম তা থেকে এক মুষ্টি পূর্ণ করে, কোরবানীর কিঞ্চিৎ সুজি ও কিঞ্চিৎ তেল এবং কোরবানীর উপরিস্থ সমস্ত কুন্দুরু নিয়ে তার স্মরণ করার অংশ হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে।
16 আর হারুন ও তার পুত্ররা তার অবশিষ্ট অংশ ভোজন করবে; বিনা খামিতে কোন পবিত্র স্থানে তা ভোজন করতে হবে; তারা জমায়েত-তাঁবুর প্রাঙ্গণে তা ভোজন করবে।
17 খামির সঙ্গে তা পাক-করা হবে না। আমি আমার অগ্নিকৃত উপহার থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ বলে তা দিলাম; গুনাহ্-কোরবানীর ও দোষ-কোরবানীর মত তা অতি পবিত্র।
18 হারুনের সন্তানদের মধ্যে সমস্ত পুরুষ তা ভোজন করবে। মাবুদের অগ্নিকৃত উপহার থেকে তা পুরুষানুক্রমে চিরকাল তোমাদের অধিকার; যে কেউ তা স্পর্শ করবে, তার পবিত্র হওয়া চাই।
19
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
20 অভিষেকের দিনে হারুন ও তার পুত্ররা মাবুদের উদ্দেশে এই উপহার কোরবানী করবে, নিয়মিত শস্য-উৎসর্গের জন্য ঐফার দশ ভাগের এক ভাগ মিহি সুজি, সকাল-বেলা অর্ধেক ও সন্ধ্যাবেলা অর্ধেক।
21 তারা ভাজবার পাত্রে তেল দিয়ে তা ভাজবে। সেগুলো তৈলসিক্ত হলে তুমি তা এনে টুকরা টুকরা করে শস্য-উৎসর্গ হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য উৎসর্গ করবে।
22 পরে হারুনের পুত্রদের মধ্যে যে তার পদে অভিষিক্ত ইমাম হবে, সে তা কোরবানী করবে। চিরস্থায়ী নিয়ম অনুসারে তা মাবুদের উদ্দেশে সমপূর্ণভাবে পুড়িয়ে দিতে হবে।
23 আর ইমামের প্রত্যেক শস্য-উৎসর্গ সমপূর্ণভাবে পুড়িয়ে দিতে হবে; তার কিছু খাওয়া চলবে না।
24
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
25 তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে বল, গুনাহ্-কোরবানীর এই ব্যবস্থা; যে স্থানে পোড়ানো-কোরবানী করা হয়, সেই স্থানে মাবুদের সম্মুখে গুনাহ্-কোরবানীও করা হবে; তা অতি পবিত্র।
26 যে ইমাম গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে তা কোরবানী করে সে তা ভোজন করবে; জমায়েত-তাঁবুর প্রাঙ্গণে কোন পবিত্র স্থানে তা খেতে হবে।
27 যে কেউ তার গোশ্ত স্পর্শ করে, তার পাক-সাফ হওয়া চাই এবং তার রক্তের ছিটা যদি কোন কাপড়ে লাগে তবে তুমি সেই পোশাক পবিত্র স্থানে ধুয়ে নেবে।
28 আর যে মাটির পাত্রে তা পাক-করা হয় তা ভেঙে ফেলতে হবে; যদি ব্রোঞ্জের পাত্রে তা পাক-করা হয় তবে তা পানিতে মেজে পরিষ্কার করতে হবে।
29 ইমামদের মধ্যে সমস্ত পুরুষ তা ভোজন করতে পারবে; তা অতি পবিত্র।
30 কিন্তু পবিত্র স্থানে কাফ্ফারা করতে যে কোন গুনাহ্-কোরবানীর রক্ত জমায়েত-তাঁবুর ভিতরে আনতে হবে, তা ভোজন করা চলবে না, আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে।
1
আর দোষ-কোরবানীর এই ব্যবস্থা; তা অতি পবিত্র।
2 যে স্থানে লোকেরা পোড়ানো-কোরবানী জবেহ্ করে সেই স্থানে দোষ-কোরবানী জবেহ্ করবে এবং ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তার রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
3 আর কোরবানীর সমস্ত চর্বি কোরবানী করবে, লেজ ও পাকস্থলীর উপরিস্থ চর্বি,
4 এবং দু’টি বৃক্ক ও তার উপরি-ভাগের চর্বি ও দু’টি বৃক্কের সঙ্গে কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো ছাড়িয়ে নেবে।
5 আর ইমাম মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর জন্য কোরবানগাহ্র উপরে এসব পুড়িয়ে ফেলবে; এটি দোষ-কোরবানী।
6 ইমামদের মধ্যে সমস্ত পুরুষ তা ভোজন করবে, কোন পবিত্র স্থানে তা ভোজন করতে হবে; তা অতি পবিত্র।
7
গুনাহ্-কোরবানী যেরকম, দোষ-কোরবানীও সেরকম; উভয়েরই এক ব্যবস্থা; যে ইমাম তা দ্বারা কাফ্ফারা করে তা তারই হবে।
8 আর যে ইমাম যে কোন ব্যক্তির জন্য পোড়ানো-কোরবানীর পশু কোরবানী করে সেই ইমাম সেই পশুর চামড়াটি পাবে।
9 এবং তন্দুরে কিংবা কড়াইতে কিংবা ভাজবার পাত্রে পাক-করা যত শস্য-উৎসর্গ, সেসব উৎসর্গকারী ইমামের হবে।
10 তেল মিশানো কিংবা শুকনো সমস্ত শস্য-উৎসর্গ সমানভাবে হারুনের সকল পুত্রের হবে।
11
আর মাবুদের উদ্দেশে কোরবানীর জন্য আনা মঙ্গল-কোরবানীর এই ব্যবস্থা।
12 কেউ যদি শুকরিয়া-কোরবানী আনে তবে সে শুকরিয়া-কোরবানীর সঙ্গে তেল মিশানো খামিহীন রুটি, তৈলাক্ত খামিহীন চাপাটি, তৈলসিক্ত মিহি সুজি ও তৈলাক্ত পিঠা নিবেদন করবে।
13 সে মঙ্গলের নিমিত্ত শুকরিয়া-কোরবানী সঙ্গে খামিযুক্ত রুটি নিয়ে উপহার দেবে।
14 আর সে তা থেকে, অর্থাৎ প্রত্যেক উপহার থেকে, এক একখানি পিঠা নিয়ে উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করবে; যে ইমাম মঙ্গল-কোরবানীর রক্ত ছিটিয়ে দেবে সে তা পাবে।
15 আর মঙ্গলের নিমিত্ত আনা শুকরিয়া-কোরবানীর গোশ্ত কোরবানীর দিনেই ভোজন করতে হবে; তার কিছুই সকাল পর্যন্ত রাখা যাবে না।
16 কিন্তু তার কোরবানী যদি মানত অথবা স্বেচ্ছাকৃত উপহার হয় তবে কোরবানীর দিনে তা ভোজন করতে হবে এবং পরদিনেও তার অবশিষ্ট অংশ ভোজন করা যাবে।
17 কিন্তু তৃতীয় দিনে কোরবানীর অবশিষ্ট গোশ্ত আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে।
18 যদি তৃতীয় দিনে তার মঙ্গল-কোরবানীর কিঞ্চিৎ গোশ্তও ভোজন করা হয় তবে সেই কোরবানীকে কবুল করা হবে না এবং সেই কোরবানী-দাতার পক্ষে তা গণ্য হবে না, তা ঘৃণার বস্তু হবে এবং যে জন তা ভোজন করে সে অপরাধী বলে গণ্য হবে।
19
আর যে গোশ্তে কোন নাপাক বস্তুর স্পর্শ লাগে তা ভোজন করা যাবে না, আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে। অন্য গোশ্ত প্রত্যেক পাক-পবিত্র লোকের খাদ্য।
20 কিন্তু যে কেউ নাপাক অবস্থায় মাবুদের উদ্দেশে নিবেদিত মঙ্গল-কোরবানীর গোশ্ত ভোজন করে সে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
21 আর যদি কেউ কোন নাপাক বস্তু, অর্থাৎ মানুষের নাপাক বস্তু কিংবা নাপাক পশু কিংবা কোন নাপাক ঘৃণার বস্তু স্পর্শ করে মাবুদ সম্বন্ধীয় মঙ্গল-কোরবানীর গোশ্ত ভোজন করে তবে সেই ব্যক্তি নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
22
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
23 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তোমরা গরুর কিংবা ভেড়ার কিংবা ছাগলের চর্বি ভোজন করো না।
24 মৃত কিংবা কোন পশুর আঘাতে নিহত কোন পশুর চর্বি অন্যান্য কাজে ব্যবহার করবে; কিন্তু কোন মতে তা ভোজন করবে না;
25 কেননা তোমাদের মধ্যে যে কেউ মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর পশুর চর্বি ভোজন করে সেই ভোক্তা নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
26 আর তোমাদের কোন বাসস্থানে তোমরা কোন পশুর কিংবা পাখির রক্ত পান করো না।
27 যে কেউ কোন প্রকারের রক্ত পান করে সেই লোক নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
28
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
29 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, যে ব্যক্তি মাবুদের উদ্দেশে মঙ্গল-কোরবানী করে, সেই ব্যক্তি নিজের মঙ্গল-কোরবানী থেকে মাবুদের উদ্দেশে নিজের উপহার আনবে।
30 ফলত মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার অর্থাৎ বুকের গোশ্তের সঙ্গে চর্বি নিজের হাতে আনবে; তাতে সেই বুকের গোশ্ত দোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের সম্মুখে দোলায়িত হবে।
31 আর ইমাম কোরবানগাহ্র উপরে সেই চর্বি পুড়িয়ে ফেলবে, কিন্তু বুকের গোশ্তটি হারুন ও তার পুত্রদের হবে।
32 আর তোমরা নিজ নিজ মঙ্গল-কোরবানীর পশুর ডান ঊরু উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে ইমামকে দেবে।
33 হারুনের পুত্রদের মধ্যে যে কেউ মঙ্গল-কোরবানীর পশুর রক্ত ও চর্বি কোরবানী করে সে তার অংশরূপে তার ডান ঊরু পাবে।
34 কেননা বনি-ইসরাইল থেকে আমি মঙ্গল-কোরবানীর দোলনীয় উপহার হিসেবে বক্ষ ও উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে ঊরু নিয়ে বনি-ইসরাইলদের দেয় বলে চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে তা হারুন ইমাম ও তার পুত্রদেরকে দিলাম।
35
যে দিনে তারা মাবুদের ইমামের কাজ করতে নিযুক্ত হয় সেদিন থেকে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হতে এটিই হারুনের ও তার পুত্রদের অভিষেকের জন্য অধিকার।
36 মাবুদ তাদের অভিষেকের দিনে পুরুষানুক্রমে বনি-ইসরাইলদের দেয় বলে চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে এটি তাদেরকে দিতে হুকুম করলেন।
37 পোড়ানো-কোরবানীর, শস্য-উৎসর্গের, গুনাহ্-কোরবানীর, দোষ-কোরবানীর অভিষেক করার ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য এ হল ব্যবস্থা।
38 মাবুদ যেদিন সিনাই মরু-ভূমিতে বনি-ইসরাইলকে মাবুদের উদ্দেশে নিজ নিজ উপহার কোরবানী করতে হুকুম দিলেন, সেদিন তুর পর্বতে মূসাকে এই বিষয়ে হুকুম দিলেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি হারুন ও তার সঙ্গে তার পুত্রদেরকে এবং সমস্ত পোশাক, অভিষেকের জন্য তেল ও গুনাহ্-কোরবানীর ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও খামিহীন রুটির ডালি সঙ্গে নাও,
3 আর জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে সমস্ত মণ্ডলীকে একত্র কর।
4 তাতে মূসা মাবুদের হুকুম অনুসারে সমস্ত কাজ করলেন এবং জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে সমস্ত মণ্ডলী জমায়েত হল।
5 তখন মূসা মণ্ডলীকে বললেন, মাবুদ এই কাজ করতে হুকুম করলেন।
6 পরে মূসা হারুন ও তাঁর পুত্রদেরকে কাছে এনে গোসল করালেন।
7
আর হারুনকে ইমামের পোশাক পরালেন, কোমরবন্ধনী পরালেন, তাঁর শরীরে পরিচ্ছদ ও তাঁর উপরে এফোদ দিলেন এবং এফোদের বুনানি করা পটুকাতে শরীর বেষ্টন করে তার সঙ্গে এফোদখানি আট্কে দিলেন।
8 আর তাঁর বুকে বুকপাটা দিলেন এবং বুকপাটায় ঊরীম ও তুম্মীম আট্কে দিলেন।
9 আর তাঁর মাথায় পাগড়ী দিলেন ও তাঁর কপালে পাগড়ীর উপরে সোনার পাতের পবিত্র মুকুট দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
10
পরে মূসা অভিষেকের তেল নিয়ে শরীয়ত-তাঁবু ও তার মধ্যস্থিত সমস্ত বস্তু অভিষেক করে পবিত্র করলেন।
11 আর তার কিছু নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে সাতবার ছিটিয়ে দিলেন এবং কোরবানগাহ্ ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত পাত্র, ধোবার পাত্র ও তার গামলা পবিত্র করার জন্য অভিষেক করলেন।
12 পরে অভিষেকের জন্য তেলের কিঞ্চিৎ হারুনের মাথায় ঢেলে তাঁকে পবিত্র করার জন্য অভিষেক করলেন।
13 পরে মূসা হারুনের পুত্রদেরকে কাছে এনে তাদেরকেও ইমামের পোশাক পরালেন, কোমরবন্ধনী পরালেন ও তাদের মাথায় টুপি পরিয়ে দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
14
পরে মূসা গুনাহ্-কোরবানীর ষাঁড় আনলেন এবং হারুন ও তাঁর পুত্ররা সেই গুনাহ্-কোরবানীর বাছুরটির মাথায় হাত রাখলেন।
15 তখন তিনি তা জবেহ্ করলেন এবং মূসা তার রক্ত নিয়ে আঙ্গুল দ্বারা কোরবানগাহ্র চারদিকে শিংগুলোতে লাগিয়ে দিয়ে কোরবানগাহ্কে পাক-পবিত্র করলেন এবং কোরবানগাহ্র গোড়ায় রক্ত ঢেলে দিলেন ও তার জন্য কাফ্ফারা করার জন্য তা পবিত্র করলেন।
16 পরে তিনি অন্ত্রগুলোর উপরিভাগের সমস্ত চর্বি ও কলিজার উপরি-ভাগের অংশগুলো এবং দু’টি বৃক্ক ও তার চর্বি নিলেন ও মূসা তা কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে দিলেন।
17 আর তিনি চামড়া, গোশ্ত ও গোবরসুদ্ধ বাছুরটি নিয়ে গিয়ে শিবিরের বাইরে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
18
পরে তিনি পোড়ানো-কোরবানীর ভেড়াটি আনলেন; আর হারুন ও তাঁর পুত্ররা সেই ভেড়ার মাথায় হাত রাখলেন।
19 আর তিনি তা জবেহ্ করলেন এবং মূসা কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তার রক্ত ছিটিয়ে দিলেন।
20 আর তিনি ভেড়াটি খণ্ড খণ্ড করলেন এবং মূসা তার মাথা, মাংসখণ্ড ও চর্বি পুড়িয়ে দিলেন।
21 পরে তিনি তার অন্ত্রগুলো ও পাগুলো পানিতে ধুয়ে নিলেন এবং মূসা সম্পূর্ণ ভেড়াটি কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে দিলেন; এটি খোশবুযুক্ত পোড়ানো-কোরবানী। এটি মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার যা করতে মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
22
পরে তিনি দ্বিতীয় ভেড়া, অর্থাৎ অভিষেকের ভেড়াটি আনলেন এবং হারুন ও তাঁর পুত্ররা ঐ ভেড়ার মাথায় হাত রাখলেন।
23 আর তিনি সেটি জবেহ্ করলেন এবং মূসা তার কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে হারুনের ডান কানের লতিতে ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের উপরে দিলেন।
24 পরে তিনি হারুনের পুত্রদেরকে কাছে আনলেন ও মূসা সেই রক্তের কিঞ্চিৎ নিয়ে তাদের ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের উপরে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের উপরে দিলেন এবং মূসা অবশিষ্ট রক্ত কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে ছিটিয়ে দিলেন।
25 পরে তিনি চর্বি ও লেজ এবং অন্ত্রের উপরিভাগের সমস্ত চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো এবং দু’টি বৃক্ক, তার চর্বি ও ডান ঊরু নিলেন।
26 পরে মাবুদের সম্মুখে অবস্থিত খামিহীন রুটির ডালি থেকে একখানি খামিহীন পিঠা, তেলে ভাজা রুটির একখানি পিঠা ও একখানি চাপাটি নিয়ে ঐ চর্বির ও ডান ঊরুর উপরে রাখলেন।
27 আর হারুন ও তাঁর পুত্রদের হাতে সেসব দিয়ে মাবুদের সম্মুখে দোলনীয় কোরবানীর জন্য দোলালেন।
28 পরে মূসা তাঁদের হাত থেকে সেসব নিয়ে কোরবানগাহে পোড়ানো-কোরবানীর উপরে পুড়িয়ে দিলেন; এসব খোশবুযুক্ত, অভিষেকের উপহার, তা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হল।
29 পরে মূসা বুকের অংশটি নিয়ে মাবুদের সম্মুখে দোলনীয় কোরবানীর জন্য দোলালেন; এটি অভিষেক-উৎসর্গের ভেড়া থেকে মূসার অংশ হল; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
30
পরে মূসা অভিষেকের তেল থেকে ও কোরবানগাহ্র উপরিস্থ রক্ত থেকে কিঞ্চিৎ নিয়ে হারুনের উপরে, তাঁর পোশাকের উপরে এবং সেই সঙ্গে তাঁর পুত্রদের উপরে ও তাঁদের পোশাকের উপরে ছিটিয়ে দিয়ে হারুন ও তাঁর সমস্ত পোশাক এবং সেই সঙ্গে তাঁর পুত্রদের ও তাঁদের সমস্ত পোশাক পবিত্র করলেন।
31
পরে মূসা হারুন ও তাঁর পুত্রদেরকে বললেন, তোমরা জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে কোরবানীর গোশ্ত সিদ্ধ কর এবং “হারুন ও তাঁর পুত্ররা তা ভোজন করবেন,” আমার এই হুকুম অনুসারে তোমরা সেই স্থানে তা এবং অভিষেক-কোরবানীর ডালিতে স্থিত রুটি ভোজন কর।
32 পরে অবশিষ্ট গোশ্ত ও রুটি নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দাও।
33 আর তোমরা সাত দিন, অর্থাৎ তোমাদের অভিষেকের সমাপ্তি দিন পর্যন্ত, জমায়েত-তাঁবুর দরজা থেকে বের হয়ো না; কারণ তিনি সাত দিন তোমাদের অভিষেক করবেন।
34 আজ যে রকম করা হয়েছে, তোমাদের কাফ্ফারার জন্য সেই রকম করার হুকুম মাবুদ দিয়েছেন।
35 তোমরা যেন মারা না পড়, এজন্য সাতদিন পর্যন্ত দিনরাত জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে থাকবে এবং মাবুদ তোমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালন করবে; কেননা আমি এরকম হুকুম পেয়েছি।
36 মাবুদ মূসার মধ্য দিয়ে যেরকম হুকুম করেছিলেন হারুন ও তাঁর পুত্ররা সেসবই পালন করলেন।
1
পরে অষ্টম দিনে মূসা হারুন ও তাঁর পুত্রদেরকে এবং ইসরাইলের প্রাচীন লোকদেরকে ডাকলেন।
2 তখন তিনি হারুনকে বললেন, তুমি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য নিখুঁত একটি বাচ্চা ষাঁড় ও পোড়ানো-কোরবানীর জন্য নিখুঁত একটি ভেড়া নিয়ে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত কর।
3 আর বনি-ইসরাইলকে বল, তোমরা মাবুদের সম্মুখে কোরবানীর জন্য গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল, পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এক বছর বয়সের নিখুঁত একটি বাছুর ও একটি ভেড়ার বাচ্চা,
4 এবং মঙ্গল-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড় ও একটি ভেড়া এবং তেল মিশানো শস্য-উৎসর্গ নেবে; কেননা আজ মাবুদ তোমাদেরকে দর্শন দেবেন।
5 তখন তারা মূসার হুকুম অনুসারে এসব জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে আনলো আর সমস্ত মণ্ডলী এগিয়ে এসে মাবুদের সম্মুখে দাঁড়ালো।
6 পরে মূসা বললেন, মাবুদ তোমাদেরকে এই কাজ করতে হুকুম করেছেন, এই কাজ করলে তোমাদের প্রতি মাবুদের মহিমা প্রকাশ পাবে।
7
তখন মূসা হারুনকে বললেন, তুমি কোরবানগাহ্র কাছে যাও, তোমার গুনাহ্-কোরবানী ও পোড়ানো-কোরবানী কর, তোমার ও লোকদের জন্য কাফ্ফারা কর; আর লোকদের উপহার নিবেদন করে তাদের জন্য কাফ্ফারা কর; যেমন মাবুদ হুকুম দিয়েছিলেন।
8
তাতে হারুন কোরবানগাহ্র কাছে গিয়ে নিজের জন্য গুনাহ্-কোরবানীর বাছুর জবেহ্ করলেন।
9 পরে হারুনের পুত্ররা তাঁর কাছে তার রক্ত আনলেন ও তিনি নিজের আঙ্গুল রক্তে ডুবিয়ে কোরবানগাহ্র শিংগুলোর উপরে লাগিয়ে দিলেন এবং অবশিষ্ট রক্ত কোরবানগাহ্র গোড়ায় ঢাললেন।
10 আর গুনাহ্-কোরবানীর চর্বি, বৃক্ক ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
11 কিন্তু তার গোশ্ত ও চামড়া শিবিরের বাইরে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।
12
পরে তিনি পোড়ানো-কোরবানী করলেন এবং হারুনের পুত্ররা তাঁর কাছে তার রক্ত আনলে তিনি কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তা ছিটিয়ে দিলেন।
13 পরে তাঁরা পোড়ানো-কোরবানীর মাংসের খণ্ডগুলো ও মাথা তাঁর কাছে আনলেন ও তিনি সেসব কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে দিলেন।
14 পরে তার অন্ত্রগুলো ও পাগুলো ধুয়ে নিয়ে কোরবানগাহে পোড়ানো-কোরবানীর উপরে পুড়িয়ে দিলেন।
15
পরে তিনি লোকদের উপহার কাছে আনলেন এবং লোকদের জন্য গুনাহ্-কোরবানীর ছাগল নিয়ে প্রথমটির মত জবেহ্ করে গুনাহ্-কোরবানী করলেন।
16 পরে তিনি পোড়ানো-কোরবানী এনে নিয়ম অনুসারে কোরবানী করলেন।
17 আর শস্য-উৎসর্গ এনে তার এক মুষ্টি নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে দিলেন। এছাড়া, তিনি প্রাতঃকালীন পোড়ানো-কোরবানী করলেন।
18
পরে তিনি লোকদের জন্য মঙ্গল-কোরবানী ঐ ষাঁড় ও ভেড়া জবেহ্ করলেন এবং হারুনের পুত্ররা তাঁর কাছে তার রক্ত আনলে তিনি কোরবানগাহ্র উপরে চারদিকে তা ছিটিয়ে দিলেন।
19 পরে ষাঁড়ের চর্বি ও ভেড়ার লেজ এবং অন্ত্রগুলোর ও বৃক্কের উপরিভাগের চর্বি ও কলিজার উপরিভাগের অংশগুলো,
20 এ সব চর্বি নিয়ে দু’টি বুকের উপরে রাখলেন ও কোরবানগাহ্র উপরে সেই চর্বি পুড়িয়ে দিলেন।
21 আর হারুন মাবুদের সম্মুখে বুকের গোশ্ত ও ডান ঊরু দোলনীয় উপহার হিসেবে দোলালেন; যেমন মূসা হুকুম দিয়েছিলেন।
22
পরে হারুন লোকদের দিকে তাঁর হাত বাড়িয়ে তাদেরকে দোয়া করলেন; আর তিনি গুনাহ্-কোরবানী, পোড়ানো-কোরবানীর ও মঙ্গল-কোরবানী করে নেমে আসলেন।
23 আর মূসা ও হারুন জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করলেন। পরে বের হয়ে লোকদেরকে দোয়া করলেন। তখন সমস্ত লোকের কাছে মাবুদের মহিমা প্রকাশ পেল।
24 আর মাবুদের সম্মুখ থেকে আগুন বের হয়ে কোরবানগাহ্র উপরিস্থ পোড়ানো-কোরবানী ও চর্বি ভস্ম করলো; তা দেখে সমস্ত লোক আনন্দ-রব করে উবুড় হয়ে পড়ে সেজ্দা করলো।
1
আর হারুনের পুত্র নাদব ও অবীহূ নিজ নিজ ধূপদানী নিয়ে তাতে আগুন রাখল ও তার উপরে ধূপ দিয়ে মাবুদের সম্মুখে তাঁর হুকুম লঙ্ঘন করে অবৈধ আগুন নিবেদন করলো।
2 তাতে মাবুদের সম্মুখ থেকে আগুন বের হয়ে তাদেরকে গ্রাস করলো আর তারা মাবুদের সম্মুখে ইন্তেকাল করলো।
3 তখন মূসা হারুনকে বললেন, মাবুদ তো এ-ই বলে— ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, যারা আমার কাছে আসে, তাদের মধ্যে আমি অবশ্যই পবিত্ররূপে মান্য হব ও সমস্ত লোকের সম্মুখে মহিমান্বিত হবো। তখন হারুন নীরব হয়ে রইলেন।
4
পরে মূসা হারুনের চাচা উষীয়েলের পুত্র মীশায়েল ও ইলীষাফণকে ডেকে বললেন, কাছে এসে তোমাদের ঐ দু’জন জ্ঞাতিকে তুলে পবিত্র স্থানের সম্মুখ থেকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাও।
5 তাতে তারা কাছে গিয়ে ইমামের পোশাক সহ তাদেরকে তুলে শিবিরের বাইরে নিয়ে গেল; যেমন মূসা বলেছিলেন।
6 পরে মূসা হারুন ও তাঁর দুই পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামরকে বললেন, তোমরা যেন মারা না পড় ও সমস্ত মণ্ডলীর প্রতি যেন ক্রোধ প্রজ্বলিত না হয়, এজন্য তোমরা নিজ নিজ মাথার চুল এলোমেলো করে রাখবে না ও নিজ নিজ পোশাক ছিঁড়ো না; কিন্তু তোমাদের ভাইয়েরা, অর্থাৎ সমস্ত ইসরাইল-কুল, মাবুদের পাঠানো আগুনের কারণে শোক-প্রকাশ করতে পারে।
7 আর তোমরা যেন মারা না পড়, এজন্য জমায়েত-তাঁবুর দ্বারের বাইরে বের হয়ো না, কেননা তোমাদের শরীরে মাবুদের অভিষেক তেল আছে। তাতে তাঁরা মূসার কথা অনুসারে কাজ করলেন।
8
পরে মাবুদ হারুনকে বললেন,
9 তোমরা যেন মারা না পড়, এজন্য যে সময়ে তুমি কিংবা তোমার পুত্ররা জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করবে, সেই সময় আঙ্গুর-রস বা মদ পান করো না; এটি পুরুষানুক্রমে তোমাদের পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
10 তাতে তোমরা পবিত্র ও সামান্য বিষয়ের এবং পাক ও নাপাক বিষয়ের প্রভেদ করতে,
11 এবং মাবুদ মূসার দ্বারা বনি-ইসরাইলকে যেসব বিধি দিয়েছেন, তা তাদেরকে শিক্ষা দিতে পারবে।
12
পরে মূসা হারুন ও তাঁর অবশিষ্ট দুই পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামরকে বললেন, মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর অবশিষ্ট যে শস্য-উৎসর্গ আছে, তা নিয়ে গিয়ে তোমরা কোরবানগাহ্র পাশে বিনা খামিতে ভোজন কর, কেননা তা অতি পবিত্র।
13 কোন পবিত্র স্থানে তা ভোজন করবে; কেননা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর মধ্যে তা-ই তোমার ও তোমার পুত্রদের প্রাপ্য অংশ; কারণ আমি এই হুকুম পেয়েছি।
14 আর দোলনীয় বুকের গোশ্ত ও উত্তোলনীয় ঊরু তুমি ও তোমার পুত্রকন্যারা কোন পাক-পবিত্র স্থানে ভোজন করবে, কেননা বনি-ইসরাইলদের দেওয়া মঙ্গল-কোরবানী থেকে তা তোমার ও তোমার সন্তানদের প্রাপ্য অংশ বলে দেওয়া হয়েছে।
15 তারা অগ্নিকৃত চর্বির সঙ্গে উত্তোলনীয় ঊরু ও দোলনীয় বুকের গোশ্ত দোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের সম্মুখে দোলানোর জন্য আনবে; তা তোমার ও তোমার সন্তানদের চিরস্থায়ী অধিকার হবে; যেমন মাবুদ হুকুম করেছেন।
16
পরে মূসা যত্নপূর্বক গুনাহ্-কোরবানীর ছাগলের গোশ্তের খোঁজ করলেন, আর দেখ, তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; সেজন্য তিনি হারুনের অবশিষ্ট দুই পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামরের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন,
17 সেই গুনাহ্-কোরবানীর গোশ্ত তোমরা পবিত্র স্থানে ভোজন কর নি কেন? তা তো অতি পবিত্র এবং মণ্ডলীর অপরাধ বহন করে মাবুদের সম্মুখে কাফ্ফারা করার জন্য তা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন।
18 দেখ, ভিতরে পবিত্র স্থানে তার রক্ত আনা হয় নি; আমার হুকুম অনুসারে পবিত্র স্থানে তা ভোজন করা তোমাদের কর্তব্য ছিল।
19 তখন হারুন মূসাকে বললেন, দেখ, ওরা আজ মাবুদের উদ্দেশে নিজ নিজ গুনাহ্-কোরবানী ও নিজ নিজ পোড়ানো-কোরবানীর দিয়েছে, আর আমার প্রতি এরকম ঘটলো; যদি আমি আজ গুনাহ্-কোরবানী ভোজন করতাম তবে মাবুদের দৃষ্টিতে তা কি ভাল মনে হত?
20 মূসা যখন হারুনের এই কথা শুনলেন তখন তাঁর দৃষ্টিতে এই কথা ভাল মনে হল।
1
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 তোমরা বনি-ইসরাইলকে বল, ভূচর সমস্ত পশুর মধ্যে এসব জীব তোমাদের খাদ্য হবে।
3 পশুগুলোর মধ্যে যে সমস্ত পশু সমপূর্ণ দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট ও জাবর কাটে, সেগুলো তোমরা ভোজন করতে পার।
4 কিন্তু যেগুলো জাবর কাটে, কিংবা দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট, তাদের মধ্যে তোমরা এই সমস্ত পশু ভোজন করবে না। উট তোমাদের পক্ষে হারাম, কেননা সে জাবর কাটে বটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়।
5 আর শাফন তোমাদের পক্ষে হারাম, কেননা সে জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়।
6 আর খরগোস তোমাদের পক্ষে হারাম, কেননা সে জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়।
7 আর শূকর তোমাদের পক্ষে হারাম, কেননা সে সমপূর্ণভাবে দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট বটে, কিন্তু জাবর কাটে না।
8 তোমরা তাদের গোশ্ত ভোজন করো না এবং তাদের মৃতদেহ স্পর্শ করো না; তারা তোমাদের পক্ষে হারাম।
9
জলচর প্রাণীদের মধ্যে তোমরা এসব ভোজন করতে পার; জলাশয়ে, সমুদ্রে কি নদীতে স্থিত প্রাণীদের মধ্যে ডানা ও আঁশবিশিষ্ট প্রাণী তোমাদের খাদ্য।
10 কিন্তু সমুদ্রে কি নদীতে স্থিত জলচরদের মধ্যে, পানিতে অবস্থিত যাবতীয় প্রাণীর মধ্যে যারা ডানা ও আঁশবিশিষ্ট নয়, তারা তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু।
11 তারা তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু হবে; তোমরা তাদের গোশ্ত ভোজন করবে না, তাদের মৃতদেহ ঘৃণা করবে।
12 জলচর প্রাণীর মধ্যে যাদের ডানা ও আঁশ নেই, সে সবই তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু।
13
আর পাখিদের মধ্যে এসব তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু হবে; এসব অখাদ্য, এসব ঘৃণার বস্তু;
14 ঈগল, হাড়গিলা ও কুরল, চিল ও স্ব স্ব জাত অনুসারে শকুন,
15 এবং স্ব স্ব জাত অনুসারে যাবতীয় কাক,
16 উটপাখি, প্যাঁচা ও গাংচিল এবং স্ব স্ব জাত অনুসারে শ্যেন,
17 পেচক, মাছরাঙ্গা ও মহাপেচক,
18 দীর্ঘগল হাস, পানিভেলা ও শকুনী,
19 সারস এবং স্ব স্ব জাত অনুসারে বক, টিট্টিভ ও বাদুড়।
20
চার পায়ে হাঁটা সমস্ত পতঙ্গ তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু।
21 তবুও চার পায়ে হাঁটা পাখাবিশিষ্ট জন্তুর মধ্যে ভূমিতে লাফ দেবার জন্য যাদের পায়ের নলী দীর্ঘ, তারা তোমাদের খাদ্য হবে।
22 ফলত স্ব স্ব জাত অনুসারে পঙ্গপাল, স্ব স্ব জাত অনুসারে বাঘাফড়িং, স্ব স্ব জাত অনুসারে ঝিঁঝি এবং স্ব স্ব জাত অনুসারে অন্য ফড়িং তোমাদের খাদ্য হবে।
23 কিন্তু আর চারটি করে পা আছে এমন সমস্ত উড়ে বেড়ানো পতঙ্গ তোমাদের পক্ষে ঘৃণার বস্তু।
24
এসব দ্বারা তোমরা নাপাক হবে; যে কেউ তাদের মৃতদেহ স্পর্শ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
25 আর যে কেউ তাদের মৃতদেহের কোন অংশ বহন করবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
26
যেসব জন্তু কিঞ্চিৎ ছিন্ন খুরবিশিষ্ট, সমপূর্ণভাবে দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয় এবং জাবর কাটে না, তারা তোমাদের পক্ষে নাপাক; যে কেউ তাদেরকে স্পর্শ করে, সে নাপাক হবে।
27 আর সমস্ত চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে যে যে জন্তু থাবা দ্বারা চলে, তারা তোমাদের পক্ষে নাপাক; যে কেউ তাদের মৃতদেহ স্পর্শ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
28 যে কেউ তাদের মৃতদেহ বহন করবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে; তারা তোমাদের পক্ষে নাপাক।
29
আর ভূচর সরীসৃপের মধ্যে এসব তোমাদের পক্ষে নাপাক; স্ব স্ব জাত অনুসারে বেজি, ইদুঁর ও টিকটিকি,
30 এবং গোসাপ, নীল টিকটিকি, মেটে গিরগিটি, সবুজ টিকটিকি ও কাঁকলাশ।
31 সরীসৃপের মধ্যে এসব তোমাদের পক্ষে নাপাক; এসব মরলে যে কেউ তাদেরকে স্পর্শ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
32 আর তাদের মধ্যে কারো মৃতদেহ যে জিনিসের উপরে পড়বে, তাও নাপাক হবে; কাঠের পাত্র কিংবা কাপড় কিংবা চামড়া কিংবা ছালা, যে কোন কর্মযোগ্য পাত্র হোক, তা পানিতে ডুবাতে হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে; পরে পাক-সাফ হবে।
33 কোন মাটির পাত্রের মধ্যে তাদের মৃতদেহ পড়লে তার মধ্যস্থিত সমস্ত বস্তু নাপাক হবে ও তোমরা তা ভেঙে ফেলবে।
34 তার মধ্যস্থিত যে কোন খাদ্য সামগ্রীর উপরে পানি দেওয়া যায়, তা নাপাক হবে এবং এই রকম সকল পাত্রে সমস্ত রকমের পানীয় দ্রব্য নাপাক হবে।
35 যে কোন দ্রব্যের উপরে তাদের মৃতদেহের কিঞ্চিৎ পড়ে তবে তা নাপাক হবে এবং যদি তন্দুরে কিংবা চুলাতে পড়ে তবে তা ভেঙে ফেলতে হবে; তা নাপাক, তোমাদের পক্ষে নাপাক থাকবে।
36 কেবল ফোয়ারা কিংবা যে কূপে অনেক পানি থাকে, তা পাক-পবিত্র হবে; কিন্তু যাতে তাদের মৃতদেহের স্পর্শ লাগবে তা-ই নাপাক হবে।
37 আর তাদের মৃতদেহের কিঞ্চিৎ যদি কোন বপনীয় বীজে পড়ে তবে তা পাক-পবিত্র থাকবে।
38 কিন্তু বীজের উপরে পানি থাকলে যদি তাদের মৃতদেহের কিঞ্চিৎ তার উপরে পড়ে তবে তা তোমাদের পক্ষে নাপাক।
39
আর তোমাদের খাদ্যে কোন পশু মরলে, যে কেউ তার মৃতদেহ স্পর্শ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
40 আর যে কেউ তার মৃতদেহের গোশ্ত ভোজন করবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে; আর যে কেউ সেই মৃতদেহ বহন করবে, সেও নিজের কাপড় ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
41
আর ভূচর প্রত্যেক কীট ঘৃণার বস্তু; তা অখাদ্য হবে।
42 মাটির উপরে ঘুরে বেড়ানোই হোক কিংবা চার পায়ে কিংবা ততোধিক পায়ে গমনকারী হোক, যে কোন ভূচর কীট হোক, তোমরা তা ভোজন করো না, তা ঘৃণার বস্তু।
43 মাটির উপরে ঘুরে বেড়ানো কোন কীট দ্বারা তোমরা নিজেদের ঘৃণার বস্তু করো না ও সেই সবের দ্বারা নিজেদের নাপাক করো না, পাছে তা দ্বারা নাপাক হও।
44 কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্; অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্র কর; পবিত্র হও, কেননা আমি পবিত্র; তোমরা ভূমির উপরে ঘুরে বেড়ানো কোন রকমের জীব দ্বারা নিজেদের নাপাক করো না।
45 কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্ হবার জন্য মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে এনেছি; অতএব তোমরা পবিত্র হবে, কারণ আমি পবিত্র।
46
পশু, পাখি, জলচর সমস্ত প্রাণীর ও মাটির উপরে ঘুরে বেড়ানো ভূচর সমস্ত প্রাণীর বিষয়ে এই ব্যবস্থা;
47 এতে পাক, নাপাক দ্রব্যের ও খাদ্য অখাদ্য প্রাণীর পার্থক্য জানা যায়।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, যে স্ত্রী গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করে সে সাত দিন নাপাক থাকবে, যেমন মাসিকের নাপাকীতার সময়ে, তেমনি সে নাপাক থাকবে।
3
পরে অষ্টম দিনে বালকটির পুরুষাঙ্গের খৎনা হবে।
4 আর সেই স্ত্রী তেত্রিশ দিন পর্যন্ত তার নাপাক রক্তস্র্রাব অবস্থায় থাকবে; যতদিন পাক-পবিত্র হবার দিন পূর্ণ না হয় ততদিন সে কোন পবিত্র বস্তু স্পর্শ করবে না এবং পবিত্র স্থান প্রবেশ করবে না।
5 আর যদি সে কন্যা সন্তান প্রসব করে তবে যেমন নাপাকীতার সময়ে হয়ে থাকে তেমনি দুই সপ্তাহ নাপাক থাকবে। পরে সে ছেষট্টি দিন পর্যন্ত রক্তস্রাবজনিত নাপাক অবস্থায় থাকবে।
6
পরে পুত্র কিংবা কন্যা প্রসবের পাক-পবিত্র হবার দিন সমপূর্ণ হলে সে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা এবং গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি কবুতরের বাচ্চা কিংবা একটি ঘুঘু জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে ইমামের কাছে আনবে।
7 আর ইমাম মাবুদের সম্মুখে তা কোরবানী করে সেই স্ত্রীর জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে সে তার রক্তস্রাব থেকে পাক-সাফ হবে। পুত্র কিংবা কন্যা প্রসবকারিণীর জন্য এই ব্যবস্থা।
8 যদি সে ভেড়ার বাচ্চা আনতে অক্ষম হয় তবে দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা নিয়ে তার একটি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য, অন্যটি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য দেবে; আর ইমাম তার জন্য কাফ্ফারা দেবে, তাতে সে পাক-সাফ হবে।
1
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 যদি কোন মানুষের শরীরের চামড়ায় শোথ কিংবা স্ফোটক কিংবা শরীরের কোন অংশ চক্চকে বলে মনে হয়, আর তা শরীরের চামড়ায় কুষ্ঠ রোগের ঘায়ের মত হয় তবে তাকে ইমাম হারুনের কাছে কিংবা তার পুত্র ইমামদের মধ্যে কারো কাছে আনতে হবে।
3 পরে ইমাম তার শরীরের চামড়াস্থিত ঘা দেখবে; যদি ঘায়ের লোম সাদা রংয়ের হয়ে থাকে এবং ঘা যদি দেখতে শরীরের চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে হয় তবে তা কুষ্ঠরোগের ঘা, তা দেখে ইমাম তাকে নাপাক বলবে।
4 আর চিক্কন চিহ্ন যদি তার শরীরের চামড়ায় সাদা রংয়ের হয়, কিন্তু দেখতে চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গিয়ে না থাকে এবং তার লোম সাদা রংয়ের না হয়ে থাকে তবে যার ঘা হয়েছে, ইমাম তাকে সাত দিন রুদ্ধ করে রাখবে।
5 পরে সপ্তম দিনে ইমাম তাকে দেখবে; আর দেখ, যদি তার দৃষ্টিতে ঘা সেরকম থাকে, চামড়ায় ঘা ছড়ানো না থাকে তবে ইমাম তাকে আরও সাত দিন রুদ্ধ করে রাখবে।
6 আর সপ্তম দিনে ইমাম তাকে পুনর্বার দেখবে; আর দেখ, যদি সেই ঘা মলিন হয়ে থাকে ও চামড়ায় ছড়ানো না থাকে তবে ইমাম তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে; সেটি স্ফোটক; পরে সে তার কাপড় ধুয়ে নিয়ে পাক-সাফ হবে।
7 কিন্তু তাকে পাক-সাফ হবার জন্য ইমামকে দেখান হলে পর যদি তার স্ফোটক চামড়ায় ছড়ানো থাকে তবে আবার ইমামকে দেখাতে হবে।
8 তাতে ইমাম দেখবে, আর দেখ, যদি তার স্ফোটক চামড়ায় ছড়িয়ে গিয়ে থাকে তবে ইমাম তাকে নাপাক বলবে, কারণ তা কুষ্ঠরোগ।
9
কোন মানুষের কুষ্ঠরোগের ঘা হলে তাকে ইমামের কাছে আনা হবে।
10 পরে ইমাম দেখবে; যদি তার চামড়ায় সাদা রংয়ের শোথ থাকে এবং তার লোম সাদা রংয়ের হয়ে থাকে ও শোথে কাঁচা মাংস থাকে,
11 তবে তা তার শরীরের চামড়ায় পুরানো কুষ্ঠ, আর ইমাম তাকে নাপাক বলবে; রুদ্ধ করবে না; কেননা সে নাপাক।
12 আর চামড়ার সর্বত্র কুষ্ঠরোগ ছড়ানো থাকলে যদি ইমামের দৃষ্টিগোচরে ঘা বিশিষ্ট ব্যক্তির মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত চামড়া কুষ্ঠরোগে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে,
13 তবে ইমাম তা দেখবে; আর দেখ, যদি তার সর্বাঙ্গ কুষ্ঠরোগে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে তবে সে, যার ঘা হয়েছে, তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে; তার সর্বাঙ্গই সাদা হল, সে পাক-সাফ।
14 কিন্তু যখন তার শরীরে কাঁচা মাংস প্রকাশ পায়, তখন সে নাপাক হবে।
15 ইমাম তার কাঁচা মাংস দেখে তাকে নাপাক বলবে; সেই কাঁচা মাংস নাপাক; তা কুষ্ঠ।
16 আর সে কাঁচা মাংস যদি পুনর্বার সাদা রংয়ের হয় তবে সে ইমামের কাছে যাবে,
17 আর ইমাম তাকে দেখবে; আর দেখ যদি তার ঘা সাদা রংয়ের হয়ে থাকে তবে ইমাম, যার ঘা হয়েছে, তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে; সে পাক-সাফ।
18
আর শরীরের চামড়ায় স্ফোটক হয়ে ভাল হলে পর,
19 যদি সেই স্ফোটকের স্থানে সাদা রংয়ের শোথ কিংবা সাদা ও কিছু অংশ লাল্চে-সাদা চক্চকে দেখা যায় তবে ইমামের কাছে তা দেখাতে হবে।
20 আর ইমাম তা দেখবে, আর দেখ, যদি তার দৃষ্টিতে তা চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে হয় ও তার লোম সাদা রংয়ের হয়ে থাকে তবে, ইমাম তাকে নাপাক বলবে; তা স্ফোটকে উৎপন্ন কুষ্ঠ রোগের ঘা।
21 কিন্তু যদি ইমাম তাতে সাদা রংয়ের লোম না দেখে এবং তা চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে না হয় ও মলিন হয় তবে ইমাম তাকে সাতদিন রুদ্ধ করে রাখবে।
22 পরে তা যদি চামড়ায় ছড়িয়ে পরে তবে ইমাম তাকে নাপাক বলবে; সেটি ঘা।
23 কিন্তু যদি সেই চক্চকে চিহ্ন স্বস্থানে থাকে ও না বাড়ে তবে তা স্ফোটকের দাগ; ইমাম তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে।
24
আর যদি শরীরের চামড়ায় আগুনে পুড়ে যায় ও সেই পুড়ে যাওয়া কাঁচা স্থানে কিছুটা রক্ত মিশানো সাদা রংয়ের কিংবা কেবল সাদা রংয়ের চক্চকে কোন কিছু দেখা যায়,
25 তবে ইমাম তা দেখবে; আর দেখ, চিক্কন চিহ্নে স্থিত লোম যদি সাদা রংয়ের হয় ও দেখতে চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে হয় তবে তা আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থানে উৎপন্ন কুষ্ঠরোগ; অতএব ইমাম তাকে নাপাক বলবে, তা কুষ্ঠরোগের ঘা।
26 কিন্তু যদি ইমাম দেখে, চক্চকে দাগে স্থিত লোম সাদা রংয়ের নয় ও চিহ্নটি চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে না হয়, কিন্তু মলিন তবে ইমাম তাকে সাতদিন রুদ্ধ করে রাখবে।
27 পরে সপ্তম দিনে ইমাম তাকে দেখবে; যদি চামড়ায় ঐ রোগ ছড়ানো থাকে তবে ইমাম তাকে নাপাক বলবে; তা কুষ্ঠ রোগের ঘা।
28 আর যদি চিক্কন চিহ্ন স্বস্থানে থাকে, চামড়ায় বৃদ্ধি না পায়, কিন্তু মলিন হয় তবে তা পুড়ে যাওয়া স্থানের শোথ; ইমাম তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে, কেননা তা আগুনে পোড়া ক্ষতের চিহ্ন।
29
আর পুরুষের কিংবা স্ত্রীর মাথায় বা দাড়িতে ঘা হলে ইমাম সেই ঘা দেখবে;
30 আর দেখ, যদি তা দেখতে চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে হয় ও হলুদ রংয়ের সূক্ষ্ম লোম থাকে তবে ইমাম তাকে নাপাক বলবে; সেটি ছুলি, সেটি মাথার বা দাড়ির কুষ্ঠ।
31 আর ইমাম যদি ছুলির ঘা দেখে, আর দেখ, তার দৃষ্টিতে সেটি চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে না হয় ও তাতে কালো রংয়ের লোম না থাকে তবে ইমাম সেই ছুলির ঘা বিশিষ্টা ব্যক্তিকে সাতদিন রুদ্ধ করে রাখবে।
32 পরে সপ্তম দিনে ইমাম ঘা দেখবে; আর দেখ, যদি সেই ছুলি বৃদ্ধি না পায় ও তাতে হলুদ রংয়ের লোম না হয়ে থাকে এবং দেখতে চামড়া ছাড়িয়ে ছুলি আরও গভীরে চলে গেছে বলে মনে না হয়,
33 তবে ছুলির জায়গা বাদ দিয়ে অন্যান্য চুল কামিয়ে ফেলতে হবে; পরে ইমাম ঐ ছুলি বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আর সাত দিন রুদ্ধ করে রাখবে।
34 আর সপ্তম দিনে ইমাম সেই ছুলি দেখবে; আর দেখ, যদি সেই ছুলি চামড়ায় বৃদ্ধি না পায় ও দেখতে চামড়া ছাড়িয়ে আরও গভীরে চলে গিয়ে না থাকে তবে ইমাম তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে; পরে সে তার কাপড় ধুয়ে নিয়ে পাক-সাফ হবে।
35
আর পাক-সাফ হলে পর যদি তার চামড়ায় সেই ছুলি ছড়িয়ে যায়,
36 তবে ইমাম তাকে দেখবে; আর দেখ, যদি তার চামড়ায় ছুলি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তবে ইমাম হলুদ রংয়ের লোমের খোঁজ করবে না; সে নাপাক।
37 কিন্তু তার দৃষ্টিতে যদি ছুলি না বৃদ্ধি পেয়ে থাকে ও তাতে কালো রংয়ের লোম উঠে থাকে তবে সেই ছুলির উপশম হয়েছে, সে পাক-পবিত্র; ইমাম তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে।
38
আর যদি কোন পুরুষের কিংবা স্ত্রীর শরীরের চামড়ায় স্থানে স্থানে চক্চকে দাগ দেখা দেয় অর্থাৎ সাদা রংয়ের চক্চকে দাগ হয় তবে ইমাম তা দেখবে;
39 আর দেখ, যদি তার চামড়ানির্গত চক্চকে দাগ মলিন সাদা রংয়ের হয় তবে তা চামড়ায় উৎপন্ন নিখুঁত স্ফোটক; সে পাক-সাফ।
40
আর যে মানুষের চুল মাথা থেকে খসে পড়ে, সে নেড়া, সে পাক-সাফ।
41 আর যার চুল মাথার প্রান্ত থেকে খসে পড়ে, সে কপালে নেড়া, সে পাক-সাফ।
42 কিন্তু যদি নেড়া মাথায় বা নেড়া কপালে কিছুটা রক্ত মিশানো সাদা রংয়ের ঘা হয় তবে তা তার নেড়া মাথায় কিংবা নেড়া কপালে উৎপন্ন কুষ্ঠ।
43 ইমাম তাকে দেখবে; আর দেখ, যদি শরীরের চামড়াস্থিত কুষ্ঠের মত নেড়া মাথায় কিংবা নেড়া কপালে কিছুটা রক্ত মিশানো সাদা রংয়ের ঘা হয়ে থাকে তবে সে কুষ্ঠী, সে নাপাক;
44 ইমাম তাকে অবশ্য নাপাক বলবে; তার ঘা তার মাথার উপর।
45
আর যে কুষ্ঠীর ঘা হয়েছে, তার কাপড় ছেঁড়া যাবে ও তার মাথার চুল এলোমেলো থাকবে ও সে তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে ‘নাপাক, নাপাক’ এই আওয়াজ করবে।
46 যত দিন তার শরীরে ঘা থাকবে, তত দিন সে নাপাক থাকবে; সে নাপাক; সে একাকী বাস করবে, শিবিরের বাইরে তার বাসস্থান হবে।
47
আর লোমের কাপড়ে কিংবা মসীনার কাপড়ে যদি কুষ্ঠ রোগের ছত্রাক দেখা দেয়,
48 লোমের কিংবা মসীনার তানাতে বা পড়িয়ানেতে যদি হয়, কিংবা চামড়ায় বা চামড়া দিয়ে তৈরি কোন দ্রব্যে যদি হয়,
49 এবং কাপড়ে কিংবা চামড়ায় কিংবা তানাতে বা পড়িয়ানেতে কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি কোন দ্রব্যে যদি কিছুটা সবুজ রংয়ের কিংবা কিছুটা লাল রংয়ের ছত্রাক হয় তবে তা কুষ্ঠরোগের ছত্রাক; তা ইমামকে দেখাতে হবে;
50 পরে ইমাম ঐ ছত্রাক দেখে ছত্রাক-যুক্ত বস্তু সাত দিন রুদ্ধ করে রাখবে।
51 পরে সপ্তম দিনে ইমাম ঐ ছত্রাক দেখবে, যদি কাপড়ে কিংবা তানাতে কিংবা পড়িয়ানেতে কিংবা চামড়ায় কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি দ্রব্যে সেই ছত্রাক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তবে তা সংহারক কুষ্ঠ; তা নাপাক।
52 অতএব কাপড় কিংবা লোম দ্বারা তৈরি বা মসীনা দ্বারা তৈরি তানা বা পড়িয়ান কিংবা চামড়া দ্বারা তৈরি দ্রব্য, যা কিছুতে সেই ছত্রাক দেখা যায়, তা সে পুড়িয়ে ফেলবে; কারণ তা সংহারক কুষ্ঠ, তা আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে।
53
কিন্তু ইমাম দেখবে; আর দেখ, যদি সেই ছত্রাক কাপড়ে কিংবা তানাতে বা পড়িয়ানেতে কিংবা চামড়ার কোন দ্রব্যে বৃদ্ধি না পায়,
54 তবে ইমাম সেই ছত্রাক-বিশিষ্ট দ্রব্য ধুয়ে ফেলবার হুকুম দেবে এবং আর সাত দিন তা বন্ধ করে রাখবে।
55 ধোয়া হলে পর ইমাম সেই ছত্রাক দেখবে; আর দেখ, সেই ছত্রাক যদি অন্য রংয়ের না হয়ে থাকে ও সেই ছত্রাক যদি বৃদ্ধি না পেয়ে থাকে তবে তা নাপাক, তুমি তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে; সেটা ভিতরে কিংবা বাইরে উৎপন্ন ক্ষত।
56 কিন্তু যদি ইমাম দেখে, আর দেখ, ধোয়ার পরে ইমামের দৃষ্টিতে যদি সেই ছত্রাক মলিন হয় তবে সে ঐ কাপড় থেকে কিংবা চামড়া থেকে কিংবা তানা বা পড়িয়ান থেকে তা ছিঁড়ে ফেলবে।
57 তবুও যদি সেই কাপড়ে কিংবা তানাতে বা পড়িয়ানেতে কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি কোন দ্রব্যে তা পুনরায় দেখা যায় তবে তা ব্যাপক কুষ্ঠ; যাতে সেই ছত্রাক থাকে, তা তুমি আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
58 আর যে কাপড় কিংবা কাপড়ের তানা বা পড়িয়ান কিংবা চামড়ার যে কোন দ্রব্য ধুয়ে ফেলবে, তা থেকে যদি সেই ছত্রাক দূর হয় তবে দ্বিতীয়বার তা ধুয়ে ফেলবে; তাতে তা পাক-সাফ হবে।
59
লোমের কিংবা মসীনার তৈরি কাপড়ের কিংবা তানার বা পড়িয়ানের কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি কোন পাত্রের কুষ্ঠ হলে পাক-নাপাক নির্ধারণের বিষয়ে এই ব্যবস্থা।
1
মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 কুষ্ঠরোগীর পাক-সাফ হবার দিনে তার পক্ষে এই ব্যবস্থা হবে; তাকে ইমামের কাছে আনা হবে।
3
ইমাম শিবিরের বাইরে গিয়ে দেখবে; যদি কুষ্ঠীর কুষ্ঠরোগের ঘায়ের উপশম হয়ে থাকে,
4 তবে যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির জন্য ইমাম দু’টি জীবিত হালাল পাখি, এরস কাঠ, লাল রংয়ের লোম ও এসোব,
5 এসব নিতে হুকুম করবে। আর ইমাম মাটির পাত্রে স্রোতের পানির উপরে একটি পাখি জবেহ্ করতে হুকুম করবে।
6 পরে সে ঐ জীবিত পাখি, এরস কাঠ, লাল রংয়ের লোম ও এসোব নিয়ে ঐ স্রোতের পানির উপরে হত পাখির রক্তে জীবিত পাখির সঙ্গে সেসব ডুবাবে,
7 এবং কুষ্ঠ থেকে যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির উপরে সাতবার ছিটিয়ে তাকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে এবং ঐ জীবিত পাখিকে মাঠের দিকে ছেড়ে দেবে।
8 তখন যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তি নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে ও সমস্ত চুল কামিয়ে নিয়ে পানিতে গোসল করবে, তাতে সে পাক-সাফ হবে; তারপর সে শিবিরে প্রবেশ করতে পারবে, কিন্তু সাত দিন তার তাঁবুর বাইরে থাকবে।
9 পরে সপ্তম দিনে সে তার মাথার চুল, দাড়ি, ভ্রূ ও সর্বাঙ্গের লোম কামাবে এবং তার কাপড় ধুয়ে ফেলে সে পানিতে গোসল করে পাক-সাফ হবে।
10
পরে অষ্টম দিনে সে নিখুঁত দু’টি ভেড়ার বাচ্চা, এক বছর বয়সের নিখুঁত একটি ভেড়ীর বাচ্চা ও শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো (এক ঐফা) সুজির দশ অংশের তিন অংশ ও এক লোগ তেল নেবে।
11 পরে পাক-সাফকারী ইমাম যাকে পাক-সাফ করা হবে ঐ লোকটিকে এবং ঐ সমস্ত বস্তু নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের সম্মুখে স্থাপন করবে।
12 পরে ইমাম একটি ভেড়ার বাচ্চা নিয়ে দোষ-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে এবং সেটিকে ও সেই এক লোগ তেল দোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের সম্মুখে দোলাবে।
13 যে স্থানে গুনাহ্-কোরবানী ও পোড়ানো-কোরবানীর পশু জবেহ্ করা হয়, সেই পবিত্র স্থানে ঐ ভেড়ার বাচ্চাটি জবেহ্ করবে, কেননা দোষ-কোরবানী গুনাহ্-কোরবানীর মতই ইমামের অংশ; তা অতি পবিত্র।
14 পরে ইমাম ঐ দোষ-কোরবানীর কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে যাকে পাক-সাফ করা হবে ঐ ব্যক্তির ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে দেবে।
15 আর ইমাম এই এক লোগ তেলের কিছু পরিমাণ নিয়ে নিজের বাম হাতের তালুতে ঢালবে।
16 পরে ইমাম সেই বাম হাতে থাকা তেলে তার ডান হাতের আঙ্গুল ডুবিয়ে আঙ্গুল দ্বারা সেই তেল থেকে কিঞ্চিৎ তেল সাতবার মাবুদের সম্মুখে ছিটিয়ে দেবে।
17 আর তার হাতের অবশিষ্ট তেলের কিছু পরিমাণ নিয়ে ইমাম যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ঐ দোষ-কোরবানীর রক্তের উপরে দেবে।
18 পরে ইমাম নিজের হাতে থাকা অবশিষ্ট তেল নিয়ে যাকে পাক-সাফ করা হবে, ঐ ব্যক্তির মাথায় দেবে এবং ইমাম মাবুদের সম্মুখে তার জন্য কাফ্ফারা দেবে।
19 আর ইমাম গুনাহ্-কোরবানী করবে এবং যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির নাপাকীতার জন্য কাফ্ফারা দেবে, তারপর পোড়ানো-কোরবানীর পশু কোরবানী দিবে।
20 আর ইমাম পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ কোরবানগাহে কোরবানী করবে এবং ইমাম তার জন্য কাফ্ফারা দেবে; তাতে সে পাক-সাফ হবে।
21
আর সেই ব্যক্তি যদি দরিদ্র হয়, এত জিনিস আনতে তার সঙ্গতি না থাকে তবে সে তার জন্য কাফ্ফারা করার জন্য দোলনীয় দোষ-কোরবানীর জন্য একটি ভেড়ার বাচ্চা ও শস্য-উৎসর্গ, তেল মিশানো (এক ঐফা) সুজির দশ অংশের এক অংশ ও এক লোগ তেল;
22 এবং তার সঙ্গতি অনুসারে দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা আনবে; তার একটি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য ও অন্যটি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য।
23 পরে অষ্টম দিনে সে নিজে পাক-সাফ হবার জন্য জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের সম্মুখে ইমামের কাছে সেগুলো নিয়ে আসবে।
24 পরে ইমাম দোষ-কোরবানীর ভেড়ার বাচ্চা ও উক্ত এক লোগ তেল নিয়ে মাবুদের সম্মুখে দোলনীয় উপহার হিসেবে তা দোলাবে।
25 পরে সে দোষ-কোরবানীর ভেড়ার বাচ্চা জবেহ্ করবে এবং ইমাম দোষ-কোরবানীর কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির ডান কানের লতিতে ও তার ডান হাত ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে দেবে।
26 পরে ইমাম সেই তেল থেকে কিঞ্চিৎ নিয়ে নিজের বাম হাতের তালুতে ঢালবে।
27 আর ইমাম ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতে থাকা তেল থেকে কিছু অংশ নিয়ে তা সাতবার মাবুদের সম্মুখে ছিটিয়ে দেবে।
28 আর ইমাম তার হাতের তেল থেকে কিঞ্চিৎ নিয়ে যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ও ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে দোষ-কোরবানীর রক্তের স্থানের উপরে দেবে।
29 আর ইমাম যাকে পাক-সাফ করা হবে সেই ব্যক্তির জন্য মাবুদের সম্মুখে কাফ্ফারা করার জন্য তার হাতের অবশিষ্ট তেল তার মাথায় দেবে।
30 পরে সে সঙ্গতি অনুসারে দেওয়া দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চার মধ্যে একটি কোরবানী করবে;
31 অর্থাৎ তার সঙ্গতি অনুসারে শস্য-উৎসর্গের সঙ্গে একটি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য ও অন্যটি পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে এবং ইমাম সেই ব্যক্তির জন্য মাবুদের সম্মুখে কাফ্ফারা দেবে।
32 কুষ্ঠরোগের ঘা বিশিষ্ট যে ব্যক্তি তার পাক-সাফ ব্যাপারে অসমর্থ, তার নিজের জন্য এই ব্যবস্থা।
33
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
34 আমি যে দেশ অধিকার হিসেবে তোমাদেরকে দেব, সেই কেনান দেশে তোমাদের প্রবেশের পর যদি আমি তোমাদের অধিকৃত দেশের কোন বাড়িতে কুষ্ঠরোগের ছত্রাক উৎপন্ন করি,
35 তবে সে বাড়ির মালিক এসে ইমামকে এই সংবাদ দেবে, আমার মনে হয় বাড়িতে কলঙ্কের মত দেখা দিচ্ছে।
36 তারপর বাড়ির সকল বস্তু যেন নাপাক না হয়, এজন্য ঐ ছত্রাক দেখবার জন্য ইমামের প্রবেশের আগে ঘরটি শূন্য করতে ইমাম হুকুম করবে; পরে ইমাম ঘর দেখতে সেখানে প্রবেশ করবে।
37 আর সে সেই ছত্রাক দেখবে; আর দেখ, যদি ঘরের দেয়ালে ছত্রাক নিম্ন ও কিছুটা সবুজ কিংবা লাল রংয়ের হয় এবং তার দৃষ্টিতে দেয়ালের ভিতরের দিকে ছড়িয়ে গেছে মনে হয়,
38 তবে ইমাম ঘরের দরজা থেকে বের হয়ে গিয়ে সাত দিন ঐ ঘরটি বন্ধ করে রাখবে।
39 সপ্তম দিনে ইমাম পুনর্বার এসে দেখবে; যদি ঘরের দেয়ালে সেই ছত্রাক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে,
40 তবে ইমাম হুকুম করবে, যেন কলঙ্কবিশিষ্ট সমস্ত পাথর উৎপাটন করে লোকেরা নগরের বাইরে নাপাক স্থানে নিক্ষেপ করে।
41 পরে সে ঘরের ভিতরের চারদিক ঘষা-মাজা করাবে ও তারা সেই ঘষা-মাজার ধূলা নগরের বাইরে নাপাক স্থানে ফেলে দেবে।
42 আর তারা অন্য পাথর নিয়ে সেই পাথরের স্থানে বসাবে ও অন্য প্রলেপ নিয়ে ঘর লেপন করবে।
43
এভাবে পাথর উৎপাটন এবং বাড়ি ঘষা-মাজা ও লেপন করলে পর যদি পুনর্বার ছত্রাক জন্মে ঘরটিতে বিস্তৃত হয় তবে ইমাম এসে দেখবে;
44 আর দেখ, যদি ঐ ঘরে ছত্রাক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তবে সেই ঘরে সংহারক কুষ্ঠ আছে, সেই ঘর নাপাক।
45 লোকেরা ঐ ঘর ভেঙে ফেলবে এবং বাড়ির পাথর, কাঠ ও সমস্ত প্রলেপ নগরের বাইরে নাপাক স্থানে নিয়ে যাবে।
46 আর ঐ ঘর যতদিন রুদ্ধ থাকে, ততদিন যদি কেউ তার ভিতরে যায়, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
47 আর যে কেউ সেই ঘরে শয়ন করে, সে তার কাপড় ধুয়ে ফেলবে এবং যে কেউ সেই ঘরে আহার করে, সেও নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে।
48
আর যদি ইমাম প্রবেশ করে দেখে, সেই ঘর লেপনের পর ছত্রাক আর বাড়ে নি তবে ইমাম সেই বাড়িকে পাক-সাফ বলে ঘোষণা করবে, কেননা কলঙ্কের উপশম হয়েছে।
49 পরে সে ঐ ঘর পাক-পবিত্র করার জন্য দু’টি পাখি, এরস কাঠ, লাল রংয়ের লোম ও এসোব গাছের ডাল নেবে,
50 এবং মাটির পাত্রে স্রোতের পানির উপরে একটি পাখি জবেহ্ করবে।
51 পরে সে ঐ এরস কাঠ, এসোব, লাল রংয়ের লোম ও জীবিত পাখি, এসব নিয়ে হত পাখির রক্তে ও স্রোতের পানিতে ডুবিয়ে সাতবার বাড়িতে ছিটিয়ে দেবে।
52 এভাবে পাখির রক্ত, স্রোতের পানি, জীবিত পাখি, এরস কাঠ, এসোব ও লাল রংয়ের লোম, এই সমস্ত বিষয়গুলো দিয়ে সেই ঘর পাক-পবিত্র করবে।
53 পরে ঐ জীবিত পাখিকে নগরের বাইরে মাঠের দিকে ছেড়ে দেবে এবং বাড়ির জন্য কাফ্ফারা দেবে; তাতে তা পাক-সাফ হবে।
54
এই ব্যবস্থা সমস্ত রকম কুষ্ঠরোগের, শ্বেতিরোগের,
55 কাপড়ের মধ্যস্থিত কুষ্ঠের ও ঘরের,
56 এবং শোথ, স্ফোটক ও চিক্কন চিহ্নের;
57 এই সব দিক থেকে মানুষ কখন নাপাক ও কখন পাক-সাফ হয়, তা জানতে পারা যায়; কুষ্ঠরোগের এই ব্যবস্থা।
1
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 তোমরা বনি-ইসরাইলদেরকে এই কথা বল, পুরুষের শরীরে প্রমেহ হলে সেই প্রমেহে সে নাপাক হবে।
3
তার প্রমেহের জন্য নাপাকীতার নিয়ম এই রকম: তার শরীর থেকে প্রমেহ ক্ষরুক, কিংবা আট্কে থাকুক, এ তার নাপাকীতা।
4 প্রমেহী লোক যে কোন বিছানায় শয়ন করে তা নাপাক ও যা কিছুর উপরে বসে তা নাপাক হবে।
5 আর যে কেউ তার বিছানা স্পর্শ করে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
6 আর যে কোন বস্তুর উপরে প্রমেহী বসে, তার উপরে যদি কেউ বসে তবে সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
7 আর যে কেউ প্রমেহীর শরীর স্পর্শ করে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
8 আর প্রমেহী যদি পাক-সাফ ব্যক্তির শরীরে থুথু ফেলে তবে সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
9 আর প্রমেহী যে কোন যানের উপরে আরোহণ করে, তা নাপাক হবে।
10 আর যে কেউ তার নিচস্থ কোন বস্তু স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে এবং যে কেউ তা তুলে, সে তার কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
11 আর প্রমেহী নিজের হাত পানিতে না ধুয়ে যাকে স্পর্শ করে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
12 আর প্রমেহী যে কোন মাটির পাত্র স্পর্শ করে, তা ভেঙে ফেলতে হবে ও সকল কাঠের পাত্র পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।
13
আর প্রমেহী যখন প্রমেহ থেকে পাক-সাফ হয়, তখন সে তার পাক-সাফের জন্য সাত দিন গণনা করবে এবং নিজের কাপড় ধুয়ে নেবে ও স্রোতের পানিতে গোসল করবে; পরে পাক-সাফ হবে।
14 আর অষ্টম দিনে সে নিজের জন্য দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে মাবুদের সম্মুখে এসে সেগুলোকে ইমামের হাতে দেবে।
15 ইমাম তার একটি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য ও অন্যটি পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে, এভাবে ইমাম তার প্রমেহের কারণে তার জন্য মাবুদের সম্মুখে কাফ্ফারা দেবে।
16
আর যদি কোন পুরুষের বীর্যপাত হয় তবে সে নিজের সমস্ত শরীর পানিতে ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
17 আর যে কোন কাপড়ে কি চামড়ায় বীর্যপাত হয়, তা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে এবং তা সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
18 আর স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষ বীর্যসুদ্ধ শয়ন করলে তারা উভয়ে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
19
আর যে স্ত্রীর মাসিক হয়, তার শরীরস্থ রক্ত ক্ষরণের সাত দিন তার নাপাকীতা থাকবে এবং যে কেউ তাকে স্পর্শ করে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
20 আর নাপাকীতার সময়ে সে যে বিছানায় শয়ন করবে, তা নাপাক হবে; ও যার উপরে বসবে, তা নাপাক হবে।
21 আর যে কেউ তার বিছানা স্পর্শ করবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, গোসল করবে ও সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
22 আর যে কেউ তার বসবার কোন আসন স্পর্শ করে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
23 আর তার বিছানার কিংবা আসনের উপরে কোন কিছু থাকলে যে কেউ তা স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
24 আর নাপাকীতার সময়ে যে পুরুষ তার সঙ্গে শয়ন করে ও তার রক্তস্রাব সেই পুরুষের শরীরে লাগে তবে সে সাত দিন নাপাক থাকবে। সে যে বিছানায় শয়ন করবে, তাও নাপাক হবে।
25
আর নাপাকীতার সময় ছাড়া যদি কোন স্ত্রীলোকের বহুদিন পর্যন্ত রক্তস্রাব হয়, কিংবা নাপাকীতার সময়ের পর যদি রক্ত ক্ষরণ হয় তবে সেই নাপাক রক্তস্রাবের সকল দিন সে নাপাকীতার সময়ের মত থাকবে, সে নাপাক।
26 সেই রক্তস্রাবের সমস্ত কাল যে বিছানায় সে শয়ন করবে, তা তার পক্ষে নাপাকীতার সময়ের বিছানার মত হবে এবং যে আসনের উপরে সে বসবে, তা নাপাকীতার সময়ের মত নাপাক হবে।
27 আর যে কেউ সেসব স্পর্শ করবে, সে নাপাক হবে, কাপড় ধুয়ে ফেলে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
28 আর সেই স্ত্রীর রক্তস্রাব বন্ধ হলে সে তার নিজের জন্য সাত দিন গণনা করবে, তারপর সে পাক-সাফ হবে।
29 পরে অষ্টম দিনে নিজের জন্য দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে ইমামের কাছে আসবে।
30 ইমাম তার একটি গুনাহ্র জন্য ও অন্যটি পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে, তার রক্তস্রাবের নাপাকীতার জন্য ইমাম মাবুদের সম্মুখে তার জন্য কাফ্ফারা দেবে।
31
এভাবে তোমরা বনি-ইসরাইলকে তাদের নাপাকীতা থেকে পৃথক করবে, পাছে তাদের মধ্যবর্তী আমার শরীয়ত-তাঁবু নাপাক করলে তারা নিজ নিজ নাপাকীতার জন্য মারা পড়ে।
32 প্রমেহী ও বীর্যপাতে নাপাক ব্যক্তি,
33 এবং নাপাক স্ত্রী, প্রমেহবিশিষ্ট পুরুষ ও স্ত্রী এবং নাপাক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসকারী পুরুষ, এই সমস্ত বিষয়ের জন্য এই হল ব্যবস্থা।
1
হারুনের দুই পুত্র মাবুদের কাছে উপস্থিত হয়ে মারা পড়লে পর, মাবুদ মূসার সঙ্গে আলাপ করলেন।
2 মাবুদ মূসাকে এই কথা বললেন, তুমি তোমার ভাই হারুনকে বল, যেন সে মহা-পবিত্র স্থানে পর্দার ভিতরে, সিন্দুকের উপরিস্থ গুনাহ্ আবরণের সম্মুখে যেকোন সময়ে প্রবেশ না করে, পাছে তার মৃত্যু হয়; কেননা আমি ঐ গুনাহ্ আবরণের উপরে মেঘে দর্শন দেব।
3
হারুন গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড় ও পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ভেড়া সঙ্গে নিয়ে, এভাবে মহা-পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবে।
4 সে মসীনার ইমামের পবিত্র পোশাক পরবে, মসীনার জাঙ্গিয়া পরবে, মসীনার কোমরবন্ধনী পরবে এবং মসীনার পাগড়ীতে বিভূষিত হবে; এসব পবিত্র পোশাক; সে পানিতে তার শরীর ধুয়ে ফেলে এসব পোশাক পরবে।
5 পরে সে বনি-ইসরাইলদের মণ্ডলীর কাছে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে দু’টি ছাগল ও পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ভেড়া নেবে।
6
আর হারুন নিজের জন্য গুনাহ্-কোরবানীর ষাঁড় এনে নিজের ও নিজের কুলের জন্য কাফ্ফারা দেবে।
7 পরে সেই দু’টি ছাগল নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর দরজা সমীপে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত করবে।
8 পরে হারুন ঐ দু’টি ছাগলের বিষয়ে গুলিবাঁট করবে; এর এক অংশ মাবুদের জন্য ও অন্যগুলো আজাজিলের জন্য হবে।
9 গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগল মাবুদের জন্য হয়, হারুন তাকে নিয়ে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে।
10 কিন্তু গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগলটি আজাজিলের জন্য নির্ধারিত হয়, সেটিকে মাবুদের সম্মুখে তাকে জীবিত উপস্থিত করতে হবে যেন সেটি কাফ্ফারা করার জন্য মরুভূমিতে প্রেরিত হতে পারে।
11
পরে হারুন নিজের গুনাহ্-কোরবানীর ষাঁড় এনে নিজের ও নিজের কুলের জন্য কাফ্ফারা দেবে, ফলত সে তার গুনাহ্-কোরবানীর জন্য আনা সেই বাছুরটিকে জবেহ্ করবে;
12 আর মাবুদের সম্মুখ থেকে, কোরবানগাহ্র উপর থেকে, জ্বলন্ত অঙ্গারে পূর্ণ ধূপদানী ও এক মুষ্টি মিহি করা সুগন্ধি ধূপ নিয়ে পর্দার ভিতরে যাবে।
13 আর ঐ ধূপ মাবুদের সম্মুখে আগুনে দেবে; তাতে শরীয়ত-সিন্দুকের উপরিস্থ গুনাহ্ আবরণ ধূপের ধোঁয়ার মেঘে আচ্ছন্ন হলে সে মরবে না।
14 পরে সে ঐ বাছুরটির কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে গুনাহ্ আবরণের পূর্ব পাশে আঙ্গুল দ্বারা ছিটিয়ে দেবে এবং আঙ্গুল দ্বারা গুনাহ্ আবরণের সম্মুখে ঐ রক্ত সাতবার ছিটিয়ে দেবে।
15
পরে সে লোকদের গুনাহ্-কোরবানীর ছাগলটি জবেহ্ করে তার রক্ত পর্দার ভিতরে এনে যেমন বাছুরটির রক্ত ছিটিয়ে দিয়েছিল, সেভাবে তারও রক্ত নিয়ে ছিটিয়ে দেবে, গুনাহ্ আবরণের উপরে ও গুনাহ্ আবরণের সম্মুখে তা ছিটিয়ে দেবে।
16 আর বনি-ইসরাইলদের নানা রকম নাপাকীতা ও অধর্ম, অর্থাৎ সব রকম গুনাহের দরুন সে পবিত্র স্থানের জন্য কাফ্ফারা দেবে এবং যে জমায়েত-তাঁবু তাদের সঙ্গে তাদের নানা রকম নাপাকীতার মধ্যে বসতি করে, তার জন্য সে সেরকম করবে।
17 আর কাফ্ফারা করার জন্য পবিত্র স্থানে প্রবেশ করার পর থেকে যে পর্যন্ত সে বের না হয় এবং তার ও তার নিজের কুলের এবং সমস্ত ইসরাইল-সমাজের জন্য কাফ্ফারা সমাপ্ত না করে, সেই পর্যন্ত জমায়েত-তাঁবুতে কোন মানুষ থাকবে না।
18 সে বের হয়ে মাবুদের সম্মুখবর্তী কোরবানগাহ্র কাছে গিয়ে তার জন্য কাফ্ফারা দেবে এবং সেই বাছুরটির কিঞ্চিৎ রক্ত ও ছাগলের কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র চারদিকে শিংগুলোর উপরে দেবে।
19 আর সে রক্তের কিছু পরিমাণ নিয়ে তার আঙ্গুল দ্বারা তার উপরে সাতবার ছিটিয়ে দিয়ে তা পাক-সাফ করবে ও বনি-ইসরাইলদের নাপাকীতা থেকে তা পবিত্র করবে।
20
এভাবে সে পবিত্র স্থানের, জমায়েত-তাঁবু ও কোরবানগাহ্র জন্য কাফ্ফারা কাজ সমাপ্ত করার পর সেই জীবিত ছাগলটি আনবে;
21 পরে হারুন সেই জীবিত ছাগল-টির মাথায় তার দুই হাত রাখবে এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত অপরাধ ও তাদের সমস্ত অধর্ম অর্থাৎ তাদের সব রকম গুনাহ্ তার উপরে স্বীকার করে সেসব ঐ ছাগলের মাথায় অর্পণ করবে। পরে এই কাজের জন্য যে লোক প্রস্তুত হয়েছে তার হাত দিয়ে সেটি মরুভূমিতে পাঠিয়ে দেবে।
22 আর ঐ ছাগল নিজের উপরে তাদের সমস্ত অপরাধ বিচ্ছিন্ন ভূমিতে বয়ে নিয়ে যাবে; আর সেই ব্যক্তি ছাগলটিকে মরুভূমিতে ছেড়ে দেবে।
23
আর হারুন জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করবে এবং পবিত্র স্থানে প্রবেশ করার সময়ে যেসব মসীনার পোশাক পরেছিল তা ত্যাগ করে সেই স্থানে রাখবে।
24 পরে সে কোন পবিত্র স্থানে তার শরীর ধুয়ে ফেলে নিজের পোশাক পরে বাইরে আসবে এবং নিজের পোড়ানো-কোরবানী ও লোকদের পোড়ানো-কোরবানী করে নিজের জন্য ও লোকদের জন্য কাফ্ফারা দেবে।
25 আর সে গুনাহ্-কোরবানীর চর্বি কোরবানগাহের উপর পুড়িয়ে ফেলবে।
26 আর যে ব্যক্তি আজাজিলের জন্য নির্দিষ্ট ছাগলটি ছেড়ে দিয়েছিল, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে ও শরীর ধুয়ে নিয়ে শিবিরে ফিরে আসবে।
27 আর গুনাহ্-কোরবানীর ষাঁড় ও গুনাহ্-কোরবানীর ছাগল, যে সমস্ত পশুর রক্ত কাফ্ফারা করার জন্য পবিত্র স্থানে আনা হয়েছিল, লোকেরা সেই পশুগুলোকে শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাদের চামড়া, গোশ্ত ও গোবর আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
28 আর যে লোক তা পুড়িয়ে দেবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে ও নিজের শরীর পানিতে ধুয়ে নিয়ে তারপর শিবিরে আসবে।
29
তোমাদের জন্য তা চিরস্থায়ী নিয়ম হবে; সপ্তম মাসের দশম দিনে স্বদেশী কিংবা তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশী, তোমরা নিজ নিজ প্রাণকে কষ্ট দেবে ও কোন কাজ করবে না।
30 কেননা সেদিন তোমাদেরকে পাক-সাফ করার জন্য তোমাদের জন্য কাফ্ফারা করা যাবে; মাবুদের সম্মুখে তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ থেকে তোমরা পাক-পবিত্র হবে।
31 তা তোমাদের বিশ্রাম নেবার জন্য বিশ্রামবার এবং এই দিন তোমরা নিজ নিজ প্রাণকে কষ্ট দেবে; এটি চিরস্থায়ী নিয়ম।
32 পিতার স্থানে ইমামের কাজ করতে যাকে অভিষেক ও পবিত্রকরণ দ্বারা নিযুক্ত করা যাবে, সেই ইমাম কাফ্ফারা দেবে এবং মসীনার পোশাক অর্থাৎ পবিত্র সমস্ত পোশাক পরবে।
33 আর পবিত্র স্থানের জন্য কাফ্ফারা দেবে এবং জমায়েত-তাঁবুর ও কোরবানগাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে এবং ইমামদের ও সমাজের সমস্ত লোকের জন্য কাফ্ফারা দেবে।
34 বনি-ইসরাইলদের জন্য তাদের সমস্ত গুনাহের দরুন বছরের মধ্যে একবার কাফ্ফারা করা তোমাদের পক্ষে চিরস্থায়ী নিয়ম হবে।
তখন হারুন মূসার প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করলেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে এবং সমস্ত বনি-ইসরাইলকে বল, তাদেরকে বল মাবুদ এই হুকুম করেন,
3 ইসরাইল-কুলের যে কেউ শিবিরের মধ্যে কিংবা শিবিরের বাইরে গরু কিংবা ভেড়া কিংবা ছাগল জবেহ্ করে,
4 কিন্তু মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখে মাবুদের উদ্দেশে উপহার কোরবানী করতে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে তা না আনে, তার উপর রক্তপাতের গুনাহ্ বর্তাবে; সে রক্তপাত করেছে, সে ব্যক্তি নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
5 কেননা বনি-ইসরাইল তাদের যে যে কোরবানী করার পশু মাঠে নিয়ে গিয়ে কোরবানী করে, সেসব মাবুদের উদ্দেশ্যে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে ইমামের কাছে এনে মাবুদের উদ্দেশে মঙ্গল-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করতে হবে।
6 আর ইমাম জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে তাদের রক্ত ছিটিয়ে দেবে এবং চর্বি মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য পুড়িয়ে ফেলবে।
7 তাতে তারা ছাগল-দেবতাদের উদ্দেশে কোরবানী করে যে জেনা করে আসছে তা তারা আর করবে না। এই তাদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম হবে।
8
আর তুমি তাদেরকে বল, ইসরাইল কুলজাত কোন ব্যক্তি কিংবা তাদের মধ্যে প্রবাসকারী কোন বিদেশী লোক যদি পোড়ানো-কোরবানী কিংবা কোরবানী করে,
9 কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য তা জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে না আনে তবে সে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
10
আর ইসরাইল-কুলজাত কোন ব্যক্তি, কিংবা তাদের মধ্যে প্রবাসকারী কোন বিদেশী লোক যদি কোন রকম রক্ত পান করে তবে আমি সেই রক্ত পানকারীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব ও নিজের লোকদের মধ্য থেকে তাকে মুছে ফেলব।
11 কেননা রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে এবং তোমাদের প্রাণের জন্য কাফ্ফারা করার জন্য আমি তা কোরবানগাহ্র উপরে তোমাদেরকে দিয়েছি; কারণ প্রাণের গুণে রক্তই কাফ্ফারা সাধন করে থাকে।
12 এজন্য আমি বনি-ইসরাইলকে বললাম, তোমাদের মধ্যে কেউ রক্ত পান করবে না ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী কোন বিদেশীও রক্ত পান করবে না।
13
আর বনি-ইসরাইলদের মধ্যে কোন ব্যক্তি কিংবা তাদের মধ্যে প্রবাসকারী কোন বিদেশী লোক যদি শিকার করতে গিয়ে কোন খাওয়ার যোগ্য পশু কিংবা পাখি হত্যা করে তবে সে তার রক্ত ঢেলে দিয়ে ধুলাতে আচ্ছাদন করবে।
14
কেননা প্রত্যেক প্রাণীর রক্তই প্রাণ, তা-ই তার প্রাণস্বরূপ; এজন্য আমি বনি-ইসরাইলকে বললাম, তোমরা কোন প্রাণীর রক্ত পান করবে না, কেননা প্রত্যেক প্রাণীর রক্তই তার প্রাণ; যে কেউ তা পান করবে, সে উচ্ছিন্ন হবে।
15 আর স্বদেশী বা বিদেশীর মধ্যে যে কেউ স্বয়ংমৃত কিংবা বন্যজন্তু কর্তৃক বিদীর্ণ পশুর গোশত ভোজন করে, সে তার কাপড় ধুয়ে ফেলবে, পানিতে গোসল করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে; পরে পাক-সাফ হবে।
16 কিন্তু যদি কাপড় না ধোয় ও গোসল না করে তবে সে তার অপরাধ বহন করবে।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তাদের জানিয়ে দাও, আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
3 তোমরা যেখানে বাস করতে, সেই মিসর দেশের আচার অনুযায়ী আচরণ করো না এবং যে কেনান দেশে আমি তোমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছি, সেখানকার আচার অনুযায়ী আচরণ করো না ও তাদের বিধি অনুসারে চলো না।
4 তোমরা আমারই সমস্ত অনুশাসন মান্য করো, আমারই সমস্ত বিধি পালন করো এবং সেই পথে চলো; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
5 অতএব তোমরা আমার সমস্ত বিধি ও আমার সমস্ত অনুশাসন পালন করবে; যে কেউ এসব পালন করে, সে তার মধ্য দিয়েই বাঁচবে; আমি মাবুদ।
6
তোমরা কেউ কোন আত্মীয়ের সঙ্গে সহবাস করার জন্য তার কাছে যেও না; আমি মাবুদ।
7 তুমি তোমার পিতাকে অসম্মান করো না, অর্থাৎ তোমার মাতার ইজ্জত নষ্ট করো না; সে তোমার মা; তার সঙ্গে সহবাস করো না।
8 তোমার বিমাতার ইজ্জত নষ্ট করো না। তাতে তোমার পিতার অসম্মান হয়।
9 তোমার বোন, তোমার পিতৃকন্যা কিংবা তোমার মাতৃকন্যা, বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে কিংবা অন্যত্র জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের সঙ্গে সহবাস করো না।
10 তোমার পৌত্রির কিংবা দৌহিত্রীর সঙ্গে সহবাস করো না; কেননা তাতে তোমারই অসম্মান হয়।
11 তোমার সৎবোনের ইজ্জত নষ্ট করো না, সে তোমার পিতা থেকে জন্মেছে, সে তোমার বোন, তার সঙ্গে সহবাস করো না।
12 তোমার ফুফুর সঙ্গে সহবাস করো না, সে তোমার পিতার আত্মীয়।
13 তোমার খালার সঙ্গে সহবাস করো না, সে তোমার মায়ের আত্মীয়।
14 তোমার চাচার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করো না, তাতে তোমার চাচার অসম্মান হয়।
15 তোমার পুত্রবধূর সঙ্গে সহবাস করো না, সে তোমার পুত্রের স্ত্রী, তাতে তার অসম্মান হয়।
16 তোমার ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করো না, তাতে তোমার ভাইয়ের অসম্মান হয়।
17 কোন স্ত্রী ও তার কন্যার সঙ্গে সহবাস করো না এবং সহবাস করার জন্য তার পৌত্রীকে বা দৌহিত্রীকে নিও না; তারা পরস্পর আত্মীয়; এটি কুকর্ম।
18 আর স্ত্রীর সপত্নী হবার জন্য তার জীবনকালে সহবাস করার জন্য তার বোনকে বিয়ে করো না।
19
কোন স্ত্রীর মাসিকের নাপাকীতার সময়ে তার সঙ্গে সহবাস করতে তার কাছে যেও না।
20 আর তুমি তোমার স্বজাতির লোকদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করে নিজেকে নাপাক করো না।
21 আর তোমার বংশজাত কাউকেও মোলক দেবতার উদ্দেশে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করাবে না এবং তোমার আল্লাহ্র নাম নাপাক করো না; আমি মাবুদ।
22 স্ত্রীর মত পুরুষের সঙ্গে সহবাস করো না, তা ঘৃণার কর্ম।
23 আর তুমি কোন পশুর সঙ্গে শয়ন করে নিজেকে নাপাক করো না এবং কোন স্ত্রী কোন পশুর সঙ্গে শয়ন করতে তার সম্মুখে দাঁড়াবে না; এই সব সহবাস নিয়ম বিরুদ্ধ।
24
তোমরা এ সব দ্বারা নিজেদের নাপাক করো না; কেননা যে যে জাতিকে আমি তোমাদের সম্মুখ থেকে দূর করবো, তারা এ সব দ্বারা নাপাক হয়েছে এবং দেশও নাপাক হয়েছে;
25 অতএব আমি ওর অপরাধ ওকে ভোগ করাব এবং দেশ তার অধিবাসীদেরকে বমি করে ফেলে দেবে।
26 অতএব তোমরা আমার বিধি ও আমার সমস্ত অনুশাসন পালন করো; স্বদেশীয় কিংবা তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশী হোক, তোমরা ঐ সমস্ত ঘৃণার কাজের কোন কর্র্ম করো না।
27 কেননা তোমাদের আগে যারা ছিল, ঐ দেশের সেই লোকেরা এরকম ঘৃণার কাজ করাতে দেশ নাপাক হয়েছে—
28 সেই দেশ যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী ঐ জাতিকে বমি করে ফেলে দিলো, তেমনি যেন তোমাদের দ্বারা নাপাক হয়ে তোমাদেরকেও বমি করে ফেলে না দেয়।
29 কেননা যে কেউ এই ধরনের কোন ঘৃণার কাজ করে, সেই প্রাণী নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
30 অতএব তোমরা আমার হুকুম পালন করো; তোমাদের আগে যেসব ঘৃণার কাজ প্রচলিত ছিল, তোমরা তার কিছুই করো না এবং তা দিয়ে নিজেদের নাপাক করো না; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে বল, তোমরা পবিত্র হও, কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্ পবিত্র।
3
তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের মাতা-পিতাকে ভয় করো এবং আমার সমস্ত বিশ্রামবার পালন করো; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
4 তোমরা অবস্তু মূর্তিগুলোর অভিমুখী হয়ো না ও নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালা দেবতা তৈরি করো না; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
5
আর যখন তোমরা মাবুদের উদ্দেশে মঙ্গল-কোরবানী দাও, তখন গ্রাহ্য হবার জন্য কোরবানী দিও।
6 তোমাদের কোরবানীর দিনে ও তারপর দিনে তা ভোজন করতে হবে; তৃতীয় দিন পর্যন্ত যা অবশিষ্ট থাকে, তা আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে।
7 তৃতীয় দিনে যদি কেউ তার কিঞ্চিৎ ভোজন করে তবে তা ঘৃণার বস্তু; তা কবুল করা হবে না।
8 যে তা খায়, তাকে তার অপরাধ বহন করতে হবে, কেননা সে মাবুদের পবিত্র বস্তু নাপাক করেছে; সেই ব্যক্তি নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
9
আর তোমরা যখন নিজ নিজ ভূমির শস্য কাটো, তখন তুমি ক্ষেতের কিনারার শস্য কেটো না এবং তোমার ক্ষেতে পড়ে থাকা শস্য কুড়াবে না।
10 আর তুমি তোমার আঙ্গুর-ক্ষেতের পরিত্যক্ত আঙ্গুর ফল সংগ্রহ করো না এবং আঙ্গুর-ক্ষেতে পড়ে থাকা আঙ্গুর ফল কুড়াবে না; তুমি দুঃখী ও বিদেশীদের জন্য তা ফেলে রেখো; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
11
তোমরা চুরি করো না এবং নিজ নিজ স্বজাতির লোককে বঞ্চনা করো না ও মিথ্যা কথা বলো না।
12 আর আমার নাম নিয়ে মিথ্যা কসম খেয়ো না, করলে তোমার আল্লাহ্র নাম নাপাক করা হয়; আমি মাবুদ।
13
তুমি তোমার প্রতিবেশীর উপর জুলুম করো না এবং তার কোন জিনিস জোর করে নিয়ে যেও না। বেতনজীবীর বেতন সকাল পর্যন্ত সমস্ত রাত রেখো না।
14 তুমি বধিরকে বদদোয়া দিও না ও অন্ধের সম্মুখে বাধাজনক বস্তু রেখো না, কিন্তু তোমার আল্লাহ্কে ভয় করো; আমি মাবুদ।
15
তোমরা বিচারে অন্যায় করো না; তুমি দরিদ্রের মুখাপেক্ষা করো না ও ধনবানের সমাদর করো না; তুমি ধার্মিকতায় স্বজাতির লোকদের বিচার নিষ্পন্ন করো।
16
তুমি অপবাদকারী হয়ে তোমার লোকদের মধ্যে ইতস্তত ভ্রমণ করো না এবং তোমার প্রতিবেশীর রক্তপাতের জন্য উঠে দাঁড়াবে না; আমি মাবুদ।
17
তুমি হৃদয়মধ্যে তোমার ভাইকে ঘৃণা করো না; তুমি অবশ্য তোমার স্বজাতিকে অনুযোগ করবে, তাতে তার জন্য গুনাহ্ বহন করবে না।
18 তুমি তোমার জাতির সন্তানদের উপরে প্রতিশোধ নিও না কিংবা হিংসা করো না, বরং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে; আমি মাবুদ।
19
তোমরা আমার সমস্ত বিধি পালন করো। তুমি ভিন্ন ভিন্ন প্রকার পশুর সঙ্গে তোমার পশুদেরকে সংসর্গ করতে দিও না; তোমার এক ক্ষেতে দু’রকম বীজ বপন করো না এবং দুই জাতের মিশানো সুতা দিয়ে বোনা কাপড় পরো না।
20
আর মূল্য দ্বারা কিংবা অন্যভাবে মুক্ত হয় নি, এমন যে বাগদত্তা বাঁদী, তার সঙ্গে যদি কেউ সহবাস করে তবে সে দণ্ডনীয় হবে; তার প্রাণদণ্ড হবে না, কেননা সে মুক্তা নয়।
21 আর সেই পুরুষ জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে মাবুদের উদ্দেশে নিজের দোষ-কোরবানী অর্থাৎ দোষ-কোরবানীর জন্য ভেড়া আনবে;
22 আর ইমাম মাবুদের সম্মুখে সেই দোষ-কোরবানীর ভেড়া দ্বারা তার কৃত গুনাহ্র কাফ্ফারা দেবে; তাতে তার কৃত গুনাহ্ মাফ করা হবে।
23 আর তোমরা দেশে প্রবেশ করলে যখন ফল ভোজন করার জন্য সকল রকম গাছ রোপণ করবে, তখন তার ফল নিষিদ্ধ বলে গণ্য করবে; তিন বছর কাল তা তোমাদের জ্ঞানে নিষিদ্ধ থাকবে, তা ভোজন করো না।
24
পরে চতুর্থ বছরে তার সমস্ত ফল মাবুদের প্রশংসার জন্য উপহার হিসেবে পবিত্র হবে।
25 আর পঞ্চম বছরে তোমরা তার ফল ভোজন করবে; তাতে তোমাদের জন্য প্রচুর ফল উৎপন্ন হবে; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
26
তোমরা রক্ত সহকারে কোন বস্তু ভোজন করো না; যাদুকর কিংবা গণকের বিদ্যা ব্যবহার করো না।
27 তোমরা মাথার চারপাশের চুল মণ্ডলাকার করো না ও নিজ নিজ দাড়ির কোণ কামাবে না।
28 মৃত লোকের জন্য নিজ নিজ দেহে অস্ত্রাঘাত করো না ও শরীরে উল্কি অঙ্কন করো না; আমি মাবুদ।
29
তুমি তোমার কন্যাকে পতিতা হতে দিয়ে নাপাক করো না, পাছে দেশ জেনাকারী হয়ে পড়ে ও দেশ কুকার্যে পূর্ণ হয়।
30 তোমরা আমার সমস্ত বিশ্রামবার পালন করো এবং আমার পবিত্র স্থানের সমাদর করো; আমি মাবুদ।
31
তোমরা ওঝা ও গুনিনদের অভিমুখী হয়ো না, তাদের কাছে কোন কিছুর খোঁজ করো না, করলে তোমাদের নিজেদেরকে নাপাক করে ফেলবে; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
32
তুমি পক্ককেশ বয়ঃজৈষ্ঠ্যের সম্মুখে উঠে দাঁড়াবে, বৃদ্ধ লোককে সম্মান করবে ও তোমার আল্লাহ্র প্রতি ভয় রাখবে; আমি মাবুদ।
33
আর কোন বিদেশী লোক যদি তোমাদের দেশে তোমাদের সঙ্গে বাস করে, তোমরা তার প্রতি জুলুম করো না।
34 তোমাদের কাছে তোমাদের স্বদেশীয় লোক যেমন, তোমাদের সহপ্রবাসী বিদেশী লোকও তেমনি হবে; তুমি তাকে নিজের মত মহব্বত করো; কেননা মিসর দেশে তোমরাও বিদেশী ছিলে; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
35
তোমরা বিচার কিংবা পরিমাণ কিংবা বাটখারা কিংবা কাঠার বিষয়ে অন্যায় করো না।
36 তোমরা ন্যায্য দাঁড়িপাল্লা, ন্যায্য বাটখারা, ন্যায্য ঐফা ও ন্যায্য হিন রাখবে; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছেন।
37 আর তোমরা আমার সমস্ত বিধি ও আমার সমস্ত অনুশাসন মান্য করো, পালন করো; আমি মাবুদ।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে আরও বল, বনি-ইসরাইলদের কোন ব্যক্তি কিংবা ইসরাইলের মধ্যে প্রবাসকারী কোন বিদেশী লোক যদি তার বংশের কাউকেও মোলক দেবতার উদ্দেশে কোরবানী করে তবে অবশ্যই তার প্রাণদণ্ড হবে, দেশের লোকেরা তাকে পাথরের আঘাতে হত্যা করবে।
3
আর আমিও সেই ব্যক্তির প্রতি বিমুখ হয়ে নিজের লোকদের মধ্য থেকে তাকে মুছে ফেলব; কেননা মোলক দেবতার উদ্দেশে নিজের বংশজাতকে কোরবানী করাতে সে আমার পবিত্র স্থান ও আমার পবিত্র নাম নাপাক করে।
4 আর যে সময়ে সেই ব্যক্তি তার বংশের কাউকেও মোলক দেবতার উদ্দেশে কোরবানী করে, সেই সময় যদি দেশীয় লোকেরা দেখেও না দেখে, তাকে হত্যা না করে,
5 তবে আমি সেই ব্যক্তির প্রতি ও তার গোষ্ঠীর প্রতি বিমুখ হয়ে তাকে ও মোলক দেবতার সঙ্গে জেনা করার জন্য তার অনুগামী জেনাকারী সকলকে তাদের লোকদের মধ্য থেকে মুছে ফেলব।
6
আর যে কোন ব্যক্তি ওঝা কিংবা গুনিনদের পিছনে চলে জেনা করার জন্য তাদের অভিমুখ হয়, আমি সেই ব্যক্তির প্রতি বিমুখ হয়ে নিজের লোকদের মধ্য থেকে তাকে মুছে ফেলব।
7 তোমরা নিজেদের পবিত্র কর, পবিত্র হও; কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
8 আর তোমরা আমার বিধি মান্য করো, পালন করো; আমি মাবুদ তোমাদের পবিত্রকারী।
9
যে কেউ তার পিতাকে কিংবা মাতাকে বদদোয়া দেয়, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; পিতামাতাকে বদদোয়া দেওয়াতে তার রক্ত তারই উপরে বর্তাবে।
10
আর যে ব্যক্তি পরের স্ত্রীর সঙ্গে জেনা করে, যে ব্যক্তি প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জেনা করে, সেই জেনাকারী ও সেই জেনাকারীণী, উভয়ের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
11 আর যে ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন করে সে তার পিতার অবমাননা করে; তাদের দু’জনের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে, তাদের রক্ত তাদের উপরে বর্তাবে।
12 এবং যদি কেউ নিজের পুত্রবধূর সঙ্গে শয়ন করে তবে তাদের দু’জনের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; তারা বিপরীত কাজ করেছে; তাদের রক্ত তাদের উপরে বর্তাবে।
13 আর যেমন স্ত্রীর সঙ্গে তেমনি পুরুষ যদি পুরুষের সঙ্গে শয়ন করে তবে তারা দু’জনে ঘৃণার কাজ করে; তাদের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; তাদের রক্ত তাদের উপরে বর্তাবে।
14
আর যদি কেউ কোন স্ত্রীকে ও তার মাতাকে রাখে তবে তা কুকর্ম; তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে, তাকে ও তাদের দু’জনকেই পুড়িয়ে দিতে হবে; যেন তোমাদের মধ্যে কুকাজ না হয়।
15 আর যে কেউ কোন পশুর সঙ্গে শয়ন করে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; এবং তোমরা সেই পশুকেও হত্যা করবে।
16 আর কোন স্ত্রী যদি পশুর কাছে গিয়ে তার সঙ্গে শয়ন করে তবে তুমি সেই স্ত্রী ও সেই পশুকে হত্যা করবে; তাদের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে, তাদের রক্ত তাদের উপরে বর্তাবে।
17
আর যদি কেউ আপন বোনকে, পিতৃকন্যা কিংবা মাতৃকন্যাকে গ্রহণ করে ও উভয়ে উভয়ের আবরণীয় দেখে তবে তা লজ্জাস্কর বিষয়; তারা নিজের জাতির সন্তানদের সাক্ষাতে উচ্ছিন্ন হবে; আপন বোনের ইজ্জত নষ্ট করাতে সে তার অপরাধ বহন করবে।
18 আর যদি কেউ মাসিক হয়েছে এমন স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন করে ও তার আবরণীয় অনাবৃত করে তবে সেই পুরুষ তার রক্তের উৎস প্রকাশ করাতে ও সেই স্ত্রী নিজের রক্তের উৎস অনাবৃত করাতে তারা উভয়ে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
19 আর তুমি আপন খালার কিংবা ফুফুর ইজ্জত নষ্ট করো না; তা করলে তোমার নিকটবর্তী আত্মীয়ার অসম্মান করা হয়, তারা উভয়েই নিজ নিজ অপরাধ বহন করবে।
20 আর যদি কেউ তার চাচীর সঙ্গে শয়ন করে, তাতে তার চাচার অসম্মান করা হয়; তারা নিজ নিজ গুনাহ্ বহন করবে, নিঃসন্তান হয়ে মরবে।
21 আর যদি কেউ আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে গ্রহণ করে, তা নাপাক কাজ; আপন ভাইয়ের স্ত্রীর ইজ্জত নষ্ট করাতে তারা নিঃসন্তান থাকবে।
22
তোমরা আমার সমস্ত বিধি ও আমার সমস্ত অনুশাসন মান্য করো, পালন করো; যেন আমি তোমাদের বসবাসের জন্য তোমাদেরকে যে দেশে নিয়ে যাচ্ছি, সেই দেশ তোমাদেরকে বিতাড়িত না করে।
23 আর আমি তোমাদের সম্মুখ থেকে যে জাতিকে দূর করতে উদ্যত, তার আচার অনুযায়ী আচরণ করো না; কেননা তারা ঐ সমস্ত কাজ করতো, এজন্য আমি তাদেরকে ঘৃণা করলাম।
24 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলেছি, তোমরাই তাদের দেশ অধিকার করবে, আমি তোমাদের অধিকার হিসেবে সেই দুগ্ধমধু প্রবাহী দেশ দেব; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্; আমি অন্য সমস্ত জাতি থেকে তোমাদেরকে পৃথক করেছি।
25 অতএব তোমরা পাক নাপাক পশুর ও পাক নাপাক পাখির প্রভেদ করবে; আমি যে যে পশু, পাখি ও ভূচর কীটাদি জন্তুকে নাপাক বলে তোমাদের থেকে পৃথক করলাম, সেই সবের দ্বারা তোমরা তোমাদের প্রাণকে ঘৃণার বস্তু করো না।
26 আর তোমরা আমার উদ্দেশে পবিত্র হও, কেননা আমি মাবুদ পবিত্র এবং আমি তোমাদেরকে অন্য সব জাতি থেকে পৃথক করেছি, যেন তোমরা আমারই হও।
27
আর পুরুষের কিংবা স্ত্রীর মধ্যে যে কেউ ওঝা কিংবা গুনিন হয়, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; লোকে তাদেরকে পাথরের আঘাতে হত্যা করবে; তাদের রক্ত তাদের প্রতি বর্তাবে।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি হারুনের পুত্র ইমামদেরকে বল, আত্মীয়-স্বজনের মৃতের জন্য তারা কেউ নাপাক হবে না।
2 কেবল নিজেদের নিকটবর্তী গোত্র, অর্থাৎ তার মা, বা পিতা, বা পুত্র, বা কন্যা, বা ভাই মারা গেলে নিজেকে নাপাক করতে পারবে।
3 আর নিকটস্থ যে বোনের বিয়ে হয় নি, এমন বোন মারা গেলে সে নিজেকে নাপাক করতে পারবে।
4 নিজের লোকদের মধ্যে প্রধান বলে সে নিজেকে নাপাক করার জন্য নাপাক হবে না।
5 তারা নিজ নিজ মাথা মুণ্ডন করবে না, নিজ নিজ দাড়ির কোণও কামাবে না ও নিজ নিজ শরীরে অস্ত্রাঘাত করবে না।
6 তারা তাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে পবিত্র হবে ও তার আল্লাহ্র নাম নাপাক করবে না; কেননা তারা মাবুদের অগ্নিকৃত উপহার, তাদের আল্লাহ্র খাদ্য, কোরবানী করে; অতএব তারা পবিত্র হবে।
7 তারা পতিতা কিংবা ভ্রষ্টা স্ত্রীকে বিয়ে করবে না এবং স্বামীর পরিত্যক্তা স্ত্রীকেও বিয়ে করবে না, কেননা ইমাম তার আল্লাহ্র উদ্দেশে পবিত্র।
8 অতএব তুমি তাকে পবিত্র রাখবে; কারণ সে তোমার আল্লাহ্র খাদ্য কোরবানী করে; সে তোমার কাছে পবিত্র হবে; কেননা তোমাদের পবিত্রকারী মাবুদ আমি পবিত্র।
9 আর কোন ইমামের কন্যা যদি জেনা করে নিজেকে নাপাক করে তবে সে তার পিতাকে নাপাক করে; তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে।
10
আর নিজের ভাইদের মধ্যে প্রধান ইমাম, যার মাথায় অভিষেক তেল ঢালা হয়েছে, যে ব্যক্তি অভিষেক দ্বারা পবিত্র পোশাক পরার অধিকারী হয়েছে, সে নিজের মাথা মুণ্ডন করবে না ও তার পোশাক চিরবে না।
11 আর সে কোন লাশের কাছে যাবে না, তার পিতার বা তার মাতার জন্যও সে নিজেকে নাপাক করবে না,
12 এবং পবিত্র স্থান থেকে বাইরে যাবে না এবং তার আল্লাহ্র পবিত্র স্থান নাপাক করবে না, কেননা তার আল্লাহ্র অভিষেক তেলের সংস্কার তার উপরে আছে; আমি মাবুদ।
13 আর সে কেবল কুমারী মেয়েকে বিয়ে করবে।
14 বিধবা, বা স্বামী পরিত্যক্তা, বা ভ্রষ্টা স্ত্রী, বা পতিতা, এদের কাউকেও বিয়ে করবে না; সে তার নিজের লোকদের মধ্যে এক জন কুমারীকে বিয়ে করবে।
15 সে নিজের লোকদের মধ্যে নিজের বংশ নাপাক করবে না, কেননা আমি মাবুদ তার পবিত্রকারী।
16
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
17 তুমি হারুনকে বল, পুরুষানুক্রমে তোমার বংশের মধ্যে যার শরীরে খুঁত থাকে, সে তার আল্লাহ্র উদ্দেশে খাবার উৎসর্গ করতে কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী না হোক।
18 যে ব্যক্তির খুঁত আছে, সে কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হবে না; অন্ধ, বা খঞ্জ, বা খাঁদা, বা অস্বাভাবিক ভাবে লম্বা অঙ্গ,
19 বা ভাঙ্গা পা, বা ভাঙ্গা হাত,
20 বা কুঁজো, বা বামন, বা ছানিপড়া, বা শ্বেতিরোগী, বা স্ফোটক-বিশিষ্ট, বা অণ্ডকোষ নষ্ট;
21 কোন খুঁতবিশিষ্ট পুরুষ ইমাম হারুনের বংশের মধ্যে আছে, সে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করতে কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হবে না; তার খুঁত আছে, সে তার আল্লাহ্র উদ্দেশে খাবার উৎসর্গ করতে কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হবে না।
22 সে তার আল্লাহ্র খাদ্য, অতি পবিত্র বস্তু ও পবিত্র বস্তু ভোজন করতে পারবে;
23 কিন্তু পর্দার কাছে প্রবেশ করবে না ও কোরবানগাহ্র নিকটবর্তী হবে না, কেননা তার খুঁত আছে; সে আমার পবিত্র সমস্ত স্থান নাপাক করবে না, কেননা আমি মাবুদ সেই সবের পবিত্রকারী।
24 মূসা হারুনকে, তাঁর পুত্রদেরকে ও সমস্ত বনি-ইসরাইলকে এই কথা বললেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে বল, বনি-ইসরাইল আমার উদ্দেশে যা পবিত্র করে, তাদের সেই পবিত্র সমস্ত বস্তু থেকে যেন ওরা স্বতন্ত্র থাকে এবং যেন আমার পবিত্র নাম অপবিত্র না করে; আমি মাবুদ।
3 তুমি তাদেরকে বল, পুরুষানুক্রমে তোমাদের বংশের মধ্যে যে কেউ নাপাক হয়ে পবিত্র বস্তুর কাছে, অর্থাৎ বনি-ইসরাইল কর্তৃক মাবুদের উদ্দেশে পবিত্রীকৃত বস্তুর কাছে যাবে, সেই ব্যক্তি আমার সম্মুখ থেকে উচ্ছিন্ন হবে; আমি মাবুদ।
4 হারুন বংশের যদি কেউ কুষ্ঠী কিংবা প্রমেহী হয়, সে পাক-সাফ না হওয়া পর্যন্ত পবিত্র বস্তু ভোজন করবে না।
5 আর যে কেউ মৃত দেহ ঘটিত নাপাক বস্তু, কিংবা যার বীর্যপাত হয় তাকে স্পর্শ করে, কিংবা যে ব্যক্তি নাপাক কীটাদি জন্তুকে কিংবা কোন রকম নাপাকবিশিষ্ট মানুষকে স্পর্শ করে,
6 সেই স্পর্শকারী ব্যক্তি সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে এবং পানিতে তার শরীর ধুয়ে না নিলে পবিত্র বস্তু ভোজন করবে না।
7 সূর্য অস্তগত হলে সে পাক-সাফ হবে; পরে পবিত্র বস্তু ভোজন করবে, কেননা ওগুলোই তার খাবার।
8 ইমাম স্বয়ংমৃত কিংবা বিদীর্ণ পশুর গোশ্ত ভোজন করবে না; আমি মাবুদ।
9 অতএব তারা আমার হুকুম পালন করুক; পাছে তা নাপাক করলে তারা তার দরুন গুনাহ্ বহন করে ও মারা পড়ে; আমি মাবুদ তাদের পবিত্রকারী।
10
অন্য বংশীয় কোন লোক পবিত্র বস্তু ভোজন করবে না; ইমামের বাড়িতে বাসকারী অন্য কেউ কিংবা বেতনজীবী কেউ পবিত্র বস্তু ভোজন করবে না।
11 কিন্তু ইমাম নিজের টাকা দিয়ে যে কোন ব্যক্তিকে ক্রয় করে, সে তা ভোজন করবে এবং তার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছে এমন লোকেরাও তার অন্ন ভোজন করবে।
12 আর ইমামের কন্যা যদি অন্য বংশীয় লোকের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে পবিত্র বস্তুর উত্তোলনীয় উপহার ভোজন করবে না।
13 কিন্তু ইমামের কন্যা যদি বিধবা কিংবা পরিত্যক্তা হয়, আর তার সন্তান না থাকে এবং সে পুনর্বার এসে বাল্যকালের মত পিতার বাড়িতে বাস করে তবে সে পিতার অন্ন ভোজন করবে, কিন্তু অন্য বংশীয় কোন লোক তা ভোজন করবে না।
14 আর যদি কেউ ভুলবশত পবিত্র বস্তু ভোজন করে তবে সে সেরকম পবিত্র বস্তু ও তার সঙ্গে আরও পাঁচ ভাগের এক ভাগ ইমামকে দেবে।
15 আর বনি-ইসরাইল তাদের যে যে পবিত্র বস্তু মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করে, ইমামেরা তা নাপাক করবে না;
16 এবং তাদেরকে ওদের পবিত্র বস্তু ভোজন দ্বারা দোষ-কোরবানীর দায়ে ভারগ্রস্ত করবে না; কেননা আমি মাবুদ তাদের পবিত্রকারী।
17
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
18 তুমি হারুন, তার পুত্রদের ও সমস্ত বনি-ইসরাইলদেরকে বল, ইসরাইল জাতি কিংবা ইসরাইলের মধ্যে প্রবাসকারী যে কেউ তার উপহার কোরবানী করে, তাদের কোন মানতের কোরবানী হোক, বা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া কোরবানী হোক, যা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করে;
19 যেন তোমরা গ্রাহ্য হতে পার, তাই গরুর কিংবা ভেড়ার কিংবা ছাগলের মধ্য থেকে নিখুঁত পুরুষ পশু কোরবানী করবে।
20 তোমরা খুঁতযুক্ত কিছু কোরবানী করো না, কেননা তা তোমাদের পক্ষে কবুল করা হবে না।
21
আর কোন লোক যদি মানত পূর্ণ করার জন্য কিংবা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া কোরবানীর জন্য গোমেষাদি পাল থেকে মঙ্গল-কোরবানী করে তবে গ্রাহ্য হবার জন্য তা নিখুঁত হবে; তাতে কোন খুঁত থাকবে না।
22 অন্ধ, বা আঘাত পাওয়া, বা ক্ষতবিক্ষত, বা আবযুক্ত, বা শ্বেতিযুক্ত, বা স্ফোটকযুক্ত হলে তোমরা মাবুদের উদ্দেশে তা কোরবানী করো না এবং তার কিছুই মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে কোরবানগাহ্র উপরে স্থাপন করো না।
23 আর তুমি যে সব গরু কিংবা ভেড়ার শরীরের কোন অংশ অস্বাভাবিক ভাবে বড় কিংবা ছোট হলে তা স্বেচ্ছাদত্ত উপহার হিসেবে কোরবানী করতে পার, কিন্তু মানতের জন্য তা কবুল করা হবে না।
24 যদি কোন পশুর অণ্ডকোষ থেঁৎলে কিংবা পিষে কিংবা ছিঁড়ে কিংবা কেটে গিয়ে থাকে তবে সেগুলোকে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করো না; তোমাদের দেশে এরকম করো না।
25 আর বিদেশীর হাত থেকেও এই রকম পশু নিয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশে ভক্ষ্যরূপে কোরবানী করো না, কেননা তাদের শরীরে খুঁত আছে, সুতরাং তাদের মধ্যে খুঁত আছে বলে সেসব তোমাদের পক্ষে কবুল করা হবে না।
26
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
27 গরু, বা ভেড়া, বা ছাগল জন্মগ্রহণ করলে পর সাত দিন পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে থাকবে; পরে অষ্টম দিন থেকে তা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহারের জন্য কবুল করা হবে।
28 গাভী কিংবা ভেড়ী হোক, তাকে ও তার বাচ্চাকে একই দিনে জবেহ্ করো না।
29 আর যে সময়ে তোমরা মাবুদের উদ্দেশে শুকরিয়া-কোরবানী করবে, সেই সময় গ্রাহ্য হবার জন্যই তা কোরবানী করো।
30 সেই দিনেই তা ভোজন করতে হবে; তোমরা সকাল পর্যন্ত তার কিছু অবশিষ্ট রেখো না; আমি মাবুদ।
31
অতএব তোমরা আমার সমস্ত হুকুম মান্য করবে, পালন করবে; আমি মাবুদ।
32 আর তোমরা আমার পবিত্র নাম নাপাক করো না; কিন্তু আমি বনি-ইসরাইলদের মধ্যে পবিত্ররূপে মান্য হব; আমি মাবুদ তোমাদের পবিত্রকারী;
33 আমি তোমাদের আল্লাহ্ হবার জন্য মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছি; আমি মাবুদ।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তোমরা মাবুদের যেসব ঈদ পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল বলে ঘোষণা করবে, আমার সেসব ঈদ এই।
3
ছয় দিন কাজ করতে হবে, কিন্তু সপ্তম দিনে পূর্ণ বিশ্রামের বিশ্রামবার, পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে, তোমরা কোন কাজ করবে না; সেদিন তোমাদের সমস্ত নিবাসে মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রামবার।
4
তোমরা নির্ধারিত সময়ে যেসব পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল ঘোষণা করবে, মাবুদের সেসব ঈদ এই।
5 প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে সন্ধ্যাবেলা মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ হবে;
6 এবং সেই মাসের পঞ্চদশ দিনে মাবুদের উদ্দেশে খামিহীন রুটির উৎসব হবে। তোমরা সাত দিন খামিহীন রুটি ভোজন করবে;
7 প্রথম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
8 কিন্তু সাত দিন মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার নিবেদন করবে; সপ্তম দিনে পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
9
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
10 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, আমি তোমাদেরকে যে দেশ দেব, সেই দেশে প্রবেশ করে তোমরা যখন সেই দেশে উৎপন্ন শস্য কাটবে, তখন তোমাদের প্রথমে কাটা শস্যের একটি আঁটি ইমামের কাছে আনবে।
11 সে মাবুদের সম্মুখে ঐ আটি দোলাবে, যেন তোমাদের জন্য তা গ্রাহ্য হয়; বিশ্রামবারের পর দিন ইমাম তা দোলাবে।
12 আর যেদিন তোমরা ঐ আটি দোলাবে, সেই দিন মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এক বছরের নিখুঁত একটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে।
13 তার সাথে শস্য-উৎসর্গের (এক ঐফার) বিশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো মিহি সুজি দেবে; তা মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হবে এবং তার পেয় উপহার এক হিন আঙ্গুর-রসের চার ভাগের এক ভাগ হবে।
14 আর তোমরা যে পর্যন্ত তোমাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে এই উপহার না আন, সেদিন পর্যন্ত রুটি বা ভাজা শস্য বা তাজা শীষ ভোজন করবে না; তোমাদের সমস্ত নিবাসে এটি পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
15
আর সেই বিশ্রামবারের পরদিন থেকে, দোলনীয় নৈবেদ্যরূপ আটি আনবার দিন থেকে, তোমরা পূর্ণ সাতটি বিশ্রামবার গণনা করবে।
16 এভাবে সপ্তম বিশ্রামবারের পর-দিন পর্যন্ত তোমরা পঞ্চাশ দিন গণনা করে মাবুদের উদ্দেশে নতুন খাদ্যের উপহার নিবেদন করবে।
17 তোমরা নিজ নিজ নিবাস থেকে দোলনীয় উপহার হিসেবে (এক ঐফার) দুই দশমাংশের দু’খানি রুটি আনবে এবং মিহি সুজি দ্বারা তা প্রস্তুত করবে ও খামি মিশিয়ে পাক করবে; তা মাবুদের উদ্দেশে নিবেদিত প্রথম ফসল হবে।
18 আর তোমরা সেই রুটির সঙ্গে এক বছরের নিখুঁত সাতটি ভেড়ার বাচ্চা, একটি ষাঁড় ও দু’টি ভেড়া কোরবানী করবে; তা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী হবে এবং তৎসম্বন্ধীয় শস্য-উৎসর্গের ও পেয় উৎসর্গের সঙ্গে মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হবে।
19 পরে তোমরা গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগলের বাচ্চা ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য এক বছরের দু’টি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে।
20 আর ইমাম ঐ প্রথম ফসলের রুটির সঙ্গে ও দু’টি ভেড়ার বাচ্চার সঙ্গে মাবুদের উদ্দেশে দোলনীয় উপহার হিসেবে তাদেরকে দোলাবে; সেসব ইমামের জন্য মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে।
21 আর সেই দিনেই তোমরা একটা উৎসব ঘোষণা করবে এবং তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না; এটি তোমাদের সমস্ত নিবাসে পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
22
আর তোমাদের ভূমির শস্য কাটবার সময়ে তোমরা কেউ ক্ষেতের কিনারার শস্য কাটবে না ও শস্য কাটবার পরে পড়ে থাকা শস্য সংগ্রহ করবে না; তা দুঃখী ও বিদেশীর জন্য ত্যাগ করবে; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
23
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
24 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, সপ্তম মাসে, সেই মাসের প্রথম দিনে তোমাদের বিশ্রামবার এবং তূরীধ্বনিসহযুক্ত স্মরণ করার পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে।
25 তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না, কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে।
26
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
27 আবার ঐ সপ্তম মাসের দশম দিন কাফ্ফারা করার দিন; সেদিন তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে ও তোমরা নিজ নিজ প্রাণকে দুঃখ দেবে এবং মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে।
28 আর সেদিন তোমরা কোন কাজ করবে না; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তোমাদের জন্য কাফ্ফারা দিতে হবে বলে তা কাফ্ফারা দিন হবে।
29 সেদিন যে কেউ তার প্রাণকে দুঃখ না দেয়, সে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
30 আর সেদিন যে কোন ব্যক্তি কোন কাজ করে, তাকে আমি নিজের লোকদের মধ্য থেকে মুছে ফেলব।
31 তোমরা কোন কাজ করো না; এটি তোমাদের সমস্ত নিবাসে পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
32 সেদিন তোমাদের পূর্ণ বিশ্রামের বিশ্রামবার হবে, আর তোমরা নিজ নিজ প্রাণকে দুঃখ দেবে; মাসের নবম দিন সন্ধ্যাবেলা, এক সন্ধ্যা থেকে অপর সন্ধ্যা পর্যন্ত, তোমাদের বিশ্রামবার পালন করবে।
33
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
34 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, ঐ সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত মাবুদের উদ্দেশে কুটির উৎসব হবে।
35 প্রথম দিনে পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
36 সাতদিন তোমরা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে; পরে অষ্টম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; আর তোমরা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার কোরবানী করবে; এটি ঈদের মাহ্ফিল; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
37
এসব মাবুদের ঈদ। এসব ঈদ তোমরা পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল বলে ঘোষণা করবে এবং প্রতিদিন যেমন কর্তব্য, সেই অনুসারে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার, পোড়ানো-কোরবানী, শস্য-উৎসর্গ এবং কোরবানী ও পেয় উপহার কোরবানী করবে।
38 মাবুদের বিশ্রামবার থেকে, মাবুদের উদ্দেশে দাতব্য তোমাদের দান থেকে, তোমাদের সমস্ত মানত থেকে ও তোমাদের স্বেচ্ছাদত্ত সমস্ত উপহার থেকে এসব ভিন্ন।
39
আবার সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে ভূমির ফল সংগ্রহ করলে পর তোমরা সাত দিন মাবুদের উৎসব পালন করবে; প্রথম দিন বিশ্রামবার ও অষ্টম দিন বিশ্রামবার হবে।
40 আর প্রথম দিনে তোমরা শোভাদায়ক গাছের ফল, খেজুর পাতা, পাতা ভরা গাছের ডাল এবং নদীতীরস্থ বাইসী গাছ নিয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে সাত দিন আনন্দ করবে।
41 আর তোমরা বছরের মধ্যে সাত দিন মাবুদের উদ্দেশে সেই উৎসব পালন করবে; এটি তোমাদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম; সপ্তম মাসে তোমরা সেই উৎসব পালন করবে।
42 তোমরা সাত দিন কুটিরে বাস করো; ইসরাইল-বংশজাত সকলে কুটিরে বাস করবে।
43 এতে তোমাদের ভাবী বংশ জানতে পারবে যে, আমি বনি-ইসরাইলকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনে কুটিরে বাস করিয়েছিলাম; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
44
তখন মূসা বনি-ইসরাইলদের কাছে মাবুদের দেওয়া ঈদগুলোর কথা বললেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে এই হুকুম দাও; তারা আলোর জন্য তোমার কাছে বিশুদ্ধ ছেঁচা জলপাইয়ের-তেল আনবে, তা দ্বারা নিয়মিতভাবে প্রদীপ জ্বালানো থাকবে।
3 হারুন জমায়েত-তাঁবুর মধ্যে শরীয়ত-সিন্দুকের পর্দার বাইরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত মাবুদের সম্মুখে নিয়মিতভাবে তা সাজিয়ে রাখবে; এটি তোমাদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম।
4 সে খাঁটি সোনার প্রদীপ-আসনের উপরে মাবুদের সম্মুখে নিয়মিতভাবে ঐ প্রদীপগুলো সাজিয়ে রাখবে।
5
আর তুমি মিহি সুজি নিয়ে বারোখানি পিঠা প্রস্তুত করবে; তার প্রত্যেক পিঠা (এক ঐফার) বিশ ভাগের এক ভাগ হবে।
6 পরে তুমি একেক সারিতে ছয় ছয়খানি, এভাবে দুই সারি করে মাবুদের সম্মুখে পবিত্র টেবিলের উপরে তা রাখবে।
7 প্রত্যেক সারির উপরে বিশুদ্ধ কুন্দুরু দেবে; তা সেই রুটির স্মরণ চিহ্ন হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হবে।
8 ইমাম নিয়মিত-ভাবে প্রতি বিশ্রামবারে মাবুদের সম্মুখে তা সাজিয়ে রাখবে, তা বনি-ইসরাইলদের পক্ষে চিরস্থায়ী নিয়ম।
9 আর তা হারুন ও তার পুত্রদের হবে; তারা কোন পবিত্র স্থানে তা ভোজন করবে; কেননা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত কোরবানীর মধ্যে তা তার জন্য অতি পবিত্র; এটি চিরস্থায়ী নিয়ম।
10
আর এক পুত্র বের হয়ে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে গেল, যার মা ছিলেন ইসরাইলীয় এবং বাবা মিসরীয়, তাদের সেই পুত্রটি শিবিরের মধ্যে কোন এক ইসরাইলীয় পুরুষের সঙ্গে ঝগড়া করলো।
11 তখন সেই ইসরাইলীয় স্ত্রীর পুত্র মাবুদের নাম নিয়ে কুফরী করলো, তাতে লোকেরা তাকে মূসার কাছে নিয়ে গেল। তার মায়ের নাম শালোমীৎ, সে দান-বংশীয় দিব্রির কন্যা।
12 লোকেরা মাবুদের মুখে স্পষ্ট হুকুম পাবার অপেক্ষায় তাকে আটক করে রাখল।
13
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
14 যে লোকটি কুফরী করেছে তুমি তাকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাও; পরে যারা তার কথা শুনেছে, তারা সকলে তার মাথায় হস্তার্পণ করুক এবং সমস্ত মণ্ডলী পাথরের আঘাতে তাকে হত্যা করুক।
15 আর তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, যে কেউ তার আল্লাহ্র কুফরী করে, সে তার গুনাহ্ বহন করবে।
16 আর যে মাবুদের নামের কুফরী করে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে; সমস্ত মণ্ডলী তাকে পাথরের আঘাতে হত্যা করবে। বিদেশী লোক হোক বা স্বদেশী লোক হোক, যে সেই নামের কুফরী করবে তার প্রাণদণ্ড হবে।
17 আর যে কেউ কোন মানুষকে হত্যা করে তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে;
18 আর যে কেউ পশু খুন করে, সে তার শোধ দেবে; প্রাণের বদলে প্রাণ।
19 যদি কেউ স্বজাতির কারো দেহে আঘাত করে তবে সে যেমন করেছে, তার প্রতি তেমনি করা যাবে।
20 হাড় ভাঙ্গার বদলে হাড় ভাঙ্গা, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত; মানুষের যে যেমন ক্ষত করে, তার প্রতি তেমনি করা যাবে।
21 যে জন পশু খুন করে, সে তার শোধ দেবে; কিন্তু যে জন মানুষ হত্যা করে, তার প্রাণদণ্ড হবে।
22 তোমাদের স্বদেশী ও বিদেশী উভয়েরই জন্য এক রকম শাসন হবে; কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
23 পরে মূসা বনি-ইসরাইলকে এই কথা বললেন, তাতে তারা যে লোকটি কুফরী করেছিল তাকে শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথরের আঘাতে হত্যা করলো; মূসাকে মাবুদ যেমন হুকুম দিয়েছিলেন, বনি-ইসরাইল তা-ই করলো।
1
আর মাবুদ তুর পর্বতে মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, আমি তোমাদেরকে যে দেশ দেব, তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করলে পর দেখো, মাবুদের উদ্দেশে ভূমি যেন বিশ্রাম ভোগ করে।
3 ছয় বছর কাল তুমি তার ক্ষেতে বীজ বপন করবে, ছয় বছর কাল তার আঙ্গুরলতা ছেঁটে দেবে ও তার ফল সংগ্রহ করবে।
4 কিন্তু সপ্তম বছর ভূমি বিশ্রাম নেবে, তা মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রামকাল হবে; তুমি তোমার ক্ষেতে বীজ বপন করো না ও তোমার আঙ্গুরলতা ছেঁটো না;
5 তুমি তার ক্ষেতের নিজে থেকে উৎপন্ন শস্য কাটবে না ও আঝোড়া আঙ্গুরলতার ফল সংগ্রহ করবে না; তা ভূমির বিশ্রামের বছর হবে।
6 আর ভূমির বিশ্রাম তোমাদের খাদ্যের জন্য হবে; ভূমির সমস্ত দ্রব্যই তোমার, তোমার গোলাম ও বাঁদীর, তোমার বেতনজীবী ভৃত্য ও তোমার সহবাসী বিদেশীর,
7 এবং তোমার পশু ও তোমার দেশের বন্য পশুর খাদ্যের জন্য হবে।
8
আর তুমি তোমার জন্য সাত বিশ্রাম-বছর, সাত গুণ সাত বছর, গণনা করবে; তাতে তোমার গণনকৃত সেই সাত গুণ সাত বিশ্রাম-বছরে ঊনপঞ্চাশ বছর হবে।
9 তখন সপ্তম মাসের দশম দিনে তুমি জয়ধ্বনির তূরীবাদ্য করবে; কাফ্ফারা দিনে তোমাদের সমস্ত দেশে তূরী বাজাবে।
10 আর তোমরা পঞ্চাশতম বছরকে পবিত্র করবে এবং সমস্ত দেশে সেখানকার সমস্ত নিবাসীর কাছে মুক্তি ঘোষণা করবে; সেটি তোমাদের জন্য জুবিলী (তূরীধ্বনির মহোৎসব) হবে এবং তোমরা প্রত্যেক জন নিজ নিজ অধিকারে ফিরে যাবে ও প্রত্যেক জন তার নিজের গোষ্ঠীর কাছে ফিরে যাবে।
11 তোমাদের জন্য পঞ্চাশতম বছর জুবিলী হবে; তোমরা বীজ বুনবে না, নিজে থেকে উৎপন্ন শস্য কেটো না এবং আছাঁটা আঙ্গুরলতার ফল সংগ্রহ করো না।
12 কেননা এটাই জুবিলী, সেটি তোমাদের পক্ষে পবিত্র হবে; তোমরা ক্ষেতে উৎপন্ন শস্যাদি ভোজন করতে পারবে।
13
ঐ জুবিলী বছরে তোমরা প্রত্যেক জন নিজ নিজ অধিকারে ফিরে যাবে।
14 যদি তুমি স্বজাতির কাছে কোন কিছু বিক্রি কর, কিংবা তোমার স্বজাতির হাত থেকে ক্রয় কর তবে তোমরা পরস্পর অন্যায় করো না।
15 তুমি জুবিলীর পরে বছর-সংখ্যা অনুসারে স্বজাতির কাছ থেকে ক্রয় করবে এবং ফল উৎপন্নের বছর-সংখ্যা অনুসারে তোমার কাছে সে বিক্রি করবে।
16 তুমি বছরের সংখ্যা বেশি হলে তার মূল্য বাড়াবে ও বছরের সংখ্যা কম হলে তার মূল্য কমাবে; কেননা সে তোমার কাছে ফল উৎপন্নের কালের সংখ্যা অনুসারে বিক্রি করে।
17 তোমরা তোমাদের স্বজাতির প্রতি অন্যায় করো না, কিন্তু তোমার আল্লাহ্কে ভয় করো, কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
18
আর তোমরা আমার বিধি অনুসারে আচরণ করবে, আমার সমস্ত অনুশাসন মানবে ও তা পালন করবে; তাতে দেশে নির্ভয়ে বাস করবে।
19 আর ভূমি নিজের ফল উৎপন্ন করবে, তাতে তোমরা তৃপ্তি পর্যন্ত ভোজন করবে ও দেশে নির্ভয়ে বাস করবে।
20 আর যদি তোমরা বল, দেখ, আমরা সপ্তম বছরে কি খাব? কেননা, আমরা তো ক্ষেতে বপন করবো না ও উৎপন্ন ফল সংগ্রহ করবো না;
21 তবে আমি ষষ্ঠ বছরে তোমাদেরকে দোয়া করবো; তাতে তিন বছরের জন্য শস্য উৎপন্ন হবে।
22 পরে অষ্টম বছরে তোমরা বপন করবে ও নবম বছর পর্যন্ত পুরানো শস্য ভোজন করবে; যতদিন ফল না হয় ততদিন পুরানো শস্য ভোজন করবে।
23 আর ভূমি চিরকালের জন্য বিক্রি করা চলবে না, কেননা ভূমির স্বত্ব আমার; তোমরা আমার সম্মুখে এই দেশে বিদেশী ও প্রবাসী।
24 তোমরা তোমাদের অধিকৃত দেশের সর্বত্র বিক্রি করা ভূমি পুনরুদ্ধার করতে সুযোগ দিও।
25
তোমার ভাই যদি দরিদ্র হয়ে তার অধিকারের কিঞ্চিৎ বিক্রি করে তবে তার মুক্তিকর্তা নিকটস্থ জ্ঞাতি এসে তার ভাইয়ের বিক্রি করা ভূমি পুনরুদ্ধার করে নেবে।
26 যার মুক্তিকর্তা নেই, সে যদি ধনবান হয়ে নিজেই তা উদ্ধার করতে সমর্থ হয়,
27 তবে সে তার বিক্রয়ের বছর গণনা করে সেই অনুসারে অতিরিক্ত মূল্য ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেবে; এভাবে সে তার নিজের অধিকারে ফিরে যাবে।
28 কিন্তু যদি সে তা ফিরিয়ে নিতে অসমর্থ হয় তবে সেই বিক্রি করা অধিকার জুবিলী বছর পর্যন্ত ক্রেতার হাতে থাকবে; জুবিলী বছরে তা মুক্ত হবে এবং সে তার নিজের অধিকারে ফিরে যাবে।
29
আর যদি কেউ প্রাচীরবেষ্টিত নগরের মধ্যস্থিত বাসগৃহ বিক্রি করে তবে সে বিক্রি-বছরের শেষ পর্যন্ত তা মুক্ত করতে পারবে, পূর্ণ এক বছরের মধ্যে তা মুক্ত করার অধিকারী থাকবে।
30 কিন্তু যদি সমপূর্ণ এক বছর কালের মধ্যে তা মুক্ত না হয় তবে প্রাচীরবেষ্টিত নগরে স্থিত সেই বাড়ি বংশ পরম্পরায় ক্রয়কর্তার চিরস্থায়ী অধিকার হবে; তা জুবিলী বছরে মুক্ত হবে না।
31 কিন্তু প্রাচীরহীন গ্রামে অবস্থিত বাড়ি দেশের ভূমির মধ্যে গণ্য হবে; তা মুক্ত করা যেতে পারে এবং জুবিলী বছরে তা মুক্ত হবে।
32 কিন্তু লেবীয়দের সমস্ত নগর, তাদের অধিকৃত নগরের সমস্ত বাড়ি মুক্ত করার অধিকার লেবীয়দের সব সময়ই থাকবে।
33 যদি লেবীয়দের কেউ মুক্ত করে তবে সেই বিক্রি হওয়া বাড়ি এবং তার অধিকারস্থ নগর জুবিলী বছরে মুক্ত হবে; কেননা বনি-ইসরাইলদের মধ্যে লেবীয়দের নগরস্থ গৃহগুলো তাদের অধিকার।
34 আর তাদের নগরের চারণভূমি বিক্রি করা চলবে না; কেননা তা-ই তাদের চিরস্থায়ী অধিকার।
35
আর তোমার ভাই যদি দরিদ্র হয় ও তোমার কাছে শূন্য হাতে আসে তবে তুমি তার উপকার করবে; সে বিদেশী ও প্রবাসীর মত তোমার সঙ্গে জীবন ধারণ করবে।
36 তুমি তার কাছ থেকে সুদ কিংবা সুদের অগ্রিম নেবে না, কিন্তু তোমার আল্লাহ্কে ভয় করবে, তোমার ভাইকে তোমার সঙ্গে জীবন ধারণ করতে দেবে।
37 তুমি সুদের জন্য তাকে টাকা ও লাভের জন্য তাকে খাদ্য দেবে না।
38 আমি মাবুদ তোমাদের সেই আল্লাহ্, যিনি তোমাদেরকে কেনান দেশ দেবার জন্য ও তোমাদের আল্লাহ্ হবার জন্য তোমাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
39
আর তোমার ভাই যদি দরিদ্র হয়ে তোমার কাছে নিজেকে বিক্রি করে তবে তুমি তাকে গোলামের মত গোলামীর কাজ করাবে না।
40 সে বেতনজীবী ভৃত্যের মত কিংবা প্রবাসীর মত তোমার সঙ্গে থাকবে, জুবিলী বছর পর্যন্ত তোমার গোলামীর কাজ করবে।
41 পরে সে তার আপন সন্তানদের সঙ্গে তোমার কাছ থেকে মুক্ত হয়ে নিজের গোষ্ঠীর কাছে ফিরে যাবে ও তার পৈতৃক অধিকারে ফিরে যাবে।
42 কেননা তারা আমারই গোলাম, যাদেরকে আমি মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছি; তাদের গোলামের মত বিক্রি করা হবে না।
43 তুমি তার উপরে কঠিন কর্তৃত্ব করো না, কিন্তু তোমার আল্লাহ্কে ভয় করো।
44 তোমাদের চারদিকের জাতিগুলোর মধ্য থেকে তোমরা গোলাম ও বাঁদী রাখতে পারবে; তাদের হতেই তোমরা গোলাম ও বাঁদী ক্রয় করো।
45 আর তোমাদের মধ্যে প্রবাসী বিদেশীদের সন্তানদের থেকে এবং তোমাদের দেশে তাদের থেকে উৎপন্ন তাদের যে যে গোষ্ঠী তোমাদের সঙ্গে আছে, তাদের মধ্য থেকেও ক্রয় করো; তারা তোমাদের অধিকার হবে।
46 আর তোমরা নিজ নিজ ভাবী সন্তানদের অধিকারের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে তাদেরকে দিতে পার এবং নিত্য তোমাদের গোলামীর কাজ তাদেরকে দিয়ে করাতে পার; কিন্তু তোমাদের ভাই বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তোমরা কেউ কারো উপরে কঠিন কর্তৃত্ব করবে না।
47
আর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিদেশী কিংবা প্রবাসী ধনবান হয় এবং তার নিকটবর্তী তোমার ভাই দরিদ্র হয়ে যদি তোমার সহবর্তী প্রবাসী, বিদেশী কিংবা বিদেশী গোত্রস্থ কোন লোকের কাছে নিজেকে বিক্রি করে,
48 তবে সে বিক্রি হবার পরে মুক্ত হতে পারবে; তার জ্ঞাতির মধ্যে কেউ তাকে মুক্ত করতে পারবে;
49 তার চাচা কিংবা চাচার পুত্র তাকে মুক্ত করবে, কিংবা তার গোষ্ঠীভুক্ত নিকটবর্তী কোন জ্ঞাতি তাকে মুক্ত করবে; কিংবা যদি সে ধনবান হয়ে উঠে তবে সে নিজেকে মুক্ত করবে।
50 তাতে তার বিক্রি-বছর থেকে জুবিলী বছর পর্যন্ত ক্রেতার সঙ্গে হিসাব হলে বছরের সংখ্যা অনুসারে তার মূল্য হবে; ওর কাছে তার থাকবার সময় বেতনজীবীর দিনের মত হবে।
51 যদি অনেক বছর অবশিষ্ট থাকে তবে সেই অনুসারে সে ক্রয়-মূল্য থেকে নিজের মুক্তির মূল্য ফিরিয়ে দেবে।
52 যদি জুবিলী বছরের অল্প বছর অবশিষ্ট থাকে তবে সে তার সঙ্গে হিসাব করে সেই কয়েক বছর অনুসারে তার নিজের মুক্তির মূল্য ফিরিয়ে দেবে।
53 বার্ষিক বেতনভুক্ত ভৃত্যের মত সে তার সঙ্গে থাকবে; তোমার সাক্ষাতে সে তার উপরে কঠিন কর্তৃত্ব করবে না।
54 আর যদি সে ঐ সমস্ত বছরে মুক্ত না হয় তবে জুবিলী বছরে তার সন্তানদের সঙ্গে মুক্ত হয়ে যাবে।
55 কেননা বনি-ইসরাইল আমারই গোলাম; তারা আমার গোলাম, যাদেরকে আমি মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছি; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
1
তোমরা তোমাদের জন্য কোন দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করো না এবং খোদাই-করা মূর্তি কিংবা স্তম্ভ স্থাপন করো না ও তার কাছে সেজ্দা করার জন্য তোমাদের দেশে কোন খোদাই-করা পাথর রেখো না; কেননা আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
2 তোমরা আমার সমস্ত বিশ্রামবার পালন করো ও আমার পবিত্র স্থানের সমাদর করো; আমি মাবুদ।
3
যদি তোমরা আমার বিধিপথে চল, আমার হুকুমগুলো মান্য কর ও সেসব পালন কর,
4 তবে আমি সময়মত তোমাদেরকে বৃষ্টি দান করবো; তাতে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে ও ক্ষেতের গাছগুলো স্ব স্ব ফল দেবে।
5 তোমাদের শস্য মাড়াই করার সময় আঙ্গুর ফল সংগ্রহের সময় পর্যন্ত থাকবে ও আঙ্গুর ফল সংগ্রহের সময় বীজ বপনের সময় পর্যন্ত থাকবে; এবং তোমরা তৃপ্তি পর্যন্ত অন্ন ভোজন করবে ও নিরাপদে নিজের দেশে বাস করবে।
6 আর আমি দেশে শান্তি দেব; তোমরা শয়ন করলে কেউ তোমাদেরকে ভয় দেখাবে না এবং আমি তোমাদের দেশ থেকে হিংস্র জন্তুদেরকে দূর করে দেব; ও তোমাদের দেশে কোন যুদ্ধবিগ্রহ হবে না।
7 আর তোমরা তোমাদের দুশমনদেরকে তাড়িয়ে দেবে ও তারা তোমাদের সম্মুখে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
8 আর তোমাদের পাঁচ জন তাদের একশত জনকে তাড়িয়ে দেবে, তোমাদের একশত জন দশ হাজার লোককে তাড়িয়ে দেবে এবং তোমাদের দুশমনেরা তোমাদের সম্মুখে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
9 আর আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবো, তোমাদেরকে ফলবান ও বহুবংশ করবো ও তোমাদের সঙ্গে আমার নিয়ম স্থির করবো।
10 আর তোমরা সঞ্চিত পুরানো শস্য ভোজন করবে ও নতুনের সম্মুখ থেকে পুরানো শস্য বের করবে।
11 আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার শরীয়ত-তাঁবু রাখবো, আমার প্রাণ তোমাদেরকে ঘৃণা করবে না।
12 আর আমি তোমাদের মধ্যে গমনাগমন করবো ও তোমাদের আল্লাহ্ হব এবং তোমরা আমার লোক হবে।
13 আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্; আমি মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছি, তাদের গোলাম থাকতে দিই নি; আমি তোমাদের কাঁধের জোয়াল ভেঙে সোজা-ভাবে তোমাদেরকে গমন করিয়েছি।
14
কিন্তু যদি তোমরা আমার কথা না শোন, আমার এসব হুকুম পালন না কর,
15 যদি আমার বিধি অগ্রাহ্য কর ও তোমাদের প্রাণ আমার সমস্ত অনুশাসন ঘৃণা করে, এভাবে তোমরা আমার হুকুম পালন না করে আমার নিয়ম ভঙ্গ কর তবে আমিও তোমাদের প্রতি এই ব্যবহার করবো;
16 তোমাদের জন্য বিহ্বলতা, যক্ষ্মা ও কম্পজ্বর নিরূপণ করবো, যাতে তোমাদের চোখ ক্ষীণ হয়ে পড়বে ও প্রাণ ব্যথা পাবে এবং তোমাদের বীজ বপন বৃথা হবে, কেননা তোমাদের দুশমনেরা তা ভোজন করবে।
17 আর আমি তোমাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব; তাতে তোমরা তোমাদের দুশমনদের সম্মুখে আহত হবে; যারা তোমাদেরকে হিংসা করে, তারা তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করবে এবং কেউ তোমাদেরকে না তাড়ালেও তোমরা পালিয়ে যাবে।
18 আর যদি তোমরা এতেও আমার কথায় মনোযোগ না কর তবে আমি তোমাদের গুনাহ্র জন্য তোমাদেরকে সাত গুণ বেশি শাস্তি দেব।
19 আমি তোমাদের শক্তির গর্ব চূর্ণ করবো ও তোমাদের আসমান লোহার মত ও তোমাদের ভূমি ব্রোঞ্জের মত করবো।
20 তাতে তোমাদের শক্তি নিরর্থক নিঃশেষিত হবে, কেননা তোমাদের ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে না ও দেশস্থ গাছগুলো স্ব স্ব ফল দেবে না।
21
আর যদি তোমরা আমার বিরুদ্ধাচরণ কর ও আমার কথা শুনতে না চাও তবে আমি তোমাদের গুনাহ্ অনুসারে তোমাদেরকে আরও সাত গুণ আঘাত করবো।
22 আর তোমাদের মধ্যে বন্যপশু পাঠাব; তারা তোমাদের সন্তান হরণ করবে, তোমাদের পশুপাল বিনষ্ট করবে, তোমাদেরকে সংখ্যায় হ্রাস করবে; আর তোমাদের সমস্ত রাজপথ ধ্বংস হবে।
23
এতেও যদি আমার বাধ্য না হও, কিন্তু আমার বিরুদ্ধাচরণ কর,
24 তবে আমিও তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবো ও তোমাদের গুনাহ্র জন্য আমিই তোমাদেরকে সাতবার আঘাত করবো।
25 আমি নিয়ম লঙ্ঘনের প্রতিফল দেবার জন্য তোমাদের উপরে যুদ্ধ-বিগ্রহ আনবো, তোমরা নিজ নিজ নগরের মধ্যে একত্রীভূত হবে, আমি তোমাদের মধ্যে মহামারী পাঠাব এবং তোমাদেরকে শত্রুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
26 আমি তোমাদের অন্নরূপ যষ্ঠি ভাঙ্গলে দশ জন স্ত্রীলোক এক তন্দুরে তোমাদের রুটি পাক করবে ও তোমাদের রুটি ওজন করে তোমাদেরকে দেবে, কিন্তু তোমরা তা খেয়ে তৃপ্ত হবে না।
27
আর এ সমস্তেও যদি তোমরা আমার কথা না শোন, আমার বিরুদ্ধাচরণ কর,
28 তবে আমি ক্রোধে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবো এবং আমিই তোমাদের গুনাহ্র জন্য তোমাদেরকে সাতগুণ শাস্তি দেব।
29 আর তোমরা নিজ নিজ পুত্রদের মাংস ভোজন করবে ও নিজ নিজ কন্যাদের মাংস ভোজন করবে।
30 আর আমি তোমাদের সমস্ত উচ্চস্থলী ধ্বংস করে ফেলব, তোমাদের সমস্ত সূর্যমূর্তি নষ্ট করবো ও তোমাদের মূর্তিগুলোর উপরে তোমাদের লাশ ফেলে রাখব এবং আমার প্রাণ তোমাদেরকে ঘৃণা করবে।
31 আর আমি তোমাদের সমস্ত নগর উৎসন্ন করবো, তোমাদের সকল এবাদখানা ধ্বংস করবো ও তোমাদের সৌরভের খোশবু আমি কবুল করবো না।
32 আর আমি দেশ ধ্বংস করবো ও সেখানে বাসকারী তোমাদের দুশমনেরা তা দেখে বিস্মিত হবে।
33 আর আমি তোমাদেরকে নানা জাতির মধ্যে ছিন্নভিন্ন করবো ও তোমাদের পিছনে তলোয়ার উম্মুক্ত করবো, তাতে তোমাদের সমস্ত দেশ ধ্বংসস্থান ও তোমাদের সমস্ত নগর উৎসন্ন হবে।
34
তখন যত দিন দেশ ধ্বংসস্থান থাকবে ও তোমরা দুশমনদের দেশে বাস করবে, ততদিন ভূমি স্বীয় বিশ্রামকাল ভোগ করবে; সেই সময়ে ভূমি বিশ্রাম পাবে ও স্বীয় বিশ্রামকাল ভোগ করবে।
35 যতকাল দেশ ধ্বংসস্থান হয়ে থাকবে, ততকাল বিশ্রাম করবে; কেননা যখন তোমরা দেশে বাস করতে, তখন দেশ তোমাদের বিশ্রামকালে বিশ্রাম ভোগ করতো না।
36 আর তোমাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট থাকবে, আমি শত্রুদেশে তাদের অন্তরে বিষণ্নতা প্রেরণ করবো এবং বাতাসে পাতা নড়বার আওয়াজ তাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে; লোকে যেমন তলোয়ারের মুখ থেকে পলায়, তারা তেমনি পালাবে এবং কেউ না তাড়ালেও মারা পড়বে।
37 কেউ না তাড়ালেও তারা যেমন তলোয়ারের সম্মুখে, তেমনি এক জন অন্য জনের উপরে পড়বে এবং দুশমনদের সম্মুখে দাঁড়াতে তোমাদের ক্ষমতা হবে না।
38 আর তোমরা নানা জাতির মধ্যে বিনষ্ট হবে ও তোমাদের দুশমনদের দেশ তোমাদেরকে গ্রাস করবে।
39 আর তোমাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট থাকবে, তারা নিজ নিজ অপরাধে শত্রুদেশে ক্ষয় পাবে এবং তাদের পূর্বপুরুষদেরও অপরাধে তাদের সঙ্গে ক্ষয় পাবে।
40
আর তাদেরকে স্বীকার করতে হবে যে, আমার বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন এবং আমার বিরুদ্ধাচরণ করাতে তাদের অপরাধ ও তাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধ হয়েছে,
41 এবং আমিও তাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছি, আর তাদেরকে শত্রুদেশে এনেছি। তখন যদি তাদের খৎনা-না-করানো অন্তর নম্র হয় ও তারা নিজ নিজ অপরাধের দণ্ড গ্রাহ্য করে,
42 তবে আমি ইয়াকুবের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম স্মরণ করবো এবং ইস্হাকের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম ও ইব্রাহিমের সঙ্গে কৃত আমার নিয়মও স্মরণ করবো, আর দেশকেও স্মরণ করবো।
43 দেশও তাদের কর্তৃক পরিত্যক্ত থাকবে ও তাদের অবর্তমানে ধ্বংসস্থান হয়ে তার বিশ্রাম ভোগ করবে এবং তারা তাদের অপরাধের দণ্ড ভোগ করবে; কারণ এই যে, তারা আমার অনুশাসন অগ্রাহ্য করতো ও তাদের প্রাণ আমার বিধি ঘৃণা করতো।
44 তবুও যখন তারা দুশমনদের দেশে থাকবে, তখন আমি নিঃশেষে বিনাশের জন্য কিংবা তাদের সঙ্গে আমার নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য তাদেরকে অগ্রাহ্য করবো না এবং ঘৃণাও করবো না; কেননা আমি মাবুদ তাদের আল্লাহ্।
45 আর আমি তাদের আল্লাহ্ হবার জন্য যাদেরকে জাতিদের সাক্ষাতে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছি, তাদের সেই পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম তাদের জন্য স্মরণ করবো; আমি মাবুদ।
46
তুর পর্বতে মাবুদ মূসার মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের ও বনি-ইসরাইলদের মধ্যে এসব বিধি, অনুশাসন ও ব্যবস্থা স্থির করলেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, যদি কেউ মাবুদের উদ্দেশ্যে বিশেষ মানত করে তবে তোমার নির্ধারিত মূল্য অনুসারে তা মাবুদের হবে।
3 তোমার নির্ধারিত মূল্য এরকম; বিশ বছর বয়স থেকে ষাট বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষ হলে তোমার নির্ধারিত মূল্য পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে পঞ্চাশ শেকল রূপা।
4 কিন্তু যদি স্ত্রীলোক হয় তবে তোমার নির্ধারিত মূল্য ত্রিশ শেকল হবে।
5 যদি পাঁচ বছর বয়স থেকে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত হয় তবে তোমার নির্ধারিত মূল্য পুরুষের পক্ষে বিশ শেকল ও স্ত্রীর পক্ষে দশ শেকল হবে।
6 যদি এক মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত হয় তবে তোমার নির্ধারিত মূল্য পুরুষের পক্ষে পাঁচ শেকল রূপা ও তোমার নির্ধারিত মূল্য স্ত্রীর পক্ষে তিন শেকল রূপা হবে।
7 যদি ষাট বছর কিংবা তার বেশি বয়স হয় তবে তোমার নির্ধারিত মূল্য পুরুষের পক্ষে পনের শেকল ও স্ত্রীর পক্ষে দশ শেকল হবে।
8 কিন্তু যদি দরিদ্র হবার কারণে তোমার নির্ধারিত মূল্য দিতে সে অক্ষম হয় তবে তাকে ইমামের কাছে আনা হবে এবং ইমাম তার মূল্য নির্ধারণ করবে; মানতকারী ব্যক্তির সংস্থান অনুসারে ইমাম তার মূল্য নির্ধারণ করবে।
9
আর যদি কেউ মাবুদের কাছে কোরবানীর জন্য পশু দান করে তবে মাবুদের উদ্দেশে দেওয়া সমস্ত পশু পবিত্র বস্তু হবে।
10 সে তার অন্যথা বা পরিবর্তন করবে না, মন্দের পরিবর্তে ভাল, কিংবা ভালর পরিবর্তে মন্দ দেবে না; যদি সে কোন ভাবে পশুর সঙ্গে পশুর পরিবর্তন করে তবে তা এবং তার বিনিময় উভয়ই পবিত্র হবে।
11 আর যা মাবুদের উদ্দেশে উপহার হিসেবে কোরবানী করা যায় না, এমন কোন নাপাক পশু যদি কেউ দান করে তবে সে ঐ পশুকে ইমামের সম্মুখে উপস্থিত করবে।
12 ঐ পশু ভাল কিংবা মন্দ হোক, ইমাম তার মূল্য নির্ধারণ করবে; তোমার অর্থাৎ ইমামের নির্ধারণ অনুসারেই মূল্য হবে।
13 কিন্তু যদি সে কোন ভাবে তা মুক্ত করতে চায় তবে সে তোমার নির্ধারিত মূল্যের পঞ্চমাংশ বেশি দেবে।
14
আর যদি কোন ব্যক্তি মাবুদের উদ্দেশে নিজের বাড়ি পবিত্র করে তবে তা ভাল কিংবা মন্দ হোক, ইমাম তার মূল্য নির্ধারণ করবে; ইমাম তার যে মূল্য নির্ধারণ করবে, তা-ই স্থির হবে।
15 আর যে তা পবিত্র করেছে, সে যদি তার বাড়িটি মুক্ত করতে চায় তবে সে তোমার নির্ধারিত মূল্যের পঞ্চমাংশ বেশি দেবে; তা করলে বাড়িটি তার হবে।
16
আর যদি কেউ তার অধিকৃত ক্ষেতের কোন অংশ মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করে তবে তার বপনীয় বীজ অনুসারে তার মূল্য তোমাকে ধার্য করতে হবে; আর তা হবে একেক হোমর পরিমিত যবের বীজের প্রতি পঞ্চাশ পঞ্চাশ শেকল করে রূপা।
17 যদি সে জুবিলী বছর থেকে নিজের ক্ষেত পবিত্র করে তবে তোমার নির্ধারিত সেই মূল্য অনুসারে তা স্থির হবে।
18 কিন্তু যদি সে জুবিলীর পরে নিজের ক্ষেত পবিত্র করে তবে ইমাম আগামী জুবিলী পর্যন্ত অবশিষ্ট বছরের সংখ্যা অনুসারে তার দেয় রূপা গণনা করবে এবং সেই অনুসারে তোমার নির্ধারিত মূল্য হ্রাস করা যাবে।
19 আর যে তা পবিত্র করেছে, সে যদি কোন ভাবে নিজের ক্ষেত মুক্ত করতে চায় তবে সে তোমার নির্ধারিত রূপার পঞ্চমাংশ বেশি দিলে তা তারই হবে।
20 কিন্তু যদি সে সেই ক্ষেত মুক্ত না করে, কিংবা যদি অন্য কারো কাছে সেই ক্ষেত বিক্রি করে তবে তা আর কখনও মুক্ত হবে না;
21 সেই ক্ষেত জুবিলী বছরে সেই ক্রেতার হাত থেকে চলে গিয়ে মাবুদের কাছে শর্তহীনভাবে উৎসর্গকৃত ভূমির মত মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে এবং তাতে ইমামেরই অধিকার হবে।
22 আর যদি কেউ নিজের পৈতৃক ক্ষেত ছাড়া নিজের ক্রয় করা ক্ষেত মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করে,
23 তবে ইমাম তোমার নির্ধারিত মূল্য অনুসারে জুবিলী বছর পর্যন্ত তার দেয় রূপা গণনা করবে, আর সেই দিনে সে তোমার নির্ধারিত মূল্য দেবে; তা মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র।
24 জুবিলী বছরে সেই ক্ষেত বিক্রেতার হাতে, অর্থাৎ সেই ভূমি যার পৈতৃক অধিকার তার নিজের হাতে ফিরে আসবে।
25 আর তোমার নির্ধারিত সমস্ত মূল্য পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে হবে; বিশ গেরাতে এক শেকল হয়।
26
কেবল প্রথমজাত পশুর সমস্ত বাচ্চা মাবুদের উদ্দেশে প্রথমজাত হওয়াতে কেউই তা পবিত্র করতে পারবে না; গরু হোক কিংবা ভেড়া হোক তা মাবুদের।
27 যদি সেই পশু নাপাক হয় তবে সে তোমার নির্ধারিত মূল্যের পঞ্চমাংশ বেশি দিয়ে তা মুক্ত করতে পারে, মুক্ত না হলে তা তোমার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা যাবে।
28
আর কোন ব্যক্তি তার সর্বস্ব থেকে মানুষ বা পশু বা অধিকৃত ক্ষেত থেকে, যা কিছু মাবুদের উদ্দেশে শর্তহীনভাবে উৎসর্গ করে, তা বিক্রি করা কিংবা মুক্ত হবে না; মাবুদের কাছে শর্তহীন উৎসর্গকৃত বস্তু মাবুদের উদ্দেশে অতি পবিত্র।
29 মানুষের মধ্যে যে কেউ মাবুদের কাছে শর্তহীনভাবে উৎসর্গকৃত, তাকে মুক্ত করা যাবে না; তাকে হত্যা করতে হবে।
30
আর ভূমির শস্য কিংবা গাছের ফল হোক, ভূমির উৎপন্ন সমস্ত দ্রব্যের দশ ভাগের এক ভাগ মাবুদের; তা মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র।
31 আর যদি কেউ নিজের দশ ভাগের এক ভাগ থেকে কিঞ্চিৎ মুক্ত করতে চায় তবে সে তার পঞ্চমাংশ বেশি দেবে।
32 আর পশু পালের দশ ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ রাখালের পাঁচনি দিয়ে গণনা করা প্রত্যেক দশম পশু মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে।
33 তা ভাল বা মন্দ, এর অনুসন্ধান সে করবে না ও তার পরিবর্তন করবে না; কিন্তু যদি সে কোন ভাবে তার পরিবর্তন করে তবে তা ও তার বিনিময় উভয়ই পবিত্র হবে; তা মুক্ত করা যাবে না।
34
মাবুদ তুর পর্বতে বনি-ইসরাইলদের জন্য মূসাকে এসব হুকুম করলেন।
1
মিসর দেশ থেকে বনি-ইসরাইলরা বের হয়ে আসার পর দ্বিতীয় বছরের দ্বিতীয় মাসের প্রথম দিনে মাবুদ সিনাই মরুভূমিতে জমায়েত-তাঁবুতে মূসাকে বললেন,
2 তোমরা লোকদের গোষ্ঠী অনুসারে, পিতৃকুল, নাম ও সংখ্যা অনুসারে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর প্রত্যেক পুরুষের সংখ্যা গণনা কর।
3 ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যত পুরুষ গমনযোগ্য, তুমি ও হারুন তাদেরকে সৈন্য অনুসারে গণনা কর।
4 আর প্রত্যেক বংশ থেকে একেক জন, নিজ নিজ পিতৃ-কুলের প্রধান ব্যক্তি, তোমাদের সহকারী হবে।
5 আর যে ব্যক্তিরা তোমাদের সহকারী হবে তাদের নাম এই— রূবেণের পক্ষে শদেয়ূরের পুত্র ইলীষূর।
6 শিমিয়োনের পক্ষে সূরীশদ্দয়ের পুত্র শলূমীয়েল।
7 এহুদার পক্ষে অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন।
8 ইষাখরের পক্ষে সূয়ারের পুত্র নথনেল।
9 সবূলূনের পক্ষে হেলোনের পুত্র ইলীয়াব।
10 ইউসুফের পুত্রদের মধ্যে আফরাহীমের পক্ষে অম্মীহূদের পুত্র ইলীশামা, মানশার পক্ষে পদাহসূরের পুত্র গমলীয়েল।
11 বিন্-ইয়ামীনের পক্ষে গিদিয়োনির পুত্র অবীদান।
12 দানের পক্ষে অম্মীশদ্দয়ের পুত্র অহীয়েষর।
13 আশেরের পক্ষে অক্রণের পুত্র পগীয়েল।
14 গাদের পক্ষে দ্যূয়েলের পুত্র ইলীয়াসফ।
15 নপ্তালীর পক্ষে ঐননের পুত্র অহীরঃ।
16 এরা মণ্ডলীর বেছে নেওয়া লোক, নিজ নিজ পিতৃবংশের নেতা এবং বনি-ইসরাইলদের বিভিন্ন বংশের প্রধান।
17
তখন মূসা ও হারুন উল্লিখিত নামের ব্যক্তিদেরকে সঙ্গে নিলেন।
18 আর দ্বিতীয় মাসের প্রথম দিনে সমস্ত মণ্ডলীকে একত্র করে বংশ ও পরিবার অনুযায়ী বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোকদের নাম ও সংখ্যা অনুসারে তাদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল লিখলেন।
19 এভাবে মূসা মাবুদের হুকুম অনুসারে সিনাই মরুভূমিতে তাদেরকে গণনা করলেন।
20
ইসরাইলের প্রথমজাত রূবেণের সন্তানদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
21 রূবেণ-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল ছেচল্লিশ হাজার পাঁচ শত।
22
শিমিয়োন-সন্তানদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের ও নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
23 শিমিয়োন-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা ঊনষাট হাজার তিন শত।
24
গাদ-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
25 গাদ-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল পঁয়তাল্লিশ হাজার ছয় শত পঞ্চাশ।
26
এহুদা-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
27 শিমিয়োন-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল চুয়াত্তর হাজার ছয় শত।
28
ইষাখর-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমন যোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
29 ইষাখর-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল চুয়ান্ন হাজার চার শত।
30
সবূলূন-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
31 সবূলূন-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল সাতান্ন হাজার চার শত।
32
ইউসুফ-সন্তানদের মধ্যে আফরাহীম-সন্তানদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
33 আফরাহীম-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল চল্লিশ হাজার পাঁচ শত।
34
মানাশা-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
35 মানশা-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল বত্রিশ হাজার দুই শত।
36
বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
37 বিন্ইয়ামীন-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল পঁয়ত্রিশ হাজার চার শত।
38
দান-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
39 দান-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল বাষট্টি হাজার সাত শত।
40
আশের-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
41 আশের-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল একচল্লিশ হাজার পাঁচ শত।
42
নপ্তালি-বংশের লোকদের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষের নাম ও সংখ্যা লেখা হল।
43 নপ্তালি-বংশের গণনা-করা লোকের সংখ্যা হল তিপ্পান্ন হাজার চার শত।
44
এসব লোককে মূসা ও হারুন এবং ইসরাইলের বারো জন নেতা অর্থাৎ নিজ নিজ পিতৃকুলের একেক জন নেতা গণনা করলেন।
45 নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে বনি-ইসরাইল, অর্থাৎ বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত পুরুষ লোকদের গণনা করা হল।
46 তাদের গণনা-করা লোকদের সংখ্যা হল ছয় লক্ষ তিন হাজার পাঁচ শত পঞ্চাশ।
47
কিন্তু লেবীয়দের তাদের পিতৃ-বংশানুসারে তাদের মধ্যে গণনা করা হল না।
48 কেননা মাবুদ মূসাকে বলেছিলেন,
49 তুমি কেবল লেবি বংশের গণনা করো না এবং বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তাদের সংখ্যা গ্রহণ করো না।
50 কিন্তু শরীয়ত-তাঁবু ও তার সমস্ত দ্রব্য ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ের তত্ত্বাবধান করার জন্য লেবীয়দেরকে নিযুক্ত করো; তারা শরীয়ত-তাঁবু ও তার সমস্ত দ্রব্য বহন করবে এবং তারা তৎসংক্রান্ত পরিচর্যা করবে ও শরীয়ত-তাঁবুর চারদিকে শিবির স্থাপন করে থাকবে।
51 আর শরীয়ত-তাঁবু তুলবার সময়ে লেবীয়েরা তা খুলবে এবং শরীয়ত-তাঁবু স্থাপনের সময়ে লেবীয়েরা তা স্থাপন করবে; অন্য গোষ্ঠীর লোক তার কাছে গেলে তার প্রাণদণ্ড হবে।
52 আর বনি-ইসরাইল নিজ নিজ সৈন্য অনুসারে নিজ নিজ শিবিরে নিজ নিজ নিশানের কাছে শিবির স্থাপন করবে।
53 কিন্তু বনি-ইসরাইলদের মণ্ডলীর প্রতি যেন গজব নেমে না আসে, সেজন্য সাক্ষ্যের শরীয়ত-তাঁবুর চারদিকে লেবীয়েরা শিবির স্থাপন করবে এবং লেবীয়েরা সাক্ষ্যের শরীয়ত-তাঁবুর প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করবে।
54
বনি-ইসরাইলরা তা-ই করলো; মাবুদ মূসাকে যা যা হুকুম করেছিলেন সেই অনুসারে তারা সমস্ত কিছুই করলো।
1
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 বনি-ইসরাইল প্রত্যেকে নিজ নিজ পিতৃকুলের চিহ্নের সঙ্গে নিশানের কাছে শিবির স্থাপন করবে; তারা জমায়েত-তাঁবুর অভিমুখে চারদিকে শিবির স্থাপন করবে।
3
পূর্ব পাশে সূর্যোদয়ের দিকে এহুদার সৈন্য অনুসারে তাদের শিবিরের নিশান সম্বন্ধীয় লোকেরা শিবির স্থাপন করবে এবং অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন এহুদা-বংশের লোকদের নেতা হবে।
4 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক চুয়াত্তর হাজার ছয় শত জন।
5 তার পাশে ইষাখর-বংশ শিবির স্থাপন করবে এবং সূয়ারের পুত্র নথনেল ইষাখর-বংশের লোকদের নেতা হবে।
6 তার সৈন্য, তার গণনা-করা লোক চুয়ান্ন হাজার চার শত জন।
7 আর সবূলূন-বংশ সেখানে থাকবে; হেলোনের পুত্র ইলীয়াব সবূলূন-বংশের লোকদের নেতা হবে।
8 তার সৈন্য, তার গণনা-করা লোক সাতান্ন হাজার চার শত জন।
9 এহুদার শিবিরের গণনা-করা লোকেরা নিজ নিজ সৈন্য অনুসারে মোট এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার চার শত জন। তারা সর্বপ্রথমে অগ্রসর হবে।
10
দক্ষিণ পাশে রূবেণের সৈন্য অনুসারে তাদের শিবিরের নিশান থাকবে এবং শদেয়ূরের পুত্র ইলীষূর রূবেণ-বংশের লোকদের নেতা হবে।
11 তার সৈন্য, তার গণনা-করা লোক ছেচল্লিশ হাজার পাঁচ শত জন।
12 তার পাশে শিমিয়োন-বংশ শিবির স্থাপন করবে এবং সূরীশদ্দয়ের পুত্র শল্লুমীয়েল শিমিয়োনের সন্তানদের নেতা হবে।
13 তার সৈন্য, তার গণনা-করা লোক ঊনষাট হাজার তিন শত জন।
14 গাদ-বংশও সেখানে থাকবে এবং দ্যূয়েলের পুত্র ইলীয়াসফ গাদ-বংশের লোকদের নেতা হবে।
15 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক পঁয়তাল্লিশ হাজার ছয় শত পঞ্চাশ জন।
16 রূবেণের শিবিরের গণনা-করা লোকেরা নিজ নিজ সৈন্য অনুসারে মোট এক লক্ষ একান্ন হাজার চার শত পঞ্চাশ জন। তারা দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হবে।
17
পরে জমায়েত-তাঁবু লেবীয়দের শিবিরের সঙ্গে সমস্ত শিবিরের মধ্যবর্তী হয়ে অগ্রসর হবে; যারা যেমনিভাবে শিবির স্থাপন করবে, তারা তেমনি নিজ নিজ শ্রেণীতে নিজ নিজ নিশানের পাশে পাশে থেকে চলবে।
18
পশ্চিম পাশে আফরাহীমের সৈন্য অনুসারে তাদের শিবিরের নিশান থাকবে এবং অম্মীহূদের পুত্র ইলীশামা আফরাহীম-বংশের লোকদের নেতা হবে।
19 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক চল্লিশ হাজার পাঁচ শত জন।
20 তাদের পাশে মানশা-বংশ থাকবে এবং পদাহসূরের পুত্র গমলীয়েল মানাশা-বংশের লোকদের নেতা হবে।
21 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক বত্রিশ হাজার দুই শত জন।
22 আর বিন্ইয়ামীন-বংশ সেখানে থাকবে এবং গিদিয়োনির পুত্র অবীদান বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের নেতা হবে।
23 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক পঁয়ত্রিশ হাজার চার শত জন।
24 আফরাহীমের শিবিরের গণনা-করা লোকেরা নিজ নিজ সৈন্য অনুসারে মোট এক লক্ষ আট হাজার এক শত জন। তারা তৃতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হবে।
25
উত্তর পাশে দানের সৈন্য অনুসারে তাদের শিবিরের নিশান থাকবে এবং অম্মীশদ্দয়ের পুত্র অহীয়েষর দান-বংশের লোকদের নেতা হবে।
26
তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক বাষট্টি হাজার সাত শত জন।
27 তাদের পাশে আশের-বংশ শিবির স্থাপন করবে এবং অক্রণের পুত্র পগীয়েল আশের-বংশের লোকদের নেতা হবে।
28 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক একচল্লিশ হাজার পাঁচ শত জন।
29 নপ্তালি-বংশও সেখানে থাকবে এবং ঐননের পুত্র অহীরঃ নপ্তালি-বংশের লোকদের নেতা হবে।
30 তার সৈন্য, তাদের গণনা-করা লোক তিপ্পান্ন হাজার চার শত জন।
31 দানের শিবিরের গণনা-করা লোকেরা মোট এক লক্ষ সাতান্ন হাজার ছয় শত জন। তারা নিজ নিজ নিশান নিয়ে সবশেষে অগ্রসর হবে।
32
এরা বনি-ইসরাইলদের পিতৃকুল অনুসারে গণনা-করা লোক; সৈন্য অনুসারে শিবিরের গণনা-করা লোক মোট ছয় লক্ষ তিন হাজার সাড়ে পাঁচ শত।
33 কিন্তু লেবীয়দের বনি-ইসরাইলদের মধ্যে গণনা করা হল না, যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম করেছিলেন।
34 বনি-ইসরাইল মূসার কাছে দেওয়া মাবুদের সমস্ত হুকুম অনুসারে কাজ করতো, নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে নিজ নিজ নিশানের কাছে শিবির স্থাপন করতো ও যাত্রা করতো।
1
তুর পর্বতে যেদিন মাবুদ মূসার সঙ্গে কথা বললেন, সেদিন হারুন ও মূসার যে বংশ-তালিকা তা এরকম:
2 হারুনের পুত্রদের নাম এই— তাঁর প্রথম সন্তান ছিলেন নাদব, পরে অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈথামর।
3 হারুনের এই পুত্রেরা অভিষিক্ত ইমাম এবং পবিত্রকরণ দ্বারা ইমামের কাজে নিযুক্ত হল।
4 কিন্তু নাদব ও অবীহূ সিনাই মরুভূমিতে মাবুদের উদ্দেশে নাপাক আগুন উৎসর্গ করাতে মাবুদের সম্মুখে ইন্তেকাল করেছিল। তাদের সন্তান ছিল না; আর ইলিয়াসর ও ঈথামর তাদের পিতা হারুনের সাক্ষাতে ইমামের কাজ করতো।
5
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
6 তুমি লেবি-বংশকে এনে ইমাম হারুনের সম্মুখে উপস্থিত কর; তারা তার পরিচর্যা করবে;
7 আর শরীয়ত-তাঁবুর সেবাকর্ম করার জন্য জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে তার ও সমস্ত মণ্ডলীর প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করবে।
8 আর শরীয়ত-তাঁবুর সেবাকর্ম করার জন্য জমায়েত-তাঁবুর সমস্ত দ্রব্য ও বনি-ইসরাইলদের প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করবে।
9 আর তুমি লেবীয়দেরকে হারুন ও তার পুত্রদের হাতে দেবে; বনি-ইসরাইলদের পক্ষে তাদেরকে সমপূর্ণভাবে দেওয়া হয়েছে।
10 আর তুমি হারুন ও তার পুত্রদের নিযুক্ত করবে এবং তারা তাদের ইমাম-পদ রক্ষা করবে। অন্য গোষ্ঠীভুক্ত যে কেউ এই কাজ করতে যাবে তার প্রাণদণ্ড হবে।
11
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
12 দেখ, বনি-ইসরাইলদের মধ্যে গর্ভ উন্মোচক সমস্ত প্রথমজাতের পরিবর্তে আমি বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে লেবীয়দেরকে গ্রহণ করলাম; অতএব লেবীয়েরা আমারই হবে।
13 কেননা প্রথমজাত সকলে আমার; যেদিন আমি মিসর দেশে সমস্ত প্রথমজাতকে আঘাত করি সেদিন মানুষ থেকে পশু পর্যন্ত ইসরাইলের সমস্ত প্রথমজাতকে আমার উদ্দেশে পবিত্র করেছি; তারা আমারই হবে; আমি মাবুদ।
14
আর সিনাই মরুভূমিতে মাবুদ মূসাকে বললেন,
15 তুমি লেবীয়দেরকে তাদের পিতৃকুল অনুসারে ও গোষ্ঠী অনুসারে গণনা কর; এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক সমস্ত পুরুষকেই গণনা কর।
16 তখন মূসা যেমন হুকুম পেলেন, তেমনি মাবুদের হুকুম অনুসারে তাদেরকে গণনা করলেন।
17 লেবির সন্তানদের নাম গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
18 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে গের্শোনের সন্তানদের নাম লিব্নি ও শিমিয়ি।
19 আর নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে কহাতীয়দের নাম অম্রাম, যিষ্হর, হেবরন ও উষীয়েল।
20 এবং নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে মরারির সন্তানদের নাম মহলি ও মূশি। এরা সকলে নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে লেবীয়দের গোষ্ঠী।
21
গের্শোন থেকে লিব্নি-গোষ্ঠী ও শিমিয়ি-গোষ্ঠী ও উৎপন্ন হল; এরা গের্শোনীয়দের গোষ্ঠী।
22 এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক সমস্ত পুরুষকে গণনা করলে এদের গণনা-করা লোক সংখ্যায় সাত হাজার পাঁচ শত জন হল।
23 গের্শোনীয়দের গোষ্ঠীগুলো পশ্চিম দিকে শরীয়ত-তাঁবুর পশ্চাদ্ভাগে শিবির স্থাপন করতো।
24 লায়েলের পুত্র ইলীয়াসফ গের্শোনীয়দের পিতৃকুলের নেতা ছিলেন।
25 জমায়েত-তাঁবুর এ সব গের্শোনের সন্তানদের দায়িত্বের মধ্যে রইল— শরীয়ত-তাঁবু, তাঁবু, তাঁবুর আবরণ,
26 জমায়েত-তাঁবুর দ্বারের পর্দা, প্রাঙ্গণের পর্দা, শরীয়ত-তাঁবুর ও কোরবানগাহের চারদিকের প্রাঙ্গণ-দ্বারের পর্দা এবং সমস্ত সেবাকাজের জন্য দড়ি।
27
কহাৎ থেকে অম্রামীয় গোষ্ঠী, যিষ্হরীয় গোষ্ঠী, হেবরনীয় গোষ্ঠী ও উষীয়েলীয় গোষ্ঠী উৎপন্ন হল; এরা কহাতীয়দের গোষ্ঠী।
28 এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক সমস্ত পুরুষের সংখ্যা অনুসারে এরা আট হাজার ছয় শত জন, এরা পবিত্র স্থানের রক্ষক।
29 কহাতীয়দের সমস্ত গোষ্ঠী দক্ষিণ দিকে শরীয়ত-তাঁবুর পাশে সন্নিবেশিত হত।
30 আর উষীয়েলের পুত্র ইলীষাফণ কহাতীয় গোষ্ঠীগুলোর পিতৃকুলের নেতা ছিলেন।
31 আর এসব তাদের দায়িত্বের মধ্যে রইল— সিন্দুক, টেবিল, প্রদীপ-আসন, দু’টি কোরবানগাহ্, পবিত্র স্থানের পরিচর্যার সমস্ত পাত্র, পর্দা ও তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত সেবাকর্ম।
32 ইমাম হারুনের পুত্র ইলিয়াসর লেবীয়দের নেতৃবর্গের নেতা হয়ে পবিত্র স্থানের প্রতি কর্তব্য পালনকারীদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
33
মরারি থেকে মহলীয় গোষ্ঠী ও মূশীয় গোষ্ঠী উৎপন্ন হল; এরা মরারীয়দের গোষ্ঠী।
34 এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়সের সমস্ত পুরুষ গণনা করলে তাদের সংখ্যা হল ছয় হাজার দুই শত।
35 আর অবীহয়িলের পুত্র সূরীয়েল মরারি-গোষ্ঠীগুলোর পিতৃ-কুলের নেতা ছিলেন; তারা শরীয়ত-তাঁবুর উত্তর দিকে সমবেত হত।
36 আর মরারীয়রা শরীয়ত-তাঁবুর তক্তা, অর্গল, স্তম্ভ, চুঙ্গি ও তার সমস্ত দ্রব্য এবং তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত সেবাকর্ম,
37 আর প্রাঙ্গণের চারপাশের স্তম্ভগুলো ও তাদের চুঙ্গি, গোঁজ ও দড়ি এগুলো রক্ষা করবার কাজে নিযুক্ত হল।
38
আর জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে পূর্ব পাশে, সূর্যোদয়ের দিকে, মূসা, হারুন ও তাঁর পুত্রদের শিবির স্থাপন করতে বলা হয়েছিল; তাঁরা বনি-ইসরাইলদের জন্য পবিত্রস্থানে যে পরিচর্যা হত তার দায়িত্ব পালন করতেন; কিন্তু অন্য গোষ্ঠীভুক্ত যে কোন ব্যক্তি তার কাছে গেলে, তাকে হত্যা করা হত।
39
মূসা ও হারুন মাবুদের হুকুম অনুসারে লেবীয়দেরকে নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে গণনা করলে তাদের গণনা-করা এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক পুরুষ মোট বাইশ হাজার জন হল।
40
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি বনি-ইসরাইলদের মধ্যে এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক প্রথমজাত সমস্ত পুরুষকে গণনা কর ও তাদের নামের সংখ্যা গ্রহণ কর।
41 আমি মাবুদ, আমারই অধিকারার্থে তুমি বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাতের পরিবর্তে লেবীয়দেরকে এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাত পশুর পরিবর্তে লেবীয়দের পশুধন গ্রহণ কর;
42 তাতে মূসা মাবুদের হুকুম অনুসারে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাতকে গণনা করলেন;
43 তাদের মধ্যে এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক সমস্ত প্রথমজাত পুরুষের নাম তালিকাভুক্ত করা হল যাদের সংখ্যা বাইশ হাজার দুই শত তেয়াত্তর জন।
44
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
45 তুমি বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাতের পরিবর্তে লেবীয়দের ও তাদের পশুধনের পরিবর্তে লেবীয়দের পশুধন গ্রহণ কর; লেবীয়েরা আমারই হবে;
46 আমি মাবুদ; আর বনি-ইসরাইলদের প্রথমজাতদের মধ্যে লেবীয়দের সংখ্যার অতিরিক্ত যে দুই শত তিয়াত্তরজন মুক্তিযোগ্য লোক,
47 তাদের একেক জনের জন্য পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে পাঁচ পাঁচ শেকল নেবে; বিশ গেরাতে এক শেকল হয়।
48 আর তাদের সংখ্যার অতিরিক্ত সেই মুক্তিযোগ্য লোকদের মূল্য তুমি হারুন ও তার পুত্রদের দেবে।
49 তাতে লেবীয়দের দ্বারা মুক্ত লোক ছাড়া যারা অবশিষ্ট থাকলো, তাদের মুক্তির মূল্য মূসা নিলেন।
50 তিনি বনি-ইসরাইলদের প্রথমজাত লোক থেকে পবিত্র স্থানের শেকলের পরিমাণে এক হাজার তিন শত পঁয়ষট্টি (শেকল) রূপা নিলেন,
51 মাবুদের কালাম অনুসারে মূসা সেই মুক্ত লোকদের রূপা নিয়ে হারুন ও তার পুত্রদেরকে দিলেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম দিয়েছিলেন।
1
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 তোমরা লেবির সন্তানদের মধ্যে নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে কহাতীয়দেরকে,
3 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যত লোক জমায়েত-তাঁবুতে কর্মচারীদের শ্রেণীভুক্ত হয়, তাদেরকে গণনা কর।
4
জমায়েত-তাঁবুতে কহাতীয়দের সেবাকর্ম মহা-পবিত্র স্থান (সংক্রান্ত)।
5
যখন শিবিরের লোকেরা অগ্রসর হবে, তখন হারুন ও তার পুত্ররা ভেতরে যাবে এবং ব্যবধানের পর্দা নামিয়ে তা দ্বারা শরীয়ত-সিন্দুক ঢাকবে,
6 তার উপরে শুশুকের চামড়ার আচ্ছাদন দেবে ও তার উপরে সমপূর্ণ নীল রংয়ের এক কাপড় পাতবে এবং তার বহন-দণ্ড পরাবে।
7 আর দর্শন রুটির টেবিলের উপরে এক নীল রংয়ের কাপড় পাতবে ও তার উপরে থালা, চামচ, সেঁকপাত্র ও পেয় উৎসর্গের সমস্ত জগ রাখবে এবং প্রতিদিন তার উপরে রুটি থাকবে।
8 সেই সবের উপরে তারা একটি লাল রংয়ের কাপড় পাতবে এবং শুশুকের চামড়ার আচ্ছাদন দিয়ে তা ঢাকবে এবং তার বহন দণ্ড পরাবে।
9 আর একটি নীল রংয়ের কাপড় নিয়ে প্রদীপ-আসন ও তার সমস্ত দীপ, চিমটা এবং গুল্তরাশ ও সেসব কিছুর পরিচর্যার সমস্ত তৈলপাত্র আচ্ছাদন করবে।
10 আর তা ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত পাত্র শুশুকের চামড়ার একটি আচ্ছাদনে রেখে দণ্ডের উপরে রাখবে।
11 পরে তারা সোনার ধূপগাহ্র উপরে নীল রংয়ের কাপড় পেতে তার উপরে শুশুকের চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং তার বহন-দণ্ড পরাবে।
12 আর তারা পবিত্র স্থানের পরিচর্যার সমস্ত পাত্র নিয়ে নীল রংয়ের কাপড়ের মধ্যে রাখবে এবং শুশুকের চামড়া দিয়ে তা ঢেকে দণ্ডের উপরে রাখবে।
13 আর কোরবানগাহ্ থেকে ভস্ম ফেলে তার উপরে বেগুনী রংয়ের কাপড় পাতবে।
14 আর তার উপরে তার পরিচর্যার সমস্ত পাত্র, অঙ্গারদানী, ত্রিশূল, হাতা ও বাটি, কোরবানগাহ্র সমস্ত পাত্র রাখবে; আর তারা তার উপরে শুশুকের চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং তার বহন-দণ্ড পরাবে।
15 এভাবে শিবিরের অগ্রসর হবার সময়ে হারুন ও তার পুত্ররা পবিত্র স্থান ও পবিত্র স্থানের সমস্ত পাত্রের আচ্ছাদন সমাপ্ত করার পর কহাতীয়রা তা বহন করতে আসবে; কিন্তু তারা পবিত্র বস্তু স্পর্শ করবে না, পাছে তাদের মৃত্যু হয়। এসব জমায়েত-তাঁবুতে কহাতীয়দের বহনীয় হবে।
16
আর প্রদীপের জন্য তেল ও ধূপের জন্য সুগন্ধি দ্রব্য, প্রতিদিনের শস্য-উৎসর্গ ও অভিষেকের তেলের তত্ত্বাবধান, সমস্ত শরীয়ত-তাঁবু এবং যা কিছু তার মধ্যে আছে, পবিত্র স্থান ও তার দ্রব্যগুলোর তত্ত্বাবধান করা হারুনের পুত্র ইমাম ইলিয়াসরের কাজ হবে।
17
আর মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
18 তোমরা লেবীয়দের মধ্য থেকে কহাতীয় গোষ্ঠীগুলোর বংশকে উচ্ছেদ করো না।
19 কিন্তু যখন তারা অতি পবিত্র বস্তুর কাছে যায়, তখন তারা যেন বেঁচে থাকে, মারা না পড়ে, সেজন্য তোমরা তাদের প্রতি এরকম করো; হারুন ও তার পুত্ররা ভিতরে গিয়ে ওদের প্রত্যেকজনকে নিজ নিজ সেবাকর্মে ও ভার বহনে নিযুক্ত করবে।
20 কিন্তু ওরা এক নিমিষের জন্যও পবিত্র বস্তু দেখতে ভিতরে যাবে না, গেলে মারা পড়বে।
21
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
22 তুমি গের্শোনীয়দের পিতৃকুল ও গোষ্ঠী অনুসারে তাদের সংখ্যা গ্রহণ কর।
23 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম করার জন্য শ্রেণীভুক্ত হয়, তাদের গণনা কর।
24 সেবাকর্ম ও ভার বহনের মধ্যে গের্শোনীয় গোষ্ঠীগুলোর সেবাকর্ম এরকম:
25 তারা শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত পর্দা এবং জমায়েত-তাঁবু, তাঁবুর আবরণ, তার উপরিস্থ শুশুকের চামড়ার ছাদ,
26 জমায়েত-তাঁবুর দ্বারের আচ্ছাদনের কাপড়; প্রাঙ্গণের সমস্ত পর্দা এবং শরীয়ত-তাঁবুর ও কোরবানগাহ্র চারপাশের প্রাঙ্গণের দ্বারের আচ্ছাদনের কাপড়; তার দড়ি ও সেবাকর্মের সমস্ত দ্রব্য বহন করবে; আর এই সম্পর্কে আরও যা কিছু করার প্রয়োজন হয় তাও করবে।
27 হারুনের ও তার পুত্রদের হুকুম অনুসারে গের্শোনীয়রা নিজ নিজ ভার বহন ও সেবাকর্ম সম্পর্কিত সমস্ত কাজ করবে; তোমরা তাদের সমস্ত ভার বহনে তাদের নিযুক্ত করবে।
28 জমায়েত-তাঁবুতে এ-ই গের্শোনীয়দের গোষ্ঠীগুলোর সেবাকর্ম এবং তাদের কর্তব্য-কাজ ইমাম হারুনের পুত্র ঈথামরের হাতে থাকবে।
29
আর তুমি মরারিয়দের গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে তাদেরকে গণনা কর।
30 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম করার জন্য শ্রেণীভুক্ত হয়, তাদেরকে গণনা কর।
31 আর জমায়েত-তাঁবুতে তাদের সমস্ত সেবাকর্ম সম্পর্কিত এই ভার তাদের বহন করতে হবে; শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত তক্তা, সেই সবের অর্গল, স্তম্ভ ও চুঙ্গি এবং
32 প্রাঙ্গণের চারপাশের সমস্ত স্তম্ভ, সেই সবের চুঙ্গি, গোঁজ, দড়ি ও তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত দ্রব্য ও কাজ। তোমরা নামে নামে তাদের বহনীয় ভারের সমস্ত দ্রব্য গণনা করবে।
33 জমায়েত-তাঁবুতে এই মরারি সন্তানদের গোষ্ঠীগুলোর সমস্ত সেবাকর্ম সম্পর্কিত কাজ; এটি ইমাম হারুনের পুত্র ঈথামরের হাতে থাকবে।
34
পরে মূসা, হারুন ও মণ্ডলীর নেতৃবর্গ, কহাতীয় সন্তানদের গোষ্ঠী
35 ও পিতৃকুল অনুসারে তাদের মধ্যে ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম করার জন্য শ্রেণীভুক্ত হল, তাদেরকে গণনা করলেন,
36 আর তাদের গোষ্ঠী অনুসারে গণনা-করা লোক হল দুই হাজার সাত শত পঞ্চাশ জন।
37 এরা কহাতীয় গোষ্ঠীগুলোর গণনা-করা এবং জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্মে নিযুক্ত লোক; মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া মাবুদের হুকুম অনুসারে মূসা ও হারুন এদেরকে গণনা করলেন।
38
গের্শোনীয়দের নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে গণনা করা হল।
39 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম করার জন্য শ্রেণীভুক্ত হল,
40 তাদের নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে গণনা করা হলে দুই হাজার ছয় শত ত্রিশ জন হল।
41 এরা গের্শোনীয়দের গোষ্ঠীগুলোর গণনা-করা এবং জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্মে নিযুক্ত লোক; মূসা ও হারুন মাবুদের হুকুম অনুসারে এদেরকে গণনা করলেন।
42
মরারিয়দের নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃ-কুল অনুসারে গণনা করা হল।
43 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্মের জন্য শ্রেণীভুক্ত হল,
44 তাদের নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে গণনা করা হলে তিন হাজার দুই শত জন হল।
45 এরা মরারিয়দের গোষ্ঠীগুলোর গণনা-করা লোক; মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া মাবুদের হুকুম অনুসারে মূসা ও হারুন এদেরকে গণনা করলেন।
46
এভাবে মূসা, হারুন ও ইসরাইলের নেতৃবর্গরা লেবীয়দের নিজ নিজ গোষ্ঠী ও পিতৃকুল অনুসারে গণনা করলেন।
47 ত্রিশ বছর বয়স্ক থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক পর্যন্ত যারা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম ও ভার বহনের কাজ করতে প্রবেশ করতো,
48 তাদের গণনা করলে পর তারা সংখ্যায় আট হাজার পাঁচ শত আশী জন হল।
49 মাবুদের হুকুম অনুসারেই মূসা তাদের প্রত্যেক জনকে নিজ নিজ সেবাকর্ম ও ভার বহন অনুসারে গণনা করলেন; এভাবে মূসার কাছে দেওয়া মাবুদের হুকুম অনুসারেই তিনি তাদের গণনা করলেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে হুকুম কর, যেন তারা প্রত্যেক কুষ্ঠীকে, প্রত্যেক প্রমেহীকে ও মৃত লাশ স্পর্শ করার ফলে যারা নাপাক তাদের প্রত্যেকজনকে শিবির থেকে বের করে দেয়।
3 তোমরা পুরুষ ও স্ত্রীলোককে বের কর, তাদেরকে শিবির থেকে বের কর। তাদের যে শিবিরের মধ্যে আমি বাস করি, তারা যেন তা নাপাক না করে।
4 তখন বনি-ইসরাইল সেরকম কাজ করলো, তাদেরকে শিবির থেকে বের করে দিল; মাবুদ মূসাকে যেমন বলেছিলেন, বনি-ইসরাইল তেমনি করলো।
5
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
6 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, পুরুষ কিংবা স্ত্রী হোক, যখন কেউ মানুষের মধ্যে প্রচলিত কোন গুনাহ্ করে মাবুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে, আর সেই প্রাণী দণ্ডনীয় হয়,
7 তখন সে যে গুনাহ্ করেছে তা স্বীকার করবে ও তার অপরাধের জন্য তার মূল দ্রব্য ও তার পঞ্চমাংশের এক অংশ বেশি, যার বিরুদ্ধে দোষ করেছে, তাকে দেবে।
8 কিন্তু যাকে দোষের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে, এমন মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি যদি সেই ব্যক্তির না থাকে, তবে দোষের ক্ষতিপূরণ মাবুদের উদ্দেশে ইমামকে দিতে হবে; তা ছাড়া, যা দ্বারা তার কাফ্ফারা হয়, সেই কাফ্ফারার ভেড়াও দিতে হবে।
9 আর বনি-ইসরাইল নিজেদের পবিত্র বস্তুর মধ্যে যত উত্তোলনীয় উপহার ইমামের কাছে আনে, সেসব তার হবে।
10 যে পবিত্র বস্তু যার দ্বারা নিবেদিত হয়, তা তারই হবে; কোন ব্যক্তি যে কোন বস্তু ইমামকে দেয়, তা তার হবে।
11
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
12 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, কোন ব্যক্তির স্ত্রী যদি বিপথগামিনী হয়ে তার বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন করে,
13 সে যদি স্বামীর দৃষ্টির অগোচরে কোন পুরুষের সঙ্গে জেনা করে গোপনে নাপাক হয় ও তার বিপক্ষে কোন সাক্ষী না থাকে ও সে ধরা না পড়ে;
14 এবং স্ত্রী নাপাক হলে স্বামী যদি অন্তর্জ্বালাজনক রূহের আবেশে তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়; অথবা স্ত্রী নাপাক না হলেও যদি সে বিদ্বেষ রূহের আবেশে তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়;
15 তবে সেই স্বামী তার স্ত্রীকে ইমামের কাছে আনবে এবং তার জন্য তার উপহার, অর্থাৎ এক ঐফার দশ ভাগের এক ভাগ যবের সুজি আনবে, কিন্তু তার উপরে তেল ঢালবে না ও কুন্দুরু দেবে না; কেননা তা অন্তর্জ্বালার শস্য-উৎসর্গ, স্মরণ করার শস্য-উৎসর্গ, যা দ্বারা অপরাধ স্মরণ হয়।
16
পরে ইমাম সেই স্ত্রীকে নিয়ে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত করবে।
17 আর ইমাম মাটির পাত্রে পবিত্র পানি রেখে শরীয়ত-তাঁবুর মেঝের কিঞ্চিৎ ধূলি নিয়ে সেই পানিতে দেবে।
18 পরে ইমাম ঐ স্ত্রীকে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত করবে ও তার মাথার চুল খুলে দিয়ে ঐ স্মরণ করার শস্য-উৎসর্গ, অর্থাৎ অন্তর্জ্বালার শস্য-উৎসর্গ, তার হাতে দেবে এবং ইমামের হাতে বদদোয়াজনক তিক্ত পানি থাকবে।
19 আর ইমাম ঐ স্ত্রীকে শপথ করিয়ে বলবে, কোন পুরুষ যদি তোমার সঙ্গে জেনা না করে থাকে এবং তুমি তোমার স্বামীর অধীন থেকে থাক ও বিপথে গিয়ে যদি নাপাক কাজ না করে থাক, তবে এই বদদোয়াজনক তিক্ত পানি তোমাতে নিষ্ফল হোক।
20 কিন্তু তুমি তোমার স্বামীর অধীন হয়েও যদি বিপথে গিয়ে থাক, যদি নাপাক কাজ করে থাক ও তোমার স্বামী ভিন্ন অন্য কোন পুরুষ যদি তোমার সঙ্গে জেনা করে থাকে—
21 তবে ইমাম বদদোয়াপূর্ণ কসম দিয়ে সেই স্ত্রীকে শপথ করাবে ও ইমাম সেই স্ত্রীকে বলবে— মাবুদ তোমার স্ত্রী-অঙ্গ অকেজো করবেন ও তোমার উদর ফুলে উঠে তোমার লোকদের মধ্যে তোমাকে বদদোয়ার ও কসমের পাত্রে পরিণত করবেন;
22 আর এই বদদোয়াযুক্ত পানি তোমার উদরে প্রবেশ করে তোমার উদর স্ফীত ও স্ত্রী-অঙ্গ অকেজো হবে। তখন সেই স্ত্রী বলবে, “আমিন, আমিন”।
23
আর ইমাম সেই বদদোয়ার কথা কিতাবে লিখে ঐ তিক্ত পানিতে ধুয়ে ফেলবে।
24 পরে সেই বদদোয়ার তিক্ত পানি ঐ স্ত্রীকে পান করাবে; তাতে সেই বদদোয়ার পানি তিক্তরূপে তার মধ্যে প্রবেশ করবে।
25 আর ইমাম ঐ স্ত্রীর হাত থেকে সেই অন্তর্জ্বালার শস্য-উৎসর্গ নেবে এবং সেই খাবার উপহার মাবুদের সম্মুখে দুলিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে উপস্থিত করবে।
26 ইমাম তা স্মরণ করার জন্য সেই শস্য-উৎসর্গের এক মুষ্টি নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে পুড়িয়ে ফেলবে, তারপর ঐ স্ত্রীকে সেই পানি পান করাবে।
27 আর সেই স্ত্রীকে পানি পান করালে সে যদি তার স্বামীর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে করে নাপাক হয়ে থাকে, তবে সেই বদদোয়াযুক্ত পানি তার মধ্যে তিক্তরূপে প্রবেশ করবে এবং তার উদর ফুলে উঠবে ও স্ত্রী-অঙ্গ অকেজো হয়ে পড়বে; এভাবে সেই স্ত্রী তার স্বজাতির মধ্যে বদদোয়ার পাত্রী হবে।
28 আর যদি সেই স্ত্রী নাপাক না হয়ে পাক থাকে, তবে সে মুক্ত হবে ও গর্ভধারণ করবে।
29
এটি অন্তর্জ্বালা বিষয়ক ব্যবস্থা; স্ত্রীলোক স্বামীর অধীন হয়েও বিপথে গিয়ে নাপাক হলে,
30 কিংবা স্বামী বিদ্বেষপূর্ণ রূহের আবেশে তার স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পরায়ণ হলে সে সেই স্ত্রীকে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত করবে এবং ইমাম সেই বিষয়ে এ সব ব্যবস্থা পালন করবে।
31 তাতে স্বামী অপরাধ থেকে মুক্ত হবে এবং সেই স্ত্রী তার অপরাধ বহন করবে।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, কোন পুরুষ কিংবা স্ত্রীলোক মাবুদের উদ্দেশে পৃথকীকৃত হবার জন্য যখন বিশেষ ব্রত, নাসরীয় ব্রত পালন করবে,
3 তখন সে আঙ্গুর-রস ও সুরা থেকে পৃথক থাকবে, আঙ্গুর-রসের সিরকা বা সুরার সিরকা পান করবে না এবং আঙ্গুর ফল থেকে উৎপন্ন কোন পানীয় পান করবে না, আর কাঁচা বা শুক্নো আঙ্গুর ফল খাবে না।
4 তার পৃথক থাকবার সমস্ত কাল সে আঙ্গুর ফল দিয়ে, এর বীজ কিম্বা খোসা দিয়ে তৈরি কিছুই খাবে না।
5
তার পৃথক নাসরীয়-ব্রতের সমস্ত কাল তার মাথায় ক্ষুর স্পর্শ করা চলবে না; মাবুদের উদ্দেশে তার পৃথক থাকবার দিন-সংখ্যা যতদিন সমপূর্ণ না হয়, ততদিন সে পবিত্র থাকবে, সে তার মাথার চুল বৃদ্ধি পেতে দেবে।
6
যতদিন সে মাবুদের উদ্দেশে পৃথক থাকে, ততদিন কোন মৃত লাশের কাছে যাবে না।
7 যদিও তার পিতা কিংবা মা কিংবা ভাই কিংবা বোন মারা যায়, তবুও সে তাদের জন্য নিজেকে নাপাক করবে না; কেননা তার মাথায় আল্লাহ্র উদ্দেশে নাসরীয় ব্রতের চিহ্ন আছে।
8 তার পৃথক থাকবার সমস্ত কাল সে মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র।
9
আর যদি কোন মানুষ হঠাৎ তার কাছে মারা যাওয়াতে সে তার পৃথক থাকবার চিহ্নবিশিষ্ট মাথা নাপাক করে, তবে সে পাক-পবিত্র হবার দিনে তার মাথা মুণ্ডন করবে, সপ্তম দিনে তা মুণ্ডন করবে।
10 আর অষ্টম দিনে সে দু’টি ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে ইমামের কাছে আনবে।
11 ইমাম তাদের একটি গুনাহ্র জন্য, অন্যটি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য নিবেদন করে মৃত লাশের দরুন তার কৃত গুনাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে; আর সেই দিনে তাকে পবিত্র করবে।
12 আবার সে তার পৃথক্ থাকবার দিনগুলোতে মাবুদের উদ্দেশে পৃথক থাকবে এবং দোষ-কোরবানী হিসেবে এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা আনবে। আর তার পৃথক হয়ে থাকবার দিনগুলো নাপাক হওয়াতে তার পূর্বগত সমস্ত দিন নিরর্থক হবে।
13
আর নাসরীয় ব্রতের ব্যবস্থা এই— তার পৃথক থাকবার দিন সমপূর্ণ হলে পর তাকে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে আনা হবে।
14 পরে সে মাবুদের উদ্দেশে তার উপহার কোরবানী করবে; পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এক বছর বয়েসী নিখুঁত এক ভেড়ার বাচ্চা ও গুনাহ্-কোরবানীর জন্য এক বছরের নিখুঁত একটি ভেড়ীর বাচ্চা ও মঙ্গল-কোরবানী জন্য নিখুঁত একটি ভেড়া,
15 আর এক ঝুড়ি খামিহীন রুটি, তেল মিশানো মিহি সুজির পিঠা, খামিহীন তৈলাক্ত সরু চাকলী ও তার উপযুক্ত শস্য-উৎসর্গ এবং পেয় উৎসর্গ ইত্যাদি আনবে।
16 আর ইমাম মাবুদের সম্মুখে এসব উপস্থিত করে তার গুনাহ্-কোরবানী ও পোড়ানো-কোরবানী দেবে।
17 পরে খামিহীন রুটির ঝুড়ির সঙ্গে মঙ্গল-কোরবানীর ভেড়া মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করবে এবং ইমাম এর সঙ্গে শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ নিবেদন করবে।
18 পরে নাসরীয় জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে তার পৃথক থাকবার চিহ্নস্বরূপ মাথা মুণ্ডন করবে ও তার পৃথক থাকবার চিহ্ন যে মাথার চুল, তা নিয়ে মঙ্গল-কোরবানীর নিচে থাকা আগুনে রাখবে।
19 আর নাসরীয় ব্রতধারীর মাথা মুণ্ডনের পরে ইমাম ঐ ভেড়ার সিদ্ধ কাঁধ ও ঝুড়ি থেকে খামিহীন একখানি পিঠা ও একখানি খামিহীন চাপাটি নিয়ে তার হাতে দেবে।
20 আর ইমাম সেসব দোলনীয় নৈবেদ্য-কোরবানী জন্য মাবুদের সম্মুখে দোলাবে; তাতে দোলনীয় বুকের গোশ্ত ও উত্তোলনীয় জঙ্ঘা সহ তা ইমামের জন্য পবিত্র হবে; তারপর নাসরীয় ব্যক্তি আঙ্গুর-রস পান করতে পারবে।
21
নাসরীয় ব্রতধারীকে এই নিয়ম পালন করতে হবে। পৃথক থাকবার দিনগুলোর জন্য মাবুদকে তার নির্দিষ্ট উপহার দিতে হবে। এছাড়া, তার সংস্থান অনুসারে সে আরও যা কিছু দিতে মানত করেছে তা দিতে হবে।
22
মাবুদ মূসাকে বললেন,
23 তুমি হারুন ও তার পুত্রদেরকে বল; তোমরা বনি-ইসরাইলকে এরকম দোয়া করে তাদের বলবে,
24 মাবুদ তোমাকে দোয়া করুন ও তোমাকে রক্ষা করুন;
25
মাবুদ তোমার প্রতি নিজের মুখ উজ্জ্বল করুন ও তোমাকে অনুগ্রহ করুন;
26 মাবুদ তোমার প্রতি নিজের মুখ তুলুন ও তোমাকে শান্তি দান করুন।
27
এভাবে তারা বনি-ইসরাইলদের উপরে আমার নাম স্থাপন করবে; আর আমি তাদেরকে দোয়া করবো।
1
যেদিন মূসা শরীয়ত-তাঁবু স্থাপন সমাপ্ত করলেন এবং তা অভিষেক ও পাক-পবিত্র করলেন, আর তার সঙ্গেকার সমস্ত জিনিস এবং কোরবানগাহ্ ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত পাত্র অভিষেক ও পবিত্র করলেন,
2 সেদিন ইসরাইলের নেতৃবর্গ, পিতৃকুলপতিবর্গ উপহার আনলেন, এঁরা সমস্ত বংশের নেতা, এঁরা গণনা করা লোকদের জন্য নিযুক্ত ছিলেন।
3 তাঁরা মাবুদের উদ্দেশে উপহার হিসেবে ছয়টি আচ্ছাদিত গরুর গাড়ি ও বারটি বলদ, দু’জন নেতার জন্য একটি ঘোড়ার গাড়ি ও প্রত্যেক জনের জন্য একটি করে বলদ এনে শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখে উপস্থিত করলেন।
4 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন,
5 তুমি তাদের থেকে সেগুলো গ্রহণ কর। সেগুলো জমায়েত-তাঁবুর সেবাকর্ম করার জন্য গ্রহণ করা হবে, আর তুমি সেসব লেবীয়দেরকে দেবে; একেক জনকে নিজ নিজ সেবাকর্ম অনুসারে দেবে।
6 পরে মূসা সেসব ঘোড়ার গাড়ি ও বলদ গ্রহণ করে লেবীয়দেরকে দিলেন।
7 গের্শোনীয়দেরকে তাদের সেবা-কর্ম অনুসারে দু’টি গরুর গাড়ি ও চারটি বলদ,
8 এবং মরারীয়দেরকে তাদের সেবা-কর্ম অনুসারে চারটি গরুর গাড়ি ও আটটি বলদ দিয়ে ইমাম হারুনের পুত্র ঈথামরের হাতে দিলেন।
9 কিন্তু কহাতীয়দেরকে কিছুই দিলেন না, কেননা পবিত্র স্থানের সেবাকর্মের ভার তাদের উপরে ছিল; তারা কাঁধে করে ভার বহন করতো।
10
পরে কোরবানগাহ্র অভিষেক-দিনে নেতৃবর্গ কোরবানগাহ্ প্রতিষ্ঠার উপহার আনলেন; ফলত সেই নেতৃবর্গ কোরবানগাহ্র সম্মুখে নিজ নিজ উপহার আনলেন।
11 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, একেক জন নেতা একেক দিন কোরবানগাহ্ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজ নিজ উপহার আনবে।
12
প্রথম দিনে এহুদা বংশজাত অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন তার উপহার আনলেন।
13 তার উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
14 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
15 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
16 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
17 মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব অম্মীনাদবের পুত্র নহশোনের উপহার।
18
দ্বিতীয় দিনে ইষাখরের নেতা সূয়ারের পুত্র নথনেল উপহার আনলেন।
19 তিনি নিজের উপহার হিসেবে পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে একশত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র খাবার নৈবেদ্যর জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
20 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
21 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
22 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
23 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব সূয়ারের পুত্র নথনেলের উপহার।
24
তৃতীয় দিনে সবূলূন-বংশের লোকদের নেতা হেলোনের পুত্র ইলীয়াব উপহার আনলেন।
25 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
26 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
27 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
28 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
29 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচ ভেড়া, পাঁচ ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচ ভেড়ার বাচ্চা; এ সব হেলোনের পুত্র ইলীয়াবের উপহার।
30
চতুর্থ দিনে রূবেণ-বংশের লোকদের নেতা শদেয়ুরের পুত্র ইলীষুর উপহার আনলেন।
31 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
32 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
33 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড় একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
34 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
35 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব শদেয়ুরের পুত্র ইলীষুরের উপহার।
36
পঞ্চম দিনে শিমিয়োন-সন্তানদের নেতা সূরীশদ্দয়ের পুত্র শনুমীয়েল উপহার আনলেন।
37 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
38 ধূপে দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
39 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
40 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
41 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছরের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এ সব সূরীশদ্দয়ের পুত্র শনুমীয়েলের উপহার।
42
ষষ্ঠ দিনে গাদ-বংশের লোকদের নেতা দ্যূয়েলের পুত্র ইলীয়াসফ উপহার আনলেন।
43 তার উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
44 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
45 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
46 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
47 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছরের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব দ্যূয়েলের পুত্র ইলীয়াসফের উপহার।
48
সপ্তম দিনে আফরাহীম-বংশের লোকদের নেতা অম্মীহূদের পুত্র ইলীশামা।
49 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
50 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
51 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
52 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
53 মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এ সব অম্মীহূদের পুত্র ইলীশামার উপহার।
54
অষ্টম দিনে মানাশা-বংশের লোকদের নেতা পদাহসূরের পুত্র গমলীয়েল উপহার আনলেন।
55 তার উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
56 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
57 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
58 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
59 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছরের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব পদাহসূরের পুত্র গমলীয়েলের উপহার।
60
নবম দিনে বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের নেতা গিদিয়োনির পুত্র অবীদান উপহার আনলেন।
61 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
62 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
63 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
64 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
65 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছরের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব গিদিয়োনির পুত্র অবীদানের উপহার।
66
দশম দিনে দান-বংশের লোকদের নেতা অম্মীশদ্দয়ের পুত্র অহীয়েষর।
67 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
68 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
69 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
70 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
71 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছরের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব অম্মীশদ্দয়ের পুত্র অহীয়েষরের উপহার।
72
একাদশ দিনে আশের-বংশের লোকদের নেতা অক্রণের পুত্র পগীয়েল উপহার আনলেন।
73 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে একশত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
74 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
75 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছরের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
76 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
77 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এ সব অক্রণের পুত্র পগীয়েলের উপহার।
78
বারো দিনের দিন নপ্তালি-বংশের লোকদের নেতা ঐননের পুত্র অহীরঃ উপহার আনলেন।
79 তাঁর উপহার পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত ত্রিশ (শেকল) পরিমাণ রূপার একটি থালা ও সত্তর শেকল পরিমাণ রূপার একটি বাটি, এই দু’টি পাত্র শস্য-উৎসর্গের জন্য তেল মিশানো মিহি সুজিতে পূর্ণ;
80 ধূপে পরিপূর্ণ দশ (শেকল) পরিমাণ সোনার একটি চামচ;
81 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া, এক বছর বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা;
82 গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল;
83 ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য দু’টি গরু, পাঁচটি ভেড়া, পাঁচটি ছাগল, এক বছর বয়সের পাঁচটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব ঐননের পুত্র অহীরের উপহার।
84
কোরবানগাহ্ অভিষেকের দিনে কোরবানগাহ্-প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইলের নেতৃবর্গ এই সমস্ত উপহার দিলেন; রূপার বারো থালা, রূপার বারো বাটি, সোনার বারো চামচ।
85 তার প্রত্যেক থালা এক শত ত্রিশ (শেকল) এবং প্রত্যেক বাটি সত্তর সেকল; এসব পাত্রের রূপা পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে মোট দুই হাজার চার শত (শেকল) পরিমিত।
86 ধূপে পরিপূর্ণ সোনার বারোটি চামচ, প্রত্যেক চামচ পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে দশ (শেকল) পরিমিত; মোট এসব চামচের সোনা এক শত বিশ (শেকল) পরিমিত।
87 পোড়ানো-কোরবানীর জন্য মোট বারোটি গরু, বারোটি ভেড়া, এক বছরের বারোটি ভেড়ার বাচ্চা ও তাদের শস্য-উৎসর্গ এবং গুনাহ্-কোরবানীর জন্য বারোটি ছাগল।
88 আর মঙ্গল-কোরবানীর জন্য মোট চব্বিশটি গরু, ষাটটি ভেড়া, ষাটটি ছাগল, এক বছরের ষাটটি ভেড়ার বাচ্চা; এসব কোরবানগাহ্র অভিষেকের পরে কোরবানগাহ্-প্রতিষ্ঠার উপহার।
89
আর মূসা যখন আল্লাহ্র সঙ্গে কথা বলতে জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করতেন তখন আল্লাহ্ সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরিস্থ গুনাহ্ আবরণ থেকে, সেই দুই কারুবীর মধ্য থেকে, তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন; এভাবে মাবুদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি হারুনকে বল, তুমি প্রদীপগুলো জ্বালালে সেই সাতটি প্রদীপ যেন প্রদীপ-আসনের সম্মুখদিকে আলো দেয়।
3 তাতে হারুন সেরকম করলেন, প্রদীপ-আসনের সম্মুখদিকে আলো দেবার জন্য সেসব প্রদীপ জ্বালালেন, যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম করেছিলেন।
4 ঐ প্রদীপ-আসনের গঠন এই রকম— সেটি পিটানো সোনা দিয়ে তৈরি; কাণ্ড থেকে পুষ্প পর্যন্ত তা পিটানো কাজ ছিল। মাবুদ মূসাকে যে আকার দেখিয়েছিলেন, সেই অনুসারে তিনি প্রদীপ-আসনটি তৈরি করেছিলেন।
5
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
6 তুমি বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে লেবীয়দেরকে নিয়ে পাক-পবিত্র কর।
7 তাদেরকে পাক-পবিত্র করার জন্য এরকম কর, তাদের উপরে গুনাহ্ মাফের পানি ছিটিয়ে দাও এবং তারা তাদের সারা শরীর কামিয়ে কাপড় ধুয়ে নিয়ে নিজেদেরকে পাক-পবিত্র করুক।
8 পরে তারা একটি ষাঁড় ও এর সঙ্গে তেল মিশানো মিহি সুজির শস্য-উৎসর্গ আনয়ন করুক এবং তুমি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য আর একটি ষাঁড় নাও।
9 আর লেবীয়দেরকে জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে আন ও বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে একত্র কর।
10 আর তুমি লেবীয়দেরকে মাবুদের সম্মুখে আনলে বনি-ইসরাইল তাদের শরীরে হস্তার্পণ করুক।
11 পরে হারুন বনি-ইসরাইলদের দোলনীয় উপহার হিসেবে লেবীয়দেরকে মাবুদের সম্মুখে নিবেদন করবে; তাতে তারা মাবুদের সেবাকর্মে নিযুক্ত হবে।
12 পরে লেবীয়েরা ঐ দু’টি ষাঁড়ের মাথায় হাত রাখবে আর তুমি লেবীয়দের জন্য কাফ্ফারা করতে মাবুদের উদ্দেশে একটি ষাঁড় গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে এবং অন্যটি পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবে।
13 আর হারুনের ও তার পুত্রদের সম্মুখে লেবীয়দেরকে দাঁড় করিয়ে মাবুদের উদ্দেশে দোলনীয় উপহার হিসেবে তাদেরকে নিবেদন করবে।
14
এভাবে তুমি বনি-ইসরাইল থেকে লেবীয়দেরকে পৃথক করো; তাতে লেবীয়েরা আমারই হবে।
15 তারপর লেবীয়েরা জমায়েত-তাঁবুর সেবাকর্ম করতে প্রবেশ করবে। এভাবে তুমি তাদেরকে পাক-পবিত্র করে দোলনীয় উপহার হিসেবে নিবেদন করবে;
16 কেননা তাদের আমায় দেওয়া হয়েছে, বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে তাদেরকে আমার উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে; আমি যাবতীয় গর্ভ উন্মোচকের, সমস্ত বনি-ইসরাইলের প্রথমজাতদের পরিবর্তে তাদেরকে আমার জন্য গ্রহণ করেছি।
17 কেননা মানুষ হোক কিংবা পশু হোক, বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাত আমার; যে দিনে আমি মিসর দেশের সমস্ত প্রথমজাতকে আঘাত করেছিলাম, সেই দিনে আমার জন্য তাদেরকে পবিত্র করেছিলাম।
18 আর আমি বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রথমজাতের পরিবর্তে লেবীয়দেরকে গ্রহণ করেছি।
19 আর জমায়েত-তাঁবুতে বনি-ইসরাইলদের করণীয় সেবাকর্ম করতে ও বনি-ইসরাইলদের জন্য কাফ্ফারা করতে লেবীয়দেরকে বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে হারুন ও তার পুত্রদেরকে দান হিসেবে দিয়েছি, যেন বনি-ইসরাইল পবিত্র-স্থানের নিকটবর্তী হওয়ার ফলে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে মহামারী না হয়।
20
পরে মূসা, হারুন ও বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল লেবীয়দের প্রতি সেরকম করলো; মাবুদ লেবীয়দের বিষয়ে মূসাকে যে সমস্ত হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারে বনি-ইসরাইল তাদের প্রতি করলো।
21 ফলত লেবীয়েরা নিজেদের পাক-পবিত্র করলো ও নিজ নিজ কাপড় ধুয়ে নিল এবং হারুন তাদেরকে মাবুদের সাক্ষাতে দোলনীয় উপহার হিসেবে নিবেদন করলেন, আর হারুন তাদেরকে পাক-পবিত্র করতে তাদের জন্য কাফ্ফারা করলেন।
22 তারপর লেবীয়েরা হারুনের সম্মুখে ও তাঁর পুত্রদের সম্মুখে নিজ নিজ সেবাকর্ম করার জন্য জমায়েত-তাঁবুতে প্রবেশ করতে লাগল। লেবীয়দের বিষয়ে মাবুদ মূসাকে যেরকম হুকুম দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে তাদের প্রতি করা হল।
23
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, লেবীয়দের বিষয়ে এই ব্যবস্থা।
24 পঁচিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লেবীয়েরা জমায়েত-তাঁবুতে সেবাকর্ম করার জন্য শ্রেণীভুক্ত হবে;
25 আর পঞ্চাশ বছর বয়স হলে সেই সেবাকর্মীরা অবসর গ্রহণ করবে।
26 কর্তব্য পালনে সাহায্য করার জন্য তারা জমায়েত-তাঁবুতে আপন আপন ভাইদের সঙ্গে পরিচর্যা করবে, সেবাকর্ম আর করবে না। লেবীয়দের কর্তব্যের বিষয়ে তাদের প্রতি তুমি এরকম ব্যবস্থা করবে।
1
ইসরাইল মিসর দেশ থেকে বের হওয়ার পর দ্বিতীয় বছরের প্রথম মাসে সিনাই মরুভূমিতে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 বনি-ইসরাইল যথাসময়ে ঈদুল ফেসাখ পালন করুক।
3 এই মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলা যথাসময়ে তোমরা তা পালন করো, ঈদের সমস্ত বিধি ও শাসন অনুসারে তা পালন করবে।
4 তখন মূসা বনি-ইসরাইলকে ঈদুল ফেসাখ পালন করতে হুকুম করলেন।
5 তাতে তারা প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে সন্ধ্যাবেলা সিনাই মরুভূমিতে ঈদুল ফেসাখ পালন করলো; মাবুদ মূসাকে যে সমস্ত হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারেই বনি-ইসরাইল তা পালন করলো।
6
কিন্তু কয়েকজন লোক একটি মানুষের মৃত লাশ স্পর্শ করে নাপাক হওয়াতে সেদিন ঈদুল ফেসাখ পালন করতে পারল না; অতএব তারা সেদিন মূসা ও হারুনের সম্মুখে উপস্থিত হল।
7 আর সেই লোকগুলো তাঁকে বললো, আমরা একটি মৃত মানুষের লাশ স্পর্শ করে নাপাক হয়েছি, এতে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে যথাসময়ে মাবুদের উদ্দেশে উপহার নিবেদন করতে কেন দেওয়া হবে না?
8 মূসা তাদেরকে বললেন, তোমরা দাঁড়াও, তোমাদের বিষয়ে মাবুদ কি হুকুম করেন, তা শুনি।
9
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
10 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তোমাদের মধ্যে কিংবা তোমাদের ভাবী সন্তানদের মধ্যে যদিও কেউ মৃত লাশ স্পর্শ করে নাপাক হয়, কিংবা যাত্রা পথে থাকে, তবুও সে মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করবে।
11 দ্বিতীয় মাসে চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলা তারা তা পালন করবে; তারা খামিহীন রুটি ও তিক্ত শাকের সঙ্গে (ভেড়ার বাচ্চা) ভোজন করবে;
12 তারা সকাল পর্যন্ত তার কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না ও তার কোন অস্থি ভাঙবে না; ঈদুল ফেসাখের সমস্ত নিয়ম অনুযায়ী তারা তা পালন করবে।
13 কিন্তু যে কেউ পাক-পবিত্র থাকে ও যাত্রা পথে না থাকে, সে যদি ঈদুল ফেসাখ পালন না করে, তবে সে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে; কারণ যথাসময়ে মাবুদের উদ্দেশে উপহার না আনাতে সে নিজের গুনাহ্ নিজে বহন করবে।
14 আর যদি কোন বিদেশী লোক তোমাদের মধ্যে বাস করে, আর মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করে; তবে সে ঈদুল ফেসাখের নিয়ম ও শাসন অনুসারে তা পালন করবে; বিদেশী বা দেশজাত উভয়েরই জন্য তোমাদের একই নিয়ম হবে।
15
আর যেদিন শরীয়ত-তাঁবু স্থাপিত হল, সেদিন মেঘ এসে শরীয়ত-তাঁবু অর্থাৎ সাক্ষ্য-তাঁবু আচ্ছাদন করলো এবং সন্ধ্যাবেলা সেটি শরীয়ত-তাঁবুর উপরে আগুনের আকার হয়ে রইলো এবং তা সকাল পর্যন্ত থাকলো।
16 প্রতিদিন এরকম হত; মেঘ তা আচ্ছাদন করতো, আর রাতে আগুনের আকার দেখা যেত।
17 আর যে সময়ে তাঁবুর উপর থেকে মেঘ উপরে উঠে যেত তখন বনি-ইসরাইল যাত্রা করতো এবং মেঘ যে স্থানে অবস্থান গ্রহণ করতো বনি-ইসরাইল সেই স্থানে শিবির স্থাপন করতো।
18 মাবুদের হুকুম অনুসারে বনি-ইসরাইল যাত্রা করতো, তাঁর হুকুম অনুসারেই শিবির স্থাপন করতো। মেঘ যতদিন শরীয়ত-তাঁবুর উপরে অবস্থান নিতো, ততদিন তারা শিবিরে থাকতো।
19 আর মেঘ যখন শরীয়ত-তাঁবুর উপরে দীর্ঘদিন অবস্থান করতো তখন বনি-ইসরাইল মাবুদের হুকুম পালন করে যাত্রা করতো না।
20 আর মেঘ কখনও কখনও শরীয়ত-তাঁবুর উপরে অল্পদিন অবস্থান করতো; তখন মাবুদের হুকুমে তারা শিবিরে থাকতো, আর তাঁর হুকুমেই যাত্রা করতো।
21 আর কখনও কখনও মেঘ সন্ধ্যাকাল থেকে সকাল পর্যন্ত থাকতো; আর মেঘ খুব ভোরে উপরে উঠে গেলে তারা যাত্রা করতো; অথবা দিন বা রাত যা-ই হোক না কেন, মেঘ উপরে উঠে গেলেই তারা যাত্রা করতো।
22 দুই দিন কিংবা এক মাস কিংবা এক বছর হোক, শরীয়ত-তাঁবুর উপরে মেঘ যতকাল অবস্থান করতো, বনি-ইসরাইলও ততকাল শিবিরে বাস করতো, যাত্রা করতো না; কিন্তু তা উপরে উঠে গেলেই তারা যাত্রা করতো। মাবুদের হুকুমেই তারা শিবিরে থাকতো, মাবুদের হুকুমেই তারা যাত্রা করতো;
23 তারা মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া মাবুদের হুকুম অনুসারে তাঁর হুকুম পালন করতো।
1
মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি দু’টি রূপার তূরী তৈরি কর; পিটানো রূপা দিয়ে তা তৈরি করতে হবে; তুমি তা মণ্ডলীকে আহ্বান ও শিবির তুলে যাত্রার জন্য ব্যবহার করবে।
3 সেই দু’টি তূরী বাজলে সমস্ত মণ্ডলী জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে তোমার কাছে জমায়েত হবে।
4 কিন্তু একটি তূরী বাজালে নেতৃবর্গ, ইসরাইলের সহস্রপতিরা, তোমার কাছে জমায়েত হবে।
5 তোমরা রণবাদ্য বাজালে পূর্বদিকের শিবিরের লোকেরা শিবির ওঠাবে।
6 তোমরা দ্বিতীয়বার রণবাদ্য বাজালে দক্ষিণ দিকের শিবিরের লোকেরা শিবির ওঠাবে; তাদের প্রস্থান করার জন্য রণবাদ্য বাজাতে হবে।
7 কিন্তু সমাজের সমাগমের জন্য তূরী বাজাবার সময়ে তোমরা রণবাদ্য বাজাবে না।
8 হারুনের ইমাম সন্তানগণ সেই তূরী বাজাবে, পুরুষানুক্রমে তোমরা চিরস্থায়ী নিয়ম হিসেবে তা পালন করবে।
9 আর তোমাদের দেশে তোমরা যখন আক্রমণকারী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাবে, সেই সময় এই তূরীতে রণবাদ্য বাজাবে; তাতে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তোমাদেরকে স্মরণ করা হবে ও তোমরা তোমাদের দুশমনদের হাত থেকে নিস্তার পাবে।
10 আর তোমাদের আনন্দের দিনে, ঈদের দিনে ও মাসের আরম্ভে তোমাদের পোড়ানো-কোরবানীর ও তোমাদের মঙ্গল-কোরবানী দেওয়া উপলক্ষে তোমরা সেই তূরী বাজাবে; তাতে তা তোমাদের আল্লাহ্র সম্মুখে তোমাদের স্মরণ করা হবে। আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
11
পরে দ্বিতীয় বছর দ্বিতীয় মাসের বিশতম দিনে সেই মেঘ সাক্ষ্যের শরীয়ত-তাঁবুর উপর থেকে উপরে উঠে গেল।
12 তাতে বনি-ইসরাইল তাদের যাত্রার নিয়ম অনুসারে সিনাই মরুভূমি থেকে যাত্রা করলো, পরে সেই মেঘ পারণ মরুভূমিতে অবস্থান গ্রহণ করলো।
13 মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া মাবুদের হুকুম অনুসারে তারা এই প্রথমবার যাত্রা করলো।
14 প্রথমে এহুদা বিভাগের সৈন্যদের সঙ্গে এহুদা সন্তানদের শিবিরের নিশান চললো; অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন তাদের সেনাপতি ছিলেন।
15 আর সূয়ারের পুত্র নথনেল ইষাখর-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
16 হেলোনের পুত্র ইলীয়াব সবূলূন-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
17
পরে শরীয়ত-তাঁবু তোলা হল এবং গের্শোনীয়রা ও মরারীয়রা সেই শরীয়ত-তাঁবু বহন করে অগ্রসর হল।
18 তারপর রূবেণ বিভাগের সৈন্যদের সঙ্গে রূবেণের শিবিরের নিশান চললো; শদেয়ুরের পুত্র ইলীষূর তাদের সেনাপতি ছিলেন।
19 সূরীশদ্দয়ের পুত্র শল্লুমীয়েল শিমিয়োন-বংশের সেনাপতি ছিলেন।
20 দ্যুয়েলের পুত্র ইলীয়াসফ গাদ-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
21
পরে কহাতীয়েরা বায়তুল-মোকাদ্দসের পবিত্র দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যাত্রা করলো এবং গন্তব্য স্থানে তাদের উপস্থিত হবার আগে শরীয়ত-তাঁবু স্থাপিত হল।
22 পরে আফরাহীম বিভাগের সৈন্যদের সঙ্গে আফরাহীম সন্তানদের শিবিরের নিশান চললো; অম্মীহূদের পুত্র ইলীশামা তাদের সেনাপতি ছিলেন।
23 আর পদাহসূরের পুত্র গমলীয়েল মানশা-বংশের সেনাপতি ছিলেন।
24 গিদিয়োনির পুত্র অবীদান বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
25
পরে সমস্ত শিবিরের পিছনে দান বিভাগের সৈন্যের সঙ্গে দান-বংশের লোকদের শিবিরের নিশান চললো; অম্মীশদ্দয়ের পুত্র অহীয়েষর ছিলেন তাদের সেনাপতি।
26 আর অক্রণের পুত্র পগীয়েল আশের-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
27 ঐননের পুত্র অহীরঃ নপ্তালি-বংশের লোকদের বংশের সেনাপতি ছিলেন।
28 এই ছিল বনি-ইসরাইলদের যাত্রার নিয়ম; তারা এভাবে যাত্রা করতো।
29
আর মূসা তাঁর শ্বশুর মিদিয়োনীয় রূয়েলের পুত্র হোববকে বললেন, মাবুদ আমাদেরকে যে স্থান দিতে ওয়াদা করেছেন, আমরা সেই স্থানে যাত্রা করছি; তুমিও আমাদের সঙ্গে এসো, আমরা তোমার মঙ্গল করবো কেননা মাবুদ ইসরাইলের পক্ষে মঙ্গল সাধন করার ওয়াদা করেছেন।
30 তিনি তাঁকে বললেন, আমি যাব না, আমি আমার দেশে ও আমার জ্ঞাতিদের কাছে যাব।
31 মূসা বললেন, আরজ করি, আমাদেরকে ত্যাগ করো না, কেননা মরুভূমির মধ্যে আমাদের শিবির স্থাপনের বিষয় তুমি জান, আর তুমি হবে আমাদের চক্ষুস্বরূপ।
32 আর যদি তুমি আমাদের সঙ্গে যাও, তবে এই ফল হবে, মাবুদ আমাদের প্রতি যে মঙ্গল করবেন, আমরা তোমার প্রতি তা-ই করবো।
33
পরে তারা মাবুদের পর্বত থেকে তিন দিনের পথ গমন করলো এবং মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক তাদের জন্য বিশ্রাম-স্থানের খোঁজ করার জন্য তিন দিনের পথ তাদের অগ্রগামী হল।
34 আর শিবির থেকে অন্য স্থানে গমনের সময়ে মাবুদের মেঘ দিনে তাদের উপরে থাকতো।
35
আর সিন্দুকের অগ্রসর হবার সময়ে মূসা বলতেন, হে মাবুদ, উঠ, তোমার দুশমনেরা ছিন্নভিন্ন হোক, তোমার বিদ্বেষীরা তোমার সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাক।
36 আর তার বিশ্রামকালে তিনি বলতেন, হে মাবুদ, ইসরাইলের হাজার হাজার অযুত অযুতের কাছে ফিরে এসো।
1
আর লোকেরা বচসাকারীদের মত মাবুদের কর্ণগোচরে অভিযোগ করতে লাগল; আর মাবুদ তা শুনলেন ও এতে তাঁর ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়ে উঠলো; তাতে তাদের মধ্যে মাবুদের আগুন জ্বলে উঠে শিবিরের প্রান্তভাগ গ্রাস করতে লাগল।
2 তখন লোকেরা মূসার কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল; তাতে মূসা মাবুদের কাছে মুনাজাত করলে সেই আগুন নিভে গেল।
3 তখন তিনি ঐ স্থানের নাম রাখলেন তবেরা [জ্বলন], কেননা মাবুদের আগুন তাদের মধ্যে জ্বলেছিল।
4
আর তাদের মধ্যে যেসব বিদেশী লোক ছিল, তারা খাবারের লোভে পাগল হয়ে উঠলো; আর বনি-ইসরাইলও পুনর্বার কান্না-কাটি করে বলতে লাগল, ভোজন করার জন্য কে আমাদের গোশ্ত দেবে?
5 আমরা মিসর দেশে বিনামূল্যে যে যে মাছ খেতাম সেগুলোর কথা এবং সেখানকার শশা, তরমুজ, পিঁয়াজ, সব্জি-পিঁয়াজ ও রসুনের কথা মনে পড়ছে।
6 এখন আমাদের প্রাণ শুকিয়ে যাচ্ছে, কিছুই নেই; আমাদের সম্মুখে এই মান্না ছাড়া আর কিছু নেই।
7 —ঐ মান্না ছিল ধনিয়া বীজের মত ও তা দেখতে ছিল গুগগুলের মত।
8 লোকেরা ঘুরে ঘুরে তা কুড়াতো এবং যাঁতায় পিষে কিংবা উখ্লিতে চূর্ণ করে একটি পাত্রে সিদ্ধ করতো ও তা দিয়ে পিঠা প্রস্তুত করতো; তার স্বাদ ছিল তেল দিয়ে তৈরি করা পিঠার মত।
9 রাত্রে শিবিরের উপরে শিশির পড়লে ঐ মান্না তার উপরে পড়ে থাকতো।
10
মূসা লোকদের কান্না শুনলেন, তারা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুর দরজার কাছে কাঁদছিল; আর এতে মাবুদের ক্রোধ অতিশয় প্রজ্বলিত হল এবং মূসাও অসন্তুষ্ট হলেন।
11 তখন মূসা মাবুদকে বললেন, তুমি কি জন্য তোমার গোলামকে এত কষ্ট দিচ্ছ? কি জন্যই বা আমি তোমার অনুগ্রহ লাভ করি নি, যার ফলে তুমি এসব লোকের ভার আমার উপরে দিয়েছ?
12 আমি কি এই সমস্ত লোক গর্ভে ধারণ করেছি? আমি কি এদেরকে প্রসব করেছি? সেজন্য তুমি এদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশের বিষয়ে কসম খেয়েছিলে, সেই দেশ পর্যন্ত আমাকে কি দুগ্ধপোষ্য শিশু বহনকারী পালকের মত এদেরকে বুকে করে বহন করতে বলছো?
13 এই সমস্ত লোককে দেবার জন্য আমি কোথায় গোশ্ত পাব? এরা তো আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলছে, আমাদেরকে গোশ্ত দাও, আমরা খাব।
14 একাকী এত লোকের ভার সহ্য করা আমার অসাধ্য; কেননা তা আমার শক্তির অতিরিক্ত।
15 তুমি যদি আমার প্রতি এরকম ব্যবহার কর, তবে আরজ করি, আমি তোমার দৃষ্টিতে যদি অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, আমাকে একবারে মেরে ফেলো; আমি যেন আমার দুর্গতি না দেখি।
16
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি যাদেরকে লোকদের প্রাচীন ও নেতা বলে জান, ইসরাইলের এমন সত্তরজন প্রাচীন লোককে সংগ্রহ কর। তাদেরকে জমায়েত-তাঁবুর কাছে আন; তারা তোমার সঙ্গে সেই স্থানে দাঁড়াবে।
17 পরে আমি সেই স্থানে নেমে তোমার সঙ্গে কথা বলবো এবং তোমার উপরে যে রূহ্ অবস্থিতি করেন, তাঁর কিছু পরিমাণ নিয়ে তাদের উপরে অবস্থিতি করাব, তাতে তুমি যেন একাকী লোকদের ভার বহন না কর, এজন্য তারা তোমার সঙ্গে লোকদের ভার বহন করবে।
18 আর তুমি লোকদেরকে বল, তোমরা আগামী-কালের জন্য নিজদেরকে পাক-পবিত্র কর, গোশ্ত ভোজন করতে পাবে; কেননা তোমরা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করেছ, বলেছ, ‘আমাদেরকে কে গোশ্ত ভোজন করতে দেবে? বরং মিসর দেশে আমরা ভাল ছিলাম;’ অতএব মাবুদ তোমাদেরকে গোশ্ত দেবেন, তোমরা খাবে।
19 এক দিন বা দুই দিন বা পাঁচ দিন বা দশ দিন বা বিশ দিন তা খাবে, এমন নয়;
20 সমপূর্ণ এক মাস পর্যন্ত, যতক্ষণ তা তোমরা বমন করে না ফেল ও তাতে তোমাদের অরুচি না হয়, ততক্ষণ খাবে; কেননা তোমরা তোমাদের মধ্যবর্তী মাবুদকে অগ্রাহ্য করেছ এবং তাঁর সম্মুখে কান্নাকাটি করে এই কথা বলেছ, ‘আমরা কেন মিসর থেকে বের হয়ে এসেছি?’
21 তখন মূসা বললেন, আমি যে লোকদের মধ্যে আছি, তারা ছয় লক্ষ পদাতিক; আর তুমি বলছো, আমি তাদেরকে সমপূর্ণ এক মাস খাওয়ার জন্য গোশ্ত দেব।
22 তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াবার জন্য কি ভেড়ার পাল ও গরুর পাল মারতে হবে? না তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াবার জন্য সমুদ্রের সমস্ত মাছ সংগ্রহ করতে হবে?
23 মাবুদ মূসাকে বললেন, মাবুদের কুদরত কি এতই কম? তোমার কাছে আমার কালাম ফলবে কি না, এখন দেখবে।
24
তখন মূসা বাইরে গিয়ে মাবুদের সমস্ত কথা লোকদের বললেন এবং তাদের প্রাচীনদের মধ্যে সত্তর জনকে একত্র করে তাঁবুর চারপাশে উপস্থিত করলেন।
25 আর মাবুদ মেঘে নেমে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন এবং যে রূহ্ তাঁর উপরে ছিলেন, তাঁর কিছু পরিমাণ নিয়ে সেই সত্তর জন প্রধান ব্যক্তিদের উপরে অবস্থিতি করালেন; তাতে রূহ্ তাঁদের উপরে অবস্থিতি করলে তাঁরা ভবিষ্যদ্বাণী বললেন, কিন্তু তারপর আর বললেন না।
26
কিন্তু শিবিরের মধ্যে দু’জন অবশিষ্ট ছিলেন, একজনের নাম ইল্দদ, অপরজন মেদদ; রূহ্ তাদের উপরে অবস্থিতি করলেন; তাঁরা ঐ উল্লিখিত লোকদের মধ্যে ছিলেন বটে, কিন্তু বাইরে তাঁবুর কাছে যান নি; তাঁরা শিবিরের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী বলতে লাগলেন।
27 তাতে এক জন যুবক দৌড়ে গিয়ে মূসাকে বললো, ইল্দদ ও মেদদ শিবিরে ভবিষ্যদ্বাণী বলতে শুরু করছে।
28 তখন নূনের পুত্র ইউসা, মূসার পরিচারক, যিনি তাঁর এক জন মনোনীত লোক, তিনি বললেন, হে আমার মালিক মূসা, তাদেরকে বারণ করুন।
29 মূসা তাঁকে বললেন, তুমি কি আমার পক্ষে ঈর্ষা করছো? মাবুদের সকল লোক নবী হোক ও মাবুদ তাদের উপরে তাঁর রূহ্ দান করুন।
30 পরে মূসা ও ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা শিবিরে প্রস্থান করলেন।
31
পরে মাবুদের কাছ থেকে বায়ু বের হয়ে সমুদ্র থেকে ভারুই পাখি এনে শিবিরের উপরে ফেললো; শিবিরের চারদিকে এপাশে এক দিনের পথ, ওপাশে এক দিনের পথ পর্যন্ত ফেললো, সেগুলো ভূমির উপরে দুই হাত উঁচু হয়ে রইলো।
32 লোকেরা সেসব দিনরাত ও পরদিন সমস্ত দিন ভারুই পাখি সংগ্রহ করলো; তাদের মধ্যে কেউ দশ হোমরের কম সংগ্রহ করলো না; পরে নিজেদের জন্য শিবিরের চারদিকে তা ছড়িয়ে রাখল।
33 কিন্তু সেই গোশ্ত চিবাবার আগেই লোকদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল; আর মাবুদ লোকদেরকে প্রচণ্ড মহামারী দ্বারা আঘাত করলেন।
34 আর [মূসা] সেই স্থানের নাম কিব্রোৎ-হত্তাবা [লোভীদের কবর] রাখলেন, কেননা সেই স্থানে তারা লোভীদেরকে কবর দিল।
35 কিব্রোৎ-হত্তাবা থেকে লোকেরা হৎসেরোতে যাত্রা করলো এবং তারা হৎসেরোতে অবস্থান গ্রহণ করলো।
1
মূসা যে কূশীয়া স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন, তার দরুন মরিয়ম ও হারুন মূসার বিরুদ্ধে কথা বলতে লাগলেন, কেননা তিনি এক জন কূশীয়া স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন।
2 তাঁরা বললেন, মাবুদ কি কেবল মূসার সঙ্গে কথা বলেছেন? আমাদের সঙ্গে কি বলেন নি? আর এই কথা মাবুদ শুনলেন।
3 দুনিয়ার লোকদের মধ্যে মূসা সকলের চেয়ে অতিশয় মৃদু স্বভাবের ছিলেন।
4
পরে মাবুদ হঠাৎ মূসা, হারুন ও মরিয়মকে বললেন, তোমরা তিন জন বের হয়ে জমায়েত-তাঁবুর কাছে এসো; তাঁরা তিন জন বের হয়ে আসলেন।
5 তখন মাবুদ মেঘস্তম্ভে নেমে তাঁবুর দ্বারে দাঁড়ালেন এবং হারুন ও মরিয়মকে ডাকলেন; তাতে তাঁরা উভয়ে বের হয়ে আসলেন।
6 তিনি বললেন, তোমরা আমার কথা শোন; তোমাদের মধ্যে যদি কেউ নবী হয়, তবে আমি মাবুদ তার কাছে কোন দর্শন দ্বারা আমার পরিচয় দেব, স্বপ্নে তার সঙ্গে কথা বলবো।
7 আমার গোলাম মূসা সেরকম নয়, সে আমার সমস্ত বাড়ির মধ্যে বিশ্বাসের পাত্র।
8 তার সঙ্গে আমি সম্মুখাসম্মুখি হয়ে কথা বলি, গূঢ় কালাম দ্বারা নয়, বরং প্রকাশ্যরূপে কথা বলি এবং সে মাবুদের রূপ দর্শন করে। অতএব আমার গোলাম মূসার বিরুদ্ধে কথা বলতে তোমরা কেন ভয় পেলে না?
9 ফলে তাঁদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল ও তিনি প্রস্থান করলেন।
10
আর তাঁবুর উপর থেকে মেঘ প্রস্থান করলো; আর দেখ, মরিয়মের হিমের মত কুষ্ঠ হয়েছে এবং হারুন মরিয়মের দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখলেন, তিনি কুষ্ঠরোগগ্রস্তা।
11 তখন হারুন মূসাকে বললেন, হায়, আমার মালিক, আরজ করি, গুনাহ্র ফল আমাদেরকে দেবেন না, এই বিষয়ে আমরা নির্বোধের কাজ করেছি, এই বিষয়ে গুনাহ্ করেছি।
12 মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হবার কালে যার শরীর অর্ধেকটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মত হয়, সেই রকম মৃতের মত এ যেন না হয়।
13 পরে মূসা মাবুদের কাছে ক্রন্দন করে বললেন, হে আল্লাহ্, আরজ করি, একে সুস্থ কর।
14 মাবুদ মূসাকে বললেন, যদি তার পিতা তার মুখে থুথু দিত, তা হলে সে কি সাতদিন লজ্জিত থাকতো না? এই সাতদিন পর্যন্ত শিবিরের বাইরে রুদ্ধ থাকুক; তারপর পুনর্বার ভিতরে আনা হবে।
15 তাতে মরিয়ম সাতদিন শিবিরের বাইরে রুদ্ধ থাকলেন এবং যতদিন মরিয়মকে ভিতরে আনা না হল, ততদিন লোকেরা যাত্রা করলো না।
16 পরে লোকেরা হৎসেরোৎ থেকে যাত্রা করে পারণ মরুভূমিতে শিবির স্থাপন করলো।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 আমি বনি-ইসরাইলকে যে কেনান দেশ দেব, তুমি তা নিরীক্ষণ করার জন্য কয়েক ব্যক্তিকে প্রেরণ কর। তাদের নিজ নিজ পিতৃকুল সম্পর্কীয় একেক বংশের মধ্য থেকে এক-এক জন নেতাকে প্রেরণ কর।
3 তাতে মাবুদের হুকুম অনুসারে মূসা পারণ মরুভূমি থেকে তাঁদের প্রেরণ করলেন। তাঁরা সকলে বনি-ইসরাইলদের নেতা ছিলেন।
4 তাঁদের নাম: রূবেণ-বংশের মধ্যে সক্কূবের পুত্র শম্মূয়;
5 শিমিয়োন-বংশের মধ্যে হোরির পুত্র শাফট;
6 শিমিয়োন-বংশের মধ্যে যিফুন্নির পুত্র কালুত;
7 ইষাখর-বংশের মধ্যে ইউসুফের পুত্র যিগাল;
8 আফরাহীম-বংশের মধ্যে নূনের পুত্র হোসিয়া;
9 বিন্ইয়ামীন-বংশের মধ্যে রাফূর পুত্র পল্টি;
10 সবূলূন-বংশের মধ্যে সোদির পুত্র গদ্দীয়েল;
11 ইউসুফ বংশের অর্থাৎ মানশা-বংশের মধ্যে সূষির পুত্র গদ্দি;
12 দান-বংশের মধ্যে গমল্লির পুত্র অম্মীয়েল;
13 আশের-বংশের মধ্যে মিকাইলের পুত্র সথুর;
14 নপ্তালি-বংশের মধ্যে বপ্সির পুত্র নহ্বি;
15 গাদ-বংশের মধ্যে মাখির পুত্র গ্যূয়েল।
16 মূসা দেশ নিরীক্ষণ করতে যাদের পাঠালেন, এই ছিল সেই লোকদের নাম। আর মূসা নূনের পুত্র হোসিয়ার নাম ইউসা রাখলেন।
17
কেনান দেশ নিরীক্ষণ করতে পাঠাবার সময় মূসা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা দক্ষিণ দিক দিয়ে এই পথে গিয়ে উঠ,
18 পাহাড় অঞ্চলে গিয়ে উঠ এবং গিয়ে দেখ, সেই দেশ কেমন ও সেখানকার নিবাসী লোকেরা বলবান বা দুর্বল, সংখ্যায় অল্প বা অনেক;
19 এবং তারা যে দেশে বাস করে সেই দেশ কেমন, ভাল বা মন্দ; ও যেসব নগরে বাস করে, সেসব কি রকম; তারা কি তাঁবুতে বা দুর্গে বাস করে;
20 এবং ভূমি কি রকম, উর্বর বা অনুর্বর, তাতে গাছ আছে কি নেই। আর তোমরা সাহসী হয়ে সেই দেশের কিছু ফল সঙ্গে করে এনো। তখন আঙ্গুর ফল পাকবার সময় হয়েছিল।
21
তাঁরা যাত্রা করে সীন মরুভূমি থেকে হমাতের প্রবেশ স্থানে অবস্থিত রহোব পর্যন্ত সমস্ত দেশ পর্যবক্ষেণ করলেন।
22 বিশেষত দক্ষিণ দিক দিয়ে উঠে গিয়ে হেবরনে উপস্থিত হলেন; সেই স্থানে অহীমান, শেশয় ও তল্ময় নামে অনাকের তিনটি সন্তান ছিল। মিসর দেশের সোয়ন নগর গড়ে উঠবার সাত বছর আগে হেবরন নগর গড়ে উঠেছিল।
23 পরে তাঁরা ইষ্কোল উপত্যকাতে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানে একগুচ্ছ ফলযুক্ত আঙ্গুর লতার একটি ডাল কেটে তা লাঠিতে ঝুলিয়ে দু’জন বহন করলেন এবং তাঁরা কতকগুলো ডালিম ও ডুমুর ফলও সঙ্গে আনলেন।
24 বনি-ইসরাইলেরা ঐ স্থানে সেই আঙ্গুরের গুচ্ছ কেটেছিলেন, এজন্য সেই উপত্যকা ইষ্কোল (গুচ্ছ) নামে খ্যাত হল।
25
তাঁরা দেশ নিরীক্ষণ করে চল্লিশ দিন পর ফিরে আসলেন।
26 পরে তাঁরা এসে পারণ মরুভূমির কাদেশ নামক স্থানে মূসা ও হারুন এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের ও সমস্ত মণ্ডলীকে সংবাদ দিলেন এবং সেই দেশের ফল তাদের দেখালেন।
27 আর তাঁকে এই বৃত্তান্ত বললেন, আপনি আমাদের যে দেশে প্রেরণ করেছিলেন আমরা সেখানে গিয়েছিলাম; দেশটি দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী বটে;
28 আর এই দেখুন, তার ফল। যা হোক, সেই দেশবাসীরা বলবান ও সেখানকার সমস্ত নগর প্রাচীরবেষ্টিত ও অনেক বড় এবং সেই স্থানে আমরা অনাকের সন্তানদেরকেও দেখেছি।
29 দক্ষিণ দেশে আমালেক বাস করে ও পাহাড় অঞ্চলে হিট্টিয়, যিবূষীয় ও আমোরীয়রা বাস করে এবং সমুদ্রের কাছে ও জর্ডানের তীরে বাস করে কেনানীয়েরা।
30
আর কালুত মূসার সাক্ষাতে লোকদেরকে ক্ষান্ত করার জন্য বললেন, এসো, আমরা একেবারে উঠে গিয়ে দেশ অধিকার করি; কেননা আমরা তা জয় করতে সমর্থ।
31 কিন্তু যে ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন, তাঁরা বললেন, আমরা সেই লোকদের বিরুদ্ধে যেতে সমর্থ নই, কেননা আমাদের চেয়ে তারা বলবান।
32 এভাবে তাঁরা যে দেশ নিরীক্ষণ করতে গিয়েছিলেন, বনি-ইসরাইলদের সাক্ষাতে সেই দেশের দুর্নাম করে বললেন, আমরা যে দেশ নিরীক্ষণ করতে নানা স্থানে গিয়েছিলাম, সেই দেশ তার অধিবাসীদের গ্রাস করে এবং তার মধ্যে আমরা যত লোককে দেখেছি তারা সকলে দেখতে বিশাল আকৃতির।
33 বিশেষত সেখানে বীরজাত অনাকের সন্তান বীরদেরকে দেখে আমরা নিজেদের দৃষ্টিতে ফড়িংয়ের মত হলাম এবং তাদের দৃষ্টিতেও তেমনি হলাম।
1
পরে সমস্ত মণ্ডলী জোরে জোরে চেঁচামেচি করতে লাগল এবং লোকেরা সেই রাতে কান্নাকাটি করলো।
2 আর বনি-ইসরাইল সকলে মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে বচসা করলো ও সমস্ত মণ্ডলী তাদেরকে বললো, হায় হায়, আমরা কেন মিসর দেশে মরি নি;
3 এই মরু-ভূমিতেই বা কেন মরি নি? মাবুদ আমাদেরকে তলোয়ার দ্বারা নিপাত করাতে এই দেশে কেন আনলেন? আমাদের স্ত্রী ও বালকেরা তো লুণ্ঠিত হবে। মিসরে ফিরে যাওয়া কি আমাদের ভাল নয়?
4 পরে তারা পরস্পর বলাবলি করলো, এসো, আমরা এক জনকে সেনাপতি করে মিসরে ফিরে যাই।
5
তাতে মূসা ও হারুন বনি-ইসরাইলদের মণ্ডলীর সমস্ত সমাজের সম্মুখে উবুড় হয়ে পড়লেন।
6 আর যাঁরা দেশ নিরীক্ষণ করে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে নূনের পুত্র ইউসা ও যিফূন্নির পুত্র কালুত নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়লেন,
7 এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দলকে বললেন, আমরা যে দেশ নিরীক্ষণ করতে গিয়েছিলাম, সেই দেশ খুবই উত্তম দেশ।
8 মাবুদ যদি আমাদের উপর প্রীত হন তবে তিনি আমাদেরকে সেই দেশে প্রবেশ করাবেন ও সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ আমাদেরকে দেবেন।
9 কিন্তু তোমরা কোনমতে মাবুদের বিদ্রোহী হয়ো না ও সেই দেশের লোকদেরকে ভয় করো না; কেননা তারা আমাদের ভক্ষ্যস্বরূপ, তাদের আশ্রয়-ছত্র তাদের উপর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, মাবুদ আমাদের সহবর্তী; তাদেরকে ভয় করো না।
10 কিন্তু সমস্ত মণ্ডলী সেই দু’জনকে পাথরের আঘাতে হত্যা করতে বললো। তখন জমায়েত-তাঁবুতে মাবুদের মহিমা সমস্ত বনি-ইসরাইলের প্রত্যক্ষ হল।
11
আর মাবুদ মূসাকে বললেন, এই লোকেরা কত কাল আমাকে অবজ্ঞা করবে? আমি এদের মধ্যে যেসব চিহ্ন-প্রমাণ রেখেছি, তা দেখেও এরা কত কাল আমার প্রতি অবিশ্বাসী থাকবে?
12 আমি মহামারী দ্বারা এদেরকে আঘাত করবো, এদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো এবং তোমার মধ্য থেকে এদের চেয়ে বড় ও বলবান একটি জাতি সৃষ্টি করবো।
13
তাতে মূসা মাবুদকে বললেন, তা করলে মিসরীয়েরা তা শুনবে, কেননা তাদেরই মধ্য থেকে তুমি তোমার শক্তি দ্বারা এই লোকদের বের করে এনেছ;
14 আর তারা এই দেশ-নিবাসী লোকদেরও সেই সংবাদ দেবে। তারা শুনেছে যে, তুমি মাবুদ এই লোকদের মধ্যবর্তী, কারণ তুমি মাবুদ এদেরকে প্রত্যক্ষ দর্শন দিয়ে থাক, আর তোমার মেঘ এদের উপরে অবস্থান করছে এবং তুমি দিবাতে মেঘস্তম্ভে ও রাতে অগ্নি-স্তম্ভে থেকে এদের আগে আগে গমন করছো।
15 এখন যদি তুমি এই লোকদেরকে এক ব্যক্তির মত করে হত্যা কর, তবে ঐ যে জাতিরা তোমার খ্যাতি শুনেছে,
16 তারা বলবে, মাবুদ এই লোকদেরকে যে দেশ দিতে শপথ করেছিলেন, সেই দেশে তাদেরকে প্রবেশ করাতে অপারগ হলেন; এজন্য মরুভূমিতে তাদেরকে সংহার করলেন।
17 এখন নিবেদন করি, তোমার কালাম অনুসারে মাবুদের প্রভাব মহিমান্বিত হোক;
18 তুমি তো বলেছ, মাবুদ ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান এবং অধর্ম ও অপরাধ মাফ করেন, তবুও দোষীকে তিনি শাস্তি দিয়ে থাকেন, তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত সন্তানদের উপরে পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল বর্তান।
19 আরজ করি, তোমার অটল মহব্বতের মহত্ত্ব অনুসারে এবং মিসর দেশ থেকে এই পর্যন্ত এই লোকদেরকে যেমন মাফ করে আসছো, সেই অনুসারে এই লোকদের অপরাধ মাফ কর।
20
তখন মাবুদ বললেন, তোমার কথা অনুসারে আমি মাফ করলাম।
21 সত্যিই আমি জীবন্ত এবং সমস্ত দুনিয়া মাবুদের প্রতাপে পরিপূর্ণ হবে;
22 যত লোক আমার মহিমা এবং মিসরে ও মরুভূমিতে কৃত আমার চিহ্ন-কাজগুলো দেখেছে, তবুও এই দশবার আমার পরীক্ষা করেছে ও আমার কথায় মনোযোগ দেয় নি;
23 আমি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশের বিষয়ে কসম খেয়েছি, তারা সেই দেশ দেখতে পাবে না; যারা আমাকে অবজ্ঞা করেছে, তাদের মধ্যে কেউই তা দেখতে পাবে না।
24 কিন্তু আমার গোলাম কালুতের অন্তরে অন্য রূহ্ ছিল এবং সে সম্পূর্ণরূপে আমার অনুগত হয়ে চলেছে, এজন্য সে যে দেশে গিয়েছিল, সেই দেশে আমি তাকে প্রবেশ করাব ও তার বংশ তা অধিকার করবে।
25 পক্ষান্তারে আমালেকীয়েরা ও কেনানীয়েরা এখন উপত্যকাতে রয়েছে; আগামীকাল তোমরা ফিরে লোহিত সাগরের পথ দিয়ে মরুভূমিতে গমন কর।
26
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
27 আমার বিরুদ্ধে বচসাকারী এই দুষ্ট মণ্ডলীর ভার আমি কতকাল সহ্য করবো? বনি-ইসরাইল আমার বিরুদ্ধে যে যে কটু-বাক্য বলে তা আমি শুনেছি।
28 তুমি তাদেরকে বল, মাবুদ বলেন, আমি জীবন্ত, আমার কর্ণগোচরে তোমরা যা বলেছ, তা-ই আমি তোমাদের প্রতি করবো;
29 এই মরুভূমিতে তোমাদের লাশ পড়ে থাকবে; তোমাদের সমপূর্ণ সংখ্যা অনুসারে গণনা-করা বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক তোমরা যে সমস্ত লোক আমার বিরুদ্ধে কটুবাক্য বলেছো,
30 আমি তোমাদেরকে যে দেশে বাস করাব বলে হাত উঠিয়েছিলাম, সেই দেশে তোমরা প্রবেশ করবে না, কেবল যিফুন্নির পুত্র কালুত ও নূনের পুত্র ইউসা প্রবেশ করবে।
31 কিন্তু তোমরা তোমাদের যে বালকদের বিষয়ে বলেছিলে, এরা লুণ্ঠিত হবে, তাদেরকে আমি সেখানে প্রবেশ করাব ও তোমরা যে দেশ অগ্রাহ্য করেছ, তারা তার পরিচয় পাবে।
32 কিন্তু তোমাদের লাশ এই মরুভূমিতে পড়ে থাকবে।
33 আর তোমাদের সন্তানেরা চল্লিশ বছর এই মরুভূমিতে পশু চরাবে এবং এই মরুভূমিতে তোমাদের লাশের সংখ্যা যে পর্যন্ত সমপূর্ণ না হয়, সেই পর্যন্ত তারা তোমাদের জেনার ফল ভোগ করবে।
34 তোমরা যে চল্লিশ দিন দেশ নিরীক্ষণ করেছ, সেই দিনের সংখ্যা অনুসারে চল্লিশ বছর, একেক দিনের জন্য একেক বছর, তোমরা তোমাদের অপরাধ বহন করবে, আর আমার বিরোধিতা করার পরিণাম যে কি তা বুঝতে পারবে।
35 আমি মাবুদ বলেছি, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী সমগ্র দুষ্ট মণ্ডলীর প্রতি আমি অবশ্য এটা করবো; এই মরুভূমিতে তারা নিঃশেষিত হবে, এখানেই তারা মরবে।
36
আর দেশ নিরীক্ষণ করতে মূসা যে লোকদেরকে পাঠিয়েছিলেন, যারা ফিরে এসে ঐ দেশের দুর্নাম করে তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত মণ্ডলীকে দিয়ে বচসা করিয়েছিল,
37 দেশের বদনামকারী সেই ব্যক্তিরা মাবুদের সম্মুখে মহামারীতে মারা গেল।
38 যে ব্যক্তিরা দেশ নিরীক্ষণ করতে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে কেবল নূনের পুত্র ইউসা ও যেফূন্নির পুত্র কালুত জীবিত থাকলেন।
39
তখন মূসা সমস্ত বনি-ইসরাইলকে সেই কথা বললেন এবং লোকেরা অতিশয় শোক করলো।
40 পরে তারা খুব ভোরে উঠে পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করতে উদ্যত হয়ে বললো, দেখ, এই আমরা, মাবুদ যে স্থানের কথা বলেছেন, আমরা সেই স্থানে যাই, কেননা আমরা গুনাহ্ করেছি।
41 তাতে মূসা বললেন, এখন মাবুদের হুকুম কেন লঙ্ঘন করছো? এ তো সফল হবে না।
42 তোমরা উঠে যেও না, কারণ মাবুদ তোমাদের মধ্যে নেই, গেলে তোমরা দুশমনের হাতে পরাজিত হবে।
43 কেননা আমালেকীয়েরা ও কেনানীয়েরা সেই স্থানে তোমাদের সম্মুখে আছে; তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হবে, কারণ তোমরা মাবুদের পিছন থেকে ফিরে গেছ, তাই মাবুদ তোমাদের সহবর্তী হবেন না।
44 তবুও তারা দুঃসাহসী হয়ে পর্বত শৃঙ্গে অরোহণ করতে লাগল; কিন্তু মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক ও মূসা শিবির থেকে বের হলেন না।
45 তখন ঐ পর্বতবাসী আমালেকীয়েরা ও কেনানীয়েরা নেমে এসে তাদেরকে আঘাত করে হর্মা পর্যন্ত তাড়িয়ে দিল।
1
মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, আমি তোমাদেরকে যে দেশ দেব, সেই দেশে প্রবেশ করার পর,
3 যখন তোমরা মানত পূর্ণ করার জন্য কিংবা স্বেচ্ছাদত্ত কোরবানীর জন্য কিংবা তোমাদের নিরূপিত ঈদে গোমেষাদি পাল থেকে মাবুদের উদ্দেশে খোশবু করার জন্য মাবুদের উদ্দেশে অগ্নি— কৃত উপহার হিসেবে আগুনে-পোড়ানো কোরবানী করবে;
4 তখন উপহার উৎসর্গকারী ব্যক্তি মাবুদের উদ্দেশে এক হিনের চার ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজির (এক ঐফার) দশ ভাগের এক ভাগ শস্য-উৎসর্গ আনবে। আর তুমি পোড়ানো-কোরবানীর সঙ্গে অথবা কোরবানীর জন্য, প্রত্যেক ভেড়ার বাচ্চার জন্য,
5 পেয় উৎসর্গ বলে এক হিনের চার ভাগের এক ভাগ আঙ্গুর-রস প্রস্তুত করবে।
6 অথবা একটি ভেড়ার জন্য তুমি শস্য-উৎসর্গ বলে এক হিনের তিন ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো মিহি সুজির (এক ঐফার) বিশ ভাগের এক ভাগ প্রস্তুত করবে,
7 এবং পেয় উৎসর্গের জন্য এক হিনের তিন ভাগের এক ভাগ আঙ্গুর-রস মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য কোরবানী করবে।
8 আর যখন তুমি মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী বা মানত পূরণের জন্য কোরবানী করার জন্য, কিংবা মঙ্গল-কোরবানীর জন্য ষাঁড় কোরবানী করবে,
9 তখন বাছুরটির সঙ্গে অর্ধেক হিন তেলে মিশানো (এক ঐফার) তিন দশমাংশ
সুজির শস্য-উৎসর্গ আনবে।
10 আর পেয় উৎসর্গের জন্য মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহারের জন্য অর্ধেক হিন আঙ্গুর-রস আনবে।
11
একেক ষাঁড়, ভেড়া, ভেড়ার বাচ্চা ও ছাগলের বাচ্চার জন্য এরকম করতে হবে।
12 তোমরা যত পশু কোরবানী করবে, তাদের সংখ্যা অনুসারে প্রত্যেকের জন্য এরকম করবে।
13 দেশজাত সমস্ত লোক মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার নিবেদন করার সময়ে এই নিয়মানুসারে এসব প্রস্তুত করবে।
14 আর তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোন বিদেশী কিংবা তোমাদের মধ্যে পুরুষানুক্রমে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি যদি মাবুদের উদ্দেশে খোশবুর জন্য অগ্নিকৃত উপহার নিবেদন করতে চায়, তবে তোমরা যেরকম, সেও সেরকম করবে।
15 সমাজের জন্য, তোমরা এবং তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশী লোক, উভয়ের জন্য একই ব্যবস্থা হবে; এটি তোমাদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম; মাবুদের সামনে তোমরা ও বিদেশীরা, উভয়ে সমান।
16 তোমাদের ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসী বিদেশীদের জন্য একই ব্যবস্থা ও একই শাসন হবে।
17
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
18 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, আমি তোমাদেরকে যে দেশে নিয়ে যাচ্ছি,
19 সেই দেশে প্রবেশ করার পর তোমরা সেই দেশের খাদ্য ভোজনকালে মাবুদের উদ্দেশে উত্তোলনীয় উপহার নিবেদন করবে।
20 তোমরা উত্তোলনীয় উপহারের জন্য তোমাদের মাখা ময়দার অগ্রিমাংশ বলে একেক পিঠা নিবেদন করবে; যেমন খামারের উত্তোলনীয় উপহার উত্তোলন করে থাক, এও সেরকম ভাবে নিবেদন করবে।
21 তোমরা পুরুষানুক্রমে নিজ নিজ মাখা ময়দার অগ্রিমাংশ থেকে মাবুদের উদ্দেশে উত্তোলনীয় উপহার নিবেদন করবে।
22
আর তোমরা যদি ভুলবশত গুনাহ্ কর, মূসার কাছে মাবুদ যেসব হুকুম দিয়েছেন, এসব যদি পালন না কর,
23 এমন কি, মাবুদ যেদিন তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন, সেদিন থেকে তোমাদের পুরুষ-পরম্পরার জন্য মাবুদ মূসার মাধ্যমে তোমাদেরকে যত হুকুম করেছেন, সেসব যদি পালন না কর,
24 এবং তা যদি মণ্ডলীর অগোচরে ভুলবশত হয়ে থাকে, তবে সমস্ত মণ্ডলী মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত পোড়ানো-কোরবানীর জন্য একটি ষাঁড় ও নিয়ম অনুযায়ী তার সঙ্গে শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ এবং গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি ছাগল কোরবানী করবে।
25 আর ইমাম বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর জন্য কাফ্ফারা দেবে; তাতে তাদেরকে মাফ করা যাবে। কেননা তা ভুলক্রমে ঘটেছিল এবং তারা সেই ভুলের দরুন মাবুদের উদ্দেশে তাদের অগ্নিকৃত উপহার ও মাবুদের সম্মুখে গুনাহ্-কোরবানী আনবে।
26 তাতে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল ও তাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশীদেরকে মাফ করা যাবে; কেননা সকলেই ভুলবশত ঐ কাজ করেছিল।
27
আর যদি কোন ব্যক্তি ভুলবশত গুনাহ্ করে, তবে সে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে এক বছর বয়সের একটি ছাগলের বাচ্চা আনবে।
28 আর যে ব্যক্তি ভুল করেছে তার ভুলের জন্য ইমাম মাবুদের সাক্ষাতে তার ভুল করে করা গুনাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে; তাতে তার কাফ্ফারা হলে তার গুনাহ্ মাফ হবে।
29 বনি-ইসরাইলদের স্বজাতি হোক, কিংবা তাদের মধ্যে প্রবাসী বিদেশী হোক, যে ব্যক্তি ভুল করেছে তার জন্য একই ব্যবস্থা হবে।
30 কিন্তু স্বজাতি বা বিদেশী যে ব্যক্তি জেনেশুনে গুনাহ্ করে, সে মাবুদের নিন্দা করে; সেই ব্যক্তি নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
31 কেননা সে মাবুদের কালাম অবজ্ঞা করলো ও তাঁর হুকুম লঙ্ঘন করলো; সেই ব্যক্তি একেবারে উচ্ছিন্ন হবে, তার অপরাধ তারই উপরে বর্তাবে।
32
বনি-ইসরাইল যখন মরুভূমিতে ছিল, তখন বিশ্রামবারে এক জনকে কাঠ সংগ্রহ করতে দেখলো।
33 যারা তাকে কাঠ সংগ্রহ করতে দেখেছিল তারা মূসা, হারুন ও সমস্ত মণ্ডলীর কাছে তাকে আনলো।
34 আর তারা তাকে রুদ্ধ করে রাখল; কেননা তার প্রতি কি কর্তব্য তা জানানো হয় নি।
35 পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, সেই ব্যক্তির অবশ্য প্রাণদণ্ড হবে; সমস্ত মণ্ডলী তাকে শিবিরের বাইরে পাথরের আঘাতে হত্যা করবে।
36 পরে মূসার প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে সমস্ত মণ্ডলী তাকে শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথর মারল; তাতে সে মারা গেল।
37
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
38 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তারা যেন পুরুষানুক্রমে নিজ নিজ কাপড়ের কোণে ঝালর লাগায় ও কোণস্থ ঝালরে নীল সুতা বেঁধে রাখে।
39 তোমাদের জন্য সেই ঝালর থাকবে, যেন তা দেখে তোমরা মাবুদের সমস্ত হুকুম স্মরণ করে পালন কর এবং তোমাদের হৃদয়ের কামনা ও চোখের অভিলাষে যেভাবে তোমরা জেনাকারী হয়ে থাক, তোমরা সেরকম না কর;
40 যেন আমার সমস্ত হুকুম স্মরণ কর ও পালন কর এবং তোমার আল্লাহ্র উদ্দেশে পবিত্র হও।
41 আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্; আমি তোমাদের আল্লাহ্ হবার জন্য তোমাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছি; আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্।
1
লেবির সন্তান কহাৎ, তাঁর সন্তান যিষ্হর, যিষ্হরের সন্তান কারুন; এই কারুন এবং রূবেণ-বংশের লোকদের মধ্যে ইলীয়াবের পুত্র দাথন ও অবীরাম এবং পেলতের পুত্র ওন দল বাঁধলো।
2 আর এদের সঙ্গে বনি-ইসরাইলদের দুই শত পঞ্চাশ জন মূসার বিরুদ্ধে দাঁড়াল; এরা মণ্ডলীর নেতা, সমাজে সমাদৃত ও প্রসিদ্ধ লোক ছিল।
3 তারা মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে একত্র হয়ে তাঁদেরকে বললো, তোমরা বড়ই বাড়াবাড়ি করছো; কেননা সমস্ত মণ্ডলীর প্রত্যেকজনই পবিত্র এবং মাবুদ তাদের মধ্যবর্তী। তবে কেন মাবুদের সমাজের উপরে শুধু তোমরাই কর্তৃত্ব করছো?
4 এই কথা শুনে মূসা উবুড় হয়ে পড়লেন।
5 আর তিনি কারুন ও তার দলের সকলকে বললেন, কে মাবুদের লোক ও কে পবিত্র, কাকে তিনি নিজের সান্নিধ্যে আসতে দেবেন, তা মাবুদ খুব ভোরে জানাবেন। তিনি যাকে মনোনীত করবেন, শুধু সে-ই তাঁর কাছে যাবে।
6 হে কারুন ও কারুনের দলের সকলে, এক কাজ কর;
7 তোমরা ধূপদানি নেও এবং তাতে আগুন দিয়ে আগামীকাল মাবুদের সম্মুখে তার উপরে ধূপ দাও; তাতে মাবুদ যাকে মনোনীত করবেন, সেই ব্যক্তি পবিত্র হবে; হে লেবীয়রা তোমরা বড়ই বাড়াবাড়ি করছো।
8 পরে মূসা কারুনকে বললেন, হে লেবীয়রা, আরজ করি, আমার কথা শোন।
9 এ কি তোমাদের কাছে ক্ষুদ্র বিষয় যে, ইসরাইলের আল্লাহ্ তোমাদেরকে ইসরাইলদের মধ্য থেকে পৃথক করে মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর সেবাকর্ম করার জন্য ও মণ্ডলীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে তার পরিচর্যা করার জন্য তাঁর নিজের সান্নিধ্যে এনেছেন?
10 আর তোমাকে ও তোমার সঙ্গে তোমার সমস্ত ভাইকে অর্থাৎ লেবীয়দেরকে তাঁর সান্নিধ্যে এনেছেন আর তোমরা কি এখন ইমাম হতে চেষ্টা করছো?
11 অতএব তুমি ও তোমার সমস্ত দল মাবুদেরই বিরুদ্ধে একত্র হয়েছো; আর হারুন কে যে তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে বচসা কর?
12
পরে মূসা ইলীয়াবের পুত্র দাথন ও অবীরামকে ডাকতে লোক পাঠালেন, কিন্তু তারা বললো, আমরা যাব না;
13 এ কি ক্ষুদ্র বিষয় যে, তুমি আমাদেরকে মরুভূমিতে মেরে ফেলবার জন্য দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ থেকে নিয়ে এসেছো? তুমি কি আমাদের উপরে সর্বতোভাবে কর্তৃত্বও করবে?
14 আর, তুমি তো আমাদেরকে দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে আন নি, শস্য-ক্ষেতের ও আঙ্গুর-ক্ষেতের অধিকারও দাও নি। তুমি কি এই লোকদের চোখ অন্ধ করে রাখবে? আমরা যাব না।
15
তখন মূসা অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়ে মাবুদকে বললেন, ওদের উপহার গ্রাহ্য করো না; আমি ওদের থেকে একটি গাধাও নেই নি, আর ওদের একজনের কোন ক্ষতিও করি নি।
16
পরে মূসা কারুনকে বললেন, তুমি ও তোমার দলের সকলে, তোমরা আগামীকাল হারুনের সঙ্গে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত হবে।
17 তোমরা প্রত্যেকজন ধূপদানি নিয়ে তার উপরে ধূপ দিয়ে মাবুদের সম্মুখে নিজ নিজ ধূপদানি উপস্থিত করবে; দুই শত পঞ্চাশটি ধূপদানি উপস্থিত করবে। তুমি ও হারুন নিজ নিজ ধূপদানি নেবে।
18 পরে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ধূপদানি নিয়ে তার মধ্যে আগুন রেখে ধূপ দিয়ে মূসা ও হারুনের সঙ্গে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে দাঁড়ালো।
19 কারুন জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে তাঁদের প্রতিকূলে সমস্ত মণ্ডলীকে সমবেত করার পর মাবুদের মহিমা সমস্ত মণ্ডলীর প্রত্যক্ষ হল।
20
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, তোমরা এই মণ্ডলীর মধ্য থেকে পৃথক হও;
21 আমি নিমেষের মধ্যে এদেরকে সংহার করি।
22 তাঁরা উবুড় হয়ে পড়ে বললেন, হে আল্লাহ্, হে সর্বজীবের আল্লাহ্, এক জন গুনাহ্ করলে তুমি কি সমস্ত মণ্ডলীর উপরে ক্রুদ্ধ হবে?
23
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন,
24 তুমি মণ্ডলীকে বল, তোমরা কারুন, দাথন ও অবীরামের তাঁবুর চারদিক থেকে সরে যাও।
25 আর মূসা উঠে দাথন ও অবীরামের কাছে গেলেন এবং ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা তাঁর পিছনে গেলেন।
26 পরে তিনি মণ্ডলীকে বললেন, আরজ করি, তোমরা এই দুষ্ট লোকদের তাঁবুর কাছ থেকে সরে যাও, এদের কিছুই স্পর্শ করো না, পাছে এদের সমস্ত গুনাহে বিনষ্ট হও।
27 তাতে তারা কারুন, দাথন ও অবীরামের তাঁবুর চারদিক থেকে সরে গেল, আর দাথন ও অবীরাম বের হয়ে নিজ নিজ স্ত্রী, পুত্র ও শিশুদের সঙ্গে যার যার তাঁবুর দরজায় দাঁড়িয়ে রইলো।
28
পরে মূসা বললেন, মাবুদ আমাকে এ সব কাজ করতে পাঠিয়েছেন, আমি স্বেচ্ছায় করি নি, তা তোমরা এতেই জানতে পারবে।
29 সাধারণ লোকদের মৃত্যুর মত যদি এই লোকদের মৃত্যু হয়, কিংবা সাধারণ লোকের শাস্তির মত যদি এদের শাস্তি হয়, তবে মাবুদ আমাকে পাঠান নি।
30 কিন্তু মাবুদ যদি অঘটন ঘটান এবং ভূমি তার মুখ বিস্তার করে এদেরকে ও এদের সর্বস্ব গ্রাস করে, আর এরা জীবদ্দশায় পাতালে নামে, তবে এরা যে মাবুদকে অবজ্ঞা করেছে, তা তোমরা জানতে পারবে।
31
মূসার এ সব কথা বলা শেষ হওয়ামাত্র ভূমি বিদীর্ণ হল,
32 আর দুনিয়া তার মুখ খুলে তাদের, তাদের পরিজনদেরকে ও কারুনের পক্ষের সমস্ত লোককে এবং তাদের সকল সম্পত্তি গ্রাস করলো।
33 তাতে তারা ও তাদের সমস্ত পরিজন জীবদ্দশায় পাতালে নামলো এবং দুনিয়া তাদের উপরে চেপে বসলো; এভাবে তারা সমাজের মধ্য থেকে বিলুপ্ত হল।
34 আর তাদের আর্তনাদে চারদিকের সমস্ত ইসরাইল পালিয়ে গেল, কেননা তারা বললো, পাছে দুনিয়া আমাদের গ্রাস করে।
35 আর মাবুদের কাছ থেকে আগুন বের হয়ে যারা ধূপ নিবেদন করেছিল, সেই দুই শত পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করলো।
36
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
37 তুমি ইমাম হারুনের পুত্র ইলিয়াসরকে বল, সে পোড়াস্থান থেকে ঐ সমস্ত ধূপদানি উঠিয়ে নিক এবং তার আগুন দূরে ঝেড়ে ফেলুক, কেননা সেসব ধূপদানি পবিত্র।
38 আর এই গুনাহ্গারদের নিবেদিত যেসব ধূপদানি তাদের প্রাণের মূল্যে পবিত্র হয়ে গেছে, সেগুলো পিটিয়ে কোরবানগাহ্র আচ্ছাদনের জন্য পাত প্রস্তুত করা হোক, কেননা তারা মাবুদের সম্মুখে সেসব নিবেদন করেছিল। অতএব সেসব পবিত্র, আর সেসব বনি-ইসরাইলদের পক্ষে চিহ্ন হবে।
39 তাতে যারা আগুনে পুড়ে মারা গেল, তাদের নিবেদিত পিতলের ধূপদানি ইমাম ইলিয়াসর গ্রহণ করলেন এবং তা পিটিয়ে কোরবানগাহ্র আচ্ছাদনের জন্য পাত প্রস্তুত করা হল;
40 এই কাজ বনি-ইসরাইলদের স্মরণার্থে করা হল, যেন হারুন-বংশ ছাড়া অন্য গোষ্ঠীভুক্ত কোন মানুষ মাবুদের সম্মুখে ধূপ উৎসর্গ করতে কাছে না যায় এবং কারুন ও তার দলের মত না হয়; মাবুদ মূসার মাধ্যমে তাকে এরকম হুকুম দিয়েছিলেন।
41
তবুও পর দিন বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললো, তোমরাই মাবুদের লোকদেরকে হত্যা করলে।
42 আর মণ্ডলী মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে একত্র হলে তারা জমায়েত-তাঁবুর দিকে মুখ ফিরালো, আর দেখলো মেঘ তা আচ্ছাদন করেছে এবং মাবুদের মহিমা প্রত্যক্ষ হয়েছে।
43 তখন মূসা ও হারুন জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে উপস্থিত হলেন।
44 আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
45 তোমরা এই মণ্ডলীর মধ্য থেকে সরে যাও, আমি এক নিমিষে এদেরকে সংহার করবো।
46 তখন তাঁরা উবুড় হয়ে পড়লেন। আর মূসা হারুনকে বললেন, তোমার ধূপদানি নাও ও কোরবানগাহ্র উপর থেকে আগুন নিয়ে তার মধ্যে দাও এবং তাতে ধূপ দিয়ে শীঘ্র মণ্ডলীর কাছে গিয়ে তাদের জন্য কাফ্ফারা কর; কেননা মাবুদের সম্মুখ থেকে ক্রোধ বের হয়েছে, মহামারী আরম্ভ হয়ে গেছে।
47 আর মূসা যেমন বললেন, তেমনি হারুন (ধূপদানি) নিয়ে সমাজের মধ্যে দৌড়ে গেলেন; আর দেখ, লোকদের মধ্যে মহামারী আরম্ভ হয়েছিল, কিন্তু তিনি ধূপ দিয়ে লোকদের জন্য কাফ্ফারা করলেন।
48 তিনি মৃত ও জীবিত লোকদের মধ্যে দাঁড়ালেন; তাতে মহামারী নিবৃত্ত হল।
49 যারা কারুনের ব্যাপারে মারা পড়েছিলো, তারা ছাড়া আরও চৌদ্দ হাজার সাত শত লোক ঐ মহামারীতে মারা পড়লো।
50 পরে হারুন জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে মূসার কাছে ফিরে আসলেন। এভাবে মহামারী নিবৃত্ত হল।
1
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে বলে তাদের পিতৃকুল অনুসারে সমস্ত নেতার কাছ থেকে একেক পিতৃকুলের জন্য এক একটি লাঠি, এভাবে বারোটি লাঠি গ্রহণ কর; প্রত্যেকের লাঠিতে তার নাম লেখ।
3 আর লেবির লাঠিতে হারুনের নাম লেখ; কেননা তাদের একেক পিতৃকুলের নেতার জন্য এক একটি লাঠি হবে।
4 আর জমায়েত-তাঁবুতে যে স্থানে আমি তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, সেই স্থানে শরীয়ত-সিন্দুকের সম্মুখে সেসব রাখবে।
5 পরে এরকম হবে, যে ব্যক্তি আমার মনোনীত, তার লাঠি মুকুলিত হবে; এভাবে আমি তোমাদের বিরুদ্ধে বনি-ইসরাইলরা যে অনবরত বচসা করে আসছে তা নিবৃত্ত করবো।
6
পরে মূসা বনি-ইসরাইলকে এসব বললে তাদের গোষ্ঠীর নেতৃবর্গ তাদের পিতৃকুল অনুসারে প্রত্যেক নেতার জন্য এক একটি লাঠি হিসেবে বারোটি লাঠি তাঁকে দিলেন এবং হারুনের লাঠিও তাঁদের মধ্যে ছিল।
7 তাতে মূসা ঐ সমস্ত লাঠি নিয়ে সাক্ষ্য-তাঁবুতে মাবুদের সম্মুখে রাখলেন।
8
পরদিন মূসা সাক্ষ্য-তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, আর দেখ, লেবি গোষ্ঠীর হারুনের লাঠিটি অঙ্কুরিত, মুকুলিত ও পুষ্পিত হয়ে বাদাম ফল ধরেছে।
9 তখন মূসা মাবুদের সম্মুখ থেকে ঐ সমস্ত লাঠি বের করে সমস্ত বনি-ইসরাইলের সাক্ষাতে আনলেন এবং তাঁরা তা দেখে প্রত্যেকে যার যার লাঠি গ্রহণ করলেন।
10 পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি হারুনের লাঠি পুনর্বার শরীয়ত-সিন্দুকের সম্মুখে রাখ, তা বিদ্রোহী সন্তানদের সাবধান করার চিহ্ন হিসেবে থাকবে; এভাবে আমার বিরুদ্ধে এদের বচসা নিবৃত্ত কর, যেন এরা মারা না পড়ে।
11 মূসা তা করলেন; মাবুদ তাঁকে যেরকম হুকুম দিয়েছিলেন, তিনি সেরকমই করলেন।
12
আর বনি-ইসরাইল মূসাকে বললো, দেখ, আমরা মারা পড়বো, বিনষ্ট হব, সকলেই বিনষ্ট হবো।
13 কারণ যে কেউ মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর কাছে যাবে, সেই মারা পড়বে। তবে আমরা কি সকলেই মারা পড়বো?
1
তখন মাবুদ হারুনকে বললেন, তুমি ও তোমার সঙ্গে তোমার পুত্ররা ও পিতৃকুল, তোমরা পবিত্র স্থানের বিরুদ্ধে ঘটিত অপরাধ বহন করবে এবং তুমি ও তোমার সঙ্গে তোমার পুত্ররা তোমাদের ইমাম-পদ-ঘটিত অপরাধ বহন করবে।
2 আর তোমার ভাইয়েরা, যে লেবি বংশ তোমার পিতৃবংশ, তাদেরকেও সঙ্গে আনবে, তারা তোমার সঙ্গে যোগ দিয়ে তোমার পরিচর্যা করবে; কিন্তু তুমি ও তোমার পুত্ররা, তোমরা সাক্ষ্য-তাঁবুর সম্মুখে থাকবে।
3 আর তারা তোমার প্রতি কর্তব্য পালন করবে ও তাঁবুর সমস্ত করণীয় কর্তব্য পালন করবে; কিন্তু তাদের ও তোমাদের যেন মৃত্যু না হয়, এজন্য তারা পবিত্র স্থানের পাত্র ও কোরবানগাহ্র কাছে যাবে না।
4 তারা তোমার সঙ্গে যোগ দিয়ে জমায়েত-তাঁবুর সেবাকর্মের জন্য করণীয় সমস্ত কর্তব্য পালন করবে কিন্তু অন্য গোষ্ঠীভুক্ত কেউ তোমাদের কাছে যাবে না।
5 আর বনি-ইসরাইলদের প্রতি যেন আর ক্রোধ উপস্থিত না হয়, সেজন্য তোমরা পবিত্র স্থান ও কোরবানগাহ্র প্রতি তোমাদের দায়িত্ব পালন করবে।
6 আর দেখ, বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে আমি তোমাদের ভাই লেবীয়দেরকে গ্রহণ করলাম; তারা তোমাদের জন্য দান-রূপে জমায়েত-তাঁবুর সেবাকর্ম করার জন্য মাবুদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে।
7 অতএব তুমি ও তোমার সঙ্গে তোমার পুত্ররা তোমরা কোরবানগাহ্ সম্পর্কীয় সমস্ত বিষয়ে ও পর্দার ভিতরের বিষয়ে নিজের ইমামের কাজ পালন ও সেবাকর্ম করবে। আমি দানরূপে ইমাম-পদ তোমাদেরকে দিলাম, কিন্তু অন্য গোষ্ঠীভুক্ত যে লোক নিকটবর্তী হবে, তার প্রাণদণ্ড হবে।
8
আর মাবুদ হারুনকে বললেন, দেখ, আমার উত্তোলনীয় উপহারের, এমন কি, বনি-ইসরাইলদের সমস্ত পবিত্রীকৃত দ্রব্যের ভার আমি তোমাকে দিলাম; অভিষেকের চিরস্থায়ী অধিকার হিসাবেই তোমাকে ও তোমার সন্তানদেরকে সেসব দিলাম।
9 অগ্নিকৃত অতি পবিত্র উপহারের মধ্যে এসব তোমার হবে; আমার উদ্দেশে তাদের আনা প্রত্যেক শস্য-উৎসর্গ, প্রত্যেক গুনাহ্-কোরবানী ও দোষের জন্য কোরবানীগুলো তোমার ও তোমার পুত্রদের পক্ষে অতি পবিত্র হবে।
10 তুমি তা অতি পবিত্র বস্তু বলে ভোজন করবে, প্রত্যেক পুরুষ তা ভোজন করবে, তা তোমার পক্ষে পবিত্র হবে।
11 এ সমস্তও তোমার হবে; বনি-ইসরাইলদের দানরূপ উত্তোলনীয় উপহার, তাদের সমস্ত দোলনীয় উপহার; আমি চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে সেসব তোমাকে ও তোমার পুত্রকন্যাদেরকে দিলাম; তোমার কুলের প্রত্যেক পাক-সাফ ব্যক্তি তা ভোজন করবে।
12 তারা মাবুদের উদ্দেশে তাদের সকল উত্তম তেল, আঙ্গুর-রস ও গম প্রভৃতি যে যে অগ্রিমাংশ কোরবানী করে, তা আমি তোমাকে দিলাম।
13 তাদের দেশে উৎপন্ন সমস্ত রকমের প্রথম-পাকা ফলের যে অংশ তারা মাবুদের উদ্দেশে উপস্থিত করে, সেসব তোমার হবে।
14 ইসরাইলের মধ্যে শর্তহীনভাবে উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলো তোমার হবে।
15 মানুষ হোক কিংবা পশু, যাবতীয় প্রাণীর মধ্যে গর্ভ উন্মোচক সকল সন্তানকে তারা মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করবে, সে সবই তোমার হবে, কিন্তু মানুষের প্রথম-জাতকে তুমি অবশ্য মুক্ত করবে এবং নাপাক পশুর প্রথমজাতকেও মুক্ত করবে।
16 তুমি এক মাস বয়স থেকে আরম্ভ করে মুক্তি যোগ্য সকলকে মুক্ত করবে, তোমার নিরূপিত মূল্যে পবিত্র স্থানের বিশ গেরা পরিমিত শেকল অনুসারে পাঁচ শেকল রূপা দেবে।
17 কিন্তু গরুর প্রথমজাত কিংবা ভেড়ার প্রথমজাত কিংবা ছাগলের প্রথম-জাতকে তুমি মুক্ত করবে না, তারা পবিত্র; তুমি কোরবানগাহ্র উপরে তাদের রক্ত ছিটিয়ে দেবে এবং মাবুদের উদ্দেশে খোশবু-যুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে তাদের চর্বি পুড়িয়ে ফেলবে;
18 পরে দোলনীয় বুকের গোশ্ত ও ডান ঊরু যেমন তোমার, তেমনি তাদের মাংসও তোমার হবে।
19 বনি-ইসরাইল যে সমস্ত পবিত্র বস্তু উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করে, সেসব আমি চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে তোমাকে ও তোমার পুত্রকন্যাদেরকে দিলাম; তোমার ও তোমার বংশের পক্ষে এটি মাবুদের সাক্ষাতে চিরস্থায়ী লবণ-নিয়ম।
20 পরে মাবুদ হারুনকে বললেন, তাদের ভূমিতে তোমার কোন অধিকার থাকবে না ও তাদের মধ্যে তোমার কোন অংশ থাকবে না; বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমিই তোমার অংশ ও অধিকার।
21
আর দেখ, লেবীয়রা যে সেবাকর্ম করছে, জমায়েত-তাঁবু সম্বন্ধীয় তাদের সেই সেবাকর্মের বেতনরূপে আমি তাদের অধিকার হিসেবে ইসরাইলের মধ্যে সমস্ত দশ ভাগের এক ভাগ দিলাম।
22 আর বনি-ইসরাইল গুনাহের দায়ে যেন না মরে, এজন্য তারা আর জমায়েত-তাঁবুর কাছে আসবে না।
23 কিন্তু লেবীয়েরাই জমায়েত-তাঁবু সম্বন্ধীয় সেবাকর্ম করবে এবং তারা নিজ নিজ অপরাধ বহন করবে, এ-ই তোমাদের পুরুষানুক্রমিক চিরস্থায়ী নিয়ম; বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তারা কোন অধিকার পাবে না।
24 কেননা বনি-ইসরাইল মাবুদের উদ্দেশে উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে যে দশ ভাগের এক ভাগ কোরবানী করে, তা আমি লেবীয়দেরকে অধিকার হিসেবে দিলাম; এজন্য তাদের উদ্দেশে বললাম, বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তারা কোন অধিকার পাবে না।
25
আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
26 আবার তুমি লেবীয়দেরকে বলবে, আমি তোমাদের অধিকার হিসেবে বনি-ইসরাইল থেকে যে দশ ভাগের এক ভাগ তোমাদেরকে দিলাম, তা যখন তোমরা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করবে, সেই সময় তোমরা মাবুদের জন্য উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে সেই দশমাংশের দশ ভাগের এক ভাগ নিবেদন করবে।
27 তোমাদের উত্তোলনীয় উপহার খামারের শস্যের মত ও পরিপূর্ণ আঙ্গুর-কুণ্ডের মত তোমাদের পক্ষে ধরা হবে।
28 এভাবে, তোমরা বনি-ইসরাইল থেকে যে সমস্ত দশ ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করবে, তা থেকে তোমরাও মাবুদের উদ্দেশে উত্তোলনীয় উপহার নিবেদন করবে এবং তা থেকে মাবুদের সেই উত্তোলনীয় উপহার ইমাম হারুনকে দেবে।
29 তোমরা যে সমস্ত দান পেয়েছ তা থেকে তোমরা মাবুদের সেই উত্তোলনীয় উপহার, তার সমস্ত উত্তম বস্তু থেকে তার পবিত্র অংশ, নিবেদন করবে।
30 অতএব তুমি তাদেরকে বলবে, তোমরা যখন তা থেকে উত্তম বস্তু উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে নিবেদন করবে, সেই সময় তা লেবীয়দের পক্ষে খামারের উৎপন্ন দ্রব্য ও আঙ্গুরকুণ্ডের উৎপন্ন দ্রব্য বলে ধরা হবে।
31 আর তোমরা ও তোমাদের পরিজনেরা সমস্ত জায়গায় তা ভোজন করবে; কেননা তা জমায়েত-তাঁবুতে পরিচর্যার জন্য তোমাদের বেতনস্বরূপ।
32 আর তা থেকে সেই উত্তম বস্তু উপহার হিসেবে নিবেদন করলে তোমরা তদঘটিত গুনাহ্ বহন করবে না এবং বনি-ইসরাইলদের পবিত্র বস্তু নাপাক করবে না ও মারা পড়বে না।
1
মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
2 মাবুদ যে কিতাবী নিয়ম হুকুম করেছেন তা হচ্ছে এই: বনি-ইসরাইলকে বল, তারা নিখুঁত ও নিষ্কলঙ্ক, জোয়াল বহন করে নি এমন একটি লাল রংয়ের গাভী তোমার কাছে আনুক।
3 পরে তোমরা ইমাম ইলিয়াসরকে সেই গাভী দেবে এবং সে তাকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাবে এবং তার সম্মুখে সেটি জবেহ্ করা যাবে।
4 পরে ইমাম ইলিয়াসর তার আঙ্গুল দিয়ে তার কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখে সাতবার সেই রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
5 আর তার দৃষ্টিগোচরে সেই গাভী পুড়িয়ে দেওয়া যাবে; তার গোময়ের সঙ্গে চামড়া, গোশ্ত ও রক্ত পুড়িয়ে দেওয়া যাবে।
6 পরে ইমাম এরস কাঠ, এসোব ও লাল রংয়ের লোম নিয়ে ঐ গোদাহের আগুনের মধ্যে ফেলে দেবে।
7 পরে ইমাম তার পোশাক ধুয়ে নেবে ও শরীর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে; পরে শিবিরে প্রবেশ করতে পারবে; তবুও ইমাম সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
8 আর যে ব্যক্তি সেই গাভী পুড়িয়ে দেবে, সেও তার কাপড় ধুয়ে ফেলবে, শরীর ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
9 পরে কোন পাক-পবিত্র ব্যক্তি ঐ গাভীর ভস্ম সংগ্রহ করে শিবিরের বাইরে কোন পাক-পবিত্র স্থানে রাখবে; তা বনি-ইসরাইলদের মণ্ডলীর পাক-পবিত্রকরণ পানির জন্য রাখা যাবে; এটি গুনাহ্-কোরবানী।
10 আর যে ব্যক্তি ঐ গাভীর ভস্ম সংগ্রহ করবে, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে, এটি বনি-ইসরাইল এবং তাদের মধ্যে প্রবাসী বিদেশীর পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম হবে।
11
যে কেউ কোন মানুষের লাশ স্পর্শ করে, সে সাত দিন নাপাক থাকবে।
12 সে তৃতীয় দিন ও সপ্তম দিনে ঐ পানি দ্বারা নিজেকে পাক-সাফ করার পরে পাক-সাফ হবে; কিন্তু যদি তৃতীয় দিন ও সপ্তম দিনে নিজেকে পাক-সাফ না করে, তবে পাক-সাফ হবে না।
13 যে কেউ কোন মানুষের লাশ স্পর্শ করার পরে নিজেকে যদি পাক-সাফ না করে, সে মাবুদের শরীয়ত-তাঁবু নাপাক করে। সেই লোক ইসরাইলের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে; কেননা তার উপরে পাক-পবিত্রকরণ পানি ছিটানো হয় নি, এজন্য সে নাপাক হবে; তার নাপাকীতা দূর হয় নি।
14
কোন মানুষ যখন তাঁবুর মধ্যে মারা যায় তখন এই হবে ব্যবস্থা: সেই তাঁবুতে প্রবেশকারী সমস্ত লোক এবং সেই তাঁবুর মধ্যস্থিত সমস্ত লোক সাত দিন নাপাক থাকবে।
15 আর যাবতীয় খোলা পাত্র ও সুতায় বাধা ঢাকনিবিহীন পাত্র নাপাক হবে।
16 আর যে কেউ ক্ষেতে পড়ে থাকা তলোয়ার দ্বারা নিহত কিংবা মৃত লোকের দেহ কিংবা মানুষের অস্থি কিংবা কবর স্পর্শ করে, সে সাত দিন নাপাক থাকবে।
17 লোকেরা সেই নাপাক ব্যক্তির জন্য গুনাহ্-কোরবানীর পোড়ানো কিঞ্চিৎ ভস্ম নিয়ে পাত্রে রেখে তার উপরে স্রোতের পানি দেবে।
18 পরে কোন পাক-সাফ ব্যক্তি এসব নিয়ে সেই পানিতে ডুবিয়ে ঐ তাঁবুর উপরে ও সেই স্থানের সমস্ত সামগ্রী ও সমস্ত প্রাণীর উপরে এবং অস্থি কিংবা নিহত বা মৃত লোকের দেহ কিংবা কবর স্পর্শকারী ব্যক্তির উপরে তা ছিটিয়ে দেবে।
19 আর ঐ পাক-সাফ ব্যক্তি তৃতীয় দিন ও সপ্তম দিনে নাপাক ব্যক্তির উপরে সেই পানি ছিটিয়ে দেবে; পরে সপ্তম দিনে সে তাকে পাক-পবিত্র করবে। ঐ ব্যক্তি নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে ও গোসল করবে; পরে সন্ধ্যাবেলা পাক-সাফ হবে।
20 কিন্তু যে ব্যক্তি নাপাক হয়ে নিজেকে পাক-সাফ না করে, সে সমাজের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে, কেননা সে মাবুদের এবাদতখানা নাপাক করেছে; তার উপরে পাক-পবিত্রকরণ পানি ছিটানো হয় নি, সে নাপাক।
21
এই তাদের পালনীয় চিরস্থায়ী নিয়ম হবে এবং যে কেউ সেই পাক-পবিত্রকরণ পানি ছিটিয়ে দেয়, সে নিজের কাপড় ধুয়ে ফেলবে। যে জন সেই পাক-পবিত্রকরণ পানি স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
22 আর সেই নাপাক ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করে, তা নাপাক হবে এবং যে প্রাণী তা স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাপাক থাকবে।
1
আর বনি-ইসরাইলরা, অর্থাৎ সমস্ত মণ্ডলী প্রথম মাসে সীন মরুভূমিতে উপস্থিত হল এবং লোকেরা কাদেশে বাস করলো; আর সেই স্থানে মরিয়ম ইন্তেকাল করলো ও সেই স্থানে তাঁকে দাফন করা হল।
2
সেই স্থানে মণ্ডলীর জন্য পানি ছিল না; তাতে লোকেরা মূসা ও হারুনের বিরুদ্ধে একত্র হল।
3 আর তারা মূসার সঙ্গে ঝগড়া করে বললো, হায়, আমাদের ভাইয়েরা যখন মাবুদের সম্মুখে মারা গেল, তখন কেন আমাদের মৃত্যু হল না?
4 আর তোমরা আমাদের ও আমাদের পশুদের মৃত্যুর জন্য মাবুদের সমাজকে কেন এই মরুভূমিতে আনলে?
5 এই কুস্থানে আনবার জন্য মিসর থেকে আমাদের কেন বের করে নিয়ে আসলে? এই স্থানে কোন শস্য হয় না, ডুমুর বা আঙ্গুর বা ডালিম হয় না এবং পান করার পানিও নেই।
6 তখন মূসা ও হারুন সমাজের সম্মুখ থেকে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে গিয়ে উবুড় হয়ে পড়লেন; আর মাবুদের মহিমা তাঁদের দৃষ্টিগোচর হল।
7 পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
8 তুমি লাঠি নাও এবং তুমি ও তোমার ভাই হারুন মণ্ডলীকে একত্র করে তাদের সাক্ষাতে ঐ শৈলকে বল, তাতে সে পানি দেবে; এভাবে তুমি তাদের জন্য শৈল থেকে পানি বের করে মণ্ডলী ও তাদের পশুগুলোকে পান করাবে।
9
তখন মূসা মাবুদের হুকুম অনুসারে তাঁর সম্মুখ থেকে ঐ লাঠি নিলেন।
10 আর মূসা ও হারুন সেই শৈলের সম্মুখে সমাজকে একত্র করে তাদের বললেন, হে বিদ্রোহীরা, শোন; আমরা তোমাদের জন্য কি এই শৈল থেকে পানি বের করবো?
11 পরে মূসা তার হাত তুলে ঐ লাঠি দ্বারা শৈলে দু’বার আঘাত করলেন, তাতে প্রচুর পানি বের হল এবং মণ্ডলী ও তাদের সমস্ত পশু পান করলো।
12
পরে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন, তোমরা বনি-ইসরাইলদের সাক্ষাতে আমাকে পবিত্র বলে মান্য করলে না ও আমার কথায় বিশ্বাস করলে না, এজন্য আমি তাদেরকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশে তোমরা এই লোকদেরকে প্রবেশ করাতে পারবে না।
13 সেই পানির নাম মরীবা (ঝগড়া); যেহেতু বনি-ইসরাইল মাবুদের সঙ্গে ঝগড়া করলো, আর তিনি তাদের মধ্যে পবিত্ররূপে মান্য হলেন।
14
পরে মূসা কাদেশ থেকে ইদোমীয় বাদশাহ্র কাছে দূতের মাধ্যমে বলে পাঠালেন, তোমার ভাই ইসরাইল বলছে, আমাদের যে সমস্ত কষ্ট হয়েছে, তা তুমি জান।
15 আমাদের পূর্বপুরুষেরা মিসরে গিয়েছিলেন, সেই মিসরে আমরা অনেক দিন বাস করেছিলাম; পরে মিসরীয়েরা আমাদের প্রতি ও আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি দুর্ব্যবহার করতে লাগল।
16 তখন আমরা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলাম, আর তিনি আমাদের আর্তনাদ শুনলেন এবং ফেরেশতা প্রেরণ করে আমাদের মিসর থেকে বের করে আনলেন; আর দেখ, আমরা তোমার দেশের প্রান্তস্থিত কাদেশ নগরে আছি।
17 আমি আরজ করি, তুমি তোমার দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে দাও; আমরা শস্য ক্ষেত বা আঙ্গুর ক্ষেত দিয়ে যাব না, কূপের পানিও পান করবো না; কেবল রাজপথ দিয়ে যাব; যতদিন তোমার সীমা অতিক্রম না করি, ততদিন ডানে বা বামে ফিরব না।
18
ইদোম তাঁকে বললো, তুমি আমার (দেশের) মধ্য দিয়ে যেতে পারবে না, গেলে আমি তলোয়ার নিয়ে তোমার বিরুদ্ধে বের হব।
19 তখন বনি-ইসরাইল তাকে বললো, আমরা রাজপথ দিয়ে যাব; আমরা কিংবা আমাদের সমস্ত পশু, আমরা যদি তোমার পানি পান করি, তবে তার মূল্য দেব; আর কিছু নয়, কেবল আমাদেরকে পায়ে হেঁটে যেতে দাও।
20 সে জবাব দিল, তোমরা যেতে পারবে না। পরে ইদোম অনেক লোক সঙ্গে নিয়ে মহাবিক্রমে তাদের বিরুদ্ধে বের হল।
21 এভাবে ইদোম ইসরাইলকে তার সীমার মধ্য দিয়ে যেতে দিতে অসম্মত হল; ফলে ইসরাইল অন্য পথে গমন করলো।
22
বনি-ইসরাইল অর্থাৎ সমস্ত মণ্ডলী কাদেশ থেকে প্রস্থান করে হোর পর্বতে উপস্থিত হল,
23 তখন ইদোম দেশের সীমার নিকটস্থ হোর পর্বতে মাবুদ মূসা ও হারুনকে বললেন,
24 হারুনকে তার পূর্বপুরুষদের কাছে চলে যেতে হবে; কেননা আমি বনি-ইসরাইলকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশে সে প্রবেশ করবে না; কারণ মরীবা পানির কাছে তোমরা আমার হুকুম অমান্য করেছিলে।
25 তুমি হারুন ও তার পুত্র ইলিয়াসরকে হোর পর্বতের উপরে নিয়ে যাও।
26 হারুনকে তার পোশাক ত্যাগ করিয়ে তার পুত্র ইলিয়াসরকে তা পরাও; হারুন সেই স্থানে নিজের পূর্বপুরুষদের কাছে চলে যাবে, সেখানে তার মৃত্যু হবে।
27 তখন মূসা মাবুদের হুকুম অনুযায়ী কাজ করলেন; তাঁরা সমস্ত মণ্ডলীর সাক্ষাতে হোর পর্বতে উঠলেন।
28 পরে মূসা হারুনকে তাঁর পোশাক ত্যাগ করিয়ে তাঁর পুত্র ইলিয়াসরকে তা পরালেন এবং সেই পর্বত শৃঙ্গে হারুন ইন্তেকাল করলেন; পরে মূসা ও ইলিয়াসর পর্বত থেকে নেমে আসলেন।
29 আর যখন সমস্ত মণ্ডলী দেখলো যে হারুন ইন্তেকাল করেছেন, তখন সমস্ত ইসরাইল-কুল হারুনের জন্য ত্রিশ দিন পর্যন্ত শোক করলো।
1
আর দক্ষিণ প্রদেশ-নিবাসী কেনান বংশীয় অরাদের বাদশাহ্ শুনতে পেলেন যে, ইসরাইল অথারীমের পথ দিয়ে আসছে; তখন তিনি ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের কতগুলো লোক ধরে বন্দী করলেন।
2 তাতে ইসরাইল মাবুদের উদ্দেশে মানত করে বললো, যদি তুমি এই লোকদেরকে আমার হাতে তুলে দাও, তবে আমি তাদের সমস্ত নগর নিঃশেষে বিনষ্ট করবো।
3 তখন মাবুদ ইসরাইলের ফরিয়াদ শুনে সেই কেনানীয়দেরকে তাদের হাতে তুলে দিলেন; তাতে ইসরাইল তাদের ও তাদের সমস্ত নগর নিঃশেষে বিনষ্ট করলো এবং সেই স্থানের নাম রাখল হর্মা (বিনষ্ট)।
4
পরে তারা হোর পর্বত থেকে প্রস্থান করে ইদোম দেশ প্রদক্ষিণের জন্য লোহিত সাগরের দিকে যাত্রা করলো; পথের মধ্যে লোকেরা আবার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো।
5 লোকেরা আল্লাহ্ ও মূসার বিরুদ্ধে বলতে লাগল, তোমরা কেন আমাদেরকে মিসর থেকে বের করে আনলে, আমরা যেন মরুভূমিতে মারা যাই এজন্য কি? রুটি নেই, পানিও নেই; আর এই খাদ্যে আমাদের অরুচি ধরে গেছে।
6 তখন মাবুদ লোকদের মধ্যে জ্বালাদায়ী সাপ পাঠিয়ে দিলেন; তারা লোকদেরকে কামড় দিলে ইসরাইলের অনেক লোক মারা পড়লো।
7 আর লোকেরা মূসার কাছে এসে বললো, মাবুদের ও তোমার বিরুদ্ধে কথা বলে আমরা গুনাহ্ করেছি; তুমি মাবুদের কাছে মুনাজাত কর, যেন তিনি আমাদের কাছ থেকে এসব সাপ দূর করেন। তাতে মূসা লোকদের জন্য মুনাজাত করলেন।
8 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি একটি জ্বালাদায়ী সাপের মূর্তি তৈরি করে নিশানের উপরে রাখ; সাপে কামড় দিয়েছে এমন যে কোন ব্যক্তি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলো সে বাঁচবে।
9 তখন মূসা ব্রোঞ্জের একটি সাপের মূর্তি তৈরি করে নিশানের উপরে রাখলেন; তাতে এরকম হল, সাপ কোন মানুষকে কামড় দিলে যখন সে ঐ ব্রোঞ্জের সাপের মূর্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করতো তখন বাঁচতো।
10
পরে বনি-ইসরাইল যাত্রা করে ওবোতে শিবির স্থাপন করলো।
11 আর ওবোৎ থেকে যাত্রা করে সূর্যোদয়ের দিকে মোয়াবের সম্মুখস্থিত মরুভূমিতে ইয়ী-অবারীমে শিবির স্থাপন করলো।
12 সেখান থেকে যাত্রা করে সেরদ উপত্যকাতে শিবির স্থাপন করলো।
13 সেখান থেকে যাত্রা করে আমোরীয়দের দেশের সীমা থেকে বের হয়ে অর্ণোনের অন্য পারে মরুভূমিতে শিবির স্থাপন করলো; কেননা মোয়াবের ও আমোরীয়দের মধ্যবর্তী অর্ণোন মোয়াবের সীমা।
14 এজন্য মাবুদের যুদ্ধ-বিবরণী কিতাবে উক্ত আছে, শূফাতে বাহেব, আর অর্ণোনের সমস্ত উপত্যকা,
15 এবং উপত্যকাগুলোর পাশের ভূমি, যা আর্ নামক লোকালয়ের অভিমুখী এবং মোয়াবের সীমার পাশে অবস্থিত।
16
সেখান থেকে তারা বের (কূপ) নামক স্থানে আসলো। এটি সেই কূপ, যার বিষয়ে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি লোকদেরকে একত্র কর, আমি তাদেরকে পানি দেব।
17 সেই সময় ইসরাইল এই গজল গাইল—
হে কূপ, উচ্ছলিত হও;
তোমরা এর উদ্দেশে গান কর;
18
এটি নেতৃবর্গের খনিত কূপ,
রাজদণ্ড ও নিজেদের লাঠি দিয়ে
লোকদের রাজপুরুষেরা এটা
খনন করেছেন।
19
পরে তারা মরুভূমি থেকে মত্তানায়,
20 মত্তানা থেকে নহলীয়েলে, নহলীয়েল থেকে বামোতে ও বামোৎ থেকে মোয়াবের উপত্যকা দিয়ে মরুভূমির অভিমুখ পিস্গা শৃঙ্গে গমন করলো।
21
আর ইসরাইল দূত পাঠিয়ে আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনকে বললো,
22 তোমার দেশের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে দাও; আমরা পথ ছেড়ে শস্য ক্ষেতে বা আঙ্গুর-ক্ষেতে প্রবেশ করবো না, কূপের পানিও পান করবো না; যতদিন তোমার সীমা পার না হই, ততদিন রাজপথ দিয়ে যাব।
23 তবুও সীহোন তার সীমার মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে যেতে দিল না; উপরন্তু সীহোন তার সমস্ত লোককে একত্র করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মরুভূমিতে বের হল এবং যহসে উপস্থিত হয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
24 তাতে ইসরাইল তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করে অর্ণোন থেকে যব্বোক পর্যন্ত অর্থাৎ অম্মোনীয়দের সীমানা পর্যন্ত তার দেশ অধিকার করলো; কারণ অম্মোনীয়দের সীমা দৃঢ় ছিল।
25 ইসরাইল ঐ সমস্ত নগর হস্তগত করলো এবং ইসরাইল আমোরীয়দের সমস্ত নগরে, হিষ্বোনে ও সেখানকার সমস্ত উপনগরে বাস করতে লাগল।
26 কেননা হিষ্বোন আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের নগর ছিল; তিনি মোয়াবের পূর্ববর্তী বাদশাহ্র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তার হাত থেকে অর্ণোন পর্যন্ত তার সমস্ত দেশ দখল করে নিয়েছিলেন।
27 এজন্য কবিরা বলেন,
তোমরা হিষ্বোনে এসো,
সীহোনের নগর নির্মিত ও সুদৃঢ় হোক;
28
কেননা হিষ্বোন থেকে আগুন,
সীহোনের নগর থেকে আগুনের শিখা
বের হয়েছে;
তা মোয়াবের আর্ নগরকে,
অর্ণোনের মালভূমির অধিপতিদের
গ্রাস করেছে।
29
হে মোয়াব, ধিক্ তোমাকে।
হে কমোশের প্রজারা, তোমরা
বিনষ্ট হলে।
সে তার পুত্রদেরকে পলাতকরূপে,
তার কন্যাদেরকে বন্দীরূপে তুলে দিল—
আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের হাতে।
30
আমরা তাদেরকে তীর মেরেছি;
হিষ্বোন দীবোন পর্যন্ত বিনষ্ট হয়েছে;
আর আমরা নোফঃ পর্যন্ত ধ্বংস করেছি,
যা মেদবা পর্যন্ত বিস্তৃত।
31
এভাবে ইসরাইল আমোরীয়দের দেশে বাস করতে লাগল।
32 পরে মূসা যাসের অনুসন্ধান করতে লোক প্রেরণ করলেন, আর তারা সেখানকার সমস্ত নগর হস্তগত করলো এবং সেখানে যে ইমোরীয়েরা ছিল, তাদেরকে অধিকারচ্যুত করলো।
33
পরে তারা ফিরে বাশনের পথ দিয়ে উঠে গেল; তাতে বাশনের বাদশাহ্ উজ ও তার সমস্ত লোক বের হয়ে তাদের সঙ্গে ইদ্রিয়ীতে যুদ্ধ করতে গেল।
34 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি এতে ভয় পেয়ো না, কেননা আমি একে, এর সমস্ত লোক ও এর দেশ তোমার হাতে তুলে দিলাম; তুমি হিষ্বোনবাসী আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের প্রতি যেমন করেছ, এর প্রতি সেরকম করবে।
35 পরে তারা তাকে, তার পুত্রদের ও তার সমস্ত লোককে আঘাত করলো, আর শেষ পর্যন্ত তাঁর আর কেউ বেঁচে রইল না। তারা তার দেশও অধিকার করে নিল।
1
পরে বনি-ইসরাইলরা যাত্রা করে জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডানের ওপারে মোয়াবের উপত্যকায় শিবির স্থাপন করলো।
2
আর ইসরাইল আমোরীয়দের প্রতি যা কিছু করেছিল, সেসব সিপ্পোরের পুত্র বালাক দেখেছিলেন।
3 বনি-ইসরাইলরা সংখ্যায় অনেক ছিল বলে মোয়াব ভীষণ ভয় পেল; তাদের দেখে মোয়াবীয়দের হৃদয় ভয়ে গলে গেল।
4 পরে মোয়াব মাদিয়ানের প্রাচীন লোকদের বললো, গরু যেমন মাঠের ঘাস খেয়ে শেষ করে দেয়, তেমনি এই জন-সমাজ আমাদের চারদিকের সমস্ত কিছুই খেয়ে শেষ করে দেবে। সেই সময় সিপ্পোরের পুত্র বালাক মোয়াবের বাদশাহ্ ছিলেন।
5 অতএব তিনি বিয়োরের পুত্র বালামকে ডেকে আনতে তার স্বজাতীয় লোকদের দেশে (ফোরাত) নদী তীরে অবস্থিত পাথোর নগরে দূত পাঠিয়ে তাকে বললেন, দেখুন, মিসর থেকে এক জাতি বের হয়ে এসেছে, দেখুন, তারা ভূতল আচ্ছন্ন করে আমার সম্মুখে অবস্থান করেছে।
6 এখন নিবেদন করি, আপনি এসে আমার জন্য সেই লোকদের বদদোয়া দিন; কেননা আমার চেয়ে তারা বলবান। হয় তো আমি তাদেরকে আঘাত করে দেশ থেকে দূর করে দিতে পারব; কেননা আমি জানি আপনি যাকে দোয়া করেন সে দোয়া লাভ করে ও যাকে বদদোয়া দেন সে বদদোয়াগ্রস্ত হয়।
7
পরে মোয়াবের প্রাচীন ও মাদিয়ানের প্রাচীন ব্যক্তিবর্গ মন্ত্রের পুরস্কার হাতে নিয়ে প্রস্থান করলো এবং বালামের কাছে উপস্থিত হয়ে বালাকের কথা তাকে বললো।
8 সে তাদেরকে বললো, তোমরা এই স্থানে রাত্রি যাপন কর; পরে মাবুদ আমাকে যা বলবেন, তদনুযায়ী আমি তোমাদেরকে বলবো; তাতে মোয়াবের কর্মকর্তারা বালামের সঙ্গে রাত্রিবাস করলো।
9 পরে আল্লাহ্ বালামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমার সঙ্গে এই লোকেরা কারা?
10 তাতে বালাম আল্লাহ্কে বললো, মোয়াবের বাদশাহ্ সিপ্পোরের পুত্র বালাক আমার কাছে বলে পাঠিয়েছেন;
11 দেখ, মিসর থেকে বের হয়ে আসা ঐ জাতি ভূতল আচ্ছন্ন করেছে। এখন তুমি এসে আমার পক্ষ হয়ে তাদেরকে বদদোয়া দাও, হয়তো আমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরকে দূর করে দিতে পারবো।
12 তাতে আল্লাহ্ বালামকে বললেন, তুমি তাদের সঙ্গে যেও না, সেই জাতিকে বদদোয়া দিও না, কেননা তারা দোয়াযুক্ত।
13 পরে বালাম খুব ভোরে উঠে বালাকের কর্মকর্তাদেরকে বললো, তোমরা স্বদেশে চলে যাও, কেননা তোমাদের সঙ্গে আমার যাত্রায় মাবুদ অসম্মত হয়েছেন।
14 তাতে মোয়াবের কর্মকর্তারা উঠে বালাকের কাছে গিয়ে বললো, আমাদের সঙ্গে আসতে বালাম অসম্মত হয়েছেন।
15
পরে বালাক আবার তাদের চেয়ে বহুসংখ্যক ও সম্ভ্রান্ত অন্য কর্মকর্তাদেরকে প্রেরণ করলেন।
16 তারা বালামের কাছে এসে তাকে বললো, সিপ্পোরের পুত্র বালাক এই কথা বলেন, আরজ করি, আমার কাছে আসতে আপনি কোনমতেই দ্বিধা করবেন না।
17 কেননা আমি আপনাকে অতিশয় সম্মানিত করবো; আপনি আমাকে যা যা বলবেন, আমি সবই করবো। অতএব আরজ করি, আপনি এসে আমার পক্ষে সেই লোকদেরকে বদদোয়া দিন।
18 তখন বালাম বালাকের গোলামদের জবাব দিল, যদি বালাক রূপা ও সোনায় পরিপূর্ণ তার বাড়িখানা আমাকে দেন, তবুও আমি অল্প বা বেশি কিছু করার জন্য আমার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম লঙ্ঘন করতে পারব না।
19 এখন আরজ করি, তোমরাও এই স্থানে রাত্রি যাপন কর, মাবুদ আমাকে আবার যা বলবেন তা আমি জেনে নেবো।
20 পরে আল্লাহ্ রাতের বেলা বালামের কাছে এসে তাকে বললেন, ঐ লোকেরা যদি তোমাকে ডাকতে এসে থাকে, তুমি উঠ, তাদের সঙ্গে যাও; কিন্তু আমি তোমাকে যা বলবো, কেবল তা-ই তুমি করবে।
21 তাতে বালাম খুব ভোরে উঠে তার গাধী সাজিয়ে মোয়াবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গমন করলো।
22
পরে তার গমনে আল্লাহ্র ক্রোধ প্রজ্বলিত হল এবং মাবুদের ফেরেশতা তার পথ অবরোধ করে পথের মধ্যে দাঁড়ালেন। সে তার গাধীতে চড়ে যাচ্ছিল এবং তার দুই জন গোলাম তার সঙ্গে ছিল।
23 সেই গাধী দেখলো, মাবুদের ফেরেশতা উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। অতএব গাধী পথ ছেড়ে ক্ষেতে নামলো; তাতে বালাম গাধীকে পথে আনবার জন্য প্রহার করলো।
24 পরে মাবুদের ফেরেশতা দু’টি আঙ্গুর-ক্ষেতের গলিপথে দাঁড়ালেন, এই পাশে প্রাচীর এবং অন্য পাশে প্রাচীর ছিল।
25 তখন গাধীটি মাবুদের ফেরেশতাকে দেখে প্রাচীরে গা ঘেঁষে গেল, আর প্রাচীরে বালামের পায়ে ঘর্ষণ লাগল; তাতে সে আবার তাকে প্রহার করলো।
26 পরে মাবুদের ফেরেশতা আরও কিঞ্চিৎ অগ্রসর হয়ে, ডানে বা বামে ফিরবার পথ নেই, এমন একটি সঙ্কীর্ণ স্থানে দাঁড়ালেন।
27 তখন গাধীটি মাবুদের ফেরেশতাকে দেখে নিচে ভূমিতে বসে পড়লো; তাতে বালামের ক্রোধ প্রজ্বলিত হলে সে গাধীটিকে লাঠি দিয়ে প্রহার করলো।
28 তখন মাবুদ গাধীটির মুখ খুলে দিলেন এবং সে বালামকে বললো, আমি তোমার কি করলাম যে, তুমি তিনবার আমাকে প্রহার করলে?
29 বালাম গাধীটিকে বললো, তুমি আমাকে বিদ্রূপ করেছ; আমার হাতে যদি তলোয়ার থাকতো, তবে আমি এখনই তোমাকে হত্যা করতাম।
30 পরে গাধী বালামকে বললো, তুমি জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত যার উপরে চড়ে থাক, আমি কি তোমার সেই গাধী নই? আমি কি তোমার প্রতি এমন ব্যবহার করে থাকি? সে বললো, না।
31
তখন মাবুদ বালামের চোখ খুলে দিলেন, তাতে সে দেখলো, মাবুদের ফেরেশতা উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন; তখন সে মাথা নত করে উবুড় হয়ে পড়লো।
32 তখন মাবুদের ফেরেশতা তাকে বললেন, তুমি তিনবার তোমার গাধীটিকে কেন প্রহার করলে? দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ হিসেবে বের হয়েছি, কেননা আমার সাক্ষাতে তুমি বিপথে যাচ্ছ;
33 আর গাধীটি আমাকে দেখে এই তিনবার আমার সম্মুখ থেকে ফিরলো; সে যদি আমার সম্মুখ থেকে না ফিরতো, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাকে হত্যা করতাম, আর ওকে জীবিত রাখতাম।
34 তাতে বালাম মাবুদের ফেরেশতাকে বললো, আমি গুনাহ্ করেছি; কেননা আপনি যে আমার বিপরীতে পথে দাঁড়িয়ে আছেন, তা আমি বুঝতে পারি নি, কিন্তু এখন যদি এতে আপনার অসন্তোষ হয়, তবে আমি ফিরে যাই।
35 তাতে মাবুদের ফেরেশতা বালামকে বললেন, ঐ লোকদের সঙ্গে যাও, কিন্তু আমি যে কথা তোমাকে বলবো, তুমি কেবল তা-ই বলবে। পরে বালাম বালাকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গমন করলো।
36
বালাম এসেছে শুনে বালাক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মোয়াবের নগরে গমন করলেন। সেই নগরটি দেশের সীমার প্রান্তস্থিত অর্ণোনের সীমায় অবস্থিত।
37 আর বালাক বালামকে বললেন, আমি আপনাকে ডেকে আনতে কি যথাযথ সম্মানপূর্বক লোক পাঠাই নি? আপনি আমার কাছে কেন আসেন নি? আপনাকে সম্মানিত করতে আমি কি সত্যিই অসমর্থ?
38 তাতে বালাম বালাককে বললো, দেখুন, আমি আপনার কাছে আসলাম, কিন্তু এখনও কোন কথা বলার কি আমার ক্ষমতা আছে? আল্লাহ্ আমার মুখে যে কালাম দেবেন, শুধু তা-ই বলবো।
39 পরে বালাম বালাকের সঙ্গে গমন করলো, আর তাঁরা কিরিয়ৎ হুষোতে উপস্থিত হলেন।
40 আর বালাক কতকগুলো গরু ও ভেড়া জবেহ্ করে বালাম ও তার সঙ্গী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
1
পরে খুব ভোরে বালাক বালামকে নিয়ে গিয়ে বালের উচ্চস্থলীতে উঠলেন। সেই স্থান থেকে সে (ইসরাইল) জাতির অংশ বিশেষ দেখতে পেল। আর বালাম বালাককে বললো, আপনি এই স্থানে আমার জন্য সাতটি কোরবানগাহ্ তৈরি করুন এবং এই স্থানে আমার জন্য সাতটি ষাঁড় ও সাতটি ভেড়ার আয়োজন করুন।
2 তাতে বালামের কথা অনুসারে বালাক সেরকম করলেন; তখন বালাক ও বালাম এক একটি কোরবানগাহে এক একটি ষাঁড় ও এক একটি ভেড়া কোরবানী করলেন।
3 পরে বালাম বালাককে বললো, আপনি আপনার পোড়ানো-কোরবানীর কাছে দাঁড়িয়ে থাকুন। আমি যাই, হয়তো মাবুদ আমার কাছে দেখা দেবেন; তা হলে তিনি আমাকে যা জানাবেন তা আমি আপনাকে বলবো। পরে সে পর্বতের উপরে গমন করলো।
4 তখন আল্লাহ্ বালামকে দেখা দিলে সে তাঁকে বললো, আমি সাতটি কোরবানগাহ্ প্রস্তুত করেছি; আর এক একটি কোরবানগাহে এক একটি ষাঁড় ও এক একটি ভেড়া কোরবানী করেছি।
5 তখন মাবুদ বালামের মুখে একটি কালাম দিয়ে বললেন, তুমি বালাকের কাছে ফিরে গিয়ে এরকম কথা বল।
6 তাতে সে তাঁর কাছে ফিরে গেল; আর দেখ, মোয়াবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বালাক তাঁর পোড়ানো-কোরবানীর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন;
7 তখন সে তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
বালাক অরাম দেশ থেকে
আমাকে আনালেন,
মোয়াবের বাদশাহ্ পূর্ব দিকের পর্বতমালা
থেকে আনালেন;
এসো, আমার জন্য ইয়াকুবকে
অভিশাপ দাও,
এসো, ইসরাইলকে বদদোয়া দাও।
8
আল্লাহ্ যাকে অভিশাপ দেন নি,
আমি কিভাবে তাকে অভিশাপ দেব?
মাবুদ যাকে বদদোয়া দেন নি,
আমি কিভাবে তাকে বদদোয়া দেব?
9
আমি শৈলের শৃঙ্গ থেকে ওকে দেখছি,
পাহাড়গুলো থেকে ওকে দর্শন করছি;
দেখ, ঐ লোকেরা স্বতন্ত্র বাস করে,
ওরা জাতিদের মধ্যে গণিত হবে না।
10
ইয়াকুবের ধূলি কে গণনা করতে পারে?
ইসরাইলের চতুর্থাংশের সংখ্যা কে নির্ণয়
করতে পারে?
ধার্মিকের মৃত্যুর মত আমার মৃত্যু হোক,
তার শেষ গতির মত আমার শেষ
গতি হোক।
11
তখন বালাক বালামকে বললেন, আপনি আমার প্রতি এ কি করলেন? আমার দুশমনদেরকে বদদোয়া দিতে আপনাকে আনালাম; কিন্তু দেখুন, আপনি তাদেরকে সর্বতোভাবে দোয়া করলেন।
12 সে জবাবে বললো, মাবুদ আমার মুখে যে কথা দেন, সাবধান হয়ে তা-ই বলা কি আমার উচিত নয়?
13
বালাক বললেন, আরজ করি, অন্য স্থানে আমার সঙ্গে আসুন, আপনি সেই স্থান থেকে তাদেরকে দেখতে পাবেন। আপনি তাদের প্রান্তভাগ মাত্র দেখতে পাবেন, সম্পূর্ণ দেখতে পাবেন না; ঐ স্থান থেকে আমার জন্য তাদেরকে বদদোয়া দিন।
14
তখন বালাক তাকে পিস্গার শৃঙ্গস্থিত সোফীম মাঠে নিয়ে গিয়ে সেই স্থানে সাতটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন, আর প্রত্যেক কোরবানগাহে এক একটি ষাঁড় ও এক একটি ভেড়া কোরবানী করলেন।
15 পরে সে বালাককে বললো, আমি যতক্ষণ ঐ স্থানে মাবুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, ততক্ষণ আপনি এই স্থানে আপনার পোড়ানো-কোরবানীর কাছে দাঁড়িয়ে থাকুন।
16 পরে মাবুদ বালামের কাছে দেখা দিয়ে তার মুখে একটি কালাম দিলেন এবং বললেন, তুমি বালাকের কাছে ফিরে গিয়ে এরকম কথা বল।
17 তাতে সে তাঁর কাছে উপস্থিত হল; আর দেখ, মোয়াবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বালাক তাঁর পোড়ানো-কোরবানীর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর বালাক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মাবুদ কি বললেন?
18 তখন সে তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
উঠ, বালাক, শোন;
হে সিপ্পোরের পুত্র, আমার কথায়
কান দাও;
19
আল্লাহ্ মানুষ নন যে, মিথ্যা বলবেন;
তিনি মানুষের-সন্তান নন যে, অনুশোচনা
করবেন;
তিনি যা বলেছেন তা কি করবেন না?
তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা কি সিদ্ধ
করবেন না?
20
দেখ, আমি দোয়া করার হুকুম পেলাম,
তিনি দোয়া করেছেন, আমি অন্যথা
করতে পারি না।
21
তিনি ইয়াকুবের মধ্যে অধর্ম দেখতে
পান নি,
ইসরাইলের মধ্যে জুলুম দেখেন নি;
তার আল্লাহ্ মাবুদ তার সহবর্তী,
বাদশাহ্র জয়ধ্বনি ওদের মধ্যবর্তী।
22
আল্লাহ্ মিসর থেকে ওদের এনেছেন;
সে ষাঁড়ের মত শক্তিশালী।
23
নিশ্চয়ই ইয়াকুবের বিরুদ্ধে কোন
মায়াশক্তি,
বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোন মন্ত্র কার্যকর
হবে না;
এখন ইয়াকুবের ও ইসরাইলের বিষয়
বলা যাবে,
আল্লাহ্ কি না সাধন করেছেন।
24
দেখ, ঐ জাতি সিংহীর মত উঠছে,
সে সিংহের মত গাত্রোত্থান করছে;
সে শয়ন করবে না, যতক্ষণ না নিহত পশু
ভোজন করে,
যতক্ষণ না নিহত লোকদের রক্ত
পান করে।
25
তখন বালাক বালামকে বললেন, আপনি ওদেরকে বদদোয়াও দেবেন না, দোয়াও করবেন না।
26 কিন্তু বালাম উত্তরে বালাককে বললো, মাবুদ আমাকে যা যা বলবেন, তা-ই করবো, এই কথা কি আপনাকে বলি নি?
27
পরে বালাক বালামকে বললেন, আরজ করি, আসুন, আমি আপনাকে অন্য স্থানে নিয়ে যাই; হয়তো সেই স্থান থেকে আমার জন্য তাদেরকে আপনার বদদোয়া দেওয়া আল্লাহ্র দৃষ্টিতে সন্তোষজনক হবে।
28 পরে বালাক মরুভূমির অভিমুখে পিয়োর-শৃঙ্গে বালামকে নিয়ে গেলেন।
29 বালাম বালাককে বললো, এই স্থানে আমার জন্য সাতটি কোরবানগাহ্ তৈরি করুন এবং এই স্থানে আমার জন্য সাতটি ষাঁড় ও সাতটি ভেড়ার আয়োজন করুন।
30 তখন বালাক বালামের কথানুযায়ী কাজ করলেন এবং প্রত্যেক কোরবানগাহে এক একটি ষাঁড় ও এক একটি ভেড়া কোরবানী করলেন।
1
বালাম যখন দেখলো, ইসরাইলকে দোয়া করতেই মাবুদের মনঃপূত, তখন আর আগের মত মন্ত্র পাবার জন্য গমন করলো না, কিন্তু মরুভূমির দিকে মুখ করলো।
2 বালাম চোখ তুলে দেখলো, ইসরাইলরা গোষ্ঠীর ক্রম অনুযায়ী বাস করছে; আর আল্লাহ্র রূহ্ তার উপরে আসলেন।
3 তখন সে তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
বিয়োরের পুত্র বালাম বলছে,
যার চোখ খোলা, সেই পুরুষ বলছে;
4
যে আল্লাহ্র কালাম শোনে,
যে সর্বশক্তিমানের দর্শন পায়,
সে সেজদায় পড়েছে ও যার চোখ খুলে
গেছে সে বলছে;
5
হে ইয়াকুব, তোমার সমস্ত তাঁবু,
হে ইসরাইল,
তোমার শরীয়ত-তাঁবুগুলো কেমন
মনোহর।
6
সেগুলো উপত্যকার মত বিস্তৃত,
নদীর তীরের বাগানের মত,
মাবুদের রোপিত অগুরু গাছের মত,
জলাশয়ের তীরে এরস গাছের মত।
7
তার কলস থেকে পানি উথলে উঠবে,
তার বীজ অনেক পানিতে সিক্ত হবে,
তার বাদশাহ্ অগাগের চেয়েও
মহান হবেন,
তার রাজ্য উন্নত হবে।
8
আল্লাহ্ মিসর থেকে তাদের এনেছেন,
তিনি ষাঁড়ের মত শক্তিশালী;
সে তার বিপক্ষ জাতিদেরকে গ্রাস করবে,
তাদের অস্থি চূর্ণ করবে,
সে তীর দ্বারা তাদেরকে ভেদ করবে।
9
সে শয়ন করলো, গুঁড়ি মারলো,
সিংহ ও সিংহীর মত;
কে তাকে উঠাবে?
যে তোমাকে দোয়া করে,
সে দোয়া লাভ করে,
যে তোমাকে বদদোয়া দেয়,
সে বদ্দোয়াগ্রস্ত হোক।
10
তখন বালামের প্রতি বালাকের ক্রোধ প্রজ্বলিত হলে তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাতে আস্ফালন করে বালামকে বললেন, আমার দুশমনদেরকে বদদোয়া দিতে আমি আপনাকে আনিয়েছিলাম, আর দেখুন, এই তিনবার আপনি সর্বতোভাবে তাদেরকে দোয়া করলেন।
11 এখন স্বস্থানে পালিয়ে যান; আমি বলেছিলাম, আপনাকে অতিশয় গৌরবান্বিত করবো, কিন্তু দেখুন, মাবুদ তা আপনাকে পেতে দিলেন না।
12 তাতে বালাম বালাককে বললো, আমি কি আপনার প্রেরিত দূতদের সাক্ষাতেই বলি নি,
13 যদিও বালাক সোনা ও রূপায় পরিপূর্ণ তাঁর বাড়ি আমাকে দেন, তবুও আমি নিজের ইচ্ছায় ভাল বা মন্দ করার জন্য মাবুদের হুকুম লঙ্ঘন করতে পারব না, মাবুদ যা বলবেন, আমি তা-ই বলবো;
14 এখন দেখুন, আমি স্বজাতির কাছে যাচ্ছি; আসুন, এই জাতি ভবিষ্যতে আপনার জাতির প্রতি কি করবে, তা আপনাকে জানাই।
15
পরে সে তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো;
বিয়োরের পুত্র বালাম বলছে,
যার চোখ খোলা রয়েছে,
সেই পুরুষ বলছে;
16
যে আল্লাহ্র কালাম শোনে,
যে আল্লাহ্তা’লার তত্ত্ব জানে,
যে সর্বশক্তিমানের দর্শন পায়,
সে সেজদায় পড়েছে
ও যার চোখ খুলে গেছে
সে বলছে;
17
আমি তাঁকে দেখবো, কিন্তু এখন নয়,
তাঁকে দর্শন করবো কিন্তু কাছে নয়;
ইয়াকুব থেকে একটি তারা উদিত হবে,
ইসরাইল থেকে একটি রাজদণ্ড উঠবে,
তা মোয়াবের দুই পাশ ভেঙ্গে ফেলবে,
কলহের সন্তানদেরকে সংহার করবে।
18
সে ইদোম অধিকার করবে,
তার দুশমন সেয়ীরও আসবে তার
অধিকারে,
আর ইসরাইল বীরের কাজ করবে।
19
ইয়াকুব থেকে উৎপন্ন এক জন
কর্তৃত্ব করবেন,
নগরের অবশিষ্ট লোকদেরকে
বিনষ্ট করবেন।
20
পরে সে আমালেকের প্রতি দৃষ্টিপাত করলো এবং তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
আমালেক জাতিদের মধ্যে প্রথম ছিল,
কিন্তু বিনাশ হবে এর সর্বশেষ পরিণাম।
21
পরে সে কেনীয়দের প্রতি দৃষ্টিপাত করলো এবং তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
তোমার নিবাস অতি দৃঢ়
তোমার বাসস্থান শৈলে স্থাপিত।
22
তবুও কেনীয় ক্ষয় পাবে,
শেষে আশেরিয়া তোমাকে বন্দী করে
নিয়ে যাবে,
23
পরে সে তার দৈববাণী গ্রহণ করে বললো,
হায়, যখন আল্লাহ্ এই করেন, তখন কে বাঁচবে?
24
কিন্তু সাইপ্রাসের তীর থেকে জাহাজ
আসবে,
তারা আশেরিয়াকে জুলুম করবে,
এবরকে নির্যাতন করবে,
কিন্তু তারও বিনাশ ঘটবে।
25
পরে বালাম উঠে স্বস্থানে ফিরে গেল এবং বালাকও তার পথে চলে গেলেন।
1
পরে ইসরাইল শিটীমে বাস করলো, আর লোকেরা মোয়াবের কন্যাদের সঙ্গে জেনায় লিপ্ত হল।
2 সেই কন্যারা তাদেরকে তাদের দেবতার প্রসাদ ভোজনের দাওয়াত করলো এবং লোকেরা ভোজন করে তাদের দেবতাদের কাছে সেজ্দা করলো।
3 আর ইসরাইল বাল্-পিয়োর (দেবতার) প্রতি আসক্ত হতে লাগল; অতএব ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল।
4 মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি লোকদের সমস্ত নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে সূর্যের সম্মুখে ওদেরকে টাঙ্গিয়ে দাও; তাতে ইসরাইলের উপর থেকে মাবুদের প্রচণ্ড ক্রোধ নিবৃত্ত হবে।
5 তখন মূসা ইসরাইলের বিচারকর্তাদেরকে বললেন, তোমরা প্রত্যেকে বাল-পিয়োরের প্রতি আসক্ত নিজ নিজ লোকদেরকে হত্যা কর।
6
আর দেখ, মূসা ও বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর সাক্ষাতে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে এক জন পুরুষ তার জ্ঞাতিদের কাছে এক মাদিয়ানীয়া স্ত্রীকে আনলো, সেই সময় লোকেরা জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে কান্নাকাটি করছিল।
7 তা দেখে ইমাম হারুনের পৌত্র ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস মণ্ডলীর মধ্য থেকে উঠে হাতে বর্শা নিলেন;
8 আর সেই ইসরাইলীয় পুরুষের পিছনে পিছনে কুঠরীতে প্রবেশ করে ঐ দু’জনকে, অর্থাৎ সেই পুরুষ এবং সেই স্ত্রীলোকের পেটে তা বিদ্ধ করলেন। তাতে বনি-ইসরাইল থেকে মহামারী নিবৃত্ত হল।
9 যারা ঐ মহামারীতে মারা গিয়েছিল, তারা সংখ্যায় চব্বিশ হাজার।
10
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
11 লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করাতে ইমাম হারুনের পৌত্র ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস বনি-ইসরাইলদের মধ্য থেকে আমার ক্রোধ নিবৃত্ত করলো; এজন্য আমি অন্তর্জ্বালায় বনি-ইসরাইলকে সংহার করলাম না।
12 অতএব তুমি এই কথা বল, দেখ, আমি তাকে আমার শান্তির নিয়ম দিয়েছি;
13 তা তার ও তার ভাবী বংশের পক্ষে চিরস্থায়ী ইমামতির নিয়ম হবে; কেননা সে তার আল্লাহ্র পক্ষে ভীষণ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বনি-ইসরাইলদের জন্য কাফ্ফারা করেছে।
14
ইসরাইলীয় যে পুরুষ ঐ মাদিয়ানীয়া স্ত্রীর সঙ্গে নিহত হয়েছিল, তার নাম সিম্রি, সে সালূর পুত্র; সে শিমিয়োন গোষ্ঠীর এক জন কুলপতি ছিল।
15 আর ঐ নিহত মাদিয়ানীয়া স্ত্রীর নাম কস্বী, সে সূরের কন্যা; ঐ সূর ছিল মাদিয়ানীয়দের এক জন গোষ্ঠী প্রধান।
16
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
17 তুমি মাদিয়ানীয়দেরকে কষ্ট দাও ও আঘাত কর।
18 কেননা পিয়োর বিষয়ক ছলনায় এবং সেই পিয়োরের জন্য মহামারীর দিনে তাদের জ্ঞাতি মাদিয়ানীয় গোষ্ঠী প্রধানের কন্যা কস্বী বিষয়ক ছলনায়, তারা তোমাদেরকে প্রবঞ্চনা করে কষ্ট দিয়েছে।
1
মহামারীর পরে মাবুদ মূসা ও হারুনের পুত্র ইমাম ইলিয়াসরকে বললেন,
2 তোমরা বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর মধ্যে নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোকদের, ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধে গমনযোগ্য সমস্ত লোককে গণনা কর।
3 তাতে মূসা ও ইমাম ইলিয়াসর জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডান-সমীপে মোয়াবের উপত্যকাতে তাদেরকে বললেন,
4 বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোকদের গণনা কর; যেমন মাবুদ মূসাকে ও মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসা বনি-ইসরাইলকে হুকুম দিয়েছিলেন।
5
রূবেণ ইসরাইলের প্রথমজাত। রূবেণের সন্তানেরা হল হনোক থেকে হনোকীয় গোষ্ঠী; পলু থেকে পলুয়ীয় গোষ্ঠী;
6 হিষ্রোণ থেকে হিষ্রোণীয় গোষ্ঠী; কর্মি থেকে কর্মীয় গোষ্ঠী।
7 এরা রূবেণীয় গোষ্ঠী; এদের মধ্যে গণনা-করা লোক তেতাল্লিশ হাজার সাত শত ত্রিশ জন।
8 আর পলুর সন্তান ইলীয়াব।
9 ইলীয়াবের সন্তান নমূয়েল, দাথন ও অবীরাম; কারুনের দল যখন মাবুদের সঙ্গে ঝগড়া করেছিল, সেই সময় তার মধ্যে মণ্ডলীর বেছে নেওয়া লোক, যে দাথন ও অবীরাম মূসা ও হারুনের সঙ্গে ঝগড়া করেছিল, এরা সেই দুই জন।
10 সেই সময়ে দুনিয়া মুখ খুলে তাদেরকে ও কারুনকে গ্রাস করেছিল, তাতে সেই দল মারা পড়লো এবং আগুন দুই শত পঞ্চাশজনকে গ্রাস করলো, আর তারা নিদর্শনস্বরূপ হল।
11 কিন্তু কারুনের সন্তানেরা মারা পড়ে নি।
12
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে শিমিয়োনের সন্তানেরা হল নমূয়েল থেকে নমূয়েলীয় গোষ্ঠী; যামীন থেকে যামীনীয় গোষ্ঠী; যাখীন থেকে যাখীনীয় গোষ্ঠী;
13 সেরহ থেকে সেরহীয় গোষ্ঠী; তালুত থেকে তালুতীয় গোষ্ঠী।
14 শিমিয়োনীয়দের এসব গোষ্ঠীতে লোক ছিল বাইশ হাজার দুই শত।
15
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে তাদের সন্তানেরা হল সিফোন থেকে সিফোনীয় গোষ্ঠী;
16 হগি থেকেই হগীয় গোষ্ঠী; শূনি থেকে শূনীয় গোষ্ঠী; ওষ্ণি থেকে ওষ্ণীয় গোষ্ঠী;
17 এর থেকে এরীয় গোষ্ঠী; আরোদ থেকে আরোদীয় গোষ্ঠী; অরেলি থেকে অরেলীয় গোষ্ঠী।
18 গাদের সন্তানদের এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে চল্লিশ হাজার পাঁচ শত লোক হল।
19
এহুদার পুত্র এর ও ওনন; এর ও ওনন কেনান দেশে ইন্তেকাল করেছিল।
20 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এহুদার সন্তানেরা হল শেলা থেকে শেলায়ীয় গোষ্ঠী; পেরস থেকে পেরসীয় গোষ্ঠী; সেরহ থেকে সেরহীয় গোষ্ঠী।
21 আর পেরসের এসব সন্তান; হিষ্রোণ থেকে হিষ্রোণীয় গোষ্ঠী; হামূল থেকে হামূলীয় গোষ্ঠী।
22 এহুদার এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে ছেয়াত্তর হাজার পাঁচ শত লোক হল।
23
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে ইষাখরের সন্তানেরা হল তোলয় থেকে তোলয়ীয় গোষ্ঠী; পূয় থেকে পূনীয় গোষ্ঠী;
24 যাশূব থেকে যাশূবীয় গোষ্ঠী; শিম্রোণ থেকে শিম্রোণীয় গোষ্ঠী।
25 ইষাখরের এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে চৌষট্টি হাজার তিন শত লোক হল।
26
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে সবূলূনের সন্তানেরা হল সেরদ থেকে সেরদীয় গোষ্ঠী; এলোন থেকে এলোনীয় গোষ্ঠী; যহলেল থেকে যহলেলীয় গোষ্ঠী।
27 সবূলূনীয়দের এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে ষাট হাজার পাঁচ শত লোক হল।
28
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে ইউসুফের পুত্র মানশা ও আফরাহীম।
29 মানশার সন্তানেরা হল মাখীর থেকে মাখীরীয় গোষ্ঠী; মাখীরের পুত্র গিলিয়দ; গিলিয়দ থেকে গিলিয়দীয় গোষ্ঠী।
30 গিলিয়দের সন্তানেরা হল ঈয়েষর থেকে ঈয়েষরীয় গোষ্ঠী; হেলক থেকে হেলকীয় গোষ্ঠী;
31 অস্রীয়েল থেকে অস্রীয়েলীয় গোষ্ঠী; শেখম থেকে শেখমীয় গোষ্ঠী;
32 শিমীদা থেকে শিমীদায়ীয় গোষ্ঠী; হেফর থেকে হেফরীয় গোষ্ঠী।
33 হেফরের পুত্র যে সলফাদ, তার পুত্র ছিল না, কেবল কন্যা ছিল; সেই সলফাদের কন্যাদের নাম মহলা, নোয়া, হগ্লা, মিল্কা ও তির্সা।
34 এরা মানশার গোষ্ঠী; এদের গণনা করা লোক বাহান্ন হাজার সাত শত জন।
35
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে আফরাহীমের সন্তানেরা হল শূথলহ থেকে শূথলহীয় গোষ্ঠী; বেখর থেকে বেখরীয় গোষ্ঠী; তহন থেকে তহনীয় গোষ্ঠী।
36 আর এরা শূথলহের সন্তান; এরণ থেকে এরণীয় গোষ্ঠী।
37 আফরাহীমের সন্তানদের এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে বত্রিশ হাজার পাঁচ শত লোক হল। নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এরা ইউসুফের সন্তান।
38
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে বিন্-ইয়ামীনের সন্তানেরা হল বেলা থেকে বেলায়ীয় গোষ্ঠী; অস্বেল থেকে অস্বেলীয় গোষ্ঠী; অহীরাম থেকে অহীরামীয় গোষ্ঠী;
39 শূফম থেকে শূফমীয় গোষ্ঠী; হূফম থেকে হূফমীয় গোষ্ঠী।
40 আর বেলার সন্তান অর্দ ও নামান; (অর্দ থেকে) অর্দীয় গোষ্ঠী; নামান থেকে নামানীয় গোষ্ঠী।
41 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এরা বিন্ইয়ামীনের সন্তান। এদের গণনা-করা লোক পঁয়তাল্লিশ হাজার ছয় শত জন।
42
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে দানের এসব সন্তান; শূহম থেকে শূহমীয় গোষ্ঠী; এরা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে দানের গোষ্ঠী।
43 শূহমীয় সমস্ত গোষ্ঠী গণনা করা হলে চৌষট্টি হাজার চার শত লোক হল।
44
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে আশেরের সন্তানেরা হল যিম্না থেকে যিম্নীয় গোষ্ঠী; যিস্বি থেকে যিস্বীয় গোষ্ঠী; বরিয় থেকে বরিয়ীয় গোষ্ঠী।
45 এরা বরিয়ের সন্তান; হেবর থেকে হেবরীয় গোষ্ঠী; মল্কীয়েল থেকে মল্কীয়েলীয় গোষ্ঠী।
46 আশেরের কন্যার নাম সারহ।
47 আশেরের সন্তানদের এসব গোষ্ঠী গণনা করা হলে তিপ্পান্ন হাজার চার শত লোক হল।
48
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে নপ্তালির সন্তানেরা হল যহসীয়েল থেকে যহসীয়েলীয় গোষ্ঠী; গূনি থেকে গূনীয় গোষ্ঠী;
49 যেৎসর থেকে যেৎসরীয় গোষ্ঠী; শিল্লেম থেকে শিল্লেমীয় গোষ্ঠী।
50 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এসব নপ্তালির গোষ্ঠী। এদের গণনা-করা লোক পঁয়তাল্লিশ হাজার চার শত জন।
51
বনি-ইসরাইলদের মধ্যে গণনা-করা এসব লোকের সংখ্যা ছয় লক্ষ এক হাজার সাত শত ত্রিশ।
52
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
53 নাম ও সংখ্যা অনুসারে তাদের অধিকারের জন্য এদের মধ্যে দেশ বিভক্ত হবে।
54 যার লোক বেশি তুমি তাকে বেশি ও যার লোক অল্প, তাকে অল্প অধিকার দেবে, যার যত গণনা-করা লোক, তাকে তত অধিকার দেওয়া যাবে।
55 তবুও দেশ গুলিবাঁট দ্বারা বিভক্ত হবে; তারা নিজ নিজ পিতৃবংশের নাম অনুসারে অধিকার পাবে।
56 অধিকার বেশি অথবা অল্প তা গুলিবাঁট দ্বারাই বিভক্ত হবে।
57
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে লেবীয়দের মধ্যে এসব লোককে গণনা করা হল; গের্শোন থেকে গের্শোনীয় গোষ্ঠী, কহাৎ থেকে কহাতীয় গোষ্ঠী, মরারি থেকে মরারীয় গোষ্ঠী।
58 লেবীয় গোষ্ঠী এসব— লিব্নীয় গোষ্ঠী, হেবরনীয় গোষ্ঠী, মহলীয় গোষ্ঠী, মূশীয় গোষ্ঠী, কারুনীয় গোষ্ঠী।
59 ঐ কহাতের পুত্র অম্রাম। ইমরানের স্ত্রীর নাম ইউখাবেজ, তিনি লেবির কন্যা, মিসরে লেবির ঔরসে তাঁর জন্ম হয়। তিনি ইমরানের জন্য হারুন, মূসা ও তাঁদের বোন মরিয়মকে প্রসব করেছিলেন।
60 হারুন থেকে নাদব ও অবীহূ এবং ইলিয়াসর ও ঈথামর জন্মগ্রহণ করেছিল।
61 কিন্তু মাবুদের সম্মুখে নাপাক আগুন নিবেদন করাতে নাদব ও অবীহূ মারা পড়েছিল।
62 তাদের মধ্যে এক মাস ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক পুরুষ গণনা করা হলে তেইশ হাজার জন হল; বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তাদেরকে কোন অধিকার না দেওয়াতে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তাদের গণনা করা হয় নি।
63
এসব লোককে মূসা ও ইমাম ইলিয়াসর গণনা করলেন। তাঁরা জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডান-সমীপে মোয়াবের উপত্যকাতে বনি-ইসরাইলকে গণনা করলেন।
64 কিন্তু মূসা ও ইমাম হারুন যখন সিনাই মরুভূমিতে বনি-ইসরাইলকে গণনা করেছিলেন, তখন যাদেরকে তাঁরা গণনা করেছিলেন, তাদের এক জনও এদের মধ্যে ছিল না।
65 কারণ মাবুদ তাদের বিষয়ে বলেছিলেন, তারা মরুভূমিতে মরবেই মরবে; আর তাদের মধ্যে যিফূন্নির পুত্র কালুত ও নূনের পুত্র ইউসা ছাড়া এক জনও অবশিষ্ট রইলো না।
1
পরে ইউসুফের পুত্র মানশার গোষ্ঠীভুক্ত সলফাদের কন্যারা আসল। সলফাদ হেফরের সন্তান, হেফর গিলিয়দের সন্তান, গিলিয়দ মাখীরের সন্তান, মাখীর মানশার সন্তান। সেই কন্যাদের নাম হল মহলা, নোয়া, হগ্লা, মিল্কা ও তির্সা।
2 তারা মূসা ও ইমাম ইলিয়াসরের এবং নেতৃবর্গের ও সমস্ত মণ্ডলীর সম্মুখে জমায়েত-তাঁবুর দ্বারে দাঁড়িয়ে বললো,
3 মরুভূমিতে আমাদের পিতার মৃত্যু হয়েছে; তিনি কারুনের দলের মধ্যে, মাবুদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের দলের মধ্যে ছিলেন না; কিন্তু নিজের গুনাহে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর পুত্র হয় নি।
4 আমাদের পিতার পুত্র নেই বলে তাঁর গোষ্ঠী থেকে তাঁর নাম কেন লোপ পাবে? আমাদের পিতৃকূলের ভাইদের মধ্যে আমাদেরকে অধিকার দিন।
5
তখন মূসা মাবুদের সম্মুখে তাদের বিচার উপস্থিত করলেন।
6 আর মাবুদ মূসাকে বললেন,
7 সলফাদের কন্যারা যথার্থ বলছে; তুমি ওদের পিতৃকুলের ভাইদের মধ্যে অবশ্য ওদেরকে স্বত্বাধিকার দেবে ও ওদের পিতার অধিকার ওদেরকে দেবে।
8 আর বনি-ইসরাইলকে বল, কেউ যদি অপুত্রক হয়ে মারা যায় তবে তোমরা তার অধিকার তার কন্যাকে দেবে।
9 যদি তার কন্যা না থাকে, তবে তার ভাইদেরকে তার অধিকার দেবে।
10 যদি তার ভাই না থাকে, তবে তার চাচাদেরকে তার অধিকার দেবে।
11 যদি তার চাচা না থাকে, তবে তার গোষ্ঠীর মধ্যে নিকটস্থ জ্ঞাতিকে তার অধিকার দেবে, সে তা অধিকার করবে; মাবুদ মূসাকে যেমন হুকুম দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে এটি বনি-ইসরাইলদের পক্ষে বিচারের নিয়ম হবে।
12
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি এই অবারীম পর্বতে উঠ, আর যে দেশ আমি বনি-ইসরাইলকে দিয়েছি, তা দেখ।
13 দেখার পর তোমার ভাই হারুনের মত তুমিও তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে সংগৃহীত হবে।
14 কেননা সীন মরুভূমিতে মণ্ডলীর বিবাদে তোমরা পানির বিষয়ে লোকদের সম্মুখে আমাকে পবিত্ররূপে মান্য না করে আমার কথার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলে। এটা সীন মরুভূমির কাদেশস্থ মরীবার পানির ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
15
আর মূসা মাবুদকে বললেন,
16 সর্বজীবের আল্লাহ্ মাবুদ মণ্ডলীর উপরে এমন এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করুন,
17 যে তাদের সম্মুখে বাইরে যায় ও তাদের সম্মুখে ভিতরে আসে এবং তাদেরকে বাইরে নিয়ে যায় ও ভিতরে নিয়ে আসে; যেন মাবুদের মণ্ডলী রক্ষকবিহীন ভেড়ার পালের মত না হয়।
18 তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, নূনের পুত্র ইউসার উপর আল্লাহ্র রূহ্ অধিষ্ঠিত; তুমি তাকে নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হস্তার্পণ কর;
19 এবং ইমাম ইলিয়াসরের ও সমস্ত মণ্ডলীর সম্মুখে তাকে উপস্থিত করে তাদের সস্মুখে তাকে হুকুম দাও।
20 আর তাকে তোমার সম্মানের ভাগী কর, যেন বনি-ইসরাইলদের সমস্ত দল বাধ্য হয়।
21 আর সে ইলিয়াসর ইমামের সম্মুখে দাঁড়াবে এবং ইলিয়াসর তার জন্য মাবুদের সম্মুখে ঊরীমের বিচার দ্বারা জিজ্ঞাসা করবে; সে ও তার সঙ্গে সমস্ত বনি-ইসরাইল, অর্থাৎ সমস্ত মণ্ডলী তার হুকুমে বাইরে যাবে ও ভিতরে আসবে।
22 পরে মূসা মাবুদের হুকুম অনুযায়ী কাজ করলেন। তিনি ইউসাকে নিয়ে ইমাম ইলিয়াসরের ও সমস্ত মণ্ডলীর সম্মুখে উপস্থিত করলেন;
23 এবং তাঁর মাথায় হস্তার্পণ করে তাঁকে হুকুম দিলেন; যেমন মূসার মাধ্যমে মাবুদ বলেছিলেন।
1
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে হুকুম কর, তাদেরকে বল, আমার উপহার, আমার উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত আমার শস্য-উৎসর্গ, যথা সময়ে আমার উদ্দেশে নিবেদন করতে হবে।
3 আর তুমি তাদেরকে এই কথা বল, তোমরা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে এসব নিবেদন করবে; প্রতিদিন আগুনে-দেওয়া কোরবানীর জন্য এক বছরের নিখুঁত দু’টি ভেড়ার বাচ্চা;
4 একটি ভেড়ার বাচ্চা খুব ভোরে ও আর একটি ভেড়ার বাচ্চা সন্ধ্যাবেলা কোরবানী করবে।
5 আর শস্য-উৎসর্গের জন্য এক হিনের চার ভাগের এক ভাগ ছেঁচা জলপাইয়ের তেল এক ঐফার দশ ভাগের এক ভাগ সুজির সঙ্গে মিশাবে।
6 এটা প্রতি-দিনের পোড়ানো-কোরবানী; মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার বলে এই তুর পর্বতে নিরূপিত হয়েছিল।
7 আর তার একটি ভেড়ার বাচ্চার জন্য এক হিনের চার ভাগের এক ভাগ পেয় উৎসর্গ হবে; তুমি পবিত্র স্থানে মাবুদের উদ্দেশে মদিরার পেয় উৎসর্গ ঢেলে দেবে।
8 আর একটি ভেড়ার বাচ্চা সন্ধ্যাবেলা কোরবানী করবে; সকাল বেলার শস্য-উৎসর্গের ও পেয় উৎসর্গের মত তাও মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার বলে উৎসর্গ করবে।
9
আর বিশ্রামবারে এক বছর বয়সের নিখুঁত দু’টি ভেড়ার বাচ্চা ও তেল মিশানো (এক ঐফার) বিশ ভাগের এক ভাগ সুজির শস্য-উৎসর্গ ও তৎসম্বন্ধীয় পেয় উৎসর্গ নিবেদন করবে।
10 প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী ও তৎসংক্রান্ত পেয় উৎসর্গ ভিন্ন এটাই হচ্ছে প্রতি বিশ্রামবারের পোড়ানো-কোরবানী।
11
আর প্রতি মাসের সূচনায় তোমরা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য নিখুঁত দু’টি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছরের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে।
12 এক একটি বাছুরের জন্য তিন দশমাংশ তেল মিশানো সুজির শস্য-উৎসর্গ এবং সেই ভেড়ার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজির ভক্ষ-নৈবেদ্য;
13 এবং এক একটি ভেড়ার বাচ্চার জন্য দশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজির শস্য-উৎসর্গ হবে; তাতে সেই পোড়ানো-কোরবানী মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হবে।
14 এক একটি বাছুরটির জন্য এক হিনের অর্ধেক ও সেই ভেড়ার জন্য এক হিনের তিন ভাগের এক ভাগ ও এক একটি ভেড়ার বাচ্চার জন্য এক হিনের চার ভাগের এক ভাগ আঙ্গুর-রস তার পেয় উৎসর্গ হবে। এই কোরবানী সারা বছর ধরে করার জন্য প্রতি মাসের মাসিক পোড়ানো-কোরবানী।
15 আর গুনাহ্-কোরবানীর জন্য মাবুদের উদ্দেশে একটি ছাগল; প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী ও তার পেয় উৎসর্গ ভিন্ন এই কোরবানী করতে হবে।
16
আর প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে মাবুদের ঈদুল ফেসাখ।
17 এই মাসের পঞ্চদশ দিনে উৎসব হবে; সাতদিন খামিহীন রুটি ভোজন করতে হবে।
18 প্রথম দিনে পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
19 কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার বলে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য দু’টি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছর বয়সের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে, তোমাদের জন্য সেগুলো নিখুঁত হওয়া চাই;
20 এবং এক একটি বাছুরের জন্য তিন দশমাংশ ও সেই ভেড়ার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ,
21 এবং সাতটি ভেড়ার বাচ্চার মধ্যে এক একটি বাচ্চার জন্য দশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজির শস্য-উৎসর্গ,
22 এবং তোমাদের জন্য কাফ্ফারা করতে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল,
23 প্রাতঃকালীন পোড়ানো-কোরবানী ছাড়াও এ সব তোমরা নিবেদন করবে।
24 এই নিয়ম অনুযায়ী তোমরা সাত দিন যাবৎ প্রতিদিন মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহাররূপ ভক্ষ্য-নিবেদন করবে; প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী ও তার পেয় উৎসর্গ ছাড়াও এসব নিবেদন করতে হবে।
25 আর সপ্তম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
26
আবার অগ্রিমাংশের দিনে, যখন তোমরা তোমাদের সাত সপ্তাহের উৎসবে মাবুদের উদ্দেশে নতুন শস্য-উৎসর্গ আনবে, তখন তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
27 কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে দু’টি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছর বয়সের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে;
28 এবং তাদের শস্য-উৎসর্গ বলে একেকটি বাছুরের জন্য তিন দশমাংশ,
29 একটি ভেড়ার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ এবং সাতটি ভেড়ার বাচ্চার মধ্যে একেক বাচ্চার জন্য দশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজি;
30 তোমাদের জন্য কাফ্ফারা করবার জন্য একটি ছাগল।
31 প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী ও তার শস্য-উৎসর্গ ছাড়াও পেয় উৎসর্গ নিবেদন করবে; এসব নিখুঁত হওয়া চাই।
1
সপ্তম মাসের প্রথম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না; সেদিন তোমাদের তূরীধ্বনির দিন হবে।
2 তোমরা মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে নিখুঁত একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছরের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা,
3 এবং তাদের শস্য-উৎসর্গ বলে সেই বাছুরটির জন্য তিন দশমাংশ, ভেড়ার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ,
4 ও সাতটি ভেড়ার বাচ্চার মধ্যে এক একটি ভেড়ার বাচ্চার উদ্দেশ্যে দশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজি;
5 এবং তোমাদের কাফ্ফারা করার জন্য গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব নিবেদন করবে।
6 অমাবস্যার পোড়ানো-কোরবানী ও তার শস্য-উৎসর্গ এবং প্রতি-দিনের পোড়ানো-কোরবানী ও তার শস্য-উৎসর্গ এবং নিয়ম অনুযায়ী উভয়ের পেয় উৎসর্গ ছাড়া তোমরা মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নিকৃত উপহার হিসেবে এ সব কোরবানী করবে।
7
সেই সপ্তম মাসের দশম দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; আর তোমরা অন্তর ভেঙ্গেচুরে কষ্ট স্বীকার করবে এবং কোন কাজ করবে না।
8 কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে তোমরা একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছর বয়সের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে। তোমাদের জন্য এসব নিখুঁত হওয়া চাই;
9 এবং তাদের শস্য-উৎসর্গ বলে সেই বাছুরটির জন্য তিন দশ ভাগের এক ভাগ, সেই ভেড়ার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ,
10 ও সাতটি ভেড়ার বাচ্চার মধ্যে একেক বাচ্চার জন্য একেক দশমাংশে তেল মিশানো সুজি;
11 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। গুনাহ্র জন্য কাফ্ফারা কোরবানী, প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এগুলো ভিন্ন।
12
সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে তোমাদের পবিত্র মিলন-মাহ্ফিল হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না এবং সাত দিন মাবুদের উদ্দেশে উৎসব পালন করবে।
13 আর মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নি— কৃত পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে তেরটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছরের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে; এসব নিখুঁত হওয়া চাই।
14 তাদের শস্য-উৎসর্গ হিসেবে তেরটি পুরুষ বাছুরের মধ্যে প্রত্যেক বাছুরের জন্য তিন তিন দশ ভাগের এক ভাগ, দু’টি ভেড়ার মধ্যে একেক ভেড়ার জন্য দু’টা করে দশ ভাগের এক ভাগ,
15 এবং চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চার মধ্যে একেক বাচ্চার জন্য একেক দশ ভাগের এক ভাগ তেল মিশানো সুজি,
16 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এসব ভিন্ন।
17
দ্বিতীয় দিনে তোমরা নিখুঁত বারোটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছরের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চা,
18 এবং বাছুরটির, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
19 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এসব ভিন্ন।
20
তৃতীয় দিনে তোমরা নিখুঁত এগারটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছর বয়সের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চা,
21 এবং ষাঁড়, ভেড়া ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
22 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এগুলো কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এগুলো ভিন্ন।
23
চতুর্থ দিনে তোমরা নিখুঁত দশটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছর বয়সের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চার,
24 এবং বাছুরের, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
25 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এগুলো ভিন্ন।
26
পঞ্চম দিনে তোমরা নিখুঁত নয়টি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছর বয়েসী চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চা,
27 এবং বাছুরের, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
28 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এসব ভিন্ন।
29
ষষ্ঠ দিনে তোমরা নিখুঁত আটটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছরের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চার,
30 এবং বাছুরের, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
31 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এগুলো ভিন্ন।
32
সপ্তম দিনে তোমরা নিখুঁত সাতটি ষাঁড়, দু’টি ভেড়া ও এক বছর বয়সের চৌদ্দটি ভেড়ার বাচ্চার,
33 এবং বাছুরের, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
34 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এ সব ভিন্ন।
35
অষ্টম দিনে তোমাদের উৎসব হবে; তোমরা কোন পরিশ্রমের কাজ করবে না।
36 কিন্তু মাবুদের উদ্দেশে খোশবুযুক্ত অগ্নি— কৃত পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে নিখুঁত একটি ষাঁড়, একটি ভেড়া ও এক বছর বয়সের সাতটি ভেড়ার বাচ্চা,
37 এবং বাছুরের, ভেড়ার ও ভেড়ার বাচ্চার জন্য তাদের সংখ্যা অনুসারে নিয়ম অনুযায়ী তাদের শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ,
38 এবং গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ছাগল, এ সব কোরবানী করবে। প্রতিদিনের পোড়ানো-কোরবানী এবং তার শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ থেকে এসব ভিন্ন।
39
এ সব তোমরা তোমাদের নিরূপিত ঈদগুলোতে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করবে। তোমাদের পোড়ানো-কোরবানী, শস্য-উৎসর্গ ও পেয় উৎসর্গ এবং মঙ্গল-কোরবানীদানযুক্ত যে মানত ও স্বেচ্ছাদত্ত উপহার, তা থেকে এগুলো ভিন্ন।
40
মূসা মাবুদের কাছ থেকে যে সব হুকুম পেয়েছেন সেই অনুসারে বনি-ইসরাইলকে সমস্ত কথা বললেন।
1
পরে মূসা বনি-ইসরাইলদের বংশের নেতৃবর্গকে বললেন, মাবুদ এই বিষয় হুকুম করেছেন।
2 কোন পুরুষ যদি মাবুদের উদ্দেশে মানত করে, কিংবা ব্রতবন্ধনে নিজেকে আবদ্ধ করার জন্য কসম খায়, তবে সে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করুক, তার মুখ থেকে বের হওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ করুক।
3
আর কোন স্ত্রীলোক যদি যৌবনকালে তার পিতার বাড়িতে বাস করার সময়ে মাবুদের উদ্দেশে মানত ও ব্রতবন্ধনে নিজেকে আবদ্ধ করে,
4 এবং তার পিতা যদি তার মানত ও যা দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই ব্রতবন্ধনের কথা শুনে তাকে কিছু না বলে, তবে তার সকল মানত স্থির থাকবে এবং যা দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই ব্রতবন্ধন স্থির থাকবে।
5 কিন্তু তার পিতা যেদিন সেই কথা শুনবে সেদিন যদি তাকে নিষেধ করে, তবে তার কোন মানত ও যা দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই ব্রতবন্ধন স্থির থাকবে না; আর তার পিতার নিষেধ করার ফলে মাবুদ তাকে মাফ করবেন।
6
আর যদি সে কোন পুরুষের স্ত্রী হয়ে মানত দিয়ে নিজেকে আবদ্ধ করে, কিংবা যা দ্বারা সে নিজের প্রাণকে আবদ্ধ করেছে, মুখ থেকে বের হওয়া এমন ভাবনা-চিন্তহীন কথার অধীন হয়ে থাকে,
7 এবং যদি তার স্ব্বামী তা শুনলেও সেই সময় তাকে কিছু না বলে, তবে তার মানত স্থির থাকবে এবং যা দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই ব্রতবন্ধন স্থির থাকবে।
8 কিন্তু তার স্বামী যেদিন সেই কথা শুনবে সেদিন যদি তাকে নিষেধ করে, তবে সে যে মানত করেছে ও তার মুখ থেকে বের হওয়া ভাবনা-চিন্তাহীন কথা দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, তার স্বামী তা ব্যর্থ করবে, আর মাবুদ তাকে মাফ করবেন।
9 কিন্তু বিধবা কিংবা স্বামীর পরিত্যক্তা স্ত্রী যা দ্বারা নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই ব্রতের সমস্ত কথা তার জন্য স্থির থাকবে।
10 আর সে যদি স্বামীর বাড়িতে থাকবার সময়ে মানত করে থাকে, কিংবা কসম দ্বারা নিজেকে ব্রতবন্ধনে আবদ্ধ করে থাকে,
11 এবং তার স্বামী তা শুনে তাকে নিষেধ না করে নীরব হয়ে থাকে, তবে তার সমস্ত মানত স্থির থাকবে এবং সে যা দ্বারা নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেসব ব্রতবন্ধন স্থির থাকবে।
12 কিন্তু তার স্বামী যেদিন তা শুনেছে সেদিন যদি সেসব বাতিল করে, তবে তার মানত বিষয়ে ও তার ব্রতবন্ধন বিষয়ে তার মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছিল, তা স্থির থাকবে না; তার স্বামী তা বাতিল করেছে; আর মাবুদ সেই স্ত্রীকে মাফ করবেন।
13 স্ত্রীর প্রত্যেক মানত ও অন্তর ভেঙ্গেচুরে করা ওয়াদাযুক্ত প্রত্যেক কসম তার স্বামী মেনে নিতেও পারে, নাও পারে।
14 তার স্বামী যদি অনেক দিন পর্যন্ত তার প্রতি সর্বতোভাবে নীরব থাকে, তবে সে তার সমস্ত মানত কিংবা সমস্ত ব্রতবন্ধন অনুমোদন করে; যেদিন তা শুনেছে সেদিন নীরব থাকাতেই সে তা অনুমোদন করেছে।
15 কিন্তু তা শোনার পর যদি কোনভাবে স্বামী তা বাতিল করে, তবে স্ত্রীর অপরাধ বহন করবে।
16
পুরুষ ও স্ত্রীর বিষয়ে এবং পিতা ও যৌবনকালে পিতার বাড়িতে অবস্থিত কন্যার বিষয়ে মাবুদ মূসাকে এসব বিধি হুকুম করলেন।
1
মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলদের জন্য মাদিয়ানীয়দেরকে প্রতিফল দাও; তারপর তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে গৃহীত হবে।
3 তখন মূসা লোকদেরকে বললেন, তোমাদের কিছু লোক যুদ্ধের জন্য সজ্জিত হোক, মাবুদের জন্য মাদিয়ানকে প্রতিফল দিতে মাদিয়ানের বিরুদ্ধে যাত্রা করুক।
4 তোমরা ইসরাইল-বংশগুলোর প্রত্যেক বংশ থেকে একেক হাজার লোক যুদ্ধে প্রেরণ করবে।
5 তাতে হাজার হাজার ইসরাইলের মধ্যে একেক বংশ থেকে একেক হাজার মনোনীত হলে যুদ্ধের জন্য বারো হাজার লোক সজ্জিত হল।
6 এভাবে মূসা একেক বংশের একেক হাজার লোককে এবং ইমাম ইলিয়াসরের পুত্র পীনহসকে যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। পবিত্র স্থানের সমস্ত পাত্র ও রণবাদ্যের তুরী পীনহসের সঙ্গে ছিল।
7 পরে মূসার প্রতি মাবুদের দেওয়া হুকুম অনুসারে তারা মাদিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের সমস্ত পুরুষকে হত্যা করলো।
8 আর তারা মাদিয়ানের বাদশাহ্দেরকে তাদের অন্যান্য নিহত লোকদের সঙ্গে হত্যা করলো; ইবি, রেকম, সূর, হূর ও রেবা, মাদিয়ানের এই পাঁচ জন বাদশাহ্কে হত্যা করলো; বিয়োরের পুত্র বালামকেও তলোয়ার দ্বারা হত্যা করলো।
9 আর বনি-ইসরাইল মাদিয়ানের সকল স্ত্রীলোক ও বালক-বালিকাদেরকে বন্দী করে নিয়ে গেল এবং তাদের সমস্ত পশু, সমস্ত ভেড়ার পাল ও সমস্ত সম্পত্তি লুট করে নিল;
10 আর তাদের সমস্ত নিবাস-নগর ও সমস্ত ছাউনি পুড়িয়ে দিল।
11 আর তারা লুটদ্রব্য এবং মানুষ বা পশুপাল, সমস্ত ধৃত জীব সঙ্গে নিয়ে চললো।
12 তারা জেরিকোর নিকটবর্তী জর্ডানতীরস্থ মোয়াবের উপত্যকায় মূসার, ইলিয়াসর ইমামের ও বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলীর কাছে বন্দীদেরকে ও যুদ্ধে ধৃত জীবগুলোকে এবং লুণ্ঠিত সমস্ত দ্রব্য শিবিরে নিয়ে গেল।
13
মূসা, ইমাম ইলিয়াসর ও মণ্ডলীর সমস্ত নেতা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শিবিরের বাইরে গেলেন।
14 তখন যুদ্ধ থেকে প্রত্যাগত সেনাপতিদের, অর্থাৎ সহস্রপতি ও শতপতিদের উপরে মূসা ক্রুদ্ধ হলেন।
15 মূসা তাদেরকে বললেন, তোমরা কি সমস্ত স্ত্রীলোককে জীবিত রেখেছ?
16 দেখ, বালামের পরামর্শে তারাই পিয়োর দেবতার ঘটনায় বনি-ইসরাইলকে মাবুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করিয়েছিল, সেজন্যই মাবুদের মণ্ডলীতে মহামারী হয়েছিল।
17 অতএব তোমরা এখন বালক-বালিকাদের মধ্যে সমস্ত বালককে হত্যা কর এবং শয়নে পুরুষের পরিচয় পেয়েছে এমন সমস্ত স্ত্রীলোককেও হত্যা কর;
18 কিন্তু যে বালিকারা শয়নে পুরুষের পরিচয় পায় নি, তাদেরকে তোমাদের জন্য জীবিত রাখ।
19 আর তোমরা সাত দিন শিবিরের বাইরে ছাউনি করে থাক; তোমরা যত লোক মানুষ হত্যা করেছ ও নিহত লোককে স্পর্শ করেছ, সকলে তৃতীয় দিন ও সপ্তম দিনে নিজেদেরকে ও নিজ নিজ বন্দীদেরকে পাক-সাফ কর;
20 আর যাবতীয় কাপড়, চামড়া দিয়ে তৈরি যাবতীয় বস্তু, ছাগলের লোম দিয়ে তৈরি সমস্ত বস্তু ও কাঠ দিয়ে তৈরি যাবতীয় বস্তুর বিষয় নিজেদের পাক-সাফ কর।
21
যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, ইমাম ইলিয়াসর সেই যোদ্ধাদেরকে বললেন, মাবুদ কর্তৃক মূসাকে দেওয়া শরীয়তের এই নিয়ম;
22 কেবল সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ, লোহা, রাঙ্গ ও সীসা প্রভৃতি
23 যেসব দ্রব্য আগুনে নষ্ট হয় না, সেসব আগুনের মধ্য দিয়ে চালাবে, তাতে তা পাক-সাফ হবে; তবুও তা পাক-পবিত্রকরণ পানি দিয়ে পাক-সাফ করতে হবে; কিন্তু যে যে দ্রব্য আগুনে নষ্ট হয়, তা তোমরা পানির মধ্য দিয়ে চালাবে।
24 আর সপ্তম দিনে তোমরা নিজ নিজ কাপড় ধুয়ে ফেলবে; তাতে পাক-সাফ হবে; পরে শিবিরে প্রবেশ করবে।
25
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
26 তুমি ও ইলিয়াসর ইমাম এবং মণ্ডলীর পিতৃকুল-পতিগণ যুদ্ধে ধৃত প্রাণীদের, অর্থাৎ বন্দী মানুষ ও পশুদের সংখ্যা গণনা কর।
27 আর যুদ্ধে ধৃত সেই প্রাণীদেরকে দুই অংশ করে, যে যোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছিল, তাদের ও সমস্ত মণ্ডলীর মধ্যে ভাগ কর।
28 আর যুদ্ধে গমনকারী যোদ্ধাদের কাছ থেকে মাবুদের জন্য কর গ্রহণ কর; তাদের ভাগ থেকে মানুষ, গরু, গাধা ও ভেড়া,
29 এগুলোর মধ্যে প্রতি পাঁচ শত জীবের মধ্য থেকে একটি প্রাণীকে নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে উত্তোলনীয় উপহার হিসেবে ইমাম ইলিয়াসরকে দাও।
30 আর তুমি বনি-ইসরাইলদের ভাগ থেকে মানুষ, গরু গাধা ও ছাগল-ভেড়া বা অন্য সমস্ত পশুর মধ্য থেকে প্রতি পঞ্চাশ প্রাণী থেকে একটি প্রাণী নাও এবং মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর প্রতি কর্তব্য পালনকারী লেবীয়দেরকে দাও।
31
মূসাকে মাবুদ যেমন হুকুম করলেন, মূসা ও ইমাম ইলিয়াসর সেভাবেই সমস্ত কিছু করলেন।
32
যোদ্ধাদের কর্তৃক লুণ্ঠিত বস্তুগুলো ছাড়া ঐ ধৃত প্রাণীগুলো ছয় লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ভেড়া,
33 বাহাত্তর হাজার গরু,
34 একষট্টি হাজার গাধা,
35 আর বত্রিশ হাজার মানুষ, অর্থাৎ শয়নে পুরুষের পরিচয় পায় নি এমন স্ত্রীলোক ছিল।
36
তাতে যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, তাদের প্রাপ্য অর্ধাংশের সংখ্যা হল তিন লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার পাঁচ শত ভেড়া;
37 সেই ভেড়া থেকে মাবুদের লভ্য কর হল ছয় শত পঁচাত্তরটি।
38 আর গরু ছিল ছত্রিশ হাজার, তাদের মধ্যে মাবুদের কর বাহাত্তরটি।
39 আর গাধা ছিল ত্রিশ হাজার পাঁচ শত, তাদের মধ্যে মাবুদের কর একষট্টিটি।
40 আর মানুষ ছিল ষোল হাজার, তাদের মধ্যে মাবুদের কর হল বত্রিশ জন।
41 মাবুদ মূসাকে যেমন হুকুম করলেন, সেই অনুসারে মূসা সেই কর অর্থাৎ মাবুদের উত্তোলনীয় উপহার ইমাম ইলিয়াসরকে দিলেন।
42
আর মূসা যে অর্ধেক ভাগ যোদ্ধাদের কাছ থেকে নিয়ে বনি-ইসরাইলকে দিয়েছিলেন,
43 মণ্ডলীর সেই অর্ধেক ভাগে তিন লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার পাঁচ শত ভেড়া,
44 ছত্রিশ হাজার গরু,
45 ত্রিশ হাজার পাঁচ শত গাধা,
46 ও ষোল হাজার মানুষ ছিল।
47 পরে মূসা বনি-ইসরাইলদের সেই অর্ধেক ভাগ থেকে মানুষ ও পশুর মধ্যে প্রতি পঞ্চাশটি প্রাণী থেকে একটি প্রাণী নিয়ে মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর প্রতি কর্তব্য পালনকারী লেবীয়দেরকে দিলেন, যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম করলেন।
48
পরে হাজার সৈন্যের উপরে কর্তৃত্বকারী সহস্রপতি ও শতপতিরা মূসার কাছে আসলেন;
49 তাঁরা মূসাকে বললেন, আপনার এই গোলামেরা আমাদের অধীন যোদ্ধাদের সংখ্যা গণনা করেছে, আমাদের মধ্যে এক জনও কমে নি।
50 আমরা প্রত্যেক জন সোনার অলংকার, নূপুর, বলয়, আংটি, কুণ্ডল ও হার, এই যেসব পেয়েছি, তা থেকে মাবুদের সম্মুখে আমাদের প্রাণের জন্য কাফ্ফারা করতে মাবুদের উদ্দেশে উপহার এনেছি।
51 তখন মূসা ও ইমাম ইলিয়াসর তাঁদের কাছ থেকে সেই সোনা, কারুকাজ করা গহনা নিলেন।
52 আর মাবুদের উদ্দেশে নিবেদিত সহস্রপতি ও শতপতিদের উত্তোলনীয় উপহারের সমস্ত সোনা ষোল হাজার সাত শত পঞ্চাশ শেকল পরিমিত হল।
53 যোদ্ধারা প্রত্যেকেই নিজের জন্য লুণ্ঠিত দ্রব্য গ্রহণ করেছিল।
54 পরে মূসা ও ইমাম ইলিয়াসর সহস্রপতি ও শতপতিদের কাছ থেকে সেই সোনা গ্রহণ করলেন এবং মাবুদের সম্মুখে বনি-ইসরাইলদের স্মরণ করার চিহ্ন হিসেবে তা জমায়েত-তাঁবুতে আনলেন।
1
রূবেণ-বংশের লোকদের ও গাদ-বংশের লোকদের বিস্তর পশুধন ছিল; তারা যাসের দেশ ও গিলিয়দ দেশ নিরীক্ষণ করে দেখলো, সেই স্থান পশু-পালনের উপযুক্ত স্থান।
2 পরে গাদ-বংশের লোকেরা ও রূবেণ-বংশের লোকেরা এসে মূসা, ইমাম ইলিয়াসর ও মণ্ডলীর নেতৃবর্গকে বললো,
3 অটারোৎ, দীবোন, যাসের, নিম্রা, হিষ্বোন, ইলিয়ালী, সেবাম, নবো ও বিয়োন,
4 এই যে দেশকে মাবুদ ইসরাইলদের সম্মুখে আঘাত করেছেন, এটি পশু-পালনের উপযুক্ত দেশ, আর আপনার এই গোলামদের পশু আছে।
5 তারা আরও বললো, আমরা যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে আপনার গোলামদের এই দেশের অধিকার দিতে হুকুম হোক, আমাদেরকে জর্ডানের অন্য পারে নিয়ে যাবেন না।
6
তখন মূসা গাদ ও রূবেণ-বংশের লোকদের বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা যুদ্ধ করতে যাবে, আর তোমরা কি এই স্থানে বসে থাকবে?
7 আর মাবুদের দেওয়া দেশে পার হয়ে যেতে বনি-ইসরাইলদের মন কেন নিরাশ করছো?
8 তোমাদের পিতারা, যখন আমি দেশ দেখতে কাদেশ-বর্ণেয় থেকে তাদেরকে পাঠিয়েছিলাম, তখন তা-ই করেছিল;
9 তারা ইষ্কোলের উপত্যকা পর্যন্ত গমন করে দেশ দেখে আসবার পর মাবুদের দেওয়া দেশে যেতে বনি-ইসরাইলদের মন নিরাশ করেছিল।
10 আর সেদিন মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হলে তিনি শপথ করে বলেছিলেন,
11 আমি ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে যে দেশ দিতে কসম খেয়েছি, মিসর থেকে আগত পুরুষদের মধ্যে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক কেউই সেই দেশ দেখতে পাবে না; কেননা তারা সমপূর্ণভাবে আমার অনুগত হয় নি;
12 কেবল কনিসীয় যিফুন্নির পুত্র কালুত ও নূনের পুত্র ইউসা তা দেখবে, কারণ তারাই সমপূর্ণভাবে মাবুদের অনুগত হয়েছে।
13 তখন ইসরাইলের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, আর তিনি চল্লিশ বছর পর্যন্ত, মাবুদের দৃষ্টিতে কুকর্মকারী সমস্ত লোক নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত, তাদেরকে মরু-ভূমিতে ভ্রমণ করালেন।
14 আর দেখ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ভয়ানক ক্রোধ আরও বৃদ্ধি করার জন্য, গুনাহ্গার লোকদের বংশ যে তোমরা, তোমরা তোমাদের পিতৃগণের স্থলে উঠেছ।
15 কেননা যদি তোমরা তাঁর পশ্চাদ্গমন থেকে ফিরে যাও, তবে তিনি পুনর্বার ইসরাইলকে মরুভূমিতে পরিত্যাগ করবেন, তাতে তোমরা এই সব লোককে বিনষ্ট করবে।
16
তখন তারা তাঁর কাছে এসে বললো, আমরা এই স্থানে আমাদের পশুগুলোর জন্য মেষবাথান ও আমাদের বালক-বালিকাদের জন্য নগর নির্মাণ করবো।
17 আর আমরা যতক্ষণ বনি-ইসরাইলকে নিজেদের দেশে প্রতিষ্ঠিত না করি, ততক্ষণ সশস্ত্র হয়ে তাদের আগে আগে যাব; কেবল আমাদের বালক-বালিকারা দেশবাসীদের ভয়ে প্রাচীরবেষ্টিত নগরে বাস করবে।
18 বনি-ইসরাইল প্রত্যেকে যতক্ষণ নিজ নিজ অধিকার না পায়, ততক্ষণ আমরা নিজস্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবো না।
19 কিন্তু আমরা জর্ডানের পারে বা তার ওদিকে ওদের সঙ্গে অধিকার গ্রহণ করবো না, কারণ জর্ডানের এই পূর্ব পারে, আমাদের অধিকার মিলেছে।
20
মূসা তাদের বললেন, তোমরা যদি এই কাজ কর, যদি সশস্ত্র হয়ে মাবুদের সম্মুখে যুদ্ধের জন্য গমন কর;
21 এবং তিনি যতক্ষণ তাঁর দুশমনদেরকে তাঁর সম্মুখ থেকে অধিকারচ্যুত না করেন, ততক্ষণ যদি তোমরা প্রত্যেকে সশস্ত্র হয়ে মাবুদের সম্মুখে জর্ডান পার হও;
22 তবে দেশ মাবুদের বশীভূত হলে তোমরা ফিরে আসবে এবং মাবুদ ও ইসরাইলের কাছে নির্দোষ হবে, আর মাবুদের সম্মুখে এই দেশে তোমাদের অধিকার হবে।
23 কিন্তু যদি সেরকম না কর, তবে দেখ, তোমরা মাবুদের কাছে গুনাহ্ করলে এবং নিশ্চয় জেনো, তোমাদের গুনাহ্ তোমাদেরকে ধরবে।
24 তোমরা নিজ নিজ পুত্র কন্যাদের জন্য নগর ও ভেড়াগুলোর জন্য বাথান নির্মাণ কর এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ কর।
25
তখন গাদ-বংশের লোকেরা ও রূবেণ-বংশের লোকেরা মূসাকে বললো, আমাদের মালিক যে হুকুম করলেন, আপনার গোলাম আমরা তা-ই করবো।
26 আমাদের পুত্র কন্যারা, আমাদের স্ত্রীলোকেরা, আমাদের গবাদির পালগুলো ও আমাদের সমস্ত পশুধন এই স্থানে গিলিয়দের নগরগুলোতে থাকবে।
27 আর আমাদের মালিকের নির্দেশ অনুসারে আপনার এই গোলামেরা, সশস্ত্র প্রত্যেকজন যুদ্ধ করতে মাবুদের সম্মুখে পার হয়ে যাবে।
28
তখন মূসা তাদের বিষয়ে ইমাম ইলিয়াসর, নূনের পুত্র ইউসা ও বনি-ইসরাইলদের বংশগুলোর পিতৃকুলপতিদেরকে হুকুম করলেন।
29 মূসা তাদেরকে বললেন, গাদ-বংশের লোকেরা ও রূবেণ-বংশের লোকেরা, যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র প্রত্যেকজন যদি তোমাদের সঙ্গে মাবুদের সম্মুখে জর্ডান পার হয়, তবে এই দেশ তোমাদের অধিকারে আসার পর তোমরা অধিকার হিসেবে তাদেরকে গিলিয়দ দেশ দেবে।
30 কিন্তু যদি তারা সশস্ত্র হয়ে তোমাদের সঙ্গে পার না হয়, তবে তারা তোমাদের মধ্যে কেনান দেশে অধিকার পাবে।
31 পরে গাদ-বংশের লোকেরা ও রূবেণ-বংশের লোকেরা জবাবে বললো, মাবুদ আপনার এই গোলামদেরকে যা বলেছেন, তা-ই আমরা করবো।
32 আমরা সশস্ত্র হয়ে মাবুদের সম্মুখে পার হয়ে কেনান দেশে যাব; আর জর্ডানের পূর্ব পারে আমাদের অধিকারে আমাদের স্বত্বাধিকার স্থায়ী হল।
33
পরে মূসা তাদের, অর্থাৎ গাদ-বংশের লোকেরা, রূবেণ-বংশের লোকেরা ও ইউসুফের পুত্র মানশার অর্ধেক বংশকে আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের রাজ্য ও বাশনের বাদশাহ্ উজের রাজ্য, সেই দেশ, পরিসীমাসুদ্ধ সেখানকার সমস্ত নগর অর্থাৎ দেশের চারদিকের নগরগুলো দিলেন।
34 আর গাদ-বংশের লোকেরা দীবোন,
35 অটারোৎ, অরোয়ের এবং
36 অট্রোৎ-শোফন, যাসের, যগ্বিহ এবং বৈৎ-নিম্রা, বৈৎ-হারণ, এসব প্রাচীরবেষ্টিত নগর ও মেষবাথান নির্মাণ করলো।
37 আর রূবেণ-বংশের লোকেরা হিষ্বোন, ইলিয়ালী ও কিরিয়াথয়িম,
38 এবং নবো ও বাল্-মিয়োন এবং সিব্মা, এই সব নগর নির্মাণ করে তাদের নির্মিত নগরগুলোর নাম নতুন করে রাখল।
39 আর মানশার পুত্র মাখীরের সন্তানরা গিলিয়দে গিয়ে তা হস্তগত করে সেই স্থানে বসবাসকারী ইমোরীয়দেরকে অধিকারচ্যুত করলো।
40 আর মূসা মানশার পুত্র মাখীরকে গিলিয়দ দিলেন এবং সে সেখানে বাস করলো।
41 আর মানশার সন্তান যায়ীর গিয়ে সেখানকার গ্রামগুলো অধিকার করলো এবং তাদের নাম হব্বোৎ-যায়ীর [যায়ীরের গ্রামগুলো] রাখল।
42 আর নোবহ গিয়ে কনাৎ ও তার গ্রামগুলো অধিকার করলো এবং তার নাম অনুসারে নাম রাখল নোবহ।
1
বনি-ইসরাইল মূসা ও হারুনের অধীনে নিজ নিজ সৈন্যশ্রেণী অনুসারে মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসবার পর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে থেমে থেমে চলছিল।
2 মূসা মাবুদের হুকুমে তাদের যাত্রা অনুসারে সেই যাত্রার ধাপগুলোর বিবরণ লিখলেন। তাদের যাত্রা অনুসারে ধাপগুলোর বিবরণ হচ্ছে:
3 প্রথম মাসে, প্রথম মাসের পঞ্চদশ দিনে তারা রামিষেষ থেকে প্রস্থান করলো; ঈদুল ফেসাখের পরদিন বনি-ইসরাইল মিসরীয় সব লোকের সাক্ষাতে বীরবিক্রমে বের হল।
4 সেই সময়ে মিসরীয়েরা, তাদের মধ্যে যাদেরকে মাবুদ আঘাত করেছিলেন, তাদের সমস্ত প্রথমজাতকে দাফন করছিল; আর মাবুদ তাদের দেবতাদেরকেও দণ্ড দিয়েছিলেন।
5
রামিষেষ থেকে যাত্রা করে বনি-ইসরাইল সুক্কোতে শিবির স্থাপন করলো।
6 সুক্কোৎ থেকে যাত্রা করে মরুভূমির সীমাস্থিত এথমে শিবির স্থাপন করলো।
7 এথম থেকে যাত্রা করে বাল-সফোনের সম্মুখস্থ পীহহীরোতে ফিরে মিগ্দোলের সম্মুখে শিবির স্থাপন করলো।
8 হহীরোতের সম্মুখ থেকে যাত্রা করে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে মরুভূমিতে প্রবেশ করলো এবং এথম মরুভূমিতে তিন দিনের পথ গিয়ে মারাতে শিবির স্থাপন করলো।
9 মারা থেকে যাত্রা করে এলীমে উপস্থিত হল; এলীমে পানির বারোটি ফোয়ারা ও সত্তরটি খেজুর গাছ ছিল; তারা সেই স্থানে শিবির স্থাপন করলো।
10 এলীম থেকে যাত্রা করে লোহিত সাগরের পাশে শিবির স্থাপন করলো।
11 লোহিত সাগর থেকে যাত্রা করে সীন মরুভূমিতে শিবির স্থাপন করলো।
12 সীন মরুভূমি থেকে যাত্রা করে দপ্কাতে শিবির স্থাপন করলো।
13 দপ্কা থেকে যাত্রা করে আলূশে শিবির স্থাপন করলো।
14 আলূশ থেকে যাত্রা করে রফীদীমে শিবির স্থাপন করলো; সেই স্থানে লোকদের পান করার জন্য কোন পানি ছিল না।
15 তারা রফীদীম থেকে যাত্রা করে সিনাই মরুভূমিতে শিবির স্থাপন করলো।
16 সিনাই মরুভূমি থেকে যাত্রা করে কিব্রোৎ-হত্তাবাতে শিবির স্থাপন করলো।
17 কিব্রোৎ-হত্তাবা থেকে যাত্রা করে হৎসেরোতে শিবির স্থাপন করলো।
18 হৎসেরোৎ থেকে যাত্রা করে রিৎমাতে শিবির স্থাপন করলো।
19 রিৎমা থেকে যাত্রা করে রিম্মোণ পেরসে শিবির স্থাপন করলো।
20 রিম্মোণ-পেরস থেকে যাত্রা করে লিব্নাতে শিবির স্থাপন করলো।
21 লিব্না থেকে যাত্রা করে রিস্সাতে শিবির স্থাপন করলো।
22 রিস্সা থেকে যাত্রা করে কহেলাথায় শিবির স্থাপন করলো।
23 কহেলাথা থেকে যাত্রা করে শেফর পর্বতে শিবির স্থাপন করলো।
24 শেফর পর্বত থেকে যাত্রা করে হরাদাতে শিবির স্থাপন করলো।
25 হরাদা থেকে যাত্রা করে মখেলোতে শিবির স্থাপন করলো।
26 মখেলোৎ থেকে যাত্রা করে তহতে শিবির স্থাপন করলো।
27 তহৎ থেকে যাত্রা করে তেরহে শিবির স্থাপন করলো।
28 তেরহ থেকে যাত্রা করে মিৎকাতে শিবির স্থাপন করলো।
29 মিৎকা থেকে যাত্রা করে হশ্মোনাতে শিবির স্থাপন করলো।
30 হশ্মোনা থেকে যাত্রা করে মোষেরোতে শিবির স্থাপন করলো।
31 মোষেরোৎ থেকে যাত্রা করে বনেয়াকনে শিবির স্থাপন করলো।
32 বনেয়াকন থেকে যাত্রা করে হোর্-হগিদ্-গদে শিবির স্থাপন করলো।
33 হোর্ হগিদ্গদ থেকে যাত্রা করে যট্বাথাতে শিবির স্থাপন করলো।
34 যট্বাথা থেকে যাত্রা করে অব্রোণাতে শিবির স্থাপন করলো।
35 অব্রোণা থেকে যাত্রা করে ইৎসিয়োন-গেবরে শিবির স্থাপন করলো।
36 ইৎসিয়োন-গেবর থেকে যাত্রা করে সিন মরুভূমিতে অর্থাৎ কাদেশে শিবির স্থাপন করলো।
37 কাদেশ থেকে যাত্রা করে ইদোম দেশের প্রান্তস্থিত হোর পর্বতে শিবির স্থাপন করলো।
38
আর ইমাম হারুন মাবুদের হুকুম অনুসারে হোর পর্বতে উঠলেন এবং মিসর থেকে বনি-ইসরাইলদের বের হবার চল্লিশ বছরের পঞ্চম মাসের প্রথম দিনে সেই স্থানে ইন্তেকাল করলেন।
39 হোর পর্বতে হারুনের ইন্তেকালের সময়ে তাঁর এক শত তেইশ বছর বয়স হয়েছিল।
40
আর কেনান দেশের দক্ষিণ অঞ্চল নিবাসী কেনানীয় অরাদের বাদশাহ্ বনি-ইসরাইলদের আগমন সংবাদ শুনলেন।
41
পরে তারা হোর পর্বত থেকে যাত্রা করে সল্মোনাতে শিবির স্থাপন করলো।
42 সল্মোনা থেকে যাত্রা করে পূনোনে শিবির স্থাপন করলো।
43 পূনোন থেকে যাত্রা করে ওবোতে শিবির স্থাপন করলো।
44 ওবোৎ থেকে যাত্রা করে মোয়াবের প্রান্তস্থিত ইয়ী-অবারীমে শিবির স্থাপন করলো।
45 ইয়ীম থেকে যাত্রা করে দীবোন-গাদে শিবির স্থাপন করলো।
46 দীবোন-গাদ থেকে যাত্রা করে অল্মোন-দিব্লাথয়িমে শিবির স্থাপন করলো।
47 অল্মোন-দিব্লাথয়িম থেকে যাত্রা করে নবোর সম্মুখস্থিত পর্বতময় অবারীম অঞ্চলে শিবির স্থাপন করলো।
48 পর্বতময় অবারীম অঞ্চল থেকে যাত্রা করে জেরিকোর নিকটবর্তী জর্ডানের কাছে মোয়াবের উপত্যকাতে শিবির স্থাপন করলো;
49 সেখানে জর্ডানের কাছে বৈৎ-যিশীমোৎ থেকে আবেল-শিটীম পর্যন্ত মোয়াবের উপত্যকাতে শিবির স্থাপন করে রইলো।
50
তখন জেরিকোর নিকটবর্তী জর্ডান নদীর পাশে মোয়াবের উপত্যকাতে মাবুদ মূসাকে বললেন,
51 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, তোমরা যখন জর্ডান পার হয়ে কেনান দেশে উপস্থিত হবে,
52 তখন তোমাদের সম্মুখ থেকে সেই দেশ-নিবাসী সকলকে অধিকারচ্যুত করে তাদের সমস্ত মূর্তি ভেঙে ফেলবে, সমস্ত ছাঁচে ঢালা মূর্তি বিনষ্ট ও সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন করবে।
53 তোমরা সেই দেশ অধিকার করে তার মধ্যে বাস করবে; কেননা আমি অধিকার হিসেবে সেই দেশ তোমাদেরকে দিয়েছি।
54 আর তোমরা গুলিবাঁট দ্বারা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে দেশের অধিকার ভাগ করে নেবে; বেশি লোককে বেশি অংশ ও অল্প লোককে অল্প অংশ দেবে; যার অংশ যে স্থানে পড়ে তার অংশ সেই স্থানে হবে; তোমরা নিজ নিজ পিতৃবংশানুসারে অধিকার পাবে।
55 কিন্তু যদি তোমরা নিজেদের সামনে থেকে সেই দেশবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত না কর, তবে যাদেরকে অবশিষ্ট রাখবে তারা তোমাদের চোখের কাঁটা ও তোমাদের পাঁজরের হুলস্বরূপ হবে এবং তোমাদের সেই বাসভূমিতে তোমাদেরকে কষ্ট দেবে।
56 আর আমি তাদের প্রতি যা করতে মনস্থ করেছিলাম, তা তোমাদের প্রতি করবো।
1
মাবুদ মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে হুকুম কর, তাদেরকে বল, তোমরা কেনান দেশে প্রবেশ করতে উদ্যত আছ; তোমরা অধিকার হিসেবে যে দেশ পাবে, চারদিকের সীমানা অনুসারে সেই কেনান দেশটি এমন:
3 ইদোমের নিকটস্থিত সীন মরুভূমি থেকে তোমাদের দক্ষিণ অঞ্চল হবে ও পূর্ব দিকে লবণ সমুদ্রের প্রান্ত থেকে তোমাদের দক্ষিণ সীমা হবে।
4 আর তোমাদের সীমা অক্রব্বীম আরোহণ-পথের দক্ষিণ দিকে ফিরে সিন পর্যন্ত যাবে ও সেখান থেকে কাদেশ-বর্ণেয়ের দক্ষিণ দিকে যাবে এবং হৎসর-অদরে এসে অস্মোন পর্যন্ত যাবে।
5 পরে ঐ সীমা অস্মোন থেকে মিসরের নদী পর্যন্ত বেড়িয়ে আসবে এবং সমুদ্র পর্যন্ত এই সীমার শেষ হবে।
6
পশ্চিম সীমার জন্য মহাসমুদ্র তোমাদের পক্ষে রইলো, এ-ই তোমাদের পশ্চিম সীমা হবে।
7
আর তোমাদের উত্তর সীমা এরকম; তোমরা মহাসমুদ্র থেকে তোমাদের জন্য হোর পর্বত লক্ষ্য করবে।
8 হোর পর্বত থেকে হমাতের প্রবেশস্থান লক্ষ্য করবে। সেখান থেকে সেই সীমা সদাদ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
9 আর সেই সীমা সিফ্রোণ পর্যন্ত যাবে ও হৎসর-ঐনন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে; এ-ই তোমাদের উত্তর সীমা হবে।
10
পূর্ব সীমার জন্য তোমরা হৎসর-ঐনন থেকে শফাম লক্ষ্য করবে।
11 পরে সেই সীমা শফাম থেকে ঐনের পূর্ব দিক হয়ে রিব্লা পর্যন্ত নেমে যাবে; সে সীমা নেমে পূর্ব দিকে কিন্নেরৎ হ্রদের তট পর্যন্ত যাবে।
12 পরে সে সীমা জর্ডান দিয়ে যাবে এবং লবণ-সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হবে; চারদিকের সীমা অনুসারে এটা তোমাদের দেশ হবে।
13
আর মূসা বনি-ইসরাইলকে এই হুকুম করলেন, যে দেশ তোমরা গুলিবাঁট দ্বারা অধিকার করবে, মাবুদ সাড়ে নয় বংশকে যে দেশ দিতে হুকুম করেছেন, এটা সেই দেশ।
14 কেননা নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে রূবেণ-বংশের লোকদের বংশ, নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে গাদ-বংশের লোকদের বংশ তার অধিকার পেয়েছে ও মানশার অর্ধেক বংশও পেয়েছে।
15 জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডানের পূর্বপারে সূর্যোদয়ের দিকে সেই আড়াই বংশ নিজ নিজ অধিকার লাভ করেছে।
16
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
17 যারা তোমাদের অধিকারের জন্য দেশ ভাগ করে দেবে তাদের নাম হচ্ছে: ইমাম ইলিয়াসর ও নূনের পুত্র ইউসা।
18 আর তোমরা প্রত্যেক বংশ থেকে একেক জন নেতাকে দেশ ভাগ করার জন্য গ্রহণ করবে।
19 সেই ব্যক্তিদের নাম এই: শিমিয়োন-বংশের যিফূন্নির পুত্র কালুত।
20 শিমিয়োন-বংশের অম্মীহূদের পুত্র শামুয়েল।
21 বিন্ইয়ামীন-বংশের কিশ্লোনের পুত্র ইলীদদ।
22 দান-বংশের নেতা যগ্লির পুত্র বুক্কি।
23 ইউসুফের পুত্রদের মধ্যে মানশা-বংশের নেতা এফোদের পুত্র হন্নীয়েল।
24 আফরাহীম-বংশের নেতা শিপ্তনের পুত্র কমূয়েল।
25 সবূলূন-বংশের নেতা পর্ণকের পুত্র ইলীষাফণ।
26 ইষাখর-বংশের নেতা অস্-সনের পুত্র পল্টিয়েল।
27 আশের-বংশের নেতা শলোমির পুত্র অহীহূদ।
28 নপ্তালি-বংশের নেতা অম্মীহূদের পুত্র পদহেল।
29 কেনান দেশে বনি-ইসরাইলদের জন্য অধিকার ভাগ করে দিতে মাবুদ এসব লোককে হুকুম করলেন।
1
পরে মাবুদ মোয়াবের উপত্যকাতে জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডানের কাছে মূসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলকে হুকুম কর, যেন তারা নিজ নিজ অধিকৃত অংশ থেকে বাস করার জন্য কতকগুলো নগর লেবীয়দেরকে দেয়। তোমরা সেসব নগরের সঙ্গে চারদিকের চারণ-ভূমিও লেবীয়দেরকে দেবে।
3 সেসব নগর তাদের নিবাসের জন্য হবে ও নগরগুলোর চারণ-ভূমি তাদের সমস্ত পশু, সম্পত্তি ও প্রাণীগুলোর জন্য হবে।
4 আর তোমরা নগরগুলোর যেসব চারণ-ভূমি লেবীয়দেরকে দেবে, তার পরিমাণ নগর প্রাচীরের বাইরে চারদিকে এক হাজার হাত হবে।
5 আর তোমরা নগরের বাইরে তার পূর্ব সীমা দুই হাজার হাত, দক্ষিণ সীমা দুই হাজার হাত, পশ্চিম সীমা দুই হাজার হাত ও উত্তর সীমা দুই হাজার হাত পরিমাণ করবে; মধ্য স্থলে থাকবে নগরটি। তাদের জন্য তা নগরের চারণ-ভূমি হবে।
6
নরহন্তাদের পলায়নের জন্য যে ছয়টি আশ্রয়-নগর তোমরা দেবে, সেসব এবং তা ছাড়া আরও বেয়াল্লিশটি নগর তোমরা লেবীয়দেরকে দেবে।
7 মোট আটচল্লিশটি নগর ও সেগুলোর চারণ-ভূমি লেবীয়দেরকে দেবে।
8 আর বনি-ইসরাইলদের অধিকার থেকে সেসব নগর দেবার সময়ে তোমরা বেশি থেকে বেশি ও অল্প থেকে অল্প নেবে; প্রত্যেক বংশ যে অধিকার পেয়েছে সেই অনুসারে কতকগুলো নগর লেবীয়দেরকে দেবে।
9
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন,
10 তুমি বনি-ইসরাইলকে বল, যখন তোমরা জর্ডান পার হয়ে কেনান দেশে উপস্থিত হবে,
11 তখন তোমাদের আশ্রয়-নগরের জন্য কতকগুলো নগর নির্ধারণ করবে; যে জন ভুলবশত কারো প্রাণ নষ্ট করে, এমন নর-হন্তা যেন সেখানে পালিয়ে যেতে পারে।
12 ফলত সেসব নগর প্রতিশোধদাতার হাত থেকে তোমাদের আশ্রয়স্থান হবে; যেন নরহন্তা বিচারের জন্য মণ্ডলীর সম্মুখে উপস্থিত হবার আগে মারা না পড়ে।
13
তোমরা যেসব নগর দেবে, তার মধ্যে ছয়টি আশ্রয় নগর হবে।
14 তোমরা জর্ডানের পূর্ব পারে তিনটি নগর ও কেনান দেশে তিনটি নগর দেবে; সেগুলো আশ্রয় নগর হবে।
15 বনি-ইসরাইলদের জন্য এবং তাদের মধ্যে প্রবাসী ও বিদেশীদের জন্য এই ছয়টি নগর আশ্রয়স্থান হবে; যেন কেউ ভুলবশত মানুষকে খুন করলে সেই স্থানে লুকাতে পারে।
16
এছাড়া, যদি কেউ লোহার অস্ত্র দ্বারা কাউকেও এমন আঘাত করে যে তাতে সে মারা যায়, তবে সেই ব্যক্তি নরহন্তা; সেই নরহন্তার প্রাণদণ্ড অবশ্য হবে।
17 আর যা দ্বারা মারা যেতে পারে, এমন পাথর হাতে নিয়ে যদি সে কাউকেও আঘাত করে ও তাতে সে মারা যায়, তবে সে নরহন্তা; সেই নরহন্তার প্রাণদণ্ড অবশ্য হবে।
18 কিংবা যা দ্বারা মারা যেতে পারে, এমন কোন কাঠের তৈরি বস্তু হাতে নিয়ে যদি সে কাউকেও আঘাত করে, আর তাতে সে মারা যায়, তবে সে নরহন্তা; সেই নরহন্তার প্রাণদণ্ড অবশ্য হবে।
19 রক্তের প্রতিশোধদাতা নিজে নরহন্তাকে হত্যা করবে; তার দেখা পেলেই তাকে হত্যা করবে।
20 আর যদি হিংসা করে কেউ কাউকেও আঘাত করে, কিংবা লক্ষ্য করে তার উপরে অস্ত্র নিক্ষেপ করে ও তাতে সে মারা যায়;
21 কিংবা শত্রুতা করে যদি কেউ কাউকেও নিজের হাতে আঘাত করে ও তাতে সে মারা যায়; তবে যে তাকে আঘাত করেছে, তার প্রাণদণ্ড অবশ্য হবে; সে নরহন্তা; রক্তের প্রতিশোধদাতা তার দেখা পেলেই সেই নরহন্তাকে হত্যা করবে।
22
কিন্তু যদি শত্রুতা ছাড়া হঠাৎ কেউ কাউকেও আঘাত করে, কিংবা লক্ষ্য না করে তার শরীরে অস্ত্র নিক্ষেপ করে,
23 কিংবা যা দ্বারা মরতে পারে, এমন পাথর যদি কারো উপরে যদি না দেখে ফেলে, আর তাতেই যদি তার মৃত্যু হয়, অথচ সে তার দুশমন বা অনিষ্টচেষ্টাকারী ছিল না;
24 তবে মণ্ডলী সেই নরহন্তার এবং রক্তের প্রতিশোধ নেবার অধিকারী সম্বন্ধে এসব অনুশাসন অনুযায়ী বিচার করবে।
25 আর মণ্ডলী রক্তের প্রতিশোধ-দাতার হাত থেকে সেই নর-হন্তাকে উদ্ধার করবে এবং সে যেখানে পালিয়েছিল, তার সেই আশ্রয়-নগরে মণ্ডলী তাকে পুনর্বার পৌঁছে দেবে। আর যে পর্যন্ত পবিত্র তেলে অভিষিক্ত মহা-ইমামের মৃত্যু না হয়, ততদিন সে সেই নগরে থাকবে।
26 কিন্তু সেই নরহন্তা যে আশ্রয়-নগরে পালিয়েছে, কোন সময়ে যদি সে তার সীমার বাইরে যায়,
27 এবং রক্তের প্রতিশোধদাতা আশ্রয়-নগরের সীমার বাইরে তাকে পায়, তবে সেই রক্তের প্রতিশোধদাতা তাকে হত্যা করলেও রক্তপাতের অপরাধী হবে না।
28 কেননা মহা-ইমামের মৃত্যু পর্যন্ত নিজের আশ্রয়-নগরে থাকা তার উচিত ছিল; কিন্তু মহা-ইমামের মৃত্যু হলে সেই নরহন্তা তার বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে।
29
তোমাদের পুরুষানুক্রমে তোমাদের সমস্ত নিবাসে এ সব তোমাদের পক্ষে বিচার বিধি হবে।
30
যে ব্যক্তি কোন লোককে হত্যা করে, সেই নরহন্তা সাক্ষীদের কথায় হত হবে; কিন্তু কোন লোকের বিরুদ্ধে একমাত্র সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রাণদণ্ডের জন্য গ্রাহ্য হবে না।
31 আর প্রাণদণ্ডের অপরাধী নরহন্তার প্রাণের জন্য তোমরা কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করবে না; তার প্রাণদণ্ড অবশ্যই হবে।
32 আর যে কেউ তার আশ্রয়-নগরে পালিয়েছে, সে যেন ইমামের মৃত্যুর আগে পুনর্বার দেশে এসে বাস করতে পারে, এজন্য তার কাছ থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করবে না।
33 এভাবে তোমরা তোমাদের নিবাস দেশ নাপাক করবে না; কেননা রক্ত দেশকে নাপাক করে এবং সেখানে যে রক্তপাত হয়, তার জন্য যে রক্তপাত ঘটায় তার রক্তপাত ছাড়া দেশের কাফ্ফারা হতে পারে না।
34 আর তোমরা যে দেশ অধিকার করবে ও যার মধ্যে আমি বাস করি, তুমি তা নাপাক করবে না; কেননা আমি মাবুদ বনি-ইসরাইলদের মধ্যে বাস করি।
1
পরে ইউসুফ-সন্তানদের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মানশার পৌত্র মাখীরের পুত্র গিলিয়দের সন্তানদের গোষ্ঠীর পিতৃকুলপতিগণ এসে মূসা ও নেতৃবর্গের সম্মুখে, বনি-ইসরাইলদের পিতৃকুলপতিদের সম্মুখে কথা বললেন।
2 তাঁরা বললেন, মাবুদ গুলিবাঁট দ্বারা অধিকার হিসেবে বনি-ইসরাইলকে দেশ দিতে আমার মালিককে হুকুম করেছেন এবং আপনি আমাদের ভাই সলফাদের অধিকার তাঁর কন্যাদেরকে দেবার হুকুম মাবুদ থেকে পেয়েছেন।
3 কিন্তু বনি-ইসরাইলদের অন্য কোন বংশের সন্তানদের মধ্যে কারো সঙ্গে যদি তাদের বিয়ে হয়, তবে আমাদের পিতৃগণের অধিকার থেকে তাদের অধিকার কাটা যাবে ও তারা যে বংশে যাবে, সেই বংশের অধিকারে তা যুক্ত হবে; এভাবে তা আমাদের অধিকারের অংশ থেকে কাটা যাবে।
4 আর যখন বনি-ইসরাইলদের জুবিলী উপস্থিত হবে, সেই সময় তাদের যে বংশে বিয়ে হয়েছে, সেই বংশের অধিকারে তাদের অধিকার যুক্ত হবে; এভাবে আমাদের পিতৃবংশের অধিকার থেকে তাদের অধিকার কাটা যাবে।
5
তখন মূসা মাবুদের নির্দেশ অনুসারে বনি-ইসরাইলকে হুকুম করলেন, বললেন, ইউসুফ-সন্তানদের বংশ যথার্থ বলছে।
6 মাবুদ সলফাদের কন্যাদের বিষয়ে এই হুকুম করছেন, তারা যাকে মনোনীত করবে, তাকে বিয়ে করতে পারবে; কিন্তু কেবল নিজেদের পিতৃবংশের কোন গোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে করবে।
7 এভাবে বনি-ইসরাইলদের অধিকার এক বংশ থেকে অন্য বংশে যাবে না; বনি-ইসরাইল প্রত্যেকে নিজ নিজ পিতৃবংশের অধিকারভুক্ত থাকবে।
8 আর বনি-ইসরাইল প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ পৈতৃক অধিকার ভোগ করে, এজন্য বনি-ইসরাইলদের কোন বংশের মধ্যে অধিকারিণী প্রত্যেক কন্যা তার পিতৃবংশীয় গোষ্ঠীর মধ্যে কোন এক পুরুষের স্ত্রী হবে।
9 এভাবে এক বংশ থেকে অন্য বংশে অধিকার যাবে না, কারণ বনি-ইসরাইলদের প্রত্যেক বংশ নিজ নিজ অধিকারভুক্ত থাকবে।
10
মূসাকে মাবুদ যেরকম হুকুম করলেন, সলফাদের কন্যারা সেইভাবে কাজ করলো।
11 ফলত মহলা, তির্সা, হগ্লা মিল্কা ও নোয়া, সলফাদের এই কন্যারা নিজ নিজ চাচাতো ভাইদের সঙ্গে বিবাহিতা হল।
12 ইউসুফের পুত্র মানশার সন্তানদের গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের বিয়ে হল; তাতে তাদের অধিকার তাদের পিতৃগোষ্ঠীর সম্পর্কীয় বংশেই রইলো।
13
মাবুদ জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডানের সমীপে মোয়াবের উপত্যকায় মূসা দ্বারা বনি-ইসরাইলকে এ সব নির্দেশ ও অনুশাসন দান করলেন।
1
জর্ডানের পূর্বপারস্থিত মরুভূমিতে, সূফের সম্মুখস্থিত অরাবা উপত্যকায় পারণ, তোফল, লাবন, হৎসেরোৎ ও দীষাহবের মধ্যস্থানে মূসা সমস্ত ইসরাইলকে এই সব কথা বললেন।
2 সেয়ীর পর্বত দিয়ে হোরেব থেকে কাদেশ-বর্ণেয় পর্যন্ত যেতে এগার দিন লাগে।
3 মাবুদ যে যে কথা বনি-ইসরাইলকে বলতে মূসাকে হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারে মূসা চল্লিশ বছরের একাদশ মাসের প্রথম দিনে তাদেরকে বলতে লাগলেন।
4 হিষবোন-নিবাসী আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোন এবং ইদ্রিয়ীতে অষ্টারোৎ-নিবাসী বাশনের বাদশাহ্ উজকে আঘাত করার পর,
5 জর্ডানের পূর্বপারে মোয়াব দেশে মূসা শরীয়তের এই সমস্ত কথা ব্যাখ্যা করতে লাগলেন; তিনি বললেন,
6
আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ হোরেবে আমাদেরকে বলেছিলেন, তোমরা এই পর্বতে অনেক দিন ধরে অবস্থান করেছ;
7 এখন ফিরে তোমরা যাত্রা কর, আমোরীয়দের পর্বতময় দেশ এবং তার নিকটবর্তী সমস্ত স্থান, অরাবা উপত্যকা, পাহাড়ী অঞ্চল, নিম্নভূমি, দক্ষিণ প্রদেশ ও সমুদ্রতীর, মহানদী ফোরাত পর্যন্ত কেনানীয়দের দেশে ও লেবাননে প্রবেশ কর।
8 দেখ, আমি সেই দেশ তোমাদের সম্মুখে দিয়েছি; তোমাদের পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে এবং তাদের পরে তাদের বংশকে যে দেশ দিতে মাবুদ শপথ করেছিলেন তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার কর।
9
সেই সময়ে আমি তোমাদেরকে এই কথা বলেছিলাম, তোমাদের ভার বহন করা একা আমার অসাধ্য।
10 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের বৃদ্ধি করেছেন, আর দেখ, তোমরা আজ আসমানের তারার মত বহুসংখ্যক হয়েছ;
11 তোমরা যেমন আছ, তোমাদের পিতৃগণের আল্লাহ্ মাবুদ তা থেকে তোমাদের আরও হাজার গুণ বৃদ্ধি করুন, আর তোমাদেরকে যেমন বলেছেন, তেমনি দোয়া করুন।
12 আমি কেমন করে একা তোমাদের বোঝা, তোমাদের ভার ও তোমাদের ঝগড়া সহ্য করতে পারি?
13 তোমরা নিজ নিজ বংশের মধ্যে জ্ঞানবান, বুদ্ধিমান ও পরিচিত লোকদেরকে মনোনীত কর, আমি তাদেরকে তোমাদের নেতা হিসেবে নিযুক্ত করবো।
14 তোমরা জবাবে আমাকে বললে, তুমি যা বলছো, তা-ই করা ভাল।
15 তাই আমি তোমাদের বংশগুলোর প্রধান, জ্ঞানবান ও পরিচিত লোকদেরকে গ্রহণ করে তোমাদের উপরে প্রধান, তোমাদের বংশানুসারে সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চাশপতি, দশপতি ও কর্মকর্তা করে নিযুক্ত করলাম।
16 আর সেই সময়ে তোমাদের বিচারকর্তাদেরকে এই হুকুম করলাম, তোমরা তোমাদের ভাইদের কথা শুনে বাদী ও তার ভাইয়ের কিংবা সহবাসী বিদেশীর মধ্যে ন্যায্য বিচার করো।
17 তোমরা বিচারে কারো মুখাপেক্ষা করবে না; সমভাবে বড় ও ছোট উভয়ের কথা শুনবে। মানুষের মুখ দেখে ভয় করবে না, কেননা বিচার আল্লাহ্র এবং যে বিষয়ে বিচার করা তোমাদের পক্ষে কঠিন তা আমার কাছে আনবে, আমি তার বিচার করবো।
18 সেই সময়ে তোমাদের সমস্ত কর্তব্য কাজের বিষয়ে আমি হুকুম করেছিলাম।
19
পরে আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে হোরেব থেকে প্রস্থান করলাম এবং আমোরীয়দের পর্বতময় দেশে যাবার পথে তোমরা সেই যে বড় ও ভয়ঙ্কর মরু-ভূমি দেখেছ, তার মধ্য দিয়ে যাত্রা করে কাদেশ বর্ণেয়ে পৌঁছালাম।
20 পরে আমি তোমাদেরকে বললাম, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, আমোরীয়দের সেই পর্বতময় দেশে তোমরা উপস্থিত হলে।
21 দেখ, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ সেই দেশ তোমার সম্মুখে দিয়েছেন; তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে উঠে তা অধিকার কর; ভয় করো না ও নিরাশ হয়ো না।
22
তখন তোমরা সকলে আমার কাছে এসে বললে, আগে আমরা সেই স্থানে লোক পাঠাই; তারা আমাদের জন্য দেশ অনুসন্ধান করুক এবং আমাদের কোন্ পথ দিয়ে উঠে যেতে হবে ও কোন্ কোন্ নগরে উপস্থিত হতে হবে তার সংবাদ নিয়ে আসুক।
23 তখন আমি সেই কথায় সন্তুষ্ট হয়ে তোমাদের প্রত্যেক বংশ থেকে এক এক জন করে বারো জনকে বেছে নিলাম।
24 পরে তারা যাত্রা করে পর্বতে উঠলো এবং ইষ্কোল উপত্যকায় উপস্থিত হয়ে দেশ অনুসন্ধান করলো।
25 আর সেই দেশের কতগুলো ফল হাতে নিয়ে আমাদের কাছে এসে সংবাদ দিয়ে বললো, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, তা উত্তম দেশ।
26
কিন্তু তোমরা সেই স্থানে যেতে অসম্মত হলে ও তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুমের বিরুদ্ধাচারী হলে;
27 আর নিজ নিজ তাঁবুতে বচসা করে বললে, মাবুদ আমাদেরকে ঘৃণা করলেন বলে আমরা যেন বিনষ্ট হই, তাই আমোরীয়দের হাতে তুলে দেবার জন্য আমাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনলেন।
28 আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমাদের ভাইয়েরা আমাদের মন ভেঙ্গে দিল, বললো, আমাদের চেয়ে সেই জাতি শক্তিশালী ও দীর্ঘকায় এবং নগরগুলো অনেক বড় ও আকাশ ছোঁয়া প্রাচীরে বেষ্টিত; এছাড়া সেই স্থানে আমরা অনাকীয়দের সন্তানদেরকেও দেখেছি।
29 তখন আমি তোমাদেরকে বললাম, উদ্বিগ্ন হয়ো না, তাদেরকে ভয় কোরো না।
30 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যিনি তোমাদের অগ্রগামী, তিনি মিসর দেশে তোমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে তোমাদের জন্য যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, সেই অনুসারে তোমাদের জন্য যুদ্ধ করবেন।
31 এই মরুভূমিতেও তুমি সেরকম দেখেছ; যেহেতু পিতা যেমন আপন পুত্রকে বহন করে, তেমনি এই স্থানে তোমাদের আগমন পর্যন্ত যে পথে তোমরা এসেছো, সেসব পথে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে বহন করেছেন।
32 তবুও এই কথায় তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ সেই মাবুদের উপর ভরসা করলে না,
33 যিনি তোমাদের শিবির রাখার স্থান খোঁজ করার জন্য যাত্রাকালে তোমাদের অগ্রগামী হয়ে রাতে আগুন ও দিনে মেঘ দ্বারা তোমাদের গন্তব্য পথ দেখিয়ে দিতেন।
34
আর মাবুদ তোমাদের কথাবার্তা শুনে ক্রুদ্ধ হলেন ও এই শপথ করলেন,
35 আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিতে শপথ করেছি, এই দুষ্ট বংশীয় লোকদের মধ্যে কেউই সেই উত্তম দেশ দেখতে পাবে না।
36 কেবল যিফন্নির পুত্র কালুত তা দেখবে এবং সে যে ভূমিতে পদার্পণ করে এসেছে, সেই ভূমি আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে দেব; কেননা সে সমপূর্ণভাবে মাবুদের নির্দেশ পালন করেছে।
37 (মাবুদ তোমাদের জন্য আমার প্রতিও ক্রুদ্ধ হলেন, তিনি আমাকে এই কথা বললেন, তুমিও সেই স্থানে প্রবেশ করবে না।
38 তোমার সম্মুখে দণ্ডায়মান নূনের পুত্র ইউসা সেই দেশে প্রবেশ করবে; তুমি তাকেই উৎসাহ দাও, কেননা সে ইসরাইলকে তা অধিকার করাবে।)
39 আর এরা লুণ্ঠিত হবে, এই কথা তোমরা তোমাদের যে বালকদের বিষয়ে বললে এবং তোমাদের যে সন্তানদের ভাল-মন্দ জ্ঞান এখনও হয় নি, তারাই সেই স্থানে প্রবেশ করবে; তাদেরকেই আমি সেই দেশ দেব এবং তারাই তা অধিকার করবে।
40 কিন্তু তোমরা ফির, লোহিত সাগরের পথ দিয়ে মরুভূমিতে গমন কর।
41
তখন তোমরা জবাবে আমাকে বললে, আমরা মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি; আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সমস্ত হুকুম অনুসারে উঠে গিয়ে যুদ্ধ করবো। পরে তোমরা প্রত্যেক জন যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হলে এবং পর্বতে উঠে যাওয়া লঘু বিষয় মনে করলে।
42 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি তাদেরকে বল, তোমরা উঠে যেও না, যুদ্ধ করো না, কেননা আমি তোমাদের মধ্যবর্তী থাকব না; গেলে দুশমনদের সম্মুখে আহত হবে।
43 আমি তোমাদেরকে সেই কথা বললাম, কিন্তু তোমরা সেই কথায় কান দিলে না; বরং মাবুদের হুকুমের বিরুদ্ধে গিয়ে ও দুঃসাহসী হয়ে পর্বতে উঠলে।
44 আর সেই পর্বতবাসী ইমোরীয়েরা তোমাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে, মৌমাছি যেমন করে, তেমনি তোমাদেরকে তাড়া করলো এবং সেয়ীরে হর্মা পর্যন্ত আঘাত করলো।
45 তখন তোমরা ফিরে আসলে ও মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলে; কিন্তু মাবুদ তোমাদের কান্নাকাটি শুনলেন না, তোমাদের কথায় মনযোগ দিলেন না।
46
আর তোমরা অবস্থিতির কাল অনুসারে কাদেশে অনেক দিন বাস করলে।
1
পরে মাবুদ আমাকে যেরকম বলেছিলেন, সেই অনুসারে আমরা ফিরে লোহিত সাগরের পথে মরুভূমি দিয়ে যাত্রা করলাম এবং অনেক দিন যাবৎ সেয়ীর পর্বত প্রদক্ষিণ করলাম।
2 পরে মাবুদ আমাকে বললেন,
3 তোমরা অনেক দিন এই পর্বত প্রদক্ষিণ করছো, এখন উত্তর দিকে ফের।
4 আর তুমি লোকদেরকে এই হুকুম কর, সেয়ীর-নিবাসী তোমাদের ভাইদের অর্থাৎ ইসের বংশধরদের সীমার কাছ দিয়ে তোমাদেরকে যেতে হবে, আর তোমাদের দেখে তারা ভয় পাবে; অতএব তোমরা অতি সাবধান হবে।
5 তাদের সঙ্গে বিরোধ করো না, কেননা আমি তোমাদের তাদের দেশের অংশ দেব না, এক পা পরিমিত ভূমিও দেব না; কেননা সেয়ীর পর্বত অধিকার হিসেবে আমি ইস্কে দিয়েছি।
6 তোমরা তাদের কাছে টাকা দিয়ে খাদ্য ক্রয় করে ভোজন করবে ও টাকা দিয়ে পানিও ক্রয় করে পান করবে।
7 কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার হাতের সমস্ত কাজে তোমাকে দোয়া করেছেন; এই মহা মরুভূমিতে তোমার গমন তিনি জানেন; এই চল্লিশ বছর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সহবর্তী আছেন; তোমার কিছুরই অভাব হয় নি।
8
পরে আমরা অরাবা উপত্যকার পথ থেকে, এলৎ ও ইৎসিয়োন-গেবর থেকে, সেয়ীর-নিবাসী আমাদের ভাই ইসের বংশ-ধরদের সম্মুখ দিয়ে গমন করলাম। আর আমরা মোয়াবের মরুভূমির পথে ফিরে যাত্রা করলাম।
9
আর মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি মোয়াবীয়দেরকে কষ্ট দিও না এবং যুদ্ধ দ্বারা তাদের সঙ্গে বিরোধ করো না; কারণ আমি অধিকার হিসেবে তাদের দেশের কোন অংশ তোমাকে দেব না; কেননা আমি লূতের বংশধরদেকে আর্ নগর অধিকার করতে দিয়েছি।
10 (আগে ঐ স্থানে এমীয়েরা বাস করতো, তারা অনাকীয়দের মত শক্তিশালী, বহু সংখ্যক ও দীর্ঘকায় জাতি।
11 অনাকীয়দের মত তারাও রফায়ীয়দের মধ্যে গণিত, কিন্তু মোয়াবীয়েরা তাদেরকে এমীয় বলে।
12 আর আগে হোরীয়েরাও সেয়ীরে বাস করতো, কিন্তু ইসের বংশধরেরা তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে ও তাদের বিনষ্ট করে তাদের স্থানে বাস করলো; যেমন ইসরাইল মাবুদের দেওয়া নিজের অধিকার-ভূমিতে করলো।)
13 এখন তোমরা উঠ সেরদ নদী পার হও।
14
তখন আমরা সেরদ নদী পার হলাম। কাদেশ বর্ণেয় থেকে সেরদ নদী পার হওয়া পর্যন্ত আমাদের যাত্রাকাল আটত্রিশ বছর ব্যাপী ছিল; সেই সময়ের মধ্যে শিবিরের মধ্য থেকে তৎকালীন যোদ্ধারা সকলে উচ্ছিন্ন হল, যেমন মাবুদ তাদের সম্বন্ধে শপথ করেছিলেন।
15 আবার শিবিরের মধ্য থেকে তাদেরকে নিঃশেষে লোপ করার জন্য মাবুদের হাত তাদের বিরুদ্ধে ছিল।
16
সেসব যোদ্ধা মরে গিয়ে লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবার পর,
17 মাবুদ আমাকে বললেন,
18 আজ তুমি মোয়াবের সীমা অর্থাৎ আর্ পার হচ্ছো;
19 যখন তুমি অম্মোনীয়দের সম্মুখে উপস্থিত হও, তখন তাদেরকে কষ্ট দিও না, তাদের সঙ্গে বিরোধ করো না; কারণ আমি তোমাকে অধিকার হিসেবে অম্মোনীয়দের দেশের অংশ দেব না, কেননা আমি লূতের সন্তানদেরকে তা অধিকার করতে দিয়েছি।
20 (সেই দেশও রফায়ীয়দের দেশ বলে পরিগণিত; রফায়ীয়েরা আগে সেই স্থানে বাস করতো; কিন্তু অম্মোনীয়েরা তাদেরকে সম্সুম্মীয় বলে।
21 তারা অনাকীয়দের মত শক্তিশালী, বহুসংখ্যক ও দীর্ঘকায় এক জাতি ছিল, কিন্তু মাবুদ ওদের সম্মুখ থেকে তাদেরকে বিনষ্ট করলেন; আর ওরা তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে তাদের স্থানে বসতি করলো।
22 তিনি সেয়ীর-নিবাসী ইসের সন্তানদের জন্যও সেই একই কাজ করলেন, ফলত তাদের সম্মুখ থেকে হোরীয়দেরকে বিনষ্ট করলেন, তাতে ওরা তাদের অধিকারচ্যুত করে আজও তাদের স্থানে বাস করছে।
23 আর অব্বীয়রা, যারা গাজা পর্যন্ত সমস্ত গ্রামে বাস করতো, তাদেরকে ক্রীট থেকে আগত ক্রীটীয়রা বিনষ্ট করে তাদের স্থানে বাস করলো।)
24 তোমরা উঠ, যাত্রা কর, অর্ণোন উপত্যকা পার হও; দেখ, আমি হিষ্বোনের বাদশাহ্ আমোরীয় সীহোনকে ও তার দেশ তোমার তুলে দিলাম; তুমি তা অধিকার করতে আরম্ভ কর ও যুদ্ধ দ্বারা তার সঙ্গে বিরোধ কর।
25 আজ থেকে আমি সমস্ত আসমানের নিচে অবস্থিত সমস্ত জাতির উপরে তোমার সম্বন্ধে আশঙ্কা ও ভীতি উৎপাদন করতে আরম্ভ করবো; তারা তোমার সংবাদ পাবে ও তোমার ভয়ে কাঁপতে থাকবে ও ব্যথিত হবে।
26
পরে আমি কদেমোৎ মরুভূমি থেকে হিষ্বোনের বাদশাহ্ সীহোনের কাছে দূতের মাধ্যমে এই শান্তির কথা বলে পাঠালাম,
27 তুমি তোমার দেশের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে দাও, আমি পথ ধরেই যাব, ডানে বা বামে ফিরব না।
28 আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, আমরা জর্ডান পার হয়ে যতক্ষণ সেই দেশে উপস্থিত না হই, ততক্ষণ তুমি টাকা নিয়ে আমাদের ভোজনের জন্য খাদ্য দেবে ও টাকা নিয়ে পান করার জন্য পানি দেবে; আমরা কেবল পায়ে হেঁটে পার হয়ে যাব;
29 সেয়ীর-নিবাসী ইসের বংশধরেরা ও আর্-নিবাসী মোয়াবীয়েরাও আমার প্রতি সেরকম করেছে।
30 কিন্তু হিষ্বোনের বাদশাহ্ সীহোন তাঁর কাছ দিয়ে যাবার অনুমতি আমাদেরকে দেন নি, কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর মন কঠিন করলেন, অন্তর শক্ত করলেন, যেন তোমার হাতে তাঁকে তুলে দেন, যেমন আজ পর্যন্ত রয়েছে।
31
আর মাবুদ আমাকে বললেন, দেখ, আমি সীহোন ও তার দেশকে তোমার সম্মুখে দিতে আরম্ভ করলাম; তুমিও তার দেশ অধিকার করতে আরম্ভ কর।
32 তখন সীহোন ও তাঁর সমস্ত লোক আমাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে যহসে যুদ্ধ করতে আসলেন।
33 আর আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদের হাতে তাঁকে তুলে দিলেন; আমরা তাঁকে, তাঁর পুত্রদের ও সমস্ত লোককে আঘাত করলাম।
34 আর সেই সময়ে তাঁর সমস্ত নগর হস্তগত করলাম এবং স্ত্রীলোক ও বালক বালিকাসুদ্ধ সমস্ত বসতি-নগর নিঃশেষে বিনষ্ট করলাম; কাউকেও অবশিষ্ট রাখলাম না;
35 কেবল সমস্ত পশু ও যে যে নগর হস্তগত করেছিলাম, তার লুণ্ঠিত সমস্ত বস্তু আমরা আমাদের জন্য গ্রহণ করলাম।
36 অর্ণোন উপত্যকার সীমাস্থ অরোয়ের ও উপত্যকার মধ্যস্থিত নগর থেকে গিলিয়দ পর্যন্ত একটি নগরও আমাদের অজেয় রইলো না; আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ সেসব আমাদের সম্মুখে দিলেন।
37 কেবল অম্মোনীয়দের দেশ, যব্বোক নদীর পাশের সকল প্রদেশ ও পর্বতময় দেশস্থ সমস্ত নগর এবং যে কোন স্থানের বিষয়ে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ নিষেধ করেছিলেন, সেই সবের কাছে তুমি উপস্থিত হলে না।
1
পরে আমরা ফিরে বাশনের পথে চললাম; তাতে বাশনের বাদশাহ্ উজ এবং তাঁর সমস্ত লোক আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে ইদ্রিয়ীতে আসলেন।
2 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি ওকে ভয় করো না, কেননা আমি ওকে, ওর সমস্ত লোক ও ওর দেশ তোমার হাতে তুলে দিলাম; তুমি যেমন হিষ্বোন-নিবাসী আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের প্রতি করেছ, তেমনি ওর প্রতিও করবে।
3 এভাবে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ বাশনের বাদশাহ্ উজ ও তাঁর সমস্ত লোককে আমাদের হাতে তুলে দিলেন; তাতে আমরা তাঁকে এমন আঘাত করলাম যে তাঁর কেউ অবশিষ্ট থাকলো না।
4 সেই সময়ে আমরা তাঁর সমস্ত নগর অধিকার করলাম; এমন একটা নগরও থাকলো না, যা তাদের থেকে নেই নি; ষাটটি নগর, অর্গোবের সমস্ত অঞ্চল, বাশনস্থ উজের রাজ্য নিলাম।
5 সেসব নগর উঁচু প্রাচীর, দ্বার ও অর্গল দ্বারা সুরক্ষিত ছিল; আর প্রাচীর-বিহীন অনেক নগরও ছিল।
6 আমরা হিষ্বোনের বাদশাহ্ সীহোনের প্রতি যেমন করেছিলাম, সেভাবে তাদেরকে নিঃশেষে ধ্বংস করলাম, স্ত্রীলোক ও বালক-বালিকাসুদ্ধ তাদের সমস্ত বসতি নগর ধ্বংস করলাম।
7 কিন্তু তাদের সমস্ত পশু ও নগরের জিনিসপত্র লুট করে নিজেদের জন্য গ্রহণ করলাম।
8
সেই সময়ে আমরা জর্ডানের পূর্বপারস্থ আমোরীয়দের দুই বাদশাহ্র হাত থেকে অর্ণোন উপত্যকা থেকে হর্মোণ পর্বত পর্যন্ত সমস্ত দেশ হস্তগত করলাম।
9 (সীদোনীয়েরা ঐ হর্মোণকে সিরিয়োণ বলে এবং ইমোরীয়েরা তাকে বলে সনীর।)
10 আমরা সমভূমির সমস্ত নগর, সল্খা ও ইদ্রিয়ী পর্যন্ত সমস্ত গিলিয়দ এবং সমস্ত বাশন, বাশনস্থিত উজ-রাজ্যের নগরগুলো হস্তগত করলাম।
11 (ফলত অবশিষ্ট রফায়ীয়দের মধ্যে শুধু বাশনের বাদশাহ্ উজ অবশিষ্ট ছিলেন; দেখ, তাঁর পালঙ্ক লোহার তৈরি; তা কি অম্মোনীয়দের রব্বা নগরে নেই? মানুষের হাতের পরিমাণানুসারে তা লম্বায় নয় ও চওড়ায় চার হাত।)
12 সেই সময়ে আমরা এই দেশ অধিকার করলাম; অর্ণোন উপত্যকাস্থ অরোয়ের থেকে এবং পর্বতময় গিলিয়দ দেশের অর্ধেক ও সেখানকার সমস্ত নগর রূবেণীয় ও গাদীয়দেরকে দিলাম।
13 আর গিলিয়দের অবশিষ্ট অংশ ও সমস্ত বাশন অর্থাৎ উজের রাজ্য, সমস্ত বাশনের সঙ্গে অর্গোবের সমস্ত অঞ্চল আমি মানশার অর্ধেক বংশকে দিলাম। (তা-ই রফায়ীয় দেশ বলে বিখ্যাত।
14 মানশার সন্তান যায়ীর গশূরীয়দের ও মাখাথীয়দের সীমা পর্যন্ত অর্গোবের সমস্ত অঞ্চল নিয়ে তাদের নাম অনুসারে বাশন দেশের সেসব স্থানের নাম হবোৎ-যায়ীর রাখল; আজও সেই নাম প্রচলিত আছে।)
15 আর আমি মাখীরকে গিলিয়দ দিলাম।
16 আর গিলিয়দ থেকে অর্ণোন উপত্যকা পর্যন্ত, উপত্যকার মধ্যস্থান ও তৎপরিসীমা এবং অম্মোনীয়দের সীমা যব্বোক নদী পর্যন্ত;
17 আর অরাবা উপত্যকা, জর্ডান ও তৎপরিসীমা, কিন্নেরৎ থেকে অরাবার সমুদ্র, অর্থাৎ পূর্ব দিকে পিস্গা পাহাড়শ্রেণীর ঢালু অংশের নিচে লবণ-সমুদ্র পর্যন্ত রূবেণীয় ও গাদীয়দেরকে দিলাম।
18
আর সেই সময়ে তোমাদেরকে এই হুকুম দিলাম, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে এই দেশ তোমাদেরকে দিয়েছেন। তোমাদের সমস্ত যোদ্ধা যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তোমাদের ভাইদের অর্থাৎ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে পার হয়ে যাবে।
19 আমি তোমাদেরকে যেসব নগর দিলাম, তোমাদের সেসব নগরে তোমাদের স্ত্রীলোক, পুত্রকন্যা ও সমস্ত পশু বাস করবে; আমি জানি, তোমাদের অনেক পশু আছে।
20 পরে মাবুদ তোমাদের ভাইদেরকে তোমাদের মত বিশ্রাম দিলে, জর্ডানের ওপারে যে দেশ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাদেরকে দিচ্ছেন, তারাও সেই দেশ অধিকার করবে; তখন তোমরা প্রত্যেকে আমার দেওয়া নিজ নিজ অধিকারে ফিরে আসবে।
21
আর সেই সময়ে আমি ইউসাকে হুকুম দিলাম, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ সেই দুই বাদশাহ্র প্রতি যা করেছেন, তা তুমি স্বচক্ষে দেখেছ; তুমি পার হয়ে যে যে রাজ্যের বিরুদ্ধে যাবে, সেসব রাজ্যের প্রতি মাবুদ সেরকম করবেন।
22 তোমরা তাদেরকে ভয় করো না; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ নিজে তোমাদের জন্য যুদ্ধ করবেন।
23
সেই সময়ে আমি মাবুদকে সাধ্য-সাধনা করে বললাম,
24 হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি নিজের গোলামের কাছে নিজের মহিমা ও শক্তিশালী হাত প্রকাশ করতে আরম্ভ করলে; বেহেশতে বা দুনিয়াতে এমন আল্লাহ্ আর কে আছে যে তোমার কাজের মত কাজ ও তোমার বিক্রমী কাজের মত কাজ করতে পারে?
25 আরজ করি, আমাকে জর্ডান পার হয়ে গিয়ে সেই উত্তম দেশ, সেই রমণীয় পাহাড়ী দেশটি ও লেবানন দেখতে দাও।
26 কিন্তু মাবুদ তোমাদের জন্য আমার প্রতিকূলে ক্রুদ্ধ হওয়াতে আমার কথা শুনলেন না; মাবুদ আমাকে বললেন, তোমার পক্ষে এই যথেষ্ট, এই বিষয়ের কথা আমাকে আর বলো না।
27 পিস্গার শৃঙ্গে উঠ এবং পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে দৃষ্টিপাত কর; নিজের চোখে নিরীক্ষণ কর, কেননা তুমি এই জর্ডান পার হতে পারবে না।
28 কিন্তু তুমি ইউসাকে হুকুম কর, তাকে উৎসাহ দাও এবং তাকে শক্তিশালী কর, কেননা সে এই লোকদের অগ্রগামী হয়ে পার হবে, আর যে দেশ তুমি দেখবে, সেই দেশ সে তাদেরকে অধিকার করাবে।
29 এভাবে আমরা বৈৎ-পিয়োরের সম্মুখস্থিত উপত্যকায় বসবাস করলাম।
1
এখন, হে ইসরাইল, আমি যে যে বিধি ও অনুশাসন পালন করতে তোমাদেরকে শিক্ষা দেই, তা শোন; যেন তোমরা বাঁচতে পার এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, তার মধ্যে প্রবেশ করে তা অধিকার করতে পার।
2 আমি তোমাদেরকে যা হুকুম করি, সেই কালামের সঙ্গে তোমরা আর কিছু যোগ করবে না এবং তার কিছু বাদ দেবে না। আমি তোমাদের যা যা হুকুম করছি, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সেসব হুকুম পালন করবে।
3 বাল-পিয়োরের বিষয়ে মাবুদ যা করেছিলেন তা তোমরা স্বচক্ষে দেখেছ; ফলত তোমার আল্লাহ্ মাবুদ বাল-পিয়োরের অনুগামী প্রত্যেক জনকে তোমার মধ্য থেকে বিনষ্ট করেছিলেন;
4 কিন্তু তোমরা যত লোক তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি আসক্ত ছিলে, সকলেই এখনও জীবিত আছ।
5
দেখ, আমার আল্লাহ্ মাবুদ আমাকে যেরকম হুকুম করেছিলেন, আমি তোমাদেরকে ঠিক সেরকম বিধি ও অনুশাসন শিক্ষা দিয়েছি, যেন তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশের মধ্যে তা পালন কর।
6 অতএব তোমরা সেসব মান্য ও পালন করো; কেননা জাতিদের সম্মুখে তা-ই তোমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধিস্বরূপ হবে; এসব বিধি শুনে তারা বলবে, সত্যিই, এই মহাজাতি জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান জাতি;
7 কেননা কোন্ বড় জাতির এমন নিকটবর্তী আল্লাহ্ আছেন, যেমন আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ? যখনই আমরা তাঁকে ডাকি, তিনি নিকটবর্তী।
8 আর আমি আজ তোমাদের সাক্ষাতে যে সমস্ত শরীয়ত দিচ্ছি, তার মত যথার্থ বিধি ও অনুশাসন কোন্ বড় জাতির আছে?
9
কিন্তু তুমি নিজের বিষয়ে সাবধান, তোমার প্রাণের বিষয়ে অতি সাবধান থাক; পাছে তুমি যেসব ব্যাপার স্বচক্ষে দেখেছো, তা ভুলে যাও; আর পাছে জীবন থাকতে তোমার অন্তর থেকে তা মুছে যায়; তুমি তোমার পুত্র পৌত্রদেরকে তা শিক্ষা দাও।
10 সেদিন, যেদিন তুমি হোরেবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিলে, সেদিন মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে লোকদের একত্র কর, আমি আমার সমস্ত কালাম তাদের শোনাবো; তারা দুনিয়াতে যত দিন জীবিত থাকে, তত দিন যেন আমাকে ভয় করে, এই বিষয় তারা নিজেরা শিখবে এবং নিজেদের সন্তানদেরকে ও অন্যদের শেখাবে।
11 তাতে তোমরা এগিয়ে এসে পর্বতের তলে দাঁড়িয়েছিলে; আর সেই পর্বত গগনের অভ্যন্তর পর্যন্ত আগুনে জ্বলছিল, কালো মেঘে ও ঘোর অন্ধকারে ঢাকা ছিল।
12 তখন আগুনের মধ্য থেকে মাবুদ তোমাদের কাছে কথা বললেন; তোমরা তাঁর কালামের আওয়াজ শুনছিলে, কিন্তু কোন মূর্তি দেখতে পেলে না, কেবল আওয়াজ হচ্ছিল।
13 আর তিনি তাঁর যে নিয়ম পালন করতে তোমাদেরকে হুকুম করলেন, সেই নিয়ম অর্থাৎ দশটি হুকুম তোমাদেরকে মেনে চলতে হুকুম দিলেন এবং দু’টি পাথরের ফলকে লিখে দিলেন।
14
তোমরা যে দেশ অধিকার করতে পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে তোমাদের পালনীয় বিধি ও সমস্ত অনুশাসন তোমাদেরকে শিক্ষা দিতে মাবুদ সেই সময়ে আমাকে হুকুম করলেন।
15
যেদিন মাবুদ হোরেবে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, সেদিন তোমরা কোন মূর্তি দেখ নি; অতএব নিজ নিজ প্রাণের বিষয়ে অতিশয় সাবধান হও;
16 পাছে তোমরা ভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের জন্য কোন আকারের মূর্তির মত খোদাই-করা মূর্তি তৈরি কর;
17 পাছে পুরুষ বা স্ত্রীর প্রতিকৃতি, দুনিয়ার কোন পশুর প্রতিকৃতি, আসমানে উড়ে বেড়ানো কোন পাখির প্রতিকৃতি, ভূচর কোন সরীসৃপের প্রতিকৃতি,
18 অথবা ভূমির নিচস্থ জলচর কোন জন্তুর প্রতিকৃতি তৈরি কর;
19 আর আসমানের প্রতি চোখ তুলে সূর্য, চন্দ্র ও তারা, আসমানের সমস্ত বিদ্যমান বস্তু দেখলে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যাদেরকে সমস্ত আসমানের নিচে অবস্থিত সমস্ত জাতির জন্য বণ্টন করেছেন, পাছে ভ্রান্ত হয়ে তাদের কাছে সেজ্দা ও তাদের সেবা কর।
20 কিন্তু মাবুদ তোমাদের গ্রহণ করেছেন, লোহা গলানো হাফরের মধ্য থেকে, মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছেন, যেন তোমরা তাঁর অধীনস্থ লোক হও, যেমন আজ আছ।
21
আর তোমাদের জন্য মাবুদ আমার প্রতিও ক্রুদ্ধ হয়ে এই কসম খেয়েছেন যে, তিনি আমাকে জর্ডান পার হতে দেবেন না এবং তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের যে দেশ অধিকার হিসেবে দিচ্ছেন, সেই উত্তম দেশে আমাকে প্রবেশ করতে দেবেন না।
22 বাস্তবিক এই দেশেই আমাকে ইন্তেকাল করতে হবে; আমি জর্ডান পার হয়ে যেতে পারব না; কিন্তু তোমরা পার হয়ে সেই উত্তম দেশ অধিকার করবে।
23 তোমরা নিজেদের বিষয়ে সাবধান থেকো, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের জন্য যে নিয়ম স্থির করেছেন, তা ভুলে যেও না, কোন বস্তুর মূর্তিবিশিষ্ট খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করো না; তা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নিষিদ্ধ।
24 কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ গ্রাসকারী আগুনের মত; তিনি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্।
25
সেই দেশে পুত্র পৌত্রদের জন্ম দিয়ে বহুকাল বাস করলে পর যদি তোমরা ভ্রষ্ট হও ও কোন বস্তুর মূর্তি বিশিষ্ট খোদাই-করা মূর্তি তৈরি কর এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা করে তাঁকে অসন্তুষ্ট কর;
26 তবে, আমি আজ তোমাদের বিরুদ্ধে বেহেশত ও দুনিয়াকে সাক্ষী মেনে বলছি, তোমরা যে দেশ অধিকার করতে জর্ডান পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশ থেকে শীঘ্র বিনষ্ট হবে, সেখানে বহুকাল বাস করতে পারবে না, কিন্তু সম্পূর্ণরূপে উচ্ছিন্ন হবে।
27 আর মাবুদ নানা জাতির মধ্যে তোমাদের ছিন্ন ভিন্ন করবেন; যেখানে মাবুদ তোমাদের নিয়ে যাবেন, সেই জাতিদের মধ্যে তোমরা অল্পসংখ্যক হয়ে অবশিষ্ট থাকবে।
28 আর তোমরা সেখানে মানুষের হাতের তৈরি দেবতাদের— যারা দেখতে, শুনতে, ভোজন করতে ও ঘ্রাণ নিতে পারে না এমন কাঠ ও পাথরের তৈরি— তাদের সেবা করবে।
29 কিন্তু সেখানে থেকে যদি তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ কর, তবে তাঁর উদ্দেশ পাবে; সমস্ত অন্তর ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাঁর খোঁজ করলে পাবে।
30 যখন তোমার সঙ্কট উপস্থিত হয় এবং এসব তোমার প্রতি ঘটে, তখন সেই ভাবী কালে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফিরবে ও তাঁর বাধ্য হয়ে চলবে।
31 কারণ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ কৃপাময় আল্লাহ্; তিনি তোমাকে ত্যাগ করবেন না, তোমাকে বিনাশ করবেন না এবং কসম দ্বারা তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে যে নিয়ম করেছেন তা ভুলে যাবেন না।
32
কারণ, দুনিয়াতে আল্লাহ্ কর্তৃক মানুষের সৃষ্টিদিন থেকে শুরু করে তোমার আগে যে কাল গেছে, সেই পুরানো কাল এবং আসমানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তকে জিজ্ঞাসা কর, এই রকম মহৎ কাজের মত কাজ কি আর কখনও হয়েছে? কিংবা এমন কি শোনা গেছে?
33 তোমার মত কি আর কোন জাতি আগুনের মধ্য থেকে যাঁর বাণী নিঃসৃত হত সেই আল্লাহ্র বাণী শুনে বেঁচে আছে?
34 কিংবা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ মিসরে তোমাদের সাক্ষাতে যেসব কাজ করেছেন, আল্লাহ্ কি সেই অনুসারে গিয়ে পরীক্ষাসিদ্ধ প্রমাণ, চিহ্ন, অদ্ভুত লক্ষণ, যুদ্ধ, শক্তিশালী হাত, বাড়িয়ে দেওয়া বাহু ও ভয়ঙ্কর মহৎ মহৎ কাজ দ্বারা অন্য জাতির মধ্য থেকে নিজের জন্য এক জাতি গ্রহণ করতে চেষ্টা করেছেন?
35 মাবুদই আল্লাহ্, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই, তা যেন তুমি জানতে পার, সেজন্য ঐ সমস্ত তোমাকেই দেখানো হল।
36 উপদেশ দেবার জন্য তিনি বেহেশত থেকে তোমাকে তাঁর বাণী শোনালেন ও দুনিয়াতে তোমাকে তাঁর মহা আগুন দেখালেন এবং তুমি আগুনের মধ্য থেকে তাঁর কথা শুনতে পেলে।
37 তিনি তোমার পূর্বপুরুষদেরকে মহব্বত করতেন, তাই তাঁদের পরে তাঁদের বংশকেও মনোনীত করলেন এবং তাঁর উপস্থিতি ও মহাপরাক্রম দ্বারা তোমাকে মিসর দেশ থেকে বের করে আনলেন;
38 যেন তোমার চেয়ে মহান ও বিক্রমী জাতিদেরকে তোমার সম্মুখ থেকে দূর করে তাদের দেশে তোমাকে প্রবেশ করান ও অধিকার হিসেবে তোমাকে সেই দেশ দেন, যেমন আজ দেখছো।
39 অতএব আজ জেনে রাখ ও অন্তরে গেঁথে রাখ যে, উপরিস্থ বেহেশত ও নিচস্থ দুনিয়াতে মাবুদই আল্লাহ্, আর তিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই।
40 আর তোমার মঙ্গল ও তোমার ভাবী সন্তানদের মঙ্গল যেন হয় এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে ভূমি চিরকালের জন্য দিচ্ছেন, তার উপরে যেন তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়, এজন্য আমি তাঁর যেসব বিধি ও হুকুম আজ তোমাকে নির্দেশ করলাম তা পালন করো।
41
সেই সময় মূসা জর্ডানের পারে সূর্যোদয়ের দিকে তিনটি নগর পৃথক করলেন,
42 যেন নরহন্তা সেখানে পালাতে পারে। যে কেউ তার প্রতিবেশীকে আগে হিংসা না করে অজ্ঞানতাবশত হত্যা করে, সে যেন এই সব নগরের কোন একটির মধ্যে পালিয়ে বাঁচতে পারে।
43 সেই নগর তিনটি হল রূবেণীয়দের জন্য সমভূমিতে মরুভূমিস্থ বেৎসর, গাদীয়দের জন্য গিলিয়দ-স্থিত রামোৎ এবং মানশাদের জন্য বাশন-স্থিত গোলান।
44
মূসা বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে এই শরীয়ত স্থাপন করেছিলেন;
45 মিসর থেকে বের হয়ে এসে মূসা জর্ডানের পূর্বপারে, বৈৎ-পিয়োরের সম্মুখস্থ উপত্যকাতে, হিষ্বোন-নিবাসী আমোরীয় বাদশাহ্ সীহোনের দেশে বনি-ইসরাইলদের কাছে এসব নির্দেশ, বিধি ও অনুশাসন বর্ণনা করেছিলেন।
46 মিসর থেকে বের হয়ে এসে মূসা ও বনি-ইসরাইল সেই বাদশাহ্কে আঘাত করেছিলেন;
47 এবং তাঁর ও বাশনের বাদশাহ্ উজের দেশ, জর্ডানের পূর্বপারে সূর্যোদয়ের দিকে আমোরীয়দের এই দুই বাদশাহ্র দেশ,
48 অর্ণোন উপত্যকার সীমাস্থ অরোয়ের থেকে সীওন পর্বত
49 অর্থাৎ হর্মোণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ এবং পিস্গা পাহাড়শ্রেণীর ঢালু অংশের নিচে অরাবা উপত্যকার সমুদ্র পর্যন্ত জর্ডানের পূর্বপারস্থ সমস্ত অরাবা উপত্যকা অধিকার করেছিলেন।
1
তখন মূসা সমস্ত ইসরাইলকে ডেকে বললেন, হে ইসরাইল, আমি তোমাদের উদ্দেশে আজ যেসব বিধি ও অনুশাসনের কথা বলছি, সেসব শোন, তোমরা তা শিক্ষা কর ও যত্নপূর্বক পালন কর।
2 আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ হোরেবে আমাদের সঙ্গে একটি নিয়ম করেছেন।
3 মাবুদ আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সেই নিয়ম করেন নি, কিন্তু আজ এই স্থানে সকলে জীবিত আছি যে আমরা, আমাদেরই সঙ্গে করেছেন।
4 মাবুদ পর্বতে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে সম্মুখাসম্মুখি হয়ে কথা বললেন।
5 সেই সময়ে আমিই তোমাদেরকে মাবুদের কালাম জানাবার জন্য মাবুদ ও তোমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান ছিলাম; কেননা আগুনের ভয়ে তোমরা পর্বতে উঠো নি।
6
তিনি বললেন, আমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি মিসর দেশ থেকে, গোলাম-গৃহ থেকে তোমাকে বের করে আনলেন।
7
আমার সাক্ষাতে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক।
8
তুমি তোমার জন্য খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করো না; উপরিস্থ বেহেশতে, নিচস্থ দুনিয়াতে ও দুনিয়ার নিচস্থ পানিতে, যা যা আছে, তাদের কোন মূর্তি তৈরি করো না;
9 তুমি তাদের কাছে সেজ্দা করো না এবং তাদের সেবা করো না; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ আমি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদের উপরে বর্তাই, যারা আমাকে অগ্রাহ্য করে, তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বর্তাই;
10 কিন্তু যারা আমাকে মহব্বত কর ও আমার সমস্ত হুকুম পালন করে, আমি তাদের হাজার হাজার পুরুষ পর্যন্ত অটল মহব্বত প্রকাশ করি।
11
তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নাম অনর্থক নিও না, কেননা যে কেউ তাঁর নাম অনর্থক নেয়, মাবুদ তাকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করবেন না।
12
তোমার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে বিশ্রামবার পালন করে পবিত্র বলে মান্য করো।
13 ছয় দিন পরিশ্রম করো, তোমার সমস্ত কাজ করো;
14 কিন্তু সপ্তম দিন তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে বিশ্রামবার; সেদিন তুমি, বা তোমার পুত্র, বা কন্যা, বা তোমার গোলাম বা বাঁদী, বা তোমার গরু, বা গাধা, বা অন্য কোন পশু, বা তোমার তোরণদ্বারের মধ্যবর্তী বিদেশী, কেউ কোন কাজ করো না; তোমার গোলাম ও তোমার বাঁদী যেন তোমার মত বিশ্রাম পায়।
15 স্মরণে রেখো, মিসর দেশে তুমি গোলাম ছিলে, কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ শক্তিশালী হাত ও বাড়িয়ে দেওয়া বাহু দ্বারা সেখান থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন। এজন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদ বিশ্রামবার পালন করতে তোমাকে হুকুম করেছেন।
16
তোমার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো; যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দেন, সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয় ও তুমি মঙ্গল লাভ কর।
17
খুন করো না।
18
জেনা করো না।
19
চুরি করো না।
20
তুমি প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।
21
তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর উপর লোভ করো না; প্রতিবেশীর বাড়ি বা ক্ষেতের উপর, কিংবা তার গোলাম বা বাঁদীর উপর, কিংবা তার গরু বা গাধার উপর, প্রতিবেশীর কোন বস্তুর উপরই লোভ করো না।
22
মাবুদ পর্বতে আগুন, মেঘ ও ঘোর অন্ধকারের মধ্য থেকে তোমাদের সমস্ত সমাজের কাছে এসব কালাম জোর উচ্চারণে বলেছিলেন, আর কিছুই বলেন নি। পরে তিনি এই সমস্ত কথা দু’টি পাথরের ফলকে লিখে আমাকে দিয়েছিলেন।
23 কিন্তু যখন তোমরা অন্ধকারের মধ্য থেকে সেই বাণী শুনতে পেলে এবং যখন আগুনে পর্বত জ্বলছিল তখন তোমরা, তোমাদের বংশের নেতৃবর্গ ও প্রাচীনবর্গরা সকলে আমার কাছে এসে বললে,
24 দেখ, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদের কাছে তাঁর প্রতাপ ও মহিমা দেখালেন এবং আমরা আগুনের মধ্য থেকে তাঁর বাণী শুনতে পেলাম; মানুষের সঙ্গে আল্লাহ্ কথা বললেও সে বাঁচতে পারে, এই আমরা আজ দেখলাম।
25 কিন্তু আমরা এখন কেন মরবো? ঐ মহান আগুন তো আমাদেরকে গ্রাস করবে; আমরা যদি আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথা আবার শুনি, তবে মারা পড়বো।
26 কেননা যারা মাংসময়, তাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, আমাদের মত আগুনের মধ্য থেকে জীবন্ত আল্লাহ্র, যাঁর মুখ থেকে বাণী নিঃসৃত হয়, আর তা শুনে বেঁচেছে?
27 তুমিই কাছে গিয়ে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যে সমস্ত কথা বলেন, তা শোন; আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যা যা বলবেন, সেসব কথা তুমি আমাদের বলো; আমরা তা শুনে পালন করবো।
28
তোমরা যখন আমাকে এই কথা বললে, তখন মাবুদ তোমাদের সেসব আবেদন শুনলেন; আর মাবুদ আমাকে বললেন, এই লোকেরা তোমাকে যা যা বলেছে, সেই আবেদন আমি শুনলাম; তারা যা যা বলেছে, সেসব ভালই বলেছে।
29 আহা, সব সময় আমাকে ভয় ও আমার সমস্ত হুকুম পালন করতে যদি তাদের এরকম মন থাকে, তবে তাদের ও তাদের সন্তানদের চিরস্থায়ী মঙ্গল হবে।
30 তুমি যাও, তাদেরকে নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যেতে বল।
31 কিন্তু তুমি আমার কাছে এই স্থানে দাঁড়াও, তুমি তাদেরকে যা যা শিক্ষা দেবে, আমি তোমাকে সেসব হুকুম, বিধি ও অনুশাসন বলে দেই, যেন আমি যে দেশ অধিকার হিসেবে তাদেরকে দিচ্ছি সেই দেশে তারা তা পালন করে চলে।
32 অতএব তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদেরকে যেমন হুকুম করলেন, তা যত্নপূর্বক পালন করবে, তার ডানে বা বামে ফিরবে না।
33 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদেরকে যে যে পথে চলবার হুকুম দিলেন, সেসব পথে চলবে; যেন তোমরা বাঁচতে পার ও তোমাদের মঙ্গল হয় এবং যে দেশ তোমরা অধিকার করবে সেখানে তোমাদের দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
1
তোমাদেরকে শিক্ষা দেবার জন্য তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাকে এই হুকুম ও এসব বিধি ও অনুশাসন সম্বন্ধে নির্দেশ করেছেন; যেন তোমরা যে দেশ অধিকার করতে পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে সেসব পালন কর;
2 যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করে তুমি, তোমার পুত্র ও তোমার পৌত্রাদি সারা জীবন আমার নির্দেশিত তাঁর এই হুকুম ও সমস্ত নির্দেশ পালন কর, এভাবে যেন তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
3 অতএব হে ইসরাইল, শোন, এসব যত্নপূর্বক পালন করো, তাতে তোমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যেরকম বলেছেন, সেই অনুসারে দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে তোমার মঙ্গল হবে ও তুমি অতিশয় বৃদ্ধি পাবে।
4
হে ইসরাইল, শোন; আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ একই মাবুদ;
5 আর তুমি তোমার সমস্ত অন্তর, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করবে।
6 আর এই যেসব কথা আমি আজ তোমাকে হুকুম করি, তা তোমার অন্তরে থাকুক।
7 আর তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ সন্তানদেরকে এসব যত্নপূর্বক শিক্ষা দেবে এবং বাড়িতে, বসবার কিংবা পথে চলবার সময়ে এবং শয়ন করবার কিংবা বিছানা থেকে উঠবার কালে ঐ সমস্ত বিষয়ে কথাবার্তা বলবে।
8 আর তোমার হাতে চিহ্নস্বরূপ সেসব বেঁধে রাখবে ও সেসব ভূষণস্বরূপে তোমার দুই চোখের মধ্যস্থানে থাকবে।
9 আর তোমার বাড়ির দরজার মাথায় ও তোমার গৃহদ্বারে তা লিখে রাখবে।
10
তোমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের কাছে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিতে কসম খেয়েছেন, সেই দেশে তিনি তোমাকে উপস্থিত করার পর তুমি যা তৈরি কর নি, এমন বড় বড় ও সুন্দর সুন্দর নগর,
11 এবং যাতে কিছুই সঞ্চয় কর নি, উত্তম উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ এমন সব বাড়ি-ঘর ও যা খনন কর নি, এমন সব খনন করা কূপ এবং যা প্রস্তুত কর নি, এমন সব আঙ্গুরক্ষেত ও জলপাইক্ষেত পেয়ে যখন তুমি ভোজন করে তৃপ্ত হবে,
12 সেই সময় তোমার নিজের বিষয়ে সাবধান থেকো, যিনি মিসর দেশ থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে, তোমাকে বের করে এনেছেন, সেই মাবুদকে ভুলে যেও না।
13 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদকেই ভয় করবে, তাঁরই সেবা ও তাঁরই নাম নিয়ে কসম করবে।
14 তোমরা অন্য দেবতাদের, চারদিকের সমস্ত জাতির দেবতাদের অনুগামী হয়ো না;
15 কেননা তোমার মধ্যবর্তী তোমার আল্লাহ্ মাবুদ স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্। সাবধান, অন্য দেবতাদের পিছনে গেলে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ক্রোধ তোমার প্রতিকূলে প্রজ্বলিত হবে, আর তিনি দুনিয়া থেকে তোমাকে উচ্ছিন্ন করবেন।
16
তোমরা মঃসাতে যেমন করেছিলে, তেমনি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের পরীক্ষা করো না।
17 তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া হুকুম, নির্দেশ ও সমস্ত বিধি যত্নপূর্বক পালন করবে।
18 আর মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য ও উত্তম তা-ই করবে, যেন তোমার মঙ্গল হয়; এবং মাবুদ যে দেশের বিষয়ে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে এই কসম খেয়েছেন যে, তিনি তোমার সম্মুখ থেকে তোমার সমস্ত দুশমন দূর করবেন,
19 যেন তুমি মাবুদের কালাম অনুসারে সেই উত্তম দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করতে পার।
20
ভাবী কালে যখন তোমার সন্তান জিজ্ঞাসা করবে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদেরকে যেসব নির্দেশ, বিধি ও অনুশাসন দিয়েছেন, সেসব কি?
21 তখন তুমি তোমার সন্তানকে বলবে, আমরা মিসর দেশে ফেরাউনের গোলাম ছিলাম, আর মাবুদ তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে মিসর থেকে আমাদেরকে বের করে আনলেন;
22 এবং আমাদের সাক্ষাতে মাবুদ মিসরে, ফেরাউন ও তাঁর সমস্ত কুলে মহৎ ও ভয়ংকর নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখালেন।
23 আর তিনি আমাদেরকে সেখান থেকে বের করে আনলেন, যেন আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশের বিষয় কসম খেয়েছিলেন, সেই দেশ আমাদেরকে দেবার জন্য সেখানে পৌঁছে দেন।
24 আর মাবুদ আমাদেরকে এসব বিধি পালন করতে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করতে হুকুম করলেন, যেন সারা জীবন আমাদের মঙ্গল হয়, আর তিনি আজকের মত যেন আমাদেরকে জীবিত রাখেন।
25 আর আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে তাঁর সম্মুখে এসব বিধি যত্নপূর্বক পালন করলে আমাদের ধার্মিকতা হবে।
1
তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশে যখন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে নিয়ে যাবেন ও তোমার সম্মুখ থেকে অনেক জাতি, হিট্টিয়, গির্গাশীয়, আমোরীয়, কেনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়, তোমার চেয়ে বড় ও বলবান এই সাতটি জাতিকে দূর করবেন;
2 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যখন তোমার হাতে তাদেরকে তুলে দেবেন এবং তুমি তাদেরকে আঘাত করবে, তখন তাদেরকে নিঃশেষে বিনষ্ট করবে; তাদের সঙ্গে কোন সন্ধি করবে না, বা তাদের প্রতি করুণা করবে না।
3 আর তাদের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করবে না; তুমি তার পুত্রকে তোমার কন্যা দেবে না ও তোমার পুত্রের জন্য তার কন্যা গ্রহণ করবে না।
4 কেননা সে তোমার সন্তানকে আমার অনুসরণ করা থেকে ফিরাবে, আর তারা অন্য দেবতাদের সেবা করবে; তাই তোমাদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে এবং তিনি তোমাকে শীঘ্র বিনষ্ট করবেন।
5 কিন্তু তোমরা তাদের প্রতি এরকম ব্যবহার করবে; তাদের সমস্ত কোরবানগাহ্ উৎপাটন করবে, তাদের সমস্ত স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলবে, তাদের সমস্ত আশেরা-মূর্তি কেটে ফেলবে এবং তাদের খোদাই-করা সমস্ত মূর্তি আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
6 কেননা তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের পবিত্র লোক; ভূতলে যত জাতি আছে, সেই সবের মধ্যে তাঁর নিজস্ব লোক করার জন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকেই মনোনীত করেছেন।
7
অন্য সমস্ত জাতির চেয়ে তোমরা সংখ্যাতে বেশি, এজন্য যে মাবুদ তোমাদেরকে স্নেহ ও মনোনীত করেছেন তা নয়; কেননা সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা অল্প সংখ্যক ছিলে।
8 কিন্তু মাবুদ তোমাদেরকে মহব্বত করেন এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের কাছে যে কসম খেয়েছেন, তা রক্ষা করেন, সেজন্য মাবুদ তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে তোমাদেরকে বের করে এনেছেন এবং গোলাম-গৃহ থেকে, মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের হাত থেকে, তোমাদেরকে মুক্ত করেছেন।
9 অতএব তুমি এই কথা জেনে রাখ যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদই আল্লাহ্; তিনি বিশ্বসনীয় আল্লাহ্, যারা তাঁকে মহব্বত করে ও তাঁর হুকুম পালন করে, তাদের পক্ষে হাজার পুরুষ পর্যন্ত নিয়ম ও রহম রক্ষা করেন।
10 কিন্তু যারা তাঁকে হিংসা করে, তাদেরকে সংহার করতে তাদের সাক্ষাতেই তাদেরকে প্রতিফল দেন; তিনি তাঁর বিদ্বেষীর বিষয়ে বিলম্ব করেন না, তার সাক্ষাতেই তাকে প্রতিফল দেন।
11 অতএব আমি আজ তোমাকে যে হুকুম ও যে সকল বিধি ও অনুশাসনের কথা বলি, সেসব যত্ন-পূর্বক পালন করবে।
12
তোমরা যদি এসব অনুশাসনের দিকে মনোযোগ দাও, এসব রক্ষা ও পালন কর, তবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার পূর্ব-পুরুষদের কাছে যে নিয়ম ও দয়ার বিষয়ে কসম খেয়েছেন, তোমার পক্ষে তা রক্ষা করবেন;
13 এবং তিনি তোমাকে মহব্বত করবেন, দোয়া করবেন ও বৃদ্ধি করবেন; আর তিনি যে দেশ তোমাকে দিতে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছেন, সেই দেশে তোমার শরীরের ফল, তোমার ভূমির ফল, তোমার শস্য, তোমার আঙ্গুর-রস, তোমার তেল, তোমার বাছুর ও তোমার ভেড়ার বাচ্চা— এসব কিছুতে দোয়া করবেন।
14 সকল জাতির মধ্যে তুমি দোয়া লাভ করবে, তোমার মধ্যে বা তোমার পশুগুলোর মধ্যে কোন পুরুষ কিংবা কোন স্ত্রী নিঃসন্তান হবে না।
15 আর মাবুদ তোমার মধ্য থেকে সমস্ত ব্যাধি দূর করবেন এবং মিসরীয়দের যেসব উৎকট রোগের বিষয়ে তুমি জান তা তোমাকে দেবেন না, কিন্তু তোমার সমস্ত বিদ্বেষীকে দেবেন।
16 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার হাতে যে সমস্ত জাতিকে তুলে দেবেন, তুমি তাদেরকে অধীনস্ত করবে; তোমার চোখ তাদের প্রতি রহম না করুক এবং তুমি তাদের দেবতাদের সেবা করো না, কেননা তা তোমার ফাঁদস্বরূপ।
17
যদি তুমি মনে মনে বল, এই জাতিরা আমার থেকে সংখ্যায় বেশি, আমি কেমন করে এদেরকে অধিকারচ্যুত করবো?
18 তুমি তাদের ভয় করো না; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ ফেরাউন ও সমস্ত মিসরের প্রতি যা করেছেন,
19 আর পরীক্ষাসিদ্ধ যেসব প্রমাণ তুমি স্বচক্ষে দেখেছ এবং যেসব চিহ্ন-কাজ, অদ্ভুত লক্ষণ এবং যে শক্তিশালী হাত ও বাড়িয়ে দেওয়া বাহু দ্বারা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে বের করে এনেছেন, সেসব নিশ্চয়ই স্মরণে রাখবে; তুমি যাদেরকে ভয় করছো, সেসব জাতির প্রতি তোমার আল্লাহ্ মাবুদ সেকরম করবেন।
20 এছাড়া, যারা অবশিষ্ট থেকে যাবে ও তোমার কাছ থেকে নিজদেরকে গোপন করবে, যতক্ষণ তাদের বিনাশ না হয়, ততক্ষণ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাদের মধ্যে ভিমরুল প্রেরণ করবেন।
21 তুমি তাদের থেকে ভয় পেয়ো না, কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার মধ্যবর্তী, তিনি মহান ও ভয়ঙ্কর আল্লাহ্।
22 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সম্মুখ থেকে ঐ জাতিদেরকে, অল্প অল্প করে দূর করবেন; তুমি তাদেরকে সমপূর্ণভাবে বিনষ্ট করতে পারবে না, কারণ তা হলে তোমার প্রতিকূলে সমস্ত বন্যপশুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।
23 কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার হাতে তাদেরকে তুলে দেবেন; এবং যে পর্যন্ত তারা বিনষ্ট না হয়, সেই পর্যন্ত মহাব্যাকুলতায় তাদেরকে ব্যাকুল করবেন।
24 আর তিনি তাদের বাদশাহ্দেরকে তোমার হস্তগত করবেন এবং তুমি আসমানের নিচ থেকে তাদের নাম মুছে ফেলবে; যে পর্যন্ত তাদেরকে বিনষ্ট না করবে, সেই পর্যন্ত তোমার সম্মুখে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।
25
তোমরা তাদের খোদাই-করা দেব-দেবীর মূর্তিগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেবে। তুমি যেন ফাঁদে না পড় সেজন্য তাদের শরীরের রূপা বা সোনার প্রতি লোভ করবে না ও নিজের জন্য তা গ্রহণ করবে না, কেননা তা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ঘৃণিত বস্তু;
26 আর তুমি ঘৃণিত বস্তু নিজের বাড়িতে আনবে না, তা না হলে তোমরাও তার মত বর্জিত হবে; তোমরা তা অতিশয় ঘৃণা করবে ও অতিশয় অবজ্ঞা করবে, যেহেতু তা বর্জনীয় বস্তু।
1
আজ আমি তোমাদেরকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, তোমরা যত্নপূর্বক সেসব পালন করবে, যেন বাঁচতে পার ও বৃদ্ধি পাও এবং মাবুদ যে দেশের বিষয়ে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছেন, সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করতে পারো।
2 আর তুমি সেসব পথ স্মরণে রাখবে, যে পথে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে এই চল্লিশ বছর মরুভূমিতে যাত্রা করিয়েছেন, যেন তোমার পরীক্ষা করার জন্য, অর্থাৎ তুমি তাঁর হুকুম পালন করবে কি না, এই বিষয়ে তোমার মনে কি আছে তা জানবার জন্য তোমাকে নত করেন।
3 তিনি তোমাকে নত করলেন ও তোমাকে ক্ষুধিত করে তোমার অজ্ঞাত ও তোমার পূর্ব-পুরুষদের অজ্ঞাত মান্না দিয়ে প্রতিপালন করলেন; যেন তিনি তোমাকে জানাতে পারেন যে, মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচে না, কিন্তু মাবুদের মুখ থেকে যা যা বের হয়, তাতেই মানুষ বাঁচে।
4 এই চল্লিশ বছর তোমার শরীরে তোমার কাপড়-চোপড় নষ্ট হয় নি ও তোমার পা ফুলে যায় নি।
5 আর মনে বুঝে দেখ, মানুষ যেমন নিজের পুত্রকে শাসন করে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে তেমনি শাসন করেন।
6 আর তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সমস্ত হুকুম পালন করে তাঁর পথে গমন ও তাঁকে ভয় করবে।
7 কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে একটি উত্তম দেশে নিয়ে যাচ্ছেন, সেই দেশে উপত্যকা ও পর্বত থেকে বয়ে আসা পানির স্রোত, ফোয়ারা ও গভীর জলাশয় আছে;
8 সেই দেশে গম, যব, আঙ্গুরলতা, ডুমুর গাছ ও ডালিম এবং তৈলদায়ক জলপাই গাছ ও মধু উৎপন্ন হয়;
9 সেই দেশে খাবারের বিষয়ে চিন্তিত হতে হবে না, তোমার কোন বস্তুর অভাব হবে না; সেই দেশের পাথর লোহায় পূর্ণ ও সেখানকার পর্বত খনন করে তুমি ব্রোঞ্জ আহরণ করবে।
10 আর তুমি ভোজন করে তৃপ্ত হবে এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া সেই উত্তম দেশের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করবে।
11
সাবধান, তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে যেও না; আমি আজ তাঁর যেসব হুকুম, অনুশাসন ও বিধি তোমাকে দিচ্ছি, সেসব পালন করতে ত্রুটি করো না।
12 তুমি ভোজন করে তৃপ্ত হলে, উত্তম বাড়ি-ঘর তৈরি করে বাস করলে,
13 তোমার গোমেষাদির পাল বৃদ্ধি পেলে, তোমার সোনা ও রূপা বৃদ্ধি পেলে এবং তোমার সকল সম্পত্তি বৃদ্ধি পেলে,
14 তোমার চিত্তকে গর্বিত হতে দিও না; এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে যেও না, যিনি মিসর দেশ থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে, তোমাকে বের করে এনেছেন;
15 যিনি সেই ভয়ানক মহা মরুভূমি দিয়ে, জ্বালাদায়ী বিষধর ও বৃশ্চিকে পরিপূর্ণ পানি বিহীন মরুভূমি দিয়ে তোমাকে গমন করালেন এবং চক্মকি প্রস্তরময় শৈল থেকে তোমার জন্য পানি বের করেছেন;
16 যিনি তোমার পূর্বপুরুষদের অজানা মান্না দ্বারা মরুভূমিতে তোমাকে প্রতিপালন করলেন; যেন তিনি তোমার ভবিষ্যতের মঙ্গলের জন্য তোমাকে নত করতে ও তোমার পরীক্ষা করতে পারেন।
17 আর মনে মনে বলো না যে, আমারই পরাক্রম ও বাহুবলে আমি এসব ঐশ্বর্য পেয়েছি,
18 কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে স্মরণে রাখবে, কেননা তিনি তোমার পূর্ব-পুরুষদের কাছে তাঁর যে নিয়ম বিষয়ক কসম খেয়েছেন, তা আজকের মত স্থির করার জন্য তিনিই তোমাকে ঐশ্বর্য লাভের সামর্থ দিলেন।
19 আর যদি তুমি কোন ভাবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে যাও, অন্য দেবতাদের পিছনে যাও, তাদের সেবা কর ও তাদের কাছে সেজ্দা কর, তবে আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আজ এই সাক্ষ্য দিচ্ছি, তোমরা নিশ্চয়ই বিনষ্ট হবে।
20 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য না করলে, তোমাদের সম্মুখে মাবুদ যে জাতিদেরকে বিনষ্ট করছেন, তাদেরই মত তোমরা বিনষ্ট হবে।
1
হে ইসরাইল, শোন, তুমি তোমার থেকে মহান ও বলবান জাতিদেরকে, আকাশ ছোঁয়া প্রাচীরে বেষ্টিত বড় বড় নগর অধিকারচ্যুত করতে আজ জর্ডান পার হয়ে যাচ্ছ;
2 সেই জাতি শক্তিশালী ও দীর্ঘকায়, তারা অনাকীয়দের সন্তান; তুমি তাদেরকে জান, আর তাদের বিষয়ে তুমি তো এই কথা শুনেছ যে, অনাকীয়দের সম্মুখে কে দাঁড়াতে পারে?
3 কিন্তু আজ তুমি এই কথা জেনে রাখ যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ নিজে ধ্বংসকারী আগুনের মত তোমার আগে আগে যাচ্ছেন। তিনি তাদেরকে সংহার করবেন, তাদেরকে তোমার সম্মুখে নত করবেন; তাতে মাবুদ তোমাকে যেমন বলেছেন, তেমনি তুমি তাদেরকে অধিকারচ্যুত করবে ও শীঘ্র বিনষ্ট করবে।
4
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যখন তোমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেবেন, তখন মনে মনে এমন ভেবো না যে, আমার ধার্মিকতার জন্যই মাবুদ আমাকে এই দেশ অধিকার করাতে এনেছেন। বাস্তবিক সেই জাতিদের নাফরমানীর জন্যই মাবুদ তাদেরকে তোমার সম্মুখে অধিকারচ্যুত করবেন।
5 তোমার ধার্মিকতা কিংবা হৃদয়ের সরলতার জন্য তুমি যে তাদের দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, তা নয়; কিন্তু সেই জাতিদের নাফরমানীর জন্য এবং তোমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের কাছে কসম খেয়ে যে ওয়াদা করেছিলেন তা সফল করার অভিপ্রায়ে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সম্মুখে তাদেরকে অধিকারচ্যুত করবেন।
6
অতএব জেনো যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে তোমার ধার্মিকতার জন্য অধিকার হিসেবে তোমাকে এই উত্তম দেশ দেবেন, তা নয়; কেননা তুমি অবাধ্য জাতি।
7 তুমি মরুভূমির মধ্যে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে যেরকম অসন্তুষ্ট করেছিলে, তা স্মরণে রেখো, ভুলে যেও না; মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসার দিন থেকে এই স্থানে আগমন পর্যন্ত তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধাচারী হয়ে আসছ।
8
তোমরা হোরেবেও মাবুদকে অসন্তুষ্ট করেছিলে এবং মাবুদ ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাদেরকে বিনাশ করতে উদ্যত হয়েছিলেন।
9 যখন আমি সেই দুই পাথরের ফলক, অর্থাৎ তোমাদের সঙ্গে মাবুদের কৃত শরীয়তের দুই পাথরের ফলক গ্রহণ করার জন্য পর্বতে উঠেছিলাম, তখন চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পর্বতে অবস্থান করেছিলাম, কোন রুটি ভোজন বা পানি পান করি নি।
10 আর মাবুদ আমাকে আল্লাহ্র আঙ্গুল দ্বারা লেখা সেই দু’টি পাথরের ফলক দিয়েছিলেন; পর্বতে জমায়েত হবার দিনে আগুনের মধ্য থেকে মাবুদ তোমাদেরকে যা যা বলেছিলেন, সেসব কালাম ঐ দু’টি পাথরের ফলকে লেখা ছিল।
11 সেই চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাতের শেষে মাবুদ ঐ দু’টি পাথর-ফলক অর্থাৎ শরীয়তের পাথর-ফলক আমাকে দিলেন।
12 আর মাবুদ আমাকে বললেন, উঠ, এই স্থান থেকে শীঘ্র নেমে যাও; কেননা তোমার যে লোকদেরকে তুমি মিসর থেকে বের করে এনেছ, তারা ভ্রষ্ট হয়েছে; আমার নির্দেশিত পথ থেকে শীঘ্রই বিপথগামী হয়েছে, নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালা একটি মূর্তি তৈরি করেছে।
13 মাবুদ আমাকে আরও বললেন, আমি এই লোকদেরকে দেখেছি, আর দেখ, এরা অবাধ্য জাতি;
14 তুমি আমার কাছ থেকে সরে যাও, আমি এদেরকে বিনষ্ট করে আসমানের নিচ থেকে এদের নাম মুছে ফেলবো; আর আমি তোমার মধ্য থেকে এদের চেয়ে বলবান ও বড় জাতি সৃষ্টি করবো।
15
তখন আমি ফিরে পর্বত থেকে নেমে এলাম, পর্বত আগুনে জ্বলছিল। তখন আমার দুই হাতে শরীয়তের দু’খানি পাথর-ফলক ছিল।
16 পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছিলে, নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালা একটি বাছুর তৈরি করেছিলে; মাবুদের নির্দেশিত পথ থেকে শীঘ্রই বিপথগামী হয়েছিলে।
17 তাতে আমি সেই দু’খানি পাথর-ফলক ধরে আমার দুই হাত থেকে ফেলে তোমাদের সাক্ষাতে ভেঙ্গে ফেললাম।
18 আর তোমরা মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা করে যে গুনাহ্ করেছিলে, তাঁর অসন্তোষজনক তোমাদের সেসব গুনাহ্র জন্য আমি আগের মত চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত মাবুদের সম্মুখে উবুড় হয়ে রইলাম, কোন রুটি ভোজন বা পানি পান করি নি।
19 কেননা মাবুদ তোমাদেরকে বিনষ্ট করতে এমন ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যে আমি তাঁর ক্রোধের প্রচণ্ডতায় ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু এবারেও মাবুদ আমার ফরিয়াদ শুনলেন।
20 আর মাবুদ হারুনকে বিনষ্ট করার জন্য তাঁর উপরে অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেই সময়ে হারুনের জন্যও মুনাজাত করলাম।
21 আর তোমাদের গুনাহ্, সেই যে বাছুর তোমরা তৈরি করেছিলে, তা নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলাম ও যে পর্যন্ত তা ধূলির মত মিহি না হল সেই পর্যন্ত পিষে উত্তমরূপে চূর্ণ করলাম; পরে পর্বত থেকে বয়ে আসা পানির স্রোতে তার ধূলি নিক্ষেপ করলাম।
22
আর তোমরা তবিয়েরাতে, মঃসাতে ও কিব্রোৎহত্তাবাতে মাবুদকে অসন্তুষ্ট করলে।
23 তারপর মাবুদ যে সময়ে কাদেশ-বর্ণেয় থেকে তোমাদেরকে প্রেরণ করে বললেন, তোমরা উঠে যাও, আমি তোমাদেরকে যে দেশ দিয়েছি, তা অধিকার কর; সেই সময় তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুমের বিরুদ্ধাচারী হলে, তাতে বিশ্বাস করলে না ও তাঁর কথায় কান দিলে না।
24 তোমাদের সঙ্গে আমার পরিচয়-দিন থেকে তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধাচারী হয়ে আসছো।
25
যাহোক, আমি উবুড় হয়ে রইলাম; ঐ চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত আমি মাবুদের সম্মুখে উবুড় হয়ে রইলাম; কেননা মাবুদ তোমাদেরকে বিনষ্ট করার কথা বলেছিলেন।
26 আর আমি মাবুদের কাছে এই মুনাজাত করলাম, হে আল্লাহ্ মালিক, তুমি আপনার অধিকারস্বরূপ যে লোকদেরকে তোমার মহত্বে মুক্ত করেছ ও শক্তিশালী হাত দিয়ে মিসর থেকে বের করে এনেছ, তাদেরকে বিনষ্ট করো না।
27 তোমার গোলাম ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে স্মরণ কর; এই লোকদের কঠিনতার, নাফরমানীর ও গুনাহ্র প্রতি দৃষ্টিপাত করো না;
28 পাছে তুমি আমাদেরকে যে দেশ থেকে বের করে এনেছ, সেই দেশীয় লোকেরা এই কথা বলে, মাবুদ ওদেরকে যে দেশ দিতে ওয়াদা করেছিলেন, সেই দেশে নিয়ে যেতে পারেন নি এবং তাদেরকে ঘৃণা করেছেন বলেই তিনি মরুভূমিতে হত্যা করার জন্য তাদেরকে বের করে এনেছেন।
29 এরাই তো তোমার লোক ও তোমার অধিকার; এদেরকে তুমি তোমার মহাশক্তি ও বাড়িয়ে দেওয়া বাহু দ্বারা বের করে এনেছ।
1
সেই সময়ে মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি প্রথমবারের মতই দু’টি পাথর-ফলক কেটে আমার কাছে পর্বতে উঠে এসো এবং কাঠের একটি সিন্দুক তৈরি কর।
2 তোমাকে আগে যে দু’টি পাথরের ফলক দিয়েছিলাম সেখানে যে যে কালাম ছিল, তা আমি এই দু’টি পাথর ফলকে সেসব লিখে দেবো, পরে তুমি তা সেই সিন্দুকে রাখবে।
3 তাতে আমি শিটীম কাঠের একটি সিন্দুক তৈরি করলাম এবং প্রথমবারের মত দু’টি পাথর-ফলক কেটে সেই দু’টি পাথর-ফলক হাতে নিয়ে পর্বতে উঠলাম।
4 আর মাবুদ জমায়েত হবার দিনে পর্বতে আগুনের মধ্য থেকে যে দশটি হুকুম তোমাদেরকে দিয়েছিলেন, সেই হুকুমগুলো ঐ দু’টি পাথরের ফলকে লিখে আমাকে দিলেন।
5 পরে আমি মুখ ফিরিয়ে পর্বত থেকে নেমে আমার প্রতি মাবুদের দেওয়া হুকুম অনুসারে সেই দুই পাথর-ফলক আমার তৈরি সেই সিন্দুকে রাখলাম, সেদিন থেকে তা সেই স্থানে রয়েছে।
6
(বনি-ইসরাইল বেরোৎ-বেনেয়াকন থেকে মোষেরোতে যাত্রা করলে সেই স্থানে হারুন ইন্তেকাল করেন এবং সেখানে তাঁকে দাফন করা হয়। হারুনের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র ইলিয়াসর তাঁর স্থানে ইমাম হলেন।
7 সেই স্থান থেকে তারা গুধগোদায় যাত্রা করলো এবং গুধগোদা থেকে যট্বাথায় প্রস্থান করলো; এই স্থানে অনেকগুলো পানির স্রোত ছিল।
8 সেই সময়ে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক বহন করতে, মাবুদের পরিচর্যা করার জন্য তাঁর সাক্ষাতে দাঁড়াতে এবং তাঁর নামে দোয়া করতে মাবুদ লেবির বংশকে পৃথক করলেন, আজও পর্যন্ত তারা তা করে আসছে।
9 এজন্য তাদের ভাইদের মধ্যে লেবীয়দের কোন অংশ কিংবা অধিকার হয় নি; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাদেরকে যা বলেছেন, সেই অনুসারে মাবুদই তাদের অধিকার।)
10
আর আমি প্রথমবারের মত চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পর্বতে থাকলাম এবং সেই বারেও মাবুদ আমার ফরিয়াদ শুনলেন; মাবুদ তোমাকে বিনষ্ট করতে চাইলেন না।
11 পরে মাবুদ আমাকে বললেন, উঠ, তুমি যাত্রার জন্য লোকদের অগ্রগামী হও, আমি তাদেরকে যে দেশ দিতে তাদের পূর্ব-পুরুষদের কাছে কসম খেয়েছি, তারা সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করুক।
12
এখন হে ইসরাইল, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার কাছে কি চান? কেবল এটা, যেন তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় কর, তাঁর সকল পথে চলো ও তাঁকে মহব্বত কর এবং তোমার সমস্ত অন্তর ও তোমার সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সেবা কর,
13 আজ আমি তোমার মঙ্গলের জন্য মাবুদের যে যে হুকুম ও বিধি তোমাকে দিচ্ছি, সেসব যেন পালন কর।
14 দেখ, বেহেশত ও বেহেশতের বেহেশত এবং দুনিয়া ও তার মধ্যেকার যাবতীয় বস্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদের।
15 কেবল তোমার পূর্বপুরুষদের মহব্বত করতে মাবুদের সন্তোষ ছিল, আর তিনি তাদের পরে তাদের বংশকে অর্থাৎ আজকের মত সমস্ত জাতির মধ্য থেকে তোমাদেরকে মনোনীত করলেন।
16 অতএব তোমরা নিজ নিজ হৃদয়ের খৎনা করাও এবং আর অবাধ্য হয়ো না।
17 কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদই দেবতাদের আল্লাহ্ ও প্রভুদের প্রভু, তিনিই মহান, শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর আল্লাহ্; তিনি কারো মুখাপেক্ষা ও ঘুষ গ্রহণ করেন না।
18 তিনি এতিমের ও বিধবার বিচার নিষ্পন্ন করেন এবং বিদেশীকে মহব্বত করে অন্ন-বস্ত্র দেন।
19 অতএব তোমরা বিদেশীকে মহব্বত করো, কেননা মিসর দেশে তোমরাও বিদেশী ছিলে।
20 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করবে; তাঁরই সেবা করবে, তাঁতেই আসক্ত থাকবে ও তাঁরই নামে কসম করবে।
21 তিনি তোমার প্রশংসা-ভূমি, তিনি তোমার আল্লাহ্; তুমি স্বচক্ষে যা যা দেখেছ, সেই মহৎ ও ভয়ঙ্কর সমস্ত কাজ তিনিই তোমার জন্য করেছেন।
22 তোমার পূর্বপুরুষেরা কেবল সত্তর জন মিসরে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু এখন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে আসমানের তারার মত বহুসংখ্যক করেছেন।
1
অতএব তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করবে এবং তাঁর দেওয়া দায়িত্ব, তাঁর বিধি, তাঁর অনুশাসন ও তাঁর সমস্ত হুকুম সবসময় পালন করবে।
2 আর আজ তোমরা মনে রেখো যে, যেহেতু তোমাদের সন্তানদের বলছি না, কেননা তারা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কৃত শাস্তি জানে না ও দেখে নি; তাঁর মহত্ত্ব, তাঁর শক্তিশালী হাত, বাড়িয়ে দেওয়া বাহু
3 এবং তাঁর চিহ্ন-কাজগুলো ও মিসরের মধ্যে মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের প্রতি ও তাঁর সমস্ত দেশের প্রতি তিনি যা যা করলেন, তাঁর সেসব কাজ তারা দেখে নি।
4 এছাড়া, মিসরীয় সৈন্যের, ঘোড়া ও রথের প্রতি মাবুদ যা করলেন, আর তারা তোমাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে আসার পর মাবুদ যেভাবে লোহিত সাগরের পানি তাদের উপরে বইয়ে দিয়ে তাদেরকে বিনষ্ট করলেন, আজ তারা আর নেই— এসব কাজ তারা দেখে নি;
5 এবং এই স্থানে তোমাদের আগমন পর্যন্ত তোমাদের প্রতি মাবুদ মরুভূমিতে যা যা করেছেন;
6 আর তিনি রূবেণের পুত্র ইলীয়াবের সন্তান দাথন ও অবীরামের প্রতি যা যা করেছেন, ফলত দুনিয়া যেভাবে তার মুখ হা করে সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে তাদের, তাদের পরিজনদের, তাদের তাঁবু ও তাদের অধিকৃত সমস্ত সম্পত্তি গ্রাস করলো, এসব তারা দেখে নি;
7 কিন্তু মাবুদের কৃত সমস্ত মহৎ কাজ তোমরা স্বচক্ষে দেখেছো।
8
অতএব আজ আমি তোমাদেরকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, সেসব হুকুম পালন করো, যেন তোমরা বলবান হও এবং যে দেশ অধিকার করার জন্য পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার কর;
9 আর যেন মাবুদ তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে ও তাঁদের বংশকে যে দেশ দিতে কসম খেয়েছিলেন, সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে তোমরা দীর্ঘকাল বসবাস করতে পার।
10 কারণ তোমরা যে মিসর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছো, সেই দেশে তুমি বীজ বুনে সবজী ক্ষেতের মত পা দিয়ে পানি সেচন করতে; কিন্তু তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশ সেকরম নয়।
11 তোমরা যে দেশ অধিকার করতে পার হয়ে যাচ্ছ, সেটি পর্বত ও উপত্যকা-বিশিষ্ট দেশ এবং আসমানের বৃষ্টির পানি পান করে;
12 সেই দেশের প্রতি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের মনোযোগ আছে; বছরের আরম্ভ থেকে বছরের শেষ পর্যন্ত তার প্রতি সব সময় তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টি থাকে।
13
আর আমি আজ তোমাদেরকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, তোমরা যদি যত্নপূর্বক তা শুনে তোমাদের সমস্ত অন্তর ও প্রাণের সঙ্গে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত ও তাঁর সেবা কর,
14 তবে আমি যথা সময়ে অর্থাৎ প্রথম ও শেষ বর্ষায় তোমাদের দেশে বৃষ্টি দান করবো, তাতে তুমি তোমার শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
15 আর আমি তোমার পশুদের জন্য তোমার ক্ষেতে ঘাস দেব এবং তুমি আহার করে তৃপ্ত হবে।
16 নিজেদের বিষয়ে সাবধান, পাছে তোমাদের অন্তর ভ্রান্ত হয় এবং তোমরা পথ ছেড়ে অন্য দেবতাদের সেবা কর ও তাদের কাছে সেজ্দা কর;
17 করলে তোমাদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে ও তিনি আসমান রুদ্ধ করবেন, তাতে বৃষ্টি হবে না ও ভূমি নিজের ফল দেবে না এবং মাবুদ তোমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেই উত্তম দেশ থেকে তোমরা খুব শীঘ্রই উচ্ছিন্ন হবে।
18
অতএব তোমরা আমার এসব কালাম নিজ নিজ অন্তরে ও প্রাণে রেখো এবং চিহ্নরূপে নিজ নিজ হাতে বেঁধে রেখো এবং সেসব ভূষণরূপে তোমাদের দুই চোখের মধ্যে থাকবে।
19 আর তোমরা বাড়িতে উপবেশন ও পথে গমনকালে এবং শয়ন করার সময়ে ও বিছানা থেকে উঠবার সময়ে ঐ সমস্ত কথার প্রসঙ্গ করে নিজ নিজ সন্তানদেরকে শিক্ষা দিও।
20 আর তুমি তোমার বাড়ির দরজার চৌকাঠে ও তোমার দ্বারে তা লিখে রেখো।
21 তাতে মাবুদ তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে ভূমি দিতে কসম খেয়েছেন, সেই ভূমিতে তোমাদের আয়ু ও তোমাদের সন্তানদের আয়ু দুনিয়ার উপরে আসমানের আয়ুর মত বৃদ্ধি পাবে।
22
এই যে সমস্ত হুকুম আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি, তোমরা যদি যত্নপূর্বক তা পালন করে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত কর, তাঁর পথগুলোতে চল ও তাঁতে আসক্ত থাক;
23 তবে মাবুদ তোমাদের সম্মুখ থেকে এসব জাতিকে অধিকারচ্যুত করবেন এবং তোমরা তোমাদের চেয়ে বড় ও বলবান জাতিদের উত্তরাধিকারী হবে।
24 তোমাদের পা যেসব স্থানে পড়বে, সে সমস্ত স্থান তোমাদের হবে; মরুভূমি ও লেবানন থেকে, নদী অর্থাৎ ফোরাত নদী থেকে পশ্চিম সমুদ্র পর্যন্ত তোমাদের সীমা হবে।
25 তোমাদের সম্মুখে কেউই দাঁড়াতে পারবে না; তোমরা যে দেশে পা রাখবে, সেই দেশের সর্বত্র তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর কালাম অনুসারে তোমাদের থেকে লোকদের ভয় ও ত্রাস উপস্থিত করবেন।
26
দেখ, আজ আমি তোমাদের সম্মুখে দোয়া ও বদদোয়া রাখলাম।
27 আজ আমি তোমাদেরকে যেসব হুকুম দিলাম, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সেসব হুকুমে যদি মান্য কর, তবে দোয়া পাবে।
28 আর যদি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম মান্য না কর এবং আমি আজ তোমাদেরকে যে পথের বিষয়ে হুকুম করলাম, যদি সেই পথ ছেড়ে তোমাদের অজ্ঞাত অন্য দেবতাদের পিছনে গমন কর, তবে বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
29
আর তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যখন তোমাকে প্রবেশ করাবেন, তখন তুমি গরিষীম পর্বতে ঐ দোয়া এবং এবল পর্বতে ঐ বদদোয়া স্থাপন করবে।
30 সেই দু’টি পর্বত জর্ডানের ওপারে, সূর্যাস্তপথের ওদিকে, অরাবা উপত্যকা-নিবাসী কেনানীয়দের দেশে, গিল্গলের সম্মুখে, মোরির এলোন বনের কাছে কি নয়?
31
কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদেরকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশ অধিকার করার জন্য, তোমরা সেখানে প্রবেশ করার জন্য জর্ডান পার হয়ে যাবে, দেশ অধিকার করবে ও সেখানে বাস করবে।
32 আর আমি আজ তোমাদের সম্মুখে যেসব বিধি ও অনুশাসন রাখলাম সেসব যত্নপূর্বক পালন করবে।
1
তোমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ অধিকার হিসেবে দিয়েছেন, সেই দেশে এসব বিধি ও অনুশাসন, যত দিন দুনিয়াতে জীবিত থাকবে, যত্নপূর্বক পালন করতে হবে।
2 তোমরা যে যে জাতিকে অধিকারচ্যুত করবে, তারা উঁচু পর্বতের উপরে, পাহাড়ের উপরে ও সবুজ প্রত্যেক গাছের তলে যে যে স্থানে নিজ নিজ দেবতাদের সেবা করেছে, সেসব স্থান তোমরা একেবারে বিনষ্ট করবে।
3 তোমরা তাদের সমস্ত কোরবানগাহ্ উৎপাটন করবে, তাদের স্তম্ভগুলো ভেঙ্গে ফেলবে, তাদের সমস্ত আশেরা-মূর্তি আগুনে পুড়িয়ে দেবে, তাদের খোদাই-করা মূর্তিগুলো ধ্বংস করবে এবং সেই স্থান থেকে তাদের নাম মুছে ফেলবে।
4 তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের এবাদত সেরকম ভাবে করবে না।
5 কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নাম স্থাপনের জন্য তোমাদের সমস্ত বংশের মধ্যে যে স্থান মনোনীত করবেন, তাঁর সেই নিবাসস্থান তোমরা খোঁজ করবে ও সেই স্থানে উপস্থিত হবে।
6 আর নিজ নিজ পোড়ানো-কোরবানী, অন্যান্য কোরবানী, দশ ভাগের এক ভাগ, হাতের উত্তোলনীয় উপহার, মানতের দ্রব্য, স্বেচ্ছাদত্ত উপহার ও গোমেষাদি পালের প্রথমজাতদের সেই স্থানে আনবে;
7 আর সেই স্থানে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে ভোজন করবে এবং তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছ থেকে যে দোয়া লাভ করেছ সেই অনুসারে যা কিছুতে হাত রাখবে, তাতেই সপরিবারে আনন্দ করবে।
8
এই স্থানে আমরা এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা করছি, তোমরা সেরকম করবে না;
9 কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে বিশ্রামস্থান ও অধিকার দিচ্ছেন সেখানে তোমরা এখনও উপস্থিত হও নি।
10 কিন্তু যখন তোমরা জর্ডান পার হয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া অধিকৃত দেশে বাস করবে এবং চারদিকের সমস্ত দুশমন থেকে তিনি নিষ্কৃতি দিলে যখন তোমরা নির্ভয়ে বাস করবে;
11 তখন তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নামের বসবাসের জন্য যে স্থান মনোনীত করবেন সেই স্থানে তোমরা আমার হুকুম করা সমস্ত দ্রব্য, নিজ নিজ পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানী দশ ভাগের এক ভাগ, হাতের উত্তোলনীয় উপহার ও মাবুদের উদ্দেশে প্রতিশ্রুত মানতের উৎকৃষ্ট দ্রব্যগুলো আনবে।
12 আর তোমরা, তোমাদের পুত্র কন্যাদের ও তোমাদের গোলাম-বাঁদীরা, আর তোমাদের নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী লেবীয়, যার অংশ ও অধিকার তোমাদের মধ্যে নেই, তোমরা সকলে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে আনন্দ করবে।
13
সাবধান, যে কোন স্থান দেখলে, সেই স্থানেই তোমার পোড়ানো-কোরবানী দেবে না;
14 কিন্তু তোমার কোন এক বংশের মধ্যে যে স্থান মাবুদ মনোনীত করবেন, সেই স্থানেই তোমার পোড়ানো-কোরবানী করবে ও সেই স্থানে আমার হুকুম করা সকল কাজ করবে।
15
তবুও যখন তোমার প্রাণের অভিলাষ হবে, তখন তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া দোয়া অনুসারে তোমার সমস্ত নগর-দ্বারের ভিতরে পশু জবেহ্ করে গোশ্ত ভোজন করতে পারবে; নাপাক বা পাক-সাফ লোক সকলেই কৃষ্ণসার ও হরিণের মাংসের মত তা ভোজন করতে পারবে।
16 কেবল তোমরা রক্ত পান করবে না; তুমি তা পানির মত ভূমিতে ঢেলে দেবে।
17 তোমার শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের দশ ভাগের এক ভাগ, গোমেষাদির প্রথমজাত এবং যা মানত করবে, সেই মানতের দ্রব্য, স্বেচ্ছাদত্ত উপহার ও হাতের উত্তোলনীয় উপহার, এসব তুমি তোমার নগর-দ্বারের মধ্যে ভোজন করতে পারবে না।
18 কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তুমি, তোমার পুত্র কন্যা, তোমার গোলাম-বাঁদী ও তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী লেবীয়, সকলে তা ভোজন করবে এবং তুমি যা কিছুতে হাত রাখবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তাতেই আনন্দ করবে।
19 সাবধান, তোমার দেশে যতকাল জীবিত থাক, লেবীয়দের ত্যাগ করো না।
20
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যেমন অঙ্গীকার করেছেন, সেই অনুসারে যখন তোমার সীমা বিস্তার করবেন এবং গোশ্ত ভোজনে তোমার প্রাণের অভিলাষ হলে তুমি বলবে গোশ্ত ভোজন করবো, তখন তুমি প্রাণের অভিলাষ অনুসারে গোশ্ত ভোজন করবে।
21 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নাম স্থাপনের জন্য যে স্থান মনোনীত করবেন, তা যদি তোমা থেকে বহু দূর হয়, তবে আমি যেমন বলেছি, সেই অনুসারে তুমি মাবুদের দেওয়া গোমেষাদি পাল থেকে পশু নিয়ে জবেহ্ করবে ও তোমার প্রাণের অভিলাষ অনুসারে নগর-দ্বারের ভিতরে ভোজন করতে পারবে।
22 যেমন কৃষ্ণসার ও হরিণ ভোজন করা যায়, তেমনি তা ভোজন করবে; নাপাক বা পাক-সাফ সকল লোকেই তা ভোজন করবে।
23 কেবল রক্ত পান করা থেকে অতি সাবধান থেকো, কেননা রক্তই প্রাণ; তুমি মাংসের সঙ্গে প্রাণ ভোজন করবে না।
24 তুমি তা ভোজন করবে না, পানির মত ভূমিতে ঢেলে দেবে।
25 তুমি তা ভোজন করবে না, যেন মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা করলে তোমার মঙ্গল ও তোমার ভাবী সন্তানদের মঙ্গল হয়।
26 কেবল তোমার যত পবিত্র বস্তু এবং তোমার যত মানতের বস্তু থাকে, সেসব নিয়ে মাবুদের মনোনীত স্থানে যাবে;
27 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে তোমার পোড়ানো-কোরবানী, গোশ্ত ও রক্ত কোরবানী করবে, আর তোমার কোরবানীগুলোর রক্ত তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে ঢালা যাবে, পরে তার গোশ্ত ভোজন করতে পারবে।
28 সাবধান হয়ে আমার হুকুম করা এসব কালাম মান্য করো, যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গোচরে যা উত্তম ও ন্যায্য, তা করলে তোমার ও যুগানুক্রমে তোমার ভাবী সন্তানদের মঙ্গল হয়।
29
তুমি যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করতে যাচ্ছ, তাদেরকে যখন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সম্মুখ থেকে উচ্ছিন্ন করবেন ও তুমি তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে তাদের দেশে বাস করবে;
30 তখন সাবধান থেকো, পাছে তোমার সম্মুখ থেকে তাদের বিনাশ হলে তুমি তাদের অনুগামী হয়ে ফাঁদে পড় এবং পাছে তাদের দেবতাদের খোঁজ করে বল, এই জাতিরা নিজ নিজ দেবতাদের সেবা কিভাবে করে? আমিও তা-ই করবো।
31 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি সেরকম করবে না; কেননা তারা নিজ নিজ দেবতাদের উদ্দেশে মাবুদের ঘৃণিত যাবতীয় কুকাজ করে এসেছে। এমন কি, তারা সেই দেবতাদের উদ্দেশে নিজ নিজ পুত্রকন্যাদেরকেও আগুনে পোড়ায়।
32
আমি যে কোন বিষয় তোমাদেরকে হুকুম করি, তোমরা তা-ই যত্নপূর্বক পালন করবে; তুমি তাতে আর কিছু যোগ করবে না এবং তা থেকে কিছু বাদ দেবে না।
1
তোমার মধ্যে কোন নবী কিংবা স্বপ্নদর্শক উঠে যদি তোমার জন্য কোন চিহ্ন-কাজ কিংবা অদ্ভুত লক্ষণ নির্ধারণ করে;
2 এবং সেই চিহ্ন-কাজ কিংবা অদ্ভুত লক্ষণ সফল হয়, যার সম্বন্ধে সে তোমার অজ্ঞাত অন্য দেবতাদের বিষয়ে তোমাদেরকে বলেছিল, এসো, আমরা তাদের অনুগামী হই ও তাদের সেবা করি,
3 তবে তুমি সেই নবীর কিংবা সেই স্বপ্নদর্শকের কথায় কান দিও না; কেননা তোমরা তোমাদের সমস্ত অন্তর ও তোমাদের সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত কর কি না, তা জানবার জন্য তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের পরীক্ষা করেন।
4 তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদেরই অনুগামী হও, তাঁকেই ভয় কর, তাঁরই হুকুম পালন কর, তাঁরই বাণী মান্য কর, তাঁরই সেবা কর ও তাঁতেই আসক্ত থাক।
5 আর সেই নবীর কিংবা সেই স্বপ্নদর্শকের প্রাণদণ্ড করতে হবে; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছেন, গোলামীর গৃহ থেকে তোমাকে মুক্ত করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সে বিপথগমনের কথা বলেছে। তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে পথে গমন করতে তোমাকে হুকুম করেছেন তা থেকে তোমাকে ভ্রষ্ট করা তার অভিপ্রায়। অতএব তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
6
তোমার ভাই, তোমার সহোদর কিংবা তোমার পুত্র বা কন্যা কিংবা তোমার প্রিয় স্ত্রী কিংবা তোমার প্রাণতুল্য বন্ধু যদি গোপনে তোমাকে প্রবৃত্তি দিয়ে বলে, এসো, আমরা গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা করি,
7 তোমার অজ্ঞাত ও তোমার পূর্বপুরুষদের অজ্ঞাত কোন দেবতা, তোমার চারদিকের নিকটবর্তী কিংবা তোমা থেকে দূরবর্তী, দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত যে কোন জাতির যে কোন দেবতা হোক,
8 তার বিষয়ে যদি এই কথা বলে, তবে তুমি সেই ব্যক্তির প্রস্তাবে সম্মত হয়ো না, তার কথায় কান দিও না; তোমার চোখ তার প্রতি রহম করবে না, তাকে কৃপা করবে না, তাকে লুকিয়ে রাখবে না।
9 কিন্তু অবশ্য তুমি তাকে হত্যা করবে; তাকে হত্যা করার জন্য প্রথমে তুমিই তার উপরে হস্তক্ষেপ করবে, পরে সমস্ত লোক হস্তক্ষেপ করবে।
10 তুমি তাকে পাথর ছুড়বে যাতে তার মৃত্যু হয়; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি মিসর দেশ থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে, তোমাকে বের করে এনেছেন, তাঁর পিছনে চলা থেকে সে তোমাকে ফিরাতে চেষ্টা করেছে।
11 তাতে সমস্ত ইসরাইল তা শুনবে, ভয় পাবে এবং তোমার মধ্যে এই রকম দুষ্কর্ম আর করবে না।
12
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে যে নিবাস-নগর দেবেন, তার কোন নগর সম্বন্ধে যদি শুনতে পাও যে,
13 কতগুলো পাষণ্ড তোমার মধ্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে এই কথা বলে নিজের নগরবাসীদেরকে ভ্রষ্ট করেছে, এসো, আমরা গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা করি, যাদেরকে তোমরা জান না,
14 তবে তুমি জিজ্ঞাসা করবে, অনুসন্ধান ও যত্নপূর্বক প্রশ্ন করবে; আর দেখ, তোমার মধ্যে এই রকম জঘন্য দুষ্কর্ম হয়েছে,
15 এই বিষয়টি যদি সত্য ও নিশ্চিত হয়, তবে তুমি তলোয়ারের আঘাতে সেই নগরের অধিবাসীদেরকে আঘাত করবে এবং নগর ও তার মধ্যস্থিত পশুসুদ্ধ সকলই তলোয়ারের আঘাতে নিঃশেষে বিনষ্ট করবে;
16 আর তার লুণ্ঠিত দ্রব্যগুলো তার চকের মধ্যে সংগ্রহ করে সেই নগর ও সেসব দ্রব্য সর্বতোভাবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে আগুনে পুড়িয়ে দেবে; তাতে সেই নগর চিরকালের জন্য ধ্বংসস্তূপ হয়ে থাকবে তা পুনর্বার নির্মিত হবে না।
17 আর সেই বর্জিত দ্রব্যের কিছুই তোমার হাতে না থাকুক; যেন মাবুদ তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ থেকে ফিরেন এবং তিনি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে যে কসম খেয়েছেন সেই অনুসারে তোমার প্রতি কৃপা ও করুণা করেন ও তোমার সমৃদ্ধি ঘটান;
18 কারণ তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য করে আমি আজ তোমাকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, তাঁর সেসব হুকুম পালন করবে ও তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যথার্থ আচরণ করবে।
1
তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সন্তান; তোমরা মৃত লোকদের জন্য নিজ নিজ শরীর ক্ষত-বিক্ষত করবে না এবং ভ্রূর মধ্যস্থল ক্ষৌরি করবে না।
2 কেননা তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের পবিত্র লোক; ভূমণ্ডলস্থ সমস্ত জাতির মধ্য থেকে মাবুদ তাঁর নিজস্ব লোক করার জন্য তোমাকেই মনোনীত করেছেন।
3
তুমি কোন ঘৃণার বস্তু ভোজন করবে না।
4 এসব পশু ভোজন করতে পার— গরু, ভেড়া এবং ছাগল, হরিণ,
5 কৃষ্ণসার এবং বনগরু, বন্য ছাগল, বাতপ্রমী, পৃষত এবং সম্বর।
6 আর পশুদের মধ্যে যত পশু সমপূর্ণ দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট ও জাবর কাটে, সেসব তোমরা ভোজন করতে পার।
7 কিন্তু যারা জাবর কাটে, কিংবা দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট, তাদের মধ্যে এগুলো ভোজন করবে না— উট, খরগোস ও শাফন; কেননা তারা জাবর কাটে বটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়, তারা তোমাদের পক্ষে নাপাক;
8 আর শূকর দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট বটে, কিন্তু জাবর কাটে না, সে তোমাদের পক্ষে নাপাক; তোমরা তাদের গোশ্ত ভোজন করবে না, তাদের শব স্পর্শও করবে না।
9
পানিতে বাস করা প্রাণীদের মধ্যে এসব তোমাদের খাদ্য; যাদের ডানা ও আঁশ আছে, সেগুলোকে ভোজন করতে পার।
10 কিন্তু যাদের ডানা ও আঁশ নেই, সেগুলোকে ভোজন করবে না, তারা তোমাদের পক্ষে নাপাক।
11
তোমরা সমস্ত রকমের পাক-পবিত্র পাখি ভোজন করতে পার।
12 কিন্তু এগুলো ভোজন করবে না; ঈগল, হাড়গিলা ও কূরল,
13 গৃধ্র, চিল ও নিজ নিজ জাত অনুসারে শঙ্করচিল,
14 আর নিজ নিজ জাত অনুসারে সমস্ত রকম কাক,
15 আর উটপাখি, রাত্রিশ্যেন, গাংচিল ও
16 নিজ নিজ জাত অনুসারে শ্যেন,
17 এবং পেচক, মহাপেচক ও দীর্ঘগল হংস;
18 ক্ষুদ্র পানি-ভেলা, শকুনী ও মাছরাঙ্গা এবং সারস ও নিজ নিজ জাত অনুসারে বক, টিট্রিভ ও বাদুড়।
19 আর পাখাবিশিষ্ট যাবতীয় পোকাও তোমাদের পক্ষে নাপাক; এসব অখাদ্য।
20 তোমরা সমস্ত পাক-পবিত্র পাখি ভোজন করতে পার।
21
তোমরা স্বয়ংমৃত কোন প্রাণীর গোশ্ত ভোজন করবে না; তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী কোন বিদেশীকে ভোজনের জন্য তা দিতে পার, কিংবা বিজাতীয় লোকের কাছে বিক্রি করতে পার; কেননা তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের পবিত্র লোক। তুমি ছাগলের বাচ্চাকে তার মায়ের দুধে রান্না করবে না।
22
তুমি তোমার বীজ থেকে উৎপন্ন যাবতীয় শস্যের, প্রতি বছর যা ক্ষেতে উৎপন্ন হয়, তার দশ ভাগের এক ভাগ পৃথক করে রাখবে।
23 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নামের বাসস্থান হিসেবে যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে তুমি তোমার শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের দশ ভাগের এক ভাগ এবং গোমেষাদি পালের প্রথমজাতদেরকে তাঁর সম্মুখে ভোজন করবে; এভাবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে সব সময় ভয় করতে শিক্ষা করবে।
24 সেই যাত্রা যদি তোমার পক্ষে বেশি বড় দূরের হয় যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নাম স্থাপনের জন্য যে স্থান মনোনীত করবেন, তার দূরত্বের দরুন যদি তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দোয়ায় যে দ্রব্য পেয়েছ তা সেখানে নিয়ে যেতে না পার,
25 তবে সেই দ্রব্য বিক্রি করে সেই টাকা হাতে নিয়ে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের মনোনীত স্থানে যাবে।
26 পরে সেই টাকা দিয়ে তোমার প্রাণের ইচ্ছানুযায়ী গরু বা ভেড়া বা আঙ্গুর-রস বা মদানো রস, বা যে কোন দ্রব্যে তোমার প্রাণের বাসনা হয়, তা ক্রয় করে সেই স্থানে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে ভোজন করে সপরিবারে আনন্দ করবে।
27 আর তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী লেবীয়দের ত্যাগ করবে না, কেননা তোমার যেমন আছে তেমনি তাদের কোন অংশ বা অধিকার নেই।
28
তৃতীয় বছরের শেষে তুমি সেই বছরে উৎপন্ন তোমার শস্যাদির যাবতীয় দশ ভাগের এক ভাগ বের করে এনে তোমার নগর-দ্বারের ভিতরে সঞ্চয় করে রাখবে;
29 তাতে তোমার যেমন আছে তেমনি যার কোন অংশে কোন অধিকার নেই, সেই লেবীয়দের এবং বিদেশী, এতিম ও বিধবা, তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী এসব লোক এসে ভোজন করে তৃপ্ত হবে; এভাবে যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সমস্ত কাজে তোমাকে দোয়া করেন।
1
তুমি সপ্তম বছরের শেষে ঋণ মাফ করবে।
2 সেই ঋণ মাফের এই ব্যবস্থা; যে কোন মহাজন তাঁর প্রতিবেশীকে ঋণ দিয়েছে, সে তাঁর দেওয়া সেই ঋণ মাফ করবে, তাঁর প্রতিবেশী কিংবা ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ আদায় করবে না, কেননা মাবুদের হুকুমে ঋণ মাফের ঘোষণা হয়েছে।
3 তুমি বিজাতীয়ের কাছ থেকে তা আদায় করতে পার; কিন্তু তোমার ভাইয়ের কাছে তোমার যা আছে, তা তোমাকে মাফ করে দিতে হবে।
4 বাস্তবিক তোমাদের মধ্যে কারো দরিদ্র হওয়া অনুপযুক্ত; কারণ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার অধিকার হিসেবে যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে মাবুদ তোমাকে নিশ্চয়ই দোয়া করবেন;
5 কেবল আমি আজ তোমাকে এই যে সমস্ত হুকুম দিচ্ছি, তা যত্নপূর্বক পালন করার জন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদের বাধ্য হতে হবে।
6 কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যেমন তোমার কাছে অঙ্গীকার করেছেন, তেমনি তোমাকে দোয়া করবেন; আর তুমি অনেক জাতিকে ঋণ দেবে, কিন্তু নিজে ঋণ নেবে না; এবং অনেক জাতির উপরে কর্তৃত্ব করবে, কিন্তু তারা তোমার উপরে কর্তৃত্ব করবে না।
7
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানে কোন নগর-দ্বারের ভিতরে যদি তোমার নিকটস্থ কোন ভাই দরিদ্র হয়, তবে তুমি তোমার অন্তর কঠিন করো না, বা দরিদ্র ভাইয়ের প্রতি তোমার হাত মুঠো করে রেখো না,
8 কিন্তু তার অভাব হেতু প্রয়োজন অনুসারে তাকে অবশ্য খোলা হাতে ঋণ দিও।
9 সাবধান, সপ্তম বছর অর্থাৎ মাফ করার বছর নিকটবর্তী, এই কথা বলে তোমার অন্তরে যেন অধম চিন্তার উদয় না হয়; তুমি যদি তোমার দরিদ্র ভাইয়ের প্রতি অশুভ দৃষ্টি করে তাকে কিছু না দাও, তবে সে তোমার বিরুদ্ধে মাবুদের কাছে মুনাজাত করলে তোমার গুনাহ্ হবে।
10 তুমি তাকে অবশ্য দেবে, দেবার সময়ে অন্তরে দুঃখিত হবে না; কেননা এই কাজের দরুন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সমস্ত কাজে এবং তুমি যে সমস্ত বিষয়ে হাত দেবে সেই সমস্ত বিষয়ে তোমাকে দোয়া করবেন।
11 কেননা তোমার দেশের মধ্যে দরিদ্রের অভাব হবে না; অতএব আমি তোমাকে এই হুকুম দিচ্ছি, তুমি তোমার দেশে তোমার ভাইয়ের প্রতি, তোমার দুঃখী ও দীনহীনের প্রতি, তোমার হাত অবশ্য খুলে রাখবে।
12
তোমার ভাই অর্থাৎ কোন ইবরানী পুরুষ কিংবা ইবরানী স্ত্রীলোককে যদি তোমার কাছে বিক্রি করা হয় এবং ছয় বছর পর্যন্ত তোমার গোলামীর কাজ করে; তবে সপ্তম বছরে তুমি তাকে মুক্ত করে তোমার কাছ থেকে বিদায় দেবে।
13 আর মুক্ত করে তোমার কাছ থেকে বিদায় দেবার সময়ে তুমি তাকে খালি হাতে বিদায় করবে না;
14 তুমি তোমার পাল, শস্য ও আঙ্গুর-রস থেকে তাকে প্রচুর পুরস্কার দেবে; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যেমন দোয়া করেছেন, সেই অনুসারে তাকে দেবে।
15 আর স্মরণে রাখবে, তুমি মিসর দেশে গোলাম ছিলে এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে মুক্ত করেছেন; এজন্য আমি আজ তোমাকে এই হুকুম দিচ্ছি।
16 পরন্তু তোমার কাছে সুখে থাকাতে সে তোমাকে ও তোমার পরিবার-পরিজনকে মহব্বত করে বলে, যদি বলে আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না;
17 তবে তুমি একটি গুঁজি নিয়ে কপাটের সঙ্গে তার কান বিঁধিয়ে দেবে, তাতে সে চির জীবনের জন্য তোমার গোলাম থাকবে; আর বাঁদীর প্রতিও তা-ই করবে।
18 ছয় বছর পর্যন্ত সে তোমার কাছে বেতনজীবীর বেতনের চেয়ে দ্বিগুণ গোলামীর কাজ করেছে, এই কারণে তাকে মুক্ত করে বিদায় দেওয়া কঠিন মনে করবে না; তাতে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সকল কাজে তোমাকে দোয়া করবেন।
19
তুমি তোমার গোমেষাদি পশুপাল থেকে উৎপন্ন সমস্ত প্রথমজাত পুং পশুকে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করবে; তুমি গরুর প্রথমজাত দিয়ে কোন কাজ করবে না এবং তোমার প্রথমজাত ভেড়ার লোম ছাঁটাই করবে না।
20 মাবুদ যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তুমি সপরিবারে প্রতি বছর তা ভোজন করবে।
21 যদি তাতে কোন খুঁত থাকে, অর্থাৎ সে যদি খঞ্জ কিংবা অন্ধ হয়, কোন ভাবে খুঁতযুক্ত হয়, তবে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে তা কোরবানী করবে না।
22 তোমার নগর-দ্বারের ভিতরে তা ভোজন করো; নাপাক বা পাক-পবিত্র উভয় লোকই কৃষ্ণসার কিংবা হরিণের মত করেই তা ভোজন করতে পারে।
23 তুমি কেবল তার রক্ত ভোজন করবে না, তা পানির মত ভূমিতে ঢেলে ফেলবে।
1
তুমি আবীব মাস পালন করবে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করবে; কেননা আবীব মাসে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে রাতের বেলায় মিসর থেকে বের করে এনেছিলেন।
2 আর মাবুদ তাঁর নামের বাসস্থান হিসেবে যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ছাগল-ভেড়ার পাল ও গরুর পাল থেকে পশু নিয়ে ঈদুল ফেসাখের কোরবানী করবে।
3 তুমি তার সঙ্গে খামিযুক্ত রুটি খাবে না; কেননা তুমি তাড়াহুড়া করেই মিসর দেশ থেকে বের হয়েছিলে। এজন্য সাত দিন সেই কোরবানীর সঙ্গে খামিহীন রুটি, দুঃখাবস্থার রুটি, ভোজন করবে; যেন মিসর দেশ থেকে তোমার বেরিয়ে আসার দিনের কথা সারা জীবন তোমার স্মরণে থাকে।
4 সাত দিন তোমার সীমার মধ্যে খামি দৃষ্ট না হোক; এবং প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলা তুমি যে কোরবানী কর, তার কোন গোশ্ত সকাল পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে না।
5 তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যেসব নগর দেবেন, তার কোন নগর-দ্বারের ভিতরে ঈদুল ফেসাখের কোরবানী করতে পারবে না;
6 কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নামের বাসস্থান হিসেবে যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে মিসর দেশ থেকে তোমার বের হয়ে আসার ঋতুতে, সন্ধ্যাবেলা, সূর্যাস্তের সময়ে ঈদুল ফেসাখের কোরবানী করবে।
7 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদের মনোনীত স্থানে তা পাক করে ভোজন করবে; পরে খুব ভোরে নিজের তাঁবুতে ফিরে যাবে।
8 তুমি ছয় দিন খামিহীন রুটি খাবে এবং সপ্তম দিনে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ঈদের সভা হবে; তুমি কোন কাজ করবে না।
9
তুমি সাত সপ্তাহ গণনা করবে; ক্ষেতের শস্যে প্রথম কাস্তে লাগানো থেকে সাত সপ্তাহ গণনা করতে আরম্ভ করবে।
10 পরে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দোয়া অনুযায়ী সঙ্গতি অনুসারে স্বেচ্ছাদত্ত উপহার দ্বারা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে সাত সপ্তাহের উৎসব পালন করবে।
11 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ নিজের নামের বাসস্থান হিসেবে যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তুমি, তোমার পুত্রকন্যা, তোমার গোলাম-বাঁদী, তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী লেবীয় ও তোমার মধ্যে নিবাসী বিদেশী, এতিম ও বিধবা সকলে আনন্দ করবে।
12 আর তুমি স্মরণে রাখবে যে, তুমি মিসর দেশে গোলাম ছিলে এবং এসব বিধি যত্নপূর্বক পালন করবে।
13
তোমার খামার ও আঙ্গুরকুঞ্জ থেকে যা সংগ্রহ করার তা সংগ্রহ করার পর তুমি সাতদিন কুটির উৎসব পালন করবে।
14 আর সেই উৎসবে তুমি, তোমার পুত্রকন্যা, তোমার গোলাম বাঁদী ও তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী লেবীয় ও বিদেশী এবং এতিম ও বিধবা সকলে আনন্দ করবে।
15 মাবুদের মনোনীত স্থানে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে সাতদিন উৎসব পালন করবে; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সমস্ত উৎপন্ন দ্রব্যে ও তোমার হাতের সমস্ত কাজে তোমাকে দোয়া করবেন, আর তুমি সম্পূর্ণভাবে আনন্দিত হবে।
16
তোমার প্রত্যেক পুরুষ বছরের মধ্যে তিনবার তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তাঁর মনোনীত স্থানে দেখা দেবে— খামিহীন রুটির উৎসবে, সাত সপ্তাহের উৎসবে ও কুটিরের উৎসবে; আর তারা মাবুদের সম্মুখে খালি হাতে দেখা দেবে না;
17 প্রত্যেক জন তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া দোয়া অনুসারে নিজ নিজ সঙ্গতি অনুযায়ী উপহার দেবে।
18
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সকল বংশানুসারে তোমাকে যে সমস্ত নগর দেবেন, সেসব নগরের প্রবেশ পথে তুমি তোমার জন্য বিচারকদের ও কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করবে; আর তারা ন্যায্য বিচারে লোকদের বিচার করবে।
19 তুমি অন্যায় বিচার করবে না, কারো মুখাপেক্ষা করবে না ও ঘুষ নেবে না; কেননা ঘুষ জ্ঞানীদের চোখ অন্ধ করে ও ধার্মিকদের কথা বিপরীত করে।
20 সর্বতোভাবে যা ন্যায্য তারই অনুগামী হবে, তাতে তুমি জীবিত থাকবে ও তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া দেশ অধিকার করবে।
21
তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে যে কোরবানগাহ্ তৈরি করবে, তার কাছে কোন রকম কাঠের আশেরা মূর্তি স্থাপন করবে না।
22 কোন স্তম্ভও উত্থাপন করবে না, কেননা তা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ঘৃণাস্পদ।
1
তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে খুঁতযুক্ত, কোন রকম কলঙ্কযুক্ত গরু কিংবা ভেড়া কোরবানী করবে না; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তা ঘৃণা করেন।
2
তোমার মধ্যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যেসব নগর দেবেন, তার কোন নগর-দ্বারের ভিতরে যদি এমন কোন পুরুষ কিংবা স্ত্রীলোক পাওয়া যায়, যে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করেছে;
3 গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা করেছে ও আমার হুকুমের বিরুদ্ধে তাদের কাছে অথবা সূর্যের বা চন্দ্রের কিংবা আকাশ-বাহিনীর কারো কাছে ভূমিতে উবুড় হয়েছে;
4 আর তোমাকে তা বলা হয়েছে ও তুমি শুনেছ, তবে যত্নপূর্বক অনুসন্ধান করবে, আর দেখ, যদি বিষয়টি সত্য ও নিশ্চিত হয় যে, ইসরাইলের মধ্যে এরকম ঘৃণার কাজ হয়েছে,
5 তবে তুমি সেই দুষ্কর্মকারী পুরুষ কিংবা স্ত্রীলোককে বের করে তোমার নগর-দ্বারের সমীপে আনবে; পুরুষ বা স্ত্রীলোক হোক, তুমি পাথর ছুঁড়ে তার প্রাণদণ্ড করবে।
6 প্রাণদণ্ডের যোগ্য ব্যক্তির প্রাণদণ্ড দুই জন সাক্ষী কিংবা তিন জন সাক্ষীর প্রমাণে হবে; একমাত্র সাক্ষীর প্রমাণে তার প্রাণদণ্ড হবে না।
7 তাকে হত্যা করতে প্রথমে সাক্ষীরা, পিছনে সমস্ত লোক তার উপরে হাত উঠাবে। এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
8
রক্তপাত কিংবা বিরোধ কিংবা আঘাতের বিষয়ে দু’জনের ঝগড়া তোমার কোন নগর-দ্বার উপস্থিত হলে যদি তার বিচার তোমার পক্ষে অতি কঠিন হয়, তবে তুমি উঠে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের মনোনীত স্থানে যাবে;
9 আর লেবীয় ইমামদের ও তৎকালীন বিচারকর্তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, তাতে তারা তোমাকে বিচারের রায় জানিয়ে দেবে।
10 পরে মাবুদের মনোনীত সেই স্থানে তারা বিচারের যে রায় তোমাকে জানাবে, তুমি সেই রায়ের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবে; তারা তোমাকে যা নির্দেশ দেবে, সমস্তই যত্নপূর্বক করবে।
11 তারা তোমাকে যে শরীয়ত শিক্ষা দেবে, তার মর্মানুসারে ও তোমাকে বিচারের যে রায় বলবে, সেই অনুসারে তুমি কাজ করবে; তাদের হুকুমের ডানে বা বামে ফিরবে না;
12 কিন্তু যে ব্যক্তি দুঃসাহসপূর্বক আচরণ করে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদের পরিচর্যা করার জন্য সেই স্থানে দণ্ডায়মান ইমামের কিংবা বিচারকর্তার কথার অবাধ্য হয়, সেই মানুষ হত হবে। এভাবে তুমি ইসরাইলের মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
13 তাতে সমস্ত লোক তা শুনে ভয় পাবে এবং দুঃসাহসের কাজ আর করবে না।
14
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, তুমি যখন সেখানে গিয়ে দেশ অধিকারপূর্বক সেখানে বাস করবে; আর বলবে, আমার চারদিকের সকল জাতির মত আমিও আমাদের উপরে এক জন বাদশাহ্ নিযুক্ত করবো,
15 তখন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যাকে মনোনীত করবেন, তাকেই তোমাদের উপরে বাদশাহ্ নিযুক্ত করবে; তোমার ভাইদের মধ্য থেকে তোমাদের উপরে বাদশাহ্ নিযুক্ত করবে; যে তোমার ভাই নয়, এমন বিজাতীয় ব্যক্তিকে তোমাদের উপরে বাদশাহ্ করতে পারবে না।
16 আর সেই বাদশাহ্ তাঁর জন্য অনেক ঘোড়া রাখবে না এবং অনেক ঘোড়ার চেষ্টায় লোকদেরকে পুনর্বার মিসর দেশে গমন করাবে না; কেননা মাবুদ তোমাদেরকে বলেছেন, এর পরে তোমরা সেই পথে আর ফিরে যাবে না।
17 আর সে অনেক স্ত্রী গ্রহণ করবে না, পাছে তার অন্তর বিপথগামী হয়; এবং সে নিজের জন্য রূপা কিংবা সোনা অতিশয় বৃদ্ধি করবে না।
18 আর স্বীয় রাজ্যের সিংহাসনে উপবেশনকালে তার নিজের জন্য একটি কিতাবে লেবীয় ইমামদের সম্মুখস্থিত এই শরীয়তের অনুলিপি লিখে নেবে।
19 তা তার কাছে থাকবে এবং সে সারা জীবন তা পাঠ করবে; যেন সে তার আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করতে ও এই শরীয়তের সমস্ত কালাম ও এসব বিধি পালন করতে শেখে;
20 যেন তার ভাইদের উপরে তার অন্তর উদ্ধত না হয় এবং সে হুকুমের ডানে বা বামে না ফিরে; এভাবে যেন ইসরাইলের মধ্যে তার ও তার সন্তানদের রাজত্ব দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়।
1
লেবীয় ইমামেরা, লেবির সমস্ত বংশ, ইসরাইলের সঙ্গে কোন অংশ বা অধিকার পাবে না। তারা মাবুদের উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার ও মাবুদের উদ্দেশে দেওয়া অনান্য বস্তু ভোগ করবে।
2 তারা তাদের ভাইদের মধ্যে কোন অধিকার পাবে না; মাবুদই তাদের অধিকার, যেমন তিনি তাদেরকে বলেছেন।
3
আর লোকদের থেকে ইমামদের প্রাপ্য বিষয়ের এই বিধি; যারা গরু কিংবা ভেড়া কোরবানী করে, তারা কোরবানীর কাঁধ, দুই চোয়াল ও পাকস্থলী ইমামকে দেবে।
4 তুমি তোমার শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের অগ্রিমাংশ এবং ভেড়ার লোমের অগ্রিমাংশ তাকে দেবে।
5 কেননা মাবুদের নামে পরিচর্যা করতে নিত্য দণ্ডায়মান হবার জন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সকল বংশের মধ্য থেকে তাকে ও তার সন্তানদেরকে মনোনীত করেছেন।
6
আর সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে তোমার কোন নগর-দ্বারে যে লেবীয় প্রবাস করে, সে যদি তার প্রাণের সম্পূর্ণ বাসনায় সেখান থেকে মাবুদের মনোনীত স্থানে আসে,
7 তবে সে মাবুদের সম্মুখে দণ্ডায়মান তার লেবীয় ভাইদের মত তার আল্লাহ্ মাবুদের নামে পরিচর্যা করবে।
8 তারা ভোজনের জন্য সমান অংশ পাবে; তা ছাড়া, সে তার পৈতৃক অধিকার বিক্রয়ের মূল্যও ভোগ করবে।
9
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে উপস্থিত হলে তুমি সেখানকার জাতিদের জঘন্য কাজের মত কাজ করতে শেখাবে না।
10 তোমার মধ্যে যেন এমন কোন লোক পাওয়া না যায়, যে পুত্র বা কন্যাকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করায়,
11 যে মন্ত্র ব্যবহার করে, বা গণক, বা মোহক, বা মায়াবী, বা ঐন্দ্রজালিক, বা ভূতড়িয়া, বা গুনিন বা মৃতদের দৈববাণীর সাধক।
12 কেননা এসব কাজ যারা করে মাবুদ তাদেরকে ঘৃণা করেন; আর সেই জঘন্য কাজের দরুন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে অধিকারচ্যুত করবেন।
13 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে সিদ্ধ হও।
14 কেননা তুমি যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করবে, তারা গণক ও মন্ত্র ব্যবহারকারীদের কথায় কান দেয়, কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে তা করতে দেন নি।
15
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার মধ্য থেকে, তোমার ভাইদের মধ্য থেকে, তোমার জন্য আমার মত এক জন নবী উৎপন্ন করবেন। তাঁর কথা তোমাদের অবশ্যই শুনতে হবে।
16 কেননা হোরেবে সমাজের দিনে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে এই মুনাজাতই তো করেছিলে, যথা, আমি যেন আমার আল্লাহ্ মাবুদের কথা পুনর্বার শুনতে ও এই মহান আগুন আর দেখতে না পাই, পাছে আমার মৃত্যু হয়।
17 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, ওরা ভালই বলেছে।
18 আমি ওদের জন্য ওদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মত এক জন নবী উৎপন্ন করবো ও তাঁর মুখে আমার কালাম দেব; আর আমি তাঁকে যা যা হুকুম করবো, তা তিনি ওদেরকে বলবেন।
19 আর আমার নামে তিনি আমার যেসব কালাম বলবেন, আমার সেই কথা যদি কেউ না শোনে, তবে আমি সেই লোককে দায়ী করবো।
20 কিন্তু আমি যে কালাম বলতে হুকুম করি নি, আমার নামে যে কোন নবী দুঃসাহসপূর্বক তা বলে, কিংবা অন্য দেবতাদের নামে যে কেউ কথা বলে, সেই নবীকে মরতে হবে।
21 আর তুমি যদি মনে মনে বল, মাবুদ যে কালাম বলেন নি, তা আমরা কিভাবে জানবো?
22 তবে শোন, কোন নবী মাবুদের নামে কথা বললে যদি সেই কালাম পরে সিদ্ধ না হয় ও তার ফল উপস্থিত না হয়, তবে সেই কালাম মাবুদ বলেন নি; ঐ নবী দুঃসাহস করে তা বলেছে। তুমি তাকে ভয় করো না।
1
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে জাতিদের দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, তাদেরকে তিনি উৎখাত করার পর তুমি যখন তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে তাদের নগরে ও বাড়িতে বাস করবে,
2 সে সময়, যে দেশ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে তোমাকে দিচ্ছেন, তোমার সেই দেশের মধ্যে তুমি তোমার জন্য তিনটি নগর পৃথক করবে।
3 তুমি দূরত্ব বিবেচনা করে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে দেশের অধিকার তোমাকে দেন, তোমার সেই দেশের ভূমি তিন ভাগ করবে; তাতে প্রত্যেক নরহন্তা সেই নগরে পালিয়ে যেতে পারবে।
4
যে নরহন্তা সেই স্থানে পালিয়ে বাঁচতে পারে, তার বিবরণ এরকম; কেউ যদি আগে প্রতিবেশীকে হিংসা না করে অজ্ঞানতাবশত তাকে হত্যা করে;
5 যথা, কেউ তার প্রতিবেশীর সঙ্গে কাঠ কাটতে বনে গিয়ে গাছ কাটার জন্য কুড়াল তুললে যদি ফলক বাঁট থেকে খসে প্রতিবেশীর শরীরে এমন ভাবে লাগে যে, তাতেই সে মারা পড়ে, তবে সে ঐ তিনটির মধ্যে কোন একটি নগরে পালিয়ে গিয়ে বাঁচতে পারবে;
6 কিন্তু নগরটির দূরত্ব যদি বেশি হয় তবে রক্তের প্রতিশোধদাতা অন্তরে উত্তেজিত হয়ে নরঘাতকের পিছনে তাড়া করে তাকে ধরে সাংঘাতিক আঘাত করতে পারে। সে লোক তো প্রাণদণ্ডের যোগ্য নয়, কারণ সে আগে ওকে হিংসা করে নি।
7 এজন্য আমি তোমাকে হুকুম করছি, তুমি তোমার জন্য তিনটি নগর পৃথক করবে।
8
আর আমি আজ তোমাকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, তুমি তা পালন করে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করলে ও সারা জীবন তাঁর পথে চললে যদি তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে কৃত তাঁর কসম অনুসারে তোমার সীমা বৃদ্ধি করেন ও তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে ওয়াদা করা সমস্ত দেশ তোমাকে দেন;
9 তবে তুমি সেই তিনটি নগর ছাড়া আরও তিনটি নগর নির্ধারণ করবে;
10 যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, তোমার সেই দেশের মধ্যে নির্দোষের রক্তপাত না হয়, আর তোমার উপরে রক্তপাতের অপরাধ না বর্তায়।
11
কিন্তু যদি কেউ তার প্রতিবেশীকে হিংসা করে তার জন্য ঘাঁটি বসায় ও তার প্রতিকূলে উঠে তাকে সাংঘাতিক আঘাত করে, আর তাতে তার মৃত্যু হয়, পরে ঐ ব্যক্তি যদি ঐ সমস্ত নগরের মধ্যে কোন একটি নগরে পালিয়ে যায়;
12 তবে তার নিবাস-নগরের বয়োজ্যেষ্ঠ লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে তাকে আনাবে ও তাকে হত্যা করার জন্য রক্তের প্রতিশোধদাতার হাতে তুলে দেবে।
13 তোমার চোখ তার প্রতি রহম না করুক, কিন্তু তুমি ইসরাইলের মধ্য থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে; তাতে তোমার মঙ্গল হবে।
14
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে যে দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, সেই দেশে তোমার প্রাপ্য ভূমিতে আগেকার দিনের লোকেরা যে সীমার চিহ্ন নির্ধারণ করেছে, তোমার প্রতিবেশীর সেই চিহ্ন স্থানান্তর করবে না।
15
যদি কারও বিরুদ্ধে কোন রকম অপরাধ বা গুনাহ্ করার নালিশ আনা হয় তার বিরুদ্ধে একমাত্র সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে চলবে না; দুই কিংবা তিন সাক্ষীর প্রমাণ দ্বারা বিচার নিষ্পন্ন হবে।
16
কোন অসৎ সাক্ষী যদি কারো বিরুদ্ধে উঠে তার বিষয়ে অন্যায় কাজের সাক্ষ্য দেয়,
17 তবে সেই বাদী প্রতিবাদী উভয়ে মাবুদের সম্মুখে, তৎকালীন ইমাম ও বিচারকর্তাদের সম্মুখে দাঁড়াবে।
18 পরে বিচারকর্তারা সযত্নে অনুসন্ধান করবে, আর দেখ, সে সাক্ষী যদি মিথ্যাসাক্ষী হয় ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাসাক্ষ্য দিয়ে থাকে;
19 তবে সে তার ভাইয়ের প্রতি যেরকম করতে কল্পনা করেছিল, তার প্রতি তোমরা তা-ই করবে; এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
20 তা শুনে অবশিষ্ট লোকেরা ভয় পেয়ে তোমার মধ্যে এই রকম দুষ্কর্ম আর করবে না।
21 তোমরা তার প্রতি কোন রহম করবে না; মনে রেখো, প্রাণের পরিশোধ প্রাণ, চোখের পরিশোধ চোখ, দাঁতের পরিশোধ দাঁত, হাতের পরিশোধ হাত, পায়ের পরিশোধ পা।
1
তুমি তোমার দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যদি তোমার চেয়ে বেশি ঘোড়া, রথ ও লোক দেখ, তবে সেসব থেকে ভয় পেয়ো না, কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাকে উঠিয়ে এনেছেন, তিনিই তোমার সহবর্তী।
2 আর তোমরা যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে যাওয়ার ইমাম এসে লোকদের কাছে কথা বলবে,
3 তাদেরকে বলবে, হে ইসরাইল, শোন, তোমরা আজ তোমাদের দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে কাছে যাচ্ছ; তোমাদের অন্তর দুর্বল না হোক; ভয় করো না, ভয়ে কেঁপো না, বা ওদের থেকে মহাভয়ে ভীত হয়ো না।
4 কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদই তোমাদের নিস্তার করার জন্য তোমাদের পক্ষে তোমাদের দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছেন।
5 পরে কর্মকর্তারা লোকদেরকে এই কথা বলবে, তোমাদের মধ্যে কে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে তার প্রতিষ্ঠা করে নি? সে যুদ্ধে মারা পড়লে পাছে অন্য লোক তার প্রতিষ্ঠা করে, এজন্য সে নিজের বাড়িতে ফিরে যাক।
6 আর কে আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করে তার প্রথম ফল ভোগ করে নি? সে যুদ্ধে মারা পড়লে পাছে অন্য লোক তার প্রথম ফল ভোগ করে, এজন্য সে তার বাড়িতে ফিরে যাক।
7 আর বাগ্দান হলেও কে বিয়ে করে নি? সে যুদ্ধে মারা পড়লে পাছে অন্য লোক সেই কন্যাকে গ্রহণ করে, এজন্য সে তার বাড়িতে ফিরে যাক।
8 কর্মকর্তারা লোকদের কাছে আরও কথা বলবে, তারা বলবে, ভীত ও দুর্বল অন্তরের লোক কে আছে? সে তার বাড়িতে ফিরে যাক, পাছে তার অন্তরের মত তার ভাইদের অন্তর গলে যায়।
9 পরে কর্মকর্তারা লোকদের কাছে কথা বলা শেষ করার পর তারা লোকদের উপরে সেনাপতিদেরকে নিযুক্ত করবে।
10
যখন তুমি কোন নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তার কাছে উপস্থিত হবে, তখন তার কাছে সন্ধির কথা ঘোষণা করবে।
11 তাতে যদি সে সন্ধি করতে সম্মত হয়ে তোমার জন্য দ্বার খুলে দেয়, তবে সেই নগরে যে সমস্ত লোক পাওয়া যায়, তারা তোমাকে কর দেবে ও তোমার গোলাম হবে।
12 কিন্তু যদি সে সন্ধি না করে তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তবে তুমি সেই নগর অবরোধ করবে।
13 পরে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তা তোমার হস্তগত করলে তুমি তার সমস্ত পুরুষকে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করবে,
14 কিন্তু স্ত্রীলোক, বালক-বালিকা ও সমস্ত পশু প্রভৃতি নগরের সর্বস্ব, সমস্ত লুণ্ঠিত দ্রব্য তোমার জন্য লুট হিসেবে গ্রহণ করবে, আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া দুশমনদের থেকে লুট করে আনা জিনিস ভোগ করবে।
15 এই নিকটবর্তী জাতিদের নগর ছাড়া যেসব নগর তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে আছে, তাদেরই প্রতি এরকম করবে।
16 কিন্তু এই সমস্ত জাতির যেসব নগর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে তোমাকে দেবেন, সেগুলোর মধ্যে শ্বাস-বিশিষ্ট কাউকেও জীবিত রাখবে না;
17 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে তাদের— হিট্টিয়, আমোরীয়, কেনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দেরকে— নিঃশেষে বিনষ্ট করবে;
18 পাছে তারা নিজ নিজ দেবতাদের উদ্দেশে যেসব ঘৃণার কাজ করে, তেমনি করতে তোমাদেরকেও শেখায়, আর পাছে তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ কর।
19
যখন তুমি কোন নগর হস্তগত করার জন্য যুদ্ধ করে বহুকাল পর্যন্ত তা অবরোধ কর, তখন কুড়াল দিয়ে সেখানকার কোন গাছ কাটবে না; তুমি তার ফল খেতে পার, কিন্তু তা কাটবে না; কেননা ক্ষেতের গাছ তো মানুষ নয় যে, তাও তোমার অবরোধের যোগ্য হবে?
20 কিন্তু যে যে গাছ থেকে খাদ্য জন্মে না বলে তোমার জানা আছে, সে সব তুমি নষ্ট করতে ও কাটতে পারবে; এবং তোমার সঙ্গে যুদ্ধকারী নগরের যতক্ষণ পতন না হয়, ততক্ষণ সেই নগরের বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধতে পারবে।
1
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে যে দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, তার মধ্যে যদি ক্ষেতে পড়ে থাকা কোন নিহত লোককে পাওয়া যায় এবং তাকে কে খুন করলো তা জানা না যায়;
2 তবে তোমার প্রাচীনবর্গরা ও বিচারকেরা বাইরে গিয়ে সেই লাশের চারদিকে কোন নগর কত দূর তা মেপে দেখবে।
3 তাতে যে নগর ঐ নিহত লোকের নিকটস্থ হবে, সেখানকার প্রাচীনবর্গরা পাল থেকে এমন একটি বক্না বাছুর নেবে যা দ্বারা কোন কাজ হয় নি, যেটি এখনও জোয়াল বহন করে নি।
4 পরে সেই নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গ সেই বক্না বাছুরকে এমন কোন একটি উপত্যকায় আনবে যেখানে সবসময় পানির স্রোত বয়ে যায় এবং চাষ করা বা বীজবপন হয় না, সেই উপত্যকায় তার ঘাড় ভেঙ্গে ফেলবে।
5 পরে লেবির সন্তান ইমামেরা কাছে আসবে, কেননা তাদেরকেই তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর পরিচর্যা করার ও মাবুদের নামে দোয়া করার জন্য মনোনীত করেছেন; এবং তাদের কথা অনুসারে প্রত্যেক ঝগড়া ও আঘাতের বিচার হবে।
6 পরে লাশের নিকটস্থ ঐ নগরের সমস্ত প্রাচীন উপত্যকাতে ঘাড় ভাঙ্গা গরুর বাছুরটির উপরে নিজ নিজ হাত ধুয়ে দেবে,
7 আর তারা উত্তরে বলবে, আমাদের হাত এই রক্তপাত করে নি, আমাদের চোখ এই বিষয়টি দেখে নি;
8 হে মাবুদ, তুমি তোমার লোক যে ইসরাইলকে মুক্ত করেছ, তাকে মাফ কর; তোমার লোক ইসরাইলের মধ্যে নিরপরাধের রক্তপাতের জন্য দোষ থাকতে দিও না। তাতে তাদের পক্ষে সেই রক্তপাতের দোষ মাফ করা হবে।
9 এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে; কেননা মাবুদের সাক্ষাতে যা যথার্থ, তা-ই তুমি করবে।
10
তুমি তোমার দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করলে যদি তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাদেরকে তোমার হাতে তুলে দেন ও তুমি তাদেরকে বন্দী করে নিয়ে যাও;
11 এবং সেই বন্দীদের মধ্যে কোন সুন্দরী নারী দেখে প্রেমাসক্ত হয়ে যদি তুমি তাকে বিয়ে করতে চাও;
12 তবে তাকে তোমার বাড়ির মধ্যে আনবে এবং সে তার মাথা মুণ্ডন করবে ও নখ কাটবে;
13 আর তার বন্দীত্ব দশার কাপড় ত্যাগ করবে; পরে তোমার বাড়িতে থেকে তার পিতা-মাতার জন্য সম্পূর্ণ এক মাস শোক করবে; তারপর তুমি তার কাছে গমন করতে পারবে, তুমি তার স্বামী হবে ও সে তোমার স্ত্রী হবে।
14 আর যদি তাতে তোমার প্রীতি না হয়, তবে যে স্থানে তার ইচ্ছা, সেই স্থানে তাকে যেতে দেবে; কিন্তু কোনভাবে টাকা নিয়ে তাকে বিক্রি করবে না; তার প্রতি গোলামের মত ব্যবহার করবে না, কেননা তোমার দ্বারা তার সম্মান ভ্রষ্ট হয়েছে।
15
যদি কোন পুরুষের প্রিয়া ও অপ্রিয়া দুই জন স্ত্রী থাকে এবং প্রিয়া ও অপ্রিয়া উভয়ে তার জন্য পুত্র প্রসব করে, আর জ্যেষ্ঠ পুত্র অপ্রিয়ার সন্তান হয়;
16 তবে আপন পুত্রদেরকে সর্বস্বের অধিকার দেবার সময়ে অপ্রিয়াজাত জ্যেষ্ঠ পুত্র থাকতে সে প্রিয়াজাত পুত্রকে জ্যেষ্ঠাধিকার দিতে পারবে না।
17 কিন্তু সে অপ্রিয়ার পুত্রকে জ্যেষ্ঠরূপে স্বীকার করে তোমার সর্বস্বের দুই অংশ তাকে দেবে; কারণ সে তার শক্তির প্রথম ফল, জ্যেষ্ঠাধিকার তারই।
18
যদি কারো পুত্র অবাধ্য ও বিরোধী হয়, পিতা-মাতার কথা না শোনে এবং শাসন করলেও তাদেরকে অমান্য করে;
19 তবে তার পিতা-মাতা তাকে ধরে নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গের কাছে ও তার নিবাস-স্থানের নগর-দ্বারে নিয়ে যাবে;
20 আর তারা নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গকে বলবে, আমাদের এই পুত্র অবাধ্য ও বিরোধী, আমাদের কথা মানে না, সে অপব্যয়ী ও মদ্যপায়ী।
21 তাতে সেই নগরের সমস্ত পুরুষ তাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে; এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে, আর সমস্ত ইসরাইল এই কথা শুনে ভয় পাবে।
22
যদি কোন মানুষ প্রাণদণ্ডের যোগ্য গুনাহ্ করে, আর তার প্রাণদণ্ড হয় এবং তুমি তাকে গাছে টাঙ্গিয়ে দাও,
23 তবে তার লাশ রাত বেলায় গাছের উপরে থাকতে দেবে না, কিন্তু নিশ্চয় সেদিনই তাকে দাফন করবে; কেননা যে ব্যক্তিকে টাঙ্গান হয়, সে আল্লাহ্র বদদোয়াগ্রস্ত; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে যে ভূমি তোমাকে দিচ্ছেন, তুমি তোমার সেই ভূমি নাপাক করবে না।
1
তোমার কোন ভাইয়ের বলদ কিংবা ভেড়াকে পথহারা হতে দেখলে তুমি তোমার কর্তব্য থেকে সরে যেও না; অবশ্য তোমার ভাইয়ের কাছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবে।
2 যদি তোমার সেই ভাই তোমার নিকটস্থ কিংবা পরিচিত না হয়, তবে তুমি সেই পশুকে তোমার বাড়িতে এনে যতক্ষণ সেই ভাই তার খোঁজ না করে, ততক্ষণ তোমার কাছে রাখবে, পরে তা ফিরিয়ে দেবে।
3 তুমি তার গাধার সম্বন্ধেও সেরকম করবে এবং তার কাপড়ের সম্বন্ধেও সেরকম করবে, তোমার ভাইয়ের হারানো যে কোন দ্রব্য তুমি পাও, সেই সবের বিষয়ে সেরকম করবে; তোমার কর্তব্য থেকে সরে যাওয়া তোমার জন্য ঠিক নয়।
4
তোমার ভাইয়ের গাধা কিংবা বলদকে পথে পড়ে থাকতে দেখলে তুমি তোমার কর্তব্য থেকে সরে যেও না; অবশ্য তুমি তাদেরকে তুলতে সাহায্য করবে।
5
স্ত্রীলোক পুরুষের কাপড়, কিংবা পুরুষ স্ত্রীলোকের কাপড় পরবে না; কেননা যে কেউ তা করে, সে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ঘৃণার পাত্র।
6
পথের পাশের কোন গাছে কিংবা ভূমির উপরে তোমার সম্মুখে যদি কোন পাখির বাসাতে বাচ্চা কিংবা ডিম থাকে এবং সেই বাচ্চার কিংবা ডিমের উপরে মা-পাখি বসে থাকে তবে তুমি বাচ্চাগুলোর সঙ্গে মা-পাখিকে ধরবে না।
7 তুমি নিজের জন্য বাচ্চাগুলোকে নিতে পার, কিন্তু নিশ্চয় মা-পাখিকে ছেড়ে দেবে; যেন তোমার মঙ্গল ও দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
8
নতুন বাড়ি প্রস্তুত করলে তার ছাদে আলিসিয়া নির্মাণ করবে, পাছে তার উপর থেকে কোন মানুষ পড়লে তুমি তোমার বাড়িতে রক্তপাতের অপরাধ বর্তাও।
9
তোমার আঙ্গুর-ক্ষেতে দুই জাতের বীজ বপন করবে না; পাছে সমস্ত ফলে— তোমার লাগানো বীজে ও আঙ্গুর-ক্ষেতের ফলে— তুমি স্বত্বহীন হও।
10
বলদ ও গাধা একত্র জুড়ে চাষ করবে না।
11 লোম ও মসীনা-মিশানো সুতায় তৈরি কাপড় পরো না।
12
তোমার আবরণের জন্য পরিধেয় কাপড়ের চার কোণে ঝালর দিও।
13
কোন পুরুষ যদি বিয়ে করে স্ত্রীর কাছে গমন করে, পরে তাকে ঘৃণা করে,
14 এবং তার নামে অপবাদ দেয় ও তার দুর্নাম করে বলে, আমি এই স্ত্রীকে বিয়ে করেছি বটে, কিন্তু মিলন-কালে এর সতীত্বের চিহ্ন পেলাম না;
15 তবে সেই কন্যার পিতা-মাতা তার সতীত্বের চিহ্ন নিয়ে নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গের কাছে নগর-দ্বারে উপস্থিত করবে।
16 আর কন্যার পিতা তাদের বলবে, আমি এই ব্যক্তির সঙ্গে আমার কন্যার বিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তাকে ঘৃণা করে;
17 আর দেখ, এই অপবাদ দিয়ে বলে, আমি তোমার কন্যার সতীত্বের চিহ্ন পাই নি; কিন্তু এই দেখুন আমার কন্যার সতীত্বের চিহ্ন। আর তারা নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতে সেই ব্যবহার করা কাপড় মেলে ধরবে।
18 পরে নগরের প্রাচীনবর্গরা সেই পুরুষকে ধরে শাস্তি দেবে।
19 আর তার এক শত (শেকল) রূপা দণ্ড হিসাবে কন্যার পিতাকে দেবে, কেননা সেই ব্যক্তি ইসরাইলীয় এক জন সতী নারীর উপরে দুর্নাম এনেছে; আর সে তার স্ত্রী হবে, ঐ পুরুষ তার সারা জীবনে তাকে তালাক দিতে পারবে না।
20
কিন্তু সেই কথা যদি সত্য হয়, কন্যার সতীত্বের চিহ্ন যদি না পাওয়া যায়;
21 তবে তারা সেই কন্যাকে বের করে তার পিতার বাড়ির দরজার কাছে আনবে এবং সেই কন্যার নগরের পুরুষেরা পাথর ছুঁড়ে তাকে হত্যা করবে; কেননা পিতার বাড়িতে জেনা করাতে সে ইসরাইলের মধ্যে মূঢ়তার কাজ করেছে; এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
22
কোন পুরুষ যদি পরস্ত্রীর সঙ্গে শয়ন-কালে ধরা পড়ে, তবে পরস্ত্রীর সঙ্গে শয়নকারী সেই পুরুষ ও সেই স্ত্রী উভয়ে হত হবে; এভাবে তুমি ইসরাইলের মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
23
যদি কেউ পুরুষের প্রতি বাগ্দত্তা কোন কুমারীকে নগরের মধ্যে পেয়ে তার সঙ্গে শয়ন করে;
24 তবে তোমরা সেই দু’জনকে বের করে নগর-দ্বারের কাছে এনে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে; সেই কন্যাকে হত্যা করবে, কেননা নগরের মধ্যে থাকলেও সে চিৎকার করে নি এবং সেই পুরুষকে হত্যা করবে, কেননা সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে তার সম্মান ভ্রষ্ট করেছে; এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
25
কিন্তু যদি কোন পুরুষ বাগ্দত্তা কন্যাকে মাঠে পেয়ে বলপূর্বক তার সঙ্গে শয়ন করে, তবে তার সঙ্গে শয়নকারী সেই পুরুষমাত্র হত হবে;
26 কিন্তু কন্যার প্রতি তুমি কিছুই করবে না; সে কন্যা প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোন গুনাহ্ করে নি; ফলত যেমন কোন মানুষ তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উঠে তাকে প্রাণে খুন করে, এও সেরকম।
27 কেননা সেই পুরুষ মাঠে তাকে পেয়েছিল; ঐ বাগ্দত্তা কন্যা চিৎকার করলেও তার উদ্ধারকর্তা কেউ ছিল না।
28
যদি কেউ বাগ্দত্তা নয় এমন কোনও কুমারী কন্যাকে পেয়ে তাকে ধরে তার সঙ্গে শয়ন করে,
29 ও তারা ধরা পড়ে, তবে তার সঙ্গে শয়নকারী সেই পুরুষ কন্যার পিতাকে পঞ্চাশ (শেকল) রূপা দেবে এবং তাকে তার সম্মান ভ্রষ্ট করেছে বলে সে তার স্ত্রী হবে; সেই পুরুষ তাকে সারা জীবনে তালাক দিতে পারবে না।
30
কোন পুরুষ তার পিতার স্ত্রীকে গ্রহণ করবে না ও তার পিতার আবরণীয় অনাবৃত করবে না।
1
যার অণ্ডকোষ থেঁৎলে গেছে কিংবা পুরুষাংগ কেটে ফেলা হয়েছে এমন কোন ব্যক্তি মাবুদের সমাজে প্রবেশ করবে না।
2
জারজ ব্যক্তি মাবুদের সমাজে প্রবেশ করবে না; তার দশম পুরুষ পর্যন্তও মাবুদের সমাজে প্রবেশ করতে পারবে না।
3
অম্মোনীয় কিংবা মোয়াবীয় কেউ মাবুদের সমাজে প্রবেশ করতে পারবে না; দশম পুরুষ পর্যন্ত তাদের কেউ মাবুদের সমাজে কখনও প্রবেশ করতে পারবে না।
4 কেননা মিসর থেকে তোমাদের আসার সময়ে তারা পথে খাদ্য ও পানি নিয়ে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নি; আবার তোমাকে বদদোয়া দেবার জন্য তোমার বিরুদ্ধে অরাম-নহরয়িম দেশের পথোর-নিবাসী বিয়োরের পুত্র বালামকে ঘুষ দিয়েছিল।
5 তবুও তোমার আল্লাহ্ মাবুদ বালামের কথা শুনতে সম্মত হন নি; বরং তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার পক্ষে সেই বদদোয়া দোয়ায় পরিণত করলেন; কারণ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে মহব্বত করেন।
6 তুমি সারা জীবন কখনও তাদের শান্তি কিম্বা মঙ্গলের চেষ্টা করবে না।
7
তুমি ইদোমীয়কে ঘৃণা করবে না, কেননা সে তোমার ভাই; মিসরীয়কে ঘৃণা করবে না, কেননা তুমি তার দেশে প্রবাসী ছিলে।
8 তাদের থেকে যে সন্তানেরা উৎপন্ন হবে, তারা তৃতীয় পুরুষে মাবুদের সমাজে প্রবেশ করতে পারবে।
9
তোমার দুশমনদের বিরুদ্ধে শিবিরে যাত্রাকালে যাবতীয় মন্দ বিষয়ে সাবধান থাকবে।
10
তোমার মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি বীর্যপাতজনিত কোন নাপাকীতায় নাপাক হয়, তবে সে শিবির থেকে বাইরে যাবে, শিবিরের মধ্যে প্রবেশ করবে না।
11 পরে বেলা অবসান হলে সে গোসল করবে ও সূর্যের অস্তগমন সময়ে শিবিরের মধ্যে প্রবেশ করবে।
12
তুমি শিবিরের বাইরে একটি স্থান নির্ধারণ করে মলত্যাগের স্থান বলে সেই স্থানে যাবে;
13 আর তোমার অস্ত্র-শস্ত্রের মধ্যে একখানি খুন্তি থাকবে; মলত্যাগের স্থানে যাবার সময়ে তুমি তা দ্বারা গর্ত করে তোমার থেকে বের হওয়া মল ঢেকে ফেলবে।
14 কেননা তোমাকে রক্ষা করতে ও তোমার দুশমনদেরকে তোমার হাতে তুল দিতে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার শিবিরের মধ্যে গমনাগমন করেন; অতএব তোমার শিবির পবিত্র হোক; পাছে তোমার মধ্যে কোন নাপাক বিষয় দেখে তিনি তোমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
15
যে গোলাম তার মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে তোমার কাছে আসে, তুমি তাকে সেই মালিকের হাতে তুলে দেবে না।
16 সে তোমার কোন এক নগর-দ্বারের ভিতরে, যেখানে তার ভাল লাগে, সেই মনোনীত স্থানে তোমার সঙ্গে তোমার মধ্যে বাস করবে; তুমি তার উপরে জুলুম করবে না।
17
বনি-ইসরাইলের কোন কন্যা যেন পতিতা না হয়, আর বনি-ইসরাইলের কোন পুরুষ যেন পুংগামী না হয়।
18 কোন মানতের জন্য পতিতার বেতন কিংবা কুকুরের মূল্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গৃহে আনবে না, কেননা সে উভয়ই তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ঘৃণার বস্তু।
19
তুমি সুদের জন্য, রূপার সুদ, খাদ্য সামগ্রীর সুদ, কোন দ্রব্যের সুদ পাবার জন্য, তোমার ভাইকে ঋণ দেবে না।
20 সুদের জন্য বিদেশীকে ঋণ দিতে পার, কিন্তু সুদের জন্য তোমার ভাইকে ঋণ দেবে না, যেন তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে তোমার সমস্ত কাজে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে দোয়া করেন।
21
তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কিছু মানত করলে তা দিতে বিলম্ব করো না; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অবশ্য তা তোমা থেকে আদায় করবেন; না দিলে তোমার গুনাহ্ হবে।
22 কিন্তু যদি মানত না কর, তবে তাতে তোমার গুনাহ্ হবে না।
23 তোমার মুখ থেকে বের হওয়া কথা সযত্নে পালন করবে; তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে তোমার মুখ থেকে যেমন স্বেচ্ছাদত্ত মানতের কথা বের হয়, সেই অনুসারে করবে।
24
প্রতিবেশীর আঙ্গুর-ক্ষেতে গেলে তুমি তোমার ইচ্ছানুসারে তৃপ্তি পর্যন্ত আঙ্গুর ফল ভোজন করতে পারবে, কিন্তু পাত্রে করে কিছু নেবে না।
25
প্রতিবেশীর শস্য ক্ষেতে গেলে তুমি তোমার হাতে শীষ ছিঁড়তে পারবে, কিন্তু তোমার প্রতিবেশীর শস্য ক্ষেতে কাস্তে লাগাবে না।
1
কোন পুরুষ কোন স্ত্রীকে গ্রহণ করে বিয়ে করার পর যদি তাতে কোন রকম অনুপযুক্ত ব্যবহার দেখতে পায়, আর সেজন্য সেই স্ত্রী তার দৃষ্টিতে প্রীতির পাত্র না হয়, তবে সেই পুরুষ তার জন্য একটি তালাক-নামা লিখে তার হাতে দিয়ে তার বাড়ি থেকে তাকে বিদায় করতে পারবে।
2 আর সেই স্ত্রী তার বাড়ি থেকে বের হবার পর গিয়ে অন্য পুরুষের স্ত্রী হতে পারে।
3 আর ঐ দ্বিতীয় স্বামীও যদি তাকে ঘৃণা করে এবং তার জন্য তালাক-নামা লিখে তার হাতে দিয়ে তার বাড়ি থেকে তাকে বিদায় করে, কিংবা ঐ দ্বিতীয় স্বামী যদি মারা যায়;
4 তবে যে প্রথম স্বামী তাকে তালাক দিয়েছিল, তার পক্ষে সেই স্ত্রী নাপাক হবার ফলে সে তাকে পুনর্বার বিয়ে করতে পারবে না; কেননা তা মাবুদের সাক্ষাতে ঘৃণার কাজ; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে যে দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, তুমি তার উপর গুনাহ্ ডেকে আনবে না।
5
কোন ব্যক্তি নতুন বিয়ে করলে সৈন্যদলে গমন করবে না এবং তাকে কোন কাজের ভার দেওয়া যাবে না; সে এক বছর পর্যন্ত তার বাড়িতে নিষ্কর্মা থেকে যে স্ত্রীকে সে গ্রহণ করেছে তাকে নিয়ে সুখ উপভোগ করবে।
6
কেউ কারো যাঁতা কিংবা তার উপরের পাট বন্ধক রাখবে না; তা করলে প্রাণ বন্ধক রাখা হয়।
7
কোন মানুষ যদি তার ভাই বনি-ইসরাইলদের মধ্যে কোন লোককে চুরি করে এবং তার প্রতি গোলামের মত ব্যবহার করে, বা বিক্রি করে এবং ধরা পড়ে, তবে সেই চোরকে মেরে ফেলতে হবে; এভাবে তুমি তোমার মধ্য থেকে দুষ্টাচার লোপ করবে।
8
তুমি কুষ্ঠরোগের ঘায়ের বিষয়ে সাবধান হয়ে, লেবীয় ইমামেরা যেসব উপদেশ দেবে, অতিশয় যত্নপূর্বক সেই অনুসারে কাজ করো; আমি তাদেরকে যে যে হুকুম দিয়েছি তা পালন করতে যত্ন করবে।
9 মিসর থেকে তোমাদের বের হয়ে আসার সময়ে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ পথে মরিয়মের প্রতি যা করেছিলেন তা স্মরণে রাখবে।
10
তোমার প্রতিবেশীকে কোন কিছু ঋণ দিলে তুমি বন্ধকী দ্রব্য নেবার জন্য তার বাড়িতে প্রবেশ করবে না।
11 তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং ঋণী ব্যক্তি বন্ধকী দ্রব্য বের করে তোমার কাছে আনবে।
12 আর সে যদি দরিদ্র হয়, তবে তুমি তার বন্ধকী দ্রব্য রেখে ঘুমাতে যাবে না।
13 সূর্যাস্তকালে তার বন্ধকী দ্রব্য তাকে অবশ্য ফিরিয়ে দেবে; তাতে সে তার কাপড়ে শয়ন করে তোমাকে দোয়া করবে; আর তা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সাক্ষাতে তোমার ধার্মিকতার কাজ হবে।
14
তোমার ভাই হোক, কিংবা তোমার দেশের নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী বিদেশী হোক, দীনদুঃখী বেতনজীবীর প্রতি জুলুম করবে না।
15 কাজের দিনে তার বেতন তাকে দেবে; সূর্যের অস্তগমন পর্যন্ত তা রাখবে না; কেননা সে দরিদ্র এবং সেই বেতনের উপরে তার মন পড়ে থাকে; পাছে সে তোমার বিরুদ্ধে মাবুদকে ডাকে, আর এই বিষয়ে তোমার গুনাহ্ হয়।
16
সন্তানের জন্য পিতার, কিংবা পিতার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড করা যাবে না; প্রত্যেক জন নিজ নিজ গুনাহ্র জন্যই প্রাণদণ্ড ভোগ করবে।
17
বিদেশী কিংবা এতিমের বিচারে অন্যায় করবে না এবং বিধবার কাপড় বন্ধক নেবে না।
18 স্মরণে রাখবে, তুমি মিসর দেশে গোলাম ছিলে, কিন্তু তোমার আল্লাহ্ মাবুদ সেখান থেকে তোমাকে মুক্ত করেছেন, এজন্য আমি তোমাকে এই কাজ করার হুকুম দিচ্ছি।
19
তুমি ক্ষেতে তোমার শস্য কাটবার সময়ে যদি একটি আটি ক্ষেতে ফেলে রেখে এসে থাক, তবে তা নিয়ে আসতে ফিরে যেও না; তা বিদেশীর, এতিমের ও বিধবার জন্য থাকবে; যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সমস্ত কাজে তোমাকে দোয়া করেন।
20 যখন তোমার জলপাই গাছের ফল পাড়, তখন ডালে যা অবশিষ্ট থাকে তা আবার পাড়তে যেও না; তা বিদেশী, এতিম ও বিধবার জন্য থাকবে।
21
যখন তোমার আঙ্গুর-ক্ষেতের আঙ্গুর ফল চয়ন কর, তখন চয়নের পরে আবার কুড়াবে না; তা বিদেশী, এতিম ও বিধবার জন্য থাকবে।
22 স্মরণে রাখবে, তুমি মিসর দেশে গোলাম ছিলে, এজন্য আমি তোমাকে এই কাজ করার হুকুম দিচ্ছি।
1
মানুষের মধ্যে ঝগড়া উপস্থিত হলে ওরা যদি বিচারকদের কাছে যায়, আর তারা বিচার করে, তবে নির্দোষকে নির্দোষ ও দোষীকে দোষী করবে।
2 আর যদি দুষ্টলোক প্রহারের যোগ্য হয়, তবে বিচারক তাকে শয়ন করিয়ে তার অপরাধানুসারে আঘাতের সংখ্যা নিশ্চয় করে তোমার সাক্ষাতে তাকে প্রহার করাবে।
3 সে চল্লিশ আঘাত করতে পারে, তার বেশি নয়; পাছে সে বেশি আঘাত দ্বারা ভারী প্রহার করালে তোমার ভাই তোমার সাক্ষাতে তুচ্ছনীয় হয়।
4
শস্য মাড়াই করার সময়ে বলদের মুখে জালতি বাঁধবে না।
5
যদি ভাইয়েরা একত্র হয়ে বাস করে এবং তাদের মধ্যে এক জন অপুত্রক হয়ে মারা যায়, তবে সেই মৃত ব্যক্তির স্ত্রী বাইরের অন্য গোষ্ঠীভুক্ত পুরুষকে বিয়ে করবে না; তার দেবর তার কাছে যাবে, তাকে বিয়ে করবে এবং তার প্রতি দেবরের কর্তব্য সাধন করবে।
6 পরে সেই স্ত্রী প্রথম যে পুত্র প্রসব করবে, সে ঐ মৃত ভাইয়ের নামে উত্তরাধিকারী হবে; তাতে ইসরাইল থেকে তার নাম মুছে যাবে না।
7 আর সেই পুরুষ যদি তার ভাইয়ের স্ত্রীকে গ্রহণ করতে সম্মত না হয়, তবে সেই ভাইয়ের স্ত্রী নগর-দ্বারে প্রধান ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়ে বলবে, আমার দেবর ইসরাইলের মধ্যে আপন ভাইয়ের নাম রক্ষা করতে অসম্মত, সে আমার প্রতি দেবরের কর্তব্য পালন করতে চায় না।
8 তখন তার নগরের প্রাচীনবর্গরা তাকে ডেকে তার সঙ্গে কথা বলবে; যদি সে দাঁড়িয়ে বলে, ওকে গ্রহণ করতে আমার ইচ্ছা নেই;
9 তবে তার ভাইয়ের স্ত্রী প্রধান বক্তিবর্গের সাক্ষাতে তার কাছে এসে তার পা থেকে জুতা খুলবে এবং তার মুখে থুথু দেবে, আর উত্তমরূপে এই কথা বলবে, যে কেউ নিজের ভাইয়ের কুল রক্ষা না করে, তার প্রতি এরকম করা যাবে।
10 আর ইসরাইলের মধ্যে তার নাম হবে, ‘মুক্ত পাদুকার কুল’।
11
পুরুষেরা পরস্পর বিরোধ করলে তাদের একজনের স্ত্রী যদি প্রহারকের হাত থেকে তার স্বামীকে মুক্ত করতে এসে হাত বাড়িয়ে প্রহারকের পুরুষাঙ্গ ধরে,
12 তবে তুমি তার হাত কেটে ফেলবে, চক্ষুলজ্জা করবে না।
13
তোমার থলিতে ছোট বড় দু’রকম বাট্খারা রাখবে না।
14 তোমার বাড়িতে ছোট বড় দু’রকম মাপের পাত্র থাকবে না।
15 তুমি যথার্থ ও ন্যায্য বাট্খারা রাখবে, যথার্থ ও ন্যায্য মাপের পাত্র রাখবে; যেন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
16 কারণ যে কেউ ঐ রকম কাজ করে, যে কেউ অন্যায় করে, সে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ঘৃণিত।
17
স্মরণে রেখো, মিসর থেকে তোমরা যখন বের হয়ে এসেছিলে, তখন পথে তোমার প্রতি আমালেক কি করলো;
18 তোমরা যখন শ্রান্ত ও ক্লান্ত ছিলে তখন সে কিভাবে তোমার সঙ্গে পথে মিলে তোমার পিছনের দুর্বল লোকদেরকে আক্রমণ করলো; আর সে আল্লাহ্কে ভয় করলো না।
19 অতএব তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে দেশ স্বত্বাধিকারের জন্য তোমাকে দিচ্ছেন, সেই দেশে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ চারদিকের সকল দুশমন থেকে তোমাকে বিশ্রাম দেবার পর তুমি আসমানের নিচ থেকে আমালেকের স্মৃতি লোপ করবে; এই কথা তোমরা ভুলে যেও না।
1
তোমার আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে যে দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, তুমি যখন সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করবে ও সেখানে বাস করবে;
2 সেই সময়ে তুমি ভূমির যাবতীয় ফল, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যে দেশ তোমাকে দিচ্ছেন, সেই দেশে উৎপন্ন ফলের অগ্রিমাংশ থেকে কিছু কিছু নিয়ে টুক্রীতে করে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর নামের বাসস্থান হিসেবে যে স্থান মনোনীত করবেন, সেই স্থানে গমন করবে।
3 আর তৎকালীন ইমামের কাছে গিয়ে তাকে বলবে, মাবুদ আমাদেরকে যে দেশ দিতে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছিলেন, সেই দেশে আমি এসেছি; এই ফল আজ তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে নিবেদন করছি।
4 আর ইমাম তোমার হাত থেকে সেই টুক্রী নিয়ে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কোরবানগাহ্র সম্মুখে রাখবে।
5 আর তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে এই কথা বলবে, এক জন অরামীয় যাযাবর আমার পূর্বপুরুষ ছিলেন; তিনি অল্প সংখ্যায় মিসরে নেমে গিয়ে প্রবাস করলেন এবং সেই স্থানে বিশাল, বিক্রমশালী ও জনবহুল জাতি হয়ে উঠলেন।
6 পরে মিসরীয়েরা আমাদের প্রতি জুলুম করলো, আমাদেরকে দুঃখ দিল ও কঠিন গোলামী করালো;
7 তাতে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলাম; আর মাবুদ আমাদের আকুলতা শুনে আমাদের কষ্ট, শ্রম ও উপদ্রবের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন।
8 মাবুদ শক্তিশালী হাত, বাড়িয়ে দেওয়া বাহু ও মহা ভয়ঙ্করতা এবং নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ দ্বারা মিসর থেকে আমাদেরকে বের করে আনলেন।
9 আর তিনি আমাদেরকে এই স্থানে এনেছেন এবং এই দেশ, দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ দিয়েছেন।
10 এখন, হে মাবুদ, দেখ, তুমি আমাকে যে ভূমি দিয়েছ, তার ফলের অগ্রিমাংশ আমি এনেছি। এই কথা বলে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে তা রেখে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে সেজ্দা করবে।
11 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে ও তোমার পরিবারকে যে যে মঙ্গল দান করেছেন, সেই সব নিয়ে তুমি ও লেবীয় ও তোমার মধ্যবর্তী বিদেশী, তোমরা সকলে আনন্দ করবে।
12
তৃতীয় বছরে, অর্থাৎ দশমাংশের বছরে, তোমার উৎপন্ন দ্রব্যের সমস্ত দশমাংশ পৃথক করার কাজ সমাপ্ত হলে পর তুমি লেবীয়, বিদেশী, এতিম ও বিধবাকে তা দেবে, তাতে তারা তোমার নগর-দ্বারের মধ্যে ভোজন করে তৃপ্ত হবে।
13 পরে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে এই কথা বলবে, তোমার নির্দেশিত সমস্ত কালাম অনুসারে আমি আমার বাড়ি থেকে পবিত্র বস্তু বের করে লেবীয়, বিদেশী, এতিম ও বিধবাকে দিয়েছি; তোমার কোন হুকুম লঙ্ঘন করি নি ও ভুলে যাই নি।
14 আমার শোকের সময় আমি তার কিছুই ভোজন করি নি, নাপাক অবস্থায় তার কিছুই বের করি নি এবং মৃত লোকের উদ্দেশে তার কিছুই দিই নি, আমি আমার আল্লাহ্ মাবুদের কালাম মান্য করেছি; তোমার হুকুম অনুসারেই সমস্ত কাজ করেছি।
15 তুমি তোমার পবিত্র নিবাস থেকে, বেহেশত থেকে, দৃষ্টিপাত কর, তোমার লোক ইসরাইলকে দোয়া কর এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কৃত তোমার কসম অনুসারে যে ভূমি আমাদেরকে দিয়েছ, সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশকেও দোয়া কর।
16
এসব বিধি ও অনুশাসন পালন করতে আজ তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে হুকুম করছেন। তুমি যত্নপূর্বক তোমার সমস্ত অন্তর ও তোমার সমস্ত মন-প্রাণের সঙ্গে এসব রক্ষা ও পালন করবে।
17 আজ তুমি এই অঙ্গীকার করেছ যে, মাবুদই তোমার আল্লাহ্ হবেন এবং তুমি তাঁর পথে চলবে, তাঁর বিধি, হুকুম ও তাঁর সমস্ত অনুশাসন পালন করবে এবং তাঁকে মান্য করবে।
18 আর আজ মাবুদও এই অঙ্গীকার করেছেন যে, তাঁর ওয়াদা অনুসারে তুমি তাঁর নিজস্ব লোক হবে ও তাঁর সমস্ত হুকুম পালন করবে;
19 আর তিনি তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জাতির চেয়ে তোমাকে শ্রেষ্ঠ করে প্রশংসা, কীর্তি ও মর্যাদাপূর্ণ করবেন এবং তিনি যেমন বলেছেন সেই অনুসারে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের পবিত্র লোক হবে।
1
পরে মূসা ও ইসরাইলের প্রধান লোকদেরকে এই হুকুম করলেন, বললেন, আজ আমি তোমাদেরকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, তোমরা সেসব পালন করো।
2 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, তুমি যখন জর্ডান পার হয়ে সেই দেশে উপস্থিত হবে তখন তোমার জন্য কতগুলো বড় বড় পাথর স্থাপন করে তা চুন দিয়ে লেপন করবে।
3 আর পার হবার পর তুমি সেই পাথরগুলোর উপরে এই শরীয়তের সমস্ত কথা লিখবে; যেন তোমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমার কাছে যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই অনুসারে যে দেশ, যে দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে দিচ্ছেন, সেখানে প্রবেশ করতে পার।
4 আর আমি আজ যে পাথরগুলোর বিষয়ে তোমাদেরকে হুকুম করলাম, তোমরা জর্ডান পার হবার পর এবল পর্বতে সেসব পাথর স্থাপন করবে ও তা চুন দিয়ে লেপন করবে।
5 আর সেই স্থানে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্, পাথরের একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করবে এবং তা করতে গিয়ে তার উপরে লোহার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে না।
6 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সেই কোরবানগাহ্ এমন পাথর দিয়ে গাঁথবে, যা যন্ত্রপাতি দ্বারা মসৃণ করা হয় নি এবং তার উপরে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী দেবে।
7 সেখানে তোমরা মঙ্গল-কোরবানী দেবে, আর সেই স্থানে ভোজন করবে এবং তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে আনন্দ করবে।
8 আর সেই পাথরের উপরে এই শরীয়তের সমস্ত কথা অতি স্পষ্টভাবে লিখবে।
9
আর মূসা ও লেবীয় ইমামেরা সমস্ত ইসরাইলকে বললেন, হে ইসরাইল, নীরব হও, শোন, আজ তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের লোক হলে।
10 অতএব তোমার আল্লাহ্ মাবুদের বাধ্য হয়ে চলবে এবং আজ আমি তোমাদেরকে তাঁর যেসব নির্দেশ ও বিধি হুকুম করলাম, সেসব পালন করবে।
11
সেই দিনে মূসা লোকদেরকে এই হুকুম দিলেন,
12 তোমরা জর্ডান পার হবার পর শিমিয়োন, লেবি, এহুদা, ইষাখর, ইউসুফ ও বিন্ইয়ামীন, এরা লোকদেরকে দোয়া করার জন্য গরিষীম পর্বতে দাঁড়াবে।
13 আর রূবেণ, গাদ, আশের, সবূলূন, দান ও নপ্তালি, এরা বদদোয়া দেবার জন্য এবল পর্বতে দাঁড়াবে।
14 পরে লেবীয়রা কথা আরম্ভ করে ইসরাইলের সমস্ত লোককে উচ্চৈঃস্বরে বলবে,
15
যে ব্যক্তি কোন খোদাই-করা কিংবা ছাঁচে ঢালা মূর্তি, মাবুদের ঘৃণিত বস্তু তৈরি করে, শিল্পকরের হাতের তৈরি বস্তু গোপনে স্থাপন করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক জবাবে বলবে, আমিন।
16
যে কেউ তার পিতাকে বা মাতাকে অবজ্ঞা করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
17
যে কেউ তার প্রতিবেশীর ভূমিচিহ্ন স্থানান্তর করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
18
যে কেউ অন্ধকে পথভ্রষ্ট করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
19
যে কেউ বিদেশী, এতিম, বা বিধবার বিচারে অন্যায় করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
20
যে কেউ পিতার স্ত্রীর সঙ্গে জেনা করে, নিজের পিতার আবরণীয় অনাবৃত করাতে সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
21
যে কেউ কোন পশুর সঙ্গে জেনা করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
22
যে কেউ তার বোনের সঙ্গে অর্থাৎ পিতৃকন্যা কিংবা মাতৃকন্যার সঙ্গে জেনা করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
23
যে কেউ তার শাশুড়ীর সঙ্গে জেনা করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
24
যে কেউ তার প্রতিবেশীকে গোপনে খুন করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
25
যে কেউ নিরপরাধের প্রাণ হরণ করার জন্য ঘুষ গ্রহণ করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
26
যে কেউ এই শরীয়তের সমস্ত কথা পালন করার জন্য তাতে অটল না থাকে, সে বদদোয়াগ্রস্ত। তখন সমস্ত লোক বলবে, আমিন।
1
আমি তোমাকে আজ যেসব হুকুম দিচ্ছি, যদি যত্নপূর্বক সেসব পালন করার মধ্য দিয়ে তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি বাধ্য হও, তবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ দুনিয়ার সমস্ত জাতির উপরে তোমাকে উন্নত করবেন;
2 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদের বাধ্য হও তবে এসব দোয়া তোমার উপরে বর্ষিত হবে ও তোমার সঙ্গে থাকবে।
3
তুমি নগরে ও ক্ষেতে দোয়াযুক্ত হবে।
4
তোমার শরীরের ফল, তোমার ভূমির ফল, তোমার পশুর ফল, তোমার বাছুর ও তোমার ভেড়ার বাচ্চাগুলো দোয়াযুক্ত হবে।
5
তোমার টুক্রী ও তোমার ময়দা মাখবার পাত্র দোয়াযুক্ত হবে।
6
ভিতরে আসার সময়ে তুমি দোয়াযুক্ত হবে এবং বাইরে যাবার সময়ে তুমি দোয়া যুক্ত হবে।
7
তোমার যে দুশমনেরা তোমার বিরুদ্ধে উঠবে, তাদেরকে মাবুদ তোমার সম্মুখে আঘাত করাবেন; তারা একটি পথ দিয়ে তোমার বিরুদ্ধে আসবে, কিন্তু সাতটি পথ দিয়ে তোমার সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাবে।
8 মাবুদ হুকুম দিয়ে তোমার গোলাঘর সম্বন্ধে ও তুমি যে কোন কাজে হাত দাও, সে সম্বন্ধে দোয়াকে তোমার সহচর করবেন। তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানে তোমাকে দোয়া করবেন।
9 মাবুদ তাঁর কসম অনুসারে তোমাকে তাঁর পবিত্র লোক বলে স্থাপন করবেন; কেবল তোমার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম পালন ও তাঁর পথে গমন করতে হবে।
10 আর দুনিয়ার সমস্ত জাতি দেখতে পাবে যে, তোমার উপরে মাবুদের নাম কীর্তিত হয়েছে এবং তারা তোমাদের ভয় করে চলবে।
11 আর মাবুদ তোমাকে যে দেশ দিতে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছেন, সেই দেশে তিনি মঙ্গলের নিমিত্ত তোমার শরীরের ফলে, তোমার পশুর ফলে ও তোমার ভূমির ফলে তোমাকে ঐশ্বর্যশালী করবেন।
12 সময়মত তোমার ভূমির জন্য বৃষ্টি দিতে ও তোমার সমস্ত কাজে দোয়া করতে মাবুদ তাঁর আকাশরূপ মঙ্গল-ভাণ্ডার খুলে দেবেন; এবং তুমি অনেক জাতিকে ঋণ দেবে, কিন্তু নিজে ঋণ নেবে না।
13 আর মাবুদ তোমাকে মস্তকস্বরূপ করবেন, পুচ্ছস্বরূপ করবেন না; তুমি অবনত না হয়ে কেবল উন্নত হবে; কেবল তোমার আল্লাহ্ মাবুদের এই যেসব হুকুম যত্নপূর্বক পালন করতে আমি তোমাকে আজ হুকুম করছি তা মান্য করতে হবে;
14 আর আজ আমি তোমাদেরকে যেসব বিষয়ে হুকুম করছি, অন্য দেবতাদের সেবা করে তাদের অনুগামী হয়ে তেমরা সেসব কথার ডানে বা বামে ফিরবে না।
15
কিন্তু যদি তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য না কর, আমি আজ তোমাকে তাঁর যে সমস্ত হুকুম ও নির্দেশ হুকুম করছি, যত্নপূর্বক সেসব পালন না কর, তবে এসব বদদোয়া তোমার প্রতি নেমে আসবে ও তোমার সঙ্গে থাকবে।
16
তুমি নগরে ও ক্ষেতে বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
17
তোমার টুক্রী ও তোমার ময়দা মাখবার পাত্র বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
18
তোমার শরীরের ফল, তোমার ভূমির ফল এবং তোমার বাছুর ও তোমার ভেড়ার বাচ্চাগুলো বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
19
ভিতরে আসার সময়ে তুমি বদ-দোয়াগ্রস্ত হবে ও বাইরে যাবার সময়ে তুমি বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
20
যে পর্যন্ত তোমার সংহার ও হঠাৎ বিনাশ না হয়, সেই পর্যন্ত যে কাজেই তুমি হাত দাও, সেই কাজে মাবুদ তোমার উপরে বদদোয়া, উদ্বেগ ও ভৎর্সনা প্রেরণ করবেন; এর কারণ তোমার সেসব দুষ্ট কাজ, যা দ্বারা তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ।
21 তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশ থেকে যতক্ষণ উচ্ছিন্ন না হও, ততক্ষণ মাবুদ তোমাকে মহামারীর আশ্রয় করাবেন।
22 মাবুদ ক্ষয়রোগ, জ্বর, জ্বালা, প্রচণ্ড উত্তাপ ও তলোয়ার এবং শস্যের শোষ ম্লানি রোগ দ্বারা তোমাকে আঘাত করবেন; তোমার বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত সেসব তোমাকে তাড়া করবে।
23 আর তোমার মাথার উপরের আসমান ব্রোঞ্জ ও পায়ের নিচের ভূমি লোহার মত শক্ত হবে।
24 মাবুদ তোমার দেশে পানির পরিবর্তে ধূলি ও বালি বর্ষণ করবেন; যে পর্যন্ত তোমার বিনাশ না হয়, সেই পর্যন্ত তা আসমান থেকে নেমে তোমার উপরে পড়বে।
25
মাবুদ তোমার দুশমনদের সম্মুখে তোমাকে আঘাত করাবেন; তুমি এক পথ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যাবে, কিন্তু সাত পথ দিয়ে তাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাবে এবং দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যের মধ্যে ভেসে বেড়াবে।
26 আর তোমার লাশ আসমানের পাখিদের ও ভূমির পশুদের খাবার হবে; কেউ তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে না।
27 মাবুদ তোমাকে মিসরীয় স্ফোটক এবং মহামারীর স্ফোটক, পামা, চামড়ারোগ ইত্যাদি রোগ দ্বারা এমন আঘাত করবেন যে, তুমি সুস্থতা লাভ করতে পারবে না।
28 মাবুদ উন্মাদ, অন্ধতা ও অন্তরের স্তব্ধতা দ্বারা তোমাকে আঘাত করবেন।
29 অন্ধ যেমন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায়, সেরকম তুমি মধ্যাহ্নকালে হাতড়ে বেড়াবে ও নিজের পথে কৃতকার্য হবে না এবং সব সময় কেবল নির্যাতিত ও লুণ্ঠিত হবে, কেউ তোমাকে উদ্ধার করবে না।
30 তোমার সঙ্গে কন্যার বাগ্দান হবে, কিন্তু অন্য পুরুষ তাকে নিয়ে বিছানায় যাবে; তুমি বাড়ি নির্মাণ করবে, কিন্তু তাতে বাস করতে পারবে না; আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করবে, কিন্তু তার ফল ভোগ করতে পারবে না।
31 তোমার গরু তোমার সম্মুখে হত হবে, আর তুমি তার গোশ্ত ভোজন করতে পাবে না; তোমার গাধা তোমার সাক্ষাতে সবলে অপহৃত হব, তা তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না; তোমার ভেড়ার পাল তোমার দুশমনদেরকে দেওয়া হবে, তোমার পক্ষে উদ্ধারকর্তা কেউ থাকবে না।
32 তোমার পুত্রকন্যাদের অন্য এক জাতিকে দেওয়া হবে ও সমস্ত দিন তাদের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে থাকতে তোমার চোখ ক্ষীণ হবে এবং তোমার হাতে কোন শক্তি থাকবে না।
33 তোমার অজ্ঞাত এক জাতি তোমার ভূমির ফসল ও তোমার শ্রমের সমস্ত ফল ভোগ করবে এবং তুমি সব সময় কেবল নির্যাতিত ও চূর্ণ হবে;
34 আর তোমার চোখ যা দেখবে, তাতে তুমি পাগল হয়ে যাবে।
35 মাবুদ তোমার জানু, জংঘা ও পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত দূরারোগ্য দুষ্ট স্ফোটক দ্বারা আঘাত করবেন।
36 মাবুদ তোমাকে এবং যে বাদশাহ্কে তুমি তোমার উপরে নিযুক্ত করবে, তাকে তোমার অজ্ঞাত এবং তোমার পূর্বপুরুষদের অজ্ঞাত এক জাতির কাছে নিয়ে যাবেন; সেই স্থানে তুমি অন্য কাঠ ও পাথরের মূর্তির সেবা করবে।
37 আর মাবুদ তোমাকে যেসব জাতির মধ্যে নিয়ে যাবেন, তাদের কাছে তুমি বিস্ময়, প্রবাদ ও উপহাসের পাত্র হবে।
38
তুমি বহু বীজ বয়ে ক্ষেতে নিয়ে যাবে, কিন্তু অল্প সংগ্রহ করবে; কেননা পঙ্গপাল তা বিনষ্ট করবে।
39 তুমি আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করে তা রোপন করবে, কিন্তু আঙ্গুর-রস পান করতে কি আঙ্গুর ফল চয়ন করতে পাবে না; কেননা কীটে তা খেয়ে ফেলবে।
40 তোমার সমস্ত অঞ্চলে জলপাই গাছ হবে, কিন্তু তুমি তেল মাখাতে পারবে না; কেননা তোমার জলপাই গাছের ফল ঝরে পড়বে।
41 তুমি পুত্রকন্যাদের জন্ম দেবে, কিন্তু তারা তোমার হবে না; কেননা তারা বন্দী হয়ে যাবে।
42 পঙ্গপাল তোমার সমস্ত গাছ ও ভূমির ফল অধিকার করবে।
43 তোমার মধ্যবর্তী বিদেশী তোমা থেকে উত্তরোত্তর উন্নত হবে ও তুমি উত্তরোত্তর অবনত হবে।
44 সে তোমাকে ঋণ দেবে, কিন্তু তুমি তাকে ঋণ দেবে না; সে মস্তকস্বরূপ হবে ও তুমি হবে পুচ্ছস্বরূপ।
45
এসব বদদোয়া তোমার উপরে আসবে, তোমার পেছনে পেছনে তাড়া করে তোমার বিনাশ পর্যন্ত তোমাকে ধরে ফেলবে; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যেসব হুকুম ও নির্দেশ দিয়েছেন, তুমি সেসব পালন করার জন্য তাঁর নির্দেশে কান দিলে না।
46 এসব তোমার ও যুগে যুগে তোমার বংশের উপরে চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণ-স্বরূপ থাকবে।
47
যেহেতু সমস্ত রকম সম্পত্তি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকবার পরও তুমি আনন্দ-পূর্বক প্রফুল্লচিত্তে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গোলামী করতে না;
48 এজন্য মাবুদ তোমার বিরুদ্ধে যে দুশমনদেরকে পাঠাবেন, তুমি ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়, উলঙ্গতায় ও সকল বিষয়ের অভাব ভোগ করতে করতে তাদের গোলামী করবে; এবং যে পর্যন্ত তিনি তোমার বিনাশ না করেন, সেই পর্যন্ত তোমার ঘাড়ে লোহার জোয়াল দিয়ে রাখবেন।
49 মাবুদ তোমার বিরুদ্ধে অনেক দূর থেকে, দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এক জাতিকে আনবেন; যেমন ঈগল পাখি উড়ে আসে, সে সেভাবে উড়ে আসবে; সেই জাতির ভাষা তুমি বুঝতে পারবে না।
50 সেই জাতি ভয়ঙ্কর চেহারার, সে বৃদ্ধের মুখাপেক্ষা করবে না ও বালকের প্রতি কৃপা করবে না।
51 আর যে পর্যন্ত তোমার বিনাশ না হবে, সেই পর্যন্ত সে তোমার পশুর ও ভূমির ফল ভোজন করবে; যে পর্যন্ত সে তোমার বিনাশ সাধন না করবে, সেই পর্যন্ত তোমার জন্য শস্য, আঙ্গুর-রস কিংবা তেল, তোমার গরুর বাচ্চা কিংবা তোমার ভেড়ীর বাচ্চা অবশিষ্ট রাখবে না।
52 আর তোমার সমস্ত দেশে যেসব উঁচু ও সুরক্ষিত প্রাচীরে তুমি বিশ্বাস করতে, সেসব যে পর্যন্ত ভূমিসাৎ না হবে, সেই পর্যন্ত সে তোমার সমস্ত নগর-দ্বারে তোমাকে অবরোধ করবে; তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া তোমার সমস্ত দেশে সমস্ত নগর-দ্বারে সে তোমাকে অবরোধ করবে।
53 আর যখন তোমার দুশমনদের কর্তৃক তুমি অবরুদ্ধ ও ক্লিষ্ট হবে, তখন তুমি তোমার শরীরের ফল, তোমার আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া নিজের পুত্রকন্যাদের গোশ্ত, ভোজন করবে।
54 যখন সমস্ত নগর-দ্বারে দুশমনদের কর্তৃক তুমি অবরুদ্ধ ও ক্লিষ্ট হবে, তখন তোমার মধ্যে যে পুরুষ কোমল ও অতিশয় সুখ-ভোগী, আপন ভাইয়ের, বক্ষঃস্থিতা স্ত্রী ও অবশিষ্ট সন্তানদের প্রতি সে এমন ঈর্ষান্বিত হবে যে,
55 সে তাদের কাউকেও নিজের সন্তানদের মাংসের কিছুই দেবে না; তার কাছে কোন খাদ্য অবশিষ্ট না থাকবার দরুন সে তাদেরকে ভোজন করবে।
56 যখন সমস্ত নগর-দ্বারে দুশমনদের কর্তৃক তুমি অবরুদ্ধ ও ক্লিষ্ট হবে, তখন যে স্ত্রী কোমলতা ও সুখভোগের দরুন তার পা মাটিতে রাখতে সাহস করতো না, তোমার মধ্যবর্তিনী এমন কোমলাঙ্গী ও সুখভোগিনী মহিলার চোখ তার বক্ষঃস্থিত স্বামী, তার পুত্র ও কন্যার উপরে,
57 এমন কি, তার দুই পায়ের মধ্য থেকে বের হওয়া গর্ভফুল ও তার প্রসব করা শিশুদের উপরে ঈর্ষান্বিত হবে; কারণ অবরোধের সময়কার অভাবের দরুন সে এদেরকে গোপনে ভোজন করবে।
58
তুমি যদি এই কিতাবে লেখা শরীয়তের সমস্ত কথা যত্নপূর্বক পালন না কর; এভাবে যদি “তোমার আল্লাহ্ মাবুদ”—এই গৌরবান্বিত ও ভক্তিপূর্ণ ভয় জাগানো নামকে ভয় না কর;
59 তবে মাবুদ তোমাকে ও তোমার বংশকে অবিশ্বাস্যভাবে আঘাত করবেন; ফলত বহুকাল স্থায়ী মহাঘাত ও বহুকাল স্থায়ী ব্যথাজনক রোগ দ্বারা আঘাত করবেন।
60 আর তুমি মিসরীয়দের যে সব রোগ-ব্যাধি দেখে ভয় পেতে, সেই সমস্ত রোগ আবার তোমার উপরে আনবেন; সেসব তোমার সঙ্গের সাথী হবে।
61 আরও যা এই শরীয়ত-কিতাবে লেখা নেই, এমন প্রত্যেক রোগ ও আঘাত মাবুদ তোমার বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত তোমার উপরে আনবেন।
62 তাতে আসমানের তারার মত বহুসংখ্যক ছিলে যে তোমরা, তোমরা অল্পসংখ্যক অবশিষ্ট থাকবে; কেননা তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নির্দেশে কান দিতে না।
63 আর তোমাদের মঙ্গল ও বৃদ্ধি করতে যেমন মাবুদ তোমাদের সম্বন্ধে আনন্দ করতেন, সেভাবে তোমাদের বিনাশ ও লোপ করতে মাবুদ তোমাদের সম্বন্ধে আনন্দ করবেন এবং তুমি যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেখান থেকে তোমরা উচ্ছিন্ন হবে।
64 আর মাবুদ তোমাকে দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে ছিন্নভিন্ন করবেন; সেই স্থানে তুমি তোমার ও তোমার পূর্বপুরুষদের অজ্ঞাত অন্য দেবতাদের, কাঠ ও পাথরের, সেবা করবে।
65 আর তুমি সেই জাতিদের মধ্যে কোন শান্তি পাবে না ও তোমার পদতলের জন্য বিশ্রামস্থান থাকবে না, কিন্তু মাবুদ সেই স্থানে তোমাকে হৃৎকম্প, চোখের ক্ষীণতা ও প্রাণের শুষ্কতা দেবেন।
66 আর তোমার জীবন তোমার দৃষ্টিতে সংশয়ে দোলায়মান হবে এবং তুমি দিনরাত শঙ্কা করবে ও নিজের জীবনের বিষয়ে তোমার বিশ্বাস থাকবে না।
67 তুমি হৃদয়ে যে শঙ্কা করবে ও চোখে যে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখবে, সেজন্য খুব ভোরে বলবে, হায় হায়, কখন সন্ধ্যা হবে এবং সন্ধ্যাবেলা বলবে, হায় হায়, কখন সকাল হবে?
68 আর যে পথের বিষয়ে আমি তোমাকে বলেছি, তুমি তা আর দেখবে না, মাবুদ সেই মিসর দেশের পথে জাহাজে করে তোমাকে পুনর্বার নিয়ে যাবেন এবং সেই স্থানে তোমরা গোলাম ও বাঁদী হিসেবে তোমাদের দুশমনদের কাছে বিক্রি হতে চাইবে; কিন্তু কেউ তোমাদের ক্রয় করবে না।
1
মাবুদ হোরেবে বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে যে নিয়ম স্থির করেছিলেন, তা ছাড়া মোয়াব দেশে তাদের সঙ্গে যে নিয়ম স্থির করতে মূসাকে হুকুম করলেন, এসব সেই নিয়মের কথা।
2
মূসা সমস্ত ইসরাইলকে ডাকলেন এবং তাদেরকে বললেন, মাবুদ মিসর দেশে ফেরাউন, তাঁর সমস্ত গোলাম ও সমস্ত দেশের প্রতি যেসব কাজ তোমাদের দৃষ্টিগোচর করেছিলেন, তা তোমরা দেখেছ;
3 পরীক্ষাসিদ্ধ সেসব মহৎ প্রমাণ, সেসব চিহ্ন-কাজ ও সেসব মহৎ অদ্ভুত লক্ষণ তোমরা স্বচক্ষে দেখেছ;
4 তবুও মাবুদ আজও তোমাদেরকে জানবার অন্তর, দেখবার চোখ ও শুনবার কান দেন নি।
5 আমি চল্লিশ বছর মরুভূমিতে তোমাদেরকে গমন করিয়েছি; তোমাদের শরীরে তোমাদের কাপড়-চোপড় নষ্ট হয় নি ও তোমাদের পায়ের জুতা পুরানো হয় নি;
6 তোমরা রুটি ভোজন কর নি এবং আঙ্গুর-রস বা সুরা পান কর নি; যেন তোমরা জানতে পার যে, আমিই তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ।
7 আর তোমরা যখন এই স্থানে উপস্থিত হলে, তখন হিষ্বোনের বাদশাহ্ সীহোন ও বাশনের বাদশাহ্ উজ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বের হলে আমরা তাঁদেরকে আঘাত করলাম;
8 আর তাঁদের দেশ নিয়ে অধিকার হিসেবে রূবেণীয় ও গাদীয় এবং মানশাদের অর্ধেক বংশকে দিলাম।
9 অতএব তোমরা যা যা করবে, সমস্ত বিষয়ে যেন বুদ্ধিপূর্বক চলতে পার, এজন্য এই নিয়মের সমস্ত কথা পালন করো এবং সেই অনুসারে কাজ করো।
10
তোমরা সকলে আজ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছ— তোমাদের নেতৃবর্গ, তোমাদের বংশগুলো, তোমাদের প্রাচীনবর্গরা, তোমাদের কর্মকর্তারা,
11 এমন কি, ইসরাইলের সমস্ত পুরুষ, তোমাদের পুত্র কন্যা, তোমাদের স্ত্রী এবং তোমার শিবিরের মধ্যবর্তী তোমার কাঠ কাটার লোক থেকে পানিবাহক পর্যন্ত বিদেশী, সকলেই আছ;
12 যেন তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের সেই নিয়ম ও সেই কসমে আবদ্ধ হও, যা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ আজ তোমার সঙ্গে করছেন;
13 এজন্য করছেন, যেন তিনি আজ তোমাকে তাঁর লোক হিসেবে স্থাপন করেন ও তোমার আল্লাহ্ হন, যেমন তিনি তোমাকে বলেছেন, আর যেমন তিনি তোমার পূর্ব-পুরুষ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের কাছে কসম খেয়েছেন।
14 আর আমি এই নিয়ম ও এই কসম কেবল তোমাদেরই সঙ্গে করছি, তা নয়;
15 বরং আমাদের সঙ্গে আজ এই স্থানে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে যে কেউ দাঁড়িয়ে আছে ও আমাদের সঙ্গে আজ যে নেই, তাদের সকলের সঙ্গে করছি।
16 (কেননা আমরা মিসর দেশে যেভাবে বাস করেছি এবং জাতিদের মধ্য দিয়ে যেভাবে এসেছি তা তোমরা জান;
17 এবং তাদের ঘৃণার বস্তু বস্তুগুলো, তাদের কাছে কাঠের, পাথরের, রূপার ও সোনার সমস্ত মূর্তি দেখেছো।)
18 —এই জাতিদের দেবতাদের সেবা করতে যাবার জন্য আজ আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছ থেকে তার অন্তর সরে যায়, এমন কোন পুরুষ, কিংবা স্ত্রী, কিংবা গোষ্ঠী, কিংবা বংশ তোমাদের মধ্যে যেন না থাকে, বিষবৃক্ষের বা নাগদানার মূল তোমাদের মধ্যে যেন না থাকে;
19 এবং এই বদদোয়ার কথা শুনবার সময় কেউ যেন মনে মনে নিজের ধন্যবাদ করে না বলে, আমার হৃদয়ের কঠিনতায় চললেও আমার শান্তি হবে, তবে সে সিক্ত ভূমির সঙ্গে শুকনো ভূমিকেও ধ্বংস করে ফেলবে।
20 মাবুদ তাকে মাফ করতে সম্মত হবেন না, কিন্তু সেই মানুষের উপরে তখন মাবুদের ক্রোধ ও তাঁর অন্তর্জ্বালা প্রজ্বলিত হবে এবং এই কিতাবে লেখা সমস্ত বদদোয়া তার উপরে স্থায়ী হয়ে থাকবে এবং মাবুদ আসমানের নিচে থেকে তার নাম মুছে ফেলবেন।
21 আর এই শরীয়ত-কিতাবে লেখা নিয়মের সমস্ত বদদোয়া অনুসারে মাবুদ তাকে ইসরাইলের সমস্ত বংশ থেকে অমঙ্গলের জন্য পৃথক করবেন।
22 আর মাবুদ সেই দেশের উপরে যেসব আঘাত ও রোগ আনবেন, তা যখন ভাবী বংশ, তোমাদের পরে উৎপন্ন তোমাদের সন্তানেরা এবং দূরদেশ থেকে আগত বিদেশী দেখবে;
23 ফলত মাবুদ তাঁর ক্রোধ ও রোষে যে সাদুম, আমুরা, অদমা ও সবোয়িম নগর উৎসন্ন করেছিলেন, তার মত এই দেশের সমস্ত ভূমি গন্ধক, লবণ ও দহনে পরিপূর্ণ হয়েছে, তাতে কিছুই বপন করা যায় না ও তা ফল উৎপন্ন করে না ও তাতে কোন ঘাস হয় না, এসব যখন দেখবে;
24 তখন তারা বলবে, এমন কি, সমস্ত জাতি বলবে, মাবুদ এই দেশের প্রতি কেন এমন করলেন? এরকম মহাক্রোধ প্রজ্বলিত হবার কারণ কি?
25 তখন লোকে বলবে, কারণ হচ্ছে, তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ মিসর দেশ থেকে সেই পূর্বপুরুষদেরকে বের করে আনবার সময়ে তাদের জন্যে যে নিয়ম স্থির করেন, সেই নিয়ম তারা ত্যাগ করেছিল;
26 আর গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা করেছিল, যে দেবতাদেরকে তারা জানত না, যাদেরকে তিনি তাদের জন্য নির্ধারণ করেন নি, সেই দেবতাদের কাছে ভূমিতে উবুড় হয়েছিল;
27 তাই এই কিতাবে লেখা সমস্ত বদদোয়া দেশের উপর আনতে এই দেশের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল,
28 এবং মাবুদ ক্রোধ, রোষ ও মহাকোপে তাদেরকে তাদের দেশ থেকে উৎপাটন করে অন্য দেশে নিক্ষেপ করেছেন, যেমন আজ দেখা যাচ্ছে।
29 নিগূঢ় বিষয়গুলো আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের অধিকার; কিন্তু প্রকাশিত বিষয়গুলো আমাদের ও যুগে যুগে আমাদের সন্তানদের অধিকার, যেন এই শরীয়তের সমস্ত কথা আমরা পালন করতে পারি।
1
আমি তোমার সম্মুখে এই যে দোয়া ও বদদোয়া স্থাপন করলাম, এর সমস্ত কথা যখন তোমাতে ফলবে, তখন তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যেসব জাতির মধ্যে তোমাকে দূর করে দেবেন,
2 সেখানে যদি তুমি মনে চেতনা পাও এবং তুমি ও তোমার সন্তানেরা যদি সমস্ত অন্তর ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফিরে এসো এবং আজ আমি তোমাকে যেসব হুকুম দিচ্ছি, সেই অনুসারে যদি তাঁর নির্দেশ মান্য কর;
3 তবে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার তোমার দুর্দশা ফিরাবেন তোমার প্রতি করুণা করবেন ও যেসব জাতির মধ্যে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন সেখান থেকে আবার তোমাকে সংগ্রহ করবেন।
4 যদিও তোমরা কেউ দূরীকৃত হয়ে আসমানের প্রান্তে থাক, তবুও তোমার আল্লাহ্ মাবুদ সেখান থেকে তোমাকে সংগ্রহ করবেন,
5 ওই স্থান থেকে নিয়ে আসবেন। আর তোমার পূর্বপুরুষেরা যে দেশ অধিকার করেছিল, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ সেই দেশে তোমাকে আনবেন ও তুমি তা অধিকার করবে এবং তিনি তোমার মঙ্গল করবেন ও তোমার পূর্বপুরুষদের চেয়েও তোমার বৃদ্ধি করবেন।
6
আর তুমি যেন সমস্ত অন্তর ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করে জীবন লাভ কর, এজন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার অন্তর ও তোমার বংশের অন্তরের খৎনা করবেন।
7 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার দুশমনদের উপরে ও যারা তোমাকে হিংসা করে নির্যাতন করেছে তাদের উপরে এসব বদদোয়া বর্তাবেন।
8 আর তুমি ফিরে মাবুদের বাধ্য হয়ে চলবে এবং আমি আজ তোমাকে তাঁর যে সমস্ত হুকুম জানাচ্ছি তা পালন করবে।
9 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদ মঙ্গলের নিমিত্ত তোমার সমস্ত কাজে, তোমার শরীরের ফলে, তোমার পশুর ফলে ও তোমার ভূমির ফলে তোমাকে ঐশ্বর্যশালী করবেন; যেহেতু মাবুদ তোমার পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে যেমন আনন্দ করতেন মঙ্গলার্থে আবার তোমাকে নিয়ে তেমনি আনন্দ করবেন;
10 কেবল যদি তুমি এই শরীয়ত-কিতাবে লেখা তাঁর হুকুম ও নির্দেশগুলো পালন করার জন্য তোমার আল্লাহ্ মাবুদের বাধ্য হও, যদি সমস্ত অন্তর ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফির।
11
কারণ আমি আজ তোমাকে এই যে হুকুম দিচ্ছি, তা তোমার বোধের অগম্য নয় এবং দূরবর্তীও নয়।
12 তা বেহেশতে নয় যে, তুমি বলবে, আমরা যেন তা পালন করি, এজন্য কে আমাদের জন্য বেহেশতে গিয়ে তা এনে আমাদেরকে শোনাবে?
13 আর তা সমুদ্রের ওপারেও নয় যে, তুমি বলবে, আমরা যেন তা পালন করি, এজন্য কে আমাদের জন্য সমুদ্র পার হয়ে তা এনে আমাদেরকে শোনাবে?
14 কিন্তু সেই কালাম তোমার অতি নিকটবর্তী, তা তোমার মুখে ও তোমার অন্তরে, যেন তুমি তা পালন করতে পার।
15
দেখ, আমি আজ তোমার সম্মুখে জীবন ও মঙ্গল এবং মৃত্যু ও অমঙ্গল রাখলাম;
16 ফলত আমি আজ তোমাকে এই হুকুম দিচ্ছি যে, তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করতে, তাঁর পথে চলতে এবং তাঁর হুকুম, তাঁর নির্দেশগুলো ও তাঁর অনুশাসন পালন করতে হবে; তা করলে তুমি বাঁচবে ও বৃদ্ধি পাবে; এবং যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে দোয়া করবেন।
17 কিন্তু যদি তোমার অন্তর তাঁর কাছ থেকে সরে যায় ও তুমি কথা না শুনে ভ্রষ্ট হয়ে অন্য দেবতাদের কাছে সেজ্দা কর ও তাদের সেবা কর;
18 তবে আজ আমি তোমাদেরকে জানাচ্ছি, তোমরা একেবারে বিনষ্ট হবে, তোমরা অধিকার হিসেবে যে দেশে প্রবেশ করতে জর্ডান পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে তোমাদের জীবনকাল দীর্ঘ হবে না।
19 আমি আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আসমান ও দুনিয়াকে সাক্ষী করে বলছি যে, আমি তোমার সম্মুখে জীবন ও মৃত্যু, দোয়া ও বদদোয়া রাখলাম। অতএব জীবন মনোনীত কর, যেন তুমি সবংশে বাঁচতে পার;
20 তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত কর, তাঁর বাণী মান্য কর ও তাঁতে আসক্ত হও; কেননা তিনিই তোমার জীবন ও তোমার দীর্ঘ পরমায়ুস্বরূপ; তা হলে মাবুদ তোমার পূর্বপুরুষদেরকে, ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবকে, যে দেশ দিতে কসম খেয়েছিলেন, সেই দেশে তুমি বাস করতে পারবে।
1
পরে মূসা গিয়ে সমস্ত ইসরাইলকে এসব কথা বললেন।
2 আর তিনি তাদেরকে বললেন, আজ আমার বয়স এক শত বিশ বছর, আমি আর বাইরে যেতে ও ভিতরে আসতে পারি না এবং মাবুদ আমাকে বলেছেন, তুমি এই জর্ডান পার হবে না।
3 তোমার আল্লাহ্ মাবুদ নিজে তোমার অগ্রগামী হয়ে পার হয়ে যাবেন; তিনিই তোমার সম্মুখ থেকে সেই জাতিদেরকে বিনষ্ট করবেন, তাতে তুমি তাদেরকে অধিকারচ্যুত করবে। মাবুদ যেমন বলেছেন, তেমনি ইউসাই তোমার অগ্রগামী হয়ে পার হবে।
4 আর মাবুদ আমোরীয়দের সীহোন ও উজ নামক দুই বাদশাহ্কে বিনাশ করে তাদের ও তাদের দেশের প্রতি যেমন করেছেন, ওদের প্রতিও তেমনি করবেন।
5 মাবুদ তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দেবেন, তখন তোমরা আমার দেওয়া সমস্ত হুকুম অনুসারে তাদের প্রতি ব্যবহার করবে।
6 তোমরা বলবান হও ও সাহস কর, ভয় করো না, তাদের থেকে মহাভয়ে ভীত হয়ো না; কেননা তোমার আল্লাহ্ মাবুদ নিজে তোমার সঙ্গে যাচ্ছেন, তিনি তোমাকে ছাড়বেন না, তোমাকে ত্যাগ করবেন না।
7
আর মূসা ইউসাকে ডেকে সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে বললেন, তুমি বলবান হও ও সাহস কর, কেননা মাবুদ এদেরকে যে দেশ দিতে এদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছেন, সেই দেশে এই লোকদের সঙ্গে তুমি প্রবেশ করবে এবং তুমি এদেরকে সেই দেশ অধিকার করাবে।
8 আর মাবুদ স্বয়ং তোমার অগ্রভাগে যাচ্ছেন; তিনিই তোমার সহবর্তী থাকবেন; তিনি তোমাকে ছাড়বেন না, তোমাকে ত্যাগ করবেন না; ভয় করো না, নিরাশ হয়ো না।
9
পরে মূসা এই শরীয়ত লিখলেন এবং লেবি-বংশজাত ইমামেরা, যারা মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক বহন করতো তাদের ও ইসরাইলের সমস্ত প্রাচীনদের হাতে তা দিলেন।
10 আর মূসা তাদেরকে এই হুকুম করলেন, প্রতি সাত বছরের পরে, ঋণ মাফের বছরের কালে, কুটির উৎসব ঈদে,
11 যখন সমস্ত ইসরাইল তোমার আল্লাহ্ মাবুদের মনোনীত স্থানে তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হবে, তখন তুমি সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে তাদের কর্ণগোচরে এই শরীয়ত পাঠ করবে।
12 তুমি লোকদেরকে, পুরুষ, স্ত্রী, বালক-বালিকা ও তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী বিদেশী সকলকে একত্র করবে, যেন তারা শুনে শিক্ষা পায় ও তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করে এবং এই শরীয়তের সমস্ত কথা যত্নপূর্বক পালন করে;
13 আর তাদের যে সন্তানেরা এসব জানে না, তারা যেন শোনে এবং যে দেশ অধিকার করতে তোমরা জর্ডান পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে যত কাল প্রাণধারণ করে, তারা তত কাল যেন তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করতে শেখে।
14
পরে মাবুদ মূসাকে বললেন, দেখ, তোমার ইন্তেকাল করার দিন আসন্ন, তুমি ইউসাকে ডাক এবং তোমরা উভয়ে জমায়েত-তাঁবুতে উপস্থিত হও, আমি তাকে হুকুম দেব। তাতে মূসা ও ইউসা গিয়ে জমায়েত-তাঁবুতে উপস্থিত হলেন।
15 আর মাবুদ সেই তাঁবুতে মেঘস্তম্ভে দর্শন দিলেন; সেই মেঘস্তম্ভ তাঁবুদ্বারের উপরে স্থির থাকলো।
16
তখন মাবুদ মূসাকে বললেন, দেখ, তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শায়িত হবে, আর এই লোকেরা উঠে যে দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, সেই দেশের বিজাতীয় দেবতাদের পিছনে চলে জেনা করবে এবং আমাকে ত্যাগ করবে ও তাদের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম ভঙ্গ করবে।
17 সেই সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে, আমি তাদেরকে ত্যাগ করবো ও তাদের থেকে আমার মুখ আচ্ছাদন করবো; আর তারা পরাভূত হবে এবং তাদের উপরে বহুবিধ অমঙ্গল ও সঙ্কট ঘটবে; সেই সময়ে তারা বলবে, আমাদের উপর এসব অমঙ্গল ঘটেছে, এর কারণ কি এ-ই নয়, যে আমাদের আল্লাহ্ আমাদের সঙ্গে নেই?
18 বাস্তবিক তারা অন্য দেবতাদের কাছে ফিরে যেসব অপকর্ম করবে, সেজন্য সেই সময়ে আমি অবশ্য তাদের থেকে আমার মুখ আচ্ছাদন করবো।
19 এখন তোমরা নিজেদের জন্য এই গজল লিপিবদ্ধ কর এবং তুমি বনি-ইসরাইলকে এই শিক্ষা দাও ও তাদেরকে মুখস্থ করাও; যেন এই গজল বনি-ইসরাইলদের বিরুদ্ধে আমার সাক্ষী হয়।
20 কেননা আমি যে দেশ দিতে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়েছি, সেই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশে তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার পর যখন তারা ভোজন করে তৃপ্ত ও হৃষ্টপুষ্ট হবে, তখন অন্য দেবতাদের কাছে ফিরবে এবং তাদের সেবা করবে, আমাকে অবজ্ঞা করবে ও আমার নিয়ম ভঙ্গ করবে।
21 আর যখন তাদের উপরে বহুবিধ অমঙ্গল ও সঙ্কট ঘটবে, সেই সময় এই গজল সাক্ষীস্বরূপ তাদের সম্মুখে সাক্ষ্য দেবে; কেননা তাদের বংশ মুখের এই গজল ভুলে যাবে না; বাস্তবিক আমি যে দেশের বিষয়ে কসম খেয়েছি, সেই দেশে তাদেরকে নিয়ে যাবার আগেই আমি জানি তাদের অন্তরে কি রয়েছে;
22 পরে মূসা সেই দিনে ঐ গজল লিপিবদ্ধ করে বনি-ইসরাইলদেরকে শিক্ষা দিলেন।
23
আর তিনি নূনের পুত্র ইউসাকে হুকুম দিয়ে বললেন, তুমি বলবান হও ও সাহস কর; কেননা আমি বনি-ইসরাইলদেরকে যে দেশ দিতে কসম খেয়েছি, সেই দেশে তুমি তাদেরকে নিয়ে যাবে এবং আমি তোমার সহবর্তী হবো।
24
আর মূসা সমাপ্তি পর্যন্ত এই শরীয়তের সমস্ত কথা কিতাবে লিখে নিলেন।
25 তারপর মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুকবাহী লেবীয়দেরকে এই হুকুম করলেন,
26 তোমরা এই তৌরাত কিতাব নিয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নিয়ম সিন্দুকের পাশে রাখ; এটি তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীর জন্য সেই স্থানে থাকবে।
27 কেননা তোমার বিরুদ্ধাচারিতা ও তোমার একগুঁয়েমী আমি জানি; দেখ, তোমাদের সঙ্গে আমি জীবিত থাকতেই আজ তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধাচারী হলে, তবে আমার ইন্তেকালের পরে কি না করবে?
28 তোমরা নিজ নিজ বংশের সমস্ত প্রাচীনবর্গকে ও কর্মকর্তাদেরকে আমার কাছে একত্র কর; আমি তাদের কর্ণগোচরে এসব কথা বলি এবং তাদের বিরুদ্ধে আসমান ও দুনিয়াকে সাক্ষী করি।
29 কেননা আমি জানি, আমার ইন্তেকালের পরে তোমরা একেবারে ভ্রষ্ট হয়ে পড়বে এবং আমার হুকুম করা পথ থেকে বিপথগামী হবে; আর উত্তরকালে তোমাদের অমঙ্গল ঘটবে, কারণ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা করে তোমরা নিজেদের হস্তকৃত কাজ দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করবে।
30
পরে মূসা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের সমস্ত সমাজের কর্ণগোচরে এই গজলের কথাগুলো বলতে লাগলেন।
1
হে আসমান, আমার কথায় কান দাও, আমি বলি;
দুনিয়া আমার মুখের কথা শুনুক।
2
আমার উপদেশ বৃষ্টির মত করে
পড়বে,
আমার কথা শিশিরের মত করে পড়বে,
ঘাসের উপরে পড়া বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির মত,
লতাগুল্মের উপরে পড়া পানির স্রোতের
মত।
3
কেননা আমি মাবুদের নাম তবলিগ
করবো;
তোমরা আমাদের আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা
কর।
4
তিনি শৈল, তাঁর কাজ সিদ্ধ,
কেননা তাঁর সমস্ত পথ ন্যায্য;
তিনি বিশ্বাস্য আল্লাহ্, তাঁতে অন্যায় নেই;
তিনিই ধর্মময় ও সরল।
5
এরা তাঁর সম্বন্ধে ভ্রষ্টাচারী,
তাঁর সন্তান নয়,
এই এদের কলঙ্ক;
এরা বিপথগামী ও কুটিল বংশ।
6
তোমরা কি মাবুদকে এই প্রতিশোধ দিচ্ছ?
হে মূঢ় ও অজ্ঞান জাতি,
তিনি কি তোমার পিতা নন,
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করলেন।
তিনিই তোমার নির্মাতা ও স্থিতিকর্তা।
7
পুরাকালের দিনগুলোর কথা স্মরণ কর,
বহুপুরুষের সমস্ত বছর আলোচনা কর;
তোমার পিতাকে জিজ্ঞাসা কর,
সে জানাবে;
তোমার প্রাচীনদেরকে জিজ্ঞাসা কর,
তারা বলবে।
8
সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ যখন জাতিদেরকে
অধিকার দিলেন,
যখন মানবজাতিকে পৃথক করলেন,
তখন বনি-ইসরাইলদের সংখ্যানুসারেই সেই লোকবৃন্দের সীমা নির্ধারণ করলেন।
9
কেননা মাবুদের লোকই তাঁর উত্তরাধিকার;
ইয়াকুবই তাঁর উত্তরাধিকার।
10
তিনি তাকে পেলেন মরুভূমির দেশে,
যেখানে পশুরা গর্জন করে সেই ঘোর
মরুভূমিতে;
তিনি তাকে বেষ্টন করলেন,
তার তত্ত্ব নিলেন,
নয়ন-তারার মত তাকে রক্ষা করলেন।
11
ঈগল যেমন তার বাসা জাগিয়ে তোলে,
তার বাচ্চাগুলোর উপরে পাখা দোলায়,
মাখা মেলে তাদেরকে তোলে,
পালকের উপরে তাদের বহন করে;
12
সেভাবে মাবুদ একাকী তাকে নিয়ে
গেলেন;
তাঁর সঙ্গে কোন বিজাতীয় দেবতা
ছিল না।
13
তিনি দুনিয়ার উচ্চস্থলীগুলোর উপর দিয়ে
তাকে আরোহণ করালেন,
সে ক্ষেতের শস্য ভোজন করলো;
তিনি তাকে পাষাণ থেকে মধু পান
করালেন,
চক্মকি প্রস্তরময় শৈল থেকে তেল
দিলেন;
14
তিনি গরুর দুধের মাখন, ভেড়ীর দুধ,
ভেড়ার বাচ্চার চর্বি সহ,
বাশন দেশজাত ভেড়া ও ছাগল এবং
উত্তম গমের সার তাকে দিলেন;
তুমি আঙ্গুরের নির্যাস আঙ্গুর-রস পান
করলে।
15
কিন্তু যিশুরূণ হৃষ্টপুষ্ট হয়ে পদাঘাত
করলো।
তুমি হৃষ্টপুষ্ট, স্থূল ও তৃপ্ত হলে;
অমনি সে তার নির্মাতা আল্লাহ্কে ত্যাগ
করলো,
তার উদ্ধারের শৈলকে লঘু জ্ঞান করলো।
16
তারা বিজাতীয় দেবতাদের দ্বারা তাঁর
অন্তর্জ্বালা জন্মালো,
ঘৃণার বস্তু দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলো।
17
তারা কোরবানী করলো ভূতদের উদ্দেশে,
যারা আল্লাহ্ নয়,
দেবতাদের উদ্দেশে, যাদেরকে তারা
জানত না,
নতুন, নবজাত দেবতাদের উদ্দেশে,
যাদেরকে তোমাদের পিতৃগণ ভয়
করতো না।
18
তুমি তোমার জন্মদাতা শৈলের প্রতি
উদাসীন,
তোমার জনক আল্লাহ্কে ভুলে গেলে।
19
মাবুদ দেখলেন, ঘৃণা করলেন
নিজের পুত্রকন্যাদের কৃত অসন্তোষজনক
কাজের জন্য।
20
তিনি বললেন, আমি ওদের থেকে আমার
মুখ আচ্ছাদন করবো;
ওদের শেষদশা কি হবে, দেখবো;
কেননা ওরা বিপরীতাচারী বংশ,
ওরা অবিশ্বস্ত সন্তান।
21
যারা আল্লাহ্ নয় এমন দেবতার দ্বারা ওরা
আমার অন্তর্জ্বালা জন্মালো,
নিজ নিজ অসার বস্তু দ্বারা আমাকে
অসন্তুষ্ট করলো;
আমিও ন-জাতি দ্বারা ওদের অন্তর্জ্বালা
জন্মাবো,
মূঢ় জাতি দ্বারা ওদেরকে অসন্তুষ্ট করবো।
22
কেননা আমার ক্রোধে আগুন প্রজ্বলিত
হল,
তা নিচস্থ পাতাল পর্যন্ত দগ্ধ করে,
দুনিয়া ও তাতে উৎপন্ন বস্তু গ্রাস করে,
পর্বতগুলোর মূলে আগুন লাগায়।
23
আমি তাদের উপরে অমঙ্গল রাশি
করবো,
তাদের প্রতি আমার সমস্ত তীর ছুড়বো।
24 তারা ক্ষুধায় ক্ষীণ হবে,
জ্বলন্ত অঙ্গারে ও উগ্র সংহারে আক্রান্ত
হবে;
আমি তাদের কাছে জন্তুদের দাঁত
পাঠাবো,
ধূলির উপরে বুকে ভর করে চলা সাপের
বিষ সহকারে।
25
বাইরে তলোয়ার, গৃহমধ্যে মহাভয় বিনাশ
করবে;
যুবক ও কুমারীকে, দুগ্ধপোষ্য শিশু ও
শুক্লকেশ বৃদ্ধকে মারবে।
26
আমি বললাম, তাদেরকে উড়িয়ে দেব,
মানবজাতি মধ্য থেকে তাদের স্মৃতি মুছে
ফেলবো।
27
কিন্তু ভয় করি, পাছে দুশমন বিরক্ত করে,
পাছে তাদের দুশমনদের বিপরীত বিচার
করে,
পাছে তারা বলে, আমাদেরই হাত উন্নত,
এসব কাজ মাবুদ করেন নি।
28
কেননা ওরা যুক্তিবিহীন জাতি,
ওদের মধ্যে বিবেচনা নেই।
29
আহা, কেন তারা জ্ঞানবান হয়ে এই কথা
বোঝে না?
কেন নিজেদের শেষ দশা বিবেচনা করে
না?
30
এক জন কিভাবে হাজার লোককে
তাড়িয়ে দেয়,
দু’জনকে দেখে দশ হাজার পালিয়ে যায়?
না, তাদের শৈল তাদেরকে বিক্রি
করলেন,
মাবুদ তাদেরকে তুলে দিলেন।
31
কেননা ওদের শৈল আমাদের শৈলের
মত নয়,
আমাদের দুশমনরাও এরকম বিচার করে।
32
কারণ তাদের আঙ্গুরলতা সাদুমের
আঙ্গুরলতা থেকে উৎপন্ন;
আমুরার ক্ষেতের আঙ্গুরলতা থেকে
উৎপন্ন;
তাদের আঙ্গুর ফল বিষময়,
তাদের গুচ্ছ তিক্ত;
33
তাদের আঙ্গুর-রস সাপের বিষ,
তা কালসাপের ভয়ংকর বিষ।
34
এই কি আমার কাছে সঞ্চিত নয়?
আমার ধনাগারে মুদ্রাঙ্ক দ্বারা রক্ষিত নয়?
35
প্রতিশোধ ও প্রতিফলদান আমারই কাজ,
যে সময়ে তাদের পা পিছলে যাবে;
কেননা তাদের বিপদের দিন নিকটবর্তী,
তাদের জন্য যা যা নিরূপিত,
শীঘ্রই আসবে।
36
কারণ মাবুদ তাঁর লোকদের বিচার
করবেন,
তাঁর গোলামদের উপরে সদয় হবেন;
যেহেতু তিনি দেখবেন,
তাদের শক্তি গেছে,
গোলাম বা স্বাধীন মানুষ— কেউই নেই।
37
তিনি বলবেন, কোথায় তাদের দেবতারা,
কোথায় সেই শৈল, যার আশ্রয় নিয়েছিল,
38
যা তাদের কোরবানীর চর্বি ভোজন
করতো,
তাদের পেয় উৎসর্গের আঙ্গুর-রস পান
করতো?
তারাই উঠে তোমাদের সাহায্য করুক,
তারাই তোমাদের আশ্রয় হোক।
39
এখন দেখ, আমি, আমিই তিনি;
আমি ছাড়া আর কোন আল্লাহ্ নেই;
আমি হত্যা করি, আমিই সজীব করি;
আমি আঘাত করেছি, আমিই সুস্থ করি;
আমার হাত থেকে উদ্ধারকারী কেউই
নেই।
40
কেননা আমি আসমানের দিকে হাত
উঠাই,
আর বলি, আমি অনন্তজীবী,
41
আমি যদি আমার তলোয়ার বজ্রে শাণ
দিই,
যদি বিচারসাধনে হস্তক্ষেপ করি,
তবে আমার বিপক্ষদের প্রতিশোধ নেব,
আমার বিদ্বেষীদেরকে প্রতিফল দেব।
42
আমি নিজের সমস্ত তীর মাতাল করবো
রক্তপানে,
নিহত ও বন্দী লোকদের রক্তপানে;
আমার তলোয়ার গোশ্ত খাবে,
শত্রু-সেনাদের মাথা খাবে।
43
হে সমস্ত জাতি, তাঁর লোকদের সঙ্গে
আনন্দ-চিৎকার কর;
কেননা তিনি তাঁর গোলামদের রক্তের
প্রতিফল দেবেন,
তাঁর বিপক্ষদের প্রতিশোধ নেবেন, তাঁর
দেশের জন্য,
তাঁর লোকদের জন্য কাফ্ফারা দেবেন।
44
আর মূসা ও নূনের পুত্র ইউসা এসে লোকদের কর্ণগোচরে এই গজলের সমস্ত কথা বললেন।
45 মূসা সমস্ত ইসরাইলের কাছে এসব কথা বল সমাপ্ত করলেন;
46 আর তাদেরকে বললেন, আমি আজ তোমাদের কাছে সাক্ষ্যরূপে যা যা বললাম, তোমরা সেসব কথায় মনোযোগ দাও, আর তোমাদের সন্তানরা যেন এই শরীয়তের সমস্ত কথা পালন করতে যত্নবান হয়, এজন্য তাদেরকে তা হুকুম করতে হবে।
47 বস্তুত এটি তোমাদের পক্ষে নিরর্থক কালাম নয়, কেননা এটিই তোমাদের জীবন এবং তোমরা যে দেশ অধিকার করতে জর্ডান পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে এই কালাম দ্বারা দীর্ঘায়ু হবে।
48
সেই দিনে মাবুদ মূসাকে বললেন, তুমি এই অবারীম পর্বতে,
49 অর্থাৎ জেরিকোর সম্মুখে অবস্থিত মোয়াব দেশস্থ নবো পর্বতে উঠ এবং আমি অধিকার হিসেবে বনি-ইসরাইলকে যে দেশ দিচ্ছি সেই কেনান দেশ দর্শন কর।
50 আর তোমার ভাই হারুন যেমন হোর পর্বতে ইন্তেকাল করেছে এবং নিজের লোকদের কাছে সংগৃহীত হয়েছে তেমনি তুমিও যে পর্বতে উঠবে তোমাকে সেখানে ইন্তেকাল করে নিজের লোকদের কাছে সংগৃহীত হতে হবে।
51 কেননা সীন মরুভূমিতে কাদেশস্থ মরীবা পানির কাছে তোমরা বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন করেছিলে, ফলত বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমাকে পবিত্র বলে মান্য কর নি।
52 তুমি তোমার সম্মুখে দেশ দেখবে, কিন্তু আমি বনি-ইসরাইলকে যে দেশ দিচ্ছি, সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
1
আর আল্লাহ্র লোক মূসা মৃত্যুর আগে বনি-ইসরাইলকে যে দোয়া করলেন তা এই:
2 তিনি বললেন,
মাবুদ সিনাই থেকে আসলেন,
সেয়ীর থেকে তাদের প্রতি উদিত হলেন;
পারণ পর্বত থেকে তাঁর তেজ প্রকাশ
করলেন,
অযুত অযুত পবিত্র লোকদের কাছ থেকে
আসলেন;
তাদের জন্য তাঁর ডান হাতে অগ্নিময়
শরীয়ত ছিল।
3
নিশ্চয় তিনি গোষ্ঠীদেরকে মহব্বত করেন,
তাঁর পবিত্রগণ সকলে তোমার হস্তগত;
তারা তোমার চরণতলে বসলো,
প্রত্যেকে তোমার কালাম গ্রহণ করলো।
4
মূসা আমাদেরকে শরীয়ত হুকুম করলেন।
তা ইয়াকুবের সমাজের অধিকার।
5
যখন নেতৃবর্গ সমাগত হল,
ইসরাইলের সমস্ত বংশ একত্র হল,
তখন যিশুরূণে এক জন বাদশাহ্ ছিলেন।
6 রূবেণ বেঁচে থাকুক, তার মৃত্যু না হোক,
তবুও তার লোক অল্পসংখ্যক হোক।
7
আর এহুদার বিষয়ে তিনি বললেন,
হে মাবুদ, এহুদার কান্না শুন,
তার লোকদের কাছে তাকে আন;
সে স্বহস্তে তার পক্ষে যুদ্ধ করলো,
তুমি দুশমনদের বিরুদ্ধে তার সাহায্যকারী
হবে।
8
আর লেবির বিষয়ে তিনি বললেন,
তোমার সেই ভক্তের সঙ্গে তোমার তুম্মীম
ও ঊরীম রয়েছে;
যার পরীক্ষা তুমি মঃসাতে করলে,
যার সঙ্গে মরীবার পানির কাছে ঝগড়া
করলে।
9
সে তার পিতার ও তার মাতার বিষয়ে
বললো,
আমি তাকে দেখি নি;
সে তার ভাইদেরকে স্বীকার করলো না,
তার সন্তানদেরকেও চিনলো না;
কেননা তারা তোমার কালাম রক্ষা
করেছে,
এবং তোমার নিয়ম পালন করে।
10
তারা ইয়াকুবকে তোমার অনুশাসন, ইসরাইলকে তোমার শরীয়ত শিক্ষা দেবে;
তারা তোমার সম্মুখে ধূপ রাখবে।
তোমার কোরবানগাহ্র উপরে পূর্ণাহুতি
রাখবে।
11
মাবুদ, তার সম্পত্তিতে দোয়া কর,
তার হাতের কাজ গ্রাহ্য কর;
তাদের কোমরে আঘাত কর,
যারা তার বিরুদ্ধে উঠে,
যারা তাকে হিংসা করে,
যেন তারা আর উঠতে না পারে।
12 বিন্ইয়ামীনের বিষয়ে তিনি বললেন,
মাবুদের প্রিয় জন তাঁর কাছে নির্ভয়ে বাস
করবে;
তিনি সমস্ত দিন তাকে আচ্ছাদন করেন,
সে তাঁর সন্নিকটে বাস করে।
13
আর ইউসুফের বিষয়ে তিনি বললেন,
তার দেশ মাবুদের দোয়াযুক্ত হোক,
আসমানের উত্তম উত্তম দ্রব্য ও শিশির
দ্বারা,
অধোবিস্তীর্ণ জলধি দ্বারা,
14
সূর্যের রশ্মিতে পাকা ফলের উত্তম উত্তম
দ্রব্য দ্বারা,
চান্দ্র মাসের পালায় পাকা উত্তম উত্তম
দ্রব্য দ্বারা,
15
পুরানো পর্বতমালার প্রধান প্রধান দ্রব্য
দ্বারা,
চিরন্তন পাহাড়গুলোর উত্তম উত্তম দ্রব্য
দ্বারা,
16
দুনিয়ার উত্তম উত্তম দ্রব্য ও তৎপূর্ণতা
দ্বারা;
আর যিনি ঝোপবাসী, তাঁর সন্তোষ হোক;
সেই দোয়া অর্পিত হোক ইউসুফের
মাথায়;
ভাইদের মধ্যে যে মহৎ তারই মাথার
তালুতে।
17
তার প্রথমজাত ষাঁড়ের শোভাযুক্ত,
তার শিংগুলো বন্য ষাঁড়ের শিং;
তা দ্বারা সে দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত
জাতিকে গুঁতাবে;
সেই শিংগুলো হল আফরাহীমের অযুত
অযুত লোক,
মানশার হাজার হাজার লোক।
18
আর সবূলূনের বিষয়ে তিনি বললেন,
সবূলূন! তুমি তোমার যাত্রাতে আনন্দ
কর,
ইষাখর! তুমি তোমার তাঁবুতে আনন্দ
কর।
19
এরা গোষ্ঠীগুলোকে পর্বতে আহ্বান
করবে;
সেই স্থানে ধার্মিকতার কোরবানী করবে,
কেননা এরা সমুদ্রের বহুল দ্রব্য,
এবং বালুকণার সমস্ত গুপ্ত ধন শোষণ
করবে।
20
আর গাদের বিষয়ে তিনি বললেন,
গাদের বিস্তার দোয়াযুক্ত হোক;
সে সিংহীর মত বসতি করে,
21
সে নিজের জন্য অগ্রিমাংশ নিরীক্ষণ
করলো;
কারণ সেখানে অধিপতির অধিকার রক্ষিত
হল;
আর সে লোকদের নেতৃবর্গের সঙ্গে
আসলো;
মাবুদের ধার্মিকতা সিদ্ধ করলো,
ইসরাইল সম্বন্ধে তাঁর অনুশাসন সিদ্ধ
করলো।
22
আর দানের বিষয়ে তিনি বললেন,
দান সিংহের বাচ্চা, যে বাশন থেকে লাফ
দেয়।
23
আর নপ্তালির বিষয়ে তিনি বললেন,
নপ্তালি! তুমি তাঁর সন্তোষে তৃপ্ত,
আর মাবুদের দোয়ায় পরিপূর্ণ;
তুমি সমুদ্র ও দক্ষিণ অধিকার কর।
24
আর আশেরের বিষয়ে তিনি বললেন,
পুত্রদের দ্বারা আশের দোয়াযুক্ত হোক,
সে তার ভাইদের কাছে অনুগ্রহের পাত্র
হোক,
তার পা তেলে ডুবে থাকুক।
25
তোমার অর্গল লোহা ও ব্রোঞ্জের হবে,
তোমার যেমন দিন, তেমনি শক্তি হবে।
26
হে যিশুরূণ, আল্লাহ্র মত আর কেউ
নেই;
তিনি তোমার সাহায্যের জন্য আকাশরথে,
নিজের গৌরবে আসমান-পথে যাতায়াত
করেন।
27
অনাদি আল্লাহ্ তোমার বাসস্থান,
নিম্নে তাঁর অনন্তস্থায়ী বাহুযুগল;
তিনি তোমার সম্মুখ থেকে দুশমনকে দূর
করলেন,
আর বললেন, বিনাশ কর।
28
তাই ইসরাইল নির্ভয়ে বাস করে,
ইয়াকুবের উৎস একাকী থাকে,
শস্য ও আঙ্গুর-রসের দেশে বাস করে;
আর তার আসমান হতেও শিশির ঝরে
পড়ে।
29
হে ইসরাইল! সুখী তুমি, তোমার মত কে
আছে?
তুমি মাবুদ কর্তৃক উদ্ধার পাওয়া জাতি,
তিনি তোমার সাহায্যের ঢাল,
তোমার ঔৎকর্ষের তলোয়ার।
তোমার দুশমনেরা তোমার কর্তৃত্ব স্বীকার
করবে,
আর তুমিই তাদের সমস্ত উচ্চস্থলী দলন
করবে।
1
পরে মূসা মোয়াবের উপত্যকা থেকে নবো পর্বতে, জেরিকোর সম্মুখস্থিত পিস্গা-শৃঙ্গে উঠলেন। আর মাবুদ তাঁকে সমস্ত দেশ, দান পর্যন্ত গিলিয়দ,
2 এবং সমস্ত নপ্তালি, আর আফরাহীম ও মানশার দেশ এবং পশ্চিম সমুদ্র পর্যন্ত এহুদার সমস্ত দেশ,
3 এবং দক্ষিণ দেশ ও সোয়র পর্যন্ত খেজুর-নগর জেরিকোর উপত্যকার অঞ্চল দেখালেন।
4 আর মাবুদ তাঁকে বললেন, আমি যে দেশের বিষয়ে শপথ করে ইব্রাহিমকে, ইস্হাককে ও ইয়াকুবকে বলেছিলাম, আমি তোমার বংশকে সেই দেশ দেব, এ-ই সেই দেশ; আমি সেটি তোমাকে চাক্ষুষ দেখালাম, কিন্তু তুমি পার হয়ে ঐ স্থানে যাবে না।
5 তখন মাবুদের গোলাম মূসা মাবুদের কথা অনুসারে সেই স্থানে মোয়াব দেশে ইন্তেকাল করলেন।
6 আর মাবুদ মোয়াব দেশে বৈৎ-পিয়োরের সম্মুখস্থ উপত্যকাতে তাঁকে কবর দিলেন; কিন্তু তাঁর কবরস্থান কোথায় আজও কেউ জানে না।
7 মৃত্যুর সময়ে মূসার বয়স একশত বিশ বছর হয়েছিল। তাঁর চোখ ক্ষীণ হয় নি ও তাঁর তেজও হ্রাস পায় নি।
8 পরে বনি-ইসরাইল মূসার জন্য মোয়াবের উপত্যকায় ত্রিশ দিন কান্নাকাটি করলো; এভাবে মূসার শোক-প্রকাশের দিন সমপূর্ণ হল।
9
আর নূনের পুত্র ইউসা বিজ্ঞতার রূহে পরিপূর্ণ ছিলেন, কারণ মূসা তাঁর উপরে হস্তার্পণ করেছিলেন; আর বনি-ইসরাইল তাঁর কথায় মনোযোগ করে মূসার প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করতে লাগল।
10
মূসার মত কোন নবী ইসরাইলের মধ্যে আর উৎপন্ন হয় নি; মাবুদ তাঁর সঙ্গে মুখো-মুখি হয়ে আলাপ করতেন।
11 বস্তুত মাবুদ তাঁকে পাঠালে তিনি মিসর দেশে, ফেরাউনের, তাঁর সমস্ত গোলামের ও তাঁর সমস্ত দেশের প্রতি সমস্ত রকম চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখালেন!
12 এবং সমস্ত ইসরাইলের দৃষ্টিতে মূসা পরাক্রমশালী ও ভয়ঙ্করতার কত না কাজ করেছিলেন!
1
মাবুদের গোলাম মূসার মৃত্যুর পর মাবুদ নূনের পুত্র ইউসা নামে মূসার পরিচারককে বললেন,
2 আমার গোলাম মূসার মৃত্যু হয়েছে; এখন উঠ, তুমি এ সব লোক নিয়ে এই জর্ডান নদী পার হও এবং তাদের অর্থাৎ বনি-ইসরাইলদের আমি যে দেশ দিচ্ছি, সেই দেশে যাত্রা কর।
3 যেসব স্থানে তোমরা পদার্পণ করবে, আমি মূসাকে যেমন বলেছিলাম, সেই অনুসারে সেসব স্থান তোমাদের দিয়েছি।
4 মরুভূমি ও এই লেবানন থেকে মহানদী, ফোরাত নদী পর্যন্ত হিট্টিয়দের সমস্ত দেশ এবং সূর্যের অস্তগমনের দিকে মহাসমুদ্র পর্যন্ত তোমাদের সীমা হবে।
5 তোমার সমস্ত জীবনকালে কেউ তোমার সম্মুখে দাঁড়াতে পারবে না; আমি যেমন মূসার সহবর্তী ছিলাম, তেমনি তোমার সহবর্তী থাকব; আমি তোমাকে ছাড়ব না ও তোমাকে ত্যাগ করবো না।
6 বলবান হও ও সাহস কর; কেননা যে দেশ দিতে এদের পূর্বপুরুষদের কাছে আমি শপথ করেছি তা তুমি এই লোকদেরকে অধিকার করাবে।
7 তুমি কেবল বলবান হও ও অতিশয় সাহস কর; আমার গোলাম মূসা তোমাকে যে শরীয়ত হুকুম করেছে, তুমি সেসব শরীয়ত যত্নপূর্বক পালন কর; তা থেকে ডানে বা বামে ফিরবে না; যেন তুমি যে কোন স্থানে যাও, সেই স্থানে বুদ্ধিপূর্বক চলতে পার।
8 তোমার মুখ থেকে এই শরীয়ত কিতাব বিচ্যুত না হোক; তার মধ্যে যা যা লেখা আছে, যত্নপূর্বক সেসব অনুযায়ী কাজ করার জন্য তুমি দিনরাত তা ধ্যান কর; কেননা তা করলে তোমার উন্নতি হবে ও তুমি বুদ্ধিপূর্বক চলবে।
9 আমি কি তোমাকে হুকুম দিই নি? তুমি বলবান হও ও সাহস কর, ভয় কোরো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না; কেননা তুমি যে কোন স্থানে যাও, সেই স্থানে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার সহবর্তী।
10
তখন ইউসা লোকদের নেতৃবর্গকে হুকুম করলেন,
11 তোমরা শিবিরের মধ্য দিয়ে যাও, লোকদের এই কথা বল, তোমরা তোমাদের জন্য পাথেয় সামগ্রী প্রস্তুত কর; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ অধিকার হিসেবে তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করার জন্য তিন দিনের মধ্যে তোমাদের এই জর্ডান পার হয়ে যেতে হবে।
12
পরে ইউসা রূবেণীয়দের, গাদীয়দের ও মানশার অর্ধেক বংশকে বললেন,
13 মাবুদের গোলাম মূসা তোমাদের যে হুকুম দিয়েছিলেন, তা স্মরণ কর; তিনি বলেছিলেন, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের বিশ্রাম দিচ্ছেন, আর এই দেশ তোমাদের দেবেন।
14 মূসা জর্ডানের পূর্বপারে তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন, তোমাদের স্ত্রী, পুত্র কন্যা ও সমস্ত পশু সেই দেশে থাকবে; কিন্তু তোমরা, সমস্ত বলবান বীর, যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তোমাদের ভাইদের অগ্রবর্তী হিসেবে পার হয়ে যাবে ও তাদের সাহায্য করবে।
15 পরে যখন মাবুদ তোমাদের মত তোমাদের ভাইদেরকে বিশ্রাম দেবেন, অর্থাৎ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাদের যে দেশ দিচ্ছেন, তারাও যখন সেই দেশ অধিকার করবে, তখন তোমরা জর্ডানের পূর্বপারে সূর্যোদয়ের দিকে মাবুদের গোলাম মূসার দেওয়া তোমাদের অধিকারে ফিরে এসে তা ভোগ করবে।
16
তারা ইউসাকে জবাবে বললো, আপনি আমাদের যা যা হুকুম করেছেন, সেসব আমরা পালন করবো; আপনি আমাদের যে কোন স্থানে পাঠাবেন সেখানে আমরা যাব।
17 আমরা সমস্ত বিষয়ে যেমন মূসার কথা মেনে চলতাম, তেমনি আপনার কথা মেনে চলবো; কেবল আপনার আল্লাহ্ মাবুদ যেমন মূসার সহবর্তী ছিলেন, তেমনি আপনারও সহবর্তী হোন।
18 যে কেউ আপনার হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং আপনার নির্দেশিত সমস্ত কথা না শুনবে, তার প্রাণদণ্ড হবে; আপনি কেবল বলবান হোন ও সাহস করুন।
1
আর নূনের পুত্র ইউসা শিটীম থেকে দু’জন গোয়েন্দাকে গোপনে এই কথা বলে পাঠিয়ে দিলেন, তোমরা যাও, ঐ দেশ ও জেরিকো নগর নিরীক্ষণ কর। তখন তারা গিয়ে রাহব নাম্নী এক জন পতিতার বাড়িতে প্রবেশ করে সেই স্থানে রাত্রি যাপন করলো।
2 আর লোকেরা জেরিকোর বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, দেশ অনুসন্ধান করতে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে কয়েকজন লোক আজ রাতে এই স্থানে এসেছে।
3 তখন জেরিকোর বাদশাহ্ রাহবের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, যে লোকেরা তোমার কাছে এসে তোমার বাড়িতে প্রবেশ করেছে, তাদের বের করে আন, কেননা তারা সমস্ত দেশ অনুসন্ধান করতে এসেছে।
4 তখন সেই স্ত্রীলোকটি ঐ দু’জনকে নিয়ে লুকিয়ে রাখল, আর বললো, সত্যি, সেই লোকেরা আমার কাছে এসেছিল বটে; কিন্তু তারা কোথাকার লোক তা আমি জানতাম না।
5 অন্ধকার হলে নগর-দ্বার বন্ধ করার একটু আগে সেই লোকেরা চলে গেছে; তারা কোথায় গেছে, আমি জানি না; শীঘ্র তাদের পিছনে পিছনে যান, গেলে তাদের ধরতে পারবেন।
6 কিন্তু স্ত্রীলোকটি তাদের ছাদের উপরে নিয়ে গিয়ে সেখানে তার মেলে দেওয়া মসিনার ডাঁটার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল।
7 ঐ লোকেরা তাদের পিছনে জর্ডানের পথে পারঘাটা পর্যন্ত দৌড়ে গেল। সেই লোকেরা তাদের পিছনে দৌড়ে গেল এবং তারা বের হওয়া মাত্র নগর-দ্বার বন্ধ হয়ে গেল।
8
সেই দু’জন গোয়েন্দা শয়ন করার আগে ঐ স্ত্রীলোকটি ছাদের উপরে তাদের কাছে এল,
9 আর তাদের বললো, আমি জানি, মাবুদ তোমাদের এই দেশ দিয়েছেন, আর তোমাদের কাছ থেকে আমাদের উপরে মহাভয় উপস্থিত হয়েছে ও তোমাদের সম্মুখে এই দেশবাসী সমস্ত লোক মহা ভয়ে ভীত হয়েছে।
10 কেননা মিসর থেকে তোমরা বের হয়ে আসলে মাবুদ তোমাদের সম্মুখে কিভাবে লোহিত সাগরের পানি শুকিয়ে ফেলেছিলেন এবং তোমরা জর্ডানের ওপারস্থ সীহোন ও উজ নামে আমোরীয়দের দুই বাদশাহ্র প্রতি যা করেছ, তাদের যে নিঃশেষে বিনষ্ট করেছ, তা আমরা শুনেছি;
11 আর এসব কথা শুনে আমাদের অন্তর ভয়ে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে; তোমাদের কারণে কারো মনে সাহস নেই, কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ উপরিস্থ বেহেশতের ও নিচস্থ দুনিয়ার আল্লাহ্।
12 অতএব এখন, আরজ করি, তোমরা আমার কাছে মাবুদের নামে শপথ কর; আমি তোমাদের উপরে রহম করলাম, এজন্য তোমরাও আমার পিতৃ-কুলের উপরে রহম করবে। তোমরা আমাকে এমন একটি চিহ্ন দাও যাতে আমি বিশ্বাস করতে পারি যে,
13 তোমরা আমার পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও তাদের সমস্ত পরিজনকে বাঁচাবে ও মৃত্যু থেকে আমাদের প্রাণ উদ্ধার করবে।
14 সেই দু’জন তাকে বললো, তোমাদের পরিবর্তে আমাদের প্রাণ যাক! তোমরা যদি আমাদের এই কাজ প্রকাশ না কর তবে যে সময় মাবুদ আমাদের এই দেশ দেবেন, সেই সময় আমরা তোমার প্রতি রহম ও বিশ্বস্ত ব্যবহার করবো।
15
পরে সে জানালা দিয়ে দড়ির সাহায্যে তাদের নামিয়ে দিল, কেননা তার বাড়ি নগর প্রাচীরের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সে প্রাচীরের উপরে বাস করতো।
16 আর সে তাদের বললো, যারা পিছনে দৌড়ে গেছে তারা যেন তোমাদের সন্ধান না পায় সেজন্য তোমরা পর্বতে যাও। তোমরা তিন দিন সেই স্থানে লুকিয়ে থাক, তারপর যারা পিছনে দৌড়ে গেছে তারা ফিরে আসলে পর তোমরা তোমাদের পথে চলে যেও।
17 সেই লোকেরা জবাবে বললো, তুমি আমাদের যে শপথ করিয়েছ, সেই বিষয়ে আমরা নির্দোষ হবো।
18 দেখ, তুমি যে জানালা দিয়ে আমাদের নামিয়ে দিলে, আমাদের এই দেশে আসার সময়ে সেই জানালায় এই লাল রংয়ের সুতায় তৈরি দড়ি বেঁধে রাখবে এবং তোমার পিতা-মাতা ও ভাইয়েরা আর তোমার সমস্ত পিতৃকুলকে তোমার বাড়িতে একত্র করবে।
19 তখন এরকম হবে, যে কেউ তোমার বাড়ি থেকে বের হয়ে পথে যাবে তার রক্তপাতের অপরাধ তার মাথায় বর্তাবে এবং আমরা নির্দোষ হব; কিন্তু যে কেউ তোমার সঙ্গে বাড়ির মধ্যে থাকে তার উপরে যদি কেউ হাত তোলে, তবে তার রক্তপাতের অপরাধ আমাদের মাথায় বর্তাবে।
20 কিন্তু তুমি যদি আমাদের এই কাজ প্রকাশ কর, তবে তুমি আমাদের দিয়ে যে শপথ করিয়েছ তা থেকে আমরা নির্দোষ হবো।
21 তখন সে বললো, তোমরা যেমন বললে তেমনি হোক। পরে সে তাদের বিদায় করলে তারা প্রস্থান করলো এবং সে ঐ লাল রংয়ের দড়ি জানালায় বেঁধে রাখল।
22
আর তারা গিয়ে পর্বতে উপস্থিত হল এবং যারা তাদের পিছনে দৌড়ে গিয়েছিল তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত তিন দিন সেখানে রইলো; তাতে যারা পিছনে দৌড়ে গিয়েছিল, তারা সমস্ত পথে সন্ধান করেও তাদের উদ্দেশ পেল না।
23
পরে ঐ দুই ব্যক্তি ফিরে পর্বত থেকে নেমে এসে জর্ডান নদী পার হয়ে নূনের পুত্র ইউসার কাছে আসল এবং তাদের প্রতি যা যা ঘটেছিল, তার সমস্ত বৃত্তান্ত তাঁকে বললো।
24 তারা ইউসাকে বললো, সত্যিই মাবুদ এ সব দেশ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন; এছাড়া, দেশের সমস্ত লোক আমাদের সম্মুখে মহা ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে।
1
পরে ইউসা প্রত্যুষে উঠে সমস্ত বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে শিটীম থেকে যাত্রা করে জর্ডান সমীপে উপস্থিত হলেন, কিন্তু তখন পার না হয়ে সেই স্থানে রাত্রি যাপন করলেন।
2 তিন দিন পর নেতৃবর্গ শিবিরের মধ্য দিয়ে গেলেন;
3 তাঁরা লোকদের এই হুকুম করলেন; তোমরা যে সময়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক লেবীয় ইমামদের বহন করতে দেখবে, তখন নিজ নিজ স্থান থেকে যাত্রা করে তার পিছনে পিছনে গমন করবে।
4 তবুও শরীয়ত-সিন্দুক ও তোমাদের মধ্যে অনুমান দুই হাজার হাত দূরত্ব বজায় থাকবে, তার আর কাছে যাবে না; যেন তোমরা তোমাদের গন্তব্য পথ জানতে পার, কেননা ইতোপূর্বে তোমরা এই পথ দিয়ে যাও নি।
5 পরে ইউসা লোকদের বললেন, তোমরা নিজেদের পবিত্র কর, কেননা আগামীকাল মাবুদ তোমাদের মধ্যে অলৌকিক কাজ করবেন।
6 পরে ইউসা ইমামদের বললেন, তোমরা শরীয়ত-সিন্দুক তুলে নিয়ে লোকদের আগে আগে চল; তাতে তারা শরীয়ত-সিন্দুক তুলে নিয়ে লোকদের আগে আগে চলতে লাগল।
7
তখন মাবুদ ইউসাকে বললেন, আজ আমি সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে তোমাকে মহিমান্বিত করতে আরম্ভ করবো, যেন তারা জানতে পারে যে, আমি যেমন মূসার সহবর্তী ছিলাম, তেমনি তোমার সহবর্তী থাকব।
8 তুমি নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী ইমামদের এই হুকুম দাও, জর্ডানের পানির ধারে উপস্থিত হলে তোমরা জর্ডানে দাঁড়িয়ে থাকবে।
9
তখন ইউসা বনি-ইসরাইলদের বললেন, তোমরা এখানে এসো, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কালাম শোন।
10 আর ইউসা বললেন, জীবন্ত আল্লাহ্ যে তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান এবং কেনানীয়, হিট্টিয়, হিব্বীয়, পরিষীয়, গির্গাশীয়, আমোরীয় ও যিবুষীয়দের তোমাদের সম্মুখ থেকে নিশ্চয়ই অধিকারচ্যুত করবেন, তা তোমরা এর মধ্য দিয়ে জানতে পারবে।
11 দেখ, সমস্ত ভূমণ্ডলের প্রভুর শরীয়ত-সিন্দুক তোমাদের আগে আগে জর্ডনে যাচ্ছে।
12 এখন তোমরা ইসরাইলের এক এক বংশ থেকে এক এক জন, এভাবে বারো বংশ থেকে বারো জনকে গ্রহণ কর।
13 পরে এরকম হবে, সমস্ত দুনিয়ার মালিক মাবুদের নিয়ম-সিন্দুক-বহনকারী ইমামেরা যেই জর্ডানের পানিতে পা দেবে অমনি জর্ডান নদীর পানি, অর্থাৎ উপর থেকে যে পানি বয়ে আসছে তা ছিন্ন হবে এবং একরাশি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
14
তখন লোকেরা জর্ডান নদী পার হবার জন্য নিজ নিজ তাঁবু থেকে যাত্রা করলো, আর শরীয়ত-সিন্দুক বহনকারী ইমামেরা লোকদের অগ্রবর্তী হল।
15 আর সিন্দুক-বহনকারীরা যখন জর্ডান সমীপে উপস্থিত হল এবং পানির ধারে সিন্দুক-বহনকারী ইমামদের পা পানি স্পর্শ করলো —বাস্তবিক ফসল কাটার সব সময় জর্ডানের পানি সমস্ত তীরের উপরে থাকে,
16 —তখন উপর থেকে আগত সমস্ত পানি দাঁড়িয়ে রইল, অতিদূরে সর্তনের নিকটবর্তী আদম নগরের কাছে এক রাশি হয়ে উঠে রইলো এবং অরাবা সমভূমির সমুদ্রে অর্থাৎ লবণ সমুদ্রে যে পানি নেমে যাচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ পৃথক হল; তাতে লোকেরা জেরিকোর সম্মুখেই পার হল।
17 আর যে পর্র্যন্ত সমস্ত লোক নিঃশেষে জর্ডান নদী পার না হল, সেই পর্র্যন্ত মাবুদের নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী ইমামেরা জর্ডান নদীর মধ্যে শুকনো ভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকলো; এবং সমস্ত ইসরাইল ক্রমশ শুকনো ভূমি দিয়ে পার হয়ে গেল।
1
এভাবে সমস্ত লোক সম্পূর্ণরূপে জর্ডান নদী পার হবার পর মাবুদ ইউসাকে বললেন,
2 তোমরা এক এক বংশের মধ্য থেকে এক এক জন, এভাবে মোট বারো জন লোককে গ্রহণ কর,
3 আর তাদের এই হুকুম দাও, তোমরা জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী ঐ স্থান থেকে, যে স্থানে ইমামেরা দাঁড়িয়ে ছিল, সেখান থেকে বারোটি পাথর গ্রহণ করে তোমাদের সঙ্গে পারে নিয়ে যাও, আজ যে স্থানে রাত্রি যাপন করবে সেগুলো সেই স্থানে রেখো।
4 তাতে ইউসা বনি-ইসরাইলদের প্রত্যেক বংশ থেকে এক এক জন করে যে বারো জনকে বেছে নিয়েছিলেন তাদের ডাকলেন;
5 আর ইউসা তাদের বললেন, তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সিন্দুকের সম্মুখে জর্ডান নদীর মধ্যে গিয়ে বনি-ইসরাইলদের বংশ-সংখ্যানুসারে প্রত্যেকজন এক একটি পাথর তুলে কাঁধে নাও;
6 যেন তা চিহ্নরূপে তোমাদের মধ্যে থাকতে পারে; ভাবী কালে যখন তোমাদের সন্তানেরা জিজ্ঞাসা করবে, এই পাথরগুলোর তাৎপর্য কি?
7 তখন তোমরা তাদের বলবে, মাবুদের নিয়ম-সিন্দুকের সম্মুখে জর্ডানের পানি পৃথক হয়েছিল, সিন্দুক যখন জর্ডান নদী পার হয়, সেই সময়ে জর্ডান নদীর পানি পৃথক হয়েছিল; তাই এই পাথরগুলো চিরকাল বনি-ইসরাইলদের স্মরণার্থে থাকবে।
8
আর বনি-ইসরাইলরা ইউসার হুকুম অনুসারে কাজ করলো, মাবুদ ইউসাকে যেমন বলেছিলেন, তেমনি বনি-ইসরাইলদের বংশ-সংখ্যা অনুসারে জর্ডান নদীর মধ্য থেকে বারোটি পাথর তুলে নিল; এবং তাদের সঙ্গে পরে রাত্রি যাপনের স্থানে নিয়ে গিয়ে সেখানে রাখল।
9 আর যে স্থানে নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী ইমামদের দাঁড়িয়ে ছিল জর্ডান নদীর সেই স্থানেও ইউসা বারোখানি পাথর স্থাপন করলেন; সেসব আজও সেই স্থানে আছে।
10
ইউসার প্রতি মূসার হুকুম অনুযায়ী যে সমস্ত কথা লোকদের বলবার হুকুম মাবুদ ইউসাকে দিয়েছিলেন, তা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সিন্দুক-বাহক ইমামেরা জর্ডান নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলো এবং লোকেরা তাড়াতাড়ি পার হয়ে গেল।
11 এভাবে সমস্ত লোক সম্পূর্ণরূপে পার হবার পর মাবুদের সিন্দুক ও ইমামেরা লোকদের সাক্ষাতে পার হয়ে গেল।
12 আর রূবেণ-বংশের লোকেরা, গাদ-বংশের লোকেরা ও মানশার অর্ধেক বংশ তাদের প্রতি মূসার কথা অনুসারে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে পার হয়ে গেল;
13 যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত অনুমান চল্লিশ হাজার লোক যুদ্ধের জন্য মাবুদের সম্মুখে পার হয়ে জেরিকোর সমভূমিতে গেল।
14
সেই দিনে মাবুদ সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে ইউসাকে মহিমান্বিত করলেন; তাতে লোকেরা যেমন মূসাকে ভয় করতো, তেমনি ইউসার জীবনকালে তাঁকেও ভয় করতে লাগল।
15
মাবুদ ইউসাকে বলেছিলেন,
16 তুমি শরীয়ত-সিন্দুক বহনকারী ইমামদের জর্ডান নদী থেকে উঠে আসতে হুকুম কর।
17 তাতে ইউসা ইমামদের এই হুকুম করলেন, তোমরা জর্ডান নদী থেকে উঠে এসো।
18 পরে জর্ডান নদীর মধ্য থেকে মাবুদের নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী ইমামদের উঠে আসার সময়ে যখন ইমামদের পা শুকনো ভূমি স্পর্শ করলো, তখনই জর্ডান নদীর পানি স্বস্থানে ফিরে এসে আগের মত সমস্ত তীরের উপরে উঠলো।
19
এভাবে লোকেরা প্রথম মাসের দশম দিনে জর্ডান থেকে উঠে এসে জেরিকোর পূর্ব-সীমায়, গিল্গলে শিবির স্থাপন করলো।
20 আর তারা যে বারোখানি পাথর জর্ডান নদী থেকে এনেছিল সেগুলো ইউসা গিল্গলে স্থাপন করলেন।
21 আর তিনি বনি-ইসরাইলদের বললেন, ভবিষ্যতে যখন তোমাদের সন্তানেরা তাদের পিতাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, এই পাথরগুলোর তাৎপর্য কি?
22 তখন তোমরা তোমাদের সন্তানদের জানাবে, বলবে, ইসরাইল শুকনো ভূমি দিয়ে এই জর্ডান নদী পার হয়ে এসেছিল।
23 কারণ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ লোহিত সাগরের প্রতি যেমন করেছিলেন, আমাদের পার না হওয়া পর্র্যন্ত যেমন তা শুকনো অবস্থায় রেখে ছিলেন, তেমনি তোমাদের পার না হওয়া পর্র্যন্ত তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের সম্মুখে জর্ডানের পানি শুকিয়ে ফেললেন;
24 যেন দুনিয়ার সমস্ত জাতি জানতে পায় যে, মাবুদের হাত শক্তিশালী এবং তারা যেন সব সময় তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করে।
1
আর যখন জর্ডান নদীর পশ্চিম পারস্থ আমোরীয়দের সকল বাদশাহ্ ও সমুদ্রের নিকটস্থ কেনানীয়দের সকল বাদশাহ্ শুনতে পেলেন যে, আমরা যতক্ষণ পার না হলাম, ততক্ষণ মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে জর্ডানের পানি শুকিয়ে ফেললেন, তখন তাঁদের অন্তর গলে গেল ও বনি-ইসরাইলদের কারণে তাঁদের আর সাহস রইলো না।
2
সেই সময়ে মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি চকমকি পাথরের কতগুলো ছুরি প্রস্তুত করে দ্বিতীয়বার বনি-ইসরাইলদের খৎনা করাও।
3 তাতে ইউসা চকমকি পাথরের ছুরি প্রস্তুত করে গিবিয়োৎ হারালোতে (খৎনা-পর্বতে) বনি-ইসরাইলদের খৎনা করালেন।
4 ইউসা যে খৎনা করালেন, তার কারণ হচ্ছে: মিসর থেকে যে সমস্ত পুরুষ লোক, যত যোদ্ধা বের হয়ে এসেছিল, তারা মিসর থেকে বের হবার পর পথের মধ্যে মরু-ভূমিতে মারা গিয়েছিল।
5 যারা বের হয়ে এসেছিল, তাদের সকলেরই খৎনা করানো হয়েছিল বটে, কিন্তু মিসর থেকে বের হবার পর যেসব সন্তান পথের মধ্যে মরুভূমিতে জন্মেছিল তাদের খৎনা করানো হয় নি।
6 ফলত যে সমস্ত লোক, যে যোদ্ধারা মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিল, তারা মাবুদের কথামত চলতো না, সেজন্য তাদের সংহার না হওয়া পর্যন্ত বনি-ইসরাইল চল্লিশ বছর মরুভূমিতে ভ্রমণ করেছিল; কেননা আমাদের দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী যে দেশ দেবার বিষয়ে মাবুদ তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন, মাবুদ তাদের সেই দেশ দেখতে দেবেন না, এমন শপথ ওদের কাছে করেছিলেন।
7 তাদের স্থানে তাদের যে সন্তানদের তিনি উৎপন্ন করলেন, ইউসা তাদেরই খৎনা করালেন; কেননা তারা খৎনা-না-করানো অবস্থায় ছিল; কারণ পথের মধ্যে তাদের খৎনা করানো হয় নি।
8
লোকদের খৎনা করার কাজ সমাপ্ত হবার পর যতক্ষণ মরুভূমিতে তারা সুস্থ না হল, ততক্ষণ শিবিরের মধ্যে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করলো।
9 পরে মাবুদ ইউসাকে বললেন, আজ আমি তোমাদের কাছ থেকে মিসরের দুর্নাম গড়িয়ে দূর করে দিলাম। আর আজ পর্র্যন্ত সেই স্থানের নাম গিল্গল [গড়ানো] বলে আখ্যাত হয়েছে।
10
বনি-ইসরাইল গিল্গলে শিবির স্থাপন করলো; আর সেই মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলা জেরিকোর সমভূমিতে ঈদুল ফেসাখ পালন করলো।
11 সেই ঈদুল ফেসাখের পরের দিন তারা দেশে উৎপন্ন শস্য ভোজন করতে লাগল, সেই দিনে খামিহীন রুটি ও ভাজা শস্য ভোজন করলো।
12 আর সেই দিন তাদের দেশে উৎপন্ন শস্য ভোজনের পর থেকে মান্না নিবৃত্ত হল; সেই সময় থেকে বনি-ইসরাইল আর মান্না পেল না, কিন্তু সেই বছরে তারা কেনান দেশের ফল ভোজন করলো।
13
জেরিকোর কাছাকাছি অবস্থান করার সময় ইউসা চোখ তুলে চাইলেন, আর দেখ, এক জন পুরুষ তার সম্মুখে দণ্ডায়মান, তাঁর হাতে একখানা কোষমুক্ত তলোয়ার; ইউসা তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আমাদের পক্ষের না আমাদের দুশমনদের পক্ষের লোক?
14 তিনি বললেন, আমি কারও পক্ষের লোক নই। কিন্তু আমি মাবুদের সৈন্য দলের সেনাপতি, এখনই এলাম। তখন ইউসা ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সম্মান জানিয়ে বললেন, হে আমার প্রভু, আপনার এই গোলামকে কি হুকুম করেন?
15 মাবুদের সৈন্যদলের নেতা ইউসাকে বললেন, তোমার পা থেকে জুতা খুলে ফেল, কেননা যে স্থানে তুমি দাঁড়িয়ে আছ, ঐ স্থান পবিত্র। তখন ইউসা তা-ই করলেন।
1
সেই সময়ে বনি-ইসরাইলদের কারণে জেরিকো নগর শক্তভাবে রুদ্ধ ছিল, কেউ ভিতরে আসত না, কেউ বাইরে যেত না।
2 আর মাবুদ ইউসাকে বললেন, দেখ, আমি জেরিকো, এর বাদশাহ্ ও বলবান বীর সকলকে তোমার হাতে তুলে দিলাম।
3 তোমরা সমস্ত যোদ্ধারা মিলে এই নগর বেষ্টন করে এক এক বার প্রদক্ষিণ করবে; এরকম ছয় দিন করবে।
4 আর সাত জন ইমাম সিন্দুকের অগ্রভাগে মহাশব্দকারী সাত তূরী বহন করবে; পরে সপ্তম দিনে তোমরা সাতবার নগর প্রদক্ষিণ করবে ও ইমামেরা তূরী বাজাবে।
5 আর তারা উচ্চৈঃস্বরে মহাশব্দকারী শিঙ্গা বাজালে তোমরা যখন সেই তূরীধ্বনি শুনবে, তখন সমস্ত লোক অতি উচ্চৈঃস্বরে সিংহনাদ করে উঠবে। তাতে নগরের প্রাচীর স্বস্থানে পড়ে যাবে এবং লোকেরা প্রত্যেকজন সামনের পথ দিয়ে উঠে যাবে।
6
পরে নূনের পুত্র ইউসা ইমামদের ডেকে বললেন, তোমরা শরীয়ত-সিন্দুক তোল এবং সাত জন ইমাম মাবুদের সিন্দুকের অগ্রভাগে মহাশব্দকারী সাত তূরী বহন করুক।
7 আর তিনি লোকদের বললেন, তোমরা অগ্রসর হয়ে নগর বেষ্টন কর এবং সৈন্যরা সসজ্জে সজ্জিত হয়ে মাবুদের সিন্দুকের অগ্রভাগে গমন করুক।
8
তখন লোকদের কাছে ইউসার কথা বলা শেষ হলে পর সেই সাত জন ইমাম মাবুদের অগ্রভাগে মহাশব্দকারী সাত তূরী বহন করে তূরী বাজাতে বাজাতে চলতে লাগল ও মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক তাদের পিছনে পিছনে চললো।
9 আর সসজ্জ সৈন্যরা তূরীবাদক ইমামদের আগে আগে চললো এবং পিছনের দিকের সৈন্য সিন্দুকের পিছনে পিছনে গমন করলো, আর ইমামেরা তূরীধ্বনি করতে করতে চললো।
10 আর ইউসা লোকদের বললেন, তোমরা সিংহনাদ করো না, নিজ নিজ ধ্বনি শুনো না, তোমাদের মুখ থেকে কোন কথা বের না হোক। পরে আমি যেদিন সিংহনাদ করতে তোমাদের হুকুম করবো সেদিন তোমরা তা করবে।
11 এভাবে তিনি নগরের চারদিকে একবার মাবুদের সিন্দুক প্রদক্ষিণ করালেন; আর তারা শিবিরে এসে সেখানে রাত্রি যাপন করলো।
12
আর ইউসা প্রত্যুষে উঠলেন এবং ইমামেরা মাবুদের সিন্দুক তুলে নিল।
13 আর সেই সাত জন ইমাম মাবুদের সিন্দুকের আগে আগে মহাশব্দকারী সাতটি তূরী বহন করতে করতে, বিরামহীনভাবে চলতে লাগল ও তূরী বাজাতে লাগল। আর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সৈন্যরা তাদের আগে আগে চললো এবং পিছন দিকের সৈন্যরা মাবুদের সিন্দুকের পিছনে পিছনে চলতে লাগল, ইমামেরা তূরীধ্বনি করতে করতে চললো।
14 আর তারা দ্বিতীয় দিনে এক বার নগর প্রদক্ষিণ করে শিবিরে ফিরে এল; তারা ছয় দিন এরকম করলো।
15
পরে সপ্তম দিনে তারা প্রত্যুষে অরুণোদয় কালে উঠে সাতবার সেইভাবে নগর প্রদক্ষিণ করলো; কেবল সেই দিনে সাতবার নগর প্রদক্ষিণ করলো।
16 পরে ইমামেরা সপ্তমবার তূরী বাজালে ইউসা লোকদের বললেন, তোমরা সিংহনাদ কর, কেননা মাবুদ তোমাদের এই নগর দিয়েছেন।
17 আর নগর ও সেই স্থানের সমস্ত বস্তু মাবুদের উদ্দেশে বর্জিত হবে; কেবল পতিতা রাহব ও তার সঙ্গে যারা বাড়িতে আছে, সমস্ত লোক বাঁচবে, কেননা সে আমাদের প্রেরিত দূতদেরকে লুকিয়ে রেখেছিল।
18 আর তোমরা সেই বর্জিত দ্রব্য থেকে নিজেদের সাবধানে রক্ষা করো, নতুবা বর্জন করার পর বর্জিত দ্রব্য কিছু নিলে তোমরা ইসরাইলের শিবির বর্জিত করে ব্যাকুল করবে।
19 কিন্তু সমস্ত রূপা ও সোনা এবং ব্রোঞ্জের ও লোহার সমস্ত পাত্র মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র; সেসব মাবুদের ভাণ্ডারে যাবে।
20
পরে ইমামেরা তূরী বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে লোকেরা সিংহনাদ করলো। আর লোকেরা তূরীধ্বনি শুনে যখন অতি উচ্চৈঃস্বরে সিংহনাদ করে উঠলো তখন প্রাচীর স্বস্থানে পড়ে গেল; পরে লোকেরা প্রত্যেকজন সম্মুখের পথ দিয়ে নগরে উঠে গিয়ে নগর হস্তগত করলো।
21 আর তারা তলোয়ারের আঘাতে নগরের স্ত্রী পুরুষ আবালবৃদ্ধ এবং গরু, ভেড়া ও গাধা সকলই নিঃশেষে বিনষ্ট করলো।
22
কিন্তু যে দুই ব্যক্তি দেশ নিরীক্ষণ করেছিল, ইউসা তাদের বললেন, তোমরা সেই পতিতার বাড়িতে গমন কর এবং তার কাছে যে শপথ করেছ সেই অনুসারে সেই স্ত্রীলোক ও তার সমস্ত লোককে বের করে আন।
23 তাতে সেই দুই যুবক গোয়েন্দা প্রবেশ করে রাহব, তার পিতা-মাতা, ভাইদের ও তার সমস্ত লোককে বের করে আনলো; তার সমস্ত গোষ্ঠীকেও বের করে এনে ইসরাইলের শিবিরের বাইরে তাদের রাখল।
24 আর লোকেরা নগর ও সেই স্থানের সমস্ত বস্তু আগুনে পুড়িয়ে দিল, কেবল রূপা ও সোনা এবং ব্রোঞ্জের ও লোহার সমস্ত পাত্র মাবুদের গৃহের ভাণ্ডারে রাখল।
25 কিন্তু ইউসা পতিতা রাহব, তার পিতৃকুল ও তার স্বজন সকলকে জীবিত রাখলেন। সে আজও ইসরাইলের মধ্যে বসতি করছে; কারণ জেরিকো নিরীক্ষণ করার জন্য ইউসার প্রেরিত দুই দূতকে সে লুকিয়ে রেখেছিল।
26
সেই সময়ে ইউসা শপথ করে লোকদেরকে বললেন, যে কেউ উঠে এই জেরিকো নগর পুনঃনির্মাণ করবে, সে মাবুদের সাক্ষাতে বদদোয়াগ্রস্ত হোক; নগরের ভিত্তিমূল স্থাপনের দণ্ড হিসেবে সে নিজের জ্যেষ্ঠ পুত্রকে ও সমস্ত নগর-দ্বার স্থাপনের দণ্ড হিসেবে নিজের কনিষ্ঠ পুত্রকে দেবে।
27
এভাবে মাবুদ ইউসার সহবর্তী ছিলেন, আর তাঁর যশ সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়লো।
1
কিন্তু বনি-ইসরাইল বর্জিত বস্তু সম্বন্ধে সত্য লঙ্ঘন করলো; ফলত এহুদা-বংশীয় সেরহের সন্তান সব্দির সন্তান কর্মির পুত্র আখন বর্জিত বস্তুর কিছু নিজের জন্য নিয়েছিল; তাতে বনি-ইসরাইলদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল।
2
আর ইউসা জেরিকো থেকে বেথেলের পূর্ব দিকে অবস্থিত বৈৎ-আবনের পাশে অবস্থিত অয়ে লোক প্রেরণ করলেন, তাদের বললেন, তোমরা উঠে গিয়ে দেশ নিরীক্ষণ কর। তাতে তারা গিয়ে অয় নিরীক্ষণ করলো।
3 পরে তারা ইউসার কাছে ফিরে এসে বললো, সেই স্থানে সকল লোক না গেলেও হয়, দুই কিংবা তিন হাজার লোক উঠে গিয়ে অয় পরাজিত করুক। সেই স্থানে সকল লোক কষ্ট না করলেও হয়, কেননা সেই স্থানের লোক অল্প।
4 অতএব লোকদের মধ্য থেকে অনুমান তিন হাজার জন সেই স্থানে যাত্রা করলো, কিন্তু তারা অয়ের লোকদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
5 আর অয়ের লোকেরা তাদের মধ্যে প্রায় ছত্রিশ জনকে আঘাত করলো; নগর-দ্বার থেকে শবারীম পর্র্যন্ত তাদের তাড়া করে অবরোহণের পথে আঘাত করলো, তাতে লোকদের মনোবল একেবারে ভেঙে গেল।
6
তখন ইউসা ও ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়ে মাবুদের সিন্দুকের সম্মুখে অধোমুখ হয়ে সন্ধ্যা পর্র্যন্ত ভূমিতে পড়ে রইলেন এবং নিজ নিজ মাথায় ধুলা ছড়ালেন।
7 আর ইউসা বললেন, হায় হায়, হে সার্বভৌম মাবুদ, বিনাশ করার উদ্দেশ্যে আমোরীয়দের হাতে আমাদেরকে তুলে দেবার জন্য তুমি কেন এই লোকদের জর্ডান পার করে আনলে? হায় হায়, আমরা কেন সন্তুষ্ট হয়ে জর্ডানের ওপারে থাকি নি!
8 হে প্রভু, ইসরাইল তার দুশমনদের সম্মুখে হটে যাওয়ার পর আমি কি বলবো?
9 কেনানীয়েরা এবং সমস্ত দেশবাসী এই কথা শুনবে, আর আমাদের বেষ্টন করে দুনিয়া থেকে আমাদের নাম উচ্ছেদ করবে, তা হলে তুমি তোমার মহানামের জন্য কি করবে?
10
তখন মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি উঠ, কেন তুমি অধোমুখ হয়ে পড়ে আছ?
11 ইসরাইল গুনাহ্ করেছে, এ ছাড়াও তারা আমার নির্দেশিত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে; এমন কি, তারা সেই বর্জিত দ্রব্যের কিছু নিয়েছে; কিছু চুরি করেছে, আবার প্রতারণা করেছে এবং নিজেদের সামগ্রীর মধ্যে তা রেখেছে।
12 এজন্য বনি-ইসরাইল তার দুশমনদের সম্মুখে দাঁড়াতে পারে না, দুশমনদের সম্মুখ থেকে হটে যায়, কেননা তারা বর্জিত হয়েছে; তোমাদের মধ্য থেকে সেই বর্জিত বস্তু উৎপাটন না করলে আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকব না।
13 উঠ, লোকদের পবিত্র কর, বল তোমরা আগামীকালের জন্য পবিত্র হও, কেননা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইসরাইল, তোমার মধ্যে বর্জিত বস্তু আছে; তোমাদের মধ্য থেকে সেই বর্জিত বস্তু দূর না করলে তুমি তোমার দুশমনদের সম্মুখে দাঁড়াতে পারবে না।
14 অতএব সকালবেলা নিজ নিজ বংশ অনুসারে তোমরা এগিয়ে আসবে; তাতে মাবুদের হাতে যে বংশ ধরা পড়বে সেই বংশের এক এক গোষ্ঠী এগিয়ে আসবে; ও মাবুদের হাতে যে গোষ্ঠী ধরা পড়বে তার এক এক কুল এগিয়ে আসবে; ও মাবুদের হাতে যে কুল ধরা পড়বে তার এক এক পুরুষ এগিয়ে আসবে।
15 আর যে ব্যক্তি বর্জিত দ্রব্য রেখেছে বলে ধরা পড়বে, তাকে ও তার সম্পর্কীয় সকলকেই আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে, কেননা সে মাবুদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে ও ইসরাইলের মধ্যে মূঢ়তার কাজ করেছে।
16
পরে ইউসা প্রত্যুষে উঠে ইসরাইলকে নিজ নিজ বংশ অনুসারে কাছে আনালেন; তাতে এহুদা-বংশ ধরা পড়লো;
17 পরে তিনি এহুদার গোষ্ঠী সকলকে কাছে আনালে সেরহীয় গোষ্ঠী ধরা পড়লো; পরে তিনি সেরহীয় গোষ্ঠীকে পুরুষানুসারে কাছে আনালে সব্দি ধরা পড়লো।
18 পরে তিনি তার কুলকে পুরুষানুসারে আনালে এহুদা-বংশীয় সেরহের সন্তান সব্দির সন্তান কর্মির পুত্র আখন ধরা পড়লো।
19 তখন ইউসা আখনকে বললেন, হে আমার সন্তান, আরজ করি, তুমি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের মহিমা স্বীকার কর, তাঁর প্রশংসা কর এবং তুমি কি করেছ আমাকে বল; আমার কাছ থেকে তা গোপন করো না।
20 আখন জবাবে ইউসাকে বললো, সত্যি, আমি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি, আমি এই-এই কাজ করেছি;
21 আমি লুণ্ঠিত দ্রব্যের মধ্যে উত্তম একখানি ব্যাবিলনীয় শাল, দুই শত শেকল রূপা ও পঞ্চাশ শেকল পরিমিত এক থান সোনা দেখে লোভে পড়ে সেগুলো নিয়েছি; আর দেখুন, সেসব আমার তাঁবুর মধ্যে ভূমিতে লুকান রয়েছে, আর নিচে রূপা আছে।
22
তখন ইউসা দূত প্রেরণ করলে তারা তার তাঁবুতে দৌড়ে গেল, আর দেখ, তার তাঁবুর মধ্যে তা লুকান রয়েছে, আর নিচে রূপা ছিল।
23 আর তারা তাঁবুর মধ্য থেকে সেসব নিয়ে ইউসা ও সমস্ত বনি-ইসরাইলের কাছে আনলো এবং মাবুদের সম্মুখে তা বিছিয়ে রাখল।
24 পরে ইউসা ও সমস্ত ইসরাইল সেরহের সন্তান আখনকে ও সেই রূপা, শাল, সোনার থান ও তার পুত্রকন্যাদের এবং তার গরু, গাধা, ভেড়া ও তাঁবু এবং তার যা কিছু ছিল, সমস্তই নিলেন; আর আখোর উপত্যকাতে আনলেন।
25 পরে ইউসা বললেন, তুমি আমাদেরকে কেন বিপদে ফেললে? আজ মাবুদ তোমাকে বিপন্ন করবেন। পরে সমস্ত ইসরাইল তাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করলো; এরপর তারা তার পরিবারের লোকদের পাথর ছুড়ে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দিল।
26 পরে তারা তার উপরে পাথরের বড় রাশি করলো, তা আজও রয়েছে। এভাবে মাবুদ তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত হলেন। অতএব সেই স্থান আজও আখোর (বিপদ) উপত্যকা নামে আখ্যাত রয়েছে।
1
পরে মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি ভয় কোরো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না; সমস্ত সৈন্যকে সঙ্গে নাও, উঠ, অয় নগরে যাত্রা কর; দেখ, আমি অয়ের বাদশাহ্কে ও তার লোকদের এবং তার নগর ও তার দেশ তোমার হাতে তুলে দিয়েছি।
2 তুমি জেরিকোর ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতি যা করলে, অয়ের ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতিও তা-ই করবে, কিন্তু তার লুটদ্রব্য ও পশু তোমরা তোমাদের জন্য নেবে। তুমি নগরের বিরুদ্ধে পিছনের দিকে তোমার এক দল সৈন্য গোপনে রাখবে।
3
তখন ইউসা ও সমস্ত যোদ্ধা উঠে অয়ের বিরুদ্ধে যাত্রা করলেন; ইউসা তিন হাজার বলবান বীর মনোনীত করলেন এবং তাদেরকে রাতে পাঠিয়ে দিলেন।
4 তিনি এই হুকুম করলেন, দেখ, তোমরা নগরের পিছনে নগরের বিরুদ্ধে লুকিয়ে থাকবে; নগর থেকে বেশি দূরে যাবে না, কিন্তু সকলেই প্রস্তুত থাকবে।
5 পরে আমি ও আমার সঙ্গী সমস্ত লোক নগরের কাছে উপস্থিত হব; আর তারা যখন আগের মত আমাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে আসবে, তখন আমরা তাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাব।
6 আর তারা বের হয়ে আমাদের পিছনে পিছনে আসবে, শেষে আমরা তাদের নগর থেকে দূরে আকর্ষণ করবো; কেননা তারা বলবে, এরা আগের মত আমাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; এভাবে আমরা তাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাব;
7 আর তোমরা গুপ্ত স্থান থেকে উঠে নগর অধিকার করবে; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তা তোমাদের হাতে তুলে দিবেন।
8 নগর আক্রমণ করামাত্র তোমরা নগরে আগুন লাগিয়ে দেবে; তোমরা মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করবে; দেখ, আমি তোমাদের এই হুকুম দিলাম।
9
এভাবে ইউসা তাদের প্রেরণ করলেন; আর তারা গিয়ে অয়ের পশ্চিমে বেথেল ও অয়ের মধ্যস্থানে লুকিয়ে থাকলো; কিন্তু ইউসা লোকদের মধ্যে সেই রাত যাপন করলেন।
10
পরে ইউসা প্রত্যুষে উঠে লোক সংগ্রহ করলেন, আর তিনি ও ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা লোকদের আগে আগে অয়ের দিকে যাত্রা করলেন।
11 আর তাঁর সঙ্গী সমস্ত যোদ্ধা চললো এবং এগিয়ে গিয়ে নগরের সম্মুখে উপস্থিত হল, আর অয় নগরের উত্তর দিকে শিবির স্থাপন করলো; তাঁর ও অয়ের মধ্যস্থানে একটি উপত্যকা ছিল।
12 আর তিনি অনুমান পাঁচ হাজার লোক নিয়ে নগরের পশ্চিম দিকে বেথেল ও অয়ের মধ্যস্থানে লুকিয়ে রাখলেন।
13 এভাবে লোকেরা নগরের উত্তর দিকস্থ সমস্ত শিবিরকে ও নগরের পশ্চিম দিকে তাদের গুপ্ত দলকে নিযুক্ত করলো এবং ইউসা ঐ রাতে উপত্যকার মধ্যে গমন করলেন।
14
পরে যখন অয়ের বাদশাহ্ তা দেখলেন, তখন নগরস্থ লোকেরা, বাদশাহ্ ও তাঁর সকল লোক, তাড়াতাড়ি প্রত্যুষে উঠে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বের হয়ে নিরূপিত স্থানে অরাবা উপত্যকার সম্মুখে গেলেন; কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এক দল সৈন্য নগরের পিছনে লুকিয়ে আছে তা তিনি জানতেন না।
15 ইউসা ও সমস্ত ইসরাইল তাদের সম্মুখে নিজেদের পরাজিতের মত ভান করে মরুভূমির পথ দিয়ে পালিয়ে গেলেন।
16 তাতে নগরে অবস্থিত সমস্ত লোককে ডাকা হল, যেন তারা তাদের পিছনে দৌড়ে যায়। আর তারা ইউসার পিছনে পিছনে গমন করতে করতে নগর থেকে দূরে আকর্ষিত হল;
17 বের হয়ে ইসরাইলের পিছনে গেল না এমন এক জনও অয়ে বা বেথেলে অবশিষ্ট থাকলো না; সকলেই নগরের দ্বার খোলা রেখে ইসরাইলের পিছনে পিছনে দৌড়ে গেল।
18
তখন মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি তোমার হাতে থাকা বর্শাটি অয়ের দিকে বাড়িয়ে দাও; কেননা আমি সেই নগর তোমার হাতে দেব। তখন ইউসা তাঁর হাতে থাকা বর্শাটি নগরের দিকে বাড়িয়ে দাও।
19 তিনি হাত বিস্তার করার সঙ্গে সঙ্গে গোপনে স্থাপিত সৈন্যদল অমনি স্বস্থান থেকে উঠে বেগে গমন করলো ও নগরে প্রবেশ করে তা অধিকার করলো এবং দ্রুত নগরে আগুন লাগিয়ে দিল।
20 পরে অয়ের লোকেরা পিছনে ফিরে চেয়ে দেখলো, আর দেখ, নগরের ধোঁয়া আসমানে উঠছে, কিন্তু তারা এদিকে কি ওদিকে কোন দিকেই পালাবার উপায় পেল না; আর মরুভূমিতে পলায়মান লোকেরা তাদের পিছনে ধাবমান লোকদের দিকে ফিরে আক্রমণ করতে লাগল।
21 ফলত গোপনে স্থাপিত সৈন্যদল নগর অধিকার করেছে ও নগরে ধোঁয়া উঠছে, এটা দেখে ইউসা ও সমস্ত ইসরাইল ফিরে অয়ের লোকদের সংহার করতে লাগলেন;
22 আর অন্য দলও নগর থেকে তাদের বিরুদ্ধে আসছিল; সুতরাং তারা ইসরাইলের মধ্যে পড়লো, কতগুলো এপাশে কতগুলো ওপাশে; আর তারা তাদের এমন আঘাত করলো যে, তাদের অবশিষ্ট বা রক্ষাপ্রাপ্ত কেউ রইলো না।
23 আর তারা অয়ের বাদশাহ্কে জীবিত ধরে ইউসার কাছে আনলো।
24
এভাবে ইসরাইল তাদের সকলকে মাঠে, অর্থাৎ যে মরুভূমিতে অয় নিবাসীরা তাদের পিছনে ধাবমান হয়েছিল সেখানে তাদের সম্পূর্ণভাবে সংহার করলো; তারা সকলে নিঃশেষে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়লো, পরে সমস্ত ইসরাইল ফিরে অয়ে এসে তলোয়ারের আঘাতে সেই স্থানের লোকদেরও আঘাত করলো।
25 সেই দিনে অয়-নিবাসী সমস্ত লোক অর্থাৎ স্ত্রী, পুরুষ মোট বারো হাজার লোক মারা পড়লো।
26 কেননা অয়-নিবাসী সকলে যতক্ষণ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট না হল, ততক্ষণ ইউসা তাঁর প্রসারিত শল্যধারী হাত সংকুচিত করলেন না।
27 ইউসার প্রতি মাবুদের হুকুম করা কালাম অনুসারে ইসরাইল কেবল ঐ নগরের পশু ও সমস্ত লুটদ্রব্য নিজেদের জন্য গ্রহণ করলো।
28 আর ইউসা অয় নগর পুড়িয়ে দিয়ে চিরস্থায়ী ঢিবি এবং উৎসন্ন স্থান করলেন, তা আজও সেরকম আছে।
29 আর তিনি অয়ের বাদশাহ্কে সন্ধ্যাকাল পর্র্যন্ত গাছে টাঙ্গিয়ে রাখলেন। পরে সূর্যাস্ত সময়ে লোকেরা ইউসার হুকুমে তার লাশ গাছ থেকে নামিয়ে নগরের দ্বার-প্রবেশের স্থানে ফেলে তার উপরে পাথরের একটি বড় ঢিবি করলো; তা আজও রয়েছে।
30
সেই সময় ইউসা এবল পর্বতে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
31 মাবুদের গোলাম মূসা বনি-ইসরাইলদের যেমন হুকুম করেছিলেন, তেমনি তারা মূসার শরীয়ত-কিতাবে লেখা হুকুম অনুসারে যন্ত্রপাতি দ্বারা মসৃণ করা হয় নি এমন পাথরে, অর্থাৎ যার উপরে কেউ লোহা উঠায় নি, এমন পাথর দ্বারা ঐ কোরবানগাহ্ তৈরি করলো এবং তার উপরে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী দিল।
32 আর সেখানে পাথরগুলোর উপরে বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে তিনি মূসার লেখা শরীয়তের একটি অনুলিপি লিখলেন।
33 আর ইসরাইল লোকদেরকে সর্বপ্রথমে দোয়া করার জন্য, মাবুদের গোলাম মূসা যেমন হুকুম করেছিলেন, তেমনি সমস্ত ইসরাইল, তাদের প্রাচীনবর্গরা, কর্মচারীরা ও বিচারকরা, স্বজাতীয় বা প্রবাসী সমস্ত লোক সিন্দুকের এদিকে ওদিকে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক-বাহক লেবীয় ইমামদের সম্মুখে দাঁড়াল; তাদের অর্ধেক গরিষীম পর্বতের সম্মুখে, বাকী অর্ধেক এবল পর্বতের সম্মুখে রইলো।
34 পরে শরীয়ত-কিতাবে যা যা লেখা আছে, সেই অনুসারে তিনি শরীয়তের সমস্ত কথা, দোয়া ও বদদোয়ার কথা পাঠ করলেন।
35 মূসা যা যা হুকুম করেছিলেন, ইউসা ইসরাইলের সমস্ত সমাজ এবং স্ত্রী-লোকদের, বালক-বালিকা ও তাদের মধ্যবর্তী প্রবাসীদের সম্মুখে সেসব পাঠ করলেন, একটি কথাও বাদ দিলেন না।
1
আর জর্ডানের পারস্থ সমস্ত বাদশাহ্, পর্বতময় প্রদেশ ও নিম্নভূমিবাসী এবং লেবাননের সম্মুখস্থ মহাসমুদ্রের সমস্ত তীরে বসবাসকারী হিট্টিয়, আমোরীয়, কেনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয় বাদশাহ্রা এই কথা শুনতে পেয়ে,
2 একযোগে ইউসার ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একত্র হলেন।
3
কিন্তু জেরিকোর প্রতি ও অয়ের প্রতি ইউসা যা করেছিলেন তা যখন গিবিয়োন-নিবাসীরা শুনতে পেল,
4 তখন তারাও চতুরতার সঙ্গে কাজ করলো; ফলত তারা গিয়ে রাজদূতের বেশ ধারণ করে নিজ নিজ গাধার উপরে পুরানো ছালা এবং আঙ্গুর-রস রাখার পুরানো, ফেটে যাওয়া ও তালি দেওয়া চামড়ার থলি চাপাল।
5 আর পায়ে পুরানো ও তালিযুক্ত জুতা ও শরীরে পুরানো পোশাক পরলো এবং পাথেয় হিসেবে সমস্ত শুকনো ও ছাতাপড়া রুটি নিল।
6 পরে তারা গিলগলে অবস্থিত শিবিরে ইউসার কাছে গিয়ে তাঁকে ও বনি-ইসরাইলদের বললো, আমরা দূরদেশ থেকে এলাম; অতএব এখন আপনারা আমাদের সঙ্গে সন্ধি স্থির করুন।
7 তখন ইসরাইল লোকেরা সেই হিব্বীয়দের বললো, কি জানি, তোমরা আমাদেরই মধ্যে বাস করছো; তা হলে আমরা তোমাদের সঙ্গে কিভাবে সন্ধি স্থির করতে পারি?
8 তারা ইউসাকে বললো, আমরা আপনার গোলাম। তখন ইউসা জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কারা? কোথা থেকে আসলে?
9 তারা বললো, আপনার গোলাম আমরা আপনার আল্লাহ্ মাবুদের নাম শুনে অতি দূরদেশ থেকে এলাম, কেননা তাঁর কীর্তি এবং তিনি মিসর দেশে যে কাজ করেছেন,
10 আর জর্ডানের ওপারস্থ দুই আমোরীয় বাদশাহ্র প্রতি, হিষবোনের বাদশাহ্ সীহোন ও বাশনের বাদশাহ্ অষ্টারোৎ-নিবাসী উজের প্রতি যে কাজ করেছেন, সমস্তই আমরা শুনেছি।
11 আর আমাদের প্রাচীনবর্গরা ও দেশবাসী সকলে আমাদের বললো, তোমরা যাত্রার জন্য হাতে পাথেয় দ্রব্য নিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাও এবং তাদের বল, আমরা আপনাদের গোলাম; অতএব এখন আপনারা আমাদের সঙ্গে সন্ধি স্থির করুন।
12 আপনাদের কাছে আসার জন্য যেদিন যাত্রা করি, সেদিন আমরা বাড়ি থেকে যে গরম রুটি পাথেয় এনেছিলাম, এই দেখুন, আমাদের সেই রুটি এখন শুকনো ও ছাতাপড়া।
13 আর যেসব কুপা আঙ্গুর-রসে পূর্ণ করেছিলাম, সেগুলো নতুন ছিল, এই দেখুন, সেসব ছিঁড়ে গেছে। আর আমাদের এসব কাপড়-চোপড় ও জুতা পুরানো হয়েছে, কেননা পথ অতি দূর।
14 তাতে লোকেরা তাদের খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করলো, কিন্তু মাবুদের অভিমত জিজ্ঞাসা করলো না।
15 আর ইউসা তাদের সঙ্গে সন্ধি করে যাতে তারা বাঁচে, এমন নিয়ম করলেন এবং মণ্ডলীর নেতৃবর্গ তাদের কাছে শপথ করলেন ও কসম খেলেন।
16
এভাবে তাদের সঙ্গে নিয়ম স্থির করার পরে তিন দিন গত হলে ওরা শুনতে পেল, তারা আমাদের নিকটস্থ এবং আমাদের মধ্যে বাস করছে।
17 পরে বনি-ইসরাইলরা যাত্রা করে তৃতীয় দিনে তাদের নগরগুলোর কাছে উপস্থিত হল। সেসব নগরের নাম গিবিয়োন, কফীরা, বেরোৎ ও কিরিয়ৎ-যিয়ারীম।
18 মণ্ডলীর নেতৃবর্গ ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামে তাদের কাছে শপথ করেছিলেন বলে বনি-ইসরাইল তাদের আঘাত করলো না, কিন্তু সমস্ত মণ্ডলী নেতাদের বিরুদ্ধে বচসা করতে লাগল।
19 তাতে নেতৃবর্গরা সকলে সমস্ত মণ্ডলীকে বললেন, আমরা ওদের কাছে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামে শপথ করেছি, অতএব এখন ওদের স্পর্শ করতে পারি না।
20 আমরা ওদের প্রতি এ-ই করবো, ওদের জীবিত রাখবো, নতুবা ওদের কাছে যে শপথ করেছি তার জন্য আমাদের উপর গজব উপস্থিত হবে।
21 অতএব নেতৃবর্গ তাদের বললেন, ওরা জীবিত থাকুক; কিন্তু নেতাদের কথানুসারে তারা সমস্ত মণ্ডলীর জন্য কাঠ কাটবার এবং পানি আনবার লোক হল।
22
আর ইউসা তাদের ডেকে এনে বললেন, তোমরা তো আমাদেরই মধ্যে বাস করছো; তবে আমরা তোমাদের থেকে অতি দূরে থাকি, এই কথা বলে কেন আমাদের প্রবঞ্চনা করলে?
23 এজন্য তোমরা শাপগ্রস্ত হলে; আমার আল্লাহ্র গৃহের জন্য কাঠ কাটবার ও পানি আনবার কাজ করবে, এই গোলামীর কাজ থেকে তোমরা কখনও মুক্তি পাবে না।
24 তারা ইউসাকে জবাবে বললো, আপনাদেরকে এ সমস্ত দেশ দেবার ও আপনাদের সম্মুখ থেকে এই দেশবাসী সমস্ত লোককে বিনাশ করার জন্য আপনার আল্লাহ্ মাবুদ যে তাঁর গোলাম মূসাকে হুকুম করেছিলেন তার নিশ্চিত সংবাদ আপনার গোলাম আমরা পেয়েছিলাম, সেজন্য আমরা আপনাদের বিষয়ে সব কথা শুনে প্রাণের ভয়ে এই কাজ করেছি।
25 এখন দেখুন, আমরা আপনারই অধিকারভুক্ত, আমাদের প্রতি যা করা আপনার ভাল ও ন্যায্য মনে হয় তা-ই করুন।
26 পরে তিনি তাদের প্রতি তা-ই করলেন; তিনি বনি-ইসরাইলদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করলেন, তাতে তারা তাদের হত্যা করলো না।
27 আর মাবুদের মনোনীত স্থানে মণ্ডলী ও মাবুদের কোরবানগাহ্র জন্য কাঠ কাটবার ও পানি আনবার কাজ করার জন্য ইউসা সেই দিনে তাদের নিযুক্ত করলেন; তারা আজ পর্যন্ত তা করছে।
1
জেরুশালেমের বাদশাহ্ অদোনী-সিদ্দিক যখন শুনতে পেলেন, ইউসা অয় অধিকার করে নিঃশেষে বিনষ্ট করেছেন, জেরিকো ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতি যেমন করেছিলেন, অয়ের ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতিও তেমনি করেছেন এবং গিবিয়োন-নিবাসীরা ইসরাইলের সঙ্গে সন্ধি করে তাদের সঙ্গে আছে;
2 তখন বাদশাহ্ ও তাঁর লোকেরা ভীষণ ভয় পেল, কেননা গিবিয়োন নগর রাজধানীর মত বড় এবং অয়ের চেয়েও বড়, আর সেই স্থানের সমস্ত লোক ছিল বলবান।
3 আর জেরুশালেমের বাদশাহ্ অদোনী-সিদ্দিক হেবরনের বাদশাহ্ হোহম, যর্মূতের বাদশাহ্ পিরাম, লাখীশের বাদশাহ্ যাফিয়ের ও ইগ্লোনের বাদশাহ্ দবীরের কাছে দূত পাঠিয়ে এই কথা বললেন;
4 আমার কাছে উঠে আসুন, আমাকে সাহায্য করুন, চলুন আমরা গিবিয়োনীয়দের আঘাত করি; কেননা তারা ইউসা ও বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে সন্ধি করেছে।
5 অতএব আমোরীয়দের ঐ পাঁচ বাদশাহ্, অর্থাৎ জেরুশালেমের বাদশাহ্, হেবরনের বাদশাহ্, যর্মূতের বাদশাহ্, লাখীশের বাদশাহ্ ও ইগ্লোনের বাদশাহ্ তাদের সমস্ত সৈন্যকে এক স্থানে জমায়েত করলেন এবং উঠে গিয়ে গিবিয়োনের সম্মুখে শিবির স্থাপন করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
6
তাতে গিবিয়োনীয়েরা গিলগলস্থিত শিবিরে ইউসার কাছে লোক পাঠিয়ে বললো, আপনার এই গোলামদের ত্যাগ করবেন না, শীঘ্র এসে আমাদের নিস্তার ও সাহায্য করুন, কেননা পর্বতময় প্রদেশবাসী আমোরীয়দের সমস্ত বাদশাহ্ আমাদের বিরুদ্ধে জমায়েত হয়েছেন।
7 তখন ইউসা সমস্ত যোদ্ধা ও সমস্ত বলবান বীর সঙ্গে নিয়ে গিলগল থেকে যাত্রা করলেন।
8 তখন মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি তাদের ভয় করো না; কেননা আমি তোমার হাতে তাদের তুলে দিয়েছি, তাদের কেউ তোমার সম্মুখে দাঁড়াতে পারবে না।
9 পরে ইউসা হঠাৎ তাদের কাছে উপস্থিত হলেন; তিনি সমস্ত রাত গিলগল থেকে উপরের দিকে উঠছিলেন।
10 তখন মাবুদ ইসরাইলের সাক্ষাতে তাদের আতংকিত করলেন, তাতে তিনি গিবিয়োনে মহাসংহারে তাদের সংহার করে বৈৎ-হোরোণের আরোহণ পথ দিয়ে তাদের তাড়া করলেন এবং অসেকা ও মক্কেদা পর্যন্ত তাদের আঘাত করলেন।
11 আর ইসরাইলের সম্মুখ থেকে পলায়নকালে যখন তারা বৈৎ-হোরোণের অবরোহণ-পথে ছিল, তখন মাবুদ অসেকা পর্যন্ত আসমান থেকে তাদের উপরে বড় বড় শিলা বর্ষণ করলেন, তাতে তারা মারা পড়লো; বনি-ইসরাইল যত না লোক তলোয়ার দ্বারা হত্যা করলো, তার চেয়েও বেশি লোক শিলার আঘাতে মারা পড়লো।
12
সেই সময়ে যেদিন মাবুদ বনি-ইসরাইলদের হাতে আমোরীয়দের তুলে দেন, সেদিন ইউসা মাবুদের কাছে নিবেদন করলেন; আর তিনি ইসরাইলের সাক্ষাতে বললেন, সূর্য, তুমি স্থগিত হও গিবিয়োনে, আর চন্দ্র, তুমি অয়ালোন উপত্যকাতে।
13
তখন সূর্য স্থগিত হল ও চন্দ্র স্থির থাকলো, যতক্ষণ সেই জাতি দুশমনদের উপর প্রতিশোধ না নিল। এই কথা কি যাশের গ্রন্থে লেখা নেই? আর আসমানের মধ্যস্থানে সূর্য স্থির থাকলো, অস্ত গমন করতে প্রায় সমপূর্ণ এক দিন বিলম্ব করলো।
14 তার আগে বা পরে মাবুদ যে মানুষের আবেদনে এভাবে মনযোগ দিয়েছেন, এমন আর কোন দিন হয় নি; কেননা মাবুদ ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ করছিলেন।
15
পরে ইউসা সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে গিলগলস্থ শিবিরে ফিরে আসলেন।
16
আর ঐ পাঁচ জন বাদশাহ্ পালিয়ে গিয়ে মক্কেদার গুহাতে লুকিয়েছিলেন।
17 পরে সেই পাঁচ জন বাদশাহ্কে মক্কেদার গুহাতে লুকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, এই সংবাদ ইউসাকে দেওয়া হল।
18 ইউসা বললেন, তোমরা সেই গুহার মুখে কয়েকখানা বড় বড় পাথর গড়িয়ে দিয়ে সেটা পাহারা দেবার জন্য কয়েকজন লোক নিযুক্ত কর।
19 কিন্তু তোমরা নিজেরা বিলম্ব করো না, দুশমনদের পিছনে ধাবমান হও ও তাদের সৈন্যদের পিছন দিক থেকে আঘাত কর, তাদের নিজ নিজ নগরে প্রবেশ করতে দিও না; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
20 পরে ইউসা ও বনি-ইসরাইল তাদের সর্বনাশ পর্যন্ত নির্দয়ভাবে তাদের সংহার করলেন, ওদের কতিপয় মাত্র অবশিষ্ট লোক পালিয়ে প্রাচীর-বেষ্টিত কোন কোন নগরে প্রবেশ করলো।
21 পরে সমস্ত লোক মক্কেদায় ইউসার কাছে শিবিরে সহিসালামতে ফিরে এল; বনি-ইসরাইলদের কারো বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে সাহস পেল না।
22
পরে ইউসা বললেন, তোমরা ঐ গুহার মুখ খুলে সেখান থেকে সেই পাঁচ জন বাদশাহ্কে বের করে আমার কাছে আন।
23 তারা তা-ই করলো, ফলত জেরুশালেমের বাদশাহ্, হেবরনের বাদশাহ্, যর্মূতের বাদশাহ্, লাখীশের বাদশাহ্ ও ইগ্লোনের বাদশাহ্, এই পাঁচ বাদশাহ্কে সেই গুহা থেকে বের করে তাঁর কাছে আনলো।
24 এভাবে তারা ঐ বাদশাহ্দেরকে ইউসার কাছে আনলে ইউসা ইসরাইলের সমস্ত পুরুষকে ডাকলেন এবং যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিল তাদের সেনাপতিদের বললেন, তোমরা কাছে এসো, এই বাদশাহ্দের ঘাড়ে পা রাখ; তাতে তারা কাছে এসে তাদের ঘাড়ে পা রাখল।
25 আর ইউসা তাদের বললেন, ভয় করো না ও নিরাশ হয়ো না, বলবান হও ও সাহস কর; কেননা তোমরা যে দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে, তাদের সকলের প্রতি মাবুদ এইরূপ করবেন।
26 পরে ইউসা আঘাত করে সেই পাঁচ বাদশাহ্কে হত্যা করলেন ও তাঁদের লাশ পাঁচটি গাছে টাঙ্গিয়ে দিলেন; তাতে তাঁরা সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত তাঁদের লাশ গাছে টাঙ্গান রইলো।
27 পরে সূর্যাস্তের সময়ে লোকেরা ইউসার হুকুমে তাঁদের লাশ গাছ থেকে নামিয়ে যে গুহাতে তাঁরা লুকিয়ে ছিলেন সেই গুহায় নিক্ষেপ করলো ও গুহার মুখটা বড় বড় পাথর দিয়ে ঢেকে রাখল; তা আজও রয়েছে।
28
আর সেই দিনে ইউসা মক্কেদা অধিকার করলেন এবং মক্কেদা ও সেই স্থানের বাদশাহ্কে তলোয়ারের দ্বারা আঘাত করলেন; সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করলেন, কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না; যেমন জেরিকোর বাদশাহ্র প্রতি করেছিলেন, মক্কেদার বাদশাহ্র প্রতিও ঠিক তা-ই করলেন।
29
পরে যিহেশূয় সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে করে মক্কেদা থেকে লিবনাতে গিয়ে লিবনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
30 তাতে মাবুদ লিবনা ও সেই স্থানের বাদশাহ্কে ইসরাইলের হাতে তুলে দিলেন; তারা লিবনা ও সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে তলোয়ারের দ্বারা আঘাত করলো, তার মধ্যে কাউকেও অবশিষ্ট রাখল না; যেমন জেরিকোর বাদশাহ্র প্রতি করেছিল, সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতিও তেমনি করলো।
31
পরে ইউসা সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে লিবনা থেকে লাখীশে গিয়ে তার বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করে যুদ্ধ করলেন।
32 আর মাবুদ লাখীশকে ইসরাইলের হাতে তুলে দিলেন ও তারা দ্বিতীয় দিনে তা অধিকার করে যেমন লিবনার প্রতি করেছিল, তেমনি লাখীশ ও সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করলো।
33
সেই সময়ে গেষরের বাদশাহ্ হোরম লাখীশের সহায়তা করতে এসেছিলেন; আর ইউসা তাঁকে ও তাঁর লোকদের আঘাত করলেন; তাঁর কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না।
34
পরে ইউসা সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে লাখীশ থেকে ইগ্লোনে যাত্রা করলেন, আর তারা সেই স্থানের সম্মুখে শিবির স্থাপন করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো।
35 আর সেদিন তা হস্তগত করে, যেমন লাখীশের প্রতি করেছিল, তেমনি তলোয়ারের দ্বারা আঘাত করে সেদিন সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে নিঃশেষে বিনষ্ট করলো।
36
পরে ইউসা সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইগ্লোন থেকে হেবরনে যাত্রা করলেন, আর তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো।
37 আর তা অধিকার করে সেই নগর ও সেই স্থানের বাদশাহ্ ও অধীন সমস্ত নগর ও সমস্ত প্রাণীকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করলো; যেমন তিনি ইগ্লোনের প্রতি করেছিলেন, তেমনি কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না; হেবরন ও সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন।
38
পরে ইউসা ফিরে এসে সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে দবীরে এসে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
39 আর সেই নগর ও সেই স্থানের বাদশাহ্কে ও অধীন সমস্ত নগর অধিকার করে তলোয়ারের আঘাতে সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে নিঃশেষে বিনষ্ট করলো; তিনি কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না; যেমন তিনি হেবরনের প্রতি এবং লিবনার ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতি করেছিলেন, দবীরের ও সেই স্থানের বাদশাহ্র প্রতিও ঠিক তা-ই করলেন।
40
এভাবে ইউসা সমস্ত দেশ, পর্বতময় প্রদেশ, দক্ষিণ অঞ্চল, নিম্নভূমি ও পর্বত-পার্শ্ব এবং সেসব অঞ্চলের সমস্ত বাদশাহ্কে আঘাত করলেন, কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না; তিনি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে শ্বাসবিশিষ্ট সকলকেই নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন।
41 এভাবে ইউসা কাদেশ-বর্ণেয় থেকে গাজা পর্যন্ত তাদের এবং গিবিয়োন পর্যন্ত গোশনের সমস্ত দেশকে আঘাত করলেন।
42 ইউসা এই সমস্ত দেশ ও বাদশাহ্দেরকে একই সময়ে হস্তগত করলেন, কারণ ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ করছিলেন।
43 পরে ইউসা সমস্ত ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে গিলগলে অবস্থিত শিবিরে ফিরে আসলেন।
1
পরে যখন হাৎসোরের বাদশাহ্ যাবীন সেই সংবাদ পেলেন, তখন তিনি মাদোনের বাদশাহ্ যোববের, শিম্রোণের বাদশাহ্র ও অক্ষফের বাদশাহ্র কাছে,
2 এবং উত্তরে, পর্বতময় প্রদেশে, কিন্নেরতের দক্ষিণস্থ অরাবাতে, নিম্নভূমিতে ও পশ্চিমে দোর নামক পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত বাদশাহ্দের কাছে দূত প্রেরণ করলেন।
3 এছাড়া, পূর্ব ও পশ্চিম দেশীয় কেনানীয় এবং পর্বতময় প্রদেশস্থ আমোরীয়, হিট্টিয়, পরিষীয় ও যিবূষীয় এবং হার্মোণ পাহাড়ের নিচে অবস্থিত মিস্পাদেশীয় হিব্বীয়দের কাছে দূত প্রেরণ করলেন।
4 তাতে তাঁরা নিজ নিজ সমস্ত সৈন্য, সমুদ্রতীরস্থ বালুকণার মত অসংখ্য লোক এবং অনেক অনেক ঘোড়া ও রথ সঙ্গে নিয়ে বের হলেন।
5 আর এই বাদশাহ্রা সকলে পরামর্শ করে একত্র হলেন; তাঁরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মেরোম জলাশয়ের কাছে এসে একত্রে শিবির স্থাপন করলেন।
6
তখন মাবুদ ইউসাকে বললেন, তুমি ওদের ভয় করো না; কেননা আগামীকাল এমন সময়ে আমি ইসরাইলের সম্মুখে ওদের সকলকেই শেষ করে দিয়ে তোমার হাতে তুলে দেব; তুমি ওদের ঘোড়ার পায়ের শিরা কেটে দেবে ও সমস্ত রথ আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
7 তখন ইউসা সমস্ত সৈন্য সঙ্গে নিয়ে মেরোম জলাশয়ের কাছে তাদের বিরুদ্ধে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে তাদের আক্রমণ করলেন।
8 তাতে মাবুদ তাদের ইসরাইলের হাতে তুলে দিলেন এবং তারা তাদের আঘাত করলো, আর মহাসীদোন ও মিষ্রফোৎ-ময়িম পর্যন্ত ও পূর্ব দিকে মিসপীর উপত্যকা পর্যন্ত তাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেল এবং তাদের আঘাত করে কাউকে অবশিষ্ট রাখল না।
9 আর ইউসা তাদের প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করলেন; তিনি তাদের ঘোড়ার পায়ের শিরা কেটে দিলেন ও তাদের সমস্ত রথ আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।
10
ঐ সময়ে ইউসা ফিরে এসে হাৎসোর অধিকার করলেন ও তলোয়ার দ্বারা সেই স্থানের বাদশাহ্কে আঘাত করলেন, কেননা পূর্বকাল থেকেই হাৎসোর সেই সকল রাজ্যের প্রধান ছিল।
11 আর লোকেরা সেই স্থানের সমস্ত প্রাণীকে তলোয়ারের আঘাতে নিঃশেষে বিনষ্ট করলো; তার মধ্যে শ্বাসবিশিষ্ট কাউকেও অবশিষ্ট রাখল না। তিনি হাৎসোর আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।
12 আর ইউসা ঐ বাদশাহ্দের সমস্ত নগর ও সেসব নগরের সমস্ত বাদশাহ্কে অধিকার করলেন এবং মাবুদের গোলাম মূসার হুকুম অনুসারে তলোয়ারের আঘাতে তাদের নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন।
13 কিন্তু যেসব নগর নিজস্ব সকল ঢিবির উপরে স্থাপিত ছিল, ইসরাইল সেগুলোর একটিও পোড়াল না; কেবল ইউসা হাৎসোর পুড়িয়ে দিলেন।
14 আর বনি-ইসরাইল সেসব নগরের সমস্ত দ্রব্য ও পশু নিজেদের জন্য লুট করে নিল, প্রত্যেক মানুষকে তলোয়ারের আঘাতে সংহার করলো; তাদের মধ্যে শ্বাস বিশিষ্ট কাউকেও অবশিষ্ট রাখল না।
15 মাবুদ তাঁর গোলাম মূসাকে যেরকম হুকুম করেছিলেন, মূসা ইউসাকে সেরকম হুকুম করেছিলেন, আর ইউসাও সেই অনুসারে কাজ করলেন; তিনি মূসার প্রতি উক্ত মাবুদের সমস্ত হুকুমের একটি কথাও অন্যথা করলেন না।
16
এভাবে ইউসা সেসব প্রদেশ, পর্বতময় প্রদেশ, সমস্ত দক্ষিণ অঞ্চল, সমস্ত গোশন দেশ, নিম্নভূমি, অরাবা সমভূমি, ইসরাইলের পর্বতময় প্রদেশ ও তার নিম্নভূমি,
17 সেয়ীরগামী হালক পর্বত থেকে হর্মোণ পর্বতের তলস্থ লেবাননের উপত্যকাতে অবস্থিত বালগাদ পর্যন্ত অধিকার করলেন এবং তাদের সমস্ত বাদশাহ্কে ধরে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করলেন।
18 ইউসা বহুকাল পর্যন্ত সেই বাদশাহ্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
19 গিবিয়োন-নিবাসী হিব্বীয়েরা ছাড়া আর কোন নগরের লোক বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে সন্ধি করলো না; তারা সমস্তই যুদ্ধ করে অধিকার করলো।
20 কারণ মাবুদই তাদের অন্তর কঠিন করে দিয়েছিলেন, যেন তারা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করে, আর তিনি তাদের নির্বিচারে বিনষ্ট করেন, তাদের প্রতি করুণা না করেন, কিন্তু তাদের সংহার করেন; যেমন মাবুদ মূসাকে হুকুম করেছিলেন।
21
আর সেই সময়ে ইউসা এসে পর্বতময় প্রদেশ— হেবরন, দবীর ও অনাব, এহুদার সমস্ত পর্বতময় প্রদেশ, আর ইসরাইলের সমস্ত পর্বতময় প্রদেশ থেকে অনাকীয়দের উচ্ছেদ করলেন; ইউসা তাদের নগরগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করলেন।
22 বনি-ইসরাইলদের দেশে অনাকীয়দের কেউ অবশিষ্ট থাকলো না; কেবল গাজায়, গাত ও অসদোদে কিছু কিছু অনাকীয় অবশিষ্ট থাকলো।
23 এভাবে মূসার প্রতি মাবুদের সমস্ত কালাম অনুসারে ইউসা সমস্ত দেশ অধিকার করলেন; আর ইউসা প্রত্যেক বংশ অনুযায়ী বিভাগ অনুসারে তা অধিকারের জন্য ইসরাইলকে দিলেন। পরে দেশ যুদ্ধ থেকে বিশ্রাম পেল।
1
জর্ডানের পারে সূর্যোদয়ের দিকে বনি-ইসরাইল দেশের যে দুই বাদশাহ্কে আক্রমণ করে তাঁদের দেশ, অর্থাৎ অর্ণোন উপত্যকা থেকে হর্মোন পর্বত পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে অবস্থিত সমস্ত অরাবা সমভূমি, এই দেশ অধিকার করেছিল, সেই দুই বাদশাহ্ এই:
2 হিষবোন-নিবাসী আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোন; তিনি অর্ণোন উপত্যকার সীমাস্থ অরোয়ের উপত্যকার মধ্যস্থিত নগর থেকে এবং অর্ধেক গিলিয়দ, অম্মোনীয়দের সীমা যব্বোক নদী পর্যন্ত,
3 এবং কিন্নেরৎ হ্রদ পর্যন্ত অরাবা সমভূমিতে, পূর্ব দিকে ও বৈৎ-যিশীমোতের পথে অরাবা সমভূমিস্থ লবণ-সমুদ্র পর্যন্ত, পূর্ব দিকে এবং পিসগা পাহাড়শ্রেণীর ঢালু অংশের নিচ পর্যন্ত দক্ষিণ দেশে রাজত্ব করছিলেন।
4 আর বাশনের বাদশাহ্ উজের অঞ্চল; তিনি অবশিষ্ট রফায়ীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং অষ্টারো ও ইদ্রিয়ীতে বাস করতেন;
5 আর হর্মোণ পর্বতে সলখা এবং গশূরীয়দের ও মাখাথীয়দের সীমা পর্যন্ত সমস্ত বাশন দেশে এবং হিষবোনের সীহোন বাদশাহ্র সীমা পর্যন্ত অর্ধেক গিলিয়দ দেশে রাজত্ব করছিলেন।
6 মাবুদের গোলাম মূসা ও বনি-ইসরাইল এদের আক্রমণ করেছিলেন এবং মাবুদের গোলাম মূসা সেই দেশ অধিকার হিসেবে রূবেণীয় ও গাদীয়দের এবং মানশার অর্ধেক বংশকে দিয়েছিলেন।
7
জর্ডানের এপারে পশ্চিম দিকে লেবাননের উপত্যকাতে অবস্থিত বালগাদ থেকে সেয়ীরগামী হালক পর্বত পর্যন্ত ইউসা ও বনি-ইসরাইল দেশের যে যে বাদশাহ্কে আঘাত করলেন ও ইউসা যাদের দেশ অধিকার হিসেবে নিজ নিজ বিভাগ অনুসারে ইসরাইলের বংশগুলোকে দিলেন,
8 সেসব বাদশাহ্, অর্থাৎ পর্বতময় দেশ, নিম্নভূমি, অরাবা সমভূমি, পর্বত-পার্শ্ব, মরুভূমি ও দক্ষিণাঞ্চল-নিবাসী হিট্টিয়, আমোরীয়, কেনানীয়, পরীষীয়, হিব্বয় ও যিবূষীয় (সকল বাদশাহ্) এই এই।
9 জেরিকোর এক জন বাদশাহ্, বেথেলের নিকটস্থ অয়ের এক জন বাদশাহ্,
10 জেরুশালেমের এক জন বাদশাহ্, হেবরনের এক জন বাদশাহ্,
11 যর্মূতের এক জন বাদশাহ্, লাখীশের এক জন বাদশাহ্,
12 ইগ্লোনের এক জন বাদশাহ্, গেষরের এক জন বাদশাহ্,
13 দবীরের এক জন বাদশাহ্, গেদরের এক জন বাদশাহ্,
14 হর্মার এক জন বাদশাহ্, অরাদের এক জন বাদশাহ্,
15 লিব্নার এক জন বাদশাহ্, অদুল্লমের এক জন বাদশাহ্,
16 মক্কেদার এক জন বাদশাহ্, বেথেলের এক জন বাদশাহ্,
17 তপূহের এক জন বাদশাহ্, হেফরের এক জন বাদশাহ্,
18 অফেকের এক জন বাদশাহ্, লশারোণের এক জন বাদশাহ্,
19 মাদোনের এক জন বাদশাহ্, হাৎসোরের এক জন বাদশাহ্,
20 শিম্রোণ-মরোণের এক জন বাদশাহ্, অকষফের এক জন বাদশাহ্,
21 তানকের এক জন বাদশাহ্, মগিদ্দোর এক জন বাদশাহ্,
22 কেদশের এক জন বাদশাহ্, বাদশাহ্, কর্মিলস্থ যক্মিয়ামের এক জন বাদশাহ্,
23 দোর পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত দোরের এক জন বাদশাহ্, গিলগলস্থ গোয়ীমের এক জন বাদশাহ্,
24 তির্সার এক জন বাদশাহ্; মোট একত্রিশ জন বাদশাহ্।
1
ইউসা বৃদ্ধ ও গতবয়স্ক হয়েছিলেন; আর মাবুদ তাঁকে বললেন, তুমি বৃদ্ধ ও গতবয়স্ক হলে; কিন্তু এখনও দেশের অনেক স্থান অধিকার করতে অবশিষ্ট আছে।
2 এখনও দেশের যে সমস্ত স্থান অবশিষ্ট রইল তার মধ্যে রয়েছে: ফিলিস্তিনীদের সমস্ত প্রদেশ এবং গশূরীয়দের সমস্ত অঞ্চল;
3 মিসরের সম্মুখস্থ সীহোর নদী থেকে ইক্রোণের উত্তরসীমা পর্যন্ত, যা কেনানীয়দের অধিকার হিসেবে ধরা হয়; গাজা, অসদোদ, অস্কিলোন, গাত ও ইক্রোণ— ফিলিস্তিনীদের এই পাঁচ জন শাসনকর্তার দেশ,
4 আর দক্ষিণ দিকস্থ অব্বীয়দের দেশ, কেনানীয়দের সমস্ত দেশ ও আমোরীয়দের সীমাস্থিত অফেক পর্যন্ত সীদোনীয়দের অধীন মিয়ারা;
5 গিবলীয়দের দেশ ও হর্মোণ পর্বতের তলস্থিত বালগাদ থেকে হমাতের প্রবেশ স্থান পর্যন্ত, সূর্যোদয় দিকস্থ সমস্ত লেবানন;
6 লেবানন থেকে মিষ্রফোৎ-ময়িম পর্যন্ত পর্বতময় প্রদেশ-নিবাসী সীদোনীয়দের সমস্ত দেশ। আমি বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে তাদের অধিকারচ্যুত করবো; তুমি কেবল তা অধিকার হিসেবে ইসরাইলের জন্য নির্ধারণ কর, যেমন আমি তোমাকে হুকুম করলাম।
7 এখন অধিকার হিসেবে নয়টি বংশকে ও মানশার অর্ধেক বংশকে এই দেশ ভাগ করে দাও।
8
মানশার সঙ্গে রূবেণীয় ও গাদীয়েরা জর্ডানের পূর্বপারে মূসার দেওয়া নিজ নিজ অধিকার পেয়েছিল, যেমন মাবুদের গোলাম মূসা তাদের দান করেছিলেন;
9 অর্থাৎ অর্ণোন উপত্যকার সীমাস্থ আরোয়ের ও উপত্যকার মধ্যস্থিত নগর থেকে এবং দীবোন পর্যন্ত মেদবার সমস্ত সমভূমি;
10 এবং অম্মোনীয়দের সীমা পর্যন্ত হিষবোনে রাজত্বকারী আমোরীয়দের সীহোন বাদশাহ্র সমস্ত নগর;
11 এবং গিলিয়দ ও গশূরীয়দের ও মাখাথীয়দের অঞ্চল ও সমস্ত হর্মোণ পর্বত এবং সলখা পর্যন্ত সমস্ত বাশন,
12 অর্থাৎ রফায়ীয়দের মধ্যে অবশিষ্ট যে উজ অষ্টারোতে ও ইদ্রিয়ীতে রাজত্ব করতেন, তাঁর সমস্ত বাশন রাজ্য দিয়েছিলেন; কেননা মূসা এদের আঘাত করে অধিকারচ্যুত করেছিলেন।
13 তবুও বনি-ইসরাইল গশূরীয়দের ও মাখাথীয়দেরকে অধিকারচ্যুত করে নি; গশূর ও মাখাথ্ আজও ইসরাইলের মধ্যে বাস করছে।
14
কেবল লেবি বংশকে মূসা কোন স্থান অধিকার হিসেবে দেন নি; ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের অগ্নিকৃত উপহার তার অধিকার, যেমন তিনি মূসাকে বলেছিলেন।
15
মূসা রূবেণ-বংশের লোকদেরকে তাদের গোষ্ঠী অনুসারে অধিকার দিয়েছিলেন।
16 অর্ণোন উপত্যকার সীমাস্থ অরোয়ের থেকে তাদের সীমা ছিল এবং উপত্যকার মধ্যস্থিত নগর ও মেদবার নিকটস্থ সমস্ত সমভূমি;
17 হিষবোন ও সমভূমিস্থ তার সমস্ত নগর, দীবোন,
18 বামোৎ-বাল ও বৈৎ-বাল-মিয়োন, ষহস,
19 কদেমোৎ ও মেফাৎ, কিরিয়াথয়িম, সিবমা ও উপত্যকার পর্বতস্থ সেরৎ শহর,
20 বৈৎ-পিয়োর, পিস্গা-পার্শ্ব ও বৈৎ-যিশীমোৎ;
21 এবং সমভূমিস্থ সমস্ত নগর ও হিষবোনে রাজত্বকারী আমোরীয়দের সীহোন বাদশাহ্র সমুদয় রাজ্য; মূসা তাঁকে এবং মাদিয়ানের নেতাদের, অর্থাৎ সেই দেশ-নিবাসী ইবি, রেকম, সুর, হূর ও রেবা নামে সীহোনের রাজ পুরুষদের আঘাত করেছিলেন।
22 বনি-ইসরাইল তলোয়ার দ্বারা যাদের হত্যা করেছিল, তাদের মধ্যে বিয়োরের পুত্র মন্ত্রজ্ঞ বালামকেও হত্যা করেছিল।
23 আর জর্ডান ও তার সীমা রূবেণ-বংশের লোকদের সীমা ছিল; রূবেণ সন্তানদের গোষ্ঠী অনুসারে স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর তাদের অধিকারে এল।
24
আর মূসা গাদ-বংশের লোকদের গোষ্ঠী অনুসারে গাদ বংশকে অধিকার দিয়েছিলেন।
25 যাস ও গিলিয়দের সমস্ত নগর এবং রব্বার সম্মুখস্থ অরোয়ের পর্যন্ত অম্মোনীয়দের অর্ধেক দেশ তাদের অঞ্চল হল।
26 আর হিসবোন থেকে রামৎ-মিস্পী ও বটোনীম পর্যন্ত এবং মহনয়িম থেকে দবীরের সীমা পর্যন্ত;
27 আর উপত্যকাতে বৈৎ-হারম, বৈৎ-নিম্রা, সুক্কোৎ, সাফোন, হিষবোনের সীহোন বাদশাহ্র অবশিষ্ট রাজ্য এবং জর্ডানের পূর্বতীর অর্থাৎ কিন্নেরৎ হ্রদের প্রান্ত পর্যন্ত জর্ডান ও তার অঞ্চল।
28 গাদ-বংশের লোকদের গোষ্ঠী অনুসারে স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর তাদের অধিকারে এল।
29
আর মূসা মানশার অর্ধেক বংশকে অধিকার দিয়েছিলেন; তা মানশা সন্তানদের অর্ধেক বংশের জন্য তাদের গোষ্ঠী অনুসারে দেওয়া হয়েছিল।
30 তাদের সীমা মহনয়িম থেকে সমস্ত বাশন, বাশনের বাদশাহ্ উজের সমস্ত রাজ্য ও বাশনস্থ যায়ীরের সমস্ত নগর অর্থাৎ ষাটটি নগর;
31 এবং অর্ধেক গিলিয়দ, অষ্টারোৎ ও ইদ্রিয়ী, উজের বাশনস্থ রাজ্যের এসব নগর মানশার পুত্র মাখীরের সন্তানদের, অর্থাৎ গোষ্ঠী অনুসারে মাখীরের সন্তানদের অর্ধ-সংখ্যার অধিকারে এল।
32
জেরিকোর সমীপে জর্ডানের পূর্বপারে মোয়াবের সমভূমিতে মূসা এসব অধিকার অংশ করে দিয়েছেন।
33 কিন্তু লেবির বংশকে মূসা কোন স্থান অধিকার হিসেবে দেন নি; ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ তাদের অধিকার, যেমন তিনি তাদের বলেছিলেন।
1
কেনান দেশে বনি-ইসরাইল এই সব স্থান অধিকার হিসেবে গ্রহণ করলো; ইলিয়াসর ইমাম ও নূনের পুত্র ইউসা এবং বনি-ইসরাইলদের বংশগুলোর পিতৃ-কুলপতিরা এসব তাদের ভাগ করে দিলেন।
2 মাবুদ মূসার মধ্য দিয়ে যেরকম হুকুম করেছিলেন, সেই অনুসারে তাঁরা গুলিবাঁট দ্বারা সাড়ে নয় বংশের অংশ নির্ধারণ করলেন।
3 কেননা জর্ডানের ওপারে মূসা আড়াই বংশকে অধিকার দিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে লেবীয়দের কোন অধিকার দেন নি।
4 কেননা ইউসুফ সন্তানেরা দুই বংশ হল, মানশা ও আফরাহীম; আর লেবীয়দেরকে দেশে কোন অংশ দেওয়া হয়নি, কেবল বাস করার জন্য কতগুলো নগর এবং তাদের পশুপাল ও তাদের সম্পত্তির জন্য সেসব নগরের চারণ-ভূমি দেওয়া গেল।
5 মাবুদ মূসাকে যে হুকুম দিয়েছিলেন, বনি-ইসরাইল সেই অনুসারে কাজ করলো এবং দেশ ভাগ করে নিল।
6
আর এহুদা বংশের লোকেরা গিলগলে ইউসার কাছে এল; আর কনিসীয় যিফুন্নির পুত্র কালুত তাঁকে বললেন, মাবুদ আমার ও তোমার বিষয়ে কাদেশ-বর্ণেয়ে আল্লাহ্র লোক মূসাকে যে কথা বলেছিলেন, তা তোমার জানা আছে।
7 আমার চল্লিশ বছর বয়সের সময়ে মাবুদের গোলাম মূসা দেশ অনুসন্ধান করতে কাদেশ-বর্ণেয় থেকে আমাকে প্রেরণ করেছিলেন, আর আমি সরল অন্তঃকরণে তাঁর কাছে সংবাদ এনে দিয়েছিলাম।
8 আমার যে ভাইয়েরা আমার সঙ্গে গিয়েছিল, তারা লোকদের অন্তর ভয়ে গলিয়ে দিয়েছিল; কিন্তু আমি সম্পূর্ণভাবে আমার আল্লাহ্ মাবুদের অনুগামী ছিলাম।
9 আর মূসা ঐ দিনে শপথ করে বলেছিলেন, যে ভূমির উপরে তুমি তোমার পা রেখেছ, সেই ভূমি তোমার ও চিরকাল তোমার সন্তানদের অধিকার হবে; কেননা তুমি সম্পূর্ণভাবে আমার আল্লাহ্ মাবুদের পিছনে চলছো।
10 আর এখন, দেখ, মরুভূমিতে ইসরাইলের ভ্রমণকালে যে সময়ে মাবুদ মূসাকে সেই কথা বলেছিলেন, সেই সময় থেকে মাবুদ তাঁর কালাম অনুসারে এই পঁয়তাল্লিশ বছর আমাকে জীবিত রেখেছেন; আর এখন, দেখ, আজ আমার বয়স পঁচাশি বছর।
11 মূসা যেদিন আমাকে প্রেরণ করেছিলেন, সেদিন আমি যেমন বলবান ছিলাম, আজও তেমনি আছি; যুদ্ধের জন্য এবং বাইরে যাবার ও ভিতরে আসার জন্য আমার তখন যেমন শক্তি ছিল, এখনও তেমনি শক্তি আছে।
12 অতএব সেদিন মাবুদ এই যে পর্বতের বিষয় বলেছিলেন, এখন এটা আমাকে দাও; কেননা তুমি সেদিন শুনেছিলে যে, অনাকীয়েরা সেখানে থাকে এবং সমস্ত নগর বড় ও প্রাচীরবেষ্টিত; হয়তো মাবুদ আমার সহবর্তী থাকবেন, আর আমি মাবুদের কালাম অনুসারে তাদের অধিকারচ্যুত করবো।
13
তখন ইউসা তাঁকে দোয়া করলেন এবং যিফুন্নির পুত্র কালুতকে অধিকার হিসেবে হেবরন দিলেন।
14 এজন্য আজ পর্যন্ত হেবরনে কনিসীয় যিফুন্নির পুত্র কালেবের অধিকার রয়েছে; কেননা তিনি সমপূর্ণভাবে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের অনুগামী ছিলেন।
15 আগেকার দিনে হেবরনের নাম কিরিয়ৎ-অর্ব (অর্বপুর) ছিল, ঐ অর্ব অনাকীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বলবান লোক ছিলেন। পরে দেশ যুদ্ধ থেকে বিশ্রাম পেল।
1
পরে গুলিবাঁটক্রমে নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এহুদা-বংশের লোকদের বংশের অংশ নির্ধারিত হল; ইদোমের সীমা পর্র্যন্ত, অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে, সর্ব দক্ষিণ প্রান্তে সিন প্রান্ত পর্র্যন্ত।
2 আর তাদের দক্ষিণ সীমা লবণ-সমুদ্রের প্রান্ত থেকে অর্থাৎ দক্ষিণমুখী বাঁক থেকে আরম্ভ হল;
3 আর তা দক্ষিণ দিকে অক্রব্বীম আরোহণ-পথ দিয়ে সিন পর্র্যন্ত গেল এবং কাদেশ-বর্নেয়ের দক্ষিণ দিক হয়ে উপরের দিকে উঠে গেল; পরে হিষ্রোনে গিয়ে অদ্দরের দিকে উপরের দিকে উঠে গিয়ে কর্ক্কা পর্র্যন্ত ঘুরে গেল।
4 পরে অস্মোন হয়ে মিসরের স্রোত পর্র্যন্ত বের হয়ে গেল; আর ঐ সীমার অন্তভাগ সমুদ্রে ছিল; এটাই তোমাদের দক্ষিণ সীমা হবে।
5 আর পূর্ব সীমা জর্ডানের মোহনা পর্র্যন্ত লবণ সমুদ্র। আর উত্তর দিকের সীমা জর্ডানের মোহনায় সমুদ্রের বাঁক থেকে বৈৎ-হগ্লায় উপরের দিকে উঠে গিয়ে বৈৎ-অরাবার উত্তর দিক হয়ে গেল,
6 পরে সে সীমা রূবেণ-বংশ বোহনের পাথর পর্র্যন্ত উঠে গেল।
7 পরে সে সীমা আখোর উপত্যকা থেকে দবীরের দিকে গেল; পরে স্রোতের দক্ষিণ পারস্থ অদুম্মীম আরোহণ-পথের সম্মুখস্থ গীলগলের দিকে মুখ করে উত্তর দিকে গেল ও ঐন্-শেমশ নামক জলাশয়ের দিকে চলে গেল, আর তার অন্তভাগ ঐন্-রোগেলে ছিল।
8 সেই সীমা হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকা দিয়ে উঠে যিবূষের অর্থাৎ জেরুশালেমের দক্ষিণ পাশে গেল; পরে ঐ সীমা পশ্চিমে হিন্নোম উপত্যকার সম্মুখস্থ অথচ রফায়ীম উপত্যকার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত পর্বতের চূড়া পর্যন্ত গেল।
9 পরে ঐ সীমা সেই পর্বতের চূড়া থেকে নিপ্তোহের পানির ফোয়ারা পর্র্যন্ত বিস্তৃত হল এবং ইফ্রোণ পর্বতস্থ নগরগুলো পর্র্যন্ত বের হয়ে গেল। আর সে সীমা বালা অর্থাৎ কিরীয়ৎ-যিয়ারীম পর্র্যন্ত গেল;
10 পরে সেই সীমা বালা থেকে সেয়ীর পর্বত পর্র্যন্ত পশ্চিম দিকে ঘুরে যিয়ারীম পর্বতের উত্তর পাশ অর্থাৎ কসালোন পর্র্যন্ত গেল; পরে বৈৎ-শেমশে অধোগামী হয়ে তিম্নার কাছ দিয়ে গেল।
11 আর সেই সীমা ইক্রোনের উত্তর পাশ পর্র্যন্ত বিস্তৃত হল; পরে সে সীমা শিক্করোণ পর্র্যন্ত বিস্তৃত হল এবং বালা পর্বত হয়ে যব্নিয়েলে গেল; আর ঐ সীমার অন্তভাগ সমুদ্রে ছিল।
12 আর পশ্চিম সীমা মহাসমুদ্র ও তার অঞ্চল পর্র্যন্ত। নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এহুদা-বংশের লোকদের চারদিকের সীমা ছিল এই।
13
আর ইউসার প্রতি মাবুদের হুকুম অনুসারে তিনি এহুদা সন্তানদের মধ্যে যিফুন্নির পুত্র কালেবের অংশ কিরিয়ৎ-অর্ব (অর্বপুর) অর্থাৎ হিব্রোন দিলেন, ঐ অর্ব অনাকের পিতা।
14 আর কালুত সেখান থেকে অনাকের সন্তানদের, শেশয়, অহীমান ও তল্ময় নামে অনাকের তিন পুত্রকে অধিকারচ্যুত করলেন।
15 সেখান থেকে তিনি দবীর-নিবাসীদের বিরুদ্ধে গমন করলেন; আগে দবীরের নাম কিরিয়ৎ-শেফর ছিল।
16 আর কালুত বললেন, যে কেউ কিরিয়ৎ-সেফরকে আঘাত করে হস্তগত করবে, তার সঙ্গে আমি আমার কন্যা অক্ষার বিয়ে দেব।
17 আর কালেবের ভাই কনষের পুত্র অৎনীয়েল তা হস্তগত করলে তিনি তাঁর সঙ্গে তাঁর কন্যা অক্ষার বিয়ে দিলেন।
18 আর ঐ কন্যা এসে তার পিতার কাছে একটি ভূমি চাইতে স্বামীকে প্রবৃত্তি দিল; এবং অক্ষা তাঁর গাধার পিঠ থেকে নামলে পর কালুত তাকে বললেন, তুমি কি চাও?
19 সে বললো, আপনি আমাকে একটি উপহার দিন, দক্ষিণাঞ্চলস্থ ভূমি আমাকে দিয়েছেন, পানির ফোয়ারাগুলোও আমাকে দিন। তাতে তিনি তাকে উচ্চতর ফোয়ারাগুলো ও নিম্নতর ফোয়ারাগুলো দিলেন।
20
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এহুদা-বংশের লোকদের বংশের এই অধিকার হল।
21 দক্ষিণ অঞ্চলে ইদোমের সীমার কাছে এহুদা-বংশের লোকদের বংশের প্রান্তস্থিত নগর কব্সেল, এদর, যাগুর,
22 কীনা, দীমোনা, অদাদা
23 কেদশ, হাৎশোর, যিৎনন,
24 ,
25 সীফ, টেলম, বালোৎ, হাৎসোর-হদত্তা, করিয়োৎ-হিষ্রোণ অর্থাৎ হাৎসোর,
26 অমাম, শমা, মোলদা,
27 হৎসর-গদ্দা, হিষ্মোন, বৈৎ-পেলট,
28 হৎসর-শূয়াল, বেরশেবা, বিষিয়োথিয়া,
29 বালা, ইয়ীম, এৎসম,
30 ইলতোলদ, কসীল, হর্মা,
31 সিক্লগ, মদ্মন্না ও সন্সন্না,
32 লবায়োৎ, শিলহীম, ঐন ও রিম্মোন; স্ব স্ব গামের সঙ্গে মোট ঊনত্রিশটি নগর।
33 নিম্নভূমিতে ইষ্টায়োল, সরা, অশনা,
34 সানোহ, ঐন-গন্নীম, তপূহ, ঐনম,
35 যর্মুৎ, অদুল্লম, সোখো, অসেকা,
36 শারয়িম, অদীথয়িম, গদেরা ও গদেরোথয়িম; স্ব স্ব গামের সঙ্গে চৌদ্দটি নগর।
37
,
38 সনান, হদাশা, মিগ্দল্-গাদ, দিলিয়ন, মিস্পী, যক্তেল,
39 লাখীশ, বস্কৎ, ইগ্লোন,
40 কব্বোন, লহমম, কিৎলীশ,
41 গদেরোৎ, বৈৎ-দাগোন, নয়মা ও মক্কেদা; স্ব স্ব গামের সঙ্গে ষোলটি নগর।
42
লিব্না, এথর, আশন,
43 যিপ্তহ, অশনা, নৎসীব,
44 কিয়িলা, অক্সীব ও মারেশা; স্ব স্ব গামের সঙ্গে নয়টি নগর।
45
ইক্রোণ এবং সেই স্থানের উপনগর ও সমস্ত গ্রাম;
46 ইক্রোণ থেকে সমুদ্র পর্র্যন্ত অস্দোদের নিকটস্থ সমস্ত স্থান ও গ্রাম।
47
অস্দোদ, তার উপনগর ও সমস্ত গ্রাম; গাজা তার উপনগর ও সমস্ত গ্রাম; মিসরের স্রোত ও মহাসমুদ্র ও তার সীমা পর্র্যন্ত।
48
আর পর্বতময় দেশে শামীর, যত্তীর, সোখো,
49 দন্না, কিরিয়ৎ-সন্না অর্থাৎ দবীর,
50 অনাব, ইষ্টিমোয়, আনীম,
51 গোশন, হোলোন ও গীলো; স্ব স্ব গামের সঙ্গে এগারটি নগর।
52
আরব, দূমা, ইশিয়ন,
53 যানীম, বৈৎতপূহ, অফেকা,
54 হুমটা, কিরিয়ৎ-অর্ব অর্থাৎ হিব্রোন ও সীয়োর; স্ব স্ব গামের সঙ্গে নয়টি নগর।
55
মায়োন, কর্মিল, সীফ,
56 যুটা, যিষ্রিয়েল, যক্দিয়াম, সানোহ,
57 কাবিল, গিবিয়া ও তিন্মা; স্ব স্ব গামের সঙ্গে দশটি নগর।
58
হলহূল, বৈৎ-সূর, গদোর, মারৎ, বৈৎঅনোৎ ও ইলতো্কোন;
59 স্ব স্ব গামের সঙ্গে ছয়টি নগর।
60
কিরিয়ৎ-বাল অর্থাৎ কিরিয়ৎ-যিয়ারিম ও রব্বা; স্ব স্ব গামের সঙ্গে দু’টি নগর।
61 মরুভূমিতে বৈৎ-অরাবা, মিদ্দীন, সকাখা,
62 নিবশ্ন, লবণ-নগর ও ঐন্-গদী; স্ব স্ব গামের সঙ্গে ছয়টি নগর।
63
কিন্তু এহুদা-বংশের লোকেরা জেরুশালেম-নিবাসী যিবূষীয়দের অধিকারচ্যুত করতে পারল না; যিবূষীয়েরা আজও এহুদা-বংশের লোকদের সঙ্গে জেরুশালেমে বাস করছে।
1
আর গুলিবাঁটক্রমে ইউসুফ-বংশের অংশ জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডান, অর্থাৎ পূর্ব দিকস্থিত জেরিকোর পানি থেকে, জেরিকো থেকে পর্বতময় দেশ দিয়ে উপরের দিকে উঠে গিয়ে মরুভূমিতে বেথেলে গেল;
2 আর বেথেল থেকে লুসে এবং সেই স্থান হয়ে অর্কীয়দের সীমা পর্র্যন্ত আটারোতে গমন করলো।
3 আর পশ্চিম দিকে যফলেটিয়দের সীমার দিকে নিম্নতর বৈৎ-হোরোনের সীমা পর্র্যন্ত, গেষর পর্র্যন্ত গমন করলো এবং তার সীমান্তভাগ ছিল সমুদ্রে।
4 এভাবে ইউসুফ-বংশের মানশা ও আফরাহীম স্ব স্ব অধিকার গ্রহণ করলো।
5
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে আফরাহীম-বংশের লোকদের সীমা এরকম পূর্ব দিকে উচ্চতর বৈৎ-হোরোন পর্র্যন্ত অটারোৎ-অদ্দর তাদের অধিকারের সীমা হল;
6 পরে ঐ সীমা পশ্চিম দিকে মিক্মথতের উত্তরে গেল; আরো পরে সেই সীমা পূর্ব দিকে ঘুরে তানৎ-শীলো পর্র্যন্ত গিয়ে তার কাছ দিয়ে যানোহের পূর্ব দিকে গেল।
7 এভাবে পরে যানোহ থেকে অটারোৎ ও নারঃ হয়ে জেরিকো পর্র্যন্ত গিয়ে জর্ডনে গিয়ে পড়লো।
8 পরে সেই সীমা তপূহ থেকে পশ্চিম দিক হয়ে কান্না স্রোতে গেল ও তার সীমান্ত ভাগ সমুদ্রে ছিল। স্ব স্ব গাষ্ঠী অনুসারে আফরাহীম-সন্তানদের বংশের এই অধিকার।
9 এছাড়া, মানাশা-বংশের লোকদের অধিকারের মধ্যে আফরাহীম-বংশের লোকদের জন্য পৃথক্কৃত নানা নগর ও সেগুলোর গ্রাম ছিল।
10 কিন্তু তারা গেষরবাসী কেনানীয়দের অধিকারচ্যুত করলো না, কিন্তু কেনানীয়েরা আজও পর্র্যন্ত আফরাহীমের মধ্যে বাস করে তাদের কর্মাধীন গোলাম হয়ে রয়েছে।
1
আর গুলিবাঁটক্রমে মানশা-বংশের অংশ নির্ধারিত হল, সে ইউসুফের জ্যেষ্ঠ পুত্র। কিন্তু গিলিয়দের পিতা, অর্থাৎ মানশার জ্যেষ্ঠ পুত্র মাখীর যোদ্ধা বলে গিলিয়দ ও বাশন পেয়েছিল।
2 আর (ঐ অংশ) নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে মানশার অন্যান্য সন্তানদের হল; তারা হল: অবীয়েষর, হেলক, অস্রীয়েল, শেখম, হেফর ও শমীদার গোষ্ঠীর লোকেরা। এরা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে ইউসুফের পুত্র মানশার পুত্র-সন্তান।
3
মানশার সন্তান মাখীরের সন্তান গিলিয়দের সন্তান হেফরের পুত্র সলফাদের পুত্র-সন্তান ছিল না; কেবল কয়েকটি কন্যা ছিল; তার কন্যাদের নাম মহলা, নোয়া, হগলা, মিল্কা ও তির্সা।
4 এরা ইলিয়াসর ইমামের, নূনের পুত্র ইউসা ও নেতৃবর্গের সম্মুখে এসে বললো, আমাদের ভাইদের মধ্যে আমাদের একটি অধিকার দিতে মাবুদ মূসাকে হুকুম করেছিলেন। অতএব মাবুদের হুকুম অনুসারে তিনি তাদের পিতার ভাইদের মধ্যে তাদের একটি অধিকার দেন।
5 তাতে জর্ডানের পরপারস্থ গিলিয়দ ও বাশন দেশ ছাড়া মানশার দিকে দশ ভাগ পড়লো;
6 কেননা মানশার পুত্রদের মধ্যে তার কন্যাদেরও অধিকার ছিল; এবং মানশার অবশিষ্ট পুত্ররা গিলিয়দ দেশ পেল।
7
মানশার সীমা আশের থেকে শিখিমের সম্মুখস্থ মিক্মথৎ পর্যন্ত ছিল; পরে ঐ সীমা দক্ষিণ পাশে ঐন-তপূহ-নিবাসীদের কাছ পর্যন্ত গেল।
8 মানশা তপূহ দেশ পেল, কিন্তু মানশার তপূহ নগর আফরাহীম-বংশের লোকদের অধিকার হল;
9 ঐ সীমা কান্না স্রোত পর্যন্ত, স্রোতের দক্ষিণ তীরে নেমে গেল; মানশার নগরগুলোর মধ্যে অবস্থিত এসব নগর আফরাহীমের ছিল; মানশার সীমা স্রোতের উত্তর দিকে ছিল এবং তার সীমান্তভাগ ছিল সমুদ্রে।
10 দক্ষিণ দিকে আফরাহীম ও উত্তর দিকে মানশার অধিকারে ছিল এবং সমুদ্র তার সীমা ছিল; তারা উত্তর দিকে আশের ও পূর্ব দিকে ইষাখরের পার্শ্ববর্তী ছিল।
11 আর ইষাখর ও আশেরের মধ্যে আশেপাশের সব গ্রাম সহ বৈ-শান ও আশেপাশের সব গ্রাম সহ যিব্লিয়ম ও আশেপাশের সব গ্রাম সহ দোর-নিবাসীরা এবং আশেপাশের সব গ্রাম সহ ঐন্-দোর-নিবাসীরা ও আশেপাশের সব গ্রাম সহ তানকা-নিবাসী ও আশেপাশের সব গ্রাম সহ মগিদ্দো-নিবাসীরা, এই তিনটি পাহাড়ী এলাকা মানশার অধিকারে ছিল।
12 তবুও মানশার লোকেরা সেসব নগরবাসীকে অধিকারচ্যুত করতে পারল না; কেনানীয়েরা সেই দেশে বাস করতে স্থির সঙ্কল্প ছিল।
13 পরে বনি-ইসরাইল যখন শক্তিশালী হয়ে উঠলো তখন কেনানীয়দেরকে কর্মাধীন গোলাম করলো, সমপূর্ণভাবে অধিকারচ্যুত করলো না।
14
পরে ইউসুফের বংশের লোকেরা ইউসাকে বললো, আপনি অধিকার হিসেবে আমাকে কেবল এক অংশ ও এক ভাগ কেন দিলেন? এই যাবৎ মাবুদ আমাকে দোয়া করাতে আমি বড় জাতি হয়েছি।
15 ইউসা তাদের বললেন, যদি তুমি বড় জাতি হয়ে থাক, তবে ঐ অরণ্যে উঠে যাও; ঐ স্থানে পরিষীয় ও রফায়ীয়দের দেশে নিজের জন্যে বন কেটে ফেল, কেননা পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশ তোমার জন্য সঙ্কীর্ণ।
16 ইউসুফের বংশের লোকেরা বললো, এই পর্বতময় দেশে আমাদের সংকুলান হয় না এবং যে সমস্ত কেনানীয় সমভূমিতে বাস করে, বিশেষ করে যারা বৈৎ-শান ও সেই স্থানের আশেপাশের গ্রামগুলো এবং যিষ্রিয়েল উপত্যকায় বাস করে, তাদের লোহার রথ আছে।
17 তখন ইউসা ইউসুফ-বংশকে অর্থাৎ আফরাহীম ও মানশাকে বললেন, তুমি বড় জাতি, তোমার পরাক্রমও মহৎ; তুমি কেবল এক অংশ পাবে না;
18 কিন্তু পর্বতময় দেশ তোমার হবে; সেটি বনাকীর্ণ বটে, কিন্তু সেই বন কেটে ফেললে তার নিচের ভাগ তোমার হবে; কেননা কেনানীয়দের লোহার রথ থাকলেও এবং তারা বিক্রমশালী হলেও তুমি তাদের অধিকারচ্যুত করবে।
1
পরে বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলী শীলোতে সমাগত হয়ে সেই স্থানে জমায়েত-তাঁবু স্থাপন করলো; দেশটি তারা জয় করে নিয়েছিল।
2 ঐ সময়ে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে সাতটি বংশ অবশিষ্ট ছিল, যারা নিজ নিজ অধিকার ভাগ করে নেয় নি।
3 ইউসা বনি-ইসরাইলদের বললেন, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন, সেই দেশে গিয়ে তা অধিকার করতে তোমরা আর কত কাল শিথিল থাকবে?
4 তোমরা তোমাদের এক এক বংশের মধ্য থেকে তিন তিন জনকে দাও; আমি তাদের প্রেরণ করবো, তারা গিয়ে দেশের সর্বত্র ভ্রমণ করবে এবং প্রত্যেকের অধিকার অনুসারে তার বর্ণনা লিখে নিয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে।
5 তারা তা সাতটি অংশে ভাগ করবে; দক্ষিণ দিকে নিজের সীমাতে এহুদা এবং উত্তর দিকে নিজের সীমাতে ইউসুফের বংশ থাকবে।
6 তোমরা দেশটি সাত অংশ করে তার বর্ণনা লিখে আমার কাছে আনবে; আমি এই স্থানে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সাক্ষাতে তোমাদের জন্য গুলিবাঁট করবো।
7 কারণ তোমাদের মধ্যে লেবীয়দের কোন অংশ নেই, কেননা মাবুদের ইমাম-পদ তাদের অধিকার; আর গাদ ও রূবেণ এবং মানশার অর্ধেক বংশ জর্ডানের পূর্বপারে মাবুদের গোলাম মূসা দেওয়া নিজেদের অধিকার পেয়েছে।
8
পরে সেই লোকেরা উঠে যাত্রা করলো; আর যারা সেই দেশের বর্ণনা লিখতে গেল, ইউসা তাদের এই হুকুম দিলেন, তোমরা গিয়ে দেশের সর্বত্র ভ্রমণ করে দেশের বর্ণনা লিখে নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো; তাতে আমি এই শীলোতে মাবুদের সাক্ষাতে তোমাদের জন্য গুলিবাঁট করবো।
9 পরে ঐ লোকেরা গিয়ে দেশের সর্বত্র ভ্রমণ করলো এবং নগর অনুসারে সাত অংশ করে পুস্তকে তার বর্ণনা লিখল; পরে শীলোস্থিত শিবিরে ইউসার কাছে ফিরে এল।
10 আর ইউসা শীলোতে মাবুদের সাক্ষাতে তাদের জন্য গুলিবাঁট করলেন; ইউসা সেই স্থানে বনি-ইসরাইলদের বিভাগ অনুসারে দেশটি তাদেরকে অংশ করে দিলেন।
11
আর গুলিবাঁটক্রমে এক অংশ নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে বিন্ইয়ামীন সন্তানদের বংশের নামে উঠলো। গুলিবাঁটে নির্দিষ্ট তাদের সীমা এহুদা বংশ ও ইউসুফ-বংশের মধ্যে হল।
12 তাদের উত্তর পাশের সীমা জর্ডান থেকে জেরিকোর উত্তর পাশ দিয়ে গেল, পরে পর্বতময় প্রদেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে বৈৎ আবনের মরুভূমি পর্যন্ত গেল।
13 সেখান থেকে ঐ সীমা লূসে, দক্ষিণ দিকে লূসের অর্থাৎ বেথেলের পাশ পর্যন্ত গেল; এবং নিম্নতর বৈৎ-হোরণের দক্ষিণে অবস্থিত পর্বত দিয়ে অটারোৎ-অদ্দরের দিকে নেমে গেল।
14 সেখান থেকে ঐ সীমা ফিরে পশ্চিম পাশে, বৈৎ-হোরণের দক্ষিণে অবস্থিত পর্বত থেকে দক্ষিণ দিকে গেল; আর এহুদা-বংশের লোকদের কিরিয়ৎ-বাল অর্থাৎ কিরিয়ৎ-যিয়ারীম নামক নগর পর্যন্ত গেল; এটা পশ্চিম পার্শ্ব।
15 আর দক্ষিণ পাশ কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের প্রান্ত থেকে আরম্ভ হল এবং সেই সীমা পশ্চিম দিক দিয়ে গিয়ে নিপ্তোহের পানির ফোয়ারা পর্যন্ত স্থির হল।
16 আর ঐ সীমা হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকার সম্মুখ ও রফায়ীম উপত্যকার উত্তর দিকস্থ পর্বতের প্রান্ত পর্যন্ত নেমে গেল এবং হিন্নোমের উপত্যকায়, যিবূষের দক্ষিণ পাশে নেমে এসে ঐন্-রোগেলে গেল।
17 আর উত্তর দিকে ফিরে ঐন-শেমশ পর্যন্ত এবং অদুল্লীম আরোহণ-পথের সম্মুখস্থ গলীলোতের দিক দিয়ে গিয়ে রূবেণ-বংশ বোহনের পাথর পর্যন্ত নেমে গেল।
18 আর উত্তর দিকে অরাবা সমভূমির সম্মুখস্থ পাশে গিয়ে অরাবা সমভূমিতে নেমে গেল।
19 আর ঐ সীমা উত্তর দিকে বৈৎ-হগ্লার পাশ পর্যন্ত গেল; জর্ডানের দক্ষিণ প্রান্তস্থ লবণ-সমুদ্রের উত্তর খাড়ি সেই সীমার প্রান্ত ছিল; এটা দক্ষিণ সীমা।
20 আর পূর্ব পাশে জর্ডান তার সীমা ছিল। চারদিকে তার সীমা অনুসারে বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের এই অধিকার ছিল।
21
নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে, বিন্ইয়ামীন-বংশের নগর জেরিকো, বৈৎ-হগ্লা, এমক-কশিশ,
22 বৈৎ-অরাবা, সমারয়িম, বেথেল,
23 অব্বীম, পারা, অফ্রা,
24 কফর-অম্মোনী, অফ্নি ও সেবা; স্ব স্ব গামের সঙ্গে বারোটি নগর।
25 গিবিয়োন, রামা, বেরোৎ,
26 মিস্পী, কফীরা, মোৎসা,
27 রেকম, যির্পেল, তরলা,
28 সেলা, এলফ, যিবূষ অর্থাৎ জেরুশালেম, গিবিয়াৎ ও কিরিয়ৎ; স্ব স্ব গামের সঙ্গে চৌদ্দটি নগর। নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের এই হল অধিকার।
1
আর গুলিবাঁটক্রমে দ্বিতীয় অংশ শিমিয়োনের নামে, নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে শিমিয়োন-বংশের নামে উঠলো; তাদের অধিকার এহুদা-বংশের লোকদের অধিকারের মধ্যে হল।
2 তাদের অধিকারের মধ্যে রইলো বের্-শেবা, (বা শেবা), মোলাদা,
3 হৎসর-শূয়াল, বালা, এৎসম,
4 ইল্তোলদ, বথূল, হর্মা,
5 সিক্লগ, বৈৎ-মর্কাবোৎ, হৎসর-সুষা,
6 বৈৎ-লবায়োৎ ও শারূহণ; স্ব স্ব গামের সঙ্গে তেরটি নগর।
7 ঐন, রিম্মোণ, এথর ও আশন; স্ব স্ব গামের সঙ্গে চারটি নগর;
8 আর বালৎ-বের, (অর্থাৎ) দক্ষিণ দেশস্থ রামা পর্যন্ত ঐ নগরের চারদিকের সমস্ত গ্রাম। নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে শিমিয়োন-বংশের এই অধিকার।
9 শিমিয়োন-বংশের অধিকার এহুদা-বংশের লোকদের অধিকারের এক ভাগ ছিল, কেননা এহুদা-বংশের লোকদের অংশ তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ছিল; অতএব শিমিয়োন-বংশ তাদের অধিকারের মধ্যে অধিকার পেল।
10
পরে গুলিবাঁটক্রমে তৃতীয় অংশ নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে সবূলূন-বংশের লোকদের নামে উঠলো; সারীদ পর্যন্ত তাদের অধিকারের সীমা হল।
11 তাদের সীমা পশ্চিম দিকে অর্থাৎ মারালা পর্যন্ত এবং দব্বেশৎ ও যক্নিয়ামের সম্মুখস্থ স্রোত পর্যন্ত গেল।
12 আর সারীদ থেকে পূর্ব দিকে, সূর্যোদয় দিকে, ফিরে কিশলোৎ-তাবোরের সীমা পর্যন্ত গেল; পরে দাবরৎ পর্যন্ত বের হয়ে যাফিয়ে উঠে গেল।
13 আর সেখান থেকে পূর্বদিক, সূর্যোদয়ের দিক, হয়ে গাৎ-হেফর দিয়ে এৎ-কাৎসীন পর্যন্ত গেল; এবং নেয়ের দিকে বিস্তৃত রিম্মোণে গেল।
14 আর ঐ সীমা হন্নাথোনের উত্তর দিকে তা বেষ্টন করলো, আর যিপ্তহেল উপত্যকা পর্যন্ত গেল।
15 আর কটৎ, নহলাল, শিম্রোণ, যিদালা ও বৈৎ-লেহম; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে বারোটি নগর।
16 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে সবূলূন-বংশের লোকদের এই অধিকার; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর।
17
পরে গুলিবাঁটক্রমে চতুর্থ অংশ ইষাখরের নামে, স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে ইষাখর-বংশের লোকদের নামে উঠলো।
18 তাদের সীমার মধ্যে পড়লো যিষ্রিয়েল, কসুল্লোৎ, শূনেম,
19 হফারয়িম, শীয়োন, অনহরৎ,
20 রব্বীৎ, কিশিয়োন, এবস,
21 রেমৎ, ঐন-গন্নীম, ঐন-হদ্দা ও বৈৎ-পৎসেস তাদের অধিকার হল।
22 আর সেই সীমা তাবোর, শহৎসূমা ও বৈৎ-শেমশ পর্যন্ত গেল, আর জর্ডান তাদের সীমার প্রান্ত হল; স্ব স্ব গামের সঙ্গে ষোলটি নগর।
23 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে ইষাখর-বংশের এই অধিকার; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর।
24
পরে গুলিবাঁটক্রমে পঞ্চম অংশ স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে আশের-বংশের নামে উঠলো।
25 তাদের সীমা হিল্কৎ, হলী, বেটন, অক্ষফ,
26 অলম্মেলক, অমাদ ও মিশাল এবং পশ্চিম দিকে কর্মিল ও শীহোর-লিব্নৎ পর্যন্ত গেল।
27 আর সূর্যোদয় দিকে বৈৎ-দাগোনের অভিমুখে ঘুরে সবূলুন ও উত্তর দিকে যিপ্তহেল উপত্যকা, বৈৎ-এমক ও ন্যীয়েল পর্যন্ত গেল, পরে বামদিকে কাবূলে,
28 এবং এব্রোণে, রহোবে, হম্মোনে ও কান্নাতে এবং মহাসীদোন পর্যন্ত গেল।
29 পরে সে সীমা ঘুরে রামা ও প্রাচীর-বেষ্টিত টায়ার নগরে গেল, পরে সেই সীমা ঘুরে হোষাতে গেল এবং অক্ষীব প্রদেশস্থ সমুদ্রতীর,
30 আর উম্মা, অফেক ও রহোব তার প্রান্ত হল; স্ব স্ব গামের সঙ্গে বাইশটি নগর।
31 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে আশের-বংশের এই অধিকার; স্ব স্ব গামের সঙ্গে এসব নগর।
32
পরে গুলিবাঁটক্রমে ষষ্ঠ অংশ নপ্তালি-বংশের লোকদের নামে নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে নপ্তালি-বংশের লোকদের নামে উঠলো।
33 তাদের সীমা হেলফ থেকে, সানন্নীমস্থ অলোন গাছ থেকে, অদামীনেকব ও যব্নিয়েল দিয়ে লক্কুম পর্যন্ত গেল ও তার অন্তভগে ছিল জর্ডানে।
34 আর ঐ সীমা পশ্চিম দিকে ফিরে অস্নোৎ-তাবোর পর্যন্ত গেল; এবং সেখান থেকে হূক্কোক পর্যন্ত গেল; আর দক্ষিণে সবূলূন ও পশ্চিমে আশের পর্যন্ত ও সূর্যোদয় দিকে জর্ডান সমীপস্থ এহুদা পর্যন্ত গেল।
35 আর প্রাচীর বেষ্টিত নগর সিদ্দীম, সের, হম্মৎ, রক্কৎ, কিন্নেরৎ,
36 অদামা, রামা, হাৎসোর,
37 কেদশ, ইদ্রিয়ী, ঐন-হাৎসোর,
38 যিরোণ, মিদ্গল-এল, হোরেম, বৈৎ-অনাৎ ও বৈৎশেমশ; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে ঊনিশটি নগর।
39 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে নপ্তালি-বংশের এই অধিকার; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর।
40
আর গুলিবাঁটক্রমে সপ্তম অংশ নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে দান-বংশের লোকদের বংশের নামে উঠলো।
41 তাদের অধিকারের সীমা সরা, ইষ্টায়োল, ঈর-শেমশ,
42 শালবীন, অয়ালোন, যিৎলা,
43 এলোন, তিম্না, ইক্রোণ,
44 ইল্তকী, গিব্বথোন, বালৎ,
45 যিহূদ, বনে-বরক, গাৎ-রিম্মোণ,
46 মেয়র্কোন, রক্কোন ও যাফোর সম্মুখস্থ অঞ্চল।
47 আর দান-বংশের লোকদের সীমা সেসব স্থান অতিক্রম করলো; কারণ দান-বংশের লোকেরা লেশম নগরের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধ করলো এবং তা অধিকার করে তলোয়ারের আঘাতে শেষ করে দিল, আর অধিকারপূর্বক সেখানে বাস করলো এবং তাদের পূর্বপুরুষ দানের নাম অনুসারে লেশমের নাম রাখল।
48 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে দান-বংশের এই অধিকার; স্ব স্ব গ্রামের সঙ্গে এসব নগর।
49
এভাবে স্ব স্ব সীমানুসারে অধিকার করে তারা দেশ ভাগ করার কাজ সমাপ্ত করলো; আর বনি-ইসরাইল নিজেদের মধ্যে নূনের পুত্র ইউসাকে একটি অধিকার দিল।
50 তারা মাবুদের কালাম অনুসারে তাঁর প্রার্থিত নগর অর্থাৎ পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ তিম্মৎ-সেরহ তাঁকে দিল; তাতে তিনি ঐ নগর নির্মাণ করে সেখানে বাস করলেন।
51
ইলিয়াসর ইমাম, নূনের পুত্র ইউসা ও বনি-ইসরাইলদের বংশগুলোর পিতৃকুল-পতিরা শীলোতে মাবুদের সম্মুখে জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে গুলিবাঁট দ্বারা এসব অধিকার দিলেন। এভাবে তাঁরা দেশ ভাগের কাজ সমাপ্ত করলেন।
1
পরে মাবুদ ইউসাকে বললেন,
2 তুমি বনি-ইসরাইলদের বল, আমি মূসার মাধ্যমে তোমাদের কাছে যে যে নগরের কথা বলেছি, তোমরা তোমাদের জন্য সেসব আশ্রয়-নগর নির্ধারণ কর।
3 তাতে যে ব্যক্তি ভুলবশত অজ্ঞাতসারে কাউকেও হত্যা করে, সেই নরহন্তা সেখানে পলাতে পারবে এবং সেই নগরগুলো রক্তের প্রতিশোধদাতার হাত থেকে তোমাদের রক্ষার স্থান হবে।
4 আর সে তার মধ্যে কোন এক নগরে পালিয়ে যাবে এবং নগর-দ্বারের প্রবেশ স্থানে দাঁড়িয়ে নগরের প্রধান ব্যক্তিবর্গের কর্ণগোচরে নিজের কথা বলবে; পরে তারা নগরের মধ্যে তাদের কাছে তাকে এনে তাদের মধ্যে বাস করতে স্থান দেবে।
5 আর রক্তের প্রতিশোধদাতা তার পিছনে তাড়া করে আসলে তারা তার হাতে সেই নরহন্তাকে তুলে দেবে না; কেননা সে অজ্ঞাতসারে তার প্রতিবেশীকে আঘাত করেছিল, আগে থেকে তার মনে তার প্রতি কোন হিংসা ছিল না।
6 অতএব যতদিন সে বিচারের জন্য মণ্ডলীর সাক্ষাতে না দাঁড়ায় এবং তৎকালীন মহা-ইমামের মৃত্যু না হয়, ততদিন সে ঐ নগরে বাস করবে; পরে সেই নরহন্তা তার নগরে ও তার বাড়িতে, যে নগর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই স্থানে ফিরে যাবে।
7
তাতে তারা পর্বতময় নপ্তালি প্রদেশস্থ গালীলের কেদশ, পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ শিখিম ও পর্বতময় এহুদা প্রদেশস্থ কিরিয়ৎ-অর্ব অর্থাৎ হেবরন পৃথক করলো।
8 আর জেরিকোর নিকটস্থ জর্ডানের পূর্বপারে তারা রূবেণ-বংশের অধিকার হতে সমভূমির মরুভূমিতে অবস্থিত বেৎসর, গাদ-বংশের অধিকার থেকে গিলিয়দস্থিত রামোৎ ও মানশা-বংশের অধিকার থেকে বাশনস্থ গোলান নির্ধারণ করলো।
9 কেউ ভুলবশত হত্যা করলে যতদিন মণ্ডলীর সম্মুখে না দাঁড়ায়, ততদিন সেই স্থানে যেন পালাতে পারে ও রক্তের প্রতিশোধদাতার হাতে না মরে, এজন্য সমস্ত বনি-ইসরাইলের ও তাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীর জন্য এসব নগর নির্ধারিত হল।
1
পরে লেবীয়দের পিতৃকুলপতিরা ইলিয়াসর ইমামের, নূনের পুত্র ইউসার ও বনি-ইসরাইলদের বংশগুলোর পিতৃকুলপতিদের কাছে আসলেন,
2 ও কেনান দেশের শীলোতে তাঁদের বললেন, আমাদের বাস করার নগর ও পশুদের জন্য চারণ-ভূমি দেবার হুকুম মাবুদ মূসা দ্বারা দিয়েছিলেন।
3 তাতে মাবুদের হুকুম অনুসারে বনি-ইসরাইল নিজ নিজ অধিকার থেকে লেবীয়দেরকে এ সব নগর ও সেগুলোর চারণ-ভূমি দিল।
4
কহাতীয় গোষ্ঠীগুলোর নামে গুলি উঠলো; তাতে লেবীয়দের মধ্যে ইমাম হারুনের সন্তানেরা গুলিবাঁট দ্বারা এহুদা বংশ, শিমিয়োনীয়দের বংশ ও বিন্ইয়ামীন-বংশ থেকে তেরটি নগর পেল।
5
আর কহাতের অবশিষ্ট সন্তানেরা গুলিবাঁট দ্বারা আফরাহীম-বংশের গোষ্ঠীগুলো থেকে এবং দান বংশ ও মানশার অর্ধেক বংশ থেকে দশটি নগর পেল।
6
আর গোর্শোনের বংশধরদের গুলিবাঁট দ্বারা ইষাখর-বংশের গোষ্ঠীগুলো থেকে এবং আশের বংশ, নপ্তালি বংশ ও বাশনস্থ মানশার অর্ধেক বংশ থেকে তেরটি নগর পেল।
7
আর মরারি বংশের লোকেরা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে রূবেণ বংশ, গাদ বংশ ও সবূলূন বংশ থেকে বারোটি নগর পেল।
8
এভাবে বনি-ইসরাইল গুলিবাঁট করে লেবীয়দেরকে এসব নগর ও সেগুলোর চারণ-ভূমি দিল, যেমন মাবুদ মূসার দ্বারা হুকুম দিয়েছিলেন।
9
তারা এহুদা-বংশের লোকদের বংশ ও শিমিয়োন-বংশের অধিকার থেকে এই এই নামবিশিষ্ট নগর দিল।
10 লেবির সন্তান কহাতীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যবর্তী হারুন-সন্তানদের সেসব হল; কেননা তাদের নামে প্রথম গুলি উঠলো।
11 ফলত তারা অনাকের পিতা অর্বের কিরিয়ৎ-অর্ব, অর্থাৎ পর্বতময় এহুদা প্রদেশস্থ হেবরন ও তার চারদিকের চারণ-ভূমি তাদের দিল।
12 কিন্তু ঐ নগরের ক্ষেত ও গ্রামগুলো তারা অধিকার হিসেবে যিফুন্নির পুত্র কালুতকে দিল।
13
তারা ইমাম হারুনের সন্তানদের চারণ-ভূমির সঙ্গে নরহন্তার আশ্রয়নগর হেবরন দিল; এবং চারণ-ভূমির সঙ্গে লিবনা,
14 চারণ-ভূমির সঙ্গে যত্তীর, চারণ-ভূমির সঙ্গে ইষ্টমোয়,
15 চারণ-ভূমির সঙ্গে হোলোন, চারণ-ভূমির সঙ্গে দবীর,
16 চারণ-ভূমির সঙ্গে ঐন, চারণ-ভূমির সঙ্গে যুটা ও চারণ-ভূমির সঙ্গে বৈৎ-শেমশ, ঐ দুই বংশের অধিকার থেকে এই নয়টি নগর দিল।
17 আর বিন্ইয়ামীন-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে গিবিয়োন, চারণ-ভূমির সঙ্গে গেবা,
18 চারণ-ভূমির সঙ্গে অনাথোৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে অলমোন এই চারটি নগর দিল।
19 সর্বমোট চারণ-ভূমির সঙ্গে তেরটি নগর হারুন-সন্তান ইমামদের অধিকার হল।
20
আর কহাতের অবশিষ্ট সন্তানেরা অর্থাৎ কহাতীয়রা লেবীয়দের গোষ্ঠীগুলো আফরাহীম বংশের অধিকার থেকে তাদের প্রাপ্য নগর পেল।
21 ফলত নরহন্তার আশ্রয়-নগর পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ শিখিম ও তার চারণ-ভূমি এবং চারণ-ভূমির সঙ্গে গেষর;
22 ও চারণ-ভূমির সঙ্গে কিবসয়িম ও চারণ-ভূমির সঙ্গে বৈৎ-হোরোণ; এই চারটি নগর তারা তাদের দিল।
23 আর দান-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে ইলতকী, চারণ-ভূমির সঙ্গে গিব্বথোন,
24 চারণ-ভূমির সঙ্গে অয়ালোন ও চারণ-ভূমির সঙ্গে গাৎ-রিম্মোণ, এই চারটি নগর দিল।
25 আর মানশার অর্ধেক বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে তানক ও চারণ-ভূমির সঙ্গে গাৎ-রিম্মোণ, এই দু’টি নগর দিল।
26 কহাতের অবশিষ্ট সন্তানদের গোষ্ঠীগুলোর জন্য সবসুদ্ধ চারণ-ভূমির সঙ্গে এই দশটি নগর দিল।
27
পরে তারা লেবীয়দের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গের্শোনীয়দেরকে মানশার অর্ধেক বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে নরহন্তার আশ্রয়-নগর বাশনস্থ গোলান এবং চারণ-ভূমির সঙ্গে বীষ্টরা, এই দু’টি নগর দিল।
28 আর ইষাখর-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে কিশিয়োন, চারণ-ভূমির সঙ্গে দাবরৎ,
29 চারণ-ভূমির সঙ্গে যর্মূৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে ঐন্-গন্নীম; এই চারটি নগর দিল।
30 আর আশের-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে মিশাল, চারণ-ভূমির সঙ্গে আব্দোন,
31 চারণ-ভূমির সঙ্গে হিল্কৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গের হোব; এই চারটি নগর দিল।
32 আর নপ্তালি-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে নরহন্তার আশ্রয়— নগর গালীলস্থ কেদশ এবং চারণ-ভূমির সঙ্গে হম্মোৎ দোর ও চারণ-ভূমির সঙ্গে কর্তন, এই তিনটি নগর দিল।
33 নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে গের্শোনীয়েরা সবসুদ্ধ চারণ-ভূমির সঙ্গে এই তেরোটি নগর পেল।
34
পরে তারা মরারিয়দের গোষ্ঠীগুলোর অর্থাৎ অবশিষ্ট লেবীয়দেরকে সবূলূন-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে যক্মিয়াম, চারণ-ভূমির সঙ্গে কার্তা,
35 চারণ-ভূমির সঙ্গে দিম্না ও চারণ-ভূমির সঙ্গে নহলোল এই চারটি নগর দিল।
36 আর রূবেণ-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে বেৎসর,
37 চারণ-ভূমির সঙ্গে যহস, চারণ-ভূমির সঙ্গে কদেমোৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে মেপাৎ, এই চারটি নগর দিল।
38 আর গাদ-বংশের অধিকার থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে নরহন্তার আশ্রয়-নগর গিলিয়দস্থ রামোৎ,
39 এবং চারণ-ভূমির সঙ্গে মহনয়িম, চারণ-ভূমির সঙ্গে হিষ্বেণ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে যাসের, সর্ব মোট এই চারটি নগর দিল।
40 এভাবে লেবীয়দের অবশিষ্ট সমস্ত গোষ্ঠী, অর্থাৎ মরারিয়রা নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে গুলি-বাঁট দ্বারা সবসুদ্ধ বারোটি নগর পেল।
41
বনি-ইসরাইলদের অধিকারের মধ্যে চারণ-ভূমির সঙ্গে সবসুদ্ধ আটচল্লিশটি নগর লেবীয়দের হল।
42 সেসব নগরের মধ্যে প্রত্যেক নগরের চারদিকে চারণ-ভূমি ছিল; সেসব নগরেরই এরকম ছিল।
43
মাবুদ লোকদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশের বিষয় শপথ করেছিলেন, সেই সমগ্র দেশ তিনি ইসরাইলকে দিলেন এবং তারা তা অধিকার করে নেসে সেখানে বাস করলো।
44 মাবুদ তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কৃত তাঁর সমস্ত কসম অনুসারে চারদিকে তাদের বিশ্রাম দিলেন; তাদের সমস্ত দুশমনের মধ্যে কেউই তাদের সম্মুখে দাঁড়াতে পারল না; মাবুদ তাদের সমস্ত দুশমনকে তাদের হাতে অর্পণ করলেন।
45 মাবুদ ইসরাইল-কুলের কাছে যেসব মঙ্গলের কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে একটি কথাও নিষ্ফল হল না; সবই সফল হল।
1
সেই সময়ে ইউসা রূবেণীয় ও গাদীয়দেরকে এবং মানশার অর্ধেক বংশকে ডেকে বললেন;
2 মাবুদের গোলাম মূসা তোমাদের যেসব হুকুম দিয়েছিলেন, সেসবই তোমরা পালন করেছ; এবং আমি তোমাদের যেসব হুকুম দিয়েছি, তোমরা সব কিছুতে আমার হুকুমের বাধ্য হয়েছ।
3 বহুদিন থেকে আজ পর্যন্ত তোমরা আপন আপন ভাইদেরকে ছেড়ে যাও নি, কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম পালন করে এসেছ।
4 সম্প্রতি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর ওয়াদা অনুসারে তোমাদের ভাইদেরকে বিশ্রাম দিয়েছেন; অতএব এখন তোমরা স্ব স্ব তাঁবুতে, অর্থাৎ মাবুদের গোলাম মূসা জর্ডানের অপর পারে যে দেশ তোমাদের দিয়েছেন, তোমাদের সেই অধিকারভুক্ত দেশে ফিরে যাও।
5 কেবল এই এই বিষয়ে খুব যত্নবান থেকো, মাবুদের গোলাম মূসা তোমাদের যে হুকুম ও নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করো, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করো, তাঁর সমস্ত পথে চলো, তাঁর হুকুমগুলো পালন করো, তাঁতে আসক্ত থেকো এবং সমস্ত অন্তর ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাঁর সেবা করো।
6 পরে ইউসা তাদের দোয়া করে বিদায় দিলেন; তারা নিজ নিজ তাঁবুতে প্রস্থান করলো।
7
মূসা মানশার অর্ধেক বংশকে বাশনে অধিকার দিয়েছিলেন এবং ইউসা তার অন্য অর্ধেক বংশকে জর্ডানের পশ্চিম পারে তাদের ভাইদের মধ্যে অধিকার দিয়েছিলেন। আর স্ব স্ব তাঁবুতে বিদায় করার সময়ে ইউসা তাদের দোয়া করলেন, আর বললেন,
8 তোমরা প্রচুর সম্পত্তি, পাল পাল পশু এবং রূপা, সোনা, ব্রোঞ্জ, লোহা ও অনেক কাপড়-চোপড় সঙ্গে নিয়ে নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যাও, তোমাদের দুশমনদের থেকে লুণ্ঠিত দ্রব্য তোমাদের ভাইদের মাঝে ভাগ করে নাও।
9
পরে রূবেণ-বংশের লোকেরা, গাদ-বংশের লোকেরা ও মানশার অর্ধেক বংশ কেনান দেশস্থ শীলোতে বনি-ইসরাইলদের কাছ থেকে ফিরে গেল, মূসার মধ্য দিয়ে বলা মাবুদের কালাম অনুসারে পাওয়া গিলিয়দ দেশের, তাদের অধিকারভুক্ত দেশের দিকে যাবার জন্য যাত্রা করলো।
10
আর কেনান দেশস্থ জর্ডান অঞ্চলে উপস্থিত হলে রূবেণ-বংশের লোকেরা, গাদ-বংশের লোকেরা ও মানশার অর্ধেক বংশ সেই স্থানে জর্ডানের ধারে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলো, সেই কোরবানগাহ্ দেখতে বড় ছিল।
11
তখন বনি-ইসরাইল শুনতে পেল, দেখ, রূবেণ-বংশের লোকেরা, গাদ-বংশের লোকেরা ও মানশার অর্ধেক বংশ কেনান দেশের সম্মুখে জর্ডান অঞ্চলে, বনি-ইসরাইলদের পারে, একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করেছে।
12 বনি-ইসরাইল যখন এই কথা শুনল, তখন বনি-ইসরাইলদের সমস্ত মণ্ডলী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমন করতে শীলোতে একত্র হল।
13
পরে বনি-ইসরাইল রূবেণ-বংশের লোকদের, গাদ-বংশের লোকদের ও মানশার অর্ধেক বংশের কাছে গিলিয়দ দেশে ইলিয়াসর ইমামের পুত্র পীনহস্কে,
14 এবং তাঁর সঙ্গে ইসরাইলের প্রত্যেক বংশ থেকে এক জন করে মোট দশ জন পিতৃকুলের নেতাকে প্রেরণ করলো; তাঁরা এক এক জন ইসরাইলের হাজার লোকের মধ্যে নিজ নিজ পিতৃকুলের প্রধান ছিলেন।
15 তাঁরা গিলিয়দ দেশে রূবেণ-বংশের লোকদের, গাদ-বংশের লোকদের ও মানশার অর্ধেক বংশের কাছে এসে তাদের এই কথা বললেন,
16 মাবুদের সমস্ত মণ্ডলী এই কথা বলছে, আজ মাবুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হবার জন্য নিজেদের জন্য একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করাতে তোমরা আজ মাবুদের পিছনে চলা থেকে ফিরে যাবার জন্য ইসরাইলের আল্লাহ্র বিরুদ্ধে এই যে বিশ্বাস ভঙ্গ করে করলে, এটা কি?
17 যে অপরাধের জন্য মাবুদের মণ্ডলীর মধ্যে মহামারী হয়েছিল এবং যা থেকে আমরা আজও পাক-সাফ হই নি, পিয়োর-বিষয়ক সেই অপরাধ কি আমাদের পক্ষে ক্ষুদ্র?
18 এই কারণে কি আজ মাবুদের পেছনে চলা থেকে ফিরে যেতে চাও? তোমরা আজ মাবুদের বিদ্রোহী হলে তিনি আগামীকাল ইসরাইলের সমস্ত মণ্ডলীর প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন।
19 যা হোক, তোমাদের অধিকারভুক্ত দেশ যদি নাপাক হয়, তবে পার হয়ে মাবুদের অধিকৃত দেশে, যেখানে মাবুদের আবাস-তাঁবু রয়েছে, সেই স্থানে এসে আমাদেরই মধ্যে অধিকার গ্রহণ কর; কিন্তু আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কোরবানগাহ্ ভিন্ন তোমাদের জন্য অন্য কোরবানগাহ্ তৈরি করে মাবুদের বিদ্রোহী ও আমাদের বিদ্রোহী হয়ো না।
20 সেরহের পুত্র আখন বর্জিত বস্তু সম্বন্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে করলে আল্লাহ্র গজব কি ইসরাইলের সমস্ত মণ্ডলীর প্রতি উপস্থিত হয় নি? সেই ব্যক্তি তো তার অপরাধে একাকী বিনষ্ট হয় নি।
21
তখন রূবেণ-বংশ ও মানশার অর্ধেক বংশ ইসরাইলের সেই সহস্রপতিদেরকে এই উত্তর দিল;
22 মাবুদ, যিনি প্রভুদের আল্লাহ্! মাবুদ, যিনি প্রভুদের আল্লাহ্! তিনি জানেন এবং ইসরাইলও এই কথা জানুক। যদি আমরা মাবুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ-ভাবে কিংবা সত্য-লঙ্ঘন করে এই কাজ করে থাকি, তবে আজ আমাদের রক্ষা করো না।
23 আমরা আমাদের জন্য যে কোরবানগাহ্ তৈরি করেছি, তা যদি মাবুদের পেছনে চলা থেকে ফিরে যাবার জন্য, কিংবা তার উপরে পোড়ানো-কোরবানী বা শস্য-উৎসর্গ কোরবানী করার জন্য অথবা মঙ্গল-কোরবানী করার জন্য তৈরি করে থাকি, তবে মাবুদ স্বয়ং তার প্রতিফল দিন।
24 আমরা বরং ভয় করে, একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে এই করেছি, ফলত কি জানি, ভাবী কালে তোমাদের সন্তানেরা আমাদের সন্তানদের এই কথা বলবে, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক কি?
25 হে রূবেণ-বংশের লোকেরা, গাদ-বংশের লোকেরা, তোমাদের ও আমাদের উভয়ের মধ্যে মাবুদ জর্ডানকে সীমা করে রেখেছেন; মাবুদের উপর তোমাদের কোন অধিকার নেই। এভাবে পাছে তোমাদের সন্তানেরা আমাদের সন্তানদের মাবুদের ভয় ত্যাগ করায়।
26 এজন্য আমরা বললাম, এসো, আমরা একটি কোরবানগাহ্ নির্মাণের উদ্যোগ নিই, পোড়ানো-কোরবানী বা কোরবানীর জন্য নয়;
27 কিন্তু আমাদের পোড়ানো-কোরবানী, কোরবানী ও আমাদের মঙ্গল করার উপহার দ্বারা মাবুদের সম্মুখে তাঁর সেবা করতে আমাদের অধিকার আছে, এই কথা প্রমাণ করার জন্য তা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এবং আমাদের পরে আমাদের ভাবী বংশের মধ্যে সাক্ষী হবে; তাতে ভাবী কালে তোমাদের সন্তানেরা আমাদের সন্তানদের বলতে পারবে না যে, মাবুদে তোমাদের কোন অংশ নেই।
28 আর আমরা বললাম, তারা যদি ভাবী কালে আমাদের কিংবা আমাদের বংশকে এই কথা বলে, তবে আমরা বলবো, তোমরা মাবুদের কোরবানগাহ্র ঐ প্রতিরূপ দেখ, আমাদের পূর্বপুরুষরা তা তৈরি করেছে; পোড়ানো-কোরবানী বা কোরবানীর জন্য নয়, কিন্তু ওটা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী।
29 আমরা যে পোড়ানো-কোরবানীর, শস্য-উৎসর্গের কিংবা কোরবানীর জন্য তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখস্থিত তাঁর কোরবানগাহ্ ছাড়া অন্য কোরবানগাহ্ তৈরি দ্বারা মাবুদের বিদ্রোহী হব, কিংবা আমরা যে মাবুদের পিছনে চলা থেকে আজ ফিরে যাব, তা দূরে থাকুক।
30
তখন পীনহস ইমাম, তাঁর সহবর্তী মণ্ডলীর নেতাবৃন্দ ও ইসরাইলের সহস্রপতিরা ও রূবেণ-বংশের, গাদ-বংশের ও মানাশা-বংশের লোকদের এই কথা শুনে সন্তুষ্ট হলেন।
31 আর ইলিয়াসর ইমামের পুত্র পীনহস রূবেণ-বংশ, গাদ-বংশ ও মানাশা-বংশের লোকদের বললেন, আজ আমরা জানলাম যে, মাবুদ আমাদের মধ্যে আছেন, কেননা তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধে এই সত্য লঙ্ঘন কর নি; এখন তোমরা বনি-ইসরাইলদেরকে মাবুদের হাত থেকে উদ্ধার করলে।
32
পরে ইলিয়াসর ইমামের পুত্র পীনহস ও নেতৃবর্গ রূবেণ-বংশ ও গাদ-বংশের লোকদের কাছ থেকে, গিলিয়দ দেশ থেকে, কেনান দেশে বনি-ইসরাইলদের কাছে ফিরে এসে তাদের সংবাদ দিলেন।
33 তখন বনি-ইসরাইল ঐ সংবাদে সন্তুষ্ট হল; আর বনি-ইসরাইল আল্লাহ্র প্রশংসা করলো এবং রূবেণ-বংশ ও গাদ-বংশের লোকদের নিবাসদেশ বিনাশ করার জন্য যুদ্ধে যাবার সম্বন্ধে আর কিছু বললো না।
34 পরে রূবেণ-বংশ ও গাদ-বংশের লোকেরা সেই কোরবানগাহ্র নাম (এদ) রাখল, কেননা (তারা বললো), মাবুদই যে আল্লাহ্, এটা আমাদের মধ্যে তার সাক্ষী (এদ) হবে।
1
অনেক দিন পরে, যখন মাবুদ ইসরাইলকে তাদের চারদিকের সমস্ত দুশমন থেকে বিশ্রাম দিলেন এবং ইউসাও বৃদ্ধ ও অনেক বয়স্ক হলেন।
2 তখন ইউসা সমস্ত ইসরাইল, তাদের প্রাচীনবর্গ, নেতৃবর্গ, বিচারক ও শাসকদের ডেকে এনে বললেন, আমি বৃদ্ধ ও অনেক বয়স্ক হয়েছি।
3 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের জন্য এসব জাতির প্রতি যে যে কাজ করেছেন, তা তোমরা দেখেছ; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ নিজে তোমাদের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন।
4 দেখ, যে যে জাতি অবশিষ্ট আছে এবং জর্ডান থেকে সূর্যাস্ত-গমনের দিকে মহাসমুদ্র পর্যন্ত যেসব জাতিকে আমি উচ্ছিন্ন করেছি, তাদের দেশে আমি তোমাদের বংশগুলোর অধিকার হিসেবে গুলিবাঁট দ্বারা ভাগ করে দিয়েছি।
5 আর তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ নিজে তোমাদের সম্মুখ থেকে তাদের ঠেলে ফেলে দেবেন, তোমাদের দৃষ্টিসীমা থেকে তাড়িয়ে দেবেন, তাতে তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কালাম অনুসারে তাদের দেশ অধিকার করবে।
6 অতএব তোমরা মূসার শরীয়ত-কিতাবে লেখা সমস্ত কালাম পালন ও রক্ষা করার জন্য সাহস কর; তার ডানে কিংবা বামে ফিরবে না।
7 আর এই জাতিদের যে অবশিষ্ট লোক তোমাদের মধ্যে রইলো, তাদের মধ্যে প্রবেশ করো না, তাদের দেবতাদের নাম নিও না, তাদের নামে শপথ করো না এবং তাদের সেবা ও তাদের সেজ্দা করো না;
8 কিন্তু আজ পর্যন্ত যেমন করে আসছ, তেমনি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি আসক্ত থাক।
9 কেননা মাবুদ তোমাদের সম্মুখ থেকে বড় ও বলবান জাতিদের তাড়িয়ে দিয়েছেন; আজ পর্যন্ত তোমাদের সম্মুখে কেউ দাঁড়াতে পারে নি।
10 তোমাদের এক জন হাজার জনকে তাড়িয়ে দেয়; কেননা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের যেমন বলেছেন, সেই অনুসারে তিনি নিজে তোমাদের পক্ষে যুদ্ধ করছেন।
11 অতএব তোমরা নিজ নিজ প্রাণের বিষয়ে অতি সাবধান হয়ে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে মহব্বত করো।
12 নতুবা যদি কোনভাবে পিছনে ফিরে যাও এবং এই জাতিদের শেষ যে লোকেরা তোমাদের মধ্যে অবশিষ্ট আছে, তাদের প্রতি আসক্ত হও, তাদের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন কর এবং তাদের কাছে তোমাদের ও তোমাদের কাছে তাদের সমাগম হয়;
13 তবে নিশ্চয় জানবে, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের দৃষ্টিসীমা থেকে এই জাতিদের আর তাড়িয়ে দেবেন না, কিন্তু তারা তোমাদের ফাঁদ ও পাশ এবং তোমাদের কক্ষে কশাঘাত ও তোমাদের চোখের কাঁটাস্বরূপ হয়ে থাকবে, যে পর্যন্ত তোমরা এই উত্তম ভূমি থেকে বিনষ্ট না হও, যে ভূমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের দিয়েছেন।
14
আর দেখ, সমস্ত দুনিয়ার যে পথ, আজ আমি সেই পথে যাচ্ছি; আর তোমরা অন্তরে ও প্রাণে সকলে এই কথা জেনো যে, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলের কথা শুনিয়েছিলেন তার মধ্যে একটিও বিফল হয় নি; তোমাদের পক্ষে সকলই সফল হয়েছে, তার একটিও বিফল হয় নি।
15 কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের কাছে যেসব মঙ্গলের কথা শুনিয়েছিলেন তা যেমন তোমাদের পক্ষে সফল হল, তেমনি মাবুদ তোমাদের প্রতি সমস্ত অমঙ্গলের কথাও সফল করবেন, যে পর্যন্ত না তিনি তোমাদের এই উত্তম ভূমি থেকে বিনষ্ট করেন, যে ভূমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের দিয়েছেন।
16 তোমরা যদি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নির্দেশিত নিয়ম লঙ্ঘন কর, গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা কর ও তাদের কাছে সেজ্দা কর, তবে তোমাদের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে এবং তাঁর দেওয়া এই উত্তম দেশ থেকে তোমরা শীঘ্রই বিনষ্ট হবে।
1
ইউসা ইসরাইলের সকল বংশকে শিখিমে একত্র করলেন ও ইসরাইলের প্রাচীনবর্গ, নেতৃবর্গ, বিচারকদের ও শাসকদের ডাকালেন, তাতে তাঁরা আল্লাহ্র সাক্ষাতে উপস্থিত হলেন।
2 তখন ইউসা সমস্ত লোককে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, পুরাকালে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা, ইব্রাহিমের পিতা ও নাহোরের পিতা তেরহ (ফোরাত) নদীর ওপারে বাস করতো; আর তারা অন্য দেবতাদের সেবা করতো।
3 পরে আমি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমকে সেই নদীর ওপার থেকে এনে কেনান দেশের সর্বত্র ভ্রমণ করালাম এবং তার বংশ বৃদ্ধি করলাম, আর তাকে ইস্হাককে দিলাম।
4 আর ইস্হাককে ইয়াকুব ও ইস্কে দিলাম; আর আমি ইস্কে অধিকার হিসেবে সেয়ীর পর্বত দিলাম; কিন্তু ইয়াকুব ও তার সন্তানেরা মিসরে নেমে গেল।
5 পরে আমি মূসা ও হারুনকে প্রেরণ করলাম এবং মিসরে যে কাজ করলাম, তা দ্বারা সেই দেশকে দণ্ড দিলাম; তারপর তোমাদের বের করে আনলাম।
6 আমি মিসর থেকে তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে বের করার পর তোমরা সমুদ্রের কাছে উপস্থিত হলে; তখন মিসরীয়েরা অনেক রথ ও ঘোড়সওয়ার সৈন্য নিয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত তোমাদের পূর্বপুরুষদের পিছনে পিছনে তাড়া করে আসল।
7 তাতে তারা মাবুদের উদ্দেশে কান্নাকাটি করতে লাগল ও তিনি মিসরীয়দের ও তোমাদের মধ্যে অন্ধকার স্থাপন করলেন এবং তাদের উপরে সমুদ্রকে এনে তাদের আচ্ছন্ন করলেন; আমি মিসরে কি করেছি, তা তোমরা স্বচক্ষে দেখেছ; পরে বহুকাল মরুভূমিতে বাস করলে।
8 তারপর আমি তোমাদের জর্ডানের অন্যপার-নিবাসী আমোরীয়দের দেশে আনলাম; তারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করলো; আর আমি তোমাদের হাতে তাদের অর্পণ করলাম, তাতে তোমরা তাদের দেশ অধিকার করলে; এভাবে আমি তোমাদের সম্মুখ থেকে তাদের বিনষ্ট করলাম।
9 পরে সিপ্পোরের পুত্র মোয়াবের বাদশাহ্ বালাক উঠে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করলো এবং লোক পাঠিয়ে তোমাদের বদদোয়া দেবার জন্য বিয়োরের পুত্র বালামকে ডেকে আনলো।
10 কিন্তু আমি বালামের কথায় কান দিতে সম্মত হলাম না, তাতে সে তোমাদের কেবল দোয়াই করলো; এভাবে আমি তার হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করলাম।
11 পরে তোমরা জর্ডান পার হয়ে জেরিকোতে উপস্থিত হলে; আর জেরিকোর লোকেরা, আমোরীয়, পরিষীয়, কেনানীয়, হিট্টিয়, গির্গাশীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়েরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করলো, আর আমি তোমাদের হাতে তাদের অর্পণ করলাম।
12 আর তোমাদের সম্মুখ অংশে ভিমরুল প্রেরণ করলাম; তারা তোমাদের সম্মুখ থেকে সেই জনগণ, আমোরীয়দের সেই দুই বাদশাহ্কে দূর করে দিল; তোমার তলোয়ার বা ধনুক দ্বারা তা হয় নি।
13 আর তোমরা যে স্থানে শ্রম কর নি এমন একটি দেশ, যার পত্তন কর নি এমন এক দেশ ও যার পত্তন কর নি এমন অনেক নগর আমি তোমাদের দিলাম; তোমরা সেখানে বাস করছো; তোমরা যে আঙ্গুরলতা ও জলপাই গাছ রোপণ কর নি, তার ফল ভোগ করছে।
14
অতএব এখন তোমরা মাবুদকে ভয় কর, সরলতায় ও বিশ্বস্ততায় তাঁর সেবা কর, আর তোমাদের পূর্বপুরুষেরা (ফোরাত) নদীর ওপারে ও মিসরে যে দেবতাদের সেবা করতো, তাদের দূর করে দাও; এবং মাবুদের সেবা কর।
15 যদি মাবুদের সেবা করা তোমাদের মন্দ মনে হয়, তবে যার সেবা করবে, তাকে আজ মনোনীত কর; নদীর ওপারস্থ তোমাদের পূর্বপুরুষদের সেবিত দেবতারা যদি হয়, কিংবা যাদের দেশে তোমরা বাস করছো সেই আমোরীয়দের দেবতারা হয় হোক; কিন্তু আমি ও আমার পরিজন আমরা মাবুদের সেবা করবো।
16
লোকেরা জবাবে বললো, আমরা যে মাবুদকে ত্যাগ করে অন্য দেবতাদের সেবা করবো, তা দূরে থাকুক।
17 কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ, তিনিই আমাদের ও আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে মিসর দেশ থেকে, গোলামীর গৃহ থেকে, বের করে এনেছেন ও আমাদের দৃষ্টিগোচরে সেই সব মহৎ চিহ্ন-কাজ করেছেন এবং আমরা যে পথে এসেছি, তার সমস্ত পথে ও যে সমস্ত জাতির মধ্য দিয়ে এসেছি, তাদের হাত থেকে তিনিই আমাদের রক্ষা করেছেন;
18 আর মাবুদ এই দেশ-নিবাসী আমোরীয় প্রভৃতি সমস্ত জাতিকে আমাদের সম্মুখ থেকে দূর করে দিয়েছেন; অতএব আমরাও মাবুদের সেবা করবো; কেননা তিনিই আমাদের আল্লাহ্।
19
ইউসা লোকদের বললেন, তোমরা মাবুদের সেবা করতে পার না; কেননা তিনি পবিত্র আল্লাহ্, স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্; তিনি তোমাদের অধর্ম ও গুনাহ্ মাফ করবেন না।
20 তোমরা যদি মাবুদকে ত্যাগ করে বিজাতীয় দেবতাদের সেবা কর, তবে আগে তোমাদের মঙ্গল করলেও পরে তিনি ফিরে দাঁড়াবেন, তোমাদের অমঙ্গল করবেন ও তোমাদের সংহার করবেন।
21 তখন লোকেরা ইউসাকে বললো, না, আমরা মাবুদেরই সেবা করবো।
22 ইউসা লোকদের বললেন, তোমরা তোমাদের বিষয়ে তোমরা নিজেরাই সাক্ষী হলে যে, তোমরা মাবুদের সেবা করার জন্য তাঁকেই মনোনীত করেছ। তারা বললো, সাক্ষী হলাম।
23 (তিনি বললেন,) তবে এখন তোমাদের মধ্যস্থিত বিজাতীয় দেবতাদেরকে দূর করে দাও ও স্ব স্ব অন্তর ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের দিকে রাখ।
24 তখন লোকেরা ইউসাকে বললো, আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদেরই সেবা করবো ও তাঁর হুকুম পালন করবো।
25 তাতে ইউসা সেই দিনে লোকদের সঙ্গে নিয়ম স্থির করলেন, তিনি শিখিমে তাদের জন্য বিধি ও অনুশাসন স্থাপন করলেন।
26
তারপর ইউসা ঐ সমস্ত কথা আল্লাহ্র শরীয়ত গ্রন্থে লিখলেন এবং একখানি বড় পাথর নিয়ে মাবুদের পবিত্র স্থানের নিকটবর্তী এলা গাছের তলে স্থাপন করলেন।
27 পরে ইউসা সমস্ত লোককে বললেন, দেখ, এই পাথরখানি আমাদের বিষয়ে সাক্ষী হবে; কেননা মাবুদ আমাদের যেসব কথা বললেন, তাঁর সেসব কথা এই পাথরখানি শুনল; অতএব এটাই তোমাদের বিষয়ে সাক্ষী হবে, পাছে তোমরা তোমাদের আল্লাহ্কে অস্বীকার কর।
28 পরে ইউসা লোকদেরকে নিজ নিজ অধিকারভুক্ত অঞ্চলে বিদায় করলেন।
29
এসব ঘটনার পরে নূনের পুত্র, মাবুদের গোলাম ইউসা একশত দশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন।
30 পরে লোকেরা গাশ পর্বতের উত্তরে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ তিন্নৎ-সেরহে তাঁর অধিকারের অঞ্চলে তাঁকে দাফন করলো।
31
ইউসার সমস্ত জীবনকালে এবং যে প্রাচীনবর্গরা ইউসার ইন্তেকালের পরে জীবিত ছিলেন ও ইসরাইলের জন্য মাবুদের কৃত সমস্ত কাজের কথা জানতেন, তাঁদেরও সমস্ত জীবনকালে বনি-ইসরাইল মাবুদের সেবা করলো।
32
আর বনি-ইসরাইল ইউসুফের অস্থি, যা মিসর থেকে এনেছিল, তা শিখিমে সেই ভূমিখণ্ডে সমাহিত করলো, যা ইয়াকুব এক শত রূপার মুদ্রা দিয়ে শিখিমের পিতা হমোরের সন্তানদের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন; আর তা ইউসুফ-বংশের অধিকারভুক্ত হল।
33
পরে হারুনের পুত্র ইলিয়াসর ইন্তেকাল করলেন; আর লোকেরা তাঁকে তাঁর পুত্র পীনহসের পাহাড়ে দাফন করলো, পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের সেই পাহাড় তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
1
ইউসার মৃত্যুর পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের কাছে এই কথা জিজ্ঞাসা করলো, কেনানীয়দের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রথমে আমাদের মধ্যে কারা যাবে?
2 মাবুদ বললেন, এহুদা-বংশ যাবে; দেখ, আমি তাদের হাতে দেশ তুলে দিয়েছি।
3 পরে এহুদা-বংশ তাদের আপন ভাই শিমিয়োন-বংশকে বললো, তোমরা আমাদের অংশে আমাদের সঙ্গে এসো, আমরা কেনানীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করি; পরে আমরাও তোমাদের অংশে তোমাদের সঙ্গে যাব। তাতে শিমিয়োন-বংশ তাদের সঙ্গে গেল।
4 এহুদা-বংশ যুদ্ধে যাত্রা করলো, আর মাবুদ তাদের হাতে কেনানীয় ও পরিষীয়দেরকে তুলে দিলেন; আর তারা বেষকে তাদের দশ হাজার লোককে হত্যা করলো।
5 তারা বেষকে অদোনী-বেষককে পেয়ে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করলো এবং কেনানীয় ও পরিষীয়দেরকে পরাজিত করলো।
6 তখন অদোনী-বেষক পালিয়ে গেলেন; আর তারা তাঁর পিছনে পিছনে তাড়া করে তাঁকে ধরলো এবং তাঁর হাত ও পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে ফেলল।
7 তখন অদোনী-বেষক বললেন, যাঁদের হাত ও পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়েছিল এমন সত্তরজন বাদশাহ্ আমার টেবিলের নিচে খাদ্য কুড়াতেন। আমি যেমন কাজ করেছি, আল্লাহ্ আমাকে সেই অনুসারে প্রতিফল দিয়েছেন। পরে লোকেরা তাঁকে জেরুশালেমে আনলে তিনি সেই স্থানে মৃত্যবরণ করলেন।
8
আর এহুদা-বংশের লোকেরা জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা অধিকার করলো ও লোকদের তলোয়ার দ্বারা হত্যা করে আগুন দিয়ে নগরটি পুড়িয়ে দিল।
9 পরে এহুদা-বংশের লোকেরা পর্বতময় দেশ, দক্ষিণ দেশ ও নিম্নভূমি-নিবাসী কেনানীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নেমে গেল।
10 আর এহুদার লোকেরা হেবরন-নিবাসী কেনানীয়দের বিরুদ্ধে যাত্রা করে শেশয়, অহীমান ও তল্ময়কে আঘাত করলো; আগে ঐ হেবরনের নাম ছিল কিরিয়ৎ-অর্ব।
11
সেই স্থান থেকে তারা দবীর-নিবাসীদের বিরুদ্ধে যাত্রা করলো; আগে দবীরের নাম কিরিয়ৎ-শেফর ছিল।
12 কালুত বললেন, যে কেউ কিরিয়ৎ-শেফরকে আঘাত করে অধিকার করবে, তার সঙ্গে আমি আমার কন্যা অক্ষার বিয়ে দেব।
13 আর কালেবের কনিষ্ঠ ভাই কনসের পুত্র অৎনিয়েল তা অধিকার করলে তিনি তাঁর সঙ্গে তাঁর নিজের কন্যা অক্ষার বিয়ে দিলেন।
14 আর ঐ কন্যা এসে তার পিতার কাছে একখানি ভূমি চাইতে তার স্বামীকে প্রবৃত্তি দিল। পরে অক্ষা এসে তার গাধা থেকে নামার পর কালুত তাকে বললেন, তুমি কি চাও?
15 সে তাঁকে বললো, আপনি আমাকে একটি উপহার দিন; দক্ষিণাঞ্চলস্থ ভূমি আমাকে দিয়েছেন, পানির ফোয়ারাগুলোও আমাকে দিন। তাতে কালুত তাকে উচ্চতর ফোয়ারাগুলো ও নিম্নতর ফোয়ারাগুলো দিলেন।
16
পরে মূসার সম্বন্ধী কেনীয়ের সন্তানেরা এহুদার সন্তানদের সঙ্গে খর্জুরপুর থেকে অরাদের দক্ষিণ দিক্স্থিত এহুদা মরুভূমিতে উঠে গেল; তারা সেই স্থানে গিয়ে লোকদের মধ্যে বসতি করলো।
17 আর এহুদা-বংশ তাদের ভাই শিমিয়োন-বংশের সঙ্গে গমন করলো এবং তারা সফাৎ-নিবাসী কেনানীয়দেরকে আক্রমণ করে ঐ নগর নিঃশেষে বিনষ্ট করলো। আর সেই নগরের নাম হর্মা (বিনষ্ট) হল।
18 আর এহুদা-বংশ গাজা ও তার অঞ্চল, অস্কিলোন ও তার অঞ্চল এবং ইক্রোণ ও তার অঞ্চল অধিকার করলো।
19 মাবুদ এহুদা-বংশের সহবর্তী ছিলেন, সে পর্বতময় দেশের নিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করলো। এহুদা সমভূমি নিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করতে পারল না, কেননা তাদের লোহার রথ ছিল।
20 আর মূসা যেমন বলেছিলেন, সেই অনুসারে তারা কালুতকে হেবরন নগর দিল এবং তিনি সেই স্থান থেকে অনাকের তিন পুত্রকে অধিকারচ্যুত করলেন।
21 এছাড়া, বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকেরা জেরুশালেম-নিবাসী যিবূষীয়দেরকে অধিকারচ্যুত করলো না; যিবূষীয়েরা আজও জেরুশালেমে বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের সঙ্গে বাস করছে।
22
আর ইউসুফের কুলও বেথেলের বিরুদ্ধে যাত্রা করলো; এবং মাবুদ তাদের সহবর্তী ছিলেন।
23 তখন ইউসুফের কুল বেথেল নিরীক্ষণ করতে লোক প্রেরণ করলো। আগে ঐ নগরের নাম লুস ছিল।
24 আর সেই প্রহরীরা ঐ নগর থেকে এক জনকে বাইরে আসতে দেখে তাকে বললেন, আরজ করি, নগরের প্রবেশ-পথ আমাদেরকে দেখিয়ে দাও; তা হলে আমরা তোমার প্রতি রহম করবো।
25 তাতে সে তাদেরকে নগরের প্রবেশ-পথ দেখিয়ে দিল, আর তারা তলোয়ার দ্বারা সেই নগরবাসীদেরকে আঘাত করলো, কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে ও তার সমস্ত গোষ্ঠীকে ছেড়ে দিল।
26 পরে ঐ ব্যক্তি হিট্টিয়দের দেশে গিয়ে একটি নগর পত্তন করে তার নাম লুস রাখল; তা আজ পর্যন্ত এই নামে আখ্যাত আছে।
27
আর মানশা-বংশ আশেপাশের সব গ্রাম সহ বৈৎ-শান, উপনগরের সঙ্গে তানক, আশেপাশের সব গ্রাম সহ দোর, আশে-পাশের সব গ্রাম সহ যিব্লিয়ম, আশেপাশের সব গ্রাম সহ মগিদ্দো, এসব স্থানের অধিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করলো না; কেনানীয়েরা সেই দেশে বাস করতে স্থিরসংকল্প ছিল।
28 পরে ইসরাইল যখন প্রবল হল, তখন সেই কেনানীয়দেরকে কর্মাধীন গোলাম করলো, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে অধিকারচ্যুত করলো না।
29
আর আফরাহীম-বংশ গেষর-নিবাসী কেনানীয়দেরকে অধিকারচ্যুত করলো না; কেনানীয়েরা গেষরে তাদের মধ্যে বাস করতে থাকলো।
30
সবূলূন কিট্রোণ ও নহলোল নিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করলো না; কেনানীয়েরা তাদের মধ্যে বাস করতে থাকলো, আর কর্মাধীন গোলাম হল।
31
আশের-বংশ অক্কো, সিডন, অহলব, অক্সীব, হেল্বা, অপীক ও রাহোব-নিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করলো না।
32 আশেরীয়েরা দেশ-নিবাসী কেনানীয়দের মধ্যে বাস করলো, কেননা তারা তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে নি।
33
নপ্তালী-বংশ বৈৎ-শেমশের ও বৈৎ-অনাতের নিবাসীদেরকে অধিকারচ্যুত করলো না; তারা দেশ-নিবাসী কেনানীয়দের মধ্যে বাস করলো, আর বৈৎশেমশের ও বৈৎ-অনাতের নিবাসীরা তাদের কর্মাধীন গোলাম হল।
34
আর ইমোরীয়েরা দান-বংশের লোকদেরকে পর্বতময় দেশে অবরোধ করলো, সমভূমিতে নেমে আসতে দিল না;
35 ইমোরীয়েরা হেরস পর্বতে, অয়ালোনে ও শালবীমে বাস করতে থাকলো; কিন্তু ইউসুফ-কুলের হাত শক্তিশালী হয়ে উঠলো, তাতে ওরা কর্মাধীন গোলাম হল।
36 অক্রব্বীম আরোহণ-স্থান এবং সেলা থেকে উপরের দিকে আমোরীয়দের অঞ্চল ছিল।
1
আর মাবুদের ফেরেশতা গিল্গল থেকে বোখীমে উঠে আসলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে মিসর থেকে বের করে এনেছি; যে দেশ দিতে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলাম, সেই দেশে তোমাদেরকে এনেছি, আর এই কথা বলেছি, আমি তোমাদের সঙ্গে আমার নিয়ম কখনও ভঙ্গ করবো না;
2 তোমরাও এই দেশবাসীদের সঙ্গে চুক্তি করবে না, তাদের সমস্ত বেদী ভেঙ্গে ফেলবে। কিন্তু তোমরা আমার নির্দেশ পালন কর নি; কেন এমন কাজ করেছ?
3 এজন্য আমিও বললাম, তোমাদের সম্মুখ থেকে আমি এই লোকদেরকে দূর করবো না; তারা তোমাদের পাশে কাঁটাস্বরূপ ও তাদের দেবতারা তোমাদের ফাঁদস্বরূপ হবে।
4 মাবুদের ফেরেশতা বনি-ইসরাইলদেরকে যখন এই কথা বললেন তখন লোকেরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।
5 আর তারা সেই স্থানের নাম বোখীম (বিলাপকারী) রাখল; পরে তারা সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করলো।
6
ইউসা লোকদের বিদায় করার পর বনি-ইসরাইল দেশ অধিকার করার জন্য প্রত্যেকে নিজ নিজ অধিকারে গিয়েছিল।
7 আর ইউসার সমস্ত জীবনকালে এবং যে সমস্ত প্রাচীনবর্গরা ইউসার মৃত্যুর পর জীবিত ছিলেন ও ইসরাইলের জন্য মাবুদের কৃত সমস্ত মহান কাজ দেখেছিলেন, তাঁদেরও সমস্ত জীবনকালে লোকেরা মাবুদের সেবা করলো।
8 পরে নূনের পুত্র মাবুদের গোলাম ইউসা একশত দশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন।
9 তাতে লোকেরা গাশ পর্বতের উত্তর পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশসহ তিম্নৎ-হেরসে তাঁর অধিকারের অঞ্চলে তাঁকে দাফন করলো।
10 আর সেই কালের অন্য সকল লোকও পূর্বপুরুষদের কাছে গৃহীত হল এবং তাদের পরে নতুন বংশ উৎপন্ন হল। এরা মাবুদকে জানত না এবং ইসরাইলের জন্য তিনি যা করেছিলেন তা-ও জানত না।
11
বনি-ইসরাইল মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতে লাগল; এবং বাল দেবতাদের সেবা করতে লাগল।
12 আর যিনি তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, যিনি তাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছিলেন, সেই মাবুদকে ত্যাগ করে অন্য দেবতাদের, অর্থাৎ তাদের চারদিকে যে লোকেরা বসবাস করত তাদের দেবতাদের অনুগামী হয়ে তাদের কাছে সেজ্দা করতে লাগল। এভাবে তারা মাবুদকে অসন্তুষ্ট করলো।
13 তারা মাবুদকে ত্যাগ করে বাল দেবের ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করতো।
14 তাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, আর তিনি তাদেরকে লুণ্ঠনকারীদের হাতে তুলে দিলেন। তারা তাদের দ্রব্য লুট করলো আর তিনি তাদের চতুর্দিকস্থ দুশমনদের হাতে তাদেরকে বিক্রি করলেন, তাতে তারা তাদের দুশমনদের সম্মুখে আর দাঁড়াতে পারল না।
15 মাবুদ যেমন বলেছিলেন ও তাদের কাছে যেমন শপথ করেছিলেন, সেই অনুসারে তারা যে কোন স্থানে যেত, সেই স্থানে অমঙ্গলার্থে মাবুদের হাত তাদের বিরুদ্ধে ছিল; এভাবে তারা অতিশয় দুর্দশার মধ্যে পড়তো।
16
তখন মাবুদ কাজীদেরকে উৎপন্ন করতেন, আর তাঁরা লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে তাদেরকে নিস্তার করতেন।
17 তবুও তারা তাদের কাজীদের কথায় কান দিত না, কিন্তু অন্য দেবতাদের পিছনে চলে জেনা করতো ও তাদের কাছে সেজ্দা করতো। এভাবে তাদের পূর্বপুরুষেরা মাবুদের হুকুম পালন করে যে পথে গমন করতেন, তারা সেই অনুসারে না করে সেই পথ থেকে শীঘ্রই ফিরে গেল।
18 আর মাবুদ যখন তাদের জন্য কাজীদের উৎপন্ন করতেন, তখন মাবুদ বিচারকর্তার সঙ্গে সঙ্গে থেকে বিচারকর্তার সমস্ত জীবনকালে দুশমনদের হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করতেন, কারণ জুলুম ও নির্যাতনকারীদের সমক্ষে তাদের কাতরোক্তির দরুন মাবুদ করুণাবিষ্ট হতেন।
19 কিন্তু সেই বিচারকর্তার মৃত্যু হলেই তারা মাবুদের কাছ থেকে ফিরে যেত। তারা পূর্বপুরুষদের চেয়ে আরও বেশি ভ্রষ্ট হয়ে পড়তো, অন্য দেবতাদের অনুগামী হয়ে তাদের সেবা ও তাদের কাছে সেজ্দা করতো; নিজ নিজ কাজ ও স্বেচ্ছাচারিতায় কিছুই ছাড়তো না।
20 তাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, তিনি বললেন, আমি এদের পূর্বপুরুষদেরকে যে নিয়ম পালনের হুকুম দিয়েছিলাম, এই জাতি তা লঙ্ঘন করেছে, আমার নির্দেশে কান দেয় নি;
21 অতএব ইউসা তাঁর মৃত্যুর সময়ে যে যে জাতিকে অবশিষ্ট রেখেছে, আমিও এদের সম্মুখ থেকে তাদের কাউকেও অধিকারচ্যুত করবো না।
22 তাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন মাবুদের পথে গমন করে তাঁর হুকুম পালন করতো, তারাও তেমনি করবে কি না, এই বিষয়ে ঐ জাতিদের দ্বারা ইসরাইলের পরীক্ষা নেব।
23 এজন্য মাবুদ সেই জাতিদেরকে শীঘ্র অধিকারচ্যুত না করে অবশিষ্ট রাখলেন। তিনি ইউসার হাতে তাদের তুলে দেন নি।
1
বনি-ইসরাইলের মধ্যে যারা কেনানের যুদ্ধগুলোর কথা জানত না, সেই সমস্ত লোকদের পরীক্ষা নেবার জন্য মাবুদ কতগুলো জাতিকে অবশিষ্ট রেখেছিলেন।
2 (এটা ছিল মাত্র এবং ইসরাইলদের সেই সমস্ত বংশধরদের শিক্ষাদান করার জন্য, যারা আগের যুদ্ধ সম্পর্কে কিছু জানত না তাদেরকে তা শিক্ষা দেবার জন্য।)
3 ফিলিস্তিনীদের পাঁচ জন ভূপাল এবং বাল্-হর্মোণ পর্বত থেকে হমাতে প্রবেশের পথ পর্যন্ত লেবানন পর্বত-নিবাসী সমস্ত কেনানীয়, সীদোনীয় ও হিব্বীয়রা।
4 ইসরাইলের পরীক্ষা নেবার জন্য, অর্থাৎ মাবুদ তাদের পূর্বপুরুষদেরকে মূসার মাধ্যমে যেসব হুকুম দিয়েছিলেন, সেসব হুকুম তারা পালন করবে কি না, তা জানবার জন্যই এরা অবশিষ্ট রইলো।
5 ফলে বনি-ইসরাইল কেনানীয়, হিট্টিয়, আমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের মধ্যে বাস করতে লাগল;
6 আর তারা তাদের কন্যাদেরকে বিয়ে করতো, তাদের পুত্রদের সঙ্গে তাদের কন্যাদের বিয়ে দিত ও তাদের দেবতাদের সেবা করতো।
7
আর বনি-ইসরাইলরা মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতে লাগল ও তাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে গিয়ে বাল দেবতা ও আশেরা দেবীদের সেবা করতে লাগল।
8 অতএব ইসরাইলের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্জ্বলিত হল, আর তিনি অরাম-নহরয়িমের বাদশাহ্ কূশন-রিশিয়াথয়িমের হাতে তাদেরকে বিক্রি করলেন, আর বনি-ইসরাইল আট বছর পর্যন্ত কূশন-রিশিয়া-থয়িমের গোলামী করলো।
9 পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল। তাতে মাবুদ বনি-ইসরাইলদের জন্য এক জন উদ্ধারকর্তাকে— কালেবের কনিষ্ঠ ভাই কনসের পুত্র অৎনীয়েলকে— উৎপন্ন করলেন; তিনি তাদের উদ্ধার করলেন।
10 মাবুদের রূহ্ তার উপরে আসলেন, আর তিনি ইসরাইলের বিচার করতে লাগলেন। তিনি যুদ্ধ করার জন্য বের হলেন এবং মাবুদ অরামের বাদশাহ্ কূশন-রিশিয়াথয়িমকে তাঁর হাতে তুলে দিলেন; আর কূশন-রিশিয়াথয়িমের বিরুদ্ধে তাঁর হাত শক্তিশালী হতে থাকলো।
11 এভাবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত দেশ বিশ্রাম ভোগ করলো; পরে কনসের পুত্র অৎনীয়েলের মৃত্যু হয়।
12
পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, পুনর্বার তা করতে লাগল; অতএব মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা করায় মাবুদ ইসরাইলীয়দের বিরুদ্ধে মোয়াবের বাদশাহ্ ইগ্লোনকে সবল করলেন।
13 বাদশাহ্ অম্মোনীয়দেরকে ও আমালেককে নিজের কাছে জমায়েত করলেন এবং যাত্রা করে ইসরাইলকে আক্রমণ করলেন এবং খর্জুরপুর অধিকার করলেন।
14 আর বনি-ইসরাইলরা আঠার বছর পর্যন্ত মোয়াবের বাদশাহ্ ইগ্লোনের গোলামী করলো।
15
পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল; আর মাবুদ তাদের জন্য এক জন উদ্ধারকর্তাকে, বিন্ইয়ামীন-বংশীয় গেরার পুত্র এহূদকে, উৎপন্ন করলেন; তিনি নেটা ছিলেন। বনি-ইসরাইলরা তাঁর দ্বারা মোয়াবের বাদশাহ্ ইগ্লোনের কাছে উপঢৌকন প্রেরণ করলো।
16 এহূদ নিজের জন্য এক হাত লম্বা একখানি দ্বিমুখী ধারাল তলোয়ার তৈরি করিয়েছিলেন, তা নিজের ডান ঊরুদেশে কাপড়ের ভিতরে বেঁধে রাখলেন।
17 পরে তিনি মোয়াবের বাদশাহ্ ইগ্লোনের কাছে উপঢৌকন নিয়ে গেলেন। ইগ্লোন ছিলেন অতি স্থূলকায়।
18 পরে উপঢৌকন দেওয়া হয়ে গেলে তিনি ঐ উপঢৌকন বাহক লোকদেরকে বিদায় করলেন।
19 কিন্তু নিজে গিলগলস্থ খোদাই-করা পাথরগুলো থেকে ফিরে এসে বললেন, হে বাদশাহ্, আপনার কাছে আমার একটি গোপনীয় কথা আছে। বাদশাহ্ বললেন, চুপ, চুপ; তখন যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল তারা সকলে তাঁর কাছ থেকে বাইরে গেল।
20 আর এহূদ তাঁর কাছে আসলেন; তখন বাদশাহ্ একাকী তাঁর উপর তলার শীতল কামরায় বসেছিলেন। এহূদ বাদশাহ্কে বললেন, আপনার কাছে আল্লাহ্র একটি কালাম সম্পর্কে আমার বক্তব্য আছে; তাতে তিনি তাঁর আসন থেকে উঠলেন।
21 তখন এহূদ তাঁর বাম হাত বাড়িয়ে ডান ঊরু থেকে ঐ তলোয়ার নিয়ে তার উদরে ঢুকিয়ে দিলেন।
22 আর তলোয়ারের সঙ্গে বাঁটও উদরে ঢুকে গেল আর তা পৃষ্ঠদেশ দিয়ে বের হল এবং তলোয়ারটি মেদে ঢাকা পড়লো, কেননা তিনি উদর থেকে তা বের করলেন না।
23 পরে এহূদ বের হয়ে বারান্দায় আসলেন এবং পিছনে শীতল কক্ষের দরজা বন্ধ করে হূড়কা লাগিয়ে দিলেন।
24
তিনি বের হয়ে গেলে বাদশাহ্র গোলামেরা উপস্থিত হল ও দেখলো, আর দেখ ঐ শীতল-কক্ষের দরজা বন্ধ। তারা বললো, বাদশাহ্ অবশ্য শীতল কক্ষের কুঠরীতে মলত্যাগ করছেন।
25 পরে তারা লজ্জিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করলো; আর দেখ, তিনি শীতল কক্ষের দরজা খুললেন না; অতএব তারা চাবি নিয়ে দরজা খুলল, আর দেখ তাদের মালিক মরে ভূতলে পড়ে রয়েছেন।
26
তারা যখন বিলম্ব করছিল, তখন এহূদ পালিয়ে সেই খোদাই-করা পাথরগুলো পিছনে ফেলে সিয়ীরাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
27 তিনি উপস্থিত হয়ে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে তূরী বাজালেন; আর বনি-ইসরাইল তার সঙ্গে পর্বতময় দেশ থেকে নেমে গেল, তিনি তাদের অগ্রগামী হয়ে চললেন।
28 তিনি তাদেরকে বললেন, আমার পিছনে পিছনে এসো, কেননা মাবুদ তোমাদের দুশমন মোয়াবীয়দেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তখন তারা তাঁর পিছনে পিছনে নেমে মোয়াবের বিরুদ্ধে জর্ডানের সমস্ত পারঘাটা হস্তগত করলো, একটি প্রাণীকেও পার হতে দিল না।
29 আর ঐ সময়ে তারা মোয়াবের অনুমান দশ হাজার লোককে আক্রমণ করলো; তারা সকলে বিশালদেহি ও বলবান বীর, কিন্তু তাদের কেউ নিস্তার পেল না।
30 এভাবে মোয়াব সেদিন ইসরাইলের হাতের বশীভূত হল। আর আশী বছর দেশ বিশ্রাম-ভোগ করলো।
31
এহুদের পরে অনাতের পুত্র শম্গর গোচারনের পাঁচনী দ্বারা ফিলিস্তিনীদের ছয় শত লোককে আক্রমণ করলেন; ইনিও ইসরাইলকে নিস্তার করলেন।
1
এহুদের মৃত্যুর পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, পুনর্বার তা-ই করলো।
2 তাতে মাবুদ হাৎসোরে রাজত্বকারী কেনানীয় বাদশাহ্ যাবীনের হাতে তাদের বিক্রি করলেন। হরোশৎ-হগোয়িম নিবাসী সীষরা তাঁর সেনাপতি ছিলেন।
3 আর বনি-ইসরাইল মাবুদের কাছে সাহায্যের জন্য কাঁদতে লাগল, কেননা সীষরার নয় শত লোহার রথ ছিল; এবং তিনি বিশ বছর পর্যন্ত ইসরাইলের প্রতি কঠোর জুলুম করেছিলেন।
4
সেই সময়ে লপ্পীদোতের স্ত্রী দবোরা এক জন মহিলা-নবী ছিলেন এবং তিনি ইসরাইলের বিচার করতেন।
5 তিনি পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে রামা ও বেথেলের মধ্যস্থিত দবোরার খেজুর গাছের তলে অবস্থান করতেন এবং বনি-ইসরাইলরা বিচার পাবার আশায় তাঁর কাছে উঠে আসত।
6 পরে তিনি লোক পাঠিয়ে কেদশনালি থেকে অবীনোয়মের পুত্র বারককে ডেকে এনে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ কি এই হুকুম করেন নি, তাবোর পর্বতে লোক নিয়ে যাও, নপ্তালি-বংশ ও সবূলন-বংশদরদের দশ হাজার লোক সঙ্গে নাও;
7 তাতে আমি যাবীনের সেনাপতি সীষরাকে এবং তার রথগুলো ও লোকদেরকে কীশোন নদীর কাছে তোমার কাছে আকর্ষণ করবো এবং তাকে তোমার হাতে তুলে দিব।
8 তখন বারক তাঁকে বললেন, আপনি যদি আমার সঙ্গে যান, তবে আমি যাব; কিন্তু না গেলে আমি যাব না।
9 দবোরা বললেন, আমি অবশ্য তোমার সঙ্গে যাব, কিন্তু এই যাত্রায় তোমার যশ হবে না; কেননা মাবুদ সীষরাকে এক জন স্ত্রীলোকের হাতে বিক্রি করবেন। পরে দবোরা উঠে বারকের সঙ্গে কেদশে গমন করলেন।
10 পরে বারক কেদশে সবূলূন ও নপ্তালি বংশকে ডাকালেন; আর দশ হাজার লোক তাঁর পিছনে পিছনে যাত্রা করলো এবং দবোরাও তাঁর সঙ্গে গেলেন।
11
ঐ সময়ে কেনীয় হেবর কেনীয়দের থেকে, মূসার সম্বন্ধী হোববের সন্তানদের থেকে, পৃথক হয়ে কেদশের নিকটবর্তী সানন্নীমস্থ এলোন গাছ পর্যন্ত তাঁবু স্থাপন করেছিলেন।
12
পরে সীষরা এই সংবাদ পেলেন যে, অবীনোয়মের পুত্র বারক তাবোর পর্বতে উঠেছে।
13 তখন সীষরা তাঁর সমস্ত রথ অর্থাৎ নয় শত লোহার রথ এবং তাঁর সঙ্গী লোক সকলকে একত্র ডেকে এনে হরোশৎ-হগোয়িম থেকে কীশোন নদীর কাছে গমন করলেন।
14 তখন দবোরা বারককে বললেন, উঠ, কেননা আজই মাবুদ তোমার হাতে সীষরাকে তুলে দিয়েছেন; মাবুদ কি তোমার অগ্রবর্তী হয়ে যান নি? তখন বারক ও তাঁর অনুগামী দশ হাজার লোক তাবোর পর্বত থেকে নামলেন।
15 পরে মাবুদ বারকের সম্মুখে সীষরা এবং তাঁর সমস্ত রথ ও সমস্ত সৈন্যকে তলোয়ারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করলেন; আর সীষরা রথ থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে গেলেন।
16 বারক হরোশৎ-হগোয়িম পর্যন্ত তাঁর রথগুলোর ও সৈন্যদের পিছনে ধাবমান হলে সীষরার সমস্ত সৈন্য তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়লো; এক জনও অবশিষ্ট রইলো না।
17
ইতোমধ্যে সীষরা দৌড়ে পালিয়ে কেনীয় হেবরের স্ত্রী যায়েলের তাঁবুর দিকে গেলেন; কেননা হাৎসোরের যাবীন বাদশাহ্ ও কেনীয় হেবরের কুলের মধ্যে তখন ঐক্য ছিল।
18 আর যায়েল সীষরার সঙ্গে দেখা করতে বের হয়ে তাঁকে বললেন, হে আমার প্রভু, ফিরে আসুন, আমার এখানে আসুন, ভয় পাবেন না। তখন তিনি তাঁর দিকে ফিরে তাঁবুর মধ্যে গেলে সেই স্ত্রী একটি কম্বল দিয়ে তাঁকে ঢেকে রাখলেন।
19 আর সীষরা তাঁকে বললেন, আরজ করি, আমাকে একটু খাবার পানি দাও, আমি পিপাসিত হয়েছি। তাতে তিনি দুধের কুপা খুলে পান করতে দিলেন ও তাঁকে ঢেকে রাখলেন।
20 পরে সীষরা তাঁকে বললেন, তুমি তাঁবুর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাক; যদি কেউ এসে জিজ্ঞাসা করে, এখানে কি কোন মানুষ আছে? তবে বলো, কেউ নেই।
21 পরে হেবরের স্ত্রী যায়েল তাঁবুর একটি গোঁজ নিলেন ও হাতুড়ি নিয়ে ধীরে ধীরে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর কর্ণমূলে গোঁজটি এমনভাবে বিদ্ধ করলেন যে, তা মাটিতে প্রবেশ করলো; কারণ তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন; এভাবে তিনি মূর্চ্ছিত হয়ে ইন্তেকাল করলেন।
22 আর দেখ, বারক সীষরার পিছনে তাড়া করে যাচ্ছিলেন, তখন যায়েল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাইরে এসে বললেন, আসুন, আপনি যার খোঁজ করছেন, সেই মানুষটিকে আমি আপনাকে দেখাই। তাতে তিনি তাঁর তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, আর দেখ, সীষরা মৃত পড়ে আছেন ও তাঁর কর্ণমূলে গোঁজ বিদ্ধ রয়েছে।
23
এভাবে আল্লাহ্ সেদিন কেনানীয় বাদশাহ্ যাবীনকে বনি-ইসরাইলদের সাক্ষাতে নত করলেন।
24 আর বনি-ইসরাইলরা যে পর্যন্ত কেনানীয় বাদশাহ্ যাবীনকে ধ্বংস না করলো, সেই পর্যন্ত কেনানীয় বাদশাহ্ যাবীনের বিরুদ্ধে তাদের হাত উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে উঠলো।
1
সেদিন দবোরা ও অবীনোয়মের পুত্র বারক এই গান করলেন:
2
ইসরাইলে নায়কগণ নেতৃত্ব দিলেন,
লোকেরা স্বেচ্ছায় নিজেদের কোরবানী করলো,
এজন্য তোমরা মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
3
বাদশাহ্রা শোন; শাসনকর্তারা কান দাও;
আমি, আমিই মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী গাইব,
ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে গজল গাইব,
4
হে মাবুদ, তুমি যখন সেয়ীর থেকে থেকে রওনা হলে,
ইদোম এলাকা থেকে অগ্রসর হলে,
ভূমি কাঁপল, আকাশও বর্ষণ করলো, মেঘমালা পানি বর্ষণ করলো।
5
মাবুদের সাক্ষাতে পর্বতমালা কেঁপে উঠল,
ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সাক্ষাতে ঐ সিনাই কেঁপে উঠল।
6
অনাতের পুত্র শম্গরের সময়ে,
যায়েলের সময়ে, রাজপথ শূন্য হল,
পথিকেরা বাঁকা পথ দিয়ে গমন করতো।
7
নায়কগণ ইসরাইলের মধ্যে ক্ষান্ত ছিলেন,
তাঁরা ক্ষান্ত ছিলেন;
শেষে আমি দবোরা উঠলাম,
ইসরাইলের মধ্যে মাতৃস্থানীয় হয়ে উঠলাম।
8
তারা নতুন দেবতা মনোনীত করেছিল;
তৎকালে নগর-দ্বারে যুদ্ধ হল;
ইসরাইলের চল্লিশ হাজার লোকের মধ্যে কি একখানা ঢাল বা বর্শা দেখা গেলো?
9
আমার অন্তর ইসরাইলের নেতৃবর্গের অভিমুখ,
যাঁরা লোকদের মধ্যে স্বেচ্ছায় নিজেদেরকে কোরবানী করলেন;
তোমরা মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
10
তোমরা যারা শুভ্র গাধীতে চড়ে থাক,
যারা গালিচার উপরে বসে থাক,
যারা পথে ভ্রমণ কর, তোমরাই ওর সংবাদ দাও।
11
ধনুর্ধ্বরদের কথা থেকে দূরে, পানি তুলবার স্থান সকলে,
সেখানে কীর্তিত হচ্ছে মাবুদের ধর্মক্রিয়া,
ইসরাইলে তাঁর শাসন সংক্রান্ত ধর্মক্রিয়াগুলো;
তখন মাবুদের লোকেরা নগর-দ্বারে নেমে যেত।
12
দবোরা, জাগ্রত হও, জাগ্রত হও;
জাগ্রত হও, জাগ্রত হও, গান কর; বারক উঠ;
অবীনোয়মের পুত্র, তোমার বন্দীদেরকে বন্দী কর।
13
তখন বীরদের অবশিষ্টেরা ও জনগণ নামলো;
মাবুদ আমার পক্ষে সেই বিক্রমীদের বিরুদ্ধে নামলেন।
14
আফরাহীম থেকে আমালেক-নিবাসীরা এল;
বিন্ইয়ামীন তোমার লোকদের মধ্যে তোমার পিছনে এল;
মাখীর থেকে নেতৃবর্গ নামলেন, সবূলূন থেকে রণ-দণ্ডধারীরা নামলেন।
15
ইষাখরের নেতৃবর্গ দবোরার সঙ্গী ছিলেন,
ইষাখর যেমন বারকও তেমনি,
তাঁর পিছনে তাঁরা বেগে উপত্যকায় গেলেন।
রূবেণ-বংশধরদের কি করা উচিত তা চিন্তা করতে লাগল।
16
তুমি কেন মেষবাথানের মধ্যে বসলে?
কি ভেড়ার রাখালদের বাঁশীর বাজনা শুনবার জন্য?
রূবেণ-বংশধরদের মধ্যে গুরুতর চিত্ত পরীক্ষা হল।
17
গিলিয়দ জর্ডানের ওপারে বাস করলো,
আর দান কেন জাহাজে রইলো?
আশের সমুদ্রের পোতাশ্রয়ে বসে থাকলো,
নিজের খালের ধারে বাস করলো।
18
সবূলূনের লোকেরা প্রাণ তুচ্ছ করলো মৃত্যু পর্যন্ত,
নপ্তালিও করলো ক্ষেতের উঁচু উঁচু স্থানে।
19
বাদশাহ্রা এসে যুদ্ধ করলেন,
তখন কেনানের বাদশাহ্রা যুদ্ধ করলেন,
মগিদ্দোর পানির কাছে তানকে যুদ্ধ করলেন;
তাঁরা একখণ্ড রূপাও নিলেন না।
20
আসমান থেকে যুদ্ধ হল,
স্ব স্ব গতি পথে তারাগুলো সীষরার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো।
21 কীশোন নদী তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল;
সেই প্রাচীন নদী, কীশোন নদী।
হে আমার প্রাণ, সবলে অগ্রসর হও।
22
তখন ঘোড়াগুলোর খুরের ঘায়ে ভূমি কেঁপে উঠলো,
তাদের পরাক্রমীদের ছুটে চলার গতিতে কেঁপে উঠলো।
23
মাবুদের ফেরেশতা বলেন, মেরোসকে বদদোয়া দাও,
সেই স্থানের অধিবাসীদেরকে দারুণ বদদোয়া দাও;
কেননা তারা এল না মাবুদের সাহায্যের জন্য,
মাবুদের সাহায্যের জন্য, বিক্রমীদের বিরুদ্ধে।
24
মহিলাদের মধ্যে যায়েল ধন্যা,
কেনীয় হেবরের পত্নী ধন্যা,
তাঁবুবাসিনী স্ত্রীলোকদের মধ্যে তিনি ধন্যা।
25
সে পানি চাইল, তিনি তাকে দুধ দিলেন।
রাজোপযোগী পাত্রে ক্ষীর এনে দিলেন।
26
তিনি গোঁজে হাত দিলেন।
কর্মকারের হাতুড়ি ডান হাত দিলেন;
তিনি সীষরাকে হাতুড়ি মারলেন,
তার মস্তক বিদ্ধ করলেন,
তার কাণপাটি ভাঙলেন, বিদ্ধ করলেন।
27
সে তাঁর চরণে হেঁট হয়ে পড়লো, লম্বমান হল;
তাঁর চরণে হেঁট হয়ে পড়লো;
যেখানে হেঁট হল, সেই স্থানে মরে পড়ে রইলো।
28
সীষরার মা জানালা দিয়ে চাইল,
সে জানালা থেকে ডেকে বললো,
তার রথ আসতে কেন বিলম্ব করে?
তার রথের চাকা কেন ধীরে ধীরে চলে?
29
তার জ্ঞানবতী সহচরীরা জবাবে বললো,
সে নিজেও নিজের কথার উত্তর দিল,
30
তারা কি পায় নি?
লুণ্ঠিত বস্তু কি ভাগ করে নেয় নি?
প্রত্যেক পুরুষ একটি কামিনী, দু’টি কামিনী,
আর সীষরা চিত্রিত পোশাক পেয়েছে,
চিত্রিত সূচিকার্যের পোশাক পেয়েছে,
চিত্রিত দুই ধারি বাঁধা পোশাক লুণ্ঠনকারীর কন্ঠে।
31
হে মাবুদ, তোমার সমস্ত দুশমন এভাবে ধ্বংস হোক,
কিন্তু তোমার প্রেমকারীরা সপ্রতাপে গমনকারী সূর্যের মত হোক।
পরে চল্লিশ বছর দেশ নিষ্কণ্টক থাকলো।
1
পরে বনি-ইসরাইলরা মাবুদের সাক্ষাতে যা মন্দ, তা-ই করতে লাগল, আর মাবুদ তাদেরকে সাত বছর পর্যন্ত মাদিয়ানের হাতে তুলে দিলেন।
2 আর ইসরাইলের উপরে মাদিয়ানের হাত শক্তিশালী হয়ে উঠলো, তাই বনি-ইসরাইলরা মাদিয়ানীয়দের ভয়ে পর্বতের গহ্বর, গুহা ও দুর্গম স্থান প্রস্তুত করলো।
3 আর এরকম হত, ইসরাইলরা বীজ বপন করার পর মাদিয়ানীয় ও আমালেকীয়েরা এবং পূর্বদেশের লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে আসত,
4 তাদের বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করে গাজার কাছ পর্যন্ত ভূমির ফসল বিনষ্ট করতো, আর ইসরাইলের জন্য খাদ্যদ্রব্য, কিংবা ভেড়া, গরু বা গাধা কিছুই রাখত না।
5 কারণ তারা তাদের পশুপাল ও তাঁবু সঙ্গে নিয়ে আসত, তারা পঙ্গপালের মত অসংখ্য ছিল; তারা ও তাদের উটের সংখ্যা গোণা যেত না; আর তারা দেশ উচ্ছিন্ন করার জন্যই সেখানে আসত।
6 তাতে বনি-ইসরাইলরা মাদিয়ানীয়দের সম্মুখে ভীষণভাবে দুর্বল হয়ে পরলো আর তারা সাহায্যের জন্য মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল।
7
যখন বনি-ইসরাইলরা মাদিয়ানীয়দের ভয়ে মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল,
8 তখন মাবুদ বনি-ইসরাইলদের কাছে এক জন নবীকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমাদেরকে মিসর থেকে উঠিয়ে এনেছি, গোলাম-গৃহ থেকে বের করে এনেছি,
9 এবং মিসরীয়দের হাত থেকে ও যারা তোমাদের উপরে জুলুম করতো তাদের সকলের হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করেছি, আর তোমাদের সম্মুখ থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের দেশ তোমাদের দিয়েছি।
10 আর আমি তোমাদেরকে বলেছি, আমি মাবুদ তোমাদের আল্লাহ্; তোমরা যে আমোরীয়দের দেশে বাস করছো, তাদের দেবতাদেরকে ভয় করো না, কিন্তু তোমরা আমার কথায় কান দাও নি।
11
পরে মাবুদের ফেরেশতা এসে অবীয়েষ্রীয় যোয়াশের অধিকারভুক্ত অফ্রাতে অবস্থিত এলা গাছের তলে বসলেন। আর যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন আঙ্গুর মাড়াবার কুণ্ডে গম মাড়াই করছিলেন, যেন মাদিয়ানীয়দের থেকে তা লুকাতে পারেন।
12 তখন মাবুদের ফেরেশতা তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, হে বলবান বীর, মাবুদ তোমার সহবর্তী।
13 গিদিয়োন তাঁকে বললেন, নিবেদন করি, হে আমার প্রভু, যদি মাবুদ আমাদের সহবর্তী হন, তবে আমাদের প্রতি এ সব কেন ঘটলো? আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাঁর যে সমস্ত আশ্চর্য কাজের বৃত্তান্ত আমাদেরকে বলেছিলেন, সেসব কোথায়? তাঁরা বলতেন, মাবুদ কি আমাদেরকে মিসর থেকে আনয়ন করেন নি? কিন্তু সম্প্রতি মাবুদ আমাদেরকে ত্যাগ করে মাদিয়ানের হাতে তুলে দিয়েছেন।
14 তখন মাবুদ তাঁর দিকে ফিরে বললেন, তুমি তোমার এই শক্তিতেই গমন কর, মাদিয়ানের হাত থেকে ইসরাইলকে নিস্তার কর; আমি কি তোমাকে প্রেরণ করি নি?
15 তিনি তাঁকে বললেন, আরজ করি, হে মালিক, ইসরাইলকে কিভাবে নিস্তার করবো? দেখুন, মানশার মধ্যে আমার গোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষুদ্র এবং আমার পিতৃকুলে আমি কনিষ্ঠ।
16 তখন মাবুদ তাঁকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমার সহবর্তী হব; আর তুমি মাদিয়ানীয়দেরকে একটি লোকের মত করে আঘাত করবে।
17 তিনি বললেন, আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে আপনিই যে আমার সঙ্গে কথা বলছেন, তার কোন চিহ্ন আমাকে দেখান।
18 আরজ করি, আমি যতক্ষণ আমার নৈবেদ্য এনে আপনার সম্মুখে উপস্থিত না করি, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি এখান থেকে যাবেন না। তাতে তিনি বললেন, তুমি যতক্ষণ ফিরে না আসবে, ততক্ষণ আমি অপেক্ষা করবো।
19
তখন গিদিয়োন ভিতরে গিয়ে একটি ছাগলের বাচ্চা ও এক ঐফা পরিমিত সুজির খামিহীন রুটি প্রস্তুত করলেন। তিনি গোশ্ত ডালিতে রেখে ঝোল পাত্রে করে নিয়ে বের হয়ে সেই এলা গাছের তলে তাঁর কাছে এনে উপস্থিত করলেন।
20 আল্লাহ্র ফেরেশতা তাঁকে বললেন, গোশ্ত ও খামিহীন রুটিগুলো নিয়ে এই শৈলের উপরে রাখ এবং ঝোল ঢেলে দাও। তিনি তা-ই করলেন।
21 তখন মাবুদের ফেরেশতা তাঁর হাতে থাকা লাঠিটির অগ্রভাগ বাড়িয়ে দিয়ে সেই গোশ্ত ও খামিহীন রুটিগুলো স্পর্শ করলেন; তখন শৈল থেকে আগুন বের হয়ে সেই গোশ্ত ও খামিহীন রুটিগুলো গ্রাস করলো; আর মাবুদের ফেরেশতা তাঁর দৃষ্টিগোচর থেকে প্রস্থান করলেন।
22 তখন গিদিয়োন দেখলেন যে, তিনি মাবুদের ফেরেশতা; তখন তিনি বললেন, হায়! হে সার্বভৌম মাবুদ, এই যে আমি সম্মুখাসম্মুখি মাবুদের ফেরেশতাকে দেখলাম।
23 মাবুদ তাঁকে বললেন, তোমার শান্তি হোক, ভয় করো না; তুমি মরবে না।
24 পরে গিদিয়োন সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন ও তার নাম ইয়াহ্ওয়েহ্-শালোম (মাবুদ শান্তি) রাখলেন; তা অবীয়েষ্রীয়দের অফ্রাতে আজও আছে।
25
পরে সেই রাতে মাবুদ তাঁকে বললেন, তুমি তোমার পিতার ষাঁড়, অর্থাৎ সাত বছর বয়স্ক দ্বিতীয় ষাঁড়টি গ্রহণ কর এবং বাল দেবতার যে বেদী তোমার পিতার আছে, তা ভেঙে ফেল ও তার পাশের আশেরা কেটে ফেল;
26 আর এই দুর্গের শিখরদেশে তোমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পরিপাটি করে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি কর, আর সেই দ্বিতীয় ষাঁড়টি নিয়ে, যে আশেরা কেটে ফেলবে, তারই কাঠ দিয়ে পোড়ানো-কোরবানী কর।
27 পরে গিদিয়োন তার গোলামদের মধ্যে দশ জনকে সঙ্গে নিয়ে, মাবুদ তাঁকে যেরকম বলেছিলেন, সেরকম করলেন, কিন্তু নিজের পিতৃকুল ও নগরস্থ লোকদেরকে ভয় করাতে তিনি দিনের বেলায় না করে রাত বেলায় তা করলেন।
28
পরে সকালবেলা যখন নগরের লোকেরা উঠলো, তখন, দেখ, বালের বেদী ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ও তার পাশের আশেরা কেটে ফেলা হয়েছে এবং নতুন কোরবানগাহ্র উপরে দ্বিতীয় ষাঁড়টি কোরবানী করা হয়েছে।
29 তখন তারা পরস্পর বললো, এই কাজ কে করলো? পরে অনুসন্ধান করে জিজ্ঞাসা করলে লোকেরা বললো, যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন ওটা করেছে।
30 তাতে নগরের লোকেরা যোয়াশকে বললো, তোমার পুত্রকে বের করে আন, সে হত হোক; কেননা সে বালের বেদী ভেঙে ফেলেছে ও তার পাশের আশেরা কেটে ফেলেছে।
31 তখন যোয়াশ তার প্রতিকূলে দণ্ডায়মান লোকদেরকে বললেন, তোমরাই কি বালের পক্ষে ঝগড়া করবে? তোমরাই কি তাকে নিস্তার করবে? যে কেউ তার পক্ষে ঝগড়া করে, সকাল বেলার মধ্যেই তার প্রাণদণ্ড হবে; বাল যদি দেবতা হয়, তবে সে নিজের পক্ষে নিজেই ঝগড়া করুক; যেহেতু তারই বেদী ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
32 অতএব তিনি সেদিন তাঁর নাম যিরুব্বাল (বাল ঝগড়া করুক) রাখলেন, বললেন, বাল তার সঙ্গে ঝগড়া করুক, কারণ সে তার বেদী ভেঙে ফেলেছে।
33
ঐ সময়ে সমস্ত মাদিয়ানীয়, আমালেকীয় ও পূর্বদেশের লোকেরা একত্র হল এবং পার হয়ে যিষ্রিয়েলের উপত্যকায় শিবির স্থাপন করলো।
34 কিন্তু মাবুদের রূহ্ গিদিয়োনকে আবিষ্ট করলেন ও তিনি তূরি বাজালেন, আর অবীয়েষ্রীয়েরা তাঁর পিছনে জমায়েত হল।
35 আর তিনি মানশা প্রদেশের সর্বত্র লোক পাঠালেন, আর তারাও তাঁর পিছনে জমায়েত হল; পরে তিনি আশের, সবূলূন ও নপ্তালির কাছে দূত প্রেরণ করলেন, আর তারা তাদের কাছে এল।
36
পরে গিদিয়োন আল্লাহ্কে বললেন, তোমার কালাম অনুসারে তুমি যদি আমার হাত দিয়ে ইসরাইলকে নিস্তার কর,
37 তবে দেখ, আমি খামারে ছিন্ন ভেড়ার লোম রাখবো, যদি কেবল সেই লোমের উপরে শিশির পড়ে এবং সমস্ত ভূমি শুকনো থাকে, তবে আমি জানবো যে, তোমার কালাম অনুসারে তুমি আমার হাত দিয়ে ইসরাইলকে নিস্তার করবে।
38 পরে ঠিক তা-ই ঘটলো, পরদিন তিনি সকাল বেলা উঠে সেই লোম চেপে তা থেকে শিশিরপূর্ণ এক বাটি পানি নিঙড়ে ফেললেন।
39 আর গিদিয়োন আল্লাহ্কে বললেন, আমার বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধ প্রজ্বলিত না হোক, আমি কেবল আর একটিবার কথা বলি; আরজ করি, লোম দ্বারা আমাকে আর একটিবার পরীক্ষা নিতে দাও; এখন কেবল লোম শুকনো থাকুক, আর সকল ভূমির উপরে শিশির পড়ুক।
40 পরে আল্লাহ্ সেই রাতে তা-ই করলেন; তাতে কেবল ভেড়ার লোম শুকনো রইল, আর সকল ভূমিতে শিশির পড়লো।
1
পরে যিরুব্বাল অর্থাৎ গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক খুব ভোরে উঠে হারোদ নামক ফোয়ারার কাছে শিবির স্থাপন করলেন; তখন মাদিয়ানের শিবির তাঁদের উত্তর দিকে মোরি পর্বতের কাছে উপত্যকাতে ছিল।
2 পরে মাবুদ গিদিয়োনকে বললেন, তোমার সঙ্গী লোকদের সংখ্যা এত বেশি যে, আমি মাদিয়ানীয়দেরকে তাদের হাতে তুলে দেব না; পাছে ইসরাইল আমার প্রতিকূলে গর্ব করে বলে, আমি নিজের বাহুবলে নিস্তার পেলাম।
3 অতএব তুমি এখন লোকদের শুনিয়ে এই কথা ঘোষণা কর, যে সমস্ত লোক ভয়ে কাঁপছে, তারা ফিরে গিলিয়দ পর্বত থেকে প্রস্থান করুক। তাতে লোকদের মধ্য থেকে বাইশ হাজার লোক ফিরে গেল, দশ হাজার অবশিষ্ট থাকলো।
4
পরে মাবুদ গিদিয়োনকে বললেন, লোক এখনও অনেক বেশি আছে; তুমি তাদেরকে নিয়ে ঐ পানির কাছে নেমে যাও; সেখানে আমি তোমার জন্য তাদের পরীক্ষা নেব; তাতে যার বিষয়ে তোমাকে বলি, এই লোক তোমার সঙ্গে যাবে মাত্র সে-ই তোমার সঙ্গে যাবে; এবং যার বিষয়ে তোমাকে বলি, এই লোক তোমার সঙ্গে যাবে না, সে যাবে না।
5 পরে তিনি লোকদেরকে পানির কাছে নিয়ে গেলে মাবুদ গিদিয়োনকে বললেন, যে ব্যক্তি কুকুরের মত জিহ্বা দিয়ে পানি চেটে খায়, তাকে ও যে পানি পান করার জন্য হাঁটুর উপরে উবুড় হয়, তাকে পৃথক করে রাখ।
6 তাতে সংখ্যায় তিন শত লোক দু’হাতে পানি তুলে চেটে খেল, কিন্তু অন্য সমস্ত লোক পান করার জন্য হাঁটুর উপরে উবুড় হল,
7 তখন মাবুদ গিদিয়োনকে বললেন, এই যে তিন শত লোক পানি চেটে খেল, এদের দ্বারা আমি তোমাদের নিস্তার করবো ও মাদিয়ানীয়দের তোমার হাতে তুলে দেব; অন্য সমস্ত লোক নিজ নিজ স্থানে গমন করুক।
8 পরে লোকেরা স্ব স্ব হাতে খাদ্য-দ্রব্য ও তূরী গ্রহণ করলো, আর তিনি ইসরাইলের লোকদেরকে নিজ নিজ তাঁবুতে বিদায় করে ঐ তিন শত লোককে রাখলেন; সেই সময়ে মাদিয়ানের শিবির ছিল গিদিয়োনের শিবিরের নিচের উপত্যকাতে।
9
আর সেই রাতে মাবুদ তাঁকে বললেন, উঠ, তুমি নেমে শিবিরের মধ্যে যাও; কেননা আমি তোমার হাতে তা তুলে দিয়েছি।
10 আর যদি তুমি যেতে ভয় পাও, তবে তোমার ভৃত্য ফুরাকে সঙ্গে নিয়ে নেমে শিবিরে যাও,
11 এবং ওরা যা বলে তা শোন। এর পরে তোমার হাত শক্তিশালী হবে, তাতে তুমি ঐ শিবিরের বিরুদ্ধে নেমে যাবে। তখন তিনি তাঁর ভৃত্য ফুরাকে সঙ্গে নিয়ে শিবিরের সসজ্জ লোকদের প্রান্তভাগ পর্যন্ত নেমে গেলেন।
12 তখন মাদিয়ানীয়, আমালেকীয় ও পূর্বদেশের সমস্ত লোক এত বেশি ছিল যে, তারা পঙ্গপালের মত উপত্যকাতে পড়েছিল এবং তাদের উটও এত বেশি ছিল যে, সেগুলো ছিল সমুদ্র-তীরের বালুকণার মত অসংখ্য।
13 পরে গিদিয়োন আসলেন, আর দেখ, তাদের মধ্যে এক জন তার বন্ধুকে এই স্বপ্নের কথা বললো, দেখ, আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি, আর দেখ, যেন যবের একটা রুটি মাদিয়ানের শিবিরের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে গেল এবং তাঁবুর কাছে উপস্থিত হয়ে আঘাত করলো; তাতে তাঁবুখানি উল্টে লম্বমান হয়ে পড়লো।
14 তখন তার বন্ধু জবাবে বললো, ওটা আর কিছু নয়, ইসরায়েলীয় যোয়াশের পুত্র গিদিয়োনের তলোয়ার; আল্লাহ্ মাদিয়ান ও সমস্ত শিবিরকে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন।
15
তখন গিদিয়োন ঐ স্বপ্নের কথা ও তার অর্থ শুনে সেজ্দা করলেন; পরে ইসরাইলের শিবিরে ফিরে এসে বললেন, উঠ, কেননা মাবুদ তোমাদের হাতে মাদিয়ানের শিবির তুলে দিয়েছেন।
16 পরে তিনি ঐ তিন শত লোককে তিন দলে ভাগ করে প্রত্যেকের হাতে এক একটি তূরী এবং একটি শূন্য ঘট ও ঘটের মধ্যে মশাল দিলেন।
17 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা আমার প্রতি দৃষ্টি রেখে আমার মত কাজ করবে; দেখ, আমি শিবিরের প্রান্তভাগে উপস্থিত হলে যেরকম করবো, তোমরাও সেরকম করবে।
18 আমি ও আমার সঙ্গীরা সকলে তূরী বাজালে তোমরাও সমস্ত শিবিরের চারদিকে থেকে তূরী বাজাবে, আর বলবে,“মাবুদের জন্য ও গিদিয়োনের জন্য”।
19
পরে মাঝ রাতের প্রথমে নতুন প্রহরী স্থাপিত হওয়ামাত্র গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গী এক শত লোক শিবিরের প্রান্তভাগে উপস্থিত হয়ে তুরী বাজালেন এবং নিজ নিজ হাতে থাকা ঘট ভেঙে ফেলবেন।
20 এভাবে তিন দলই তূরী বাজাল ও ঘট ভেঙে ফেললো এবং বাম হাতে মশাল ও ডান হাতে বাজাবার তূরী ধরে চিৎকার করে বলতে লাগল, “মাবুদের ও গিদিয়োনের তলোয়ার”
21 আর শিবিরের চারদিকে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে রইলো; তাতে শিবিরের সমস্ত লোক দৌড়াদৌড়ি করে চিৎকার করতে করতে পালিয়ে যেতে লাগল।
22 তখন ওরা ঐ তিন শত তূরী বাজাল, আর মাবুদ শিবিরের প্রত্যেক জনের তলোয়ার তার বন্ধু ও সমস্ত সৈন্যের বিরুদ্ধে চালনা করালেন; তাতে সৈন্যরা সরোরার দিকে বৈৎ-শিট্টা পর্যন্ত, টব্বতের নিকটবর্তী আবেল-মহোলার সীমা পর্যন্ত পালিয়ে গেল।
23 পরে বনি-ইসরাইলদের মধ্যেকার নপ্তালি, আশের ও সমস্ত মানশা থেকে যাদের ডাকা হয়েছিল তারা মাদিয়ানের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেল।
24
আর গিদিয়োন পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের সর্বত্র দূত প্রেরণ করে এই কথা বললেন, তোমরা মাদিয়ানের বিরুদ্ধে নেমে এসো এবং তাদের আগে বৈৎ-বারা ও জর্ডান পর্যন্ত সমস্ত জলাশয় অধিকার কর। তাতে আফরাহীমের সমস্ত লোক একত্র হয়ে বৈৎ-বারা ও জর্ডান পর্যন্ত সমস্ত জলাশয় অধিকার করলো।
25 তারা ওরেব ও সেব নামে মাদিয়ানের দুই সেনাপতিকে ধরলো এবং ওরেব নামক শৈলে ওরেবকে হত্যা করলো। আর সেব নামক আঙ্গুরকুণ্ডের কাছে সেবকে হত্যা করলো এবং মাদিয়ানের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেল; আর ওরেব ও সেবের মাথা জর্ডানের পারে গিদিয়নের কাছে নিয়ে গেল।
1
পরে আফরাহীমের লোকেরা তাঁকে বললো, তুমি মাদিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবার সময় আমাদের কেন আহ্বান কর নি? আমাদের প্রতি এ কেমন ব্যবহার করলে? এভাবে তারা তাঁর সঙ্গে ভীষণ ঝগড়া করলো।
2 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, এখন তোমাদের কাজের মত কোন কাজ আমি করেছি? অবীয়েষরের আঙ্গুর চয়নের চেয়ে আফরাহীমের পরিত্যক্ত আঙ্গুর ফল কুড়ান কি ভাল নয়?
3 তোমাদের হাতেই তো আল্লাহ্ মাদিয়ানের দুই সেনাপতি ওরেব ও সেবকে তুলে দিয়েছেন; আমি তোমাদের এই কাজের মত কোন কাজ করতে পেরেছি? তখন তাঁর এই কথায় তাঁর প্রতি তাদের ক্রোধ নিবৃত্ত হল।
4
গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গী তিন শত লোক জর্ডানে এসে পার হলেন; তাঁরা পরিশ্রান্ত হলেও তাড়া করে যাচ্ছিলেন।
5 আর তিনি সুক্কোতের লোকদের বললেন, আরজ করি, তোমরা আমার অনুগামী লোকদের রুটি দাও, কেননা তারা পরিশ্রান্ত হয়েছে; আর আমি সেবহ ও সলমুন্নের, মাদিয়ানের দুই বাদশাহ্র পিছনে পিছনে তাড়া করে যাচ্ছি।
6 তাতে সুক্কোতের কর্মকর্তারা বললো, সেবহ ও সলমুন্নের হাত কি এখন তোমার অধিকারে এসেছে যে, আমরা তোমার সৈন্যদেরকে রুটি দেব?
7 গিদিয়োন বললেন, ভাল, যখন মাবুদ সেবহ ও সলমুন্নকে আমার হাতে তুলে দিবেন, তখন আমি মরুভূমির কাঁটা ও কাঁটাগাছ দ্বারা তোমাদের শরীরের মাংস ছিঁড়ে নেব।
8 পরে তিনি সেই স্থান থেকে পনূয়েলে উঠে গিয়ে সেই স্থানের লোকদের কাছেও সেই একই অনুরোধ করলেন, তাতে সুক্কোতের লোকেরা যেরকম উত্তর দিয়েছিল, পনূয়েলের লোকেরাও তাঁকে সেরকম উত্তর দিল।
9 তখন তিনি পনূয়েলের লোকদেরকেও বললেন, আমি যখন সহিসালামতে ফিরে আসবো, তখন এই উচ্চগৃহ ভেঙে ফেলবো।
10
সেবহ ও সলমুন্ন কর্কোরে ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গী সৈন্য অনুমান পনের হাজার লোক ছিল। পূর্বদেশের লোকদের সমস্ত সৈন্যের মধ্যে এরাই মাত্র অবশিষ্ট ছিল, আর তলোয়ারধারী এক লক্ষ বিশ হাজার লোক মারা পড়েছিল।
11 পরে গিদিয়োন নোবহের ও যগ্বিহের পূর্ব দিকে তাঁবু-নিবাসীদের পথ দিয়ে উঠে গিয়ে সেই সৈন্যদেরকে আঘাত করলেন, যেহেতু সৈন্যরা নিশ্চিন্ত ছিল।
12 তখন সেবহ ও সল্মুন্ন পালিয়ে গেলেন, কিন্তু গিদিয়োন তাদের পিছনে তাড়া করে গেলেন এবং সেবহ ও সল্মুন্নকে, মাদিয়ানের সেই দুই বাদশাহ্কে ধরলেন; আর সমস্ত সৈন্যকে ভীষণ ভয় ধরিয়ে দিলেন।
13
পরে যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন হেরসের আরোহণ পথ দিয়ে যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলেন,
14 এমন সময়ে সুক্কোৎ-নিবাসী এক জন যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন; তাতে সে সুক্কোতের কর্মকর্তাদের ও সেই স্থানের প্রাচীনদের সাতাত্তর জনের নাম লিখে দিল।
15 পরে তিনি সুক্কোতের লোকদের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, সেবহ ও সলমুন্নকে দেখ, যাদের বিষয়ে তোমরা আমাকে উপহাস করে বলেছিলে, সেবহের ও সলমুন্নের হাত কি এখন তোমার অধিকারে যে, আমরা তোমার পরিশ্রান্ত লোকদেরকে রুটি দেব?
16 আর তিনি ঐ নগরের প্রাচীনদেরকে ধরলেন এবং মরু-ভূমির কাঁটা ও কাঁটাগাছ নিয়ে তা দ্বারা সুক্কোতের লোকদেরকে শাস্তি দিলেন।
17 পরে তিনি পনূয়েলের উচ্চগৃহ ভেঙে ফেললেন ও নগরের লোকদের হত্যা করলেন।
18
আর তিনি সেবহ ও সলমুন্নকে বললেন, তোমরা তাবোরে যে পুরুষদেরকে হত্যা করেছিলে, তারা কেমন লোক? তাঁরা উত্তর করলেন, আপনি যেমন, তারাও তেমনি, প্রত্যেকে রাজপুত্রের মত ছিল।
19 তিনি বললেন, তারা আমার ভাই, আমারই সহোদর; জীবন্ত মাবুদের কসম, তোমরা যদি তাদেরকে জীবিত রাখতে, আমি তোমাদেরকে হত্যা করতাম না।
20 পরে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র যেথরকে বললেন, উঠ, এদেরকে হত্যা কর, কিন্তু সেই বালক তার তলোয়ার বের করলো না, কারণ সে ভয় করলো, কেননা তখনও সে বালক।
21 তখন সেবহ ও সল্মুন্ন বললেন, আপনি উঠে আমাদের আঘাত করুন, কেননা যে যেমন পুরুষ, তার তেমনি বীরত্ব। তাতে গিদিয়োন উঠে সেবহ ও সল্মুন্নকে হত্যা করলেন এবং তাঁদের উটগুলোর গলার সমস্ত চন্দ্রহার খুলে নিলেন।
22
পরে ইসরাইলের লোকেরা গিদিয়োনকে বললো, আপনি পুত্রপৌত্রাদি ক্রমে আমাদের উপরে কর্তৃত্ব করুন, কেননা আপনি আমাদেরকে মাদিয়ানের হাত থেকে নিস্তার করেছেন।
23 তখন গিদিয়োন বললেন, আমি তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করবো না এবং আমার পুত্রও তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করবে না; মাবুদই তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করবেন।
24 আর গিদিয়োন তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের কাছে একটি নিবেদন করি, তোমরা প্রত্যেকে লুটের ভাগ থেকে একটি করে কর্ণকুণ্ডল আমাকে দাও; কেননা দুশমনরা ইসমাইলীয়, এজন্য তাদের সোনার কর্ণকুণ্ডল ছিল।
25 তারা জবাবে বললো, অবশ্য দেব; পরে তারা একখানি কাপড় পাতল এবং প্রত্যেকে তার লুটের জিনিস থেকে তাতে একটি করে কর্ণকুণ্ডল ফেললো;
26 তাতে তাঁর প্রার্থিত কর্ণকুণ্ডলের পরিমাণ এক হাজার সাত শত (শেকল) সোনা হল। এছাড়া চন্দ্রহার, ঝুমকা ও মাদিয়ানীয় বাদশাহ্দের পরিধেয় বেগুনে রঙের পোশাক ও তাঁদের উটের গলার হার ছিল।
27 পরে গিদিয়োন তা দিয়ে একটি এফোদ প্রস্তুত করে নিজের বসতি-নগর অফ্রাতে রাখলেন; তাতে সমস্ত ইসরাইল সেই স্থানে সেই এফোদের এবাদত করে ভ্রষ্ট হল; আর তা গিদিয়োন ও তাঁর কুলের ফাঁদস্বরূপ হল।
28 এভাবে মাদিয়ান বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে নত হল, আর মাথা তুলতে পারল না। আর গিদিয়োনের সময়ে চল্লিশ বছর দেশ বিশ্রাম ভোগ করলো।
29
পরে যোয়াশের পুত্র যিরুব্বাল তাঁর বাড়িতে গিয়ে বাস করলেন।
30 গিদিয়োনের ঔরসজাত সত্তর জন পুত্র ছিল, কেননা তাঁর অনেক স্ত্রী ছিল।
31 আর শিখিমে তাঁর যে এক জন উপপত্নী ছিল, সেও তাঁর জন্য একটি পুত্র প্রসব করলো, আর তিনি তার নাম রাখলেন আবীমালেক।
32 পরে যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন শুভ বৃদ্ধাবস্থায় ইন্তেকাল করলেন, আর অবীয়েষ্রীয়দের অফ্রাতে তাঁর পিতা যোয়াশের কবরে তাঁকে দাফন করা হল।
33
গিদিয়োনের মৃত্যুর পরেই বনি-ইসরাইল পুনর্বার বাল দেবতাদের উপাসনা করে জেনাকারী হল, আর বালবরীৎকে নিজেদের ইষ্ট দেবতা করে নিল।
34 আর যিনি চারদিকের সমস্ত দুশমনের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেছিলেন, বনি-ইসরাইল তাদের আল্লাহ্ সেই মাবুদকে ভুলে গেল।
35 আর যিরুব্বাল (গিদিয়োন) ইসরাইলের যেরকম মঙ্গল করেছিলেন, তারা সেই অনুসারে তাঁর কুলের প্রতি সদয় ব্যবহার করলো না।
1
পরে যিরুব্বালের পুত্র আবিমালেক শিখিমে তার মায়ের আত্মীয়দের কাছে গিয়ে তাদের এবং তার মায়ের পিতৃকুলের সমস্ত গোষ্ঠীকে এই কথা বললো,
2 নিবেদন করি, তোমরা শিখিমের সমস্ত গৃহস্থের কর্ণগোচরে এই কথা বল, তোমাদের পক্ষে কোনটা ভাল? তোমাদের উপরে যিরুব্বালের সমস্ত পুত্র অর্থাৎ সত্তর জনের কর্তৃত্ব ভাল, না এক জনের কর্তৃত্ব ভাল? আর এও স্মরণ কর, আমি তোমাদের অস্থি ও তোমাদের মাংস।
3 আর তার মায়ের আত্মীয়েরা তার পক্ষে শিখিমের সকল গৃহস্থের কর্ণগোচরে ঐ সমস্ত কথা বললে পর আবিমালেকের অনুগামী হতে তাদের মনে প্রবৃত্তি হল; কেননা তারা বললো, উনি আমাদের আত্মীয়।
4 আর তারা বাল্-বরীতের মন্দির থেকে তাকে সত্তর (থান) রূপা বেতন দিল; তাতে আবিমালেক অসার ও চপলমতি লোকদেরকে ঐ রূপা বেতন দিলে তারা তার অনুগামী হল।
5 পরে সে অফ্রায় পিতার বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের অর্থাৎ যিরুব্বালের সত্তরজন পুত্রকে একটি পাথরের উপরে হত্যা করলো; কেবল যিরুব্বালের কনিষ্ঠ পুত্র যোথম লুকিয়ে থাকাতে বেঁচে গেল।
6 পরে শিখিমের সমস্ত গৃহস্থ এবং মিল্লোর সমস্ত লোক একত্র হয়ে শিখিমস্থ স্তম্ভের এলোন গাছের কাছে গিয়ে আবিমালেককে বাদশাহ্ করলো।
7
আর লোকেরা যোথমকে এই সংবাদ দিলে সে গিয়ে গরিষীম পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডেকে তাদের বললো, হে শিখিমের সমস্ত গৃহস্থ, আমার কথায় কান দাও, তাতে আল্লাহ্ তোমাদের কথায় কান দিবেন।
8 একদিন গাছেরা তাদের উপরে এক জন বাদশাহ্কে অভিষেক করার জন্য তার খোঁজ করতে বের হল। তারা জলপাই গাছকে বললো, তুমি আমাদের উপরে রাজত্ব কর।
9 জলপাই গাছ তাদেরকে বললো, আমার যে তেলের জন্য আল্লাহ্ ও মানুষেরা আমার গৌরব করেন, তা ত্যাগ করে আমি কি গাছগুলোর উপরে দুলতে থাকব?
10 পরে গাছেরা ডুমুর গাছকে বললো, তুমি এসে আমাদের উপরে রাজত্ব কর।
11 ডুমুর গাছ তাদেরকে বললো, আমি কি আমার মিষ্টতা ও উত্তম ফল ত্যাগ করে গাছগুলোর উপরে দুলতে থাকব?
12 পরে গাছেরা আঙ্গুরলতাকে বললো, তুমি এসে আমাদের উপরে রাজত্ব কর।
13 আঙ্গুরলতা তাদেরকে বললো, আমার যে রস আল্লাহ্ ও মানুষকে খুশি করে, তা ত্যাগ করে আমি কি গাছগুলোর উপরে দুলতে থাকব?
14 পরে সমস্ত গাছ কাঁটাগাছকে বললো, তুমি এসে আমাদের উপরে রাজত্ব কর।
15 কাঁটাগাছ সেই গাছগুলোকে বললো, তোমরা যদি তোমাদের উপরে বাস্তবিক আমাকে বাদশাহ্ বলে অভিষেক কর, তবে এসে আমার ছায়ায় আশ্রয় নাও; যদি না নাও, তবে এই কাঁটাগাছ থেকে আগুন বের হয়ে লেবাননের এরস গাছগুলোকে গ্রাস করুক।
16
এখন আবিমালেককে বাদশাহ্ করাতে তোমরা যদি সত্য ও যথার্থ আচরণ করে থাক এবং যদি যিরুব্বালের ও তাঁর কুলের প্রতি সদাচরণ ও তাঁর হস্তকৃত উপকার অনুসারে তাঁর প্রতি ব্যবহার করে থাক,
17 —কারণ আমার পিতা তোমাদের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন ও প্রাণ পণ করে মাদিয়ানের হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলেন—
18 কিন্তু তোমরা আজ আমার পিতৃকুলের বিরুদ্ধে উঠে একটি পাথরের উপরে তাঁর সত্তর জন পুত্রকে খুন করলে ও তাঁর বাঁদীর পুত্র আবিমালেককে তোমাদের ভাই বলে শিখিমের গৃহস্থদের উপরে বাদশাহ্ করলে;
19 আজ যদি তোমরা যিরুব্বাল ও তাঁর কুলের প্রতি সত্য ও যথার্থ আচরণ করে থাক, তবে আবিমালেকের বিষয়ে আনন্দ কর এবং সেও তোমাদের বিষয়ে আনন্দ করুক।
20 কিন্তু তা যদি না হয়, তবে আবিমালেক থেকে আগুন বের হয়ে শিখিমের গৃহস্থদের ও মিল্লোর লোকদের গ্রাস করুক; আবার শিখিমের গৃহস্থদের কাছ থেকে ও মিল্লোর লোকদের থেকে আগুন বের হয়ে আবিমালেককে গ্রাস করুক।
21 পরে যোথম দৌড়ে পালিয়ে গেল, সে বের্ নামক একটি স্থানে গেল এবং তার ভাই আবিমালেকের ভয়ে সেই স্থানে বাস করলো।
22
আবিমালেক ইসরাইলের উপরে তিন বছর কর্তৃত্ব করলো।
23 পরে আল্লাহ্ আবিমালেক ও শিখিমের গৃহস্থদের মধ্যে একটি মন্দ রূহ্ প্রেরণ করলেন, তাতে শিখিমের গৃহস্থেরা আবিমালেকের প্রতি বেঈমানী করলো;
24 যেন যিরুব্বালের সত্তর জন পুত্রের প্রতি কৃত অত্যাচারের প্রতিফল ঘটে এবং তাদের ভাই আবিমালেক, যে তাদেরকে হত্যা করেছিল, তার উপরে এবং ভাইদের হত্যা করতে যারা তার হাত সবল করেছিল, সেই শিখিমস্থ গৃহস্থদের উপরে ঐ রক্তপাতের অপরাধ যেন বর্তে।
25 আর শিখিমের গৃহস্থেরা তার জন্য কোন কোন পর্বত শৃঙ্গে গোপনে লোক বসিয়ে দিল, তাতে যত লোক তাদের নিকটবর্তী কোন পথ দিয়ে যেত, সকলেরই জিনিসপত্র তারা লুট করে নিত; আর আবিমালেক তার সংবাদ পেল।
26
পরে এবদের পুত্র গাল তার ভাইদেরকে সঙ্গে নিয়ে শিখিমে এল; আর শিখিমের গৃহস্থেরা তাকে বিশ্বাস করলো।
27 আর তারা বের হয়ে নিজ নিজ আঙ্গুর-ক্ষেতে ফল চয়ন ও তা মাড়াই করলো এবং উৎসব করলো, আর নিজেদের দেবতার মন্দিরে গিয়ে ভোজন পান করে আবিমালেককে বদদোয়া দিল।
28 এবদের পুত্র গাল বললো, আবিমালেক কে, সেই শিখিমীয় কে, যে আমরা তার গোলামী করবো? সে কি যিরুব্বালের পুত্র নয়? সবূল কি তার সেনাপতি নয়? তোমরা বরং শিখিমের পিতা হমোরের লোকদের গোলামী কর;
29 আমরা ওর গোলামী কেন স্বীকার করবো? আহা, এসব লোক আমার হস্তগত হলে আমি আবিমালেককে দূর করে দিই! পরে সে আবিমালেকের উদ্দেশে বললো, তুমি দলবল বৃদ্ধি করে বের হয়ে এসো দেখি!
30
এবদের পুত্র গালের সেই কথা নগরের শাসনকর্তা সবূলের কর্ণগোচর হলে সে ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে উঠলো;
31 আর সে কৌশলক্রমে আবিমালেকের কাছে দূত পাঠিয়ে বললো দেখুন, এবদের পুত্র গাল ও তার ভাইয়েরা শিখিমে এসেছে; আর দেখুন, তারা আপনার বিরুদ্ধে নগরের লোকদের কুপ্রবৃত্তি দিচ্ছে।
32 অতএব আপনি ও আপনার সঙ্গে যেসব লোক আছে, আপনারা রাতে উঠে ক্ষেতে লুকিয়ে থাকুন।
33 পরে খুব ভোরে সূর্যোদয় হওয়ামাত্র আপনি উঠে নগর আক্রমণ করবেন; আর দেখুন, সে ও তার সঙ্গী লোকেরা যখন আপনার বিরুদ্ধে বের হবে, তখন আপনার হাত যা করতে পারবে, তা করবেন।
34
পরে আবিমালেক ও তার সঙ্গী সমস্ত লোক রাতে উঠে চার দল হয়ে লুকিয়ে রইলো।
35 আর এবদের পুত্র গাল বাইরে গিয়ে নগরের প্রবেশ দ্বারের স্থানে দাঁড়াল; পরে আবিমালেক ও তার সঙ্গী লোকেরা গুপ্তস্থান থেকে উঠলো।
36 আর গাল সেই লোকদেরকে দেখে সবূলকে বললো, দেখ, পর্বত শৃঙ্গ থেকে লোকেরা নেমে আসছে। সবূল তাকে বললো, তুমি পর্বতের ছায়াগুলোকে মানুষ বলে ভাবছ।
37 পরে গাল পুনর্বার বললো, দেখ, উঁচু দেশ থেকে লোকেরা নেমে আসছে এবং গণকদের এলোন গাছের পথ দিয়ে একটি দল আসছে।
38 সবূল তাকে বললো, কোথায় এখন তোমার সেই মুখ, যে মুখে বলেছিলে, আবিমালেক কে যে আমরা তার গোলামী স্বীকার করি? তুমি যে লোকদেরকে তুচ্ছ করেছিলে, ওরা কি সেই লোক নয়? এখন যাও, বের হয়ে ওর সঙ্গে যুদ্ধ কর।
39 পরে গাল শিখিমের গৃহস্থদের আগে আগে বাইরে গিয়ে আবিমালেকের সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
40 তাতে আবিমালেক তাকে তাড়া করলো ও সে তার সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল এবং দ্বার-প্রবেশ-স্থান পর্যন্ত অনেক লোক আহত হয়ে পড়লো।
41 পরে আবিমালেক অরূমায় রইলো আর সবূল গাল ও তার ভাইদেরকে তাড়িয়ে দিল, তারা আর শিখিমে বাস করতে পারল না।
42
পর দিন লোকেরা বের হয়ে ক্ষেতে যাচ্ছিল, আর আবিমালেক তার সংবাদ পেল।
43 সে লোকদেরকে নিয়ে তিন দল করে ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রইলো; পরে সে চেয়ে দেখলো লোকেরা নগর থেকে বের হয়ে আসছে; তখন সে তাদের বিরুদ্ধে উঠে তাদেরকে আঘাত করলো।
44 পরে আবিমালেক ও তার সঙ্গীদলের লোকেরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে নগরের প্রবেশ দ্বারের স্থানে দাঁড়িয়ে রইলো এবং দুই দল ক্ষেতের সমস্ত লোককে আক্রমণ করে আঘাত করলো।
45 আর আবিমালেক সারা দিন ধরে ঐ নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো; আর নগর অধিকার করে সেই স্থানের লোকদেরকে হত্যা করলো এবং নগর সমভূমি করে তার উপরে লবণ ছড়িয়ে দিল।
46
পরে শিখিমের উচ্চগৃহস্থিত সমস্ত গৃহস্থ এই কথা শুনে এল-বরীৎ দেবতার মন্দিরস্থ একটি সুদৃঢ় বাড়িতে প্রবেশ করলো।
47 পরে শিখিমের উচ্চগৃহস্থিত সমস্ত গৃহস্থ একত্র হয়েছে, এই কথা আবিমালেকের কর্ণগোচরে বলা হল।
48 তখন আবিমালেক ও তার সঙ্গীরা সকলে সলমোন পর্বতে উঠলো। আর আবিমালেক কুঠার নিয়ে গাছ থেকে একটি ডাল কেটে নিয়ে তার কাঁধে রাখল এবং তার সঙ্গী লোকদেরকে বললো, তোমরা আমাকে যা করতে দেখলে, তোমরাও তাড়াতাড়ি তা-ই কর।
49 তাতে সমস্ত লোক প্রত্যেকে একটি করে ডাল কেটে নিয়ে আবিমালেকের পিছনে পিছনে চললো; পরে সেসব ডাল ঐ দৃঢ় গৃহের দেওয়ালে রেখে সেই গৃহে আগুন লাগিয়ে দিল; এভাবে শিখিমের উচ্চগৃহে থাকা সমস্ত লোকও মারা গেল; তারা স্ত্রী ও পুরুষ অনুমান এক হাজার লোক ছিল।
50
পরে আবিমালেক তেবেসে গমন করলো ও তেবেসের বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করে তা অধিকার করলো।
51 কিন্তু ঐ নগরের মধ্যে সুরক্ষিত একটি উচ্চগৃহ ছিল, অতএব সমস্ত পুরুষ ও স্ত্রী এবং নগরের সকল গৃহস্থ পালিয়ে তার মধ্যে গিয়ে দ্বার রুদ্ধ করে উচ্চগৃহের ছাদের উপরে উঠলো।
52 পরে আবিমালেক সেই উচ্চগৃহের কাছে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো এবং তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবার জন্য উচ্চগৃহের দ্বার পর্যন্ত গেল।
53 তখন এক জন স্ত্রীলোক যাঁতার উপরের পাট নিয়ে আবিমালেকের মাথার উপরে নিক্ষেপ করে তার মাথার খুলি ফাটিয়ে দিল।
54 তাতে সে শীঘ্র তার অস্ত্র-বাহক যুবককে ডেকে বললো, তুমি তলোয়ার খুলে আমাকে হত্যা কর; পাছে লোকে আমার বিষয়ে বলে, একটা স্ত্রীলোক ওকে হত্যা করেছে। তখন সে যুবক তাকে বিদ্ধ করলে তার মৃত্যু হল।
55 পরে আবিমালেক মারা গেছে দেখে ইসরাইলের লোকেরা প্রত্যেকে স্ব স্ব স্থানে প্রস্থান করলো।
56 এভাবে আবিমালেক তার সত্তর জন ভাইকে খুন করে তার পিতার বিরুদ্ধে যে দুষ্কর্ম করেছিল, আল্লাহ্ তার সমুচিত দণ্ড তাকে দিলেন;
57 আবার শিখিমের লোকদের মাথায় আল্লাহ্ তাদের সমস্ত দুষ্কর্মের প্রতিফল বর্তালেন; তাতে যিরুব্বালের পুত্র যোথমের বদদোয়া তাদের উপরে পড়লো।
1
আবিমালেকের পরে তোলয় ইসরাইলকে উদ্ধার করার জন্য উৎপন্ন হলেন; তিনি ইষাখর-বংশীয় দোদয়ের পৌত্র পূয়ার পুত্র; তিনি পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের শামীরে বাস করতেন।
2 তিনি তেইশ বছর ইসরাইলের বিচার করলেন; পরে তাঁর মৃত্যু হলে শামীরে তাঁকে দাফন করা হল।
3
তাঁর পরে গিলিয়দীয় যায়ীর উৎপন্ন হলেন এবং বাইশ বছর পর্যন্ত ইসরাইলের বিচার করলেন।
4 তাঁর ত্রিশজন পুত্র ছিল এবং তারা ত্রিশটি গাধার পিঠে চড়ে বেড়াত। তাদের ত্রিশটি নগর ছিল, আর গিলিয়দ দেশস্থ সেসব নগরকে আজও হবোৎ-যায়ীর বলা হয়।
5 পরে যায়ীর ইন্তেকাল করলেন এবং কামোনে তাঁকে দাফন করা হল।
6
পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই পুনর্বার করতে লাগল এবং বাল দেবতাদের, অষ্টারোৎ দেবীদের, অরামের দেবতাদের, সিডনের দেবতাদের, মোয়াবের দেবতাদের, অম্মোনীয়দের দেবতাদের ও ফিলিস্তিনীদের দেবতাদের সেবা করতে লাগল; তারা মাবুদকে ত্যাগ করলো, তাঁর সেবা করলো না।
7 তখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, আর তিনি পলেষ্টীয়দের হাতে ও অম্মোনীয়দের হাতে তাদেরকে বিক্রি করলেন।
8 আর তারা সেই বছর বনি-ইসরাইলীয়দের জুলুম ও চূর্ণ করলো; আঠার বছর পর্যন্ত জর্ডান পারস্থ গিলিয়দের অন্তর্গত আমোরীয় দেশ-নিবাসী সমস্ত বনি-ইসরাইলদেরকে চূর্ণ করলো।
9 আর অম্মোনীয়রা এহুদার ও বিন্ইয়ামীনের এবং আফরাহীম কুলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে জর্ডান পার হয়ে আসত; এভাবে ইসরাইল অতিশয় কষ্ট পেতে লাগল।
10
পরে বনি-ইসরাইলরা মাবুদের কাছে কেঁদে কেঁদে বললো, আমরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি, কেননা আমরা আমাদের আল্লাহ্কে ত্যাগ করে বাল দেবতাদের সেবা করেছি।
11 তাতে মাবুদ বনি-ইসরাইলকে বললেন, মিসরীয়দের থেকে, আমোরীয়দের থেকে, অম্মোনীয়দের ও ফিলিস্তিনীদের থেকে আমি কি তোমাদের উদ্ধার করি নি নি?
12 আর সীদোনীয়, আমালেকীয় ও মায়োনীয়রা যখন তোমাদের উপরে জুলুম করেছিল আর তোমরা আমার কাছে কান্নাকাটি করলে আমি তাদের হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করলাম।
13 তবুও তোমরা আমাকে ত্যাগ করে অন্য দেবতাদের সেবা করলে, অতএব আমি আর তোমাদের উদ্ধার করবো না।
14 তোমরা যাও, তোমাদের মনোনীত ঐ দেবতাদের কাছে কান্নাকাটি কর; সঙ্কটের সময়ে তারাই তোমাদেরকে উদ্ধার করুক।
15 তখন বনি-ইসরাইল মাবুদকে বললো, আমরা গুনাহ্ করেছি; এখন তোমার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই আমাদের প্রতি কর; আরজ করি, কেবল আজ আমাদের উদ্ধার কর।
16 পরে তারা তাদের মধ্য থেকে বিজাতীয় দেবমূর্তিকে দূর করে মাবুদের সেবা করতে লাগল; তাতে ইসরাইলের কষ্টে তাঁর প্রাণ দুঃখিত হল।
17
ঐ সময়ে অম্মোনীয়দের ডাকা হলে তারা এসে গিলিয়দে শিবির স্থাপন করলো। আর বনি-ইসরাইল একত্র হয়ে মিস্পাতে শিবির স্থাপন করলো।
18 তাতে লোকেরা, গিলিয়— দের নেতৃবর্গ, পরষ্পর বললো, অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ কোন ব্যক্তি আরম্ভ করবে? সে গিলিয়দ-নিবাসী সমস্ত লোকের প্রধান হবে।
1
ঐ সময়ে গিলিয়দীয় যিপ্তহ বলবান বীর ছিলেন; তিনি এক জন পতিতার পুত্র; তাঁর পিতা ছিলেন গিলিয়দ।
2 আর গিলিয়দের স্ত্রী তাঁর জন্য কয়েকটি পুত্র প্রসব করলো; পরে সেই স্ত্রীজাত পুত্ররা যখন বড় হল, তখন যিপ্তহকে তাড়িয়ে দিয়ে বললো, আমাদের পিতৃকুলের মধ্যে তুমি অধিকার পাবে না, কেননা তুমি অপর এক স্ত্রীর পুত্র।
3 তাতে যিপ্তহ তাঁর ভাইদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গিয়ে টোব দেশে প্রবাস করলেন। সেখানে কতকগুলো অসারচিত্ত লোক যিপ্তহের কাছে একত্র হল, তারা তাঁর সঙ্গে বাইরে যেত।
4
কিছুকাল পরে অম্মোনীয়রা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল।
5 তখন ইসরাইলের সঙ্গে অম্মোনীয়রা যুদ্ধ করাতে গিলিয়দের প্রাচীনবর্গরা যিপ্তহকে টোব দেশ থেকে আনতে গেল।
6 তারা যিপ্তহকে বললো, এসো, তুমি আমাদের নেতা হও, আমরা অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করবো।
7 যিপ্তহ গিলিয়দের প্রাচীন লোকদেরকে বললেন, তোমরাই কি আমাকে ঘৃণা করে আমার পিতৃকুল থেকে আমাকে তাড়িয়ে দাও নি? এখন বিপদগ্রস্ত হয়েছ বলে আমার কাছে কেন আসলে?
8 তখন গিলিয়দের প্রাচীনবর্গরা যিপ্তহকে বললো, এখন আমরা তোমার কাছে ফিরে এসেছি, যেন তুমি আমাদের সঙ্গে গিয়ে অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পার এবং আমাদের অর্থাৎ গিলিয়দ-নিবাসী সমস্ত লোকের প্রধান হও।
9 তখন যিপ্তহ গিলিয়দের প্রধান ব্যক্তিদের বললেন, তোমরা যদি অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমাকে পুনর্বার স্বদেশে নিয়ে যাও, আর মাবুদ যদি আমার হাতে তাদেরকে তুলে দেন, তবে আমিই কি তোমাদের প্রধান হব?
10 তখন গিলিয়দের প্রধান ব্যক্তিরা যিপ্তহকে বললো, মাবুদ আমাদের মধ্যে সাক্ষী; আমরা অবশ্য তোমার কথা অনুসারে কাজ করবো।
11 পরে যিপ্তহ গিলিয়দের প্রধান ব্যক্তিদের সঙ্গে গেলেন; তাতে লোকেরা তাঁকে তাদের প্রধান ও শাসনকর্তা করলো; পরে যিপ্তহ মিস্পাতে মাবুদের সাক্ষাতে নিজের সমস্ত কথা বললেন।
12
পরে যিপ্তহ অম্মোনীয়দের বাদশাহ্র কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, আমার সঙ্গে কি এমন প্রয়োজন যে, তুমি আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে আমার দেশে আসলে?
13 তাতে অম্মোনীয়দের বাদশাহ্ যিপ্তহের দূতদেরকে বললেন, কারণ এই, ইসরাইল যখন মিসর থেকে আসে, তখন, অর্ণোন থেকে যব্বোক ও জর্ডান পর্যন্ত আমার ভূমি হরণ করেছিল; অতএব এখন সহিসালামতে তা ফিরিয়ে দাও।
14 তাতে যিপ্তহ অম্মোনীয়দের বাদশাহ্র কাছে পুনর্বার দূত পাঠালেন;
15 তিনি তাঁকে বললেন, যিপ্তহ এই কথা বলেন, মোয়াবের ভূমি কিংবা অম্মোনীয়দের ভূমি ইসরাইল হরণ করে নি।
16 কিন্তু মিসর থেকে আসার সময় ইসরাইল লোহিত সাগর পর্যন্ত মরুভূমির মধ্যে ভ্রমণ করে যখন কাদেশে উপস্থিত হয়,
17 তখন ইদোমের বাদশাহ্র কাছে দূত পাঠিয়ে বলেছিল, আরজ করি, আপনার দেশের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে দিন, কিন্তু ইদোমের বাদশাহ্ সেই কথায় কান দিলেন না; আবার সেই একই কথা মোয়াবের বাদশাহ্র কাছে বলে পাঠালে তিনিও সম্মত হলেন না; অতএব ইসরাইল কাদেশে রইলো।
18 পরে তারা মরুভূমির মধ্য দিয়ে গিয়ে ইদোম ও মোয়াব দেশ প্রদক্ষিণপূর্বক মোয়াব দেশের পূর্ব দিক দিয়ে এসে অর্ণোনের ওপারে শিবির স্থাপন করলো, মোয়াবের সীমার মধ্যে প্রবেশ করলো না, কেননা অর্ণোন মোয়াবের সীমা।
19 পরে ইসরাইল হিষ্বোনের বাদশাহ্, আমোরীয়দের বাদশাহ্, সীহোনের কাছে দূত পাঠিয়ে তাঁকে বললো, আরজ করি, আপনার দেশের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে নিজের স্থানে যেতে দিন।
20 কিন্তু সীহোন ইসরাইলকে বিশ্বাস করে তাঁর সীমার মধ্য দিয়ে যেতে দিলেন না; সীহোন তাঁর সমস্ত লোক একত্র করে যহসে শিবির স্থাপন এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন।
21 আর ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ সীহোন ও তার সমস্ত লোককে ইসরাইলের হাতে তুলে দিলেন ও তারা তাদেরকে আক্রমণ করলো; এভাবে ইসরাইল সেই দেশ-নিবাসী আমোরীয়দের সমস্ত দেশ অধিকার করলো।
22 তারা অর্ণোন থেকে যব্বোক পর্যন্ত ও মরুভূমি থেকে জর্ডান পর্যন্ত আমোরীয়দের সমস্ত অঞ্চল অধিকার করলো।
23 সুতরাং ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর লোক ইসরাইলের সম্মুখে ইমোরীয়দেরকে অধিকারচ্যুত করলেন; এখন আপনি কি তাদের দেশ অধিকার করবেন?
24 আপনার কমোশ দেব আপনাকে অধিকার করার জন্য যা দেন, আপনি কি তারই অধিকারী নন? আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদের সম্মুখে যাদেরকে অধিকারচ্যুত করেছেন, সেসব কিছুর অধিকারী আমরাই আছি।
25 বলুন দেখি, মোয়াবের বাদশাহ্ সিপ্পোরের পুত্র বালাক থেকে আপনি কি শ্রেষ্ঠ? তিনি কি ইসরাইলের সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন, না তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন?
26 হিষ্বোনে ও তার আশেপাশের এলাকায়, অরোয়েরে ও তার আশেপাশের এলাকায় এবং অর্ণোনের তীর ধরে সমস্ত নগরে তিনশত বছর ধরে ইসরাইল বাস করছে; এত দিনের মধ্যে আপনারা কেন সেসব ফিরিয়ে নেননি?
27 আমি তো আপনাদের বিরুদ্ধে কোন ক্ষতি করি নি; কিন্তু আমার সঙ্গে যুদ্ধ করাতে আপনি আমার প্রতি অন্যায় করছেন; বিচারকর্তা মাবুদ আজ বনি-ইসরাইল ও অম্মোনীয়দের মধ্যে বিচার করুন।
28 কিন্তু যিপ্তহের প্রেরিত এসব কথায় অম্মোনীয়দের বাদশাহ্ কান দিলেন না।
29
পরে মাবুদের রূহ্ যিপ্তহের উপরে আসলেন, আর তিনি গিলিয়দ ও মানশা প্রদেশ দিয়ে গিলিয়দের মিস্পীতে গমন করলেন এবং গিলিয়দের মিস্পী থেকে অম্মোনীয়দের কাছে গেলেন।
30 আর যিপ্তহ মাবুদের উদ্দেশে মানত করে বললেন, তুমি যদি অম্মোনীয়দেরকে নিশ্চয় আমার হাতে তুলে দাও,
31 তবে অম্মোনীয়দের কাছ থেকে যখন আমি সহিসালামতে ফিরে আসবো, তখন যাকিছু আমার বাড়ির দরজা থেকে বের হয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসবে, তা নিশ্চয় মাবুদেরই হবে, আর আমি তা পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবো।
32 পরে যিপ্তহ অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য তাদের কাছে পার হয়ে গেলে মাবুদ তাদেরকে তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
33 তাতে তিনি অরোয়ের থেকে মিন্নীতের কাছ পর্যন্ত বিশটি নগরে এবং আবেল-করামীম পর্যন্ত মহাসংহারে তাদেরকে সংহার করলেন, এভাবে অম্মোনীয়রা বনি-ইসরাইলদের সাক্ষাতে নত হল।
34
পরে যিপ্তহ মিস্পায় তাঁর নিজের বাড়িতে আসলেন, আর দেখ, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তাঁর কন্যা খঞ্জনি হাতে নৃত্য করতে করতে বাইরে আসছিল। সে তাঁর একমাত্র সন্তান, সে ছাড়া তাঁর আর কোন পুত্র বা কন্যা ছিল না।
35 তখন তাকে দেখামাত্র তিনি কাপড় ছিঁড়ে বললেন, হায় হায়, কন্যা আমার! তুমি আমাকে বড় ব্যাকুল করলে; আমার কষ্টদায়কদের মধ্যে তুমি এক জন হলে; কিন্তু আমি মাবুদের কাছে মুখ খুলেছি, আর অন্যথা করতে পারব না।
36 সে তাঁকে বললো, হে আমার পিতা, তুমি মাবুদের কাছে মুখ খুলেছ, তোমার মুখ দিয়ে যে কথা বের হয়েছে, সেই অনুসারে তুমি আমার প্রতি কর, কেননা মাবুদ তোমার জন্য তোমার দুশমন অম্মোনীয়দের উপর প্রতিশোধ নিয়েছেন।
37 পরে সে তার পিতাকে বললো, আমার জন্য একটি কাজ করা হোক; আমাকে দুই মাসের জন্য বিদায় দাও এবং আমি পর্বতে গিয়ে আমার কুমারীত্বের বিষয়ে সখীদেরকে নিয়ে মাতম করি।
38 তিনি বললেন, যাও; আর তাকে দুই মাসের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। তখন সে তাঁর সখীদের সঙ্গে গিয়ে পর্বতের উপরে গিয়ে মাতম করলো কারণ তার কখনও বিয়ে হবে না।
39 পরে দুই মাস গত হলে সে পিতার কাছে ফিরে এল; পিতা যে মানত করেছিলেন, সেই অনুসারে তার প্রতি করলেন; সে পুরুষের পরিচয় পায় নি।
40 আর ইসরাইলের মধ্যে এই রীতি প্রচলিত হল যে, প্রতি বছর গিলিয়দীয় যিপ্তহের কন্যার জন্য বিলাপ করতে ইসরাইলের কন্যারা বছরের মধ্যে চার দিনের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত।
1
পরে আফরাহীমের লোকদের ডাকা হলে তারা সাফোনে গমন করলো; তারা যিপ্তহকে বললো, তোমার সঙ্গে গমন করতে আমাদেরকে না ডেকে তুমি অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে কেন পার হয়ে গিয়েছিলে? আমরা তোমাকে সহ তোমার বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব।
2 যিপ্তহ তাদেরকে বললেন, অম্মোনীয়দের সঙ্গে আমার ও আমার লোকদের বড় বিরোধ ছিল, তাই আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম, কিন্তু তোমরা তাদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার কর নি।
3 তোমরা আমাকে উদ্ধার করলে না দেখে আমি প্রাণ হাতে করে অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে পার হয়ে গিয়েছিলাম, আর মাবুদ আমার হাতে তাদেরকে তুলে দিলেন, অতএব তোমরা আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে আজ কেন আমার কাছে আসলে?
4 পরে যিপ্তহ গিলিয়দের সমস্ত লোককে একত্র করে আফরাহীমের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, তাতে গিলিয়দের লোকেরা আফরাহীমের লোকদেরকে আঘাত করলো; কেননা তারা বলেছিল, রে গিলিয়দীয়েরা, তোরা আফরাহীমের মধ্যে ও মানশার মধ্যে আফরাহীমের পলাতক।
5 পরে গিলিয়দীয়েরা আফরাহীমীয়দের বিরুদ্ধে জর্ডানের পারঘাটাগুলো অধিকার করলো; তাতে আফরাহীমের কোন পলাতক যখন বলতো, আমাকে পার হতে দাও, তখন গিলিয়দের লোকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করতো, তুমি কি আফরাহীমীয়?
6 সে যদি বলতো, না, তবে তারা বলতো, “শিব্বোলেৎ” বল দেখি; সে বলতো, “সিব্বোলেৎ,” কারণ সে শুদ্ধভাবে তা উচ্চারণ করতে পারতো না; তখন তারা তাকে ধরে নিয়ে জর্ডানের পার ঘাটে হত্যা করতো। সেই সময়ে আফরাহীমের বিয়াল্লিশ হাজার লোক হত হল।
7
যিপ্তহ ছয় বছর পর্যন্ত ইসরাইলের বিচার করলেন। পরে গিলিয়দীয় যিপ্তহ ইন্তেকাল করলে গিলিয়দের একটি নগরে তাঁকে দাফন করা হল।
8
তাঁর পরে বেথেলহেমীয় ইসবন ইসরাইলের বিচারকর্তা হলেন।
9 তাঁর ত্রিশটি পুত্র ছিল এবং তিনি ত্রিশটি কন্যা নিজের বংশের বাইরে বিয়ে দিলেন ও পুত্রদের জন্য বংশের বাইরে থেকে ত্রিশটি কন্যা আনলেন। তিনি সাত বছর ইসরাইলের বিচার করলেন।
10 পরে ইব্সন ইন্তেকাল করলে বেথেলহেমে তাঁকে দাফন করা হল।
11
তাঁর পরে সবূলূনীয় এলোন ইসরাইলের বিচারকর্তা হলেন; তিনি দশ বছর ইসরাইলের বিচার করলেন।
12 পরে সবূলূনীয় এলোন ইন্তেকাল করলে এবং সবূলূন দেশস্থ অয়ালোনে তাঁকে দাফন করা হল।
13
তাঁর পরে পিরিয়াথোনীয় হিল্লেলের পুত্র অব্দোন ইসরাইলের বিচারকর্তা হলেন।
14 তাঁর চল্লিশজন পুত্র ও ত্রিশজন পৌত্র সত্তরটি গাধার পিঠে চড়ে বেড়াত; তিনি আট বছর ইসরাইলের বিচার করলেন।
15 পরে পিরিয়াথোনীয় হিল্লেলের পুত্র অব্দোন ইন্তেকাল করলে এবং আফরাহীম দেশে আমালেকীয়দের পর্বতময় প্রদেশে পিরিয়াথোনে তাঁকে দাফন করা হল।
1
পরে বনি-ইসরাইল মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই পুনর্বার করতে লাগল; তাতে মাবুদ চল্লিশ বছর তাদেরকে ফিলিস্তিনীদের হাতে তুলে দিলেন।
2 সেই সময়ে দানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সরা-নিবাসী মানোহ নামে এক জন ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর স্ত্রী বন্ধ্যা হওয়াতে সন্তান হয় নি।
3 পরে মাবুদের ফেরেশতা সেই স্ত্রীকে দর্শন দিয়ে বললেন, দেখ, তুমি বন্ধ্যা, তোমার সন্তান হয় না, কিন্তু তুমি গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করবে।
4 অতএব সাবধান, আঙ্গুর-রস কি সুরা পান করো না এবং কোন নাপাক বস্তু ভোজন করো না।
5 কারণ দেখ, তুমি গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করবে; আর তার মাথায় ক্ষুর উঠবে না, কেননা সেই বালক গর্ভ হতেই আল্লাহ্র উদ্দেশে নাসরীয় হবে এবং সে ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে ইসরাইলকে নিষ্কৃতি দিতে আরম্ভ করবে।
6 তখন সেই স্ত্রী এসে তার স্বামীকে বললেন, আল্লাহ্র এক জন লোক আমার কাছে এসেছিলেন, তাঁর চেহারা আল্লাহ্র ফেরেশতার চেহারার মত, অতি ভয় জাগানো; তিনি কোথা থেকে আসলেন তা আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি নি, আর তিনিও আমাকে তাঁর নাম বলেন নি।
7 কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, দেখ, তুমি গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করবে; এখন আঙ্গুর-রস কিংবা সুরা পান করো না এবং কোন নাপাক বস্তু ভোজন করো না, কেননা সেই বালক গর্ভ থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আল্লাহ্র উদ্দেশে নাসরীয় হবে।
8
তখন মানোহ মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করে বললেন, হে মাবুদ, আল্লাহ্র যে লোককে আপনি আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে পুনর্বার আমাদের কাছে আসতে দিন এবং যে বালকটির জন্ম হবে তার প্রতি আমাদের কি কর্তব্য, তা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন।
9 তখন আল্লাহ্ মানোহের ফরিয়াদে কান দিলেন; আল্লাহ্র সেই ফেরেশতা পুনর্বার সেই স্ত্রীর কাছে আসলেন; সেই সময়ে তিনি ক্ষেতে বসেছিলেন; তখন তাঁর স্বামী মানোহ তাঁর সঙ্গে ছিলেন না।
10 সেই স্ত্রী শীঘ্র দৌড়ে গিয়ে তাঁর স্বামীকে সংবাদ দিলেন, তাঁকে বললেন, দেখ, সেদিন যে লোকটি আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আমাকে দর্শন দিয়েছেন।
11 মানোহ উঠে তাঁর স্ত্রীর পিছনে পিছনে গেলেন এবং সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই স্ত্রীর সঙ্গে যিনি কথা বলেছিলেন, আপনি কি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন, আমিই সেই।
12 মানোহ বললেন, এখন আপনার কথা সফল হোক; সেই বালকটি কিভাবে জীবন কাটাবে আর সে কি করবে?
13 মাবুদের ফেরেশতা মানোহকে বললেন, আমি ঐ স্ত্রীকে যে সমস্ত কথা বলেছি সেসব বিষয়ে সে সাবধান থাকুক।
14 সে আঙ্গুর গাছ থেকে উৎপন্ন কোন বস্তু ভোজন করবে না, আঙ্গুর-রস কি সুরা পান করবে না এবং কোন নাপাক খাদ্র গ্রহণ করবে না; আমি তাকে যা কিছু হুকুম করেছি সে তা পালন করুক।
15
পরে মানোহ মাবুদের ফেরেশতাকে বললেন, আরজ করি, কিঞ্চিৎ অপেক্ষা করুন, আমরা আপনার জন্য একটি ছাগলের বাচ্চার মাংস রান্না করে নিয়ে আসি।
16 মাবুদের ফেরেশতা মানোহকে বললেন, তুমি আমাকে বিলম্ব করালেও আমি তোমার খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করবো না; কিন্তু তুমি যদি পোড়ানো-কোরবানী দাও তবে মাবুদেরই উদ্দেশে তা দাও। বস্তুতঃ তিনি যে মাবুদের ফেরেশতা তা মানোহ জানতে পারেন নি।
17 পরে মানোহ মাবুদের ফেরেশতাকে বললেন, আপনার নাম কি? আপনার কথা সফল হলে যেন আমরা আপনাকে সম্মান জানাতে পারি।
18 মাবুদের ফেরেশতা বললেন, কেন আমার নাম জিজ্ঞাসা করছো? তা তো আশ্চর্য।
19
পরে মানোহ ঐ ছাগলের বাচ্চা ও শস্য-উৎসর্গ নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে শৈলের উপরে কোরবানী করলেন। তাতে ঐ ফেরেশতা অলৌকিক ব্যাপার সাধন করলেন এবং মানোহ ও তাঁর স্ত্রী তা দেখছিলেন।
20 যখন আগুনের শিখা কোরবানগাহ্ থেকে আসমানের দিকে উঠলো, তখন মাবুদের ফেরেশতা ঐ কোরবানগাহ্র শিখাতে উঠলেন; আর মানোহ ও তাঁর স্ত্রী তা দেখতে পেয়ে তাঁরা ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়লেন।
21 এরপরে মাবুদের ফেরেশতা মানোহ ও তাঁর স্ত্রীকে আর দর্শন দিলেন না; তখন তিনি যে মাবুদের ফেরেশতা তা মানোহ জানতে পারলেন।
22 পরে মানোহ তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আমরা অবশ্য মারা পড়বো, কারণ আল্লাহ্কে দেখেছি।
23 কিন্তু তাঁর স্ত্রী বললেন, আমাদেরকে হত্যা করা যদি মাবুদের ইচ্ছা হত তবে তিনি আমাদের হাত থেকে পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ গ্রহণ করতেন না এবং এসব আমাদেরকে দেখাতেন না, আর এই সময় আমাদেরকে এমন সব কথাও শোনাতেন না।
24
পরে স্ত্রীলোকটি পুত্র প্রসব করে তাঁর নাম শামাউন রাখলেন। আর বালকটি বেড়ে উঠলেন ও মাবুদ তাঁকে দোয়া করলেন।
25 আর মাবুদের রূহ্ প্রথমে সরার ও ইষ্টায়োলের মধ্যস্থানে, মহনে-দান নামক স্থানে তাঁকে উত্তেজিত করতে শুরু করলেন।
1
আর শামাউন তিম্নায় নেমে গেলেন এবং সেই স্থানে ফিলিস্তিনীদের কন্যাদের মধ্যে এক জন রমণীকে দেখতে পেলেন।
2 পরে ফিরে এসে তার পিতামাতাকে সংবাদ দিয়ে বললেন, আমি তিম্নায় ফিলিস্তিনীদের কন্যাদের মধ্যে এক রমণীকে দেখেছি; তোমরা তাকে এনে আমার সঙ্গে বিয়ে দাও।
3 তখন তাঁর পিতা-মাতা তাঁকে বললেন, তোমার জ্ঞাতিদের মধ্যে ও আমার সমস্ত স্বজাতির মধ্যে কি কোন কন্যা নেই যে, খৎনা-না-করানো ফিলিস্তিনীদের কন্যা বিয়ে করতে চাচ্ছো? শামাউন পিতাকে বললেন, তুমি আমার জন্য তাকেই আনাও, কেননা আমার দৃষ্টিতে সে খুবই সুন্দরী।
4 কিন্তু তাঁর পিতা-মাতা জানতেন না যে, ওটা মাবুদ থেকে হয়েছে, কারণ তিনি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে সুযোগ খুঁজছিলেন। সেই সময়ে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের উপরে কর্তৃত্ব করতো।
5
পরে শামাউন ও তাঁর পিতা-মাতা তিম্নায় নেমে গেলেন, তিম্নাস্থ আঙ্গুর-ক্ষেতে উপস্থিত হলে দেখ, একটি যুব সিংহ শামাউনের সম্মুখে এসে গর্জন করে উঠলো।
6 তখন মাবুদের রূহ্ তাঁর উপরে সবলে আসলেন, তাতে তাঁর হাতে কিছু না থাকলেও তিনি ছাগলের বাচ্চা ছিঁড়বার মত ঐ সিংহকে ছিঁড়ে ফেললেন, কিন্তু কি করেছেন তা পিতামাতাকে বললেন না।
7 পরে তিনি গিয়ে সেই কন্যার সঙ্গে আলাপ করলেন; আর সে শামাউনের দৃষ্টিতে খুবই সুন্দরী বলে মনে হল।
8 কিছুকাল পরে তিনি তাকে বিয়ে করতে সেই স্থানে ফিরে গেলেন এবং সেই সিংহের শব দেখবার জন্য পথ ছেড়ে গেলেন; আর দেখ, সিংহের দেহে এক ঝাঁক মৌমাছি ও মধুর চাক রয়েছে।
9 তখন তিনি মধুর চাক হাতে নিয়ে চললেন, ভোজন করতে করতে চললেন এবং পিতা-মাতার কাছে গিয়ে তাঁদেরকেও কিছু দিলে তাঁরাও ভোজন করলেন; কিন্তু সেই মধু যে সিংহের দেহ থেকে এনেছে তা তিনি তাঁদেরকে বললেন না।
10
পরে তাঁর পিতা সেই রমণীর কাছে নেমে গেলে শামাউন সেই স্থানে ভোজ প্রস্তুত করলেন, কেননা যুবালোকদের সেই রকম রীতি ছিল।
11 আর তাঁকে দেখে ফিলিস্তিনীরা তাঁর কাছে থাকতে ত্রিশ জন সহচরকে আনলো।
12 শামাউন তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের কাছে একটি ধাঁধা বলি, তোমরা যদি এই উৎসবের সাত দিনের মধ্যে তার অর্থ বুঝে আমাকে বলে দিতে পার, তবে আমি তোমাদেরকে ত্রিশটি জামা ও ত্রিশ জোড়া কাপড় দেব।
13 কিন্তু যদি আমাকে তার অর্থ বলতে না পার, তবে তোমরা আমাকে ত্রিশটি জামা ও ত্রিশ জোড়া কাপড় দেবে। তারা বললো, তোমার ধাঁধাটি বল, আমরা শুনি।
14 তিনি তাদেরকে বললেন, “খাদক থেকে বের হল খাদ্য, বলবান থেকে বের হল মিষ্ট দ্রব্য”। তারা তিন দিনে সেই ধাঁধার অর্থ করতে পারল না।
15
পরে সপ্তম দিনে তারা শামাউনের স্ত্রীকে বললো, তুমি তোমার স্বামীকে বোঝাও যাতে তিনি ধাঁধাটির অর্থ আমাদেরকে বলেন; নতুবা আমরা তোমাকে ও তোমার পিতৃকুলকে আগুনে পুড়িয়ে মারব। তোমরা আমাদেরকে নিঃস্ব করার জন্যই এই স্থানে দাওয়াত করেছ, তাই না?
16 তখন শামাউনের স্ত্রী স্বামীর কাছে কাঁদতে কাঁদতে বললো, তুমি আমাকে কেবল ঘৃণা করছো, ভালবাস না; আমার স্বজাতির লোকদেরকে একটি ধাঁধা বললে, কিন্তু আমাকে তা বুঝিয়ে দিলে না। তিনি তাকে বললেন, দেখ, আমার পিতা-মাতাকেও তা বুঝিয়ে দেইনি, সেখানে তোমাকে কি বুঝাব?
17 তাঁর স্ত্রী উৎসব-সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে কান্নাকাটি করলো; পরে তিনি সপ্তম দিনে তাকে বলে দিলেন; কেননা সে তাঁকে পীড়াপীড়ি করেছিল। পরে ঐ স্ত্রী স্বজাতির লোকদেরকে ধাঁধার অর্থ বলে দিল।
18 পরে সপ্তম দিনে সূর্য অস্ত যাবার আগে ঐ নগরের লোকেরা তাঁকে বললো, মধুর চেয়ে মিষ্ট কি? আর সিংহের চেয়ে বলবান কি? তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি আমার গাভী দ্বারা চাষ না করতে, আমার ধাঁধার অর্থ খুঁজে পেতে না।
19 পরে মাবুদের রূহ্ তাঁর উপরে সবলে আসলেন, আর তিনি অস্কিলোনে নেমে গিয়ে সেই স্থানের ত্রিশজনকে আঘাত করে তাদের কাপড় খুলে নিয়ে ধাঁধার অর্থকারীদেরকে জোড়া জোড়া কাপড় দিলেন। আর তিনি রাগে জ্বলতে জ্বলতে তাঁর পিতার বাড়িতে ফিরে গেলেন।
20 পরে শামাউনের যে সখা তাঁর বন্ধু ছিল, তার হাতে তাঁর স্ত্রীকে তুলে দেওয়া হল।
1
কিছু কাল পরে গম কাটার সময়ে শামাউন একটি ছাগলের বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। তিনি বললেন, আমি আমার স্ত্রীর কাছে অন্তঃপুরে যাব; কিন্তু সেই স্ত্রীর পিতা তাঁকে ভিতরে যেতে দিল না।
2 তার পিতা বললো, আমি নিশ্চয় মনে করেছিলাম, তুমি তাকে নিতান্তই ঘৃণা করলে, তাই আমি তাকে তোমার সখার হাতে তুলে দিয়েছি; তার কনিষ্ঠা বোন কি তার চেয়ে সুন্দরী নয়? আরজ করি, এর পরিবর্তে তাকেই গ্রহণ কর।
3 শামাউন তাদেরকে বললেন, এবার আমি ফিলিস্তিনীদের অনিষ্ট করলেও আমাকে কেউ দোষ দিতে পারবে না।
4 পরে শামাউন গিয়ে তিন শত শৃগাল ধরে মশাল নিয়ে তাদের লেজে লেজে যোগ করে দু’টা করে লেজে এক এক মশাল বাঁধলেন।
5 পরে সেই মশালে আগুন দিয়ে ফিলিস্তিনীদের শস্য ক্ষেতে ছেড়ে দিলেন; তাতে বাঁধা আটি, ক্ষেতের শস্য ও জলপাই গাছের বাগান সবই পুড়ে গেল।
6 তখন ফিলিস্তিনীরা জিজ্ঞাসা করলো, এই কাজ কে করলো? লোকেরা বললো, তিম্নায়ীয়ের জামাতা শামাউন করেছে; যেহেতু তার শ্বশুর তার স্ত্রীকে নিয়ে তার সখার হাতে তুলে দিয়েছে। তাতে ফিলিস্তিনীরা এসে সেই স্ত্রী ও তার পিতাকে আগুনে পুড়িয়ে মারল।
7 শামাউন তাদের বললেন, তোমরা যদি এই রকম কাজ কর তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের উপর প্রতিশোধ না নিয়ে থামবো না।
8 পরে তিনি তাদেরকে আঘাত করলেন, নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করে অনেককে হত্যা করলেন; আর নেমে গিয়ে ঐটম শৈলের ফাটলে বাস করলেন।
9
আর ফিলিস্তিনীরা উঠে গিয়ে এহুদা দেশে শিবির স্থাপন করে লিহী ঘেরাও করলো।
10 তাতে এহুদার লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে কেন আসলে? তারা বললো, শামাউনকে বাঁধতে এসেছি; সে আমাদের প্রতি যেমন করেছে, আমরাও তার প্রতি তেমনি করবো।
11 তখন এহুদার তিন হাজার লোক ঐটম শৈলের ফাটলে নেমে গিয়ে শামাউনকে বললো, ফিলিস্তিনীরা যে আমাদের মালিক, তা কি তুমি জান না? তবে আমাদের প্রতি তুমি এ কি করলে? তিনি বললেন, তারা আমার প্রতি যেমন করেছে, আমিও তাদের প্রতি তেমনি করেছি।
12 তারা তাঁকে বললো, আমরা ফিলিস্তিনীদের হাতে তুলে দেবার জন্য তোমাকে বাঁধতে এসেছি। শামাউন তাদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে আক্রমণ করবে না, আমার কাছে এই কসম খাও।
13 তারা বললো, না, কেবল তোমাকে সুদৃঢ়ভাবে বেঁধে তাদের হাতে তুলে দেব; কিন্তু আমরা যে তোমাকে হত্যা করবো তা নয়। পরে তারা দুই গাছা নতুন দড়ি দিয়ে তাঁকে বেঁধে ঐ শৈল থেকে নিয়ে গেল।
14
তিনি লিহীতে উপস্থিত হলে ফিলিস্তিনীরা তাঁর কাছে গিয়ে জয়ধ্বনি করলো। তখন মাবুদের রূহ্ সবলে তাঁর উপরে আসলেন, আর তাঁর দুই বাহুস্থিত দু’টি দড়ি আগুনে পোড়ানো শণের মত হল এবং তাঁর দুই হাত থেকে বেড়ি খসে পড়লো।
15 পরে তিনি একটি গাধার কাঁচা চোঁয়াল দেখতে পেয়ে হাত বাড়িয়ে তা নিলেন এবং তা দিয়ে এক হাজার লোককে আঘাত করে মেরে ফেললেন।
16 আর শামাউন বললেন,
গাধার চোঁয়াল দ্বারা রাশির উপরে রাশি হল,
গাধার চোঁয়াল দ্বারা হাজার জনকে আঘাত করলাম।
17
পরে তিনি কথা সমাপ্ত করে হাত থেকে ঐ চোঁয়াল নিক্ষেপ করলেন, আর সেই স্থানের নাম রামৎ-লিহী [চোঁয়াল-পাহাড়] রাখলেন।
18
পরে তিনি ভীষণ পিপাসিত হওয়াতে মাবুদকে ডেকে বললেন, তুমি তোমার গোলামের হাত দিয়ে এই মহানিস্তার সাধন করেছ, এখন আমি পিপাসায় মারা পড়ি ও খৎনা-না-করানো লোকদের হাতে পড়ি।
19 তাতে আল্লাহ্ লিহীতে একটি ফাঁপা স্থান খুলে দিলেন ও তা থেকে পানি বের হল; তখন তিনি পানি পান করলে তাঁর প্রাণ ফিরে এল ও তিনি সজীব হলেন; অতএব তার নাম ঐন্-হক্কোরী (আহ্বানকারীর ফোয়ারা) রাখা হল; তা আজও লিহীতে আছে।
20 ফিলিস্তিনীদের সময়ে তিনি বিশ বছর পর্যন্ত ইসরাইলের বিচার করলেন।
1
আর শামাউন গাজায় গিয়ে সেখানে একটা পতিতাকে দেখে তার কাছে গমন করলেন।
2 এই কথা শুনে গাজার লোকেরা বলল, শামাউন এই স্থানে এসেছে। তাই তারা তাঁকে ঘেরাও করে সমস্ত রাত তাঁর জন্য নগর-দ্বারে লুকিয়ে রইলো, সমস্ত রাত চুপ করে রইলো, বললো, প্রাতঃকালে আলো হলেই আমরা তাকে হত্যা করবো।
3 কিন্তু শামাউন মাঝ রাত পর্যন্ত শয়ন করলেন, মাঝ রাতে উঠে তিনি নগর-দ্বারের অর্গলসুদ্ধ দুই কবাট ও দুই বাঁজু ধরে উপড়ে ফেললেন এবং কাঁধে করে হেবরনের সম্মুখস্থ পর্বতের চূড়ায় নিয়ে গেলেন।
4
এরপরে তিনি সোরেক উপত্যকার দলীলা নামে এক জন স্ত্রীলোককে ভালবাসলেন।
5 তাতে ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা সেই স্ত্রীর কাছে এসে তাকে বললেন, তুমি তার কাছ থেকে কৌশলে জেনে নাও, কিসে তার এমন মহাবল হয় ও কিসে আমরা তাকে জয় করে কষ্ট দবার জন্য রাখতে পারব; তাতে আমরা প্রত্যেকে তোমাকে এগার শত রূপা মুদ্রা দেব।
6 তখন দলীলা শামাউনকে বললো, আরজ করি, তোমার এমন মহাবল কিসে হয়, আর কষ্ট দেবার জন্য কি দিয়ে তোমাকে বাঁধতে পারা যায় তা আমাকে বল।
7 শামাউন তাকে বললেন, শুকিয়ে যায় নি এমন সাত গাছা কাঁচা শক্ত চিকন দড়ি দিয়ে যদি তারা আমাকে বাঁধে, তবে আমি দুর্বল হয়ে অন্য লোকের সমান হয়ে পড়বো।
8 ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা শুকিয়ে যায় নি এমন সাত গাছা কাঁচা চিকন দড়ি এনে সেই স্ত্রীকে দিলেন; আর সে তা দিয়ে তাঁকে বাঁধল।
9 তখন তার বাড়ির অভ্যন্তরে গোপনে লোক বসে ছিল। পরে দলীলা তাঁকে বললো, হে শামাউন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে। তাতে আগুনের তাপে শনের সুতা যেমন ছিন্ন হয়, তেমনি তিনি ঐ চিকন সমস্ত দড়ি ছিঁড়ে ফেললেন; এভাবে তাঁর শক্তির গোপন রহস্য জানা গেল না।
10
পরে দলীলা শামাউনকে বললো, দেখ, তুমি আমাকে উপহাস করলে, আমাকে মিথ্যা কথা বললে; এখন আরজ করি, কি দিয়ে তোমাকে বাঁধতে পারা যায়, তা আমাকে বল।
11 তিনি তাকে বললেন, যে দড়ি দিয়ে কোন কাজ করা হয় নি, এমন কয়েক গাছা নতুন দড়ি দিয়ে যদি তারা আমাকে বাঁধে, তবে আমি দুর্বল হয়ে অন্য লোকের সমান হয়ে পড়বো।
12 তাতে দলীলা নতুন দড়ি নিয়ে তা দিয়ে তাঁকে বাঁধল; পরে তাঁকে বললো, হে শামাউন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে। তখন বাড়ির অভ্যন্তরে গুপ্তভাবে লোক বসেছিল কিন্তু তিনি তাঁর বাহু থেকে সুতার মত ঐ সমস্ত দড়ি ছিঁড়ে ফেললেন।
13
পরে দলীলা শামাউনকে বললো, এই পর্যন্ত তুমি আমাকে উপহাস করলে, আমাকে মিথ্যা কথা বললে; কি দিয়ে তোমাকে বাঁধতে পারা যায়, আমাকে বল। তিনি বললেন, তুমি যদি আমার মাথার সাত গুচ্ছ চুল তানার সঙ্গে বোনো তবে তা সম্ভব হতে পারে।
14 তাতে সে তাঁতের গোঁজের সঙ্গে তা আট্কে রেখে তাঁকে বললো, হে শামাউন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে। তখন তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠে তানাসুদ্ধ তাঁতের গোঁজ উপড়ে ফেললেন।
15
পরে দলীলা তাঁকে বললো, তুমি কি ভাবে বলতে পার যে, তুমি আমাকে ভালবাস? তোমার মন তো আমাতে নেই; এই নিয়ে তিনবার তুমি আমাকে উপহাস করলে; কিসে তোমার এমন মহাবল হয় তা আমাকে বললে না।
16 এভাবে সে প্রতিদিন কথা দিয়ে তাঁকে পীড়াপীড়ি করে এমন ব্যস্ত করে তুললো যে, প্রাণধারণে তাঁর বিরক্তি বোধ হল।
17 তাই তিনি মনের সমস্ত কথা ভেঙে তাকে বললেন, আমার মাথায় কখনও ক্ষুর উঠে নি, কেননা মায়ের গর্ভ থেকে আমি আল্লাহ্র উদ্দেশে নাসরীয়; ক্ষৌরি হলে আমার বল আমাকে ছেড়ে যাবে এবং আমি দুর্বল হয়ে অন্য সব লোকের সমান হয়ে পড়বো।
18
দলীলা যখন বুঝল যে, তিনি তাকে মনের সমস্ত কথা ভেঙে বলেছেন, তখন সে লোক পাঠিয়ে ফিলিস্তিনীদের ভূপালদেরকে ডেকে এনে বললো, এবার আসুন, কেননা সে আমাকে মনের সমস্ত কথা ভেঙে বলেছে। তাতে ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা টাকা হাতে করে তার কাছে আসলেন।
19 পরে সে তার জানুর উপরে তাঁকে ঘুম পাড়াল এবং এক জনকে ডেকে এনে তাঁর মাথার সাত গোছা চুল ক্ষৌরি করাল; এভাবে সে তাঁকে কষ্ট দিতে আরম্ভ করলো, আর তাঁর বল তাঁকে ছেড়ে গেল।
20 পরে সে বললো, হে শামাউন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে। তখন তিনি ঘুম থেকে জেগে বললেন, অন্যান্য সময়ের মত বাইরে গিয়ে গা ঝাড়া দেব, কিন্তু মাবুদ যে তাঁকে ত্যাগ করেছেন তা তিনি বুঝলেন না।
21 তখন ফিলিস্তিনীরা তাঁকে ধরে তাঁর দুই চোখ উৎপাটন করলো এবং তাঁকে গাজায় এনে ব্রোঞ্জের দুই শিকল দিয়ে বাঁধল; তিনি কারাগারে যাঁতা পেষণ করতে থাকলেন।
22 তবুও ক্ষৌরি হবার পর তাঁর মাথার চুল পুনর্বার বৃদ্ধি পেতে লাগল।
23
পরে ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা তাদের দেবতা দাগোনের উদ্দেশে মহাযজ্ঞ ও আমোদ প্রমোদ করতে একত্র হলেন; কেননা তাঁরা বললেন, আমাদের দেবতা আমাদের দুশমন শামাউনকে আমাদের হাতে দিয়েছেন।
24 আর তাঁকে দেখে লোকেরা নিজেদের দেবতার প্রশংসা করতে লাগল; কেননা তারা বললো, এই যে ব্যক্তি আমাদের দুশমন ও আমাদের দেশনাশক, যে আমাদের অনেক লোক হত্যা করেছে, একে আমাদের দেবতা আমাদের হাতে দিয়েছেন।
25 তাদের অন্তঃকরণ প্রফুল্ল হলে তারা বললো, শামাউনকে ডাক, সে আমাদের কাছে কৌতুক করুক। তাতে লোকেরা কারাগৃহ থেকে শামাউনকে ডেকে আনলো, আর তিনি তাদের সম্মুখে কৌতুক করতে লাগলেন। তারা স্তম্ভগুলোর মাঝখানে তাঁকে দাঁড় করিয়েছিল।
26 পরে যে বালক হাত দিয়ে শামাউনকে ধরেছিল, তিনি তাকে বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও, যে দুই স্তম্ভের উপরে মন্দিরটা দাঁড়িয়ে আছে তা আমাকে স্পর্শ করতে দাও; আমি ওতে হেলান দিয়ে দাঁড়াবো।
27 সেই মন্দির পুরুষ ও স্ত্রীলোকে পরিপূর্ণ ছিল, আর ফিলিস্তিনীদের সমস্ত ভূপাল সেখানে ছিলেন এবং ছাদের উপরে স্ত্রী পুরুষ প্রায় তিন হাজার লোক শামাউনের কৌতুক দেখছিল।
28
তখন শামাউন মাবুদকে ডেকে বললেন, হে আল্লাহ্ মালিক, মেহেরবানী করে আমাকে স্মরণ কর; হে আল্লাহ্, মেহেরবানী করে কেবল এই একটি বার আমাকে বলবান কর, যেন আমি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে একটি বার আমার দুই চোখের জন্য প্রতিশোধ নিতে পারি।
29 পরে শামাউন, মধ্যস্থিত যে দুই স্তম্ভের উপরে মন্দিরটি ভার ছিল, তা ধরে তার একটির উপরে ডান বাহু দ্বারা, অন্যটির উপরে বাম বাহু দ্বারা ভর করলেন।
30 আর ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে আমার প্রাণ যাক, এই বলে শামাউন তার সমস্ত শক্তিতে নত হয়ে পড়লেন; তাতে ঐ মন্দিরটি ভূপালদের ও যত লোক ভিতরে ছিল, সমস্ত লোকের উপরে পড়লো; এভাবে তিনি জীবনকালে যত লোক হত্যা করেছিলেন, মরণকালে তারচেয়ে বেশি লোককে হত্যা করলেন।
31 পরে তাঁর ভাইয়েরা ও তাঁর সমস্ত পিতৃকুল নেমে এসে তাঁকে নিয়ে সরা ও ইষ্টায়োলের মধ্যস্থানে তাঁর পিতা মানোহের কবরস্থানে তাঁর দাফন করলো। তিনি বিশ বছর ইসরাইলের বিচার করেছিলেন।
1
পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে মিকাহ্ নামে এক ব্যক্তি ছিল।
2 সে তার মাকে বললো, যে এগার শত রূপার মুদ্রা তোমার কাছ থেকে চুরি হয়েছিল, যে বিষয়ে তুমি বদদোয়া দিয়েছিলে ও আমার কানে তুলেছিলে, দেখ, সেই রূপার মুদ্রা আমার কাছেই আছে, আমিই তা নিয়েছিলাম। তার মা বললো, বৎস, তুমি মাবুদের দোয়ার পাত্র হও।
3 পরে সে ঐ এগার শত রূপার মুদ্রা মাকে ফিরিয়ে দিলে তার মা বললো, আমি এই রূপা মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করছি, আমার পুত্র এই মুদ্রা আমার হাত থেকে নিয়ে একটি ছাঁচে ঢালা ও একটি খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করুক। অতএব এখন এই রূপা তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।
4 সে তার মাকে ঐ রূপা ফিরিয়ে দিলে তার মা দুই শত রূপার মুদ্রা নিয়ে স্বর্ণকারকে দিল; আর সে একটি ছাঁচে ঢালা ও একটি খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করলে তা মিকাহ্র বাড়িতে রাখা হল।
5 মিকাহ্র একটি দেবালয় ছিল; আর সে একটি এফোদ ও কয়েকটি পারিবারিক দেবতা তৈরি করলো এবং তার এক পুত্রকে অভিষেক করলে সে তার ইমাম হল।
6 ঐ সময়ে ইসরাইলের মধ্যে বাদশাহ্ ছিল না, যার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হত, সে তা-ই করতো।
7
সেই সময়ে এহুদা গোষ্ঠীর বেথেলহেম-এহুদার এক জন লোক ছিল। সে ছিল এক জন লেবীয়, সে সেখানে বাস করছিল।
8 সেই ব্যক্তি যেখানে স্থান পেতে পারে, সেখানে বাস করার জন্য নগর থেকে, বেথেলহেম-এহুদা থেকে চলে গিয়ে, যেতে যেতে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে ঐ মিকাহ্র বাড়িতে উপস্থিত হল।
9 মিকাহ্ তাকে জিজ্ঞাসা করলো, তুমি কোথা থেকে আসলে? সে তাকে বললো, আমি বেথেলহেম-এহুদার এক জন লেবীয়; যেখানে স্থান পাই, সেখানে বাস করতে যাচ্ছি।
10 মিকাহ্ তাকে বললো, তুমি আমার এখানে থাক, আমার পিতা ও ইমাম হও, আমি বছরে তোমাকে দশটি রূপার মুদ্রা এবং এক জোড়া কাপড় ও তোমার খাদ্যদ্রব্য দেব। তাতে সেই লেবীয় ভিতরে গেল।
11 সেই লেবীয় সেই স্থানে থাকতে সম্মত হল; আর এই যুবক তার এক জন পুত্রের মতই থাকতে লাগল।
12 পরে মিকাহ্ সেই লেবীয়কে অভিষেক করলো, আর সেই যুবক মিকাহ্র ইমাম হয়ে তার বাড়িতে থাকলো।
13 তখন মিকাহ্ বললো, এখন আমি জানলাম যে, মাবুদ আমার মঙ্গল করবেন, যেহেতু এক জন লেবীয় আমার ইমাম হয়েছে।
1
সেই সময় ইসরাইলের মধ্যে বাদশাহ্ ছিল না; আর তখন দানীয় বংশ নিজেদের বাসস্থানের জন্য একটি স্থান অধিকারের চেষ্টা করছিল, কেননা সেই দিন পর্যন্ত ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে তারা কোন অধিকার পায় নি।
2 তখন দানীয়রা তাদের পূর্ণ সংখ্যা থেকে তাদের গোষ্ঠীর পাঁচ জন বীরপুরুষকে দেশ নিরীক্ষণ ও অনুসন্ধান করার জন্য সরা ও ইষ্টায়োল থেকে প্রেরণ করলো। তারা তাদেরকে বললো, তোমরা যাও, দেশ অনুসন্ধান কর; তাতে তারা পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে মিকাহ্র বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে সেই স্থানে রাত্রি যাপন করলো।
3 তারা যখন মিকাহ্র বাড়িতে ছিল তখন সেই লেবীয় যুবকের স্বর চিনতে পেরে তার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলো, এখানে তোমাকে কে এনেছে এবং এই স্থানে তুমি কি করছো? আর এখানে তোমার কি আছে?
4 সে তাদেরকে বললো, মিকাহ্ আমার প্রতি এই এই ব্যবহার করেছেন, তিনি আমাকে বেতন দিচ্ছেন, আর আমি তাঁর ইমাম হয়েছি।
5 তখন তারা বললো, আরজ করি, আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা কর, যেন আমাদের গন্তব্য পথে মঙ্গল হবে কি না তা আমরা জানতে পারি।
6 ইমাম তাদেরকে বললো, সহিসালামতে যাও, মাবুদ তোমাদের পথের উপর দৃষ্টি রাখছেন।
7
পরে সেই পাঁচ জন যাত্রা করে লয়িশে এল। তারা দেখলো, সেই স্থানের লোকেরা সীদোনীয়দের রীতি অনুসারে সুস্থির ও নিশ্চিন্ত হয়ে নির্বিঘ্নে বাস করছে। সেই দেশে কোন বিষয়ে তাদেরকে অপ্রস্তুত করতে পারে, কর্তৃত করার মত এমন কেউ নেই, আর সীদোনীয়দের থেকে তারা অনেক দূরে বাস করে এবং অন্য কারো সঙ্গে তাদের সম্বন্ধ নেই।
8 পরে ওরা সরা ও ইষ্টায়োলে নিজেদের লোকদের কাছে ফিরে এল; তাদের লোকেরা তাদের জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা কি দেখলে?
9 তারা বললো, উঠ, আমরা সেই লোকদের বিরুদ্ধে যাই; আমরা সেই দেশ দেখেছি; আর দেখ, তা অতি উত্তম, তোমরা কেন চুপ করে আছ? সেই দেশ অধিকার করার জন্য সেখানে যেতে দেরি করো না;
10 তোমরা গেলেই নির্বিঘ্ন এক লোক-সমাজের কাছে পৌঁছাবে। সেই দেশটি বড় এবং আল্লাহ্ তোমাদের হাতে সেই দেশ তুলে দিয়েছেন; সেই স্থানে দুনিয়ার কোন কিছুর অভাব নেই।
11
তখন দান-গোষ্ঠীর ছয় শত লোক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেই স্থান অর্থাৎ সরা ও ইষ্টায়োল থেকে যাত্রা করলো।
12 তারা এহুদার কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে উঠে গিয়ে সেখানে শিবির স্থাপন করলো। এই কারণে আজ পর্যন্ত সেই স্থানকে মহনেদান (দানের শিবির) বলে; দেখ, তা কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পিছনে আছে।
13
পরে তারা সেই স্থান থেকে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে গেল ও মিকাহ্র বাড়ি পর্যন্ত এল।
14
তখন যে পাঁচ জন লয়িশ প্রদেশে অনুসন্ধান করতে এসেছিল, তারা তাদের লোকদের বললো, তোমরা কি জান যে, এই বাড়িতে একটি এফোদ, কয়েকটি পারিবারিক দেবতা, একটি খোদাই-করা মূর্তি ও ছাঁচে ঢালা একটি মূর্তি আছে? এখন তোমাদের যা কর্তব্য, তা বিবেচনা কর।
15 পরে তারা সেই দিকে ফিরে মিকাহ্র বাড়িতে ঐ লেবীয় যুবকের বাড়িতে এসে তার মঙ্গল জিজ্ঞাসা করলো।
16 আর দান-বংশের লোকদের মধ্যে যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত সেই ছয় শত পুরুষ প্রবেশ-দ্বারের স্থানে দাঁড়িয়ে রইলো।
17 আর দেশ নিরীক্ষণ করার জন্য যারা গিয়েছিল, সেই পাঁচ জন উঠে গেল; তারা সেখানে প্রবেশ করে ঐ খোদাই-করা মূর্তি, এফোদ, পারিবারিক দেব মূর্তিগুলো ও ছাঁচে ঢালা মূর্তি তুলে নিল; এবং ঐ ইমাম যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত ঐ ছয় শত পুরুষের সঙ্গে প্রবেশ-দ্বারের স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল।
18 যখন ওরা মিকাহ্র বাড়িতে প্রবেশ করে সেই খোদাই-করা মূর্তি, এফোদ, দেব মূতিগুলো ও ছাঁচে ঢালা মূর্তি তুলে নিল, তখন ইমাম তাদেরকে বললো, তোমরা এ কি করছো?
19 তারা জবাবে বললো, চুপ কর, মুখে হাত দিয়ে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চল এবং আমাদের পিতা ও ইমাম হও। তোমার পক্ষে কোনটা ভাল, একজনের কুলের ইমাম হওয়া, না ইসরাইলের একটি বংশের ও গোষ্ঠীর ইমাম হওয়া? তাতে ইমামের মন প্রফুল্ল হল,
20 সে ঐ এফোদ, পারিবারিক দেব মূর্তিগুলো ও খোদাই-করা মূর্তি নিয়ে সেই লোকদের সঙ্গী হল।
21
আর তারা মুখ ফিরিয়ে প্রস্থান করলো এবং বালক বালিকা, পশু ও দ্রব্য সামগ্রী তাদের সম্মুখে রাখল।
22 তারা মিকাহ্র বাড়ি থেকে কিঞ্চিৎ দূরে যাবার পর মিকাহ্র বাসস্থানের নিকটস্থ গৃহগুলোর লোকেরা একত্র হয়ে দান-বংশের লোকদের কাছে গিয়ে উপস্থিত হল; তাদেরকে ডাকতে লাগল।
23 তাতে তারা মুখ ফিরিয়ে মিকাহ্কে বললো, তোমার কি হয়েছে যে, তুমি এত লোক সঙ্গে করে আসছে?
24 সে বললো, তোমরা আমার তৈরি দেব মূর্তিগুলো ও ইমামকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছ, এখন আমার আর কি আছে? অতএব “তোমার কি হয়েছে?” এই কথা আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছো?
25 দানীয়রা তাকে বললো, আমাদের মধ্যে যেন তোমার কথা শোনা না যায়; পাছে নির্বোধরা তোমাদের উপর পড়ে এবং তুমি সপরিবারে প্রাণ হারাও।
26 পরে দানীয়রা নিজেদের পথে গমন করলো এবং মিকাহ্ তাদেরকে নিজের চেয়ে বেশি বলবান দেখে তার বাড়িতে ফিরে এল।
27
পরে তারা মিকাহ্র তৈরি সমস্ত বস্তু ও তার ইমামকে সঙ্গে নিয়ে লয়িশে সেই সুস্থির ও নিশ্চিন্ত লোক-সমাজের কাছে উপস্থিত হল। তারা তলোয়ারের আঘাতে তাদেরকে হত্যা করলো, আর নগর আগুনে পুড়িয়ে দিল।
28 তাদের উদ্ধারকর্তা কেউ ছিল না; কেননা সেই নগর সিডন থেকে দূরে ছিল এবং অন্য কারো সঙ্গে তাদের সম্বন্ধ ছিল না। আর তা বৈৎ-রহোবের নিকটস্থ উপত্যকায় ছিল। পরে তারা ঐ নগর নির্মাণ করে সেখানে বাস করলো।
29 আর তাদের পূর্বপুরুষ ইসরাইলের পুত্র দানের নাম অনুসারে সেই নগরের নাম দান রাখল; কিন্তু আগে সেই নগরের নাম ছিল লয়িশ।
30
আর দানীয়রা নিজেদের জন্য সেই খোদাই-করা মূর্তি স্থাপন করলো এবং সেই দেশের লোকেরা বন্দীদশায় না যাওয়া পর্যন্ত মূসার পুত্র গের্শোমের সন্তান যোনাথন এবং তার সন্তানেরা দানীয় বংশের ইমাম হল।
31 আর যত দিন শীলোতে আল্লাহ্র এবাদতখানাটি থাকলো, তারা নিজেদের জন্য মিকাহ্র তৈরি ঐ খোদাই-করা মূর্তি স্থাপন করে রাখল।
1
সেই সময় ইসরাইলের মধ্যে কোন বাদশাহ্ ছিল না। আর পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের প্রান্তভাগে এক জন লেবীয় বাস করতো; সে বেথেলহেম-এহুদা থেকে এক জন উপপত্নী গ্রহণ করেছিল।
2 পরে সেই উপপত্নী তার বিরুদ্ধে জেনা করলো এবং তাকে ত্যাগ করে বেথেলহেম-এহুদায় তার পিতার বাড়িতে গিয়ে চার মাস সেই স্থানে অবস্থান করলো।
3 পরে তার স্বামী তার সঙ্গে তার ভৃত্য ও দু’টি গাধা নিয়ে তাকে খুশি করার মত কথা বলতে ও ফিরিয়ে আনতে তার কাছে গেল। তার উপপত্নী তাকে পিতার বাড়ির মধ্যে নিয়ে গেলে সেই যুবতীর পিতা তাকে দেখে আনন্দ সহকারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো;
4 তার শ্বশুর ঐ যুবতীর পিতা আগ্রহ করে তাকে রাখলে সে তার সঙ্গে তিন দিন বাস করলো; এবং তারা সেই স্থানে ভোজন পান ও রাত্রি যাপন করলো।
5 পরে চতুর্থ দিনে তারা খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠেলো এবং যাবার জন্য উঠলো। তখন সেই যুবতীর পিতা জামাতাকে বললো, কিঞ্চিৎ আহার করে তোমার অন্তঃকরণ সুস্থির কর, পরে তোমার পথে যেয়ো।
6 তাতে তারা দু’জন একত্র বসে ভোজন পান করলো; পরে যুবতীর পিতা সেই ব্যক্তিকে বললো, আরজ করি, সম্মত হও, এই রাতটুকু অপেক্ষা কর, প্রফুল্লচিত্ত হও।
7 তবুও সেই ব্যক্তি যাবার জন্য উঠলো; কিন্তু তার শ্বশুর তাকে সাধ্যসাধনা করলে সে সেই রাত সেখানে থাকল।
8 পরে পঞ্চম দিনে সে যাবার জন্য খুব ভোরে উঠলো; আর যুবতীর পিতা তাকে বললো, আরজ করি, তোমার অন্তঃকরণ সুস্থির কর, বৈকাল পর্যন্ত তোমরা বিলম্ব কর; তাতে তারা উভয়ে আহার করলো।
9 পরে সেই ব্যক্তি, তার উপপত্নী ও ভৃত্য যাবার জন্য উঠলে তার শ্বশুর ঐ যুবতীর পিতা তাকে বললো, দেখ, প্রায় দিবাবসান হল, আরজ করি, তোমরা এই রাতটুকু বিলম্ব কর; দেখ, বেলা শেষ হয়েছে; তুমি এই স্থানে রাত্রিবাস কর, প্রফুল্লচিত্ত হও; আগামীকাল তোমরা প্রত্যুষে উঠলেই তুমি তোমার তাঁবুতে যেতে পারবে।
10
কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই রাত বিলম্ব করতে অসম্মত হল; সে উঠে যাত্রা করে যিবূষের অর্থাৎ জেরুশালেমের সম্মুখে এসে উপস্থিত হল; তার সঙ্গে দু’টি সজ্জিত গাধা ছিল; আর তার উপপত্নীও সঙ্গে ছিল।
11 যিবূষের কাছে উপস্থিত হলে দিবা প্রায় অবসান হল। তাতে ভৃত্যটি তার মালিককে বললো, আরজ করি, আসুন, আমরা যিবূষীয়দের এই নগরে প্রবেশ করে রাত্রি যাপন করি।
12 কিন্তু তার মালিক তাকে বললো, যারা ইসরাইল নয়, এমন বিজাতীয়দের নগরে আমরা প্রবেশ করবো না; আমরা বরং অগ্রসর হয়ে গিবিয়াতে যাব।
13 সেই ভৃত্যটিকে আরও বললো, এসো, আমরা এই অঞ্চলের কোন স্থানে যাই, গিবিয়াতে কিংবা রামাতে রাত যাপন করি।
14 এভাবে তারা অগ্রসর হয়ে চললো; পরে বিন্ইয়ামীনের অধিকৃত গিবিয়ার কাছে উপস্থিত হলে সূর্য অস্তগত হল।
15 তখন তারা গিবিয়াতে রাত্রিবাস করার জন্য পথ ছেড়ে সেই নগরে প্রবেশ করলো এবং নগরের চকে বসে রইলো, কিন্তু কোন ব্যক্তি তাদেরকে তার বাড়িতে রাত্রি-বাস করার জন্য গ্রহণ করলো না।
16
আর দেখ, এক জন বৃদ্ধ সন্ধ্যাবেলা কাজের শেষে ক্ষেত থেকে ফিরছিলেন। সেই ব্যক্তি পর্বতময় আফরাহীম দেশের লোক; আর তিনি গিবিয়াতে প্রবাস করছিলেন, কিন্তু নগরের লোকেরা ছিল বিন্ইয়ামীনীয়।
17 সেই ব্যক্তি চোখ তুলে নগরের চকে ঐ পথিককে দেখলেন; আর বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় যাচ্ছ? কোথা থেকে আসছ?
18 সে তাঁকে বললো, আমরা বেথেলহেম-এহুদা থেকে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের প্রান্তভাগে যাচ্ছি; আমি সেই স্থানের লোক; বেথেলহেম-এহুদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। আমি মাবুদের গৃহে যাচ্ছি, আর আমাকে কোন ব্যক্তি নিজের বাড়িতে গ্রহণ করে না।
19 আমাদের সঙ্গে গাধাদের জন্য পোয়াল ও কলাই এবং আমার জন্য, আপনার এই বাঁদীর জন্য এবং আপনার গোলাম-বাঁদীর সঙ্গী এই যুবকের জন্য রুটি ও আঙ্গুর-রস আছে, কোন দ্রব্যের অভাব নেই।
20 বৃদ্ধ বললেন, তোমার শান্তি হোক, তোমার যা কিছু প্রয়োজনীয়, তার ভার আমার উপরে থাকুক; তুমি কোনভাবেই এই চকে রাত্রি যাপন করো না।
21 পরে বৃদ্ধ তাকে তাঁর বাড়িতে এনে গাধাগুলোকে খাবার দিলেন এবং তারা পা ধুয়ে ভোজন পান করলো।
22
তারা এভাবে নিজেদের আপ্যায়ন করছে, এমন সময়ে, দেখ, নগরের কতগুলো পাষণ্ড লোক সেই বাড়ির চারদিক ঘিরে দরজায় আঘাত করতে লাগল। তারা বাড়ির কর্তা ঐ বৃদ্ধকে বললো, তোমার বাড়িতে যে ব্যক্তি এসেছে, তাকে বের করে আন; আমরা তার সঙ্গে জেনা করব।”
23 তাতে সেই ব্যক্তি অর্থাৎ, বাড়ির কর্তা, বের হয়ে তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে আমার ভাইয়েরা, না, না; আরজ করি, এমন দুষ্কর্ম করো না; ঐ ব্যক্তি আমার বাড়িতে এসেছে, অতএব এমন মূঢ়তার কাজ করো না।
24 দেখ, আমার অনূঢ়া কন্যা এবং তার উপপত্নী এখানে রয়েছে; এদেরকে বের করে আনি; তোমরা তাদের মানভ্রষ্ট কর ও তাদের প্রতি তোমাদের যা ভাল মনে হয় তা-ই কর; কিন্তু সেই ব্যক্তির প্রতি এমন মূঢ়তার কাজ করো না।
25 তবুও তারা তাঁর কথা শুনল না; তখন ঐ ব্যক্তি তার উপপত্নীকে ধরে তাদের কাছে বের করে আনলো; আর তারা তার মানভ্রষ্ট করলো এবং প্রভাত পর্যন্ত সমস্ত রাত তার প্রতি অত্যাচার করলো; পরে আলো হয়ে আসলে তাকে ছেড়ে দিল।
26 তখন রাত পোহালে ঐ স্ত্রী তার স্বামী যে বাড়িতে ছিল বৃদ্ধের সেই বাড়ির দরজার কাছে এসে সূর্যোদয় পর্যন্ত পড়ে রইলো।
27
সকাল হলে তার স্বামী উঠে পথে যাবার জন্য বাড়ির দরজা খুলে বের হল, আর দেখ, সেই স্ত্রীলোক, তার উপপত্নী, বাড়ির দরজার কাছে গোবরাটের উপরে হাত রেখে পড়ে রয়েছে;
28 তাতে সে তাকে বললো, উঠ, চল, আমরা যাই; কিন্তু সে কোন জবাব দিল না। পরে ঐ ব্যক্তি গাধার উপরে তাকে তুলে নিল এবং উঠে স্বস্থানে প্রস্থান করলো।
29 পরে সে নিজের বাড়িতে এসে একখানা ছুরি নিয়ে তার উপপত্নীকে ধরে অস্থি অনুসারে বারোটি খণ্ড করে ইসরাইলের সমস্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দিল।
30 যারা তা দেখলো সকলে বললো, বনি-ইসরাইলদের মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসার দিন থেকে আজ পর্যন্ত এমন কাজ কখনও হয় নি, দেখাও যায় নি; এই বিষয়ে বিবেচনা কর, মন্ত্রণা কর, কি কর্তব্য বল।
1
পরে বনি-ইসরাইলরা সকলে বের হল, দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সকলে ও গিলিয়দ দেশ সমেত সমস্ত মণ্ডলী একটি মানুষের মত মিস্পাতে মাবুদের কাছে জমায়েত হল।
2 আল্লাহ্র লোকদের সেই সমাজে ইসরাইলের সমস্ত বংশের সমস্ত জনসমাজের নেতৃবর্গ ও চার লক্ষ তলোয়ারধারী পদাতিক উপস্থিত হল।
3 আর বনি-ইসরাইল মিস্পাতে উঠে গেছে, এই কথা বিন্ইয়ামীনীয়রা শুনতে পেল। পরে বনি-ইসরাইল বললো, বল দেখি, এই দুষ্কর্ম কিভাবে হল?
4 সেই লেবীয়, নিহতা স্ত্রীর স্বামী জবাবে বললো, আমি ও আমার উপপত্নী রাত্রি যাপন করার জন্য বিন্ইয়ামীন অধিকৃত গিবিয়াতে প্রবেশ করেছিলাম।
5 আর গিবিয়ার গৃহস্থেরা আমার বিরুদ্ধে রাতের বেলায় উঠে আমার জন্য বাড়ির চারদিক বেষ্টন করলো। তারা আমাকে খুন করার কল্পনা করেছিল, আর আমার উপপত্নীকে বলাৎকার করায় সে মারা গেল।
6 পরে আমি নিজের উপপত্নীকে নিয়ে খণ্ড খণ্ড করে ইসরাইলের অধিকারস্থ প্রদেশের সর্বত্র পাঠালাম, কেননা তারা ইসরাইলের মধ্যে কুকর্ম ও মূঢ়তার কাজ করেছে।
7 এখন হে বনি-ইসরাইলরা, আপনারা এই বিষয়ে আলোচনা করে আপনাদের মতামত দিন।
8
তখন সকল লোক একটি মানুষের মত উঠে বললো, আমরা কেউ নিজের তাঁবুতে যাব না, কেউ নিজের বাড়িতে ফিরে যাব না;
9 কিন্তু এখন গিবিয়ার প্রতি যে কাজ করবো, তা হচ্ছে আমরা গুলিবাঁটপূর্বক তার বিরুদ্ধে যাব।
10 আর আমরা লোকদের জন্য খাদ্যদ্রব্য আনতে ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে এক শত লোকের প্রতি দশ, এক হাজারের প্রতি এক শত ও দশ হাজারের প্রতি এক হাজার লোক সংগ্রহ করবো, যেন আমরা বিন্ইয়ামীনের গিবিয়াতে গিয়ে ইসরাইলের মধ্যে কৃত সমস্ত মূঢ়তার কাজ অনুসারে প্রতিশোধ নিতে পারি।
11 এভাবে ইসরাইলের সমস্ত লোক একটি মানুষের মত একসঙ্গে জমায়েত হয়ে ঐ নগরের বিরুদ্ধে একত্র হল।
12
পরে ইসরাইলের বংশগুলো বিন্ইয়ামীন-বংশের সর্বত্র লোক প্রেরণ করে বললো, তোমাদের মধ্যে এ কি দুষ্কর্ম হয়েছে?
13 তোমরা এখন গিবিয়া-নিবাসী ঐ পাষণ্ড লোকদেরকে আমাদের হাতে তুলে দাও, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ইসরাইল থেকে দুষ্টাচার মুছে ফেলবো, কিন্তু বিন্ইয়ামীনের লোকেরা আপন ভাইদের অর্থাৎ বনি-ইসরাইলদের কথা শুনতে সম্মত হল না।
14 বরং বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বিন্ইয়ামীনীয়রা নানা নগর থেকে গিবিয়াতে গিয়ে একত্র হল।
15 সেদিন নানা নগর থেকে আগত বিন্ইয়ামীন-বংশের ছাব্বিশ হাজার তলোয়ারধারী লোক গণনা করা হল; এরা গিবিয়া-নিবাসী সাত শত মনোনীত লোক থেকে ভিন্ন।
16 আবার এসব লোকের মধ্যে সাত শত মনোনীত লোক নেটা ছিল; তাদের প্রত্যেকজন চুল লক্ষ্য করে ফিঙ্গার পাথর মারতে পারতো, লক্ষ্যচ্যুত হত না।
17 বিন্ইয়ামীন ভিন্ন ইসরাইলের তলোয়ারধারী চার লক্ষ লোককে গণনা করা হল; এরা সকলেই যোদ্ধা ছিল।
18
বনি-ইসরাইলরা উঠে বেথেলে গিয়ে আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করলো; তারা বললো, বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আমাদের মধ্যে প্রথমে কে যাবে? মাবুদ বললেন, প্রথমে যাবে এহুদা।
19 তখন বনি-ইসরাইলরা খুব ভোরে উঠে গিবিয়ার সম্মুখে শিবির স্থাপন করলো।
20
পরে বনি-ইসরাইলরা বিন্ইয়ামীনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বের হয়ে গেল; তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বনি-ইসরাইলরা গিবিয়ার কাছে সৈন্য রচনা করলো।
21 তখন বিন্ইয়ামীনীয়রা গিবিয়া থেকে বের হয়ে ঐ দিনে ইসরাইলের মধ্যে বাইশ হাজার লোককে সংহার করে ভূতলশায়ী করলো।
22 পরে বনি-ইসরাইলরা নিজেদেরকে আশ্বাস দিয়ে, প্রথমবার যে স্থানে সৈন্য স্থাপন করেছিল, পুনর্বার সেই স্থানে সৈন্য স্থাপন করলো।
23
আর বনি-ইসরাইল উঠে গিয়ে সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত মাবুদের সাক্ষাতে কান্নাকাটি করলো এবং তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলো, আমরা আমাদের ভাই বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে কি পুনর্বার যাব? মাবুদ বললেন, তার বিরুদ্ধে যাও।
24 পরে বনি-ইসরাইল দ্বিতীয় দিনে বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের বিরুদ্ধে উপস্থিত হল।
25 আর বিন্ইয়ামীন সেই দ্বিতীয় দিনে তাদের বিরুদ্ধে গিবিয়া থেকে বের হয়ে পুনর্বার বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আঠার হাজার লোককে সংহার করে ভূতলশায়ী করলো, এরা সকলেই তলোয়ারধারী ছিল।
26 পরে সমস্ত বনি-ইসরাইল, সমস্ত লোক, বেথেলে উপস্থিত হল এবং সেই স্থানে মাবুদের সম্মুখে কান্নাকাটি করলো ও বসে রইলো এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা করে মাবুদের সম্মুখে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী দিল।
27 সেই সময়ে আল্লাহ্র শরীয়ত-সিন্দুক ঐ স্থানে ছিল এবং হারুনের পৌত্র ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস তৎসম্মুখে দণ্ডায়মান ছিলেন;
28 অতএব বনি-ইসরাইল মাবুদকে এই কথা জিজ্ঞাসা করলো, আমরা আপন ভাই বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এখনও কি পুনর্বার যাব না ক্ষান্ত হব? মাবুদ বললেন, যাও, কেননা আগামীকাল আমি তোমাদের হাতে তাদেরকে তুলে দেব।
29
পরে ইসরাইল গিবিয়ার চারদিকে ঘাঁটি স্থপন করলো।
30 পরে তৃতীয় দিনে বনি-ইসরাইলরা বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যান্য সময়ের মত গিবিয়ার কাছে সৈন্য সমাবেশ করলো।
31 তখন বিন্ইয়ামীনীয়রা ঐ লোকদের বিরুদ্ধে বের হল এবং নগর থেকে দূরে আকর্ষিত হয়ে প্রথমবারের মত লোকদের আঘাত ও হত্যা করতে লাগল, বিশেষত বেথেল ও গিবিয়ার দিকে যাবার দুই রাজপথে তারা ইসরাইলের মধ্যে অনুমান ত্রিশ জনকে হত্যা করলো।
32 তাতে বিন্ইয়ামীনীয়রা বললো, ওরা আমাদের সম্মুখে আগের মত পরাজিত হচ্ছে, কিন্তু বনি-ইসরাইলরা বলেছিল, এসো, আমরা পালিয়ে ওদেরকে নগর থেকে রাজপথে আকর্ষণ করি।
33 অতএব ইসরাইলের সমস্ত লোক নিজ নিজ স্থান থেকে উঠে গিয়ে বাল্-তামরে সৈন্য রচনা করলো; ইতোমধ্যে ইসরাইলের লুকিয়ে থাকা লোকেরা তাদের স্থান থেকে অর্থাৎ মারে-গেবা থেকে বের হল।
34 পরে সমস্ত ইসরাইল থেকে দশ হাজার মনোনীত লোক গিবিয়ার সম্মুখে আসলে ঘোরতর যুদ্ধ হল; কিন্তু ওরা জানত না যে, অমঙ্গল ওদের নিকটবর্তী।
35
তখন মাবুদ ইসরাইলের সম্মুখে বিন্ইয়ামীনকে আঘাত করলেন, আর সেদিন বনি-ইসরাইলরা বিন্ইয়ামীনের পঁচিশ হাজার একশত লোককে সংহার করলো, এরা সকলেই তলোয়ারধারী ছিল।
36
এভাবে বিন্ইয়ামীনীয়রা দেখলো যে, তারা হেরে গেছে। কারণ ইসরাইলের লোকেরা বিন্ইয়ামীনের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই দিকে বনি-ইসরাইল যাদেরকে গিবিয়ার বিরুদ্ধে স্থাপন করেছিল তাদের উপরে নির্ভর করেই তারা পালিয়ে যাচ্ছিল।
37
ইতোমধ্যে ঐ লুকিয়ে থাকা লোকেরা তাড়াতাড়ি গিবিয়া আক্রমণ করলো, আর নগরে প্রবেশ করে তলোয়ারের আঘাতে সমস্ত লোককে আঘাত করলো।
38 বনি-ইসরাইলরা ও তাদের লুকিয়ে থাকা লোকদের মধ্যে এই চিহ্ন স্থির করা হয়েছিল যে, লুকিয়ে থাকা লোকেরা নগর থেকে ধোঁয়ার মেঘ ওঠাবে।
39 অতএব বনি-ইসরাইলরা যুদ্ধ করতে করতে পিছনে মুখ ফিরাল। তখন বিন্ইয়ামীনীয়রা তাদের অনুমান ত্রিশ জনকে আঘাত ও হত্যা করেছিল, কেননা তারা বলেছিল, প্রথম যুদ্ধের মত এবারেও ওরা আমাদের সম্মুখে আহত হল।
40 কিন্তু যখন নগর থেকে স্তম্ভাকারে ধোঁয়ার মেঘ উঠতে লাগল, তখন বিন্ইয়ামীন পিছনে চেয়ে দেখলো, আর দেখ, সমস্ত নগর থেকে ধোঁয়া আসমানে উড়ে যাচ্ছে।
41 আর বনি-ইসরাইলরাও মুখ ফিরালো; তাতে অমঙ্গল তাদের উপরে এসে পড়লো দেখে বিন্ইয়ামীনের লোকেরা ভীষণ ভয় পেল।
42 অতএব তারা বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে মরুভূমির পথের দিকে ফিরল; কিন্তু সেই স্থানেও যুদ্ধ তাদের অনুবর্তী হল; এবং সমস্ত নগর থেকে আগত লোকেরা সেখানে তাদেরকে সংহার করলো।
43 তারা চারদিকে বিন্ইয়ামীনকে ঘিরে তাড়াতে লাগল এবং সূর্যোদয়-দিকে গিবিয়ার সম্মুখস্থ স্থান পর্যন্ত তাদের বিশ্রামস্থানে তাদেরকে দমন করতে লাগল।
44 তাতে বিন্ইয়ামীনের আঠার হাজার লোক হত হল, তারা সকলেই যোদ্ধা ছিল।
45 পরে অবশিষ্ট লোকেরা মরুভূমির দিকে ফিরে রিম্মোণ শৈলে পালিয়ে যেতে লাগল, আর ওরা রাজপথে তাদের অন্য পাঁচ হাজার লোককে হত্যা করলো; পরে বেগে তাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গিদোম পর্যন্ত গিয়ে তাদের দুই হাজার লোককে আক্রমণ করলো।
46 অতএব সেদিন বিন্ইয়ামীনের মধ্যে তলোয়ারধারী পঁচিশ হাজার লোক হত হল; তারা সকলেই বলবান লোক ছিল।
47 কিন্তু ছয় শত লোক মরুভূমির দিকে ফিরে রিম্মোণ শৈলে পালিয়ে গিয়ে সেই রিম্মোণ শৈলে চার মাস বাস করলো।
48 পরে বনি-ইসরাইলরা বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের প্রতিকূলে ফিরে নগরস্থ মানুষ ও পশু প্রভৃতি যা যা পাওয়া গেল, সেই সকলকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করলো; তারা যত নগর পেল, সেসব আগুনে পুড়িয়ে দিল।
1
মিস্পাতে বনি-ইসরাইলরা এই কসম খেয়েছিল, আমরা কেউ বিন্ইয়ামীনের মধ্যে কারো সঙ্গে আমাদের কন্যার বিয়ে দেব না।
2 পরে লোকেরা বেথেলে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই স্থানে আল্লাহ্র সম্মুখে বসে চিৎকার করে ভীষণভাবে কান্নাকাটি করলো।
3 তারা বললো, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, আজ ইসরাইলের মধ্যে একটি বংশের লোপ হল, ইসরাইলের মধ্যে কেন এমন ঘটলো?
4 পরের দিন লোকেরা প্রত্যুষে উঠে সেই স্থানে কোরবানগাহ্ তৈরি করলো এবং পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী দিল।
5 পরে বনি-ইসরাইল বললো, সমাজে মাবুদের কাছে আসে নি, ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে এমন কে আছে? কেননা মিস্পাতে মাবুদের কাছে যে না আসবে, সে অবশ্য হত হবে, এই মহা কসম তারা খেয়েছিল।
6 আর বনি-ইসরাইল নিজেদের ভাই বিন্ইয়ামীনের জন্য অনুতাপ করে বললো, ইসরাইলের মধ্য থেকে আজ একটি বংশ উচ্ছিন্ন হল।
7 এখন তার অবশিষ্ট লোকদের বিয়ের বিষয়ে কি কর্তব্য? আমরা তো মাবুদের নামে এই কসম খেয়েছি যে, আমরা তাদের সঙ্গে আমাদের কন্যাদের বিয়ে দেব না।
8
অতএব তারা বললো, মিস্পাতে মাবুদের কাছে আসে নি, ইসরাইলের এমন কোন বংশ কি আছে? আর দেখ, যাবেশ-গিলিয়দ থেকে কেউ শিবিরস্থ ঐ সমাজে আসে নি।
9 সমস্ত লোককে গণনা করা হল, কিন্তু দেখ, যাবেশ-গিলিয়দ নিবাসীদের এক জনও সে স্থানে নেই।
10 তাতে মণ্ডলীর বলবান লোকদের মধ্য থেকে বারো হাজার লোককে সেই স্থানে পাঠাল, আর তাদেরকে এই হুকুম করলো, তোমরা যাও, যাবেশ-গিলিয়দ নিবাসীদেরকে স্ত্রীলোক ও বালক-বালিকাদের তলোয়ার দ্বারা আঘাত কর।
11 আর এই কাজ করবে; প্রত্যেক পুরুষ এবং পুরুষের পরিচয় পাওয়া প্রত্যেক স্ত্রীকে নিঃশেষে বিনষ্ট করবে।
12 আর তারা যাবেশ-গিলিয়দ নিবাসীদের মধ্যে এমন চার শত কুমারী পেল, যারা পুরুষের পরিচয় পায় নি। তারা কেনান দেশস্থ শীলোর শিবিরে তাদেরকে নিয়ে আসলো।
13
পরে সমস্ত মণ্ডলী লোক পাঠিয়ে রিম্মোণ শৈলে অবস্থিত বিন্ইয়ামীনীয়দের সঙ্গে আলাপ করলো ও তাদের কাছে সন্ধি ঘোষণা করলো।
14 সেই সময়ে বিন্-ইয়ামীনের লোকেরা ফিরে এল, আর তারা যাবেশ-গিলিয়দস্থ যে কন্যাদেরকে জীবিত রেখেছিল, ওদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দিল; তবুও ওদের অকুলান হল।
15
আর মাবুদ ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে একটি ছিদ্র করেছিলেন; এই কারণ লোকেরা বিন্ইয়ামীনের জন্য অনুতাপ করলো।
16 পরে মণ্ডলীর প্রাচীনবর্গরা বললেন, বিন্ইয়ামীন থেকে স্ত্রী জাতি উচ্ছিন্ন হয়েছে, অতএব অবশিষ্ট লোকদের বিয়ে দেবার জন্য আমাদের কি কর্তব্য?
17 আরও বললেন, ইসরাইলের মধ্যে একটি বংশের লোপ যেন না হয়, সেজন্য বিন্ইয়ামীনের ঐ রক্ষা পাওয়া লোকদের একটি উত্তরাধিকার থাকা আবশ্যক।
18 কিন্তু আমরা ওদের সঙ্গে আমাদের কন্যাদের বিয়ে দিতে পারি না; কেননা বনি-ইসরাইলরা এই কসম খেয়েছে, যে কেউ বিন্ইয়ামীনকে কন্যা দেবে সে বদদোয়াগ্রস্ত হবে।
19 শেষে তারা বললেন, দেখ, শীলোতে প্রতি বছর মাবুদের উদ্দেশে একটি উৎসব হয়ে থাকে। ওটা বেথেলের উত্তর দিকে, বেথেল থেকে যে রাজপথ শিখিমের দিকে গেছে, তার পূর্ব দিকে এবং লবোনার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
20 তাতে তাঁরা বিন্-ইয়ামীনীয়দেরকে হুকুম করলেন, তোমরা গিয়ে আঙ্গুর-ক্ষেতে লুকিয়ে থাক;
21 নিরীক্ষণ কর, আর দেখ, যদি শীলোর কন্যারা দলের মধ্যে নৃত্য করতে করতে বের হয়ে আসে, তবে তোমরা আঙ্গুর-ক্ষেত থেকে বের হয়ে প্রত্যেকে শীলোর কন্যাদের মধ্য থেকে নিজ নিজ স্ত্রী ধরে নিয়ে বিন্ইয়ামীন দেশে প্রস্থান করো।
22 আর তাদের পিতা কিংবা ভাইয়েরা যদি ঝগড়া করার জন্য আমাদের কাছে আসে, তবে আমরা তাদেরকে বলবো, তোমরা আমাদের অনুরোধে তাদেরকে দান কর; কেননা যুদ্ধের সময়ে আমরা তাদের প্রত্যেকজনের জন্য স্ত্রী পাই নি; আর তোমরাও তাদেরকে দাও নি, দিলে এখন অপরাধী হতে।
23 তখন বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের মধ্য থেকে প্রত্যেকজন নৃত্যকারিণী কন্যাদের মধ্য থেকে এক জনকে ধরে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলো। পরে নিজ নিজ অধিকারে ফিরে গেল এবং পুনর্বার নগরগুলো নির্মাণ করে সেখানে বাস করতে লাগল।
24 আর সেই সময়ে বনি-ইসরাইল সেই স্থান থেকে প্রত্যেকে স্ব স্ব বংশের ও গোষ্ঠীর কাছে প্রস্থান করলো। তারা সেই স্থান থেকে বের হয়ে নিজ নিজ অধিকারে ফিরে গেল।
25
সেই সময়ে ইসরাইলের মধ্যে বাদশাহ্ ছিল না; যার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হত, সে তা-ই করতো।
1
আর কাজীগণের কর্তৃত্বকালে দেশে একবার দুর্ভিক্ষ হয়। আর বেথেলহেম-এহুদার এক জন পুরুষ, তার স্ত্রী ও দুই পুত্র মোয়াব দেশে বাস করতে যায়।
2 সেই পুরুষ লোকটির নাম ইলীমেলক, তার স্ত্রীর নাম নয়মী এবং তার দুই পুত্রের নাম মহলোন ও কিলিয়োন; এরা বেথেলহেম-এহুদানিবাসী ইফ্রাথীয়। এরা মোয়াব দেশে গিয়ে সেখানে থেকে গেল।
3 পরে নয়মীর স্বামী ইলীমেলক ইন্তেকাল করলো, তাতে সে ও তার দুই পুত্র অবশিষ্ট থাকলো।
4 পরে সেই দু’জনে দুই মোয়াবীয়া কন্যাকে বিয়ে করলো। একজনের নাম অর্পা, আর এক জনের রূত। আর তারা অনুমান দশ বছর কাল সেই স্থানে বাস করলো।
5 পরে মহলোন ও কিলিয়োন এই দু’জনও ইন্তেকাল করলো, তাতে নয়মী পতিহীন ও উভয় পুত্রবিহীন হয়ে একাই রয়ে গেল।
6
তখন সে দু’জন পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে মোয়াব দেশ থেকে ফিরে যাবার জন্য উঠলো; কারণ সে মোয়াব দেশে শুনতে পেয়েছিল যে, মাবুদ তাঁর লোকদের তত্ত্বাবধান করে তাদেরকে খাদ্যদ্রব্য দিয়েছেন।
7 সে ও তার দুই পুত্রবধূ তাদের বাসস্থান থেকে বের হল এবং এহুদা দেশে ফিরে যাবার জন্য পথে চলতে লাগল।
8 তখন নয়মী দুই পুত্রবধূকে বললো, তোমরা তোমাদের মায়ের বাড়িতে ফিরে যাও; মৃতদের প্রতি ও আমার প্রতি তোমরা যেমন রহম করেছ, মাবুদ তোমাদের প্রতি তেমনি রহম করুন।
9 তোমরা উভয়ে যেন স্বামীর বাড়িতে বিশ্রাম পাও, মাবুদ তোমাদেরকে এই বর দিন। পরে সে তাদেরকে চুম্বন করলো; তাতে তারা চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে লাগল।
10 আর তারা তাকে বললো, না, আমরা তোমারই সঙ্গে তোমার লোকদের কাছে ফিরে যাব।
11 নয়মী বললো, হে আমার কন্যারা ফিরে যাও; তোমরা আমার সঙ্গে কেন যাবে? তোমাদের স্বামী হবার জন্য এখনও কি আমার গর্ভে কোন ছেলে-সন্তান হবে?
12 হে আমার কন্যারা, ফির, চলে যাও; কেননা আমি বৃদ্ধা, পুনরায় বিয়ে করতে পারি না; আর আমার প্রত্যাশা আছে, এই বলে যদি আমি আজ রাতেও বিয়ে করি, আর যদি পুত্রও প্রসব করি,
13 তবে তোমরা কি তাদের বয়ঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? তোমরা কি সেজন্য বিয়ে করতে নিবৃত্ত থাকবে? হে আমার কন্যারা, তা নয়, তোমাদের জন্য আমার বড়ই দুঃখ হয়েছে; কেননা মাবুদের হাত আমার বিরুদ্ধে প্রসারিত হয়েছে।
14
পরে তারা পুনর্বার চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে লাগল এবং অর্পা তার শাশুড়ীকে চুম্বন করলো, কিন্তু রূত তাকে ছেড়ে গেল না।
15
তখন সে বললো, ঐ দেখ, তোমার জা তার লোকদের ও তার দেবতার কাছে ফিরে গেল, তুমিও তোমার জার পিছে পিছে ফিরে যাও।
16 কিন্তু রূৎ বললো, তোমাকে ত্যাগ করে যেতে, তোমার পিছনে যাওয়া থেকে ফিরে যেতে, আমাকে অনুরোধ করো না; তুমি যেখানে যাবে, আমিও সেখানে যাব; এবং তুমি যেখানে থাকবে, আমিও সেখানে থাকব; তোমার লোকই আমার লোক, তোমার আল্লাহ্ই আমার আল্লাহ্;
17 তুমি যেখানে মরবে, আমিও সেখানে মরবো, সেই স্থানেই যেন আমার কবর হয়; কেবল মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই যদি আমাকে ও তোমাকে পৃথক করতে পারে, তবে মাবুদ আমাকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন।
18 যখন সে দেখলো, তার সঙ্গে যেতে রূত দৃঢ়ভাবে মন স্থির করে ফেলেছে, তখন সে তাকে আর কিছু বললো না।
19
পরে তারা দু’জন চলতে চলতে শেষে বেথেলহেমে উপস্থিত হল। যখন বেথেলহেমে উপস্থিত হল, তখন তাদের বিষয়ে সমস্ত নগরে জনরব হল; স্ত্রীলোকেরা বললো, এই কি নয়মী?
20 সে তাদেরকে বললো, আমাকে নয়মী (মনোরমা) বলো না, বরং মারা (তিক্তা) বলে ডাক, কেননা সর্বশক্তিমান আমার প্রতি অতিশয় তিক্ত ব্যবহার করেছেন।
21 আমি পরিপূর্ণ হয়ে যাত্রা করেছিলাম, এখন মাবুদ আমাকে শূন্য করে ফিরিয়ে আনলেন। তোমরা কেন আমাকে নয়মী বলে ডাকছ? মাবুদ তো আমার বিপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন, সর্বশক্তিমান আমাকে কষ্টে ফেলেছেন।
22
এভাবে নয়মী ফিরে এল, তার সঙ্গে তার পুত্রবধূ মোয়াবীয়া রূত মোয়াব দেশ থেকে এল; যব কাটা আরম্ভ হলেই তারা বেথেলহেমে উপস্থিত হল।
1
নয়মীর স্বামী ইলীমেলকের গোষ্ঠীর এক জন সম্মানিত ধনবান জ্ঞাতি ছিলেন; তাঁর নাম বোয়স।
2
পরে মোয়াবীয়া রূৎ নয়মীকে বললো, নিবেদন করি, আমি ক্ষেতে গিয়ে যার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করি, তার পিছে পিছে শস্যের পড়ে-থাকা শীষ কুড়াই। নয়মী বললো, বৎসে, যাও।
3 পরে সে গিয়ে একটি ক্ষেতে উপস্থিত হয়ে শস্য কর্তনকারীদের পিছনে পিছনে পড়ে-থাকা শীষ কুড়াতে লাগল; আর ঘটনাক্রমে সে ইলীমেলকের গোষ্ঠীর ঐ বোয়সের ভূমি-খণ্ডেই গিয়ে পড়লো।
4 আর দেখ, বোয়স বেথেলহেম থেকে এসে শস্য কর্তনকারীদেরকে বললেন, মাবুদ তোমাদের সহবর্তী হোন। তারা জবাবে বললো, মাবুদ আপনাকে দোয়া করুন।
5 পরে বোয়স শস্য কর্তনকারীদের উপরে নিযুক্ত তাঁর ভৃত্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই যুবতী কার?
6 তখন শস্য কর্তনকারীদের উপরে নিযুক্ত ভৃত্য বললো, এ সেই মোয়াবীয়া যুবতী, যে নয়মীর সঙ্গে মোয়াব দেশ থেকে এসেছে;
7 সে বললো, মেহেরবানী করে আমাকে শস্য কর্তনকারীদের পিছনে পিছনে আটির মধ্যে মধ্যে শীষ কুড়িয়ে সংগ্রহ করতে দাও; অতএব সে এসে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত রয়েছে; কেবল ঘরে অল্পক্ষণ ছিল।
8
পরে বোয়স রূৎকে বললেন, বৎসে, বলি, শোন; তুমি শস্য কুড়াতে অন্য ক্ষেতে যেও না, এই ক্ষেত থেকে চলে যেও না, কিন্তু এখানে আমার যুবতী বাঁদীদের সঙ্গে সঙ্গে থাক।
9 শস্য কর্তনকারীরা যে ক্ষেতের শস্য কাটবে, তার প্রতি দৃষ্টি রেখে তুমি বাঁদীদের পিছনে যেও; তোমাকে স্পর্শ করতে আমি কি যুবকদেরকে নিষেধ করি নি? আর পিপাসা পেলে তুমি পাত্রের কাছে গিয়ে যুবকেরা যে পানি তুলেছে, তা থেকে পান করো।
10 তাতে সে ভূমিতে উবুড় হয়ে তাঁকে সালাম করে বললো, আমি বিদেশিনী, আপনি আমার তত্ত্ব নিচ্ছেন, আপনার দৃষ্টিতে এই অনুগ্রহ আমি কিসে লাভ করলাম?
11 বোয়স উত্তর করলেন, তোমার স্বামীর মৃত্যুর পরে তুমি তোমার শাশুড়ীর সঙ্গে যেরকম ব্যবহার করেছ এবং আপন পিতা-মাতা ও জন্মদেশ ছেড়ে, আগে যাদেরকে জানতে না, এমন লোকদের কাছে এসেছো, এসব কথা আমার শোনা হয়েছে।
12 মাবুদ তোমার কাজের উপযোগী ফল দিন; তুমি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ যাঁর পাখার নিচে আশ্রয় নিতে এসেছো, তিনি তোমাকে সমপূর্ণ পুরস্কার দিন।
13 সে বললো, হে আমার মালিক, আপনার দৃষ্টিতে যেন আমি অনুগ্রহ লাভ করি; আপনি আমাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং আপনার এই বাঁদীর কাছে সান্ত্বনাসূচক কথা বললেন, আমি তো আপনার এক জন বাঁদীর তুল্যও নই।
14
পরে ভোজন সময়ে বোয়স তাকে বললেন, তুমি এই স্থানে এসে রুটি ভোজন কর এবং তোমার রুটিখণ্ড সিরকায় ডুবিয়ে নাও। তখন সে শস্য কর্তনকারীদের পাশে বসলে তারা তাকে ভাজা শস্য দিল; তাতে সে ভোজন করে তৃপ্ত হল এবং কিছু অবশিষ্ট রাখল।
15 পরে সে কুড়াতে উঠলে বোয়স তাঁর ভৃত্যদেরকে হুকুম করলেন, ওকে আঁটির মধ্যেও কুড়াতে দাও এবং ওকে তিরস্কার করো না;
16 আবার ওর জন্য বাঁধা আঁটি থেকে কতগুলো টেনে রেখে দাও, ওকে কুড়াতে দাও, ধমক দিও না।
17
আর সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই ক্ষেতে শস্য কুড়াল; পরে সে তার কুড়ানো শস্য মাড়াই করলে প্রায় এক ঐফা যব হল।
18 পরে সে তা তুলে নিয়ে নগরে গেল এবং তার শাশুড়ী তার কুড়ান শস্য দেখলো; আর সে আহার করে তৃপ্ত হবার পর যা রেখেছিল, তা বের করে তাকে দিল।
19 তখন তার শাশুড়ী তাকে বললো, তুমি আজ কোথায় কুড়িয়েছ? কোথায় কাজ করেছ? যে ব্যক্তি তোমার তত্ত্ব নিয়েছেন, আল্লাহ্ তাঁকে দোয়া করুন। তখন সে কার কাছে কাজ করেছিল, তা শাশুড়ীকে জানিয়ে বললো, যে ব্যক্তির কাছে আজ কাজ করেছি, তাঁর নাম বোয়স।
20 তাতে নয়মী তাঁর পুত্রবধূকে বললো, তিনি সেই মাবুদের দোয়া লাভ করুন, যিনি জীবিত ও মৃতদের প্রতি দয়া নিবৃত্ত করেন নি। নয়মী আরও বললো, সেই ব্যক্তি আমাদের নিকট সম্বন্ধীয়, তিনি আমাদের মুক্তিকর্তা জ্ঞাতিদের এক জন।
21 আর মোয়াবীয়া রূত বললো, তিনি আমাকে এও বললেন, আমার সমস্ত ফসল কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি আমার ভৃত্যদের সঙ্গে সঙ্গে থাক।
22 তাতে নয়মী তার পুত্রবধূ রূতকে বললো, বৎসে, তুমি যে তাঁর বাঁদীদের সঙ্গে যাও এবং অন্য কোন ক্ষেতে কেউ যে তোমার দেখা না পায়, সে ভাল।
23 অতএব যব ও গম কাটা শেষ হওয়া পর্যন্ত সে কুড়াবার জন্য বোয়সের বাঁদীদের সঙ্গে সঙ্গে থাকলো এবং তার শাশুড়ীর সঙ্গে বাস করলো।
1
পরে তার শাশুড়ী নয়মী তাকে বললো, বৎসে, তোমার যাতে মঙ্গল হয়, এমন বিশ্রামস্থান আমি কি তোমার জন্য চেষ্টা করবো না?
2 সম্প্রতি যে বোয়সের বাঁদীদের সঙ্গে তুমি ছিলে, তিনি কি আমাদের জ্ঞাতি নন? দেখ, তিনি আজ রাতে খামারে যব ঝাড়বেন।
3 অতএব তুমি এখন গোসল কর, তেল মাখ, তোমার কাপড় পর এবং সেই খামারে নেমে যাও; কিন্তু সেই ব্যক্তি ভোজন পান সমাপ্ত না করলে তাঁকে নিজের পরিচয় দিও না।
4 তিনি যখন শয়ন করবেন, তখন তুমি তাঁর শয়ন স্থান দেখে নিও; পরে সেই স্থানে গিয়ে তাঁর পা অনাবৃত করে শয়ন করো; তাতে তিনি নিজে তোমার কর্তব্য তোমাকে বলবেন।
5 সে জবাবে বললো, তুমি যা বলছো, সে সবই আমি করবো।
6
পরে সে ঐ খামারে নেমে গিয়ে তার শাশুড়ী যা যা হুকুম করেছিল, সকল কিছুই করলো।
7 ফলত বোয়স ভোজন পান করলেন ও তাঁর অন্তঃকরণ প্রফুল্ল হলে তিনি শস্যরাশির প্রান্তে শয়ন করতে গেলেন; আর রূৎ ধীরে ধীরে এসে তাঁর পায়ের উপর থেকে চাদরটা সরিয়ে সেখানে শয়ন করলো।
8
পরে মধ্যরাত্রে বোয়স চম্কে উঠে পাশ পরিবর্তন করলেন; আর দেখ, এক জন স্ত্রী লোক তাঁর পায়ের কাছে শুয়ে আছে।
9 তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কে? সে জবাবে বললো, আমি আপনার বাঁদী রূৎ; আপনার এই বাঁদীর উপরে আপনি আপনার পাখা মেলে ধরুন, কারণ আপনি মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি।
10 তিনি বললেন, অয়ি বৎসে, তুমি মাবুদের দোয়ার পাত্রী, কেননা ধনবান বা দরিদ্র কোন যুবকের পিছনে না যাওয়াতে তুমি প্রথমাপেক্ষা শেষে বেশি সুশীলতা দেখালে।
11 এখন বৎসে, ভয় করো না, তুমি যা বলবে, আমি তোমার জন্য সেসব করবো; কেননা তুমি যে খুব ভাল মেয়ে, এই আমার স্বজাতীয়দের নগর-দ্বারের সকলেই জানে।
12 আর আমি মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি, এই কথা সত্যি; কিন্তু আমা থেকেও নিকট-সম্পর্কীয় আর এক জন জ্ঞাতি আছে।
13 আজ রাতটা তুমি এখানেই থাক, খুব ভোরে সে যদি তোমাকে মুক্ত করে, তবে ভাল, সে মুক্ত করুক; কিন্তু তোমাকে মুক্ত করতে যদি তার ইচ্ছা না হয়, তবে জীবন্ত মাবুদের কসম, আমিই তোমাকে মুক্ত করবো; তুমি সকাল পর্যন্ত শুয়ে থাক।
14
তাতে রূৎ সকাল পর্যন্ত তাঁর চরণ-সমীপে শুয়ে রইলো, পরে কেউ তাকে চিনতে পারে, এমন সময় না হতেই উঠলো; কারণ বোয়স বললেন, খামারে এই এক জন স্ত্রীলোক যে এসেছে এই কথা লোকে যেন জানতে না পারে।
15 তিনি আরও বললেন, তোমার আবরণীয় চাদরটি এনে পেতে ধর। তখন তিনি ছয় (মাণ) যব মেপে তার মাথায় দিয়ে নগরে চলে গেলেন।
16 পরে রূৎ তার শাশুড়ীর কাছে আসলে তার শাশুড়ী বললো, বৎসে কি হল? তাতে সে নিজের প্রতি সেই ব্যক্তির কৃত সমস্ত কাজ তাকে জানালো।
17 আরও বললো, শাশুড়ীর কাছে খালি হাতে যেও না; এই বলে তিনি আমাকে এই ছয় (মাণ) যব দিয়েছেন।
18
পরে তার শাশুড়ী তাকে বললো, হে বৎসে, এই বিষয়ে কি হয়, তা যতক্ষণ পর্যন্ত জানতে না পার, ততক্ষণ পর্যন্ত বসে থাক; কেননা সে ব্যক্তি আজ এই কাজ সমাপ্ত না করে বিশ্রাম করবেন না।
1
পরে বোয়স নগর-দ্বারে উঠে গিয়ে সেই স্থানে বসলেন। আর দেখ, যে মুক্তিকর্তা জ্ঞাতির কথা বোয়স বলেছিলেন, সেই ব্যক্তি পথ দিয়ে আসছিল; তাতে বোয়স তাকে বললেন, ওহে অমুক, পথ ছেড়ে এই স্থানে এসে বস; তখন সে পথ ছেড়ে এসে বসলো।
2 পরে বোয়স নগরের দশ জন প্রধান ব্যক্তিকে নিয়ে বললেন, আপনারা এই স্থানে বসুন। তাঁরা বসলেন।
3 তখন বোয়স ঐ মুক্তিকর্তা জ্ঞাতিকে বললেন, আমাদের ভাই ইলীমেলকের যে ভূমিখণ্ড ছিল তা মোয়াব দেশ থেকে ফিরে এসে নয়মী বিক্রি করছেন।
4 অতএব আমি তোমাকে এই কথা জানাতে মনস্থ করেছি; তুমি এই সমাসীন লোকদের সাক্ষাতে ও আমার স্বজাতীয়দের প্রধান ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতে তা ক্রয় কর। যদি তুমি মুক্ত করতে চাও, মুক্ত কর, কিন্তু যদি মুক্ত করতে না চাও তবে আমাকে বল, আমি জানতে চাই; কেননা তুমি মুক্ত করলে আর কেউ করতে পারে না; কিন্তু তোমার পরে আমি পারি। সে বললো, আমি মুক্ত করবো।
5 তখন বোয়স বললেন, তুমি যে দিনে নয়মীর হাত থেকে সেই ক্ষেত ক্রয় করবে, সেই দিনে মৃত ব্যক্তির অধিকারে তার নাম উদ্ধারার্থে তার স্ত্রী মোয়াবীয়া রূতের কাছ থেকেও তা ক্রয় করতে হবে।
6 তখন ঐ মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বললো, আমি নিজের জন্য তা মুক্ত করতে পারি না, করলে নিজের অধিকার নষ্ট করবো; আমার মুক্ত করার বস্তু তুমি মুক্ত কর, কেননা আমি মুক্ত করতে পারি না।
7
মুক্তি ও বিনিময় বিষয়ক সমস্ত কথা স্থির করার জন্য আগেকার দিনে ইসরাইলের মধ্যে এরকম রীতি ছিল; লোকে তার জুতা খুলে প্রতিবেশীকে দিত; তা ইসরাইলের মধ্যে সাক্ষ্যস্বরূপ হত।
8 অতএব সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি যখন বোয়সকে বললো, তুমি নিজে তা ক্রয় কর, তখন সে নিজের জুতা খুলে দিল।
9 পরে বোয়স প্রাচীন নেতৃ-বর্গদের ও সমস্ত লোককে বললেন, আজ আপনারা সাক্ষী হলেন, ইলীমেলকের যা যা ছিল এবং কিলিয়োন ও মহলোনের যা যা ছিল সেসব আমি নয়মীর হাত থেকে ক্রয় করলাম।
10 আর আপন ভাইদের মধ্যে ও নিজ বসতিস্থানের দ্বারে সেই মৃত ব্যক্তির নাম যেন মুছে না যায়, এজন্য সেই মৃত ব্যক্তির অধিকারে তার নাম উদ্ধার করার জন্য আমি আমার স্ত্রী হিসেবে মহলোনের স্ত্রী মোয়াবীয়া রূৎকেও ক্রয় করলাম; আজ আপনারা সাক্ষী হলেন।
11 তাতে নগর-দ্বারবর্তী সমস্ত লোক ও প্রাচীনবর্গরা বললেন, আমরা সাক্ষী হলাম। যে স্ত্রী তোমার কুলে প্রবেশ করলো, মাবুদ তাকে রাহেলা ও লেয়ার মত করুন, যে দু’জন ইসরাইলের কুল নির্মাণ করেছিলেন; আর ইফ্রাথায় তোমার ঐশ্বর্য ও বেথেলহেমে তোমার সুখ্যাতি হোক।
12 মাবুদ সেই যুবতীর গর্ভ থেকে যে সন্তান তোমাকে দেবেন, তা দ্বারা তামরের গর্ভজাত এহুদার পুত্র পেরসের কুলের মত তোমার কুল হোক।
13
পরে বোয়স রূৎকে বিয়ে করলে তিনি তাঁর স্ত্রী হলেন এবং বোয়স তাঁর কাছে গমন করলে তিনি মাবুদের কাছ থেকে গর্ভধারণের শক্তি পেয়ে পুত্র প্রসব করলেন।
14 পরে স্ত্রীলোকেরা নয়মীকে বললো, মাবুদ ধন্য হোন, তিনি আজ তোমাকে মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি থেকে বঞ্চিত করেন নি; তাঁর নাম ইসরাইলের মধ্যে বিখ্যাত হোক।
15 এই বালকটি তোমার প্রাণ পুনরায় সঞ্জীবিত করবে ও বৃদ্ধাবস্থায় তোমার প্রতিপালক হবে; কেননা যে তোমাকে ভালবাসে ও তোমার পক্ষে সাত পুত্র থেকেও উত্তম, তোমার সেই পুত্রবধূই একে প্রসব করেছে।
16 তখন নয়মী বালকটিকে নিয়ে নিজের কোলে রাখল ও তার ধাত্রী হল।
17 পরে ‘নয়মীর একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করলো’, এই বলে তার প্রতিবেশীরা তার নাম রাখল; তারা তার নাম ওবেদ রাখল। সে ইয়াসির পিতা, আর ইয়াসি দাউদের পিতা।
18
পেরসের খান্দাননামা এই। পেরসের পুত্র হিষ্রোণ;
19 হিষ্রোণের পুত্র রাম; রামের পুত্র অম্মীনাদ; অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন;
20 নহশোনের পুত্র সল্মোন;
21 সল্মোনের পুত্র বোয়স; বোয়সের পুত্র ওবেদ; ওবেদের পুত্র ইয়াসি;
22 ও ইয়াসির পুত্র দাউদ।
1
পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে অবস্থিত রামাথয়িম-সোফীম নিবাসী ইল্কানা নামে এক জন আফরাহীমীয় ছিলেন; তিনি সুফের বৃদ্ধ প্রপৌত্র, তোহের প্রপৌত্র, ইলীহূর পৌত্র, যিরোহমের পুত্র।
2 তাঁর দু’জন স্ত্রী ছিল; একজনের নাম হান্না, আর একজনের নাম পনিন্না; পনিন্নার সন্তান হয়েছিল, কিন্তু হান্নার কোন সন্তান হয় নি।
3
এই ব্যক্তি প্রতি বছর তাঁর নগর থেকে শীলোতে গিয়ে বাহিনীগণের মাবুদের উদ্দেশে এবাদত ও কোরবানী করতেন। সেই স্থানে আলীর দুই পুত্র হফ্নি ও পীনহস মাবুদের ইমাম ছিল।
4 আর কোরবানীর দিনে ইল্কানা তাঁর স্ত্রী পনিন্না ও তাঁর সমস্ত পুত্র কন্যাকে গোশ্তের একটি করে অংশ দিতেন;
5 কিন্তু হান্নাকে দ্বিগুণ অংশ দিতেন; কেননা তিনি হান্নাকে মহব্বত করতেন, কিন্তু মাবুদ হান্নার গর্ভ রুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
6 মাবুদ তাঁর গর্ভ রুদ্ধ করাতে তাঁর সতীন তাঁর মনস্তাপ জন্মাবার চেষ্টায় তাঁকে বিরক্ত করতেন।
7 বছর বছর যখন হান্না মাবুদের গৃহে যেতেন, তখন তাঁর স্বামী ঐরূপ করতেন এবং পনিন্নাও ঐভাবে তাঁকে বিরক্ত করতেন; তাই তিনি ভোজন না করে কান্নাকাটি করতেন।
8 তাতে তাঁর স্বামী ইল্কানা তাঁকে বলতেন, হান্না, কেন কাঁদছ? কেন ভোজন করছো না? তোমার মন শোকাকুল কেন? তোমার কাছে দশ পুত্রের চেয়েও কি আমি উত্তম নই?
9
একবার শীলোতে ভোজন পান শেষ হলে পর হান্না উঠলেন। তখন মাবুদের এবাদতখানার দ্বারের কাছে ইমাম আলী আসনের উপরে বসে ছিলেন।
10 আর হান্না তিক্তপ্রাণা হয়ে মাবুদের উদ্দেশে মুনাজাত করতে লাগলেন ও প্রচুর কান্নাকাটি করতে লাগলেন।
11 তিনি মানত করে বললেন, হে বাহিনীগণের মাবুদ, যদি তুমি তোমার এই বাঁদীর দুঃখের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, আমাকে স্মরণ কর ও তোমার বাঁদীকে ভুলে না গিয়ে তোমার বাঁদীকে পুত্র সন্তান দাও, তবে আমি চিরদিনের জন্য তাকে মাবুদের উদ্দেশে নিবেদন করবো; তার মাথায় ক্ষুর উঠবে না।
12
যতক্ষণ হান্না মাবুদের সাক্ষাতে দীর্ঘ মুনাজাত করলেন, ততক্ষণ আলী তাঁর মুখের দিকে চেয়ে রইলেন।
13 কেননা হান্না মনে মনে কথা বলছিলেন, কেবল তাঁর ঠোঁট নড়ছিল, কিন্তু তাঁর স্বর শোনা গেল না; এজন্য আলী তাঁকে মাতাল মনে করলেন।
14 তাই আলী তাঁকে বললেন, তুমি কতক্ষণ মাতাল হয়ে থাকবে? তোমার আঙ্গুর-রস তোমা থেকে দূর কর।
15 হান্না জবাবে বললেন, হে আমার মালিক, তা নয়, আমি দুঃখিনী স্ত্রী, আঙ্গুর-রস কিংবা সুরা পান করি নি, কিন্তু মাবুদের সাক্ষাতে আমার মনের কথা ভেঙ্গে বলেছি।
16 আপনার এই বাঁদীকে আপনি পাষণ্ড মনে করবেন না; বস্তুত আমার গভীর দুশ্চিন্তা ও মনের কষ্টে আমি এই পর্যন্ত কথা বলছিলাম।
17 তখন আলী উত্তরে বললেন, তুমি শান্তিতে যাও; ইসরাইলের আল্লাহ্র কাছে যা যাচ্ঞা করলে, তা তিনি তোমাকে দিন।
18 হান্না বললেন, আপনার এই বাঁদী আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করুক। পরে সেই স্ত্রী তাঁর পথে চলে গেলেন এবং ভোজন করলেন; তাঁর মুখ আর বিষণ্ন রইলো না।
19
পরে তাঁরা খুব ভোরে উঠে মাবুদের সম্মুখে সেজ্দা করলেন এবং ফিরে রামায় নিজের বাড়িতে আসলেন। আর ইল্কানা তাঁর স্ত্রী হান্নার সঙ্গে মিলিত হবার পর মাবুদ তাঁকে স্মরণ করলেন।
20 তাতে নিরূপিত সময়ের মধ্যে হান্না গর্ভধারণ করে পুত্র প্রসব করলেন; আর ‘আমি মাবুদের কাছে একে যাচ্ঞা করে নিয়েছি’ বলে তার নাম শামুয়েল রাখলেন।
21
পরে তাঁর স্বামী ইল্কানা ও তাঁর সমস্ত পরিবার মাবুদের উদ্দেশে বার্ষিক কোরবানী ও মানত নিবেদন করতে গেলেন;
22 কিন্তু হান্না গেলেন না; কারণ তিনি স্বামীকে বললেন, শিশুপুত্র স্তন্য ত্যাগ করলে আমি তাকে নিয়ে যাব, তাতে সে মাবুদের সাক্ষাতে নীত হয়ে নিত্য সেই স্থানে থাকবে।
23 তাঁর স্বামী ইল্কানা তাঁকে বললেন, তোমার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই কর; তার স্তন্য ত্যাগ পর্যন্ত বিলম্ব কর; মাবুদ কেবল তাঁর ওয়াদা সফল করুন। অতএব হান্না বাড়িতে রইলেন এবং শিশুপুত্র যতদিন স্তন্য ত্যাগ না করলো ততদিন তাকে স্তন্যপান করালেন।
24
পরে তার স্তন্য পান ত্যাগ হলে তিনি তাকে শীলোতে মাবুদের গৃহে নিয়ে গেলেন আর তাদের সঙ্গে নিলেন তিনটি ষাঁড়, এক ঐফা সুজী ও এক কুপা আঙ্গুর-রস; তখন শিশুটি অল্পবয়স্ক ছিল।
25 পরে তাঁরা ষাঁড় কোরবানী করলেন ও শিশুটিকে আলীর কাছে আনলেন।
26 আর হান্না বললেন, হে আমার মালিক, আপনার প্রাণের কসম, হে আমার মালিক, যে স্ত্রী মাবুদের উদ্দেশে মুনাজাত করতে করতে এই স্থানে আপনার সম্মুখে দাঁড়িয়েছিল, সে আমি।
27 আমি এই শিশুর জন্য মুনাজাত করেছিলাম; আর মাবুদের কাছে যা চেয়েছিলাম তা তিনি আমাকে দিয়েছেন।
28 এজন্য আমিও একে মাবুদকে দিলাম; তাকে চিরজীবনের জন্য মাবুদকে দেওয়া হল। পরে তাঁরা সেই স্থানে মাবুদকে সেজ্দা করলেন।
1
পরে হান্না মুনাজাত করে বললেন,
আমার অন্তঃকরণ মাবুদে উল্লসিত,
আমার শৃঙ্গ মাবুদে উন্নত হল;
দুশমনদের কাছে আমার মুখ বিকশিত হল;
কারণ তোমার নাজাতে আমি আনন্দিতা।
2
মাবুদের মত পবিত্র কেউ নেই,
তুমি ছাড়া আর কেউ নেই,
আমাদের আল্লাহ্র মত আর শৈল নেই।
3
তোমরা এমন মহা গর্বের কথা আর বলো না,
তোমাদের মুখ থেকে অহংকারের কথা বের না হোক;
কেননা মাবুদ জ্ঞানের আল্লাহ্,
তাঁর দ্বারা সমস্ত কাজ তুলাতে পরিমিত হয়।
4
শক্তিশালীদের ধনুক ভগ্ন হল,
যাদের স্খলন হয়েছে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে।
5
যারা পরিতৃপ্ত ছিল তারা খাদ্যের জন্য শ্রমজীবী মজুর হল,
যারা ক্ষুধিত ছিল তারা বিশ্রাম লাভ করলো;
এমন কি, বন্ধ্যা স্ত্রী সাতটি পুত্র প্রসব করলো,
আর বহুপুত্রের মা ক্ষীণা হল।
6
মাবুদ মারেন ও বাঁচান,
তিনি পাতালে নামান ও ঊর্ধ্বে তোলেন।
7
মাবুদ দরিদ্র করেন ও ধনী করেন,
তিনি নত করেন ও উন্নত করেন।
8
তিনি ধূলি থেকে দীনহীনকে তোলেন,
সারের ঢিবি থেকে দরিদ্রকে উঠান,
কুলীনদের সঙ্গে বসিয়ে দেন,
মহিমা-সিংহাসনের অধিকারী করেন।
কেননা দুনিয়ার সমস্ত স্তম্ভ মাবুদের;
তিনি সেই সবের উপরে দুনিয়া স্থাপন করেছেন।
9
তিনি তাঁর বিশ্বস্তদের চরণ রক্ষা করবেন,
কিন্তু দুষ্টদেরকে অন্ধকারে স্তব্ধ করা হবে;
কেননা শক্তিতে কোন মানুষ জয়ী হবে না।
10
মাবুদের সঙ্গে বিবাদকারীরা চুরমার হয়ে যাবে;
তিনি বেহেশতে থেকে তাদের উপরে বজ্রনাদ করবেন;
মাবুদ দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত শাসন করবেন,
তিনি তাঁর বাদশাহ্কে বল দেবেন,
তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির মাথা উন্নত করবেন।
11
পরে ইল্কানা রামায় তাঁর বাড়িতে গেলেন। আর বালকটি আলী ইমামের সম্মুখে মাবুদের পরিচর্যা করতে লাগলেন।
12
আলীর দুই পুত্র পাষণ্ড ছিল, তারা মাবুদকে জানত না।
13 বাস্তবিক ঐ ইমামেরা লোকদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করতো; কেউ কোরবানী করলে যখন তার গোশ্ত সিদ্ধ করা হত, তখন ইমামের ভৃত্য তিন কাঁটাযুক্ত শূল হাতে করে আসত;
14 এবং বাটিতে কিংবা হাঁড়িতে কিংবা কড়াইতে কিংবা পাত্রে তা মারত; আর সেই শূলে যা উঠতো, তা সকলই ইমাম শূলে করে নিয়ে যেত; ইসরাইলের যত লোক শীলোতে আসত, তাদের প্রত্যেকের প্রতি তারা এরকম ব্যবহার করতো।
15 আবার চর্বি না পোড়াতেই ইমামের ভৃত্য এসে যজমানকে বলতো, ইমামকে শূল্য গোশ্ত দাও; সে তোমা থেকে সিদ্ধ গোশ্ত নেবে না, কাঁচাই নেবে।
16 আর ঐ ব্যক্তি যখন বলতো, প্রথমে চর্বি পুড়িয়ে দিতে হবে, তারপর তোমার প্রাণের অভিলাষ অনুসারে গ্রহণ করো, তখন সে জবাবে বলতো, না, এখনই দাও, নতুবা কেড়ে নেব।
17 এভাবে মাবুদের সাক্ষাতে ঐ যুবকদের গুনাহ্ অতিশয় ভারী হল, কেননা তারা মাবুদের নৈবেদ্য অবজ্ঞা করতো।
18
কিন্তু বালক শিশুপুত্র শামুয়েল মসীনা-সূতার এফোদ পরে মাবুদের সম্মুখে পরিচর্যা করতেন।
19 আর তাঁর মা প্রতি বছর এক একখানি ছোট পোশাক প্রস্তুত করে স্বামীর সঙ্গে বার্ষিক কোরবানী করার জন্য আসার সময়ে তা এনে তাঁকে দিতেন।
20 আর আলী ইল্কানা ও তাঁর স্ত্রীকে এই দোয়া করলেন, মাবুদকে যা দেওয়া হয়েছিল, তার পরিবর্তে তিনি এই স্ত্রী থেকে তোমাকে আরও সন্তান দিন।
21
পরে তাঁরা স্বস্থানে প্রস্থান করলেন। আর মাবুদ হান্নাকে দোয়া করলেন; তাতে তিনি গর্ভবতী হলেন, আর তিনি তিন পুত্র ও দুই কন্যা প্রসব করলেন। ইতোমধ্যে বালক শামুয়েল মাবুদের সাক্ষাতে বেড়ে উঠতে লাগলেন।
22
আর আলী অতিশয় বৃদ্ধ হলেন এবং সমস্ত ইসরাইলের প্রতি তাঁর পুত্রেরা যা যা করে, সেসব কথা এবং জমায়েত-তাঁবুর দরজার কাছে সেবা করার জন্য যে সমস্ত স্ত্রীলোক আসত তাদের সঙ্গে তারা শয়ন করে, সেই কথা তিনি শুনতে পেলেন।
23 তখন তিনি তাদের বললেন, তোমরা কেন এমন ব্যবহার করছো? আমি এ সব লোকের কাছে তোমাদের মন্দ আচরণের কথা শুনতে পাচ্ছি।
24 হে আমার পুত্ররা, না না, আমি যে জনরব শুনতে পাচ্ছি, তা ভাল নয়; তোমরা মাবুদের লোকদেরকে হুকুম লঙ্ঘন করাচ্ছ।
25 মানুষ যদি মানুষের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে, তবে আল্লাহ্ তার বিচার করবেন; কিন্তু মানুষ যদি মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে, তবে তার জন্য কে ফরিয়াদ করবে? তবুও তারা পিতার কথায় কান দিত না, কেননা তাদের হত্যা করা মাবুদের অভিপ্রেত ছিল।
26 কিন্তু বালক শামুয়েল উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে মাবুদের ও মানুষের অনুগ্রহ লাভ করতে থাকলেন।
27
পরে আল্লাহ্র এক জন লোক আলীর কাছে এসে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, যে সময়ে তোমার পিতার কুল মিসরে ফেরাউন-কুলের অধীন ছিল, তখন আমি না প্রত্যক্ষরূপে তাদের দর্শন দিয়েছিলাম?
28 আমার ইমাম হবার জন্য, আমার কোরবানগাহ্র উপরে কোরবানী করতে ও ধূপ জ্বালাবার জন্য, আমার সাক্ষাতে এফোদ পরবার জন্য আমি না ইসরাইলের সমস্ত বংশ থেকে তাকে মনোনীত করেছিলাম? আর বনি-ইসরাইলদের অগ্নিকৃত সমস্ত উপহার না তোমার পিতৃকুলকে দিয়েছিলাম?
29 অতএব আমি আমার নিবাসে যা কোরবানী করতে হুকুম করেছি, আমার সেই কোরবানী ও নৈবেদ্যের উপরে তোমরা কেন পদাঘাত করছো? এবং আমার লোক ইসরাইলের সমস্ত কোরবানীর অগ্রিমাংশ দ্বারা যাতে তোমরা হৃষ্টপুষ্ট হও, এই আশায় তুমি কেন আমার চেয়ে তোমার পুত্রদেরকে বেশি গৌরবান্বিত করছো? অতএব ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ বলেন,
30 আমি নিশ্চয় বলেছিলাম; তোমার কুল ও তোমার পিতৃকুল যুগে যুগে আমার সম্মুখে গমনাগমন করবে, কিন্তু এখন মাবুদ বলেন, তা আমার কাছ থেকে দূরে থাকুক। কেননা যারা আমাকে গৌরবান্বিত করে, তাদেরকে আমি গৌরবান্বিত করবো; কিন্তু যারা আমাকে তুচ্ছ করে, তারা তুচ্ছতর হবে।
31 দেখ এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি তোমার বাহু ও তোমার পিতৃকুলের বাহু কেটে ফেলব, তোমার কুলে একটি বৃদ্ধও থাকবে না।
32 আর আল্লাহ্ ইসরাইলকে যে সমস্ত মঙ্গল দেবেন, তাতে তুমি আমার নিবাসের সঙ্কট দেখবে এবং তোমার কুলে কেউ কখনও বৃদ্ধকাল পর্যন্ত জীবিত থাকবে না।
33 আর আমি আমার কোরবানগাহ্ থেকে তোমার যে লোককে ছেঁটে না ফেলব, সে তোমার চোখের ক্ষয় ও প্রাণের ব্যথা জন্মাবার জন্য থাকবে এবং তোমার কুলে উৎপন্ন সমস্ত লোক যৌবনাবস্থায় মারা যাবে।
34 আর তোমার দুই পুত্র, হফ্নি ও পীনহসের উপরে যা ঘটবে, তা তোমার জন্য চিহ্ন হবে; তারা দু’জন এক দিনে মারা যাবে।
35 আর আমি আমার জন্য এক জন বিশ্বস্ত ইমামকে উৎপন্ন করবো, সে আমার অন্তর ও আমার মনের মত কাজ করবে; আর আমি তার একটি স্থায়ী কুল প্রতিষ্ঠিত করবো; সে নিয়মিতভাবে আমার অভিষিক্ত ব্যক্তির সম্মুখে আসা যাওয়া করবে।
36 আর তোমার কুলের মধ্যে অবশিষ্ট প্রত্যেক জন একটি রূপার মুদ্রা ও এক খণ্ড রুটির জন্য তার কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করতে আসবে, আর বলবে, আরজ করি, আমি যাতে এক খণ্ড রুটি খেতে পাই, সেজন্য একটি ইমামের পদে আমাকে নিযুক্ত করুন।
1
আর বালক শামুয়েল আলীর সম্মুখে মাবুদের পরিচর্যা করতেন। আর সেই সময়ে মাবুদের কালাম দুর্লভ ছিল, যখন তখন দর্শন পাওয়া যেত না।
2 আর সেই সময়ে ক্ষীণদৃষ্টি হওয়াতে আলী আর দেখতে পেতেন না। এক দিন আলী নিজের জায়গায় শুয়ে আছেন,
3 আল্লাহ্র প্রদীপ নিভে যায় নি এবং আল্লাহ্র সিন্দুক যে স্থানে ছিল, শামুয়েল সেই স্থানে অর্থাৎ মাবুদের গৃহের মধ্যে শুয়ে আছেন;
4 এমন সময়ে মাবুদ শামুয়েলকে ডাকলেন; আর তিনি জবাবে বললেন, এই যে আমি।
5 পরে তিনি আলীর কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন, এই যে আমি; আপনি তো আমাকে ডেকেছেন। তিনি বললেন, আমি ডাকি নি, তুমি ফিরে গিয়ে শুয়ে থাক। তখন তিনি গিয়ে শুয়ে রইলেন।
6 পরে মাবুদ পুনর্বার ডাকলেন, শামুয়েল; তাতে শামুয়েল উঠে আলীর কাছে গিয়ে বললেন, এই যে আমি; আপনি তো আমাকে ডেকেছেন। তিনি জবাবে বললেন, বৎস, আমি ডাকি নি, তুমি ফিরে গিয়ে শুয়ে থাক।
7 তখনও শামুয়েল মাবুদের পরিচয় পান নি এবং তাঁর কাছে মাবুদের কালামও প্রকাশিত হয় নি।
8 পরে মাবুদ তৃতীয়বার শামুয়েলকে ডাকলেন; তাতে তিনি উঠে আলীর কাছে গিয়ে বললেন, এই যে আমি; আপনি তো আমাকে ডেকেছেন। তখন আলী বুঝলেন, মাবুদই বালকটিকে ডাকছেন।
9 অতএব আলী শামুয়েলকে বললেন, তুমি গিয়ে শুয়ে থাক; যদি তিনি আবার তোমাকে ডাকেন, তবে বলো, হে মাবুদ, বলুন, আপনার গোলাম শুনছে। তখন শামুয়েল গিয়ে নিজের জায়গায় শুয়ে রইলেন।
10
পরে মাবুদ এসে দাঁড়ালেন এবং অন্য অন্যবারের মত ডেকে বললেন, শামুয়েল, শামুয়েল; আর শামুয়েল জবাবে বললেন, বলুন, আপনার গোলাম শুনছে।
11 তখন মাবুদ শমুয়েলকে বললেন, দেখ, আমি ইসরাইলের মধ্যে একটি কাজ করবো, তা যে শুনবে তার দুই কান শিহরিত হয়ে উঠবে।
12 আমি আলীর কুলের বিষয়ে যা যা বলেছি, সেসব সেদিন তার বিরুদ্ধে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সফল করবো।
13 বস্তুত আমি তাকে বলেছি, সে যে অপরাধ জানে, সেই অপরাধের জন্য আমি যুগানুক্রমে তার কুলকে দণ্ড দেব; কেননা তার পুত্রেরা নিজেদের শাপগ্রস্ত করছে, তবুও সে তাদেরকে নিবৃত্ত করে নি।
14 অতএব আলীর কুলের বিষয়ে আমি এই শপথ করেছি যে, আলীর কুলের অপরাধ কোরবানী বা নৈবেদ্য দ্বারা কখনই দূর করা যাবে না।
15
শামুয়েল প্রভাত পর্যন্ত শুয়ে রইলেন, পরে মাবুদের গৃহের দ্বার মুক্ত করলেন, কিন্তু শামুয়েল আলীকে ঐ দর্শনের বিষয় জানাতে তাঁর সাহস হল না।
16 পরে আলী শামুয়েলকে ডেকে, বললেন, হে আমার সন্তান, শামুয়েল! তিনি জবাব দিলেন, এই যে আমি।
17 আলী জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তোমাকে কি কথা বললেন? আরজ করি, আমার কাছ থেকে তা গোপন করো না; আল্লাহ্ যে যে কথা তোমাকে বলেছেন, তার কোন কথা যদি আমার কাছে গোপন কর, তবে তিনি তোমাকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন।
18 তখন শামুয়েল তাঁকে সেসব কথা বললেন, কিছুই গোপন করলেন না। তখন আলী বললেন, তিনি মাবুদ; তাঁর দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই করুন।
19
পরে শামুয়েল বেড়ে উঠতে লাগলেন এবং মাবুদ তাঁর সহবর্তী ছিলেন, তাঁর কোন কথা বিফল হতে দিতেন না।
20 তাতে দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সমস্ত ইসরাইল জানতে পারলো যে, শামুয়েল মাবুদের নবী হবার জন্য বিশ্বাসের পাত্র হয়েছেন।
21 আর মাবুদ শীলোতে পুনরায় দর্শন দিলেন, কেননা মাবুদ শীলোতে শামুয়েলের কাছে মাবুদের কালাম দ্বারা নিজেকে প্রকাশ করতেন। আর সমস্ত ইসরাইলের কাছে শামুয়েলের বাণী উপস্থিত হত।
1
পরে ইসরাইল যুদ্ধ করার জন্য ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে বের হয়ে এবন্-এষরে শিবির স্থাপন করলো এবং ফিলিস্তিনীরা অফেকে শিবির স্থাপন করলো।
2 আর ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সৈন্য সজ্জিত করলো; যখন যুদ্ধ বেঁধে গেল তখন ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের সম্মুখে আহত হল; তারা ঐ যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যশ্রেণীর অনুমান চার হাজার লোককে হত্যা করলো।
3
পরে লোকেরা শিবিরে প্রবেশ করলে ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা বললেন, মাবুদ আজ ফিলিস্তিনীদের সম্মুখে আমাদের কেন আঘাত করলেন? এসো, আমরা শীলো থেকে আমাদের কাছে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক আনাই, যেন তা আমাদের মধ্যে এসে দুশমনদের হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করে।
4 অতএব লোকেরা শীলোতে দূত পাঠিয়ে বাহিনীগণের মাবুদ, যিনি কারুবীদ্বয়ে আসীন, তাঁর শরীয়ত-সিন্দুক সেখান থেকে আনাল। তখন আলীর দুই পুত্র, হফ্নি ও পীনহস, সেই স্থানে আল্লাহ্র নিয়ম-সিন্দুকের সঙ্গে ছিল।
5
পরে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক শিবিরে উপস্থিত হলে সমস্ত ইসরাইল এমন মহা-সিংহনাদ করে উঠলো যে, দুনিয়া কাঁপতে লাগল।
6 তখন ফিলিস্তিনীরা ঐ সিংহনাদের ধ্বনি শুনে জিজ্ঞাসা করলো, ইবরানীদের শিবিরে মহাসিংহনাদের ঐ ধ্বনি হচ্ছে কেন? পরে তারা বুঝল, মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক শিবিরে এসেছে।
7 তখন ফিলিস্তিনীরা ভয় পেয়ে বললো, শিবিরে আল্লাহ্ এসেছেন। আরও বললো, হায়, হায়, এর আগে তো কখনও এমন হয় নি।
8 হায়, হায়, এই পরাক্রমী দেবতাদের হাত থেকে আমাদের কে উদ্ধার করবে? এঁরা সেই দেবতা, যাঁরা মরুভূমিতে নানা রকম আঘাতে মিসরীয়দের হত্যা করেছিলেন।
9 হে ফিলিস্তিনীরা, বলবান হও, পুরুষত্ব দেখাও; ঐ ইবরানীরা যেমন তোমাদের গোলাম হল, তেমনি তোমরা যেন ওদের গোলাম না হও; পুরুষত্ব দেখাও, যুদ্ধ কর।
10
তখন ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধ করলো এবং ইসরাইল আহত হয়ে প্রত্যেকে যার যার তাঁবুতে পালিয়ে গেল। আর মহাসংহার হল, কেননা ইসরাইলের মধ্যে ত্রিশ হাজার পদাতিক মারা পড়লো।
11 আর আল্লাহ্র সিন্দুক দুশমনদের হস্তগত হল এবং আলীর দুই পুত্র, হফ্নি ও পীনহস্ মারা পড়লো।
12
তখন বিন্ইয়ামীনীয় এক জন লোক সৈন্যশ্রেণী থেকে দৌড়ে গিয়ে সেই দিনে শীলোতে উপস্থিত হল; তার কাপড় ছেঁড়া ও মাথায় মাটি ছিল।
13 যখন সে আসছিল, দেখ, পথের পাশে আলী তাঁর আসনে বসে প্রতীক্ষা করছিলেন; কেননা তাঁর অন্তঃকরণ আল্লাহ্র সিন্দুকের জন্য থর থর করে কাঁপছিল। পরে সেই লোকটি নগরে উপস্থিত হয়ে ঐ সংবাদ দিলে সমস্ত নগরস্থ লোক কান্নাকাটি করতে লাগল।
14 আর আলী সেই ক্রন্দনের আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, এই কলরবের কারণ কি? তখন সেই লোকটি শীঘ্র এসে আলীকে সংবাদ দিল।
15 ঐ সময়ে আলী আটানব্বই বছর বয়স্ক ছিলেন এবং ক্ষীণদৃষ্টি হওয়াতে দেখতে পেতেন না।
16 সেই ব্যক্তি আলীকে বললো, আমি সৈন্যশ্রেণী থেকে এসেছি, আজই সৈন্যশ্রেণী থেকে পালিয়ে এসেছি। আলী জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস, সংবাদ কি?
17 যে সংবাদ এনেছিল, সে জবাবে বললো, ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেছে, আবার লোকদের মধ্যে মহাসংহার হয়েছে; আবার আপনার দুই পুত্র হফ্নি ও পীনহসও মারা গেছে এবং আল্লাহ্র সিন্দুক দুশমনদের হস্তগত হয়েছে।
18 তখন সে আল্লাহ্র সিন্দুকের নাম করামাত্র আলী দ্বারের পাশের আসন থেকে পিছনে পড়ে গেলেন। এতে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং তিনি মারা গেলেন, কেননা তিনি বৃদ্ধ ও ভারী ছিলেন। তিনি চল্লিশ বছর ইসরাইলের বিচার করেছিলেন।
19
তখন তাঁর পুত্রবধু পীনহসের স্ত্রী গর্ভবতী ছিল, প্রসবকাল সন্নিকট হয়েছিল; আল্লাহ্র সিন্দুক শত্রুহস্তগত হয়েছে এবং তার শ্বশুর ও স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, এই সংবাদ শুনে সে নত হয়ে প্রসব করলো; কারণ তার প্রসববেদনা হঠাৎ উপস্থিত হয়েছিল।
20 তখন তার মৃত্যুকালে যে স্ত্রী-লোকেরা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তারা বললো, ভয় নেই, তুমি তো পুত্র প্রসব করলে। কিন্তু সে কিছুই উত্তর দিল না, কিছুই মনোযোগ করলো না।
21 পরে সে বালকটির নাম ঈখাবোদ (হীনপ্রতাপ) রেখে বললো, ইসরাইল থেকে প্রতাপ গেল; কেননা আল্লাহ্র সিন্দুক দুশমনদের হস্তগত হয়েছিল এবং তার শ্বশুরের ও স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল।
22 সে বললো, ইসরাইল থেকে প্রতাপ গেল, কারণ আল্লাহ্র সিন্দুক দুশমনদের হস্তগত হয়েছে।
1
ফিলিস্তিনীরা আল্লাহ্র সিন্দুক নিয়ে এবন্-এষর থেকে অস্দোদে এনেছিল।
2 পরে ফিলিস্তিনীরা আল্লাহ্র সিন্দুক দাগোন দেবতার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাগোনের পাশে স্থাপন করলো।
3 পরদিন অস্দোদের লোকেরা খুব ভোরে উঠে দেখলো মাবুদের সিন্দুকের সম্মুখে দাগোন ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে আছে; তাতে তারা দাগোনকে তুলে পুনর্বার স্বস্থানে স্থাপন করলো।
4 তার পরের দিনও লোকেরা খুব ভোরে উঠলো এবং দেখলো মাবুদের সিন্দুকের সম্মুখে দাগোন ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে আছে এবং গোবরাটে দাগোনের মুণ্ড ও দুই হাত ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে, কেবল দেহমাত্র অবশিষ্ট আছে।
5 এজন্য দাগোনের পুরোহিত এবং আর যত লোক দাগোনের মন্দিরে প্রবেশ করে, তাদের মধ্যে আজ পর্যন্ত কেউ অস্দোদে অবস্থিত দাগোনের গোবরাটে পা দেয় না।
6
আর অস্দোদীয়দের উপরে মাবুদের হাত ভারী হল এবং তিনি তাদের সংহার করলেন, অস্দোদের ও আশেপাশের লোকদেরকে স্ফোটক দ্বারা আক্রান্ত করলেন।
7 পরে অস্দোদীয়েরা এরকম দেখে বললো, ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক আমাদের কাছে থাকবে না; কেননা আমাদের উপরে ও আমাদের দেবতা দাগোনের উপরে তাঁর হাত কষ্টদায়ক হয়েছে।
8 অতএব তারা লোক পাঠিয়ে ফিলিস্তিনীদের ভূপালদের তাদের কাছে একত্র করে বললো, ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুকের বিষয়ে আমাদের কি কর্তব্য? ভূপালেরা বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক গাতে নিয়ে যাওয়া হোক। তাতে তারা ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক সেখানে নিয়ে গেল।
9 তারা নিয়ে যাবার পর ঐ নগরের বিরুদ্ধে মাবুদের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত ত্রাসজনক হল এবং তিনি নগরের ছোট কি বড় সমস্ত লোককে আঘাত করলেন, তাদের স্ফোটক হল।
10 পরে তারা আল্লাহ্র সিন্দুক ইক্রোণে প্রেরণ করলো। কিন্তু আল্লাহ্র সিন্দুক ইক্রোণে উপস্থিত হলে ইক্রোণীয়েরা কান্নাকাটি করে বললো, আমাদের ও আমাদের লোকদের হত্যা করার জন্য ওরা আমাদের কাছে ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক এনেছে।
11 পরে তারা লোক পাঠিয়ে ফিলিস্তিনীদের সমস্ত ভূপালকে একত্র করে বললো, ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক পাঠিয়ে দিন, তা স্বস্থানে ফিরে যাক, আমাদের ও আমাদের লোকদের হত্যা না করুক। কারণ মহামারীর ভয়ে নগরের সর্বত্র ত্রাস হয়েছিল; সেই স্থানে আল্লাহ্র হাত অতিশয় ভারী হয়েছিল;
12 যে লোকেরা মারা পড়লো না, তারা স্ফোটকে আহত হল; আর নগরের আর্তনাদ আসমান পর্যন্ত উঠলো।
1
মাবুদের সিন্দুক ফিলিস্তিনীদের দেশে সাত মাস থাকলো।
2 পরে ফিলিস্তিনীরা পুরোহিত ও গণকদের ডেকে এনে বললো, মাবুদের সিন্দুকের বিষয়ে আমাদের কি কর্তব্য? বল দেখি, আমরা কি দিয়ে তা স্বস্থানে পাঠিয়ে দেব?
3 তারা বললো, তোমরা যদি ইসরাইলের আল্লাহ্র সিন্দুক পাঠিয়ে দাও, তবে খালি পাঠিও না, কোন ভাবে দোষার্থক উপহার তাঁর কাছে পাঠিয়ে দাও; তাতে সুস্থ থাকতে পারবে এবং তোমাদের উপর থেকে তাঁর হাত কেন তোমাদের উপর থেকে সরে যাচ্ছে না, তা জানতে পারবে।
4 তারা জিজ্ঞাসা করলো, দোষার্থক উপহার হিসেবে তাঁর কাছে কি পাঠিয়ে দেবে? তারা বললো, ফিলিস্তিনীদের ভূপালদের সংখ্যা অনুসারে সোনার পাঁচটা স্ফোটক ও সোনার পাঁচটা ইঁদুর দাও, কেননা তোমাদের সকলের ও তোমাদের ভূপালদের উপরে একইরূপ আঘাত পড়েছে।
5 অতএব তোমরা তোমাদের স্ফোটকের মূর্তি ও দেশনাশকারী ইঁদুরের মূর্তি তৈরি কর এবং ইসরাইলের আল্লাহ্র গৌরব স্বীকার কর; হয় তো তিনি তোমাদের উপর থেকে, তোমাদের দেবতাদের ও দেশের উপর থেকে, তাঁর হাত লঘু করবেন।
6 আর তোমরা কেন নিজ নিজ অন্তর ভারী করবে? মিসরীয়েরা ও ফেরাউন এভাবে নিজ নিজ অন্তর ভারী করেছিল; তিনি যখন তাদের মধ্যে মহৎ কাজ করলেন, তখন তারা কি লোকদের বিদায় করে চলে যেতে দিল না?
7 অতএব এখন কাঠ দিয়ে একটি নতুন ঘোড়ার গাড়ি তৈরি কর এবং কখনও জোয়াল বহন করে নি, এমন দু’টি দুগ্ধবতী গাভী নিয়ে সেই ঘোড়ার গাড়িতে জুড়ে দাও, কিন্তু তাদের বাচ্চা, তাদের কাছ থেকে ঘরে নিয়ে এসো।
8 আর মাবুদের সিন্দুক নিয়ে সেই ঘোড়ার গাড়ির উপরে রাখ এবং ঐ যে সোনার বস্তুগুলো দোষার্থক উপহার হিসেবে তাঁকে দেবে, তা তাঁর পাশে আধারে রাখ, পরে বিদায় কর, তা যাক।
9 আর দেখো, সিন্দুক যদি নিজের সীমার পথ দিয়ে বৈৎ-শেমশে যায়, তবে তিনিই আমাদের এই মহৎ অমঙ্গল ঘটিয়েছেন; নতুবা জানবো, আমাদেরকে যে হাত আঘাত করেছে সে তাঁর নয়, কিন্তু আমাদের প্রতি আকস্মিক ঘটনা হয়েছে।
10
লোকেরা তা-ই করলো; দুগ্ধবতী দু’টি গাভী নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে জুড়ে দিল ও তাদের বাচ্চা দু’টি ঘরে বন্ধ করে রাখলো।
11 পরে মাবুদের সিন্দুক এবং ঐ সোনার ইঁদুর ও স্ফোটক মূর্তিধারী আধার নিয়ে ঘোড়ার গাড়ির উপরে স্থাপন করলো।
12 আর সেই দুই গাভী বৈৎশেমশের সোজা পথ ধরে, রাজপথ দিয়ে হাম্বারব করতে করতে চললো, ডানে বা বামে ফিরল না। ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরাও বৈৎ-শেমশের অঞ্চল পর্যন্ত তাদের পিছনে পিছনে গেলেন।
13
ঐ সময়ে বৈৎ-শেমশ নিবাসীরা উপত্যকাতে গম কাটছিল; তারা চোখ তুলে সিন্দুকটি দেখলো, দেখে খুবই খুশি হল।
14 পরে ঐ ঘোড়ার গাড়ি বৈৎ-শেমশীয় ইউসার ক্ষেতে উপস্থিত হয়ে থেমে র্ইল; সেই স্থানে একখানা বড় পাথর ছিল; পরে তারা ঘোড়ার গাড়ির কাঠ কেটে ঐ গাভীগুলোকে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী দিল।
15 আর লেবীয়েরা মাবুদের সিন্দুকটি এবং সোনার বস্তুগুলো সহ আধারটি নামিয়ে ঐ পবিত্র পাথরের উপরে রাখল এবং বৈৎ-শেমশের লোকেরা সেই দিনে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানী দিল।
16 তখন ফিলিস্তিনীদের সেই পাঁচ জন ভূপাল তা দেখে সেই দিনে ইক্রোণে ফিরে গেলেন।
17
ফিলিস্তিনীরা মাবুদের উদ্দেশে দোষার্থক উপহার হিসেবে এই এই সোনার স্ফোটক উৎসর্গ করেছিল, অস্দোদের জন্য একটি, গাজার জন্য একটি, অস্কিলোনের জন্য একটি, গাতের জন্য একটি ও ইক্রোণের জন্য একটি।
18 এছাড়া প্রাচীরবেষ্টিত নগর হোক, কিংবা পল্লীগ্রাম হোক, পাঁচ জন ভূপালের অধীন ফিলিস্তিনীদের যত নগর ছিল, তত সোনার ইঁদুর তারা পাঠিয়েছিল। মাবুদের সিন্দুক যার উপরে স্থাপিত হয়েছিল, সেই বড় পাথর সাক্ষী, তা বৈৎ-শেমশীয় ইউসার ক্ষেতে আজ পর্যন্ত বিদ্যমান আছে।
19
পরে তিনি বৈৎ-শেমশের লোকদের মধ্যে অনেককে আক্রমণ করলেন, কারণ তারা মাবুদের সিন্দুকে দৃষ্টিপাত করেছিল, ফলত তিনি পঞ্চাশ হাজার লোকের মধ্যে সত্তরজনকে আঘাত করে মেরে ফেললেন এবং তাতে লোকেরা মাতম করলো, কেননা মাবুদ মহা আঘাতে লোকদের আক্রমণ করেছিলেন।
20 আর বৈৎ-শেমশের লোকেরা বললো, মাবুদের সাক্ষাতে, এই পবিত্র আল্লাহ্র সাক্ষাতে, কে দাঁড়াতে পারে? আর তিনি আমাদের কাছ থেকে কার কাছে যাবেন?
21 পরে তারা কিরিয়ৎ-যিয়ারীম-নিবাসীদের কাছে দূত পাঠিয়ে বললো, ফিলিস্তিনীরা মাবুদের সিন্দুক ফিরিয়ে দিয়েছে, তোমরা নেমে এসো, তোমাদের কাছে তা তুলে নিয়ে যাও।
1
তাতে কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের লোকেরা এসে মাবুদের সিন্দুক তুলে নিয়ে গিয়ে পর্বতস্থিত অবীনাদবের বাড়িতে রাখল এবং মাবুদের সিন্দুক রক্ষার্থে তার পুত্র ইলিয়াসরকে পবিত্র করলো।
2
মাবুদের সিন্দুক কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে স্থাপন করার পর অনেক দিন কেটে গেল, বিশ বছর গেল, আর সমস্ত ইসরাইল-কুল মাবুদের পিছনে মাতম করতে লাগল।
3
তাতে শামুয়েল সমস্ত ইসরাইল-কুলকে বললেন, তোমরা যদি সর্বান্তঃকরণে মাবুদের কাছে ফিরে এসো, তবে তোমাদের মধ্য থেকে বিজাতীয় দেবতা ও অষ্টারোৎ দেবীদেরকে দূর কর ও মাবুদের দিকে নিজ নিজ অন্তঃকরণ সুস্থির কর, কেবল তাঁরই সেবা কর; তা হলে তিনি ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করবেন।
4 তখন বনি-ইসরাইল বাল দেবতা ও অষ্টারোৎ দেবীদেরকে দূর করে কেবল মাবুদের সেবা করতে লাগল।
5
পরে শামুয়েল বললেন, তোমরা সমস্ত ইসরাইলকে মিস্পাতে একত্র কর; আমি তোমাদের জন্য মাবুদের কাছে মুনাজাত করবো।
6 তাতে তারা মিস্পাতে একত্র হয়ে পানি তুলে মাবুদের সম্মুখে ঢাললো এবং সেই দিন রোজা করে সেখানে বললো, আমরা মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি। আর শামুয়েল মিস্পাতে বনি-ইসরাইলদের বিচার করতে লাগলেন।
7
পরে ফিলিস্তিনীরা যখন শুনতে পেল যে, বনি-ইসরাইল মিস্পাতে একত্র হয়েছে, তখন ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে উঠে আসলেন; তা শুনে বনি-ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের দরুন ভয় পেল।
8 আর বনি-ইসরাইলরা শামুয়েলকে বললো, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে যেন আমাদের নিস্তার করেন, এজন্য আপনি তাঁর কাছে আমাদের জন্য ফরিয়াদ জানাতে বিরত হবেন না।
9 তখন শামুয়েল দুগ্ধপোষ্য একটি ভেড়ার বাচ্চা নিয়ে মাবুদের উদ্দেশে সর্বাঙ্গ পোড়ানো-কোরবানী করলেন এবং শামুয়েল ইসরাইলের জন্য মাবুদকে ডাকলেন; আর মাবুদ তাঁকে উত্তর দিলেন।
10 যে সময়ে শামুয়েল ঐ পোড়ানো-কোরবানী করছিলেন, তখন ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য নিকটবর্তী হল। কিন্তু ঐ দিনে মাবুদ ফিলিস্তিনীদের উপরে মহা-বজ্রনাদে গর্জন করে তাদেরকে ব্যাকুল করে তুললেন; তাতে তারা ইসরাইলের সম্মুখে আহত হল।
11 আর ইসরাইল লোকেরা মিস্পা থেকে বের হয়ে ফিলিস্তিনীদের পিছনে পিছনে তাড়া করে বৈৎ-করের নিচে পর্যন্ত তাদের আক্রমণ করলো।
12
তখন শামুয়েল একটি পাথর নিয়ে মিস্পার ও শেনের মধ্যস্থানে স্থাপন করলেন এবং এই পর্যন্ত মাবুদ আমাদের সাহায্য করেছেন, এই কথা বলে তার নাম এবন্-এষর [সাহায্যের পাথর] রাখলেন।
13 এই-ভাবে ফিলিস্তিনীরা নত হল এবং ইসরাইলের অঞ্চলে আর এলো না। আর শামুয়েলের সমস্ত জীবনকালে মাবুদের হাত ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ছিল।
14 আর ফিলিস্তিনীরা ইসরাইল থেকে যে সমস্ত নগর হরণ করেছিল, ইক্রোণ থেকে গাৎ পর্যন্ত, সেসব পুনর্বার ইসরাইলের হাতে ফিরে এল; এবং ইসরাইল সেসব অঞ্চল ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে উদ্ধার করলো। আর আমোরীয়দের সঙ্গে ইসরাইলের সন্ধি স্থাপিত হল।
15
শামুয়েল সারা জীবন ধরে ইসরাইলের বিচার করলেন।
16 তিনি প্রতি বছর বেথেল, গিল্গল ও মিস্পাতে পরিভ্রমণ করে সেসব স্থানে ইসরাইলের বিচার করতেন।
17 পরে তিনি রামাতে ফিরে আসতেন, কেননা সেই স্থানে তাঁর বাড়ি ছিল এবং সেই স্থানে তিনি ইসরাইলের বিচার করতেন; আর তিনি সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করেন।
1
পরে শামুয়েল যখন বৃদ্ধ হলেন, তখন তাঁর পুত্রদেরকে বিচারকর্তা করে ইসরাইলের উপরে নিযুক্ত করলেন।
2 তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম যোয়েল, দ্বিতীয় পুত্রের নাম অবিয়; তারা বের্-শেবাতে বিচার করতো।
3 কিন্তু তাঁর পুত্রেরা তাঁর পথে চলতো না; তারা ধনলোভে বিপথে গেল, ঘুষ গ্রহণ করতো ও অন্যায় বিচার করতো।
4
অতএব ইসরাইলের সমস্ত প্রাচীনবর্গ একত্র হয়ে রামাতে শামুয়েলের কাছে আসলেন;
5 আর তাঁকে বললেন, দেখুন, আপনি বৃদ্ধ হয়েছেন এবং আপনার পুত্রেরা আপনার পথে চলে না; এখন অন্য সকল জাতির মত আমাদের বিচার করতে আপনি আমাদের উপরে এক জন বাদশাহ্ নিযুক্ত করুন।
6 কিন্তু ‘আমাদের বিচার করতে আমাদের এক জন বাদশাহ্ দিন;’ তাঁদের এই কথা শামুয়েলের ভাল মনে হল না; তাতে শামুয়েল মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন।
7 তখন মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, এই লোকেরা তোমার কাছে যা যা বলছে, সেসব বিষয়ে তাদের কথায় কান দাও; কেননা তারা তোমাকে অগ্রাহ্য করলো, এমন নয়, আমাকেই অগ্রাহ্য করলো, যেন আমি তাদের উপরে রাজত্ব না করি।
8 যেদিন মিসর থেকে আমি তাদেরকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তারা যেমন ব্যবহার করে আসছে, অন্য দেবতাদের সেবা করার জন্য আমাকে ত্যাগ করে আসছে, তেমন ব্যবহার তোমার প্রতিও করছে।
9 এখন তাদের কথায় কান দাও; কিন্তু তাদের বিপক্ষে দৃঢ়ভাবে সাক্ষ্য দাও এবং তাদের উপরে যে রাজত্ব করবে, সেই বাদশাহ্র নিয়ম তাদেরকে জানাও।
10
পরে যে লোকেরা শামুয়েলের কাছে বাদশাহ্ চেয়েছিল তাদের কাছে তিনি মাবুদের ঐ সমস্ত কথা বললেন।
11 আরও বললেন, তোমাদের উপরে রাজত্বকারী বাদশাহ্র এরকম নিয়ম হবে; তিনি তোমাদের পুত্রদের নিয়ে তাঁর রথ ও ঘোড়ার উপরে নিযুক্ত করবেন এবং তারা তাঁর রথের আগে আগে দৌড়াবে।
12 আর তিনি তাদেরকে তাঁর সহস্রপতি ও পঞ্চাশপতি নিযুক্ত করবেন এবং কাউকে কাউকে তাঁর ভূমি চাষ ও শস্য কাটতে এবং যুদ্ধের অস্ত্র ও রথের সাজসরঞ্জাম তৈরি করতে নিযুক্ত করবেন।
13 আর তিনি তোমাদের কন্যাদের নিয়ে সুগন্ধি দ্রব্য প্রস্তুতকারিণী, পাচিকা ও রুটি প্রস্তুতকারিণীর পদে নিযুক্ত করবেন।
14 আর তিনি তোমাদের উৎকৃষ্ট শস্যক্ষেত, আঙ্গুর-ক্ষেত ও সমস্ত জলপাই গাছ নিয়ে তাঁর গোলামদেরকে দেবেন।
15 আর তোমাদের শস্যের ও আঙ্গুরের দশ ভাগের এক ভাগ নিয়ে তাঁর কর্মচারী ও গোলামদের দেবেন।
16 আর তিনি তোমাদের গোলাম বাঁদী ও তোমাদের সেরা যুবকদের ও তোমাদের সমস্ত গাধা নিয়ে তাঁর নিজের কাজে নিযুক্ত করবেন।
17 তিনি তোমাদের ভেড়াগুলোর দশ ভাগের এক ভাগ নেবেন ও তোমরা তাঁর গোলাম হবে।
18 সেদিন তোমরা তোমাদের মনোনীত বাদশাহ্ দরুন কান্নাকাটি করবে; কিন্তু মাবুদ সেদিন তোমাদের কোন উত্তর দেবেন না।
19
তবুও লোকেরা শামুয়েলের কথা শুনতে অস্বীকার করে বললো, না, আমাদের এক জন বাদশাহ্ চাই;
20 তাতে আমরাও অন্য সকল জাতির সমান হব এবং আমাদের বাদশাহ্ আমাদের বিচার করবেন ও আমাদের অগ্রগামী হয়ে যুদ্ধ করবেন।
21 তখন শামুয়েল লোকদের সমস্ত কথা শুনে মাবুদের কাছে তা নিবেদন করলেন।
22 তাতে মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, তুমি তাদের কথা শোন, তাদের জন্য এক জন বাদশাহ্ নিযুক্ত কর। পরে শামুয়েল বনি-ইসরাইলদের বললেন, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ নগরে যাও।
1
আর বিন্ইয়ামীন-বংশীয় এক জন লোক ছিলেন, তাঁর নাম কীশ। তিনি অবীয়েলের পুত্র, ইনি সরোরের পুত্র, ইনি বখোরতের পুত্র, ইনি অফিহের পুত্র। কীশ এক জন বিন্ইয়ামীনীয় বলবান বীর ছিলেন।
2 আর তালুত নামে তাঁর এক জন পুত্র ছিলেন; তিনি সুন্দর যুবা পুরুষ; বনি-ইসরাইলদের মধ্যে তার চেয়ে সুন্দর কোন পুরুষ ছিল না এবং তিনি অন্য সমস্ত লোক থেকে প্রায় এক ফুট লম্বা ছিলেন।
3
একদিন তালুতের পিতা কীশের গাধীগুলো হারিয়ে গেল, তাতে কীশ তাঁর পুত্র তালুতকে বললেন, তুমি এক জন ভৃত্য সঙ্গে নাও, উঠ, গাধীগুলোর খোঁজ করতে যাও।
4 তাতে তিনি পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে ভ্রমণ করে শালিশা প্রদেশে দিয়ে গমন করলেন; কিন্তু তারা তাদের খুঁজে পেলেন না। পরে তারা শালীম প্রদেশ দিয়ে গেল; সেখানেও নেই। পরে তিনি বিন্ইয়ামীনীয়দের দেশে গেল, কিন্তু তারা সেখানেও গাধীগুলোকে পেলেন না।
5
পরে সূফ প্রদেশে উপস্থিত হলে তালুত তাঁর সঙ্গী ভৃত্যটিকে বললেন, এসো, আমরা ফিরে যাই; কি জানি আমার পিতা গাধীগুলোর ভাবনা ছেড়ে দিয়ে আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা করবেন।
6 সে তাঁকে বললো, দেখুন, এই নগরে আল্লাহ্র এক জন ব্যক্তি আছেন; তিনি অতি সম্মানিত; তিনি যা যা বলেন, সকলই সিদ্ধ হয়; চলুন, আমরা এখন সেই স্থানে যাই; হয়তো তিনি আমাদের গন্তব্য পথ বলে দিতে পারবেন।
7 তখন তালুত তাঁর ভৃত্যকে বললেন, কিন্তু দেখ, যদি আমরা যাই, তবে সেই ব্যক্তির কাছে কি নিয়ে যাব? আমাদের থলির মধ্যে যে খাদ্য ছিল তা শেষ হয়েছে; আল্লাহ্র লোকের কাছে নিয়ে যাবার জন্য আমাদের কাছে কোন উপহার নেই; আমাদের কাছে কি আছে?
8 তখন ভৃত্যটি তালুতকে জবাবে বললো, দেখুন, আমার হাতে এক শেকলের চার ভাগের এক ভাগ রূপা আছে; আমি আল্লাহ্র লোককে এ-ই দেব, আর তিনি আমাদেরকে পথ বলে দেবেন।
9 (আগেকার দিনে ইসরাইলের মধ্যে আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করার জন্য যেতে হলে লোকে এরকম বলতো, চল, আমরা দর্শকের কাছে যাই; কেননা সম্প্রতি যাঁকে নবী বলা যায়, আগেকার দিনে তাকে দর্শক বলা হত।)
10 তখন তালুত তাঁর ভৃত্যটিকে বললেন, ভালই বললে; চল আমরা যাই। আর আল্লাহ্র লোক যেখানে ছিলেন তাঁরা সেই নগরে গেলেন।
11
যখন তাঁরা পাহাড়ী পথ বেয়ে নগরের দিকে উঠছিলেন; তখন পানি তুলবার জন্য কয়েক জন যুবতী মেয়ে বাইরে এসেছিল, তাঁরা তাদের দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, দর্শক কি এই স্থানে আছেন?
12 তারা তাঁদের জবাবে বললো, হ্যাঁ, আছেন; দেখ তিনি তোমাদের সম্মুখে আছেন; শীঘ্র এখনই যাও, তিনি আজ নগরে এসেছেন, কারণ ঐ উচ্চস্থলীতে আজ লোকদের একটি কোরবানীর অনুষ্ঠান হবে।
13 তোমরা নগরের মধ্যে প্রবেশ করবামাত্র, তিনি উচ্চস্থলীতে আহার করতে যাবার আগে, তাঁর দেখা পাবে; কেননা তিনি যতক্ষণ উপস্থিত না হবেন, ততক্ষণ লোকেরা ভোজন করবে না, কারণ তিনি কোরবানীর দ্রব্যে দোয়া করেন, পরে দাওয়াত পাওয়া লোকেরা ভোজন করে; অতএব তোমরা এখন গিয়ে উঠ; এই সময়ে তাঁর দেখা পাবে।
14 তখন তাঁরা নগরে উঠলেন; তাঁরা নগরের মধ্যে উপস্থিত হলে দেখ, শামুয়েল উচ্চস্থলীতে যাবার জন্য বের হয়ে তাঁদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন।
15
আর তালুতের উপস্থিত হবার আগের দিন মাবুদ শামুয়েলের কাছে প্রকাশ করেছিলেন,
16 আগামীকাল এমন সময়ে আমি বিন্ইয়ামীন প্রদেশ থেকে এক জন লোককে তোমার কাছে প্রেরণ করবো; তুমি তাকে আমার লোক ইসরাইলের নায়ক করার জন্য অভিষেক করবে; আর সে ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে আমার লোকদের নিস্তার করবে; কেননা আমার লোকদের কান্না আমার কর্ণগোচর হওয়াতে আমি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম।
17 পরে শামুয়েল তালুতকে দেখলে মাবুদ তাঁকে বললেন, দেখ, এই সেই ব্যক্তি, যার বিষয়ে আমি তোমার কাছে বলেছিলাম, সেই আমার লোকদের উপরে কর্তৃত্ব করবে।
18 তখন তালুত ফটকে শামুয়েলের কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আরজ করি, দর্শকের বাড়ি কোথায়, আমাকে বলে দিন।
19 তখন শামুয়েল তালুতকে উত্তর করলেন, আমিই দর্শক, আমার সম্মুখবর্তী হয়ে উচ্চস্থলীতে চল; কেননা আজ তোমরা আমার সঙ্গে ভোজন করবে; সকালে আমি তোমাকে বিদায় করবো এবং তোমার মনের সমস্ত কথা তোমাকে জানাবো।
20 আর আজ তিন দিন হল, তোমার যেসব গাধী হারিয়েছে, তাদের জন্য চিন্তিত হয়ো না; সেসব পাওয়া গেছে। আর ইসরাইলের সমস্ত বাঞ্ছনীয় দ্রব্য কার? সেই সমস্ত কি তোমার এবং তোমার সমস্ত পিতৃকুলের নয়?
21 তালুত জবাবে বললেন, আমি কি ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম বিন্ইয়ামীন-বংশীয় নই? আবার বিন্ইয়ামীন-বংশের মধ্যে আমার গোষ্ঠী কি সবচেয়ে ক্ষুদ্র নয়? তবে আপনি আমাকে কেন এই রকম কথা বলেন?
22
পরে শামুয়েল তালুত ও তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে খাবার বাড়িতে গেলেন, অনুমান ত্রিশ জন দাওয়াত পাওয়া লোকদের মধ্যে তাঁদেরকে উত্তম স্থানে বসালেন।
23 পরে শামুয়েল পাচককে বললেন, আমি যে অংশ তোমাকে দিয়ে তোমার কাছ রাখতে বলেছিলাম, তা নিয়ে এসো।
24 তাতে পাচক ঊরু ও তার উপরে যা ছিল তা এনে তালুতের সম্মুখে রাখল। আর শামুয়েল বললেন, দেখ, এটি তোমার জন্য রাখা হয়েছিল; তুমি এটি তোমার সম্মুখে রাখ, ভোজন কর; কেননা নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষাতে এটি তোমার জন্য রাখা গেছে, আমি বলেছিলাম যে, আমি লোকদের দাওয়াত করেছি। তাতে সেদিন তালুত শামুয়েলের সঙ্গে আহার করলেন।
25
পরে তাঁরা উচ্চস্থলী থেকে নগরে নেমে গেলে শামুয়েল বাড়ির ছাদের উপরে তালুতের সঙ্গে কথাবার্তা বললেন।
26 পরে তাঁরা প্রভাতে উঠলেন, আর আলো ফুটে উঠলে শামুয়েল বাড়ির ছাদের উপরে তালুতকে ডেকে বললেন, উঠ, আমি তোমাকে বিদায় করি। তখন তালুত উঠলেন, আর তিনি ও শামুয়েল দু’জন বাইরে গেলেন।
27
পরে তাঁরা নেমে নগরের প্রান্তভাগ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময়ে শামুয়েল তালুতকে বললেন, তোমার ভৃত্যটিকে আগে যেতে বল, কিন্তু তুমি কিছুকাল দাঁড়াও, আমি তোমাকে আল্লাহ্র কালাম শুনাই। তাতে তাঁর ভৃত্য এগিয়ে গেল।
1
আর শামুয়েল তেলের শিশি নিয়ে তাঁর মাথায় ঢেলে তাঁকে চুম্বন করে বললেন, মাবুদ কি তোমাকে তাঁর অধিকারের নায়ক করার জন্য অভিষেক করলেন না?
2 আজ তুমি যখন আমার কাছ থেকে প্রস্থান করবে, তখন বিন্ইয়ামীনের সীমানায় সেল্সহে রাহেলার কবরের কাছে দু’জন পুরুষের দেখা পাবে; তারা তোমাকে বলবে, তুমি যেসব গাধীর খোঁজে গিয়েছিলে সেগুলো পাওয়া গেছে; আর দেখ, তোমার পিতা গাধীগুলোর ভাবনা ছেড়ে দিয়ে তোমার জন্য চিন্তা করছেন, বলছেন, আমার পুত্রের জন্য কি করবো?
3 পরে তুমি সেখান থেকে অগ্রসর হয়ে তাবোরের এলোন গাছের কাছে আসবে, সে স্থানে বেথেলে আল্লাহ্র কাছে যাচ্ছে, এমন তিন জন পুরুষের দেখা পাবে, দেখবে, তাদের মধ্যে এক জন তিনটি ছাগলের বাচ্চা, আর এক জন তিনখানা রুটি, আর এক জন এক কূপা আঙ্গুর-রস বহন করছে।
4 তারা তোমাকে সালাম জানাবে ও দু’খানা রুটি তোমাকে দেবে এবং তুমি তাদের হাত থেকে তা গ্রহণ করবে।
5 পরে ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদল যেখানে আছে, তুমি আল্লাহ্র সেই পর্বতে উপস্থিত হবে, সেখানে নগরে পৌঁছিলে, এমন এক দল নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে, যারা নেবল, তবল, বাঁশী ও বীণা নিয়ে ভাবোক্তি বলতে বলতে উচ্চস্থলী থেকে নেমে আসছে।
6 তখন মাবুদের রূহ্ সবলে তোমার উপরে অবস্থান নেবেন, তাতে তুমিও তাদের সঙ্গে ভাবোক্তি বলবে এবং অন্য রকম মানুষ হয়ে উঠবে।
7 এসব চিহ্ন তোমার প্রতি ঘটলে তোমার হাত যা করতে পারে, তা করো, কেননা আল্লাহ্ তোমার সহবর্তী।
8 আর তুমি আমার আগে গিল্গলে নেমে যাবে, আর দেখ, পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করার জন্য আমি তোমার কাছে যাব; আমি তোমার কাছে উপস্থিত হয়ে তোমার কর্তব্য তোমাকে না জানানো পর্যন্ত সাত দিন বিলম্ব করবে।
9
পরে তিনি শামুয়েলের কাছ থেকে যাবার জন্য ফিরে দাঁড়ালে আল্লাহ্ তাকে অন্য মন দিলেন এবং সেদিন ঐ সমস্ত চিহ্ন সফল হল।
10 তাঁরা সেখানে, সেই পর্বতে, উপস্থিত হলে, দেখ, এক দল নবী তাঁর সম্মুখে পড়লেন; এবং আল্লাহ্র রূহ্ সবলে তাঁর উপরে আসলেন ও তাঁদের মধ্যে তিনি ভাবোক্তি বলতে লাগলেন।
11 আর যারা আগে তাঁকে জানত, তারা সকলে যখন দেখলো, তিনি নবীদের সঙ্গে ভাবোক্তি বলছেন, তখন লোকেরা পরস্পর বললো, কীশের পুত্রের কি হল? শৌলও কি নবীদের মধ্যে এক জন?
12 তাতে সেখানকার এক জন জবাবে বললো, ভাল, ওদের পিতা কে? এভাবে, “শৌলও কি নবীদের মধ্যে এক জন?” এই কথা প্রবাদ হয়ে উঠলো।
13 পরে তিনি ভাবোক্তি বলা শেষ করে উচ্চস্থলীতে গেলেন।
14
পরে তালুতের চাচা তাঁকে ও তাঁর ভৃত্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোথায় গিয়েছিলে? তিনি বললেন, গাধীগুলোর খোঁজে; কিন্তু গাধীগুলো কোন স্থানে নেই দেখে আমরা শামুয়েলের কাছে গিয়েছিলাম।
15 তালুতের চাচা বললেন, বল, শামুয়েল তোমাদের কি বললেন?
16 তখন তালুত তাঁর চাচাকে বললেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বললেন, সমস্ত গাধী পাওয়া গেছে। কিন্তু রাজত্বের বিষয় যে কথা শামুয়েল বলেছিলেন, তা তিনি তাঁকে বললেন না।
17
পরে শামুয়েল লোকদেরকে মিস্পাতে মাবুদের কাছে ডাকালেন;
18 আর বনি-ইসরাইলদের বললেন, মাবুদ ইসরাইলের আল্লাহ্, এরকম বলেন, আমিই ইসরাইলকে মিসর থেকে এনেছি এবং মিসরীয়দের হাত থেকে ও তোমাদের প্রতি যে সমস্ত রাজ্য জুলুম করতো, তাদের হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করেছি।
19 কিন্তু তোমরা আজ তোমাদের আল্লাহ্কে, যিনি সমস্ত দুর্দশা ও সঙ্কট থেকে তোমাদের নিস্তার করে আসছেন, তাঁকেই অগ্রাহ্য করলে এবং তাঁকে বললে যে, আমাদের উপরে এক জন বাদশাহ্ নিযুক্ত কর; অতএব তোমরা এখন স্ব স্ব বংশ ও স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে মাবুদের সাক্ষাতে উপস্থিত হও।
20
পরে শামুয়েল ইসরাইলের সমস্ত বংশকে কাছে আনালে বিন্ইয়ামীন-বংশ নিশ্চিত হল।
21 আর এক এক গোষ্ঠী অনুসারে বিন্ইয়ামীন-বংশকে কাছে আনালে মট্রীয়দের গোষ্ঠী নিশ্চিত হল এবং তার মধ্যে কীশের পুত্র তালুত নিশ্চিত হলেন; কিন্তু খোঁজ করলে তাঁর খোঁজ পাওয়া গেল না।
22 অতএব তারা পুনরায় মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলো, সেই ব্যক্তি কি এই স্থানে এসেছে? মাবুদ বললেন, দেখ, সেই ব্যক্তি জিনিসপত্রের মধ্যে লুকিয়ে আছে।
23 পরে তারা দৌড়ে সেখান থেকে তাঁকে আনলো। আর তিনি লোকদের মধ্যে দাঁড়ালে পর দেখা গেল তিনি অন্য লোকদের চেয়ে প্রায় এক ফুট লম্বা।
24 পরে শামুয়েল সমস্ত লোককে বললেন, তোমরা কি এই মানুষটিকে দেখছ? ইনি মাবুদের মনোনীত; সমস্ত লোকের মধ্যে এঁর মত কেউ নেই। তখন সকলে জয়ধ্বনি করে বললো, বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
25
পরে শামুয়েল লোকদের রাজতন্ত্রের নিয়ম-কানুন বললেন এবং তা পুস্তকে লিখে মাবুদের সম্মুখে রাখলেন। আর শামুয়েল সমস্ত লোককে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে বিদায় করলেন।
26 আর তালুতও গিবিয়ায় তাঁর বাড়িতে গেলেন; এবং আল্লাহ্ যাদের অন্তর স্পর্শ করলেন, এমন এক দল সৈন্য তাঁর সঙ্গে গমন করলো।
27 কিন্তু পাষণ্ডেরা কেউ কেউ বললো, এই ব্যক্তি আমাদের কিভাবে উদ্ধার করবে? তারা তাঁকে তুচ্ছ জ্ঞান করে উপহার দিল না; তবুও তিনি নির্বিকার ও নির্বাক থাকলেন।
1
পরে অম্মোনীয় নাহশ এসে যাবেশ-গিলিয়দের সম্মুখে শিবির স্থাপন করলেন; আর যাবেশের সমস্ত লোক নাহশকে বললো, আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ম স্থির করুন; আমরা আপনার গোলাম হব।
2 অম্মোনীয় নাহশ তাদের এই জবাব দিলেন, আমি এই শর্তে তোমাদের সঙ্গে নিয়ম স্থির করবো যে, তোমাদের সকলের ডান চোখ উৎপাটন করতে হবে এবং এর মধ্য দিয়ে আমি সমস্ত ইসরাইলে কলঙ্ক লাগাব।
3 তখন যাবেশের প্রাচীনবর্গরা বললেন, আপনি সাত দিন আমাদের প্রতি ক্ষান্ত থাকুন; আমরা ইসরাইল দেশের সমস্ত অঞ্চলে দূত প্রেরণ করি; তাতে কেউ যদি আমাদের নিস্তার না করে, তবে আমরা বের হয়ে আপনার কাছে যাব।
4
পরে দূতেরা তালুতের বাসস্থান গিবিয়ায় এসে লোকদের ঐ কথা অবগত করলো, তাতে সমস্ত লোক চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে লাগল।
5
পরে দেখ, তালুত ক্ষেত থেকে বলদের পিছনে পিছনে আসছেন। তালুত জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের কি হয়েছে? ওরা কেন কান্নাকাটি করছে? লোকেরা যাবেশের লোকদের কথা তাঁকে বললো।
6 ঐ কথা শুনে আল্লাহ্র রূহ্ তালুতের উপরে সবলে আসলেন এবং তাঁর ক্রোধ অতিশয় প্রজ্বলিত হয়ে উঠলো।
7 আর তিনি এক জোড়া বলদ নিয়ে খণ্ড খণ্ড করে ঐ দূতদের দ্বারা ইসরাইল দেশের সমস্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, যে কেউ তালুত ও শামুয়েলের পিছনে বাইরে না আসবে, তার সকল বলদের প্রতি এরকম করা যাবে; তাতে মাবুদের প্রতি লোকদের ভয় উপস্থিত হওয়াতে তারা এক জন মানুষের মত বের হয়ে আসল।
8 পরে তিনি বেষকে তাদের গণনা করলেন; তাতে ইসরাইলদের তিন লক্ষ ও এহুদার ত্রিশ হাজার লোক হল।
9
পরে তারা সেই আগত দূতদের বললো, তোমরা যাবেশ-গিলিয়দের লোকদের বলবে, আগামীকাল প্রখর রৌদ্রের সময়ে তোমরা উদ্ধার পাবে। তখন দূতেরা এসে যাবেশের লোকদের ঐ সংবাদ দিলে তারা আনন্দিত হল।
10 পরে যাবেশের লোকেরা নাহশকে বললো, আগামীকাল আমরা আপনাদের কাছে বের হয়ে যাব; আপনাদের দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, আমাদের প্রতি তা-ই করবেন।
11 পর দিন তালুত তাঁর লোকদের তিনটি দলে ভাগ করে শেষ রাতে দুশমনদের শিবিরের মধ্যে এসে প্রচণ্ড রৌদ্র পর্যন্ত অম্মোনীয়দের সংহার করলেন; আর তাদের অবশিষ্ট লোকেরা এমন ছিন্নভিন্ন হল যে, তাদের দু’জন এক স্থানে থাকলো না।
12
পরে লোকেরা শামুয়েলকে বললো, কে বলেছে, তালুত কি আমাদের উপরে বাদশাহ্ হবে? সেই লোকদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিন, আমরা তাদের হত্যা করবো।
13 কিন্তু তালুত বললেন, আজ কারো প্রাণদণ্ড হবে না, কেননা আজ মাবুদ ইসরাইলের মধ্যে নিস্তার সাধন করলেন।
14
পরে শামুয়েল লোকদের বললেন, চল, আমরা গিল্গলে গিয়ে সেখানে রাজত্ব পুনর্বার স্থির করি।
15 তাতে সমস্ত লোক গিল্গলে গিয়ে সেই গিল্গলে মাবুদের সম্মুখে তালুতকে বাদশাহ্ করলো এবং সেই স্থানে মাবুদের সম্মুখে মঙ্গল-কোরবানী করলো; আর সেই স্থানে তালুত ও ইসরাইলের সমস্ত লোক মহা আনন্দ করলো।
1
পরে শামুয়েল সমস্ত ইসরাইলকে বললেন, দেখ, তোমরা আমাকে যা যা বললে, আমি তোমাদের সেসব কথা শুনে তোমাদের উপরে এক জনকে বাদশাহ্ নিযুক্ত করলাম।
2 এখন দেখ, বাদশাহ্ তোমাদের সম্মুখে গমনাগমন করছেন; কিন্তু আমি বৃদ্ধ হয়েছি ও আমার চুল পেকে গেছে; আর দেখ, আমার পুত্ররা তোমাদের সঙ্গে আছে এবং আমি বাল্যকাল থেকে আজ পর্যন্ত তোমাদের সম্মুখে গমনাগমন করে আসছি।
3 আমি এই স্থানে আছি; তোমরা মাবুদের সাক্ষাতে এবং তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির সাক্ষাতে আমার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বল দেখি, আমি কার গরু নিয়েছি? কার গাধা নিয়েছি? কার প্রতি দৌরাত্ম্য করেছি? কার উপরেই বা উৎপীড়ন করেছি? কিম্বা নিজের চোখ অন্ধ করার জন্য কার হাত থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছি? আমি তোমাদের তা ফিরিয়ে দেব।
4 তারা বললো, আপনি আমাদের উপর দৌরাত্ম্য করেন নি, আমাদের উপরে উৎপীড়ন করেন নি, কারো হাত থেকে কিছু গ্রহণ করেন নি।
5 তিনি তাদের বললেন, তোমরা আমার হাতে কোন দ্রব্য পাও নি, এই বিষয়ে আজ তোমাদের বিপক্ষে মাবুদ সাক্ষী এবং তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তি সাক্ষী। তারা জবাবে বললো, তিনি সাক্ষী।
6
পরে শামুয়েল লোকদের বললেন, মাবুদই মূসা ও হারুনকে নিযুক্ত করেছিলেন এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
7 তোমরা এখন প্রস্তুত হও; তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি মাবুদ যে সমস্ত মঙ্গলের কাজ সাধন করেছেন, সেই বিষয়ে আমি মাবুদের সাক্ষাতে তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করবো।
8 ইয়াকুব মিসরে যাবার পর যখন তোমাদের পূর্বপুরুষেরা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করেছিল, তখন মাবুদ মূসা ও হারুনকে প্রেরণ করেন; আর তাঁরা মিসর থেকে তোমাদের পূর্বপুরুষদের বের করে আনলেন এবং এই স্থানে তাদের বাস করালেন।
9 কিন্তু লোকেরা তাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে গেল, আর তিনি হাৎসোরের সেনাপতি সীষরার হাতে, ফিলিস্তিনীদের হাতে ও মোয়াব বাদশাহ্র হাতে তাদের বিক্রি করলেন এবং এরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
10 তখন তারা মাবুদের কাছে কেঁদে কেঁদে বললো, আমরা গুনাহ্ করেছি, আমরা মাবুদকে ত্যাগ করে বালদেবতাদের ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করেছি; কিন্তু এখন তুমি দুশমনদের হাত থেকে আমাদের উদ্ধার কর, আমরা তোমার সেবা করবো।
11 পরে মাবুদ যিরুব্বাল, বদান, যিপ্তহ ও শামুয়েলকে প্রেরণ করে তোমাদের চারদিকের দুশমনদের হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করলেন; তাতে তোমরা নির্ভয়ে বাস করলে।
12 পরে যখন তোমরা দেখলে অম্মোণ সন্তানদের বাদশাহ্ নাহশ তোমাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে আসছে, তখন, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাদের বাদশাহ্ থাকতেও তোমরা আমাকে বললে, না, আমাদের উপরে এক জন বাদশাহ্ রাজত্ব করুন।
13 অতএব এই দেখ, সেই বাদশাহ্, যাঁকে তোমরা মনোনীত করেছ ও বেছে নিয়েছ; দেখ, মাবুদ তোমাদের উপরে এক জন বাদশাহ্ নিযুক্ত করেছেন।
14 যদি তোমরা মাবুদকে ভয় কর, তাঁর সেবা কর ও তাঁর কালাম পালন কর এবং মাবুদের হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ না কর, আর তোমরা ও তোমাদের উপরে যিনি কর্তৃত্ব করবেন সেই বাদশাহ্, উভয়ে যদি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের অনুগামী হও, তবে ভাল।
15 কিন্তু তোমরা যদি মাবুদের কথায় মনযোগ না দাও এবং মাবুদের হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ কর, তবে মাবুদের হাত যেমন তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের বিরুদ্ধে ছিল, তেমনি তোমাদেরও বিরুদ্ধে যাবে।
16 অতএব তোমরা প্রস্তুত হও; মাবুদ তোমাদের সাক্ষাতে যে মহৎ কাজ করবেন, তা দেখ।
17 আজ কি গম কাটার সময় নয়? আমি মাবুদকে ডাকব, যেন তিনি মেঘ-গর্জন ও বৃষ্টি দেন; তাতে তোমরা জানবে ও বুঝবে যে, তোমরা নিজেদের জন্য বাদশাহ্ চেয়ে মাবুদের সাক্ষাতে খুব অন্যায় করেছ।
18 তখন শামুয়েল মাবুদকে ডাকলে মাবুদ ঐ দিনে মেঘ-গর্জন ও বৃষ্টি দিলেন; তাতে সমস্ত লোক মাবুদ ও শামুয়েলকে খুব ভয় করতে লাগল।
19
আর সমস্ত লোক শামুয়েলকে বললো, আমরা যেন মারা না পড়ি, এজন্য আপনি আপনার গোলামদের জন্য আপনার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত করুন; কেননা আমরা আমাদের সকল গুনাহ্র উপরে এই দুষ্কর্ম করেছি যে, আমাদের জন্য বাদশাহ্ চেয়েছি।
20 শামুয়েল লোকদের বললেন, ভয় করো না; তোমরা এই সমস্ত দুষ্কর্ম করেছ বটে, কিন্তু কোন মতে মাবুদের পেছন থেকে সরে যেও না, সর্বান্তঃকরণে মাবুদের সেবা কর।
21 সরে যেও না, গেলে সেসব অবস্তুর অনুগামী হবে, যারা অবস্তু বলে উপকার ও উদ্ধার করতে পারে না।
22 কারণ মাবুদ তাঁর মহানামের গুণে তাঁর লোকদের ত্যাগ করবেন না; কেননা তোমাদের তাঁর লোক করতে মাবুদের অভিমত হয়েছে।
23 আর আমিই যে তোমাদের জন্য মুনাজাত করতে বিরত হয়ে মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করবো, তা দূরে থাকুক; আমি তোমাদের উত্তম ও সরল পথ শিক্ষা দেব;
24 তোমরা কেবল মাবুদকে ভয় কর ও সর্বান্তঃকরণে ও সত্যে তাঁর সেবা কর; কেননা দেখ, তিনি তোমাদের জন্য কেমন মহৎ মহৎ কাজ করলেন।
25 কিন্তু তোমরা যদি মন্দ আচরণ কর, তবে তোমরা ও তোমাদের বাদশাহ্ উভয়ে বিনষ্ট হবে।
1
তালুত ত্রিশ বছর বয়সে বাদশাহ্ হন। দু’বছর ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করার পর,
2 তালুত নিজের জন্য ইসরাইলের মধ্যে তিন হাজার লোক মনোনীত করলেন; তার দুই হাজার মিক্মসে ও বেথেল পর্বতে তালুতের সঙ্গে থাকলো; এবং এক হাজার বিন্ইয়ামীন প্রদেশের গিবিয়াতে যোনাথনের সঙ্গে থাকলো; আর অন্য সমস্ত লোককে তিনি নিজ নিজ তাঁবুতে বিদায় করলেন।
3 পরে যোনাথন গেবাতে অবস্থিত ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদলকে আঘাত করলে ফিলিস্তিনীরা তা শুনতে পেল; তখন তালুত দেশের সর্বত্র তূরী বাজিয়ে বললেন, ইব্রানীরা শুনুক।
4 তখন সমস্ত ইসরাইল এই কথা শুনতে পেল যে, তালুত ফিলিস্তিনীদের সেই প্রহরী সৈন্যদলকে আঘাত করেছেন, আর ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের কাছে ঘৃণাস্পদ হয়েছে। পরে লোকদের ডাকা হলে তারা তালুতের পিছনে গিল্গলে একত্র হল।
5
পরে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য জমায়েত হল; ত্রিশ হাজার রথ, ছয় হাজার ঘোড়সওয়ার ও সমুদ্রতীরস্থ বালুকণার মত অসংখ্য লোক এল; তারা এসে বৈৎ-আবনের পূর্ব দিকে মিক্মসে শিবির স্থাপন করলো।
6 তখন ইসরাইল লোকেরা নিজদেরকে বিপদগ্রস্ত দেখলো, কেননা লোকেরা নির্যাতিত হচ্ছিল; তখন তারা গুহাতে, ঝোপে, শৈলে, পাকা বাড়িতে ও গর্তে লুকিয়ে রইল।
7 আর অনেক ইবরানী জর্ডান পার হয়ে গাদ ও গিলিয়দ দেশে চলে গেল। কিন্তু তখনও তালুত গিল্গলে ছিলেন; এবং তাঁর সঙ্গের সমস্ত লোক ভয়ে কাঁপতে লাগল।
8
পরে তালুত শামুয়েলের নির্ধারিত সময়ানুসারে সাত দিন অপেক্ষা করলেন; কিন্তু শামুয়েল গিল্গলে আগমন করলেন না এবং লোকেরা তাঁর কাছ থেকে বিছিন্ন হতে লাগল।
9 তাতে তালুত বললেন, এই স্থানে আমার কাছে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী আন। পরে তিনি পোড়ানো-কোরবানী করলেন।
10 পোড়ানো-কোরবানী সমাপ্ত করামাত্র দেখ, শামুয়েল উপস্থিত হলেন; তাতে তালুত তাঁকে কুশল জানবার জন্য তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন।
11 পরে শামুয়েল বললেন, তুমি কি করলে? তালুত বললেন, আমি দেখলাম, লোকেরা আমার কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত দিনের মধ্যে আপনিও আসেন নি, আর ফিলিস্তিনীরা মিক্মসে জমায়েত হয়েছে।
12 তাই আমি মনে মনে বললাম, ফিলিস্তিনীরা এখনই আমার বিরুদ্ধে গিল্গলে নেমে আসবে, আর আমি মাবুদের অনুগ্রহ যাচ্ঞা করি নি; এজন্য ইচ্ছা না থাকলেও আমি পোড়ানো-কোরবানী করলাম।
13 শামুয়েল তালুতকে বললেন, তুমি নির্বোধের কাজ করেছ; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যে হুকুম দিয়েছেন, তা পালন কর নি; করলে মাবুদ এখন ইসরাইলের উপরে তোমার রাজত্ব চিরকাল স্থায়ী করতেন।
14 কিন্তু এখন তোমার রাজত্ব স্থির থাকবে না; মাবুদ তাঁর মনের মত একজনের খোঁজ করে তাকেই তাঁর লোকদের নেতৃত্ব পদে নিযুক্ত করেছেন; কেননা মাবুদ তোমাকে যা হুকুম করেছিলেন, তুমি তা পালন কর নি।
15 পরে শামুয়েল উঠে গিল্গল থেকে বিন্ইয়ামীনের গিবিয়াতে প্রস্থান করলেন; তখন তালুত তাঁর কাছে উপস্থিত লোকদেরকে গণনা করে দেখলেন, তারা অনুমান ছয় শত।
16
তালুত, তাঁর পুত্র যোনাথন ও তাঁদের কাছে উপস্থিত লোকেরা বিন্ইয়ামীনের গেবাতে থাকলেন এবং ফিলিস্তিনীরা মিক্মসে শিবির স্থাপন করে রইলো।
17 পরে ফিলিস্তিনীদের শিবির থেকে তিন দল বিনাশক সৈন্য বের হল, তার এক দল অফ্রার পথে গমন করে শূয়াল প্রদেশে গেল।
18 আর এক দল বৈৎ-হোরোণের পথের দিকে ফিরল; এবং আর এক দল মরুভূমির দিকে সিবোয়িম উপত্যকার অভিমুখী সীমার পথ দিয়ে গমন করলো।
19
ঐ সময়ে সমস্ত ইসরাইল দেশে কর্মকার পাওয়া যেত না; কারণ ফিলিস্তিনীরা বলতো, ইব্রানীরা নিজেদের জন্য কোন তলোয়ার বা বর্শা তৈরি করতে পারবে না।
20 এজন্য নিজ নিজ হলমুখ বা ফাল বা কুড়াল বা কোদাল শাণ দেবার জন্য ইসরাইলের সমস্ত লোককে ফিলিস্তিনীদের কাছে নেমে যেতে হত;
21 সুতরাং সকলের কোদাল, ফাল, বিদা, কুড়ালের ধার এবং অস্ত্রশস্ত্রের অগ্রভাগ ভোঁতা ছিল;
22 আর যুদ্ধের দিনে তালুত ও যোনাথনের সঙ্গী লোকদের কারো হাতে তলোয়ার বা বর্শা পাওয়া গেল না, কেবল তালুত ও তাঁর পুত্র যোনাথনের হাতে পাওয়া গেল।
23
পরে ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদল বের হয়ে মিক্মসের পাহাড়ী পথে এল।
1
এক দিন এই ঘটনা হল, তালুতের পুত্র যোনাথন তাঁর অস্ত্র-বাহক যুবককে বললেন, চল, আমরা ঐ দিকে ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদলের কাছে যাই; কিন্তু তিনি এই কথা তাঁর পিতাকে জানালেন না।
2 তখন তালুত গিবিয়ার প্রান্তভাগে মিগ্রোণে অবস্থিত ডালিম গাছের তলে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে অনুমান ছয় শত লোক ছিল।
3 আর আলী, যিনি শীলোতে মাবুদের ইমাম ছিলেন, তাঁর সন্তান পীনহসের সন্তান ঈখাবোদের ভাই অহীটুবের পুত্র যে অহিয়, তিনি এফোদ পরিহিত ছিলেন। আর যোনাথন যে বের হয়ে গেছেন সেই কথা লোকেরা জানত না।
4 যোনাথন যে পাহাড়ী পথ দিয়ে ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদলের কাছে যেতে চেষ্টা করলেন, সেই ঘাটের মধ্যস্থলে এক পাশে সুউচ্চ এক শৈল এবং অন্য পাশে সুউচ্চ আর এক শৈল ছিল; তার একটি নাম বোৎসেস ও আর একটির নাম সেনি।
5 তার মধ্যে একটি শৈল উত্তর দিকে মিকমসের অভিমুখে, আর একটি ছিল দক্ষিণ দিকে গেবার অভিমুখে।
6
আর যোনাথন তাঁর অস্ত্রবাহক যুবককে বললেন, চল, আমরা ঐ দিকে খৎনা-না-করানো প্রহরীদলের কাছে যাই; হয় তো মাবুদ আমাদের জন্য কাজ করবেন; কেননা অনেকের দ্বারা হোক বা অল্পের দ্বারা হোক, নিস্তার করতে মাবুদের কোন প্রতিবন্ধক নেই।
7 তখন তাঁর অস্ত্রবাহক বললো, আপনার যা মনে আসে, তা-ই করুন; সেই দিকে ফিরুন, দেখুন, আপনার মনোবাঞ্ছা অনুসারে আমি আপনার সঙ্গে সঙ্গে আছি।
8 যোনাথন বললেন, দেখ, আমরা ঐ লোকদের দিকে অগ্রসর হব, ওদের সামনে দেখা দেব।
9 যদি তারা আমাদের বলে, থাক, আমরা তোমাদের কাছে আসবো, তবে আমরা নিজেদের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকব, তাদের কাছে যাব না।
10 কিন্তু যদি বলে, আমাদের কাছে এসো, তবে আমরা যাব, কেননা মাবুদ আমাদের হাতে তাদের তুলে দিয়েছেন; এ-ই আমাদের চিহ্ন হবে।
11 পরে তাঁরা দু’জন ফিলিস্তিনীদের প্রহরীদলের কাছে দেখা দিলে ফিলিস্তিনীরা বললো, দেখ, ইবরানীরা যেসব গর্তে লুকিয়ে ছিল, তা থেকে এখন বের হয়ে আসছে।
12 পরে সেই প্রহরীদলের লোকেরা যোনাথন ও তাঁর অস্ত্রবাহককে বললো, আমাদের কাছে এসো, আমরা তোমাদের কিছু দেখাব। যোনাথন তাঁর অস্ত্রবাহককে বললেন, আমার পিছনে এসো, কারণ মাবুদ ওদেরকে ইসরাইলের অধিকারভুক্ত করেছেন।
13 পরে যোনাথন হামাগুড়ি দিয়ে উঠে গেলেন এবং তাঁর অস্ত্রবাহক তাঁর পিছনে গেল; তাতে সেই লোকেরা যোনাথনের সম্মুখে মারা পড়তে লাগল এবং তাঁর অস্ত্রবাহক তাঁর পিছনে পিছনে তাদের হত্যা করতে লাগল।
14 যোনাথন ও তাঁর অস্ত্রবাহকের কৃত এই প্রথম হত্যাকাণ্ডে এক বিঘার প্রায় অর্ধেক একর পরিমিত ভূমিতে কমবেশি কুড়ি জন নিহত হল।
15 আর শিবিরের মধ্যে, ক্ষেতে ও সমস্ত সৈন্যের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হল, প্রহরী ও বিনাশক-দলগুলোও ভয়ে কাঁপতে লাগল; আর ভূমিকম্প হল; এভাবে তাদের মধ্যে আল্লাহ্ থেকে মহাভয় উপস্থিত হল।
16
তখন বিন্ইয়ামীনের গিবিয়াতে অবস্থিত তালুতের প্রহরীরা চেয়ে দেখলো; আর দেখ, লোকের ভিড় ভেঙ্গে গেল, তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়লো।
17 তখন তালুত তাঁর সঙ্গীদের বললেন, একবার লোক গণনা করে দেখ, আমাদের মধ্য থেকে কে গেছে? পরে তারা গণনা করে দেখলো যোনাথন ও তাঁর অস্ত্রবাহক সেখানে নেই।
18 তখন তালুত অহিয়কে বললেন, আল্লাহ্র সিন্দুক এই স্থানে আন; কেননা সেই দিনে আল্লাহ্র সিন্দুক বনি-ইসরাইলদের মধ্যে ছিল।
19 পরে যখন তালুত ইমামের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদের মধ্যে উত্তরোত্তর কোলাহল বৃদ্ধি পেতে লাগল। তাতে তালুত ইমামকে বললেন, হাত টেনে নাও।
20 আর তালুত ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক সমাগত হয়ে যুদ্ধে গমন করলেন, আর, দেখ প্রত্যেকজনের তলোয়ার একে অন্যের প্রতিকূল হওয়াতে অতিশয় কোলাহল হচ্ছিল।
21 আর যে ইবরানীরা আগে ফিলিস্তিনীদের পক্ষ হয়েছিল, যারা চারদিক থেকে তাদের সঙ্গে শিবিরের মধ্যে এসেছিল, তারাও তালুত ও যোনাথনের সঙ্গী ইসরাইলদের সঙ্গে যোগ দিল।
22 আর ইসরাইলের যে সমস্ত লোক পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে লুকিয়ে ছিল, তারাও ফিলিস্তিনীদের পলায়নের সংবাদ শুনে যুদ্ধে তাদের পিছনে তাড়া করতে লাগল।
23 এই ভাবেই মাবুদ ঐ দিনে ইসরাইলকে নিস্তার করলেন এবং বৈৎ-আবনের পার পর্যন্ত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লো।
24
ঐ দিনে ইসরাইল লোকেরা দুর্দশাপন্ন হয়েছিল, কিন্তু তালুত লোকদেরকে এই কসম করিয়েছিলেন, সন্ধ্যাবেলার আগে, আমি যে পর্যন্ত আমার দুশমনদের প্রতিফল না দিই, সেই পর্যন্ত যে কেউ খাদ্য গ্রহণ করবে, সে বদদোয়াগ্রস্ত হবে। এজন্য লোকদের মধ্যে কেউই খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ করলো না।
25 পরে সকলে বনের মধ্যে গেল, সেখানে ভূমির উপরে মধু ছিল।
26 আর লোকেরা যখন বনে উপস্থিত হল, দেখ, মধু ক্ষরছে, কিন্তু কেউ সেই কসম ভাঙ্গবার ভয়ে তা মুখে তুললো না;
27 কিন্তু যোনাথনের পিতা লোকদের যে কসম করিয়েছিলেন, যোনাথন তা শোনেন নি, তাই তিনি তাঁর হাতে থাকা লাঠির অগ্রভাগ বাড়িয়ে দিয়ে একটি মধুর চাকে ডুবিয়ে হাতে করে মুখে দিলেন; তাতে তাঁর চোখ সতেজ হল।
28 তখন লোকদের মধ্যে এক জন বললো, তোমার পিতা শপথ সহকারে লোকদেরকে এই দৃঢ় হুকুম দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আজ খাদ্য গ্রহণ করবে, সে বদদোয়াগ্রস্ত হবে; কিন্তু সমস্ত লোক ক্লান্ত হয়েছে।
29 যোনাথন বললেন, আমার পিতা লোকদেরকে ভয়ে ব্যাকুল করেছেন; আরজ করি, দেখ, এই একটুখানি মধু মুখে দেওয়াতে আমার চোখ কেমন সতেজ হল।
30 আজ যদি লোকেরা দুশমনদের থেকে পাওয়া লুটের দ্রব্য থেকে যথেষ্ট আহার করতে পেত, তবে আরও সতেজ হত। কেননা এখন ফিলিস্তিনীদের মধ্যে মহাহত্যা হয় নি।
31
ঐ দিনে তারা মিক্মস থেকে অয়ালোন পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদেরকে আক্রমণ করলো; আর লোকেরা অতিশয় ক্লান্ত হয়ে পড়লো।
32 পরে তারা লুটদ্রব্যের দিকে দৌড়ে ভেড়া, গরু ও বাছুর ধরে ভূমিতে জবেহ্ করে রক্তসুদ্ধ ভোজন করতে লাগল।
33 তখন কেউ কেউ তালুতকে বললো, দেখুন, লোকেরা রক্তসুদ্ধ ভোজন করে মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করছে; তাতে তিনি বললেন, তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছ; এখন আমার কাছে একটি বড় পাথর গড়িয়ে আন।
34 তালুত আরও বললেন, তোমরা চারদিকে গিয়ে তাদেরকে বল, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গরু ও প্রত্যেকজন যার যার ভেড়া আমার কাছে আন, আর এই স্থানে জবেহ্ করে ভোজন কর; রক্তসুদ্ধ ভোজন করে মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করো না। তাতে সমস্ত লোক সেই রাত্রে প্রত্যেকে নিজ নিজ গরু সঙ্গে করে এনে সেই স্থানে জবেহ্ করলো।
35 আর তালুত মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন, তা মাবুদের উদ্দেশে তাঁর নির্মিত প্রথম কোরবানগাহ্।
36
পরে তালুত বললেন, চল, আমরা রাত্রে ফিলিস্তিনীদের পেছন পেছন নেমে গিয়ে প্রভাত পর্যন্ত তাদের দ্রব্য লুট করি এবং তাদের এক জনকেও অবশিষ্ট রাখবো না। তারা বললো, আপনার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই করুন। পরে ইমাম বললো, এসো, আমরা এই স্থানে আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হই।
37 তাতে তালুত আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি ফিলিস্তিনীদের পিছনে নেমে যাব? তুমি কি তাদের ইসরাইলের হাতে তুলে দেবে? কিন্তু সেদিন তিনি তাঁকে জবাব দিলেন না।
38 তখন তালুত বললেন, হে লোকদের সমস্ত নেতৃবর্গ, তোমরা কাছে এসো এবং আজকের এই গুনাহ্ কিসে হল তা খুঁজে দেখ।
39 ইসরাইলের উদ্ধারকর্তা জীবন্ত মাবুদের কসম, যদি আমার পুত্র যোনাথনেরই দোষে তা হয়ে থাকে, তবে সে অবশ্য মরবে। কিন্তু সমস্ত লোকের মধ্যে কেউই তাঁকে উত্তর দিল না।
40 পরে তিনি সমস্ত ইসরাইলকে বললেন, তোমরা একদিকে থাক এবং আমি ও আমার পুত্র যোনাথন অন্য দিকে থাকি। তাতে লোকেরা তালুতকে বললো, আপনার বিবেচনায় যা ভাল মনে হয়, তা-ই করুন।
41 পরে তালুত মাবুদকে বললেন, হে ইসরাইলের আল্লাহ্, যথার্থ কি, দেখিয়ে দিন; তখন যোনাথন ও তালুত ধরা পড়লেন, কিন্তু লোকেরা মুক্ত হল।
42 পরে তালুত বললেন, আমার ও আমার পুত্র যোনাথনের মধ্যে গুলিবাঁট কর; তাতে যোনাথন ধরা পড়লেন।
43
তখন তালুত যোনাথনকে বললেন, বল দেখি, তুমি কি করেছ? যোনাথন বললেন, আমি আমার হাতে থাকা লাঠির অগ্রভাগে একটু মধু নিয়ে চেখেছিলাম; তাই আমাকে মরতে হবে।
44 তালুত বললেন, আল্লাহ্ অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন; যোনাথন, তোমাকে অবশ্য মরতে হবে।
45 কিন্তু লোকেরা তালুতকে বললো, ইসরাইলের মধ্যে যিনি এমন মহানিস্তার সাধন করেছেন, সেই যোনাথন কি মরবেন? এমন না হোক, জীবন্ত মাবুদের কসম, তাঁর মাথার একটি কেশও মাটিতে পড়বে না, কেননা উনি আজ আল্লাহ্র সঙ্গে কাজ করেছেন। এভাবে লোকেরা যোনাথনকে রক্ষা করলো, তাঁর মৃত্যু হল না।
46 পরে তালুত ফিলিস্তিনীদের তাড়া করা বন্ধ করে ফিরে আসলেন, আর ফিলিস্তিনীরা স্বস্থানে গমন করলো।
47
ইসরাইলের উপর রাজত্ব গ্রহণ করার পর তালুত সকল দিকে সমস্ত দুশমনের সঙ্গে, অর্থাৎ মোয়াবীয়, অম্মোনীয়, ইদোমীয়, সোবার বাদশাহ্দের ও ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি যে কোন দিকে ফিরতেন, সকলের সর্বনাশ ঘটাতেন।
48 তিনি বীরত্বের সঙ্গে কাজ করতেন, আমালেককে আঘাত করলেন এবং লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে ইসরাইলকে উদ্ধার করলেন।
49
যোনাথন, যিশ্বি ও মল্কীশূয় নামে তালুতের তিন পুত্র ছিলেন; আর তাঁর দু’টি কন্যার নাম এরকম— জ্যেষ্ঠার নাম মেরব, কনিষ্ঠার নাম মীখল;
50 আর তালুতের স্ত্রীর নাম অহীনোয়ম, তিনি অহীমাসের কন্যা; এবং তাঁর সেনাপতির নাম অব্নের; ইনি তালুতের চাচা নেরের পুত্র।
51 আর কীশ তালুতের পিতা এবং অব্নেরের পিতা নের অবীয়েলের পুত্র।
52
তালুতের সারা জীবনকাল ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে ঘোরতর যুদ্ধ হল। আর তালুত কোন বলবান পুরুষ বা কোন বীর পুরুষকে দেখলে তাকে তাঁর সৈন্যদলে গ্রহণ করতেন।
1
আর শামুয়েল তালুতকে বললেন, মাবুদ তাঁর লোকদের ও ইসরাইলের উপরে তোমাকে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করতে আমাকেই প্রেরণ করেছিলেন; অতএব এখন তুমি মাবুদের কথা শোন।
2 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইলের প্রতি আমালেক যা করেছিল, মিসর থেকে তাদের আসার সময়ে সে পথের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে যেরকম ঘাঁটি বসিয়েছিল আমি তা লক্ষ্য করেছি।
3 এখন তুমি গিয়ে আমালেককে আক্রমণ কর ও তার যা কিছু আছে নিঃশেষে বিনষ্ট কর, তার প্রতি রহম করো না; স্ত্রী ও পুরুষ, বালক-বালিকা ও স্তন্যপায়ী শিশু, গরু ও ভেড়া, উট ও গাধা সকলকেই মেরে ফেলবে।
4
পরে তালুত লোকদের ডেকে এনে টলায়ীমে তাদের গণনা করলেন; তাতে দুই লক্ষ পদাতিক ও এহুদার দশ হাজার লোক হল।
5 পরে তালুত আমালেকীয়দের নগর পর্যন্ত গিয়ে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকলেন।
6 আর তালুত কেনীয়দের বললেন, তোমরা যাও, অন্য কোথাও যাও, আমালেকীয়দের মধ্য থেকে প্রস্থান কর, পাছে আমি তাদের সঙ্গে তোমাদেরকেও বিনষ্ট করি; যখন মিসর থেকে সমস্ত বনি-ইসরাইল বের হয়ে এসেছিল, তখন তোমরা তাদের প্রতি দয়া করেছিলে। অতএব কেনীয়রা আমালেকীয়দের মধ্য থেকে প্রস্থান করলো।
7 পরে তালুত হবীলা থেকে মিসরের সম্মুখস্থ শূর পর্যন্ত আমালেকীয়দের আক্রমণ করলেন।
8 তিনি আমালেকের বাদশাহ্ অগাগকে জীবিত ধরলেন এবং সমস্ত লোককে তলোয়ারের আঘাতে নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন।
9 কিন্তু তালুত ও লোকেরা অগাগের প্রতি এবং উত্তম উত্তম ভেড়া ও গরু, পুষ্ট বাছুর এবং ভেড়ার বাচ্চা ও সমস্ত উত্তম বস্তুর প্রতি দয়া করলেন, সেগুলোকে নিঃশেষে বিনষ্ট করতে চাইলেন না; কিন্তু যা কিছু তুচ্ছ রুগ্ন, তা-ই নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন।
10
পরে শামুয়েলের কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
11 আমি তালুতকে বাদশাহ্ করেছি বলে আমার অনুশোচনা হচ্ছে, যেহেতু সে আমার পিছনে চলা থেকে ফিরে গিয়েছে, আমার কালাম পালন করে নি। তখন শামুয়েল ক্রুদ্ধ হলেন এবং সমস্ত রাত মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলেন।
12
পরে শামুয়েল তালুতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রত্যুষে উঠলেন; তখন শামুয়েলকে এই সংবাদ দেওয়া হল, তালুত কর্মিলে এসেছিলেন এবং তিনি নিজের জন্য একটি স্তম্ভ প্রস্তুত করিয়েছেন, পরে সেখান থেকে ফিরে, ঘুরে গিল্গলে নেমে গেলেন।
13 আর শামুয়েল তালুতের কাছে আসলে তালুত তাঁকে বললেন, মাবুদ আপনাকে দোয়া করুন; আমি মাবুদের কালাম পালন করেছি;
14 শামুয়েল বললেন, তবে আমার কর্ণগোচরে ভেড়ার ডাক আসছে কেন? আর এই গরুর ডাক আমি শুনতে পাচ্ছি কেন?
15 তালুত বললেন, সেসব আমালেকীয়দের থেকে আনা হয়েছে; ফলত আপনার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য লোকেরা উত্তম উত্তম ভেড়া ও গরুগুলো জীবিত রেখেছে; কিন্তু আমরা অবশিষ্ট লোকদেরকে নিঃশেষে বিনষ্ট করেছি।
16 তখন শামুয়েল তালুতকে বললেন, ক্ষান্ত হও; গত রাতে মাবুদ আমাকে যা বলেছেন, তা তোমাকে বলি।
17
তালুত বললেন, বলুন। শামুয়েল বললেন, যদিও তুমি তোমার দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ছিলে, তবুও তোমাকে কি ইসরাইল বংশগুলোর মাথা করা হয় নি? আর মাবুদ তোমাকে ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্র পদে অভিষিক্ত করলেন।
18 পরে মাবুদ তোমাকে একটি কাজে পাঠালেন, বললেন, যাও, সেই গুনাহ্গার আমালেকীয়দের নিঃশেষে বিনষ্ট কর; এবং যে পর্যন্ত তারা উচ্ছিন্ন না হয়, ততদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর।
19 তবে তুমি মাবুদের কথা মান্য না করে কেন লুটের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করলে?
20 তালুত শামুয়েলকে বললেন, আমি তো মাবুদের কথা মান্য করেছি, যে কাজে মাবুদ আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই কাজ করেছি, আর আমালেকের বাদশাহ্ অগাগকে ধরে নিয়ে এসেছি ও আমালেকীয়দের নিঃশেষে বিনষ্ট করেছি।
21 কিন্তু গিল্গলে আপনার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য লোকেরা বর্জিত দ্রব্যের অগ্রিমাংশ বলে লুটের মধ্য থেকে কতকগুলো ভেড়া ও গরু এনেছে।
22 শামুয়েল বললেন, মাবুদের কথা পালন করলে যেমন, তেমন কি পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানীতে মাবুদ খুশি হন? দেখ, কোরবানীর চেয়ে হুকুম পালন করা উত্তম এবং ভেড়ার চর্বির চেয়ে তাঁর কালামের বাধ্য হওয়া উত্তম।
23 কারণ হুকুম লঙ্ঘন করা মন্ত্র উচ্চারণ করার মতই গুনাহ্ এবং অবাধ্যতা, পৌত্তলিকতা ও মূর্তি পূজার সমান। তুমি মাবুদের কালাম অগ্রাহ্য করেছ, এজন্য তিনি তোমাকে অগ্রাহ্য করে রাজ্যচ্যুত করেছেন।
24
তখন তালুত শামুয়েলকে বললেন, আমি গুনাহ্ করেছি; ফলত মাবুদের হুকুম ও আপনার নির্দেশ লঙ্ঘন করেছি; কারণ আমি লোকদেরকে ভয় করে তাদের কথায় মনযোগ দিয়েছি।
25 এখন আরজ করি, আমার গুনাহ্ মাফ করুন ও আমার সঙ্গে ফিরে আসুন; আমি মাবুদকে সেজ্দা করবো।
26 শামুয়েল তালুতকে বললেন, আমি তোমার সঙ্গে ফিরে যাব না; কেননা তুমি মাবুদের কালাম অগ্রাহ্য করেছ, আর মাবুদ তোমাকে অগ্রাহ্য করে ইসরাইলের রাজ্যচ্যুত করেছেন।
27 এই কথা বলে শামুয়েল চলে যাবার জন্য ফিরে দাঁড়ালেন, তখন তালুত তাঁর পোশাকের একটি অংশ ধরলেন, তাতে তা ছিঁড়ে গেল।
28 তখন শামুয়েল তাঁকে বললেন, মাবুদ আজ তোমার কাছ থেকে ইসরাইলের রাজ্য টেনে ছিঁড়লেন এবং তোমার চেয়ে উত্তম তোমার এক জন প্রতিবেশীকে তা দিলেন।
29 যিনি ইসরাইলের বিশ্বাসভূমি তিনি মিথ্যা কথা বলেন না ও মন পরিবর্তন করেন না; কেননা তিনি মানুষ নন যে, মন পরিবর্তন করবেন।
30 তখন তালুত বললেন, আমি গুনাহ্ করেছি; তবু আরজ করি, এখন আমার লোকদের ও প্রধান ব্যক্তিবর্গের ও ইসরাইলের সম্মুখে আমার সম্মান রাখুন, আমার সঙ্গে ফিরে আসুন; আমি আপনার আল্লাহ্ মাবুদকে সেজ্দা করবো।
31 তাতে শামুয়েল তালুতের সঙ্গে গেলেন; আর তালুত মাবুদকে সেজ্দা করলেন।
32
পরে শামুয়েল বললেন, তোমরা আমালেকের বাদশাহ্ অগাগকে এই স্থানে আমার কাছে আন। তাতে অগাগ পুলকিত মনে তাঁর কাছে আসলেন, তিনি ভাবলেন, মৃত্যুর তিক্ততা নিশ্চয়ই গেল।
33 কিন্তু শামুয়েল বললেন, তোমার তলোয়ার দ্বারা স্ত্রীলোকেরা যেমন সন্তানহীনা হয়েছে, তেমনি স্ত্রীলোকদের মধ্যে তোমার মাও সন্তানহীনা হবে; তখন শামুয়েল গিল্গলে মাবুদের সাক্ষাতে অগাগকে খণ্ড-বিখণ্ড করলেন।
34
পরে শামুয়েল রামাতে গেলেন এবং তালুত গিবিয়াস্থিত নিজের বাড়িতে গেলেন।
35 আর মরণ দিন পর্যন্ত শামুয়েল তালুতের সঙ্গে আর সাক্ষাৎ করলেন না। শামুয়েল তালুতের জন্য শোক করতেন। আর মাবুদ ইসরাইলের উপরে তালুতকে বাদশাহ্ করেছেন বলে অনুশোচনা করলেন।
1
পরে মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, তুমি কতকাল তালুতের জন্য শোক করবে? আমি তো তাকে অগ্রাহ্য করে ইসরাইলের রাজ্যচ্যুত করেছি। তুমি তোমার শিংগায় তেল ভরে নাও, যাও, আমি তোমাকে বেথেলহেমীয় ইয়াসির কাছে প্রেরণ করি, কেননা তার পুত্রদের মধ্যে আমি আমার জন্য এক জন বাদশাহ্কে দেখে রেখেছি।
2 শামুয়েল বললেন, আমি কিভাবে যেতে পারি? তালুত যদি এই কথা শোনে, তবে আমাকে হত্যা করবে। মাবুদ বললেন, তুমি একটি বক্না বাছুর সঙ্গে নিয়ে যাবে এবং বলবে, তুমি মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করতে এসেছ।
3 আর ইয়াসিকে সেই কোরবানীতে দাওয়াত করবে, পরে তোমাকে কি করতে হবে তা আমি তোমাকে জানাবো; এবং আমি তোমার কাছে যার নাম করবো, তুমি আমার জন্য তাকে অভিষেক করবে।
4 পরে শামুয়েল মাবুদের সেই কালাম অনুসারে কাজ করলেন, তিনি বেথেলহেমে উপস্থিত হলেন; তখন নগরের প্রাচীনবর্গরা কাঁপতে কাঁপতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলেন, আর বললেন, আপনি শান্তির মনোভাব নিয়ে এসেছেন তো?
5 তিনি বললেন, শান্তির মনোভাব নিয়েই এসেছি; আমি মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করতে এসেছি; তোমরা নিজদের পবিত্র করে আমার সঙ্গে কোরবানীতে যোগ দাও। আর তিনি ইয়াসি ও তার পুত্রদেরকে পবিত্র করে কোরবানীতে দাওয়াত করলেন।
6
পরে তাঁরা আসলে তিনি ইলীয়াবের প্রতি দৃষ্টিপাত করে মনে মনে বললেন, অবশ্যই মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তি তাঁর সম্মুখে।
7 কিন্তু মাবুদ শামুয়েলকে বললেন, তুমি ওর মুখশ্রী বা কায়িক দীর্ঘতার প্রতি দৃষ্টিপাত করো না; কারণ আমি ওকে অগ্রাহ্য করলাম। কেননা মানুষ যা দেখে, তা কিছু নয়; যেহেতু মানুষ প্রত্যক্ষ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, কিন্তু মাবুদ অন্তঃকরণের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।
8 পরে ইয়াসি অবীনাদবকে ডেকে শামুয়েলের সম্মুখ দিয়ে গমন করালেন; শামুয়েল বললেন, মাবুদ একেও মনোনীত করেন নি;
9 পরে ইয়াসি শম্মকে তাঁর সম্মুখ দিয়ে গমন করালেন; তিনি বললেন, মাবুদ একেও মনোনীত করেন নি।
10 এভাবে ইয়াসি তাঁর সাত পুত্রকে শামুয়েলের সম্মুখ দিয়ে গমন করালেন। পরে শামুয়েল ইয়াসিকে বললেন, মাবুদ এদেরকে মনোনীত করেন নি।
11 পরে শামুয়েল ইয়াসিকে বললেন, এরাই কি তোমার সমস্ত ছেলে? তিনি বললেন, কেবল কনিষ্ঠ অবশিষ্ট আছে, দেখুন, সে ভেড়া চরাচ্ছে। তখন শামুয়েল ইয়াসিরকে বললেন, লোক পাঠিয়ে তাকে আনাও; সে না আসলে আমরা ভোজনে বসবো না।
12 পরে তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে আনালেন। তিনি কিছুটা লাল রংয়ের, সুনয়ন ও দেখতে সুন্দর ছিলেন। তখন মাবুদ বললেন, উঠ, একে অভিষেক কর, কেননা এ-ই সেই ব্যক্তি।
13 অতএব শামুয়েল তেলের শিঙ্গা নিয়ে তাঁর ভাইদের মধ্যে তাঁকে অভিষেক করলেন। আর সেদিন থেকে মাবুদের রূহ্ দাউদের উপরে আসলেন। পরে শামুয়েল উঠে রামাতে চলে গেলেন।
14
তখন মাবুদের রূহ্ তালুতকে ত্যাগ করেছিলেন, আর মাবুদের কাছ থেকে একটি দুষ্ট রূহ্ এসে তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে লাগল।
15 পরে তালুতের গোলামেরা তাঁকে বললো, দেখুন, আল্লাহ্র কাছ থেকে একটি দুষ্ট রূহ্ এসে আপনাকে উত্ত্যক্ত করছে।
16 আমাদের প্রভু হুকুম করুন, যেন আপনার সম্মুখস্থ এই গোলামেরা এক জন নিপুণ বীণাবাদকের খোঁজ করে; পরে যে সময়ে আল্লাহ্র কাছ থেকে সেই দুষ্ট রূহ্ আপনার উপরে আসবে, সেই সময় সেই ব্যক্তি বীণা বাজালে আপনার উপশম হবে।
17 তখন তালুত তাঁর গোলামদেরকে হুকুম করলেন, তোমরা এক জন নিপুণ বাদকের খোঁজ করে আমার কাছে তাকে আন।
18 যুবকদের এক জন বললো, দেখুন, আমি বেথেলহেমীয় ইয়াসির এক জন পুত্রকে দেখেছি; সে বীণা বাদনে নিপুণ, বলবান বীর, যোদ্ধা, বাক্পটু ও রূপবান, আর মাবুদ তার সহবর্তী।
19
পরে তালুত ইয়াসির কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, তোমার পুত্র দাউদ, যে ভেড়া চরাচ্ছে, তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।
20 তখন ইয়াসি একটা গাধার পিঠে রুটি ও এক কূপা আঙ্গুর-রস পূর্ণ করে এবং একটি ছাগলের বাচ্চা নিয়ে তাঁর পুত্র দাউদের হাতে দিয়ে তালুতের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
21 পরে দাউদ তালুতের কাছে এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ালে তিনি তাঁকে খুব আদর যত্ন করতে লাগলেন, আর তিনি তাঁর অস্ত্রবাহক হলেন।
22 পরে তালুত ইয়াসিকে বলে পাঠালেন, আরজ করি, দাউদকে আমার সম্মুখে দাঁড়াতে দাও; কেননা সে আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছে।
23 পরে আল্লাহ্র কাছ থেকে সেই রূহ্ যখন তালুতের কাছে আসত, তখন দাউদ বীণা নিয়ে নিজের হাতে বাজাতেন; তাতে তালুত সুস্থ হতেন, উপশম পেতেন এবং সেই দুষ্ট রূহ্ তাঁকে ছেড়ে যেত।
1
পরে ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধ করার জন্য সৈন্যসামন্ত সংগ্রহ করে এহুদা অধিকৃত সোখোতে জমায়েত হল এবং সোখো ও অসেকার মধ্যে এফস্দম্মীমে শিবির স্থাপন করলো।
2 আর তালুত ও ইসরাইল লোকেরা জমায়েত হয়ে এলা উপত্যকাতে শিবির স্থাপন করে ফিলিস্তিনীদের বিপক্ষে সৈন্য রচনা করলেন।
3 এভাবে ফিলিস্তিনীরা এক দিকে এক পর্বতে ও ইসরাইল অন্য দিকে অন্য পর্বতে দাঁড়াল; উভয়ের মধ্যে একটি উপত্যকা ছিল।
4
পরে গাৎ-নিবাসী এক বীর ফিলিস্তিনীদের শিবির থেকে বের হয়ে আসল। তার নাম ছিল জালুত এবং সে সাড়ে ছয় হাত লম্বা ছিল।
5 তার মাথায় ছিল ব্রোঞ্জের শিরস্ত্রাণ এবং সে আঁশের মত বর্মে সজ্জিত ছিল; সেই বর্ম ব্রোঞ্জের, তার পরিমাণ পাঁচ হাজার শেকল।
6 আর তার পা ব্রোঞ্জের বর্মে আবৃত ও তার কাঁধে ব্রোঞ্জের তলোয়ার ছিল।
7 তার বর্শার দণ্ডটা তন্তুবায়ের নরাজের সমান ও বর্শার ফলাটা ছিল লোহার ও এর ওজন ছিল ছয় শত শেকল। তার ঢাল বহনকারী তার সম্মুখভাগে চলতো।
8 সে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের সৈন্য শ্রেণীকে লক্ষ্য করে চেঁচিয়ে বললো, তোমরা কেন যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য সজ্জিত করে বের হয়ে এসেছো? আমি কি এক জন ফিলিস্তিনী নই, আর তোমরা কি তালুতের গোলাম নও? তোমরা নিজেদের জন্য এক জনকে মনোনীত কর; সে আমার কাছে নেমে আসুক।
9 সে যদি আমার সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়, আমাকে হত্যা করে, তবে আমরা তোমাদের গোলাম হব; কিন্তু আমি যদি তাকে পরাজিত করে হত্যা করতে পারি, তবে তোমরা আমাদের গোলাম হবে, আমাদের গোলামীর কাজ করবে।
10 সেই ফিলিস্তিনী আরও বললো, আজ আমি ইসরাইলের সৈন্যদেরকে টিট্কারি দিচ্ছি; তোমরা এক জনকে দাও, আমরা পরস্পর যুদ্ধ করি।
11 তখন তালুত ও সমস্ত ইসরাইল সেই ফিলিস্তিনীর এসব কথা শুনে হতাশ হলেন ও ভীষণ ভয় পেলেন।
12
দাউদ ছিলেন বেথেলহেম-এহুদা নিবাসী সেই ইফ্রাথীয় পুরুষের পুত্র, যাঁর নাম ইয়াসির; সেই ব্যক্তির আট জন পুত্র ছিল, আর তালুতের সময়ে তিনি বৃদ্ধ ও গতবয়স্ক হয়েছিলেন।
13 সেই ইয়াসিরের বড় তিন পুত্র তালুতের পিছনে যুদ্ধে গমন করেছিলেন। যুদ্ধে যাওয়া তার তিন পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম ইলীয়াব; দ্বিতীয় পুত্রের নাম অবীনাদব; আর তৃতীয় পুত্রের নাম শম্ম।
14 দাউদ ছিলেন কনিষ্ঠ পুত্র; আর সেই বড় তিন জন তালুতের অনুগামী হয়েছিলেন।
15 কিন্তু দাউদ তালুতের কাছ থেকে বেথেলহেমে তাঁর পিতার ভেড়া চরাবার জন্য যাতায়াত করতেন।
16 আর সেই ফিলিস্তিনী চল্লিশ দিন পর্যন্ত প্রাতঃকালে ও সন্ধ্যাবেলা কাছে এগিয়ে এসে নিজেকে দেখাত।
17
আর ইয়াসি তাঁর পুত্র দাউদকে বললেন, তুমি তোমার ভাইদের জন্য এই এক ঐফা ভাজা শস্য ও দশখানা রুটি নিয়ে শিবিরে তাদের কাছে দৌড়ে যাও।
18 আর এই দশ তাল পনীর তাদের সহস্র্রপতির কাছে নিয়ে গিয়ে তোমার ভাইয়েরা কেমন আছে, দেখে এসো, তাদের থেকে কোন চিহ্ন নিয়ে এসো।
19 তালুত ও তোমার ভাইয়েরা এবং সমস্ত ইসরাইল এলা উপত্যকাতে আছে, ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।
20
পরে দাউদ খুব ভোরে উঠে ভেড়াগুলোকে এক জন রক্ষকের হাতে দিয়ে ইয়াসির হুকুম অনুসারে ঐ সমস্ত দ্রব্য নিয়ে গমন করলেন। তিনি যে সময়ে শিবিরের কাছে উপস্থিত হলেন, সেই সময়ে সৈন্যরা যুদ্ধে যাবার জন্য বের হচ্ছিল এবং সংগ্রামের জন্য সিংহনাদ করছিল।
21 পরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনীরা পরস্পর সম্মুখাসম্মুখি হয়ে সৈন্য রচনা করলো।
22 তখন দাউদ দ্রব্যরক্ষকের হাতে তার সমস্ত দ্রব্য রেখে সৈন্যশ্রেণীর মধ্যে দৌড়ে গিয়ে তাঁর ভাইদের কুশল জিজ্ঞাসা করলেন।
23 তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন, ইতোমধ্যে দেখ, গাৎ-নিবাসী ফিলিস্তিনী জালুত নামক সেই বীর ফিলিস্তিনীদের সৈন্যশ্রেণী থেকে উঠে এসে আগের মত কথা বললো; আর দাউদ তা শুনলেন।
24
কিন্তু ইসরাইলের সমস্ত লোক সেই ব্যক্তিকে দেখে তার সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল, তারা ভীষণ ভয় পেয়েছিল।
25 আর ইসরাইলের লোকেরা একে অপরকে বললো, এই যে ব্যক্তি উঠে এল, একে তোমরা দেখছ তো? এই তো ইসরাইলকে উপহাস করতে এসেছে। একে যে হত্যা করতে পারবে বাদশাহ্ তাকে প্রচুর ধনে ধনবান করবেন ও তাকে তাঁর কন্যা দেবেন এবং ইসরাইলের মধ্যে তার পিতৃকুলকে কর থেকে মুক্ত করবেন।
26 তখন দাউদ, কাছে যে লোকেরা দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, এই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে যে ব্যক্তি ইসরাইলের কলঙ্ক খণ্ডন করবে, তার প্রতি কি করা হবে? এই খৎনা-না-করানো ফিলিস্তিনীটা কে যে, জীবন্ত আল্লাহ্র সৈন্যদের নিয়ে উপহাস করছে?
27 তাতে লোকেরা এইভাবে তাঁকে জবাবে বললো, ওকে যে হত্যা করবে, সে অমুক পুরস্কার পাবে।
28
সেই লোকদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা বলার সময়ে তাঁর বড় ভাই ইলীয়াব সবই শুনলেন; তাই ইলীয়াব দাউদের উপরে ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে বললেন, তুই কেন নেমে এসেছিস্? মরুভূমির মধ্যে সেই ভেড়া কয়টি কার কাছে রেখে এসেছিস্? তোর অহংকার ও তোর মনের দুষ্টামির কথা আমার জানা আছে; তুই যুদ্ধ দেখতে এসেছিস্।
29 দাউদ বললেন, আমি আবার কি করলাম? আমি তো কেবল একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি?
30 পরে তিনি তাঁর কাছ থেকে আর একজনের দিকে ফিরে সেই একই কথা বললেন; তাতে লোকেরা তাঁকে আগের মত উত্তর দিল।
31
তখন দাউদ যা যা বলেছিলেন তা রাষ্ট্র হয়ে পড়লো ও তালুতের কাছে তার সংবাদ উপস্থিত হল; তাতে তিনি নিজের কাছে তাঁকে ডেকে আনালেন।
32 তখন দাউদ তালুতকে বললেন, ওর জন্য কারো অন্তঃকরণ হতাশ না হোক; আপনার এই গোলাম গিয়ে এই ফিলিস্তিনীটার সঙ্গে যুদ্ধ করবে।
33 তখন তালুত দাউদকে বললেন, তুমি ঐ ফিলিস্তিনীর বিরুদ্ধে গিয়ে তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারবে না, কেননা তুমি বালক এবং সে বাল্যকাল থেকে যোদ্ধা।
34 দাউদ তালুতকে বললেন, আপনার এই গোলাম পিতার ভেড়া রক্ষা করছিল, ইতোমধ্যে একটি সিংহ ও একটি ভালুক এসে পালের মধ্য থেকে ভেড়া ধরে নিয়ে গেল;
35 আমি তার পিছনে পিছনে গিয়ে তাকে প্রহার করে তার মুখ থেকে তা উদ্ধার করলাম; পরে সে আমার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ালে আমি তার কেশর ধরে প্রহার করে তাকে হত্যা করলাম।
36 আপনার গোলাম সেই সিংহ ও সেই ভালুক উভয়কেই হত্যা করেছে; আর এই খৎনা-না-করানো ফিলিস্তিনী সেই দুইয়ের মধ্যে একটির মত হবে, কারণ সে জীবন্ত আল্লাহ্র সৈন্যদের উপহাস করেছে।
37 দাউদ আরও বললেন, যে মাবুদ সিংহের থাবা ও ভালুকের থাবা থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন, তিনি এই ফিলিস্তিনীর হাত থেকে আমাকে নিস্তার করবেন। তখন তালুত দাউদকে বললেন, যাও, মাবুদ তোমার সহবর্তী হবেন।
38
পরে তালুত নিজের সাজ-পোশাকে দাউদকে সাজিয়ে তাঁর মাথায় ব্রোঞ্জের শিরস্ত্রাণ ও শরীরে বর্ম দিলেন।
39 তখন দাউদ সাজ-পোশাকের উপরে তাঁর তলোয়ার বেঁধে চলতে চেষ্টা করলেন, কারণ এর আগে তা কখনও করেন নি। তখন দাউদ তালুতকে বললেন, এই বেশে আমি যেতে পারব না, কেননা এইভাবে চলতে আমার অভ্যেস নেই। পরে দাউদ তা খুলে রাখলেন।
40 আর তিনি তাঁর লাঠিখানা হাতে নিলেন এবং বয়ে যাওয়া পানির স্রোত থেকে পাঁচখানি মসৃণ পাথর বেছে নিয়ে, নিজের কাছে যে ভেড়ার রাখালের ঝুলি ছিল তাতে রাখলেন এবং নিজের ফিঙ্গাটি হাতে করে ঐ ফিলিস্তিনীর কাছে এগিয়ে গেলেন।
41
আর সেই ফিলিস্তিনী আসতে লাগল এবং দাউদের নিকটবর্তী হল, আর সেই ঢাল বহনকারী লোকটি তার আগে আগে চললো।
42 পরে ফিলিস্তিনী চারদিকে চেয়ে দেখলো, আর দাউদকে দেখতে পেয়ে তুচ্ছজ্ঞান করলো; কেননা তিনি বালক, কিছুটা লাল রংয়ের ও দেখতে সুন্দর ছিলেন।
43 পরে ঐ ফিলিস্তিনী দাউদকে বললো, আমি কি কুকুর যে, তুই লাঠি নিয়ে আমার কাছে আসছিস্? আর সেই ফিলিস্তিনী তার দেবতাদের নাম নিয়ে দাউদকে বদদোয়া দিল।
44 ফিলিস্তিনী দাউদকে আরও বললো, তুই আমার কাছে আয়, আমি তোর গোশ্ত আসমানের পাখিদের ও মাঠের পশুদেরকে খেতে দিই।
45 তখন দাউদ ঐ ফিলিস্তিনীকে বললেন, তুমি তলোয়ার, বর্শা ও বল্লম নিয়ে আমার কাছে আসছ, কিন্তু আমি বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের সৈন্যদের আল্লাহ্র নামে, তুমি যাঁকে উপহাস করেছ তাঁরই নামে, তোমার কাছে আসছি।
46 আজ মাবুদ তোমাকে আমার হাতে তুলে দিবেন; আর আমি তোমাকে আঘাত করবো, তোমার দেহ থেকে মুণ্ড তুলে নেব এবং ফিলিস্তিনীদের সৈন্যের লাশ আজ আকাশের পাখি ও ভূমির পশুদের খেতে দেব; তাতে ইসরাইলে এক জন আল্লাহ্ আছেন তা সমস্ত দুনিয়া জানতে পারবে।
47 আর মাবুদ তলোয়ার ও বর্শা দ্বারা নিস্তার করেন না, এই কথাও এই সমস্ত সমাজ জানতে পারবে; কেননা এই যুদ্ধ মাবুদের, আর তিনি তোমাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিবেন।
48
পরে ঐ ফিলিস্তিনী উঠে দাউদের সম্মুখীন হবার জন্য নিকটবর্তী হলে দাউদ তাড়াতাড়ি ঐ ফিলিস্তিনীর সম্মুখীন হবার জন্য সৈন্যশ্রেণীর দিকে দৌড় দিলেন।
49 পরে দাউদ তাঁর ঝুলি থেকে একখানি পাথর বের করলেন এবং ফিঙ্গাতে পাক দিয়ে ঐ ফিলিস্তিনীর কপালে আঘাত করলেন; সেই পাথরখানি তার কপালে বসে গেল; তাতে সে ভূমিতে অধোমুখ হয়ে পড়ে গেল।
50
এইভাবে দাউদ ফিঙ্গা ও পাথর দিয়ে ঐ ফিলিস্তিনীকে পরাজিত করলেন এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন; কিন্তু দাউদের হাতে তলোয়ার ছিল না।
51 তাই দাউদ দৌড়ে ঐ ফিলিস্তিনীর পাশে দাঁড়িয়ে তারই তলোয়ার নিয়ে খাপ খুলে তাকে হত্যা করলেন এবং তা দ্বারা তার মাথা কেটে ফেললেন। ফিলিস্তিনীরা যখন দেখতে পেল যে, তাদের বীর মরে গেছে, তখন তারা পালিয়ে গেল।
52
আর ইসরাইলের ও এহুদার লোকেরা উঠে জয়ধ্বনি করলো এবং গাৎ ও ইক্রোণের দ্বার পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেল; তাতে ফিলিস্তিনীদের আহতরা শারয়িমের পথে গাৎ ও ইক্রোণ পর্যন্ত পড়ে থাকল।
53 পরে বনি-ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের পিছনে তাড়া করা বন্ধ করে ফিরে এসে তাদের শিবির লুট করলো।
54 পরে দাউদ সেই ফিলিস্তিনীর মুণ্ড তুলে জেরুশালেমে নিয়ে গেলেন, কিন্তু তার সাজ-পোশাক নিজের তাঁবুতে রাখলেন।
55
আর তালুত যখন ঐ ফিলিস্তিনীর বিরুদ্ধে দাউদকে যেতে দেখেছিলেন, তখন সেনাপতি অব্নেরকে বলেছিলেন, অব্নের, এই যুবক কার পুত্র? অবন্ের বলেছিলেন, হে বাদশাহ্! আপনার জীবন্ত প্রাণের কসম, আমি তা বলতে পারি না।
56 পরে বাদশাহ্ বলেছিলেন, তুমি জিজ্ঞাসা কর, ঐ বালকটি কার পুত্র?
57 পরে দাউদ যখন ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে ফিরে আসছেন, তখন অব্নের তাঁকে ধরে তালুতের কাছে নিয়ে গেলেন; তাঁর হাতে ঐ ফিলিস্তিনীর মুণ্ড ছিল।
58 তালুত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে যুবক, তুমি কার পুত্র? জবাবে দাউদ বললেন, আমি আপনার গোলাম বেথেলহেমীয় ইয়াসির পুত্র।
1
তালুতের সঙ্গে তাঁর কথা শেষ হলে যোনাথনের প্রাণ দাউদের প্রাণের প্রতি আসক্ত হল এবং যোনাথন তাঁর প্রাণের মতই তাঁকে ভালবাসতে লাগলেন।
2 আর তালুত ঐ দিনে তাঁকে গ্রহণ করলেন, তাঁর পিতার বাড়িতে ফিরে যেতে দিলেন না।
3 আর যোনাথন ও দাউদ একটি নিয়ম করলেন, কেননা যোনাথন তাঁকে প্রাণতুল্য ভালবাসলেন।
4 আর যোনাথন তাঁর কোর্তা খুলে দাউদকে দিলেন আর তাঁর যুদ্ধের সাজ-পোশাক, এমন কি, নিজের তলোয়ার, ধনুক ও কোমরবন্ধনীও দিলেন।
5 পরে তালুত দাউদকে যে স্থানেই প্রেরণ করতেন, দাউদ সেই স্থানে যেতেন ও বুদ্ধিপূর্ববক চলতেন, এজন্য তালুত সৈন্যদের উপরে সেনাপতি পদে তাঁকে নিযুক্ত করলেন, আর তা সমস্ত লোকের এবং তালুতের গোলামদের দৃষ্টিতেও ভাল মনে হল।
6
পরে লোকেরা ফিরে আসলে যখন দাউদ ফিলিস্তিনীদের আঘাত করে ফিরে আসছিলেন, তখন বাদশাহ্ তালুতের সঙ্গে সাক্ষাত করতে ইসরাইলের সমস্ত নগর থেকে স্ত্রীলোকেরা তম্বুরাধ্বনি, আনন্দ গীত ও ত্রিতন্ত্রীবাদ্য বাদ্য সহকারে গান ও নৃত্য করতে করতে বের হয়ে এল।
7 সেই স্ত্রী-লোকেরা অভিনয় করে একে একে গান করে বললো,
তালুত মারলেন হাজার হাজার,
আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত।
8
এতে তালুত ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন, তিনি এই কথায় অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, ওরা দাউদের বিষয়ে অযুত অযুতের কথা বললো ও আমার বিষয়ে কেবল হাজার হাজারের কথা বললো; এতে রাজত্ব ছাড়া সে আর কি পাবে?
9 সেদিন থেকে তালুত দাউদের উপরে দৃষ্টি রাখলেন।
10
পরের দিন আল্লাহ্র কাছ থেকে একটি দুষ্ট রূহ্ সবলে তালুতের উপরে এল এবং তিনি বাড়ির মধ্যে প্রলাপ বকতে লাগলেন, আর দাউদ প্রত্যেক দিন যেমন করতেন, তেমনি বাদ্য বাজাচ্ছিলেন; তখন তালুতের হাতে তাঁর বর্শা ছিল।
11 তালুত সেই বর্শা নিক্ষেপ করলেন, বললেন, আমি দাউদকে দেয়ালের সঙ্গে গেঁথে ফেলব; কিন্তু দাউদ দু’বার তাঁর সম্মুখ থেকে সরে গেলেন।
12
আর তালুত দাউদকে ভয় করতে লাগলেন, কারণ মাবুদ দাউদের সহবর্তী ছিলেন, কিন্তু তালুতকে ত্যাগ করেছিলেন।
13 সেজন্য তালুত তাঁর কাছ থেকে তাঁকে দূর করে দিলেন ও সহস্র্রপতি পদে নিযুক্ত করলেন; তাতে তিনি লোকদের সাক্ষাতে ভিতরে ও বাইরে গমনাগমন করতে লাগলেন।
14 আর দাউদ তাঁর সারা পথ বুদ্ধিপূর্বক চলতেন এবং মাবুদ তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
15 তিনি বেশ বুদ্ধিপূর্বক চলছেন দেখে তালুত তাঁকে ভয়ের চোখে দেখতে লাগলেন।
16 কিন্তু সমস্ত ইসরাইল ও এহুদার লোকেরা দাউদকে ভালবাসত, কেননা তিনি তাদের সাক্ষাতে ভিতরে ও বাইরে গমনাগমন করতেন।
17
পরে তালুত দাউদকে বললেন, দেখ, আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা মেরবকে আমি তোমার সঙ্গে বিয়ে দেব; তুমি কেবল আমার পক্ষে শক্তিশালী হয়ে মাবুদের জন্য যুদ্ধ কর। কারণ তালুত বললেন, আমার হাত তার উপরে না উঠুক, কিন্তু ফিলিস্তিনীদের হাত তার উপরে উঠুক।
18 আর দাউদ তালুতকে বললেন, আমি কে এবং আমার প্রাণ কি, ইসরাইলের মধ্যে আমার পিতার গোষ্ঠীই বা কি যে, আমি বাদশাহ্র জামাতা হই?
19 কিন্তু তালুতের কন্যা মেরবকে দাউদের সঙ্গে বিয়ে দেবার সময় উপস্থিত হলে তাকে মহোলাতীয় অদ্রীয়েলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হল।
20
পরে তালুতের কন্যা মীখল দাউদকে মহব্বত করতে লাগলেন; তখন লোকেরা তালুতকে তা জানালে তিনি তাতে সন্তুষ্ট হলেন।
21 তালুত বললেন, আমি তাকে সেই কন্যা দেব; সে তাঁর ফাঁদস্বরূপ হোক ও ফিলিস্তিনীদের হাত তাঁর উপরে উঠুক। অতএব তালুত দাউদকে বললেন, তুমি আজ দ্বিতীয়বার আমার জামাতা হও।
22 পরে তালুত তাঁর গোলামদের হুকুম দিলেন, তোমরা গোপনে দাউদের সঙ্গে আলাপ করে এই কথা বল, দেখ, তোমার প্রতি বাদশাহ্ সন্তুষ্ট এবং তাঁর সমস্ত গোলাম তোমাকে ভালবাসে; অতএব এখন তুমি বাদশাহ্র জামাতা হও।
23 তালুতের গোলামেরা এই কথা দাউদের কর্ণগোচর করলো। দাউদ বললেন, বাদশাহ্র জামাতা হওয়া কি তোমাদের কাছে লঘু বিষয় মনে হয়? আমি তো দরিদ্র লোক, তাচ্ছিল্যের পাত্র।
24 পরে তালুতের গোলামেরা তাঁকে সংবাদ দিয়ে বললো, দাউদ এই রকম কথা বলেন।
25 তালুত বললেন, তোমরা দাউদকে এই কথা বল, বাদশাহ্ কোন পণ চান না, কেবল বাদশাহ্র দুশমনদের প্রতিশোধের জন্য ফিলিস্তিনীদের এক শত লিঙ্গাগ্রত্বক্ চান। তালুত মনে করলেন, ফিলিস্তিনীদের হাত দিয়ে দাউদকে নিপাত করা যাবে।
26 পরে তাঁর গোলামেরা দাউদকে সেই কথা জানালে দাউদ রাজ-জামাতা হতে তুষ্ট হলেন। তখনও কাল সমপূর্ণ হয় নি;
27 দাউদ তাঁর লোকদের সঙ্গে উঠে গিয়ে দুই শত ফিলিস্তিনীকে হত্যা করলেন এবং বাদশাহ্র জামাতা হবার জন্য দাউদ পূর্ণ সংখ্যা অনুসারে তাদের লিঙ্গাগ্রত্বক্ এনে বাদশাহ্কে দিলেন; পরে তালুত তাঁর সঙ্গে তাঁর কন্যা মীখলের বিয়ে দিলেন।
28
আর তালুত বুঝতে পারলেন যে, মাবুদ দাউদের সহবর্তী এবং তালুতের কন্যা মীখল তাঁকে মহব্বত করেন।
29 তাতে তালুত দাউদের বিষয়ে আরও ভয় পেলেন, আর তালুত সব সময়ই দাউদের দুশমন থাকলেন।
30
পরে ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গ যুদ্ধ করবার জন্য বের হতে লাগলেন; কিন্তু যতবার বের হলেন, ততবার তালুতের গোলামদের মধ্যে দাউদ সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিপূর্বক চললেন, তাতে তাঁর নাম অতিশয় সম্মানিত হল।
1
পরে তালুত তাঁর পুত্র যোনাথন ও তাঁর নিজের সমস্ত গোলামকে বলে দিলেন, যেন তারা দাউদকে হত্যা করে। কিন্তু তালুতের পুত্র যোনাথন দাউদের প্রতি অতিশয় অনুরক্ত ছিলেন।
2 যোনাথন দাউদকে বললেন, আমার পিতা তালুত তোমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছেন; অতএব আরজ করি, তুমি খুব ভোরে সাবধান হবে, একটি গুপ্ত স্থানে গিয়ে লুকিয়ে থেকো।
3 তুমি যে ক্ষেতে থাকবে, সেই স্থানে আমি গিয়ে আমার পিতার পাশে দাঁড়াবো ও তোমার বিষয়ে পিতার সঙ্গে কথোপকথন করবো, আর যদি তেমন কিছু বুঝতে পারি তবে তোমাকে বলে দেব।
4 পরে যোনাথন তাঁর পিতা তালুতের কাছে দাউদের পক্ষে ভাল কথা বললেন, তিনি বললেন, বাদশাহ্ তাঁর গোলাম দাউদের বিষয়ে গুনাহ্ না করুন, কেননা সে আপনার বিরুদ্ধে কোন অন্যায় করে নি, বরং তার সমস্ত কাজ আপনার পক্ষে অতি মঙ্গলজনক।
5 সে তো প্রাণ হাতে করে সেই ফিলিস্তিনীকে আঘাত করলো, আর মাবুদ সমস্ত ইসরাইলের পক্ষে মহানিস্তার সাধন করলেন; আপনি তা দেখে আনন্দ করেছিলেন; অতএব এখন অকারণে দাউদকে হত্যা করে কেন নির্দোষের রক্তপাতের গুনাহ্ করবেন?
6 তখন তালুত যোনাথনের কথা শুনলেন এবং তিনি কসম খেয়ে বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, তাকে হত্যা করা হবে না।
7 পরে যোনাথন দাউদকে ডেকে ঐ সমস্ত কথা তাঁকে জানালেন। আর যোনাথন দাউদকে তালুতের কাছে আনলেন, তাতে তিনি আগের মত তাঁর কাছে থাকলেন।
8
পরে পুনর্বার যুদ্ধ উপস্থিত হলে দাউদ বের হয়ে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, তিনি মহাবিক্রমে তাদের সংহার করলেন এবং তারা তাঁর সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
9 আর মাবুদের কাছ থেকে একটি দুষ্ট রূহ্ সবলে তালুতের উপরে এল; তখন তালুত তাঁর বাড়িতে বসে ছিলেন, তাঁর হাতে তাঁর বর্শা ছিল; আর দাউদ বাদ্য বাজাচ্ছিলেন;
10 এমন সময় তালুত বর্শা দিয়ে দাউদকে দেয়ালের সঙ্গে গেঁথে ফেলতে চেষ্টা করলেন; কিন্তু তিনি তালুতের সম্মুখ থেকে সরে যাওয়াতে তাঁর বর্শা দেয়ালে ঢুকে গেল এবং দাউদ সেই রাতে পালিয়ে রক্ষা পেলেন।
11
পরে তালুত দাউদের বাড়ির কাছে দূতদের পাঠালেন, যেন তারা তাঁর উপরে দৃষ্টি রাখে, আর খুব ভোরে তাঁকে হত্যা করে। কিন্তু দাউদের স্ত্রী মীখল তাঁকে সংবাদ দিয়ে বললেন, তুমি যদি এই রাতে নিজের প্রাণ রক্ষা না কর, তবে কাল মারা পড়বে।
12 আর মীখল জানালা দিয়ে দাউদকে নামিয়ে দিলেন; তাতে তিনি পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেলেন।
13 আর মীখল দেবমূর্তিগুলো নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলেন এবং ছাগলের লোমের একটা লেপ তার মাথায় দিয়ে কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখলেন।
14 পরে তালুত দাউদকে ধরতে দূতদের পাঠালে মীখল বললেন, তিনি অসুস্থ আছেন।
15 তাতে তালুত দাউদকে দেখবার জন্য সেই দূতদের পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে পালঙ্কে করে আমার কাছে আন, আমি তাকে হত্যা করবো।
16 পরে দূতেরা যখন ভিতরে গেল, দেখ, পালঙ্কে সেই দেবমূর্তিগুলো ও তার মাথায় ছাগলের লোমের লেপ রয়েছে।
17 তখন তালুত মীখলকে বললেন, তুমি আমাকে কেন এভাবে আমাকে ঠকালে? তুমি আমার দুশমনকে ছেড়ে দেওয়াতে সে পালিয়ে গেছে। তাতে মীখল তালুতকে জবাবে বললেন, তিনি বলেছিলেন, আমাকে যেতে দাও, আমি তোমাকে কেন হত্যা করবো?
18
ইতোমধ্যে দাউদ পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেলেন এবং রামাতে শামুয়েলের কাছে গিয়ে তাঁর প্রতি তালুতের কৃত সমস্ত ব্যবহারের কথা জানালেন, পরে তিনি ও শামুয়েল গিয়ে নায়োতে বাস করলেন।
19 পরে কেউ তালুতকে বললো, দেখুন, দাউদ রামাস্থ নায়োতে আছেন।
20 তখন তালুত দাউদকে ধরবার জন্য দূতদের পাঠালেন, তাতে যখন দূতেরা ভাবোক্তি তবলিগকারী নবীর দলকে ও তাদের নেতারূপে দণ্ডায়মান শামুয়েলকে দেখলো, তখন আল্লাহ্র রূহ্ তালুতের দূতদের উপরে আসলেন, তাতে তারাও ভাবোক্তি তবলিগ করতে লাগল।
21 এই সংবাদ তালুতকে দেওয়া হলে তিনি অন্য দূতদের প্রেরণ করলেন, আর তারাও ভাবোক্তি তবলিগ করতে লাগল। পরে তালুত তৃতীয়বার দূতদের প্রেরণ করলেন, আর তারাও ভাবোক্তি তবলিগ করতে লাগল।
22 তখন তালুত স্বয়ং রামাতে গমন করলেন; আর সেখুস্থ বড় কূপের কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, শামুয়েল ও দাউদ কোথায়? এক জন বললো, দেখুন, তাঁরা রামাস্থ নায়োতে রয়েছেন। তখন তালুত রামাস্থিত নায়োতে গেলেন।
23 আর আল্লাহ্র রূহ্ তাঁর উপরেও আসলেন, তাতে তিনি রামাস্থিত নায়োতে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত যেতে যেতে ভাবোক্তি প্রচার করলেন।
24 আর তিনিও তাঁর কাপড় খুলে ফেললেন এবং তিনিও শামুয়েলের সম্মুখে ভাবোক্তি তবলিগ করলেন, আর সমস্ত দিনরাত উলঙ্গ হয়ে পড়ে রইলেন। এজন্য লোকে বলে, তালুতও কি নবীদের মধ্যে এক জন?
1
পরে দাউদ রামাস্থ নায়োৎ থেকে পালিয়ে যোনাথনের কাছে এসে বললেন, আমি কি করেছি? আমার অপরাধ কি? তোমার পিতার কাছে আমার দোষ কি যে, তিনি আমার প্রাণ নিতে চেষ্টা করছেন?
2 যোনাথন তাঁকে বললেন, এমন না হোক; তুমি মারা পড়বে না। দেখ, আমার পিতা আমাকে না জানিয়ে ছোট কি বড় কোন কাজ করেন না; তবে আমার পিতা আমার কাছ থেকে এই কথা কেন গোপন করবেন? এ হতেই পারে না।
3 তাতে দাউদ কসম খেয়ে পুনর্বার বললেন, আমি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়েছি, এই কথা তোমার পিতা খুব ভাল করেই জানেন; এজন্য তিনি বললেন, যোনাথন এই বিষয় না জানুক, পাছে সে দুঃখিত হয়, কিন্তু জীবন্ত মাবুদের কসম ও তোমার জীবিত প্রাণের কসম, মৃত্যু আমার কাছ থেকে মাত্র এক পা দূরে।
4 যোনাথন দাউদকে বললেন, তোমার প্রাণে যা বলে, আমি তোমার জন্য তা-ই করবো।
5 তখন দাউদ যোনাথনকে বললেন, দেখ, আগামীকাল অমাবস্যা, আমাকে বাদশাহ্র সঙ্গে ভোজনে বসতেই হবে; কিন্তু তুমি আমাকে যেতে দাও, আমি তৃতীয় দিন সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত ক্ষেতে লুকিয়ে থাকি।
6 যদি তোমার পিতা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তুমি বলবে, দাউদ তাঁর নগর বেথেলহেমে শীঘ্র যাবার জন্য আমার অনুমতি যাচ্ঞা করলো, কেননা সেই স্থানে তাদের সমস্ত গোষ্ঠীর জন্য বার্ষিক কোরবানী হচ্ছে।
7 তিনি যদি বলেন, ভাল, তবে তোমার এই গোলামের কুশল; নতুবা যদি বাস্তবিক তিনি ক্রুদ্ধ হন, তবে তুমি জানবে, তিনি অমঙ্গল করবেন বলে স্থির করেছেন।
8 অতএব, তুমি তোমার এই গোলামের প্রতি সদয় ব্যবহার কর, কেননা তুমি তোমার সঙ্গে তোমার এই গোলামকে মাবুদের এক নিয়মে আবদ্ধ করেছ। কিন্তু যদি আমার কোন অপরাধ থাকে, তবে তুমিই আমাকে হত্যা কর; তুমি কেন তোমার পিতার কাছে আমাকে নিয়ে যাবে?
9 যোনাথন বললেন, তোমার প্রতি এমন না ঘটুক; বরঞ্চ আমার পিতা তোমার প্রতি অমঙ্গল ঘটাতে স্থির করেছেন, এই কথা যদি আমি নিশ্চয় করে জানতে পারি, তবে কি তোমাকে বলে দেব না?
10 দাউদ যোনাথনকে বললেন, তোমার পিতা যদি তোমাকে নিষ্ঠুর-ভাবে উত্তর দেন তবে কে আমাকে জানাবে?
11 যোনাথন দাউদকে বললেন, চল, আমরা বের হয়ে ক্ষেতে যাই। তাতে তাঁরা দু’জন বের হয়ে ক্ষেতে গেলেন।
12
পরে যোনাথন দাউদকে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ সাক্ষী, আগামীকাল বা পরশু অনুমান এই সময়ে পিতার কাছে কথা তুলে দেখব; দেখ, দাউদের পক্ষে ভাল বুঝলে আমি কি তখনই তোমার কাছে লোক পাঠিয়ে তা তোমাকে জানবো না? যদি তোমার অমঙ্গল করতে আমার পিতার মনোবাসনা থাকে,
13 আর আমি তোমাকে তা না জানাই, তবে মাবুদ যোনাথনকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন; আর আমি তোমাকে পাঠিয়ে দেব, তাতে তুমি সহিসালামতে যাবে; মাবুদ যেমন আমার পিতার সহবর্তী হয়েছেন, তেমনি তোমারও সহবর্তী থাকুন।
14 আর আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে যতদিন জীবিত থাকব তুমি কেবল আমাকেই যে মাবুদের রহম দেখাবে এমন নয়,
15 কিন্তু তুমি আমার কুলের প্রতিও রহম দেখাতে ত্রুটি কখনও করবে না; যখন মাবুদ দাউদের প্রত্যেক দুশমনকে ভূতল থেকে উচ্ছিন্ন করবেন, তখনও না।
16 এভাবে যোনাথন দাউদের কুলের সঙ্গে নিয়ম করলেন; বললেন, আর মাবুদ দাউদের দুশমনদের উপর প্রতিশোধ নেবেন।
17 পরে যোনাথন, দাউদের প্রতি তাঁর যে মহব্বত ছিল, তার দরুন আবার তাঁকে শপথ করালেন, কেননা তিনি নিজের প্রাণের মত তাঁকে ভালবাসতেন।
18
পরে যোনাথন দাউদকে বললেন, আগামীকাল অমাবস্যা; আগামীকাল তোমার আসন শূন্য থাকায় তোমার তত্ত্ব জিজ্ঞাসা করা হবে;
19 তুমি পরশু পর্যন্ত থেকে, সেদিন খুব তাড়াতাড়ি নেমে এসে আগের দিন যে স্থানে লুকিয়ে ছিলে সেই স্থানে এষল নামক পাথরের কাছে থাকবে।
20 আমি লক্ষ্য বিদ্ধ করার ছলে তিনটি তীর তার পাশে নিক্ষেপ করবো।
21 আর দেখ, আমার বালকটিকে পাঠাব, বলবো, যাও, তীর কুড়িয়ে আন; আমি যদি বালকটিকে বলি, দেখ তোমার এদিকে তীর আছে, তুলে নাও, তবে তুমি এসো; জীবন্ত মাবুদের কসম, তোমার মঙ্গল, কোন ভয় নেই;
22 কিন্তু আমি যদি বালকটিকে বলি, দেখ, তোমার ওদিকে তীর আছে, তবে তুমি চলে যেও, কেননা মাবুদ তোমাকে বিদায় করলেন,
23 আর দেখ, তোমার ও আমার এই কথাবার্তার বিষয়ে মাবুদ যুগে যুগে আমার ও তোমার মধ্যবর্তী।
24
পরে দাউদ ক্ষেতে লুকিয়ে রইলেন, ইতোমধ্যে অমাবস্যা উৎসব উপস্থিত হলে বাদশাহ্ ভোজনে বসলেন।
25 বাদশাহ্ অন্য সময়ের মত তাঁর আসনে অর্থাৎ দেয়ালের নিকটস্থ আসনে বসলেন। যোনাথন উঠে দাঁড়ালেন এবং অব্নের তালুতের পাশে বসলেন; কিন্তু দাউদের স্থান শূন্য থাকলো।
26
তবুও সেদিন তালুত কিছুই বললেন না, কেননা মনে মনে ভাবলেন, তার কিছু হয়েছে, সে হয়তো পাক-সাফ নয়, সে অবশ্য নাপাক হয়ে থাকবে।
27 কিন্তু পরের দিন, মাসের দ্বিতীয় দিনে, দাউদের স্থান শূন্য থাকাতে তালুত তাঁর পুত্র যোনাথনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়াসিরের পুত্র গতকাল ও আজ ভোজনে আসে নি কেন?
28 যোনাথন তালুতকে জবাবে বললেন, দাউদ বেথেলহেমে যাবার জন্য আমার কাছে অনেক মিনতি করেছিল;
29 সে বলেছিল, অনুগ্রহ করে আমাকে যেতে দাও, কেননা নগরে আমাদের গোষ্ঠীর একটি কোরবানীর অনুষ্ঠান আছে এবং আমার ভাই আমাকে যেতে হুকুম করেছেন; অতএব আরজ করি, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করে থাকি, তবে আমি গিয়ে আমার জ্ঞাতিদের দেখে আসি। এজন্য সে বাদশাহ্র ভোজে আসে নি।
30
তখন যোনাথনের প্রতি তালুতের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, তিনি তাঁকে বললেন, ওহে জারজ সন্তান, বিদ্রোহিনী স্ত্রীর পুত্র, আমি কি জানি না যে, তুই তোর লজ্জা ও তোর মায়ের লজ্জা জন্মাতে ইয়াসির পুত্রকে মনোনীত করেছিস?
31 ফলে ইয়াসির পুত্র যতদিন ভূতলে থাকবে, ততদিন তুই স্থির থাকবি না, তোর রাজ্যও স্থির থাকবে না। অতএব এখন লোক পাঠিয়ে তাকে আমার কাছে নিয়ে আয়, কেননা সে মৃত্যুর সন্তান।
32 তাতে যোনাথন জবাবে তাঁর পিতা তালুতকে বললেন, সে কেন হত হবে? সে কি করেছে?
33 তখন তালুত তাঁকে আঘাত করার জন্য তাঁর দিকে তাঁর বর্শা নিক্ষেপ করলেন; এতে যোনাথন জানতে পারলেন যে, তাঁর পিতা দাউদকে হত্যা করতে মনস্থ করেছেন।
34 তখন যোনাথন মহাক্রুদ্ধ হয়ে আসন থেকে উঠলেন, মাসের দ্বিতীয় দিনে আহার করলেন না; কেননা দাউদের জন্য তাঁর দুঃখ হল, কারণ তাঁর পিতা দাউদকে অপমান করেছিলেন।
35
পরে খুব ভোরে যোনাথন একটি ছোট বালককে সঙ্গে নিয়ে ক্ষেতে, দাউদের সঙ্গে যে স্থান নির্ধারিত হয়েছিল সেখানে গেলেন।
36 পরে তিনি বালকটিকে বললেন, আমি যে কয়েকটি তীর নিক্ষেপ করবো, তুমি দৌড়ে গিয়ে তা কুড়িয়ে আন। তাতে বালকটি দৌড়ালে তিনি তার ওদিকে পড়বার মত তীর নিক্ষেপ করলেন।
37 আর বালকটি যোনাথনের নিক্ষিপ্ত তীরের কাছে উপস্থিত হলে যোনাথন বালকটিকে ডেকে বললেন, তোমার ওদিকে কি তীর নেই?
38 আবার যোনাথন বালককে ডেকে বললেন, শীঘ্র দৌড়ে যাও, বিলম্ব করো না। তখন যোনাথনের সেই বালক তীরগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তাঁর মালিকের কাছে এল।
39 কিন্তু বালকটি কিছুই বুঝল না, কেবল যোনাথন ও দাউদ সেই বিষয় জানতেন।
40 পরে যোনাথন তাঁর তীর ধনুকাদি বালকটিকে দিয়ে বললেন, এইগুলো নগরে নিয়ে যাও।
41 বালকটি চলে যাওয়া মাত্র দাউদ দক্ষিণ দিক্স্থ কোন স্থান থেকে উঠে এসে তিনবার ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম করলেন এবং তাঁরা দু’জনে পরস্পর চুম্বন করে কাঁদতে লাগলেন, কিন্তু দাউদ বেশি কাঁদলেন।
42 পরে যোনাথন দাউদকে বললেন, সহিসালামতে যাও, আমরা তো দু’জন মাবুদের নামে এই কসম খেয়েছি যে, মাবুদ যুগে যুগে আমার ও তোমার মধ্যবর্তী এবং আমার বংশের ও তোমার বংশের মধ্যবর্তী থাকবেন। পরে তিনি উঠে প্রস্থান করলেন, আর যোনাথন নগরে চলে গেলেন।
1
পরে দাউদ নোবে অহীমেলক ইমামের কাছে উপস্থিত হলেন; আর অহীমেলক কাঁপতে কাঁপতে এসে দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ও তাঁকে বললেন, আপনি একা কেন? আপনার সঙ্গে কেউ নেই কেন?
2 দাউদ অহীমেলক ইমামকে বললেন, বাদশাহ্ একটি কাজের ভার দিয়ে আমাকে বলেছেন, আমি তোমাকে যে কাজে প্রেরণ করলাম ও যা হুকুম করলাম, তার কিছুই যেন কেউ না জানে; আর আমি নিজের সঙ্গী যুবকদের অমুক অমুক স্থানে আসতে বলেছি।
3 এখন আপনার কাছে কি আছে? পাঁচখানা রুটি হোক, কিংবা যা থাকে, আমার হাতে দিন।
4 ইমাম দাউদকে জবাবে বললেন, আমার কাছে সাধারণ রুটি নেই, কেবল পবিত্র রুটি আছে— যদি সেই যুবকেরা কেবল স্ত্রী থেকে পৃথক হয়ে থাকে তবে তা খেতে পারবে।
5 দাউদ ইমামকে বললেন, সত্যিই তিন দিন আমরা স্ত্রীলোক থেকে পৃথক রয়েছি; আমি যখন বের হয়ে আসি, তখন যাত্রা সাধারণ হলেও যুবকদের সমস্ত পাত্র পবিত্র; অতএব আজ তাদের সমস্ত পাত্র আরও কত না পবিত্র।
6 তখন ইমাম তাঁকে পবিত্র রুটি দিলেন, কেননা সেই স্থানে অন্য রুটি ছিল না, কেবল তা তুলে নেবার দিনে তপ্ত রুটি রাখার জন্য যে দর্শন-রুটি মাবুদের সম্মুখ থেকে সরানো হয়েছিল, মাত্র সেই রুটিই সেখানে ছিল।
7
সেদিন তালুতের গোলামদের মধ্যে ইদোমীয় দোয়েগ নামে এক জন মাবুদের সাক্ষাতে দায়বদ্ধ হয়ে সেই স্থানে ছিল, সে তালুতের প্রধান পশুপালক।
8
পরে দাউদ অহীমেলক্কে বললেন, এই স্থানে আপনার কাছে কি বর্শা বা তলোয়ার নেই? কেননা রাজকার্যের ব্যস্ততায় আমি আমার তলোয়ার বা অস্ত্র সঙ্গে আনি নি।
9 ইমাম বললেন, এলা উপত্যকায় আপনি যাকে হত্যা করেছিলেন, সেই ফিলিস্তিনী জালুতের তলোয়ারখানা আছে; দেখুন, এই এফোদের পিছনে এখানে কাপড়ে জড়িয়ে রাখা আছে; এটি যদি নিতে চান, নিন, কেননা এছাড়া আর কোন তলোয়ার এখানে নেই। দাউদ বললেন, সেটার মত তলোয়ার আর কোথায় আছে? সেটা আমাকে দিন।
10
পরে দাউদ উঠে সেদিন তালুতের ভয়ে পালিয়ে গাতের বাদশাহ্ আখীশের কাছে গেলেন।
11 তাতে আখীশের গোলামেরা তাঁকে বললো, এই ব্যক্তি কি ইসরাইল দেশের বাদশাহ্ দাউদ নয়? লোকেরা কি নাচতে নাচতে তার বিষয়ে সমস্বরে গেয়ে বলে নি,
“তালুত মারলেন হাজার হাজার,
আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত”?
12
আর দাউদ সে কথা মনে রাখলেন এবং গাতের বাদশাহ্ আখীশকে খুব ভয় করতে লাগলেন।
13 আর তিনি তাদের সম্মুখে বুদ্ধির বৈকল্য দেখালেন; তিনি তাদের কাছে উন্মাদের মত ব্যবহার করতেন, দ্বারের কবাট আঁচড়াতেন ও তাঁর দাড়ির উপরে লালা ক্ষরণ হতে দিতেন।
14 তখন আখীশ তাঁর গোলামদের বললেন, দেখ, তোমরা দেখতে পাচ্ছ, এই লোকটা পাগল; তবে একে আমার কাছে কেন আনলে?
15 আমার কি পাগলের অভাব আছে যে, তোমরা একে আমার কাছে পাগলামী করতে এনেছ? এই লোকটা কি আমার বাড়িতে আসবে?
1
পরে দাউদ সেখান থেকে প্রস্থান করে অদুল্লম গুহাতে পালিয়ে গেলেন; আর তাঁর ভাইয়েরা ও তাঁর সমস্ত পিতৃকুল তা শুনে সেই স্থানে তাঁর কাছে নেমে গেল।
2 আর যারা নানা রকম দুঃখ-কষ্টে ভুগছিল, যারা ঋণী ও তিক্তপ্রাণ এমন সমস্ত লোক তাঁর কাছে জমায়েত হল, আর তিনি তাদের সেনাপতি হলেন; এভাবে অনুমান চার শত লোক তাঁর সঙ্গী হল।
3
পরে দাউদ সেখান থেকে মোয়াবের মিসপীতে গিয়ে মোয়াবের বাদশাহ্কে বললেন, আরজ করি, আল্লাহ্ আমার প্রতি কি করবেন, তা যে পর্যন্ত আমি না জানতে পারি, ততদিন আমার পিতা-মাতা এসে আপনাদের কাছে থাকুন।
4 পরে তিনি তাঁদের মোয়াবের বাদশাহ্র কাছে রাখলেন; আর যতদিন দাউদ সেই অজ্ঞাত স্থানে থাকলেন, ততদিন তাঁরা ঐ বাদশাহ্র সঙ্গে বাস করলেন।
5 পরে গাদ নবী দাউদকে বললেন, তুমি আর এই দুর্গম স্থানে থেকো না, প্রস্থান করে এহুদা দেশে যাও। তখন দাউদ যাত্রা করে হেরৎ বনে উপস্থিত হলেন।
6
পরে তালুত শুনতে পেলেন যে, দাউদ ও তাঁর সঙ্গীদের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই সময়ে তালুত বল্লম হাতে গিবিয়ায়, রামাস্থ ঝাউ গাছের তলে বসে ছিলেন এবং তাঁর চারদিকে তাঁর সমস্ত গোলাম দাঁড়িয়ে ছিল।
7 তখন তালুত নিজের চারদিকে দণ্ডায়মান তাঁর গোলামদের বললেন, হে বিন্ইয়ামীনীয়েরা শোন। ইয়াসির পুত্র কি তোমাদের প্রত্যেক জনকেই ক্ষেত ও আঙ্গুরের বাগান দেবে? সে কি তোমাদের সকলকেই সহস্র্রপতি ও শতপতি করবে?
8 এজন্য তোমরা সকলে কি আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছ? ইয়াসিরের পুত্রের সঙ্গে আমার পুত্র যে নিয়ম করেছে, তা কেউ আমাকে জানাও নি; এবং আমার পুত্র আজকের মত আমার বিরুদ্ধে ঘাঁটি বসাবার জন্য আমার গোলামকে যে উস্কিয়ে দিয়েছে, এতেও তোমাদের মধ্যে কেউ আমার জন্য দুঃখিত হও নি বা আমাকে তা জানাও নি।
9 তখন ইদোমীয় দোয়েগ— যে তালুতের গোলামদের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, সে জবাবে বললো, আমি নোবে অহীটূবের পুত্র অহীমেলকের কাছে ইয়াসির পুত্রকে যেতে দেখেছিলাম।
10 সেই ব্যক্তি তার জন্য মাবুদকে জিজ্ঞাসা করেছিল ও তাকে খাদ্য দ্রব্য দিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনী জালুতের তলোয়ারখানা তাকে দিয়েছিল।
11
তখন বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে অহীটূবের পুত্র ইমাম অহীমেলক ও তাঁর সমস্ত পিতৃ-কুলকে, নোব-নিবাসী ইমামদের ডাকালেন। আর তাঁরা সকলে বাদশাহ্র কাছে আসলেন।
12 তখন তালুত বললেন, হে অহীটূবের পুত্র, শোন। তিনি জবাব দিলেন, হে আমার মালিক, দেখুন, এই আমি।
13 তালুত তাঁকে বললেন, তুমি ও ইয়াসিরের পুত্র আমার বিরুদ্ধে কেন চক্রান্ত করলে? সে যেন আজকের মত আমার বিরুদ্ধে ঘাঁটি বসায়, সেজন্য তুমি তাকে রুটি ও তলোয়ার দিয়েছ এবং তার জন্য আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করেছ।
14
অহীমেলক বাদশাহ্কে উত্তর করলেন, আপনার সমস্ত গোলামের মধ্যে কে দাউদের মত বিশ্বস্ত? তিনি তো বাদশাহ্র জামাতা, আপনার গুপ্ত মন্ত্রণা জানবার অধিকারী ও আপনার বাড়ির মধ্যে এক জন সম্মানিত লোক।
15 আমি কি এই প্রথমবার তাঁর জন্য আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করেছি? কখনই নয়; বাদশাহ্ আপনার এই গোলাম ও আমার সমস্ত পিতৃকুলকে দোষ দেবেন না, কেননা আপনার গোলাম এই বিষয়ের কম বা বেশি কিছুই জানে না।
16 কিন্তু বাদশাহ্ বললেন, হে অহীমেলক, তোমাকে ও তোমার সমস্ত পিতৃকুলকে মরতে হবে।
17 তখন বাদশাহ্ তাঁর চারদিকে দণ্ডায়মান সৈন্যদেরকে বললেন, তোমরা ফিরে দাঁড়াও, মাবুদের এই ইমামদের হত্যা কর: কেননা এরাও দাউদকে সাহায্য করে এবং তার পলায়নের কথা জেনেও আমাকে জানায় নি; কিন্তু মাবুদের ইমামদের আক্রমণ করতে বাদশাহ্র গোলামেরা সম্মত হল না।
18 পরে বাদশাহ্ দোয়েগকে বললেন, তুমি ফিরে এই ইমামদের আক্রমণ কর। তখন ইদোমীয় দোয়েগ ফিরে দাঁড়াল ও ইমামদের আক্রমণ করে সেই দিনে মসীনা-সূতার এফোদ পরা পঁচাশী জনকে হত্যা করলো।
19 পরে সে ইমামদের নোব নগরে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলো; সে স্ত্রী, পুরুষ, বালক-বালিকা ও স্তন্যপায়ী শিশু এবং গরু, গাধা ও সমস্ত ভেড়া তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করলো।
20
ঐ সময়ে অহীটূবের পুত্র অহীমেলকের একটি মাত্র পুত্র রক্ষা পেলেন; তাঁর নাম অবিয়াথর; তিনি দাউদের কাছে পালিয়ে গেলেন।
21 অবিয়াথর দাউদকে এই সংবাদ দিলেন যে, তালুত মাবুদের ইমামদের হত্যা করেছেন।
22 দাউদ অবিয়াথরকে বললেন, ইদোমীয় দোয়েগ সে স্থানে থাকাতে আমি সেই দিনই বুঝেছিলাম যে, সে নিশ্চয়ই তালুতকে সংবাদ দেবে। আমিই তোমার পিতৃকুলের সমস্ত প্রাণীর হত্যার কারণ।
23 তুমি আমার সঙ্গে থাক, ভয় পেয়ো না; কেননা যে আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করছে, সে তোমারও প্রাণনাশের চেষ্টা করছে; কিন্তু আমার সঙ্গে তুমি নিরাপদ থাকবে।
1
আর লোকেরা দাউদকে এই সংবাদ দিল, দেখ, ফিলিস্তিনীরা কিয়ীলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আর খামারগুলোর শস্য লুটে নিচ্ছে।
2 তখন দাউদ মাবুদের কাছ জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি গিয়ে ঐ ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করবো? মাবুদ দাউদকে বললেন, যাও, সেই ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ কর ও কিয়ীলা রক্ষা কর।
3 দাউদের লোকেরা তাঁকে বললো, দেখুন, আমাদের এই এহুদা দেশে থাকাই ভয়ের বিষয়; সেখানে কিয়ীলাতে ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদের বিরুদ্ধে যাওয়া আরও কত না ভয়ের বিষয়?
4 তখন দাউদ পুনর্বার মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন; আর মাবুদ জবাবে বলেন, উঠ, কিয়ীলাতে যাও, কেননা আমি ফিলিস্তিনীদের তোমার হাতে তুলে দিব।
5 তখন দাউদ ও তাঁর লোকেরা কিয়ীলাতে গেলেন এবং ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের পশুগুলো নিয়ে আসলেন, আর তাদের মহা আয়োজনে সংহার করলেন; এভাবে দাউদ কিয়ীলা-নিবাসীদের রক্ষা করলেন।
6
অহীমেলকের পুত্র অবিয়াথর যখন কিয়ীলাতে দাউদের কাছে পালিয়ে যান, তখন তিনি একটি এফোদ নিয়ে এসেছিলেন।
7 পরে দাউদ কিয়ীলাতে এসেছেন, এই সংবাদ পেয়ে তালুত বললেন, আল্লাহ্ তাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, কেননা দ্বার ও অর্গলযুক্ত নগরে প্রবেশ করাতে সে আবদ্ধ হয়েছে।
8 পরে দাউদ ও তাঁর লোকদেরকে অবরোধ করার জন্য তালুত যুদ্ধার্থে কিয়ীলাতে যাবার জন্য সমস্ত লোককে ডাকলেন।
9 দাউদ জানতে পারলেন যে, তালুত তাঁর বিরুদ্ধে অনিষ্ট কল্পনা করছেন, তাই তিনি ইমাম অবিয়াথরকে বললেন, এফোদটা এখানে নিয়ে এসো।
10 পরে দাউদ বললেন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তালুত আমার জন্য কিয়ীলাতে এসে এই নগর উচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন, তোমার গোলাম আমি এই কথা শুনতে পেলাম।
11 কিয়ীলার গৃহস্থেরা কি তাঁর হাতে আমাকে তুলে দেবে? তোমার গোলাম আমি যেরকম শুনলাম, সেভাবে তালুত কি আসবেন? হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, আরজ করি, তোমার গোলামকে তা বল। মাবুদ বললেন, সে আসবে।
12 দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, কিয়ীলার গৃহস্থেরা কি আমাকে ও আমার লোকদের তালুতের হাতে তুলে দেবে? মাবুদ বললেন, তুলে দেবে।
13 তখন দাউদ ও তাঁর লোকেরা অনুমান ছয় শত লোক, উঠে কিয়ীলা থেকে বের হয়ে যে যেখানে যেতে পারল, গেল; আর তালুতকে যখন বলা হল যে, দাউদ কিয়ীলা থেকে পালিয়ে গেছে তখন তিনি আর সেখানে গেলেন না।
14 পরে দাউদ মরু-ভূমিতে নানা সুরক্ষিত স্থানে বাস করলেন, সীফ মরুভূমিতে পাহাড়ী অঞ্চলে রইলেন। আর তালুত প্রতিদিন তাঁর খোঁজ করলেন, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর হাতে তাঁকে তুলে দিলেন না।
15
আর দাউদ দেখলেন যে, তালুত আমার প্রাণনাশের চেষ্টায় বের হয়ে এসেছেন। সেই সময় দাউদ সীফ মরুভূমিতে বনে ছিলেন।
16 আর তালুতের পুত্র যোনাথন হরেশে দাউদের কাছে গিয়ে মাবুদের মধ্য দিয়ে তাঁর হাত শক্তিশালী করলেন।
17 আর তিনি তাঁকে বললেন, ভয় করো না, আমার পিতা তালুতের হাতে তুমি ধরা পড়বে না, আর তুমি ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্ হবে এবং আমি তোমার দ্বিতীয় হব, এই কথা আমার পিতা তালুতও জানেন।
18 পরে তাঁরা দু’জন মাবুদের সাক্ষাতে নিয়ম স্থির করলেন। আর দাউদ হরেশেই থাকলেন কিন্তু যোনাথন নিজের বাড়িতে চলে গেলেন।
19 পরে সীফীয়েরা গিবিয়াতে তালুতের কাছে গিয়ে বললো, দাউদ কি আমাদের কাছে যিশীমোনের দক্ষিণে হখীলা পাহাড়ের হরেশের কোন সুরক্ষিত স্থানে লুকিয়ে নেই?
20
অতএব হে বাদশাহ্! নেমে আসার জন্য আপনার প্রাণ যেভাবে চায়, সেভাবে নেমে আসুন; বাদশাহ্র হাতে তাকে তুলে দেওয়া আমাদের কাজ।
21 তালুত বললেন, মাবুদ তোমাদের দোয়া করুন, কেননা তোমরা আমার প্রতি কৃপা করলে।
22 তোমরা যাও, আরও সন্ধান করে জেনে নাও, দেখ তার পা রাখার স্থান কোথায়? আর সেখানে তাকে কে দেখেছে? কেননা দেখ, লোকে আমাকে বলেছে, সে ভীষণ চালাক।
23 অতএব যে সমস্ত গুপ্ত স্থানে সে লুকিয়ে থাকে, তার কোন্ স্থানে সে আছে, তা দেখ, লক্ষ্য কর, পরে আমার কাছে আবার নিশ্চয় সংবাদ নিয়ে এসো, আসলে আমি তোমাদের সঙ্গে যাব; সে যদি দেশে থাকে তবে আমি এহুদার সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে তার সন্ধান করবো।
24 তাতে তারা উঠে তালুতের আগে সীফে গেল; কিন্তু দাউদ ও তাঁর লোকেরা যিশীমোনের দক্ষিণে অরাবায়, মায়োন মরুভূমিতে ছিলেন।
25
পরে তালুত ও তাঁর লোকেরা তাঁর খোঁজে গেলেন, আর লোকেরা দাউদকে তার সংবাদ দিলে তিনি শৈলে নেমে আসলেন এবং মায়োন মরু মরুভূমিতে রইলেন। তা শুনে তালুত মায়োন মরুভূমিতে দাউদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেলেন।
26 আর তালুত পর্বতের এক পাশে গেলেন এবং দাউদ ও তাঁর লোকেরা পর্বতের অন্য পাশে গেলেন। আর দাউদ তালুতের ভয়ে স্থানান্তরে যাবার জন্য তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হলেন; কেননা তাঁকে ও তাঁর লোকদের ধরবার জন্য তালুত তাঁর লোকদের সঙ্গে তাঁকে বেষ্টন করেছিলেন।
27 কিন্তু এক দূত তালুতের কাছে এসে বললো, আপনি শীঘ্র আসুন, কেননা ফিলিস্তিনীরা দেশ আক্রমণ করেছে।
28 তখন তালুত দাউদের পিছনে তাড়া করা বন্ধ করে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যাত্রা করলেন। এজন্য সেই স্থানের নাম সেলা-হম্মলকোৎ [রক্ষাশৈল] হল।
29 পরে দাউদ সেখান থেকে উঠে গিয়ে ঐন্-গদীস্থ নানা সুরক্ষিত স্থানে বাস করলেন।
1
পরে তালুত ফিলিস্তিনীদের তাড়া করা শেষ করে ফিরে আসলে লোকে তাঁকে এই সংবাদ দিল, দেখুন, দাউদ ঐন্গদীর মরুভূমিতে আছে।
2 তাতে তালুত সমস্ত ইসরাইল থেকে মনোনীত তিন হাজার লোক নিয়ে বন্য ছাগলের শৈলের উপরে দাউদের ও তাঁর লোকদের খোঁজে গেলেন।
3 পথের মধ্যে তিনি মেষবাথানে উপস্থিত হলেন; সেখান একটি গুহা ছিল; আর তালুত মলত্যাগ করার জন্য সেই গুহায় প্রবেশ করলেন; কিন্তু দাউদ ও তাঁর লোকেরা সেই গুহার শেষ প্রান্তে বসেছিলেন।
4 তখন দাউদের লোকেরা তাঁকে বললো, দেখুন, এটি সেই দিন, যে দিনের বিষয়ে মাবুদ আপনাকে বলেছেন, দেখ, আমিই তোমার দুশমনকে তোমার হাতে তুলে দেব, তখন তুমি তার প্রতি যা ভাল বুঝবে, তা-ই করবে। তাতে দাউদ উঠে গোপনে তালুতের পোশাকের অগ্রভাগ কেটে নিলেন।
5 পরে তালুতের পোশাকের একটি টুকরা কেটে নেওয়াতে দাউদের অন্তঃকরণ ধুক্ ধুক্ করতে লাগল;
6 আর তিনি তাঁর লোকদের বললেন, আমার প্রভুর প্রতি, মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি এই কাজ করতে, তাঁর বিরুদ্ধে আমার হাত তুলতে মাবুদ আমাকে অনুমতি না দিন; কেননা তিনি মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তি।
7 এরকম কথা দ্বারা দাউদ তাঁর লোকদের নিষেধ করলেন, তালুতের বিরুদ্ধে উঠতে দিলেন না। পরে তালুত উঠে গুহা থেকে বের হয়ে তাঁর পথে যাত্রা করলেন।
8
তারপর দাউদও উঠে গুহা থেকে বের হলেন এবং তালুতের পেছন থেকে ডেকে বললেন, হে আমার মালিক বাদশাহ্; আর তালুত পিছনে তাকালে দাউদ ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন।
9 আর দাউদ তালুতকে বললেন, মানুষের এমন কথা আপনি কেন শোনেন যে, দাউদ আপনার অনিষ্ট চেষ্টা করছে?
10 দেখুন, আজ তো আপনি নিজের চোখেই দেখছেন, এই গুহার মধ্যে মাবুদ আপনাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং কেউ আপনাকে হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিল, কিন্তু আপনার উপরে আমার মমতা হল, আমি বললাম, আমার প্রভুর বিরুদ্ধে হাত তুলব না, কেননা তিনি মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তি।
11 আর হে আমার পিতা, দেখুন; হ্যাঁ, আমার হাতে আপনার পোশাকের এই টুক্রাটি দেখুন; কেননা আমি আপনার পোশাকের অগ্রভাগ কেটে নিয়েছি, তবুও আপনাকে হত্যা করি নি, এতে আপনি বিবেচনা করে দেখবেন, আমি হিংসায় বা অধর্মে হস্তক্ষেপ করি নি এবং আপনার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করি নি; তবুও আপনি আমার প্রাণ নিতে চেষ্টা করছেন।
12 মাবুদ আমার ও আপনার মধ্যে বিচার করবেন, আপনার কৃত অন্যায় থেকে আমাকে উদ্ধার করবেন, কিন্তু তবুও আপনার বিরুদ্ধে আমি হাত তুলব না।
13 প্রাচীনদের প্রবাদে বলে, “দুষ্টদের থেকেই নাফরমানী জন্মে,” কিন্তু আমার হাত আপনার বিরুদ্ধ যাবে না।
14 ইসরাইলের বাদশাহ্ কার পিছনে বের হয়ে এসেছেন? আপনি কার পিছনে পিছনে তাড়া করে আসছেন? একটা মৃত কুকুরের পিছনে, একটা ছারপোকার পিছনে?
15 কিন্তু মাবুদ বিচারকর্তা হোন, তিনি আমার ও আপনার মধ্যে বিচার করুন; আর তিনি দৃষ্টিপাতপূর্বক আমার ঝগড়া নিষ্পত্তি করুন এবং আপনার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
16
দাউদ তালুতের কাছে এসব কথা শেষ করলে তালুত জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার সন্তান দাউদ, এ কি তোমার স্বর? আর তালুত চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।
17 পরে তিনি দাউদকে বললেন, আমার চেয়ে তুমি ধার্মিক, কেননা তুমি আমার মঙ্গল করেছ, কিন্তু আমি তোমার অমঙ্গল করেছি।
18 তুমি আমার প্রতি কেমন মঙ্গল ব্যবহার করে আসছ, তা আজ দেখালে; মাবুদ আমাকে তোমার হাতে তুলে দিলেও তুমি আমাকে হত্যা করলে না।
19 মানুষ তাঁর দুশমনকে পেলে কি তাকে মঙ্গলের পথে ছেড়ে দেয়? আজ তুমি আমার প্রতি যা করলে, তার প্রতিশোধে মাবুদ তোমার মঙ্গল করুন।
20 এখন দেখ, আমি জানি, তুমি অবশ্যই বাদশাহ্ হবে, আর ইসরাইলের রাজ্য তোমার হাতে অটুট থাকবে।
21 অতএব এখন মাবুদের নামে আমার কাছে কসম কর যে, তুমি আমার পরে আমার বংশ উচ্ছিন্ন করবে না ও আমার পিতৃকুল থেকে আমার নাম লোপ করবে না।
22 তখন দাউদ তালুতের কাছে কসম করলেন। পরে তালুত বাড়ি চলে গেলেন, কিন্তু দাউদ ও তাঁর লোকেরা সুরক্ষিত স্থানে উঠে গেলেন।
1
পরে শামুয়েলের মৃত্যু হল এবং সমস্ত ইসরাইল একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য শোক করলো, আর রামায় তাঁর বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হল। পরে দাউদ পারণ মরুভূমিতে গমন করলেন।
2
সেই সময়ে মায়োনে এক ব্যক্তি ছিল, কর্মিলে তার বিষয়-আশয় ছিল; সে খুব ধনবান ছিল; তার তিন হাজার ভেড়া ও এক হাজার ছাগী ছিল। সেই ব্যক্তি কর্মিলে তাঁর ভেড়াগুলোর লোম ছাঁটাই করছিল।
3 সেই পুরুষের নাম নাবল ও তার স্ত্রীর নাম অবীগল; ঐ স্ত্রী সুবুদ্ধি ও সুদর্শনা ছিল, কিন্তু ঐ পুরুষটি কঠিন ও নীচমনা ছিল; সে কালেবের বংশজাত।
4
আর নাবল তার ভেড়াগুলোর লোম ছাঁটাই করছে, দাউদ মরুভূমিতে থাকবার সময়ে এই কথা শুনলেন।
5 পরে দাউদ দশ জন যুবককে পাঠালেন; দাউদ সেই যুবকদের বললেন, তোমরা কর্মিলে নাবলের কাছে যাও এবং আমার নামে তাকে শুভেচ্ছা জানাও;
6 আর তাকে এই কথা বল, চিরজীবী হোন; আপনার কুশল, আপনার বাড়ির কুশল ও আপনার সর্বস্বের কুশল হোক।
7 সম্প্রতি আমি শুনলাম, আপনার কাছে লোম ছাঁটাইকারীরা আছে; ইতোমধ্যে আপনার ভেড়ার রাখালরা আমাদের সঙ্গে ছিল, আমরা তাদের অপকার করি নি; এবং যতদিন তারা কর্মিলে ছিল ততদিন তাদের কিছু হারায়ও নি।
8 আপনার যুবকদের জিজ্ঞাসা করুন, তারা আপনাকে বলবে; অতএব এই যুবকদের প্রতি আপনার অনুগ্রহের দৃষ্টি হোক, কেননা আমরা শুভ দিনে এলাম। আরজ করি, আপনার গোলামদের ও আপনার পুত্র দাউদকে আপনার হাতে যা উঠে, দান করুন।
9
তখন দাউদের যুবকরা গিয়ে দাউদের নাম করে নাবলকে সেসব কথা বললো, পরে তারা চুপ করে রইলো।
10 নাবল উত্তরে দাউদের গোলামদের বললো, দাউদ কে? ইয়াসির পুত্র কে? এই সময়ে অনেক গোলাম তাদের মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
11 আমি কি আমার রুটি, পানি ও আমার ভেড়ার লোম ছাঁটাইকারীদের জন্য যেসব পশু মেরেছি, তাদের গোশ্ত নিয়ে অজ্ঞাত কোন স্থানের লোকদের দেব?
12 তখন দাউদের লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিজেদের পথে চলে এল এবং তাঁর কাছে ফিরে এসে ঐ সমস্ত কথা তাঁকে বললো।
13 তখন দাউদ তাঁর লোকদের বললেন, তোমরা প্রত্যেকে তলোয়ার বাঁধ। তাতে তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ তলোয়ার বাঁধল এবং দাউদও তাঁর তলোয়ার বাঁধলেন। পরে দাউদের পিছনে পিছনে চার শত লোক গেল এবং দ্রব্য সামগ্রী রক্ষা করার জন্য দুই শত লোক রইলো।
14
ইতোমধ্যে যুবকদের এক জন নাবলের স্ত্রী অবীগলকে সংবাদ দিয়ে বললো, দেখুন, দাউদ আমাদের মালিককে শুভেচ্ছা জানাতে মরুভূমি থেকে দূতদের পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের অপমান করেছেন।
15 অথচ সেই লোকেরা আমাদের পক্ষে বড়ই ভাল ছিল; যখন আমরা মাঠে ছিলাম, তখন যতদিন তাদের সঙ্গে ছিলাম ততদিন আমাদের অপকার হয় নি, কিছু হারায়ও নি।
16 আমরা যত দিন তাদের কাছে থেকে ভেড়া রক্ষা করছিলাম, তারা দিনরাত আমাদের চারদিকে প্রাচীরস্বরূপ ছিল।
17 অতএব এখন আপনার কি কর্তব্য তা বিবেচনা করে বুঝুন, কেননা আমাদের মালিক ও তাঁর সমস্ত কুলের বিরুদ্ধে অমঙ্গল স্থির হয়েছে; কিন্তু তিনি এমন পাষণ্ড যে, তাঁকে কোন কথা বলতে পারা যায় না।
18
তখন অবীগল শীঘ্র দুই শত রুটি, দুই কূপা আঙ্গুর-রস, পাঁচটা প্রস্তুত ভেড়া, পাঁচ কাঠা ভাজা শস্য, এক শত তাল শুকনো আঙ্গুর ফল ও দুই শত ডুমুর-চাক নিয়ে গাধার উপরে চাপাল।
19 আর সে তাঁর ভৃত্যদের বললো, তোমরা আমার আগে আগে চল, দেখ, আমি তোমাদের পিছনে যাচ্ছি। কিন্তু সে তাঁর স্বামী নাবলকে তা জানাল না।
20 পরে সে গাধার পিঠে চড়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে যাচ্ছিল, ইতোমধ্যে দেখ, দাউদ তাঁর লোকদের সঙ্গে তার সম্মুখে নেমে আসলেন, তাতে সে তাঁদের সম্মুখে গিয়ে পড়লেন।
21 দাউদ বলেছিলেন, মরুভূমিস্থিত ওর সমস্ত বস্তু আমি বৃথাই পাহারা দিয়েছি যাতে ওর যা কিছু সেখানে আছে তার কিছুই চুরি না হয়। কিন্তু সে উপকারের পরিবর্তে আমার অপকার করেছে।
22 যদি আমি ওর সম্পর্কীয় পুরুষদের মধ্যে এক জনকেও রাত প্রভাত পর্যন্ত জীবিত রাখি, তবে আল্লাহ্ যেমন দাউদের দুশমনদের প্রতি করেন তার চেয়েও বেশি দণ্ড দাউদকে দেন।
23
পরে অবীগল দাউদকে দেখামাত্র তাড়াতাড়ি গাধা থেকে নেমে দাউদের সম্মুুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম করলেন।
24 আর তাঁর পায়ে পড়ে বললেন, হে আমার মালিক, আমার উপরে, আমারই উপরে এই অপরাধ বর্তুক। আরজ করি, আপনার বাঁদীকে আপনার কাছে কথা বলবার অনুমতি দিন; আর আপনি আপনার বাঁদীর কথা শুনুন।
25 আরজ করি, আমার প্রভু সেই পাষণ্ড অর্থাৎ নাবলকে গণনার মধ্যে ধরবেন না; তার যেমন নাম, সেও তেমনি। তার নাম নাবল (মূর্খ), তার অন্তরে মধ্যে রয়েছে মূর্খতা। কিন্তু আপনার এই বাঁদী আমি আমার মালিকের প্রেরিত যুবকদের দেখি নি।
26
অতএব হে আমার প্রভু, জীবন্ত মাবুদের কসম ও আপনার জীবিত প্রাণের কসম, মাবুদই আপনাকে রক্তপাতে লিপ্ত হতে ও তাঁর হাতে প্রতিশোধ নিতে বারণ করেছেন, কিন্তু আপনার দুশমনেরা ও যারা আমার মালিকের অনিষ্ট চেষ্টা করে, তারা নাবলের মত হোক।
27 এখন আপনার বাঁদী প্রভুর জন্য এই যে উপহার এনেছে, তা আমার অনুসরণকারী যুবকদের দিতে হুকুম দিন।
28 আরজ করি, আপনার বাঁদীর অপরাধ মাফ করুন, কেননা মাবুদ নিশ্চয়ই আমার মালিকের কুল স্থির করবেন; কারণ মাবুদেরই জন্য আমার প্রভু যুদ্ধ করছেন, সারা জীবন আপনাতে কোন অনিষ্ট দেখা যাবে না।
29 মানুষ আপনাকে তাড়না ও প্রাণনাশের চেষ্টা করলেও আপনার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে আমার মালিকের প্রাণ জীবন-সিন্দুকে বন্ধ থাকবে, কিন্তু আপনার দুশমনদের প্রাণ তিনি ফিঙ্গার পাথর ছুঁড়বার করার মতই ছুঁড়ে ফেলে দেবেন।
30 মাবুদ আমার মালিকের বিষয়ে যে সমস্ত মঙ্গলের কথা বলেছেন, তা যখন সফল করবেন, আপনাকে ইসরাইলের উপরে নেতৃত্বপদে নিযুক্ত করবেন,
31 তখন অকারণে রক্তপাত করাতে কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমার মালিকের শোক বা হৃদয়ে বিঘ্ন জন্মাবে না। আর যখন মাবুদ আমার মালিকের মঙ্গল করবেন, তখন আপনার এই বাঁদীকে স্মরণ করবেন।
32
পরে দাউদ অবীগলকে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, যিনি আজ আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে তোমাকে প্রেরণ করলেন।
33 আর ধন্য তোমার সুবিচার এবং ধন্য তুমি, কারণ আজ তুমি রক্তপাত করার হাত থেকে ও নিজের হাতে প্রতিশোধ নেওয়ার হাত থেকে আমাকে নিবৃত্ত করলে।
34 কারণ তোমার ক্ষতি করতে যিনি আমাকে বারণ করেছেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যদি তুমি শীঘ্র না আসতে, তবে নাবলের সম্পর্কীয় পুরুষদের মধ্যে এক জনও প্রভাত পর্যন্ত জীবিত থাকতো না।
35 পরে দাউদ আপনার জন্য আনা ঐ সমস্ত দ্রব্য তার হাত থেকে গ্রহণ করে তাকে বললেন, তুমি সহি-সালামতে ঘরে যাও; দেখ, আমি তোমার আবেদন শুনে তোমার অনুরোধ গ্রাহ্য করলাম।
36
পরে অবীগল নাবলের কাছে ফিরে এল; আর দেখ, রাজভোজের মত তার বাড়িতে ভোজ হচ্ছিল এবং নাবল প্রফুল্লচিত্ত ছিল, সে ভীষণ মাতাল হয়ে পরেছিল; এজন্য অবীগল রাত প্রভাতের আগে ঐ বিষয়ের অল্প বা বেশি কিছুই তাকে বললো না।
37 কিন্তু খুব ভোরে নাবলের মাতলামী দূর হলে তার স্ত্রী তাকে সব কথা জানাল; তখন তার অন্তর ম্রিয়মাণ হল এবং সে পাথরের মত হয়ে পড়লো।
38 আর দিন দশেক পরে মাবুদ নাবলকে আঘাত করাতে তার মৃত্যু হল।
39
পরে নাবলের মৃত্যু হয়েছে, এই কথা শুনে দাউদ বললেন, মাবুদ ধন্য হোন, তিনি নাবলের হাতে আমার দুর্নাম-বিষয়ক ঝগড়া নিষ্পত্তি করলেন এবং তাঁর গোলামকে অনিষ্ট কাজ থেকে রক্ষা করলেন; আর নাবলের অন্যায় মাবুদ তারই মাথায় বর্তালেন। পরে দাউদ লোক পাঠিয়ে অবীগলকে বিয়ে করার প্রস্তাব তাকে জানালেন।
40 দাউদের গোলামেরা কর্মিলে অবীগলের কাছে গিয়ে তাকে বললো, দাউদ আপনাকে বিয়ের জন্য নিয়ে যেতে আপনার কাছ আমাদের পাঠিয়েছেন।
41 তখন সে উঠে ভূমিতে উবুড় হয়ে বললো, দেখুন, আপনার এই বাঁদী আমার প্রভুর গোলামদের পা ধোয়াবার বাঁদী।
42 পরে অবীগল শীঘ্র উঠে গাধার পিঠে চড়ে তার পাঁচ জন অনুচরী যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে দাউদের দূতদের পিছনে গেল। সেখানে গিয়ে সে দাউদের স্ত্রী হল।
43 আর দাউদ যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়মকেও বিয়ে করলেন; তাতে তারা উভয়েই তাঁর স্ত্রী হল।
44 কিন্তু তালুত মীখল নামে তাঁর কন্যা দাউদের স্ত্রীকে নিয়ে গল্লীম-নিবাসী লয়িশের পুত্র পল্টিকে দিয়েছিলেন।
1
পরে সীফীয়েরা গিবিয়াতে তালুতের কাছে গিয়ে বললো, দাউদ তো যিশীমোনের সম্মুখস্থ হখীলা পাহাড়ে লুকিয়ে আছে!
2 তখন তালুত উঠলেন ও সীফ মরুভূমিতে দাউদের খোঁজে ইসরাইলের তিন হাজার মনোনীত লোককে সঙ্গে নিয়ে সীফ মরুভূমিতে নেমে গেলেন।
3 আর তালুত যিশীমোনের সম্মুখস্থ হখীলা পাহাড়ে পথের পাশে শিবির স্থাপন করলেন। কিন্তু দাউদ মরুভূমিতে অবস্থান করছিলেন; আর তিনি দেখতে পেলেন, তালুত তাঁর পিছনে মরুভূমিতে আসছেন।
4 তখন দাউদ গোয়েন্দা পাঠিয়ে এই কথা জানতে পারলেন যে, তালুত সত্যিই এসেছেন।
5 পরে দাউদ তালুতের শিবিরের কাছে গেলেন এবং দাউদ তালুতের ও তাঁর সেনাপতি নেরের পুত্র অব্নেরের শোবার জায়গা দেখে নিলেন; তালুত শকটমণ্ডলের মধ্যে শুয়ে ছিলেন এবং লোকেরা তাঁর চারদিকে ছাউনি করেছিল।
6
পরে দাউদ হিট্টিয় অহীমেলক ও সরূয়ার পুত্র যোয়াবের ভাই অবীশয়কে বললেন, ঐ শিবিরে তালুতের কাছে আমার সঙ্গে কে নেমে যাবে? অবীশয় বললেন, আমি আপনার সঙ্গে যাব।
7 পরে রাতের বেলায় দাউদ ও অবীশয় লোকদের কাছে আসলেন, আর দেখ, তালুত শকটমণ্ডলের মধ্যে ঘুমিয়ে আছেন, তাঁর মাথার কাছে তাঁর বর্শা ভূমিতে গাঁথা এবং চারদিকে অব্নের ও সমস্ত লোক শুয়ে আছে।
8 তখন অবীশয় দাউদকে বললেন, আজ আল্লাহ্ তাঁর দুশমনকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন; অতএব এখন আরজ করি, বর্শা দ্বারা ওঁকে এক আঘাতে ভূমির সঙ্গে গাঁথবার অনুমতি দিন, আমি ওঁকে দুই বার আঘাত করবো না।
9 কিন্তু দাউদ অবীশয়কে বললেন, ওঁকে সংহার করো না; কেননা মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কে হাত বাড়িয়ে নির্দোষ হতে পারে?
10 দাউদ আরও বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, মাবুদই ওকে আঘাত করবেন, কিংবা তাঁর দিন উপস্থিত হলে তিনি মরবেন, কিংবা যুদ্ধে গিয়ে শেষ হয়ে যাবেন।
11 আমি যে মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাত তুলি, মাবুদ এমন না করুন; কিন্তু তাঁর মাথার কাছের বর্শা ও পানির ভাঁড় তুলে নিয়ে এসো; পরে আমরা চলে যাব।
12 এভাবে দাউদ তালুতের মাথার কাছ থেকে তাঁর বর্শা ও পানির ভাঁড় নিয়ে চলে গেলেন, কিন্তু কেউ তা দেখলো না, জানলো না, কেউ জাগলও না, কেননা সকলে ঘুমিয়ে ছিল; কারণ মাবুদ তাদের উপর গভীর ঘুম নিয়ে এসেছিলেন।
13
পরে দাউদ অন্য পারে গিয়ে দূরে পর্বতের চূড়ায় দাঁড়ালেন; তাঁদের মধ্যে অনেকটা স্থান ব্যবধান ছিল।
14 তখন দাউদ লোকদের ও নেরের পুত্র অব্নেরকে ডেকে বললেন, হে অব্নের, তুমি জবাব দেবে না? তখন অব্নের জবাবে বললেন, বাদশাহ্র কাছে চেঁচাচ্ছ তুমি কে?
15 দাউদ অব্নেরকে বললেন, তুমি কি পুরুষ নও? আর ইসরাইলের মধ্যে তোমার মত কে আছে? তবে তুমি তোমার মালিক বাদশাহ্কে কেন সাবধানে রাখলে না? দেখ, তোমার মালিক বাদশাহ্কে বিনষ্ট করতে লোকদের মধ্যে এক জন গিয়েছিল।
16 তুমি এই কাজ ভাল কর নি। জীবন্ত মাবুদের কসম, তোমরা মৃত্যুর সন্তান, কেননা মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তি তোমাদের মালিককে সাবধানে রাখ নি। তুমি একবার দেখ, বাদশাহ্র মাথার কাছের বর্শা ও পানির ভাঁড় কোথায়?
17
তখন তালুত দাউদের স্বর বুঝে বললেন, হে আমার সন্তান দাউদ, এ কি তোমার স্বর? দাউদ বললেন, হ্যাঁ, আমার মালিক মহারাজ, এটি আমারই স্বর।
18 তিনি আরও বললেন, আমার মালিক তাঁর গোলামের পিছনে কেন তাড়া করে বেড়াচ্ছেন?
19 আমি কি করেছি? আমার হাতে কি অনিষ্ট আছে? এখন আরজ করি, আমার মালিক বাদশাহ্ তাঁর গোলামের কথা শুনুন; যদি মাবুদ আমার বিরুদ্ধে আপনাকে উত্তেজিত করে থাকেন, তবে তিনি কোরবানীর সৌরভ গ্রহণ করুন; কিন্তু যদি মানুষ তা করে থাকে, তবে তারা মাবুদের সাক্ষাতে শাপগ্রস্ত হোক; কেননা আজ তারা আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে, যেন মাবুদের অধিকারে আমার অংশ না থাকে; তারা বলেছে, তুমি গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা কর।
20 অতএব মাবুদ থেকে দূরে এমন কোন ভূমিতে যেন আমার রক্তপাত না হয়। ইসরাইলের বাদশাহ্ একটি সামান্য ছার-পোকার খোঁজে বাইরে এসেছেন, যেমন কেউ পর্বতে তিতির পাখির পিছনে দৌড়ে যায়।
21
তখন তালুত বললেন, আমি গুনাহ্ করেছি; বৎস দাউদ, ফিরে এসো; আমি আর তোমার ক্ষতি করবো না, কেননা আজ আমার প্রাণ তোমার দৃষ্টিতে মহামূল্য হল। দেখ, আমি নির্বোধের কাজ করেছি ও বড়ই ভ্রান্ত হয়েছি।
22 জবাবে দাউদ বললেন, হে বাদশাহ্। এই দেখুন, বর্শা; কোন যুবক পার হয়ে এসে এটি নিয়ে যাক।
23 মাবুদ প্রত্যেককে তার ধার্মিকতা ও বিশ্বস্ততার ফল দেবেন; বাস্তবিক মাবুদ আজ আপনাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাত তুলতে চাইলাম না।
24 অতএব দেখুন, আজ যেমন আমার সাক্ষাতে আপনার প্রাণ মহামূল্য হল, তেমনি মাবুদের সাক্ষাতে আমার প্রাণ মহামূল্য হোক; আর তিনি সমস্ত সঙ্কট থেকে আমাকে উদ্ধার করুন।
25 পরে তালুত দাউদকে বললেন, বৎস দাউদ, তুমি ধন্য; তুমি অবশ্য মহৎ কাজ করবে, আর বিজয়ী হবে। পরে দাউদ নিজের পথে চলে গেলেন আর শৌলও স্বস্থানে ফিরে গেলেন।
1
পরে দাউদ মনে মনে বললেন, এর মধ্যে কোন এক দিন আমি তালুতের হাতে বিনষ্ট হবো। ফিলিস্তিনীদের দেশে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমার আর মঙ্গল নেই; সেখানে গেলে তালুত ইসরাইলের সমস্ত অঞ্চলে আমার খোঁজ করতে ক্ষান্ত হবেন এবং আমি তাঁর হাত থেকে রক্ষা পাব।
2 অতএব দাউদ উঠে তাঁর সঙ্গী ছয় শত লোক নিয়ে মায়োকের পুত্র আখীশ নামক গাতের বাদশাহ্র কাছে গেলেন।
3 আর দাউদ ও তাঁর লোকেরা নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে গাতে আখীশের কাছে বাস করলেন, বিশেষত দাউদ ও তাঁর দুই স্ত্রী, অর্থাৎ যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়ম ও নাবলের বিধবা কর্মিলীয়া অবীগল সেখানে বাস করলেন।
4 পরে দাউদ পালিয়ে গাতে গেছেন, এই সংবাদ তালুতের কানে আসলে তিনি আর তাঁর খোঁজ করলেন না।
5
পরে দাউদ আখীশকে বললেন, আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তবে জনপদের কোন নগরে আমাকে স্থান দিন, আমি সেখানে বাস করবো; আপনার এই গোলাম আপনার সঙ্গে রাজধানীতে কেন বাস করবে?
6 তখন আখীশ সেদিন সিক্লগ নগর তাঁকে দিলেন, এই কারণ আজও সিক্লগ এহুদার বাদশাহ্দের অধিকারে আছে।
7 ফিলিস্তিনীদের দেশে দাউদ এক বছর চার মাস থাকলেন।
8
ঐ সময়ে দাউদ ও তাঁর লোকেরা গিয়ে গশূরীয়, গির্ষীয় ও আমালেকীয়দের আক্রমণ করতেন, কেননা শূর থেকে ও মিসর পর্যন্ত সমস্ত এলাকাটায় পুরাকাল থেকে সেই জাতির লোকেরা বাস করতো।
9 আর দাউদ সেই দেশবাসীদের আঘাত করতেন, পুরুষ বা স্ত্রী কাউকেও জীবিত রাখতেন না; ভেড়া, গরু, গাধা, উট ও কাপড়-চোপড় লুট করতেন, পরে আখীশের কাছ ফিরে আসতেন।
10 আর আজ তোমরা কোথায় চড়াও হলে? আখীশ এই কথা জিজ্ঞাসা করলে দাউদ বলতেন, এহুদার দক্ষিণাঞ্চলে, কিংবা যিরহ-মেলীয়দের দক্ষিণাঞ্চলে, অথবা কেনীয়দের দক্ষিণাঞ্চলে।
11 কিন্তু দাউদ কোন পুরুষ কিংবা স্ত্রীকে গাতে আনবার জন্য জীবিত রাখতেন না, বলতেন, পাছে কেউ আমাদের বিপক্ষে এমন সংবাদ দেয়, দাউদ এই রকম কাজ করেছেন, আর তিনি যতদিন ফিলিস্তিনীদের জনপদে বাস করছেন, ততদিন ঐ রকম ব্যবহার করে আসছেন।
12 আর আখীশ দাউদকে বিশ্বাস করে বলতেন, দাউদ নিজের জাতি ইসরাইলের কাছে নিজেকে নিতান্ত ঘৃণাস্পদ করেছে; অতএব সে চিরকাল আমার গোলাম হয়ে থাকবে।
1
সেই সময়ে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করার অভিপ্রায়ে নিজস্ব সৈন্যদল সংগ্রহ করলো। আর আখীশ দাউদকে বললেন, নিশ্চয় বুঝতে পারছ যে, তোমাকে ও তোমার লোকদেরকে সৈন্যদল-ভুক্ত হয়ে আমার সঙ্গে যেতে হবে।
2 দাউদ আখীশকে বললেন, ভাল, আপনার এই গোলাম কি করতে পারে, তা আপনি জানতে পারবেন। আখীশ দাউদকে বললেন, ভাল, আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য আমার দেহরক্ষীর পদে নিযুক্ত করবো।
3
তখন শামুয়েলের মৃত্যু হয়েছিল এবং সমস্ত ইসরাইল তাঁর জন্য শোক করেছিল এবং রামায়, তাঁর নিজের নগরে, তাঁকে দাফন করেছিল। আর তালুত ভূতের ওঝা ও গুনিনদের দেশ থেকে দূর করে দিয়েছিলেন।
4 পরে ফিলিস্তিনীরা একত্র হল এবং এসে শূনেমে শিবির স্থাপন করলো, আর তালুত সমস্ত ইসরাইলকে জমায়েত করে গিল্বোয়ে শিবির স্থাপন করলেন।
5 কিন্তু ফিলিস্তিনীদের সৈন্য দেখে তালুত ভীষণ ভয় পেলেন, তাঁর ভীষণ হৃৎকম্প শুরু হল।
6 তখন তালুত মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু মাবুদ তাঁকে কোন জবাব দিলেন না; স্বপ্ন দ্বারাও নয়, ঊরীম দ্বারাও নয় কিম্বা নবীদের দ্বারাও নয়।
7 তখন তালুত তাঁর গোলামদের বললেন, আমার জন্য একটি মহিলা তান্ত্রিকের খোঁজ কর; আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবো। তাঁর গোলামেরা বললো, দেখুন, ঐন্দোরে এক জন মহিলা তান্ত্রিক আছে।
8
তখন তালুত ছদ্মবেশ ধরলেন, অন্য পোশাক পরে ও দু’জন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করলেন এবং রাতে সেই মহিলার কাছে এসে বললেন, আরজ করি, তুমি আমার জন্য মন্ত্র পড়ে রূহের সঙ্গে যোগাযোগ কর, যাঁর নাম আমি তোমাকে বলবো, তাঁকে উঠিয়ে আন।
9 সে স্ত্রীলোক তাঁকে বললো, দেখ, তালুত যা করেছেন, তিনি যে তান্ত্রিক ও গুনিনদেরকে দেশের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন করেছেন, তা নিশ্চয়ই তোমার অজানা নেই; অতএব আমাকে হত্যা করতে আমার বিরুদ্ধে কেন ফাঁদ পাতছ?
10 তখন তালুত তার কাছে মাবুদের কসম খেয়ে বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, এজন্য তোমার উপরে কোন দোষ আসবে না।
11 তখন সেই স্ত্রীলোক জিজ্ঞাসা করলো, আমি তোমার কাছে কাকে উঠিয়ে আনবো? তিনি বললেন, শামুয়েলকে উঠিয়ে আন।
12 পরে সেই স্ত্রীলোক শামুয়েলকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো; আর সেই স্ত্রীলোক তালুতকে বললো, আপনি কেন আমাকে প্রতারণা করলেন? আপনিই তালুত।
13 বাদশাহ্ তাকে বললেন, ভয় নেই; তুমি কি দেখছ? স্ত্রীলোকটি তালুতকে বললো, আমি দেখছি, দেবতা ভূমি থেকে উঠে আসছেন।
14 তালুত জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর আকার কেমন? সে বললো, এক জন বৃদ্ধ উঠছেন, তিনি পরিচ্ছদে আবৃত। তাতে তালুত বুঝতে পারলেন, তিনি শামুয়েল, আর ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম জানালেন।
15
পরে শামুয়েল তালুতকে বললেন, কি জন্য আমাকে উঠিয়ে কষ্ট দিলে? তালুত বললেন, আমি মহাসঙ্কটে পড়েছি, ফিলিস্তিনীরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আল্লাহ্ও আমাকে ত্যাগ করেছেন, আমাকে আর উত্তর দেন না, নবীদের দ্বারাও নয়, স্বপ্ন দ্বারাও নয়। অতএব আমার যা কর্তব্য, তা আমাকে জানবার জন্য আপনাকে ডেকে আনলাম।
16 শামুয়েল বললেন, যখন মাবুদ তোমাকে ত্যাগ করে তোমার বিপক্ষ হয়েছেন, তখন আমাকে কেন জিজ্ঞাসা কর?
17 মাবুদ আমার মধ্য দিয়ে যেরকম বলেছিলেন, সেরকম তাঁর জন্য করলেন; ফলত মাবুদ তোমার হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নিয়েছেন ও তোমার প্রতিবেশী দাউদকে দিয়েছেন।
18 যেহেতু তুমি মাবুদের কথা মান্য কর নি এবং আমালেকের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড কোপ সফল কর নি, এই কারণে আজ মাবুদ তোমার প্রতি এরকম করলেন।
19 আর মাবুদ তোমার সঙ্গে ইসরাইলকেও ফিলিস্তিনীদের হাতে তুলে দিবেন। আগামীকাল তুমি ও তোমরা পুত্ররা আমার সঙ্গী হবে; আর মাবুদ ইসরাইলের সৈন্যদলকেও ফিলিস্তিনীদের হাতে তুলে দিবেন।
20
তখন তালুত অমনি ভূমিতে লম্বমান হয়ে পড়লেন; শামুয়েলের কথায় তিনি ভীষণ ভয় পেলেন এবং সমস্ত দিন ও রাত অনাহারে থাকাতে তিনি শক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন।
21 পরে সেই স্ত্রীলোক তালুতের কাছে এসে দেখল যে, তিনি ভীষণ ভয় পেয়েছেন। তা দেখে সে বলল, দেখুন, আপনার বাঁদী আমি আপনার কথা রেখেছি, আপনি আমাকে যা বলেছিলেন, প্রাণ হাতে করে আপনার সেই কথা রেখেছি।
22 অতএব আরজ করি, এখন আপনিও এই বাঁদীর কথা রাখুন; আমি আপনার সম্মুখে কিঞ্চিৎ খাদ্য রাখি, আপনি ভোজন করুন, তা হলে পথে চলবার সময়ে শক্তি পাবেন।
23 কিন্তু তিনি অসম্মত হয়ে বললেন, আমি ভোজন করবো না; তবুও তাঁর গোলামেরা ও সেই স্ত্রী-লোকটি সাধাসাধি করলে তিনি তাদের কথা শুনে ভূমি থেকে উঠে পালঙ্কে বসলেন।
24 তখন সে স্ত্রীলোকের বাড়িতে একটা পুষ্ট বাছুর ছিল, আর সে তাড়াতাড়ি সেটি জবেহ্ করলো এবং সুজি নিয়ে ঠেসে খামিহীন রুটি প্রস্তুত করলো।
25 পরে তালুত ও তাঁর গোলামদের সম্মুখে তা আনলো, আর তাঁরা ভোজন করলেন; পরে সেই রাতে চলে গেলেন।
1
পরে ফিলিস্তিনীরা নিজেদের সমস্ত সৈন্য অফেকে জমায়েত করলো এবং ইসরাইলরা যিষ্রিয়েলস্থ ফোয়ারার কাছে শিবির স্থাপন করলো।
2 ফিলিস্তিনীদের ভূপালেরা এক শত-সৈন্য এবং এক হাজার-সৈন্যের দল নিয়ে অগ্রসর হতে লাগলেন, আর সকলের শেষে আখীশের সঙ্গে দাউদ ও তাঁর লোকেরা অগ্রসর হলেন।
3 তখন ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গ জিজ্ঞাসা করলেন, এই ইবরানীরা এখানে কি করে? আখীশ জবাবে ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গদের বললেন, এই ব্যক্তি কি ইসরাইলের বাদশাহ্ তালুতের গোলাম দাউদ নয়? সে এত দিন ও এত বছর আমার সঙ্গে বাস করছে; এবং যেদিন আমার পক্ষ হয়েছে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এর কোন ত্রুটি দেখি নি।
4 তাতে ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গ তাঁর উপরে ত্রুুদ্ধ হলেন, আর ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গ তাঁকে বললেন, তুমি তাকে ফেরৎ পাঠিয়ে দাও; সে তোমার নির্ধারিত তাঁর স্থানে ফিরে যাক, আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে না আসুক, পাছে সে যুদ্ধে আমাদের বিপক্ষ হয়; কেননা এসব লোকের মুণ্ড ছাড়া আর কিসে সে তাঁর মালিককে খুশি করবে?
5 এই কি সেই দাউদ নয়, যার বিষয়ে লোকেরা নেচে নেচে পরস্পর গাইত, “শৌল মারলেন হাজার হাজার, আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত”?
6
তখন আখীশ দাউদকে ডেকে এনে বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, তুমি সরল লোক এবং সৈন্যের মধ্যে আমার সঙ্গে তোমার গমনাগমন আমার দৃষ্টিতে ভাল, কেননা তোমার আসার দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তোমার কোন দোষ পাই নি, তবুও ভূপালেরা তোমার উপরে সন্তুষ্ট নন।
7 অতএব এখন সহিসালামতে ফিরে যাও, ফিলিস্তিনীদের ভূপালদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা করো না।
8 তখন দাউদ আখীশকে বললেন, কিন্তু আমি কি করেছি? আজ পর্যন্ত যত দিন আপনার সম্মুখে আছি, আপনি এই গোলামের কি দোষ পেয়েছেন যে, আমি আমার মালিক বাদশাহ্র দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতে পারব না?
9 তাতে আখীশ জবাবে দাউদকে বললেন, আমি জানি, আল্লাহ্র ফেরেশতার মতই তুমি আমার দৃষ্টিতে উত্তম, কিন্তু ফিলিস্তিনীদের নেতৃবর্গ বলেছেন, সেই ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে পারবে না।
10 অতএব তোমার সঙ্গে তোমার মালিকের যে গোলামেরা এসেছে, তাদের নিয়ে খুব ভোরে উঠো এবং আলো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্থান করো।
11 তাতে দাউদ ও তাঁর লোকেরা খুব ভোরে উঠে ফিলিস্তিনীদের দেশে ফিরে গেলেন। আর ফিলিস্তিনীরা যিষ্রিয়েলে গমন করলো।
1
দাউদ ও তাঁর লোকেরা তৃতীয় দিনে সিক্লগে উপস্থিত হলেন। ইতোমধ্যে আমালেকীয়েরা দক্ষিণ অঞ্চলে ও সিক্লগে চড়াও হয়েছিল, সিক্লগে আঘাত করে তা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল।
2 তারা সেখানকার সমস্ত স্ত্রীলোক ও ছোট বড় সকলকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল; তারা কাউকেও হত্যা করে নি, কিন্তু সকলকে নিয়ে নিজেদের পথে চলে গিয়েছিল।
3 পরে দাউদ ও তাঁর লোকেরা যখন সেই নগরে উপস্থিত হলেন, দেখ, নগর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ও তাঁদের স্ত্রী পুত্র কন্যাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
4 তখন দাউদ ও তাঁর সঙ্গী লোকেরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। শেষে তাদের কাঁদবার শক্তিও আর রইলো না।
5 ঐ সময়ে দাউদের দুই স্ত্রী, যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়ম ও কর্মিলীয় নাবলের বিধবা অবীগল বন্দী হয়েছিলেন।
6 তখন দাউদ ভীষণ ব্যাকুল হয়ে পড়লেন, কারণ প্রত্যেক জনের মন নিজ নিজ পুত্র কন্যার জন্য শোকাকুল হওয়াতে লোকেরা দাউদকে পাথর ছুঁড়ে মারার কথা বলতে লাগল; তবুও দাউদ তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের উপর ভরসা করে নিজেকে সবল করলেন।
7
পরে দাউদ অহীমেলকের পুত্র অবিয়াথর ইমামকে বললেন, আরজ করি, এখানে আমার কাছে এফোদ আন, তাতে অবিয়াথর দাউদের কাছে এফোদ আনলেন।
8 তখন দাউদ মাবুদের কাছে এই কথা জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ সৈন্যদলের পিছনে পিছনে গেলে আমি কি তাদের নাগাল পাব? তিনি তাঁকে বললেন, তাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে যাও, নিশ্চয়ই তাদের নাগাল পাবে ও সকলকে উদ্ধার করবে।
9 তখন দাউদ ও তাঁর সঙ্গী ছয় শত লোক গিয়ে বিষোর স্রোতে উপস্থিত হলে কতগুলো লোককে সেখানে রাখা হল;
10 কিন্তু দাউদ ও তাঁর সঙ্গী চার শত লোক দুশমনদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেলেন; কারণ দুই শত লোক ক্লান্তির জন্য বিষোর স্রোত পার হতে না পারাতে সেই স্থানে রইলো।
11
পরে তারা মাঠের মধ্যে এক জন মিসরীয়কে পেয়ে তাকে দাউদের কাছে আনলো এবং তাকে রুটি দিলে সে ভোজন করলো, আর তারা তাকে পানি পান করতে দিল;
12 আর তারা ডুমুরচাকের এক খণ্ড ও দুই থলুয়া শুকনো আঙ্গুর তাকে দিল এবং তা খাওয়ার পর তার প্রাণ সতেজ হল, কেননা তিন দিন ও তিন রাত সে রুটি ভোজন বা পানি পান করে নি।
13 পরে দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কার লোক? কোথা থেকে আসলে? সে বললো, আমি এক জন মিসরীয় যুবক, এক জন আমালেকীয়ের গোলাম; আজ তিন দিন হল, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম বলে আমার মালিক আমাকে ত্যাগ করে চলে গেলেন।
14 আমরা করেথীয়দের দক্ষিণাঞ্চলে, এহুদার অধিকারে ও কালেবের অধিকারের দক্ষিণাঞ্চলে চড়াও হয়েছিলাম, আর সিক্লগ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।
15 পরে দাউদ তাকে বললেন, সেই দলের কাছে কি আমাকে পৌঁছে দেবে? সে বললো, আপনি আমার কাছে আল্লাহ্র নামে কসম করুন যে, আমাকে হত্যা করবেন না, বা আমার মালিকের হাতে আমাকে তুলে দেবেন না, তা হলে আমি সেই দলের কাছে আপনাকে পৌঁছে দেব।
16
পরে যখন সে তাঁকে সেই দলের কাছে পৌঁছে দিল, তখন তারা সমস্ত ভূমিতে ছড়িয়ে ছিল। ভোজন পান ও উৎসব করছিল, কারণ ফিলিস্তিনীদের দেশ ও এহুদার দেশ থেকে তারা প্রচুর লুণ্ঠিত দ্রব্য এনেছিল।
17 দাউদ সন্ধ্যাকাল থেকে পরদিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আক্রমণ করলেন; তাদের মধ্যে এক জনও রক্ষা পেল না, কেবল চার শত যুবক উটে চড়ে পালিয়ে গেল।
18 আর আমালেকীয়েরা যা কিছু নিয়ে গিয়েছিল, দাউদ সেই সমস্ত উদ্ধার করলেন, বিশেষত দাউদ নিজের দুই স্ত্রীকেও মুক্ত করলেন।
19 তাদের ছোট বা বড়, পুত্র বা কন্যা অথবা দ্রব্য-সামগ্রী ইত্যাদি যা কিছু ওরা নিয়ে গিয়েছিল, তার কিছুরই ত্রুটি হল না; দাউদ সমস্তই ফিরিয়ে আনলেন।
20 আর দাউদ সমস্ত ভেড়ার পাল ও গরুর পাল নিলেন; এবং লোকেরা সেগুলোকে পশু-পালের অগ্রভাগে গমন করাল, আর বললো, এ দাউদের লুটদ্রব্য।
21
পরে যে দুই শত লোক ক্লান্তির জন্য দাউদের সঙ্গে যেতে পারে নি, যাদেরকে তাঁরা বিষোর স্রোতের ধারে রেখে গিয়েছিলেন, তাদের কাছে দাউদ আসলেন; তারা দাউদ ও তাঁর সঙ্গী লোকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেল; আর দাউদ লোকদের সঙ্গে তাদের কাছে এসে কুশল জিজ্ঞাসা করলেন।
22 কিন্তু দাউদের সঙ্গে যারা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে দুষ্ট পাষণ্ডেরা সকলে বললো, ওরা আমাদের সঙ্গে যায় নি; অতএব আমরা যে লুটদ্রব্য উদ্ধার করেছি তা থেকে ওদেরকে কিছুই দেব না, ওরা প্রত্যেকে কেবল নিজ নিজ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে চলে যাক।
23 তখন দাউদ জবাবে বললেন, হে আমার ভাইয়েরা, যে মাবুদ আমাদের রক্ষা করে আমাদের বিরুদ্ধে আগত সৈন্যদলকে আমাদের হাতে তুলে দিলেন, তিনি আমাদের যা দিলেন তা নিয়ে তোমরা এরকম করো না।
24 কেউ এই বিষয়ে তোমাদের কথা শুনবে না। যে যুদ্ধে যায়, সে যেমন অংশ পাবে, যে জিনিসপত্রের কাছে থাকে, সেও তেমনি অংশ পাবে, উভয়ের সমান অংশ হবে।
25 সেদিন থেকে দাউদ ইসরাইলের জন্য এই বিধি ও শাসন স্থির করলেন, এই নিয়ম আজ পর্যন্ত চলছে।
26
পরে দাউদ যখন সিক্লগে উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর বন্ধু এহুদার প্রাচীনদের কাছে লুণ্ঠিত দ্রব্যের কিছু কিছু পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, দেখ, মাবুদের দুশমনদের থেকে আনা লুণ্ঠিত দ্রব্যের মধ্যে এগুলো তোমাদের জন্য উপহার।
27 বেথেল, দক্ষিণাঞ্চলস্থ রামোৎ,
28 যত্তীর, অরোয়ের, শিফমোৎ, ইষ্টিমোয়,
29 রাখল, যিরহমেলীয়দের সমস্ত নগর, কেনীয়দের সমস্ত নগর, হর্ম্মা, কোর-আশন,
30 অথাক ও হেবরন, যে যে স্থানে দাউদের ও তাঁর লোকদের গমনাগমন হত,
31 সেসব স্থানের লোকদের কাছে তিনি তা পাঠালেন।
1
ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করলে বনি-ইসরাইলরা ফিলিস্তিনীদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল এবং গিল্বোয় পর্বতে আহত হয়ে মারা পড়তে লাগল।
2 আর ফিলিস্তিনীরা তালুত ও তাঁর পুত্রদের পিছনে পিছনে তাড়া করলো এবং ফিলিস্তিনীরা যোনাথন, অবীনাদব ও মল্কীশূয়কে, তালুতের এই পুত্রদের হত্যা করলো।
3 পরে তালুতের বিরুদ্ধে ঘোরতর যুদ্ধ হল, আর তীরন্দাজেরা তাঁর নাগল পেল; সেই তীরন্দাজদের দ্বারা সাংঘাতিকভাবে আহত হলেন।
4 আর তালুত তাঁর অস্ত্রবাহককে বললেন, তোমার তলোয়ার খোল, তা দিয়ে আমাকে বিদ্ধ কর; নতুবা কি জানি, ঐ খৎনা-না-করানো লোকেরা এসে আমাকে বিদ্ধ করে আমার অপমান করবে। কিন্তু তাঁর অস্ত্রবাহক তা করতে চাইল না, কারণ সে ভীষণ ভয় পেয়েছিল; অতএব তালুত নিজের তলোয়ার নিয়ে নিজেই তার উপরে পড়লেন।
5 আর তালুত মারা গেছেন দেখে তাঁর অস্ত্রবাহকও তার তলোয়ারের উপরে পড়ে তাঁর সঙ্গে মারা গেল।
6 এইভাবে সেদিন তালুত, তাঁর তিন পুত্র, তাঁর অস্ত্রবাহক ও তাঁর সমস্ত লোক একসঙ্গে মারা পড়লেন।
7 পরে ইসরাইলের যে লোকেরা উপত্যকার ওপারে ও জর্ডানের ওপারে ছিল, তারা যখন দেখতে পেল যে, বনি-ইসরাইলরা পালিয়ে গেছে এবং তালুত ও তাঁর পুত্ররা মারা গেছেন, তখন তারা সমস্ত নগর পরিত্যাগ করে পালিয়ে গেল, আর ফিলিস্তিনীরা এসে সেসব নগর মধ্যে বাস করতে লাগল।
8
পরের দিন ফিলিস্তিনীরা নিহত লোকদের পোশাকাদি খুলে নিতে এসে গিল্বোয় পর্বতে মরে পড়ে থাকা তালুত ও তাঁর তিন পুত্রের লাশ দেখতে পেল।
9 তারা তাঁর মাথা কেটে ফেলল ও সাজ-পোশাক খুলে নিল এবং তাদের দেবালয়ে ও লোকদের মধ্যে সেই সুখবর জানবার জন্য ফিলিস্তিনীদের দেশের সর্বত্র প্রেরণ করলো।
10 পরে তাঁর সাজ-পোশাক অষ্টারোৎ দেবীদের মন্দিরে রাখল এবং তাঁর লাশ বৈৎ-শানের প্রাচীরে টাঙ্গিয়ে দিল।
11 পরে যখন যাবেশ-গিলিয়দ নিবাসীরা তালুতের প্রতি ফিলিস্তিনীদের কৃত সেই কাজের সংবাদ পেল,
12 তখন সমস্ত বিক্রমশালী লোক উঠলো এবং সমস্ত রাত হেঁটে গিয়ে তালুত ও তাঁর পুত্রদের লাশ বৈৎ-শানের প্রাচীর থেকে নামাল, আর যাবেশে এসে সেখানে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দিল।
13 আর তারা তাঁদের অস্থি নিয়ে যাবেশস্থ ঝাউ গাছের তলায় পুঁতে রাখল; পরে সাত দিন রোজা রেখে কাটাল।
1
তালুতের মৃত্যুর পরে দাউদ আমালেকীয়দের পরাজিত করে সিক্লগে ফিরে আসলেন এবং সিক্লগে দুই দিন থাকলেন;
2 পরে তৃতীয় দিনে তালুতের শিবির থেকে এক জন লোক এল, তার কাপড় ছেঁড়া ও মাথায় মাটি ছিল। দাউদের কাছে এসে সে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলো।
3 দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো? সে বললো আমি ইসরাইলের শিবির থেকে পালিয়ে এসেছি?
4 দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, সংবাদ কি? আমাকে বল দেখি! সে জবাবে বললো, লোকেরা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেছে; আবার লোকদের মধ্যেও অনেকে পতিত হয়েছে, মারা পড়েছে এবং তালুত ও তাঁর পুত্র যোনাথনও মারা পড়েছেন।
5 পরে দাউদ সেই সংবাদদাতা যুবককে জিজ্ঞাসা করলেন, তালুত ও তাঁর পুত্র যোনাথন যে মারা পড়েছেন, তা তুমি কিভাবে জানলে?
6 তাতে সেই সংবাদদাতা যুবক তাঁকে বললো, আমি ঘটনাক্রমে গিল্বোয় পর্বতে উপস্থিত হয়েছিলাম, আর দেখ, তালুত বর্শার উপরে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং রথ ও ঘোড়-সওয়ারেরা চাপাচাপি করে তাঁর খুব কাছে এসেছিল।
7 ইতোমধ্যে তিনি পিছনে মুখ ফিরিয়ে আমাকে দেখে ডাকলেন।
8 আমি বললাম, এই যে আমি। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি এক জন আমালেকীয়।
9 তিনি আমাকে বললেন, আরজ করি, আমার কাছে দাঁড়িয়ে আমাকে হত্যা কর, কেননা আমার মাথা ঘুরছে, আর এখনও প্রাণ আমাতে সমপূর্ণ রয়েছে।
10 তাতে আমি কাছে দাঁড়িয়ে তাঁকে হত্যা করলাম; কেননা পতনের পরে তিনি যে জীবিত থাকবেন না, এ নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিলাম; আর তাঁর মাথায় যে মুকুট ও বাহুতে যে বলয় ছিল, তা নিয়ে এই স্থানে আমার মালিকের কাছে এসেছি।
11
তখন দাউদ তাঁর নিজের কাপড় ছিঁড়লেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও সকলে তা-ই করলো।
12 আর তালুত, তাঁর পুত্র যোনাথন, মাবুদের লোকেরা ও ইসরাইলের কুল তলোয়ারের আঘাতে মারা যাওয়াতে তাঁদের বিষয়ে তাঁরা শোক ও মাতম করলেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা রাখলেন।
13 পরে দাউদ ঐ সংবাদদাতা যুবককে বললেন, তুমি কোথাকার লোক? সে বললো, আমি এক জন প্রবাসীর পুত্র, আমালেকীয়।
14 দাউদ তাকে বললেন, মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তিকে সংহার করার জন্য তোমার হাত তুলতে তুমি কেন ভয় পেলে না?
15 পরে দাউদ যুবকদের এক জনকে ডেকে হুকুম করলেন, তুমি কাছে গিয়ে একে আক্রমণ কর। তাতে সে তাকে আঘাত করলে সেই যুবক মারা গেল।
16 আর দাউদ তাকে বললেন, তোমার রক্তপাতের অপরাধ তোমার মাথায় অর্পিত হোক; কেননা তোমারই মুখ তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে, তুমিই বলেছ, আমিই মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করেছি।
17
পরে দাউদ তালুতের ও তাঁর পুত্র যোনাথনের বিষয়ে বিলাপের এই গান গেয়ে মাতম করলেন;
18 এবং এহুদার সন্তানদেরকে এই ধনুর্গীত শিখাতে হুকুম দিলেন। দেখ, তা যাশের গ্রন্থে লেখা আছে।
19
হে ইসরাইল, তোমার উচ্চস্থলীতে তোমার তেজ নিহত হল!
হায়! বীরগণ ধ্বংস হলেন।
20
গাতে সংবাদ দিও না,
অস্কিলোনের পথে প্রকাশ করো না;
পাছে ফিলিস্তিনীদের কন্যারা আনন্দ করে,
পাছে খৎনা-না-করানোদের কন্যারা উল্লাস করে।
21
হে গিল্বোয়ের পর্বতমালা,
তোমাদের উপরে শিশির বা বৃষ্টি না পড়ুক,
উপহারের ক্ষেত না থাকুক;
কেননা সেখানে বীরদের ঢাল অশুদ্ধ হল,
তালুতের ঢাল তেলে অভিষিক্ত হল না।
22
নিহতদের রক্ত ও বীরদের চর্বি না পেলে
যোনাথনের ধনুক ফিরে আসত না,
তালুতের তলোয়ারও অমনি ফিরে আসত না।
23
তালুত ও যোনাথন জীবনকালে প্রিয় ও মনোহর ছিলেন,
তাঁরা মরণেও বিচ্ছিন্ন হলেন না;
তাঁরা ঈগলের চেয়ে বেগবান ছিলেন,
সিংহের চেয়ে বলবান ছিলেন।
24
ইসরাইল-কন্যারা! তালুতের জন্য কাঁদ,
তিনি রক্তিম রংয়ের রমণীয় পরিচ্ছদে তোমাদেরকে ভূষিত করতেন,
তোমাদের পোশাকের উপরে সোনার অলংকার পরাতেন।
25
হায়! সংগ্রামের মধ্যে বীরেরা মারা পড়লেন;
যোনাথন তব উচ্চস্থলিতে হত হলেন।
26
হ্যাঁ, ভাই যোনাথন! তোমার জন্য আমি ব্যাকুল।
তুমি আমার কাছে অতিশয় মনোহর ছিলে;
তোমার ভালবাসা আমার পক্ষে চমৎকার ছিল,
রমণীদের ভালবাসার চেয়েও বেশি ছিল।
27
হায়! বীরেরা মারা পড়লেন,
যুদ্ধের সমস্ত অস্ত্র বিনষ্ট হল।
1
পরে দাউদ মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি এহুদার কোন একটি নগরে উঠে যাব? মাবুদ বললেন, যাও। পরে দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যাব? তিনি বললেন, হেবরনে।
2 অতএব দাউদ আর তাঁর দুই স্ত্রী, যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়ম ও কর্মিলীয় নাবলের বিধবা অবীগল, সেই স্থানে গমন করলেন,
3 আর দাউদ প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে তাঁর সঙ্গীদেরকেও নিয়ে গেলেন, তাতে তারা হেবরনের নগরগুলোতে বাস করলো।
4 পরে এহুদার লোকেরা এসে সেই স্থানে দাউদকে এহুদার কুলের উপরে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করলো। পরে লোকে দাউদকে এই সংবাদ দিল যে, যাবেশ-গিলিয়দের লোকেরা তালুতের লাশ দাফন করেছে।
5
তখন দাউদ যাবেশ-গিলিয়দের লোকদের কাছে দূতদের প্রেরণ করে বললেন, তোমরা মাবুদের দোয়ার পাত্র, কেননা তোমরা তোমাদের মালিকের প্রতি, তালুতের প্রতি রহম করেছ, তাঁকে দাফন করেছ।
6 অতএব মাবুদ তোমাদের প্রতি অটল মহব্বত দেখান ও বিশ্বস্ত ব্যবহার করুন এবং তোমরা এই কাজ করেছ এজন্য আমিও তোমাদের প্রতি সদয়াচরণ করবো।
7 অতএব এখন তোমাদের হাত সবল হোক ও তোমরা বিক্রমশালী হও, কেননা তোমাদের মালিক তালুত ইন্তেকাল করেছেন, আর এহুদার কুল তাদের নিজেদের উপরে আমাকে বাদশাহ্র পদে অভিষিক্ত করেছে।
8
ইতোমধ্যে নেরের পুত্র অব্নের তালুতের সেনাপতি, তালুতের পুত্র ঈশ্বোশৎকে ওপারে মহনয়িমে নিয়ে গেলেন;
9 আর গিলিয়, অশূর, যিষ্রিয়েল, আফরাহীম ও বিন্ইয়ামীন এবং সমস্ত ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্ করলেন।
10 তালুতের পুত্র ঈশ্বোশৎ চল্লিশ বছর বয়সে ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে দু’বছর রাজত্ব করেন। কিন্তু এহুদা-কুল দাউদের পক্ষে ছিল।
11 আর দাউদ সাত বছর ছয় মাস হেবরনে এহুদা-কুলের উপরে রাজত্ব করলেন।
12
একবার নেরের পুত্র অব্নের এবং তালুতের পুত্র ঈশ্বোশতের গোলামেরা মহনয়িম থেকে গিবিয়োনে গমন করলেন।
13 তখন সরূয়ার পুত্র যোয়াব ও দাউদের গোলামরাও বের হলেন, আর গিবিয়োনের পুস্করিণীর কাছে তাঁরা পরস্পর সম্মুখা-সম্মুখী হলেন, এক দল পুস্করিণীর এপারে, অন্য দল পুস্করিণীর ওপারে বসলো।
14 পরে অব্নের যোয়াবকে বললেন, আরজ করি, যুবকরা উঠে আমাদের সম্মুখে যুদ্ধক্রীড়া করুক।
15 যোয়াব বললেন, ওরা উঠুক। অতএব লোকেরা সংখ্যা অনুসারে উঠে অগ্রসর হল; তালুতের পুত্র ঈশ্-বোশতের ও বিন্ইয়ামীনের পক্ষে বারো জন এবং দাউদের গোলামদের মধ্যে বারো জন।
16 আর তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিযোদ্ধার মাথা ধরে কুক্ষিদেশে তলোয়ার বিদ্ধ করে সকলে এক সঙ্গে মারা পড়লো। এজন্য সেই স্থানের নাম হিলকৎ-হৎসূরীম [ছুরিকা-ভূমি] হল; তা গিবিয়োনে আছে।
17 আর সেই দিনে ঘোরতর যুদ্ধ হল এবং অব্নের ও ইসরাইলের লোকেরা দাউদের গোলামদের সম্মুখে পরাজিত হল।
18
সেই স্থানে যোয়াব, অবীশয় ও অসাহেল নামে সরূয়ার তিন পুত্র ছিলেন, সেই অসাহেল বন্য হরিণের মত জোরে দৌড়াতে পারতেন।
19 আর অসাহেল অব্নেরকে তাড়া করে তাঁর পিছনে দৌড়াতে লাগলেন, যেতে যেতে তাঁর পিছনে দৌড়ানো থেকে ডানে বা বামে ফিরলেন না।
20 পরে অব্নের পিছনের দিকে ফিরে বললেন, তুমি কি অসাহেল? তিনি জবাব দিলেন, জ্বী, আমি সেই।
21 অব্নের তাঁকে বললেন, তুমি ডানে বা বামে ফিরে এই যুবকদের কোন এক জনকে ধরে তার সাজ-পোশাক গ্রহণ কর। কিন্তু অসাহেল তাঁর পিছনে তাড়া করা থেকে ফিরে যেতে সম্মত হলেন না।
22 পরে অব্নের অসাহেলকে আবার বললেন, আমাকে তাড়া না করে ফিরে যাও; আমি কেন তোমাকে আঘাত করে ভূতলশায়ী করবো? করলে তোমার ভাই যোয়াবের সাক্ষাতে কি করে মুখ দেখাব?
23 তবুও তিনি ফিরতে সম্মত হলেন না; অতএব অব্নের বর্শার গোড়া তাঁর উদরে এমনভাবে বিদ্ধ করলেন, যে বর্শা তাঁর পৃষ্ঠদেশ দিয়ে বের হল; তাতে তিনি সেখানে পড়ে গেলেন, সেই স্থানেই মারা গলেন এবং যত লোক অসাহেলের পতন ও মরণ স্থানে উপস্থিত হল, সকলেই দাঁড়িয়ে রইলো।
24
কিন্তু যোয়াব ও অবীশয় অব্নেরের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেলেন; সূর্যাস্ত-কালে গিবিয়োন মরুভূমিগামী পথের নিকটবর্তী গীহের সম্মুখস্থ অম্মা পাহাড়ের কাছে উপস্থিত হলেন।
25 আর বিন্ইয়ামীনের লোকেরা অব্নেরের পিছনে একত্র দলবদ্ধ হয়ে একটি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে রইলো।
26 তখন অব্নের যোয়াবকে ডেকে বললেন, তলোয়ার কি চিরকাল গ্রাস করবে? অবশেষে তিক্ততা হবে, এই কথা কি জান না? অতএব তুমি তোমার ভাইদের পিছনে তাড়া করা বন্ধ করতে তোমার লোকদের কত কাল হুকুম না দিয়ে থাকবে?
27 যোয়াব বললেন, জীবন্ত আল্লাহ্র কসম তুমি যদি কথা না বলতে, তবে লোকে প্রাতঃকালেই চলে যেত, আপন ভাইদের পেছন তাড়া করে যেত না।
28 পরে যোয়াব তূরী বাজালেন; তাতে সমস্ত লোক থেমে গেল, ইসরাইলের পিছনে আর তাড়া করলো না, যুদ্ধও আর করলো না।
29
পরে অব্নের ও তাঁর লোকেরা অরাবা উপত্যকা দিয়ে সমস্ত রাত চলে জর্ডান পার হলেন এবং পুরো বিথ্রোণ পাড়ি দিয়ে মহনয়িমে উপস্থিত হলেন।
30 আর যোয়াব অব্নেরের পিছনে তাড়া করা বাদ দিয়ে ফিরে গেলেন; পরে সমস্ত লোককে জমায়েত করলে দাউদের গোলামদের মধ্যে ঊনিশজন এবং অসাহেলকে পাওয়া গেল না।
31 কিন্তু দাউদের গোলামদের আঘাতে বিন্ইয়ামীন ও অব্নেরের লোকদের তিন শত ষাটজন মারা গিয়েছিল।
32 পরে লোকেরা অসাহেলকে তুলে নিয়ে বেথেলহেমে তাঁর পিতার কবরে দাফন করলো। পরে যোয়াব ও তাঁর লোকেরা সমস্ত রাত শেষে ভোর বেলায় হেবরনে উপস্থিত হলেন।
1
তালুতের কুলে ও দাউদের কুলে পরস্পর অনেক দিন যুদ্ধ হল; তাতে দাউদ বলবান হয়ে উঠতে লাগলেন, কিন্তু তালুতের কুল ক্ষীণ হয়ে পড়তে লাগল।
2 আর হেবরনে দাউদের কয়েকটি পুত্র জন্মগ্রহণ করলো; তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র অম্নোন, সে যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়মের সন্তান;
3 তাঁর দ্বিতীয় পুত্র কিলাব, সে কর্মিলীয় নাবলের বিধবা অবীগলের সন্তান; তৃতীয় অবশালোম, সে গশূরের তল্ময় বাদশাহ্র কন্যা মাখার সন্তান;
4 চতুর্থ আদোনিয়, সে হগীতের সন্তান; পঞ্চম শফটিয়, সে অবীটলের সন্তান;
5 এবং ষষ্ঠ যিত্রিয়ম, সে দাউদের স্ত্রী ইগ্লার সন্তান; দাউদের এসব পুত্রের জন্ম হেবরনে হল।
6
যে সময়ে তালুতের কুলে ও দাউদের কুলে পরস্পর যুদ্ধ হল, সেই সময়ে অব্নের তালুতের কুলের পক্ষে বীরত্ব দেখালেন।
7 কিন্তু অয়ার কন্যা রিসপা নাম্নী তালুতের এক জন উপপত্নী ছিল; ঈশ্বোশৎ অব্নেরকে বললেন, তুমি আমার পিতার উপপত্নীর কাছে কেন গমন করেছ?
8 ঈশবোশতের এই কথায় অব্নের অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, আমি কি এহুদা পক্ষের কুকুরের মুণ্ড? আজ পর্যন্ত আমি তোমার পিতা তালুতের কুলের প্রতি, তাঁর ভাইদের ও বন্ধুদের প্রতি রহম করছি এবং তোমাকে দাউদের হাতে তুলে দেই নি, তবু তুমি আজ ঐ স্ত্রীলোকের বিষয়ে আমাকে অপরাধী করছো?
9 আল্লাহ্ অব্নেরকে অমুক ও ততোধিক দণ্ড দিন, যদি দাউদের বিষয়ে মাবুদ যে কসম খেয়েছেন, আমি সেই অনুসারে কাজ না করি,
10 তালুতের কুল থেকে রাজ্য নিয়ে দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত ইসরাইলের ও এহুদার উপরে দাউদের সিংহাসন স্থাপনের চেষ্টা না করি।
11 তখন তিনি অব্নেরকে আর একটা কথাও বলতে পারলেন না কারণ তিনি তাঁকে ভয় করলেন।
12
পরে অব্নের নিজের পক্ষ থেকে দাউদের কাছে দূতদের পাঠিয়ে বললেন, এই দেশ কার? আরও বললেন, আপনি আমার সঙ্গে নিয়ম করুন, আর দেখুন, সমস্ত ইসরাইলকে আপনার পক্ষে আনতে আমার হাত আপনার সহকারী হবে।
13 দাউদ বললেন, ভাল; আমি তোমার সঙ্গে নিয়ম করবো; কেবল একটি বিষয় আমি তোমার কাছে চাই; যখন তুমি আমার মুখ দেখতে আসবে, তখন তালুতের কন্যা মীখলকে না আনলে আমার মুখ দেখতে পাবে না।
14 আর দাউদ তালুতের পুত্র ঈশ্বোশতের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, আমি ফিলিস্তিনীদের এক শত লিঙ্গাগ্রত্বক পণ দিয়ে যাকে বিয়ে করেছি, আমার সেই স্ত্রী মীখলকে দাও।
15 তাতে ঈশ্বোশৎ লোক পাঠিয়ে তাঁর স্বামীর অর্থাৎ লয়িশের পুত্র পল্টিয়েলের কাছ থেকে মীখলকে নিয়ে আসলেন।
16 তখন তাঁর স্বামী তাঁর পেছন পেছন কাঁদতে কাঁদতে বহুরীম পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সঙ্গে চললো। পরে অব্নের তাকে বললেন, যাও, ফিরে যাও; তাতে সে ফিরে গেল।
17
পরে অব্নের ইসরাইলের প্রাচীনবর্গের সঙ্গে এরকম কথাবার্তা বললেন, তোমরা ইতিপূর্বে নিজেদের উপরে দাউদকে বাদশাহ্ করার চেষ্টা করেছিলে।
18 এখন তা-ই কর কেননা মাবুদ দাউদের বিষয়ে বলেছেন, আমি আমার গোলাম দাউদের হাত দিয়ে আমার লোক ইসরাইলকে ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে ও সকল দুশমনের হাত থেকে উদ্ধার করবো।
19 আর অব্নের বিন্ইয়ামীন-বংশের কাছেও সেই কথা বললেন। আর ইসরাইলের ও বিন্ইয়ামীনের সমস্ত কুলের দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হল, অব্নের সেসব কথা দাউদের কাছে বলবার জন্য হেবরনে যাত্রা করলেন।
20
তখন অব্নের বিশ জনকে সঙ্গে নিয়ে হেবরনে দাউদের কাছে উপস্থিত হলে দাউদ অব্নেরের ও তাঁর সঙ্গী লোকদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করলেন,
21 পরে অব্নের দাউদকে বললেন, আমি উঠে গিয়ে সমস্ত ইসরাইলকে আমার মালিক বাদশাহ্র কাছে সংগ্রহ করি; যেন তারা আপনার সঙ্গে নিয়ম করে, আর আপনি আপনার ইচ্ছামত সকলের উপরে রাজত্ব করেন। পরে দাউদ অব্নেরকে বিদায় করলে তিনি সহিসালামতে প্রস্থান করলেন।
22
আর দেখ, দাউদের গোলামরা ও যোয়াব আক্রমণ করা শেষ করে ফিরে আসলেন, প্রচুর লুটদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে আসলেন। তখন অব্নের হেবরনে দাউদের কাছে ছিলেন না, কারণ দাউদ তাঁকে বিদায় করেছিলেন, তিনি সহিসালামতে গমন করেছিলেন।
23 পরে যোয়াব ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত সৈন্য আসলে লোকেরা যোয়াবকে বললো, নেরের পুত্র অবনের বাদশাহ্র কাছে এসেছিলেন, বাদশাহ্ তাঁকে বিদায় করেছেন, তিনি সহিসালামতে চলে গেছেন।
24 তখন যোয়াব বাদশাহ্র কাছে গিয়ে বললেন, আপনি কি করেছেন? দেখুন, অব্নের আপনার কাছে এসেছিল, আপনি কেন তাকে বিদায় করে একেবারে চলে যেতে দিয়েছেন?
25 আপনি তো নেরের পুত্র অব্নেরকে জানেন; আপনাকে ভুলাবার জন্য, আপনার বাইরে ও ভিতরে গমনাগমন জানবার জন্য, আর আপনি যা যা করছেন, সেই সমস্ত বিষয় অবগত হবার জন্য সে এসেছিল।
26
পরে যোয়াব দাউদের কাছ থেকে বের হয়ে অব্নেরের পিছনে দূতদের প্রেরণ করলেন; তারা সিরা কূপের কাছ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনলো; কিন্তু দাউদ তা জানতেন না।
27 পরে অব্নের হেবরনে ফিরে আসলে যোয়াব তাঁর সঙ্গে বিরলে আলাপ করার ছলে নগর-দ্বারের ভিতরে তাঁকে নিয়ে গেলেন, পরে তাঁর ভাই অসাহেলের রক্তের প্রতিশোধ নেবার জন্য সেই স্থানে তাঁর উদরে আঘাত করলে, তিনি মারা পড়লেন।
28 পরে যখন দাউদ সেই কথা শুনলেন, তখন তিনি বললেন, নেরের পুত্র অব্নেরের রক্তপাতের বিষয়ে আমি ও আমার রাজ্য মাবুদের সাক্ষাতে চিরকাল নির্দোষ।
29 সেই রক্ত যোয়াবের ও তার সমস্ত পিতৃকুলের উপরে বর্তুক এবং যোয়াবের কুলে প্রমেহী কিংবা কুষ্ঠী কিংবা লাঠি ভর দিয়ে চলা কিংবা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়া কিংবা খাবারের অভাবে কষ্ট পাওয়া লোকের অভাব না হোক।
30 এভাবে যোয়াব ও তাঁর ভাই অবীশয় অব্নেরকে হত্যা করলেন, কেননা তিনি গিবিয়োনে যুদ্ধের সময়ে তাঁদের ভাই অসাহেলকে হত্যা করেছিলেন।
31
পরে দাউদ যোয়াব ও তাঁর সমস্ত সঙ্গী লোককে বললেন, তোমরা নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়ে চট পর এবং শোক করতে করতে অব্নেরের আগে আগে চল। আর বাদশাহ্ দাউদও শবাধারের পেছন পেছন চললেন।
32 আর হেবরনে অব্নেরকে কবর দেওয়া হল; তখন বাদশাহ্ অব্নেরের কবরের কাছে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন, সমস্ত লোকও কাঁদতে লাগল।
33 বাদশাহ্ অব্নেরের বিষয়ে মাতম করে বললেন,
যেমন মূঢ় মরে, তেমনি কি মরলেন অব্নের?
34
তোমার হাত ছিল না বাঁধা, চরণও ছিল না শেকলে আবদ্ধ;
যেমন কেউ অন্যায়কারীদের সম্মুখে পড়ে,
তেমনি পড়লে তুমি!
তখন সমস্ত লোক তাঁর বিষয়ে আবার কাঁদতে লাগল।
35 পরে কিছু বেলা থাকতে সমস্ত লোক দাউদকে আহার করাতে এল, কিন্তু দাউদ এই শপথ করলেন, আল্লাহ্ আমাকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন, যদি সূর্য অস্তগত না হলে আমি রুটি কিংবা অন্য কোন দ্রব্যের আস্বাদ গ্রহণ করি।
36 তখন সমস্ত লোক তা লক্ষ্য করলো ও সন্তুষ্ট হল; বাদশাহ্ যা কিছু করলেন, তাতেই সকল লোক সন্তুষ্ট হল।
37 দাউদের সমস্ত লোক ও সমস্ত ইসরাইল সেদিন জানতে পারলো যে, নেরের পুত্র অব্নেরের হত্যাকাণ্ডে বাদশাহ্র কোন হাত ছিল না।
38 আর বাদশাহ্ তাঁর গোলামদের বললেন, তোমরা কি জান না যে, আজ ইসরাইলের মধ্যে প্রধান ও মহান এক জন মারা পড়লেন?
39 আর বাদশাহ্র পদে অভিষিক্ত হলেও আজ আমি দুর্বল; এই কয়টা লোক, সরূয়ার পুত্রেরা, আমার অবাধ্য। মাবুদ দুষ্কর্মকারীকে তার দুষ্টতা অনুসারে প্রতিফল দিন।
1
পরে যখন তালুতের পুত্র শুনলেন যে, অব্নের হেবরনে মারা গেছেন, তখন তাঁর হাত দুর্বল হল এবং সমস্ত ইসরাইল ভয় পেল।
2 তালুতের পুত্রের দু’জন দলপতি ছিল, এক জনের নাম বানা আর এক জনের নাম রেখব; তারা বিন্ইয়ামীন-বংশজাত বেরোতীয় রিম্মোণের পুত্র।
3 বস্তুত বেরোৎ বিন্ইয়ামীনের অধিকারের মধ্যে গণিত, কিন্তু বেরোতীয়েরা গিত্তয়িমে পালিয়ে গিয়ে, আর সেই স্থানে আজ পর্যন্ত প্রবাসী রয়েছে।
4
আর তালুতের পুত্র যোনাথনের একটি পুত্র ছিল, সে উভয় চরণে খঞ্জ; যিষ্রিয়েল থেকে যখন তালুত ও যোনাথনের সংবাদ এসেছিল, তখন তার পাঁচ বছর বয়স; তার ধাত্রী তাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ধাত্রী দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় সে পড়ে গিয়ে খঞ্জ হয়েছিল; তার নাম মফীবোশৎ।
5
একদিন বেরোতীয় রিম্মোণের পুত্র রেখব ও বানা গিয়ে দিনের উত্তাপ থাকতে থাকতেই ঈশ্বোশতের বাড়িতে উপস্থিত হল; তখন তিনি মধ্যাহ্নকালে বিশ্রাম করছিলেন।
6 আর ওরা প্রবেশ করে গম নেবার ছলে বাড়ির মধ্যস্থান পর্যন্ত গিয়ে সেখানে তাঁর উদরে আঘাত করলো; পরে রেখব ও তার ভাই বানা পালিয়ে গেল।
7 তিনি যে সময়ে শয়নাগারে তাঁর পালঙ্কে শুয়ে ছিলেন, সেই সময়ে তারা ভিতরে গিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করলো; পরে তাঁর মাথা কেটে মুণ্ডটি নিয়ে সারা রাত অরাবা উপত্যকার পথ ধরে চললো।
8 তারা ঈশ্বোশতের মুণ্ডটি হেবরনে দাউদের কাছে এনে বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, আপনার দুশমন তালুত, যে আপনার প্রাণনাশের চেষ্টা করতো, তার পুত্র ঈশ্বোশতের মুণ্ড; মাবুদ আজ আমাদের মালিক বাদশাহ্র পক্ষে তালুতকে ও তার বংশকে অন্যায়ের প্রতিফল দিলেন।
9
কিন্তু দাউদ বেরোতীয় রিম্মোণের পুত্র রেখব ও তার ভাই বানাকে এই জবাব দিলেন, যিনি সমস্ত সঙ্কট থেকে আমার প্রাণ মুক্ত করেছেন, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম,
10 যে ব্যক্তি আমাকে বলেছিল, দেখ তালুত মারা গেছে, সে শুভ সংবাদ এনেছে মনে করলেও আমি তাকে ধরে সিক্লগে হত্যা করেছিলাম, তার সংবাদের জন্য আমি তাকে এই পুরস্কার দিয়েছিলাম।
11 এখন যারা ধার্মিক ব্যক্তিকে তাঁরই বাড়ির মধ্যে তাঁর পালঙ্কের উপরে হত্যা করেছে, সেই দুষ্ট লোক যে তোমরা, আমি তোমাদের উপরে তার রক্তের প্রতিশোধ কি আরও বেশি করে নেব না? দুনিয়া থেকে কি তোমাদের উচ্ছেদ করবো না?
12 পরে দাউদ তাঁর যুবকদের হুকুম করলে তারা তাদের হত্যা করলো এবং তাদের হাত ও পা কেটে ফেলে হেবরনস্থ পুষ্করিণীর পাড়ে টাঙ্গিয়ে দিল; কিন্তু ঈশ্বোশতের মাথা নিয়ে হেবরনে অব্নেরের কবরে দাফন করলো।
1
পরে ইসরাইলের সমস্ত বংশ হেবরনে দাউদের কাছে এসে বললো, দেখুন, আমরা আপনার অস্থি ও মাংস।
2 আগে যখন তালুত আমাদের বাদশাহ্ ছিলেন, তখনও আপনিই ইসরাইলকে বাইরে নিয়ে যেতেন ও ভিতরে আনতেন; আর মাবুদ আপনাকে বলেছিলেন, তুমিই আমার লোক ইসরাইলকে চালাবে ও ইসরাইলের নায়ক হবে।
3 এভাবে ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা হেবরনে বাদশাহ্র কাছে আসলেন; তাতে বাদশাহ্ দাউদ হেবরনে মাবুদের সাক্ষাতে তাঁদের সঙ্গে নিয়ম করলেন এবং তাঁরা ইসরাইলে দাউদকে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করলেন।
4 দাউদ ত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।
5 তিনি হেবরনে এহুদার উপরে সাত বছর ছয় মাস রাজত্ব করেন; পরে জেরুশালেমে সমস্ত ইসরাইল ও এহুদার উপরে তেত্রিশ বছর রাজত্ব করেন।
6
পরে বাদশাহ্ ও তাঁর লোকেরা দেশ-নিবাসী যিবূষীয়দের বিরুদ্ধে জেরুশালেমে যাত্রা করলেন, তাতে তারা দাউদকে বললো, তুমি এই স্থানে প্রবেশ করতে পারব না, অন্ধেরা ও খঞ্জেরাই তোমাকে তাড়িয়ে দেবে। তারা ভেবেছিল, দাউদ এই স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন না।
7 কিন্তু দাউদ সিয়োনের দুর্গ অধিকার করলেন; সেজন্য এটিকে দাউদ-নগর বলা হয়।
8 ঐ দিনে দাউদ বললেন, যে কেউ যিবূষীয়দের অধিকার করে, সে জলপ্রণালীতে গিয়ে দাউদের প্রাণের ঘৃণিত খঞ্জ ও অন্ধদের আঘাত করুক। এই কারণে লোকে বলে, অন্ধ ও খঞ্জেরা মাবুদের গৃহে প্রবেশ করবে না।
9 আর দাউদ সেই দুর্গে বসতি করে তার নাম দাউদ-নগর রাখলেন; এবং দাউদ মিল্লো থেকে ভিতর পর্যন্ত চারদিকে প্রাচীর গাঁথলেন।
10 পরে দাউদ উত্তরোত্তর মহান হয়ে উঠলেন, কারণ মাবুদ বাহিনীগণের আল্লাহ্ তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
11
আর টায়ারের বাদশাহ্ হীরম দাউদের কাছে দূতদের এবং এরস কাঠ, ছুতার মিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রিদের পাঠালেন; তারা দাউদের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করলো।
12 তখন দাউদ বুঝলেন যে, মাবুদ ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে তাঁকে সুস্থির করেছেন এবং তাঁর লোক ইসরাইলের জন্য তাঁর রাজ্যের উন্নতি করেছেন।
13
আর দাউদ হেবরন থেকে আসার পর জেরুশালেমে আরও উপপত্নী ও স্ত্রী গ্রহণ করলেন, তাতে দাউদের আরও পুত্র কন্যা জন্মগ্রহণ করলো।
14 জেরুশালেমে তাঁর যেসব পুত্র জন্ম নিল তাদের নাম: সম্মূয়, শোবর, নাথন, সোলায়মান,
15 যিভর, ইলীশূয়, নেফগ, যাফিয়,
16 ইলীশামা, ইলিয়াদা ও ইলীফেলট।
17
ফিলিস্তিনীরা যখন শুনতে পেল যে, দাউদ ইসরাইলে বাদশাহ্র পদে অভিষিক্ত হয়েছেন, তখন ফিলিস্তিনী সমস্ত লোক দাউদের খোঁজে উঠে এল; দাউদ তা শুনে দুর্গে নেমে গেলেন।
18 আর ফিলিস্তিনীরা এসে রফায়ীম উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়লো।
19 তখন দাউদ মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে উঠে গেলে তুমি কি আমার হাতে তাদের তুলে দেবে? মাবুদ দাউদকে বললেন, যাও, আমি অবশ্য তোমার হাতে ফিলিস্তিনীদের তুলে দেব।
20 পরে দাউদ বাল্-পরাসীমে আসলেন, আর দাউদ তাদের আক্রমণ করলেন, আর বললেন, মাবুদ আমার সম্মুখে আমার দুশমনদের বাঁধ ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে ফেললেন, এজন্য সেই স্থানের নাম বাল্-পরাসীম [ভগ্নস্থান] রাখলেন।
21 সেই স্থানে তারা তাদের সমস্ত মূর্তি ফেলে গিয়েছিল, আর দাউদ ও তাঁর লোকেরা সেগুলো তুলে নিয়ে গেলেন।
22
পরে ফিলিস্তিনীরা পুনর্বার এসে রফায়ীম উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়লো।
23 তাতে দাউদ মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আর তিনি বললেন, তুমি যেও না, কিন্তু ওদের পিছনে ঘুরে এসে বাকা গাছগুলোর সম্মুখে ওদের আক্রমণ কর।
24 সেই সমস্ত বাকা গাছের শিখরে সৈন্যগমনের মত আওয়াজ শুনলে তুমি আক্রমণ করবে; কেননা তখনই মাবুদ ফিলিস্তিনীদের সৈন্যকে আঘাত করার জন্য তোমার সম্মুখে অগ্রসর হয়েছেন।
25 দাউদ মাবুদের হুকুম অনুসারে কাজ করলেন; সেবা থেকে গেষরের কাছ পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের আঘাত করলেন।
1
পরে দাউদ পুনরায় ইসরাইলের মধ্য থেকে ত্রিশ হাজার মনোনীত লোককে, একত্র করলেন।
2 আর দাউদ ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক উঠে আল্লাহ্র সিন্দুক, যার উপরে সেই নাম, বাহিনীগণের মাবুদ, যিনি কারুবীদ্বয়ে আসীন, তাঁর নাম কীর্তিত, তা বালি-এহুদা থেকে আনতে যাত্রা করলেন।
3 পরে তাঁরা আল্লাহ্র সিন্দুক একটি নতুন ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে পাহাড়ে অবস্থিত অবীনাদবের বাড়ি থেকে বের করলেন, আর অবীনাদবের পুত্র উষ ও অহিয়ো সেই নতুন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
4 তারা পাহাড়ে অবস্থিত অবীনাদবের বাড়ি থেকে আল্লাহ্র সিন্দুকসহ ঘোড়ার গাড়ি বের করে আনলো; এবং অহিয়ো সিন্দুকটির আগে আগে চলতে লাগল।
5 আর দাউদ ও ইসরাইলের সমস্ত কুল মাবুদের সম্মুখে দেবদারু কাঠের তৈরি সমস্ত রকম বাদ্যযন্ত্র এবং বীণা, নেবল, তম্বুরা, ঝুমঝুমি ও করতাল বাজাচ্ছিলেন।
6
পরে তারা নাখোনের খামার পর্যন্ত গেলে উষ হাত বাড়িয়ে আল্লাহ্র সিন্দুক ধরলো, কেননা বলদযুগল পিছলিয়ে পড়েছিল।
7 তখন উষের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল ও তার হঠকারিতার দরুন আল্লাহ্ সেই স্থানে তাকে আঘাত করলেন; তাতে সে সেখানে আল্লাহ্র সিন্দুকের পাশে মারা গেল।
8 মাবুদ উষকে আক্রমণ করায় দাউদ অসন্তুষ্ট হলেন। আর সেই স্থানের নাম পেরস-উষ (উষ-ভঙ্গ) রাখলেন;
9 আজ পর্যন্ত সেই নাম প্রচলিত আছে। আর দাউদ সেদিন মাবুদকে ভয় পেয়ে বললেন, মাবুদের সিন্দুক কিভাবে আমার কাছে আসবে?
10 তাই দাউদ মাবুদের সিন্দুক দাউদ-নগরে তাঁর কাছে আনতে অনিচ্ছুক হলেন, কিন্তু দাউদ পথের পাশে অবস্থিত গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে নিয়ে রাখলেন।
11 মাবুদের সিন্দুক গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে তিন মাস থাকলো; আর মাবুদ ওবেদ-ইদোমকে ও তার সমস্ত বাড়িকে দোয়া করলেন।
12
পরে বাদশাহ্ দাউদ শুনলেন, আল্লাহ্র সিন্দুকের জন্য মাবুদ ওবেদ-ইদোমের বাড়ি ও তার সর্বস্বকে দোয়া করেছেন; তাতে দাউদ গিয়ে ওবেদ-ইদোমের বাড়ি থেকে আনন্দ সহকারে আল্লাহ্র সিন্দুক দাউদ-নগরে আনলেন।
13 আর এরকম হল, মাবুদের সিন্দুক-বহনকারীরা ছয় কদম গমন করলে তিনি একটি ষাঁড় ও একটি পুষ্ট বাছুর কোরবানী করলেন।
14 আর দাউদ মাবুদের সম্মুখে যথাসাধ্য নৃত্য করলেন; তখন দাউদ সাদা এফোদ পরেছিলেন।
15 এভাবে দাউদ ও ইসরাইলের সমস্ত কুল জয়ধ্বনি ও তূরীধ্বনি সহকারে মাবুদের সিন্দুকটি নিয়ে আসলেন।
16
আর দাউদ-নগরে মাবুদের সিন্দুকের প্রবেশ কালে তালুতের কন্যা মীখল জানালা দিয়ে দৃষ্টিপাত করলেন এবং মাবুদের সম্মুখে দাউদ বাদশাহ্কে লাফ দিতে ও নৃত্য করতে দেখে মনে মনে তুচ্ছ করলেন।
17
পরে লোকেরা মাবুদের সিন্দুক ভিতরে এনে স্বস্থানে, অর্থাৎ সিন্দুকের জন্য দাউদ যে তাঁবু স্থাপন করেছিলেন, তার মধ্যে রাখল এবং দাউদ মাবুদের সম্মুখে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করলেন।
18 আর পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী সমাপ্ত করার পর দাউদ বাহিনীগণের মাবুদের নামে লোকদের দোয়া করলেন।
19 আর তিনি সব লোকের মধ্যে অর্থাৎ ইসরাইলের সমস্ত জনগণের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষকে ও প্রত্যেক স্ত্রীকে এক এক খানা রুটি ও এক এক ভাগ গোশ্ত ও এক এক খানা আঙ্গুরের পিঠা দিলেন; পরে সকল লোক যার যার বাড়িতে প্রস্থান করলো।
20
পরে দাউদ নিজের পরিজনদের দোয়া করার জন্য ফিরে আসলেন; তখন তালুতের কন্যা মীখল দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাইরে এসে বললেন, আজ ইসরাইলের বাদশাহ্ কেমন সমাদৃত হলেন; কোন অসারচিত্ত লোক যেমন প্রকাশ্যভাবে বিবস্ত্র হয়, তেমনি তিনি আজ নিজের ভৃত্যদের বাঁদীদের সম্মুখে বিবস্ত্র হলেন।
21 তখন দাউদ মীখলকে বললেন, মাবুদের লোকদের উপরে, ইসরাইলের উপরে নেতৃত্বপদে আমাকে নিযুক্ত করার জন্য যিনি তোমার পিতা ও তাঁর সমস্ত কুলের পরিবর্তে আমাকে মনোনীত করেছেন, সেই মাবুদের সাক্ষাতেই তা করেছি; অতএব আমি মাবুদের সাক্ষাতেই আমোদ করবো।
22 আর এর চাইতে আরও লঘু হব এবং আমার নিজের দৃষ্টিতে আরও নিচ হব; কিন্তু তুমি যে বাঁদীদের কথা বললে, তাদের কাছে সমাদৃত হবো।
23 আর তালুতের কন্যা মীখলের মরণকাল পর্যন্ত সন্তান হল না।
1
পরে বাদশাহ্ যখন তাঁর বাড়িতে বাস করতে লাগলেন এবং মাবুদ চারদিকের সমস্ত দুশমন থেকে তাঁকে বিশ্রাম দিলেন,
2 তখন বাদশাহ্ নাথন নবীকে বললেন, দেখুন, আমি এরস কাঠের বাড়িতে বাস করছি, কিন্তু আল্লাহ্র সিন্দুক পর্দার মধ্যে বাস করছে।
3 নাথন নবী বাদশাহ্কে বললেন, ভাল, যা কিছু আপনার মনে আছে তা-ই করুন; কেননা মাবুদ আপনার সহবর্তী।
4
কিন্তু সেই রাতে মাবুদের এই কালাম নাথনের কাছে উপস্থিত হল,
5 তুমি যাও, আমার গোলাম দাউদকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি কি আমার বাসের জন্য গৃহ নির্মাণ করবে?
6 বনি-ইসরাইলদের মিসর থেকে বের করে আনবার দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তো কোন বাড়িতে বাস করি নি, কেবল তাঁবুতে ও আবাসে থেকে যাতায়াত করছি।
7 সমস্ত বনি-ইসরাইলের মধ্যে যাতায়াত কালে আমি যাকে আমার লোক ইসরাইলকে পালন করার ভার দিয়েছিলাম, ইসরাইলের এমন কোন বংশকে কি কখনও এই কথা বলেছি যে, তোমরা কেন আমার জন্য এরস কাঠের গৃহ নির্মাণ কর নি? অতএব এখন তুমি আমার গোলাম দাউদকে এই কথা বল,
8 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমার লোকদের উপরে, ইসরাইলের উপরে নায়ক করার জন্য আমিই তোমাকে পশু চরাবার মাঠ থেকে ও ভেড়ার পিছন থেকে নিয়ে এসেছি।
9 আর তুমি যে কোন স্থানে গমন করেছ, সেই স্থানে তোমার সহবর্তী থেকে তোমার সম্মুখ হতে তোমার সমস্ত দুশমনকে উচ্ছেদ করেছি। আর আমি দুনিয়ার মহাপুরুষদের নামের মত তোমার নাম মহৎ করবো।
10 আমি আমার লোক ইসরাইলের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করবো ও তাদের রোপণ করবো; যেন তাদের সেই স্থানে তারা বাস করে এবং আর বিচলিত না হয়। দুর্বৃত্তরা তাদের আর দুঃখ দেবে না, যেমন আগে দিত,
11 এবং যেদিন থেকে আমি আমার লোক ইসরাইলের উপরে কাজীদেরকে নিযুক্ত করেছিলাম, সেদিন থেকে যেমন দিত। আর আমি যাবতীয় দুশমন থেকে তোমাকে বিশ্রাম দেব। মাবুদ তোমাকে আরও বলছেন যে, তোমার জন্য মাবুদ একটি কুল নির্মাণ করবেন।
12
তোমার দিন সমপূর্ণ হলে যখন তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হবে, তখন আমি তোমার পরে তোমার বংশকে, যে তোমার ঔরসে জন্মাবে তাকে স্থাপন করবো এবং তার রাজ্য সুস্থির করবো।
13 আমার নামের জন্য সে একটি গৃহ নির্মাণ করবে এবং আমি তার রাজ-সিংহাসন চিরস্থায়ী করবো।
14 আমি তার পিতা হব ও সে আমার পুত্র হবে; সে অপরাধ করলে মানুষ যেভাবে দণ্ড ভোগ করে তেমনি আমি দণ্ড দেব ও মানুষের সন্তানদের প্রহার দ্বারা তাকে শাস্তি দেব।
15 কিন্তু আমি তোমার সম্মুখ থেকে যাকে দূর করলাম, সেই তালুত থেকে আমি যেমন আমার অটল মহব্বত প্রত্যাহার করলাম, তেমনি আমার অটল মহব্বত তার কাছ থেকে দূরে যাবে না।
16 আর তোমার কুল ও তোমার রাজত্ব তোমার সম্মুখে চিরকাল স্থির থাকবে; তোমার সিংহাসন চিরস্থায়ী হবে।
17 নাথন দাউদকে এ সব কালাম ও এ সব দর্শন অনুসারে কথা বললেন।
18
তখন বাদশাহ্ দাউদ ভিতরে গিয়ে মাবুদের সম্মুখে বসলেন, আর বললেন, হে সার্বভৌম মাবুদ, আমি কে, আমার কুলই বা কি যে, তুমি আমাকে এই পর্যন্ত এনেছ?
19 আর হে সার্বভৌম মাবুদ, তোমার দৃষ্টিতে এও ক্ষুদ্র বিষয় হল; তুমি তোমার গোলামের কুলের বিষয়েও সুদীর্ঘ কালের উদ্দেশে কথা বললে; হে সার্বভৌম মাবুদ, এই কি মানুষের নিয়ম?
20 আর দাউদ তোমাকে আর কি বলবে? হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি তো তোমার গোলামকে জান।
21 তুমি তোমার কালামের অনুরোধে ও নিজের হৃদয়ানুসারে এ সব মহৎ কাজ সাধন করে তোমার গোলামকে জানিয়েছ।
22 অতএব, হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি মহান; কারণ তোমার মত কেউই নেই ও তুমি ছাড়া আর কোন আল্লাহ্ নেই; আমরা আমাদের কানে যা যা শুনেছি, সেই অনুসারে এই জানি।
23 দুনিয়ার মধ্যে কোন্ জাতি তোমার লোক ইসরাইলের মত? আল্লাহ্ তাকে তাঁর লোক করার জন্য এবং তাঁর নাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুক্ত করতে গিয়েছিলেন, তুমি আমাদের পক্ষে মহৎ মহৎ কাজ ও তোমার দেশের পক্ষে ভয়ঙ্কর কাজ তোমার লোকদের সম্মুখে সাধন করেছিলে, তাদেরকে তুমি মিসর, জাতিদের ও দেবতাদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলে।
24 তুমি তোমার জন্য তোমার লোক ইসরাইলকে স্থাপন করে চিরকালের জন্য তোমার লোক করেছ; আর হে মাবুদ, তুমি তাদের আল্লাহ্ হয়েছ।
25 এখন হে মাবুদ আল্লাহ্, তুমি তোমার গোলামের ও তার কুলের বিষয়ে যে কথা বলেছ, তা চিরকালের জন্য স্থির কর; যেমন বলেছ, সেই অনুসারে কর।
26 তোমার নাম চিরকাল মহিমান্বিত হোক; লোকে বলুক, বাহিনীগণের মাবুদই ইসরাইলের আল্লাহ্; আর তোমার গোলাম দাউদের কুল তোমার সাক্ষাতে সুস্থির হবে।
27 হে বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমিই তোমার গোলামের কাছে প্রকাশ করেছ, বলেছ, “আমি তোমার জন্য একটি কুল নির্মাণ করবো,” এই কারণ তোমার কাছে এই মুনাজাত করতে তোমার গোলামের মনে সাহস জন্মগ্রহণ করলো।
28 আর এখন, হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমিই আল্লাহ্, তোমারই কালাম সত্য, আর তুমি তোমার গোলামের কাছে এই মঙ্গলযুক্ত ওয়াদা করেছ।
29 অতএব মেহেরবানী করে তোমার গোলামের কুলকে দোয়া কর; তা যেন তোমার সম্মুখে চিরকাল থাকে; কেননা হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি নিজেই এই কথা বলেছ; আর তোমার দোয়ায় এই গোলামের কুল চিরকাল দোয়াযুক্ত থাকুক।
1
এর পরে দাউদ ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করে দমন করলেন, আর দাউদ ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে প্রধান নগরের কর্তৃত্ব দখল করে নিলেন।
2 আর তিনি মোয়াবীয়দের আক্রমণ করে দড়ি দিয়ে মাপলেন, ভূমিতে শয়ন করিয়ে হত্যা করার জন্য দুই দড়ি এবং জীবিত রাখার জন্য সমপূর্ণ এক দড়ি দিয়ে মাপলেন; তাতে মোয়াবীয়েরা দাউদের গোলাম হয়ে উপঢৌকন আনলো।
3
আর যে সময়ে সোবার বাদশাহ্ রহোবের পুত্র হদদেষর ফোরাত নদীর কাছে তাঁর কর্তৃত্ব পুনরায় স্থাপন করতে যান, সেই সময় দাউদ তাকে পুনরায় আক্রমণ করেন।
4 দাউদ তাঁর কাছ থেকে সতের শত ঘোড়সওয়ার ও বিশ হাজার পদাতিক সৈন্য অধিকার করলেন, আর দাউদ তাঁর রথের ঘোড়াগুলোর পাদশিরা কেটে ফেললেন, কিন্তু তার মধ্যে এক শত রথের ঘোড়া রাখলেন।
5 পরে দামেস্কের অরামীয়েরা সোবার হদদেষর বাদশাহ্র সাহায্য করতে আসলে দাউদ সেই অরামীয়দের মধ্যে বাইশ হাজার লোককে আক্রমণ করলেন।
6 আর দাউদ দামেস্কের অরাম দেশে সৈন্যদল স্থাপন করলেন, তাতে অরামীয়েরা দাউদের গোলাম হয়ে উপঢৌকন আনলো। এই ভাবে দাউদ যে কোন স্থানে যেতেন, সেই স্থানে মাবুদ তাঁকে বিজয়ী করতেন।
7 আর দাউদ হদদেষরের গোলামদের সমস্ত সোনার ঢাল খুলে জেরুশালেমে আনলেন।
8 আর বাদশাহ্ দাউদ হদদেষরের বেটহ ও বেরোথা নগর থেকে বিস্তর ব্রোঞ্জ আনলেন।
9
আর দাউদ হদদেষরের সমস্ত সৈন্য দলকে আক্রমণ করেছেন শুনে হমাতের বাদশাহ্ তয়ি বাদশাহ্ দাউদের কুশল জিজ্ঞাসা করার জন্য,
10 এবং তিনি হদদেষরের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাঁকে আক্রমণ করেছেন বলে তাঁকে অভিনন্দন জানাবার জন্য তাঁর পুত্র যোরামকে তাঁর কাছ প্রেরণ করলেন; কেননা হদদেষরের সঙ্গে তয়িরও যুদ্ধ হয়েছিল। যোরাম রূপার পাত্র, সোনার পাত্র ও ব্রোঞ্জের পাত্র সঙ্গে নিয়ে আসলেন।
11 তাতে বাদশাহ্ দাউদ সেই সমস্ত দ্রব্যও মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করলেন আর যে সমস্ত জাতিকে তিনি বশীভূত করেছিলেন তাদের কাছ থেকে পাওয়া রূপা ও সোনাও তিনি পবিত্র করেছিলেন।
12 ফলত ইদোম, মোয়াব, অম্মোনীয় এবং ফিলিস্তিনী ও আমালেকীয়দের কাছ থেকে এবং সোবার রাজা রহোবের পুত্র হদদেষরের কাছ থেকে এই সমস্ত সোনা ও রূপা লাভ করেছিলেন।
13
আর দাউদ অরামকে আক্রমণ করে ফিরে আসার সময় লবণ-উপত্যকায় আঠারো হাজার জনকে হত্যা করে অতিশয় বিখ্যাত হলেন।
14 পরে দাউদ ইদোমে সৈন্যদল স্থাপন করলেন, সমস্ত ইদোমে সৈন্যদল রাখলেন এবং সমস্ত ইদোমীয় লোক দাউদের গোলাম হল। আর দাউদ যে কোন স্থানে যেতেন, সেই স্থানে মাবুদ তাঁকে বিজয়ী করতেন।
15
দাউদ সমস্ত ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করলেন; দাউদ তাঁর সমস্ত লোকের পক্ষে বিচার ও ন্যায় সাধন করতেন।
16 আর সরূয়ার পুত্র যোয়াব প্রধান সেনাপতি ছিলেন; এবং অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট ইতিহাস লেখক ছিলেন;
17 আর অহীটূবের পুত্র সাদোক ও অবীয়াথরের পুত্র অহীমেলক ইমাম ছিলেন; এবং সরায় লেখক ছিলেন;
18 আর যিহোয়াদার পুত্র বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের উপরে নিযুক্ত ছিলেন; এবং দাউদের পুত্ররা রাজমন্ত্রী ছিলেন।
1
পরে দাউদ বললেন, আমি যোনাথনের জন্য যার প্রতি দয়া করতে পারি, এমন কেউ কি তালুতের কুলে অবশিষ্ট আছে?
2 সীবঃ নামে তালুতের কুলের এক জন গোলাম ছিল, তাকে দাউদের কাছে ডাকা হলে বাদশাহ্ তাকে বললেন, তুমি কি সীবঃ? সে বললো, আপনার গোলাম সেই বটে।
3 বাদশাহ্ বললেন, আমি যার প্রতি আল্লাহ্র দয়া দেখাতে পারি, তালুতের কুলে এমন কেউই কি অবশিষ্ট নেই? সীবঃ বাদশাহ্কে বললো, যোনাথনের এক জন পুত্র এখনও অবশিষ্ট আছেন, তিনি চরণে খঞ্জ।
4 বাদশাহ্ বললেন, সে কোথায়? সীবঃ বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, তিনি লো-দবারে অম্মীয়েলের পুত্র মাখীরের বাড়িতে আছেন।
5 পরে বাদশাহ্ দাউদ লোদবারে লোক প্রেরণ করে অম্মীয়েলের পুত্র মাখীরের বাড়ি থেকে তাকে আনালেন।
6 তখন তালুতের পৌত্র যোনাথনের পুত্র মফীবোশৎ দাউদের কাছে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম করলেন। তখন দাউদ বললেন, মফীবোশৎ! জবাবে তিনি বললেন, দেখুন, এই আপনার গোলাম।
7 দাউদ তাঁকে বললেন, ভয় করো না, আমি তোমার পিতা যোনাথনের জন্য অবশ্য তোমার প্রতি দয়া করবো, আমি তোমার পিতামহ তালুতের সমস্ত ভূমি তোমাকে ফিরিয়ে দেব, আর তুমি প্রতিদিন আমার খাবার টেবিলে ভোজন করবে।
8 তাতে তিনি ভূমিতে উবুড় হয়ে বললেন, আপনার এই গোলাম কে যে, আপনি আমার মত মৃত কুকুরের প্রতি দৃষ্টি করছেন?
9
পরে বাদশাহ্ তালুতের ভৃত্য সীবঃকে ডেকে এনে বললেন, আমি তোমার মালিকের পুত্রকে তালুত ও তাঁর সমস্ত কুলের সর্বস্ব দিলাম।
10 আর তুমি, তোমার পুত্ররা ও গোলামেরা তাঁর জন্য ভূমি চাষ করবে এবং তোমার মালিকের পুত্রের খাদ্যের জন্য উৎপন্ন দ্রব্য এনে দেবে; কিন্তু তোমার মালিকের পুত্র মফীবোশৎ নিত্য আমার মেজে ভোজন করবেন। ঐ সীবের পনের জন পুত্র ও বিশ জন গোলাম ছিল।
11 তখন সীবঃ বাদশাহ্কে বললো, আমার মালিক বাদশাহ্ তাঁর গোলামকে যে যে হুকুম করলেন, সেই অনুসারে আপনার এই গোলাম সমস্তই করবে। আর মফীবোশৎ রাজপুত্রদের একজনের মত বাদশাহ্র খাবার টেবিলে ভোজন করতে লাগলেন।
12 মফীবোশতের মিকাহ্ নামে একটি পুত্র-সন্তান ছিল। আর সীবের বাড়িতে বাসকারী সমস্ত লোক মফীবোশতের গোলাম ছিল।
13 মফীবোশৎ জেরুশালেমে বাস করলেন, কেননা তিনি প্রতিদিন বাদশাহ্র মেজে ভোজন করতেন। তিনি উভয় চরণে খঞ্জ ছিলেন।
1
এর পরে অম্মোনীয় বাদশাহ্র মৃত্যু হলে তাঁর পুত্র হানূন তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
2 তখন দাউদ বললেন, হানূনের পিতা নাহশ আমার প্রতি যেমন সদয় ব্যবহার করেছিলেন, আমিও হানূনের প্রতি তেমনি সদয় ব্যবহার করবো। পরে দাউদ তাঁকে পিতৃশোকে সান্ত্বনা দেবার জন্য তাঁর কয়েকজন গোলামকে প্রেরণ করলেন। তখন দাউদের গোলামেরা অম্মোনীয়দের দেশে উপস্থিত হল।
3 কিন্তু অম্মোনীয়দের নেতৃবর্গ তাঁদের প্রভু হানূনকে বললেন, আপনি কি মনে করছেন যে, দাউদ আপনার পিতার সম্মান করে বলে আপনার কাছে সান্ত্বনাকারীদের পাঠিয়েছে? দাউদ কি নগরের সন্ধান নেবার ও নগরের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে পরে সেটা ধ্বংস করার জন্য তাঁর গোলামদের পাঠায় নি?
4 তখন হানূন দাউদের গোলামদের ধরে তাদের দাড়ির অর্ধেক ক্ষৌরি করিয়ে দিলেন ও পোশাকের অর্ধেক অর্থাৎ নিতম্বদেশ পর্যন্ত কেটে তাদের বিদায় করলেন।
5 পরে তারা দাউদকে এই কথা বলে পাঠালে, তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে লোক পাঠালেন; কেননা তারা ভীষণ লজ্জা পেয়েছিল। বাদশাহ্ বলে পাঠালেন, যতদিন তোমাদের দাড়ি না বাড়ে, ততদিন তোমরা জেরিকোতে থাক, তারপর ফিরে এসো।
6
অম্মোনীয়রা যখন দেখতে পেল যে, তারা দাউদের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়েছে, তখন অম্মোনীয়রা লোক পাঠিয়ে বৈৎ-রহোবস্থ ও সোবাস্থিত অরামীয় বিশ হাজার পদাতিক, এক হাজার লোকসুদ্ধ মাখার বাদশাহ্ এবং টোবের বারো হাজার লোককে বেতন দিয়ে আনাল।
7 এই সংবাদ পেয়ে দাউদ যোয়াব ও বিক্রমশালী সমস্ত সৈন্যকে সেখানে প্রেরণ করলেন।
8 অম্মোনীয়রা বাইরে এসে নগর-দ্বারের প্রবেশস্থানে যুদ্ধের জন্য সৈন্য রচনা করলো এবং সোবার ও রহোবের অরামীয়েরা, আর টোবের ও মাখার লোকেরা মাঠে খোলা মাঠে রইল।
9
এভাবে সম্মুখে ও পিছনে দুই দিকেই তাঁর প্রতিকূলে যুদ্ধ হবে দেখে যোয়াব ইসরাইলের সমস্ত মনোনীত লোকের মধ্য থেকে লোক বেছে নিয়ে অরামীয়দের সম্মুখে সৈন্য রচনা করলেন;
10 আর অবশিষ্ট লোকদের তিনি তাঁর ভাই অবীশয়ের হাতে তুলে দিলেন; আর তিনি অম্মোনীয়দের সম্মুখে সৈন্য রচনা করলেন।
11 তিনি বললেন, যদি অরামীয়েরা আমার চেয়ে বলবান হয়, তবে তুমি আমার সাহায্য করবে; আর যদি অম্মোনীয়রা তোমার চেয়ে বলবান হয়, তবে আমি গিয়ে তোমার সাহায্য করবো।
12 সাহস কর; আমাদের জাতির জন্য ও আমাদের আল্লাহ্র সকল নগরের জন্য আমরা নিজেদের শক্তিশালী করবো; আর মাবুদের দৃষ্টিতে যা ভাল, তিনি তা-ই করুন।
13 পরে যোয়াব ও তাঁর সঙ্গী লোকেরা অরামীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্মুখীন হলে তারা তাঁর সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
14 আর অরামীয়েরা পালিয়ে গেছে দেখে অম্মোনীয়রাও অবীশয়ের সম্মুখ থেকে পালিয়ে নগরে প্রবেশ করলো। পরে যোয়াব অম্মোনীয়দের কাছ থেকে জেরুশালেমে ফিরে আসলেন।
15
অরামীয়েরা যখন দেখতে পেল যে, তারা ইসরাইলের সম্মুখে পরাজিত হল, তখন তারা আবার জমায়েত হল।
16 আর হদদেষর লোক পাঠিয়ে (ফোরাত) নদীর পারস্থ অরামীয়দের বের করে আনলেন; তারা হেলমে উপস্থিত হল; হদদেষরের দলের সেনাপতি শোবক তাদের প্রধান ছিলেন।
17 পরে দাউদকে এই সংবাদ দেওয়া হলে তিনি সমস্ত ইসরাইলকে একত্র করলেন এবং জর্ডান পার হয়ে হেলমে উপস্থিত হলেন। তাতে অরামীয়েরা দাউদের সম্মুখে সৈন্য রচনা করে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
18 আর অরামীয়েরা ইসরাইলের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল; আর দাউদ অরামীয়দের সাত শত রথচালক ও চল্লিশ হাজার ঘোড়সওয়ার সৈন্য হত্যা করলেন এবং তাদের দলের সেনাপতি শোবককেও আঘাত করলেন, তাতে তিনি সেই স্থানে মারা পড়লেন।
19 হদদেষরের অধীন সমস্ত বাদশাহ্ যখন দেখলেন যে, তাঁরা ইসরাইলের সম্মুখে পরাজিত হয়েছেন, তখন তাঁরা ইসরাইলের সঙ্গে সন্ধি করে তাদের গোলাম হলেন; সেই সময় থেকে অরামীয়েরা ভয় পেয়ে অম্মোনীয়দের আর সাহায্য করে নি।
1
পরে বসন্তকাল ফিরে আসলে বাদশাহ্রা যখন যুদ্ধে গমন করেন তখন দাউদ যোয়াবকে, তাঁর সঙ্গে তাঁর গোলামদের ও সমস্ত ইসরাইলকে পাঠালেন; তারা গিয়ে অম্মোনীয়দের সংহার করে রব্বা নগর অবরোধ করলো; কিন্তু দাউদ জেরুশালেমে থাকলেন।
2
একদিন বিকালে দাউদ বিছানা থেকে উঠে রাজপ্রাসাদের ছাদে বেড়াচ্ছিলেন, আর ছাদ থেকে দেখতে পেলেন যে, একটি স্ত্রীলোক গোসল করছে; স্ত্রীলোকটি দেখতে বড়ই সুন্দরী ছিল।
3 দাউদ তার বিষয় জিজ্ঞাসা করতে লোক পাঠালেন। এক জন বললো, এ কি ইলিয়ামের কন্যা, হিট্টিয় ঊরিয়ের স্ত্রী বৎশেবা নয়?
4 তখন দাউদ দূত পাঠিয়ে তাকে আনালেন এবং সে তার কাছে আসলে দাউদ তার সঙ্গে শয়ন করলেন; সে স্ত্রীলোকটি মাসিকের নাপাকীতা থেকে পাক-সাফ হয়েছিল। পরে সে তার ঘরে ফিরে গেল।
5 এর পর সে গর্ভবতী হল; আর লোক পাঠিয়ে দাউদকে এই সংবাদ দিল, আমি গর্ভবতী হয়েছি।
6
তখন দাউদ যোয়াবের কাছে লোক পাঠিয়ে এই হুকুম করলেন, হিট্টিয় ঊরিয়কে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। তাতে যোয়াব দাউদের কাছে ঊরিয়কে পাঠিয়ে দিলেন।
7 ঊরিয় তাঁর কাছে উপস্থিত হলে দাউদ তাকে যোয়াবের, লোকদের ও যুদ্ধের কুশল জিজ্ঞাসা করলেন।
8 পরে দাউদ ঊরিয়কে বললেন, তুমি তোমার বাড়িতে গিয়ে পা ধোও। তখন ঊরিয় রাজপ্রাসাদ থেকে বের হল, আর বাদশাহ্র কাছ থেকে তার পেছন পেছন ভেট গেল।
9 কিন্তু ঊরিয় তার প্রভুর গোলামদের সঙ্গে রাজপ্রাসাদের দ্বারে শয়ন করলো, নিজের বাড়িতে গেল না।
10 পরে এই কথা দাউদকে বলা হল যে, ঊরিয় ঘরে যায় নি। দাউদ ঊরিয়কে বললেন, তুমি কি পথভ্রমণ করে আসো নি? তবে কেন নিজের বাড়িতে গেলে না?
11 ঊরিয় দাউদকে বললো, শরীয়ত-সিন্দুক, ইসরাইল ও এহুদা কুটিরে বাস করছে এবং আমার মালিক যোয়াব ও আমার মালিকের গোলামেরা খোলা মাঠে ছাউনি করে আছেন; সে অবস্থায় আমি কি ভোজন পান করতে ও স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন করতে নিজের বাড়িতে যেতে পারি? আপনার জীবন ও আপনার জীবন্ত প্রাণের কসম, আমি এমন কাজ করবো না।
12 তখন দাউদ ঊরিয়কে বললেন, আজকের দিনও তুমি এই স্থানে থাক, আগামীকাল তোমাকে বিদায় করবো। তাতে ঊরিয় সে দিন ও পরের দিন জেরুশালেমে রইলো।
13 আর দাউদ তাকে দাওয়াত করলে সে তাঁর সাক্ষাতে ভোজন পান করলো; আর তিনি তাকে মাতাল করলেন; কিন্তু সে সন্ধ্যাবেলা তার প্রভুর গোলামদের সঙ্গে তার বিছানায় শয়ন করার জন্য বাইরে গেল, বাড়িতে গেল না।
14
খুব ভোরে দাউদ যোয়াবের কাছে একটি পত্র লিখে ঊরিয়ের হাতে দিয়ে পাঠালেন।
15 পত্রখানিতে তিনি লিখেছিলেন, তোমরা এই ঊরিয়কে তুমুল যুদ্ধের সম্মুখে নিযুক্ত কর, পরে এর পিছন থেকে সরে যাবে, যাতে সে আহত হয়ে মারা পড়ে।
16 পরে নগর অবরোধ করার সময় কোন্ স্থানে বিক্রমশালী লোক আছে তা জেনে যোয়াব সেই স্থানে ঊরিয়কে নিযুক্ত করলেন।
17 পরে নগরস্থ লোকেরা বের হয়ে যোয়াবের সঙ্গে যুদ্ধ করলে কয়েক জন লোক, দাউদের গোলামদের মধ্যে কয়েক জন মারা পড়লো, বিশেষত হিট্টিয় ঊরিয়ও মারা পড়লো।
18
পরে যোয়াব লোক পাঠিয়ে যুদ্ধের সমস্ত বৃত্তান্ত দাউদকে জানালেন,
19 আর দূতকে হুকুম করলেন, তুমি বাদশাহ্র সাক্ষাতে যুদ্ধের সমস্ত বৃত্তান্ত সমাপ্ত করলে,
20 যদি বাদশাহ্র ক্রোধ জন্মে, আর যদি তিনি বলেন, তোমরা যুদ্ধ করতে নগরের এত কাছে কেন গিয়েছিলে? তারা প্রাচীর থেকে তীর মারবে, এটা কি জানতে না?
21 যিরূব্বেশতের পুত্র আবিমালেককে কে আঘাত করেছিল? তেবেষে একটা স্ত্রীলোক যাঁতার একখানা উপরের পাট প্রাচীর থেকে তার উপরে ফেলে দিলে সে কি তাতেই মারা পরে নি? তোমরা কেন প্রাচীরের এত কাছে গিয়েছিলে? তা হলে তুমি বলবে, আপনার গোলাম হিট্টিয় ঊরিয়ও মারা পড়েছে।
22
পরে সেই দূত প্রস্থান করে যোয়াবের বলা সমস্ত কথা দাউদকে জানালো।
23 দূত দাউদকে বললো, সেই লোকেরা আমাদের বিপক্ষে প্রবল হয়ে মাঠে আমাদের কাছে বাইরে এসেছিল; তখন আমরা দ্বারের প্রবেশ-স্থান পর্যন্ত তাদের পেছন পেছন তাড়া করেছিলাম।
24 তখন তীরন্দাজেরা প্রাচীর থেকে আপনার গোলামদের উপরে তীর নিক্ষেপ করলো; তাই বাদশাহ্র কয়েক জন গোলাম মারা পড়েছে; আর আপনার গোলাম হিট্টিয় ঊরিয়ও মারা গেছে।
25 তখন দাউদ দূতকে বললেন, যোয়াবকে এই কথা বলো, তুমি এতে অসন্তুষ্ট হয়ো না, কেননা তলোয়ার যেমন এক জনকে তেমনি আর এক জনকেও গ্রাস করে; তুমি নগরের বিরুদ্ধে আরও সপরাক্রমে যুদ্ধ কর, নগর উচ্ছিন্ন কর; এভাবে তাকে আশ্বাস দেবে।
26
আর ঊরিয়ের স্ত্রী তাঁর স্বামী ঊরিয়ের মৃত্যু-সংবাদ পেয়ে স্বামীর জন্য শোক করতে লাগল।
27 পরে শোক করার সময় অতীত হলে দাউদ লোক পাঠিয়ে তাকে তাঁর বাড়িতে আনালেন, তাতে সে তাঁর স্ত্রী হল ও তাঁর জন্য পুত্র প্রসব করলো। কিন্তু দাউদের কৃত এই কাজ মাবুদের দৃষ্টিতে মন্দ বলে গণ্য হল।
1
পরে মাবুদ দাউদের কাছে নাথনকে প্রেরণ করলেন। আর নাথন দাউদের কাছে এসে তাঁকে বললেন, একটি নগরে দু’টি লোক ছিল; তাদের মধ্যে এক জন ধনবান, আর এক জন দরিদ্র।
2 ধনবানের অতি বিস্তর ভেড়ার পাল ও গরুর পাল ছিল।
3 কিন্তু সেই দরিদ্র লোকটির আর কিছুই ছিল না, কেবল একটি ছোট ভেড়ীর বাচ্চা ছিল, সে তাকে কিনে লালন-পালন করছিল; আর সেটি তার ও তার সন্তানদের সঙ্গে থেকে বেড়ে উঠছিল; সে তারই খাদ্য খেত ও তারই পাত্রে পান করতো, আর তার বক্ষঃস্থলে শয়ন করতো ও তার কন্যার মত ছিল।
4 পরে ঐ ধনবানের বাড়িতে এক জন পথিক এল, তাতে বাড়িতে আগত মেহমানের জন্য রান্না করার জন্য সে তাঁর ভেড়ার পাল ও গরুর পাল থেকে কিছু নিতে কাতর হল, কিন্তু সেই দরিদ্র লোকটির ভেড়ীর বাচ্চাটি নিয়ে যে মেহমান এসেছিল তার জন্য তা-ই রান্না করলো।
5 তাতে দাউদ সেই ধনবানের প্রতি অতিশয় ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে উঠলেন; তিনি নাথনকে বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম যে ব্যক্তি সেই কাজ করেছে, সে মৃত্যুর সন্তান;
6 সে একটুও রহম না করে এই কাজ করেছে, এজন্য সেই ভেড়ীর বাচ্চাটির চারগুণ ফিরিয়ে দেবে।
7
তখন নাথন দাউদকে বললেন, আপনিই সেই ব্যক্তি। ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমাকে ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করেছি এবং তালুতের হাত থেকে উদ্ধার করেছি;
8 আর তোমার মালিকের বাড়ি তোমাকে দিয়েছি ও তোমার মালিকের স্ত্রীদেরকে তোমার বক্ষঃস্থলে দিয়েছি এবং ইসরাইলের ও এহুদার কুল তোমাকে দিয়েছি; আর তা যদি অল্প হত তবে তোমাকে আরও অমুক অমুক বস্তু দিতাম।
9 তুমি কেন মাবুদের কালাম তুচ্ছ করে তাঁর দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করেছ? তুমি হিট্টিয় ঊরিয়কে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করিয়েছ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের স্ত্রী করেছ, অম্মোনীয়দের তলোয়ার দ্বারা ঊরিয়কে মেরে ফেলেছ।
10 অতএব তলোয়ার কখনও তোমার কুলকে ছেড়ে যাবে না; কেননা তুমি আমাকে তুচ্ছ করে হিট্টিয় ঊরিয়ের স্ত্রীকে নিয়ে নিজের স্ত্রী করেছ।
11 মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার কুল থেকেই তোমার বিরুদ্ধে অমঙ্গল উৎপন্ন করবো এবং তোমার সাক্ষাতে তোমার স্ত্রীদেরকে নিয়ে তোমার আত্মীয়কে দেব; তাতে সে এই সূর্যের সাক্ষাতে তোমার স্ত্রীদের সঙ্গে শয়ন করবে।
12 বস্তুত তুমি গোপনে এই কাজ করেছ, কিন্তু আমি সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে ও দিনের আলোতে এই কাজ করবো।
13
তখন দাউদ নাথনকে বললেন, আমি মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি। নাথন দাউদকে বললেন, মাবুদের আপনার গুনাহ্ দূর করলেন, আপনি মারা পড়বেন না।
14 কিন্তু এই কাজ দ্বারা আপনি মাবুদের দুশমনদের নিন্দা করার বড় সুযোগ দিয়েছেন, এজন্য আপনার নবজাত পুত্রটি অবশ্য মারা যাবে। পরে নাথন নিজের বাড়িতে প্রস্থান করলেন।
15 আর মাবুদ ঊরিয়ের স্ত্রীর গর্ভজাত দাউদের পুত্রটিকে আঘাত করলে সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো।
16
পরে দাউদ ছেলেটির জন্য আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ জানালেন; আর দাউদ রোজা রাখলেন, ভিতরে প্রবেশ করে সমস্ত রাত ভূমিতে পড়ে রইলেন।
17 তখন তাঁর বাড়ির প্রধান ব্যক্তিরা তাঁকে ভূমি থেকে তুলবার জন্য তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি সম্মত হলেন না এবং তাঁদের সঙ্গে ভোজনও করলেন না।
18 পরে সপ্তম দিনে ছেলেটির মারা গেল; তাতে ছেলেটি মারা গেছে, এই কথা দাউদকে বলতে তাঁর গোলামেরা ভয় পেল, কেননা তারা বললো, দেখ, ছেলেটি জীবিত থাকতে আমরা তাঁকে বললেও তিনি আমাদের কথা কানে তোলেন নি; এখন ছেলেটি মারা গেছে, এই কথা কেমন করে তাঁকে বলবো? বললে তিনি নিজের কোন অনিষ্ট করে বসবেন।
19 কিন্তু গোলামেরা কানাকানি করছে দেখে দাউদ বুঝলেন, ছেলেটি মারা গেছে; দাউদ নিজেই গোলামদের জিজ্ঞাসা করলেন, ছেলেটির কি মৃত্যু হয়েছে? তারা বললো, হয়েছে।
20
তখন দাউদ ভূমি থেকে উঠে গোসল করলেন, তেল মাখলেন ও পোশাক পরিবর্তন করলেন এবং মাবুদের গৃহে প্রবেশ করে সেজ্দা করলেন; পরে নিজের বাড়িতে এসে হুকুম করলে তারা তাঁর সম্মুখে খাদ্যদ্রব্য রাখল; আর তিনি ভোজন করলেন।
21 তখন তাঁর গোলামেরা তাঁকে বললো, আপনি এটা কেমন কাজ করলেন? ছেলেটি জীবিত থাকতে আপনি তার জন্য রোজা রেখেছিলেন ও কান্নাকাটি করছিলেন, কিন্তু ছেলেটির মৃত্যু হলেই উঠে ভোজন করলেন।
22 তিনি বললেন, ছেলেটি জীবিত থাকতে আমি রোজা ও কান্নাকাটি করছিলাম; কারণ ভেবেছিলাম, কি জানি, মাবুদ আমার প্রতি রহম করলে ছেলেটি বাঁচতে পারে।
23 কিন্তু এখন সে মারা গেছে, তবে আমি কি জন্য রোজা রাখব? আমি কি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি? আমি তার কাছে যাব, কিন্তু সে আমার কাছ ফিরে আসবে না।
24
পরে দাউদ তাঁর স্ত্রী বৎশেবাকে সান্ত্বনা দিলেন ও তার কাছে গমন করে তার সঙ্গে শয়ন করলেন; এবং সে পুত্র প্রসব করলে দাউদ তার নাম সোলায়মান রাখলেন; আর মাবুদ তাঁকে মহব্বত করলেন।
25 আর তিনি নাথন নবীকে প্রেরণ করলেন, আর তিনি মাবুদের জন্য তাঁর নাম যেদীদীয় (মাবুদের প্রিয়) রাখলেন।
26
ইতোমধ্যে যোয়াব অম্মোনীয়দের রব্বা নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে রাজধানী হস্তগত করলেন।
27 তখন যোয়াব দাউদের কাছে দূতদের প্রেরণ করে বললেন, আমি রব্বার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পানির সরবরাহ অধিকার করেছি।
28 এখন আপনি অবশিষ্ট লোকদের একত্র করে নগরের কাছে শিবির স্থাপন করুন, তা হস্তগত করুন, নতুবা কি জানি, আমি ঐ নগর অধিকার করলে তার উপরে আমারই নাম কীর্তিত হবে।
29 তখন দাউদ সমস্ত লোককে একত্র করলেন ও রাব্বাতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা অধিকার করলেন।
30 আর তিনি সেখানকার বাদশাহ্র মাথা থেকে তাঁর মুকুটটি খুলে নিলেন; তাতে এক তালন্ত পরিমাণ সোনা ও মণি ছিল; আর তা দাউদের মাথায় অর্পিত হল; এবং তিনি ঐ নগর থেকে অতি প্রচুর লুণ্ঠিত দ্রব্য বের করে আনলেন।
31 আর দাউদ সেখানকার লোকদের বের করে এনে করাত, লোহার মই ও লোহার কুড়াল দ্বারা কাজ করালেন এবং ইট তৈরির কাজ করালেন। তিনি অম্মোনীয়দের সমস্ত নগরের প্রতি এরকম করলেন। পরে দাউদ ও সমস্ত লোক জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
1
এর পরে এই ঘটনা হল; দাউদের পুত্র অবশালোমের তামর নামে সুন্দরী একটি বোন ছিল; দাউদের পুত্র অম্নোন তাকে ভালবাসল।
2 অম্নোন এমন আকুল হল যে, তার বোন তামরের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়লো, কেননা সে কুমারী ছিল এবং অম্নোন তার প্রতি কিছু করা দুঃসাধ্য বোধ করলো।
3 কিন্তু দাউদের ভাই শিমিয়ের পুত্র যোনাদব নামে অম্নোনের এক জন বন্ধু ছিল; সে খুবই চালাক ছিল।
4 সে অম্নোনকে বললো, রাজপুত্র। তুমি দিন দিন এমন রোগা হয়ে যাচ্ছ কেন? আমাকে কি বলবে না? অম্নোন তাকে বললো, আমি আমার ভাই অবশালোমের বোন তামরকে ভালবাসি।
5 যোনাদব বললো, তুমি তোমার পালঙ্কের উপরে শয়ন করে অসুখের ভান কর; পরে তোমার পিতা তোমাকে দেখতে আসলে তাঁকে বলো, মেহেরবানী করে আমার বোন তামরকে আমার কাছে আসতে হুকুম করুন, সে আমাকে রুটি খেতে দিক; এবং আমি দেখে যেন তার হাতে ভোজন করি, এজন্য আমার সাক্ষাতেই খাদ্য প্রস্তুত করুক।
6 পরে অম্নোন অসুস্থতার ভান করে পড়ে রইলো; তাতে বাদশাহ্ তাকে দেখতে আসলে অম্নোন বাদশাহ্কে বললো, আরজ করি, আমার বোন তামর এসে আমার সাক্ষাতে কয়েকটি পিঠা প্রস্তুত করে দিক; আমি তার হাতে ভোজন করবো।
7
তখন দাউদ তামরের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে বললেন, তুমি একবার তোমার ভাই অম্নোনের বাড়িতে গিয়ে তাকে কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে দাও।
8 অতএব তামর তার ভাই অম্নোনের বাড়িতে গেল; তখন সে শুয়ে ছিল। পরে তামর সুজি নিয়ে ছেনে তার সাক্ষাতে পিঠা প্রস্তুত করে পাক করলো;
9 আর তাওয়া নিয়ে গিয়ে তার সম্মুখে ঢেলে দিল, কিন্তু সে ভোজনে অসম্মত হল। অম্নোন বললো, আমার কাছ থেকে সকল লোক বাইরে যাক। তাতে সকলে তার কাছ থেকে বাইরে গেল।
10 তখন অম্নোন তামরকে বললো, খাদ্য সামগ্রী এই কুঠরীর মধ্যে আন; আমি তোমার হাতে ভোজন করবো। তাতে তামর তার তৈরি ঐ পিঠা নিয়ে কুঠরীর মধ্যে তার ভাই অম্নোনের কাছে গেল।
11 পরে সে তাকে ভোজন করাতে তার কাছে তা আনলে অম্নোন তাকে ধরে বললো, হে আমার বোন, এসো, আমার সঙ্গে শয়ন কর।
12 সে জবাবে বললো, হে আমার ভাই, না, না আমার ইজ্জত নষ্ট করো না, ইসরাইলের মধ্যে এমন কাজ করা উচিত নয়; তুমি এই মূঢ়তার কাজ করো না।
13 আমি কোথায় আমার কলঙ্ক বহন করবো? আর তুমিও ইসরাইলের মধ্যে এক জন মূঢ়ের সমান হবে। অতএব আরজ করি, বরং বাদশাহ্র কাছে বল, তিনি তোমার হাতে আমাকে দিতে অসম্মত হবেন না।
14 কিন্তু অম্নোন তার কথা শুনতে চাইল না; নিজে তামরের চেয়ে বলবান হওয়াতে তার ইজ্জত নষ্ট করলো, তার সঙ্গে শয়ন করলো।
15
পরে অম্নোন তাকে ভীষণ ঘৃণা করতে লাগল; বস্তুত সে তাকে যেরকম মহব্বত করেছিল, তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করতে লাগল; আর অম্নোন তাকে বললো, ওঠ, চলে যাও।
16 সে তাকে বললো, তা করো না, কেননা আমার সঙ্গে কৃত তোমার প্রথম দোষের চেয়ে আমাকে বের করে দেওয়া, এই মহাদোষ আরও মন্দ। কিন্তু অম্নোন তার কথা শুনতে চাইল না।
17 সে তার পরিচারক যুবককে ডেকে বললো, একে আমার কাছ থেকে বের করে দাও, পরে দরজায় খিল লাগিয়ে দাও।
18 সেই কন্যার গায়ে লম্বা কাপড় ছিল, কেননা কুমারী রাজকন্যারা ঐ রকম কাপড় পরতো। অম্নোনের পরিচারক তাকে বের করে দিয়ে পরে দ্বারে খিল লাগিয়ে দিল।
19 তখন তামর নিজের মাথায় ভস্ম দিল এবং তার গায়ের ঐ লম্বা কাপড় ছিঁড়ে মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
20
আর তার সহোদর অবশালোম তাকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমার ভাই অম্নোন কি তোমার ইজ্জত নষ্ট করেছে? কিন্তু এখন হে আমার বোন চুপ থাক, সে তোমার ভাই; তুমি এই বিষয়ে বিমনা হয়ো না। সেদিন থেকে তামর বিষণ্নভাবে তার ভাই অবশালোমের বাড়িতে থাকতে লাগল।
21 কিন্তু বাদশাহ্ দাউদ এসব কথা শুনে অতিশয় ক্রুদ্ধ হলেন।
22 আর অবশালোম অম্নোনকে কাছে ভাল-মন্দ কিছুই বললো না, কেননা তার সহোদরা তামরের ইজ্জত নষ্ট করাতে অবশালোম অম্নোনকে ঘৃণা করতে লাগল।
23
সমপূর্ণ দু’বছর পরে আফরাহীমের নিকটস্থ বাল্-হাৎসোরে অবশালোমের ভেড়া পালের লোমকাটা হচ্ছিল; এবং অবশালোম সমস্ত রাজপুত্রকে দাওয়াত করলো।
24 আর অবশালোম বাদশাহ্র কাছে এসে বললো, দেখুন, আপনার এই গোলামের ভেড়ার পালের লোমকাটা হচ্ছে; অতএব আরজ করি, বাদশাহ্ ও বাদশাহ্র গোলামেরা আপনার গোলামের সঙ্গে আগমন করুন।
25 বাদশাহ্ অবশালোমকে বললেন, হে আমার পুত্র, তা নয়, আমরা সকলে যাব না, পাছে তোমার ভারস্বরূপ হই। যদিও সে পীড়াপীড়ি করলো, তবু বাদশাহ্ যেতে সম্মত হলেন না, কিন্তু তাকে দোয়া করলেন।
26 তখন অবশালোম বললো, যদি তা না হয়, তবে আমার ভাই অম্নোনকে আমাদের সঙ্গে যেতে দিন; বাদশাহ্ তাকে বললেন, সে কেন তোমার সঙ্গে যাবে?
27 কিন্তু অবশালোম তাঁকে পীড়াপীড়ি করলে বাদশাহ্ অম্নোন ও তার সঙ্গে সমস্ত রাজপুত্রকে যেতে দিলেন।
28 পরে অবশালোম তার ভৃত্যদের এই হুকুম দিল, দেখো, আঙ্গুর-রসে অম্নোনের অন্তর প্রফুল্ল হলে যখন আমি তোমাদের বলবো, অম্নোনকে মার, তখন তোমরা তাকে হত্যা করো, ভয় পেয়ো না। আমি কি তোমাদের হুকুম দেই নি? তোমরা সাহস কর, বলবান হও।
29 পরে অবশালোমের ভৃত্যরা অম্নোনের প্রতি অবশালোমের আদেশমত কাজ করলো। তখন রাজপুত্ররা সকলে উঠে নিজ নিজ ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে গেল।
30
তারা পথে ছিল, এমন সময়ে দাউদের কাছে এই সংবাদ এলো যে, অবশালোম সমস্ত রাজপুত্রকে হত্যা করেছে, তাদের এক জনও অবশিষ্ট নেই।
31 তখন বাদশাহ্ উঠে তাঁর কাপড় ছিঁড়ে ভূমিতে লম্বমান হয়ে পড়লেন এবং তাঁর গোলামেরা সকলে নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়ে তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে রইলো।
32 তখন দাউদের ভাই শিমিয়ের পুত্র যোনাদব বললো, আমার মালিক মনে করবেন না যে, সমস্ত রাজকুমার নিহত হয়েছে; কেবল অম্নোন মারা পড়েছে, কেননা যেদিন সে অবশালোমের বোন তামরের ইজ্জত নষ্ট করেছে, সেদিন থেকে অবশালোম কর্তৃক এটা স্থির হয়েছিল।
33 অতএব সমস্ত রাজপুত্র মারা গেছে ভেবে আমার মালিক বাদশাহ্ শোক করবেন না; কেবল অম্নোন মারা গেছে।
34
কিন্তু অবশালোম পালিয়ে গিয়েছিল। আর যুবক প্রহরী চোখ তুলে নিরীক্ষণ করলো, আর দেখ, পর্বতের পাশ থেকে তার পিছনের দিকের পথ দিয়ে অনেক লোক আসছে।
35 আর যোনাদব বাদশাহ্কে বললো, দেখুন রাজপুত্ররা আসছে, আপনার গোলাম যা বলেছিল, তা-ই ঠিক হল।
36 তার কথা শেষ হওয়া মাত্র, দেখ, রাজপুত্ররা উপস্থিত হয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন এবং বাদশাহ্ ও তাঁর সমস্ত গোলামও ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন।
37
কিন্তু অবশালোম পালিয়ে গশূরের বাদশাহ্ অম্মীহূরের পুত্র তল্ময়ের কাছে গেল, আর দাউদ প্রতিদিন তাঁর পুত্রের জন্য শোক করতে লাগলেন।
38 অবশালোম পালিয়ে গশূরে গিয়ে সেই স্থানে তিন বছর প্রবাস করলো।
39 পরে বাদশাহ্ দাউদ অবশালোমের কাছে যাবার আকাঙক্ষা প্রকাশ করলেন; কেননা অম্নোন মারা গেছে জেনে তিনি তার বিষয়ে সান্ত্বনা পেয়েছিলেন।
1
পরে সরূয়ার পুত্র যোয়াব অবশালোমের জন্য বাদশাহ্র অন্তঃকরণ কাঁদছে দেখতে পেলেন।
2 যোয়াব তখন তকোয়ে দূত পাঠিয়ে সেখান থেকে এক জন চতুরা স্ত্রীকে আনিয়ে তাকে বললেন, তুমি একবার ছল করে শোকান্বিতা হও এবং শোকের কাপড় পর; শরীরে তেল মাখবে না, কিন্তু মৃতের জন্য দীর্ঘকাল শোককারিণী স্ত্রীর মত হও।
3 তারপর বাদশাহ্র কাছে গিয়ে তাঁকে এই রকম কথা বল। আর কি বলতে হবে যোয়াব তাকে তা শিখিয়ে দিলেন।
4
পরে তকোয়ের সেই স্ত্রীলোকটি বাদশাহ্র কাছে কথা বলতে গিয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম জানিয়ে বললো, বাদশাহ্, রক্ষা করুন।
5 বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে? স্ত্রীলোকটি বললো, সত্যি বলছি, আমি বিধবা; আমার স্বামী মারা গেছেন।
6 আর আপনার বাঁদীর দু’টি পুত্র ছিল; তারা ক্ষেতে গিয়ে পরস্পর ঝগড়া করলো; তখন তাদেরকে ছাড়িয়ে দেবার কেউ না থাকাতে এক জন অন্য জনকে আঘাত করে মেরে ফেললো।
7 আর দেখুন, সমস্ত গোষ্ঠী আপনার বাঁদীর বিরুদ্ধে উঠে বলছে, তুমি সেই ভ্রাতৃঘাতককে আমাদের হাতে তুলে দাও, আমরা তার নিহত ভাইয়ের প্রাণের পরিবর্তে তার প্রাণ নেব, আমরা উত্তরাধিকারীকেও মুছে ফেলব। এইভাবে তারা আমার অবশিষ্ট অঙ্গারখানি নিভিয়ে ফেলতে চায় এবং দুনিয়াতে আমার স্বামীর নামের কোন কিছু অবশিষ্ট রাখতে চায় না।
8
তখন বাদশাহ্ স্ত্রীলোকটিকে বললেন, তুমি ঘরে যাও, আমি তোমার বিষয়ে হুকুম দেব।
9 পরে ঐ তকোয়ীয়া স্ত্রী বাদশাহ্কে বললো, হে আমার প্রভু! হে বাদশাহ্! আমারই প্রতি ও আমার পিতৃকুলের প্রতি এই অপরাধ বর্তুক; বাদশাহ্ ও তাঁর সিংহাসন নিষ্কণ্টক হোন।
10 বাদশাহ্ বললেন, যে কেউ তোমাকে কিছু বলে, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে তাহলে সে তোমাকে আর স্পর্শ করবে না।
11 পরে সেই স্ত্রী বললো, নিবেদন করি, বাদশাহ্ আপনার আল্লাহ্ মাবুদকে স্মরণ করুন, যেন রক্তের প্রতিশোধদাতা আর বিনাশ না করে; নতুবা তারা আমার পুত্রকে বিনষ্ট করবে। বাদশাহ্ বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, তোমার পুত্রের একটি কেশও ভূমিতে পড়বে না।
12
তখন সে স্ত্রী বললো, নিবেদন করি, আপনার বাঁদীকে আমার মালিক বাদশাহ্র কাছে একটি কথা বলতে দিন। বাদশাহ্ বললেন, বল।
13 সেই স্ত্রী বললো, তবে আল্লাহ্র লোকের বিপক্ষে আপনি কেন সেরকম সঙ্কল্প করছেন? ফলে এই কথা বলাতে বাদশাহ্ এক রকম দোষী হয়ে পড়লেন, যেহেতু বাদশাহ্ তাঁর নির্বাসিত সন্তানটি ফিরিয়ে আনছেন না।
14 আমরা তো নিশ্চয়ই মারা যাব এবং যা একবার ভূমিতে ঢেলে ফেললে পরে তুলে নেওয়া যায় না, এমন পানির মতই হব; পরন্তু আল্লাহ্ও প্রাণ হরণ করেন না, কিন্তু নির্বাসিত লোক যাতে তাঁর কাছ থেকে দূরে না থাকে, তার উপায় চিন্তা করেন।
15 এখন আমি যে আমার মালিক বাদশাহ্র কাছে নিবেদন করতে এলাম, তার কারণ এই; লোকেরা আমাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল; তাই আপনার বাঁদী মনে মনে বললো, আমি বাদশাহ্র কাছে নিবেদন করবো; হতে পারে, বাদশাহ্ তাঁর বাঁদীর নিবেদন অনুসারে কাজ করবেন।
16 আমার পুত্রের সঙ্গে আমাকে আল্লাহ্র অধিকার থেকে উচ্ছিন্ন করতে যে চেষ্টা করে, তার হাত থেকে আপনার বাঁদীকে উদ্ধার করতে বাদশাহ্ অবশ্য মনোযোগ দেবেন।
17 আপনার বাঁদী বলছে, আমার মালিক বাদশাহ্র কথা সান্ত্বনাযুক্ত হোক, কেননা ভাল-মন্দ বিবেচনা করতে আমার মালিক বাদশাহ্ আল্লাহ্র ফেরেশতার মত; আর আপনার আল্লাহ্ মাবুদ আপনার সহবর্তী থাকুন।
18
তখন বাদশাহ্ জবাবে স্ত্রীলোকটিকে বললেন, আরজ করি, তোমাকে যা জিজ্ঞাসা করবো, তা আমার কাছ থেকে গোপন করো না।
19 জবাবে স্ত্রীলোকটি বললো, আমার মালিক বাদশাহ্ বলুন। বাদশাহ্ বললেন, এ সব ব্যাপারে তোমার সঙ্গে কি যোয়াবের হাত আছে? জবাবে সে বললো, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনার জীবন্ত প্রাণের কসম, আমার মালিক বাদশাহ্ যা বলেছেন, তার ডানে বা বামে ফিরবার কোনও উপায় নেই; আপনার গোলাম যোয়াবই আমাকে হুকুম করেছেন, এ সব কথা আপনার বাঁদীকে শিখিয়ে দিয়েছেন।
20 এই বিষয়ে বর্তমান অবস্থার একটা পরিবর্তন আনাবার জন্য আপনার গোলাম যোয়াব এই কাজ করেছেন; যা হোক, আমার প্রভু দুনিয়ার সমস্ত বিষয় জানতে আল্লাহ্র ফেরেশতার মতই বুদ্ধিমান।
21
পরে বাদশাহ্ যোয়াবেকে বললেন, এখন দেখ, আমিই এই কাজ করেছি; অতএব যাও, সেই যুবক অবশালোমকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসো।
22 তাতে যোয়াব ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম করলেন এবং বাদশাহ্কে দোয়া করলেন, আর যোয়াব বললেন, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনি আপনার গোলামের নিবেদন রক্ষা করলেন, এতে আমি যে আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেলাম, তা আজ আপনার এই গোলাম জানতে পারল।
23 পরে যোয়াব উঠে গশূরে গিয়ে অবশালোমকে জেরুশালেমে নিয়ে আসলেন।
24 পরে বাদশাহ্ বললেন, সে ফিরে তার নিজের বাড়িতে যাক, সে আমার মুখ না দেখুক। তাতে অবশালোম তার বাড়িতে ফিরে গেল, বাদশাহ্র মুখ দেখতে পেল না।
25
সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে অবশালোমের মত এত সুন্দর আর কেউ ছিল না; সে আপদমস্তক নিখুঁত ও সুন্দর ছিল।
26 আর তার মাথার চুল ভারী বোধ হলে সে তা কেটে ফেলত; বছরের শেষে সে তা কেটে ফেলত; মাথা মুণ্ডন করার সময়ে মাথার চুল ওজন করা হত; তাতে রাজপরিমাণ অনুসারে তা দুই শত শেকল পরিমিত হত।
27 অবশালোমের তিনটি পুত্র ও একটি কন্যা জন্মেছিল, কন্যাটির নাম তামর; সে দেখতে সুন্দরী ছিল।
28
আর অবশালোম সম্পূর্ণ দু’বছর জেরুশালেমে বাস করলো, কিন্তু বাদশাহ্র মুখ দেখতে পেল না।
29 পরে অবশালোম বাদশাহ্র কাছে পাঠাবার জন্য যোয়াবকে ডেকে পাঠাল, কিন্তু তিনি তার কাছে আসতে সম্মত হলেন না; পরে দ্বিতীয়বার লোক পাঠাল, তখনও তিনি আসতে সম্মত হলেন না।
30 অতএব সে তার গোলামদেরকে বললো, দেখ, আমার ক্ষেতের পাশে যোয়াবের ক্ষেত আছে, সেই স্থানে তার যে যব আছে, তোমরা গিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাতে অবশালোমের গোলামেরা সেই ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিল।
31 তখন যোয়াব উঠে অবশালোমের কাছে তার বাড়িতে এসে তাকে বললেন, তোমার গোলামেরা আমার ক্ষেতে কেন আগুন দিয়েছে?
32 অবশালোম যোয়াবকে বললো, দেখ, আমি তোমার কাছে লোক পাঠিয়ে এখানে আসতে বলেছিলাম, ফলত বাদশাহ্র কাছে এই কথা নিবেদন করার জন্য তোমাকে পাঠাব বলে যে, আমি গশূর থেকে কেন এলাম? সেই স্থানে থাকলে আমার আরও ভাল হত। এখন আমাকে বাদশাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিন, আর যদি আমার অপরাধ থাকে, তবে তিনি আমাকে হত্যা করুন।
33 পরে যোয়াব বাদশাহ্র কাছে গিয়ে তাঁকে সেই কথা জানালে বাদশাহ্ অবশালোমকে ডেকে পাঠালেন; তাতে সে বাদশাহ্র কাছে গিয়ে বাদশাহ্র সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে সালাম করলো, আর বাদশাহ্ অবশালোমকে চুম্বন করলেন।
1
এর পরে অবশালোম তার জন্য রথ, ঘোড়া ও তার আগে আগে দৌড়াবার জন্য পঞ্চাশ জন লোক নিযুক্ত করলো।
2 আর অবশালোম খুব ভোরে উঠে রাজদ্বারের পথের পাশে দাঁড়াত এবং যদি কেউ বিচারের আশায় বাদশাহ্র কাছে নালিশ উপস্থিত করতে উদ্যত হত, অবশালোম তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতো, তুমি কোন্ নগরের লোক? সে বলতো, আপনার গোলাম আমি ইসরাইলের অমুক বংশের লোক।
3 তখন অবশালোম তাকে বলতো, দেখ, তোমার নালিশ ন্যায্য ও যথার্থ; কিন্তু তোমার কথা শুনতে বাদশাহ্র কোন লোক নেই।
4 অবশালোম আরও বলতো, হায়, আমাকে কেন দেশের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় নি? তা করলে যে কোন ব্যক্তির নালিশ বা বিচারের কোন কথা থাকে, সে আমার কাছে আসলে আমি তার বিষয়ে ন্যায্য বিচার করতাম।
5 আর যে কেউ তার কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করতে কাছে আসত, সে তাকে হাত বাড়িয়ে ধরে চুম্বন করতো।
6 ইসরাইলের যত লোক বিচারের জন্য বাদশাহ্র কাছে যেত, সকলের প্রতি অবশালোম এরকম ব্যবহার করতো। এইভাবে অবশালোম ইসরাইলের লোকদের অন্তর জয় করে নিল।
7
পরে চার বছর অতীত হলে অবশালোম বাদশাহ্কে বললো, আরজ করি, আমি মাবুদের উদ্দেশে যা মানত করেছি, তা পরিশোধ করতে আমাকে হেবরনে যেতে দিন।
8 কেননা আপনার গোলাম আমি যখন অরামস্থ গশূরে অবস্থান করছিলাম, তখন মানত করে বলেছিলাম, যদি মাবুদ আমাকে জেরুশালেমে ফিরিয়ে আনেন, তবে আমি মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী দেব।
9 বাদশাহ্ বললেন, সহিসালামতে যাও। তখন সে উঠে হেবরনে গমন করলো।
10 কিন্তু অবশালোম ইসরাইলের সমস্ত বংশের কাছ গোয়েন্দা পাঠিয়ে বললো, তূরীধ্বনি শোনামাত্র তোমরা বলো, অবশালোম হেবরনে বাদশাহ্ হলেন।
11 আর জেরুশালেম থেকে দুই শত লোক অবশালোমের সঙ্গে গেল; এরা মেহমান হিসেবে দাওয়াত পেয়েছিল এবং সরল মনে গেল, কিছুই জানত না।
12 পরে অবশালোম কোরবানী দেবার সময় দাউদের মন্ত্রী গীলোনীয় অহীথোফলকে তার নগর গীলো থেকে ডেকে পাঠাল। আর চক্রান্ত দৃঢ় হল, কারণ অবশালোমের পক্ষের লোক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগল।
13
পরে এক জন দাউদের কাছে এসে এই সংবাদ দিল, ইসরাইলদের অন্তঃকরণ অবশালোমের অনুগামী হয়েছে।
14 তখন দাউদের যেসব কর্মকর্তারা জেরুশালেমে তাঁর কাছে ছিল, তাদের তিনি বললেন, চল, আমরা পালিয়ে যাই, কেননা অবশালোমের হাত থেকে আমাদের কারো বাঁচবার উপায় নেই; শীঘ্র চল, নতুবা সে দ্রুত আমাদের সঙ্গ ধরে আমাদের বিপদগ্রস্ত করবে ও তলোয়ারের আঘাতে নগর আক্রমণ করবে।
15 তাতে বাদশাহ্র কর্মকর্তারা বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, আমাদের মালিক বাদশাহ্র যা ইচ্ছা হবে, তা-ই করতে আপনার গোলামেরা প্রস্তুত আছে।
16 পরে বাদশাহ্ প্রস্থান করলেন এবং তাঁর সমস্ত পরিজন তাঁর পিছনে পিছনে চললো; আর বাদশাহ্ রাজপ্রাসাদ রক্ষার্থে দশ জন উপপত্নী রেখে গেলেন।
17 বাদশাহ্ প্রস্থান করলেন ও সমস্ত লোক তাঁর পিছনে পিছনে চললো, তাঁরা শহরের শেষ সীমানায় শেষ বাড়িটির কাছে গিয়ে থামলেন।
18 পরে তাঁর সকল কর্মকর্তা তাঁর পাশে পাশে অগ্রসর হল এবং সমস্ত করেথীয় ও পলেথীয় এবং গাৎ থেকে আগত ছয় শত লোক যারা আগে বাদশাহ্র সঙ্গে চলে এসেছিল, তারা সকলে বাদশাহ্র সম্মুখে অগ্রসর হল।
19
তখন বাদশাহ্ গাতীয় ইত্তয়কে বললেন, আমাদের সঙ্গে তুমিও কেন যাবে? তুমি ফিরে গিয়ে বাদশাহ্ অবশালোমের সঙ্গে বাস কর, কেননা তুমি বিদেশী এবং নির্বাসিত লোক, তুমি স্বস্থানে ফিরে যাও।
20 তুমি গতকাল মাত্র এসেছ, আজ আমি কি তোমাকে আমাদের সঙ্গে ভ্রমণ করাব? আমি যেখানে পারি, সেখানে যাব; তুমি ফিরে যাও; আপন ভাইদেরও নিয়ে যাও, অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা তোমার সহবর্তী হোক।
21 ইত্তয় জবাবে বাদশাহ্কে বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম এবং আমার মালিক বাদশাহ্র প্রাণের কসম, জীবনের জন্য কিংবা মরণের জন্য হোক, আমার মালিক বাদশাহ্ যে স্থানে থাকবেন, আপনার গোলামও সেই স্থানে অবশ্য থাকবে।
22 দাউদ ইত্তয়কে বললেন, তবে চল, অগ্রসর হও। তখন গাতীয় ইত্তয়, তাঁর সমস্ত লোক ও সঙ্গী সমস্ত বালক-বালিকা অগ্রসর হয়ে গেল।
23 দেশসুদ্ধ লোক চিৎকার করে কান্নাকাটি করলো ও সমস্ত লোক অগ্রসর হল। বাদশাহ্ও কিদ্রোণ স্রোত পার হলেন এবং সমস্ত লোক মরুভূমির পথ ধরে অগ্রসর হল।
24
আর দেখ, সাদোকও আসলেন এবং তাঁর সঙ্গে লেবীয়েরা সকলে এল, তারা আল্লাহ্র শরীয়ত-সিন্দুক বহন করছিল; পরে নগর থেকে সমস্ত লোক বের না হওয়া পর্যন্ত তারা আল্লাহ্র সিন্দুক নামিয়ে রাখল এবং অবিয়াথর উঠে গেলেন।
25 পরে বাদশাহ্ সাদোককে বললেন, তুমি আল্লাহ্র সিন্দুক পুনরায় নগরে নিয়ে যাও, যদি মাবুদের দৃষ্টিতে আমি অনুগ্রহ পাই, তবে তিনি আমাকে পুনর্বার এনে তা ও তাঁর নিবাস দেখতে দেবেন।
26 কিন্তু যদি তিনি এই কথা বলেন, তোমাতে আমার সন্তোষ নেই, তবে দেখ, এই আমি, তাঁর দৃষ্টিতে যা ভাল, আমার প্রতি তা-ই করুন।
27 বাদশাহ্ ইমাম সাদোকে আরও বললেন, তুমি কি দর্শক নও? তুমি সহিসালামতে নগরে ফিরে যাও এবং তোমার পুত্র অহীমাস ও অবিয়াথরের পুত্র যোনাথন, তোমাদের এই দুই পুত্র তোমাদের সঙ্গে যাক।
28 দেখ, যতদিন তোমাদের কাছ থেকে আমার কাছে সঠিক সংবাদ না আসে, ততদিন আমি মরুভূমির পারঘাটায় থেকে বিলম্ব করবো।
29 অতএব সাদোক ও অবিয়াথর আল্লাহ্র সিন্দুক পুনরায় জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে সেই স্থানে রইলেন।
30
পরে দাউদ জৈতুন পর্বতের পাহাড়ী পথ বেয়ে উঠতে লাগলেন; তিনি উঠবার সময়ে কাঁদতে কাঁদতে চললেন; তাঁর মুখ ঢাকা ছিল ও খালি পায়ে হাঁটছিলেন এবং তাঁর সঙ্গী লোকেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ মুখ ঢেকে রেখেছিল এবং উঠবার সময়ে কাঁদতে কাঁদতে চললো।
31 পরে কেউ দাউদকে বললো, অবশালোমের সঙ্গে চক্রান্তকারীদের মধ্যে অহীথোফলও আছে; তখন দাউদ বললেন, হে মাবুদ, অনুগ্রহ করে অহীথোফলের মন্ত্রণাকে মূর্খতায় পরিণত কর।
32
পরে যে স্থানে লোকেরা আল্লাহ্র উদ্দেশে সেজ্দা করতো, দাউদ পর্বতের সেই শিখরে উপস্থিত হলে দেখ, অর্কীয় হূশয় ছেড়া পোশাক পরে ও মাথায় ধুলা ছিটিয়ে দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলেন।
33 দাউদ তাঁকে বললেন, তুমি যদি আমার সঙ্গে অগ্রসর হও তবে আমাকে ভারগ্রস্ত করবে।
34 কিন্তু যদি নগরে ফিরে গিয়ে অবশালোমকে বল, হে বাদশাহ্, আমি আপনার গোলাম হব, ইতোপূর্বে যেমন আপনার পিতার গোলাম ছিলাম তেমনি এখন আপনার গোলাম হব, তা হলে তুমি আমার জন্য অহীথোফলের মন্ত্রণা ব্যর্থ করতে পারবে।
35 সেই স্থানে সাদোক ও অবিয়াথর, এই দুই ইমাম কি তোমার সঙ্গে থাকবেন না? অতএব তুমি রাজপ্রাসাদের যে কোন কথা শুনবে তা সাদোক ও অবিয়াথর ইমামকে বলবে।
36 দেখ, সেই স্থানে তাঁদের সঙ্গে তাঁদের দুই পুত্র, সাদোকের পুত্র অহীমাস ও অবিয়াথরের পুত্র যোনাথন আছে; তোমরা যে কোন কথা শুনবে, তাদের দ্বারা আমার কাছে তার সংবাদ পাঠিয়ে দেবে।
37 অতএব দাউদের বন্ধু হূশয় নগরে গেলেন; আর অবশালোম জেরুশালেমে প্রবেশ করলেন।
1
পরে দাউদ পর্বত-শিখর পিছনে ফেলে কিঞ্চিৎ অগ্রসর হলে দেখ, মফীবোশতের গোলাম সীবঃ সজ্জিত দুই গাধা সঙ্গে নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলো। সেই গাধার পিঠে দুই শত রুটি ও এক শত থলুয়া শুকনো আঙ্গুর ফল ও এক শত চাপ গ্রীষ্মকালের ফল ও এক কূপা আঙ্গুর-রস ছিল।
2 বাদশাহ্ সীবঃকে বললেন, তুমি এগুলো এনেছ কেন? সীবঃ বললো, এই দু’টি গাধা বাদশাহ্র পরিজনের বাহন হবে, আর এই রুটি ও ফল যুবকদের খাওয়ার জন্য এবং আঙ্গুর-রস মরুভূমিতে ক্লান্ত লোকদের পানীয় হবে।
3 পরে বাদশাহ্ বললেন, তোমার মালিকের পুত্র কোথায়? সীবঃ বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, তিনি জেরুশালেমে অবস্থান করছেন, কেননা তিনি বললেন, ইসরাইলের কুল আজ আমার পৈতৃক রাজ্য আমাকে ফিরিয়ে দেবে।
4 বাদশাহ্ সীবঃকে বললেন, দেখ, মফীবোশতের সর্বস্ব তোমার। সীবঃ বললো, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আমি আপনার পদধূলিরও যোগ্য নই; আরজ করি, যেন আমি আপনার দৃষ্টিতে রহমত পাই।
5
পরে বাদশাহ্ দাউদ বহুরীমে উপস্থিত হলে দেখ, তালুতের কূলের গোষ্ঠীভুক্ত গেরার পুত্র শিমিয়ি নামে এক ব্যক্তি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে আসতে বদদোয়া দিল।
6 আর সে বাদশাহ্ দাউদ ও তাঁর সমস্ত গোলামের দিকে পাথর নিক্ষেপ করলো; তখন সমস্ত লোক ও সমস্ত বীর তাঁর ডানে ও বামে ছিল।
7 শিমিয়ি বদদোয়া দিতে দিতে এই কথা বললো, যা, যা, তুই রক্তপাতী, তুই পাষণ্ড।
8 তুই যার পদে রাজত্ব করেছিস্, সেই তালুতের কুলের সমস্ত রক্তপাতের প্রতিফল মাবুদ তোকে দিচ্ছেন এবং মাবুদ তোর পুত্র অবশালোমের হাতে রাজ্য তুলে দিয়েছেন; দেখ্, তুই নিজের দুষ্টতায় আট্কা পড়েছিস্, কেননা তুই রক্তপাতী।
9
তখন সরূয়ার পুত্র অবীশয় বাদশাহ্কে বললেন, ঐ মৃত কুকুর কেন আমার মালিক বাদশাহ্কে বদদোয়া দেয়? আপনি অনুমতি করলে আমি পার হয়ে গিয়ে ওর মাথা কেটে ফেলি।
10 কিন্তু বাদশাহ্ বললেন, হে সরূয়ার পুত্ররা, তোমাদের সঙ্গে আমার বিষয় কি? ও যখন বদদোয়া দেয় এবং মাবুদ যখন ওকে বলে দেন, দাউদকে বদদোয়া দাও, তখন কে বলবে, এমন কাজ কেন করছো?
11 দাউদ অবীশয় ও তাঁর সমস্ত গোলামকে আরও বললেন, দেখ, আমার ঔরসজাত পুত্র আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করছে, তবে ঐ বিন্ইয়ামীনীয় কি না করবে? ওকে থাকতে দাও; ও বদদোয়া দিক;, কেননা মাবুদ ওকে অনুমতি দিয়েছেন।
12 হয় তো মাবুদ আমার উপরে কৃত অন্যায়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন এবং আজ আমাকে দেওয়া বদদোয়ার পরিবর্তে মাবুদ আমার মঙ্গল করবেন।
13 এভাবে দাউদ ও তাঁর লোকেরা পথ দিয়ে যেতে লাগলেন, আর শিমিয়িও পর্বতের পাশ দিয়ে চলতে চলতে বদদোয়া দিতে লাগল এবং সেখান থেকে পাথর নিক্ষেপ করলো ও ধুলা ছড়িয়ে দিল।
14 পরে বাদশাহ্ ও তাঁর সঙ্গীরা সকলে অয়েফীমে (শ্রান্তদের স্থানে) আসলেন, আর তিনি সেই স্থানে বিশ্রাম করলেন।
15
আর অবশালোম ও ইসরাইলের সমস্ত লোক জেরুশালেমে প্রবেশ করলো, অহীথোফলও তার সঙ্গে এল।
16 তখন দাউদের মিত্র অর্কীয় হূশয় অবশালোমের কাছে আসলেন। হূশয় অবশালোমকে বললেন, বাদশাহ্ চিরজীবী হোন, বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
17 অবশালোম হূশয়কে বললো, এ কি বন্ধুর প্রতি তোমার দয়া? তুমি তোমার বন্ধুর সঙ্গে কেন গেলে না?
18 হূশয় অবশালোমকে বললেন, তা নয়; কিন্তু মাবুদ, এই জাতি ও ইসরাইলের সমস্ত লোক যাঁকে মনোনীত করেছেন আমি তাঁরই হব, তাঁরই সঙ্গে থাকব।
19 তাছাড়া আমি কার সেবা করবো? তাঁর পুত্রের সাক্ষাতে কি নয়? যেমন আপনার পিতার সাক্ষাতে সেবা করেছি, তেমনি আপনার সাক্ষাতেও করবো।
20
পরে অবশালোম অহীথোফলকে বললো, এখন কি কর্তব্য? তোমরা মন্ত্রণা দাও।
21 তখন অহীথোফল অবশালোমকে বললো, আপনার পিতা প্রাসাদ রক্ষার্থে যাদেরকে রেখে গেছেন, আপনি আপনার পিতার সেই উপপত্নীদের কাছে গমন করুন; তাতে সমস্ত ইসরাইল শুনবে যে, আপনি পিতার ঘৃণাস্পদ হয়েছেন, তখন আপনার সঙ্গী সমস্ত লোকের হাত সবল হবে।
22 পরে লোকেরা অবশালোমের জন্য প্রাসাদের ছাদে একটা তাঁবু স্থাপন করলো, তাতে অবশালোম সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে তার পিতার উপপত্নীদের কাছে গমন করলো।
23 ঐ সময়ে অহীথোফল যে মন্ত্রণা দিত, সেই দৈববাণীকে মনে করা হত যেন তা আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে; দাউদের ও অবশালোমের, উভয়ের বিবেচনায় অহীথোফলের যাবতীয় মন্ত্রণা সেই রকমই ছিল।
1
অহীথোফল অবশালোমকে আরও বললো, আমি বারো হাজার লোক মনোনীত করে আজ রাতে দাউদের পিছনে পিছনে তাড়া করে যাই;
2 যখন তিনি শ্রান্ত ও শিথিলহস্ত হবেন, সেই সময়ে হঠাৎ তাঁকে আক্রমণ করে ভয় দেখাব; তাতে তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক পালিয়ে যাবে, আর আমি কেবল বাদশাহ্কে হত্যা করবো।
3 কনে যেমন বরের কাছে ফিরে আসে সেভাবে সমস্ত লোককে আপনার পক্ষে আনবো। আপনি যার খোঁজ করছেন, তাঁরই মরণ এবং সকলের প্রত্যাগমন দুইই সম্পন্ন হবে; সমস্ত লোক শান্তিতে থাকবে।
4 এই কথা অবশালোম ও ইসরাইলের সমস্ত পধান ব্যক্তিবর্গের তুষ্টিজনক হল।
5
তখন অবশালোম বললো, একবার অর্কীয় হূশয়কেও ডাক; তিনি কি বলেন, আমরা তাও শুনি।
6 পরে হূশয় অবশালোমের কাছে আসলে অবশালোম তাকে বললো, অহীথোফল এই রকম কথা বলেছে, এখন তার কথানুসারে কাজ করা আমাদের কর্তব্য কি না?
7 যদি না হয়, তুমি বল। হূশয় অবশালোমকে বললেন, এবার অহীথোফল ভাল পরামর্শ দেন নি।
8 হূশয় আরও বললেন, আপনি আপনার পিতা ও তাঁর লোকদের জানেন, তাঁরা বীর ও তিক্তপ্রাণ এবং মাঠের বাচ্চা হারানো ভল্লুকীর মত, আর আপনার পিতা যোদ্ধা; তিনি লোকদের সঙ্গে রাত যাপন করবেন না।
9 দেখুন, এখন তিনি কোন গর্তে কিংবা আর কোন স্থানে লুকিয়ে আছেন; আর প্রথমে তিনি ঐ লোকদের আক্রমণ করলে যে কেউ তা শুনবে, সে বলবে, অবশালোমের অনুগামী লোকদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।
10 তা হলে যে বীর্যবান ব্যক্তি সিংহ-হৃদয়ের মত হৃদয়বিশিষ্ট, সেও একান্ত গলে যাবে; কারণ সমস্ত ইসরাইল জানে আপনার পিতা বিক্রমশালী ও তাঁর সঙ্গীরা বীর্যবান লোক।
11 কিন্তু আমার পরামর্শ এই; দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সমুদ্রতীরস্থ বালির মত অসংখ্য সমস্ত ইসরাইল আপনার কাছে সংগৃহীত হোক, পরে আপনি স্বয়ং যুদ্ধে গমন করুন।
12 তাতে যে স্থানেই তাঁকে পাওয়া যাবে, সেই স্থানে আমরা তাঁর সমীপে উপস্থিত হয়ে ভূমিতে শিশির পতনের মত করে তাঁর উপরে চেপে পড়বো; তাঁকে বা তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোকের মধ্যে এক জনকেও রাখবো না।
13 আর যদি তিনি কোন নগরে প্রস্থান করেন, তবে সমস্ত ইসরাইল সেই নগরে দড়ি বাঁধবে, আর আমরা স্রোত পর্যন্ত তা টেনে নিয়ে যাব, শেষে সেখানে একখানি পাথর কুচিও আর পাওয়া যাবে না।
14 পরে অবোশালোম ও ইসরাইলের সমস্ত লোক বললো, অহিথোফলের মন্ত্রণার চেয়ে অর্কীয় হূশয়ের মন্ত্রণা ভাল। বস্তুত মাবুদ যেন অবশালোমের প্রতি অমঙ্গল ঘটান, সেজন্য অহীথোফলের ভাল মন্ত্রণা ব্যর্থ করার জন্য মাবুদই তা স্থির করেছেন।
15
পরে হূশয় সাদোক ও অবিয়াথর নামের দুই ইমামকে বললেন, অহীথোফল অবশালোমকে ও ইসরাইলের প্রধান ব্যক্তিদের অমুক অমুক মন্ত্রণা দিয়েছিল, কিন্তু আমি অমুক অমুক মন্ত্রণা দিয়েছি।
16 অতএব তোমরা শীঘ্র দাউদের কাছ লোক পাঠিয়ে তাঁকে বল, আপনি মরুভূমিস্থ পারঘাটায় আজ রাত যাপন করবেন না, কোন মতে পার হয়ে যাবেন, তা নইলে বাদশাহ্ ও আপনার সঙ্গী সমস্ত লোক মারা পড়বেন।
17 সেই সময়ে যোনাথন ও অহীমাস ঐন্রোগেলে ছিল; এক জন বাঁদী গিয়ে তাদের সংবাদ দিত, পরে তারা গিয়ে বাদশাহ্ দাউদকে সংবাদ দিত; কেননা তারা নগরে গিয়ে দেখা দিতে পারতো না।
18 কিন্তু এক যুবক তাদের দেখে অবশালোমকে জানালো; আর তারা দু’জন শীঘ্র গিয়ে বহুরীমে এক লোকের বাড়িতে প্রবেশ করলো এবং তাঁর প্রাঙ্গণের মধ্যে একটি কুয়া থাকাতে সেই কুয়ায় গিয়ে নামল।
19 পরে গৃহিণী কুয়াটির মুখে আচ্ছাদন দিয়ে তার উপরে মাড়াই করা শস্য বিছিয়ে দিল, তাতে কেউ কিছু জানতে পারল না।
20 পরে অবশালোমের গোলামেরা সেই স্ত্রীলোকটির বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসা করলো, অহীমাস ও যোনাথন কোথায়? স্ত্রীলোকটি তাদের বললো, তারা ঐ পানির স্রোত পার হয়ে গেল। পরে তারা খোঁজ করে কাউকেই না পেয়ে জেরুশালেমে ফিরে গেল।
21
তারা চলে যাবার পর ঐ দু’জন কুয়া থেকে উঠে গিয়ে বাদশাহ্ দাউদকে সংবাদ দিল; আর তারা দাউদকে বললো, আপনারা উঠুন, শীঘ্র পানি পার হয়ে যান, কেননা অহীথোফল আপনাদের বিরুদ্ধে অমুক মন্ত্রণা দিয়েছে।
22 তাতে দাউদ ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক জর্ডান পার হলেন; জর্ডান পার হন নি, তাদের এমন এক জনও প্রভাতের আলো পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকলো না।
23
আর অহীথোফল যখন দেখলো যে, তার মন্ত্রণা অনুযায়ী কাজ করা হল না, তখন সে গাধা সাজাল এবং উঠে তার নগরে নিজের বাড়িতে গেল এবং তার বাড়ির বিষয়ে ব্যবস্থা করে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলো; পরে তার পিতার কবরে তাকে দাফন করা হল।
24
পরে দাউদ মহনয়িমে আসলেন এবং সমস্ত ইসরাইল লোকের সঙ্গে অবশালোম জর্ডান পার হল।
25 আর অবশালোম যোয়াবের স্থলে অমাসাকে সৈন্যদলের উপরে নিযুক্ত করেছিল। ঐ অমাসা ছিল যিথ্র নামে এক জন ইসমাইলীয় ব্যক্তির পুত্র; সেই ব্যক্তি নাহশের কন্যা অবীগলের কাছ গমন করেছিল; উক্ত স্ত্রী যোয়াবের মা সরূয়ার বোন।
26 পরে বনি-ইসরাইল ও অবশালোম গিলিয়দ দেশে শিবির স্থাপন করলো।
27
দাউদ মহনয়িমে উপস্থিত হওয়ার পর অম্মোনীয়দের রব্বা-নিবাসী রাহশের পুত্র শোবি, আর লোদবার-নিবাসী অম্মীয়েলের পুত্র মাখীর এবং রোগলীম-নিবাসী গিলিয়দীয় বর্সিল্লয় দাউদের ও তাঁর সঙ্গী লোকদের জন্য বিছানা, বাটি, মাটির পাত্র এবং
28 খাবারের জন্য গম, যব, সুজি, ভাজা শস্য, শিম, মসুর ডাল, ভাজা কলাই,
29 মধু ও দই এবং ভেড়ার পাল ও গরুর দুধের পনীর আনলেন; কেননা তাঁরা বললেন, লোকেরা মরুভূমিতে ক্ষুধিত, শ্রান্ত ও পিপাসিত হয়েছে।
1
পরে দাউদ তাঁর সঙ্গী লোকদের গণনা করে তাদের উপরে সহস্র্রপতি ও শতপতিদের নিযুক্ত করলেন।
2 আর দাউদ যোয়াবের হাতে লোকদের এক তৃতীয়াংশ ও যোয়াবের ভাই সরূয়ার পুত্র অবীশয়ের হাতে এক তৃতীয়াংশ এবং গাতীয় ইত্তয়ের হাতে এক তৃতীয়াংশের ভার দিয়ে প্রেরণ করলেন। আর বাদশাহ্ লোকদের বললেন, আমিও তোমাদের সঙ্গে যাব।
3 কিন্তু লোকেরা বললো, আপনি যাবেন না; কেননা যদি আমরা পালিয়ে যাই, তবে আমাদের বিষয়ে তারা কিছু মনে করবে না, আমাদের অর্ধেক লোক মরলেও আমাদের বিষয় কিছু মনে করবে না; কিন্তু আপনি আমাদের দশ হাজারের সমান; অতএব নগর থেকে আমাদের সাহায্য করার জন্য আপনি প্রস্তুত থাকলে ভাল হয়।
4 তখন বাদশাহ্ তাদের বললেন, তোমরা যা ভাল বোঝ, আমি তা-ই করবো। পরে বাদশাহ্ নগর-দ্বারের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং সমস্ত লোক শত শত ও হাজার হাজার হয়ে বের হয়ে গেল।
5 তখন বাদশাহ্ যোয়াব, অবীশয় ও ইত্তয়কে হুকুম দিয়ে বললেন, তোমরা আমার অনুরোধে সেই যুবকের প্রতি, অবশালোমের প্রতি, কোমল ব্যবহার করো। অবশালোমের বিষয়ে সমস্ত সেনাপতিকে বাদশাহ্র এই হুকুম দেবার সময়ে সমস্ত লোকই তা শুনতে পেল।
6
পরে সেসব লোক ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রণক্ষেত্রে গেল; আফরাহীম অরণ্যে যুদ্ধ হল।
7 সেই স্থানে ইসরাইল লোকেরা দাউদের গোলামদের সম্মুখে আহত হল, আর সেদিন সেখানে মহাসংহার হল, বিশ হাজার লোকের মৃত্যু হল।
8 ফলত যুদ্ধ সেখানকার সমস্ত অঞ্চলে ব্যাপ্ত হল; এবং সেদিন তলোয়ার যত লোককে না গ্রাস করলো, অরণ্য তার চেয়ে বেশি লোককে গ্রাস করলো।
9
আর অবশালোম হঠাৎ দাউদের গোলামদের সম্মুখে পড়লো; অবশালোম তার খচ্চরে চড়েছিল, সেই খচ্চর সেখানকার বড় একটা এলা গাছের ডালের নিচে দিয়ে গমন করাতে সেই এলা গাছে অবশালোমের মাথা আটকে গেল; তাতে সে আসমানের ও দুনিয়ার মধ্যে ঝুলে রইলো এবং যে খচ্চরটি তার নিচে ছিল, সেটি প্রস্থান করলো।
10 আর এক জন লোক তা দেখে যোয়াবকে বললো, দেখুন, আমি দেখলাম, অবশালোম এলা গাছে ঝুলছে।
11 তখন যোয়াব সেই সংবাদদাতাকে বললেন, দেখ, তুমি তো দেখেছিলে, তবে কেন সেই স্থানে তাকে মেরে ভূমিতে ফেলে দিলে না? তা করলে আমি তোমাকে দশ শেকল রূপা ও একটি কটিবন্ধ দিতাম।
12 সেই ব্যক্তি যোয়াবকে বললো, আমি যদি হাজার শেকল রূপা হাতে পেতাম, তবুও রাজপুত্রের বিরুদ্ধে হাত বাড়াতাম না; কেননা আমাদেরই উপস্থিতিতে বাদশাহ্ আপনাকে, অবীশয় ও ইত্তয়কে এই হুকুম দিয়েছিলেন, তোমরা যে কেউ হও, সেই যুবক অবশালোমের বিষয়ে সাবধান থাকবে।
13 আর যদি আমি তাঁর প্রাণের বিরুদ্ধে বেঈমানী করতাম— বাদশাহ্ থেকে তো কোন বিষয় গুপ্ত থাকে না— আর তখন আপনিও আমার বিপক্ষ হতেন।
14 তখন যোয়াব বললেন, তোমার সম্মুখে আমার এরকম বিলম্ব করা অনুচিত। পরে তিনি হাতে তিনটি খোঁচা নিয়ে অবশালোমের বক্ষ বিদ্ধ করলেন; তখনও সে এলা গাছের মধ্যে জীবিত ছিল।
15 আর যোয়াবের অস্ত্রবাহক দশ জন যুবক অবশালোমকে বেষ্টন করলো ও আঘাত করে হত্যা করলো।
16
পরে যোয়াব তূরী বাজালেন, তাতে লোকেরা ইসরাইলের সৈন্যদের তাড়া করা বন্ধ করলো; কেননা যোয়াব লোকদের ফিরিয়ে রাখলেন।
17 আর তারা অবশালোমকে নিয়ে অরণ্যের একটি বড় গর্তে ফেলে দিয়ে তার উপরে পাথরের অতি প্রকাণ্ড একটি ঢিবি করলো। ইতোমধ্যে সমস্ত ইসরাইল নিজ নিজ তাঁবুতে পালিয়ে গেল।
18
বাদশাহ্র উপত্যকায় যে স্তম্ভ আছে, অবশালোম জীবনকালে তা নির্মাণ করিয়ে নিজের জন্য স্থাপন করেছিল, কেননা সে বলেছিল, আমার নাম রক্ষা করতে আমার কোন পুত্র নেই; এজন্য সে তার নাম অনুসারে ঐ স্তম্ভের নাম রেখেছিল; আজও তা অবশালোমের স্তম্ভ বলে বিখ্যাত হয়ে আছে।
19
পরে সাদোকের পুত্র অহীমাস বললো, আমি দৌড়ে গিয়ে, মাবুদ কিভাবে দুশমনদের হাত থেকে বাদশাহ্র বিচার নিষ্পত্তি করেছেন, এই সংবাদ বাদশাহ্কে দিই।
20 কিন্তু যোয়াব তাকে বললেন, আজ তুমি সংবাদবাহক হবে না, অন্যদিন সংবাদ দেবে; রাজপুত্রের মৃত্যু হয়েছে, এজন্য আজ তুমি সংবাদ দেবে না।
21 পরে যোয়াব কূশীয়কে বললেন, যাও, যা দেখলে, বাদশাহ্কে গিয়ে বল। তাতে কূশীয় যোয়াবকে উবুড় হয়ে সালাম জানিয়ে দৌড়ে চলে গেল।
22 পরে সাদোকের পুত্র অহীমাস আবার যোয়াবকে বললো, যা হয় হোক, আরজ করি, কুশীয়ের পিছনে আমাকেও দৌড়ে যেতে দিন। যোয়াব বললেন, বৎস, তুমি কেন দৌড়ে যাবে? তুমি তো এই সংবাদের জন্য পুরস্কার পাবে না?
23 সে বললো, যা হয় হোক, আমি দৌড়ে যাব। তাতে তিনি বললেন, যাও। তখন অহীমাস সমভূমির পথ দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে কূশীয়কে পিছনে ফেলে গেল।
24
সেই সময়ে দাউদ দুই নগর-দ্বারের মধ্যবর্তী স্থানে বসে ছিলেন। আর প্রহরী নগর-দ্বারের উপরিভাগে, প্রাচীরে উঠলো, আর চোখ তুলে নিরীক্ষণ করলো, আর দেখ, এক জন একা দৌড়ে আসছে।
25 তাতে প্রহরী উচ্চৈঃস্বরে বাদশাহ্কে তা জানালো; বাদশাহ্ বললেন, সে যদি একা হয়, তবে তার মুখে সংবাদ আছে। পরে সে আসতে আসতে নিকটবর্তী হল।
26 প্রহরী আর এক জনকে দৌড়ে আসতে দেখে উচ্চৈঃস্বরে দ্বারীকে বললো, দেখ, আর এক জন একা দৌড়ে আসছে। তখন বাদশাহ্ বললেন, সেও সংবাদ আনছে।
27 পরে প্রহরী বললো, প্রথম ব্যক্তির দৌড় সাদোকের পুত্র অহীমাসের দৌড় বলে মনে হয়। বাদশাহ্ বললেন, সে ভাল মানুষ, ভাল সংবাদ নিয়ে আসছে।
28
তখন অহীমাস উচ্চৈঃস্বরে বাদশাহ্কে বললো, মঙ্গল। পরে সে বাদশাহ্র সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে বললো, আপনার আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, আমার মালিক বাদশাহ্র বিরুদ্ধে যে লোকেরা হাত তুলেছিল, তাদের তিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
29 পরে বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করলেন, যুবক অবশালোমের কি মঙ্গল? অহীমাস বললো, যে সময়ে যোয়াব বাদশাহ্র গোলামকে, আপনার গোলাম আমাকে পাঠান, সেই সময়ে বড় লোকারণ্য দেখলাম, কিন্তু কি হয়েছিল তা জানি না।
30 বাদশাহ্ বললেন, এক পাশে যাও, এখানে দাঁড়াও; তাতে সে এক পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
31
আর দেখ, কূশীয় এসে বললো, আমার মালিক বাদশাহ্র জন্য সংবাদ এনেছি; যারা আপনার বিরুদ্ধে উঠেছিল তাদের হাত থেকে মাবুদ আজ আপনার বিচার নিষ্পত্তি করেছেন।
32 বাদশাহ্ কূশীয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, যুবক অবশালোমের কি মঙ্গল? কূশীয় বললো, আমার মালিক বাদশাহ্র দুশমনেরা ও যারা অমঙ্গলের জন্য আপনার বিরুদ্ধাচারণ করে, তারা সকলে সেই যুবকের মত হোক।
33 তখন বাদশাহ্ অধৈর্য হয়ে নগর-দ্বারের ছাদের উপরিস্থ কুঠরীতে উঠে কাঁদতে লাগলেন; এবং গমন করতে করতে বললেন, হায়! আমার পুত্র অবশালোম! আমার পুত্র, আমার পুত্র অবশালোম! কেন তোমার পরিবর্তে আমি মরি নি? হায় অবশালোম! আমার পুত্র! আমার পুত্র!
1
পরে কেউ যোয়াবকে বললো, দেখ, বাদশাহ্ অবশালোমের জন্য কান্নাকাটি করছেন ও শোক করছেন।
2 আর সেই দিনে সমস্ত লোকের পক্ষে বিজয় শোকের বিষয় হয়ে পড়লো, কারণ বাদশাহ্ তার পুত্রের বিষয়ে ব্যথিত হয়েছেন এই কথা সৈন্যরা সেদিন শুনতে পেল।
3 আর যুদ্ধ থেকে পলায়নকালে লোকেরা যেমন লজ্জা পেয়ে চোরের মত পালিয়ে যায়, তেমনি লোকেরা ঐ দিন চোরের মত নগরে প্রবেশ করলো।
4 আর বাদশাহ্ নিজের মুখ ঢেকে চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলেন, হায়! আমার পুত্র অবশালোম! হায় অবশালোম! আমার পুত্র!
5
পরে যোয়াব ঘরের ভিতরে গিয়ে বাদশাহ্কে বললেন, যারা আজ আপনার প্রাণ, আপনার পুত্র কন্যাদের প্রাণ ও আপনার স্ত্রীদের প্রাণ ও আপনার উপস্ত্রীদের প্রাণ রক্ষা করেছে, আপনার সেই গোলামদের মুখ আপনি অপমানে ঢেকে দিয়েছেন।
6 বস্তুত আপনি আপনার বিদ্বেষিদেরকে মহব্বত ও আপনাকে যারা প্রেম করে তাদের ঘৃণা করছেন; ফলে আপনি আজ প্রকাশ করছেন যে, নেতৃবর্গরা ও গোলামেরা আপনার কাছে কিছুই নয়; কেননা আজ আমি দেখতে পাচ্ছি, যদি অবশালোম বেঁচে থাকতো আর আমরা সকলে মারা যেতাম তা হলে আপনি সন্তুষ্ট হতেন।
7 অতএব আপনি এখন উঠে বাইরে গিয়ে আপনার গোলামদের চিত্ত-তোষক কথা বলুন। আমি মাবুদের নামে শপথ করছি, যদি আপনি বাইরে না যান, তবে এই রাতে আপনার সঙ্গে এক জনও থাকবে না এবং আপনার যৌবনকাল থেকে এখন পর্যন্ত যত অমঙ্গল ঘটেছে, তার চেয়েও আপনার এই অমঙ্গল বেশি হবে।
8 তখন বাদশাহ্ উঠে নগর-দ্বারে বসলেন; আর সমস্ত লোককে বলা হল, দেখ, বাদশাহ্ দ্বারে বসে আছেন; তাতে সমস্ত লোক বাদশাহ্র সম্মুখে আসল।
9
ইসরাইল লোকেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুতে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে ইসরাইলের সমস্ত বংশের সকল লোক কলহ করে বলতে লাগল, বাদশাহ্ দুশমনদের হাত থেকে আমাদের নিস্তার করেছিলেন ও ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করেছিলেন; সম্প্রতি তিনি অবশালোমের ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।
10 আর আমরা যে অবশালোমকে অভিষেক করেছিলাম, তিনি যুদ্ধে মারা গেছেন; অতএব তোমরা এখন বাদশাহ্কে ফিরিয়ে আনবার বিষয়ে একটি কথাও বলছো না কেন?
11
পরে বাদশাহ্ দাউদ সাদোক ও অবিয়াথর— এ দুই ইমামের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, তোমরা এহুদার প্রধান ব্যক্তিদের বল, বাদশাহ্কে তাঁর নিজের প্রাসাদে ফিরিয়ে আনতে তোমরা কেন সকলের শেষে রয়েছ? বাদশাহ্কে তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে আনবার জন্য সমস্ত ইসরাইলের নিবেদন তাঁর কাছে উপস্থিত হয়েছে।
12 তোমরাই আমার ভাই, তোমরাই আমার অস্থি ও আমার মাংস; অতএব বাদশাহ্কে ফিরিয়ে আনতে কেন সকলের শেষে রয়েছ?
13 তোমরা অমাসাকেও বল, তুমি কি আমার অস্থি ও আমার মাংস নও? যদি তুমি নিয়মিত ভাবে আমার সাক্ষাতে যোয়াবের পদে সৈন্যদলের সেনাপতি না হও, তবে আল্লাহ্ আমাকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন।
14 এভাবে তিনি এহুদার সমস্ত লোকের হৃদয়কে এক জনের হৃদয়ের মত জয় করে নিলেন, তাতে তারা লোক পাঠিয়ে বাদশাহ্কে বললো, আপনি ও আপনার সকল গোলাম পুনরাগমন করুন।
15 পরে বাদশাহ্ প্রত্যাগমন করে জর্ডান পর্যন্ত আসলেন। আর এহুদার লোকেরা বাদশাহ্র সঙ্গে দেখা করতে ও তাঁকে জর্ডান পার করে আনতে গিল্গলে গেল।
16
তখন দাউদ বাদশাহ্র সঙ্গে দেখা করতে বহূরীম-নিবাসী গেরার পুত্র বিন্-ইয়ামীনীয় শিমিয়ি দ্রুত করে এহুদার লোকদের সঙ্গে এল।
17 আর বিন্ইয়ামীনীয় এক হাজার লোক তার সঙ্গে ছিল এবং তালুতের কুলের ভৃত্য সীবঃ ও তার পনের জন পুত্র ও বিশ জন গোলাম তার সঙ্গে ছিল, তারা বাদশাহ্র সাক্ষাতে পানি ভেঙে জর্ডান পার হল।
18 তখন তারা বাদশাহ্র পরিজনদের পার করতে ও তাঁর বাসনামত দায়িত্ব পালন করতে হেঁটে পার হওয়ার জায়গা দিয়ে নদী পার হল। বাদশাহ্র জর্ডান পার হবার সময়ে গেরার পুত্র শিমিয়ি বাদশাহ্র সম্মুখে উবুড় হয়ে পড়লো।
19
সে বাদশাহ্কে বললো, আমার প্রভু আমার অপরাধ গণনা করবেন না; যেদিন আমার মালিক বাদশাহ্ জেরুশালেম থেকে বের হন, সেদিন আপনার গোলাম আমি যে অপকর্ম করেছিলাম তা স্মরণে রাখবেন না, বাদশাহ্ কিছু মনে করবেন না।
20 আপনার গোলাম আমি জানি, আমি গুনাহ্ করেছি, এজন্য দেখুন, ইউসুফের সমস্ত কুলের মধ্যে প্রথমে আমিই আজ আমার মালিক বাদশাহ্র সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
21 কিন্তু সরূয়ার পুত্র অবীশয় উত্তর করলেন, এজন্য কি শিমিয়ির প্রাণদণ্ড হবে না যে, সে মাবুদের অভিষিক্ত ব্যক্তিকে বদদোয়া দিয়েছিল?
22 দাউদ বললেন, হে সরূয়ার পুত্র! তোমাদের সঙ্গে আমার বিষয় কি যে, তোমরা আজ আমার বিপক্ষ হচ্ছ? আজ কি ইসরাইলের মধ্যে কারো প্রাণদণ্ড হতে পারে? কারণ আমি কি জানি না যে, আজ আমি ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্?
23 পরে বাদশাহ্ শিমিয়িকে বললেন, তোমার প্রাণদণ্ড হবে না; ফলত বাদশাহ্ তার কাছে শপথ করলেন।
24
পরে তালুতের পৌত্র মফীবোশৎ বাদশাহ্র সঙ্গে দেখা করতে নেমে আসলেন, বাদশাহ্ প্রস্থান করার পর থেকে তাঁর নিরাপদে ফিরে প্রত্যাগমনের দিন পর্যন্ত সে দাড়ি পরিষ্কার করে নি ও কাপড়-চোপড়ও ধোয় নি।
25 আর যখন তিনি জেরুশালেমে বাদশাহ্র সঙ্গে দেখা করতে আসলেন, তখন বাদশাহ্ তাঁকে বললেন, হে মফীবোশৎ, তুমি কেন আমার সঙ্গে যাও নি?
26 জবাবে তিনি বললেন, হে আমার মালিক, হে বাদশাহ্, আমার গোলাম আমাকে বঞ্চনা করেছিল; কেননা আপনার গোলাম আমি বলেছিলাম, আমি গাধা সাজিয়ে তার উপরে চড়ে বাদশাহ্র সঙ্গে যাব, কেননা আপনার গোলাম আমি খঞ্জ।
27 সে আমার মালিক বাদশাহ্র কাছে আপনার এই গোলামের বিষয়ে নিন্দাবাদ করেছে; কিন্তু আমার মালিক বাদশাহ্ আল্লাহ্র ফেরেশতার মত; অতএব আপনার দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই করুন।
28 আমার মালিক বাদশাহ্র সাক্ষাতে আমার সমস্ত পিতৃকুল নিতান্ত মৃত্যুর পাত্র ছিল, তবুও যারা আপনার খাবার টেবিলে ভোজন করে, আপনি তাদের সঙ্গে বসতে আপনার এই গোলামকে স্থান দিয়েছিলেন; অতএব আমার আর কি অধিকার আছে যে, বাদশাহ্র কাছে পুনর্বার অনুরোধ করবো?
29 বাদশাহ্ তাকে বললেন, তোমার বিষয়ে বেশি কথায় কি প্রয়োজন? আমি বলছি তুমি ও সীবঃ উভয়ে সেই ভূমি অংশ করে নাও।
30 তখন মফীবোশৎ বাদশাহ্কে বললেন, সে সম্পূর্ণ অংশই গ্রহণ করুক, কারণ আমার মালিক বাদশাহ্ সহিসালামতে তাঁর বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
31
আর গিলিয়দীয় বর্সিল্লয় রোগলীম থেকে নেমে এসেছিলেন, তিনি বাদশাহ্কে জর্ডানের পারে রেখে যাবার আশায় তাঁর সঙ্গে জর্ডান পার হয়েছিলেন।
32 বর্সিল্লয় অতি বৃদ্ধ, আশি বছর বয়স্ক ছিলেন; আর মহনয়িমে বাদশাহ্র অবস্থিতিকালে তিনি বাদশাহ্র খাদ্য যুগিয়েছিলেন, কারণ তিনি খুব ধনী এক জন মানুষ ছিলেন।
33 বাদশাহ্ বর্সিল্লয়কে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে পার হয়ে এসো, আমি তোমাকে জেরুশালেমে আমার সঙ্গে প্রতিপালন করবো।
34 কিন্তু বর্সিল্লয় বাদশাহ্কে বললেন, আমার আয়ুর আর কত দিন আছে যে, আমি বাদশাহ্র সঙ্গে জেরুশালেমে উঠে যাব?
35 আজ আমার বয়স আশি বছর; এখন কি ভাল মন্দের বিশেষ বুঝতে পারি? যা ভোজন করি বা যা পান করি, আপনার গোলাম আমি কি তার আস্বাদ বুঝতে পারি? এখন কি আর গায়ক ও গায়িকাদের গানের আওয়াজ শুনতে পাই? তবে কেন আপনার এই গোলাম আমার মালিক বাদশাহ্র ভারস্বরূপ হবে?
36 আপনার গোলাম বাদশাহ্র সঙ্গে কেবল জর্ডান পার হয়ে যাবে, এই মাত্র; বাদশাহ্ কেন এমন পুরস্কারে আমাকে পুরস্কৃত করবেন?
37 মেহেরবানী করে আপনার এই গোলামকে ফিরে যেতে দিন যাতে আমি আমার নগরে আমার পিতা-মাতার কবরের কাছে মরতে পারি। কিন্তু দেখুন, এই আপনার গোলাম কিম্হম; সে-ই আমার মালিক বাদশাহ্র সঙ্গে পার হয়ে যাক; আপনার যা ভাল মনে হয়, তার প্রতি করবেন।
38 বাদশাহ্ উত্তর করলেন, কিম্হম আমার সঙ্গে পার হয়ে যাবে; তোমার যা ভাল মনে হয়, আমি তার প্রতি তা-ই করবো এবং তুমি আমাকে যা করতে বলবে, তোমার জন্য আমি তা-ই করবো।
39 পরে সমস্ত লোক জর্ডান পার হল, বাদশাহ্ও পার হলেন। বাদশাহ্ বর্সিল্লয়কে চুম্বন করলেন ও দোয়া করলেন; পরে তিনি স্বস্থানে ফিরে গেলেন।
40 আর বাদশাহ্ পার হয়ে গিল্গলে গেলেন; এবং কিম্হম তাঁর সঙ্গে গেল এবং এহুদার সমস্ত লোক ও ইসরাইলের অর্ধেক লোক গিয়ে বাদশাহ্কে পার করে নিয়ে এসেছিল।
41
আর দেখ, ইসরাইলের সমস্ত লোক বাদশাহ্র কাছে এসে তাঁকে বললো, আমাদের ভাই এহুদার লোকেরা কেন আপনাকে চুরি করে আনলো? বাদশাহ্কে আপনার পরিজনদের ও দাউদের সঙ্গে তাঁর সমস্ত লোককে, জর্ডান পার করে কেন আনলো?
42 তখন এহুদার সমস্ত লোক ইসরাইল লোকদের বললো, বাদশাহ্ তো আমাদের নিকট আত্মীয়, তবে তোমরা এই বিষয়ে কেন ক্রুদ্ধ হও? আমরা কি বাদশাহ্র কিছু খেয়েছি? অথবা তিনি কি আমাদের কিছু ভেট দিয়েছেন?
43 তখন ইসরাইল লোকেরা জবাবে এহুদার লোকদের বললো, বাদশাহ্তে আমাদের দশ অংশ অধিকার আছে, সুতরাং দাউদের উপর তোমাদের চেয়ে আমাদের অধিকার বেশি; অতএব আমাদের কেন তুচ্ছবোধ করলে; আর আমাদের বাদশাহ্কে ফিরিয়ে আনবার প্রস্তাব কি প্রথমে আমরাই করি নি? তখন ইসরাইল লোকদের কথার চেয়ে এহুদার লোকদের কথা বেশি কড়া বলে মনে হল।
1
ঐ সময়ে সেই স্থানে বিন্-ইয়ামীনীয় বিখ্রির পুত্র শেবঃ নামে এক জন পাষণ্ড ছিল; সে তুরী বাজিয়ে বললো, দাউদে আমাদের কোন অংশ নেই, ইয়াসির পুত্রে আমাদের অধিকার নেই; হে ইসরাইল, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ তাঁবুতে যাও।
2 তাতে ইসরাইলের সমস্ত লোক দাউদের পিছন থেকে ফিরে বিখ্রির পুত্র শেবের পিছনে গেল; কিন্তু জর্ডান থেকে জেরুশালেম পর্যন্ত এহুদার লোকেরা তাদের বাদশাহ্র পক্ষে অনুগত থাকলো।
3
পরে দাউদ জেরুশালেমে তাঁর বাড়িতে আসলেন। আর রাজপ্রাসাদ রক্ষার্থে তাঁর যে দশ জন উপপত্নীকে রেখে গিয়েছিলেন তাদের নিয়ে একটি বাড়িতে আটক করে রাখলেন; এবং প্রতিপালন করলেন, কিন্তু তাদের কাছে আর গমন করলেন না; অতএব তারা মরণ দিন পর্যন্ত বৈধব্য-অবস্থায় আটক রইলো।
4
পরে বাদশাহ্ অমাসাকে বললেন, আমার জন্য তুমি তিন দিনের মধ্যে এহুদার লোকদের ডেকে এনে একত্র কর, আর তুমিও এই স্থানে উপস্থিত হও।
5 তখন অমাসা এহুদার লোকদেরকে ডেকে এনে একত্র করতে গেলেন, কিন্তু বাদশাহ্ যে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, সেই নির্দিষ্ট সময় থেকে তিনি বেশি বিলম্ব করলেন।
6 তাতে দাউদ অবীশয়কে বললেন, অবশালোম যা করেছিল, তারচেয়ে বিখ্রির পুত্র শেবঃ এখন আমাদের বেশি অনিষ্ট করবে; তুমি তোমার প্রভুর গোলামদের নিয়ে তার পিছনে পিছনে তাড়া করে যাও, নতুবা সে প্রাচীরবেষ্টিত কোন কোন নগর অধিকার করে আমাদের দৃষ্টি এড়াবে।
7 তাতে যোয়াবের লোক জন, আর করেথীয় ও পলেথীয়রা এবং সমস্ত বীর তাঁর সঙ্গে বের হল; তারা বিখ্রির পুত্র শেবের পিছনে পিছনে তাড়া করার জন্য জেরুশালেম থেকে প্রস্থান করলো।
8 তারা গিবিয়োনস্থ বড় পাথরটির কাছে উপস্থিত হলে অমাসা তাদের সম্মুখে আসলেন। তখন যোয়াব সৈনিকের পোশাক পরেছিলেন, তার উপরে কোমরবন্ধনীতে তলোয়ার ছিল; খাপসহ তলোয়ারটি তাঁর কোমরে বাঁধা ছিল, পরে বাইরে আসতে আসতে তিনি তলোয়ারটি খুলে পড়তে দিলেন।
9 আর যোয়াব অমাসাকে বললেন, হে আমার ভাই, তোমার মঙ্গল তো? পরে যোয়াব অমাসাকে চুম্বন করার জন্য ডান হাত দিয়ে তাঁর দাড়ি ধরলেন।
10 কিন্তু যোয়াবের হস্তস্থিত তলোয়ারের প্রতি অমাসার লক্ষ্য না থাকাতে তিনি তা দিয়ে তাঁর উদরে আঘাত করলেন, তাঁর উদরস্থ নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ভূমিতে পড়লো; যোয়াব দ্বিতীয় বার তাঁকে আঘাত করলেন না, তিনি ইন্তেকাল করলেন। পরে যোয়াব ও তাঁর ভাই অবীশয় বিখ্রির পুত্র শেবের পিছনে পিছনে ধাবমান হলেন।
11
ইতোমধ্যে শেবের কাছে যোয়াবের এক জন যুবক দাঁড়িয়ে বলতে লাগল, যে যোয়াবকে ভালবাসে ও দাউদের পক্ষের, সে যোয়াবের পিছনে পিছনে আসুক।
12 তখনও অমাসা রাজপথের মধ্যে তাঁর রক্তে গড়াগড়ি দিচ্ছিলেন; অতএব সমস্ত লোক দাঁড়িয়ে রইলো দেখে ঐ ব্যক্তি অমাসাকে রাজপথ থেকে ক্ষেতে সরিয়ে দিয়ে তাঁর উপরে একখণ্ড কাপড় ফেলে দিল; কেননা সে দেখলো, যে কেউ তাঁর কাছ দিয়ে যায় সে দাঁড়িয়ে থাকে।
13 তখন অমাসাকে রাজপথ থেকে সরানো হলে সমস্ত লোক বিখ্রির পুত্র শেবের পিছনে পিছনে তাড়া করার জন্য যোয়াবের অনুগামী হল।
14
আর তিনি ইসরাইলের যাবতীয় বংশের মধ্য দিয়ে আবেল ও বৈৎমাখায় এবং বেরীয়দের সমস্ত অঞ্চল পর্যন্ত গমন করলেন, তাতে লোকেরা একত্র হয়ে শেবের পিছনে পিছনে চললো।
15 পরে তারা আবেল-বৈৎমাখাতে এসে তাকে রুদ্ধ করে নগরের কাছে জাঙ্গাল প্রস্তুত করলো এবং তা প্রাচীরের সমান হল, আর যোয়াবের সঙ্গী সমস্ত লোক প্রাচীর ভূমিসাৎ করার জন্য তা ভাঙ্গতে লাগল।
16 পরে নগরের মধ্য থেকে একটি বুদ্ধিমতী স্ত্রীলোক উচ্চৈঃস্বরে বললো, শোন শোন, মেহেরবানী করে যোয়াবকে এই স্থান পর্যন্ত আসতে বল, আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলবো।
17 পরে যোয়াব তার কাছে গেলে সে স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞাসা করলো, আপনি কি যোয়াব? তিনি উত্তর করলেন, আমি যোয়াব। সেই স্ত্রীলোকটি বললো, আপনার বাঁদীর কথা শুনুন; জবাবে তিনি বললেন, শুনছি।
18 পরে স্ত্রীলোকটি বললো, সেকালে লোকে বলতো, তারা আবেলে মন্ত্রণা জানতে চাইবেই চাইবে, এভাবে তারা কাজ সমাপন করতো।
19 আমি ইসরাইলের শান্তিপ্রিয় ও বিশ্বস্ত লোকদের এক জন, কিন্তু আপনি ইসরাইলের মাতৃস্থানীয় একটি নগর বিনষ্ট করতে চেষ্টা করছেন; আপনি কেন মাবুদের অধিকার গ্রাস করবেন?
20 জবাবে যোয়াব বললেন, গ্রাস করা কিংবা বিনাশ করা আমার কাছ থেকে দূরে থাকুক, দূরে থাকুক।
21 ব্যাপার এরকম নয়। কিন্তু বিখ্রির পুত্র শেবঃ নামে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের এক জন লোক বাদশাহ্র বিরুদ্ধে, দাউদের বিরুদ্ধে হাত তুলেছে; তোমরা কেবল তাকে আমার হাতে তুলে দাও, তাতে আমি এই নগর থেকে প্রস্থান করবো। তখন সে স্ত্রী যোয়াবকে বললো, দেখুন, প্রাচীরের উপর দিয়ে তার মুণ্ড আপনার কাছে নিক্ষেপ করা যাবে।
22 পরে সে স্ত্রী বুদ্ধিপূর্বক সব লোকের কাছে গেল। তাতে লোকেরা বিখ্রির পুত্র শেবের মাথা কেটে নিয়ে যোয়াবের কাছে বাইরে ফেলে দিল। তখন তিনি তূরী বাজালে লোকেরা নগর থেকে ছিন্নভিন্ন হয়ে নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে গেল এবং যোয়াব জেরুশালেমে বাদশাহ্র কাছে ফিরে গেলেন।
23
ঐ সময়ে যোয়াব ইসরাইলের সমস্ত সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি ছিলেন; এবং যিহোয়াদার পুত্র বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের প্রধান ছিলেন;
24 আর অদোরাম (বাদশাহ্র) কর্মাধীন গোলামদের প্রধান এবং অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট ইতিহাস লেখক,
25 আর শবা লেখক ছিলেন; এবং সাদোক ও অবিয়াথর ইমাম ছিলেন;
26 আর যায়ীরীয় ঈরাও দাউদের রাজমন্ত্রী ছিলেন।
1
দাউদের সময়ে পর পর তিন বছর দুর্ভিক্ষ হয়; তাতে দাউদ মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে মাবুদ জবাব দিলেন, তালুতের উপর ও তার কুলের উপর রক্তপাতের দোষ রয়েছে, কেননা সে গিবিয়োনীয়দের হত্যা করেছিল।
2 তাতে বাদশাহ্ গিবিয়োনীয়দের ডেকে এনে তাদের সঙ্গে আলাপ করলেন। গিবিয়োনীয়েরা বনি-ইসরাইল নয়, এরা আমোরীয়দের অবশিষ্টাংশের লোক এবং বনি-ইসরাইল তাদের ধ্বংস করবে না বলে তাদের কাছে কসম খেয়েছিল, কিন্তু তালুত ইসরাইল ও এহুদা-বংশের লোকদের পক্ষে গভীর আগ্রহে তাদের সবাইকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিলেন।
3 দাউদ গিবিয়োনীয়দের বললেন, আমি তোমাদের জন্য কি করবো? তোমরা যেন মাবুদের অধিকারকে দোয়া কর, এজন্য আমি কি দিয়ে কাফ্ফারা দেবো?
4 গিবিয়োনীয়েরা তাঁকে বললো, তালুতের সঙ্গে কিংবা তার কুলের সঙ্গে আমাদের রূপা বা সোনা বিষয়ে কোন ঝগড়া নেই, আবার ইসরাইলের মধ্যে কাউকেও হত্যা করা আমাদের কাজ নয়। পরে তিনি বললেন, তবে তোমরা কি বল? আমি তোমাদের জন্য কি করবো?
5 তারা বাদশাহ্কে বললো, যে ব্যক্তি আমাদের সংহার করেছে ও আমরা যেন ইসরাইলের সীমার মধ্যে কোথাও টিকতে না পারি ও বিনষ্ট হই, এজন্য কুমন্ত্রণা করেছিল,
6 তার সন্তানদের মধ্যে সাত জন পুরুষকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক; আমরা মাবুদের মনোনীত তালুতের গিবিয়াতে মাবুদের উদ্দেশে তাদের ফাঁশি দেব। তখন বাদশাহ্ বললেন, আমি তোমাদের হাতে তুলে দেব।
7
তবুও দাউদ ও তালুতের পুত্র যোনাথনের মধ্যে মাবুদের নামে যে শপথ হয়েছিল, সেজন্য বাদশাহ্ তালুতের পৌত্র, যোনাথনের পুত্র মফীবোশতের প্রতি করুণা করলেন।
8 কিন্তু অয়ার কন্যা রিসপা তালুতের জন্য অর্মোণি ও মফীবোশৎ নামে যে দুই জন পুত্র প্রসব করেছিল এবং মহোলাতীয় বর্সিল্লয়ের পুত্র অদ্রীয়েলের জন্য তালুতের কন্যা মীখল যে পাঁচ জন পুত্র প্রসব করেছিল, তাদের নিয়ে বাদশাহ্ গিবিয়োনীয়দের হাতে তুলে দিলেন;
9 তাতে তারা ঐ পর্বতে মাবুদের সম্মুখে তাদের ফাঁসি দিল। সেই সাত জন একেবারে মারা পড়লো; তারা প্রথম ফসল কাটার সময়ে অর্থাৎ যব কাটার আরম্ভকালে নিহত হল।
10
পরে অয়ার কন্যা রিস্পা চট নিয়ে ফসল কাটার আরম্ভ থেকে যে পর্যন্ত আসমান থেকে তাদের উপরে বৃষ্টি বর্ষিত না হল, সেই পর্যন্ত পাথরের উপরে তার বিছানা হিসেবে সেই চটখানি পেতে রাখল এবং দিনে আসমানের পাখিদের ও রাতে বন্য পশুদের তাদের উপরে পড়তে দিত না।
11 পরে তালুতের উপপত্নী অয়ার কন্যা রিস্পা যে কাজ করেছে তা বাদশাহ্ দাউদকে জানানো হল।
12 তখন দাউদ গমন করে যাবেশ-গিলিয়দের গৃহস্থদের কাছ থেকে তালুতের অস্থি ও তাঁর পুত্র যোনাথনের অস্থি তুলে আনলেন; কেননা গিল্বোয়ে ফিলিস্তিনীদের দ্বারা তালুতের নিহত হবার সময়ে তাঁদের দু’জনের লাশ ফিলিস্তিনীরা বৈৎ-শানের চকে টাঙ্গিয়ে দেবার পর যাবেশ-গিলিয়দের লোকেরা সেই স্থান থেকে তা চুরি করে নিয়ে এসেছিল।
13 তিনি সেখান থেকে তালুতের অস্থি ও তাঁর পুত্র যোনাথনের অস্থি আনলেন এবং লোকেরা সেই ফাঁশি দেওয়া লোকদের অস্থিও সংগ্রহ করলো।
14 পরে তারা তালুত ও তাঁর পুত্র যোনাথনের অস্থি বিন্ইয়ামীন দেশের সেলাতে তাঁর পিতা কীশের কবরের মধ্যে রাখল; তারা বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে সমস্ত কাজ করলো; তারপর দেশের জন্য আল্লাহ্র কাছ নিবেদন করা হলে তিনি প্রসন্ন হলেন।
15
ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে ইসরাইলের আবার যুদ্ধ বাধল; তাতে দাউদ তাঁর গোলামদের সঙ্গে গিয়ে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন; আর দাউদ ক্লান্ত হয়ে পড়লেন।
16 তখন তিন শত (শেকল) পরিমিত ব্রোঞ্জের বর্শাধারী যিশ্বী-বনোব নামে এক জন রফায়ীয় নবসজ্জায় সজ্জিত হয়ে দাউদকে আঘাত করতে মনস্থ করলো।
17 কিন্তু সরূয়ার পুত্র অবীশয় দাউদকে সাহায্য করে সেই ফিলিস্তিনীকে আক্রমণ ও হত্যা করলেন। তখন দাউদের লোকেরা তাঁর কাছে কসম খেয়ে বললো, আপনি আর আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যাবেন না, ইসরাইলের প্রদীপ নিভিয়ে ফেলবেন না।
18
এর পরে আর একবার গোবে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ হল; সেই সময় হূশাতীয় সিব্বখয় সফ নামে এক জন রফায়ীয়কে হত্যা করলো।
19 আবার ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে গোবে যুদ্ধ হল, আর যারে-ওরগীমের পুত্র বেথেলহেমীয় ইল্হানন তাঁতের নরাজের মত বর্শাধারী গাতীয় জালুতকে হত্যা করলো, এর বর্শা ছিল তাঁতের নরাজের মত।
20 আর একবার গাতে যুদ্ধ হল; আর সেখানে অতি দীর্ঘকায় এক জন ছিল, প্রতি হাতে পায়ে তার ছয় করে আঙ্গুল, সবসুদ্ধ চব্বিশটি আঙ্গুল ছিল, সেও এক জন রফায়ীয়।
21 সে ইসরাইলকে টিট্কারি দিলে দাউদের ভাই শিমিয়ের পুত্র যোনাথন তাকে হত্যা করলো।
22 এই চার জনই ছিল গাতে বাসকারী রফায়ীয়। এরা দাউদ ও তাঁর গোলামদের হাতে মারা পরেছিল।
1
যেদিন মাবুদ সমস্ত দুশমন এবং তালুতের হাত থেকে দাউদকে উদ্ধার করলেন, সেদিন তিনি মাবুদের উদ্দেশে এই গজল নিবেদন করলেন।
2 তিনি বললেন,
মাবুদ মম শৈল, মম দুর্গ ও মম উদ্ধারকর্তা,
3
মম শৈলরূপ আল্লাহ্, আমি তাঁর মধ্যে আশ্রয় নিই;
মম ঢাল, মম উদ্ধার-শৃঙ্গ, মম উঁচু দুর্গ, মম আশ্রয়স্থান,
মম ত্রাতা, জুলুম থেকে আমার নিস্তারকারী।
4
আমি কীর্তনীয় মাবুদকে ডাকব,
এভাবে আমার দুশমনদের কাছ থেকে উদ্ধার পাব।
5
কেননা আমি মৃত্যুর তরঙ্গে বেষ্টিত,
ধ্বংসের বন্যাতে আশঙ্কিত ছিলাম
6
আমি পাতালের দড়িতে বেষ্টিত, মৃত্যুর পাশে জড়িত ছিলাম;
7
সঙ্কটে আমি মাবুদকে ডাকলাম,
আমার আল্লাহ্কে আহ্বান করলাম;
তিনি তাঁর এবাদতখানা থেকে আমার নিবেদন শুনলেন,
আমার আর্তনাদ তাঁর কর্ণগোচর হল।
8
তখন দুনিয়া টলল, কাঁপতে লাগল,
আসমানের সমস্ত ভিত্তি বিচলিত হল,
ও ভয়ে কাঁপতে লাগল, কারণ তিনি ক্রোধে জ্বলে উঠলেন।
9
তাঁর নাসারন্ধ্র থেকে ধোঁয়া বের হল,
তাঁর মুখনির্গত আগুন গ্রাস করলো;
তা দ্বারা সমস্ত অঙ্গার প্রজ্বলিত হল।
10
তিনি আসমান নুইয়ে নামলেন,
অন্ধকার তাঁর পদতলে ছিল;
11
তিনি কারুবীতে চড়ে উড়ে আসলেন হলেন,
বায়ুর ডানায় ভর করে দর্শন দিলেন।
12
তিনি তাঁবুর মত তাঁর চতুর্দিকে অন্ধকার,
বিপুল জলরাশি ও ঘন মেঘমালা স্থাপন করলেন।
13
তাঁর সম্মুখবর্তী তেজ থেকে জ্বলন্ত সমস্ত অঙ্গার প্রজ্বলিত হল।
14
মাবুদ আসমান থেকে বজ্রনাদ করলেন,
সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তাঁর বাণী শোনালেন।
15
তিনি তীর মারলেন, তাদের ছিন্নভিন্ন করলেন,
বজ্র দ্বারা তাদের উদ্বিগ্ন করলেন।
16
তখন মাবুদের তর্জনে,
তাঁর নাসিকার প্রশ্বাসবায়ুতে সমুদ্রের সমস্ত প্রণালী প্রকাশ পেল,
দুনিয়ার সমস্ত মূল অনাবৃত হল।
17
তিনি উপর থেকে হাত বাড়ালেন, আমাকে ধরলেন,
মহাজলরাশি থেকে আমাকে টেনে তুললেন;
18
আমাকে উদ্ধার করলেন, আমার বলবান দুশমন থেকে,
আমার বিদ্বেষীদের থেকে, কারণ তারা আমার চেয়ে শক্তিমান।
19
আমার বিপদের দিনে তারা আমার কাছে এল,
কিন্তু মাবুদ আমার অবলম্বন হলেন।
20
তিনি আমাকে বাইরে প্রশস্ত স্থানে আনলেন,
আমাকে উদ্ধার করলেন, কেননা তিনি আমাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।
21
মাবুদ আমার ধার্মিকতা-অনুযায়ী পুরস্কার দিলেন,
আমার হাতের পবিত্রতা অনুযায়ী ফল দিলেন।
22
কেননা আমি মাবুদের পথে চলেছি,
দুষ্টতাপূর্বক আমার আল্লাহ্কে ছেড়ে দিই নি।
23
কারণ তাঁর সমস্ত অনুশাসন আমার সম্মুখে ছিল,
আমি তাঁর বিধিপথ থেকে দূরে সরে যাই নি।
24
আর আমি তাঁর উদ্দেশে সিদ্ধ ছিলাম,
নিজের অপরাধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতাম।
25
তাই মাবুদ আমাকে আমার ধার্মিকতা অনুসারে,
তাঁর সাক্ষাতে আমার পবিত্রতা অনুযায়ী ফল দিলেন।
26
তুমি দয়াবানের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করবে,
সিদ্ধ লোকের সঙ্গে সিদ্ধ ব্যবহার করবে।
27
তুমি খাঁটির সঙ্গে খাঁটি ব্যবহার করবে,
কুটিলের সঙ্গে চতুর ব্যবহার করবে।
28
তুমি দুঃখীদের নিস্তার করবে,
কিন্তু দাম্ভিকদের উপরে তোমার দৃষ্টি আছে,
তুমি তাদের অবনত করবে।
29
হে মাবুদ, তুমি আমার প্রদীপ;
মাবুদই আমার অন্ধকার আলোকময় করেন।
30
কেননা তোমার দ্বারা আমি সৈন্যদলের বিরুদ্ধে ধাবিত হই,
আমার আল্লাহ্র সাহায্যে প্রাচীর লাফ দিয়ে পার হই।
31
তিনিই আল্লাহ্, তাঁর পথ সিদ্ধ;
মাবুদের কালাম পরীক্ষাসিদ্ধ,
যারা তাঁর মধ্যে আশ্রয় নেয় তিনি তাদের ঢাল।
32
কারণ মাবুদ ছাড়া আর আল্লাহ্ কে আছে?
আমাদের আল্লাহ্ ছাড়া আর শৈল কে আছে?
33
আল্লাহ্ আমার দৃঢ় দুর্গ;
তিনি সিদ্ধকে তাঁর পথে চালান;
34
তিনি তার চরণ হরিণীর চরণের মত করেন;
আমার উচ্চস্থলীতে আমাকে সংস্থাপন করেন।
35
তিনি আমার হাতকে যুদ্ধ করতে শিক্ষা দেন,
তাই আমার বাহু তাম্রময় ধনুকে চাড়া দেয়।
36
তুমি আমাকে তোমার উদ্ধারকারী ঢাল দিয়েছ,
তোমার কোমলতা আমাকে মহান করেছে।
37
তুমি আমার নিচে পাদসঞ্চারের স্থান প্রশস্ত করেছ,
আর আমার পা বিচলিত হয় নি।
38
আমি আমার দুশমনদের পিছনে দৌড়ে তাদের বিনষ্ট করেছি,
সংহার না করে ফিরে আসি নি।
39
আমি তাদের সংহার করে চূর্ণ করেছি,
তাই তারা উঠতে পারে না, তারা আমার পায়ের তলায় পড়েছে।
40
কারণ তুমি যুদ্ধ করবার শক্তি দিয়ে আমার কোমরবন্ধনী পরিয়ে দিয়েছ,
যারা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিল,
তাদেরকে তুমি আমার অধীনে নত করেছ।
41
তুমি আমার দুশমনদের আমা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছ;
আমি আমার বিদ্বেষীদের সংহার করেছি।
42
তারা চেয়ে রইলো, কিন্তু উদ্ধারকর্তা কেউ নেই;
তারা মাবুদের কাছে চিৎকার করলো,
কিন্তু তিনি তাদের জবাব দিলেন না।
43
তখন আমি দুনিয়ার ধূলির মত তাদের চূর্ণ করলাম,
পথের কাদার মত তাদের দলিত করলাম,
এবং ছড়িয়ে ফেললাম।
44
তুমিও আমাকে লোকদের বিদ্রোহ থেকে উদ্ধার করেছ;
জাতিদের কর্তা হবার জন্য রেখেছ,
আমার অপরিচিত জাতি আমার গোলাম হবে।
45
বিজাতি-সন্তানেরা আমার কর্তৃত্ব স্বীকার করবে,
শোনামাত্র তারা আমার হুকুম পালন করবে।
46
বিজাতি-সন্তানেরা ম্লান হবে,
সকম্পে স্ব স্ব গোপনীয় স্থান থেকে আসবে।
47
মাবুদ জীবিত, মম শৈল প্রশংসিত হোন;
মম উদ্ধারকারী শৈল আল্লাহ্ উন্নত হোন।
48
সেই আল্লাহ্ আমার পক্ষে প্রতিশোধ দেন,
জাতিদেরকে, আমার অধীনে নত করেন;
49
আমার দুশমনদের থেকে আমাকে উদ্ধার করেন;
যারা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়,
তুমি তাদের উপরেও আমাকে উন্নত করছো;
তুমি দুর্বৃত্ত লোক থেকে আমাকে উদ্ধার করে থাক।
50
এই কারণ, হে মাবুদ, আমি নানা জাতির মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো,
তোমার নামের উদ্দেশে প্রশংসা কাওয়ালী গাইব।
51
তিনি তাঁর বাদশাহ্র জন্য উদ্ধারের উচ্চগৃহ,
তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি অটল মহব্বত প্রকাশ করেন,
যুগে যুগে দাউদ ও তার বংশের প্রতি রহম করেন।
1
দাউদের শেষ বাণী এই:
ইয়াসির পুত্র দাউদের দৈববাণী,
আল্লাহ্ যাঁকে উঁচুতে তুলে ধরেছেন তাঁর দৈববাণী,
যিনি ইয়াকুবের আল্লাহ্ কর্তৃক অভিষিক্ত,
যিনি ইসরাইলের মধুর গায়ক তিনি বলছেন,
2
আমার দ্বারা মাবুদের রূহ্ বলেছেন,
তাঁর বাণী আমার জিহ্বাগ্রে রয়েছে।
3
ইসরাইলের আল্লাহ্ বলেছেন,
ইসরাইলের শৈল আমাকে বলেছেন,
যিনি মানুষের উপরে ধার্মিকতায় কর্তৃত্ব করেন,
যিনি আল্লাহ্ ভয়ে কর্তৃত্ব করেন,
4
তিনি সকাল বেলার, সূর্যোদয় কালের,
মেঘমুক্ত সকাল বেলার আলোর মত হবেন;
যখন বৃষ্টির পরবর্তী সূর্যের আলোর জন্য ভূতল থেকে নবীন ঘাস বের হয়।
5
আল্লাহ্র কাছে আমার কুল কি সেই রকম নয়?
হ্যাঁ, তিনি আমার সঙ্গে একটি চিরস্থায়ী নিয়ম করেছেন;
তা সমস্ত বিষয়ে সুসম্পন্ন ও সুরক্ষিত;
এই তো আমার সমপূর্ণ নাজাত ও সমপূর্ণ অভীষ্ট;
তিনি কি তা অঙ্কুরিত করাবেন না?
6
কিন্তু পাষণ্ডেরা সকলে উৎপাটনীয় কাঁটা;
কাঁটা তো হাতে ধরা যায় না।
7
যে পুরুষ তাদের স্পর্শ করবেন,
তিনি পেরেক ও বর্শাদণ্ডে পূর্ণ হবেন;
পরে তারা স্বস্থানে আগুনে ভস্মীভূত হবে।
8
দাউদের বীরদের নামাবলী। তখমোনীয় যোশেব-বশেবৎ সেনানীবর্গের নেতা ছিলেন; ইস্নীয় আদীনো, তিনি এককালে নিহত আটশত লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন।
9
তাঁর পরে এক অহোহীয়ের সন্তান দোদয়ের পুত্র ইলিয়াসর; তিনি দাউদের সঙ্গী বীরত্রয়ের এক জন; তাঁরা ফিলিস্তিনীদের টিটকারী দিলে ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধ করার জন্য সেখানে একত্র হল এবং ইসরাইল লোকেরা কাছে আসছিল,
10 ইতোমধ্যে তিনি দাঁড়িয়ে যে পর্যন্ত তাঁর হাত শ্রান্ত না হল, ততক্ষণ ফিলিস্তিনীদের আঘাত করলেন; শেষে তলোয়ারের আঘাতে তাঁর হাত জোড়া লেগে গেল; আর মাবুদ সেই দিনে মহানিস্তার করলেন এবং লোকেরা কেবল লুট করার জন্য তাঁর পেছন পেছন গেল।
11
তাঁর পরে হরারীয় আগির পুত্র শম্ম; ফিলিস্তিনীরা একটি মসুর ডালের ক্ষেতের কাছে একত্র হয়ে দল বাঁধলে যখন লোকেরা ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে পালিয়ে গেল,
12 তখন শম্ম সেই ক্ষেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে তা উদ্ধার করলেন এবং ফিলিস্তিনীদের হত্যা করলেন; আর মাবুদ মহানিস্তারে তাদের নিস্তার করলেন।
13
আর ত্রিশ জন প্রধানের মধ্যে তিন জন ফসল কাটার সময়ে অদুল্লম গুহাতে দাউদের কাছে আসলেন; তখন ফিলিস্তিনীদের সৈন্য রফায়ীম উপত্যকাতে শিবির স্থাপন করেছিল।
14 আর দাউদ দুর্গম স্থানে ছিলেন এবং ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদল বেথেলহেমে ছিল।
15 পরে দাউদ পিপাসাতুর হয়ে বললেন, হায়! কে আমাকে বেথেলহেমের দ্বারের নিকটস্থ কূপের পানি এনে পান করতে দেবে?
16 তাতে ঐ বীরত্রয় ফিলিস্তিনী সৈন্যদের মধ্য দিয়ে গিয়ে বেথেলহেমের দ্বারের নিকটস্থ কুয়ার পানি তুলে নিয়ে দাউদের কাছে আসলেন, কিন্তু তিনি তা পান করতে সম্মত হলেন না, মাবুদের উদ্দেশে ঢেলে ফেললেন;
17 তিনি বললেন, হে মাবুদ, এমন কাজ যেন আমি না করি; এ কি সেই মানুষের রক্ত নয়, যারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছিল; অতএব তিনি তা পান করতে সম্মত হলেন না। ঐ বীরত্রয় এসব কাজ করেছিলেন।
18
আর সরূয়ার পুত্র যোয়াবের ভাই অবীশয় সেই তিন জনের মধ্যে প্রধান ছিলেন। তিনি তিন শত লোকের উপর তাঁর বর্শা নিক্ষেপ করে তাদের হত্যা করলেন ও নরত্রয়ের মধ্যে খ্যাতনামা হলেন।
19 তিনি কি সেই তিন জনের মধ্যে বেশি মর্যাদাপন্ন ছিলেন না? এজন্য তাঁদের সেনাপতি হলেন, তবুও প্রথম নরত্রয়ের মত ছিলেন না।
20
আর অনেক বিক্রমের কার্যকারী কব্সেলীয় এক বীরের সন্তান যিহোয়াদার পুত্র যে বনায়, তিনি মোয়াবীয় অরীয়েলের দুই পুত্রকে হত্যা করলেন; এছাড়া তিনি হিমানীর সময়ে গিয়ে গর্তের মধ্যে একটা সিংহকে মেরে ফেলেছিলেন।
21 আর তিনি এক জন সুপুরুষ মিসরীয়কে হত্যা করলেন। সেই মিসরীয়ের হাতে একটি বর্শা এবং এঁর হাতে একটি দণ্ড ছিল; পরে ইনি গিয়ে সেই মিসরীয়ের হাত থেকে বর্শাটি কেড়ে নিয়ে তারই বর্শা দ্বারা তাকে হত্যা করলেন।
22 যিহোয়াদার পুত্র বনায় এসব কাজ করলেন, তাতে তিনি বীরত্রয়ের মত বিখ্যাত হলেন।
23 তিনি ঐ ত্রিশ জনের চেয়ে মর্যাদা্পন্ন, কিন্তু প্রথম নরত্রয়ের মত ছিলেন না; দাউদ তাকে তাঁর রক্ষীসেনার নেতা করলেন।
24
যোয়াবের ভাই অসাহেল ঐ ত্রিশের মধ্যে এক জন ছিলেন; বেথেলহেমস্থ দোদয়ের পুত্র ইল্হানন,
25 হরোদীয় শম্ম, হরোদীয় ইলীকা,
26 পল্টীয় হেলস, তকোয়ীয় ইক্কেশের পুত্র ঈরা,
27 অনাথোতীয় অবীয়েষর, হূশাতীয় মবুন্নয়,
28 অহোহীয় সল্মোন, নটোফাতীয় মহরয়,
29 নটোফাতীয় বানার পুত্র হেলব, বিন্ইয়ামীন সন্তানদের গিবিয়া-নিবাসী রীবয়ের পুত্র ইত্তয়,
30 পিরিয়া-থোনীয় বনায়, গাশ উপত্যকা-নিবাসী হিদ্দয়,
31 অর্বতীয় অবি-অলবোন, বরহূমীয় অস্মাবৎ,
32 শালবোনীয় ইলিয়হবা, যাশেনের পুত্র যোনাথন,
33 হরারীয় শম্ম, হরারীয় সাররের পুত্র অহীয়াম,
34 মাখাথীয়ের পৌত্র অহস্বয়ের পুত্র ইলীফেলট, গীলোনীয় অহীথোফলের পুত্র ইলীয়াম,
35 কর্মিলীয় হিষ্রয়, অর্বীয় পারয়,
36 সোবা-নিবাসী নাথনের পুত্র যিগাল, গাদীয় বানী,
37 অম্মোনীয় সেলক, সরূয়ার পুত্র যোয়াবের অস্ত্রবাহক বেরোতীয়, নহরয়, গাদীয় বাণী, অম্মোনীয় সেলক, সরূয়ার পুত্র যোয়াবের অস্ত্রবাহক বেরতীয়,
38 নহরয়, যিত্রীয় ঈরা, যিত্রীয় গারেব,
39 হিট্টিয় ঊরিয়; সর্ব মোট সাঁইত্রিশ জন।
1
আর ইসরাইলের প্রতি মাবুদ আবার ক্রোধে জ্বলে উঠলেন, তিনি তাদের বিরুদ্ধে দাউদকে প্রবৃত্তি দিলেন, বললেন, যাও, ইসরাইল ও এহুদার লোকদেরকে গণনা কর।
2 তখন বাদশাহ্ তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতি যোয়াব, যিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন, তাঁকে হুকুম করলেন, তুমি দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে গিয়ে লোকদের গণনা কর, আমি লোকদের সংখ্যা জানবো।
3 যোয়াব বাদশাহ্কে বললেন, এখন যত লোক আছে, আপনার আল্লাহ্ মাবুদ তার শত গুণ বৃদ্ধি করুন এবং আমার মালিক বাদশাহ্ তা স্বচক্ষে দেখুন; কিন্তু এই কাজে আমার মালিক বাদশাহ্র অভিরুচি কেন হল?
4 তবুও যোয়াবের উপরে ও সেনাপতিদের উপরে বাদশাহ্র কথাই প্রবল হল। পরে যোয়াব ও সেনাপতিরা ইসরাইল লোকদের গণনা করার জন্য বাদশাহ্র সম্মুখ থেকে বের হয়ে গেলেন।
5 তাঁরা জর্ডান পার হয়ে গাদ দেশস্থ উপত্যকার মধ্যস্থিত নগরের দক্ষিণ পাশে অরোয়েরে এবং যাসেরে শিবির স্থাপন করলেন।
6 পরে তাঁরা গিলিয়দে ও তহতীম-হদ্শি দেশে আসলেন; তারপর দান-যানে গিয়ে ঘুরে সীদোনে উপস্থিত হলেন।
7 পরে টায়ার-দুর্গে এবং হিব্বীয়দের ও কেনানীয়দের সমস্ত নগরে গমন করলেন, আর শেষে এহুদার দক্ষিণাঞ্চলে বের-শেবাতে উপস্থিত হলেন।
8 এইভাবে সমস্ত দেশ পর্যটন করার পর তাঁরা নয় মাস বিশ দিনের শেষে জেরুশালেমে ফিরে আসলেন।
9 পরে যোয়াব গণনা-করা লোকদের সংখ্যা বাদশাহ্র কাছে দিলেন; ইসরাইলে তলোয়ারধারী আট লক্ষ বলবান লোক ছিল; আর এহুদার লোক ছিল পাঁচ লক্ষ।
10
দাউদ লোকদের গণনা করানোর পর তাঁর হৃদয় ধুক্ ধুক্ করতে লাগল। দাউদ মাবুদকে বললেন, এই কাজ করে আমি মহা গুনাহ্ করেছি; এখন হে মাবুদ, আরজ করি, নিজের গোলামের অপরাধ মাফ কর, কেননা আমি বড়ই অজ্ঞানের কাজ করেছি।
11 পরে যখন দাউদ খুব ভোরে উঠলেন, তখন দাউদের দর্শক গাদ নবীর কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
12 তুমি গিয়ে দাউদকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমার সম্মুখে তিনটি শাস্তি ঠিক করেছি, তার মধ্যে তুমি একটি মনোনীত কর, আমি তা-ই তোমার প্রতি করবো।
13 পরে গাদ দাউদের কাছে এসে তাঁকে জানালেন, বললেন, আপনার দেশে সাত বছর ব্যাপী কি দুর্ভিক্ষ হবে? না আপনার দুশমনরা যতদিন আপনার পিছনে পিছনে তাড়া করে, ততদিন আপনি তিন মাস পর্যন্ত তাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে বেড়াবেন? না তিন দিন পর্যন্ত আপনার দেশে মহামারী হবে? যিনি আমাকে পাঠালেন, তাঁকে কি উত্তর দেব তা এখন বিবেচনা করে দেখুন।
14 দাউদ গাদকে বললেন, আমি বড়ই বিপদগ্রস্ত হলাম; আসুন, আমরা মাবুদের হাতে পড়ি, কেননা তাঁর করুণা প্রচুর; কিন্তু আমি মানুষের হাতে পড়তে চাই না।
15
পরে সকাল থেকে নিরূপিত সময় পর্যন্ত মাবুদ ইসরাইলে মহামারী পাঠালেন; আর দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত লোকদের মধ্যে সত্তর হাজার লোক মারা গেল।
16 আর যখন ফেরেশতা জেরুশালেম বিনষ্ট করতে তার প্রতি হাত বাড়ালেন তখন মাবুদ সেই ভীষণ শাস্তি দেওয়া থেকে মন ফিরালেন। সেই লোক-বিনাশক ফেরেশতাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে, এখন তোমার হাত গুটিয়ে নাও। তখন মাবুদের ফেরেশতা যিবূষীয় অরৌণার খামারের কাছে ছিলেন।
17 পরে দাউদ সেই লোক-বিনাশক ফেরেশতাকে দেখে মাবুদকে বললেন, দেখ, আমিই গুনাহ্ করেছি, আমিই অপরাধ করেছি, কিন্তু এই মেষগুলো কি করলো? আরজ করি, আমারই বিরুদ্ধে ও আমার পিতৃকুলের বিরুদ্ধে তোমার হাত প্রসারিত কর।
18
সেই দিন গাদ দাউদের কাছে এসে তাঁকে বললেন, আপনি গিয়ে যিবুষীয় অরৌণার খামারে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ স্থাপন করুন।
19 অতএব দাউদ মাবুদের হুকুম মত গাদের সান্ত্বনা অনুসারে গেলেন।
20 তখন অরৌণা দৃষ্টিপাত করে দেখতে পেল, বাদশাহ্ ও তাঁর গোলামেরা তার কাছে আসছেন; তাতে অরৌণা বাইরে এসে বাদশাহ্র সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে পরে সালাম করলো।
21 আর অরৌণা বললো, আমার মালিক বাদশাহ্ তাঁর গোলামের কাছে কি জন্য এসেছেন? দাউদ বললেন, লোকদের উপর থেকে মহামারী যেন নিবৃত্ত হয়, এজন্য মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করবো বলে আমি তোমার কাছ থেকে এই খামার ক্রয় করতে এসেছি।
22 তখন অরৌণা দাউদকে বললো, আমার মালিক বাদশাহ্র দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই নিয়ে কোরবানী করুন; দেখুন, পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এই ষাঁড়গুলো এবং কাঠের জন্য এই মাড়াই-যন্ত্র ও ষাঁড়গুলোর সজ্জা আছে;
23 হে বাদশাহ্, অরৌণা বাদশাহ্কে এ সমস্ত দিচ্ছে। অরৌণা বাদশাহ্কে আরও বললো, মাবুদ আপনার আল্লাহ্ আপনাকে গ্রাহ্য করুন।
24
কিন্তু বাদশাহ্ অরৌণাকে বললেন, তা নয়, আমি অবশ্য মূল্য দিয়ে তোমার কাছ থেকে এ সমস্ত ক্রয় করবো; আমি আমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে বিনামূল্যে পোড়ানো-কোরবানী করবো না। পরে দাউদ পঞ্চাশ শেকল রূপা দিয়ে সেই খামার ও ষাঁড়গুলো ক্রয় করে নিলেন।
25 আর দাউদ সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে এই কোরবানগাহ্ তৈরি করে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করলেন। এভাবে দেশের জন্য মাবুদের কাছে নিবেদন করলে তিনি প্রসন্ন হলেন এবং ইসরাইল থেকে মহামারী নিবৃত্ত হল।
1
বাদশাহ্ দাউদ বৃদ্ধ হয়েছিলেন ও তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল এবং লোকেরা তাঁর শরীরে অনেক কাপড় দিলেও তা উষ্ণ হত না।
2 এজন্য তাঁর গোলামেরা তাঁকে বললো, আমাদের মালিক বাদশাহ্র জন্য একটি যুবতী কুমারীর খোঁজ করা হোক; সে বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর সেবা-যত্ন করুক এবং আমাদের মালিক বাদশাহ্র শরীর যেন উষ্ণ হয়, সেজন্য তাঁর বক্ষঃস্থলে শয়ন করুক।
3 পরে লোকেরা ইসরাইলের সমস্ত অঞ্চলে সুন্দরী যুবতী মেয়ের খোঁজ করলো ও শূনেমীয়া অবীশগকে পেয়ে বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেল।
4 সেই যুবতী খুব সুন্দরী ছিল, আর সে বাদশাহ্র সেবা-যত্ন ও তাঁর পরিচর্যা করতো কিন্তু বাদশাহ্ তার পরিচয় নিলেন না।
5
আর হগীতের পুত্র আদোনিয় এই বলে বড়াই করতে লাগল, আমিই বাদশাহ্ হব। সেজন্য সে নিজের জন্য রথ, ঘোড়সওয়ার ও তার আগে আগে দৌড়াবার জন্য পঞ্চাশ জন লোক প্রস্তুত করলো।
6 তার পিতা কোন সময়ে তাকে এই কথা বলে অসন্তুষ্ট করেন নি যে, তুমি কেন এমন করেছ? সেও পরম সুন্দর পুরুষ ছিল; আর অবশালোমের পরে তার জন্ম হয়েছিল।
7 সে সরূয়ার পুত্র যোয়াবের ও ইমাম অবিয়াথরের সঙ্গে পরামর্শ করলো; আর তাঁরা আদোনিয়ের অনুগামী হয়ে তার সাহায্য করলেন।
8 কিন্তু ইমাম সাদোক, যিহোয়াদার পুত্র বনায়, নবী নাথন, শিমিয়ি, রেয়ি ও দাউদের বীরেরা আদোনিয়ের পক্ষে যান নি।
9
পরে আদোনিয় ঐন্-রোগেলের পাশে অবস্থিত সোহেলৎ পাথরের কাছে অনেক ভেড়া, ষাঁড় ও হৃষ্টপুষ্ট বাছুর কোরবানী করলো এবং তার সমস্ত ভাইদের, সমস্ত রাজপুত্র ও এহুদার সমস্ত কর্মকর্তাদের দাওয়াত করলো।
10 কিন্তু নাথন নবী, বনায়, বীরদের ও আপন ভাই সোলায়মানকে দাওয়াত করলো না।
11
তখন নাথন সোলায়মানের মা বৎশেবাকে বললেন, আপনি কি শোনেন নি যে, হগীতের পুত্র আদোনিয় রাজত্ব করছে, আর আমাদের মালিক বাদশাহ্ দাউদ তা জানেন না?
12 আরজ করি, এখনই আসুন, আমি আপনাকে পরামর্শ দিই, যেন আপনি নিজের প্রাণ ও আপনার পুত্র সোলায়মানের প্রাণ বাঁচাতে পারেন।
13 চলুন, বাদশাহ্ দাউদের কাছে গিয়ে তাঁকে বলুন, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনি কি শপথ করে আপনার বাঁদীকে বলেন নি, আমার পরে তোমার পুত্র সোলায়মান রাজত্ব করবে, সেই আমার সিংহাসনে বসবে? তবে আদোনিয় রাজত্ব করে কেন?
14 দেখুন, সেই স্থানে বাদশাহ্র সঙ্গে আপনার কথা শেষ না হতে হতেই আমিও আপনার পিছনে এসে আপনার কথায় সায় দেব।
15
পরে বৎশেবা অভ্যন্তরে বাদশাহ্র কাছে গেলেন; সেই সময় বাদশাহ্ অতি বৃদ্ধ হয়েছিলেন এবং শূনেমীয়া অবীশগ বাদশাহ্র পরিচর্যা করছিল।
16 তখন বৎশেবা উবুড় হয়ে বাদশাহ্কে সালাম করলেন। বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বাসনা কি?
17 তিনি বললেন, হে আমার মালিক, আপনি আপনার আল্লাহ্ মাবুদের নামে শপথ করে আপনার বাঁদীকে বলেছিলেন, ‘আমার পরে তোমার পুত্র সোলায়মান রাজত্ব করবে, সেই আমার সিংহাসনে বসবে’।
18 কিন্তু এখন, দেখুন, আদোনিয় রাজত্ব করছে, আর হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।
19 সে বিস্তর ষাঁড়, হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ও ভেড়া কোরবানী করে সমস্ত রাজপুত্র, অবিয়াথর ইমাম ও সেনাপতি যোয়াবকে দাওয়াত করেছে, কিন্তু আপনার গোলাম সোলায়মানকে দাওয়াত করে নি।
20 হে আমার মালিক বাদশাহ্, সমস্ত ইসরাইলের দৃষ্টি আপনারই উপরে আছে, আপনার পরে আমার মালিক বাদশাহ্র সিংহাসনে কে বসবে, তা আপনি লোকদের জানিয়ে দিন;
21 নতুবা আমার মালিক বাদশাহ্ পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলে আমি ও আমার পুত্র সোলায়মান অপরাধী বলে গণিত হবো।
22
আর দেখ, তিনি বাদশাহ্র সঙ্গে কথা বলছেন, ইতোমধ্যে নবী নাথন আসলেন।
23 তখন কেউ বাদশাহ্কে বললো, দেখুন, নবী নাথন। পরে নাথন বাদশাহ্র সম্মুখে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে বাদশাহ্কে সালাম করলেন।
24 আর নাথন বললেন, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনি কি এমন কথা বলেছেন যে, আমার পরে আদোনিয় রাজত্ব করবে ও আমার সিংহাসনে সেই বসবে?
25 সে তো আজই গিয়ে বিস্তর ষাঁড়, হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ও ভেড়া কোরবানী করে সমস্ত রাজপুত্র, সেনাপতিদের ও ইমাম অবিয়াথরকে দাওয়াত করেছে; আর দেখুন, তারা তার সাক্ষাতে ভোজন পান করছে ও বলছে, বাদশাহ্ আদোনিয় চিরজীবী হোন।
26 কিন্তু আপনার গোলাম যে আমি, আমাকে ও ইমাম সাদোককে এবং যিহোয়াদার পুত্র বনায় ও আপনার গোলাম সোলায়মানকে সে দাওয়াত করে নি।
27 এই কাজ কি আমার মালিক বাদশাহ্র হুকুমে হয়েছে? আর আমার মালিক বাদশাহ্র পরে কে আপনার সিংহাসনে বসবে, তা আপনার গোলামদের জানান নি?
28
তখন বাদশাহ্ দাউদ জবাবে বললেন, বৎশেবাকে আমার কাছে ডেকে আন। তিনি বাদশাহ্র কাছে এসে বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়ালেন।
29 বাদশাহ্ শপথ করে বললেন, যিনি সমস্ত সঙ্কট থেকে আমার প্রাণ মুক্ত করেছেন, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম,
30 আমার পরে তোমার পুত্র সোলায়মান রাজত্ব করবে, সেই আমার পদে আমার সিংহাসনে বসবে, তোমার কাছে আমি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নাম নিয়ে এই যে শপথ করেছি, আজই সেরকম কাজ করবো।
31 তখন বৎশেবা আনত মাথায়, ভূমিতে মুখ দিয়ে বাদশাহ্র কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে বললেন; আমার মালিক বাদশাহ্ দাউদ চিরজীবী হোন!
32
পরে বাদশাহ্ দাউদ বললেন, ইমাম সাদোককে, নাথন নবী ও যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে আমার কাছে ডেকে আন। তাঁরা বাদশাহ্র সম্মুখে আসলেন।
33 বাদশাহ্ তাঁদের বললেন, তোমরা তোমাদের প্রভুর গোলামদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমার পুত্র সোলায়মানকে আমার নিজের ঘোড়ায় আরোহণ করিয়ে গীহোনে যাও।
34 সেই স্থানে ইমাম সাদোক ও নাথন নবী তাকে ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে অভিষেক করুন এবং তোমরা সকলে তূরী বাজিয়ে বল, বাদশাহ্ সোলায়মান চিরজীবী হোন!
35 পরে তার পেছন পেছন এসো; সে এসে আমার সিংহাসনে বসবে, কেননা সে আমার পদে বাদশাহ্ হবে; আমি ইসরাইল ও এহুদার উপরে তাকে নায়ক করে নিযুক্ত করলাম।
36 তাতে যিহোয়াদার পুত্র বনায় বাদশাহ্কে জবাবে বললেন, আমিন, আমার মালিক বাদশাহ্র আল্লাহ্ মাবুদও এ-ই বলুন।
37 মাবুদ যেমন আমার মালিক বাদশাহ্র সহবর্তী হয়ে এসেছেন, তেমনি সোলায়মানের সহবর্তী থাকুন এবং আমার মালিক দাউদ বাদশাহ্র সিংহাসন থেকে তাঁর সিংহাসন স্থায়ী করুন।
38
তখন ইমাম সাদোক, নাথন নবী, যিহোয়াদার পুত্র বনায় এবং করেথীয় ও পলেথীয়রা গিয়ে দাউদ বাদশাহ্র ঘোড়ায় সোলায়মানকে আরোহণ করিয়ে গীহোনে নিয়ে গেলেন।
39 পরে সাদোক ইমাম (পবিত্র) তাঁবুর মধ্য থেকে তেলের শিংগাটি নিয়ে সোলায়মানকে অভিষেক করলেন; আর তূরী বাজালে সমস্ত লোক বললো, বাদশাহ্ সোলায়মান চিরজীবী হোন!
40 আর সমস্ত লোক তাঁর পেছন পেছন উঠে এল এবং জনগণ এমনভাবে বাঁশী বাজাতে ও আনন্দে চিৎকার করতে লাগল যে, তার শব্দে দুনিয়া কেঁপে উঠল।
41
তখন আদোনিয় ও তার সঙ্গে যারা দাওয়াত পেয়েছিল তারা খাওয়া-দাওয়া শেষ করা মাত্র সেই ধ্বনি শুনতে পেল। আর যোয়াব তূরীধ্বনি শুনে বললেন, নগরে এত কলরব কেন হচ্ছে?
42 তিনি কথা বলছেন, এমন সময়ে দেখ, ইমাম অবিয়াথরের পুত্র যোনাথন উপস্থিত হল। আদোনিয় তাকে বললেন, এসো, তুমি ভদ্রলোক, সুসংবাদ এনেছ।
43 যোনাথন জবাবে আদোনিয়কে বললো, মোটেই না, আমাদের মালিক বাদশাহ্ দাউদ সোলায়মানকে বাদশাহ্র পদে নিযুক্ত করেছেন;
44 বাদশাহ্ ইমাম সাদোককে, নবী নাথনকে ও যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে এবং করেথীয় ও পলেথীয়দের তাঁর সঙ্গে প্রেরণ করেছেন; আর তাঁরা তাঁকে বাদশাহ্র ঘোড়ায় আরোহণ করালেন;
45 আর ইমাম সাদোক ও নবী নাথন তাঁকে গীহোনে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করেছেন; এবং তাঁরা সেই স্থান থেকে এমন আনন্দ করতে করতে এসেছেন যে, নগর প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে; তোমরা যে ধ্বনি শুনলে, এ সেই ধ্বনি।
46 আর সোলায়মান রাজ্যের সিংহাসনেও বসেছেন।
47 এছাড়া, বাদশাহ্র গোলামেরা এসে আমাদের মালিক বাদশাহ্ দাউদকে এই বলে দোয়া করেছে, আপনার আল্লাহ্ সোলায়মানের নাম আপনার নামের চেয়েও শ্রেষ্ঠ করুন ও তাঁর সিংহাসন আপনার সিংহাসনের চেয়েও মহৎ করুন; তখন বাদশাহ্ বিছানার উপরে সেজ্দা করলেন।
48 বাদশাহ্ আরও এই কথা বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, তিনি আজ আমার সিংহাসনে বসবার জন্য এক ব্যক্তিকে দিলেন এবং আমার দু’চোখ তা দেখতে পেল।
49
তখন আদোনিয়ের সঙ্গে যারা দাওয়াত পেয়েছিল তারা সকলে ভয় পেয়ে প্রত্যেকে উঠে যার যার পথে চলে গেল।
50 আর আদোনিয় সোলায়মানের ভয়ে ভীত হল এবং উঠে গিয়ে কোরবানগাহ্র শিং ধরে থাকলো।
51 পরে সোলায়মানের কাছে কেউ এই কথা বললো, দেখুন, আদোনিয় বাদশাহ্ সোলায়মানের ভয়ে ভীত হয়েছে, কেননা দেখুন, সে কোরবানগাহ্র শিং ধরে আছে এবং বলছে, বাদশাহ্ সোলায়মান তাঁর গোলামকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করবেন না, আমার কাছে আজ এই শপথ করুন।
52 তাতে সোলায়মান বললেন, যদি সে নিজেকে ভদ্রলোক দেখায়, তবে তার একটি কেশও ভূমিতে পড়বে না; কিন্তু যদি তার মধ্যে নাফরমানী পাওয়া যায়, তবে সে মারা পড়বে।
53 পরে বাদশাহ্ সোলায়মান লোক প্রেরণ করলে তারা তাকে কোরবানগাহ্ থেকে নামিয়ে আনলো; তাতে সে এসে বাদাশাহ্ সোলায়মানের সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলো এবং সোলায়মান তাকে বললেন, তুমি তোমার ঘরে যাও।
1
পরে দাউদের মৃত্যুর সময় সন্নিকট হল; আর তিনি তাঁর পুত্র সোলায়মানকে হুকুম দিয়ে বললেন,
2 সমস্ত মর্ত্যলোকের যে পথ, আমি সেই পথে গমন করছি; তুমি বলবান হও ও পুরুষত্ব প্রকাশ কর।
3 আর তোমার আল্লাহ্ মাবুদের রক্ষণীয় বিধান রক্ষা করে তাঁর পথে চল, মূসার শরীয়তে লেখা তাঁর বিধি, তাঁর হুকুম, তাঁর অনুশাসন ও তাঁর সমস্ত সাক্ষ্য পালন কর; যেন তুমি যে কোন কাজ কর ও যে কোন দিকে ফের, বুদ্ধিপূর্বক চলতে পার;
4 যেন মাবুদ আমার সম্বন্ধে যে কথা বলেছেন তা রক্ষা করেন; তিনি বলেছেন, তোমার সন্তানেরা যদি সমস্ত অন্তঃকরণ ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে আমার সম্মুখে বিশ্বস্ত আচরণ করতে নিজেদের পথে সাবধানে চলে, তবে— তিনি বলেন, ইসরাইলের সিংহাসনে তোমার বংশে লোকের অভাব হবে না।
5
আর সরূয়ার পুত্র যোয়াব আমার প্রতি যা করেছে, ফলত ইসরাইলের দুই সেনাপতির প্রতি, নেরের পুত্র অব্নের ও যেথরের পুত্র অমাসার প্রতি যা করেছে, তাও তুমি জান; সে তাদের মেরে ফেলে শান্তির সময়ে যুদ্ধের রক্তপাত করেছে এবং যুদ্ধের রক্ত তার কোমরবন্ধনীতে ও পায়ের জুতাতে লেগেছে।
6 অতএব তুমি বুদ্ধিসহকারে তার প্রতি ব্যবহার করবে; তাকে পাকা চুলে শান্তিতে পাতালে নামতে দিও না।
7 কিন্তু গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের পুত্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করো এবং তোমার সঙ্গে ভোজনকারী লোকদের মধ্যে তাদেরকে স্থান দিও; কেননা তোমার ভাই অবশালোমের সম্মুখ থেকে আমার পলায়নকালে তারা সেভাবেই আমার কাছে এসেছিল।
8 আর দেখ, তোমার কাছে বিন্ইয়ামীনীয় গেরার পুত্র বহুরীম-নিবাসী শিমিয়ি আছে; আমার মহনয়িমে যাবার দিন সেই ব্যক্তি আমাকে নিদারুণ বদদোয়া দিয়েছিল; কিন্তু সে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জর্ডানে এসেছিল, আর আমি মাবুদের কসম খেয়ে তাকে বলেছিলাম, আমি তোমাকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করবো না।
9 কিন্তু তুমি এখন তাকে নিরপরাধ জ্ঞান করবে না; কেননা তুমি বুদ্ধিমান, তার প্রতি তোমার যা কর্তব্য, তা বুঝবে; তাকে পাকা চুলের সঙ্গে রক্তপাতের মধ্য দিয়েই পাতালে নামাবে।
10
পরে দাউদ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং দাউদ-নগরে তাঁকে দাফন করা হল।
11 দাউদ ইসরাইলে চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন— তিনি হেবরনে সাত বছর ও জেরুশালেমে তেত্রিশ বছর রাজত্ব করেন।
12 পরে সোলায়মান তাঁর পিতা দাউদের সিংহাসনে বসলেন এবং তাঁর রাজ্য দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হল।
13
পরে হগীতের পুত্র আদোনিয় সোলায়মানের মা বৎশেবার কাছে গেল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি শান্তিভাবে এসেছো তো? সে জবাবে বললো, শান্তিভাবে।
14 সে আরও বললো, আপনার কাছে আমার কিছু বলবার আছে।
15 বৎশেবা বললেন, বল। সে বললো, আপনি জানেন, রাজ্য আমারই ছিল এবং আমি বাদশাহ্ হব বলে সমস্ত ইসরাইল আমার প্রতি উম্মুখ হয়েছিল; কিন্তু রাজত্ব ঘুরে গেল, আমার ভাইয়ের হল; কেননা তা মাবুদ হতেই তার হল।
16 এখন আমি আপনার কাছে একটি বিষয় যাচ্ঞা করি, আপনি আমাকে অস্বীকার করবেন না।
17 তিনি বললেন, বল। তখন আদোনিয় বললো, মেহেরবানী করে বাদশাহ্ সোলায়মানকে বলুন— তিনি তো আপনার কথা অস্বীকার করবেন না— তিনি যেন আমার সঙ্গে শূনেমীয়া অবীশগের বিয়ে দেন।
18 বৎশেবা বললেন, ভাল, আমি তোমার জন্য বাদশাহ্কে বলবো।
19
পরে বৎশেবা আদোনিয়ের জন্য বলতে বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে গেলেন; আর বাদশাহ্ উঠে তাঁর সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন। পরে তিনি তাঁর সিংহাসনে বসলেন এবং রাজমাতার কারণ আসন স্থাপন করালে তিনিও তাঁর ডান পাশে বসলেন।
20 আর তিনি বললেন, আমি তোমার কাছে একটি ক্ষুদ্র বিষয় যাচ্ঞা করি, আমার কথা অস্বীকার করো না। বাদশাহ্ বললেন, মা, যাচ্ঞা কর, আমি তোমার কথা অস্বীকার করবো না।
21 তখন তিনি বললেন, তোমার ভাই আদোনিয়ের সঙ্গে শূনেমীয়া অবীশগের বিয়ে দিতে হবে।
22 বাদশাহ্ সোলায়মান উত্তরে তাঁর মাকে বললেন, তুমি আদোনিয়ের জন্য শূনেমীয়া অবীশগকে কেন যাচ্ঞা কর, তার জন্য রাজ্যও যাচ্ঞা কর, কেননা সে আমার জ্যেষ্ঠ ভাই; তার ও ইমাম অবিয়াথরের ও সরূয়ার পুত্র যোয়াবের জন্য রাজ্য যাচ্ঞা কর।
23 পরে বাদশাহ্ সোলায়মান মাবুদের কসম খেয়ে বললেন, আদোনিয় যদি নিজের প্রাণের বিরুদ্ধে এই কথা বলে না থাকে, তবে আল্লাহ্ যেন আমাকে সেরকম ও তার চেয়েও বেশি শাস্তি দেন।
24 আর এখন যিনি তাঁর ওয়াদা অনুসারে আমাকে সুস্থির করে আমার পিতা দাউদের সিংহাসনে বসিয়েছেন ও আমার জন্য কুল নির্মাণ করেছেন, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, আজই আদোনিয়ের প্রাণদণ্ড হবে।
25 তখন বাদশাহ্ সোলায়মান যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে প্রেরণ করলে, তিনি তাকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন।
26
পরে বাদশাহ্ ইমাম অবিয়াথরকে বললেন, তুমি অনাথোতে তোমার স্থানে ফিরে যাও কেননা তুমিও মৃত্যুর পাত্র তবুও আমি আজ তোমার প্রাণদণ্ড করবো না, কারণ তুমি আমার পিতা দাউদের সম্মুখে সার্বভৌম মাবুদের সিন্দুক বহন করেছিলে এবং আমার পিতার সমস্ত দুঃখভোগে অংশী হয়েছিলেন।
27 এভাবে সোলায়মান অবিয়াথরকে মাবুদের ইমামের পদ থেকে দূর করে দিলেন; এতে মাবুদের কালাম, শীলোতে আলীর কুলের বিপক্ষে তিনি যা বলেছিলেন তা সিদ্ধ হল।
28
পরে সেই ঘটনার খবর যোয়াবের কাছে উপস্থিত হল; যোয়াব যদিও অবশালোমের পক্ষ হন নি, তবুও আদোনিয়ের পক্ষ হয়েছিলেন। এখন যোয়াব মাবুদের তাঁবুতে পালিয়ে গিয়ে কোরবানগাহ্র শিং ধরে রইলেন।
29 পরে বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে এই সংবাদ এল যে, যোয়াব মাবুদের তাঁবুতে পালিয়ে গেছেন, আর দেখুন, তিনি কোরবানগাহ্র পাশে আছেন। তাতে সোলায়মান যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে প্রেরণ করলেন, বললেন, যাও, তাকে আক্রমণ কর।
30 তাতে বনায় মাবুদের তাঁবুতে গমন করে তাঁকে বললেন, বাদশাহ্ এই কথা বলেন, তুমি বাইরে এসো। তিনি বললেন, তা হবে না, আমি এই স্থানে মরবো। তখন বনায় বাদশাহ্কে সংবাদ জানিয়ে বললেন, যোয়াব অমুক কথা বলেছেন এবং আমাকে অমুক জবাব দিয়েছেন।
31 তখন বাদশাহ্ বললেন, সে যা বলেছে, সেই অনুসারে কর, তাকে আক্রমণ করে হত্যা কর, আর তাকে দাফন কর; তা হলে যোয়াব অকারণে যে রক্তপাত করেছে, তার অপরাধ তুমি আমার ও আমার পিতৃকুল থেকে দূর করবে।
32 আর মাবুদ তার রক্তপাতের অপরাধ তারই মাথায় বর্তাবেন; কেননা সে আমার পিতা দাউদের অজ্ঞাতসারে তার থেকেও ধার্মিক ও সৎ দুই ব্যক্তিকে, ইসরাইলের সেনাপতি নেরের পুত্র অব্নের ও এহুদার সেনাপতি যেথরের পুত্র অমাসাকে আক্রমণ করে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করেছিল।
33 তাদের রক্তপাতের অপরাধ যোয়াবের মাথায় ও যুগে যুগে তার বংশের মাথায় বর্তাবে; কিন্তু দাউদের, তাঁর বংশের, তাঁর কুলের ও তাঁর সিংহাসনের প্রতি মাবুদের কাছ থেকে যুগে যুগে শান্তি বর্ষিত হবে।
34 তখন যিহোয়াদার পুত্র বনায় গিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন; পরে মরুভূমির কাছে তাঁর বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হল।
35 আর বাদশাহ্ তাঁর পদে যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে সেনাপতি করলেন এবং বাদশাহ্ অবিয়াথরের পদ ইমাম সাদোককে দিলেন।
36
আর বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে শিমিয়িকে ডেকে এনে বললেন, তুমি জেরুশালেমে তোমার জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করে এই স্থানে বাস কর, এই স্থান থেকে বের হয়ে অন্য কোন স্থানে যেও না।
37 তুমি যেদিন বের হয়ে কিদ্রোণ স্রোত পার হবে, সেদিন অবশ্যই হত হবে; এই কথা নিশ্চিতভাবে জেনে নাও; তোমার রক্তপাতের অপরাধ তোমারই মাথায় বর্তাবে।
38
তাতে শিমিয়ি বাদশাহ্কে বললো, এই কথা ভাল; আমার মালিক বাদশাহ্ যেমন বললেন, আপনার এই গোলাম তা-ই করবে। পরে শিমিয়ি অনেক দিন পর্যন্ত জেরুশালেমে বাস করলো।
39 কিন্তু তিন বছর পরে শিমিয়ির দুই গোলাম পালিয়ে গিয়ে মাখার পুত্র আখীশ নামে গাতীয় বাদশাহ্র কাছে গেল। তাতে কেউ শিমিয়িকে বললো, দেখ, তোমার গোলামেরা গাতে রয়েছে।
40 তখন শিমিয়ি গাধা সাজিয়ে তার গোলামদের সন্ধানে গাতে আখীশের কাছে গেল, গিয়ে শিমিয়ি গাৎ থেকে তার গোলামদেরকে ফিরিয়ে আনলো।
41 পরে সোলায়মানকে কেউ সংবাদ দিল, শিমিয়ি জেরুশালেম থেকে গাতে গিয়েছিল, এখন ফিরে এসেছে;
42 বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে শিমিয়িকে ডেকে এনে বললেন, আমি কি তোমাকে মাবুদের কসম দিয়ে তোমার বিপক্ষে এই সাক্ষ্য দিই নি যে, নিশ্চিতভাবে জেনে নাও তুমি যেদিন বাইরে যাবে, স্থানান্তরে ভ্রমণ করবে, সেদিন তোমার মৃত্যু হবেই? আর তুমি আমাকে বলেছিলে, আমি যে কথা শুনলাম, তা ভাল কথা।
43 তবে তুমি মাবুদের কসম ও তোমাকে দেওয়া আমার হুকুম কেন পালন কর নি?
44 বাদশাহ্ শিমিয়িকে আরও বললেন, আমার পিতা দাউদের প্রতি তোমার কৃত যে সমস্ত নাফরমানীর বিষয়ে তোমার মন সাক্ষ্য দেয়, তা তুমি জান; অতএব মাবুদ তোমার সেই কাজের ফল তোমার মাথায় বর্তাবেন।
45 কিন্তু বাদশাহ্ সোলায়মানের উপর দোয়া থাকবে হবে ও মাবুদের সম্মুখে দাউদের সিংহাসন যুগ যুগ অক্ষুণ্ন থাকবে।
46 পরে বাদশাহ্ যিহোয়াদার পুত্র বনায়কে হুকুম করলে তিনি গিয়ে তাকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন। আর সোলায়মানের হাতে রাজ্য সুস্থির হল।
1
সোলায়মান মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের সঙ্গে কুটুম্বিতা করলেন, তিনি ফেরাউনের কন্যাকে বিয়ে করলেন এবং যে পর্যন্ত তাঁর বাড়ি এবং মাবুদের গৃহ ও জেরুশালেমের চারদিকের প্রাচীর-নির্মাণ সমাপ্ত না করলেন, সেই পর্যন্ত তাঁকে দাউদ-নগরে এনে রাখলেন।
2 আর লোকেরা নানা উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো, কেননা সেই সময় পর্যন্ত মাবুদের নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মিত হয় নি।
3
সোলায়মান মাবুদকে মহব্বত করতেন, তাঁর পিতা দাউদের বিধি অনুসারে চলতেন, তবুও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতেন ও ধূপ জ্বালাতেন।
4 একদিন বাদশাহ্ কোরবানী করার জন্য গিবিয়োনে যান, কেননা সেই স্থানটি ছিল প্রধান উচ্চস্থলী, সোলায়মান সেখানকার কোরবানগাহে এক হাজার পোড়ানো-কোরবানী করলেন।
5 গিবিয়োনে মাবুদ রাতের বেলায় স্বপ্নযোগে সোলায়মানকে দর্শন দিলেন। আল্লাহ্ বললেন, যাচ্ঞা কর, আমি তোমাকে কি দেব?
6 সোলায়মান বললেন, তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদ বিশ্বস্ততায়, ধার্মিকতায় ও তোমার উদ্দেশে হৃদয়ের সরলতায় তোমার সাক্ষাতে যেমন চলতেন, তুমি তাঁর প্রতি তদনুরূপ অটল মহব্বত দেখিয়েছ, আর তাঁর প্রতি এই অটল মহব্বত প্রকাশ করেছ যে তাঁর সিংহাসনে বসবার জন্য একটি পুত্র তাঁকে দিয়েছ, যেমন আজ রয়েছে।
7 এখন, হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, তুমি আমার পিতা দাউদের পদে তোমার এই গোলামকে বাদশাহ্ করলে; কিন্তু আমি ক্ষুদ্র বালকমাত্র, বাইরে যেতে ও ভিতরে আসতে জানি না।
8 আর তোমার গোলাম তোমার মনোনীত লোকদের মধ্যে রয়েছে, তারা একটি মহাজাতি, আর তারা সংখ্যায় এত বেশি যে, তাদের গণনা করা যায় না।
9 অতএব তোমার লোকদের বিচার করতে ও কোনটি সঠিক বা কোনটি ভুল তা জানতে তোমার এই গোলামকে বুঝবার জ্ঞান দাও; কারণ তোমার এমন মহা লোকবৃন্দের বিচার করা কার সাধ্য?
10
সোলায়মান এই বিষয় যাচ্ঞা করলেন দেখে তা প্রভুর দৃষ্টিতে তা তুষ্টিকর হল।
11 আর আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি এই বিষয় যাচ্ঞা করেছ, নিজের জন্য দীর্ঘায়ু যাচ্ঞা কর নি, নিজের জন্য ঐশ্বর্য যাচ্ঞা কর নি এবং তোমার দুশমনদের প্রাণ যাচ্ঞা কর নি; কিন্তু সুবিচার করবার জন্য বুঝবার ক্ষমতা যাচ্ঞা করেছ;
12 এই কারণ দেখ, আমি তোমার কথা অনুসারেই করলাম। দেখ, আমি তোমার অন্তরে এমন জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দিলাম যে, তোমার আগে তোমার মত কেউ হয় নি এবং পরেও তোমার মত কেউ জন্ম লাভ করবে না।
13 আবার তুমি যা যাচ্ঞা কর নি তাও তোমাকে দিলাম, এমন ঐশ্বর্য ও গৌরব দিলাম যে, তোমার জীবনকালে বাদশাহ্দের মধ্যে কেউ তোমার মত হবে না।
14 আর তোমার পিতা দাউদ যেমন চলতো, তেমনি তুমি যদি আমার সমস্ত হুকুম ও আমার সমস্ত বিধি পালন করতে আমার পথে চল, তবে আমি তোমার আয়ু দীর্ঘ করবো।
15
পরে সোলায়মান ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, আর দেখ, সেটি স্বপ্ন। পরে তিনি জেরুশালেমে গিয়ে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুকের সম্মুখে দাঁড়িয়ে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করলেন এবং তাঁর সমস্ত গোলামের জন্য একটি ভোজ দিলেন।
16
সেই সময়ে দু’জন পতিতা স্ত্রীলোক বাদশাহ্র কাছে এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ালো।
17 একটি স্ত্রীলোক বললো, হে আমার প্রভু, আমি ও এই স্ত্রীলোকটি উভয়ে একটি ঘরে থাকি এবং সে যখন ঘরে ছিল তখন আমি একটি পুত্র প্রসব করি।
18 আমার প্রসবের পর তিন দিনের দিন এই স্ত্রীলোকটিও একটি পুত্র প্রসব করলো; তখন আমরা একত্রে ছিলাম, ঘরে আমাদের সঙ্গে কোন অন্য লোক ছিল না, কেবল আমরা দু’জন ঘরে ছিলাম।
19 আর রাতে এই স্ত্রীলোকটির সন্তানটি মারা গেল, কারণ সে তার সন্তানের উপরে শয়ন করেছিল।
20 তাতে সে মাঝ রাতে উঠে যখন আপনার বাঁদী আমি ঘুমিয়ে ছিলাম তখন আমার পাশ থেকে আমার সন্তানটিকে নিয়ে নিজের কোলে শুইয়ে রাখল এবং নিজের মৃত সন্তানটিকে আমার কোলে শুইয়ে রাখল।
21 খুব ভোরে আমি আমার সন্তানটিকে বুকের দুধ দিতে উঠলাম, আর দেখলাম ছেলেটি মৃত; কিন্তু সকালে তার প্রতি ভাল করে লক্ষ্য করে দেখলাম সে আমার গর্ভের সন্তান নয়।
22 অন্য স্ত্রীলোকটি বললো, না, জীবিত সন্তান আমার, মৃত সন্তান তোমার। প্রথম স্ত্রী বললো, না, না, মৃত সন্তান তোমার, জীবিত সন্তান আমার। এভাবে তারা দু’জনে বাদশাহ্র সম্মুখে বাদানুবাদ করতে লাগল।
23
তখন বাদশাহ্ বললেন, এক জন বলছে, এই জীবিত সন্তান আমার, মৃত সন্তান তোমার; অন্য জন বলছে, না মৃত সন্তান তোমার, জীবিত সন্তান আমার।
24 পরে বাদশাহ্ বললেন, আমার কাছে একটা তলোয়ার আন। তাতে বাদশাহ্র কাছে তলোয়ার আনা হল।
25 বাদশাহ্ বললেন, এই জীবিত ছেলেটিকে দুই খণ্ড করে ফেল এবং এক জনকে অর্ধেক ও অন্য জন্যকে অর্ধেক দাও।
26 তখন জীবিত ছেলেটি যার সন্তান, সেই স্ত্রীলোকটি সন্তানের জন্য তার অন্তঃকরণ ব্যাকুল হওয়াতে বাদশাহ্কে বললো, হে আমার প্রভু, আরজ করি, জীবিত ছেলেটি ওকে দিয়ে দিন, ছেলেটিকে কোন মতে হত্যা করবেন না। কিন্তু অপর জন বললো, সে আমারও না হোক, তোমারও না হোক, দুই খণ্ড কর।
27 তখন বাদশাহ্ জবাবে বললেন, জীবিত ছেলেটি ওকে দাও, কোন মতে হত্যা করো না; সে ঐ ছেলেটির মা।
28 বাদশাহ্ বিচারের যে নিষ্পত্তি করলেন, তা শুনে সমস্ত ইসরাইলদের মনে বাদশাহ্ সম্পর্কে ভয় জেগে উঠলো; কেননা তারা দেখতে পেল, বিচার করার জন্য তাঁর অন্তরে আল্লাহ্দত্ত জ্ঞান আছে।
1
বাদশাহ্ সোলায়মান সমগ্র ইসরাইলে রাজত্ব করতেন।
2 তাঁর প্রধান কর্মকর্তাদের নাম এই— সাদোকের পুত্র অসরিয় ইমাম;
3 শীশার পুত্র ইলীহোরফ ও অহিয় লেখক; অহীলুদের পুত্র যিহোশাফট ইতিহাস লেখক;
4 আর যিহোয়াদার পুত্র বনায় সেনাপতি এবং সাদোক ও অবিয়াথর ইমাম;
5 এবং নাথনের পুত্র অসরিয় কর্মকর্তাদের প্রধান ও নাথনের পুত্র সাবূদ ইমাম ও বাদশাহ্র বন্ধু ছিলেন।
6 আর অহীশার বাড়ির নেতা এবং অব্দের পুত্র অদোনীরাম বাদশাহ্র কর্মাধীন গোলামদের নেতা ছিলেন।
7
আর সমস্ত ইসরাইলে সোলায়মানের নিযুক্ত বারো জন কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁরা বাদশাহ্ ও রাজপ্রাসাদের জন্য খাদ্যদ্রব্যের আয়োজন করতেন; বছরের মধ্যে এক এক মাসের জন্য আয়োজন করার ভার এক এক জনের উপরে ন্যস্ত ছিল।
8 তাঁদের নাম এরকম: পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে বিন্-হূর।
9 মাকসে, শালবীমে, বৈৎ-শেমশে ও এলোন-বৈৎহাননে বিন্-দেকর।
10 অরুব্বোতে বিন্-হেষদ; সোখো ও হেফর প্রদেশের সমস্ত জায়গা তাঁর অধীন ছিল।
11 সমস্ত দোর পাহাড়ী এলাকাটা বিন্-অবীনাদবের অধীন ছিল; তিনি সোলায়মানের কন্যা টাফৎকে বিয়ে করেন।
12 তানকে ও মগিদ্দোতে এবং সর্তনের কাছে ও যিষ্রিয়েলের নিম্নে অবস্থিত সমস্ত বৈৎ-শানে, অর্থাৎ বৈৎ-শান থেকে আবেল-মহোলা ও যক্মিয়ামের পার পর্যন্ত অহীলূদের পুত্র বানা।
13 রামোৎ-গিলিয়দে বিন্-গেবর; গিলিয়দস্থ মানশা-সন্তান যায়ীরের সমস্ত গ্রাম এবং বাশনস্থ অর্গোব অঞ্চল, প্রাচীরবেষ্টিত ও ব্রোঞ্জের অর্গলবিশিষ্ট ষাটটি বড় নগর তাঁর অধীন ছিল।
14 মহনয়িমে ইদ্দোর পুত্র অহীনাদব।
15 নপ্তালিতে অহীমাস; তিনিও সোলায়মানের এক কন্যা, বাসমৎকে বিয়ে করেন।
16 আশেরে ও বালোতে হূশয়ের পুত্র বানা।
17 ইষাখরে পারূহের পুত্র যিহোশাফট।
18 বিন্যামীনে এলার পুত্র শিমিয়ি।
19 গিলিয়দ দেশে অর্থাৎ আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনের ও বাশনের বাদশাহ্ উজের দেশে ঊরির পুত্র গেবর; সেই দেশে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা ছিলেন।
20
এহুদা ও ইসরাইলের লোকসংখ্যা সমুদ্রতীরস্থ বালুকণার মত বহুসংখ্যক ছিল, তারা ভোজন পান করতো ও সুখী ছিল।
21 আর (ফোরাত) নদী থেকে ফিলিস্তিনীদের দেশ ও মিসরের সীমা পর্যন্ত যাবতীয় রাজ্যে সোলায়মান কর্তৃত্ব করতেন; সোলায়মানের সমস্ত জীবনকালে তারা তাঁকে উপঢৌকন দিত এবং তাঁর সেবা করতো।
22
সোলায়মানের প্রত্যেক দিনের আয়োজনীয় দ্রব্য ছিল এই: ত্রিশ কোর মিহি সুজি ও ষাট কোর ময়দা;
23 দশটা পুষ্ট গরু ও মাঠ থেকে আনা কুড়িটা গরু ও এক শত ভেড়া; এছাড়া হরিণ, মৃগী, কালসার ও পুষ্ট পাখি।
24 ফলে, তিনি তিপ্সহ থেকে গাজা পর্যন্ত (ফোরাত) নদীর এই পারস্থ সমস্ত দেশের, নদীর এই পারস্থ সকল বাদশাহ্র উপরে কর্তৃত্ব করতেন; আর তাঁর চারদিকের সমস্ত অঞ্চলে শান্তি ছিল।
25 সোলায়মানের সমস্ত রাজত্বকালে দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত এহুদা ও ইসরাইল প্রত্যেকে যার যার আঙ্গুরলতা ও নিজ নিজ ডুমর গাছের তলে নির্ভয়ে বাস করতো।
26 সোলায়মানের রথের জন্য চল্লিশ হাজার আস্তাবল ও বারো হাজার ঘোড়সওয়ার ছিল।
27 আর বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য ও বাদশাহ্ সোলায়মানের সঙ্গে ভোজনকারীদের জন্য সেই কর্মকর্তারা প্রত্যেকে যার যার নির্ধারিত মাসে খাদ্য দ্রব্যের আয়োজন করতেন, কিছুরই ত্রুটি করতেন না।
28 তাঁরা প্রত্যেক জন স্ব স্ব কার্যভার অনুসারে ঘোড়া ও দ্রুতগামী বাহনগুলোর জন্য যথাস্থানে যব ও ঘাস আনতেন।
29
আর আল্লাহ্ সোলায়মানকে বিপুল জ্ঞান ও সুক্ষ্মবুদ্ধি এবং সমুদ্রতীরস্থ বালুকণার মত অন্তরের বিস্তীর্ণতা দিলেন।
30 তাতে পূর্বদেশের সমস্ত লোকের জ্ঞান ও মিসরীয়দের যাবতীয় জ্ঞান থেকে সোলায়মানের বেশি জ্ঞান হল।
31 ফলে, তিনি সকল লোক থেকে জ্ঞানবান, ইষ্রাহীয় এথন এবং মাহোলের পুত্র হেমন, কল্কোল ও দর্দা, এঁদের থেকেও বেশি জ্ঞানবান হলেন। চারদিকের সমস্ত জাতির মধ্যে তাঁর সুখ্যাতি হল।
32 তিনি তিন হাজার প্রবাদ বাক্য বলতেন ও তাঁর এক হাজার পাঁচটি গজল ছিল।
33 আর তিনি লেবাননের এরস গাছ থেকে প্রাচীরের গাত্রে উৎপন্ন এসোব ঘাস পর্যন্ত গাছগুলোর বর্ণনা করতেন এবং পশু, পাখি, বুকে-হাঁটা প্রাণী ও মাছের বর্ণনা করতেন।
34 আর দুনিয়ার যেসব বাদশাহ্ সোলায়মানের জ্ঞানের সংবাদ শুনেছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে সর্বদেশীয় লোক সোলায়মানের জ্ঞানের উক্তি শুনতে আসত।
1
আর টায়ারের বাদশাহ্ হীরম সোলায়মানের কাছে তাঁর গোলামদেরকে পাঠালেন; কেননা লোকেরা তাঁর পিতার স্থানে তাঁকেই বাদশাহ্র পদে অভিষেক করেছে, তিনি এই কথা শুনেছিলেন; বাস্তবিক হীরম দাউদকে বরাবর মহব্বত করতেন।
2 পরে সোলায়মান হীরমকে এই কথা বলে পাঠালেন,
3 আপনি জানেন, আমার পিতা দাউদ তাঁর চারদিকে যুদ্ধের দরুন তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করতে পারেন নি; কিন্তু শেষে মাবুদ সেসব তাঁর পদানত করলেন।
4 আর এখন আমার আল্লাহ্ মাবুদ চারদিকে আমাকে বিশ্রাম দিয়েছেন; বিপক্ষ কেউ নেই, বিপদ-ঘটনাও কিছুই নেই।
5 আর দেখুন, আমি আমার আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করার সঙ্কল্প করছি, কেননা মাবুদ সেই বিষয়ে আমার পিতা দাউদকে এই কথা বলেছিলেন, আমি তোমার স্থানে তোমার যে পুত্রকে তোমার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করবো, সেই আমার নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করবে।
6 অতএব এখন আপনি আপনার লোকদেরকে আমার জন্য লেবাননে গিয়ে এরস গাছ কাটতে হুকুম করুন, আর আমার গোলামেরা আপনার গোলামদের সঙ্গে থাকবে; আর আপনি যা বলবেন, সেই অনুসারেই আমি আপনার গোলামদেরকে বেতন দেব; কেননা আপনি জানেন, কাঠ কাটতে সীদোনীয়দের মত দক্ষ লোক আমাদের মধ্যে কেউ নেই।
7
সোলায়মানের কথা শুনে হীরম বড় আনন্দিত হয়ে বললেন, আজ মাবুদ ধন্য হোন, যেহেতু তিনি দাউদকে জ্ঞানবান পুত্র দিয়ে এই মহাজাতির নেতা করেছেন।
8 পরে হীরম সোলায়মানের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, আপনি আমার কাছে যে কথা বলে পাঠিয়েছেন, তা আমি শুনলাম; আমি এরস কাঠ ও দেবদারু কাঠ সম্বন্ধে আপনার সমস্ত অভীষ্ট সিদ্ধ করবো।
9 আমার গোলামেরা লেবানন থেকে তা নামিয়ে সমুদ্রে আনবে, পরে আমি ভেলা বেঁধে সমুদ্রপথে আপনার নির্ধারিত স্থানে প্রেরণ করবো, আর সেই স্থানে তা খুলে দেব, তখন আপনি তা গ্রহণ করবেন। তবে আপনি আমার বাড়ির জন্য খাদ্যদ্রব্যের যোগান দিয়ে আমার অভীষ্ট সিদ্ধ করবেন।
10 এভাবে হীরম সোলায়মানের সমস্ত বাসনা অনুসারে এরস কাঠ ও দেবদারু কাঠ দিতে লাগলেন।
11 আর সোলায়মান হীরমের বাড়ির খাদ্যদ্রব্যের জন্য তাঁকে বিশ হাজার কোর গম ও বিশ কোর ছেঁচা জলপাইয়ের তেল দিতেন; এভাবে সোলায়মান প্রতি বছর হীরমকে দিতেন।
12 আর মাবুদ তাঁর ওয়াদা অনুসারে সোলায়মানকে জ্ঞান দিলেন। আর হীরম ও সোলায়মানের মধ্যে শান্তি ছিল এবং তাঁরা দু’জনে চুক্তি করলেন।
13
আর বাদশাহ্ সোলায়মান সমস্ত ইসরাইল থেকে তাঁর কর্মাধীন গোলাম সংগ্রহ করলেন; সেই গোলামদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার।
14 আর তিনি মাসিক পালাক্রমে তাদের দশ হাজার জনকে লেবাননে প্রেরণ করতেন; তারা এক এক মাস লেবাননে থাকতো ও দুই মাস বাড়িতে থাকতো। বাদশাহ্র কর্মাধীন সেই লোকদের নেতা ছিলেন অদোনীরাম।
15 আর সোলায়মানের সত্তর হাজার ভারবাহক ও পর্বতে আশি হাজার পাথর কাটার লোক ছিল।
16 এছাড়া সোলায়মানের কাজের লোকদের উপরে কর্তৃত্বকারী তিন হাজার তিন শত প্রধান কার্যাধ্যক্ষ ছিল।
17 আর মসৃণ করা পাথর দ্বারা গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপন করার জন্য তারা বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে বড় বড় পাথর ও বহুমূল্য পাথর কেটে আনলো।
18 পরে সোলায়মানের রাজমিস্ত্রি ও হীরমের রাজমিস্ত্রিরা এবং গিব্লীয়েরা সেসব মসৃণ করলো; এভাবে তারা গৃহ নির্মাণ করার জন্য কাঠ ও সমস্ত পাথর প্রস্তুত করলো।
1
মিসর দেশ থেকে বনি-ইসরাইলদের বের হয়ে আসার পর চার শত আশি বছরে, ইসরাইলের উপরে সোলায়মানের রাজত্বের চতুর্থ বছরের সিব মাসে অর্থাৎ দ্বিতীয় মাসে সোলায়মান মাবুদের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করতে আরম্ভ করলেন।
2 বাদশাহ্ সোলায়মান মাবুদের উদ্দেশে যে গৃহ নির্মাণ করলেন, তা লম্বায় ষাট হাত, চওড়ায় বিশ হাত ও উচ্চতায় ত্রিশ হাত।
3 আর সেই গৃহের প্রধান কক্ষের অর্থাৎ পবিত্র স্থানের সম্মুখে একটি বারান্দা ছিল, তা গৃহের চওড়া অনুসারে কুড়ি হাত লম্বা ও গৃহের সম্মুখে দশ হাত চওড়া।
4 আর গৃহের জন্য তিনি সরু ছিদ্রবিশিষ্ট জানালা প্রস্তুত করলেন।
5 আর তিনি গৃহের দেয়ালের গায়ে চারদিকে, পবিত্র স্থান ও অন্তর্গৃহের দেয়ালের গায়ে চারদিকে থাক এবং চারদিকে কুঠরী নির্মাণ করলেন।
6 তার নিচেও থাক পাঁচ হাত চওড়া ও মধ্যের থাক ছয় হাত চওড়া এবং তৃতীয় থাক সাত হাত চওড়া; কেননা কড়িকাঠ যেন দেয়ালের মধ্যে বদ্ধ না হয়, এজন্য তিনি গৃহের চারদিকে দেয়ালের বাইরের দিকে সোপানাকার করলেন।
7
আর গৃহের নির্মাণকালে সঠিক মাপের পাথর দ্বারা তা নির্মিত হল; নির্মাণকালে গৃহের মধ্যে হাতুড়ি, বাটালি বা আর কোন লোহার অস্ত্রের আওয়াজ শোনা গেল না।
8
মধ্যের থাকের দরজা গৃহের দক্ষিণ দিকে ছিল এবং লোকে পেঁচাল সিঁড়ি দিয়ে মধ্যতলাতে ও মধ্যতলা থেকে তৃতীয়তলাতে উঠে যেত।
9 এভাবে তিনি গৃহ নির্মাণ করলেন, তা সমাপ্ত করলেন এবং এরস কাঠের কড়ি ও সারি সারি (ফলক) দ্বারা গৃহ আচ্ছাদন করলেন।
10 আর গৃহের সর্বগাত্রে পাঁচ পাঁচ হাত উঁচু কুঠরীর থাক করলেন, তা এরস কাঠ দ্বারা গৃহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
11
পরে সোলায়মানের কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
12 তুমি এই গৃহ নির্মাণ করছো; ভাল, যদি আমার সমস্ত বিধি-পথে চল, আমার সমস্ত অনুশাসন পালন কর ও আমার সমস্ত হুকুম গ্রহণ করে সেই অনুসারে চল, তবে আমি তোমার পিতা দাউদকে যা বলেছি, আমার সেই কালাম তোমার পক্ষে সফল করবো।
13 আর আমি বনি-ইসরাইলদের মধ্যে বাস করবো, আমার লোক ইসরাইলকে ত্যাগ করবো না।
14
এভাবে সোলায়মান গৃহ নির্মাণ করলেন, তা সমাপ্ত করলেন।
15 আর তিনি ভিতরে গৃহের দেয়ালগুলোর গায়ে এরস কাঠের তক্তা দিলেন; তিনি ভিতরে গৃহের মেঝে থেকে দেয়ালের ছাদ পর্যন্ত ঐ কাঠ দিয়ে আচ্ছাদন করলেন এবং গৃহের মেঝে দেবদারু কাঠের তক্তা দ্বারা আচ্ছাদন করলেন।
16 আর বিশ হাত পরিমিত গৃহের যে পশ্চাদ্ভাগ, তা মেঝে থেকে দেয়ালের ছাদ পর্যন্ত এরস কাঠের তক্তা দ্বারা আচ্ছাদন করলেন এবং ভিতরে অন্তর্গৃহ অর্থাৎ মহা-পবিত্র স্থানের জন্য তা প্রস্তুত করলেন।
17 তাতে গৃহ, অর্থাৎ সম্মুখস্থ পবিত্র স্থানটি চল্লিশ হাত লম্বা হল।
18 আর গৃহের মধ্যে এরস কাঠে বার্তাকী ও বিকশিত ফুল খোদাই করা হল; সকলই এরস কাঠের হল, কিছুমাত্র পাথর দেখা গেলো না।
19 আর আল্লাহ্র শরীয়ত-সিন্দুক স্থাপন করার জন্য পবিত্র স্থানের ভিতরে তিনি একটি অন্তর্গৃহ প্রস্তুত করলেন।
20 তিনি পবিত্র স্থানের ভিতরে বিশ হাত লম্বা ও বিশ হাত চওড়া ও বিশ হাত উঁচু করে খাঁটি সোনা দিয়ে এবং কোরবানগাহ্ এরস কাঠ দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
21 সোলায়মান খাঁটি সোনা দিয়ে গৃহের ভিতরের ভাগ মুড়িয়ে দিলেন এবং অন্তর্গৃহের সম্মুখে সোনার শিকল রাখলেন, আর অন্তর্গৃহ সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
22 তিনি সমস্ত গৃহটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন, যে পর্যন্ত সমস্ত গৃহের কাজ শেষ না হল এবং অন্তর্গৃহের নিকটস্থ সমস্ত ধূপগাহ্টি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
23
আর তিনি অন্তর্গৃহের মধ্যে দশ দশ হাত উঁচু জলপাই কাঠের দু’টি কারুবী নির্মাণ করলেন।
24 একটি কারুবীর একটি পাখা পাঁচ হাত ও অন্য পাখাটি পাঁচ হাত ছিল; একটি পাখার প্রান্তভাগ থেকে অন্য পাখার প্রান্তভাগ পর্যন্ত দশ হাত হল।
25 আর দ্বিতীয় কারুবীও দশ হাত ছিল; দুই কারুবীর সম পরিমাণ ও সম আকার ছিল।
26 প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই কারুবীই দশ দশ হাত উঁচু ছিল।
27 পরে তিনি সেই দুই কারুবীকে ভিতরের গৃহে স্থাপন করলেন এবং কারুবীদের পাখা এমনভাবে প্রসারিত হল যে, একটির পাখা এক দেয়াল, অন্যটির পাখা অন্য দেয়াল স্পর্শ করলো এবং তাদের পাখা গৃহের মধ্যে পরস্পর স্পর্শ করলো।
28 পরে তিনি কারুবী দু’টিকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
29
আর কারুবীর, খেজুর গাছের ও বিকশিত ফুলের মূর্তিতে বাড়ির সমস্ত দেয়ালের গায়ে ভিতরে বাইরে চারদিকে খোদাই করলেন;
30 এবং গৃহের মেঝে ভিতরে বাইরে সোনা দিয়ে ঢেকে দিলেন।
31 আর তিনি অন্তর্গৃহের প্রবেশ-দ্বারে জলপাই কাঠের দরজা তৈরি করলেন এবং কপালী ও বাজু (দেয়ালের) পঞ্চমাংশ হল।
32 ঐ জলপাই কাঠের দু’টি কবাটে কারুবীর, খেজুর গাছের ও বিকশিত পুষ্পের আকৃতি খোদাই করে সোনা দিয়ে তা আচ্ছাদন করলেন; আর কারুবী ও খেজুর গাছের উপরে সোনার পাত করে দিলেন।
33
একইভাবে তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসের দ্বারের জন্য (দেয়ালের) চতুর্থাংশে জলপাই কাঠের চৌকাঠ করলেন।
34 আর দেবদারুকাঠের দু’টি দরজা তৈরি করলেন, একটি দরজার দু’টি পাল্লা যেমন কব্জাতে খেলত, অন্য দরজার দু’টি পাল্লাও তেমনি কব্জাতে খেলত।
35 আর তিনি তার উপরে কারুবী, খেজুর গাছ ও প্রস্ফুটিত ফুল খোদাই করে সেই খোদাইকৃত কর্মসুদ্ধ তা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
36 আর তিনি তিন সারি মসৃণ পাথর ও এক সারি এরস কাঠের কড়ি দ্বারা ভিতর প্রাঙ্গণ নির্মাণ করলেন।
37
চতুর্থ বছরের সিব মাসে মাবুদের গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপিত হয়।
38 আর একাদশ বছরের বূল মাসে, অর্থাৎ অষ্টম মাসে নির্ধারিত সমস্ত আকার অনুসারে সর্বাংশে গৃহের নির্মাণ সমাপ্ত হয়; তিনি ঐ গৃহ নির্মাণে সাত বছর ব্যাপৃত ছিলেন।
1
আর সোলায়মান তের বছর তাঁর নিজের বাড়ি নির্মাণে ব্যাপৃত থাকলেন; পরে তাঁর বাড়ির সমস্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করলেন।
2 আর তিনি লেবানন অরণ্যের বাড়ি নির্মাণ করলেন; তার লম্বা একশত হাত চওড়া পঞ্চাশ হাত ও উচ্চতা ত্রিশ হাত ছিল, তা চার শ্রেণী এরস কাঠের স্তম্ভের উপরে স্থাপিত এবং স্তম্ভগুলোর উপরে এরস কাঠের কড়ি বসান ছিল।
3 স্তম্ভ্ভ্ভগুলোর উপরে প্রত্যেক শ্রেণীতে পনের, সবসুদ্ধ পঁয়তাল্লিশটি কুঠরী স্থাপিত হল, তার উপরে এরস কাঠের ছাদ হল।
4 আর বাতাযুক্ত [চৌকাঠের] তিন শ্রেণী ছিল এবং পরস্পর অনুরূপ জানালার তিন সারি ছিল।
5 আর সমস্ত দরজা ও চৌকাঠ চারকোনা বিশিষ্ট ও বাতাযুক্ত এবং পরস্পর অনুরূপ জানালার তিন সারি ছিল।
6
আর তিনি স্তম্ভশ্রেণীর একটি বারান্দা প্রস্তুত করলেন, তা লম্বায় পঞ্চাশ হাত ও চওড়ায় ত্রিশ হাত এবং তাদের সম্মুখে আর একটি বারান্দা করলেন, তাতেও স্তম্ভশ্রেণী ও তার সম্মুখে গোবরাট ছিল।
7
আর যে বারান্দার সিংহাসনে বসে তিনি বিচার করবেন, সেই বিচারের বারান্দা প্রস্তুত করলেন ও মেঝের এক দিক থেকে অন্য দিক পর্যন্ত এরস কাঠ দিয়ে ঢেকে দিলেন।
8
আর তাঁর বাসগৃহ ও বারান্দার ভিতরে অন্য প্রাঙ্গণ ঠিক একই রকম ছিল। আর সোলায়মান যাঁকে বিয়ে করেছিলেন ফেরাউনের সেই কন্যার জন্য ঐ বারান্দার মত একটি বাড়ি নির্মাণ করলেন।
9
এর ভিত্তিমূল থেকে শুরু করে আলিসা পর্যন্ত ভিতরে ও বাইরে মসৃণ পাথরের পরিমাণ অনুসারে করাত দিয়ে কাটা দামী পাথরে নির্মিত হয়েছিল এবং বাইরে বড় প্রাঙ্গণ পর্যন্ত একই রকম করা হল।
10 আর বহুমূল্য যে পাথর দিয়ে ভিত্তিমূল নির্মিত হয়েছিল, সেসব পাথর বেশ বড় বড় ছিল, কোন কোনটা দশ হাত ও কোন কোনটা আট হাত।
11 তার উপরে দামী পাথর, পরিমাণ অনুসারে মসৃণ পাথর ও এরস কাঠ ছিল।
12 আর যেমন মাবুদের গৃহের মধ্য প্রাঙ্গণে ও গৃহের বারান্দাতে, তেমনি বড় প্রাঙ্গণের চারদিকে তিন শ্রেণী মসৃণ পাথর ও এক শ্রেণী এরস কাঠ ছিল।
13
আর বাদশাহ্ সোলায়মান লোক প্রেরণ করে টায়ার থেকে হীরমকে আনালেন।
14 সে নপ্তালি বংশীয় এক জন বিধবার পুত্র এবং তার পিতা টায়ার নগরস্থ এক জন কাংস্যকার, ব্রোঞ্জের সমস্ত কাজ করতে সে জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিদ্যায় পরিপূর্ণ ছিল; সে বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে এসে তাঁর সমস্ত কাজ করলো।
15
সে ব্রোঞ্জের দু’টি স্তম্ভ নির্মাণ করলো; তার এক এক স্তম্ভ আঠার হাত উঁচু এবং বারো হাত পরিমিত সুতা দু’টি স্তম্ভ বেষ্টন করলো।
16 আর দুই স্তম্ভের মাথায় স্থাপন করার জন্য মাথায় সে ছাঁচে ঢালা ব্রোঞ্জের দু’টি মাথলা তৈরি করলো, একটি মাথলার উচ্চতা পাঁচ হাত, দ্বিতীয় মাথলার উচ্চতাও পাঁচ হাত।
17 স্তম্ভের উপরিস্থ সেই মাথলার জন্য জালকার্যের জাল ও শিকলের কাজের পাকানো দড়ি ছিল; এক মাথলার জন্য সাতটি, অন্য মাথলার জন্যও সাতটি।
18 এভাবে সে স্তম্ভ দু’টি নির্মাণ করলো; আর স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলা আচ্ছাদনের জন্য জাল কাজের উপরে বেষ্টন করতে দু’টি শ্রেণী তৈরি করলো; এবং অন্য মাথলার জন্যও তা করলো।
19 আর বারান্দাতে দু’টি স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলা চার হাত পর্যন্ত শোশন ফুলের আকৃতিবিশিষ্ট ছিল।
20 আর দু’টি স্তম্ভের উপরে জাল কাজের নিকটস্থ মোটাভাগের কাছে মাথলা ছিল; এবং অন্য মাথলার উপরে চারদিকে শ্রেণীবদ্ধ দুই শত ডালিম ছিল।
21 পরে সে ঐ দু’টি স্তম্ভ বায়তুল-মোকাদ্দসের বারান্দাতে স্থাপন করলো এবং ডান দিকের স্তম্ভটি স্থাপন করে তার নাম যাখীন [তিনি সুস্থির করবেন] রাখল এবং বাম দিকের স্তম্ভটি স্থাপন করে তার নাম বোয়স [এতেই বল] রাখল।
22 ঐ দু’টি স্তম্ভের উপরে শোশন ফুলের আকৃতি ছিল; এভাবে দু’টি স্তম্ভের কাজ সমাপ্ত হল।
23
পরে সে ছাঁচে ঢালা একটি গোলাকার সমুদ্র-পাত্র তৈরি করলো, তা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দশ হাত ও তার উচ্চতা পাঁচ হাত ও তার পরিধি ত্রিশ হাত ছিল।
24 আর চার প্রান্তের নিচে সমুদ্র-পাত্র বেষ্টনকারী বার্তাকীর শ্রেণী ছিল, প্রত্যেক হাত পরিমাণের মধ্যে দশটি করে বার্তাকী ছিল; বার্তাকীর দুই শ্রেণী ছিল, ঐ পাত্র ঢালবার সময়ে সেসব ছাঁচে ঢালা গিয়েছিল।
25 ঐ পাত্রটি বারোটি গরুর উপরে স্থাপিত ছিল; তাদের তিনটি উত্তরমুখ, তিনটি পশ্চিমমুখ, তিনটি দক্ষিণমুখ ও তিনটি পূর্বমুখ ছিল; এভাবে সমুদ্রপাত্র তাদের উপরে স্থাপিত হল; তাদের সকলের পিছনের ভাগ ভিতরে থাকলো।
26 ঐ পাত্রটি চার আঙ্গুল পুরু ও তার প্রান্ত পানপাত্রের প্রান্তের মত, শোশন পুষ্পের পাপড়ির মত ছিল; তাতে দুই হাজার বাৎ পানি ধারণ করতো।
27
পরে সে ব্রোঞ্জের দশটি পীঠ তৈরি করলো। এক একটি পীঠ চার হাত লম্বা, চার হাত চওড়া ও তিন হাত উঁচু ছিল।
28 সেসব পীঠের গঠন এরকম; তাদের পাটা ছিল, সেসব পাটা বিটের মধ্যে ছিল।
29 আর বিটের পাটায় সিংহ, গরু ও কারুবী ছিল এবং উপরিভাগে বিট সকলের উপরে ভিত্তি ছিল এবং সিংহ ও গরুগুলোর নিচে ঝুলান মালার মত কাজ ছিল।
30 প্রত্যেক পীঠের ব্রোঞ্জের চারটি চাকা ও ব্রোঞ্জের আল ছিল এবং চার পায়াতে স্থাপিত অবলম্বন ছিল, সেসব অবলম্বন ধোবার পাত্রের নিচে ঢালা ছিল ও প্রত্যেকের পাশে মালা ছিল।
31 আর মাথলার মধ্যে ও তার উপরে তার মুখ এক হাত, কিন্তু তার মুখ বৈঠকের আকৃতির মত গোল ও দেড় হাত পরিমিত; এবং তার মুখের উপরেও শিল্পকর্ম ছিল; এবং তার সমস্ত পাটা গোল নয়, চারকোনা বিশিষ্ট ছিল।
32 আর পাটার নিচে চারটি চাকা; ঐ চাকার আল পীঠের সঙ্গে সংযুক্ত; তার প্রত্যেক চাকা দেড় হাত উঁচু।
33 আর চাকাগুলোর গঠন রথের চাকার গঠনের মত এবং আল, নেমি, আড়া ও সমস্ত নাভি ছাঁচে ঢালা ছিল।
34 আর প্রত্যেক পীঠের চার কোণে স্থাপিত চার অবলম্বন ছিল; সেই অবলম্বন মূল পীঠের সঙ্গে নির্মিত ছিল।
35 ঐ পীঠের উপরিস্থ অর্ধেক হাত উঁচু বর্তুলাকার হাতল এবং পীঠের উপরিস্থ অবলম্বন ও পাটা তার সঙ্গে নির্মিত ছিল।
36 আর সে তার অবলম্বনের প্রদেশে ও তার ধারে প্রত্যেকের স্থান-পরিমাণ অনুসারে কারুবী, সিংহ ও খেজুর গাছ খোদাই করে চারদিকে মালা দিল।
37 এভাবে সে দশটি পীঠ তৈরি করলো; সবগুলোই এক ছাঁচে, এক পরিমাণে ও এক আকারে নির্মিত।
38
পরে সে ব্রোঞ্জের দশটি ধোবার পাত্র তৈরি করলো, তার প্রত্যেক পাত্রে চল্লিশ বাৎ পানি ধরতো এবং প্রত্যেক পাত্র চার হাত পরিমিত ছিল; আর ঐ দশটি পীঠের মধ্যে এক এক পীঠের উপরে এক একটি ধোবার পাত্র থাকতো।
39 আর সে গৃহের দক্ষিণ পাশে পাঁচ পীঠ ও বাম পাশে পাঁচ পীঠ রাখল; আর গৃহের দক্ষিণ পাশে পূর্ব দিকে দক্ষিণ দিকের সম্মুখে সমুদ্র-পাত্র স্থাপন করলো।
40
হীরম ঐ সমস্ত ধোবার পাত্র, হাতা ও বাটি তৈরি করলো।
এভাবে হীরম বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য মাবুদের গৃহের যেসব কাজে প্রবৃত্ত হয়েছিল, সেসব সমাপ্ত করলো;
41 অর্থাৎ দু’টি স্তম্ভ ও সেই স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলার দু’টি গোলাকার আচ্ছাদন করার দু’টি জালকার্য;
42 আর দু’টি জালকার্যের জন্য চার শত ডালিমের আকার, অর্থাৎ স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলার দু’টি গোলাকার আচ্ছাদন করার এক এক জালকার্যের জন্য দুই শ্রেণী ডালিমের আকার;
43 আর দশটি পীঠ ও পীঠের উপরে দশটি ধোবার পাত্র;
44 এবং একটি সমুদ্র-পাত্র ও সমুদ্র-পাত্রের নিচে বারোটি গরু;
45 এবং পাত্র, হাতা ও বাটি; এই যেসব পাত্র হীরম বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য মাবুদের গৃহের জন্য প্রস্তুত করলো, সেসবই তেজোময় ব্রোঞ্জ দ্বারা তৈরি করলো।
46 বাদশাহ্ জর্ডানের অঞ্চলে সুক্কোৎ ও সর্তনের মধ্যস্থিত কাদা মাটিতে তা ঢালাই করলেন।
47 আর ঐ সমস্ত পাত্র এত বেশি ছিল, যে সোলায়মান তা ওজন করলেন না; ব্রোঞ্জের পরিমাণ নির্ণয় করা গেল না।
48
সোলায়মান মাবুদের গৃহস্থিত সমস্ত পাত্র তৈরি করালেন; সোনার ধূপগাহ্ ও দর্শনরুটি রাখার সোনার টেবিল;
49 এবং অন্তর্গৃহের সম্মুখে ডানে পাঁচটি ও বামে পাঁচটি খাঁটি সোনার প্রদীপ-আসন এবং সোনার ফুল, প্রদীপ ও চিমটা;
50 আর খাঁটি সোনার বাটি, কর্তরী, গামলা, চামচ ও অঙ্গার-পাত্র; এবং ভিতরের গৃহের অর্থাৎ মহা-পবিত্র স্থানের দরজার জন্য এবং গৃহের অর্থাৎ বায়তুল-মোকাদ্দসের দরজার জন্য সোনার কব্জা করালেন।
51
এভাবে মাবুদের গৃহের জন্য বাদশাহ্ সোলায়মানের কৃত সমস্ত কাজ সম্পন্ন হল। আর সোলায়মান তাঁর পিতা দাউদের পবিত্রীকৃত সমস্ত দ্রব্য, অর্থাৎ রূপা, সোনা ও সমস্ত পাত্র আনিয়ে মাবুদের গৃহস্থিত ধনাগারগুলোতে রাখলেন।
1
পরে সোলায়মান দাউদ-নগর অর্থাৎ সিয়োন থেকে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক উঠিয়ে আনবার জন্য ইসরাইলের প্রাচীন নেতৃবর্গদের ও সমস্ত গোষ্ঠীপতি, অর্থাৎ বনি-ইসরাইলদের পিতৃকুলের নেতৃবর্গকে জেরুশালেমে বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে উপস্থিত করলেন।
2 তাতে এথানীম মাসে, অর্থাৎ সপ্তম মাসে, উৎসব সময়ে ইসরাইলের সমস্ত লোক বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে জমায়েত হল।
3 পরে ইসরাইলের সমস্ত প্রধান ব্যক্তি উপস্থিত হলে ইমামেরা সিন্দুকটি উঠাল।
4 আর তারা মাবুদের সিন্দুক, জমায়েত-তাঁবু ও তাঁবুর মধ্যস্থিত সমস্ত পবিত্র পাত্র উঠিয়ে আনলো; ইমামেরা ও লেবীয়েরা এসব উঠিয়ে আনলো।
5 আর বাদশাহ্ সোলায়মান এবং তাঁর কাছে সমাগত সমস্ত ইসরাইলদের মধ্য তাঁর সঙ্গে সিন্দুকের সম্মুখে থেকে অনেক ভেড়া ও গরু কোরবানী করলেন; সেসব এত বেশি ছিল যে, তাদের সংখ্যা গণনা করা গেল না।
6 পরে ইমামেরা মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক নিয়ে গিয়ে স্বস্থানে, গৃহের অন্তর্গৃহে, মহা-পবিত্র স্থানে, দুই কারুবীর পাখার নিচে স্থাপন করলো।
7 সেই কারুবীরা সিন্দুকের স্থানের উপরে পাখা মেলে রইলো, আর উপরে কারুবীরা সিন্দুক ও তার দু’টি বহন-দণ্ড আচ্ছাদন করে রইলো।
8 সেই দুই বহন-দণ্ড এত দীর্ঘ ছিল যে, তার অগ্রভাগ অন্তর্গৃহের সম্মুখে পবিত্র স্থান থেকে দেখা যেত, তবুও তা বাইরে দেখা যেত না; আজ পর্যন্ত তা সেই স্থানে আছে।
9 সিন্দুকের মধ্যে আর কিছু ছিল না, কেবল সেই দু’খানা পাথর-ফলক ছিল যা মূসা হোরেবে তার মধ্যে রেখেছিলেন; সেই সময়ে, মিসর থেকে বনি-ইসরাইলদের বের হয়ে আসার পর, মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে নিয়ম করেছিলেন।
10 আর পবিত্র স্থানের মধ্য থেকে ইমামদের বের হবার সময়ে মাবুদের গৃহ মেঘে এমন পরিপূর্ণ হল যে,
11 মেঘের দরুন ইমামেরা পরিচর্যা করার জন্য দাঁড়াতে পারল না; কেননা মাবুদের গৃহ মাবুদের প্রতাপে পরিপূর্ণ হয়েছিল।
12
তখন সোলায়মান বললেন, মাবুদ বলেছেন যে, তিনি ঘোর অন্ধকারে বাস করবেন।
13 আমি সত্যিই তোমার একটি বাস-গৃহ নির্মাণ করালাম; এটি চিরকাল তোমার নিবাসস্থান।
14
পরে বাদশাহ্ মুখ ফিরিয়ে সমস্ত ইসরাইল-সমাজকে দোয়া করলেন; আর সমস্ত ইসরাইল-সমাজ দণ্ডায়মান হল।
15 আর তিনি বললেন, মাবুদ ধন্য হোন, ইসরাইলের আল্লাহ্। তিনি আমার পিতা দাউদের কাছে নিজের মুখে এই কথা বলেছিলেন এবং নিজের হাত দিয়ে এটা সফল করেছেন,
16 যথা, যেদিন আমার লোক ইসরাইলকে মিসর থেকে বের করে এনেছি, সেদিন থেকে আমি আমার নাম স্থাপনের জন্য গৃহ নির্মাণার্থে ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে কোন নগর মনোনীত করি নি; কিন্তু আমার লোক ইসরাইলের নেতা হবার জন্য দাউদকে মনোনীত করেছি।
17 আর ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করতে আমার পিতা দাউদের বাসনা ছিল।
18 কিন্তু মাবুদ আমার পিতা দাউদকে বললেন, আমার নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করতে তোমার বাসনা হয়েছে; তোমার এরকম মনস্থ করা ভালই বটে।
19 তবুও তুমি সেই গৃহ নির্মাণ করবে না, কিন্তু তোমার বংশ থেকে উৎপন্ন পুত্রই আমার নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করবে।
20 মাবুদ এই যে কথা বলেছিলেন, তা সফল করলেন; মাবুদের ওয়াদা অনুসারে আমি আমার পিতা দাউদের পদ লাভ করে ও ইসরাইলের সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে এই গৃহ নির্মাণ করেছি।
21 আর মাবুদ আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করার সময়ে তাদের সঙ্গে যে নিয়ম করেছিলেন, তার আধার যে সিন্দুক, সেই সিন্দুকের জন্য আমি এখানে একটি স্থান নির্ধারণ করেছি।
22
পরে সোলায়মান সমস্ত ইসরাইল-সমাজের সাক্ষাতে মাবুদের কোরবানগাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে বেহেশতের দিকে দু’হাত তুললেন;
23 আর তিনি বললেন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, উপরিস্থ বেহেশতে বা নিচস্থ দুনিয়াতে তোমার মত আর আল্লাহ্ নেই। সর্বান্তঃকরণে যারা তোমার সাক্ষাতে চলে, তোমার সেই গোলামদের পক্ষে তুমি নিয়ম পালন ও অটল মহব্বত প্রকাশ করে থাক;
24 তুমি তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলে তা পালন করেছ, যা নিজের মুখে বলেছিলে তা নিজের হাতে সিদ্ধ করেছ, যেমন আজ দেখা যাচ্ছে।
25 এখন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলে, তা রক্ষা কর; তুমি বলেছিলে, আমার দৃষ্টিতে ইসরাইলের সিংহাসনে বসতে তোমার (বংশে) লোকের অভাব হবে না; কেবলমাত্র যদি আমার সাক্ষাতে তুমি যেমন চলেছ, তোমার সন্তানরা আমার সাক্ষাতে তেমনি চলবার জন্য যার যার পথে সাবধান থাকে।
26 এখন, হে ইসরাইলের আল্লাহ্, আরজ করি, তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদের কাছে যে কথা তুমি বলেছিলে, তা সফল হোক।
27
কিন্তু আল্লাহ্ কি সত্যি সত্যিই দুনিয়াতে বাস করবেন? দেখ, বেহেশত ও বেহেশতের বেহেশত তোমাকে ধারণ করতে পারে না, তবে আমার নির্মিত এই গৃহ কি পারবে?
28 তবুও হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, তুমি তোমার গোলামের মুনাজাতে ও বিনতিতে মনোযোগ দাও, তোমার গোলাম আজ তোমার কাছে যে কাতরোক্তি ও মুনাজাত করছে, তা শোন।
29 যে স্থানের বিষয়ে তুমি বলেছ, ‘আমার নাম সেই স্থানে থাকবে;’ সেই স্থানের অর্থাৎ এই গৃহের প্রতি তোমার চোখ দিনরাত উন্মীলিত থাকুক এবং এই স্থানের অভিমুখে তোমার গোলাম যে মুনাজাত করে, তা শুনো।
30 আর তোমার গোলাম ও তোমার লোক ইসরাইল যখন এই স্থানের উদ্দেশে মুনাজাত করবে, তখন তাদের বিনতিতে কান দিও; তোমার নিবাস-স্থান বেহেশতে তা শুনো এবং শুনে তা মাফ করো।
31
কেউ তাঁর প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে গুনাহ্ করলে যদি তাকে কসম খেয়ে শপথ করাবার জন্য বাধ্য করা হয়, আর সে এসে এই গৃহে তোমার কোরবানগাহ্র সম্মুখে সেই কসম খায়;
32 তবে তুমি বেহেশতে তা শুনো এবং নিষ্পত্তি করে তোমার গোলামদের বিচার করো; দোষীকে দোষী করে তার কাজের ফল তার মাথায় বর্তিয়ে এবং ধার্মিককে ধার্মিক করে তার ধার্মিকতা অনুযায়ী ফল দিও।
33
তোমার লোক ইসরাইল তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করার দরুন দুশমনের সম্মুখে আহত হওয়ার পর যদি পুনর্বার তোমার দিকে ফেরে এবং এই গৃহে তোমার নামের প্রশংসা-গজল করে তোমার কাছে মুনাজাত ও ফরিয়াদ করে;
34 তবে তুমি বেহেশতে তা শুনো এবং তোমার লোক ইসরাইলের গুনাহ্ মাফ করো, আর তাদের পূর্বপুরুষদের এই যে দেশ দিয়েছ, এখানে পুনর্বার তাদেরকে এনো।
35
তোমার বিরুদ্ধে তাদের গুনাহ্র দরুন যদি আসমান রুদ্ধ হয়, বৃষ্টি না হয়, আর লোকেরা যদি এই স্থানের উদ্দেশে মুনাজাত করে, তোমার নামের প্রশংসা-গজল করে এবং তোমা থেকে দুঃখ পাওয়াতে যার যার গুনাহ্ থেকে ফিরে;
36 তবে তুমি বেহেশতে তা শুনো এবং তোমার গোলামদের ও তোমার লোক ইসরাইলের গুনাহ্ মাফ করো ও তাদের গন্তব্য সৎপথ তাদেরকে দেখিও; এবং তুমি তোমার লোকদের যে দেশ অধিকার হিসেবে দিয়েছ, তোমার সেই দেশে বৃষ্টি পাঠিও।
37
দেশে যদি দুর্ভিক্ষ হয়, যদি মহামারী হয়, যদি শস্যের শোষ বা ম্লানি, পঙ্গপাল বা কীট হয়, যদি তাদের দুশমনেরা তাদের দেশে, নগরে নগরে, তাদের অবরোধ করে, যদি কোন মারী বা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়;
38 তা হলে কোন ব্যক্তি বা তোমার সমস্ত লোক ইসরাইল, যারা প্রত্যেকে নিজ নিজ মনের কষ্ট জানে এবং এই গৃহের প্রতি দু’হাত তুলে কোন মুনাজাত বা ফরিয়াদ করে;
39 তবে তুমি তোমার নিবাস-স্থান বেহেশতে তা শুনো এবং মাফ করো, কাজ করো এবং প্রত্যেক জনকে স্ব স্ব পথ অনুযায়ী প্রতিফল দিও— তুমি তো তাদের অন্তঃকরণ জান, কেননা একমাত্র তুমিই যাবতীয় মানুষের অন্তঃকরণের খবর জান—
40 যেন আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে তুমি যে দেশ দিয়েছ, এই দেশে তারা যত দিন জীবিত থাকবে, তত দিন তোমাকে ভয় করে।
41
এছাড়া তোমার লোক ইসরাইল গোষ্ঠীর নয়, এমন কোন বিদেশী যখন তোমার নামের অনুরোধে দূর দেশ থেকে আসবে—
42 কারণ তারা তোমার মহানাম, তোমার শক্তিমান হাত ও তোমার বাড়িয়ে দেওয়া বাহুর কথা শুনবে— যখন সে এসে এই গৃহের উদ্দেশে মুনাজাত করবে,
43 তখন তুমি তোমার নিবাস-স্থান বেহেশতে তা শুনো; এবং সেই বিদেশী তোমার কাছে যে কিছু মুনাজাত করবে, সেই অনুসারে করো; যেন তোমার লোক ইসরাইলের মত তোমাকে ভয় করার জন্য দুনিয়ার সমস্ত জাতি তোমার নাম জানতে পারে এবং তারা জানতে পায় যে, আমার নির্মিত এই গৃহের উপরে তোমারই নাম কীর্তিত।
44
তুমি তোমার লোকদেরকে কোন পথে প্রেরণ করলে যদি তারা তাদের দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বের হয় এবং তোমার মনোনীত নগরের অভিমুখে ও তোমার নামের জন্য আমার নির্মিত গৃহের অভিমুখে মাবুদের কাছে মুনাজাত করে;
45 তবে তুমি বেহেশতে তাদের মুনাজাত ও ফরিয়াদ শুনো এবং তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো।
46
তারা যদি তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে— কেননা গুনাহ্ না করে এমন কোন মানুষ নেই এবং তুমি যদি তাদের প্রতি ত্রুুদ্ধ হয়ে দুশমনের হাতে তাদেরকে তুলে দাও ও দুশমনেরা তাদেরকে বন্দী করে দূরস্থ কিংবা নিকটস্থ শত্রু-দেশে নিয়ে যায়;
47 তবুও যে দেশে তাদের বন্দী হিসেবে নেওয়া হয়েছে, সেই দেশে যদি মনে মনে বিবেচনা করে ও ফিরে এবং যারা তাদেরকে বন্দী করে নিয়ে গেছে, তাদের দেশে যদি তোমার কাছে ফরিয়াদ করে বলে, আমরা গুনাহ্ করেছি; অপরাধী হয়েছি, অবাধ্য হয়েছি;
48 যে দুশমনেরা তাদেরকে নিয়ে গেছে, তাদের দেশে যদি সমস্ত অন্তঃকরণ ও অকৃত্রিম ইচ্ছা নিয়ে তোমার কাছে ফিরে আসে এবং তুমি তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়েছ, তাদের সেই দেশের জন্য, তোমার মনোনীত নগরের জন্য ও তোমার নাম উপলক্ষে আমার নির্মিত গৃহের জন্য যদি তোমার কাছে মুনাজাত করে;
49 তবে তুমি তোমার নিবাসস্থান বেহেশতে তাদের মুনাজাত ও ফরিয়াদ শুনো এবং তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো;
50 আর তোমার যে লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে, তাদেরকে মাফ করো এবং তোমার বিরুদ্ধে কৃত তাদের সমস্ত অধর্ম মার্জনা করো; আর যারা তাদেরকে বন্দী করে নিয়ে যায়, তাদের করুণার পাত্র করো, তারা যেন এদের প্রতি করুণা করে।
51 কেননা এরা তোমারই লোক ও তোমারই অধিকার; তুমি এদেরকে মিসর থেকে, লোহার হাপরের মধ্য থেকে বের করে এনেছ।
52 এভাবে তোমার এই গোলামের বিনতিতে ও তোমার লোক ইসরাইলের বিনতিতে তোমার চোখ উন্মীলিত হোক, আর তারা যে কোন বিষয়ে তোমাকে ডাকে, তুমি তাদের কথায় কান দিও।
53 কেননা হে সার্বভৌম মাবুদ, যখন তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের মিসর থেকে বের করে এনেছিলে, তখন তোমার গোলাম মূসার মধ্য দিয়ে যেমন বলেছিলে, তেমনি তুমিই তোমার অধিকার বলে তাদেরকে দুনিয়ার সমস্ত জাতি থেকে পৃথক করেছ।
54
মাবুদের কাছে এ সব মুনাজাত ও ফরিয়াদ শেষ করলেন এবং সোলায়মান এতক্ষণ যে মাবুদের কোরবানগাহ্র সম্মুখে জানু পেতে ও বেহেশতের দিকে দু’হাত তুলেছিলেন তা থেকে উঠলেন।
55 আর তিনি দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে সমস্ত ইসরাইল-সমাজকে দোয়া করলেন, বললেন;
56 মাবুদ ধন্য হোন, যিনি তাঁর সকল ওয়াদা অনুসারে তাঁর লোক ইসরাইলকে বিশ্রাম দিয়েছেন; তিনি তাঁর গোলাম মূসার মধ্য দিয়ে যে ওয়াদা করেছিলেন, সেই উত্তম প্রতিজ্ঞার একটি কথাও অন্যথা হয় নি।
57 আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যেমন আমাদের পূর্বপুরুষদের সহবর্তী ছিলেন, তেমনি আমাদেরও সহবর্তী থাকুন, তিনি আমাদেরকে ত্যাগ না করুন, ছেড়ে না যান।
58 তাঁর সমস্ত পথে চলতে ও আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে তিনি যা যা হুকুম করেছিলেন, তাঁরা সেসব হুকুম, বিধি ও অনুশাসন পালন করতে আমাদের অন্তর তাঁর প্রতি আকর্ষণ করুন।
59 আর এই যেসব কথার দ্বারা আমি মাবুদের কাছে অনুরোধ করলাম; আমার এসব কথা দিনরাত আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে থাকুক; এবং দিন দিন যেমন প্রয়োজন তেমনি তিনি তাঁর গোলাম ও তাঁর লোক ইসরাইলের বিচার সিদ্ধ করুন;
60 যেন দুনিয়ার সমস্ত জাতি জানতে পারে যে, মাবুদই আল্লাহ্, আর কেউ নেই।
61 অতএব তাঁর বিধিপথে চলতে ও তাঁর হুকুম পালন করতে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে তোমাদের অন্তঃকরণ একাগ্র হোক, যেমন আজ দেখা যাচ্ছে।
62
পরে বাদশাহ্ ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত ইসরাইল মাবুদের সম্মুখে কোরবানী করলেন।
63 সোলায়মান মাবুদের উদ্দেশে বাইশ হাজার গরু ও এক লক্ষ বিশ হাজার ভেড়া মঙ্গল-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করলেন। এভাবে বাদশাহ্ ও সমস্ত বনি-ইসরাইল মাবুদের গৃহ প্রতিষ্ঠা করলেন।
64 সেদিন বাদশাহ্ মাবুদের গৃহের সম্মুখস্থ প্রাঙ্গণের মধ্যদেশ পবিত্র করলেন, কেননা তিনি সেই স্থানে পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ এবং মঙ্গল-কোরবানীর চর্বি উৎসর্গ করলেন; কারণ পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ; এবং মঙ্গল-কোরবানীর চর্বি গ্রহণের জন্য মাবুদের সম্মুখস্থ ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্ ছোট ছিল।
65
এভাবে সেই সময়ে সোলায়মান ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত ইসরাইল, হমাতের প্রবেশ-স্থান থেকে মিসরের স্রোত পর্যন্ত (দেশবাসী) মহাসমাজ, সাত দিন আর সাত দিন, চৌদ্দ দিন আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে উৎসব করলেন।
66 অষ্টম দিনে তিনি লোকদের বিদায় করলেন ও তারা বাদশাহ্কে দোয়া করলো এবং মাবুদ তাঁর গোলাম দাউদ ও তাঁর লোক ইসরাইলের যেসব মঙ্গল করেছিলেন, সেই সবের জন্য আনন্দিত ও হৃষ্টচিত্ত হয়ে নিজ নিজ তাঁবুতে চলে গেল।
1
সোলায়মান মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদ নির্মাণ এবং তাঁর বাসনামত যেসব কাজ করতে স্থির করেছিলেন তা সমাপ্ত করলে,
2 মাবুদ যেমন গিবিয়োনে দর্শন দিয়েছিলেন, তেমনি সোলায়মানকে দ্বিতীয় বার দর্শন দিলেন।
3 মাবুদ তাঁকে বললেন, তুমি আমার কাছে যে মুনাজাত ও ফরিয়াদ করেছ তা আমি শুনেছি; এই যে গৃহ তুমি নির্মাণ করেছ, এর মধ্যে চিরকালের জন্য আমার নাম স্থাপনার্থে আমি এটি পবিত্র করলাম এবং এই স্থানে প্রতিনিয়ত আমার চোখ ও আমার অন্তর থাকবে।
4 আর তোমার পিতা দাউদ যেমন চলতেন, তেমনি তুমিও যদি অন্তরের সিদ্ধতা ও সরলতায় আমার সাক্ষাতে চল, আমি তোমাকে যে সমস্ত হুকুম দিয়েছি, যদি সেই অনুসারে কাজ কর এবং আমার বিধি ও সমস্ত অনুশাসন পালন কর,
5 তবে ‘ইসরাইলের সিংহাসনে বসতে তোমার বংশে লোকের অভাব হবে না,’ এই বলে তোমার পিতা দাউদের কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই অনুসারে আমি ইসরাইলে তোমার রাজ-সিংহাসন চিরকালের জন্য স্থির করবো।
6
কিন্তু যদি তোমরা, বা তোমাদের সন্তানেরা, কোনক্রমে আমার পিছনে চলা থেকে ফিরে যাও ও তোমাদের সম্মুখে স্থাপিত আমার হুকুম ও বিধিগুলো পালন না কর, কিন্তু গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা কর ও তাদের কাছে সেজ্দা কর,
7 তবে আমি ইসরাইলকে যে দেশ দিয়েছি, তা থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করবো এবং আমার নামের জন্য এই যে গৃহ পবিত্র করলাম, তা আমার দৃষ্টিপথ থেকে দূর করে দেব এবং সমস্ত জাতির মধ্যে ইসরাইল প্রবাদ ও উপহাসের পাত্র হবে।
8 আর এই গৃহ যদিও এত উঁচু, তবুও যে কেউ এর কাছ দিয়ে গমন করবে, সে চমকে উঠবে, শিস দেবে ও জিজ্ঞাসা করবে, এই দেশের ও এই গৃহের প্রতি মাবুদ এমন কেন করেছেন?
9 আর লোকে বলবে, এর কারণ হচ্ছে, যিনি এই লোকদের পূর্বপুরুষদের মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছিলেন, তারা তাদের আল্লাহ্ সেই মাবুদকে ত্যাগ করেছে এবং অন্য দেবতাদের অবলম্বন করে তাদের কাছে সেজ্দা ও তাদের সেবা করেছে; এজন্য মাবুদ তাদের উপর এসব অমঙ্গল উপস্থিত করলেন।
10
বিশ বছর অতীত হল; এই সময়ের মধ্যে সোলায়মান মাবুদের গৃহ ও রাজ-প্রাসাদ, এই দু’টি গৃহ নির্মাণ করেন।
11 টায়ারের বাদশাহ্ হীরম সোলায়মানের সমস্ত বাসনা অনুসারে এরস কাঠ, দেবদারু কাঠ ও সোনা যুগিয়েছিলেন, তাই তখন বাদশাহ্ সোলায়মান হীরমকে গালীল দেশস্থ বিশটি নগর দিলেন।
12 আর হীরম সোলায়মানের দেওয়া সেসব নগর দেখবার জন্য টায়ার থেকে আসলেন, কিন্তু সেগুলো তাঁর দৃষ্টিতে তুষ্টিজনক হল না।
13 তিনি বললেন, হে আমার ভাই, এসব কেমন নগর আমাকে দিলে? আর তিনি সেগুলোর নাম কাবূল দেশ রাখলেন; আজও সেই নাম রয়েছে।
14 আর হীরম এক শত বিশ তালন্ত সোনা বাদশাহ্কে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
15
আর সোলায়মান মাবুদের গৃহ, নিজের বাড়ি, মিল্লো, জেরুশালেমের প্রাচীর, হাৎসোর, মগিদ্দো ও গেষর গাঁথবার জন্য যে সমস্ত কর্মাধীন গোলাম সংগ্রহ করেছিলেন তার বৃত্তান্ত এই:
16 মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন এসে গেষর অধিকার করে আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং সেই নগর-নিবাসী কেনানীয়দেরকে হত্যা করেন, পরে তা যৌতুক হিসেবে তাঁর কন্যা সোলায়মানের স্ত্রীকে দেন।
17 আর সোলায়মান গেষর ও নিম্নস্থিত বৈৎ-হোরোণ,
18 এবং বালৎ, আর দেশের মরুভূমিস্থ তামর,
19 এবং সোলায়মানের সমস্ত ভাণ্ডার-নগর এবং তাঁর রথগুলো ও ঘোড়সওয়ারদের সমস্ত নগর, আর জেরুশালেমে, লেবাননে ও তাঁর অধিকার দেশের সর্বত্র যা যা নির্মাণ করতে সোলায়মানের বাসনা ছিল, তিনি সেসব নির্মাণ করলেন।
20 আমোরীয়, হিট্টিয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয় যেসব লোক অবশিষ্ট ছিল, যারা বনি-ইসরাইল নয়,
21 যাদেরকে বনি-ইসরাইল নিঃশেষে বিনষ্ট করতে পারেন নি, দেশে অবশিষ্ট সেই লোকদের সন্তানদের সোলায়মান তাঁর কর্মাধীন গোলাম করে সংগ্রহ করলেন; তারা আজ পর্যন্ত তা-ই করছে।
22 কিন্তু সোলায়মান বনি-ইসরাইলদের মধ্যে কাউকেও গোলাম করলেন না; তারা যোদ্ধা, তাঁর কর্মকর্তা, জনাধ্যক্ষ, সেনানী এবং তাঁর রথগুলোর ও ঘোড়সওয়ারদের নেতা হল।
23
তাদের মধ্যে পাঁচ শত পঞ্চাশ জন সোলায়মানের কাজে নিযুক্ত প্রধান নেতা ছিল; তারা কর্মরত লোকদের উপরে কর্তৃত্ব করতো।
24
আর ফেরাউনের কন্যা দাউদ-নগর থেকে তাঁর জন্য নির্মিত বাড়িতে উঠে আসলেন; সেই সময় সোলায়মান মিল্লো গাঁথলেন।
25
আর সোলায়মান মাবুদের জন্য যে কোরবানগাহ্ তৈরি করেছিলেন, তার উপরে বছরের মধ্যে তিন বার পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করতেন এবং সেই সময়ে মাবুদের সম্মুখস্থ কোরবানগাহে ধূপ জ্বালাতেন। এভাবে তিনি গৃহ নির্মাণ সমাপ্ত করলেন।
26
আর বাদশাহ্ সোলায়মান ইদোম দেশে লোহিত সাগরের তীরস্থ এলতের নিকটবর্তী ইৎসিয়োন-গেবরে কতকগুলো জাহাজ নির্মাণ করলেন।
27 পরে হীরম সোলায়মানের গোলামদের সঙ্গে সামুদ্রিক কাজে নিপুণ তাঁর নাবিক গোলামদেরকে সেসব জাহাজ প্রেরণ করলেন।
28 তারা ওফীরে গিয়ে সেই স্থান থেকে চার শত বিশ তালন্ত সোনা নিয়ে বাদশাহ্ সোলায়মানের কাছে আনলো।
1
আর সাবার রাণী মাবুদের নামের পক্ষে সোলায়মানের কীর্তি শুনে কঠিন কঠিন প্রশ্ন দ্বারা তাঁর পরীক্ষা করতে আসলেন।
2 তিনি অতি বিপুল ঐশ্বর্যসহ, সুগন্ধি দ্রব্য, বিপুল পরিমাণ সোনা ও মণিবাহক সমস্ত উট সঙ্গে নিয়ে জেরুশালেমে আসলেন এবং সোলায়মানের কাছে এসে তাঁর মনে যা ছিল তাঁকে সমস্তই বললেন।
3 আর সোলায়মান তাঁর সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিলেন; বাদশাহ্র বোধের অগম্য কিছুই ছিল না, তিনি তাঁকে সকলই বললেন।
4 এভাবে সাবার রাণী সোলায়মানের সমস্ত জ্ঞান ও তাঁর নির্মিত বাড়ি,
5 এবং তাঁর টেবিলের খাদ্যদ্রব্য ও তাঁর কর্মকর্তাদের উপবেশন ও দণ্ডায়মান পরিচারকদের শ্রেণী ও তাদের পরিচ্ছদ এবং তাঁর পানপাত্র-বাহকদের ও মাবুদের গৃহে উঠবার জন্য তাঁর নির্মিত সিঁড়ি, এসব দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।
6
আর তিনি বাদশাহ্কে বললেন, আমি নিজের দেশে থাকতে আপনার কথা ও জ্ঞানের বিষয় যে কথা শুনেছিলাম তা সমস্তই সত্য।
7 কিন্তু আমি যতক্ষণ এসে স্বচক্ষে না দেখলাম, ততক্ষণ সেই কথায় আমার বিশ্বাস হয় নি, আর দেখুন অর্ধেকও আমাকে বলা হয় নি; আমি যে খ্যাতি শুনেছিলাম তার চেয়েও আপনার জ্ঞান ও ঐশ্বর্য অনেক বেশি।
8 সুখী আপনার লোকেরা! সুখী আপনার এই গোলামেরা, যারা নিয়মিত ভাবে আপনার সম্মুখে দাঁড়ায়, যারা আপনার জ্ঞানের উক্তি শোনে!
9 আপনার আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, যিনি আপনাকে ইসরাইলের সিংহাসনে বসাবার জন্য আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন; মাবুদ ইসরাইলকে চিরকাল মহব্বত করেন, এজন্য বিচার ও ধর্ম প্রচলন করতে আপনাকে বাদশাহ্ করেছেন।
10 পরে তিনি বাদশাহ্কে এক শত বিশ তালন্ত সোনা ও প্রচুর সুগন্ধি দ্রব্য ও মণি উপঢৌকন দিলেন। সাবার রাণী বাদশাহ্ সোলায়মানকে যত সুগন্ধি দ্রব্য দিলেন, তত বেশি সুগন্ধি দ্রব্য আর কখনও আসে নি।
11
আর হীরমের যেসব জাহাজ ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত, সেসব জাহাজ ওফীর থেকে বিস্তর চন্দন কাঠ ও মণিও আনত।
12 সেই চন্দন কাঠ দ্বারা বাদশাহ্ মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদের জন্য গরাদিয়া ও গায়কদের জন্য বীণা এবং নেবল প্রস্তুত করলেন; এত বেশি চন্দন কাঠ আর কখনও আসে নি, দেখাও যায় নি।
13
আর বাদশাহ্ সোলায়মান সাবার রাণীর বাসনা অনুসারে তাঁর যাবতীয় বাঞ্ছিত দ্রব্য দিলেন, তা ছাড়া সোলায়মান তাঁর রাজকীয় দানশীলতা অনুসারে তাঁকে আরও দিলেন। পরে তিনি ও তাঁর গোলামেরা স্বদেশে ফিরে গেলেন।
14
এক বছরের মধ্যে সোলায়মানের কাছে ছয় শত ছেষট্টি তালন্ত পরিমিত সোনা আসত।
15 এছাড়া বণিক, ব্যবসায়ী ও আরবীয় বাদশাহ্দের সমস্ত বাদশাহ্ ও শাসনকর্তাদের কাছ থেকে সোনার আমদানি হত।
16 তাতে বাদশাহ্ সোলায়মান পিটানো সোনার দুই শত বড় ঢাল প্রস্তুত করলেন, তার প্রত্যেক ঢালে ছয় শত শেকল পরিমিত সোনা ছিল।
17 তিনি পিটানো সোনা দিয়ে তিন শত ঢাল প্রস্তুত করলেন; তার প্রত্যেক ঢালে তিন মানি করে সোনা ছিল, পরে বাদশাহ্ লেবানন অরণ্যস্থ বাড়িতে সেগুলো রাখলেন।
18 আর বাদশাহ্ হাতির দাঁতের একটি বড় সিংহাসন নির্মাণ করে খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
19 ঐ সিংহাসনের ছয়টি সিঁড়ি ছিল ও সিংহাসনের উপরিস্থ ভাগ পিছনের দিকে গোলাকার ছিল এবং আসনের উভয় পাশে হাতা ছিল, সেই হাতার কাছে দুই সিংহমূর্তি দণ্ডায়মান ছিল।
20 আর সেই ছয়টি সিঁড়ির উপরে দুই পাশে বারোটি সিংহমূর্তি দণ্ডায়মান ছিল; এরকম সিংহাসন আর কোন রাজ্যে নির্মিত হয় নি।
21 বাদশাহ্ সোলায়মানের সমস্ত পানপাত্র সোনার ছিল ও লেবানন অরণ্যস্থ বাড়ির যাবতীয় পাত্র খাঁটি সোনার ছিল; রূপার কিছুই ছিল না; সোলায়মানের অধিকারে তা কিছুরই মধ্যে গণ্য ছিল না।
22 কেননা সমুদ্রে হীরমের জাহাজের সঙ্গে বাদশাহ্রও তর্শীশের জাহাজ ছিল; সেই তর্শীশের সমস্ত জাহাজ তিন বছরান্তে এক বার সোনা, রূপা, হাতির দাঁত, বানর ও ময়ূর নিয়ে আসত।
23
এভাবে ঐশ্বর্যে ও জ্ঞানে বাদশাহ্ সোলায়মান দুনিয়ার সকল বাদশাহ্র মধ্যে প্রধান হলেন।
24 আর আল্লাহ্ সোলায়মানের চিত্তে যে জ্ঞান দিয়েছিলেন, তাঁর সেই জ্ঞানের উক্তি শুনবার জন্য সর্বদেশীয় লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেষ্টা করতো।
25 আর প্রত্যেকে নিজস্ব উপঢৌকন, রূপার পাত্র, সোনার পাত্র, কাপড়-চোপড়, অস্ত্র ও সুগন্ধি দ্রব্য, ঘোড়া ও খচ্চর আনত; প্রতি বছর এরকম হত।
26
আর সোলায়মান অনেক রথ ও ঘোড়সওয়ার সংগ্রহ করলেন; তাঁর এক হাজার চার শত রথ ও বারো হাজার ঘোড়সওয়ার ছিল, আর সেসব তিনি রথনগরগুলোতে এবং জেরুশালেমে বাদশাহ্র কাছে রাখতেন।
27 বাদশাহ্ জেরুশালেমে রূপাকে পাথরের মত ও এরস কাঠকে নিম্নভূমিস্থ ডুমুর গাছের মত প্রচুর করলেন।
28 আর সোলায়মানের সমস্ত ঘোড়া মিসর ও কুয়ে থেকে আনা হত; বাদশাহ্র বণিকেরা কুয়ে থেকে মূল্য দিয়ে পালে পালে ঘোড়া কিনে আনত।
29 আর মিসর থেকে আনা এক এক রথের মূল্য ছয় শত শেকল রূপা ও এক এক ঘোড়ার মূল্য এক শত পঞ্চাশ শেকল ছিল। এইভাবে ওদের দ্বারা হিট্টিয় সমস্ত বাদশাহ্র জন্য ও অরামীয় বাদশাহ্দের জন্যও ঘোড়া আনা হত।
1
বাদশাহ্ সোলায়মান ফেরাউনের কন্যা ছাড়া আরও অনেক বিদেশী রমণী, অর্থাৎ মোয়াবীয়া, অম্মোণীয়া, ইদোমীয়া, সীদোনীয়া ও হিত্তীয়া রমণীকে মহব্বত করতেন।
2 যে জাতিদের বিষয়ে মাবুদ বনি-ইসরাইলদের বলেছিলেন, তোমরা তাদের কাছে যেও না এবং তাদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিও না, কেননা তারা নিশ্চয়ই তোমাদের হৃদয়কে তাদের দেবতাদের পিছনে চলে বিপথগামী করবে, সোলায়মান তাদেরই প্রতি প্রেমাসক্ত হলেন।
3 সাত শত রমণী তাঁর পত্নী ও তিন শত তাঁর উপপত্নী ছিল; তাঁর সেই স্ত্রীরা তাঁর হৃদয়কে বিপথগামী করলো।
4 ফলে এরকম ঘটলো, সোলায়মানের বৃদ্ধ বয়সে তাঁর স্ত্রীরা তাঁর হৃদয়কে অন্য দেবতাদের পশ্চাতগামী করে বিপথগামী করলো; তাঁর পিতা দাউদের অন্তঃকরণ যেমন ছিল, তেমনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের ভক্তিতে তাঁর অন্তঃকরণ একাগ্র ছিল না।
5 কিন্তু সোলায়মান সীদোনীয়দের দেবী অষ্টারত ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মিল্কমের অনুগামী হলেন।
6 এভাবে সোলায়মান মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করলেন; তাঁর পিতা দাউদের মত সমপূর্ণভাবে মাবুদের অনুগামী হলেন না।
7 সেই সময়ে সোলায়মান জেরুশালেমের সম্মুখস্থ পর্বতে মোয়াবের ঘৃণ্য দেবতা কমোশ ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মোলাকের জন্য উচ্চস্থলী নির্মাণ করলেন।
8 তাঁর যত বিদেশী স্ত্রী যার যার দেবতার উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত ও পশু কোরবানী করতো, তাদের সকলের জন্য তিনি তা-ই করলেন।
9
অতএব মাবুদ সোলায়মানের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন; কেননা তাঁর অন্তঃকরণ ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের দিকে না থেকে বিপথগামী হয়েছিল, যিনি দু’বার তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন,
10 এই বিষয়ে মাবুদ তাঁকে হুকুম দিয়েছিলেন, যেন তিনি অন্য দেবতাদের অনুগামী না হন; কিন্তু মাবুদ যা হুকুম দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করলেন না।
11 অতএব মাবুদ সোলায়মানকে বললেন, তোমার তো এই ব্যবহার, তুমি আমার নিয়ম ও আমার হুকুম করা সমস্ত বিধি পালন কর নি; এই কারণ আমি অবশ্য তোমা থেকে রাজ্য চিরে নিয়ে তোমার গোলামকে দেব।
12 তবুও তোমার পিতা দাউদের জন্য তোমার বর্তমান কালে তা করবো না, কিন্তু তোমার পুত্রের হাত থেকে তা চিরে নেব।
13 যা হোক, সারা রাজ্য চিরে নেব না; কিন্তু আমার গোলাম দাউদের জন্য ও আমার মনোনীত জেরুশালেমের জন্য তোমার পুত্রকে এক বংশ দেব।
14
পরে মাবুদ সোলায়মানের এক জন বিপক্ষ সৃষ্টি করলেন; তিনি ইদোমীয় হদদ; ইদোমের রাজবংশে তাঁর জন্ম হয়।
15 দাউদ যখন ইদোমে ছিলেন, আর সেনাপতি যোয়াব নিহতদেরকে দাফন করতে উঠে গিয়েছিলেন ও ইদোমের প্রত্যেক পুরুষকে আঘাত করেছিলেন;
16 [কারণ যতদিন যোয়াব ইদোমের সমস্ত পুরুষকে উচ্ছিন্ন না করলেন, ততদিন অর্থাৎ, ছয় মাস পর্যন্ত তিনি ও সমস্ত ইসরাইল ইদোমে ছিলেন;]
17 সেই সময় ঐ হদদ ও তাঁর সঙ্গে তাঁর পিতার গোলাম কয়েকজন ইদোমীয় পুরুষ মিসরে পালিয়ে গিয়েছিলেন; তখন হদদ নিতান্ত বালক ছিলেন;
18 তাঁরা মাদিয়ান থেকে পারণে যান; পরে পারণ থেকে লোক সঙ্গে নিয়ে মিসরে গিয়ে মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হন; তিনি তাঁকে একটি বাড়ি এবং তাঁর জন্য খাদ্য দেন ও তাঁকে ভূমি দান করেন।
19 আর হদদ ফেরাউনের কাছে অতিশয় অনুগ্রহ পান এবং ফেরাউন তাঁর সঙ্গে নিজের শ্যালিকার অর্থাৎ তহ্পনেষ রাণীর বোনের বিয়ে দেন।
20 আর তহ্পনেষের বোন তাঁর জন্য গনুবৎ নামে একটি পুত্র প্রসব করেন এবং তহ্পনেষ ফেরাউনের বাড়িতে তার স্তন্য ত্যাগ করান, আর গনুবৎ ফেরাউনের বাড়িতে ফেরাউনের পুত্রদের মধ্যে ছিল।
21 পরে যখন হদদ মিসরে শুনলেন যে, দাউদ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হয়েছেন ও সেনাপতি যোয়াবের মৃত্যু হয়েছে, তখন হদদ ফেরাউনকে বললেন, আমাকে বিদায় করুন, আমি স্বদেশে যাই।
22 ফেরাউন তাঁকে বললেন, আমার এখানে তোমার কিসের অভাব হয়েছে যে তুমি স্বদেশে যেতে চাইছো। তিনি বললেন, অভাব হয় নি, তবুও কোন ভাবে আমাকে বিদায় করুন।
23
আল্লাহ্ সোলায়মানের আর এক জন বিপক্ষ উৎপন্ন করলেন; তিনি ইলিয়াদার পুত্র রষোণ; সেই ব্যক্তি সোবার বাদশাহ্ হদদেষর নামক তাঁর প্রভুর কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
24 আর যে সময়ে দাউদ সোবার লোকদের আক্রমণ করেন, সেই সময় তিনি নিজের কাছে লোক সংগ্রহ করে দলপতি হয়েছিলেন। পরে তাঁরা দামেস্কে গিয়ে সেখানে বাস করলেন এবং দামেস্কে রাজত্ব করলেন।
25 হদদের কৃত অপকার ছাড়াও তিনি সোলায়মানের সমস্ত জীবনকাল ইসরাইলের বিপক্ষ ছিলেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে শত্রুতা করেছিলেন, আর অরামে রাজত্ব করলেন।
26
আর সরেদানীবাসী ইফ্রয়ীমীয় নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম সোলায়মানের গোলাম ছিলেন; তাঁর মায়ের নাম ছিল সরূয়া; তিনি বিধবা ছিলেন; সে ব্যক্তিও বাদশাহ্র বিরুদ্ধে গেলেন।
27 বাদশাহ্র বিরুদ্ধে তাঁর যাবার কারণ এই— সোলায়মান মিল্লো গাঁথছিলেন ও তাঁর পিতা দাউদের নগরের ভগ্নস্থান মেরামত করে দিচ্ছিলেন।
28 আর ইয়ারাবিম বলবান বীর ছিলেন এবং সোলায়মান এই যুবকটিকে কর্মদক্ষ দেখে তাকে ইউসুফ-কুলের সমস্ত কর্মাধীন লোকের নেতা করেন।
29 সেই সময় ইয়ারাবিম জেরুশালেমের বাইরে গেলে শীলোনীয় অহিয় নবী পথে তাঁর দেখা পেলেন; অহিয় নতুন পোশাক পরা ছিলেন এবং মাঠে কেবল তাঁরা দু’জন ছিলেন।
30 তখন অহিয় তাঁর গায়ের নতুন পোশাকখানি ধরে ছিঁড়ে বারো খণ্ড করলেন।
31 আর তিনি ইয়ারাবিমকে বললেন, দশ খণ্ড তুমি নাও, কেননা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ আমি সোলায়মানের হাত থেকে রাজ্য চিরে নেব ও দশ বংশ তোমাকে দেব।
32 কিন্তু আমার গোলাম দাউদ এবং ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্য থেকে আমার মনোনীত জেরুশালেম নগরের জন্য অবশিষ্ট এক বংশ ওর থাকবে।
33 কারণ তারা আমাকে ত্যাগ করে সীদোনীয়দের দেবী অষ্টোরত, মোয়াবের দেব কমোশ ও অম্মোনীয়দের দেব মিল্কমের কাছে ভূমিতে উবুড় হয়েছে; ওর পিতা দাউদের মত তারা আমার দৃষ্টিতে যা ভাল, তা করতে এবং আমার বিধি ও অনুশাসনগুলো পালন করতে আমার পথে চলে নি।
34 তবুও আমি ওর অধিকার থেকে সমস্ত রাজ্য নেব না, কিন্তু আমার মনোনীত গোলাম যে দাউদ আমার হুকুম ও সমস্ত বিধি পালন করতো, তার জন্য ওকে সারা জীবন বাদশাহ্র পদে রাখবো।
35 কিন্তু ওর পুত্রের হাত থেকে রাজ্য নেব এবং তোমাকে দেব, দশ বংশ দেব।
36 আর আমার নাম স্থাপনার্থে আমার মনোনীত যে জেরুশালেম নগর, তন্মধ্যে আমার সম্মুখে যেন আমার গোলাম দাউদের প্রদীপ নিত্য থাকে, এজন্য ওর পুত্রকে এক বংশ দেব।
37 আর আমি তোমাকে গ্রহণ করবো, তাতে তুমি তোমার প্রাণের সমস্ত বাসনা অনুসারে রাজত্ব করবে, ইসরাইলের বাদশাহ্ হবে।
38 আর যদি তুমি আমার গোলাম দাউদের মত আমার সমস্ত হুকুমে কান দাও এবং আমার বিধি ও হুকুম পালন করার জন্য আমার পথে চল ও আমার দৃষ্টিতে যা ভাল, তা কর, তবে আমি তোমার সহবর্তী থাকব এবং যেমন দাউদের জন্য গেঁথেছি, তেমনি তোমার জন্যও একটি সুদৃঢ় কুল গাঁথব এবং ইসরাইলকে তোমার হাতে দেব।
39 আর এই কারণ আমি দাউদের বংশকে অবনত করবো, কিন্তু চিরকালের জন্য নয়।
40 অতএব সোলায়মান ইয়ারাবিমকে হত্যা করতে চেষ্টা করলেন; কিন্তু ইয়ারাবিম মিসর দেশে মিসরের বাদশাহ্ শীশকের কাছে পালিয়ে গেলেন এবং সোলায়মানের মৃত্যু পর্যন্ত মিসরে থাকলেন।
41
সোলায়মানের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত এবং তাঁর সমস্ত কাজ ও জ্ঞানের বিবরণ কি সোলায়মানের কর্মবৃত্তান্ত কিতাবে লেখা নেই?
42 সোলায়মান জেরুশালেমে চল্লিশ বছর সমস্ত ইসরাইলের উপর রাজত্ব করলেন।
43 পরে সোলায়মান তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন ও তাঁর পিতা দাউদের নগরে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র রহবিয়াম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
রহবিয়াম শিখিমে গেলেন; কেননা তাঁকে বাদশাহ্ করার জন্য সমস্ত ইসরাইল শিখিমে উপস্থিত হয়েছিল।
2 আর যখন নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম এই বিষয় শুনলেন; [কারণ তিনি তখনও মিসরে ছিলেন, বাদশাহ্ সোলায়মানের সম্মুখ থেকে সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলেন; এবং তিনি মিসরে বাস করছিলেন; আর লোকেরা দূত পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে আনলো;]
3 তখন ইয়ারাবিম ও সমস্ত ইসরাইল-সমাজ রহবিয়ামের কাছে এসে এই কথা বললেন,
4 আপনার পিতা আমাদের উপর দুঃসহ জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, অতএব আপনার পিতা আমাদের উপরে যে কঠিন গোলামীর কাজ ও ভারী জোয়াল চাপিয়েছেন আপনি তা লঘু করুন, করলে আমরা আপনার গোলামী করবো।
5 তিনি তাদের বললেন, এখন চলে যাও, তিন দিন পর আবার আমার কাছে এসো। তাতে লোকেরা চলে গেল।
6
পরে বাদশাহ্ রহবিয়াম, তাঁর পিতা সোলায়মানের জীবনকালে যে প্রাচীন লোকেরা তাঁর সেবা করতেন, তাঁদের সঙ্গে মন্ত্রণা করলেন, বললেন, আমি ঐ লোকদের কি জবাব দেব? তোমরা কি মন্ত্রণা দাও?
7 তাঁরা তাঁকে বললেন, যদি আপনি আজ ঐ লোকদের সেবক হয়ে ওদের সেবা করেন এবং ওদের উত্তর দেন ও ভাল কথা বলেন, তবে ওরা সব সময় আপনার সেবক হয়ে থাকবে।
8 কিন্তু তিনি ঐ বৃদ্ধদের দেওয়া মন্ত্রণা ত্যাগ করে, তাঁর বয়স্য যে যুবকেরা যারা তাঁর সঙ্গে বড় হয়েছিল এবং তখন তাঁর সেবা করতো, তাদের সঙ্গে মন্ত্রণা করলেন।
9 তিনি তাদের বললেন, ঐ লোকেরা বলছে, আপনার পিতা আমাদের উপরে যে যোঁয়াল চাপিয়েছেন তা লঘু করুন, এখন আমরা ওদের কি জবাব দেব? তোমরা কি মন্ত্রণা দাও?
10 তাঁর বয়স্য যুবকেরা জবাবে বললো, যে লোকেরা আপনাকে বলছে, আপনার পিতা আমাদের উপরে ভারী জোয়াল চাপিয়েছেন, আপনি আমাদের পক্ষে তা লঘু করুন, তাদের এই কথা বলুন, আমার কনিষ্ঠ আঙ্গুল আমার পিতার কোমরের চেয়েও মোটা।
11 এখন, আমার পিতা তোমাদের উপরে ভারী যোঁয়াল চাপিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তোমাদের যোঁয়াল আরও ভারী করবো; আমার পিতা তোমাদের কশা দ্বারা শাস্তি দিতেন, কিন্তু আমি তোমাদের বৃশ্চিক দ্বারা শাস্তি দেব।
12
পরে ‘তৃতীয় দিনে আমার কাছে ফিরে এসো;’ বাদশাহ্র এই কথানুসারে ইয়ারাবিম এবং সমস্ত লোক তৃতীয় দিনে রহবিয়ামের কাছে উপস্থিত হলেন।
13 আর বাদশাহ্ লোকদের কঠিন জবাব দিলেন; বৃদ্ধ নেতারা তাঁকে যে মন্ত্রণা দিয়েছিলেন, তিনি তা ত্যাগ করলেন;
14 আর সেই যুবকদের মন্ত্রণানুযায়ী কথা তাদের বললেন; তিনি বললেন, আমার পিতা তোমাদের যোঁয়াল ভারী করেছিলেন, কিন্তু আমি তোমাদের যোঁয়াল আরও ভারী করবো; আমার পিতা তোমাদের কশা দ্বারা শাস্তি দিতেন, কিন্তু আমি তোমাদেরকে বৃশ্চিক দ্বারা শাস্তি দেব।
15 এভাবে বাদশাহ্ লোকদের কথায় কান দিলেন না; কেননা শীলোনীয় অহিয়ের দ্বারা মাবুদ নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমকে যে কথা বলেছিলেন, তা অটল রাখার জন্য মাবুদ থেকে এই ঘটনা হল।
16
যখন সমস্ত ইসরাইল দেখলো, বাদশাহ্ তাদের কথায় কান দিলেন না, তখন লোকেরা বাদশাহ্কে এই উত্তর দিল, দাউদে আমাদের কি অংশ? ইয়াসির পুত্রে আমাদের কোন অধিকার নেই; হে ইসরাইল তোমাদের তাঁবুতে যাও; দাউদ! এখন তুমি নিজের কুল দেখ। পরে ইসরাইল লোকেরা যার যার তাঁবুতে চলে গেল।
17 তবুও যে সমস্ত বনি-ইসরাইল এহুদার সকল নগরে বাস করতো, রহবিয়াম সেসব নগরে রাজত্ব করতে থাকলেন।
18 পরে রহবিয়াম বাদশাহ্ তাঁর অধঃস্তন গোলামদের নেতা অদোরামকে পাঠালেন; কিন্তু সমস্ত ইসরাইল তাকে পাথর মারল, তাতে তাঁর মৃত্যু হল। আর বাদশাহ্ রহবিয়াম জেরুশালেমে পালাবার জন্য শীঘ্র গিয়ে রথে উঠলেন।
19 এভাবে ইসরাইল দাউদের কুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো, আজ পর্যন্ত সেই ভাবেই আছে।
20
যখন সমস্ত ইসরাইল শুনতে পেল যে ইয়ারাবিম ফিরে এসেছেন, তখন লোক পাঠিয়ে তাঁকে তাদের সভায় ডেকে আনাল এবং সমস্ত ইসরাইলের বাদশাহ্ করলো; কেবল এহুদা-বংশ ছাড়া আর কোন বংশ দাউদ-কুলের অনুগামী থাকলো না।
21
জেরুশালেমে উপস্থিত হওয়ার পর রহবিয়াম এহুদার সমস্ত কুল ও বিন্ইয়ামীন-বংশকে, এক লক্ষ আশি হাজার মনোনীত যোদ্ধাকে ইসরাইল-কুলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সোলায়মানের পুত্র রহবিয়ামের অধীনে রাজ্য ফিরিয়ে আনবার জন্য একত্র করলেন।
22 কিন্তু আল্লাহ্র লোক শময়িয়ের কাছে আল্লাহ্র এই কালাম নাজেল হল,
23 তুমি সোলায়মানের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ রহবিয়াম, এহুদার ও বিন্ইয়ামীনের সমস্ত কুল এবং অবশিষ্ট লোকদেরকে বল,
24 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা যাত্রা করো না, তোমাদের ভাইদের সঙ্গে বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না; প্রত্যেকে যার যার বাড়িতে ফিরে যাও, কেননা এই ঘটনা আমা থেকে হল। অতএব তারা মাবুদের কালাম মেনে মাবুদের হুকুম অনুসারে ফিরে গেল।
25
পরে ইয়ারাবিম পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ শিখিম নির্মাণ করে সেখানে বাস করলেন; সেই স্থান থেকে যাত্রা করে পনূয়েল নির্মাণ করলেন।
26 আর ইয়ারাবিম মনে মনে বললেন, এবার হয়তো রাজ্য আবার দাউদ-কুলের হাতে ফিরে যাবে।
27 এই লোকেরা যদি জেরুশালেমে মাবুদের গৃহে কোরবানী করতে যায়, তবে এদের অন্তর এদের প্রভু এহুদার বাদশাহ্ রহবিয়ামের প্রতি ফিরবে; আর এরা আমাকে হত্যা করে পুনর্বার এহুদার বাদশাহ্ রহবিয়ামের পক্ষ হবে।
28 অতএব বাদশাহ্ মন্ত্রণা করে সোনার দু’টি বাছুর তৈরি করালেন; আর তিনি লোকদেরকে বললেন, জেরুশালেমে যাওয়া তোমাদের পক্ষে কোন কাজের বিষয় নয়, হে ইসরাইল, দেখ, এই তোমার দেবতা, যিনি মিসর দেশ থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন।
29 তিনি তাদের একটা বেথেলে স্থাপন করলেন, আর একটা দানে রাখলেন।
30 এই ব্যাপারটা তাদের পক্ষে গুনাহ্স্বরূপ হয়ে দাঁড়াল, কেননা তার একটার পূজা করার জন্য বৈথেল ও অন্যটার পূজা করার জন্য লোকেরা দান পর্যন্তও যেতে লাগল।
31 পরে তিনি কতকগুলো উচ্চস্থলীতে বাড়ি নির্মাণ করলেন এবং যারা লেবির সন্তান নয়, এসব লোকের মধ্য থেকে ইমাম নিযুক্ত করলেন।
32 আর ইয়ারাবিম অষ্টম মাসের পঞ্চদশ দিনে এহুদাস্থ উৎসবের মত একটি উৎসব নির্ধারণ করলেন; এবং কোরবানগাহ্র কাছে উঠে গেলেন; তিনি বেথেলেও এরকম করলেন, নিজের তৈরি বাছুরের মূর্তির কাছে কোরবানী করলেন এবং তাঁর তৈরি উচ্চস্থলীগুলোর ইমামদেরকে বেথেলে রাখলেন।
33 তিনি অষ্টম মাসের, যে মাস তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই মাসের পঞ্চদশ দিনে তাঁর তৈরি কোরবানগাহ্র কাছে গেলেন, আর তিনি ইসরাইল-সন্তানদের জন্য উৎসব নির্ধারণ করলেন এবং ধূপদাহের জন্য কোরবানগাহ্র কাছে গেলেন।
1
আর দেখ, আল্লাহ্র এক জন লোক মাবুদের কালামের দ্বারা এহুদা থেকে বেথেলে উপস্থিত হলেন; আর ইয়ারাবিম ধূপদাহের জন্য কোরবানগাহ্র কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
2 আর সেই ব্যক্তি কোরবানগাহ্র বিরুদ্ধে মাবুদের কালামের দ্বারা এই কথা ঘোষণা করলেন, হে কোরবানগাহ্, হে কোরবানগাহ্, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ দাউদ-কুলে ইউসিয়া নামে একটি বালকের জন্ম হবে; উচ্চস্থলীগুলোর যে ইমামেরা তোমার উপরে ধূপ জ্বালায়, তাদেরকে তিনি তোমার উপরে কোরবানী করবেন ও তোমার উপরে মানুষের অস্থি পোড়ানো হবে।
3 আর সেই দিনে সেই ব্যক্তি একটি চিহ্ন নির্ধারণ করে বললেন, মাবুদ এই চিহ্নের কথা বলেছেন; দেখ, এই কোরবানগাহ্ ফেটে যাবে ও এর উপরিস্থ ভস্ম পড়ে যাবে।
4 আল্লাহ্র লোক বৈথেলস্থ কোরবানগাহ্র বিরুদ্ধে যে কথা ঘোষণা করলেন, তা শুনে বাদশাহ্ ইয়ারাবিম কোরবানগাহ্ থেকে হাত প্রসারিত করে বললেন, ওকে ধর। কিন্তু তিনি তাঁর বিরুদ্ধে যে হাত প্রসারিত করলেন তা শুকিয়ে গেল, তিনি তা আর গুটিয়ে নিতে পারলেন না।
5 আর আল্লাহ্র লোক মাবুদের কালামের দ্বারা যে চিহ্ন নির্ধারণ করেছিলেন, সেই অনুসারে কোরবানগাহ্ ফেটে গেল এবং কোরবানগাহ্ থেকে ভস্ম পড়ে গেল।
6 তখন বাদশাহ্ আল্লাহ্র লোককে বললেন, আমার হাত যেন পুনরায় সুস্থ হয়, এজন্য আপনি আপনার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে রহমত যাচ্ঞা করুন, আমার জন্য মুনাজাত করুন। তাতে আল্লাহ্র লোক মাবুদের কাছে যাচ্ঞা করলেন, আর বাদশাহ্র হাত পুনরায় সুস্থ হল, আগের মত হল।
7 তখন বাদশাহ্ আল্লাহ্র লোককে বললেন, আপনি আমার সঙ্গে বাড়িতে এসে আরাম করুন, আর আমি আপনাকে উপহার দেব।
8 আল্লাহ্র লোক বাদশাহ্কে বললেন, যদি আপনি আমাকে আপনার বাড়ির অর্ধেকও দিয়ে দেন তবুও আপনার সঙ্গে প্রবেশ করবো না, আমি এই স্থানে অন্ন ভোজন বা পানি পান করবো না;
9 কেননা মাবুদের কালাম দ্বারা আমি এই হুকুম পেয়েছি, তুমি অন্ন ভোজন ও পানি পান করো না এবং যে পথ দিয়ে যাবে, সেই পথ দিয়ে ফিরে এসো না।
10 পরে তিনি যে পথ দিয়ে বেথেলে এসেছিলেন, সেই পথে না গিয়ে অন্য পথ ধরে প্রস্থান করলেন।
11
বেথেলে এক জন প্রাচীন নবী বাস করতেন; তাঁর এক পুত্র এসে, বেথেলে সেই দিন আল্লাহ্র লোক যা যা করেছিলেন, সমস্তই তাঁকে জানালো; তিনি বাদশাহ্কে যে যে কথা বলেছিলেন, তার বৃত্তান্তও পুত্রেরা পিতাকে বললো।
12 তাদের পিতা জিজ্ঞাসা করলো, তিনি কোন পথে গেলেন? এহুদা থেকে আগত আল্লাহ্র লোক কোন্ পথ ধরে গিয়েছিলেন, তা তাঁর পুত্রেরা দেখেছিল।
13 তখন তিনি তাঁর পুত্রদেরকে বললেন, আমার জন্য গাধা সাজাও; তারা তাঁর জন্য গাধা সাজালে তিনি তার উপরে চড়লেন।
14 আর তিনি আল্লাহ্র লোকের পিছনে গেলেন এবং একটি এলা গাছের তলে তাঁকে বসে থাকতে দেখে বললেন, আপনি কি এহুদা থেকে আগত আল্লাহ্র লোক? তিনি বললেন, আমি সেই।
15 তখন তিনি তাঁকে বললেন, আমার সঙ্গে বাড়িতে চলুন, আহার করুন।
16 তিনি বললেন, আমি আপনার সঙ্গে ফিরে যেতে ও আপনার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারি না; এবং এই স্থানে আপনার সঙ্গে অন্ন ভোজন বা পানি পান করবো না;
17 কেননা মাবুদের কালাম দ্বারা আমাকে বলা হয়েছে, তুমি সেই স্থানে অন্ন ভোজন ও পানি পান করো না এবং যে পথ দিয়ে যাবে, সেই পথ দিয়ে ফিরে এসো না।
18 তিনি তাঁকে বললেন, আপনি যেমন, আমিও তেমনি নবী; এক জন ফেরেশতা আমাকে মাবুদের কালামের মাধ্যমে এই কথা বলেছেন, তুমি ওকে অন্ন ভোজন ও পানি পান করাবার জন্য সঙ্গে করে তোমার বাড়িতে ফিরিয়ে আন। কিন্তু তিনি তাঁকে মিথ্যা কথা বললেন।
19 তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ফিরে গিয়ে তাঁর বাড়িতে অন্ন ভোজন ও পানি পান করলেন।
20
তাঁরা ভোজন স্থানে বসে আছেন, এমন সময়ে যে নবী ওঁকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তাঁর কাছে মাবুদের কালাম নাজেল হল;
21 তখন তিনি এহুদা থেকে আগত আল্লাহ্র লোককে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি মাবুদের কালামের বিরুদ্ধাচরণ করেছ; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে যা হুকুম করেছিলেন, তা তুমি পালন কর নি,
22 তিনি যে স্থানের বিষয়ে বলেছিলেন, তুমি অন্ন ভোজন ও পানি পান করো না, সেই স্থানে ফিরে এসে তুমি অন্ন ভোজন ও পানি পান করেছ; এই কারণে তোমার লাশ তোমার পূর্বপুরুষদের কবরে রাখা হবে না।
23 পরে তাঁর অন্ন ভোজন ও পানি পান শেষ হলে তিনি তাঁর জন্য, অর্থাৎ যাঁকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, সেই নবীর জন্য গাধা সাজালেন।
24 পরে তিনি যাত্রা করলে, পথের মধ্যে একটি সিংহ তাঁকে পেয়ে হত্যা করলো ও তাঁর লাশ পথে পড়ে থাকলো এবং তার পাশে গাধা দাঁড়িয়ে রইলো; লাশের পাশে সিংহ দাঁড়িয়ে রইলো।
25 আর দেখ, লোকেরা পথ দিয়ে যাতায়াত করতে করতে দেখলো, লাশ পথে পড়ে রয়েছে এবং লাশের পাশে সিংহ দাঁড়িয়ে আছে; পরে লোকেরা ঐ প্রাচীন নবীর নিজের নগরে এসে সংবাদ দিল।
26
আর যে নবী তাঁকে পথ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, তিনি ঐ সংবাদ শুনে বললেন, ইনি আল্লাহ্র সেই লোক, যিনি মাবুদের কালামের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন, তাঁর প্রতি মাবুদের কথিত কালাম অনুসারে মাবুদ তাঁকে সিংহের হাতে তুলে দিয়েছেন, আর সিংহ তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করেছে।
27 পরে তিনি তাঁর পুত্রদেরকে বললেন, আমার জন্য গাধা সাজাও; তারা তা সাজাল।
28 আর তিনি গিয়ে দেখলেন, লাশ পথে পড়ে রয়েছে এবং লাশের পাশে গাধা ও সিংহ দাঁড়িয়ে আছে; সিংহ লাশ খায় নি, গাধাকেও বিদীর্ণ করে নি।
29 পরে সেই নবী আল্লাহ্র লোকের লাশ তুলে নিলেন এবং গাধার উপরে রেখে ফিরিয়ে আনলেন; সেই বৃদ্ধ নবী তাঁর বিষয়ে মাতম করতে ও তাঁকে দাফন করতে নিজ নগরে আসলেন।
30 আর তিনি তাঁর কবরে ঐ লাশ রাখলেন এবং তাঁরা হায়, আমার ভাই! বলে তাঁর জন্য মাতম করলেন।
31 এভাবে তাঁকে কবর দেবার পর তিনি তাঁর পুত্রদেরকে বললেন, আমি যখন মারা যাব তখন এই যে কবরে আল্লাহ্র লোককে দাফন করা হল, সেই একই কবরে আমাকে দাফন করো, এর অস্থির পাশে আমার অস্থি রেখো।
32 কেননা বৈথেলস্থ কোরবানগাহ্র ও সামেরিয়ার নানা নগরে অবস্থিত উচ্চস্থলীর গৃহের বিরুদ্ধে মাবুদের কালাম দ্বারা ইনি যে কথা ঘোষণা করেছেন তা অবশ্য সফল হবে।
33
এই ঘটনার পরেও ইয়ারাবিম তাঁর কুপথ থেকে ফিরলেন না, কিন্তু পুনর্বার লোকসাধারণের মধ্য থেকে লোকদেরকে উচ্চস্থলীর ইমাম নিযুক্ত করলেন; যার ইচ্ছা হত, তিনি তাকেই অভিষেক করতেন, যেন সে উচ্চস্থলীর ইমাম হয়।
34 আর এই ব্যাপারটি ইয়ারাবিমের কুলের পক্ষে গুনাহ্স্বরূপ হল, যেন তা উচ্ছিন্ন হয় ও দুনিয়ার বুক থেকে মুছে যায়।
1
সেই সময়ে ইয়ারাবিমের পুত্র অবিয় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো।
2 তাতে ইয়ারাবিম তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আরজ করি, উঠ, ছদ্মবেশ ধারণ কর, তুমি যে ইয়ারাবিমের স্ত্রী তা যেন টের পাওয়া না যায়; তুমি শীলোতে যাও; দেখ, সেখানে অহিয় নবী আছেন, তিনিই আমার বিষয় বলেছিলেন যে আমি এই জাতির বাদশাহ্ হব।
3 তুমি দশখানা রুটি, কতকগুলো পিঠা ও এক ভাড় মধু সঙ্গে নিয়ে তাঁর কাছে যাও; বালকটির কি হবে, তা তিনি তোমাকে জানাবেন।
4
ইয়ারাবিমের স্ত্রী তা-ই করলেন, তিনি শীলোতে গিয়ে অহিয়ের বাড়িতে উপস্থিত হলেন। ঐ সময়ে অহিয় দেখতে পেতেন না, কেননা বৃদ্ধ বয়সের দরুন তাঁর দৃষ্টি ক্ষীণ হয়েছিল।
5 আর মাবুদ অহিয়কে বললেন, দেখ, ইয়ারাবিমের স্ত্রী তোমার কাছে তাঁর পুত্রের কথা জিজ্ঞাসা করতে আসছে, কেননা বালকটি ভীষণ অসুস্থ; তুমি তাকে অমুক অমুক কথা বলবে; কেননা সে যখন আসবে, তখন অপরিচিতার ভান করবে।
6
পরে দরজায় তাঁর প্রবেশের সময়ে অহিয় তাঁর পায়ের আওয়াজ শোনামাত্র বললেন, হে ইয়ারাবিমের স্ত্রী, ভিতরে এসো; তুমি কেন অপরিচিতার মত ভান করছো? আমি অশুভ সংবাদ দিতে তোমার কাছে প্রেরিত হলাম।
7 যাও ইয়ারাবিমকে বল, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি লোকদের মধ্য থেকে তোমাকে উঁচু করে আমার লোক ইসরাইলের নেতা করেছি,
8 এবং দাউদের কুল থেকে রাজ্য চিরে নিয়ে তোমাকে দিয়েছি; তবুও আমার গোলাম যে দাউদ আমার হুকুম পালন করতো এবং আমার দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করার জন্য সর্বান্তঃকরণে আমার অনুগামী ছিল, তুমি তার মত হও নি।
9 কিন্তু তোমার আগে যারা ছিল, তুমি তাদের সকলের চেয়ে বেশি দুষ্কর্ম করেছ; এবং গিয়ে নিজের জন্য অন্য দেবতা ও ছাঁচে ঢালা মূর্তিগুলো তৈরি করে আমাকে অসন্তুষ্ট করেছ এবং আমাকে তোমার পিছনে ফেলেছ।
10 এজন্য দেখ, আমি ইয়ারাবিমের কুলের উপরে অমঙ্গল ঘটাবো; যারবিয়াম-বংশের প্রত্যেক পুরুষকে মুছে ফেলব— সে ইসরাইলের মধ্যে কেনা গোলামই হোক বা স্বাধীন মানুষই হোক; লোকে যেমন ঝাঁটি দিয়ে নিঃশেষে মল দূর করে, তেমনি আমি ইয়ারাবিমের কুলকে একেবারে ঝাঁটি দিয়ে ফেলবো।
11 ইয়ারাবিমের যে কেউ নগরে মৃত্যুবরণ করলে তাকে কুকুরে খাবে ও যার মৃত্যু মাঠে হবে, তাকে আসমানের পাখিরা খাবে, কারণ মাবুদ এই কথা বলেছেন।
12 অতএব তুমি উঠ, তোমার ঘরে যাও; নগরে তোমার পদার্পণ করা মাত্র বালকটির মৃত্যু হবে।
13 আর তার জন্য সমস্ত ইসরাইল মাতম করতে করকে তাকে দাফন করবে; বস্তুত ইয়ারাবিমের কুলে কেবল সেই কবর পাবে; কেননা ইয়ারাবিমের কুলের মধ্যে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি তারই কিঞ্চিৎ সদ্ভাব পাওয়া গেছে।
14 আর মাবুদ নিজের উদ্দেশ্যে ইসরাইলের জন্য এক জন বাদশাহ্ উৎপন্ন করবেন; সে ইয়ারাবিমের কুলকে সেদিন উচ্ছিন্ন করবে; এমন কি এখনই করবে।
15
বস্তুত মাবুদ ইসরাইলকে আঘাত করে পানির মধ্যে দুলতে থাকা নল-খাগড়ার সমান করবেন এবং তাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই যে উত্তম দেশ দিয়েছেন, এই দেশ থেকে ইসরাইলকে উৎপাটন করে (ফোরাত) নদীর ওপারে ছিন্নভিন্ন করবেন, কারণ তারা তাদের জন্য প্রচুর আশেরা মূর্তি তৈরি করে মাবুদকে অসন্তুষ্ট করেছে।
16 ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ করেছেন এবং যেসব গুনাহ্র দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছেন, তার দরুন মাবুদ ইসরাইলকে ত্যাগ করবেন।
17
পরে ইয়ারাবিমের স্ত্রী প্রস্থান করলেন এবং তির্সাতে উপস্থিত হলেন, তিনি বাড়ির দরজার গোবরাটে আসামাত্র বালকটির মৃত্যু হল।
18 আর মাবুদ তাঁর গোলাম অহিয় নবীর দ্বারা যে কালাম বলেছিলেন, সেই অনুসারে সমস্ত ইসরাইল তাকে কবর দিয়ে তার জন্য মাতম করলো।
19
ইয়ারাবিমের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত, তিনি কিভাবে যুদ্ধ করলেন ও কিভাবে রাজত্ব করলেন, দেখ, তার বিবরণ ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
20 ইয়ারাবিমের রাজত্বকাল বাইশ বছর; পরে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন; আর তাঁর পুত্র নাদব তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
21
সোলায়মানের পুত্র রহবিয়াম এহুদা দেশে রাজত্ব করলেন। রহবিয়াম একচল্লিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং মাবুদ নিজের নাম স্থাপনার্থে ইসরাইলের সমস্ত বংশ থেকে যে নগর মনোনীত করেছিলেন, সেই জেরুশালেমে তিনি সতের বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম নয়মা, তিনি অম্মোনীয়া।
22 আর এহুদা মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করতো; তাদের পূর্বপুরুষেরা যা যা করেছিল, সেই সকলের চেয়ে তারা নিজেদের বেশি গুনাহ্-কর্ম দ্বারা তাঁর অন্তর্জ্বালা জন্মাত।
23 তারাও নিজেদের জন্য অনেক উচ্চস্থলী এবং প্রত্যেক উঁচু পর্বতে ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে স্তম্ভ ও আশেরা-মূর্তি তৈরি করতো; আর দেশে পুংগামী লোকও ছিল।
24 মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদের অধিকারচ্যুত করেছিলেন, তাদের সমস্ত ঘৃণিত কাজ অনুসারে ওরা কাজ করতো।
25
আর রহবিয়াম বাদশাহ্র পঞ্চম বছরে মিসরের বাদশাহ্ শীশক জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আসলেন;
26 তিনি মাবুদের গৃহের ও রাজপ্রাসাদের ধন নিয়ে গেলেন; তিনি সকল কিছুই নিয়ে গেলেন, এমনকি সোলায়মানের নির্মিত সোনার ঢালগুলোও নিয়ে গেলেন।
27 পরে রহবিয়াম বাদশাহ্ তার পরিবর্তে ব্রোঞ্জের ঢাল তৈরি করিয়ে রাজপ্রাসাদের দ্বারপাল পদাতিকদের নেতৃ-বর্গের হাতে তুলে দিলেন।
28 বাদশাহ্ যখন মাবুদের গৃহে প্রবেশ করতেন তখন ঐ পদাতিকরা সেসব ঢাল ধরত এবং পরে পদাতিকদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেত।
29
রহবিয়ামের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা নেই?
30 রহবিয়াম ও ইয়ারাবিমের মধ্যে নিয়ত যুদ্ধ হত।
31 পরে রহবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দাউদ-নগরে সমাহিত হলেন। তাঁর মায়ের নাম নয়মা, তিনি অম্মোনীয়া। পরে তাঁর পুত্র অবিয়াম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম বাদশাহ্র অষ্টাদশ বছরে অবিয়াম এহুদা রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
2 তিনি তিন বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম মাখা; তিনি অবীশালোমের কন্যা।
3 তাঁর আগে তাঁর পিতা যেসব গুনাহ্ করেছিলেন তিনিও সেসব গুনাহ্র পথে চলতেন; তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের অন্তঃকরণ যেমন ছিল তাঁর অন্তঃকরণ তেমনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে একাগ্র ছিল না।
4 তবুও দাউদের জন্য তাঁর পরে তাঁর সন্তানকে তুলে ধরবার ও জেরুশালেমকে দৃঢ় করার জন্য তাঁর আল্লাহ্ মাবুদ জেরুশালেমে তাঁকে একটি প্রদীপ দিলেন।
5 কেননা মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য দাউদ তা-ই করতেন; হিট্টিয় ঊরিয়ের ব্যাপারটি ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে তিনি তাঁর সারা জীবনে মাবুদের হুকুম অমান্য করেন নি।
6 রহবিয়ামের ও ইয়ারাবিমের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তাঁর সমস্ত জীবনকালে সেই যুদ্ধ চলছিল।
7 অবিয়ামের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও সমস্ত কর্ম-বিবরণ এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই? আর অবিয়ামের ও ইয়ারাবিমের মধ্যে যুদ্ধ হত।
8 পরে অবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং লোকেরা তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দিল; আর তাঁর পুত্র আসা তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
9
ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের বিশ বছরে আসা এহুদার উপর রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
10 তিনি একচল্লিশ বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম মাখা, তিনি অবীশালোমের কন্যা।
11 আসা তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মত মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করতেন।
12 তিনি দেশ থেকে পুরুষ সমকামীদের তাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের তৈরি সমস্ত মূর্তি দূর করে দিলেন।
13 আর তাঁর মা মাখা আশেরার জন্য একটি ঘৃণার যোগ্য মূর্তি তৈরি করেছিলেন বলে তাঁকে রাণীমাতার পদ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং আসা তাঁর সেই মূর্তি ধ্বংস করে কিদ্রোণ স্রোতের ধারে তা পুড়িয়ে দিলেন।
14 কিন্তু সমস্ত উচ্চস্থলী দূরীকৃত হল না; তবুও আসার অন্তঃকরণ সারা জীবন মাবুদের উদ্দেশে একাগ্র ছিল।
15 আর তিনি তাঁর পিতার পবিত্রীকৃত ও নিজের পবিত্রীকৃত রূপা, সোনা ও পাত্রগুলো মাবুদের গৃহে আনলেন।
16
আসা এবং ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশার মধ্যে যুদ্ধ হত।
17 আর এহুদার বাদশাহ্ আসার কাছে কাউকেও যাতায়াত করতে না দেবার উদ্দেশ্যে ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশা এহুদার বিরুদ্ধে যাত্রা করে রামা গাঁথলেন।
18 তখন আসা মাবুদের গৃহস্থিত ভাণ্ডারের অবশিষ্ট সমস্ত রূপা ও সোনা এবং রাজ-প্রাসাদের সমস্ত ধন নিয়ে তাঁর গোলামদের হাতে তুলে দিলেন; এবং বাদশাহ্ আসা তাদেরকে হিষিয়োনের পৌত্র টব্রিন্মোণের পুত্র বিনহদদ নামক দামেস্ক-নিবাসী অরামের বাদশাহ্র কাছে এই বলে পাঠালেন,
19 আমাতে ও আপনাতে, আমার পিতা ও আপনার পিতাতে নিয়ম আছে; দেখুন, আমি আপনার কাছে রূপা ও সোনা উপহার পাঠালাম; আপনি গিয়ে ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশার সঙ্গে আপনার যে নিয়ম আছে তা ভঙ্গ করুন, তা হলে সে আমার কাছ থেকে প্রস্থান করবে।
20 তখন বিনহদদ্ বাদশাহ্ আসার কথায় কান দিলেন; তিনি ইসরাইলের নগরগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর সেনাপতিদেরকে প্রেরণ করলেন এবং ইয়োন, দান, আবেল-বৈৎ-মাখা ও সমস্ত কিন্নেরৎ এবং নপ্তালির সমস্ত দেশে আঘাত করলেন।
21 তখন বাশা এই সংবাদ পেয়ে রামা নির্মাণ থেকে নিবৃত্ত হয়ে তির্সাতে রইলেন।
22 পরে বাদশাহ্ আসা সমস্ত এহুদাকে আহ্বান করলেন, কাউকেও বাদ দিলেন না; রামায় বাশা যে পাথর ও কাঠ দিয়ে গেঁথেছিলেন, তারা তার সবকিছু নিয়ে গেল; আর বাদশাহ্ আসা তা দ্বারা বিন্-ইয়ামীনের সেবা ও মিস্পা নগর গাঁথলেন।
23
আসার অবশিষ্ট সমস্ত বৃত্তান্ত ও তাঁর সকল বিক্রমের কাজ, সমস্ত কর্মবিবরণ এবং তিনি যে যে নগর গাঁথলেন, এই সমস্ত কথা কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা নেই? কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পায়ে রোগ হল।
24 পরে আসা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হল। আর তাঁর পুত্র যিহোশাফট তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
25
এহুদার বাদশাহ্ আসার দ্বিতীয় বছরে ইয়ারাবিমের পুত্র নাদব ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; তিনি দু’বছর ইসরাইলে রাজত্ব করেন।
26 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তিনি তা-ই করতেন, তাঁর পিতার পথে, তাঁর পিতা যার দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, সেই গুনাহ্-পথে চলতেন।
27
আর ইষাখর-কুলজাত অহিয়ের পুত্র বাশা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন; এবং বাশা ফিলিস্তিনীদের অধিকৃত গিব্বথোনে তাঁকে আঘাত করলেন; ঐ সময়ে নাদব ও সমস্ত ইসরাইল গিব্বথোন অবরোধ করছিলেন।
28 এহুদার বাদশাহ্ আসার তৃতীয় বছরে বাশা নাদবকে খুন করে তাঁর পদে বাদশাহ্ হন।
29 বাদশাহ্ হয়েই বাশা ইয়ারাবিমের সমস্ত কুলকে আঘাত করেন। মাবুদ তাঁর গোলাম শীলোনীয় অহিয়ের দ্বারা যে কথা বলেছিলেন, সেই অনুসারে বাশা ইয়ারাবিমের সম্পর্কীয় শ্বাসবিশিষ্ট কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না, সকলকেই সংহার করলেন।
30 এর কারণ এই, ইয়ারাবিম অনেক গুনাহ্ করেছিলেন এবং তার দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন; ফলে এই অসন্তোষজনক কাজ দ্বারা তিনি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে অসন্তুষ্ট করেছিলেন।
31
নাদবের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও সমস্ত কর্ম-বিবরণ কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
32 আর আসার ও ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশার মধ্যে সারা জীবন যুদ্ধ হত।
33
এহুদার বাদশাহ্ আসার তৃতীয় বছরে অহিয়ের পুত্র বাশা তির্সাতে সমস্ত ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে চব্বিশ বছর রাজত্ব করেন।
34 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন এবং ইয়ারাবিমের পথে, যার দ্বারা তিনি ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেই গুনাহ্ পথে চলতেন।
1
পরে হনানির পুত্র যেহূর কাছে বাশার বিরুদ্ধে মাবুদের এই অভিযোগ উত্থাপিত হল,
2 আমি তোমাকে ধূলির মধ্য থেকে উঠালাম ও আমার লোক ইসরাইলের নেতা করলাম, কিন্তু তুমি ইয়ারাবিমের পথে চলেছ, আমার লোক ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়ে তাদের গুনাহ্ দ্বারা আমাকে অসন্তুষ্ট করেছে।
3 দেখ, আমি বাশা ও তার কুলকে মুছে ফেলব এবং তোমার কুলকে নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের কুলের সমান করবো।
4 বাশার যে কেউ নগরে ইন্তেকাল করবে, কুকুরেরা তাকে খাবে এবং যার মাঠে মৃত্যু হবে, আসমানের পাখিরা তাকে খাবে।
5
বাশার অবশিষ্ট বৃত্তান্ত, তাঁর কর্মবিবরণ ও বিক্রমের কাজ কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
6 পরে বাশা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন ও তির্সাতে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র এলা তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
7 আবার হনানির পুত্র যেহূ নবী দ্বারা বাশার ও তাঁর কুলের বিরুদ্ধে মাবুদের কালাম উপস্থিত হয়েছিল, তার কারণ একে তো বাশা মাবুদের সাক্ষাতে তাঁর কৃত যেসব দুষ্কর্ম দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করেছিলেন, সেই সবের দ্বারা ইয়ারাবিমের কুলের সমান হয়েছিলেন, আবার সেই কুলকে আঘাত করেছিলেন।
8
এহুদার বাদশাহ্ আসার ষড়বিংশ বছরে বাশার পুত্র এলা তির্সাতে ইসরাইলের উপর রাজত্ব করতে আরম্ভ করে দু’বছর রাজত্ব করেন।
9 পরে তাঁর অর্ধসংখ্যক রথের নেতা সিম্রি নামে তাঁর গোলাম তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন। এলা তির্সাতে রাজপ্রাসাদের নেতা অর্সার বাড়িতে পান করে মাতাল হলেন,
10 আর সিম্রি ভিতরে গিয়ে এহুদার বাদশাহ্ আসার সপ্তবিংশ বছরে তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন ও তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
11
রাজত্বের আরম্ভকালে তিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট হওয়ামাত্র বাশার সমস্ত কুলকে আঘাত করলেন; তাঁর কুলে কোন পুরুষ, তাঁর জ্ঞাতি কিংবা বন্ধু কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না।
12 ফলত মাবুদ যেহূ নবী দ্বারা বাশার বিরুদ্ধে যে কথা বলেছিলেন, সেই অনুসারে সিম্রি বাশার সমস্ত কুল সংহার করলেন।
13 এর কারণ বাশার সমস্ত গুনাহ্ ও তাঁর পুত্র এলার গুনাহ্-কাজ; তাঁরা নিজেরা গুনাহ্ করেছিলেন এবং ইসরাইলকেও গুনাহ্ করিয়ে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে তাদের অসার মূর্তির দ্বারা অসন্তুষ্ট করেছিলেন।
14 এলার অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও তাঁর সমস্ত কাজের বিবরণ ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-কিতাবে কি লেখা নেই?
15
এহুদার বাদশাহ্ আসার সপ্তবিংশ বছরে সিম্রি সাত দিন তির্সাতে রাজত্ব করেন; সেই সময়ে লোকেরা ফিলিস্তিনীদের অধিকৃত গিব্বথোনের বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করেছিল।
16 পরে সেই শিবিরস্থ লোকেরা শুনতে পেল যে, সিম্রি চক্রান্ত করেছে ও বাদশাহ্কে আঘাত করেছে; তখন সমস্ত ইসরাইল সেদিন শিবিরের মধ্যে অম্রি নামক সেনাপতিকে ইসরাইলের বাদশাহ্ বলে ঘোষণা করলো।
17 পরে অম্রি ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত ইসরাইল গিব্বথোন থেকে যাত্রা করে তির্সা অবরোধ করলেন।
18 আর নগর অধিকৃত হল দেখে সিম্রি রাজপ্রাসাদের দুর্গে গিয়ে তাঁর উপরে রাজপ্রাসাদ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেন ও নিজেও আগুনে পুড়ে মরলেন।
19 এর কারণ তাঁর গুনাহ্-কাজ, ফলত মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তিনি তা-ই করতেন, ইয়ারাবিমের পথে চলতেন, তিনি নিজে গুনাহ্ করে ইসরাইলকে দিয়েও গুনাহ্ করিয়েছিলেন।
20 সিম্রির অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও তাঁর কৃত চক্রান্তের বিষয় ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-কিতাবে কি লেখা নেই?
21
সেই সময় ইসরাইলের লোকেরা দুই দল হল: অর্ধেক লোক গীনতের পুত্র তিব্নিকে বাদশাহ্ করতে তার অনুগামী হল, আর অর্ধেক লোক অম্রির অনুগামী হল।
22 কিন্তু অম্রির অনুগামী লোকেরা গীনতের পুত্র তিব্নির অনুগামীদের পরাজিত করলো; আর তিব্নি মারা গেল এবং অম্রি বাদশাহ্ হলেন।
23
এহুদার বাদশাহ্ আসার একত্রিংশ বছরে অম্রি ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে বারো বছর রাজত্ব করেন; তিনি ছয় বছর তির্সাতে রাজত্ব করেন।
24
পরে তিনি দুই তালন্ত রূপা মূল্য দিয়ে সামেরের কাছ থেকে সামেরিয়া পাহাড় ক্রয় করলেন, আর সেই পাহাড়ের উপরে নগর নির্মাণ করলেন; এবং যে নগর নির্মাণ করলেন, ঐ পাহাড়ের অধিকারী সামেরের নাম অনুসারে সেই নগরের নাম সামেরিয়া রাখলেন।
25
মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ অম্রি তা-ই করতেন এবং তাঁর আগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি দুষ্কর্ম করলেন।
26 বাস্তবিক ইনি নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের সমস্ত পথে চলতেন এবং তিনি যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়ে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে তাদের অসার মূর্তিগুলো দিয়ে অসন্তুষ্ট করেছিলেন, ইনিও সেসব গুনাহ্র পথে চলতেন।
27 অম্রির অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও যে সমস্ত বিক্রমের কাজ তিনি দেখিয়েছিলেন তা ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
28 পরে অম্রি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন ও সামেরিয়াতে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র আহাব তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
29
এহুদার বাদশাহ্ আসার আটত্রিশ বছরে অম্রির পুত্র আহাব ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; আর অম্রির পুত্র আহাব বাইশ বছর সামেরিয়াতে ইসরাইলে উপর রাজত্ব করেন।
30 তাঁর আগে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সকলের চেয়ে অম্রির পুত্র আহাব মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই বেশি পরিমাণে করতেন।
31
নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের গুনাহ্-পথে গমন করা যেন তাঁর পক্ষে লঘু বিষয় বলে মনে হত, তাই তিনি সীদোনীয়দের ইৎবাল বাদশাহ্র কন্যা ঈষেবলকে বিয়ে করলেন, আর গিয়ে বালের সেবা ও তাঁর কাছে সেজ্দা করতে লাগলেন।
32 আর তিনি সামেরিয়াতে যে বাল-মন্দির নির্মাণ করেছিলেন, তাঁর মধ্যে বালের জন্য একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
33 আর আহাব আশেরা-মূর্তি তৈরি করলেন। তাঁর আগে ইসরাইলে যত বাদশাহ্ ছিলেন, সেই সকলের চেয়ে আহাব ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের অসন্তোষজনক কাজ আরও বেশি করলেন।
34 তাঁর সময়ে বৈথেলীয় হীয়েল জেরিকো নগর নির্মাণ করলো; তাতে মাবুদ নূনের পুত্র ইউসার দ্বারা যে কালাম বলেছিলেন, সেই অনুসারে তাকে ভিত্তিমূল স্থাপনের দণ্ডস্বরূপ নিজের জ্যেষ্ঠ পুত্র অবীরামকে এবং দ্বার স্থাপনের দণ্ডস্বরূপ নিজের কনিষ্ঠ পুত্র সগূবের প্রাণ দিতে হল।
1
আর গিলিয়দ-প্রবাসীদের মধ্যবর্তী তিশ্বীয় ইলিয়াস আহাবকে বললেন, আমি যাঁর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান, ইসরাইলের আল্লাহ্ সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, এই কয়েক বছর শিশির কি বৃষ্টি পড়বে না; কেবল আমার কথা অনুসারে পড়বে।
2 পরে তাঁর কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
3 তুমি এই স্থান থেকে প্রস্থান করে পূর্ব দিকে যাও এবং জর্ডানের সম্মুখস্থ করীৎ স্রোতের ধারে লুকিয়ে থাক।
4 সেই স্থানে তুমি স্রোতের পানি পান করতে পাবে, আর আমি কাকদেরকে তোমার খাদ্যদ্রব্য যোগাবার হুকুম দিয়েছি।
5 তখন তিনি গিয়ে মাবুদের কালাম অনুসারে কাজ করলেন, জর্ডানের সম্মুখস্থ করীৎ স্রোতের ধারে গিয়ে অবস্থিতি করলেন।
6 আর কাকেরা তাঁর জন্য খুব ভোরে রুটি ও গোশ্ত এবং সন্ধ্যাবেলাও রুটি ও গোশ্ত এনে দিত; আর তিনি স্রোতের পানি পান করতেন।
7 কিছুকাল পরে দেশে বৃষ্টি না হওয়াতে ঐ স্রোত শুকিয়ে গেল।
8
পরে তাঁর কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
9 তুমি উঠ, সিডনের অন্তর্গত সারিফতে গিয়ে সেখানে বাস কর; দেখ, আমি সেখানে এক জন বিধবাকে তোমার খাদ্যদ্রব্য যোগাবার হুকুম দিয়েছি।
10 তখন তিনি সারিফতে যাত্রা করলেন; আর যখন সেই নগরের দ্বারে উপস্থিত হলেন, দেখ, সেই স্থানে এক জন বিধবা কাঠ কুড়াচ্ছে। তিনি তাকে ডেকে বললেন, আরজ করি, তুমি একটি পাত্রে কিঞ্চিৎ পানি আন, আমি পান করবো।
11 সে স্ত্রীলোকটি তা আনতে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে তিনি তাকে ডেকে বললেন, আরজ করি, আমার জন্য এক খণ্ড রুটি হাতে করে এনো।
12 সে বললো, তোমার আল্লাহ্ জীবন্ত মাবুদের কসম, আমার ঘরে একটি পিষ্টকও নেই; কেবল জালায় এক মুষ্টি ময়দা ও ভাঁড়ে কিঞ্চিৎ তেল আছে, আর দেখ, আমি কিছু কাঠ কুড়াচ্ছি, তা নিয়ে গিয়ে আমার ও আমার ছেলেটির জন্য তা পাক করবো; পরে আমরা তা খেয়ে মরবো।
13 ইলিয়াস তাকে বললেন, ভয় করো না; যা বললে, তা কর গিয়ে কিন্তু প্রথমে তা থেকে আমার জন্য একটি ক্ষুদ্র পিঠা প্রস্তুত করে আন; পরে তোমার ও ছেলেটির জন্য প্রস্তুত করো।
14 কেননা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, যেদিন পর্যন্ত মাবুদ ভূতলে বৃষ্টি না দেন, সেদিন পর্যন্ত তোমার ময়দার জালা শূন্য হবে না ও তেলের ভাঁড় শুকিয়ে যাবে না।
15 তাতে সে গিয়ে ইলিয়াসের কথা অনুসারে কাজ করলো; আর সে এবং ইলিয়াস এবং সেই স্ত্রীলোকের পরিজন অনেক দিন পর্যন্ত ভোজন করলো।
16 মাবুদ ইলিয়াসের মাধ্যমে যে কালাম বলেছিলেন, সেই অনুসারে ঐ ময়দার জালা শূন্য হল না ও তেলের ভাঁড়ও শুকাল না।
17
এসব ঘটনার পরে সেই স্ত্রীলোকের, সেই গৃহকর্ত্রীর পুত্র অসুস্থ হল এবং তার অসুস্থতা এমন ভীষণ হল যে, তার শরীরে আর শ্বাসবায়ু রইলো না।
18 তখন স্ত্রীলোকটি ইলিয়াসকে বললো, হে আল্লাহ্র লোক, আপনার সঙ্গে আমার কি কাজ? আপনি আমার অপরাধ স্মরণ করাতে ও আমার পুত্রকে মেরে ফেলতে আমার এখানে এসেছেন।
19 তিনি তাকে বললেন, তোমার পুত্রটি আমাকে দাও। পরে তিনি তার কোল থেকে ছেলেটিকে নিয়ে উপরে তাঁর থাকবার কুঠরীতে গিয়ে তাঁর নিজের বিছানায় শুইয়ে দিলেন।
20 আর তিনি মাবুদকে ডেকে বললেন, হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, আমি যে বিধবার বাড়িতে প্রবাস করছি তুমি কি তার পুত্রকে মেরে ফেলে তার উপরে অমঙ্গল উপস্থিত করলে?
21 পরে তিনি বালকটির উপরে তিনবার তাঁর শরীর লম্বমান করে মাবুদকে ডেকে বললেন, হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, আরজ করি, এই বালকের মধ্যে প্রাণ ফিরে আসুক।
22 তখন মাবুদ ইলিয়াসের কথায় কান দিলেন, তাতে বালকটির প্রাণ তার মধ্যে ফিরে এল, সে পুনর্জীবিত হল।
23 পরে ইলিয়াস বালকটিকে নিয়ে উপরিস্থ কুঠরী থেকে বাড়ির মধ্যে নেমে গিয়ে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন; আর ইলিয়াস বললেন, দেখ, তোমার পুত্র জীবিত।
24 তাতে সেই স্ত্রী ইলিয়াসকে বললো, এখন আমি জানতে পারলাম, আপনি আল্লাহ্র লোক এবং মাবুদের যে কালাম আপনার মুখে আছে, তা সত্যি।
1
অনেক দিনের পরে, বৃষ্টি না হওয়ার তৃতীয় বছরে, ইলিয়াসের কাছে মাবুদের এই কালাম উপস্থিত হল, তুমি গিয়ে আহাবকে দেখা দাও; পরে আমি ভূতলে বৃষ্টি প্রেরণ করবো।
2 তাতে ইলিয়াস আহাবকে দেখা দিতে গেলেন। সেই সময় সামেরিয়ায় ভারী দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
3 আর আহাব রাজপ্রাসাদের নেতা ওবদিয়কে ডাকলেন। ওবদিয় মাবুদকে অতিশয় ভয় করতেন;
4 আর যে সময়ে ঈষেবল মাবুদের নবীদেরকে উচ্ছেদ করছিল, সেই সময়ে ওবদিয় এক শত নবীকে নিয়ে পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করে গহ্বরের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর তিনি খাবার ও পানি দিয়ে তাদেরকে প্রতিপালন করতেন।
5 আহাব ওবদিয়কে বললেন, দেশের মধ্যে যত পানির ফোয়ারা ও স্রোতমার্গ আছে, তুমি সেগুলোর কাছে যাও; হয় তো আমরা কিছু ঘাস পেতে পারি এবং তাতে ঘোড়া ও খচ্চরগুলোর প্রাণ রক্ষা হবে, নতুবা সমস্ত পশু হারাতে হবে।
6 আর তাঁরা দেশে পরিভ্রমণ করার জন্য তাদের মধ্যে দেশ দু’ভাগ করে নিলেন; আহাব স্বতন্ত্র এক পথে গেলেন এবং ওবদিয় স্বতন্ত্র অন্য পথে গেলেন।
7
ওবদিয় পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময়ে দেখ, ইলিয়াস তাঁর সম্মুখে উপস্থিত; তখন ওবদিয় তাঁকে চিনতে পেরে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে বললেন, আপনি কি আমার প্রভু ইলিয়াস?
8 জবাবে তিনি বললেন, আমি সেই; যাও, তোমার প্রভুকে বল, দেখুন ইলিয়াস উপস্থিত।
9 তিনি বললেন, আমি কি গুনাহ্ করলাম যে, আপনি আপনার গোলাম আমাকে হত্যা করার জন্য আহাবের হাতে তুলে দিতে চান?
10 আপনার আল্লাহ্ জীবন্ত মাবুদের কসম, এমন কোন জাতি কি রাজ্য নেই, যার কাছে আমার প্রভু আপনার সন্ধানে দূত পাঠান নি; আর যখন তারা বললো, সে ব্যক্তি নেই; তখন তারা আপনাকে পায়নি বলে তিনি সেসব রাজ্যের ও জাতির লোকদেরকে শপথও করিয়েছেন।
11 এখন আপনি বলছেন, যাও, তোমার প্রভুকে বল, দেখুন, ইলিয়াস উপস্থিত।
12 আর আমি আপনার কাছ থেকে গেলেই মাবুদের রূহ্ আমার অজ্ঞাত কোন স্থানে আপনাকে নিয়ে যাবেন, তাতে আমি গিয়ে আহাবকে সংবাদ দিলে যদি তিনি আপনার উদ্দেশ না পান, তবে আমাকে হত্যা করবেন; কিন্তু আপনার গোলাম আমি বাল্যকাল থেকে মাবুদকে ভয় করে আসছি।
13 ঈষেবল যখন মাবুদের নবীদেরকে হত্যা করছিলেন, তখন আমি যা করেছিলাম, তা কি আমার প্রভু শোনেন নি? আমি পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করে মাবুদের এক শত নবীকে গহ্বরে লুকিয়ে রেখে খাবার ও পানি দিয়ে প্রতিপালন করেছি।
14 আর এখন আপনি বলছেন, যাও, তোমার প্রভুকে বল, দেখুন, ইলিয়াস উপস্থিত; তিনি তো আমাকে হত্যা করবেন।
15 ইলিয়াস বললেন, আমি যাঁর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান, সেই বাহিনীগণের জীবন্ত মাবুদের কসম, আমি আজ অবশ্য তাঁকে দেখা দেব।
16
তখন ওবদিয় আহাবের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলেন ও তাঁকে সংবাদ দিলেন; তাতে আহাব ইলিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন।
17 ইলিয়াসের দেখা পাওয়ামাত্র আহাব তাঁকে বললেন, হে ইসরাইলের কাঁটা, এ কি তুমি?
18 ইলিয়াস বললেন, আমি ইসরাইলের কাঁটা নই, কিন্তু আপনি ও আপনার পিতৃকুল ইসরাইলের কাঁটা; কেননা আপনারা মাবুদের সমস্ত হুকুম ত্যাগ করেছেন এবং আপনি বালদেবদের অনুগামী হয়েছেন।
19 এখন লোক পাঠিয়ে সমস্ত ইসরাইলকে কর্মিল পর্বতে আমার কাছে জমায়েত করুন এবং বালের নবী সেই চার শত পঞ্চাশজন ও আশেরার নবী সেই চারশোজনকেও উপস্থিত করুন, যারা ঈষেবলের সঙ্গে একই মেজে ভোজন করে থাকে।
20
তাতে আহাব সমস্ত বনি-ইসরাইলের কাছে লোক পাঠালেন এবং সেই নবীদেরকে কর্মিল পর্বতে একত্র করলেন।
21 পরে ইলিয়াস সমস্ত লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমরা কতকাল দুই নৌকায় পা দিয়ে থাকবে? মাবুদ যদি আল্লাহ্ হন, তবে তাঁর অনুগামী হও; আর বাল যদি আল্লাহ্ হয়, তবে তাঁর অনুগামী হও। কিন্তু লোকেরা তাঁকে কোন জবাব দিল না।
22 তখন ইলিয়াস লোকদেরকে বললেন, আমি, কেবল একা আমিই, মাবুদের নবী অবশিষ্ট আছি; কিন্তু বালের নবীরা চার শত পঞ্চাশ জন আছে।
23 আমাদেরকে দু’টি ষাঁড় দেওয়া হোক; তারা তাদের জন্য একটি ষাঁড় মনোনীত করুক ও খণ্ড খণ্ড করে কাঠের উপরে রাখুক, কিন্তু তাতে আগুন না দিক; পরে আমি অন্য ষাঁড়টি প্রস্তুত করে কাঠের উপরে রাখবো, কিন্তু তাতে আগুন দেব না।
24 পরে তোমরা তোমাদের দেবতার নামে ডেকো এবং আমি মাবুদের নামে ডাকব; আর যে আল্লাহ্ আগুনের দ্বারা উত্তর দেবেন, তিনিই আল্লাহ্ হোন। সকলে জবাবে বললো, বেশ ভাল কথা।
25 পরে ইলিয়াস বালের নবীদেরকে বললেন, তোমরা তো অনেকে আছ, প্রথমে তোমরাই তোমাদের জন্য একটা ষাঁড় নির্বাচন করে প্রস্তুত কর এবং তোমাদের দেবতার নামে ডাক, কিন্তু আগুন দিও না।
26 পরে তাদেরকে যে ষাঁড় দেওয়া হল, তা নিয়ে তারা প্রস্তুত করলো এবং সকাল থেকে মধ্যাহ্নকাল পর্যন্ত এই বলে বালের নামে ডাকতে লাগল, হে বাল, আমাদেরকে উত্তর দাও। কিন্তু কোন বাণী হল না এবং কেউই উত্তর দিল না। আর তারা যে কোরবানগাহ্ তৈরি করেছিল তার কাছে খোঁড়ার মত নাচতে লাগল।
27 পরে মধ্যাহ্নকালে ইলিয়াস তাদেরকে বিদ্রূপ করে বললেন, উচ্চৈঃস্বরে ডাক; কেননা সে দেবতা; সে ধ্যান করছে, বা কোথাও গেছে, বা পথে চলছে, কিংবা হয়তো ঘুমিয়ে গেছে, তাকে জাগানো চাই।
28 তখন তারা উচ্চৈঃস্বরে ডাকল এবং তাদের রীতি অনুসারে শরীর রক্তের ধারা বহন পর্যন্ত ছুরিকা ও শলাকা দ্বারা নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করলো।
29 আর মধ্যাহ্নকাল অতীত হলে তারা বিকাল বেলা কোরবানীর সময় পর্যন্ত ভাবোক্তি প্রচার করতে থাকল, তবুও কোন বাণীও হল না, কেউ জবাবও দিল না, কেউ মনোযোগও করলো না।
30
পরে ইলিয়াস সমস্ত লোককে বললেন, আমার কাছে এসো; তাতে সমস্ত লোক তাঁর কাছে এল। আর তিনি মাবুদের ভেঙ্গে-পড়া কোরবানগাহ্ সারালেন।
31 কারণ ‘তোমার নাম ইসরাইল হবে,’ এই বলে মাবুদের কালাম যে ইয়াকুবের কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তাঁর সন্তানদের বংশ-সংখ্যা অনুসারে ইলিয়াস বারোটি পাথর গ্রহণ করলেন।
32 আর তিনি সেই পাথরগুলো দিয়ে মাবুদের নামে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন এবং কোরবানগাহ্র চারদিকে দুই কাঠা বীজ ধরতে পারে, এমন একটি প্রণালী খনন করলেন।
33 পরে তিনি কাঠ সাজিয়ে ষাঁড়টি খণ্ড খণ্ড করে কাঠের উপরে রাখলেন। আর বললেন, চার জালা পানি ভরে এই পোড়ানো-কোরবানীর ও কাঠের উপরে ঢেলে দাও।
34 পরে তিনি বললেন, দ্বিতীয় বার সেটি কর; তারা দ্বিতীয় বার তা করলো। পরে তিনি বললেন, তৃতীয় বার কর; তারা তৃতীয় বার তা করলো।
35 তখন কোরবানগাহ্র চারদিকে পানি গেল এবং তিনি ঐ প্রণালীও পানিতে পরিপূর্ণ করলেন।
36
পরে বিকাল বেলা কোরবানী সময়ে ইলিয়াস নবী কাছে এসে বললেন, হে মাবুদ, ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইসরাইলের আল্লাহ্, আজ জানিয়ে দাও যে, ইসরাইলের মধ্যে তুমিই আল্লাহ্ এবং আমি তোমার গোলাম ও তোমার কালাম অনুসারেই এসব কাজ করলাম।
37 হে মাবুদ, আমাকে উত্তর দাও, আমাকে উত্তর দাও; যেন এই লোকেরা জানতে পারে যে, হে মাবুদ, তুমিই আল্লাহ্ এবং তুমিই এদের অন্তর ফিরিয়ে এনেছ।
38 তখন উপর থেকে মাবুদের আগুন পড়লো এবং পোড়ানো-কোরবানী, কাঠ, পাথর ও ধূলি গ্রাস করলো এবং প্রণালীস্থিত পানিও চেটে খেল।
39 তা দেখে সমস্ত লোক উবুড় হয়ে পড়ে বললো, মাবুদই আল্লাহ্, মাবুদই আল্লাহ্।
40 তখন ইলিয়াস তাদেরকে বললেন, তোমরা বালের নবীদেরকে ধর, তাদের এক জনকেও পালিয়ে রক্ষা পেতে দিও না। তখন তারা তাদেরকে ধরলো, আর ইলিয়াস তাদেরকে নিয়ে কীশোন স্রোতোমার্গে নেমে গেলেন এবং সেখানে তাদেরকে হত্যা করলেন।
41
পরে ইলিয়াস আহাবকে বললেন, আপনি গিয়ে ভোজন পান করুন, কেননা ভারী বৃষ্টির আওয়াজ হচ্ছে।
42 তাতে আহাব ভোজন পান করতে উঠে গেলেন। আর ইলিয়াস কর্মিলের শৃঙ্গে উঠলেন; এবং ভূমির দিকে নত হয়ে তাঁর মুখ দুই জানুর মধ্যে রাখলেন।
43 আর তিনি তাঁর ভৃত্যকে বললেন, তুমি উঠে যাও, সমুদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত কর। তাতে সে গিয়ে দৃষ্টিপাত করে বললো, কিছুই নেই। এভাবে সাত বার ইলিয়াস তাকে ফিরে গিয়ে দেখতে বললেন।
44 পরে সপ্তম বারে সে বললো, দেখুন, মানুষের হাতের মত ক্ষুদ্র একখানি মেঘ সমুদ্র থেকে উঠছে। তখন ইলিয়াস বললেন, উঠে গিয়ে আহাবকে বল, রথে ঘোড়া যুড়ে নেমে যান, নাহলে বৃষ্টিতে আপনার ফিরে যাওয়া বাধা সৃষ্টি করবে।
45 আর অমনি মেঘে ও বায়ুতে আসমান ঘোর হয়ে উঠলো ও ভারী বৃষ্টি হল; তাতে আহাব ঘোড়ার গাড়িতে আরোহণ করে যিষ্রিয়েলে গমন করলেন।
46 আর মাবুদের হাত ইলিয়াসের উপরে অবস্থান করছিল, তাই তিনি কোমরবন্ধনী পরে যিষ্রিয়েলের প্রবেশ-স্থান পর্যন্ত আহাবের আগে আগে দৌড়ে গেলেন।
1
আর ইলিয়াস যা যা করেছিলেন এবং কেমন করে তিনি সমস্ত নবীকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করেছিলেন তার সবই আহাব ঈষেবলকে বললেন।
2 তাতে ঈষেবল ইলিয়াসের কাছে দূত পাঠিয়ে বললো, আগামীকাল এমন সময়ে যদি আমি তোমার প্রাণকে তাদের এক জনের প্রাণের সমান না করি, তবে দেবতারা আমাকে তেমন ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন।
3 ইলিয়াস তা দেখে উঠলেন এবং প্রাণ রক্ষা করবার জন্য চলে গেলেন, আর এহুদার অন্তর্গত বেরশেবাতে উপস্থিত হয়ে সেখানে তাঁর ভৃত্যটিকে রাখলেন।
4
কিন্তু তিনি নিজে একদিনের পথ মরুভূমিতে অগ্রসর হয়ে একটি রোতম গাছের কাছে গিয়ে তার তলে বসলেন এবং নিজের মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করলেন; বললেন, এই যথেষ্ট; হে মাবুদ, এখন আমার প্রাণ নাও, কেননা আমার পূর্বপুরুষদের থেকে আমি উত্তম নই।
5 পরে তিনি একটি রোতম গাছের তলে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন; আর দেখ, এক জন ফেরেশতা তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, উঠ, আহার কর।
6 তিনি চেয়ে দেখলেন, তাঁর শিয়রে উতপ্ত পাথরে সেঁকা একখানি রুটি ও এক পাত্র পানি রয়েছে; তখন তিনি ভোজন পান করে পুনর্বার শয়ন করলেন।
7 পরে মাবুদের ফেরেশতা দ্বিতীয় বার তাঁর কাছে এসে তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, উঠ, আহার কর, কেননা তোমার শক্তির চেয়েও পথ অনেক বেশি।
8 তাতে তিনি উঠে ভোজন পান করলেন এবং সেই খাদ্যের প্রভাবে চল্লিশ দিনরাত গমন করে আল্লাহ্র পর্বত হোরেবে উপস্থিত হলেন।
9
পরে তিনি সেখানে একটি গহ্বরে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানে রাত যাপন করলেন। আর দেখ, তাঁর কাছে মাবুদের কালাম নাজেল হল; তিনি বললেন, ইলিয়াস, তুমি এখানে কি করছো?
10
ইলিয়াস বললেন, আমি বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদের পক্ষে অতিশয় উদ্যোগী হয়েছি; কেননা বনি-ইসরাইল তোমার নিয়ম ত্যাগ করেছে, তোমার সমস্ত কোরবানগাহ্ উৎপাটন করেছে ও তোমার নবীদেরকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করেছে; আর আমি, কেবল একা আমিই অবশিষ্ট রইলাম; আর তারা আমার প্রাণ নিতে চেষ্টা করছে।
11
পরে তিনি বললেন, তুমি বের হয়ে এই পর্বতে মাবুদের সম্মুখে দাঁড়াও। আর দেখ, মাবুদ সেই স্থান দিয়ে গমন করলেন; এবং মাবুদের অগ্রগামী প্রবল প্রচণ্ড বায়ু পর্বতমালা বিদীর্ণ করলো ও সমস্ত শৈল ভেঙে ফেললো; কিন্তু সেই বায়ুতে মাবুদ ছিলেন না। বায়ুর পরে ভূমিকম্প হল, কিন্তু সেই ভূমিকম্পে মাবুদ ছিলেন না।
12 ভূমিকম্পের পরে আগুন হল, কিন্তু সেই আগুনে মাবুদ ছিলেন না। আগুনের পরে কিছুটা শব্দকারী ক্ষুদ্র একটি স্বর শোনা গেল;
13 তা শোনামাত্র ইলিয়াস শাল দিয়ে মুখ ঢাকলেন এবং বাইরে গিয়ে গহ্বরের মুখে দাঁড়ালেন। আর দেখ, তাঁর প্রতি এই বাণী হল, ইলিয়াস, তুমি এখানে কি করছো?
14 তিনি বললেন, আমি বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদের পক্ষে অতিশয় উদ্যোগী হয়েছি; কেননা বনি-ইসরাইল তোমার নিয়ম ত্যাগ করেছে, তোমার সমস্ত কোরবানগাহ্ উৎপাটন করেছে ও তোমার নবীদেরকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করেছে; আর আমি, কেবল একা আমিই অবশিষ্ট রইলাম; আর তারা আমার প্রাণ নিতে চেষ্টা করছে।
15 তখন মাবুদ তাঁকে বললেন, তুমি যাও, নিজের পথে ফিরে দামেস্কের মরু-ভূমিতে গমন কর, পরে গিয়ে হসায়েলকে অরামের উপরে বাদশাহ্র পদে অভিষেক কর,
16 এবং নিম্শির পুত্র যেহূকে ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্র পদে অভিষেক কর; আর তোমার পদে নবী হবার জন্য আবেল-মহোলা নিবাসী শাফটের পুত্র আল-ইয়াসাকে অভিষেক কর।
17 তাতে যে ব্যক্তিই হসায়েলের তলোয়ার এড়াবে, যেহূ তাকে হত্যা করবে; যে ব্যক্তিই যেহূর তলোয়ার এড়াবে, আল-ইয়াসা তাকে হত্যা করবে।
18 কিন্তু ইসরাইলের মধ্যে আমি আমার জন্য সাত হাজার লোককে অবশিষ্ট রাখবো, তারা বালের সম্মুখে তাদের হাঁটু পাতে নি ও তাকে চুম্বনও করে নি।
19
পরে তিনি সেই স্থান থেকে গিয়ে শাফটের পুত্র আল-ইয়াসার দেখা পেলেন; সেই সময়ে তিনি হাল বইতেছিলেন; বারো জোড়া বলদ তাঁর আগে ছিল এবং শেষ জোড়ার সঙ্গে তিনি নিজে ছিলেন। ইলিয়াস তাঁর কাছ পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে তাঁর শাল তাঁর গায়ে ফেলে দিলেন।
20 তাতে তিনি সমস্ত বলদ ত্যাগ করে ইলিয়াসের পেছন পেছন দৌড়ে গিয়ে তাঁকে বললেন, আরজ করি, অনুমতি দিন, আমি আমার মাতা পিতাকে চুম্বন করে আসি, পরে আপনাকে অনুসরণ করবো। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি ফিরে যাও, বল দেখি, আমি তোমার কি করলাম?
21 পরে তিনি তাঁকে ছেড়ে ফিরে গেলেন এবং সেই বলদ জোড়া নিয়ে কোরবানী করলেন এবং তাদের জোয়ালির কাঠ দিয়ে গোশ্ত রান্না করলেন, পরে লোকদের দিলে তারা ভোজন করলো। তখন তিনি উঠে ইলিয়াসের পিছনে চললেন ও তাঁর পরিচর্যা করতে লাগলেন।
1
আর অরামের বাদশাহ্ বিন্হদদ তাঁর সমস্ত সৈন্য একত্র করলেন; তাঁর সঙ্গে বত্রিশ জন বাদশাহ্ এবং অনেক ঘোড়া ও রথ ছিল; তিনি গিয়ে সামেরিয়া অবরোধ করলেন ও সেই নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
2 তিনি নগরে ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের কাছে দূতদেরকে পাঠিয়ে বললেন, বিন্হদদ এই কথা বলেন,
3 তোমার রূপা ও তোমার সোনা আমার এবং তোমার সমস্ত স্ত্রী ও তোমার সন্তানদের মধ্যে যারা উত্তম, তারা আমার।
4 ইসরাইলের বাদশাহ্ জবাব দিয়ে বললেন, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আপনার কথা যথার্থ, আমি আপনার এবং আমার সর্বস্বই আপনার।
5 পরে দূতেরা আবার এসে বললো, বিন্হদদ এই কথা বলেন, আমি তোমার কাছে দূতদেরকে পাঠিয়ে বলেছিলাম, তুমি তোমার রূপা ও সোনা এবং স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমার হাতে তুলে দাও।
6 কিন্তু আগামীকাল এই সময়ে আমি আমার গোলামদেরকে তোমার কাছে পাঠাব, তারা তোমার ও তোমার গোলামদের বাড়িতে অনুসন্ধান করবে এবং যত দ্রব্য তোমার দৃষ্টিতে রমণীয়, সেসব হাতে করে নিয়ে আসবে।
7
তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ দেশের সমস্ত প্রাচীন লোকদেরকে ডেকে বললেন, আরজ করি, বিবেচনা করে দেখ, এই ব্যক্তি কেবল অনিষ্টের চেষ্টা করছে, কেননা এই লোকটি আমার স্ত্রী ও পুত্রদের জন্য এবং আমার রূপা ও সোনার জন্য হুকুম পাঠালে আমি তা দিতে অস্বীকার করি নি।
8 জবাবে সমস্ত প্রাচীন লোক ও সমস্ত লোক তাঁকে বললো, আপনি শুনবেন না, সম্মত হবেন না।
9 তখন তিনি বিন্হদদের দূতদেরকে বললেন, আমার মালিক বাদশাহ্কে বল, আপনি প্রথমে আপনার গোলামের কাছে যা কিছু বলে পাঠিয়েছিলেন, সেসব আমি করবো; কিন্তু এই কাজ করতে পারি না। পরে দূতেরা প্রস্থান করলো এবং বিন্হদদকে সংবাদ দিল।
10 তখন বিন্হদদ তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, সামেরিয়ার ধূলি যদি আমার পিছনে থাকা সমস্ত লোক মুষ্টিতে ভরে নিয়ে না আনতে পারে, তবে দেবতারা আমাকে অমুক ও ততোধিক দণ্ড দিন।
11 তাতে ইসরাইলের বাদশাহ্ জবাবে বললেন, তোমরা তাঁকে বল, যে ব্যক্তি সাজ-পোশাক ধারণ করে, সে সাজ-পোশাক ত্যাগীর মত গর্ব না করুক।
12 বিন্হদদের কাছে এই সংবাদ গিয়ে যখন পৌঁছাল তখন তিনি ও অন্য বাদশাহ্রা কুটিরে কুটিরে পান করছিলেন; তিনি তাঁর গোলামদেরকে বললেন, সৈন্য তৈরি করতে বল। তাতে তারা নগরের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রস্তুত করতে লাগল।
13
আর দেখ, এক জন নবী ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের কাছে এসে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি কি ঐ মস্ত বড় সৈন্যদলটা দেখেছ? দেখ, আজ আমি ওদের তোমার হাতে তুলে দেব; তাতে তুমি জানতে পারবে যে, আমিই মাবুদ।
14 আহাব বললেন, কার দ্বারা করবেন? নবী বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, প্রদেশের শাসনকর্তাদের যুবকদের দ্বারা। বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করলেন, যুদ্ধের আরম্ভ কে করবে? তিনি বললেন, আপনি।
15 তখন তিনি বিভিন্ন প্রদেশের শাসনকর্তাদের যুবকদেরকে সংগ্রহ করলেন, তারা দুই শত বত্রিশ জন হল; এবং তাদের পিছনে সমস্ত লোক অর্থাৎ সমস্ত বনি-ইসরাইলকে সংগ্রহ করলে সাত হাজার জন হল।
16
পরে তারা মধ্যাহ্নকালে বের হল। তখন বিনহ্দদ ও অন্য বাদশাহ্রা, তাঁর সহায় বত্রিশ জন বাদশাহ্, কুটিরে কুটিরে পান করে মাতাল হয়েছিলেন।
17 প্রদেশের শাসনকর্তাদের সেই যুবকেরাই প্রথমেই বাইরে গেল, তখন বিন্হদদ লোক পাঠালে তারা তাঁকে সংবাদ দিল, সামেরিয়া থেকে কয়েক জন লোক বের হয়ে এসেছে।
18 তিনি বললেন, তারা যদি সন্ধির জন্য এসে থাকে তবে তোমরা তাদেরকে জীবন্ত ধর। যদি যুদ্ধের জন্যও এসে থাকে তবু জীবন্ত ধর।
19
ইতোমধ্যে ওরা, প্রদেশের শাসন-কর্তাদের সেই যুবকরা ও তাদের পিছনে থাকা সৈন্যদল নগর থেকে বের হল।
20 আর তারা প্রত্যেকে যার যার বাধাদানকারীকে হত্যা করলো, তাতে অরামীয়েরা পালিয়ে গেল, আর ইসরাইল তাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেল এবং অরামরাজ বিন্হদদ ঘোড়ায় উঠে কয়েকজন ঘোড়-সওয়ার সৈন্যের সঙ্গে পালিয়ে রক্ষা পেলেন।
21 পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ বের হয়ে তাদের ঘোড়া ও সমস্ত রথ বিনষ্ট করলেন এবং মহাবিক্রমে অরামীয়দেরকে সংহার করলেন।
22
পরে সেই নবী ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে এসে বললেন, আপনি গিয়ে নিজেকে বলবান করুন এবং সাবধান হয়ে আপনার কর্তব্য বিবেচনা করুন, কেননা বছর ফিরলে আবার অরামের বাদশাহ্ আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবেন।
23
আর অরামের বাদশাহ্র গোলামেরা তাঁকে বললো, ওদের দেবতা পর্বতমালার দেবতা, এজন্য আমাদের চেয়ে ওরা বলবান হয়েছিল; কিন্তু চলুন, আমরা সমভূমিতে ওদের সঙ্গে যুদ্ধ করি, অবশ্য ওদের চেয়ে আমরা বলবান হবো।
24 আপনি এই কাজ করুন, বাদশাহ্দেরকে সরিয়ে দিয়ে তাঁদের স্থানে সেনাপতিদেরকে নিযুক্ত করুন।
25 আর আপনার পক্ষের যত সৈন্য, যত ঘোড়া ও রথ হারিয়েছেন, তত সৈন্য তত ঘোড়া ও রথ সংগ্রহ করুন; পরে আমরা সমভূমিতে ওদের সঙ্গে যুদ্ধ করবো, করলে অবশ্য ওদের চেয়ে বলবান হবো। তিনি তাদের কথা শুনে সেই অনুসারে কাজ করলেন।
26
বছর ফিরে আসলে বিন্হদদ অরামীয়দেরকে সংগ্রহ করে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অফেকে গেলেন।
27 আর বনি-ইসরাইলদের সংগ্রহ করা হল এবং তারা খাদ্যদ্রব্যাদি প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে যাত্রা করলো; আর বনি-ইসরাইল দু’টি ক্ষুদ্র ছাগল পালের মত তাদের সম্মুখে শিবির স্থাপন করলো; কিন্তু অরামীয়েরা দেশময় ছেয়ে গেল।
28 পরে আল্লাহ্র এক জন লোক এসে ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, অরামীয়েরা বলেছে, মাবুদ পর্বতমালার দেবতা, সমভূমির দেবতা নন; এজন্য আমি এ সব মহাজনতাকে তোমার হাতে তুলে দেব, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
29 আর তারা সাত দিন পর্যন্ত সম্মুখাসম্মুখি হয়ে শিবিরে রইলো, পরে সপ্তম দিনে যুদ্ধ শুরু হল; তাতে বনি-ইসরাইল এক দিনে অরামের এক লক্ষ পদাতিক সৈন্যকে সংহার করলো;
30 কিন্তু অবশিষ্ট সকলে অফেকে পালিয়ে গেল, নগরে প্রবেশ করলো আর তার নগরের প্রাচীর সেই অবশিষ্ট সাতাশ হাজার লোকের উপরে ধ্বসে পড়লো। আর বিন্হদদ পালিয়ে নগরে গিয়ে একটি ভিতরের কুঠরীতে প্রবেশ করলেন।
31
পরে তাঁর গোলামেরা তাঁকে বললো, দেখুন, আমরা শুনেছি, ইসরাইল-কুলের বাদশাহ্রা দয়ালু বাদশাহ্, আরজ করি, আমরা কোমরে চট পরে মাথায় দড়ি দিয়ে বের হয়ে ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে যাই, হয় তো তিনি আপনার প্রাণ রক্ষা করবেন।
32 পরে তারা কোমরে চট পরে মাথায় দড়ি দিয়ে ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে এসে বললো, আপনার গোলাম বিন্হদদ বলছেন, আরজ করি, আমার প্রাণ রক্ষা করুন। তিনি বললেন, তিনি কি এখনও জীবিত আছেন? তিনি আমার ভাই।
33 সেই লোকেরা এটি শুভ লক্ষণ বিবেচনা করলো এবং তাঁর মনের ভাব বুঝে তাড়াতাড়ি করে বললো, হ্যাঁ, আপনার ভাই বিন্হদদ। তিনি বললেন, তোমরা গিয়ে তাঁকে আন। তাতে বিন্হদদ বের হয়ে তাঁর কাছে আসলেন, আর তিনি তাঁকে রথে উঠিয়ে নিলেন।
34 তখন বিন্হদদ তাঁকে বললেন, আপনার পিতার কাছ থেকে আমার পিতা যেসব নগর অধিকার করেছিলেন, সেগুলো আমি ফিরিয়ে দেব; এবং আমার পিতা যেমন সামেরিয়াতে বাজার বসিছেন, তেমনি আপনিও দামেস্কে আপনার জন্য বাজার বসান। আহাব বললেন, আমি এই নিয়মে আপনাকে ছেড়ে দেব। পরে তিনি তাঁর সঙ্গে নিয়ম স্থির করে তাঁকে ছেড়ে দিলেন।
35
পরে সাহাবী-নবীদের মধ্যে এক জন মাবুদের কালাম দ্বারা তার সহ-সাহাবীকে বললো, তুমি আমাকে আক্রমণ কর। কিন্তু সে তাকে আক্রমণ করতে সম্মত হল না।
36 তখন সে তাকে বললো, তুমি মাবুদের কথা মান্য করলে না, এই কারণে দেখ, আমার কাছ থেকে যাওয়া মাত্র একটি সিংহ তোমাকে হত্যা করবে। পরে সে তার কাছ থেকে যাওয়া মাত্র একটি সিংহ তাকে দেখতে পেয়ে হত্যা করলো।
37 পরে সে আর এক জনকে দেখতে পেয়ে বললো, তুমি আমাকে আক্রমণ কর। এই ব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে ক্ষত করলো।
38 পরে সেই নবী গিয়ে ছদ্মবেশে চোখের উপরাংশে পাগড়ী বেঁধে পথে বাদশাহ্র অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলো।
39 পরে যখন বাদশাহ্ কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে বাদশাহ্র কাছে কেঁদে কেঁদে বললো, আপনার গোলাম আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম, আর দেখুন, এক ব্যক্তি পাশে ফিরে আমার কাছে একটা লোককে এনে বললো; এই ব্যক্তিকে সাবধানে রাখ; একে যদি কোনক্রমে না পাওয়া যায়, তবে এর প্রাণের পরিবর্তে তোমার প্রাণ যাবে, নতুবা তোমাকে এক তালন্ত রূপা দিতে হবে।
40 কিন্তু আপনার গোলাম আমি এদিকে ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম, ইতোমধ্যে সে কোথায় চলে গেল। তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ তাকে বললেন, ঐরূপই তোমার বিচার হবে; তুমি নিজেই তা স্থির করলে।
41 পরে সে শীঘ্র তাঁর চোখের উপর থেকে পাগড়ীটি উঠিয়ে নিল, তাতে ইসরাইলের বাদশাহ্ চিনতে পারলেন যে, সে নবীদের মধ্যে এক জন।
42 পরে সে তাঁকে বললো, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যে ব্যক্তিকে বিনাশের জন্য বর্জন করেছিলাম, তাকে তুমি তোমার হাত থেকে ছেড়ে দিয়েছ; এজন্য তার প্রাণের পরিবর্তে তোমার প্রাণ ও তার লোকের পরিবর্তে তোমার লোক বিনষ্ট হবে।
43 তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ বিষণ্ন ও রুষ্ট হয়ে বাড়িতে গেলেন, পরে সামেরিয়াতে উপস্থিত হলেন।
1
এর পরে এই ঘটনা হল; যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের একটি আঙ্গুর-ক্ষেত ছিল, তা ছিল যিষ্রিয়েলে সামেরিয়ার বাদশাহ্ আহাবের রাজপ্রাসাদের পাশেই।
2 আহাব নাবোৎকে বললেন, তোমার আঙ্গুরক্ষেতটি আমাকে দাও; আমি তা সব্জির ক্ষেত করবো, কারণ ওটা আমার বাড়ির কাছে; ওটার পরিবর্তে তোমাকে আরও উত্তম একখানি আঙ্গুরক্ষেত দেব; কিংবা যদি তুমি ভাল মনে কর, তবে তার মূল্য অনুসারে রূপার মুদ্রা তোমাকে দেব।
3 নাবোৎ আহাবকে বললেন, আমি যে আমার পৈতৃক অধিকার আপনাকে দিই, মাবুদ তা নিবারণ করুন।
4 তখন, ‘আমি পৈতৃক অধিকার আপনাকে দেব না,’ যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের উচ্চারিত এই কথায় আহাব বিষণ্ন ও রুষ্ট হয়ে তাঁর বাড়িতে আসলেন এবং বিছানায় শুয়ে রইলেন, মুখ ফিরিয়ে থাকলেন, খাদ্য গ্রহণ করলেন না।
5
তখন তাঁর স্ত্রী ঈষেবল তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললো, তোমার মন এমন বিষণ্ন কেন যে, তুমি আহার কর না?
6 তিনি তাকে বললেন, আমি যিষ্রিয়েলীয় নাবোৎকে বলেছিলাম, টাকা নিয়ে তোমার আঙ্গুরক্ষেতটি আমাকে দাও; কিংবা যদি সন্তুষ্ট হও, তবে আমি তার পরিবর্তে আর একখানি আঙ্গুরক্ষেত তোমাকে দেব; তাতে সে জবাবে বললো, আমি আমার আঙ্গুরক্ষেত আপনাকে দেব না।
7 তখন তাঁর স্ত্রী ঈষেবল তাঁকে বললো, এখন তুমিই না ইসরাইলে রাজত্ব করছো? উঠ, আহার কর; তোমার অন্তর প্রফুল্ল হোক; আমি যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের আঙ্গুরক্ষেত তোমাকে দেব।
8
পরে সে আহাবের নাম করে কয়েকটি পত্র লিখে তাঁর মুদ্রায় মুদ্রাঙ্কিত করলো, আর নাবোতের প্রতিবেশীদের, তাঁর বসতি-নগরের প্রাচীন ও প্রধান লোকদের কাছে সেসব পত্র প্রেরণ করলো।
9 পত্রে সে এই কথা লিখেছিল, তোমরা রোজা ঘোষণা কর ও লোকদের মধ্যে নাবোৎকে উঁচু স্থানে বসাও।
10 আর পাষণ্ড দুই জন পুরুষকে তার সম্মুখে বসিয়ে দাও; তাঁরা তার বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য দিক যে, ‘তুমি আল্লাহ্ ও বাদশাহ্র বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলেছ’। পরে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথর ছুঁড়ে হত্যা কর।
11 পরে তার নগরস্থ লোকেরা, নগরবাসী প্রাচীন ও প্রধানবর্গ, ঈষেবলের প্রেরিত হুকুম অনুসারে, তার প্রেরিত পত্রের লিখন অনুসারে, কাজ করলো।
12 তারা রোজা ঘোষণা করলো এবং লোকদের মধ্যে নাবোৎকে উঁচু স্থানে বসালো।
13 পরে পাষণ্ড দুই পুরুষ এসে তার সম্মুখে বসলো; সেই দুই পাষণ্ড পুরুষ লোকদের সাক্ষাতে নাবোতের বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য দিল যে, নাবোৎ আল্লাহ্ ও বাদশাহ্র বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলেছে। তাতে লোকেরা তাঁকে নগরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করলো।
14 পরে তারা ঈষেবলের কাছে এই সংবাদ পাঠাল, নাবোৎকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়েছে।
15
নাবোৎকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা হয়েছে শোনামাত্র ঈষেবল আহাবকে বললো, উঠ, যিষ্রিয়েলীয় নাবোৎ টাকায় যে আঙ্গুরক্ষেত আমাকে দিতে অসম্মত ছিল, তা গিয়ে অধিকার কর; কেননা নাবোৎ জীবিত নেই, তার মৃত্যু হয়েছে।
16 তখন নাবোতের মৃত্যু হয়েছে, এই কথা শুনে আহাব যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের আঙ্গুরক্ষেত অধিকার করতে গেলেন।
17
আর তিশ্বীয় ইলিয়াসের কাছে মাবুদের এই কালাম উপস্থিত হল,
18 উঠ, সামেরিয়া-নিবাসী ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাও; দেখ সে নাবোতের আঙ্গুরক্ষেতে রয়েছে, সে তা অধিকার করতে গেছে।
19 তুমি তাকে বলবে, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি কি হত্যা করে অন্যের অধিকার হরণ কর নি? আর তাকে বলবে, মাবুদ এই কথা বলেন, যে স্থানে কুকুরেরা নাবোতের রক্ত চেটে খেয়েছে, সেই স্থানে কুকুরেরা তোমার রক্তও চেটে খাবে।
20
তখন আহাব ইলিয়াসকে বললেন, হে আমার দুশমন, তুমি কি আমাকে পেয়েছ? তিনি বললেন, তোমাকে পেয়েছি; কারণ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তুমি তা-ই করার জন্য নিজেকে বিক্রি করেছ।
21 দেখ, আমি তোমার অমঙ্গল উপস্থিত করবো ও তোমাকে নিঃশেষে বিলীন করবো; এবং আহাব-বংশের প্রত্যেক পুরুষ এবং ইসরাইলের মধ্যে সমস্ত লোককে উচ্ছেদ করবো— সে কেনা গোলামই হোক বা স্বাধীন মানুষই হোক।
22 আর আমি তোমার কুল নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের কুলের সমান ও অহিয়ের পুত্র বাশার কুলের সমান করবো; এর কারণ তোমার সেই অসন্তোষজনক আচার ব্যবহার যা দ্বারা তুমি আমাকে অসন্তুষ্ট করেছ, আর ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছ।
23 আবার ঈষেবলের বিষয়েও মাবুদ বললেন যে, কুকুরেরা যিষ্রিয়েলের দুর্গপ্রাচীরের কাছে ঈষেবলকে খেয়ে ফেলবে।
24 আহাবের যে কেউ নগরে মারা যাবে, কুকুরেরা তাকে খাবে; এবং যে কেউ মাঠে মারা যাবে, আসমানের পাখিরা তাকে খাবে।
25 (আহাব, যিনি তাঁর স্ত্রী ঈষেবল কর্তৃক উত্তেজিত হয়ে মাবুদের সাক্ষাতে কদাচরণ করতে নিজেকে বিক্রি করেছিলেন, তার মত আর কেউ কখনও হয় নি।
26 আর মাবুদ যে ইমোরীয়দেরকে বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে অধিকারচ্যুত করেছিলেন, তাদের সমস্ত কাজ অনুসারে তিনি প্রতিমা পূজা করে অতিশয় ঘৃণার কাজ করতেন।)
27
আহাব যখন ঐ সমস্ত কথা শুনলেন, তখন তাঁর কাপড় ছিঁড়লেন এবং গায়ে চট বেঁধে রোজা করলেন, চটে শয়ন করলেন এবং ধীরে ধীরে চলাফেরা করলেন।
28 পরে তিশ্বীয় ইলিয়াসের কাছে মাবুদের এই কালাম উপস্থিত হল,
29 আহাব আমার সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করেছে, তা কি তুমি দেখছ? সে আমার সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করেছে, এজন্য আমি তার জীবনকালে ঐ অমঙ্গল ঘটাবো না, কিন্তু তার পুত্রের জীবনকালে তার কুলে সেই অমঙ্গল উপস্থিত করবো।
1
পরে তিন বছর পর্যন্ত উভয় পক্ষ ক্ষান্ত রইলো; অরামের ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ হল না।
2 তৃতীয় বছরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে আসলেন।
3 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ তাঁর গোলামদের বললেন, রামোৎ-গিলিয়দ যে আমাদের, তা কি তোমরা জান না? কিন্তু আমরা অরামের বাদশাহ্র হাত থেকে তা না নিয়ে চুপ করে আছি।
4 আর তিনি যিহোশাফটকে বললেন, আপনি কি যুদ্ধ করার জন্য রামোৎ-গিলিয়দে আমার সঙ্গে যাবেন? যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, আমি ও আপনি, আমার লোক ও আপনার লোক এবং আমার ঘোড়া ও আপনার ঘোড়া, সবই এক।
5
পরে যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, আরজ করি, প্রথমে মাবুদের কালামের খোঁজ করুন।
6 তাতে ইসরাইলের বাদশাহ্ নবীদেরকে, অনুমান চার শত জনকে একত্র করে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবো, না ক্ষান্ত হব? তখন তারা বললো, যাত্রা করুন; প্রভু তা বাদশাহ্র হাতে তুলে দিবেন।
7 কিন্তু যিহোশাফট বললেন, এই স্থানে কি মাবুদের এমন কোন নবী নেই যে, আমরা তাঁরই কাছে খোঁজ করতে পারি?
8 ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমরা যার দ্বারা মাবুদের কাছে খোঁজ করতে পারি, এমন আর এক জন আছে, সে ইম্লের পুত্র মীখায়, কিন্তু আমি তাকে ঘৃণা করি, কেননা আমার উদ্দেশে সে মঙ্গলের নয়, কেবল অমঙ্গলের ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করে।
9 যিহোশাফট বললেন, বাদশাহ্, এমন কথা বলবেন না। তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ তাঁর এক জন কর্মচারীকে ডেকে হুকুম দিলেন, ইম্লের পুত্র মীখায়কে শীঘ্র নিয়ে এসো।
10 সেই সময়ে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও এহুদার বাদশাহ্ নিজ নিজ রাজপোশাক পরে সামেরিয়ার দ্বার-প্রবেশ-স্থানের কাছে খোলা জায়গায় যার যার সিংহাসনে বসেছিলেন এবং তাঁদের সম্মুখে নবীরা সকলে ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করছিল।
11 আর কেনানার পুত্র সিদিকিয় লোহার দু’টি শিং তৈরি করে বললো, মাবুদ এই কথা বলেন, এর দ্বারা আপনি অরামের বিনাশ সাধন পর্যন্ত আঘাত করতে থাকবেন।
12 আর নবীরা সকলেই সেরকম ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করলো, বললো, আপনি রামোৎগিলিয়দে যাত্রা করুন, কতকার্য হোন; কেননা মাবুদ তা বাদশাহ্র হাতে তুলে দেবেন।
13
আর যে দূত মীখায়কে ডাকতে গিয়েছিল, সে তাঁকে বললো, দেখুন, নবীদের সমস্ত কথা এক মুখে বাদশাহ্র পক্ষে মঙ্গল সূচনা করে; আরজ করি, আপনার কথা তাদের কোন একজনের কথার সমান হোক; আপনি মঙ্গলসূচক কথা বলুন।
14 মীখায় বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, মাবুদ আমাকে যা বলেন, আমি তা-ই বলবো।
15
পরে তিনি বাদশাহ্র কাছে আসলে বাদশাহ্ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, মীখায়, আমরা রামোৎ-গিলিয়দে যুদ্ধ করতে যাব, না ক্ষান্ত হব? তিনি তাঁকে বললেন, হ্যাঁ, যাত্রা করুন, কৃতকার্য হোন! মাবুদ তা বাদশাহ্র হাতে তুলে দেবেন!
16 বাদশাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি মাবুদের নামে আমাকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বলবে না, আমি কতবার তোমাকে এই শপথ করাব?
17 তখন তিনি বললেন, আমি সমস্ত ইসরাইলকে অরক্ষক ভেড়ার পালের মত পর্বতমালার উপরে ছিন্নভিন্ন দেখলাম এবং মাবুদ বললেন, ওদের মালিক নেই; ওরা প্রত্যেকে সহিসালামতে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাক।
18 তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমি কি আগেই আপনাকে বলি নি যে, এই ব্যক্তি আমার উদ্দেশে মঙ্গলের নয়, কেবল অমঙ্গলের ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করে?
19
আর মীখায় বললেন, এজন্য আপনি মাবুদের কালাম শুনুন; আমি দেখলাম, মাবুদ তাঁর সিংহাসনে উপবিষ্ট, আর তাঁর ডানে ও বামে তাঁর কাছে বেহেশতের সমস্ত বাহিনী দণ্ডায়মান।
20 পরে মাবুদ বললেন, আহাব যেন যাত্রা করে রামোৎ-গিলিয়দে মারা পড়ে, এজন্য কে তাকে প্রলুব্ধ করবে?
21 তাতে কেউ একভাবে, কেউ বা অন্যভাবে বললো। শেষে একটি রূহ্ গিয়ে মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললো, আমি তাকে প্রলুব্ধ করবো।
22 মাবুদ বললেন, কেমন করে? সে বললো, আমি গিয়ে তার সমস্ত নবীর মুখে মিথ্যাবাদী রূহ্ হবো। তখন তিনি বললেন, তুমি তাঁকে প্রলুব্ধ করবে, কৃতকার্যও হবে; যাও তা-ই কর।
23 অতএব দেখুন, মাবুদ আপনার এ সব নবীর মুখে মিথ্যাবাদী রূহ্ দিয়েছেন; আর মাবুদ আপনার বিষয়ে অমঙ্গলের কথা বলেছেন।
24
তখন কেনানার পুত্র সিদিকিয় কাছে এসে মীখায়ের গালে চড় মেরে বললো, মাবুদের রূহ্ তোর সঙ্গে কথা বলবার জন্য আমার কাছ থেকে কোন পথে গিয়েছিলেন?
25 মীখায় বললেন, দেখ, যেদিন তুমি লুকাবার জন্য একটি ভিতরের কুঠরীতে যাবে সেদিন তা জানবে।
26 পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ বললেন, মীখায়কে ধরে পুনরায় নগরাধ্যক্ষ আমোন ও রাজপুত্র যোয়াশের কাছে নিয়ে যাও;
27 আর বল, বাদশাহ্ এই কথা বলেন, একে কারাগারে আটক করে রাখ এবং যে পর্যন্ত আমি সহিসালামতে ফিরে না আসি, সে পর্যন্ত একে আহার করার জন্য কষ্টযুক্ত রুটি ও পানি দাও।
28 মীখায় বললেন, যদি আপনি কোন মতে সহিসালামতে ফিরে আসেন, তবে মাবুদ আমার দ্বারা কথা বলেন নি। আর তিনি বললেন, হে জাতিরা, তোমরা সকলে শোন।
29
পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দে যাত্রা করলেন।
30 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমি অন্য বেশ ধারণ করে যুদ্ধে প্রবেশ করবো, আপনি রাজপোশাকই পরে নিন। পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ অন্য বেশ ধরে যুদ্ধে প্রবেশ করলেন।
31 অরামের বাদশাহ্ তাঁর রথের বত্রিশ জন সেনাপতিকে এই হুকুম দিয়েছিলেন, তোমরা কেবল ইসরাইলের বাদশাহ্ ছাড়া তোমরা ছোট বা বড় আর কারো সঙ্গে যুদ্ধ করো না।
32 পরে রথের সেনাপতিরা যিহোশাফটকে দেখে, উনিই অবশ্য ইসরাইলের বাদশাহ্, এই বলে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এক পাশে গেলেন। তখন যিহোশাফট চেঁচিয়ে উঠলেন।
33 আর রথের সেনাপতিরা যখন দেখলেন, ইনি ইসরাইলের বাদশাহ্ নন, তখন তাঁর পিছনে তাড়া না করে ফিরে গেলেন।
34 কিন্তু একটা লোক লক্ষ্য স্থির না করেই ধনুকে টান দিয়ে ইসরাইলের বাদশাহ্র উদর-রক্ষার ও বুকপাটার সন্ধিস্থানে তীর দ্বারা আঘাত করলো; তাতে তিনি তাঁর সারথিকে বললেন, হাত ফিরিয়ে সৈন্যদলের মধ্য থেকে আমাকে নিয়ে যাও, আমি দারুণ আঘাত পেয়েছি।
35 সেই দিন তুমুল যুদ্ধ হল, আর লোকেরা অরামীয়দের সম্মুখে বাদশাহ্কে রথে দণ্ডায়মান রাখল; কিন্তু সন্ধ্যাবেলা তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর ক্ষতের রক্ত রথের মেঝেও পড়লো।
36 পরে সূর্যাস্তকালে সৈন্যদলের মধ্যে সর্বত্র এই কথা প্রচারিত হল, প্রত্যেক জন যার যার নগরে, প্রত্যেক জন যার যার দেশে চলে যাক।
37
এভাবে বাদশাহ্র মৃত্যুর পর সামেরিয়াতে আনা হলেন, আর লোকেরা সামেরিয়াতে বাদশাহ্কে দাফন করলো।
38 পরে সামেরিয়ার পুস্করিণীর ধারে তাঁর রথ ধোয়া হলে মাবুদের কথিত কালাম অনুসারে কুকুরেরা তাঁর রক্ত চেটে খেল; পতিতারা সেখানে গোসল করতো।
39 আহাবের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ এবং তিনি যে হাতির দাঁতের বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, আর যে সমস্ত নগর নির্মাণ করলেন সেই সমস্ত কথা কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
40 এভাবে আহাব তাঁর পূর্ব-পুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর তাঁর পুত্র অহসিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
41
ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের চতুর্থ বছরে আসার পুত্র যিহোশাফট এহুদায় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
42 যিহোশাফট পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে পঁচিশ বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম অসূবা, তিনি শিল্হির কন্যা।
43 যিহোশাফট তাঁর পিতা আসার সমস্ত পথে চলতেন, সেই পথ থেকে না ফিরে মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করতেন, কিন্তু সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন হয় নি, লোকেরা তখনও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো ও ধূপ জ্বালাত।
44 আর যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্র সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন।
45
যিহোশাফটের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত এবং তিনি যে যে বিক্রমের কাজ করলেন ও যেসব যুদ্ধ করলেন সেই সকল কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-কিতাবে লেখা নেই?
46 তাঁর পিতা আসার সময়ে যে পুরুষ সমকামীরা অবশিষ্ট ছিল, তাদেরকে তিনি দেশ থেকে দূর করে দিলেন।
47
সেই সময়ে ইদোমে বাদশাহ্ ছিল না, এক জন প্রতিনিধি রাজত্ব করতেন।
48 যিহোশাফট সোনার জন্য ওফীরে প্রেরণ করার জন্য তর্শীশের কয়েকটি জাহাজ নির্মাণ করলেন, কিন্তু সেগুলো গেল না, কেননা সেই জাহাজগুলো ইৎসিয়োন-গেবরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
49 তখন আহাবের পুত্র অহসিয় যিহোশাফটকে বললেন, আপনার গোলামদের সঙ্গে আমার গোলামেরা জাহাজে যাক; কিন্তু যিহোশাফট সম্মত হলেন না।
50 পরে যিহোশাফট তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হল; আর তাঁর পুত্র যিহোরাম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
51
এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের সতের বছরে আহাবের পুত্র অহসিয় সামেরিয়াতে ইসরাইলের উপর রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং তিনি দু’বছর ইসরাইলে রাজত্ব করেন।
52 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই তিনি করতেন, তাঁর পিতার পথে ও তাঁর মাতার পথে এবং নবাটের পুত্র যে ইয়ারাবিম ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর পথে চলতেন।
53 তিনি বালের সেবা করতেন, তার কাছে সেজ্দা করতেন এবং ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে অসন্তুষ্ট করতেন, তাঁর পিতা যা যা করতেন, তিনিও তা-ই করতেন।
1
আহাবের মৃত্যুর পরে মোয়াব ইসরাইলের অধীনতা ত্যাগ করলো।
2 আর অহসিয় সামেরিয়ায় অবস্থিত তাঁর বাড়ির উপরিস্থ কুঠরীর সিড়ির দরজা থেকে পড়ে গিয়ে আহত হলেন; তাতে তিনি কয়েকজন দূত পাঠালেন, তাদেরকে বললেন, যাও, ইক্রোণের দেবতা বাল্সবূবকে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর যে, এই আহত অবস্থা থেকে আমি সুস্থ হব কি না?
3 কিন্তু মাবুদের ফেরেশতা তিশ্বীয় ইলিয়াসকে বললেন, উঠ, সামেরিয়ার বাদশাহ্র দূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কর, আর তাদেরকে বল, ইসরাইলের মধ্যে কি আল্লাহ্ নেই যে, তোমরা ইক্রোণের দেবতা বাল্-সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছ?
4 অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যে পালঙ্কে উঠে শুয়েছ, তা থেকে আর নামবে না, মরবেই মরবে। পরে ইলিয়াস চলে গেলেন।
5
আর সেই দূতেরা বাদশাহ্র কাছে ফিরে গেলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেন ফিরে আসলে?
6 তারা বললো, এক জন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে আমাদের বললেন, যে বাদশাহ্ তোমাদেরকে পাঠালেন, তোমরা তাঁর কাছে ফিরে যাও, তাকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইলের মধ্যে কি আল্লাহ্ নেই যে, তুমি ইক্রোণের দেবতা বালসবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে লোক পাঠাচ্ছ? অতএব তুমি যে পালঙ্কে উঠে শুয়েছ, তা থেকে আর নামবে না, মরবেই মরবে।
7 বাদশাহ্ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে যে ব্যক্তি এসব কথা বললো, সে দেখতে কেমন?
8 তারা জবাবে বললো, তিনি লোমশ পুরুষ এবং তাঁর কোমরে চামড়ার কোমরবন্ধনী। বাদশাহ্ বললেন, উনি তিশ্বীয় ইলিয়াস।
9
পরে বাদশাহ্ পঞ্চাশ জন সেনার সঙ্গে এক জন পঞ্চাশপতিকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন; তখন সে তাঁর কাছে গেল; আর, দেখ, ইলিয়াস পর্বতের চূড়ায় বসেছিলেন। সে তাঁকে বললো, হে আল্লাহ্র লোক, বাদশাহ্ বলেছেন, তুমি নেমে এসো।
10 ইলিয়াস সেই পঞ্চাশপতিকে জবাবে বললেন, যদি আমি আল্লাহ্র লোক হই, তবে আসমান থেকে আগুন নেমে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করুক। তখন আসমান থেকে আগুন নেমে তাকে ও তার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করলো।
11
পরে বাদশাহ্ পুনর্বার পঞ্চাশ জন লোকের সঙ্গে আর এক জন পঞ্চাশপতিকে তাঁর কাছে পাঠালেন। সে গিয়ে বললো, হে আল্লাহ্র লোক, বাদশাহ্ এই কথা বলেছেন, শীঘ্র নেমে এসো।
12 ইলিয়াস জবাবে তাদেরকে বললেন, যদি আমি আল্লাহ্র লোক হই, তবে আসমান থেকে আগুন নেমে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করুক। তখন আসমান থেকে আল্লাহ্র আগুন নেমে তাকে ও তার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করলো।
13
পরে বাদশাহ্ তৃতীয় বার পঞ্চাশ জন লোকের সঙ্গে এক জন পঞ্চাশপতিকে পাঠালেন। তাতে সেই তৃতীয় পঞ্চাশপতি গিয়ে ইলিয়াসের সম্মুখে হাঁটু পেতে বিনয় পূর্বক বললো, হে আল্লাহ্র লোক, আমি আরজ করি, আমার প্রাণ এবং আপনার এই পঞ্চাশ জন গোলামের প্রাণ আপনার দৃষ্টিতে বহুমূল্য হোক।
14 দেখুন, আসমান থেকে আগুন নেমে আগে আগত দুই সেনাপতি ও তাদের পঞ্চাশ পঞ্চাশ জনকে গ্রাস করেছে; কিন্তু এখন আমার প্রাণ আপনার দৃষ্টিতে বহুমূল্য হোক।
15 তখন মাবুদের ফেরেশতা ইলিয়াসকে বললেন, এর সঙ্গে নেমে যাও, একে ভয় করো না। পরে ইলিয়াস উঠে তার সঙ্গে বাদশাহ্র কাছে নেমে গেলেন।
16 আর তিনি তাঁকে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি ইক্রোণের দেবতা বাল্সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে দূতদেরকে পাঠিয়েছিলে; এর কারণ কি এই যে, ইসরাইলের মধ্যে এমন আল্লাহ্ নেই, যাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে? অতএব তুমি যে পালঙ্কে শুয়েছ, তা থেকে আর নামবে না, মরবেই মরবে।
17
আর ইলিয়াসের দ্বারা কথিত মাবুদের কালাম অনুসারে তিনি মারা গেলেন; এবং তাঁর পুত্র না থাকাতে যিহোরাম তাঁর পদে, এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের পুত্র যিহোরামের দ্বিতীয় বছরে বাদশাহ্ হলেন।
18 অহসিয়ের কৃত অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
1
পরে যখন মাবুদ ইলিয়াসকে ঘূর্ণি-বাতাশে বেহেশতে তুলে নিতে উদ্যত হলেন, তখন ইলিয়াস ও আল-ইয়াসা গিল্গল থেকে যাত্রা করলেন।
2 আর ইলিয়াস আল-ইয়াসাকে বললেন, আরজ করি, তুমি এই স্থানে থাক, কেননা মাবুদ আমাকে বেথেল পর্যন্ত পাঠালেন। আল-ইয়াসা বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম এবং আপনার জীবিত প্রাণের কসম, আমি আপনাকে ছাড়ব না। পরে তাঁরা বেথেলে নেমে গেলেন।
3 তখন বেথেলের সাহাবী-নবীরা বাইরে আল-ইয়াসার কাছে এসে বললেন, আজ মাবুদ আপনার কাছ থেকে আপনার প্রভুকে তুলে নেবেন, এ কথা কি আপনি জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তা জানি; তোমরা নীরব হও।
4
পরে ইলিয়াস তাঁকে বললেন, হে আল-ইয়াসা, আরজ করি, তুমি এই স্থানে থাক; কেননা মাবুদ আমাকে জেরিকোতে পাঠালেন। তিনি বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম এবং আপনার জীবিত প্রাণের কসম, আমি আপনাকে ছাড়ব না। পরে তাঁরা জেরিকোতে আসলেন।
5 তখন জেরিকোর সাহাবী-নবীরা আল-ইয়াসার কাছে এসে বললেন, আজ মাবুদ আপনার কাছ থেকে আপনার প্রভুকে তুলে নেবেন, এই কথা কি আপনি জানেন? তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ, আমি তা জানি; তোমরা নীরব হও।
6
পরে ইলিয়াস তাঁকে বললেন, আরজ করি, তুমি এই স্থানে থাক, কেননা মাবুদ আমাকে জর্ডানে পাঠালেন। তিনি বললেন, জীবন্ত মাবুদ এবং আপনার জীবিত প্রাণের কসম, আমি আপনাকে ছাড়ব না। পরে তাঁরা দু’জন চললেন।
7 তখন সাহাবী-নবীদের মধ্যে পঞ্চাশ জন লোক গিয়ে দূরে তাঁদের সম্মুখে দাঁড়ালেন, আর জর্ডানের ধারে ঐ দু’জন দাঁড়ালেন।
8 পরে ইলিয়াস তাঁর শাল ধরে গুটিয়ে নিয়ে পানিতে আঘাত করলেন, তাতে পানি এদিকে ওদিকে বিভক্ত হল এবং তাঁরা দু’জন শুকনো ভূমি দিয়ে পার হলেন।
9
পার হওয়ার পর ইলিয়াস আল-ইয়াসাকে বললেন, তোমার জন্য আমি কি করবো? তা তোমার কাছ থেকে আমাকে নিয়ে যাবার আগে যাচ্ঞা কর। ইলিশায় বললেন, আরজ করি, আপনার রূহের দুই অংশ আমার উপর অধিষ্ঠিত হোক।
10 তিনি বললেন, কঠিন বর যাচ্ঞা করলে; যদি তোমার কাছ থেকে নিয়ে যাবার সময়ে আমাকে দেখতে পাও, তবে তোমার প্রতি তা ঘটবে; কিন্তু না দেখলে ঘটবে না।
11
পরে এরকম ঘটলো; তাঁরা যেতে যেতে কথা বলছেন, ইতোমধ্যে দেখ, আগুনের একটি রথ ও আগুনের ঘোড়াগুলো এসে তাঁদেরকে পৃথক করলো এবং ইলিয়াস ঘূর্ণি-বাতাসে বেহেশতে উঠে গেলেন।
12 আর আল-ইয়াসা তা দেখলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে বললেন, হে আমার পিতা, হে আমার পিতা, হে ইসরাইলের রথগুলো ও তার ঘোড়-সওয়ারগণ! পরে তিনি তাঁকে আর দেখতে পেলেন না; তখন তাঁর কাপড় ধরে ছিঁড়ে দু’ভাগ করলেন।
13
আর তিনি ইলিয়াসের শরীর থেকে পড়ে যাওয়া শালখানি তুলে নিলেন এবং ফিরে গিয়ে জর্ডানের ধারে দাঁড়ালেন।
14 পরে তিনি ইলিয়াসের শরীর থেকে পড়ে যাওয়া সেই শালখানি নিয়ে পানিতে আঘাত করে বললেন, ইলিয়াসের আল্লাহ্ মাবুদ কোথায়? আর তিনিও পানিতে আঘাত করলে পানি এদিকে ওদিকে বিভক্ত হল এবং আল-ইয়াসা পার হয়ে গেলেন।
15
তখন জেরিকোর সাহাবী-নবীরা সম্মুখে থাকায় তা দেখে বললেন, ইলিয়াসের রূহ্ আল-ইয়াসার উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। পরে তারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁর সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন।
16 আর তাঁকে বললেন, দেখুন, আপনার গোলামদের এখানে পঞ্চাশ জন বলবান লোক আছে; আরজ করি, তারা আপনার প্রভুর সন্ধানে যাক; কে জানে, মাবুদের রূহ্ তাঁকে উঠিয়ে কোন পর্বতে কিংবা কোন উপত্যকাতে ফেলে গেছেন। তিনি বললেন, পাঠিও না।
17 তবুও তারা তাঁকে পীড়াপীড়ি করলে তিনি লজ্জিত হয়ে বললেন, পাঠিয়ে দাও। অতএব তারা পঞ্চাশ জন লোক পাঠিয়ে দিল; ওরা তিন দিন পর্যন্ত তাঁর সন্ধান করলো, কিন্তু তাঁকে পেল না।
18 পরে ওরা আল-ইয়াসার কাছে ফিরে এল; তখনও তিনি জেরিকোতে ছিলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলি নি, যেও না!
19
পরে নগরের লোকেরা আল-ইয়াসাকে বললো, হে মালিক, আপনি তো দেখছেন যে, নগরের স্থান চমৎকার বটে, কিন্তু পানি মন্দ ও ভূমি ফলনাশক।
20 তিনি বললেন, আমার কাছে নতুন একটি ভাঁড় এনে তাতে লবণ রাখ। পরে তাঁর কাছে তা আনা হল।
21 তিনি বের হয়ে পানির ফোয়ারার কাছ গিয়ে তাতে লবণ ফেললেন এবং বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি এই পানি ভাল করলাম, আজ থেকে তা আর কোন মৃত্যুর কারণ বা ফলনাশক হবে না।
22 আল-ইয়াসার বলা সেই কথা অনুসারে সেই পানি আজ পর্যন্ত ভাল হয়ে আছে।
23
পরে তিনি সেই স্থান থেকে বেথেলে চললেন; আর তিনি পথ দিয়ে উপরে যাচ্ছেন, এমন সময়ে নগর থেকে কতগুলো বালক এসে তাঁকে বিদ্রূপ করে বললো, রে টাক্পড়া, উঠে আয়; রে টাক্পড়া, উঠে আয়।
24 তখন তিনি পিছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাদেরকে দেখলেন এবং মাবুদের নামে তাদেরকে বদদোয়া দিলেন; আর বন থেকে দু’টা ভল্লুকী এসে তাদের মধ্যে বেয়াল্লিশ জন বালককে ছিঁড়ে ফেললো।
25 পরে তিনি সেই স্থান থেকে কর্মিল পর্বতে গেলেন এবং কর্মিল থেকে সামেরিয়ায় ফিরে আসলেন।
1
এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের অষ্টাদশ বছরে আহাবের পুত্র যিহোরাম সামেরিয়ায় ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং বারো বছর রাজত্ব করেন।
2 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন; তবুও তাঁর পিতা-মাতার মত ছিলেন না; কেননা তিনি তাঁর পিতার তৈরি বালের স্তম্ভ দূর করে দিলেন।
3 কিন্তু নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম ইসরাইলকে যেসব গুনাহ্ দ্বারা গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেসব গুনাহে তিনি আসক্ত থাকলেন, তা থেকে ফিরলেন না।
4
মোয়াবের বাদশাহ্ মেশা প্রচুর ভেড়ার অধিকারী ছিলেন; তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্কে কর হিসেবে এক লক্ষ ভেড়ার বাচ্চা এবং এক লক্ষ ভেড়ার লোম দিতেন।
5 কিন্তু আহাব মৃত্যুবরণ করলে পর মোয়াবের বাদশাহ্ ইসরাইলের বাদশাহ্র অধীনতা ত্যাগ করলেন।
6 সেই সময় বাদশাহ্ যিহোরাম সামেরিয়া থেকে বাইরে গিয়ে সমস্ত ইসরাইলকে সংগ্রহ করলেন।
7 পরে তিনি এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, মোয়াবের বাদশাহ্ আমার অধীনতা ত্যাগ করেছে, আপনি কি আমার সঙ্গে মোয়াবের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবেন? তিনি বললেন, করবো; আমি ও আপনি, আমার লোক ও আপনার লোক, আমার ঘোড়া ও আপনার ঘোড়া, সকলই এক।
8 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা কোন পথ দিয়ে যাব? ইনি বললেন, ইদোমের মরুভূমির পথ দিয়ে।
9
পরে ইসরাইলের বাদশাহ্, এহুদার বাদশাহ্ ও ইদোমের বাদশাহ্ যাত্রা করলেন; তাঁরা সাত দিনের পথ ঘুরে গেলেন; তখন তাঁদের সৈন্য ও তাদের সঙ্গে থাকা পশুদের জন্য পানি পাওয়া গেল না।
10 ইসরাইলের বাদশাহ্ বললেন, হায়! হায়! মাবুদ মোয়াবের হাতে তুলে দেবার জন্য এই তিন বাদশাহ্কে এক সঙ্গে ডেকে এনেছেন।
11 কিন্তু যিহোশাফট বললেন, মাবুদের কোন নবী কি এখানে নেই যে, তাঁর দ্বারা আমরা মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারি? ইসরাইলের বাদশাহ্র গোলামদের মধ্যে এক জন জবাবে বললো, শাফটের পুত্র যে আল-ইয়াসা ইলিয়াসের হাতে পানি ঢালতেন, তিনি এখানে আছেন।
12 যিহোশাফট বললেন, মাবুদের কালাম তাঁর কাছে আছে। পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও যিহোশাফট এবং ইদোমের বাদশাহ্ তাঁর কাছে নেমে গেলেন।
13
তখন আল-ইয়াসা ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, আপনার সঙ্গে আমার সম্বন্ধ কি? আপনি আপনার পিতার নবীদের ও আপনার মাতার নবীদের কাছ যান। ইসরাইলের বাদশাহ্ বললেন, তা নয়, কেননা মোয়াবের হাতে তুলে দেবার জন্য মাবুদ এই তিন বাদশাহ্কে একসঙ্গে ডেকে এনেছেন।
14 আল-ইয়াসা বললেন, আমি যাঁর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান, সেই বাহিনীগণের জীবন্ত মাবুদের কসম, যদি এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের মুখের দিকে না চাইতাম, তবে আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করতাম না, আপনাকে দেখতামও না।
15 যা হোক, এখন আমার কাছে এক জন বীণাবাদককে আনা হোক। পরে বাদক বীণা বাজালে মাবুদের হাত আল-ইয়াসার উপরে উপস্থিত হল।
16 আর তিনি বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা এই উপত্যকা খাতময় কর।
17 কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা বায়ু দেখবে না ও বৃষ্টি দেখবে না, তবুও এই উপত্যকা পানিতে পরিপূর্ণ হবে; তাতে তোমরা, তোমাদের সমস্ত পশু ও সমস্ত বাহন পান করবে।
18 আর মাবুদের দৃষ্টিতে এটি অতি ক্ষুদ্র বিষয়, তিনি মোয়াবকেও তোমাদের হাতে তুলে দেবেন।
19 তখন তোমরা প্রত্যেক প্রাচীরবেষ্টিত নগরে ও প্রত্যেক উত্তম নগরে আঘাত করবে, আর প্রত্যেক উত্তম গাছ কেটে ফেলবে ও পানির সমস্ত ফোয়ারা বন্ধ করে দেবে এবং উর্বর ক্ষেতগুলো পাথর দ্বারা বিনষ্ট করবে।
20 পরে খুব ভোরে নৈবেদ্য কোরবানী করার সময়ে দেখ, ইদোমের পথ দিয়ে পানি এসে দেশ পরিপূর্ণ করলো।
21
সমস্ত মোয়াববাসী যখন শুনতে পেল যে, বাদশাহ্রা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছেন, তখন যারা যুদ্ধের সাজ-পোশাক পরতে পারতো তাদের ডাকা হলে পর, তারা সকলে এবং তার চেয়েও বেশি বয়সের লোক একত্র হয়ে সীমাতে দাঁড়িয়ে রইলো।
22 পরে তাঁরা খুব ভোরে উঠলো, তখন সূর্য পানির উপরে চিক্মিক্ করছিল, তাতে মোয়াবীয়দের কাছে সেই পানি রক্তের মত লাল মনে হল।
23 তখন তারা বললো, এই যে রক্ত; সেই বাদশাহ্রা অবশ্য বিনষ্ট হয়েছে, আর লোকেরা পরস্পর মারামারি করে মরেছে; অতএব হে মোয়াব, এখন লুট করতে চল।
24 পরে তারা ইসরাইলের শিবিরে উপস্থিত হলে ইসরাইলরা উঠে মোয়াবীয়দেরকে আঘাত করলো, তাতে ওরা তাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল এবং তারা মোয়াবীয়দেরকে আক্রমণ করতে করতে অগ্রসর হয়ে ওদের দেশে প্রবেশ করলো।
25 তারা সমস্ত নগর ভেঙ্গে ফেললো ও প্রত্যেকে সমস্ত উর্বর ক্ষেতে পাথর ফেলে তা পরিপূর্ণ করলো এবং পানির সমস্ত ফোয়ারা বন্ধ করে দিল ও উত্তম উত্তম সমস্ত গাছ কেটে ফেললো; কেবল কীর্-হরাসতে তথাকার পাথরগুলো অবশিষ্ট রাখল, কিন্তু ফিঙ্গাধারীরা নগরের চারদিকে গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের আক্রমণ করলো।
26
মোয়াবের বাদশাহ্ যখন দেখলেন যে, যুদ্ধ তার অসহ্য হচ্ছে, তখন তিনি ইদোমের বাদশাহ্র কাছে ব্যুহ ভেদ করে যাবার জন্য সাত শত তলোয়ারধারীকে তাঁর সঙ্গে নিলেন; কিন্তু তারা পারল না।
27 পরে যে পুত্র তাঁর পদে বাদশাহ্ হত, তাঁর সেই জ্যেষ্ঠ পুত্রকে নিয়ে তিনি প্রাচীরের উপরে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করলেন। আর ইসরাইলের বিরুদ্ধে অতিশয় ক্রোধ উৎপন্ন হল; পরে তারা তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করে স্বদেশে ফিরে গেল।
1
একবার সাহাবী-নবীদের মধ্যে একজনের স্ত্রী আল-ইয়াসার কাছে কেঁদে বললো, আপনার গোলাম আমার স্বামী মারা গেছেন; আপনি জানেন, আপনার গোলাম মাবুদকে ভয় করতেন; এখন ঋণদাতা আমার দু’টি সন্তানকে গোলাম বানাবার জন্য নিয়ে যেতে এসেছে।
2 আল-ইয়াসা তাকে বললেন, আমি তোমার জন্য কি করতে পারি? বল দেখি, তোমার ঘরে কি আছে? সে বললো এক বাটি তেল ছাড়া আপনার বাঁদীর আর কিছুই নেই।
3 তখন তিনি বললেন, যাও, বাইরে থেকে তোমার সমস্ত প্রতিবেশীর কাছ থেকে বেশ কিছু শূন্য পাত্র চেয়ে আন, অল্প এনো না।
4 পরে ভিতরে গিয়ে তুমি ও তোমার পুত্রেরা ঘরে থেকে দরজা বন্ধ কর এবং সেসব পাত্রে তেল ঢাল; এক এক পাত্র পূর্ণ হলে তা একদিকে রাখ।
5 পরে সে স্ত্রীলোক তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করলো, আর সে ও তার পুত্রেরা ঘরে থেকে দরজা বন্ধ করলো; তারা পুনঃ পুনঃ তাকে পাত্র এনে দিল এবং সে তেল ঢাললো।
6 সমস্ত পাত্র পূর্ণ হওয়ার পর সে তার পুত্রকে বললো, আরও পাত্র আন। পুত্র বললো, আর পাত্র নেই। তখন তেলের স্রোত বন্ধ হল।
7 পরে সে গিয়ে আল্লাহ্র লোককে সংবাদ দিল। তিনি বললেন, যাও, সেই তেল বিক্রি করে তোমার ঋণ পরিশোধ কর এবং যা অবশিষ্ট থাকবে, তা দ্বারা তুমি ও তোমার পুত্রেরা দিনপাত কর।
8
এক দিন আল-ইয়াসা শূনেমে যান। সেখানে এক ধনবতী মহিলা ছিলেন; তিনি আগ্রহ সহকারে তাঁকে ভোজনের দাওয়াত করলেন। পরে যত বার তিনি ঐ পথ দিয়ে যেতেন, তত বার আহার করার জন্য সেই স্থানে যেতেন।
9 আর সেই মহিলা তার স্বামীকে বললেন, দেখ, আমি বুঝতে পেরেছি, এই যে ব্যক্তি আমাদের কাছ দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করেন, ইনি আল্লাহ্র এক জন পবিত্র লোক।
10 আরজ করি, এসো, আমরা ছাদের উপরে একটি ক্ষুদ্র কুঠরী নির্মাণ করি এবং তার মধ্যে তাঁর জন্য একখানি পালঙ্ক, একখানি টেবিল, একখানি আসন ও একটি প্রদীপ-আসন রাখি; তিনি আমাদের এখানে আসলে সেই স্থানে থাকবেন।
11
এক দিন আল-ইয়াসা সেখানে আসলেন; আর সেই কুঠরীতে প্রবেশ করে শয়ন করলেন।
12 পরে তিনি তাঁর ভৃত্য গেহসিকে বললেন, তুমি ঐ শূনেমীয়াকে ডাক। তাতে সে তাঁকে ডাকলে সেই স্ত্রীলোকটি তাঁর সম্মুখে দাঁড়ালেন।
13 তখন আল-ইয়াসা গেহসিকে বললেন, ওঁকে বল, দেখুন, আমাদের জন্য আপনি এসব চিন্তা করলেন, এখন আপনার জন্য কি করতে হবে? বাদশাহ্র কিংবা সেনাপতির কাছে আপনার কি কোন নিবেদন আছে? জবাবে তিনি বললেন, আমি আমার লোকদের মধ্যে বাস করছি।
14 পরে আল-ইয়াসা বললেন, তাহলে তাঁর জন্য কি করতে হবে? গেহসি বললো, নিশ্চয়ই তাঁর পুত্র-সন্তান নেই, স্বামীও বৃদ্ধ।
15 আল-ইয়াসা বললেন, ওঁকে ডাক; পরে তাঁকে ডাকলে তিনি দ্বারে দাঁড়ালেন।
16 তখন আল-ইয়াসা বললেন, এই ঋতুতে এই সময় পুনরায় উপস্থিত হলে আপনি পুত্র কোলে নেবেন। কিন্তু তিনি বললেন, না, হে মালিক, হে আল্লাহ্র লোক, আপনার বাঁদীকে মিথ্যা কথা বলবেন না।
17 পরে আল-ইয়াসার কথা অনুসারে সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করে সেই সময় পুনরায় উপস্থিত হলে পুত্র প্রসব করলেন।
18
বালকটি বড় হওয়ার পর সে এক দিন শস্য কর্তনকারীদের মাঝে তার পিতার কাছে গেল।
19 পরে সে পিতাকে বললো, আমার মাথা! আমার মাথা! তখন পিতা ভৃত্যকে বললেন, তুমি একে তুলে এর মায়ের কাছে নিয়ে যাও।
20 পরে সে তাকে তুলে মায়ের কাছে আনলে বালকটি মধ্যাহ্নকাল পর্যন্ত তাঁর কোলে বসে থাকলো, পরে মারা গেল।
21 তখন মা উপরে গিয়ে আল্লাহ্র লোকের পালঙ্কে তাকে শয়ন করালেন, পরে দরজা রুদ্ধ করে বাইরে আসলেন,
22 আর তাঁর স্বামীকে ডেকে বললেন, আরজ করি, তুমি ভৃত্যদের এক জনকে ও একটি গাধী আমার কাছে পাঠিয়ে দাও, আমি আল্লাহ্র লোকের কাছে শীঘ্র গিয়ে ফিরে আসবো।
23 তিনি বললেন, আজ তাঁর কাছে কেন যাবে? আজ অমাবস্যাও নয়, বিশ্রামবারও নয়। স্ত্রীলোকটি বললেন, মঙ্গল হবে।
24 আর তিনি গাধী সাজিয়ে তাঁর ভৃত্যকে বললেন, গাধীটিকে দ্রুত চালাও, হুকুম না পেলে আমার গতি শিথিল করো না।
25 পরে তিনি কর্মিল পর্বতে আল্লাহ্র লোকের কাছে চললেন। তখন আল্লাহ্র লোক তাঁকে দূর থেকে দেখে তাঁর ভৃত্য গেহসিকে বললেন, দেখ, ঐ সেই শূনেমীয়া;
26 একবার দৌড়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ কর, আর জিজ্ঞাসা কর, আপনার মঙ্গল? আপনার স্বামীর মঙ্গল? বালকটির মঙ্গল? তিনি উত্তর করলেন, মঙ্গল।
27 পরে পর্বতে আল্লাহ্র লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর পা জড়িয়ে ধরলেন; তাতে গেহসি তাঁকে ঠেলে দেবার জন্য কাছে এল, কিন্তু আল্লাহ্র লোক বললেন, ওঁকে থাকতে দাও, তাঁর প্রাণ শোকাকুল হয়েছে, আর মাবুদ আমা থেকে তা গোপন করেছেন, আমাকে জানান নি।
28 তখন স্ত্রীলোকটি বললেন, আমার মালিকের কাছে আমি কি পুত্র চেয়েছিলাম? আমাকে প্রতারণা করবেন না, এই কথা কি বলি নি?
29 তখন আল-ইয়াসা গেহসিকে বললেন, কোমরবন্ধনী পর, আমার এই লাঠি হাতে নিয়ে প্রস্থান কর; কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম জানাবে না এবং কেউ সালাম জানালে তাকে উত্তর দিও না; পরে বালকটির মুখের উপরে আমার এই লাঠি রেখো।
30 তখন বালকের মা বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম এবং আপনার জীবিত প্রাণের কসম, আমি আপনাকে ছাড়ব না। তখন আল-ইয়াসা উঠে তাঁর পেছন পেছন চললেন।
31 ইতোমধ্যে গেহসি তাঁদের আগে গিয়ে বালকটির মুখে ঐ লাঠিটি রাখল, তবুও কোন আওয়াজ হল না, অবধানের কোন লক্ষণও পাওয়া গেল না। অতএব গেহসি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে ফিরে গিয়ে তাঁকে বললো, বালকটি জাগে নি।
32
পরে আল-ইয়াসা সেই বাড়িতে এসে দেখলেন, বালকটি মৃত ও তাঁর বিছানায় শায়িত।
33 তখন তিনি প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের দুই জনকে বাইরে রেখে দরজা রুদ্ধ করে মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন।
34 আর পালঙ্কে উঠে বালকটির উপরে শয়ন করলেন; তিনি তার মুখের উপরে তাঁর মুখ, চোখের উপরে চোখ ও হাতের উপরে হাত দিয়ে তার উপরে তিনি লম্বমান হলেন; তাতে বালকটির শরীর উত্তাপযুক্ত হতে লাগল।
35 পরে তিনি উঠে বাড়ির মধ্যে পায়চারি করতে লাগলেন, আবার উঠে তার উপরে লম্বমান হলেন; তাতে বালকটি সাত বার হাঁচি দিল ও বালকটি চোখ মেলে তাকাল।
36 তখন তিনি গেহসিকে ডেকে বললেন, ঐ শূনেমীয়াকে ডাক। সে তাঁকে ডাকলে স্ত্রীলোকটি তাঁর কাছে আসলেন। আল-ইয়াসা বললেন, আপনার পুত্রকে তুলে নিন।
37 তখন সেই স্ত্রীলোক কাছে গিয়ে তাঁর পদতলে পড়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলেন এবং তাঁর পুত্রকে তুলে নিয়ে বাইরে গেলেন।
38
আল-ইয়াসা আবার গিল্গলে উপস্থিত হলেন; সেই সময়ে দেশে দুর্ভিক্ষ ছিল। তখন সাহাবী-নবীরা তাঁর সম্মুখে বসেছিলেন; তিনি তাঁর ভৃত্যকে হুকুম দিলেন, বড় হাঁড়ি চড়িয়ে এই সাহাবী নবীদের জন্য ব্যঞ্জন রান্না কর।
39 তখন তাদের এক জন তরকারি সংগ্রহ করতে মাঠে গেল এবং বনশসার লতা দেখতে পেয়ে তার বন্য ফলে কোঁচড় পূর্ণ করে নিয়ে আসল, পরে তা কুটে রান্নার হাঁড়িতে দিল; কিন্তু সেগুলো কি তা তারা জানলো না।
40 পরে লোকদের ভোজন করার জন্য তা ঢাললে তারা সেই তরকারী খেতে গিয়ে চিৎকার করে বললো, হে আল্লাহ্র লোক, হাঁড়ির মধ্যে মৃত্যু; আর তারা তা খেতে পারল না।
41 তখন তিনি বললেন, তবে কিছু ময়দা আন। পরে তিনি হাঁড়িতে তা ফেলে বললেন, লোকদের জন্য ঢেলে দাও, তারা ভোজন করুক। তাতে হাঁড়িতে কিছুই মন্দ থাকলো না।
42
আর বাল্-শালিশা থেকে এক ব্যক্তি এল, সে আল্লাহ্র লোকের কাছে আশুপক্ক শস্যের রুটি, যবের কুড়িখানা রুটি ও ছালায় করে শস্যের তাজা শীষ আনলো; আর তিনি বললেন, এগুলো লোকদেরকে দাও, তারা ভোজন করুক।
43 তখন তাঁর পরিচারক বললো, আমি কি একশত লোককে তা পরিবেশন করবো? কিন্তু তিনি বললেন, তা-ই লোকদেরকে দাও তারা ভোজন করুক; কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, তারা ভোজন করবে ও উদ্বৃত্ত রাখবে।
44 অতএব সে তাদের সম্মুখে তা খেতে দিল, আর মাবুদের কালাম অনুসারে তারা ভোজন করলো, আর উদ্বৃত্তও রাখল।
1
অরামের বাদশাহ্র সেনাপতি নামান তাঁর মালিকের চোখে একজন মহান ও সম্মানিত লোক ছিলেন, কেননা তাঁরই দ্বারা মাবুদ অরামকে বিজয়ী করেছিলেন; আর তিনি ছিলেন বলবান বীর, কিন্তু তাঁর কুষ্ঠরোগ ছিল।
2 এক সময়ে অরামীয়েরা দলে দলে ইসরাইল দেশে হানা দিয়েছিল; তখন তারা সেই দেশ থেকে একটি ছোট বালিকাকে বন্দী করে আনলে সে ঐ নামানের পত্নীর পরিচারিকা হয়েছিল।
3 সে তার বেগম সাহেবাকে বললো, আহা! সামেরিয়ায় যে নবী আছেন, তাঁর সঙ্গে যদি আমার মালিকের সাক্ষাৎ হত, তবে তিনি তাঁকে কুষ্ঠরোগ থেকে উদ্ধার করতেন।
4 পরে নামান গিয়ে তাঁর মালিককে বললেন, ইসরাইল দেশ থেকে আনা সেই বালিকা এই সমস্ত কথা বলছে।
5 অরামের বাদশাহ্ বললেন, তুমি সেখানে যাও, আমি ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে পত্র পাঠাই। তখন তিনি তাঁর সঙ্গে দশ তালন্ত রূপা, ছয় হাজার সোনার মুদ্রা ও দশ জোড়া কাপড় নিয়ে প্রস্থান করলেন।
6
আর তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে পত্র নিয়ে গেলেন, পত্রে এই কথা লেখা ছিল, এই পত্র যখন আপনার কাছে পৌঁছাবে, তখন দেখুন, আমি আমার গোলাম নামানকে আপনার কাছে প্রেরণ করলাম, আপনি তাকে কুষ্ঠরোগ থেকে সুস্থ করবেন।
7 এই পত্র পাঠ করে ইসরাইলের বাদশাহ্ তাঁর কাপড় ছিঁড়ে বললেন, মারবার ও বাঁচাবার আল্লাহ্ কি আমি যে, এই ব্যক্তি এক জন মানুষকে কুষ্ঠ থেকে উদ্ধার করার জন্য আমার কাছে পাঠাচ্ছে? আরজ করি, তোমরা বিবেচনা করে দেখ, কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে ঝগড়া বাঁধাবার চেষ্টা করছে।
8
পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ তাঁর কাপড় ছিঁড়েছেন, এই কথা শুনে আল্লাহ্র লোক আল-ইয়াসা বাদশাহ্র কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, আপনি কেন কাপড় ছিঁড়লেন? সেই ব্যক্তি আমার কাছে আসুক; তাতে জানতে পারবে যে, ইসরাইলের মধ্যে এক জন নবী আছে।
9 অতএব নামান তাঁর ঘোড়া ও রথগুলো নিয়ে এসে আল-ইয়াসার গৃহ-দ্বারে উপস্থিত হলেন।
10 তখন আল-ইয়াসা তাঁর কাছে এক জন দূত পাঠিয়ে বললেন, আপনি গিয়ে সাতবার জর্ডানে গোসল করুন, আপনার নতুন চামড়া হবে ও আপনি পাক-পবিত্র হবেন।
11 তখন নামান ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গেলেন, আর বললেন, দেখ, আমি ভেবেছিলাম, তিনি অবশ্য বের হয়ে আমার কাছে আসবেন এবং দাঁড়িয়ে তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের নামে ডাকবেন, আর কুষ্ঠ-স্থানের উপর হাত দুলিয়ে কুষ্ঠরোগীকে উদ্ধার করবেন।
12 ইসরাইলের সমস্ত জলাশয় থেকে দামেস্কের অবানা ও পর্পর নদী কি উত্তম নয়? আমি কি তাতে গোসল করে পাক-পবিত্র হতে পারি না? আর তিনি মুখ ফিরিয়ে ক্রোধের আবেগে প্রস্থান করলেন।
13 কিন্তু তাঁর গোলামেরা কাছে এসে নিবেদন করলো, পিতা, ঐ নবী যদি কোন মহৎ কাজ করার হুকুম আপনাকে দিতেন, আপনি কি তা করতেন না? তবে গোসল করে পাক-পবিত্র হোন, তাঁর এই হুকুমটি কি মানবেন না?
14 তখন তিনি আল্লাহ্র লোকের হুকুম অনুসারে নেমে গিয়ে সাতবার জর্ডানে ডুব দিলেন, তাতে ক্ষুদ্র বালকের মত তাঁর নতুন মাংস হল ও তিনি পাক-পবিত্র হলেন।
15
পরে তিনি তাঁর সঙ্গী জনগণের সঙ্গে আল্লাহ্র লোকের কাছে ফিরে এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ালেন, আর বললেন, দেখুন, আমি এখন জানতে পারলাম, সারা দুনিয়াতে আর কোথাও আল্লাহ্ নেই, কেবল ইসরাইলের মধ্যে আছেন; অতএব আরজ করি, আপনার এই গোলামের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করুন।
16 কিন্তু তিনি বললেন, আমি যাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, আমি কিছু গ্রহণ করবো না। নামান আগ্রহ করে তা গ্রহণ করতে বললেও তিনি অস্বীকার করলেন।
17 পরে নামান বললেন, তা যদি না হয়, তবে আরজ করি, দু’টি ঘোড়ায় বহনযোগ্য মাটি আপনার এই গোলামকে দেওয়া হোক; কেননা আজ থেকে আপনার এই গোলাম মাবুদ ছাড়া অন্য দেবতার উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী কিংবা কোরবানী আর করবে না।
18 কেবল এই বিষয়ে মাবুদ আপনার গোলামকে মাফ করুন; আমার মালিক সেজ্দা করার জন্য যখন রিম্মোণের মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং আমার হাতের উপর ভর দেন, তখন আমাকেও রিম্মোণের মন্দিরে সেজ্দা করতে হয়, তবে সেজ্দার বিষয়ে মাবুদ যেন আপনার গোলামকে মাফ করেন।
19 আল-ইয়াসা তাঁকে বললেন, সহিসালামতে গমন করুন। পরে তিনি তাঁর সম্মুখ থেকে প্রস্থান করে কিছু দূর গমন করলেন।
20
তখন আল্লাহ্র লোক আল-ইয়াসার ভৃত্য গেহসি বললো, দেখ, আমার প্রভু ঐ অরামীয় নামানকে অমনি ছেড়ে দিলেন, তাঁর হাত থেকে তাঁর আনা দ্রব্য গ্রহণ করলেন না; জীবন্ত মাবুদের কসম, আমি তাঁর পেছন পেছন দৌড়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে কিছু নেব।
21 পরে গেহসি নামানের পেছন পেছন দৌড়ে গেল; তাতে নামান পেছন পেছন এক জনকে দৌড়ে আসতে দেখে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য রথ থেকে নেমে জিজ্ঞাসা করলেন, মঙ্গল তো? সে বললো, মঙ্গল।
22 আমার মালিক এই কথা বলে আমাকে পাঠালেন, দেখুন, এখনই পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশ থেকে সাহাবী-নবীদের মধ্যে দুই যুবক এল; আরজ করি, তাদের জন্য এক তালন্ত রূপা ও দুই জোড়া কাপড় দান করুন।
23 নামান বললেন, অনুগ্রহ করে দুই তালন্ত নাও। পরে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে দুই থলিতে দুই তালন্ত রূপা বেঁধে দুই জোড়া কাপড়ের সঙ্গে তাঁর দুই ভৃত্যকে দিলে তারা ওর আগে আগে বহন করে নিয়ে যেতে লাগল।
24 পরে পাহাড়ে উপস্থিত হলে সে তাদের হাত থেকে সেসব নিয়ে বাড়ি মধ্যে রাখল এবং সেই লোকদেরকে বিদায় করলে তারা চলে গেল।
25
পরে সে ভিতরে গিয়ে তাঁর মালিকের সম্মুখে দাঁড়ালো। তখন আল-ইয়াসা তাকে বললেন, গেহসি, তুমি কোথা থেকে আসলে? সে বললো, আপনার গোলাম কোন স্থানে যায় নি।
26 তখন তিনি তাকে বললেন, সেই ব্যক্তি যখন তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রথ থেকে নামলেন, তখন আমার মন কি যায় নি? রূপা নেবার এবং কাপড়, জলপাই গাছের বাগান ও আঙ্গুরক্ষেত, ভেড়া, গরু ও গোলাম বাঁদী নেবার এটাই কি সময়?
27 অতএব নামানের কুষ্ঠরোগ তোমাতে ও তোমার বংশে চিরকাল লেগে থাকবে। তাতে গেহসি হিমের মত শ্বেত কুষ্ঠগ্রস্ত হয়ে তাঁর সম্মুখ থেকে প্রস্থান করলো।
1
একবার সাহাবী-নবীরা আল-ইয়াসাকে বললো, দেখুন, আমরা আপনার সাক্ষাতে যে স্থানে বাস করছি, সেটি আমাদের পক্ষে খুবই ছোট।
2 অনুমতি করুন, আমরা জর্ডানে গিয়ে প্রত্যেকে সেই স্থান থেকে এক একখানি কড়িকাঠ নিয়ে আমাদের জন্য সেখানে বাসস্থান প্রস্তুত করি।
3 তিনি বললেন, যাও। আর এক জন বললো, আপনি অনুগ্রহ করে আপনার গোলামদের সঙ্গে চলুন।
4 তিনি বললেন, যাব। অতএব তিনি তাদের সঙ্গে গেলেন; পরে জর্ডানের কাছে উপস্থিত হয়ে তারা কাঠ কাটতে লাগল।
5 কিন্তু এক জন কড়িকাঠ কাটছিল, এমন সময়ে কুড়ালির ফলা পানিতে পড়ে গেল; তাতে সে কেঁদে বললো, হায় হায়! মালিক, আমি তো ওটা ধার করে এনেছিলাম।
6 তখন আল্লাহ্র লোক জিজ্ঞাসা করলেন, তা কোথায় পড়েছে? সে তাঁকে সেই স্থান দেখাল। তখন আল-ইয়াসা একখানি কাঠ কেটে সেই স্থানে ফেলে লোহাটি ভাসিয়ে উঠালেন;
7 আর তিনি বললেন, সেটি তুলে নাও। তাতে সে হাত বাড়িয়ে তা নিল।
8
এক সময়ে অরামের বাদশাহ্ ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন, আর যখন তিনি তাঁর গোলামদের সঙ্গে মন্ত্রণা করে বলতেন, অমুক অমুক স্থানে আমার শিবির স্থাপন করা হবে,
9 তখন আল্লাহ্র লোক ইসরাইলের বাদশাহ্র কাছে বলে পাঠাতেন, সাবধান, অমুক স্থান উপেক্ষা করবেন না, কেননা সেখানে অরামীয়েরা নেমে আসছে।
10 তাতে আল্লাহ্র লোক যে স্থানের বিষয় বলে তাঁকে সাবধান করে দিতেন, সেই স্থানে ইসরাইলের বাদশাহ্ সৈন্য পাঠিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেন; কেবল দুই এক বার নয়;
11 এই বিষয়ের জন্য অরামের বাদশাহ্র মন অস্থির হয়ে উঠলো, তিনি তাঁর গোলামদেরকে ডেকে বললেন, আমাদের মধ্যে কে ইসরাইলের বাদশাহ্র পক্ষের তা কি তোমরা আমাকে বলবে না?
12 তখন তাঁর গোলামদের মধ্যে এক জন বললো, হে আমার মালিক বাদশাহ্, কেউ নয়, কিন্তু আপনি আপনার শয়নাগারে যেসব কথা বলেন, সেসব ইসরাইলস্থ নবী আল-ইয়াসা ইসরাইলের বাদশাহ্কে জানিয়ে দেন।
13 তখন তিনি বললেন, তোমরা গিয়ে দেখ সে কোথায়, আমি লোক পাঠিয়ে তাকে আনাবো। পরে কেউ তাঁকে এই সংবাদ দিল, দেখুন তিনি দোথনে আছেন।
14 তাতে তিনি অনেক ঘোড়া, রথ ও একটি বড় সৈন্যদল সেখানে পাঠালেন। তারা রাতে এসে সেই নগর বেষ্টন করলো।
15
আর আল্লাহ্র লোকের পরিচারক খুব ভোরে উঠে যখন বাইরে গেল, তখন দেখ, অনেক ঘোড়া ও রথসহ একটি সৈন্যদল নগর বেষ্টন করে আছে। পরে তাঁর ভৃত্য তাঁকে বললো, হায় হায় হে মালিক! আমরা কি করবো?
16 তিনি বললেন, ভয় করো না, ওদের সঙ্গীদের চেয়ে আমাদের সঙ্গী বেশি।
17 তখন আল-ইয়াসা মুনাজাত করে বললেন, হে মাবুদ, আরজ করি, এর চোখ খুলে দাও, যেন সে দেখতে পায়। তখন মাবুদ সেই যুবকটির চোখ খুলে দিলেন এবং সে দেখতে পেল, আর দেখ, আল-ইয়াসার চারদিকে আগুনের ঘোড়া ও রথে পর্বত পরিপূর্ণ।
18 পরে ঐ সৈন্যরা তাঁর কাছে আসলে আল-ইয়াসা মাবুদের কাছে মুনাজাত করে বললেন, আরজ করি, এই দলকে অন্ধতায় আহত কর। তাতে তিনি আল-ইয়াসার কথা অনুসারে তাদেরকে অন্ধতায় আহত করলেন।
19 পরে আল-ইয়াসা তাদের বললেন, এ সেই পথ নয় এবং এ সেই নগরও নয়; তোমরা আমার পেছন পেছন এসো; যে ব্যক্তির খোঁজ করছো, তার কাছে আমি তোমাদেরকে নিয়ে যাব। তিনি তাদেরকে সামেরিয়ায় নিয়ে গেলেন।
20
তারা সামেরিয়ায় প্রবেশ করা মাত্র আল-ইয়াসা বললেন, হে মাবুদ এদের চোখ খুলে দাও, যেন এরা দেখতে পায়। তখন মাবুদ তাদের চোখ খুলে দিলেন এবং তারা দেখতে পেল, আর দেখ, তারা সামেরিয়ায় উপস্থিত।
21 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ তাদের দেখে আল-ইয়াসাকে বললেন, হে পিতা, এদেরকে কি হত্যা করবো? আল-ইয়াসা বললেন, না।
22 তুমি যাদের তলোয়ার ও ধনুক দ্বারা বন্দী কর, তাদেরকে কি হত্যা কর? ওদের সম্মুখে রুটি ও পানি রাখ; ওরা ভোজন পান করে ওদের মালিকের কাছে চলে যাক।
23 তখন তিনি তাদের জন্য মহাভোজ প্রস্তুত করলেন এবং তারা ভোজন পান করলে তাদেরকে বিদায় করলেন, তারা তাদের মালিকের কাছে গেল। পরে অরামের সৈন্যদল ইসরাইল দেশে আর এল না।
24
এর পরে অরামের বাদশাহ্ বিন্হদদ তাঁর সমস্ত সৈন্য একত্র করলেন এবং গিয়ে সামেরিয়া অবরোধ করলেন।
25 তাতে সামেরিয়ায় অতিশয় দুর্ভিক্ষ হল; আর দেখ তারা অবরোধ করে রইলে শেষে একটা গাধার মাথার মূল্য আশি রূপার মদ্রা ও কপোতমলের এক কাবের চতুর্থাংশের মূল্য পাঁচ রূপার মুদ্রা হল।
26 একদিন ইসরাইলের বাদশাহ্ প্রাচীরের উপরে বেড়াচ্ছিলেন এমন সময়ে একটি স্ত্রীলোক তাঁর কাছে কেঁদে বললো, হে আমার মালিক বাদশাহ্, রক্ষা করুন।
27 বাদশাহ্ বললেন, যদি মাবুদ তোমাকে রক্ষা না করেন, আমি কোথা থেকে তোমাকে রক্ষা করবো? কি খামার থেকে? না আঙ্গুরপেষণকুণ্ড থেকে?
28 বাদশাহ্ আরও বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে জবাবে বললো, এই স্ত্রীলোকটি আমাকে বলেছিল, তোমার ছেলেটিকে দাও, আজ আমরা তাকে খাই, আগামীকাল, আমার ছেলেটিকে খাব।
29 তখন আমরা আমার ছেলেটিকে রান্না করে খেলাম। পরদিন আমি একে বললাম, তোমার ছেলেটিকে দাও, আমরা খাই; কিন্তু সে তার ছেলেটিকে লুকিয়ে রেখেছে।
30 স্ত্রীলোটির এই কথা শুনে বাদশাহ্ তাঁর কাপড় ছিঁড়লেন; তখন তিনি প্রাচীরের উপরে বেড়াচ্ছিলেন; তাতে লোকেরা চেয়ে দেখলো, আর দেখ পোশাকের নিচে তাঁর শরীরে চট বাঁধা।
31 পরে তিনি বললেন, আজ যদি শাফটের পুত্র আল-ইয়াসার মাথা তার কাঁধে থাকে, তবে আল্লাহ্ আমাকে অমুক ও তার চেয়েও বেশি দণ্ড দিন।
32 তখন আল-ইয়াসা তাঁর বাড়িতে বসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রাচীনবর্গরা বসেছিলেন; ইতোমধ্যে বাদশাহ্ তাঁর সম্মুখে থেকে এক জন লোক পাঠালেন। কিন্তু সেই দূতের আসার আগে আল-ইয়াসা প্রাচীন নেতৃবর্গকে বললেন, সেই নরঘাতকের পুত্র আমার মাথা কেটে ফেলবার জন্য লোক পাঠিয়েছে, তোমরা কি দেখছ? দেখ, সেই দূত আসলে দরজা বন্ধ করো এবং দ্বারসুদ্ধ তাকে ঠেলে দিও; তার পিছনে কি তার মালিকের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে না?
33
তিনি তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন এমন সময়ে দূত তাঁর কাছে পৌঁছাল। পরে বাদশাহ্ বললেন, দেখ, এই অমঙ্গল মাবুদ থেকে হল, তবে আমি কেন আর মাবুদের অপেক্ষাতে থাকব।
1
আল-ইয়াসা বললেন, তোমরা মাবুদের কালাম শোন; মাবুদ এই কথা বলেন, আগামীকাল এই বেলায় সামেরিয়ার দ্বারে শেকলে এক পসুরী সুজি ও শেকলে দুই পসুরী যব বিক্রি হবে।
2 তখন বাদশাহ্ যে সেনানীর হাতের উপর ভর দিয়েছিলেন, তিনি আল্লাহ্র লোককে জবাবে বললেন, দেখুন, যদি মাবুদ আসমানে জানালাও তৈরি করেন, তবুও কি এমন হতে পারবে? জবাবে তিনি বললেন, দেখ, তুমি স্বচক্ষে তা দেখবে, কিন্তু তার কিছুই খেতে পাবে না।
3
সেই সময়ে নগর-দ্বারের প্রবেশ-স্থানে চার জন কুষ্ঠরোগী ছিল। তারা পরস্পর বললো, ‘আমরা এখানে বসে বসে কেন মরবো?’
4 যদি বলি, নগরে প্রবেশ করবো, তবে নগরের মধ্যে দুর্ভিক্ষ আছে, সেখানে মরবো; আর যদি এখানে বসে থাকি, তবু মরবো। এখন এসো, আমরা অরামীয়দের শিবিরে গিয়ে পড়ি; তারা আমাদেরকে বাঁচায় তো বাঁচবো, মেরে ফেলে তো মরবো।
5 তখন তারা অরামীয়দের শিবিরে যাবার জন্য সন্ধ্যাবেলা উঠলো; যখন তারা অরামীয়দের শিবিরের প্রান্তভাগে উপস্থিত হল, তখন দেখলো সেখানে কেউ নেই।
6 কেননা প্রভু অরামীয়দের সৈন্যদলকে রথের আওয়াজ ও ঘোড়ার আওয়াজ, বড় সৈন্যদলের আওয়াজ শুনিয়ে ছিলেন; তাতে তারা একে অন্যকে বলেছিল, দেখ ইসরাইলের বাদশাহ্ আমাদের বিরুদ্ধে হিট্টিয়দের বাদশাহ্দের ও মিসরীয়দের বাদশাহ্দেরকে টাকা দিয়েছে, যেন তারা আমাদের আক্রমণ করে।
7 তাই তারা সন্ধ্যাবেলা পালিয়ে গিয়েছিল; তাদের শিবির অর্থাৎ তাঁবু, ঘোড়া ও সমস্ত গাধা যেমন ছিল, তেমনি ত্যাগ করে নিজ নিজ প্রাণরক্ষা করার জন্য পালিয়ে গিয়েছিল।
8 পরে ঐ কুষ্ঠরোগীরা শিবিরের প্রান্তভাগে এসে একটি তাঁবুর মধ্যে গিয়ে ভোজন পান করলো এবং সেই স্থান থেকে রূপা, সোনা ও কাপড়-চোপড় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখল; পরে পুনরায় এসে আর একটি তাঁবুর মধ্যে গেল এবং সেই স্থান থেকেও দ্রব্যদি নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখল।
9
পরে তারা পরস্পর বললো, আমাদের এই কাজ ভাল নয়; আজ সুসংবাদের দিন, কিন্তু আমরা চুপ করে আছি, যদি প্রভাত পর্যন্ত বিলম্ব করি, তবে আমাদের অপরাধ আমাদেরকে ধরবে। এখন এসো, আমরা গিয়ে রাজপ্রাসাদে সংবাদ দিই।
10 পরে তারা গিয়ে নগরের দ্বার-রক্ষকদেরকে ডেকে তাদেরকে সংবাদ দিল যে, আমরা অরামীয়দের শিবিরে গিয়েছিলাম; আর দেখ, সেখানে কেউ নেই, মানুষের শব্দও নেই, কেবল ঘোড়াগুলো ও গাধাগুলো বাঁধা, আর সমস্ত তাঁবু যেমন ছিল, তেমনি আছে।
11 তাতে দ্বারপালদেরকে ডাকা হলে তারা ভিতরে রাজপ্রাসাদে সংবাদ দিল।
12 পরে বাদশাহ্ রাত্রে উঠে তাঁর গোলামদেরকে বললেন, অরামীয়েরা আমাদের প্রতি যা করেছে, তা আমি তোমাদেরকে বলি, তারা জানে, আমরা ক্ষুধার্ত, তাই তারা মাঠে লুকিয়ে থাকবার জন্য শিবির থেকে বাইরে গেছে, আর বলেছে, ওরা যখন নগর থেকে বাইরে আসবে, তখন আমরা ওদেরকে জীবন্ত ধরবো ও নগরের মধ্যে প্রবেশ করবো।
13 তখন তাঁর গোলামদের মধ্যে এক জন জবাবে বললো, তবে আরজ করি, নগরে যা অবশিষ্ট আছে, কয়েক জন সেই অবশিষ্ট ঘোড়াগুলোর মধ্যে পাঁচটা ঘোড়া গ্রহণ করুক— দেখুন, তারা এবং নগরের অবশিষ্ট ইসরাইলের সমস্ত লোক, এই দুই সমান; দেখুন, তারা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইসরাইলের সমস্ত লোক, এই দুই সমান— আমরা একবার পাঠিয়ে দেখি।
14 পরে তারা ঘোড়াযুক্ত দু’টি রথ নিল; বাদশাহ্ তাদেরকে অরামীয়দের সৈন্যের পিছনে পাঠালেন, বললেন, যাও গিয়ে দেখ।
15 তাতে তারা জর্ডান পর্যন্ত ওদের পিছনে পিছনে গেল। আর দেখ, অরামীয়েরা তাড়াহুড়া করে যা যা ফেলে গিয়েছিল, সেসব কাপড় ও পাত্রে সমস্ত পথ পরিপূর্ণ। তখন দূতেরা ফিরে এসে বাদশাহ্কে সংবাদ দিল।
16
আর লোকেরা বাইরে গিয়ে অরামীয়দের শিবির লুট করলো; তাতে মাবুদের কালাম অনুসারে শেকলে এক পসুরী সুজি এবং শেকলে দুই পসুরী যব বিক্রি হল।
17 আর বাদশাহ্ যে সেনানীর হাতে ভর দিয়েছিলেন, তাকে তিনি নগর-দ্বারের নেতা করে নিযুক্ত করলেন; কিন্তু লোকেরা দ্বারে তাঁকে পদতলে দলিত করলো, তাতে তিনি মারা গেলেন; আল্লাহ্র লোকের কাছে যখন বাদশাহ্ নেমে গিয়েছিলেন, তখন আল্লাহ্র লোক যা বলেছিলেন, তা সফল হল।
18 আল্লাহ্র লোক বাদশাহ্কে বলেছিলেন, আগামীকাল এই বেলায় সামেরিয়ার দ্বারে শেকলে দুই পসুরী যব এবং শেকলে এক পসুরী সুজি বিক্রি হবে;
19 আর ঐ সেনানী আল্লাহ্র লোককে বলেছিলেন, দেখুন, যদি মাবুদ আসমানে জানালাও তৈরি করেন, তবুও কি এমন থেকে পারবে? জবাবে তিনি বলেছিলেন, দেখ, তুমি স্বচক্ষে তা দেখবে, কিন্তু তার কিছুই খেতে পাবে না।
20 তার সেই দশা ঘটলো, কারণ লোকেরা দ্বারে তাকে পদতলে দলিত করাতে তার মৃত্যু হল।
1
আল-ইয়াসা যে স্ত্রীলোকটির পুত্রকে মৃত্যু থেকে জীবিতি করে তুলেছিলেন, তাকে বলেছিলেন, তুমি পরিবারের সঙ্গে যে স্থানে প্রবাস করতে পার, সেই স্থানে গিয়ে প্রবাস কর; কেননা মাবুদ দুর্ভিক্ষ ডেকেছেন, আর তা এসে সাত বছর পর্যন্ত এই দেশে থাকবে।
2 তাতে সেই স্ত্রীলোকটি আল্লাহ্র লোকের কালাম অনুসারে কাজ করলেন; তিনি ও তার পরিবার গিয়ে সাত বছর ফিলিস্তিনীদের দেশে প্রবাস করলেন।
3 সাত বছরের শেষে সেই স্ত্রীলোকটি ফিলিস্তিনীদের দেশ থেকে ফিরে আসলেন, আর তার বাড়ি ও ভূমির জন্য বাদশাহ্র কাছে নিবেদন করতে গেলেন।
4 ঐ সময়ে বাদশাহ্ আল্লাহ্র লোকের ভৃত্য গেহসির সঙ্গে কথা বলছিলেন; তিনি বললেন, আল-ইয়াসা যেসব মহৎ কাজ করেছেন, সেই সমস্তের বৃত্তান্ত আমাকে বল।
5 তাতে আল-ইয়াসা কিভাবে মৃতকে আবার জীবিত করেছিলেন, তার বিবরণ সে বাদশাহ্কে বলছে, আর দেখ, যার পুত্রকে তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত করেছিলেন, সেই স্ত্রীলোকটি তার বাড়ি ও ভূমির জন্য বাদশাহ্র কাছে এসে নিবেদন করতে লাগলেন। তখন গেহসি বললো, হে আমার মালিক বাদশাহ্, এই সেই স্ত্রীলোক এবং এই তার পুত্র, যাকে আল-ইয়াসা পুনর্জীবিত করেছিলেন।
6 আর বাদশাহ্ স্ত্রীলোকটিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে সকল বৃত্তান্ত বললেন। আর বাদশাহ্ তাঁর পক্ষে এক জন কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করে বললেন, এর সর্বস্ব এবং এ যেদিন দেশ ত্যাগ করেছে, সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত উৎপন্ন এর ক্ষেতের সমস্ত আয় একে ফিরিয়ে দাও।
7
একদিন আল-ইয়াসা দামেস্কে উপস্থিত হন। তখন অরামের বাদশাহ্ বিন্হদদ অসুস্থ ছিলেন; তিনি সংবাদ পেলেন যে, আল্লাহ্র লোক এই স্থান পর্যন্ত এসেছেন।
8 তখন বাদশাহ্ হসায়েলকে বললেন, তুমি উপহার সঙ্গে নিয়ে আল্লাহ্র লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাও এবং তাঁর দ্বারা মাবুদকে জিজ্ঞাসা কর, এই অসুস্থতা থেকে আমি কি বাঁচবো?
9 পরে হসায়েল আল-ইয়াসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। তিনি উপহার সঙ্গে নিয়ে, এমন কি, সমস্ত রকম উত্তম বস্তু চল্লিশটি উটের পিঠে বোঝাই করে দামেস্কে এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললেন, আপনার পুত্র অরামের বাদশাহ্ বিন্হদদ আপনার কাছে আমাকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন, এই অসুস্থতা থেকে আমি কি বাঁচবো?
10 আল-ইয়াসা তাঁকে বললেন, আপনি গিয়ে তাঁকে বলুন, অবশ্য বাঁচতে পারেন; তবুও মাবুদ আমাকে এটা জানিয়েছেন যে, তিনি অবশ্য ইন্তেকাল করবেন।
11 আর হসায়েল যে পর্যন্ত লজ্জা না পেলেন, সেই পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রতি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন; পরে আল্লাহ্র লোক কাঁদতে লাগলেন।
12 হসায়েল জিজ্ঞাসা করলেন, আমার মালিক কেন কাঁদছেন? তিনি জবাবে বললেন, কারণ হচ্ছে, আপনি বনি-ইসরাইলদের যে অনিষ্ট করবেন, তা আমি জানি; আপনি তাদের দৃঢ় সমস্ত দুর্গ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন, তাদের যুবকদেরকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করবেন, তাদের শিশুদেরকে ধরে আছাড় মারবেন ও তাদের গর্ভবতী স্ত্রীলোকদের উদর বিদীর্ণ করবেন।
13 হসায়েল বললেন, আপনার এই কুকুরের মত গোলাম কে যে, এমন মহৎ কাজ করবে? আল-ইয়াসা বললেন, মাবুদ আমাকে দেখিয়েছেন যে, আপনি অরামের বাদশাহ্ হবেন।
14 তখন তিনি আল-ইয়াসার কাছ থেকে প্রস্থান করে তাঁর মালিকের কাছে গেলেন; বাদশাহ্ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল-ইয়াসা তোমাকে কি বললেন? হসায়েল বললেন, তিনি আমাকে বললেন, আপনি অবশ্য বাঁচবেন।
15 কিন্তু পর দিনে হসায়েল কম্বল পানিতে ডুবিয়ে বাদশাহ্র মুখের উপরে চাপা দিলেন, তাতে তাঁর মৃত্যু হল এবং হসায়েল তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
16
ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের পুত্র যোরামের পঞ্চম বছরে, যখন যিহোশাফট এহুদার বাদশাহ্ ছিলেন, তখন এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটের পুত্র যিহোরাম রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
17 তিনি বত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে আট বছর রাজত্ব করেন।
18 আহাবের কুল যেমন করতো, তিনিও তেমনি ইসরাইলের বাদশাহ্দের পথে চলতেন, কারণ তিনি আহাবের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন; ফলে মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন।
19 তবুও তাঁর গোলাম দাউদের জন্য মাবুদ এহুদাকে বিনষ্ট করতে চাইলেন না, তিনি তো দাউদের কাছে ওয়াদা করেছিলেন, যে, তাঁকে তাঁর সন্তানদের জন্য নিয়ত একটি প্রদীপ দেবেন।
20
তাঁর সময়ে ইদোম এহুদার অধীনতা অস্বীকার করে তাদের নিজেদের জন্য এক জনকে বাদশাহ্ করলো।
21 অতএব যোরাম তাঁর সমস্ত রথ সঙ্গে নিয়ে সায়ীরে যাত্রা করলেন; আর রাতের বেলায় তিনি উঠে, যারা তাঁকে বেষ্টন করেছিল, সেই ইদোমীয়দের ও তাদের রথের নেতাদেরকে আঘাত করলেন, আর সেই লোকেরা যার যার তাঁবুতে পালিয়ে গেল।
22 এভাবে ইদোম আজ পর্যন্ত এহুদার অধীনতা অস্বীকার করে রয়েছে। আর ঐ সময়ে লিব্নাও অধীনতা অস্বীকার করলো।
23 যোরামের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
24 পরে যোরাম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং দাউদ নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ হলেন; আর তাঁর পুত্র অহসিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
25
ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের পুত্র যোরামের বারো বছরের রাজত্বের সময় এহুদার বাদশাহ্ যিহোরামের পুত্র অহসিয় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
26 অহসিয় বাইশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে এক বছর রাজত্ব করেন। তাঁর মায়ের নাম অথলিয়া, তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্ অম্রির পৌত্রী।
27 অহসিয় আহাব কুলের পথে চলতেন, মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, আহাব কুলের মত তা-ই করতেন, কেননা তিনি আহাব কুলের জামাতা ছিলেন।
28
তিনি আহাবের পুত্র যোরামের সঙ্গে অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রামোৎ-গিলিয়দে গেলেন; তাতে অরামীয়েরা যোরামকে ক্ষতবিক্ষত করলো।
29 অতএব বাদশাহ্ যোরাম অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময়ে রামাতে অরামীয়েরা তাঁকে যেভাবে আক্রমণ করেছিল তা থেকে সুস্থ হবার জন্য যিষ্রিয়েলে ফিরে গেলেন; আর আহাবের পুত্র যোরামের অসুস্থতার দরুন এহুদার বাদশাহ্ যিহোরামের পুত্র অহসিয় তাঁকে দেখতে যিষ্রিয়েলে গেলেন।
1
তখন নবী আল-ইয়াসা এক জন শিষ্য-নবীকে ডেকে বললেন, তুমি কোমর-বন্ধনী পর এবং এই তেলের শিশি হাতে নিয়ে রামোৎ-গিলিয়দে যাও।
2 সেখানে উপস্থিত হয়ে নিমশির পৌত্র যিহোশাফটের পুত্র যেহূর খোঁজ কর এবং কাছে গিয়ে তাঁর ভাইদের মধ্য থেকে তাঁকে ওঠাও এবং ভিতরের এক কুঠরীতে নিয়ে যাও।
3 পরে তেলের শিশিটি নিয়ে তাঁর মাথায় ঢেলে দিয়ে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমাকে ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে অভিষেক করলাম। পরে তুমি দরজা খুলে পালিয়ে যাবে, বিলম্ব করবে না।
4
তখন সেই যুবক, সেই যুব-নবী, রামোৎ-গিলিয়দে গেলেন।
5 তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, সেনাপতিরা বসে আছেন। তিনি বললেন, হে সেনাপতি, আপনার কাছে আমার কিছু বক্তব্য আছে। যেহূ বললেন, আমাদের সকলের মধ্যে কার কাছে? তিনি বললেন, হে সেনাপতি, আপনার কাছে।
6 তখন যেহূ উঠে বাড়ির মধ্যে গেলেন। তাতে সে তাঁর মাথায় তেল ঢেলে তাঁকে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি মাবুদের লোকবৃন্দের উপরে, ইসরাইলের উপরে, তোমাকে বাদশাহ্র পদে অভিষেক করলাম।
7 তুমি তোমার মালিক আহাবের কুলকে আক্রমণ করবে এবং আমি ঈষেবলের হাত থেকে আমার গোলাম নবীদের রক্তের প্রতিশোধ ও মাবুদের সকল গোলামের রক্তের প্রতিশোধ নেব।
8 বস্তুত আহাব কুলের সমস্ত লোক বিনষ্ট হবে; আমি আহাব-বংশের প্রত্যেক পুরুষ, ইসরাইলের মধ্যে লোককে উচ্ছন্ন করবো— সে কেনা গোলামই হোক বা স্বাধীন মানুষই হোক।
9 আর আহাবের কুলকে নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের কুল ও অহিয়ের পুত্র বাশার কুলের সমান করবো।
10 আর ঈষেবলকে কুকুরেরা যিষ্রিয়েলের ভূমিতে খাবে, কেউ তাকে দাফন করবে না। পরে সেই যুবক দরজা খুলে পালিয়ে গেলেন।
11
তখন যেহূ তাঁর মালিকের গোলামদের কাছে বাইরে আসলেন; এক জন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, সকল মঙ্গল তো? ঐ পাগলটা তোমার কাছে কেন এসেছিল? তিনি বললেন, তোমরা তো ওকে চেন ও কি বলেছে তাও জান।
12 তারা বললো, এ মিথ্যা কথা; আমাদেরকে সত্যি কথা বল। তখন তিনি বললেন, সে আমাকে এ সব কথা বললো, বললো, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমাকে ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে অভিষেক করলাম।
13 তখন তারা খুব দ্রুত প্রত্যেকে নিজ নিজ কাপড় খুলে সিঁড়ির উপরে তাঁর পদতলে পাতল এবং তূরী বাজিয়ে বললো, যেহূ বাদশাহ্ হলেন।
14
এভাবে নিম্শির পৌত্র যিহোশাফটের পুত্র যেহূ যোয়ামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন। —সেই সময় যোরাম ও সমস্ত ইসরাইল অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের হাত থেকে রামোৎ-গিলিয়দ রক্ষা করছিলেন;
15 কিন্তু অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের সঙ্গে যোরাম বাদশাহ্র যুদ্ধকালে অরামীয়েরা তাঁকে যেসব আঘাত করেছিল, তা থেকে সুস্থতা পাবার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে গিয়েছিলেন।— পরে যেহূ বললেন, যদি তোমাদের এই অভিমত হয়, তবে যিষ্রিয়েলে সংবাদ দেবার জন্য কাউকেও এই নগর থেকে পালিয়ে বের হতে দিও না।
16 পরে যেহূ রথে চড়ে যিষ্রিয়েলে গমন করলেন, কেননা সেই স্থানে যোরাম বিছানায় শুয়ে ছিলেন। আর এহুদার বাদশাহ্ অহসীয় যোরামকে দেখতে নেমে গিয়েছিলেন।
17
তখন যিষ্রিয়েলের উচ্চগৃহের উপর প্রহরী দাঁড়িয়েছিল; যেহূর আসার সময়ে সে তাঁর দল দেখে বললো, আমি একটি দল দেখছি। যোরাম বললেন, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এক জন ঘোড়সওয়ারকে পাঠিয়ে দাও, সে গিয়ে বলুক, মঙ্গল তো?
18 পরে এক জন ঘোড়সওয়ার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বললো, বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করছেন, মঙ্গল তো? যেহূ বললেন, মঙ্গলে তোমার কি কাজ? তুমি আমার পিছনে এসো। পরে প্রহরী এই সংবাদ দিল, সেই দূত তাদের কাছে গেল বটে, কিন্তু ফিরে এল না।
19 পরে বাদশাহ্ আর এক জন ঘোড়সওয়ারকে পাঠালেন; সে তাঁদের কাছে উপস্থিত হয়ে বললো, বাদশাহ্ জিজ্ঞাসা করছেন, মঙ্গল তো? যেহূ বললেন, মঙ্গলে তোমার কি কাজ? তুমি আমার পিছনে এসো।
20 পরে প্রহরী সংবাদ দিল, এই ব্যক্তি তাদের কাছে গেল, কিন্তু ফিরে এল না; আর রথ চালানো নিম্শির পুত্র যেহূর চালানোর মত দেখাচ্ছে, কেননা সে উন্মত্তের মত চালায়।
21
তখন যোরাম বললেন, রথ সাজাও। তখন তারা তাঁর রথ সাজাল। আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যোরাম ও এহুদার বাদশাহ্ অহসিয় যার যার রথে চড়ে বের হয়ে যেহূর কাছে গেলেন এবং যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের ভূমিতে তাঁর দেখা পেলেন।
22 যেহূকে দেখামাত্র যোরাম বললেন, যেহূ মঙ্গল তো? জবাবে তিনি বললেন, যে পর্যন্ত তোমার মা ঈষেবলের এত জেনা ও মায়াবিত্ব থাকে, সে পর্যন্ত মঙ্গল কোথায়?
23 তখন যোরাম ঘুরে পালিয়ে গেলেন এবং অহসীয়কে বললেন, হে অহসীয়, এটা বেঈমানী!
24 পরে যেহূ তাঁর সমস্ত শক্তিতে ধনুকে টান দিয়ে যোরামের উভয় বাহুমূলের মধ্যে তীর ছুঁড়ে মারলেন, আর তীর তাঁর হৃৎপিণ্ড ভেদ করে বের হল, তাতে তিনি তাঁর রথে নত হয়ে পড়লেন।
25 তখন যেহূ তাঁর সেনানী বিদ্করকে বললেন, তুমি ওকে তুলে নিয়ে যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের ভূমিতে ফেলে দাও; কেননা মনে করে দেখ, তুমি ও আমি উভয়ে ঘোড়ায় চড়ে পাশাপাশি ওর পিতা আহাবের পিছনে চলছিলাম, এমন সময়ে মাবুদ তাঁর বিরুদ্ধে এই দৈববাণী বলেছিলেন,
26 সত্যিই গতকাল আমি নাবোতের রক্ত ও তার পুত্রদের রক্ত দেখেছি, মাবুদ এই কথা বলেন, আর মাবুদ বলেন, এই ভূমিতে আমি তোমাকে প্রতিফল দেব। অতএব এখন তুমি ওকে তুলে নিয়ে মাবুদের কালাম অনুসারে ঐ ভূমিতে ফেলে দাও।
27
তখন এহুদার বাদশাহ্ অহসীয় তা দেখে বাগান বাড়ির পথ ধরে পালিয়ে গেলেন; আর যেহূ তাঁর পেছন পেছন গিয়ে বললেন, ওকেও রথের মধ্যে আক্রমণ কর; তখন তারা যিব্লিয়মের নিকটস্থ গূরের আরোহন পথে তাঁকে আঘাত করলো; পরে তিনি মগিদ্দোতে পালিয়ে গিয়ে সেই স্থানে ইন্তেকাল করলেন।
28 আর তাঁর গোলামেরা তাঁকে রথে করে জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে দাউদ নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁর জন্য ঠিক করে রাখা কবরে তাঁকে দাফন করলো।
29 অহসিয় আহাবের পুত্র যিহোরামের একাদশ বছরে এহুদায় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেছিলেন।
30
পরে যেহূ যিষ্রিয়েলে উপস্থিত হলেন; ঈষেবল এই কথা শুনে সে চোখে অঞ্জন দিয়ে ও মাথায় কেশবেশ করে জানালা দিয়ে দেখছিল,
31 এবং যেহূ দ্বারে প্রবেশ করলে সে তাঁকে বললো, রে সিম্রি! রে প্রভুঘাতক! মঙ্গল তো?
32 যেহূ জানালার দিকে মুখ তুলে বললেন, কে আমার পক্ষে? কে? তখন দুই তিন জন নপুংসক তার দিকে চাইল।
33 আর তিনি হুকুম করলেন, ওকে নিচে ফেলে দাও। তারা তাকে নিচে ফেলে দিল, আর তার কতকটা রক্ত দেয়ালে ও ঘোড়াগুলোর গায়ে ছিট্কে পড়লো; আর তিনি তাকে পদতলে দলিত করলেন।
34 পরে ভিতরে গিয়ে যেহূ ভোজন পান করলেন; আর বললেন, তোমরা গিয়ে ঐ বদদোয়াগ্রস্তার খোঁজ নিয়ে তাকে দাফন কর, কেননা সে শাহ্জাদী।
35 তাতে লোকেরা তাকে দাফন করতে গেল, কিন্তু তার মাথার খুলি, পা ও হাত ছাড়া আর কিছুই পাওয়া গেল না।
36 অতএব তারা ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল। তিনি বললেন, এই অবস্থা মাবুদের কালাম অনুসারে হল, তিনি তাঁর গোলাম তিশ্বীয় ইলিয়াসের মাধ্যমে এই কথা বলেছিলেন, যিষ্রিয়েলের ভূমিতে কুকুরেরা ঈষেবলের মাংস খাবে;
37 এবং যিষ্রিয়েলের ভূমিতে ঈষেবলের লাশ সারের মত ক্ষেতে পড়ে থাকবে; তাতে কেউ বলতে পারবে না যে, ‘এই-ই ঈষেবল’।
1
সামেরিয়ায় আহাবের সত্তর জন পুত্র ছিল। যেহূ সামেরিয়ায় যিষ্রিয়েলের নেতাদের অর্থাৎ প্রধান ব্যক্তিদের কাছে ও আহাবের সন্তানদের অভিভাবকদের কাছে কয়েকখানি পত্র লিখে পাঠালেন।
2 তিনি লিখলেন, তোমাদের মালিকের পুত্ররা তোমাদের কাছে আছে এবং কতকগুলো রথ, ঘোড়া ও সুদৃঢ় একটি নগর এবং অস্ত্রশস্ত্রও তোমাদের কাছে আছে।
3 অতএব তোমাদের কাছে এই পত্র উপস্থিত হওয়ামাত্র তোমাদের মালিকের পুত্রদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি সৎ ও উপযুক্ত, তা নিশ্চয় করে তার পিতার সিংহাসনে তাকে বসাও এবং তোমার মালিকের কুলের জন্য যুদ্ধ কর।
4 কিন্তু তারা ভীষণ ভয় পেয়ে বললো, দেখ, যাঁর সম্মুখে দু’জন বাদশাহ্ দাঁড়াতে পারলেন না, তাঁর সম্মুখে আমরা কিভাবে দাঁড়াবো?
5 অতএব রাজবাড়ির পরিচালক, শহরের শাসনকর্তা এবং প্রাচীনবর্গরা ও অভিভাবকেরা যেহূর কাছে এই কথা বলে পাঠাল, আমরা আপনার গোলাম, আপনি আমাদেরকে যা যা বলবেন, তার সবকিছুই করবো, কাউকেও বাদশাহ্ করবো না; আপনার দৃষ্টিতে যা ভাল, আপনি তা-ই করুন।
6 পরে তিনি তাদের কাছে দ্বিতীয় বার একটি পত্র লিখলেন, যথা, তোমরা যদি আমার সপক্ষ হও ও আমার আহ্বানে সাড়া দাও, তবে তোমার মালিকের পুত্রদের মুণ্ডগুলো নিয়ে আগামীকাল এই সময়ে যিষ্রিয়েলে আমার কাছে এসো। সেই রাজকুমারেরা সত্তর জন ছিল এবং তারা তাদের প্রতিপালনকারী নগরবাসী বড় লোকদের সঙ্গে ছিল।
7 আর পত্রখানি তাদের কাছে উপস্থিত হলে তারা সেই সত্তর জন রাজকুমারকে হত্যা করলো এবং কতকগুলো ডালাতে করে তাদের মুণ্ডু যিষ্রিয়েলে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিল।
8 পরে এক জন দূত এসে তাঁকে সংবাদ দিয়ে বললো, রাজকুমারদের ছিন্ন মুণ্ডুগুলো আনা হয়েছে। তিনি বললেন, নগর-দ্বারের প্রবেশ স্থানে দুই সারি করে সেগুলো সকাল পর্যন্ত রাখ।
9 পরে খুব ভোরে তিনি বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন ও সমস্ত লোককে বললেন, তোমরা তো ধার্মিক; দেখ, আমি আমার মালিকের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁকে মেরে ফেলেছি; কিন্তু এদেরকে কে খুন করলো?
10 এখন তোমরা জেনো, মাবুদ আহাব কুলের বিপরীতে যা বলেছেন, মাবুদের সেই কালামের কিছুই ব্যর্থ হবার নয়; কারণ মাবুদ তাঁর গোলাম ইলিয়াসের দ্বারা যা বলেছেন, তা করলেন।
11 পরে যিষ্রিয়েলে আহাব-কুলের যত লোক অবশিষ্ট ছিল, যেহূ তাদের, তাঁর সমস্ত গণ্যমান্য লোক, তাঁর বন্ধু-বান্ধবদের ও তাঁর ইমামদেরকে হত্যা করলেন, তাঁর সম্পর্কীয় কাউকেও অবশিষ্ট রাখলেন না।
12
পরে তিনি প্রস্থান করলেন, সামেরিয়ায় গেলেন। পথের মধ্যে ভেড়ার রাখালদের ভেড়ার লোমচ্ছেদন-গৃহে উপস্থিত হলে,
13 এহুদার বাদশাহ্ অহসিয়ের ভাইদের সঙ্গে যেহূর সাক্ষাৎ হল; তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কে? তারা বললো, আমরা অহসীয়ের ভাই; বাদশাহ্ ও রাণী মাতার সন্তানদেরকে সালাম জানাতে যাচ্ছি।
14 তিনি বললেন, ওদেরকে জীবন্ত ধর। তাতে লোকেরা তাদেরকে জীবন্ত ধরে ভেড়ার লোমচ্ছেদন-গৃহের কূপের কাছে হত্যা করলো, বিয়াল্লিশ জনের মধ্যে এক জনকেও অবশিষ্ট রাখল না।
15
যেহূ সেই স্থান থেকে প্রস্থান করলে রেখবের পুত্র যিহোনাদবের সঙ্গে তাঁর দেখা হল; তিনি তাঁরই কাছে আসছিলেন। যেহূ তাঁকে মঙ্গলবাদ করে বললেন, তোমার প্রতি আমার মন যেমন, তেমনি কি তোমার মন সরল? যিহোনাদব বললেন, সরল। যদি তা হয়, তবে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও। পরে তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলে যেহূ তাঁকে নিজের কাছে রথে চড়ালেন।
16 আর তিনি বললেন, আমার সঙ্গে চল, মাবুদের জন্য আমার যে গভীর আগ্রহ, তা দেখ; এভাবে তাঁকে তাঁর রথে চড়িয়ে নেওয়া হল।
17 পরে সামেরিয়ায় উপস্থিত হলে যেহূ সামেরিয়ায় আহাবের অবশিষ্ট সমস্ত লোককে হত্যা করলেন, যে পর্যন্ত না আহাব-কুলকে একেবারে বিনষ্ট করলেন; মাবুদ ইলিয়াসকে যে কথা বলেছিলেন সেই অনুসারেই করলেন।
18
পরে যেহূ সমস্ত লোককে একত্র করে তাদের বললেন, আহাব বালের অল্পই সেবা করতেন, কিন্তু যেহূ তার বেশি সেবা করবে।
19 অতএব এখন তোমরা বালের সমস্ত নবী, তার সমস্ত পূজক ও সমস্ত ইমামকে আমার কাছে ডেকে আন, কেউই অনুপস্থিত যেন না থাকে; কেননা বালের উদ্দেশে আমাকে মহাযজ্ঞ করতে হবে; যে অনুপস্থিত থাকবে, সে বাঁচবে না। কিন্তু যেহূ বালের পূজকদেরকে বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই ছল করেছিলেন।
20 পরে যেহূ বললেন, বালের উদ্দেশে উৎসব-সভা আহ্বান কর। তারা উৎসব ঘোষণা করে দিল।
21 আর যেহূ ইসরাইলের সর্বত্র লোক পাঠালে বালের যত পূজক ছিল, সকলে এল, কেউ অনুপস্থিত রইলো না। পরে তারা বালের গৃহে প্রবেশ করলে গৃহের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পরিপূর্ণ হল।
22 তখন তিনি বস্ত্রাগারের নেতাকে বললেন, বালের সমস্ত পূজকের জন্য পোশাক বের করে আন। তাতে সে তাদের জন্য পোশাক বের করে আনলো।
23 পরে যেহূ ও রেখবের পুত্র যিহোনাদব বালের মন্দিরে গেলেন; তিনি বালের পূজকদেরকে বললেন, তদন্ত করে দেখ, এখানে তোমাদের সঙ্গে বালের পূজক ছাড়া মাবুদের গোলামদের মধ্যে কেউ যেন না থাকে।
24 আর ওরা পশু কোরবানী ও পোড়ান-কোরবানী করতে ভিতরে গেল। এই দিকে যেহূ আশী জনকে বাইরে রেখে বলেছিলেন, ঐ যে লোকদেরকে আমি তোমাদের হাতে তুলে দিলাম, ওদের এক জনও যদি পালিয়ে বাঁচে, তবে যে তাকে ছেড়ে দেবে ওর প্রাণের জন্য তার প্রাণ যাবে।
25
পরে পোড়ানো-কোরবানীর কাজ শেষ হলে যেহূ ধাবক সেনাদের ও সেনানীদেরকে বললেন, ভিতরে যাও, ওদেরকে হত্যা কর, এক জনকেও বাইরে আসতে দিও না। তখন তারা তলোয়ারের আঘাতে তাদেরকে আঘাত করলো; পরে ধাবক সেনারা ও সেনানীরা তাদেরকে বাইরে ফেলে দিল; পরে তারা বাল-মন্দিরের পূরীতে গেল;
26 আর বালের মন্দির থেকে সমস্ত স্তম্ভ বের করে পুড়িয়ে ফেললো।
27 তারা বালের স্তম্ভটি ভেঙ্গে ফেললো এবং বালের মন্দির ভেঙ্গে সেখানে একটি পায়খানা প্রস্তুত করলো, তা আজও আছে।
28
এভাবে যেহূ ইসরাইলের মধ্য থেকে বালকে উচ্ছিন্ন করলেন।
29 তবুও নবাটের পুত্র যে ইয়ারাবিম ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর গুনাহ্বস্তুর অর্থাৎ বেথেলে ও দানে অবস্থিত সোনার দুটি বাছুরের পিছনে চলা থেকে যেহূ ফিরলেন না।
30 আর মাবুদ যেহূকে বললেন, আমার দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা করে তুমি ভাল কাজ করেছ এবং আমার মনে যা যা ছিল, আহাব-কুলের প্রতি সমস্তই করেছ, এজন্য চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত তোমার বংশ ইসরাইলের সিংহাসনে বসবে।
31 তবুও যেহূ সর্বান্তঃকরণে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের শরীয়ত অনুসারে চলবার জন্য সতর্ক হলেন না; ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেসব গুনাহ্ থেকে তিনি ফিরলেন না।
32
ঐ সময়ে মাবুদ ইসরাইলকে খর্ব করতে লাগলেন; বাস্তবিক হসায়েল ইসরাইলের এ সব অঞ্চলে তাদেরকে আক্রমণ করলেন;
33 জর্ডানের পূর্ব দিকে সমস্ত গিলিয়দ দেশে, অর্ণোন উপত্যকার নিকটস্থ অরোয়ের থেকে গাদীয়, রূবেণীয় ও মানশাদের দেশ, অর্থাৎ গিলিয়দ ও বাশন।
34 যেহূর অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, সমস্ত কাজের বিবরণ ও তাঁর সমস্ত বিক্রমের কথা কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
35 পরে যেহূ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর সামেরিয়াতে তাঁকে দাফন করা হল; পরে তাঁর পুত্র যিহোয়াহস তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
36 যেহূ আটাশ বছর সামেরিয়াতে ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করেছিলেন।
1
ইতোমধ্যে অহসিয়ের মা অথলিয়া যখন দেখলো যে, তার পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে, তখন সে উঠে সমস্ত রাজবংশ বিনষ্ট করলো।
2 কিন্তু বাদশাহ্ যোরামের কন্যা অহসিয়ের বোন যিহোশেবা, রাজপুত্রদের মধ্য থেকে অহসিয়ের পুত্র যোয়াশকে চুরি করে নিয়ে গিয়ে তাঁর ধাত্রীর সঙ্গে একটা শোবার ঘরে রাখলেন; তাঁরা অথলিয়ার কাছ থেকে তাঁকে লুকিয়ে রাখার ফলে তিনি মারা পড়েন নি।
3 আর তিনি তাঁর সঙ্গে মাবুদের গৃহে ছয় বছর যাবৎ লুকিয়ে রইলেন; তখন অথলিয়া দেশে রাজত্ব করছিল।
4
পরে সপ্তম বছরে যিহোয়াদা লোক প্রেরণ করে রক্ষক ও ধাবক সৈন্যের শতপতিদেরকে ডেকে এনে নিজের কাছে মাবুদের গৃহে আনলেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়ম করে মাবুদের গৃহে তাদেরকে শপথ করিয়ে রাজপুত্রকে দেখালেন।
5 আর তিনি তাদেরকে হুকুম দিয়ে বললেন, তোমরা এই কাজ করবে; তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্রামবারে প্রবেশ করবে, তাদের তৃতীয়াংশ রাজপ্রাসাদের প্রহরীর কাজ করবে;
6 তৃতীয়াংশ সূরদ্বারে থাকবে; এবং তৃতীয়াংশ ধাবক সৈন্যের পিছনে দ্বারে থাকবে; এভাবে তোমরা আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজপ্রাসাদের প্রহরীর কাজ করবে।
7 আর তোমাদের, অর্থাৎ যারা বিশ্রামবারে বাইরে যায়, তাদের সকলের, দুই দল বাদশাহ্র সমীপে মাবুদের গৃহের প্রহরীর কাজ করবে।
8 তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে বাদশাহ্কে বেষ্টন করবে; আর যে কেউ শ্রেণীর ভিতরে আসে, সে হত হবে; এবং বাদশাহ্ যখন বাইরে যান, কিংবা ভিতরে আসেন, তখন তোমরা তাঁর সঙ্গে থাকবে।
9
পরে ইমাম যিহোয়াদা যা যা হুকুম করলেন; শতপতিরা সেই অনুসারে সকলই করলো; কারণ তারা প্রত্যেকে যার যার লোকদের, যারা বিশ্রামবারে ভিতরে যায়, বা বিশ্রামবারে বাইরে আসে, তাদেরকে নিয়ে যিহোয়াদা ইমামের কাছে এল।
10 পরে বাদশাহ্ দাউদের যে বর্শা ও ঢাল মাবুদের গৃহে ছিল, তা ইমাম শতপতিদেরকে দিলেন,
11 আর গৃহের ডান পাশ থেকে গৃহের বাম পাশ পর্যন্ত কোরবানগাহ্ ও গৃহের কাছে ধাবক সৈন্য প্রত্যেকে স্ব স্ব হাতে অস্ত্র নিয়ে বাদশাহ্র চারদিকে দাঁড়ালো।
12 পরে তিনি রাজপুত্রকে বাইরে এনে তাঁর মাথায় মুকুট দিলেন ও তাঁকে সাক্ষ্য-কিতাব দিলেন এবং তাঁরা তাঁকে বাদশাহ্ করলেন ও অভিষেক করলেন; আর করতালি দিয়ে বললেন, বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
13
তখন অথলিয়া ধাবক সৈন্য ও লোকদের কোলাহল শুনে মাবুদের গৃহে লোকদের কাছে এল,
14 আর দৃষ্টিপাত করলো, আর দেখ, বাদশাহ্ যথারীতি মঞ্চের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেনাপতিরা ও তূরীবাদকরা বাদশাহ্র কাছে আছে এবং দেশের সমস্ত লোক আনন্দ করছে ও তূরী বাজাচ্ছে। তখন অথলিয়া তার কাপড় ছিঁড়ে ‘রাজদ্রোহ, রাজদ্রোহ’ বলে চেঁচিয়ে উঠলো।
15 কিন্তু ইমাম যিহোয়াদা সৈন্যদলের উপরে নিযুক্ত শতপতিদেরকে নির্দেশ দিলেন, ওকে বের করে দুই শ্রেণীর মধ্য দিয়ে নিয়ে যাও; যে ওর পিছনে যাবে, তাকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা কর; কারণ ইমাম বলেছিলেন, সে যেন মাবুদের গৃহের মধ্যে হত না হয়।
16 পরে লোকেরা তার জন্য দুই সারি হয়ে পথ ছাড়লে সে অশ্ব-দ্বারের পথ দিয়ে রাজ-প্রাসাদে প্রবেশ করলো এবং সেই স্থানে হত হল।
17
যিহোয়াদা তারপর মাবুদ এবং বাদশাহ্ ও লোকদের মধ্যে একটি নিয়ম করলেন যেন তারা মাবুদের লোক হয়, বাদশাহ্র ও লোকদের মধ্যেও নিয়ম করলেন।
18 পরে দেশের সমস্ত লোক বালের মন্দিরে গিয়ে তা ভেঙ্গে ফেললো এবং তার কোরবানগাহ্ ও সমস্ত মূর্তি একেবারে চূর্ণ করলো ও কোরবানগাহ্গুলোর সম্মুখে বালের পুরোহিত মত্তনকে হত্যা করলো। পরে ইমাম মাবুদের গৃহের উপরে কর্মচারীদের নিযুক্ত করলেন।
19 আর তিনি শতপতিদের এবং রক্ষক ও ধাবক সেনাদেরকে ও দেশের সমস্ত লোককে সঙ্গে নিলেন; তারা মাবুদের গৃহ থেকে বাদশাহ্কে নিয়ে ধাবক সৈন্যের দ্বারের পথ দিয়ে রাজপ্রাসাদে এল; আর তিনি রাজ-সিংহাসনে বসলেন।
20 তখন দেশের সমস্ত লোক আনন্দ করলো এবং নগর সুস্থির হল; আর অথলিয়াকে তারা রাজপ্রাসাদে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করেছিল।
21
যিহোয়াশ সাত বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
1
যেহূর সপ্তম বছরে যিহোয়াশ রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম সিবিয়া, তিনি বের-শেবা নিবাসীনী।
2 আর যতদিন ইমাম যিহোয়াদা যিহোয়াশকে উপদেশ দিতেন, ততদিন তিনি মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা-ই করতেন।
3 তবুও সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন হল না; লোকেরা তখনও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো ও ধূপ জ্বালাত।
4
পরে যিহোয়াশ ইমামদেরকে বললেন, পবিত্র বস্তু সম্বন্ধীয় যেসব টাকা মাবুদের গৃহে আনা হয়, নিয়মিত টাকা— প্রত্যেক গণনা-করা লোকের হিসেবে প্রাণীর মূল্যরূপে নিরূপিত টাকা ও মানুষের মনের প্রবৃত্তি অনুসারে মাবুদের গৃহে আনা টাকা,
5 এ সব টাকা ইমামেরা নিজ নিজ পরিচিত লোকদের হাত থেকে গ্রহণ করুক এবং গৃহের যে কোন স্থান ভেঙ্গে গেছে দেখা যাবে, তারা সেসব স্থান মেরামত করুক।
6 কিন্তু বাদশাহ্ যিহোয়াশের তেইশ বছর পর্যন্ত ইমামেরা সেই গৃহের ভাঙ্গা স্থান মেরামত করেন নি।
7 তাতে বাদশাহ্ যিহোয়াশ ইমাম যিহোয়াদা ও অন্য ইমামদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা গৃহের ভাঙ্গা স্থানগুলো কেন মেরামত করছো না? অতএব এখন তোমরা পরিচিত লোকদের কাছ থেকে আর টাকা নিও না, কিন্তু তা গৃহের ভাঙ্গা স্থান সারাবার জন্য দিও।
8 তখন ইমামেরা স্বীকার করলেন যে, তাঁরা লোকদের কাছ থেকে আর টাকা নেবেন না এবং গৃহের ভাঙ্গা স্থান সারাবেন না।
9
কিন্তু ইমাম যিহোয়াদা একটি সিন্দুক নিলেন ও তার ঢাকনাতে একটি ছিদ্র করে কোরবানগাহ্র কাছে মাবুদের গৃহের প্রবেশস্থানের দক্ষিণ পাশে রাখলেন; আর দ্বার-রক্ষক ইমামেরা মাবুদের গৃহে আনা সমস্ত টাকা তার মধ্যে রাখত।
10 পরে যখন তারা দেখতে পেল, সিন্দুকে অনেক টাকা জমেছে, তখন বাদশাহ্র লেখক ও মহা-ইমাম এসে মাবুদের গৃহে পাওয়া ঐ সমস্ত টাকা থলিতে করে গণনা করতেন।
11 পরে তাঁরা সেই পরিমিত টাকা মাবুদের গৃহের তদারককারী কর্মকারীদের হাতে দিতেন, আর তাঁরা মাবুদের গৃহে কর্মরত ছুতার মিস্ত্রি ও গাঁথকদের,
12 এবং রাজমিস্ত্রি ও ভাস্করদেরকে তা দিতেন এবং মাবুদের গৃহের ভাঙ্গা স্থান সারবার জন্য কাঠ ও খোদাই-করা পাথর ক্রয় করার জন্য ও গৃহ সারবার জন্য যা যা লাগতো সেসব কিছুর জন্য তা ব্যয় করতেন।
13 কিন্তু মাবুদের গৃহের জন্য রূপার বাটি, কর্তরী, গামলা, তূরী, কোন সোনার পাত্র বা রূপার পাত্র মাবুদের গৃহে আনা সেই রূপা দ্বারা তৈরি হল না;
14 কারণ তারা কর্মকারীদেরকেই সেই টাকা দিতেন এবং তারা তা নিয়ে মাবুদের গৃহ সারলেন।
15 কিন্তু তাঁরা যাদের হাতে টাকা দিতেন, সেই তদারকারী কর্মকারীদের কাছ থেকে কোন হিসাব নিতেন না, কেননা তারা বিশ্বস্তভাবে কাজ করতেন।
16 দোষ-কোরবানী ও গুনাহ্-কোরবানী সম্বন্ধীয় যে টাকা, তা মাবুদের গৃহে আনা হত না; তা ইমামদেরই হত।
17
ঐ সময়ে অরামের বাদশাহ্ হসায়েল গাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন ও তা অধিকার করলেন; পরে হসায়েল জেরুশালেমের বিরুদ্ধেও যাত্রা করতে উদ্যত হলেন।
18 তাতে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াশ তাঁর পূর্বপুরুষদের অর্থাৎ এহুদার যিহোশাফট, যিহোরাম ও অহসিয় বাদশাহ্র পবিত্রীকৃত সমস্ত বস্তু ও তার নিজের পবিত্রীকৃত সমস্ত বস্তু এবং মাবুদের গৃহের ভাণ্ডারে ও রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারে যত সোনা পাওয়া গেল, সেসব নিয়ে অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, তাতে তিনি জেরুশালেমের সম্মুখ থেকে ফিরে গেলেন।
19
যোয়াশের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
20 পরে যোয়াশের গোলামেরা চক্রান্ত করলো এবং সিল্লাগামী পথস্থিত মিল্লো নামক বাড়িতে তাঁকে আক্রমণ করলো।
21 ফলে শিমিয়তের পুত্র যোষাখর ও শোমরের পুত্র যিহোষাবদ নামে তাঁর দুই গোলাম তাঁকে আক্রমণ করলে তিনি ইন্তেকাল করলেন; পরে লোকেরা দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে কবর দিল এবং তাঁর পুত্র অমৎসিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
অহসিয়ের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের তেইশ বছরে যেহূর পুত্র যিহোয়াহস সামেরিয়ায় ইসরাইলে রাজত্ব করতে শুরু করেন এবং সতের বছর রাজত্ব করেন।
2 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন এবং নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেসব গুনাহ্র অনুগামী হলেন— তা থেকে ফিরলেন না।
3 তখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, আর তিনি অরামের বাদশাহ্ হসায়েল ও হসায়েলের পুত্র বিন্হদদের হাতে তাদেরকে তুলে দিলেন, তারা যিহোয়াহসের সমস্ত রাজত্ব কাল তাঁদের অধীন হয়ে রইলো।
4 পরে যিহোয়াহস মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন, আর মাবুদ তাঁর মুনাজাতে কান দিলেন, কেননা অরামের বাদশাহ্ ইসরাইলে যে জুলুম করতেন, সেই জুলুম তিনি দেখলেন।
5 আর মাবুদ ইসরাইলকে এক জন উদ্ধারকর্তা দিলেন, তাতে তারা অরামের হাত থেকে উদ্ধার পেল এবং বনি-ইসরাইল আগের মত যার যার তাঁবুতে বাস করতে লাগল।
6 তবুও ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর কুলের সেসব গুনাহ্ থেকে তারা ফিরল না, সেই পথে চলতো, আর সামেরিয়াতে আশেরা-মূর্তিও রইলো।
7 বাস্তবিক, অরামের বাদশাহ্ কেবল পঞ্চাশ জন ঘোড়সওয়ার, দশটি রথ ও দশ হাজার পদাতিক ছাড়া যিহোয়াহসের জন্য অন্য কোন সৈন্য অবশিষ্ট রাখেন নি; তিনি তাদেরকে বিনষ্ট করেছিলেন, দলনীয় ধূলিকণার সমান করেছিলেন।
8
যিহোয়াহসের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, সমস্ত কাজের বিবরণ ও তাঁর বিক্রমের কথা কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
9 পরে যিহোয়াহস তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর সামেরিয়াতে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র যোয়াশ তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
10
এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের সাঁইত্রিশ বছরে যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশ সামেরিয়াতে ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং ষোল বছর রাজত্ব করেন।
11 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন; নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেসব গুনাহ্ থেকে ফিরলেন না— সেই পথে চলতেন।
12 যোয়াশের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজ এবং যে বিক্রমের দ্বারা তিনি এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, সেসব কথা কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
13 পরে যোয়াশ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন; আর ইয়ারাবিম তাঁর সিংহাসনে উপবিষ্ট হলেন; এবং যোয়াশকে ইসরাইলের বাদশাহ্দের সঙ্গে সামেরিয়ায় দাফন করা হল।
14
আল-ইয়াসা অসুস্থ হলেন, সেই অসুস্থতাতেই তাঁর মৃত্যু হয়; আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশ তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর মুখের উপরে হেঁট হয়ে কেঁদে কেঁদে বললেন, হে আমার পিতা, হে আমার পিতা, ইসরাইলের রথগুলো ও ঘোড়-সওয়ারগণ।
15 তখন আল-ইয়াসা তাঁকে বললেন, আপনি তীর-ধনুক নিন। তিনি তীর-ধনুক নিলেন।
16 পরে তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, ধনুকের উপরে হাত রাখুন। তিনি হাত রাখলেন। পরে আল-ইয়াসা বাদশাহ্র হাতের উপরে তাঁর হাত রাখলেন,
17 আর বললেন, পূর্ব দিকের জানালা খুলুন। তিনি খুললেন। পরে আল-ইয়াসা বললেন, তীর নিক্ষেপ করুন। তিনি নিক্ষেপ করলেন। তখন আল-ইয়াসা বললেন, এ মাবুদের বিজয়-তীর, অরামের বিপক্ষে বিজয়-তীর, কেননা আপনি অফেকে অরামীয়দেরকে আক্রমণ করবেন, করতে করতে তাদেরকে নিঃশেষ করবেন।
18 পরে তিনি বললেন, ঐ সমস্ত তীর নিন। বাদশাহ্ সেগুলো নিলেন। তখন তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, ভূমিতে আঘাত করুন; বাদশাহ্ তিনবার আঘাত করে ক্ষান্ত হলেন।
19 তখন আল্লাহ্র লোক তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন, বললেন, পাঁচ ছয়বার আঘাত করতে হত, করলে অরামকে নিঃশেষ করণ পর্যন্ত আঘাত করতেন, কিন্তু এখন অরামকে মাত্র তিনবার আঘাত করবেন।
20
পরে আল-ইয়াসার মৃত্যু হল ও লোকেরা তাঁকে দাফন করলো। তখন মোয়াবীয় লুণ্ঠনকারী সৈন্যদল বসন্তকালে দেশে এসে প্রবেশ করলো।
21 আর লোকেরা একটা লোককে কবর দিচ্ছিল, আর দেখ, তারা এক লুণ্ঠনকারী সৈন্যদল দেখে সেই লাশ আল-ইয়াসার কবরে ফেলে দিল; তখন সেই ব্যক্তি প্রবিষ্ট হয়ে আল-ইয়াসার অস্থি স্পর্শ করামাত্র জীবিত হয়ে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালো।
22
যিহোয়াহসের সময়ে অরামের বাদশাহ্ হসায়েল ইসরাইলের উপরে সব সময়ই জুলুম করতেন।
23 কিন্তু মাবুদ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের সঙ্গে যে নিয়ম করেছিলেন, তার দরুন তাদের প্রতি রহমত ও করুণা করলেন, তাদের সপক্ষ রইলেন, তাদেরকে বিনষ্ট করতে চাইলেন না, তখনও পর্যন্ত তিনি নিজের সম্মুখ থেকে দূর করতে চাইলেন না।
24
পরে অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের মৃত্যু হল এবং তাঁর পুত্র বিন্হদদ তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
25 যিহোয়াশের পিতা যিহোয়াহসের হাত থেকে হসায়েল যেসব নগর যুদ্ধে অধিকার করেছিলেন, সেসব নগর যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশ হসায়েলের পুত্র বিন্হদদের হাত থেকে পুনরায় অধিকার করলেন। যোয়াশ তাঁকে তিন বার আঘাত করে ইসরাইলের ঐ সমস্ত নগর পুনর্বার নিলেন।
1
ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াহসের পুত্র যোয়াশের দ্বিতীয় বছরে এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের পুত্র অমৎসিয় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
2 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে ঊনত্রিশ বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিহোয়দ্দিন, তিনি জেরুশালেম-নিবাসী।
3 মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, অমৎসিয় তা করতেন, তবুও তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মত করতেন না; তিনি তাঁর পিতা যোয়াশের মতই সমস্ত কাজ করতেন।
4 তবুও সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন হল না; লোকেরা তখনও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো ও ধূপ জ্বালাত।
5
রাজ্য তাঁর হাতে স্থির হওয়ার পর তাঁর যে গোলামেরা তাঁর পিতা বাদশাহ্কে হত্যা করেছিল তাদেরকে তিনি হত্যা করলেন।
6 কিন্তু তিনি মূসার শরীয়ত-কিতাবে লেখা নির্দেশ অনুসারে সেই হত্যাকারীদের সন্তানদেরকে হত্যা করলেন না, যেমন মাবুদ হুকুম দিয়েছিলেন, “সন্তানের জন্য পিতার, কিংবা পিতার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড করা যাবে না; প্রত্যেক জন যার যার গুনাহ্র দরুণই মরতে হবে।”
7
তিনি লবণ-উপত্যকায় ইদোমের দশ হাজার লোককে হত্যা করলেন ও যুদ্ধ দ্বারা সেলা অধিকার করে তার নাম যক্তেল রাখলেন; আজও তা রয়েছে।
8
সেই সময় অমৎসিয় দূত পাঠিয়ে যেহূর পৌত্র যিহোয়াহসের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াশকে বললেন, এসো, আমরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করি।
9 ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াশ এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়ের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, লেবাননস্থ শিয়ালকাঁটা লেবাননস্থ এরস গাছের কাছে বলে পাঠাল, আমার পুত্রের সঙ্গে তোমার কন্যার বিয়ে দাও; ইতোমধ্যে লেবাননস্থ একটি বন্য পশু চলতে চলতে সেই শিয়ালকাঁটা দলন করে ফেলে।
10 তুমি ইদোমকে আঘাত করেছ বলে তোমার অন্তর গর্বিত হয়েছে; নিজের বড়াই কর ও ঘরে বসে থাক; অমঙ্গল চেয়ে বিরোধ করতে কেন প্রবৃত্ত হবে? এবং তোমার ও এহুদার উভয়ের কেন ধ্বংস ডেকে আনবে? কিন্তু অমৎসিয় কথা শুনলেন না।
11
অতএব ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াশ যুদ্ধযাত্রা করলেন এবং এহুদার অধিকারস্থ বৈৎশেমশে তিনি ও এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয় পরস্পর মুখ দেখাদেখি করলেন।
12 তখন ইসরাইলের সম্মুখে এহুদা পরাজিত হল, আর প্রত্যেকে যার যার তাঁবুতে পালিয়ে গেল।
13 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াশ বৈৎ-শেমশে অহসিয়ের পৌত্র যিহোয়াশের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়কে বন্দী করে জেরুশালেমে আসলেন এবং আফরাহীমের দ্বার থেকে কোণের দ্বার পর্যন্ত জেরুশালেমের চার শত হাত প্রাচীর ভেঙ্গে ফেললেন।
14 আর তিনি মাবুদের গৃহে ও রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারে পাওয়া সমস্ত সোনা ও রূপা ও সমস্ত পাত্র এবং বন্ধক হিসেবে কতকগুলো মানুষকে নিয়ে সামেরিয়াতে ফিরে গেলেন।
15
যিহোয়াশের কৃত অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও তাঁর বিক্রম এবং এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়ের সঙ্গে তিনি কিরূপ যুদ্ধ করলেন, এসব কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা নেই?
16 পরে যিহোয়াশ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং সামেরিয়াতে ইসরাইলের বাদশাহ্দের সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হল, আর তাঁর পুত্র ইয়ারাবিম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
17
ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশের মৃত্যুর পর এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের পুত্র অমৎসিয় আর পনের বছর জীবিত ছিলেন।
18 অমৎসিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
19 পরে লোকেরা জেরুশালেমে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলো, তাতে তিনি লাখীশে পালিয়ে গেলেন; কিন্তু তারা তাঁর পেছন পেছন লাখীশে লোক পাঠিয়ে সেখানে তাঁকে হত্যা করাল।
20 আর ঘোড়ার পিঠে করে তাঁকে এনে, দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জেরুশালেমে তাঁকে দাফন করলো।
21
আর এহুদার সমস্ত লোক ষোল বছর বয়স্ক অসরিয়কে নিয়ে তাঁর পিতা অমৎসিয়ের পদে বাদশাহ্ করলো।
22 বাদশাহ্ অমৎসিয় পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলে পর তিনি এলৎ নগর নির্মাণ এবং তা পুনর্বার এহুদার অধীন করলেন।
23
এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের পুত্র অমৎসিয়ের পনের বছরে ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশের পুত্র ইয়ারাবিম সামেরিয়ায় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং একচল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।
24 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন; নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সেসব গুনাহ্ ত্যাগ করলেন না।
25 ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর গোলাম গাৎ-হেফরীয় অমিত্তয়ের পুত্র ইউনুস নবীর দ্বারা যে কথা বলেছিলেন, সেই অনুসারে তিনি হমাতের প্রবেশস্থান থেকে অরাবার সমুদ্র পর্যন্ত ইসরাইলের সীমা পুনর্বার অধিকার করলেন।
26 কারণ মাবুদ দেখেছিলেন যে, ইসরাইলের দুঃখ অতিশয় তীব্র; ফলে, গোলাম বা স্বাধীন মানুষ কেউ ছিল না, ইসরাইলের সাহায্যকারীও কেউ ছিল না।
27 আর মাবুদ এমন কথা বলেন নি যে, তিনি ইসরাইলের নাম আসমানের নিচে থেকে লোপ করবেন; কিন্তু তিনি যোয়াশের পুত্র ইয়ারাবিমের মধ্য দিয়ে তাদেরকে নিস্তার করলেন।
28
ইয়ারাবিমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত এবং সমস্ত কাজ, তিনি সবিক্রমে কিভাবে যুদ্ধ করলেন এবং এহুদার পুরানো অধিকার দামেস্ক ও হমাৎ পুনর্বার কিভাবে ইসরাইলের অধিকারে আনলেন, এসব কথা কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
29 পরে ইয়ারাবিম তাঁর পূর্বপুরুষদের, ইসরাইলের বাদশাহ্দের সঙ্গে নিদ্রাগত হইলেন এবং তাঁর পুত্র জাকারিয়া তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের সাতাশ বছরে এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়ের পুত্র অসরিয় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
2 তিনি ষোল বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে বাহান্ন বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিথলিয়া, তিনি জেরুশালেম-নিবাসীনী।
3 অসরিয় তাঁর পিতা অমৎসিয়ের মতই মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করতেন।
4 তবুও সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন হল না, তখনও লোকেরা উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো ও ধূপ জ্বালাত।
5
পরে মাবুদ বাদশাহ্কে আঘাত করলেন, তাতে তিনি মরণ দিন পর্যন্ত কুষ্ঠরোগী হয়ে রইলেন ও স্বতন্ত্র বাড়িতে বাস করলেন; আর বাদশাহ্র পুত্র যোথম বাড়ির মালিক হয়ে দেশ শাসন করতে লাগলেন।
6 অসরিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
7 পরে অসরিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র যোথম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
8
এহুদার বাদশাহ্ অসরিয়ের আটত্রিশ বছরে ইয়ারাবিমের পুত্র জাকারিয়া ছয় মাস সামেরিয়াতে ইসরাইলে উপরে রাজত্ব করলেন।
9 তাঁর পূর্বপুরুষেরা যেমন করতেন, তেমনি তিনি মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করতেন; নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সেসব গুনাহ্ ত্যাগ করলেন না।
10 পরে যাবেশের পুত্র শল্লুম তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন ও লোকদের সম্মুখে তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন এবং তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
11 জাকারিয়ার অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, দেখ, ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা আছে।
12 মাবুদ যেহূকে এই কথা বলেছিলেন, চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত তোমার বংশ ইসরাইলের সিংহাসনে বসবে; তা সফল হল।
13
এহুদার বাদশাহ্ উষিয়ের ঊনচল্লিশ বছরে যাবেশের পুত্র শল্লুম রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং এক মাস সামেরিয়াতে রাজত্ব করেন।
14 পরে গাদির পুত্র মনহেম তির্সা থেকে উঠে গেলেন, সামেরিয়াতে উপস্থিত হলেন, আর যাবেশের পুত্র শল্লুমকে সামেরিয়াতে আঘাত করে হত্যা করলেন এবং তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
15 শল্লুমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও তাঁর কৃত চক্রান্ত, দেখ, ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
16
পরে মনহেম তির্সা থেকে গিয়ে তিপ্সহ ও তার মধ্যস্থিত সকলকে ও তার অঞ্চলগুলোতে আক্রমণ করলেন; লোকেরা তাঁর জন্য দ্বার খুলে দেয় নি, তাই তিনি আক্রমণ করলেন ও সেখানকার গর্ভবতী স্ত্রীলোক সকলের উদর বিদীর্ণ করলেন।
17
এহুদার বাদশাহ্ অসরিয়ের ঊনচল্লিশ বছরে গাদির পুত্র মনহেম ইসরাইলের রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং দশ বছর সামেরিয়াতে রাজত্ব করেন।
18 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন; নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর সেসব গুনাহ্ থেকে তিনি তাঁর সারা জীবনও ফিরলেন না।
19 আসেরিয়ার বাদশাহ্ পূল দেশের বিরুদ্ধে আসলেন; তাতে পূলের সাহায্যে রাজ্য যেন তাঁর হাতে স্থিত থাকে সেজন্য মনহেম তাঁকে এক হাজার তালন্ত রূপা দিলেন।
20 আর আসেরিয়ার বাদশাহ্কে দেবার জন্য মনহেম ইসরাইল থেকে ও সমস্ত ধনশালী ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ রূপা আদায় করলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ শেকল রূপা নিলেন। তখন আসেরিয়ার বাদশাহ্ ফিরে গেলেন, দেশে রইলেন না।
21
মনহেমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ কি ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
22 পরে মনহেম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পুত্র পকহিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
23
এহুদার বাদশাহ্ অসরিয়ের পঞ্চাশ বছরে মনহেমের পুত্র পকহিয় সামেরিয়াতে ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং দু’বছর রাজত্ব করেন।
24 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন, নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সেসব গুনাহ্ থেকে ফিরলেন না।
25 পরে রমলিয়ের পুত্র পেকহ নামক তাঁর সেনানী তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন এবং সামেরিয়ায় রাজ-প্রাসাদের দুর্গে তাঁকে, অর্গোব ও অরিয়িকে আক্রমণ করলেন, আর গিলিয়দীয়দের পঞ্চাশজন লোক তাঁর সঙ্গে ছিল; তিনি তাঁকে হত্যা করে তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
26 পকহিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ, দেখ, ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা আছে।
27
এহুদার বাদশাহ্ অসরিয়ের বাহান্ন বছরে রমলিয়ের পুত্র পেকহ সামেরিয়াতে ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং কুড়ি বছর রাজত্ব করেন।
28 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন, নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ দ্বারা ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তিনি তাঁর সেসব গুনাহ্ থেকে ফিরলেন না।
29
ইসরাইলের বাদশাহ্ পেকহের সময়ে আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিগ্লৎপিলেষর এসে ইয়োন, আবেল-বৈৎ-মাখা, যানোহ, কেদশ, হাৎসোর, গিলিয়দ, গালীল ও নপ্তালীর সমস্ত দেশ অধিকার করলেন, আর জনগণকে আসেরিয়া দেশ বন্দী করে নিয়ে গেলেন।
30
পরে উষিয়ের পুত্র যোথমের বিশ বছরে এলার পুত্র হোসিয়া রমলিয়ের পুত্র পেকহের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন এবং তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন ও তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
31 পেকহের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ, দেখ, ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
32
রমলিয়ের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ পেকহের দ্বিতীয় বছরে উষিয়ের পুত্র যোথম রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
33 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে ষোল বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিরূশা, তিনি সাদোকের কন্যা।
34 যোথম মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করতেন; তাঁর পিতা উষিয় যে সমস্ত কাজ করতেন তিনিও সেই রকম কাজ করতেন।
35 তবুও সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন হয় নি; লোকেরা তখনও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো ও ধূপ জ্বালাত। তিনি মাবুদের গৃহের উচ্চতর দ্বার নির্মাণ করলেন।
36 যোথমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ এহুদার বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
37 ঐ সময়ে মাবুদ অরামের বাদশাহ্ রৎসীন ও রমলিয়ের পুত্র পেকহকে এহুদার বিরুদ্ধে পাঠাতে আরম্ভ করলেন।
38 পরে যোথম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র আহস তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
রমলিয়ের পুত্র পেকহের সপ্তদশ বছরে এহুদার বাদশাহ্ যোথমের পুত্র আহস রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
2 আহস বিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে ষোল বছর রাজত্ব করেন; তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মত তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা করতেন না।
3 কিন্তু ইসরাইলের বাদশাহ্দের পথে চলতেন, এমন কি, মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করেছিলেন তাদের ঘৃণিত কাজ অনুসারে তাঁর পুত্রকেও আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করালেন।
4 আর তিনি নানা উচ্চস্থলীতে, নানা পাহাড়ের উপরে ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে কোরবানী করতেন ও ধূপ জ্বালাতেন।
5
সেই সময় অরামের বাদশাহ্ রৎসীন এবং রমলিয়ের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ পেকহ যুদ্ধ করার জন্য জেরুশালেমে যাত্রা করে আহসকে অবরোধ করলেন, কিন্তু তাঁকে যুদ্ধে পরাজিত করতে পারলেন না।
6 সেই সময়ে অরামের বাদশাহ্ রৎসীন এলৎ নগর পুনর্বার অরামের বশীভূত করে ইহুদীদের এলৎ থেকে দূর করে দিলেন; আর অরামীয়েরা এলতে এসে সেখানে বাস করতে লাগল, আজও করছে।
7 তখন আহস আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিগ্লৎ-পিলেষরের কাছে দূত পাঠিয়ে এই কথা বললেন, আমি আপনার গোলাম ও আপনার পুত্র, আপনি এসে অরামের বাদশাহ্র ও ইসরাইলের বাদশাহ্র হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করুন, তারা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।
8 আর আহস মাবুদের গৃহে ও রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারে পাওয়া সমস্ত রূপা ও সোনা নিয়ে আসেরিয়ার বাদশাহ্র কাছে উপঢৌকন পাঠালেন।
9 আর আসেরিয়ার বাদশাহ্ তাঁর কথা শুনলেন; আসেরিয়ার বাদশাহ্ দামেস্কের বিরুদ্ধে গিয়ে তা অধিকার করলেন, সেখানকার লোকদের বন্দী করে কীরে নিয়ে গেলেন এবং রৎসীনকে হত্যা করলেন।
10
পরে বাদশাহ্ আহস আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিগ্লৎ-পিলেষরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দামেস্কে গেলেন এবং দামেস্কস্থ কোরবানগাহ্ দেখে বাদশাহ্ আহস সেই কোরবানগাহ্র আকৃতি ও তাতে যে শিল্পকর্ম ছিল, তার আদর্শ লিখে ঊরিয় ইমামের কাছে পাঠালেন।
11 তাতে ঊরিয় ইমাম একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন; বাদশাহ্ আহস দামেস্ক থেকে যা কিছু পাঠিয়েছিলেন, ইমাম ঊরিয় দামেস্ক থেকে বাদশাহ্ আহসের আগমনের আগেই সেই অনুসারে সকল কিছুই করলেন।
12 পরে বাদশাহ্ দামেস্ক থেকে আসলেন ও তিনি সেই কোরবানগাহ্ দেখলেন; আর বাদশাহ্ সেই কোরবানগাহ্র কাছে গিয়ে তার উপরে কোরবানী করতে লাগলেন।
13 তিনি সেই কোরবানগাহ্র উপরে তাঁর পোড়ানো-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ করলেন, আর পানীয় নৈবেদ্য ঢাললেন এবং নিজের মঙ্গল-কোরবানীগুলোর রক্ত ছিটিয়ে দিলেন।
14 আর মাবুদের সম্মুখস্থ যে ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্, তা গৃহের সম্মুখ থেকে অর্থাৎ তাঁর কোরবানগাহ্র ও মাবুদের গৃহের মধ্যস্থান থেকে সরিয়ে তাঁর কোরবানগাহ্র উত্তর দিকে স্থাপন করলেন।
15 পরে আহস বাদশাহ্ ইমাম ঊরিয়কে এই হুকুম দিলেন, বড় কোরবানগাহ্র উপরে প্রাতঃকালীন পোড়ানো-কোরবানী ও সন্ধ্যাকালীন শস্য-উৎসর্গ এবং বাদশাহ্র পোড়ানো-কোরবানী ও তাঁর শস্য-উৎসর্গ এবং দেশের সমস্ত লোকের পোড়ানো-কোরবানী এবং তাদের খাবার ও পানীয় নৈবেদ্য পুড়িয়ে দাও, আর তার উপরে পোড়ানো-কোরবানীর সমস্ত রক্ত ও অন্য কোরবানীর সমস্ত রক্ত ছিটিয়ে দাও; কিন্তু আল্লাহ্র মন্ত্রণা জানবার জন্য ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্ আমার জন্য থাকবে।
16 ইমাম ঊরিয় আহস বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে সমস্ত কাজ করলেন।
17
পরে বাদশাহ্ আহস পীঠগুলোর পাটা কেটে তার উপর থেকে ধোবার পাত্র স্থানান্তর করলেন, আর সমুদ্রপাত্রের নিচে যে ব্রোঞ্জের বলদগুলো ছিল, তার উপর থেকে সেই পাত্র নামিয়ে শিলাস্তরণের উপরে বসালেন।
18 আর তারা বিশ্রামবারের জন্য বাড়ির মধ্যে যে চন্দ্রাতপ এবং বাদশাহ্র প্রবেশের জন্য যে বহির্দ্বার নির্মাণ করা হয়েছিল, তা তিনি আসেরিয়ার বাদশাহ্র ভয়ে মাবুদের গৃহের অন্য স্থানে রাখলেন।
19
আহসের কৃত অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
20 পরে আহস তাঁর পূর্ব-পুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দাউদ-নগরে তাঁকে দাফন করা হল; এবং তাঁর পুত্র হিষ্কিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
এহুদার বাদশাহ্ আহসের বারো বছরের রাজত্বের সময় এলার পুত্র হোসিয়া সামেরিয়াতে ইসরাইলে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং নয় বছরকাল রাজত্ব করেন।
2 তিনি মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন বটে, কিন্তু তাঁর আগে ইসরাইলের যে বাদশাহ্রা ছিলেন তাঁদের মত নয়।
3 তাঁর বিরুদ্ধে আসেরিয়ার বাদশাহ্ শালমানেসার যুদ্ধযাত্রা করলেন; তাতে হোসিয়া তাঁর গোলাম হলেন ও তাঁকে উপঢৌকন দিতে লাগলেন।
4 পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ হোসিয়ার চক্রান্ত জানতে পারলেন, কেননা তিনি মিসরের বাদশাহ্ সো এর কাছে দূতদেরকে প্রেরণ করেছিলেন এবং বছরের পর বছর যেমন করতেন, আসেরিয়ার বাদশাহ্র কাছে তেমনি উপঢৌকন আর পাঠালেন না; এজন্য আসেরিয়ার বাদশাহ্ তাঁকে রুদ্ধ করলেন, কারাগারে আটক করলেন।
5
পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সমস্ত দেশ আক্রমণ করলেন ও সামেরিয়াতে গিয়ে তিন বছর পর্যন্ত তা অবরোধ করে রইলেন।
6 হোসিয়ার নবম বছরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সামেরিয়া দখল করে ইসরাইলকে আসেরিয়া দেশ নিয়ে গেলেন এবং হলহে ও হাবোরে, গোষণের নদীতীরে ও মাদীয়দের নানা নগরে বসিয়ে দিলেন।
7
এর কারণ এই— বনি-ইসরাইলদের আল্লাহ্ মাবুদ, যিনি তাদেরকে মিসর দেশ থেকে, মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের অধীনতা থেকে, বের করে এনেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে তারা গুনাহ্ করেছিল ও অন্য দেবতাদেরকে ভয় করতো;
8 আর মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করেছিলেন, তারা তাদেরই বিধি এবং ইসরাইলের বাদশাহ্দের হুকুম করা বিধি অনুসারে চলতো।
9 বনি-ইসরাইল গোপনে নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে অন্যায় কাজ করতো; তারা প্রহরীদের উঁচু পাহারা-ঘর থেকে প্রাচীরবেষ্টিত নগর পর্যন্ত তাদের সকল নগরে নিজেদের জন্য উচ্চস্থলী প্রস্তুত করেছিল।
10 আর তারা প্রত্যেক উঁচু পাহাড়ের উপরে ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে স্তম্ভ ও আশেরা-মূর্তি স্থাপন করেছিল।
11 আর মাবুদ তাদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদের নির্বাসিত করেছিলেন, তারা তাদের মত সেখানকার সকল উচ্চস্থলীতে ধূপ জ্বালাতো এবং দুষ্কর্ম করে মাবুদকে অসন্তুষ্ট করতো।
12 আর তারা মূর্তিগুলোর সেবা করতো, যার বিষয় মাবুদ বলেছিলেন, তোমরা এমন কাজ করবে না।
13 তবুও মাবুদ সমস্ত নবীর ও দর্শকের দ্বারা ইসরাইল ও এহুদার কাছে সাক্ষ্য দিতেন, বলতেন, তোমরা তোমাদের কুপথ থেকে ফিরে এসো এবং আমি তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে যে সমস্ত ব্যবস্থা দিয়েছি ও আমার গোলাম নবীদের মাধ্যমে তোমাদের কাছে যা পাঠিয়েছি সেই অনুসারে আমার হুকুম ও সমস্ত বিধি পালন কর।
14 কিন্তু তারা কথা শোনল না, তাদের যে পূর্ব-পুরুষেরা তাদের আল্লাহ্ মাবুদের উপর বিশ্বাস করতো না, তাদের ঘাড়ের মত স্ব স্ব ঘাড় শক্ত করতো।
15 আর তাঁর বিধিগুলো ও তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কৃত তাঁর নিয়ম ও তাদের কাছে দেওয়া তাঁর সাক্ষ্যাদি অগ্রাহ্য করেছিল; আর অসার বস্তুর অনুগামী হয়ে তারাও অসার হয়েছিল। এছাড়া, মাবুদ যাদের মত কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন, চারপাশের সেই জাতিদের অনুগামী হয়েছিল।
16 তারা তাদের আল্লাহ্ মাবুদের সমস্ত হুকুম ত্যাগ করে নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালা বাছুরটির দু’টি মূর্তি তৈরি করেছিল, আশেরা-মূর্তিও তৈরি করেছিল এবং আসমানের সমস্ত বাহিনীর কাছে সেজ্দা করতো ও বালদেবের সেবা করতো।
17 আর তারা নিজ নিজ পুত্রকন্যাদেরকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করাত এবং মন্ত্র ও মায়াক্রিয়ার ব্যবহার করতো, আর মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করার জন্য নিজেদের বিক্রি করেছিল, এভাবে তাঁকে অসন্তুষ্ট করলো।
18 এজন্য মাবুদ ইসরাইলের উপর অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে তাঁর দৃষ্টিসীমা থেকে দূর করলেন; কেবল এহুদা বংশ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকলো না।
19
আর এহুদাও তার আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম পালন না করে ইসরাইলের হুকুম করা বিধি অনুসারে চলতে লাগল।
20 তাই মাবুদ ইসরাইলের সমস্ত বংশকে অগ্রাহ্য করে দুঃখ দিলেন এবং তাদেরকে লুণ্ঠনকারীদের হাতে তুলে দিলেন, শেষে একেবারে তাঁর দৃষ্টিসীমা থেকে দূরে ফেলে দিলেন।
21
কেননা তিনি দাউদের কুল থেকে ইসরাইলকে ছিঁড়ে নেবার পর তারা নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমকে বাদশাহ্ করেছিল; আর ইয়ারাবিম মাবুদের পিছনে চলা থেকে ইসরাইলকে সরিয়ে নিয়ে তাদেরকে মহা-গুনাহ্ করিয়েছিলেন।
22 ইয়ারাবিম যেসব গুনাহ্ করেছিলেন, বনি-ইসরাইল তাঁর সেসব গুনাহ্ পথে চলতো, সেসব থেকে ফিরল না।
23 শেষে মাবুদ তাঁর সমস্ত গোলাম নবীদের দ্বারা যেরকম বলেছিলেন, সেই অনুসারে ইসরাইলকে তাঁর দৃষ্টিসীমা থেকে দূর করলেন। আর ইসরাইল তার দেশ থেকে আসেরিয়া দেশ নীত হল; আজও তারা সেই স্থানে আছে।
24
পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ ব্যাবিলন, কূথা, অব্বা, হমাৎ ও সফর্বয়িম থেকে লোক আনিয়ে বনি-ইসরাইলদের পরিবর্তে তাদেরকে সামেরিয়ার নগরগুলোতে বসিয়ে দিলেন; তাতে তারা সামেরিয়া অধিকার করে সেখানকার নগরগুলোতে বাস করলো।
25 সেখানে তাদের বাস করার প্রথম দিকে তারা মাবুদকে ভয় করতো না, এজন্য মাবুদ তাদের মধ্যে সিংহ পাঠালেন এবং সিংহেরা কোন কোন লোককে হত্যা করলো।
26 অতএব লোকেরা আসেরিয়ার বাদশাহ্কে বললো, আপনি যে জাতিদেরকে নির্বাসিত করে সামেরিয়ায় সকল নগরে বসিয়ে দিয়েছেন, তারা সেই দেশের আল্লাহ্র বিধান জানে না; এজন্য তিনি তাদের মধ্যে সিংহ পাঠিয়েছেন এবং দেখুন, সিংহেরা তাদেরকে মেরে ফেলছে, কেননা তারা সেই দেশের আল্লাহ্র বিধান জানে না।
27 পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ এই হুকুম করলেন, তোমরা সেই স্থান থেকে যে ইমামদের এনেছ, তাদের এক জনকে সেই দেশে নিয়ে যাও; সে সেখানে গিয়ে বাস করুক এবং সে লোকদেরকে সেই দেশের আল্লাহ্র বিধান শিক্ষা দিক।
28 পরে তারা সামেরিয়া থেকে যে ইমামদের নিয়ে গিয়েছিল, তাদের এক জন এসে বেথেলে বাস করলো এবং কিভাবে মাবুদকে ভয় করতে হয়, তা লোকদেরকে শিখাতে লাগল।
29
তবুও তাদের প্রত্যেক জাতি নিজ নিজ দেবতা তৈরি করলো এবং সামেরীয়েরা উচ্চস্থলীতে যেসব মন্দির নির্মাণ করেছিল, তন্মধ্যে এক এক জাতি যার যার নিবাস-নগরে স্ব স্ব দেবতাকে স্থাপন করলো।
30 এভাবে ব্যাবিলনের লোকেরা সুক্কোৎ-বনোৎ নির্মাণ করলো ও কূথের লোকেরা নের্গল নির্মাণ করলো এবং হমাতের লোকেরা অশীমা নির্মাণ করলো,
31 আর অব্বীয়েরা নিভস ও তর্তক নির্মাণ করলো ও সফর্বীয়েরা সফর্বয়িমের দেবতা অদ্রম্মেলক ও অনম্মেলকের উদ্দেশে যার যার সন্তানদের আগুনে পোড়াত।
32 তারা মাবুদকে ভয় করতো, আবার নিজেদের জন্য নিজেদের মধ্য থেকে উচ্চস্থলীগুলোর ইমামদেরকে নিযুক্ত করতো; তারাই তাদের জন্য উচ্চস্থলীর মন্দিরে উৎসর্গ করতো।
33 তারা মাবুদকেও ভয় করতো এবং যেসব জাতি থেকে আনা হয়েছিল, তাদের বিধান অনুসারে নিজ নিজ দেবতারও সেবা করতো।
34 তারা আজ পর্যন্ত আগের বিধান অনুসারে কাজ করছে; তারা প্রকৃতপক্ষে মাবুদের এবাদত করে না, স্ব স্ব বিধি ও অনুশাসন অনুসারে আচরণ করে না এবং মাবুদ যাঁর নাম ইসরাইল রেখেছিলেন, সেই ইয়াকুবের সন্তানদের দেওয়া তাঁর ব্যবস্থা ও হুকুম অনুসারেও চলে না।
35
বাস্তবিক মাবুদ তাদের সঙ্গে নিয়ম করে এই হুকুম দিয়েছিলেন, তোমরা অন্য দেবতাদের এবাদত করবে না, তাদের কাছে সেজ্দা করবে না, তাদের সেবা করবে না, বা তাদের উদ্দেশে কোরবানী করবে না;
36 কিন্তু যিনি মহাপরাক্রম ও বাড়িয়ে দেওয়া বাহু দ্বারা মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে উঠিয়ে এনেছেন, তোমরা সেই মাবুদকেই ভয় করবে, তাঁরই কাছে সেজ্দা করবে ও তাঁরই উদ্দেশে কোরবানী করবে।
37 আর তিনি তোমাদের জন্য যেসব বিধি ও অনুশাসন এবং যে শরীয়ত ও হুকুম লিখে দিয়েছেন, সব সময় সেসব যত্নপূর্বক পালন করবে; অন্য দেবতাদের এবাদত করবে না;
38 আর আমি তোমাদের সঙ্গে যে নিয়ম করেছি, তা ভুলে যাবে না এবং অন্য দেবতাদের এবাদত করবে না;
39 কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদকেই ভয় করবে; তাতে তিনিই তোমাদের সমস্ত দুশমনের হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করবেন।
40 তবুও তারা কথা শুনল না; তাদের আগের বিধান অনুসারে চললো।
41
এভাবে সেই জাতিরা মাবুদকেও ভয় করছে এবং তাদের খোদাই-করা মূর্তির সেবাও করে আসছে; তাদের পূর্বপুরুষেরা যেরকম করতো, তাদের পুত্র পৌত্রেরাও আজ পর্যন্ত সেরকম করছে।
1
এলার পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ হোসিয়ার তৃতীয় বছরে এহুদার বাদশাহ্ আহসের পুত্র হিষ্কিয় রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন।
2 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং ঊনত্রিশ বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন, তাঁর মায়ের নাম অবী, তিনি জাকারিয়ার কন্যা।
3 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতই মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা-ই করতেন।
4 তিনি সমস্ত উচ্চস্থলী উচ্ছিন্ন করলেন ও সমস্ত স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেললেন এবং আশেরা-মূর্তি বিনষ্ট করলেন, আর মূসা যে ব্রোঞ্জের সাপ তৈরি করেছিলেন তা ভেঙে ফেললেন। কেননা সেই সময় পর্যন্ত বনি-ইসরাইল তার উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত; তিনি তার নাম নহুষ্টন (পিত্তলখণ্ড) রাখলেন।
5 তিনি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উপর নির্ভর করতেন; আর তাঁর পরে এহুদার বাদশাহ্দের মধ্যে কেউ তাঁর তুল্য হন নি, তাঁর আগেও ছিলেন না।
6 বাস্তবিক মাবুদের প্রতি তিনি আসক্ত ছিলেন, তাঁকে অনুসরণ করা থেকে বিরত হলেন না, বরং মাবুদ মূসাকে যেসব হুকুম দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত পালন করতেন।
7 আর মাবুদ তাঁর সহবর্তী ছিলেন; তিনি যে কোন স্থানে যেতেন, বুদ্ধিপূর্বক চলতেন; আর তিনি আসেরিয়ার বাদশাহ্র অধীনতা অস্বীকার করলেন, তাঁর গোলামী আর করলেন না।
8 তিনি গাজা ও তার সীমা পর্যন্ত, প্রহরীদের উঁচু পাহারা-ঘর থেকে প্রাচীরবেষ্টিত নগর পর্যন্ত, ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করলেন।
9
হিষ্কিয় বাদশাহ্র চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ ইসরাইলের বাদশাহ্ এলার পুত্র হোসিয়ার সপ্তম বছরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ শালমানেসার সামেরিয়ার বিরুদ্ধে তা অবরোধ করলেন।
10 আর তিন বছর পরে আসেরিয়েরা তা অধিকার করলো; হিষ্কিয় বাদশাহ্র ষষ্ঠ বছরে ও ইসরাইলের বাদশাহ্ হোসিয়ার নবম বছরে সামেরিয়া অন্যের অধিকারে চলে গেল।
11 পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ ইসরাইলকে আসেরিয়া দেশে নিয়ে গিয়ে হলহে, হাবোরে, গোষণের নদীতীরে এবং মাদীয়দের নানা নগরে স্থাপন করলেন।
12 এর কারণ এই, তারা তাদের আল্লাহ্ মাবুদের মান্য করতো না; বরং তাঁর নিয়ম অর্থাৎ মাবুদের গোলাম মূসার সমস্ত হুকুম লঙ্ঘন করতো, তা শুনত না, পালনও করতো না।
13
পরে হিষ্কিয় বাদশাহ্র চতুর্দশ বছরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সনহেরীব এহুদার প্রাচীর-বেষ্টিত সমস্ত নগরের বিরুদ্ধে এসে সেই সকল অধিকার করতে লাগলেন।
14 তাতে এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয় লাখীশে আসেরিয়ার বাদশাহ্র কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, আমি অন্যায় করেছি, আমার কাছ থেকে ফিরে যান; আপনি আমাকে যে ভার দেবেন, তা আমি বহন করবো। তাতে আসেরিয়া দেশের বাদশাহ্ এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের তিন শত তালন্ত রূপা ও ত্রিশ তালন্ত সোনা দণ্ড নির্ধারণ করলেন।
15 তখন হিষ্কিয় মাবুদের গৃহে ও রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারগুলোতে পাওয়া সমস্ত রূপা তাকে দিলেন।
16 এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয় মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের যে যে কবাট ও যে যে বাজু সোনা দিয়ে মুড়িয়েছিলেন, হিষ্কিয় সেই সময়ে তা থেকে সোনা কেটে আসেরিয়ার বাদশাহ্কে দিলেন।
17 পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ লাখীশ থেকে তর্তনকে, রব্সারীসকে ও রব্শাকিকে বড় সৈন্যদলের সঙ্গে জেরুশালেমে হিষ্কিয় বাদশাহ্র কাছে প্রেরণ করলেন এবং তাঁরা যাত্রা করে জেরুশালেমে উপস্থিত হলেন। তাঁরা এসে উচ্চতর পুষ্করিণীর প্রণালীর কাছে ধোপার-ভূমির রাজপথে অবস্থান গ্রহণ করলেন।
18 পরে তাঁরা বাদশাহ্কে আহ্বান করলে হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম নামে রাজপ্রাসাদের নেতা, শিব্ন লেখক ও আসফের পুত্র যোয়াহ নামক ইতিহাস-রচয়িতা বের হয়ে তাঁদের কাছে গেলেন।
19
রব্শাকি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা হিষ্কিয়কে এই কথা বল, বাদশাহ্দের বাদশাহ্ আসেরিয়ার বাদশাহ্ এই কথা বলেন, তুমি যে সাহস করছো, সে কেমন সাহস?
20 তুমি বলছো, যুদ্ধের বুদ্ধি ও পরাক্রম আমার আছে, কিন্তু সেটা কেবল মুখের কথামাত্র; বল দেখি, তুমি কার উপরে নির্ভর করে আমার বিদ্রোহী হলে?
21 এখন দেখ, তুমি ঐ থেঁৎলা নলরূপ লাঠিতে, অর্থাৎ মিসরের উপরে নির্ভর করছো; কিন্তু কেউ যদি তার উপরে নির্ভর করে, সে তার হাতে ফুটে তা বিদ্ধ করে, যত লোক মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের উপরে নির্ভর করে, সেই সবের পক্ষে সে তেমনই।
22 আর যদি তোমরা আমাকে বল, আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উপর বিশ্বাস করি, তবে তিনি কি সেই জন নন, যাঁর উচ্চস্থলী ও সমস্ত কোরবানগাহ্ হিষ্কিয় দূর করেছে এবং এহুদা ও জেরুশালেমের লোকদের বলেছে, তোমরা জেরুশালেমে এই কোরবানগাহ্র কাছে সেজ্দা করবে?
23 তুমি একবার আমার মালিক আসেরিয়ার বাদশাহ্র কাছে পণ কর, আমি তোমাকে দুই হাজার ঘোড়া দেব, যদি তুমি ঘোড়সওয়ার দিতে পার।
24 তবে কেমন করে আমার প্রভুর ক্ষুদ্রতম গোলামদের মধ্যে এক জন সেনাপতিকে হটিয়ে দেবে এবং রথ ও ঘোড়সওয়ারদের জন্য মিসরের উপরে নির্ভর করবে?
25 বল দেখি, আমি কি মাবুদের সম্মতি ছাড়া এই স্থান ধ্বংস করতে এসেছি? মাবুদই আমাকে বলেছেন, তুমি ঐ দেশে গিয়ে সেটি ধ্বংস কর।
26
তখন হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকিম, শিব্ন ও যোয়াহ রব্শাকিকে বললেন, আরজ করি, আপনার গোলামদেরকে অরামীয় ভাষায় বলুন, কেননা আমরা তা বুঝতে পারি; প্রাচীরের উপরিস্থ লোকদের শুনিয়ে আমাদের সঙ্গে এহুদার ভাষায় কথা বলবেন না।
27 কিন্তু রব্শাকি তাদেরকে বললেন, আমার মালিক কি শুধু তোমার মালিকের কাছে এবং তোমারই কাছে এই কথা বলতে আমাকে পাঠিয়েছেন? ঐ যে লোকেরা তোমাদের সঙ্গে নিজ নিজ বিষ্ঠা খেতে ও মূত্র পান করতে প্রাচীরের উপরে বসে আছে, ওদেরই কাছে কি তিনি পাঠান নি?
28
পরে রব্শাকি দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ইহুদী ভাষায় বলতে লাগলেন, তোমরা বাদশাহ্দের বাদশাহ্ আসেরিয়ার বাদশাহ্র কথা শোন।
29 বাদশাহ্ এই কথা বলছেন, হিষ্কিয় তোমাদের যেন না ভুলায়; কেননা তাঁর হাত থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করতে তার সাধ্য নেই।
30 আর হিষ্কিয় এই কথা বলে মাবুদের উপর তোমাদের বিশ্বাস না জন্মায় যে, মাবুদ আমাদেরকে নিশ্চয়ই উদ্ধার করবেন, এই নগর কখনও আসেরিয়ার বাদশাহ্র অধিকারে যাবে না।
31 তোমরা হিষ্কিয়ের কথা শুনবে না; কেননা আসেরিয়ার বাদশাহ্ এই কথা বলেন, তোমরা আমার সঙ্গে সন্ধি কর, বের হয়ে আমার কাছে এসো; তোমরা প্রত্যেক জন যার যার আঙ্গুর ফল ও ডুমুরফল ভোজন কর এবং নিজ নিজ কূপের পানি পান কর;
32 পরে আমি এসে তোমাদের নিজের দেশের মত একটি দেশে, শস্য ও আঙ্গুর-রসের দেশে, রুটি ও আঙ্গুর-ক্ষেতের দেশে এবং তৈলদায়ক জলপাই গাছ ও মধুর দেশে তোমাদেরকে নিয়ে যাব; তাতে তোমরা বাঁচবে, মরবে না; কিন্তু হিষ্কিয়ের কথা শুনবে না; কেননা সে তোমাদেরকে ভুলায়, বলে, মাবুদ আমাদেরকে উদ্ধার করবেন।
33 জাতিদের দেবতারা কি কেউ কখনও আসেরিয়ার বাদশাহ্র হাত থেকে নিজ নিজ দেশ রক্ষা করেছে?
34 হমাত ও অর্পদের দেবতারা কোথায়? সফর্বয়িমের, হেনার ও ইব্বার দেবতারা কোথায়? ওরা কি আমার হাত থেকে সামেরিয়াকে রক্ষা করেছে?
35 ভিন্ন ভিন্ন দেশের সমস্ত দেবতার মধ্যে কোন্ দেবতারা আমার হাত থেকে তাদের দেশ উদ্ধার করেছে? তবে মাবুদ আমার হাত থেকে জেরুশালেমকে উদ্ধার করবেন, এ কি সম্ভব?
36
কিন্তু লোকেরা নীরব হয়ে থাকলো, তাঁর একটা কথারও জবাবে কিছু বললো না, কারণ বাদশাহ্র এই হুকুম ছিল যে, তাকে কোন জবাব দিও না।
37 পরে হিল্কিয়ের পুত্র রাজপ্রাসাদের নেতা ইলিয়াকীম, শিব্ন লেখক ও আসফের পুত্র ইতিহাস-রচয়িতা যোয়াহ যার যার কাপড় ছিঁড়ে হিষ্কিয়ের কাছে এসে রব্শাকির সমস্ত কথা তাঁকে জানালেন।
1
এসব শুনে বাদশাহ্ হিষ্কিয় তাঁর কাপড় ছিঁড়ে চট পরে মাবুদের গৃহে গমন করলেন।
2 আর রাজপ্রাসাদের নেতা ইলীয়াকীমকে ও শিব্ন লেখককে এবং ইমামদের প্রধান ব্যক্তিবর্গকে চট পরিয়ে আমোজের পুত্র ইশাইয়া নবীর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
3 তাঁরা তাঁকে বললেন, হিষ্কিয় এই কথা বলেন, আজকের দিন সঙ্কটের, অনুযোগের ও অপমানের দিন, কেননা সন্তানেরা প্রসব-দ্বারে উপস্থিত, কিন্তু প্রসব করার শক্তি নেই।
4 জীবন্ত আল্লাহ্কে টিট্কারি দেবার জন্য তাঁর প্রভু আসেরিয়ার বাদশাহ্র প্রেরিত রব্শাকি যেসব কথা বলেছে, হয় তো আপনার আল্লাহ্ মাবুদ সেই সমস্ত শুনবেন এবং তাকে সেই সমস্ত কথার জন্য তিরস্কার করবেন, যা আপনার আল্লাহ্ মাবুদ শুনেছেন, অতএব যে অবশিষ্টাংশ এখনও আছে, আপনি তার জন্য মুনাজাত করুন।
5 তখন বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের গোলামেরা ইশাইয়ার কাছে উপস্থিত হলেন।
6 ইশাইয়া তাঁদের বললেন, তোমাদের মালিককে এই কথা বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যা শুনেছ ও যা বলে আসেরিয়ার বাদশাহ্র গোলামেরা আমার নিন্দা করেছে, সেই সমস্ত কথায় ভয় পেয়ো না।
7 দেখ, আমি তার মধ্যে একটি রূহ্ দেব এবং সে কোন সংবাদ শুনবে, শুনে তাঁর দেশে ফিরে যাবে, পরে আমি তারই দেশে তাকে তলোয়ার দ্বারা নিপাত করবো।
8
পরে রব্শাকি ফিরে গেলেন, গিয়ে দেখতে পেলেন যে, আসেরিয়ার বাদশাহ্ লিব্নার বিপক্ষে যুদ্ধ করছেন; বস্তুত তিনি লাখীশ থেকে প্রস্থান করেছেন, এই কথা রব্শাকি শুনেছিলেন।
9 পরে তিনি ইথিওপিয়ার বাদশাহ্ তির্হকঃ-এর বিষয়ে এই সংবাদ শুনলেন, দেখুন, তিনি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে এসেছেন। তখন তিনি পুনর্বার হিষ্কিয়ের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন,
10 তোমরা এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়কে এই কথা বলবে, তোমার বিশ্বাস-ভূমি আল্লাহ্ এই কথা বলে তোমার ভ্রান্তি যেন না জন্মান যে, জেরুশালেম আসেরিয়ার বাদশাহ্র হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
11 দেখ, সমুদয় দেশ নিঃশেষে বিনষ্ট করে আসেরিয়ার বাদশাহ্রা সমস্ত দেশের প্রতি যা যা করেছেন, তা তুমি শুনেছ; তবে তুমি কি উদ্ধার পাবে?
12 আমার পূর্বপুরুষেরা যেসব জাতিকে বিনষ্ট করেছেন— গোষণ, হারণ, রেৎসফ এবং তলঃসর-নিবাসী আদন-সন্তানেরা— তাদের দেবতারা কি তাদেরকে উদ্ধার করেছে?
13 হমাতের বাদশাহ্, অর্পদের বাদশাহ্ এবং সফর্বয়িম নগরের, হেনার ও ইব্বার বাদশাহ্ কোথায়?
14
হিষ্কিয় দূতদের হাত থেকে পত্রখানি নিয়ে পাঠ করলেন; পরে হিষ্কিয় মাবুদের গৃহে গেলেন এবং মাবুদের সম্মুখে তা মেলে ধরলেন।
15 আর হিষ্কিয় মাবুদের সম্মুখে মুনাজাত করে বললেন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, কারুবীদ্বয়ে আসীন, তুমি, কেবলমাত্র তুমিই দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যের আল্লাহ্; তুমিই আসমান ও দুনিয়া নির্মাণ করেছ।
16 হে মাবুদ, কান দাও, শোন; হে মাবুদ, চোখ খুলে করে দেখ; জীবন্ত আল্লাহ্কে টিট্কারি দেবার জন্য সন্হেরীব যেসব কথা বলে পাঠিয়েছে, তা শুন।
17 সত্যি বটে, হে মাবুদ, আসেরিয়া বাদশাহ্রা জাতিদেরকে ও তাদের দেশগুলো বিনষ্ট করেছে,
18 এবং তাদের দেবতাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে, কারণ তারা আল্লাহ্ নয়, কিন্তু মানুষের হাতের কাজ, কাঠ ও পাথর; এজন্য ওরা তাদেরকে বিনষ্ট করেছে।
19 অতএব এখন, হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, ফরিয়াদ করি, তুমি তার হাত থেকে আমাদেরকে নিস্তার কর; তাতে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য জানতে পারবে যে, হে মাবুদ, তুমি, কেবল তুমিই আল্লাহ্।
20
পরে আমোজের পুত্র ইশাইয়া হিষ্কিয়ের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন; ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীবের বিষয়ে আমার কাছে মুনাজাত করেছে, তা আমি শুনলাম।
21 মাবুদ তার বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তাহল— অনূঢ়া সিয়োন-কন্যা তোমাকে তুচ্ছ ও পরিহাস করছে; জেরুশালেম-কন্যা তোমার দিকে মাথা নাড়ছে।
22 তুমি কাকে টিট্কারি দিয়েছ? কার নিন্দা করেছ? কার বিরুদ্ধে উচ্চশব্দ করেছ ও ঊর্ধ্বদিকে চোখ তুলেছ? ইসরাইলের পবিত্রতমেরই বিরুদ্ধে।
23 তুমি তোমার দূতদের দ্বারা প্রভুকে টিট্কারি দিয়ে বলেছ, ‘আমি আমার অনেক রথ নিয়ে পর্বতমালার উঁচু মাথায়, লেবাননের নিভৃত স্থানে আরোহণ করেছি; আমি তার দীর্ঘকায় এরস গাছ ও উৎকৃষ্ট সমস্ত দেবদারু কেটে ফেলব; তার প্রান্তভাগস্থ বাসস্থানে, উর্বর ক্ষেতের কাননে প্রবেশ করবো।
24 আমি তা খনন করে অসাধারণ পানি পান করেছি, আমি আমার পা দিয়ে মিসরের সমস্ত খাল শুকিয়ে ফেলবো।
25 তুমি কি শুন নি যে, আমি অনেক আগেই তা ঠিক করে রেখেছিলাম, অনেক কাল আগেই এই বিষয় স্থির করেছিলাম? আমি এখন এটা কার্যকর করলাম, তোমার দ্বারা দৃঢ় সমস্ত নগর বিনাশ করে ঢিবি করলাম;
26 আর সেই স্থানের বাসিন্দারা শক্তিহীন, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত হল; তারা ক্ষেতের শাক ও নবীন ঘাস, ছাদের উপরিস্থ ঘাসের মত হল যা বেড়ে উঠবার আগেই শুকিয়ে যায়।
27 কিন্তু তোমার বসে থাকা, বাইরে যাওয়া, ভিতরে আসা এবং আমার বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধ-প্রকাশ, এসব আমি জানি।
28 আমার বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধের নিমিত্ত এবং তোমার যে অহংকারের কথা আমার কর্ণগোচর হয়েছে, তার জন্য আমি তোমার নাসিকায় আমার আঁকড়া, তোমার ওষ্ঠাধরে আমার বল্গা দেব এবং তুমি যে পথ দিয়ে এসেছো, সেই পথ দিয়ে তোমাকে ফিরে যেতে বাধ্য করবো।
29
আর হে হিষ্কিয়, তোমার জন্য চিহ্ন হবে এই: তোমারা এই বছর স্বতঃ উৎপন্ন শস্য ও দ্বিতীয় বছর তার মূল থেকে উৎপন্ন শস্য ভোজন করবে, পরে তোমরা তৃতীয় বছরে বীজ বপন করে শস্য কাটবে এবং আঙ্গুরক্ষেত করে তার ফল ভোগ করবে।
30 আর এহুদা-কুলের রক্ষা পাওয়া যেসব লোক অবশিষ্ট আছে, তারা আবার নিচে মূল বাঁধবে ও উপরে ফল দেবে।
31 কেননা জেরুশালেম থেকে অবশিষ্ট ব্যক্তিরা, সিয়োন পর্বত থেকে রক্ষা পাওয়া লোকেরা বের হবে; বাহিনীগণের মাবুদের গভীর আগ্রহই তা সাধন করবে।
32
অতএব আসেরিয়ার বাদশাহ্র বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, সে এই নগরে আসবে না, এখানে তীর নিক্ষেপ করবে না, ঢাল নিয়ে এর সম্মুখে আসবে না, এর বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধবে না।
33 সে যে পথ দিয়ে এসেছে, সেই পথ দিয়েই ফিরে যাবে, এই নগরে আসবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
34 কারণ আমি আমার জন্য ও আমার গোলাম দাউদের জন্য এই নগরের রক্ষার্থে এর ঢালস্বরূপ হবো।
35
পরে সেই রাত্রে মাবুদের ফেরেশতা গিয়ে আসেরীয়দের শিবিরে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার লোক হত্যা করলেন। লোকেরা প্রত্যুষে উঠে দেখলো সমস্ত দেহই মৃত।
36 অতএব আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব প্রস্থান করলেন এবং নিনেভেতে ফিরে গিয়ে বাস করলেন।
37 পরে তিনি যখন তাঁর দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে সেজ্দা করছিলেন, তখন অদ্রম্ম্েলক ও শরেৎসর নামক তাঁর দুই পুত্র তলোয়ার দ্বারা তাঁকে আঘাত করলো; পরে তারা অরারট দেশে পালিয়ে গেল। আর এসর-হদ্দোন নামক তাঁর পুত্র তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
সেই সময় হিষ্কিয় সাংঘাতিক অসুস্থ হয়েছিল। আর আমোজের পুত্র নবী ইশাইয়া তাঁর কাছে এসে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি তোমার বাড়ির ব্যবস্থা করে রাখ, কেননা তোমার মৃত্যু হবে, তুমি বাঁচবে না।
2 তখন তিনি দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে মাবুদের কাছে মুনাজাত করে বললেন,
3 হে মাবুদ, আরজ করি, তুমি এখন স্মরণ কর, আমি তোমার সাক্ষাতে বিশ্বস্ততায় ও একাগ্রচিত্তে চলেছি এবং তোমার দৃষ্টিতে যা ভাল, তা-ই করেছি। আর হিষ্কিয় ভীষণভাবে কান্নাকাটি করতে লাগলেন।
4 ইশাইয়া বের হয়ে নগরের মধ্য স্থান পর্যন্ত যান নি, এমন সময়ে তাঁর কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
5 তুমি ফিরে গিয়ে আমার লোকদের নেতা হিষ্কিয়কে বল, তোমার পূর্বপুরুষ দাউদের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমার মুনাজাত শুনলাম, আমি তোমার নেত্রজল দেখলাম; দেখ, আমি তোমাকে সুস্থ করবো; তৃতীয় দিনে তুমি মাবুদের গৃহে উঠে যাবে।
6 আর আমি তোমার আয়ু পনের বছর বৃদ্ধি করবো এবং আসেরিয়া বাদশাহ্র হাত থেকে তোমাকে ও এই নগরকে উদ্ধার করবো; আর আমি আমার জন্য ও আমার গোলাম দাউদের জন্য এই নগরের ঢালস্বরূপ হবো।
7 পরে ইশাইয়া বললেন, ডুমুরফলের একটা চাক আন; আর লোকেরা তা নিয়ে স্ফোটকের উপরে দিলে তিনি বাঁচলেন।
8
আর হিষ্কিয় ইশাইয়াকে বললেন, মাবুদ যে আমাকে সুস্থ করবেন এবং আমি যে তৃতীয় দিনে মাবুদের গৃহে উঠে যাব, এর চিহ্ন কি?
9 ইশাইয়া বললেন, মাবুদ যে কথা বলেছেন তা যে সফল করবেন তার এই চিহ্ন মাবুদ থেকে আপনাকে দেওয়া যাবে; ছায়াটা কি দশ ধাপ অগ্রসর হবে, না দশ ধাপ পিছিয়ে যাবে?
10 হিষ্কিয় বললেন, ছায়াটা যে দশ ধাপ আগে সরে যায়, এটা ক্ষুদ্র বিষয়; ছায়াটা বরং দশ ধাপ পিছিয়ে পড়ুক।
11 তখন নবী ইশাইয়া মাবুদকে ডাকলেন, তাতে আহসের সিঁড়িতে ছায়াটা যত ধাপ নেমে গিয়েছিল, তিনি তার দশ ধাপ পিছনে ফেরালেন।
12
ঐ সময়ে বলদনের পুত্র ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বরোদক্বলদন্ হিষ্কিয়ের কাছে পত্র ও উপঢৌকন দ্রব্য পাঠালেন, কারণ তিনি শুনেছিলেন যে, হিষ্কিয় অসুস্থ হয়েছেন।
13 তাতে হিষ্কিয় দূতদের কথা শুনলেন এবং তাঁর সমস্ত ধন-ভাণ্ডার, রূপা, সোনা, সুগন্ধি দ্রব্য ও বহুমূল্য তেল এবং অস্ত্রাগার ও ধনাগারগুলোর সমস্ত বস্তু তাদেরকে দেখালেন; হিষ্কিয় তাদেরকে না দেখালেন, এমন কোন সামগ্রী তাঁর বাড়িতে বা তাঁর সমস্ত রাজ্যে ছিল না।
14 পরে নবী ইশাইয়া হিষ্কিয় বাদশাহ্র কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ লোকেরা কি বললো? আর ওরা কোথা থেকে আপনার কাছে এল? হিষ্কিয় বললেন, ওরা দূর দেশ থেকে, ব্যাবিলন থেকে এসেছে।
15 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা আপনার বাড়িতে কি কি দেখেছে? হিষ্কিয় বললেন, আমার বাড়িতে যা যা আছে, সবই দেখেছে; তাদেরকে না দেখিয়েছি, আমার ধনাগারগুলোর মধ্যে এমন কোন দ্রব্য নেই।
16 ইশাইয়া হিষ্কিয়কে বললেন, মাবুদের কালাম শুনুন।
17 দেখ, এমন সময় আসছে, যখন তোমার বাড়িতে যা কিছু আছে এবং তোমার পূর্বপুরুষদের সঞ্চিত যা যা আজ পর্যন্ত রয়েছে, সকলই ব্যাবিলনে নীত হবে; কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
18 আর যারা তোমা থেকে উৎপন্ন হবে, তোমার সেই সন্তানদের মধ্যে কয়েকজন নীত হবে; এবং তারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র প্রাসাদে নপুংসক হবে।
19 তখন হিষ্কিয় ইশাইয়াকে বললেন, আপনি মাবুদের যে কালাম বললেন, তা উত্তম। তিনি আরও বললেন, যদি আমার সময়ে শান্তি ও নিরাপদ হয়, তবে তা কি উত্তম নয়?
20
হিষ্কিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত বিক্রম এবং কিভাবে পুস্করিণী ও প্রণালী করে তিনি নগরে পানি এনেছিলেন, এসব কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা নেই?
21 পরে হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পুত্র মানশা তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
মানশা বারো বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং পঞ্চান্ন বছরকাল জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম হিফ্সীবা।
2 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন; মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যূত করেছিলেন, তিনি তাদের ঘৃণিত কাজ অনুসারেই করতেন।
3 বাস্তবিক তাঁর পিতা হিষ্কিয় যেসব উচ্চস্থলী বিনষ্ট করেছিলেন, তিনি সেগুলো পুনর্বার নির্মাণ করলেন এবং ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাব যেমন করেছিলেন, তেমনি তিনি বালের জন্য কোরবানগাহ্ প্রস্তুত করলেন এবং আশেরা-মূর্তি নির্মাণ করলেন, আর আসমানের সমস্ত বাহিনীর কাছে সেজ্দা ও তাদের সেবা করতেন।
4 আর মাবুদ যে গৃহের উদ্দেশে বলেছিলেন, আমি জেরুশালেমে আমার নাম স্থাপন করবো, মাবুদের সেই গৃহে তিনি কতকগুলো কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
5 আর তিনি মাবুদের গৃহের দুই প্রাঙ্গণে আসমানের সমস্ত বাহিনীর জন্য কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
6 আর তিনি তাঁর পুত্রকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করালেন ও গণকতা ও মোহকের ব্যবহার করতেন এবং ভূতড়িয়াদের ও গুনিনদেরকে রাখতেন। তিনি মাবুদের দৃষ্টিতে ভীষণ কদাচরণ করে তাঁকে অসন্তুষ্ট করলেন।
7 আর তিনি আশেরার যে খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করেছিলেন, তা সেই গৃহে স্থাপন করলেন, যার বিষয়ে মাবুদ দাউদ ও তাঁর পুত্র সোলায়মানকে এই কথা বলেছিলেন, আমি এই গৃহে এবং ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে আমার মনোনীত এই জেরুশালেমে আমার নাম চিরকালের জন্য স্থাপন করবো;
8 আর আমি তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশ থেকে ইসরাইলকে আর ঘুরে বেড়াতে দেব না; যদি কেবল তারা আমি তাদেরকে যেসব হুকুম দিয়েছি এবং আমার গোলাম মূসা তাদেরকে যে সমস্ত ব্যবস্থা দিয়েছে সেই অনুসারে যত্নপূর্বক চলে।
9 কিন্তু তারা শুনল না, আর মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে বিনষ্ট করেছিলেন, তাদের চেয়ে বেশি কদাচরণ করতে মানশা তাদেরকে কুপ্রবৃত্তি দিতেন।
10
আর মাবুদ তাঁর গোলাম নবীদের দ্বারা এই কথা বললেন,
11 এহুদার বাদশাহ্ মানশা এসব ঘৃণিত কাজ করেছে; তার আগে যে ইমোরীয়েরা ছিল, তাদের কৃত সমস্ত কাজ থেকেও সে বেশি দুষ্কর্ম করেছে এবং তার পুত্তলিদের দ্বারা এহুদাকেও গুনাহ্ করিয়েছে।
12 অতএব ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি জেরুশালেম ও এহুদার উপরে এমন অমঙ্গল আনবো যে, তা যে কেউ শুনবে, তার কর্ণযুগল শিহরিত হয়ে উঠবে।
13 আর আমি জেরুশালেমের উপরে সামেরিয়ার সুতা ও আহাব-কুলের ওলন বিস্তার করবো; যেমন কেউ থালা মুছে ফেলে এবং মোছার পর তা উল্টিয়ে উবুড় করে, তেমনি আমি জেরুশালেমকে মুছে ফেলবো।
14 আর আমি আমার অধিকারের অবশিষ্টাংশ ত্যাগ করবো ও তাদের দুশমনদের হাতে তাদেরকে তুলে দেব; তারা তাদের সমস্ত দুশমনের শিকারের ও লুটের বস্তুস্বরূপ হবে।
15 এর কারণ হল আমার দৃষ্টিতে যা মন্দ তারা তা-ই করেছে এবং যেদিন তাদের পূর্বপুরুষেরা মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিল, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে অসন্তুষ্ট করে এসেছে।
16
মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা করে মানশা এহুদাকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তাঁর এই গুনাহ্ ছাড়াও তিনি আবার অনেক নির্দোষের রক্তপাতও করেছিলেন, এমন কি, জেরুশালেমের এক সীমা থেকে অন্য সীমা পর্যন্ত রক্তে পরিপূর্ণ করেছিলেন।
17
মানশার অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, সমস্ত কাজের বিবরণ ও তাঁর কৃত গুনাহ্ কি এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
18 পরে মানশা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর বাড়ির বাগানে, উষের বাগানে তাঁকে দাফন করা হল; আর তাঁর পুত্র আমোন তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
19
আমোন বাইশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে দু’বছর কাল রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম মশুল্লেমৎ, তিনি ষট্বাস্থ হারুষের কন্যা।
20 তাঁর পিতা মানশা যেমন করেছিলেন, তিনিও তেমনি মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন।
21 তাঁর পিতা যে পথে চলেছিলেন, তিনিও সেসব পথে চলতেন এবং তাঁর পিতা যেসব মূর্তির সেবা করেছিলেন, তিনিও সেই সবের সেবা ও তাদের কাছে সেজ্দা করতেন;
22 তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদকে ত্যাগ করেছিলেন; মাবুদের পথে চলতেন না।
23
পরে আমোনের গোলামেরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলো, আর তারা বাদশাহ্কে তাঁর বাড়িতে হত্যা করলো।
24 কিন্তু দেশের লোকেরা আমোন বাদশাহ্র বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী সকলকে হত্যা করলো; পরে দেশের লোকেরা তাঁর পুত্র ইউসিয়াকে তাঁর পদে বাদশাহ্ করলো।
25 আমোনের কৃত অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
26 উষের বাগানে অবস্থিত তাঁর নিজের কবরে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র ইউসিয়া তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
ইউসিয়া আট বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং একত্রিশ বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিদীদা, তিনি বস্কতীয় আদায়ার কন্যা।
2 ইউসিয়া মাবুদের সাক্ষাতে যা ন্যায্য তা-ই করতেন ও তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের সমস্ত পথে চলতেন, তার ডানে বা বামে ফিরতেন না।
3
পরে বাদশাহ্ ইউসিয়ার অষ্টাদশ বছরে মশুল্লমের পৌত্র অৎসলিয়ের পুত্র শাফন লেখককে বাদশাহ্ এই কথা বলে মাবুদের গৃহে পাঠিয়ে দিলেন;
4 তুমি হিল্কিয় মহা-ইমামের কাছে গিয়ে মাবুদের গৃহে যে অর্থ আনা হয়েছে, দ্বারপালেরা লোকদের কাছ থেকে যা সংগ্রহ করেছে, তা প্রস্তুত রাখতে বল।
5 আর তারা মাবুদের গৃহের তত্ত্বাবধায়ক কার্যকারীদের হাতে তা দিক এবং তারা গৃহের ভাঙ্গা স্থান সারবার জন্য মাবুদের গৃহে যারা কাজ করে তাদের হাতে তা দিক;
6 অর্থাৎ, ছুতার মিস্ত্রি, গাঁথক ও রাজমিস্ত্রিদেরকে এবং গৃহ সারাবার জন্য কাঠ ও খোদাই-করা পাথর ক্রয় করার জন্য তা দিক।
7 কিন্তু তাদের হাতে যে টাকা দেওয়া হল, সেই বিষয়ে তাদের কাছ থেকে হিসাব নেওয়া হল না, কেননা তারা বিশ্বস্তভাবে কাজ করলো।
8
তখন হিল্কিয় মহা-ইমাম শাফন লেখককে বললেন, আমি মাবুদের গৃহে শরীয়ত কিতাবখানি পেয়েছি। পরে হিল্কিয় শাফনকে সেই কিতাব দিলে তিনি তা পাঠ করলেন।
9 আর শাফন লেখক বাদশাহ্র কাছে গিয়ে তাঁকে এই সংবাদ দিলেন, আপনার গোলামেরা সেই বাড়িতে পাওয়া সমস্ত টাকা একত্র করে মাবুদের গৃহের তত্ত্বাবধায়কদের হাতে দিয়েছে।
10 পরে শাফন লেখক বাদশাহ্কে বললেন, হিল্কিয় ইমাম আমাকে একখানি কিতাব দিয়েছেন। আর শাফন বাদশাহ্র সাক্ষাতে তা পাঠ করতে লাগলেন।
11
তখন বাদশাহ্ সেই শরীয়ত-কিতাবের সকল কালাম শুনে তাঁর কাপড় ছিঁড়লেন।
12 আর বাদশাহ্ হিল্কিয় ইমামকে, শাফনের পুত্র অহীকামকে, মীখায়ের পুত্র অক্বোরকে, শাফন লেখককে ও রাজভৃত্য অসায়কে এই হুকুম করলেন,
13 তোমরা যাও, এই যে কিতাবখানি পাওয়া গেছে, এই কিতাবের কালামগুলোর বিষয়ে আমার ও লোকদের এবং সমস্ত এহুদার জন্য মাবুদকে জিজ্ঞাসা কর; কেননা আমাদের পালন করার জন্য লেখা সকল কথানুযায়ী কাজ করার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই কিতাবের কথায় কান দেন নি, এজন্য আমাদের বিরুদ্ধে মাবুদের অতিশয় ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়েছে।
14
তখন হিল্কিয় ইমাম, অহিকাম, অক্বোর, শাফন ও অসায়, এঁরা বস্ত্রাগারের নেতা হর্হসের পৌত্র তিক্বের পুত্র শল্লুমের স্ত্রী হুলদা মহিলা-নবীর কাছে গেলেন; তিনি জেরুশালেমের দ্বিতীয় বিভাগে বাস করছিলেন। পরে তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বললেন।
15 তিনি তাঁদের বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, যে ব্যক্তি তোমাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়েছে, তাকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন,
16 দেখ, আমি এই স্থান ও এখানকার অধিবাসীদের উপরে অমঙ্গল আনবো, এহুদার বাদশাহ্ যে কিতাব পাঠ করেছে, তাতে লেখা সমস্ত বিপদ নিয়ে আসব।
17 কারণ তারা আমাকে ত্যাগ করেছে এবং অন্য দেবতাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালিয়েছে, এভাবে নিজ নিজ হাতের কাজ দ্বারা আমাকে অসন্তুষ্ট করেছে, সেজন্য এই স্থানের বিরুদ্ধে আমার গজবের আগুন জ্বলতেই থাকবে, তা নিভানো যাবে না।
18 কিন্তু এহুদার বাদশাহ্, যিনি মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে তোমাদেরকে পাঠিয়েছেন, তাঁকে এই কথা বল, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন,
19 তুমি যেসব কালাম শুনেছ, এই স্থান ও এই জায়গার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে আমি যেসব কালাম বলেছি, অর্থাৎ তারা যে বিস্ময়ের ও বদদোয়ার পাত্র হবে, তা শোনামাত্র তোমার অন্তঃকরণ কোমল হয়েছে, তুমি মাবুদের সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করেছ এবং নিজের কাপড় ছিঁড়ে আমার সম্মুখে কান্নাকাটি করেছ, এজন্য মাবুদ বলেন, আমিও তোমার কথা শুনলাম।
20 অতএব দেখ, আমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে তোমাকে সংগ্রহ করবো; তুমি শান্তিতে কবর পাবে এবং আমি এই স্থানের উপরে যেসব অমঙ্গল আনবো, তোমার চোখ সেই সমস্ত দেখবে না। পরে তাঁরা আবার বাদশাহ্কে এই কথার সংবাদ দিলেন।
1
পরে বাদশাহ্ লোক পাঠালে তারা এহুদা ও জেরুশালেমের সমস্ত প্রধান ব্যক্তিবর্গকে তাঁর কাছে একত্র করলো।
2 বাদশাহ্ মাবুদের গৃহে গেলেন এবং এহুদার সমস্ত লোক, সমস্ত জেরুশালেম-নিবাসী, ইমাম ও নবীদের এবং ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত লোক তাঁর সঙ্গে গমন করলো, পরে তিনি মাবুদের গৃহে পাওয়া নিয়ম-কিতাবের সমস্ত কথা তাদের শুনিয়ে পাঠ করলেন।
3 পরে বাদশাহ্ মঞ্চের উপরে দাঁড়িয়ে মাবুদের অনুগামী হবার এবং সমস্ত অন্তঃকরণ ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাঁর হুকুম, নির্দেশ ও বিধি পালন করার জন্য, এই কিতাবে লেখা এই নিয়মের সমস্ত কালাম অটল রাখার জন্য মাবুদের সাক্ষাতে নিয়ম স্থির করলেন এবং সমস্ত লোক সেই নিয়মে সায় দিল।
4
আর বাদশাহ্ বাল ও আশেরার জন্য এবং আসমানের সমস্ত বাহিনীর জন্য তৈরি সমস্ত সামগ্রী মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বের করতে হিল্কিয় মহা-ইমাম, দ্বিতীয় শ্রেণীর ইমামদের ও দ্বারপালদের হুকুম করলেন; পরে তিনি জেরুশালেমের বাইরে কিদ্রোণের ক্ষেতে সেই সকল পুড়িয়ে তাদের ভস্ম বেথেলে নিয়ে গেলেন।
5 আর এহুদার বাদশাহ্দের কর্তৃক নিযুক্ত যে ইমামেরা এহুদা দেশের নগরে নগরে উচ্চস্থলীতে ও জেরুশালেমের চারদিকে নানা স্থানে ধূপ জ্বালাত এবং যারা বালের, সূর্যের ও চন্দ্রের এবং গ্রহগুলোর ও আসমানের সমস্ত বাহিনীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত তাদেরকে তিনি নিবৃত্ত করলেন।
6 আর তিনি মাবুদের গৃহ থেকে আশেরা-মূর্তি বের করে জেরুশালেমের বাইরে কিদ্রোণ স্রোতের কাছে এনে স্রোতের ধারে পুড়িয়ে দিলেন এবং তা পিষে গুঁড়া করে তার ধূলি সাধারণ লোকদের কবরের উপরে ফেলে দিলেন।
7 আর তিনি মাবুদের গৃহে স্থাপিত পুংগামীদের সেসব কুঠরী ভেঙ্গে ফেললেন, যেখানে স্ত্রীলোকেরা আশেরার জন্য কাপড় বুনত।
8 আর তিনি এহুদার সমস্ত নগর থেকে সমস্ত ইমামকে আনলেন এবং সেবা থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত যেসব উচ্চস্থলীতে ইমামেরা ধূপ জ্বালাত, সেসব নাপাক করলেন; আর নগর-দ্বারের যেসব উচ্চস্থলী নগরাধ্যক্ষ ইউসা-ফটকের প্রবেশদ্বারের কাছে ছিল এবং নগর-দ্বারে প্রবেশকারীর বামদিকে থাকতো সেসব ভেঙ্গে ফেললেন।
9 কিন্তু উচ্চস্থলীর ইমামেরা মাবুদের জেরুশালেমের কোরবানগাহে কোরবানী করতে গেল না, তারা কেবল তাদের ভাইদের মধ্যে থেকে খামিহীন রুটি ভোজন করতো।
10 আর কেউ যেন মোলকের উদ্দেশে তার পুত্র কিংবা কন্যাকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন না করায়, এজন্য তিনি হিন্নোম সন্তানদের উপত্যকাস্থিত তোফৎ নাপাক করলেন।
11 আর এহুদার বাদশাহ্রা যে ঘোড়াগুলোকে সূর্যের উদ্দেশে দিয়ে মাবুদের গৃহের প্রবেশ-স্থানের কাছে, উপপুরীতে অবস্থিত, নথন-মেলক নামক নপুংসকের কুঠরীর কাছে রাখতেন, সেগুলোকে তিনি দূর করলেন এবং সূর্যের রথগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।
12 আর এহুদার বাদশাহ্রা আহসের উপরিস্থ কুঠরীর ছাদে যেসব কোরবানগাহ্ তৈরি করেছিলেন এবং মানশা মাবুদের গৃহের দুই প্রাঙ্গণে যে যে কোরবানগাহ্ করেছিলেন, বাদশাহ্ সেসব কোরবানগাহ্ ভেঙ্গে ফেললেন, সেই স্থান থেকে শীঘ্র চলে গেলেন এবং তাদের ধূলি কিদ্রোণ স্রোতে নিক্ষেপ করলেন।
13 আর বিনাশ-পর্বতের দক্ষিণে জেরুশালেমের সম্মুখে ইসরাইলের বাদশাহ্ সোলায়মান সীদোনীয়দের ঘৃণ্য দেবী অষ্টোরতের জন্য এবং মোয়াবের ঘৃণ্য দেবতা কমোশের জন্য এবং অম্মোনের ঘৃণ্য দেবতা মিল্কমের জন্য যেসব উচ্চস্থলী করেছিলেন, সেসব বাদশাহ্ নাপাক করলেন।
14 আর তিনি সমস্ত স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেললেন ও সমস্ত আশেরা-মূর্তি কেটে ফেলে তাদের স্থান মানুষের অস্থিতে পরিপূর্ণ করলেন।
15
এছাড়া, বেথেলে যে কোরবানগাহ্ ছিল এবং নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম, যিনি ইসরাইলকে গুনাহ্ করিয়েছিলেন, তিনি যে উচ্চস্থলী নির্মাণ করেন, ইউসিয়া সেই কোরবানগাহ্ ও সেই উচ্চস্থলীও ভেঙ্গে ফেললেন, আর সেই উচ্চস্থলী আগুনে পুড়িয়ে দিলেন ও পিষে গুঁড়া করলেন এবং আশেরা পুড়িয়ে দিলেন।
16 আর ইউসিয়া মুখ ফিরিয়ে সেখানকার পর্বতস্থ সমস্ত কবর দেখলেন এবং লোক পাঠিয়ে সেসব কবর থেকে অস্থি আনালেন এবং আল্লাহ্র যে লোক আগে এসব ঘটনার কথা ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর বলা মাবুদের কালাম অনুসারে সেই কোরবানগাহ্র উপরে সেসব অস্থি পুড়িয়ে কোরবানগাহ্ নাপাক করলেন।
17 পরে তিনি বললেন, আমি ওটা কোন স্তম্ভ দেখছি? নগরের লোকেরা তাঁকে বললো, আল্লাহ্র যে লোক এহুদা থেকে এসে বৈথেলস্থ কোরবানগাহ্র বিরুদ্ধে তার করা এসব কাজের কথা ঘোষণা করেছিলেন ওটা তাঁরই কবর।
18 বাদশাহ্ বললেন, তাঁকে থাকতে দাও; তাঁর অস্থি কেউ স্থানান্তর না করুক; অতএব তারা তাঁর অস্থি এবং সামেরিয়া থেকে আগত নবীর অস্থি রক্ষা করলো।
19 আর ইসরাইলের বাদশাহ্রা সামেরিয়ার নানা নগরে যেসব উচ্চস্থলীতে মন্দির নির্মাণ করে মাবুদকে অসন্তুষ্ট করেছিলেন, সেসব ইউসিয়া দূর করলেন এবং বেথেলে যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, সেই অনুসারে সেই সবের প্রতিও করলেন।
20 আর সেখানকার উচ্চস্থলীগুলোর সমস্ত ইমামকে কোরবানগাহে জবেহ্ করলেন এবং তার উপরে মানুষের অস্থি পুড়িয়ে দিলেন, পরে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
21
পরে বাদশাহ্ সমস্ত লোককে এই হুকুম করলেন, এই নিয়ম-কিতাবে যেমন লেখা আছে, সেই অনুসারে তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন কর।
22 বাস্তবিক ইসরাইলের বিচারকারী বিচারকর্তাদের সময় থেকে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও এহুদা-বাদশাহ্দের আমলে এরকম ঈদুল ফেসাখ পালন করা হয় নি;
23 কিন্তু ইউসিয়া বাদশাহ্র অষ্টাদশ বছরে জেরুশালেমে মাবুদের উদ্দেশে এই ঈদুল ফেসাখ পালন করা হল।
24
আর ইউসিয়া যেন মাবুদের গৃহে হিল্কিয় ইমামের পাওয়া কিতাবে লেখা শরীয়তের সমস্ত কালাম অটল রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি এহুদা দেশে ও জেরুশালেমে যেসব ভুতড়িয়া, গুনিন, ঠাকুর, মূর্তি ও ঘৃণার বস্তু দেখতে পেলেন, সেসব দূর করলেন।
25 তাঁর মত সমস্ত অন্তঃকরণ, সমস্ত প্রাণ ও সমস্ত শক্তি দ্বারা মূসার সমস্ত শরীয়ত অনুসারে মাবুদের প্রতি ফিরলেন, এমন কোন বাদশাহ্ তাঁর আগে ছিলেন না এবং তাঁর পরেও তাঁর মত কেউ নেই।
26
তবুও মানশা যেসব অসন্তোষজনক কাজ দ্বারা মাবুদকে অসন্তুষ্ট করেছিলেন, তার দরুন এহুদার বিরুদ্ধে মাবুদের যে প্রচণ্ড ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়েছিল, সেই ক্রোধ থেকে তিনি ফিরলেন না।
27 আর মাবুদ বললেন, আমি যেমন ইসরাইলকে দূর করেছি, তেমনি আমার সম্মুখ থেকে এহুদাকেও দূর করবো এবং এই যে জেরুশালেম নগর মনোনীত করেছি; এবং ‘এই স্থানে আমার নাম থাকবে;’ এই কথা যে গৃহের বিষয়ে বলেছি; তাও অগ্রাহ্য করবো।
28
ইউসিয়ার অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
29 তাঁর সময়ে মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন-নখো আসেরিয়ার বাদশাহ্র বিরুদ্ধে ফোরাত নদীর দিকে যাত্রা করলেন, আর ইউসিয়া বাদশাহ্ তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন, তাতে ফেরাউন-নখো তাঁর দেখা পাওয়ামাত্র মগিদ্দোতে তাঁকে হত্যা করলেন।
30 পরে ইউসিয়ার গোলামেরা তাঁর লাশ রথে করে মগিদ্দো থেকে জেরুশালেমে এনে তাঁর নিজের কবরে দাফন করলো; পরে দেশের লোকেরা ইউসিয়ার পুত্র যিহোয়াহসকে নিয়ে অভিষেক করে পিতার পদে বাদশাহ্ করলো।
31
যিহোয়াহস তেইশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে তিন মাস রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম হমূটল, তিনি লিব্না-নিবাসী ইয়ারমিয়ার কন্যা।
32 এই বাদশাহ্ তাঁর পূর্বপুরুষদের মতই মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন।
33 আর ফেরাউন-নখো জেরুশালেমে তাঁর রাজত্বপ্রাপ্তির পরে হমাৎ দেশস্থ রিব্লাতে তাঁকে বন্দী করলেন এবং দেশের এক শত তালন্ত রূপা ও এক তালন্ত সোনা দণ্ড স্থির করলেন।
34 পরে ফেরাউন-নখো ইউসিয়ার পুত্র ইলিয়াকীমকে তাঁর পিতা ইউসিয়ার পদে বাদশাহ্ করে তাঁর নাম পরিবর্তন-পূর্বক যিহোয়াকীম রাখলেন, কিন্তু যিহোয়াহসকে নিয়ে গেলেন, তাতে তিনি মিসর দেশে গিয়ে সেই স্থানে ইন্তেকাল করলেন।
35 পরে যিহোয়াকীম ফেরাউনকে সেসব রূপা ও সোনা দিলেন, কিন্তু ফেরাউনের হুকুম অনুসারে সেই রূপা দেবার জন্য তিনি দেশে কর নির্ধারণ করলেন; ফেরাউন-নখোকে দেবার জন্য তিনি প্রত্যেক জনের উপর কর ধার্য করে সেই অনুসারে দেশের লোকদের কাছ থেকে ঐ রূপা ও সোনা আদায় করলেন।
36
যিহোয়াকীম পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে এগার বছর রাজত্ব করেন, তাঁর মায়ের নাম সবীদা, তিনি রূমা-নিবাসী পদায়ের কন্যা।
37 যিহোয়াকীম তাঁর পূর্বপুরুষদের সমস্ত কর্মানুসারে মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন।
1
তাঁর সময়ে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার আসলেন; যিহোয়াকীম তিন বছর যাবৎ তাঁর গোলাম ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ফিরলেন ও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হলেন।
2 তখন মাবুদ তাঁর বিরুদ্ধে কল্দীয়, অরামীয়, মোয়াবীয় ও অম্মোনীয়দের অনেক লুণ্ঠনকারী সৈন্যদল প্রেরণ করলেন; মাবুদ তাঁর গোলাম নবীদের দ্বারা যে কালাম বলেছিলেন, সেই অনুসারে এহুদাকে বিনষ্ট করার জন্য তার বিরুদ্ধে তাদেরকে পাঠালেন।
3 বাস্তবিক মাবুদেরই হুকুম অনুসারে এহুদার প্রতি এরকম ঘটলো, যেন তারা তাঁর সম্মুখ থেকে দূরীভূত হয়; এর কারণ মানশার সমস্ত গুনাহ্,
4 তাঁর কৃত সমস্ত কাজ এবং তাঁর কৃত নির্দোষদের রক্তপাত; কারণ তিনি নির্দোষদের রক্তে জেরুশালেমকে পরিপূর্ণ করেছিলেন, আর মাবুদ সেই সকল গুনাহ্ মাফ করতে চাইলেন না।
5 যিহোয়াকীমের অবশিষ্ট কর্মের-বৃত্তান্ত ও সমস্ত কাজের বিবরণ এহুদা-বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
6 পরে যিহোয়াকীম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর পুত্র যিহোয়াখীন তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
7 তারপর মিসরের বাদশাহ্ তাঁর দেশের বাইরে আর আসলেন না, কেননা মিসরের নদী থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত মিসরের বাদশাহ্র যত অধিকার ছিল, সেই সবই ব্যাবিলনের বাদশাহ্ হরণ করেছিলেন।
8
যিহোয়াখীন আঠার বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে তিন মাস রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম নহুষ্টা, তিনি জেরুশালেম-নিবাসী ইল্নাথনের কন্যা।
9 যিহোয়াখীন তাঁর পিতার সমস্ত কাজ অনুসারে মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন।
10
ঐ সময়ে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের গোলামেরা জেরুশালেমে এসে নগর অবরুদ্ধ করলো।
11 যখন তাঁর গোলামেরা নগর অবরোধ করছিল তখন ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার নগরের কাছে আসলেন।
12 পরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াখীন, তাঁর মা, গোলামেরা, কর্মচারীরা ও কর্মকর্তারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে বাইরে গেলেন; আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ তাঁর রাজত্বের অষ্টম বছরে তাঁকে বন্দী করলেন।
13
আর মাবুদ যেমন বলেছিলেন, তেমনি তিনি সেই স্থান থেকে মাবুদের গৃহের সমস্ত ধন ও রাজপ্রাসাদের সমস্ত ধন নিয়ে গেলেন এবং ইসরাইলের বাদশাহ্ সোলায়মান মাবুদের বায়তুল মোকাদ্দসে যেসব সোনার পাত্র তৈরি করেছিলেন সেগুলোও বিনষ্ট করলেন।
14 আর তিনি জেরুশালেমের সমস্ত লোক, সমস্ত কর্মকর্তা ও সমস্ত বলবান বীর, অর্থাৎ দশ হাজার বন্দী এবং সমস্ত শিল্পকার ও কর্মকারকে নিয়ে গেলেন; দেশের দীন দরিদ্র লোক ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকলো না।
15 তিনি যিহোয়াখীনকে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন; এবং বাদশাহ্র মা, বাদশাহ্র স্ত্রীদের, তাঁর কর্মকর্তাদের ও দেশের পরাক্রমী লোকদেরকে জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে বন্দী করে নিয়ে গেলেন।
16 আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ সমস্ত পরাক্রমশালী লোককে অর্থাৎ সাত হাজার লোককে এবং শিল্পকার ও কর্মকার এক হাজার লোককে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন; তারা সকলে শক্তিশালী ও যোদ্ধা ছিল।
17 পরে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ যিহোয়াখীনের চাচা মত্তনিয়কে তাঁর পদে বাদশাহ্ করলেন ও তাঁর নাম পরিবর্তন করে সিদিকিয় রাখলেন।
18
সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং এগার বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম হমূটল, তিনি লিব্না-নিবাসী ইয়ারমিয়ার কন্যা।
19 যিহোয়াকীমের সকল কাজ অনুসারে সিদিকিয়ও মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই করতেন।
20 কারণ মাবুদের ক্রোধের দরুন তিনি তাদেরকে তাঁর সম্মুখ থেকে দূরে ফেলে দিলেন, সমগ্র জেরুশালেম ও এহুদায় এরকম ঘটনা ঘটল। আর সিদিকিয় ব্যাবিলনের বাদশাহ্র বিদ্রোহী হলেন।
1
পরে তাঁর রাজত্বের নবম বছরে, দশম মাসের দশম দিনে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার ও তাঁর সমস্ত সৈন্য এসে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করলেন ও তাঁর বিরুদ্ধে চারদিকে ঢিবি তৈরি করলেন।
2 সিদিকিয়ের একাদশ বছর পর্যন্ত নগর অবরুদ্ধ থাকলো।
3 পরে (চতুর্থ) মাসের নবম দিনে নগরে মহাদুর্ভিক্ষ হল, দেশের লোকদের জন্য খাদ্যদ্রব্য কিছুই রইলো না।
4 পরে নগরের প্রাচীর একটি জায়গা ভেঙ্গে গেল, আর সমস্ত যোদ্ধা রাত্রে বাদশাহ্র বাগানের নিকটস্থ দুই প্রাচীরের মধ্যবর্তী দ্বারের পথ দিয়ে পালিয়ে গেল; তখন কল্দীয়েরা নগরের বিরুদ্ধে চারদিকে ছিল। আর বাদশাহ্ অরাবা সমভূমির পথে গেলেন।
5 কিন্তু কল্দীয়দের সৈন্য বাদশাহ্র পিছনে দৌড়ে গিয়ে জেরিকোর সমভূমিতে তাঁকে ধরে ফেললো, তাতে তাঁর সকল সৈন্য তাঁর কাছ থেকে ছিন্নভিন্ন হল।
6 তখন তারা বাদশাহ্কে ধরে রিব্লাতে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেল, পরে তাঁর প্রতি দণ্ডাজ্ঞা হল।
7 তারা সিদিকিয়ের সাক্ষাতেই তাঁর পুত্রদেরকে হত্যা করলো এবং সিদিকিয়ের চোখ উৎপাটন করলো ও তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
8
পরে পঞ্চম মাসের সপ্তম দিনে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের ঊনবিংশ বছরে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম নবূষরদন নামক রক্ষক-সেনাপতি জেরুশালেমে আসলেন,
9 তিনি মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদ পুড়িয়ে দিলেন, জেরুশালেমের সকল বাড়ি, বড় বড় অট্টলিকাও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেন,
10 আর সেই রক্ষক-সেনাপতির অনুগামী কল্দীয় সমস্ত সৈন্য জেরুশালেমের চারদিকে প্রাচীর ভেঙে ফেললো।
11 আর রক্ষক-সেনাপতি নবূষরদন নগরের অবশিষ্ট লোকদেরকে ও যারা বিপক্ষে গিয়েছিল, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র পক্ষ হয়েছিল, তাদেরকে এবং অবশিষ্ট সাধারণ লোকদেরকে বন্দী করে নিয়ে গেলেন।
12 কেবল আঙ্গুরক্ষেত পালন ও ভূমি চাষবাস করবার জন্য রক্ষক-সেনাপতি কতগুলো দীন দরিদ্র লোককে দেশে রাখলেন।
13
আর মাবুদের গৃহের ব্রোঞ্জের দুই স্তম্ভ ও মাবুদের গৃহের সমস্ত পীঠ ও ব্রোঞ্জের সমুদ্রপাত্র কল্দীয়েরা খণ্ড-বিখণ্ড করে, সেই সকল ব্রোঞ্জ ব্যাবিলনে নিয়ে গেল;
14 আর পাত্র, হাতা কর্তরী ও চামচ, আর সমস্ত পরিচর্যা কাজের ব্রোঞ্জের পাত্র নিয়ে গেল।
15 আর ধূপদানি ও সমস্ত বাটি, সোনার পাত্রের সোনা ও রূপার পাত্রের রূপা, রক্ষক-সেনাপতি নিয়ে গেলেন।
16 যে দু’টি স্তম্ভ, একটি সমুদ্র-পাত্র ও সমস্ত পীঠ সোলায়মান মাবুদের গৃহের জন্য নির্মাণ করেছিলেন, সেই সকল পাত্রের ব্রোঞ্জ অপরিমিত ছিল।
17 তার একটি স্তম্ভ আঠার হাত উঁচু ও তার উপরে ব্রোঞ্জের একটি মাথলা ছিল, আর সেই মাথলা তিন হাত উঁচু এবং মাথলার উপরে চারদিকে জালকার্য ও ডালিমের আকৃতি সকলই ব্রোঞ্জের ছিল; এবং জালকার্যসুদ্ধ দ্বিতীয় স্তম্ভও এর মত ছিল।
18
পরে রক্ষক-সেনাপতি প্রধান ইমাম সরায়, দ্বিতীয় ইমাম সফনিয় ও তিন জন দ্বারপালকে বন্দী করলেন।
19 আর তিনি নগর থেকে যোদ্ধাদের উপরে নিযুক্ত এক জন কর্মচারী এবং যাঁরা বাদশাহ্র মুখদর্শন করতেন, তাঁদের মধ্যে নগরে পাওয়া পাঁচ জন, আর লেখক, দেশের লোক সংগ্রহকারী সেনাপতি এবং নগরে পাওয়া দেশীয় ষাটজনকে বন্দী করলেন।
20 নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি তাঁদেরকে বন্দী করে রিব্লাতে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেলেন।
21 আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ হমাৎ দেশস্ত রিব্লাতে তাঁদেরকে হত্যা করলেন। এভাবে এহুদার লোকদের নিজের দেশ থেকে বন্দী করে দূরে নিয়ে যাওয়া হল।
22
এহুদা দেশে যে সমস্ত লোক অবশিষ্ট রইলো, যাদেরকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার রেখে গিয়েছিলেন, তাদের উপরে তিনি শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন।
23 পরে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ গদলিয়কে শাসনকর্তা করেছেন, এই কথা শুনে সেনাপতিরা ও তাঁদের লোকেরা, অর্থাৎ নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল, কারেয়ের পুত্র যোহানন, নটোফাতীয় তন্হূমতের পুত্র সরায় ও মাখাথীয়ের পুত্র যাসনিয় এবং তাঁদের লোকেরা মিস্পাতে গদলিয়ের কাছে আসলেন।
24 আর গদলিয় তাঁদের কাছে ও তাঁদের লোকদের কাছে কসম খেয়ে বললেন, তোমরা কল্দীয় কর্মকর্তাদের ভয় পেয়ো না; দেশে বাস করে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলামী স্বীকার কর, তোমাদের মঙ্গল হবে।
25 কিন্তু সপ্তম মাসে রাজবংশজাত ইলীশামার পৌত্র নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল ও তাঁর সঙ্গী দশ জন আসলেন, আর গদলিয়কে এবং যে ইহুদীরা ও কলদীয়েরা তাঁর সঙ্গে মিস্পাতে ছিল তাদেরকে হত্যা করলেন।
26 পরে ছোট বড় সমস্ত লোক ও সেনাপতিরা কল্দীয়দের ভয়ে মিসরে গেলেন।
27
পরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াখীনের বন্দীত্বের সাঁইত্রিশ বছরে, বারো মাসের সাতাশ দিনে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ ইবিল-মারডক যে বছরে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন, সেই বছরে তিনি এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াখীনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন।
28 আর তিনি তাঁর সঙ্গে ভালভাবে কথা বলে, তাঁর সঙ্গে ব্যাবিলনে যত বাদশাহ্ ছিলেন, সকলের আসন থেকে তাঁর আসন উচ্চে স্থাপন করলেন।
29 আর ইনি তাঁর কারাবাসের পোশাক পরিবর্তন করলেন এবং সারা জীবন প্রতিনিয়ত তাঁর সম্মুখে ভোজন পান করতে লাগলেন।
30 তাঁর দিনপাতের জন্য বাদশাহ্র হুকুমে তাঁকে নিয়মিতভাবে বৃত্তি দেওয়া হত, তাঁর সমস্ত জীবন প্রতিদিন তাঁকে দিনের উপযুক্ত দ্রব্য দেওয়া হত।
1
আদম, শিস, আনুশ,
2 কৈনন, মাহলাইল,
3 ইয়ারুদ, হনোক, মুতাওশালেহ, লামাক,
4 নূহ্, সাম, হাম ও ইয়াফস।
5
ইয়াফসের সন্তান গোমর, মাজুজ, মাদয়, যবন, তুবল, মেশক ও তীরস।
6 গোমরের সন্তান অস্কিনস, দীফৎ ও তোগর্ম।
7 যবনের সন্তান ইলীশা, তর্শীশ, সাইপ্রাস ও রোদানীম।
8
হামের সন্তান কূশ, মিসর, পূট ও কেনান।
9 কূশের সন্তান সবা, হবীলা,
10 সপ্তা, রয়মা ও সপ্তকা। রয়মার সন্তান সাবা ও দদান। নমরূদ কূশের পুত্র; তিনি দুনিয়াতে এক জন পরাক্রমী মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।
11
আর লূদীয়, অনামীয়, লহাবীয়,
12 নপ্তুহীয়, পথ্রোষীয়, ফিলিস্তিনীদের আদিপুরুষ কস্লূহীয় এবং ক্রীটীয়রা।
13
এসব মিসরের সন্তান; এবং কেনানের জ্যেষ্ঠ পুত্র সিডন, তারপর হেৎ,
14 যিবূষীয়, আমোরীয়, গির্গাশীয়,
15 হিব্বীয়, অর্কীয়, সীনীয়,
16 অর্বদীয়, সমারীয় ও হমাতীয়।
17
সামের সন্তান ইলাম, আসেরিয়া, আরফাখশাদ, লূদ ও অরাম এবং ঊষ, হূল গেথর ও মেশেক।
18 আর আরফাখশাদ শেলহের জন্ম দিলেন ও শেলহ এবরের জন্ম দিলেন।
19 এবরের দুই পুত্র, একজনের নাম পেলগ (বিভাগ), কেননা সেই সময় দুনিয়া বিভক্ত হল; তাঁর ভাইয়ের নাম ইয়াকতান।
20 আর ইয়াকতান অল্মোদদ,
21 শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ,
22 হদোরাম, ঊসল, দিক্ল, এবল, অবীমায়েল,
23 সাবা, ওফীর, হবীলা ও যোবরের জন্ম দিলেন। এরা সকলে ইয়াকতানের সন্তান।
24
সাম, আরফাখশাদ, শেলহ,
25 এবর, পেলগ, রিয়ূ,
26 সরূগ, নাহোর, তেরহ,
27 ইব্রাম, অর্থাৎ ইব্রাহিম।
28
ইব্রাহিমের পুত্র ইস্হাক ও ইসমাইল।
29 তাঁদের খান্দাননামা এই। ইসমাইলের জ্যেষ্ঠ পুত্র নবায়োৎ,
30 পরে কায়দার, অদ্বেল, মিব্সম, মিশ্ম, দূমা, মসা, হদদ, তেমা,
31 যিটূর, নাফীশ ও কেদমা; এরা ইসমাইলের সন্তান।
32 ইব্রাহিমের উপপত্নী কটূরার গর্ভজাত সন্তান সিম্রণ, যক্ষণ, মদান, মাদিয়ান, যিশ্বক ও শূহ। যক্ষণের সন্তান সাবা ও দদান।
33 মাদিয়ানের সন্তান ঐফা, এফর, হনোক অবীদ ও ইল্দায়া; এরা সকলে কটূরার সন্তান।
34
ইব্রাহিমের পুত্র ইস্হাক। ইস্হাকের পুত্র ইস্ ও ইসরাইল।
35 ইসের সন্তান ইলীফস, রূয়েল, যিয়ুশ, যালম ও কারুন।
36 ইলীফসের সন্তান তৈমন, ওমার, সফী গয়িতম, কনস, তিম্ন ও আমালেক।
37 রূয়েলের সন্তান নহৎ, সেরহ, শম্ম ও মিসা।
38
সেয়ীরের সন্তান লোটন, শোবল, সিবিয়োন, অনা, দিশোন, এৎসর ও দীশন।
39 লোটনের সন্তান হোরি ও হোমম; এবং তিম্না লোটনের বোন।
40 শোবলের সন্তান অলিয়ন, মানহৎ, এবল, শফী ও ওনম। সিবিয়োনের সন্তান অয়া ও অনা।
41 অনার সন্তান দিশোন। দিশোনের সন্তান হম্রণ, ইশ্বন, যিত্রণ ও করাণ।
42 এৎসরের সন্তান বিল্হন, সাবন, যাকন। দীশনের সন্তান ঊষ ও অরাণ।
43
বনি-ইসরাইলদের উপরে কোন বাদশাহ্ রাজত্ব করার আগে এই বাদশাহ্রা ইদোম দেশের বাদশাহ্ ছিলেন; বিয়োরের পুত্র বেলা; তাঁর রাজধানীর নাম দিন্হাবা;
44 আর বেলার মৃত্যু হলে পর তাঁর পদে বস্রা-নিবাসী সেরহের পুত্র যোবব রাজত্ব করেন।
45 আর যোববের মৃত্যুর পর তৈমন দেশীয় হূশম তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
46 আর হূশম মারা যাওয়ার পর বদদের পুত্র যে হদদ্ মোয়াব দেশে মাদিয়ানকে আঘাত করেছিলেন, তিনি তাঁর পদে রাজত্ব করেন; তাঁর রাজধানীর নাম অবীৎ ছিল।
47 আর হদদ্ ইন্তেকাল করলে মস্রেকা-নিবাসী সম্ল তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
48 আর সম্ল ইন্তেকাল করলে পর ফোরাত নদীর নিকটবর্তী রহোবোৎ-নিবাসী তালুত তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
49 আর তালুতের মৃত্যু হলে অক্বোরের পুত্র বাল্-হানন তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
50 আর বাল্হানন মারা যাওয়ার পর হদদ তাঁর পদে রাজত্ব করেন, তাঁর রাজধানীর নাম পায় ও স্ত্রীর নাম মহেটবেল; সে মট্রেদের কন্যা ও মেষাহবের দৌহিত্রী।
51 পরে হদদ ইন্তেকাল করলেন।
52
ইদোমের দলপতিদের নাম; দলপতি তিম্না, দলপতি অলিয়া, দলপতি যিথেৎ, দলপতি অহলীবামা, দলপতি এলা, দলপতি পীনোন,
53 দলপতি কনস, দলপতি তৈমন, দলপতি মিব্সর,
54 দলপতি মগ্দীয়েল, দলপতি ঈরম; এঁরা ইদোমের দলপতি।
1
ইসরাইলের পুত্ররা হল রূবেণ, শিমিয়োন লেবি ও এহুদা, ইষাখর ও সবূলূন,
2 দান, ইউসুফ ও বিন্ইয়ামীন, নপ্তালি, গাদ ও আশের।
3
এহুদার পুত্ররা হল এর, ওনন ও শেলা; তাঁর এই তিন পুত্র কেনানীয়া বৎশূয়ার গর্ভে জন্মেছিল। এহুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র এর মাবুদের দৃষ্টিতে দুষ্ট হওয়াতে তিনি তাকে মেরে ফেললেন।
4 পরে এহুদার পুত্রবধূ তামর তার ঔরসে পেরস ও সেরহকে প্রসব করলো; সবসুদ্ধ এহুদার পাঁচ পুত্র।
5
পেরসের পুত্র হিষ্রোণ ও হামূল।
6 সেরহের পুত্র শিম্রি, এথন হেমন, কলকোল ও দারা, সবসুদ্ধ পাঁচ জন।
7 কর্মির পুত্র আখন বর্জিত দ্রব্যের বিষয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ইসরাইলের দুষ্টক্ষত হিসেবে অভিহিত হয়েছিল।
8 এথনের পুত্র অসরিয়।
9
আর হিষ্রোণের ঔরসজাত পুত্র যিরহমেল, রাম ও কালুবায়।
10 রামের পুত্র অম্মীনাদব ও অম্মীনাদবের পুত্র এহুদা-সন্তানদের নেতা নহশোন।
11 আর নহশোনের পুত্র সল্মোন ও সলমোনের পুত্র বোয়স।
12 বোয়সের পুত্র ওবেদ ও ওবেদের পুত্র ইয়াসি।
13 ইয়াসির জ্যেষ্ঠ পুত্র ইলীয়াব, দ্বিতীয় অবীদানব, তৃতীয়, শম্ম,
14 চতুর্থ নথনেল, পঞ্চম রদ্দয়,
15 ষষ্ঠ ওৎসম, সপ্তম দাউদ।
16 আর তাঁদের বোন সরূয়া ও অবীগল। সরূয়ার তিন জন পুত্র হল অবীশয়, যোয়াব ও অসাহেল।
17 আর অবীগলের পুত্র অমাসা; সেই অমাসার পিতা ইসমাইলীয় যেথর।
18
আর হিষ্রোণের পুত্র কালুত তার স্ত্রী অসূবার গর্ভে ও যিরিয়োতের গর্ভে কয়েকটি সন্তানের জন্ম দিল। অসূবার পুত্ররা হল যেশর, শোবব ও অর্দোন।
19 পরে অসূবার মৃত্যু হলে কালুত ইফ্রাথাকে বিয়ে করলো। সে তার ঔরসে হূরকে প্রসব করলো।
20 হূরের পুত্র ঊরি, ঊরির পুত্র বৎসলেল।
21
পরে হিষ্রোণ গিলিয়দের পিতা মাখীরের কন্যার কাছে গমন করলো, ষাট বছর বয়সে সে তাকে বিয়ে করলো, তাতে সে স্ত্রী তার ঔরসে সগূবকে প্রসব করলো।
22 সগূবের পুত্র যায়ীর, গিলিয়দ দেশে তাঁর তেইশটি নগর ছিল।
23 আর গশূর ও অরাম তাদের থেকে যায়ীরের সমস্ত গ্রাম অধিকার করলো এবং সেই সঙ্গে কনাৎ ও তার সমস্ত উপনগর অর্থাৎ ষাট নগর নিল। এরা সকলে গিলিয়দের পিতা মাখীরের সন্তান।
24 হিষ্রোণ কালুত-ইফ্রাথায় মারা যাওয়ার পর হিষ্রোণের স্ত্রী অবিয়া তাঁর জন্য তকোয়ের পিতা অস্হূরকে প্রসব করলো।
25
হিষ্রোণের জ্যেষ্ঠ পুত্র যিরহমেলের এসব সন্তান; জ্যেষ্ঠ পুত্র রাম, পরে বূনা, ওরণ, ওৎসম ও অহিয়।
26 অটারা নামে যিরহমেলের অন্য এক জন স্ত্রী ছিল, সে ওনমের মাতা।
27 যিরহমেলের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামের সন্তান মাষ, যামীন ও একর।
28 ওনমের সন্তান শম্ময় ও যাদা এবং শম্ময়ের সন্তান নাদব ও অবীশূর।
29 অবীশূরের স্ত্রীর নাম অবীহয়িল; সে তার ঔরসে অহবান ও মোলীদকে প্রসব করলো।
30 নাদবের পুত্র সেলদ ও অপ্পয়িম, কিন্তু সেলদ অপুত্রক হয়ে ইন্তেকাল করলো।
31 অপ্পয়িমের পুত্র যিশী ও যিশীর পুত্র শেশন ও শেশনের পুত্র অহলয়।
32 শম্ময়ের ভাই যাদার পুত্র যেথর ও যোনাথন; যেথর অপুত্রক হয়ে ইন্তেকাল করলেন।
33 যোনাথনের পুত্র পেলৎ ও সাসা। এরা যিরহমেলের সন্তান।
34 শেশনের পুত্র ছিল না, কেবল কন্যা ছিল, আর যার্হা নামে শেশনের এক জন মিসরীয় গোলাম ছিল।
35 পরে শেশন তার গোলাম যার্হার সঙ্গে তার কন্যার বিয়ে দিল, আর সে তার ঔরসে অত্তয়কে প্রসব করলো।
36 অত্তয়ের পুত্র নাথন, নাথনের পুত্র সাবদ;
37 সাবদের পুত্র ইফ্লল, ইফ্লনের পুত্র ওবেদ;
38 ওবেদের পুত্র যেহূ, যেহূর পুত্র অসরিয়;
39 অসরিয়ের পুত্র হেলস। হেলসের পুত্র ইলীয়াসা;
40 ইলীয়াসার পুত্র সিস্ময়,
41 সিস্ময়ের পুত্র শল্লুম; শল্লুমের পুত্র যিকমিয় ও যিকমিয়ের পুত্র ইলীশামা।
42
যিরহমেলের ভাই কালুতের সন্তান; তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মেশা, সে সীফের পিতা; এবং হেবরনের পিতা মারেশার সন্তানেরা।
43 আর হেবরনের পুত্র কারুন, তপূহ, রেকম ও শেমা।
44 শেমার পুত্র যর্কিয়মের পিতা রহম।
45 রেকমের পুত্র শম্ময়। আর শম্ময়ের পুত্র মায়োন এবং মায়োন বৈৎ-সুরের পিতা।
46 আর কালুতের উপপত্নী ঐফা হারণ, মোৎসা ও গাসেসকে প্রসব করলো এবং হারণের পুত্র গাসেস।
47 আর যেহদয়ের পুত্র রেগম, যোথম, গেসন, পেলট, ঐফা ও শাফ।
48 কালুতের উপপত্নী মাখা শেবরকে ও তির্হনঃকে প্রসব করলো।
49 আরও সে মদ্মন্নার পিতা শাফ এবং মক্বেনার ও গিবিয়ার পিতা শিবাকে প্রসব করলো; আর কালুতের কন্যার নাম অক্ষা।
50 কালুতের পুত্ররা হল ইফ্রাথার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিন্হূর; কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পিতা শোবল।
51
বেথেলহেমের পিতা শল্ম, বৈৎ-গাদেরের পিতা হারেফ।
52 আর কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পিতা শোবলের পুত্র হরোয়া, মনূহোতের অর্ধাংশ।
53 আর কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের গোষ্ঠী, যিত্রীয়, পূথীয়, শূমাথীয় ও মিশ্রায়ীয়রা, এদের থেকে সরাথীয় ও ইষ্টায়োলীয়েরা জন্মগ্রহণ করলো।
54 শল্মের সন্তান বেথেলহেম ও নটোফা-তীয়রা, অট্রোৎ-বেৎযোয়াব ও মনহতীয়দের অর্ধেক লোক, সরায়ীয়।
55 আর যাবেষ-নিবাসী লেখকদের গোষ্ঠী, তিরিয়াথীয়রা, শিমিয়থীয়রা, সূখাথীয়রা। এরা কীনীয় গোষ্ঠী, রেখবকুলের পিতা হম্মতের বংশজাত।
1
দাউদের এসব পুত্র হেবরনে জন্মগ্রহণ করলো, জ্যেষ্ঠ পুত্র অম্নোন, সে যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়মের গর্ভজাত; দ্বিতীয় দানিয়াল, সে কর্মিলীয়া অবীগলের গর্ভজাত;
2 তৃতীয় অবশালোম, সে গশূরের ত্লময় বাদশাহ্র কন্যা মাখার গর্ভজাত;
3 চতুর্থ আদোনিয়, সে গহীতের গর্ভজাত; পঞ্চম শফটিয়, সে অবীটলের গর্ভজাত; ষষ্ঠ যিত্রিয়ম, সে তার স্ত্রী ইগ্লার গর্ভজাত।
4 হেবরনে তাঁর ছয় পুত্র জন্মে এবং দাউদ সেই স্থানে সাত বছর ছয় মাস রাজত্ব করেন, পরে জেরুশালেমে তেত্রিশ বছর রাজত্ব করেন।
5 আর তাঁর এসব পুত্র জেরুশালেমে জন্মে; শিমিয়, শোবব, নাথন ও সোলায়মান, এই চার জন অম্মীয়েলের কন্যা বৎ-সূয়ার সন্তান।
6 আর যিভর, ইলীশামা, ইলীফেলট,
7 নোগহ, নেফগ, যাফিয়,
8 ইলীশামা, ইলীয়াদাও ইলীফেলট, এই নয় জন।
9 এরা সকলে দাউদের পুত্র, উপপত্নীদের সন্তানদের থেকে এরা ভিন্ন; আর তামর এদের বোন।
10
সোলায়মানের পুত্র রহবিয়াম; তাঁর পুত্র অবিয়; তাঁর পুত্র আসা; তাঁর পুত্র যিহোশাফট;
11 তাঁর পুত্র যোরাম; তাঁর পুত্র অহসিয়; তাঁর পুত্র যোয়াশ;
12 তাঁর পুত্র অমৎসিয়; তাঁর পুত্র অসরিয়; তাঁর পুত্র যোথম;
13 তাঁর পুত্র আহস; তাঁর পুত্র হিষ্কিয়; তাঁর পুত্র মানশা;
14 তাঁর পুত্র আমোন; তাঁর পুত্র যোশিয়।
15 ইউসিয়ার সন্তানেরা হল: জ্যেষ্ঠ যোহানন, দ্বিতীয় যিহোয়াকীম, তৃতীয় সিদিকিয়, চতুর্থ শল্লুম;
16 এবং যিহোয়াকীমের পুত্র যিকনিয়, অপর পুত্র সিদিকিয়।
17
বন্দী যিকোনিয়ের সন্তানেরা হল: তাঁর পুত্র শল্টীয়েল,
18 আর মল্কীরাম, পদায়, শিনৎসর, যিকমিয়, হোশামা ও নদবিয়।
19 পদায়ের সন্তান সরুব্বাবিল ও শিমিয়ি; এবং সরুব্বাবিলের সন্তান মশুল্লম ও হনানিয়, আর শলোমীৎ তাদের বোন।
20 আর হশুবা ওহেল, বেরিখিয়, হসদিয় ও যুশব-হেষদ, এই পাঁচ জন।
21 আর হনানিয়ের সন্তানেরা হল: পলটিয় ও যিশায়াহ; রফায়ের পুত্ররা অর্ণনের পুত্ররা, ওবদিয়ের পুত্ররা, শখনিয়ের পুত্ররা।
22 শখনিয়ের সন্তানেরা হল: শমরিয়; আর শময়িয়ের সন্তান— হটূশ, যিগাল, বারীহ, নিয়রিয়, শাফট, এই ছয় জন।
23 আর নিয়রিয়ের সন্তানেরা হল: ইলীয়ৈনয়, হিষ্কিয় ও অস্রীকাম, এই তিন জন।
24 আর ইলীয়ৈনয়ের সন্তানেরা হল: হোদবিয়, ইলীয়াশীব, পলায়ঃ অক্কুব, যোহানন, দলায় ও অনানি, এই সাত জন।
1
এহুদার সন্তানেরা হল: পেরস, হিষ্রোণ, কর্র্মী, হূর ও শোবল।
2 আর শোবলের সন্তান রায়া, রায়ার সন্তান যহৎ ও যহতের সন্তান অহূময় ও লহদ; এসব সরাথীয় গোষ্ঠী।
3 আর এসব ঐটমের পিতার সন্তান— যিষ্রিয়েল, যিশ্মা, যিদ্বশ; তাঁদের বোনের নাম হৎসলিল-পোনী।
4 আর গাদোরের পিতা পনূয়েল ও হূশের পিতা এসর। এরা বেথেলহেমের পিতা ইফ্রাথার জ্যেষ্ঠ পুত্র হূরের সন্তান।
5
তকোয়ের পিতা অসহূরের দুই স্ত্রী ছিল, হিলা ও নারা।
6 নারা তার ঔরসে অহুষম, হেফর, তৈমিনি ও অহষ্টরিকে প্রসব করলো। এসব নারার সন্তান।
7 আর হিলার সন্তান সেরৎ, যিৎসোহর ও ইৎনন।
8 আর হক্কোষের সন্তান— আনূব ও সোবেবা এবং হারুমের পুত্র অহর্হলের গোষ্ঠী সকল।
9 আর যাবেষ তাঁর ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ছিলেন; তাঁর মা তাঁর নাম যাবেষ রেখে বলেছিলেন, আমি তো দুঃখেতে প্রসব করলাম।
10 আর যাবেষ ইসরাইলের আল্লাহ্কে ডাকলেন, বললেন, আহা, তুমি সত্যিই আমাকে দোয়া কর, আমার অধিকার বৃদ্ধি কর ও তোমার হাত আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকুক; আর আমি যেন দুঃখ না পাই, এজন্য মন্দ থেকে আমাকে রক্ষা কর। তাতে আল্লাহ্ তাঁর যাচিত বিষয় দান করলেন।
11
শূহের ভাই কলূবের পুত্র মহীর, সে ইষ্টোনের পিতা।
12 ইষ্টোনের পুত্র বৈৎরাফা ও পাসেহ এবং ঈরনাহসের পিতা তহিন্ন; এরা সকলে রেকার লোক।
13 আর কনসের পুত্র অৎনীয়েল ও সরায় এবং অৎনীয়েলের পুত্র হথৎ।
14 আর মিয়োনোথয়ের পুত্র অফ্রা সরায়ের পুত্র শিল্পকারদের উপত্যকা-নিবাসীদের পিতা যোয়াব, কেননা তারা শিল্পকার ছিল।
15 আর যিফুন্নির পুত্র কালেবের সন্তান— ঈরূ, এলা ও নয়ম এবং এলার সন্তানরা ও কনস।
16 আর যিহলিলেলের সন্তান— সীফ, সীফা ও তীরিয় ও অসারেল।
17 আর উযায়েরের সন্তান— যেথর, মেরদ, এফর ও যালোন এবং (মেরদের মেস্রীয়া স্ত্রীর) গর্ভে মরিয়ম, শম্ময় ও ইষ্টিমোয়ের পিতা যিশবহ জন্ম লাভ করলো।
18 আর তার ইহুদীয়া স্ত্রী গদোরের পিতা ইয়ারুদ, সোখোর পিতা হেবর ও সানোহের পিতা যিকুথীয়েলকে প্রসব করলো। ওরা ফেরাউনের কন্যা বিথিয়ার সন্তান, যাকে মেরদ বিয়ে করেছিল।
19 নহমের বোন হোদিয়ের স্ত্রীর সন্তান গর্মীয় কিয়ীলার পিতা ও মাখাতীয় ইষ্টিমোয়।
20 আর শীমোনের সন্তান— অম্নোন, রিন্ন, বিন্-হানন, তীলোন। আর যিশীর সন্তান সোহেৎ ও বিন্-সোহেৎ।
21
এহুদার পুত্র শেলার সন্তান— লেকার পিতা এর ও মারেশার পিতা লাদা এবং অসবেয়ের কুলজাত যে লোকেরা মসীনার কাপড় বুনত, তাদের সকল গোষ্ঠী,
22 আর যোকীম ও কোষেবার লোক এবং যোয়াশ ও সারফ নামে যোয়াবের দুই শাসনকর্তা ও যাশূবিলেহম। এই অতি পুরানো কথা।
23 এরা কুমার ছিল এবং নতায়ীমে ও গদেরায় বাস করতো; তারা রাজকার্য করার জন্য সেই স্থানে তাঁর কাছে বাস করতো।
24
শিমিয়োনের সন্তান— নমূয়েল, যামীন,
25 যারীব, সেরহ, শৌল। তার পুত্র শল্লুম, তার পুত্র মিব্সম, তার পুত্র মিশ্ম।
26 মিশ্মের সন্তান — তার পুত্র হম্মুয়েল, তার পুত্র শক্কুর, তার পুত্র শিময়ি।
27 শিময়ির ষোলটি পুত্র ও ছয়টি কন্যা ছিল, কিন্তু তার ভাইদের অনেক সন্তান ছিল না এবং তাদের সমস্ত গোষ্ঠী এহুদা-বংশের লোকদের মত বৃদ্ধি পেল না।
28 তারা বের-শেবাতে, মোলাদাতে, হৎসর-শূয়ালে,
29 বিলহাতে, এৎসমে, তোলদে,
30 বথূয়েলে, হর্মাতে, সিক্লগে, বৈৎ-মর্কাবোতে, হৎসর-সূষীমে,
31 বৈৎ-বিরীতে ও শারয়িমে বাস করতো; দাউদের রাজত্ব পর্যন্ত তাদের এই সব নগর ছিল।
32 আর তাদের গ্রাম ঐটম, ঐন, রিম্মোণ, তোখেন ও আশন, পাঁচটি নগর;
33 আর বাল পর্যন্ত এসব নগরের চারপাশের সমস্ত গ্রাম তাদের ছিল। এসব তাদের নিবাস স্থান, আর তাদের নিজের খান্দাননামা আছে।
34
আর মশোবর, যম্লেক, অমৎসিয়ের পুত্র যোশঃ,
35 আর যোয়েল এবং অসীয়েলের সন্তান সরায়ের সন্তান যোশিবিয়ের সন্তান যেহূ;
36 আর ইলিয়ৈনয়, ইয়াকুবা, যিশোহায়, অসায়, অদীয়েল, যিশীমীয়েল ও বনায়;
37 এবং শময়িয়ের সন্তান শিম্রির সন্তান যিদয়িয়ের সন্তান অলোনের সন্তান শিফির সন্তান সীষঃ;
38 স্ব স্ব নামে উল্লিখিত এই লোকেরা যার যার গোষ্ঠীর মধ্যে নেতা ছিল এবং এদের সকল পিতৃকুল অতিশয় বৃদ্ধি পেল।
39
তারা তাদের পশুপালের জন্য চরাণির সন্ধানে গদোরের প্রবেশ স্থানে উপত্যকার পূর্বপার্শ্ব পর্যন্ত গেল।
40 তারা বহু ঘাসসহ উত্তম চরাণ ক্ষেত পেল, আর সে দেশ প্রশস্ত, প্রশান্ত ও নির্বিরোধ ছিল; কারণ হাম বংশীয়েরা আগে সেই স্থানে বাস করতো।
41 এহুদার হিষ্কিয় বাদশাহ্র সময়ে যার যার নামে লেখা ঐ লোকেরা গিয়ে সেই লোকদের তাঁবু ও সেখানে পাওয়া মিয়ূনীয়দের আক্রমণ করে নিঃশেষে বিনষ্ট করলো; আজও তেমনি আছে; পরে তারা তাদের পরিবর্তে বসতি করলো, কেননা সেই স্থানে তাদের পালের জন্য চরাণভূমি ছিল।
42 আর তাদের কতগুলো লোক, অর্থাৎ শিমিয়োন-সন্তানদের মধ্যে পাঁচ শত লোক যিশীর সন্তান পলটিয়, নিয়রিয়, রফায়িয় ও উষীয়েলকে সেনাপতি করে সেরীয় পর্বতে গেল।
43 আর আমালেকীয়দের যে লোকেরা পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেয়েছিল, তাদের আক্রমণ করে সেই স্থানে বসতি করলো; আজও তারা সেখানে বসতি করছে।
1
ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণের সন্তান— রূবেণ জ্যেষ্ঠ ছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তাঁর পিতার বিছানা নাপাক করেছিলেন, এজন্য তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার ইসরাইলের পুত্র ইউসুফের সন্তানদের দেওয়া হয়, তাই খান্দাননামায় তার স্থান জ্যেষ্ঠাধিকার অনুসারে উল্লেখ করা হয় না।
2 যদিও এহুদা তার ভাইদের মধ্যে পরাক্রমী হল এবং তার বংশ থেকে নায়ক উৎপন্ন হলেন, কিন্তু জ্যেষ্ঠাধিকার ইউসুফের হল।
3 ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেণের সন্তান— হনোক ও পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মী।
4 যোয়েলের সন্তান— তার পুত্র শিময়িয়, তার পুত্র গোগ, তার পুত্র শিমিয়ি;
5 তার পুত্র মিকাহ্, তার পুত্র রায়া, তার পুত্র বাল;
6 তার পুত্র বেরা; একে আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিল্গৎ-পিলনেষর বন্দী করে নিয়ে গেলেন; সে রূবেণীয়দের নেতা ছিল।
7 যখন তাদের খান্দাননামা লেখা হল, তখন নিজ নিজ গোষ্ঠী অনুসারে এই ভাইয়েরা উল্লিখিত হল; প্রধান যিয়ীয়েল ও জাকারিয়া,
8 আর যোয়েলের সন্তান শেমার সন্তান আসসের সন্তান বেলা; সে অরোয়েরে নবো ও বাল্-মিয়োন পর্যন্ত বাস করতো।
9 আর পূর্ব দিকে সে ফোরাত নদী থেকে (বিস্তৃত) মরুভূমির প্রবেশস্থান পর্যন্ত বাস করতো; কেননা গিলিয়দ দেশে তাদের সমস্ত পশু বৃদ্ধি পেয়েছিল।
10 আর তালুতের সময়ে তারা হাগরীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করলো এবং এরা তাদের হাতে পরাজিত হল; আর তারা এদের তাঁবুতে গিলিয়দের পূর্ব দিকে সর্বত্র বসতি করলো।
11
আর গাদ-বংশের লোকেরা তাদের সম্মুখে সলখা পর্যন্ত বাশন দেশে বাস করতো।
12 প্রধান যোয়েল, শাফম দ্বিতীয়, আর যানয় ও শাফট, এরা বাশনে থাকতো।
13 আর তাদের পিতৃকুলজাত জ্ঞাতি মিকাইল, মশুল্লম, শেবা যোরায়, যাকন, সীয় ও এবর, এই সাত জন।
14 বূষের সন্তান যহদোর সন্তান যিশীশয়ের সন্তান মিকাইলের সন্তান গিলিয়দের সন্তান যারোহের সন্তান হূরির সন্তান যে অবীহয়িল, তারা সেই অবীহয়িলের সন্তান।
15 গূনির সন্তান অব্দিয়েলের সন্তান অহি তাদের পিতৃকুলের প্রধান ছিল।
16 তারা গিলিয়দের বাশনে ও সেখানকার উপনগরগুলো এবং তাদের সীমা পর্যন্ত শারোণের সমস্ত পরিসরে বাস করতো।
17 এহুদার বাদশাহ্ যোথ ও ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের সময়ে তাদের সকলের খান্দাননামা লেখা হয়েছিল।
18
রূবেণ-বংশের লোকদের, গাদীয়দের ও মানশার অর্ধবংশের মধ্যে ঢাল ও তলোয়ার ধারণে ও ধনুক ব্যবহারে সমর্থ, যুদ্ধে নিপুণ চুয়াল্লিশ হাজার সাত শত ষাট জন শক্তিশালী পুরুষ যুদ্ধযাত্রা করতে সমর্থ ছিল।
19 তারা হাগরীয়দের সঙ্গে এবং যিটূর, নাফীশ ও নোদবের সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
20 তারা তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য পেল; তাতে হাগরীয়েরা ও তাদের সঙ্গী সমস্ত লোককে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হল, কেননা তারা যুদ্ধে আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করেছিল, আর তিনি তাদের মুনাজাত শুনলেন, যেহেতু তারা তাঁর উপর ভরসা করেছিল।
21 আর তারা ওদের পশুধন, অর্থাৎ পঞ্চাশ হাজার উট, আড়াই লক্ষ ভেড়া, দুই হাজার গাধা এবং এক লক্ষ মানুষ নিয়ে গেল।
22 বাস্তবিক, অনেকে নিহত হল, কারণ ঐ যুদ্ধ আল্লাহ্ থেকে হয়েছিল। আর তারা বন্দীত্বের সময় পর্যন্ত ওদের স্থানে বাস করলো।
23
আর মানশার অর্ধেক বংশের সন্তানরা সেই দেশে বাস করতো; তারা বৃদ্ধি পেয়ে বাশন থেকে বাল-হর্মোণ, সনীর ও হর্মোণ পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
24 এসব লোক তাদের পিতৃকুলপতি ছিলেন; এফর, যিশী, ইলীয়েল, অস্রীয়েল, ইয়ারমিয়া, হোদবিয় ও যহদীয়েল, এসব বলবান বীর ও বিখ্যাত লোক নিজ নিজ পিতৃকুলের প্রধান ছিলেন।
25
তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্র বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে করলো এবং আল্লাহ্ সেই দেশীয় যে জাতিদের তাদের সম্মুখ থেকে ধ্বংস করেছিলেন, তারা তাদের দেবতাদের পিছনে চলে জেনাকারী হল।
26 তাতে ইসরাইলের আল্লাহ্ আসেরিয়ার বাদশাহ্ পূলের মন, আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিল্গৎ-পিলনেষরের মন উত্তেজিত করলেন, আর তিনি তাদের অর্থাৎ রূবেণীয় ও গাদীয়দেরকে এবং মানশার অর্ধেক বংশকে নিয়ে গিয়ে হেলহে, হাবোরে, হারাতে ও গোষন নদীতীরে উপস্থিত করলেন; আজও তারা সেই স্থানে আছে।
1
লেবির সন্তান গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
2 কহাতের সন্তান, অম্রাম, যিষ্হর, হেবরন ও উষীয়েল।
3 ইমরানের সন্তান হারুন, মূসা এবং মরিয়ম; আর হারুনের সন্তান নাদব ও অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈথামর।
4 ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস, পীনহসের পুত্র অবিশূয়,
5 অবিশূয়ের পুত্র বুক্কি, বুক্কির পুত্র উষি,
6 উষির পুত্র সরহিয়, সরহিয়ের পুত্র মরায়োৎ,
7 মরায়োতের পুত্র অমরিয়, অমরিয়ের পুত্র অহীটূব,
8 অহীটূবের পুত্র সাদোক, সাদোকের পুত্র অহীমাস,
9 অহীমাসের পুত্র অসরিয়, অসরিয়ের পুত্র যোহানন,
10 যোহাননের পুত্র অসরিয়; ইনি জেরুশালেমে সোলায়মানের নির্মিত গৃহে ইমামের কাজ করতেন।
11 আর অসরিয়ের পুত্র অমরিয়, অমরিয়ের পুত্র অহীটূব,
12 অহীটূবের পুত্র সাদোক, সাদোকের পুত্র শল্লুম,
13 শল্লুমের পুত্র হিল্কিয়, হিল্কিয়ের পুত্র অসরিয়,
14 অসরিয়ের পুত্র সরায় ও সরায়ের পুত্র যিহোষাদক।
15 যে সময়ে মাবুদ বখতে-নাসারের হাত দিয়ে এহুদা ও জেরুশালেমের লোকদের নিয়ে গেলেন, সেই সময় এই যিহোষাদকও গেলেন।
16
লেবির সন্তান গের্শোম, কহাৎ ও মরারি।
17 আর গের্শোমের সন্তানদের নাম এই: লিব্নি ও শিমিয়ি।
18 আর কহাতের সন্তান অম্রাম, যিষ্হর, হেবরন ও উষীয়েল।
19 মরারির সন্তান মহলি ও মূশি। নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে এসব লেবীয়দের গোষ্ঠী।
20 গের্শোমের (সন্তান); তাঁর পুত্র লিব্নি,
21 তাঁর পুত্র যহৎ, তাঁর পুত্র সিম্ম, তাঁর পুত্র যোয়াহ, তাঁর পুত্র ইদ্দো, তাঁর পুত্র সেরহ, তাঁর পুত্র যিয়ত্রয়।
22 কহাতের সন্তান— তাঁর পুত্র অম্মীনাদব, তাঁর পুত্র কারুন, তাঁর পুত্র অসীর,
23 তাঁর পুত্র ইলকানা, তাঁর পুত্র ইবীয়াসফ, তাঁর পুত্র অসীর,
24 তাঁর পুত্র তহৎ, তাঁর পুত্র ঊরীয়েল, তাঁর পুত্র ঊষিয়, তাঁর পুত্র শৌল।
25 ইল্কানার সন্তান অমাসয় ও অহীমোৎ।
26 ইল্কানা; ইল্কানার সন্তান তাঁর পুত্র সোফী, তাঁর পুত্র নহৎ,
27 তাঁর পুত্র ইলীয়াব, তাঁর পুত্র যিরোহম, তাঁর পুত্র ইল্কানা।
28 শামুয়েলের সন্তান, তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র (যোয়েল) ও দ্বিতীয় অবিয়।
29 মরারির সন্তান মহলি, তাঁর পুত্র লিব্নি, তাঁর পুত্র শিমিয়ি, তাঁর পুত্র উষঃ,
30 তাঁর পুত্র শিমিয়, তাঁর পুত্র হগিয়, তাঁর পুত্র অসায়।
31
শরীয়ত-সিন্দুক নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপিত হওয়ার পর দাউদ কিছু লোককে মাবুদের গৃহে গজলের কাজে নিযুক্ত করলেন।
32 তারা সোলায়মান যে পর্যন্ত জেরুশালেমে মাবুদের গৃহ নির্মাণ না করেন, সে পর্যন্ত তাঁরা জমায়েত-তাঁবুরূপ শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখে গজল পরিবেশন করে পরিচর্যা করতেন ও নিজ নিজ পালা অনুসারে নিজ নিজ কাজে নিযুক্ত থাকতেন।
33 সেই নিযুক্ত লোকেরা ও তাঁদের সন্তানরা এই— কহাতীয়দের সন্তানদের মধ্যে হেমন গায়ক, তিনি যোয়েলের পুত্র;
34 ইনি শামুয়েলের পুত্র, ইনি ইল্কানার পুত্র; ইনি যিরোহমের পুত্র, ইনি ইলীয়েলের পুত্র, ইনি তোহের পুত্র,
35 ইনি সূফের পুত্র, ইনি ইল্কানার পুত্র, ইনি মাহতের পুত্র, ইনি অমাসয়ের পুত্র,
36 ইনি ইল্কানার পুত্র, ইনি যোয়েলের পুত্র, ইনি অসরিয়ের পুত্র, ইনি সফনিয়ের পুত্র,
37 ইনি তহতের পুত্র, ইনি অসীরের পুত্র, ইনি ইবীয়াসফের পুত্র, ইনি কারুনের পুত্র,
38 ইনি যিষহরের পুত্র, ইনি কহাতের পুত্র, ইনি লেবির পুত্র, ইনি ইসরাইলের পুত্র।
39 হেমনের ভাই আসফ, তিনি তাঁর ডান দিকে দাঁড়াতেন; সেই আসফ বেরিখিয়ের পুত্র, ইনি শিমিয়ের পুত্র,
40 ইনি মিকাইলের পুত্র, ইনি বাসেয়ের পুত্র, ইনি মল্কিয়ের পুত্র,
41 ইনি ইৎনির পুত্র, ইনি সেরহের পুত্র, ইনি অদায়ার পুত্র,
42 ইনি এথনের পুত্র, ইনি সিম্মের পুত্র, ইনি শিমিয়ির পুত্র,
43 ইনি যহতের পুত্র, ইনি গের্শোমের পুত্র, ইনি লেবির পুত্র।
44
এঁদের ভাইয়েরা মরারি-সন্তানেরা এঁদের বাম দিকে দাঁড়াতেন; এথন কীশির পুত্র, ইনি অব্দির পুত্র, ইনি মল্লুকের পুত্র,
45 ইনি হশবিয়ের পুত্র, ইনি, অমৎসিয়ের পুত্র, ইনি হিল্কিয়ের পুত্র,
46 ইনি অম্সির পুত্র, ইনি বানির পুত্র, ইনি শেমরের পুত্র,
47 ইনি মহলির পুত্র, ইনি মূশির পুত্র, ইনি মরারির পুত্র, ইনি লেবির পুত্র।
48 তাঁদের ভাই অন্যান্য লেবীয়দেরকে আল্লাহ্র গৃহরূপ শরীয়ত-তাঁবুর সমস্ত সেবাকর্মের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
49
কিন্তু হারুন ও তাঁর পুত্ররা পোড়ানো-কোরবানী কোরবানগাহ্র ও ধূপগাহের উপরে উপহার পোড়াতেন, আল্লাহ্র গোলাম মূসার সমস্ত হুকুম অনুসারে মহা পবিত্র স্থানের সমস্ত কাজ এবং ইসরাইলের জন্য কাফ্ফারা করতেন।
50 হারুনের সন্তানেরা হলেন: তাঁর পুত্র ইলিয়াসর, তাঁর পুত্র পীনহস, তাঁর পুত্র অবীশয়,
51 তাঁর পুত্র বুক্কি, তাঁর পুত্র উষি, তাঁর পুত্র সরাহিয়,
52 তাঁর পুত্র মরায়োৎ, তাঁর পুত্র অমরিয়, তাঁর পুত্র অহীটূব,
53 তাঁর পুত্র সাদোক, তাঁর পুত্র অহীমাস।
54
আর তাঁদের সীমার মধ্যে শিবিরের সন্নিবেশ অনুসারে এসব তাঁদের বাসস্থান; কহাতীয় গোষ্ঠীভুক্ত হারুন-সন্তানদের অধিকার এই, বাস্তবিক তাঁদের জন্য (প্রথম) গুলিবাঁট হল।
55 ফলত তাঁদেরকে এহুদা-দেশস্থ হেবরন ও তার চারদিকের চারণ-ভূমি দেওয়া গেল।
56 কিন্তু সেই নগরের ক্ষেত ও সমস্ত গ্রাম যিফুন্নির পুত্র কালুতকে দেওয়া গেল।
57 আর হারুন-সন্তানদেরকে আশ্রয়-নগর হেবরন, আর চারণ-ভূমির সঙ্গে লিব্না এবং যত্তীর ও চারণ-ভূমির সঙ্গে ইষ্টিমোয়,
58 চারণ-ভূমির সঙ্গে হিলেন, চারণ-ভূমির সঙ্গে দবীর,
59 চারণ-ভূমির সঙ্গে আশন, চারণ-ভূমির সঙ্গে বৈৎশেমশ;
60 এবং বিন্ইয়ামীন-বংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে সেবা, চারণ-ভূমির সঙ্গে আলেমৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে অনাথোৎ দেওয়া গেল, সবসুদ্ধ তাঁদের গোষ্ঠী অনুসারে তাঁদের তেরটি নগর হল।
61
আর কহাতের অবশিষ্ট সন্তানদেরকে বংশের গোষ্ঠী থেকে, অর্ধবংশ অর্থাৎ মানশার অর্ধেক থেকে, গুলিবাঁট দ্বারা দশটি নগর দেওয়া হল।
62 গের্শোমীয়দেরকে স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে ইষাখর-বংশ, আশের-বংশ, নপ্তলিবংশ ও বাশনস্থ মানশা-বংশ থেকে তেরটি নগর দেওয়া হল।
63 মরারিয়দেরকে স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে রূবেণ-বংশ, গাদ-বংশ ও সবূলূন-বংশ থেকে গুলিবাঁট দ্বারা বারোটি নগর দেওয়া হল।
64 বনি-ইসরাইল লেবীয়দেরকে এসব নগর ও তাদের চারণ-ভূমি দিল।
65 তারা গুলিবাঁট দ্বারা এহুদা-বংশের লোকদের বংশ ও শিমিয়োন সন্তানদের বংশ ও বিন্ইয়ামীন সন্তানদের বংশ থেকে স্ব স্ব নামে উল্লিখিত এসব নগর তাদেরকে দিল।
66
কহাতীয়দের কোন কোন গোষ্ঠী আফরাহীম বংশ থেকে যার যার অধিকার হিসেবে নগর পেল।
67 তারা তাদেরকে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশস্থ আশ্রয়-নগর শিখিম ও তার চারণ-ভূমি, আর চারণ-ভূমির সঙ্গে গেষর,
68 চারণ-ভূমির সঙ্গে যক্মিয়াম, চারণ-ভূমির সঙ্গে বৈৎ-হোরণ,
69 চারণ-ভূমির সঙ্গে অয়ালোন ও চারণ-ভূমির সঙ্গে গাৎ-রিম্মোণ;
70 এবং মানশার অর্ধেক বংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে আনের, চারণ-ভূমির সঙ্গে বিল্য়ম, কহাতের অবশিষ্ট সন্তানদের গোষ্ঠীর জন্য দিল।
71
আর গের্শোমীয়দেরকে মানশার অর্ধবংশের গোষ্ঠী থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে বাশনস্থ গোলান ও চারণ-ভূমির সঙ্গে অষ্টারোৎ;
72 এবং ইষাখরবংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে কেদশ, চারণ-ভূমির সঙ্গে দাবরৎ,
73 চারণ-ভূমির সঙ্গে রামোৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে আনেম;
74 এবং আশের-বংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে মশাল, চারণ-ভূমির সঙ্গে আব্দোন,
75 চারণ-ভূমির সঙ্গে হূকোক ও চারণ-ভূমির সঙ্গে রহোব;
76 এবং নপ্তালিবংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে গালীলস্থ কেদশ, চারণ-ভূমির সঙ্গে হম্মোন ও চারণ-ভূমির সঙ্গে কিরিয়াথয়িম দেওয়া হল।
77 অবশিষ্ট (লেবীয়দেরকে), মরারির সন্তানদেরকে, সবূলূন-বংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে রিম্মোণো ও চারণ-ভূমির সঙ্গে তাবোর;
78 এবং জেরিকোর কাছে জর্ডানের ওপারে, অর্থাৎ জর্ডানের পূর্বপারে রূবেণ-বংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে মরুভূমিস্থ্থ বেৎসর,
79 চারণ-ভূমির সঙ্গে যাহসা, চারণ-ভূমির সঙ্গে কদেমোৎ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে মেফাৎ;
80 এবং গাদবংশ থেকে চারণ-ভূমির সঙ্গে গিলিয়দস্থ রামোৎ, চারণ-ভূমির সঙ্গে মহনয়িম,
81 চারণ-ভূমির সঙ্গে হিষ্বোণ ও চারণ-ভূমির সঙ্গে যাসের দেওয়া হল।
1
ইষাখরের সন্তান তোলয় ও পূয়, যাশূব ও শিম্রোণ, এই চার জন।
2 তোলয়ের সন্তান উষি, রফায়, যিরীয়েল, যহময়, যিব্সম ও শামুয়েল, এরা তোলয়ের বংশজাত, নিজ নিজ পিতৃকুলের প্রধান ও যার যার সমকালীন লোকদের মধ্যে বলবান বীর ছিল, দাউদের সময়ে তারা সংখ্যায় বাইশ হাজার ছয় শত জন ছিল।
3 উষির সন্তান যিষ্রাহিয়; আর যিষ্রাহিয়ের সন্তান মিকাইল; ওবদিয়, যোয়েল ও যিশিয়— এই পাঁচ জন। এঁরা সকলে প্রধান লোক ছিলেন।
4 এঁদের সমকালে স্ব স্ব পিতৃকুল অনুসারে এঁদের সঙ্গে যুদ্ধ করবার জন্য প্রস্তুত কতগুলো সৈন্যদল ছিল, তাদের জনসংখ্যা ছত্রিশ হাজার; কারণ তাদের অনেক স্ত্রী ও সন্তান ছিল।
5 আর ইষাখরের সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের ভাইয়েরা বলবান বীর ছিল, সবসুদ্ধ বংশ-তালিকা অনুসারে গণনা-করা তাদের লোক সাতাশি হাজার ছিল।
6
বিন্ইয়ামীনের (সন্তান) বেলা, বেখর ও যিদীয়েল— এই তিন জন।
7 বেলার সন্তান ইষ্বোণ, উষি, উষীয়েল, যিরেমোৎ ও ঈরী— এই পাঁচ জন। এরা পিতৃকুলের প্রধান ও বলবান বীর ছিল এবং বংশ-তালিকা অনুসারে তাদের সংখ্যা বাইশ হাজার চৌত্রিশ জন।
8 আর বেখরের সন্তান সমীরাঃ, যোয়াশ, ইলীয়েষর, ইলিয়োঐনয়, অম্রি, যিরেমোৎ, অবিয়, অনাথোৎ ও আলেমৎ; এরা সকলেই বেখরের সন্তান।
9 বংশ-তালিকা অনুসারে তাদের পিতৃকুলপতিরা বিশ হাজার দুই শত বলবান বীর ছিল।
10 আর যিদীয়েলের সন্তান বিল্হন; বিল্হনের সন্তান যিয়ূশ, বিন্ইয়ামীন, এহূদ, কেনানা, সেথন, তর্শীশ ও অহীশহর।
11 এরা সকলেই যিদীয়েলের সন্তান, স্ব স্ব পিতৃকুলের প্রধান অনুসারে বলবান বীর ছিল, সৈন্য দলে যুদ্ধে গমনযোগ্য সতেরো হাজার দুই শত লোক।
12 আর ঈরের সন্তান শুপ্পীম ও হুপ্পীম, অহেরের সন্তান হূশীম।
13
নপ্তালির সন্তান যহসিয়েল, গূনি, যেৎসর ও শল্লূম, এরা বিল্হার সন্তান।
14
মানশার সন্তান অস্রীয়েল; (তাঁর স্ত্রী) একে প্রসব করলেন। তাঁর অরামীয়া উপপত্নী গিলিয়দের পিতা মাখীরকে প্রসব করলো;
15 আর মাখীর হুপ্পীম ও শুপ্পীমের আত্মীয় এক স্ত্রীকে বিয়ে করলো। আর তার বোনের নাম মাখা। দ্বিতীয়ের নাম সলফাদ, সেই সলফাদের কয়েকটি কন্যা ছিল।
16 মাখীরের স্ত্রী মাখা পুত্র প্রসব করে তার নাম পেরশ রাখল ও তার ভাইয়ের নাম শেরশ এবং এর পুত্রদের নাম ঊলম ও রেকম।
17 আর ঊলমের সন্তান বদান। এসব মানশার পৌত্র মাখীরের পুত্র গিলিয়দের সন্তান।
18 তার বোন হম্মোলেকতের পুত্র ঈশ্হোদ, অবীয়েষর ও মহলা।
19 আর শমীদার সন্তান অহিয়ন, শেখম, লিক্হি ও অনীয়াম।
20
আর আফরাহীমের সন্তান শূথেলহ, তার পুত্র বেরদ, তার পুত্র তহৎ, তার পুত্র ইলিয়াদা, তার পুত্র তহৎ,
21 তার পুত্র সাবদ, তার পুত্র শূথেলহ; আর এৎসর ও ইলিয়দ, দেশজাত গাতের লোকেরা তাদেরকে হত্যা করলো; কেননা তারা ওদের পশু হরণ করার জন্য নেমে এসেছিল।
22 তখন তাদের পিতা আফরাহীম অনেক দিন পর্যন্ত শোক করলেন এবং তার ভাইয়েরা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে আসলেন।
23 পরে তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে গমন করলেন তাতে তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করলে তিনি তার নাম বরীয় (অমঙ্গল) রাখলেন, কেননা তখন তাঁর বাড়িতে অমঙ্গল ঘটেছিল।
24 আর তাঁর কন্যা শীরা উচ্চতর ও নিম্নতর বৈৎ-হোরুন ও উষেণ-শীরা নির্মাণ করালেন।
25 বরীয়ের পুত্র রেফহ ও রেশফ, এর পুত্র তেলহ, তার পুত্র তহন,
26 তার পুত্র লাদন, তার পুত্র অম্মীহূদ, তার পুত্র ইলীশামা;
27 তার পুত্র নূন, তার পুত্র ইউসা।
28 এদের অধিকার ও নিবাস্থান বেথেল ও তার সমস্ত উপনগর এবং পূর্ব দিকে নারণ ও পশ্চিম দিকে গেষর ও তার সমস্ত উপনগর; আর শিখিম ও তার সমস্ত উপনগর, গাজা ও তার সমস্ত উপনগর পর্যন্ত।
29 আর মানাশা-বংশের লোকদের সীমার পাশে অবস্থিত বৈৎ-শান ও তার সমস্ত উপনগর, তানক ও তার সমস্ত উপনগর, মগিদ্দো ও তার সমস্ত উপনগর, দোর ও তার সমস্ত উপনগর। এসব স্থানে ইসরাইলের পুত্র ইউসুফের সন্তানেরা বাস করতো।
30
আশেরের সন্তান যিম্ন, যিশ্বাঃ যিশ্বী ও বরীয় এবং তাদের বোন সেরহ।
31 বরীয়ের সন্তান হেবর ও বির্ষোতের পিতা মল্কিয়েল।
32 হেবরের সন্তান যফ্লেট, শোমের ও হোথম এবং এদের বোন শূয়া।
33 যফ্লেটের সন্তান পাসক, বিম্হল ও অশ্বৎ, এসব যফ্লেটের সন্তান।
34 আর শেমরের সন্তান অহি, রোগহ, যিহুব্ব ও অরাম।
35 তার ভাই হেলমের সন্তান শোফহ, যিম্না, শেলশ ও আমল।
36 সোফহের সন্তান সূহ, হর্ণেফর, শূয়াল, বেরী ও যিম্র;
37 বেৎসর, হোদ, শম্ম, শিল্শ, যিত্রণ ও বেরা।
38 আর যেথরের সন্তান যিফুন্নি, পিস্প ও অরা।
39 আর উল্লের সন্তান আরহ, হন্নীয়েল ও রিৎসিয়।
40 এরা সকলে আশেরের সন্তান, নিজ নিজ পিতৃকুলের পতি, মনোনীত ও বলবান বীর, নেতাদের মধ্যে প্রধান লোক ছিল। যুদ্ধে গমনকারীদের মধ্যে বংশ-তালিকা অনুসারে এদের জনসংখ্যা ছাব্বিশ হাজার ছিল।
1
বিন্ইয়ামীনের জ্যেষ্ঠ পুত্র বেলা, দ্বিতীয় অস্বেল ও তৃতীয় অহর্হ,
2 চতুর্থ নোহা ও পঞ্চম রাফা।
3 আর বেলার সন্তান অদ্দর, গেরা, অবীহূদ,
4 অবীশূয়, নামান, আহোহ,
5 গেরা, শফূফল ও হূরম।
6 এহূদের সন্তানেরা হল এই: এঁরা গেবা-নিবাসীদের পিতৃকুলপতি, পরে এঁদের বন্দী করে মানহতে নিয়ে যাওয়া হল।
7 আর তিনি নামান, অহিয় ও গেরা, এঁঁদেরকে বন্দী করে নিয়ে গেলেন; তাঁর পুত্র উষঃ ও অহীহূদ।
8 আর তিনি তাঁদেরকে বিদায় করার পর শহরয়িম মোয়াব-ক্ষেত্রে পুত্রদেরকে জন্ম দিলেন, তাঁর স্ত্রীর হূশীম ও বারা।
9 আর তাঁর হোদশ নামিকা স্ত্রী গর্ভজাত পুত্র যোবব, সিবিয়, মেশা, মল্কম,
10 যিয়ুশ, শখিয় ও মির্ম; তাঁর এই পুত্রেরা পিতৃকুলপতি ছিলেন।
11 আর হূশীমের গর্ভজাত তাঁর পুত্র অহীটূব ও ইল্পাল।
12 আর ইল্পালের সন্তান এবর ও মিশিয়ম এবং ওনো, লোদ ও তার উপনগরগুলোর পত্তনকারী শেমদ,
13 এবং বরীয় ও শেমা; এঁরা অয়ালোন-নিবাসীদের পিতৃকুলপতি ছিলেন, আর এঁরা গাৎ-নিবাসীদেরকে দূর করে দিলেন।
14 আর বরীয়ের সন্তান অহিয়ো।
15 শাশক, যিরেমোৎ, সবদিয়, অরাদ,
16 এদর, মিকাইল, যিশপা ও যোহ।
17 আর ইল্পালের সন্তান সবদিয়, মশুল্লম,
18 হিস্কি, হেবর, যিশ্মরয়, যিষ্লিয় ও যোবব।
19 আর শিমিয়ির সন্তান যাকীম, সিখ্রি, সব্দি,
20 ইলীয়ৈনয়, সিল্লথয়, ইলীয়েল,
21 অদায়া, বরায়া ও শিম্রৎ।
22 আর শাশকের সন্তান যিশ্পন, এবর, ইলীয়েল,
23 অব্দোন, সিখ্রি, হানন,
24 হনানিয়, ইলাম, অন্তোথিয়,
25 যিফাদিয় ও পনূয়েল।
26 আর যিরোহমের সন্তান শিম্শরয়, শহরিয়, অথলিয়,
27 যারিশিয়, ইলিয়াস ও সিখ্রি।
28 এঁরা পিতৃকুলপতি বলে যার যার বংশ-তালিকা অনুসারে এঁরা প্রধান ছিলেন, এঁরা জেরুশালেমে বাস করতেন।
29
আর গিবিয়োনের পিতা (যিয়ীয়েল) গিবিয়োনে বাস করতেন, তাঁর স্ত্রীর নাম মাখা।
30 তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র অব্দোন, অপর সূর, কীশ, বাল, নাদব,
31 গদোর, অহিয়ো ও সখর।
32 আর মিল্কোতের পুত্র শিমিয়। এরাও তাদের ভাইদের সম্মুখে তাদের কাছে জেরুশালেমে বাস করতেন।
33 নেরের পুত্র কীশ, কীশের পুত্র তালুত, তালুতের পুত্র যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্বাল।
34 আর যোনাথনের পুত্র মরীব্-বাল ও মরীব্-বালের পুত্র মীখা।
35 আর মিকাহ্র সন্তান পিথোন, মেলক, তরেয় ও আহস।
36 আহসের সন্তান যিহোয়াদা, যিহোয়াদার সন্তান আলেমৎ, অস্মাবৎ ও সিম্রি; সিম্রির সন্তান মোৎসা।
37 মোৎসার পুত্র বিনিয়া, তার পুত্র রফায়, তার পুত্র ইলীয়াসা, তার পুত্র আৎসেল।
38 আৎসেলের ছয় পুত্র; তাদের নাম এই— অস্রীকাম, বোখরূ, ইসমাইল, শিয়রিয়, ওবদিয় ও হানান;
39 এরা সকলে আৎসেলের সন্তান। আর তার ভাই এশকের সন্তান জ্যেষ্ঠ পুত্র ঊলম, দ্বিতীয় যিয়ূশ ও তৃতীয় এলীফেলট।
40 আর ঊলমের পুত্ররা বলবান বীর ও তীরন্দাজ ছিল এবং তাদের পুত্র পৌত্র অনেক ছিল, এক শত পঞ্চাশ জন, এরা সকলে বিন্ইয়ামীন-সন্তান।
1
এভাবে সমস্ত ইসরাইলের খান্দাননামা লেখা হল, আর দেখ, তা ইসরাইলের বাদশাহ্দের পুস্তকে লেখা রয়েছে। পরে এহুদার লোকেরা তাদের সত্য লঙ্ঘনের দরুন বন্দী হয়ে ব্যাবিলনে নীত হল।
2
যার যার নগরে যারা প্রথমে নিজ নিজ অধিকারে বসতি করলো, তারা এই— ইসরাইল, ইমামেরা, লেবীয়রা ও নথীনীয়েরা।
3
আর এহুদা-বংশের, বিন্ইয়ামীন-বংশের এবং আফরাহীম ও মানাশা-বংশের লোকদের মধ্যে এই লোকেরা জেরুশালেমে বাস করতে লাগল।
4 উথয়, তিনি অম্মীহূদের পুত্র, ইনি অম্রির পুত্র, ইনি ইম্রির পুত্র, ইনি বানির পুত্র, ইনি এহুদার পুত্র পেরসের সন্তানদের মধ্যে এক জন।
5 শীলোনীয়দের মধ্যে জ্যেষ্ঠ অসায় ও তার সন্তানেরা।
6 সেরহের সন্তানদের মধ্যে যুয়েল ও তাদের ভাইয়েরা, এরা ছয় শত নব্বই জন।
7 বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের মধ্যে মশুল্লমের পুত্র সল্লু, মশুল্লম হোদবিয়ের পুত্র, ইনি হস্নূয়ের পুত্র।
8 আর যিরোহমের পুত্র যিব্নিয় ও মিখ্রির পৌত্র উষির পুত্র এলা এবং যিব্নিয়ের প্রপৌত্র উষির পুত্র এলা এবং যিব্নিয়ের প্রপৌত্র রূয়েলের পৌত্র শফটিয়ের পুত্র মশুল্লম;
9 ওরা ও এদের ভাইয়েরা নিজ নিজ বংশ অনুসারে নয় শত ছাপ্পান্ন জন। এরা সকলে নিজ নিজ পিতৃকুলের মধ্যে কুলপতি ছিল।
10
ইমামদের মধ্যে ষিদয়িয়, ষিহোয়ারীব ও যাখীন;
11 আর আল্লাহ্র গৃহের নেতা যে অহীটূব, তাঁর অতিবৃদ্ধ প্রপৌত্র মরায়োতের বৃদ্ধপ্রপৌত্র সাদোকের প্রপৌত্র মশুল্লমের পৌত্র হিল্কিয়ের পুত্র অসরিয়;
12 আর মল্কিয়ের প্রপৌত্র পশ্হূরের পৌত্র যিরোহমের পুত্র অদায়া; এবং ইম্মেরের অতিবৃদ্ধ প্রপৌত্র মশিল্লমীতের বৃদ্ধপ্রপৌত্র মশুল্লমের প্রপৌত্র যহসেরার পৌত্র অদীয়েলের পুত্র মাসয়;
13 এরা ও এদের ভাইয়েরা এক হাজার সাত শত ষাট জন, এরা যার যার পিতৃকুলের পতি এবং আল্লাহ্র গৃহের সেবাকর্ম সম্পাদনে অতি দক্ষ লোক।
14
আর লেবীয়দের মধ্যে মরারি বংশজাত হশবিয়ের প্রপৌত্র অস্রীকামের পৌত্র হশূবের পুত্র শমরিয়;
15 আর বকবকর, হেরশ ও গালল এবং আসফের প্রপৌত্র সিখ্রির পৌত্র মিকাহ্র পুত্র মত্তনিয়;
16 আর যিদূথূনের প্রপৌত্র গাললের পৌত্র শময়িয়ের পুত্র ওবদিয়; আর নটোফাতীয়দের গ্রামে বাসকারী ইল্কানার পৌত্র আসার পুত্র বেরিখিয়।
17
আর দ্বারপাল শল্লুম, অক্কুর, টল্মোন, অহীমান এবং তাদের ভাইয়েরা, এদের মধ্যে শল্লুম প্রধান।
18 এরা এ যাবৎ পূর্ব দিকে অবস্থিত রাজদ্বারে থাকতো, এরাই লেবি-বংশের শিবিরের দ্বারপাল।
19 আর শল্লুম কারুনের প্রপৌত্র ইবীয়াসফের পৌত্র কোরির পুত্র; সে ও তার পিতৃকুলজাত কারুনীয় ভাইয়েরা সেবাকর্ম সম্পাদনে নিযুক্ত হয়ে, তাঁবুর দরজাগুলোর রক্ষক হল। আর তাদেরে পূর্বপুরুষেরা মাবুদের শিবিরে নিযুক্ত হয়ে প্রবেশস্থানের রক্ষক হল;
20 পুরাকালে ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস তাদের নেতা ছিলেন এবং মাবুদের তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
21 মশেলেমিয়ের পুত্র জাকারিয়া জমায়েত-তাঁবুর দ্বাররক্ষক ছিল।
22 সবসুদ্ধ দ্বারপালের কাজের জন্য মনোনীত এই লোকেরা দুই শত বারো জন, তাদের গ্রামগুলোতে তাদের খান্দাননামা লেখা হয়েছিল। দাউদ ও শামুয়েল দর্শক তাদেরকে তাদের নিরূপিত কাজে নিযুক্ত করেছিলেন।
23 অতএব তারা ও তাদের সন্তানেরা মাবুদের গৃহের অর্থাৎ তাঁবুগৃহের দ্বারপালের কাজে প্রহরে প্রহরে নিযুক্ত হত।
24 এই দ্বারপালেরা পূর্ব ও পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ চারদিকে থাকতো।
25 আর তাদের গামস্থ ভাইদেরকে সময়ে সময়ে সপ্তাহের জন্য এসে তাদের সঙ্গে থাকতে হত।
26 কেননা ঐ চার জন প্রধান দ্বারপাল লেবীয়, তারা নিরূপিত কাজে নিযুক্ত; এবং আল্লাহ্র গৃহের কুঠরী ও ভাণ্ডারগুলোর নেতা ছিল।
27 আর তারা আল্লাহ্র গৃহের চতুর্দিকে রাত যাপন করতো; কেননা তাদের প্রতি রক্ষার ভার ছিল; এবং তাদেরকেই প্রতিদিন প্রাতে দরজা খুলতে হত।
28
আর তাদের কতগুলো লোক সেবাকর্মের সমস্ত পাত্র রক্ষার কাজে নিযুক্ত ছিল, আর সেসব সংখ্যা অনুসারে ভিতরে নিয়ে যাওয়া ও সংখ্যা অনুসারে বাইরে আনা হত।
29 আর তাদের কতগুলো লোক সমস্ত পাত্র, পবিত্র স্থানের সমস্ত পাত্র এবং সুজি, আঙ্গুর-রস, তেল, কুন্দুরু ও সুগন্ধি দ্রব্যের রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিল।
30 ইমাম-সন্তানদের মধ্যে কয়েকজন সুগন্ধি দ্রব্যের মিষ্টান্ন প্রস্তুত করতো।
31 লেবীয়দের মধ্যে কারুনীয় শল্লুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র মত্তিথিয় শস্য-কোরবানীর জিনিস সেঁকে আনবার কাজে নিযুক্ত ছিল।
32 আর তাদের জ্ঞাতি কহাতীয়দের সন্তানদের মধ্যে কিছু লোক প্রতি বিশ্রামবারে দর্শন-রুটি প্রস্তুত করতে নিযুক্ত ছিল।
33
কিন্তু লেবীয়দের পিতৃকুলপতি যে গায়করা, তাঁরা কুঠরীতে (থাকতেন এবং অন্য কাজ থেকে) মুক্ত ছিলেন, কেননা তাঁরা দিন রাত তাদের কাজে নিযুক্ত থাকতেন।
34 এঁরা নিজ নিজ বংশানুসারে লেবীয়দের পিতৃকুলপতি, প্রধান লোক; এঁরা জেরুশালেমে বাস করতেন।
35
আর গিবিয়োনের পিতা যিয়ীয়েল গিবিয়োনে বাস করতেন, তাঁর স্ত্রীর নাম মাখা।
36 তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র অব্দোন, পরে সূর, কীশ, বাল, নের, নাদব,
37 গাদোর, অহিয়ো, জাকারিয়া ও মিক্লোৎ।
38 মিক্লোতের পুত্র শিমিয়াম; এঁরাও নিজেদের ভাইদের সম্মুখে জেরুশালেমে নিজেদের ভাইদের কাছে বাস করতেন।
39 আর নেরের পুত্র কীশ, কীশের পুত্র তালুত, তালুতের পুত্র যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্বাল।
40 যোনাথনের পুত্র মরীব্-বাল, মরীব্-বালের পুত্র মীখা।
41 মিকাহ্র সন্তান পিথোন, মেলক, তহরেয় (ও আহস)।
42 আহসের পুত্র যারঃ, যারের পুত্র আলেমৎ, অস্মাবৎ ও সিম্রি এবং সিম্রির পুত্র মোৎসা,
43 মোৎসার পুত্র বিনিয়া, তার পুত্র রফায়, তার পুত্র ইলীয়াসা, তার পুত্র আৎসেল।
44 আৎসেলের ছয় পুত্র, তাদের নাম এই— অস্রীকাম, বোখরূ, ইসমাইল, শিয়রিয়, ওবদিয় ও হানান; এরা আৎসেলের সন্তান।
1
ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল, আর ইসরাইলের লোকেরা ফিলিস্তিনীদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল এবং গিল্বোয় পর্বতে আহত হয়ে পড়তে লাগল।
2 আর ফিলিস্তিনীরা তালুত ও তাঁর পুত্রদের পেছন পেছন তাড়া করলো; এবং ফিলিস্তিনীরা তালুতের পুত্র যোনাথন, অবীনাদব ও মল্কীশূয়কে হত্যা করলো।
3 পরে তালুতের বিরুদ্ধে ঘোরতর যুদ্ধ হল, আর তীরন্দাজেরা তার নাগাল পেল; সেই তীরন্দাজদের দ্বারা সাংঘাতিকভাবে আহত হলেন।
4 আর তালুত তাঁর অস্ত্রবাহককে বললেন, তোমার তলোয়ার খোল, তা দ্বারা আমাকে বিদ্ধ কর; নতুবা কি জানি, ঐ খৎনা-না-করানো লোকেরা এসে আমার অপমান করবে। কিন্তু তাঁর অস্ত্রবাহক তা করতে চাইল না, কারণ সে ভীষণ ভয় পেয়েছিল; অতএব তালুত তার তলোয়ার নিয়ে নিজেই তার উপরে পড়লেন।
5 আর তালুত মারা গেছে দেখে তাঁর অস্ত্রবাহকও নিজের তলোয়ারের উপরে পড়ে মারা গেল।
6 এই ভাবে তালুত ও তাঁর তিন পুত্র মারা পড়েন, তাঁর সমস্ত পরিজন একসঙ্গে মারা পড়েন।
7 পরে যেসব ইসরাইল লোক উপত্যকায় ছিল, তারা যখন দেখতে পেল যে, লোকেরা পালিয়ে গেছে এবং তালুত ও তাঁর পুত্ররাও মারা গেছেন, তখন তারা তাদের সমস্ত নগর পরিত্যাগ করে পালিয়ে গেল; আর ফিলিস্তিনীরা এসে সেসব নগরে বাস করতে লাগল।
8
পরদিন ফিলিস্তিনীরা নিহত লোকদের সাজ-পোশাক খুলে নিতে এসে গিল্বোয় পর্বতে তালুত ও তাঁর পুত্রদের লাশ দেখতে পেল।
9 তখন তারা তাঁর সাজ-পোশাক খুলে তাঁর মুণ্ড ও সাজ-পোশাক নিল এবং তাদের দেব-মূর্তি ও জনগণকে শুভবার্তা জ্ঞাপন করার জন্য ফিলিস্তিনীদের দেশের সর্বত্র প্রেরণ করলো।
10 পরে তাঁর সাজ-পোশাক তাদের দেবালয়ে রাখল এবং তাঁর মুণ্ড দাগোন দেবতার গৃহে টাঙ্গিয়ে দিল।
11 পরে যখন যাবেশ-গিলিয়দের সমস্ত লোক তালুতের প্রতি কৃত ফিলিস্তিনীদের সেসব কাজের সংবাদ পেল,
12 তখন সবাই শক্তি সঞ্চয় করলো; এবং তালুতের দেহ ও তাঁর পুত্রদের দেহ তুলে যাবেশে নিয়ে এসে তাঁদের অস্থি যাবেশস্থ এলা গাছের তলে পুঁতে রাখল। পরে সাত দিন রোজা রাখল।
13
এভাবে তালুত মাবুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করার কারণে ইন্তেকাল করলেন; কারণ তিনি মাবুদের কালাম পালন করেন নি; আবার তিনি অনুসন্ধানের জন্য গুনিণদের কাছে মন্ত্রণা জিজ্ঞাসা করেছিলেন,
14 মাবুদের কাছে অনুসন্ধান করেন নি; সেজন্য তিনি তাঁকে হত্যা করলেন এবং রাজ্য হস্তান্তর করে ইয়াসির পুত্র দাউদকে দিলেন।
1
পরে সমস্ত ইসরাইল হেবরনে দাউদের কাছে একত্র হয়ে বললো দেখুন, আমরা আপনার অস্থি ও মাংস।
2 আগে যখন তালুত বাদশাহ্ ছিলেন, তখনও আপনিই ইসরাইলকে বাইরে নিয়ে যেতেন ও ভিতরে আনতেন; আর আপনার আল্লাহ্ মাবুদ আপনাকে বলেছিলেন, তুমিই আমার লোক ইসরাইলকে চরাবে ও তুমিই আমার লোক ইসরাইলের নায়ক হবে।
3 এভাবে ইসরাইলের প্রাচীনেরা সকলে হেবরনে বাদশাহ্র কাছে আসলেন; তাতে দাউদ হেবরনে মাবুদের সাক্ষাতে তাঁদের সঙ্গে নিয়ম করলেন এবং শামুয়েলের দ্বারা কথিত মাবুদের কালাম অনুসারে তাঁরা দাউদকে ইসরাইলের বাদশাহ্র-পদে অভিষিক্ত করলেন।
4
পরে দাউদ ও সমস্ত ইসরাইল জেরুশালেমে অর্থাৎ যিবূষে গেলেন; দেশ-নিবাসী যিবূষীয়েরা সেই স্থানে ছিল।
5 তাতে যিবূষ-নিবাসীরা দাউদকে বললো তুমি এই স্থানে প্রবেশ করতে পারবে না। তবুও দাউদ সিয়োনের দুর্গ হস্তগত করলেন; তা-ই দাউদ-নগর।
6 আর দাউদ বললেন, যে ব্যক্তি প্রথমে যিবূষীয়দেরকে আঘাত করবে, সে প্রধান ও সেনাপতি হবে; তাতে সরূয়ার পুত্র যোয়াব প্রথমে যাওয়াতে প্রধান হলেন।
7 পরে দাউদ সেই দুর্গে বাস করলেন, সেজন্য লোকেরা তার নাম দাউদ-নগর রাখল।
8 আর তিনি চারদিকে অর্থাৎ মিল্লো থেকে চারদিকে নগর নির্মাণ করলেন এবং যোয়াব নগরের অবশিষ্ট স্থান মেরামত করলেন।
9 পরে দাউদ উত্তরোত্তর মহান হয়ে উঠলেন; কারণ বাহিনীগণের মাবুদ তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
10
দাউদের বীরদের মধ্যে এই এই ব্যক্তি প্রধান; ইসরাইলের সম্বন্ধে মাবুদের কালাম অনুসারে দাউদকে বাদশাহ্ করার জন্য এঁরা সমস্ত ইসরাইলের সঙ্গে তাঁর রাজত্বে তাঁর প্রবল সহকারী হলেন।
11 দাউদের বীরদের সংখ্যা এই; এক জন হক্মোনীয়ের পুত্র যাশবিয়াম ত্রিশ জনের মধ্যে প্রধান ছিলেন; তিনি তিন শত লোকের উপরে তাঁর বর্শা দিয়ে তাদেরকে এক কালে হত্যা করেছিলেন।
12
তাঁর পরে অহোহীয় দোদের পুত্র ইলিয়াসর, তিনি বীরত্রয়ের এক জন।
13 তিনি পস্-দম্মীমে দাউদের সঙ্গে ছিলেন। ফিলিস্তিনীরা সেই স্থানে একত্র হয়েছিল; আর সেখানে এক খণ্ড ক্ষেত যবে পরিপূর্ণ ছিল; আর লোকেরা ফিলিস্তিনীদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
14 তাঁরা সেই ক্ষেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে তা উদ্ধার করলেন ও ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যা করলেন, আর মাবুদ মহানিস্তার সাধন করলেন।
15
আর ত্রিশ জন প্রধানের মধ্যে তিন জন শৈলে, অদুল্লম গুহাতে, দাউদের কাছে আসলেন; তখন ফিলিস্তিনীদের সৈন্যরা রফায়ীম উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেছিল।
16 আর দাউদ তখন দুর্গম স্থানে ছিলেন এবং ফিলিস্তিনীদের প্রহরী সৈন্যদল তখন বেথেলহেমে ছিল।
17 পরে দাউদ পিপাসাতুর হয়ে বললেন, হায়! কে আমাকে বেথেলহেমের দ্বারনিকটস্থ কূপের পানি এনে পান করতে দেবে?
18 তাতে ঐ তিন জন ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদের মধ্য দিয়ে গিয়ে বেথেলহেমের দ্বারনিকটস্থ কূপের পানি তুলে নিয়ে দাউদের কাছে আনলেন, কিন্তু দাউদ তা পান করতে সম্মত হলেন না, মাবুদের উদ্দেশে ঢেলে দিলেন,
19 আর বললেন, হে আমার আল্লাহ্, এমন কাজ যেন আমি না করি। আমি কি এই মানুষের রক্ত পান করবো, যারা প্রাণ পণ করেছে? এরা প্রাণপণ করে এই পানি এনেছে। অতএব তিনি তা পান করতে সম্মত হলেন না। ঐ বীরত্রয় এসব কাজ করেছিলেন।
20
আর যোয়াবের ভাই অবীশয় তিনজনের মধ্যে প্রধান ছিলেন; তিনি তিন শত লোক তাঁর বর্শা দিয়ে তাদেরকে হত্যা করলেন ও তিনজনের মধ্যে খ্যাতনামা হলেন।
21 এই তিনজনের মধ্যে অন্য দু’জন থেকে তিনি বেশি মর্যাদাপন্ন ছিলেন, আর তাঁদের সেনাপতি হলেন, তবুও (প্রথম) তিন জনের মত ছিলেন না।
22
আর কব্সেলীয় এক বীরের পৌত্র যিহোয়াদার পুত্র যে বনায় অনেক সাহসী কাজ করেছিলেন, তিনি মোয়াবীয় অরিয়েলের দুই পুত্রকে হত্যা করলেন; এই ছাড়া, তিনি একদিন তুষারপাতের সময়ে গিয়ে গর্তের মধ্যে একটা সিংহকে মেরে ফেলেছিলেন।
23 আর তিনি পাঁচ হাত লম্বা বৃহৎকায় এক জন মিসরীয়কে হত্যা করলেন; ঐ মিসরীয়ের হাতে তন্তুবায়ের নরাজের মত একটি বর্শা ছিল, ইনি আর একটি দণ্ড হাতে তার কাছে গিয়ে সেই মিসরীয়ের হাত থেকে বর্শাটি কেড়ে নিয়ে তারই বর্শা দ্বারা তাকে হত্যা করলেন।
24 যিহোয়াদার পুত্র বনায় এসব কাজ করলেন, তাতে তিনি তিন জন বীরের মধ্যে খ্যাতনামা হলেন।
25 দেখ, তিনি, ঐ ত্রিশ জনের চেয়ে মর্যাদাপন্ন, কিন্তু প্রথম তিন জনের মত ছিলেন না; দাউদ তাঁকে তাঁর রক্ষী সেনার নেতা করলেন।
26
সৈন্যবর্গের অসম সাহসী লোকদের নাম। যোয়াবের ভাই অসাহেল, বেথেলহেমস্থ দোদোর পুত্র ইল্হানন,
27 হরোরীয় শম্মোৎ, পলোনীয় হেলস,
28 তকোয়ীয় ইক্কেশের পুত্র ঈরা,
29 অনাথোতীয় অবীয়েষর, হূশাতীয়,
30 সিব্বখয়, অহোহীয় ঈলয়, নটোফাতীয় মহরয়, নটোফাতীয় বানার পুত্র হেলদ,
31 বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের গিবিয়া-নিবাসী রীবয়ের পুত্র ইথয়, পিরিয়াথোনীয় বনায়,
32 গাশ উপত্যকা-নিবাসী হূরয়, অর্বতীয় অবীয়েল,
33 বাহরূমীয় অস্মাবৎ, শাল্বোনীয় ইলিয়হবঃ,
34 গিষোণীয় হাষেমের পুত্ররা, হরারীয় শাগির পুত্র যোনাথন,
35 হরারীয় সাখরের পুত্র অহীয়াম, ঊরের পুত্র ইলীফাল,
36 মখেরাতীয় হেফর, পলোনীয় অহিয়,
37 কর্মিলীয় হিষ্রো, ইষ্বয়ের পুত্র নারয়,
38 নাথনের ভাই যোয়েল, হগ্রির পুত্র মিভর,
39 অম্মোনীয় সেলক, সরূয়ার পুত্র যোয়াবের অস্ত্রবাহক বেরোতীয় নহরয়,
40 যিত্রীর ঈরা, যিত্রীয় গারেব,
41 হিট্টিয় ঊরিয়, অহলয়ের পুত্র সাবদ,
42 রূবেণীয় শীষার পুত্র অদীনা, তিনি রূবেণীয়দের এক জন প্রধান ছিলেন ও তাঁর সঙ্গে ত্রিশ জন ছিল,
43 মাখার পুত্র হানান, মিত্নীয় যোশাফট,
44 অষ্টরোতীয় উষিয়, অরোয়েরীয় হোফমের দুই পুত্র, শাম ও যিয়ীয়েল,
45 শিম্রির পুত্র যিদীয়েল ও তাঁর ভাই তীষীয় যোহা,
46 মহবীয় ইলীয়েল, ইল্নামের দুই পুত্র যিরীবয় ও যোশবিয়, মোয়াবীয় যিৎমা,
47 ইলীয়েল, ওবেদ ও মসোবায়ীয় যাসীয়েল।
1
যে সময়ে দাউদ কীশের পুত্র তালুতের ভয়ে অবরুদ্ধ থাকতেন, সেই সময় এসব লোক সিক্লগে দাউদের কাছে এসেছিল; তারা যুদ্ধে তাঁর সহকারী বীরদের মধ্যে ছিল।
2 তারা তীরন্দাজ এবং ডান ও বাম উভয় হাত দিয়ে ফিঙ্গার পাথর ও তীর নিক্ষেপে নিপুণ ছিল; তারা তালুতের জ্ঞাতি বিন্ইয়ামীনীয় লোক ছিল।
3 অহীয়েষর প্রধান, পরে যোয়াশ, এরা গিবিয়াতীয় শমায়ের পুত্র; আর অস্মাবতের পুত্র যিষীয়েল ও পেলট; এবং বরাখা ও অনাথোতীয় যেহূ;
4 এবং গিবিয়োনীয় যিশ্ময়িয়, ইনি ত্রিশজনের মধ্যে এক জন বীর ও ত্রিশের উপরে নিযুক্ত ছিল; আর ইয়ারমিয়া, যহসীয়েল, যোহানন, গদেরাথীয় যোষাবদ,
5 ইলিয়ূষয়, যিরীমোৎ, বালিয়, শমরিয়, আর হরূফীয় শফটিয়।
6 ইল্কানা, যিশিয়, অসরেল, যোয়েষর ও যাশবিয়াম, এই কারুনীয়রা;
7 আর গদোর-নিবাসী যিরোহমের পুত্র যোয়েলা ও সবদিয়।
8
আর গাদীয়দের মধ্যে কয়েকজন বলবান বীর পৃথক হয়ে মরুভূমিস্থিত দুর্গম স্থানে দাউদের কাছে এসেছিল; তারা ঢাল ও বর্শাধারী, যুদ্ধে দীক্ষিত পুরুষ; সিংহমুখের মত তাদের মুখ ছিল ও তাঁরা পর্বতস্থ হরিণের মত দ্রুতগামী ছিল।
9 প্রধান এষর, দ্বিতীয় ওবদিয়, তৃতীয় ইলীয়াব,
10 চতুর্থ মিশ্মন্না, পঞ্চম ইয়ারমিয়া,
11 ষষ্ট অত্তয়, সপ্তম ইলীয়েল,
12 অষ্টম যোহানন, নবম ইল্সাবাদ,
13 দশম ইয়ারমিয়া, একাদশ মগ্বন্নয়।
14 গাদ-বংশের এই লোকেরা সৈন্যদলের সেনাপতি ছিলেন; এঁদের মধ্যে যিনি ক্ষুদ্র, তিনি শত জনের ও যিনি মহান তিনি হাজার জনের সমকক্ষ ছিলেন।
15 প্রথম মাসে যে সময়ে জর্ডানের সমস্ত পানি তীরের উপরে উঠেছিল, সেই সময়ে এঁরা নদী পার হয়ে পূর্ব দিকে ও পশ্চিম দিকে তলভূমিস্থ সকলকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
16
আর বিন্ইয়ামীন ও এহুদার সন্তানদের মধ্যে কয়েকজন লোক দাউদের কাছে দুর্গম স্থানে এসেছিল।
17 আর দাউদ তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হয়ে তাদেরকে বললেন, যদি তোমরা আমার সাহায্য করতে শান্তিভাব নিয়ে আমার কাছে এসে থাক, তবে আমার অন্তর তোমাদের সঙ্গে এক হয়ে যাবে। কিন্তু আমার হাতে কোন দৌরাত্ম না থাকলেও যদি আমাকে ঠকিয়ে বিপক্ষ লোকদের হস্তগত করার জন্য এসে থাক, তবে আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ তা দেখুন ও বিচার করুন।
18 তখন আল্লাহ্র রূহ্ সেনানীবর্গের নেতা অমাসয়ের উপরে আসলেন, আর তিনি বললেন, হে দাউদ, আমরা তোমারই, হে ইয়াসিরের পুত্র, আমরা তোমারই পক্ষ; মঙ্গল হোক, তোমার মঙ্গল হোক ও তোমার সাহায্যকারীদের মঙ্গল হোক, কেননা তোমার আল্লাহ্ তোমার সাহায্য করেন। তখন দাউদ তাঁদেরকে গ্রহণ করে সৈন্যদলের সেনাপতি করলেন।
19
আর দাউদ যখন ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে তালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিলেন তখন মানশারও কয়েকজন তাঁর পক্ষ হয়েছিল। অবশ্য তাঁরা ফিলিস্তিনীদের সাহায্য করেন নি; কেননা তাদের ভূপালেরা মন্ত্রণা করে তাঁকে বিদায় করে বললেন, সেই ব্যক্তি আমাদের মুণ্ড নিয়ে তাঁর মালিক তালুতের পক্ষ নেবে।
20 পরে দাউদ সিক্লগে যাচ্ছেন, এমন সময়ে মানশা-বংশীয়, অদ্ন, যোষাবদ, যিদীয়েল, যোষবিদ ইলীহূ ও সিল্লথয়, মানশা-বংশীয় এই সহস্রপতিরা তাঁর পক্ষ হলেন।
21 আর তাঁরা সৈন্যদলের বিপক্ষে দাউদকে সাহায্য করলেন, কারণ তাঁরা সকলে ছিলেন বলবান বীর এবং সৈন্যদলের সেনাপতি হলেন।
22 বস্তুত সেই সময়ে দাউদের সাহায্যার্থে দিন দিন লোক আসত, তাতে আল্লাহ্র সৈন্যদলের মত তাঁর একটা মস্ত বড় সৈন্যদল গড়ে উঠলো।
23
যে লোকেরা মাবুদের কালাম অনুসারে তালুতের রাজ্য হস্তান্তর করে দাউদকে দেবার জন্য যুদ্ধার্থে সজ্জিত হয়ে হেবরনে তাঁর কাছে গিয়েছিল তাদের সংখ্যা এই:
24 এহুদা-বংশের ঢাল ও বর্শাধারী, যুদ্ধের জন্য সজ্জিত ছয় হাজার আট শত লোক।
25 শিমিয়োন-বংশের মধ্যে যুদ্ধে বলবান বীর সাত হাজার এক শত লোক।
26 লেবি-বংশের মধ্যে চার হাজার ছয় শত লোক।
27 আর যিহোয়াদা হারুনের বংশের নেতা এবং তাঁর সঙ্গে তিন হাজার সাত শত লোক;
28 আর বীর্যবান যুবক সাদোক ও তাঁর পিতৃকুলের বাইশ জন সেনাপতি।
29 আর তালুতের জ্ঞাতি বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের মধ্যে তিন হাজার লোক; কারণ সেই সময় পর্যন্ত তাদের অধিকাংশ লোক তালুতের কুলের বশ্যতা স্বীকার করতো।
30 আর আফরাহীম-সন্তানদের মধ্যে বিশ হাজার আট শত বলবান বীর, তারা যার যার পিতৃকুলে বিখ্যাত ছিলেন।
31 আর মানশার অর্ধেক বংশের মধ্যে আঠার হাজার লোক, তারা এসে দাউদকে বাদশাহ্ করার জন্য স্ব স্ব নামে নির্দিষ্ট হল।
32 আর ইষাখর-বংশের লোকদের মধ্যে দুই শত প্রধান লোক, তারা কালজ্ঞ লোক, ইসরাইলের কি কর্তব্য তা জানত, আর তাদের বংশের লোকেরা সকলে তাদের বাধ্য ছিল।
33 সবূলূনের মধ্যে সৈন্যদলে গমনযোগ্য, সব রকম যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে সৈন্য রচনা করতে নিপুণ পঞ্চাশ হাজার লোক ছিল, তারা দাউদকে সাহায্য করতে একমন বিশিষ্ট ছিল।
34 নপ্তালির মধ্যে এক হাজার সেনাপতি ও তাদের সঙ্গে ঢাল ও বর্শাধারী সাঁইত্রিশ হাজার লোক।
35 দানীয়দের মধ্যে সৈন্য রচনা করতে দক্ষ আঠাশ হাজার ছয় শত লোক।
36 আশেরের মধ্যে সৈন্যদলে গমন যোগ্য, সৈন্যরচনা করতে নিপুণ চল্লিশ হাজার লোক।
37 আর জর্ডানের ওপারস্থ রূবেণীয়, গাদীয় ও মানশার অর্ধেক বংশের মধ্যে যুদ্ধের জন্য সব রকম অস্ত্রধারী এক লক্ষ বিশ হাজার লোক।
38
যুদ্ধে ও সৈন্য রচনায় নিপুণ এসব লোক দাউদকে সমস্ত ইসরাইলের বাদশাহ্ করার জন্য একাগ্রচিত্তে হেবরনে এল এবং ইসরাইলের অবশিষ্ট সকল লোকও দাউদকে বাদশাহ্ করার জন্য একচিত্ত হল।
39 তারা তিন দিন সেখানে দাউদের সঙ্গে থেকে ভোজন পান করলো; কেননা তাদের ভাইয়েরা তাদের জন্য আয়োজন করেছিল।
40 এছাড়া, ইষাখর, সবূলূন ও নপ্তালী প্রদেশ পর্যন্ত তাদের প্রতিবেশীরা, গাধা, উট, খচ্চর ও বলদের পিঠে খাদ্রদ্রব্য, সুজিতে প্রস্তুত দ্রব্য, ডুমুরের চাপ, শুকনো আঙ্গুরের থলুয়া, আঙ্গুর-রস ও তেল এবং বলদ ও ভেড়া প্রচুর পরিমাণে আনলো, কেননা ইসরাইলের মধ্যে আনন্দ হয়েছিল।
1
পরে দাউদ সহস্রপতিদের ও শতপতিদের সঙ্গে ও সমস্ত নেতৃবর্গের সঙ্গে মন্ত্রণা করলেন।
2 আর দাউদ সমস্ত ইসরাইল-সমাজকে বললেন, যদি তোমাদের ভাল মনে হয় ও আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ থেকে এই কাজ হয়ে থাকে, তবে এসো, আমরা ইসরাইলের সমস্ত প্রদেশে আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের কাছে ও তাদের সঙ্গে যে সকল ইমাম ও লেবীয়েরা নিজ নিজ চারণ-ভূমি বিশিষ্ট নগরে বাস করে তাদের কাছে লোক পাঠাই, যেন তারা আমাদের কাছে ঁজমায়েত হয়।
3 আর এসো, আমাদের আল্লাহ্র সিন্দুক আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনি, কেননা তালুতের সময়ে আমরা তার খোঁজ করি নি।
4 তখন সমস্ত সমাজ বললো, আমরা তা করবো; কেননা সব লোকের দৃষ্টিতে এই কথা ন্যায্য মনে হল।
5
পরে কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে আল্লাহ্র সিন্দুক আনবার জন্য দাউদ মিসরের সীহোর নদী থেকে হমাতের প্রবেশ স্থান পর্যন্ত সমস্ত ইসরাইলকে একত্র করলেন।
6 আর আল্লাহ্র সিন্দুক, কারুবীদ্বয়ে আসীন মাবুদের সিন্দুক, যার উপরে সেই নাম কীর্তিত, তা এহুদার অধিকারস্থ বালা অর্থাৎ কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে আনবার জন্য দাউদ ও সমস্ত ইসরাইল সেই স্থানে গেলেন।
7 পরে তাঁরা আল্লাহ্র সিন্দুক একটি নতুন ঘোড়ার গাড়িতে উঠিয়ে অবীনাদবের বাড়ি থেকে বের করলেন এবং উষঃ ও অহিয়ো ঐ ঘোড়ার গাড়ি চালনা করলো।
8 আর দাউদ ও সমস্ত ইসরাইল সমস্ত শক্তিতে আল্লাহ্র সম্মুখে গজল সহকারে বীণা, নেবল, তম্বুরা, করতাল ও তূরী বাজালেন।
9
পরে তাঁরা কীদোনের খামার পর্যন্ত গেলে উষঃ ঐ সিন্দুক ধরবার জন্য হাত বাড়ালো, কেননা বলদযুগল পিছলিয়ে পড়েছিল।
10 তখন উষের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল ও সিন্দুকের প্রতি তার হাত বাড়ানোর দরুন তিনি তাকে আঘাত করলেন; তাতে সে সেই স্থানে আল্লাহ্র সম্মুখে মৃত্যুবরণ করলো।
11 মাবুদ উষকে আক্রমণ করায় দাউদ অসন্তুষ্ট হলেন, আর সেই স্থানের নাম পেরস-উষঃ (উষঃ-আক্রমণ) রাখলেন; আজও সেই নাম প্রচলিত আছে।
12 আর দাউদ সেদিন আল্লাহ্কে ভয় পেয়ে বললেন; আল্লাহ্র সিন্দুক কিভাবে আমার কাছে আনবো?
13 তাই দাউদ সেই সিন্দুক দাউদ-নগরে নিজের কাছে না এনে পথের পাশে অবস্থিত গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে নিয়ে রাখলেন।
14 আর আল্লাহ্র সিন্দুক ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে তার পরিবারের কাছে তিন মাস থাকলো; তাতে মাবুদ ওবেদ-ইদোমের বাড়ি ও তার সর্বস্বকে দোয়াযুক্ত করলেন।
1
আর টায়ারের বাদশাহ্ হীরম দাউদের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করার জন্য তাঁর কাছে দূত এবং এরস কাঠ, রাজমিস্ত্রি ও ছুতার মিস্ত্রি পাঠালেন।
2 তখন দাউদ বুঝলেন যে, মাবুদ ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে তাঁকে সুস্থির করেছেন, কেননা তাঁর লোক ইসরাইলের জন্য তাঁর রাজ্য উন্নতি লাভ করেছিল।
3
আর দাউদ জেরুশালেমে আরও কয়েকজন স্ত্রী গ্রহণ করলেন এবং দাউদ আরও পুত্রকন্যার জন্ম দিলেন।
4 জেরুশালেমে তাঁর যেসব পুত্র জন্মগ্রহণ করলো, তাদের নাম; শম্মূয়, শোবব, নাথন, সোলায়মান,
5 যিভর, ইলীশূয়, ইপ্পেলট
6 নোগহ, নেফগ, যাফিয়,
7 ইলীশামা, বীলিয়াদা ও ইলীফেলট।
8
ফিলিস্তিনীরা যখন শুনতে পেল যে, যে দাউদ সমস্ত ইসরাইলের বাদশাহ্র পদে অভিষিক্ত হয়েছেন, তখন ফিলিস্তিনী সমস্ত লোক দাউদের খোঁজে উঠে এল; দাউদ তা শুনে তাদের বিরুদ্ধে বের হলেন।
9 আর ফিলিস্তিনীরা এসে রফায়ীম উপত্যকায় ব্যাপ্ত হল।
10 তখন দাউদ আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যাত্রা করবো? তুমি কি আমার হাতে তাদেরকে তুলে দেবে? মাবুদ তাঁকে বললেন, যাও, আমি তাদেরকে তোমার হাতে তুলে দেব।
11 পরে তারা বাল্-পরাসীমে এল; আর দাউদ সেই স্থানে তাদেরকে আঘাত করলেন এবং দাউদ বললেন, আল্লাহ্ আমার হাত দিয়ে আমার দুশমনদেরকে বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার মত ভেঙ্গে ফেললেন। এজন্য সেই স্থানের নাম বাল্-পরাসীম (ভঙ্গস্থান) রাখা হল।
12 সেই স্থানে তারা তাদের দেবমূর্তিগুলোকে ফেলে গিয়েছিল; তাতে দাউদের হুকুম অনুসারে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হল।
13
পরে ফিলিস্তিনীরা পুনর্বার এসে সেই উপত্যকায় ব্যাপ্ত হল।
14 তখন দাউদ পুনর্বার আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করলেন; তাতে আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি ওদের পিছনে যেও না, ওদের থেকে ফিরে এসে বাঁকা গাছগুলোর সম্মুখে ওদেরকে আক্রমণ কর।
15 সেসব বাঁকা গাছের শিখরে সৈন্যগমনের মত আওয়াজ শুনলে তুমি যুদ্ধে অগ্রসর হবে, কেননা আল্লাহ্ ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদলকে আঘাত করার জন্য তোমার সম্মুখে অগ্রসর হয়েছেন।
16 দাউদ আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে কাজ করলেন; তখন তাঁর লোকেরা গিবিয়োন থেকে গেষর পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদলকে আঘাত করলো।
17 আর দাউদের কীর্তি সমস্ত দেশে ব্যাপ্ত হল এবং মাবুদ সমস্ত জাতির মধ্যে তাঁর সম্বন্ধে একটি ভয়ের ভাব জাগিয়ে দিলেন।
1
আর দাউদ নিজের জন্য দাউদ-নগরে অনেক বাড়ি নির্মাণ করলেন এবং আল্লাহ্র সিন্দুকের জন্য একটি স্থান প্রস্তুত করলেন, তার জন্য একটি তাঁবু স্থাপন করলেন।
2 সেই সময়ে দাউদ বললেন, আল্লাহ্র সিন্দুক বহন করা লেবীয়দের ছাড়া আর কারো কর্তব্য নয়, কেননা আল্লাহ্র সিন্দুক বইতে ও চিরকাল তাঁর পরিচর্যা করতে মাবুদ তাদেরকেই মনোনীত করেছেন।
3 পরে দাউদ মাবুদের সিন্দুকের জন্য যে স্থান প্রস্তুত করেছিলেন, সেই স্থানে তা আনবার জন্য সমস্ত ইসরাইলকে জেরুশালেমে একত্র করলেন।
4 আর দাউদ হারুন-সন্তানদেরকে ও এই সব লেবীয়কে একত্র করলেন;
5 কহাতীয়দের মধ্যে ঊরীয়েল নেতা, আর তাঁর ভাইয়েরা এক শত বিশ জন;
6 মরারির সন্তানদের মধ্যে অসায় নেতা, আর তাঁর ভাইয়েরা দুই শত বিশ জন,
7 গের্শোমের সন্তানদের মধ্যে যোয়েল নেতা, আর তাঁর ভাইয়েরা এক শত ত্রিশ জন;
8 ইলীষাফণের সন্তানদের মধ্যে শমরিয় নেতা, আর তাঁর ভাইয়েরা দুই শত জন;
9 হেবরনের সন্তানদের মধ্যে ইলীয়েল নেতা আর তাঁর ভাইয়েরা আশী জন;
10 উষীয়েলের সন্তানদের মধ্যে অম্মীনাদব নেতা, আর তাঁর ভাইয়েরা এক শত বারো জন।
11
পরে দাউদ সাদোক ও অবিয়াথর, এই দুই ইমামকে এবং লেবীয়দেরকে, অর্থাৎ ঊরীয়েলকে, অসায়কে, যোয়েলকে, শমরিয়কে, ইলীয়েলকে ও অম্মীনাদবকে ডেকে তাঁদের বললেন,
12 তোমরা লেবীয়দের পিতৃকুলপতি, তোমরা ও তোমাদের ভাইয়েরা নিজদেরকে পবিত্র কর, তাতে আমি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সিন্দুকের জন্য যে স্থান প্রস্তুত করেছি, সেই স্থানে তা আনতে পারবে।
13 কেননা প্রথমবার তোমরা তা বহন কর নি, এজন্য আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে আক্রমণ করলেন, কারণ আমরা বিধিমতে তাঁর খোঁজ করি নি।
14 পরে ইমাম ও লেবীয়েরা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সিন্দুক আনবার জন্য নিজদেরকে পবিত্র করলেন।
15 আর লেবীয়রা বহন-দণ্ডযোগে কাঁধে করে আল্লাহ্র সিন্দুক বহন করলো, যেমন মাবুদের কালাম অনুসারে মূসা হুকুম করেছিলেন।
16
আর দাউদ লেবীয়দের নেতৃবর্গকে বললেন, তোমরা উচ্চৈঃস্বরে আনন্দ ধ্বনি করার জন্য নিজেদের গায়ক ভাইদেরকে বাদ্যযন্ত্র সহকারে, নেবল, বীণা ও করতাল সহকারে নিযুক্ত কর।
17 তাতে লেবীয়েরা যোয়েলের পুত্র হেমন, তাঁর ভাইদের মধ্যে বেরিখিয়ের পুত্র আসফ ও তাঁদের জ্ঞাতি মরারিয়দের মধ্যে কূশায়ার পুত্র এথনকে নিযুক্ত করলো।
18 আর তাঁদের সঙ্গে তাঁদের দ্বিতীয় পদস্থ ভাইদেরকে তারা নিযুক্ত করলো। তারা হল জাকারিয়া, বেন, যাসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, বনায়, মাসেয়, মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ ও মিক্নেয় এবং ওবেদ-ইদোমও যিয়ীয়েল নামে দুই দ্বারপাল।
19 অতএব হেমন, আসফ ও এথন, এই গায়কেরা ব্রোঞ্জের করতালে উচ্চধ্বনি করতে,
20 এবং জাকারিয়া, অসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, মাসেয় ও বনায় অলামোৎ (নামক সুরে) নেবল বাজাবার পরিচালক,
21 এবং মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ, মিক্নেয়, ওবেদ-ইদোম, যিয়ীয়েল ও অসসিয় শিমিনীৎ (নামক সুরে) বীণা বাজাবার পরিচালক নিযুক্ত হলেন।
22 আর লেবীয়দের নেতা কননিয় গান সম্বন্ধে প্রধান হলেন। তিনি গান শিক্ষা দিলেন, কারণ তিনি সঙ্গীতে পারদর্শী ছিলেন।
23 আর বেরিখিয় ও ইল্কানা সিন্দুকের দ্বাররক্ষক ছিলেন।
24 শবনিয়, যিহোশাফট, নথনেল, অমাসয়, জাকারিয়া, বনায় ও ইলীয়েষর, এসব ইমাম আল্লাহ্র সিন্দুকের সম্মুখে তূরী বাজালেন এবং ওবেদ-ইদোম ও যিহিয় সিন্দুকের দ্বাররক্ষক ছিলেন।
25
পরে দাউদ, ইসরাইলের প্রাচীনবর্গরা ও সহস্রপতিরা আনন্দ সহকারে ওবেদ-ইদোমের বাড়ি থেকে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক আনতে গেলেন;
26 আর যে লেবীয়েরা মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক বহন করলো, আল্লাহ্ তাদের সাহায্য করলেন বলে ওঁরা সাতটি বলদ ও সাতটি ভেড়া কোরবানী করলেন।
27 আর দাউদ এবং সিন্দুক-বহনকারী লেবীয়েরা, গায়কেরা ও গায়কদের সঙ্গে গানের নেতা কননিয়, এঁরা সকলে মসীনার পোশাক পরা ছিলেন; এবং দাউদের কাঁধে মসীনার একটি এফোদ ছিল।
28 এভাবে জয়ধ্বনি সহকারে এবং শৃঙ্গ, তূরী, করতাল, নেবল ও বীণা-ধ্বনি সহকারে সমস্ত ইসরাইল মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক আনয়ন করলো।
29
আর মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক যখন দাউদ-নগরে উপস্থিত হল তখন তালুতের কন্যা মীখল জানালা দিয়ে চেয়ে দেখলেন এবং দাউদ বাদশাহ্কে নৃত্য ও আনন্দ করতে দেখে মনে মনে তুচ্ছ করলেন।
1
পরে লোকেরা আল্লাহ্র সিন্দুক ভিতরে এনে, দাউদ তার জন্য যে তাঁবু স্থাপন করেছিলেন, তার মধ্যে রাখল এবং আল্লাহ্র সম্মুখে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী দেওয়া হল।
2 আর দাউদ পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানীর কাজ শেষ করার পর মাবুদের নামে লোকদেরকে দোয়া করলেন।
3 আর সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষ ও প্রত্যেক স্ত্রীলোককে একখানা করে রুটি ও এক খণ্ড গোশ্ত ও একখানা আঙ্গুরের পিঠা দিলেন।
4
পরে তিনি মাবুদের সিন্দুকের সম্মুখে পরিচর্যা করতে এবং ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে স্মরণ করতে তাঁর প্রশংসা-গজল ও প্রশংসা করতে লেবীয়দের কয়েক জনকে নিযুক্ত করলেন;
5 এই লোকদের নেতা ছিলেন আসফ, দ্বিতীয় জাকারিয়া, অপর যিয়ীয়েল, শমীরোমোৎ, যিহীয়েল, মত্তিথিয়, ইলীয়াব, বনায়, ওবেদ-ইদোম ও যিয়ীয়েল। এরা আল্লাহ্র নিয়ম-সিন্দুকের সম্মুখে নেবল ও বীণা বাজাতেন ও আসফ উচ্চধ্বনির করতাল বাজাতেন।
6 আর বনায় ও যহসীয়েল এই দু’জন ইমাম প্রতিনিয়ত তূরী বাজাতেন।
7
আর সেদিন দাউদ মাবুদের উদ্দেশে প্রশংসা-গজল করার ভার আসফের ও তাঁর ভাইদের হাতে প্রথমে অর্পণ করলেন।
8
মাবুদের প্রশংসা-গজল কর,
তাঁর নামে ডাক,
জাতিদের মধ্যে তাঁর সমস্ত কাজের কথা জানাও।
9
তাঁর উদ্দেশে গজল গাও, তাঁর প্রশংসা গান কর।
তাঁর সমস্ত অলৌকিক কাজ ধ্যান কর।
10
তাঁর পবিত্র নামের মহিমা হোক;
যারা মাবুদের খোঁজ করে তাদের অন্তর আনন্দ করুক।
11
মাবুদের ও তাঁর শক্তির খোঁজ কর,
নিয়ত তাঁর উপস্থিতির খোঁজ কর;
12
স্মরণ কর তাঁর কৃত অলৌকিক সমস্ত কাজ,
তাঁর অদ্ভুত লক্ষণ ও তাঁর মুখের সমস্ত শাসন;
13
তোমরা তো তাঁর গোলাম ইসরাইলের বংশ,
তোমরা ইয়াকুবের সন্তান, তাঁর মনোনীত লোক।
14
তিনি আমাদের আল্লাহ্, মাবুদ,
তাঁর সমস্ত শাসন সারা দুনিয়াতে বিদ্যমান।
15
তোমরা তাঁর নিয়ম অনন্তকাল স্মরণ করো,
সেই কালাম তিনি হাজার পুরুষপরম্পরার প্রতি হুকুম করেছেন।
16
সেই নিয়ম তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে করলেন,
সেই শপথ ইস্হাকের কাছে করলেন;
17
তিনি তা ইয়াকুবের জন্য বিধি বলে,
ইসরাইলের জন্য অনন্তকালীন নিয়ম বলে দাঁড় করিয়েছিলেন;
18
তিনি বললেন, আমি তোমাকে কেনান দেশ দেব,
তা-ই তোমাদের স্বীকৃত অধিকার;
19
সেই সময় তোমরা সংখ্যাতে বেশি ছিলে না,
অল্পই ছিলে এবং সেখানে প্রবাসী ছিলে।
20
তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির কাছে,
এক রাজ্য থেকে অন্য লোকবৃন্দের কাছে ঘুরে বেড়াত।
21
তিনি কোন মানুষকে তাদের প্রতি জুলুম করতে দিতেন না,
বরং তাদের জন্য বাদশাহ্দেরকেও অনুযোগ করতেন,
22
“আমার অভিষিক্ত ব্যক্তিদেরকে স্পর্শ করো না,
আমার নবীদের অপকার করো না।”
সমস্ত ভুবন! মাবুদের উদ্দেশে গজল গাও,
23
দিন দিন তাঁর উদ্ধার ঘোষণা কর।
24
তবলিগ কর জাতিদের মধ্যে তাঁর গৌরব,
সমস্ত লোক-সমাজে তাঁর অলৌকিক কাজগুলো।
25
কেননা মাবুদ মহান ও অতি কীর্তনীয়,
তিনি সমস্ত দেবতার চেয়ে ভয়ঙ্কর।
26
কেননা জাতিদের সমস্ত দেবতা অবস্তুমাত্র,
কিন্তু মাবুদ আসমানের নির্মাতা।
27
সম্মান ও মহিমা তাঁর অগ্রবর্তী,
শক্তি ও আনন্দ তাঁর বাসস্থানে বিদ্যমান।
28
জাতিদের সমস্ত গোষ্ঠী! মাবুদের মহিমা ঘোষণা কর,
মাবুদের গৌরব ও শক্তি ঘোষণা কর।
29
মাবুদের নামের গৌরব ঘোষণা কর,
নৈবেদ্য সঙ্গে নিয়ে তাঁর সম্মুখে এসো,
পবিত্র শোভায় মাবুদকে সেজ্দা কর।
30
সমস্ত ভুবন! তাঁর সাক্ষাতে কেঁপে ওঠো;
জগতও সুস্থির, তা বিচলিত হবে না;
31
আসমান আনন্দ করুক, দুনিয়া উল্লসিত হোক;
লোকে জাতিদের মধ্যে বলুক,
মাবুদ রাজত্ব করছেন।
32
সমুদ্র ও তার মধ্যেকার সকলে গর্জন করুক,
ক্ষেত ও তার মধ্যেকার সকলই উল্লসিত হোক।
33
তখন বনের সমস্ত গাছ মাবুদের সাক্ষাতে আনন্দে গান করবে;
কেননা তিনি দুনিয়ার বিচার করতে আসছেন।
34
মাবুদের প্রশংসা-গজল কর, কেননা তিনি মঙ্গলময়,
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
35
তোমরা বল, হে আমাদের নাজাতের আল্লাহ্, উদ্ধার কর,
আমাদেরকে সংগ্রহ কর,
জাতিদের হাত থেকে উদ্ধার কর,
যেন আমরা তোমার পবিত্র নামের প্রশংসা-গজল করি,
যেন তোমার প্রশংসায় জয়ধ্বনি করি।
36
মাবুদ ধন্য হোন, ইসরাইলের আল্লাহ্,
অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
পরে সকল লোক বললো আমিন, আর মাবুদের প্রশংসা করলো।
37
আর প্রতিদিন যেমন প্রয়োজন, তেমনি সিন্দুকের সম্মুখে নিয়মিতভাবে পরিচর্যা করার জন্য তিনি আসফ ও তাঁর ভাইদেরকে মাবুদের নিয়ম সিন্দুকের সম্মুখে রাখলেন।
38 ওবেদ-ইদোম ও তাঁদের আটষট্টি জন ভাই এবং যিদূথূনের পুত্র ওবেদ-ইদোম ও হোষা দ্বারপাল হলেন।
39 আর তিনি সাদোক ইমামকে ও তাঁর ইমাম ভাইদেরকে গিবিয়োনস্থ উচ্চস্থলীতে মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখে রাখলেন,
40 যেন তাঁরা কোরবানগাহ্র উপরে মাবুদের উদ্দেশে নিয়মিতভাবে খুব ভোরে ও সন্ধ্যাবেলা পোড়ানো-কোরবানী করেন এবং মাবুদ ইসরাইলকে যে ব্যবস্থা হুকুম করেছিলেন, তাতে লেখা সমস্ত কথানুসারে কাজ করেন।
41 আর তিনি হেমন ও যিদূথূনকে এবং আর যে মনোনীত লোকদের নাম লেখা হল, তাদেরকে ওদের সঙ্গে রাখলেন, যেন তাঁরা মাবুদের প্রশংসা-গজল করেন, কেননা তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
42 আর উচ্চধ্বনির জন্য তূরী ও করতাল এবং খোদায়ী সঙ্গীতের জন্য বাদ্যযন্ত্র বাজাতে হেমন ও যিদূথূন ওদের সঙ্গী এবং যিদূথূনের পুত্ররা দ্বারপাল হলেন।
43
পরে সমস্ত লোক যার যার বাড়িতে প্রস্থান করলো এবং দাউদ তাঁর পরিজনদেরকে দোয়া করার জন্য ফিরে আসলেন।
1
পরে দাউদ যখন নিজের বাড়িতে বাস করতে শুরু করলেন, তখন তিনি নাথন নবীকে বললেন, দেখুন, আমি এরস কাঠের বাড়িতে বাস করছি কিন্তু মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক পর্দার অন্তরালে বাস করছে।
2 নাথন দাউদকে বললেন, যা কিছু আপনার মনে আছে তা-ই করুন, কেননা আল্লাহ্ তাঁর সহবর্তী।
3
কিন্তু সেই রাতে আল্লাহ্র এই কালাম নাথনের কাছে উপস্থিত হল,
4 তুমি যাও, আমার গোলাম দাউদকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি আমার জন্য বসতি-গৃহ নির্মাণ করবে না।
5 ইসরাইলকে বের করে আনবার দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তো কোন গৃহে বাস করি নি, কিন্তু এক তাঁবু থেকে অন্য তাঁবুতে ও এক শরীয়ত-তাঁবু থেকে অন্য আবাসে গিয়েছি।
6 বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবার সময় আমি যাকে আমার লোকদের পালনের ভার দিয়েছিলাম, ইসরাইলের এমন কোন বিচারকর্তাকে কি কখনও এই কথা বলেছি যে, তোমরা কেন আমার জন্য এরস কাঠের গৃহ নির্মাণ কর নি?
7 অতএব এখন তুমি আমার গোলাম দাউদকে এই কথা বলবে, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমার লোক ইসরাইলের নায়ক করার জন্য আমিই তোমাকে পশু চরাবার মাঠ থেকে ও ভেড়ার পালের পিছন থেকে নিয়ে এসেছি।
8 আর তুমি যে স্থানেই গমন করেছ, সেই স্থানে তোমার সহবর্তী থেকে তোমার সম্মুখ থেকে তোমার সমস্ত দুশমনকে উচ্ছেদ করেছি, আর আমি তোমার নাম দুনিয়ার মহাপুরুষদের নামের মত করবো।
9 আর আমি আমার লোক ইসরাইলের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করবো ও তাদেরকে রোপণ করবো, যেন তারা তাদের সেই স্থানে বাস করে এবং আর বিচলিত না হয়; দুর্বৃত্তরা তাদেরকে আর জুলুম করবে না, যেমন আগে করতো—
10 যে সময় থেকে আমি আমার লোক ইসরাইলের উপরে কাজীদেরকে নিযুক্ত করেছিলাম, সেই সময়ে যেমন হত। আর আমি তোমার সমস্ত দুশমনকে নত করবো। আরও তোমাকে বলছি, তোমার জন্য মাবুদ একটি কুল নির্মাণ করবেন।
11
আর তোমার দিন সমপূর্ণ হলে যখন তোমাকে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে যেতে হবে, তখন আমি তোমার পুত্রদের মধ্যে এক জনকে স্থাপন করবো এবং তার রাজ্য স্থির করবো।
12 সেই আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করবে এবং আমি তার সিংহাসন চিরস্থায়ী করবো।
13 আমি তার পিতা হব ও সে আমার পুত্র হবে এবং যে তোমার আগে ছিল তার কাছ থেকে যেমন আমার অটল মহব্বত প্রত্যাহার করেছিলাম, তেমনি এর থেকে তা প্রত্যাহার করবো না।
14 কিন্তু আমার বাড়িতে ও আমার রাজ্যে তাকে চিরকাল স্থির রাখবো এবং তার সিংহাসন চিরস্থায়ী হবে।
15 নাথন দাউদকে এ সব কালাম ও দর্শন অনুসারে কথা বললেন।
16
তখন বাদশাহ্ দাউদ ভিতরে গিয়ে মাবুদের সম্মুখে বসলেন, আর বললেন, হে মাবুদ আল্লাহ্, আমি কে, আমার কুলই বা কি যে, তুমি আমাকে এই পর্যন্ত এনেছ?
17 আর হে আল্লাহ্, তোমার দৃষ্টিতে এও ক্ষুদ্র বিষয় হল, তুমি তোমার গোলামের কুলের বিষয়েও সুদীর্ঘ কালের উদ্দেশে কথা বললে এবং হে মাবুদ আল্লাহ্, আমাকে উচ্চপদস্থ মানুষের শ্রেণীভুক্ত বলে জ্ঞান করলে।
18 তোমার গোলামের প্রতি কৃত সম্মানের বিষয়ে দাউদ তোমাকে আর কি বলবে? তুমি তো তোমার গোলামকে জান।
19 হে মাবুদ, তুমি তোমার গোলামের জন্য তোমার ইচ্ছা অনুসারে এসব মহৎ কাজ তুমি করেছ আর তোমার গোলামকে তা জানিয়েছ।
20 হে মাবুদ, তোমার মত কেউই নেই ও তুমি ছাড়া কোন আল্লাহ্ নেই; আমরা স্বকর্ণে যা শুনেছি, সেই অনুসারে এই কথা জানি।
21 দুনিয়ার মধ্যে আর কোন্ জাতি তোমার লোক ইসরাইলের মত? তুমি আল্লাহ্ তাকে তোমার লোক করার জন্য মুক্ত করতে গিয়েছিলে, যেন মিসর থেকে মুক্ত তোমার লোকদের সম্মুখ থেকে জাতিদেরকে, বিতাড়িত করার সময়ে নানা রকম মহৎ ও ভয়ংকর কাজ দ্বারা তোমার নাম প্রতিষ্ঠিত কর।
22 তুমি তো তোমার লোক ইসরাইলকে চিরকালের জন্য তোমার লোক করেছ, আর হে মাবুদ, তুমিই তাদের আল্লাহ্ হয়েছ।
23
এখন হে মাবুদ, তুমি তোমার গোলাম ও তার কুলের বিষয়ে যে কালাম বলেছ, তা চিরকালের জন্য স্থিরীকৃত হোক; যেমন বলেছ, সেই অনুসারে কর।
24 তোমার নাম চিরকালের জন্য স্থিরীকৃত ও মহিমান্বিত হোক; লোকে বলুক, বাহিনীগণের মাবুদই ইসরাইলের আল্লাহ্, ইসরাইলের পক্ষীয় আল্লাহ্, আর তোমার গোলাম দাউদের কুল তোমার সাক্ষাত সুস্থির।
25 বাস্তবিক, হে আমার আল্লাহ্, তুমি আমার জন্য একটি কুল উৎপন্ন করবে, এই কথা তোমার গোলামের কাছে প্রকাশ করলে; এই কারণ তোমার কাছে এই মুনাজাত করতে তোমার গোলামের মনে সাহস হয়েছে।
26 আর এখন, হে মাবুদ, তুমিই আল্লাহ্ এবং তুমি তোমার গোলামের কাছে এই মঙ্গল ওয়াদা করেছ।
27 এখন তুমি মেহেরবানী করে তোমার গোলামের কুলকে দোয়া করেছ, যেন সেই কুল তোমার সম্মুখে চিরকাল থাকে; কেননা, হে মাবুদ, তুমিই দোয়া করেছ, তাই তা চিরকালের জন্য দোয়াযুক্ত।
1
এর পরে দাউদ ফিলিস্তিনীদেরকে আক্রমণ করে পরাজিত করলেন, আর ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে গাৎ ও তার সমস্ত উপনগর অধিকার করলেন।
2 আর তিনি মোয়াবকে আঘাত করলেন; তাতে মোয়াবীয়েরা দাউদের গোলাম হয়ে উপঢৌকন আনলো।
3
আর যে সময়ে সোবার বাদশাহ্ হদদেষর ফোরাত নদীর কাছে তাঁর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে যান, সেই সময়ে দাউদ হমাতে তাঁকে আঘাত করেন।
4 দাউদ তাঁর কাছ থেকে এক হাজার রথ, সাত হাজার ঘোড়সওয়ার ও বিশ হাজার পদাতিক সৈন্য অধিকার করলেন; আর দাউদ তাঁর রথের ঘোড়াগুলোর পায়ের শিরা কেটে দিলেন, কিন্তু তার মধ্যে এক শত রথের ঘোড়া রাখলেন।
5 আর দামেস্কের অরামীয়েরা সোবার হদদেষরের বাদশাহ্র সাহায্য করতে আসলে দাউদ সেই অরামীয়দের মধ্যে বাইশ হাজার লোককে আঘাত করলেন।
6 আর দাউদ দামেস্কের অরাম দেশে সৈন্যদল স্থাপন করলেন; তাতে অরাম দাউদের গোলাম হয়ে উপঢৌকন আনলো; এভাবে দাউদ যেসব স্থানে যেতেন, সেই স্থানে মাবুদ তাঁকে বিজয়ী করতেন।
7 আর দাউদ হদদেষরের গোলামদের সোনার ঢালগুলো খুলে জেরুশালেমে আনলেন।
8 আর দাউদ হদরেষরের টিভৎ ও কূন নগর থেকে বিস্তর ব্রোঞ্জ আনলেন, সোলায়মান তা দ্বারা ব্রোঞ্জের সমুদ্র, দুই স্তম্ভ ও ব্রোঞ্জের সমস্ত পাত্র তৈরি করলেন।
9
তখন দাউদ সোবার বাদশাহ্ হদরেষরের সমগ্র সৈন্যদলকে আক্রমণ করেছেন শুনে হমাতের বাদশাহ্ তয়ূ বাদশাহ্ দাউদের কুশল জিজ্ঞাসা করার জন্য,
10 এবং তিনি হদদেষরের সঙ্গে যুদ্ধে তাঁকে আক্রমণ করেছেন বলে তাঁর শুকরিয়া করার জন্য তাঁর পুত্র হদোরামকে তাঁর কাছে প্রেরণ করলেন; কেননা হদদেষরের সঙ্গে তয়ূরও যুদ্ধ হয়েছিল। আর হদোরামের সঙ্গে রূপা, সোনা ও ব্রোঞ্জের নানা রকম পাত্র ছিল।
11 তাতে বাদশাহ্ দাউদ সমস্ত জাতি থেকে, ইদোম, মোয়াব, অম্মোনীয়দের এবং ফিলিস্তিনী ও আমালেক থেকে আনা রূপার ও সোনার সঙ্গে সেসব দ্রব্যও মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করলেন।
12
আর সরূয়ার পুত্র অবীশয় লবণ-তলভূমিতে আঠার হাজার ইদোমীয়কে হত্যা করলেন।
13
পরে তিনি ইদোমে সৈন্যদল স্থাপন করলেন এবং সমস্ত ইদোমীয় লোক দাউদের গোলাম হল। আর দাউদ যেসব স্থানে যেতেন, সেই স্থানে মাবুদ তাঁকে বিজয়ী করতেন।
14 দাউদ সমস্ত ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করলেন, তিনি তাঁর সমস্ত লোকের জন্য ন্যায়ভাবে বিচার ও শাসন করতেন।
15 আর সরূয়ার পুত্র যোয়াব সৈন্যাধ্যক্ষ ছিলেন; এবং অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট ইতিহাস লেখক ছিলেন।
16 আর অহীটূবের পুত্র সাদোক ও অবিয়াথরের পুত্র আবিমালেক ইমাম ছিলেন এবং শব্শ লেখক ছিলেন।
17 আর যিহোয়াদার পুত্র বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের উপরে নিযুক্ত ছিলেন এবং দাউদের পুত্ররা বাদশাহ্র প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন।
1
এর পরে অম্মোনীয়দের বাদশাহ্ নাহশের মৃত্যু হল ও তাঁর পুত্র তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
2 তখন দাউদ বললেন, আমি নাহশের পুত্র হানূনের প্রতি সদয় ব্যবহার করবো, কেননা তাঁর পিতা আমার প্রতি সদয় ব্যবহার করেছিলেন। পরে দাউদ তাঁকে পিতৃশোকে সান্ত্বনা দেবার জন্য দূতদের প্রেরণ করলেন। আর দাউদের গোলামেরা হানূনকে সান্ত্বনা দেবার জন্য অম্মোনীয়দের দেশে তাঁর কাছে উপস্থিত হল।
3 কিন্তু অম্মোনীয়দের কর্মকর্তারা হানূনকে বললেন, আপনি কি মনে করছেন যে, দাউদ আপনার পিতার সম্মান করে বলে আপনার কাছে সান্ত্বনাকারীদের পাঠিয়েছে? তার গোলামেরা কি সন্ধান নেবার এবং লণ্ডভণ্ড করার ও দেশ নিরীক্ষণ করার জন্য আপনার কাছে আসে নি?
4 তখন হানূন দাউদের গোলামদেরকে ধরে তাদেরকে দাড়ি কামিয়ে দিলেন ও পোশাকের অর্ধেক অর্থাৎ নিতম্ব দেশ পর্যন্ত কেটে তাদেরকে বিদায় করলেন।
5 পরে কোন লোক গিয়ে সেই ব্যক্তিদের বৃত্তান্ত দাউদকে জানালো। আর তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে লোক পাঠালেন; কেননা তারা অতিশয় লজ্জিত হয়েছিল। বাদশাহ্ বলে পাঠালেন, যতদিন তোমাদের দাড়ি না উঠে, ততদিন তোমরা জেরিকোতে থাক, তারপর ফিরে এসো।
6
অম্মোনীয়রা যখন দেখতে পেল যে, তারা দাউদের কাছে নিজদেরকে ঘৃণার পাত্র করেছে, তখন হানূন ও অম্মোনীয়রা অরাম-নহরয়িম, অরাম-মাখা ও সোবা থেকে রথ ও ঘোড়সওয়ারদেরকে বেতন দিয়ে আনবার জন্য এক হাজার তালন্ত রূপা পাঠাল।
7 আর বত্রিশ হাজার রথ ও মাখার বাদশাহ্কে এবং তাঁর লোকদেরকে বেতন দিয়ে আনাল; তারা এসে মেদবার সম্মুখে শিবির স্থাপন করলো এবং অম্মোনীয়রাও যার যার নগর থেকে একত্র হয়ে যুদ্ধের জন্য বের হল।
8 তখন এই সংবাদ পেয়ে দাউদ যোয়াব ও বিক্রমশালী সমস্ত সৈন্যকে প্রেরণ করলেন।
9 অম্মোনীয়রা বাইরে এসে নগরের প্রবেশ-স্থানে যুদ্ধার্থে সৈন্য রচনা করলো এবং সমাগত বাদশাহ্রা মাঠে স্বতন্ত্র থাকলেন।
10
এভাবে সম্মুখে ও পিছনে দুই দিকেই তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে দেখে যোয়াব ইসরাইলের সমস্ত মনোনীত লোকের মধ্য থেকে লোক বেছে নিয়ে অরামীয়দের সম্মুখে সৈন্য সাজালেন।
11 আর অবশিষ্ট লোকদেরকে তিনি তাঁর ভাই অবীশয়ের হাতে তুলে দিলেন, তাতে তারা অম্মোনীয়দের সম্মুখে সৈন্য সাজালো।
12 আর তিনি বললেন, যদি অরামীয়েরা আমার চেয়ে বলবান হয়, তবে তুমি আমাকে সাহায্য করবে; আর যদি অম্মোনীয়রা তোমার চেয়ে বলবান হয়, তবে আমি তোমাকে সাহায্য করবো।
13 সাহস কর, এসো, আমাদের জাতি ও আমাদের আল্লাহ্র নগরগুলোর জন্য আমরা নিজেদের বলবান করি; আর মাবুদের দৃষ্টিতে যা ভাল, তিনি তা-ই করুন।
14 পরে যোয়াব ও তাঁর সঙ্গী লোকেরা যুদ্ধ করার জন্য অরামীয়দের সম্মুখীন হলে তারা তাঁর সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
15 আর অরামীয়েরা পালিয়ে গেছে দেখে অম্মোনীয়রাও তাঁর ভাই অবীশয়ের সম্মুখ থেকে পালিয়ে নগরে প্রবেশ করলো। পরে যোয়াব জেরুশালেমে আসলেন।
16
অরামীয়েরা যখন দেখতে পেল যে, তারা ইসরাইলের কাছে পরাজিত হয়েছে, তখন দূত পাঠিয়ে ফোরাত নদীর ওপারস্থ অরামীয়দেরকে বের করে আনলো; হদদেষরের দলের সেনাপতি শোফক তাদের অগ্রণী ছিলেন।
17 পরে দাউদকে এই সংবাদ দেওয়া হলে তিনি সমস্ত ইসরাইলকে একত্র করলেন এবং জর্ডান পার হয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য সাজালেন; আর দাউদ অরামীয়দের বিরুদ্ধে সৈন্য রচনা করলে তারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করলো।
18 আর অরামীয়েরা ইসরাইলের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল; আর দাউদ অরামীয়দের সাত হাজার রথচালক ও চল্লিশ হাজার পদাতিক সৈন্য হত্যা এবং দলের সেনাপতি শোফককে হত্যা করলেন।
19 পরে হদদেষরের গোলামেরা যখন দেখলো, তারা ইসরাইলের সম্মুখে পরাজিত হয়েছে, তখন দাউদের সঙ্গে সন্ধি করে তাঁর গোলাম হল এবং অরামীয়েরা আর অম্মোনীয়দের সাহায্য করতে সম্মত হল না।
1
পরে যখন বছর ফিরে এল, সেই সময়ে অর্থাৎ রাজন্যবর্গের যুদ্ধে যাবার সময়ে যোয়াব সৈন্যবল নিয়ে গিয়ে অম্মোনীয়দের দেশ উৎচ্ছন্ন করলেন আর রব্বাতে গিয়ে তা অবরোধ করলেন, কিন্তু দাউদ জেরুশালেমে থাকলেন। পরে যোয়াব রব্বাকে আঘাত করে ভূমিসাৎ করলেন।
2 আর দাউদ তাদের বাদশাহ্র মাথা থেকে মুকুট নিলেন। আর দেখা গেল যে, তা এক তালন্ত সোনা পরিমিত এবং মণিতে ভূষিত; আর তা দাউদের মাথায় অর্পিত হল; এবং তিনি ঐ নগর থেকে অতি প্রচুর লুণ্ঠিত দ্রব্য বের করে আনলেন।
3 আর তিনি সেখানকার লোকদের বের করে এনে করাতের দ্বারা, লোহার মই ও কুড়ালির দ্বারা কাজ করালেন; দাউদ অম্মোনীয়দের সমস্ত নগরের প্রতি এরকম করলেন। পরে দাউদ ও সমস্ত লোক জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
4
এর পরে গেষরে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ হল; তখন হ্শাতীয় সিব্বখয় রফার সন্তান সিপ্পয়কে হত্যা করলো; তাতে তারা নত হল।
5 আবার ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ হল। আর যায়ীরের পুত্র ইল্হানন গাতীয় গলেতের ভাই লহমিকে হত্যা করলো, এর বর্শা তাঁতের নরাজের মত ছিল।
6 আর একবার গাতে যুদ্ধ হল; আর সেখানে অতি দীর্ঘকায় এক জন ছিল, প্রতি হাত পায়ে তার ছয়টি ছয়টি করে আঙ্গুল, সবসুদ্ধ চব্বিশ আঙ্গুল ছিল, সেও রফার সন্তান।
7 সে ইসরাইলকে টিট্কারি দিলে দাউদের ভাই শিমিয়ের পুত্র যোনাথন তাকে হত্যা করলো।
8 এরা রফার বংশে গাতে জন্মেছিল; এরা দাউদের হাতে ও তাঁর গোলামদের হাতে মারা পড়লো।
1
আর শয়তান ইসরাইলের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে ইসরাইলকে গণনা করতে দাউদকে প্রবৃত্তি দিল।
2 তখন দাউদ যোয়াব ও সৈন্যদলের সেনাপতিদের বললেন, যাও, তোমরা বের্-শেবা থেকে দান পর্যন্ত ইসরাইলের সংখ্যা গণনা কর, পরে আমার কাছে সংবাদ আন, আমি তাদের সংখ্যা জানবো।
3 তখন যোয়াব বললেন, এখন যত লোক আছে, মাবুদ তার শত গুণ বেশি তাঁর লোক বৃদ্ধি করুন; কিন্তু হে আমার মালিক বাদশাহ্, তারা সকলে কি আমার প্রভুর গোলাম নয়? আমার প্রভু এই চেষ্টা কেন করছেন? আপনি ইসরাইলের দোষের কারণ কেন হবেন?
4 তবুও যোয়াবের উপরে বাদশাহ্র কথাই প্রবল হল। তাতে যোয়াব প্রস্থান করে সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে পর্যটন করলেন, পরে জেরুশালেমে আসলেন।
5 আর যোয়াব গণনা-করা লোকদের সংখ্যা দাউদের কাছে দিলেন। সমস্ত ইসরাইলের এগার লক্ষ তলোয়ারধারী লোক ও এহুদার চার লক্ষ সত্তর হাজার তলোয়ারধারী লোক ছিল।
6 কিন্তু তাদের মধ্যে তিনি লেবি ও বিন্ইয়ামীন বংশকে গণনা করেন নি, কারণ বাদশাহ্র কথায় যোয়াবের ঘৃণা হয়েছিল।
7
আর আল্লাহ্ এই কাজে অসন্তুষ্ট হলেন, তাই তিনি ইসরাইলকে আঘাত করলেন।
8 পরে দাউদ আল্লাহ্কে বললেন, এই কাজ করে আমি মহাগুনাহ্ করেছি, কিন্তু এখন আরজ করি, নিজের গোলামের অপরাধ মাফ কর; কেননা আমি বড়ই অজ্ঞানের কাজ করেছি।
9 পরে মাবুদ দাউদের দর্শক গাদকে এই কথা বললেন;
10 তুমি গিয়ে দাউদকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমার সম্মুখে তিনটি দণ্ড রাখলাম, তার মধ্যে তুমি একটা মনোনীত কর, আমি তোমার প্রতি তা-ই করবো।
11 পরে গাদ দাউদের কাছে এসে তাঁকে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যেটা ইচ্ছা গ্রহণ কর;
12 হয় তিন বছর দুর্ভিক্ষ, নয় তিন মাস পর্যন্ত দুশমনদের তলোয়ার তোমাকে পেয়ে বসলে তোমার বিপক্ষ লোকদের সম্মুখে সংহার, নয় তো তিন দিন পর্যন্ত মাবুদের তলোয়ার, অর্থাৎ দেশে মহামারী এবং ইসরাইলের সমস্ত অঞ্চলে মাবুদের বিনাশক ফেরেশতার ভ্রমণ। যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকে কি উত্তর দেব তা এখন বিবেচনা করে দেখুন।
13 দাউদ গাদকে বললেন, আমি বড়ই বিপদগ্রস্ত হলাম; আমি যেন মানুষের হাতে না পড়ি কিন্তু মাবুদের হাতে পড়ি, কেননা তাঁর করুণা প্রচুর।
14
পরে মাবুদ ইসরাইলের উপরে মহামারী পাঠালেন, তাতে ইসরাইলের সত্তর হাজার লোক মারা পড়লো।
15 আর আল্লাহ্ জেরুশালেম বিনষ্ট করার জন্য এক জন ফেরেশতাকে সেখানে প্রেরণ করলেন; তিনি যখন বিনাশ করতে উদ্যত হলেন তখন মাবুদ সেই ভীষণ শাস্তি দেওয়া থেকে মন ফিরালেন এবং বিনাশক ফেরেশতাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে, এখন তোমার হাত সঙ্কুচিত কর। তখন মাবুদের ফেরেশতা যিবূষীয় অরৌণার খামারের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
16 আর দাউদ চোখ তুলে দেখলেন, মাবুদের ফেরেশতা দুনিয়া ও আসমানের মধ্যপথে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর হাতে জেরুশালেমের উপরে প্রসারিত উম্মুক্ত তলোয়ার। তখন দাউদ ও প্রাচীনেরা চট পরিহিত ছিলেন, তাঁরা অমনি উবুড় হয়ে পড়লেন।
17 আর দাউদ আল্লাহ্কে বললেন, লোকদেরকে গণনা করতে যে হুকুম দিয়েছিল, সে কি আমি নই? আমিই গুনাহ্ করেছি, আমিই বড় অপরাধ করেছি, কিন্তু এই মেষেরা কি করলো? হে আমার আল্লাহ্ মাবুদ, আরজ করি, আমারই বিরুদ্ধে ও আমার পিতৃকুলের বিরুদ্ধে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও; কিন্তু তোমার লোকদেরকে প্রহার করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিও না।
18
পরে মাবুদের ফেরেশতা দাউদকে বলবার জন্য গাদকে বললেন, দাউদ গিয়ে যিবূষীয় অরৌণার খামারে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ স্থাপন করুক।
19 অতএব মাবুদের নামে কথিত গাদের কালাম অনুসারে দাউদ উঠে গেলেন।
20 পরে অরৌণা মুখ ফিরিয়ে ফেরেশতাকে দেখতে পেল, আর তার সঙ্গে যে চার পুত্র ছিল তারা গিয়ে লুকাল।
21 তখন অরৌণা গম মাড়াচ্ছিল। কিন্তু দাউদ অরৌণার কাছে আসলে অরৌণা চোখ তুলে দাউদকে দেখে খামার থেকে বাইরে এসে ভূমিতে উবুড় হয়ে দাউদকে সালাম করলো।
22 তখন দাউদ অরৌণাকে বললেন, তুমি এই খামারের স্থানটি আমাকে দাও, আমি এই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করি; তুমি সমপূর্ণ মূল্য নিয়ে এটা আমাকে দাও; তা হলে লোকদের মধ্যে মহামারী নিবৃত্ত হবে।
23 তখন অরৌণা দাউদকে বললো আপনি এটি গ্রহণ করুন, আমার মালিক বাদশাহ্র দৃষ্টিতে যা ভাল মনে হয়, তা-ই করুন; দেখুন আমি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এই ষাঁড়গুলো, কাঠের জন্য এই মাড়াই-যন্ত্র ও শস্য-উৎসর্গের জন্য এই গম দিচ্ছি, সমস্তই দিচ্ছি।
24 বাদশাহ্ দাউদ অরৌণাকে বললেন, তা নয়, আমি অবশ্য সমপূর্ণ মূল্য দিয়ে এগুলো ক্রয় করবো; কেননা তোমার যা, আমি মাবুদের জন্য তা নেব না, বিনামূল্যে পোড়ানো-কোরবানী করবো না।
25 পরে দাউদ সেই স্থানের জন্য ছয় শত শেকল সোনা ওজন করে অরৌণাকে দিলেন।
26 আর দাউদ সেই স্থানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করে পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করলেন, আর মাবুদকে ডাকলেন, তাতে তিনি আসমান থেকে কোরবানগাহ্র উপরে আগুন বর্ষণ করে তাঁকে জবাব দিলেন।
27 পরে মাবুদ তাঁর ফেরেশতাকে হুকুম করলে তিনি তাঁর তলোয়ার পুনরায় কোষে রাখলেন।
28
সেই সময়ে যখন দাউদ দেখলেন, মাবুদ যিবূষীয় অরৌণার খামারে তাঁকে মুনাজাতের উত্তর দিলেন, তখন তিনি সেই স্থানে কোরবানী করলেন।
29 কেননা মাবুদের শরীয়ত-তাঁবু, যা মূসা মরুভূমিতে নির্মাণ করেছিলেন, সেটি এবং পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্টি সেই সময়ে গিবিয়োনস্থ উচ্চস্থলীতে ছিল।
30 কিন্তু আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করার জন্য সেই স্থানের সম্মুখে গমন করা দাউদের পক্ষে সম্ভব হল না, কারণ মাবুদের ফেরেশতার তলোয়ারকে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
31 তখন দাউদ বললেন, এটিই মাবুদ আল্লাহ্র গৃহের স্থান, এটিই ইসরাইলের কোরবানগাহ্র স্থান।
1
পরে দাউদ ইসরাইল দেশস্থ বিদেশী লোকদেরকে একত্র করতে হুকুম দিলেন;
2 এবং আল্লাহ্র এবাদতখানা নির্মাণ করার জন্য মসৃণ করা পাথর প্রস্তুত করতে ভাস্করদেরকে নিযুক্ত করলেন।
3 আর দ্বারগুলোর দরজার পেরেকের ও কব্জার জন্য দাউদ অপরিমেয় লোহা এবং অপরিমেয় ব্রোঞ্জ সংগ্রহ করলেন, যা ওজন করা গেল না।
4 আর অসংখ্য এরস কাঠ সংগ্রহ করলেন, কেননা সীদোনীয় ও টায়ারীয়েরা দাউদের কাছে অপরিমেয় এরস কাঠ এনেছিল।
5 আর দাউদ বললেন, আমার পুত্র সোলায়মান অল্পবয়স্ক ও কোমল, কিন্তু মাবুদের জন্য যে গৃহ নির্মাণ করা হবে, তা অতিশয় মহিমান্বিত হবে, তার কীর্তি ও যশ সর্বদেশে ব্যাপ্ত হবে; আমি এখন তার জন্য আয়োজন করবো। অতএব দাউদ তাঁর মৃত্যুর আগে প্রচুর দ্রব্যের আয়োজন করলেন।
6
পরে তিনি তাঁর পুত্র সোলায়মানকে ডেকে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের জন্য গৃহ নির্মাণ করতে হুকুম করলেন।
7 আর দাউদ তাঁর পুত্র সোলায়মানকে বললেন, আমার আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করতে আমারই মনোরথ ছিল;
8 কিন্তু মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল, তুমি অনেক রক্তপাত করেছ ও বড় বড় যুদ্ধ করেছ; তুমি আমার নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করবে না; কেননা আমার সাক্ষাতে তুমি অনেক রক্ত মাটিতে ঢেলেছ।
9 দেখ, তোমার একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করবে, সে বিশ্রামের মানুষ হবে; আমি তার চারদিকের সকল দুশমন থেকে তাকে বিশ্রাম দেব, কেননা তার নাম সোলায়মান (শান্ত) হবে এবং তার সময়ে আমি ইসরাইলকে শান্তি ও নির্বিঘ্নতা দেব।
10 সেই আমার নামের জন্য গৃহ নির্মাণ করবে; আর সে আমার পুত্র হবে, আমি তার পিতা হব এবং ইসরাইলে তার রাজ সিংহাসন চিরকালের জন্য স্থায়ী করবো।
11 এখন, হে আমার পুত্র, মাবুদ তোমার সহবর্তী হোন এবং তিনি তোমার বিষয়ে যেমন বলেছেন, সেই অনুসারে তুমি কৃতকার্য হও ও তোমার আল্লাহ্ মাবুদের গৃহ নির্মাণ কর।
12 কেবল মাবুদ তোমাকে বুদ্ধি ও বিবেচনা দিয়ে ইসরাইলের বিষয়ে তোমাকে হুকুম দিন, যেন তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের ব্যবস্থা পালন করতে পার।
13 মাবুদ ইসরাইলের জন্য মূসাকে যেসব বিধি ও অনুশাসন দিয়েছেন, সেসব যত্নপূর্বক পালন করলে তুমি কৃতকার্য হবে; তুমি বলবান হও ও সাহস কর; ভয় করো না, নিরাশ হয়ো না।
14 আর দেখ, আমি কষ্টের মধ্যে মাবুদের গৃহের জন্য এক লক্ষ তালন্ত সোনা ও দশ লক্ষ তালন্ত রূপা এবং অপরিমেয় ব্রোঞ্জ ও লোহা সংগ্রহ করেছি, বাস্তবিক তা অপরিমেয়; আর কাঠ ও পাথর সংগ্রহ করেছি; এবং তুমি আরও সংগ্রহ করতে পারবে।
15 আর তোমার কাছে অনেক শিল্পকার, পাথর ও কাঠের ছেদক এবং সব রকম কাজ করবার নিপুণ অনেক লোক আছে।
16 সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ ও লোহা অসংখ্য; এখন উঠ, কাজ কর এবং মাবুদ তোমার সহবর্তী হোন।
17
পরে দাউদ তাঁর পুত্র সোলায়মানের সাহায্য করতে ইসরাইলের সমস্ত নেতাকে হুকুম করলেন, বললেন,
18 তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ কি তোমাদের সহবর্তী নন? তিনি কি সমস্ত দিকে তোমাদেরকে বিশ্রাম দেন নি? তিনি তো দেশবাসীদের আমার হাতে দিয়েছেন এবং মাবুদ ও তাঁর লোকদের সম্মুখে দেশ বশীভূত রয়েছে।
19 এখন তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ করতে নিজ নিজ অন্তর ও প্রাণ নিয়োজিত কর, আর উঠ, মাবুদ আল্লাহ্র পবিত্র স্থান নির্মাণ কর, যেন মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক ও আল্লাহ্র পবিত্র সমস্ত পাত্র সেই গৃহে আনা হয়, যা মাবুদের নামের উদ্দেশে নির্মাণ করা যাবে।
1
আর দাউদ বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ হলেন এবং তাঁর পুত্র সোলায়মানকে ইসরাইলের বাদশাহ্ করলেন।
2 তিনি ইসরাইলের সমস্ত নেতা এবং ইমাম ও লেবীয়দেরকে একত্র করলেন।
3 তখন ত্রিশ ও তারচেয়ে বেশি বছর বয়স্ক লেবীয়দের গণনা করা হল; মাথা গণনায় তারা আটত্রিশ হাজার পুরুষ।
4 তাদের মধ্যে চব্বিশ হাজার লোক মাবুদের গৃহের কাজের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হল এবং ছয় হাজার লোক শাসনকর্তা ও বিচারকর্তা,
5 আর চার হাজার লোক দ্বারপাল হিসেবে নিযুক্ত হল; এবং দাউদ প্রশংসার্থে যেসব বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ করেন, তা দ্বারা চার হাজার লোক মাবুদের প্রশংসা করতো।
6 আর দাউদ তাদেরকে গের্শোন, কহাৎ ও মরারি, লেবির এই পুত্রদের বংশানুসারে নানা দলে বিভক্ত করলেন।
7
গের্শোনীয়দের মধ্যে লাদন ও শিমিয়ি।
8 লাদনের সন্তান; প্রধান যিহীয়েল, অপর সেথম ও যোয়েল, এই তিন জন।
9 শিমিয়ির সন্তান শলোমোৎ, হসীয়েল ও হারণ, তিন জন; এরা লাদনের পিতৃকুলপতি।
10 আর শিমিয়ির সন্তান যহৎ, সীন, যিয়ূশ ও বরীয়, শিমিয়ির এই চার সন্তান।
11 তাদের মধ্যে প্রধান যহৎ ও দ্বিতীয় সীষ; কিন্তু যিয়ূশের ও বরীয়ের বহু সন্তান ছিল না, এই কারণে তারা একত্র গণিত হয়ে একটি পিতৃকুল হল।
12
কহাতের পুত্র অম্রাম, যিষহ্র, হেবরন ও ঊষীয়েল, এই চার জন।
13 ইমরানের পুত্র হারুন ও মূসা; আর চিরকাল অতি পবিত্র বস্তু অতি পবিত্র করবার জন্য, মাবুদের সম্মুখে ধূপ জ্বালানো, তার পরিচর্যা এবং তাঁর নামে দোয়া করবার জন্য হারুন ও তাঁর সন্তানদেরকে চিরকালের জন্য পৃথক করা হল।
14 কিন্তু আল্লাহ্র লোক যে মূসা, তাঁর পুত্ররা লেবি বংশের মধ্যে উল্লিখিত হল।
15 মূসার পুত্র গের্শোম ও ইলীয়েষর।
16 গের্শোমের সন্তানদের মধ্যে শবূয়েল প্রধান।
17 আর ইলীয়েষরের সন্তানদের মধ্যে রহবিয় প্রধান ছিল; এই ইলীয়েষরের আর পুত্র ছিল না, কিন্তু রহবীয়ের সন্তানগণ বহুসংখ্যক হল।
18 যিয্হরের সন্তানদের মধ্যে শলোমীৎ প্রধান।
19 হেবরনের পুত্রদের মধ্যে প্রধান যিরিয়, দ্বিতীয় অমরীয়, তৃতীয় যহসীয়েল, চতুর্থ যিকমিয়াম।
20 উষীয়েলের পুত্রদের মধ্যে প্রধান মিকাহ্ ও দ্বিতীয় যিশিয়।
21
মরারির পুত্র মহলি ও মূশি। মহলির পুত্র ইলিয়াসর ও কীশ।
22 ইলিয়াসর ইন্তেকাল, তাঁর পুত্র ছিল না, কেবল কয়েক জন কন্যা ছিল, আর তাদের জ্ঞাতি কীশের পুত্ররা তাদেরকে বিয়ে করলো।
23 মুশির পুত্র মহলি, এদর ও যিরেমোৎ, এই তিন জন।
24
এরা সকলে নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে লেবির বংশ, বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক যাদের নাম ও মাথা অনুসারে গণনা করা হল এবং মাবুদের গৃহের সেবাকর্ম করতো, এরা তাদের পিতৃকুলপতি।
25 কেননা দাউদ বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর লোকদেরকে বিশ্রাম দিয়েছেন এবং তিনি চিরকালের জন্য জেরুশালেমে বাস করেন;
26 আর লেবীয়দেরকেও আজ থেকে শরীয়ত-তাঁবু কিংবা তার সেবাকর্মের সমস্ত পাত্র আর বইতে হবে না।
27 কারণ দাউদের শেষ হুকুমে লেবির সন্তানদের মধ্যে বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোকদের গণনা করা হল।
28 কেননা আল্লাহ্র গৃহের সেবাকর্মের জন্য তাদের পদ হারুন-সন্তানদের অধীন; (তা এই এই বিষয় সম্বন্ধীয়,) প্রাঙ্গণ ও সমস্ত কুঠরী, পবিত্র বস্তুগুলোর পাক-পবিত্রকরণ, আল্লাহ্র গৃহের সেবাকর্ম সম্পাদন,
29 এবং দর্শন-রুটি ও শস্য-উৎসর্গ, খামিহীন পিঠা এবং ভাজবার পাত্রে ভাজা দ্রব্য ও রান্না করা দ্রব্য, এই সমস্ত কিছুর জন্য ময়দা এবং সকল পরিমাণ ও ওজন করা,
30 আর মাবুদের প্রশংসা-গজল ও প্রশংসা করবার জন্য প্রতি খুব ভোরে ও সন্ধ্যাবেলা দণ্ডায়মান হওয়া;
31 এবং মাবুদের সম্মুখে প্রতিনিয়ত পালনীয় বিধিমতে বিশ্রামবার, অমাবস্যা ও ঈদে মাবুদের উদ্দেশে সংখ্যা অনুসারে পোড়ানো-কোরবানী করা;
32 আর তারা যেন জমায়েত-তাঁবুর রক্ষণীয় দ্রব্য ও পবিত্র স্থানের রক্ষণীয় দ্রব্য এবং আল্লাহ্র গৃহের সেবাকর্মের জন্য নিজেদের জ্ঞাতি হারুন-বংশের রক্ষণীয় দ্রব্য রক্ষা করে।
1
হারুন-বংশের পালার কথা। হারুনের পুত্র নাদোব ও অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈথামর।
2 কিন্তু নাদব ও অবীহূ তাদের পিতার আগে ইন্তেকাল করলো এবং তাদের পুত্র ছিল না; অতএব ইলিয়াসর ও ঈথামর ইমাম হলেন।
3 আর দাউদ এবং ইলিয়াসরের বংশজাত সাদোক ও ঈথামরের বংশজাত অহীমেলক ইমামদেরকে সেবাকর্ম সম্পর্কিত যার যার শ্রেণীতে বিভক্ত করলেন।
4 তাতে জানা গেল, পুরুষদের সংখ্যাতে ঈথামরের সন্তানদের চেয়ে ইলিয়াসরের সন্তানদের মধ্যে প্রধান লোক অনেক; আর তাদেরকে এরকম ভাগ করা হল; ইলিয়াসরের সন্তানদের মধ্যে ষোল জন পিতৃকুলপতি ও ঈথামের সন্তানদের মধ্যে আট জন পিতৃকুলপতি হল।
5 পিতৃকুল নির্বিশেষে গুলিবাঁট দ্বারা তাদেরকে ভাগ করা হল, কেননা পবিত্র স্থানের নেতৃবর্গ ও খোদায়ী নেতৃবর্গ ইলিয়াসর ও ঈথামর, উভয়ের সন্তানদের মধ্য থেকে গৃহীত হল।
6 আর বাদশাহ্র, নেতাদের, সাদোক ইমামের, অবিয়াথরের পুত্র অহীমেলকের এবং ইমামের ও লেবীয় পিতৃকুলপতিদের সাক্ষাতে লেবির বংশজাত নথনেলের পুত্র শমরিয় লেখক তাদের নাম লিখলেন; বস্তুত ইলিয়াসরের জন্য একটি ও ঈথামরের জন্য একটি পিতৃকুল বেছে নেওয়া হল।
7
তখন প্রথম গুলিবাঁট যিহোয়ারীবের নামে উঠলো; দ্বিতীয় যিদয়িয়,
8 তৃতীয় হারীমের, চতুর্থ সিয়োরীমের,
9 পঞ্চম মল্কিয়ের, ষষ্ঠ মিয়ামীনের,
10 সপ্তম হক্কোষের, অষ্টম অবিয়ের,
11 নবম যেশূয়ের, দশম শখনিয়ের,
12 একাদশ ইলীয়াশীবের, দ্বাদশ যাকীমের,
13 ত্রয়োদশ হুপ্পের, চতুর্দশ যেশবাবের,
14 পঞ্চদশ বিল্গার, ষোড়শ ইম্মেরের,
15 সপ্তদশ হেষীরের, অষ্টাদশ হপ্পিসেসের,
16 ঊনবিংশ পথাহিয়ের, বিংশ যিহিষ্কেলের,
17 একবিংশ যাখীনের, দ্বাবিংশ গামূলের,
18 ত্রয়োবিংশ দলায়ের, চতুর্বিংশ মাসিয়ের নামে গুলি উঠলো।
19 ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের হুকুম অনুসারে তাদের পিতা হারুন কর্তৃক নির্ধারিত বিধান অনুসারে মাবুদের গৃহে উপস্থিত হবার বিষয়ে তাদের সেবাকর্মের জন্য এই শ্রেণী হল।
20
লেবির অবশিষ্ট সন্তানদের কথা। ইমরানের সন্তানদের মধ্যে শবূয়েল, শবূয়েলের সন্তানদের মধ্যে যেহদিয়।
21 রহবিয়ের কথা; রহবিয়ের সন্তানদের মধ্যে যিশিয় প্রধান।
22 যিষহরীয়দের মধ্যে শলোমোৎ; শলোমোতের সন্তানদের মধ্যে যহৎ।
23 আর হেবরনের পুত্র যিরিয় প্রধান, দ্বিতীয় অমরিয়, তৃতীয় যহসীয়েল, চতুর্থ যিকমিয়াম।
24 উষীয়েলের পুত্র মিকাহ্; মিকাহ্র পুত্রদের মধ্যে শামীর।
25 মিকাহ্র ভাই যিশিয়; যিশিয়ের পুত্রদের মধ্যে জাকারিয়া।
26
মরারির পুত্র মহলি ও মূশি; যাসিয়ের পুত্র বিনো।
27 মরারির সন্তান— যাসিয়ের পুত্র বিনো, শোহম, সক্কুর ও ইব্রি।
28 মহলির পুত্র ইলিয়াসর, তার পুত্র ছিল না।
29 কীশের কথা; কীশের পুত্র যিরহমেল।
30 মূশির পুত্র মহলি, এদর ও যিরেমোৎ। এরা যার যার পিতৃকুল অনুসারে লেবির সন্তান।
31 তাদের ভাই হারুন-সন্তানদের মত এরাও দাউদ বাদশাহ্র, সাদোকের ও অহীমেলকের এবং ইমামের ও লেবীয় পিতৃকুলপতিদের সাক্ষাতে গুলিবাঁট করলো, অর্থাৎ প্রতি-পিতৃকুলের মধ্যে প্রধান লোক ও তার ছোট ভাই একইভাবে গুঁলিবাট করলো।
1
আর দাউদ ও সেনাপতিরা সেবাকর্মের জন্য আসফ, হেমন ও যিদূথূনের কয়েকটি সন্তানকে পৃথক করে বীণা, নেবল ও করতাল সহযোগে ভাবোক্তি গান করার ভার দিলেন। তাদের সেবা-কর্মানুসারে কর্মকারীদের সংখ্যা ছিল:
2 আসফের সন্তানদের কথা; আসফের সন্তান সক্কুর, ইউসুফ, নথনিয় ও অসারেল; আসফের এই সন্তানেরা আসফের অধীন ছিল; ইনি বাদশাহ্র অধীনে ভাবোক্তি বলতেন।
3 যিদূথূনের কথা; যিদূথূনের সন্তান— গদলিয়্, সরী ও শিমিয়ি এবং যিশায়াহ, হশবিয় ও মত্তিথি, এই ছয় জন; এরা বীণা বাদ্যে তাদের পিতা যিদূথূনের সহযোগী ছিল; ইনি মাবুদের প্রশংসা-গজল ও প্রশংসা দ্বারা ভাবোক্তি করতেন।
4 হেমনের কথা; হেমনের সন্তান— বুক্কিয়, মত্তনিয়, উষীয়েল, শবূয়েল ও যিরীমোৎ, হনানিয়, হনানি, ইলীয়াথা, গিদ্দলতি ও রোমামতী-এষর, যশবকাশা, মল্লোথি, হোথীর, মহসীয়োৎ।
5 যে হেমন খোদায়ী কালাম সম্বন্ধে বাদশাহ্র দর্শক ছিলেন, উচ্চধ্বনিতে শৃঙ্গ বাজাবার জন্য তাঁর এসব সন্তান ছিল। আল্লাহ্ হেমনকে চৌদ্দ পুত্র ও তিন কন্যা দিয়েছিলেন।
6 এরা সকলে আল্লাহ্র সেবাকর্মের জন্য করতাল, নেবল ও বীণা দ্বারা মাবুদের গৃহের গান করার জন্য তাদের পিতার সহযোগী ছিলেন; আসফ, যিদূথূন ও হেমন বাদশাহ্র অধীন ছিলেন।
7 মাবুদের উদ্দেশে গীতগানে শিক্ষিত তারা ও তাদের ভাইয়েরা সংখ্যায় সবসুদ্ধ দুই শত অষ্টাশি জন কাওয়ালী পারদর্শী লোক ছিল।
8
পরে তারা ছোট বড় এবং শিক্ষক-ছাত্র সকলে গুলিবাঁট দ্বারা যার যার কর্তব্য স্থির করলো।
9
আর আসফের জন্য ইউসুফের পক্ষে প্রথম দল উঠলো। দ্বিতীয় গদলিয়ের পক্ষে; সে, তার ভাইয়েরা ও পুত্ররা বারো জন।
10 তৃতীয় সক্কুরের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
11 চতুর্থ যিষ্রির পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
12 পঞ্চম নথনিয়ের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
13 ষষ্ঠ বুক্কিয়ের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
14 সপ্তম যিশারেলার পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
15 অষ্টম যিশায়াহের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
16 নবম মত্তনীয়ের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
17 দশম শিমিয়ির পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
18 একাদশ অসরেলের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
19 দ্বাদশ হশবিয়ের পক্ষে; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
20 ত্রয়োদশ শবূয়েল; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
21 চতুর্দশ মত্তিথিয়; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
22 পঞ্চদশ যিরেমোৎ; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
23 ষোড়শ হনানীয়; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
24 সপ্তদশ যশ্বকাশা; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
25 অষ্টাদশ হনানি; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
26 ঊনবিংশ মল্লোথি; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
27 বিংশ ইলীয়াথা; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
28 একবিংশ হোথীর; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
29 দ্বাবিংশ গিদ্দলতি; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
30 ত্রয়োবিংশ মহসীয়োৎ; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
31 চর্তুবিংশ রোমাম্তী-এষর; তার পুত্ররা ও ভাইয়েরা বারো জন।
1
দ্বারপালদের পালার কথা। কারুনীয়দের মধ্যে কোরির পুত্র মশেলিমিয় আসফ-বংশজাত লোক ছিল।
2 মশেলিমিয়ের সন্তান; জাকারিয়া জ্যেষ্ঠ পুত্র, দ্বিতীয় যিদিয়েল, তৃতীয় সবদীয়, চতুর্থ যৎনীয়েল,
3 পঞ্চম ইলাম, ষষ্ঠ যিহোহানন, সপ্তম ইলিহৈনয়।
4 আর ওবেদ-ইদোমের পুত্র ছিল; শমরিয় জেষ্ঠ পুত্র, দ্বিতীয় যিহোষাবদ, তৃতীয় যোয়াহ, চতুর্থ সাখর পঞ্চম নথনেল,
5 ষষ্ঠ অম্মীয়েল, সপ্তম ইষাখর, অষ্টম পিয়ূল্লতয়; কেননা আল্লাহ্ তাকে দোয়া করেছিলেন।
6 তার পুত্র শময়িয়েরও কতগুলো পুত্র জন্মগ্রহণ করলো, তারা তাদের পিতৃকুলে কর্তৃত্ব করলো, কারণ তারা বলবান বীর ছিল।
7 শময়িয়ের পুত্র অৎনি, রফায়েল, ওবেদ, ইল্সাবদ এবং ইলীহূ ও সমথিয় নামে তারা ভাইয়েরা বীরপুরুষ ছিল।
8 এরা সকলে ওবেদ-ইদোমের সন্তান, এরা, এদের পুত্ররা ও ভাইয়েরা সেবাকর্মের জন্য বীরপুরুষ ছিল। এই ওবেদ-ইদোমের বংশজাত বাষট্টি জন ছিল।
9 আর মশেলিমিয়ের পুত্ররা ও ভাইয়েরা আঠার জন বীরপুরুষ ছিল।
10 আর মরারি বংশজাত হোষার পুত্রদের মধ্যে শিম্রি প্রধান ছিল; সে জ্যেষ্ঠ ছিল না, কিন্তু তার পিতা তাকে প্রধান করেছিল;
11 দ্বিতীয় হিল্কিয়, তৃতীয় টবলিয়, চতুর্থ জাকারিয়া; হোষার পুত্ররা ও ভাইয়েরা সবসুদ্ধ তের জন ছিল।
12
দ্বারপালদের পালাগুলো এদের, অর্থাৎ এই প্রধানদের উপর ছিল। নিজেদের ভাইদের মত এরা মাবুদের গৃহে পরিচর্যা করার জন্য দায়িত্ব পেয়েছিল।
13
আর তারা ছোট বড় নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে প্রত্যেক দ্বারের জন্য গুলিবাঁট করলো।
14 তাতে পূর্ব দিকের গুলি শেলিমিয়ের নামে উঠলো; এর পুত্র জাকারিয়া মন্ত্রণাদানে জ্ঞানবান; গুলিবাঁট করলে উত্তর দিকের গুলি তার নামে উঠলো।
15 ওবেদ-ইদোমের নামে দক্ষিণ দিক এবং তার পুত্রদের নামে ভাণ্ডারের গুলি উঠলো।
16 শুপ্পীমের ও হোষার নামে পশ্চিম দিকের উপরের দিকে উঠবার পথের কাছে শল্লেখৎ নামক দ্বারের গুলি উঠলো, তার প্রহরিদলের অভিমুখে প্রহরিদল ছিল।
17 পূর্ব দিকে ছয় জন লেবীয় ছিল, উত্তর দিকে প্রতিদিন চার জন, দক্ষিণ দিকে প্রতিদিন চার জন ও ভাণ্ডারের জন্য দু’জন ছিল।
18 পশ্চিম দিকে উপপুরীর দ্বারে উচ্চপথে চার জন ও উপপুরীতে দু’জন ছিল।
19 কারুনীয় ও মরারীয় বংশজাত লোকদের মধ্যে দ্বারপালদের এসব পালা ছিল।
20
লেবীয়দের কথা। অহিয় মাবুদের গৃহের কোষাধ্যক্ষ ও পবিত্রীকৃত বস্তুগুলোর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
21 লাদন, যিনি গের্শোনের এক জন সন্তান ছিলেন, সেই গের্শোনীয় লাদনের সন্তান যিহীয়েলি ছিলেন পিতৃকুলপতি।
22
যিহীয়েলীর পুত্র সেথম ও তাঁর ভাই যোয়েল, এঁরা মাবুদের গৃহের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
23 অম্রামীয়, যিষ্হরীয় হেবরনীয় ও ঊষীয়েলীয়দের মধ্যে
24 মূসার পুত্র গের্শোনের সন্তান শবূয়েল কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
25 আর তাঁর ভাইয়েরা; ইলীয়ষেরের পুত্র রহবিয়, তার পুত্র যিশায়াহ, তাঁর পুত্র যোরাম, তাঁর পুত্র সিখ্রি, তাঁর পুত্র শলোমোৎ।
26 বাদশাহ্ দাউদ এবং পিতৃকুলপতিরা অর্থাৎ সহস্রপতি শতপতি ও সেনাপতিরা যেসব বস্তু পবিত্র করেছিলেন, শলোমোৎ ও তাঁর ভাইয়েরা সেসব পবিত্রীকৃত বস্তুর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
27 মাবুদের গৃহ মেরামত করবার জন্য ওঁরা যুদ্ধে পাওয়া অনেক বস্তু পবিত্র করেছিলেন।
28 আর শামুয়েল দর্শক, কীশের পুত্র তালুত, নেরের পুত্র অব্নের ও সরূয়ার পুত্র যোয়াব যেসব বস্তু পবিত্র করেছিলেন, যিনি যা পবিত্র করেছিলেন, সেসব বস্তু শলোমোতের ও তাঁর ভাইদের হাতে রইলো।
29
যিষ্হরীয়দের মধ্যে কননিয় ও তাঁর পুত্ররা শাসক ও বিচারকের কাজের জন্য ইসরাইলের উপরে বাইরের কাজে নিযুক্ত হলেন।
30 হেবরনীয়দের মধ্যে হশবিয় ও তার ভাইয়েরা এক হাজার সাত শত বীরপুরুষ মাবুদের সকল কাজে ও বাদশাহ্র সেবাকর্মে জর্ডানের এপারে পশ্চিম দিকে ইসরাইলে নিযুক্ত হল।
31 হেবরনীয়দের পিতৃকুলানুযায়ী বংশাবলিতে যিরিয় হেবরনীয়দের মধ্যে প্রধান ছিল; দাউদের রাজত্বের চল্লিশ বছরে অনুসন্ধান করা গেলে তাদের মধ্যে গিলিয়দস্থ যাসেরে অনেক বলবান বীর পাওয়া গেল।
32 আর তার ভাইয়েরা দুই হাজার সাত শত বীরপুরুষ পিতৃকুলপতি ছিল; তাদেরকে বাদশাহ্ দাউদ আল্লাহ্র ও রাজকীয় সমস্ত কাজ করতে রূবেণীয়, গাদীয় ও মানশার অর্ধবংশের উপরে নিযুক্ত করলেন।
1
বনি-ইসরাইলদের সংখ্যা অনুসারে পিতৃকুলপতি, সহস্রপতি, শতপতি ও কর্মকর্তারা বাদশাহ্র পরিচর্যা করতেন; তাঁরা নানা দলে বিভক্ত হয়ে প্রতি বছরের এক মাসের জন্য কাজে নিযুক্ত হতেন; প্রত্যেক দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
2 প্রথম দলের উপরে প্রথম মাসের জন্য সব্দীয়েলের পুত্র যাশবিয়াম; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল;
3 তিনি পেরসের সন্তানদের মধ্যবর্তী; তিনি প্রথম মাসের জন্য নিযুক্ত সেনাদলের সমস্ত সেনাপতির মধ্যে প্রধান ছিলেন।
4 দ্বিতীয় মাসের দলে অহোহীয় দোদয় ও তাঁর দল; নেতা ছিলেন মিক্লোৎ; এবং তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
5 তৃতীয় মাসের জন্য নিযুক্ত সেনাদলের তৃতীয় সেনাপতি যিহোয়াদা ইমামের পুত্র বনায়, তিনি প্রধান, তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
6 এই বনায় সেই ত্রিশ জনের মধ্যে বলবান ও সেই ত্রিশ জনের উপরে ছিলেন এবং তাঁর দলে তাঁর পুত্র অম্মীষাবাদ ছিল।
7 চতুর্থ মাসের জন্য চতুর্থ সেনাপতি যোয়াবের ভাই অসাহেল ও তাঁর পরে তাঁর পুত্র সবদিয়; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
8 পঞ্চম মাসের জন্য পঞ্চম সেনাপতি যিষ্রাহীয় শমহূৎ; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
9 ষষ্ঠ মাসের জন্য ষষ্ঠ সেনাপতি তকোয়ীয় ইক্কেশের পুত্র ঈরা; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
10 সপ্তম মাসের জন্য সপ্তম সেনাপতি আফরাহীম-বংশের লোকদের কুলজাত পলোনীয় হেলস; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
11 অষ্টম মাসের জন্য অষ্টম সেনাপতি সেরহীয় কুলজাত হূশাতীয় সিব্বখয়, তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
12 নবম মাসের জন্য নবম সেনাপতি বিন্ইয়ামীন-বংশজাত অনাথোতীয় অবীয়েষর; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
13 দশম মাসের জন্য দশম সেনাপতি সেরহীয় কুলজাত নটোফাতীয় মহরয়; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
14 একাদশ মাসের জন্য একাদশ সেনাপতি আফরাহীম-সন্তানদের কুলজাত পিরিয়াথোনীয় বনায়; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
15 বারো মাসের জন্য বারো জন সেনাপতি অৎনীয়েল-কুলজাত নটোফাতীয় হিল্দয়; তাঁর দলে চব্বিশ হাজার লোক ছিল।
16
ইসরাইলের বংশের অধ্যক্ষরা। রূবেণীয়দের কুলে নেতা সিখ্রির পুত্র ইলীয়েষর শিমিয়োনীয়দের কুলে মাখার পুত্র শফটিয়;
17 লেবির কুলে কমূয়েলের পুত্র হশবিয়;
18 হারুনের কুলে সাদোক; এহুদার কুলে দাউদের ভাইদের মধ্যে ইলীহূ; ইষাখরের কুলে মিকাইলের পুত্র অম্রি;
19 সবূলূনের কুলে ওবদিয়ের পুত্র যিশ্ময়; নপ্তালির কুলে অস্রীয়েলের পুত্র যিরেমোৎ;
20 আফরাহীম-বংশের লোকদের কুলে অসসিয়ের পুত্র হোসিয়া; মানশার অর্ধবংশের কুলে পদায়ের পুত্র যোয়েল;
21 গিলিয়দস্থ মানশার অর্ধবংশের কুলে জাকারিয়ার পুত্র যিদ্দো;
22 বিন্ইয়ামীনের কুলে অব্নেরের পুত্র যাসীয়েল; দানের কুলে যিরোহমের পুত্র অসরেল। এঁরা ইসরাইলের বংশের নেতা ছিলেন।
23 কিন্তু দাউদ বিশ বছর ও তারচেয়ে অল্পবয়স্ক লোকদের সংখ্যা গ্রহণ করলেন না; কেননা মাবুদ বলেছিলেন, তিনি আসমানের তারার মত ইসরাইলকে বহু-সংখ্যক করবেন;
24 সরূয়ার পুত্র যোয়াব গণনা করতে আরম্ভ করেছিলেন, কিন্তু সমাপ্ত করেন নি; আর গণনার দরুন ইসরাইলের উপরে গজব পড়েছিল; এবং তাদের সংখ্যা দাউদ বাদশাহ্র ইতিহাস-পুস্তকে লেখা হল না।
25
অদীয়েলের পুত্র অস্মাবৎ বাদশাহ্র কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং ক্ষেত, নগর, গ্রাম ও উচ্চগৃহগুলোতে যেসব ভাণ্ডার ছিল, সেসব ভাণ্ডারের নেতা ছিলেন উষিয়ের পুত্র যোনাথন;
26 ক্ষেতের কৃষাণদের নেতা ছিলেন কলূবের পুত্র ইষ্রি।
27 আঙ্গুর-ক্ষেতগুলোর নেতা ছিলেন রামাথীয় শিমিয়ি; এবং আঙ্গুরক্ষেতস্থ আঙ্গুর-রসের ভাণ্ডারের নেতা ছিলেন শিফমীয় সব্দি।
28 নিম্নভূমিস্থিত জলপাই গাছ ও ডুমুর গাছগুলোর নেতা ছিলেন গদেরীয় বাল-হানন। তৈল-ভাণ্ডারের নেতা ছিলেন যোয়াশ।
29 শারোণে যেসব গরুর পাল চরত, তার নেতা ছিলেন শারোণীয় সিট্রয়। নানা উপত্যকায় গরুর পালের নেতা ছিলেন অদ্লয়ের পুত্র শাফট।
30 উটগুলোর চরাবার লোকদের নেতা ছিলেন ইসমাইলীয় ওবীল। গাধীগুলোর নেতা ছিলেন মেরোণোথীয় যেহদিয়। ভেড়ার পালগুলোর নেতা ছিলেন হাগরীয় যাসীষ।
31 এঁরা দাউদ বাদশাহ্র সম্পত্তির ধনাধক্ষ্য ছিলেন।
32
দাউদের চাচা যোনাথন মন্ত্রী ও বুদ্ধিমান লোক, আর লেখক ছিলেন এবং হক্মোনির পুত্র যিহীয়েল রাজপুত্রদের সেবা করার দায়িত্বে ছিলেন।
33 আর অহীথোফল রাজমন্ত্রী এবং অর্কীয় হূশয় বাদশাহ্র বন্ধু ছিলেন।
34 আর অহীথোফলের পরে বনায়ের পুত্র যিহোয়াদা ও অবিয়াথর রাজমন্ত্রী ছিলেন; এবং যোয়াব বাদশাহ্র সৈন্যদলের সেনাপতি ছিলেন।
1
পরে দাউদ ইসরাইলের সমস্ত কর্মকর্তা অর্থাৎ বংশের কর্মকর্তাদেরকে, পালানুক্রমে বাদশাহ্র পরিচর্যাকারী দলের কর্মচারীদেরকে, সহস্রপতি ও শতপতিদেরকে এবং বাদশাহ্র ও রাজপুত্রদের সমস্ত সম্পত্তি ও পশুপালের ধনাধক্ষ্য ও রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তাদেরকে এবং বীরদেরকে, এমন কি, সমস্ত বলবান বীরকে জেরুশালেমে একত্র করলেন।
2 তখন বাদশাহ্ দাউদ পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমার ভাইয়েরা ও আমার লোকেরা, আমার কথা শুনুন; মাবুদের নিয়ম-সিন্দুকের ও আমাদের আল্লাহ্র পাদপীঠের জন্য একটি বিশ্রাম-গৃহ নির্মাণ করতে আমার মনোবাসনা হয়েছিল এবং আমি তা নির্মাণের আয়োজনও করেছিলাম।
3 কিন্তু আল্লাহ্ আমাকে বললেন, তুমি আমার নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করবে না, কেননা তুমি যুদ্ধের লোক, তুমি রক্তপাত করেছ।
4 যা হোক, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ ইসরাইলের উপরে নিত্য রাজত্ব করার জন্য আমার সমস্ত পিতৃকুল থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন; বস্তুত তিনি নায়ক হিসেবে এহুদাকে ও এহুদার কুলের মধ্যে আমার পিতৃকুলকে মনোনীত করেছেন এবং সমস্ত ইসরাইলে বাদশাহ্ করার জন্য আমার পিতার পুত্রদের মধ্যে আমারই উপরে রহম করেছেন।
5 আবার মাবুদ আমাকে অনেক পুত্র দিয়েছেন, কিন্তু আমার পুত্রদের মধ্যে ইসরাইলের নেতা হিসেবে মাবুদের রাজ-সিংহাসনে বসবার জন্য আমার পুত্র সোলায়মানকে মনোনীত করেছেন।
6 আর তিনি আমাকে বলেছেন, তোমার পুত্র শলোমনই আমার গৃহ ও আমার সমস্ত প্রাঙ্গণ নির্মাণ করবে; কেননা আমি তাকেই আমার পুত্র বলে মনোনীত করেছি, আমিই তার পিতা হবো।
7 আর আজকের মত যদি সে আমার হুকুম ও অনুশাসন পালন করতে তৎপর হয়, তবে আমি তার রাজ্য চিরকালের জন্য স্থায়ী করবো।
8 অতএব এখন মাবুদের সমাজ সমস্ত ইসরাইলের সাক্ষাতে ও আমাদের আল্লাহ্র শ্রুতিযোগ্য করে তোমরা যত্নপূর্বক তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সমস্ত হুকুমের অনুশীলন কর, যেন এই উত্তম দেশের স্বত্ব ভোগ করতে পার এবং তোমাদের পরে তোমাদের সন্তানদের চিরস্থায়ী অধিকার হিসেবে তা রেখে যাও।
9
আর হে আমার পুত্র সোলায়মান, তুমি তোমার পিতার আল্লাহ্কে জ্ঞাত হও এবং একাগ্র অন্তঃকরণে ও ইচ্ছুক মনে তাঁর সেবা কর; কেননা মাবুদ সমস্ত অন্তঃকরণের অনুসন্ধান করেন ও চিন্তার সমস্ত কল্পনা বোঝেন; তুমি যদি তাঁর খোঁজ কর, তবে তিনি তোমাকে তাঁর উদ্দেশ লাভ করতে দেবেন, কিন্তু যদি তাঁকে ত্যাগ কর, তবে তিনি তোমাকে চিরকালের জন্য দূর করবেন।
10 এখন সাবধান হও, কেননা পবিত্র স্থানের জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করতে মাবুদ তোমাকে মনোনীত করেছেন; তুমি বলবান হয়ে কাজ কর।
11
পরে দাউদ তাঁর পুত্র সোলায়মানকে বারান্দার, তার কক্ষগুলোর, ভাণ্ডারগুলোর, উপরিস্থ কুঠরীগুলোর, ভিতর-কুঠরীগুলোর ও গুনাহ্ আবরণ সমন্বিত গৃহের নক্শা দিলেন;
12 রূহের দ্বারা যা যা তাঁর মনে উপস্থিত হয়েছিল, সেই সবগুলোর আদর্শ দিলেন। তন্মধ্যে নির্দিষ্ট বস্তু হচ্ছে এই: মাবুদের গৃহের সমস্ত প্রাঙ্গণ ও চারদিকের সমস্ত কুঠরী, আল্লাহ্র গৃহের ভাণ্ডার ও পবিত্রীকৃত বস্তুর সকল ভাণ্ডার;
13 আর ইমামদের ও লেবীয়দের পালা এবং মাবুদের গৃহ সম্পর্কীয় সেবাকর্মের সমস্ত কাজ ও মাবুদের গৃহ সম্পর্কীয় সেবাকর্মের সমস্ত পাত্র;
14 সোনার পাত্রগুলোর জন্য সমস্ত রকম সেবাকর্মের সমস্ত পাত্রের জন্য পরিমিত সোনা; সমস্ত রূপার পাত্রের সকল প্রকার সেবাকর্মের সমস্ত পাত্রের জন্য পরিমিত রূপা;
15 এবং সোনার প্রদীপ-আসনের ও সোনার প্রদীপ সকলের জন্য, অর্থাৎ সকল প্রদীপ-আসনের ও তৎসম্বন্ধীয় প্রদীপের জন্য পরিমিত সোনা; এবং রূপার প্রদীপ-আসনের, প্রত্যেক প্রদীপ-আসনের ব্যবহার অনুসারে সকল প্রদীপ-আসনের ও তৎসম্বন্ধীয় প্রদীপ-আসনগুলোর জন্য পরিমিত রূপা;
16 এবং দর্শন-রুটির টেবিলগুলোর মধ্যে প্রত্যেক টেবিলের জন্য পরিমিত সোনা এবং রূপার টেবিলগুলোর জন্য রূপা;
17 এবং তিন কাঁটাযুক্ত শূল, বাটি ও জগগুলোর জন্য খাঁটি সোনা; এবং সোনার কটোরাগুলোর মধ্যে প্রত্যেক কটোরার জন্য পরিমিত সোনা; এবং রূপার কটোরাগুলোর মধ্যে প্রত্যেক কটোরার জন্য পরিমিত রূপা;
18 এবং ধূপগাহের জন্য পরিমিত খাঁটি সোনা; এবং বাহনের অর্থাৎ যে কারুবীদ্বয় পাখা মেলে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক আচ্ছাদন করেছিল, তাদের নক্শার জন্য সোনা।
19 দাউদ বললেন, এ সব মাবুদের হস্তচালন ক্রমে রচিত লিপি; তিনি আর্দশের সমস্ত কাজ আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
20
পরে দাউদ তাঁর পুত্র সোলায়মানকে বললেন, তুমি বলবান হও, সাহস কর, কাজ কর; ভয় করো না, নিরাশ হয়ো না, কেননা মাবুদ আল্লাহ্, আমার আল্লাহ্, তোমার সহবর্তী; মাবুদের গৃহবিষয়ক কাজের সমস্ত রচনা যতক্ষণ সমাপ্ত না হয়, ততক্ষণ তিনি তোমাকে ছাড়বেন না, তোমাক ত্যাগ করবেন না।
21 আর দেখ, আল্লাহ্র এবাদতখানা সম্পর্কিত সমস্ত সেবাকর্মের জন্য ইমাম ও লেবীয়দের পালা আছে এবং সমস্ত কাজের জন্য সুনিপুণ ও ইচ্ছুক লোকেরাও সমস্ত কাজে তোমার সহবর্তী হবে; আর নেতৃবর্গ ও সমস্ত লোক তোমার সমস্ত হুকুম মানবে।
1
পরে বাদশাহ্ দাউদ সমস্ত সমাজকে বললেন, আল্লাহ্ কেবল আমার পুত্র সোলায়মানকে মনোনীত করেছেন, সে এখনও অল্পবয়স্ক ও কোমল, আর এই কাজ অতি মহৎ, কেননা এই প্রাসাদ মানুষের জন্য নয়, কিন্তু মাবুদ আল্লাহ্র জন্য।
2 আর আমার যতটা ক্ষমতা আছে, সেই অনুসারে আমি আমার আল্লাহ্র গৃহের জন্য সোনার জিনিসের জন্য সোনা, রূপার জিনিসের জন্য রূপা, ব্রোঞ্জের জিনিসের জন্য ব্রোঞ্জ, লোহার জিনিসের জন্য লোহা ও কাঠের জিনিসের জন্য কাঠ এবং গোমেদক মণি, খচনার্থক মণি, উজ্জ্বল পাথর ও নানা রংয়ের পাথর এবং সমস্ত রকম বহুমূল্য পাথর ও মার্বেল পাথর প্রচুররূপে সংগ্রহ করেছি।
3 আবার সেই পবিত্র গৃহের জন্য যা যা আয়োজন করেছি, তা ছাড়া আমার নিজস্ব সোনা ও রূপার ধনও আছে; আমার আল্লাহ্র গৃহের প্রতি অনুরাগ বশত আমি আমার আল্লাহ্র গৃহের জন্য তাও দিলাম;
4 ফলত গৃহদ্বয়ের সমস্ত দেয়াল আচ্ছাদিত করার জন্য তিন হাজার তালন্ত সোনা, ওফীরের সোনা ও সাত হাজার তালন্ত খাঁটি রূপা দিলাম;
5 সোনার জিনিসের জন্য সোনা ও রূপার জিনিসের জন্য রূপা এবং শিল্পকারদের হাত দিয়ে যা যা করা যাবে, তার জন্যও দিলাম। ভাল, আজ কে মাবুদের উদ্দেশে নিজেকে পবিত্র করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক দান করে?
6
তখন পিতৃকুলপতিরা, ইসরাইলের বংশের নেতা, সহস্রপতিরা, শতপতি ও বাদশাহ্র কার্যাধ্যক্ষরা ইচ্ছাপূর্বক দান করলেন।
7 তাঁরা আল্লাহ্র গৃহের কাজের জন্য পাঁচ হাজার তালন্ত সোনা, অদর্কোন নামে দশ হাজার সোনামুদ্রা, দশ হাজার তালন্ত রূপা, আঠার হাজার তালন্ত ব্রোঞ্জ ও এক লক্ষ তালন্ত লোহা দিলেন।
8 আর যাদের কাছে মণি পাওয়া গেল, তারা গের্শোনীয় যিহীয়েলের হাতে মাবুদের গৃহের ভাণ্ডারের জন্য তা দিল।
9 তাতে লোকেরা ইচ্ছাপূর্বক দান করতে পেরে আনন্দ করলো, কেননা তারা একাগ্রচিত্তে মাবুদের উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্বক দান করলো এবং দাউদ রাজাও মহানন্দে আনন্দ করলেন।
10
আর দাউদ সমস্ত সমাজের সাক্ষাতে মাবুদের শুকরিয়া করলেন। দাউদ বললেন, হে মাবুদ তোমার প্রশংসা হোক, আমাদের পূর্বপুরুষ ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত আছ।
11 হে মাবুদ, মহত্ত্ব, পরাক্রম, গৌরব, জয় ও মহিমা তোমারই; কেননা বেহেশতে ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে সবই তোমার; হে মাবুদ রাজ্য তোমারই এবং তুমি সকলের মস্তকরূপে উন্নত।
12 তোমা থেকে ধন ও গৌরব আসে এবং তুমি সকলের উপরে কর্তৃত্ব করছো; তোমারই হাতে বল ও পরাক্রম এবং তোমারই হাতে সকলকে মহত্ত্ব ও শক্তি দেবার অধিকার।
13 আর এখন, হে আমাদের আল্লাহ্, আমরা তোমার প্রশংসা করছি, তোমার গৌরবান্বিত নামের প্রশংসা করছি।
14
কিন্তু আমি কে, আমার লোকেরাই বা কে যে আমরা এভাবে ইচ্ছাপূর্বক দান করতে সমর্থ হই? সমস্তই তো তোমা থেকে আসে এবং তোমার হাত থেকে যা পেয়েছি, তা-ই তোমাকে দিলাম।
15 কেননা আমাদের সমস্ত পূর্বপুরুষ যেমন ছিলেন, তেমনি আমরাও তোমার সম্মুখে বিদেশী ও প্রবাসী, দুনিয়াতে আমাদের আয়ু ছায়ার মত ও আশাবিহীন।
16 হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তোমার পবিত্র নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করার জন্য আমরা এই যে দ্রব্যরাশির আয়োজন করেছি, এসব তোমার হাত হতেই এসেছে এবং সবই তোমার।
17 আর আমি জানি, হে আমার আল্লাহ্, তুমি অন্তঃকরণের পরীক্ষা করে থাক ও তুমি সরলতায় খুশি হও; আমি আমার অন্তঃকরণের সরলতায় ইচ্ছাপূর্বক এসব দ্রব্য দিলাম এবং এখন এই স্থানে সমাগত তোমার লোকদেরকেও আনন্দ সহকারে তোমার উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্বক দান করতে দেখলাম।
18 হে মাবুদ, আমাদের পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি তোমাদের লোকদের অন্তঃকরণের চিন্তামানসে এই রকম ভাব চিরস্থায়ী করে রাখ ও তোমার প্রতি তাদের অন্তঃকরণ স্থির কর।
19 আর আমার পুত্র সোলায়মানকে একাগ্র চিত্ত দাও, যেন সে তোমার হুকুম ও তোমার নির্দেশ ও বিধিগুলো পালন করতে ও এ সব কাজ করতে পারে এবং আমি যে প্রাসাদের জন্য আয়োজন করেছি তা নির্মাণ করতে পারে।
20
পরে দাউদ সমস্ত সমাজকে বললেন, এখন তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর। তাতে সমস্ত সমাজ তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রশংসা করলো এবং মাথা নত করে মাবুদ ও বাদশাহ্কে সালাম করলো।
21 আর তারা পর দিনে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করলো ও মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী দিল, অর্থাৎ এক হাজার বলদ, এক হাজার ভেড়া, এক হাজার ভেড়ার বাচ্চা ও সেই সবের পানীয় নৈবেদ্য সমস্ত ইসরাইলের জন্য কোরবানী করলো।
22
সেদিন মহানন্দে মাবুদের সাক্ষাতে ভোজন পান করলো। আর তারা দাউদের পুত্র সোলায়মানকে দ্বিতীয় বার বাদশাহ্ বলে স্বীকার করলো; এবং তাঁকে নায়ক ও সাদোককে ইমাম করে মাবুদের উদ্দেশে অভিষেক করলো।
23
তাতে সোলায়মান তাঁর পিতা দাউদের পদে বাদশাহ্ হয়ে মাবুদের সিংহাসনে উপবেশন করলেন ও কৃতকার্য হলেন এবং সমস্ত ইসরাইল তাঁর বাধ্য হল।
24 নেতৃবর্গরা ও বীরেরা সবাই এবং দাউদ বাদশাহ্র সমস্ত পুত্র ও বাদশাহ্ সোলায়মানের অধীনতা স্বীকার করলেন।
25 আর মাবুদ সমস্ত ইসরাইলের দৃষ্টিতে সোলায়মানকে অতিশয় মহান করলেন এবং তাঁকে এমন রাজপ্রতাপ দিলেন, যা আগে ইসরাইলের কোন বাদশাহ্ পানি নি।
26
ইয়াসিরের পুত্র দাউদ সমস্ত ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করেছিলেন।
27 তিনি চল্লিশ বছর কাল ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করলেন; সাত বছর হেবরনে ও তেত্রিশ বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন।
28 পরে তিনি আয়ু, ধন ও গৌরবে পরিপূর্ণ হয়ে বৃদ্ধাবস্থায় মহৎ ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পুত্র সোলায়মান তাঁর পদে রাজত্ব করতে লাগলেন;
29 আর দেখ, শামুয়েল দর্শকের কিতাবে, নাথন নবীর কিতাবে ও গাদ দর্শকের কিতাবে বাদশাহ্ দাউদের আদ্যোপান্ত কাজের বৃত্তান্ত,
30 তাঁর সমস্ত রাজত্বের ও বিক্রমের বিবরণ এবং তাঁর ও ইসরাইলের এবং দেশীয় সকল রাজ্যের উপর দিয়ে যেসব সময় অতিক্রান্ত হয়েছিল, সেসব বিষয়ের কথা লেখা আছে।
1
সেই সময় দাউদের পুত্র সোলায়মান নিজের রাজ্যে নিজেকে শক্তিশালী করলেন এবং তাঁর আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর সহবর্তী থেকে তাঁকে অতিশয় মহান করলেন।
2 পরে সোলায়মান সমস্ত ইসরাইলের অর্থাৎ সহস্রপতি, শতপতি, বিচারকর্তা ও সমস্ত ইসরাইলের যাবতীয় নেতৃবর্গের কুলপতিদের সঙ্গে কথা বললেন।
3 তাতে সোলায়মান ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত সমাজ গিবিয়োনস্থ উচ্চস্থলীতে গেলেন; কেননা মাবুদের গোলাম মূসা মরুভূমিতে যা নির্মাণ করেছিলেন, খোদায়ী সেই জমায়েত-তাঁবু সেই স্থানে ছিল।
4 কিন্তু আল্লাহ্র সিন্দুক দাউদ কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে, দাউদ তার জন্য যে স্থান প্রস্তুত করেছিলেন সেই স্থানে এনেছিলেন, কেননা তিনি তার জন্য জেরুশালেমে একটি তাঁবু স্থাপন করেছিলেন।
5 আর হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেল যে ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্ তৈরি করেছিলেন তা মাবুদের শরীয়ত-তাঁবুর সম্মুখে ছিল; আর সোলায়মান ও সমাজের সমস্ত লোক সেই স্থানে এবাদত করলেন।
6 তখন সোলায়মান ঐ স্থানে জমায়েত-তাঁবুর সমীপস্থ ব্রোঞ্জের কোরবানগাহে মাবুদের সম্মুখে কোরবানী দিলেন, এক হাজার পোড়ানো-কোরবানী দিলেন।
7
সেই রাত্রে আল্লাহ্ সোলায়মানকে দর্শন দিয়ে বললেন, যাচ্ঞা কর, আমি তোমাকে কি দেব?
8 তখন সোলায়মান আল্লাহ্কে বললেন, তুমি আমার পিতা দাউদের প্রতি মহা অটল মহব্বত প্রকাশ করেছ, আর তাঁর পদে আমাকে বাদশাহ্ করেছ।
9 এখন, হে মাবুদ আল্লাহ্, তুমি আমার পিতা দাউদের কাছে যে কথা বলেছ, তা কার্যকর হোক; কেননা তুমিই দুনিয়ার ধূলিকণার মত বহুসংখ্যক একটি জাতির উপরে আমাকে বাদশাহ্ করেছ।
10 আমি যেন এই লোকদের সাক্ষাতে বাইরে যেতে ও ভিতরে আসতে পারি, সেজন্য এখন আমাকে বুদ্ধি ও জ্ঞান দাও; কারণ তোমার এমন মহা লোকবৃন্দের বিচার করা কার সাধ্য?
11 তখন আল্লাহ্ সোলায়মানকে বললেন, এ-ই তোমার মনে উদয় হয়েছে; তুমি ঐশ্বর্য, সম্পত্তি, গৌরব কিংবা দুশমনদের প্রাণ যাচ্ঞা কর নি, দীর্ঘায়ুও যাচ্ঞা কর নি; কিন্তু আমি আমার যে লোকদের উপরে তোমাকে বাদশাহ্ করেছি, তুমি তাদের বিচার করতে নিজের জন্য বুদ্ধি ও জ্ঞান যাচ্ঞা করেছ।
12 বুদ্ধি ও জ্ঞান তোমাকে দেওয়া হল; এছাড়া, তোমার আগে কোন বাদশাহ্র যে রকম হয় নি এবং তোমার পরেও যে রকম হবে না, সেই রকম ঐশ্বর্য সম্পত্তি ও গৌরব আমি তোমাকে দেব।
13 পরে সোলায়মান গিবিয়োনের উচ্চস্থলী থেকে, জমায়েত-তাঁবুর সম্মুখ থেকে জেরুশালেমে আসলেন, আর ইসরাইলে রাজত্ব করতে থাকলেন।
14
আর সোলায়মান অনেক রথ ও ঘোড়সওয়ার সংগ্রহ করলেন; তাঁর এক হাজার চার শত রথ ও বারো হাজার ঘোড়সওয়ার ছিল; আর সেসব তিনি রথ-নগরগুলোতে এবং জেরুশালেমে বাদশাহ্র কাছে রাখতেন।
15 বাদশাহ্ জেরুশালেমে রূপা ও সোনাকে পাথরের মত এবং এরস কাঠকে নিম্নভূমিস্থ ডুমুর গাছের মত প্রচুর করলেন।
16 আর সোলায়মানের সমস্ত ঘোড়া মিসর থেকে আনা হত, বাদশাহ্র বণিকেরা দল হিসেবে মূল্য দিয়ে পালে পালে ঘোড়া পেত।
17 আর মিসর থেকে ক্রয় করে আনা এক এক রথের মূল্য ছয় শত শেকল রূপা ও এক এক ঘোড়ার মূল্য এক শত পঞ্চাশ শেকল ছিল। এভাবে ওদের দ্বারা সমস্ত হিট্টিয় বাদশাহ্ ও অরামীয় বাদশাহ্র জন্যও ঘোড়া আনা হত।
1
পরে সোলায়মান মাবুদের নামের উদ্দেশে একটি গৃহ ও তাঁর রাজ্যের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করতে স্থির করলেন;
2 আর সোলায়মান ভার বইতে সত্তর হাজার লোক, পর্বতে কাঠ কাটতে আশী হাজার লোক ও তাদের নেতা হিসেবে তিন হাজার ছয় শত লোক নিযুক্ত করলেন।
3
আর সোলায়মান টায়ারের বাদশাহ্ হূরমের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, আপনি আমার পিতা দাউদের প্রতি যেরকম ব্যবহার করেছিলেন ও তাঁর বাসগৃহ নির্মাণ করার জন্য তাঁর কাছে যেমন এরস কাঠ পাঠিয়েছিলেন, তেমনি আমার জন্যও করুন।
4 দেখুন, আমি আমার আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করতে উদ্যত হয়েছি; তাঁর সম্মুখে সুগন্ধি দ্রব্য জ্বালাবার জন্য, নিত্য দর্শন-রুটির জন্য এবং প্রতি প্রাতে ও সন্ধ্যাবেলা, বিশ্রামবারে, অমাবস্যায় ও আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সকল ঈদে পোড়ানো-কোরবানী জন্য তা পবিত্র করবো। এসব কাজ ইসরাইলের নিত্য কর্তব্য।
5 আর আমি যে গৃহ নির্মাণ করবো তা মহৎ হবে, কেননা আমাদের আল্লাহ্ সকল দেবতা থেকে মহান।
6 কিন্তু তাঁর জন্য গৃহ নির্মাণ করতে কে সমর্থ? কেননা বেহেশত এবং বেহেশতের বেহেশতও তাঁকে ধারণ করতে পারে না; তবে আমি কে যে, তাঁর উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করি? কেবল তাঁর সম্মুখে ধূপ জ্বালাবার স্থান নির্মাণ করতে পারি।
7 অতএব আমার পিতা দাউদ কর্তৃক নিযুক্ত যে জ্ঞানবান লোকেরা এহুদা ও জেরুশালেমে আমার কাছে আছে, তাদের সঙ্গে সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ, লোহা এবং বেগুনে, রক্ত ও নীল রংয়ের সুতার কাজ করণে ও সব রকম খোদাই করবার কাজে নিপুণ এক জনকে পাঠাবেন।
8 আর লেবানন থেকে এরস কাঠ, দেবদারু কাঠ ও আল্গুম কাঠ আমার এখানে পাঠাবেন; কেননা আমি জানি, আপনার গোলামেরা লেবাননে কাঠ কাটতে নিপুণ; আর দেখুন, আমার গোলামেরাও আপনার গোলামদের সঙ্গে থাকবে।
9 আমার জন্য প্রচুর কাঠ প্রস্তুত করতে হবে, কেননা আমি যে গৃহ নির্মাণ করবো তা মহৎ ও আশ্চর্য হবে।
10 আর দেখুন, আমি আপনার গোলামদেরকে, যে কাঠুরিয়ারা গাছ কাটবে, তাদেরকে বিশ হাজার কোর্ মাড়াই করা গম, বিশ হাজার কোর্ যব, বিশ হাজার বাৎ আঙ্গুর-রস ও বিশ হাজার বাৎ তেল দেব।
11
পরে টায়ারের বাদশাহ্ হূরম সোলায়মানের কাছে এই উত্তর লিখে পাঠালেন, মাবুদ তাঁর নিজের লোকদেরকে মহব্বত করেন, এজন্য তাদের উপরে আপনাকে বাদশাহ্ করেছেন।
12 হূরম আরও বললেন, মাবুদ ধন্য হোন, ইসরাইলের আল্লাহ্, বেহেশত ও দুনিয়ার নির্মাণকর্তা, যিনি বাদশাহ্ দাউদকে সুক্ষ্মদর্শী ও বুদ্ধিমান একটি বিজ্ঞ পুত্র দিয়েছেন, সেই পুত্র মাবুদের জন্য একটি গৃহ ও নিজের রাজ্যের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করবেন।
13
এখন আমি হূরম-আবি নামক এক জন জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান লোককে পাঠালাম।
14 সে দান-বংশীয়া এক জন স্ত্রীর পুত্র, তার পিতা টায়ারের লোক; সে সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ, লোহা, পাথর ও কাঠ এবং বেগুনে, নীল, মসীনা সুতার ও লাল রংয়ের সুতার কাজ করতে সিদ্ধহস্ত। আর সে সব রকম খোদাই কাজ করতে ও সব রকম কল্পনার কাজ প্রস্তুত করতে সিদ্ধহস্ত। তাকে আপনার কার্যনিপুণ লোকদের সঙ্গে এবং আপনার পিতা আমার মালিক দাউদের কার্যনিপুণ লোকদের সঙ্গে স্থান দেওয়া যাক।
15 অতএব আমার প্রভু যে গম, যব, তেল ও আঙ্গুর-রসের কথা বলেছেন, তা আপনার গোলামদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
16 আর আপনার যত কাঠের প্রয়োজন হবে, আমরা লেবাননে তত কাঠ কাটব এবং ভেলা বেঁধে সমুদ্রপথে যাফোতে আপনার জন্য পৌঁছে দেব; পরে আপনি তা জেরুশালেমে নিয়ে যাবেন।
17
আর সোলায়মান তাঁর পিতা দাউদের গণনার পরে ইসরাইল দেশের সমস্ত প্রবাসী লোক গণনা করালেন, তাতে এক লক্ষ তিপ্পান্ন হাজার ছয় শত লোক পাওয়া গেল।
18 তাদের মধ্যে তিনি ভার বইতে সত্তর হাজার লোক, পর্বতে কাঠ কাটতে আশি হাজার লোক ও লোকদেরকে কাজ করাবার জন্য তিন হাজার ছয় শত নেতা নিযুক্ত করলেন।
1
পরে সোলায়মান জেরুশালেমে মোরিয়া পর্বতে মাবুদের গৃহ নির্মাণ করতে আরম্ভ করলেন। মাবুদ সেই স্থানে তাঁর পিতা দাউদকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং দাউদ সেই স্থান নির্ধারণ করেছিলেন; তা যিবূষীয় অরৌণার খামার।
2 তিনি তাঁর রাজত্বের চতুর্থ বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় দিনে নির্মাণ কাজ আরম্ভ করলেন।
3 সোলায়মান আল্লাহ্র এবাদতখানা নির্মাণ করতে যে মূল উপদেশ পেয়েছিলেন, সেই অনুসারে হাতের প্রাচীন পরিমাপ অনুসারে গৃহের লম্বা ষাট হাত ও চওড়া বিশ হাত করা হল।
4 আর গৃহের সম্মুখস্থ বারান্দা গৃহের প্রস্থানুসারে বিশ হাত লম্বা ও এক শত বিশ হাত উঁচু হল; আর তিনি ভিতরে তা খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
5 তিনি প্রধান কক্ষের দেয়াল দেবদারু কাঠ দিয়ে ঢেকে দিলেন ও উত্তম সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন ও তার উপরে খেজুর গাছ ও শিকলের আকৃতি করলেন।
6 আর শোভার জন্য গৃহটি মূল্যবান পাথর দিয়ে অলঙ্কৃত করলেন; ঐ সোনা ছিল পর্বয়িম দেশ থেকে আনা সোনা।
7 আর তিনি গৃহ, গৃহের কড়িকাঠ, চৌকাঠ, দেয়াল ও দরজা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন এবং দেয়ালের উপরে কারুবীর আকৃতি করে খোদাই করলেন।
8
আর তিনি মহা পবিত্র স্থানটি নির্মাণ করলেন। সেটি লম্বায় গৃহের চওড়া অনুসারে বিশ হাত চওড়া ও বিশ হাত লম্বা; এবং তিনি ছয় শত তালন্ত উত্তম সোনা দিয়ে তা মুড়িয়ে দিলেন।
9 প্রেকের পরিমাণ পঞ্চাশ শেকল সোনা। তিনি উপরিস্থ কুঠরীগুলোও সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
10
অতি পবিত্র গৃহের মধ্যে তিনি খোদাই কাজ দ্বারা দু’টি কারুবী নির্মাণ করলেন; আর তা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হল।
11 এই কারুবী দু’টি পাখা বিশ হাত লম্বা, একটির পাঁচ হাত লম্বা একটি পাখা গৃহের দেয়াল স্পর্শ করলো এবং পাঁচ হাত লম্বা অন্য পাখা দ্বিতীয় কারুবীর পাখা স্পর্শ করলো।
12 সেই কারুবীর পাঁচ হাত লম্বা প্রথম পাখা গৃহের দেয়াল স্পর্শ করলো এবং পাঁচ হাত লম্বা দ্বিতীয় পাখা ঐ কারুবীর পাখা স্পর্শ করলো।
13 সেই কারুবী দু’টির চারটি পাখার মেলে দেওয়ার মাপ বিশ হাত, তারা পায়ের উপর দাঁড়ানো ছিল এবং তাদের মুখ গৃহের দিকে ছিল।
14
আর তিনি নীল, বেগুনে ও লাল রংয়ের এবং মসীনা সুতা দিয়ে তৈরি পর্দা প্রস্তুত করলেন ও তাতে কারুবীর আকৃতি করলেন।
15 আর তিনি গৃহের সম্মুখে পঁয়ত্রিশ হাত উঁচু দুইটি স্তম্ভ করলেন, এক একটি স্তম্ভের উপরে যে মাথলা তা পাঁচ হাত উঁচু হল।
16 আর তিনি গৃহের অভ্যন্তরে শিকল করে সেই স্তম্ভের মাথায় দিলেন এবং এক শত ডালিমের আকৃতি করে ঐ শিকলের উপরে রাখলেন।
17 সেই দু’টি স্তম্ভ তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসের সম্মুখে স্থাপন করলেন, একটা ডানে ও অন্যটা বামে রাখলেন এবং যেটি ডানে, সেটির নাম যাখীন (তিনি স্থির করবেন) ও যেটি বামে, সেটির নাম বোয়স (এতেই বল) রাখলেন।
1
আর তিনি ব্রোঞ্জের একটি কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন, তার লম্বা বিশ হাত চওড়া বিশ হাত ও উচ্চতা দশ হস্ত।
2
আর তিনি ছাঁচে ঢালা গোলাকার সমুদ্রপাত্র তৈরি করলেন; সেটির এক কানা থেকে অন্য কাণা পর্যন্ত দশ হাত ও তার উচ্চতা পাঁচ হাত এবং তাঁর পরিধি ত্রিশ হাত ছিল।
3 তার চারদিকে তার নিচে সমুদ্রপাত্র বেষ্টনকারী বলদের আকৃতি ছিল, প্রতি হাত পরিমাণ জায়গার মধ্যে দশ দশটি আকৃতি ছিল; পাত্র ঢালবার সময়ে সেই গরুর আকৃতির দুই শ্রেণী ছাঁচে ঢালা গিয়েছিল।
4 ঐ পাত্র বারোটি গরুর উপরে স্থাপিত ছিল, তাদের তিনটি উত্তরমুখ, তিনটি পশ্চিমমুখ, তিনটি দক্ষিণমুখ ও তিনটি পূর্বমুখ ছিল এবং সমুদ্রপাত্র তাদের উপরে রইলো; তাদের সকলের পশ্চাদ্ভাগ ভিতরে থাকলো।
5 ঐ পাত্র চার আঙ্গুল পুরু ও তার কানা পাত্রের কানার মত, শোষণ ফুলের আকার ছিল, তাতে তিন হাজার বাৎ পানি ধরতো।
6
আর তিনি দশটি ধোবার পাত্র তৈরি করলেন এবং ধোবার জন্য তার পাঁচটা ডানে ও পাঁচটা বামে স্থাপন করলেন; তার মধ্যে তারা পোড়ানো-কোরবানীর সামগ্রী ধুয়ে নিত, কিন্তু সমুদ্রপাত্র ইমামদের হাত-পা ধোবার জন্য ছিল।
7
আর তিনি বিধি মতে সোনার দশটি প্রদীপ-আসন তৈরি করে বায়তুল মোকাদ্দসে স্থাপন করলেন, তার পাঁচটি দক্ষিণ দিকে ও পাঁচটি উত্তর দিকে রাখলেন।
8 আর তিনি দশখানি টেবিলও তৈরি করলেন, তাঁর পাঁচখানি ডানে ও পাঁচখানি বামে বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে রাখলেন। আর তিনি এক শত সোনার বাটিও তৈরি করলেন।
9 আর তিনি ইমামদের প্রাঙ্গণ, বড় প্রাঙ্গণ ও প্রাঙ্গণের সমস্ত দরজা নির্মাণ করলেন ও তার কবাটগুলো ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন।
10 আর সমুদ্রপাত্র দক্ষিণ পাশে পূর্ব দিকে দক্ষিণ দিকের সম্মুখে স্থাপন করলেন।
11
আর হূরম পাত্র, হাতা ও সমস্ত বাটি তৈরি করলো। এভাবে হূরম বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য আল্লাহ্র গৃহের যে কাজে প্রবৃত্ত হয়েছিল তা সমাপ্ত করলো।
12 অর্থাৎ দুই স্তম্ভ ও সেই দুই স্তম্ভের উপরিস্থ গোলাকার ও মাথলা এবং সেই স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলার দুই গোলাকার আচ্ছাদন করার দুই জালকার্য,
13 এবং দুই জালকার্যের জন্য চারশত ডালিমের আকার, অর্থাৎ স্তম্ভের উপরিস্থ মাথলার দুই গোলাকার আচ্ছাদন করার এক এক জালকার্যের জন্য দুই শ্রেণী ডালিমের আকার করলো।
14 আর সে সমস্ত পীঠ নির্মাণ করলো এবং সেই পীঠের উপরে সমস্ত ধোবার পাত্র তৈরি করলো;
15 একটি সমুদ্রপাত্র ও তার নিচে বারোটি গরু;
16 এবং পাত্র, হাতা ও তিন কাঁটাযুক্ত শূল এবং অন্য সমস্ত পাত্র হূরম-আবি বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য মাবুদের গৃহের জন্য উজ্জ্বল ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করলো।
17 বাদশাহ্ জর্ডানের অঞ্চলে সুক্কোৎ ও সরেদার মধ্যস্থিত কাদা মাটিতে তা ঢালাই করলেন।
18 আর সোলায়মান এই যেসব পাত্র নির্মাণ করলেন, তা প্রচুর, কেননা ব্রোঞ্জের পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
19
সোলায়মান আল্লাহ্র গৃহস্থিত সমস্ত পাত্র এবং সোনার ধূপগাহ্ ও দর্শন-রুটি রাখার টেবিল,
20 এবং গৃহের অভ্যন্তরের সম্মুখে বিধিমতে জ্বালাবার জন্য খাঁটি সোনার সমস্ত বাতিদান,
21 এবং ফুল, প্রদীপ ও সমস্ত চিমটা সোনা দিয়ে তৈরি করলেন, সেই সোনা বিশুদ্ধ;
22 আর কর্তরী, বাটি, চামচ ও অঙ্গারপাত্র খাঁটি সোনা দিয়ে এবং গৃহের দরজা, মহা-পবিত্র স্থানের ভিতরের দরজা ও গৃহের অর্থাৎ বায়তুল-মোকাদ্দসের সমস্ত দরজা সোনা দিয়ে তৈরি করলেন।
1
এভাবে মাবুদের গৃহের জন্য সোলায়মানের কৃত সমস্ত কাজ সম্পন্ন হল। আর সোলায়মান তাঁর পিতা দাউদের পবিত্রীকৃত সমস্ত দ্রব্য অর্থাৎ রূপা, সোনা ও সমস্ত পাত্র আনিয়ে আল্লাহ্র গৃহস্থিত ভাণ্ডারে রাখলেন।
2
পরে সোলায়মান দাউদ নগর অর্থাৎ সিয়োন থেকে মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক উঠিয়ে আনবার জন্য ইসরাইলের প্রাচীনবর্গ ও সমস্ত গোষ্ঠীপতিকে, অর্থাৎ বনি-ইসরাইলদের পিতৃকুলের নেতৃবর্গকে জেরুশালেমে একত্র করলেন।
3 তাতে সপ্তম মাসে ঈদের সময়ে ইসরাইলের সমস্ত লোক বাদশাহ্র কাছে একত্র হল।
4 পরে ইসরাইলের সমস্ত প্রাচীনবর্গ উপস্থিত হলে লেবীয়েরা সিন্দুকটি উঠাল।
5 আর তারা সিন্দুক, জমায়েত-তাঁবু ও তাঁবুর মধ্যস্থিত সমস্ত পবিত্র পাত্র উঠিয়ে আনলো; লেবীয় ইমামেরা এসব উঠিয়ে আনলো।
6 আর বাদশাহ্ সোলায়মান এবং তাঁর কাছে সমাগত সমস্ত ইসরাইলদের মধ্য সিন্দুকের সম্মুখে থেকে অনেক ভেড়া ও গরু কোরবানী করলেন, সেসব এত বেশি ছিল, যে তা গণনা করা গেল না।
7 পরে ইমামেরা মাবুদের নিয়ম সিন্দুক নিয়ে গিয়ে স্বস্থানে, গৃহের অন্তর্গৃহে, মহা-পবিত্র স্থানে, দুই কারুবীর পাখার নিচে স্থাপন করলো।
8 কারুবী দু’টি সিন্দুকের স্থানের উপরে পাখা মেলে রইলো, আর উপরে কারুবীরা সিন্দুক ও তার দু’টি বহন-দণ্ড আচ্ছাদন করে রইলো।
9 সেই দুই বহন-দণ্ড এমন লম্বা ছিল যে, তার অগ্রভাগ সিন্দুকের আগে অন্তর্গৃহের সম্মুখ থেকে দেখা যেত, তবুও তা বাইরে থেকে দেখা যেত না; আজ পর্যন্ত তা সেই স্থানে আছে।
10 সিন্দুকের মধ্যে আর কিছু ছিল না, কেবল সেই দু’খানা পাথর-ফলক ছিল, যা মূসা হোরেবে তার মধ্যে রেখেছিলেন; সেই সময়ে মিসর থেকে বনি-ইসরাইলদের বের হয়ে আসার পর, মাবুদ তাদের সঙ্গে নিয়ম করেছিলেন।
11
বাস্তবিক ইমামেরা পবিত্র স্থান থেকে বের হল, সেখানে উপস্থিত ইমামেরা সকলেই নিজেদের পবিত্র করেছিল, তাদেরকে নিজ নিজ পালা রক্ষা করতে হল না;
12 এবং গায়ক লেবীয়েরা সকলে আসফ, হেমন, যিদূথূন ও তাঁদের পুত্ররা ও ভাইয়েরা, মসীনার কাপড় পরে এবং করতাল, নেবল ও বীণা সহকারে কোরবানগাহ্র পূর্ব প্রান্তে দণ্ডায়মান রইলো এবং তূরীবাদক এক শত বিশ জন ইমাম তাদের সঙ্গে ছিল।
13 সেই তূরীবাদক ও গায়কেরা সকলে একরবে মাবুদের প্রশংসা ও প্রশংসা-গজল করার জন্য এক ব্যক্তির মত উপস্থিত ছিল; এবং যখন তারা তূরী ও করতালাদি বাদ্যের সঙ্গে মহাশব্দ করে “তিনি মঙ্গলময়, হ্যাঁ, তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী,” এই কথা বলে মাবুদের প্রশংসা করলো, সেই সময় গৃহ, মাবুদের গৃহ মেঘে পরিপূর্ণ হল।
14 সেই মেঘের দরুন ইমামেরা পরিচর্যা করার জন্য দাঁড়াতে পারল না; কেননা আল্লাহ্র গৃহ মাবুদের প্রতাপে পরিপূর্ণ হয়েছিল।
1
তখন সোলায়মান বললেন, মাবুদ বলেছেন যে, তিনি ঘোর অন্ধকারে বাস করবেন।
2 কিন্তু আমি তোমার জন্য একটি বসতিগৃহ নির্মাণ করালাম; এটি চিরকাল তোমার নিবাস-স্থান।
3
পরে বাদশাহ্ মুখ ফিরিয়ে সমস্ত ইসরাইল-সমাজকে দোয়া করলেন; আর সমস্ত ইসরাইল-সমাজ দণ্ডায়মান হল।
4 আর তিনি বললেন, মাবুদ ধন্য হোন, ইসরাইলের আল্লাহ্; তিনি আমার পিতা দাউদের কাছে নিজের মুখে এই কথা বলেছিলেন এবং নিজের হাত দিয়ে তা সফল করেছেন,
5 যথা, যেদিন আমার লোকদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছি, সেদিন থেকে আমি আমার নাম স্থাপন ও গৃহ নির্মাণ করার জন্য ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে কোন নগর মনোনীত করি নি; এবং আমার লোক ইসরাইলের নেতা হবার জন্য কোন মানুষকে মনোনীত করি নি।
6 কিন্তু আমার নাম স্থাপনের জন্য আমি জেরুশালেমকে মনোনীত করেছি ও আমার লোক ইসরাইলের নেতা হবার জন্য দাউদকে মনোনীত করেছি।
7 আর ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করতে আমার পিতা দাউদের মনোবাসনা ছিল।
8 কিন্তু মাবুদ আমার পিতা দাউদকে বললেন, আমার নামের উদ্দেশে একটি গৃহ নির্মাণ করতে তোমার মনোবাসনা হয়েছে; তোমার এরকম মনোবাসনা করা ভালই বটে।
9 তবুও তুমি সেই গৃহ নির্মাণ করবে না, কিন্তু তোমার বংশ থেকে উৎপন্ন পুত্রই আমার নামের উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করবে।
10 মাবুদ এই যে কথা বলেছিলেন, তা সফল করলেন; মাবুদের ওয়াদা অনুসারে আমি আমার পিতা দাউদের পদে অধিষ্ঠিত ও ইসরাইলের সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামের উদ্দেশে এই গৃহ নির্মাণ করেছি।
11 আর মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে যে নিয়ম করেছিলেন, তার আধার সিন্দুক এর মধ্যে রাখলাম।
12
পরে তিনি সমস্ত ইসরাইল-সমাজের সাক্ষাতে মাবুদের কোরবানগাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুললেন;
13 কেননা সোলায়মান পাঁচ হাত লম্বা, পাঁচ হাত চওড়া ও তিন হাত উঁচু ব্রোঞ্জের একটি মঞ্চ নির্মাণ করে প্রাঙ্গণের মধ্যস্থলে রেখেছিলেন; তিনি তার উপরে দাঁড়ালেন, পরে সমস্ত ইসরাইল-সমাজের সম্মুখে হাঁটু পেতে বেহেশতের দিকে দু’হাত তুললেন—
14 আর তিনি বললেন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, বেহেশতে বা দুনিয়াতে তোমার মত আর আল্লাহ্ নেই? সর্বান্তঃকরণে যারা তোমার সাক্ষাতে চলে, তোমার সেই গোলামদের পক্ষে তুমি নিয়ম পালন ও অটল মহব্বত প্রকাশ করে থাক;
15 তুমি তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলে, তা পালন করেছ, যা নিজের মুখে বলেছিলে, তা তুমি সিদ্ধ করেছ, যেমন আজ দেখা যাচ্ছে।
16 এখন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি তোমার গোলাম আমার পিতা দাউদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলে তা রক্ষা কর। তুমি বলেছিলে, আমার দৃষ্টিতে ইসরাইলের সিংহাসনে বসতে তোমার (বংশে) লোকের অভাব হবে না, কেবল যদি আমার সাক্ষাতে তুমি যেমন চলেছ, তোমার সন্তানেরা আমার সাক্ষাতে তেমনি চলবার জন্য যার যার পথে সাবধান থাকে।
17 এখন, হে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তোমার গোলাম দাউদের কাছে যে কথা তুমি বলেছিলে, তা দৃঢ় হোক।
18
কিন্তু আল্লাহ্ কি সত্য সত্যিই দুনিয়াতে মানুষের সঙ্গে বাস করবেন? দেখ, বেহেশত ও বেহেশতের বেহেশত তোমাকে ধারণ করতে পারে না, তবে আমার নির্মিত এই গৃহ কি পারবে?
19 তবুও হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, তুমি তোমার গোলামের মুনাজাতে ও বিনতিতে মনোযোগ দাও, তোমার গোলাম তোমার কাছে যে কাতরোক্তি ও মুনাজাত করছে, তা শোন।
20 যে স্থানের বিষয়ে তুমি বলেছ যে, তোমার নাম সেই স্থানে রাখবে, সেই স্থানের অর্থাৎ এই গৃহের প্রতি তোমার চোখ দিনরাত উন্মীলিত থাকুক এবং এই স্থানের জন্য তোমার গোলাম যে মুনাজাত করে, তা শুনো।
21 আর তোমার গোলাম ও তোমার লোক ইসরাইল যখন এই স্থানের উদ্দেশে মুনাজাত করবে, তখন তাদের সকল বিনতিতে কান দিও; তোমার নিবাস স্থান থেকে, বেহেশত থেকে তা শুনো ও মাফ করো।
22
কেউ তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে গুনাহ্ করলে যদি তাকে শপথ করাবার জন্য কোন কসম নিশ্চিত হয়, আর সে এসে এই বাড়িতে তোমার কোরবানগাহ্র সম্মুখে সেই কসম খায়,
23 তবে তুমি বেহেশত থেকে তা শুনো এবং তোমার গোলামদের বিচার নিষ্পত্তি করো; দোষীকে দোষী করে তার কাজের ফল তার মাথায় বর্তিও এবং ধার্মিককে ধার্মিক করে তার ধার্মিকতা অনুযায়ী ফল দিও।
24
তোমার লোক ইসরাইল তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করার দরুন দুশমনের সম্মুখে আহত হবার পর যদি পুনর্বার ফিরে এবং এই বাড়িতে তোমার নামের প্রশংসা-গজল করে তোমার কাছে মুনাজাত ও ফরিয়াদ করে;
25 তবে তুমি বেহেশত থেকে তা শুনো এবং তোমার লোক ইসরাইলের গুনাহ্ মাফ করো, আর তাদেরকে ও তাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে এই যে দেশ দিয়েছ, সেখানে পুনর্বার তাদেরকে এনো।
26
তোমার বিরুদ্ধে তাদের গুনাহ্র দরুন যদি আসমান রুদ্ধ হয়, বৃষ্টি না হয়, আর লোকেরা যদি এই স্থানের জন্য মুনাজাত করে, তোমার নামের প্রশংসা-গজল করে এবং তোমা থেকে দুঃখ পাওয়াতে নিজের নিজের গুনাহ্ থেকে ফিরে আসে,
27 তবে তুমি বেহেশতে তা শুনো এবং তোমার গোলামদের ও তোমার লোক ইসরাইলের গুনাহ্ মাফ করো ও তাদের গন্তব্য সৎপথ তাদেরকে দেখিয়ে দিও এবং তুমি তোমার লোকদেরকে যে দেশ অধিকার হিসেবে দিয়েছ, তোমার সেই দেশে বৃষ্টি পাঠিয়ে দিও।
28
দেশে যদি দুর্ভিক্ষ হয়, মহামারী হয়, শস্যের শোষ বা ম্লানি বা পঙ্গপাল কিংবা কীট হয়, যদি তাদের দুশমনেরা তাদের দেশে নগরে নগরে তাদেরকে অবরোধ করে, যদি কোন বিপদ বা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়;
29 তা হলে কোন ব্যক্তি বা তোমার লোক সমস্ত ইসরাইল, যারা প্রত্যেকে যার যার যন্ত্রণা ও মনের কষ্ট জানে এবং এই গৃহের দিকে দু’হাত তুলে কোন মুনাজাত বা ফরিয়াদ করে;
30 তবে তুমি তোমার নিবাসস্থান বেহেশত থেকে তা শুনো এবং মাফ করো এবং প্রত্যেক জনকে নিজ নিজ পথ অনুযায়ী সমস্ত কাজের প্রতিফল দিও— তুমি তো তাদের অন্তঃকরণ জান; কেননা একমাত্র তুমিই বনি-আদমদের অন্তঃকরণ জান—
31 যেন আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে তুমি যে দেশ দিয়েছ, এই দেশে তারা যত দিন জীবিত থাকে, তোমার পথে চলবার জন্য তোমাকে ভয় করে।
32
এছাড়া, তোমার লোক ইসরাইল জাতির নয়, এমন কোন বিদেশী লোক যখন তোমার মহানাম, তোমার শক্তিশালী হাত ও তোমার বাড়িয়ে দেওয়া বাহুর উদ্দেশে দূর দেশ থেকে আসবে, যখন তারা এসে এই গৃহের জন্য মুনাজাত করবে,
33 তখন তুমি বেহেশত থেকে, তোমার নিবাস-স্থান থেকে তা শুনো; এবং সেই বিদেশী লোক তোমার কাছে যা কিছু মুনাজাত করবে, সেই অনুসারে করো; যেন তোমার লোক ইসরাইলের মত দুনিয়ার সমস্ত জাতি তোমার নাম জানতে পারে ও তোমাকে ভয় করে এবং তারা যেন জানতে পায় যে, আমার নির্মিত এই গৃহের উপরে তোমারই নাম কীর্তিত।
34
তুমি তোমার লোকদেরকে কোন পথে প্রেরণ করলে, যদি তারা তাদের শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বের হয় এবং তোমার মনোনীত এই নগর ও তোমার নামের জন্য আমার নির্মিত গৃহের উদ্দেশে তোমার কাছে মুনাজাত করে;
35 তবে তুমি বেহেশত থেকে তাদের মুনাজাত ও ফরিয়াদ শুনো এবং তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো।
36
তারা যদি তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে — কেননা গুনাহ্ না করে, এমন কোন মানুষ নেই — এবং তুমি যদি তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে দুশমনের হাতে তাদেরকে তুলে দাও ও দুশমনেরা তাদেরকে বন্দী করে দূরস্থ কিংবা নিকটস্থ কোন দেশে নিয়ে যায়;
37 তবুও যে দেশে তাদের বন্দী হিসেবে নেওয়া হয়েছে, সেই দেশে যদি মনে মনে বিবেচনা করে ও ফেরে, তাদের বন্দীত্বের দেশে তোমার কাছে ফরিয়াদ করে যদি বলে, আমরা গুনাহ্ করেছি, অপরাধী হয়েছি ও দুষ্টামি করেছি;
38 এবং যে দেশে বন্দীরূপে নীত হয়েছে, সেই বন্দীত্বের দেশে যদি সমস্ত অন্তঃকরণ ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তোমার কাছে ফিরে আসে এবং তুমি তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়েছ, তাদের সেই দেশের উদ্দেশে, তোমার মনোনীত নগর ও তোমার নামের জন্য আমার নির্মিত গৃহের জন্য যদি মুনাজাত করে;
39 তবে তুমি বেহেশত থেকে, তোমার বাসস্থান থেকে তাদের মুনাজাত ও ফরিয়াদ শুনো এবং তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো; আর তোমার যে লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে, তাদেরকে মাফ করো।
40 এখন, হে আমার আল্লাহ্, আরজ করি, এই স্থানে যে মুনাজাত হবে, তার প্রতি যেন তোমার চোখ ও কান খোলা থাকে।
41 হে মাবুদ আল্লাহ্, এখন তুমি উঠে, তুমি ও তোমার শক্তির সিন্দুক সহ তোমার বিশ্রাম-স্থানে গমন কর। হে মাবুদ আল্লাহ্, তোমার ইমামেরা উদ্ধারের পোশাক পরুক ও তোমার সাধুরা মঙ্গলে আনন্দ করুক।
42 হে মাবুদ আল্লাহ্, তুমি তোমার অভিষিক্ত লোকের মুখ ফিরিয়ে দিও না তোমার গোলাম দাউদের প্রতি কৃত অটল মহব্বত স্মরণ কর।
1
সোলায়মান মুনাজাত শেষ করার পর আসমান থেকে আগুন নেমে পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য সমস্ত কোরবানী গ্রাস করলো এবং মাবুদের প্রতাপে গৃহ পরিপূর্ণ হল।
2 আর ইমামেরা মাবুদের গৃহে প্রবেশ করতে পারল না, কারণ মাবুদের প্রতাপে মাবুদের গৃহ পরিপূর্ণ হয়েছিল।
3 যখন আগুন নামলো এবং মাবুদের মহিমা গৃহের উপরে বিরাজমান হল, তখন বনি-ইসরাইল সকলে তা দেখতে পেল, আর তারা নত হয়ে পাথরে-বাঁধানো ভূমিতে উবুড় হয়ে সেজ্দা করলো এবং মাবুদের প্রশংসা-গজল করে বললো তিনি মঙ্গলময়, হ্যাঁ, তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
4
পরে বাদশাহ্ ও সমস্ত লোক মাবুদের সম্মুখে কোরবানী করলেন।
5 বাদশাহ্ সোলায়মান বাইশ হাজার গরু ও এক লক্ষ বিশ হাজার ভেড়া কোরবানী করলেন। এভাবে বাদশাহ্ ও সমস্ত লোক আল্লাহ্র গৃহ প্রতিষ্ঠা করলেন।
6 আর ইমামেরা স্ব স্ব পদ অনুসারে দণ্ডায়মান ছিল; এবং লেবীয়েরাও মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী পরিবেশনের জন্য বাদ্যযন্ত্রসহ দাঁড়িয়ে ছিল— যখন দাউদ তাদের দ্বারা প্রশংসা করতেন তখন তিনি এই বাদ্যযন্ত্রগুলো তৈরি করিয়েছিলেন যেন ‘মাবুদের অটল মহব্বত অনন্তকাল স্থায়ী’ বলে তাঁর প্রশংসা-গজল করা হয়— আর তাদের সম্মুখে ইমামেরা তূরী বাজাচ্ছে এবং সমস্ত ইসরাইল দণ্ডায়মান ছিল।
7
আর সোলায়মান মাবুদের গৃহের সম্মুখস্থ প্রাঙ্গণের মধ্যদেশ পবিত্র করলেন, কেননা তিনি সেই স্থানে সমস্ত পোড়ানো-কোরবানী এবং মঙ্গল-কোরবানীর চর্বি উৎসর্গ করলেন, কারণ পোড়ানো-কোরবানী, শস্য-উৎসর্গ এবং সেই চর্বি গ্রহণের পক্ষে সোলায়মানের তৈরি ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্ ক্ষুদ্র ছিল।
8
এভাবে সেই সময়ে সোলায়মান ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত ইসরাইল, হমাতের প্রবেশ-স্থান থেকে মিসরের স্রোত পর্যন্ত (দেশবাসী) অতি মহাসমাজ, সাত দিন উৎসব করলেন।
9 পরে তাঁরা অষ্টম দিনে উৎসব-সভা করলেন, ফলত তাঁরা সাত দিন কোরবানগাহ্র প্রতিষ্ঠা ও সাত দিন উৎসব পালন করলেন।
10 সোলায়মান সপ্তম মাসের ত্রয়োবিংশ দিনে লোকদেরকে স্ব স্ব তাঁবুতে বিদায় করলেন। মাবুদ দাউদ, সোলায়মান ও তাঁর লোক ইসরাইলের যেসব মঙ্গল করেছিলেন, তার দরুন তারা আনন্দিত ও হৃষ্টচিত্ত হয়েছিল।
11
এভাবে সোলায়মান মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদের নির্মাণ সমাপ্ত করলেন; মাবুদের গৃহে ও নিজের বাড়িতে যা করতে সোলায়মানের মনোবাঞ্ছা হয়েছিল, সেসব তিনি সহিসালামতে সাধন করলেন।
12
পরে মাবুদ রাতে সোলায়মানকে দর্শন দিয়ে বললেন, আমি তোমার মুনাজাত শুনেছি ও কোরবানী-গৃহ বলে এই স্থান আমার জন্য মনোনীত করেছি।
13 আমি যদি আসমান রুদ্ধ করি, আর বৃষ্টি না হয়, কিংবা দেশ বিনষ্ট করতে পঙ্গপালদেরকে হুকুম করি, অথবা আমার লোকদের মধ্যে মহামারী প্রেরণ করি,
14 আমার লোকেরা, যাদের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, তারা যদি নম্র হয়ে মুনাজাত করে ও আমার মুখের খোঁজ করে এবং তাদের কুপথ থেকে ফিরে, তবে আমি বেহেশত থেকে তা শুনব, তাদের গুনাহ্ মাফ ও তাদের দেশ সুস্থ করবো।
15 এই স্থানে যে মুনাজাত হবে, তার প্রতি এখন আমার চোখ ও কান খোলা থাকবে।
16 কেননা এই গৃহে যেন আমার নাম চিরকালের জন্য থাকে, এজন্য আমি এখন এটি মনোনীত ও পবিত্র করলাম এবং এই স্থানে সব সময় আমার চোখ ও আমার অন্তর থাকবে।
17 আর তোমার পিতা দাউদ যেমন চলতো, তেমনি তুমিও যদি আমার সাক্ষাতে চল, আমি তোমাকে যে সমস্ত হুকুম দিয়েছি, যদি তদনুযায়ী কাজ কর এবং আমার বিধি ও সমস্ত অনুশাসন পালন কর;
18 তবে ইসরাইলের উপরে কর্তৃত্ব করতে তোমার বংশে লোকের অভাব হবে না; এই বলে আমি তোমার পিতা দাউদের সঙ্গে যে নিয়ম করেছিলাম, সেই অনুসারে তোমার রাজ-সিংহাসন স্থির করবো।
19 কিন্তু যদি তোমরা আমার কাছ থেকে ফিরে যাও ও তোমাদের সম্মুখে স্থাপিত আমার বিধি ও সমস্ত হুকুম পরিত্যাগ কর, আর গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা ও তাদের কাছে সেজ্দা কর,
20 তবে আমি ইসরাইলদেরকে আমার যে দেশ দিয়েছি, তা থেকে তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করবো এবং আমার নামের জন্য এই যে গৃহ পবিত্র করলাম, এটি আমার দৃষ্টিপথ থেকে দূর করবো এবং সমস্ত জাতির মধ্যে এটিকে প্রবাদের ও উপহাসের পাত্র করবো।
21 আর এই গৃহ উঁচু হলেও যে কেউ এর কাছ দিয়ে গমন করবে, সে চমকে উঠবে ও জিজ্ঞাসা করবে, এই দেশের ও এই গৃহের প্রতি মাবুদ এমন কেন করেছেন?
22 আর লোকে বলবে, এর কারণ এই, যিনি এই লোকদের পূর্বপুরুষদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছিলেন ওরা ওদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ সেই মাবুদকে ত্যাগ করেছে এবং অন্য দেবতাদেরকে অবলম্বন করে তাদের কাছে ভূমিতে সেজদা করেছে ও তাদের সেবা করেছে, এজন্য তিনি তাদের উপরে এসব অমঙ্গল উপস্থিত করলেন।
1
মাবুদের এবাদতখানা ও নিজের রাজপ্রাসাদ, এই দু’টি গৃহ নির্মাণ করতে সোলায়মানের বিশ বছর লাগল।
2 এর পরে, হূরম সোলায়মানকে যে সমস্ত নগর দিয়েছিলেন, সোলায়মানকে সেগুলো পুন-নির্মাণ করে সেই স্থানে বনি-ইসরাইলদেরকে বাস করালেন।
3
পরে সোলায়মান হমাৎ-সোবাতে গিয়ে তা বশীভূত করলেন।
4 আর তিনি মরুভূমিতে তদ্মোর নগর নির্মাণ করলেন এবং হমাতে সমস্ত ভাণ্ডার নগর নির্মাণ করলেন।
5 আর তিনি উপরিস্থ বৈৎ-হোরোণ ও নিচস্থ বৈৎ-হোরোণ এই দুই প্রাচীরবেষ্টিত নগর প্রাচীর, দ্বার ও অর্গল দ্বারা দৃঢ় করলেন।
6 আর বালৎ এবং সোলায়মানের সমস্ত ভাণ্ডার-নগর এবং তাঁর রথগুলো ও ঘোড়সওয়ারদের সমস্ত নগর, আর জেরুশালেমে, লেবাননে ও তাঁর দেশগুলোর সর্বত্র যা কিছু নির্মাণ করার সোলায়মানের বাসনা ছিল, তিনি সেসব নির্মাণ করলেন।
7 হিট্টিয়, আমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয় যেসব লোক অবশিষ্ট ছিল, যারা ইসরাইল নয়, যাদেরকে বনি-ইসরাইল নিঃশেষে বিনষ্ট করে নি,
8 দেশে অবশিষ্ট সেই লোকদের সন্তানদেরকে সোলায়মান তাঁর কর্মাধীন গোলাম করে সংগ্রহ করলেন; তারা আজ পর্যন্ত তা-ই করছে।
9 কিন্তু সোলায়মান তাঁর কাজের জন্য বনি-ইসরাইলদের মধ্যে কাউকেও গোলাম করলেন না; তারা যোদ্ধা, তাঁর প্রধান সেনানী এবং তাঁর রথগুলোর ও ঘোড়সওয়ারদের নেতা হল।
10 আর তাদের মধ্যে বাদশাহ্ সোলায়মানের নিযুক্ত দুই শত পঞ্চাশ জন প্রধান নেতা লোকদের উপরে কর্তৃত্ব করতো।
11
পরে সোলায়মান ফেরাউনের কন্যার জন্য যে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, সেই বাড়িতে দাউদ-নগর থেকে তাঁকে আনালেন; কারণ তিনি বললেন, আমার স্ত্রী ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের বাড়িতে বাস করবেন না, কেননা যেসব স্থানে মাবুদের সিন্দুক এসেছে, সেসব স্থান পবিত্র।
12
আর সোলায়মান বারান্দার সম্মুখে মাবুদের যে কোরবানগাহ্ তৈরি করেছিলেন, তার উপরে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী করতে লাগলেন।
13 তিনি মূসার হুকুম মতে বিশ্রামবার, অমাবস্যা ও বছরের মধ্যে নিরূপিত তিন উৎসবে, অর্থাৎ খামিহীন রুটির উৎসবে, সাত সপ্তাহের উৎসব ও কুটিরের উৎসব প্রতিদিনের বিধান অনুসারে উৎসর্গ ও কারবানী করতেন।
14 আর তিনি তাঁর পিতা দাউদের নিরূপণানুসারে ইমামদের সেবাকর্মের জন্য তাদের পালা নির্ধারণ করলেন। তিনি প্রতিদিনের বিধান অনুসারে প্রশংসা ও ইমামদের সম্মুখে পরিচর্যা করতে লেবীয়দেরকে নিজ নিজ কাজে নিযুক্ত করলেন। আর তিনি পালা অনুসারে প্রতিদ্বারে দ্বারপালদেরকেও নিযুক্ত করলেন; কেননা আল্লাহ্র লোক দাউদ সেরকম হুকুম করেছিলেন।
15 আর বাদশাহ্ ইমামদের ও লেবীয়দেরকে ভাণ্ডার প্রভৃতি যে কোন বিষয়ে যে হুকুম দিতেন, তার অন্যথা তারা করতো না।
16
মাবুদের গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপনের দিন থেকে তার সমাপ্তি পর্যন্ত সোলায়মানের সমস্ত কাজ নিয়মিতভাবে চললো— মাবুদের গৃহ সমাপ্ত হল।
17
সেই সময় সোলায়মান ইদোম দেশের সমুদ্রতীরস্থ ইৎসিয়োন-গেবরে ও এলতে গেলেন।
18 আর হূরম তাঁর গোলামদের দ্বারা তাঁর কাছে কয়েকটি জাহাজ ও সামুদ্রিক কাজে বিজ্ঞ গোলামদেরকে প্রেরণ করলেন; তারা সোলায়মানের গোলামদের সঙ্গে ওফীরে গিয়ে সেখান থেকে চার শত পঞ্চাশ তালন্ত সোনা বাদশাহ্ সোলায়মানের জন্য নিয়ে আসল।
1
আর সাবার রাণী সোলায়মানের কীর্তি শুনে কঠিন কঠিন প্রশ্ন্ন দ্বারা সোলায়মানের পরীক্ষা করার জন্য বিপুল পরিমাণ ঐশ্বর্যসহ এবং সুগন্ধি দ্রব্য, প্রচুর সোনা ও মণিবাহক সমস্ত উট সঙ্গে নিয়ে জেরুশালেমে আসলেন। তিনি সোলায়মানের কাছে এসে তাঁর নিজের মনে যা ছিল তাঁকে সমস্তই বললেন।
2 আর সোলায়মান তাঁর সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিলেন, সোলায়মানের বোধের অগম্য কিছুই ছিল না, তিনি তাঁকে সকলই বললেন।
3 এভাবে সাবার রাণী সোলায়মানের জ্ঞান ও তাঁর নির্মিত বাড়ি দেখলেন।
4 তিনি তাঁর টেবিলের খাদ্যদ্রব্য ও তাঁর কর্মকর্তাদের উপবেশন ও দণ্ডায়মান পরিচারকদের শ্রেণী ও তাদের পরিচ্ছদ এবং তাঁর পানপাত্র-বাহকদের ও তাদের পরিচ্ছদ এবং মাবুদের গৃহে উঠবার জন্য তাঁর নির্মিত সিঁড়ি, এই সমস্ত দেখে হতভম্ভ হয়ে গেলেন।
5
আর তিনি বাদশাহ্কে বললেন, আমি আমার দেশে থেকে আপনার কথা ও জ্ঞানের বিষয় যে কথা শুনেছিলাম তা সত্যি।
6 কিন্তু আমি যতক্ষণ এসে স্বচক্ষে না দেখলাম, ততক্ষণ লোকদের সেই কথায় আমার বিশ্বাস হয় নি; আর দেখুন, আপনার জ্ঞান ও মহত্ত্বের অর্ধেকও আমাকে বলা হয় নি; আমি যে খ্যাতি শুনেছিলাম তা থেকেও আপনার গুণ অনেক বেশি।
7 ধন্য আপনার লোকেরা এবং ধন্য আপনার এই গোলামেরা, যারা নিয়ত আপনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আপনার জ্ঞানের উক্তি শোনে।
8 আপনার আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন, যিনি আপনার আল্লাহ্ মাবুদের হয়ে রাজত্ব করতে তাঁর সিংহাসনে আপনাকে বসাবার জন্য আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। ইসরাইলদেরকে চিরস্থায়ী করতে চান বলে আপনার আল্লাহ্ তাদেরকে মহব্বত করেন, এজন্য ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা প্রচলিত করতে আপনাকে তাদের উপরে বাদশাহ্ করেছেন।
9 পরে তিনি বাদশাহ্কে এক শত বিশ তালন্ত সোনা ও প্রচুর সুগন্ধি দ্রব্য ও মণি উপঢৌকন দিলেন। সাবার রাণী বাদশাহ্ সোলায়মানকে যে সুগন্ধি দ্রব্য দিলেন, সেই রকম সুগন্ধি দ্রব্য আর এহুদা দেশে দেখা যায় নি।
10
আর হূরম ও সোলায়মানের যে গোলামেরা ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত, তারা চন্দন কাঠ ও মণিও নিয়ে আসত।
11 সেই চন্দন কাঠ দ্বারা বাদশাহ্ মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদের জন্য সিঁড়ি, গায়কদের জন্য বীণা এবং নেবল প্রস্তুত করালেন। আগে এহুদা দেশে কেউ কখনও সেরকম দেখে নি।
12
আর বাদশাহ্ সোলায়মান সাবার রাণীর বাসনানুসারে তাঁর যাবতীয় বাঞ্ছিত দ্রব্য দিলেন, তা ছাড়া তিনি তাঁর কাছে তাঁর আনা দ্রব্যের প্রতিদানও দিলেন; পরে রাণী ও তাঁর গোলামেরা স্বদেশে ফিরে গেলেন।
13
এক বছরের মধ্যে সোলায়মানের কাছে ছয় শত ছেষট্টি তালন্ত পরিমিত সোনা আসত।
14 এছাড়া বণিক ও ব্যবসায়ীরাও সোনা নিয়ে আসত; এবং আরবীয় সমস্ত বাদশাহ্ ও দেশের শাসনকর্তারা সোলায়মানের কাছে সোনা ও রূপা নিয়ে আসতেন।
15 তাতে বাদশাহ্ সোলায়মান পিটানো সোনার দুই শত বড় ঢাল প্রস্তুত করলেন; তার প্রত্যেক ঢালে ছয় শত শেকল পরিমিত পিটানো সোনা ছিল।
16 আর তিনি পিটানো সোনা দিয়ে তিন শত ঢাল প্রস্তুত করলেন; তার প্রত্যেক ঢালে তিন শত শেকল পরিমিত সোনা ছিল। পরে বাদশাহ্ লেবাননের অরণ্যস্থ বাড়িতে সেগুলো রাখলেন।
17 আর বাদশাহ্ হাতির দাঁতের একটি বড় সিংহাসন নির্মাণ করে খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে নিলেন।
18 ঐ সিংহাসনে ছয়টি সিঁড়ি, আর সোনার একটি পাদপীঠ সিংহাসনের সঙ্গে লাগানো ছিল এবং আসনের উভয় পাশে হাতা ছিল, সেই হাতার কাছে দুই সিংহমূর্তি দণ্ডায়মান ছিল,
19 আর সেই ছয়টি সিঁড়ির উপরে দুই পাশে বারোটি সিংহমূর্তি দণ্ডায়মান ছিল; এরকম সিংহাসন আর কোন রাজ্যে প্রস্তুত হয় নি।
20 বাদশাহ্ সোলায়মানের সমস্ত পানপাত্র ছিল সোনার তৈরি ও লেবাননের অরণ্যস্থ বাড়ির যাবতীয় পাত্র ছিল খাঁটি সোনার; সোলায়মানের অধিকার রূপা কিছুরই মধ্যে গণ্য ছিল না।
21 কেননা হূরমের গোলামদের সঙ্গে বাদশাহ্র কতকগুলো জাহাজ তর্শীশে যেত; সেই তর্শীশের সমস্ত জাহাজ তিন বছরান্তে এক বার সোনা, রূপা, হাতির দাঁত, বানর ও মযূর নিয়ে ফিরে আসত।
22
এভাবে ঐশ্বর্যে ও জ্ঞানে বাদশাহ্ সোলায়মান দুনিয়ার সকল বাদশাহ্র মধ্যে প্রধান হলেন।
23 আর আল্লাহ্ সোলায়মানের চিত্তে যে জ্ঞান দিয়েছিলেন, তাঁর সেই জ্ঞানের উক্তি শুনবার জন্য দুনিয়ার সমস্ত বাদশাহ্ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেষ্টা করতেন।
24 আর প্রত্যেকে তাদের উপঢৌকন, রূপার পাত্র, সোনার পাত্র, কাপড়-চোপড়, অস্ত্র ও সুগন্ধি দ্রব্য, ঘোড়া ও খচ্চর নিয়ে আসতেন; প্রতি বছর এরকম হত।
25 আর ঘোড়া ও রথগুলোর জন্য সোলায়মানের চার হাজার ঘর ও বারো হাজার ঘোড়সওয়ার ছিল; তিনি তাদেরকে রথ-নগরগুলোতে এবং জেরুশালেমে বাদশাহ্র কাছে রাখতেন।
26 আর তিনি ফোরাত নদী থেকে ফিলিস্তিনীদের দেশ ও মিসরের সীমা পর্যন্ত সমস্ত বাদশাহ্র উপরে রাজত্ব করতেন।
27 বাদশাহ্ জেরুশালেমে রূপাকে পাথরের মত ও এরস কাঠকে নিম্নভূমিস্থ সুকোমোর কাঠের মত প্রচুর করলেন।
28 আর লোকেরা মিসর থেকে ও সমস্ত দেশ থেকে সোলায়মানের জন্য ঘোড়া নিয়ে আসত।
29
সোলায়মানের অবশিষ্ট বৃত্তান্ত আদ্যোপান্ত নাথন নবীর কিতাবে ও শীলোনীয় অহীয়ের ভবিষ্যদ্বাণীতে এবং নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমের বিষয়ে ইদ্দো দর্শকের যে দর্শন, তার মধ্যে কি লেখা নেই?
30 সোলায়মান জেরুশালেমে চল্লিশ বছর যাবৎ সমস্ত ইসরাইলের উপরে রাজত্ব করলেন।
31 পরে সোলায়মান তাঁর পূর্ব-পুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন ও তাঁর পিতা দাউদের নগরে তাঁকে দাফন করা হল এবং তাঁর পুত্র রহবিয়াম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
রহবিয়াম শিখিমে গেলেন, কেননা তাঁকে বাদশাহ্ করার জন্য সমস্ত ইসরাইল শিখিমে উপস্থিত হয়েছিল।
2 আর যখন নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম এই বিষয় শুনলেন, (কারণ তিনি মিসরে ছিলেন, বাদশাহ্ সোলায়মানের সম্মুখ থেকে সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলেন), তখন যাববিয়াম মিসর থেকে ফিরে আসলেন।
3 লোকেরা দূত পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে আনলো; আর ইয়ারাবিম ও সমস্ত ইসরাইল রহবিয়ামের কাছে এসে এই কথা বললেন,
4 আপনার পিতা আমাদের উপর দুঃসহ যোঁয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, অতএব আপনার পিতা আমাদের উপরে যে কঠিন গোলামীর কাজ ও ভারী যোঁয়াল চাপিয়েছেন, আপনি তা লঘু করুন; তা করলে আমরা আপনার গোলামী করবো।
5 তিনি তাদের বললেন, তিনদিন পর আবার আমার কাছে এসো; তাতে লোকেরা চলে গেল।
6
পরে বাদশাহ্ রহবিয়াম, তাঁর পিতা সোলায়মানের জীবনকালে যে বৃদ্ধ লোকেরা তাঁর সম্মুখে দাঁড়াতেন, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন, বললেন, আমি ঐ লোকদের কি জবাব দেব? তোমরা কি পরামর্শ দাও?
7 তাঁরা তাঁকে বললেন, যদি আপনি ঐ লোকদের উপর সদয় হয়ে ওদের প্রতি সন্তুষ্ট করেন এবং ওদেরকে ভাল কথা বলেন, তবে ওরা সব সময় আপনার সেবক হয়ে থাকবে।
8 কিন্তু তিনি ঐ বৃদ্ধদের দেওয়া মন্ত্রণা ত্যাগ করে, তাঁর বয়স্য যে যুবকেরা তাঁর সম্মুখে দাঁড়াত, তাদের সঙ্গে মন্ত্রণা করলেন।
9 তিনি তাদের বললেন, ঐ লোকেরা বলছে, আপনার পিতা আমাদের উপরে যে যোঁয়াল চাপিয়েছেন তা লঘু করুন; এখন আমরা ওদেরকে কি উত্তর দেব? তোমরা কি মন্ত্রণা দাও?
10 তাঁর বয়সী যুবকেরা জবাব দিল, যে লোকেরা আপনাকে বলছে, আপনার পিতা আমাদের উপরে ভারী যোঁয়াল চাপিয়েছেন, আপনি আমাদের পক্ষে তা লঘু করুন, তাদেরকে এই কথা বলুন, আমার কনিষ্ঠ আঙ্গুল আমার পিতার কোমর থেকেও মোটা;
11 এখন, আমার পিতা তোমাদের উপরে ভারী যোঁয়াল চাপিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তোমাদের যোঁয়াল আরও ভারী করবো; আমার পিতা তোমাদেরকে কশা দ্বারা শাস্তি দিতেন, কিন্তু আমি বৃশ্চিক দ্বারা দেব।
12 পরে ‘তৃতীয় দিনে আমার কাছে ফিরে এসো,’ বাদশাহ্র উক্ত এই কথানুসারে ইয়ারাবিম এবং সমস্ত লোক তৃতীয় দিনে রহবিয়ামের কাছে উপস্থিত হলেন।
13
আর বাদশাহ্ তাদেরকে কঠিন জবাব দিলেন; ফলে বাদশাহ্ রহবিয়াম বৃদ্ধদের পরামর্শ ত্যাগ করলেন,
14 এবং সেই যুবকদের মন্ত্রণানুযায়ী কথা তাদেরকে বললেন; তিনি বললেন, আমার পিতা তোমাদের যোঁয়াল ভারী করেছিলেন, কিন্তু আমি তা আরও ভারী করবো; আমার পিতা তোমাদেরকে কশা দ্বারা শাস্তি দিতেন, কিন্তু আমি বৃশ্চিক দ্বারা দেব।
15 এভাবে বাদশাহ্ লোকদের কথায় কান দিলেন না, কেননা শীলোনীয় অহিয়ের দ্বারা মাবুদের নবাটের পুত্র ইয়ারাবিমকে যে কথা বলেছিলেন, তা অটল রাখার জন্য আল্লাহ্ থেকে এই ঘটনা হল।
16
যখন সমস্ত ইসরাইল দেখলো, বাদশাহ্ তাদের কথায় কান দিলেন না, তখন লোকেরা বাদশাহ্কে এই উত্তর দিল, দাউদে আমাদের কি অংশ? ইয়াসির পুত্রে আমাদের কোন অধিকার নেই; হে ইসরাইল, প্রত্যেকে যার যার তাঁবুতে যাও; দাউদ! এখন তুমি তোমার নিজের কুল দেখ। পরে সমস্ত ইসরাইল যার যার তাঁবুতে চলে গেল।
17 তবুও যে বনি-ইসরাইলরা এহুদার নগরগুলোতে বাস করতো, রহবিয়াম তাদের উপরে রাজত্ব করলেন।
18 পরে বাদশাহ্ রহবিয়াম তাঁর কর্মাধীন গোলামদের নেতা হদোরামকে পাঠালেন; কিন্তু ইসরাইলের লোকেরা তাকে পাথর মারল, তাতে সে ইন্তেকাল করলো। আর বাদশাহ্ রহবিয়াম জেরুশালেমে পালাবার জন্য শীঘ্র গিয়ে রথে উঠলেন।
19 এভাবে ইসরাইল দাউদকুলের বিদ্রোহী হল; আজ পর্যন্ত সেই ভাবেই রয়েছে।
1
জেরুশালেমে উপস্থিত হওয়ার পর রহবিয়াম এহুদা ও বিন্-ইয়ামীনের কুল অর্থাৎ এক লক্ষ আশি হাজার মনোনীত যোদ্ধাকে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এবং রহবিয়ামের বশে রাজ্য ফিরিয়ে আনবার জন্য একত্র করলেন।
2 কিন্তু আল্লাহ্র লোক শমরিয়ের কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
3 তুমি সোলায়মানের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ রহবিয়াম এবং এহুদা ও বিন্ইয়ামীন নিবাসী সমস্ত ইসরাইলকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন,
4 তোমরা যাত্রা করো না, তোমাদের ভাইদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না; প্রত্যেকে নিজস্ব বাড়িতে ফিরে যাও, কেননা এই ঘটনা আমা থেকে হল। অতএব তারা মাবুদের কালাম মেনে ইয়ারাবিমের বিরুদ্ধে যাত্রা না করে ফিরে গেল।
5
পরে রহবিয়াম জেরুশালেমে বাস করে দেশ রক্ষার জন্য এহুদা দেশস্থ সমস্ত নগর নির্মাণ করলেন।
6 কারণ বেথেলহেম, ঐটম, তকোয়,
7 বৈৎ-সুর, সেখো, অদুল্লম,
8 গাৎ, মারেশা, সীফ,
9 অদোরয়িম, লাখীশ, অসেকা,
10 সরা, অয়ালোন ও হেবরন,
11 এই যেসব প্রাচীরবেষ্টিত নগর এহুদা ও বিন্ইয়ামীন দেশে আছে, তিনি এসব নির্মাণ করলেন। আর তিনি দুর্গগুলো দৃঢ় করে তার মধ্যে সেনাপতিদেরকে রাখলেন এবং খাদ্য দ্রব্য, তেল ও আঙ্গুর-রসের ভাণ্ডার করলেন।
12 আর প্রত্যেক নগরে ঢাল ও বর্শা রাখলেন ও সমস্ত নগর অতিশয় দৃঢ় করলেন। আর এহুদা ও বিন্ইয়ামীন তাঁর অধীনে ছিল।
13
সমস্ত ইসরাইলের মধ্যে যে ইমাম ও লেবীয়রা ছিল, তারা যার যার সমস্ত অঞ্চল থেকে তাঁর কাছে উপস্থিত হল।
14 অর্থাৎ লেবীয়েরা নিজ নিজ চারণ-ভূমি, ভূমি ও স্ব স্ব অধিকার ত্যাগ করে এহুদা ও জেরুশালেমে আসল, কেননা ইয়ারাবিম ও তাঁর পুত্ররা মাবুদের উদ্দেশে ইমামের কাজ করতে না দিয়ে তাদেরকে অগ্রাহ্য করেছিলেন।
15 আর তিনি উচ্চস্থলীগুলোর, ছাগল-ভূতদের ও তাঁর নির্মিত বাছুর দু’টির জন্য তিনি ইমামদের নিযুক্ত করেছিলেন।
16 ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে যেসব লোক ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সন্ধানে নিবিষ্টমনা ছিল, তারা লেবীয়দের সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করতে জেরুশালেমে এল।
17 তারা তিন বছর পর্যন্ত এহুদার রাজ্য দৃঢ় ও সোলায়মানের পুত্র রহবিয়ামকে শক্তিশালী করলো; কেননা তিন বছর পর্যন্ত তারা দাউদ ও সোলায়মানের পথে চলেছিল।
18
আর রহবিয়াম দাউদের পুত্র যিরীমোতের কন্যা মহলৎকে বিয়ে করলেন; [এঁর মা] অবীহয়িল ইয়াসিরের পৌত্রী ইলীয়াবের কন্যা।
19 সেই স্ত্রী তাঁর জন্য কয়েকটি পুত্র অর্থাৎ যিশূয়, শমরিয় ও সহমকে প্রসব করলেন।
20 তারপর তিনি অবশালোমের কন্যা মাখাকে বিয়ে করলেন; এই স্ত্রী তাঁর জন্য অবিয়, অত্তয়, সীষ ও শলোমীৎকে প্রসব করলেন।
21 রহবিয়াম তাঁর সকল পত্নী ও উপপত্নীর মধ্যে অবোশালোমের কন্যা মাখাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করতেন; তিনি আঠারো পত্নী ও ষাট উপপত্নী গ্রহণ করলেন এবং আটাশ পুত্র ও ষাট কন্যার জন্ম দিলেন।
22 পরে রহবিয়াম মাখার গর্ভজাত অবিয়কে ভাইদের মধ্যে প্রধান করলেন, কারণ তাঁকেই বাদশাহ্ করতে তাঁর মনোবাসনা ছিল।
23 আর তিনি সতর্কতা অবলম্বন করে চললেন, এহুদা ও বিন্ইয়ামীন দেশের সমস্ত প্রাচীর বেষ্টিত প্রতি নগরে তাঁর পুত্রদেরকে নিযুক্ত ও তাদেরকে প্রচুর খাদ্য সামগ্রী দিলেন এবং [তাদের জন্য] অনেক কন্যার চেষ্টা করলেন।
1
পরে যখন রহবিয়ামের রাজ্য দৃঢ় হল এবং তিনি শক্তিমান হয়ে উঠলেন, তখন তিনি ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত ইসরাইল মাবুদের শরীয়ত পরিত্যাগ করলেন।
2 আর রহবিয়াম বাদশাহ্র পঞ্চম বছরে মিসরের বাদশাহ্ শীশক জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আসলেন, কারণ লোকেরা মাবুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিল।
3 সেই বাদশাহ্র সঙ্গে বারো শত রথ ও ছয় হাজার ঘোড়সওয়ার ছিল; এবং মিসর থেকে তার সঙ্গে আগত অসংখ্য লিবীয়, সুক্কীয় ও ইথিওপীয় লোক ছিল।
4 আর তিনি এহুদার প্রাচীর বেষ্টিত সকল নগর অধিকার করে জেরুশালেম পর্যন্ত আসলেন।
5
তখন শমরিয় নবী রহবিয়ামের কাছে এবং এহুদার যে নেতৃবর্গ শীশকের ভয়ে জেরুশালেমে একত্র হয়েছিল তাঁদের কাছে এসে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে, এজন্য আমিও তোমাদেরকে শীশকের হাতে ছেড়ে দিলাম।
6 তাতে ইসরাইলের নেতৃবর্গ ও বাদশাহ্ নিজেদের অবনত করলেন, বললেন, মাবুদ ধর্মময়।
7 যখন মাবুদ দেখলেন যে, তারা নিজেদের অবনত করেছে, তখন শমরিয়ের কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল, তারা নিজেদের অবনত করেছে, আমি তাদেরকে বিনষ্ট করবো না; অল্পকালের মধ্যে তাদের উদ্ধার লাভ করতে দেব; শীশকের হাত দিয়ে জেরুশালেমের উপরে আমার গজব পড়বে না।
8 কিন্তু তারা ওর গোলাম হবে, তাতে আমার গোলাম হওয়া কি এবং অন্যদেশীয় রাজ্যের গোলাম হওয়া কি, তা তারা বুঝতে পারবে।
9
মিসরের বাদশাহ্ শীশক জেরুশালেমের বিরুদ্ধে এসে মাবুদের গৃহের ধন ও রাজপ্রাসাদের ধন নিয়ে গেলেন; তিনি সবই নিয়ে গেলেন; সোলায়মানের তৈরি সোনার ঢালগুলোও নিয়ে গেলেন।
10 পরে বাদশাহ্ রহবিয়াম তার পরিবর্তে ব্রোঞ্জের ঢাল তৈরি করিয়ে রাজপ্রাসাদের দ্বারপাল পদাতিকদের সেনাপতিদের হাতে দিলেন।
11 বাদশাহ্ যখন মাবুদের গৃহে প্রবেশ করতেন, তখন ঐ পদাতিকরা এসে সেসব ঢাল ধরতো, পরে পদাতিকদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেত।
12 রহবিয়াম নিজেকে অবনত করাতে তাঁর উপর থেকে মাবুদের ক্রোধ নিবৃত্ত হল, সর্বনাশ হল না। আর এহুদার মধ্যেও কারো কারো সাধুভাব ছিল।
13
বাদশাহ্ রহবিয়াম জেরুশালেমে নিজেকে বলবান করে রাজত্ব করলেন; ফলত রহবিয়াম একচল্লিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করলেন এবং মাবুদ তাঁর নাম স্থাপন করার জন্য ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্য থেকে যে নগর মনোনীত করেছিলেন, সেই জেরুশালেমে তিনি সতের বছর রাজত্ব করেন। তাঁর মায়ের নাম নয়মা, তিনি অম্মোনীয়া।
14
রহবিয়াম মাবুদের খোঁজ করার জন্য তাঁর অন্তঃকরণ সুস্থির করেন নি বলে যা মন্দ তা-ই করতেন।
15 রহবিয়ামের আদ্যপান্ত কাজের বৃত্তান্ত শমরিয় নবীর ও ইদ্দো দর্শকের খান্দাননামা-কিতাবে কি লেখা নেই? রহবিয়াম ও ইয়ারাবিমের মধ্যে নিয়ত যুদ্ধ হত।
16 পরে রহবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং দাউদ নগরে তাঁকে দাফন করা হল, আর তাঁর পুত্র অবিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের অষ্টাদশ বছরে অবিয় এহুদার উপরে রাজত্ব করতে আরম্ভ করলেন।
2 তিনি তিন বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করলেন; তার মায়ের নাম মীখায়া, তিনি গিবিয়া-নিবাসী ঊরীয়েলের কন্যা।
3
অবিয়ের ও ইয়ারাবিমের মধ্যে যুদ্ধ হত। অবিয় চার লক্ষ বাছাইকৃত যুদ্ধবীরের সঙ্গে যুদ্ধে গমন করলেন এবং ইয়ারাবিম আট লক্ষ বাছাইকৃত বলবান বীরের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে সৈন্য রচনা করলেন।
4 আর অবিয় পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশের সমারয়িম পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে বললেন, হে ইয়ারাবিম, তুমি ও সমস্ত ইসরাইল আমার কথা শোন।
5 ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ ইসরাইলের বাদশাহী-পদ চিরকালের জন্য দাউদকে দিয়েছেন; তাঁকে ও তাঁর সন্তানদেরকে লবণ-নিয়ম দ্বারা দিয়েছেন, এই বিয়টি জানা কি তোমার উচিত নয়?
6 তবুও দাউদের পুত্র সোলায়মানের গোলাম যে নবাটের পুত্র ইয়ারাবিম, সেই ব্যক্তি তাঁর প্রভুর বিদ্রোহী হল।
7 আর পাষণ্ড অসার চিত্ত লোকেরা তার পক্ষে একত্র হয়ে সোলায়মানের পুত্র রহবিয়ামের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করলো। সেই সময় রহবিয়াম ছিল যুবক ও তাঁর অন্তর ছিল কোমল, তাদের সম্মুখে নিজেকে বলবান করতে পারলেন না।
8
আর এখন তোমরাও দাউদের সন্তানদের অধিকৃত যে মাবুদের রাজ্য, তার প্রতিকূলে নিজেদের বলবান করার মানস করছো; তোমরা বড় সৈন্যবাহিনী এবং সেই দুই সোনার বাছুর তোমাদের সহবর্তী, যা ইয়ারাবিম তোমাদের জন্য দেবতা হিসেবে নির্মাণ করেছে।
9 তোমরা কি মাবুদের ইমামদেরকে— হারুনের সন্তানদের ও লেবীয়দেরকে দূর কর নি? আর অন্যদেশীয় জাতিদের মত তোমাদের জন্য কি ইমামদের নিযুক্ত কর নি? একটি ষাঁড় ও সাতটি ভেড়া সঙ্গে নিয়ে যে কেউ অভিষিক্ত হবার জন্য উপস্থিত হয়, সে ওদের ইমাম হতে পারে, যারা আল্লাহ্ নয়।
10 কিন্তু আমরা সেরকম নই; মাবুদই আমাদের আল্লাহ্; আমরা তাঁকে ত্যাগ করিনি; এবং ইমামেরা— হারুন-সন্তানেরা— মাবুদের পরিচর্যা করছে এবং লেবীয়েরা যার যার কাজে নিযুক্ত রয়েছে।
11 আর তারা মাবুদের উদ্দেশে প্রতিদিন প্রাতে ও সন্ধ্যাবেলা পোড়ানো-কোরবানী দেয় ও সুগন্ধি ধূপ জ্বালায়, আর পবিত্র টেবিলের উপরে দর্শন-রুটি সাজিয়ে রাখে এবং প্রতি সন্ধ্যাবেলা জ্বালবার জন্য প্রদীপগুলোর সঙ্গে সোনার প্রদীপ-আসন প্রস্তুত করে; বস্তুত আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের রক্ষণীয় বস্তু রক্ষা করি; কিন্তু তোমরা তাঁকে ত্যাগ করেছ।
12 আর দেখ, আল্লাহ্ আমাদের সহবর্তী, তিনি আমাদের অগ্রগামী; এবং তাঁর ইমামেরা তোমাদের বিরুদ্ধে রণবাদ্য বাজাবার জন্য রণবাদ্যের তূরীসহ আমাদের সঙ্গী। হে বনি-ইসরাইল, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো না, করলে কৃতকার্য হবে না।
13
পরে ইয়ারাবিম পেছন দিক থেকে তাদের আক্রমণ করার জন্য গোপনে এক দল সৈন্য প্রেরণ করলেন; তাতে তাঁর সৈন্যদল এহুদার সম্মুখে ও সেই গুপ্ত দল তাদের পিছনে ছিল।
14 পরে এহুদার লোকেরা মুখ ফিরালো, আর দেখ, তাদের আগে ও পিছনে যুদ্ধ; তখন তারা মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানাল এবং ইমামেরা তূরী বাজাল।
15 পরে এহুদার লোকেরা রণনাদ করে উঠলো; তাতে এহুদার লোকদের রণনাদকালে আল্লাহ্ অবিয়ের ও এহুদার সম্মুখে ইয়ারাবিমকে ও সমস্ত ইসরাইলকে আঘাত করলেন।
16 তখন বনি-ইসরাইল এহুদার সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল এবং আল্লাহ্ ওদেরকে এহুদার হাতে তুলে দিলেন।
17 আর অবিয় ও তাঁর লোকেরা মহাবিক্রমে ওদেরকে সংহার করলেন; বস্তুত ইসরাইলের পাঁচ লক্ষ মনোনীত লোক মারা পড়লো।
18 এভাবে সেই সময়ে বনি-ইসরাইল নত হল ও এহুদার লোকেরা বলবান হল, কেননা তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের উপরে নির্ভর করেছিল।
19 পরে অবিয় ইয়ারাবিমের পিছনে পিছনে ধাবমান হয়ে তাঁর কয়েকটি নগর, অর্থাৎ বেথেল ও তার সমস্ত উপনগর, যিশানা ও তার সমস্ত উপনগর এবং ইফ্রোণ ও তার সমস্ত উপনগর অধিকার করলেন।
20 অবিয়ের সময়ে ইয়ারাবিম আর বলবান হন নি; পরে মাবুদ তাঁকে আঘাত করলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।
21 কিন্তু অবিয় বলবান হয়ে উঠলেন, আর তিনি চৌদ্দ জন স্ত্রী গ্রহণ করলেন এবং বাইশ পুত্র ও ষোল কন্যার জন্ম দিলেন।
22 অবিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, সমস্ত কাজ ও কথা ইদ্দো নবীর ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
1
পরে অবিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন; এবং দাউদ নগরে তাঁকে দাফন করা হল। আর তাঁর পুত্র আসা তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন; তাঁর সময়ে দেশ দশ বছর সুস্থির থাকলো।
2 আসা তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা ভাল ও ন্যায্য, তা-ই করতেন;
3 তিনি বিজাতীয় কোরবানগাহ্ ও সমস্ত উচ্চস্থলী উঠিয়ে ফেললেন, সমস্ত স্তম্ভ চূর্ণ বিচূর্ণ করলেন ও সমস্ত আশেরা-মূর্তি ধ্বংস করলেন;
4 আর তিনি এহুদার লোকদেরকে তাদের পূর্ব-পুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ এবং তাঁর শরীয়ত ও হুকুম পালন করতে হুকুম করলেন।
5 আর তিনি এহুদার সমস্ত নগরের মধ্য থেকে উচ্চস্থলী ও সমস্ত সূর্য-মূর্তি উঠিয়ে ফেললেন; আর তাঁর সম্মুখে রাজ্য সুস্থির হল।
6
আর তিনি এহুদা দেশে প্রাচীরবেষ্টিত কতগুলো নগর নির্মাণ করলেন, কেননা দেশ সুস্থির ছিল এবং কয়েক বছর পর্যন্ত কেউ তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করলো না, কারণ মাবুদ তাঁকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন।
7 অতএব তিনি এহুদাকে বললেন, এসো, আমরা এসব নগর গাঁথি এবং এগুলোর চারদিকে প্রাচীর, উচ্চগৃহ, দ্বার ও অর্গল নির্মাণ করি; দেশ তো আজও আমাদের সম্মুখে আছে; কেননা আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ করেছি, আমরা তাঁর খোঁজ করেছি, আর তিনি সর্বক্ষেত্রে আমাদের বিশ্রাম দিয়েছেন। এভাবে তারা নগরগুলো গেঁথে কুশলতার সঙ্গে সমাপ্ত করলো।
8 আসার ঢাল ও বর্শাধারী অনেক সৈন্য ছিল, এহুদার তিন লক্ষ ও বিন্ইয়ামীনের ঢাল ও ধনুর্ধারী দুই লক্ষ আশি হাজার; তারা সকলে বলবান বীর ছিল।
9
পরে ইথিওপিয়া দেশের সেরহ দশ লক্ষ সৈন্য ও তিন শত রথ সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বের হলেন ও মারেশা পর্যন্ত আসলেন।
10 তাতে আসা তার বিরুদ্ধে বের হয়ে আসলেন। ওরা মারেশার নিকটস্থ সফাথা উপত্যকায় সৈন্য সমাবেশ করলো।
11 তখন আসা তাঁর আল্লাহ্ মাবুদকে ডাকলেন, বললেন, হে মাবুদ, তুমি ছাড়া এমন আর কেউ নেই, যে বলবানের ও বলহীনের মধ্যে সাহায্য করে; হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, আমাদের সাহায্য কর; কেননা আমরা তোমার উপরে নির্ভর করি এবং তোমারই নামে এই জন-সমারোহের বিরুদ্ধে এসেছি। হে মাবুদ, তুমি আমাদের আল্লাহ্, তোমার বিরুদ্ধে মানুষ শক্তিশালী না হোক।
12 তখন মাবুদ আসার ও এহুদার সম্মুখে ইথিওপীয়দেকে আঘাত করলেন, তাতে ইথিওপীয়রা পালিয়ে গেল।
13 আর আসা ও তাঁর সঙ্গী লোকেরা গরার পর্যন্ত তাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে চললেন, তাতে এত কূশীয় মারা পড়লো যে, আর তারা সবল হয়ে উঠতে পারল না; কারণ মাবুদ ও তাঁর সৈন্যদের সম্মুখে তারা অবসন্ন হয়ে পড়লো; এবং লোকেরা প্রচুর লুটদ্রব্য নিয়ে এল।
14 আর তারা গরারের চারদিকে সমস্ত নগরকে আঘাত করলো, কেননা মাবুদের ভয় ওদের উপরে পড়েছিল; আর তারা সেসব নগরও লুট করলো, কেননা সেসব নগরে প্রচুর লুটদ্রব্য ছিল।
15 আর তারা পশুচারকদের তাঁবুগুলোও আঘাত করলো এবং বিস্তর ভেড়া ও উট নিয়ে জেরুশালেমে ফিরে এল।
1
পরে আল্লাহ্র রূহ্ ওদেদের পুত্র অসরিয়ের উপরে অবতীর্ন হল, তাতে তিনি আসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন,
2 গিয়ে তাঁকে বললেন, হে আসা এবং হে এহুদার ও বিন্ইয়ামীনের লোকেরা, তোমরা আমার কথা শোন। তোমরা যতদিন মাবুদের সঙ্গে থাকবে ততদিন তিনিও তোমাদের সঙ্গে থাকবেন; আর যদি তোমরা তার খোঁজ কর তবে তিনি তোমাদেরকে তাঁর উদ্দেশ পেতে দেবেন; কিন্তু যদি তাঁকে ত্যাগ কর তবে তিনি তোমাদেরকে ত্যাগ করবেন।
3 ইসরাইল বহুকাল সত্যময় আল্লাহ্-বিহীন, শিক্ষাদায়ক ইমামবিহীন ও শরীয়তবিহীন ছিল;
4 কিন্তু সঙ্কটে যখন তারা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফিরে এসে তাঁর খোঁজ করলো, তখন তিনি তাদেরকে তাঁর উদ্দেশ পেতে দিলেন।
5 সেই সময়ে কারো জন্য কোথাও যাওয়া-আসা করা নিরাপদ ছিল না, কারণ দেশ-নিবাসী সবাই খুব অশান্ত অবস্থায় ছিল।
6 তারা চূর্ণ হত, এক জাতি অন্য জাতিকে ও এক নগর অন্য নগরকে আঘাত করতো; কেননা আল্লাহ্ নানা রকম সঙ্কট দ্বারা তাদেরকে বিপদগ্রস্ত করতেন।
7 কিন্তু তোমরা বলবান হও, তোমাদের হাত শিথিল না হোক, কেননা তোমাদের কাজ পুরস্কৃত হবে।
8
যখন আসা এসব কথা, অর্থাৎ ওদেদ নবীর ভবিষ্যদ্বাণী শুনলেন, তখন তিনি সাহস পেয়ে এহুদা ও বিন্ইয়ামীনের সমস্ত দেশ থেকে এবং তিনি পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে যেসব নগর অধিকার করেছিলেন, সেসব নগর থেকে ঘৃণার বস্তুগুলো দূর করলেন এবং মাবুদের বারান্দার সম্মুখস্থ মাবুদের কোরবানগাহ্ মেরামত করলেন।
9 পরে তিনি সমস্ত এহুদা ও বিন্ইয়ামীন এবং তাদের মধ্যে প্রবাসী আফরাহীম, মানশা ও শিমিয়োন থেকে আগত লোকদেরকে একত্র করলেন; কেননা তাঁর আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর সহবর্তী আছেন দেখে, ইসরাইল থেকে অনেক লোক এসে তাঁর পক্ষ গ্রহণ করেছিল।
10 আসার রাজত্বের পঞ্চদশ বছরের তৃতীয় মাসে লোকেরা জেরুশালেমে একত্র হল।
11 তারা যে সমস্ত দ্রব্য লুন্ঠন করে এনেছিল সেই সমস্ত থেকে সেই দিন সাত শত গরু ও সাত হাজার ভেড়া মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করলো।
12 আর তারা এই নিয়মে আবদ্ধ হল যে, নিজ নিজ সমস্ত অন্তঃকরণ ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ করবে;
13 ছোট বা বড়, পুরুষ বা স্ত্রী, যে কেউ ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ না করবে, তার প্রাণদণ্ড হবে।
14 তারা উচ্চৈঃস্বরে জয়ধ্বনিপূর্বক তূরী ও শৃঙ্গ বাজিয়ে মাবুদের সাক্ষাতে শপথ করলো।
15 এই শপথে সমস্ত এহুদা আনন্দ করলো, কেননা তারা তাদের সমস্ত অন্তঃকরণের সঙ্গে শপথ করেছিল; এবং সম্পূর্ণ বাসনার সঙ্গে মাবুদের খোঁজ করাতে তিনি তাদেরকে তাঁর উদ্দেশ পেতে দিলেন; আর তিনি সমস্ত দিক থেকেই তাদেরকে বিশ্রাম দিলেন।
16
আর বাদশাহ্ আসার মা মাখা আশেরার একটি ভয়ঙ্কর মূর্তি তৈরি করেছিলেন বলে আসা তাঁকে মাতারাণীর পদ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং আসা তাঁর সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি কেটে চূর্ণ করলেন ও কিদ্রোণ স্রোতের ধারে তা পুড়িয়ে দিলেন।
17 কিন্তু ইসরাইলের মধ্য থেকে সমস্ত উচ্চস্থলী দূরীকৃত হল না; তবুও আসার অন্তঃকরণ সারাজীবন একাগ্র ছিল।
18 আর তিনি তাঁর পিতার পবিত্রীকৃত ও তাঁর নিজের পবিত্রীকৃত রূপা, সোনা ও সমস্ত পাত্র আল্লাহ্র গৃহে আনলেন।
19 আসার রাজত্বের পয়ঁত্রিশ বছর পর্যন্ত আর যুদ্ধ হল না।
1
আসার রাজত্বের ছত্রিশ বছরে ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশা এহুদার বিরুদ্ধে যাত্রা করলেন এবং তিনি এহুদার বাদশাহ্ আসার কাছে কাউকেও যাতায়াত করতে না দেবার আশায় রামা নগর নির্মাণ করলেন।
2 তখন আসা মাবুদের গৃহের ও রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডার থেকে রূপা ও সোনা বের করে দামেস্ক-নিবাসী অরামের বাদশাহ্ বিন্হদদের কাছে এই বলে পাঠিয়ে দিলেন,
3 আমার ও আপনার সঙ্গে চুক্তি আছে, যেমন আমার পিতা ও আপনার পিতার সঙ্গে ছিল; দেখুন, আমি আপনার কাছে রূপা ও সোনা পাঠালাম। আপনি গিয়ে, ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশার সঙ্গে আপনার যে চুক্তি আছে, তা ভঙ্গ করুন; তা হলে সে আমার কাছ থেকে প্রস্থান করবে।
4 তখন বিন্হ্দদ আসা বাদশাহ্র কথায় কান দিলেন; তিনি ইসরাইলের নগরগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর সেনাপতিদেরকে প্রেরণ করলেন এবং তারা ইয়োন, দান, আবেল-ময়িম ও নপ্তালির সমস্ত ভাণ্ডার-নগরকে আক্রমণ করলো।
5 তখন বাশা এই সংবাদ পেয়ে রামা নির্মাণ থেকে নিবৃত্ত হলেন; তাঁর কাজ থেকে ক্ষান্ত হলেন।
6 পরে বাদশাহ্ আসা সমস্ত এহুদাকে সঙ্গে নিলেন, রামায় বাশা যে পাথর ও কাঠ দিয়ে গেঁথেছিলেন তারা সেসব নিয়ে গেল। পরে আসা সেগুলো দিয়ে সেবা ও মিম্পা নগর নির্মাণ করলেন।
7
সেই সময় হনানি দর্শক এহুদার বাদশাহ্ আসার কাছে এসে বললেন, আপনি আপনার আল্লাহ্ মাবুদের উপরে নির্ভর না করে অরাম-রাজ্যের উপরে নির্ভর করলেন, এজন্য অরাম-রাজ্যের সৈন্য আপনার হাত এড়িয়ে গেল।
8 ইথিওপীয় ও লিবীয়দের কি মহা সৈন্য এবং রথ ও ঘোড়সওয়ারের আধিক্য ছিল না? তবুও আপনি মাবুদের উপরে নির্ভর করাতে তিনি তাদেরকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
9 কেননা মাবুদের প্রতি যাদের অন্তঃকরণ একাগ্র, তাদের পক্ষে নিজেকে বলবান দেখাবার জন্য তাঁর চোখ দুনিয়ার সর্বত্র ভ্রমণ করে। এই বিষয়ে আপনি অজ্ঞানের কাজ করেছেন, কেননা এর পরে পুনঃপুনঃ আপনার বিপক্ষে যুদ্ধ উপস্থিত হবে।
10 তখন আসা ঐ দর্শকের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে কারাগারে আটক করে রাখলেন; কেননা ঐ কথার দরুন তিনি তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। আর ঐ সময়ে আসা লোকদের মধ্যেও কতকগুলো লোকের প্রতি দৌরাত্ম করলেন।
11
আর দেখ, আসার আদ্যোপান্ত কাজের বৃত্তান্ত এহুদা ও ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস পুস্তকে লেখা আছে।
12 আসার রাজত্বের ঊনচল্লিশ বছরে তাঁর পায়ে রোগ হল; তাঁর রোগ অতি বিষম হল; তবুও রোগের সময়েও তিনি মাবুদের খোঁজ না করে বৈদ্যদেরই খোঁজ করলেন।
13 পরে আসা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, তাঁর রাজত্বের একচল্লিশ বছরে ইন্তেকাল করলেন।
14 আর তিনি দাউদ-নগরে নিজের জন্য যে কবর খনন করেছিলেন, তার মধ্যে লোকেরা তাঁকে দাফন করলো এবং গন্ধবণিকের প্রক্রিয়াতে প্রস্তুত নানা রকম সুগন্ধি দ্রব্যে পরিপূর্ণ বিছানায় তাঁকে শয়ন করাল, আর তাঁর সম্মানে একটি বড় আগুন জ্বালাল।
1
পরে তাঁর পুত্র যিহোশাফট তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করলেন।
2 তিনি এহুদার সকল প্রাচীর-বেষ্টিত নগরে সৈন্য রাখলেন এবং এহুদা দেশে ও তাঁর পিতা আসা আফরাহীমের যেসব নগর অধিকার করেছিলেন, সেসব নগরেও সৈন্যদল স্থাপন করলেন।
3 আর মাবুদ যিহোশাফটের সহবর্তী ছিলেন, কারণ তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের প্রথম আচরণ-পথে চলতেন, বাল দেবতাদের খোঁজ করতেন না;
4 কিন্তু তাঁর পৈতৃক আল্লাহ্র খোঁজ করতেন ও তাঁর সকল হুকুম অনুসারে চলতেন, ইসরাইলের কর্মানুযায়ী কাজ করতেন না।
5 অতএব মাবুদ তাঁর হাতে রাজ্য দৃঢ় করলেন; আর সমস্ত এহুদা যিহোশাফটের কাছে উপঢৌকন আনলো এবং তাঁর ধন ও প্রতাপ অতিশয় বৃদ্ধি পেল।
6 আর মাবুদের পথে তাঁর অন্তঃকরণ উন্নত হল; আবার তিনি এহুদার মধ্য থেকে উচ্চস্থলী ও সমস্ত আশেরা-মূর্তি দূর করলেন।
7
পরে তিনি তাঁর রাজত্বের তৃতীয় বছরে এহুদার সকল নগরে উপদেশ দেবার জন্য তাঁর কয়েকজন কর্মকর্তা অর্থাৎ বিন্-হয়িল, ওবদিয়, জাকারিয়া, নথনেল ও মীখায়কে প্রেরণ করলেন।
8 আর তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন লেবীয়কে অর্থাৎ শময়িয়, নথনিয়, সবদিয়, অসাহেল, শমীরামোৎ, যিহোনাথন, অদোনিয়, টোবিয় ও টোব্অদোনীয়, এসব লেবীয়কে এবং তাঁদের সঙ্গে ইলীশামা ও যিহোরাম, এই দুই ইমামকেও পাঠালেন।
9 তাঁরা মাবুদের শরীয়ত-কিতাব সঙ্গে নিয়ে এহুদা দেশে উপদেশ দিতে লাগলেন; তাঁরা এহুদার সমস্ত নগরে গিয়ে লোকদেরকে উপদেশ দিলেন।
10
আর এহুদার চারদিকের সকল রাজ্যে মাবুদ থেকে এমন ভয় উপস্থিত হল, যে তারা যিহোশাফটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলো না।
11 আর ফিলিস্তিনীদেরও কেউ কেউ যিহোশাফটের কাছে করস্বরূপ উপঢৌকন ও রূপা আনলো এবং আরবীয়েরা তাঁর কাছে পশুপাল, সাত হাজার সাত শত ভেড়া ও সাত হাজার সাত শত ছাগল আনলো।
12 এভাবে যিহোশাফট অতিশয় মহান হয়ে উঠলেন এবং এহুদা দেশে অনেক দুর্গ ও ভাণ্ডার-নগর নির্মাণ করলেন।
13 আর এহুদার নগরগুলোর মধ্যে তাঁর অনেক কাজ ছিল এবং জেরুশালেমে তাঁর বলবান বীর যোদ্ধারা থাকতো।
14 তাদের পিতৃকুল অনুসারে তাদের সংখ্যা এই; এহুদার সহস্রপতিদের মধ্যে অদ্ন সেনাপতি ছিলেন, তাঁর সঙ্গে তিন লক্ষ বলবান বীর ছিল।
15 তাঁর পরে যিহোহানন সেনাপতি, তাঁর সঙ্গে দুই লক্ষ আশি হাজার লোক ছিল।
16 তাঁর পরে সিখ্রির পুত্র অমসিয়; সেই ব্যক্তি নিজেকে মাবুদের উদ্দেশে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত করেছিলেন; তাঁর সঙ্গে দুই লক্ষ বলবান বীর ছিল।
17 আর বিন্ইয়ামীনের মধ্যে বলবান বীর ইলিয়াদা, তাঁর সঙ্গে দুই লক্ষ তীরন্দাজ ও ঢালী ছিল।
18 তাঁর পরে ছিল যিহোষাবদ; তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সজ্জিত এক লক্ষ আশি হাজার লোক ছিল। এঁরা বাদশাহ্র পরিচর্যা করতেন।
19 এঁদের ছাড়া বাদশাহ্ এহুদার সর্বত্র প্রাচীরবেষ্টিত নগরে কর্মচারী রাখতেন।
1
যিহোশাফট অতিশয় ঐশ্বর্যবান ও প্রতাপান্বিত হলেন, আর তিনি আহাবের সঙ্গে কুটুম্বিতা করলেন।
2 কয়েক বছর পরে তিনি সামেরিয়াতে আহাবের কাছে গেলেন, আর আহাব তাঁর জন্য ও তাঁর সঙ্গী লোকদের জন্য ও অনেক ভেড়া ও বলদ জবেহ্ করলেন এবং রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করতে যাবার জন্য তাঁকে প্ররোচিত করলেন।
3 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাব এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আপনি কি রামোৎ-গিলিয়দে আমার সঙ্গে যাবেন? তিনি উত্তর করলেন, আমিও আপনি এবং আমার লোক ও আপনার লোক সকলেই এক, আমরা যুদ্ধে আপনার সঙ্গী হবো।
4
পরে যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্কে বললেন, আরজ করি, আজ মাবুদের কালামের খোঁজ করুন।
5 তাতে ইসরাইলের বাদশাহ্ চারশোজন নবীকে একত্র করে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা রামোৎ-গিলিয়দে যুদ্ধযাত্রা করবো, না আমি ক্ষান্ত হব? তখন তারা বললো যাত্রা করুন, আল্লাহ্ তা বাদশাহ্র হাতে তুলে দেবেন।
6 কিন্তু যিহোশাফট বললেন, এদের ছাড়া মাবুদের এমন কোন নবী কি এই স্থানে নেই যে, আমরা তাঁরই কাছে খোঁজ করতে পারি?
7 ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমরা যার দ্বারা মাবুদের কাছে খোঁজ করতে পারি, এমন আর এক জন আছে, কিন্তু আমি তাকে ঘৃণা করি, কেননা আমার উদ্দেশে সে কখনই মঙ্গলের নয়, সব সময়ই কেবল অমঙ্গলের উদ্দেশ্যে কথা বলে; সেই ব্যক্তি ইম্লের পুত্র মীখায়। যিহোশাফট বললেন, বাদশাহ্, এমন কথা বলবেন না।
8 তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ এক জন কর্মচারীকে ডেকে নির্দেশ দিলেন, ইম্লের পুত্র মীখায়কে শীঘ্র নিয়ে এসো।
9 সেই সময়ে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট যার যার রাজপোশাক পরে নিজ নিজ সিংহাসনে বসেছিলেন, তাঁরা সামেরিয়ার প্রবেশ-দ্বারের স্থানের খোলা জায়গায় বসেছিলেন এবং তাঁদের সম্মুখে নবীরা সকলে ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করছিল।
10 আর কেনানার পুত্র সিদিকিয় লোহার দু’টি শিং তৈরি করে বললো, মাবুদ এই কথা বলেন, ‘এর দ্বারা আপনি অরামের বিনাশ সাধন পর্যন্ত গুঁতাবেন।’
11 আর নবীরা সকলেই সেরকম ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করলো, বললো আপনি রামোৎ-গিলিয়দে যাত্রা করুন, কৃতকার্য হোন, কেননা মাবুদ তা বাদশাহ্র হাতে তুলে দেবেন।
12
আর যে দূত মীখায়কে ডাকতে গিয়েছিল, সে তাঁকে বললো দেখুন, নবীদের সমস্ত কথা এক মুখে বাদশাহ্র পক্ষে মঙ্গল সূচনা করে; অতএব আরজ করি, আপনার কথা ওদের কোন একজনের কথার অনুরূপ হোক, আপনি মঙ্গলসূচক কথা বলুন।
13 মীখায় বললেন, জীবন্ত মাবুদের কসম, আমার আল্লাহ্ যা বলেন, আমি মাত্র তা-ই বলবো।
14
পরে তিনি বাদশাহ্র কাছে আসলে বাদশাহ্ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, মীখায়, আমরা রামোৎ-গিলিয়দে যুদ্ধ করতে যাব, না আমি ক্ষান্ত হব? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আপনারা যাত্রা করুন, কৃতকার্য হোন; সেখানকার লোকেরা আপনাদের হাতে অর্পিত হবে।
15 বাদশাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি মাবুদের নামে আমাকে সত্যি ছাড়া আর কিছুই বলবে না, আমি কতবার তোমাকে এই শপথ করাব?
16 তখন তিনি বললেন, আমি সমস্ত ইসরাইলকে অরক্ষক ভেড়ার পালের মত পর্বতগুলোর উপরে ছিন্নভিন্ন দেখলাম এবং মাবুদ বললেন, ওদের স্বামী নেই; ওরা প্রত্যেকে সহিসালামতে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাক।
17 তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমি কি আগেই আপনাকে বলি নি যে, এই ব্যক্তি আমার উদ্দেশে মঙ্গলের নয়, কেবল অমঙ্গলের কথা বলে থাকে?
18
আর মীখায় বললেন, এজন্য আপনারা মাবুদের কালাম শুনুন; আমি দেখলাম, মাবুদ তাঁর সিংহাসনে উপবিষ্ট, আর তাঁর ডানে ও বামে বেহেশতের সমস্ত বাহিনী দণ্ডায়মান।
19 পরে মাবুদ বললেন, ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাব যেন যাত্রা করে রামোৎ-গিলিয়দে মারা পড়ে, এজন্য কে তাকে প্ররোচিত করবে? তাতে কেউ এক কথা, কেউ বা অন্য কথা বললো।
20 শেষে একটি রূহ্ গিয়ে মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললো আমি তাকে প্ররোচিত করবো।
21 মাবুদ বললেন, কিসে? সে বললো আমি গিয়ে তার সমস্ত নবীর মুখে মিথ্যাবাদী রূহ্ হবো। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে প্ররোচিত করবে, কৃতকার্যও হবে; যাও সেরকম কর।
22 অতএব দেখুন, মাবুদ আপনার এ সব নবীর মুখে মিথ্যাবাদী রূহ্ দিয়েছেন; আর মাবুদ আপনার বিষয়ে অমঙ্গলের কথা বলেছেন।
23
তখন কেনানার পুত্র সিদিকিয় কাছে এসে মীখায়ের গালে চপেটাঘাত করে বললো মাবুদের রূহ্ তোর সঙ্গে কথা বলবার জন্য আমার কাছ থেকে কোন্ পথে গিয়েছিলেন?
24 আর মীখায় বললেন, দেখ যেদিন তুমি লুকাবার জন্য একটি ভিতরের কুঠরীতে যাবে, সেদিন তা জানবে।
25 পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ বললেন, মীখায়কে ধরে পুনরায় নগরাধ্যক্ষ আমোন ও রাজপুত্র যোয়াশের কাছে নিয়ে যাও।
26 আর বল, বাদশাহ্ এই কথা বলেন, একে কারাগারে আটক করে রাখ এবং যে পর্যন্ত আমি সহিসালামতে ফিরে না আসি, সেই পর্যন্ত একে আহার করার জন্য অল্প খাদ্য ও অল্প পানি দাও।
27 মীখায় বললেন, যদি আপনি কোনমতে সহিসালামতে ফিরে আসেন, তবে মাবুদ আমার দ্বারা কথা বলেন নি। আর তিনি বললেন, হে জাতিরা, তোমরা সকলে শোন।
28
পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ ও এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দে যাত্রা করলেন।
29 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, আমি অন্য বেশ ধারণ করে যুদ্ধে প্রবেশ করবো, আপনি রাজপোশাকই পরে নিন। পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ অন্য বেশ ধরলে তাঁরা যুদ্ধে প্রবেশ করলেন।
30 অরামের বাদশাহ্ তাঁর রথাধ্যক্ষ সেনাপতিদেরকে এই হুকুম দিয়েছিলেন, তোমরা কেবল ইসরাইলের বাদশাহ্ ছাড়া ক্ষুদ্র বা মহান আর কারো সঙ্গে যুদ্ধ করো না।
31 পরে রথের সেনাপতিরা যিহোশাফটকে দেখে উনিই অবশ্য ইসরাইলের বাদশাহ্, এই কথা বলে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ঘুরে আসলেন; তখন যিহোশাফট চেঁচিয়ে উঠলেন, আর মাবুদ তাঁর সাহায্য করলেন এবং আল্লাহ্ তাঁর কাছ থেকে তাঁদেরকে যেতে প্রবৃত্তি দিলেন।
32 বস্তুত রথের সেনাপতিরা যখন দেখলেন, ইনি ইসরাইলের বাদশাহ্ নন, তখন তাঁর পিছনে তাড়া করা বাদ দিয়ে ফিরে গেলেন।
33 কিন্তু একটা লোক লক্ষ্য স্থির না করেই ধনুকে টান দিয়ে ইসরাইলের বাদশাহ্র উদর-ত্রাণের ও বুকপাটার সন্ধিস্থানে বাণাঘাত করলো; তাতে তিনি তাঁর সঙ্গীকে বললেন, হাত ফিরিয়ে সৈন্যদলের মধ্য থেকে আমাকে নিয়ে যাও, আমি দারুণ আঘাত পেয়েছি।
34 সেদিন তুমুল যুদ্ধ হল; আর ইসরাইলের বাদশাহ্ অরামীয়দের সম্মুখে সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত রথে নিজেকে দণ্ডায়মান রাখলেন, কিন্তু সূর্যাস্তকালে ইন্তেকাল করলেন।
1
পরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট সহিসালামতে জেরুশালেমে নিজের বাড়িতে ফিরে আসলেন।
2 আর হনানির পুত্র যেহূ দর্শক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বাদশাহ্ যিহোশাফটকে বললেন, দুর্জনের সাহায্য করা এবং মাবুদের বিদ্বেষীদেরকে মহব্বত করা কি আপনার উপযুক্ত? এজন্য মাবুদের গজব আপনার উপরে নেমে আসল।
3 যা হোক, আপনার মধ্যে কিছু কিছু সাধু ভাব পাওয়া গেছে; কেননা আপনি দেশ থেকে সমস্ত আশেরা-মূর্তি উচ্ছিন্ন করেছেন এবং আল্লাহ্র খোঁজ করার জন্য আপনার অন্তঃকরণ সুস্থির করেছেন।
4
আর যিহোশাফট জেরুশালেমে বাস করলেন; পরে আবার বের্-শেবা থেকে পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশ পর্যন্ত লোকদের মধ্যে যাতায়াত করে তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের পক্ষে তাদেরকে ফিরিয়ে আনলেন।
5 আর দেশের মধ্যে অর্থাৎ এহুদার প্রাচীর-বেষ্টিত বিভিন্ন নগরে বিচারকর্তা নিযুক্ত করলেন।
6 তিনি বিচারকর্তাদেরকে বললেন, তোমরা যা করবে, সাবধান হয়ে করো; কেননা তোমরা মানুষের জন্য নয়, কিন্তু মাবুদের জন্য বিচার করবে এবং বিচারের ব্যাপারে তিনি তোমাদের সহবর্তী।
7 অতএব মাবুদের ভয় তোমাদের মধ্যে অধিষ্ঠিত হোক, তোমরা সাবধান হয়ে কাজ কর, কেননা অন্যায়, বা মুখাপেক্ষা, বা ঘুষ গ্রহণে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সম্মতি নেই।
8
আর যিহোশাফট জেরুশালেমেও মাবুদের পক্ষে বিচার এবং ঝগড়া নিষ্পত্তি করার জন্য লেবীয়, ইমাম ও ইসরাইলের পিতৃকুলপতিদের কয়েকজনকে নিযুক্ত করলেন; আর তাঁরা জেরুশালেমে ফিরে আসলেন।
9 তিনি তাঁদেরকে এই হুকুম দিলেন, তোমরা মাবুদের ভয়ে বিশ্বস্তভাবে একাগ্রচিত্তে এরকম কাজ কর।
10 রক্তপাতের বিষয়ে, শরীয়ত ও হুকুম এবং বিধি ও অনুশাসনের বিষয়ে যে কোন বিচার যার যার নগরে বাসকারী তোমাদের ভাইদের দ্বারা তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়, সেই বিষয়ে তাদেরকে উপদেশ দেবে, পাছে তারা মাবুদের বিরুদ্ধে দোষী হয়, আর তোমাদের ও তোমাদের ভাইদের উপরে গজব নেমে আসে; এভাবে কাজ করো, তা হলে তোমরা দোষী হবে না।
11 আর দেখ, মাবুদের সমস্ত বিচারের ব্যাপারে প্রধান ইমাম অমরিয় এবং বাদশাহ্র সমস্ত বিচারে এহুদা-কুলের নেতা ইসমাইলের পুত্র সবদিয় তোমাদের উপরে নিযুক্ত আছেন; কর্মচারী লেবীয়েরাও তোমাদের সম্মুখে আছে। তোমরা সাহস-পূর্বক কাজ কর, আর মাবুদ সুজনের সহবর্তী হোন।
1
পরে মোয়াবীয়রা ও অম্মোনীয়রা এবং তাদের সঙ্গে কয়েকজন মায়োনীয় লোক যিহোশাফটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এল।
2 তখন কিছু সংখ্যক লোক এসে যিহোশাফটকে এই সংবাদ দিল, সাগরের ওপারস্থ অরাম থেকে বিপুল সংখ্যক লোক আপনার বিরুদ্ধে আসছে; দেখুন, তারা হৎসসোন-তামরে, অর্থাৎ ঐন্-গদীতে আছে।
3 তাতে যিহোশাফট ভয় পেয়ে মাবুদের অন্বেষণ করতে মনস্থ করলেন এবং এহুদার সর্বত্র রোজা ঘোষণা করিয়ে দিলেন।
4 আর এহুদার লোকেরা মাবুদের কাছে সাহায্য যাচ্ঞা করার জন্য একত্র হল; এহুদার সমস্ত নগর থেকে লোকেরা মাবুদের খোঁজ করতে এল।
5
পরে যিহোশাফট মাবুদের গৃহে নতুন প্রাঙ্গণের সম্মুখে এহুদা ও জেরুশালেমের সমাজের মাঝখানে দাঁড়ালেন,
6 আর বললেন, হে আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ, তুমি কি বেহেশতের আল্লাহ্ নও? তুমি কি জাতিদের সমস্ত রাজ্যের মালিক নও? আর শক্তি ও পরাক্রম তোমারই হাতে, তোমার বিপক্ষে দাঁড়াতে কারো সাধ্য নেই।
7 হে আমাদের আল্লাহ্, তুমিই কি তোমার লোক ইসরাইলের সম্মুখ থেকে দেশবাসীদের অধিকারচ্যুত কর নি? এবং তোমার বন্ধু ইব্রাহিমের বংশকে চিরকালের জন্য কি এই দেশ দাও নি?
8 আর তারা এই দেশে বাস করেছে এবং এই দেশে তোমার নামের জন্য একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করে বলেছে,
9 তলোয়ার বা বিচারসিদ্ধ দণ্ড, বা মহামারী, বা দুর্ভিক্ষস্বরূপ অমঙ্গল যখন আমাদের প্রতি ঘটবে, তখন আমরা এই গৃহের সম্মুখে, তোমারই সম্মুখে দণ্ডায়মান হব কেননা এই গৃহে তোমার নাম আছে এবং আমাদের সঙ্কটে আমরা তোমার কাছে কান্নাকাটি করবো, তাতে তুমি তা শুনে আমাদের নিস্তার করবে।
10 আর এখন দেখ, অম্মোনীয় ও মোয়াবীয়রা এবং সেয়ীর পর্বত-নিবাসীরা— যাদের দেশে তুমি ইসরাইলকে মিসর দেশ থেকে আসার সময়ে প্রবেশ করতে দাও নি; কিন্তু ইসরাইল ওদের কাছ থেকে অন্য পথে গিয়েছিল, ওদেরকে বিনষ্ট করে নি;
11 দেখ ওরা আমাদের কিরূপ অপকার করছে; তুমি যা আমাদেরকে ভোগ করতে দিয়েছ, তোমার সেই অধিকার থেকে আমাদেরকে তাড়িয়ে দিতে আসছে।
12 হে আমাদের আল্লাহ্ তুমি কি ওদের বিচার করবে না? আমাদের বিরুদ্ধে ঐ যে বড় দল আসছে, ওদের বিরুদ্ধে আমাদের তো নিজের কোন সামর্থ নেই; কি করতে হবে, তাও আমরা জানি না; আমরা কেবল তোমার দিকে চেয়ে আছি।
13
এভাবে শিশু, স্ত্রীলোক ও সন্তানদের সঙ্গে সমস্ত এহুদা মাবুদের সাক্ষাতে দণ্ডায়মান হল।
14 আর সমাজের মধ্যে যহসীয়েল নামে এক জন লেবীয়ের উপরে মাবুদের রূহ্ আসলেন। তিনি আসফ-বংশজাত মত্তনিয়ের সন্তান যিয়েলের সন্তান বনায়ের সন্তান জাকারিয়ার পুত্র।
15 তখন তিনি বললেন, হে সমগ্র এহুদা, হে জেরুশালেম-নিবাসী সমস্ত লোক, আর হে বাদশাহ্ যিহোশাফট, শোন, মাবুদ তোমাদেরকে এই কথা বলেন, তোমরা ঐ বিশাল লোক জমায়েত দেখে ভয় কোরো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না, কেননা এই যুদ্ধ তোমাদের নয় কিন্তু আল্লাহ্র।
16 তোমরা আগামীকাল ওদের বিরুদ্ধে নেমে যাও; দেখ, তারা সীস নামক আরোহণ-স্থান দিয়ে আসছে; তোমরা যিরূয়েল মরুভূমির সম্মুখে উপত্যকার অন্তভাগে তাদের পাবে।
17 এবার তোমাদের যুদ্ধ করতে হবে না; হে এহুদা ও জেরুশালেম, তোমরা শ্রেণীবদ্ধ হও, দাঁড়িয়ে থাক, আর তোমাদের সহবর্তী মাবুদ যে নিস্তার করবেন, তা দেখ। তোমরা ভয় কোরো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না; আগামীকাল তাদের বিরুদ্ধে যাত্রা কর; কেননা মাবুদ তোমাদের সহবর্তী।
18
তখন যিহোশাফট ভূমিতে অধোমুখ হয়ে সেজ্দা করলেন এবং সমস্ত এহুদা ও জেরুশালেম-নিবাসীরা মাবুদের সম্মুখে সেজ্দা পড়ে মাবুদের মাবুদের এবাদত করলো।
19 পরে কহাৎ-বংশজাত ও কারুন-বংশজাত লেবীয়েরা অতি উচ্চৈঃস্বরে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের প্রশংসা করতে উঠে দাঁড়ালো।
20
পরে তারা প্রত্যুষে উঠে তকোয় মরুভূমিতে যাত্রা করলো; তাদের যাত্রাকালে যিহোশাফট দাঁড়িয়ে বললেন, হে এহুদা, হে জেরুশালেম-নিবাসীরা, আমার কথা শোন; তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উপর বিশ্বাস কর, তাতে সুস্থির হবে; তাঁর নবীদের উপর বিশ্বাস কর, তাতে কৃতকার্য হবে।
21 আর তিনি লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে লোক নিযুক্ত করলেন, যেন তারা সৈন্যশ্রেণীর অগ্রভাগে গিয়ে মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী ও পবিত্র শোভায় প্রশংসা করে এবং এই কথা বলে, “মাবুদের প্রশংসা-গজল কর, কেননা তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকাল স্থায়ী”।
22 যখন তারা আনন্দ গান ও প্রশংসা করতে আরম্ভ করলো, তখন মাবুদ এহুদার বিরুদ্ধে আগত অম্মোনীয় ও মোয়াবীয়দের ও সেয়ীর পর্বতীয় লোকদের বিরুদ্ধে লুকিয়ে থাকা সৈন্যদের নিযুক্ত করলেন; তাতে তারা পরাজিত হল।
23 আর অম্মোনীয়রা ও মোয়াবীয়রা নিঃশেষে হত্যা ও বিনাশ করার জন্য সেয়ীর পর্বত-নিবাসীদের বিরুদ্ধে উঠলো, আর সেয়ীর-নিবাসীদেরকে সংহার করার পর পরস্পর এক জন অন্যের বিনাশ সাধনে সাহায্য করলো।
24
তখন এহুদার লোকেরা মরুভূমিতে উঁচু পাহারা-ঘরে উপস্থিত হয়ে লোক সমারোহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলো, আর দেখ, ভূমিতে কেবলমাত্র লাশ পড়ে আছে, কেউই পালিয়ে বাঁচতে পারে নি।
25 তখন যিহোশাফট ও তাঁর লোকেরা তাদের লুট করতে গিয়ে তাদের মধ্যে শবের সঙ্গে প্রচুর ধন-সম্পদ ও বহুমূল্য রত্ন দেখতে পেলেন; তাঁরা নিজেদের জন্য এত ধন সংগ্রহ করলেন যে, সমস্ত নিয়ে যেতে পারলেন না; সেই লুণ্ঠিত বস্তু এত বেশি ছিল যে, তা নিয়ে যেতে তাঁদের তিন দিন লাগল।
26 আর চতুর্থ দিনে তাঁরা বরাখা-উপত্যকায় সমাগত হলেন; কেননা সেই স্থানে তারা মাবুদের প্রশংসা করলো, এই কারণ আজ পর্যন্ত সেই স্থান বরাখা [শুকরিয়া] উপত্যকা নামে খ্যাত।
27 পরে এহুদা ও জেরুশালেমের সমস্ত লোক এবং তাদের অগ্রভাগে গমনকারী যিহোশাফট আনন্দপূর্বক জেরুশালেমে যাবার জন্য ফিরে গেলেন, কেননা মাবুদ তাঁদের দুশমনদের বিরুদ্ধে তাঁদেরকে বিজয়ী করেছিলেন।
28 আর তাঁরা নেবল, বীণা ও তূরী বাজাতে বাজাতে জেরুশালেমে এসে মাবুদের গৃহে গেলেন।
29 আর মাবুদ ইসরাইলের দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, এই জনরব অন্য দেশীয় সকল রাজ্যের লোকে শুনলে আল্লাহ্ থেকে ভয় তাদের উপরে নেমে এলো।
30 এভাবে যিহোশাফটের রাজ্য সুস্থির হল, তাঁর আল্লাহ্ সমস্ত দিক থেকেই তাঁকে বিশ্রাম দিলেন।
31
যিহোশাফট এহুদার উপরে রাজত্ব করলেন; তিনি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; এবং পঁচিশ বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। তাঁর মায়ের নাম অসূবা, তিনি শিল্হির কন্যা।
32 যিহোশাফট তাঁর পিতা আসার পথে চলতেন, সেই পথ থেকে ফিরতেন না, মাবুদের দৃষ্টিতে যা নায্য তা-ই করতেন।
33 তবুও সমস্ত উচ্চস্থলী দূরীকৃত হল না এবং লোকেরা তখনও তাঁদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্র প্রতি নিজ নিজ অন্তঃকরণ সুস্থির করলো না।
34
যিহোশাফটের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকের অন্তর্গত হনানির পুত্র যেহূর কিতাবে লেখা আছে।
35
পরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোশাফট ইসরাইলের বাদশাহ্ অহসিয়ের সঙ্গে যোগ দিলেন, সেই ব্যক্তি দুরাচারী ছিলেন;
36 তিনি তর্শীশে যাবার জাহাজ নির্মাণার্থে তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন, আর তাঁরা ইৎসিয়োন-গেবরে সেই জাহাজগুলো নির্মাণ করলেন।
37 তখন মারেশা-নিবাসী দোদাবাহূর পুত্র ইলীয়েষর যিহোশাফটের বিরুদ্ধে এই ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করলেন, আপনি অহসিয়ের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, এজন্য মাবুদ আপনার সমস্ত কাজ ভেঙে ফেললেন। আর ঐ সমস্ত জাহাজ ভেঙ্গে গেল, তর্শীশে যেতে পারল না।
1
পরে যিহোশাফট তাঁর পূর্ব-পুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং দাউদ নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ হলেন। আর তাঁর পুত্র যিহোরাম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
2 যিহোশাফটের ঔরশজাত যিহোরামের কয়েক জন ভাই ছিল, অসরিয়, যিহীয়েল, জাকারিয়া, অসরিয়, মিকাইল ও শফটিয়, এরা সকলে ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোশাফটের পুত্র।
3 আর তাদের পিতা তাদেরকে প্রচুর সম্পত্তি অর্থাৎ রূপা, সোনা ও বহুমূল্য দ্রব্য এবং এহুদা দেশস্থ প্রাচীরবেষ্টিত নগরগুলো দান করেছিলেন, কিন্তু যিহোরাম জ্যেষ্ঠ বলে তাঁকে রাজ্য দিয়েছিলেন।
4 যিহোরাম তাঁর পিতার রাজ্যে অধিষ্ঠিত হয়ে নিজেকে বলবান করলেন; আর তাঁর সমস্ত ভাই এবং ইসরাইলের কয়েক জন কর্মকর্তাদেরও তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করলেন।
5
যিহোরাম বত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করে জেরুশালেমে আট বছর কাল রাজত্ব করেন।
6 আহাবের কুল যেমন করতো, তিনিও তেমনি ইসরাইলের বাদশাহ্দের পথে চলতেন; কারণ তিনি আহাবের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন, ফলে মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন।
7 তবুও মাবুদ দাউদের সঙ্গে তাঁর কৃত নিয়মের দরুন এবং তাঁকে ও তাঁর সন্তানদেরকে নিয়ত একটি প্রদীপ দেবার যে ওয়াদা করেছিলেন, সেই অনুসারে তিনি দাউদের কুল বিনষ্ট করতে চাইলেন না।
8
তাঁর সময়ে ইদোম এহুদার অধীনতা অস্বীকার করে নিজেদের জন্য এক জনকে বাদশাহ্ করলো।
9 অতএব যিহোরাম তাঁর সেনাপতিদের ও সমস্ত রথ সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করলেন; আর রাতের বেলায় তিনি উঠে যাঁরা তাঁকে বেষ্টন করেছিল সেই ইদোমীয়দের ও তাদের রথের সেনাপতিদেরকে আক্রমণ করলেন।
10 এভাবে ইদোম আজ পর্যন্ত এহুদার অধীনতা অস্বীকার করে চলছে; আর ঐ সময়ে লিব্নাও তাঁর অধীনতা অস্বীকার করলো, কেননা যিহোরাম তাঁর পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদকে ত্যাগ করেছিলেন।
11
এছাড়া তিনি এহুদার অনেক পর্বতে উচ্চস্থলী প্রস্তুত করলেন এবং জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে দিয়ে মূর্তিপূজা করালেন ও এহুদাকে বিপথগামী করলেন।
12 পরে তাঁর কাছে ইলিয়াস নবীর কাছ থেকে এই কথা সম্বলিত একখানি পত্র এল; তোমরা পিতা দাউদের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি তোমার পিতা যিহোশাফটের পথে ও এহুদার বাদশাহ্ আসার পথে গমন কর নি;
13 কিন্তু ইসরাইলের বাদশাহ্দের পথে গমন করেছ এবং আহাব কুলের কাজ অনুসারে এহুদা ও জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে মূর্তিপূজা করিয়েছ; আরও তোমা থেকে উত্তম যে তোমার পিতৃকুলজাত ভাইয়েরা, তাদেরকে হত্যা করেছ;
14 এই কারণ দেখ, মাবুদ তোমার লোকদের, তোমার সন্তানদের, তোমার স্ত্রীদের উপর ভয়ংকর আঘাত করবেন ও তোমার সমস্ত সম্পত্তি ধ্বংস করবেন।
15 আর তুমি অন্ত্রগুলোর অসুস্থতায় ভীষণ অসুস্থ হবে, শেষে এই অসুস্থতায় তোমার অন্ত্র দিন দিন বের হয়ে পড়বে।
16
পরে মাবুদ যিহোরামের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনীদের মন ও ইথিওপীয়দের নিকটস্থ আরবীয়দের মন উত্তেজিত করলেন;
17 এবং তারা এহুদার বিরুদ্ধে এসে প্রাচীর ভেঙে বাদশাহ্র বাড়িতে পাওয়া সকল সম্পত্তি এবং তাঁর পুত্রদের ও তাঁর স্ত্রীদেরকে নিয়ে গেল; কনিষ্ঠ পুত্র যিহোয়াহস ছাড়া তার একটি পুত্রও অবশিষ্ট থাকলো না।
18
এসব ঘটনার পরে মাবুদ তাঁকে অন্ত্রগুলোর দুরারোগ্য ব্যাধি দ্বারা আক্রমণ করলেন।
19 তাতে কালক্রমে, দুই বছরের শেষে, তাঁর অন্ত্র সেই ব্যাধির কারণে বের হয়ে পড়লো, পরে তিনি সাংঘাতিক যন্ত্রণায় ইন্তেকাল করলেন। আর তাঁর লোকেরা তাঁর সম্মানে তাঁর পূর্বপুরুষদের রীতি অনুযায়ী আগুন জ্বালালো না।
20 তিনি বত্রিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে আট বছর রাজত্ব করেন; তিনি ইন্তেকাল করলেন, কিন্তু কেউ শোক করলো না। আর লোকেরা দাউদ-নগরে তাঁকে দাফন করলো, কিন্তু বাদশাহ্দের কবরস্থানে দাফন করলো না।
1
পরে জেরুশালেম-নিবাসীরা তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র অহসিয়কে তাঁর পদে বাদশাহ্ করলো, কারণ আরবীয়দের সঙ্গে শিবিরে যে সৈন্যদল এসেছিল, তারা তাঁর সকল জ্যেষ্ঠ পুত্রকে হত্যা করেছিল। অতএব এহুদার বাদশাহ্ যিহোরামের পুত্র অহসিয় রাজত্ব করতে লাগলেন।
2 অহসিয় বেয়াল্লিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; এবং জেরুশালেমে এক বছর কাল রাজত্ব করেন; তার মায়ের নাম অথলিয়া, ইনি অম্রির পৌত্রী।
3 অহসিয়ের মা তাকে অসদাচরণ করতে মন্ত্রণা দিতেন, তাই তিনিও আহাব-কূলের পথে চলতেন।
4 আহাব-কুল যেমন করতো, তেমনি মাবুদের সাক্ষাতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন; কেননা পিতার মৃত্যুর পরে তারাই তাঁর ক্ষতিকর মন্ত্রী হল।
5 আর তাদেরই মন্ত্রণানুসারে তিনি চলতেন; আর তিনি ইসরাইলের বাদশাহ্ আহাবের-পুত্র যিহোরামের সহায় হয়ে রামোৎ-গিলিয়দে অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলেন; তাতে অরামীয়েরা যোরামকে ক্ষতবিক্ষত করলো।
6 অতএব অরামের বাদশাহ্ হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময়ে যিহোরাম রামাতে যেসব আঘাত পান, তা থেকে সুস্থ হবার জন্য যিষ্রিয়েলে ফিরে গেলেন; এবং আহাবের পুত্র যিহোরামের অসুস্থতার দরুন এহুদার বাদশাহ্ যিহোরামের পুত্র অহসিয় তাঁকে দেখতে যিষ্রিয়েলে নেমে গেলেন।
7
কিন্তু যিহোরামের কাছে আসাতে আল্লাহ্ থেকে অহসিয়ের নিপাত ঘটলো; কেননা তিনি যখন আসলেন, তখন যিহোরামের সঙ্গে তিনি নিম্শির পুত্র যেহূর বিরুদ্ধে বের হলেন, যাঁকে আল্লাহ্ আহাব-কুলের উচ্ছেদ করার জন্য অভিষেক করেছিলেন।
8 পরে যেহূ যে সময়ে আহাব কুলকে দণ্ড দিচ্ছিলেন, সেই সময়ে তিনি এহুদার কর্মকর্তা ও অহসিয়ের পরিচর্যাকারী তাঁর ভাইয়ের পুত্রদেরকে পেয়ে হত্যা করলেন।
9 আর তিনি অহসিয়ের খোঁজ করলেন; সেই সময় অহসিয় সামেরিয়ায় লুকিয়ে ছিলেন; লোকেরা তাঁকে ধরে যেহূর কাছে এনে হত্যা করলো, তবুও তাঁকে দাফন করলো, কেননা তারা বললো যে যিহোশাফট সমস্ত অন্তঃকরণের সঙ্গে মাবুদের খোঁজ করতেন, এ তাঁরই সন্তান। আর অহসিয়ের কুলের মধ্যে রাজত্ব গ্রহণ করার ক্ষমতা কারো ছিল না।
10
ইতোমধ্যে অহসিয়ের মা অথলিয়া যখন দেখলো যে, তার পুত্র নিহত হয়েছে, তখন সে এহুদা কুলের সমস্ত রাজবংশ বিনষ্ট করলো।
11 কিন্তু রাজকন্যা যিহোশাবৎ অহসিয়ের পুত্র যোয়াশকে নিয়ে নিহত রাজপুত্রদের মধ্য থেকে চুরি করে তাঁর ধাত্রীর সঙ্গে একটা শোবার ঘরে রাখলেন; এভাবে যিহোয়াদা ইমামের স্ত্রী, যিহোরাম বাদশাহ্র কন্যা এবং অহসিয়ের বোন ঐ যিহোশাবৎ অথলিয়ার কাছ থেকে তাঁকে লুকিয়ে রাখলেন, এজন্য তিনি তাঁকে হত্যা করতে পারলেন না।
12 আর যোয়াশ তাঁদের সঙ্গে আল্লাহ্র গৃহে ছয় বছর যাবৎ লুকিয়ে রইলেন; তখন অথলিয়া দেশে রাজত্ব করছিল।
1
পরে সপ্তম বছরে যিহোয়াদা নিজেকে শক্তিমান করে শতপতিদেরকে যিহোরামের পুত্র অসরিয়কে, যিহোহাননের পুত্র ইসমাইলকে, ওবেদের পুত্র অসরিয়কে, আদায়ার পুত্র মাসেয়কে ও সিখ্রির পুত্র ইলীশাফটকে নিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়মে আবদ্ধ করলেন।
2 পরে তারা এহুদা দেশে ভ্রমণ করে এহুদার সমস্ত নগর থেকে লেবীয়দেরকে ও ইসরাইলের পিতৃকুলপতিদেরকে একত্র করলে তারাও জেরুশালেমে এল।
3 পরে সমস্ত সমাজ আল্লাহ্র গৃহে বাদশাহ্র সঙ্গে নিয়ম করলো। আর যিহোয়াদা তাদেরকে বললেন, দেখ, দাউদের সন্তানদের বিষয়ে মাবুদ যে কথা বলেছেন, সেই অনুসারে রাজপুত্রই রাজত্ব করবেন।
4 তোমরা এই কাজ করবে, তোমাদের অর্থাৎ ইমাম ও লেবীয়দের যে এক তৃতীয়াংশ বিশ্রামবারে প্রবেশ করবে, তারা দ্বারপাল হবে।
5 অন্য তৃতীয়াংশ রাজপ্রাসাদে থাকবে; অন্য তৃতীয়াংশ ভিত্তিমূলের দ্বারে থাকবে এবং সমস্ত লোক মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে থাকবে।
6 কিন্তু ইমামেরা ও পরিচর্যাকারী লেবীয়রা ছাড়া আর কাউকেও মাবুদের গৃহে প্রবেশ করতে দিও না, ওরা পবিত্র, এজন্য প্রবেশ করবে; কিন্তু অন্য সমস্ত লোক মাবুদের রক্ষণীয় দ্রব্য রক্ষা করবে।
7 আর লেবীয়েরা প্রত্যেক নিজ নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে বাদশাহ্কে বেষ্টন করবে, আর যে কেউ বাড়িতে প্রবেশ করবে, তাকে মেরে ফেলা হবে; এবং বাদশাহ্ যখন ভিতরে আসেন, কিংবা বাইরে যান, তখন তোমরা তাঁর সঙ্গে থাকবে।
8
পরে ইমাম যিহোয়াদা যা যা হুকুম করলেন, লেবীয়েরা ও সমস্ত এহুদা সেই অনুসারে সবই করলো; ফলত তারা প্রত্যেকে যার যার লোকদের, যারা বিশ্রামবারে ভিতরে যায় বা বিশ্রামবারে বাইরে আসে, তাদেরকে নিল, কেননা ইমাম যিহোয়াদা পালাগুলো বিদায় করেন নি।
9 আর বাদশাহ্ দাউদের যে বর্শা, ঢাল ও বর্ম আল্লাহ্র গৃহে ছিল, ইমাম যিহোয়াদা তা শতপতিদের দিলেন।
10 আর তিনি সমস্ত লোককে স্থাপন করলেন, প্রত্যেক জন নিজ নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে গৃহের ডান পাশ থেকে গৃহের বাম পাশ পর্যন্ত কোরবানগাহ্ ও গৃহের কাছে বাদশাহ্র চারদিকে দাঁড়ালো।
11 পরে তাঁরা রাজপুত্রকে বাইরে এনে তাঁর মাথায় মুকুট দিলেন, তাঁকে সাক্ষ্য-কিতাব দিলেন এবং তাঁকে বাদশাহ্ করলেন, আর যিহোয়াদা ও তাঁর পুত্ররা তাঁকে অভিষেক করলেন; পরে তাঁরা বললেন, বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
12
আর লোকেরা দৌড়াদৌড়ি করে বাদশাহ্র প্রশংসা করলে অথলিয়া সেই কোলাহল শুনে মাবুদের গৃহে লোকদের কাছে এল;
13 আর দৃষ্টিপাত করলো, আর দেখ, প্রবেশস্থানে বাদশাহ্ তাঁর মঞ্চের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেনাপতিরা ও তূরীবাদকেরা বাদশাহ্র কাছে আছে এবং দেশের সমস্ত লোক আনন্দ করছে ও তূরী বাজাচ্ছ এবং গায়কেরা বাদ্য-যন্ত্র নিয়ে প্রশংসার গান করছে; তখন অথলিয়া তার কাপড় ছিঁড়ে বললো রাজদ্রোহ! রাজদ্রোহ!
14 কিন্তু ইমাম যিহোয়াদা সৈন্যদলের উপরে নিযুক্ত শতপতিদেরকে বাইরে এনে বললেন, ওকে বের করে দুই শ্রেণীর মধ্য দিয়ে নিয়ে যাও; আর যে ওর পিছনে যাবে, তাকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা কর; কারণ ইমাম বলেছিলেন, মাবুদের গৃহের মধ্যে ওকে হত্যা করো না।
15 পরে লোকেরা তাঁর জন্য দুই শ্রেণী হয়ে পথ ছাড়লে সে রাজপ্রাসাদের অশ্ব-দ্বারের প্রবেশস্থানে গেল; সেই স্থানে তারা তাকে হত্যা করলো।
16
আর যিহোয়াদা তাঁর এবং সমস্ত লোক ও বাদশাহ্র মধ্যে একটি চুক্তি করলেন, যেন তারা মাবুদের লোক হয়।
17 পরে সমস্ত লোক বালের মন্দিরে গিয়ে তা ভেঙে ফেললো, তার কোরবানগাহ্ ও সমস্ত মূর্তি চূর্ণ করলো এবং কোরবানগাহ্গুলোর সম্মুখে বালের পুরোহিত মত্তনকে হত্যা করলো।
18 আর দাউদের বিধান মতে আনন্দ ও গানের সঙ্গে মূসার শরীয়তের লিখনানুসারে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী করতে দাউদ যে লেবীয় ইমামদেরকে বিভিন্ন দায়িত্ব নির্ধারণ করেছিলেন, তাদের হাতে যিহোয়াদা মাবুদের গৃহের তত্ত্বাবধানের ভার দিলেন।
19 আর কোন রকম নাপাক লোক যেন প্রবেশ না করে, এজন্য তিনি মাবুদের গৃহের সকল দ্বারে দ্বারপালদের নিযুক্ত করলেন।
20 পরে তিনি শতপতিদের, কুলীনবর্গ, লোকদের শাসনকর্তাদের ও দেশের সমস্ত লোককে সঙ্গে নিলেন, তাঁরা মাবুদের গৃহ থেকে বাদশাহ্কে নামিয়ে আনলেন; পরে তাঁরা উচ্চতর দ্বার দিয়ে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে রাজ-সিংহাসনে বাদশাহ্কে বসিয়ে দিলেন।
21 তখন দেশের সমস্ত লোক আনন্দ করলো এবং নগর সুস্থির হল; কারণ অথলিয়াকে তাঁরা তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করেছিল।
1
যোয়াশ সাত বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম সিবিয়া, তিনি বের্-শেবা-নিবাসিনী।
2 যিহোয়াদা ইমামের সমস্ত জীবনকালে যোয়াশ মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করতেন।
3 যিহোয়াদা তাঁর দু’টি বিয়ে দিলেন; আর তিনি পুত্র কন্যার জন্ম দিলেন।
4
এর পরে মাবুদের গৃহ সংস্কার করাতে যোয়াশের মনোরথ হল।
5 তাতে তিনি ইমামদের ও লেবীয়দেরকে একত্র করে বললেন, তোমরা এহুদার বিভিন্ন নগরে গমন কর এবং প্রতি বছর তোমাদের আল্লাহ্র গৃহ মেরামত করার জন্য সমস্ত ইসরাইলের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ কর; এই কাজ শীঘ্রই কর। কিন্তু লেবীয়েরা তা শীঘ্র করলো না।
6 পরে বাদশাহ্ প্রধান ইমাম যিহোয়াদাকে ডেকে বললেন, সাক্ষ্য-তাঁবুর জন্য আল্লাহ্র গোলাম মূসা ও ইসরাইল-সমাজ দ্বারা যে কর নির্ধারিত হয়েছে, তা এহুদা ও জেরুশালেম থেকে আনতে আপনি লেবীয়দেরকে কেন বলে দেন নি?
7 কেননা সেই দুষ্টা স্ত্রী অথলিয়ার পুত্ররা আল্লাহ্র এবাদতখানা ভেঙ্গে সেখানে প্রবেশ করেছিল এবং মাবুদের গৃহস্থিত সমস্ত পবিত্র বস্তু নিয়ে বাল দেবতাদের জন্য ব্যবহার করেছিল।
8
পরে বাদশাহ্ হুকুম করলে তারা একটি সিন্দুক তৈরি করে মাবুদের গৃহের দরজার কাছে বাইরে স্থাপন করলো।
9 আর আল্লাহ্র গোলাম মূসা যে কর মরুভূমিতে ইসরাইলের দেয় বলে নির্ধারণ করেছিলেন, মাবুদের উদ্দেশে তা আনবার কথা তারা এহুদা ও জেরুশালেমে ঘোষণা করলো।
10 তাতে সমস্ত নেতা ও সমস্ত লোক আনন্দপূর্বক তা আনতে লাগল এবং যে পর্যন্ত না কাজ সমাপ্ত হল, সে পর্যন্ত ঐ সিন্দুকে তা রাখত।
11 আর যে সময়ে লেবীয়দের দ্বারা সেই সিন্দুক বাদশাহ্র নিযুক্ত লোকদের কাছে আনা হত, তখন তার মধ্যে অনেক টাকা দেখা গেলে রাজলেখক এবং প্রধান ইমামের নিযুক্ত এক জন লোক এসে সিন্দুকটি খালি করতো, পরে পুনর্বার তুলে স্বস্থানে রাখত; দিন দিন এরকম করাতে তারা অনেক টাকা সঞ্চয় করলো।
12 পরে বাদশাহ্ ও যিহোয়াদা মাবুদের গৃহ সম্বন্ধীয় কার্য সম্পাদকদেরকে তা দিতেন; তারা মাবুদের গৃহ সংস্কার করার জন্য রাজমিস্ত্রি ও সুত্রধরদেরকে বেতন দিত; এবং মাবুদের গৃহ মেরামত করার জন্য লোহা ও ব্রোঞ্জের কর্মকারদেরকেও দিত।
13 এভাবে কার্যসম্পাদকেরা কাজ করলে তাদের হাতে কাজ সুসিদ্ধ হল; আর তারা আল্লাহ্র গৃহ সংস্কার করে আগের মত দৃঢ় করলো।
14 কাজ সমাপ্ত করে তারা অবশিষ্ট টাকা বাদশাহ্ ও যিহোয়াদার সম্মুখে আনত এবং তা দিয়ে মাবুদের গৃহের জন্য নানা পাত্র, অর্থাৎ পরিচর্যা করার ও পোড়ানো-কোরবানীর পাত্র এবং চামচ, আর সোনার ও রূপার পাত্র তৈরি হল। আর তারা যিহোয়াদার সমস্ত জীবনকালে মাবুদের গৃহে নিয়মিতভাবে পোড়ানো-কোরবানী দিত।
15
পরে যিহোয়াদা বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ হয়ে ইন্তেকাল করলেন; মৃত্যুর সময়ে তাঁর এক শত ত্রিশ বছর বয়স হয়েছিল।
16 লোকেরা দাউদ-নগরে বাদশাহ্দের সঙ্গে তাঁকে দাফন করলো, কেননা তিনি ইসরাইলের মধ্যে এবং আল্লাহ্র ও তাঁর গৃহের বিষয়ে ভাল ভাল কাজ করেছিলেন।
17
যিহোয়াদার মৃত্যুর পরে এহুদার কর্মকর্তারা এসে বাদশাহ্র কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করলো; তখন বাদশাহ্ তাদেরই কথায় কান দিতে লাগলেন।
18 পরে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের গৃহ ত্যাগ করে আশেরা-মূর্তি ও নানা মূর্তির পূজা করতে লাগল; আর তাদের এই দোষের দরুন এহুদা ও জেরুশালেমের উপরে গজব নেমে আসল।
19 তবুও মাবুদের দিকে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবার জন্য তিনি তাদের কাছে নবীদেরকে প্রেরণ করলেন, আর তাঁরা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন, কিন্তু লোকেরা কান দিতে চাইল না।
20
পরে আল্লাহ্র রূহ্ যিহোয়াদা ইমামের পুত্র জাকারিয়ার উপর আসাতে তিনি লোকদের থেকে উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে বললেন, আল্লাহ্ এই কথা বলেন, তোমরা কেন মাবুদের হুকুম লঙ্ঘন করছো? এতে কৃতকার্য হবে না। তোমরা মাবুদকে ত্যাগ করেছ, সেজন্য তিনিও তোমাদেরকে ত্যাগ করলেন।
21 তাতে লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে বাদশাহ্র হুকুমে মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে তাঁকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করলো।
22 তাঁর পিতা যিহোয়াদা বাদশাহ্র প্রতি যে দয়া করেছিলেন, তা স্মরণ না করে বাদশাহ্ যোয়াশ তাঁর পুত্রকে হত্যা করলেন, তিনি মরণকালে বললেন, মাবুদ দৃষ্টিপাত করে এর প্রতিফল দেবেন।
23
পরে বছর ফিরে আসলে অরামের সৈন্যদল যোয়াশের বিরুদ্ধে দাঁড়ালো। তারা এহুদা ও জেরুশালেমে এসে লোকদের মধ্যকার কর্মকর্তাদের বিনষ্ট করলো এবং তাদের সমস্ত দ্রব্য লুট করে দামেস্কের বাদশাহ্র কাছে পাঠিয়ে দিল।
24 বস্তুত অরামের অল্প লোকবিশিষ্ট সৈন্যদল আসলেও মাবুদ তাদের হাতে সুবিশাল সৈন্যদল তুলে দিলেন, কারণ লোকেরা নিজেদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদকে ত্যাগ করেছিল। এভাবে অরামীয়েরা যোয়াশের বিচার সাধন করলো।
25
তারা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ত্যাগ করে চলে যাবার পর, তাঁর গোলামেরা যিহোয়াদা ইমামের পুত্রদের রক্তপাতের দরুন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁর বিছানার উপরে তাঁকে হত্যা করলো এবং তিনি মারা যাবার পর দাউদ-নগরে তাঁকে দাফন করলো বটে, কিন্তু বাদশাহ্দের কবর-স্থানে করলো না।
26 অম্মোনীয়া শিমিয়তের পুত্র সাবদ ও মোয়াবীয়া শিম্রীতের পুত্র যিহোষাবদ, এই দু’জন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল।
27 তাঁর পুত্রদের কথা, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর দৈববাণীর কথা ও আল্লাহ্র গৃহ মেরামত করার বিবরণ, দেখ, এসব বিষয় বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকের ব্যাখ্যা-গ্রন্থে লেখা আছে; পরে তাঁর পুত্র অমৎসিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
অমৎসিয় পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে ঊনত্রিশ বছর কাল রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিহোয়দ্দন, তিনি জেরুশালেম-নিবাসিনী।
2 অমৎসিয় মাবুদের সাক্ষাতে যা ন্যায্য তা করতেন বটে, কিন্তু একাগ্রচিত্তে করতেন না।
3 পরে রাজ্য তাঁর হাতে স্থিত হলে তাঁর যে গোলামেরা তাঁর পিতা বাদশাহ্কে হত্যা করেছিল, তাদেরকে তিনি হত্যা করলেন।
4 কিন্তু তিনি তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করলেন না, শরীয়ত-কিতাবে, মূসার কিতাবে মাবুদের যে হুকুম লেখা আছে, সেই অনুসারে কাজ করলেন, যথা, সন্তানের জন্য পিতার, কিংবা পিতার জন্য সন্তান মারা যাবে না; প্রত্যেক জন নিজ নিজ গুনাহ্র দরুন মরবে।
5
পরে অমৎসিয় এহুদাকে একত্র করে, সমস্ত এহুদা ও সমস্ত বিন্ইয়ামীন-বংশীয় পিতৃকুল অনুসারে সহস্রপতি ও শতপতিদের অধীনে লোকদের দাঁড় করালেন এবং বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোকদেরকে গণনা করে দেখলেন, যুদ্ধে গমনযোগ্য তিন লক্ষ মনোনীত লোক, তারা বর্শা ও ঢাল ধরতে সক্ষম।
6 আর তিনি এক শত তালন্ত রূপা বেতন দিয়ে ইসরাইল থেকে এক লক্ষ বলবান বীর নিলেন।
7 কিন্তু আল্লাহ্র এক লোক তাঁর কাছে এসে বললেন, হে রাজন, ইসরাইলের সৈন্য আপনার সঙ্গে না যাক; কারণ ইসরাইলের সঙ্গে অর্থাৎ সমস্ত আফরাহীম সন্তানের সঙ্গে মাবুদ থাকেন না।
8 তুমিই গিয়ে কাজ কর, যুদ্ধের জন বলবান হও; নতুবা আল্লাহ্ দুশমনের সম্মুখে তোমাকে বিনষ্ট করবেন, যেহেতু সাহায্য ও নিপাত করতে আল্লাহ্র ক্ষমতা আছে।
9 তাতে অমৎসিয় আল্লাহ্র লোককে বললেন, ভাল, কিন্তু সেই ইসরায়েল সৈন্যদলকে যে এক শত তালন্ত রূপা দিয়েছি, তার জন্য কি করা যায়? আল্লাহ্র লোক বললেন, মাবুদ আপনাকে এর চেয়ে আরও প্রচুর দিতে পারেন।
10 তাতে অমৎসিয় তাদেরকে অর্থাৎ আফরাহীম থেকে তাঁর কাছে আগত সেই সৈন্যদেরকে বাড়িতে পাঠাবার জন্য পৃথক করলেন; অতএব এহুদার বিরুদ্ধে তাদের ক্রোধ অত্যন্ত প্রজ্বলিত হল, তারা মহা ক্রোধে স্ব স্ব স্থানে ফিরে গেল।
11
পরে অমৎসিয় নিজেকে বলবান করলেন এবং তাঁর লোকদেরকে বের করে লবণ-উপত্যকায় গিয়ে সেয়ীরের লোকদের দশ হাজার লোককে হত্যা করলেন।
12 আর এহুদার লোকেরা তাদের দশ হাজার জীবিত লোককে বন্দী করে নিয়ে গেল এবং তাদেরকে শৈলের চূড়ায় নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে নিচে ফেলে দিল, তাতে তারা সকলে চূর্ণ হয়ে গেল।
13 কিন্তু অমৎসিয় তাঁর সঙ্গে যুদ্ধযাত্রা করতে না দিয়ে যে সৈন্যদল পুনরায় পাঠিয়েছিলেন, সেই দলের লোকেরা সামেরিয়া থেকে বৈৎহোরুন পর্যন্ত এহুদার সমস্ত নগর আক্রমণ করে তাদের তিন হাজার লোককে আঘাত করলো এবং প্রচুর লুটদ্রব্য গ্রহণ করলো।
14
ইদোমীয়দেরকে সংহার করে ফিরে আসার পর অমৎসিয় সেয়ীরের লোকদের দেবমূর্তিগুলোকে সঙ্গে করে আনলেন, তাঁর নিজের দেবতা বলে তাদেরকে স্থাপন করলেন এবং তাদের কাছে সেজ্দা করতে ও তাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালতে লাগলেন।
15 তাতে অমৎসিয়ের প্রতি মাবুদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হল, তিনি তাঁর কাছে এক জন নবীকে পাঠালেন; নবী তাঁকে বললেন, ঐ লোকদের যে দেবতারা আপনার হাত থেকে তাঁর লোকদেরকে উদ্ধার করে নি, আপনি কেন তাদের খোঁজ করেছেন?
16 তিনি এই কথা বললে বাদশাহ্ তাঁকে বললেন, আমরা কি তোমাকে রাজমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেছি? ক্ষান্ত হও, কেন মার খাবে? তখন সেই নবী ক্ষান্ত হলেন, তবু বললেন, আমি জানি আল্লাহ্ আপনাকে বিনষ্ট করার সঙ্কল্প করেছেন, কেননা আপনি এই কাজ করেছেন, আর আমার পরামর্শে কান দেন নি।
17
পরে এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয় মন্ত্রণা গ্রহণ করে যেহূর পৌত্র যিহোয়াহসের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশের কাছে বলে পাঠালেন, এসো, আমরা পরস্পর যুদ্ধের জন্য সম্মুখাসম্মুখি হই।
18 তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশ এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়ের কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, লেবাননস্থ শিয়ালকাঁটা লেবাননস্থ এরস গাছের কাছে বলে পাঠাল, আমার পুত্রের সঙ্গে তোমার কন্যার বিয়ে দাও; ইতোমধ্যে লেবাননস্থ এক বন্য পশু চলতে চলতে সেই শিয়ালকাঁটা দলিয়ে ফেললো।
19 তুমি বলছো দেখ, আমি ইদোমকে আঘাত করেছি; এজন্য অহংকার করতে তোমার অন্তর গর্বিত হয়েছে; তুমি এখন ঘরে বসে থাক, অমঙ্গলের সঙ্গে বিরোধ করতে কেন প্রবৃত্ত হবে? এবং তুমি ও এহুদা, উভয়ে কেন ধ্বংস হবে?
20
কিন্তু অমৎসিয় কথা শুনলেন না, কারণ লোকেরা ইদোমীয় দেবতাদের খোঁজ করেছিল বলে তারা যেন দুশমদের হাতে ধরা পরে, সেজন্য, আল্লাহ্ থেকে এই ঘটনা হল।
21 পরে ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশ যুদ্ধযাত্রা করলেন এবং এহুদার অধিকারস্থ বৈৎ-শেমশে এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয় সম্মুখাসম্মুখি হলেন।
22 তখন ইসরাইলের সম্মুখে এহুদা পরাজিত হল, আর প্রত্যেকে যার যার তাঁবুতে পালিয়ে গেল।
23 আর ইসরাইলের বাদশাহ্ যোয়াশ বৈৎ-শেমশে যিহোয়াহসের পৌত্র যোয়াশের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ অমৎসিয়কে ধরে নিয়ে জেরুশালেমে আনলেন এবং আফরাহীমের দ্বার থেকে কোণের দ্বার পর্যন্ত জেরুশালেমের চার শত হাত প্রাচীর ভেঙে ফেললেন।
24 আর আল্লাহ্র গৃহে ওবেদ-ইদোমের অধিকারে যেসব সোনা, রূপা ও পাত্র পাওয়া গিয়েছিল, সেসব এবং রাজপ্রাসাদের ধন সম্পত্তি ও বন্ধক হিসেবে কতকগুলো মানুষ নিয়ে সামেরিয়াতে ফিরে গেলেন।
25
ইসরাইলের বাদশাহ্ যিহোয়াহসের পুত্র যোয়াশের মৃত্যুর পরে এহুদার বাদশাহ্ যোয়াশের পুত্র অমৎসিয় আর পনের বছর জীবিত ছিলেন।
26 অমৎসিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত দেখ, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এহুদা ও ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে কি লেখা নেই?
27 অমৎসিয় মাবুদের পিছনে চলা থেকে বিমুখ হবার পর লোকেরা জেরুশালেমে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলো, তাতে তিনি লাখীশে পালিয়ে গেলেন; কিন্তু তারা তাঁর পিছনে লাখীশে লোক পাঠিয়ে সেখানে তাঁকে হত্যা করাল।
28 পরে ঘোড়ার পিঠে করে তাঁকে এনে এহুদার নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁকে দাফন করলো।
1
আর এহুদার সমস্ত লোক ষোল বছর বয়স্ক উষিয়কে নিয়ে তার পিতা অমৎসিয়ের পদে বাদশাহ্ করলো।
2 বাদশাহ্ অমৎসিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলে পর উষিয় এলৎ নগর নির্মাণ করলেন এবং তা পুনর্বার এহুদার অধীনে আনলেন।
3 উষিয় ষোল বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে বায়ান্ন বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিখলিয়া, তিনি জেরুশালেম-নিবাসিনী।
4 উষিয় তাঁর পিতা অমৎসিয়ের সমস্ত কার্যানুসারে মাবুদের সাক্ষাতে যা ন্যায্য তা-ই করতেন।
5 জাকারিয়া তাঁকে আল্লাহ্কে ভয় করতে নির্দেশনা দিতেন। জাকারিয়ার সময়কালে তিনি আল্লাহ্র খোঁজ করতে থাকলেন; আর যতকাল মাবুদের খোঁজ করলেন, তত কাল আল্লাহ্ তাঁকে কৃতকার্য করলেন।
6
তিনি যাত্রা করে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন এবং গাতের প্রাচীর, যব্নির প্রাচীর ও অসদোদের প্রাচীর ভেঙে ফেললেন এবং অস্দোদ অঞ্চলে ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যে কতকগুলো নগর নির্মাণ করলেন।
7 আল্লাহ্ ফিলিস্তিনী, গূরবাল-নিবাসী আরবীয় ও মিয়ূনীয়দের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করলেন।
8 আর অম্মোনীয়েরা উষিয়কে উপঢৌকন দিল এবং তাঁর নাম মিসরের সীমা পর্যন্ত ব্যাপ্ত হল; কারণ তিনি অতিশয় শক্তিমান হলেন।
9 উষিয় জেরুশালেমের কোণের দ্বারে, উপত্যকার দ্বারে ও প্রাচীরের কোণে উচ্চগৃহ গেঁথে দৃঢ় করলেন।
10 এছাড়া তিনি মরুভূমিতে কতকগুলো উচ্চগৃহ নির্মাণ করলেন ও অনেক কূপ খনন করলেন, কেননা তাঁর যথেষ্ট পশুধন ছিল, নিম্নদেশে ও সমভূমিতেও তা-ই করলেন; এবং পর্বতে ও উর্বর ক্ষেতগুলোতে তাঁর কৃষকরা ও আঙ্গুর কৃষকরা ছিল; কারণ তিনি কৃষিকর্ম ভালবাসতেন।
11 আবার উষিয়ের যুদ্ধকারী সৈন্যসামন্ত ছিল; বাদশাহ্র হনানীয় নামক এক সেনাপতির অধীনে যিয়ূয়েল লেখক ও মাসেয় কর্মকর্তার হাতের লেখা সংখ্যা অনুসারে তারা দলে দলে যুদ্ধ যাত্রা করতো।
12 পিতৃকুলপতি, বলবান বীর সর্ব মোট দুই হাজার ছয় শত জন ছিল।
13 তাদের অধীনে সৈন্যবল, দুশমনের বিরুদ্ধে বাদশাহ্র সাহায্য করার জন্য বীর পরাক্রমে যুদ্ধ করার মত তিন লক্ষ সাত হাজার পাঁচ শত লোক ছিল।
14 উষিয় সেসব সৈন্যের জন্য ঢাল, বর্শা, শিরস্ত্রাণ, বর্ম ও ধনুক এবং ফিঙ্গার পাথর প্রস্তুত করলেন।
15 আর জেরুশালেমে তিনি শিল্পীদের আবিষ্কৃত যন্ত্র প্রস্তুত করিয়ে তা দ্বারা তীর ও বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করার জন্য উচ্চগৃহগুলোর পিঠে ও প্রাচীরের চূড়াতে তা স্থাপন করলেন। আর তাঁর নাম দূরদেশে ছড়িয়ে পড়লো, কারণ তিনি আশ্চর্য রকম সাহায্য পেয়ে হয়ে অতীব শক্তিমান হয়ে উঠলেন।
16
কিন্তু শক্তিমান হবার পর তাঁর মন উদ্ধত হল, তিনি অসৎ আচরণ করলেন, আর তিনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করলেন; কেননা তিনি ধূপগাহের উপরে ধূপ জ্বালাতে মাবুদের বায়তুল মোকাদ্দসে প্রবেশ করলেন।
17 তাতে অসরিয় ইমাম ও তাঁর সঙ্গে মাবুদের আশি জন সাহসী ইমাম তাঁর পিছনে প্রবেশ করলেন।
18 তাঁরা উষিয় বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁকে বললেন, হে উষিয়, মাবুদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাতে আপনার অধিকার নেই, কিন্তু হারুন-সন্তান যে ইমামেরা ধূপ জ্বালাবার জন্য পবিত্র হয়েছে, তাদেরই অধিকার আছে; আপনি পবিত্র স্থান থেকে বের হোন, কেননা আপনি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, এই বিষয়ে মাবুদ আল্লাহ্ থেকে আপনার গৌরব হবে না।
19 তখন উষিয় ক্রুদ্ধ হলেন, আর ধূপ জ্বালাবার জন্য তাঁর হাতে একটি ধূনাচি ছিল; কিন্তু তিনি ইমামদের প্রতি কোপাবিষ্ট থাকতেই মাবুদের গৃহে ইমামদের সাক্ষাতে ধূপগাহের সমীপে তাঁর কপালে কুষ্ঠরোগ উদয় হল।
20 তখন প্রধান ইমাম অসরিয় এবং অন্য সকল ইমাম তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, তাঁর কপালে কুষ্ঠ হয়েছে; তখন তাঁরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে দূর করে দিলেন, এমন কি, তিনি নিজেও বাইরে যেতে ত্বরান্বিত হলেন, কেননা মাবুদ তাঁকে আঘাত করেছিলেন।
21 আর উষিয় বাদশাহ্ মরণ দিন পর্যন্ত কুষ্ঠরোগী হয়ে রইলেন; কুষ্ঠ হওয়াতে তিনি স্বতন্ত্র বাড়িতে বাস করলেন, কেননা তিনি মাবুদের গৃহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন; তাতে তাঁর পুত্র যোথম রাজপ্রাসাদের মালিক হয়ে দেশের লোকদের শাসন করতে লাগলেন।
22
উষিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমোজের পুত্র নবী ইশাইয়া লিখেছেন।
23 পরে উষিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলে লোকেরা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বাদশাহ্দের কবর-স্থানের ক্ষেতে তাঁকে দাফন করলো, কারণ তাঁরা বললো তিনি কুষ্ঠরোগী। পরে তাঁর পুত্র যোথম তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
যোথম পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে ষোল বছর রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম যিরূশা, তিনি সাদোকের কন্যা।
2 যোথম তাঁর পিতা উষিয়ের সমস্ত কার্যানুসারে মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা করতেন, কিন্তু মাবুদের বায়তুল মোকাদ্দসে যেতেন না; এবং লোকেরা সেই সময়েও দুরাচরণ করতো।
3 তিনি মাবুদের গৃহের উচ্চতর দ্বার নির্মাণ করালেন এবং ওফলের দেয়ালের অনেক স্থান নির্মাণ করালেন;
4 আর তিনি এহুদার পর্বতময় প্রদেশের নানা স্থানে নগর এবং নানা বনে অবরোধ দেয়াল ও উচ্চগৃহ নির্মাণ করলেন।
5 আর তিনি অম্মোনীয়দের বাদশাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরকে জয় করলেন; তাতে অম্মোনীয়রা সেই বছরে তাঁকে এক শত তালন্ত রূপা, দশ হাজার কোর গম ও দশ হাজার (কোর) যব দিল; এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের অম্মোনীয়রা তাঁকে একই পরিমাণ দিল।
6 এইভাবে যোথম শক্তিমান হলেন, কেননা তিনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের সাক্ষাতে তাঁর পথ স্থির করেছিলেন।
7
যোথমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, তাঁর সমস্ত যুদ্ধ ও চরিত্র, দেখ, ইসরাইল ও এহুদার বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
8 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে ষোল বছর রাজত্ব করেন।
9 পরে যোথম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলে লোকেরা দাউদ নগরে তাঁকে দাফন করলো এবং তাঁর পুত্র আহস তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
আহস বিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে ষোল বছর কাল রাজত্ব করেন; তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মত মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা করতেন না;
2 কিন্তু ইসরাইলের বাদশাহ্দের পথে চলতেন, আর বাল দেবতাদের উদ্দেশে ছাঁচে ঢালা মূর্তি তৈরি করালেন।
3 আর তিনি হিন্নোমের পুত্রের উপত্যকাতে ধূপ জ্বালাতেন এবং মাবুদ বনি-ইসরাইলের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করেছিলেন তাদের ঘৃণিত উপায়ে তিনি তাঁর সন্তানদেরকে আগুনে পুড়িয়ে উৎসর্গ করলেন।
4 আর তিনি নানা উচ্চস্থলীতে, নানা পাহাড়ের উপরে ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে কোরবানী করতেন ও ধূপ জ্বালাতেন।
5
অতএব তাঁর আল্লাহ্ মাবুদ তাঁকে অরামের বাদশাহ্র হাতে তুলে দিলেন, তাতে অরামীয়েরা তাঁকে পরাজিত করলো এবং তাঁর অনেক লোককে বন্দী করে দামেস্কে নিয়ে গেল। আবার তাঁকে ইসরাইলের বাদশাহ্র হাতে তুলে দেওয়া হল, তিনিও মহাসংহারে তাঁকে পরাজিত করলেন।
6 কারণ রমলিয়ের পুত্র পেকহ এহুদায় এক লক্ষ বিশ হাজার শক্তিশালী লোককে এক দিনে হত্যা করলেন, যেহেতু তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদকে ত্যাগ করেছিল।
7 আর সিখ্রি নামে এক আফরাহীমীয় বিক্রমশালী লোক বাদশাহ্র পুত্র মাসেয়, বাড়ির নেতা অস্রীকাম ও বাদশাহ্র প্রধান আমত্য ইলকানাকে হত্যা করলো।
8
আর বনি-ইসরাইল তাদের ভাইদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ দুই লক্ষ লোককে বন্দী করে নিয়ে গেল এবং তাদের অনেক দ্রব্যও লুট করলো, আর সেসব লুণ্ঠিত বস্তু সামেরিয়াতে নিয়ে গেল।
9 কিন্তু সেখানে ওদেদ নামে মাবুদের এক জন নবী ছিলেন; তিনি সামেরিয়াতে প্রত্যাগত সৈন্যসামন্তের সঙ্গে সাক্ষাত করতে বের হয়ে তাদের বললেন, দেখ, তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ এহুদার উপরে ক্রুদ্ধ হওয়াতে তোমাদের হাতে তাদের তুলে দিয়েছেন, আর তোমরা ভীষণ ক্রোধে তাদেরকে যেভাবে হত্যা করেছ সেই কথা বেহেশতে গিয়ে পৌঁছেছে।
10 আর এখন এহুদা ও জেরুশালেমের লোকদেরকে তোমাদের গোলাম-বাঁদী করে বশে রাখার মানস করছো; কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে তোমাদের নিজেদেরও কি দোষ নেই?
11 অতএব এখন আমার কথা শোন; তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে থেকে যাদেরকে বন্দী করে এনেছ, তাদেরকে পুনরায় পাঠিয়ে দাও; কেননা মাবুদের প্রচণ্ড ক্রোধ তোমাদের উপরে রয়েছে।
12 তখন আফরাহীম সন্তানদের মধ্যে কয়েক জন প্রধান লোক, অর্থাৎ যিহোহাননের পুত্র অসরিয়, মশিল্লেমোতের পুত্র বেরিখিয়, শল্লুমের পুত্র যিহিষ্কিয় ও হদলয়ের পুত্র অমাসা যুদ্ধযাত্রা থেকে প্রত্যাগত লোকদের বিপক্ষে অবস্থান নিলেন,
13 এবং তাদেরকে বললেন, তোমরা বন্দীদেরকে এই স্থানে এনো না; কেননা আমাদের গুনাহ্ ও দোষগুলোর উপরে, তোমরা মাবুদের কাছে আমাদেরকে আরও দোষগ্রস্ত করতে মানস করছো; আমাদের তো মহাদোষ হয়েছে ও ইসরাইলের উপরে মাবুদের প্রচণ্ড ক্রোধ রয়েছে।
14 তখন অস্ত্রধারী লোকেরা সেই বন্দীদের ও লুণ্ঠিত সমস্ত বস্তু কর্মকর্তাদের ও সমস্ত সমাজের সম্মুখে রাখল।
15 পরে উপরোক্ত নাম বিশিষ্ট পুরুষেরা উঠে বন্দীদেরকে নিয়ে লুটের জিনিস দিয়ে তাদের মধ্যে যারা উলঙ্গ ছিল তাদের সকলকে কাপড় পরালেন, তাদের শরীরে কাপড় ও পায়ে জুতা দিলেন, তাদেরকে ভোজন পান করালেন, তাদের শরীরে তেল মাখালেন এবং দুর্বলদেরকে গাধার পিঠে চড়িয়ে খর্জুরপুর জেরিকোতে তাদের ভাইদের কাছে তাদেরকে নিয়ে গেলেন; পরে তারা নিজেরা সামেরিয়াতে ফিরে গেলেন।
16
ঐ সময়ে বাদশাহ্ আহস সাহায্য প্রার্থনা করতে আসেরিয়া বাদশাহ্দের কাছে লোক পাঠালেন।
17 কারণ ইদোমীয়েরা পুনর্বার এসে এহুদাকে আক্রমণ করে অনেক লোক বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল।
18 আর ফিলিস্তিনীরা নিম্নভূমি ও এহুদার দক্ষিণাঞ্চলের সমস্ত নগর আক্রমণ করে বৈৎশেমশ, অয়ালোন, গদেরোৎ, সোখো ও তার উপনগরগুলো, তিম্না ও তার উপনগরগুলো এবং গিম্সো ও তার উপনগরগুলো হস্তগত করে সেসব স্থানে বসতি করেছিল।
19 কেননা ইসরাইলের বাদশাহ্ আহসের জন্য মাবুদ এহুদাকে নত করলেন, কারণ তিনি এহুদায় স্বেচ্ছাচার এবং মাবুদের বিরুদ্ধে নিতান্তই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিলেন।
20 আর আসেরিয়ার বাদশাহ্ তিলগৎ-পিলনেষর তাঁর কাছে আসলেন বটে, কিন্তু তার বলবৃদ্ধি না করে তাঁকে কষ্ট দিলেন।
21 বস্তুত আহস মাবুদের গৃহের, রাজপ্রাসাদের ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মূল্যবান ধন-সম্পদ নিয়ে আসেরিয়ার বাদশাহ্কে দিলেও তাঁর কিছু সাহায্য হল না।
22
আর এই কষ্টের সময়ে বাদশাহ্ আহস মাবুদের বিরুদ্ধে আরও বিশ্বাস ভঙ্গ করলেন।
23 কারণ দামেস্কের যে দেবতারা তাঁকে আঘাত করেছিল, তিনি তাদের উদ্দেশে কোরবানী করলেন; আর বললেন, অরামীয় বাদশাহ্দের দেবতারাই তাঁদের সাহায্য করেন, অতএব আমি তাঁদেরই উদ্দেশে কোরবানী করবো, তাতে তাঁরা আমারও সাহায্য করবেন। কিন্তু তারাই তাঁর ও সমস্ত ইসরাইলের বিনাশের কারণ হল।
24 পরে আহস আল্লাহ্র গৃহের সমস্ত পাত্র একত্র করলেন, আল্লাহ্র গৃহের সেসব পাত্র কেটে খণ্ড খণ্ড করলেন, মাবুদের গৃহের সমস্ত দরজা রুদ্ধ করলেন এবং জেরুশালেমের প্রত্যেক কোণে তার জন্য কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
25 আর তিনি অন্য দেবতাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাবার জন্য এহুদার প্রত্যেক নগরে উচ্চস্থলী নির্মাণ করলেন; এভাবে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদকে অসন্তুষ্ট করলেন।
26
তাঁর অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত চরিত্র, দেখ, এহুদা ও ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
27 পরে আহস তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চির নিদ্রায় নিদ্রিত হলেন, আর লোকেরা তাঁকে নগরে অর্থাৎ জেরুশালেমে দাফন করলো, ইসরাইলের বাদশাহ্দের কবরে দাফন করে নি; পরে তাঁর পুত্র হিষ্কিয় তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
হিষ্কিয় পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং ঊনত্রিশ বছর পর্যন্ত জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম অবিয়া, তিনি জাকারিয়ার কন্যা।
2 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের সমস্ত কার্যানুসারে মাবুদের দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তা-ই করতেন।
3
তিনি তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরের প্রথম মাসে মাবুদের গৃহের সমস্ত দরজা খুলে দিলেন এবং মেরামত করলেন।
4 আর তিনি ইমাম ও লেবীয়দেরকে আনিয়ে পূর্ব দিকের চকে একত্র করে বললেন,
5 হে লেবীয়েরা, আমার কথা শোন; তোমরা এখন নিজেদের পবিত্র কর ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের গৃহ পবিত্র কর এবং পবিত্র স্থান থেকে নাপাকীতা দূর করে দাও।
6 কেননা আমাদের পূর্বপুরুষেরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন ও আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করেছেন, আর তাঁকে ত্যাগ করেছেন ও মাবুদের শরীয়ত-তাঁবু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ও তাঁর দিকে পিছন ফিরিয়েছেন।
7 আর তারা বারান্দার সমস্ত দরজা বন্ধ করেছেন এবং সমস্ত প্রদীপ নিভিয়ে ফেলেছেন ও পবিত্র স্থানে ইসরাইলের আল্লাহ্র উদ্দেশে ধূপ জ্বালান নি ও পোড়ানো-কোরবানী দেন নি।
8 এজন্য এহুদার ও জেরুশালেমের উপরে মাবুদের গজব নেমে আসল; তাই তোমরা স্বচক্ষে দেখছ যে, তিনি তাদেরকে ভেসে বেড়াবার, বিস্ময় ও বিদ্রূপের পাত্র হবার জন্য তুলে দিয়েছেন।
9 আর দেখ, সেজন্য আমাদের পিতারা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছেন এবং আমাদের পুত্রেরা, আমাদের কন্যারা, আমাদের স্ত্রীরা বন্দী হয়ে রয়েছেন।
10 অতএব আমাদের উপর থেকে যেন তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ নিবৃত্ত হয়, এজন্য আমরা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সঙ্গে নিয়ম স্থাপন করবো, এ-ই এখন আমার মনোবাসনা।
11 হে আমার সন্তানেরা, তোমরা এখন শিথিল হয়ো না, কেননা তোমরা যেন মাবুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর পরিচর্যা কর এবং তাঁর পরিচারক হও ও ধূপ জ্বালাও, এজন্য তিনি তোমাদেরকেই মনোনীত করেছেন।
12
তখন লেবীয়েরা উঠল— কহাতীয়দের সন্তানদের মধ্যে অমাসয়ের পুত্র মহাৎ ও অসরিয়ের পুত্র যোয়েল, মরারির সন্তানদের মধ্যে অব্দির পুত্র কীশ ও যিহলিলেলের পুত্র অসরিয়, গের্শোনীয়দের মধ্যে সিম্মের পুত্র যোয়াহ ও যোয়াহের পুত্র এদন,
13 ইলীষাফণের সন্তানদের মধ্যে শিম্রি ও যিয়ূয়েল, আর আসফের সন্তানদের মধ্যে জাকারিয়া ও মত্তনিয়,
14 হেমনের সন্তানদের মধ্যে যিহূয়েল ও শিমিয়ি এবং যিদূথূনের সন্তানদের মধ্যে শমরিয় ও উষীয়েল—
15 এসব লোক নিজেদের ভাইদেরকে একত্র করে নিজেদের পবিত্র করলো এবং মাবুদের কালাম অনুসারে ও বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে মাবুদের গৃহ পাক-পবিত্র করতে এল।
16 ইমামেরা পাক-পবিত্র করার জন্য মাবুদের গৃহের ভিতরে গিয়ে, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে যেসব নাপাক জিনিস পেল, সেসব বের করে মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে এনে ফেললো; পরে লেবীয়েরা বাইরে কিদ্রোণ স্রোতে নিয়ে যাবার জন্য তা সংগ্রহ করলো।
17 তারা প্রথম মাসের প্রথম দিনে পবিত্র করতে আরম্ভ করে মাসের অষ্টম দিনে মাবুদের বারান্দাতে এল; আর আট দিনের মধ্যে মাবুদের গৃহ পবিত্র করলো এবং প্রথম মাসের ষোড়শ দিনে তা শেষ করলো।
18 পরে তারা রাজপ্রাসাদে বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কাছে গিয়ে বললো আমরা মাবুদের সমগ্র গৃহ এবং পোড়ানো-কোরবানীর কোরবানগাহ্ ও তার সমস্ত পাত্র, দর্শনরুটির টেবিল ও তার সমস্ত পাত্র পাক-পবিত্র করেছি।
19 আর বাদশাহ্ আহস তাঁর নিজের রাজত্বকালে বিশ্বাস ভঙ্গ করে যেসব পাত্র ফেলে দিয়েছিলেন, সেসব আমরা প্রস্তুত করে পবিত্র করেছি; দেখুন, সে সমস্ত মাবুদের কোরবানগাহ্র সম্মুখে রয়েছে।
20
পরে হিষ্কিয় বাদশাহ্ খুব ভোরে উঠে নগরের কর্মকর্তাদেরকে একত্র করে মাবুদের গৃহে গেলেন।
21 আর তাঁরা রাজ্যের পবিত্র স্থানের জন্য ও এহুদার জন্য গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে সাতটি ষাঁড়, সাতটি ভেড়া, সাতটি ভেড়ার বাচ্চা ও সাতটি ছাগল উপস্থিত করলেন। পরে তিনি মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে পোড়ানো-কোরবানী করতে হারুনের বংশধর ইমামদেরকে হুকুম করলেন।
22 অতএব ষাঁড়গুলোকে জবেহ্ করার পর ইমামেরা তাদের রক্ত নিয়ে কোরবানগাহ্র উপরে ছিটিয়ে দিল এবং ভেড়াগুলোকে জবেহ্ করা হলে তাদের রক্ত কোরবানগাহ্র উপরে ছিটিয়ে দিল এবং ভেড়ার বাচ্চাগুলোকে জবেহ্ করা হলে তাদের রক্ত কোরবানগাহ্র উপরে ছিটিয়ে দিল।
23 পরে গুনাহ্-কোরবানীর জন্য আনা ঐ সমস্ত ছাগল বাদশাহ্র ও সমাজের সম্মুখে আনা হলে তারা তাদের উপরে হাত রাখল।
24 আর ইমামেরা সেসব জবেহ্ করে সমস্ত ইসরাইলের জন্য কাফ্ফারা করবার জন্য তাদের রক্ত দ্বারা কোরবানগাহ্র উপরে গুনাহ্-কোরবানী করলো, কেননা বাদশাহ্র হুকুমে সমস্ত ইসরাইলের জন্য সেই পোড়ানো-কোরবানী ও গুনাহ্র জন্য কোরবানী করতে হল।
25
তিনি দাউদের, বাদশাহ্র দর্শক গাদের ও নাথন নবীর হুকুম অনুসারে করতাল, নেবল ও বীণাধারী লেবীয়দেরকে মাবুদের গৃহে স্থাপন করলেন, যেহেতু মাবুদ তাঁর নবীদের দ্বারা এই হুকুম করেছিলেন।
26 আর লেবীয়েরা দাউদের বাদ্যযন্ত্র এবং ইমামেরা তূরী হাতে দাঁড়ালো।
27 পরে হিষ্কিয় কোরবানগাহে পোড়ানো-কোরবানী করতে হুকুম করলেন; আর যখন পোড়ানো-কোরবানী আরম্ভ হল, তখন মাবুদের গানও আরম্ভ হল এবং তূরী ও ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের বাদ্যযন্ত্র বেজে উঠলো।
28 পোড়ানো-কোরবানী শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত সমাজ সেজ্দা করলো, গায়কেরা গান করলো ও তূরীবাদকেরা তূরী বাজাল।
29 পরে পোড়ানো-কোরবানী শেষ হলে বাদশাহ্ ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক অবনত হয়ে সেজ্দা করলেন।
30 পরে হিষ্কিয় বাদশাহ্ ও কর্মকর্তারা দাউদের ও আসফ দর্শকের কালাম দ্বারা মাবুদের উদ্দেশে প্রশংসা-কাওয়ালী গান করতে লেবীয়দেরকে হুকুম করলেন। আর তারা আনন্দপূর্বক প্রশংসা-কাওয়ালী গান করলো এবং উবুড় হয়ে সেজ্দা করলো।
31
তখন হিষ্কিয় জবাবে বললেন, এখন মাবুদের উদ্দেশে তোমরা পবিত্র হলে; কাছে এসো, মাবুদের গৃহে কোরবানী ও শুকরিয়া-উপহার উপস্থিত কর। তখন সমাজ কোরবানী ও শুকরিয়া-উপহার আনলো ও যত লোকের মনে ইচ্ছা হল, তারা পোড়ানো-কোরবানী আনলো।
32 সমাজ পোড়ানো-কোরবানীর জন্য যেসব পশু আনলো, তার সংখ্যা এই; সত্তরটি ষাঁড়, এক শত ভেড়া ও দুই শত ভেড়ার বাচ্চা, এসব মাবুদের উদ্দেশে দেওয়া পোড়ানো-কোরবানী।
33 আর ছয় শত ষাঁড় ও তিন হাজার ভেড়া পবিত্রীকৃত হল।
34 কিন্তু ইমামেরা সংখ্যায় অল্প বলে তারা সমস্ত পোড়ানো-কোরবানী পশুর চামড়া খুলতে অসমর্থ হল; অতএব সেই কাজ যতক্ষণ শেষ না হয় এবং ইমামেরা যতক্ষণ নিজেদেরকে পবিত্র না করে, ততক্ষণ তাদের লেবীয় ভাইয়েরা তাদের সাহায্য করলো; কেননা নিজেদেরকে পবিত্র করণে ইমামদের চেয়ে লেবীয়েরা অন্তরে বেশি সরল ছিল।
35 আর মঙ্গল-কোরবানীগুলোর চর্বি ও পোড়ানো-কোরবানীগুলোর উপযুক্ত পেয় কোরবানীসহ সেই পোড়ানো-কোরবানী প্রচুর হয়েছিল। এভাবে মাবুদের গৃহ সম্বন্ধীয় সেবাকর্ম পরিপাটিক্রমে চললো।
36 আর আল্লাহ্ লোকদের জন্য যা কিছু করেছেন তাতে হিষ্কিয় ও সমস্ত লোক আনন্দ করলেন; কেননা অকস্মাৎ সেই কাজ করা হয়েছিল।
1
পরে লোকেরা যেন ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাক পালন করার জন্য জেরুশালেমে মাবুদের গৃহে আসে, এজন্য হিষ্কিয় ইসরাইল ও এহুদার সর্বত্র দূত পাঠালেন এবং আফরাহীম ও মানশাকেও পত্র লিখলেন।
2 কারণ বাদশাহ্, তাঁর কর্মকর্তারা ও জেরুশালেমের সমস্ত সমাজ দ্বিতীয় মাসে ঈদুল ফেসাখ পালন করতে ঠিক করেছিলেন;
3 কারণ প্রয়োজনের চেয়ে অল্প সংখ্যক ইমাম পবিত্রীকৃত হয়েছিল এবং জেরুশালেমে লোকেরা সমাগত হয় নি, সুতরাং তখনই তা পালন করা তাঁদের অসাধ্য হয়েছিল।
4 এই বিষয়টি বাদশাহ্র ও সমস্ত সমাজের দৃষ্টিতে ন্যায্য মনে হল।
5 অতএব লোকেরা যেন জেরুশালেমে এসে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করে, এজন্য তাঁরা বের্-শেবা থেকে দান পর্যন্ত ইসরাইলের সর্বত্র ঘোষণা করতে স্থির করলো, কেননা তারা পাক-কিতাবে লেখা বিধি অনুসারে বহুসংখ্যক একত্র হয়ে তা পালন করে নি।
6 পরে সংবাদ-বাহকরা বাদশাহ্র ও তাঁর কর্মকর্তাদের হাত থেকে পত্র নিয়ে ইসরাইল ও এহুদার সর্বত্র গমন করে বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে বললো; হে বনি-ইসরাইল, তোমরা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফের; তাতে তোমাদের যে অবশিষ্ট লোকেরা আসেরিয়া বাদশাহ্দের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, তাদের প্রতি তিনি ফিরবেন।
7 তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ ও ভাইদের মত হয়ো না, কেননা তোমরা দেখছ, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে সত্য লঙ্ঘন করাতে তিনি তাদেরকে ধ্বংসের হাতে তুলে দিয়েছেন।
8 এখন তোমাদের পূর্বপুরুষদের মত তোমরা নিজ নিজ ঘাড় শক্ত করো না, কিন্তু মাবুদের বশবর্তী হও এবং তিনি চিরকালের জন্য যে স্থান পবিত্র করেছেন, তাঁর সেই পবিত্র স্থানে এসে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের সেবা কর, তাতে তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ তোমাদের থেকে নিবৃত্ত হবে।
9 কেননা তোমরা যদি পুনর্বার মাবুদের প্রতি ফের, তবে তোমাদের ভাইয়েরা ও সন্তানেরা যাদের দ্বারা বন্দীরূপে নীত হয়েছে, তাদের কাছে কৃপা পেয়ে হয়ে এই দেশে ফিরে আসতে পারবে; কারণ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ কৃপাময় ও স্নেহশীল; যদি তোমরা তাঁর প্রতি ফের, তবে তিনি তোমাদের থেকে মুখ ফিরাবেন না।
10
সংবাদ-বাহকেরা আফরাহীম ও মানশা দেশের বিভিন্ন নগরে ও সবূলূন পর্যন্ত গেল; কিন্তু লোকেরা তাদেরকে পরিহাস ও বিদ্রূপ করলো।
11 তবুও আশেরের, মানশার ও সবূলূনের অনেক লোক নিজেদেরকে অবনত করে জেরুশালেমে এল।
12 আর আল্লাহ্র হাত এহুদার উপরও ছিল, ফলত তিনি তাদেরকে এক চিত্ত দিয়ে মাবুদের কালাম অনুসারে বাদশাহ্র ও কর্মকর্তাদের হুকুম পালন করতে প্রবৃত্ত করলেন।
13
পরে দ্বিতীয় মাসে খামিহীন রুটির উৎসব পালন করার জন্য বিস্তর লোক, এক মহাসমাজ, জেরুশালেমে একত্র হল।
14 আর তারা জেরুশালেমের সমস্ত কোরবানগাহ্ দূর করলো এবং ধূপদাহের জন্য পাত্রগুলোও দূর করে কিদ্রোণ স্রোতে নিক্ষেপ করলো।
15 পরে দ্বিতীয় মাসের চতুর্দশ দিনে তারা ঈদুল ফেসাখের কোরবানী করলো; আর ইমাম ও লেবীয়েরা লজ্জিত হয়ে নিজদেরকে পবিত্র করলো এবং মাবুদের গৃহে পোড়ানো-কোরবানী উপস্থিত করলো।
16 আর তারা আল্লাহ্র লোক মূসার শরীয়ত অনুসারে তাদের রীতি অনুযায়ী যার যার স্থানে দাঁড়াল, ইমামেরা লেবীয়দের হাত থেকে রক্ত নিয়ে ছিটিয়ে দিল।
17 কেননা যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে নি, এমন অনেক লোক সমাজে ছিল; অতএব মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র করবার জন্য লেবীয়েরা নাপাক সব লোকের জন্য ঈদুল ফেসাখের কোরবানীর কাজে নিযুক্ত হল।
18 বস্তুত বিস্তর লোক, আফরাহীম, মানশা, ইষাখর ও সবূলূন থেকে আগত অনেক লোক, নিজেদেরকে পাক-পবিত্র করে নি, কিন্তু লিখিত বিধির বিপরীতে ঈদুল ফেসাখের মেজবানী ভোজন করলো।
19 কেননা হিষ্কিয় তাদের জন্য মুনাজাত করে বলেছিলেন, পবিত্র স্থানের বিধি অনুসারে পাক-পবিত্র না হলেও যে কেউ আল্লাহ্র খোঁজ, তার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ করার জন্য নিজের অন্তঃকরণ প্রস্তুত করেছে, মঙ্গলময় মাবুদ তাকে মাফ করুন।
20 তাতে মাবুদ হিষ্কিয়ের মুনাজাত শুনে লোকদেরকে সুস্থ করলেন।
21 এভাবে জেরুশালেমে উপস্থিত বনি-ইসরাইল সাত দিন পর্যন্ত মহানন্দে খামিহীন রুটির উৎসব পালন করলো এবং লেবীয় ও ইমামেরা প্রতিদিন মাবুদের উদ্দেশে উচ্চধ্বনির বাদ্য বাজিয়ে মাবুদের প্রশংসা করলো।
22 আর যেসব লেবীয় মাবুদের সেবাকর্মে সুদক্ষ ছিল, তাদেরকে হিষ্কিয় উৎসাহবর্ধক কথা বললেন; এভাবে তারা ঈদের সাত দিন পর্যন্ত মঙ্গল-কোরবানী করে ভোজন করলো এবং তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের শুকরিয়া করলো।
23
পরে সমস্ত সমাজ আরও সাত দিন পালন করতে পরামর্শ করলো; এবং সেই সাত দিন আনন্দে পালন করলো।
24 বস্তুত এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয় সমাজকে উপহার দেবার জন্য এক হাজার ষাঁড় ও সাত হাজার ভেড়া দিলেন এবং কর্মকর্তারা সমাজকে এক হাজার ষাঁড় ও দশ হাজার ভেড়া দিলেন; আর ইমামদের মধ্যে অনেকে নিজেদেরকে পবিত্র করলো।
25 আর এহুদার সমস্ত সমাজ, ইমামেরা, লেবীয়রা ও ইসরাইল থেকে আগত সমস্ত সমাজ এবং ইসরাইল দেশ থেকে আগত ও এহুদায় বসবাসকারী বিদেশী সকলে আনন্দ করলো।
26 এভাবে জেরুশালেমে বড় আনন্দ হল; কেননা ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের পুত্র সোলায়মানের পরে জেরুশালেমে এই রকম ঈদ পালন করা হয় নি।
27 পরে লেবীয় ইমামেরা লোকদেরকে দোয়া করলো আর আল্লাহ্ তাদের মুনাজাত শুনলেন, কারণ তাদের মুনাজাত তাঁর পবিত্র বাসস্থান বেহেশতে উপস্থিত হল।
1
এ সব শেষ হবার পর সেখানে উপস্থিত সমস্ত ইসরাইল এহুদার বিভিন্ন নগরে গমন করে সমস্ত স্তম্ভ ভেঙে ফেললো, সমস্ত আশেরা-মূর্তি কেটে ফেলল এবং সমস্ত এহুদা, বিন্ইয়ামীন, আফরাহীম ও মানশাতে উচ্চস্থলী ও সমস্ত কোরবানগাহ্ ভেঙে ফেললো, নিঃশেষে উৎপাটন করলো; পরে বনি-ইসরাইল প্রত্যেকে যার যার বাসস্থান ও নগরে ফিরে গেল।
2 আর হিষ্কিয় পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানীদান, পরিচর্যা এবং মাবুদের শিবিরের দ্বারগুলোতে প্রশংসা-গজল ও শুকরিয়া করতে ইমামদের ও লেবীয়দেরকে পালার অনুক্রমে, প্রত্যেককে যার যার সেবাকর্ম অনুসারে, নিযুক্ত করলেন।
3 আর মাবুদের শরীয়তে যেমন লেখা আছে, সেই অনুসারে তিনি পোড়ানো-কোরবানীর জন্য, প্রাতঃকালীন ও সন্ধ্যাকালীন পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এবং বিশ্রামবার, অমাবস্যা ও উৎসব সম্বন্ধীয় পোড়ানো-কোরবানীর জন্য, বাদশাহ্র সম্পত্তি থেকে দেয় অংশ নির্ধারণ করলেন।
4 আর ইমাম ও লেবীয়রা যেন মাবুদের শরীয়তে বিশ্বস্ত থাকে, এজন্য তিনি তাদের প্রাপ্য অংশ তাদেরকে দিতে জেরুশালেম-নিবাসী লোকদের হুকুম করলেন।
5 এই হুকুম দেশে ব্যাপ্ত হওয়ামাত্র বনি-ইসরাইল শস্য, আঙ্গুর-রস, তেল ও মধু এবং ভূমির উৎপন্ন সমস্ত দ্রব্যের অগ্রিমাংশ অতি প্রচুররূপে আনলো এবং সকল দ্রব্যের দশ ভাগের এক ভাগ প্রচুররূপে আনলো।
6 আর ইসরাইল ও এহুদার যে লোকেরা এহুদার নগরগুলোতে বাস করতো, তারাও গরু ও ভেড়ার দশ ভাগের এক ভাগ এবং তাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত পবিত্র দ্রব্যের দশ ভাগের এক ভাগ এনে রাশি রাশি করলো।
7 তৃতীয় মাসে তারা সেই রাশি করতে আরম্ভ করে সপ্তম মাসে সমাপ্ত করলো।
8 পরে হিষ্কিয় ও কর্মকর্তারা এসে স্তূপগুলো দেখে মাবুদের প্রশংসা ও তাঁর লোক ইসরাইলদের দোয়া করলেন।
9 আর হিষ্কিয় সেই সকল স্তূপগুলোর বিষয়ে ইমামদের ও লেবীয়দেরকে জিজ্ঞাসা করলেন।
10 সাদোকের কুলজাত অসরিয় নামে প্রধান ইমাম তাঁকে এই জবাব দিলেন, যেদিন থেকে লোকেরা মাবুদের গৃহে উপহার আনতে আরম্ভ করেছে, সেদিন থেকে আমরা ভোজন করেছি, তৃপ্ত হয়েছি, আর যথেষ্ট বেঁচে গেছে; কেননা মাবুদ তাঁর লোকদের দোয়া করেছেন, তাই এই বড় দ্রব্যরাশি বেঁচে গেছে।
11
পরে হিষ্কিয় মাবুদের গৃহে কতকগুলো কুঠরী প্রস্তুত করতে হুকুম দিলেন, তাতে তারা কুঠরী প্রস্তুত করলো।
12 আর তারা উপহার, দশ ভাগের এক ভাগ ও পবিত্রীকৃত বস্তু বিশ্বস্তভাবে ভিতরে আনলো; এবং তাদের উপরে লেবীয় কনানিয় ছিলেন নেতা ও তার ভাই শিমিয়ি ছিলেন তাঁর সহকারী।
13 আর যিহীয়েল, অসসিয়, নহৎ, অসাহেল, যিরীমোৎ, যোষাবদ, ইলীয়েল, যিষ্মখিয়, মাহৎ ও বনায়, এরা হিষ্কিয় বাদশাহ্ ও আল্লাহ্র গৃহের নেতা অসরিয়ের হুকুমে কনানিয় ও তাঁর ভাই শিমিয়ির অধীনে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হল।
14 আর যিম্নার পুত্র কোরি নামক যে লেবীয় পূর্ব দিকের দ্বারপাল ছিল, মাবুদের প্রাপ্য উপহার ও মহা-পবিত্র বস্তুগুলো বিতরণ করার জন্য সে আল্লাহ্র উদ্দেশে স্বেচ্ছাদত্ত বস্তুগুলোর ভারও তাঁর উপর ছিল।
15 তার অধীনে এদন, মিনিয়ামীন, যেশূয়, শময়িয়, অমরিয় ও শখনিয়, এরা ইমামদের বিভিন্ন নগরে তাদের ছোট বড় ভাইদেরকে পালানুসারে অংশ দেবার জন্য নির্ধারিত কাজে নিযুক্ত হল।
16 এদের ছাড়া তিন বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লোক, যাদের নাম পুরুষদের খান্দাননামায় লেখা হয়েছিল, তারা প্রতিদিন কে কে নিজ নিজ পালা অনুসারে নিজ নিজ পদ অনুসারে তাদের সেবাকর্মের জন্য মাবুদের গৃহে প্রবেশ করবে তা স্থির হল।
17 আর যার যার পিতৃকুল অনুসারে ইমামদের এবং বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লেবীয়দের খান্দাননামা তাদের কর্তব্য ও পালা অনুসারে লেখা হয়েছিল।
18 আর এক একজনের সমস্ত শিশু, স্ত্রী ও পুত্রকন্যাসুদ্ধ তাদের সমস্ত সমাজের খান্দাননামা লেখা হয়েছিল, কেননা তারা নির্ধারিত কাজে পবিত্রতায় তাদেরকে পবিত্র করেছিল।
19 আর হারুন-সন্তানদের যে ইমামেরা যার যার নগরের চারণ-ভূমিতে বাস করতো, তাদের প্রত্যেক নগরে স্ব স্ব নামে নির্দিষ্ট কয়েকজন লোক ইমামদের মধ্যে সমস্ত পুরুষ ও লেবীয়দের মধ্যে খান্দাননামায় লেখা সমস্ত লোককে অংশ বিতরণ করতো।
20
হিষ্কিয় এহুদার সর্বত্র এরকম করলেন, আর তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা ভাল, ন্যায্য ও সত্য, তা-ই করলেন।
21 আর তিনি তাঁর আল্লাহ্র খোঁজ করার জন্য আল্লাহ্র গৃহের সেবাকর্ম, ব্যবস্থা ও হুকুম সম্বন্ধে যে কর্মই আরম্ভ করলেন, তা সমস্ত অন্তঃকরণের সঙ্গে করে কৃতকার্য হলেন।
1
এসব কাজ ও বিশ্বস্ত আচরণের পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব এসে এহুদা দেশে প্রবেশ করলেন এবং প্রাচীর-বেষ্টিত নগরগুলোর বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করে সেসব ভেঙে ফেলতে মনস্থ করলেন।
2 যখন হিষ্কিয় দেখলেন, সন্হেরীব এসেছেন, আর তিনি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উন্মুখ হয়েছেন,
3 তখন তিনি তাঁর নেতৃবর্গ ও শক্তিশালী লোকদের সঙ্গে নগরের বাইরে অবস্থিত ফোয়ারাগুলোর পানি বন্ধ করার মন্ত্রণা করলেন এবং তাঁরা তাঁর সাহায্য করলেন।
4 অতএব অনেক লোক একত্র হয়ে সমস্ত ফোয়ারা ও দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্রোত বন্ধ করে দিল। তারা বললো আসেরিয়ার বাদশাহ্রা এসে কেন অনেক পানি পাবে?
5 আর তিনি নিজেকে শক্তিশালী করে সমস্ত ভগ্ন প্রাচীর গেঁথে উচ্চগৃহের সমান করে উঁচু করলেন, আবার তার বাইরে আর একটি প্রাচীর নির্মাণ করলেন ও দাউদ নগরস্থ মিল্লো দৃঢ় করলেন এবং প্রচুর অস্ত্র শস্ত্র ও ঢাল প্রস্তুত করলেন।
6 আর তিনি লোকদের উপর সেনাপতিদেরকে নিযুক্ত করলেন এবং নগরদ্বারের চকে তাঁর কাছে তাদেরকে একত্র করে এই উৎসাহজনক কথা বললেন,
7 তোমরা বলবান হও, সাহস কর, আসেরিয়ার বাদশাহ্ ও তাঁর সঙ্গী সমস্ত লোক-সমাগমের সম্মুখে ভয় পেয়ো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না; কারণ তাঁর সহায়ের চেয়ে আমাদের সহায় মহান।
8 তাঁর সহায় মানুষের বাহুবল, কিন্তু আমাদের সাহায্য ও আমাদের পক্ষে যুদ্ধ করতে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদের সহায়। তখন লোকেরা এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কথার উপর নির্ভর করলো।
9
এর পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব যখন সৈন্যসামন্তের সঙ্গে লাখীশ অবরোধ করেন, তখন জেরুশালেমে এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কাছে ও জেরুশালেমে উপস্থিত সমস্ত এহুদার কাছে তাঁর গোলামেরা দ্বারা এই কথা বলে পাঠালেন;
10 আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব এই কথা বলেন, তোমরা কিসের উপর নির্ভর করছো যে, অবরোধ হওয়া জেরুশালেমের বাস করছো?
11 হিষ্কিয় কি ক্ষুধা ও পিপাসায় মেরে ফেলবার জন্য তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করছে না? সে বলছে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে আসেরিয়ার বাদশাহ্র হাত থেকে উদ্ধার করবেন।
12 ঐ হিষ্কিয়ই কি তাঁর উচ্চস্থলী ও সমস্ত কোরবানগাহ্ দূর করে নি? এবং তোমাদেরকে একই কোরবানগাহ্র সম্মুখে সেজ্দা করতে ও তারই উপরে ধূপ জ্বালাতে হবে,’ এই হুকুম কি এহুদা ও জেরুশালেমকে দেয় নি?
13 আমি ও আমার পূর্বপুরুষেরা আমরা অন্যান্য দেশস্থ সমস্ত লোক-সমাজের প্রতি যা করেছি, তোমরা কি তা জান না? সেসব দেশের জাতিদের দেবতারা কি কোনভাবে আমার হাত থেকে নিজ নিজ দেশ উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে?
14 আমার পূর্বপুরুষেরা যেসব জাতিকে নিঃশেষে বিনাশ করেছেন, তাদের সমস্ত দেবতার মধ্যে কে নিজের লোকদেরকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করতে পেরেছিল? তবে তোমাদের আল্লাহ্ আমার হাত থেকে যে তোমাদেরকে উদ্ধার করতে পারে, এ কি সম্ভব?
15 অতএব হিষ্কিয় তোমাদেরকে ভ্রান্ত না করুক ও এভাবে বিভ্রান্ত না করুক; তোমরা তাকে বিশ্বাস করো না; কেননা আমার হাত থেকে ও আমার পূর্বপুরুষদের হাত থেকে নিজের লোকদেরকে উদ্ধার করতে কোন জাতির কিংবা রাজ্যের কোন দেবতারই সাধ্য হয় নি; তবে তোমাদের আল্লাহ্ কি তোমাদেরকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করবে?
16
আর বাদশাহ্র গোলামেরা মাবুদ আল্লাহ্ ও তার গোলাম হিষ্কিয়ের বিরুদ্ধে আরও বেশি কথা বললো।
17 আর তিনি ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদকে উপহাস করার ও তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলবার জন্য এরকম পত্রও লিখলেন, অন্যান্য দেশীয় জাতিদের দেবতারা যেমন আমার হাত থেকে নিজ নিজ লোকদের উদ্ধার করে নি, তেমনি হিষ্কিয়ের আল্লাহ্ও তাঁর লোকদেরকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করবে না।
18 আর জেরুশালেমের যে লোকেরা প্রাচীরের উপরে ছিল, তাদেরকে ভয় দেখাবার ও বিচলিত করার জন্য তারা অতি উচ্চৈঃস্বরে ইহুদী ভাষায় তাদের কাছে চিৎকার করতে লাগল; যেন নগর হস্তগত করতে পারে।
19 দুনিয়ার জাতিদের যে দেবতারা মানুষের হাতের তৈরি, তাদের বিষয়ে কথা বলবার মত তারা জেরুশালেমের আল্লাহ্র বিষয়ে কথা বললো।
20
পরে এসব কারণের জন্য বাদশাহ্ হিষ্কিয় ও আমোজের পুত্র নবী ইশাইয়া মুনাজাত করলেন ও বেহেশতের কাছে কান্নাকাটি করলেন।
21 তখন মাবুদ এক জন ফেরেশতা প্রেরণ করলেন; তিনি আসেরিয়ার বাদশাহ্র শিবিরের মধ্যে সমস্ত বলবান বীর, প্রধান লোক ও সেনাপতিকে উচ্ছেদ করলেন; তাতে সন্হেরীব লজ্জিত হয়ে নিজের দেশে ফিরে গেলেন। পরে তিনি তাঁর দেবালয়ে প্রবেশ করলে তাঁর নিজের সন্তানেরা সেই স্থানে তলোয়ার দ্বারা তাঁকে হত্যা করলো।
22 এভাবে মাবুদ হিষ্কিয় ও জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীবের হাত থেকে ও আর সকলের হাত থেকে নিস্তার করলেন এবং সমস্ত দিকে তাদেরকে রক্ষা করলেন।
23 তাতে অনেক লোক জেরুশালেমে মাবুদের উদ্দেশে নৈবেদ্য আনলো এবং এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কাছে বহুমূল্য দ্রব্য আনলো; তাতে সেই সময় থেকে তিনি সকল জাতির দৃষ্টিতে উন্নত হলেন।
24
ঐ সময়ে হিষ্কিয়ের সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে পড়লো, আর তিনি মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন; তাতে মাবুদ তাঁকে জবাব দিলেন ও তাঁকে একটি অদ্ভুত লক্ষণ জানালেন।
25 কিন্তু হিষ্কিয় যে উপকার পেয়েছিলেন সেই অনুসারে প্রতিদান করলেন না, কারণ তাঁর মন গর্বিত হয়েছিল; অতএব তাঁর এবং এহুদার ও জেরুশালেমের উপরে ক্রোধ উপস্থিত হল।
26 তখন হিষ্কিয় তাঁর মনের গর্ব বুঝে নিজেকে অবনত করলেন, তিনি ও জেরুশালেম-নিবাসীরা তা করলেন। সেজন্য হিষ্কিয়ের সময়ে মাবুদের গজব তাদের উপরে নেমে আসল না।
27
হিষ্কিয়ের অতি প্রচুর ধন ও প্রতাপ ছিল, তিনি তাঁর নিজের জন্য রূপা, সোনা, মণি, সুগন্ধি দ্রব্য, ঢাল ও সমস্ত রকম মনোহর পাত্রের কোষাগার প্রস্তুত করলেন,
28 আর শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের জন্য ভাণ্ডার এবং বিভিন্ন রকম পশুর ঘর ও ভেড়ার পালের খোঁয়াড় করলেন।
29 আর তিনি তাঁর নিজের জন্য নানা নগর ও গোমেষাদির অনেক পশুধন প্রস্তুত করলেন, যেহেতু আল্লাহ্ তাঁকে অতি প্রচুর ধন দিয়েছিলেন।
30 এই হিষ্কিয় গীহোনের পানির উচ্চতর মুখ বন্ধ করে সরল পথে দাউদ-নগরের পশ্চিম পাশে সেই পানি নামিয়ে এনেছিলেন। আর হিষ্কিয় তাঁর সকল কাজে কৃতকার্য হলেন।
31 কিন্তু তাঁর দেশে যে অদ্ভুত লক্ষণ দেখান হয়েছিল, তার বিবরণ জিজ্ঞাসা করতে ব্যাবিলনের কর্মকর্তারা দূতদেরকে পাঠালে আল্লাহ্ তাঁর পরীক্ষা করার জন্য, তাঁর মনে কি আছে সেসব জানবার জন্য তাঁকে ত্যাগ করেছিলেন।
32
হিষ্কিয়ের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও তাঁর ভাল কাজের বিবরণ, দেখ, আমোজের পুত্র নবী ইশাইয়ার দর্শন-কিতাবে লেখা আছে; তা এহুদা ও ইসরাইলের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকের অন্তর্গত।
33 পরে হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন, আর লোকেরা দাউদ-সন্তানদের কবরস্থানের উপরের অংশে তাঁকে দাফন করলো এবং তাঁর মরণকালে সমস্ত এহুদা ও জেরুশালেম-নিবাসীরা তাঁকে সম্মান দেখাল। পরে তাঁর পুত্র মানশা তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
মানশা বারো বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; এবং পঞ্চান্ন বছরকাল জেরুশালেমে রাজত্ব করেন।
2 মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করতেন; মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করেছিলেন, তিনি তাদের ঘৃণিত কাজ অনুসারেই কাজ করতেন।
3 বস্তুত তাঁর পিতা হিষ্কিয় যেসব উচ্চস্থলী ভেঙে ফেলেছিলেন, তিনি সেগুলো পুনর্বার নির্মাণ করলেন; বাল দেবতাদের জন্য কোরবানগাহ্ প্রস্তুত করলেন এবং আশেরা-মূর্তি তৈরি করলেন আর আসমানের সমস্ত বাহিনীর কাছে সেজ্দা ও তাদের সেবা করলেন।
4 আর মাবুদ যে গৃহের উদ্দেশে বলেছিলেন, জেরুশালেমে আমার নাম চিরকাল থাকবে, মাবুদের সেই গৃহে তিনি কতকগুলো কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
5 আর তিনি মাবুদের গৃহের দুই প্রাঙ্গণে আসমানের সমস্ত বাহিনীর জন্য কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
6 আর তিনি তাঁর সন্তানদেরকে হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকায় আগুনের মধ্যে দিয়ে গমন করালেন; আর গণকতা, মোহকের ব্যবহার ও মায়াক্রিয়া করতেন এবং ভূতড়িয়া ও গুনিনদেরকে রাখতেন; তিনি মাবুদের দৃষ্টিতে বহুল কদাচরণ করে তাঁকে অসন্তুষ্ট করলেন।
7 আর তিনি তাঁর তৈরি একটি খোদাই-করা মূর্তি আল্লাহ্র সেই গৃহে স্থাপন করলেন, যার বিষয়ে আল্লাহ্ দাউদ ও তাঁর পুত্র সোলায়মানকে এই কথা বলেছিলেন, আমি এই গৃহে ও ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্যে আমার মনোনীত এই জেরুশালেমে আমার নাম চিরকালের জন্য স্থাপন করবো;
8 আর আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য যে দেশ নির্ধারণ করেছি, সেই দেশ থেকে ইসরাইলের নিবাস আর সরিয়ে দেব না; কেবল যদি তারা আমি তাদেরকে যেসব হুকুম দিয়েছি, অর্থাৎ আমার গোলাম মূসার মধ্য দিয়ে তাদেরকে যে সমস্ত শরীয়ত, বিধি ও অনুশাসন দিয়েছি, সেই অনুসারে যত্নপূর্বক চলে।
9 তবুও মানশা এহুদাকে ও জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে বিপথগামী করলেন, তাতে মাবুদ বনি-ইসরাইলদের সম্মুখ থেকে যে জাতিদেরকে বিনষ্ট করেছিলেন, ওরা তাদের চেয়ে বেশি কদাচরণ করতো।
10
আর মাবুদ মানশা ও তাঁর লোকদের কাছে কথা বলতেন, কিন্তু তাঁরা কান দিতেন না।
11 এজন্য মাবুদ তাঁদের বিরুদ্ধে আসেরিয়ার বাদশাহ্র সেনাপতিদেরকে নিয়ে আসলেন; আর তারা মানশাকে হাতকড়া দিয়ে তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
12 তখন সংকটাপন্ন হয়ে তিনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন, ও তাঁর পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্র সম্মুখে নিজেকে অতিশয় অবনত করলেন।
13 এভাবে তাঁর কাছে মুনাজাত করলে তিনি তাঁর মুনাজাত গ্রাহ্য করলেন, তাঁর ফরিয়াদ শুনে তাঁকে পুনর্বার জেরুশালেমে তাঁর রাজ্যে আনলেন। তখন মানশা জানতে পারলেন যে, মাবুদই আল্লাহ্।
14
এর পরে তিনি দাউদ-নগরের বাইরে গীহোনের পশ্চিমে উপত্যকার মধ্যে মৎস্য-দ্বারের প্রবেশ-স্থান পর্যন্ত প্রাচীর নির্মাণ করলেন, ওফলের চারদিক ঘিরে নিয়ে অতি উঁচু দেয়াল তুললেন এবং এহুদা দেশের প্রাচীরবেষ্টিত সমস্ত নগরে বিক্রমী সেনাপতিদেরকে নিযুক্ত করলেন।
15 আর তিনি মাবুদের গৃহ থেকে বিজাতীয় দেবতাদের মূর্তিগুলোকে এবং মাবুদের গৃহের পর্বতে ও জেরুশালেমে তাঁর নির্মিত সমস্ত কোরবানগাহ্ তুলে নিয়ে নগর থেকে বের করে দূরে ফেল দিলেন।
16 আর মাবুদের কোরবানগাহ্ মেরামত করে তার উপরে মঙ্গল-কোরবানী ও শুকরিয়া-উপহার কোরবানী করলেন এবং ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের সেবা করতে এহুদাকে হুকুম করলেন।
17 অবশ্য লোকেরা তখনও উচ্চস্থলীতে কোরবানী করতো, কিন্তু কেবল তাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশেই করতো।
18
মানশার অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, তাঁর আল্লাহ্র কাছে তাঁর মুনাজাত এবং যে দর্শকেরা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামে তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন, তাঁদের কথা, দেখ ইসরাইলের বাদশাহ্দের কার্যবিবরণের মধ্যে লেখা আছে।
19 আর তাঁর মুনাজাত, কিভাবে সেই মুনাজাত গ্রাহ্য হল এবং তাঁর সমস্ত গুনাহ্ ও বিশ্বাস ভঙ্গ এবং নিজেকে অবনত করার আগে তিনি যেসব স্থানে উচ্চস্থলী নির্মাণ এবং আশেরামূর্তি ও খোদাই-করা মূর্তি স্থাপন করেছিলেন, দেখ, সেই সবের বিবরণ দর্শকের গ্রন্থে লেখা আছে।
20 পরে মানশা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন; আর লোকেরা তাঁর বাড়িতে তাঁকে দাফন করলো এবং তাঁর পুত্র আমোন তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
21
আমোন বাইশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; এবং জেরুশালেমে দুই বছরকাল রাজত্ব করেন।
22 তাঁর পিতা মানশা যেমন করেছিলেন, তিনিও তেমনি মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করতেন; বস্তুত তাঁর পিতা মানশা যেসব খোদাই-করা মূর্তি তৈরি করেছিলেন, আমোন তাদের উদ্দেশে কোরবানী করতেন ও তাদের সেবা করতেন।
23 কিন্তু তাঁর পিতা মানশা যেমন নিজেকে নত করেছিলেন, তিনি মাবুদের সাক্ষাতে নিজেকে তেমন নত করলেন না; পরন্তু এই আমোন উত্তরোত্তর বেশি দোষ করলেন।
24 পরে তাঁর গোলামেরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলো, আর তাঁর বাড়িতে তাঁকে হত্যা করলো।
25 কিন্তু দেশের লোকেরা আমোন বাদশাহ্র বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী সকলকে হত্যা করলো; পরে দেশের লোকেরা তাঁর পুত্র ইউসিয়াকে তাঁর পদে বাদশাহ্ করলো।
1
ইউসিয়া আট বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন; এবং একত্রিশ বছরকাল জেরুশালেমে রাজত্ব করেন।
2 মাবুদের সাক্ষাতে যা ন্যায্য, তিনি তা-ই করতেন ও তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের পথে চলতেন, তার ডানে বা বামে ফিরতেন না।
3 ফলত তাঁর রাজত্বের অষ্টম বছরে তিনি অল্পবয়স্ক হলেও তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের আল্লাহ্র খোঁজ করতে আরম্ভ করলেন এবং বারো বছরে উচ্চস্থলী ও আশেরামূর্তি, খোদাই-করা মূর্তি ও ছাঁচে ঢালা মূর্তি থেকে এহুদা ও জেরুশালেমকে পাক-পবিত্র করতে লাগলেন।
4 তাঁর সাক্ষাতে লোকেরা বাল দেবতাদের সমস্ত কোরবানগাহ্ ভেঙে ফেললো এবং তিনি তদুপরি স্থাপিত ধূপ-বেদি ধ্বংস করলেন, আর আশেরা-মূর্তি, খোদাই-করা মূর্তি ও ছাঁচে ঢালা সমস্ত মূর্তি ভেঙে ধূলিসাৎ করে, যারা তাদের উদ্দেশে কোরবানী করেছিল, তাদের কবরের উপরে সেই ধূলা ছড়িয়ে দিলেন।
5 আর তাদের কোরবানগাহ্র উপরে ইমামদের অস্থি পোড়ালেন এবং এহুদা ও জেরুশালেমকে পাক-পবিত্র করলেন।
6 আর মানশা, আফরাহীম ও শিমিয়োনের বিভিন্ন নগরে এবং নপ্তালি পর্যন্ত সর্বত্র ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এরকম করলেন।
7 আর তিনি সমস্ত কোরবানগাহ্ ভেঙে ফেললেন এবং সমস্ত আশেরা-মূর্তি ও খোদাই-করা সমস্ত মূর্তি চূর্ণ করলেন, ইসরাইল দেশের সর্বত্র সমস্ত ধূপগাহ্ কেটে ফেললেন, পরে জেরুশালেমে ফিরে আসলেন।
8
তাঁর রাজত্বের অষ্টাদশ বছরে দেশ ও গৃহ পাক-পবিত্র করার পর তিনি তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের গৃহ মেরামত করার জন্য অৎসলিয়ের পুত্র শাফন, মাসেয় নগরাধ্যক্ষ ও যোয়াহসের পুত্র যোয়াহ ইতিহাস লেখককে পাঠালেন।
9 আর তাঁরা হিল্কিয় মহা-ইমামের কাছে উপস্থিত হলেন এবং আল্লাহ্র গৃহে আনা সমস্ত টাকা, যা দ্বারপাল লেবীয়েরা মানশা, আফরাহীম ও ইসরাইলের সমস্ত অবশিষ্টাংশের কাছ থেকে এবং সমস্ত এহুদা ও বিন্ইয়ামীনের কাছ থেকে আর জেরুশালেম-নিবাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল, সেসব টাকা দিলেন।
10 তাঁরা মাবুদের গৃহের তত্ত্বাবধায়ক কার্যকারীদের হাতে তা দিলেন, পরে যে কার্যকারীরা মাবুদের গৃহে কাজ করতো, তারা সেই গৃহ সারবার ও মেরামৎ করার জন্য তা দিল,
11 অর্থাৎ এহুদার বাদশাহ্রা যেসব বাড়ি-ঘর বিনষ্ট করেছিলেন, সেই সবের জন্য খোদাই-করা পাথর ও জোড়ের কাঠ ক্রয় করতে ও কড়িকাঠ প্রস্তুত করতে তারা ছুতার মিস্ত্রিদের ও গাঁথকদেরকে তা দিল।
12 আর সেই লোকেরা বিশ্বস্তভাবে কাজ করলো এবং মরারিয়দের মধ্যে দু’জন লেবীয়, অর্থাৎ যহৎ ও ওবদিয়, তাদের তত্ত্বাবধায়ক ছিল এবং কহাতীয়দের মধ্যে জাকারিয়া ও মশুল্লম এবং অন্য লেবীয়দের মধ্যে বাদ্য বাদনে নিপুণ লোকেরা কাজ চালাবার জন্য নিযুক্ত ছিল।
13 আর তারা ভারবাহকদের নেতা, আর কাজ চালাবার জন্য সমস্ত রকমের সেবাকর্মকারীদের উপরে নিযুক্ত ছিল এবং লেবীয়দের মধ্যে কেউ কেউ লেখক, কর্মকর্তা ও দ্বারপাল ছিল।
14
তারা যখন মাবুদের গৃহে আনা সকল রূপা বের করলো, তখন ইমাম হিল্কিয় মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া মাবুদের শরীয়ত-কিতাবখানি পেলেন।
15 পরে হিল্কিয় শাফন লেখককে বললেন, আমি মাবুদের গৃহে শরীয়ত-কিতাবখানি পেয়েছি; পরে হিল্কিয় শাফনকে সেই কিতাব দিলেন।
16 আর শাফন সেই কিতাব বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গিয়ে এই নিবেদন করলেন, আপনার গোলামদের প্রতি হুকুম করা সমস্ত কাজ করা যাচ্ছে;
17 তাঁরা মাবুদের গৃহে পাওয়া সমস্ত টাকা একত্র করে তত্ত্বাবধায়ক ও কর্মকারীদের হাতে দিয়েছেন।
18 পরে শাফন লেখক বাদশাহ্কে এই কথা জানালেন, হিল্কিয় ইমাম আমাকে একখানি কিতাব দিয়েছেন; আর শাফন বাদশাহ্র সাক্ষাতে তা পাঠ করতে লাগলেন।
19
তখন বাদশাহ্ শরীয়তের সমস্ত কালাম শুনে তাঁর কাপড় ছিঁড়লেন।
20 আর বাদশাহ্ হিল্কিয়, শাফনের পুত্র অহীকাম, মীখায়ের পুত্র অব্দোন, শাফন লেখক ও রাজভৃত্য অসায়কে এই হুকুম করলেন,
21 তোমরা যাও, যে কিতাবখানি পাওয়া গেছে, সেই কিতাবের সকল কালামের বিষয়ে আমার জন্য এবং ইসরাইলের ও এহুদার মধ্যে অবশিষ্ট লোকদের জন্য মাবুদকে জিজ্ঞাসা কর; কেননা ঐ কিতাবে লেখা সকল কালাম অনুযায়ী কাজ করার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা মাবুদের কালাম পালন করেন নি, এজন্য আমাদের উপরে মাবুদের গজবের আগুন নেমে এসেছে।
22
তখন হিল্কিয় ও বাদশাহ্র নিযুক্ত ঐ লোকেরা বস্ত্রাগারের নেতা হস্রহের পৌত্র, তোখতের পুত্র শল্লুমের স্ত্রী হুল্দা মহিলা-নবীর কাছে গেলেন; তিনি জেরুশালেমের দ্বিতীয় বিভাগে বাস করছিলেন। পরে তাঁরা ঐ ভাবের কথা তাঁকে বললেন।
23 তিনি তাঁদেরকে বললেন, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, যে ব্যক্তি তোমাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়েছে, তাকে বল,
24 মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই স্থানের ও এখানকার নিবাসীদের উপরে অমঙ্গল আনবো, এহুদা-রাজের সাক্ষাতে যে কিতাব ওরা পাঠ করেছে, তাতে লেখা সমস্ত বদদোয়া বর্তাব।
25 কারণ তারা আমাকে ত্যাগ করেছে এবং অন্য দেবতাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালিয়েছে, এভাবে নিজ নিজ হাতের সমস্ত কাজ দিয়ে আমাকে অসন্তুষ্ট করেছে; সেজন্য এই স্থানের উপর আমার গজবের আগুন বর্ষিত হল, নিভানো যাবে না।
26 কিন্তু এহুদার বাদশাহ্, যিনি মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে তোমাদেরকে পাঠিয়েছেন, তাঁকে এই কথা বল, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যেসব কালাম শুনেছ, তার বিষয় কথা এই—
27 এই স্থানের ও এখানকার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে আমি যেসব কথা বলেছি, তা শোনামাত্র তোমার অন্তঃকরণ কোমল হয়েছে, তুমি আল্লাহ্র সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করেছ; তুমি আমার সাক্ষাতে নিজেকে অবনত করেছ এবং তোমার কাপড় ছিঁড়ে আমার সম্মুখে কান্নাকাটি করেছ, এজন্য মাবুদ বলেন, আমিও তোমার কথা শুনলাম।
28 দেখ, আমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে তোমাকে সংগ্রহ করবো; তুমি শান্তিতে তোমার কবরে সংগৃহীত হবে; এবং এই স্থানের ও এখানকার অধিবাসীদের উপরে আমি যেসব অমঙ্গল আনবো, তোমার চোখ সেসব দেখবে না। পরে তারা আবার বাদশাহ্কে এই কথার সংবাদ দিলেন।
29
আর বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে এহুদা ও জেরুশালেমের সমস্ত প্রধান ব্যক্তিবর্গকে একত্র করলেন।
30 পরে বাদশাহ্ মাবুদের গৃহে গেলেন এবং এহুদার সমস্ত লোক, জেরুশালেম-নিবাসী, ইমাম ও লেবীয়েরা, মহান ও ক্ষুদ্র সমস্ত লোক গমন করলো; এবং তিনি মাবুদের গৃহে পাওয়া নিয়ম-কিতাবের সমস্ত কথা তাদের উপস্থিতিতে পাঠ করলেন।
31 পরে বাদশাহ্ তাঁর স্থানে দাঁড়িয়ে মাবুদের অনুগামী হবার এবং সমস্ত অন্তঃকরণ ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাঁর হুকুম, নির্দেশ ও বিধি পালন করার জন্য, এই কিতাবে লেখা নিয়মের কথানুসারে কাজ করার জন্য মাবুদের সাক্ষাতে নিয়ম স্থির করলেন।
32 আর জেরুশালেম ও বিন্-ইয়ামীনের যত লোক উপস্থিত ছিল, তাদের সকলকে তিনি অঙ্গীকার করালেন। তাতে জেরুশালেম-নিবাসীরা আল্লাহ্র, তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্র, নিয়মানুসারে কাজ করতে লাগল।
33 আর ইউসিয়া বনি-ইসরাইলদের অধিকৃত সমস্ত দেশ থেকে সমস্ত ঘৃণার বস্তু দূর করলেন এবং ইসরাইল মধ্যে যত লোক উপস্থিত ছিল তাদের সকলকে দিয়ে তাদের আল্লাহ্ মাবুদের এবাদত করালেন। তিনি যত দিন ছিলেন, তত দিন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের পিছনে চলা থেকে নিবৃত্ত হল না।
1
পরে ইউসিয়া জেরুশালেমে মাবুদের উদ্দেশে ঈদুল ফেসাখ পালন করলেন, লোকেরা প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে ঈদুল ফেসাখের ভেড়া জবেহ্ করলো।
2 আর তিনি ইমামদেরকে তাদের নির্ধারিত কাজে নিযুক্ত করলেন এবং মাবুদের গৃহের সেবাকর্ম করতে তাদেরকে উৎসাহ দিলেন।
3 আর যে লেবীয়েরা সমস্ত ইসরাইলের শিক্ষক ও মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র ছিল, তাদেরকে তিনি বললেন, ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের পুত্র সোলায়মান যে গৃহ নির্মাণ করেছেন, তাদের মধ্যে তোমরা পবিত্র সিন্দুকটি রাখ; তার ভার আর তোমাদের কাঁধে থাকবে না; এখন তোমরা তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ ও তাঁর লোক ইসরাইলের সেবা কর।
4 আর নিজ নিজ পিতৃকুল অনুসারে, ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের লিখন অনুসারে এবং তাঁর পুত্র সোলায়মানের লিখন অনুসারে নির্ধারিত নিজ নিজ পালানুসারে নিজদেরকে প্রস্তুত কর।
5 আর তোমাদের ভাইয়েরা অর্থাৎ লোকদের পিতৃকুলগুলোর বিভাগানুসারে ও লেবীয়দের পিতৃকুলগুলোর অংশানুসারে পবিত্র স্থানে দণ্ডায়মান হও।
6 আর ঈদুল ফেসাখের কোরবানী দাও ও নিজদেরকে পবিত্র কর এবং মূসা দ্বারা কথিত মাবুদের কালাম অনুসারে কাজ করবার জন্য তোমাদের ভাইদের জন্য আয়োজন কর।
7
পরে ইউসিয়া লোকদের, উপস্থিত সকলকে, পাল থেকে কেবল ঈদুল ফেসাখের কোরবানীর জন্য সংখ্যায় ত্রিশ হাজার ভেড়ার বাচ্চা ও ছাগলের বাচ্চা এবং তিন হাজার ষাঁড় দিলেন; এই সবই বাদশাহ্র সম্পত্তি থেকে দেওয়া হল।
8 আর তার কর্মকর্তারা ইচ্ছাপূর্বক লোকদের, ইমামদের ও লেবীয়দেরকে দান করলেন। হিল্কিয়, জাকারিয়া ও যিহীয়েল, আল্লাহ্র গৃহের এই প্রধান কর্মকর্তারা ইমামদেরকে ঈদুল ফেসাখের কোরবানীর জন্য দুই হাজার ছয় শত ছাগল-ভেড়ার বাচ্চা ও পাঁচ শত ষাঁড় দিলেন।
9 আর কেনানীয় এবং শমরিয় ও নথনেল নামে তাঁর দুই ভাই, আর হশবিয়, যীয়ীয়েল ও যোষাবদ, লেবীয়দের এই নেতৃবর্গ লেবীয়দেরকে ঈদুল ফেসাখের কোরবানীর জন্য পাঁচ হাজার ছাগল-ভেড়ার বাচ্চা ও পাঁচ শত ষাঁড় দিলেন।
10
এভাবে সেবাকর্মের আয়োজন হল, আর বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে ইমামেরা যার যার স্থানে ও লেবীয়েরা যার যার পালা অনুসারে দাঁড়ালো।
11 আর ঈদুল ফেসাখের সমস্ত পশু কোরবানী করা হল এবং ইমামেরা তাদের হাত থেকে রক্ত নিয়ে ছিটিয়ে দিল ও লেবীয়েরা পশুদের চামড়া ছাড়াল।
12 আর মূসার কিতাবে যেমন লেখা আছে, সেই অনুসারে মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করার জন্য তারা লোকদের পিতৃকুলের বিভাগ অনুসারে সকলকে দেবার জন্য পোড়ানো-কোরবানী পৃথক করলো এবং ষাঁড়গুলোর বিষয়েও তা-ই করলো।
13 পরে তারা বিধিমতে ঈদুল ফেসাখের কোরবানী আগুনে ঝল্সে নিল; আর পবিত্র সমস্ত কোরবানীর গোশ্ত পাত্র, হাঁড়ি ও কড়াইতে রান্না করলো এবং সমস্ত লোককে দ্রুততার সঙ্গে পরিবেশন করলো।
14 এর পরে তাদের ও ইমামদের জন্য আয়োজন করলো, কেননা হারুন সন্তান ইমামেরা পোড়ানো-কোরবানী ও চর্বি পোড়াতে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিল; অতএব লেবীয়েরা নিজেদের ও হারুন সন্তান ইমামদের জন্য আয়োজন করলো।
15 আর দাউদ, আসফ, হেমন ও রাজ-দর্শক যিদূথূনের হুকুম অনুসারে আসফ-সন্তান গায়কেরা যার যার স্থানে ছিল ও দ্বারপালেরা প্রতি দ্বারে ছিল; তাদের নিজ নিজ সেবাকর্ম ছেড়ে যাবার প্রয়োজন হল না, যেহেতু তাদের লেবীয় ভাইয়েরা তাদের জন্য আয়োজন করেছিল।
16
এভাবে ইউসিয়া বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে ঈদুল ফেসাখ পালন ও মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে পোড়ানো-কোরবানী করার জন্য সেদিন মাবুদের সমস্ত সেবা-কর্মের আয়োজন হল।
17 ঐ সময়ে উপস্থিত বনি-ইসরাইল ঈদুল ফেসাখ এবং সাত দিন খামিহীন রুটির উৎসব পালন করলো।
18 শামুয়েল নবীর সময় থেকে ইসরাইলে এই রকম ঈদুল ফেসাখ পালিত হয় নি; ইউসিয়া, ইমাম, লেবীয় এবং সমস্ত এহুদা ও ইসরাইলের উপস্থিত লোকেরা ও জেরুশালেম-নিবাসীরা যেভাবে ঈদুল ফেসাখ পালন করলো, ইসরাইলের কোন বাদশাহ্ সেইভাবে ঈদ পালন করেন নি।
19 ইউসিয়ার রাজত্বের অষ্টাদশ বছরে এই ঈদুল ফেসাখ পালিত হল।
20
ইউসিয়া এবাদতখানার সমস্ত কাজ শেষ করার পর, মিসরের বাদশাহ্ নখো ফোরাত নদীর নিকটস্থ কর্কমীশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আসছিলেন, আর ইউসিয়া তার বিরুদ্ধে যাত্রা করলেন।
21 তখন তিনি দূত দ্বারা এই কথা বলে পাঠালেন, হে এহুদার বাদশাহ্, তোমার সঙ্গে আমার শত্রুতা কি? আমি আজ তোমার বিরুদ্ধে আসি নি, কিন্তু যে কুলের সঙ্গে আমার যুদ্ধ বেঁধেছে, তার বিরুদ্ধে যাচ্ছি; আর আল্লাহ্ আমাকে ত্বরা করতে বলেছেন; অতএব তুমি আমার সহবর্তী আল্লাহ্র বিরূদ্ধাচরণ থেকে ক্ষান্ত হও, নইলে তিনি তোমাকে ধ্বংস করবেন।
22 তবুও ইউসিয়া তাঁর থেকে বিমুখ হন নি, বরং তার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করলেন; তিনি আল্লাহ্র মুখ বের হওয়া নখোর কথায় কান না দিয়ে মগিদ্দো উপত্যকায় যুদ্ধ করতে গেলেন।
23 পরে তীরন্দাজেরা বাদশাহ্ ইউসিয়াকে তীর মারল; তখন বাদশাহ্ তাঁর লোকদেরকে বললেন, আমাকে নিয়ে যাও, কেননা আমি গুরুতর আহত হয়েছি।
24 তাতে তার গোলামেরা সেই রথ থেকে তাঁকে বের করলো এবং তাঁর দ্বিতীয় রথে আরোহন করিয়ে জেরুশালেমে আনলো, আর তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরে দাফন করা হল। পরে সমস্ত এহুদা ও জেরুশালেম ইউসিয়ার জন্য শোক করলো।
25 আর ইয়ারমিয়া ইউসিয়ার জন্য বিলাপ-গজল রচনা করলেন এবং সকল গায়ক ও গায়িকা স্ব স্ব বিলাপ-গীতে ইউসিয়ার বিষয়ে গান করলো; আজও করে; ফলত তারা তা ইসরাইলের পালনীয় বিধি করলো; আর দেখ, তা বিলাপ-গীতে লেখা আছে।
26 ইউসিয়ার অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত ও মাবুদের শরীয়তে লেখা কালাম অনুযায়ী তাঁর সমস্ত মহৎ কাজ,
27 এবং তাঁর বৃত্তান্ত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখ, সেই সকল ইসরাইল ও এহুদার বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে।
1
পরে দেশের লোকেরা ইউসিয়ার পুত্র যিহোয়াহসকে নিয়ে তাঁর পিতার পদে জেরুশালেমে তাঁকে বাদশাহ্ করলো।
2 যোয়াহস তেইশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে তিন মাস কাল রাজত্ব করেন।
3 পরে মিসরের বাদশাহ্ জেরুশালেমে তাঁকে পদচ্যুত করে দেশের এক শত তালন্ত রূপা ও এক তালন্ত সোনা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করলেন।
4 আর মিসরের বাদশাহ্ যিহোয়াহসের ভাই ইলীয়াকীমকে এহুদা ও জেরুশালেমের বাদশাহ্ করলেন এবং তাঁর নাম পরিবর্তন করে যিহোয়াকীম রাখলেন; আর নখো তাঁর ভাই যোয়াহসকে ধরে মিসরে নিয়ে গেলেন।
5
যিহোয়াকীম পঁচিশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে একাদশ বছর কাল রাজত্ব করেন; তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন।
6 তাঁরই বিরুদ্ধে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার এসে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবার জন্য তাঁকে ব্রোঞ্জের শিকল দিয়ে বাঁধলেন।
7 বখতে-নাসার মাবুদের গৃহের পাত্রগুলোও ব্যাবিলনে নিয়ে গিয়ে ব্যাবিলনে তাঁর মন্দিরে রাখলেন।
8 যিহোয়াকীমের অবশিষ্ট কাজের বৃত্তান্ত, তাঁর করা ঘৃণার সমস্ত কাজ ও তাঁর মধ্যে যা পাওয়া গিয়েছিল, দেখ, সেই সকল ইসরাইল ও এহুদার বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা আছে। পরে তাঁর পুত্র যিহোয়াখীন তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
9
যিহোয়াখীন আট বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে তিন মাস দশ দিন রাজত্ব করেন; মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন।
10 পরে বছর ফিরে আসলে বখতে-নাসার বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে তাঁকে ও মাবুদের গৃহস্থিত সকল মনোরম পাত্র ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন এবং এহুদা ও জেরুশালেমে তাঁর ভাই সিদিকিয়কে বাদশাহ্ করলেন।
11
সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন এবং জেরুশালেমে একাদশ বছর রাজত্ব করেন।
12 তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ, তা-ই তিনি করতেন, মাবুদের মুখের কালাম-প্রকাশক ইয়ারমিয়া নবীর সম্মুখে নিজেকে অবনত করলেন না।
13 আর যে বখতে-নাসার বাদশাহ্ তাঁকে আল্লাহ্র নামে কসম করিয়েছিলেন, তিনি তাঁর বিদ্রোহী হলেন এবং তাঁর ঘাড় শক্ত ও অন্তর কঠিন করে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফিরতে অস্বীকার করলেন।
14 আর প্রধান ইমামেরা সকলে ও লোকেরা জাতিদের সমস্ত ঘৃণার কাজ অনুসারে বহুল বিশ্বাস ভঙ্গ করলো এবং মাবুদ জেরুশালেমে তাঁর যে গৃহ পবিত্র করেছিলেন, তা নাপাক করলো।
15
আর তাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর দূতদেরকে তাদের কাছে পাঠাতেন, খুব ভোরে উঠে পাঠাতেন, কেননা তিনি তাঁর লোকদের ও তাঁর বাসস্থানের প্রতি মমতা করতেন।
16 কিন্তু তারা আল্লাহ্র দূতদেরকে পরিহাস করতো, তাঁর কালাম তুচ্ছ করতো ও তাঁর নবীদেরকে বিদ্রূপ করতো; তার দরুন শেষে তাঁর লোকদের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ জেগে উঠলো, অবশেষে আর প্রতিকারের উপায় রইলো না।
17
অতএব তিনি কল্দীয়দের বাদশাহ্কে তাদের বিরুদ্ধে আনলেন, আর বাদশাহ্ যুবকদেরকে তাদের পবিত্র স্থানে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করলেন, আর যুবক কি যুবতী, বৃদ্ধ কি জরাগ্রস্ত, কারো প্রতি রহম করলেন না; আল্লাহ্ তাঁর হাতে সকলকে তুলে দিলেন।
18 তিনি আল্লাহ্র গৃহের ছোট বড় সমস্ত পাত্র, মাবুদের গৃহের সমস্ত ধনকোষ এবং বাদশাহ্র ও তাঁর কর্মকর্তাদের ধনকোষ, সমস্তই ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন।
19 আর তাঁর লোকেরা আল্লাহ্র গৃহ পুড়িয়ে দিল, জেরুশালেমের প্রাচীর ধ্বংস করলো এবং সেখানকার সমস্ত অট্টালিকা আগুন দ্বারা পুড়িয়ে দিল, সেখানকার সমস্ত মনোরম পাত্র বিনষ্ট করলো।
20 আর তিনি তলোয়ার থেকে রক্ষা পাওয়া অবশিষ্ট লোকদেরকে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন; তাতে পারস্য-রাজ্য স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত লোকেরা তাঁর ও তাঁর সন্তানদের গোলাম থাকলো।
21 ইয়ারমিয়া দ্বারা কথিত মাবুদের কালাম সফল করবার জন্য যে পর্যন্ত দেশ তার সমস্ত বিশ্রামকাল ভোগ না করলো, সে পর্যন্ত এরকম হল; সত্তর বছর পূর্ণ করার জন্য নিজের উচ্ছিন্ন দশার সমস্ত কাল দেশ বিশ্রাম ভোগ করলো।
22
পরে পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের প্রথম বছরে ইয়ারমিয়া দ্বারা কথিত মাবুদের কালামের পূর্ণতার জন্য মাবুদ পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের মনে প্রবৃত্তি দিলেন, তাই তিনি তাঁর রাজ্যের সর্বত্র ঘোষণা এবং লেখা বিজ্ঞাপন দ্বারা এই হুকুম প্রচার করলেন,
23 পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাস এই কথা বলেন, বেহেশতের আল্লাহ্ মাবুদ দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য আমাকে দান করেছেন, আর তিনি এহুদা দেশস্থ জেরুশালেমে তাঁর জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করার ভার আমাকে দিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে, তাঁর সমস্ত লোকের মধ্যে, যে কেউ হোক, তার আল্লাহ্ মাবুদ তার সহবর্তী হোন, সে সেখানে যাক।
1
পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের প্রথম বছরে ইয়ারমিয়া দ্বারা কথিত মাবুদের কালাম পূর্ণ হবার জন্য মাবুদ পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের মনে প্রবৃত্তি দিলেন, তাই তিনি তাঁর রাজ্যের সর্বত্র ঘোষণা এবং লিখিত বিজ্ঞাপন দ্বারা এই হুকুম প্রচার করলেন, পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাস এই কথা বলেন,
2 বেহেশতের আল্লাহ্ মাবুদ দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য আমাকে দান করেছেন, আর তিনি এহুদা দেশস্থ জেরুশালেমে তাঁর জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করার ভার আমাকে দিয়েছেন।
3 তোমাদের মধ্যে, তাঁর সমস্ত লোকের মধ্যে, যে কেউ হোক, তার আল্লাহ্ তার সহবর্তী হোন; সে এহুদা দেশস্থ জেরুশালেমে যাক, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের জেরুশালেমের গৃহ নির্মাণ করুক; তিনিই আল্লাহ্।
4 আর যে কোন স্থানে, যে কেউ অবশিষ্ট আছে, প্রবাস করছে, সেই স্থানের লোকেরা আল্লাহ্র জেরুশালেমের গৃহের জন্য স্বেচ্ছা-দত্ত নৈবেদ্য ছাড়া রূপা, সোনা, নানা দ্রব্য ও পশু দিয়ে তার সাহায্য করুক।
5
তখন এহুদা ও বিন্ইয়ামীনের পিতৃকুলপতিরা এবং ইমাম ও লেবীয়েরা, এমন কি, আল্লাহ্র যে লোকদের মনে মাবুদের জেরুশালেমের গৃহ পুনর্নির্মাণের জন্য যাত্রা করতে প্রবৃত্তি দিলেন তারা সকলে উঠলো।
6 আর তাদের চতুর্দিকস্থ সমস্ত লোক স্বেচ্ছা-দত্ত সকল নৈবেদ্য ছাড়াও রূপার পাত্র, সোনা, নানা দ্রব্য এবং পশু ও বহুমূল্য দ্রব্য তাদেরকে দিয়ে তাদের হাত সবল করলো।
7 আর বখতে-নাসার মাবুদের গৃহের যেসব পাত্র জেরুশালেম থেকে এনে তাঁর দেবালয়ে রেখেছিলেন, কাইরাস বাদশাহ্ সেসব বের করে দিলেন।
8 পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাস সেসব কোষাধ্যক্ষ মিত্রদাতের হাত দ্বারা বের করে আনালেন, আর এহুদার নেতা শেশ্বসরের কাছে গণনা করে তা দিলেন।
9 সেসব দ্রব্যের সংখ্যা; সোনার ত্রিশখানি থালা, রূপার এক হাজার থালা, ঊনত্রিশখানি ছুরি,
10 ত্রিশটি সোনার পানপাত্র, চারশো দশটি রূপার দ্বিতীয় প্রকার পানপাত্র এবং এক হাজার অন্যান্য পাত্র;
11 সর্বসুদ্ধ পাঁচ হাজার চারশো সোনার ও রূপার পাত্র। বন্দীদেরকে ব্যাবিলন থেকে জেরুশালেমে উঠিয়ে আনবার সময়ে শেশ্বসর এসব দ্রব্য আনলেন।
1
যারা বন্দীরূপে নীত হয়েছিল, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার যাদেরকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রদেশের এসব লোক বন্দীদশা থেকে যাত্রা করে জেরুশালেম ও এহুদাতে নিজের নিজের নগরে ফিরে এল;
2 এরা সরুব্বাবিল, যেশূয়, নহিমিয়া, সরায়, রিয়েলায়, মর্দখয়, বিলশন, মিস্পর, বিগ্বয়, রহূম ও বানা, এঁদের সঙ্গে ফিরে এল। সেই ইসরাইল লোকদের পুরুষ-সংখ্যা হল:
3 পরোশের সন্তান দুই হাজার এক শত বাহাত্তর জন।
4 শফটিয়ের সন্তান তিন শত বাহাত্তর জন।
5 আরহের সন্তান সাত শত পঁচাত্তর জন।
6 যেশূয় ও যোয়াবের সন্তানদের মধ্যে পহৎ-মোয়াবের সন্তান দুই হাজার আটশো বারো জন।
7 এলমের সন্তান এক হাজার দুই শত চুয়ান্ন জন।
8 সত্তূর সন্তান নয়শো পঁয়তাল্লিশ জন।
9 সক্কয়ের সন্তান সাত শত ষাট জন।
10 বানির সন্তান ছয় শত বেয়াল্লিশ জন।
11 বেবয়ের সন্তান ছয় শত তেইশ জন।
12 অস্গদের সন্তান এক হাজার দুই শত বাইশ জন।
13 অদোনীকামের সন্তান ছয় শত ছেষট্টি জন।
14 বিগ্বয়ের সন্তান দুই হাজার ছাপ্পান্ন জন।
15 আদীনের সন্তান চারশো চুয়ান্ন জন।
16 যিহিস্কিয়ের বংশজাত আটেরের সন্তান আটানব্বই জন।
17 বেৎসয়ের সন্তান তিন শত তেইশ জন।
18 যোরাহের সন্তান এক শত বারো জন।
19 হশুমের সন্তান দুই শত তেইশ জন।
20 গিব্বরের সন্তান পঁচানব্বই জন।
21 বেথেলহেমের সন্তান এক শত তেইশ জন।
22 নটোফার লোক ছাপ্পান্ন জন।
23 অনাথোতের লোক এক শত আটাশ জন।
24 অস্মাবতের সন্তান বিয়াল্লিশ জন।
25 কিরিয়ৎ-আরীম, কফীরা ও বেরোতের সন্তান সাত শত তেতাল্লিশ জন।
26 রামার ও গেরার সন্তান ছয় শত একুশ জন।
27 মিক্মসের লোক এক শত বাইশ জন।
28 বেথেলের ও অয়ের লোক দুই শত তেইশ জন।
29 নবোর সন্তান বাহান্ন জন।
30 মগ্বীশের সন্তান এক শত ছাপ্পান্ন জন।
31 অন্য এলমের সন্তান এক হাজার দুই শত চুয়ান্ন জন।
32 হারীমের সন্তান তিন শত বিশ জন।
33 লোদ, হাদীদ ও ওনোর সন্তান সাত শত পঁচিশ জন।
34 যিরিহোর সন্তান তিন শত পঁয়তাল্লিশ জন।
35 সনায়ার সন্তান তিন হাজার ছয় শত ত্রিশ জন।
36
ইমামেরা; যেশূয় কুলের মধ্যে যিদয়িয়ের সন্তান নয়শো তিয়াত্তর জন।
37 ইম্মেরের সন্তান এক হাজার বাহান্ন জন।
38 পশ্হূরের সন্তান এক হাজার দুই শত সাতচল্লিশ জন।
39 হারীমের সন্তান এক হাজার সতের জন।
40
লেবীয়বর্গ; হোদবিয়ের সন্তানদের মধ্যে যেশূয় ও কদ্মীয়েলের সন্তান চুয়াত্তর জন।
41 গায়কবর্গ; আসফের সন্তান এক শত আটাশ জন।
42 দ্বারপালদের সন্তানবর্গ; শল্লুমের সন্তান, আটেরের সন্তান, টলমোনের সন্তান, অক্কুরের সন্তান, হটীটার সন্তান, শোবয়ের সন্তান সর্বসুদ্ধ এক শত ঊনচল্লিশ জন।
43
নথীনীয়বর্গ; সীহের সন্তান, হসূফার সন্তান,
44 টব্বায়োতের সন্তান, কেরোসের সন্তান, সীয়ের সন্তান, পাদোনের সন্তান,
45 লবানার সন্তান, হগাবের সন্তান, অক্কূবের সন্তান,
46 হাগবের সন্তান, শম্লয়ের সন্তান,
47 হাননের সন্তান, গিদ্দেলের সন্তান, গহরের সন্তান,
48 রায়ার সন্তান, রৎসীনের সন্তান,
49 নকোদের সন্তান, গসমের সন্তান, উষের সন্তান, পাসেহের সন্তান, বেষয়ের সন্তান,
50 অস্নার সন্তান, মিয়ূনীমের সন্তান, নফূষীমের সন্তান;
51 বক্বুকের সন্তান, হকূফার সন্তান,
52 হর্হূরের সন্তান, বসলূতের সন্তান,
53 মহীদার সন্তান, হর্শার সন্তান, বর্কোসের সন্তান,
54 সীষরার সন্তান, তেমহের সন্তান, নৎসীহের সন্তান, হটীফার সন্তানেরা।
55
সোলায়মানের গোলামদের সন্তানবর্গ; সোটয়ের সন্তান, হস্সোফেরতের সন্তান, পরূদার সন্তান;
56 যালার সন্তান, দর্কোনের সন্তান,
57 গিদ্দেলের সন্তান, শফটিয়ের সন্তান, হটীলের সন্তান, পোখেরৎ-হৎসবায়ীমের সন্তান, আমীর সন্তানেরা।
58
নথীনীয়েরা ও সোলায়মানের গোলামদের সন্তানবর্গ সর্বসুদ্ধ তিন শত বিরানব্বই জন।
59
আর তেল্-মেলহ, তৈল হর্শা, কারুবী, অদ্দন ও ইম্মের, এসব স্থান থেকে নিম্নলিখিত সমস্ত লোক এল, কিন্তু তারা ইসরায়েল কি না, এই বিষয়ে নিজের নিজের পিতৃকুল কি বংশের প্রমাণ দিতে পারল না;
60 দলায়ের সন্তান, টোবিয়ের সন্তান, নকোদের সন্তান ছয় শত বাহান্ন জন।
61 আর ইমাম-সন্তানদের মধ্যে হবায়ের সন্তান, হক্কোসের সন্তান ও বর্সিল্লয়ের সন্তানেরা; এই বর্সিল্লয় গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের এক জন কন্যাকে বিয়ে করে তাদের নামে আখ্যাত হয়েছিল।
62 খান্দাননামায় গণনা-করা লোকদের মধ্যে এরা নিজের নিজের খানন্দাননামা খোঁজ করে পেল না, এজন্য তারা নাপাক বলে ইমামদের পদ থেকে বাদ পড়লো।
63 আর শাসনকর্তা তাদেরকে বললেন, যে পর্যন্ত ঊরীম ও তুম্মীমের অধিকারী এক জন ইমাম উৎপন্ন না হবে, সেই পর্যন্ত তোমরা অতি পবিত্র বস্তু ভোজন করো না।
64
একত্রীকৃত সমস্ত সমাজ বিয়াল্লিশ হাজার তিন শত ষাট জন ছিল।
65 তা ছাড়া তাদের সাত হাজার তিন শত সাঁইত্রিশ জন গোলাম-বাঁদী ছিল, আর তাদের দুই শত জন গায়ক ও গায়িকা ছিল।
66 তাদের সাত শত ছত্রিশটি ঘোড়া, দুই শত পঁয়তাল্লিশটি খচ্চর,
67 চারশো পঁয়ত্রিশটি উট ও ছয় হাজার সাত শত বিশটি গাধা ছিল।
68
পরে পিতৃকুলপতিদের মধ্যে কয়েক জন লোক মাবুদের জেরুশালেমের গৃহের স্থানে আসলে আল্লাহ্র সেই গৃহ স্বস্থানে স্থাপনের জন্য ইচ্ছাপূর্বক দান করলো।
69 তারা যার যার সামর্থ্য অনুসারে ঐ কর্মের ভাণ্ডারে একষট্টি হাজার অদর্কোন সোনা ও পাঁচ হাজার মানি রূপা ও ইমামদের জন্য এক শত কোর্তা দিল।
70
পরে ইমাম, লেবীয় ও অন্য কোন কোন লোক এবং গায়ক, দ্বারপাল ও নথীনীয়েরা নিজের নিজের নগরে এবং সমস্ত ইসরাইল যার যার নগরে বাস করতে লাগল।
1
পরে সপ্তম মাস উপস্থিত হল, আর বনি-ইসরাইল ঐ সমস্ত নগরে ছিল; তখন লোকেরা একটি মানুষের মত জেরুশালেমে একত্র হল।
2 আর যোষাদকের পুত্র যেশূয় ও তাঁর ইমাম ভাইয়েরা এবং শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল ও তাঁর ভাইয়েরা উঠে আল্লাহ্র লোক মূসার শরীয়তে লেখা বিধি অনুসারে পোড়ানো-কোরবানী করার জন্য ইসরাইলের আল্লাহ্র কোরবানগাহ্ তৈরি করলেন।
3 তাঁরা কোরবানগাহ্ সঠিক স্থানে স্থাপন করলেন, যদিও তাঁরা দেশে বাসকারী চারপাশের লোকদের ভয় করেছিলেন; এবং মাবুদের উদ্দেশে তার উপরে পোড়ানো-কোরবানী অর্থাৎ ভোরে ও সন্ধ্যাবেলা পোড়ানো-কোরবানী করতে লাগলেন।
4 আর তাঁরা লিখিত বিধি অনুসারে কুটির-ঈদ পালন করলেন এবং প্রত্যেক দিনের উপযুক্ত সংখ্যা অনুসারে বিধিমতে প্রতিদিন পোড়ানো-কোরবানী দিলেন।
5 এই ছাড়াও তাঁরা প্রত্যেক দিন পোড়ানো-কোরবানী, অমাবস্যার এবং মাবুদের পবিত্রীকৃত সমস্ত ঈদের উপহার এবং যারা ইচ্ছাপূর্বক মাবুদের উদ্দেশে স্বেচ্ছাদত্ত উপহার আনত, তাদের প্রত্যেক জনের উপহার কোরবানী করতে লাগলেন।
6 সপ্তম মাসের প্রথম দিনে তাঁরা মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী করতে আরম্ভ করলেন, কিন্তু সেই সময় মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের ভিত্তিমূল স্থাপিত হয় নি।
7 আর পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাস তাঁদেরকে যে অনুমতি দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে তাঁরা রাজমিস্ত্রি ও ছুতার মিস্ত্রিদেরকে টাকা দিলেন এবং লেবানন থেকে যাফোর সমুদ্র-তীরে এরস কাঠ আনবার জন্য সীদোনীয় ও টায়ারীয়দেরকে খাদ্য, পানীয় দ্রব্য ও তেল দিলেন।
8
আর জেরুশালেমে আল্লাহ্র গৃহের স্থানে আসার পর দ্বিতীয় বছরের দ্বিতীয় মাসে শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল ও যোষাদকের পুত্র যেশূয় এবং তাঁদের অবশিষ্ট ভাইয়েরা অর্থাৎ ইমাম ও লেবীয়েরা এবং বন্দীদশা থেকে জেরুশালেমে আগত সমস্ত লোক কাজ করতে আরম্ভ করলেন এবং মাবুদের গৃহের কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য বিশ বছর ও তার চেয়েও বেশি বয়স্ক লেবীয়দেরকে নিযুক্ত করলেন।
9 তখন যেশূয়, তাঁর পুত্ররা ও ভাইয়েরা, এহুদার সন্তান কদ্মীয়েল ও তাঁর পুত্ররা আল্লাহ্র গৃহে কর্মকারীদের কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য একত্র হয়ে দাঁড়ালেন; লেবীয় হেনাদদের সন্তানেরা ও তাদের পুত্র ও ভাইয়েরা তদ্রূপ করলো।
10
আর রাজমিস্ত্রিরা যখন মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের ভিত্তিমূল স্থাপন করলো, তখন ইসরাইলের বাদশাহ্ দাউদের নির্দেশ অনুসারে মাবুদের প্রশংসা করার জন্য নিজ নিজ পোশাক পরে ইমামেরা তূরী ও আসফের সন্তান লেবীয়েরা করতাল নিয়ে দণ্ডায়মান হল।
11 তারা মাবুদের প্রশংসা ও প্রশংসা-গজল করে পালানুসারে এই গান করলো; “তিনি মঙ্গলময়, ইসরাইলের প্রতি তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকাল স্থায়ী”। আর মাবুদের গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপন সময়ে মাবুদের প্রশংসা করতে করতে সমস্ত লোক উচ্চঃস্বরে জয়ধ্বনি করলো।
12 কিন্তু ইমাম, লেবীয় ও পিতৃকুলপতিদের মধ্যে অনেক লোক অর্থাৎ যে বৃদ্ধ লোকেরা পূর্বের গৃহ দেখেছিলেন, তাঁদের চোখের সামনে যখন এই গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপিত হল, তাঁরা চিৎকার করে কাঁদলেন, আবার অনেকে আনন্দে উচ্চৈঃস্বরে জয়ধ্বনি করলো।
13 তখন লোকেরা এত আনন্দিত হয়েছিল যে, কোন্টি জয়ধ্বনির আওয়াজ ও কোন্টি জনতার কান্নাকাটির আওয়াজ তা বুঝতে পারল না, যেহেতু লোকেরা চিৎকার করে এমনভাবে জয়ধ্বনি করছিল যে, তার আওয়াজ দূর থেকে শোনা গেল।
1
পরে এহুদা ও বিন্ইয়ামীনের বিপক্ষ লোকেরা শুনতে পেল যে, বন্দীদশা থেকে আগত লোকেরা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে এবাদতখানা নির্মাণ করছে;
2 তখন তারা সরুব্বাবিল ও পিতৃ-কুলপতিদের কাছে এসে তাঁদেরকে বললো, তোমাদের সঙ্গে আমরাও নির্মাণ করি, কেননা তোমাদের মত আমরাও তোমাদের আল্লাহ্র এবাদত করি; আর যে আসেরিয়ার বাদশাহ্ এসর-হদ্দোন আমাদেরকে এই স্থানে এনেছিলেন, তাঁর সময় থেকে আমরা আল্লাহ্রই উদ্দেশে কোরবানী করে আসছি।
3 কিন্তু সরুব্বাবিল, যেশূয় ও ইসরাইলের অন্য সকল পিতৃকুলপতি তাদেরকে বললেন, আমাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে গৃহ নির্মাণ করার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক নেই; কিন্তু কাইরাস বাদশাহ্, পারস্যের বাদশাহ্, আমাদেরকে যা হুকুম করেছেন, সেই অনুসারে কেবল আমরাই ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে নির্মাণ করবো।
4
তখন দেশের লোকেরা এহুদার লোকদের হাত দুর্বল করা ও নির্মাণ ব্যাপারে তাদেরকে ভয় দেখাতে লাগল;
5 এবং তাদের অভিপ্রায় ব্যর্থ করার জন্য পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের সমস্ত জীবনকাল ধরে ও পারস্যের বাদশাহ্ দারিয়ুসের রাজত্বপ্রাপ্তি পর্যন্ত টাকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণাকারী নিযুক্ত করতো।
6
অহশ্বেরশের রাজত্বকালে, তাঁর রাজত্বের আরম্ভকালে, লোকেরা এহুদা ও জেরুশালেম-নিবাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ-পত্র লিখল।
7
আর আর্টা-জারেক্সের সময়ে বিশ্লাম, মিত্রদাৎ, টাবেল ও তার অন্য সঙ্গীরা পারস্যের বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের কাছে একটি পত্র লিখল, তা অরামীয় অক্ষরে লিপিবদ্ধ ও অরামীয় ভাষায় লেখা হয়েছিল।
8 রহূম মন্ত্রী ও শিম্শয় লেখক জেরুশালেমের বিরুদ্ধে বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের কাছে এই মর্মে পত্র লিখল;
9 “রহূম মন্ত্রী ও শিম্শয় লেখক ও তাদের সঙ্গী অন্য সকলে, অর্থাৎ দীনীয়, অফর্সৎখীয় টর্পলিয়, অফর্সীয়, অর্কবীয়, ব্যাবিলনীয়, শূশন্খীয়, দেহ্বীয়,
10 ও ইলামীয় লোকেরা এবং মহামহিম সম্ভ্রান্ত অস্নপ্পর কর্তৃক আনা ও সামেরিয়ার নগরে এবং ফোরাত নদীর পারে অবস্থিত অন্য সমস্ত দেশে স্থাপিত অন্য সমস্ত জাতি, ইত্যাদি।”
11 তারা বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের কাছে সেই যে পত্র পাঠালেন, তার অনুলিপি এই; “ফোরাত নদীর পারের আপনার গোলামেরা, ইত্যাদি।
12
বাদশাহ্র কাছে নিবেদন এই— ইহুদীরা আপনার কাছ থেকে আমাদের এখানে জেরুশালেমে এসেছে; তারা সেই বিদ্রোহী মন্দ নগর নির্মাণ করছে; প্রাচীর সমাপ্ত করেছে, ভিত্তিমূল মেরামত করেছে।
13 অতএব বাদশাহ্র কাছে নিবেদন এই যে:, যদি এই নগর নির্মিত ও প্রাচীর স্থাপিত হয়, তবে ঐ লোকেরা কর, রাজস্ব ও মাশুল আর দেবে না, এতে পরিণামে রাজ-সরকারের ক্ষতি হবে।
14 আমরা রাজপ্রাসাদের লবণ খেয়ে থাকি, অতএব বাদশাহ্র অপমান দেখা আমাদের উচিত নয়, এজন্য লোক পাঠিয়ে বাদশাহ্কে জানালাম।
15 আপনার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস-পুস্তক অনুসন্ধান করা হোক; সেই ইতিহাস-পুস্তকে দেখে জানতে পারবেন, এই নগর বিদ্রোহী নগর এবং বাদশাহ্দের ও প্রদেশগুলোর পক্ষে অনিষ্টকর, আর এই নগরে প্রাচীনকাল থেকে বিদ্রোহ হয়ে আসছিল, সেজন্যই এই নগর বিনষ্ট হয়।
16 আমরা বাদশাহ্কে জানালাম, যদি এই নগর নির্মিত ও এর প্রাচীর স্থাপিত হয়, তবে নদীর এপারে আপনার তখন আর কোন অধিকার থাকবে না।”
17
বাদশাহ্ রহূম মন্ত্রী, শিম্শয় লেখক ও সামেরিয়া-নিবাসী তাদের অন্য সঙ্গীদের এবং নদীর পরের অন্য লোকদেরকে উত্তর লিখলেন,“মঙ্গল হোক, ইত্যাদি।
18 তোমরা আমাদের কাছে যে পত্র পাঠিয়েছ, তা আমার সম্মুখে স্পষ্টভাবে পাঠ করা হয়েছে।
19 আমার হুকুমে অনুসন্ধান হল ও জানা গেল, প্রাচীনকাল থেকে সেই নগর রাজদ্রোহ করে আসছিল এবং সেই স্থানে বিদ্রোহ ও রাজদ্রোহ হত।
20 আর জেরুশালেমে পরাক্রমশালী রাজারাও ছিলেন, তাঁরা নদীর পারের সকলের উপরে রাজত্ব করতেন এবং তাঁদেরকে কর, রাজস্ব ও মাশুল দেওয়া হত।
21 সেই লোকদেরকে নিবৃত্ত থাকতে এবং যতদিন আমার কাছ থেকে কোন হুকুম প্রচারিত না হয়, তত দিন ঐ নগরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে হুকুম দাও।
22 সাবধান, এই কাজে তোমরা শিথিল হয়ো না; রাজ-সরকারের ক্ষতিজনক অপচয় কেন হবে?”
23
পরে রহূমের শিম্শয় লেখকের ও তাদের সঙ্গী লোকদের কাছে বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের পত্র পাঠ হবামাত্র তারা শীঘ্র জেরুশালেমে ইহুদীদের কাছে গিয়ে শক্তি ও বলপ্রয়োগে তাদেরকে ঐ কাজ থেকে নিবৃত্ত করলো।
24 তখন জেরুশালেমের আল্লাহ্র গৃহের কাজ বন্ধ হয়ে গেল; পারস্যের বাদশাহ্ দারিয়ুসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ স্থগিত থাকলো।
1
পরে হগয় নবী ও ইদ্দোর পুত্র জাকারিয়া, এই দু’জন নবী এহুদা ও জেরুশালেমের ইহুদীদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী তবলিগ করতে লাগলেন; ইসরাইলের আল্লাহ্র নামে তাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী তবলিগ করতে লাগলেন।
2 তখন শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল ও যোষাদকের পুত্র যেশূয় জেরুশালেমে আল্লাহ্র গৃহ নির্মাণ করতে আরম্ভ করলেন, আর আল্লাহ্র নবীরা তাঁদের সঙ্গে থেকে তাঁদেরকে সাহায্য করতেন।
3
সেই সময়ে নদী-পারের শাসনকর্তা তত্তনয়, শথরবোষণয় এবং তাঁদের সঙ্গীরা তাঁদের কাছে এসে বললেন, এই গৃহ নির্মাণ ও প্রাচীর স্থাপন করতে তোমাদেরকে কে হুকুম দিয়েছে?
4 তখন তারা আরও প্রশ্ন করলো, সেই গাঁথুনিকারী লোকদের নাম কি?
5 কিন্তু ইহুদীদের প্রাচীনদের প্রতি তাঁদের আল্লাহ্র দৃষ্টি ছিল, আর যতদিন দারিয়ুসের কাছে নিবেদন উপস্থিত করা না হল এবং সেই কর্মের বিষয়ে পুনরায় পত্র না আসল ততদিন ওঁরা তাঁদেরকে নিবৃত্ত করলেন না।
6
নদী-পারস্থ শাসনকর্তা তত্তনয়, শথরবোষণয় এবং নদী-পারস্থ তাঁদের সঙ্গী অফর্সখীয়েরা বাদশাহ্ দারিয়ুসের কাছে যে পত্র পাঠালেন, তার অনুলিপি এই।
7 তাঁরা যে পত্র পাঠালেন তাতে এসব কথা লেখা ছিল, “মহারাজ দারিয়ুসের সকলই মঙ্গল হোক।
8 বাদশাহ্র কাছে আমাদের নিবেদন, আমরা এহুদা প্রদেশে মহান আল্লাহ্র গৃহে গিয়েছিলাম, তা প্রকাণ্ড প্রস্তর দ্বারা নির্মিত এবং তার দেয়ালে কাঠ বসানো হচ্ছে; আর এই কাজ সযত্নে চলছে ও তাদের হাতে তা সুসম্পন্ন হচ্ছে।
9 আমরা সেই প্রাচীনদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদেরকে এই কথা বললাম, এই গৃহ নির্মাণ ও প্রাচীর স্থাপন করতে তোমাদেরকে কে হুকুম দিয়েছে?
10 আর আমরা আপনাকে জানবার জন্য তাদের প্রধান লোকদের নাম লিখে নেবার জন্য তাদের নামও জিজ্ঞাসা করলাম।
11 তারা আমাদেরকে এই জবাব দিল, যিনি বেহেশতের ও দুনিয়ার আল্লাহ্, আমরা তাঁরই গোলাম; আর এই যে গৃহ নির্মাণ করছি, তা বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল, ইসরাইলের এক জন মহান বাদশাহ্ তা নির্মাণ ও সমাপ্ত করেছিলেন।
12 পরে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বেহেশতের আল্লাহ্কে অসন্তুষ্ট করাতে, তিনি তাদেরকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ কল্দীয় বখতে-নাসারের হাতে তুলে দেন; তিনি এই গৃহ ধ্বংস করেন এবং লোকদেরকে ব্যাবিলনে নিয়ে যান।
13 কিন্তু ব্যাবিলনের বাদশাহ্ কাইরাসের প্রথম বছরে কাইরাস বাদশাহ্ আল্লাহ্র এই গৃহ নির্মাণ করতে হুকুম করলেন।
14 আর বখতে-নাসার আল্লাহ্র গৃহের যেসব সোনার ও রূপার পাত্র জেরুশালেমের এবাদতখানা থেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাবিলনের মন্দিরে রেখেছিলেন, সেসব পাত্র কাইরাস বাদশাহ্ ব্যাবিলনস্থ এবাদতখানা থেকে বের করে তাঁর নিযুক্ত শেশ্বসর নামক শাসনকর্তার হাতে তুলে দিলেন,
15 এবং তাঁকে বললেন, তুমি এসব পাত্র জেরুশালেমের বায়তুল মোকাদ্দসে নিয়ে গিয়ে সেখানে রাখ এবং আল্লাহ্র গৃহ স্বস্থানে নির্মিত হোক।
16 সেই সময় সেই শেশ্বসর এসে জেরুশালেমেস্থ আল্লাহ্র গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপন করলেন; সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এর গাঁথুনি হচ্ছে, তবুও এর নির্মাণ শেষ হয় নি।
17 অতএব এখন যদি বাদশাহ্ ভাল মনে করেন, তবে কাইরাস বাদশাহ্ জেরুশালেমের আল্লাহ্র গৃহ নির্মাণ করার হুকুম দিয়েছিলেন কি না, তা বাদশাহ্র ঐ ব্যাবিলনে অবস্থিত ধনাগারে অনুসন্ধান করা হোক; পরে বাদশাহ্ এই বিষয়ে আমাদের কাছে তার ইচ্ছা বলে পাঠাবেন।”
1
তখন বাদশাহ্ দারিয়ুস্ হুকুম করলে ব্যাবিলনে অবস্থিত ধনাগারের পুস্তকালয়ে অনুসন্ধান করা হল।
2 পরে মাদীয় প্রদেশের অক্মথা নামক রাজপুরীতে একখানি পুঁথি পাওয়া গেল; তার মধ্যে স্মরণার্থে এই কথা লেখা ছিল,
3 “বাদশাহ্ কাইরাসের প্রথম বছরে বাদশাহ্ কাইরাস জেরুশালেমের আল্লাহ্র গৃহের বিষয়ে এই হুকুম করলেন, সেই গৃহ উৎসর্গ-স্থান বলে নির্মিত হোক; ও তার ভিত্তিমূল দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হোক; তার উচ্চতা ষাট হাত ও চওড়ায় ষাট হাত হবে।
4 তা তিন তিন সারি প্রকাণ্ড প্রস্তরে ও এক এক সারি নতুন কড়িকাঠে র্নিমিত হোক এবং রাজকোষ থেকে তার ব্যয় দেওয়া হোক।
5 আর আল্লাহ্র গৃহের যেসব সোনার ও রূপার পাত্র বখতে-নাসার জেরুশালেমের এবাদতখানা থেকে নিয়ে ব্যাবিলনে রেখেছিলেন, সেই সকলও ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং প্রত্যেক পাত্র জেরুশালেমের বায়তুল মোকাদ্দসে স্ব স্ব স্থানে নীত হোক, তা আল্লাহ্র গৃহে রাখতে হবে।
6
অতএব হে নদী-পারস্থ শাসনকর্তা তত্তনয়, শথর-বোষণয় ও নদীপারস্থ তোমাদের সঙ্গী অফর্সখীয়েরা, তোমরা এখন সেখান থেকে দূরে থাক।
7 আল্লাহ্র সেই গৃহের কাজ চলতে দাও; ইহুদীদের নেতা ও ইহুদীদের প্রাচীন নেতৃবর্গরা আল্লাহ্র সেই গৃহ স্বস্থানে নির্মাণ করুক।
8 আর আল্লাহ্র সেই গৃহের গাঁথনির জন্য তোমরা ইহুদীদের প্রধান ব্যক্তিবর্গের কিরূপ সাহায্য করবে; আমি সেই বিষয়ে হুকুম দিচ্ছি; তাদের যেন বাধা না হয়, এজন্য বাদশাহ্র ধন, অর্থাৎ নদী-পারস্থ রাজকর থেকে যত্নপূর্বক সেই লোকদেরকে ব্যয় অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হোক।
9 আর তাদের প্রয়োজীয় সমস্ত দ্রব্য অর্থাৎ বেহেশতের আল্লাহ্র উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য যুবা ষাঁড়, ভেড়া ও ভেড়ার বাচ্চা এবং গম, লবণ, আঙ্গুর-রস ও তৈল জেরুশালেমের ইমামদের নিরূপণ অনুসারে অবাধে প্রতিদিন তাদেরকে দেওয়া হোক,
10 যেন তারা বেহেশতের আল্লাহ্র উদ্দেশে খোশবুযুক্ত উপহার কোরবানী করে এবং বাদশাহ্ ও তাঁর পুত্রদের জীবন প্রার্থনা করে।
11 আরও আমি হুকুম করলাম, যে কেউ এই কথার অন্যথা করবে, তার গৃহ থেকে একটি কড়িকাঠ বের করে সেই কাঠে তুলে তাকে শূলে দিতে হবে এবং সেই অপরাধের জন্য তার গৃহ সারের ঢিবি করা হবে।
12 আর যে কোন বাদশাহ্ কিংবা লোক এই হুকুমের অন্যথা করে সেই জেরুশালেমের আল্লাহ্র গৃহের বিনাশ সাধনে হস্তক্ষেপ করবে, আল্লাহ্ যিনি সেই স্থানে তাঁর নাম স্থাপন করেছেন, তিনি তাকে নিপাত করবেন। আমি দারিয়ুস হুকুম করলাম তা সযত্নে সম্পন্ন হোক।
13
তখন নদী-পারস্থ শাসনকর্তা তত্তনয়, শথর-বোষণয় ও তাঁদের সঙ্গীরা যত্নপূর্বক বাদশাহ্ দারিয়ুসের প্রেরিত হুকুম যত্নের সঙ্গে পালন করলেন।
14 আর ইহুদীদের প্রাচীন নেতৃবর্গরা গাঁথুনি করে হগয় নবীর ও ইদ্দোর পুত্র জাকারিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী সহকারে কৃতকার্য হলেন এবং তাঁরা ইসরাইলের আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে ও পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের, দারিয়ুস ও আর্টা-জারেক্সের হুকুম অনুসারে গাঁথুনি করে কাজ সমাপ্ত করলেন।
15 বাদশাহ্ দারিয়ুসরে রাজত্বের ষষ্ঠ বৎসরে অদর মাসের তৃতীয় দিনে গৃহ সমাপ্ত হল।
16
পরে বনি-ইসরাইল, ইমামেরা, লেবীয়েরা ও বন্দীদশা থেকে আগত লোকদের অবশিষ্ট লোকেরা আনন্দে আল্লাহ্র সেই গৃহের প্রতিষ্ঠা করলো।
17 আর আল্লাহ্র সেই গৃহের প্রতিষ্ঠার সময়ে এক শত ষাঁড়, দুই শত ভেড়া, চার শত ভেড়ার বাচ্চা এবং সমস্ত ইসরাইলের জন্য গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে ইসরাইলের বংশ-সংখ্যানুসারে বারোটি ছাগল কোরবানী করলো।
18 আর জেরুশালেমে আল্লাহ্র সেবাকর্মের জন্য ইমামদেরকে তাদের বিভাগ অনুসারে ও লেবীয়দেরকে তাদের পালা অনুসারে নিযুক্ত করা হল— যেমন মূসার কিতাবে লেখা আছে।
19
পরে প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে বন্দীদশা থেকে আগত লোকেরা ঈদুল ফেসাখ পালন করলো।
20 কেননা ইমাম ও লেবীয়েরা নিজদেরকে একসঙ্গে পাক-পবিত্র করেছিল; তারা সকলেই পাক-পবিত্র হয়েছিল এবং বন্দীদশা থেকে আগত সমস্ত লোকের জন্য, তাদের ইমাম ভাই ও নিজেদের জন্য ঈদুল ফেসাখের সমস্ত কোরবানী করলো।
21 আর বন্দীদশা থেকে আগত বনি-ইসরাইল এবং যত লোক ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের খোঁজ করার জন্য তাদের পক্ষ হয়ে দেশ-নিবাসী জাতিদের নাপাকীতা থেকে নিজদেরকে পৃথক করেছিল,
22 তারা সকলে তা ভোজন করলো এবং সাত দিন পর্যন্ত আনন্দে খামিহীন রুটির উৎসব পালন করলো, যেহেতু মাবুদ তাদেরকে আনন্দিত করেছিলেন, আর আল্লাহ্র, ইসরাইলের আল্লাহ্র, গৃহের কার্যে তাদের হাত শক্তিশালী করার জন্য আসেরিয়ার বাদশাহ্র অন্তর তাদের পক্ষে ফিরিয়েছিলেন।
1
সেসব ঘটনার পরে পারস্যের বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের রাজত্বকালে সরায়ের পুত্র উযায়ের ব্যাবিলন থেকে যাত্রা করলেন।
2 উক্ত সরায় অসরিয়ের সন্তান, অসরিয় হিল্কিয়ের সন্তান, হিল্কিয় শল্লুমের সন্তান, শল্লুম সাদোকের সন্তান, সাদোক অহীটূবের সন্তান,
3 অহীটূব অমরিয়ের সন্তান, অমরিয় অসরিয়ের সন্তান, অসরিয় মরায়োতের সন্তান,
4 মরায়োৎ সরহিয়ের সন্তান, সরহিয় উষির সন্তান, উষি বুক্কির সন্তান,
5 বুক্কি অবীশূয়ের সন্তান, অবীশূয় পীনহসের সন্তান, পীনহস ইলিয়াসরের সন্তান, ইলিয়াসর প্রধান ইমাম হারুনের সন্তান।
6 উযায়ের মূসার শরীয়তে, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের দেওয়া ব্যবস্থায়, পণ্ডিত অধ্যাপক ছিলেন এবং তাঁর উপরে তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের হাত থাকায় বাদশাহ্ তাঁর সমস্ত বাঞ্ছিত বিষয় তাঁকে দিলেন।
7
বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের সপ্তম বৎসরে বনি-ইসরাইলদের, ইমামদের ও লেবীয়দের, গায়কদের, দ্বারপালদের ও নথীনীয়দের কয়েকজন লোক জেরুশালেমে যাত্রা করলো।
8 আর বাদশাহ্র ঐ সপ্তম বছরের পঞ্চম মাসে উযায়ের জেরুশালেমে উপস্থিত হলেন।
9 প্রথম মাসের প্রথম দিনে তিনি ব্যাবিলন থেকে যাত্রা আরম্ভ করেছিলেন এবং তাঁর উপরে আল্লাহ্র মঙ্গলময় হাত থাকায় তিনি পঞ্চম মাসের প্রথম দিনে জেরুশালেমে উপস্থিত হলেন।
10 কেননা মাবুদের ব্যবস্থা অনুশীলন ও পালন করতে এবং ইসরাইলে বিধি ও অনুশাসন শিক্ষা দিতে উযায়ের তাঁর অন্তঃকরণ সুস্থির করেছিলেন।
11
বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের যে পত্র উযায়ের ইমামকে— সেই অধ্যাপককে, যিনি মাবুদের আদেশ-কালামের ও ইসরাইলের প্রতি তাঁর বিধির অধ্যাপক ছিলেন— তাঁকে দিয়েছিলেন,
12 তার অনুলিপি এই, “রাজাধিরাজ আর্টা-জারেক্সের কাছ থেকে উযায়ের ইমাম সমীপে, যিনি বেহেশতের আল্লাহ্র শরীয়তের অধ্যাপক, সিদ্ধ, ইত্যাদি।
13 আমি এই হুকুম করছি, আমার রাজ্যের মধ্যে ইসরাইল জাতির যত লোক, তাদের যত ইমাম ও লেবীয় জেরুশালেমে যেতে ইচ্ছা করে, তারা তোমার সঙ্গে যাক।
14 কেননা তুমি বাদশাহ্ ও তাঁর সপ্ত মন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত হলে, যেন তোমার আল্লাহ্র যে শরীয়ত তোমার হাতে আছে, সেই অনুসারে তুমি এহুদার ও জেরুশালেমের তত্ত্বানুসন্ধান কর,
15 এবং জেরুশালেমে যাঁর আবাস, ইসরাইলের সেই আল্লাহ্র উদ্দেশে বাদশাহ্ ও তাঁর মন্ত্রিরা ইচ্ছাপূর্বক যে রূপা ও সোনা দিয়েছেন,
16 আর তুমি ব্যাবিলনের সমস্ত প্রদেশে যত রূপা ও সোনা পেতে পার এবং লোকেরা ও ইমামেরা তাঁদের আল্লাহ্র জেরুশালেমের গৃহের জন্য ইচ্ছাপূর্বক যা নিবেদন করে, সেসব যেন সেই স্থানে নিয়ে যাও।
17 অতএব সেই সোনা-রূপা দিয়ে তুমি ষাঁড়, ভেড়া, ভেড়ার বাচ্চা ও তাদের উপযুক্ত খাদ্য ও পানীয় নৈবেদ্য যত্নপূর্বক ক্রয় করে তোমাদের আল্লাহ্র জেরুশালেমের গৃহস্থিত কোরবানগাহ্র উপরে কোরবানী করবে।
18 আর অবশিষ্ট রূপা ও সোনা দিয়ে তোমার ও তোমার ভাইদের মনে যা ভাল বোধ হয়, তা তোমাদের আল্লাহ্র ইচ্ছানুসারে করবে।
19 আর তোমার আল্লাহ্র গৃহের সেবার জন্য যেসব পাত্র তোমাকে দেওয়া হল, তা জেরুশালেমের আল্লাহ্র সম্মুখে উপস্থিত করবে।
20 আর তা ছাড়া তোমার আল্লাহ্র গৃহের জন্য দরকারী ব্যয়ের জন্য যা প্রয়োজনীয় তা রাজ-ভাণ্ডার থেকে নিয়ে ব্যয় করবে।
21
আর আমি, বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্স, আমি নদীপারস্থ সমস্ত কোষাধ্যক্ষকে হুকুম করছি, বেহেশতের আল্লাহ্র শরীয়তের অধ্যাপক উযায়ের ইমাম তোমাদের কাছে যা যা চাইবেন, সেসব যেন সযত্নে দেওয়া হয়,
22 এক শত তালন্ত পর্যন্ত রূপা, এক শত কোর্ পর্যন্ত গম, এক শত বাৎ পর্যন্ত আঙ্গুর-রস ও এক শত বাৎ পর্যন্ত তেল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ।
23 বেহেশতের আল্লাহ্ যা হুকুম করেন, তা বেহেশতের আল্লাহ্র গৃহের জন্য গভীর আগ্রহের সঙ্গে করা হোক, বাদশাহ্র এবং তাঁর পুত্রদের রাজ্যের প্রতি কেন ক্রোধ বর্তাবে?
24 আর এই বিজ্ঞাপন তোমাদেরকে দেওয়া যাচ্ছে, ইমামদের, লেবীয়দের গায়কদের, দ্বারপালদের, নথীনীয়দের ও সেই আল্লাহ্র গৃহের কাজে নিযুক্ত অন্য লোকদের মধ্যে কারো কাছে কর কি রাজস্ব কি মাশুল গ্রহণ করা বিধিসঙ্গত হবে না।
25
আর হে উযায়ের, তোমার আল্লাহ্ বিষয়ক যে জ্ঞান তোমার মধ্যে আছে, সেই অনুসারে নদীপারস্থ সব লোকের বিচার করার জন্য, যারা তোমার আল্লাহ্র শরীয়ত জানে, এমন শাসনকর্তা ও বিচারকর্তাদেরকে নিযুক্ত কর; এবং যে লোক তা না জানে, তোমরা তাকে শিক্ষা দাও।
26 আর যে কেউ তোমার আল্লাহ্র শরীয়ত ও বাদশাহ্র ব্যবস্থা পালন করতে অসম্মত, সযত্নে তার শাসন করা হোক; তার প্রাণদণ্ড, নির্বাসন, সম্মত্তি বাজেয়াপ্ত কিংবা কারাদণ্ড হোক।”
27
আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদ ধন্য হোন; কেননা তিনিই মাবুদের জেরুশালেমের গৃহ গৌরবান্বিত করতে এই রকম প্রবৃত্তি বাদশাহ্র অন্তঃকরণে দিলেন,
28 এবং বাদশাহ্, তাঁর মন্ত্রী ও বাদশাহ্র সকল পরাক্রমী নেতার সাক্ষাতে আমাকে অটল মহব্বত দেখালেন, আর আমার উপরে আমার আল্লাহ্ মাবুদের হাত থাকায় আমি সবল হলাম এবং আমার সঙ্গে যাবার জন্য ইসরাইলের মধ্য থেকে প্রধান লোকদেরকে একত্র করলাম।
1
বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সের রাজত্বকালে তাদের পিতৃকুলপতিরা আমার সঙ্গে ব্যাবিলন থেকে প্রস্থান করলো, তাদের নাম ও খান্দাননামা এই:
2 পীনহসের সন্তানদের মধ্যে গের্শোম, ঈথামরের সন্তানদের মধ্যে দানিয়াল, দাউদের সন্তানদের মধ্যে হটূশ।
3 শখনিয়ের সন্তানদের মধ্যে; পরোশের সন্তানদের মধ্যে জাকারিয়া এবং বংশাবলিতে নির্দিষ্ট তার সঙ্গী এক শত পঞ্চাশ জন পুরুষ।
4 পহৎ-মোয়াবের সন্তানদের মধ্যে সরহিয়ের পুত্র ইলীয়ৈনয় ও তার সঙ্গী দুই শত পুরুষ।
5 শখনিয়ের সন্তানদের মধ্যে মহসীয়েলের পুত্র ও তার সঙ্গী তিন শত পুরুষ।
6 আদীনের সন্তানদের মধ্যে যোনাথনের পুত্র এবদ ও তার সঙ্গী পঞ্চাশ জন পুরুষ।
7 এলমের সন্তানদের মধ্যে অথলিয়ের পুত্র যিশায়াহ ও তার সঙ্গী সত্তর জন পুরুষ।
8 শফটিয়ের সন্তানদের মধ্যে মিকাইলের পুত্র সবদিয় ও তার সঙ্গী আশি জন পুরুষ।
9 যোয়াবের সন্তানদের মধ্যে যিহিয়েলের পুত্র ওবদিয় ও তার সঙ্গী দুই শত আঠার জন পুরুষ।
10 শলোমীতের সন্তানদের মধ্যে যোষিফিয়ের পুত্র ও তার সঙ্গী এক শত ষাট জন পুরুষ।
11 আর বেবয়ের সন্তানদের মধ্যে বেবয়ের পুত্র জাকারিয়া ও তার সঙ্গী আঠাশ জন পুরুষ।
12 অস্গদের সন্তানদের মধ্যে হকাটনের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী এক শত দশ জন পুরুষ।
13 অদোনীকামের শেষ সন্তানদের মধ্যে কয়েক জন, তাদের নাম ইলীফেলট, যিয়ূয়েল ও শমরিয় ও তাদের সঙ্গী ষাট জন পুরুষ।
14 বিগ্বয়ের সন্তানদের মধ্যে ঊথয় ও সব্বূদ ও তাদের সঙ্গী সত্তর জন পুরুষ।
15
আমি তাদেরকে অহবার দিকে প্রবাহিত নদীর কাছে একত্র করেছিলাম; সেই স্থানে আমরা শিবির স্থাপন করে তিন দিন রইলাম, আর লোকদের ও ইমামদের প্রতি নিরীক্ষণ করলে আমি সেই স্থানে লেবির সন্তানদের কাউকেও দেখতে পেলাম না।
16 তখন আমি ইলীয়েষর, অরীয়েল, শমরিয়, ইল্নাথন, যারিব, ইল্নাথন, নাথন, জাকারিয়া ও মশুল্লম এসব প্রধান লোককে এবং যোয়ারীব ও ইল্নাতন নামে দু’জন শিক্ষককে ডাকতে পাঠালাম।
17 পরে কাসিফিয়া নামক স্থানের প্রধান লোক ইদ্দোর কাছে তাদেরকে প্রেরণ করলাম; আর ‘তোমরা আমাদের আল্লাহ্র গৃহের জন্য পরিচারকদেরকে আমাদের কাছে আন,’ কাসিফিয়া স্থান প্রবাসী ইদ্দোকে ও তার ভাই নথীনীয়দেরকে এই কথা বলতে তাদেরকে হুকুম করলাম।
18 আমাদের উপরে আমাদের আল্লাহ্র মঙ্গলময় হাত থাকায় তারা আমাদের কাছে ইসরাইলের পুত্র লেবির বংশজাত মহলির সন্তানদের মধ্যে এক জন প্রাচীন, আর শেরেবিয় এবং তার পুত্র ও ভাইয়েরা আঠার জনকে,
19 আর হশবিয়কে ও তার সঙ্গে মরারির সন্তানদের মধ্যে যিশায়াহ, তার ভাইয়েরা ও পুত্ররা সহ বিশ জনকে আনলো;
20 আর দাউদ ও কর্মকর্তারা, যাদেরকে লেবীয়দের সেবা-কর্মের জন্য দিয়েছিলেন, সেই নথীনীয়দের মধ্যে দুই শত বিশ জনকেও আনলো; সেই সবের নাম লেখা হল।
21
পরে আমাদের জন্য এবং আমাদের বালক-বালিকাদের ও সমস্ত সম্পত্তির জন্য সরল পথ যাচ্ঞা করার অভিপ্রায়ে আমাদের আল্লাহ্র সাক্ষাতে নিজেদেরকে বিনত করার জন্য আমি সেই স্থানে অহবা নদীর কাছে রোজা ঘোষণা করলাম।
22 কারণ পথে দুশমনদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করবার জন্য বাদশাহ্র কাছে এক দল সৈন্য কিংবা ঘোড়সওয়ার চাইতে আমার লজ্জা বোধ হয়েছিল; বস্তুত আমরা বাদশাহ্কে এই কথা বলেছিলাম, মঙ্গলের জন্য যারা তাঁর খোঁজ করে তাদের সকলের সাথে আছে, কিন্তু যারা তাঁকে ত্যাগ করে, তাঁর পরাক্রম ও তাঁর গজব সেই সবের বিরুদ্ধে নেমে আসে।
23 অতএব আমরা রোজা করলাম ও আমাদের আল্লাহ্র কাছে সেই বিষয়ের জন্য মুনাজাত করলাম; তাতে তিনি আমাদের অনুরোধ গ্রাহ্য করলেন।
24
পরে আমি ইমামদের মধ্যে বারো জন প্রধানকে, অর্থাৎ শেরেবিয়, হশবিয় ও তাদের সঙ্গে তাদের দশ জন ভাইকে পৃথক করলাম;
25 আর বাদশাহ্, তাঁর মন্ত্রিরা, নেতৃবর্গ ও উপস্থিত সমস্ত ইসরাইল আমাদের আল্লাহ্র গৃহের জন্য উপহার হিসেবে যে রূপা, সোনা ও পাত্র দিয়েছিলেন ওদেরকে তা ওজন করে দিলাম;
26 আমি ছয় শত পঞ্চাশ তালন্ত রূপা, এক শত তালন্ত পরিমিত রূপার পাত্র,
27 এক শত তালন্ত সোনা, এক হাজার অদকোন মূল্যের বিশটি সোনার পাত্র এবং সোনার মত বহুমূল্য উত্তম পরিষ্কৃত ব্রোঞ্জের দু’টি পাত্র ওজন করে তাদের হাতে দিলাম।
28 আর তাদেরকে বললাম, তোমরা মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র এবং এই পাত্র সকলও পবিত্র এবং এই রূপা ও সোনা তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে স্বেচ্ছা-দত্ত নৈবেদ্য।
29 অতএব তোমরা জেরুশালেমে মাবুদের গৃহের কুঠরীতে প্রধান ইমাম, লেবীয় ও ইসরাইলের পিতৃকুলপতিদের কাছে যে পর্যন্ত তা ওজন করে না দেবে সেই পর্যন্ত সতর্ক থেকে রক্ষা করবে।
30 পরে ইমাম ও লেবীয়েরা জেরুশালেমে আমাদের আল্লাহ্র গৃহে নিয়ে যাবার জন্য সেই ওজন করা রূপা, সোনা ও পাত্র গ্রহণ করলো।
31
পরে প্রথম মাসের বারো দিনের দিন আমরা জেরুশালেমে যাবার জন্য অহবা নদী থেকে প্রস্থান করলাম, আর আমাদের উপরে আমাদের আল্লাহ্র হাত ছিল, তিনি পথিমধ্যে শত্রু ও গুপ্ত দস্যুদলের হাত থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করলেন।
32 পরে আমরা জেরুশালেমে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানে তিন দিন অবস্থিতি করলাম।
33 পরে চতুর্থ দিনে সেই রূপা, সোনা ও সমস্ত পাত্র আমাদের আল্লাহ্র গৃহে ঊরীয়ের পুত্র মরেমোৎ ইমামের হাতে ওজন করে দেওয়া গেল, আর তার সঙ্গে পীনহসের পুত্র ইলিয়াসর এবং তাদের সঙ্গে যেশূয়ের পুত্র যোষাবদ ও বিন্নূয়ির পুত্র নোয়দিয়, এই দু’জন লেবীয় ছিল।
34 সমস্ত দ্রব্য গণনা ও ওজন করে দেওয়া হল এবং সেই সময়ে সমস্ত ওজনের পরিমাণ লেখা হল।
35
নির্বাসিত যে লোকেরা বন্দীদশা থেকে ফিরে এসেছিল, তারা ইসরাইলের আল্লাহ্র উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী করলো; তারা সারা ইসরাইলের জন্য বারোটি ষাঁড়, ছিয়ানব্বইটি ভেড়া, সাতাত্তরটি ভেড়ার বাচ্চা ও গুনাহ্-কোরবানীর জন্য বারোটি ছাগল, এসব মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে দেওয়া হল।
36 পরে রাজ প্রতিনিধি প্রদেশপালদের কাছে ও নদী-পারস্থ শাসনকর্তাদের কাছে বাদশাহ্র হুকুম-পত্র পৌঁছে দেওয়া হল, আর তারা লোকদের এবং আল্লাহ্র গৃহের জন্য সাহায্য করলেন।
1
সেই কাজের সমাপ্তির পর কর্মকর্তারা আমার কাছে এসে বললেন, ইসরাইল লোকেরা, ইমামেরা ও লেবীয়েরা নানা দেশ-নিবাসী জাতিদের থেকে নিজদেরকে পৃথক করে নি; কেনানীয়, হিট্টিয়, পরিষীয়, যিবূষীয় অম্মোনীয়, মোয়াবীয়, মিসরীয় ও আমোরীয় লোকদের মত জঘন্য কাজ করছে।
2 বস্তুত তারা নিজেদের জন্য ও নিজের নিজের পুত্রদের জন্য তাদের কন্যাদের গ্রহণ করেছে; এভাবে পবিত্র বংশ নানা দেশ-নিবাসী জাতিদের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে; এবং কর্মকর্তারা ও শাসনকর্তারাই প্রথমে এই বিশ্বাস ভঙ্গে প্রবৃত্ত হয়েছেন।
3 এই কথা শুনে আমি আমার কাপড় ও পরিচ্ছদ ছিঁড়ে এবং আমার মাথার চুল ও দাড়ি ছিঁড়ে স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম।
4 তখন বন্দীদশা থেকে আগত লোকদের বিশ্বাস ভঙ্গ বিষয়ে যারা ইসরাইলের আল্লাহ্র কালামের ভয়ে কাঁপতে লাগল, তারা আমার কাছে একত্র হল এবং আমি সন্ধ্যাকালীন কোরবানীর সময় পর্যন্ত স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম।
5
পরে সন্ধ্যাকালীন কোরবানীর সময়ে আমি মনোদুঃখ থেকে উঠলাম এবং ছেঁড়া কাপড় ও পরিচ্ছদ না খুলে হাঁটু পেতে আমার আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে দু’হাত তুললাম;
6 আর বললাম হে আমার আল্লাহ্, আমি তোমার দিকে মুখ তুলতে লজ্জিত ও বিষণ্ন হচ্ছি, কেননা হে আমার আল্লাহ্, আমাদের অপরাধ আমাদের মাথার উপরে উঠেছে ও আমাদের দোষ বৃদ্ধি পেয়ে আসমান ছুঁয়েছে।
7
আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমরা মহাদোষে দোষী; আমাদের অপরাধের জন্য আমাদের, আমাদের বাদশাহ্দের ও আমাদের ইমামদেরকে নানা দেশীয় বাদশাহ্দের হাতে, তলোয়ারে, বন্দীদশায়, লুণ্ঠনে ও চরম অপমানের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে, যা আজও দেখা যাচ্ছে।
8 আর এখন আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ক্ষণকালের জন্য আমাদের কৃপালাভ হল যেন তিনি কতকগুলো অবশিষ্ট লোককে রক্ষা করেন, তাঁর পবিত্র স্থানে আমাদেরকে একটু আশ্রয় দেন, আমাদের আল্লাহ্ যেন আমাদের চোখ আলোতে পূর্ণ করেন ও গোলামীত্বের অবস্থায় একটু শান্তি দেন।
9 কারণ আমরা গোলাম, তবুও আমাদের আল্লাহ্ আমাদের গোলামীত্বের আমাদেরকে ত্যাগ করেন নি, কিন্তু আমাদের প্রাণের শান্তির জন্য, আমাদের আল্লাহ্র গৃহ স্থাপন ও তার ভাঙ্গা স্থান মেরামত করার এবং এহুদায় ও জেরুশালেমে আমাদেরকে একটি প্রাচীর দেবার জন্য তিনি পারস্য-বাদশাহ্দের দৃষ্টিতে আমাদের প্রতি অটল মহব্বত প্রকাশ করলেন।
10
এখন, হে আমাদের আল্লাহ্, এর পরে আমরা কি বলবো? কেননা আমরা তোমার সমস্ত হুকুম ত্যাগ করেছি,
11 যা তুমি তোমার গোলাম নবীদের দ্বারা দিয়েছিলে ও বলেছিলে, তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছে, তা দেশবাসী লোকদের নাপাকীতার দরুন নাপাক হয়েছে; তাদের ঘৃণার সমস্ত কাজের জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তাদের অপবিত্রতায় পরিপূর্ণ হয়েছে।
12 অতএব তোমরা তাদের পুত্রদের সঙ্গে তোমাদের কন্যাদের বিয়ে দিও না ও তোমাদের পুত্রদের জন্য তাদের কন্যাদেরকে গ্রহণ করো না এবং তাদের শান্তি ও মঙ্গল কখনও চেষ্টা করো না; যেন তোমরা বলবান হও, যেন দেশের উত্তম দ্রব্য ভোগ করতে ও চিরকালের জন্য নিজের সন্তানদের জন্য অধিকারস্বরূপ তা রেখে যেতে পার।
13 কিন্তু আমাদের সকল দুষ্কর্ম ও মহাদোষের দরুন আমাদের প্রতি এ সব ঘটেছে; তবুও, হে আমাদের আল্লাহ্, তুমি আমাদের অপরাধের দণ্ড লঘু করেছ, এছাড়া, আমাদের কতগুলো লোককে রক্ষা পেতে দিয়েছ;
14 এই সকলের পরেও আমরা কি পুনর্বার তোমার হুকুম লঙ্ঘন করে ঘৃণার কাজে লিপ্ত এই জাতিদের সঙ্গে আত্মীয়তা করবো? করলে তুমি কি আমাদের প্রতি এমন ক্রোধ করবে না যে, আমরা বিলুপ্ত হব, আর আমাদের মধ্যে অবশিষ্ট বা রক্ষাপ্রাপ্ত কেউ থাকবে না?
15 হে মাবুদ ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি ধর্মময়, কেননা আমরা রক্ষিত হয়ে আজ পর্যন্ত কয়েক জন লোক অবশিষ্ট রয়েছি; দেখ, আমরা তোমার গণনায় দোষী, তাই তোমার সাক্ষাতে আমাদের কেউই দাঁড়াতে পারে না।
1
আল্লাহ্র গৃহের সম্মুখে উযায়েরের এই রকম মুনাজাত, গুনাহ্ স্বীকার, কান্নাকাটি ও সেজ্দা করার সময় ইসরাইল থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা অনেক বড় সমাজ তাঁর কাছে একত্র হয়েছিল, বস্তুত লোকেরাও ভীষণভাবে কাঁদছিল।
2 তখন ইলাম-সন্তানদের মধ্যে যিহীয়েলের পুত্র শখনিয় উযায়েরকে জবাবে বললো, আমরা আমাদের আল্লাহ্র বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি ও দেশ-নিবাসী লোকদের মধ্য থেকে বিজাতীয় কন্যাদেরকে বিয়ে করেছি; তবুও এই বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষে এখনও প্রত্যাশা আছে।
3 অতএব আসুন, আমার প্রভুর মন্ত্রণানুসারে ও যারা আমাদের আল্লাহ্র হুকুমকে ভয় করে তাদের মন্ত্রণানুসারে সেসব স্ত্রী ও তাদের গর্ভজাত সন্তানদেরকে ত্যাগ করতে আমরা এখন আমাদের আল্লাহ্র সঙ্গে নিয়ম করি; আর তা শরীয়ত অনুসারে করা যাক।
4 আপনি উঠুন, কেননা এই কাজের ভার আপনারই উপরে রয়েছে এবং আমরাও আপনার সঙ্গে আছি, আপনি সাহসপূর্বক কাজ করুন।
5 তখন উযায়ের উঠে ঐ কথা অনুসারে কাজ করতে ইমাম, লেবীয় ও সমস্ত ইসরাইলের প্রধান লোকদেরকে শপথ করালেন, তাতে তারা শপথ করলো।
6
পরে উযায়ের আল্লাহ্র গৃহের সম্মুখ থেকে উঠে ইলিয়াশীবের পুত্র যিহোহাননের কক্ষে প্রবেশ করলেন, কিন্তু সেখানে যাবার আগে কিছু রুটি ভোজন বা পানি পান করেন নি, কেননা বন্দীদশা থেকে আগত লোকদের বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তিনি শোকগ্রস্ত হয়েছিলেন।
7 পরে এহুদা ও জেরুশালেমের সর্বত্র বন্দীদশা থেকে আগত লোকদের কাছে ঘোষণা করা হল যে, তারা যেন জেরুশালেমে একত্র হয়,
8 আর যে কেউ নেতা ও প্রাচীনদের নির্দেশ অনুসারে তিন দিনের মধ্যে না আসবে, তার সর্বস্ব বাজেয়াপ্ত হবে ও বন্দীদশা থেকে আগত লোকদের সমাজ থেকে তাকে পৃথক করা যাবে।
9
পরে এহুদা ও বিন্ইয়ামীনের সমস্ত পুরুষ তিন দিনের মধ্যে জেরুশালেমে একত্র হল; সেদিন নবম মাসের বিশতম দিন।
10 আর সকলে আল্লাহ্র গৃহের সম্মুখস্থ প্রাঙ্গণে বসে সেই বিষয়ের জন্য ও ভারী বৃষ্টির দরুন কাঁপছিল। পরে উযায়ের ইমাম উঠে তাদেরকে বললেন, তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছ, বিজাতীয় কন্যাদেরকে বিয়ে করে ইসরাইলের দোষ বৃদ্ধি করেছ।
11 অতএব এখন তোমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে দোষ স্বীকার কর ও তাঁর তুষ্টিকর কাজ কর এবং দেশ-নিবাসী লোকদের ও বিজাতীয় স্ত্রীদের থেকে নিজেদেরকে পৃথক কর।
12 তখন সমস্ত সমাজ উচ্চঃস্বরে জবাবে বললো, হ্যাঁ, আপনি যেমন বললেন, আমাদেরকে তেমনি করতেই হবে।
13 কিন্তু লোক অনেক এবং ভারী বর্ষার সময়, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে আমাদের শক্তি নেই; এবং এই এক দিনের কিংবা দুই দিনের কাজ নয়, যেহেতু আমরা এই বিষয়ে মহা অপরাধ করেছি।
14 অতএব সমস্ত সমাজের পক্ষে আমাদের কর্মকর্তা নিযুক্ত হোন এবং আমাদের নগরে নগরে যারা বিজাতীয় কন্যাদেরকে বিয়ে করেছে, তারা এবং তাদের সঙ্গে প্রত্যেক নগরের প্রাচীন নেতৃবর্গরা ও বিচারকর্তারা যার যার নিরূপিত সময়ে আসুক; তাতে এই বিষয়ে আমাদের আল্লাহ্র প্রচণ্ড ক্রোধ আমাদের থেকে নিবৃত্ত হবে।
15 এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কেবল অসাহেলের পুত্র যোনাথন ও তিক্বের পুত্র যহসিয় উঠলো এবং মশুল্লম ও লেবীয় শব্বথয় তাদের সাহায্য করলো।
16
আর বন্দীদশা থেকে আগত লোকেরা ঐ রূপ করলো। আর উযায়ের ইমাম এবং নিজের নিজের পিতৃকুল অনুসারে ও প্রত্যেকের নাম অনুসারে নির্দিষ্ট কয়েক জন কুলপতি নিযুক্ত হয়ে দশম মাসের প্রথম দিনে সেই বিষয়ের অনুসন্ধান করতে বসলেন।
17 প্রথম মাসের প্রথম দিনে তাঁরা বিজাতীয় কন্যা-গ্রহণকারী পুরুষদের বিচার সাঙ্গ করলেন।
18
ইমাম-সন্তানদের মধ্যে বিজাতীয় কন্যাগ্রহণকারী এসব লোক ছিল; যিহোষাদকের পুত্র যে যেশূয়, তাঁর সন্তানদের ও ভাইদের মধ্যে মাসেয়, ইলীয়েষর, যারিব ও গদলিয়।
19 এরা নিজের নিজের স্ত্রী ত্যাগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিল এবং দোষী হওয়াতে তাদের দোষের জন্য পালের এক একটি ভেড়া কোরবানী করলো।
20 আর ইম্মেরের সন্তানদের মধ্যে হনানি ও সবদিয়।
21 হারীমের সন্তানদের মধ্যে মাসেয়, ইলিয়াস, শমরিয়, যিহীয়েল ও উষিয়।
22 পশহূরের সন্তানদের মধ্যে ইলিয়ৈনয়, মাসেয় ইসমাইল, নথনেল, যোষাবদ ও ইলিয়াসা।
23
আর লেবীয়দের মধ্যে যোষাবদ, শিমিয়ি, কলায়— অর্থাৎ কলীট— পথাহিয়, এহুদা ও ইলিয়েষর।
24 আর গায়কদের মধ্যে ইলীয়াশীব; দ্বারপালদের মধ্যে শল্লুম, টেলম ও ঊরি।
25
আর ইসরাইলের মধ্যে, পরিয়োশের সন্তানদের মধ্যে রমিয়, যিষিয়, মল্কিয়, মিয়ামীন, ইলিয়াসর, মল্কিয় ও বনায়।
26 এলমের সন্তানদের মধ্যে মত্তনিয়, জাকারিয়া, যিহীয়েল, অব্দি, যিরেমোৎ ও ইলিয়াস।
27 সত্তূর সন্তানদের মধ্যে ইলিয়ৈনয়, ইলিয়াশীব, মত্তনিয়, যিরেমোৎ, সাবদ ও অসীসা।
28 বেবয়ের সন্তানদের মধ্যে যিহোহানন, হনানিয়, সব্বয়, অৎলয়।
29 বানির সন্তানদের মধ্যে মশুল্লম, মল্লূক ও অদায়া, যাশূব, শাল ও যিরমোৎ।
30 পহৎ-মোয়াবের সন্তানদের মধ্যে অদ্ন, কলাল, বনায়, মাসেয়, মত্তনিয়, বৎসলেল, বিন্নূয়ী ও মানশা।
31 হারীমের সন্তানদের মধ্যে ইলিয়েষর, যিশিয়, মল্কিয়, শময়িয়,
32 শিমিয়োন, বিন্ইয়ামীন, মূল্লূক, শমরিয়।
33 হশূমের সন্তানদের মধ্যে মত্তনয়, মত্তত্ত, সাবদ, ইলীফেলট, যিরেময়, মানশা, শিমিয়ি।
34 বানির সন্তানদের মধ্যে মাদয়, অম্রাম ও ঊয়েল,
35 বনায়, বেদিয়া, কলূহূ,
36 বনিয়, মরেমোৎ, ইলিয়াশীব,
37 মত্তনিয়, মত্তনয়, যাসয়,
38 বালি, বিন্নূয়ী,
39 শিমিয়ি, শেলিমিয়, নাথন, অদায়া,
40 মক্লদ্বয়, শাশয়, শারয়,
41 অসরেল, শেলিমিয়, শমরিয়,
42 শল্লূম, অমরিয়, ইউসুফ।
43 নবোর সন্তানদের মধ্যে যিয়ীয়েল, মত্তিথিয়, সাবদ, সবীনঃ, যাদয় ও যোয়েল, বনায়।
44 এরা সবাই বিজাতীয়া স্ত্রী গ্রহণ করেছিল এবং কারো কারো স্ত্রীর গর্ভে সন্তান হয়েছিল।
1
বিশতম বছরে কিশ্লেব মাসে আমি শূশন রাজধানীতে ছিলাম।
2 তখন হনানি নামে আমার ভাইদের এক জন এবং এহুদা থেকে কয়েকজন লোক আসলে আমি তাদেরকে যারা বন্দীদশা থেকে ফিরে ইহুদীদের ও জেরুশালেমের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম।
3 তখন তারা আমাকে বললো, সেই অবশিষ্ট লোকেরা অর্থাৎ যারা বন্দী দশা থেকে অবশিষ্ট থেকে সেই প্রদেশে ফিরে এসেছে, তারা অতিশয় দুরবস্থা ও গ্লানির মধ্যে রয়েছে এবং জেরুশালেমের প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে ও তার সমস্ত দ্বার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
4
এই কথা শুনে আমি কিছুদিন বসে কান্নাকাটি ও শোক করলাম এবং বেহেশতের আল্লাহ্র সাক্ষাতে রোজা ও মুনাজাত করলাম।
5 আমি বললাম, আরজ করি, হে মাবুদ বেহেশতের আল্লাহ্, তুমি মহান ও ভয়ঙ্কর আল্লাহ্; যারা তোমাকে মহব্বত করে ও তোমার সমস্ত হুকুম পালন করে, তাদের পক্ষে তুমি নিয়ম ও রহম পালন করে থাক।
6 এখন তোমার গোলামের মুনাজাত শুনবার জন্য তোমার কান ও চোখ খোলা থাকুক। সম্প্রতি আমি তোমার গোলাম ও বনি-ইসরাইলদের জন্য দিনরাত তোমার কাছে মুনাজাত করছি এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত গুনাহ্ স্বীকার করছি; বাস্তবিক আমরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি; আমি ও আমার পিতৃকুলও গুনাহ্ করেছি।
7 আমরা তোমার বিরুদ্ধে অতিশয় দুষ্কর্ম করেছি; তুমি তোমার গোলাম মূসাকে যেসব হুকুম, বিধি ও অনুশাসন হুকুম করেছিলে, তা আমরা পালন করি নি।
8 আরজ করি, তুমি তোমার গোলাম মূসাকে যে হুকুম দিয়েছ সেই কথা স্মরণ কর, যথা, “তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করলে আমি তোমাদেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করবো।
9 কিন্তু যদি তোমরা আমার কাছে ফিরে এসো এবং আমার হুকুম পালন ও সেই অনুসারে কাজ কর, তবে তোমাদের কেউ কেউ আসমানের প্রান্তভাগে দূরীকৃত হলেও আমি সেখান থেকে তাদেরকে সংগ্রহ করবো এবং আমার নাম স্থাপনের জন্য যে স্থান মনোনীত করেছি, সেই স্থানে তাদেরকে আনবো।
10 “এরা তোমার গোলাম ও তোমার লোক, যাদেরকে তুমি তোমার মহাপরাক্রমে ও শক্তিশালী হাতে মুক্ত করেছ।
11 হে মালিক, আরজ করি, তোমার এই গোলামের মুনাজাতে এবং যারা তোমার নামে ভয় করতে সন্তুষ্ট, তোমার সেই গোলামের মুনাজাতে তোমার কান খোলা থাকুক; আর আরজ করি, আজ তোমার এই গোলামকে কৃতকার্য কর ও এই ব্যক্তির সাক্ষাতে করুণাপ্রাপ্ত কর— তখন আমি বাদশাহ্র পানপাত্র-বাহক ছিলাম।
1
বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সেসের অধিকারের বিশতম বছরের নীষন মাসে বাদশাহ্র সম্মুখে আঙ্গুর-রস থাকাতে আমি সেই আঙ্গুর-রস নিয়ে বাদশাহ্কে দিলাম। এর আগে আমি তাঁর সাক্ষাতে কখনও বিষণ্ন হই নি।
2 বাদশাহ্ আমাকে বললেন, তোমার তো অসুখ হয় নি, তবে মুখ কেন বিষণ্ন হয়েছে? এ তো মনের দুঃখ ছাড়া আর কিছু নয়। তখন আমি ভীষণ ভয় পেলাম।
3 আর আমি বাদশাহ্কে বললাম বাদশাহ্ চিরজীবী হোন; আমার মুখ কেন বিষণ্ন হবে না? যে নগর আমার পূর্বপুরুষদের কবরস্থান, তা বিধ্বস্ত ও তার সমস্ত দ্বার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
4 তখন বাদশাহ্ আমাকে বললেন, তুমি কি ভিক্ষা চাও? তাতে আমি বেহেশতের আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করলাম।
5 আর বাদশাহ্কে বললাম, যদি মহারাজের তুষ্টি হয় এবং আপনার গোলাম যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকে, তবে আপনি আমাকে এহুদায়, আমার পূর্বপুরুষদের কবরের নগরে, বিদায় করুন, যেন আমি তা নির্মাণ করতে পারি।
6 তখন বাদশাহ্র পাশে তাঁর রাণী উপবিষ্টা ছিলেন— আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার যাত্রা কতদিনের জন্য হবে? আর কবে ফিরে আসবে? এভাবে বাদশাহ্ সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে বিদায় করলেন, আর আমি তার কাছে সময় নির্ধারণ করলাম।
7 আর আমি বাদশাহ্কে বললাম যদি বাদশাহ্র তুষ্টি হয়, তবে নদী-পারস্থ দেশাধ্যক্ষেরা যেন এহুদায় আমার না পৌঁছা পর্যন্ত আমার যাত্রার সাহায্য করেন, এজন্য তাঁদের নামে আমাকে পত্র দিতে হুকুম দিন।
8 আর বায়তুল-মোকাদ্দসের পাশে অবস্থিত দুর্গ দ্বার ও নগর প্রাচীরের ও আমার নিজের থাকবার বাড়ির কড়িকাঠের জন্য বাদশাহ্র বনরক্ষক আসফ যেন আমাকে কাঠ দেন, এজন্য তাঁর নামেও একখানি পত্র দিতেও হুকুম দিন। তাতে আমার উপরে আমার আল্লাহ্র মঙ্গলময় হাত থাকায় বাদশাহ্ আমাকে সেসব দিলেন।
9
পরে আমি নদী পারস্থ শাসনকর্তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে বাদশাহ্র পত্র তাদেরকে দিলাম। বাদশাহ্ সেনাপতিদের ও ঘোড়-সওয়ারদেরকে আমার সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন।
10 আর হোরোনীরা সন্বল্লট ও অম্মোনীয় কর্মকর্তা টোবিয় যখন সংবাদ পেল যে, বনি-ইসরাইলদের মঙ্গল করবার জন্য এক জন লোক এসেছে, এই কথা বুঝতে পেরে তারা অতিশয় অসন্তুষ্ট হল।
11
আর আমি জেরুশালেমে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানে তিন দিন রইলাম।
12 পরে আমি ও আমার সঙ্গী কয়েকজন পুরুষ, আমরা রাতে উঠলাম; কিন্তু জেরুশালেমের জন্য যা করতে আল্লাহ্ আমার মনে প্রবৃত্তি দিয়েছিলেন, তা কাউকেও বলি নি; এবং আমি যে পশুর উপরে আরোহণ করেছিলাম, সেটি ছাড়া আর কোন পশু আমার সঙ্গে ছিল না।
13 আমি রাতে উপত্যকার দ্বার দিয়ে বের হয়ে নাগ-কূপ ও সার-দ্বার পর্যন্ত গেলাম এবং জেরুশালেমের ভাঙ্গা প্রাচীর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া সমস্ত দ্বার পরিদর্শন করলাম।
14 আর ফোয়ারা-দ্বার ও বাদশাহ্র পুষ্করিণী পর্যন্ত গেলাম, কিন্তু সেই স্থানে আমার বাহন পশুর যাবার স্থান ছিল না।
15 তখন আমি সেই রাতে স্রোতের ধার দিয়ে উপরে উঠে প্রাচীর দেখলাম, আর ফিরে উপত্যকা-দ্বার দিয়ে প্রবেশ করলাম, পরে ফিরে এলাম।
16 কিন্তু আমি কোন্ স্থানে গেলাম, কি করলাম, তা কর্মকর্তারা জানতে পারল না এবং সেই সময় পর্যন্ত আমি ইহুদীদের কি ইমামদের কিংবা প্রধান লোকদের অথবা কর্মকর্তাদেরকে বা অন্য কর্মচারীদের কাউকেও তা বলি নি।
17
পরে আমি তাদেরকে বললাম আমরা কেমন দুরবস্থায় আছি, তা তোমরা দেখছ; জেরুশালেম বিধ্বস্ত ও তার সমস্ত দ্বার আগুনে পোড়ানো রয়েছে; এসো, আমরা জেরুশালেমের প্রাচীর নির্মাণ করি, যেন আর গ্লানির পাত্র না থাকি।
18 পরে আমার উপরে প্রসারিত আল্লাহ্র মঙ্গলময় হাতের কথা এবং আমার প্রতি কথিত বাদশাহ্র কালাম তাদেরকে জানালাম। তাতে তারা বললো, চল, আমরা গিয়ে নির্মাণ করি। এভাবে তারা সেই সাধু কাজের জন্য নিজ নিজ হাত সবল করলো।
19
কিন্তু হোরোনীয় সন্্বল্লট, অম্মোনীয় কর্মকর্তা টোবীয় ও আরবীয় গেশম্ এই কথা শুনে আমাদেরকে বিদ্রূপ ও অবজ্ঞা করে বললো, তোমরা এই কি কাজ করতে উদ্যত হলে? তোমরা কি রাজদ্রোহ করবে?
20 তখন আমি উত্তরে তাদের বললাম যিনি বেহেশতের আল্লাহ্, তিনিই আমাদেরকে কৃতকার্য করবেন; অতএব তাঁর গোলাম আমরা উঠে নির্মাণ করি; কিন্তু জেরুশালেমে তোমাদের কোন অংশ বা অধিকার বা স্মৃতিচিহ্ন নেই।
1
পরে ইলীয়াশীব মহা-ইমাম ও তাঁর ভাই ইমামেরা উঠে মেষ-দ্বার গাঁথলেন; তাঁরা তা পবিত্র করলেন ও তার কবাট স্থাপন করলেন; আর হম্মেয়া উচ্চগৃহ থেকে হননেলের উচ্চগৃহ পর্যন্ত তা পবিত্র করলেন।
2 তাঁর কাছে জেরিকোর লোকেরা গাঁথল, আর তার কাছে ইম্রির পুত্র সক্কুর গাঁথল।
3
হস্সনায়ার সন্তানেরা মৎস্য-দ্বার গাঁথল; তারা তার কড়িকাঠ তুললো এবং তার কবাট স্থাপন করলো, আর খিল ও অর্গল দিল।
4 তাদের কাছে হক্কোসের পৌত্র ঊরিয়ের পুত্র মরেমোৎ মেরামত করলো। তাদের কাছে মশেষবেলর পৌত্র বেরিখিয়ে পুত্র মশুল্লম মেরামত করলো। তাদের কাছে বানার পুত্র সাদোক মেরামত করলো।
5 তাদের কাছে তক্কোয়ীয়েরা মেরামত করলো, কিন্তু তাদের প্রধানবর্গরা তাদের প্রভুর কাজ করতে অস্বীকার করলো।
6
আর পাসেহের পুত্র যিহোয়াদা ও বসোদিয়ার পুত্র মশুল্লম পুরানো দ্বার মেরামত করলো; তারা তার কড়িকাঠ তুললো; এবং তার কবাট স্থাপন করলো, আর খিল ও অর্গল দিল।
7 তাদের কাছে গিবিয়োনীয় মলাটীয় ও মেরোনোথীয় যাদোন এবং গিবিয়োন ও মিস্পার লোকেরা মেরামত করলো, এই স্থানগুলো নদী-পারস্থ দেশাধ্যক্ষের সিংহাসনের অধীনে।
8 তাদের কাছে স্বর্ণকারদের মধ্যে হর্হয়ের পুত্র উষীয়েল মেরামত করলো। আর তার কাছে হনানীয় নামে এক জন গন্ধবণিক মেরামত করলো, তারা প্রশস্ত প্রাচীর পর্যন্ত জেরুশালেম দৃঢ় করলো।
9 তাদের কাছে জেরুশালেম প্রদেশের অর্ধভাগের নেতা হূরের পুত্র— রফায় মেরামত করলো।
10 তাদের কাছে হরূমফের পুত্র যিদায় তার বাড়ির সম্মুখে মেরামত করলো। তার কাছে হশব্নিয়ের পুত্র হটুশ মেরামত করলো।
11 হারীমের পুত্র মল্কিয় ও পহৎ-মোয়াবের পুত্র হশূব অন্য এক ভাগ ও তুন্দুরের উচ্চগৃহ মেরামত করলো।
12 তার কাছে জেরুশালেম প্রদেশের অর্ধভাগের নেতা হলোহেশের পুত্র শল্লুম ও তার কন্যারা মেরামত করলো।
13
হানূন এবং সাহোন-নিবাসীরা উপত্যকা-দ্বার মেরামত করলো; তারা তা গাঁথল এবং তার কবাট স্থাপন করলো, আর খিল ও অর্গল দিল; এবং সার-দ্বার পর্যন্ত প্রাচীরের এক হাজার হাত মেরামত করলো।
14
আর বৈৎহক্কেরম প্রদেশের নেতা রেখবের পুত্র মল্কিয় সার-দ্বার মেরামত করলো; সে তা গাঁথল এবং তার কবাট স্থাপন করলো, আর খিল ও অর্গল দিল।
15
আর মিসপা প্রদেশের নেতা— কল্হোষির পুত্র শল্লুম ফোয়ারা-দ্বার মেরামত করলো; সে তা গাঁথল, তার আচ্ছাদন প্রস্তুত করলো এবং তার কবাট স্থাপন করলো, আর খিল ও অর্গল দিল এবং যে সিড়ি দিয়ে দাউদ-নগর থেকে নেমে আসে, সেই পর্যন্ত বাদশাহ্র বাগানের সম্মুখস্থ শীলোহ পুষ্করিণীর প্রাচীর মেরামৎ করলো।
16 তার কাছে বৈৎসূর প্রদেশের অর্ধভাগের নেতা— অস্বূকের পুত্র— নহিমিয়া দাউদের কবরের সম্মুখ পর্যন্ত, খনিত পুষ্করিণী ও বীরদের বাড়ি পর্যন্ত মেরামত করলো।
17 তার কাছে লেবীয়েরা, বিশেষত বানির পুত্র রহূম মেরামত করলো। তার কাছে কিয়ীলা প্রদেশের অর্ধভাগের নেতা হসবীয় তার ভাগ মেরামত করলো।
18 তারপর তাদের ভাইয়েরা অর্থাৎ কিয়ীলা প্রদেশের অর্ধভাগের নেতা— হেনাদদের পুত্র— ববয় মেরামত করলো।
19 তার কাছে মিস্পার নেতা— যেশূরের পুত্র— এসর প্রাচীরের বাঁকে অবস্থিত অস্ত্রাগারে উঠবার পথের সম্মুখে আর এক ভাগ মেরামত করলো।
20 তারপর সব্বয়ের পুত্র বারূক যত্ন করে বাঁক থেকে মহা-ইমাম ইলীয়াশীবের গৃহ-দ্বার পর্যন্ত আর এক ভাগ মেরামত করলো।
21 তারপর হক্কোসের সন্তান ঊরিয়ের পুত্র মরেমোৎ ইলিয়াশীবের বাড়ির দরজা থেকে ইলীয়াশীবের বাড়ির প্রান্ত পর্যন্ত আর এক ভাগ মেরামত করলো।
22 তারপর জর্ডানের অঞ্চল-নিবাসী ইমামেরা মেরামত করলো।
23 তারপর বিন্ইয়ামীন ও হশূব নিজ নিজ বাড়ির সম্মুখে মেরামত করলো। তারপর অননিয়ের সন্তান মাসেয়ের পুত্র অসরিয় তার বাড়ির পাশে মেরামত করলো।
24 তারপর হেনাদদের পুত্র বিন্নূয়ী অসরিয়ের বাড়ি থেকে বাঁক ও কোন্ পর্যন্ত আর এক ভাগ মেরামত করলো।
25 উষয়ের পুত্র পালল বাঁকের সম্মুখে; রক্ষীদের প্রাঙ্গণের নিকটস্থ বাদশাহ্র উচ্চতর বাড়ি থেকে বহির্গত উচ্চগৃহের সম্মুখে এবং তারপর পরোশের পুত্র পদায় মেরামৎ করলো।
26 আর নথীনীয়েরা পূর্ব দিকে পানি-দ্বারের সম্মুখ পর্যন্ত ও বহির্গত উচ্চগৃহ পর্যন্ত ওফলে বাস করতো।
27 তারপর তকোয়ীয়েরা বহির্গত বিরাট উচ্চগৃহ থেকে ওফলের প্রাচীর পর্যন্ত আর এক ভাগ মেরামত করলো।
28
ইমামেরা অশ্ব-দ্বারের উপরের দিকে, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ির সম্মুখে, মেরামত করলো।
29 তারপর ইম্মেরের পুত্র সাদোক তার বাড়ির সম্মুখে মেরামত করলো এবং তারপর পূর্বদ্বার-রক্ষক— শখনিয়ের পুত্র— শমরিয় মেরামত করলো।
30 তারপর শেলিমিয়ের পুত্র হনানিয় ও সালোফের ষষ্ঠ পুত্র হানূন আর এক ভাগ মেরামত করলো; তারপর বেরিখিয়ের পুত্র মশুল্লম তার কুঠরীর সম্মুখে মেরামত করলো।
31 তারপর মল্কিয় নামে স্বর্ণকারদের এক জন নথীনীয়দের ও বণিকদের বাড়ি পর্যন্ত এবং কোণে উঠবার পথ পর্যন্ত হম্মিপ্কদ দ্বারের সম্মুখে মেরামত করলো।
32 আর কোণে উঠবার পথ ও মেষ-দ্বারের মধ্যে স্বর্ণকারেরা ও বনিকেরা মেরামত করলো।
1
সন্্বল্লট যখন শুনতে পেল যে, আমরা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ করছি, তখন সে রাগান্বিত ও ভীষণ বিরক্ত হল, আর ইহুদীদেরকে বিদ্রূপ করলো।
2 আর সে তার ভাইদের ও সামেরিয় সৈন্যদলের সাক্ষাতে বললো, এই নিস্তেজ ইহুদীরা কি করছে? এরা কি নিজদেরকে দৃঢ় করবে? এরা কি কোরবানী করবে? এক দিনে কি সমাপ্ত করবে? ধ্বংসস্তূপের ঢিবি থেকে এ সব পাথর তুলে কি সজীব করবে?
3 এসব যে পুড়ে গেছে! তখন অম্মোনীয় টোবীয় তার পাশে ছিল; সেও বললো, ওরা যা পুনর্নির্মাণ করছে, তার উপরে যদি শিয়াল উঠে, তবে তাদের সেই পাথরের প্রাচীর ভেঙে পড়বে।
4 — হে আমাদের আল্লাহ্, শোন, কেননা আমাদের তুচ্ছ করা হচ্ছে; ওদের টিটকারী ওদেরই মাথায় বর্তাও এবং ওদেরকে বন্দী হয়ে লুণ্ঠিত বস্তুর মত বিদেশে থাকতে দাও;
5 ওদের অপরাধ ঢেকে রেখো না ও ওদের গুনাহ্ তোমার সম্মুখ থেকে মুছে যেতে দিও না; কেননা ওরা গাঁথকদের সম্মুখে তোমাকে অসন্তুষ্ট করেছে।
6
— এভাবে আমরা প্রাচীর গাঁথলাম, তাতে উচ্চতার অর্ধেক পর্যন্ত সমস্ত প্রাচীর সংযোজিত হল, কারণ কাজ করতে লোকদের আগ্রহ ছিল।
7
আর সন্্্বল্লট ও টোবিয় এবং আরবীয়েরা, অম্মোনীয়েরা ও অস্দোদীয়েরা যখন শুনতে পেল, জেরুশালেমের প্রাচীরের মেরামত সম্পন্ন হচ্ছে ও তার সমস্ত ছিদ্র বন্ধ করতে আরম্ভ করা হয়েছে, তখন তারা অতিশয় ক্রুদ্ধ হল;
8 আর তারা সকলে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা ও গোলযোগ উৎপন্ন করার জন্য চক্রান্ত করলো।
9 কিন্তু তাদের ভয়ে আমরা আমাদের আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করলাম ও দিনরাত তাদের বিরুদ্ধে প্রহরিদেরকে রাখলাম।
10
আর এহুদার লোকেরা বললো, ভারবাহকেরা দুর্বল হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ অনেক আছে, প্রাচীর গাঁথা আমাদের অসাধ্য।
11 আবার আমাদের দুশমনদের বললো, ওরা জানবে না, দেখবে না, অমনি আমরা ওদের মধ্যে এসে ওদেরকে হত্যা করে কাজ বন্ধ করবো।
12 আর তাদের নিকটবাসী ইহুদীরা সর্বস্থান থেকে এসে দশবার আমাদেরকে বললো, তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরে আসতে হবে।
13 অতএব আমি প্রাচীরের পিছনের দিকে নিচস্থ অনাবৃত্ত স্থানে লোক নিযুক্ত করলাম, স্ব স্ব গোষ্ঠী অনুসারে তলোয়ার, বর্শা ও ধনুক সমেত লোক নিযুক্ত করলাম।
14 পরে আমি চেয়ে দেখলাম এবং উঠে প্রধান লোকদের, কর্মকর্তাদের ও অন্য সমস্ত লোককে বললাম তোমরা ওদেরকে ভয় পেয়ো না; মহান ও ভয়ঙ্কর প্রভুকে স্মরণ কর এবং আপন আপন ভাইদের, পুত্র ও কন্যাদের, স্ত্রীদের ও বাড়ির জন্য যুদ্ধ কর।
15
আর যখন আমাদের দুশমনেরা শুনতে পেল যে, আমরা জানতে পেরেছি, আর আল্লাহ্ তাদের মন্ত্রণা বিফল করেছেন, তখন আমরা সকলে প্রাচীরে নিজ নিজ কাজ করতে পুনর্বার গমন করলাম।
16 আর সেদিন থেকে আমার যুবকদের অর্ধেক লোক কাজ করতো, অন্য অর্ধেক লোক বর্শা, ঢাল, ধনুক ও বর্ম ধরে থাকতো এবং সমস্ত এহুদাকুলের পিছনে নেতৃবর্গ থাকতেন।
17 যারা প্রাচীর গাঁথত এবং যারা ভার বহন করতো, যারা ভার তুলে দিত, তারা সকলে এক হাতে কাজ করতো, অন্য হাতে অস্ত্র ধরত;
18 আর রাজমিস্ত্রিরা প্রত্যেক জন কোমরে তলোয়ার বেঁধে কাজ করতো; এবং তূরীবাদক আমার পাশে থাকতো।
19 আর আমি প্রধান লোকদেরকে, কর্মকর্তাদেরকে ও অন্য সমস্ত লোককে বললাম এই কাজ ভারী ও বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে এবং আমরা প্রাচীরের উপরে পৃথক পৃথক হয়ে এক জন থেকে অন্য জন দূরে আছি;
20 তোমরা যে কোন স্থানে তূরীর আওয়াজ শুনবে, সেই স্থানে আমাদের কাছে জমায়েত হবে; আমাদের আল্লাহ্ আমাদের জন্য যুদ্ধ করবেন।
21
এভাবে আমরা কাজ করতাম এবং সূর্য উঠার সময় থেকে শুরু করে রাতের তারা দেখা যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অর্ধেক লোক বর্শা ধরে থাকতো।
22 সেই সময়ে আমি লোকদেরকে আরও বললাম প্রত্যেক পুরুষ নিজ নিজ চাকরের সঙ্গে রাতের বেলায় জেরুশালেমের মধ্যে থাকুক; তারা রাতে আমাদের রক্ষক হবে ও দিনে কাজ করবে।
23 অতএব, আমি, আমার ভাইয়েরা, যুবকেরা ও আমার অনুবর্তী রক্ষকেরা কেউ কাপড় খুলতাম না, প্রত্যেকে নিজ নিজ অস্ত্র সহ পানির কাছে যেতাম।
1
পরে নিজেদের ভাই ইহুদীদের বিরুদ্ধে লোকেরা ও তাদের স্ত্রীরা ভীষণ কান্নাকাটি করতে লাগল।
2 কেউ কেউ বললো, আমরা পুত্র কন্যাসুদ্ধ অনেক প্রাণী, আহার করে জীবন ধারণের জন্য শস্য নেব।
3 আর কেউ কেউ বললো, আমরা আমাদের ভূমি, আঙ্গুরক্ষেত ও বাড়ি বন্ধক দিচ্ছি দুর্ভিক্ষের সময়ে শস্য নেব।
4 আর কেউ কেউ বললো, রাজকরের জন্য আমরা নিজ নিজ ভূমি ও আঙ্গুরক্ষেত বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছি।
5 কিন্তু আমরা একই জাতির লোক, আমাদের সন্তানেরা তাদের সন্তানদের সমান, তবুও দেখুন, আমরা নিজ নিজ পুত্র কন্যাদের গোলাম বানাতে হয়েছে; আমাদের কন্যাদের মধ্যে কেউ কেউ তো বাঁদীর অবস্থায় পড়েছে; আমাদের কোন সঙ্গতি নেই; এবং আমাদের ভূমি ও আঙ্গুর— ক্ষেতগুলো অন্য লোকদের হয়েছে।
6
তখন আমি তাদের কান্নাকাটি ও এসব কথা শুনে মহাক্রুদ্ধ হলাম।
7 আর আমি মনে মনে বিবেচনা করলাম এবং প্রধান লোকদের ও কর্মকর্তাদেরকে ভর্ৎসনা করে বললাম তোমরা প্রত্যেকে আপন আপন ভাইয়ের কাছ থেকে সুদ আদায় করে থাক। পরে তাদের বিরুদ্ধে মহাসমাজ একত্র করলাম।
8 আর আমি তাদেরকে বললাম বিভিন্ন জাতির কাছে আমাদের যে ইহুদী ভাইদের বিক্রি করা হয়েছিল, তাদেরকে আমরা সাধ্যানুসারে মুক্ত করেছি; এখন তোমাদের ভাইদেরকে তোমরাই কি বিক্রি করবে? আমাদের কাছে কি তাদেরকে বিক্রি করা হবে? তাতে তারা নীরব হল, কোন উত্তর দিতে পারল না।
9 আমি আরও বললাম তোমাদের এই কাজ ভাল নয়; আমাদের দুশমন জাতিদের টিটকারির দরুন তোমরা কি আমাদের আল্লাহ্র ভয়ে চলবে না?
10 আমি, আমার ভাইয়েরা ও যুবকেরা, আমরাও সুদের জন্য ওদেরকে টাকা ও শস্য ঋণ দিয়ে থাকি; এসো, আমরা এই সুদ ছেড়ে দিই।
11 তোমরা ওদের শস্যক্ষেত, আঙ্গুরক্ষেত, জলপাইক্ষেত ও গৃহগুলো এবং টাকা, শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের শতকরা যে সুদ নিয়ে তাদেরকে ঋণ দিয়েছ, তা আজই তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।
12 তখন তারা বললো, আমরা তা ফিরিয়ে দেব, তাদের কাছে কিছুই চাইব না; আপনি যা বলবেন, সেই অনুসারে করবো। তখন আমি ইমামদেরকে ডেকে এই ওয়াদা অনুসারে কাজ করতে ওদেরকে কসম করালাম।
13 আবার আমি আমার দেহের কাপড় ঝেড়ে বললাম যে কেউ এই ওয়াদা পালন না করে আল্লাহ্ তার বাড়ি ও পরিশ্রমের ফল থেকে তাকে এরকম ঝেড়ে ফেলুন, এভাবে সে ঝাড়া ও শূন্য হোক। তাতে সমস্ত সমাজ বললো, আমিন এবং তারা মাবুদের শুকরিয়া করলো। পরে লোকেরা সেই ওয়াদা অনুসারে কাজ করলো।
14
এছাড়া, আমি যে সময়ে এহুদা দেশে তাদের নেতৃত্বপদে নিযুক্ত হয়েছিলাম সেই থেকে অর্থাৎ আর্টা-জারেক্সেস বাদশাহ্র বিশতম বছর থেকে বত্রিশতম বছর পর্যন্ত, বারো বছর আমি ও আমার ভাইয়েরা শাসনকর্তার বৃত্তি ভোগ করি নি।
15 আমার আগে যেসব শাসনকর্তা ছিলেন, তাঁরা লোকদেরকে ভারগ্রস্ত করতেন এবং তাদের থেকে নগদ চল্লিশ শেকল রূপা ছাড়াও খাদ্য ও আঙ্গুর-রস নিতেন, এমন কি তাঁদের চাকরেরাও লোকদের উপরে কর্তৃত্ব করতো; কিন্তু আমি আল্লাহ্ভয়ের দরুন তা করতাম না।
16 আবার আমি এই প্রাচীরের কাজের নিয়োজিত ছিলাম; আমরা ভূমি ক্রয় করতাম না এবং আমার সমস্ত যুবক সেই স্থানে কাজে একত্র হত।
17 আর আমাদের চারদিকের জাতিদের মধ্য থেকে যারা আমাদের কাছে আসত, তাদের ছাড়াও ইহুদী ও কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এক শত পঞ্চাশ জন আমার টেবিলে আহার করতো।
18 সেই সময়ে প্রতিদিন একটা বলদ, ছয়টা উত্তম ভেড়া, কতগুলো পাখি আমাদের জন্য রান্না করা হত; এছাড়া, প্রতি দশ দিন পর পর নানা রকম আঙ্গুর-রস পরিবেশন করা হত; এ সব সত্ত্বেও লোকদের গোলামীর ভার গুরুতর হওয়াতে আমি শাসনকর্তার বৃত্তি চাইতাম না।
19 হে আমার আল্লাহ্, আমি এই লোকদের জন্য যেসব কাজ করেছি, মঙ্গলের জন্য আমার পক্ষে তা স্মরণ কর।
1
পরে সন্বল্লট, টোবিয়, আরবীয় গেশম ও আমাদের অন্য সকল দুশমন শুনতে পেল যে, আমি প্রাচীর পুনর্নির্মাণ করছি, তার মধ্যে আর ভগ্ন স্থান নেই; তবুও তখনও নগর-দ্বারগুলোর কবাট স্থাপন করি নি।
2 তখন সন্বল্লট ও গেশম লোক দ্বারা আমার কাছে এই কথা বলে পাঠাল, এসো, আমরা কোন উপত্যকার কোন পল্লীগ্রামে একত্র হই। কিন্তু তারা আমার ক্ষতি করতে মনস্থ করেছিল।
3 তখন আমি দূতদের দ্বারা তাদেরকে বলে পাঠালাম, আমি একটি মহৎ কাজ করছি, নেমে যেতে পারি না; আমি যতক্ষণ কাজ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে নেমে যাব, ততক্ষণ কাজ কেন বন্ধ থাকবে?
4 এইভাবে তারা আমার কাছে চারবার লোক পাঠাল, আর আমি তাদেরকে সেই একই রকম জবাব দিলাম।
5 পরে সন্বল্লট একইভাবে পঞ্চমবার আমার কাছে তার ভৃত্যকে পাঠাল, তার হাতে একটি খোলা চিঠি ছিল;
6 তাতে এই কথা লেখা ছিল, জাতিদের মধ্যে এই গুজব হচ্ছে এবং গেশমও বলছে যে, তুমি ও ইহুদীরা রাজদ্রোহ করার সঙ্কল্প করছো; এজন্য তুমি প্রাচীর নির্মাণ করছো; আর এই গুজবের মর্ম এই যে, তুমি তাদের বাদশাহ্ হতে যাচ্ছ।
7 আর এহুদা দেশে এক জন বাদশাহ্ আছেন, নিজের বিষয়ে জেরুশালেমে এই বিষয়ে প্রচার করাবার জন্য তুমি নবীদেরকেও নিযুক্ত করেছ। এখন এই গুজব বাদশাহ্র কাছে উপস্থিত হবে; অতএব এসো, আমরা একত্র হয়ে পরামর্শ করি।
8 তখন আমি তাকে বলে পাঠালাম, তুমি যেসব কথা বলছো সেরকম কোন কাজ হয় নি; কিন্তু তুমি মনগড়া কথা বলছো।
9 কারণ তারা সকলে আমাদেরকে ভয় দেখাতে চাইত, বলতো, এই কাজে ওদের হাত দুর্বল হোক, তাতে তা সমাপ্ত হবে না। কিন্তু এখন, হে আল্লাহ্, তুমি আমার হাত সবল কর।
10
পরে মহেটবেলের সন্তান দলায়ের পুত্র যে শময়িয় তার বাড়িতে লুকিয়ে ছিল, আমি সেখানে গেলাম; আর সে বললো, এসো, আমরা আল্লাহ্র গৃহে, বায়তুল-মোকাদ্দসের ভিতরে একত্র হই ও বায়তুল-মোকাদ্দসের সমস্ত দ্বার রুদ্ধ করি, কেননা লোকে তোমাকে হত্যা করতে আসবে, রাতেই তোমাকে হত্যা করতে আসবে।
11 তখন আমি বললাম আমার মত লোক কি পালিয়ে যাবে? আমার মত কোন লোক কি প্রাণ বাঁচাবার জন্য বায়তুল মোকাদ্দসে আশ্রয় নেবে? আমি সেখানে প্রবেশ করবো না।
12 আর আমি টের পেলাম, দেখ, আল্লাহ্ তাকে পাঠান নি, সে আমার বিপক্ষে ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করেছে এবং টোবিয় ও সন্বল্লট তাকে ঘুষ দিয়েছে।
13 তাকে এজন্য ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, যেন আমি ভয় পেয়ে সেই কাজ করি ও গুনাহ্ করি এবং তারা যেন আমার দুর্নাম করার সূত্র পেয়ে আমাকে টিট্কারি দিতে পারে।
14 হে আমার আল্লাহ্, টোবিয় ও সন্বল্লটের এই কাজ অনুসারে তাদেরকে এবং নোয়দিয়া মহিলা-নবীকে ও অন্য যে নবীরা আমাকে ভয় দেখাতে চাইত, তাদেরকেও স্মরণ কর।
15
ইলূল মাসের পঞ্চবিংশ দিনে, বায়ান্ন দিনের মধ্যে প্রাচীর সমাপ্ত হল।
16 পরে আমাদের সমস্ত দুশমন যখন তা শুনতে পেল, তখন আমাদের চারদিকের জাতিরা সকলে ভয় পেল এবং নিজেদের দৃষ্টিতে নিতান্ত লঘু মনে করলো, কেননা এই কাজ যে আমাদের আল্লাহ্ দ্বারাই হল, এই বিষয়টি তারা বুঝতে পারলো।
17 আবার ঐ সময়ে এহুদার প্রধান লোকেরা টোবিয়ের কাছে অনেক পত্র পাঠাত এবং টোবিয়ের পত্রও তাদের কাছে আসত।
18 কারণ এহুদার মধ্যে অনেকে তার পক্ষে শপথ করেছিল; কারণ সে আরহের পুত্র শখনিয়ের জামাতা ছিল এবং তার পুত্র যিহোহানন বেরিখিয়ের পুত্র মশুল্লমের কন্যাকে বিয়ে করেছিল।
19 আরও তারা আমার সাক্ষাতে তার সৎকাজের কথা বলতো এবং আমার কথাও তাকে জানাত। আমাকে ভয় দেখাবার জন্য টোবিয় পত্র পাঠাত।
1
প্রাচীর নির্মিত হওয়ার পর আমি সমস্ত দ্বারের কবাট স্থাপন করলাম এবং দ্বার-রক্ষক, গায়ক ও লেবীয়েরা নিযুক্ত হল।
2 আর আমি আমার ভাই হনানি ও দুর্গের শাসনকর্তা হনানিয়কে জেরুশালেমের উপরে নিযুক্ত করলাম, কেননা হনানিয় বিশ্বস্ত লোক ছিলেন এবং অনেক লোকের চেয়ে আল্লাহ্কে বেশি ভয় করতেন।
3 আর আমি তাঁদেরকে বললাম, যতক্ষণ রৌদ্র প্রচণ্ড না হয়, ততক্ষণ জেরুশালেমের দ্বারগুলো যেন খোলা না হয়; এবং রক্ষকেরা কাছে দণ্ডায়মান থাকতে দ্বারগুলো বন্ধ ও কবাট অর্গলে বন্ধ করা হোক; এবং তোমরা জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে প্রহরী নিযুক্ত কর, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রহরি-স্থানে, যার যার বাড়ির সম্মুখে থাকুক।
4
নগরটি অনেক বড় ও অনেক স্থান জুড়ে ছিল, কিন্তু তার মধ্যে লোক অল্প ছিল এবং বাড়িগুলোও নির্মাণ করা যায় নি।
5
পরে আমার আল্লাহ্ আমার মনে প্রবৃত্তি দিলে আমি প্রধানদের, কর্মকর্তাদের ও লোকদেরকে একত্র করলাম, যেন তাদের খান্দাননামা লেখা হয়। আর আমি প্রথমে আগত লোকদের খান্দাননামা পত্র পেলাম, তার মধ্যে এই কথা লেখা পেলাম;
6 যারা বন্দীরূপে নীত হয়েছিল, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার যাদেরকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রদেশের এই লোকেরা বন্দীদশা থেকে যাত্রা করে জেরুশালেম ও এহুদাতে যার যার নগরে ফিরে এল;
7 তারা সরুব্বাবিল, যেশূয়, নহিমিয়া, অসরিয়, রয়মিয়া, নহমানি, মর্দখয়, বিল্শন, মিসপরৎ, বিগ্বয়, নহূম ও বানা, এঁদের সঙ্গে ফিরে এল। সেই ইসরাইল লোকদের পুরুষ-সংখ্যা;
8 পরোশের সন্তান দুই হাজার এক শত বাহাত্তর জন।
9 শফটিয়ের সন্তান তিন শত বাহাত্তর জন।
10 আরহের সন্তান ছয় শত বাহান্ন জন।
11 যেশূয় ও যোয়াবের সন্তানদের মধ্যে পহৎ —মোয়াবের সন্তান দুই হাজার আট শত আঠার জন।
12 এলমের সন্তান এক হাজার দুই শত চুয়ান্ন জন।
13 সত্তূর সন্তান আট শত পঁয়তাল্লিশ জন।
14 সক্কয়ের সন্তান সাত শত ষাট জন।
15 বিন্নূয়ির সন্তান ছয় শত আটচল্লিশ জন।
16 বেবয়ের সন্তান ছয় শত আটাশ জন।
17 আস্গদের সন্তান দুই হাজার তিন শত বাইশ জন।
18 অদোনীকামের সন্তান ছয় শত সাতষট্টি জন।
19 বিগ্বয়ের সন্তান দুই হাজার সাতষট্টি জন।
20 আদীনের সন্তান ছয় শত পঞ্চান্ন জন।
21 যিহিষ্কিয়ের বংশজাত আটেরের সন্তান আটানব্বই জন।
22 হশুমের সন্তান তিন শত আটাশ জন।
23 বেৎসয়ের সন্তান তিন শত চব্বিশ জন।
24 হারীফের সন্তান এক শত বারো জন।
25 গিবিয়োনের সন্তান পঁচানব্বই জন।
26 বেথেলহেমের ও নটোফার লোক এক শত অষ্টাশি জন।
27 অনাথোতের লোক এক শত আটাশ জন।
28 বৈৎ-অম্মাবতের লোক বিয়াল্লিশ জন।
29 কিরিয়ৎ-যিয়ারীম, কফীরা ও বেরোতের লোক সাত শত তেতাল্লিশ জন।
30 রামার ও গেবার লোক ছয় শত একুশ জন।
31 মিক্মসের লোক এক শত বাইশ জন।
32 বেথেলের ও অয়ের লোক এক শত তেইশ জন।
33 অন্য নবোর লোক বায়ান্ন জন।
34 অন্য এলমের সন্তান এক হাজার দুই শত চুয়ান্ন জন।
35 হারীমের সন্তান তিন শত বিশ জন।
36 জেরিকোর সন্তান তিন শত পঁয়তাল্লিশ জন।
37 লোদ, হাদীদ ও ওনোর সন্তান সাত শত একুশ জন।
38 সনায়ার সন্তান তিন হাজার নয় শত ত্রিশ জন।
39
ইমামেরা; যেশূয় কুলের মধ্যে যিদয়িয়ের সন্তান নয় শত তিয়াত্তর জন।
40 ইম্মেরের সন্তান এক হাজার বায়ান্ন জন।
41 পশ্হূরের সন্তান এক হাজার দুই শত সাতচল্লিশ জন।
42 হারীমের সন্তান এক হাজার সতের জন।
43
লেবীয়বর্গ; হোদবিয়ের সন্তানদের মধ্যে যেশূয় ও কদ্মীয়েলের সন্তান চুয়াত্তর জন।
44
গায়কবর্গ; আসফের সন্তান এক শত আটচল্লিশ জন।
45
দ্বারপালবর্গ; শল্লুমের সন্তান, আটেরের সন্তান, টল্মোনের সন্তান, অক্কুবের সন্তান, হটীটার সন্তান, শোবরের সন্তান, একশত আটত্রিশ জন।
46
নথীনীয়বর্গ; সীহের সন্তান, হসুফার সন্তান, টব্বায়োতের সন্তান,
47 কেরোসের সন্তান, সীয়ের সন্তান, পাদোনের সন্তান,
48 লবানার সন্তান, হগাবের সন্তান, শল্ময়ের সন্তান,
49 হাননের সন্তান, গিদ্দেলের সন্তান, গহরের সন্তান,
50 রায়ার সন্তান, রৎসীনের সন্তান, নকোদের সন্তান,
51 গসমের সন্তান, ঊষের সন্তান, পাসেহের সন্তান,
52 বেষয়ের সন্তান, মিয়ূনীমের সন্তান, নফূষযীমের সন্তান,
53 বক্বূকের সন্তান, হকূফার সন্তান, হর্হূরের সন্তান,
54 বসলীতের সন্তান, মহীদার সন্তান, হর্শার সন্তান,
55 বর্কোসের সন্তান, সীষরার সন্তান, তেমহের সন্তান,
56 নৎসীহের সন্তান, হটীফার সন্তানবর্গ।
57
সোলায়মানের গোলামদের সন্তানবর্গ; সোটয়ের সন্তান, সোফেরতের সন্তান, পরীদার সন্তান,
58 যালার সন্তান, দর্কোনের সন্তান, গিদ্দেলের সন্তান,
59 শফটিয়ের সন্তান, হটীলের সন্তান, পোখেরৎ-হৎসবায়ীমের সন্তান, আমোনের সন্তানেরা।
60
নথীনীয়েরা ও সোলায়মানের গোলামদের সন্তান সবসুদ্ধ তিন শত বিরানব্বই জন ছিল।
61
আর তেল্মেলহ, তেল্হর্শা, কারুবী, অদ্দন ও ইম্মের, এসব স্থান থেকে নিম্নলিখিত সমস্ত লোক এল; কিন্তু তারা ইসরায়েল লোক কি না এই বিষয়ে নিজ নিজ পিতৃকুল কি গোত্রের প্রমাণ দিতে পারল না;
62 দলায়ের সন্তান, টোবিয়ের সন্তান, নকোদের সন্তান ছয় শত বিয়াল্লিশ জন।
63 আর ইমামদের মধ্যে হবায়ের সন্তান, হক্কোসের সন্তান ও বর্সিল্লয়ের সন্তানবর্গ; এই বর্সিল্লয় গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের এক কন্যাকে বিয়ে করে তাদের নামে আখ্যাত হয়েছিল।
64 খান্দাননামায় বর্ণিত লোকদের মধ্যে এরা যার যার খান্দাননামায় খোঁজ করে পেল না, এজন্য এরা নাপাক গণিত হয়ে ইমামের পদ থেকে বাদ পড়লো।
65 আর শাসনকর্তা তাদেরকে বললেন, যে পর্যন্ত ঊরীম ও তুম্মীমের অধিকারী এক ইমাম অধিষ্ঠিত না হবেন, সেই পর্যন্ত তোমরা পবিত্র বস্তু ভোজন করো না।
66
একত্রীকৃত সমস্ত সমাজ বিয়াল্লিশ হাজার তিন শত ষাট জন ছিল।
67 এছাড়া, তাদের সাত হাজার তিন শত সাঁইত্রিশ জন গোলাম বাঁদী ছিল, আর তাদের দুই শত পঁয়তাল্লিশ জন গায়ক ও গায়িকা ছিল।
68 তাদের সাত শত ছত্রিশটি ঘোড়া,
69 দুই শত পঁয়তাল্লিশটি খচ্চর, চার শত পঁয়ত্রিশটি উট ও ছয় হাজার সাত শত কুড়িটি গাধা ছিল।
70
পিতৃকুলপতিদের মধ্যে কেউ কেউ সেই কাজের জন্য দান করলো। শাসনকর্তা ভাণ্ডারে সোনার এক হাজার অদর্কোন ও পঞ্চাশটি বাটি এবং ইমামদের জন্য পাঁচ শত ত্রিশটি কোর্তা দিলেন।
71 কয়েকজন পিতৃকুলপতি সেই কাজের ভাণ্ডারে সোনার বিশ হাজার অদর্কোন ও দুই হাজার দুই শত মানি রূপা দিল। অন্য লোকেরা সোনার বিশ হাজার অদর্কোন,
72 দুই হাজার মানি রূপা ও ইমামদের জন্য সাতষট্টিটি কোর্তা দিল।
73 পরে ইমামেরা, লেবীয়ের দ্বারপালেরা ও গায়কেরা এবং কোন কোন লোক ও নথীনীয়েরা এবং সমস্ত ইসরাইল নিজ নিজ নগরে বাস করতে লাগল।
1
সপ্তম মাস উপস্থিত হলে বনি-ইসরাইল নিজ নিজ নগরে ছিল। আর সমস্ত লোক একটি মানুষের মত পানি-দ্বারের সম্মুখস্থ চকে একত্র হল; এবং তারা অধ্যাপক উযায়েরকে মূসার শরীয়ত-কিতাব আনতে বললো যা আল্লাহ্ ইসরাইলকে দিয়েছিলেন।
2 তাতে সপ্তম মাসের প্রথম দিনে ইমাম উযায়ের সমাজের সম্মুখে, স্ত্রী পুরুষ এবং যারা শুনে বুঝতে পারে, তাদের সম্মুখে সেই শরীয়ত-কিতাব আনলেন।
3 আর পানি-দ্বারের সম্মুখস্থ চকে স্ত্রী পুরুষ এবং যত লোক বুঝতে পারে, তাদের কাছে তিনি সকাল থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত তা পাঠ করলেন, তাতে সমস্ত লোক মনোযোগের সঙ্গে শরীয়ত-কিতাব শুনতে লাগল।
4 বস্তুত অধ্যাপক উযায়ের ঐ কাজের জন্য নির্মিত একটি কাঠের মঞ্চের উপরে দাঁড়ালেন এবং তাঁর দক্ষিণ পাশে মত্তিথিয়, শেমা, অনায়, ঊরিয়, হিল্কিয় ও মাসেয় এবং তাঁর বাম পাশে পদায়, মীশায়েল, মল্কিয়, হশুম, হশবদ্দানা, জাকারিয়া ও মশুল্লম দাঁড়ালো।
5 উযায়ের সমস্ত লোকের সাক্ষাতে কিতাবখানি খুললেন, কেননা তিনি সমস্ত লোকের চেয়ে উচ্চে দণ্ডায়মান ছিলেন। তিনি কিতাব খোলামাত্র সমস্ত লোক উঠে দাঁড়ালো।
6 পরে উযায়ের মহান আল্লাহ্ মাবুদের প্রশংসা করলেন। আর সমস্ত লোক হাত তুলে জবাবে বললো, আমিন, আমিন এবং উবুড় হয়ে ভূমিতে মুখ দিয়ে মাবুদের কাছে সেজ্দা করলো।
7 আর যেশূয়, বানি, শেরেবিয়, যামীন, অক্কুব, শব্বথর, হোদিয়, মাসেয়, কলীট, অসরীয়, যোষাবদ, হানন, পলায়ও লেবীয়েরা লোকদেরকে শরীয়ত-কিতাবের অর্থ বুঝিয়ে দিল; আর লোকেরা স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে রইলো।
8 এভাবে তারা স্পষ্ট উচ্চারণপূর্বক সেই কিতাব, আল্লাহ্র শরীয়ত, পাঠ করলো এবং তার অর্থ করে লোকদের পাঠ বুঝিয়ে দিল।
9
আর শাসনকর্তা নহিমিয়া, অধ্যাপক উযায়ের ইমাম ও লোকদের শিক্ষক লেবীয়েরা সমস্ত লোককে বললেন, আজকের দিন তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র, তোমরা শোক করো না, কান্নাকাটি করো না। কেননা শরীয়ত কিতাবের কালাম শুনে সমস্ত লোক কান্নাকাটি করছিল।
10 আর তিনি তাদেরকে বললেন, যাও, পুষ্টিকর দ্রব্য ভোজন কর, মিষ্ট রস পান কর এবং যার জন্য কিছু প্রস্তুত নেই, তাকে অংশ পাঠিয়ে দাও; কারণ আজকের দিন আমাদের প্রভুর উদ্দেশে পবিত্র, তোমরা বিষণ্ন হয়ো না, কেননা মাবুদে যে আনন্দ, তা-ই তোমাদের শক্তি।
11 লেবীয়েরাও লোক সকলকে শান্ত করে বললো, শান্ত হও, কেননা আজ পবিত্র দিন, তোমরা বিষণ্ন হয়ো না।
12 তখন সমস্ত লোক ভোজন পান, অংশ প্রেরণ ও অতিশয় আনন্দ করতে গেল, কেননা যেসব কথা তাদের কাছে বলা গিয়েছিল, তারা সেসব বুঝতে পেরেছিল।
13
আর দ্বিতীয় দিনে সমস্ত লোকের পিতৃকুলপতি, ইমাম ও লেবীয়েরা শরীয়তের কালামে মনোনিবেশ করার জন্য অধ্যাপক উযায়েরের কাছে একত্র হল।
14 আর তারা দেখতে পেল, কালামে এই কথা লেখা আছে যে, মাবুদ মূসা দ্বারা এই হুকুম দিয়েছিলেন, বনি-ইসরাইল সপ্তম মাসের উৎসবকালে কুটিরে বাস করবে;
15 এবং নিজেদের সকল নগরে ও জেরুশালেমে এই কথা ঘোষণা ও তবলিগ করবে, যেরকম লেখা আছে, সেই অনুসারে কুটির তৈরি করার জন্য পর্বতে গিয়ে জলপাই গাছের ডাল, বন্য জলপাই গাছের ডাল, গুলমেঁদির ডাল, খেজুর গাছের ডাল ও পাতা-ভরা গাছের ডাল আন।
16 তাতে লোকেরা বাইরে গেল ও সেসব এনে প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ির ছাদে ও প্রাঙ্গণে এবং আল্লাহ্র গৃহের সকল প্রাঙ্গণে, পানি-দ্বারের চকে ও আফরাহীম-দ্বারের চকে নিজেদের জন্য কুটির তৈরি করলো।
17 বন্দীদশা থেকে প্রত্যাগত লোকদের সমস্ত সমাজ কুটির তৈরি করে তার মধ্যে বাস করলো; বস্তুত নূনের পুত্র ইউসার সময় থেকে সেদিন পর্যন্ত বনি-ইসরাইল এই রকম আর করে নি; তাতে অত্যন্ত আনন্দ হল।
18 আর উযায়ের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন আল্লাহ্র শরীয়ত-কিতাব পাঠ করলেন। আর লোকেরা সাত দিন ঈদ পালন করলো এবং বিধি অনুসারে অষ্টম দিনে উৎসব-সভা হল।
1
আর ঐ মাসের চতুর্বিংশ দিনে বনি-ইসরাইল রোজা রেখে, চট পরে ও মাথায় মাটি মেখে একত্র হল।
2 আর ইসরাইল-বংশ সমস্ত বিজাতীয় লোক থেকে নিজেদের পৃথক করলো এবং দাঁড়িয়ে তাদের গুনাহ্ ও তাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধ স্বীকার করলো।
3 আর তারা যার যার স্থানে দাঁড়াল ও দিনের চার ভাগের এক ভাগ সময় পর্যন্ত তাদের আল্লাহ্ মাবুদের শরীয়ত-কিতাব পাঠ করলো, পরে দিনের আর চার ভাগের এক ভাগ সময় পর্যন্ত তাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে গুনাহ্ স্বীকার ও সেজ্দা করলো।
4 আর যেশূয় ও বানি, কদ্মীয়েল, শবনিয়, বুন্নি, শেরেবিয়, বানি, কেনানী, এরা লেবীয়দের সোপানে দাঁড়িয়ে তাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে চিৎকার করে কান্নাকাটি করলো।
5 পরে যেশূয় ও কদ্মীয়েল, বানি, হশব্নিয়, শেরেবিয়, হোদিয়, শবনিয়, পথাহিয়, এই কয়েক জন লেবীয় এই কথা বললো, উঠ; তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর, যিনি অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত ধন্য। তোমার মহিমান্বিত নামের শুকরিয়া হোক, যা যাবতীয় শুকরিয়া ও প্রশংসার অতীত।
6
কেবলমাত্র তুমিই মাবুদ; তুমি বেহেশত ও বেহেশতের বেহেশত এবং তার সমস্ত বাহিনী, দুনিয়া ও সেখানকার সমস্ত কিছু এবং সমুদ্র ও তার মধ্যকার সকল কিছু নির্মাণ করেছ, আর তুমি তাদের সকলকে জীবন দিচ্ছ এবং বেহেশতের বাহিনী তোমার কাছে সেজ্দা করে।
7 তুমিই মাবুদ আল্লাহ্; তুমি ইব্রামকে মনোতীত করেছিলে, কল্দীয় দেশের ঊর থেকে বের করে এনেছিলে ও তাঁর নাম ইব্রাহিম রেখেছিলে;
8 এবং তোমার সাক্ষাতে তাঁর অন্তঃকরণ বিশ্বস্ত দেখে কেনানীয়, হিট্টিয়, আমোরীয়, পরিষীয়, যিবূষীয় ও গির্গাশীয়ের দেশ তাঁর বংশকে দেবার জন্য তাঁর সঙ্গে নিয়ম করেছিলে, আর তুমি তোমার কালাম অটল রেখেছ, কেননা তুমি ধর্মময়।
9
আর তুমি মিসরে আমাদের পূর্ব-পুরুষদের দুঃখ দেখেছিলে ও লোহিত সাগরের তীরে তাদের কান্না শুনেছিলে;
10 এবং ফেরাউনকে, তাঁর সমস্ত গোলাম ও তাঁর দেশের লোক সকলকে নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখিয়েছিলে; কেননা তুমি জানতে যে, মিসরীয়েরা তাদের প্রতি উদ্ধত ব্যবহার করতো; এতে তুমি তোমার নাম প্রতিষ্ঠিত করলে, যেমন আজ রয়েছে।
11 আর তুমি তাদের সম্মুখে সমুদ্রকে দ্বিভাগ করলে, তাতে তারা সমুদ্রের মধ্যস্থলে শুকনো পথ দিয়ে অগ্রসর হল, কিন্তু প্রবল পানিতে যেমন পাথর, তেমনি তুমি তাদের পেছনে তাড়া করে আসা লোকদেরকে অগাধ পানিতে নিক্ষেপ করলে।
12 আর তুমি দিনে মেঘস্তম্ভ দ্বারা ও রাতে তাদের গন্তব্য পথে আলো দেবার জন্য অগ্নিস্তম্ভ দ্বারা তাদেরকে গমন করাতে।
13 তুমি তুর পর্বতের উপরে নেমে আসলে, বেহেশত থেকে তাদের সঙ্গে কথা বললে, আর যথার্থ অনুশাসন, সত্য ব্যবস্থা, উত্তম বিধি ও হুকুম তাদেরকে দিলে;
14 এবং তোমার পবিত্র বিশ্রামবার সম্বন্ধে তাদেরকে জানালে এবং তোমার গোলাম মূসা দ্বারা তাদেরকে হুকুম, বিধি ও শরীয়ত দিলে,
15 আর তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বেহেশত থেকে তাদেরকে খাবার দিলে ও তাদের পিপাসা নিবারণের জন্য শৈল থেকে পানি বের করলে; আর তুমি তাদেরকে যে দেশ দেবার জন্য ওয়াদা করেছিলে, তা অধিকার করার জন্য সেখানে প্রবেশ করতে হুকুম দিলে।
16
তবুও তারা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা গর্ব করলো, স্ব স্ব ঘাড় শক্ত করলো এবং তোমার হুকুমে কান দিল না;
17 আর তারা কথা শুনতে অস্বীকার করলো এবং তুমি তাদের মধ্যে যেসব অদ্ভুত কাজ করেছিলে, তা স্মরণে রাখল না, কিন্তু স্ব স্ব ঘাড় শক্ত করলো, গোলামীত্বে ফিরে যাবার জন্য বিদ্রোহী হয়ে এক জন সেনাপতিকে নিযুক্ত করলো; কিন্তু তুমি ক্ষমাবান আল্লাহ্, কৃপাময় ও স্নেহশীল, ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান, তাই তাদেরকে ত্যাগ করলে না।
18 এমন কি, তারা যখন নিজেদের জন্য ছাঁচে ঢালা একটি বাছুর তৈরি করলো এবং বললো, এ-ই তোমার দেবতা, যিনি মিসর থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন, এভাবে যখন মহা কুফরীর কাজ করলো,
19 তখনও তুমি তোমার প্রচুর করুণার দরুন মরুভূমিতে তাদেরকে ত্যাগ করলে না; দিনে তাদের পথ দেখাবার জন্য মেঘস্তম্ভ এবং রাতে গন্তব্য পথে আলো দেবার জন্য অগ্নিস্তম্ভ তাদের উপর থেকে সরে গেল না।
20 আর তুমি শিক্ষা দেবার জন্য তোমার মঙ্গলময় রূহ্ তাদেরকে দান করলে এবং তাদের মুখ থেকে তোমার মান্না নিবৃত্ত করলে না ও তাদেরকে পিপাসা নিবারণ করার জন্য পানি দিলে।
21 আর চল্লিশ বছর পর্যন্ত মরুভূমিতে তাদেরকে প্রতিপালন করলে, তাদের অভাব হল না; তাদের কাপড়-চোপড় নষ্ট হল না ও তাদের পা ফুলে উঠলো না।
22 পরে তুমি নানা রাজ্য ও নানা জাতি তাদের হাতে দিয়েছিলে, এমন কি, তাদের সমস্ত জায়গাও তাদের ভাগ করে দিলে; তাতে তারা সীহোনের দেশ, অর্থাৎ হিষ্বোণের বাদশাহ্র দেশ ও বাশন-রাজ উজের দেশ অধিকার করলো।
23 আর তুমি তাদের সন্তানদেরকে আসমানের তারার মত বহুসংখ্যক করলে এবং সেই দেশে তাদেরকে আনলে, যে দেশের বিষয়ে তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে বলেছিলে যে, তারা তা অধিকার করার জন্য সেখানে প্রবেশ করবে।
24 পরে সেই সন্তানেরা সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করলো এবং তুমি সেই দেশ-নিবাসী কেনানীয়দেরকে তাদের সম্মুখে নত করলে এবং ওদেরকে ও ওদের বাদশাহ্দেরকে ও দেশস্থ সকল জাতিকে তাদের হাতে তুলে দিলে, ওদের প্রতি যা ইচ্ছা তা করতে দিলে।
25 তাতে তারা প্রাচীরবেষ্টিত অনেক নগর ও উর্বরা ভূমি নিল এবং সমস্ত উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ বাড়ি, খনন-করা কূপ, আঙ্গুরক্ষেত, জলপাইক্ষেত্র ও প্রচুর ফলের গাছ অধিকার করলো এবং ভোজন করে তৃপ্ত ও পুষ্ট হল এবং তোমার কৃত মহা মঙ্গলে আপ্যায়িত হল।
26
তবুও তারা অবাধ্য হয়ে তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো, তোমার শরীয়ত ত্যাগ করলো এবং তোমার যে নবীদের তোমার প্রতি তাদেরকে ফিরাবার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেন, তাঁদেরকে হত্যা করলো ও মহা কুফরীর কাজ করলো।
27 পরে তুমি তাদেরকে বিপক্ষদের হাতে তুলে দিলে তারা তাদেরকে কষ্ট দিল; কিন্তু কষ্টের সময়ে যখন তারা তোমার কাছে কাঁদত, তখন তুমি বেহেশত থেকে তা শুনতে এবং তোমার প্রচুর করুণার দরুন তাদেরকে উদ্ধারকারীদের দিতে, যাঁরা বিপক্ষদের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করতেন।
28 তবুও বিশ্রাম পাবার পর তারা আবার তোমার সাক্ষাতে কদাচরণ করতো, তাতে তুমি তাদেরকে দুশমনদের হাতে তুলে দিতে এবং সেই দুশমনেরা তাদের উপরে কর্তর্ৃৃত্ব করতো; কিন্তু তারা ফিরলে ও তোমার কাছে কান্নাকাটি করলে তুমি বেহেশত থেকে তা শুনতে; এবং তোমার করুণা অনুসারে অনেকবার তাদেরকে উদ্ধার করতে;
29 আর তোমার শরীয়ত-পথে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে; তবুও তারা গর্ব করলো ও তোমার হুকুমে কান দিত না, কিন্তু যা পালন করলে মানুষ বাঁচে, তোমার সেসব অনুশাসনের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করতো ও তোমার অবাধ্য হত ও ঔদ্ধত্ব্য প্রকাশ করতো, কথা শুনত না।
30 তবুও তুমি বহু বছর তাদের ব্যবহার সহ্য করলে ও তোমার নবীদের দ্বারা তোমার রূহ্কর্তৃক তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে; কিন্তু তারা কান দিল না, সেজন্য তুমি তাদেরকে নানা দেশীয় জাতিদের হাতে তুলে দিলে।
31 তবুও তোমার প্রচুর করুণার দরুন তাদেরকে নিঃশেষ ও ত্যাগ কর নি, কারণ তুমি কৃপাময় ও স্নেহশীল আল্লাহ্।
32
অতএব, হে আমাদের আল্লাহ্, মহান, বিক্রমশালী ও ভয়ঙ্কর আল্লাহ্, তুমি নিয়ম পালন ও অটল মহব্বত প্রকাশ করে থাক; আসেরিয়া-বাদশাহ্দের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের উপরে, আমাদের বাদশাহ্দের, কর্মকর্তাদের, ইমামদের, নবীদের, পূর্বপুরুষদের ও তোমার সকল লোকের উপরে যে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ঘটছে, সেসব তোমার দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে না হোক।
33 আমাদের প্রতি এসব ঘটলেও তুমি ধর্মময়; কেননা তুমি সত্য ব্যবহার করেছ, কিন্তু আমরা দুষ্কর্ম করেছি।
34 আর আমাদের বাদশাহ্রা, কর্মকর্তারা, ইমামেরা ও পূর্বপুরুষেরা তোমার শরীয়ত পালন করেন নি এবং তোমার হুকুমে ও যা দ্বারা তুমি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে, তোমার সেই সাক্ষ্যে কান দেন নি।
35 এমন কি তাঁদের রাজত্বকালে, তোমার দেওয়া প্রচুর মঙ্গল সত্ত্বেও এবং তোমার দেওয়া প্রশস্ত ও উর্বর দেশে বাস করেও তারা তোমার সেবা করে নি এবং নিজ নিজ সমস্ত দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হয় নি।
36 দেখ, আজ আমরা গোলাম, ফলে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়ে সেখানকার উৎপন্ন ফল ও উত্তম দ্রব্যের অধিকারী করেছিলে, দেখ, আমরা এই দেশের মধ্যে গোলাম হয়ে রয়েছি।
37 আর তুমি আমাদের গুনাহ্র দরুন আমাদের উপরে যে বাদশাহ্দেরকে নিযুক্ত করেছ, দেশে উৎপন্ন প্রচুর ফসলে তাঁদেরই স্বত্ব; আর তাঁরা আমাদের শরীরের উপরে ও আমাদের পশুগুলোর উপরে ইচ্ছামত প্রভুত্ব করছেন, আর আমরা মহা সঙ্কটের মধ্যে আছি।
38
এসব ঘটলেও আমরা নিশ্চিত নিয়ম করে লিখছি; এবং আমাদের কর্মকর্তারা, আমাদের লেবীয় ও আমাদের ইমামেরা তাতে সীলমোহর করছে।
1
সীলমোহরকারীদের নাম হখলিয়ের পুত্র শাসনকর্তা নহিমিয়া এবং সিদিকিয়,
2 সরায়, অসরিয়, ইয়ারমিয়া,
3 পশহূর, অমরিয়, মল্কিয়,
4 , হটূশ, শবনিয়, মললুক,
5 হারীম, মরেমোৎ, ওবদিয়,
6 দানিয়াল, গিন্নথোন, বারূক,
7 মশুল্লম, অবিয়, মিয়ামীন,
8 মাসিয়, বিল্গয়, শমরিয়, ইমামদের মধ্যে, এসব লোক।
9 আর লেবীয়দের মধ্যে অসনিয়ের পুত্র যেশূয়, হেনাদদের সন্তান বিন্নুয়ী, কদ্মীয়েল;
10 এবং তাহাদের ভাইয়েরা শবনিয়, হোদিয়, কলীট, পলায়, হানন,
11 মীখা, রহোব, হশবিয়,
12 সক্কূর, শেরেবিয়, শবনিয়,
13 হোদীয়, বানি, বনীনু।
14 প্রজাদের মধ্যে প্রধান লোকেরা, পরোশ, পহৎ-মোয়াব, ইলাম, সত্তূ, বানি,
15 বুন্নি, অস্গদ, বেবয়,
16 অদোনিয়, বিগ্বয়, আদীন,
17 আটের, হিষ্কিয়, অসূর,
18 হোদিয়, হশুম, বেৎসয়,
19 হারীফ, অনাথোৎ, নবয়,
20 মগ্পীয়শ, মশুল্লম, হেষীর,
21 মশেষবেল, সাদোক, যদ্দুয়,
22 পলটিয়, হানন, অনায়,
23 হোশেয়, হনানিয়, হশূব,
24 হলোহেশ, পিল্হ, শোবেক,
25 রহূম, হশব্না, মাসেয়,
26 এবং অহিয়, হানন, অনান,
27 মল্লুক, হারীম, বানা।
28
আর লোকদের অবশিষ্ট লোকেরা, ইমাম, লেবীয়, দ্বারপাল, গায়ক, নথীনীয় প্রভৃতি যেসব লোক নানাদেশীয় জাতিদের থেকে নিজেদেরকে পৃথক করে আল্লাহ্র শরীয়তের পক্ষ হয়েছিল, তারা সকলে, তাদের স্ত্রী ও পুত্র কন্যাদের, জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান সকলে,
29 নিজেদের ভাইদের, নিজেদের প্রধান লোকদের পক্ষে আসক্ত থাকলো এবং শপথ-পূর্বক এই কসম করলো, আমরা আল্লাহ্র গোলাম মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া আল্লাহ্র শরীয়ত-পথে চলবো, আমাদের প্রভু মাবুদের হুকুম, অনুশাসন ও সমস্ত বিধি যত্নপূর্বক পালন করবো;
30 এবং দেশীয় লোকদের সঙ্গে আমাদের কন্যাদের বিয়ে দেব না; ও আমাদের পুত্রদের জন্য তাদের কন্যাদেরকে গ্রহণ করবো না;
31 আর দেশীয় লোকেরা বিশ্রামবারে দ্রব্য বিক্রি করতে আসলে কিংবা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে আনলে আমরা বিশ্রামবারে কিংবা অন্য পবিত্র দিনে তাদের কাছ থেকে তা ক্রয় করবো না এবং সপ্তম বছর চাষবাস করবো না, সমস্ত ঋণ মাফ করবো।
32
এছাড়া, আমরা আমাদের আল্লাহ্র গৃহের সেবাকাজের জন্য প্রতি বছর এক এক শেকলের তৃতীয়াংশ দানের ভার নিজেদের উপরে নেবার বিধান করলাম;
33 দর্শন-রুটির, নিয়মিত শস্য-উৎসর্গের, নিয়মিত পোড়ানো-কোরবানীর, বিশ্রামবারের, অমাবস্যার, ঈদগুলোর, পবিত্র বস্তুর ও ইসরাইলের কাফ্ফারার গুনাহ্-কোরবানীর এবং আমাদের আল্লাহ্র গৃহের সমস্ত কাজের জন্য তা করলাম।
34 আর কাঠ যোগান দেবার বিষয়ে, অর্থাৎ শরীয়তের লিখনানুসারে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কোরবানগাহ্র উপরে জ্বালাবার জন্য আমাদের পিতৃকুল অনুসারে প্রতি বছর নির্ধারিত কালে আমাদের আল্লাহ্র গৃহে কাঠ আনবার বিষয়ে আমরা ইমাম, লেবীয় ও লোকেরা গুলিবাট করলাম;
35 আর আমাদের ভূমিজাত দ্রব্যের অগ্রিমাংশ ও সমস্ত বৃক্ষোৎপন্ন ফলের অগ্রিমাংশ প্রতি বছর মাবুদের গৃহে আনবার;
36 এবং শরীয়তে যেমন লেখা আছে, সেই অনুসারে আমাদের প্রথমজাত পুত্র ও পশুদেরকে আমাদের গরুর পাল ও ভেড়ার পালগুলোর প্রথমজাতদের আল্লাহ্র গৃহে আমাদের আল্লাহ্র গৃহের পরিচর্যাকারী ইমামদের কাছে আনবার;
37 এবং আমাদের ময়দার অগ্রিমাংশ, আমাদের উত্তোলনীয় উপহার ও সমস্ত গাছের ফল, আঙ্গুর-রস ও তেল আমাদের আল্লাহ্র গৃহের কুঠরীগুলোতে ইমামদের কাছে আনবার; এবং আমাদের ভূমিজাত দ্রব্যের দশ ভাগের এক ভাগ লেবীয়দের কাছে আনবার বিষয় স্থির করলাম; কারণ আমাদের সমস্ত কৃষি-নগরে লেবীয়েরাই দশ ভাগের এক ভাগ আদায় করে।
38 আর লেবীয়দের দশ ভাগের এক ভাগ আদায়কালে হারুনের সন্তান ইমাম লেবীয়দের সঙ্গে থাকবে; পরে লেবীয়েরা দশমাংশের দশ ভাগের এক ভাগ আমাদের আল্লাহ্র গৃহে, কুঠরীগুলোতে, ভাণ্ডারগৃহে আনবে।
39 কারণ পবিত্র স্থানের সমস্ত পাত্র এবং পরিচর্যাকারী ইমাম, দ্বারপাল ও গায়কেরা যে স্থানে থাকে, সেসব কুঠরীতে বনি-ইসরাইল ও লেবীয়রা শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের উত্তোলনীয় উপহার আনবে; এবং আমরা আমাদের আল্লাহ্র এবাদতখানা ত্যাগ করবো না।
1
সেই সময়ে লোকদের নেতৃবর্গ জেরুশালেমে বাস করলো; আর অবশিষ্ট লোকেরাও পবিত্র নগর জেরুশালেমে বাস করার জন্য প্রতি দশজনের মধ্যে এক জনকে সেখানে আনবার ও নয় জনকে অন্যান্য নগরে বাস করাবার জন্য গুলিবাঁট করলো।
2 আর যেসব লোক ইচ্ছাপূর্বক জেরুশালেমে বাস করতে চাইল, লোকেরা তাদেরকে দোয়া করলো।
3
প্রদেশের এসব প্রধান লোক জেরুশালেমে বসতি করলো। কিন্তু এহুদার নগরে নগরে ইসরাইল, ইমাম, লেবীয়, নথীনীয় ও সোলায়মানের গোলামদের সন্তানেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অধিকারে যার যার নগরে বাস করলো।
4 এহুদা-বংশের লোকদের মধ্যে ও বিন্ইয়ামীন-বংশের লোকদের মধ্যে কতগুলো লোক জেরুশালেমে বাস করলো। এহুদা-বংশের লোকদের মধ্যে উষিয়ের পুত্র অথায়; সেই উষিয় জাকারিয়ার পুত্র, জাকারিয়া অমরিয়ের পুত্র, অমরিয় শফটিয়ের পুত্র, শফটিয় মাহলাইলের পুত্র, সে পেরসের সন্তানদের মধ্যে এক জন।
5 আর বারূকের পুত্র মাসেয়, সেই বারূক কল্হোষির পুত্র, কল্হোষি হসায়ের পুত্র, হসায় অদায়ার পুত্র, অদায়া যোয়ারীবের পুত্র যোয়ারীব জাকারিয়ার পুত্র, জাকারিয়া শীলোনীয়ের পুত্র।
6 জেরুশালেম-নিবাসী পেরস-সন্তান সবসুদ্ধ চার শত আটষট্টি জন বীরপুরুষ ছিল।
7
আর বিন্ইয়ামীনের এসব সন্তান; মশুল্লমের পুত্র সল্লূ, সেই মশুল্লম যোয়েদের পুত্র, যোয়েদ পদায়ের পুত্র, পদায় কোলায়ার পুত্র, কোলায়া মাসেয়ের পুত্র, মাসেয় ঈথীয়েলের পুত্র, ঈথীয়েল যিশায়াহের পুত্র।
8 এর পরে গব্বয় ও সল্লয় প্রভৃতি নয় শত আটাশ জন।
9 আর শিখ্রির পুত্র যোয়েল তাদের কাজের তত্ত্বাবধায়ক ছিল এবং হস্সনূয়ার পুত্র, এহুদা নগরের দ্বিতীয় মালিক ছিল।
10
ইমামদের মধ্যে; যোয়ারীবের পুত্র যিদয়িয়, যাখীন, হিল্কিয়ের পুত্র সরায়;
11 সেই হিল্কিয় মশুল্লমের পুত্র, মশুল্লম সাদোকের পুত্র, সাদোক মরায়োতের পুত্র, মরায়োৎ অহীটুবের পুত্র; অহীটুব আল্লাহ্র গৃহের নেতা।
12 আর গৃহের কর্মকারী তাদের ভাইয়েরা আট শত বাইশজন; এবং যিরোহমের পুত্র অদায়া; সেই যিরোহম পললিয়ের পুত্র, পললিয় অম্সির পুত্র, অম্সি জাকারিয়ার পুত্র, জাকারিয়া পশুহূরের পুত্র, পশুহূর মল্কিয়ের পুত্র।
13 আর অদায়ার ভাইয়েরা দুই শত বিয়াল্লিশ জন পিতৃকুলপতি ছিল এবং অসরেলের পুত্র অমশয়; সেই অসরেল অহসয়ের পুত্র, অহসয় মশিল্লেমোতের পুত্র, মশিল্লেমোৎ ইম্মেরের পুত্র।
14 আর তাদের ভাইয়েরা এক শত আটাশজন বীরপুরুষ ছিল এবং তাদের কাজের তত্ত্বাবধায়ক ছিল, সব্দীয়েল, সে হগ্গদোলীমের পুত্র;
15 আর লেবীয়দের মধ্যে; হশূরের পুত্র শিমরিয়; সেই হশূব অস্রীকামের পুত্র, অস্রীকাম হশবিয়ের পুত্র, হশবিয় বুন্নির পুত্র।
16 আর প্রধান লেবীয়দের মধ্যে শব্বথয় ও যোষাবাদ হাতে আল্লাহ্র গৃহের বাইরের কাজকর্ম দেখাশোনা করবার ভার ছিল।
17 আর আসফের সন্তান, সব্দির সন্তান, মিকাহ্র পুত্র মত্তনিয় মুনাজাতকালীন প্রশংসা-গজল আরম্ভ করার কাজে প্রধান ছিল। তার ভাইদের মধ্যে বক্বুকিয় দ্বিতীয় ছিল এবং যিদূথূনের সন্তান, গাললের সন্তান, শম্মুয়ের পুত্র অব্দ।
18 পবিত্র নগরস্থ লেবীয়েরা সবসুদ্ধ দুই শত চুরাশী জন ছিল।
19
আর দ্বারপালেরা অক্কুব, টল্মোন ও দ্বারগুলোর প্রহরী তাদের ভাইয়েরা ছিল, এক শত বাহাত্তর জন।
20 আর ইসরাইলের, ইমামদের, লেবীয়দের অবশিষ্ট লোকেরা এহুদার সমস্ত নগরে নিজ নিজ অধিকারে থাকতো।
21 কিন্তু নথীনীয়েরা ওফলে বাস করতো এবং সীহ ও গীষ্প নথীনীয়দের নেতা ছিল।
22
আর বানির পুত্র উষি জেরুশালেমের লেবীয়দের তত্ত্বাবধায়ক ছিল, সেই বানি হশবিয়ের পুত্র, হশবিয় মত্তনিয়ের পুত্র, মত্তনীয় মিকাহ্র পুত্র; মিকাহ্ আসফ-বংশজাত গায়কদের মধ্যে এক জন। উষি আল্লাহ্র গৃহের কাজের নেতা ছিল।
23 কেননা তাদের বিষয়ে বাদশাহ্র একটি হুকুম ছিল এবং গায়কদের জন্য প্রতিদিন নির্ধারিত অংশ দেওয়া হত।
24 আর এহুদার পুত্র সেরহের বংশজাত মশেষবেলের পুত্র যে পথাহিয়, সে লোকদের সমস্ত বিষয়ে বাদশাহ্র অধীনে নিযুক্ত ছিল।
25
আর সমস্ত গ্রাম ও তৎসংক্রান্ত ক্ষেতের বিষয়; এহুদা-সন্তানেরা কেউ কেউ কিরিয়ৎ-অর্বে ও তার উপনগরগুলোতে, দীবোনে ও তার উপনগরগুলোতে, যিকব্সেলে ও তার গ্রামগুলোতে
26 আর যেশূয়েতে, মোলাদাতে, বৈৎপেলটে,
27 হৎসর-শুয়ালে, বের-শেবাতে ও তার উপনগরগুলোতে,
28 সিক্লগে, মকোনাতে ও তার উপনগরগুলোতে,
29 ঐন্-রিম্মোণে, সরায় ও যম্মুতে,
30 সানোহে, অদুল্লমে ও তাদের গ্রামগুলোতে, লাখীশ ও তৎসংক্রান্ত ক্ষেতে, অসেকাতে ও তার উপনগরগুলোতে বাস করতো; বস্তুত তারা বের্-শেবা থেকে হিন্নোম উপত্যকা পর্যন্ত তাঁবুতে বাস করতো।
31 বিন্ইয়ামীন-সন্তানেরা সেবা থেকে মিক্মসে ও অয়াতে এবং বেথেলে ও তার উপনগরগুলোতে,
32 অনাথোতে, নোবে, অননিয়াতে,
33 হাৎসারে রামাতে, গিত্তয়িমে,
34 হাদীদে, সবোয়িমে, নবাল্লাটে,
35 লোদে ও ওনোতে, শিল্পকরদের উপত্যকাতে, বাস করতো।
36 আর এহুদার কোন কোন পালাভুক্ত কয়েকজন লেবীয় বিন্ইয়ামীনের সঙ্গে সংযুক্ত হল।
1
এই ইমামেরা ও লেবীয়েরা শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিলের ও যেশূয়ের সঙ্গে এসেছিল, সরায়, ইয়ারমিয়া, উযায়ের,
3 শখনিয়, রহূম, মরেমোৎ,
4 ইদ্দো, গিন্নথোয়, অবিয়,
5 মিয়ামীন, মোয়াদিয়, বিল্গা,
6 শময়িয়, যোয়ারীব, যিদয়িয়,
7 সল্লুক আমোক, হিল্কিয়, যিদয়িয়; এরা যেশূয়ের সময়ে ইমামদের ও আপন আপন ভাইদের মধ্যে প্রধান ছিল।
8
আবার লেবীয়বর্গ; যেশূয়, বিন্নূয়ী, কদ্মীয়েল, শেরেবিয়, এহুদা, মত্তনিয়; এই মত্তনিয় ও তার ভাইয়েরা শুকরিয়া কাওয়ালীর নেতা ছিল।
9 আর তাদের ভাইয়েরা বক্বুকিয় ও উন্নো তাদের সম্মুখে প্রহরিকর্মে নিযুক্ত ছিল।
10 আর যেশূয়ের পুত্র যোয়াকীম, যোয়াকীমের পুত্র ইলিয়াশীব, ইলিয়াশীবের পুত্র যোয়াদা,
11 যোয়াদার পুত্র যোনাথন, যোনাথনের পুত্র যদ্দূয়।
12
যোয়াকীমের সময়ে এরা পিতৃকুলপতি ইমাম ছিল। সরায়ের কুলে মরায়, ইয়ারমিয়ার কুলে হনানিয়;
13 উযায়েরের কুলে মশুল্লম, অমরিয়ের কুলে যিহোহানন,
14 মল্লূকীর কুলে যোনাথন,
15 শবনিয়ের কুলে ইউসুফ,
16 হারীমের কুলে অদ্ন, মরায়েতের কুলে হিল্কয়, ইদ্দোর কুলে জাকারিয়া,
17 গিন্ন্নথোনের কুলে মশুল্লম, অবিয়ের কুলে সিখ্রি, মিনিয়ামীনের কুলে এক জন মোয়দিয়ের কুলে পিল্টয়,
18 বিল্গার কুলে সম্মুয়, শময়িয়ের কুলে যিহোনাথন,
19 যোয়ারীবের কুলে মত্তনয়, যিদয়িয়ের কুলে উষি,
20 সলয়ের কুলে কলয়, আমোকের কুলে এবর,
21 হিল্কিয়ের কুলে হশবিয়, যিদয়িয়ের কুলে নথনেল।
22
ইলিয়াশীবের, যোয়াদার, যোহাননের ও যদ্দূয়ের সময়ে লেবীয়দের পিতৃকুলপতিদের এবং পারসীক দারিয়ুসের রাজত্বকালে ইমামদের নাম খান্দাননামায় লেখা হল।
23 লেবীয় বংশজাত পিতৃ-কুলপতিদের নাম বংশাবলি-কিতাবে ইলিয়াশীবের পুত্র যোহাননের সময় পর্যন্ত লেখা হল।
24 লেবীয়দের প্রধান লোক হশবিয়, শেরেবিয় ও কদ্মীয়েলের পুত্র যেশূয় এবং তাদের সম্মুখস্থ ভাইয়েরা আল্লাহ্র লোক দাউদের হুকুম অনুসারে দলে দলে প্রশংসা ও প্রশংসা-গজল করতে নিযুক্ত হল।
25 মত্তনিয় ও বক্বুকিয়, ওবদিয়, মশুল্লম, টল্মোন ও অক্কুব দ্বারপাল হয়ে দ্বারগুলোর নিকটবর্তী ভাণ্ডারগুলোর প্রহরি-কর্ম করতো।
26 এরা যোষাদকের সন্তান যেশূয়ের পুত্র যোয়াকীমের সময়ে এবং শাসনকর্তা নহিমিয়ার ও অধ্যাপক উযায়ের ইমামের সময়ে ছিল।
27
আর জেরুশালেমের প্রাচীর প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে লোকেরা লেবীয়দের সকল স্থানে গিয়ে জেরুশালেমে আনবার জন্য তাদের খোঁজ করলো, যেন করতাল, নেবল ও বীণাবাদ্য পুরঃসর স্তব ও গান করে আনন্দ সহকারে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
28 আর গায়কদের সন্তানেরা জেরুশালেমের চারদিকের অঞ্চল থেকে ও নটোফাতীয়দের সকল গ্রাম থেকে,
29 এবং বৈৎ-গিল্গল থেকে এবং গেবার ও অম্মাবতের ক্ষেত থেকে একত্র হল, কেননা গায়কেরা জেরুশালেমের চারদিকে নিজেদের জন্য গ্রাম পত্তন করেছিল।
30 আর ইমামেরা ও লেবীয়েরা নিজেরা পাক-পবিত্র হল এবং তারা লোকদেরকে ও সমস্ত দ্বার ও প্রাচীর পাক-পবিত্র করলো।
31
পরে আমি এহুদার নেতাদেরকে প্রাচীরের উপরে আনলাম এবং প্রশংসা-গজলকারী দুই মহা সংকীর্তন-দল নির্ধারণ করলাম; তার এক দল) প্রাচীরের উপর দিয়ে দক্ষিণ পাশে সার-দ্বারের দিকে গেল;
32 তাদের পিছনে হোশিয়য় ও এহুদার কর্মকর্তাদের অর্ধেক,
33 এবং অসরিয়, উযায়ের ও মশুল্লম,
34 এহুদা ও বিন্ইয়ামীন এবং শমরিয় ও ইয়ারমিয়া গেল।
35 আর তুরীর সঙ্গে ইমাম-সন্তানদের মধ্যে কয়েকজন লোক, অর্থাৎ আসফের বংশজাত সক্কুরের সন্তান, মীখায়ের সন্তান, মত্তনিয়ের সন্তান, শময়িয়ের পুত্র যে যোনাথন, তার পুত্র জাকারিয়া,
36 ও এর ভাইয়েরা শময়িয় ও অসরেল, মিললয়, গিললয়, মায়য়, নথনেল, এহুদা ও হনানি, এরা আল্লাহ্র লোক দাউদের নির্ধারিত নানা বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে চললো এবং অধ্যাপক উযায়ের তাদের অগ্রভাগে চললেন।
37 তারা ফোয়ারা-দ্বারের কাছ হয়ে সম্মুখস্থ দাউদ-নগরের সোপানে প্রাচীরের বাড়ির উপর দিয়ে পানি-দ্বার পর্যন্ত পূর্ব দিকে গমন করলো।
38
আর প্রশংসা-গজলকারী দ্বিতীয় দল প্রাচীরের উপর দিয়ে তাদের সঙ্গে মিলিত হতে গেল; এবং আমিও লোকদের অর্ধেককে নিয়ে তাদের পিছনে গমন করলাম। তারা তুন্দুরের উচ্চগৃহ থেকে প্রশস্ত প্রাচীর পর্যন্ত,
39 এবং আফরাহীমের দ্বার, পুরানো দ্বার, মৎস্য-দ্বার, হননেলের উচ্চগৃহ ও হম্মেয়ার উচ্চগৃহ দিয়ে মেষ-দ্বার পর্যন্ত গেল এবং রক্ষীদের দ্বারে দাঁড়ালো।
40 এভাবে আল্লাহ্র গৃহে প্রশংসা-গজলকারীদের ঐ দুই দল এবং আমি ও আমার সঙ্গে কর্মকর্তাদের অর্ধেক লোক;
41 আর ইলীয়াকীম, মাসেয়, মিনিয়ামীন, মীখায়, ইলিয়ৈনয়, জাকারিয়া, হনানিয়, এই ইমামেরা তূরীসহ,
42 এবং মাসেয়, শময়িয়, ইলিয়াসর, উষি, যিহোহানন, মল্কিয়, ইলাম ও এষর, আমরা সকলে দাঁড়িয়ে রইলাম; তখন গায়কেরা উচ্চৈঃস্বরে গান করলো ও যিষ্রহিয় তাদের তত্ত্বাবধায়ক ছিল।
43 সেই দিনে লোকেরা অনেক কোরবানী করে আনন্দ করলো, কেননা আল্লাহ্ তাদেরকে মহানন্দে আনন্দিত করলেন এবং স্ত্রী ও বালক বালিকারাও আনন্দ করলো; তাতে অনেক দূর পর্যন্ত জেরুশালেমের আনন্দধ্বনি শোনা গেল।
44
আর সেদিন কেউ কেউ উত্তোলনীয় উপহারের, অগ্রিমাংশের ও দশমাংশের জন্য ভাণ্ডার-কুঠরীগুলোতে, ব্যবস্থানুসারে ইমামদের ও লেবীয়দের জন্য সমস্ত নগরের ক্ষেত থেকে প্রাপ্য সমস্ত অংশ তার মধ্যে সংগ্রহ করার জন্য নিযুক্ত হল; কেননা কার্যকারী ইমাম ও লেবীয়দের জন্য এহুদার লোকেরা আনন্দিত হয়েছিল।
45 আর তারা তাদের আল্লাহ্র সেবা ও পাক-পবিত্র করণের নিয়ম পালন করলো; এবং গায়কেরা ও দ্বারপালেরা দাউদ ও তাঁর পুত্র সোলায়মানের হুকুম অনুসারে কাজ করলো।
46 কেননা আগেকার দিনে দাউদ ও আসফের সময়ে গায়কদের প্রাচীনবর্গরা এবং আল্লাহ্র উদ্দেশে প্রশংসার গান ও স্তবের গান নির্ধারিত ছিল।
47 আর সরুব্বাবিল ও নহিমিয়ার সময়ে সমস্ত ইসরাইল গায়ক ও দ্বারপালদের দৈনিক অংশ দিত, আর লোকেরা লেবীয়দের জন্য দ্রব্য পৃথক করে রাখত, আবার লেবীয়েরা হারুন-সন্তানদের জন্য দ্রব্য পৃথক করে রাখত।
1
সেদিন লোকদের কর্ণগোচরে মূসার কিতাব পাঠ করা হল; তার মধ্যে লেখা এই হুকুম পাওয়া গেল, অম্মোনীয় কিংবা মোয়াবীয় লোক কখনও আল্লাহ্র সমাজে প্রবেশ করতে পারবে না;
2 কেননা তারা খাদ্য ও পানি নিয়ে বনি-ইসরাইলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নি, বরং তাদেরকে বদদোয়া দিতে তাদের প্রতিকূলে বালামকে ঘুষ দিয়েছিল; কিন্তু আমাদের আল্লাহ্ সেই বদদোয়া দোয়ায় পরিণত করলেন।
3 তখন তারা এই ব্যবস্থা শুনে সমস্ত বিদেশী বংশজাতদের ইসরাইল লোক থেকে পৃথক করলো।
4
এর আগে, আমাদের আল্লাহ্র গৃহের কুঠরীগুলোর নেতা ইমাম ইলিয়াশীব টোবিয়ের আত্মীয় হওয়াতে তার জন্য একটি বড় কুঠরী দিয়েছিল;
5 আগে লোকেরা সেই স্থানে নিবেদিত শস্য-উৎসর্গ, কুন্দুরু ও সমস্ত পাত্র এবং লেবীয়, গায়ক ও দ্বারপালদের জন্য হুকুম অনুযায়ী দেওয়া শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলের দশ ভাগের এক ভাগ এবং ইমামদের প্রাপ্য উত্তোলনীয় সমস্ত উপহার রাখত।
6 কিন্তু এসব ঘটনার সময়ে আমি জেরুশালেমে ছিলাম না, কেননা ব্যাবিলনের বাদশাহ্ আর্টা-জারেক্সেসের দ্বাত্রিংশ বছরে আমি বাদশাহ্র কাছে গিয়ে কিছু দিন পর বাদশাহ্র কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
7 পরে আমি জেরুশালেমে এলাম, আর ইলিয়াশীব টোবিয়কে আল্লাহ্র গৃহের প্রাঙ্গণে একটি কুঠরী দিয়ে যে অপকর্ম করেছে, তা অবগত হলাম।
8 এতে আমার অতিশয় অসন্তোষ জন্মাল; তাই ঐ কুঠরী থেকে টোবিয়ের সমস্ত গৃহসামগ্রী বের করে ফেললাম।
9 আর আমি হুকুম দিয়ে সমস্ত কুঠরী পাক-পবিত্র করালাম এবং সেই স্থানে আল্লাহ্র গৃহের সমস্ত পাত্র, শস্য-উৎসর্গ ও কুন্দুরু পুনর্বার আনালাম।
10
আর আমি জানতে পারলাম, লেবীয়দের অংশ তাদেরকে দেওয়া হয় নি, সেজন্য কর্মকারী লেবীয় ও গায়কেরা পালিয়ে প্রত্যেকে যার যার ভূমিতে চলে গেছে।
11 তাতে আমি কর্মকর্তাদেরকে অনুযোগ করে বললাম আল্লাহ্র এবাদতখানা কেন পরিত্যক্ত হল? পরে ওদেরকে সংগ্রহ করে স্ব স্ব পদে স্থাপন করলাম।
12 আর সমস্ত এহুদা শস্যের, আঙ্গুর-রস ও তেলের দশ ভাগের এক ভাগ ভাণ্ডারে আনতে লাগল।
13 আর আমি শেলিমিয় ইমাম ও সাদোক আলেমকে এবং লেবীয়দের মধ্যে পদায়কে ও তাদের অধীনে মত্তনিয়ের পৌত্র সক্কুরের পুত্র হাননকে ভাণ্ডারগুলোর নেতা করলাম, কেননা তারা বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত ছিল, আর তাদের ভাইদেরকে অংশ বিতরণ করা তাদের কাজ হল।
14 হে আমার আল্লাহ্, এই বিষয়ে আমাকে স্মরণ কর; আমি আমার আল্লাহ্র গৃহের জন্য ও তাঁর সেবার জন্য যেসব সাধু কাজ করেছি, তা মুছে দিও না।
15
ঐ সময়ে আমি এহুদার মধ্যে কতগুলো লোককে বিশ্রামবারে আঙ্গুরযন্ত্র মাড়াই করতে, আটি আনতে ও গাধার উপরে চাপাতে এবং বিশ্রামবারে আঙ্গুর-রস, আঙ্গুর ফল ও ডুমুরাদি সকল দ্রব্যের বোঝা জেরুশালেমে আনতে দেখলাম; তাতে যেদিন তারা খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করছিল, সেদিন আমি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম।
16 আর টায়ারের কতগুলো লোক নগরে বাস করতো, তারা মাছ ও সমস্ত রকম বিক্রয়ের দ্রব্য এনে বিশ্রামবারে এহুদা-বংশের লোকদের কাছে ও জেরুশালেমে বিক্রি করতো।
17 তখন আমি এহুদার প্রধান লোকদেরকে অনুযোগ করে বললাম তোমরা বিশ্রামবার নাপাক করে এই কি কুকাজ করছো?
18 তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কি সেই একই কাজ করতো না? আর সেজন্য আমাদের আল্লাহ্ কি আমাদের উপরে ও এই নগরের উপরে এসব অমঙ্গল ঘটান নি? আবার তোমরাও বিশ্রামবার নাপাক করে ইসরাইলের উপরে আরও ক্রোধ বর্তাচ্ছ।
19
পরে বিশ্রামবারের আগে জেরুশালেমের দ্বারগুলোর উপর সন্ধ্যার ছায়া পড়লে আমি কবাট বন্ধ করতে হুকুম করলাম; আরও বললাম, বিশ্রামবার অতীত না হলে এই দ্বার খুলবে না; আর বিশ্রামবারে যেন কোন বোঝা ভিতরে আনা না হয়, এজন্য আমি আমার কয়েক জন যুবককে দ্বারে নিযুক্ত করলাম।
20 তাতে বণিকেরা ও সমস্ত রকম দ্রব্যের বিক্রেতারা দুই এক বার জেরুশালেমের বাইরে রাত যাপন করলো।
21 তখন আমি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে তাদেরকে বললাম তোমরা কেন প্রাচীরের সম্মুখে রাত যাপন কর? যদি আবার এমন কর, তবে আমি তোমাদের উপরে হাত উঠাবো।
22 সেই সময় থেকে তারা বিশ্রামবারে আর এল না। পরে বিশ্রামবার পবিত্র করার জন্য আমি লেবীয়দেরকে পাক-পবিত্র হতে এবং সমস্ত দ্বার রক্ষা করার জন্য আসতে হুকুম করলাম। হে আমার আল্লাহ্, এই বিষয়েও আমাকে স্মরণ কর এবং তোমার অটল মহব্বতের মাহাত্ম্য অনুসারে আমার প্রতি করুণা কর।
23
আবার সেই সময়ে আমি দেখলাম, ইহুদীদের কেউ কেউ অস্দোদীয়া, অম্মোনীয়া ও মোয়াবীয়া স্ত্রী গ্রহণ করেছে;
24 এবং তাদের সন্তানেরা অর্ধেক অস্দোদীয় ভাষায় কথা বলছে, ইহুদীদের ভাষায় কথা বলতে জানে না, কিন্তু নিজের নিজের জাতির ভাষানুসারে কথা বলে।
25 তাতে আমি তাদের সঙ্গে ঝগড়া করলাম, তাদেরকে তিরস্কার করলাম এবং তাদের কোন কোন ব্যক্তিকে প্রহার ও তাদের চুল উৎপাটন করলাম এবং আল্লাহ্র নামে তাদেরকে এই বলে কসম করালাম, তোমরা ওদের পুত্রদের সঙ্গে নিজ নিজ কন্যাদের বিয়ে দেবে না ও নিজ নিজ পুত্রদের জন্য কিংবা নিজেদের জন্য ওদের কন্যাদেরকে গ্রহণ করবে না।
26 ইসরাইলের বাদশাহ্ সোলায়মান এসব কাজ করে কি অপরাধী হন নি? কিন্তু অনেক জাতির মধ্যে তার মত কোন বাদশাহ্ ছিল না; আর তিনি তার আল্লাহ্র প্রিয় পাত্র ছিলেন এবং আল্লাহ্ তাঁকে সমস্ত ইসরাইলের উপরে বাদশাহ্ করেছিলেন; তবুও বিজাতীয় স্ত্রীরা তাঁকেও গুনাহ্ করিয়েছিল।
27 অতএব আমরা কি তোমাদের এই কথায় কান দেব যে, তোমরা বিজাতীয় কন্যাদেরকে বিয়ে করে আমাদের আল্লাহ্র বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করার জন্য এ সব মহাগুনাহ্ করবে?
28
ইলিয়াশীব মহা-ইমামের পুত্র যিহোয়াদার এক পুত্র হোরুনীয় সন্বল্লটের জামাতা ছিল, এজন্য আমি আমার কাছ থেকে তাকে তাড়িয়ে দিলাম।
29 হে আমার আল্লাহ্, তাদেরকে স্মরণ কর, কেননা তারা ইমামের পদ এবং ইমামের পদের ও লেবীয়দের নিয়ম কলঙ্কিত করেছে।
30
এভাবে আমি বিজাতীয় সকলের থেকে তাদেরকে পরিষ্কার করলাম এবং প্রত্যেকের কাজ অনুসারে ইমাম ও লেবীয়দের কর্তব্য স্থির করলাম;
31 আর নিরূপিত সময়ে কাঠ দানের জন্য ও অগ্রিমাংশগুলোর জন্য লোক নিযুক্ত করলাম। হে আমার আল্লাহ্, মঙ্গলার্থে আমাকে স্মরণ কর।
1
জারেক্সের সময়ে এই ঘটনা ঘটল। ্এই জারেক্স হিন্দুস্থান থেকে ইথিওপিয়া দেশ পর্যন্ত এক শত সাতাশ প্রদেশের উপরে রাজত্ব করতেন।
2 সেই সময়ে বাদশাহ্ জারেক্স শূশন রাজধানীতে রাজ-সিংহাসনে উপবিষ্ট হলেন।
3 তাঁর রাজত্বের তৃতীয় বছরে তাঁর সমস্ত নেতা ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি ভোজ প্রস্তুত করলেন; পারস্য ও মাদিয়া দেশের বিক্রমশালী লোকেরা, প্রধানেরা ও প্রদেশের শাসনকর্তারা তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলেন।
4 তিনি অনেক দিন অর্থাৎ এক শত আশি দিন পর্যন্ত তাঁর প্রতাপান্বিত রাজ্যের ঐশ্বর্য ও তাঁর উৎকৃষ্ট মহত্ত্বের গৌরব প্রদর্শন করলেন।
5
সেসব দিন সম্পূর্ণ হবার পর বাদশাহ্ শূশন রাজধানীতে উপস্থিত ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত লোকের জন্য রাজপ্রাসাদের বাগানের প্রাঙ্গণে সপ্তাহকালব্যাপী ভোজ প্রস্তুত করলেন।
6 সেখানে কার্পাসের তৈরি সাদা ও নীল রংয়ের চন্দ্রাতপ ছিল, তা মসীনা সুতার বেগুনিয়া রংয়ের দড়ি দিয়ে রূপার কড়াতে মার্বেলস্তম্ভে বাঁধা ছিল এবং লাল, সাদা, সবুজ ও কাল মার্বেল পাথরে সজ্জিত মেঝের উপর সোনার ও রূপার আসনশ্রেণী স্থাপিত ছিল।
7 আর বাদশাহ্র উদারতা অনুসারে সোনার পাত্রে পানীয় ও প্রচুর রাজকীয় আঙ্গুর-রস দেওয়া হল, সেসব পাত্র নানা রকম ছিল।
8 তাতে নিয়ম অনুসারেই পান করা হল। কেউ জোর করলো না; কেননা যার যেমন ইচ্ছা, সেই অনুসারে তাকে করতে দাও, এই হুকুম বাদশাহ্ তাঁর বাড়ির সমস্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছিলেন।
9 আর বষ্টী রাণীও জারেক্সের রাজপ্রাসাদে মহিলাদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করলেন।
10
সপ্তম দিন যখন বাদশাহ্ আঙ্গুর-রসে প্রফুল্লচিত্ত ছিলেন, তখন তিনি মহূনন, বিস্থা, হর্বোণা, বিগ্থা, অবগথ, সেথর কর্ক্কস নামে বাদশাহ্ জারেক্সের সম্মুখে পরিচর্যাকারী এই সাত জন নপুংসককে হুকুম করলেন,
11 যেন তারা লোকদের ও কর্মকর্তাদেরকে বষ্টী রাণীর সৌন্দর্য দেখাবার জন্য তাঁকে রাজমুকুট পরিয়ে বাদশাহ্র সাক্ষাতে আনয়ন করে; কেননা তিনি দেখতে সুন্দরী ছিলেন।
12 কিন্তু বষ্টী রাণী নপুংসকদের দ্বারা প্রেরিত বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে আসতে সম্মত হলেন না; তাতে বাদশাহ্ অতিশয় ক্রুদ্ধ হলেন, তাঁর অন্তরে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলো।
13
পরে বাদশাহ্ কালজ্ঞ জ্ঞানীলোকদেরকে এই বিষয় বললেন; কেননা আইন ও রীতিনীতির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পুরুষ সকলের কাছে বাদশাহ্র এ রকম বলবার প্রথা ছিল।
14 আর কর্শনা, শেথর, অদ্মাথা তর্শীশ, মেরস, মর্সনা ও মমূখন, এঁরা তাঁর কাছে ছিলেন; এই সাত জন পারস্য ও মাদিয়া দেশের কর্মকর্তা বাদশাহ্র সান্নিধ্যে ছিলেন এবং রাজ্যের শ্রেষ্ঠ স্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
15 বাদশাহ্ বললেন, বষ্টী রাণী নপুংসকদের দ্বারা প্রেরিত বাদশাহ্ জারেক্সের হুকুম মানে নি, অতএব ব্যবস্থানুসারে তার প্রতি কি কর্তব্য?
16 তখন মমূখন বাদশাহ্র ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাতে উত্তর করলেন, বষ্টী রাণী যে কেবল বাদশাহ্র কাছে অপরাধ করেছেন তা নয়, কিন্তু বাদশাহ্ জারেক্সের অধীন সমস্ত প্রদেশের সমস্ত কর্মকর্তাদের ও লোকের কাছে অপরাধ করেছেন।
17 কেননা রাণীর এই কাজের কথা সমস্ত স্ত্রীলোকের মধ্যে রটে যাবে; সুতরাং বাদশাহ্ জারেক্স বষ্টী রাণীকে তাঁর সম্মুখে আসতে হুকুম করলেও তিনি আসলেন না, এই কথা শুনলে তারা নিজ নিজ স্বামীকে অবজ্ঞা করবে।
18 আর পারস্য ও মাদিয়ার যে কুলীন মহিলারা রাণীর এই কাজের সংবাদ শুনলেন, তাঁরা আজই বাদশাহ্র সকল কর্মকর্তাকে ঐরূপ বলবেন, তাতে অতিশয় অবমাননা ও ক্রোধ জন্মাবে।
19 যদি বাদশাহ্র অভিমত হয়, তবে বষ্টী বাদশাহ্ জারেক্সের সম্মুখে আর আসতে পারবেন না, এই বাদশাহী হুকুম আপনার শ্রীমুখ থেকে প্রকাশিত হোক এবং এর অন্যথা যেন না হয়, এজন্য এই পারসীক ও মাদীয়দের আইনের মধ্যে লেখা হোক; পরে বাদশাহ্ তাঁর রাজ্ঞীপদ নিয়ে তাঁর চেয়ে উৎকৃষ্টা আর এক জন রাণীকে দিন।
20 বাদশাহ্ যে হুকুম দেবেন, তা যখন তাঁর বিরাট রাজ্যের সর্বত্র প্রচারিত হবে, তখন সমস্ত স্ত্রীলোক ক্ষুদ্র বা মহান, নিজ নিজ স্বামীকে সম্মান করবে।
21
এই কথা বাদশাহ্র ও কর্মকর্তাদের তুষ্টিকর হলে বাদশাহ্ মমূখনের কথানুযায়ী কাজ করলেন।
22 তিনি এক এক প্রদেশের অক্ষরানুসারে ও এক এক জাতির ভাষা অনুসারে বাদশাহ্র অধীন সমস্ত প্রদেশে এরকম পত্র পাঠালেন, “প্রত্যেক পুরুষ নিজ নিজ বাড়িতে কর্র্তৃত্ব করুক ও স্বজাতীয় ভাষায় এই কথা প্রচার করুক।”
1
এসব ঘটনার পরে বাদশাহ্ জারেক্সের ক্রোধ শান্ত হলে তিনি বষ্টীকে, তাঁর কাজ ও তাঁর প্রতিকূলে যে হুকুম দেওয়া হয়েছিল তা স্মরণ করলেন।
2 তখন বাদশাহ্র পরিচর্যাকারী ভৃত্যেরা তাঁকে বললো, বাদশাহ্র জন্য সুন্দরী যুবতী কুমারীদের খোঁজ করা যাক।
3 বাদশাহ্ তাঁর রাজ্যের সমস্ত প্রদেশে কর্মচারীদেরকে নিযুক্ত করুন; তারা সেসব সুন্দরী যুবতী কুমারীদেরকে শূশন রাজধানীতে একত্র করে অন্তঃপুরে স্ত্রীলোকদের রক্ষক রাজ-নপুংসক হেগয়ের হাতে দিক এবং তাদের প্রসাধনী দ্রব্য দেওয়া হোক।
4 পরে বাদশাহ্র দৃষ্টিতে যে কন্যা উৎকৃষ্ট হবেন, তিনি বষ্টীর পদে রাণী হোন। তখন এই কথা বাদশাহ্র তুষ্টিকর হওয়াতে তিনি সেই অনুসারে করলেন।
5
সেই সময়ে যায়ীরের পুত্র মর্দখয় নামে এক জন ইহুদী শূশন রাজধানীতে ছিলেন। সেই যায়ীরের পিতা শিমিয়ি, শিমিয়ির পিতা বিন্ইয়ামীনীয় কীশ।
6 ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার কর্তৃক বন্দীরূপে নীত এহুদার বাদশাহ্ যিকনিয়ের সঙ্গে যেসব লোক বন্দী হয়েছিল, কীশ তাদের সঙ্গে জেরুশালেম থেকে বন্দীরূপে নীত হয়েছিলেন।
7 মর্দখয় তাঁর চাচার কন্যা হদসাকে অর্থাৎ ইষ্টেরকে প্রতিপালন করতেন; কারণ তাঁর পিতা-মাতা ছিল না। সেই কন্যা সুন্দরী ও রূপবতী ছিলেন; তাঁর পিতা-মাতা মারা যাবার পর মর্দখয় তাঁকে পোষ্যপুত্রী করেছিলেন।
8 পরে বাদশাহ্র ঐ কথা ও হুকুম প্রচার হলে পর যখন শূশন রাজধানীতে হেগয়ের কাছে অনেক কন্যা সংগৃহীত হল, তখন ইষ্টেরকেও রাজপ্রাসাদে স্ত্রীরক্ষক হেগয়ের কাছে নেওয়া হল।
9 আর সেই যুবতী হেগয়ের দৃষ্টিতে উৎকৃষ্ট হলেন ও তাঁর কাছে দয়া পেলেন এবং তিনি তাড়াতাড়ি প্রসাধনী দ্রব্যগুলো এবং আরও যে যে দ্রব্যের অংশ তাঁকে দিতে হয় তা দিলেন। এছাড়া, রাজপ্রাসাদ থেকে মনোনীত সাত জন বাঁদী তাঁকে দিলেন এবং সেই বাঁদীদের সঙ্গে তাঁকে অন্তঃপুরের উৎকৃষ্ট স্থানে নিয়ে রাখলেন।
10 ইষ্টের তাঁর জাতির কি গোত্রের পরিচয় দিলেন না; কারণ মর্দখয় তা জানাতে তাঁকে বারণ করেছিলেন।
11 পরে ইষ্টের কেমন আছেন ও তাঁর প্রতি কি করা হয়, তা জানবার জন্য মর্দখয় প্রতিদিন অন্তঃপুরের প্রাঙ্গণের সম্মুখে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।
12
আর বারো মাস পর্যন্ত স্ত্রীলোকদের জন্য নিয়মিত সেবা পাবার পর বাদশাহ্ জারেক্সের কাছে এক এক কন্যার গমনের পালা উপস্থিত হত; যেহেতু তাদের সৌন্দর্যচর্চায় দীর্ঘ দিন লাগতো, বস্তুত ছয় মাস গন্ধরসের তেল, ছয় মাস সুগন্ধি ও স্ত্রীলোকের প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহৃত হত;
13 আর বাদশাহ্র কাছে যেতে হলে প্রত্যেক যুবতীর জন্য এই নিয়ম ছিল; সে যে কোন দ্রব্য চাইত, তা অন্তঃপুর থেকে রাজপ্রাসাদে গমনের সময়ে সঙ্গে নিয়ে যাবার জন্যে তাকে দেওয়া যেত।
14 সে সন্ধ্যাবেলা যেত ও খুব ভোরে উপপত্নীদের রক্ষক রাজ-নপুংসক শাশ্গসের কাছে দ্বিতীয় অন্তঃপুরে ফিরে আসত; বাদশাহ্ তার উপরে খুশি হয়ে তার নাম ধরে না ডাকলে সে বাদশাহ্র কাছে আর যেত না।
15
পরে মর্দখয় তাঁর চাচা অবীহয়িলের যে কন্যাকে পোষ্যপুত্রী করেছিলেন, যখন বাদশাহ্র কাছে সেই ইষ্টেরের যাবার পালা হল, তখন তিনি কিছুই চাইলেন না, কেবল স্ত্রীলোকদের রক্ষক রাজ-নপুংসক হেগয় যা যা নির্ধারণ করলেন, তা-ই মাত্র সঙ্গে নিলেন; আর যে কেউ ইষ্টেরের প্রতি দৃষ্টিপাত করতো, সে তাঁকে দয়া করতো।
16 বাদশাহ্র রাজত্বের সপ্তম বছরের দশম মাসে অর্থাৎ টেবেৎ মাসে ইষ্টেরকে বাদশাহ্ জারেক্সের কাছে রাজপ্রাসাদে নেওয়া হল।
17 আর বাদশাহ্ অন্য সকল স্ত্রীলোকের চেয়ে ইষ্টেরকে বেশি ভালবাসলেন এবং অন্য সকল কুমারীর চেয়ে তিনিই বাদশাহ্র দৃষ্টিতে অনুগ্রহ ও দয়া লাভ করলেন; অতএব বাদশাহ্ তাঁরই মাথায় রাজমুকুট দিয়ে বষ্টীর পদে তাঁকে রাণী করলেন।
18 পরে বাদশাহ্ তাঁর সমস্ত কর্মকর্তা ও গোলামদের জন্য ইষ্টেরের সম্মানার্থে ভোজ বলে মহাভোজ প্রস্তুত করলেন এবং সকল প্রদেশের কর মার্জনা করলেন ও নিজের রাজকীয় উদারতা অনুসারে দান করলেন।
19
দ্বিতীয় বার কুমারী সংগ্রহের সময়ে মর্দখয় রাজদ্বারে বসতেন।
20 তখনও ইষ্টের মর্দখয়ের হুকুম অনুসারে তাঁর গোত্রের বা জাতির পরিচয় দেন নি; কারণ ইষ্টের মর্দখয়ের কাছে প্রতিপালিত হবার সময়ে যেমন করতেন, তখনও তেমনি তাঁর হুকুম পালন করতেন।
21 সেই সময়ে অর্থাৎ যখন মর্দখয় রাজদ্বারে বসতেন, তখন দ্বারপালদের মধ্যে বিগ্থন ও তেরশ নামে রাজপ্রাসাদের দু’জন নপুংসক ক্রুদ্ধ হয়ে বাদশাহ্ জারেক্সকে আক্রমণ করতে চেষ্টা করলো।
22 কিন্তু সেই বিষয় মর্দখয় জানতে পেরে তিনি ইষ্টের রাণীকে তা জানালেন; এবং ইষ্টের মর্দখয়ের নাম করে বাদশাহ্কে তা বললেন।
23 তাতে অনুসন্ধানে সেই কথা প্রমাণিত হলে ঐ দুই জনকে গাছে ফাঁসি দেওয়া হল এবং সেই কথা বাদশাহ্র সাক্ষাতে ইতিহাস-পুস্তকে লেখা হল।
1
ঐ সমস্ত ঘটনার পরে বাদশাহ্ জারেক্স অগাগীয় হম্মদাথার পুত্র হামনকে উন্নত করলেন, উঁচু পদ দিলেন এবং তার সঙ্গী সমস্ত কর্মকর্তার চেয়ে তাকে শ্রেষ্ঠ আসন দিলেন।
2 তাতে বাদশাহ্র যে গোলামেরা রাজদ্বারে থাকতো, তারা সকলে হামনের কাছে নত হয়ে সালাম করতে লাগল, কারণ বাদশাহ্ তার সম্বন্ধে সেরকম হুকুম করেছিলেন; কিন্তু মর্দখয় নতও হতেন না, সালামও করতেন না।
3 তাতে বাদশাহ্র যে গোলামেরা রাজদ্বারে থাকতো, তারা মর্দখয়কে বললো, তুমি বাদশাহ্র হুকুম কেন লঙ্ঘন করছো?
4 এভাবে তারা প্রতিদিন তাঁকে বলতো, তবুও তিনি তাদের কথা শুনতেন না। তাতে মর্দখয়ের কথা স্থির থাকে কি না, তা জানবার ইচ্ছাতে তারা হামনকে তা জানালো; কেননা মর্দখয় যে ইহুদী, এই কথা তিনি তাদেরকে বলেছিলেন।
5 আর হামন যখন দেখলো যে, মর্দখয় তার কাছে নত হয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে সালাম করে না, তখন সে ক্রোধে পরিপূর্ণ হল।
6 কিন্তু সে কেবল মর্দখয়ের উপরে হস্তক্ষেপ করা লঘু বিষয় মনে করলো; বরং মর্দখয়ের জাতি অবগত হওয়াতে সে বাদশাহ্ জারেক্সের সমস্ত রাজ্যে সমস্ত ইহুদীকে মর্দখয়ের জাতি বলে বিনষ্ট করতে চেষ্টা করলো।
7
আর সেই বিষয়ে বাদশাহ্ জারেক্সের বারো বছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ নীষণ মাসে হামনের সাক্ষাতে ক্রমাগত প্রত্যেক দিনে ও প্রত্যেক মাসে অদর নামক বারো মাস পর্যন্ত পূর অর্থাৎ গুলিবাঁট করা হল।
8 পরে হামন বাদশাহ্ জারেক্সকে বললো, আপনার রাজ্যের সমস্ত প্রদেশের জাতিদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত অথচ পৃথক্কৃত এক জাতি আছে; অন্য সকল জাতির নিয়ম থেকে তাদের নিয়ম ভিন্ন এবং তারা বাদশাহ্র আইন পালন করে না; অতএব তাদেরকে থাকতে দেওয়া বাদশাহ্র পক্ষে ভাল হবে না।
9 যদি বাদশাহ্র অভিমত হয়, তবে তাদেরকে বিনষ্ট করতে লেখা যাক; তাতে আমি রাজ-ভাণ্ডারে রাখার জন্য কার্যকারী লোকদের হাতে দশ হাজার তালন্ত রূপা দেব।
10 তখন বাদশাহ্ তাঁর হাত থেকে আংটি খুলে ইহুদীদের দুশমন অগাগীয় হম্মদাথর পুত্র হামনকে দিলেন।
11 আর বাদশাহ্ হামনকে বললেন, সেই রূপা ও সেই জাতি তোমাকে দেওয়া হল, তুমি তাদের প্রতি যা ভাল বোঝ, তা-ই কর।
12
পরে প্রথম মাসের ত্রয়োদশ দিনে রাজলেখকদের ডাকা হল; সেদিন হামনের সমস্ত হুকুম অনুসারে বাদশাহ্র নিযুক্ত প্রদেশপাল সকলের ও প্রত্যেক প্রদেশের শাসনকর্তাদের এবং প্রত্যেক জাতির কর্মকর্তাদের কাছে, প্রত্যেক প্রদেশের অক্ষর ও প্রত্যেক জাতির ভাষানুসারে পত্র লেখা হল, তা বাদশাহ্ জারেক্সের নামে লেখা ও বাদশাহ্র আংটি দিয়ে সীলমোহর করা হল।
13 আর পত্র-বাহকদের দ্বারা বাদশাহ্র অধীন সমস্ত প্রদেশে সেই পত্র প্রেরিত হল যে, এক দিনে অর্থাৎ অদর নামক বারো মাসের ত্রয়োদশ দিনে যুবা ও বৃদ্ধ, শিশু ও স্ত্রীসুদ্ধ সমস্ত ইহুদী লোককে সংহার, হত্যা ও বিনাশ এবং তাদের দ্রব্য লুট করতে হবে।
14 সেই হুকুম যেন প্রত্যেক প্রদেশে দেওয়া হয়, এজন্য সেই পত্রের একটি অনুলিপি সকল জাতির কাছে প্রচারিত হল, যাতে সেই দিনের জন্য সকলে প্রস্তুত হয়।
15 ধাবকেরা বাদশাহ্র হুকুম পেয়ে দ্রুত বাইরে গেল; এবং সেই হুকুম শূশন রাজধানীতে প্রচারিত হল; পরে বাদশাহ্ ও হামন পান করতে বসলেন, কিন্তু শূশন নগরে ভীষণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হল।
1
পরে মর্দখয় এসব ব্যাপার জানতে পেরে নিজের কাপড় ছিঁড়লেন এবং চট পরে ও ভস্ম লেপন করে নগরের মধ্যে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন।
2 পরে তিনি রাজদ্বারের সম্মুখে পর্যন্ত আসলেন, কিন্তু চট পরে রাজদ্বারে প্রবেশ করার উপায় ছিল না।
3 আর প্রত্যেক প্রদেশের যে কোন স্থানে বাদশাহ্র ডিক্রি ও হুকুম উপস্থিত হল, সেই স্থানে ইহুদীদের মধ্যে মহাশোক, রোজা, কান্নাকাটি ও মাতম হল এবং অনেকে চটে ও ভস্মে বিছানা পাতল।
4
পরে ইষ্টেরের বাঁদীরা ও নপুংসকেরা এসে ঐ কথা তাঁকে জানালো; তাতে রাণী অতিশয় মনোকষ্ট পেলেন; এবং মর্দখয়কে চট পরিত্যাগ ও পোশাক পরাবার জন্য পোশাক প্রেরণ করলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না।
5 তখন ইষ্টের তাঁর পরিচর্যায় নিযুক্ত রাজ-নপুংসক হথককে ডেকে, কি হয়েছে ও কেন হয়েছে, তা জানবার জন্য মর্দখয়ের কাছে যেতে হুকুম করলেন।
6 পরে হথক রাজদ্বারের সম্মুখস্থ নগরের চকে মর্দখয়ের কাছে গেলেন।
7 তাতে মর্দখয় তাঁর প্রতি যা যা ঘটেছে এবং ইহুদীদেরকে বিনষ্ট করার জন্য হামন যে পরিমাণ রূপা রাজ-ভাণ্ডারে দিতে ওয়াদা করেছে, তা তাঁকে জানালেন।
8 আর তাদের বিনাশ করবার জন্য যে হুকুম-পত্র শূশনে দেওয়া হয়েছে, তার একখানি অনুলিপি তাঁকে দিয়ে ইষ্টেরকে তা দেখাতে ও বুঝাতে বললেন এবং তিনি যেন বাদশাহ্র কাছে প্রবেশ করে তাঁর কাছে ফরিয়াদ ও স্বজাতির জন্য অনুরোধ করেন, এমন হুকুম করলেন।
9
পরে হথক এসে মর্দখয়ের কথা ইষ্টেরকে জানালেন।
10 তখন ইষ্টের হথককে এই কথা বলে মর্দখয়ের কাছে যেতে হুকুম করলেন,
11 বাদশাহ্র গোলামেরা ও বাদশাহ্র অধীন প্রদেশগুলোর লোকেরা সকলেই জানে, কোন পুরুষ বা স্ত্রীলোক বাদশাহ্র ডাক না পেয়ে যদি প্রাঙ্গণে বাদশাহ্র কাছে যায়, তার জন্য একমাত্র ব্যবস্থা এই যে, তার প্রাণদণ্ড হবে; কেবল যে ব্যক্তির প্রতি বাদশাহ্ সোনার রাজদণ্ড বিস্তার করেন, সে-ই মাত্র বাঁচে; আর ত্রিশ দিন যাবৎ আমি বাদশাহ্র কাছে যাবার জন্য কোন ডাক পাই নি।
12 ইষ্টেরের এই কথা মর্দখয়কে জানানো হল।
13 তখন মর্দখয় ইষ্টেরকে এই উত্তর দিতে বললেন, সমস্ত ইহুদীর মধ্যে কেবল তুমি রাজপ্রাসাদে থাকাতে রক্ষা পাবে, তা মনে করো না।
14 ফলে যদি তুমি এই সময়ে সর্বতোভাবে নীরব হয়ে থাক, তবে অন্য কোন স্থান থেকে ইহুদীদের উপকার ও নিস্তার ঘটবে, কিন্তু তুমি তোমার পিতৃকুলের সঙ্গে বিনষ্ট হবে; আর কে জানে যে, তুমি এই রকম সময়ের জন্যই রাণীর পদ পাও নি?
15 তখন ইষ্টের মর্দখয়কে এই উত্তর দিতে হুকুম করলেন,
16 তুমি যাও, শূশনে উপস্থিত সমস্ত ইহুদীকে একত্র কর এবং সকলে আমার জন্য রোজা রাখ, তিন দিন, দিনে কি রাতে কিছু আহার করো না, কিছু পানও করো না, আর আমি ও আমার বাঁদীরাও তেমনি রোজা রাখবো; এভাবে আমি বাদশাহ্র কাছে যাব, তা আইনের বিরুদ্ধে হলেও যাব, আর যদি বিনষ্ট হতে হয়, হবো।
17 পরে মর্দখয় গিয়ে ইষ্টেরের সমস্ত হুকুম অনুসারে কাজ করলেন।
1
আর তৃতীয় দিনে ইষ্টের রাজপোশাক পরে বাদশাহ্র বাড়ির ভিতরে প্রাঙ্গণে বাদশাহ্র বাড়ির সম্মুখে দাঁড়ালেন; তখন বাদশাহ্ রাজপ্রাসাদে গৃহদ্বারের সম্মুখে রাজ-সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন।
2 আর বাদশাহ্ যখন দেখলেন যে ইষ্টের রাণী প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন বাদশাহ্র দৃষ্টিতে ইষ্টের অনুগ্রহ পেলেন, বাদশাহ্ ইষ্টেরের প্রতি তাঁর হাতে থাকা সোনার রাজদণ্ড বাড়িয়ে দিলেন; তাতে ইষ্টের কাছে এসে রাজদণ্ডের অগ্রভাগ স্পর্শ করলেন।
3 পরে বাদশাহ্ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইষ্টের রাণী, তুমি কি চাও? তোমার অনুরোধ কি? রাজ্যের অর্ধেক পর্যন্ত হলেও তা তোমাকে দেওয়া যাবে।
4 জবাবে ইষ্টের বললেন, যদি বাদশাহ্র ভাল মনে হয়, তবে আমি আপনার জন্য যে ভোজ প্রস্তুত করেছি, বাদশাহ্ ও হামোন সেই ভোজে আজ অংশ গ্রহণ করুন।
5 তখন বাদশাহ্ বললেন, ইষ্টেরের কথা অনুসারে যেন কাজ হয়, সেজন্য হামোনকে ত্বরা করতে বল। পরে বাদশাহ্ ও হামন ইষ্টেরের প্রস্তুতকৃত ভোজে গেলেন।
6
পরে আঙ্গুর-রস সহযুক্ত ভোজের সময়ে বাদশাহ্ ইষ্টেরকে বললেন, তোমার নিবেদন কি? তা তোমাকে দেওয়া যাবে; তোমার অনুরোধ কি? রাজ্যের অর্ধেক পর্যন্ত হলেও তা সিদ্ধ হবে।
7 ইষ্টের জবাবে বললেন, আমার নিবেদন ও অনুরোধ এই,
8 আমি যদি বাদশাহ্র দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি এবং আমার নিবেদন গ্রাহ্য করতে ও আমার অনুরোধ সিদ্ধ করতে যদি বাদশাহ্র ভাল মনে হয়, তবে আমি আপনাদের জন্য যা প্রস্তুত করবো, বাদশাহ্ ও হামন সেই ভোজে অংশ গ্রহণ করুন; এবং আমি আগামীকাল বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে মহারাজের প্রশ্নের জবাব দেব।
9
সেদিন হামন সুখী ও হৃষ্টচিত্ত হয়ে বাইরে গেল, কিন্তু যখন রাজদ্বারে মর্দখয়ের দেখা পেল এবং তিনি তার সম্মুখে উঠে দাঁড়ালেন না ও ভয়ে কাঁপলেন না, তখন হামন মর্দখয়ের প্রতি ক্রোধে পরিপূর্ণ হল।
10 তবুও হামন ক্রোধ সম্বরণ করলো এবং নিজের বাড়িতে এসে তার বন্ধুদের ও তার স্ত্রী সেরশকে ডেকে আনাল।
11 আর হামন তাদের কাছে তার ঐশ্বর্যের প্রতাপ ও সন্তান-বাহূল্যের কথা এবং বাদশাহ্ কিভাবে সমস্ত বিষয়ে তাকে উঁচু পদ দিয়েছেন ও কিভাবে তাকে কর্মকর্তা ও বাদশাহ্র গোলামদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আসন দিয়েছেন, এ সব তাদের কাছে বর্ণনা করলো।
12 হামন আরও বললো, ইষ্টের রাণী তাঁর প্রস্তুত ভোজে বাদশাহ্র সঙ্গে আর কাউকেও আনান নি, কেবল আমাকেই আনিয়েছিলেন; আগামীকালও আমি বাদশাহ্র সঙ্গে তাঁর কাছে দাওয়াত পেয়েছি।
13 কিন্তু যে পর্যন্ত আমি রাজদ্বারে উপবিষ্ট ইহুদী মর্দখয়কে দেখতে পাই, সেই পর্যন্ত এ সমস্তেও আমার শান্তি বোধ হয় না।
14
তখন তার স্ত্রী সেরশ ও সমস্ত বন্ধু তাকে বললো, তুমি পঞ্চাশ হাত উঁচু একটি ফাঁসি কাঠ প্রস্তুত করাও; আর মর্দখয়কে তার উপরে ফাঁসি দেবার জন্য আগামীকাল খুব ভোরে বাদশাহ্র কাছে নিবেদন কর; পরে খুশি মনে বাদশাহ্র সঙ্গে ভোজে যাও। তখন হামন এই কথায় তুষ্ট হয়ে সেই ফাঁসিকাষ্ঠ প্রস্তুত করাল।
1
সেই রাতে বাদশাহ্ ঘুমাতে পারছিলেন না, আর তিনি স্মরণীয় ইতিহাস কিতাব আনতে হুকুম করলেন; পরে বাদশাহ্র সাক্ষাতে সেই কিতাব পাঠ করা হল।
2 আর তার মধ্যে লেখা এই কথা পাওয়া গেল, বাদশাহ্র নপুংসক বিগ্থন ও তেরশ নামে দু’জন দ্বারপাল বাদশাহ্ জারেক্সের উপরে হস্তক্ষেপ করতে চাইলে মর্দখয় তার সংবাদ দিয়েছিলেন।
3 বাদশাহ্ বললেন, এর জন্য মর্দখয়ের কি সম্মান ও পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে? বাদশাহ্র পরিচর্যাকারী ভৃত্যেরা বললো, তার পক্ষে কিছুই করা হয় নি।
4 পরে বাদশাহ্ বললেন, প্রাঙ্গণে কে আছে? তখন হামন তার প্রস্তুত ফাঁসিকাষ্ঠে মর্দখয়কে ফাঁসি দেবার জন্য বাদশাহ্র কাছে নিবেদন করতে রাজপ্রাসাদের বাইরের প্রাঙ্গণে এসেছিল।
5 বাদশাহ্র ভৃত্যরা বললো, দেখুন হামন প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছেন। বাদশাহ্ বললেন, সে ভিতরে আসুক।
6 তখন হামন ভিতরে আসলে বাদশাহ্ তাকে বললেন, বাদশাহ্ যার সম্মান করতে চান, তার প্রতি কি করা কর্তব্য? হামন মনে মনে ভাবল, বাদশাহ্ আমাকে ছাড়া আর কার সম্মান করতে চাইবেন?
7 অতএব হামন বাদশাহ্কে বললো, বাদশাহ্, যার সম্মান করতে চান,
8 তার জন্য বাদশাহ্র পরিধেয় রাজপোশাক, আর বাদশাহ্ যার উপরে আরোহণ করে থাকেন এবং যার মাথায় একটা রাজমুকুট স্থাপিত হয়ে থাকে, সেই ঘোড়া আনা হোক;
9 আর সেই রাজপোশাক ও ঘোড়া বাদশাহ্র এক জন সবচেয়ে প্রধান কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হোক; এবং বাদশাহ্ যার সম্মান করতে চান, সে সেই রাজকীয় পোশাক পরানো হোক; পরে তাকে সেই ঘোড়ায় চড়িয়ে নগরের চকে নিয়ে যাওয়া হোক এবং তার আগে আগে এই কথা ঘোষণা করা হোক, বাদশাহ্ যাঁর সম্মান করতে চান, তাঁর প্রতি এরকম ব্যবহার করা যাবে।
10 বাদশাহ্ হামনকে বললেন, তুমি তাড়াতাড়ি কর, সেই রাজপোশাক ও ঘোড়া নিয়ে যেমন বললে, তেমনি রাজদ্বারে উপবিষ্ট ইহুদী মর্দখয়ের প্রতি কর; তুমি যেসব কথা বললে, তার কিছু ত্রুটি করো না।
11 তখন হামন সেই রাজপোশাক ও ঘোড়া নিল, মর্দখয়কে রাজপোশাক পরিয়ে দিল এবং ঘোড়ায় চড়িয়ে নগরের চকে গমন করাল, আর তাঁর আগে আগে এই কথা ঘোষণা করলো, বাদশাহ্ যাঁর সম্মান করতে চান, তাঁর প্রতি এরকম ব্যবহার করা যাবে।
12
পরে মর্দখয় রাজদ্বারে ফিরে গেলেন, কিন্তু হামন শোকান্বিত হয়ে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে দ্রুত তার নিজের বাড়িতে চলে গেল।
13 আর হামন তার স্ত্রী সেরশকে ও সমস্ত বন্ধুকে তার সম্বন্ধীয় সকল ঘটনার কথা বললো; তাতে তার জ্ঞানবান লোকেরা ও তার স্ত্রী সেরশ তাকে বললো, যার সম্মুখে তোমার এই পতনের আরম্ভ হল, সেই মর্দখয় যদি ইহুদী বংশীয় লোক হয়, তবে তুমি তাকে জয় করতে পারবে না, বরং তুমি তার সম্মুখে নিশ্চয়ই ধ্বংস হয়ে যাবে।
14 তারা তার সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন, ইতোমধ্যে রাজ-নপুংসকেরা এসে ইষ্টেরের প্রস্তুত ভোজে হামনকে উপস্থিত করার জন্য ত্বরা করলো।
1
পরে বাদশাহ্ ও হামন ইষ্টের রাণীর সঙ্গে পান করতে আসলেন।
2 আর বাদশাহ্ সেই দ্বিতীয় দিনে আঙ্গুর-রস সহযোগে ভোজের সময়ে ইষ্টেরকে পুনর্বার বললেন, ইষ্টের রাণী, তোমার নিবেদন কি? তা তোমাকে দেওয়া যাবে; এবং তোমার অনুরোধ কি? রাজ্যের অর্ধেক পর্যন্ত চাইলেও তা সিদ্ধ করা যাবে।
3 তখন ইষ্টের রাণী উত্তর করলেন, বাদশাহ্, আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি ও যদি বাদশাহ্র ভাল মনে হয়, তবে আমার নিবেদনে আমার প্রাণ ও আমার অনুরোধে আমার জাতি আমাকে দেওয়া হোক;
4 কেননা আমাকে ও আমার স্বজাতিকে ধ্বংস করার, হত্যা ও বিনষ্ট করার জন্য বিক্রি করা হয়েছে। যদি আমাদের কেবল গোলাম বাঁদী হবার জন্য বিক্রি করা হত, তবে আমি নীরব থাকতাম; কিন্তু তা হলেও বাদশাহ্র ক্ষতিপূরণ করা বিপক্ষের অসাধ্য হত।
5 তখন বাদশাহ্ জারেক্সেস ইষ্টের রাণীকে বললেন, এমন কাজ করার মানস যার অন্তরে জন্মেছে, সে কে? আর সে কোথায়?
6 ইষ্টের বললেন, এক জন বিপক্ষ ও দুশমন, সে এই দুষ্ট হামন। তখন হামন বাদশাহ্র ও রাণীর সাক্ষাতে ভীষণ ভয় পেল।
7 পরে বাদশাহ্ ক্রোধ বশত আঙ্গুর-রস পান থেকে উঠে রাজপ্রাসাদের বাগানে গেলেন; আর হামন ইষ্টের রাণীর কাছে তাঁর প্রাণ ভিক্ষা করার জন্য দাঁড়াল, কেননা সে দেখলো, বাদশাহ্ থেকে তার অমঙ্গল অবধারিত।
8 পরে বাদশাহ্ রাজপ্রাসাদের বাগান থেকে আঙ্গুর-রস সহযোগে ভোজের স্থানে ফিরে আসলেন; তখন ইষ্টের যে স্থানে বসে ছিলেন, হামন তার উপরে পড়ে ছিল; তাতে বাদশাহ্ বললেন, এই ব্যক্তি কি বাড়ির মধ্যে আমার সাক্ষাতে রাণীর ইজ্জত নষ্ট করবে? এই কথা বাদশাহ্র মুখ থেকে বের হওয়া মাত্র লোকেরা হামনের মুখ আচ্ছাদন করলো।
9 পরে বাদশাহ্র সাক্ষাতে উপস্থিত হর্বোনা নামে এক জন নপুংসক বললো, দেখুন, যে মর্দখয় বাদশাহ্র পক্ষে মঙ্গলজনক সংবাদ দিয়েছিলেন, তাঁর জন্য হামন পঞ্চাশ হাত উঁচু ফাঁসি কাঠ প্রস্তুত করেছে, তা হামনের বাড়িতে স্থাপিত আছে। বাদশাহ্ বললেন, তারই উপরে একে ফাঁসি দাও।
10 তাতে হামন মর্দখয়ের জন্য যে ফাঁসিকাষ্ঠ প্রস্তুত করেছিল, লোকেরা তার উপরে হামনকে ফাঁসি দিল; তখন বাদশাহ্র ক্রোধ প্রশমিত হল।
1
সেদিন বাদশাহ্ জারেক্স ইষ্টের রাণীকে ইহুদীদের দুশমন হামনের বাড়ি দান করলেন। আর মর্দখয় বাদশাহ্র সাক্ষাতে উপস্থিত হলেন, কেননা মর্দখয় ইষ্টেরের কে, তা ইষ্টের জানিয়েছিলেন।
2 পরে বাদশাহ্ হামনের কাছ থেকে নেওয়া তাঁর আংটিটি খুলে মর্দখয়কে দিলেন এবং ইষ্টের হামনের বাড়ির উপরে মর্দখয়কে নিযুক্ত করলেন।
3
পরে ইষ্টের বাদশাহ্র কাছে পুনর্বার নিবেদন করলেন ও তার পায়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে অগাগীয় হামনের অভিপ্রেত অমঙ্গল, অর্থাৎ ইহুদীদের বিরুদ্ধে তার সঙ্কল্পিত কুমন্ত্রণা বন্ধ করে দেবার জন্য তাঁর কাছে সাধ্যসাধনা করলেন।
4 তখন বাদশাহ্ ইষ্টেরের দিকে সোনার রাজদণ্ড প্রসারিত করাতে ইষ্টের উঠে বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললেন,
5 যদি বাদশাহ্র ভাল মনে হয় এবং আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, আর এই কাজ বাদশাহ্র দৃষ্টিতে ন্যায্য মনে হয় ও আমি আপনার সন্তোষকারিণী হই, তবে বাদশাহ্র অধীন যাবতীয় প্রদেশস্থ ইহুদীদেরকে বিনষ্ট করবার জন্য অগাগীয় হম্মদাথার পুত্র হামনের কুমন্ত্রণা সম্বলিত যেসব পত্র লেখা হয়েছে, সেসব ব্যর্থ করার জন্য লেখা হোক।
6 কেননা আমার জাতির প্রতি যে অমঙ্গল ঘটবে, তা দেখে আমি কিভাবে সহ্য করতে পারি? আর আমার জ্ঞাতি ও আত্মীয়দের বিনাশ দেখে কিভাবে সহ্য করতে পারি?
7
তখন বাদশাহ্ জারেক্স ইষ্টের রাণী ও ইহুদী মর্দখয়কে বললেন, দেখ, আমি ইষ্টেরকে হামনের বাড়ি দিয়েছি এবং হামনকে ফাঁসিকাষ্ঠে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, কেননা সে ইহুদীদের উপরে হস্তক্ষেপ করেছিল।
8 এখন তোমরা তোমাদের অভিমত অনুসারে বাদশাহ্র নামে ইহুদীদের পক্ষে পত্র লেখ ও বাদশাহ্র আংটি দিয়ে তা সীলমোহর কর; কেননা বাদশাহ্র নামে লেখা ও বাদশাহ্র আংটি দিয়ে সীলমোহরকৃত পত্র অন্যথা করার সাধ্য কারো নেই।
9
তখন তৃতীয় মাসে অর্থাৎ সীবন মাসের ত্রয়োবিংশ দিনে রাজ-লেখকেরা আহূত হল, আর মর্দখয়ের সমস্ত হুকুম অনুসারে ইহুদীদেরকে, প্রদেশপালদেরকে এবং হিন্দুস্থান থেকে ইথিওপিয়া দেশ পর্যন্ত এক শত সাতাশ প্রদেশের মধ্যে প্রত্যেক প্রদেশের অক্ষরানুসারে ও প্রত্যেক জাতির ভাষানুসারে শাসনকর্তাদেরকে ও প্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদেরকে এবং ইহুদীদের অক্ষর ও ভাষানুসারে তাদেরকে পত্র লেখা হল।
10 তা বাদশাহ্ জারেক্সের নামে লেখা ও বাদশাহ্র আংটি দিয়ে সীলমোহর করা হল, পরে দ্রুতগামী ঘোড়ায় অর্থাৎ বিশেষ জাতের রাজকীয় ঘোড়ায় ঘোড়সওয়ার ধাবকদের দিয়ে সেইসব পত্র প্রেরণ করা হল।
11 এসব পত্রে বাদশাহ্ ইহুদীদেরকে এই অনুমতি দিলেন যে, বাদশাহ্ জারেক্সের অধীনে সমস্ত প্রদেশ এক দিনে, অর্থাৎ অদর নামক বারো মাসের ত্রয়োদশ দিনে,
12 তারা প্রত্যেক নগরে একত্র হয়ে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষা করবার জন্য দণ্ডায়মান থেকে এবং যে কোন জাতি কি প্রদেশ তাদের বিপক্ষতা করে, তার সমস্ত বল অর্থাৎ সেই দুশমনদেরকে ও তাদের পুত্র কন্যা ও স্ত্রী সকলকে সংহার, হত্যা ও বিনাশ করতে ও তাদের সমস্ত দ্রব্য লুট করতে পারবে।
13 আর প্রত্যেক প্রদেশে বাদশাহ্র হুকুম বলে প্রচারিত হবার জন্য এবং ইহুদীরা যেন তাঁর দুশমনদের প্রতিশোধ নেবার নিমিত্ত সেই দিনের জন্য প্রস্তুত হয়, সেজন্য সেই লিপির অনুলিপি সমস্ত জাতিকে জানানো হল।
14 পরে দ্রুতগামী রাজকীয় ঘোড়ায় ধাবকেরা বাদশাহ্র হুকুমে খুব শীঘ্র দ্রুত যাত্রা করলো এবং সেই হুকুম শূশন রাজধানীতে দেওয়া হল।
15
পরে মর্দখয় নীল ও সাদা রংয়ের রাজপোশাক পরে, সোনার বড় মুকুটে ভূষিত হয়ে এবং মসীনা সুতার বেগুনি পোশাকে সজ্জিত হয়ে বাদশাহ্র সম্মুখ থেকে বাইরে গেলেন; আর শূশন রাজধানী চিৎকার করে আনন্দ করলো।
16 ইহুদীরা আলো, আনন্দ, আমোদ ও সম্মান লাভ করলো।
17 আর প্রতি দেশে ও প্রতি নগরে যে কোন স্থানে বাদশাহ্র ঐ ডিক্রি ও হুকুম উপস্থিত হল সেই স্থানে ইহুদীদের আনন্দ, আমোদ, ভোজ ও সুখের দিন হল। আর দেশীয় জাতিগুলোর অনেক লোক ইহুদী-মতালম্বী হল, কেননা ইহুদীদের থেকে তাদের ত্রাস উৎপন্ন হয়েছিল।
1
পরে দ্বাদশ মাসের অর্থাৎ অদর মাসের ত্রয়োদশ দিনে বাদশাহ্র ঐ ডিক্রি ও হুকুম কাজে পরিণত হবার সময় নিকটবর্তী হল, অর্থাৎ যেদিন ইহুদীদের দুশমনেরা তাদের উপরে প্রভুত্ব করার অপেক্ষা করেছিল, সেদিন এমন বিপরীত ঘটনা হল যে, ইহুদীরাই তাদের বিদ্বেষীদের উপরে প্রভুত্ব করলো।
2 ইহুদীরা যারা তাদের ধ্বংসের চেষ্টা করে তাদেরকে আক্রমণ করার জন্য বাদশাহ্ জারেক্সের সমস্ত প্রদেশে নিজ নিজ নগরে একত্র হল এবং তাদের সম্মুখে কেউ দাঁড়াতে পারল না, কেননা তাদের থেকে সমস্ত জাতির ত্রাস উৎপন্ন হয়েছিল।
3 আর প্রদেশগুলোর কর্মকর্তারা, প্রদেশপাল, শাসনকর্তারা ও রাজ-কর্মকর্তারা সকলে ইহুদীদের সাহায্য করলেন, কারণ মর্দখয় থেকে তাঁদের ত্রাস উৎপন্ন হয়েছিল।
4 কেননা মর্দখয় রাজপ্রাসাদের মধ্যে মহান ছিলেন ও তাঁর যশ প্রদেশগুলোতে ব্যাপ্ত হল, বস্তুত সেই মর্দখয় উওরোত্তর মহান হয়ে উঠলেন।
5 আর ইহুদীরা তাদের সমস্ত দুশমনকে তলোয়ারের আঘাতে সংহার ও বিনাশ করলো; তারা তাদের বিদ্বেষীদের প্রতি যা ইচ্ছা তা-ই করলো।
6 আর শূশন রাজধানীতে ইহুদীরা পাঁচ শত লোককে হত্যা ও বিনাশ করলো।
7 আর পর্শন্দাথঃ দল্ফোন, অস্পাথঃ,
8 পোরাথঃ, অদলিয়াঃ, অরীদাথঃ,
9 পর্মস্ত, অরীষয়, অরীদয় ও রয়িষাথঃ,
10 ইহুদীদের দুশমন হম্মদাথার পুত্র হামনের এই দশ পুত্রকে তারা হত্যা করলো, কিন্তু লুট করা থেকে বিরত থাকলো।
11
যারা শূশন রাজধানীতে হত হল, তাদের সংখ্যা সেদিন বাদশাহ্র কাছে আনা হল।
12 বাদশাহ্ ইষ্টের রাণীকে বললেন, ইহুদীরা শূশন রাজধানীতে পাঁচ শত লোক ও হামোনের দশ জন পুত্রকে হত্যা ও বিনাশ করেছে; না জানি, বাদশাহ্র অধীন অন্য সকল প্রদেশে কি করেছে। এখন তোমার নিবেদন কি? তা তোমাকে দেওয়া হবে; এবং তোমার আর অনুরোধ কি? তা করা হবে।
13 ইষ্টের বললেন, যদি বাদশাহ্র ভাল মনে হয়, তবে আজকের মত আগামীকালও করার অনুমতি শূশনস্থ ইহুদীদেরকে দেওয়া হোক এবং হামনের দশ পুত্রকে ফাঁসিকাষ্ঠে টাঙ্গান যাক।
14 পরে বাদশাহ্ তা করতে হুকুম দিলেন এবং সেই হুকুম শূশনে প্রচারিত হল, তাতে লোকেরা হামনের দশ পুত্রকে ফাঁসি দিল।
15 আর শূশনস্থ ইহুদীরা অদর মাসের চতুর্দশ দিনেও একত্র হয়ে শূশনে তিন শত লোককে হত্যা করলো, কিন্তু লুট করলো না।
16
আর বাদশাহ্র নানা প্রদেশ-নিবাসী অন্য সকল ইহুদীরাও একত্র হয়ে নিজ নিজ প্রাণের জন্য দণ্ডায়মান হল এবং তাদের দুশমনেরা থেকে বিশ্রাম পেল, বিদ্বেষীদের পঁচাত্তর হাজার লোককে হত্যা করলো, কিন্তু লুট করা থেকে বিরত থাকলো।
17 তারা অদর মাসের ত্রয়োদশ দিনে এই কাজ করলো এবং চতুর্দশ দিনে বিশ্রাম করে সেই দিনকে ভোজন-পান ও আনন্দের দিন করলো।
18
কিন্তু শূশনস্থ ইহুদীরা ঐ মাসের ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ দিনে একত্র হল এবং পঞ্চদশ দিনে বিশ্রাম করলো ও সেই দিনকে ভোজন-পান ও আনন্দের দিন করলো।
19 এই কারণ পল্লীগ্রামের অর্থাৎ প্রাচীর-বিহীন নগরগুলোর নিবাসী ইহুদীরা অদর মাসের চতুর্দশ দিনকে আনন্দের, ভোজনপানের, সুখের ও পরস্পর খাদ্য-উপহার পাঠাবার দিন বলে মানে।
20
পরে মর্দখয় এই বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করলেন এবং বাদশাহ্ জারেক্সের অধীন কাছের কি দূরের সকল প্রদেশে যেসব ইহুদী থাকতো, তাদের কাছে পত্র পাঠিয়ে হুকুম করলেন,
21 যেন তারা বছর বছর অদর মাসের চতুর্দশ ও সেই মাসের পঞ্চদশ দিন পালন করে,
22 অর্থাৎ যে দুই দিন ইহুদীরা তাদের দুশমনেরা থেকে বিশ্রাম পেয়েছিল এবং যে মাসে তাদের দুঃখ সুখে ও শোক মঙ্গল-দিনে পরিণত হয়েছিল, সেই মাসের সেই দুই দিন যেন তারা ভোজন পান ও আনন্দ এবং নিজ নিজ বন্ধুর কাছে খাদ্য-উপহার ও দরিদ্রদের কাছে দান পাঠাবার দিন বলে মানে।
23 তাতে ইহুদীরা যেমন আরম্ভ করেছিল ও মর্দখয় তাদেরকে যেমন লিখেছিলেন, তারা সেভাবে দিন দু’টি পালন করতে সম্মত হল;
24 কারণ সমস্ত ইহুদীর দুশমন অগাগীয় হম্মদাথার পুত্র যে হামন, সে ইহুদীদেরকে বিনষ্ট করার সংকল্প করেছিল, তাদেরকে মুছে ফেলবার ও বিনষ্ট করার জন্যে পূর অর্থাৎ গুলিবাঁট করেছিল,
25 কিন্তু বাদশাহ্র সাক্ষাতে সেই বিষয় উপস্থিত হলে তিনি এই হুকুম-পত্র দিলেন, হামন ইহুদীদের বিরুদ্ধে যে কুসংকল্প করেছিল, তা তারই মাথায় বর্তুক; লোকে তাকে ও তার পুত্রদেরকে ফাঁসিকাষ্ঠে টাঙ্গিয়ে দিক।
26 সেজন্য পূর (গুলিবাঁট) নাম অনুসারে সেই দুই দিনের নাম পূরীম হল। অতএব সেই পত্রের সকল কথার দরুন এবং সেই বিষয়ে তারা যা দেখেছিল ও তাদের প্রতি তা ঘটেছিল,
27 তার দরুন ইহুদীরা তাদের ও নিজ নিজ বংশের ও ইহুদী-মতাবলম্বী সকলের কর্তব্য বলে এই স্থির করলো যে, এই সম্পর্কিত লেখা হুকুম ও নিরূপিত সময়ানুসারে তারা প্রতি বছর ঐ দুই দিন পালন করবে, কোনরূপে তার ত্রুটি করবে না।
28 আর পুরুষ-পরম্পরায় প্রত্যেক গোষ্ঠীতে, প্রত্যেক প্রদেশে ও প্রত্যেক শহরে সেই দুই দিন স্মরণ ও পালন করতে হবে; এবং পূরীমের সেই দুই দিন ইহুদীদের মধ্য থেকে কখনও মুছে যাবে না, আর তাদের বংশের মধ্য থেকে তার স্মৃতির লোপ হবে না।
29
পরে অবীহয়িলের কন্যা ইষ্টের রাণী ও ইহুদী মর্দখয় পূরীম দিন বিষয়ক এই দ্বিতীয় পত্র স্থির করতে সমপূর্ণ ক্ষমতার সঙ্গে লিখলেন।
30 আর বাদশাহ্ জারেক্সের অধিকৃত এক শত সাতাশ প্রদেশে সমস্ত ইহুদীর কাছে মর্দখয় শান্তির ও সত্যের কথা সম্বলিত পত্র পাঠিয়ে,
31 নিরূপিত কালে পূরীমের সেই দুই দিন পালন করার বিষয় স্থির করলেন; যেমন রোজা ও বিলাপের বিষয় ইহুদী মর্দখয় ও ইষ্টের রাণী ইহুদীদের জন্য স্থির করেছিলেন এবং যেমন তারাও তাদের জন্য ও নিজ নিজ বংশের জন্য স্থির করেছিল।
32 আর ইষ্টেরের হুকুমে পূরীম বিষয়ক এই বিধি স্থির হল ও তা কিতাবে লেখা হল।
1
সেই বাদশাহ্ জারেক্স স্থলে ও সমুদ্রের দ্বীপগুলোতে কর নির্ধারণ করলেন।
2 আর তাঁর ক্ষমতা ও পরাক্রমের সমস্ত কথা এবং বাদশাহ্ মর্দখয়কে যে মহত্ত্ব দিয়ে উচ্চপদান্বিত করেছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিবরণ কি মাদিয়া ও পারস্যের বাদশাহ্দের ইতিহাস-পুস্তকে লেখা নেই?
3 বস্তুত এই ইহুদী মর্দখয় বাদশাহ্ জারেক্সের প্রধান মন্ত্রী এবং ইহুদীদের মধ্যে মহান, তাঁর ভাইদের মধ্যে প্রিয়পাত্র ও স্বজাতীয় লোকদের হিতৈষী এবং তাঁর সমস্ত বংশের পক্ষে মঙ্গলাকাঙ্খী ছিলেন।
1
ঊষ দেশে আইউব নামে এক জন ব্যক্তি ছিলেন; তিনি সিদ্ধ ও সরল, আল্লাহ্ভীরু ও কুকর্মত্যাগী ছিলেন।
2 তাঁর সাত পুত্রটি ও তিনটি কন্যা জন্মগ্রহণ করে।
3 তাঁর সাত হাজার ভেড়া, তিন হাজার উট, পাঁচ শত জোড়া বলদ ও পাঁচ শত গাধী, এই পশুধন এবং অনেক গোলাম-বাঁদী ছিল; বস্তুত পূর্বদেশের লোকদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে মহান ছিলেন।
4
তাঁর পুত্ররা প্রত্যেকে যার যার দিনে গিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ভোজ প্রস্তুত করতো এবং লোক পাঠিয়ে তাদের তিন বোনকেও তাদের সঙ্গে ভোজন-পান করার জন্য দাওয়াত করতো।
5 পরে তাদের ভোজের দিনগুলো গত হলে আইউব তাদেরকে আনিয়ে পাক-পবিত্র করতেন, আর প্রত্যুষে উঠে তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে পোড়ানো-কোরবানী দিতেন; কারণ আইউব বলতেন, কি জানি, আমার পুত্ররা গুনাহ্ করে মনে মনে আল্লাহ্কে অসম্মান করেছে। আইউব সতত এরকম করতেন।
6
এক দিন আল্লাহ্র পুত্রেরা মাবুদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবার জন্য উপস্থিত হলেন, তাঁদের মধ্যে শয়তানও উপস্থিত হল।
7 মাবুদ শয়তানকে বললেন, তুমি কোথা থেকে আসলে? শয়তান মাবুদকে জবাবে বললো, আমি দুনিয়া পর্যটন ও সেখানে ইতস্তত ভ্রমণ করে আসলাম।
8 তাতে মাবুদ শয়তানকে বললেন, আমার গোলাম আইউবের উপরে কি তোমার মন পড়েছে? কেননা তার মত সিদ্ধ ও সরল, আল্লাহ্ভীরু ও কুকর্মত্যাগী লোক দুনিয়াতে কেউই নেই।
9 শয়তান উত্তরে মাবুদকে বললো, আইউব কি বিনা লাভে আল্লাহ্কে ভয় করে?
10 তুমি তার চারদিকে, তার বাড়ির চারদিকে ও তার সর্বস্বের চারদিকে কি বেড়া দাও নি? তুমি তার হাতের কাজ দোয়াযুক্ত করেছ এবং তার পশুধন দেশময় ছেয়ে গেছে।
11 কিন্তু তুমি একবার হাত বাড়িয়ে তার সর্বস্ব স্পর্শ কর, তবে সে অবশ্য তোমার সম্মুখেই তোমাকে অসম্মান করবে।
12 তখন মাবুদ শয়তানকে বললেন, দেখ, তার সর্বস্বই তোমার হস্তগত; তুমি কেবল তার উপরে হস্তক্ষেপ করো না। তাতে শয়তান মাবুদের সম্মুখ থেকে বের হয়ে চলে গেল।
13
পরে কোন এক দিন আইউবের পুত্রকন্যারা তাদের বড় ভাইয়ের বাড়িতে ভোজন ও আঙ্গুর-রস পান করছিল,
14 এমন সময়ে আইউবের কাছে এক জন দূত এসে বললো, বলদেরা হাল বইছিল এবং গাধীরা তাদের পাশে চরছিল,
15 ইতোমধ্যে শিবায়ীয়েরা আক্রমণ করে সেসব নিয়ে গেল এবং তলোয়ারের আঘাতে যুবকদেরকে হত্যা করলো; আপনাকে সংবাদ দিতে কেবল একা আমি রক্ষা পেয়েছি।
16 সে কথা বলছিল, ইতোমধ্যে আর এক জন এসে বললো, আসমান থেকে আল্লাহ্র আগুন পড়ে ভেড়ার পাল ও যুবকদেরকে পুড়িয়ে দিল, তাদেরকে গ্রাস করলো; আপনাকে সংবাদ দিতে কেবল একা আমি রক্ষা পেয়েছি।
17 সে কথা বলছিল, ইতোমধ্যে আর এক জন এসে বললো, কল্দীয়েরা তিন দল হয়ে উটের পাল আক্রমণ করে তাদেরকে নিয়ে গেল এবং তলোয়ারের আঘাতে যুবকদেরকে হত্যা করলো; আপনাকে সংবাদ দিতে কেবল একা আমি রক্ষা পেয়েছি।
18 সে কথা বলছিল, ইতোমধ্যে আর এক জন এসে বললো, আপনার পুত্রকন্যা তাঁদের বড় ভাইয়ের বাড়িতে ভোজন ও আঙ্গুর-রস পান করছিল,
19 আর দেখুন, মরুভূমির মধ্য থেকে একটা ভারী ঝড় উঠে গৃহটির চার কোণে লাগল, আর যুবকদের উপরে গৃহ ভেঙ্গে পড়লো। তাতে তাঁদের মৃত্যু হল; আপনাকে সংবাদ দিতে কেবল একা আমি রক্ষা পেয়েছি।
20
তখন আইউব উঠে নিজের কাপড় ছিঁড়লেন, মাথা মুণ্ডন করলেন ও ভূমিতে পড়ে সেজ্দা করলেন,
21 আর বললেন, আমি মায়ের গর্ভ থেকে উলঙ্গ এসেছি, আর উলঙ্গ সেই স্থানে ফিরে যাব; মাবুদ দিয়েছিলেন, মাবুদই নিয়েছেন; মাবুদের নাম ধন্য হোক।
22 এই সমস্ত কিছু ঘটলেও আইউব গুনাহ্ করলেন না এবং আল্লাহ্র প্রতি অবিবেচনার দোষারোপ করলেন না।
1
আর এক দিন আল্লাহ্র পুত্ররা মাবুদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবার জন্য উপস্থিত হলে তাঁদের মধ্যে শয়তানও মাবুদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবার জন্য উপস্থিত হল।
2 মাবুদ শয়তানকে বললেন, তুমি কোথা থেকে আসলে? শয়তান মাবুদকে জবাবে বললো, আমি দুনিয়া পর্যটন ও সেখানে ইতস্তত ভ্রমণ করে আসলাম।
3 মাবুদ শয়তানকে বললেন, আমার গোলাম আইউবের প্রতি কি তোমার মন পড়েছে? কেননা তার মত সিদ্ধ ও সরল, আল্লাহ্ভীরু ও কুক্রিয়াত্যাগী লোক দুনিয়াতে কেউই নেই; সে এখনও তাঁর সিদ্ধতা রক্ষা করছে, যদিও তুমি অকারণে তাকে বিনষ্ট করতে আমাকে প্ররোচিত করেছ।
4 শয়তান মাবুদকে জবাবে বললো, চামড়ার জন্য চামড়া, আর প্রাণের জন্য লোক সর্বস্ব দেবে।
5 কিন্তু তুমি একবার হাত বাড়িয়ে তার অস্থি ও মাংস স্পর্শ কর, সে অবশ্য তোমার সম্মুখেই তোমাকে জলাঞ্জলি দেবে।
6 মাবুদ শয়তানকে বললেন, দেখ, সে তোমার অধিকারে; কেবল তার প্রাণ থাকতে দিও।
7
পরে শয়তান মাবুদের সম্মুখ থেকে বের হয়ে আইউবের আপাদমস্তকে আঘাত করে দুষ্ট স্ফোটক জন্মাল।
8 তাতে তিনি একখানা খাপরা নিয়ে সর্বাঙ্গ ঘর্ষণ করতে লাগলেন, আর ভস্মের মধ্যে বসে রইলেন।
9 তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, তুমি কি এখনও তোমার সিদ্ধতা রক্ষা করছো? আল্লাহ্কে অভিশাপ দিয়ে প্রাণত্যাগ কর।
10 কিন্তু তিনি তাঁকে বললেন, তুমি একটা মূঢ়া স্ত্রীর মত কথা বলছো। বল কি? আমরা আল্লাহ্র কাছ থেকে কি মঙ্গলই গ্রহণ করবো, অমঙ্গল গ্রহণ করবো না? এই সমস্ত বিষয়ে আইউব নিজের ওষ্ঠাধরে গুনাহ্ করলেন না।
11
পরে আইউবের প্রতি ঘটে যাওয়া ঐ সমস্ত বিপদের কথা তাঁর তিন জন বন্ধু শুনতে পেয়ে তাঁরা প্রত্যেকে যার যার স্থান থেকে আসলেন; তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল্দদ ও নামাথীয় সোফর একত্রে পরামর্শ করে তাঁর সঙ্গে শোক করতে ও তাঁকে সান্ত্বনা দেবার জন্য তাঁর কাছে আগমন করতে স্থির করলেন।
12 পরে তাঁরা দূর থেকে চোখ তুলে দেখলেন, কিন্তু তাঁকে চিনতে পারলেন না, তাতে তাঁরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কোর্তা ছিঁড়ে যার যার মাথার উপরে আসমানের দিকে ধূলা ছড়াতে লাগলেন।
13 পরে সাত দিন ও সাত রাত তাঁর সঙ্গে ভূমিতে বসে থাকলেন, তাঁকে কেউ কিছুই বললেন না; কারণ তাঁরা দেখলেন, তাঁর যাতনা কি ভীষণ!
1
এর পরে আইউব মুখ খুলে তাঁর জন্মদিনকে বদদোয়া দিতে লাগলেন।
2
আইউব বললেন, বিলুপ্ত হোক সেদিন,
যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল,
সেই রাত, যে রাত বলেছিল,
‘পুত্র-সন্তান হল’।
4
সেদিন অন্ধকার হোক;
উপর থেকে আল্লাহ্ সেই দিনের স্মরণ না করুন,
আলো তার উপরে বিরাজমান না হোক;
5
অন্ধকারও ঘন অন্ধকার তাকে আবৃত করুক,
মেঘ তাকে আচ্ছন্ন করুক,
যা কিছু দিন অন্ধকার করে,
তা তাকে ত্রাসযুক্ত করুক।
6
সেই রাত ঘন অন্ধকারময় হোক,
তা বছরের দিনগুলোর মধ্যে গণনা না করা হোক,
তা মাসের সংখ্যার মধ্যে গণ্য না হোক।
7
দেখ, সেই রাত বন্ধ্যা হোক,
আনন্দগান তাতে প্রবেশ না করুক।
8
তারা তাকে বদদোয়া দিক;,
যারা দিনকে বদদোয়া দেয়,
যারা লিবিয়াথনকে জাগাতে নিপুণ।
9
তার সান্ধ্য নক্ষত্রগুলো অন্ধকার হোক,
সে যেন আলোর অপেক্ষায় থাকলেও আলো না পায়,
সে যেন ঊষার প্রথম আলো দেখতে না পায়।
10
কেননা সে আমার জননীর জঠরের কবাট বন্ধ করে নি,
আমার চোখ থেকে কষ্ট গুপ্ত রাখে নি।
11
আমি কেন গর্ভে ইন্তেকাল করি নি?
উদর থেকে পড়ামাত্র কেন প্রাণত্যাগ করি নি?
12
জানুযুগল কেন আমাকে গ্রহণ করেছিল?
স্তনযুগলই বা কেন আমাকে দুধ
দিয়েছিল?
13
তা হলে এখন শয়ন করে বিশ্রাম
করতাম,
নিদ্রিত হতাম, শান্তি পেতাম;
14
বাদশাহ্রা ও দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে থাকতাম,
যাঁরা নিজেদের জন্য ধ্বংসস্থান নির্মাণ করেছিলেন;
15
বা অধিপতিদের সঙ্গে থাকতাম, যাঁদের সোনা ছিল,
যাঁরা রূপা দিয়ে স্ব স্ব বাড়ি পরিপূর্ণ করতেন;
16
কিংবা গুপ্ত গর্ভস্রাবের মত প্রাণহীন হতাম।
দিনের আলো দেখে নি এমন শিশুর মত হতাম।
17
সেই স্থানে দুষ্টরা আর উৎপাত করে না,
সেই স্থানে শ্রান্ত লোকেরা বিশ্রাম পায়;
18
সেখানে বন্দীরা নিরাপদে একত্র থাকে,
তারা উপদ্রবকারীর চিৎকার আর শোনে না;
19
সেই স্থানে ছোট বড় একই
এবং গোলাম তার মালিক থেকে মুক্ত।
20
দুঃখার্তকে কেন আলো দেওয়া হয়?
তিক্তপ্রাণকে কেন জীবন দেওয়া হয়?
তারা মৃত্যুর আকাঙক্ষা করে,
21
কিন্তু তা আসে না,
তারা গুপ্তধনের চেয়ে তার সন্ধান করে।
22
কবর পেতে পারলে তারা আহ্লাদ করে,
মহানন্দে উল্লসিত হয়।
23
কেন তাকে আলো দেওয়া হয়েছে যে আলো দেখতে পায় না,
তার চারদিকে আল্লাহ্ বেড়া দিয়েছেন।
24
আমার হাহাকার আমার খাবার তুল্য হচ্ছে,
আমার আর্তনাদ পানির মত ঢালা যাচ্ছে।
25
আমি যা ভয় করি, তা-ই আমার ঘটে
যার আশঙ্কা করি, তা-ই উপস্থিত হয়।
26
আমার শান্তি নেই, বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই;
কেবলমাত্র উদ্বেগ উপস্থিত হয়।
1
পরে তৈমনীয় ইলীফস জবাবে বললেন,
2
তোমার সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করলে
তুমি কি কাতর হবে?
কিন্তু কে কথা না বলে চুপ করে থাকতে পারে?
3
দেখ, তুমি অনেককে শিক্ষা দিয়েছ,
তুমি দুর্বল হাত সবল করেছ।
4
তোমার কথা উচোট খাওয়া লোককে উঠিয়েছে,
তুমি দুর্বল হাঁটু সবল করেছ।
5
তবু এখন দুঃখ তোমার কাছে আসলে তুমি কাতর হচ্ছো;
তা তোমাকে স্পর্শ করলে তুমি হতাশ হচ্ছো।
6
তোমার আল্লাহ্ ভয় কি তোমার প্রত্যাশা নয়?
তোমার পথের সিদ্ধতা কি তোমার আশাভূমি নয়?
7
মনে করে দেখ, কে নির্দোষ হয়ে বিনষ্ট হয়েছে?
কোথায় সরলাচারীরা উচ্ছিন্ন হয়েছে?
8
আমি দেখেছি, যারা অধর্মরূপ চাষ করে,
যারা অনিষ্ট বীজ বপন করে,
তারা তা-ই কাটে।
9
তারা আল্লাহ্র ফুৎকারে বিনষ্ট হয়,
তাঁর কোপের নিশ্বাসে ধ্বংস হয়ে যায়।
10
সিংহের গর্জন ও হিংস্র সিংহের হুঙ্কার রুদ্ধ হয়,
যুব সিংহদের দাঁত ভেঙ্গে যায়।
11
খাদ্যের অভাবে পশুরাজ প্রাণত্যাগ করে,
সিংহীর শাবকরা ছিন্নভিন্ন হয়।
12
আমার কাছে একটি কালাম গোপনে পৌঁছল,
আমার কর্ণকুহরে তার কিছুটা আওয়াজ এল।
13
রাত্রিকালীন স্বপ্নদর্শনে যখন ভাবনা জন্মে,
সমস্ত মানুষ যখন ঘুমের গভীরে নিমগ্ন হয়,
14
এমন সময়ে আমাতে ত্রাস জন্মাল ও আমি কাঁপতে লাগলাম,
এতে আমার সমস্ত অস্থি কেঁপে উঠলো।
15
পরে আমার সম্মুখ দিয়ে একটা বাতাস চলে গেল,
আমার শরীর রোমাঞ্চিত হল।
16
তা দাঁড়িয়ে থাকলো,
কিন্তু আমি তার আকৃতি নির্ণয় করতে পারলাম না;
একটি মূর্তি আমার দৃষ্টিগোচর হল,
আমি মৃদু স্বর ও এই বাণী শুনলাম;
17
“আল্লাহ্র সম্মুখে কোন মানুষ কি ধার্মিক হতে পারে?
নিজের নির্মাতার চেয়ে মানুষ কি খাঁটি হতে পারে?
18
দেখ, তিনি নিজের গোলামদেরকেও বিশ্বাস করেন না,
তাঁর ফেরেশতাদের মধ্যেও ত্রুটির দোষারোপ করেন।
19
তবে যারা মাটির গৃহে বাস করে,
যাদের গৃহের ভিত্তিমূল ধূলিতে স্থাপিত,
যারা কীটের মত মর্দিত হয় তারা কি?
তারা প্রভাত ও সন্ধ্যাবেলার মধ্যে চূর্ণ হয়;
20
তারা চিরতরে বিনষ্ট হয়,
কেউ চিন্তা করে না।
21
তাদের অন্তরের দড়ি কি খোলা যায় না?
তারা জ্ঞানহীন অবস্থায় ইন্তেকাল করে।”
1
তুমি ডাক দেখি, কেউ কি তোমাকে উত্তর দেবে?
পবিত্রগণের মধ্যে তুমি কার আশ্রয় নেবে?
2
কারণ মনস্তাপ অজ্ঞানকে নষ্ট করে,
ঈর্ষা নির্বোধকে বিনাশ করে।
3
আমি অজ্ঞানকে বদ্ধমূল দেখেছিলাম।
তৎক্ষণাৎ তার বাড়িকে বদদোয়া দিয়েছিলাম।
4
তার সন্তানদের কোন নিরাপত্তা নেই,
তারা নগর-দ্বারে চূর্ণ হয়,
উদ্ধারকারী কেউ নেই।
5
ক্ষুধিত লোক তার শস্য খেয়ে ফেলে,
কাঁটার বেড়া ভেঙে তা হরণ করে,
ফাঁদ তার সম্পত্তি গ্রাস করে।
6
কারণ ধূলি থেকে কষ্ট উৎপন্ন হয় না।
মাটি থেকে সমস্যা জন্মে না;
7
কিন্তু আগুনের স্ফুলিঙ্গ যেমন উপরে উঠে,
তেমনি মানুষ সমস্যার জন্য জন্মে।
8
কিন্তু আমি তো মাবুদের খোঁজ করতাম,
আমার নিবেদন আল্লাহ্র কাছে তুলে ধরতাম।
9
তিনি মহৎ মহৎ কাজ করেন, যার সন্ধান করা যায় না,
অলৌকিক কাজ করেন, যার সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যায় না।
10
তিনি ভূতলে বৃষ্টি প্রদান করেন,
তিনি জনপদের উপরে পানি বহান।
11
তিনি নিচু অবস্থার লোকদেরকে উঁচু করেন,
যারা শোকার্ত তাদের তিনি নিরাপদে রাখেন।
12
তিনি ধূর্তদের কল্পনা ব্যর্থ করেন,
তাদের হাত সঙ্কল্প সাধন করতে পারে না।
13
তিনি জ্ঞানীদেরকে তাদের ধূর্ততায় ধরেন,
কুটিলমনাদের মন্ত্রণা শীঘ্র বিফল হয়ে পড়ে।
14
তারা দিনের বেলায় যেন অন্ধকারে ভ্রমণ করে,
মধ্যাহ্নে রাতের বেলার মত হাত্ড়ে বেড়ায়।
15
কিন্তু তিনি তলোয়ার থেকে, ওদের কবল থেকে,
পরাক্রমীদের হাত থেকে, দরিদ্রকে নিস্তার করেন।
16
এই কারণ দীনহীন আশাযুক্ত হয়,
আর অধর্ম নিজের মুখ বন্ধ করে।
17
দেখ, সুখী সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ অনুযোগ করেন,
অতএব তুমি সর্বশক্তিমানের দেওয়া শাস্তি তুচ্ছ করো না।
18
কেননা তিনি ক্ষত করেন, আবার তিনিই বেঁধে দেন,
তিনি আঘাত করেন, কিন্তু তাঁরই হাত সুস্থতা দান করে।
19
তিনি ছয় সঙ্কট থেকে তোমাকে উদ্ধার করবেন,
সপ্ত সঙ্কটে কোন বিপদ তোমাকে স্পর্শ করবে না।
20
তিনি তোমাকে দুর্ভিক্ষের সময়ে মৃত্যু থেকে,
যুদ্ধের সময়ে তলোয়ারের আঘাত থেকে মুক্ত করবেন।
21
জিহ্বার কশাঘাত থেকে তুমি গুপ্ত থাকবে,
বিনাশ আসলে তোমার শঙ্কা হবে না।
22
বিনাশ ও দুর্ভিক্ষের সময় তুমি হাসবে,
বন্যপশুদের থেকে তোমার শঙ্কা হবে না।
23
কারণ মাঠের পাথরের সঙ্গে তোমার সন্ধি হবে,
মাঠের সমস্ত পশু তোমার সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।
24
আর তুমি জানবে, তোমার তাঁবু শান্তিযুক্ত,
তুমি তোমার নিবাসে খোঁজ করলে দেখবে, কিছুই হারায় নি।
25
তুমি জানবে, তোমার বংশ বহু সংখ্যক হবে,
তোমার সন্তান-সন্ততি ভূমির ঘাসের মত হবে।
26
যেমন যথাসময়ে শস্যের আটি তুলে নেওয়া যায়,
তেমনি তুমি সমপূর্ণ আয়ু পেয়ে কবর পাবে।
27
দেখ, আমরা অনুসন্ধান করেছি; এটা নিশ্চিত।
তুমি এই কথা শুন, নিজের জন্য জেনে রাখ।
1
পরে আইউব জবাবে বললেন,
2
হায় যদি আমার মনস্তাপ ওজন করা হত!
যদি আমার বিপদ নিক্তিতে মাপা যেত!
3
তবে তা সমুদ্রের বালির চেয়েও ভারী হত,
এজন্য আমার কথা অসংলগ্ন হয়ে পড়ে।
4
কারণ সর্বশক্তিমানের সমস্ত তীর আমার ভিতরে প্রবিষ্ট,
আমার রূহ্ সেই সবের বিষ পান করছে,
আল্লাহ্র ত্রাসদল আমার বিরুদ্ধে শ্রেণীবদ্ধ।
5
বন্য গাধা ঘাস পেলে কি চিৎকার করে?
গরু জাব পেলে কি ডাকা-ডাকি করে?
6
যার স্বাদ নেই, তা কি লবণ বিনা ভোজন করা যায়?
ডিম্বের লালার কি কিছু স্বাদ আছে?
7
আমার প্রাণ যা স্পর্শ করতে অসম্মত,
তা-ই আমার ঘৃণিত ভক্ষ্যস্বরূপ হল।
8
আঃ! আমি যেন বাঞ্ছনীয় বিষয় পেতে পারি,
আল্লাহ্ যেন আমার আকাঙ্খার বিষয় আমাকে দেন,
9
হ্যাঁ, আল্লাহ্ অনুগ্রহ করে আমাকে চূর্ণ করুন,
হাত প্রসারণ করে আমাকে কেটে ফেলুন;
10
তবু তখনও আমার সান্ত্বনা থাকবে,
নির্মম যাতনায়ও আমি উল্লাস করবো,
কারণ আমি পবিত্রতমের সমস্ত কালাম অস্বীকার করি নি।
11
আমার শক্তি কি যে, প্রতীক্ষা করতে পারি,
আমার পরিণাম কি যে, সহিষ্ণু হতে পারি?
12
আমার শক্তি কি পাথরের শক্তি?
আমার মাংস কি ব্রোঞ্জের?
13
আমার দ্বারা কি আমার আর উপকার হতে পারে?
আমা থেকে কি বুদ্ধিকৌশল দূরীভূত হয় নি?
14
শীর্ণ লোকের প্রতি বন্ধুর দয়া করা কর্তব্য,
পাছে সে সর্বশক্তিমানের ভয় ত্যাগ করে।
15
আমার ভাইয়েরা স্রোতের মতই বিশ্বাসঘাতক,
তারা স্রোতমার্গস্থ প্রণালীর মত চঞ্চল।
16
সেই স্রোত তুষারের দরুন কালো রংয়ের হয়,
তুষার পড়ে তার মধ্যে বিলীন হয়;
17
কিন্তু উত্তপ্ত হওয়া মাত্র তা লুপ্ত হয়,
গ্রীষ্ম কালে স্বস্থান থেকে তা শুকিয়ে যায়।
18
সেই পথের বণ্িকদল পথ ছাড়ে,
তারা মরুস্থানে গিয়ে বিনষ্ট হয়।
19
টেমার বণ্িকদল দৃষ্টিপাত করলো,
সাবার পথিকদল সেই সবের অপেক্ষা করলো।
20
তারা প্রত্যাশা করাতে লজ্জিত হল,
সেখানে আসলে তারা হতাশ হল।
21
বস্তুত এখন তোমরা কিছুই নও;
ত্রাস দেখে ভয় পেয়েছ।
22
আমি কি বলেছিলাম, আমাকে কিছু দাও,
তোমাদের সঙ্গতি থেকে আমার জন্য উপহার দাও,
23
বিপক্ষের হাত থেকে আমাকে নিস্তার কর,
দুর্দান্তদের হাত থেকে আমাকে মুক্ত কর!
24
আমাকে শিক্ষা দাও, আমি নীরব হব;
আমাকে বুঝিয়ে দাও, কিসে আমি ভুল করেছি।
25
ন্যায্য কথা কেমন শক্তিশালী!
কিন্তু তোমাদের তর্কে কি দোষ ব্যক্ত হয়?
26
তোমরা কি শব্দের দোষ ধরবার সঙ্কল্প করছো?
নিরাশ ব্যক্তির কথা তো বায়ুর মত।
27
তোমরা তো এতিমের জন্য গুলিবাঁট করবে,
তোমাদের বন্ধুকে বিক্রি করবে।
28
এখন অনুগ্রহ করে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত কর,
আমি তোমাদের সাক্ষাতে মিথ্যা বলবো না।
29
তোমরা ফিরে যাও, অন্যায় করো না;
আমি বলি, ফিরে যাও, আমি ন্যায়ের পক্ষে।
30
আমার জিহ্বাতে কি অন্যায় আছে?
আমার রসনা কি ভাল-মন্দের স্বাদ বোঝে না?
1
দুনিয়াতে কি মানুষকে কঠিন পরিশ্রম করতে হয় না?
তার দিনগুলো কি বেতনজীবীর দিনের মত নয়?
2
গোলাম যেমন ছায়ার আকাঙ্খা করে,
বেতনজীবী যেমন নিজের বেতনের অপেক্ষা করে;
3
তেমনি মাসের পর মাস শূন্যতাই আমার উত্তরাধিকার;
কষ্টকর সমস্ত রাত আমার জন্য নিরূপিত।
4
শয়নকালে আমি বলি, কখন উঠবো?
কিন্তু রাত দীর্ঘ হয়ে পড়ে,
প্রভাত পর্যন্ত আমি কেবল ছট্ফট্ করতে থাকি।
5
কীট ও মাটির ঢেলা আমার মাংসের আচ্ছাদন;
আমার চামড়া ফেটে গেছে ও পূঁজ পড়ছে।
6
তন্তুবায়ের মাকুর চেয়ে আমার আয়ু দ্রুতগামী,
তা আশাবিহীন হয়ে সমাপ্ত হয়।
7
স্মরণ কর, আমার জীবন শ্বাসমাত্র,
আমার চোখ আর মঙ্গল দেখতে পাবে না;
8
আমার দর্শনকারীর চোখ আর আমাকে দেখবে না;
আমার প্রতি যখন তোমার দৃষ্টি পড়বে,
আমি আর তখন থাকব না।
9
মেঘ যেমন ক্ষয় পেয়ে অন্তর্হিত হয়,
তেমনি যে পাতালে নামে, সে আর উঠবে না।
10
সে নিজের বাড়িতে আর ফিরে আসবে না,
তার স্থান আর তাকে চিনবে না।
11
অতএব আমি আর মুখ বুঁজে থাকব না,
আমি রূহের উদ্বেগে কথা বলবো,
প্রাণের তিক্ততায় মাতম করবো।
12
আমি কি সমুদ্র না তিমি যে,
আমার উপরে তুমি প্রহরী রাখছ?
13
আমি যখন বলি, আমার পালঙ্ক আমাকে সান্ত্বনা দেবে,
আমার বিছানা দুঃখের উপশম করবে;
14
তখন তুমি নানা স্বপ্নে আমাকে উদ্বিগ্ন কর,
নানা দর্শনে আমাকে ত্রাসযুক্ত কর।
15
তাতে আমার প্রাণ শ্বাসরোধ চায়,
আমার কংকাল শরীর বেঁচে থাকার চেয়ে মরণ চায়।
16
আমার প্রাণকে আমি ঘৃণা করি,
আমি চিরকাল বেঁচে থাকতে চাই না;
আমাকে ছাড়, কেননা আমার আয়ু নিশ্বাস মাত্র।
17
মর্ত্য কি যে, তুমি তাকে মহান জ্ঞান কর,
যে, তার উপরে তোমার মন পড়ে,
18
যে, প্রতি প্রভাতে তুমি তার খোঁজ কর,
এবং নিমিষে নিমিষে তার পরীক্ষা কর?
19
তুমি কত কাল আমার উপর থেকে
তোমার দৃষ্টি ফেরাবে না?
মুহূর্তের জন্যেও কি আমাকে ছাড়বে না?
20
হে মানুষের পাহারাদার, আমি যদি গুনাহ্ করে থাকি,
তবে আমার কাজে তোমার কি হয়?
তুমি কেন আমাকে তোমার লক্ষ্যস্থান করেছ?
আমি তো নিজের ভার নিজেই হয়েছি।
21
তুমি আমার অধর্ম মাফ কর না কেন?
আমার অপরাধ দূর কর না কেন?
আমি তো এখন ধূলিতে শয়ন করবো,
তুমি সযত্নে আমার খোঁজ করবে,
কিন্তু আমি থাকব না।
1
পরে শূহীয় বিল্দদ জবাবে বললেন,
2
তুমি কতক্ষণ এসব বলবে?
তোমার মুখের কথা প্রচণ্ড ঝটিকার মত বইবে?
3
আল্লাহ্ কি বিচারবিরুদ্ধ কাজ করেন?
সর্বশক্তিমান কি ন্যায়বিচার বিকৃত করেন?
4
তোমার সন্তানেরা যদি তাঁর বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে থাকে,
আর তিনি তাদেরকে তাদের অধর্মের হাতে তুলে দিয়ে থাকেন,
5
তুমিই যদি সযত্নে আল্লাহ্র খোঁজ কর,
সর্বশক্তিমানের কাছে যদি সাধ্যসাধনা কর,
6
যদি নির্মল ও সরল হও,
তবে তিনি এখনও তোমার জন্য জাগবেন,
ও তোমার ধর্মনিবাস শান্তিযুক্ত করবেন।
7
তাতে তোমার প্রথম অবস্থা ক্ষুদ্র বোধ হবে,
তোমার অন্তিম দশা অতিশয় উন্নত হবে।
8
আরজ করি, তুমি পূর্বকালীন লোককে জিজ্ঞাসা কর,
তাদের পিতৃগণের অনুসন্ধান-ফলে মনোযোগ কর।
9
কেননা আমরা গতকালের লোক, কিছুই জানি না;
দুনিয়াতে আমাদের আয়ু ছায়াস্বরূপ।
10
ওরা কি তোমাকে শিক্ষা দেবে না ও তোমাকে বলবে না?
ওদের অন্তঃকরণ থেকে কি এই কথা বের হবে না?
11
“কাদা মাটি ছাড়া কি নল বৃদ্ধি পেতে পারে?
নল-খাগ্ড়া কি পানি ছাড়া বাড়তে পারে?
12
যখন তা তেজস্বী থাকে, কাটা না যায়,
তখন অন্য সকল ঘাসের আগে শুকিয়ে যায়।
13
যারা আল্লাহ্কে ভুলে যায়, সেই সবের একই গতি;
আল্লাহ্বিহীন লোকের আশা বিনষ্ট হয়।
14
তার ভরসা উচ্ছিন্ন হয়,
তার আশ্রয় মাকড়সার জালমাত্র।
15
সে তার বাড়িতে নির্ভর করবে, কিন্তু তা স্থির থাকবে না,
সে শক্ত করে ধরলেও তা থাকবে না।
16
সে সূর্যের সাক্ষাতে সতেজ থাকে,
বাগানে তার কোমল শাখা ছড়িয়ে যায়।
17
প্রস্তররাশিতে তার শিকড় জড়িত হয়,
সে পাথরের মধ্যে বেঁচে থাকে,
18
তবু যখন সে স্বস্থান থেকে উৎপাটিত হয়,
তখন সেই স্থান তাকে অস্বীকার করে বলবে,
আমি তো তোমাকে দেখি নি।
19
দেখ, এই তার সুখের পথগুলো;
পরে ধূলি থেকে অন্যেরা উঠবে।”
20
দেখ, আল্লাহ্ সিদ্ধকে পরিত্যাগ করেন না,
আর তিনি দুর্বৃত্তদের হাত ধরে রাখেন না।
21
এখনও তিনি তোমার মুখ হাসিতে পূর্ণ করবেন,
তোমার ওষ্ঠাধর হর্ষধ্বনিতে পূর্ণ করবেন।
22
তোমার বিদ্বেষীরা লজ্জিত হবে,
দুষ্টদের বাসস্থান বিনষ্ট হবে।
1
তখন আইউব জবাবে বললেন,
2
আমি নিশ্চয় জানি, তা-ই বটে,
আল্লাহ্র কাছে মানুষ কিভাবে ধার্মিক হতে পারে?
3
সে যদি তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদ করতে চায়,
তবে হাজার কথার মধ্যে তাঁকে একটিরও উত্তর দিতে পারে না?
4
তিনি চিত্তে জ্ঞানবান ও বলে পরাক্রান্ত;
তাঁর প্রতিরোধ করে কে পার পেয়েছে?
5 তিনি পর্বতমালাকে স্থানান্তর করেন, তারা তা জানে না,
তিনি ক্রোধে তাদেরকে উল্টিয়ে ফেলেন।
6
তিনি দুনিয়াকে তার স্থান থেকে কম্পমান করেন,
তার সমস্ত স্তম্ভ টলটলায়মান হয়।
7
তিনি সূর্যকে বারণ করলে সে উদিত হয় না,
তিনি তারাগণকে আলোকহীন করেন।
8
তিনি একাকী আসমান বিস্তার করেন,
সাগরের ঢেউয়ের উপর দিয়ে হাঁটেন।
9
তিনি সপ্তর্ষি, মৃগশীর্ষ ও কৃত্তিকা নক্ষত্রের,
এবং দক্ষিণস্থ কক্ষ সকলের নির্মাণকর্তা।
10
তিনি মহৎ মহৎ কাজ করেন, যা সন্ধানের অতীত,
অলৌকিক কাজ করেন, যার সংখ্যা গণনা করা যায় না।
11
দেখ, তিনি আমার সম্মুখ দিয়ে যান,
আমি তাঁকে দেখতে পাই না;
কাছ দিয়ে চলেন,
আমি তাঁকে চিনতে পারি না।
12
দেখ, তিনি কেড়ে নেন, কে তাঁকে নিবারণ করবে?
কে বা তাঁকে বলবে, ‘তুমি কি করছো’?
13
আল্লাহ্ নিজের ক্রোধ সম্বরণ করবেন না,
রাহবের সহায়রা তাঁর পদতলে নত হয়।
14
তবে আমি কিভাবে তাঁকে উত্তর দেব?
কেমন করে কথা বেছে তাঁকে বলবো?
15
ধার্মিক হলেও আমি জবাব দিতে পারি না,
আমার প্রতিবাদীর কাছে আমি অবশ্যই করুণা চাইব।
16
আমি ডাকলে যদিও তিনি উত্তর দেন,
তবুও তিনি যে আমার ডাকে কান দেন,
আমার এমন বিশ্বাস জন্মাবে না।
17
কেননা তিনি আমাকে ঝড়ে ভেঙে ফেলেন,
অকারণে পুনঃ পুনঃ ক্ষতবিক্ষত করেন।
18
তিনি আমাকে শ্বাস টানতে দেন না,
বরং তিক্ততায় পরিপূর্ণ করেন।
19
যদি শক্তির প্রতিযোগিতা হয়, দেখ, তিনি শক্তিশালী,
বিচারের কথা হলে, কে তাকে ডাকবে?
20
যদিও আমি ধার্মিক হই,
আমার কথাই আমাকে দোষী করবে;
যদিও আমি সিদ্ধ হই,
তা-ই আমার কুটিলতার প্রমাণ হবে।
21
আমি সিদ্ধ, আমি নিজেকে চিনি না,
আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি।
22
সকলই তো সমান, তাই আমি বলি,
তিনি সিদ্ধ ও দুর্জন উভয়কে সংহার করেন।
23
কশা যদি হঠাৎ মানুষকে মেরে ফেলে,
তিনি নির্দোষের পরীক্ষার সময় হাসবেন।
24
দুনিয়াকে দুর্জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে,
তিনি তার বিচারকর্তাদের মুখ আচ্ছাদন করেন,
যদি না করেন, তবে এই কাজ কে করে?
25
আমার সমস্ত দিন ডাক পিয়নের চেয়েও দ্রুতগামী;
সেসব উড়ে যায়, মঙ্গলের দর্শন পায় না।
26
সেসব চলে যায়, যেমন দ্রুতগামী-নৌকা চলে,
যেমন ঈগল পাখি খাদ্যের উপরে এসে পড়ে।
27
যদি বলি, আমি মাতম ভুলে যাব,
মুখের বিষণ্নতা দূর করবো, প্রসন্নচিত্ত হব,
28
তবুও আমার সকল ব্যথাকে আমি ভয় করি,
আমি জানি, তুমি আমাকে নির্দোষ গণ্য করবে না।
29
আমাকেই দোষী হতে হবে,
তবে কেন বৃথা পরিশ্রম করবো?
30
যদি সাবান দিয়ে শরীর মার্জন করি,
যদি ক্ষার দিয়ে হাত পরিষ্কার করি,
31
তবুও তুমি আমাকে ডোবায় ডুবিয়ে দেবে,
আমার নিজের কাপড়ও আমাকে ঘৃণা করবে।
32
কেননা তিনি আমার মত মানুষ নন যে, তাঁকে উত্তর দিই,
যে, তাঁর সঙ্গে একই বিচারস্থানে যেতে পারি;
33
আমাদের মধ্যে এমন কোন মধ্যস্থ নেই,
যিনি আমাদের উভয়ের মধ্য বিচার করবেন।
34
তিনি আমার উপর থেকে তাঁর দণ্ড দূর করুন,
তাঁর ভীষণতা আমাকে ব্যাকুল না করুক;
35
তাতে আমি কথা বলবো, তাঁকে ভয় করবো না।
কেননা আমি জানি, আমি নিজেকে যেরকম ভাবি সেরকম নই।
1
আমি বেঁচে থেকে ক্লান্ত হয়েছি;
আমি আমার দুঃখের কথা মুক্তকণ্ঠে বলবো,
আমি প্রাণের তিক্ততায় কথা বলবো।
2
আমি আল্লাহ্কে বলবো, আমাকে দোষী করো না;
আমার সঙ্গে কি কারণে ঝগড়া করছো,
তা আমাকে জানাও।
3
এটি কি ভাল যে, তুমি জুলুম করবে?
তোমার হস্তনির্মিত বস্তু তুমি তুচ্ছ করবে?
দুষ্টদের মন্ত্রণায় খুশি হবে?
4
তোমার চোখ কি মানুষের চোখ?
তোমার দৃষ্টি কি মানুষের দৃষ্টির মত?
5
তোমার আয়ু কি মানুষের আয়ুর মত?
তোমার বছরগুলো কি মানুষের দিনগুলোর মত?
6
সেজন্য কি আমার অপরাধের অনুসন্ধান করছো,
আমার গুনাহ্র খোঁজ করছো?
7
তুমি তো জান, আমি দুষ্ট নই,
এবং তোমার হাত থেকে উদ্ধারকারী কেউ নেই।
8
তোমার হাত আমাকে গড়েছে, নির্মাণ করেছে,
আমার সর্বাঙ্গ সুসংযুক্ত করেছে,
তবুও তুমি আমাকে সংহার করছো।
9
স্মরণ কর, তুমি মাটির পাত্রের মত করে আমাকে গড়েছ,
আবার আমাকে কি ধুলিতে বিলীন করবে?
10
তুমি কি দুধের মত আমাকে ঢাল নি?
ছানার মত কি আমাকে ঘনীভূত কর নি?
11
তুমি আমাকে চামড়া ও মাংসে সজ্জিত করেছ,
অস্থি ও শিরা দিয়ে আমাকে বুনেছ;
12
তুমি আমাকে জীবন দান করেছ ও অটল মহব্বত প্রকাশ করেছ,
তোমার তত্ত্বাবধানে আমার রূহ্ পালিত হচ্ছে।
13
তবু এ সবই মনোমধ্যে গুপ্ত করে রেখেছ;
আমি জানি এই তোমার মনোবাসনা।
14
আমি গুনাহ্ করলে তুমি আমার প্রতি লক্ষ্য করবে,
আমার অপরাধ মাফ করবে না।
15
আমি যদি দুষ্ট হই, আমার সন্তাপ হবে!
যদি ধার্মিক হই, মাথা তুলতে পারব না,
আমি অবমাননায় পরিপূর্ণ হয়েছি,
আর নিজের দুঃখ দেখছি।
16
মাথা তুললে তুমি সিংহের মত আমাকে শিকার করবে,
আবার আমার বিরুদ্ধে নিজেকে আশ্চর্য দেখাবে।
17
তুমি আমার বিপরীতে নতুন নতুন সাক্ষী উপস্থিত করবে,
আমার প্রতি তোমার বিরক্তি বাড়াবে;
নতুন নতুন সৈন্যদল আমার প্রতিকূলে নিয়ে আসবে।
18
কেন আমাকে গর্ভ থেকে বের করেছিলে?
আমি সেখানে প্রাণত্যাগ করতাম, কারো দৃষ্টিগোচর হতাম না।
19
আমার যদি জন্ম না হত,
জঠর থেকেই কবরে নেওয়া হত।
20
আমার দিন কি অল্প নয়? অতএব ক্ষান্ত হও,
আমাকে ছাড়, ক্ষণকাল সান্ত্বনা লাভ করি,
21
যে পর্যন্ত আমি সেই স্থানে না যাই,
যেখান থেকে আর ফিরে আসব না।
তা ঘন অন্ধকার ও মৃত্যুচ্ছায়ার দেশ,
22
সেই দেশ ঘোর অন্ধকার, অন্ধকারময়,
তা মৃত্যুচ্ছায়ায় ব্যপ্ত, পারিপাট্য-বিহীন,
সেখানে আলো অন্ধকারের সমান।
1
পরে নামাথীয় সোফর জবাবে বললেন,
2
এত কথার কি কোন উত্তর দেওয়া যাবে না?
বাচালকে কি ধার্মিক বলা যাবে?
3
তোমার দর্পে কি মানুষেরা নীরব থাকবে?
তুমি বিদ্রূপ করলে কি কেউ তোমাকে লজ্জা দেবে না?
4
তুমি আল্লাহ্কে বলছো, “আমার চালচলন শুদ্ধ,
আমি তোমার দৃষ্টিতে খাঁটি।”
5
আহা! আল্লাহ্ একবার কথা বলুন,
তিনি তোমার বিরুদ্ধে তাঁর মুখ খুলুন,
6
তিনি প্রজ্ঞার গূঢ় তত্ত্ব তোমাকে জ্ঞাত করুন,
কারণ বুদ্ধিকৌশল বহুবিধ;
জেনো, আল্লাহ্ তোমার অপরাধের অনেকটা ছেড়ে দেন।
7
তুমি কি অনুসন্ধান দ্বারা আল্লাহ্কে পেতে পার?
সর্বশক্তিমানের সম্পূর্ণ তত্ত্ব জানতে পার?
8
সে তত্ত্ব আসমানের চেয়েও উঁচু; তুমি কি করতে পার?
তা পাতালের চেয়েও গভীর; তুমি কি তা জানতে পার?
9
দুনিয়া থেকেও তার আয়তন দীর্ঘ,
সমুদ্র থেকেও তার পরিসর অনেক বেশি।
10
তিনি যদি হঠাৎ এসে বন্দী করেন,
যদি বিচার সভা করেন,
তবে তাঁকে কে নিবারণ করতে পারে?
11
কেননা তিনি অসার লোকদেরকে জানেন,
আলোচনা না করেও অধর্ম দেখেন।
12
কিন্তু অসার মানুষ জ্ঞানহীন,
সে জন্ম থেকে বন্য গাধার বাচ্চার মত।
13
তুমি যদি তোমার অন্তর স্থির কর,
যদি তাঁর অভিমুখে অঞ্জলি প্রসারণ কর;
14
হাতে অধর্ম থাকলে যদি তা দূর কর,
অন্যায়কে তোমার আবাসে বাস করতে না দাও;
15
তবে তুমি তোমার মুখ বিনা কলঙ্কে তুলতে পারবে,
তুমি সুস্থির থাকবে, ভয় করবে না।
16
কারণ তুমি তোমার কষ্ট ভুলে যাবে,
তা প্রবাহিত পানির মতই মনে হবে।
17
তোমার জীবন মধ্যাহ্ন হতেও বিমল হবে।
অন্ধকার হলেও তা প্রভাতের মত হবে।
18
তুমি সাহস করবে, কারণ প্রত্যাশা আছে,
চারদিকে তত্ত্ব নিয়ে নির্ভয়ে শয়ন করবে।
19
আর তুমি শয়ন করবে, কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না,
বরং অনেকে তোমার কাছে ফরিয়াদ করবে।
20
কিন্তু দুষ্টদের চোখ নিস্তেজ হবে,
তাদের আশ্রয় বিনষ্ট হবে,
তাদের আশা প্রাণত্যাগে পরিণত হবে।
1
পরে আইউব জবাবে বললেন,
2
অবশ্য তোমরাই সেই লোক,
যাদের সঙ্গে প্রজ্ঞা মরে যাবে!
3
কিন্তু তোমাদের মত আমারও বুদ্ধি আছে;
তোমাদের থেকে আমি নিকৃষ্ট নই;
বাস্তবিক, এরকম কথা কে না জানে?
4
আমি প্রতিবেশীর হাসির পাত্র হয়েছি;
আল্লাহ্কে ডাকলে তিনি যাকে উত্তর দিতেন,
সেই ধার্মিক সিদ্ধ ব্যক্তি হাসির পাত্র হয়েছে।
5
বিলাসী লোকেরা বিপদকে তুচ্ছ জ্ঞান করে;
এই বিপদ তাদের জীবনে ঘটবে,
শীঘ্রই যাদের চরণ পিছলে যাবে।
6
দস্যুদের তাঁবু শান্তিযুক্ত,
আল্লাহ্কে যারা ক্রুদ্ধ করে, তারা নির্বিঘ্নে থাকে,
আল্লাহ্ তাদের হাতে ধন দেন।
7
পশুদেরকে জিজ্ঞাসা কর, তারা তোমাকে শিক্ষা দেবে;
আসমানের পাখিদেরকে প্রশ্ন কর, তারা তোমাকে বলে দেবে;
8
দুনিয়াকে বল, সে তোমাকে শিক্ষা দেবে,
সমুদ্রের সমস্ত মাছ তোমাকে বলে দেবে।
9
এসব দেখে কে না জানে যে,
মাবুদেরই হাতই এসব সম্পন্ন করেছে;
10
তাঁরই হাতে সমস্ত জীবের প্রাণ,
সমস্ত মানব জাতির রূহ্ রয়েছে।
11
রসনা যেমন খাদ্যের আস্বাদ নেয়,
তেমনি কান কি কথার পরীক্ষা করে না?
12
প্রাচীনদের কাছে প্রজ্ঞা আছে,
দীর্ঘায়ু ব্যক্তির কাছে সৎ বিবেচনা আছে।
13
তাঁরই কাছে প্রজ্ঞা ও পরাক্রম আছে,
পরামর্শ ও বুদ্ধি তাঁরই।
14
দেখ, তিনি ভেঙ্গে ফেললে আর গড়া যায় না,
তিনি মানুষকে রুদ্ধ করলে মুক্ত করা যায় না।
15
দেখ, তিনি পানি বন্ধ করে রাখলে তা শুকিয়ে যায়,
পানি বর্ষণ করলে তা দুনিয়াকে লণ্ডভণ্ড করে।
16
বল ও বুদ্ধিকৌশল তাঁর,
ভ্রান্ত ও ভ্রান্তি উৎপাদনকারী তাঁর।
17
তিনি মন্ত্রীদেরকে সর্বস্বহীন করে নিয়ে যান,
তিনি বিচারকর্তাদের বুদ্ধি নাশ করেন,
18
তিনি বাদশাহ্দের কর্তৃত্ববন্ধন মুক্ত করেন,
তাদের কোমরে বন্দীর কোমরবন্ধনী বেঁধে দেন,
19
ইমামদেরকে সর্বস্বহীন করে নিয়ে যান,
প্রতাপশালীদের পদচ্যুত করেন।
20
তিনি বিশ্বস্তদের কথা অন্যথা করেন,
বৃদ্ধদের বিবেচনা হরণ করেন।
21
তিনি কর্তাদের উপরে ঘৃণা ঢেলে দেন,
বিক্রমীদের কোমরবন্ধনী খুলে ফেলেন।
22
তিনি অন্ধকার থেকে নিগূঢ়তত্ত্ব প্রকাশ করেন,
মৃত্যুচ্ছায়াকে আলোর মধ্যে আনয়ন করেন।
23
তিনি জাতিদেরকে মহান করেন, আবার বিনাশ করেন,
জাতিদেরকে প্রসারিত করেন, আবার নিয়ে যান।
24
তিনি দুনিয়ার লোকদের নেতাদের হৃদয় হরণ করেন,
পথহীন মরুভূমিতে তাদেরকে ভ্রমণ করান।
25
তারা পথভ্রষ্ট হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তবুও আলো পায় না;
তিনি তাদেরকে মাতালের মত ভ্রমণ করান।
1
দেখ, এসব আমি স্বচক্ষে দেখেছি,
এসব স্বকর্ণে শুনে বুঝেছি।
2
তোমরা যা জান, আমিও জানি,
আমি তোমাদের থেকে নিকৃষ্ট নই।
3
কিন্তু আমি সর্বশক্তিমানের সঙ্গে কথা বলতে চাই,
আল্লাহ্র সঙ্গে আমার মামলা নিয়ে তর্ক করতে চাই।
4
কিন্তু তোমরা তো কেবলই মিথ্যা কথা রচনা কর,
তোমরা সকলে অকর্মণ্য চিকিৎসক।
5
আহা! তোমরা একেবারে নীরব হয়ে থাকতে,
তবে সেটাই হত তোমাদের প্রজ্ঞা।
6
আরজ করি, আমার যুক্তি শোন,
আমার মুখনিঃসৃত তর্কে মন দাও।
7
তোমরা কি আল্লাহ্র পক্ষে অন্যায়পূর্ণ কথা বলবে?
তাঁর পক্ষে কি প্রতারণাপূর্ণ কথা বলবে?
8
তোমরা কি তাঁর মুখাপেক্ষা করবে?
আল্লাহ্র পক্ষে কি ঝগড়া করবে?
9
তিনি তোমাদের পরীক্ষা করলে কি মঙ্গল হবে?
মানুষ যেমন মানুষকে ভুলায়,
তেমনি তোমরা কি তাঁকে ভুলাবে?
10
তিনি তোমাদেরকে অবশ্য অনুযোগ করবেন,
যদি তোমরা গোপনে মুখাপেক্ষা কর।
11
তাঁর মহত্ব কি তোমাদেরকে ত্রাসযুক্ত করবে না?
তাঁর ভয়ংকরতায় কি তোমরা ভয় পাও না?
12
তোমাদের স্মরণীয় শ্লোকমালা ছাইয়ের মত অর্থহীন,
তোমাদের সমস্ত দুর্গ কাদার মত নরম।
13
নীরব হও; আমাকে ছাড়,
আমিই বলি, আমার যা হয় হোক।
14
আমি কেন নিজকে বিপদগ্রস্ত করবো?
কেন আমার প্রাণ আমার হাতে রাখবো?
15
যদি তিনি আমাকে বধও করেন,
তবুও আমি তাঁর অপেক্ষা করবো,
কিন্তু তাঁর সম্মুখে আমার পথের সমর্থন করবো।
16
এও আমার উদ্ধারে পরিণত হবে;
কেননা আল্লাহ্বিহীন লোক তাঁর সম্মুখে আসে না।
17
মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শোন,
আমার নিবেদন তোমাদের কর্ণগোচর হোক।
18
দেখ, আমি আমার যুক্তি বিন্যাস করলাম;
আমি জানি যে, আমি নির্দোষ হবো।
19
বিচারে কে আমার প্রতিবাদ করবে?
করলে আমি নীরব হয়ে প্রাণত্যাগ করবো।
20
তুমি কেবল দু’টি কাজ আমার প্রতি করো না,
তাতে আমি তোমার সম্মুখ থেকে লুকাব না;
21
তোমার হাত আমা থেকে দূরে সরিয়ে নাও,
তোমার ভীষণতা আমাকে ভয় না দেখাক;
22
তখন তুমি ডেকো, আমি উত্তর দেব,
কিংবা আমি কথা বলবো, তুমি উত্তর দিও।
23
আমার অপরাধ ও গুনাহ্ কত?
আমার অধর্ম ও গুনাহ্ আমাকে জানাও।
24
তুমি কেন তোমার মুখ লুকাচ্ছ?
কেন আমাকে তোমার দুশমন বলে ভাবছ?
25
তুমি কি বায়ুচালিত পাতাকে ভয় দেখাবে?
তুমি কি শুকনো ঘাসকে তাড়না করবে?
26
কারণ তুমি আমার বিরুদ্ধে তিক্ত কথা লিখেছ,
আমাকে যৌবনের অপরাধের ফলভোগ করাচ্ছ;
27
তুমি আমার চরণ শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছ,
আমার সমস্ত পথে লক্ষ্য রাখছ,
আমার পাদমূলের চারদিকে সীমানা বাঁধছ।
28
আমি ক্ষয়শীল গলিত বস্তুর মত,
আমি পোকায় কেটে ফেলা কাপড়ের মত।
1
মানুষ, স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলে,
অল্পায়ু ও উদ্বেগে পরিপূর্ণ।
2
সে ফুলের মত প্রস্ফুটিত হয়ে ম্লান হয়,
সে ছায়ার মত চলে যায়, স্থির থাকে না;
3
তবু তুমি কি এই রকম প্রাণীর প্রতি চোখ মেলবে?
আমাকে তোমার সঙ্গে কি বিচারে আনবে?
4
নাপাক থেকে পাক-পবিত্রতার উৎপত্তি কে করতে পারে?
এক জনও পারে না।
5
তার আয়ুর দিন নিরূপিত,
তার মাসের সংখ্যা তোমার কাছে আছে,
তুমি তার অলঙ্ঘনীয় সীমা স্থাপন করেছ।
6
অন্যত্র দৃষ্টিপাত কর, সে বিশ্রাম ভোগ করুক,
বেতনজীবীর মত নিজের দিন ভোগ করুক।
7
কারণ গাছের আশা আছে,
ছিন্ন হলে তা পুনর্বার পল্লবিত হবে,
তার কোমল শাখার অভাব হবে না।
8
যদিও মাটিতে তার মূল পুরানো হয়,
ভূমিতে তার গুঁড়ি মরে যায়,
9
অথচ পানির গন্ধ পেলে তা পল্লবিত হয়,
নতুন চারার মত শাখাবিশিষ্ট হয়।
10
কিন্তু মানুষ মরলে ক্ষয় পায়;
মানুষ প্রাণত্যাগ করে কোথায় থাকে?
11
সমুদ্র থেকে পানি চলে যায়,
নদী শুকিয়ে গিয়ে মরে যায়;
12
তদ্রূপ মানুষ শয়ন করলে আর উঠে না,
যতদিন আসমান লুপ্ত না হয়, সে জাগবে না,
নিদ্রা থেকে জাগরিত হবে না।
13
হায়, তুমি আমাকে পাতালে লুকিয়ে রেখো,
গুপ্ত রেখো, যতদিন তোমার ক্রোধ গত না হয়;
আমার জন্য সময় নিরূপণ কর, আমাকে স্মরণ কর।
14
মানুষ মৃত্যুর পরে কি পুনর্জীবিত হবে?
আমি আমার পরিশ্রমের সমস্ত দিন প্রতীক্ষা করবো,
যে পর্যন্ত আমার মৃত্যু না হয়।
15
পরে তুমি আহ্বান করবে ও আমি উত্তর দেব।
তুমি তোমার হস্তকৃতের প্রতি মমতা করবে।
16
কিন্তু এখন তুমি আমার প্রতিটি পদক্ষেপ গণনা করছো;
কিন্তু আমার গুনাহ্র প্রতি কি লক্ষ্য রাখ না?
17
আমার অধর্ম থলিতে বন্ধ ও সীলমোহরকৃত,
তুমি আমার অপরাধ বেঁধে রাখছ।
18
সত্যিই পর্বতের ক্ষয় হয়ে বিলুপ্ত হয়,
শৈলও তার স্থান থেকে সরে যায়,
19
পানি পাষাণকেও ক্ষয় করে,
তার বন্যা ভূমির ধূলি ভাসিয়ে নিয়ে যায়;
তদ্রূপ তুমি মানুষের আশা ক্ষয় করছো।
20
তুমি তাকে পরাজিত করছো,
তাতে সে চিরতরে চলে যায়,
তুমি তার চেহারা বদলে দিয়ে তাকে দূর করছো।
21
তার সন্তানেরা গৌরবান্বিত হলে সে তা জানে না,
তারা অবনত হলে সে তা টের পায় না।
22
কেবল তার নিজের মাংস ব্যথিত হয়,
তার নিজের প্রাণ ব্যাকুল হয়।
1
পরে তৈমনীয় ইলীফস জবাবে বললেন,
2
জ্ঞানবান কি বাতাসের মত জ্ঞান সহ জবাব দেবে?
সে কি পূর্বীয় বায়ুতে উদর পূর্ণ করবে?
3
সে কি অনর্থক কথায় ঝগড়া করবে?
সে কি নিষ্ফল কথা বলবে?
4
তুমি তো আল্লাহ্ভয় ছেড়ে দিচ্ছ,
তাঁর কাছে মুনাজাত করা কমিয়ে দিয়েছ।
5
তোমারই মুখ তোমারই অপরাধ ব্যক্ত করে,
তুমি ধূর্তভাবে কথা বলতে নিজেকে মনোনীত করছো।
6
তোমারই মুখ তোমাকে দোষী করছে, আমি নই;
তোমারই ওষ্ঠাধর তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিচ্ছে।
7
মানুষের মধ্যে তুমি কি প্রথমজাত?
পর্বতমালার আগে কি তোমার জন্ম হয়েছিল?
8
তুমি কি আল্লাহ্র গূঢ় মন্ত্রণা শুনেছ?
সমস্ত প্রজ্ঞা কি তুমি সীমাবদ্ধ করেছ?
9
আমরা যা না জানি, এমন কিছু কি জান?
আমাদের যা অজ্ঞাত, এমন কি বুঝ?
10
পক্ককেশ ও বৃদ্ধেরা আমাদের মধ্যে আছেন,
তাঁরা তোমার পিতার চেয়েও বৃদ্ধ।
11
আল্লাহ্র সান্ত্বনা কথা কি তোমার জ্ঞানে ক্ষুদ্র?
তোমার সঙ্গে কোমল আলাপ কি ক্ষুদ্র?
12
তোমার মন কেন তোমাকে বিপথে টানে?
তোমার চোখ কেন ক্রোধ প্রকাশ করে?
13
তুমি তো আল্লাহ্র বিরুদ্ধে তোমার রূহ্ ফেরাচ্ছ,
সেই রকম কথা মুখ থেকে বের করছে।
14
মানুষ কি যে, সে পবিত্র হতে পারে?
স্ত্রীর গর্ভজাত মানুষ কি ধার্মিক হতে পারে?
15
দেখ, তিনি তাঁর পবিত্রগণেও বিশ্বাস করেন না,
তাঁর দৃষ্টিতে আকাশও নির্মল নয়।
16
তবে যে ঘৃণার্হ ও ভ্রষ্ট,
যে জন পানির মত অধর্ম পান করে, সে কি!
17
আমি তোমাকে বলি, আমার কথা শুন,
আমি যা দেখেছি তা প্রচার করবো।
18
জ্ঞানীরা তা প্রকাশ করেছেন,
তাঁদের পিতৃলোক থেকে পেয়ে গুপ্ত রাখেন নি,
19
কেবল তাঁদেরকেই দেশ দেওয়া হয়েছিল,
তাঁদের মধ্যে অপর লোক ভ্রমণ করতো না।
20
দুষ্কর্মকারী সারা জীবন কষ্ট পায়,
দুর্দান্তের আয়ু নির্ধারিত আছে।
21
তার কর্ণকুহরে ত্রাসের আওয়াজ আছে,
সুখের সময়ে বিনাশক তাকে আক্রমণ করে।
22
সে বিশ্বাস করে না যে, অন্ধকার থেকে সে ফিরে এল,
সে তলোয়ারের জন্য নির্ধারিত।
23
সে খাদ্যের চেষ্টায় ভ্রমণ করে, বলে, তা কোথায়?
সে জানে, অন্ধকারের দিন তার সন্নিকট।
24
সঙ্কট ও মনস্তাপ তাকে ভয় দেখায়,
যুদ্ধের সাজে সজ্জিত বাদশাহ্র মত
বিপদ তার বিরুদ্ধে প্রবল হয়।
25
কারণ সে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়েছে,
সর্বশক্তিমানের বিরুদ্ধে আস্ফালন করেছে;
26
সে ঘাড় শক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ধাবিত হচ্ছে;
তার মোটা ঢাল নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
27
যেহেতু সে নিজের মেদে মুখ ঢাকত,
সে তার কোমর হৃষ্টপুষ্ট করতো;
28
সে বাস করতো উৎসন্ন নগরে,
সেসব বাড়িতে, যাতে কেউ বাস করতো না,
যা প্রস্তররাশি হবার জন্য নির্ধারিত ছিল।
29
সে ধনী হবে না, তার সম্পত্তি থাকবে না;
তাদের ফল ভূমিতে নুইয়ে পড়বে না।
30
সে অন্ধকার থেকে প্রস্থান করবে না;
আগুনের শিখা তার শাখা শুকিয়ে ফেলবে,
সে তার মুখের নিশ্বাসে উড়ে যাবে।
31
সে ভ্রান্ত হয়ে শূন্যতায় বিশ্বাস না করুক,
কেননা অসারতাই তার বেতন হবে;
32
কালের আগেই তার পরিশোধ হবে,
তার শাখা সতেজ হবে না।
33
আঙ্গুরলতার মত তার কাঁচা ফল ঝরে পড়বে,
জলপাই গাছের মত তার ফুল ঝরে পড়বে।
34
দুষ্ট লোকদের মণ্ডলী বন্ধ্যা হবে,
আগুন উৎকোচ-তাঁবুগুলো গ্রাস করবে।
35
তারা অনিষ্ট গর্ভে ধারণ করে, অন্যায় প্রসব করে,
তাদের উদরে প্রতারণা প্রস্তুত হয়।
1
পরে আইউব জবাবে বললেন,
2
আমি এরকম অনেক কথা
শুনেছি;
তোমরা সকলে কষ্টদায়ক সান্ত্বনাকারী।
3
বাতাসের মত কথাবার্তার কি শেষ হয়?
উত্তর দিতে তোমাকে কিসে উত্তেজিত করে?
আমিও তোমাদের মত কথা বলতে পারি;
4
আমার প্রাণের মত যদি তোমাদের প্রাণ হত,
আমি তোমাদের বিরুদ্ধে কথা জুড়তে পারতাম;
তোমাদের বিরুদ্ধে মাথা নাড়তে পারতাম।
5
কিন্তু মুখ দ্বারা তোমাদেরকে সবল করতাম,
আমার ওষ্ঠের সান্ত্বনায় তোমাদের শান্তি হত।
6
কথা বললেও আমার যন্ত্রণা কমে না,
নীরব থাকলেও কি উপশম হয়?
কিন্তু তিনি আমাকে অবসন্ন করেছেন;
7
তুমি আমার সমস্ত মণ্ডলী উৎসন্ন করেছ।
8
তুমি আমাকে ধরেছ, আর তা-ই আমার প্রতিকূলে সাক্ষ্য দিচ্ছে;
আমার কৃশতা আমার বিরুদ্ধে উঠছে;
আমার মুখের উপরে প্রমাণ দিচ্ছে।
9
সে ক্রোধে আমাকে বিদীর্ণ ও আমাকে তাড়না করেছে,
সে আমার প্রতি দন্ত ঘর্ষণ করেছে,
আমার বিপক্ষে আমার বিরুদ্ধে চোখ রক্তবর্ণ করে।
10
লোকে আমার বিরুদ্ধে মুখ খুলে হা করে,
ধিক্কারপূর্বক আমার গালে চপেটাঘাত করে,
তারা আমার বিরুদ্ধে সমাগত হয়।
11
আল্লাহ্ আমাকে অন্যায়কারীর কাছে তুলে দেন,
আমাকে দুষ্টদের হাতে ফেলে দেন।
12
আমি শান্তিতে ছিলাম, তিনি আমাকে ভেঙেছেন,
ঘাড় ধরে আমাকে আছাড় মেরেছেন,
আমাকে তাঁর লক্ষ্য হিসেবে স্থাপন করেছেন।
13
তাঁর তীরন্দাজেরা আমাকে বেষ্টন করে,
তিনি আমার যকৃৎ বিদীর্ণ করেন, করুণা করেন না,
তিনি মাটিতে আমার পিত্ত ঢালেন।
14
তিনি বারবার আমাকে ভেঙ্গে ফেলেন,
তিনি বীরের মত আমার বিরুদ্ধে দৌড়ে আসেন।
15
আমি নিজের চামড়ার উপরে চট পরেছি,
ধুলাতে আমার মাথা কলুষিত করেছি।
16
কাঁদতে কাঁদতে আমার মুখ বিকৃত হয়েছে,
ঘন অন্ধকার আমার চোখের পাতার উপরে আছে;
17
তবুও আমার হাতে জুলুমের দাগ নেই।
আর আমার মুনাজাত বিশুদ্ধ।
18
হে দুনিয়া! তুমি আমার রক্ত আচ্ছাদন করো না;
আমার ক্রন্দনে নীরব থেক না।
19
দেখ, এখনও আমার সাক্ষ্য বেহেশতে আছে,
আমার সাক্ষী ঊর্ধ্বস্থানে থাকেন।
20
আমার বন্ধুরা আমাকে বিদ্রূপ করে;
আল্লাহ্র উদ্দেশে আমার চোখ অশ্রুপাত করে;
21
যেন তিনি আল্লাহ্র কাছে মানুষের পক্ষে কথা বলেন,
যেমন মানুষ বন্ধুর পক্ষে কথা বলেন।
22
কেননা আর কয়েক বছর গত হলে
যে পথে গেলে আমি ফিরব না, সেই পথে যাব।
1
আমার জীবন শেষ হয়েছে, আমার আয়ু আসন্ন,
কবর আমার জন্য প্রস্তুত।
2
সত্যি, বিদ্রূপকারীরা আমার নিকটস্থ,
তাদের বিরোধ আমার চোখের সম্মুখে আছে।
3
আরজ করি, তুমি অঙ্গীকার কর,
তোমার কাছে তুমিই আমার জামিন হও;
আর কে আছে যে, আমার জামিন হবে?
4
তুমি এদের অন্তর বুদ্ধিরহিত করেছ,
তাই এদেরকে উন্নত করবে না।
5
যে ব্যক্তি লুটের মালের মত তার বন্ধুদেরকে অর্পণ করে,
তার সন্তানদের চোখ অন্ধ হবে।
6
তিনি আমাকে লোকদের হাসির পাত্র করেছেন,
লোকে যার মুখে থুথু ফেলে, আমি এমন হলাম।
7
আমার চোখ মনস্তাপে নিস্তেজ হয়েছে,
আমার সর্বাঙ্গ ছায়ার মত হয়েছে।
8
এতে সরল লোকেরা চমৎকৃত হবে,
দুষ্টদের বিরুদ্ধে নির্দোষ লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।
9
কিন্তু ধার্মিক তার নিজের পথে অগ্রসর হবে,
যার হাত পাক-পবিত্র, সে উত্তরোত্তর প্রবল হবে।
10
কিন্তু তোমরা সকলে এখন ফিরে এসো,
তোমাদের মধ্যে কাউকেও জ্ঞানবান দেখি না।
11
আমার আয়ু গত, আমার অভিপ্রায় সকল ভেঙ্গে গেছে,
আমার সমস্ত মনোবাসনা ভেঙ্গে গেছে।
12
এরা রাতকে দিন করে,
আলোকে অন্ধকারের নিকটস্থ বলে।
13
যদি আমার ঘর বলে পাতালের অপেক্ষা করি,
যদি অন্ধকারে আমার বিছানা পেতে থাকি,
14
যদি ক্ষয়কে বলে থাকি, তুমি আমার পিতা,
কীটকে বলে থাকি, তুমি আমার মা ও বোন;
15
তবে আমার আশা কোথায়?
আর আমার আশা কে দেখতে পাবে?
16
তা কি পাতালের অর্গল পর্যন্ত নেমে যাবে?
আমার সঙ্গে তা কি ধুলায় মিশে যাবে না?
1
পরে শূহীয় বিল্দদ জবাবে বললেন,
2
তোমরা কত কাল মুখের কথা ধরতে জাল পাতবে?
বিবেচনা কর, পরে আমরা জবাব দেব।
3
আমরা কি জন্য পশু হিসেবে গণিত হয়েছি,
তোমাদের দৃষ্টিতে নাপাক হয়েছি?
4
তুমি তো ক্রোধে নিজেকে বিদীর্ণ করছো,
তোমার জন্য কি দুনিয়া ত্যাগ করা যাবে?
শৈলকে কি স্বস্থান থেকে সরিয়ে দিতে হবে?
5
দুষ্টের আলো তো নির্বাপিত হবে,
তার আগুনের শিখা নিস্তেজ হবে।
6
তার তাঁবুতে আলো অন্ধকার হয়ে যাবে,
তার উপরিস্থ প্রদীপ নিভে যাবে।
7
তার বলের গতি খর্ব করা যাবে,
সে নিজের পরামর্শ দ্বারাই নিপাতিত হবে।
8
সে তো নিজের পদসঞ্চারে জালের মধ্যে চালিত হয়,
সে ফাঁস-কলের উপর দিয়ে গমন করে।
9
তার পাদমূল ফাঁদে আট্কে যাবে,
সে ফাঁদে ধরা পড়বে।
10
তার জন্য ফাঁস ভূমিতে লুকিয়ে আছে,
তার জন্য পথে কল পাতা আছে।
11
চারদিকে নানা রকম ত্রাস তাকে ভয় দেখাবে,
পদে পদে তাকে তাড়না করবে।
12
তার বল ক্ষুধায় ক্ষীণ হবে,
বিপদ তার পাশে অবস্থিত থাকবে।
13
তা তার দেহের সমস্ত অঙ্গ ভোজন করবে;
মৃত্যুর জ্যেষ্ঠ সন্তান তার সর্বাঙ্গ গিলে ফেলবে;
14
সে তার বিশ্বাস-স্থল তাঁবু থেকে উৎপাটিত,
এবং ত্রাস-বাদশাহ্র কাছে নীত হবে।
15
তার সঙ্গে সম্পর্কহীনেরা তার তাঁবুতে বাস করবে,
তার বাসস্থানে গন্ধক ছড়ান যাবে।
16
নিচে তার মূল শুকিয়ে যাবে,
উপরে তার শাখা ম্লান হবে।
17
দুনিয়া থেকে তার স্মৃতি মুছে যাবে,
এবং পথে তার নাম থাকবে না।
18
সে আলো থেকে অন্ধকারে দূরীকৃত হবে,
সে সংসার থেকে বিতাড়িত হবে;
19
স্বজাতীয়দের মধ্যে তার পুত্র কি পৌত্র থাকবে না,
তার প্রবাসস্থানে কেউই অবশিষ্ট থাকবে না,
20
তার দুর্দশায় পশ্চিমদেশীয়েরা স্তম্ভিত হবে,
পূর্বদেশীয়েরা ভয়ে রোমাঞ্চিত হবে।
21
সত্যিই, অন্যায়কারীদের বসতি এরকম;
যে আল্লাহ্কে জানে না, তার দশা এ রকমই হবে।
1
পরে আইউব জবাবে বললেন,
2
তোমরা কতক্ষণ আমার প্রাণে
কষ্ট দেবে?
কথার আঘাতে আমাকে চূর্ণ করবে?
3
এই দশবার আমাকে তিরস্কার করেছ;
আমার প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহারে তোমাদের লজ্জা নেই।
4
যা হোক, যদি আমি ভুল করে থাকি,
তবে সেই ভুলের ফল আমারই।
5
তোমরা কি নিতান্তই আমার উপরে অহংকার করবে?
আমার বিরুদ্ধে আমার গ্লানির দোহাই দেবে?
6
এখন জান, আল্লাহ্ আমার প্রতি অন্যায় করেছেন,
তাঁর জালে আমাকে ঘিরেছেন।
7
এমন কি যখন আমার প্রতি অন্যায় হচ্ছে বলে কান্নাকাটি করি, উত্তর পাই না;
আর্তনাদ করি, কিন্তু বিচার হচ্ছে না।
8
তিনি অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর দ্বারা আমার পথ রুদ্ধ করেছেন,
আমার সমস্ত পথ অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছেন।
9
তিনি আমার গৌরব-বসন খুলে নিয়েছেন,
আমার মাথার মুকুট হরণ করেছেন।
10
তিনি চারদিক থেকে আমাকে ভেঙ্গে ফেলেছেন, আমি মারা গেলাম;
আমার আশা তিনি গাছের মত শিকড়সুদ্ধ তুলে ফেলেছেন।
11
তিনি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রজ্বলিত করেছেন,
আমাকে এক জন বিপক্ষের মত গণনা করেছেন।
12
তাঁর সমস্ত সৈন্য একসঙ্গে আসছে;
তারা আমার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে,
আমার তাঁবুর চারদিকে শিবির স্থাপন করেছে।
13
তিনি আমার জ্ঞাতিদের আমা থেকে দূরে রেখেছেন,
আমার পরিচিতেরা অপরিচিতের মত হয়েছে।
14
আমার আত্মীয়রা আমাকে ত্যাগ করেছে,
আমার বন্ধুরা আমাকে ভুলে গেছে।
15
আমার বাড়ির প্রবাসীরা ও আমার বাঁদীরা
আমাকে অপরিচিতের মত জ্ঞান করে,
আমি তাদের দৃষ্টিতে বিজাতীয় হয়েছি।
16
আমার গোলামকে ডাকি, সে আমাকে জবাব দেয় না,
যদিও আমি নিজের মুখে তাকে ফরিয়াদ করি।
17
আমার নিঃশ্বাস আমার স্ত্রীর ঘৃণিত,
আমার আর্তস্বর আমার সহোদরেরা ঘৃণা করে।
18
বালকেরাও আমাকে অবজ্ঞা করে,
আমি উঠলে তারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে।
19
আমার সুহৃদ সকলে আমাকে ঘৃণা করে,
আমার প্রিয়পাত্রেরা আমার প্রতি বিমুখ।
20
আমার চামড়ায় ও মাংসে অস্থি সংলগ্ন হয়েছে,
আমি দন্তের চামড়াবিশিষ্ট হয়ে বেঁচে আছি।
21
হে আমার বন্ধুগণ, আমাকে কৃপা কর, কৃপা কর,
কেননা আল্লাহ্র হাত আমাকে স্পর্শ করেছে।
22
আল্লাহ্র মত করে কেন আমাকে তাড়না কর?
আমার মাংস না খেয়ে কি ক্ষান্ত হবে না?
23
আহা, আমার সমস্ত কথা যদি লেখা হয়!
সেসব যদি কিতাবে বিরচিত হয়!
24
যদি লোহার লেখনী ও সীসা দ্বারা পাষাণে খোদাই-করা
হয়ে অনন্তকাল থাকে!
25
কিন্তু আমি জানি, আমার মুক্তিদাতা জীবিত;
তিনি শেষে ধূলিকণার উপরে উঠে দাঁড়াবেন।
26
আর আমার চামড়া এভাবে বিনষ্ট হওয়ার পর,
তবু আমি মাংসবিহীন হয়ে আল্লাহ্কে দেখব।
27
আমি তাঁকে আমার সপক্ষ দেখব,
আমারই চোখ দেখবে, অন্যে নয়।
বুকের মধ্যে আমার অন্তর ক্ষীণ হচ্ছে।
28
তোমরা যদি বল, আমরা কেমন করে ওকে তাড়না করবো?
কারণ ওর মধ্যেই গণ্ডগোলের মূল দেখতে পাওয়া যায়।
29
তবে তলোয়ারের ভয় তোমাদের থাকা উচিত,
কেননা আল্লাহ্র ক্রোধ তলোয়ারের দণ্ড নিয়ে আসে,
তাঁর বিচার আছে, এই কথা তোমাদের জানা উচিত।
1
নামাথীয় সোফর জবাবে বললেন,
2
আমার চিন্তা জবাব দিতে আমাকে উত্তেজিত করে,
কারণ আমি অধৈর্য হলাম।
3
আমি নিজের অপমানসূচক উপদেশ শুনলাম,
আমার বুদ্ধি থেকে রূহ্ আমাকে উত্তর যোগায়।
4
তুমি কি এই কথা জান না যে, কালের আরম্ভ থেকে,
দুনিয়াতে মানুষের স্থাপনের সময় থেকে,
5
দুষ্টদের আনন্দগান ক্ষণকাল মাত্র স্থায়ী,
আল্লাহ্বিহীন লোকদের হর্ষ নিমেষকাল মাত্র স্থায়ী?
6
তার মহত্ব যদি আসমান পর্যন্ত উঠে,
তার মাথা যদি মেঘ স্পর্শ করে,
7
তবুও সে তার বিষ্ঠার মত চিরতরে বিনষ্ট হবে;
যারা তাকে দেখতো, তারা বলবে, সে কোথায়?
সে স্বপ্নের মতই মিলিয়ে যাবে, নিরুদ্দেশ হবে;
8
সে রাত্রিকালীন দর্শনের মত দূরীকৃত হবে।
9
যে চোখ তাকে দেখতো, তা আর দেখবে না,
তার বাসস্থান আর তাকে দেখবে না।
10
তার সন্তানেরা দরিদ্রদের কাছে দয়া চাইবে,
তার হাত তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবে।
11
তার অস্থি যৌবনের তেজে পরিপূর্ণ,
কিন্তু তার সঙ্গে তাও ধুলায় শয়ন করবে।
12
যদিও নাফরমানী তার মুখে মিষ্ট লাগে,
আর সে তা জিহ্বার নিচে লুকিয়ে রাখে,
13
যদিও ভালবেসে তা ত্যাগ না করে,
কিন্তু মুখের মধ্যে রেখে দেয়;
14
তবুও তার খাদ্য উদরে গিয়ে বিকৃত হয়,
তার দিল কালসাপের বিষস্বরূপ হয়।
15
সে ধন গ্রাস করেছে, আবার তা বমন করবে;
আল্লাহ্ তার উদর থেকে তা বের করবেন।
16
সে সাপের বিষ চুষবে,
বিষধরের জিহ্বা তাকে সংহার করবে।
17
সে নদীগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না,
মধু ও দধিপ্রবাহী সমস্ত স্রোত দেখবে না।
18
সে তার পরিশ্রমের ফল ফিরিয়ে দেবে, গ্রাস করবে না,
সে নিজের লব্ধ সম্পত্তি অনুসারে আমোদ করবে না।
19
কারণ সে দরিদ্রদেরকে উৎপীড়ন ও ত্যাগ করতো,
সে যা নির্মাণ করে নি, এমন বাড়ি-ঘর কেড়ে নিত।
20
তার উদরে শান্তি হত না,
সে তার অভীষ্ট বস্তুর কিছুই রক্ষা করতে পারবে না।
21
তার গ্রাসে কিছু অবশিষ্ট থাকতো না,
অতএব তার সুদশা থাকবে না।
22
সে পূর্ণ প্রাচুর্যের সময়ে কষ্টে পড়বে,
নির্যাতিত সকলের হাত তাকে আক্রমণ করবে।
23
সে যখন নিজের উদর পূর্ণ করতে উদ্যত হয়,
আল্লাহ্ তার উপরে তাঁর গজবের আগুন নিক্ষেপ করবেন,
তার ভোজনকালে তার উপরে তা বর্ষণ করবেন।
24
সে লোহার অস্ত্র থেকে পালিয়ে যাবে,
কিন্তু ব্রোঞ্জের ধনুর্বাণে বিদ্ধ হবে।
25
সে তীর টানলে তা তার অঙ্গ থেকে বের হয়,
তার পিত্ত থেকে চক্মকে তীরের ফলা বের হয়,
নানা রকম ত্রাস তাকে আক্রমণ করে।
26
তার ধন হিসেবে সমুদয় অন্ধকার সঞ্চিত হয়,
বিনা প্ররোচনায় আগুন তাকে গ্রাস করবে।
তার তাঁবুতে অবশিষ্ট সকলই ভস্ম করবে।
27
আসমান তার অপরাধ ব্যক্ত করবে,
দুনিয়া তার প্রতিকূলে উঠবে।
28
তার বাড়ির সম্পত্তি উড়ে যাবে,
তা আল্লাহ্র ক্রোধের দিনে গলে যাবে।
29
এটাই আল্লাহ্ থেকে দুষ্ট মানুষের লভ্য অংশ,
এটাই আল্লাহ্ নিরূপিত তার অধিকার।
1
পরে আইউব জবাবে বললেন,
2
তোমরা মন দিয়ে আমার কথা শোন,
তা-ই তোমাদের সান্ত্বনা দেবে।
3
আমার প্রতি সহিষ্ণু হও, আমিই কথা বলি;
আমার কথনের পরে তুমি বিদ্রূপ করো।
4
আমার কাতরোক্তি কি মানুষের কাছে?
আমার মন অধৈর্য হবে না কেন?
5
তোমরা আমার প্রতি নিরীক্ষণ কর,
স্তব্ধ হও, তোমাদের মুখে হাত দাও।
6
আমার দুর্দশার কথা মনে পড়লেই আমি ভয় পাই,
আমার মাংস কাঁপতে থাকে।
7
দুর্জনেরা কেন জীবিত থাকে, কেন বৃদ্ধ হয়,
আবার কেন ঐশ্বর্যে শক্তিশালী হয়?
8
তাদের সন্তান-সন্তুতি তাদের সম্মুখে, তাদের সঙ্গে,
তাদের বংশধরেরা তাদের সম্মুখে বৃদ্ধি পায়।
9
তাদের বাড়ি শান্তিযুক্ত ও ভয়শূন্য থাকে,
তাদের উপরে আল্লাহ্র দণ্ড নেই।
10
তাদের ষাঁড় সঙ্গম করলে তা ব্যর্থ হয় না;
গাভীর গর্ভসঞ্চার হলে তার গর্ভপাত হয় না।
11
তারা নিজ নিজ শিশুদের ভেড়া পালের মত বাইরে চালায়,
তাদের সন্তানেরা নৃত্য করে।
12
তারা তবল ও বীণা বাদ্য করে,
বাঁশীর আওয়াজ শুনলে আনন্দ করে।
13
তারা সুখে তাদের আয়ু যাপন করে।
পরে এক নিমিষের মধ্যে পাতালে নামে।
14
তবুও তারা আল্লাহ্কে বলে,
“তুমি আমাদের কাছ থেকে দূর হও,
কারণ আমরা তোমার পথ জানতে চাই না।
15
সর্বশক্তিমান কে যে আমরা তার সেবা করবো?
তাঁর কাছে মুনাজাত করলে আমাদের কি লাভ?”
16
দেখ, তাদের সৌভাগ্য তাদের হস্তগত নয়,
দুষ্টদের পরামর্শ আমা থেকে দূরবর্তী।
17
কতবার দুষ্টদের প্রদীপ নির্বাপিত হয়?
কতবার তাদের বিপদ ঘটে,
এবং আল্লাহ্ ক্রোধে এমন কষ্ট বণ্টন করেন যে,
18
তারা বায়ুর সম্মুখস্থ শুকনো ঘাসের মত,
ও ঝটিকা বিতাড়িত তুষের মত হয়?
19
তোমরা বল, আল্লাহ্ মানুষের সন্তানদের জন্য তার অধর্ম সঞ্চয় করেন।
তিনি তাকেই অধর্মের ফল দিন, তা হলে সে তা বুঝতে পারবে,
20
তার নিজের চোখ তার বিনাশ দেখুক,
সে সর্বশক্তিমানের ক্রোধ পান করুক।
21
কারণ যখন তার মাসের সংখ্যা শেষ হবে,
তখন নিজের ভাবী কুলে তার কি সন্তোষ থাকবে?
22
কেউ কি আল্লাহ্কে জ্ঞান শিক্ষা দেবে?
তিনি তো ঊর্ধ্ববাসীদেরও শাসন করেন।
23
কেউ সম্পূর্ণ বলবান অবস্থায় মরে,
সব রকম বিশ্রাম ও শান্তি থাকতে মরে।
24
তার সমস্ত ভাণ্ড দুধে পরিপূর্ণ,
তার অস্থির মজ্জা সতেজ থাকে।
25
আর কেউ বা প্রাণে তিক্ত হয়ে মরে,
মঙ্গলের আস্বাদ পায় না।
26
এরা উভয়ে সমভাবে ধুলায় শায়িত হয়,
উভয়ে কীটে আচ্ছন্ন হয়।
27
দেখ, আমি তোমাদের সমস্ত চিন্তা জানি,
আমার বিরুদ্ধে তোমাদের অন্যায় সমস্ত সঙ্কল্প জানি।
28
তোমরা বলছো, “সেই ভাগ্যবানের বাড়ি কোথায়?
সেই দুর্জনদের বসতির তাঁবু কোথায়?”
29
তোমরা কি পথিকদেরকে জিজ্ঞাসা কর নি?
ওদের চিহ্নগুলো কি জান না?
30
বিনাশের দিন পর্যন্ত দুর্জন রক্ষিত হয়,
ক্রোধের দিন পর্যন্ত তারা উত্তীর্ণ হয়।
31
তার সম্মুখে তার পথ কে প্রকাশ করবে?
তার কাজের ফল তাকে কে দেবে?
32
আর সে কবরে নীত হবে,
লোকে তার কবর-স্থান পাহারা দেবে।
33
উপত্যকার মাটি তার সুখতর বোধ হবে,
তারপর সকলে তার অনুগামী হবে,
তার আগেও অসংখ্য লোক তদ্রূপ ছিল।
34
তবে কেন আমাকে অনর্থক সান্ত্বনা দিচ্ছ?
তোমাদের উত্তরে তো কেবল অসত্য রয়েছে।
1
পরে তৈমনীয় ইলীফস জবাবে বললেন,
2
মানুষ কি আল্লাহ্র উপকারী হতে পারে?
বরং বিবেচক নিজেরই উপকারী হয়।
3
তুমি ধার্মিক হলে কি সর্বশক্তিমানের আনন্দ হয়?
তুমি সিদ্ধ আচরণ করলে কি তাঁর লাভ হয়?
4
তিনি কি তোমার ভয়হেতু তোমাকে অনুযোগ করেন,
সেজন্য কি তোমার সঙ্গে বিচারে প্রবৃত্ত হন?
5
তোমার দুষ্কর্ম কি বিস্তর নয়?
তোমার অপরাধের সীমা নেই।
6
তুমি অকারণে নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে বন্ধক নিতে,
তুমি বস্ত্রহীনের বস্ত্র হরণ করতে।
7
তুমি পরিশ্রান্তকে পান করতে পানি দিতে না,
ক্ষুধিতকে আহার দিতে অস্বীকার করতে।
8
কিন্তু দেশ বলবান লোকেরই অধিকার ছিল,
সম্মানের পাত্রই তাতে বাস করতো।
9
তুমি বিধবাদেরকে খালি হাতে বিদায় করতে,
পিতৃহীনদের বাহু চূর্ণ করা হত।
10
এই কারণে তোমার চতুর্দিকে ফাঁদ আছে,
আকস্মিক ত্রাস তোমাকে ভয় দেখায়।
11
অন্ধকার হয়েছে, তুমি দেখতে পাচ্ছ না,
পানির বন্যা তোমাকে আচ্ছন্ন করেছে।
12
আল্লাহ্ কি উচ্চতম বেহেশতে থাকেন না?
দেখ, তারাগুলো কত উঁচুতে আছে!
13
কিন্তু তুমি বলছো, আল্লাহ্ কি জানেন?
অন্ধকারে থেকে তিনি কি শাসন করেন?
14
নিবিড় মেঘ তার অন্তরাল, তিনি দেখেন না,
তিনি আসমানের উপরে ঘুরে বেড়ান।
15
তুমি কি প্রাচীনকালের সেই পথ ধরবে,
যার পথিকরা দুর্জন ছিল?
16
তাদের তো অকালে নিয়ে যাওয়া হল,
তাদের ভিত্তিমূল বন্যায় ভেসে গেল।
17
তারা আল্লাহ্কে বলতো, আমাদের কাছ থেকে দূর হও;
সর্বশক্তিমান আমাদের কি করবেন?
18
তবু তিনি তাদের বাড়ি উত্তম দ্রব্যে পূর্ণ করতেন;
কিন্তু দুষ্টদের পরামর্শ আমা থেকে দূরবর্তী।
19
এই দেখে ধার্মিকরা আনন্দ করে,
নির্দোষ লোকে ওদেরকে ঠাট্টা করে বলে,
20
“সত্যই আমাদের দুশমনদের বিনষ্ট হয়েছে,
আগুন ওদের অবশিষ্ট সম্পদ গ্রাস করেছে।”
21
আরজ করি, আল্লাহ্র সঙ্গে পরিচিত হও, শান্তি পাবে;
তা হলে মঙ্গল তোমাদের কাছে আসবে।
22
তাঁর মুখ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ কর,
তাঁর কালাম হৃদয়ের মধ্যে রাখ।
23
সর্বশক্তিমানের প্রতি ফিরলে তুমি সংগঠিত হবে,
তোমার নিবাস থেকে অন্যায় দূর কর।
24
যদি ধুলার মধ্যে তোমার সোনা ফেলে দাও,
স্রোতের মধ্যে তোমার ওফীরের সোনা ফেলে দাও;
25
তবে সর্বশক্তিমানই তোমাদের সোনা হবেন,
তোমার উজ্জ্বল রূপাস্বরূপ হবেন।
26
তখন তুমি সর্বশক্তিমানে আনন্দ করবে,
আল্লাহ্র প্রতি মুখ তুলতে পারবে;
27
তাঁর কাছে ফরিয়াদ করবে,
তিনি তোমার কথা শুনবেন,
তুমি তোমার সমস্ত মানত পূর্ণ করবে।
28
তুমি কিছু মনস্থ করলে তা তোমার পক্ষে সফল হবে,
তোমার পথে আলো আলো প্রদান করবে।
29
অবনত হলে তুমি বলবে, উন্নতি হবে,
আর তিনি অধোমুখের উদ্ধার করবেন।
30
যে ব্যক্তি নির্দোষ নয়, তাকেও তিনি উদ্ধার করবেন,
তোমার হাতের পাক-পবিত্রতায় সে উদ্ধার পাবে।
1
তখন আইউব জবাবে বললেন,
2
আজও আমার মাতম তীব্র,
আমার কাতরতা থেকে আমার অসুখ ভারী,
3
আহা! যদি তাঁর উদ্দেশ পেতে পারি,
যদি তার আসনের কাছে যেতে পারি,
4
তবে আমি তাঁর সম্মুখে আমার বিচার বর্ণনা করবো,
আমি নানা যুক্তিতর্কে আমার মুখ পূর্ণ করবো।
5
তিনি কি কি কথায় উত্তর দেবেন, তা জানবো,
তিনি আমাকে কি বলবেন, তা বুঝবো।
6
তিনি কি তাঁর মহাপরাক্রমে আমার সঙ্গে
উত্তর প্রত্যুত্তর করবেন?
না, তিনি আমার প্রতি মনোযোগ দেবেন।
7
সেখানে সরল লোক তার সঙ্গে বিচার করতে পারে,
এবং আমি আমার বিচারকর্তা থেকে চিরতরে উদ্ধার পেতে পারি।
8
দেখ, আমি অগ্রসর হই, কিন্তু তিনি সেখানে নেই,
পিছনের দিকে যাই, তাঁকে দেখতে পাই না;
9
বামদিকে যাই, যখন তিনি কাজ করেন,
কিন্তু তাঁর দর্শন পাই না;
তিনি ডান দিকে নিজেকে গোপন করেন,
আমি তাঁকে দেখতে পাই না।
10
অথচ আমি কোন্ পথে যাই তিনি তা জানেন,
তিনি আমার পরীক্ষা করলে আমি সোনার মতই উত্তীর্ণ হবো।
11
আমার পা তাঁর পায়ের চিহ্ন ধরে চলেছে,
তাঁর পথে রয়েছি, বিপথগামী হই নি।
12
তাঁর ওষ্ঠনির্গত হুকুম থেকে আমি সরে আসি নি,
আমার প্রয়োজনীয় যা,
তারচেয়ে তাঁর মুখের কালাম বেশি সঞ্চয় করেছি।
13
কিন্তু তিনি একাগ্রচিত্ত; কে তাঁকে ফিরাতে পারে?
তিনি যা ইচ্ছা, তা-ই করেন।
14
তিনি, আমার জন্য যা নির্ধারিত, তা-ই সফল করেন,
এবং এরকম অনেক কাজ তাঁর কাছে রয়েছে।
15
এই কারণ আমি তাঁর সাক্ষাতে ভয় পাই;
যখন বিবেচনা করি তা থেকে ভীত হই।
16
আল্লাহ্ই আমার হৃদয় মূর্ছিত করেছেন,
সর্বশক্তিমান আমাকে ভীষণ ভয় দেখিয়েছেন,
17
যদি আমি অন্ধকারে অবসন্ন হতে পারতাম,
ঘোর অন্ধকার আমার মুখ আচ্ছন্ন করে রাখত!
1
সর্বশক্তিমান থেকে কেন সময় নির্ধারিত হয় না?
যারা তাঁকে জানে, তারা কেন তাঁর দিন দেখতে পায় না?
2
কেউ কেউ ভূমির আল সরিয়ে দেয়,
তারা সবলে ভেড়ার পাল হরণ করে চরায়।
3
তারা এতিমদের গাধা নিয়ে যায়,
তারা বিধবার গরু বন্ধক রাখে।
4
তারা দরিদ্রদেরকে পথ থেকে তাড়িয়ে দেয়;
দুনিয়ার দীনহীনেরা একেবারে লুকিয়ে থাকে।
5
দেখ, মরুভূমিস্থ বন্য গাধাগুলোর মত
তারা নিজের কাজে গিয়ে গ্রাসের খোঁজ করে;
জঙ্গল তাদের সন্তানদের জন্য খাদ্য যোগায়।
6
তারা ক্ষেতে ওর পশুর খাদ্যশস্য কেটে ফেলে,
দুর্জনের আঙ্গুর-ক্ষেতে অবশিষ্ট ফল চয়ন করে;
7
কাপড়ের অভাবে উলঙ্গ হয়ে রাত যাপন করে,
শীতকালে তাদের আচ্ছাদন মাত্র থাকে না।
8
তারা পর্বতের বৃষ্টিতে ভিজে,
আশ্রয় না থাকায় শৈলের আশ্রয় নেয়।
9
কেউ কেউ এতিমকে মাতার স্তন থেকে কেড়ে নেয়,
দরিদ্রের সামগ্রী বন্ধক রাখে।
10
তাই এরা কাপড়ের অভাবে উলঙ্গ হয়ে বেড়ায়,
খিদে নিয়েই শস্যের আঁটি বহন করে।
11
এরা ওদের প্রাচীরের ভিতরে তেল প্রস্তুত করে,
আঙ্গুর মাড়াই করে তৃষ্ণার্ত হয়।
12
নগরের মধ্য থেকে লোকেরা কোঁকায়,
আহত লোকের প্রাণ চিৎকার করে,
তবুও আল্লাহ্ এই দোষে মনোযোগ করেন না।
13
তারা আলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের দলভুক্ত,
তারা তার গতি জানে না,
তারা তার পথে থাকে না।
14
হত্যাকারী খুব ভোরে উঠে,
দুঃখী ও দীনহীনকে মেরে ফেলে,
রাতের বেলায় সে চোরের সমান হয়।
15
জেনাকারীর চোখও সন্ধ্যাবেলার অপেক্ষা করে;
সে বলে, কারো চোখ আমাকে দেখতে পাবে না;
আর সে নিজের মুখ আচ্ছাদন করে।
16
তারা অন্ধকারে লোকের বাড়িতে সিঁধ কাটে,
দিবালোকে তারা লুকিয়ে থাকে;
তারা আলো জানে না।
17
প্রাতঃকাল তাদের সকলের পক্ষে মৃত্যুচ্ছায়ার মত
কারণ তারা মৃত্যুচ্ছায়ার ভয়ানকতা জানে।
18
এই রকম লোক স্রোতের বেগে চালিত ঘাসের মত;
দেশে তাদের অধিকার শাপগ্রস্ত হয়,
তারা আর আঙ্গুর-ক্ষেতের পথে বিহার করে না।
19
অনাবৃষ্টি ও গ্রীষ্ম যেমন বরফ-গলা পানিকে,
পাতাল তেমনি গুনাহ্গারদেরকে হরণ করে।
20
মাতৃগর্ভ তাদেরকে ভুলে যাবে,
তারা কীটের সুস্বাদু খাবার হবে,
তারা কারো স্মরণে থাকবে না;
গাছের মত অন্যায় ভেঙে পড়বে।
21
সে নিঃসন্তান বন্ধ্যা স্ত্রীকে গ্রাস করে,
সে বিধবার প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করে না।
22
আল্লাহ্ শক্তি দ্বারা শক্তিশালীদের ধ্বংস করেন,
তিনি উঠলে কারো জীবনের আশা থাকে না।
23
তিনি কাউকে আশ্রয় দিলে সে নির্ভয়ে থাকে;
কিন্তু তাদের পথে তাঁর দৃষ্টি থাকে।
24
তারা উঁচু হয়, ক্ষণকাল গেলে তারা থাকে না,
তারা নত হয়ে পরে, ঘাসের মত ম্লান হয়ে যায়,
শস্যের শীষের মতই শুকয়ে যায়।
25
যদি এরকম না হয়,
কে আমার কথাগুলো মিথ্যা বলে প্রমাণ করবে?
কে আমার কথা নিরর্থক বলে দেখাবে?
1
পরে শূহীয় বিল্দদ জবাবে বললেন,
2
প্রভুত্ব ও ভয়ানকতা তাঁর,
তিনি তাঁর উঁচু স্থানে থেকে শাস্তি বিধান করেন।
3
তাঁর সৈন্যদল কি গণনা করা যায়?
তাঁর আলো কার উপরে না উঠে?
4
তবে আল্লাহ্র কাছে মানুষ কেমন করে ধার্মিক হবে?
স্ত্রীলোকের সন্তান কেমন করে বিশুদ্ধ হবে?
5
দেখ, তাঁর দৃষ্টিতে চন্দ্রও নিস্তেজ,
তারাগণও নির্মল নয়;
6
তবে কীটের মত মানুষ কি?
কৃমির মত মানুষের সন্তানের মূল্যই বা কি?
1
তখন আইউব জবাবে বললেন,
2
তুমি বলহীনের কেমন সাহায্য করলে!
দুর্বল বাহুকে কেমন নিস্তার করলে!
3
প্রজ্ঞাহীনকে কেমন পরামর্শ দিলে!
বুদ্ধিকৌশল কেমন প্রচুররূপে প্রকাশ করলে!
4
তুমি কার কাছে কথা বললে?
তোমার মুখ থেকে কার নিশ্বাস বের হল?
5
জলরাশির নিচে ও জলচর প্রাণীদের নিচে,
মৃতদের রূহ্ ভয়ে ভীষণ কাঁপছে।
6
তাঁর সম্মুখে পাতাল অনাবৃত,
বিনাশ স্থান অনাচ্ছাদিত।
7
তিনি শূন্যের উপরে উত্তর কেন্দ্র বিস্তার করেছেন,
অবস্তুর উপরে দুনিয়াকে স্থাপন করেছেন,
8
তিনি স্বীয় নিবিড় মেঘে পানি আট্কে রাখেন,
তবুও জলধর তার ভারে বিদীর্ণ হয় না।
9
তিনি পূর্ণচন্দ্রের মুখ আচ্ছাদন করেন,
নিজের মেঘ দ্বারা তা আবৃত করেন।
10
তিনি জলরাশির উপরে চক্ররেখা লিখেছেন,
অন্ধকার ও আলোর মধ্যবর্তী সীমা পর্যন্ত।
11
আসমানের সমস্ত স্তম্ভ কেঁপে ওঠে,
তাঁর ভর্ৎসনায় চমকে উঠে।
12
তিনি নিজের পরাক্রমে সমুদ্রকে উত্তেজিত করেন,
নিজের বুদ্ধিতে রাহবকে আঘাত করেন।
13
তাঁর শ্বাসে আসমান পরিষ্কার হয়;
তাঁরই হাত পলায়মান নাগকে বিদ্ধ করেছে।
14
দেখ, এসব তাঁর পথের প্রান্ত;
তাঁর বিষয়ে ক্ষীণ আওয়াজ শোনা যায়;
কিন্তু তাঁর পরাক্রমের গর্জন কে বুঝতে পারে?
1
পরে আইউব পুনর্বার প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন, বললেন,
2
জীবন্ত আল্লাহ্র কসম— যিনি আমার বিচার অগ্রাহ্য করেছেন,
সর্বশক্তিমানের কসম— যিনি আমার প্রাণ তিক্ত করেছেন,
3
কারণ আমার মধ্যে নিশ্বাস এখনও সমপূর্ণ আছে,
আমার নাসিকায় আল্লাহ্র নিঃশ্বাস আছে;
4
নিশ্চয়ই আমার ওষ্ঠ অন্যায় বলবে না,
আমার জিহ্বা প্রতারণা উচ্চারণ করবে না।
5
আমি তোমাদেরকে ধার্মিক বলি, এমন যেন না হয়;
প্রাণ থাকতে আমি আমার সিদ্ধতা ত্যাগ করবো না।
6
আমার ধার্মিকতা আমি রক্ষা করবো, ছাড়ব না।
আমি জীবিত থাকতে আমার মন আমাকে ধিক্কার দেবে না।
7
আমার দুশমন দুর্জনের মত হোক,
যে আমার বিরুদ্ধে উঠে, সে অন্যায়কারীর সমান হোক।
8
বস্তুত আল্লাহ্বিহীন লোক ধন সঞ্চয় করলেও তার প্রত্যাশা কি?
কেননা আল্লাহ্ তার প্রাণ হরণ করবেন।
9
যখন তার সঙ্কট ঘটে,
আল্লাহ্ কি তার কান্না শুনবেন?
10
সে কি সর্বশক্তিমানে আমোদ করে?
নিত্য কি আল্লাহ্কে আহ্বান করে?
11
আমি আল্লাহ্র শক্তির বিষয়ে তোমাদেরকে উপদেশ দেব,
সর্বশক্তিমানের কাছে যা আছে, তা গোপনে রাখবো না।
12
দেখ, তোমরা সকলেই তোমাদের মধ্যে তা দেখেছ,
তবে কেন এমন অর্থহীন কথাবার্তা?
13
দুষ্ট লোক আল্লাহ্ থেকে এই শাস্তি পায়,
সর্বশক্তিমান থেকে দুর্দান্তেরা এই পরিণতি লাভ করে।
14
এমন লোকের পুত্রবাহুল্য হলে তলোয়ারে বিনষ্ট হবে,
তার সন্তান-সন্ততি ভোজন করে তৃপ্ত হবে না;
15
তার অবশিষ্টেরা মারী দ্বারা কবরস্থ হবে;
তার বিধবারা তাদের জন্য কাঁদবে না।
16
সে যদিও ধূলিকণার মত রূপা সঞ্চয় করে,
যদিও কাদার মত পরিচ্ছদ প্রস্তুত করে,
17
তবু প্রস্তুত করলেও ধার্মিক সেই কাপড়-চোপড় পরবে,
নির্দোষ সেই রূপা ভাগ করে নেবে।
18
তার নির্মিত বাড়ি কীটের বাসার মত,
তা আঙ্গুর-ক্ষেতের পাহারা ঘরের মত।
19
সে শেষবারের মত ধনী হয়ে শয়ন করে,
কিন্তু সে চোখ খুলে দেখে, তার ধন আর নেই।
20
জলরাশির মত ত্রাস তাকে আক্রমণ করবে;
রাতে তাকে ঝড়ে উড়িয়ে নেবে।
21
পূর্বীয় বায়ূ তাকে তুলে নেয়, সে চলে যায়,
তা স্বস্থান থেকে তাকে দূরে নিক্ষেপ করে।
22
আল্লাহ্ তার উপরে তীর নিক্ষেপ করবেন, রহম করবেন না;
সে এর হাত এড়াবার জন্য পালিয়ে যাবে।
23
লোকে তাকে উপহাস করবে,
শিশ্ দিয়ে তাকে স্বস্থান থেকে দূর করবে।
1
বাস্তবিক রূপার খনি আছে,
সোনা পরিষ্কারের স্থানও আছে;
2
ধূলি থেকে লোহা সংগৃহীত হয়,
গলিত পাথর থেকে ব্রোঞ্জ পাওয়া যায়।
3
মানুষ অন্ধকার ভেদ করে,
অন্ধকার ও মৃত্যুচ্ছায়াতে যেসব পাথর আছে,
সে প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে মূল্যবান পাথর অনুসন্ধান করে।
4
তারা বাসস্থান ছেড়ে খনি খনন করে,
মানুষের চরণ তাদেরকে ভুলে যায়,
তারা মানুষ থেকে দূরে ঝুলতে থাকে;
5
মাটি থেকে শস্যের উৎপত্তি হয়,
তার নিম্নভাগ যেন আগুন দ্বারা লণ্ডভণ্ড হয়।
6
তার পাথর নীলকান্ত মণির জন্মস্থান,
তার ধূলিকণার মধ্যে সোনা থাকে।
7
সেই পথ চিলের অজ্ঞাত,
তা শকুনীর চোখের অগোচর;
8
অহংকারী সমস্ত পশু তা দলিত করে নি,
কেশরী সেখানে পদার্পণ করে নি।
9
মানুষ দৃঢ় শৈলে হস্তক্ষেপ করে,
পর্বতদেরকে সমূলে উল্টিয়ে ফেলে।
10
সে শৈলের মধ্যে স্থানে স্থানে সুরঙ্গ কাটে,
তার চোখ সমস্ত রকম মণি দর্শন করে।
11
সে নদীর সমস্ত উৎস অনুসন্ধান করে,
যা গুপ্ত আছে, তা সে আলোতে আনে।
12
কিন্তু প্রজ্ঞা কোথায় পাওয়া যায়?
সুবিবেচনার স্থানই বা কোথায়?
13
মানুষ তার মূল্য জানে না,
জীবিতদের দেশে তা পাওয়া যায় না।
14
জলধি বলে, তা আমাতে নেই;
সমুদ্র বলে, তা আমার কাছে নেই।
15
তা উত্তম সোনা দিয়েও পাওয়া যায় না,
তার মূল্য হিসেবে রূপাও ওজন করা যায় না।
16
ওফীরের সোনা তার সমতূল্য নয়,
বহুমূল্য গোমেদক ও নীলকান্তমণিও নয়।
17
সোনা ও কাচ তার সমান হতে পারে না,
তার পরিবর্তে সোনার পাত্র দেওয়া হবে না।
18
তার কাছে প্রবাল ও স্ফটিকের নাম করা যায় না,
পদ্মরাগমণির মূল্যের চেয়েও প্রজ্ঞার মূল্য বেশী।
19
ইথিওপিয়া দেশের পীতমণিও তার সমান নয়,
খাঁটি সোনাও তার সমতুল্য হয় না।
20
অতএব প্রজ্ঞা কোথা থেকে আসে?
সুবিবেচনার স্থানই বা কোথায়?
21
তা সমস্ত সজীব প্রাণীর চোখ থেকে গুপ্ত,
তা আসমানের পাখির অদৃশ্য।
22
বিনাশ ও মৃত্যু বলে,
আমরা স্বকর্ণে তার কীর্তি শুনেছি।
23
আল্লাহ্ই তার পথ জানেন;
তিনিই কেবল জানেন তা কোথায় থাকে;
24
কেননা তিনি দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত দেখেন,
সমস্ত আসমানের অধঃস্থানে তার দৃষ্টি যায়।
25
তিনি যখন বায়ুর গুরুত্ব নিরূপণ করলেন,
যখন পরিমাণ দ্বারা পানি পরিমিত করলেন,
26
যখন তিনি বৃষ্টির নিয়ম স্থাপন করলেন,
বিদ্যুৎ ও মেঘ-গর্জনের পথ স্থির করলেন,
27
তখন প্রজ্ঞাকে দেখলেন ও প্রচার করলেন,
তা স্থাপন করলেন, তার সন্ধানও করলেন;
28
আর তিনি মানবজাতিকে বললেন,
দেখ, প্রভুর ভয়ই প্রজ্ঞা,
দুষ্কর্ম থেকে সরে যাওয়াই সুবিবেচনা।
1
পরে আইউব পুনর্বার কথা প্রসঙ্গে বললেন,
2
আহা! যদি আমি তেমনি থাকতাম,
যেমন আগের মাসগুলোতে ছিলাম!
যেমন আগের দিনগুলোতে ছিলাম,
যখন আল্লাহ্ আমাকে প্রহরা দিতেন।
3
তখন আমার মাথার উপরে তার প্রদীপ জ্বলতো,
তার আলোতে আমি অন্ধকারেও চলতাম।
4
আমি উত্তম অবস্থায় ছিলাম,
আল্লাহ্র গুঢ় মন্ত্রণা আমার তাঁবুর উপরে থাকতো;
5
তখন সর্বশক্তিমান আমার সহায় ছিলেন,
আমার সন্তানেরা আমার চারদিকে ছিল।
6
আমার পায়ের চিহ্ন দুধে নিমজ্জিত হত,
শৈল হত আমার জন্য তেলের নদী।
7
আমি নগরের দিকে গিয়ে তোরণদ্বারে উঠতাম,
চকে আমার আসন প্রস্তুত করতাম,
8
যুবকেরা আমাকে দেখে লুকাত,
বৃদ্ধেরা উঠে দাঁড়াতেন;
9
নেতৃবর্গ কথা বলা থেকে নিবৃত্ত হতেন,
নিজ নিজ মুখে হাত দিয়ে থাকতেন;
10
বড় লোকেরা অবাক হয়ে থাকতেন,
তাঁদের জিহ্বা তালুতে লেগে থাকতো;
11
আমার কথা শুনলে লোকে আমার সাধুবাদ করতো,
আমাকে দেখলে তারা আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিত।
12
কারণ আমি আর্তনাদকারী দুঃখীকে,
এবং এতিম ও অসহায়কে উদ্ধার করতাম।
13
হতভাগ্য লোকের দোয়া আমার উপরে বর্তিত;
আমি বিধবার চিত্তকে আনন্দগান করাতাম।
14
আমি ধার্মিকতা পরতাম,
আর তা পরতো আমাকে;
আমার ন্যায়বিচার পরিচ্ছদ ও তাজস্বরূপ ছিল।
15
আমি অন্ধের চোখ ছিলাম,
আমি খঞ্জের পা ছিলাম।
16
আমি দীনহীনের পিতা ছিলাম;
যাকে না জানতাম, তারও বিচারের তদন্ত করতাম;
17
আমি অন্যায়কারীর চোয়াল ভেঙ্গে ফেলতাম,
তার দাঁত হতেই শিকার উদ্ধার করতাম।
18
তখন বলতাম, আমি নিজের বাড়ি মধ্যে মরবো;
আমার দিন বালুকণার মত বহুসংখ্যক হবে।
19
পানির ধারে আমার মূল বিস্তৃত হয়,
সমস্ত রাত আমার শাখায় শিশির থাকে,
20
আমার গৌরব আমাতে সতেজ থাকে,
আমার ধনুক আমার হাতে নতুনীকৃত হয়।
21
লোকে আমারই কথা শোনত, প্রতীক্ষা করতো,
আমার পরামর্শের জন্য নীরব হয়ে থাকতো।
22
আমার কথার পরে তারা আর কথা বলতো না;
আমার কালাম তাদের উপরে বিন্দু বিন্দু ঝরত।
23
তারা যেমন বৃষ্টির, তেমনি আমার প্রতীক্ষা করতো;
যেন শেষ বর্ষার জন্য মুখ বিস্তার করতো।
24
আমি তাদের প্রতি হাসলে তারা বিশ্বাস করতো না,
তারা আমার মুখের আলো ম্লান করতো না।
25
আমি তাদের পথ মনোনীত করতাম ও প্রধানের মত বসতাম;
সৈন্যদলের মধ্যে যেমন বাদশাহ্, তেমনি থাকতাম,
শোকার্তদের সান্ত্বনাকারীর মত থাকতাম।
1
সম্প্রতি, যারা আমা থেকে অল্প বয়স্ক,
তারা আমাকে পরিহাস করে;
আমি তাদের পিতাদেরকে আমার পালরক্ষক
কুকুরদের সঙ্গে রাখতেও অবজ্ঞা করতাম।
2
তাদের বাহুবলে আমার কি ফল হতে পারে?
তাদের তেজ তো নষ্ট হয়েছে।
3
তারা দীনতায় ও খাদ্যের অভাবে অসাড় হয়ে পড়ে,
উৎসন্নতা ও শূন্যতার ঘোরে শুকনো ভূমি চর্বণ করে;
4
তারা ঝোপের কাছে বিস্বাদু শাক তোলে,
রেতম গাছের শিকড় তাদের খাদ্যদ্রব্য।
5
তারা মানব সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়,
যেমন চোরের, তেমনি লোকে তাদের পিছনে পিছনে চিৎকার করে।
6
তারা উপত্যকার ভয়ানক স্থানে থাকে,
ধূলিময় ও পাষাণময় গর্তে বাস করে।
7
তারা ঝোপের মধ্যে থেকে হ্রেষারব করে,
ঝোপ-ঝাড়ে একত্রীভূত হয়।
8
তারা মূর্খদের সন্তান, অপদার্থদের সন্তান,
তারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে।
9
সম্প্রতি আমি তাদের গানের বিষয় হয়েছি,
বস্তুত আমি তাদেরই গল্পের বিষয়।
10
তারা আমাকে ঘৃণা করে, আমা থেকে দূরে থাকে,
আমার মুখে থুথু ফেলতে ভয় করে না।
11
তিনি তো তাঁর দড়ি খুলে আমাকে নত করেছেন,
তারা আমার সাক্ষাতে তাদের বল্গা ফেলে দিয়েছে।
12
ওরা আমার ডান দিকে উঠে,
আমাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে,
আমার বিরুদ্ধে বিনাশের পথ প্রস্তুত করে।
13
তারা আমার সমস্ত পথ রোধ করে,
আমার সর্বনাশার্থে সফলকাম হয়;
কেউ তাদের সাহায্য করতে আসে না।
14
তারা যেন প্রশস্ত ছিদ্র দিয়ে আসে,
ভঙ্গের মধ্যে আমার উপরে এসে গড়িয়ে পড়ে।
15
নানা রকম ত্রাস আমার সম্মুখে উপস্থিত,
সেসব বায়ুর মত আমার সম্ভ্রম দূর করছে;
মেঘের মত আমার মঙ্গল অতীত হচ্ছে।
16
এখন আমার প্রাণ আমার মধ্যে দ্রবীভূত;
দুঃখের দিনগুলো আমাকে আক্রমণ করছে।
17
রাতে আমার সমস্ত অস্থি ঝড়ে যায়,
আমার সমস্ত ব্যথ্যা কখনও বিশ্রাম নেয় না।
18
(রোগের) প্রবল শক্তিতে আমার পরিচ্ছদ বিকৃত হয়,
জামার গলার মত আমাতে এঁটে থাকে।
19
(আল্লাহ্) আমাকে পঙ্কে মগ্ন করেছেন,
আমি ধূলা ও ভস্মের মত হচ্ছি।
20
আমি তোমার কাছে আর্তনাদ করি,
তুমি উত্তর দাও না; আমি দাঁড়িয়ে থাকি,
তুমি আমার প্রতি কেবলমাত্র দৃষ্টিপাত করছে।
21
তুমি আমার প্রতি নির্দয় হয়ে উঠছে,
তোমার বাহুবল আমাকে তাড়না করছে।
22
তুমি আমাকে তুলে বাতাসে ছেড়ে দিয়েছ,
ঝটিকায় বিলীন করছে।
23
বস্তুত আমি জানি, তুমি আমাকে মৃত্যুর কাছে নিয়ে যাচ্ছ;
সমস্ত জীবিত লোকদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাচ্ছ।
24
পড়বার সময়ে লোক কি হাত বাড়িয়ে ধরে না?
কষ্টের সময়ে কি সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে না?
25
আমি বিপদগ্রস্তের জন্য কি কাঁদতাম না?
দীনের জন্য কি শোকাকুলচিত্ত হতাম না?
26
আমি মঙ্গলের অপেক্ষা করলে অমঙ্গল ঘটলো,
আলোর প্রতীক্ষা করলে অন্ধকার আসল।
27
আমার অন্ত্র জ্বলতে থাকে, শান্তি পায় না,
দুঃখের দিনগুলো আমার সম্মুখবর্তী হয়েছে।
28
বিনা রৌদ্রে আমি ম্লান হয়ে বেড়াচ্ছি,
আমি সমাজে উঠে দাঁড়াই, আর্তনাদ করি।
29
আমি শিয়ালদের ভাই হয়েছি,
উটপাখিদের বন্ধু হয়েছি।
30
আমার চামড়া কালো রংয়ের হয়েছে, খসে খসে পড়ছে,
আমার অস্থি তাপে দগ্ধ হয়েছে।
31
আমার বীণার সুর আজ হাহাকারে পরিণত,
আমার বাঁশীর সুরে শোনা যাচ্ছে বিলাপের কান্না।
1
আমি নিজের চোখের সঙ্গে নিয়ম করেছি;
কোনও যুবতীর প্রতি কটাক্ষপাত কেন করবো?
2
ঊর্ধ্ববাসী আল্লাহ্ থেকে কি প্রকার অংশ প্রাপ্তি হয়?
বেহেশতের সর্বশক্তিমান থেকে কি প্রকার অধিকার প্রাপ্তি হয়?
3
তা কি অন্যায়কারীর জন্য বিপদ নয়?
তা কি অধর্মচারীদের জন্য দুর্গতি নয়?
4
তিনি কি আমার সমস্ত পথ দেখেন না?
আমার সকল পদক্ষেপ গণনা করেন না?
5
আমি যদি মিথ্যার সহচর হয়ে থাকি,
আমার পা যদি ছলের পথে দৌড়ে থাকে,
6
(তিনি ধর্মনিক্তিতে আমাকে ওজন করুন,
আল্লাহ্ আমার সিদ্ধতা জ্ঞাত হোন;)
7
আমি যদি বিপথে পদসঞ্চার করে থাকি,
আমার হৃদয় যদি চোখের অনুবর্তী হয়ে থাকে,
আমার হাতে যদি কোন কলঙ্ক লেগে থাকে,
8
তবে আমি রোপন করলে অন্যে ফল ভোগ করুক,
ও আমার সমস্ত চারা উৎপাটিত হোক।
9
আমার হৃদয় যদি রমণীতে মুগ্ধ হয়ে থাকে,
প্রতিবেশীর দরজার কাছে যদি আমি লুকিয়ে থাকি,
10
তবে আমার স্ত্রী পরের জন্য যাঁতা পেষণ করুক,
অন্য লোকে তাকে ভোগ করুক!
11
কেননা তা জঘন্য কাজ,
তা বিচারকর্তাদের কর্তৃক দণ্ডনীয় অপরাধ;
12
তা সর্বনাশ পর্যন্ত গ্রাসকারী আগুন,
তা আমার ফসলের শিকড় পর্যন্ত গ্রাস করতো।
13
আমার গোলাম বা বাঁদী আমার কাছে অভিযোগ করলে,
যদি তাদের বিচারে অবহেলা করে থাকি,
14
তবে আল্লাহ্ উঠলে আমি কি করবো?
তিনি প্রশ্ন করলে তাঁকে কি জবাব দেব?
15
যিনি মাতৃগর্ভে আমাকে রচনা করেছেন,
তিনিই কি ওকেও রচনা করেন নি?
একই জন কি আমাদেরকে গর্ভে গঠন করেন নি?‘
16
আমি যদি দরিদ্রদেরকে তাদের অভীষ্ট বস্তু থেকে
বঞ্চিত করে থাকি,
যদি বিধবার নয়ন নৈরাশ্যে সজল করে থাকি,
17
যদি আমার খাদ্য একা খেয়ে থাকি,
এতিম তার কিছু খেতে না পেয়ে থাকে,
18
(বস্তুত আমার বাল্যকাল থেকে সে যেমন পিতার কাছে,
তেমনি আমার কাছে বেড়ে উঠত,
কারণ আজন্মকাল আমি বিধবার উপকার করেছি;)
19
যখন আমি কাউকেও কাপড়ের অভাবে মরার মত দেখেছি,
দীনহীনকে উলঙ্গ দেখেছি,
20
যদি তার কোমর আমাকে দোয়া না করে থাকে,
আমার ভেড়ার লোমে তার শরীর উষ্ণ না হয়ে থাকে;
21
নগর-দ্বারে নিজের সহায়কে দেখতে পাওয়াতে,
যদি এতিমের বিরুদ্ধে হাত তুলে থাকি;
22
তবে আমার কাঁধের অস্থি খসে পড়ুক,
আমার বাহু সন্ধি থেকে পড়ে যাক।
23
কারণ আল্লাহ্র দেওয়া বিপদ আমার কাছে ত্রাসের মত হত,
তাঁর মহত্বের জন্য সেরকম কিছু করতে পারতাম না।
24
আমি যদি সোনাকে আশাভূমি করে থাকি,
সোনাকে বলে থাকি, তুমি আমার সহায়,
25
সম্পদের বৃদ্ধি হয়েছে বলে,
হাতে সমৃদ্ধি লাভ হয়েছে বলে যদি আনন্দ করে থাকি,
26
যখন তেজোময় সূর্যকে দেখেছি,
জ্যোৎস্না-ভরা চন্দ্রকে দেখেছি,
27
তখন যদি আমার মন গোপনে মুগ্ধ হয়ে থাকে,
আমার মুখ যদি হাতকে চুম্বন করে থাকে,
28
তবে তাও বিচারকর্তাদের শাসনীয় অপরাধ হত,
কেননা তা হলে ঊর্ধ্ববাসী আল্লাহ্কে অস্বীকার করতাম।
29
আমার বিদ্বেষীর বিপদে কি আনন্দ করেছি?
তার অমঙ্গলে কি উল্লসিত হয়েছি?
30
বরঞ্চ আমার মুখকে গুনাহ্ করতে দেই নি;
বদদোয়াসহ ওর প্রাণ যাচ্ঞা করি নি।
31
আমার তাঁবুর লোকে কি বলতো না,
কোন্ ব্যক্তি ওর দেওয়া মাংসে তৃপ্ত হয় নি?
32
কোনও বিদেশী পথে রাত যাপন করতো না,
কারণ পথিকদের জন্য আমি দরজা খুলে রাখতাম।
33
আমি কি অন্য মানুষের মত আমার অধর্ম ঢেকেছি?
আমার অপরাধ কি বক্ষস্থলে লুকিয়েছি?
34
আমি কি মহৎ জনসমাজকে ভয় করতাম?
গোষ্ঠীগুলোর তুচ্ছতায় কি উদ্বিগ্ন হতাম?
আমি কি নীরব থাকতাম,
দ্বারের বাইরে যেতাম না?
35
হায় হায়! কেউ কি আমার কথা শোনে না?
এই দেখ, আমি যা বলছি তা সত্যি;
সর্বশক্তিমান আমাকে উত্তর দিন,
আমার প্রতিবাদী আমার দোষপত্র লিখুন।
36
অবশ্য আমি তা কাঁধে বহন করবো,
আমার পাগড়ী বলে তা বাঁধব।
37
আমার প্রতিটি পায়ের ধাপের সংখ্যা তাঁকে জানাবো,
রাজপুরুষের মত তাঁর কাছে যাব।
38
আমার ভূমি যদি আমার প্রতিকূলে কান্না করে,
তার চাষের সমস্ত রেখা যদি কান্নাকাটি করে,
39
আমি যদি বিনা অর্থে তার ফলভোগ করে থাকি,
ভূমির অধিকারীদের প্রাণহানির কারণ হয়ে থাকি,
40
তবে গমের স্থানে কাঁটা উৎপন্ন হোক,
যবের স্থানে বিষবৃক্ষ উৎপন্ন হোক।
এখানে আইউবের কথা শেষ হয়েছে।
1
পরে ঐ তিন জন আইউবকে জবাব দিতে ক্ষান্ত হলেন, কারণ তিনি নিজের দৃষ্টিতে নিজেকে ধার্মিক মনে করেছিলেন।
2 তখন রাম গোষ্ঠীজাত বূষীয় বারখেলের পুত্র ইলীহূর ক্রোধে জ্বলে উঠলেন, আইউবের প্রতি তিনি ক্রুদ্ধ হলেন, কারণ তিনি আল্লাহ্র চেয়ে নিজেকে ধার্মিক জ্ঞান করেছিলেন।
3 আবার তাঁর তিন বন্ধুর প্রতি তাঁর ক্রোধে জ্বলে উঠলেন, কারণ তারা জবাব দিতে না পেরেও আইউবকে দোষী করেছিলেন।
4 ইলীহূর বয়সের চেয়ে তাদের সকলের বয়স বেশি ছিল, তাই তিনি আইউবের কাছে কথা বলবার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।
5 পরে ঐ তিন ব্যক্তির মুখে আর জবাব নেই দেখে ইলীহূ ক্রোধে জ্বলে উঠলেন।
6 আর বূষীয় বারখেলের পুত্র ইলীহূ বললেন,
আমি যুবক, আর আপনারা প্রাচীন,
তাই সঙ্কুচিত ছিলাম,
আপনাদের কাছে আমার মতামত প্রকাশ করতে ভয় করলাম।
7
আমি বললাম, বয়সই কথা বলুক,
বছরের বাহুল্যই প্রজ্ঞা শিক্ষা দিক।
8
কিন্তু মানুষের মধ্যে রূহ্ আছে,
সর্বশক্তিমানের নিশ্বাস তাদেরকে বিবেচক করে।
9
মহতেরাই যে জ্ঞানবান তা নয়,
প্রাচীনেরাই যে বিচার বোঝেন তাও নয়।
10
অতএব আমি বলি, আমার কথা শুনুন;
আমিও আমার মতামত প্রকাশ করি।
11
দেখুন, আমি আপনাদের কথার অপেক্ষা করেছি;
আপনাদের যুক্তিতর্কে কান দিয়েছি,
যখন আপনারা কি বলবেন, খুঁজছিলেন।
12
আমি আপনাদের কথায় নিবিষ্টমনা ছিলাম,
কিন্তু দেখুন, আপনাদের মধ্যে কেউই
আইউবের দোষ ব্যক্ত করেন নি,
তাঁর কথার জবাব দেন নি।
13
তবে বলবেন না, আমরা জ্ঞান পেয়েছি;
ওঁকে পরাস্ত করা আল্লাহ্রই সাধ্য, মানুষের অসাধ্য।
14
ফলে, তিনি আমার বিরুদ্ধে কিছুই বলেন নি,
আমিও আপনাদের বক্তৃতায় তাঁকে জবাব দেব না।
15
ওঁরা ক্ষুব্ধ হলেন, আর জবাব দেবেন না,
ওঁদের বলবার আর কথা নেই।
16
আর কেন অপেক্ষা করবো?
ওঁরা তো কিছুই বলেন না,
ওঁরা নীরব হলেন, কোন জবাব দিলেন না।
17
আমিও যথাসাধ্য জবাব দেব,
আমিও আমার মতামত প্রকাশ করবো।
18
কেননা আমি কথায় পরিপূর্ণ,
আমার অন্তরস্থ রূহ্ আমাকে প্ররোচিত করছে।
19
দেখুন, আমার উদর বন্ধ করে রাখা আঙ্গুর-রসের মত,
তা নতুন কূপার মত ফেটে যাবার মত হয়েছে।
20
আমি কথা বলবো, বললে উপশম পাব,
আমি ওষ্ঠাধর খুলে জবাব দেব।
21
আমি কোন লোকের মুখাপেক্ষাও করবো না,
কোন মানুষের চাটুবাদ করবো না।
22
কেননা আমি চাটুবাদ করতে জানি না,
করলে আমার নির্মাতা শীঘ্রই আমাকে সংহার করবেন।
1
যা হোক, আইউব, আরজ করি, আমার কথা শুনুন,
আমার সমস্ত কথায় কান দিন।
2
দেখুন, আমি এখন মুখ খুলেছি,
আমার তালুস্থিত জিহ্বা কথা বলছে।
3
আমার কথা মনের সরলতা প্রকাশ করবে,
আমার ওষ্ঠাধর যা জানে, সরল তা ভাবে বলবে।
4
আল্লাহ্র রূহ্ আমাকে রচনা করেছেন,
সর্বশক্তিমানের নিশ্বাস আমাকে জীবন দেন।
5
আপনি যদি পারেন, আমাকে জবাব দিন,
আমার সম্মুখে কথা গুছিয়ে বলুন, উঠে দাঁড়ান।
6
দেখুন, আল্লাহ্র কাছে আমিও আপনার মত;
আমাকেও মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
7
দেখুন, আমার ভয়ানকতা আপনাকে ত্রাসযুক্ত করবে না,
আমার ভার আপনার দুর্বহ হবে না।
8
আপনি আমার কর্ণগোচরেই কথা বলেছেন,
আমি আপনার কথার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি,
9
“আমি পাক-পবিত্র, আমার অধর্ম নেই;
আমি নিষ্কলঙ্ক, আমাতে অপরাধ নেই;
10
দেখুন, তিনি আমার বিরুদ্ধে ছিদ্র খোঁজ করেন,
আমাকে আপনার দুশমন গণনা করেন;
11
তিনি আমার পা শিকল দিয়ে বেঁধেছেন,
আমার সমস্ত পথ নিরীক্ষণ করেন।”
12
দেখুন, এই বিষয়ে আপনি যথার্থবাদী নন—
আমি আপনাকে জবাব দিই—
কেননা মানুষের চেয়ে আল্লাহ্ মহান।
13
আপনি কেন তার সঙ্গে বিতণ্ডা করছেন?
তিনি তো আপনার কোন কথার জবাব দেন না।
14
আল্লাহ্ একবার বলেন, বরং দু’বার,
কিন্তু লোকে মন দেয় না।
15
স্বপ্নে, রাত্রিকালীন দর্শনে,
যখন মানুষেরা অগাধ নিদ্রায় মগ্ন হয়, বিছানায় সুখনিদ্রা যায়,
16
তখন তিনি মানুষের কান খুলে দেন,
সাবধান বাণী দিয়ে তাদের ভয় দেখান,
17
যেন তিনি মানুষকে দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত করেন,
যেন মানুষ থেকে অহঙ্কার গুপ্ত রাখেন।
18
তিনি কূপ থেকে তার প্রাণ,
মৃত্যুর আঘাত থেকে তার জীবন রক্ষা করেন।
19
সে নিজের বিছানায় ব্যথিত হয়ে শাস্তি পায়,
তার অস্থিতে নিরন্তর যন্ত্রণা হয়,
20
আহারেও তার জীবনের রুচি হয় না,
সুস্বাদু খাদ্যও তার প্রাণে ভাল লাগে না,
21
তার মাংস ক্ষয় পেয়ে অদৃশ্য হয়,
তার অদৃশ্য অস্থিগুলো বের হয়ে পড়ে।
22
তার প্রাণ কূপের নিকটস্থ হয়,
তার জীবন মৃত্যুর দূতদের নিকটবর্তী হয়।
23
যদি তার সঙ্গে এক জন ফেরেশতা থাকেন,
এক জন অর্থকারক, হাজারের মধ্যে এক জন,
যিনি মানুষকে তার পক্ষে যা ন্যায্য, তা দেখান,
24
তবে তিনি তার প্রতি কৃপা করে বলেন,
“কূপে নেমে যাওয়া থেকে একে মুক্ত কর,
আমি তার কাফ্ফারা পেলাম।”
25
তার দেহ বালকের চেয়েও সতেজ হবে,
সে যৌবন কাল ফিরে পাবে।
26
সে আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করে,
আর তিনি তার প্রতি খুশি হন,
তাই সে হর্ষধ্বনিপূর্বক তাঁর মুখ দর্শন করে,
আর তিনি মানুষকে তার ধার্মিকতা ফিরিয়ে দেন।
27
সে মানুষের কাছে গজল গেয়ে বলে, “আমি গুনাহ্ করেছি,
ন্যায়ের বিপরীত করেছি, তবুও তার মত প্রতিফল পাই নি;
28
তিনি কূপে প্রবেশ করা থেকে আমার প্রাণকে মুক্ত করেছেন,
আমি আলো উপভোগ করার জন্য বেঁচে থাকব।”
29
দেখুন, আল্লাহ্ এসব কাজ করেন,
মানুষের সঙ্গে দু’বার, তিনবার করেন,
30
যেন কূপ থেকে তার প্রাণ ফিরিয়ে আনেন,
যেন সে জীবনের আলোতে আলোকিত হয়।
31
আইউব, অবধান করুন, আমার কথা শুনুন;
আপনি নীরব থাকুন, আমি বলি।
32
যদি আপনার কিছু বক্তব্য থাকে, জবাব দিন, বলুন,
কেননা আমি আপনাকে নির্দোষ দেখাতে চাই।
33
যদি বক্তব্য না থাকে, তবে আমার কথা শুনুন,
নীরব হোন, আমি আপনাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দিই।
1
ইলীহূ আরও বলতে লাগলেন,
2
হে বিজ্ঞেরা, আমার কথা শুনুন;
হে জ্ঞানবানেরা, আমার কথায় কান দিন।
3
কেননা রসনা যেমন খাদ্যের স্বাদ নেয়,
তদ্রূপ কান কথার পরীক্ষা করে।
4
আসুন, যা ন্যায্য তা-ই মনোনীত করি,
কোন্টি ভাল, নিজেদের মধ্যে স্থির করি।
5
দেখুন, আইউব বললেন, আমি ধার্মিক,
কিন্তু আমার যা ন্যায্য, আল্লাহ্ তা হরণ করেছেন;
6
আমি ন্যায়বান হলেও মিথ্যাবাদী গণিত,
বিনা দোষে আমি দারুণ আহত হয়েছি।
7
আইউবের মত কোন ব্যক্তি আছে?
তিনি পানির মত উপহাস পান করেন,
8
অধর্মচারীদের সঙ্গে চলেন,
দুর্বৃত্তদের পথে গমন করেন।
9
কেননা তিনি বলেছেন, মানুষের কোন লাভ নেই,
যখন সে আল্লাহ্র সঙ্গে প্রণয় রাখে।
10
অতএব, হে বুদ্ধিমানেরা, আমার কথা শুনুন,
এই কথা দূরে থাকুক যে, আল্লাহ্ দুষ্কর্ম করবেন,
সর্বশক্তিমান অন্যায় করবেন।
11
কারণ তিনি মানুষের কাজের ফল তাকে দেন,
মানুষের গতি অনুসারে তার দশা ঘটান।
12
আল্লাহ্ তো কখনও দুষ্টাচরণ করেন না,
সর্বশক্তিমান কখনও বিচার বিপরীত করেন না।
13
দুনিয়ার কর্তৃত্বভার তাঁকে কে দিল?
সমস্ত দুনিয়ার দেখাশুনার কাজে কে তাঁকে লাগাল?
14
যদি তিনি তাঁর নিজের কথাই ভাবতেন,
তাঁর রূহ্ ও নিশ্বাস তাঁর নিজের কাছে সংগ্রহ করতেন,
15
তবে সমস্ত মানুষ একেবারে ধ্বংস হয়ে যেত,
মানুষ পুনর্বার ধুলিতে ফিরে যেত।
16
যদি আপনার বিবেচনা থাকে, তবে শুনুন,
আমার কথায় কান দিন।
17
যে ন্যায়বিদ্বেষী, সে কি শাসন করবে?
আপনি কি ধর্মময় পরাক্রমীকে দোষী করবেন?
18
বাদশাহ্কে কি বলা যায়, তুমি অপদার্থ?
রাজন্যবর্গকে কি বলা যায়, তোমরা দুষ্ট?
19
কিন্তু তিনি শাসনকর্তাদেরও মুখাপেক্ষা করেন না,
দরিদ্রের কাছে ধনবানকেও বিশিষ্ট মনে করেন না,
কেননা তারা সকলেই তাঁর হস্তকৃত বস্তু।
20
তাদের হঠাৎ মৃত্যু হয়, মধ্যরাত্রে প্রয়াত হয়,
লোকগুলো বিচলিত হয়ে চলে যায়,
পরাক্রমী বিনা হস্তক্ষেপে অপনীত হয়।
21
কেননা মানুষের পথে তাঁর দৃষ্টি আছে;
তিনি তার প্রতিটি ধাপ দেখেন;
22
এমন অন্ধকার কি মৃত্যুচ্ছায়া নেই,
যেখানে দুর্বৃত্তরা লুকাতে পারে।
23
তিনি মানুষের বিষয়ে দীর্ঘকাল চিন্তা করেন না,
যখন সে আল্লাহ্র সম্মুখে বিচার স্থানে আসে।
24
তিনি বিনা সন্ধানে পরাক্রান্তদেরকে খণ্ড খণ্ড করেন,
তাদের স্থানে অন্যদেরকে স্থাপন করেন।
25
এভাবে তিনি তাদের সকল কাজের হিসাব রাখেন,
রাতে তাদের উল্টিয়ে ফেলেন, তাতে তারা চূর্ণ হয়।
26
তিনি তাদের দুর্জন বলে প্রহার করেন,
সকলের দৃষ্টিগোচরেই করেন;
27
কারণ তারা তাঁর পিছনে চলা থেকে ফিরল,
তাঁরা সমস্ত পথ অবহেলা করলো;
28
এভাবে দরিদ্রের কান্না তার কাছে আনা হল;
আর তিনি দুঃখীদের কান্না শুনলেন।
29
তিনি শান্তি দিলে কে দোষ দিতে পারে?
তিনি মুখ ঢাকলে কে তাঁর দর্শন পেতে পারে?
সে জাতিই হোক বা ব্যক্তিই হোক;
30
আল্লাহ্বিহীন লোক যেন রাজত্ব না করে,
লোকদেরকে ফাঁদে ফেলতে যেন কেউ না থাকে।
31
কেউ কি আল্লাহ্কে বলেছে, আমি (শাস্তি) পেয়েছি,
আর গুনাহ্ করবো না,
32
যা দেখতে পাই না, তা আমাকে শেখাও;
যদি অন্যায় করে থাকি, আর করবো না?
33
তাঁর প্রতিদান কি আপনার ইচ্ছামত হবে যে,
আপনি তা অগ্রাহ্য করলেন?
মনোনীত করা আপনার কাজ, আমার নয়;
অতএব আপনি যা জানেন, বলুন।
34
বুদ্ধিমান লোকেরা আমাকে বলবেন,
জ্ঞানবানেরা আমার কথা শুনে বলবেন,
35
আইউব জ্ঞানশূন্য হয়ে কথা বলছেন,
তার কথা বুদ্ধি বিবর্জিত।
36
আইউবের পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত হলেই ভাল,
কেননা তিনি অধার্মিকদের মত জবাব দিয়েছেন।
37
বস্তুতঃ তিনি গুনাহে অধর্ম যোগ করেন,
তিনি আমাদের মধ্যে হাততালি দেন,
আর তিনি আল্লাহ্র বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেন।
1
ইলীহূ আরও বলতে লাগলেন,
2
আপনিই বলেন এই কথা কি ঠিক হতে পারে?
আপনি কি বলছেন, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে আপনি ধার্মিক?
3
কারণ আপনি বলছেন, ধার্মিকতায় আমার কি লাভ?
গুনাহ্ করলে যা হত, তার চেয়ে আমার কি বেশি লাভ হবে?
4
আমি আপনাকে জবাব দেব,
আপনার বন্ধুদেরকেও সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেব।
5
আকাশমণ্ডলের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন,
মেঘমালা নিরীক্ষণ করুন, তা আপনা থেকে উচ্চ।
6
আপনি যদি গুনাহ্ করেন, তার বিরুদ্ধে কি করবেন?
অধর্মের বাহুল্যে আপনি তাঁর কি করবেন?
7
যদি ধার্মিক হন, তাঁকে কি দিতে পারেন?
আপনার হাত থেকেই বা তিনি কি গ্রহণ করবেন?
8
আপনার নাফরমানীর ফল আপনার মত মানুষের উপর,
এবং আপনার ধার্মিকতার ফল মানুষের-সন্তানের উপর বর্তে।
9
উপদ্রবের বাহুল্যে লোকে কান্নাকাটি করে,
বলবানদের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য মিনতি করে।
10
কিন্তু কেউ বলে না, আমার নির্মাতা আল্লাহ্ কোথায়?
তিনি তো রাতের বেলায় শক্তি দান করেন।
11
তিনি ভূতলের পশুদের চেয়ে আমাদের বেশি শিক্ষা দেন,
আসমানের পাখিগুলোর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান করেন।
12
সেখানে দুর্বৃত্তদের অহঙ্কারের দরুন লোকে কান্নাকাটি করে,
কিন্তু তিনি জবাব দেন না।
13
বাস্তবিক আল্লাহ্ মিথ্যা ফরিয়াদ শোনেন না,
সর্বশক্তিমান তা নিরীক্ষণ করেন না।
14
আর আপনি বলছেন, আমি তাকে দেখতে পাই না;
বিচার তাঁর সম্মুখে, তাঁর অপেক্ষা করুন।
15
কিন্তু এখন তিনি নিজের কোপে শাসন করেন নি,
দুষ্টতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখেন নি,
16
তাই আইউব অসার কথায় মুখ খুলেছেন,
তিনি না জেনেও অনেক কথা বলেন।
1
ইলীহূ আরও বললেন,
2
আপনি আমার প্রতি একটু ধৈর্য ধরুন,
আমি আপনাকে কিছু শিক্ষা দেব,
কারণ আল্লাহ্র পক্ষে আমার আরও কথা আছে।
3
আমি দূর থেকে আমার জ্ঞান আনবো,
আমার নির্মাতার উপর ধর্মময়তা আরোপ করবো।
4
সত্যিই আমার কথা মিথ্যা নয়,
জ্ঞানে সিদ্ধ এক জন ব্যক্তি আপনার সহবর্তী।
5
দেখুন, আল্লাহ্ পরাক্রমী, তবু কাউকেও তুচ্ছ করেন না;
তিনি বুদ্ধিবলে পরাক্রমী।
6
তিনি দুষ্টদের প্রাণ রক্ষা করেন না,
কিন্তু দুঃখীদের পক্ষে ন্যায়বিচার করেন।
7
তিনি ধার্মিকদের থেকে চোখ ফিরিয়ে নেন না;
কিন্তু সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ্দের সঙ্গে
তাদেরকে চিরকালের তরে বসান,
তারা উন্নত হয়।
8
তারা যদি শিকলে বাঁধা পরে,
যদি দুঃখের দড়িতে আবদ্ধ হয়;
9
তবে তিনি দেখিয়ে দেন তাদের কাজ,
ও তাদের সমস্ত অধর্ম, যা সগর্বে করেছে;
10
তিনি উপদেশের প্রতি তাদের কান খুলে দেন,
তাদেরকে অধর্ম থেকে ফিরতে হুকুম দেন।
11
তারা যদি কথা শোনে ও তাঁর সেবা করে,
তবে সুসম্পদে নিজ নিজ আয়ু কাটাবে,
সুখে নিজ নিজ সমস্ত বছর যাপন করবে।
12
কিন্তু যদি না শোনে, তবে অস্ত্র দ্বারা বিনষ্ট হবে,
জ্ঞানের অভাবে প্রাণত্যাগ করবে।
13
আল্লাহ্বিহীন অন্তঃকরণ ক্রোধ সঞ্চয় করে,
তিনি তাদেরকে বাঁধলে ত্রাহি ত্রাহি করে না।
14
তারা যৌবনকালে প্রাণত্যাগ করে,
লজ্জায় তাদেরও জীবনের অবসান ঘটে।
15
তিনি দুঃখীকে আরও দুঃখ দিয়ে উদ্ধার করেন,
তিনি উপদ্রবে তাদের কান খুলে দেন।
16
তিনি আপনাকেও সঙ্কটের মুখ থেকে বের করে চালাতে চান;
যা সঙ্কীর্ণ নয় এমন প্রশস্ত স্থানে নিয়ে যেতে চান,
আপনার টেবিল পুষ্টিকর দ্রব্যে সাজান হবে।
17
কিন্তু আপনি দুর্জনের বিচারে পূর্ণ হয়েছেন;
বিচার ও শাসন আপনাকে ধরেছে।
18
সাবধান ক্রোধ আপনাকে উপহাসের পাত্র থেকে প্রলোভিত না করুক,
কাফ্ফারার মহত্ব আপনাকে ভ্রান্ত না করুক।
19
আপনার সমস্ত কান্না এবং আপনার সমস্ত চেষ্টা
কি আপনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে?
20
সেই রাতের আকাঙ্খা করবেন না,
যখন জাতিরা স্বস্থান থেকে বিলুপ্ত হয়।
21
সাবধান, অধর্মের প্রতি ফিরবেন না,
আপনি তো দুঃখভোগের চেয়ে তা-ই মনোনীত করেছেন।
22
দেখুন, আল্লাহ্ তাঁর পরাক্রমে সর্বোচ্চ,
তাঁর মত কে শিক্ষা দিতে পারে?
23
কে তাঁর গন্তব্য নির্ধারণ করেছ?
কে বলতে পারে, তুমি অন্যায় করেছ?
24
মনে রাখবেন, তাঁর কাজের মহিমা স্বীকার করা চাই,
মানুষ কাওয়ালীর দ্বারা তার কীর্তন করেছে।
25
সকল মানুষ তা শুনেছে,
প্রত্যেকে দূর থেকে তা দর্শন করে।
26
দেখুন আল্লাহ্ মহান, আমরা তাঁকে জানি না;
তাঁর বর্ষ-সংখ্যার সন্ধান পাওয়া যায় না।
27
তিনি পানির সমস্ত বিন্দু আকর্ষণ করেন,
সেগুলো তার বাষ্প থেকে বৃষ্টিরূপে পড়ে;
28
মেঘমালা তা ঢেলে দেয়,
তা মানুষের উপরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে।
29
মেঘমালার বিস্তারণ কেউ কি বুঝতে পারে?
তাঁর বজ্রের গর্জন কে বোঝে?
30
দেখুন, তিনি আপনার চারদিকে স্বীয় আলো বিস্তার করেন,
তিনি সমুদ্রের তলা আবৃত করেন।
31
কারণ তিনি এসব দ্বারা জাতিদেরকে শাসন করেন,
তিনি প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপন্ন করেন।
32
তিনি তাঁর অঞ্জলি বিদ্যুতে পূর্ণ করেন,
তাকে লক্ষ্যে বিধবার হুকুম দেন।
33
তার গর্জন তাঁর পরিচয় দেয়,
পশুপালগুলোও তার আগমন জানায়।
1
এতেও আমার হৃদয় কাঁপছে,
স্বস্থানে থেকে দুপ্ দুপ্ করছে।
2
শোন শোন, ঐ তাঁর গর্জনের শব্দ,
ঐ তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া স্বর।
3
তিনি সমস্ত আসমানের নিচে তা পাঠান,
দুনিয়ার অন্ত পর্যন্ত তাঁর বিদ্যুৎ চালান।
4
এর পরে গর্জনের আওয়াজ আসে,
তিনি তাঁর মহান স্বরে বজ্রনাদ করেন;
তাঁর বাণী শোনা যায়, তিনি ঐ সমস্ত রোধ করেন না।
5
আল্লাহ্ স্বীয় ধ্বনিতে আশ্চর্যরূপ গর্জন করেন,
আমাদের বোধের অগম্য মহৎ মহৎ কাজ করেন।
6
ফলে তিনি তুষারকে বলেন, দুনিয়াতে পড়,
সামান্য বৃষ্টিকেও তা বলেন,
তাঁর মূষলধারার বৃষ্টিকেও বলেন।
7
তিনি প্রত্যেক মানুষের হাত সীলমোহর করে দেন,
যেন তাঁর নির্মিত সকল মানুষই জ্ঞান পায়।
8
তখন পশুদের আশ্রয় স্থানে প্রবেশ করে,
যার যার গহ্বরে থাকে।
9
ঝড়ের কক্ষ থেকে ঝটিকা আসে,
উত্তর থেকে শীত আসে।
10
আল্লাহ্র নিশ্বাস থেকে নীহার জন্মে,
এবং বিস্তারিত পানি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে।
11
এছাড়া, আল্লাহ্ ঘন মেঘ পানিতে পূর্ণ করেন,
তাঁর বিদ্যুতের মেঘ বিস্তার করেন।
12
তাঁর পরিচালনায় তা ঘোরে,
যেন তারা তাঁর হুকুম অনুসারে কাজ করে,
সমস্ত ভূমণ্ডলেই যেন করে।
13
তিনি কখনও শাস্তির জন্য,
কখনও নিজের দেশের জন্য,
কখনও বা দয়ার জন্য এসব ঘটান।
14
হে আইউব, আপনি এতে কান দিন,
স্থির থাকুন, আল্লাহ্র অলৌকিক সমস্ত কাজ বিবেচনা করুন।
15
আপনি কি জানেন, আল্লাহ্ কিভাবে সকল কিছুর উপরে ভার রাখেন,
আর তাঁর মেঘের বিজলি চমকান?
16
আপনি কি মেঘমালার দোলন জানেন?
পরম জ্ঞানীর আশ্চর্য কর্মগুলো জানেন?
17
যখন দখিনা বায়ুতে দুনিয়া স্তব্ধ হয়,
তখন আপনার কাপড়-চোপড় কেমন উষ্ণ হয়?
18
আপনি কি তাঁর সঙ্গে আসমান বিস্তার করেছেন,
যা ছাঁচে ঢালা আয়নার মত দৃঢ়?
19
আমাদেরকে জানান, তাঁকে কি বলবো?
আমরা অন্ধকারে আছি বলে আমাদের মামলা তাঁর কাছে নিতে পারি না।
20
তাঁকে কি বলা যাবে যে, আমি কথা বলবো?
কেউ কি পরাভূত হতে ইচ্ছা করবে?
21
এখন মানুষ আলোর দিকে তাকাতে পারে না,
যখন তা আসমানে উজ্জ্বল হয়,
যখন বায়ু বয়ে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।
22
উত্তর দিক থেকে সোনালী উজ্জ্বলতা আসে,
আল্লাহ্র চারদিকে ভয় জাগানো মহিমা দেখা যায়।
23
সর্বশক্তিমান! তিনি আমাদের বোধের অগম্য;
তিনি পরাক্রমে মহান,
তিনি ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার বিরুদ্ধাচরণ করেন না।
24
এই কারণ মানুষ তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তিনি বিজ্ঞচিত্তদের মুখাপেক্ষা করেন না।
1
পরে মাবুদ ঘূর্ণিবাতাসের মধ্য থেকে আইউবকে জবাবে বললেন,
2
এ কে, যে জ্ঞানহীন কথা দ্বারা মন্ত্রণাকে অন্ধকারে ঢেকে রাখে?
3
তুমি এখন বীরের মত কোমরবন্ধনী পর;
আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি,
তুমি আমাকে বুঝিয়ে দাও।
4
যখন আমি দুনিয়ার ভিত্তিমূল স্থাপন করি,
তখন তুমি কোথায় ছিলে?
যদি তোমার বুদ্ধি থাকে তবে বল,
5
তুমি কি জান, কে দুনিয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করলো?
কে তার উপরে মানরজ্জু ধরলো?
6
তার ভিত্তিগুলো কিসের উপরে স্থাপিত হল?
কে বা তার কোণের পাথর বসালো?
7
তৎকালে প্রভাতীয় নক্ষত্রগুলো একসঙ্গে আনন্দধ্বনি করলো,
আল্লাহ্র পুত্ররা সকলে জয়ধ্বনি করলো।
8
কে কবাট দিয়ে সমুদ্রকে রুদ্ধ করলো?
যখন তা বের হল, দুনিয়ার গর্ভাশয় থেকে বের হল?
9
তৎকালে আমি মেঘকে তার বস্ত্র করলাম,
ঘন অন্ধকারকে তার আচ্ছাদন করলাম;
10
আমি তার জন্য আমার বিধি নির্ধারণ করলাম,
অর্গল ও কবাট স্থাপন করলাম,
11
বললাম, তুমি এই পর্যন্ত আসতে পার, আর নয়;
এই স্থানে তোমার তরঙ্গের গর্ব নিবারিত হবে।
12
তুমি কি আজন্মকাল কখনও প্রভাতকে হুকুম দিয়েছ,
অরুণকে তার উদয় স্থান জানিয়েছ;
13
যেন তা দুনিয়ার প্রান্ত সকল ধরে,
আর দুষ্টদেরকে তা থেকে ঝেড়ে ফেলা যায়?
14
দুনিয়া সীলমোহরকৃত মাটির মত আকার পায়,
সকলই কাপড়ের মত প্রকাশ পায়;
15
দুষ্টদের থেকে আলো নিবারিত হয়,
আর তাদের উঁচু বাহু ভেঙ্গে যায়।
16
তুমি কি সমুদ্রের উৎসে প্রবেশ করেছ?
জলধি-তলে কি পদার্পণ করেছ?
17
তোমার কাছে কি মৃত্যুর কবাট প্রকাশিত হয়েছে?
তুমি কি মৃত্যুচ্ছায়ার দ্বার দেখেছ?
18
এই দুনিয়াটা কত বড় তা কি তুমি জান?
বল, যদি সমস্তই জান।
19
আলোর নিবাসে যাবার পথ কোথায়?
অন্ধকারেরই বা বাসস্থান কোথায়?
20
তুমি কি তার সীমাতে তাকে নিয়ে যেতে পার?
তার বাড়ি যাবার পথ কি তুমি জান?
21
আছ বৈ কি, তখন তো তোমার জন্ম হয়েছিল!
তোমার তো অনেক বয়স হয়েছে!
22
তুমি কি তুষারের ভাণ্ডারে প্রবেশ করেছ,
সেই শিলাবৃষ্টির ভাণ্ডার কি তুমি দেখেছ,
23
যা আমি সঙ্কটকালের জন্য রেখেছি,
সংগ্রাম ও যুদ্ধ দিনের জন্য রেখেছি?
24
কোন্ পথ দিয়ে আলো ছড়িয়ে পড়ে,
ও পূর্বীয় বায়ু ভুবনময় ব্যাপ্ত হয়?
অতিবৃষ্টির জন্য কে প্রণালী কেটেছে,
25
বজ্র-বিদ্যুতের জন্য কে পথ করেছে,
26
যেন নির্জন দেশে বৃষ্টি পড়ে,
জনশূন্য মরুভূমিতে বর্ষা হয়,
27
যেন মরুভূমি ও শুকনো স্থান তৃপ্ত হয়,
এবং কোমল ঘাস উৎপন্ন হয়?
28
বৃষ্টির পিতা কেউ কি আছে?
শিশির-বিন্দুগুলোর জনকই বা কে?
29
বরফ কার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
আকাশ থেকে যে তুষার পড়ে তার জন্ম কে দিয়েছে?
30
পানি জমে পাথরের মত হয়,
জলধির মুখ কঠিন হয়ে যায়।
31
তুমি কি কৃত্তিকা নক্ষত্রগুলোকে বাঁধতে পার?
কালপুরুষ নামে তারার কটিবন্ধ কি খুলতে পার?
32
রাশিগুলোকে কি স্ব স্ব ঋতুতে চালাতে পার?
সপ্তর্ষি ও তার পুত্রদেরকে পথ দেখাতে পার?
33
তুমি কি আকাশমণ্ডলের অনুশাসন জান?
দুনিয়াতে তার কর্তৃত্ব কি নির্ধারণ করতে পার?
34
তুমি কি মেঘ পর্যন্ত তোমার ধ্বনি তুলতে পার?
যেন অতিবৃষ্টি তোমাকে আচ্ছন্ন করে?
35
তুমি কি বিদ্যুৎগুলো পাঠালে তারা যাবে?
তোমাকে কি বলবে, এই যে আমরা!
36
কে অন্তঃকরণকে জ্ঞান দিয়েছে?
মনকে কে বুদ্ধি দিয়েছে?
37
কে প্রজ্ঞাবলে মেঘগুলোকে গণনা করতে পারে?
আসমানের কুপাগুলো কে উল্টাতে পারে,
38
যাতে ধূলা দ্রবীভূত ধাতুর মত গলে যায়,
ও মাটি জমাট বাঁধে?
39
তুমি কি সিংহীর জন্য শিকার খোঁজ করবে?
সিংহের বাচ্চাদের ক্ষুধা কি নিবৃত্ত করবে,
40
যখন তারা গুহামধ্যে শয়ন করে,
গুপ্ত স্থানে বসে শিকারের অপেক্ষায় থাকে?
41
কে দাঁড়কাককে আহার জোগায়,
যখন তার বাচ্চাগুলো আল্লাহ্র কাছে আর্তনাদ করে,
ও খাদ্যের অভাবে ভ্রমণ করে?
1
তুমি কি শৈলবাসী বন্য ছাগীগুলোর প্রসবকাল জান?
হরিণীর প্রসবের রীতি কি নির্ণয় করতে পার?
2
তারা কত মাস গর্ভধারণ করে,
তা কি নির্ণয় করতে পার?
তাদের প্রসবকাল কি জান?
3
তারা হেঁট হয়, প্রসব করে,
অমনি দুঃখ ঝেড়ে ফেলে।
4
তাদের বাচ্চাগুলো বলবান হয়,
তারা মাঠে বৃদ্ধি পায়, প্রস্থান করে,
আর ফিরে আসে না।
5
কে বন্য গাধাকে স্বাধীন করে ছেড়ে দিয়েছে?
কে তাদের বন্ধন মুক্ত করেছে?
6
আমি মরুভূমিতে তার বাড়ি করেছি,
লবণ-ভূমিকে তার নিবাস করেছি।
7
সে নগরের কলরবকে পরিহাস করে,
চালকের আওয়াজ শোনে না।
8
পর্বতশ্রেণী তার চারণভূমি;
সে যাবতীয় নবীন ঘাসের খোঁজ করে।
9
বন্য ষাঁড় কি তোমার সেবা করতে সম্মত হবে?
সে কি তোমার যাবপাত্রের কাছ থাকবে?
10
তুমি কি জমিতে বন্য ষাঁড়কে লাঙ্গলে বাঁধতে পার?
সে কি তোমার পেছন পেছন ক্ষেতে মই দেবে?
11
তার প্রচুর বলের জন্য তুমি কি তাকে বিশ্বাস করবে?
তোমার কাজ কি তাকে করতে দেবে?
12
তুমি কি তার প্রতি এমন বিশ্বাস রাখবে যে,
সে তোমার শস্য আনবে, তা খামারে একত্র করবে?
13
উট পাখির ডানা উল্লাস করে,
কিন্তু সারসের ডানা ও পালকের সঙ্গে তার তুলনা হয় না।
14
সে তো ভূমিতে তাঁর ডিম পারে,
ধুলায় উষ্ণ হতে দেয়।
15
তার মনে থাকে না যে, হয়তো চরণে তা চূর্ণ করবে,
কিংবা বন্য পশু তা দলিত করবে।
16
সে তাঁর বাচ্চাগুলোর প্রতি নির্দয় ব্যবহার করে,
প্রসব-বেদনা বিফল হলেও নিশ্চিন্ত থাকে;
17
যেহেতু আল্লাহ্ তাকে জ্ঞানহীন করেছেন,
তাকে বুদ্ধি দেন নি।
18
সে যখন পাখা তুলে গমন করে,
তখন ঘোড়া ও তার সওয়ারকে পরিহাস করে।
19
তুমি কি ঘোড়াকে শক্তি দিয়েছ?
তার ঘাড়ে কি সুন্দর কেশর দিয়েছ?
20
তাকে কি পঙ্গপালের মত লাফ দেওয়াতে পেরেছ?
তার নাসিকা ধ্বনির তেজ অতি ভয়ানক।
21
সে উপত্যকায় খুর ঘসে,
নিজের বিক্রমে উল্লাস করে,
অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়।
22
সে আশঙ্কাকে পরিহাস করে, উদ্বিগ্ন হয় না,
তলোয়ারের সম্মুখ থেকে ফেরে না,
23
তূণ তাঁর বিরুদ্ধে আওয়াজ করে,
শাণিত বর্শা ও শূল আওয়াজ করে।
24
সে উগ্রতায় ও ক্রোধে ভূমি খেয়ে ফেলে,
তূরীবাদ্য শুনলে দাঁড়িয়ে থাকে না।
25
তূরী ধ্বনির সঙ্গে সে হ্রেষা আওয়াজ করে,
দূর থেকে যুদ্ধের গন্ধ পায়,
সেনাপতিদের হুঙ্কার ও সিংহনাদ শোনে।
26
তোমারই বুদ্ধিতে কি বাজপাখি ওড়ে,
দক্ষিণ দিকে তাঁর পাখা মেলে দেয়?
27
তোমারই হুকুমনামায় কি ঈগল উপরে উঠে,
উঁচু স্থানে তার বাসা করে?
28
সে শৈলে বসতি করে, সেখানে তার বাসা,
সে শৈলাগ্রে ও দুর্গম স্থানে থাকে।
29
সেখান থেকে সে শিকার অবলোকন করে,
তার চোখ দূর থেকে তা নিরীক্ষণ করে।
30
তার বাচ্চাগুলোও রক্ত চোষে,
যে স্থানে লাশ, সেই স্থানে সেও থাকে।
1
মাবুদ আইউবকে আরও বললেন,
2
সর্বশক্তিমানের সঙ্গে যে ঝগড়া করছে সে কি তাঁকে সংশোধন করবে?
আল্লাহ্র সঙ্গে বিতর্ককারী এর উত্তর দিক।
3
তখন আইউব জবাবে মাবুদকে বললেন,
4
দেখ, আমি অযোগ্য; তোমাকে কি জবাব দেব?
আমি নিজের মুখে হাত দিই।
5
আমি একবার কথা বলেছি, আর জবাব দেব না;
দুই বার বলেছি, পুনর্বার বলবো না।
6
মাবুদ ঘূর্ণিবাতাসের মধ্য থেকে আইউবকে আরও বললেন,
7
তুমি এখন বীরের মত কোমরবন্ধনী পর;
আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি বুঝিয়ে দাও।
8
তুমি কি সত্যিই আমার বিচার অগ্রাহ্য করবে?
নিজে ধার্মিক হবার জন্য আমাকে দোষী করবে?
9
তোমার কি আল্লাহ্র মত বাহু আছে?
তুমি কি তাঁর মত বজ্রনাদ করতে পার?
10
তবে প্রাধান্যে ও মহত্বে বিভূষিত হও,
গৌরব ও মহিমা পরিধান কর।
11
তোমার ভীষণ গজব ঢেলে দাও,
প্রত্যেক অহঙ্কারীকে দেখামাত্র নত কর;
12
দেখামাত্র তার অহঙ্কার খর্ব কর,
দুষ্টদেরকে স্ব স্ব স্থানে দলিত কর;
13
তাদেরকে একসঙ্গে ধূলিতে আচ্ছন্ন কর,
গুপ্ত স্থানে তাদের মুখ বন্ধ কর।
14
তখন আমিও তোমার এই প্রশংসা করবো,
তোমার ডান হাত তোমাকে বিজয়ী করতে পারে।
15
বহেমোৎকে দেখ, আমি তোমার সঙ্গে তাকেও নির্মাণ করেছি;
সে গরুর মতই ঘাস খায়।
16
দেখ, তার কোমরে তার বল,
উদরস্থ পেশীতে তার সামর্থ।
17
সে এরস গাছের মত লেজ নাড়ে,
তার ঊরুদ্বয়ের শিরাগুলো জোড়া।
18
তার অস্থিগুলো ব্রোঞ্জের নলের মত,
তার পাঁজর লোহার অর্গলবৎ;
19
আল্লাহ্র কাজের মধ্যে সে অগ্রগণ্য;
তবুও তার নির্মাতা তলোয়ার নিয়ে তার কাছে যান।
20
পর্বতমালা তার খাদ্য যোগায়;
সমস্ত বন্য পশুও সেই স্থানে ক্রীড়া করে।
21
সে শয়ন করে পদ্মবনে,
নল-বনের অন্তরালে, জলাভূমিতে।
22
পদ্ম গাছ তার নিচে তাকে আচ্ছাদন করে,
উপত্যকার বাইশি গাছ তার চারদিকে থাকে।
23
দেখ, নদী উত্তাল হলে সে ভয় করে না,
জর্ডান ছাপিয়ে তার মুখে এসে পড়লেও সে সুস্থির থাকে।
24
সে সজাগ থাকলে কে তাকে ধরতে পারে?
দড়ি দিয়ে কে তার নাসিকা ফুঁড়তে পারে?
1
তুমি কি বড়শীতে লিবিয়াথনকে তুলতে পার?
দড়ি দিয়ে তার জিহ্বা বাঁধতে পার?
2
নলকাঠি দিয়ে কি তার নাক কি ফুঁড়তে পার?
বর্শা দিয়ে তার হনূ কি বিঁধতে পার?
3
সে কি তোমার কাছে বহু ফরিয়াদ করবে,
বা তোমাকে কোমল কথা বলবে?
4
সে কি তোমার সঙ্গে চুক্তি করবে?
তুমি কি তাকে নিয়ে চিরদিনের জন্য গোলাম করবে?
5
পাখির সঙ্গে যেমন খেলা করে,
তেমনি কি তার সঙ্গে খেলা করবে?
তোমার যুবতীদের জন্য কি তাকে বেঁধে রাখবে?
6
জেলের-দল কি তাকে দিয়ে ব্যবসা করবে?
অংশ অংশ করে কি বণিকদেরকে দেবে?
7
তুমি কি তার চামড়া লোহার ফলা দিয়ে,
তার মাথা ধীবরের টেঁটা দিয়ে বিঁধতে পার?
8
তোমার হাত তার উপরে রাখ;
যুদ্ধ স্মরণ কর, আর সেরকম করো না।
9
দেখ, তাকে ধরবার প্রত্যাশা মিথ্যা;
তাকে দেখামাত্র লোকে কি পড়ে যায় না?
10
তাকে জাগাবে, এমন সাহসী কেউ নেই;
তবে আমার সাক্ষাতে কে দাঁড়াতে পারে?
11
কে আগে আমার উপকার করেছে যে, আমি তার প্রত্যুপকার করবো?
সমস্ত আসমানের নিচে সকলই আমার।
12
তার অঙ্গের সম্বন্ধে আমি নীরব থাকব না,
তার বিপুল বল ও শরীরের সৌষ্ঠবের কথা বলবো।
13
তার বর্ম কে খুলে দিতে পারে?
তার দন্তশ্রেণীদ্বয়ের মধ্যে কে যেতে পারে?
14
তার মুখের কবাট কে খুলতে পারে?
তার দন্তাবলীর চারদিকে ত্রাস থাকে।
15
তার মেরুদণ্ড ফলকশ্রেণীর মত শোভা পায়,
তা সীলমোহরের মত দৃঢ়ভাবে বন্ধ।
16
সেসব পরস্পর এমন সংলগ্ন যে,
তার অন্তরালে বায়ু প্রবেশ করতে পারে না।
17
সেসব পরস্পর সংযুক্ত, সেগুলো একত্র সংলগ্ন,
কিছুতেই আলাদা করা যায় না।
18
তার হাঁচিতে আলো ছুটে বের হয়;
তার নয়ন প্রভাতের সূর্যরশ্মির মত।
19
তার মুখ থেকে জ্বলন্ত মশাল বের হয়,
আগুনের ফুল্কি উৎপন্ন হয়।
20
তার নাসারন্ধ্র থেকে ধোঁয়া বের হয়,
যেমন ফুটন্ত পাত্র ও নল-খাগড়ার ধোঁয়া।
21
তার নিশ্বাসে অঙ্গার জ্বলে উঠে,
তার মুখ থেকে আগুনের শিখা বের হয়।
22
তার গ্রীবায় বল অবস্থিতি করে,
তার সম্মুখে ত্রাস নৃত্য করে।
23
তার মাংসের ভাঁজ পরস্পর সংযুক্ত;
তা তার উপরে দৃঢ়ীভূত, সরতে পারে না।
24
তার হৃৎপিণ্ড পাথরের মত দৃঢ়,
যাঁতার নিচের পাটের মত দৃঢ়।
25
সে উঠলে বলবানেরাও উদ্বিগ্ন হয়,
ভষীণ ভয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে।
26
তলোয়ার দিয়ে তাকে আক্রমণ করলে কিছু হবে না,
বর্শা, তীর ও বল্লম বিফল হয়।
27
সে লোহাকে নাড়ার মত,
পিত্তলকে পচা কাঠের মত জ্ঞান করে।
28
ধনুর্বাণ তাকে তাড়াতে পারে না,
ফিঙ্গার পাথর তার কাছে যেন তুষ।
29
সে গদাকে এক টুকরা খড়ের মতই মনে করে,
বর্শার শব্দে সে হাসে।
30
তার তলদেশ শাণিত খোলার মত,
সে কাদার উপর দিয়ে কাঁটার মই চালায়।
31
সে অগাধ পানিকে পাত্রের পানির মত ফোটায়।
সে সমুদ্রকে মলমের মত করে।
32
তার পিছনে পথ চক্মক করে,
জলধির পাকা চুলের মত মনে হয়।
33
দুনিয়াতে তার মত কিছুই নেই;
তাকে নির্ভীক করে নির্মাণ করা হয়েছে।
34
সে যাবতীয় উচ্চবস্তু দর্শন করে,
যাবতীয় গর্বিত-সন্তানের বাদশাহ্ হয়।
1
পরে আইউব মাবুদকে জবাবে বললেন,
2
আমি জানি, তুমি সবই করতে পার;
কোন সঙ্কল্প সাধন তোমার অসাধ্য নয়।
3
এ কে যে জ্ঞান বিনা মন্ত্রণাকে গুপ্ত রাখে?
সত্যি আমি তা-ই বলেছি, যা বুঝি নি,
যা আমার পক্ষে অদ্ভুত, আমার অজ্ঞাত।
4
আরজ করি, নিবেদন শোন, আমি কিছু বলি;
আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি বুঝিয়ে দাও।
5
আগে তোমার বিষয় শুনেছিলাম,
কিন্তু সম্প্রতি আমার চোখ তোমাকে দেখল।
6
এজন্য আমি নিজেকে ঘৃণা করছি,
ধুলায় ও ভস্মে বসে তওবা করছি।
7
আইউবকে এসব বলবার পর মাবুদ তৈমনীয় ইলীফসকে বললেন, তোমার ও তোমার দুই বন্ধুর প্রতি আমার ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠেছে, কারণ আমার গোলাম আইউব যেমন বলেছে, তোমরা আমার বিষয়ে তেমন যথার্থ কথা বল নি।
8 অতএব তোমরা সাতটি ষাঁড় ও সাতটি ভেড়া নিয়ে আমার গোলাম আইউবের কাছে গিয়ে নিজেদের জন্য পোড়ানো-কোরবানী দাও। আর আমার গোলাম আইউব তোমাদের জন্য মুনাজাত করবে; কারণ আমি তাকে গ্রাহ্য করবো; নতুবা আমি তোমাদেরকে তোমাদের মূর্খতানুযায়ী প্রতিফল দেব; কেননা আমার গোলাম আইউবের মত তোমরা আমার বিষয়ে যথার্থ কথা বল নি।
9 তখন তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিলদ্দ ও নামাথীয় সোফর গিয়ে মাবুদের কথা অনুসারে কাজ করলেন; আর মাবুদ আইউবকে গ্রাহ্য করলেন।
10
পরে আইউব তাঁর বন্ধুদের জন্য মুনাজাত করলে মাবুদ তার দুর্দশার পরিবর্তন করলেন; বস্তুত মাবুদ আইউবকে আগের সম্পদের দ্বিগুণ সম্পদ দিলেন।
11 পরে আইউবের ভাই ও বোনেরা সকলে এবং পূর্বপরিচিত লোকেরা সকলে তাঁর কাছে এসে তাঁর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে ভোজন করলো ও তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলো এবং মাবুদ কর্তৃক ঘটিত সমস্ত বিপদের বিষয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দিল, আর প্রত্যেকে তাঁকে এক এক খণ্ড কসীতা মুদ্রা ও এক একটি সোনার আংটি দিল।
12 আর মাবুদ আইউবের প্রথম অবস্থা থেকে শেষ অবস্থা বেশি দোয়াযুক্ত করলেন; তাঁর চৌদ্দ হাজার ভেড়া, ছয় হাজার উট, এক হাজার জোড়া বলদ ও এক হাজার গাধী হল।
13 আর তাঁর সাত পুত্র ও তিন কন্যা জন্মগ্রহণ করলো।
14 তিনি জ্যেষ্ঠা কন্যার নাম যিমীমা, দ্বিতীয়ার নাম কৎসীয়া ও তৃতীয়ার নাম কেরণহপ্পূক রাখলেন।
15 আইউবের কন্যাদের মত রূপবতী যুবতী কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না এবং তাদের পিতা তাদের ভাইদের সঙ্গে তাদেরকে উত্তরাধিকার দিলেন।
16 পরে আইউব আর একশত চল্লিশ বছর জীবিত থেকে তাঁর পুত্র পৌত্রাদি চার পুরুষ পর্যন্ত দেখলেন।
17 শেষে আইউব বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে ইন্তেকাল করলেন।
1
সুখী সেই ব্যক্তি,
যে দুষ্টদের মন্ত্রণায় চলে না,
গুনাহ্গারদের পথে দাঁড়ায় না,
নিন্দুকদের সভায় বসে না।
2
কিন্তু মাবুদের শরীয়তে আনন্দ করে,
তাঁর শরীয়ত দিনরাত ধ্যান করে।
3
সে পানির স্রোতের তীরে লাগানো গাছের মত হবে,
যা যথা সময়ে ফল দেয়, যার পাতা ম্লান হয় না;
আর সে যা কিছু করে, তাতেই কৃতকার্য হয়।
4
দুষ্টরা সেরকম নয়;
কিন্তু তারা বায়ুচালিত তুষের মত।
5
এজন্য দুষ্টরা বিচারে টিকবে না,
গুনাহ্গারেরা ধার্মিকদের জমায়েতে দাঁড়াবে না।
6
কারণ ধার্মিকদের পথের উপর মাবুদের দৃষ্টি আছে,
কিন্তু দুষ্টদের পথ বিনষ্ট হবে।
1
জাতিবৃন্দ কেন কলহ করে?
লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় নিয়ে ধ্যান করে?
2
দুনিয়ার বাদশাহ্রা দণ্ডায়মান হয়,
শাসনকর্তারা একসঙ্গে মন্ত্রণা করে,
মাবুদের বিরুদ্ধে এবং তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে;
3
বলে, ‘এসো, আমরা ওদের বন্ধন ছিঁড়ে ফেলি,
নিজের কাছ থেকে ওদের দড়ি খুলে ফেলি।’
4
যিনি বেহেশতে উপবিষ্ট, তিনি হাসবেন;
মাবুদ তাদের বিদ্রূপ করবেন।
5
তখন তিনি ক্রোধে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন,
কোপে তাদেরকে ভয় দেখাবেন।
6
আমিই আমার বাদশাহ্কে স্থাপন করেছি
আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে।
7
আমি মাবুদের নির্দেশের কথা বলবো;
তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার পুত্র,
আজ আমি তোমাকে জন্ম দিয়েছি।
8
আমার কাছে যাচ্ঞা কর,
আমি তোমাকে উত্তরাধিকার হিসেবে জাতিদেরকে দেব,
দুনিয়ার প্রান্তগুলো তোমার অধিকারে এনে দেব।
9
তুমি লোহার দণ্ড দ্বারা তাদেরকে ভাঙ্গবে,
কুম্ভকারের পাত্রের মত খণ্ড-বিখণ্ড করবে।
10
অতএব এখন বাদশাহ্গণ! বিবেচক হও;
দুনিয়ার বিচারকগণ! শাসন গ্রহণ কর।
11
তোমরা সভয়ে মাবুদের এবাদত কর,
সকম্পে উল্লাস কর।
12
পুত্রকে চুম্বন কর, পাছে তিনি ক্রুদ্ধ হন
ও তোমরা পথে বিনষ্ট হও,
কারণ ক্ষণমাত্রে তাঁর ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে।
সুখী তারা সকলে, যাঁরা তাঁর মধ্যে আশ্রয় নেয়।
1
দাউদ তাঁর নিজের পুত্র অব্শালোমের কাছ থেকে পালিয়ে যাবার সময়কার কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমার বিপক্ষ কত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনেকে আমার বিরুদ্ধে উঠছে।
2
অনেকে আমার প্রাণের উদ্দেশে বলছে,
আল্লাহ্র কাছে ওর জন্য কোন সাহায্য নেই। [সেলা।]
3
কিন্তু, হে মাবুদ, তুমিই আমার বেষ্টনকারী ঢাল,
আমার গৌরব ও আমার মস্তক উত্তোলনকারী।
4
আমি স্বরবে মাবুদকে ডাকি,
আর তিনি তাঁর পবিত্র পর্বত থেকে আমাকে উত্তর দেন। [সেলা।]
5
আমি শয়ন করলাম ও নিদ্রা গেলাম, আমি জাগ্রত হলাম;
কারণ মাবুদ আমাকে ধারণ করেন।
6
আমি হাজার হাজার লোককেও ভয় পাব না,
যারা আমার বিরুদ্ধে চারদিকে যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়েছে।
7
হে মাবুদ, উঠ;
হে আমার আল্লাহ্ আমার উদ্ধার কর;
কেননা তুমি আমার সমস্ত দুশমনের চোয়ালে আঘাত করেছ,
তুমি দুষ্টদের সমস্ত দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছ।
8
উদ্ধার মাবুদেরই কাছে;
তোমার লোকদের উপরে তোমার দোয়া বর্ষিত হোক। [সেলা।]
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে আমার ধার্মিকতার আল্লাহ্,
আমি ডাকলে আমাকে উত্তর দাও।
সঙ্কটে তুমি আমাকে মনের প্রশস্ততা দিয়েছ;
আমাকে রহম কর, আমার মুনাজাত শোন।
2
হে মানব সন্তানেরা কতকাল আমার সম্মান অপমানে পরিণত করবে?
কতকাল অসার কথা ভালবাসবে ও মিথ্যা কথার খোঁজ করবে? [সেলা।]
3
তোমরা জেনো মাবুদ নিজের বিশ্বস্ত লোককে
নিজের জন্য পৃথক করে রেখেছেন;
আমি মাবুদকে ডাকলে তিনি শুনবেন।
4
তোমরা ভয় কর, গুনাহ্ করো না,
তোমাদের বিছানার উপরে
মনে মনে কথা বল ও নীরব হও। [সেলা।]
5
তোমরা ধার্মিকতায় কোরবানী দেও,
আর মাবুদের উপর ভরসা রাখ।
6
অনেকে বলে, কে আমাদেরকে মঙ্গল দেখাবে?
হে মাবুদ আমাদের প্রতি নিজের মুখের আলো উদিত কর।
7
তুমি আমার অন্তঃকরণে এমন আনন্দ দিয়েছ,
যা ওদের শস্য ও প্রচুর আঙ্গুর-রসের সময়েও হয় না।
8
আমি শান্তিতে শয়ন করবো, নিদ্রাও যাব;
কেননা, হে মাবুদ, তুমিই একাকী
আমাকে নির্ভয়ে বাস করতে দিচ্ছ।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। বাঁশীর আওয়াজের সঙ্গে হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমার কথায় কান দাও,
আমার কাতরোক্তিতে মনোযোগ কর।
2
হে আমার বাদশাহ্, হে আমার আল্লাহ্,
আমার আর্তনাদের স্বর শোন,
কেননা আমি তোমারই কাছে মুনাজাত করছি।
3
হে মাবুদ খুব ভোরে তুমি আমার আবেদন শুনবে;
প্রভাতে আমি তোমার উদ্দেশে মুনাজাত সাজিয়ে অপেক্ষায় থাকব।
4
কেননা তুমি দুষ্টতাপ্রিয় আল্লাহ্ নও,
মন্দ তোমার মেহমান হতে পারে না।
5
গর্বিত লোকেরা তোমার সাক্ষাতে দাঁড়াবে না,
তুমি সমস্ত দুর্বৃত্তদের ঘৃণা করে থাক।
6
তুমি মিথ্যাবাদীদের বিনষ্ট করবে,
মাবুদ রক্তপাতী ও ছলনাপ্রিয়কে ঘৃণা করেন।
7
কিন্তু আমি তোমার প্রচুর অটল মহব্বতের দরুন
তোমার গৃহে প্রবেশ করবো,
তোমার পবিত্র বায়তুল-মোকাদ্দসের অভিমুখে
ভয়ে তোমাকে সেজ্দা করবো।
8
হে মাবুদ, আমার গুপ্ত দুশমনদের হেতু
তুমি তোমার ধর্মশীলতায় আমাকে চালাও,
আমার সম্মুখে তোমার পথ সরল কর।
9
কেননা ওদের মুখে স্থিরতা কিছুই নেই;
তাদের অন্তর দুষ্টতায় পূর্ণ,
তাদের কণ্ঠ অনাবৃত কবরস্বরূপ,
তারা তাদের জিহ্বা দ্বারা প্রতারণা করে।
10
হে আল্লাহ্ তাদেরকে দোষী কর,
তারা নিজেদের মন্ত্রণায় পতিত হোক,
তুমি তাদের প্রচুর অধর্মের জন্য তাদেরকে তাড়িয়ে দাও,
কেননা তারা তোমার বিদ্রোহী হয়েছে।
11
কিন্তু যারা তোমার মধ্যে আশ্রয় নেয় তারা সকলে আহ্লাদিত হোক,
তারা চিরকাল আনন্দ গান করুক,
কেননা তুমি তাদেরকে রক্ষা করছো;
যারা তোমার নাম ভালবাসে, তারা তোমাতে উল্লাস করুক।
12
কেননা তুমি ধার্মিককে দোয়া করবে,
হে মাবুদ, তুমি ঢালের মত তাকে প্রসন্নতায় বেষ্টন করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। স্বর, শমীনীৎ। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, ক্রোধে আমাকে ভর্ৎসনা করো না,
কোপে আমাকে শাসন করো না।
2
হে মাবুদ আমাকে রহম কর, কেননা আমি ম্লান হয়েছি;
হে মাবুদ আমাকে সুস্থ কর,
কেননা আমার সমস্ত অস্থি ভয়ে কাঁপছে।
3
আমার প্রাণও ভীষণ ভয় পেয়েছে;
আর তুমি, হে মাবুদ, আর কত কাল?
4
হে মাবুদ ফিরে এসো, আমার প্রাণ রক্ষা কর,
তোমার অটল মহব্বতের গুণে আমাকে উদ্ধার কর।
5
কেননা মৃত্যুতে তোমাকে স্মরণ করা যায় না,
পাতালে কে তোমার প্রশংসা করবে?
আমি কাতর আর্তনাদ করতে করতে শ্রান্ত হয়েছি;
6
প্রতি রাতে আমি বিছানা ভাসাই,
আমি নেত্রজলে পালঙ্ক ভিজাই।
7
মনস্তাপে আমার চোখ ক্ষীণ হচ্ছে;
আমার সকল দুশমনের জন্য তা দুর্বল হচ্ছে।
8
হে অধর্মাচারী সকলে, আমা থেকে দূর হও,
কেননা মাবুদ আমার কান্নার আওয়াজ শুনেছেন।
9
মাবুদ আমার ফরিয়াদ শুনেছেন;
মাবুদ আমার মুনাজাত গ্রাহ্য করবেন।
10
আমার সমস্ত দুশমন লজ্জিত হবে ও ভীষণ ভয় পাবে;
তারা ফিরে যাবে, হঠাৎ লজ্জিত হবে।
1
দাউদের শিগায়োন, যা তিনি বিন্ইয়ামীনীয় কূশের কথার সম্বন্ধে মাবুদের উদ্দেশে গান করেন।
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, আমি তোমারই আশ্রয় নিয়েছি;
আমার সকল তাড়নাকারী থেকে আমাকে নিস্তার কর,
আমাকে উদ্ধার কর।
2
পাছে দুশমন সিংহের মত আমার প্রাণ ছিন্নভিন্ন করে, খণ্ড খণ্ড করে,
যখন রক্ষাকারী কেউ নেই।
3
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্,
যদি আমি সেই কাজ করে থাকি,
যদি আমার হাতে অন্যায় লেগে থাকে;
4
যদি আমি বন্ধুর অপকার করে থাকি,
(বরং যে অকারণে আমার দুশমন, তাকেও উদ্ধার করেছি),
তবে দুশমন দৌঁড়ে আমার প্রাণ ধরুক,
5
আমার জীবন ভূমিতে দলিত করুক,
এ বং আমার গৌরব ধূলিসাৎ করুক।
[সেলা।]
6
হে মাবুদ, ক্রোধভরে উত্থান কর,
আমার দুশমনদের ক্রোধের প্রতিকূলে উঠ,
আমার পক্ষে জাগ্রত হও;
তুমি বিচারের হুকুম দিয়েছ।
7
জাতিরা তোমার চারপাশে জমায়েত হোক;
তাদের উপরে তুমি উঁচু স্থানে তোমার আসনে বস।
8
মাবুদ জাতিদের বিচার করেন;
হে মাবুদ, আমার ধার্মিকতা ও আমার আন্তরিক সিদ্ধতানুসারে
আমার বিচার কর।
9
আরজ করি, দুষ্টদের নাফরমানী শেষ হোক,
কিন্তু ধার্মিককে সুস্থির কর;
ধর্মময় আল্লাহ্ তো অন্তঃকরণ ও মর্মের পরীক্ষক।
10
আল্লাহ্ আমার ঢালধারী,
তিনি সরল চিত্তদের রক্ষাকর্তা।
11
আল্লাহ্ ধর্মময় বিচারকর্তা;
তিনি প্রতিদিন ক্রোধকারী আল্লাহ্।
12
মানুষ যদি না ফেরে,
তবে তিনি তাঁর তলোয়ারে শান দেবেন;
তিনি নিজের ধনুকে চাড়া দিয়েছেন,
তা প্রস্তুত করেছেন।
13
ওর জন্য তিনি মৃত্যুর অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করেছেন;
তিনি নিজের বাণগুলো অগ্নিবাণে পরিণত করেন।
14
দেখ, সে অধর্ম গর্ভে ধারণ করে,
উপদ্রবে পূর্ণগর্ভ হয়, মিথ্যাকে প্রসব করে।
15
সে কূপ খনন করে গভীর করেছে,
কিন্তু নিজের খনন করা গর্তে নিজেই পড়লো।
16
তার জুলুম তারই মাথায় ফিরবে,
তার দৌরাত্ম্য তারই মাথার উপর নেমে আসবে।
17
আমি মাবুদের ধর্মশীলতানুসারে তাঁর শুকরিয়া আদায় করবো,
সর্বশক্তিমান মাবুদের নামের প্রশংসা গান করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, গিত্তীৎ। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমাদের প্রভু,
সারা দুনিয়াতে তোমার নাম কেমন মহিমান্বিত।
তুমি আসমানের উর্ধ্বেও তোমার মহিমা সংস্থাপন করেছ।
2
তুমি শিশু ও দুগ্ধপোষ্যদের মুখ থেকে শক্তির ভিত্তিমূল স্থাপন করেছ,
তোমার বৈরিদের হেতুই করেছ,
যেন দুশমন ও বিপক্ষকে ক্ষান্ত কর।
3
আমি তোমার অঙ্গুলি-নির্মিত আসমানগুলো,
তোমার স্থাপিত চন্দ্র ও তারা নিরীক্ষণ করি,
4
(বলি), মানুষ কি যে, তুমি তাকে স্মরণ কর?
মানুষ সন্তানই বা কি যে, তার তত্ত্বাবধান কর?
5
তুমি আল্লাহ্র চেয়ে তাদের অল্পই ন্যূন করেছ,
গৌরব ও মহিমার মুকুটে বিভূষিত করেছ।
6
তোমার হস্তকৃত বস্তুগুলোর উপরে তাকে কর্তৃত্ব দিয়েছ,
তুমি সকলই তার পায়ের তলায় রেখেছ;
7
সমস্ত ভেড়া ও গরু, আর বন্য সমস্ত পশু,
8
শূন্যের পাখিরা এবং সাগরের মাছ, যা কিছু সমুদ্রপথগামী।
9
হে মাবুদ, আমাদের প্রভু,
সারা দুনিয়াতে তোমার নাম কেমন মহিমান্বিত।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর মুৎ-লব্বেন। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমি সর্বান্তঃকরণে মাবুদের শুকরিয়া আদায় করবো,
তোমার সমস্ত অলৌকিক কাজ বর্ণনা করবো।
2
আমি তোমাতে আনন্দ ও উল্লাস করবো;
হে সর্বশক্তিমান, আমি তোমার নামের প্রশংসা গাইব।
3
যখন আমার দুশমনেরা ফিরে যায়,
তখন তোমার সাক্ষাতে উচোট খায় ও বিনষ্ট হয়।
4
কেননা তুমি আমার বিচার ও ঝগড়া নিষ্পন্ন করেছ,
তুমি সিংহাসনে বসে ধার্মিকতার বিচার করেছ।
5
তুমি জাতিদেরকে ভর্ৎসনা করেছ, দুষ্টকে সংহার করেছ,
তুমি অনন্তকালের জন্য তাদের নাম লোপ করেছ।
6
দুশমনরা শেষ হয়েছে, চিরতরে উৎসন্ন হয়েছে;
তুমি সমস্ত নগর ধ্বংস করেছ;
তাদের নাম পর্যন্ত মুছে গেছে।
7
কিন্তু মাবুদ চিরকাল সমাসীন থাকবেন;
তিনি বিচারার্থে তাঁর সিংহাসন স্থাপন করেছেন।
8
আর তিনিই ধর্মশীলতায় দুনিয়ার বিচার করবেন,
ন্যায়ে জাতিদের শাসন করবেন।
9
আর মাবুদ হবেন ক্লিষ্টের জন্য উঁচু দুর্গ,
সঙ্কটের সময়ে সুউচ্চ দুর্গ।
10
যারা তোমার নাম জানে,
তারা তোমার উপর ভরসা রাখবে;
কেননা হে মাবুদ,
তুমি তোমার অন্বেষণকারীদেরকে পরিত্যাগ কর নি।
11
তোমরা সিয়োন-নিবাসী মাবুদের প্রশংসা গাও;
জাতিদের মধ্যে তাঁর সমস্ত কাজের কথা জানাও।
12
কেননা যিনি রক্তপাতের অনুসন্ধান করেন,
তিনি নিহতদেরকে স্মরণ করেন;
তিনি দুঃখীদের কান্না ভুলে যান না;
13
হে মাবুদ, আমার প্রতি রহম কর;
বিদ্বেষী লোক হতে আমার যে দুঃখ ঘটে, তা দেখ,
তুমিই মৃত্যুদ্বার থেকে আমাকে তুলে আন;
14
এজন্য আমি তোমার সমস্ত প্রশংসা তবলিগ করবো;
সিয়োন-কন্যার তোরণদ্বারগুলোতে,
আমি তোমার উদ্ধারে উল্লাস করবো।
15
জাতিরা নিজেদের কৃত খাতে তলিয়ে গেছে;
তারা গোপনে যে জাল পেতেছিল,
তাতে তাদেরই পা জড়িয়ে গেছে।
16
মাবুদ নিজের পরিচয় দিয়েছেন;
তিনি বিচার সাধন করেছেন;
নিজের কাজে নিজেই আবদ্ধ হয়েছে।
[হিগায়োন। সেলা।]
17
দুষ্টেরা পাতালে ফিরে যাবে,
যেসব জাতি আল্লাহ্কে ভুলে যায়, তারাও যাবে।
18
কারণ দরিদ্র নিয়ত বিস্মৃতির পাত্র থাকবে না,
দুঃখীদের আশা চিরতরে বিনষ্ট হবে না।
19
হে মাবুদ, উঠ; মানুষ প্রবল না হোক,
তোমার সাক্ষাতে জাতিরা বিচার যেন পায়।
20
হে মাবুদ, তাদেরকে ভয় দেখাও;
জাতিরা জানুক যে, তারা মানুষমাত্র।
[সেলা।]
1
হে মাবুদ, কেন দূরে দাঁড়িয়ে থাক?
সঙ্কটের সময়ে কেন লুকিয়ে থাক?
2
দুষ্টের অহংকারে দুঃখীকে অত্যাচার করে,
ওদের কল্পিত ছলে ওরাই ধরা পড়ুক।
3
কেননা দুষ্ট নিজের মনোবাসনার গর্ব করে,
লোভী মাবুদকে বদদোয়া দেয়, অবজ্ঞা করে।
4
দুষ্ট লোক সদর্পে বলে তিনি অনুসন্ধান করবেন না;
আল্লাহ্ নেই, এ-ই তার চিন্তার সার।
5
দুষ্টের পথ সর্বদা উন্নতির দিকে,
তোমার সমস্ত বিচার ঊর্ধ্বে,
তার দৃষ্টির বহির্ভূত থাকে;
সমস্ত বিপক্ষের প্রতি সে ফুৎকার করে।
6
সে মনে মনে বলে আমি বিচলিত হব না,
পুরুষানুক্রমে কখনও বিপদগ্রস্ত হব না।
7
তার মুখ বদদোয়া, ছলনা ও শঠতায় পূর্ণ;
তার জিহ্বার নিচে জুলুম ও অন্যায় থাকে।
8
সে গ্রামের গুপ্ত স্থানে বসে থাকে,
নিভৃত স্থানে নির্বোধকে খুন করে;
তার চোখ এতিমকে ধরবার জন্য লুকিয়ে থাকে।
9
সিংহ যেমন গহ্বরে, সে তেমনি গুপ্তস্থানে থাকে,
দুঃখীকে ধরবার জন্য অন্তরালে থাকে;
সে দুঃখীকে ধরে, নিজের জালে টানে।
10
সে ওঁৎ পেতে থাকে, সে অবনত হয়,
এতিমরা তার প্রবল থাবার নিচে পড়ে।
11
সে মনে মনে বলে, আল্লাহ্ ভুলে গেছেন,
তিনি মুখ লুকিয়েছেন,
কখনও দেখবেন না;
12
হে মাবুদ, উঠ;
হে আল্লাহ্, তোমার হাত বাড়িয়ে দাও।
দুঃখীদেরকে ভুলে যেও না।
13
দুষ্ট কেন আল্লাহ্কে অবজ্ঞা করে?
কেন মনে মনে বলে, তুমি অনুসন্ধান করবে না?
14
তুমি দেখেছ, কেননা তুমি জুলুম ও দুর্দশার প্রতি দৃষ্টিপাত করছো,
যেন তার প্রতিকার নিজের হাতে কর;
এতিম তো তোমারই উপরে তার ভার তুলে দেয়;
তুমিই এতিমের সহায়।
15
দুর্বৃত্তদের বাহু ভেঙ্গে ফেল,
দুর্বৃত্তের নাফরমানীর অনুসন্ধান কর,
যতদিন লেশমাত্র না থাকে।
16
মাবুদ অনন্তকালীন বাদশাহ্;
জাতিরা তাঁর দেশ থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে।
17
হে মাবুদ, তুমি নম্রদের আকাঙ্খা শুনেছ;
তুমি তাদের অন্তর সুস্থির করবে,
তুমি তাদের ফরিয়াদ শুনবে;
18
এতিম ও নির্যাতিত লোকদের বিচার করার জন্য,
যেন মাটির সৃষ্ট মানুষ আর দুর্দান্ত না থাকে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের।
আমি মাবুদের আশ্রয় নিয়েছি;
তোমরা কি ভেবে আমার প্রাণকে বল,
পাখির মত তোমাদের পর্বতে উড়ে যাও;
2
কেননা দেখ, দুষ্টরা ধনুকে চাড়া দিচ্ছে,
নিজ নিজ তীর গুণে যোগ করছে,
যেন সরলচিত্তদের অন্ধকারে বিদ্ধ করে;
3
যদি সমস্ত মূলবস্তু উৎপাটিত হয়,
তবে ধার্মিক কি করবে?
4
মাবুদ তাঁর পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দসে আছেন;
মাবুদের সিংহাসন বেহেশতে;
তাঁর দৃষ্টি নিরীক্ষণ করছে,
তাঁর চোখ মানবজাতিকে পরীক্ষা করছে।
5
মাবুদ ধার্মিকের ও দুষ্টের পরীক্ষা করেন,
এবং দৌরাত্ম্য প্রিয় লোক তাঁর প্রাণের ঘৃণাস্পদ।
6
তিনি দুষ্টদের উপরে জ্বলন্ত কয়লা বর্ষণ করবেন,
উত্তপ্ত বায়ু তাদের পানপাত্রের পেয় দ্রব্য হবে।
7
কেননা মাবুদ ধর্মময়, ধর্মকর্মই ভালবাসেন;
সরল লোক তাঁর মুখ দর্শন করবেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর,
শমীনীৎ। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ সাহায্য কর, কেননা আল্লাহ্ভক্ত লোপ পেল;
মানবজাতির মধ্যে বিশ্বস্ত লোক শেষ হল।
2
প্রত্যেক জন প্রতিবেশীর সঙ্গে মিথ্যা কথা বলে;
চাটুকার ওষ্ঠাধরে ও দ্বিধাচিত্তে কথা বলে।
3
মাবুদ সমস্ত চাটুকার ওষ্ঠাধর
ও দর্পিত জিহ্বা কেটে ফেলেন;
4
ওরা বলে, আমরা জিহ্বা দ্বারা প্রবল হব,
আমাদের ওষ্ঠ আমাদেরই;
আমাদের মালিক কে?
5
দুঃখীদের সর্বনাশ, দীনহীনের কাতরোক্তির দরুন,
আমি এখন উঠবো, মাবুদ বলেন,
যারা নিরাপদে থাকার আকাঙ্খা করে আমি তাদের নিরাপদে রাখব।
6
মাবুদের সমস্ত কালাম নির্মল কালাম;
তা মাটির উপরে আগুনের চুল্লিতে খাঁটি করা রূপার মত,
সাতবার পরিষ্কৃত রূপার মত।
7
হে মাবুদ, তুমিই তাদের রক্ষা করবে,
চিরতরে এই কালের মানুষ থেকে উদ্ধার করবে।
8
দুষ্টরা চারদিকে ঘুরে বেড়ায়,
যখন মানবজাতির মধ্যে নাফরমানী প্রশংসিত হয়।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
কত কাল, মাবুদ, আমাকে নিয়ত ভুলে থাকবে?
কত কাল আমা থেকে তোমার মুখ লুকিয়ে রাখবে?
2
কত কাল আমি প্রাণের মধ্যে ব্যথা বহন করবো,
অন্তরের মধ্যে বিষাদকে সারা দিন রাখব?
কত কাল দুশমন আমার উপরে প্রবল থাকবে?
3
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, দৃষ্টিপাত কর, আমাকে উত্তর দাও;
আমার চোখ আলোকময় কর, পাছে আমি মৃত্যু-নিদ্রায় নিদ্রিত হই;
4
পাছে দুশমন বলে, আমি তাকে জয় করেছি;
পাছে আমি বিচলিত হলে দুশমনরা উল্লাস করে।
5
কিন্তু আমি তোমার অটল মহব্বতে নির্ভর করেছি;
আমার অন্তর তোমার উদ্ধারে উল্লসিত হবে।
6
আমি মাবুদের উদ্দেশে গজল গাইব,
কেননা তিনি আমার মঙ্গল করেছেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের।
মূঢ় মনে মনে বলেছে, “আল্লাহ্ নেই”।
তারা নষ্ট, তারা ঘৃণার কাজ করেছে;
সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই।
2
মাবুদ বেহেশত থেকে মানবজাতির প্রতি নিরীক্ষণ করলেন;
দেখতে চাইলেন, বুদ্ধিপূর্বক কেউ চলে কি না,
আল্লাহ্র খোঁজ করে এমন কেউ আছে কি না।
3
সকলে বিপথে গেছে, সকলেই একসঙ্গে খারাপ হয়ে গেছে;
সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই, এক জনও নেই।
4
তাদের কি কোন জ্ঞান নেই,
যে সমস্ত দুর্বৃত্তরা খাদ্য গ্রাস করার মত আমার লোকদেরকে গ্রাস করে,
মাবুদকে ডাকে না?
5
ঐ সব লোকেরা ভীষণ ভয় পেয়েছে;
কেননা আল্লাহ্ ধার্মিক বংশের মধ্যবর্তী।
6
তোমরা দরিদ্রের পরিকল্পনাকে লজ্জিত করছো;
কেননা মাবুদ তার আশ্রয়।
7
আহ! ইসরাইলের উদ্ধার সিয়োন থেকে উপস্থিত হোক।
মাবুদ যখন তাঁর লোকদের বন্দীত্ব ফেরাবেন,
তখন ইয়াকুব উল্লসিত হবে, ইসরাইল আনন্দ করবে।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, তোমার তাঁবুতে কে প্রবাস করবে?
তোমার পবিত্র পর্বতে কে বসতি করবে?
2
যে ব্যক্তি সিদ্ধ আচরণ ও ধর্মকর্ম করে,
এবং অন্তরে সত্য কথা বলে।
3
যে অপবাদ জিহ্বাগ্রে আনে না,
বন্ধুর অপকার করে না,
নিজের প্রতিবেশীর দুর্নাম করে না।
4
যার দৃষ্টিতে দুষ্টলোক তুচ্ছনীয় হয়;
যে মাবুদের ভয়কারীদের মান্য করে,
শপথ করলে ক্ষতি হলেও অন্যথা করে না;
5
সুদের জন্য টাকা ধার দেয় না,
নির্দোষের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয় না;
এসব কাজ যে করে, সে কখনও বিচলিত হবে না।
1
দাউদের মিক্তাম।
হে আল্লাহ্, আমাকে রক্ষা কর,
কেননা আমি তোমার আশ্রয় নিয়েছি।
2
আমি মাবুদকে বলেছি তুমিই আমার প্রভু;
তুমি ছাড়া আর কিছুতে আমার মঙ্গল নেই।
3
দুনিয়াতে যে পবিত্র ব্যক্তিরা থাকেন,
তাঁরা আদরণীয়, আমার সমস্ত প্রীতির পাত্র।
4
যারা দেব-দেবতাকে উপহার দেয় তাদের যাতনা বৃদ্ধি পাবে;
রক্তরূপ তাদের পেয় নৈবেদ্য আমি উৎসর্গ করবো না,
আমার ওষ্ঠাধরে তাদের নাম নেব না।
5
মাবুদ আমার বেছে নেওয়া সম্পত্তি ও আমার পানপাত্র;
তুমিই আমার অধিকার স্থায়ী করেছ।
6
আমার জন্য সীমারেখা মনোহর স্থানে পড়েছে,
আমার অধিকার আমার পক্ষে শোভাযুক্ত।
7
আমি মাবুদের শুকরিয়া আদায় করবো,
তিনিই আমাকে মন্ত্রণা দিয়েছেন,
রাতেও আমার অন্তর আমাকে প্রবোধ দেয়।
8
আমি মাবুদকে নিয়ত সম্মুখে রেখেছি;
তিনি তো আমার দক্ষিণে, আমি বিচলিত হব না।
9
এজন্য আমার অন্তর আনন্দিত,
ও আমার গৌরব উল্লসিত হল;
আমার দেহও নির্ভয়ে বাস করবে।
10
কারণ তুমি আমার প্রাণ পাতালে পরিত্যাগ করবে না,
তুমি নিজের বিশ্বস্ত গোলামের ক্ষয় দেখতে দেবে না।
11
তুমি আমাকে জীবনের পথ জানাবে,
তোমার সম্মুখে তৃপ্তিকর আনন্দ,
তোমার ডান হাতে নিত্য সুখভোগ।
1
দাউদের মুনাজাত।
হে মাবুদ, ন্যায় আবেদন শোন,
আমার কাতরোক্তিতে মনোযোগ দাও,
আমার মুনাজাতে কান দাও;
তা ছলনার ওষ্ঠাধর থেকে বের হয়।
2
তোমার সাক্ষাতে আমার বিচার নিষ্পত্তি হোক;
যা ন্যায্য, তার প্রতি তোমার দৃষ্টি পড়ুক।
3
তুমি আমার অন্তর পরীক্ষা করেছ,
রাতের বেলায় আমার তত্ত্বানুসন্ধান করেছ,
তুমি আমাকে পরীক্ষা করেছ, কিছু পাও নি;
আমি স্থির করলাম, আমার মুখ গুনাহ্ করবে না।
4
মানুষ যে সব কাজ করে তা না করে,
তোমার মুখের কালামের সাহায্যে,
আমি দুর্জনের পথ থেকে সাবধান হয়েছি।
5
আমার পদক্ষেপ তোমার পথে স্থির রয়েছে,
আমার চরণ বিচলিত হয় নি।
6
আমি তোমাকে ডাকলাম, কেননা, হে আল্লাহ্,
তুমি আমাকে উত্তর দেবে;
আমার প্রতি কান দাও, আমার কথা শোন।
7
তোমার আশ্চর্য অটল মহব্বত প্রকাশ কর;
যারা তোমার মধ্যে আশ্রয় নেয় তুমি তাদের নিস্তারকর্তা,
দুশমনদের থেকে তোমার ডান হাত দ্বারাই নিস্তার করে থাক।
8
নয়নের তারার মত আমাকে পাহারা দাও,
তোমার পাখার ছায়াতে আমাকে সঙ্গোপন কর,
9
দুষ্টদের থেকে কর, যারা আমাকে নষ্ট করে,
প্রাণনাশক দুশমনদের থেকে রক্ষা কর,
যারা আমাকে বেষ্টন করে।
10
তারা সমবেদনার প্রতি নিজ নিজ অন্তর বন্ধ করে রেখেছে,
তারা মুখে অহঙ্কারের কথা বলে।
11
এখন তারা আমাদের পিছন পিছন এসে আমাদেরকে ঘেরিয়াছে,
তারা আমাদেরকে ভূমিসাৎ করবে বলে চোখ স্থির রেখেছে।
12
সে বিদারণ করতে উৎসুক কেশরীর মত,
অন্তরালে উপবিষ্ট যুবসিংহের মত।
13
হে মাবুদ, উঠ, তাকে প্রতিরোধ কর, তাকে পেড়ে ফেল,
তোমার তলোয়ার দ্বারা দুষ্ট লোক থেকে আমার প্রাণ বাঁচাও।
14
হে মাবুদ, তোমার হাত দিয়ে মানুষের হাত থেকে,
সাংসারিক মানুষের থেকে, আমাকে বাঁচাও,
তাদের উত্তরাধিকার তো এই জীবনে;
তুমি নিজের ধনে তাদের উদর পূর্ণ করছো;
তারা সন্তানে তৃপ্ত হয়,
নিজ নিজ শিশুদের জন্য তাদের অবশিষ্ট সম্পত্তি রেখে যায়।
15
আমি তো ধার্মিকতায় তোমার মুখ দর্শন করবো,
জেগে উঠে তোমার রূপ দেখে তৃপ্ত হব।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। মাবুদের গোলাম দাউদের; যেদিন মাবুদ সমস্ত দুশমনের হাত থেকে এবং তালুতের হাত থেকে দাউদকে উদ্ধার করলেন, সেদিন তিনি মাবুদের উদ্দেশে এই গজলের কথা নিবেদন করলেন। তিনি বললেন,
হে মাবুদ! তুমিই আমার শক্তি!
আমি তোমাকেই মহব্বত করি।
2
মাবুদ আমার শৈল, আমার দুর্গ,
ও আমার উদ্ধারকর্তা, আমার আল্লাহ্, আমার দৃঢ় শৈল,
আমি তাঁর কাছে আশ্রয় নিয়েছি;
আমার ঢাল, আমার নাজাতের শৃঙ্গ, আমার উচ্চদুর্গ।
3
আমি প্রশংসনীয় মাবুদকে ডাকব,
এভাবে আমার দুশমনদের থেকে আমি নিস্তার পাব।
4
আমি মৃত্যুর দড়িতে বাঁধা পড়েছিলাম,
ধ্বংসের খরস্রোতে আশঙ্কিত ছিলাম।
5
আমি পাতালের দড়িতে বাঁধা পড়েছিলাম,
মৃত্যুর ফাঁদে জড়িত ছিলাম।
6
সঙ্কটে আমি মাবুদকে ডাকলাম,
আমার আল্লাহ্র উদ্দেশে আর্তনাদ করলাম;
তাঁর গৃহ থেকে তিনি আমার মিনতি শুনলেন,
তাঁর সম্মুখে আমার আর্তনাদ তাঁর কর্ণে প্রবেশ করলো।
7
তখন দুনিয়া টলতে লাগল, কাঁপতে লাগল,
পর্বতরাজির সমস্ত মূল বিচলিত হল ও টলতে লাগল,
কারণ তিনি জ্বলে উঠলেন।
8
তাঁর নাসারন্ধ্র থেকে ধোঁয়া বের হল,
তাঁর মুখনির্গত আগুন গ্রাস করলো;
তাঁর কাছ থেকে বেরিয়ে আসল প্রজ্বলিত অঙ্গার।
9
তিনি আসমানকে নুইয়ে নামলেন,
অন্ধকার তাঁর পদতলে ছিল।
10
তিনি কারুবী আরোহণে উড্ডীন হলেন,
বায়ু-পক্ষভরে উড়ে আসলেন।
11
তিনি অন্ধকারকে তাঁর অন্তরাল,
তাঁর চতুর্দিকস্থ তাঁবু করলেন;
পানির ঘন অন্ধকার ও আসমানের ঘন মেঘমালাকে চন্দ্রাতপ করলেন।
12
তাঁর সম্মুখবর্তী তেজ থেকে মেঘমালা সরে গেল,
দেখা গেল শিলাবৃষ্টি ও প্রজ্বলিত অঙ্গার।
13
আর মাবুদ আসমানে বজ্রনাদ করলেন,
সর্বশক্তিমান তাঁর কণ্ঠস্বর শুনালেন;
শিলাবৃষ্টি ও প্রজ্বলিত অঙ্গার দ্বারা।
14
তিনি তাঁর তীর মারলেন, তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করলেন;
অনেক বিদ্যুৎ চম্কিয়ে তাদেরকে বিশৃঙ্খল করলেন।
15
তখন জলরাশির সমস্ত প্রণালী প্রকাশ পেল,
দুনিয়ার সমস্ত মূল অনাবৃত হল, তোমার তর্জনে,
হে মাবুদ, তোমার নাসিকার প্রশ্বাসবায়ুতে।
16
তিনি উপর থেকে হাত বাড়িয়ে আমাকে ধরলেন,
মহাজলরাশি থেকে আমাকে টেনে তুললেন;
17
তিনি আমাকে উদ্ধার করলেন
আমার বলবান দুশমন থেকে, আমার বিদ্বেষীদের থেকে,
কেননা তারা আমার চেয়ে শক্তিমান ছিল।
18
আমার বিপদের দিনে তারা আমার কাছে এল,
কিন্তু মাবুদ আমার অবলম্বন হলেন।
19
তিনি আমাকে বাইরে প্রশস্ত স্থানে আনলেন,
আমাকে উদ্ধার করলেন,
কেননা তিনি আমাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।
20
মাবুদ আমার ধার্মিকতানুযায়ী পুরস্কার দিলেন,
আমার হাতের পবিত্রতা অনুযায়ী ফল দিলেন।
21
কেননা আমি মাবুদের পথে চলেছি,
দুষ্টতাপূর্বক আমার আল্লাহ্কে ছেড়ে যাই নি।
22
কারণ তাঁর সমস্ত অনুশাসন আমার সম্মুখে ছিল,
আমি তাঁর বিধি আমা থেকে দূর করি নি।
23
আর আমি তাঁর উদ্দেশে সিদ্ধ ছিলাম,
আমার অপরাধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতাম।
24
তাই মাবুদ আমার ধার্মিকতা অনুসারে ফল দিলেন,
তাঁর সাক্ষাতে আমার হাতের পবিত্রতা অনুসারে দিলেন।
25
তুমি দয়াবানের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করবে,
সিদ্ধের সঙ্গে সিদ্ধ ব্যবহার করবে।
26
তুমি খাঁটিদের সঙ্গে খাঁটি ব্যবহার করবে,
কুটিলের সঙ্গে চতুরতা ব্যবহার করবে।
27
কেননা তুমি দুঃখীদেরকে নিস্তার করবে,
কিন্তু গর্বিত নয়ন অবনত করবে।
28
তুমিই আমার প্রদীপ উজ্জ্বল করে থাক;
মাবুদ, আমার আল্লাহ্,
তুমিই আমার অন্ধকার আলোকময় করে থাক।
29
কেননা তোমার দ্বারা আমি সৈন্যদলের বিরুদ্ধে দৌড়াই;
আমার আল্লাহ্র দ্বারা প্রাচীর পার হই।
30
তিনিই আল্লাহ্, তাঁর পথ সিদ্ধ;
মাবুদের কালাম পরীক্ষাসিদ্ধ;
যারা তোমার মধ্যে আশ্রয় নেয় তুমি তাদের সকলের ঢাল।
31
কারণ মাবুদ ছাড়া আর আল্লাহ্ কে আছে?
আমাদের আল্লাহ্ ছাড়া আর শৈল কে আছে?
32
আল্লাহ্ বল দিয়ে আমার কোমরবন্ধনী পরিয়েছেন।
তিনি আমার পথ সিদ্ধ করেছেন।
33
তিনি আমার চরণ হরিণীর চরণের মত করেন,
উচ্চস্থলীতে আমাকে সংস্থাপন করেন।
34
তিনি আমার হাতকে যুদ্ধ করতে শিক্ষা দেন,
তাই আমার বাহু ব্রোঞ্জের ধনুকে চাড়া দেয়।
35
তুমি আমাকে নিজের উদ্ধার-ঢাল দিয়েছ;
তোমার ডান হাত আমাকে ধারণ করেছে,
তোমার কোমলতা আমাকে মহান করেছে।
36
তুমি আমার নিচে চলার পথ প্রশস্ত করেছ,
আর আমার চরণ বিচলিত হয় নি।
37
আমি দুশমনদের পিছনে দৌড়াব, তাদেরকে ধরবো,
সংহার না করে ফিরে আসব না।
38
আমি তাদেরকে চূর্ণ করবো,
তারা আর উঠতে পারবে না,
তারা আমার পদতলে পতিত হবে।
39
কারণ তুমি যুদ্ধার্থে বল দিয়ে আমার কোমর বেঁধেছ;
যারা আমার বিরুদ্ধে উঠেছিল,
তাদেরকে তুমি আমার অধীনে নত করেছ।
40
আমার দুশমনদেরকে আমা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছ,
আমি আমার বিদ্বেষীদেরকে সংহার করেছি।
41
তারা আর্তনাদ করলো, কিন্তু রক্ষাকর্তা কেউ নেই;
মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলো, কিন্তু তিনি জবাব দিলেন না।
42
তখন আমি তাদেরকে বায়ুচালিত ধূলিকণার মত চূর্ণ করলাম;
পথের কাদার মত ফেলে দিলাম;
43
তুমি আমাকে লোকদের বিদ্রোহ থেকে উদ্ধার করেছ,
জাতিদের মস্তক হিসেবে নিযুক্ত করেছ;
আমার অপরিচিত জাতি অমার গোলাম হবে।
44
শোনা মাত্র তারা আমার হুকুম মান্য করবে;
বিজাতি-সন্তানেরা আমার কর্তৃত্ব স্বীকার করবে।
45
বিজাতি-সন্তানেরা ম্লান হবে,
স্বকম্পে নিজ নিজ গুপ্ত স্থান থেকে বাইরে আসবে।
46
মাবুদ জীবন্ত, আমার শৈল ধন্য হোন,
আমার উদ্ধারের আল্লাহ্ উন্নত হোন।
47
সেই আল্লাহ্ আমার পক্ষে প্রতিশোধ নেন,
জাতিদেরকে, আমার অধীনে দমন করেন।
48
তিনি আমার দুশমনদের থেকে আমাকে উদ্ধার করেন;
যারা আমার বিরুদ্ধে উঠে,
তুমি তাদের উপরেও আমাকে উন্নত করছো,
তুমি দুর্বৃত্ত লোক থেকে আমাকে উদ্ধার করছো।
49
এই কারণে, হে মাবুদ,
আমি জাতিদের মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো,
তোমার নামের উদ্দেশে প্রশংসা-গজল করবো।
50
তিনি তাঁর বাদশাহ্কে মহাবিজয় দান করেন,
তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি অটল মহব্বত প্রকাশ করেন,
যুগে যুগে দাউদ ও তার বংশের প্রতি রহম করেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আসমান আল্লাহ্র গৌরব বর্ণনা করে,
আসমানের শূন্যস্থান তাঁর হস্তকৃত কাজ জ্ঞাপন করে।
2
দিন দিনের কাছে বাণী উচ্চারণ করে,
রাত রাতের কাছে জ্ঞান ঘোষণা করে।
3
বাণী নেই, ভাষাও নেই,
তাদের আওয়াজ শোনা যায় না।
4
তাদের স্বর সারা দুনিয়াতে ব্যাপ্ত,
তাদের কালাম দুনিয়ার সীমা পর্যন্ত ব্যাপ্ত;
তাদের মধ্যে তিনি সূর্যের জন্য একটি তাঁবু স্থাপন করেছেন।
5
সে বরের মত তাঁর বাসরগৃহ থেকে বেরিয়ে আসে,
বীরের মত স্বীয় পথে দৌড়াবার জন্য আনন্দ করে।
6
সে আসমানের প্রান্ত থেকে যাত্রা করে,
অপর প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে আসে;
তার উত্তাপে কোন বস্তু লুকিয়ে থাকে না।
7
মাবুদের নির্দেশ সিদ্ধ, প্রাণের জন্য স্বাস্থ্যকর;
মাবুদের সাক্ষ্য বিশ্বসনীয়, সরল লোকদের জ্ঞানদায়ক।
8
মাবুদের সমস্ত আদেশমালা যথার্থ, অন্তরের আনন্দবর্ধক;
মাবুদের হুকুম নির্মল, চোখকে আলোকিত করে তোলে।
9
মাবুদের ভয় পবিত্র, চিরস্থায়ী,
মাবুদের সমস্ত অনুশাসন সত্য, সর্বাংশে ন্যায্য।
10
তা সোনা ও প্রচুর খাঁটি সোনার চেয়ে বাঞ্ছনীয়,
মধু ও মৌচাকের রস হতেও সুস্বাদু।
11
তোমার গোলামও তা দ্বারা সুশিক্ষা পায়;
তা পালন করলে মহা ফল হয়।
12
কে তার নিজের ভুল বুঝতে পারে?
তুমি গুপ্ত দোষ থেকে আমাকে পরিষ্কার কর।
13
দুঃসাহসজনিত (গুনাহ্) হতেও নিজের গোলামকে পৃথক রাখ,
সেই সকল আমার উপরে কর্তৃত্ব না করুক;
তখন আমি সিদ্ধ হব এবং মহাগুনাহ্ থেকে পাক-পবিত্র হব।
14
আমার মুখের কথা ও আমার অন্তরের ধ্যান তোমার দৃষ্টিতে গ্রাহ্য হোক,
হে মাবুদ, আমার শৈল, আমার মুক্তিদাতা।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
মাবুদ সঙ্কটের দিনে তোমাকে উত্তর দিন,
ইয়াকুবের আল্লাহ্র নাম তোমাকে উন্নত করুক,
2
তিনি পবিত্র স্থান থেকে তোমার সাহায্য প্রেরণ করুন,
সিয়োন থেকে তোমাকে সুস্থির রাখুন,
3
তিনি তোমার সকল নৈবেদ্য স্মরণ করুন,
তোমার পোড়ানো-কোরবানী গ্রাহ্য করুন। [সেলা।]
4
তিনি তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করুন,
তোমার সমস্ত পরিকল্পনা সিদ্ধ করুন।
5
আমরা তোমার বিজয়ে আনন্দগান করবো,
আমাদের আল্লাহ্র নামে নিশান তুলব;
মাবুদ তোমার সমস্ত মুনাজাত কবুল করুন।
6
এখন আমি জানি, মাবুদ স্বীয় অভিষিক্ত ব্যক্তিকে নিস্তার করেন;
তিনি নিজের ডান হাতের রক্ষাকারী-শক্তিতে
তাঁর পবিত্র বেহেশত থেকে তাঁকে উত্তর দেবেন।
7
এরা রথে ও ওরা ঘোড়ায় নির্ভর করে,
কিন্তু আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নামের গর্ব করি।
8
তারা নত হয়েছে, পড়ে গেছে,
কিন্তু আমরা উত্থিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
9
হে মাবুদ, বাদশাহ্কে জয় দান কর;
যেদিন ডাকি, আমাদের উত্তর দাও।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, তোমার বলে বাদশাহ্ আনন্দ করেন,
তিনি তোমার সাহায্য লাভে কতই উল্লসিত হন।
2
তুমি তাঁর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেছ,
তাঁর ওষ্ঠের মুনাজাত অস্বীকার কর নি।
[সেলা।]
3
কেননা তুমি মঙ্গলের বিবিধ বর সহ তাঁর সম্মুখবর্তী হয়েছ,
তুমি তাঁর মাথায় সোনার মুকুট দিয়েছ।
4
তিনি তোমার কাছে জীবন প্রার্থনা করেছিলেন,
তুমি তাঁকে অনন্তকাল স্থায়ী দীর্ঘ পরমায়ু দিয়েছ।
5
তোমার সাহায্য লাভে তিনি মহাগৌরবান্বিত;
তুমি তাঁর উপরে গৌরব ও মহিমা রেখেছ।
6
তুমি তাঁকে চিরস্থায়ী দোয়াযুক্ত করেছ,
তোমার উপস্থিতির আনন্দে তাঁকে আনন্দিত করেছ।
7
কারণ বাদশাহ্ মাবুদের উপর নির্ভর করেন,
সর্বশক্তিমানের অটল মহব্বতে তিনি বিচলিত হবেন না।
8
তোমার হাত তোমার সমস্ত দুশমনকে ধরবে;
তোমার ডান হাত তোমার বিদ্বেষীদেরকে ধরবে।
9
তুমি তোমার ক্রোধের সময়ে তাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডস্বরূপ করবে;
মাবুদ ক্রোধে তাদেরকে গ্রাস করবেন,
আগুন তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।
10
তুমি উচ্ছিন্ন করবে দুনিয়া থেকে তাদের ফল,
মানবজাতির মধ্য থেকে তাদের বংশ।
11
কেননা তারা তোমার বিরুদ্ধে কুসঙ্কল্প করলো;
তারা কুমন্ত্রণা করলো, তা সিদ্ধ করতে পারে না।
12
কেননা তুমি তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে,
তুমি তাদের মুখ তোমার ধনুকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
13
হে মাবুদ, নিজের বলে উন্নত হও;
আমরা তোমার পরাক্রমের গান গাইব ও প্রশংসা করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর,
প্রভাতের হরিণী। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আল্লাহ্ আমার, আল্লাহ্ আমার,
তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করেছ?
আমাকে রক্ষা না করে ও আমার
আর্তনাদের উক্তি না শুনে কেন দূরে থাক?
2
হে আমার আল্লাহ্, আমি দিনে আহ্বান করি,
কিন্তু তুমি উত্তর দাও না;
রাতেও (ডাকি), আমার বিশ্রাম হয় না।
3
কিন্তু তুমিই পবিত্র,
ইসরাইলের সমস্ত প্রশংসা তোমার সিংহাসন।
4
আমাদের পূর্বপুরুষেরা তোমাতেই বিশ্বাস করতেন;
তাঁরা বিশ্বাস করতেন,
আর তুমি তাঁদেরকে উদ্ধার করতে।
5
তাঁরা তোমার কাছে কান্নাকাটি করতেন আর রক্ষা পেতেন,
তোমার উপর ঈমান এনে লজ্জিত হতেন না।
6
কিন্তু আমি কীট, মানুষ নই,
মানুষের নিন্দাস্পদ, লোকদের অবজ্ঞাত।
7
যারা আমাকে দেখে, সকলে আমাকে ঠাট্টা করে,
তারা মুখ ভেঙ্গায় আর মাথা নেড়ে বলে,
8
মাবুদের উপরে নির্ভর কর;
তিনি ওকে উদ্ধার করুন;
ওকে রক্ষা করুন, কেননা তিনি ওতে প্রীত।
9
তুমিই তো মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে বাইরে আনলে;
যখন আমার মাতার স্তন পান করি,
তখন তুমি আমার বিশ্বাস জন্মালে।
10
গর্ভ থেকে আমি তোমার হাতে নিক্ষিপ্ত;
আমার মাতৃজঠর থেকে তুমিই আমার আল্লাহ্।
11
আমা থেকে দূরে থেকো না,
সঙ্কট আসন্ন, সাহায্যকারী কেউ নেই।
12
অনেক ষাঁড় আমাকে বেষ্টন করেছে,
বাশনের বলবান বলদেরা আমাকে ঘিরে ধরেছে।
13
তারা আমার প্রতি মুখ খুলে হা করে,
বিদীর্ণকারী সিংহ যেন গর্জন করছে।
14
আমাকে পানির মত সেচন করা হচ্ছে,
আমার সমুদয় অস্থি সন্ধিচ্যুত হয়েছে,
আমার হৃদয় মোমের মত হয়েছে,
তা অন্ত্রগুলোর মধ্যে গলে গলে পড়ছে।
15
আমার বল খোলার মত শুকিয়ে যাচ্ছে,
আমার জিহ্বা তালুতে লেগে যাচ্ছে,
তুমি আমাকে মৃত্যুর ধূলিতে রেখেছ।
16
কেননা কুকুরেরা আমাকে ঘিরে ধরেছে,
দুর্বৃত্তদের মণ্ডলী আমাকে বেষ্টন করেছে;
তারা আমার হস্তপদ বিদ্ধ করেছে।
17
আমি আমার সমস্ত অস্থি গণনা করতে পারি;
ওরা আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে, চেয়ে থাকে।
18
তারা নিজেদের মধ্যে আমার কাপড়-চোপড় ভাগ করে,
আমার কাপড়ের জন্য গুলিবাঁট করে।
19
কিন্তু হে মাবুদ, তুমি দূরে থেকো না;
হে আমার সহায়, আমার সাহায্য করতে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসো।
20
তলোয়ার থেকে আমার প্রাণ উদ্ধার কর,
আমার একমাত্র [রূহ্] কুকুরের হাত থেকে উদ্ধার কর।
21
নিস্তার কর আমাকে সিংহের মুখ থেকে,
আর বন্য ষাঁড়ের শিং থেকে—
তুমি আমাকে উত্তর দিয়েছ।
22
আমি আমার ভাইদের কাছে তোমার নাম তবলিগ করবো;
সমাজের মধ্যে তোমার নামের প্রশংসা করবো।
23
মাবুদের ভয়কারীগণ! তাঁর প্রশংসা কর;
ইয়াকুবের সমস্ত বংশ! তাঁকে সম্মান কর;
তাঁকে ভয় কর, ইসরাইলের সমস্ত বংশ!
24
কেননা তিনি দুঃখীর দুঃখ উপেক্ষা বা ঘৃণা করেন নি;
তিনি তা থেকে তাঁর মুখও লুকান নি;
বরং আমি তাঁর কাছে কান্না করতে তিনি শুনলেন।
25
মহাসমাজে তোমা থেকে আমার প্রশংসা জন্মে,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তাদের সাক্ষাতে আমি আমার সমস্ত মানত পূর্ণ করবো।
26
নম্র লোকেরা ভোজন করে তৃপ্ত হবে,
যারা মাবুদের খোঁজ করে তারা তাঁর প্রশংসা করবে;
তোমাদের অন্তঃকরণ চিরজীবী হোক।
27
দুনিয়ার প্রান্তস্থিত সকলে স্মরণ করে মাবুদের প্রতি ফিরবে;
জাতিদের সমস্ত গোষ্ঠী তোমার সম্মুখে সেজ্দা করবে।
28
কেননা রাজত্ব মাবুদেরই;
তিনিই জাতিদের উপরে শাসনকর্তা।
29
দুনিয়ার সকল ধনবান লোকেরা ভোজন করে সেজ্দা করবে;
যারা ধূলিতে নামতে উদ্যত,
তারা সকলে তাঁর সাক্ষাতে জানু পাতবে,
যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে অসমর্থ, সেও পাতবে।
30
ভবিষ্যত বংশধরেরা তাঁর সেবা করবে,
প্রভুর সম্বন্ধে ভাবী বংশকে বলা যাবে।
31
তারা আসবে, তাঁর ধর্মশীলতা জানাবে,
ভবিষ্যত প্রজন্মের লোকদের বলবে,
তিনি কার্যসাধন করেছেন।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
মাবুদ আমার পালক, আমার অভাব হবে না।
2
তিনি তৃণভূষিত চরাণিতে আমাকে শয়ন করান,
তিনি শান্ত পানির ধারে ধারে আমাকে চালান।
3
তিনি আমার প্রাণ ফিরিয়ে আনেন,
তিনি নিজের নামের জন্য আমাকে ধর্মপথে গমন করান।
4
যখন আমি মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা দিয়ে গমন করবো,
তখনও অমঙ্গলের ভয় করবো না,
কেননা তুমি আমার সঙ্গে সঙ্গে আছ,
তোমার পাঁচনী ও তোমার লাঠি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
5
তুমি আমার দুশমনদের সাক্ষাতে
আমার সম্মুখে টেবিল সাজিয়ে থাক;
তুমি আমার মাথা তেলে সিক্ত করেছ;
আমার পানপাত্র উথলে পড়ছে।
6
কেবল মঙ্গল ও করুণাই আমার জীবনের
সমস্ত দিন আমার অনুচর হবে,
আর আমি মাবুদের গৃহে চিরদিন বসতি করবো।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
দুনিয়া ও সমস্ত বস্তু মাবুদেরই;
দুনিয়া ও তার নিবাসীরা তাঁর।
2
কেননা তিনিই সমস্ত সমুদ্রের উপরে তা স্থাপন করেছেন,
নদীগুলোর উপরে তা দৃঢ় করে রেখেছেন।
3
কে মাবুদের পর্বতে উঠবে?
কে তাঁর পবিত্র স্থানে দণ্ডায়মান হবে?
4
যার হাত নির্দোষ ও অন্তঃকরণ বিমল,
যে মিথ্যার দিকে প্রাণ উত্তোলন করে নি,
ছলনার সঙ্গে শপথ করে নি।
5
সেই ব্যক্তিই মাবুদের কাছ থেকে দোয়া পাবে,
তার উদ্ধারের আল্লাহ্র কাছ থেকে ধার্মিকতা পাবে।
6
এই তাঁর অন্বেষণকারীদের বংশ;
এরা তোমার মুখের অন্বেষণকারী, হে ইয়াকুবের আল্লাহ্। [সেলা।]
7
হে তোরণদ্বারগুলো, মস্তক তোল;
হে প্রাচীন সমস্ত কবাট, উত্থিত হও;
প্রতাপের বাদশাহ্ প্রবেশ করবেন।
8
সেই প্রতাপের বাদশাহ্ কে?
মাবুদ পরাক্রমী ও বীর, মাবুদ যুদ্ধবীর।
9
হে তোরণদ্বারগুলো, মাথা তোল;
হে প্রাচীন কবাটগুলো, মাথা উত্থাপন কর;
প্রতাপের বাদশাহ্ প্রবেশ করবেন।
10
সেই প্রতাপের বাদশাহ্ কে?
তিনি বাহিনীগণের আল্লাহ্, তিনিই প্রতাপের বাদশাহ্। [সেলা।]
1
হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, তোমারই দিকে
আমি নিজের প্রাণ উত্তোলন করি।
2
হে আমার আল্লাহ্, আমি তোমারই আশ্রয় নিয়েছি,
আমাকে লজ্জিত হতে দিও না;
আমার দুশমনেরা আমাকে নিয়ে উল্লাস না করুক।
3
যেসব লোক তোমার অপেক্ষা করে, তারা লজ্জিত হবে না;
যারা অকারণে বেঈমানী করে, তারাই লজ্জিত হবে।
4
হে মাবুদ, তোমার সমস্ত পথ আমাকে জানাও;
তোমার সমস্ত পথ আমাকে বুঝিয়ে দাও।
5
তোমার সত্যে আমাকে চালাও, আমাকে শিক্ষা দাও,
কেননা তুমিই আমার উদ্ধারকারী আল্লাহ্;
আমি সমস্ত দিন তোমার অপেক্ষায় থাকি।
6
হে মাবুদ, তোমার করুণা ও অটল মহব্বত স্মরণ কর,
কেননা উভয়ই অনাদি কাল থেকে আছে।
7
আমার যৌবনের গুনাহ্ ও আমার সমস্ত অধর্ম স্মরণ করো না,
হে মাবুদ, তোমার মঙ্গলভাবের অনুরোধে,
তোমার অটল মহব্বত অনুসারে আমাকে স্মরণ কর।
8
মাবুদ মঙ্গলময় ও সরল,
এজন্য তিনি গুনাহ্গারদের পথ দেখান।
9
তিনি নম্রদের ন্যায়বিচারের পথে চালান,
নম্রদেরকে তাঁর পথ দেখিয়ে দেন।
10
যারা তাঁর নিয়ম ও নির্দেশ পালন করে,
তাদের পক্ষে মাবুদের সমস্ত পথ অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততায় পূর্ণ।
11
তোমার নামের গুণে,
হে মাবুদ, আমার অপরাধ মাফ কর,
কেননা তা গুরুতর।
12
সেই ব্যক্তি কে যে মাবুদকে ভয় করে?
তিনি তাকে সেই পথ সম্বন্ধে শিক্ষা দেবেন
যে পথে তাকে চলতে হবে।
13
তার প্রাণ সহিসালামতে বাস করবে,
তার বংশ দেশের অধিকারী হবে।
14
মাবুদের গূঢ় মন্ত্রণা তাঁর ভয়কারীদের অধিকার,
তিনি তাদেরকে তাঁর নিয়ম জানাবেন।
15
আমার দৃষ্টি নিরন্তন মাবুদের দিকে,
কেননা তিনিই আমার চরণ জাল থেকে উদ্ধার করবেন।
16
আমার প্রতি দৃষ্টি ফিরাও, আমার প্রতি রহম কর,
কেননা আমি একাকী ও দুঃখী।
17
আমার অন্তঃকরণের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেয়েছে,
আমার সমস্ত কষ্ট থেকে আমাকে নিস্তার কর।
18
আমার দুঃখ ও কষ্টের প্রতি দৃষ্টিপাত কর,
আমার সমস্ত গুনাহ্ মাফ কর।
19
আমার দুশমনদেরকে দেখ, কেননা তারা অনেক;
তারা নিষ্ঠুরভাবে আমাকে হিংসা করে।
20
আমার প্রাণ রক্ষা কর, আমাকে উদ্ধার কর,
আমাকে লজ্জিত করোনা,
কেননা আমি তোমার আশ্রয় নিয়েছি।
21
সিদ্ধতা ও সরলতা আমাকে রক্ষা করুক,
কেননা আমি তোমার অপেক্ষা করছি।
22
হে আল্লাহ্, ইসরাইলকে মুক্ত কর,
তার সমস্ত সঙ্কট থেকে মুক্ত কর।
1
হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, আমার বিচার কর,
কারণ আমি নিজের সিদ্ধতায় চলেছি,
আর আমি মাবুদের আশ্রয় নিয়েছি, চঞ্চল হব না।
2
হে মাবুদ আমার পরীক্ষা করে প্রমাণ নাও,
আমার মন ও হৃদয় পরীক্ষা কর।
3
কেননা তোমার অটল মহব্বত আমার নয়ন গোচর;
আমি তোমার বিশ্বস্ততায় চলে আসছি।
4
আমি অসার লোকদের সঙ্গে বসি নি,
আমি ছদ্মবেশীদের সঙ্গে চলবো না।
5
আমি দুর্বৃত্তদের সমাজ ঘৃণা করি,
দুষ্টদের সঙ্গে বসবো না।
6
আমি শুদ্ধতায় আমার হাত ধোব,
হে মাবুদ, এভাবে তোমার কোরবানগাহ্ প্রদক্ষিণ করবো;
7
যেন আমি স্তবের ধ্বনি শুনাই,
ও তোমার আশ্চর্য কর্মগুলো তবলিগ করি।
8
হে মাবুদ, আমি ভালবাসি তোমার নিবাস গৃহ,
তোমার গৌরবের বাসস্থান।
9
গুনাহ্গারদের সঙ্গে আমার প্রাণ নিও না,
রক্তপাতী মানুষের সঙ্গে আমার জীবন নিও না।
10
তাদের হাতে অনিষ্ট থাকে,
তাদের ডান হাত উৎকোচে পরিপূর্ণ।
11
কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধতায় চলবো;
আমাকে মুক্ত কর ও আমার প্রতি রহম কর।
12
আমার চরণ সমভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে;
আমি বিশাল মণ্ডলীর মধ্যে মাবুদের শুকরিয়া আদায় করবো।
1
হযরত দাউদের।
মাবুদ আমার নূর, আমার উদ্ধার,
আমি কাকে ভয় করবো?
মাবুদ আমার জীবন দুর্গ,
আমি কাকে দেখে ত্রাসযুক্ত হব?
2
দুর্বৃত্তরা যখন আমার মাংস খেতে কাছে এল,
তখন আমার সেই বিপক্ষেরা ও বিদ্বেষীরা হোঁচট খেয়ে পড়লো।
3
যদিও সৈন্যদল আমার বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন করে,
তবুও আমার অন্তঃকরণ ভয় পাবে না;
যদিও আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংগঠিত হয়,
তবুও, তখনও আমি সাহস করবো।
4
মাবুদের কাছে আমি একটি বিষয় যাচ্ঞা করেছি,
আমি তারই খোঁজ করবো,
যেন জীবনের সমুদয় দিন মাবুদের গৃহে বাস করি,
মাবুদের সৌন্দর্য দেখবার জন্য,
ও তাঁর বায়তুল মোকাদ্দসে খোঁজ করার জন্য।
5
কেননা বিপদের দিনে তিনি তাঁর কাঁধে আমাকে লুকিয়ে রাখবেন,
তাঁর তাঁবুর অন্তরালে আমাকে লুকিয়ে রাখবেন;
তিনি শৈলের উপরে আমাকে স্থাপন করবেন।
6
আর এখন আমার চারদিকের দুশমনদের চেয়ে আমার মাথা উন্নত হবে,
আমি তাঁর তাঁবুতে আনন্দধ্বনির সঙ্গে উৎসর্গ করবো,
আমি মাবুদের উদ্দেশে প্রশস্তি ও গজল গাইব।
7
হে মাবুদ, শোন, আমি স্বরবে আহ্বান করি;
আমার প্রতি রহম কর, আমাকে উত্তর দাও।
8
আমার অন্তর তোমাকে বললো, ‘তাঁর মুখের খোঁজ কর’;
মাবুদ, আমি তোমার খোঁজ করবো।
9
আমা থেকে তোমার মুখ আচ্ছাদন করো না।
ক্রোধে তোমার গোলামকে দূর করো না;
তুমি আমার সহায় হয়ে আসছ;
হে আমার উদ্ধারের আল্লাহ্,
আমাকে ফেলে দিও না, ত্যাগ করো না।
10
আমার পিতা-মাতা আমাকে ত্যাগ করেছেন,
কিন্তু মাবুদ আমাকে তুলে নেবেন।
11
হে মাবুদ, তোমার পথ আমাকে শেখাও,
সমান পথে আমাকে গমন করাও,
আমার দুশমনদের জন্য তা কর।
12
আমার বিপক্ষদের ইচ্ছার হাতে আমাকে তুলে দিও না;
কেননা মিথ্যাসাক্ষীরা আমার বিরুদ্ধে উঠেছে,
তাদের নিঃশ্বাসে নিষ্ঠুরতা বের হয়।
13
আমি বিশ্বাস করেছি যে,
আমি জীবিতদের দেশেই মাবুদের মেহেরবানী দেখব।
14
মাবুদের অপেক্ষায় থাক;
সাহস কর, তোমার অন্তঃকরণ সবল হোক;
হ্যাঁ, মাবুদেরই অপেক্ষায় থাক।
1
হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, আমি তোমাকে ডাকছি;
আমার শৈল, আমার প্রতি বধির হয়ো না;
পাছে, যদি তুমি আমার প্রতি নীরব হও,
আর আমি বিপথগামীদের মত হয়ে পড়ি।
2
যখন আমি তোমার কাছে আর্তনাদ করি,
যখন তোমার মহা-পবিত্র স্থানের দিকে দু’হাত উত্তোলন করি,
তখন তুমি আমার ফরিয়াদ শুনো।
3
দুর্জনদের ও অধর্মচারীদের সঙ্গে আমাকে টেনে নিও না;
তারা নিজ নিজ প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তির কথা বলে,
কিন্তু তাদের অন্তঃকরণে হিংসাভাব আছে।
4
তাদের কাজ ও আচরণের নাফরমানী অনুসারে তাদেরকে ফল দাও;
তাদের হাতের কাজ অনুসারে ফল তাদেরকে দাও;
তাদের অপকার তাদেরই প্রতি বর্তাও।
5
কেননা তারা মাবুদের কাজ ও তাঁর হাতের কাজ বিবেচনা করে না;
তিনি তাঁদেরকে ভেঙ্গে ফেলবেন, গেঁথে তুলবেন না।
6
মাবুদ ধন্য হোন,
কেননা তিনি আমার ফরিয়াদ শুনেছেন।
7
মাবুদ আমার বল ও আমার ঢাল;
আমার অন্তঃকরণ তাঁর উপরে নির্ভর করেছে,
তাই আমি সাহায্য পেয়েছি;
এজন্য আমার অন্তঃকরণ উল্লসিত হয়েছে,
আমি নিজের গজল দ্বারা তাঁর প্রশংসা করবো।
8
মাবুদ তাঁর লোকদের বল;
তিনিই তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির রক্ষাকারী দুর্গ।
9
তোমার লোকদেরকে নাজাত কর,
নিজের অধিকারকে দোয়া কর;
তাদেরকে পালন কর, চিরকাল বহন কর।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে বেহেশতী সত্তাগুলো, মাবুদের গৌরব ঘোষণা কর;
মাবুদের গৌরব ও পরাক্রমের ঘোষণা কর।
2
মাবুদের উদ্দেশে তাঁর নামের গৌরব ঘোষণা কর;
পবিত্র শোভায় মাবুদের কাছে সেজ্দা কর।
3
পানির উপরে মাবুদের কণ্ঠস্বর;
গৌরবান্বিত আল্লাহ্ বজ্রনাদ করছেন,
মাবুদ বিপুল জলরাশির উপরে বিদ্যমান।
4
মাবুদের কণ্ঠস্বর শক্তিবিশিষ্ট;
মাবুদের কণ্ঠস্বর মহিমান্বিত।
5
মাবুদের কণ্ঠস্বর এরস গাছ ভেঙ্গে ফেলছে;
মাবুদই লেবাননের এরস গাছ খণ্ড-বিখণ্ড করছেন।
6
তিনি গরুর বাছুরের মত তাদেরকে নাচাচ্ছেন,
লেবানন ও শিবিয়োনকে বন্য ষাঁড়ের বাচ্চার মত নাচাচ্ছেন।
7
মাবুদের কণ্ঠস্বরে আসমানে বিদ্যুতের ঝলকানী সৃষ্টি হয়।
8
মাবুদের কণ্ঠস্বর মরুভূমিকে কম্পমান করছে;
মাবুদ কাদেশের মরুভূমিকে কম্পমান করছেন।
9
মাবুদের কণ্ঠস্বর হরিণীদেরকে প্রসব করাচ্ছে,
বনরাজিকে পত্রহীন করাচ্ছে;
আর তাঁর বায়তুল মোকাদ্দসে সবাই বলছে,
“আল্লাহ্র গৌরব।”
10
মহাবন্যার উপরে মাবুদই বাদশাহ্;
মাবুদ চিরকালের তরে বাদশাহ্র সিংহাসনে বসেছেন।
11
মাবুদ নিজের লোকদের বল দেবেন;
মাবুদ তাঁর লোকদের শান্তি দিয়ে দোয়া করবেন।
1
কাওয়ালী। গৃহ প্রতিষ্ঠার গজল। হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, আমি তোমার প্রশংসা করবো,
কেননা তুমি আমাকে উঠিয়েছ,
আমার দুশমনদেরকে আমার বিষয়ে আনন্দ করতে দাও নি।
2
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্,
আমি তোমার কাছে আর্তনাদ করলাম,
আর তুমি আমাকে সুস্থ করলে।
3
হে মাবুদ, তুমি পাতাল থেকে আমার প্রাণ উত্তোলন করেছ,
তুমি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছ, যেন গর্তে নেমে না যাই।
4
হে মাবুদের ভক্ত সেবাকারীরা,
তাঁর উদ্দেশে কাওয়ালী কর,
তাঁর পবিত্র নামের শুকরিয়া কর।
5
কেননা তঁাঁর ক্রোধ নিমেষমাত্র থাকে,
তাঁর অনুগ্রহেতেই জীবন;
সন্ধ্যাবেলা কান্নাকাটি মেহমানরূপে আসে,
কিন্তু খুব ভোরে আনন্দ উপস্থিত হয়।
6
আমার সুখাবস্থায় আমি বলেছিলাম,
আমি কখনও বিচলিত হব না।
7
হে মাবুদ, তুমি তোমার অনুগ্রহেই আমার পর্বত দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছিলে;
যখন তুমি মুখ লুকালে, আমি ভীষণ ভয় পেলাম।
8
হে মাবুদ, আমি তোমাকেই ডাকলাম,
মাবুদেরই কাছে ফরিয়াদ করলাম।
9
কূপে নামলে আমার লাভ কি যদি তার মধ্যে আমার মৃত্যু থাকে?
ধূলি কি তোমার প্রশংসা করবে?
তোমার বিশ্বস্ততা কি তবলিগ করবে?
10
শোন, হে মাবুদ, আমাকে রহম কর;
মাবুদ আমার সহায় হও।
11
তুমি আমার মাতম নৃত্যে পরিণত করেছ;
তুমি আমার শোকের চট খুলে আমাকে আনন্দের পোশাক পরিয়েছ,
12
যেন আমি তোমার প্রশংসা গান করি, নীরব না থাকি।
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্,
আমি চিরকাল তোমার প্রশংসা করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমি তোমারই আশ্রয় নিয়েছি;
আমাকে কখনও লজ্জিত হতে দিও না;
তোমার ধর্মশীলতায় আমাকে উদ্ধার কর।
2
আমার দিকে কান দাও;
আমাকে উদ্ধার করতে তাড়াতাড়ি এসো;
আমার আশ্রয়-শৈল হও,
আমার নিস্তারের জন্য দুর্গগৃহ হও।
3
কেননা তুমিই আমার শৈল ও আমার দুর্গ;
তাই তোমার নামের অনুরোধে
আমাকে পথ দেখিয়ে গমন করাও।
4
আমাকে সেই জাল থেকে উদ্ধার কর,
যা লোকে আমার জন্য গোপনে পেতেছে,
কেননা তুমিই আমার দৃঢ় আশ্রয়।
5
আমি তোমার হাতে আমার রূহ্ তুলে দিই;
হে মাবুদ, সত্যের আল্লাহ্, তুমি আমাকে মুক্ত করেছ।
6
যারা অসার মূর্তি মানে, তাদের আমি ঘৃণা করি;
আর আমি মাবুদের উপর নির্ভর করি।
7
আমি তোমার অটল মহব্বতে উল্লাস ও আনন্দ করবো,
কেননা তুমি আমার দুঃখ দেখেছ,
তুমি দুর্দশাকালে আমার প্রাণের তত্ত্ব নিয়েছ।
8
তুমি আমাকে দুশমনদের হাতে তুলে দাও নি,
প্রশস্ত ভূমিতে আমার চরণ স্থাপন করেছ।
9
হে মাবুদ, আমাকে রহম কর, কেননা আমি বিপদগ্রস্ত;
মনোদুঃখে আমার নয়ন, প্রাণ ও দেহ শীর্ণ হচ্ছে।
10
কারণ শ্রান্তিতে আমার জীবন
ও দীর্ঘ নিশ্বাসে আমার বয়স অতিবাহিত হল,
আমার অপরাধের দরুন আমার শক্তি লোপ পাচ্ছে,
আর আমার অস্থি শীর্ণ হল।
11
আমার সকল দুশমন কাছে আমি নিন্দাস্পদ,
আমার প্রতিবেশীদের কাছে অতিশয় নিন্দাপাত্র,
ও আমার পরিচিতদের কাছে ভয়ঙ্কর হয়েছি;
পথে আমাকে দেখে লোকেরা পালিয়ে গেছে।
12
মৃত ব্যক্তির মত লোকে আমাকে ভুলে গেছে,
আমি নষ্ট হয়ে যাওয়া পাত্রের মত হলাম।
13
কেননা আমি অনেকের কৃত অপবাদ শুনেছি,
চারদিকেই ভয়;
তারা আমার বিরুদ্ধে একত্র হয়ে মন্ত্রণা করেছে।
আমার প্রাণনাশ করার সঙ্কল্প করেছে।
14
কিন্তু, হে মাবুদ, আমি তোমার উপরে নির্ভর করলাম;
আমি বললাম, তুমিই আমার আল্লাহ্।
15
আমার সময়গুলো তোমার হাতে রয়েছে;
আমার দুশমনদের হাত থেকে, আমার তাড়নাকারীদের থেকে,
আমাকে উদ্ধার কর।
16
তোমার গোলামের প্রতি তোমার মুখ উজ্জ্বল কর,
তোমার অটল মহব্বতে আমাকে নিস্তার কর।
17
হে মাবুদ, আমাকে লজ্জিত হতে দিও না,
কেননা আমি তোমাকে ডেকেছি;
দুষ্টরা লজ্জিত হোক, পাতালে নীরব হোক।
18
সেই মিথ্যাবাদী সমস্ত ওষ্ঠাধর বোবা হোক,
যারা ধার্মিকের বিপক্ষে অহংকারের কথা বলে,
অহঙ্কার ও তুচ্ছজ্ঞান সহকারে বলে।
19
আহা! তোমার দেওয়া মঙ্গল কেমন মহৎ,
যা তুমি তোমার ভয়কারীদের জন্য সঞ্চয় করেছ,
তোমার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণকারীদের পক্ষে সাধন করেছ,
আর তা করেছ সকলের সাক্ষাতে।
20
তুমি মানুষের কুমন্ত্রণা থেকে তাদেরকে
তোমার উপস্থিতির অন্তরালে সঙ্গোপনে রাখবে,
জিহ্বাগুলোর বিরোধ থেকে তাদেরকে আশ্রমের মধ্যে লুকিয়ে রাখবে।
21
মাবুদ ধন্য হোন, কেননা তিনি দৃঢ় নগরে
আমার প্রতি আশ্চর্য অটল মহব্বত প্রকাশ করলেন।
22
আমি অধৈর্য হয়ে বলেছিলাম,
আমি তোমার নয়নগোচর থেকে বিচ্ছিন্ন,
কিন্তু তোমার উদ্দেশে আর্তনাদ করলে
তুমি আমার ফরিয়াদ শুনলে।
23
হে মাবুদের সমস্ত পবিত্র লোক,
তোমরা তাঁকে মহব্বত কর;
মাবুদ বিশ্বস্ত লোকদেরকে রক্ষা করেন,
কিন্তু অহংকারীকে অনেক প্রতিফল দেন।
24
হে মাবুদের অপেক্ষাকারী সকলে, সাহস কর,
তোমাদের অন্তঃকরণ সবল হোক।
1
হযরত দাউদের। মস্কীল।
সুখী সেই ব্যক্তি, যার অধর্ম মাফ হয়েছে,
যার গুনাহ্ আচ্ছাদিত হয়েছে।
2
সুখী সেই ব্যক্তি,
যার পক্ষে মাবুদ অপরাধ গণনা করেন না,
ও যার রূহে প্রবঞ্চনা নেই।
3
আমি যখন চুপ করেছিলাম,
আমার সমস্ত অস্থি ক্ষয় পাচ্ছিল,
কারণ আমি সমস্ত দিন আর্তনাদ করছিলাম।
4
কারণ দিনরাত তোমার হাত আমাকে শাস্তি দিচ্ছিল,
আমার সরসতা গ্রীষ্মকালের শুষ্কতায় পরিণত হচ্ছিল।
5
আমি তোমার কাছে আমার গুনাহ্ স্বীকার করলাম,
আমার অপরাধ আর গোপন করলাম না,
আমি বললাম, “আমি মাবুদের কাছে নিজের অধর্ম স্বীকার করবো,”
তাতে তুমি আমার গুনাহ্র অপরাধ মোচন করলে।
6
সুতরাং যখন তোমাকে পাওয়া যায়,
সমস্ত বিশ্বস্ত লোক তোমার কাছে মুনাজাত করুক,
অবশ্য বিপদের সময়ে, জলরাশির প্লাবন তাদের কাছে আসবে না।
7
তুমি আমার অন্তরাল,
তুমি সঙ্কট থেকে আমাকে উদ্ধার করবে;
রক্ষাগীত দ্বারা আমাকে বেষ্টন করবে।
[সেলা।]
8
আমি তোমাকে বুদ্ধি দেব ও তোমার গন্তব্য পথ দেখাব,
তোমার উপরে দৃষ্টি রেখে তোমাকে পরামর্শ দেব।
9
তোমরা ঘোড়া ও খচ্চরের মত হয়ো না, যাদের বুদ্ধি নেই;
বল্গা ও লাগাম পরিয়ে তাদেরকে দমন করতে হয়,
নতুবা তারা তোমার কাছে আসবে না।
10
দুষ্টের অনেক যাতনা হয়;
কিন্তু যে ব্যক্তি মাবুদের উপর নির্ভর করে,
সে অটল মহব্বতে বেষ্টিত হবে।
11
হে ধার্মিকগণ, মাবুদে আনন্দ কর, উল্লাস কর;
হে সরলচিত্ত সকলে, তোমরা আনন্দ ধ্বনি কর।
1
ধার্মিকগণ মাবুদে আনন্দ ধ্বনি কর;
প্রশংসা করা সরল লোকদের উপযুক্ত।
2
তোমরা বীণাতে মাবুদের প্রশংসা-গজল কর,
দশতন্ত্রী নেবলে তাঁর উদ্দেশে গজল গাও।
3
তাঁর উদ্দেশে নতুন গজল গাও,
জয়ধ্বনিসহ মনোহর বাদ্য কর।
4
কেননা মাবুদের কালাম যথার্থ,
তাঁর সকল কাজ বিশ্বস্ততাসিদ্ধ।
5
তিনি ধার্মিকতা ও ন্যায়বিচার ভালবাসেন;
দুনিয়া মাবুদের অটল মহব্বতে পরিপূর্ণ।
6
আসমান নির্মিত হল মাবুদের কালামে,
তার সমস্ত বাহিনী তাঁর মুখের শ্বাসে।
7
তিনি সমুদ্রের জলরাশি একস্থানে সঞ্চিত করেন,
তিনি সমস্ত জলধি ভাণ্ডারে রাখেন।
8
সমস্ত দুনিয়া মাবুদকে ভয় করুক;
দুনিয়ার নিবাসী সকলে তাঁর থেকে ভীত হোক।
9
তিনি কথা বললেন, আর উৎপত্তি হল,
তিনি হুকুম করলেন, আর স্থিতি হল।
10
মাবুদ জাতিদের মন্ত্রণা ব্যর্থ করেন,
তিনি লোকবৃন্দের সমস্ত সঙ্কল্প বিফল করেন।
11
মাবুদের মন্ত্রণা চিরকাল স্থির থাকে,
তাঁর অন্তরের সঙ্কল্প পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
12
সুখী সেই জাতি, যার আল্লাহ্ মাবুদ,
সেই লোকসমাজ, যাকে তিনি নিজের
অধিকারের জন্য মনোনীত করেছেন।
13
মাবুদ বেহেশত থেকে দৃষ্টিপাত করেন,
তিনি সমস্ত মানবজাতিকে নিরীক্ষণ করেন।
14
তিনি তাঁর বাসস্থান থেকে দৃষ্টিপাত করেন
দুনিয়ার সমস্ত নিবাসীর উপরে।
15
তিনি একে একে তাদের হৃদয় গঠন করেন,
তিনি তাদের সমস্ত কাজ আলোচনা করেন।
16
কোন বাদশাহ্ মহাসৈন্য দ্বারা উদ্ধার পায় না;
বীর মহাশক্তি দ্বারা নিস্তার পায় না;
17
ত্রাণের জন্য ঘোড়া মিথ্যা,
সে তার মহাশক্তিতে রক্ষা করতে পারে না।
18
দেখ, মাবুদের দৃষ্টি তাদের উপরে,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
যারা তাঁর অটল মহব্বতের প্রতীক্ষা করে,
19
মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ রক্ষা করার জন্য,
দুর্ভিক্ষে তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
20
আমাদের প্রাণ মাবুদের অপেক্ষায় রয়েছে;
তিনিই আমাদের সহায় ও আমাদের ঢাল।
21
হ্যাঁ, আমাদের অন্তর তাঁতেই আনন্দ করবে,
কেননা আমরা তাঁর পবিত্র নামের উপর ঈমান এনেছি।
22
হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত আমাদের উপরে বর্ষিত হোক,
কেননা আমরা তোমার অপেক্ষা করেছি।
1
হযরত দাউদের। যখন তিনি আবিমালেকের সাক্ষাতে বুদ্ধির বৈকল্য দেখিয়েছিলেন এবং আবিমালেক তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন আর তিনিও প্রস্থান করেছিলেন, কাওয়ালীটি সেই সময়কার।
আমি সর্বসমক্ষে মাবুদের শুকরিয়া আদায় করবো;
তাঁর প্রশংসা নিরন্তর আমার মুখে থাকবে।
2
আমার প্রাণ মাবুদকে নিয়েই গর্ব করবে;
তা শুনে নম্র লোকেরা আনন্দিত হবে।
3
আমার সঙ্গে মাবুদের মহিমা ঘোষণা কর;
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নামের প্রতিষ্ঠা করি।
4
আমি মাবুদের খোঁজ করলাম,
তিনি আমাকে জবাব দিলেন,
আমার সকল আশঙ্কা থেকে উদ্ধার করলেন।
5
ওরা তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করে দীপ্যমান হল;
তাদের মুখ কখনও বিবর্ণ হবে না।
6
এই দুঃখী যখন ডাকল, মাবুদ শুনলেন,
একে সকল সঙ্কট থেকে নিস্তার করলেন।
7
যারা মাবুদকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
মাবুদের ফেরেশতা তাদের চারদিকে শিবির স্থাপন করেন,
আর তাদেরকে উদ্ধার করেন।
8
আস্বাদন করে দেখ, মাবুদ মঙ্গলময়;
সুখী সেই ব্যক্তি, যে তাঁর শরণাপন্ন।
9
হে তাঁর পবিত্র ব্যক্তিরা, মাবুদকে ভয় কর,
কেননা তাঁর ভয়কারীদের অভাব হয় না।
10
যুবসিংহদের অনটন ও ক্ষুধায় কষ্ট হয়,
কিন্তু যারা মাবুদের খোঁজ করে,
তাদের কোন মঙ্গলের অভাব হয় না।
11
এসো, বৎসরা, আমার কথা শোন,
আমি তোমাদেরকে মাবুদের ভয় শিক্ষা দিই।
12
কোন্ ব্যক্তি জীবনে প্রীত হয়,
মঙ্গল দেখবার জন্য দীর্ঘায়ু ভালবাসে?
13
তুমি হিংসা থেকে তোমার জিহ্বাকে,
ছলনার কথা থেকে তোমার ঠোঁটকে সাবধানে রাখ।
14
মন্দ থেকে দূরে যাও, যা ভাল তা-ই কর;
শান্তির খোঁজ কর ও তার অনুধাবন কর।
15
ধার্মিকদের প্রতি মাবুদের দৃষ্টি আছে,
তাদের আর্তনাদের প্রতি তাঁর কান আছে।
16
মাবুদের মুখ দুর্বৃত্তদের প্রতিকূল;
তিনি ভূতল থেকে তাদের স্মৃতি লোপ করবেন।
17
ধার্মিকেরা কান্নাকাটি করলো, মাবুদ শুনলেন,
তাদের সকল সঙ্কট থেকে তাদেরকে উদ্ধার করলেন।
18
মাবুদ ভগ্নচিত্তদের নিকটবর্তী,
তিনি তাদের নাজাত করেন যাদের
সকল আশা ধ্বংস হয়ে গেছে।
19
ধার্মিকের বিপদ অনেক,
কিন্তু সেসব থেকে মাবুদ তাকে উদ্ধার করেন।
20
তিনি তার সমস্ত অস্থি রক্ষা করেন;
তার মধ্যে একখানিও ভগ্ন হয় না।
21
নাফরমানী দুর্জনকে সংহার করবে,
ধার্মিকের বিদ্বেষীরা দোষীকৃত হবে।
22
মাবুদ তাঁর গোলামদের প্রাণ মুক্ত করেন;
যারা তাঁর মধ্যে আশ্রয় নেয় তাদের কেউই দোষীকৃত হবে না।
1
হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, যারা আমার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাদের সঙ্গে ঝগড়া কর,
যারা আমার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর।
2
তুমি ঢাল ও ফলক ধারণ কর,
আমার সাহায্যের জন্য দণ্ডায়মান হও।
3
বর্শা ধর, আমার তাড়নাকারীদের সম্মুখ পথ রুদ্ধ কর;
আমার প্রাণকে বল, আমিই তোমার উদ্ধার।
4
যারা আমার প্রাণের খোঁজ করে,
তারা লজ্জিত ও অপমানিত হোক;
যারা আমার অনিষ্টের সঙ্কল্প করে,
তারা ফিরে যাক ও হতাশ হোক।
5
তারা বায়ূচালিত তুষের মত হোক,
মাবুদের ফেরেশতা তাদের তাড়া করুন।
6
তাদের পথ অন্ধকার ও পিচ্ছিল হোক;
মাবুদের ফেরেশতা তাদের পিছনে ধাবমান হোন।
7
কেননা তারা অকারণে আমার জন্য গর্তের মধ্যে গুপ্ত জাল পেতেছে,
অকারণে আমার প্রাণের জন্য খাদ খনন করেছে।
8
অজ্ঞাতসারে তার সর্বনাশ উপস্থিত হোক;
সে গোপনে পাতা নিজের জালে নিজে ধরা পড়ুক,
সেই সর্বনাশে সে নিজেই ধরা পড়ুক।
9
আর আমার প্রাণ মাবুদে উল্লসিত হবে,
তাঁর উদ্ধারে আনন্দ করবে।
10
আমার সকল অস্থি বলবে,
হে মাবুদ, তোমার মত আর কে আছে?
তুমিই দুঃখীকে তার চেয়ে বলবান ব্যক্তি থেকে,
দুঃখী দরিদ্রকে তার লুণ্ঠনকারী থেকে, উদ্ধার করে থাক।
11
দুর্বৃত্ত সাক্ষীরা উঠছে, আমি যা জানি না,
তা আমার কাছে জানতে চায়।
12
তারা উপকারের পরিবর্তে আমার অপকার করে,
তাতে আমার প্রাণ এতিম হয়।
13
কিন্তু তাদের অসুস্থতার সময়ে আমি চট পরতাম,
আমি রোজা দ্বারা আমার প্রাণকে দুঃখ দিতাম,
আমার মুনাজাত আমার বুকে ফিরে আসবে।
14
আমি তাদেরকে নিজের বন্ধু
বা নিজের ভাই বলে মনে করতাম,
আমি মাতৃশোকাতুরের মত শোকার্ত হয়ে অধোমুখে থাকতাম।
15
তবুও তারা আমার পদস্খলনে আনন্দিত হল ও সকলে একত্র হল;
অধম লোকেরা আমার অজ্ঞাতসারে আমার বিরুদ্ধে একত্র হল,
তারা আমাকে বিদীর্ণ করলো, ক্ষান্ত হল না।
16
আল্লাহ্বিহীনদের বিদ্বেষপূর্ণ উপহাসের মত
তারা আমার প্রতি দাঁতে দাঁত ঘর্ষণ করলো।
17
হে মাবুদ, তুমি কতকাল দেখবে?
রক্ষা কর আমার প্রাণ তাদের ধ্বংস থেকে,
আমার একমাত্র (রূহ্) সিংহদের থেকে।
18
আমি মহাসমাজের মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো,
বলবান জাতির মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো।
19
আমার দুশমনদেরকে আমার বিষয়ে অন্যায় আনন্দ করতে দিও না,
যারা অকারণে আমাকে হিংসা করে,
তাদেরকে ভ্রুকুটি করতে দিও না।
20
কেননা তারা শান্তির কথা বলে না,
কিন্তু দেশের শান্ত মানুষের বিরুদ্ধে ছলের কথা কল্পনা করে।
21
তারা আমার বিরুদ্ধে মুখ ভেঙ্গাতো;
বলতো, ”অহো! অহো! আমাদের চোখ দেখেছে।”
22
হে মাবুদ তুমি দেখেছ, নীরব থেকো না;
প্রভু, আমা থেকে দূরবর্তী হয়ো না।
23
জেগে উঠ, জাগ্রত হও, আমার রক্ষার্থে,
হে আমার আল্লাহ্, আমার প্রভু,
আমার পক্ষে কথা বলবার জন্য।
24
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্,
তোমার ধর্মশীলতা অনুসারে আমার বিচার কর,
ওরা আমার উপরে আনন্দ না করুক।
25
তারা মনে মনে না বলুক,
‘অহো! এ-ই আমাদের অভিলাষ;
‘তারা না বলুক, ‘তাকে গ্রাস করলাম’।
26
যারা আমার বিপদে আনন্দিত হয়,
তারা একসঙ্গে লজ্জিত ও হতাশ হোক;
যারা আমার বিরুদ্ধে গর্ব করে,
তারা লজ্জায় ও অপমানে আচ্ছন্ন হোক।
27
যারা আমার ধার্মিকতায় প্রীত,
তারা আনন্দধ্বনি করুক আহ্লাদিত হোক,
দিনরাত বলুক, মাবুদ মহিমান্বিত হোন,
যিনি নিজের গোলামের সহিসালামতে প্রীত।
28
আর আমার জিহ্বা তোমার ধর্মশীলতার,
ও সমস্ত দিন তোমার প্রশংসার কথা বলবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। মাবুদের গোলাম হযরত দাউদের।
দুষ্টের হৃদয়ের মধ্যে অধর্ম তার কাছে কথা বলে,
আল্লাহ্-ভয় তার চোখের অগোচর।
2
সে নিজের দৃষ্টিতে নিজের গর্ব করে বলে,
আমার অধর্ম আবিষ্কৃত ও ঘৃণিত হবে না।
3
তার মুখের কালাম অধর্ম ও ছলমাত্র;
সে সুবিবেচনা ও সদাচরণ ত্যাগ করেছে।
4
সে তার বিছানায় অধর্ম কল্পনা করে,
সে কুপথে দাঁড়িয়ে থাকে, সে দুষ্কর্ম ঘৃণা করে না।
5
হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত আসমানগুলোতে ব্যাপ্ত,
তোমার বিশ্বস্ততা আকাশ ছোঁয়া।
6
তোমার ধর্মশীলতা আল্লাহ্র পর্বতগুলোর মত,
তোমার সমস্ত বিচার মহাজলধিস্বরূপ;
হে মাবুদ, তুমি মানুষ ও পশু রক্ষা করে থাক।
7
হে আল্লাহ্ তোমার অটল মহব্বত কেমন বহুমূল্য!
সমস্ত লোক তোমার পক্ষচ্ছায়ার নিচে আশ্রয় পায়।
8
তারা তোমার বাড়ির পুষ্টিকর দ্রব্যে পরিতৃপ্ত হয়,
তুমি তাদের তোমার আনন্দ নদীর পানি পান করিয়ে থাক।
9
কারণ তোমারই কাছে জীবনের ফোয়ারা আছে;
তোমারই আলোতে আমরা আলো দেখতে পাই।
10
যারা তোমাকে জানে,
তুমি তাদের প্রতি তোমার অটল মহব্বত,
ও সরলচিত্তদের প্রতি তোমার উদ্ধার চিরস্থায়ী কর।
11
অহঙ্কারের পা আমার কাছে না আসুক,
দুষ্টদের হাত আমাকে তাড়িয়ে না দিক্।
12
ঐ যে দুর্বৃত্তরা পড়ে গেল;
অধঃস্থানে নিক্ষিপ্ত হল, আর উঠতে পারবে না।
1
হযরত দাউদের।
তুমি দুরাচারদের বিষয়ে রুষ্ট হয়ো না;
অধর্মাচারীদের প্রতি ঈর্ষা করো না।
2
কেননা তারা ঘাসের মত শীঘ্র ছিন্ন হবে,
সবুজ ঘাসের মত ম্লান হবে।
3
মাবুদের উপর নির্ভর রাখ, সদাচরণ কর,
তবে দেশে বাস করবে, নিরাপত্তার জন্য আনন্দ করবে।
4
আর মাবুদে আনন্দ কর,
তিনি তোমার সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করবেন।
5
তোমার গতি মাবুদের উপর অর্পণ কর,
তাঁর ওপর নির্ভর কর, তিনিই কাজ সাধন করবেন।
6
তিনি আলোর মত তোমার ধার্মিকতা,
মধ্যাহ্ন কালের মত তোমার বিচার প্রকাশ করবেন।
7
মাবুদের কাছে নীরব হও, তাঁর অপেক্ষায় থাক;
যে তার পথে কৃতকার্য হয়, তার বিষয়ে,
যে ব্যক্তি কুসঙ্কল্প করে, তার বিষয়ে রুষ্ট হয়ো না।
8
ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত হও, ক্রোধ ত্যাগ কর,
রুষ্ট হয়ো না, হলে কেবল দুষ্কার্য করবে।
9
কারণ দুরাচারেরা উচ্ছিন্ন হবে,
কিন্তু যারা মাবুদের অপেক্ষা করে,
তারাই দেশের অধিকারী হবে।
10
আর ক্ষণকাল পরে দুষ্ট লোক আর থাকবে না,
তুমি তার স্থান তত্ত্ব করবে, কিন্তু তাকে পাবে না।
11
কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের অধিকারী হবে,
এবং প্রচুর শান্তির দরুন আনন্দ করবে।
12
দুষ্ট লোক ধার্মিকের প্রতিকূলে কুসঙ্কল্প করে,
তার বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত ঘর্ষণ করে।
13
প্রভু তাকে উপহাস করবেন,
কেননা তিনি দেখেন, তার দিন আসছে।
দুষ্টেরা তলোয়ার কোষমুক্ত করেছে ও ধনুক আকর্ষণ করেছে,
14
যেন দুঃখী ও দরিদ্রকে নিপাত করতে পারে,
যেন সরলপথগামীদেরকে খুন করতে পারে,
15
তাদের তলোয়ার তাদেরই হৃদয়ে প্রবেশ করবে,
তাদের ধনুক ভেঙ্গে যাবে।
16
ধার্মিকের অল্প সম্পত্তি ভাল,
সমস্ত দুষ্ট লোকের বহু ধনরাশি অপেক্ষা ভাল।
17
কারণ দুষ্টদের বাহু ভেঙ্গে যাবে;
কিন্তু মাবুদ ধার্মিকদের ধরে রাখেন।
18
মাবুদ সিদ্ধদের সমস্ত দিন জানেন;
তাদের অধিকার চিরকাল থাকবে।
19
তারা বিপদের সময় লজ্জিত হবে না,
দুর্ভিক্ষের সময়ে তৃপ্ত হবে।
20
কিন্তু দুষ্টরা বিনষ্ট হবে,
মাবুদের দুশমনেরা মাঠের সবুজ ঘাসের সৌন্দর্যের মতই;
তারা অন্তর্হিত, ধোঁয়ার মত মিলিয়ে যাবে।
21
দুষ্ট ঋণ করে পরিশোধ করে না,
কিন্তু ধার্মিক দয়াবান ও দানশীল।
22
কেননা তাঁর দোয়ার পাত্রেরা
দেশের অধিকারী হবে,
কিন্তু তাঁর বদদোয়ার পাত্রেরা উচ্ছিন্ন হবে।
23
মাবুদ কর্তৃক মানুষের পদক্ষেপগুলো স্থিরীকৃত হয়,
তার পথে তিনি প্রীত।
24
পড়ে গেলেও সে ভূতলশায়ী হবে না;
কেননা মাবুদ তার হাত ধরে রাখেন।
25
আমি যুবক ছিলাম, এখন বৃদ্ধ হয়েছি,
কিন্তু ধার্মিককে পরিত্যক্ত হতে দেখি নি,
তার বংশকে খাদ্য ভিক্ষা করতে দেখি নি।
26
সেসব দিন রহম করে ও ধার দেয়,
তার বংশ দোয়া পায়।
27
তুমি মন্দ থেকে দূরে যাও,
সদাচরণ কর, তাতে চিরকাল বাস করবে।
28
কেননা মাবুদ ন্যায়বিচার ভালবাসেন;
তিনি তাঁর বিশ্বস্তদেরকে পরিত্যাগ করেন না;
তারা চিরকাল সুরক্ষিত হয়;
কিন্তু দুষ্টদের বংশ উচ্ছিন্ন হবে।
29
ধার্মিকেরা দেশের অধিকারী হবে
তারা নিয়ত সেখানে বাস করবে।
30
ধার্মিকের মুখ জ্ঞানের কথা বলে,
তার জিহ্বা ন্যায়বিচারের কথা বলে।
31
তার আল্লাহ্র শরীয়ত তার দিলে আছে;
তার পদবিক্ষেপ টলবে না।
32
দুষ্ট লোক ধার্মিকের প্রতি লক্ষ্য রাখে,
তাকে খুন করতে চেষ্টা করে।
33
মাবুদ তাকে ওর হাতে ছেড়ে দেবেন না,
তার বিচারকালে তাকে দোষী করবেন না।
34
মাবুদের অপেক্ষায় থাক, তাঁর পক্ষে চল;
তাতে তিনি তোমাকে দেশের অধিকার
ভোগের জন্য উন্নত করবেন;
দুষ্টদের উচ্ছেদ হলে তুমি তা দেখতে পাবে।
35
আমি দুষ্টকে মহাক্ষমতাশালী দেখেছি,
উৎপত্তি স্থানের সতেজ গাছের মত প্রসারিত দেখেছি।
36
কিন্তু আমি সেই পথে গেলাম, দেখ, সে নেই,
আমি খোঁজ করলাম, কিন্তু তাকে পাওয়া গেল না।
37
নির্দোষদের কথা বিবেচনা কর,
সরলকে নিরীক্ষণ কর;
শান্তিপ্রিয় ব্যক্তির কাজের শেষে সুফল আছে।
38
কিন্তু অধর্মাচারীরা সকলেই বিনষ্ট হবে;
দুষ্টদের শেষ ফল উচ্ছিন্ন হবে।
39
ধার্মিকদের উদ্ধার মাবুদ থেকে,
তিনি সঙ্কটকালে তাদের আশ্রয়।
40
মাবুদ তাদের সাহায্য করেন, তাদেরকে রক্ষা করেন,
তিনি দুষ্টদের থেকে তাদের রক্ষা করেন ও তাদের নাজাত করেন,
কারণ তারা তাঁর আশ্রয় নিয়েছে।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী। স্মৃতি-জাগানো।
হে মাবুদ, তোমার ক্রোধে আমাকে ভর্ৎসনা করো না,
তোমার গজবের আগুনে আমাকে শাস্তি দিও না।
2
কেননা তোমার সমস্ত তীর আমাতে বিদ্ধ,
আমার উপরে তোমার হাত নেমে এসেছে।
3
তোমার ক্রোধ হেতু আমার দেহে কোন স্বাস্থ্য নেই,
আমার গুনাহ্হেতুু আমার অস্থিতে কোন শান্তি নেই।
4
কেননা আমার অপরাধগুলো আমার মাথার উপরে উঠেছে,
ভারী বোঝার মত সেসব আমার শক্তির চেয়ে ভারী।
5
আমার সমস্ত ক্ষত দুর্গন্ধ ও গলিত হয়েছে,
আমার অজ্ঞানতার দরুণই হয়েছে।
6
আমি কুঁজো হয়েছি, অত্যন্ত নুয়ে পড়েছি,
আমি সমস্ত দিন বিষণ্ন হয়ে বেড়াচ্ছি।
7
কেননা আমার কোমরে জ্বালা ধরেছে,
আমার দেহে কোনো স্বাস্থ্য নেই।
8
আমি অবসন্ন ও অতিশয় ক্ষুণ্ন হয়েছি,
অন্তরের ব্যাকুলতায় আর্তনাদ করছি।
9
হে মালিক, আমার সমস্ত কামনা তোমার সম্মুখে,
আমার কাতরোক্তি তোমা থেকে গুপ্ত নয়।
10
আমার অন্তর ধুক্ ধুক্ করছে,
আমার বল আমাকে ত্যাগ করেছে,
আমার চোখের তেজও আমাকে ছেড়ে গেছে।
11
আমার বন্ধুরা ও আমার সঙ্গীরা
আমার ব্যাধি থেকে দূরে দাঁড়ায়,
আমার জ্ঞাতিবর্গ দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।
12
যারা আমার প্রাণের খোঁজ করে, তারা ফাঁদ পাতে;
যারা আমার অনিষ্ট চেষ্টা করে, তারা বিনাশের কথা বলে,
আর সমস্ত দিন ছলের চিন্তা করে।
13
কিন্তু বধিরের মত আমি কিছুই শুনতে পাই না,
আমি এমন বোবার মত হয়েছি, যে মুখ খোলে না।
14
আমি এমন ব্যক্তির মত, যে শুনতে পায় না,
যার মুখে প্রতিবাদ উচ্চারিত হয় না।
15
কারণ, হে মাবুদ, আমি তোমারই অপেক্ষা করছি;
হে মালিক, আমার আল্লাহ্, তুমিই উত্তর দেবে।
16
কেননা আমি বললাম, পাছে ওরা আমার বিষয়ে আনন্দ করে,
আমার চরণ টললেই আমার বিপক্ষে অহংকার করে।
17
আমি তো পড়তে উদ্যত;
আমার ব্যথা সতত আমার গোচরে রয়েছে।
18
আমি আমার অপরাধ স্বীকার করবো,
আমার গুনাহ্র জন্য খেদ করবো।
19
কিন্তু আমার দুশমনেরা সতেজ ও বলবান,
অনেকেই অকারণে আমাকে ঘৃণা করে।
20
আর তারা উপকারের পরিবর্তে অপকার করে,
তারা আমার বিপক্ষ, কারণ যা ভাল, আমি তারই অনুগামী।
21
হে মাবুদ, আমাকে পরিত্যাগ করো না;
আমার আল্লাহ্, আমা থেকে দূরে থেকো না।
22
হে মালিক, আমার উদ্ধার,
তুমি আমার সাহায্য করতে তৎপর হও।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য, যিদুথূনের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমি বললাম, ‘আমি আমার পথে সাবধানে চলবো,
যেন জিহ্বা দ্বারা গুনাহ্ না করি;
যতদিন আমার সাক্ষাতে দুর্জন থাকে,
আমি মুখে জাল্তি বেঁধে রাখব।’
2
আমি নীরবে বোবা হয়ে রইলাম,
সৎ কথা বলা থেকেও বিরত থাকলাম,
আর আমার ব্যথা বেড়ে গেল।
3
আমার অন্তর আমার ভেতরে তপ্ত হয়ে উঠলো;
ভাবতে ভাবতে আগুন জ্বলে উঠলো;
তারপর আমি কথা বললাম,
4
মাবুদ, আমার অন্তিমকাল আমাকে জানাও,
আমার আয়ুর পরিমাণ কি, জানাও,
আমি জানতে চাই, আমি কেমন ক্ষণিক।
5
দেখ, তুমি আমার আয়ু কতিপয় মুষ্টি পরিমিত করেছ,
আমার জীবনকাল তোমার দৃষ্টিতে অবস্তুবৎ;
সত্যি, প্রত্যেক মানুষ স্থিরীকৃত হলেও নিতান্ত অসার। [সেলা।]
6
সত্যি, মানুষ ছায়ার মত গমনাগমন করে,
সত্যি, তারা অসারতার জন্যই ব্যতিব্যস্ত;
সে ধনরাশি সঞ্চয় করে,
কিন্তু কে তা সংগ্রহ করবে, জানে না।
7
এখন, হে মালিক, আমি কিসের অপেক্ষা করি?
তোমাতেই আমার প্রত্যাশা।
8
আমার সমস্ত অধর্ম থেকে আমাকে উদ্ধার কর,
আমাকে মূঢ় লোকের ধিক্কারের পাত্র করো না।
9
আমি বোবা হলাম, মুখ খুললাম না,
কেননা তুমিই এই সমস্ত করেছ।
10
আমা থেকে তোমার আঘাত দূর কর,
তোমার হাতের প্রহারে আমি ক্ষীণ হলাম।
11
তুমি যখন অপরাধের দরুন মানুষকে ভর্ৎসনা দ্বারা শাসন কর,
তখন কীটের মত তার সৌন্দর্য বিলীন করে থাক;
সত্যি, প্রত্যেক মানুষ অসারমাত্র।
[সেলা।]
12
হে মাবুদ, আমার মুনাজাত শোন,
আমার আর্তনাদে কান দাও,
আমার অশ্রুপাতে নীরব থেকো না;
কেননা আমি তোমার কাছে মেহমানস্বরূপ,
আমার সমস্ত পিতৃলোকের মতই প্রবাসী।
13
আমার উপর থেকে তোমার কড়া দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও,
যেন প্রফুল্ল হই,
যাবৎ আমার মৃত্যু না হয় ও আর না থাকি।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমি ধৈর্যসহ মাবুদের অপেক্ষা করছিলাম,
তিনি আমার প্রতি মনোযোগ দিয়ে আমার আর্তনাদ শুনলেন।
2
তিনি বিনাশের গর্ত থেকে, পঙ্কময় ভূমি থেকে, আমাকে তুললেন,
তিনি শৈলের উপরে আমার চরণ রাখলেন,
আমার পদসঞ্চার দৃঢ় করলেন।
3
তিনি আমার মুখে নতুন গজল,
আমাদের আল্লাহ্র প্রশংসা-গজল দিলেন;
অনেকে তা দেখবে, ভয় পাবে,
ও মাবুদের উপর ঈমান আনবে।
4
সুখী সেই জন, যে মাবুদকে তার বিশ্বাসভূমি করে,
এবং তাদের দিকে না ফেরে,
যারা অহঙ্কারী ও মিথ্যা পথে ভ্রমণ করে।
5
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, তুমিই প্রচুর পরিমাণে সাধন করেছ
আমাদের পক্ষে তোমার অলৌকিক সমস্ত কাজ ও তোমার সমস্ত সঙ্কল্প;
তোমার মত কেউ নেই;
আমি সেগুলো বলতাম ও বর্ণনা করতাম,
কিন্তু সেগুলো গণনা করা যায় না।
6
কোরবানীতে ও নৈবেদ্যে তুমি প্রীত নহ,
তুমি আমার উম্মুক্ত কর্ণ দিয়েছ;
তুমি পোড়ানো-কোরবানী ও গুনাহ্র জন্য কোরবানী চাও নি;
7
তখন আমি বললাম, দেখ, আমি এসেছি;
যেমন পাক-কিতাবে আমার বিষয় লেখা আছে।
8
হে আমার আল্লাহ্, তোমার অভীষ্ট সাধনে আমি প্রীত,
আর তোমার শরীয়ত আমার অন্তরে আছে।
9
আমি মহাসমাজে ধর্মশীলতার মঙ্গলবার্তা তবলিগ করেছি;
দেখ, আমার ওষ্ঠাধর রুদ্ধ করি না;
হে মাবুদ, তুমি তা জান।
10
আমি তোমার ধর্মশীলতা নিজের হৃদয়মধ্যে সঙ্গোপন করি নি,
তোমার বিশ্বস্ততা ও তোমার উদ্ধার তবলিগ করেছি;
তোমার অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা মহাসমাজ থেকে গুপ্ত রাখি নি।
11
হে মাবুদ, তুমিও আমা থেকে তোমার করুণা রুদ্ধ করো না;
তোমার অটল মহব্বত ও তোমার বিশ্বস্ততা সতত আমাকে রক্ষা করুক।
12
কেননা অসংখ্য বিপদ আমাকে ঘিরে ধরেছে;
আমার অপরাধগুলো আমাকে ধরেছে;
আমি দেখতে পাচ্ছি না;
আমার মাথার চুলের চেয়েও সেসব বেশি,
আমার হৃদয়ে সাহস বলতে কিছু নেই।
13
হে মাবুদ, অনুগ্রহ করে আমাকে উদ্ধার কর,
মাবুদ, আমাকে সাহায্য করতে তৎপর হও।
14
তারা সকলেই লজ্জিত ও হতাশ হোক,
যারা সংহার করতে আমার প্রাণের খোঁজ করে,
তারা ফিরে যাক, অপমানিত হোক,
যারা আমার বিপদে প্রীত হয়।
15
তারা নিজেদের লজ্জার দরুন স্তম্ভিত হোক,
যারা আমাকে বলে, আহা! আহা!
16
যারা তোমার খোঁজ করে,
তারা সকলে তোমাতে আমোদ ও আনন্দ করুক;
যারা তোমার উদ্ধার ভালবাসে,
তারা সতত বলুক, মাবুদ মহিমান্বিত হোন।
17
আমি দুঃখী ও দরিদ্র,
প্রভুই আমার পক্ষে চিন্তা করেন;
তুমি আমার সহায় ও আমার উদ্ধারকর্তা;
হে আমার আল্লাহ্, বিলম্ব করো না।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
সুখী সেই জন, যে দীনহীনের প্রতি চিন্তাশীল;
বিপদের দিনে মাবুদ তাকে নিস্তার করবেন।
2
মাবুদ তাকে রক্ষা করবেন, জীবিত রাখবেন,
দেশে তাকে সুখী বলে ডাকা হবে;
তুমি দুশমনদের ইচ্ছার হাতে তাকে তুলে দেবে না।
3
অসুস্থ হয়ে যখন বিছানায় পড়ে থাকলে মাবুদ তাকে ধরে রাখবেন;
তার অসুস্থতার সময়ে তুমি তার সমস্ত বিছানা পরিবর্তন করেছ।
4
আমি বললাম, হে মাবুদ, আমাকে রহম কর, আমার প্রাণ সুস্থ কর,
কেননা আমি তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে গুনাহ্ করেছি।
5
আমার দুশমনেরা আমার বিরুদ্ধে হিংসার কথা বলে,
‘সে কখন মরবে? কখন তার নাম মুছে যাবে?’
6
আর যদি কেউ আমাকে দেখতে আসে, তবে সে মিথ্যা কথা বলে;
তার হৃদয় তার জন্য অধর্ম সঞ্চয় করে, সে বাইরে গিয়ে তা বলে বেড়ায়।
7
আমার বিদ্বেষীরা সকলে একত্র হয়ে আমার বিরুদ্ধে কানাকানি করে;
তারা আমার বিপক্ষে অনিষ্ট কল্পনা করে।
8
তারা চিন্তা করে যে, কোন প্রকার মারাত্মক বিষয় আমাতে লেগেছে,
আমি পড়ে আছি, আর উঠতে পারব না।’
9
আমার যে বন্ধু আমার বিশ্বাসের পাত্র ছিল, সে আমার রুটি খেত,
সে আমার বিরুদ্ধে পাদমূল উঠিয়েছে।
10
হে মাবুদ, তুমি আমার প্রতি রহম কর,
আমাকে উঠাও, যেন আমি ওদের প্রতিফল দিই।
11
আমি এতেই জানি যে তুমি আমাতে প্রীত,
কেননা আমার দুশমন আমার জন্য আর জয়ধ্বনি করে না,
12
তুমি আমার সিদ্ধতায় আমাকে ধরে রেখেছ,
এবং চিরতরে তোমার সাক্ষাতে স্থাপন করেছ।
13
মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, ধন্য হোন,
অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত। আমিন ও আমিন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের মস্কীল।
হরিণী যেমন পানির স্রোতের আকাঙ্খা করে,
তেমনি, হে আল্লাহ্, আমার প্রাণ তোমার আকাঙ্খা করছে।
2
আল্লাহ্র জন্য, জীবন্ত আল্লাহ্রই জন্য আমার প্রাণ তৃষ্ণার্ত।
আমি কখন এসে আল্লাহ্র সাক্ষাতে উপস্থিত হব?
3
আমার চোখের পানি দিনরাত আমার খাবার হল,
কেননা লোকে সমস্ত দিন আমাকে বলে, ‘তোমার আল্লাহ্ কোথায়?’
4
যখন আমি তা স্মরণ করি তখন আমার অন্তর বিদীর্ণ হয়,
কেননা আমি লোকারণ্যের সঙ্গে যাত্রা করতাম,
তাদেরকে আল্লাহ্র গৃহে নিয়ে যেতাম,
আনন্দ ও শুকরিয়া কাওয়ালীর ধ্বনির সঙ্গে বহু লোক ঈদ পালন করতো।
5
হে আমার প্রাণ, কেন অবসন্ন হও?
আমার অন্তরে কেন ক্ষুব্ধ হও?
আল্লাহ্র উপরে প্রত্যাশা রাখ;
কেননা আমি আবার তাঁর প্রশংসা-গজল গাইব;
তিনি আমার নাজাতদাতা ও আমার আল্লাহ্।
6
আমার প্রাণ আমার অন্তরে অবসন্ন হচ্ছে;
সেজন্য আমি তোমাকে স্মরণ করছি,
জর্ডানের দেশ হতে, আর হর্মোণ পাহাড়শ্রেণী, মিৎসিয়র পর্বত হতে।
7
তোমার ঝর্ণাগুলোর শব্দে রয়েছে এক অতলের প্রতি অন্য অতলের আহ্বান;
তোমার সকল ঢেউ, তোমার সকল তরঙ্গ আমার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
8
মাবুদ দিনে তাঁর অটল মহব্বতকে হুকুম করবেন,
রাতে তাঁর স্তোত্র আমার সঙ্গী হবে,
আমার জীবনদায়ী আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করবো।
9
আমি আমার শৈলস্বরূপ আল্লাহ্কে বলবো, কেন আমাকে ভুলে গিয়েছ?
আমি কেন দুশমনের জোর-জুলুমে বিষণ্ন হয়ে বেড়াচ্ছি?
10
আমার বিপক্ষেরা আমাকে তিরস্কার করে, যেন অস্থি পর্যন্ত চূর্ণ করে,
তারা সমস্ত দিন আমাকে বলে, তোমার আল্লাহ্ কোথায়?
11
হে আমার প্রাণ, কেন অবসন্ন হও?
আমার অন্তরে কেন ক্ষুব্ধ হও?
আল্লাহ্র অপেক্ষা কর;
কেননা আমি আবার তাঁর প্রশংসা-গজল করবো;
তিনি আমার নাজাতদাতা ও আমার আল্লাহ্।
1
হে আল্লাহ্, আমার বিচার কর,
অসাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার ঝগড়া নিষ্পন্ন কর;
ছলনাপ্রিয় ও অন্যায়কারী মানুষ থেকে আমাকে উদ্ধার কর।
2
কেননা তুমিই আমার আল্লাহ্ যার মধ্যে আমি আশ্রয় নিয়েছি;
কেন আমাকে ত্যাগ করেছ?
আমি কেন দুশমনের জোর-জুলুমে বিষণ্ন হয়ে বেড়াচ্ছি?
3
তোমার আলো ও তোমার সত্য প্রেরণ কর;
তারাই আমার পথপ্রদর্শক হোক,
তোমার পবিত্র পাহাড় ও তোমার আবাসে আমাকে উপস্থিত করুক।
4
তাতে আমি আল্লাহ্র কোরবানগাহ্র কাছে যাব,
আমার পরমানন্দজনক আল্লাহ্র সম্মুখে যাব;
আর হে আল্লাহ্, আমার আল্লাহ্,
আমি বীণাযন্ত্রে তোমার প্রশংসা করবো।
5
হে আমার প্রাণ, কেন অবসন্ন হও?
আমার অন্তরে কেন ক্ষুব্ধ হও?
আল্লাহ্র অপেক্ষা কর;
কেননা আমি আবার তাঁর প্রশংসা-গজল করবো;
তিনি আমার নাজাতদাতা ও আমার আল্লাহ্।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের। মস্কীল।
হে আল্লাহ্, আমরা স্বকর্ণে শুনেছি,
আমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাদেরকে বলেছেন,
তুমি পূর্বকালে তাঁদের সময়ে কাজ করেছিলে।
2
তুমি তোমার হাতে জাতিদেরকে অধিকারচ্যুত করে
আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেই রোপণ করেছিলে,
তুমি লোকবৃন্দকে চূর্ণ করে তাঁদেরকেই উন্নত করেছিলে।
3
কেননা তাঁরা নিজেদের তলোয়ার দ্বারা দেশ অধিকার করেন নি,
তাঁদের নিজের বাহু তাঁদেরকে নিস্তার করে নি;
কিন্তু তোমার ডান হাত, তোমার বাহু ও তোমার মুখের প্রসন্নতা তা করেছিল,
কারণ তাঁদের প্রতি তোমার মহব্বত ছিল।
4
হে আল্লাহ্, তুমিই আমার বাদশাহ্;
তুমি ইয়াকুবকে বিজয় দান করতে হুকুম দাও।
5
তোমার দ্বারা আমরা আমাদের বিপক্ষদেরকে পরাস্ত করবো;
যারা আমার বিরুদ্ধে উঠে, তাদেরকে তোমার নামে পদতলে দলবো।
6
যেহেতু আমি আমার ধনুকে নির্ভর করবো না,
আমার তলোয়ার আমাকে নিস্তার করবে না।
7
কিন্তু তুমিই আমাদের দুশমনদের থেকে আমাদেরকে নিস্তার করেছ,
আমাদের বিদ্বেষিদেরকে লজ্জিত করেছ।
8
আমরা সমস্ত দিন আল্লাহ্কে নিয়ে গর্ব করেছি,
আর চিরকাল তোমার নামের প্রশংসা-গজল করবো। [সেলা।]
9
কিন্তু তুমি আমাদেরকে ত্যাগ করেছ, অপমানগ্রস্ত করেছ,
আমাদের বাহিনীদের সঙ্গে যাত্রা কর না।
10
তুমি বিপক্ষ থেকে আমাদেরকে ফিরাচ্ছ;
আমাদের বিদ্বেষীরা আমাদের সর্বস্ব লুট করছে।
11
তুমি আমাদের জবেহ্ করতে নেওয়া ভেড়ার মত তুলে দিয়েছ,
আমাদেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করেছ।
12
তুমি তোমার লোকদের বিনামূল্যে বিক্রি করছো,
তাদের জন্য কোন উঁচু মূল্য দাবী কর নি।
13
তুমি আমাদের প্রতিবেশীদের কাছে আমাদের তিরস্কারের বিষয়,
আমাদের চারদিকের লোকদের কাছে উপহাস ও বিদ্রূপের পাত্র করেছে।
14
তুমি জাতিদের মধ্যে আমাদের প্রবাদের বিষয় করেছ,
লোকবৃন্দের মধ্যে আমাদের অবজ্ঞার পাত্র করেছ।
15
সমস্ত দিন আমার অপমান আমার সম্মুখে থাকে,
আমার মুখের লজ্জা আমাকে আচ্ছাদন করেছে,
16
তিরস্কারকারী ও নিন্দাকারীর রবের দরুন,
দুশমন ও প্রতিহিংসাকারীর উপস্থিতির দরুণ।
17
আমাদের প্রতি এসব ঘটেছে;
কিন্তু আমরা তোমাকে ভুলে যাই নি,
তোমার নিয়মের বিষয়ে বেঈমানী করি নি;
18
আমাদের অন্তর ফিরে যায় নি,
আমাদের পাদবিক্ষেপ তোমার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয় নি।
19
তবুও তুমি আমাদেরকে শিয়ালদের স্থানে চূর্ণ করেছ,
ঘন অন্ধকার আমাদের আচ্ছন্ন করেছে।
20
আমরা যদি আমাদের আল্লাহ্র নাম ভুলে গিয়ে থাকি,
যদি অন্য দেবতার প্রতি দু’হাত তুলে থাকি,
21
তবে আল্লাহ্ কি তার সন্ধান পাবেন না?
তিনি তো অন্তঃকরণের গুপ্ত বিষয় সবই জানেন।
22
হ্যাঁ, তোমার জন্য আমরা সমস্ত দিন নিহত হচ্ছি;
আমাদেরকে জবেহ্ করতে নেওয়া ভেড়ার মত মত করে।
23
জাগ্রত হও, হে মালিক, কেন নিদ্রা যাও?
উঠ, চিরকালের জন্য ত্যাগ করো না।
24
তুমি কেন তোমার মুখ আচ্ছাদন করছো?
আমাদের দুঃখ ও দৌরাত্ম্যভোগ কেন ভুলে যাচ্ছ?
25
কেননা আমাদের প্রাণ ধূলিতে অবনত,
আমাদের দেহ ভূমিতে লুটিয়ে পড়েছে।
26
আমাদের সাহায্যের জন্য উঠ,
নিজের অটল মহব্বতের অনুরোধে আমাদের মুক্ত কর।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, শোশন্নীম। কারুন-সন্তানদের। মস্কীল। প্রেম-গজল।
আমার হৃদয়ে শুভকথা উথলে উঠছে;
আমি বাদশাহ্র বিষয়ে আমার রচনা বিবৃত করবো;
আমার জিহ্বা দক্ষ লেখকের লেখনীস্বরূপ।
2
তুমি মানুষের চেয়ে পরম সুন্দর;
তোমার ওষ্ঠাধর থেকে রহমত ঝরে পড়ে;
এজন্য আল্লাহ্ চিরকালের জন্য তোমাকে দোয়া করেছেন।
3
হে বীর, তোমার তলোয়ার কোমরে বাঁধ,
তোমার গৌরব ও মহিমা গ্রহণ কর।
4
আর স্বীয় প্রতাপে কৃতকার্য হও, বাহনে চড়ে যাও,
সত্যের ও ধার্মিকতাযুক্ত নম্রতার পক্ষে,
তাতে তোমার ডান হাত তোমাকে ভয়াবহ কাজ শেখাবে।
5
তোমার সমস্ত তীর ধারালো,
জাতিরা তোমার পদতলে পতিত হয়,
বাদশাহ্র দুশমনদের অন্তর বিদ্ধ হয়।
6
হে আল্লাহ্, তোমার সিংহাসন অনন্তকালস্থায়ী,
তোমার রাজদণ্ড সরলতার দণ্ড।
7
তুমি ধার্মিকতাকে মহব্বত করে আসছ,
নাফরমানীকে ঘৃণা করে আসছ;
এই কারণ আল্লাহ্, তোমার আল্লাহ্,
তোমাকে অভিষিক্ত করেছেন,
তোমার সখাদের চেয়ে বেশি পরিমাণে আনন্দ তেলে।
8
গন্ধরস, অগুরু ও দারুচিনিতে তোমার সকল কোর্তা সুবাসিত হয়,
হাতির দাঁতের প্রাসাদগুলো থেকে তারযুক্ত সমস্ত যন্ত্র তোমাকে আনন্দিত করেছে।
9
তোমার মহিলারত্নদের মধ্যে শাহ্জাদীরা আছেন,
তোমার ডান দিকে দাঁড়িয়ে আছেন রাণী,
ওফীরের সোনা দিয়ে সেজে আছেন।
10
বৎস, শোন, দেখ, কান দাও;
তোমার জাতি ও তোমার পিতৃকুল ভুলে যাও।
11
তাতে বাদশাহ্ তোমার সৌন্দর্য বাসনা করবেন;
কেননা তিনিই তোমার প্রভু, তুমি তাঁর কাছে সেজ্দা কর।
12
টায়ার-কন্যা উপঢৌকন নিয়ে আসবেন,
ধনী লোকেরা তোমার কাছে ফরিয়াদ করবেন।
13
শাহ্জাদী অন্তঃপুরে সর্বতোভাবে সুশোভিতা;
তাঁর পোশাক সোনার সুতায় বোনা রয়েছে।
14
তাঁকে সূচীশিল্পীত কোর্তা পরিয়ে বাদশাহ্র কাছে নিয়ে যাওয়া হবে,
তাঁর পিছনে থাকা সহচরী কুমারীদেরকে তোমার কাছে নেওয়া যাবে।
15
তারা আনন্দে ও উল্লাসে আনীতা হবে,
তারা রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করবে।
16
তোমার পিতৃগণের পরিবর্তে তোমার পুত্রেরা থাকবে;
তুমি তাদের সারা দুনিয়াতে শাসনকর্তা করবে।
17
আমি তোমার নাম সমস্ত বংশ পরম্পরায় স্মরণ করাব,
এজন্য জাতিরা যুগে যুগে চিরকাল তোমার প্রশংসা করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের। স্বর, অলামোৎ। গজল।
আল্লাহ্ আমাদের পক্ষে আশ্রয় ও বল।
তিনি সঙ্কটকালে অতি সুপ্রাপ্য সহায়।
2
অতএব আমরা ভয় করবো না—
যদিও দুনিয়া পরিবর্তিত হয়,
যদিও পর্বতমালা টলে সমুদ্রের গর্ভে গিয়ে পড়ে।
3
তার পানি গর্জন করুক, প্রচণ্ড হোক,
তার আস্ফালনে পর্বতমালা কেঁপে ওঠুক।
[সেলা।]
4
একটি নদী আছে তার সমস্ত স্রোত আল্লাহ্র নগরকে,
সর্বশক্তিমানের শরীয়ত-তাঁবুর পবিত্র স্থানকে আনন্দিত করে।
5
আল্লাহ্ তার মধ্যবর্তী, তা বিচলিত হবে না;
প্রভাতেই আল্লাহ্ তার সাহায্য করবেন।
6
জাতিরা গর্জন করলো, সমস্ত রাজ্য বিচলিত হল;
তিনি গর্জন করলেন, দুনিয়া গলে গেল।
7
বাহিনীগণের মাবুদ আমাদের সহবর্তী;
ইয়াকুবের আল্লাহ্ আমাদের আশ্রয়। [সেলা।]
8
চল, মাবুদের কার্যকলাপ দেখ,
যিনি দুনিয়াতে ধ্বংস সাধন করলেন।
9
তিনি দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত যুদ্ধ নিবৃত্ত করেন;
তিনি ধনুক ভেঙ্গে ফেলবেন, বর্শা খণ্ড খণ্ড করেন,
তিনি সমস্ত রথ আগুনে পুড়িয়ে দিবেন।
10
তোমরা ক্ষান্ত হও; জেনো, আমিই আল্লাহ্;
আমি জাতিদের মধ্যে উন্নত হব,
আমি দুনিয়াতে উন্নত হব।
11
বাহিনীগণের মাবুদ আমাদের সহবর্তী;
ইয়াকুবের আল্লাহ্ আমাদের আশ্রয়।
[সেলা।]
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী।
হে সমুদয় জাতি, করতালি দাও;
আনন্দরবে আল্লাহ্র উদ্দেশে জয়ধ্বনি কর।
2
কেননা সর্বশক্তিমান মাবুদ ভয়াবহ,
তিনি সমস্ত দুনিয়ার উপরে মহান বাদশাহ্।
3
তিনি লোকবৃন্দকে আমাদের অধীন করেন,
জাতিদেরকে আমাদের পায়ের তলায় রাখেন।
4
তিনি আমাদের জন্য আমাদের অধিকার মনোনীত করেন;
তা ইয়াকুবের গর্বের বিষয়, যাকে তিনি মহব্বত করলেন। [সেলা।]
5
আল্লাহ্ জয়ধ্বনির উচ্চরব সহকারে,
মাবুদ তূরীধ্বনির উচ্চরব সহকারে, উপরে উঠে গেলেন।
6
আল্লাহ্র উদ্দেশে প্রশংসা-গজল কর, প্রশংসা-গজল কর;
আমাদের বাদশাহ্র উদ্দেশে প্রশংসা-গজল কর, প্রশংসা-গজল কর।
7
কেননা আল্লাহ্ সমস্ত দুনিয়ার বাদশাহ্;
বুদ্ধি সহযোগে তাঁর প্রশংসা-গজল কর।
8
আল্লাহ্ জাতিদের উপরে রাজত্ব করেন;
আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র সিংহাসনে উপবিষ্ট।
9
জাতিদের প্রধানেরা একত্রিত হয়েছেন,
ইব্রাহিমের আল্লাহ্র লোক হিসেবে জমায়েত হয়েছেন;
কারণ দুনিয়ার সমস্ত ঢাল আল্লাহ্র;
তিনি অতিশয় উন্নত।
1
গজল। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী।
মাবুদ মহান ও অতীব প্রশংসনীয়,
আমাদের আল্লাহ্র নগরে, তাঁর পবিত্র পর্বতে।
2
রমণীয় উচ্চভূমি, সমস্ত দুনিয়ার আনন্দস্থল,
উত্তর প্রান্তস্থিত সিয়োন পর্বত, মহান বাদশাহ্র পুরী।
3
আল্লাহ্, তার অট্টালিকাগুলোর মধ্যে,
উচ্চদুর্গ বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।
4
কেননা দেখ, বাদশাহ্রা সভাস্থ হয়েছিলেন;
তাঁরা একসঙ্গে চলে গেলেন;
5
তাঁরা দেখলেন, অমনি স্তম্ভিত হলেন,
ভীষণ ভয় পেলেন, শীঘ্র পালিয়ে গেলেন।
6
ঐ স্থানে তাঁরা ভয়ে কেঁপে উঠলেন,
প্রসবকারিণীর মত মহাযন্ত্রণায় কাতর হলেন।
7
তুমি পূর্বীয় বায়ু দ্বারা তর্শীশের জাহাজগুলো ভগ্ন করে থাক।
8
আমরা যা শুনেছিলাম, তা দেখেছি বাহিনীগণের মাবুদের নগরে,
আমাদের আল্লাহ্র নগরে;
আল্লাহ্ তা চিরকালের জন্য সুস্থির করবেন। [সেলা।]
9
আমরা তোমার অটল মহব্বত ধ্যান করেছি,
হে আল্লাহ্, তোমার বায়তুল মোকাদ্দসের অভ্যন্তরে।
10
যেমন তোমার নাম, হে আল্লাহ্,
তেমনি তোমার প্রশংসা দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত উচ্চারিত হয়;
তোমার ডান হাত ধর্মশীলতায় পরিপূর্ণ।
11
সিয়োন পর্বত আনন্দ করুক,
এহুদার কন্যারা উল্লসিত হোক,
তোমার ন্যায়বিচারের জন্য।
12
তোমরা সিয়োনকে প্রদক্ষিণ কর, তার চারদিকে ভ্রমণ কর,
তার সমস্ত উচ্চগৃহ গণনা কর,
13
তার দৃঢ় প্রাচীরে মনোযোগ দাও,
তার অট্টালিকাগুলোর মধ্যে দৃষ্টিপাত কর,
যেন ভাবী বংশের কাছে তার বর্ণনা করতে পার।
14
কেননা এই আল্লাহ্ অনন্তকালের জন্য আমাদের আল্লাহ্;
তিনি চিরকাল আমাদের পথ প্রদর্শক হবেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী।
হে সমস্ত জাতি, তোমরা এই কথা শোন,;
জগৎবাসীরা সকলে, কান দাও।
2
সামান্য লোক বা সম্মানিত লোকের সন্তান;
ধনী কি দরিদ্র, নির্বিশেষে শোন।
3
আমার মুখ প্রজ্ঞার কথা বলবে,
আমার অন্তরের আলোচনা বুদ্ধির ফল হবে।
4
আমি দৃষ্টান্ত কথায় কান দেব,
বীণাযন্ত্রে আমার গূঢ় কথার ব্যাখ্যা করবো।
5
সেই বিপদের কালে আমি কেন ভয় করবো,
যখন তাদের অপরাধ আমাকে বেষ্টন করে,
যারা আমাকে বঞ্চনা করে,
6
যারা নিজেদের ধনে নির্ভর করে,
নিজেদের বিপুল সম্পত্তির জন্য গর্ব করে,
7
তাদের মধ্যে কেউই কোন মতে ভাইকে মুক্ত করতে পারে না,
কিংবা তার কাফ্ফারার জন্য আল্লাহ্কে কিছু দিতে পারে না,
8
কেননা তাদের প্রাণের মুক্তি অসম্ভব এবং চিরকালেও অসাধ্য;
9
যেন সে চিরজীবী হয়, আর কবর দেখতে না হয়।
10
কারণ সে দেখে যে, জ্ঞানবানেরা মরে,
হীনবুদ্ধি ও অসাড় অন্তরের লোক নির্বিশেষে বিনষ্ট হয়,
তারা অন্যদের জন্য নিজেদের ধন রেখে যায়।
11
তাদের আন্তরিক ভাব এরকম, তাদের বাড়ি চিরস্থায়ী,
তাদের বাসস্থান পুরুষানুক্রমে থাকবে,
তারা স্ব স্ব নাম অনুসারে ভূমির নাম রাখে।
12
কিন্তু মানুষ ঐশ্বর্যশালী হলেও স্থির থাকে না;
সে পশুদের মতই ধ্বংস হয়।
13
এই তাদের পথ, তাদের হীনবুদ্ধিতা;
এবং তাদের পরে সেই লোকদেরও একই রকম গতি,
যারা তাদের কথার অনুমোদন করে।
[সেলা।]
14
তারা পাতালের জন্য নিযুক্ত ভেড়ার পালের মত,
মৃত্যু তাদেরকে চরাবে;
সরল লোকেরা প্রভাতে তাদের উপরে কর্তৃত্ব করবে;
তাদের রূপ পাতালে নষ্ট হবে,
তার কোন বসতিস্থান আর থাকবে না।
15
কিন্তু আল্লাহ্ পাতালের হাত থেকে আমার প্রাণ মুক্ত করবেন;
কেননা তিনি আমাকে গ্রহণ করবেন।
[সেলা।]
16
তুমি ভয় পেয়ো না, যখন কেউ ধনবান হয়,
যখন তার কুলের ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়,
17
কেননা মরণকালে সে কিছুই সঙ্গে নিয়ে যাবে না,
তার ঐশ্বর্য তার সঙ্গে যাবে না।
18
সে জীবদ্দশায় তার প্রাণকে দোয়া করে বলতো,
‘তুমি মঙ্গল করেছ বলে প্রশংসার পাত্র।’
19
সে তার পিতৃবংশের কাছে যাবে,
তারা আলোর দর্শন কখনও পাবে না।
20
যে মানুষ ঐশ্বর্যশালী অথচ অবোধ,
সে পশুদের মতই ধ্বংস হয়ে যাবে।
1
আসফের কাওয়ালী।
আল্লাহ্, মাবুদ আল্লাহ্ কথা বলেছেন,
সূর্যের উদয়স্থান থেকে অস্তস্থান পর্যন্ত
তিনি দুনিয়াকে আহ্বান করেছেন।
2
সিয়োন থেকে, পরম সৌন্দর্যের স্থান থেকে,
আল্লাহ্ দেদীপ্যমান হয়েছেন।
3
আমাদের আল্লাহ্ আসবেন, নীরব থাকবেন না;
তাঁর আগে আগুন গ্রাস করবে, তাঁর চারদিকে প্রবল ঝড় বইবে।
4
তিনি ঊর্ধ্বস্থিত বেহশতকে আহ্বান করবেন,
দুনিয়াকেও ডাকবেন, স্বীয় লোকদের বিচারের জন্য।
5
আমার বিশ্বস্তদেরকে আমার কাছে একত্র কর,
যারা কোরবানী নিয়ে আমার সঙ্গে নিয়ম করেছে।
6
আর বেহেশত তাঁর ধর্মশীলতা ঘোষণা করবে,
কেননা আল্লাহ্ স্বয়ং বিচারকর্তা।
[সেলা।]
7
হে আমার লোকেরা, শোন, আমি বলি;
হে ইসরাইল, শোন, আমি তোমার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিই।
আমিই আল্লাহ্, তোমার আল্লাহ্।
8
আমি তোমার কোরবানী বিষয়ে তোমাকে ভর্ৎসনা করবো না,
তোমার সমস্ত পোড়ানো-কোরবানী সতত আমার সম্মুখে।
9
আমি তোমার বাড়ি থেকে ষাঁড়,
তোমার খোঁয়াড় থেকে ছাগল নেব না।
10
কেননা বনের সমস্ত জন্তু আমার,
হাজার হাজার পাহাড়ী পশু আমার।
11
আমি পর্বতমালার সমস্ত পাখিকে জানি,
মাঠের সমস্ত প্রাণী আমার সম্মুখবর্তী।
12
আমি ক্ষুধিত হলে তোমাকে বলবো না;
কেননা দুনিয়া ও তার সমস্তই আমার।
13
আমি কি ষাঁড়ের মাংস ভোজন করবো?
আমি কি ছাগলের রক্ত পান করবো?
14
তুমি আল্লাহ্র উদ্দেশে শুকরিয়া উৎসর্গ কর,
সর্বশক্তিমানের কাছে তোমার নিজের মানত পূর্ণ কর;
15
আর সঙ্কটের দিনে আমাকে ডেকো;
আমি তোমাকে উদ্ধার করবো ও তুমি আমার গৌরব করবে।
16
কিন্তু দুষ্টকে আল্লাহ্ বলেন,
আমার বিধি তবলিগ করতে তোমার কি অধিকার?
তুমি আমার নিয়ম কেন মুখে এনেছ?
17
তুমি তো শাসন ঘৃণা করে থাক,
আমার কালাম তোমার পিছনেই রেখে থাক।
18
চোরকে দেখলে তুমি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে,
তুমি ব্যভিচারীদের সহভাগী হতে।
19
তুমি মন্দ বিষয়ে মুখ বাড়িয়ে থাক,
তোমার জিহ্বা ছল রচনা করে।
20
তুমি বসে নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বল,
তুমি তোমার সহোদরের নিন্দা করে থাক।
21
তুমি এসব করেছ, আমি নীরব হয়ে রয়েছি;
তুমি মনে করেছ, আমি তোমারই মত এক জন;
আমি তোমাকে ভর্ৎসনা করবো,
ও তোমার সাক্ষাতে সমস্ত কিছু বিন্যাস করবো।
22
তোমরা যারা আল্লাহ্কে ভুলে যাচ্ছ, এই বিবেচনা কর,
পাছে আমি তোমাদের বিদীর্ণ করি,
আর উদ্ধার করার কেউ না থাকে।
23
যে ব্যক্তি উৎসর্গ হিসেবে আমার কাছে শুকরিয়া নিয়ে আসে,
সেই আমার গৌরব করে;
যে ব্যক্তি নিজের পথ সরল করে, তাকে আমি আল্লাহ্র উদ্ধার দেখাব।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী। বৎশেবার কাছে তাঁর গমনের পর যখন নবী নাথন তাঁর কাছ আসলেন, সেই সময়কার।
হে আল্লাহ্, তোমার অটল মহব্বত অনুসারে আমার প্রতি করুণা কর;
তোমার প্রচুর করুণা অনুসারে আমার সমস্ত অধর্ম মার্জনা কর।
2
আমার অপরাধ থেকে আমাকে নিঃশেষে ধুয়ে ফেল,
আমার গুনাহ্ থেকে আমাকে পাক-পবিত্র কর।
3
কেননা আমি নিজে আমার সমস্ত অধর্ম জানি;
আমার গুনাহ্ সতত আমার সম্মুখে আছে।
4
তোমার বিরুদ্ধে, কেবল তোমারই বিরুদ্ধে আমি গুনাহ্ করেছি,
তোমার দৃষ্টিতে যা কুৎসিত, তা-ই করেছি;
অতএব তুমি তোমার কালামে ধর্মময়,
আপনার বিচারে নির্দোষ রয়েছ।
5
দেখ, জন্মাবধি আমি অপরাধী,
মাতার গর্ভে জাত হবার কাল হতেই আমি গুনাহ্গার।
6
দেখ, তুমি আন্তরিক সত্যে প্রীত,
তুমি গূঢ় স্থানে আমাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবে।
7
এসব দ্বারা আমাকে গুনাহ্ মুক্ত কর, তাতে আমি পবিত্র হব;
আমাকে ধুয়ে ফেল, তাতে আমি হিমের চেয়ে সাদা হব।
8
আমাকে আমোদ ও আনন্দের কালাম শোনাও;
তোমা দ্বারা চূর্ণিত সমস্ত অস্থি প্রফুল্ল হোক।
9
আমার গুনাহ্গুলোর প্রতি মুখ আচ্ছাদন কর,
আমার সকল অপরাধ মার্জনা কর।
10
হে আল্লাহ্, আমাতে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ সৃৃষ্টি কর,
আমার অন্তরে সুস্থির রূহ্কে নতুন করে দাও।
11
তোমার সম্মুখ থেকে আমাকে দূর করো না,
তোমার পাক-রূহ্কে আমা থেকে হরণ করো না।
12
তোমার উদ্ধারের আনন্দ আমাকে পুনরায় দাও,
ইচ্ছুক রূহ্ দ্বারা আমাকে ধরে রাখ।
13
আমি অধর্মাচারীদেরকে তোমার পথ শিক্ষা দেব,
গুনাহ্গারেরা তোমার দিকে ফিরে আসবে।
14
হে আল্লাহ্, হে আমার উদ্ধারের আল্লাহ্,
রক্তপাতের দোষ থেকে আমাকে উদ্ধার কর,
আমার জিহ্বা তোমার ধর্মশীলতার বিষয় গান করবে।
15
হে মালিক, আমার ওষ্ঠাধর খুলে দাও,
আমার মুখ তোমার প্রশংসা তবলিগ করবে।
16
কেননা তুমি কোরবানীতে প্রীত নহ, হলে তা দিতাম,
পোড়ানো-কোরবানীতে তোমার সন্তোষ নেই।
17
আল্লাহ্র কোরবানী হল ভগ্ন রূহ্;
হে আল্লাহ্, তুমি ভগ্ন ও চূর্ণ অন্তঃকরণ তুচ্ছ করবে না।
18
তুমি তোমার অনুগ্রহে সিয়োনের মঙ্গল কর,
তুমি জেরুশালেমের প্রাচীর নির্মাণ কর।
19
তখন তুমি ধার্মিকতার কোরবানী,
পোড়ানো-কোরবানী ও সমপূর্ণ পোড়ানো-কোরবানীতে প্রীত হবে;
তখন লোকে তোমার কোরবানগাহ্র উপরে ষাঁড়গুলোর কোরবানী করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। দাউদের মস্কীল। যখন ইদোমীয় দোয়েগ এসে তালুতকে এই সংবাদ দিল যে, “দাউদ অহীমেলকের বাড়িতে এসেছে,” সেই সময়কার।
হে শক্তিশালী লোক, তুমি কেন অনিষ্ট কাজের গর্ব করছো?
আল্লাহ্র রহম নিত্যস্থায়ী।
2
তোমার জিহ্বা ধ্বংসের কল্পনা করছে;
হে ছলসাধক, তা শাণিত ক্ষুরের মত।
3
তুমি সৎকর্মের চেয়ে দুষ্কর্ম,
এবং ধর্মের কথার চেয়ে মিথ্যা বেশি কথা ভালবাস। [সেলা।]
4
হে ছলনার জিহ্বা, তুমি সমস্ত বিনাশক কথা ভালবাস।
5
আল্লাহ্ও তোমাকে চিরতরে বিনষ্ট করবেন,
তোমাকে ধরে তাঁবু থেকে টেনে বের করবেন,
জীবিতদের দেশ থেকে তোমাকে উৎপাটন করবেন। [সেলা।]
6
ধার্মিকেরা তা দেখে ভয় পাবে,
আর তার বিষয়ে উপহাস করে বলবে,
7
‘দেখ, ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্কে তার আশ্রয়স্থল জ্ঞান করতো না,
সে নিজের প্রচুর ধনের উপর নির্ভর করতো;
সে দুষ্টতায় নিজেকে বলবান করতো।’
8
কিন্তু আমি আল্লাহ্র গৃহে সবুজ জলপাই গাছের মত;
আমি অনন্তকালের তরে আল্লাহ্র অটল মহব্বতে বিশ্বাস করি।
9
চিরকাল আমি তোমার প্রশংসা করবো, কেননা তুমি কাজ সাধন করেছ;
আমি তোমার বিশ্বস্ত লোকের সম্মুখে তোমার নাম তবলিগ করবো,
কেননা তা উত্তম।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, মহলৎ। দাউদের মস্কীল।
মূঢ় মনে মনে বলেছে, ‘আল্লাহ্ নেই’।
তারা নষ্ট, তারা ঘৃণার যোগ্য অধর্ম করেছে;
সৎকর্ম করে, এমন কেউ নেই।
2
আল্লাহ্ বেহেশত থেকে মানবজাতিকে প্রতি নিরীক্ষণ করলেন,
দেখতে চাইলেন, বিবেচক কেউ আছে কিনা,
আল্লাহ্র খোঁজ করে এমন কেউ আছে কি না।
3
সকলে বিপথে গেছে, একসঙ্গে সত্যভ্রষ্ট হয়েছে;
সৎকর্ম করে, এমন কেউ নেই, এক জনও নেই।
4
দুর্বৃত্তদের কি কিছুই জ্ঞান নেই?
তারা খাদ্য গ্রাস করার মত আমার লোকদেরকে গ্রাস করে,
আর আল্লাহ্কে ডাকে না।
5
কিন্তু ভয়শূন্য স্থানে তারা নিদারুণ ভয় পেল;
কেননা যারা তোমাকে অবরোধ করে,
আল্লাহ্ তাদের অস্থি ছড়িয়ে ফেললেন,
তুমি তাদেরকে লজ্জা দিয়েছ,
কারণ আল্লাহ্ তাদেরকে অগ্রাহ্য করেছেন।
6
আহা! ইসরাইলের নাজাত সিয়োন থেকে উপস্থিত হোক;
আল্লাহ্ যখন তাঁর লোকদের বন্দীদশা থেকে ফিরিয়ে আনবেন,
তখন ইয়াকুব উল্লসিত হবে, ইসরাইল আনন্দ করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। হযরত দাউদের মস্কীল। যখন সীফীয়েরা এসে তালুতকে বললো, ‘দাউদ আমাদের মধ্যে লুকিয়ে আছেন’ গজলটি সেই সময়কার।
আল্লাহ্, তোমার নামে আমাকে নিস্তার কর,
তোমার পরাক্রমে আমার বিচার নিষ্পন্ন কর।
2
হে আল্লাহ্, আমার মুনাজাত শোন,
আমার মুখের কথায় কান দাও।
3
কেননা অপরিচিত লোকেরা আমার বিপক্ষে উঠেছে,
দুর্দান্ত লোকেরা আমার প্রাণের খোঁজ করেছে;
তারা আল্লাহ্কে সম্মুখে রাখে নি।
[সেলা।]
4
দেখ, আল্লাহ্ আমার সাহায্যকারী;
প্রভু আমার প্রাণরক্ষকদের মধ্যবর্তী।
5
তিনি সকল অমঙ্গল আমার গুপ্ত দুশমনদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন;
তুমি তোমার বিশ্বস্ততায় তাদেরকে সংহার কর।
6
আমি তোমার উদ্দেশে স্ব-ইচ্ছার বলি কোরবানী করবো;
হে মাবুদ, তোমার নামের প্রশংসা-গজল করবো, কেননা তা উত্তম।
7
কারণ তিনি আমাকে সমস্ত সঙ্কট থেকে উদ্ধার করেছেন,
এবং আমার চোখ আমার দুশমনদের দুর্দশা দেখেছে ।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। হযরত দাউদের মস্কীল।
হে আল্লাহ্, আমার মুনাজাতে কান দাও,
আমার ফরিয়াদ থেকে তুমি নিজেকে লুকিয়ে রেখো না।
2
আমার প্রতি মনযোগ দাও, আমাকে উত্তর দাও;
আমি ভাবনায় অস্থির হচ্ছি, কাতর আর্তনাদ করছি,
3
দুশমনের হুঙ্কার হেতু, দুর্জনের জুলুম হেতু;
কেননা তারা আমাতে অধর্ম আরোপ করে,
ক্রোধে আমাকে তাড়না করে।
4
আমার মধ্যে আমার হৃদয় বড়ই ব্যথিত হচ্ছে;
মৃত্যুর ত্রাস আমাকে আক্রমণ করেছে।
5
ভয় ও কম্প আমাতে প্রবেশ করেছে,
আমি মহাত্রাসে আচ্ছন্ন হয়েছি।
6
আমি বললাম, আহা! যদি কবুতরের মত আমার পাখা থাকত,
তবে আমি উড়ে গিয়ে সুস্থির হতাম;
7
দেখ, আমি ভ্রমণ করে দূরে যেতাম,
মরুভূমিতে প্রবাস করতাম;
[সেলা।]
8
আমি তাড়াতাড়ি রক্ষা পাবার জন্য পালিয়ে যেতাম,
প্রচণ্ড বায়ু ও ঝটিকা থেকে পালিয়ে যেতাম।
9
দুষ্টদের হতবুদ্ধি কর, হে প্রভু, ওদের পরিকল্পনা ধ্বংস কর;
কেননা আমি নগরে দৌরাত্ম্য ও কলহ দেখেছি।
10
তারা দিনরাত প্রাচীরের উপর দিয়ে নগর প্রদক্ষিণ করে,
আর তার মধ্যে অধর্ম ও অন্যায় রয়েছে।
11
তার মধ্যে রয়েছে ধ্বংসের কাজ;
জুলুম ও ছলনা তার নগর-চক ত্যাগ করে না।
12
কোন দুশমন যে আমাকে তিরস্কার করেছে, তা নয়,
করলে আমি তা সইতে পারতাম;
বিদ্বেষীও আমার বিরুদ্ধে অহংকার করে নি,
করলে তা থেকে নিজেকে লুকাতাম।
13
কিন্তু, আমার সমকক্ষ মানুষ যে তুমি,
আমার বন্ধু ও আমার আত্মীয়, তুমিই তা করেছ।
14
আমরা একত্র হয়ে মধুর মন্ত্রণা করতাম,
আমরা সদলে আল্লাহ্র গৃহে গমন করতাম।
15
মৃত্যু তাদের উপরে হঠাৎ আসুক;
তারা জীবদ্দশায় পাতালে নামুক;
কারণ তাদের বাড়িতে এবং তাদের অন্তরে নাফরমানী আছে।
16
আমি কিন্তু আল্লাহ্কে ডাকব,
তাতে মাবুদ আমাকে নিস্তার করবেন।
17
সন্ধ্যায়, প্রাতে ও মধ্যাহ্নে আমি মাতম ও আর্তনাদ করি,
আর তিনি আমার স্বর শোনেন।
18
তিনি আমার প্রতিকূল যুদ্ধ থেকে আমার প্রাণ সহিসালামতে মুক্ত করেছেন;
কারণ অনেকে আমার বিপক্ষ ছিল!
19
আল্লাহ্ শুনবেন, তাদেরকে উত্তর দেবেন;
তিনি আদিকাল থেকে সিংহাসনে সমাসীন। [সেলা।]
ওদের পরিবর্তন হয় নি,
আর ওরা আল্লাহ্কে ভয় করে না।
20
ঐ ব্যক্তি তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে হাত তুলেছে,
নিজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
21
তার মুখ মাখনের মত কোমল,
কিন্তু তার অন্তঃকরণ যুদ্ধময়;
তার সমস্ত কথা তেলের চেয়েও মোলায়েম,
তবুও সেই সমস্ত খাপ থেকে বের করা তলোয়ারস্বরূপ।
22
তুমি মাবুদের উপর নিজের ভার অর্পণ কর;
তিনিই তোমাকে ধরে রাখবেন,
কখনও ধার্মিককে বিচলিত হতে দেবেন না।
23
কিন্তু হে আল্লাহ্, তুমিই ওদেরকে বিনাশের কূপে নামাবে;
রক্তপাতী ও ছলপ্রিয়েরা আয়ুর অর্ধকালও বাঁচবে না;
কিন্তু আমি তোমার উপরে নির্ভর করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, যোনৎইলাম-রহোকীম। হযরত দাউদের। মিক্তাম। যখন ফিলিস্তিনীরা গাতে তাঁকে ধরলো, সেই সময়কার।
হে আল্লাহ্, আমার প্রতি রহম কর,
কেননা মানুষ আমাকে গ্রাস করতে চায়;
সে সমস্ত দিন যুদ্ধ করে আমার প্রতি জুলুম করে।
2
আমার গুপ্ত দুশমনেরা সমস্ত দিন আমাকে গ্রাস করতে চায়;
কেননা অনেকে সদর্পে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
3
যখন আমি ভয় পাই,
তখন আমি তোমাতে নির্ভর করবো।
4
আল্লাহ্তে, আমি তাঁর কালামের প্রশংসা করবো;
আমি আল্লাহ্তে নির্ভর করেছি, ভয় করবো না;
মানুষ আমার কি করতে পারে?
5
তারা সমস্ত দিন আমার কথার ভিন্ন অর্থ করে;
তাদের সমস্ত সঙ্কল্প অনিষ্টের জন্য আমার বিরুদ্ধ।
6
তারা একত্র হয়, ঘাঁটি বসায়, আমার পদচিহ্ন লক্ষ্য করে,
এভাবে তারা আমার প্রাণ নিপাতের অপেক্ষা করছে।
7
অধর্মের দ্বারা তারা কি বাঁচবে?
হে আল্লাহ্, ক্রোধে জাতিদেরকে নিপাত কর।
8
তুমি আমার অস্থিরতা গণনা করছো;
আমার নেত্রজল তোমার বোতলে রাখ;
তা কি তোমার কিতাবে লেখা নেই?
9
সেদিন আমার দুশমনেরা ফিরে যাবে,
যেদিন আমি তোমাকে ডাকি,
আমি এটা জানি যে, আল্লাহ্ আমার সপক্ষ।
10
আল্লাহ্তে আমি [তাঁর] কালামের প্রশংসা করবো;
মাবুদে [তাঁর] কালামের স্তুতি করবো।
11
আমি আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করেছি, ভয় করবো না;
মানুষ আমার কি করতে পারে?
12
হে আল্লাহ্, আমি তোমার কাছে মানতে আবদ্ধ;
আমি তোমাকে শুকরিয়ার উপহার দেব।
13
তুমি তো মৃত্যু থেকে আমার প্রাণ উদ্ধার করেছ,
তুমি কি পতন থেকে আমার চরণ উদ্ধার কর নি,
যেন আমি জীবনের আলোতে আল্লাহ্র সাক্ষাতে গমনাগমন করি?
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, নাশ করো না। হযরত দাউদের। মিক্তাম। যখন তিনি তালুতের সম্মুখ থেকে গুহায় পালিয়ে যান, সেই সময়কার।
আমার প্রতি কৃপা কর,
হে আল্লাহ্, আমার প্রতি কৃপা কর,
কেননা আমার প্রাণ তোমাতে আশ্রয় গ্রহণ করে;
তোমার পাখার ছায়ায় আমি আশ্রয় নেব,
যে পর্যন্ত এসব দুর্দশা অতীত না হয়।
2
আমি সর্বশক্তিমানকে ডাকব,
আমার জন্য কার্যসাধক আল্লাহ্কেই ডাকব।
3
তিনি বেহেশত থেকে ফেরেশতা প্রেরণ করে আমাকে নিস্তার করবেন,
আমার গ্রাসকারীদের তিনি তিরস্কার করবেন; [সেলা।]
আল্লাহ্ তাঁর অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা প্রেরণ করবেন।
4
আমার প্রাণ সিংহদের মধ্যবর্তী;
আগুনের শিখার মত লোকদের মধ্যে আমি শয়ন করি,
সেই মানুষগুলোর দাঁতগুলো যেন বর্শা ও তীর,
তাদের জিহ্বা ধারালো তলোয়ার।
5
হে আল্লাহ্, বেহেশতের উপরে উন্নত হও,
সমস্ত ভূমণ্ডলে তোমার গৌরব হোক।
6
তারা আমার চরণের জন্য জাল পেতেছে,
আমার প্রাণ অবনত হয়েছে;
তারা আমার সম্মুখে খাত খনন করেছে,
তার মধ্যেই তারা পতিত হল। [সেলা।]
7
আমার অন্তর সুস্থির, হে আল্লাহ্, আমার অন্তর সুস্থির;
আমি কাওয়ালী গাইব, আমি প্রশংসা-গজল করবো।
8
হে আমার গৌরব, জাগ্রত হও;
নেবল ও বীণে, জাগ্রত হও;
আমি ঊষাকে জাগাব।
9
হে মালিক, আমি জাতিদের মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো,
আমি লোকবৃন্দের মধ্যে তোমার প্রশংসা-গান গাইব।
10
কেননা তোমার অটল মহব্বত আকাশমণ্ডল পর্যন্ত মহৎ,
তোমার বিশ্বস্ততা মেঘ পর্যন্ত ব্যাপ্ত।
11
হে আল্লাহ্, বেহেশতের উপরে উন্নত হও,
সারা দুনিয়াতে তোমার গৌরব হোক।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, নাশ করো না। হযরত দাউদের। মিক্তাম।
বীরগণ! তোমরা কি সঠিক রায় উচ্চারণ কর?
তোমরা কি লোকদের জন্য ন্যায়বিচার করছো?
2
তোমরা অন্তরে নাফরমানী সাধন করছো।
দুনিয়াতে নিজের হাতে জুলুম ঘটাচ্ছ।
3
দুষ্টরা গর্ভ হতেই বিপথগামী,
তারা জন্ম হতেই মিথ্যা বলতে বলতে ভুল পথে যাতায়াত করে।
4
তাদের বিষ সাপের বিষের মত;
তারা বধির কালসাপের মত, যে কান বন্ধ করে রাখে,
5
যে সাপুড়েদের স্বর শোনে না,
নিপুণ মন্ত্রপাঠকের স্বর শোনে না।
6
হে আল্লাহ্, তাদের মুখে দাঁত ভেঙ্গে দাও;
মাবুদ যুবসিংহদের বিষ দাঁত উৎপাটন কর।
7
তারা প্রবাহমান পানির মত বিলীন হয়ে যাক,
ছিন্নমূল ঘাসের মতই তারা শুকিয়ে যাক।
8
দ্রবীভূত শামুকের মত তারা গলে যাক,
তারা গর্ভস্থ মৃত ভ্রূণের মত হোক, যা সূর্যের মুখ দেখে নি,
9
তোমাদের পাত্র কাঁটার উত্তাপ টের না পেতে,
তিনি কাঁচা ও জ্বলন্ত সকলই ঝড়ে উড়িয়ে দেবেন।
10
ধার্মিক লোক প্রতিফল দেখে আনন্দিত হবে,
সে দুর্জনের রক্ত দিয়ে তার পা ধোবে;
11
তাতে মানুষেরা বলবে, ধার্মিক সত্যিই ফল পায়,
সত্যিই দুনিয়াতে বিচারসাধক আল্লাহ্ আছেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, নাশ করো না। হযরত দাউদের। মিক্তাম। যখন তালুতের প্রেরিত লোকেরা দাউদকে হত্যা করার জন্য তাঁর বাড়ির কাছে ঘাঁটি বসিয়েছিল, সেই সময়কার।
হে আমার আল্লাহ্, আমার দুশমনদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার কর,
আমার দুশমনদের থেকে আমাকে রক্ষা কর।
2
অধর্মচারীদের থেকে আমাকে উদ্ধার কর,
রক্তপাতী মানুষের থেকে আমাকে নিস্তার কর।
3
কারণ দেখ, তারা আমার প্রাণের জন্য লুকিয়ে আছে
বলবানেরা আমার বিরুদ্ধে একত্র হচ্ছে,
হে মাবুদ, আমার অধর্মের জন্য নয়,
আমার গুনাহ্র জন্য নয়।
4
আমার বিনা অপরাধে তারা দৌড়ে এসে প্রস্তুত হচ্ছে;
তুমি আমাকে দেখা দেবার জন্য জাগ্রত হও, দৃষ্টিপাত কর।
5
হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্,
ইসরাইলের আল্লাহ্, তুমি সমস্ত জাতিকে প্রতিফল দেবার জন্য উঠ,
তুমি কোন অধর্মী বিশ্বাসঘাতকের প্রতি কৃপা করো না। [সেলা।]
6
তারা সন্ধ্যাবেলা ফিরে আসে,
কুকুরের মত আওয়াজ করে,
নগরের চারদিকে ভ্রমণ করে।
7
দেখ, তারা মুখে বক বক করছে,
তাদের ওষ্ঠের মধ্যে তলোয়ার আছে;
কেননা তারা বলে, কে শুনতে পায়?
8
কিন্তু হে মাবুদ, তুমি তাদেরকে পরিহাস করবে,
তুমি সমস্ত জাতিকে বিদ্রূপ করবে।
9
হে আমার বল, আমি তোমার অপেক্ষা করবো;
কেননা আল্লাহ্ আমার উচ্চদুর্গ।
10
আমার আল্লাহ্ তাঁর অটল মহব্বতে আমার সম্মুখবর্তী হবেন,
আল্লাহ্ আমার গুপ্ত দুশমনদের দুর্দশা আমাকে দেখাবেন।
11
তুমি তাদেরকে হত্যা করো না,
পাছে আমার লোকেরা ভুলে যায়;
হে মালিক, আমাদের রক্ষাকারী ঢাল,
তোমার শক্তিতে তাদেরকে ছড়িয়ে নিচে ফেল।
12
তাদের মুখের কথা মুখের গুনাহ্মাত্র;
তাদের বদদোয়া ও মিথ্যা কথার জন্য
তারা নিজেদের অহঙ্কারে ধরা পড়ুক,
13
তুমি সংহার কর তাদেরকে, ক্রোধে সংহার কর,
যেন তারা আর না থাকে;
তারা জানুক, আল্লাহ্ ইয়াকুবের মধ্যে কর্তৃত্ব করেন,
দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত করেন। [সেলা।]
14
তারা সন্ধ্যাবেলা ফিরে আসুক,
কুকুরের মত শব্দ করুক,
নগরের চারদিকে ভ্রমণ করুক।
15
তারা খাদ্যের চেষ্টায় ঘুরে বেড়াবে,
তৃপ্ত না হলে আর্তনাদ করবে।
16
কিন্তু আমি তোমার শক্তির ঘোষণা করবো,
তোমার অটল মহব্বতের জন্য খুব ভোরে আনন্দধ্বনি করবো;
কেননা তুমি হয়েছ আমার পক্ষে উচ্চদুর্গ,
আমার সঙ্কটের দিনে সুদৃঢ় আশ্রয়।
17
হে আমার বল, আমি তোমার উদ্দেশে গজল গাইব,
তোমার জন্য গাইব হে আমার আল্লাহ্, তুমি আমার উচ্চদুর্গ,
তিনি আমার আল্লাহ্ যিনি আমার প্রতি অটল মহব্বত প্রকাশ করেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, শূষণ-এদূৎ। দাউদের মিক্তাম। শিক্ষা দেবার জন্য। যখন অরাম-নহরয়িমের ও অরাম-সেবার সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয়, আর যোয়াব ফিরে লবণ-উপত্যকায় ইদোমের বারো হাজার লোককে হত্যা করেন, সেই সময়কার।
হে আল্লাহ্, তুমি আমাদেরকে পরিত্যাগ করেছ,
আমাদেরকে ভগ্ন করেছ, তুমি ক্রুদ্ধ হয়েছ;
ফিরে আমাদেরকে পুনঃস্থাপন কর।
2
তুমি দেশ প্রকম্পান্বিত করেছ, বিদীর্ণ করেছ;
দেশের ভঙ্গের প্রতিকার কর, কেননা দেশ টলছে।
3
তুমি তোমার লোকদেরকে কষ্ট দেখিয়েছ,
তুমি আমাদের অস্থিরতারূপ মদ্য পান করিয়েছ।
4
যারা তোমাকে ভয় করে, তুমি তাদেরকে একটি নিশান দিয়েছ,
যেন তা সত্যের পক্ষে তুলে ধরা যায়।
[সেলা।]
5
তোমার প্রিয়েরা যেন উদ্ধার পায়,
সেজন্য তুমি নিজের ডান হাত দিয়ে রক্ষা কর,
আমাদের উত্তর দাও।
6
আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র স্থানে প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন,
আমি উল্লাস করবো, আমি শিখিম বিভাগ করবো,
ও সুক্কোতের উপত্যকা পরিমাপ করবো।
7
গিলিয়দ আমার, মানশাও আমার;
আর আফরাহীম আমার শিরস্ত্রাণ;
এহুদা আমার বিচারদণ্ড;
8
মোয়াব দেশ আমার পা ধোয়ার পাত্র;
আমি ইদোমের উপরে আমার পায়ের জুতা নিক্ষেপ করবো;
হে পলেষ্টিয়া, তুমি আমার জন্য উচ্চধ্বনি কর।
9
কে আমাকে ঐ দৃঢ় নগরে নিয়ে যাবে?
কে ইদোম পর্যন্ত আমাকে পথ দেখাবে?
10
হে আল্লাহ্, তুমি কি আমাদেরকে ত্যাগ কর ফন?
হে আল্লাহ্, তুমি আমাদের বাহিনীদের সঙ্গে গমন কর না।
11
বিপক্ষের প্রতিকূলে আমাদের সাহায্য কর;
কেননা মানুষ কৃত সাহায্য মিথ্যা।
12
আল্লাহ্র দ্বারা আমরা বীরের কাজ করবো;
তিনিই আমাদের বিপক্ষদেরকে পদদলিত করবেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। হযরত দাউদের।
হে আল্লাহ্, আমার কাতরোক্তি শোন,
আমার মুনাজাতে কান দাও।
2
অন্তর অবসন্ন হলে আমি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে তোমাকে ডাকব;
আমার চেয়ে উঁচু শৈলে আমাকে নিয়ে যাও।
3
কেননা তুমি হয়েছ আমার আশ্রয়,
দুশমন থেকে রক্ষাকারী দৃঢ় উচ্চগৃহ।
4
আমি চিরকাল তোমার তাঁবুতে বাস করবো,
তোমার পক্ষযুগের অন্তরালে আশ্রয় নেব।
[সেলা।]
5
কেননা, হে আল্লাহ্, তুমিই আমার সমস্ত মানত শুনেছ,
যারা তোমার নাম ভয় করে, তাদের অধিকার তাদেরকে দিয়েছ।
6
তুমি বাদশাহ্র আয়ু বৃদ্ধি করবে,
তাঁর বছর পুরুষে পুরুষে থাকবে।
7
তিনি চিরকাল আল্লাহ্র সাক্ষাতে বসতি করবেন;
অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততাকে তাঁর রক্ষার্থে নিযুক্ত কর।
8
তাতে আমি চিরকাল তোমার নামের প্রশংসা গাইব,
প্রতিদিন আমার মানত পূর্ণ করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। যিদুথনের প্রণালীতে। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমার প্রাণ নীরবে আল্লাহ্র অপেক্ষা করছে,
তিনিই আমার উদ্ধারকর্তা।
2
কেবল তিনিই মম শৈল ও মম উদ্ধার;
তিনি মম উচ্চদুর্গ, আমি কখনও বিচলিত হব না।
3
তোমরা কতকাল এক জন মানুষকে আক্রমণ করবে,
সকলে তাকে জবেহ্ করবে,
হেলে পড়া দেয়াল ও ভাঙ্গা বেড়ার মত?
4
ওরা কেবল তার উচ্চপদ থেকে তাকে নিপাত করার মন্ত্রণা করছে;
ওরা মিথ্যা কথায় আমোদ করে;
ওরা মুখে দোয়া করে, কিন্তু অন্তরে বদদোয়া দেয়। [সেলা।]
5
হে আমার প্রাণ, নীরবে আল্লাহ্রই অপেক্ষা কর;
কেননা তাঁর মধ্য থেকেই আমার জন্য প্রত্যাশা আসে।
6
কেবল তিনিই মম শৈল ও মম উদ্ধার;
তিনি মম উচ্চদুর্গ, আমি বিচলিত হব না।
7
আমার নাজাত ও আমার গৌরব আল্লাহ্র উপর ভরসা করে আছে;
আমার বলের শৈল ও আমার আশ্রয় আল্লাহ্র উপরে বিদ্যমান।
8
হে সমস্ত লোক, সতত তাঁর উপর নির্ভর কর,
তাঁরই সম্মুখে তোমাদের মনের কথা ভেঙ্গে বল;
আল্লাহ্ই আমাদের আশ্রয়। [সেলা।]
9
সামান্য লোকেরা বাষ্পমাত্র,
মান্যবান লোকেরা মিথ্যা;
তাদেরকে ওজন করলে তারা উপরে উঠে;
তাদের সর্বস্ব বাষ্পের চেয়ে লঘু।
10
তোমরা উপদ্রবে নির্ভর করো না,
অপহরণে গর্ব করো না;
প্রচুর ঐশ্বর্য হলে তাতে মন দিও না।
11
আল্লাহ্ একবার বলেছেন,
দু’বার আমি এই কথা শুনেছি;
পরাক্রম আল্লাহ্রই।
12
আর, হে মালিক, অটল মহব্বত তোমার,
কারণ তুমিই প্রত্যেককে তার কর্মানুরূপ ফল দিয়ে থাক।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী। এহুদার মরুভূমিতে তাঁর অবস্থিতিকালীন।
হে আল্লাহ্, তুমি আমার আল্লাহ্;
আমি সযত্নে তোমার খোঁজ করবো;
আমার প্রাণ তোমার জন্য পিপাসিত,
আমার দেহ তোমার জন্য ব্যাকুল,
শুকনো ও ক্লান্তিকর দেশে, পানিবিহীন দেশে।
2
এভাবে আমি পবিত্র স্থানে তোমার মুখ চেয়ে থাকতাম,
তোমার পরাক্রম ও তোমার গৌরব দেখবার জন্য।
3
কারণ তোমার অটল মহব্বত জীবন হতেও উত্তম;
আমার ওষ্ঠাধর তোমার প্রশংসা করবে।
4
এভাবে আমি সারা জীবন তোমার শুকরিয়া করবো,
আমি তোমার নামে অঞ্জলি উঠাবো।
5
আমার প্রাণ তৃপ্ত হবে, যেমন সুখাদ্য আহার করলে হয়,
আমার মুখ আনন্দপূর্ণ ওষ্ঠাধরে তোমার প্রশংসা করবে।
6
আমি বিছানার উপরে যখন তোমাকে স্মরণ করি,
তখন প্রহরে প্রহরে তোমার বিষয় ধ্যান করি।
7
কেননা তুমি আমার সহায় হয়ে আসছে,
তোমার পক্ষযুগলের ছায়াতে আমি আনন্দধ্বনি করবো।
8
আমার প্রাণ পদে পদে তোমার সঙ্গে সঙ্গে চলে;
তোমার ডান হাত আমাকে ধরে রাখে।
9
কিন্তু ওরা বিনাশার্থে আমার প্রাণের খোঁজ করে,
তারা দুনিয়ার অধঃস্থানে যাবে।
10
তাদের তলোয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হবে,
তারা শিয়ালদের খাদ্য হবে।
11
কিন্তু বাদশাহ্ আল্লাহ্তে আনন্দ করবেন;
যে কেউ তাঁতে শপথ করে, সে গর্ব করবে;
কারণ মিথ্যাবাদীদের মুখ রুদ্ধ হবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে আল্লাহ্, আমার কাতরোক্তি শোন,
দুশমনদের ভয় থেকে আমার জীবন রক্ষা কর।
2
দুর্বৃত্তদের গূঢ় মন্ত্রণা থেকে,
অধর্মচারীদের জনতা থেকে,
আমাকে লুকিয়ে রাখ।
3
তারা তলোয়ারের মত নিজ নিজ জিহ্বায় শান দিয়েছে;
তারা কটুবাক্যরূপ তীর ধনুকে লাগিয়ে রেখেছে,
4
যেন গোপনে সিদ্ধ লোকের প্রতি তা নিক্ষেপ করে;
তারা অকস্মাৎ তাকে তীর মারে, ভয় করে না।
5
তারা কুমন্ত্রণায় নিজেদের সবল করে,
গোপনে ফাঁদ পাতবার বিষয়ে কথাবার্তা বলে;
তারা বলে, কে আমাদেরকে দেখবে?
6
তারা অপরাধের সন্ধান করে নেয়,
[বলে,] আমরা চতুরতার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে চিন্তা করে দেখেছি,
প্রত্যেকের সঙ্কল্প ও হৃদয় গভীর।
7
কিন্তু আল্লাহ্ তাদেরকে বাণবিদ্ধ করবেন,
অকস্মাৎ তারা বাণে আহত হবে।
8
এভাবে তারা হোঁচট খাবে;
তাদের জিহ্বা তাদের বিপক্ষ হবে;
যত লোক তাদের দেখবে, সকলে উপহাস করবে।
9
আর সমস্ত মানুষ ভয় পাবে,
তারা আল্লাহ্র কাজ তবলিগ করবে,
আর তাঁর কাজ বিবেচনা করবে।
10
ধার্মিক লোক মাবুদে আনন্দ করবে,
ও তাঁর মধ্যে আশ্রয় নিবে,
আর সরলচিত্ত সকলে গর্ব করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কাওয়ালী। দাউদের গজল।
হে আল্লাহ্, সিয়োনে প্রশংসা তোমার অপেক্ষা করে,
তোমার উদ্দেশে মানত পূর্ণ করা যাবে।
2
হে মুনাজাত-কবুলকারী,
তোমারই কাছে সমস্ত মানুষ আসবে।
3
অপরাধগুলো আমার থেকেও প্রবল,
তুমি আমাদের সমস্ত অধর্ম মার্জনা করবে।
4
সুখী সেই, যাকে তুমি মনোনীত করে কাছে আন,
সে তোমার প্রাঙ্গণে বাস করবে;
আমরা পরিতৃপ্ত হব তোমার গৃহের উত্তম দ্রব্যে,
তোমরা পবিত্র বায়তুল-মোকাদ্দসের উত্তম দ্রব্যে।
5
হে আমাদের উদ্ধারের আল্লাহ্,
তুমি ধার্মিকতায় মহৎ কাজ দ্বারা আমাদেরকে উত্তর দেবে;
তুমি দুনিয়ার সমস্ত প্রান্তের,
এবং দূরবর্তী সমুদ্রবাসীদের বিশ্বাস-ভূমি।
6
তুমি নিজের শক্তিতে পর্বতমালার স্থাপনকর্তা;
তুমি পরাক্রমে বদ্ধকটি।
7
তুমি সমুদ্রের গর্জন, তার তরঙ্গের গর্জন,
ও জাতিদের কোলাহল শান্ত করে থাক।
8
আর দূরের নিবাসীরা তোমার সমস্ত চিহ্ন-কাজ দেখে ভয় পায়;
তুমি প্রত্যুষের ও সন্ধ্যাবেলার উদয়স্থানকে আনন্দ-গীতিময় করে থাক।
9
তুমি দুনিয়ার তত্ত্বাবধান করছো,
ওতে পানি সেচন করছো,
তা অতিশয় উর্বর করছো;
আল্লাহ্র নদী পানিতে পরিপূর্ণ;
এভাবে ভূমি প্রস্তুত করে তুমি মানুষের জন্য শস্য প্রস্তুত করে থাক।
10
তুমি তার সমস্ত সীতা জলসিক্ত করে থাক,
তার সমস্ত আল সমান করে থাক,
তুমি বৃষ্টি দ্বারা তা কোমল করে থাক,
তার অঙ্কুরকে দোয়া করে থাক।
11
তুমি তোমার উপচয় দিয়ে বছরকে মুকুট পরিয়ে থাক,
তোমার ঘোড়ার গাড়ি পুষ্টিকর দ্রব্যে উপচে পড়ে।
12
তা মরুভূমিস্থ চরাণি-স্থান সকলেতে উপচে পড়ে;
এবং উপপর্বতগুলো হর্ষরূপ পরিচ্ছদ পায়।
13
সমস্ত মাঠ ভেড়ার পালে ভূষিত হয়,
সমস্ত উপত্যকা শষ্যে আচ্ছাদিত হয়;
তারা আনন্দধ্বনি করে, তারা গান করে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। গজল। কাওয়ালী।
সমস্ত দুনিয়া! আল্লাহ্র উদ্দেশে আনন্দধ্বনি কর।
2
তাঁর নামের গৌরব ঘোষণা কর,
তাঁর প্রশংসা গৌরবান্বিত কর।
3
আল্লাহ্কে বল, তোমার সমস্ত কাজ কি বিস্ময়কর!
তোমার পরাক্রমের মহত্ত্বে তোমার দুশমনেরা,
তোমার কর্তৃত্ব স্বীকার করবে।
4
সমস্ত দুনিয়া তোমার কাছে সেজ্দা করবে,
ও তোমার উদ্দেশে কাওয়ালী করবে;
তারা তোমার নাম ঘোষণা করবে।
[সেলা।]
5
চল, আল্লাহ্র সমস্ত কাজ দেখ;
মানুষের বিষয়ে তিনি স্বকর্মে ভয়াবহ।
6
তিনি সমুদ্রকে শুকনো ভূমিতে পরিণত করলেন;
লোকেরা নদীর মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে গমন করলো,
তাঁতে সেই স্থানে আমরা আনন্দ করলাম।
7
তিনি নিজের পরাক্রমে অনন্তকাল কর্তৃত্ব করেন;
তাঁর চোখ জাতিদেরকে নিরীক্ষণ করছে;
বিদ্রোহীরা নিজেদের উঁচু না করুক।
[সেলা।]
8
হে জাতিরা, আমাদের আল্লাহ্র শুকরিয়া কর,
তাঁর প্রশংসা-ধ্বনি যেন শোনা যায়।
9
তিনিই আমাদের প্রাণ জীবিতদের সঙ্গে রাখেন,
আমাদের চরণ টলতে দেন না।
10
কেননা, হে আল্লাহ্, তুমি আমাদের পরীক্ষা করেছ,
রূপা পোড় দেবার মত করে আমাদেরকে পোড় দিয়েছ;
11
তুমি আমাদের জালে ফেলেছ,
আমাদের কোমর ভারগ্রস্ত করেছ।
12
তুমি আমাদের মাথার উপর দিয়ে ঘোড়সওয়ারদেরকে চালিয়েছ;
আমরা আগুন ও পানির মধ্য দিয়ে গমন করেছি;
তবুও তুমি আমাদেরকে সমৃদ্ধি-স্থানে এনেছ।
13
আমি পোড়ানো-কোরবানী নিয়ে তোমার গৃহে প্রবেশ করবো,
তোমার উদ্দেশে আমার সেসব মানত পূর্ণ করবো,
14
যা আমার ওষ্ঠাধর উচ্চারণ করেছে,
যা সঙ্কটের সময়ে আমার মুখ বলেছে।
15
আমি তোমার উদ্দেশে মেদযুক্ত পোড়ানো-কোরবানী করবো,
তার সঙ্গে ভেড়ারূপ ধূপ জ্বালাব;
ছাগলগুলোর সঙ্গে ষাঁড়গুলোকেও কোরবানী করবো। [সেলা।]
16
হে আল্লাহ্-ভীত লোকেরা, তোমরা এসে শোন,;
আমার প্রাণের জন্য তিনি যা করেছেন, তা বর্ণনা করি।
17
আমি নিজের মুখে তাঁকে ডাকলাম,
তাঁর উচ্চপ্রশংসা আমার জিহ্বাগ্রে ছিল।
18
যদি চিত্তে অধর্মের প্রতি তাকাতাম,
তবে প্রভু শুনতেন না।
19
কিন্তু সত্যিই আল্লাহ্ শুনেছেন;
তিনি আমার মুনাজাতে সাড়া দিয়েছেন।
20
আল্লাহ্ ধন্য হোন,
যিনি আমার মুনাজাত এবং আমার উপর থেকে নিজের অটল মহব্বত,
দূর করেন নি।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। কাওয়ালী। গজল।
আল্লাহ্ আমাদেরকে কৃপা করুন ও দোয়া করুন,
আমাদের প্রতি তাঁর মুখ উজ্জ্বল করুন।
[সেলা।]
2
এভাবে যেন দুনিয়ার সকলে তোমার পথ,
ও সমস্ত জাতির তোমার নাজাত জানতে পায়।
3
হে আল্লাহ্, জাতিরা তোমার প্রশংসা করুক,
সমস্ত জাতি তোমার প্রশংসা করুক।
4
লোকবৃন্দ আহ্লাদিত হয়ে আনন্দগান করুক;
যেহেতু তুমি ন্যায়ে জাতিদের বিচার করবে,
দুনিয়াতে মানব জাতিকে শাসন করবে।
[সেলা।]
5
হে আল্লাহ্, জাতিরা তোমার প্রশংসা করুক,
সমস্ত জাতি তোমার প্রশংসা করুক।
6
দুনিয়া নিজের ফল দিয়েছে;
আল্লাহ্, আমাদের আল্লাহ্, আমাদের দোয়া করবেন।
7
আল্লাহ্ আমাদেরকে দোয়া করবেন,
আর দুনিয়ার সমস্ত প্রান্ত তাঁকে ভয় করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী। গজল।
আল্লাহ্ উঠুন, তাঁর দুশমনেরা ছিন্নভিন্ন হোক,
তাঁর বিদ্বেষীরা তাঁর সম্মুখ থেকে পালিয়ে যাক।
2
বাতাসে যেমন ধোঁয়া উড়ে যায়,
তেমনি তুমি তাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাও;
যেমন আগুনের সম্মুখে মোম গলে যায়,
তেমনি আল্লাহ্র সম্মুখে দুষ্টরা বিনষ্ট হোক।
3
কিন্তু ধার্মিকেরা আনন্দ করুক,
আল্লাহ্র সাক্ষাতে উল্লাস করুক,
তারা আনন্দে আহ্লাদিত হোক।
4
তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশে গজল গাও,
তাঁর নামের ঘোষণা কর;
যিনি মরুভূমি দিয়ে বাহনে আসছেন,
তাঁর জন্য রাজপথ বাঁধ;
তাঁর নাম ‘মাবুদ’ (ইয়াহ্),
তাঁর সাক্ষাতে উল্লাস কর।
5
আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র বাসস্থানে
এতিমদের পিতা ও বিধবাদের বিচারকর্তা।
6
আল্লাহ্ সঙ্গীহীনদেরকে পরিবারে মধ্যে বাস করান,
তিনি বন্দীদেরকে মুক্ত করে সহিসালামতে রাখেন;
কিন্তু বিদ্রোহীরা দগ্ধ ভূমিতে বাস করে।
7
হে আল্লাহ্, তুমি যখন নিজের লোকদের আগে আগে যাচ্ছিলে,
যখন শুকনো ভূমি দিয়ে গমন করছিলে,
[সেলা।]
8
তখন দুনিয়া কেঁপে উঠলো, আসমান বৃষ্টি ঢেলে দিল;
আল্লাহ্র সাক্ষাতে, ঐ সিনাই আল্লাহ্র সাক্ষাতে,
আল্লাহ্র সাক্ষাতে, ইসরাইলের আল্লাহ্র সাক্ষাতে।
9
হে আল্লাহ্, তুমি পানির ধারা বর্ষালে,
তোমার অধিকার ক্লান্ত হলে তুমিই তা সুস্থির করলে।
10
তোমার লোকবৃন্দ তার মধ্যে বাস করলো;
হে আল্লাহ্, তুমি তোমার মঙ্গলভাবে দুঃখীর জন্য আয়োজন করলে।
11
প্রভু কালাম দেন,
শুভবার্তার তবলীগকারীরা মহাবাহিনী।
12
সৈন্যবাহিনীদের বাদশাহ্রা পালিয়ে যান, পালিয়ে যান,
আর ঘরে থাকা স্ত্রীলোকেরা লুটদ্রব্য ভাগ করে নেয়।
13
তোমরা কি বাথানের মধ্যে শয়ন করবে,
রূপায় মোড়া কবুতরের পাখার মত হবে,
যার পালক উজ্জ্বল সোনায় মোড়ানো?
14
সর্বশক্তিমান যখন বাদশাহ্দেরকে দেশে ছিন্নভিন্ন করলেন,
তখন সল্মোন পর্বতে [যেন] তুষার পড়লো।
15
বাশন পর্বত আল্লাহ্র পর্বত;
বাশন পর্বত বহুশৃঙ্গ পর্বত।
16
হে বহুশৃঙ্গ পর্বতমালা,
আল্লাহ্ তাঁর নিবাসের জন্য যে পর্বতে প্রীত হয়েছেন,
তার প্রতি তোমরা কেন কুটিল দৃষ্টি করছো?
অবশ্য মাবুদ চিরকাল সেখানে বাস করবেন।
17
আল্লাহ্র রথ অযুত অযুত ও লক্ষ লক্ষ, প্রভু সেই সবের মধ্যবর্তী;
যেমন সিনাইয়ে, তাঁর পবিত্র স্থানে।
18
তুমি ঊর্ধ্বে উঠেছ, বন্দীদেরকে বন্দীদশায় নিয়ে গিয়েছ,
মানুষের মধ্যে দান গ্রহণ করেছ;
এমন কি, বিদ্রোহীদের মধ্যেও গ্রহণ করেছ,
যেন মাবুদ আল্লাহ্ [সেখানে] বাস করেন।
19
মাবুদ ধন্য হোন, যিনি দিন দিন আমাদের ভার বহন করেন;
আল্লাহ্ হলেন আমাদের উদ্ধার।
[সেলা।]
20
আল্লাহ্ আমাদের পক্ষে উদ্ধারকারী আল্লাহ্;
মৃত্যু থেকে উত্তরণ সার্বভৌম মাবুদেরই অধীনে।
21
আল্লাহ্ অবশ্য তাঁর দুশমনদের মাথা
ও কুপথগামীর কেশযুক্ত-কপাল চূর্ণ করবেন।
22
প্রভু বললেন, আমি বাশন থেকে পুনর্বার আনবো,
সমুদ্রের গভীর তল থেকে [তাদেরকে] পুনর্বার আনবো,
23
যেন তোমার চরণ রক্তে ডুবাতে পার,
যেন তোমার কুকুরদের জিহ্বা তোমার দুশমনদের থেকে অংশ পায়।
24
হে আল্লাহ্, লোকে তোমার গমন দেখেছে;
পবিত্র স্থানে আমার আল্লাহ্র, আমার বাদশাহ্র, গমন দেখেছে।
25
সম্মুখে গায়করা, পিছনে বাদ্যকররা চললো,
বাদ্যবাদিনী কুমারীদের মধ্যস্থানে।
26
জনসমাগমের মধ্যে আল্লাহ্র শুকরিয়া কর;
তোমরা, যারা ইসরাইলরূপ ফোয়ারা থেকে উৎপন্ন,
তোমরা প্রভুর শুকরিয়া কর।
27
সেখানে আছেন তাদের শাসক কনিষ্ঠ বিন্ইয়ামীন,
এহুদার নেতৃবর্গ ও তাদের জনগণ,
সবূলূনের নেতৃবর্গ, নপ্তালির নেতৃবর্গ।
28
হে আল্লাহ্, তোমার পরাক্রমকে ডাক,
হে আল্লাহ্, তোমার শক্তি দেখাও,
যেমন তুমি আমাদের আগে সাধন করেছ,
29
জেরুশালেমে তোমার এবাদতখানা আছে বলে,
বাদশাহ্রা তোমার উদ্দেশে উপহার আনবেন।
30
তুমি নল-বনের বন্যপশুকে ভর্ৎসনা কর,
জাতিদের বাছুরগুলোকে ও ষাঁড়গুলোকে ভর্ৎসনা কর;
তারা প্রত্যেকে বিনীত হয়ে রূপার থান পায়ের তলায় রাখুক;
যেসব জাতি যুদ্ধ ভালবাসে, তিনি তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করলেন।
31
মিসর থেকে প্রধান প্রধান লোক আসবে;
ইথিওপিয়া শীঘ্র আল্লাহ্র কাছে হাত বাড়াবে।
32
হে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য, আল্লাহ্র উদ্দেশে গজল গাও;
সেই প্রভুর প্রশংসা গান কর।
[সেলা।]
33
যিনি আদিকালীন বেহেশতের বেহেশত দিয়ে রথারোহণে গমন করেন;
শোন, তিনি তাঁর কণ্ঠস্বর, পরাক্রান্ত কণ্ঠস্বর পাঠান।
34
আল্লাহ্র পরাক্রম ঘোষণা কর;
তাঁর মহিমা ইসরাইলের উপরে,
তাঁর পরাক্রম আসমান জুড়ে রয়েছে।
35
হে আল্লাহ্, তুমি তোমার পবিত্র স্থানে ভয়াবহ;
ইসরাইলের আল্লাহ্,
তিনিই তাঁর লোকদেরকে পরাক্রম ও শক্তি দেন।
আল্লাহ্ ধন্য হোন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, শোশন্নীম। হযরত দাউদের।
হে আল্লাহ্, আমাকে নিস্তার কর,
কেননা আমার কণ্ঠনালী পর্যন্ত পানি উঠেছে।
2
আমি অগাধ পাঁকে ডুবেছি, দাঁড়াবার স্থান নেই;
গভীর পানিতে এসেছি, বন্যা আমার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
3
আমি ডেকে ডেকে ক্লান্ত হয়েছি, আমার কণ্ঠ শুকিয়ে গেছে;
আমার আল্লাহ্র অপেক্ষা করতে করতে আমার নয়নযুগল নিস্তেজ হয়েছে।
4
যারা অকারণে আমার বিদ্বেষী,
তারা আমার মাথার চুলের চেয়েও বেশি;
আমার ধ্বংসকারী মিথ্যাবাদী দুশমনেরা বলবান;
আমি যা অপহরণ করি নি, তাও আমাকে ফিরিয়ে দিতে হল।
5
হে আল্লাহ্, তুমি আমার মূঢ়তার বিষয় জান;
আমার সমস্ত দোষ তোমা থেকে গুপ্ত নয়।
6
হে বাহিনীগণের আল্লাহ্ মালিক,
তোমার অপেক্ষাকারীরা আমার দ্বারা লজ্জিত না হোক;
হে ইসরাইলের আল্লাহ্,
তোমার অন্বেষণকারীরা আমার দ্বারা অপমানিত না হোক।
7
কেননা তোমারই জন্য আমি তিরস্কার সহ্য করেছি,
আমার মুখ লজ্জায় আচ্ছাদিত হয়েছে।
8
আমি আমার ভাইদের কাছে বিদেশী হয়েছি,
আমার সহোদরদের কাছে বিজাতীয় হয়েছি।
9
কারণ তোমার গৃহবিষয়ক গভীর আগ্রহ আমাকে গ্রাস করেছে;
যারা তোমাকে তিরস্কার করে,
তাদের তিরস্কার আমার উপরে পড়েছে।
10
যখন আমি কান্নাকাটি করলাম,
রোজা দ্বারা প্রাণকে কষ্ট দিলাম,
তখন তা আমার দুর্নামের বিষয় হল।
11
যখন আমি চট পরলাম,
তখন তাদের কাছে প্রবাদের বিষয় হলাম।
12
যারা তোরণদ্বারে বসে, তারা আমার বিষয়ে আলোচনা করে;
মাতালেরা আমাকে নিয়ে গান রচনা করে।
13
কিন্তু, হে মাবুদ, আমি তোমারই কাছে প্রসন্নতার সময়ে মুনাজাত করছি;
হে আল্লাহ্, তোমার প্রচুর অটল মহব্বতের দরুন আমাকে উত্তর দাও।
তোমার উদ্ধার করার বিশ্বস্ত সাহায্যে আমাকে উত্তর দাও।
14
পাঁক থেকে আমাকে উদ্ধার কর, ডুবে যেতে দিও না;
বিদ্বেষীরা থেকে ও অতল জলরাশি থেকে যেন উদ্ধার পাই।
15
পানির বন্যা আমার উপর ছাপিয়ে না উঠুক,
অগাধ পানি আমাকে গ্রাস না করুক;
আমার উপরে কূপ তার মুখ বন্ধ না করুক।
16
হে মাবুদ, আমাকে উত্তর দাও,
কেননা তোমার অটল মহব্বত উত্তম;
তোমার প্রচুর করুণার দরুন আমার প্রতি মুখ ফিরাও।
17
তোমার এই গোলামের কাছ থেকে মুখ আচ্ছাদন করো না;
কারণ আমি সঙ্কটাপন্ন, ত্বরায় আমাকে উত্তর দাও।
18
কাছে এসে আমার প্রাণ মুক্ত কর;
আমার দুশমনদের থেকে আমাকে উদ্ধার কর।
19
তুমি আমার দুর্নাম, আমার লজ্জা ও আমার সমস্ত অপমানের কথা জান;
আমার বিপক্ষেরা সকলে তোমার সম্মুখবর্তী।
20
তিরস্কারে আমার মনোভঙ্গ হয়েছে, আমি অবসন্ন হলাম,
আমি সহানুভূতির অপেক্ষা করলাম, কিন্তু তা পেলাম না;
সান্ত্বনাকারীদের অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কাউকেও পেলাম না।
21
আবার লোকে আমার খাদ্যের জন্য বিষ দিল,
আমার পিপাসাকালে অম্লরস পান করাল।
22
তাদের টেবিল তাদের সম্মুখে ফাঁদস্বরূপ হোক,
শান্তিকালে তাদের পাশস্বরূপ হোক।
23
তাদের চোখ অন্ধ হোক, যেন তারা দেখতে না পায়;
তুমি তাদের কোমর চির-কম্পনযুক্ত কর।
24
তাদের উপরে তোমার গজব ঢেলে দাও,
তোমার গজবের আগুন তাদেরকে বিনষ্ট করুক।
25
তাদের নিবাস শূন্য হোক,
তাদের তাঁবুতে কেউ বাস না করুক।
26
কেননা তারা তাকেই তাড়না করে, যাকে তুমি প্রহার করেছ,
তাদেরই ব্যথা বর্ণনা করে, যাদেরকে তুমি আঘাত করেছ।
27
তাদের অপরাধের উপরে অপরাধ যোগ কর,
তারা তোমার ধর্মশীলতায় প্রবেশ না করুক।
28
জীবন-কিতাব থেকে তাদের নাম মুছে যাক,
ধার্মিকদের সঙ্গে তারা তালিকাভুক্ত না হোক।
29
কিন্তু আমি দুঃখী ও ব্যথিত,
হে আল্লাহ্, তোমার উদ্ধার আমাকে রক্ষা করুক।
30
আমি গজল দ্বারা আল্লাহ্র নামের প্রশংসা করবো,
প্রশংসা-গজল দ্বারা তাঁর মহিমা স্বীকার করবো।
31
তা-ই মাবুদের দৃষ্টিতে তুষ্টিকর হবে,
গরুর চেয়ে, শিং ও খুরযুক্ত ষাঁড়ের চেয়ে বেশি তুষ্টিকর হবে।
32
নম্র লোকেরা তা দেখে আনন্দ করবে;
আল্লাহ্র অন্বেষীগণ! তোমাদের হৃদয় সঞ্জীবিত হোক।
33
কেননা মাবুদ দীনহীনদের কথা শোনেন,
তিনি তাঁর বন্দীদেরকে তুচ্ছ করেন না।
34
আসমান ও দুনিয়া তাঁর প্রশংসা করুক,
সমুদ্র ও তার মধ্যেকার সমস্ত জলজ প্রাণী প্রশংসা করুক।
35
কেননা আল্লাহ্ সিয়োনের উদ্ধার করবেন,
ও এহুদার সমস্ত নগর গাঁথবেন;
লোকে সেখানে বাস করবে ও অধিকার পাবে।
36
তাঁর গোলামদের বংশই তা ভোগ করবে;
যারা তাঁর নাম ভালবাসে, তারা সেখানে বসতি করবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের। একটা স্মৃতি জাগানো কাওয়ালী।
হে আল্লাহ্, আমার উদ্ধারার্থে,
হে মাবুদ, আমার সাহায্য করতে ত্বরা কর।
2
যারা আমার প্রাণের খোঁজ করে,
তারা লজ্জিত ও হতাশ হোক;
যারা আমার বিপদ দেখতে চায়,
তারা ফিরে যাক, অপমানিত হোক।
3
যারা বলে, আহা, আহা,
তারা নিজেদের লজ্জার দরুন ফিরে যাক।
4
যারা তোমার খোঁজ করে,
তারা সকলে তোমাতে আমোদ ও আনন্দ করুক;
যারা তোমার উদ্ধার ভালবাসে,
তারা সতত বলুক, আল্লাহ্ মহিমান্বিত হোন।
5
কিন্তু আমি দুঃখী ও দরিদ্র;
হে আল্লাহ্, আমার পক্ষে ত্বরা কর;
তুমিই আমার সহায় ও আমার উদ্ধারকর্তা;
হে মাবুদ, বিলম্ব করো না।
1
হে মাবুদ, আমি তোমার আশ্রয় নিয়েছি;
আমাকে কখনও লজ্জিত হতে দিও না।
2
তোমার ধর্মশীলতায় আমাকে উদ্ধার কর, রক্ষা কর;
আমার দিকে কান দাও, আমাকে নিস্তার কর।
3
তুমি আমার আশ্রয়স্থানের শৈল হও,
শক্তিশালী দুর্গ হও, আমাকে নিস্তার করার জন্য;
কেননা তুমিই আমার শৈল ও আমার আশ্রয়-দুর্গ।
4
হে আমার আল্লাহ্, আমাকে উদ্ধার কর,
দুর্জনের হাত থেকে, অন্যায়কারী ও উপদ্রবীর হাত থেকে।
5
কেননা, হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি আমার আশা;
তুমি বাল্যকাল থেকে আমার বিশ্বাস-ভূমি।
6
মাতৃগর্ভ থেকে তোমার উপরেই আমার নির্ভর;
জননীর জঠর থেকে তুমিই আমার হিতৈষী;
আমি সতত তোমারই প্রশংসা করি।
7
আমি অনেকের দৃষ্টিতে অদ্ভুত লক্ষণস্বরূপ;
কিন্তু তুমি আমার দৃঢ় আশ্রয়।
8
আমার মুখ তোমার প্রশংসায় পরিপূর্ণ থাকবে,
সমস্ত দিন তোমার সৌন্দর্য বর্ণনা করবে।
9
বৃদ্ধ বয়সে আমাকে পরিত্যাগ করো না,
আমার বল ক্ষয় পেলে আমাকে ছেড়ে যেও না।
10
কারণ আমার দুশমনেরা আমার বিষয়ে কথা বলে,
আমার প্রাণের উপরে যাদের চোখ, তারা একত্র মন্ত্রণা করে।
11
তারা বলে, আল্লাহ্ ওকে ত্যাগ করেছেন, দৌড়ে ওকে ধর,
কেননা উদ্ধারকারী কেউই নেই।
12
হে আল্লাহ্, আমার কাছ থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থেকো না;
আমার আল্লাহ্, আমাকে সাহায্য করতে ত্বরা কর।
13
তারা লজ্জিত ও উচ্ছিন্ন হোক,
যারা আমার প্রাণের বিপক্ষ;
তারা তিরস্কার ও অপমানে আচ্ছন্ন হোক,
যারা আমার অনিষ্ট চেষ্টা করে।
14
কিন্তু আমি নিরন্তর প্রত্যাশা করবো,
এবং উত্তরোত্তর তোমার আরও প্রশংসা করবো।
15
আমার মুখ তোমার ধর্মশীলতা বর্ণনা করবে,
তোমার উদ্ধার-কাজের কথা সমস্ত দিন বর্ণনা করবে,
কেননা আমি তার সংখ্যা জানি না।
16
আমি আমার সার্বভৌম মাবুদের পরাক্রমের সমস্ত কাজ নিয়ে উপস্থিত হব;
আমি তোমার, কেবল তোমারই ধর্মশীলতা উল্লেখ করবো।
17
হে আল্লাহ্, তুমি বাল্যকাল থেকে আমাকে শিক্ষা দিয়ে আসছ;
আর এই পর্যন্ত আমি তোমার আশ্চর্য সমস্ত কাজ তবলিগ করছি।
18
হে আল্লাহ্, বৃদ্ধ বয়স ও পক্ককেশের কাল পর্যন্তও
আমাকে পরিত্যাগ করো না,
যতদিন আমি পরের বংশধরদের কাছে তোমার বাহুবল,
এবং তোমার পরাক্রম জ্ঞাত না করি।
19
হে আল্লাহ্, তোমার ধর্মশীলতা আসমান পর্যন্ত ব্যাপ্ত;
তুমিই মহৎ মহৎ কাজ করেছ;
হে আল্লাহ্, তোমার মত আর কে আছে?
20
তুমি আমাদেরকে অনেক দারুণ সঙ্কট দেখিয়েছ,
তুমি ফিরে আমাদেরকে সঞ্জীবিত করবে,
দুনিয়ার অধঃস্থান থেকে পুনর্বার উঠাবে।
21
তুমি আমার মহত্ত্ব বৃদ্ধি কর,
এবং ফিরে আমাকে সান্ত্বনা দাও।
22
আবার আমি নেবল যন্ত্রে তোমার প্রশংসা করবো,
হে আমার আল্লাহ্, তোমার বিশ্বস্ততার প্রশংসা-গজল করবো,
হে ইসরাইলের পবিত্রতম, বীণাতে তোমার উদ্দেশে গজল গাইব।
23
তোমার উদ্দেশে গজল গাইবার সময়ে আমার ওষ্ঠাধর আনন্দগান করবে,
আমার প্রাণও তা করবে, যা তুমি মুক্ত করেছ।
24
আমার জিহ্বাও সমস্ত দিন তোমার ধর্মশীলতার কথা বলবে,
কারণ তারা লজ্জিত হয়েছে, তারা হতাশ হয়েছে,
যারা আমার অনিষ্ট চেষ্টা করে।
1
বাদশাহ্ সোলায়মানের।
হে আল্লাহ্, তুমি বাদশাহ্কে তোমার শাসন,
রাজপুত্রকে তোমার ধর্মশীলতা প্রদান কর।
2
তিনি ধার্মিকতায় তোমার লোকদের,
ন্যায়ে তোমার দুঃখীদের বিচার করবেন।
3
পর্বতমালা ও উপপর্বতমালা ধার্মিকতা দ্বারা
লোকদের জন্য শান্তিরূপ ফলে ফলবান হবে।
4
তিনি দুঃখী লোকদের বিচার করবেন,
তিনি দরিদ্রের সন্তানদেরকে উদ্ধার করবেন,
কিন্তু জুলুমবাজকে চূর্ণ করবেন।
5
যতদিন সূর্য থাকবে, লোকে তোমাকে ভয় করবে,
যতদিন চন্দ্র থাকবে, পুরুষানুক্রমেই করবে।
6
তৃণভূমির উপরে বর্ষার মত তিনি নেমে আসবেন,
সেই বৃষ্টিধারার মত যা ভূমিকে জলসিক্ত করে।
7
তাঁর সময়ে ধার্মিক লোক প্রফুল্ল হবে,
চন্দ্রের স্থিতিকাল পর্যন্ত প্রচুর শান্তি হবে।
8
তিনি এক সমুদ্র থেকে অপর সমুদ্র পর্যন্ত,
ঐ নদী থেকে দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত কর্তৃত্ব করবেন।
9
তাঁর সম্মুখে মরু-নিবাসীরা নত হবে,
তাঁর দুশমনেরা ধুলা চাটবে।
10
তর্শীশ ও দ্বীপগুলোর বাদশাহ্রা নৈবেদ্য আনবেন;
সবা ও সবা দেশের বাদশাহ্রা উপহার দেবেন।
11
হ্যাঁ, সমস্ত বাদশাহ্ তাঁর কাছে মাথা নত করবেন;
সমস্ত জাতি তাঁর গোলাম হবে।
12
কেননা তিনি আর্তনাদকারী দরিদ্রকে,
এবং দুঃখী ও অসহায়কে উদ্ধার করবেন।
13
তিনি দীনহীন ও দরিদ্রের প্রতি রহম করবেন,
তিনি দরিদ্রদের প্রাণ নিস্তার করবেন।
14
তিনি চাতুরী ও দৌরাত্ম্য থেকে তাদের প্রাণ মুক্ত করবেন,
তাঁর দৃষ্টিতে তাদের রক্ত বহুমূল্য হবে;
15
আর তারা জীবিত থাকবে ও তাঁকে সাবা দেশের সোনা দান করা যাবে,
লোকে তাঁর জন্য নিরন্তর মুনাজাত করবে, সমস্ত দিন তাঁর শুকরিয়া করবে।
16
দেশের মধ্যে পর্বত-শিখরে প্রচুর শস্য হবে,
তার ফল লেবাননের বনের মত দোলায়মান হবে;
এবং নগরবাসীরা ভূমির ঘাসের মত প্রফুল্ল হবে।
17
তাঁর নাম অনন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে;
সূর্যের স্থিতি পর্যন্ত তাঁর নাম সতেজ থাকবে;
মানুষেরা তাঁতে দোয়া পাবে;
সমস্ত জাতি তাঁকে সুখী বলবে।
18
মাবুদ আল্লাহ্ ধন্য হোন, যিনি ইসরাইলের আল্লাহ্;
কেবল তিনিই অলৌকিক কাজ করেন।
19
তাঁর গৌরবান্বিত নাম অনন্তকাল ধরে ধন্য হোন;
তাঁর গৌরবে সমস্ত দুনিয়া পরিপূর্ণ হোক।
আমিন, আমিন।
20
ইয়াসির পুত্র দাউদের সমস্ত মুনাজাত সমাপ্ত।
1
আসফের কাওয়ালী।
আল্লাহ্ সত্যিই মঙ্গলস্বরূপ, ইসরাইলের পক্ষে,
যারা শুদ্ধচিত্ত তাদের পক্ষে।
2
কিন্তু আমার চরণ প্রায় টলেছিল;
আমার পাদবিক্ষেপ প্রায় স্খলিত হয়েছিল।
3
কারণ যখন দুষ্টদের কল্যাণ দেখেছিলাম,
তখন গর্বিতদের প্রতি ঈর্ষা করেছিলাম।
4
কেননা তারা মৃত্যুকালে যন্ত্রণা পায় না,
বরং তাদের কলেবর হৃষ্টপুষ্ট।
5
মানুষের মত কষ্ট তাদের হয় না;
মানুষের মত তারা আহত হয় না।
6
এজন্য অহঙ্কার তাদের কণ্ঠের হারের মত,
কাপড়ের মত দৌরাত্ম্য তাদেরকে আচ্ছাদন করে।
7
মেদের ঠেলায় তাদের চোখ বেরিয়ে আসে,
তাদের মনের কুমতলব উপ্চে পড়ছে।
8
তারা বিদ্রূপ করে ও দুষ্টতায় উপদ্রবের কথা বলে,
অহংকারের বশে তারা জুলুমের ভয় দেখায়।
9
তারা আসমানে মুখ রেখেছে,
এবং তাদের জিহ্বা দুনিয়াতে রেখে ঘুরে বেড়ায়।
10
এজন্য তাদের লোকেরা তাদের দিকে ফিরে,
তারা যা বলে তা পানির মত গিলে।
11
আর তারা বলে, আল্লাহ্ কিভাবে জানবেন?
সর্বশক্তিমানের কি জ্ঞান আছে?
12
দেখ, এরাই দুর্জন,
এরা চিরকাল নির্বিঘ্নে থেকে ধন বৃদ্ধি করেছে।
13
নিশ্চয় আমি বৃথাই অন্তর পরিষ্কার করেছি,
আমার হাত মিথ্যাই নির্দোষ রেখেছি।
14
কেননা আমি সমস্ত দিন আহত হয়েছি,
প্রতি প্রভাতে শাস্তি পেয়েছি।
15
যদি আমি বলতাম, এরকম বর্ণনা করবো,
তবে দেখ, তোমার সন্তানদের বংশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হতাম।
16
আমি তা বুঝবার জন্য চিন্তা করলাম,
কিন্তু তা আমার দৃষ্টিতে কষ্টকর হল,
17
যতদিন আমি আল্লাহ্র পবিত্র স্থানে প্রবেশ না করলাম,
ও তাদের শেষ ফল বিবেচনা না করলাম।
18
তুমি তাদেরকে পিচ্ছিল স্থানেই রাখছ,
তাদেরকে বিনাশে ফেলে দিচ্ছ।
19
তারা নিমিষকালের মধ্যে কেমন উচ্ছিন্ন হয়,
নানা ত্রাসে কেমন নিঃশেষে সংহার হয়।
20
নিদ্রা ভঙ্গ হলে পর যেমন স্বপ্ন তুচ্ছ হয়,
তেমনি, হে মালিক, তুমি জাগলে তাদের মূর্তিগুলোকে তুচ্ছ করবে।
21
কারণ আমার অন্তর শোকাভিভূত হল,
আমার অন্তর বিদ্ধ হল;
22
আমি মূর্খ ও অজ্ঞান,
তোমার কাছে পশুর মত ছিলাম।
23
কিন্তু আমি নিরন্তর তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি;
তুমি আমার ডান হাত ধরে রেখেছ।
24
তুমি নিজের মন্ত্রণায় আমাকে গমন করাবে,
শেষে সপ্রতাপে আমাকে গ্রহণ করবে।
25
বেহেশতে আমার কে আছে?
দুনিয়াতেও তোমা ভিন্ন আর কিছুতে আমার প্রীতি নেই।
26
আমার মাংস ও আমার অন্তর ক্ষয় পাচ্ছে,
তবুও আল্লাহ্ চিরকাল আমার অন্তরের শৈল ও আমার উত্তরাধিকার।
27
কেননা দেখ, যারা তোমা থেকে দূরে থাকে, তারা বিনষ্ট হবে;
যেসব লোক তোমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়,
সে সকলকে তুমি উচ্ছিন্ন করেছ।
28
কিন্তু আল্লাহ্র সান্নিধ্যে থাকা আমারই পক্ষে মঙ্গল;
আমি সার্বভৌম মাবুদের আশ্রয় নিলাম,
যেন তোমার সমস্ত কাজ বর্ণনা করতে পারি।
1
আসফের মস্কীল।
হে আল্লাহ্, তুমি কেন আমাদের চিরতরে ত্যাগ করেছ?
তোমার চারণভূমির মেষদের বিরুদ্ধে
কেন তোমার ক্রোধের আগুন ধূমায়িত হচ্ছে?
2
তোমার মণ্ডলীকে স্মরণ কর,
যা তুমি পূর্বকালে ক্রয় করেছ,
যা তোমার অধিকারের বংশ হবার জন্য তুমি মুক্ত করেছ;
তোমার বাসস্থান সিয়োন পর্বতকে স্মরণ কর।
3
চিরকালীন এই ধ্বংসস্তূপে পদার্পণ কর;
দুশমনরা পবিত্র স্থানের সকলই ছারখার করেছে।
4
তোমার দুশমনরা তোমার জমায়েত-স্থানের মধ্যে গর্জন করেছে;
চিহ্নের জন্য তারা নিজেদের চিহ্ন স্থাপন করেছে।
5
তারা নিজেদের এমন লোকদের মত দেখাল,
যারা নিবিড় বনে কুঠার উঠায়।
6
এখন তারা একেবারে সেই স্থানের
সমস্ত শিল্পকর্ম কুঠার ও হাতুড়ি দ্বারা ভেঙ্গে ফেলে।
7
তারা তোমার পবিত্র স্থানে আগুন লাগিয়ে দিল,
তোমার নামের আবাস ভূমিসাৎ করে নাপাক করলো।
8
তারা মনে মনে বললো, ‘আমরা তাদের একেবারে সংহার করি,’
তারা দেশের মধ্যে আল্লাহ্র সমস্ত জমায়েত-স্থান পুড়িয়ে দিয়েছে।
9
আমরা আমাদের চিহ্নগুলো দেখতে পাই না, কোন নবী আর নেই;
আমাদের কেউ জানে না, কত দিন এইভাবে চলবে।
10
হে আল্লাহ্, বিপক্ষ কতদিন তিরস্কার করবে?
দুশমন কি চিরকাল তোমার নাম তুচ্ছ করবে?
11
তুমি তোমার হাত, তোমার ডান হাত, কেন সঙ্কুচিত করছো?
সেটি বক্ষঃস্থল থেকে বের কর, দুশমনদের শেষ করে দাও।
12
তবুও আল্লাহ্ই পূর্বকাল থেকে আমার বাদশাহ্,
দুনিয়ার মধ্যে উদ্ধারের সাধনকর্তা।
13
তুমিই তোমার পরাক্রমে সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলে,
তুমিই পানিতে নাগদের মাথা চূর্ণ করেছিলে।
14
তুমিই লিবিয়াথনের মাথা চূর্ণ করেছিলে,
মরুভূমি-নিবাসী সকলকে খাদ্য হিসেবে তার দেহ দিয়েছিলে।
15
তুমিই ফোয়ারা ও বন্যার জন্য পথ করেছিলে,
তুমিই নিত্য প্রবাহিনী নদী শুকিয়ে ফেলেছিলে।
16
দিন তোমার, রাত তোমার;
তুমিই জ্যোতিষ্ক ও সূর্য রচনা করেছ।
17
তুমিই দুনিয়ার সমস্ত সীমা স্থাপন করেছ;
তুমিই গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল স্থাপন করেছ।
18
হে মাবুদ স্মরণ কর, কেমন করে দুশমন তিরস্কার করেছে,
মূঢ় জাতি তোমার নাম তুচ্ছ করেছে।
19
তোমার ঘুঘুর প্রাণ বন্য পশুকে দিও না;
তোমার দুঃখীদের জীবন চিরতরে ভুলে থেকো না।
20
সেই নিয়মের প্রতি দৃষ্টি রাখ;
কেননা দুনিয়ার অন্ধকারময় সমস্ত স্থান অত্যাচারের বসতিতে পরিপূর্ণ।
21
উৎপীড়িত ব্যক্তি যেন লজ্জিত হয়ে ফিরে না যায়;
দুঃখী ও দরিদ্র তোমার নামের প্রশংসা করুক।
22
উঠ, হে আল্লাহ্, তোমার ঝগড়া নিষ্পন্ন কর;
স্মরণ কর, মূঢ় সমস্ত দিন তোমাকে কেমন তিরস্কার করে।
23
তোমার বিপক্ষদের কোলাহল ভুলে যেয়ো না;
তোমার প্রতিপক্ষদের কলহ নিয়ত উঠছে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, নাশ করো না। আসফের কাওয়ালী। গজল।
হে আল্লাহ্, আমরা তোমার শুকরিয়া করছি, শুকরিয়া করছি,
কেননা তোমার নাম নিকটবর্তী;
লোকে তোমার অলৌকিক সমস্ত কাজ বর্ণনা করে।
2
“আমি যখন নিরূপিত সময় উপস্থিত করবো,
তখন আমিই ন্যায্য বিচার করবো।
3
দুনিয়া ও অধিবাসীরা বিলীন হচ্ছে;
আমি তার সমস্ত স্তম্ভ স্থাপন করেছি।
[সেলা।]
4
আমি গর্বিত লোকদের বললাম, গর্ব করো না;
দুষ্ট লোকদের বললাম, শিং উঁচু কোরো না।
5
তোমাদের শিং উঁচুতে তুলো না;
অবাধ্য হয়ে কথা বলো না।”
6
কেননা উদয় স্থান থেকে, বা পশ্চিম থেকে,
অথবা দক্ষিণ থেকে উন্নতিলাভ হয়, এমন নয়।
7
কিন্তু আল্লাহ্ই বিচারকর্তা;
তিনি কাউকে নত, কাউকে বা উন্নত করেন।
8
কেননা মাবুদের হাতে একটি পানপাত্র আছে,
তার আঙ্গুর-রস মেতে উঠেছে,
তা মিশানো সুরায় পরিপূর্ণ, আর তিনি তা থেকে ঢালেন,
দুনিয়ার দুষ্ট সকলে তার তলানি পর্যন্ত চেটে খাবে।
9
কিন্তু আমি চিরকাল তবলিগ করবো,
ইয়াকুবের আল্লাহ্র উদ্দেশে গজল গাইব।
10
আর আমি দুষ্টদের সমস্ত শিং কেটে ফেলবো,
কিন্তু ধার্মিকদের শিং উন্নত হবে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্রে। আসফের কাওয়ালী। গজল।
আল্লাহ্ এহুদার মধ্যে পরিচিত,
ইসরাইলের মধ্যে তাঁর নাম মহৎ।
2
আর শালেমে তাঁর আবাস,
সিয়োনে তাঁর বাসস্থান রয়েছে।
3
সেখানে তিনি ধনুকের জ্বলন্ত সমস্ত তীর,
ঢাল, তলোয়ার ও সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস করেছেন। [সেলা।]
4
মৃগয়ার পর্বতমালা থেকে তুমি তেজোময় ও মহিমান্বিত।
5
সাহসী যোদ্ধাদের লুট করা হয়েছে ও তারা ঘুমে ঢলে পড়েছে,
কোন বীর তার হাত তুলতে পারে নি।
6
হে ইয়াকুবের আল্লাহ্,
তোমার ধমক খেয়ে রথ ও ঘোড়া গভীর ঘুমে ঢলে পড়েছে।
7
তুমি, তুমিই ভয়াবহ;
তুমি একবার ক্রুদ্ধ হলে কে তোমার সাক্ষাতে দাঁড়াবে?
8
তুমি বেহেশত থেকে বিচারাজ্ঞা শুনালে,
দুনিয়া ভয় পেল, নিস্তব্ধ হল,
9
যখন আল্লাহ্ উঠলেন বিচার করার জন্য,
দুনিয়ার অত্যাচারিত লোকদের উদ্ধার করার জন্য। [সেলা।]
10
অবশ্য, মানুষের ক্রোধ তোমার প্রশংসা করবে;
তুমি ক্রোধের অবশেষ দ্বারা তোমার চারপাশ বাঁধবে।
11
তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে শপথ কর ও তা পূর্ণ কর;
তাঁর চারদিকের সকলে সেই ভয়াবহের কাছে উপঢৌকন আনয়ন করুক।
12
তিনি শাসনকর্তাদের সাহস খর্ব করেন;
দুনিয়ার বাদশাহ্দের পক্ষে তিনি ভয়াবহ।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। যিদুথূনের প্রণালীতে। আসফের কাওয়ালী।
আমি চিৎকার করে আল্লাহ্র কাছে কান্নাকাটি করবো;
চিৎকার করে আল্লাহ্র কাছে কান্নাকাটি করবো,
তিনি আমার কান্না শুনে জবাব দেবেন।
2
সঙ্কটের দিনে আমি প্রভুর খোঁজ করলাম;
রাতের বেলায় আমার হাত প্রসারিত থাকলো, সঙ্কুচিত হল না;
আমার প্রাণ প্রবোধ মানল না।
3
আমি আল্লাহ্কে স্মরণ করে কাতর আর্তনাদ করছি;
ভাবনা করতে করতে আমার রূহ্ মূর্চ্ছিত হচ্ছে।
[সেলা।]
4
তুমি আমার চোখের পাতা খোলা রাখছ;
আমি এত উদ্বিগ্ন যে, কথা বলতে পারি না।
5
আমি আলোচনা করলাম পূর্বকালের সমস্ত দিন,
পুরাকালের সমস্ত বছর।
6
আমি আমার রাত্রিকালীন গজল স্মরণ করি,
আমি মনে মনে ধ্যান করি;
আমার রূহ্ অনুসন্ধান করলো।
7
প্রভু কি চিরকালের জন্য ত্যাগ করবেন?
তিনি কি আর সুপ্রসন্ন হবেন না?
8
তাঁর অটল মহব্বত কি চিরতরে শেষ হয়েছে?
তাঁর ওয়াদা কি পুরুষানুক্রমে বিফল থাকবে?
9
আল্লাহ্ কি প্রসন্ন থাকতে ভুলে গেছেন
তিনি ক্রোধে কি তাঁর করুণা রুদ্ধ
করেছেন? [সেলা।]
10
পরে আমি বললাম, এটাই আমার দুঃখ যে,
সর্বশক্তিমানের ডান হাতখানা বদলে গেছে।
11
আমি মাবুদের সমস্ত কাজ উল্লেখ করবো;
তোমার পূর্বকালীন অলৌকিক সমস্ত কাজ স্মরণ করবো।
12
আমি তোমার সমস্ত কাজ ধ্যানও করবো,
তোমার সমস্ত কাজ আলোচনা করবো।
13
হে আল্লাহ্, পবিত্রতায় তোমার পথ;
আল্লাহ্র মত মহান আল্লাহ্ কে?
14
তুমিই সেই আল্লাহ্ যিনি অলৌকিক কাজ করে থাকেন,
তুমি জাতিদের মধ্যে তোমার পরাক্রম প্রকাশ করেছ।
15
তুমি বাহুবল দ্বারা তোমার লোকদের,
ইয়াকুবের ও ইউসুফের সন্তানদেরকে, মুক্ত করেছ। [সেলা।]
16
হে আল্লাহ্, জলরাশি তোমাকে দেখলো;
জলরাশি তোমাকে দেখে কেঁপে উঠলো,
সমস্ত জলধিও বিচলিত হল।
17
মেঘমালা পানির ধারা বর্ষণ করলো,
আসমান গর্জন করলো,
তোমার তীরগুলো চারদিকে চমকাতে লাগল।
18
ঘূর্ণিবাতাসে তোমার বজ্রের ধ্বনি হল,
বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করলো,
দুনিয়া কেঁপে উঠলো ও দুলতে লাগল।
19
সমুদ্রের মধ্যে তোমার পথ ছিল,
বহু জলরাশির মধ্যে তোমার পথ ছিল,
তোমার পদচিহ্ন জানা গেল না।
20
তুমি নিজের লোকদেরকে ভেড়ার পালের মত
মূসা ও হারুনের হাত দিয়ে চালিয়েছিলে।
1
আসফের মস্কীল।
হে আমার স্বজাতি, আমার উপদেশ শোন,
আমার মুখের কথায় কান দাও।
2
আমি দৃষ্টান্তকথায় আমার মুখ খুলব,
আমি পুরাকালের গুপ্ত বিষয়গুলো ব্যক্ত করবো;
3
সেসব আমরা শুনেছি, আর জেনেছি,
আমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাদের বলেছেন,
4
আমরা সেগুলো তাদের সন্তানদের কাছে গুপ্ত রাখবো না,
পরবর্তী বংশের কাছে মাবুদের প্রশংসা বর্ণনা করবো,
তাঁর পরাক্রম ও তাঁর কৃত অলৌকিক সমস্ত কাজ বর্ণনা করবো।
5
তিনি ইয়াকুবের মধ্যে সাক্ষ্য দাঁড় করিয়েছেন,
ইসরাইলের মধ্যে শরীয়ত স্থাপন করেছেন;
যা তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে হুকুম দিয়েছিলেন,
যেন তাঁরা নিজ নিজ সন্তানদের তা জানান;
6
যেন উত্তরকালীন বংশ তা জানতে পারে,
এবং উঠে নিজ নিজ সন্তানদের কাছে তা বর্ণনা করতে পারে।
7
যেন তারা আল্লাহ্র উপরে প্রত্যাশা রাখে,
এবং আল্লাহ্র সমস্ত কাজ ভুলে না যায়,
কিন্তু তাঁর সমস্ত হুকুম পালন করে;
8
যেন তাদের পূর্বপুরুষদের মত না হয়,
যারা অবাধ্য ও বিদ্রোহী বংশ ছিল;
সেই বংশ নিজেদের অন্তর স্থির করে নি,
তাদের রূহ্ আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না।
9
আফরাহীমের সন্তানেরা যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত ও তীরন্দাজ ছিল,
যুদ্ধের দিনে তারা পিছু হটে গেল।
10
তারা আল্লাহ্র নিয়ম পালন করলো না,
তাঁর শরীয়তের পথে চলতে অস্বীকার করলো।
11
তারা তাঁর সমস্ত কাজ ভুলে গেল,
সেসব অলৌকিক কাজ, যা তিনি তাদেরকে দেখিয়েছিলেন।
12
তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের সাক্ষাতে নানা অলৌকিক কাজ করেছিলেন।
মিসর দেশে, সোয়নের মাঠে করেছিলেন।
13
তিনি সমুদ্রকে বিভক্ত করে তাদেরকে পার করিয়েছিলেন,
পানিকে স্তূপাকারে দাঁড় করিয়েছিলেন।
14
তিনি তাদেরকে পথ দেখাতেন, দিনে মেঘ দ্বারা,
এবং সমস্ত রাত আগুনের আলো দ্বারা।
15
তিনি মরুভূমির মধ্যে শৈল বিদীর্ণ করলেন,
তাদেরকে যেন জলধি থেকে প্রচুর পানি পান করালেন।
16
তিনি শৈল থেকে স্রোত বের করলেন,
নদীর মত পানি বহালেন।
17
তখনও তারা বারে বারে তাঁর বিরুদ্ধে গুনাহ্ করলো,
মরুভূমিতে সর্বশক্তিমানের বিদ্রোহী হল;
18
তারা মনে মনে আল্লাহ্র পরীক্ষা করলো,
নিজেদের অভিলাষ পূরণ করার জন্য খাদ্য চাইল।
19
আর তারা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কথা বললো,
বললো, আল্লাহ্ কি মরুভূমিতে টেবিল সাজিয়ে দিতে পারেন?
20
দেখ, তিনি শৈলকে আঘাত করলে পানির স্রোত বইল,
স্রোতধারা প্রবাহিত হল;
তিনি কি অন্নও দিতে পারেন?
তাঁর লোকদের জন্য কি গোশ্ত যোগাবেন?
21
অতএব মাবুদ তা শুনে ক্রুদ্ধ হলেন;
ইয়াকুবের বিরুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত হল,
ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাঁর গজব জেগে উঠল;
22
কেননা আল্লাহ্র উপরে তাদের ঈমান ছিল না,
তাঁর উদ্ধারের শক্তিতে নির্ভর করতো না।
23
তবু তিনি উপরিস্থ মেঘমালাকে হুকুম দিলেন,
আসমানের সমস্ত দরজা খুলে দিলেন।
24
তিনি খাদ্যের জন্য তাদের উপরে মান্না বর্ষণ করলেন,
তাদেরকে বেহেশতের শস্য দিলেন।
25
মানুষ ফেরেশতাদের খাদ্য ভোজন করলো;
তিনি তাদের তৃপ্তি পর্যন্ত খাদ্য পাঠালেন।
26
তিনি আসমানে পূর্বীয় বায়ু বহালেন,
নিজের পরাক্রমে দখিনা বায়ু চালালেন।
27
তিনি তাদের উপরে মাংসকে ধূলিকণার মত,
পাখাওয়ালা পাখিগুলো সমুদ্রের বালির মত বর্ষণ করলেন।
28
তিনি তা তাদের শিবিরের মধ্যে,
তাদের আবাসগুলোর চারপাশে, পড়তে দিলেন।
29
তখন তারা ভোজন করে পরিতৃপ্ত হল;
তিনি তাদের অভীষ্ট বস্তু তাদেরকে দিলেন;
30
তারা নিজেদের অভীষ্ট দ্রব্য ছাড়ে নি,
তাদের খাদ্য তাদের মুখেই ছিল,
31
তখন তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্র ক্রোধ উঠলো,
তা তাদের হৃষ্টপুষ্টদেরকে সংহার করলো,
ইসরাইলের যুবকদেরকে সংহার করলো।
32
এ সব হলেও তারা পুনর্বার গুনাহ্ করলো,
ও তাঁর অলৌকিক কাজে বিশ্বাস করলো না।
33
অতএব তিনি তাদের আয়ু অসারতায়,
তাদের সমস্ত বছর বিহ্বলতায় শেষ করলেন।
34
তিনি লোকদেরকে হত্যা করলে তারা তাঁর অনুসন্ধান করলো,
ফিরে সযত্নে আল্লাহ্র খোঁজ করলো;
35
তাদের স্মরণ হল, আল্লাহ্ তাদের শৈল,
সর্বশক্তিমান তাদের মুক্তিদাতা।
36
কিন্তু তারা মুখে তাঁর তোষামোদ করলো,
জিহ্বাতে তাঁর কাছে মিথ্যা বললো;
37
কারণ তাদের হৃদয় তাঁর প্রতি স্থির ছিল না,
তারা তাঁর নিয়মেও বিশ্বস্ত ছিল না।
38
কিন্তু তিনি স্নেহময়, তাই অপরাধ মাফ করলেন, ধ্বংস করলেন না,
অনেকবার তাঁর ক্রোধ সম্বরণ করলেন,
আপনার সমস্ত ক্রোধ উদ্দীপিত করলেন না।
39
তিনি স্মরণ করলেন যে, তারা মাংসমাত্র, বায়ুস্বরূপ,
যা বয়ে গেলে আর ফিরে আসে না।
40
তারা মরুভূমিতে কতবার তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো,
মরুভূমিতে কতবার তাঁকে দুঃখ দিল।
41
তারা ফিরে আল্লাহ্র পরীক্ষা করলো,
ইসরাইলের পবিত্রতমকে অসন্তুষ্ট করলো।
42
তারা তাঁর ক্ষমতার কথা স্মরণ করলো না,
সেই দিনকে স্মরণ করলো না, যেদিন তিনি তাদের
বিপক্ষের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন।
43
তিনি মিসরে তাঁর সমস্ত চিহ্ন-কাজ,
সোয়নের মাঠে তাঁর অদ্ভুত সমস্ত লক্ষণ, স্থাপন করলেন।
44
তিনি রক্তে পরিণত করলেন তাদের সমস্ত নদী, তাদের প্রবাহগুলো,
তাই তারা পানি পান করতে পারল না।
45
তিনি তাদের মধ্যে গ্রাসকারী ডাঁশ মাছি,
ও বিনাশকারী ভেক প্রেরণ করলেন।
46
তিনি গুটিপোকাকে তাদের ভূমির দ্রব্য,
পঙ্গপালকে তাদের শ্রমফল দিলেন।
47
তিনি শিলা দ্বারা তাদের আঙ্গুরলতা,
তুষারপাতে তাদের ডুমুর গাছ বিনষ্ট করলেন।
48
তিনি তাদের পশুগুলোকে শিলাতে,
পালগুলোকে বজ্রের আঘাতের হাতে তুলে দিলেন।
49
তিনি তাদের বিরুদ্ধে পাঠালেন
তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ, কোপ ও রোষ ও সঙ্কট,
অমঙ্গলের এই ফেরেশতার দল।
50
তিনি নিজের ক্রোধের জন্য পথ করলেন,
মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ রক্ষা করেন নি;
কিন্তু তাদের জীবন মহামারীর হাতে দিলেন।
51
তিনি আঘাত করলেন মিসরে সমস্ত প্রথমজাতকে,
হামের তাঁবুগুলোতে তাদের শক্তির প্রথম ফলকে;
52
কিন্তু তাঁর লোকদের ভেড়ার মত চালালেন,
পালের মত মরুভূমি দিয়ে নিয়ে আসলেন।
53
তিনি তাদেরকে নিরাপদে নিয়ে আসলেন, তারা ভয় পেল না,
কিন্তু সমুদ্র তাদের দুশমনদেরকে আচ্ছাদন করলো।
54
আর তিনি তাদেরকে আনলেন, তাঁর পবিত্র সীমায়,
তাঁর ডান হাত দিয়ে জয় করা এই পর্বতে।
55
তিনি তাদের সম্মুখ থেকে জাতিদেরকে দূর করলেন,
মানরজ্জু দিয়ে অধিকার ভাগ করে তাদের দিলেন,
ইসরাইলের বংশদের ওদের তাঁবুতে বাস করালেন।
56
তবুও তারা সর্বশক্তিমানের পরীক্ষা করলো,
তাঁর বিদ্রোহী হল, তাঁর সমস্ত নির্দেশ পালন করলো না।
57
তারা সরে গেল, তাদের পূর্বপুরুষদের মত বেঈমানী করলো;
তারা বেয়াড়া ধনুকের মত বেঁকে রইল।
58
কারণ তারা নিজেদের উচ্চস্থলীগুলোর দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলো,
নিজেদের খোদাই-করা মূর্তিগুলো দ্বারা তাঁর অন্তর্জ্বালা জন্মাল।
59
আল্লাহ্ তা শুনে ক্রুদ্ধ হলেন,
ইসরাইলকে সমপূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করলেন।
60
তিনি শীলোস্থিত আবাস ত্যাগ করলেন,
সেই তাঁবু, যা তিনি মানুষের মধ্যে স্থাপন করেছিলেন।
61
তিনি তাঁর বল বন্দীদশায়,
তাঁর শোভা বিপক্ষের হাতে দিলেন।
62
তিনি তাঁর লোকদেরকে তলোয়ারের হস্তগত করলেন,
তাঁর অধিকারের উপর উপর গজব নাজেল হল।
63
আগুন তাদের যুবকদেরকে গ্রাস করলো,
তাদের কন্যাদের পরিণয়-সঙ্গীত হল না।
64
তাদের ইমামেরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়লো,
তাদের বিধবারা কান্নাকাটি করলো না।
65
তখন প্রভু জাগলেন, ঘুম থেকে জেগে উঠবার মত,
আঙ্গুর-রসের কারণে আনন্দে চিৎকার করা বীরের মত।
66
তিনি তাঁর বিপক্ষ লোকদেরকে মেরে ফিরিয়ে দিলেন,
তাদেরকে চিরকালীন তিরস্কারের পাত্র করলেন।
67
আর তিনি ইউসুফের তাঁবু অগ্রাহ্য করলেন,
আফরাহীমের বংশকে মনোনীত করলেন না;
68
কিন্তু মনোনীত করলেন এহুদার বংশকে,
ও তাঁর প্রিয় সিয়োন পর্বতকে।
69
তিনি তাঁর এবাদতখানা নির্মাণ করলেন,
উঁচু আসমানের মত, দুনিয়ার মত,
যা তিনি চিরতরে স্থাপন করেছেন।
70
তিনি তাঁর গোলাম দাউদকে মনোনীত করলেন,
তাঁকে ভেড়ার খোঁয়াড় থেকে গ্রহণ করলেন;
71
তিনি দুধ দেওয়া ভেড়ীগুলোর পিছন থেকে তাঁকে আনলেন,
তাঁর লোক ইয়াকুবকে ও তাঁর অধিকার ইসরাইলকে চরাতে দিলেন।
72
আর উনি হৃদয়ের সিদ্ধতানুসারে তাদের চরালেন,
তাঁর দক্ষ হাতে তাদেরকে চালালেন।
1
আসফের কাওয়ালী।
হে আল্লাহ্, জাতিরা তোমার অধিকারে প্রবেশ করেছে,
তারা তোমার পবিত্র এবাদতখানা নাপাক করেছে,
জেরুশালেমকে ধ্বংসের স্তূপ করেছে।
2
তারা তোমার গোলামদের লাশ আসমানের পাখিদেরকে ভোজন করতে দিয়েছে,
তোমার সাধুদের মাংস দুনিয়ার পশুদেরকে দিয়েছে।
3
তারা জেরুশালেমের চারদিকে পানির মত ওদের রক্ত ঢেলেছে;
ওদের কবর দেবার কেউ ছিল না।
4
আমরা প্রতিবেশীদের কাছে তিরস্কারের বিষয় হয়েছি,
চারদিকে লোকদের কাছে হাসির ও বিদ্রূপের পাত্র হয়েছি।
5
হে মাবুদ, আর কতকাল তুমি নিরন্তর ক্রুদ্ধ থাকবে?
তোমার অন্তর্জ্বালা কি আগুনের মত জ্বলবে?
6
ঢেলে দাও তোমার গজব সেই জাতিদের উপরে,
যারা তোমাকে জানে না, সেই রাজ্যগুলোর উপরে,
যারা তোমার নামে ডাকে না।
7
কেননা তারা ইয়াকুবকে গ্রাস করেছে,
তার বাসস্থান শূন্য করেছে।
8
পূর্বপুরুষদের অপরাধগুলো আমাদের বিরুদ্ধে স্মরণ করো না;
তোমার বিবিধ করুণা ত্বরায় আমাদের কাছে আসুক,
কেননা আমরা অতিশয় হীনবল হয়েছি।
9
হে আমাদের উদ্ধারের আল্লাহ্, তোমার নামের গৌরবার্থে
আমাদের সাহায্য কর, তোমার নামের অনুরোধে
আমাদের উদ্ধার কর, আমাদের সকল গুনাহ্ মার্জনা কর।
10
জাতিরা কেন বলবে, ওদের আল্লাহ্ কোথায়?
তোমার গোলামদের যে রক্তপাত হয়েছে,
তার প্রতিফল আমাদের দৃষ্টিগোচরে জাতিরা জানতে পারুক।
11
বন্দীর হাহাকার তোমার সম্মুখে উপস্থিত হোক,
তুমি তোমার বাহুর মহত্বানুসারে মৃত্যুর সন্তানদের বাঁচাও।
12
আর, হে মালিক, আমাদের প্রতিবেশীরা
যে তিরস্কারে তোমাকে তিরস্কার করেছে,
তার সাত গুণ প্রতিশোধ তাদের কোলে ফিরিয়ে দাও।
13
তাতে তোমার লোক ও তোমার চরাণির ভেড়া যে আমরা,
আমরা চিরকাল তোমার প্রশংসা করবো,
পুরুষানুক্রমে তোমার প্রশংসা তবলিগ করবো।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, শোশন্নীম্ এদূৎ। আসফের কাওয়ালী।
হে ইসরাইলের পালক, কান দাও,
ইউসুফকে ভেড়ার পালের মত চালাও যে তুমি,
কারুবীদ্বয়ে আসীন যে তুমি, তুমি দেদীপ্যমান হও।
2
আফরাহীম, বিন্ইয়ামীন ও মানশার সম্মুখে নিজের পরাক্রম সতেজ কর,
আমাদের উদ্ধার করতে আগমন কর।
3
হে আল্লাহ্, আমাদেরকে ফিরাও,
তোমার মুখ উজ্জ্বল কর, তাতে আমরা উদ্ধার পাব।
4
হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্,
তুমি নিজের লোকদের মুনাজাতের বিরুদ্ধে কতকাল ক্রুদ্ধ থাকবে?
5
তুমি খাবার হিসেবে তাদেরকে চোখের পানি দিয়েছ,
বহুল পরিমাণে চোখের পানি পান করিয়েছ।
6
তুমি প্রতিবেশীদের মধ্যে আমাদেরকে বিবাদের পাত্র করছো,
আমাদের দুশমনেরা একযোগে পরিহাস করে।
7
হে বাহিনীগণের আল্লাহ্, আমাদেরকে ফিরাও,
তোমার মুখ উজ্জ্বল কর, তাতে আমরা নিস্তার পাব।
8
তুমি মিসর থেকে একটি আঙ্গুরলতা এনেছিলে,
জাতিদের দূর করে তা রোপণ করেছিলে।
9
তুমি তার জন্য ভূমি পরিষ্কার করেছিলে,
তা বদ্ধমূল হয়ে দেশময় ব্যাপ্ত হল।
10
তার ছায়ায় পর্বতমালা ঢাকা পড়ে গেল,
তার সমস্ত শাখা শক্তিশালী এরস গাছগুলোকে ঢেকে ফেললো।
11
তা সমুদ্র পর্যন্ত নিজের তরুশাখা,
নদী পর্যন্ত নিজের শিকড় বিস্তার করলো।
12
তুমি কেন তার বেড়া ভেঙ্গে ফেললে?
যে সব পথিক তার পাশ দিয়ে যায় তারাই যে তার ফল ছেঁড়ে।
13
বন থেকে শূকর এসে তা ছারখার করে,
মাঠের পশু তা মুড়িয়ে খেয়ে ফেলে।
14
আরজ করি, আবার ফির, হে বাহিনীগণের আল্লাহ্,
বেহেশত থেকে চেয়ে দেখ, এই আঙ্গুরলতার তত্ত্ব কর;
15
তোমার ডান হাত দিয়ে যে চারা রোপন করেছ, সেই চারার তত্ত্ব কর।
16
তা আগুনে পুড়ে গেছে, তা কেটে ফেলা হয়েছে;
তোমার মুখের ভর্ৎসনায় লোক বিনষ্ট হচ্ছে।
17
তোমার হাতখানা তোমার ডান হাতের মানুষের উপরে,
তোমার কাজের জন্য যাকে সবল করেছ, তার উপরে থাকুক।
18
তাতে আমরা তোমা থেকে ফিরে যাব না;
তুমি আমাদের সঞ্জীবিত কর, আমরা তোমার নামে ডাকব।
19
হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, আমাদের ফিরাও;
তোমার মুখ উজ্জ্বল কর, তাতে আমরা নিস্তার পাব।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, গিত্তীৎ। আসফের।
তোমরা আমাদের বলস্বরূপ আল্লাহ্র উদ্দেশে আনন্দধ্বনি কর,
ইয়াকুবের আল্লাহ্র উদ্দেশে জয়ধ্বনি কর।
2
শুরু কর কাওয়ালী, বাজাও তম্বুরা
বাজাও নেবল সহকারে মনোহর বীণা।
3
বাজাও তূরী অমাবস্যায়, বাজাও পূর্ণিমায়,
আমাদের উৎসব দিনে।
4
কেননা তা ইসরাইলের বিধি,
ইয়াকুবের আল্লাহ্র শাসন।
5
তিনি ইউসুফের মধ্যে এই সাক্ষ্য স্থাপন করলেন,
যখন তিনি মিসর দেশের বিরুদ্ধে বের হন;
আমি একটি বাণী শুনলাম, যা জানতাম না।
6
‘আমি ওর স্কন্ধকে ভারমুক্ত করলাম,
ওর হাত ঝুড়ি থেকে নিষ্কৃতি পেল।
7
তুমি সঙ্কটে ডাকলে আমি তোমাকে উদ্ধার করলাম;
আমি বজ্রের অন্তরালে তোমাকে উত্তর দিলাম,
মরীবার পানির কাছে তোমার পরীক্ষা করলাম। [সেলা।]
8
হে আমার লোকবৃন্দ, শোন, আমি তোমার কাছে সাক্ষ্য দেব;
হে ইসরাইল, তুমি যদি আমার কথা শোন!
9
তোমার মধ্যে বিদেশী কোন দেবতা থাকবে না।
তুমি কোন বিজাতীয় দেবতার কাছে সেজ্দা করবে না।
10
আমিই মাবুদ তোমার আল্লাহ্,
আমি তোমাকে মিসর দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছি,
তোমার মুখ খুলে হ্যাঁ কর, আমি তা পূর্ণ করবো।
11
কিন্তু আমার লোকেরা আমার কথা শুনলো না,
ইসরাইল আমাকে চাইল না।
12
তাই আমি তাদেরকে তাদের হৃদয়ের কঠিনতায় ছেড়ে দিলাম;
তারা নিজেদের মন্ত্রণায় চললো।
13
আহা, যদি আমার লোকেরা আমার কথা শুনতো,
যদি ইসরাইল আমার পথে চলতো!
14
তা হলে আমি তাদের দুশমনদেরকে ত্বরায় দমন করবো,
তাদের বিপক্ষদের প্রতিকূলে নিজের হাত ফিরাব।
15
মাবুদের বিদ্বেষীরা তাঁর কর্তৃত্ব স্বীকার করবে;
কিন্তু এদের শাস্তি চিরকাল থাকবে।
16
তিনি এদেরকে উৎকৃষ্ট গম ভোজন করাবেন;
আমি শৈলস্থ মধু দ্বারা তোমাকে তৃপ্ত করব।’
1
আসফের কাওয়ালী।
আল্লাহ্ বেহেশতী সভায় তাঁর স্থান গ্রহণ করেছেন,
তিনি দেবতাদের মধ্যে বিচার করেন।
2
তোমরা কতকাল অন্যায় বিচার করবে,
ও দুষ্টলোকদের পক্ষপাতিত্ব করবে?
[সেলা।]
3
দীনহীন ও এতিম লোকদের বিচার কর;
দুঃখী ও নিপীড়িতদের প্রতি মত ব্যবহার কর।
4
দীনহীন ও দরিদ্রকে নিস্তার কর;
দুষ্ট লোকদের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার কর।
5
ওরা জানে না, বোঝে না, ওরা অন্ধকারে বিচরণ করে;
দুনিয়ার সমস্ত ভিত্তিমূল টলটলায়মান হচ্ছে।
6
আমিই বলেছি, তোমরা দেবতা,
তোমরা সকলে সর্বশক্তিমানের সন্তান;
7
কিন্তু তোমরা মানুষের মত মরবে,
অন্যান্য শাসনকর্তাদের মতই তোমাদের পতন হবে।
8
হে আল্লাহ্, উঠ, দুনিয়ার বিচার কর;
কারণ তুমিই সব জাতিকে অধিকার করবে।
1
গজল। আসফের কাওয়ালী।
হে আল্লাহ্, মৌন থেকো না;
হে আল্লাহ্, নীরব ও নিস্তব্ধ হয়ো না।
2
কেননা, দেখ, তোমার দুশমনেরা গর্জন করছে,
তোমার বিদ্বেষীরা মাথা তুলেছে।
3
তারা তোমার লোকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে,
তোমার সুরক্ষিতদের বিরুদ্ধে পরসপর মন্ত্রণা করছে।
4
তারা বলেছে, এসো, আমরা ওদেরকে উচ্ছিন্ন করি,
আর জাতি থাকতে না দিই,
যেন ইসরাইলের নাম আর স্মরণে না থাকে।
5
কারণ তারা একচিত্তে মন্ত্রণা করেছে;
তারা তোমার বিরুদ্ধে নিয়ম স্থাপন করে।
6
ইদোমের সমস্ত তাঁবু ও ইসমাইলীয়রা,
মোয়াবীয়রা ও হাজেরীয়রা,
7
গবাল, অম্মোন ও আমালেক,
টায়ার-বাসীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনীরা;
8
আসিরিয়রাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে,
তারা লূত-সন্তানদের বাহু হয়েছে।
[সেলা।]
9
এদের প্রতি তদ্রূপ কর,
যেরূপ মাদিয়ানের প্রতি করেছিলে,
কীশোন নদীতে যেরূপ সীষরার ও যাবীনের প্রতি করেছিলে;
10
তারা ঐন্দোরে বিনষ্ট হল,
ভূমির উপরে সারস্বরূপ হল।
11
তুমি এদের প্রধানবর্গকে ওরেব ও সেবের সমান কর,
এদের অধিপতি সকলকে সেবহ ও সল্মুন্নের সমান কর।
12
এরা বলেছে, এসো,
আমরা নিজেদের জন্য আল্লাহ্র নিবাসগুলো অধিকার করে নেই।
13
হে আমার আল্লাহ্, তুমি এদেরকে ঘূর্ণায়মান ধূলিকণার মত কর,
বায়ুর সম্মুখস্থ শুকনো ঘাসের মত কর।
14
যেমন দাবানল বন দগ্ধ করে,
যেমন আগুনের শিখা পর্বতরাজি লেহন করে;
15
তদ্রূপ তুমি এদেরকে তোমার ঝটিকায় তাড়না কর,
তোমার প্রচণ্ড ঝড় দিয়ে ভীষণ ভয় দেখাও।
16
তুমি এদের মুখ লজ্জায় পরিপূর্ণ কর,
যাতে হে মাবুদ, এরা তোমার নামের খোঁজ করে।
17
এরা চিরতরে লজ্জিত হোক ও ভীষণ ভয় পাক,
এরা হতাশ ও বিনষ্ট হোক;
18
আর জানুক যে তুমি, যাঁর নাম মাবুদ,
একা তুমি সমস্ত দুনিয়ার উপরে সর্বশক্তিমান।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, গিত্তীৎ। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী।
হে বাহিনীগণের মাবুদ,
তোমার আবাস কেমন প্রিয়!
2
আমার প্রাণ মাবুদের প্রাঙ্গণের জন্য আকাঙ্খা করে, এমন কি, মূর্চ্ছিত হয়,
আমার হৃদয় ও আমার মাংস জীবন্ত আল্লাহ্র উদ্দেশে উচ্চধ্বনি করে।
3
সত্যি, চটকপাখি একটি বাসা পেয়েছে,
খঞ্জনপাখি নিজের বাচ্চা রাখার একটি আশ্রয় পেয়েছে;
তোমার কোরবানগাহ্ই সেই স্থান,
হে বাহিনীগণের মাবুদ, আমার বাদশাহ্, আমার আল্লাহ্।
4
সুখী তারা, যারা তোমার বাড়িতে বাস করে,
তারা সতত তোমার প্রশংসা করবে। [সেলা।]
5
সুখী সেই ব্যক্তি, যার বল তোমাতে,
সিয়োনগামী রাজপথ যার হৃদয়ে রয়েছে।
6
তারা বাকা-উপত্যকা দিয়ে গমন করে,
তারা তা ফোয়ারায় পরিণত করে;
প্রথম বৃষ্টি তা বিবিধ মঙ্গলে ভূষিত করে।
7
তারা উত্তরোত্তর বলবান হয়ে অগ্রসর হয়,
প্রত্যেকে সিয়োনে আল্লাহ্র কাছে দেখা দেয়।
8
হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, আমার মুনাজাত শোন;
হে ইয়াকুবের আল্লাহ্, কান দাও।
[সেলা।]
9
দেখ, হে আল্লাহ্, আমাদের ঢাল,
দৃষ্টিপাত কর তোমার অভিষিক্ত লোকের মুখের প্রতি।
10
কেননা তোমার প্রাঙ্গণে একদিনও হাজার দিনের চেয়ে উত্তম;
বরং আমার আল্লাহ্র গৃহের গোবরাটে দাঁড়িয়ে থাকা আমার বাঞ্ছনীয়,
তবু নাফরমানীর তাঁবুতে বাস করা বাঞ্ছনীয় নয়।
11
কারণ মাবুদ আল্লাহ্ সূর্য ও ঢাল;
মাবুদ রহমত ও মহিমা প্রদান করেন;
যারা সৎ পথে চলে,
তিনি তাদের মঙ্গল করতে অস্বীকার করবেন না।
12
হে বাহিনীগণের মাবুদ, সুখী সেই ব্যক্তি,
যে তোমার উপরে নির্ভর করে।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, তুমি তোমার দেশের প্রতি খুশি হয়েছ,
তুমি ইয়াকুবের বন্দীদশা ফিরিয়েছ।
2
তুমি নিজের লোকদের অপরাধ মাফ করেছ,
তুমি তাদের সমস্ত গুনাহ্ আচ্ছাদন করেছ। [সেলা।]
3
তুমি তোমার সমস্ত ক্রোধ সম্বরণ করেছ,
তুমি নিজের কোপের প্রচণ্ডতা থেকে ফিরিয়েছ।
4
হে আমাদের উদ্ধারের আল্লাহ্, আমাদেরকে ফিরাও,
আমাদের প্রতি তোমার অসন্তোষ নিবৃত্ত কর।
5
আমাদের উপরে কি চিরকাল ক্রুদ্ধ থাকবে?
তুমি কি বংশ পরম্পরায় ক্রোধ রাখবে?
6
তুমিই কি আবার আমাদের সঞ্জীবিত করবে না,
যেন তোমার লোকেরা তোমাতে আনন্দ করে?
7
হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত আমাদেরকে দেখাও,
আর তোমার উদ্ধার আমাদের প্রদান কর।
8
আল্লাহ্ মাবুদ যা বলবেন, আমি তা শোনব;
কেননা তিনি তাঁর লোকদের,
তাঁর বিশ্বস্ত লোকদের কাছে শান্তির কথা বলবেন;
কিন্তু তারা যেন পুনর্বার মূর্খতায় ফিরে না যায়।
9
সত্যিই তাঁর উদ্ধার তাদেরই নিকটবর্তী,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
যেন আমাদের দেশে গৌরব বাস করতে পায়।
10
অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা পরসপর মিলিত হল,
ধার্মিকতা ও শান্তি পরসপর চুম্বন করলো।
11
ভূমি থেকে সত্যের অঙ্কুর উঠে,
বেহেশত থেকে ধার্মিকতা হেঁট হয়ে দৃষ্টিপাত করেছে।
12
নিশ্চয় মাবুদ মঙ্গল প্রদান করবেন,
আর আমাদের দেশ ফল প্রদান করবে।
13
ধার্মিকতা তাঁর আগে আগে চলবে,
তাঁর পদক্ষেপের জন্য পথ প্রস্তুত করবে।
2
দাউদের মুনাজাত।
হে মাবুদ, আমার মুনাজাতে কান দাও,
আমাকে উত্তর দাও, কেননা আমি দুঃখী ও দরিদ্র।
আমার প্রাণ রক্ষা কর, কেননা আমি তোমার ভক্ত;
হে আমার আল্লাহ্, তোমাতে নির্ভরকারী তোমার গোলামকে তুমিই উদ্ধার কর।
3
হে মালিক, আমার প্রতি রহম কর,
কেননা আমি সমস্ত দিন তোমাকে ডাকি।
4
নিজের গোলামের প্রাণ আনন্দিত কর,
কেননা, হে মালিক, আমি তোমার উদ্দেশে আমার প্রাণ কোরবানী করি।
5
কারণ, হে মালিক, তুমি মঙ্গলময় ও ক্ষমাবান,
এবং যারা তোমাকে ডাকে,
তুমি সেই সবের পক্ষে অটল মহব্বতে মহান।
6
হে মাবুদ, আমার মুনাজাতে কান দাও,
আমার বিনতি শোন।
7
সঙ্কটের দিনে আমি তোমাকে আহ্বান করবো,
কেননা তুমি আমাকে উত্তর দেবে।
8
হে মালিক, দেবতাদের মধ্যে তোমার মত কেউই নেই,
তোমার কাজের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না।
9
হে মালিক, তোমার সৃষ্ট সর্বজাতি এসে তোমার সম্মুখে সেজ্দা করবে,
তারা তোমার নামের গৌরব করবে।
10
কারণ তুমি মহান এবং অলৌকিক কাজ সম্পাদনকারী;
তুমিই একমাত্র আল্লাহ্।
11
হে মাবুদ, তোমার পথ আমাকে শিক্ষা দাও,
আমি তোমার সত্যে চলবো;
তোমার নামে ভয় করতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।
12
হে মালিক, আমার আল্লাহ্,
আমি সর্বান্তঃকরণে তোমার প্রশংসা করবো,
আমি চিরকাল তোমার নামের গৌরব করবো।
13
কেননা আমার পক্ষে তোমার অটল মহব্বত মহৎ,
এবং তুমি অধঃস্থ পাতাল থেকে আমার প্রাণ উদ্ধার করেছ।
14
হে আল্লাহ্, অহঙ্কারীরা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে,
দুর্দান্ত লোকদের মণ্ডলী আমার প্রাণের খোঁজ করছে,
তারা তোমাকে নিজেদের সম্মুখে রাখে নি।
15
কিন্তু, হে মালিক, তুমি স্নেহশীল ও কৃপাময় আল্লাহ্,
ক্রোধে ধীর এবং অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততায় মহান।
16
আমার প্রতি দৃষ্টি দাও এবং আমাকে রহম কর,
তোমার গোলামকে তোমার শক্তি দাও,
তোমার বাঁদীর পুত্রকে উদ্ধার কর।
17
আমার জন্য মঙ্গলের কোন চিহ্ন-কাজ সাধন কর,
যেন আমার বিদ্বেষীরা তা দেখে লজ্জা পায়,
কেননা, হে মাবুদ, তুমিই আমার সাহায্য করেছ,
ও আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছ।
1
কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী। গজল।
তাঁর ভিত্তিমূল পবিত্র পর্বত-শ্রেণীতে অবস্থিত।
2
মাবুদ সিয়োনের তোরণদ্বারগুলো ভালবাসেন,
ইয়াকুবের সমস্ত আবাসের চেয়ে বেশি ভালবাসেন।
3
হে আল্লাহ্র পুরি, তোমার বিষয়ে বিবিধ গৌরবের কথা কথিত হয়।
[সেলা।]
4
যারা আমাকে জানে,
তাদের মধ্যে আমি রহবের ও ব্যাবিলনের উল্লেখ করবো;
দেখ, পলেষ্টিয়া, টায়ার ও ইথিওপিয়া;
এই ব্যক্তি সেখানে জন্মগ্রহণ করলো।
5
আর সিয়োনের বিষয়ে বলা যাবে,
এই ব্যক্তি এবং ঐ ব্যক্তি ওর মধ্যে জন্মগ্রহণ করলো,
এবং সর্বশক্তিমান নিজেই সেটি অটল করবেন।
6
মাবুদ যখন জাতিদের নাম লেখেন, তখন গণনা করলেন,
এই ব্যক্তি সেখানে জন্মগ্রহণ করলো।
[সেলা।]
7
গায়কেরা ও নর্তকেরা বলবে,
আমার সমস্ত ফোয়ারা তোমার মধ্যে।
1
গজল। কারুন-সন্তানদের কাওয়ালী। প্রধান বাদ্যকরের জন্য। স্বর, মহলৎ-লিয়ান্নোৎ। ইষ্রাহীয় হেমনের মস্কীল।
হে মাবুদ, আমার উদ্ধারের আল্লাহ্,
আমি দিনে ও রাতে তোমার সম্মুখে কান্নাকাটি করেছি।
2
আমার মুনাজাত তোমার সাক্ষাতে উপস্থিত হোক;
আমার কাতরোক্তিতে কান দাও।
3
কেননা আমার প্রাণ দুঃখে পরিপূর্ণ,
আমার জীবন পাতালের নিকটবর্তী।
4
যারা কবরে নেমে যায় আমি তাদের সঙ্গে গণিত,
আমি শক্তিহীন মানুষের সমান হয়েছি।
5
আমি মৃতদের মধ্যে পরিত্যক্ত,
আমি কবরে শায়িত নিহতদের মত,
যাদেরকে তুমি আর স্মরণ কর না;
তারা তোমার হাত থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
6
তুমি আমাকে নিম্নতম গর্তে রেখেছ,
অন্ধকারে ও গভীর স্থানে রেখেছ।
7
আমার উপরে তোমার ক্রোধ চেপে আছে,
তুমি তোমার সমস্ত তরঙ্গ দ্বারা আমাকে দুঃখার্ত করেছ। [সেলা।]
8
তুমি আমার আত্মীয়দের আমা থেকে দূরে রেখেছ,
তাদের কাছে আমাকে নিতান্ত ঘৃণার পাত্র করেছ;
আমি অবরুদ্ধ, বাইরে আসতে পারি না।
9
আমার চোখ দুঃখে নিস্তেজ হয়েছে,
আমি প্রতিদিন তোমাকে ডেকেছি,
হে মাবুদ, তোমার দিকে অঞ্জলি প্রসারণ করেছি।
10
তুমি কি মৃতদের পক্ষে আশ্চর্য কাজ করবে?
মৃতরা কি উঠে তোমার প্রশংসা গান করবে? [সেলা।]
11
কবরের মধ্যে কি তোমার অটল মহব্বত,
বিনাশস্থানে কি তোমার বিশ্বস্ততা প্রচারিত হবে?
12
অন্ধকারে কি তোমার অলৌকিক কাজ,
বিস্মৃতির দেশে কি তোমার ধর্মশীলতা জানা যাবে?
13
কিন্তু, হে মাবুদ, আমি তোমার উদ্দেশে আর্তনাদ করেছি,
প্রাতে আমার মুনাজাত তোমার সম্মুখবর্তী হবে।
14
হে মাবুদ, তুমি কেন আমার প্রাণকে পরিত্যাগ করছো?
আমা থেকে কেন তোমার মুখ আড়াল কর?
15
বাল্যকাল থেকে আমি দুঃখী ও মৃতকল্প;
আমি তোমার ত্রাসের ভারে সঙ্কুচিত।
16
তোমার ক্রোধের আগুন আমার উপর দিয়ে গেছে;
তোমার ত্রাস আমাকে উচ্ছেদ করেছে।
17
তা সমস্ত দিন পানির মত আমাকে ঘিরে রেখেছে;
তা একসঙ্গে আমাকে বেষ্টন করেছে।
18
তুমি প্রেমিক ও সুহৃৎকে আমা থেকে দূর করেছ;
অন্ধকারই আমার ঘনিষ্ট সঙ্গী।
1
ইষ্রাহীয় এথনের মস্কীল।
হে মাবুদ, আমি চিরকাল তোমার অটল মহব্বতের গান গাইব,
আমি নিজের মুখে তোমার বিশ্বস্ততা পুরুষ-পরম্পরায় ব্যক্ত করবো।
2
আমি ঘোষণা করি, তোমার অটল মহব্বত চিরতরে সংস্থাপিত হবে,
তোমার বিশ্বস্ততাকে বেহেশতেই তুমি সংস্থাপন করেছ।
3
তুমি বলেছ, ‘আমি নিজের মনোনীত লোকের সঙ্গে নিয়ম করেছি,
নিজের গোলাম দাউদের কাছে এই শপথ করেছি;
4
আমি তোমার বংশকে চিরতরে সংস্থাপিত করবো,
বংশ পরস্পরায় তোমার সিংহাসন গাঁথব।’ [সেলা।]
5
হে মাবুদ, বেহেশত তোমার অলৌকিক কাজের,
পবিত্রগণের সমাজ তোমার বিশ্বস্ততারও প্রশংসা করবে।
6
কেননা আসমানে মাবুদের সঙ্গে কে তুলনীয় হতে পারে?
বীর-পুত্রদের মধ্যেই বা কে মাবুদের মত?
7
আল্লাহ্ পবিত্রগণের সভাতে প্রবল পরাক্রমশালী,
তাঁর চারদিকের সকলের উপরে ভয়াবহ।
8
হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্!
হে মাবুদ, তোমার মত বিক্রমী কে?
আর তোমার বিশ্বস্ততা তোমার চারদিকে বিদ্যমান।
9
তুমিই সাগর-গর্জনের উপরে কর্তৃত্ব করছো,
তার তরঙ্গমালা উঠলে তুমি তা শান্ত করে থাক।
10
তুমিই রহবকে চূর্ণ করে হত ব্যক্তির সমান করেছ,
তুমি নিজের বলবান বাহু দ্বারা তোমার দুশমনদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছ।
11
আসমান তোমার, দুনিয়াও তোমার;
দুনিয়া ও তার সমস্ত বস্তু তোমারই হাতে স্থাপিত।
12
তুমিই উত্তর ও দক্ষিণ দিকের সৃষ্টি করেছ;
তাবোর ও হর্মোণ তোমার নামে আনন্দধ্বনি করে।
13
তোমার বাহু পরাক্রম-বিশিষ্ট,
তোমার হাত শক্তিমান, তোমার ডান হাত সুউচ্চ।
14
ধর্মশীলতা ও ন্যায়বিচার তোমার সিংহাসনের ভিত্তিমূল;
অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা তোমার অগ্রগামী।
15
সুখী সেই লোকেরা, যারা সেই আনন্দধ্বনি জানে,
হে মাবুদ, তারা তোমার উপস্থিতির আলোতে গমনাগমন করে।
16
তারা সমস্ত দিন তোমার নামে উল্লাস করে,
তারা তোমার ধর্মশীলতায় উন্নত হয়;
17
যেহেতু তুমিই তাদের ক্ষমতার শোভা,
আর তোমার অনুগ্রহে আমাদের মাথা উন্নত হবে।
18
কেননা আমাদের ঢাল মাবুদ,
আমাদের বাদশাহ্ ইসরাইলে পবিত্রতম।
19
একবার তুমি নিজের বিশ্বস্ত এক জন গোলামকে দর্শন দিয়ে কথা বলেছিলে,
বলেছিলে, আমি সাহায্য করার ভার এক জন বীরের হাতে তুলে দিয়েছি,
আমি লোকদের মধ্যে মনোনীত এক জনকে উন্নত করেছি।
20
আমার গোলাম দাউদকেই পেয়েছি,
আমার পবিত্র তেলে তাকে অভিষিক্ত করেছি।
21
আমার হাত তার দৃঢ় সহায় হবে,
আমার বাহু তাকে বলবান করবে।
22
দুশমন তার প্রতি জুলুম করতে পারবে না,
নাফরমানীর সন্তান তাকে দুঃখ দিতে পারবে না।
23
আমি তার দুশমনদেরকে তার সম্মুখে চূর্ণ করবো,
তার বিদ্বেষিদেরকে আঘাত করবো।
24
কিন্তু আমার বিশ্বস্ততা ও অটল মহব্বত তার সঙ্গে থাকবে,
আমার নামে তার মাথা উন্নত হবে।
25
আর আমি স্থাপন করবো তার হাত সমুদ্রের উপরে,
তার ডান হাত নদ-নদীর উপরে।
26
সে আমাকে ডেকে বলবে, তুমি আমার পিতা,
আমার আল্লাহ্ ও আমার উদ্ধারের শৈল।
27
আবার আমি তাকে প্রথমজাত করবো,
দুনিয়ার বাদশাহ্দের থেকে সর্বোচ্চ করে নিযুক্ত করবো।
28
আমি তার পক্ষে আমার অটল মহব্বত চিরকাল রক্ষা করবো,
আমার নিয়ম তার পক্ষে স্থির থাকবে।
29
আমি তার বংশকে নিত্যস্থায়ী করবো,
তার সিংহাসন আসমানের আয়ুর মত করবো।
30
তার সন্তানেরা যদি আমার ব্যবস্থা ত্যাগ করে,
ও আমার অনুশাসন অনুসারে না চলে;
31
যদি আমার সমস্ত বিধি লঙ্ঘন করে,
ও আমার সমস্ত হুকুম পালন না করে;
32
তবে আমি অপরাধের জন্য দণ্ড দ্বারা তাদের শাস্তি দেব,
অধর্মের জন্য নানা ভাবে আঘাত করবো;
33
তবুও তা থেকে আমার অটল মহব্বত হরণ করবো না,
আমার বিশ্বস্ততায় মিথ্যা বলবো না।
34
আমি আমার নিয়ম ব্যর্থ করবো না,
আমার মুখনির্গত কালাম অন্যথা করবো না।
35
আমি আমার পবিত্রতায় একবার শপথ করেছি,
দাউদের কাছে কখনও মিথ্যা বলবো না।
36
তার বংশ চিরকাল থাকবে,
তার সিংহাসন আমার সাক্ষাতে সূর্যের মত হবে।
37
তা চাঁদের মত চিরকাল অটল থাকবে;
আকাশের বিশ্বস্ত সাক্ষীর মত থাকবে।
[সেলা।]
38
কিন্তু তুমিই পরিত্যাগ ও অগ্রাহ্য করেছ,
তোমার অভিষিক্ত লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছ।
39
তুমি নিজের গোলামের নিয়ম ঘৃণা করেছ,
তাঁর মুকুট ভূমিতে ফেলে নাপাক করেছ।
40
তুমি তাঁর সমস্ত বেড়া ভেঙ্গে ফেলেছ,
তাঁর সমস্ত দুর্গ ধ্বংস করেছ।
41
পথিকেরা সকলে তাঁর দ্রব্য লুট করে;
তিনি প্রতিবেশীদের তিরস্কারের পাত্র হয়েছেন।
42
তুমি তাঁর বিপক্ষদের ডান হাত উঁচু করেছ,
তাঁর সমস্ত দুশমনকে আনন্দিত করেছ।
43
হ্যাঁ, তুমি তাঁর তলোয়ারের ধার অকার্যকর করেছ,
যুদ্ধে তাঁকে দাঁড়াতে দাও নি।
44
তুমি তাঁকে তেজোহীন করেছ,
তাঁর সিংহাসন ভূমিতে নিক্ষেপ করেছ।
45
তুমি তাঁর যৌবনকাল সংক্ষিপ্ত করেছ।
লজ্জায় তাঁকে আচ্ছন্ন করেছ।
[সেলা।]
46
হে মাবুদ, কত কাল নিত্য লুকিয়ে থাকবে?
কত কাল তোমার ক্রোধ আগুনের মত জ্বলবে?
47
স্মরণ কর, আমি কেমন ক্ষণস্থায়ী;
তুমি মানুষকে কেমন অসারতার জন্য সৃষ্টি করেছ!
48
কোন্ মানুষ জীবিত থাকবে, মৃত্যু দেখবে না,
কে পাতালের হাত থেকে নিজের প্রাণ মুক্ত করবে? [সেলা।]
49
হে মালিক, তোমার সেই পূর্বকালীন অটল মহব্বত কোথায়?
তুমি তো তোমার বিশ্বস্ততায় দাউদের পক্ষে শপথ করেছিলে।
50
হে মালিক, তোমার গোলামদের প্রতি কৃত তিরস্কার স্মরণ কর,
আমি বলবান জাতিগুলোর তিরস্কার নিজের বক্ষঃস্থলে বহন করি।
51
হে মাবুদ, তোমার দুশমনেরা তিরস্কার করেছে,
তোমার অভিষিক্ত লোকের পদচিহ্নকে তিরস্কার করেছে।
52
মাবুদ ধন্য হোন, চিরকালের জন্য!
আমিন, আমিন।
1
আল্লাহ্র লোক হযরত মূসার মুনাজাত।
হে মালিক, তুমিই আমাদের বাসস্থান হয়ে আসছ,
পুরুষানুক্রমে হয়ে আসছ।
2
পর্বতমালার জন্ম হবার আগে,
তুমি দুনিয়া ও জগৎকে জন্ম দেবার আগে,
এমন কি, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল তুমিই আল্লাহ্।
3
তুমি মানুষকে ধূলিতে ফিরিয়ে থাক,
বলে থাক, বনি-আদমেরা, ফিরে যাও।
4
কেননা হাজার বছর তোমার দৃষ্টিতে যেন গতকাল,
তা তো চলে গেছে, আর যেন রাতের এক প্রহর মাত্র।
5
তুমি তাদেরকে যেন বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছ, তারা স্বপ্নের মত;
খুব ভোরে তারা ঘাসের মত বেড়ে উঠে।
6
খুব ভোরে ঘাস গজিয়ে উঠে ও বেড়ে উঠে,
সন্ধ্যাবেলা তা কেটে ফেলে ও তা শুকিয়ে যায়।
7
কেননা তোমার ক্রোধে আমরা ক্ষয় পাই,
তোমার কোপে আমরা ভীষণ ভয় পাই।
8
তুমি রেখেছ আমাদের অপরাধগুলো তোমার সাক্ষাতে,
আমাদের গুপ্ত বিষয়গুলো তোমার উপস্থিতির আলোতে।
9
কেননা তোমার ক্রোধে আমাদের সকল দিন বয়ে যায়,
আমরা নিজ নিজ বছর নিশ্বাসের মত শেষ করি।
10
আমাদের আয়ুর পরিমাণ সত্তর বছর;
বলযুক্ত হলে আশী বছর হতে পারে;
তবুও তাতে থাকে কেবল কষ্ট ও দুঃখমাত্র,
কেননা তা বেগে পালিয়ে যায় এবং আমরা উড়ে যাই।
11
তোমার ক্রোধের পরিণতি কে বোঝে?
যারা তোমাকে ভয় করে তাদের মত তোমার ভয়াবহতা কে বুঝতে পারে?
12
এভাবে আমাদের দিন গণনা করতে শিক্ষা দাও,
যেন আমরা প্রজ্ঞার চিত্ত লাভ করি।
13
হে মাবুদ, ফির, আর কত কাল?
এখন তোমার গোলামদের প্রতি সদয় হও।
14
খুব ভোরে আমাদেরকে তোমার অটল মহব্বতে তৃপ্ত কর,
যেন আমরা সারা জীবন আনন্দ ও আহ্লাদ করি।
15
যত দিন তুমি আমাদের দুঃখ দিয়েছ,
যত বছর আমরা বিপদ দেখেছি,
সেই অনুসারে আমাদের আনন্দিত কর।
16
তোমার গোলামদের কাছে তোমার কাজ,
তাদের সন্তানদের উপরে তোমার মহিমা দৃষ্ট হোক।
17
আর আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রসন্নভাব আমাদের উপরে বর্তুক;
আর তুমি আমাদের পক্ষে আমাদের হাতের কাজ স্থায়ী কর,
আমাদের হাতের কাজ তুমি স্থায়ী কর।
1
যে ব্যক্তি সর্বশক্তিমানের অন্তরালে থাকে,
সে সর্বশক্তিমানের ছায়াতে বসতি করে।
2
আমি মাবুদের বিষয়ে বলবো,
‘তিনি আমার আশ্রয়, আমার দুর্গ,
আমার আল্লাহ্, আমি তাঁতে নির্ভর করবো’।
3
হ্যাঁ, তিনিই তোমাকে ব্যাধের ফাঁদ থেকে,
ও সর্বনাশক মহামারী থেকে রক্ষা করবেন।
4
তিনি তাঁর পালকে তোমাকে আবৃত করবেন,
তাঁর পাখার নিচে তুমি আশ্রয় পাবে;
তাঁর বিশ্বস্ততা হল ঢাল ও রক্ষাকারী প্রাচীরস্বরূপ।
5
তুমি ভয় পাবে না— রাতের ত্রাস থেকে,
দিনে উড্ডীয়মান তীর থেকে,
6
অন্ধকারে বিচরণকারী মহামারী থেকে,
মধ্যাহ্নের সাংঘাতিক ব্যাধি থেকে।
7
পড়বে তোমার পাশে হাজার জন,
তোমার দক্ষিণে দশ হাজার জন,
কিন্তু সেটি তোমার কাছে আসবে না।
8
তুমি কেবল স্বচক্ষে নিরীক্ষণ করবে,
দুষ্টদের প্রতিফল দেখবে।
9
‘হাঁ, মাবুদ, তুমিই আমার আশ্রয়’।
তুমি সর্বশক্তিমানকে তোমার বাসস্থান করেছ;
10
তোমার কোন বিপদ ঘটবে না,
কোন উৎপাত তোমার তাঁবুর কাছে আসবে না।
11
কারণ তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে তোমার বিষয়ে হুকুম দেবেন,
যেন তাঁরা তোমার সমস্ত পথে তোমাকে রক্ষা করেন।
12
তাঁরা তোমাকে হাতে করে তুলে নেবেন,
যেন তোমার চরণে পাথরের আঘাত না লাগে।
13
তুমি সিংহ ও সাপের উপর পা দেবে,
তুমি যুবসিংহ ও নাগকে পদতলে দলবে।
14
‘সে আমাতে আসক্ত, সেজন্য আমি তাকে বাঁচাব;
আমি তাকে উচ্চে স্থাপন করবো,
কারণ সে আমার নাম জ্ঞাত হয়েছে।
15
সে আমাকে ডাকবে, আমি তাকে উত্তর দেব;
আমি সঙ্কটে তার সঙ্গে থাকব;
আমি তাকে উদ্ধার করবো, গৌরবান্বিতও করবো।
16
আমি দীর্ঘ আয়ু দিয়ে তাকে তৃপ্ত করবো,
আমার নাজাত তাকে দেখাব।’
1
কাওয়ালী। বিশ্রামবার-বিষয়ক গজল।
মাবুদের শুকরিয়া আদায় করা;
হে সর্বশক্তিমান, তোমার নামের উদ্দেশে কাওয়ালী করা উত্তম;
2
খুব ভোরে তোমার অটল মহব্বত,
ও প্রতিরাত্রে তোমার বিশ্বস্ততা তবলিগ করা উত্তম,
3
দশতন্ত্রী ও নেবলযন্ত্র সহকারে,
গম্ভীর বীণা-ধ্বনি সহকারে।
4
কেননা, হে মাবুদ, তুমি তোমার কাজ দ্বারা আমাকে আহ্লাদিত করেছ;
আমি তোমার হস্তকৃত সমস্ত কাজে জয়ধ্বনি করবো।
5
হে মাবুদ, তোমার সমস্ত কাজ কেমন মহৎ।
তোমার সমস্ত সঙ্কল্প অতি গভীর।
6
নরপশু জানে না, নির্বোধ তা বোঝে না।
7
দুর্বৃত্তরা যখন ঘাসের মত অঙ্কুরিত হয়,
অধর্মচারী সকলে যখন উন্নতি লাভ করে,
তখন তা তাদের হয়ে থাকে চির-বিনাশের জন্য।
8
কিন্তু হে মাবুদ, তুমি অনন্তকাল ঊর্ধ্ববাসী।
9
কেননা, দেখ, তোমার দুশমনেরা,
হে মাবুদ, দেখ, তোমার দুশমনেরা বিনষ্ট হবে;
দুর্বৃত্তরা সকলে ছিন্নভিন্ন হবে।
10
কিন্তু তুমি আমার মাথা বন্য ষাঁড়ের শিংগুলোর মত উন্নত করেছ;
আমি নব তেলে অভিষিক্ত হয়েছি।
11
আর আমার চোখ আমার দুশমনদের পরিণতি নিরীক্ষণ করেছে;
আমার কান আমার বিরোধী দুরাচারদের পরিণতির কথা শুনতে পেয়েছে।
12
ধার্মিক লোক তালতরুর মত উৎফুল্ল হবে,
সে লেবাননের এরস গাছের মত বাড়বে।
13
যারা মাবুদের গৃহে রোপিত,
তারা আমাদের আল্লাহ্র প্রাঙ্গণে উৎফুল্ল হবে।
14
তারা বৃদ্ধ বয়সেও ফল উৎপন্ন করবে,
তারা সরস ও তেজস্বী হবে;
15
এর দ্বারা প্রচারিত হবে যে, মাবুদ সরল;
তিনি আমার শৈল এবং তাঁতে কোন অন্যায় নেই।
1
মাবুদ রাজত্ব করেন;
তিনি মহিমাতে সজ্জিত;
মাবুদ সজ্জিত, তিনি পরাক্রমে বদ্ধকটি;
আর দুনিয়াও অটল, তা বিচলিত হবে না।
2
তোমার সিংহাসন পূর্বকাল থেকে অটল;
অনাদিকাল থেকে তুমি বিদ্যমান।
3
হে মাবুদ, বন্যার পানিতে গর্জন উঠেছে,
সমস্ত নদী নিজ নিজ ধ্বনি উঠিয়েছে,
সমস্ত নদী নিজ নিজ তরঙ্গ উঠাচ্ছে।
4
শক্তিশালী পানির কল্লোল-ধ্বনির চেয়ে,
সমুদ্রের প্রবল তরঙ্গমালার চেয়ে, ঊর্ধ্বস্থ মাবুদ বলবান।
5
হে মাবুদ, তোমার সমস্ত নির্দেশ অতি বিশ্বাসযোগ্য,
চিরদিনের জন্য পবিত্রতা তোমার গৃহের শোভা।
1
হে মাবুদ, তুমি প্রতিফলদাতা আল্লাহ্,
হে প্রতিফলদাতা আল্লাহ্, দেদীপ্যমান হও।
2
উঠ, হে দুনিয়ার বিচারকর্তা,
অহঙ্কারী লোকদেরকে অপকারের প্রতিফল দাও।
3
দুষ্টরা কত কাল, হে মাবুদ,
দুষ্টরা কত কাল উল্লাস করবে?
4
তারা অনর্থক কথা বলছে, সগর্বে কথা বলছে,
দুর্বৃত্তরা সকলে নিজের বিষয়ে গর্ব করছে।
5
হে মাবুদ, তোমার লোকদেরকেই তারা চূর্ণ করছে,
তোমার অধিকারকে দুঃখ দিচ্ছে।
6
তারা বিধবা ও প্রবাসীকে হত্যা করছে;
এতিমদেরকে মেরে ফেলছে।
7
তারা বলছে, মাবুদ দেখবেন না,
ইয়াকুবের আল্লাহ্ বিবেচনা করবেন না।
8
হে লোকদের মধ্যবর্তী নরপশুরা, বিবেচনা কর;
হে নির্বোধেরা, কবে তোমাদের সুবুদ্ধি হবে?
9
যিনি কান সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি শুনবেন না?
যিনি চোখ গঠন করেছেন, তিনি কি দেখবেন না?
10
যিনি জাতিগুলোর শিক্ষাদাতা, তিনি কি ভর্ৎসনা করবেন না?
তিনিই তো মানবজাতিকে জ্ঞান শিক্ষা দেন।
11
মাবুদ মানুষের কল্পনাগুলো জানেন,
সেই সকল তো শ্বাসমাত্র।
12
সুখী সেই ব্যক্তি, যাকে তুমি শাসন কর,
হে মাবুদ, যাকে তুমি তোমার শরীয়ত থেকে শিক্ষা দাও,
13
যেন তুমি তাকে বিপদ কাল থেকে বিশ্রাম দাও,
দুষ্টের জন্য যতদিন কূপ খনন করা না হয়।
14
কারণ মাবুদ তাঁর লোকদেরকে দূর করবেন না,
তাঁর অধিকার পরিত্যাগ করবেন না।
15
রাজশাসন ফিরে ধার্মিকতার কাছে আসবে;
সরলচিত্ত সকলে তার অনুগামী হবে।
16
কে আমার পক্ষে হয়ে দুরাচারদের বিরুদ্ধে উঠবে?
কে আমার পক্ষে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে?
17
মাবুদ যদি আমার সাহায্য না করতেন,
আমার প্রাণ শীঘ্র নিঃশব্দ-স্থানে বসতি করতো।
18
যখন আমি বলতাম, আমার চরণ বিচলিত হল,
তখন, হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত আমাকে সুস্থির রাখত।
19
আমার আন্তরিক ভাবনার বৃদ্ধিকালে
তোমার দেওয়া সান্ত্বনা আমার প্রাণকে আহ্লাদিত করে।
20
নাফরমানীর সিংহাসন কি তোমার সখা হতে পারে,
যা আইন দ্বারা জুলুম রচনা করে?
21
তারা ধার্মিকের প্রাণের বিরুদ্ধে দল বাঁধে,
নির্দোষের রক্তকে দোষী করে।
22
কিন্তু মাবুদ আমার উঁচু দুর্গ হয়েছেন,
আমার আল্লাহ্ আমার আশ্রয়-শৈল হয়েছেন।
23
তিনি তাদের অধর্ম তাদেরই উপরে বর্তিয়েছেন,
তাদের দুষ্টতায় তাদেরকে উচ্ছিন্ন করবেন;
মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তাদেরকে উচ্ছিন্ন করবেন।
1
এসো, আমরা মাবুদের উদ্দেশে আনন্দগান করি,
আমাদের উদ্ধারের শৈলের উদ্দেশে জয়ধ্বনি করি।
2
আমরা প্রশংসা-গজল সহ তাঁর সম্মুখে গমন করি,
কাওয়ালী দ্বারা তাঁর উদ্দেশে জয়ধ্বনি করি।
3
কেননা মাবুদ মহান আল্লাহ্,
তিনি সমুদয় দেবতার উপরে মহান বাদশাহ্।
4
দুনিয়ার গভীর স্থানগুলো তাঁর হস্তগত,
পর্বতমালার চূড়াগুলোও তাঁরই।
5
সমুদ্র তাঁর, তিনিই তা নির্মাণ করেছেন,
তাঁরই হাত শুকনো ভূমি গঠন করেছে।
6
এসো, আমরা সেজ্দা করি, প্রণত হই,
আমাদের নির্মাতা মাবুদের সাক্ষাতে জানু পাতি।
7
কেননা তিনিই আমাদের আল্লাহ্,
আমরা তাঁর চরাণির লোক ও তাঁর হস্তের মেষ।
আহা! আজই তোমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শোন!
8
নিজ নিজ অন্তর কঠিন করো না, যেমন মরীবায়,
যেমন মরুভূমির মধ্যে মঃসার দিনে করেছিলে।
9
তখন তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার পরীক্ষা করলো,
আমার বিচার করলো, আমার কর্মও দেখল।
10
চল্লিশ বছর পর্যন্ত আমি সেই জাতির প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলাম,
আমি বলেছিলাম, এরা ভ্রান্ত অন্তরের লোক;
এরা আমার পথ জানল না।
11
অতএব আমি আমার ক্রোধে শপথ করলাম,
এরা আমার বিশ্রামস্থানে প্রবেশ করবে না।
1
তোমরা মাবুদের উদ্দেশে নতুন গজল গাও;
সমস্ত দুনিয়া! মাবুদের উদ্দেশে গজল গাও।
2
মাবুদের উদ্দেশে গজল গাও,
তাঁর নামের শুকরিয়া কর,
প্রতিদিন তাঁর উদ্ধার ঘোষণা কর।
3
তবলিগ কর জাতিদের মধ্যে তাঁর গৌরব,
সমস্ত লোক-সমাজে তাঁর অলৌকিক কর্মগুলো।
4
কেননা মাবুদ মহান ও অতি প্রশংসনীয়,
তিনি সমস্ত দেবতার চেয়ে ভয়াবহ।
5
কেননা জাতিদের সমস্ত দেবতা মূর্তিমাত্র,
কিন্তু মাবুদ আসমানের নির্মাতা;
6
গৌরব ও মহিমা তাঁর অগ্রবর্তী;
শক্তি ও শোভা তাঁর পবিত্র স্থানে বিদ্যমান।
7
হে জাতিদের গোষ্ঠীগুলো, মাবুদের ঘোষণা কর,
মাবুদের গৌরব ও শক্তি ঘোষণা কর।
8
মাবুদের নামের গৌরব ঘোষণা কর,
নৈবেদ্য সঙ্গে নিয়ে তাঁর প্রাঙ্গণে এসো।
9
পবিত্র শোভায় মাবুদকে সেজ্দা কর;
সমস্ত দুনিয়া! তাঁর সাক্ষাতে কেঁপে ওঠো।
10
জাতিদের মধ্যে বল, মাবুদ রাজত্ব করেন;
জগৎও অটল, তা বিচলিত হবে না;
তিনি ন্যায়ে জাতিদের বিচার করবেন।
11
আসমান আনন্দ করুক, দুনিয়া উল্লসিত হোক;
সমুদ্র ও তার মধ্যেকার সকলই গর্জন করুক;
12
ক্ষেত ও সেই স্থানের সকলই উল্লসিত হোক;
তখন বনের সমস্ত গাছ আনন্দে গান করবে;
13
মাবুদের সাক্ষাতেই করবে, কেননা তিনি আসছেন,
তিনি দুনিয়ার বিচার করতে আসছেন;
তিনি ধর্মশীলতায় দুনিয়ার বিচার করবেন,
তাঁর বিশ্বস্ততায় জাতিদের বিচার করবেন।
1
মাবুদ রাজত্ব করেন! দুনিয়া উল্লসিত হোক,
দ্বীপগুলো আনন্দ করুক;
2
মেঘ ও অন্ধকার তাঁর চারদিকে বিদ্যমান,
ধর্মশীলতা ও ন্যায়বিচার তাঁর সিংহাসনের ভিত্তিমূল।
3
আগুন তাঁর অগ্রভাগ্রে গমন করে,
চারদিকে তাঁর দুশমনদেরকে পুড়িয়ে ফেলে।
4
তাঁর বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করলো;
দুনিয়া তা দেখলো, কেঁপে উঠলো।
5
পর্বতগুলো মোমের মত গলে গেল,
মাবুদের সাক্ষাতে, সমস্ত দুনিয়ার প্রভুর সাক্ষাতে।
6
বেহেশত তাঁর ধর্মশীলতা তবলিগ করেছে,
এবং সমস্ত জাতি তাঁর গৌরব দেখেছে ।
7
লজ্জিত হোক সেই সকলে,
যারা খোদাই-করা মূর্তির সেবা করে,
যারা মূল্যহীন মূর্তির গর্ব করে;
হে দেবতারা! সকলে তাঁকে সেজ্দা কর।
8
সিয়োন শুনে আনন্দিত হল,
এহুদার কন্যারা উল্লসিত হল,
হে মাবুদ, তোমার বিচারগুলোর জন্য।
9
কেননা, হে মাবুদ, তুসি সমস্ত দুনিয়ার উপরে সর্বশক্তিমান,
তুমি সমস্ত দেবতা থেকে অতিশয় উন্নত।
10
মাবুদের তাদের মহব্বত করেন যারা নাফরমানীকে ঘৃণা করে;
তিনি তাঁর ভক্তদের প্রাণ রক্ষা করেন,
দুষ্টদের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেন।
11
আলো বর্ষণ করা হয়েছে ধার্মিকের জন্য,
আর সরলচিত্তদের জন্য আনন্দ।
12
হে ধার্মিকেরা, মাবুদে আনন্দ কর,
তাঁর পবিত্র নামের শুকরিয়া কর।
1
কাওয়ালী।
তোমরা মাবুদের উদ্দেশে নতুন গজল গাও,
কেননা তিনি অনেক অলৌকিক কাজ করেছেন;
তাঁর ডান হাত ও তাঁর পবিত্র বাহু তাঁর পক্ষে বিজয় সাধন করেছে।
2
মাবুদ তাঁর বিজয়ের কথা জানিয়েছেন,
তিনি জাতিদের দৃষ্টিগোচরে তাঁর ধর্মশীলতা প্রকাশ করেছেন।
3
তিনি ইসরাইল-কুলের পক্ষে তাঁর অটল মহব্বত ও বিশ্বস্ততা স্মরণ করেছেন;
দুনিয়ার সমস্ত প্রান্ত আমাদের আল্লাহ্র বিজয় দেখেছে।
4
সমস্ত দুনিয়া! মাবুদের উদ্দেশে জয়ধ্বনি কর;
উচ্চধ্বনি কর, আনন্দগান কর, প্রশংসা গাও।
5
গান কর মাবুদের উদ্দেশে বীণা সহকারে,
বীণা সহকারে ও গানের রবে।
6
তূরী ও ভেরিবাদ্য সহকারে
বাদশাহ্ মাবুদের সম্মুখে জয়ধ্বনি কর।
7
সমুদ্র ও তার মধ্যেকার সকলই গর্জন করুক,
দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীরাও করুক;
8
নদ নদীরা করতালি দিক;,
পর্বতমালা একসঙ্গে আনন্দগান করুক;
9
মাবুদের সাক্ষাতেই করুক,
কেননা তিনি দুনিয়ার বিচার করতে আসছেন;
তিনি ধর্মশীলতায় দুনিয়ার বিচার করবেন,
ও ন্যায়ে জাতিদের বিচার করবেন।
1
মাবুদ রাজত্ব করেন, জাতিরা কাঁপছে;
তিনি কারুবীদ্বয়ে আসীন, দুনিয়া টলছে।
2
মাবুদ সিয়োনে মহান,
তিনি সমস্ত জাতির উপরে উন্নত।
3
তারা তোমার মহৎ ও ভক্তিপূর্ণ ভয় জাগানো নামের প্রশংসা-গজল করুক;
তিনি পবিত্র।
4
বাদশাহ্ শক্তিধর, তিনি বিচার ভালবাসেন;
তুমি ন্যায়বিধি অটল করেছ,
তুমি ইয়াকুবের মধ্যে বিচার ও ধার্মিকতা সাধন করেছ।
5
তোমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতিষ্ঠা কর,
তাঁর পাদপীঠের অভিমুখে সেজ্দা কর;
তিনি পবিত্র।
6
তাঁর ইমামদের মধ্যবর্তী মূসা ও হারুন,
যাঁরা তাঁর নামে ডাকেন, তাঁদের মধ্যবর্তী শামুয়েল;
তাঁরা মাবুদকে ডাকতেন এবং তিনি উত্তর দিতেন।
7
তিনি মেঘস্তম্ভে থেকে তাঁদের কাছে কথা বলতেন;
তাঁরা তাঁর সমস্ত নির্দেশ ও তাঁর দেওয়া বিধি পালন করতেন।
8
হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তুমিই তাঁদেরকে উত্তর দিয়েছিলে,
তুমি তাঁদের পক্ষে ক্ষমাশীল আল্লাহ্ হয়েছিলে,
তবুও তাঁদের কাজের প্রতিফল দিয়েছিলে।
9
তোমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উচ্চপ্রশংসা কর,
তাঁর পবিত্র পর্বতের অভিমুখে সেজ্দা কর;
কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ পবিত্র।
1
শুকরিয়া-কাওয়ালী
সমস্ত দুনিয়া! মাবুদের উদ্দেশে জয়ধ্বনি কর;
2
সানন্দে মাবুদের সেবা কর;
আনন্দগানসহ তাঁর সম্মুখে এসো।
3
তোমরা জেনো, মাবুদই আল্লাহ্,
তিনিই আমাদের নির্মাণ করেছেন, আমরা তাঁরই;
আমরা তাঁর লোক ও তাঁর চারণভূমির মেষ।
4
তোমরা প্রশংসা-গজল সহকারে তাঁর দ্বারে প্রবেশ কর,
প্রশংসা সহকারে তাঁর প্রাঙ্গণে প্রবেশ কর;
তাঁর শুকরিয়া কর, তাঁর নামের প্রশংসা কর।
5
কেননা মাবুদ মঙ্গলময়;
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী;
তাঁর বিশ্বস্ততা পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমি রহম ও ন্যায়বিচারের বিষয় গাইব;
হে মাবুদ, তোমারই প্রশংসা গান করবো।
2
আমি বিবেচনাপূর্বক সিদ্ধপথে গমন করবো;
তুমি কবে আমার কাছে আসবে?
আমার গৃহমধ্যে আমি হৃদয়ের সিদ্ধতায় চলবো।
3
আমি কোন জঘন্য পদার্থ চোখের সামনে রাখবো না,
আমি বিপথগামীদের কাজ ঘৃণা করি,
তা আমাতে লিপ্ত হবে না।
4
কুটিল অন্তঃকরণ আমা থেকে দূরে থাকবে;
নাফরমানীর সঙ্গে আমার পরিচয় হবে না।
5
যে জন গোপনে প্রতিবেশীর অপবাদ দেয়,
তাকে আমি উচ্ছেদ করবো;
যার অহংকারী দৃষ্টি ও গর্বিত হৃদয়, তাকে সহ্য করবো না।
6
দেশের বিশ্বস্ত লোকদের প্রতি আমার দৃষ্টি থাকবে;
তারা আমার সঙ্গে বাস করবে;
যে সিদ্ধ পথে চলে, সেই আমার পরিচারক হবে;
7
প্রতারণাকারী আমার গৃহমধ্যে বাস করবে না;
মিথ্যাবাদী আমার চোখের সামনে স্থির থাকবে না।
8
প্রতি প্রভাতে আমি দেশস্থ সকল দুষ্টকে বিনষ্ট করবো;
যেন সমস্ত দুর্বৃত্তকে মাবুদের নগর থেকে উচ্ছিন্ন করি।
1
এক জন দুঃখীর মুনাজাত; যখন সে অবসন্ন হয়ে মাবুদের কাছে তার খেদের কথা ভেঙ্গে বলে, সেই সময়কার।
হে মাবুদ, আমার মুনাজাত শোন,
আমার আর্তনাদ তোমার কাছে উপস্থিত হোক।
2
সঙ্কটের দিনে আমা থেকে মুখ লুকাবে না,
আমার প্রতি কান দাও;
যেদিন আমি ডাকি, ত্বরায় আমাকে উত্তর দিও।
3
কেননা আমার সমস্ত দিন ধোঁয়ার মত বিলীন হয়েছে,
আমার সমস্ত অস্থি জ্বলন্ত কাঠের মত পুড়ে গেছে;
4
আমার হৃদয় আঘাত পেয়ে ঘাসের মত শুকিয়ে গেছে;
আমি আহার করতে ভুলে যাই।
5
আমার জোরে জোরে কোঁকানোর দরুন
আমার অস্থিগুলো চামড়ার সঙ্গে লেগে গেছে।
6
আমি মরুভূমিস্থ মরু-পেঁচার মত হয়েছি,
উৎসন্ন স্থানের ক্ষুদ্র পেঁচার সমান হয়েছি।
7
আমি সজাগ থাকি এবং এমন হয়েছি,
যেন ছাদের উপরে চটক পাখি একাকী রয়েছে।
8
শত্রুরা সমস্ত দিন আমাকে তিরস্কার করে,
যারা আমার বিরুদ্ধে ক্রোধোন্মত্ত,
তারা আমার নাম নিয়ে বদদোয়া দেয়।
9
বস্তুত আমি খাবারের মত ভস্ম খেয়েছি,
আমার পানীয় দ্রব্যের সঙ্গে নেত্রজল মিশিয়েছি।
10
এর কারণ তোমার ক্রোধ ও তোমার রোষ;
কেননা তুমি আমাকে তুলে আছাড় মেরেছ।
11
আমার দিন হেলে পড়া ছায়ার মত,
আমি ঘাসের মত শুকিয়ে যাচ্ছি।
12
কিন্তু, হে মাবুদ, তুমি অনন্তকাল সমাসীন থাকবে,
তোমার নাম পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
13
তুমি উঠবে, সিয়োনের প্রতি করুণা করবে;
কারণ এখন তার প্রতি কৃপা করার সময়,
কেননা নির্ধারিত কাল উপস্থিত হল।
14
যেহেতু তোমার গোলামেরা এর প্রস্তরে প্রীত,
এর ধূলিকণার প্রতি কৃপা করছে।
15
এতে জাতিরা মাবুদের নাম ভয় করবে,
দুনিয়ার সমস্ত বাদশাহ্ তোমার প্রতাপ দেখে ভয় পাবে।
16
কেননা মাবুদ সিয়োনকে গেঁথেছেন,
তিনি নিজের মহিমায় দর্শন দিয়েছেন;
17
তিনি দীনহীনদের মুনাজাতমুখী করেছেন,
তাদের মুনাজাত তুচ্ছ করেন নি।
18
একথা ভাবী বংশের জন্য লেখা থাকবে;
যাতে যে জাতি সৃষ্ট হবে, তারা মাবুদের প্রশংসা করতে পারে।
19
কেননা তিনি তাঁর উঁচু পবিত্র স্থান থেকে অবলোকন করলেন;
মাবুদ বেহেশত থেকে দুনিয়াতে দৃষ্টিপাত করলেন;
20
বন্দীর হাহাকার শুনবার জন্য,
মৃত্যুর সন্তানদেরকে মুক্ত করার জন্য;
21
যেন প্রচারিত হয় সিয়োনে মাবুদের নাম,
ও জেরুশালেমে তাঁর প্রশংসা।
22
যখন বিভিন্ন জাতি একত্র হবে,
ও সমস্ত রাজ্য একত্র হবে মাবুদের এবাদত করার জন্য।
23
তিনি আমার জীবনকালে আমার বল হ্রাস করেছেন,
তিনি আমার আয়ু সংক্ষেপ করেছেন।
24
আমি বললাম, হে আমার আল্লাহ্,
আয়ুর মধ্যভাগে আমাকে তুলে নিও না;
তোমার সমস্ত বছর পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
25
তুমি পুরাকালে দুনিয়ার মূল স্থাপন করেছ,
আসমানও তোমার হাতের রচনা।
26
সেগুলো বিনষ্ট হবে, কিন্তু তুমি স্থির থাকবে;
সে সমস্ত কাপড়ের মত নষ্ট হয়ে যাবে,
তুমি পরিচ্ছদের মতোই তাদের খুলে ফেলবে,
ও তাদের পরিবর্তন হবে।
27
কিন্তু তুমি যে আছ সেই আছ,
তোমার সমস্ত বছর কখনও শেষ হবে না।
28
তোমার গোলামদের সন্তানেরা বসতি করবে,
তাদের বংশ তোমার সাক্ষাতে অটল হবে।
1
হযরত দাউদের।
হে আমার প্রাণ, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর;
হে আমার অন্তরস্থ সকল, তাঁর পবিত্র নামের শুকরিয়া আদায় কর।
2
হে আমার প্রাণ, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর,
তাঁর সকল উপকার ভুলে যেও না।
3
তিনি তোমার সমস্ত অধর্ম মাফ করেন,
তোমার সমস্ত রোগের প্রতিকার করেন।
4
তিনি কূপ থেকে তোমার জীবন মুক্ত করেন,
অটল মহব্বত ও করুণার মুকুটে তোমাকে ভূষিত করেন।
5
তিনি উত্তম দ্রব্যে তোমার মুখ তৃপ্ত করেন,
ঈগল পাখির মত তোমার নতুন যৌবন হয়।
6
মাবুদ ধর্মকার্য সাধন করেন,
নির্যাতিত লোকদের পক্ষে বিচার নিষ্পত্তি করেন।
7
তিনি জানালেন মূসাকে তাঁর পথ,
বনি-ইসরাইলকে তাঁর কর্মগুলো।
8
মাবুদ স্নেহশীল ও কৃপাময়,
ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান।
9
তিনি নিত্য অনুযোগ করবেন না,
চিরকাল ক্রোধ রাখবেন না।
10
তিনি আমাদের প্রতি আমাদের গুনাহ্ অনুযায়ী ব্যবহার করেন নি,
আমাদের অধর্মানুযায়ী প্রতিফল আমাদের দেন নি।
11
কারণ দুনিয়ার উপরে আসমান যত উঁচু,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তাদের উপরে তাঁর অটল মহব্বত তত মহৎ।
12
পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিক যেমন দূরবর্তী,
তিনি আমাদের থেকে আমাদের অপরাধগুলো তেমনি দূরবর্তী করেছেন।
13
পিতা সন্তানদের প্রতি যেমন করুণা করেন,
যারা মাবুদকে ভয় করে, তাদের প্রতি তিনি তেমনি করুণা করেন।
14
কারণ তিনিই আমাদের গঠন জানেন;
আমরা যে ধূলিমাত্র, তা তাঁর স্মরণে আছে।
15
মানুষের আয়ু ঘাসের আয়ুর মতই;
যেমন মাঠের ফুল, তেমনি সে প্রফুল্ল হয়।
16
তার উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হলেই তার অস্তিত্ব থাকে না,
তার স্থানও তাকে আর চিনবে না।
17
কিন্তু মাবুদের অটল মহব্বত,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তাদের উপরে অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত থাকে;
এবং তাঁর ধর্মশীলতা পুত্র পৌত্রদের প্রতি বর্ষিত হয়,
18
তাদের প্রতি, যারা তাঁর নিয়ম রক্ষা করে,
ও তাঁর সমস্ত বিধি পালনার্থে স্মরণ করে।
19
মাবুদ বেহেশতে তাঁর সিংহাসন স্থাপন করেছেন,
তাঁর রাজ্য কর্তৃত্ব করে সমস্ত কিছুর উপরে।
20
মাবুদের ফেরেশতারা! তাঁর শুকরিয়া আদায় কর,
তোমরা শক্তিতে বীরতুল্য, তাঁর বাক্য-সাধক,
তাঁর কালামের স্বর শ্রবণে নিবিষ্ট।
21
মাবুদের সমস্ত বাহিনী! তাঁর শুকরিয়া আদায় কর,
তোমরা তাঁর পরিচারক, তাঁর ইচ্ছা পালনকারী।
22
মাবুদের সমস্ত নির্মিত বস্তু! তাঁর শুকরিয়া আদায় কর,
তাঁর অধিকারের সমস্ত স্থানে।
হে আমার প্রাণ, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
1
হে আমার প্রাণ, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, তুমি অতি মহান;
তুমি গৌরব ও মহিমা পরিহিত।
2
তুমি কাপড়ের মত আলো পরিধান করেছ,
আসমানকে চন্দ্রাতপের মত বিস্তার করেছ।
3
তিনি পানির উপর তাঁর উপরিস্থ কক্ষের কড়িকাঠ স্থাপন করেছেন,
তিনি মেঘকে তাঁর রথ করে থাকেন,
বায়ুর পাখার উপরে গমনাগমন করেন।
4
তিনি বায়ুগুলোকে তাঁর দূত,
আগুনের শিখাকে তাঁর পরিচারক করেন।
5
তিনি দুনিয়াকে তার ভিত্তিমূলের উপরে স্থাপন করেছেন;
তা অনন্তকালেও বিচলিত হবে না।
6
তুমি দুনিয়াকে কাপড়ের মত করে সাগরের পানি দিয়ে আচ্ছাদন করেছিলে;
পর্বতমালার উপরে পানি দাঁড়িয়েছিল।
7
তোমার ভর্ৎসনায় সেই পানি পালিয়ে গেল,
তোমার বজ্রনাদে তা বেগে প্রস্থান করলো।
8
পর্বতমালা উঁচু হল, উপত্যকা নিম্ন হল,
তুমি পানির জন্য যে স্থান প্রস্তুত করেছিলে, পানি সেখানে গেল।
9
তুমি সীমা স্থাপন করেছ, যেন পানি তা অতিক্রম না করে,
যেন ফিরে দুনিয়াকে আচ্ছন্ন না করে।
10
তিনি উপত্যকায় ফোয়ারার প্রবাহ প্রেরণ করে থাকেন;
সেগুলো পর্বতমালার মধ্যে প্রবাহিত হয়।
11
সেগুলো মাঠের সমস্ত পশুকে পানি দেয়;
বনগর্দভেরা তৃষ্ণা নিবারণ করে।
12
সেই সবের তীরে আসমানের পাখিরা বাসা করে,
ডালের মধ্য থেকে গান গায়।
13
তিনি উপরের কক্ষ থেকে পর্বতে পানি সেচন করেন;
তোমার কাজের ফলে দুনিয়া পরিতৃপ্ত হয়।
14
তিনি পশু পালের জন্য ঘাস অঙ্কুরিত করেন;
মানুষের সেবার জন্য ওষধি অঙ্কুরিত করেন;
এভাবে ভূমি থেকে খাদ্য উৎপন্ন করেন,
15
আর মানুষের অন্তরের আনন্দদায়ক আঙ্গুর-রস,
মুখের প্রফুল্লতা-জনক তেল,
ও মানুষের অন্তরের বল-সাধক খাদ্য উৎপন্ন করেন।
16
পরিতৃপ্ত হয়েছে মাবুদের গাছগুলো,
লেবাননের সেই এরস গাছগুলো, যা তিনি রোপণ করেছেন।
17
তার মধ্যে ছোট পাখিরা বাসা করে;
দেবদারু গাছ হাড়গিলার বাসস্থান।
18
উঁচু পর্বত সব বন্য ছাগলের আবাস,
সমস্ত শৈল শাফন পশুর আশ্রয়।
19
তিনি ঋতুর জন্য চন্দ্র নির্মাণ করেছেন,
সূর্য তার অস্তগমনের সময় জানে।
20
তুমি অন্ধকার করলে রাত হয়,
তখন সমস্ত বন্যপশু ঘুরে বেড়ায়,
21
যুবসিংহরা শিকারের চেষ্টায় গর্জন করে,
আল্লাহ্র কাছে তাদের খাদ্য খোঁজ করে।
22
সূর্য উদিত হলে তারা চলে যায়,
নিজ নিজ গহ্বরে শয়ন করে।
23
মানুষ তার কাজে বের হয়,
আর সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত পরিশ্রম করে।
24
হে মাবুদ, তোমার নির্মিত বস্তু কেমন বহুবিধ!
তুমি প্রজ্ঞা দ্বারা সেই সমস্ত নির্মাণ করেছ;
দুনিয়া তোমার সম্পত্তিতে পরিপূর্ণ।
25
ঐ যে সমুদ্র, বিশাল ও চারদিকে বিস্তীর্ণ,
সেখানে জলজ প্রাণীরা থাকে, তারা অগণ্য;
ক্ষুদ্র ও প্রকাণ্ড কত জীবজন্তু থাকে।
26
সেখানে সমস্ত জাহাজ ভ্রমণ করে,
সেখানে সেই লিবিয়াথন থাকে,
যা তুমি সেখানে খেলা করার জন্য নির্মাণ করেছ।
27
এরা সকলেই তোমার অপেক্ষায় থাকে,
যেন তুমি যথাসময়ে তাদের খাদ্য দাও।
28
তুমি তাদেরকে দিলে তারা সংগ্রহ করে;
তুমি হাত খুললে তারা মঙ্গলে তৃপ্ত হয়।
29
তুমি নিজের মুখ আচ্ছাদন করলে তারা ভীষণ ভয় পায়;
তুমি তাদের নিশ্বাস হরণ করলে তারা মৃত্যুবরণ করে,
তাদের ধূলিতে ফিরে যায়।
30
তুমি নিজের রূহ্ পাঠালে তাদের সৃষ্টি হয়,
আর তুমি ভূমিতল নবীন করে থাক।
31
মাবুদের গৌরব অনন্তকাল থাকুক,
মাবুদ নিজের কাজে আনন্দ করুন।
32
তিনি দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে তা কাঁপে;
তিনি পর্বতরাজিকে স্পর্শ করলে তারা ধূমায়িত হয়।
33
আমি সারা জীবন মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী গাইব;
আমি যতকাল বেঁচে থাকি,
আমার আল্লাহ্র প্রশংসা গজল গাইব।
34
তাঁর কাছে আমার ধ্যান মধুর হোক;
আমি মাবুদে আনন্দ করবো।
35
গুনাহ্গার লোকেরা দুনিয়া থেকে উচ্ছিন্ন হোক,
দুষ্টরা আর না থাকুক।
হে আমার প্রাণ, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা-গজল কর, তাঁর নামে ডাক,
জাতিদের মধ্যে তাঁর সমস্ত কাজের কথা জানাও।
2
তাঁর উদ্দেশে গজল গাও, তাঁর প্রশংসা গান কর,
তাঁর সকল অলৌকিক কাজ ধ্যান কর।
3
তাঁর পবিত্র নামের গর্ব কর;
যারা মাবুদের খোঁজ করে তাদের অন্তর আনন্দ করুক।
4
মাবুদের ও তাঁর শক্তির অনুসন্ধান কর,
নিয়ত তাঁর উপস্থিতির খোঁজ কর।
5
স্মরণ কর তাঁর কৃত সমস্ত অলৌকিক কাজ,
তাঁর অদ্ভুত লক্ষণ ও তাঁর উচ্চারিত সমস্ত শাসন;
6
হে তাঁর গোলাম ইব্রাহিমের বংশ,
হে ইয়াকুবের সন্তানেরা, তাঁর মনোনীত লোকেরা।
7
তিনি মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্,
তাঁর সমস্ত শাসন সারা দুনিয়াতে বিদ্যমান।
8
তিনি তাঁর নিয়ম চিরকাল স্মরণ করেন,
সেই কালাম তিনি হাজার হাজার প্রজন্মের প্রতি হুকুম করেছেন;
9
সেই নিয়ম তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে করলেন,
সেই শপথ ইস্হাকের কাছে করলেন;
10
তিনি তা ইয়াকুবের জন্য বিধি বলে,
ইসরাইলের জন্য চিরকালীন নিয়ম হিসেবে দাঁড় করালেন।
11
তিনি বললেন, আমি তোমাকে কেনান দেশ দেব,
তা-ই তোমাদের উত্তরাধিকারের জন্য তোমার অংশ।
12
তৎকালে তারা সংখ্যাতে বেশি ছিল না, তারা অল্পই ছিল,
এবং সেখানে প্রবাসী ছিল।
13
তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির কাছে,
এক রাজ্য থেকে অন্য লোকবৃন্দের কাছে ঘুরে বেড়াত।
14
তিনি কোন মানুষকে তাদের প্রতি জুলুম করতে দিতেন না,
বরং তাদের জন্য বাদশাহ্দেরকে অনুযোগ করতেন;
15
‘আমার অভিষিক্ত ব্যক্তিদের স্পর্শ করো না,
আমার নবীদের অপকার করো না।’
16
আর তিনি দেশে দুর্ভিক্ষ আহ্বান করলেন,
খাদ্যরূপ সমস্ত লাঠি ভেঙ্গে ফেললেন।
17
তিনি তাদের আগে এক পুরুষকে পাঠালেন,
ইউসুফকে গোলাম হিসেবে বিক্রি করা হল।
18
লোকে বেড়ী দ্বারা তাঁর চরণকে কষ্ট দিল;
তাঁর প্রাণ লোহার শিকলে তিনি বাঁধা পড়লো।
19
তিনি যা বলেছেন যতদিন তা সফল না হল,
ততদিন মাবুদের কালাম তাঁকে পরীক্ষা করতে থাকলো।
20
বাদশাহ্ লোক পাঠিয়ে তাঁকে ছেড়ে দিলেন,
জাতিদের শাসনর্কতা তাঁকে মুক্ত করলেন।
21
তিনি তাঁকে নিজের বাড়ির কর্তা করলেন,
তাঁর সমস্ত সম্পত্তির মালিক করলেন,
22
যেন তিনি তাঁর কর্মকর্তাদেরকে ইচ্ছানুসারে নির্দেশ প্রদান করেন,
ও তাঁর প্রধান ব্যক্তিবর্গকে জ্ঞান প্রদান করেন।
23
আর ইসরাইল মিসরে উপস্থিত হলেন,
ইয়াকুব হামের দেশে প্রবাস করলেন।
24
আল্লাহ্ নিজের লোকদের অতিশয় বংশবৃদ্ধি করলেন,
দুশমনদের থেকে তাদেরকে বলবান করলেন।
25
তিনি ওদের অন্তর এমনভাবে ফিরালেন যে,
ওরা তাঁর লোকদেরকে ঘৃণা করলো,
তাঁর গোলামদের প্রতি ধূর্ততার ব্যবহার করলো।
26
তিনি পাঠালেন তাঁর গোলাম মূসা ও হারুনকে,
যাঁকে তিনি মনোনীত করেছিলেন।
27
তাঁরা ওদের মধ্যে তাঁর নানা চিহ্ন,
হামের দেশে নানা অদ্ভুত লক্ষণ দেখালেন।
28
তিনি অন্ধকার পাঠালেন, আর অন্ধকার হল;
তাঁরা তাঁর কালামের বিরুদ্ধাচরণ করলেন না।
29
তিনি ওদের পানি রক্তে পরিণত করলেন,
ওদের সমস্ত মাছ মেরে ফেললেন।
30
ওদের দেশ ব্যাঙে পরিপূর্ণ হল,
ওদের বাদশাহ্দের অন্তঃপুরে তা প্রবেশ করলো।
31
তিনি বললেন, আর ডাঁশ মাছির ঝাঁক এল,
পিশুরা এল ওদের সমস্ত অঞ্চলে।
32
তিনি ওদেরকে বৃষ্টির পরিবর্তে শিলা দিলেন,
ওদের দেশে শিখাযুক্ত আগুন বর্ষণ করলেন।
33
আর তিনি ওদের আঙ্গুরলতা ও ডুমুরগাছে আঘাত করলেন,
ওদের অঞ্চলের গাছ ভেঙ্গে ফেললেন।
34
তিনি বললেন, আর পঙ্গপাল এল,
অসংখ্য পতঙ্গ এল।
35
তারা ওদের দেশের সমস্ত ওষধি গ্রাস করলো,
ওদের ভূমির ফল খেয়ে ফেললো।
36
আর তিনি ওদের দেশে প্রথমজাত সকলকে,
ওদের সমস্ত শক্তির প্রথম ফলকে, আঘাত করলেন।
37
পরে তিনি লোকদেরকে রূপা ও সোনার সঙ্গে বের করে আনলেন,
তাঁর গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এক জনও হোঁচট খায় নি।
38
তারা প্রস্থান করলে মিসর আনন্দ করলো,
কারণ ওরা তাদের থেকে ত্রাসযুক্ত হয়েছিল।
39
তিনি চন্দ্রাতপের জন্য মেঘ বিস্তার করলেন,
তিনি রাত আলোকময় করার জন্য আগুন দিলেন।
40
তারা যাচ্ঞা করলে
তিনি ভারুই পাখি আনালেন,
এবং বেহেশতী খাদ্যে তাদেরকে তৃপ্ত করলেন।
41
তিনি শৈল খুলে দিলেন, পানি প্রবাহিত হল;
তা নদী হয়ে শুকনো ভূমিতে প্রবাহিত হল।
42
কারণ তিনি তাঁর পবিত্র কালাম স্মরণ করলেন,
তাঁর গোলাম ইব্রাহিমকে স্মরণ করলেন।
43
তিনি তাঁর লোকদেরকে আনন্দ সহ,
নিজের মনোনীত লোকদেরকে সঙ্গীতের সঙ্গে বের করে আনলেন।
44
তিনি তাদেরকে জাতিদের দেশ দিলেন,
তারা লোকবৃন্দের শ্রম ফলের অধিকারী হল,
45
যেন তারা তাঁর সমস্ত বিধি পালন করে,
তাঁর ব্যবস্থা রক্ষা করে।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
মাবুদের প্রশংসা-গজল কর,
কেননা তিনি মঙ্গলময়,
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
2
কে মাবুদের বিক্রমের সমস্ত কাজ বর্ণনা করতে পারে?
কে তাঁর সমস্ত প্রশংসা তবলিগ করতে পারে?
3
সুখী তারা, যারা ন্যায় রক্ষা করে,
যারা সতত ধর্মময়তা বজায় রাখে।
4
হে মাবুদ, তোমার লোকদের প্রতি তোমার যে মমতা,
সেই মমতায় আমাকে স্মরণ কর;
যখন তুমি তাদের উদ্ধার কর তখন আমার তত্ত্ব নিও;
5
যেন আমি তোমার মনোনীত লোকদের মঙ্গল দেখি,
যেন তোমার জাতির আনন্দে আনন্দ করি,
যেন তোমার অধিকারের সঙ্গে শ্লাঘা করি।
6
পূর্বপুরুষদের সঙ্গে আমরা গুনাহ্ করেছি,
আমরা অপরাধী হয়েছি, অধর্ম করেছি।
7
আমাদের পূর্বপুরুষেরা মিসরে তোমার আশ্চর্য সমস্ত কাজ বুঝল না,
তোমার বহু অটল মহব্বত স্মরণ করলো না,
বরং সমুদ্রতীরে, লোহিত সাগরে, সর্বশক্তিমানের বিরুদ্ধাচরণ করলো।
8
তবুও তিনি তাঁর নামের অনুরোধে তাদেরকে উদ্ধার করলেন,
যেন তিনি তাঁর মহাশক্তির কথা জানাতে পারেন।
9
তিনি লোহিত সাগরকে ধমক দিলেন, আর তা শুকিয়ে গেল,
তিনি তাদেরকে পানির মধ্য দিয়ে চালালেন,
যেমন মরুভূমি দিয়ে চালায়।
10
আর তিনি বিদ্বেষীর হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করলেন,
দুশমনের হাত থেকে তাদেরকে মুক্ত করলেন;
11
পানি তাদের দুশমনদেরকে আচ্ছাদন করলো,
ওদের এক জনও অবশিষ্ট থাকলো না।
12
তখন তারা তাঁর কালামে বিশ্বাস করলো,
তাঁর প্রশংসা গান করলো।
13
তারা ত্বরায় তাঁর সমস্ত কাজ ভুলে গেল,
তাঁর মন্ত্রণার অপেক্ষায় রইলো না;
14
কিন্তু মরুভূমিতে অত্যন্ত লোভ করলো,
মরুভূমিতে আল্লাহ্র পরীক্ষা করলো।
15
তাতে তিনি তাদের প্রার্থিত বস্তু তাদেরকে দিলেন,
কিন্তু তাদের মধ্যে ধ্বংসকারী একটি ব্যাধিও পাঠালেন।
16
আরও তারা শিবিরের মধ্যে মূসার প্রতি,
ও মাবুদের পবিত্র লোক হারুনের প্রতি ঈর্ষা করলো।
17
ভূমি ফেটে গিয়ে দাথনকে গ্রাস করলো,
অবীরামের সঙ্গীদেরকে আচ্ছাদন করলো।
18
তাদের সঙ্গীদের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলো;
অনল-শিখা দুষ্ট লোকদের পুড়িয়ে ফেললো।
19
তারা হোরেবে একটি বাছুর তৈরি করলো,
ছাঁচে ঢালা মূর্তির কাছে সেজ্দা করলো।
20
এভাবে তৃণভোজী গরুর মূর্তির সঙ্গে
তারা নিজেদের গৌরব বিনিময় করলো।
21
তারা তাদের উদ্ধারকর্তা আল্লাহ্কে ভুলে গেল,
যিনি মিসরে বিবিধ মহৎ কাজ করেছিলেন;
22
হামের দেশে নানা অলৌকিক কাজ,
লোহিত সাগরের ধারে নানা ভয়ঙ্কর কাজ করেছিলেন।
23
অতএব তিনি বললেন, ওদেরকে সংহার করতে হবে;
কিন্তু তাঁর মনোনীত ব্যক্তি মূসা তাঁর সাক্ষাতে ভঙ্গস্থানে দাঁড়ালেন,
তাঁর ক্রোধ ফিরাবার জন্য দাঁড়ালেন,
পাছে তিনি তাদেরকে বিনাশ করেন।
24
আর তারা রমণীয় দেশ তুচ্ছ করলো,
তাঁর কালামে বিশ্বাস করলো না;
25
কিন্তু নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে বচসা করলো,
মাবুদের কথা মান্য করলো না।
26
অতএব তিনি তাদের বিরুদ্ধে হাত তুললেন,
বললেন, আমি ওদেরকে মরুভূমিতে নিপাত করবো,
27
আমি ওদের বংশকে জাতিদের মধ্যে নিপাত করবো,
ওদেরকে নানা দেশে ছিন্নভিন্ন করবো।
28
তারা বাল-পিয়োরের প্রতি আসক্ত হল,
মৃতদের উদ্দেশে করা উৎসর্গ ভোজন করলো।
29
এভাবে তারা নিজ নিজ কাজ দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলো;
তাই তাদের মধ্যে মহামারীর প্রাদুর্ভাব হল।
30
তখন পীনহস দাঁড়িয়ে বিচার সাধন করলেন,
তাতে মহামারী নিবৃত্ত হল।
31
তাঁর পক্ষে তা ধার্মিকতা বলে গণনা করা হল,
পুরুষ পরস্পরায় চিরকালের জন্য গণনা করা হল।
32
তারা মরীবার পানির কাছেও আল্লাহ্র ক্রোধ জন্মাল,
আর তাদের জন্য মূসার বিপদ ঘটলো;
33
কেননা তারা তাঁর রূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হল,
আর উনি তাদের ওষ্ঠাধরে অবিবেচনার কথা বললেন।
34
তারা জাতিদেরকে বিনষ্ট করলো না,
যা মাবুদ করতে হুকুম দিয়েছিলেন।
35
কিন্তু তারা জাতিদের সঙ্গে মিশে গেল,
ওদের রীতিনীতি শিক্ষা করলো;
36
আর ওদের মূর্তিগুলোর সেবা করলো,
তাতে সেগুলো তাদের ফাঁদ হয়ে উঠলো;
37
ফলে তারা নিজেদের পুত্রদের,
আর নিজেদের কন্যাদেরকে বদ-রূহ্দের উদ্দেশে কোরবানী করলো;
38
তারা নির্দোষদের রক্তপাত,
নিজ নিজ পুত্র-কন্যাদেরই রক্তপাত করলো,
কেনানীয় মূর্তিগুলোর উদ্দেশে তাদেরকে কোরবানী করলো;
দেশ রক্তে অশুদ্ধ হল।
39
এভাবে তারা নিজেদের কাজে নাপাক,
নিজেদের কর্মতে জেনাকারী হল।
40
তাতে নিজের লোকদের উপরে মাবুদের ক্রোধ জ্বলে উঠলো,
তিনি নিজের অধিকারকে ঘৃণা করলেন।
41
তিনি তাদেরকে জাতিদের হাতে তুলে দিলেন,
তাতে তাদের বিদ্বেষীরা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করলো।
42
তাদের দুশমনরাও তাদের প্রতি জুলুম করলো,
এবং তারা ওদের অধীনে নত হল।
43
অনেকবার তিনি তাদেরকে উদ্ধার করলেন,
কিন্তু তারা নিজেদের মন্ত্রণায় বিদ্রোহী হল,
ও নিজেদের অপরাধে দুর্বল হয়ে পড়লো।
44
তবুও তিনি যখন তাদের কাতরোক্তি শুনলেন,
তখন তাদের সঙ্কটের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন।
45
তিনি তাদের পক্ষে তাঁর নিয়ম স্মরণ করলেন,
নিজের অটল মহব্বতের মহত্ত্ব অনুসারে অনুশোচনা করলেন।
46
যারা তাদের বন্দী করেছিল,
তাদের সকলের দৃষ্টিতে তিনি তাদেরকে করুণারপ্রাপ্ত করলেন।
47
হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, আমাদের উদ্ধার কর,
জাতিদের মধ্য থেকে আমাদেরকে সংগ্রহ কর;
যেন আমরা তোমার পবিত্র নামের শুকরিয়া করি,
যেন তোমার প্রশংসার জয়ধ্বনি করি।
48
মাবুদ ধন্য হোন, ইসরাইলের আল্লাহ্,
অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
সমস্ত লোক বলুক, আমিন।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের শুকরিয়া কর, কেননা তিনি মঙ্গলময়,
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
2
মাবুদের মুক্ত করা লোকেরা এই কথা বলুক,
যাদেরকে তিনি বিপক্ষের হাত থেকে মুক্ত করেছেন,
3
যাদেরকে তিনি সংগ্রহ করেছেন নানা দেশ থেকে,
পূর্ব ও পশ্চিম থেকে, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে।
4
তারা মরুভূমিতে নির্জন পথে পরিভ্রমণ করলো,
বসতি-নগর পেল না।
5
তারা ক্ষুধিত ও তৃষ্ণার্ত হল,
তাদের প্রাণ অন্তরে মূর্চ্ছাপন্ন হল।
6
সঙ্কটে তারা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলো,
আর তিনি তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন।
7
তিনি তাদেরকে সরল পথেও গমন করালেন,
যেন তারা বসতি-নগরে যেতে পারে।
8
লোকে মাবুদের প্রশংসা-গজল করুক,
তাঁর অটল মহব্বতের দরুন,
মানবজাতির জন্য তাঁর অলৌকিক কাজের দরুণ।
9
কারণ তিনি আপ্যায়িত করেন আকাঙ্খী প্রাণকে,
তিনি ক্ষুধিত প্রাণকে উত্তম দ্রব্যে তৃপ্ত করেন।
10
লোকেরা অন্ধকারে ও মৃত্যুচ্ছায়ায় বসেছিল,
বন্দী হিসেবে ও লোহার শিকলে বাঁধা ছিল;
11
কারণ তারা আল্লাহ্র কালামের বিরুদ্ধাচরণ করতো,
সর্বশক্তিমানের মন্ত্রণা তুচ্ছ করতো;
12
তাই তিনি তাদের অন্তর কঠিন পরিশ্রমে অবনত করলেন;
তারা পড়ে গেল, সাহায্যকারী কেউ ছিল না।
13
সঙ্কটে তারা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করলো,
আর তিনি তাদেরকে কষ্ট থেকে উদ্ধার করলেন।
14
তিনি অন্ধকার ও মৃত্যুচ্ছায়া থেকে তাদেরকে বের করে আনলেন,
তাদের বন্ধনগুলো কেটে ফেললেন।
15
লোকে মাবুদের প্রশংসা-গজল করুক,
তাঁর অটল মহব্বতের দরুন,
মানবজাতির জন্য তাঁর অলৌকিক কাজের দরুন!
16
কারণ তিনি ব্রোঞ্জের দ্বার ভেঙ্গে ফেলেছেন,
লোহার অর্গল কেটে ফেলেছেন।
17
মূর্খেরা নিজেদের অধর্মাচরণের দরুন,
নিজেদের অপরাধের দরুন দুর্দশাপন্ন হয়।
18
তাদের প্রাণ সমস্ত খাদ্যদ্রব্য ঘৃণা করে,
তারা মৃত্যুদ্বারের সমীপে উপস্থিত হয়।
19
সঙ্কটে তারা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করে,
আর তিনি তাদেরকে কষ্ট থেকে উদ্ধার করেন।
20
তিনি তাঁর কালাম পাঠিয়ে তাদের সুস্থ করেন,
ধ্বংস থেকে তাদেরকে রক্ষা করেন।
21
লোকে মাবুদের প্রশংসা-গজল করুক,
তাঁর অটল মহব্বতের জন্য,
মানবজাতির প্রতি তাঁর অলৌকিক কাজের জন্য!
22
তারা শুকরিয়া-কোরবানীগুলো উৎসর্গ করুক,
আনন্দগানসহ তাঁর কাজের বর্ণনা করুক।
23
যারা জাহাজে চড়ে সমুদ্রযাত্রা করে,
মহাসমুদ্রের মধ্যে বাণিজ্য করে,
24
তারা মাবুদের সমস্ত কাজ দেখে,
গভীর পানিতে তাঁর আশ্চর্য ব্যাপারগুলো দেখে।
25
তিনি হুকুম দ্বারা প্রচণ্ড বায়ু উত্থাপন করেন,
তা পানির তরঙ্গমালা উঠায়।
26
তারা আসমানে উঠে, তারা পানির গভীরে নামে;
বিপাকে পড়ে তাদের প্রাণ গলে যায়।
27
তারা মাতাল ব্যক্তির মত হেলেদুলে ঢুলে পড়ে,
তাদের সমস্ত বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়।
28
সঙ্কটে তারা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করে,
আর তিনি তাদেরকে দুর্দশা থেকে উদ্ধার করেন।
29
তিনি ঝড় প্রশমিত করেন;
তাতে জলরাশির তরঙ্গগুলো নিস্তব্ধ হয়।
30
তখন তারা আনন্দ করে, কেননা শান্তি হল,
আর তিনি তাদেরকে তাদের অভীষ্ট পোতাশ্রয়ে নিয়ে যান।
31
লোকে মাবুদের প্রশংসা-গজল করুক,
তাঁর অটল মহব্বতের জন্য,
মানবজাতির জন্য তাঁর অলৌকিক কাজের জন্য!
32
তারা লোক-সমাজে তাঁর প্রতিষ্ঠা করুক,
প্রাচীনদের সভাতে তাঁর প্রশংসা করুক।
33
তিনি সমস্ত নদীকে মরুভূমিতে,
পানির ফোয়ারাগুলোকে শুকনো ভূমিতে পরিণত করেন,
34
তিনি ফলবান দেশকে লবণ-মরুভূমি করেন,
সেই স্থানের নিবাসীদের কদাচরণের জন্য।
35
তিনি মরুভূমিকে জলাশয়ে,
মরুভূমিকে পানির ফোয়ারাগুলোতে পরিণত করেন;
36
আর সেখানে তিনি ক্ষুধিত লোকদেরকে বাস করান,
যেন তারা বসতি-নগর প্রস্তুত করে,
37
এবং ক্ষেতে বীজ বপন ও আঙ্গুরলতা রোপণ করে,
এবং উৎপন্ন ফল সঞ্চয় করে।
38
তিনি তাদেরকে দোয়া করেন, তাই তারা অতিশয় বৃদ্ধি পায়,
এবং তিনি তাদের পশুদের হ্রাস পেতে দেন না।
39
আবার তারা হ্রাস পায় ও অবনত হয়,
উৎপীড়ন, বিপদ ও শোকের জন্য।
40
তিনি কর্তাদের উপরে তুচ্ছতা ঢেলে দেন,
পথহীন মরুভূমিতে তাদের ভ্রমণ করান;
41
কিন্তু দরিদ্রকে দুঃখ থেকে উচ্চে স্থাপন করেন,
আর ভেড়ার পালের মত পরিবারের বৃদ্ধি করেন।
42
তা দেখে সরল লোকে আনন্দিত হয়,
আর সমস্ত নাফরমানী তার মুখ রুদ্ধ করে।
43
জ্ঞানবান কে? সে এ সব বিবেচনা করবে,
তারা মাবুদের অটল মহব্বত আলোচনা করবে।
1
গজল। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
আমার অন্তর সুস্থির, হে আল্লাহ্, আমার অন্তর সুস্থির;
আমি কাওয়ালী গাইব, তোমার গৌরব করবো।
হে আমার দিল, জাগ্রত হও।
2
জাগ্রত হও, নেবল ও বীণা;
আমি ঊষাকে জাগ্রত করবো।
3
হে মাবুদ, আমি জাতিদের মধ্যে তোমার প্রশংসা করবো,
আমি লোকবৃন্দের মধ্যে তোমার প্রশংসা গাইব।
4
কেননা তোমার অটল মহব্বত আসমানের চেয়ে মহৎ,
তোমার বিশ্বস্ততা মেঘ পর্যন্ত ব্যাপ্ত।
5
হে আল্লাহ্, আসমানের উপরে উন্নত হও;
সমস্ত দুনিয়ার উপরে তোমার গৌরব উন্নত হোক।
6
তুমি ডান হাত দিয়ে বিজয় দান কর, আমাকে উত্তর দাও,
যেন তোমার প্রিয় ব্যক্তিরা উদ্ধার পায়।
7
আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র স্থানে প্রতিজ্ঞা করেছেন:
আমি উল্লাসের সঙ্গে শিখিম বিভাগ করবো,
ও সুক্কোতের উপত্যকা মাপব।
8
গিলিয়দ আমার, মানশাও আমার;
আর আফরাহীম আমার শিরস্ত্রাণ;
এহুদা আমার বিচারদণ্ড;
9
মোয়াব আমার পা ধোয়ার পাত্র;
আমি ইদোমের উপরে আমার পায়ের জুতা নিক্ষেপ করবো;
পলেষ্টিয়ার উপরে জয়ধ্বনি করবো।
10
কে আমাকে ঐ দৃঢ় নগরে নিয়ে যাবে?
কে ইদোম পর্যন্ত আমাকে পথ দেখিয়ে দেবে?
11
হে আল্লাহ্, তুমি কি আমাদের ত্যাগ কর নি?
হে আল্লাহ্, তুমি আমাদের সৈন্যদের সঙ্গে গমন কর না।
12
বিপক্ষের প্রতিকূলে আমাদের সাহায্য কর;
কেননা মানুষের সাহায্য মিথ্যা।
13
আল্লাহ্কে সঙ্গে নিয়ে আমরা বীরের কাজ করবো;
তিনিই আমাদের বিপক্ষদের পরাজিত করবেন।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে আমার প্রশংসার পাত্র আল্লাহ্, নীরব থেকো না।
2
কেননা লোকে আমার বিরুদ্ধে নাফরমানীর মুখ ও ছলের মুখ খুলেছে;
তারা মিথ্যাবাদী জিহ্বা দ্বারা আমার সঙ্গে কথা বলেছে।
3
তারা ঘৃণার কথা দিয়ে আমাকে ঘিরে ফেলেছে,
এবং অকারণে আমার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।
4
আমার প্রেমের পরিবর্তে তারা আমার বিপক্ষ হয়েছে,
কিন্তু আমি মুনাজাতে রত।
5
তারা আমার উপরে মঙ্গলের পরিবর্তে অমঙ্গল,
আমার প্রেমের পরিবর্তে হিংসা রেখেছে।
6
তুমি সেই ব্যক্তির উপরে দুর্জনকে নিযুক্ত কর;
বিপক্ষ তার ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকুক।
7
বিচারে সে দোষী সাব্যস্ত হোক,
তার মুনাজাত গুনাহ্রূপে গণিত হোক।
8
তার আয়ু অল্প হোক,
অন্য ব্যক্তি তার নেতৃত্বপদ নিয়ে যাক।
9
তার সন্তানেরা এতিম হোক,
তার স্ত্রী বিধবা হোক।
10
তার সন্তানেরা ভ্রমণ করতে করতে ভিক্ষা করুক,
নিজেদের উৎসন্ন স্থান থেকে দূরে দূরীভূত হোক।
11
মহাজন তার সর্বস্ব আটক করুক,
অপর লোকেরা তার শ্রমফল লুট করুক।
12
তার প্রতি কৃপা করে, এমন কেউ না থাকুক,
তার এতিম সন্তানদের প্রতি কেউ দয়া না করুক।
13
তার ভবিষ্যৎ বংশ উচ্ছিন্ন হোক,
পরবর্তী বংশধরের সময়ে তাদের নাম মুছে যাক।
14
তার পিতৃগণের অধর্ম মাবুদের স্মরণে থাকুক,
তার মায়ের গুনাহ্ মুছে না যাক।
15
সেসব সর্বদা মাবুদের সাক্ষাতে থাকুক,
যেন তিনি দুনিয়া থেকে তাদের স্মৃৃতি লোপ করেন।
16
কেননা সে দয়া করার বিষয় বিবেচনা করতো না,
কিন্তু তাড়না করতো দুঃখী ও দরিদ্র ব্যক্তিকে,
ও ভগ্ন হৃদয়ের লোককে, হত্যা করার জন্য।
17
সে বদদোয়া দিতে ভালবাসত, তা তারই প্রতি ঘটলো;
দোয়া করতে তার ভাল লাগতো না,
তাই সে তা থেকে দূরে রইলো।
18
সে বদদোয়াকে কাপড়ের মত পরতো,
তা তার অন্তরে পানির মত প্রবেশ করলো,
তার অস্থিতে তেলের মত প্রবিষ্ট হল।
19
তা তার পক্ষে পরিধানের পোশাকের মত,
ও প্রতিদিনের কোমড়-বন্ধের মত হোক।
20
আমার বিপক্ষেরা, আমার প্রাণের বিরুদ্ধে যারা দুর্বাক্য বলে,
তারা যেন মাবুদ থেকে যেন এই ফল পায়।
21
কিন্তু, তুমি হে মাবুদ, আমার মালিক,
নিজের নামের অনুরোধে আমার সঙ্গে ব্যবহার কর;
তোমার অটল মহব্বত মঙ্গলময়, অতএব আমাকে উদ্ধার কর।
22
কেননা আমি দুঃখী ও দরিদ্র,
এবং আমার হৃদয় আহত হয়েছে।
23
আমি সন্ধ্যাকালীন ছায়ার মত বিলীন হচ্ছি,
পঙ্গপালের মত ইতস্তত চালিত হচ্ছি।
24
রোজা রেখে রেখে আমার হাঁটু দুর্বল হয়েছে,
আমার দেহ ক্ষীণ হয়েছে।
25
আর আমি ওদের কাছে তিরস্কারের পাত্র হয়েছি;
তারা আমাকে দেখলেই অবজ্ঞা করে।
26
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, আমায় সাহায্য কর,
নিজের অটল মহব্বত অনুসারে আমাকে নিস্তার কর,
27
যেন তারা জানতে পারে যে, এই তোমার হাত,
তুমিই, হে মাবুদ, এসব করেছ।
28
তারা বদদোয়া দিক;, কিন্তু তুমি দোয়া করো;
তারা উঠলে লজ্জিত হবে,
কিন্তু তোমার এই গোলাম আনন্দ করবে।
29
আমার দুশমনরা অপমানে জর্জরিত হবে,
পোশাকের মত তারা নিজেদের লজ্জায় আচ্ছাদিত হবে।
30
আমি নিজের মুখে মাবুদের অতিশয় শুকরিয়া করবো,
লোকারণ্যের মধ্যে তাঁর প্রশংসা করবো।
31
কারণ তিনি দরিদ্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকেন,
যেন তাদের থেকে তাকে উদ্ধার করেন যারা তাকে মৃত্যুর শাস্তি দিতে চায়।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
মাবুদ আমার প্রভুকে বলেন, তুমি আমার ডান দিকে বস,
যতদিন আমি তোমার দুশমনদেরকে তোমার পাদপীঠ না করি।
2
মাবুদ সিয়োন থেকে তোমার পরাক্রমদণ্ড প্রেরণ করবেন,
তুমি তোমার দুশমনদের মধ্যে কর্তৃত্ব করো।
3
তোমার সৈন্যসামন্ত সংগ্রহ দিনে,
তোমার লোকেরা স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার হবে;
পবিত্র শোভায়, ঊষার গর্ভ থেকে,
তোমার যুবকেরা তোমার কাছে শিশিরতুল্য।
4
মাবুদ শপথ করলেন, অনুশোচনা করবেন না,
তুমি অনন্তকালীন ইমাম, মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে।
5
তোমার ডান পাশে প্রভু অবস্থিত,
তাঁর ক্রোধের দিনে বাদশাহ্দেরকে চূর্ণ করবেন।
6
তিনি জাতিদের মধ্যে বিচার করবেন,
তিনি লাশ দিয়ে দেশ পরিপূর্ণ করবেন;
তিনি সমস্ত দুনিয়ার বাদশাহ্দের পরাজিত করবেন;
7
তিনি পথের মধ্যে স্রোতের পানি পান করবেন;
এজন্য মাথা তুলবেন।
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
আমি সর্বান্তঃকরণে মাবুদের শুকরিয়া করবো,
সরল লোকদের সভায় ও মণ্ডলীর মধ্যে করবো।
2
মাবুদের সমস্ত কাজ মহৎ,
তাতে যারা আনন্দিত হয় তারা সকলে তা অধ্যয়ন করে।
3
তাঁর কাজ গৌরব ও মহিমাস্বরূপ,
তাঁর ধর্মশীলতা নিত্যস্থায়ী।
4
তিনি নিজের আশ্চর্য সমস্ত কাজ স্মরণীয় করেছেন;
মাবুদ কৃপাময় ও স্নেহশীল।
5
যারা তাঁকে ভয় করে তিনি তাদের আহার দেন;
তিনি তাঁর নিয়ম চিরকাল স্মরণ করবেন।
6
তিনি নিজের লোকদেরকে তাঁর কাজের শক্তির কথা জানিয়েছেন,
তাদেরকে জাতিদের অধিকার দান করেছেন।
7
তাঁর হাতের সমস্ত কাজ সত্য ও ন্যায্য;
তাঁর সমস্ত আদেশমালা বিশ্বাসযোগ্য।
8
সেগুলো অনন্তকালের জন্য স্থিরীকৃত,
বিশ্বস্ততায় ও সরলতায় প্রণীত।
9
তিনি তাঁর লোকদের কাছে মুক্তিবার্তা পাঠিয়েছেন;
তিনি চিরকালের জন্য তাঁর নিয়ম স্থির করেছেন;
তাঁর নাম পবিত্র ও ভয়াবহ।
10
মাবুদের ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ;
যে কেউ তদনুযায়ী কাজ করে, সে সুবুদ্ধি পায়;
তাঁর প্রশংসা নিত্যস্থায়ী।
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
সুখী সেই জন, যে মাবুদকে ভয় করে,
যে তাঁর হুকুমনামায় অতিমাত্র প্রীত হয়।
2
তার বংশ দুনিয়াতে বিক্রমশালী হবে;
সরল লোকের গোষ্ঠী দোয়া পাবে।
3
তার বাড়িতে ধন ও ঐশ্বর্য থাকে,
তার ধার্মিকতা নিত্যস্থায়ী।
4
সরল লোকের জন্য অন্ধকারে জ্যোতি উদিত হয়;
সে কৃপাময়, স্নেহশীল ও ধার্মিক।
5
যে জন কৃপা করে ও ঋণ দেয়, তার মঙ্গল হয়;
সে ন্যায়বিচারে তার সমস্ত কাজ নিষ্পন্ন করবে।
6
কারণ সে কোন কালে বিচলিত হবে না;
ধার্মিক চিরকাল স্মরণে থাকবে।
7
অশুভ সংবাদেও সে ভয় করবে না;
তার অন্তর স্থির, তা মাবুদের উপর নির্ভর করে।
8
তার অন্তর সুস্থির, সে ভয় করে না,
শেষে সে তাঁর বিপক্ষদের পরাজয় দেখবে।
9
সে বিতরণ করেছে, দরিদ্রদের দান করেছে,
তার ধার্মিকতা নিত্যস্থায়ী;
তার শৃঙ্গ গৌরবে উন্নত হবে।
10
দুষ্ট লোক তা দেখে বিরক্ত হবে;
সে দন্ত ঘর্ষণ করবে ও গলে যাবে;
দুষ্টদের অভীষ্ট বিনষ্ট হবে।
1
তোমরা মাবুদের প্রশংসা কর।
হে মাবুদের গোলামেরা, প্রশংসা কর,
মাবুদের নামের প্রশংসা কর।
2
ধন্য মাবুদের নাম,
এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
3
সূর্যের উদয়স্থান থেকে তার অস্তস্থান পর্যন্ত
মাবুদের নাম প্রশংসনীয়।
4
মাবুদ সর্বজাতির উপরে অবস্থিত,
তাঁর গৌরব আসমানের উপরে উন্নত।
5
কে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের মত?
তিনি ঊর্ধ্বে সমাসীন;
6
তিনি অবনত হয়ে দৃষ্টিপাত করেন আসমানে ও দুনিয়াতে।
7
তিনি ধূলি থেকে দীনহীনকে তোলেন,
সারের ঢিবি থেকে দরিদ্রকে উঠান;
8
যেন তিনি তাকে বসিয়ে দেন কুলীনদের সঙ্গে,
আপন লোকদেরই কুলীনদের সঙ্গে।
9
তিনি বন্ধ্যাকে গৃহিণী করেন,
নিজের পুত্রদের আনন্দময়ী মা করেন।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
ইসরাইল যখন বের হয়ে আসল মিসর থেকে,
ইয়াকুবের বংশ পরভাষী লোক থেকে,
2
তখন এহুদা হল আল্লাহ্র পবিত্র স্থান,
ইসরাইল হল তাঁর রাজ্য।
3
তা দেখে সমুদ্র পালিয়ে গেল,
জর্ডান নদীর পানি উজানে বইল।
4
পর্বতমালা লাফ দিল ভেড়ার মত,
উপপর্বতগুলো লাফ দিল ভেড়ার বাচ্চার মত।
5
তোমার কি হল, সমুদ্র, তুমি কেন পালালে?
জর্ডান নদী, তুমি কেন উজানে বইলে?
6
পর্বতমালা, তোমরা কেন লাফ দিলে ভেড়ার মত?
উপপর্বতগুলো, তোমরা কেন লাফ দিলে ভেড়ার বাচ্চার মত?
7
দুনিয়া! তুমি কেঁপে ওঠ, প্রভুর সাক্ষাতে,
ইয়াকুবের আল্লাহ্র সাক্ষাতে।
8
তিনি শৈলকে পরিণত করলেন জলাশয়ে,
চকমকি প্রস্তরকে পানির ফোয়ারায়।
1
হে মাবুদ, আমাদের নয়, আমাদের নয়,
কিন্তু তোমারই নাম গৌরবান্বিত কর,
তোমার অটল মহব্বতের অনুরোধে, তোমার বিশ্বস্ততার অনুরোধে।
2
জাতিরা কেন বলবে, ‘কোথায় ওদের আল্লাহ্?’
3
আমাদের আল্লাহ্ তো বেহেশতে থাকেন;
তিনি যা ইচ্ছা করেছেন, তা-ই করেছেন।
4
ওদের সমস্ত মূর্তি রূপা ও সোনা,
মানুষের হাতের কাজ।
5
মুখ থাকতেও তারা কথা বলে না;
চোখ থাকতেও দেখতে পায় না;
6
কান থাকতেও শুনতে পায় না;
নাক থাকতেও ঘ্রাণ নিতে পারে না;
7
হাত থাকতেও স্পর্শ করতে পারে না;
পা থাকতেও চলতে পারে না;
তারা কণ্ঠ দিয়ে কোন আওয়াজ করতে পারে না।
8
যেমন তারা, তেমনি হবে তাদের নির্মাতারা,
আর যে কেউ সেসব জিনিসের উপর নির্ভর করে।
9
হে ইসরাইল, তুমি মাবুদের উপরই নির্ভর কর;
‘তিনিই তাদের সহায় ও তাদের ঢাল।’
10
হারুনের কুল, তোমরা মাবুদের উপরই নির্ভর কর;
‘তিনিই তাদের সহায় ও তাদের ঢাল।’
11
মাবুদের ভয়কারীরা, মাবুদের উপর নির্ভর কর;
‘তিনিই তাদের সহায় ও তাদের ঢাল।’
12
মাবুদ আমাদের মনে রেখেছেন;
তিনি দোয়া করবেন, ইসরাইলের কুলকে দোয়া করবেন,
হারুনের কুলকে দোয়া করবেন।
13
যারা মাবুদকে ভয় করে,
তিনি তাদেরকে দোয়া করবেন,
ক্ষুদ্র কি মহান সকলকেই করবেন।
14
মাবুদ তোমাদের বৃদ্ধি করুন,
তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের বৃদ্ধি করুন।
15
তোমরা মাবুদের দোয়ার পাত্র,
তিনি বেহেশতের ও দুনিয়ার নির্মাণকর্তা।
16
বেহেশত মাবুদেরই বেহেশত,
কিন্তু তিনি দুনিয়া মানুষকে দিয়েছেন।
17
মৃতেরা মাবুদের প্রশংসা করে না,
যারা নিস্তব্ধ স্থানে নামে, তারা কেউ করে না।
18
কিন্তু আমরা মাবুদের শুকরিয়া আদায় করবো,
এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত করবো।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
আমি মাবুদকে মহব্বত করি,
কারণ তিনি আমার স্বর ও আমার বিনতি শোনেন।
2
তিনি আমার কথায় কান দিয়েছেন,
সেজন্য আমি সারা জীবন তাঁকে ডাকব।
3
মৃত্যুর দড়ি আমাকে বেষ্টন করলো,
পাতালের যন্ত্রণা আমাকে পেয়ে বসলো,
আমি সঙ্কটে ও দুঃখে পড়লাম।
4
তখন আমি মাবুদের নামে ডাকলাম,
আরজ করি, হে মাবুদ, আমার প্রাণ রক্ষা কর।
5
মাবুদ মমতায় পূর্ণ ও ধর্মময়,
আমাদের আল্লাহ্ স্নেহশীল।
6
মাবুদ অমায়িক লোকদেরকে রক্ষা করেন;
আমি দীনহীন হলে তিনি আমার উদ্ধার করলেন।
7
হে আমার প্রাণ, তোমার বিশ্রাম-স্থানে ফিরে যাও,
কেননা মাবুদ তোমার মঙ্গল করেছেন।
8
কারণ তুমি মৃত্যু থেকে আমার প্রাণ,
অশ্রু থেকে আমার চোখ,
পতন থেকে আমার চরণ উদ্ধার করেছ।
9
আমি মাবুদের সাক্ষাতে যাতায়াত করবো,
জীবিতদের দেশেই করবো।
10
আমার বিশ্বাস আছে, তাই কথা বলবো;
আমি নিতান্ত দুঃখার্ত ছিলাম।
11
আমি উদ্বেগে বলেছিলাম, সব মানুষই মিথ্যাবাদী।
12
আমি মাবুদ থেকে যেসব মঙ্গল পেয়েছি,
তার পরিবর্তে তাঁকে কি ফিরিয়ে দেব?
13
আমি উদ্ধারের পানপাত্র গ্রহণ করবো,
এবং মাবুদের নামে ডাকব।
14
আমি মাবুদের কাছে আমার সমস্ত মানত পূর্ণ করবো;
তাঁর সমস্ত লোকের সাক্ষাতেই করবো।
15
মাবুদের দৃষ্টিতে তাঁর বিশ্বস্তদের মৃত্যুর মূল্য অনেক বেশি।
16
আরজ করি, হে মাবুদ, আমি তোমার গোলাম;
আমি তোমার গোলাম, তোমার বাঁদীর পুত্র;
তুমি আমার বন্ধন সকল মুক্ত করেছ।
17
আমি তোমার উদ্দেশে শুকরিয়া কোরবানী উৎসর্গ করবো,
আর মাবুদের নামে ডাকব।
18
মাবুদের কাছে আমার সমস্ত মানত পূর্ণ করবো,
তাঁর সমস্ত লোকের সাক্ষাতেই করবো;
19
মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে জেরুশালেম, তোমারই মধ্যে পূর্ণ করবো।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
সমস্ত জাতি, মাবুদের প্রশংসা কর;
সমস্ত লোকবৃন্দ, তাঁর সঙ্কীর্তন কর।
2
কেননা আমাদের উপরে তাঁর অটল মহব্বত মহৎ,
ও মাবুদের বিশ্বস্ততা অনন্তকালস্থায়ী।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের শুকরিয়া কর, কেননা তিনি মঙ্গলময়,
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
2
ইসরাইল বলুক, তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
3
হারুনের কুল বলুক, তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
4
যারা মাবুদকে ভয় করে, তারা বলুক,
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
5
আমি সঙ্কটের মধ্য থেকে মাবুদকে ডাকলাম;
মাবুদ আমাকে জবাব দিলেন এবং মুক্ত করলেন।
6
মাবুদ আমার পক্ষে আছেন, আমি ভয় করবো না;
মানুষ আমার কি করতে পারে?
7
মাবুদ আমার সপক্ষ, আমার সহায়দের মধ্যবর্তী;
তাই আমি আমার বিদ্বেষীদের দশা দেখব।
8
মানুষের উপর নির্ভর করার চেয়ে মাবুদের আশ্রয় নেওয়া উত্তম।
9
প্রধানবর্গের উপর নির্ভর করার চেয়ে মাবুদের আশ্রয় নেওয়া উত্তম।
10
সমুদয় জাতি আমাকে ঘিরে রেখেছে;
মাবুদের নামে আমি তাদেরকে উচ্ছেদ করবো।
11
তারা আমাকে ঘিরে রেখেছে, হ্যাঁ, আমাকে ঘিরে রেখেছে,
মাবুদের নামে আমি তাদেরকে উচ্ছেদ করবো।
12
মধুমক্ষিকার মত তারা আমাকে ঘিরে রেখেছে,
কাঁটার আগুনের মত তারা নিভে গেল;
মাবুদের নামে আমি তাদেরকে উচ্ছেদ করবো।
13
তুমি আমাকে ফেলে দেবার জন্য ধাক্কা মেরেছ,
কিন্তু মাবুদ আমার সাহায্য করলেন।
14
মাবুদ আমার বল ও গান;
তিনি আমার উদ্ধার হয়েছেন।
15
ধার্মিকদের তাঁবুতে বিজয়ের ও উদ্ধারের আনন্দ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে;
মাবুদের ডান হাত বিক্রমশালী কাজ করেছেন।
16
মাবুদের ডান হাত উন্নত,
মাবুদের ডান হাত বিক্রমশালী কাজ করেছেন।
17
আমি মরবো না, কিন্তু জীবিত থাকব,
আর মাবুদের সমস্ত কাজ বর্ণনা করবো।
18
মাবুদ আমাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছেন,
কিন্তু মৃত্যুর হাতে তুলে দেন নি।
19
আমার জন্য ধার্মিকতার সমস্ত দ্বার দরজা খুলে দাও;
আমি তা দিয়ে প্রবেশ করবো, মাবুদের শুকরিয়া করবো।
20
এই তো মাবুদের দরজা,
এর মধ্য দিয়েই ধার্মিকেরা প্রবেশ করে।
21
আমি তোমার প্রশংসা করবো,
কেননা তুমি আমাকে উত্তর দিয়েছ,
আর তুমি আমার উদ্ধার হয়েছ।
22
রাজমিস্ত্রিরা যে পাথর অগ্রাহ্য করেছে,
তা কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠলো।
23
এটা মাবুদই করেছেন,
আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অদ্ভুত লাগে।
24
আজ মাবুদের কৃত দিন;
আমরা এই দিনে উল্লাস ও আনন্দ করবো।
25
হে মাবুদ, আরজ করি, উদ্ধার কর;
হে মাবুদ, আরজ করি, সাফল্য দাও।
26
তিনি ধন্য হোন, যিনি প্রভুর নামে আসছেন;
আমরা মাবুদের গৃহ থেকে তোমাদেরকে দোয়া করি।
27
মাবুদই আল্লাহ্;
তিনি আমাদেরকে আলো দিয়েছেন;
তোমরা দড়ি দিয়ে উৎসবের কোরবানী কোরবানগাহ্র শৃঙ্গে বাঁধ।
28
তুমি আমার আল্লাহ্, আমি তোমার প্রশংসা করবো;
তুমি আমার আল্লাহ্, আমি তোমার প্রতিষ্ঠা করবো।
29
তোমরা মাবুদের শুকরিয়া কর,
কেননা তিনি মঙ্গলময়;
তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
1
সুখী তারা, যারা আচরণে সিদ্ধ,
যারা মাবুদের শরীয়তের পথে চলে।
2
সুখী তারা, যারা তাঁর সমস্ত নির্দেশ পালন করে;
যারা সর্বান্তঃকরণে তাঁর খোঁজ করে।
3
আবার তারা অন্যায় করে না,
তারা তাঁর সকল পথে গমন করে।
4
তুমি তোমার আদেশমালা হুকুম করেছ,
যেন আমরা যত্নপূর্বক তা পালন করি।
5
আহা! আমার সমস্ত পথ সুস্থির হোক,
যেন আমি তোমার বিধিগুলো পালন করি।
6
তখন আমি লজ্জিত হব না,
যখন তোমার সমস্ত হুকুমের প্রতি দৃষ্টি রাখি।
7
যখন তোমার ধর্মময় অনুশাসনগুলো শিক্ষা করি,
তখন আমি সরল অন্তরে তোমার প্রশংসা করবো।
8
আমি তোমার বিধিগুলো পালন করবো;
আমাকে একেবারে পরিত্যাগ করো না।
9
যুবক কেমন করে নিজের পথ বিশুদ্ধ করবে?
তোমার সমস্ত হুকুম পালন করেই তা করবে।
10
আমি সর্বান্তঃকরণে তোমার খোঁজ করেছি,
আমাকে তোমার নির্দেশিত পথ ছেড়ে ঘুরে বেড়াতে দিও না।
11
তোমার কালাম আমি হৃদয়ের মধ্যে সঞ্চয় করেছি,
যেন তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ না করি।
12
ধন্য তুমি, হে মাবুদ,
আমাকে তোমার বিধিগুলো শিক্ষা দাও।
13
আমি ওষ্ঠাধরে বর্ণনা করেছি
তোমার মুখের সমস্ত অনুশাসন।
14
আমি তোমার নির্দেশ-পথে আমোদ করেছি,
যেমন ধন-সম্পদে লোকে আনন্দ করে।
15
আমি তোমার আদেশমালা ধ্যান করবো,
তোমার সকল পথের প্রতি দৃষ্টি রাখবো।
16
আমি তোমার বিধিগুলোতে উল্লসিত হব,
তোমার কালাম ভুলে যাব না।
17
তোমার গোলামের মঙ্গল কর, যেন আমি বাঁচি,
তা হলে আমি তোমার কালাম পালন করবো।
18
আমার নয়ন খুলে দাও, যেন আমি দর্শন করি,
তোমার শরীয়তে আশ্চর্য আশ্চর্য বিষয় দেখি।
19
আমি দুনিয়াতে প্রবাসী,
আমা থেকে তোমার সমস্ত হুকুম লুকিয়ে রেখো না।
20
আমার প্রাণ সর্ব সময়ে আকাঙ্খায় ক্ষুণ্ন হয়
তোমার অনুশাসনগুলোর জন্য।
21
তুমি সেই বদদোয়াগ্রস্ত অহঙ্কারীদেরকে ভর্ৎসনা করেছ,
যারা তোমার নির্দেশিত পথ ছেড়ে ঘুরে বেড়ায়।
22
আমা থেকে দুর্নাম ও অপমান দূর কর,
কেননা আমি তোমার নির্দেশগুলো পালন করেছি।
23
শাসনকর্তারাও আমার বিপক্ষে কথা বললেও,
তোমার এই গোলাম তোমার বিধি ধ্যান করে।
24
তোমার নির্দেশগুলো আমার হর্ষজনক,
সেগুলো আমার মন্ত্রণাদায়ক সুহৃৎ।
25
আমার প্রাণ ধূলিতে সংলগ্ন,
তোমার কালাম অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
26
আমি আমার পথগুলোর কথা বললাম,
আর তুমি আমাকে উত্তর দিয়েছ,
তোমার বিধিগুলো আমাকে শিক্ষা দাও।
27
তোমার আদেশমালা আমাকে বুঝিয়ে দাও,
আমি তোমার অলৌকিক সমস্ত কাজ ধ্যান করবো।
28
আমার প্রাণ দুঃখে গলে পড়ছে,
তোমার কালাম অনুসারে আমাকে উঠাও।
29
আমার কাছ থেকে মিথ্যার পথ দূর কর,
কৃপা করে তোমার শরীয়ত আমাকে শিক্ষা দাও।
30
আমি বিশ্বস্ততার পথ মনোনীত করেছি,
আমি তোমার সমস্ত অনুশাসন সম্মুখে রেখেছি।
31
আমি তোমার নির্দেশগুলোতে আসক্ত;
হে মাবুদ, আমাকে লজ্জিত করো না।
32
আমি তোমার নির্দেশিত পথে দৌড়াব,
কেননা তুমি আমার হৃদয় প্রশস্ত করছে।
33
হে মাবুদ, তোমার বিধি-পথ আমাকে দেখাও,
আর আমি শেষ পর্যন্ত তা পালন করবো।
34
আমাকে বিবেচনা দাও,
আমি তোমার শরীয়ত মানব,
সর্বান্তঃকরণে তা পালন করবো।
35
তোমার নির্দেশিত পথে আমাকে গমন করাও,
কারণ তাতেই আমার প্রীতি।
36
তোমার নির্দেশগুলোর প্রতি আমার হৃদয় ফিরাও,
লোভের প্রতি আমার হৃদয়কে ফিরতে দিও না।
37
মূল্যহীন দর্শন থেকে আমার চোখ ফিরাও,
তোমার পথে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
38
তোমার গোলামের পক্ষে সফল কর তোমার প্রতিজ্ঞা,
যারা তোমাকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে তাদের পক্ষে তা সফল কর।
39
দূর কর আমার দুর্নাম, যার বিষয় আমি ভয় করি,
কেননা তোমার সমস্ত অনুশাসন উত্তম।
40
দেখ, আমি তোমার আদেশমালা আকাঙ্খা করে আসছি,
তোমার ধর্মশীলতায় আমাকে সঞ্জীবিত কর।
41
আমার প্রতি তোমার অটল মহব্বত বর্তুক,
হে মাবুদ, তোমার প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমার উদ্ধার বর্তুক।
42
তবে আমি আমার দুর্নামকারীকে জবাব দিতে পারব,
কেননা আমি তোমার কালামে নির্ভর করছি।
43
আর আমার মুখ থেকে সত্যের কালাম নিঃশেষে হরণ করো না,
কেননা আমি তোমার অনুশাসনগুলোর অপেক্ষা করছি।
44
আমি সতত তোমার শরীয়ত পালন করবো,
যুগে যুগে চিরকাল করবো।
45
আর আমি প্রশস্ত স্থানে যাতায়াত করবো,
কেননা আমি তোমার আদেশমালার খোঁজ করেছি।
46
আমি বাদশাহ্দের সাক্ষাতেও তোমার নির্দেশগুলোর কথা বলবো,
আর আমি লজ্জিত হব না।
47
আমি তোমার আদেশগুলোতে আনন্দ করবো,
সেসব আমি ভালবাসি।
48
আমি তোমার হুকুমগুলোকে সম্মান করি,
সেসব আমি ভালবাসি,
আমি তোমার বিধিগুলো ধ্যান করবো।
49
তোমার গোলামের পক্ষে সেই কালাম স্মরণ কর,
যা দ্বারা তুমি আমাকে প্রত্যাশাযুক্ত করেছ।
50
দুঃখের সময়ে এ-ই আমার সান্ত্বনা,
তোমার প্রতিজ্ঞা আমাকে সঞ্জীবিত করেছে।
51
অহঙ্কারীরা আমাকে অতিশয় বিদ্রূপ করেছে,
তোমার শরীয়ত থেকে আমি বিমুখ হই নি।
52
হে মাবুদ, আমি তোমার পূর্বকালের সমস্ত অনুশাসন স্মরণ করেছি,
আর সান্ত্বনা পেয়েছি।
53
দুষ্টদের বিষয়ে আমার ক্রোধ জ্বলে উঠলো,
কেননা তারা তোমার শরীয়ত ত্যাগ করে।
54
তোমার বিধিগুলো হয়েছে আমার গজল
যেখানেই অমি আমার বাসগৃহ তৈরি করি।
55
হে মাবুদ, আমি রাতের বেলায় তোমার নাম স্মরণ করেছি,
ও তোমার শরীয়ত পালন করেছি।
56
এই দোয়া আমার উপর বর্ষিত হয়েছে যে,
আমি তোমার আদেশমালা পালন করেছি।
57
মাবুদ আমার অধিকার;
আমি বলেছি, আমি তোমার সমস্ত কালাম পালন করবো।
58
আমি সর্বান্তঃকরণে তোমার মুখের প্রসন্নতা লক্ষ্য করেছি;
তোমার প্রতিজ্ঞানুসারে আমার প্রতি রহম কর।
59
আমি নিজের পথগুলো বিবেচনা করলাম,
ও তোমার নির্দেশগুলোর প্রতি আমার চরণ ফিরালাম।
60
আমি তৎপর হলাম, বিলম্ব করলাম না,
তোমার সমস্ত হুকুম পালন করার জন্য।
61
দুষ্টদের দড়ি আমাকে জড়িয়ে ধরেছে,
আমি তোমার শরীয়ত ভুলে যাই নি।
62
আমি মধ্যরাত্রে তোমার প্রশংসা করতে উঠবো,
তোমার ধর্মময় অনুশাসনগুলোর জন্য।
63
আমি সেই সবের সখা, যারা তোমাকে ভয় করে,
এবং যারা তোমার আদেশমালা পালন করে।
64
তোমার অটল মহব্বতে, হে মাবুদ, দুনিয়া পরিপূর্ণ,
আমাকে তোমার বিধিগুলো শিক্ষা দাও।
65
তুমি তোমার গোলামের প্রতি মঙ্গল ব্যবহার করেছ,
হে মাবুদ, তোমার কালাম অনুসারে করেছ।
66
উত্তম বিচার ও জ্ঞান আমাকে শিখাও,
কেননা আমি তোমার আদেশগুলোতে বিশ্বাস করে আসছি।
67
দুঃখার্ত হবার আগে আমি ভ্রান্ত ছিলাম,
কিন্তু এখন তোমার কালাম পালন করছি।
68
তুমি মঙ্গলময় ও মঙ্গলকারী,
তোমার বিধিগুলো আমাকে শিক্ষা দাও।
69
অহঙ্কারীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা রচনা করেছে,
আমি সর্বান্তঃকরণে তোমার আদেশমালা পালন করবো।
70
ওদের অন্তঃকরণ চর্বির মত স্থূল;
কিন্তু আমি তোমার শরীয়তে আনন্দ করি।
71
আমি যে দুঃখার্ত হয়েছি, এই আমার পক্ষে উত্তম,
যেন আমি তোমার বিধি শিখতে পাই।
72
তোমার মুখের শরীয়ত আমার পক্ষে উত্তম,
হাজার হাজার সোনার ও রূপার মুদ্রার চেয়ে উত্তম।
73
তোমার হাত আমার গঠন ও স্থিতি করেছে;
আমাকে বিবেচনা দাও, যেন তোমার সমস্ত হুকুম শিখতে পারি।
74
যারা তোমাকে ভয় করে, তারা আমাকে দেখে আনন্দিত হবে,
কারণ আমি তোমার কালামে প্রত্যাশা করেছি।
75
হে মাবুদ, আমি জানি তোমার সকল বিচার ধর্মময়,
আর তুমি বিশ্বস্ততায় আমাকে দুঃখ দিয়াছ।
76
আহা! তোমার অটল মহব্বত আমার সান্ত্বনাজনক হোক,
তোমার গোলামের প্রতি তোমার কথা অনুসারে হোক।
77
আমার প্রতি তোমার করুণা বর্তুক, যেন আমি বাঁচি;
কেননা তোমার শরীয়ত আমার হর্ষজনক।
78
অহঙ্কারীরা লজ্জিত হোক,
কেননা তারা মিথ্যা বলে আমার সর্বনাশ করেছে;
কিন্তু আমি তোমার আদেশমালা ধ্যান করছি।
79
যারা তোমাকে ভয় করে, তারা যেন আমার প্রতি ফিরে আসে,
আর তারা তোমার নির্দেশগুলো বুঝবে।
80
আমার দিল তোমার বিধিতে সিদ্ধ হোক,
যেন আমি লজ্জিত না হই।
81
তোমার উদ্ধারের প্রতীক্ষায় আমার প্রাণ ক্ষীণ হয়,
আমি তোমার কালামের অপেক্ষা করি।
82
তোমার নির্দেশের প্রতীক্ষায় আমার চোখ ক্ষীণ হয়,
আমি বলি, তুমি কখন আমাকে সান্ত্বনা দেবে?
83
কারণ আমি ধোঁয়া ভরা কুপার মত হয়েছি;
তবুও তোমার বিধি ভুলে যাই নি।
84
তোমার গোলাম আর কতকাল কষ্টভোগ করবে?
কবে আমার তাড়নাকারীদের বিচার করবে?
85
অহঙ্কারীরা আমার জন্য গর্ত খুঁড়েছে,
তারা তোমার শরীয়তের অনুগামী নয়।
86
তোমার সমস্ত হুকুম বিশ্বাসযোগ্য;
লোকে মিথ্যা বলে আমাকে তাড়না করে;
আমাকে সাহায্য কর।
87
ওরা দুনিয়াতে আমাকে প্রায় নিঃশেষ করেছিল,
কিন্তু আমি তোমার আদেশমালা ত্যাগ করি নি।
88
তোমার অটল মহব্বত অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর,
তাতে আমি তোমার মুখের নির্দেশ পালন করবো।
89
অনন্তকালের জন্য, হে মাবুদ,
তোমার কালাম বেহেশতে সংস্থাপিত।
90
তোমার বিশ্বস্ততা পুরুষানুক্রমে স্থায়ী;
তুমি দুনিয়াকে স্থাপন করেছ, তা স্থির রয়েছে।
91
আজও তোমার শাসন অনুসারে সকলই স্থির রয়েছে,
কেননা সমস্তই তোমার গোলাম।
92
যদি তোমার শরীয়ত আমার হর্ষজনক না হত,
তবে ইতোপূর্বে আমি আমার দুঃখে বিনষ্ট হতাম।
93
আমি তোমার আদেশমালা কখনও ভুলে যাব না,
কারণ তা দ্বারা তুমি আমাকে সঞ্জীবিত করেছ।
94
আমি তোমারই, আমাকে নিস্তার কর;
কারণ আমি তোমার আদেশমালা খোঁজ করেছি।
95
দুষ্টরা আমাকে বিনষ্ট করার জন্য আমার অপেক্ষা করেছে;
আমি তোমার নির্দেশগুলো আলোচনা করবো।
96
আমি সমস্ত শুদ্ধতার সীমাবদ্ধতা দেখেছি;
তোমার হুকুম অতিশয় প্রশস্ত।
97
আমি তোমার শরীয়ত কেমন ভালবাসি!
তা সমস্ত দিন আমার ধ্যানের বিষয়।
98
তোমার সমস্ত হুকুম আমাকে দুশমনদের চেয়ে জ্ঞানবান করে;
কারণ সেসব চিরকাল আমার।
99
আমার সমস্ত শিক্ষকের চেয়ে আমি জ্ঞানবান,
কেননা আমি তোমার নির্দেশগুলো ধ্যান করি।
100
প্রাচীন লোক হতেও আমি বুদ্ধিমান,
কারণ আমি তোমার আদেশমালা পালন করেছি।
101
আমি সমস্ত কুপথ থেকে আমার চরণ নিবৃত্ত করেছি,
যেন আমি তোমার কালাম পালন করি।
102
আমি তোমার অনুশাসন-পথ থেকে ফিরে যাই নি,
কারণ তুমিই আমাকে শিক্ষা দিয়াছ।
103
তোমার বচনগুলো আমার রসনাতে কেমন মিষ্ট লাগে!
তা আমার মুখে মধু হতেও মধুর!
104
তোমার আদেশমালা দ্বারা আমার বুদ্ধিলাভ হয়,
তাই আমি সমুদয় মিথ্যাপথ ঘৃণা করি।
105
তোমার কালাম আমার চরণের প্রদীপ,
আমার পথের আলো।
106
আমি শপথ করেছি, স্থির করেছি,
তোমার ধর্মময় সমস্ত অনুশাসন পালন করবো।
107
আমি অতিশয় দুঃখার্ত;
হে মাবুদ, তোমার কালাম অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
108
হে মাবুদ, আরজ করি,
আমার স্বেচ্ছায় দেওয়া মুখের সমস্ত উপহার গ্রাহ্য কর,
ও তোমার সমস্ত অনুশাসন আমাকে শিক্ষা দাও।
109
আমার প্রাণ নিরন্তর আমার হাতের মুঠোয় থাকে,
তবুও আমি তোমার শরীয়ত ভুলে যাই না।
110
দুষ্টরা আমার জন্য ফাঁদ পেতেছে,
কিন্তু আমি তোমার আদেশমালা থেকে বিপথগামী হই না।
111
তোমার নির্দেশগুলো আমি চিরতরে অধিকার করেছি,
কারণ সেই সমস্ত আমার অন্তরের আনন্দ বৃদ্ধি করে।
112
আমি তোমার বিধিগুলো পালন করতে মনকে অবনত করেছি,
চিরকালের জন্য, শেষ পর্যন্ত।
113
আমি দ্বিমনাদের ঘৃণা করি,
কিন্তু তোমার শরীয়ত মহব্বত করি।
114
তুমি আমার অন্তরাল ও আমার ঢাল;
আমি তোমার কালামে প্রত্যাশা রাখি।
115
দুর্বৃত্তরা, আমার কাছ থেকে দূর হও;
আমি আমার আল্লাহ্র সমস্ত হুকুম পালন করবো।
116
তোমার কথা অনুসারে আমাকে ধারণ কর, তাতে বাঁচবো,
আমাকে নিজের আশার বিষয়ে লজ্জিত হতে দিও না।
117
আমাকে ধরে রাখ, তাতে রক্ষা পাব,
আর তোমার বিধিগুলো সর্বদা মান্য করবো।
118
তুমি তাদের সকলকে হেয়জ্ঞান করেছ,
যারা তোমার বিধি-পথ থেকে ভুল পথে চলে;
কেননা তাদের প্রবঞ্চনা অসার।
119
তুমি দুনিয়ার সমস্ত দুষ্টকে আবর্জনার মত দূর করে থাক,
তাই আমি তোমার নির্দেশগুলো ভালবাসি।
120
তোমার ভয়ে আমার শরীর রোমাঞ্চিত হয়,
তোমার বিচারগুলোতে আমি ভীত হই।
121
আমি ন্যায়বিচার ও সঠিক কাজ করেছি,
আমাকে জুলুমবাজদের হাতে তুলে দিও না।
122
তুমি নিজের গোলামের মঙ্গল নিশ্চিত কর,
অহঙ্কারীরা আমার প্রতি জুলুম না করুক।
123
আমার চোখ ক্ষীণ হচ্ছে, তোমার উদ্ধারের জন্য,
ও তোমার ধর্মময় প্রতিজ্ঞা পূর্ণতার জন্য।
124
তোমার অটল মহব্বত অনুসারে তোমার গোলামের সঙ্গে ব্যবহার কর,
আর তোমার বিধিগুলো আমাকে শিক্ষা দাও।
125
আমি তোমার গোলাম, আমাকে বুদ্ধি দাও,
যেন তোমার সমস্ত নির্দেশ বুঝতে পারি।
126
মাবুদের কাজ করার সময় হল,
কেননা লোকে তোমার শরীয়ত ভঙ্গ করেছে।
127
সেজন্য আমি তোমার হুকুমগুলো ভালবাসি,
সোনা থেকে, খাঁটি সোনা থেকেও তা ভালবাসি।
128
সেজন্য আমি সর্ব বিষয়ে তোমার সমুদয় আদেশমালা শিরোধার্য জ্ঞান করি,
সমস্ত মিথ্যাপথ ঘৃণা করি।
129
তোমার নির্দেশগুলো আশ্চর্য,
এজন্য আমার প্রাণ সেগুলো পালন করে।
130
তোমার কালাম প্রকাশিত হলে তা আলো দান করে,
তা অমায়িকদেরকে বুদ্ধিমান করে।
131
আমি মুখ খুলে শ্বাস ফেলছিলাম,
কেননা তোমার হুকুমগুলোর আকাঙ্খা করছিলাম।
132
আমার প্রতি ফির ও আমার প্রতি রহম কর,
যেমন তোমার নামপ্রিয়দের প্রতি করে থাক।
133
তোমার প্রতিজ্ঞা অনুসারে আমার পদক্ষেপ স্থির রাখ,
কোন অধর্ম আমার উপরে কর্তৃত্ব না করুক।
134
মানুষের জুলুম থেকে আমাকে মুক্ত কর,
তাতে আমি তোমার আদেশমালা পালন করবো।
135
তোমার গোলামের প্রতি তোমার মুখ উজ্জ্বল কর,
এবং তোমার সমস্ত বিধি আমাকে শিক্ষা দাও।
136
আমার চোখ থেকে পানির ধারা বইছে,
কারণ লোকে তোমার শরীয়ত পালন করে না।
137
হে মাবুদ, তুমি ধর্মময় ও তোমার সমস্ত বিচার ন্যায্য।
138
তুমি ধর্মশীলতায় এবং অতীব বিশ্বস্ততায়
তোমার নির্দেশগুলো হুকুম করেছ।
139
আমার গভীর আগ্রহ আমাকে গ্রাস করেছে,
কারণ আমার দুশমনরা তোমার সমস্ত কালাম ভুলে গেছে।
140
তোমার কালাম অতীব পরীক্ষাসিদ্ধ,
তাই তোমার গোলাম তা মহব্বত করে।
141
আমি ক্ষুদ্র ও অবজ্ঞাত,
[কিন্তু] আমি তোমার আদেশমালা ভুলে যাই নি।
142
তোমার ধর্মশীলতা চিরস্থায়ী,
আর তোমার শরীয়ত সত্য।
143
সঙ্কট ও দুর্দশা আমাকে পেয়ে বসেছে,
[তবুও] তোমার সমস্ত হুকুম আমার আনন্দদায়ক।
144
তোমার নির্দেশগুলো অনন্তকাল ধরে ধর্মময়;
আমাকে বুদ্ধি দাও, তাতে আমি বাঁচব।
145
আমি সর্বান্তঃকরণে ডেকেছি;
হে মাবুদ, আমাকে উত্তর দাও,
আমি তোমার বিধিগুলো পালন করবো।
146
আমি তোমাকে ডেকেছি, আমাকে নিস্তার কর,
তাতে আমি তোমার নির্দেশগুলো পালন করবো।
147
আমি প্রভাতের আগেও উঠে আর্তনাদ করলাম,
আমি তোমার কালামে ভরসা স্থাপন করেছি।
148
আমার চোখ সমস্ত রাত উন্মীলিত ছিল,
যেন তোমার প্রতিজ্ঞাগুলো ধ্যান করতে পারি।
149
তোমার অটল মহব্বত অনুসারে আমার কথা শোন;
হে মাবুদ, তোমার শাসন অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
150
কুকর্মের অনুগামীরা নিকটবর্তী;
তারা তোমার শরীয়ত থেকে দূরবর্তী।
151
হে মাবুদ, তুমিই নিকটবর্তী,
আর তোমার সমস্ত হুকুম সত্য।
152
আমি তোমার নির্দেশগুলোর দ্বারা আগে থেকে জানি,
তুমি চিরতরে সে সমস্ত স্থাপন করেছ।
153
আমার দুঃখ দেখ, আমাকে উদ্ধার কর,
কেননা আমি তোমার শরীয়ত ভুলে যাই নি।
154
আমার ঝগড়া নিষ্পত্তি কর, আমাকে মুক্ত কর,
তোমার কালাম অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
155
উদ্ধার দুষ্টরা থেকে দূরবর্তী,
কারণ তারা তোমার বিধিগুলোর খোঁজ করে না।
156
হে মাবুদ, তোমার করুণা বহুবিধ;
তোমার সমস্ত শাসন অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
157
আমার তাড়নাকারী ও বিপক্ষ অনেক,
[তবুও] আমি তোমার নির্দেশগুলো থেকে বিপথগামী হই নি।
158
আমি বিশ্বাসঘাতকদেরকে দেখে ঘৃণা করলাম,
কারণ তারা তোমার কালাম পালন করে না।
159
দেখ, আমি তোমার আদেশমালা কেমন ভালবাসি।
মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত অনুসারে আমাকে সঞ্জীবিত কর।
160
তোমার কালামের সমষ্টি সত্য,
তোমার ধর্মময় প্রত্যেক অনুশাসন চিরস্থায়ী।
161
শাসনকর্তারা অকারণে আমাকে তাড়না করেছে,
কিন্তু আমার মন তোমার কালামগুলোতে ভীত হয়।
162
আমি তোমার কালামে আনন্দ করি,
যেমন মহালুট পেলে লোকে আনন্দ করে।
163
আমি মিথ্যাকে হিংসা করি, ঘৃণা করি,
তোমার শরীয়ত ভালবাসি।
164
আমি দিনে সাতবার তোমার প্রশংসা করি,
তোমার ধর্মময় অনুশাসনগুলোর জন্য।
165
যারা তোমার শরীয়ত ভালবাসে,
তাদের পরম শান্তি হয়, তাদের হোঁচট লাগে না।
166
মাবুদ, আমি তোমার উদ্ধারের প্রত্যাশা করেছি,
ও তোমার সমস্ত হুকুম পালন করেছি।
167
আমার প্রাণ তোমার নির্দেশগুলো পালন করেছে,
আমি সেসব অতিশয় মহব্বত করি।
168
আমি তোমার আদেশমালা ও নির্দেশগুলো পালন করেছি;
কারণ আমার সমস্ত পথ তোমারই সম্মুখে।
169
হে মাবুদ, আমার কাতরোক্তি তোমার কাছে উপস্থিত হোক,
তোমার কালাম অনুসারে আমাকে বুদ্ধি দাও।
170
আমার ফরিয়াদ তোমার সম্মুখে উপস্থিত হোক,
তোমার প্রতিজ্ঞা অনুসারে আমাকে উদ্ধার কর।
171
আমার ওষ্ঠাধর প্রশংসা করুক,
কারণ তুমি আমাকে তোমার সমস্ত বিধি শিক্ষা দিচ্ছ।
172
আমার জিহ্বা তোমার মহিমা ঘোষণা করবে,
যেহেতু তোমার সমস্ত হুকুম ধর্মময়।
173
তোমার হাত আমার সহকারী হোক;
কেননা আমি তোমার আদেশমালা মান্য করেছি।
174
হে মাবুদ, আমি তোমার উদ্ধারের আকাঙ্খা করেছি,
এবং তোমার শরীয়ত আমার হর্ষজনক।
175
আমার প্রাণ জীবিত থাকুক,
সে তোমার প্রশংসা করবে,
আর তোমার সমস্ত অনুশাসন আমার সহকারী হোক।
176
আমি হারানো ভেড়ার মত ভ্রান্ত হয়েছি;
নিজের গোলামের খোঁজ কর;
কেননা আমি তোমার হুকুমনামা ভুলে যাই নি।
1
আরোহণ-গজল।
আমি সঙ্কটে মাবুদকে ডাকলাম,
তিনি আমাকে উত্তর দিলেন।
2
হে মাবুদ, আমার প্রাণ মিথ্যাবাদী ওষ্ঠাধর থেকে,
প্রতারক জিহ্বা থেকে উদ্ধার কর।
3
হে প্রতারক জিহ্বা, তিনি তোমাকে কি দেবেন?
তোমাকে বেশি কি যোগাবেন?
4
বীরের ধারালো তীরগুলো,
ও রোতম কাঠের জলন্ত কয়লা।
5
হায় হায়, আমি মেশকে প্রবাস করছি,
কায়দারের তাঁবুগুলোর কাছে বাস করছি।
6
বহুকাল আমার প্রাণ এমন ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করেছে,
যে শান্তি ঘৃণা করে।
7
আমি শান্তিপ্রিয়,
কিন্তু যখন কথা বলি, তখন ওরা যুদ্ধ চায়।
1
আরোহণ-গজল।
আমি পর্বতমালার দিকে চোখ তুলে তাকাব;
কোথা থেকে আমার সাহায্য আসবে?
2
মাবুদ থেকে আমার সাহায্য আসে,
তিনি আসমান ও দুনিয়ার নির্মাণকর্তা।
3
তিনি তোমার পা বিচলিত হতে দেবেন না,
তোমার রক্ষক ঘুমে ঢুলে পড়বেন না।
4
দেখ, যিনি ইসরাইলের রক্ষক,
তিনি ঘুমে ঢুলে পড়েন না, ঘুমানও না।
5
মাবুদই তোমার রক্ষক,
মাবুদই তোমার ছায়া,
তিনি তোমার দক্ষিণ পাশে আছেন।
6
দিনে সূর্য তোমাকে আঘাত করবে না,
রাতে চন্দ্রও করবে না।
7
মাবুদ তোমাকে সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন;
তিনি তোমার প্রাণ রক্ষা করবেন।
8
মাবুদ তোমার বাইরে যাওয়া ও তোমার ভিতরে আসা সুরক্ষিত রাখবেন,
এখন থেকে চিরকাল পর্যন্ত।
1
আরোহণ-গজল। হযরত দাউদের।
আমি আনন্দিত হলাম, যখন লোকে আমাকে বললো,
চল, আমরা মাবুদের গৃহে যাই।
2
হে জেরুশালেম, তোমার দ্বারের ভিতরে আমাদের চরণ দণ্ডায়মান হল।
3
হে জেরুশালেম, তুমি নির্মিত হয়েছ একত্র সংযুক্ত নগরের মত।
4
সেই স্থানে বংশগুলো, মাবুদের বংশগুলো উঠে দাঁড়ায়,
ইসরাইলকে দেওয়া নির্দেশের জন্য,
মাবুদের নামের শুকরিয়া করার জন্য।
5
কেননা সেই স্থানে বিচার করার সিংহাসনগুলো,
দাউদ-কুলের সিংহাসনগুলো স্থাপিত।
6
তোমরা জেরুশালেমের শান্তির জন্য মুনাজাত কর;
যারা তোমাকে মহব্বত করে, তাদের কল্যাণ হোক।
7
তোমার প্রাচীরের মধ্যে শান্তি হোক,
তোমার উচ্চগৃহগুলোর মধ্যে কল্যাণ হোক।
8
আমার ভাইদের ও মিত্রদের অনুরোধে আমি বলবো,
তোমার মধ্যে শান্তি বর্তুক।
9
আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের গৃহের অনুরোধে
আমি তোমার মঙ্গল চেষ্টা করবো।
1
আরোহণ-গজল।
আমি তোমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকি,
তুমিই বেহেশতে সমাসীন।
2
দেখ, মালিকের হাতের প্রতি যেমন গোলামদের দৃষ্টি,
কর্ত্রীর হাতের প্রতি যেমন বাঁদীর দৃষ্টি,
তেমনি আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি,
যত দিন না তিনি আমাদের প্রতি করুণা করেন।
3
আমাদের করুণা কর, হে মাবুদ, করুণা কর,
কেননা আমরা অবজ্ঞায় নিতান্ত পূর্ণ হয়েছি।
4
আমাদের প্রাণ নিতান্ত পূর্ণ হয়েছে,
আরামে থাকা লোকদের বিদ্রূপে,
অহঙ্কারীদের অবজ্ঞায়।
1
আরোহণ-গজল। হযরত দাউদের।
যদি মাবুদ আমাদের সপক্ষ না হতেন,
—ইসরাইল এই কথা বলুক—
2
যদি মাবুদ আমাদের সপক্ষ না হতেন,
যখন লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে উঠেছিল,
3
তখন তারা আমাদেরকে জীবতাবস্থায় গ্রাস করতো,
যখন আমাদের প্রতি তাদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হত।
4
তখন পানি আমাদেরকে প্লাবিত করতো,
স্রোত আমাদের প্রাণের উপর দিয়ে বয়ে যেত;
5
তখন প্রচণ্ড জলোচ্ছাস আমাদের প্লাবিত করে বয়ে যেত।
6
মাবুদ ধন্য হোন, তিনি আমাদেরকে
ওদের সম্মুখে খাদ্য হিসেবে তুলে দেন নি।
7
আমাদের প্রাণ ব্যাধের ফাঁদ থেকে পাখির মত রক্ষা পেয়েছে;
ফাঁদ ছিঁড়েছে, আর আমরা রক্ষা পেয়েছি।
8
মাবুদের নামে আমাদের সাহায্য,
তিনি আসমান ও দুনিয়ার নির্মাণকর্তা।
1
আরোহণ-গজল।
যারা মাবুদের উপর নির্ভর করে,
তারা সিয়োন পর্বতের মত,
যা অটল ও চিরস্থায়ী।
2
জেরুশালেমের চারদিকে পর্বতমালা আছে,
আর মাবুদ তাঁর লোকদের চারদিকে আছেন,
এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত আছেন।
3
কেননা নাফরমানীর রাজদণ্ড ধার্মিকদের অধিকারের উপরে থাকবে না,
যেন ধার্মিকেরা অন্যায়ে হস্তক্ষেপ না করে।
4
হে মাবুদ! তাদের মঙ্গল কর, যারা মঙ্গল স্বভাবের,
সরলচিত্তদের মঙ্গল কর।
5
কিন্তু যারা নিজেদের বাঁকা পথ অনুসরণ করে,
মাবুদ তাদেরকে দুর্বৃত্তদের সহপথিক করবেন।
ইসরাইলের উপরে শান্তি বর্তুক।
1
আরোহণ-গজল।
মাবুদ যখন সিয়োনের বন্দীদেরকে ফিরালেন,
তখন আমরা স্বপ্নদর্শকদের মত হলাম।
2
তৎকালে আমাদের মুখ হাস্যে পূর্ণ হল,
আমাদের জিহ্বা আনন্দগানে পূর্ণ হল;
তৎকালে জাতিদের মধ্যে লোকে বললো,
মাবুদ ওদের জন্য অজস্র মহৎ কাজ করেছেন।
3
মাবুদ আমাদের জন্য প্রচুর মহৎ কাজ করেছেন,
সেজন্য আমরা আনন্দিত হয়েছি।
4
হে মাবুদ! আমাদের বন্দীদেরকে ফিরিয়ে আন,
দক্ষিণ দেশের পানির স্রোতের মত ফিরিয়ে আন।
5
যারা চোখের পানির সঙ্গে বীজ বপন করে,
তারা আনন্দগানসহ শস্য কাটবে।
6
যে ব্যক্তি কাঁদতে কাঁদতে বপনীয় বীজ নিয়ে বাইরে যায়,
সে আনন্দগানসহ তার ফসলের আঁটি নিয়ে আবশ্যই আসবে।
1
আরোহণ-গজল। সোলায়মানের।
যদি মাবুদ বাড়ি নির্মাণ না করেন,
তবে নির্মাতারা বৃথাই পরিশ্রম করে;
যদি মাবুদ নগর রক্ষা না করেন,
রক্ষক বৃথাই জেগে থাকে।
2
বৃথাই তোমরা খুব ভোরে উঠ ও বিলম্বে শয়ন কর,
এবং পরিশ্রমের খাদ্য ভোজন কর,
তিনি তাঁর প্রিয়পাত্রকে নিদ্রা দান করেন।
3
দেখ, সন্তানেরা মাবুদের দেওয়া অধিকার,
গর্ভের ফল তাঁর দেওয়া পুরস্কার।
4
যেমন বীরের হাতে বাণগুলো,
তেমনি যৌবনের সন্তানেরা।
5
সুখী সেই পুরুষ, যার তূণ এরকম বাণে পরিপূর্ণ;
তারা লজ্জিত হবে না,
যখন তারা তোরণদ্বারে দুশমনদের সঙ্গে কথা বলে।
1
আরোহণ-গজল।
সুখী সেই জন, যে কেউ মাবুদকে ভয় করে,
যে তাঁর সকল পথে চলে।
2
বাস্তবিক তুমি নিজের হাতের পরিশ্রমের ফল ভোগ করবে,
তুমি সুখী হবে ও তোমার মঙ্গল হবে।
3
তোমার বাড়ির অন্তঃপুরে তোমার স্ত্রী
ফলবতী আঙ্গুরলতার মত হবে,
তোমার মেঝের চারদিকে তোমার সন্তানেরা
জলপাই গাছের চারার মত হবে।
4
দেখ, যে ব্যক্তি মাবুদকে ভয় করে,
সে এভাবে দোয়া লাভ করে।
5
মাবুদ সিয়োন থেকে তোমাকে দোয়া করুন,
যেন তুমি সারা জীবন জেরুশালেমের মঙ্গল দেখতে পাও,
6
এবং তোমার সন্তানদের বংশ দেখতে পাও।
ইসরাইলের উপরে শান্তি বর্তুক।
1
আরোহণ-গজল।
আমার বাল্যকাল থেকে লোকে আমার উপর অনেক জুলুম করেছে,
—ইসরাইল এই কথা বলুক—
2
আমার বাল্যকাল থেকে লোকে আমার উপর অনেক জুলুম করেছে,
তবুও আমার উপরে জয়ী হতে পারে নি।
3
কৃষকেরা আমার আমার পিঠ চষে ফেলেছে,
তারা দীর্ঘ সীতা কেটেছে।
4
মাবুদ ধর্মময়;
তিনি দুষ্টদের বাঁধন কেটে ফেলেছেন।
5
সেই সকলে লজ্জিত হোক, পিছু হটে যাক,
যারা সিয়োনকে হিংসা করে।
6
তারা ছাদের উপরিস্থ ঘাসের মত হোক,
যা বৃদ্ধি পেতে না পেতেই শুকিয়ে যায়;
7
শস্যকর্তনকারী তাতে নিজের মুঠি ভরতে পারে না,
আঁটিবন্ধনকারী তার কোঁচড়ও পূর্ণ করতে পারে না।
8
আর পথিকেরা বলে না,
মাবুদের দোয়া তোমাদের প্রতি বর্তুক!
আমরা মাবুদের নামে তোমাদের দোয়া করি।
1
আরোহণ-গজল।
হে মাবুদ, আমি গভীর তলদেশ থেকে তোমাকে ডেকেছি।
2
হে মালিক, আমার কথা শোন,
আমার ফরিয়াদে তুমি কান দাও।
3
হে মাবুদ, তুমি যদি অপরাধগুলো ধর,
তবে হে মালিক, কে দাঁড়াতে পারবে?
4
কিন্তু তোমার কাছে মাফ আছে,
যেন লোকে তোমাকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে।
5
আমি মাবুদের অপেক্ষা করছি;
আমার প্রাণ অপেক্ষা করছে;
আমি তাঁর কালামে প্রত্যাশা করছি।
6
প্রহরীরা যেরূপ প্রত্যুষের,
হ্যাঁ, প্রহরীরা যেরূপ প্রত্যুষের জন্য আকাঙ্খী,
আমার প্রাণ প্রভুর জন্য তার চেয়েও বেশি আকাঙ্খা করে।
7
ইসরাইল, মাবুদের উপর প্রত্যাশা রাখ;
কেননা মাবুদের কাছে অটল মহব্বত আছে;
আর তাঁর কাছে সমপূর্ণ মুক্তি আছে।
8
আর তিনিই ইসরাইলকে মুক্ত করবেন,
তার সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত করবেন।
1
আরোহণ-গজল। হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, আমার হৃদয় গর্বিত নয়,
আমার দৃষ্টি উদ্ধত নয়,
আমি ব্যাপৃত হই নি মহৎ বিষয়ে,
আমার বোধের অতীত আশ্চর্য আশ্চর্য বিষয়ে।
2
আমি আমার প্রাণকে শান্ত ও স্থির করেছি,
সেই শিশুর মত, যে স্তন্য ত্যাগ করে মায়ের সঙ্গে আছে,
আমার প্রাণ ঐরূপ স্তন্যত্যাগী শিশুর মত আমার সঙ্গে আছে।
3
হে ইসরাইল, মাবুদের উপর প্রত্যাশা রাখ,
এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
1
আরোহণ-গজল।
হে মাবুদ, তুমি দাউদের পক্ষে
তাঁর সমস্ত কষ্ট স্মরণ কর।
2
তিনি তো মাবুদের কাছে শপথ করেছিলেন,
ইয়াকুবের এক বীরের কাছে মানত করেছিলেন;
3
আমি নিজের গৃহ-তাঁবুতে প্রবেশ করবো না,
নিজের পালঙ্কে উঠবো না;
4
আমি নিজের চোখকে নিদ্রা যেতে দেব না,
চোখের পাতাকে তন্দ্রা মগ্ন হতে দেব না,
5
যতদিন না দেখতে পাই মাবুদের জন্য একটি স্থান,
ইয়াকুবের এক বীরের জন্য একটি আবাস।
6
দেখ, আমরা ইফ্রাথায় তার সংবাদ শুনেছিলাম,
অরণ্যের ক্ষেতে তা পেয়েছি।
7
এসো, আমরা তাঁর আবাসে যাই,
তাঁর পাদপীঠে সেজ্দা করি।
8
হে মাবুদ, উঠ, তোমার বিশ্রাম-স্থানে এসো,
তুমি ও তোমার শক্তির সিন্দুক এসো।
9
তোমার ইমামরা ধার্মিকতা-পরিহিত হোক,
তোমার ভক্তরা আনন্দগান করুক।
10
তুমি তোমার গোলাম দাউদের অনুরোধে
তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিও না।
11
মাবুদ দাউদের কাছে সত্যে কসম খেয়েছেন,
তিনি তা থেকে ফিরবেন না,
আমি তোমার নিজের বংশের এক জনকে তোমার সিংহাসনে বসাব।
12
তোমার সন্তানরা যদি পালন করে
আমার নিয়ম, আর আমার নির্দেশ,
যা আমি তাদেরকে হুকুম করি,
তবে তাদের সন্তানরাও চিরতরে
তোমার সিংহাসনে উপবিষ্ট থাকবে।
13
কারণ মাবুদ সিয়োনকে মনোনীত করেছেন,
তিনি তাঁর নিবাসের জন্য তার আকাঙ্খা করেছেন।
14
এই আমার চিরকালের বিশ্রামস্থান,
আমি এই স্থানে বাস করবো,
যেহেতু তা-ই বাসনা করেছি।
15
আমি তার ভক্ষ্যে প্রচুর দোয়া করবো,
তার দরিদ্রদেরকে খাদ্য দান করে তৃপ্ত করবো।
16
আমি তার ইমামদেরকেও উদ্ধারের পোশাক পরাব;
তার ভক্তরা উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করবে।
17
আমি সেখানে দাউদের জন্য একটি শৃঙ্গ নির্মাণ করবো;
আমি আমার অভিষিক্ত ব্যক্তির জন্য একটি প্রদীপ সাজিয়েছি।
18
আমি তার দুশমনদেরকে লজ্জা-পরিহিত করবো;
কিন্তু তার মাথায় মুকুট শোভা পাবে।
1
আরোহণ-গজল। হযরত দাউদের।
দেখ, এ কেমন উত্তম ও কেমন মনোহর যে,
ভাইয়েরা একত্রে ঐক্যে বাস করে!
2
তা মাথায় ঢেলে দেওয়া উৎকৃষ্ট তেলের মত,
যা দাড়িতে, হারুনের দাড়িতে ঝরে পড়লো,
তাঁর পোশাকের গলায় ঝরে পড়লো।
3
তা হর্মোণের শিশিরের মত,
যা সিয়োন পর্বতে ঝরে পড়ে;
কারণ সেখানে মাবুদ তাঁর দোয়া হুকুম করলেন,
অনন্তকালের জন্য জীবন হুকুম করলেন।
1
আরোহণ-গজল।
এসো, হে মাবুদের সমস্ত গোলাম,
তোমরা, যারা রাতের বেলায় মাবুদের গৃহে দাঁড়িয়ে থাক,
তোমরা মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
2
তোমরা পবিত্র স্থানের দিকে নিজের নিজের হাত উত্তোলন কর,
ও মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
3
মাবুদ সিয়োন থেকে তোমাকে দোয়া করুন,
তিনি আসমান ও দুনিয়ার নির্মাণকর্তা।
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
মাবুদের নামের প্রশংসা কর,
হে মাবুদের গোলামেরা, তোমরা তাঁর প্রশংসা কর;
2
তোমরা, যারা মাবুদের গৃহে দাঁড়িয়ে থাক,
আমাদের আল্লাহ্র গৃহ-প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাক।
3
মাবুদের প্রশংসা কর, কেননা মাবুদ মঙ্গলময়;
তাঁর নামের উদ্দেশে কাওয়ালী কর, কেননা তা মনোহর।
4
কারণ মাবুদ তাঁর জন্য ইয়াকুবকে,
নিজস্ব অধিকার বলে ইসরাইলকে মনোনীত করেছেন।
5
আমি তো জানি, মাবুদ মহান,
আমাদের প্রভু সমস্ত দেবতার চেয়ে মহান।
6
মাবুদ যা ইচ্ছা করেছেন, তা-ই করেছেন,
আসমানে, দুনিয়াতে, সমুদ্রগুলোতে
ও সমস্ত জলধি-মধ্যে করেছেন।
7
তিনি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে বাষ্প উত্থাপন করেন,
তিনি বৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেন,
তাঁর ভাণ্ডার থেকে বায়ু বের করে আনেন।
8
তিনি মিসরের প্রথমজাতদের আঘাত করেছিলেন,
মানুষ ও পশু উভয়ের মধ্যে।
9
হে মিসর! তিনি তোমার মধ্যে চিহ্ন ও লক্ষণমালা পাঠিয়েছিলেন,
ফেরাউনের ও তাঁর সমস্ত গোলামের বিরুদ্ধে।
10
তিনি আঘাত করেছিলেন বড় বড় জাতিকে,
হত্যা করেছিলেন বিক্রমী বাদশাহ্দেরকে;
11
আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনকে,
বাশনের বাদশাহ্ ওগকে ও কেনানের সমস্ত রাজ্যকে।
12
তিনি তাদের দেশ অধিকার হিসেবে দিলেন,
নিজের লোক ইসরাইলের অধিকার হিসেবে দিলেন।
13
হে মাবুদ, তোমার নাম অনন্তকালস্থায়ী,
হে মাবুদ, পুরুষানুক্রমে লোকেরা তোমাকে স্মরণ করবে।
14
কারণ মাবুদ তাঁর লোকদের বিচার করবেন,
তাঁর গোলামদের উপরে সদয় হবেন।
15
জাতিদের সমস্ত মূর্তি রূপা ও সোনার তৈরি,
সেগুলো মানুষের হাতের কাজ।
16
মুখ থাকতেও তারা কথা বলে না;
চোখ থাকতেও দেখতে পায় না;
17
কান থাকতেও শুনতে পায় না;
তাদের মুখে শ্বাসমাত্রও নেই।
18
যেমন তারা, তেমনি হবে তাদের নির্মাতারা,
আর যে কেউ সেগুলোর উপর নির্ভর করে।
19
হে ইসরাইলের কুল, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর;
হে হারুনের কুল, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর;
20
হে লেবির কুল, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর;
হে মাবুদের ভয়কারীরা, মাবুদের শুকরিয়া আদায় কর।
21
মাবুদ ধন্য হোন সিয়োন থেকে,
তিনি জেরুশালেমে বাস করেন।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
তোমরা মাবুদের শুকরিয়া কর, কেননা তিনি মঙ্গলময়;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
2
দেবতাদের আল্লাহ্র শুকরিয়া কর;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
3
প্রভুদের প্রভুকে শুকরিয়া দাও;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
4
যিনি একা মহৎ মহৎ অলৌকিক কাজ করেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
5
যিনি বুদ্ধি দ্বারা আসমান নির্মাণ করেছেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
6
যিনি পানির উপরে দুনিয়া বিস্তার করেছেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
7
যিনি বড় বড় জ্যোতিষ্ক নির্মাণ করেছেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
8
যিনি দিনে কর্তৃত্ব করবার জন্য সূর্য নির্মাণ করেছেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
9
রাতে কর্তৃত্ব করবার জন্য চন্দ্র ও তারা নির্মাণ করেছেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
10
যিনি মিসরের প্রথমজাতদের আঘাত করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
11
এবং তাদের মধ্য থেকে ইসরাইলকে বের করে আনলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
12
শক্তিশালী হাত ও বাড়িয়ে দেওয়া বাহু দ্বারাই আনলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
13
যিনি লোহিত সাগরকে দু’ভাগ করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
14
এবং তার মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে পার করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
15
কিন্তু ফেরাউন ও তাঁর বাহিনীকে লোহিত সাগরে ঠেলে দিলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
16
যিনি নিজের প্রজাদেরকে মরুভূমির মধ্য দিয়ে গমন করালেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
17
যিনি মহান বাদশাহ্দেরকে আঘাত করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
18
প্রতাপান্বিত বাদশাহ্দেরকে হত্যা করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
19
আমোরীয়দের বাদশাহ্ সীহোনকে,
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
20
ও বাশনের বাদশাহ্ ওগকে হত্যা করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
21
এবং তাদের দেশ অধিকার হিসেবে দিলেন,
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
22
নিজের গোলাম ইসরাইলকে অধিকার হিসেবে দিলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
23
তিনি আমাদের হীনাবস্থায় আমাদেরকে স্মরণ করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
24
দুশমনদের থেকে আমাদের উদ্ধার করলেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
25
তিনি সমস্ত প্রাণীকে আহার দেন;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী—
26
তোমরা বেহেশতের আল্লাহ্র শুকরিয়া কর;
—তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী।
1
ব্যাবিলনীয় নদীগুলোর তীরে,
সেখানে আমরা বসতাম আর কাঁদতাম,
যখন সিয়োনকে মনে পড়তো।
2
আমরা সেই স্থানের বাইশী গাছে
নিজ নিজ বীণা টাঙ্গিয়ে রাখতাম।
3
কারণ যারা আমাদের বন্দী করে নিয়ে গেছে তারা
আমাদের কাছে গজল শুনতে চাইত,
আমাদের জুলুমকারীরা আনন্দের আওয়াজ শুনতে চাইত,
বলতো, ‘আমাদের কাছে সিয়োনের একটা গজল গাও।’
4
আমরা কেমন করে বিজাতীয় ভূমিতে
মাবুদের গজল গাইতে পারি?
5
জেরুশালেম, যদি আমি তোমাকে ভুলে যাই,
আমার ডান হাতও আমাকে ভুলে যাক।
6
আমার জিহ্বা তালুতে সংলগ্ন হোক,
যদি আমি তোমাকে মনে না করি,
যদি আমার পরমানন্দ থেকে জেরুশালেমকে বেশি মহব্বত না করি।
7
হে মাবুদ, জেরুশালেমের পতনের দিন
ইদোম-সন্তানেরা কি করেছিল তা স্মরণ কর;
তারা বলেছিল, ‘উৎপাটন কর, ওর মূল পর্যন্ত উৎপাটন কর।’
8
হে ব্যাবিলন-কন্যা, হে বিনাশপাত্রি,
সুখী সেই, যে তোমাকে সেরকম প্রতিফল দেবে,
যেরকম তুমি আমাদের প্রতি করেছ।
9
সুখী সেই, যে তোমার শিশুদেরকে ধরে,
আর শৈলের উপরে আছড়ায়।
1
হযরত দাউদের।
হে মাবুদ, আমি সর্বান্তঃকরণে তোমার প্রশংসা করবো,
দেবতাদের সাক্ষাতে তোমার নাম ঘোষণা করবো।
2
তোমর পবিত্র বায়তুল-মোকাদ্দসের অভিমুখে সেজ্দা করবো,
তোমার অটল মহব্বত ও তোমার বিশ্বস্ততার জন্য
তোমার নামের শুকরিয়া করবো;
কেননা তোমার সমস্ত বস্তুর উপরে
তুমি তোমার নাম ও কালাম মহিমান্বিত করেছ।
3
যেদিন আমি ডাকলাম, তুমি আমাকে উত্তর দিলে,
আমার প্রাণে শক্তি দিয়ে আমাকে উৎসাহযুক্ত করলে।
4
হে মাবুদ, দুনিয়ার সমস্ত বাদশাহ্ তোমার প্রশংসা করবে,
কারণ তারা তোমার মুখের কালাম শুনেছে।
5
তারা মাবুদের পথগুলোর বিষয় নিয়ে গজল গাইবে,
কেননা মাবুদের গৌরব মহৎ।
6
কারণ মাবুদ উঁচু, তবুও অবনতের প্রতি দৃষ্টি রাখেন,
কিন্তু গর্বিতকে দূর থেকে জানেন।
7
যদিও আমি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে গমন করি,
তবু তুমি আমাকে রক্ষা করে থাক আমার দুশমনদের ক্রোধের হাত থেকে;
তুমি তোমার হাত বাড়িয়ে দাও,
এবং তোমার দক্ষিণ হাত দিয়ে আমাকে উদ্ধার কর।
8
মাবুদ আমার পক্ষে সকলই সিদ্ধ করবেন;
হে মাবুদ, তোমার অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী;
তোমার স্বহস্তের কাজ পরিত্যাগ করো না।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, তুমি আমাকে অনুসন্ধান করেছ,
আর আমাকে জেনেছ।
2
তুমিই আমার উপবেশন ও আমার উত্থান জান,
তুমি দূর থেকে আমার সঙ্কল্প বুঝতে পার।
3
তুমি আমার পথ ও আমার শয়ন তদন্ত করে থাক,
আমার সমস্ত পথ ভালভাবে জান।
4
যখন আমার জিহ্বাতে একটি কথাও নেই,
হে মাবুদ, তুমি তার সবকিছুই জান।
5
তুমি আমার চারপাশ ঘিরে রেখেছে,
আমার উপরে তোমার হাত রেখেছ।
6
এই জ্ঞান আমার কাছে অতি আশ্চর্য,
তা উঁচু, আমার বোধের অগম্য।
7
আমি তোমার রূহ্ থেকে কোথায় যাব?
তোমার সাক্ষাৎ থেকে কোথায় পালাব?
8
যদি বেহেশতে গিয়ে উঠি, সেখানে তুমি;
যদি পাতালে বিছানা পাতি, সেখানেও তুমি।
9
যদি অরুণের পাখায় আরোহণ করি,
যদি সমুদ্রের পরপ্রান্তে বাস করি,
10
সেখানেও তোমার হাত আমাকে চালাবে,
তোমার ডান হাত আমাকে ধরবে।
11
যদি বলি, ‘আঁধার আমাকে ঢেকে ফেলবে,
আমার চারদিকে আলোকময় রাত হবে’,
12
বাস্তবিক অন্ধকারও তোমার কাছে অন্ধকার নয়,
বরং রাত দিনের মত উজ্জ্বল;
অন্ধকার ও আলো উভয়ই সমান।
13
বস্তুত তুমিই আমার সকল কিছু সৃষ্টি করেছ;
তুমি মাতৃগর্ভে আমাকে বুনেছিলে।
14
আমি তোমার প্রশংসা করবো,
কেননা আমি ভয়াবহরূপে ও আশ্চর্যরূপে নির্মিত;
তোমার সমস্ত কাজ আশ্চর্য, তা আমার প্রাণ বিলক্ষণ জানে।
15
আমার দেহ তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে ছিল না,
যখন আমি গোপনে নির্মিত হচ্ছিলাম,
দুনিয়ার অধঃস্থানে শিল্পীত হচ্ছিলাম।
16
তোমার চোখ আমাকে পিণ্ডাকার দেখেছে,
তোমার কিতাবে সমস্তই লেখা ছিল,
যা দিন দিন গঠিত হচ্ছিল,
যখন সেই সবের একটিও ছিল না।
17
হে আল্লাহ্, আমার পক্ষে তোমার সমস্ত সঙ্কল্প কেমন মূল্যবান।
তার সমষ্টি কেমন বেশি!
18
গণনা করলে তা বালুকার চেয়ে বহুসংখ্যক হয়;
আমি যখন জেগে উঠি, তখনও তোমার কাছে থাকি।
19
হে আল্লাহ্, তুমি নিশ্চয়ই দুষ্টকে হত্যা করবে;
হে রক্তপাতীরা, আমার কাছ থেকে দূর হও—
20
তারা দুষ্টভাবে তোমার নাম উচ্চারণ করে;
তোমার দুশমনেরা তা অনর্থক গ্রহণ করে।
21
হে মাবুদ, যারা তোমাকে হিংসা করে,
আমি কি তাদেরকে হিংসা করি না?
যারা তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়,
তাদের প্রতি কি আমি বিরক্ত হই না?
22
আমি সম্পূর্ণভাবে তাদেরকে হিংসা করি;
তাদেরকে আমারই দুশমন মনে করি।
23
হে আল্লাহ্, আমাকে অনুসন্ধান কর,
আর আমার অন্তঃকরণের অবস্থা জেনে নাও;
আমাকে পরীক্ষা কর, আমার সমস্ত চিন্তার কথা জেনে নাও;
24
আর দেখ, আমাতে নাফরমানীর পথ পাওয়া যায় কি না,
এবং নিত্যস্থায়ী পথে আমাকে গমন করাও।
1
প্রধান বাদ্যকরের জন্য। হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, দুর্বৃত্ত থেকে আমাকে উদ্ধার কর,
দুর্জন থেকে আমাকে রক্ষা কর।
2
তারা মনে মনে দুষ্ট কল্পনা করে।
প্রতিদিন যুদ্ধের উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
3
তারা সাপের মত নিজ নিজ জিহ্বা ধারালো করেছে,
তাদের ওষ্ঠাধরের নিম্নভাগে কালসাপের বিষ থাকে। [সেলা।]
4
হে মাবুদ, দুষ্টের হাত থেকে আমাকে পাহারা দাও,
দুর্জন থেকে আমাকে রক্ষা কর;
তারা আমার পা ফাঁদে ফেলবার সঙ্কল্প করেছে।
5
অহঙ্কারীরা গোপনে আমার জন্য ফাঁদ ও দড়ি প্রস্তুত করেছে,
তারা পথের পাশে জাল পেতেছে,
আমার জন্য ফাঁদ বসিয়েছে। [সেলা।]
6
আমি মাবুদকে বললাম, তুমি আমার আল্লাহ্;
হে মালিক, আমার ফরিয়াদে কান দাও।
7
হে সার্বভৌম মাবুদ, আমার শক্তিশালী উদ্ধারকর্তা,
যুদ্ধের দিনে তুমি আমার মাথা আচ্ছাদন করেছ।
8
হে মাবুদ, দুষ্টের বাসনা পূর্ণ করো না;
তার সঙ্কল্প সিদ্ধ করো না, পাছে তারা গর্বিত হয়। [সেলা।]
9
যারা আমাকে ঘিরে ফেলে,
তাদের মাথা তাদের ওষ্ঠাধরের জোর-জুলুমে আচ্ছাদিত হোক;
10
তাদের উপরে জ্বলন্ত অঙ্গার পড়ুক,
তারা নিক্ষিপ্ত হোক অগ্নিতে,
নিক্ষিপ্ত হোক গভীর খাতে, যতে আর না ওঠে।
11
দুনিয়াতে নিন্দুকেরা স্থির থাকতে পারবে না;
অমঙ্গল দুর্জনকে নিপাত করার জন্য মৃগয়া করবে।
12
আমি জানি, মাবুদ দুঃখীর ঝগড়া,
ও দরিদ্রবর্গের বিচার নিষ্পন্ন করবেন।
13
ধার্মিকেরা অবশ্য তোমার নামের শুকরিয়া করবে;
সরল লোকেরা তোমার সাক্ষাতে বাস করবে।
1
হযরত দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমি তোমাকে ডাকছি, আমার পক্ষে ত্বরা কর;
আমি তোমাকে ডাকলে আমার ডাকে কান দাও।
2
আমার মুনাজাত তোমার সম্মুখে সুগন্ধি ধূপরূপে,
আমার অঞ্জলি-প্রসারণ সান্ধ্য উপহাররূপে সাজান হোক।
3
হে মাবুদ, আমার মুখে প্রহরী নিযুক্ত কর,
আমার ওষ্ঠাধরের দরজা রক্ষা কর।
4
কোন মন্দ বিষয়ে আমার চিত্তকে প্রবৃত্ত হতে দিও না,
আমি যেন অধর্মাচারী লোকদের সঙ্গে দুষ্কর্মে ব্যাপৃত না হই,
এবং ওদের সুস্বাদু খাদ্য ভোজন না করি।
5
ধার্মিক লোক আমাকে প্রহার করুক,
বিশ্বস্ত লোক আমাকে সংশোধন করুক,
দুষ্টদের তেল আমাকে অভিষেক না করুক,
কেননা সব সময় আমার মুনাজাত তাদের নাফরমানী কাজের বিরুদ্ধতা করবে।
6
ওদের শাসনকর্তাদের শৈলের পাশে ফেলে দেওয়া হোক,
আর ওরা তখন শুনুক, আমার কথা কত মধুর।
7
ভূমির কর্ষক ও খননকারী যেমন করে,
তেমনি পাতালের মুখে আমাদের সমস্ত অস্থি ছড়িয়ে পড়েছে।
8
বাস্তবিক, হে সার্বভৌম মাবুদ,
আমার চোখ তোমার দিকে নিবদ্ধ;
আমি তোমারই মধ্যে আশ্রয় নিয়েছি,
আমার প্রাণ বিনষ্ট করো না।
9
আমার জন্য পাতা ফাঁদ থেকে,
দুর্বৃত্তদের যন্ত্র থেকে,
আমাকে রক্ষা কর।
10
দুষ্ট লোকেরা নিজেদেরই জালে নিজেরাই ধরা পড়ুক;
সেই অবসরে আমি উত্তীর্ণ হব।
1
দাউদের মস্কীল, গুহার মধ্যে তাঁর অবস্থিতিকালীন; একটি মুনাজাত।
আমি চিৎকার করে মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করি,
আমি চিৎকার করে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করি।
2
আমি তাঁর কাছে আমার দুঃখের কথা ভেঙ্গে বলি,
তাঁকে আমার সঙ্কটের কথা জানাই।
3
আমার রূহ্ যখন আমার মধ্যে অবসন্ন হয়েছিল,
তখন তুমিই আমার পথ জানতে;
আমার চলার পথে শত্রুরা গোপনে আমার জন্য ফাঁদ পেতেছে।
4
আমার দক্ষিণে নিরীক্ষণ করে দেখ,
আমাকে চেনে এমন কেউই নেই,
আমার আশ্রয় বিনষ্ট হল;
কেউই আমার প্রাণের যত্ন নেয় না।
5
আমি তোমার কাছে কাঁদলাম, হে মাবুদ,
আমি বললাম, তুমিই আমার আশ্রয়,
তুমি জীবিতদের দেশে আমার অধিকার।
6
আমার কাতরোক্তিতে মনযোগ দাও,
কেননা আমি অতিশয় ক্ষীণ হয়েছি;
আমার তাড়নাকারীদের থেকে আমাকে নিস্তার কর;
কেননা আমার চেয়ে তারা বলবান।
7
কারাগার থেকে আমার প্রাণকে বের করে আন,
যেন আমি তোমার নামের শুকরিয়া করি;
ধার্মিকেরা আমার চারদিকে জমায়েত হবে,
কেননা তুমি আমার মঙ্গল করবে।
1
দাউদের কাওয়ালী।
হে মাবুদ, আমার মুনাজাত শোন;
আমার বিনতিতে কান দাও;
তোমার বিশ্বস্ততায় ও তোমার ধর্মশীলতায় আমাকে উত্তর দাও।
2
তোমার গোলামকে বিচারে এনো না,
তোমার সাক্ষাতে তো কোন প্রাণী ধার্মিক নয়।
3
দুশমন আমার প্রাণকে তাড়না করেছে;
সে আমার জীবন ভূমিতে ফেলে চূর্ণ করেছে;
সে আমাকে অন্ধকারে বাস করিয়েছে,
বহুদিন আগের মৃতদের মত করেছে।
4
এতে আমার রূহ্ হৃদয়ে অবসন্ন হয়েছে,
আমার ভিতরে আমার অন্তর অসার হয়েছে।
5
আমি পূর্বকালের সমস্ত দিন স্মরণ করছি,
তোমার সমস্ত কাজ ধ্যান করছি,
তোমার হাতের কাজ আলোচনা করছি।
6
আমি তোমার উদ্দেশে অঞ্জলি প্রসারণ করছি,
শুকনো ভূমির মত আমার প্রাণ তোমার আকাঙ্খী। [সেলা।]
7
আমাকে শীঘ্র উত্তর দাও,
হে মাবুদ, আমার উৎসাহ শেষ হয়েছে;
আমার কাছ থেকে তোমার মুখ লুকিয়ে থাকা রেখো না,
পাছে যারা গর্তে নেমে যাচ্ছে আমরা তাদের মত হয়ে পড়ি।
8
প্রাতে আমাকে তোমার অটল মহব্বতের কালাম শোনাও,
কেননা তোমাতে আমি নির্ভর করছি;
আমার গন্তব্য পথ আমাকে জানাও,
কেননা আমি তোমার দিকে নিজের প্রাণ উত্তোলন করি।
9
হে মাবুদ, আমার দুশমনদের থেকে আমাকে নিস্তার কর;
আমি তোমারই কাছে লুকিয়েছি।
10
তোমার ইচ্ছা পালন করতে আমাকে শিক্ষা দাও;
কেননা তুমিই আমার আল্লাহ্;
তোমার রূহ্ মঙ্গলময়, আমাকে সরল ভূমি দিয়ে চালাও।
11
হে মাবুদ, তোমার নামের অনুরোধে আমাকে সঞ্জীবিত কর;
তোমার ধর্মশীলতায় সঙ্কট থেকে আমার প্রাণ উদ্ধার কর।
12
আর তোমার অটল মহব্বতে আমার দুশমনদেরকে উচ্ছেদ কর,
আমার প্রাণের সমস্ত দুঃখদায়ীকে বিনষ্ট কর,
কেননা আমি তোমার গোলাম।
1
হযরত দাউদের।
মাবুদ ধন্য হোন, তিনি আমার শৈল;
তিনিই আমার হাতকে যুদ্ধ শিক্ষা দেন,
আমার আঙ্গুলগুলোকে যুদ্ধ করতে শিক্ষা দেন।
2
তিনি আমার দয়াস্বরূপ ও আমার দুর্গ,
আমার উচ্চদুর্গ ও আমার উদ্ধারকর্তা;
তিনি আমার ঢাল, আমি তাঁর মধ্যেই আশ্রয় নিই;
তিনি আমার লোকদেরকে আমার অধীনে নত করেন।
3
হে মাবুদ, মানুষ কি যে তুমি তার পরিচয় নাও?
মানুষের সন্তানই কি যে তুমি তার বিষয়ে চিন্তা কর?
4
মানুষ তো নিশ্বাস মাত্র,
তার আয়ু ছায়ার মত, যা চলে যায়।
5
হে মাবুদ, তোমার আসমান অবনত করে নেমে এসো;
পর্বতমালাকে স্পর্শ কর, তারা ধূমায়িত হবে।
6
বিদ্যুৎ নিক্ষেপ কর, ওদেরকে ছিন্নভিন্ন কর,
তোমার তীর নিক্ষেপ কর, ওদেরকে সংহার কর।
7
উপর থেকে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও;
আমাকে উদ্ধার কর, অতল জলধি থেকে রক্ষা কর,
সেই বিজাতি-সন্তানদের হাত থেকে রক্ষা কর,
8
যাদের মুখ মিথ্যা কথা বলে,
যাদের ডান হাত প্রতারণায় পূর্ণ।
9
হে আল্লাহ্, আমি তোমার উদ্দেশে নতুন গজল গাইব,
দশতন্ত্রী নেবলে তোমার প্রশংসা গাইব।
10
তুমিই বাদশাহ্দের বিজয় প্রদান করে থাক,
মারাত্মক তলোয়ার থেকে তোমার গোলাম দাউদকে রক্ষা করে থাক।
11
আমাকে উদ্ধার কর,
সেই বিজাতি-সন্তানদের হাত থেকে রক্ষা কর,
যাদের মুখে মিথ্যা কথা বলে,
যাদের ডান হাত প্রতারণায় পূর্ণ।
12
আমাদের পুত্ররা যেন গাছের চারার মত যৌবনে বর্ধনশীল হয়,
আমাদের কন্যারা যেন প্রাসাদের গাঁথনির অনুরূপে মসৃণ করা কোণের স্তম্ভের মত হয়;
13
আমাদের ভাণ্ডারগুলো যেন পরিপূর্ণ ও নানা রকম দ্রব্যবিশিষ্ট হয়;
আমাদের ভেড়াগুলো যেন আমাদের মাঠে হাজার হাজার ও লক্ষ লক্ষ বাচ্চা প্রসব করে;
14
আমাদের সমস্ত বলদ যেন ভার বহন করে;
ভগ্নদশা যেন না হয়, হানিও যেন না হয়,
আমাদের কোন চকে যেন কান্নার শব্দ না ওঠে।
15
সুখী সেই জাতি, যাদের উপর এরকম দোয়া নেমে আসে;
সুখী সেই জাতি, মাবুদ যার আল্লাহ্।
1
প্রশংসা। হযরত দাউদের।
আমি তোমার প্রতিষ্ঠা করবো, হে আমার আল্লাহ্, আমার বাদশাহ্,
আমি অনন্তকাল তোমার নামের শুকরিয়া আদায় করবো।
2
প্রতিদিন আমি তোমার শুকরিয়া আদায় করবো,
যুগে যুগে চিরকাল তোমার নামের প্রশংসা করবো।
3
মাবুদ মহান ও অতীব প্রশংসনীয়;
তাঁর মহিমার তত্ত্ব পাওয়া যায় না।
4
বংশানুক্রমে এক পুরুষ অন্য পুরুষের কাছে
তোমার কাজগুলোর প্রশংসা করবে,
তোমার পরাক্রমের সমস্ত কাজ তবলিগ করবে।
5
তোমার প্রভার গৌরবযুক্ত মহিমা,
ও তোমার আশ্চর্য সমস্ত কাজ আমি ধ্যান করবো।
6
আর লোকে তোমার ভয়াবহ সকল মহৎ কাজের কথা বলবে,
এবং আমি তোমার মহিমা বর্ণনা করবো।
7
তারা তোমার মহৎ মঙ্গলভাবের খ্যাতি তবলিগ করবে,
তোমার ধর্মশীলতার বিষয় গান করবে।
8
মাবুদ কৃপাময় ও স্নেহশীল,
ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান।
9
মাবুদ সকলের জন্য মঙ্গলময়,
তাঁর করুণা তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের উপরে আছে।
10
হে মাবুদ, তোমার সমস্ত জিনিস তোমার প্রশংসা করে,
এবং তোমার ভক্তরা তোমার শুকরিয়া আদায় করে।
11
তারা তোমার রাজ্যের গৌরব বর্ণনা করে,
তোমার পরাক্রমের কথা বলে,
12
যেন মানুষকে জানাতে পারে তাঁর পরাক্রমের সমস্ত কাজ,
এবং তাঁর রাজ্যের প্রতাপের গৌরব।
13
তোমার রাজ্য সর্বযুগের রাজ্য,
তোমার কর্তৃত্ব পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী।
14
মাবুদ পতনোন্মুখ সকলকে ধরে রাখেন,
অবনত সকলকে তুলে ধরেন।
15
সকলের চোখ তোমার অপেক্ষা করে,
তুমিই যথাসময়ে তাদেরকে খাদ্য দিচ্ছ।
16
তুমিই তোমার হাত মুক্ত করে সমুদয় প্রাণীর বাঞ্ছা পূর্ণ করে থাক।
17
মাবুদ তাঁর সমস্ত পথে ধর্মশীল,
নিজের সমস্ত কাজে দয়াবান।
18
মাবুদ সেই সকলেরই নিকটবর্তী, যারা তাঁকে ডাকে,
যারা সত্যে তাঁকে আহ্বান জানায়।
19
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তিনি তাদের বাঞ্ছা পূর্ণ করেন,
আর তাদের আর্তনাদ শুনে তাদেরকে নিস্তার করেন।
20
যারা মাবুদকে মহব্বত করে,
তিনি তাদের সকলের পথের উপর তাঁর দৃষ্টি আছে,
কিন্তু তিনি সমস্ত দুষ্টকে সংহার করবেন।
21
আমার মুখ মাবুদের প্রশংসা বর্ণনা করবে;
আর সমস্ত প্রাণী যুগে যুগে চিরকাল তাঁর পবিত্র নামের শুকরিয়া আদায় করুক।
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
হে আমার প্রাণ, মাবুদের প্রশংসা কর।
2
আমি সারা জীবন মাবুদের প্রশংসা করবো;
আমি যত কাল বেঁচে থাকি,
আমার আল্লাহ্র প্রশংসা গান করবো।
3
তোমরা ভরসা করো না রাজন্যগণে,
বা কোন মানুষের উপর, যার কাছে কোন সাহায্য নেই।
4
তার নিশ্বাস বের হয়ে গেলে সে মাটিতে ফিরে যায়;
সেই দিনেই তার সমস্ত সঙ্কল্প নষ্ট হয়।
5
সুখী লোকেরা যাদের সহায় ইয়াকুবের আল্লাহ্,
যাদের আশাভূমি মাবুদ, তাদের আল্লাহ্।
6
তিনি নির্মাণ করেছেন আসমান ও দুনিয়া,
সমুদ্র ও তার মধ্যে যা কিছু আছে;
তিনি অনন্তকাল বিশ্বাস রক্ষা করেন।
7
তিনি নির্যাতিতদের পক্ষে ন্যায়বিচার করেন,
তিনি ক্ষুধিতদের খাদ্য দান করেন;
মাবুদ বন্দীদের মুক্ত করেন।
8
মাবুদ অন্ধদের চোখ খুলে দেন;
মাবুদ অবনতদের তুলে ধরেন;
মাবুদ ধার্মিকদের মহব্বত করেন।
9
মাবুদ বিদেশীদের উপর দৃষ্টি রাখেন;
তিনি এতিম ও বিধবাকে সুস্থির রাখেন,
কিন্তু দুষ্টদের পথ বাঁকা করেন।
10
মাবুদ অনন্তকাল রাজত্ব করবেন;
তোমার আল্লাহ্, হে সিয়োন, পুরুষানুক্রমে রাজত্ব করবেন।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
কেননা আমাদের আল্লাহ্র প্রশংসা-গান করা উত্তম;
তা মনোহর ও প্রশংসার উপযুক্ত।
2
মাবুদ জেরুশালেম গাঁথেন,
তিনি ইসরাইলের দূরীকৃতদের সংগ্রহ করেন।
3
তিনি ভগ্নচিত্তদেরকে সুস্থ করেন,
তাদের সমস্ত ক্ষত বেঁধে দেন।
4
তিনি তারাগুলোর সংখ্যা গণনা করেন,
সকলের নাম ধরে তাদের ডাকেন।
5
আমাদের প্রভু মহান ও অতিশয় শক্তিমান;
তাঁর বুদ্ধির সীমা নেই।
6
মাবুদ নম্রদেরকে সুস্থির রাখেন,
তিনি দুষ্টদেরকে ভূমিতে ছুড়ে ফেলেন।
7
তোমরা স্তবসহ মাবুদের উদ্দেশে গজল গাও,
বীণাযন্ত্রে আমাদের আল্লাহ্র প্রশংসা গাও।
8
তিনি মেঘমালায় আসমান আচ্ছন্ন করেন,
তিনি দুনিয়ার জন্য বৃষ্টি প্রস্তত করেন,
তিনি পর্বতমালার উপরে ঘাস জন্মাতে দেন।
9
তিনি পশুকে তার খাদ্য দেন,
দাঁড়কাকের বাচ্চাগুলোকে দেন, যারা ডেকে উঠে।
10
ঘোড়ার বলে তিনি আনন্দ করেন না,
পুরুষের চরণের শক্তিতেও সন্তুষ্ট হন না।
11
মাবুদ তাদের উপর সন্তুষ্ট,
যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
যারা তাঁর অটল মহব্বতের অপেক্ষায় থাকে।
12
হে জেরুশালেম, মাবুদের গুণ ঘোষণা কর;
হে সিয়োন, তোমার আল্লাহ্র প্রশংসা কর।
13
কেননা তিনি তোমার দ্বারের সমস্ত অর্গল দৃঢ় করে দিয়েছেন,
তিনি তোমার মধ্যে তোমার সন্তানদেরকে দোয়া করেছেন।
14
তিনি তোমার পরিসীমা শান্তিময় করেন,
তিনি উৎকৃষ্ট গম দিয়ে তোমাকে তৃপ্ত করেন।
15
তিনি দুনিয়াতে তাঁর হুকুম পাঠান,
তাঁর কালাম বেগে ধাবমান হয়।
16
তিনি ভেড়ার লোমের মত তুষার দেন,
তিনি ভস্মের মত নীহার ছড়িয়ে দেন।
17
তিনি খণ্ড খণ্ড করে তাঁর শিলাবৃষ্টি পাঠান;
তাঁর শীতের সম্মুখে কে দাঁড়াতে পারে?
18
তিনি তাঁর কালাম পাঠিয়ে সেই সমস্ত গলিয়ে ফেলেন,
তিনি তাঁর বায়ু বহালে পানি প্রবাহিত হয়।
19
তিনি জানান ইয়াকুবকে তাঁর কালাম,
ইসরাইলকে তাঁর বিধি ও অনুশাসনগুলো।
20
তিনি আর কোন জাতির জন্য এরকম করেন নি,
তাঁর সমস্ত অনুশাসন তারা জানে নি।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
বেহেশত থেকে মাবুদের প্রশংসা কর;
ঊর্ধ্বস্থানে তাঁর প্রশংসা কর।
2
হে তাঁর সমস্ত ফেরেশতা, তাঁর প্রশংসা কর;
হে তাঁর সমস্ত বাহিনী, তাঁর প্রশংসা কর।
3
হে সূর্য ও চন্দ্র, তাঁর প্রশংসা কর;
হে উজ্জ্বল সমস্ত তারা, তাঁর প্রশংসা কর।
4
হে উচ্চতম বেহেশত, তাঁর প্রশংসা কর।
হে আসমানের উপরের জলরাশি,
তোমরাও তাঁর প্রশংসা কর।
5
এরা মাবুদের নামের প্রশংসা করুক,
কেননা তিনি হুকুম করলেন, আর এরা সৃষ্ট হল;
6
তিনি চিরকালের জন্য তাদেরকে স্থাপন করেছেন,
তিনি একটি নিয়ম দিয়েছেন, কেউ তা ভাঙ্গতে পারবে না।
7
দুনিয়া থেকে মাবুদের প্রশংসা কর,
হে প্রকাণ্ড জলচরগুলো ও সমস্ত জলধি;
8
আগুন ও শিলা, তুষার ও বাষ্প,
তাঁর হুকুম পালন-করা প্রচণ্ড বায়ু;
9
পর্বতরাজি ও সমস্ত উপপর্বত,
ফলের গাছগুলো ও সমস্ত এরস গাছ;
10
বন্য পশুদের ও সমস্ত গৃহপালিত পশু;
সরীসৃপ ও উড়ে বেড়ানো সমস্ত পাখি;
11
দুনিয়ার বাদশাহ্রা ও সমস্ত জাতি;
শাসনকর্তারা ও দুনিয়ার সকল বিচারকর্তা;
12
যুবকও যুবতীরা;
বৃদ্ধ লোকেরা ও বালক-বালিকারা;
13
সকলে মাবুদের নামের প্রশংসা করুক,
কেননা কেবল তাঁরই নাম উন্নত,
তাঁর গৌরব দুনিয়া ও বেহেশতের উপরে স্থাপিত।
14
আর তিনি তাঁর লোকদের জন্য একটি শৃঙ্গ উত্তোলন করেছেন,
তাঁর সমস্ত ভক্তের জন্য প্রশংসা কর,
বনি-ইসরাইলদের জন্য তাঁর প্রশংসা কর, যারা তাঁর কাছের লোক।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
মাবুদের উদ্দেশে নতুন গজল গাও;
বিশ্বস্ত লোকদের সমাজে তাঁর প্রশংসা গাও।
2
ইসরাইল তাঁর নির্মাণকর্তাতে আনন্দ করুক,
সিয়োন-সন্তানেরা নিজেদের বাদশাহ্তে উল্লসিত হোক।
3
তারা নৃত্যযোগে তাঁর নামের প্রশংসা করুক,
তবল ও বীণাযোগে তাঁর প্রশংসা গান করুক;
4
কেননা মাবুদ তাঁর লোকদের প্রতি প্রীত,
তিনি নম্রদেরকে বিজয়ে ভূষিত করবেন।
5
বিশ্বস্ত লোকেরা গৌরবে উল্লসিত হোক;
তারা নিজ নিজ বিছানায় আনন্দগান করুক।
6
তাদের কণ্ঠে আল্লাহ্র উঁচু প্রশংসা,
তাদের হাতে দ্বিধার তলোয়ার থাকুক;
7
যেন তারা জাতিদেরকে প্রতিফল দেয়,
লোকবৃন্দকে শাস্তি দেয়;
8
যেন তাদের বাদশাহ্দেরকে শিকলে,
তাদের মান্যগণ্যকে লোহার বেড়ী দিয়ে বাঁধে;
9
যেন তাদের বিরুদ্ধে লেখা বিচার নিষ্পন্ন করে;
এ-ই হল তাঁর সমস্ত ভক্তের গৌরব।
মাবুদের প্রশংসা হোক!
1
মাবুদের প্রশংসা হোক!
আল্লাহ্র পবিত্র স্থানে তাঁর প্রশংসা কর;
তাঁর শক্তির শূন্যস্থানে তাঁর প্রশংসা কর।
2
তাঁর কুদরতি-কাজগুলোর জন্য তাঁর প্রশংসা কর;
তাঁর অপার মহিমার জন্য তাঁর প্রশংসা কর।
3
তূরীধ্বনিসহ তাঁর প্রশংসা কর;
নেবল ও বীণাযন্ত্রে তাঁর প্রশংসা কর।
4
তবল ও নৃত্যযোগে তাঁর প্রশংসা কর;
তারযুক্ত যন্ত্র ও বাঁশীর আওয়াজে তাঁর প্রশংসা কর;
5
সুশ্রাব্য করতালযোগে তাঁর প্রশংসা কর;
উচ্চধ্বনি করতালযোগে তাঁর প্রশংসা কর।
6
শ্বাসবিশিষ্ট সকলেই মাবুদের প্রশংসা করুক!
মাবুদের প্রশংসা হোক।
1
সোলায়মানের মেসাল;
তিনি দাউদের পুত্র, ইসরাইলের বাদশাহ্।
2
এই মেসাল দ্বারা প্রজ্ঞা ও উপদেশ পাওয়া যায়,
বুদ্ধির কথা বোঝা যায়;
3
উপদেশ পাওয়া যায় বিজ্ঞতার আচরণ সম্বন্ধে,
ধার্মিকতা, বিচার ও ন্যায় সম্বন্ধে;
4
অবোধদেরকে চতুরতা প্রদান করা যায়,
যুবক জ্ঞান ও পরিণামদর্শিতা পায়।
5
জ্ঞানবান শুনবে ও পাণ্ডিত্যে বৃদ্ধি পাবে,
বুদ্ধিমান সুমন্ত্রণা লাভ করবে;
6
এর দ্বারা দৃষ্টান্ত কথা ও রূপক বোঝা যায়,
জ্ঞানবানদের কথা ও তাদের সমস্যা বোঝা যায়।
7
মাবুদের ভয় জ্ঞানের আরম্ভ;
অজ্ঞানেরা প্রজ্ঞা ও উপদেশ তুচ্ছ করে।
8
বৎস, তুমি তোমার পিতার উপদেশ শোন,
তোমার মাতার ব্যবস্থা ছেড়ো না।
9
কারণ তারা উভয়ে তোমার মাথার সৌন্দর্যস্বরূপ,
ও তোমার গলার হারস্বরূপ হবে।
10
বৎস, যদি গুনাহ্গারেরা তোমাকে প্রলোভন দেখায়,
তুমি সম্মত হয়ো না।
11
তারা যদি বলে, ‘আমাদের সঙ্গে এসো,
আমরা রক্তপাত করার জন্য লুকিয়ে থাকি,
নির্দোষদেরকে অকারণে ধরবার জন্য গুপ্ত থাকি,
12
পাতালের মত তাদেরকে জীবন্ত গ্রাস করি,
গর্তগামীদের মত সর্বাঙ্গীন গ্রাস করি,
13
আমরা সমস্ত রকম বহুমূল্য ধন পাব,
লুণ্ঠিত দ্রব্যে স্ব স্ব বাড়ি পরিপূর্ণ করবো,
14
তুমি আমাদের মধ্যে এক জন অংশী হবে,
আমাদের সকলেরই টাকার একটি ভাণ্ডার হবে’;
15
বৎস, তাদের সঙ্গে সেই পথে চলো না,
তাদের পথ থেকে তোমার চরণ নিবৃত্ত কর;
16
কারণ তাদের চরণ অনিষ্টের দিকে দৌড়ায়,
তারা রক্তপাত করতে বেগে ধাবমান হয়।
17
জাল পাতা হয় অনর্থক,
কোন পাখির দৃষ্টিসীমায়।
18
আর ওরা নিজেদেরই রক্তপাত করতে লুকিয়ে থাকে,
নিজেদেরই প্রাণ হরণ করতে গুপ্ত থাকে।
19
পরধন-অপহরক সকলেরই এই গতি,
সেই ধন সেই গ্রাহকদেরই প্রাণ নষ্ট করে।
20
প্রজ্ঞা পথে পথে চিৎকার করে আহ্বান করে,
হাটে-বাজারে নিজের আওয়াজ তোলে;
21
সে জনাকীর্ণ পথের চত্বরে আহ্বান করে,
নগর-দ্বারগুলোর প্রবেশ-স্থানে,
নগরে, সে এই কথা বলে;
22
‘অবোধেরা, কত দিন নির্বুদ্ধিতা ভালবাসবে?
নিন্দুকেরা কত দিন নিন্দায় রত থাকবে?
হীনবুদ্ধিরা, কত দিন জ্ঞানকে ঘৃণা করবে?
23
তোমরা আমার অনুযোগে ফিরে এসো;
দেখ, আমি তোমাদের উপরে আমার রূহ্ সেচন করবো,
আমার কথা তোমাদেরকে জানাব।’
24
আমি ডাকলে তোমরা অসম্মত হলে,
আমি হাত বাড়িয়ে দিলে কেউ গ্রাহ্য করলে না;
25
তোমরা আমার সমস্ত পরামর্শ অগ্রাহ্য করলে,
আমার তিরস্কার শুনতে চাইলে না।
26
এজন্য তোমাদের বিপদে আমিও হাসব,
তোমাদের ভয় উপস্থিত হলে পরিহাস করবো;
27
যখন ঝটিকার মত তোমাদের ভয় উপস্থিত হবে,
ঘূর্ণিবাতাসের মত তোমাদের বিপদ আসবে,
যখন সঙ্কট ও সঙ্কোচ তোমাদের কাছে আসবে।
28
তখন সকলে আমাকে ডাকবে,
কিন্তু আমি উত্তর দেব না,
তারা সযত্নে আমার খোঁজ করবে,
কিন্তু আমাকে পাবে না;
29
কারণ তারা জ্ঞানকে ঘৃণা করতো,
মাবুদের ভয়কে মান্য করতো না;
30
আমার পরামর্শে সম্মত হত না,
আমার সমস্ত তিরস্কার তুচ্ছ করতো;
31
তাই তারা স্ব স্ব আচরণের ফল ভোগ করবে,
স্ব স্ব কুপরামর্শের ফল দিয়ে উদর পূর্ণ করবে।
32
ফলে, অবোধদের বিপথগমনই তাদের মৃত্যুর কারণ হবে,
হীনবুদ্ধিদের নিশ্চিন্ততা তাদেরকে বিনষ্ট করবে;
33
কিন্তু যে জন আমার কথা শোনে,
সে নির্ভয়ে বাস করবে, শান্ত থাকবে,
অমঙ্গলের আশঙ্কা করবে না।
1
বৎস, তুমি যদি আমার সমস্ত কথা
গ্রহণ কর,
যদি আমার সমস্ত হুকুম তোমার কাছে সঞ্চয় কর,
2
যদি প্রজ্ঞার দিকে কান দাও,
যদি বুদ্ধিতে মনোনিবেশ কর;
3
হ্যাঁ, যদি সুবিবেচনাকে আহ্বান কর,
যদি বুদ্ধির জন্য উচ্চৈঃস্বরে মিনতি কর;
4
যদি রূপার মত তার খোঁজ কর,
গুপ্ত ধনের মত তার অনুসন্ধান কর;
5
তবে মাবুদের ভয় বুঝতে পারবে,
আল্লাহ্বিষয়ক জ্ঞান পাবে।
6
কেননা মাবুদই প্রজ্ঞা দান করেন,
তাঁরই মুখ থেকে জ্ঞান ও বুদ্ধি বের হয়।
7
তিনি সরলদের জন্য সূক্ষ্ম বুদ্ধি রাখেন,
যারা সিদ্ধতায় চলে, তিনি তাদের ঢালস্বরূপ।
8
তিনি ন্যায়বিচারের সমস্ত পথ রক্ষা করেন,
যারা তাঁর বিশ্বস্ত তিনি তাদের পথ সংরক্ষণ করেন।
9
অতএব তুমি ধার্মিকতা ও বিচার বুঝবে,
ন্যায় ও সমস্ত উত্তম পথ অবগত হবে।
10
কেননা প্রজ্ঞা তোমার অন্তরে প্রবেশ করবে,
জ্ঞান তোমার প্রাণের তুষ্টি জন্মাবে,
11
পরিণামদর্শিতা তোমার প্রহরী হবে,
বুদ্ধি তোমাকে রক্ষা করবে;
12
যেন তোমাকে উদ্ধার করে, দুষ্টের পথ থেকে,
সেসব লোক থেকে, যারা কুটিল কথা বলে,
13
যারা সরলতার পথ ত্যাগ করে,
অন্ধকার-পথে চলবার জন্য;
14
যারা কুকর্ম সাধনে আনন্দিত হয়,
নীচতার কুটিলতায় উল্লসিত হয়;
15
যারা বাঁকা পথের পথিক,
নিজ নিজ আচরণে বিপথগামী।
16
সে তোমাকে নিস্তার করবে জেনাকারী স্ত্রী থেকে,
সেই চাটুবাদিনী বিজাতীয়া থেকে,
17
যে যৌবনকালের মিত্রকে ত্যাগ করে,
নিজের আল্লাহ্র নিয়ম ভুলে যায়;
18
কেননা ওর বাড়ি মৃত্যুর দিকে অবনত,
ওর পথ মৃতলোকের দিকে ধাবমান;
19
যারা ওর কাছে যায়, তারা আর ফিরে আসে না,
তারা জীবনের পথ পায় না;
20
যেন তুমি সুশীলদের পথে চলতে পার,
যেন ধার্মিকদের পথ অবলম্বন কর;
21
কেননা সরল লোকেরা দেশে বাস করবে,
সিদ্ধ ব্যক্তিরা সেখানে অবশিষ্ট থাকবে।
22
কিন্তু দুষ্টরা দেশ থেকে উচ্ছিন্ন হবে,
বিশ্বাসঘাতকেরা সেখান থেকে উৎপাটিত হবে।
1
বৎস, তুমি আমার ব্যবস্থা ভুলে
যেয়ো না;
তোমার অন্তর আমার সমস্ত হুকুম পালন করুক।
2
কারণ তাতে তুমি আয়ুর দীর্ঘতা,
জীবনের অতিরিক্ত বছর এবং শান্তি পাবে।
3
রহম ও বিশ্বস্ততা তোমাকে ত্যাগ না করুক;
তুমি এদের তোমার গলায় বেঁধে রাখ,
তোমার হৃদয়-ফলকে লিখে রাখ।
4
তা করলে রহমত ও সুবুদ্ধি পাবে,
আল্লাহ্র ও মানুষের দৃষ্টিতে পাবে;
5
তুমি একাগ্র চিত্তে মাবুদের উপর ভরসা রাখ;
তোমার নিজের বিবেচনায় নির্ভর করো না;
6
তোমার সমগ্র পথে তাঁকে স্বীকার কর;
তাতে তিনি তোমার সমস্ত পথ সরল করবেন।
7
নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান হয়ো না;
মাবুদকে ভয় কর, মন্দ থেকে দূরে যাও।
8
তা তোমার দেহের স্বাস্থ্যস্বরূপ হবে,
তোমার অস্থির মজ্জাস্বরূপ হবে।
9
তুমি মাবুদকে সম্মান কর নিজের ধন দিয়ে,
আর তোমার সমস্ত দ্রব্যের অগ্রিমাংশ দিয়ে;
10
তাতে তোমার গোলাঘরগুলো বহু শস্যে পূর্ণ হবে,
তোমার কুণ্ডে নতুন আঙ্গুর-রস উথলে পড়বে।
11
বৎস, মাবুদের শাসন তুচ্ছ করো না,
তিনি অনুযোগ করলে ক্লান্ত হয়ো না;
12
কেননা মাবুদ যাকে মহব্বত করেন,
তাকেই শাস্তি প্রদান করেন,
যেমন পিতা প্রিয় পুত্রের প্রতি করেন।
13
সুখী সেই ব্যক্তি যে প্রজ্ঞা পায়,
সেই ব্যক্তি যে বুদ্ধি লাভ করে;
14
কেননা রূপার বাণিজ্যের চেয়েও তার বাণিজ্য উত্তম,
সোনার চেয়েও প্রজ্ঞা-লাভ উত্তম।
15
তা মুক্তার চেয়েও বহুমূল্য;
তোমার অভীষ্ট কোন বস্তু তার সমান নয়।
16
তার ডান হাতে দীর্ঘ পরমায়ু,
তার বাম হাতে ধন ও সম্মান থাকে।
17
তার সমস্ত পথ সুখের পথ,
তার সমস্ত পথ শান্তিময়।
18
যারা তাকে ধরে রাখে, তাদের কাছে তা জীবন-বৃক্ষ;
যে কেউ তা গ্রহণ করে, তাকে সুখী বলা হয়।
19
মাবুদ প্রজ্ঞা দ্বারা দুনিয়ার মূল স্থাপন করেছেন,
বুদ্ধি দ্বারা আসমান অটল করেছেন;
20
তাঁর জ্ঞান দ্বারা গভীর সমস্ত জলধি খুলে গেল,
আর আসমান বিন্দু বিন্দু শিশির বর্ষণ করলো।
21
বৎস, এসব তোমার দৃষ্টি-বহির্ভূত না হোক,
তুমি সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও পরিণামদর্শিতা রক্ষা কর।
22
তাতে সেগুলো তোমার প্রাণের জীবনস্বরূপ হবে,
তোমার কণ্ঠের শোভাস্বরূপ হবে।
23
তখন তুমি নিজের পথে নির্ভয়ে গমন করবে,
তোমার পায়ে হোঁচট লাগবে না।
24
শয়নকালে তুমি ভয় করবে না,
তুমি শয়ন করবে, তোমার নিদ্রা সুখকর হবে।
25
আকস্মিক বিপদকে ভয় পেয়ো না,
দুষ্টের বিনাশ আসলে তাকে ভয় পেয়ো না;
26
কেননা মাবুদ তোমার বিশ্বাসভূমি হবেন,
ফাঁদ থেকে তোমার পা রক্ষা করবেন।
27
যাদের মঙ্গল করা উচিত,
তাদের মঙ্গল করতে অস্বীকার করো না,
যখন তা করার ক্ষমতা তোমার হাতে থাকে।
28
তোমার প্রতিবেশীকে বলো না,
‘যাও, আবার এসো, আমি আগামীকাল দিব’,
যখন তোমার হাতে থাকে।
29
তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কুসঙ্কল্প করো না,
সে তো তোমার কাছে নির্ভয়ে বাস করে।
30
অকারণে কোন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ করো না,
যদি সে তোমার অপকার না করে থাকে।
31
জুলুমবাজের প্রতি ঈর্ষা করো না,
আর তার কোন পথ মনোনীত করো না;
32
কেননা যে ব্যক্তি খল সে মাবুদের ঘৃণার পাত্র;
কিন্তু সরলদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্টতা আছে।
33
দুষ্টের বাড়িতে মাবুদের বদদোয়া বর্ষিত হয়,
কিন্তু তিনি ধার্মিকদের নিবাসকে দোয়া করেন।
34
নিশ্চয়ই তিনি নিন্দুকদের নিন্দা করেন,
কিন্তু নম্রদেরকে রহমত প্রদান করেন,
35
জ্ঞানবানেরা সম্মানের অধিকারী হবে,
কিন্তু অপমানই হীনবুদ্ধিদের পরিণাম।
1
বৎসরা, পিতার উপদেশ শোন,
সুবিবেচনা বুঝবার জন্য মনোযোগ দাও।
2
কেননা আমি তোমাদেরকে আদেশমালা দেব;
তোমরা আমার ব্যবস্থা ত্যাগ করো না।
3
কারণ আমিও নিজের পিতার সন্তান ছিলাম,
মাতার দৃষ্টিতে কোমল ও অদ্বিতীয় ছিলাম।
4
পিতা আমাকে শিক্ষা দিতেন, বলতেন,
তোমার অন্তর আমার কথা ধরে রাখুক;
আমার সমস্ত হুকুম পালন কর, জীবন পাবে;
5
প্রজ্ঞা অর্জন কর, সুবিবেচনা আয়ত্ব কর, ভুলে যেও না;
আমার মুখের কথা থেকে বিমুখ হয়ো না।
6
প্রজ্ঞাকে ছেড়ো না, সে তোমাকে রক্ষা করবে;
তাকে মহব্বত কর, সে তোমাকে সংরক্ষণ করবে।
7
প্রজ্ঞাই প্রধান বিষয়, তুমি প্রজ্ঞা অর্জন কর;
সমস্ত অর্জন দিয়ে সুবিবেচনা আয়ত্ব কর।
8
তাকে শিরোধার্য কর, সে তোমাকে উন্নত করবে,
যখন তাকে আলিঙ্গন কর, সে তোমাকে মান্য করবে।
9
সে তোমার মাথায় লাবণ্যভূষণ দেবে,
সে তোমাকে শোভার মুকুট প্রদান করবে।
10
বৎস, শোন, আমার কথা গ্রহণ কর,
তাতে তোমার জীবনের আয়ু দীর্ঘ হবে।
11
আমি তোমাকে প্রজ্ঞার পথ দেখিয়েছি,
তোমাকে সরলতার পথে চালিয়েছি।
12
তোমার গমনকালে পাদসঞ্চার বাধাগ্রস্ত হবে না,
ধাবনকালে তোমার হোঁচট লাগবে না।
13
উপদেশ ধরে রেখো, ছেড়ে দিও না,
তা রক্ষা কর, কেননা তা তোমার জীবন।
14
দুর্জনদের পথে প্রবেশ করো না,
দুর্বৃত্তদের পথে চলো না,
15
তা পরিত্যাগ কর, তার কাছ দিয়ে যেও না;
তা থেকে বিমুখ হয়ে অগ্রসর হও।
16
কেননা দুষ্কর্ম না করলে তাদের নিদ্রা হয় না,
কারো হোঁচট না লাগালে তাদের নিদ্রা দূরে যায়।
17
কারণ তারা নাফরমানীর অন্ন ভোজন করে,
তারা উপদ্রবের আঙ্গুর-রস পান করে।
18
কিন্তু ধার্মিকদের পথ প্রভাতীয় আলোর মত,
যা মধ্যাহ্ন পর্যন্ত উত্তরোত্তর দেদীপ্যমান হয়।
19
দুষ্টদের পথ অন্ধকারের মত;
তারা কিসে হোঁচট খাবে, জানে না।
20
বৎস, আমার কথায় মনযোগ দাও,
আমার কথায় কান দাও।
21
তা তোমার দৃষ্টির বহির্ভূত না হোক,
তোমার হৃদয়মধ্যে তা রাখ।
22
কেননা যারা তা পায়, তাদের পক্ষে তা জীবন,
তা তাদের সর্বাঙ্গের স্বাস্থ্যস্বরূপ।
23
সমস্ত রক্ষণীয়ের চেয়ে তোমার অন্তর রক্ষা কর,
কেননা তা থেকে জীবন প্রবাহিত হয়।
24
মুখের কুটিলতা নিজের কাছ থেকে দূর কর,
ওষ্ঠাধরের বক্রতা নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দাও।
25
তোমার চোখ সরল দৃষ্টি করুক,
তোমার চোখের পাতা সোজাভাবে সম্মুখে দেখুক।
26
তোমার চলার পথ সমান কর,
তোমার সমস্ত পথ সুদৃঢ় হোক।
27
ডানে বা বামে ফিরবে না,
মন্দ থেকে চরণ নিবৃত্ত কর।
1
বৎস, আমার প্রজ্ঞায় মনোযোগ দাও,
আমার বুদ্ধির প্রতি কান দাও;
2
যেন তুমি পরিণামদর্শিতা রক্ষা কর,
যেন তোমার ওষ্ঠাধর জ্ঞানের কথা পালন করে।
3
কেননা জেনাকারী স্ত্রীর কথা থেকে মধু ক্ষরে,
তার কথা তেলের চেয়েও স্নিগ্ধ;
4
কিন্তু তার শেষ ফল নাগদানার মত তিক্ত,
দ্বিধার তলোয়ারের মত তীক্ষ্ন।
5
তার চরণ মৃত্যুর কাছে নেমে যায়,
তার পদক্ষেপ পাতালে পড়ে।
6
সে জীবনের সমান পথ পায় না,
তার সমস্ত পথ চঞ্চল; সে কিছু জানে না।
7
অতএব বৎসরা, আমার কথা শোন,
আমার মুখের কথা থেকে বিমুখ হয়ো না।
8
তুমি সেই স্ত্রী থেকে তোমার পথ দূরে রাখ,
তার বাড়ির দরজার কাছে যেও না;
9
পাছে তুমি নিজের সম্মান অন্যদেরকে দাও,
নিজের আয়ু নির্দয় লোককে দাও;
10
পাছে অপর লোকে তোমার ধনে তৃপ্ত হয়,
আর তোমার পরিশ্রমের ফল বিজাতীয়ের বাড়িতে থাকে;
11
পাছে শেষকালে তুমি অনুশোচনা কর,
যখন তোমার মাংস ও শরীর ক্ষয় পায়;
12
পাছে বল, ‘হায়, আমি উপদেশ ঘৃণা করেছি,
আমার অন্তর তিরস্কার তুচ্ছ করেছে;
13
আমি নিজের গুরুদের কথা শুনি নি,
নিজের শিক্ষকদের কথায় কান দিই নি;
14
সমাজ ও মণ্ডলীর মধ্যে হাতে পড়ে
আমি প্রায় মারাই পড়েছিলাম।’
15
তুমি নিজের জলাশয়ের পানি পান কর,
নিজের কূপের স্রোতের পানি পান কর।
16
তোমার ফোয়ারা কি বাইরে প্লাবিত হবে?
পথে-ঘাটে কি পানির স্রোত বয়ে যাবে?
17
সেটি কেবল তোমারই হোক,
তোমার সঙ্গে অপর লোকের না হোক।
18
তোমার ফোয়ারা দোয়াযুক্ত হোক,
তুমি তোমার যৌবনের স্ত্রীতে আমোদ কর।
19
সে প্রেমিকা হরিণী ও কমনীয়া হরিণীর মত;
তারই বুকে তুমি সর্বদা আপ্যায়িত হও,
তার প্রেমে তুমি সতত মোহিত থাক।
20
বৎস, তুমি জেনাকারী স্ত্রীতে কেন মোহিত হবে?
বিজাতীয়ার বক্ষ কেন আলিঙ্গন করবে?
21
মানুষের পথ তো মাবুদের দৃষ্টিগোচর;
তিনি তার সকল পথ যাচাই করে দেখেন।
22
দুষ্ট নিজের অপরাধগুলোতে ধরা পড়ে,
সে নিজের গুনাহ্-পাশে আট্কা পড়ে।
23
সে শাসনের অভাবে প্রাণ ত্যাগ করবে,
নিজের অজ্ঞানতার আধিক্যে ভ্রান্ত হবে।
1
বৎস, তুমি যদি বন্ধুর জামিন হয়ে
থাক,
যদি অপরের সঙ্গে হাতে তালি দিয়ে থাক,
2
তবে নিজের মুখের কথায় ফাঁদে পড়েছ,
নিজের মুখের কথায় ধরা পড়েছ।
3
এখন, বৎস, তুমি এই কাজ কর;
নিজেকে উদ্ধার কর;
যখন তুমি তোমার বন্ধুর হস্তগত হয়েছ,
তখন যাও, বিনত হও,
বন্ধুর সাধ্যসাধনা কর;
4
তোমার চোখকে নিদ্রা যেতে দিও না,
চোখের পাতাকে বন্ধ হতে দিও না;
5
নিজেকে শিকারীর হাত থেকে হরিণের মত,
পাখির মত শিকারীর হাত থেকে উদ্ধার কর।
6
হে অলস, তুমি পিপীলিকার কাছে যাও,
তার সমস্ত কাজ দেখে জ্ঞানবান হও।
7
তার বিচারকর্তা কেউ নেই,
শাসনকর্তা কি নেতা কেউ নেই,
8
তবু সে গ্রীষ্মকালে তার খাদ্য জমা করে,
শস্য কাটার সময়ে খাবার সঞ্চয় করে।
9
হে অলস, তুমি কত কাল শুয়ে থাকবে?
কখন নিদ্রা থেকে উঠবে?
10
‘আর একটু নিদ্রা, আর একটু তন্দ্রা,
আর একটু শুয়ে হাত জড়সড় করবো’;
11
তাই তোমার দরিদ্রতা দস্যুর মত আসবে,
তোমার দৈন্যদশা সশস্ত্র ব্যক্তির মত আসবে।
12
যে ব্যক্তি পাষণ্ড, যে লোক অপরাধী,
সে মুখের কুটিলতায় চলে,
13
সে চোখ দিয়ে ইঙ্গিত করে, পা দিয়ে কথা বলে,
সে আঙ্গুল দ্বারা সঙ্কেত করে,
14
তার অন্তরে কুটিলতা থাকে,
সে সতত কুকল্পনা করে,
সে ঝগড়া ছড়িয়ে দেয়।
15
সেজন্য অকস্মাৎ তার বিপদ আসবে,
হঠাৎ সে ভগ্ন হবে; আর প্রতিকার হবে না।
16
এই ছয়টি বস্তু মাবুদের ঘৃণিত,
এমন কি, সাতটি বস্তু তাঁর প্রাণের ঘৃণাস্পদ;
17
উদ্ধত দৃষ্টি,
মিথ্যাবাদী জিহ্বা,
নির্দোষের রক্তপাতকারী হাত,
18
দুষ্ট সঙ্কল্পকারী অন্তর,
দুষ্কর্ম করতে দ্রুতগামী চরণ,
19
যে মিথ্যাসাক্ষী অসত্য কথা বলে,
ও যে ভাইদের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত করে।
20
বৎস, তুমি তোমার পিতার হুকুম পালন কর,
তোমার মাতার শিক্ষা ত্যাগ করো না।
21
তা সর্বদা তোমার অন্তরে গেঁথে রাখ,
তোমার গলায় বেঁধে রাখ।
22
গমনকালে সে তোমাকে পথ দেখাবে,
শয়নকালে তোমার প্রহরী হবে,
জাগরণকালে তোমার সঙ্গে আলাপ করবে।
23
কেননা হুকুম প্রদীপের মত ও শিক্ষা আলোর মত,
এবং শিক্ষাজনক তিরস্কার জীবনের পথ;
24
সে তোমাকে রক্ষা করবে,
দুষ্টা স্ত্রী থেকে, বিজাতীয়ার জিহ্বার চাটুবাদ হতে।
25
তুমি অন্তরে ওর সৌন্দর্যে লুব্ধ হয়ো না,
ওর চক্ষুর ভঙ্গিতে ধৃত হয়ো না।
26
কেননা পতিতাগমন দ্বারা অন্নাভাব ঘটে,
পরস্ত্রী মানুষের মহামূল্য প্রাণ শিকার করে।
27
কেউ যদি বক্ষঃস্থলে আগুন রাখে,
তবে তার কাপড় কি পুড়ে যাবে না?
28
কেউ যদি জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে চলে,
তবে তার পা কি পুড়ে যাবে না?
29
তদ্রূপ যে প্রতিবেশীর স্ত্রীর কাছে গমন করে;
যে তাকে স্পর্শ করে, সে অদণ্ডিত থাকবে না।
30
যে ক্ষুধিত হয়ে প্রাণের তৃপ্তির জন্য চুরি করে,
লোকে সেই চোরকে উপেক্ষা করে না;
31
কিন্তু ধরা পড়লে তাকে সাত গুণ ফিরিয়ে দিতে হবে,
তার বাড়ির সর্বস্বও তুলে দিতে হবে।
32
যে পুরুষ জেনা করে সে বুদ্ধিবিহীন,
সে তা করে নিজের প্রাণ নিজে নষ্ট করে।
33
সে আঘাত ও অবমাননা পাবে;
তার দুর্নাম কখনও ঘুচবে না।
34
যেহেতু অন্তর্জ্বালা স্বামীর ক্রোধ জাগিয়ে তোলে,
প্রতিশোধের দিনে সে ক্ষমা করবে না;
35
সে কোন রকম ক্ষতিপূরণই গ্রাহ্য করবে না,
অনেক ঘুষ দিলেও সম্মত হবে না।
1
বৎস আমার সমস্ত কথা পালন কর,
আমার সমস্ত হুকুম তোমার কাছে সঞ্চয় কর।
2
আমার সমস্ত হুকুম পালন কর, জীবন পাবে,
নয়ন-তারার মত আমার শিক্ষা রক্ষা কর;
3
তোমার আঙ্গুলগুলোতে সেগুলো বেঁধে রাখ,
তোমার হৃদয়-ফলকে তা লিখে রাখ।
4
প্রজ্ঞাকে বল, তুমি আমার বোন,
সুবিবেচনাকে বল তুমি আমার সখী;
5
তাতে তুমি পরকীয়া স্ত্রী থেকে রক্ষা পাবে,
চাটুভাষিণী বিজাতীয়া থেকে রক্ষা পাবে।
6
আমি তোমার বাড়ির জানালা থেকে
জালির মধ্য দিয়ে নিরীক্ষণ করছিলাম;
7
অবোধদের মধ্যে আমার দৃষ্টি পড়লো,
আমি যুবকদের মধ্যে এক জনকে দেখলাম,
সে বুদ্ধিবিহীন যুবক।
8
সে গলিতে গেল, ঐ স্ত্রীর কোণের কাছে এল,
তার বাড়ির পথে চললো।
9
তখন সন্ধ্যাকাল, দিবাবসান হয়েছিল,
রাতের অন্ধকার হয়েছিল।
10
তখন দেখ, এক জন স্ত্রীলোক তার সম্মুখে এল,
সে পতিতা-বেশধারিণী ও চতুর-চিত্তা;
11
সে কলহকারিণী ও অবাধ্য,
তার চরণ ঘরে থাকে না;
12
সে কখনও রাস্তায়, কখনও হাটে-বাজারে,
কোণে কোণে অপেক্ষাতে থাকে।
13
সে তাকে ধরে চুম্বন করলো,
নির্লজ্জ মুখে তাকে বললো,
14
‘আমাকে মঙ্গল-কোরবানীদান করতে হয়েছে,
আজ আমি আমার মানত পূর্ণ করেছি;
15
তাই তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাইরে এসেছি,
সযত্নে তোমার মুখ দেখতে এসেছি,
তোমাকে পেয়েছি।
16
আমি পালঙ্কে বুটিদার চাদর পেতেছি,
মিসরীয় সুতার চিত্রবিচিত্র চাদর পেতেছি।
17
আমি গন্ধরস, অগুরু ও দারুচিনি দিয়ে
আমার বিছানা আমোদিত করেছি।
18
চল, আমরা প্রভাত পর্যন্ত কামরসে মত্ত হই,
আমরা গভীর প্রেমের মধ্যে আনন্দ ভোগ করি।
19
কেননা আমার স্বামী ঘরে নেই,
তিনি দূরে যাত্রা করেছেন;
20
টাকার থলি সঙ্গে নিয়ে গেছেন,
পূর্ণিমার দিন ঘরে আসবেন।’
21
অনেক মন ভুলানো কথায় সে তার অন্তর হরণ করলো,
ওষ্ঠাধরের চাটুবাদে তাকে আকর্ষণ করলো।
22
অমনি সে তার পিছনে গেল,
যেমন গবাদি পশু হত হতে যায়,
যেমন শিকলে বাঁধা ব্যক্তি নির্বোধের শাস্তি পেতে যায়;
23
শেষে তার যকৃৎ বাণে বিদ্ধ হল;
যেমন পাখি ফাঁদে পড়তে বেগে ধাবিত হয়,
আর জানে না যে, তা প্রাণনাশক।
24
এখন বৎসরা, আমার কথা শোন,
আমার মুখের কথায় মনযোগ দাও।
25
তোমার অন্তর ওর পথে না যাক,
তুমি ওর পথে ভ্রমণ করো না।
26
কেননা সে অনেককে আঘাত করে নিপাত করেছে,
তার নিহত লোকেরা একটি বড় দল।
27
তার বাড়ি পাতালের পথ,
যে পথ মৃত্যুর অতল গহ্বরে নেমে যায়।
1
প্রজ্ঞা কি ডাকে না?
বুদ্ধি কি উচ্চৈঃস্বর করে না?
2
সে পথের পাশে অবস্থিত উঁচু স্থানের চূড়ায়,
পথগুলোর সংযোগস্থানে দাঁড়ায়;
3
সে তোরণদ্বার-সমীপে, নগরের অগ্রভাগে,
দ্বারের প্রবেশ-স্থানে থেকে উচ্চৈঃস্বরে বলে,
4
হে মানবগণ, আমি তোমাদের ডাকি,
বনি-আদমদের নিকটেই আমার বাণী।
5
হে অবোধেরা, চতুরতা শিক্ষা কর;
হে হীনবুদ্ধিরা, সুবুদ্ধি সম্পন্ন হও।
6
শোন, কেননা আমি উৎকৃষ্ট কথা বলবো,
আমার মুখের কথা ন্যায়-সঙ্গত।
7
আমার মুখ সত্যি বলবে,
নাফরমানী আমার ওষ্ঠের ঘৃণাস্পদ।
8
আমার মুখের সমস্ত কালাম ধর্মময়;
তার মধ্যে বক্রতা বা কুটিলতা কিছুই নেই।
9
বুদ্ধিমানের কাছে সেসব স্পষ্ট,
জ্ঞানীদের কাছে সেসব সরল।
10
আমার শাসনই গ্রহণ কর, রূপা নয়,
উৎকৃষ্ট সোনার চেয়ে জ্ঞান ভাল করতে আগ্রহী হও।
11
কেননা প্রজ্ঞা মুক্তা হতেও উত্তম,
কোন অভীষ্ট বস্তু তার সমান নয়।
12
আমি প্রজ্ঞা, চতুরতার সঙ্গে বাস করি,
পরিণামদর্শিতার তত্ত্ব জানি।
13
মাবুদের ভয় নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা;
অহঙ্কার, দাম্ভিকতা ও কুপথ,
এবং কুটিল মুখও আমি ঘৃণা করি।
14
পরামর্শ ও বুদ্ধিকৌশল আমার,
আমিই সুবিবেচনা, পরাক্রম আমার।
15
আমা দ্বারা বাদশাহ্রা রাজত্ব করেন,
মন্ত্রীরা ধর্মব্যবস্থা স্থাপন করেন।
16
আমা দ্বারা শাসনকর্তারা শাসন করেন,
অধিপতিরা, দুনিয়ার সমস্ত বিচারকর্তারা শাসন করেন।
17
যারা আমাকে মহব্বত করে, আমিও তাদেরকে মহব্বত করি,
যারা সযত্নে আমার খোঁজ করে, তারা আমাকে পায়।
18
আমার কাছে রয়েছে ঐশ্বর্য ও সম্মান,
অক্ষয় সম্পত্তি ও উন্নতি।
19
সোনা ও খাঁটি সোনার চেয়েও আমার ফল উত্তম,
উৎকৃষ্ট রূপার চেয়েও আমার উপহার উত্তম।
20
আমি ধার্মিকতার পথে গমন করি,
বিচারের পথের মধ্য দিয়ে গমন করি,
21
যেন, যারা আমাকে মহব্বত করে,
তাদেরকে সম্পদ দান করি,
তাদের ভাণ্ডারগুলো পরিপূর্ণ করি।
22
মাবুদ নিজের পথের আরম্ভে আমাকে পেয়েছিলেন,
তাঁর কাজগুলোর আগে, পূর্বাবধি।
23
আমি স্থাপিত হয়েছি অনাদি কাল থেকে,
আদি থেকে, দুনিয়ার সৃষ্টির আগে থেকে।
24
জলধি যখন হয় নি, তখন আমি জন্মেছিলাম,
যখন পানিতে পূর্ণ সমস্ত ফোয়ারা সৃষ্টি হয় নি।
25
পর্বতগুলো স্থাপিত হবার আগে,
উপপর্বতগুলোর আগে আমি জন্মেছিলাম;
26
তখন তিনি দুনিয়া ও এর ভূমি নির্মাণ করেন নি,
দুনিয়ার ধূলির প্রথম অণুও গড়েন নি।
27
যখন তিনি আসমান প্রস্তুত করেন,
তখন আমি সেখানে ছিলাম;
যখন তিনি জলধিপৃষ্ঠের চক্রাকার সীমা নির্ধারণ করলেন,
28
যখন তিনি ঊর্ধ্বস্থ আসমান দৃঢ়ভাবে নির্মাণ করলেন,
যখন জলধির প্রবাহগুলো প্রবল হল,
29
যখন তিনি সমুদ্রের সীমা স্থির করলেন,
যেন পানি তাঁর হুকুম লঙ্ঘন না করে,
যখন তিনি দুনিয়ার মূল নির্ধারণ করলেন;
30
তৎকালে আমি তাঁর কাছে কার্যকারী ছিলাম;
আমি প্রতিদিন আনন্দময় ছিলাম,
তাঁর সম্মুখে নিত্য আহ্লাদ করতাম;
31
আমি তাঁর দুনিয়াতে আহ্লাদ করতাম,
বনি-আদমগণে আমার আনন্দ হত।
32
অতএব বৎসরা, এখন আমার কথা শোন;
কেননা তারা সুখী, যারা আমার পথে চলে।
33
তোমরা শাসন মান্য কর, জ্ঞানবান হও;
তা অগ্রাহ্য করো না।
34
সুখী সেই ব্যক্তি, যে আমার কথা শুনে,
যে প্রতিদিন আমার দ্বারে জাগ্রত থাকে,
আমার দ্বারের চৌকাঠে থেকে অপেক্ষা করে।
35
কেননা যে আমাকে পায়, সে জীবন পায়,
এবং মাবুদের রহমত ভোগ করে।
36
কিন্তু যে আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে,
সে তার প্রাণের অনিষ্ট করে;
যেসব লোক আমাকে ঘৃণা করে,
তারা মৃত্যুকে ভালবাসে।
1
প্রজ্ঞা তার নিজের গৃহ নির্মাণ করেছে,
সে তার জন্য সাতটি স্তম্ভ খনন করেছে;
2
সে তার পশুদেরকে মেরেছে;
আঙ্গুর-রস মিশানো হয়েছে,
সে তার মেজও সাজিয়েছে।
3
সে তার বাঁদীদেরকে পাঠিয়েছে,
সে নগরের উচ্চতম স্থান থেকে ডেকে বলে,
4
‘যে অবোধ, সে এই স্থানে আসুক;
যে বুদ্ধিবিহীন, সে তাকে বলে,
5
‘এসো, আমার খাবার দ্রব্য ভোজন কর,
আমার মিশানো আঙ্গুর-রস পান কর।’
6
অবোধদের সঙ্গ ছেড়ে জীবন ধারণ কর,
সুবিবেচনার পথে চরণ চালাও।
7
যে নিন্দুককে শিক্ষা দেয়, সে লজ্জা পায়,
যে দুষ্টকে তিরস্কার করে, সে কলঙ্ক পায়।
8
নিন্দককে তিরস্কার করো না, পাছে সে তোমাকে ঘৃণা করে;
জ্ঞানবানকেই তিরস্কার কর, সে তোমাকে মহব্বত করবে।
9
জ্ঞানবানকে [শিক্ষা] দাও, সে আরও জ্ঞানবান হবে;
ধার্মিককে জ্ঞান দাও, তার পাণ্ডিত্য বৃদ্ধি পাবে।
10
মাবুদকে ভয় করাই প্রজ্ঞার আরম্ভ,
পবিত্রতম-বিষয়ক জ্ঞানই সুবিবেচনা।
11
কেননা আমা দ্বারা তোমার আয়ু বাড়বে,
তোমার জীবনের বছর-সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
12
তুমি যদি জ্ঞানবান হও,
নিজেরই মঙ্গলের জন্যই জ্ঞানবান হবে,
যদি নিন্দা কর, একাই তা বহন করবে।
13
হীনবুদ্ধি স্ত্রীলোক কলহকারিণী,
সে অবোধ, কিছুই জানে না।
14
সে তার গৃহ-দ্বারে বসে,
নগরের উঁচু স্থানে আসন পেতে বসে;
15
সে পথিকদেরকে ডাকে,
সরলপথ-গামীদেরকে ডাকে,
16
‘যে অবোধ, সে এই স্থানে আসুক’;
যে বুদ্ধিবিহীন, সে তাকে বলে,
17
‘অপহৃত-পানি মিষ্ট,
গুপ্তস্থানে খাওয়া অন্ন সুস্বাদু।’
18
কিন্তু সে জানে না যে, মৃতরাই সেখানে থাকে,
ওর দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকেরা গভীর পাতালে থাকে।
1
জ্ঞানবান পুত্র পিতার আনন্দজনক,
কিন্তু হীনবুদ্ধি পুত্র মাতার খেদজনক।
2
নাফরমানীর ধন কিছুই উপকারী নয়,
কিন্তু ধার্মিকতা মৃত্যু থেকে উদ্ধার করে।
3
মাবুদ ধার্মিকের প্রাণ ক্ষুধায় ক্ষীণ হতে দেন না;
কিন্তু তিনি দুষ্টদের কামনা দূর করেন।
4
যে শিথিল হাতে কাজ করে, সে দরিদ্র হয়;
কিন্তু পরিশ্রমীদের হাত ধনবান করে।
5
যে গ্রীষ্মকালে সঞ্চয় করে, সে বুদ্ধিমান পুত্র;
যে শস্য কাটার সময় নিদ্রিত থাকে, সে লজ্জাজনক পুত্র।
6
ধার্মিকের মাথায় বহু দোয়া অর্পিত হয়;
কিন্তু দুষ্টদের মুখ জুলুম ঢেকে রাখে।
7
ধার্মিকের স্মৃতি দোয়ার বিষয়;
কিন্তু দুষ্টদের নাম পচে যাবে।
8
বিজ্ঞচিত্ত লোক হুকুম গ্রহণ করে,
কিন্তু অজ্ঞান বাচাল ধ্বংস হয়ে যাবে।
9
যে সিদ্ধতায় চলে, সে নির্ভয়ে চলে,
কিন্তু কুটিল আচরণকারীকে চেনা যাবে।
10
যে চোখ দ্বারা ইঙ্গিত করে, সে দুঃখ দেয়;
আর জ্ঞানহীন বাচাল ধ্বংস হয়ে যাবে।
11
ধার্মিকের মুখ জীবনের ফোয়ারা;
কিন্তু দুষ্টদের মুখ জুলুম ঢেকে রাখে।
12
ঘৃণা বিবাদের উত্তেজক,
কিন্তু মহব্বত সমস্ত অধর্ম আচ্ছাদন করে।
13
জ্ঞানবানের ওষ্ঠাধরে প্রজ্ঞা পাওয়া যায়,
কিন্তু বুদ্ধিবিহীনের পিঠের জন্য দণ্ড রয়েছে।
14
জ্ঞানবানেরা জ্ঞান সঞ্চয় করে,
কিন্তু অজ্ঞানের মুখ সর্বনাশ ডেকে আনে।
15
ধনবানের ধনই তার দৃঢ় আশ্রয়,
দরিদ্রদের দরিদ্রতাই তাদের সর্বনাশ।
16
ধার্মিকের শ্রম জীবনদায়ক,
দুর্জনের আয় গুনাহ্জনক।
17
যে শাসন মানে, সে জীবন-পথে চলে;
কিন্তু যে তিরস্কার ত্যাগ করে, সে ভ্রান্ত হয়।
18
যে ঘৃণা ঢেকে রাখে, তার ওষ্ঠাধর মিথ্যাবাদী;
আর যে দুর্নাম রটায়, সে হীনবুদ্ধি।
19
বেশি কথার মধ্যে অধর্মের অভাব থাকে না;
কিন্তু যে ওষ্ঠ দমন করে, সে বুদ্ধিমান।
20
ধার্মিকের জিহ্বা উৎকৃষ্ট রূপার মত,
দুষ্টদের অন্তঃকরণ স্বল্পমূল্য।
21
ধার্মিকের ওষ্ঠাধর অনেককে প্রতিপালন করে,
কিন্তু অজ্ঞানেরা বুদ্ধির অভাবে মারা পড়ে।
22
মাবুদের দোয়াই ধনবান করে,
এবং তিনি তার সঙ্গে মনোদুঃখ দেন না।
23
কুকর্ম করা অজ্ঞানের আমোদ,
আর প্রজ্ঞা বুদ্ধিমানের আনন্দ।
24
দুষ্ট যা ভয় করে, তার প্রতি তা-ই ঘটবে;
কন্তু ধার্মিকদের বাসনা সফল হবে।
25
যখন ঘূর্ণিবাতাস বয়ে যায়, দুষ্টরা উড়ে যায়;
কিন্তু ধার্মিক নিত্যস্থায়ী ভিত্তিমূলস্বরূপ।
26
যেমন দাঁতের পক্ষে অম্লরস ও চোখের পক্ষে ধোঁয়া,
তেমনি নিজের প্রেরণকর্তাদের পক্ষে অলস।
27
মাবুদের ভয় আয়ু বৃদ্ধি করে;
কিন্তু দুষ্টদের বছর-সংখ্যা হ্রাস পাবে।
28
ধার্মিকদের প্রত্যাশা আনন্দজনক;
কিন্তু দুষ্টদের আশ্বাস বিনাশ পাবে।
29
মাবুদের পথ ধার্মিকের পক্ষে দুর্গ,
কিন্তু তা দুর্বৃত্তদের পক্ষে সর্বনাশ।
30
ধার্মিক লোক কখনও বিচলিত হবে না;
কিন্তু দুষ্টরা দেশে বাস করবে না।
31
ধার্মিকের মুখ প্রজ্ঞার ফলে ফলবান;
কিন্তু কুটিল জিহ্বা কেটে ফেলা যাবে।
32
ধার্মিকের ওষ্ঠাধর সন্তোষের বিষয় জানে,
কিন্তু দুষ্টদের মুখ কুটিলতামাত্র।
1
ছলনার দাঁড়িপাল্লা মাবুদের
ঘৃণিত;
কিন্তু ন্যায্য বাট্খারা তাঁর তুষ্টিকর।
2
অহঙ্কার আসলে অপমানও আসে;
কিন্তু প্রজ্ঞাই নম্রদের সহচর।
3
সরলদের সিদ্ধতা তাদের পথ দেখাবে;
কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের বক্রতা তাদেরকে নষ্ট করবে।
4
গজব নেমে আসার দিনে ধন উপকারে আসে না;
কিন্তু ধার্মিকতা মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।
5
নির্দোষের ধার্মিকতা তার পথ সরল করে;
কিন্তু দুষ্ট নিজের দুষ্টতায় পতিত হয়।
6
সরলদের ধার্মিকতা তাদেরকে উদ্ধার করে;
কিন্তু বিশ্বাসঘাতকেরা নিজ নিজ কামনায় ধরা পড়ে।
7
দুষ্ট মরলে তার প্রত্যাশা নষ্ট হয়;
আর অধর্মের প্রত্যাশা বিনাশ পায়।
8
ধার্মিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার পায়,
কিন্তু সেই সঙ্কট দুষ্ট লোকের উপর এসে পড়ে।
9
মুখ দ্বারা পাষণ্ড তার প্রতিবেশীকে নষ্ট করে;
কিন্তু জ্ঞান দ্বারা ধার্মিকেরা উদ্ধার পায়।
10
ধার্মিকদের মঙ্গল হলে নগরে উল্লাস হয়;
দুষ্টদের বিনাশ হলে আনন্দগান হয়;
11
সরল লোকদের দোয়ায় নগর উন্নত হয়;
কিন্তু দুষ্টদের কথায় তা উৎপাটিত হয়।
12
যে প্রতিবেশীকে তুচ্ছ করে, সে বুদ্ধিবিহীন;
কিন্তু বুদ্ধিমান নীরব হয়ে থাকে।
13
রটনাকারী গুপ্ত কথা ব্যক্ত করে;
কিন্তু যে রূহে বিশ্বস্ত, সে কথা গোপন করে।
14
সুমন্ত্রণার অভাবে জাতি হেরে যায়;
কিন্তু অনেক মন্ত্রির দরুন জয় নিশ্চিত হয়।
15
যে অপরের জামিন হয়, সে নিশ্চয়ই কষ্ট পায়;
কিন্তু যে জামিন হতে অস্বীকার করে, সে নিরাপদ।
16
দয়ালু স্ত্রী সম্মান ধরে রাখে,
আর দুর্দান্তেরা ধন ধরে রাখে।
17
দয়ালু নিজের প্রাণের উপকার করে;
কিন্তু নির্দয় নিজের দেহের কাঁটা স্বরূপ।
18
দুষ্ট মিথ্যা বেতন উপার্জন করে;
কিন্তু যে ধার্মিকতার বীজ বোনে, সে সত্য বেতন পায়।
19
যে ধার্মিকতায় অটল, সে জীবন পায়;
কিন্তু যে নাফরমানীর পিছনে দৌড়ায়,
সে নিজের মৃত্যু ঘটায়।
20
বক্রচিত্তেরা মাবুদের ঘৃণার পাত্র;
কিন্তু যারা নিজের পথে সিদ্ধ,
তারা তাঁর সন্তোষের পাত্র।
21
হাতে হাত দিলেও দুষ্ট অদণ্ডিত থাকবে না;
কিন্তু ধার্মিকদের বংশ রক্ষা পাবে।
22
যেমন শূকরের নাসিকায় সোনার নথ,
তেমনি সুবিচার-ত্যাগিনী সুন্দরী স্ত্রী।
23
ধার্মিকদের মনোবাঞ্ছা কেবল উত্তম,
দুষ্টদের প্রত্যাশার বদলে গজব নেমে আসে।
24
কেউ কেউ বিতরণ করে আরও বৃদ্ধি পায়;
কেউ কেউ বা ন্যায্য ব্যয় অস্বীকার করে কেবল অভাবে পড়ে।
25
দানশীল ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়,
পানি-সেচনকারী নিজেও পানিতে সিক্ত হয়।
26
যে শস্য আটক করে রাখে, লোকে তাকে বদদোয়া দেয়;
কিন্তু যে শস্য বিক্রি করে, তার মাথায় দোয়া বর্ষিত হয়।
27
যে সযত্নে মঙ্গল চেষ্টা করে, সে প্রীতির খোঁজ করে;
কিন্তু যে অমঙ্গল খুঁজে বেড়ায়, তারই প্রতি তা ঘটে।
28
যে নিজের ধনে নির্ভর করে তার পতন হবে;
কিন্তু ধার্মিকরা সতেজ তরুশাখার মত প্রফুল্ল হয়।
29
যে নিজের পরিবারের কাঁটা, সে কিছুই পায় না;
আর অজ্ঞান বিজ্ঞচিত্তের গোলাম হয়।
30
ধার্মিকের ফল জীবন-বৃক্ষ;
এবং জ্ঞানবান [অপরদের] প্রাণ লাভ করে।
31
দেখ, দুনিয়াতে ধার্মিক প্রতিফল পায়।
তবে দুর্জন ও গুনাহ্গার আরও কত না পাবে!
1
যে শাসন ভালবাসে, সে জ্ঞান
ভালবাসে;
কিন্তু যে তিরস্কার ঘৃণা করে, সে পশুর সমান!
2
সৎ লোক মাবুদের কাছে রহমত পাবে;
কিন্তু তিনি কুকল্পনাকারীকে দোষী করবেন।
3
মানুষ নাফরমানী দ্বারা সুস্থির হবে না,
কিন্তু ধার্মিকদের মূল বিচলিত হবে না।
4
গুণবতী স্ত্রী স্বামীর মুকুটস্বরূপ,
কিন্তু লজ্জাদায়িনী তার সকল অস্থির পচনস্বরূপ।
5
ধার্মিকদের সমস্ত সঙ্কল্প ন্যায্য,
কিন্তু দুষ্টদের মন্ত্রণা ছলনা মাত্র।
6
দুষ্টদের কথাবার্তা যেন রক্তপাত করার জন্য লুকিয়ে থাকামাত্র;
কিন্তু সরলদের মুখ তাদেরকে রক্ষা করে।
7
দুষ্টরা নিপাতিত হয়, তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়,
কিন্তু ধার্মিকদের বাড়ি অটল থাকে।
8
মানুষ তার নিজের বিজ্ঞতানুরূপ প্রশংসা পায়,
কিন্তু যে কুটিলচিত্ত, তাকে তুচ্ছ হয়।
9
যাকে তুচ্ছ করা হয়, তবুও যদি সে গোলাম রাখে,
সে খাদ্যহীন গর্বিতমনা থেকে উৎকৃষ্ট।
10
ধার্মিক তার পশুর প্রাণের বিষয় চিন্তা করে;
কিন্তু দুষ্টদের করুণা নিষ্ঠুর।
11
যে নিজের জমি চাষ করে, সে যথেষ্ট আহার পায়;
কিন্তু যে অসারদের পিছনে পিছনে দৌড়ায়, সে বুদ্ধিবিহীন।
12
দুষ্ট লোক দুর্জনদের লুটদ্রব্য বাসনা করে;
কিন্তু ধার্মিকদের মূল ফলদায়ক।
13
ওষ্ঠের অধর্ম দ্বারা দুর্জন ফাঁদে ধরা পড়ে,
কিন্তু ধার্মিক সঙ্কট থেকে উত্তীর্ণ হয়।
14
মানুষ তার মুখের ফল দ্বারা মঙ্গলে তৃপ্ত হয়,
মানুষের হস্তকৃত কাজের ফল তারই প্রতি বর্তে।
15
অজ্ঞানের পথ তার নিজের দৃষ্টিতে সরল;
কিন্তু যে জ্ঞানবান, সে পরামর্শ শোনে।
16
অজ্ঞানের বিরক্তি একসঙ্গে ব্যক্ত হয়,
কিন্তুু সতর্ক লোক অপমান গোপন করে।
17
যে সত্যবাদী, সে ধর্মের কথা বলে;
কিন্তু মিথ্যাসাক্ষী ছলনার কথা বলে।
18
অবিবেচনার কথাবার্তা তলোয়ারের আঘাতের মত,
কিন্তু জ্ঞানবানদের জিহ্বা স্বাস্থ্যস্বরূপ।
19
সত্যবাদীর কথা চিরকাল স্থায়ী;
কিন্তু মিথ্যাবাদী জিহ্বা নিমেষমাত্র স্থায়ী।
20
কু-কল্পনাকারীদের দিলে ছল থাকে;
কিন্তু যারা শান্তির মন্ত্রণা দেয়, তাদের আনন্দ হয়।
21
ধার্মিকের কোন বিড়ম্বনা ঘটে না;
কিন্তু দুষ্টেরা অনিষ্টে পূর্ণ হয়।
22
মিথ্যাবাদী মুখ মাবুদের ঘৃণিত;
কিন্তু যারা বিশ্বস্ততায় চলে, তারা তাঁর সন্তোষ-পাত্র।
23
সতর্ক লোক জ্ঞান গোপন করে রাখে;
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের দিল অজ্ঞানতা প্রচার করে।
24
পরিশ্রমীদের হাত কর্তৃত্ব পায়;
কিন্তু অলস পরাধীন গোলাম হয়।
25
মানুষের মনোব্যথা মনকে নত করে;
কিন্তু উৎসাহের কথা তাকে আনন্দ দান করে।
26
ধার্মিক নিজের প্রতিবেশীর পথ প্রদর্শক হয়;
কিন্তু দুষ্টদের পথ তাদেরকে ভ্রান্ত করে।
27
অলস মৃগয়াতে ধৃত পশু রান্নাও করে না;
কিন্তু মানুষের বহুমূল্য রত্ন পরিশ্রমীর আয়ত্তে।
28
ধার্মিকতার পথে জীবন থাকে;
তার গমন-পথে মৃত্যু নেই।
1
জ্ঞানবান পুত্র পিতার শাসন
মানে,
কিন্তু নিন্দুক ভর্ৎসনা শোনে না।
2
মানুষ নিজের মুখের ফল দ্বারা মঙ্গল ভোগ করে;
কিন্তু বিশ্বাসঘাতক জুলুম করতে চায়।
3
যে মুখ সাবধানে রাখে, সে প্রাণ রক্ষা করে;
যে ওষ্ঠাধর খুলে দেয়, তার সর্বনাশ হয়।
4
অলসের প্রাণ লালসা করে, কিছুই পায় না;
কিন্তু পরিশ্রমীদের প্রাণ পুষ্ট হয়।
5
ধার্মিক মিথ্যা কথা ঘৃণা করে;
কিন্তু দুষ্ট লোক দুর্গন্ধস্বরূপ, সে লজ্জা জন্মায়।
6
ধার্মিকতা সিদ্ধাচারীকে রক্ষা করে;
কিন্তু নাফরমানী গুনাহ্গারকে উপড়িয়ে ফেলে।
7
কেউ নিজেকে ধনবান দেখায় কিন্তু তার কিছুই নেই;
কেউ বা নিজেকে দরিদ্র দেখায় কিন্তু তার মহাধন আছে।
8
মানুষের ধন তার প্রাণকে রক্ষা করে;
কিন্তু দরিদ্রকে কেউ তর্জন-গর্জন করে না।
9
ধার্মিকের আলো আনন্দ করে;
কিন্তু দুষ্টদের প্রদীপ নিভিয়া যায়;
10
অহঙ্কারে কেবল ঝগড়া উৎপন্ন হয়;
কিন্তু যারা পরামর্শ মানে, প্রজ্ঞা তাদের সহবর্তী।
11
নাফরমানীর পথে অর্জিত ধন ক্ষয় পায়;
কিন্তু যে ব্যক্তি সঞ্চয় করে, সে বেশি পায়।
12
আশা পূর্ণ হতে বিলম্ব হওয়া হৃদয়ের পীড়াজনক;
কিন্তু মনোবাসনার পরিপূর্ণতা জীবন-বৃক্ষের মত।
13
যে কালাম তুচ্ছ করে, সে নিজের সর্বনাশ ঘটায়;
যে ভয়পূর্বক হুকুম মানে, সে পুরস্কার পায়।
14
জ্ঞানবানের শিক্ষা জীবনের উৎস,
তা মৃত্যুর ফাঁদ থেকে দূরে যাবার পথ।
15
সুবুদ্ধি অনুগ্রহজনক,
কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের পথ অসমান।
16
যে কেউ সতর্ক, সে জ্ঞানপূর্বক কাজ করে;
কিন্তু হীনবুদ্ধি মূর্খতা বিস্তার করে।
17
দুষ্ট সংবাদদাতা বিপদে পড়ে,
কিন্তু বিশ্বস্ত সংবাদদাতা সুস্থতা বয়ে আনে।
18
যে শাসন অমান্য করে, সে দরিদ্রতা ও লজ্জা পায়;
কিন্তু যে তিরস্কার মান্য করে, সে সম্মানিত হয়।
19
কোন বাসনা পূরণ হলে তা প্রাণে মধুর মত মনে হয়;
কিন্তু হীনবুদ্ধিরা মন্দ থেকে সরে যেতে ঘৃণা বোধ করে।
20
জ্ঞানীদের সহচর হও, জ্ঞানী হবে;
কিন্তু যে হীনবুদ্ধিদের বন্ধু, সে ভগ্ন হবে।
21
অমঙ্গল গুনাহ্গারদের পিছনে পিছনে দৌড়ায়;
কিন্তু ধার্মিকদেরকে মঙ্গলরূপ পুরস্কার দেওয়া হয়।
22
সৎ লোক পুত্রদের পুত্রদের জন্য অধিকার রেখে যায়;
কিন্তু গুনাহ্গারের ধন ধার্মিকের জন্য সঞ্চিত হয়।
23
দরিদ্রদের ভূমির চাষে প্রচুর খাদ্য জন্মায়;
কিন্তু ন্যায়বিচারের অভাবে কেউ কেউ নষ্ট হয়।
24
যে পুত্রকে দণ্ড না দেয়, সে তাকে ঘৃণা করে;
কিন্তু যে তাকে মহব্বত করে, সে সযত্নে শাস্তি দেয়।
25
ধার্মিক লোকেরা প্রাণের তৃপ্তি পর্যন্ত আহার করে,
কিন্তু দুষ্টদের উদর শূন্য থাকে।
1
স্ত্রীলোকদের বিজ্ঞতা তাদের গৃহ গাঁথে;
কিন্তু অজ্ঞানতা নিজের হাতে তা ভেঙ্গে ফেলে।
2
যে নিজের সরলতায় চলে, সেই মাবুদকে ভয় করে;
কিন্তু যে বিপথগামী, সে তাঁকে তুচ্ছ করে।
3
অজ্ঞানের মুখে অহঙ্কারের দণ্ড থাকে;
কিন্তু জ্ঞানবানদের কথা তাদেরকে রক্ষা করে।
4
গরু না থাকলে যাবপাত্র পরিষ্কার থাকে;
কিন্তু বলদের বলে প্রচুর ধন হয়।
5
বিশ্বস্ত সাক্ষী মিথ্যা কথা বলে না;
কিন্তু মিথ্যাসাক্ষী অসত্য কথা বলে।
6
নিন্দুক প্রজ্ঞার খোঁজ করে, আর তা পায় না;
কিন্তু বুদ্ধিমানের পক্ষে জ্ঞান সুলভ।
7
তুমি হীনবুদ্ধির সম্মুখ থেকে চলে যাও,
তার কাছে জ্ঞানের কথা শুনতে পাবে না।
8
নিজের পথ বুঝে নেওয়া সতর্কের প্রজ্ঞা,
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা ছলমাত্র।
9
অজ্ঞানেরা দোষকে উপহাস করে;
কিন্তু ধার্মিকদের কাছে অনুগ্রহ থাকে।
10
অন্তঃকরণ আপনার তিক্ততা বোঝে,
অপর লোক তার আনন্দের ভাগী হতে পারে না।
11
দুষ্টদের বাড়ি বিনষ্ট হবে;
কিন্তু সরলদের তাঁবু সতেজ হবে।
12
একটি পথ আছে, যা মানুষের দৃষ্টিতে সরল মনে হয়;
কিন্তু তার পরিণাম মৃত্যুর পথ।
13
হাসবার সময়েও মনোদুঃখ হতে পারে,
আর আনন্দের পরিণাম খেদ হতে পারে।
14
যে অন্তর বিপথগামী, সে নিজের আচরণের পূর্ণ ফল পায়;
কিন্তু সৎ লোক নিজের থেকে তৃপ্ত হয়।
15
যে অবোধ, সে সকল কথায় বিশ্বাস করে,
কিন্তু সতর্ক লোক নিজের পদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে।
16
জ্ঞানবান ভয় করে মন্দ থেকে সরে যায়;
কিন্তু হীনবুদ্ধি অসতর্ক ও দুঃসাহসী।
17
যে শীঘ্র ক্রুদ্ধ হয়, সে অজ্ঞানের কাজ করে,
আর কু-কল্পনাকারী ঘৃণার পাত্র হয়।
18
অবোধদের পুরস্কার অজ্ঞানতা;
কিন্তু সতর্ক লোকেরা জ্ঞানমুকুটে বিভূষিত হয়।
19
দুর্বৃত্তেরা সুজনদের সম্মুখে,
আর দুষ্টেরা ধার্মিকের দ্বারে প্রণত হয়।
20
দরিদ্র তাঁর প্রতিবেশীরও ঘৃণিত,
কিন্তু ধনবানের অনেক বন্ধু আছে।
21
যে প্রতিবেশীকে তুচ্ছ করে, সে গুনাহ্ করে;
কিন্তু যে দীনহীনদের প্রতি দয়া করে, সে সুখী।
22
যারা অনিষ্ট কল্পনা করে, তারা কি ভ্রান্ত হয় না?
কিন্তু যারা মঙ্গল কল্পনা করে, তারা রহম ও বিশ্বস্ততা পায়।
23
সমস্ত পরিশ্রমেই লাভ হয়,
কিন্তু ওষ্ঠের বাচালতায় কেবল অভাব ঘটে।
24
জ্ঞানবানদের ধনই তাদের মুকুট;
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা অজ্ঞানতামাত্র।
25
সত্য সাক্ষী লোকের প্রাণ রক্ষা করে;
কিন্তু যে অসত্য কথা বলে, সে ছলনা করে।
26
মাবুদের ভয় দৃঢ় বিশ্বাসভূমি;
তাঁর সন্তানরা আশ্রয় স্থান পাবে।
27
মাবুদের ভয় জীবনের উৎস,
তা মৃত্যুর ফাঁদ থেকে দূরে যাবার পথ।
28
অনেক প্রজার দরুন বাদশাহ্র শোভা হয়;
কিন্তু জনবৃন্দের অভাবে ভূপতির সর্বনাশ ঘটে।
29
যে ক্রোধে ধীর, সে বড় বুদ্ধিমান;
কিন্তু বদমেজাজী অজ্ঞানতা তুলে ধরে।
30
শান্ত হৃদয় শরীরের জীবন;
কিন্তু ঈর্ষাগুলো অস্থির পচনস্বরূপ।
31
যে দীনহীনের প্রতি জুলুম করে, সে তার নির্মাতাকে উপহাস করে;
কিন্তু যে দরিদ্রের প্রতি রহম করে, সে তাঁকে সম্মান করে।
32
দুষ্ট লোক নিজের দুষ্কার্যে নিপাতিত হয়,
কিন্তু মরণকালেও ধার্মিকের প্রত্যাশা
থাকে।
33
জ্ঞানবানের হৃদয়ে প্রজ্ঞা বিশ্রাম করে,
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের দিলে যা থাকে, তা প্রকাশ হয়ে পড়ে।
34
ধার্মিকতা জাতিকে উন্নত করে,
কিন্তু গুনাহ্ লোকবৃন্দের কলঙ্ক স্বরূপ।
35
যে গোলাম বুদ্ধিপূর্বক চলে, তার প্রতি বাদশাহ্র অনুগ্রহ বর্তে;
কিন্তু লজ্জাদায়ী তাঁর ক্রোধের পাত্র হয়।
1
কোমল উত্তর ক্রোধ নিবারণ করে,
কিন্তু কটুবাক্য কোপ উত্তেজিত করে।
2
জ্ঞানীদের জিহ্বা উত্তমরূপে জ্ঞান ব্যক্ত করে;
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের মুখ অজ্ঞানতা উদ্গার করে।
3
মাবুদের চোখ সমস্ত জায়গায়ই আছে,
তা অধম ও উত্তমদের প্রতি দৃষ্টি রাখে।
4
নিরাময়কারী জিহ্বা জীবন-বৃক্ষ;
কিন্তু তা বিগড়িয়ে গেলে রূহ্ ভগ্ন হয়।
5
অজ্ঞান তার পিতার শাসন অগ্রাহ্য করে;
কিন্তু যে তিরস্কার মানে, সেই সতর্ক হয়।
6
ধার্মিকের বাড়িতে মহাধন থাকে;
কিন্তু দুষ্টের আয়ে উদ্বেগ থাকে।
7
জ্ঞানবানদের ওষ্ঠাধর জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়;
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অন্তর স্থির নয়।
8
দুষ্টদের কোরবানী মাবুদের ঘৃণার বিষয়;
কিন্তু সরলদের মুনাজাত তাঁর সন্তোষজনক।
9
দুষ্টদের পথ মাবুদের ঘৃণাস্পদ;
কিন্তু তিনি ধার্মিকতার অনুগামীকে ভালবাসেন।
10
অসৎ পথের পথিকের জন্য দুঃখদায়ক শাস্তি আছে;
যে তিরস্কার ঘৃণা করে, সে মরবে।
11
পাতাল ও বিনাশস্থান মাবুদের দৃষ্টিগোচর;
তবে বনি-আদমদের হৃদয়ও কি তদ্রূপ নয়?
12
নিন্দুক তিরস্কার ভালবাসে না;
সে জ্ঞানবানের কাছে যায় না।
13
আনন্দিত মন মুখকে প্রফুল্ল করে,
কিন্তু মনের ব্যথায় রূহ্ ভগ্ন হয়।
14
বুদ্ধিমানের মন জ্ঞান খোঁজ করে;
কিন্তু হীনবুদ্ধিদের মুখ মাত্র অজ্ঞানতা খায়।
15
দুঃখীর সকল দিনই অশুভ;
কিন্তু যার হৃষ্টমন, তার সততই ভোজ।
16
মাবুদের ভয়ের সঙ্গে অল্পও ভাল,
তবু উদ্বেগের সঙ্গে প্রচুর ধন ভাল নয়।
17
ভালবাসার সঙ্গে শাক খাওয়া ভাল,
তবু দ্বেষভাবের সঙ্গে পুষ্ট গরু ভাল নয়।
18
যে ব্যক্তি ক্রোধী, সে অপরকে বিবাদে উত্তেজিত করে;
কিন্তু যে ক্রোধে ধীর, সে ঝগড়া ক্ষান্ত করে।
19
অলসের পথ কাঁটার বেড়ার মত;
কিন্তু সরলদের পথ রাজপথ।
20
জ্ঞানবান পুত্র পিতার আনন্দ জন্মায়;
কিন্তু হীনবুদ্ধি লোক মাতাকে তুচ্ছ করে।
21
নির্বোধ অজ্ঞানতায় আনন্দ করে,
কিন্তু বুদ্ধিমান লোক সরল পথে চলে।
22
মন্ত্রণার অভাবে সমস্ত সঙ্কল্প ব্যর্থ হয়;
কিন্তু অনেক মন্ত্রীর দরুন সেসব সুস্থির হয়।
23
মানুষ তার মুখের উত্তরে আনন্দ পায়;
আর ঠিক সময়ে বলা কথা কেমন উত্তম।
24
বুদ্ধিমানের জন্য জীবনের পথ ঊর্ধ্বগামী,
যেন সে অধঃস্থিত পাতাল থেকে সরে যায়।
25
মাবুদ অহঙ্কারীদের বাড়ি উপড়ে ফেলেন,
কিন্তু বিধবার সীমানা স্থির রাখেন।
26
কুসঙ্কল্পগুলো মাবুদের ঘৃণাস্পদ,
কিন্তু মনোহর সমস্ত কথা পাক-পবিত্র।
27
ধনলোভী তার নিজের পরিজনের কাছে কাঁটার মত;
কিন্তু যে ঘুষ ঘৃণা করে, সে জীবিত থাকে।
28
ধার্মিকের মন উত্তর দেবার জন্য চিন্তা করে;
কিন্তু দুষ্টদের মুখ হিংসার কথা উদ্গার করে।
29
মাবুদ দুষ্টদের থেকে দূরে থাকেন,
কিন্তু তিনি ধার্মিকদের মুনাজাত শুনেন।
30
চোখের জ্যোতি চিত্তকে আনন্দিত করে,
মঙ্গল-সমাচার সমস্ত অস্থি পুষ্ট করে।
31
যার কান জীবনদায়ক তিরস্কার শোনে,
সে জ্ঞানীদের মধ্যে অবস্থান করবে।
32
যে শাসন অমান্য করে, সে তার প্রাণকে তুচ্ছ করে;
কিন্তু যে তিরস্কার শোনে, সে বুদ্ধি উপার্জন করে।
33
মাবুদের ভয় প্রজ্ঞার শাসন,
আর সম্মানের আগে নম্রতা থাকে।
1
মানুষ মনে মনে নানা সঙ্কল্প করে,
কিন্তু জিহ্বার উত্তর মাবুদ থেকে হয়।
2
মানুষের সমস্ত পথ নিজের দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ;
কিন্তু মাবুদই রূহ্গুলো পরিমাপ করেন।
3
তোমার কাজের ভার মাবুদের উপর অর্পণ কর,
তাতে তোমার সমস্ত সঙ্কল্প সিদ্ধ হবে।
4
মাবুদ সকলই স্ব স্ব উদ্দেশ্যে করেছেন,
দুষ্টকেও দুর্দশা দিনের জন্য ঠিক করে রেখেছেন।
5
যে কেউ দিলে গর্বিত, সে মাবুদের ঘৃণাস্পদ,
নিশ্চিত হও যে, সে অদণ্ডিত থাকবে না।
6
দয়া ও বিশ্বস্ততায় অপরাধের কাফ্ফারা হয়,
আর মাবুদের ভয়ে মানুষ মন্দ থেকে সরে যায়।
7
মানুষের পথ যখন মাবুদের সন্তোষজনক হয়,
তখন তিনি তার দুশমনদের তার সঙ্গে শান্তিতে বাস করান।
8
ধার্মিকতার সঙ্গে অল্পও ভাল,
তবুও অন্যায়ের সঙ্গে প্রচুর আয় ভাল নয়।
9
মানুষের মন নিজের পথের বিষয় সঙ্কল্প করে;
কিন্তু মাবুদ তার পদক্ষেপ স্থির করেন।
10
বাদশাহ্র ওষ্ঠে অনুপ্রাণিত বিচারাজ্ঞা থাকে,
বিচারে তাঁর মুখ গুনাহ্ করবে না।
11
খাঁটি বাটখারা ও দাঁড়িপাল্লা মাবুদেরই;
থলের বাটখারাগুলো তাঁর কৃত বস্তু।
12
দুষ্ট আচরণ বাদশাহ্দের ঘৃণাস্পদ;
কারণ ধার্মিকতায় সিংহাসন স্থির থাকে।
13
সত্যবাদী ওষ্ঠাধর বাদশাহ্দের প্রিয়,
তাঁরা ন্যায়বাদীকে ভালবাসেন।
14
বাদশাহ্র ক্রোধ মৃত্যুর দূতদের মত;
কিন্তু জ্ঞানবান লোক তা শান্ত করে।
15
বাদশাহ্র মুখের আলোতে জীবন,
তাঁর অনুগ্রহ অন্তিম বর্ষার মেঘ।
16
সোনার চেয়ে প্রজ্ঞা লাভ কেমন উত্তম;
রূপার চেয়ে বিবেচনা লাভ করা কত পছন্দনীয়!
17
দুষ্কর্ম থেকে সরে যাওয়াই সরলদের রাজপথ;
যে তার নিজের পথ রক্ষা করে, সে প্রাণ বাঁচায়।
18
বিনাশের আগে অহঙ্কার,
পতনের আগে মনের গর্ব।
19
বরং দীনহীনদের সঙ্গে নম্রাত্মা হওয়া ভাল,
তবু অহঙ্কারীদের সঙ্গে লুট ভাগ করা ভাল নয়।
20
যে কালামে মন দেয়, সে মঙ্গল পায়;
এবং যে মাবুদের উপর নির্ভর করে, সে সুখী।
21
বিজ্ঞচিত্ত বুদ্ধিমান বলে আখ্যাত হয়;
এবং ওষ্ঠের মাধুরী পাণ্ডিত্যের বৃদ্ধি করে।
22
বিবেচনা বিবেচকের পক্ষে জীবনের ফোয়ারা;
কিন্তু অজ্ঞানতা জ্ঞানহীনের শাস্তি।
23
জ্ঞানবানের হৃদয় তার মুখকে বুদ্ধি দেয়,
তার ওষ্ঠে পাণ্ডিত্য যোগায়।
24
মনোহর কালাম মৌচাকের মত;
তা প্রাণের পক্ষে মধুর, দেহের পক্ষে স্বাস্থ্যকর।
25
একটি পথ আছে, যা মানুষের দৃষ্টিতে সঠিক মনে হয়,
কিন্তু তার পরিণাম মৃত্যুর পথ।
26
শ্রমিকের ক্ষুধাই তাকে পরিশ্রম করায়;
বস্তুত তার মুখ তাকে পীড়াপীড়ি করে।
27
পাষণ্ড খনন করে অনিষ্ট তোলে,
তার ওষ্ঠে যেন জ্বলন্ত অঙ্গার থাকে।
28
কুটিল ব্যক্তি ঝগড়া ছড়িয়ে দেয়,
অপবাদকারী মিত্রভেদ জন্মায়।
29
জুলুমবাজ প্রতিবেশীকে লোভ দেখায়,
এবং তাকে মন্দ পথে নিয়ে যায়।
30
যে চোখ বন্ধ করে,
সে কুটিল বিষয়ের সঙ্কল্প করার জন্যই করে,
যে ঠোট বাঁকা করে, সে দুষ্কর্ম সিদ্ধ করে।
31
পাকা চুল শোভার মুকুট;
তা ধার্মিকতার পথে পাওয়া যায়।
32
যে ক্রোধে ধীর, সে বীর হতেও উত্তম,
নিজের রূহের শাসনকারী নগর-জয়কারী থেকেও শ্রেষ্ঠ।
33
লোকে গুলিবাঁট করে,
কিন্তু তার সমস্ত নিষ্পত্তি মাবুদ থেকে হয়।
1
শান্তিযুক্ত একটি শুকনো গ্রাসও
ভাল,
তবু বিবাদযুক্ত ভোজে পরিপূর্ণ বাড়ি ভাল নয়।
2
যে গোলাম বুদ্ধিপূর্বক চলে, সে লজ্জাদায়ী পুত্রের উপরে কর্তৃত্ব পায়,
ভাইদের মধ্যে সে অধিকারের অংশী হয়।
3
রূপার জন্য গলাবার পাত্র ও সোনার জন্য হাফর,
কিন্তু মাবুদই অন্তরের পরীক্ষা করেন।
4
দুরাচার দুষ্ট ওষ্ঠাধরের কথা শোনে;
মিথ্যাবাদী হিংস্র জিহ্বায় কান দেয়।
5
যে দীনহীনকে পরিহাস করে, সে তার নির্মাতাকে ব্যঙ্গ করে;
যে বিপদে আনন্দ করে, সে দণ্ডিত হবেই হবে।
6
পুত্রদের সন্তানেরা বৃদ্ধদের মুকুট,
এবং পিতারাই বালকদের শোভা।
7
বাক্পটু ঠোঁট মূর্খের অনুপযুক্ত,
মিথ্যাবাদী ওষ্ঠ শাসনকর্তার জন্য আরও অনুপযুক্ত।
8
যে ঘুষ দেয়, তার দৃষ্টিতে ঘুষ বহুমূল্য মণির মত;
সে যে দিকে ফেরে, সেই দিকে কৃতকার্য হয়।
9
যে অধর্ম মাফ করে, সে প্রেমের খোঁজ করে;
কিন্তু যে পুনঃ পুনঃ এক কথা বলে, সে মিত্রভেদ জন্মায়।
10
বুদ্ধিমানের মনে তিরস্কার যত লাগে,
হীনবুদ্ধির মনে একশত প্রহারও তত লাগে না।
11
দুর্জন কেবল বিদ্রোহ চেষ্টা করে,
তার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দূত প্রেরিত হবে।
12
বাচ্চা হারানো ভল্লুকীর সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ হোক,
তবু অজ্ঞানতায় মগ্ন হীনবুদ্ধি সঙ্গে না হোক।
13
যে উপকার পেয়ে অপকার করে,
অপকার তার বাড়ি ত্যাগ করবে না।
14
বিবাদের আরম্ভ বাঁধভাঙ্গা পানির মত;
অতএব উত্থিত হবার আগে ঝগড়া ত্যাগ কর।
15
যে দুষ্টকে নির্দোষ করে ও যে ধার্মিককে দোষী করে,
তারা উভয়েই মাবুদের ঘৃণাস্পদ।
16
হীনবুদ্ধির হাতে অর্থ কেন থাকবে?
কি প্রজ্ঞা ক্রয় করার জন্য? তার যে বুদ্ধি নেই।
17
বন্ধু সব সময়েই মহব্বত করে,
ভাই দুর্দশার সময়ে সাহায্যের জন্য জন্মে।
18
হীনবুদ্ধি হাতে হাত তালি দেয়,
প্রতিবেশীর কাছে জামিন হয়।
19
যে বিরোধ ভালবাসে, সে অধর্ম ভালবাসে;
যে নিজের দরজা উঁচু করে, সে বিনাশের খোঁজ করে।
20
যে কুটিলমনা, সে মঙ্গল পায় না;
যার জিহ্বা বাঁকা, সে বিপদে পড়ে।
21
হীনবুদ্ধির জন্মদাতা নিজের খেদ জন্মায়;
মূর্খের পিতা আনন্দ পায় না।
22
আনন্দিত হৃদয় দেহের স্বাস্থ্যজনক;
কিন্তু ভগ্ন রূহ্ অস্থি শুকিয়ে ফেলে।
23
দুষ্ট লোক গোপনে ঘুষ গ্রহণ,
বিচারের পথ বাঁকা করার জন্য।
24
বুদ্ধিমানের সম্মুখেই প্রজ্ঞা থাকে;
কিন্তু হীনবুদ্ধির দৃষ্টি দুনিয়ার সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়।
25
হীনবুদ্ধি পুত্র তার পিতার মনস্তাপস্বরূপ,
আর সে তার জননীর শোক জন্মায়;
26
ধার্মিকের অর্থদণ্ড করাও অনুচিত,
সরলতার জন্য সম্মানিতদেরকে প্রহার করাও অনুচিত।
27
যে লোক নিজেকে দমনে রেখে কথা বলে, সে জ্ঞানবান;
আর যে স্থিরচিত্ত, সে বুদ্ধিমান।
28
মূর্খও নীরব থাকলে জ্ঞানবান বলে গণিত হয়;
যে মুখ বন্ধ রাখে, সে বুদ্ধিমান বলে গণিত হয়।
1
যে পৃথক হয় সে নিজের অভীষ্ট
চেষ্টা করে,
এবং সমস্ত সুবিচারকে সে দোষী করে।
2
হীনবুদ্ধি বিবেচনায় প্রীত হয় না,
কেবল নিজের মনেরই কথা প্রকাশে প্রীত হয়।
3
দুষ্ট আসলে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও আসে,
আর অপমানের সঙ্গে দুর্নাম আসে।
4
মানুষের মুখের কথা গভীর পানির মত,
প্রজ্ঞার উৎস স্রোতোবাহী প্রণালীর মত।
5
দুষ্টের মুখাপেক্ষা করা ভাল নয়,
তা করলে বিচারে ধার্মিককে দূর করা হয়।
6
হীনবুদ্ধির ওষ্ঠ ঝগড়া সঙ্গে করে নিয়ে আসে,
তার মুখ প্রহার ডেকে আনে।
7
হীনবুদ্ধির মুখ তার সর্বনাশজনক,
তার ঠোঁট তারই প্রাণের ফাঁদ।
8
গুজবের কথা মিষ্টান্নের মত,
তা অন্তরের অন্তঃপুরে নেমে যায়।
9
যে ব্যক্তি তার কাজে অলস,
সে বিনাশকের সহোদর।
10
মাবুদের নাম দৃঢ় উচ্চগৃহ;
ধার্মিক তারই মধ্যে পালিয়ে রক্ষা পায়।
11
ধনবানের ধনই তার দৃঢ় নগর,
তার বোধে তা উঁচু প্রাচীর।
12
বিনাশের আগে মানুষের মন গর্বিত হয়,
আর সম্মানের আগে নম্রতা থাকে।
13
শুনবার আগেই যে জবাব দেয়,
তা তার পক্ষে অজ্ঞানতা ও লজ্জা।
14
মানুষের রূহ্ তার অসুস্থতা সইতে পারে,
কিন্তু ভাঙ্গা মন কে বহন করতে পারে?
15
বুদ্ধিমানের অন্তর জ্ঞান অর্জন করে,
এবং জ্ঞানবানদের কান জ্ঞানের সন্ধান করে।
16
মানুষের উপহার তার জন্য পথ করে,
বড় লোকদের সাক্ষাতে তাকে উপস্থিত করে।
17
যে প্রথমে নিজের পক্ষ সমর্থন করে, তাকে ধার্মিক বোধ হয়;
কিন্তু তার প্রতিবেশী এসে তার পরীক্ষা করে।
18
গুলিবাঁট দ্বারা বিবাদের নিবৃত্তি হয়,
ও বলবানদের মধ্যে ঝগড়া ভঞ্জন হয়।
19
বিরক্ত ভাই দৃঢ় নগরের চেয়ে দুর্জয়,
আর ঝগড়া দুর্গের অর্গলস্বরূপ।
20
মানুষের অন্তর তার মুখের ফলে পূর্ণ হয়ে যায়,
সে নিজের ওষ্ঠে কৃত উপার্জনে পূর্ণ হয়।
21
মরণ ও জীবন জিহ্বার অধীন; যারা তা ভালবাসে,
তারা তার ফল ভোগ করবে।
22
যে স্ত্রী পায়, সে উৎকৃষ্ট বস্তু পায়,
এবং মাবুদের কাছে রহমত পায়।
23
দরিদ্র লোক অনুনয় বিনয় করে,
কিন্তু ধনবান কঠিন উত্তর দেয়।
24
যার অনেক বন্ধু, তার সর্বনাশ হয়;
কিন্তু যে সত্যিকারের বন্ধু সে ভাইয়ের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী।
1
যে দরিদ্র নিজের সিদ্ধতায়
চলে,
সে কুটিল ওষ্ঠ হীনবুদ্ধির চেয়ে ভাল।
2
প্রাণ জ্ঞানবিহীন হলে মঙ্গল নেই,
যে দ্রুত পাদবিক্ষেপ করে, সে পথ হারায়।
3
মানুষের অজ্ঞানতা তার পথ বিপরীত করে,
আর তার অন্তর মাবুদের উপরে রুষ্ট হয়।
4
ধন দ্বারা অনেক বন্ধু লাভ হয়;
কিন্তু দরিদ্র নিজের বন্ধু থেকে পৃথক হয়।
5
মিথ্যাসাক্ষী দণ্ডিত হবেই হবে,
মিথ্যাভাষী রক্ষা পাবে না।
6
অনেকে বদান্যতার স্তুতিবাদ করে,
এবং সকলে দানশীলের বন্ধু হয়।
7
দরিদ্রের ভাইয়েরা সকলে তাকে ঘৃণা করে,
আরও নিশ্চয়, তার বন্ধুরা তা থেকে দূরে যায়;
সে আলাপের চেষ্টা করে, কিন্তু তাদের কাছে পায় না।
8
যে বুদ্ধি অর্জন করে, সে তার প্রাণকে মহব্বত করে,
যে বিবেচনা রক্ষা করে, সে মঙ্গল পায়।
9
মিথ্যাসাক্ষী দণ্ডিত হবেই হবে,
মিথ্যাভাষী বিনাশ পাবে।
10
সুখভোগ হীনবুদ্ধির অনুপযুক্ত,
শাসনকর্তাদের উপরে গোলামের কর্তৃত্ব আরও অনুপযুক্ত।
11
মানুষের বুদ্ধি তাকে ক্রোধে ধীর করে,
আর দোষ ছেড়ে দেওয়া তার শোভা।
12
বাদশাহ্র ক্রোধ সিংহের হুঙ্কারের মত;
কিন্তু তাঁর অনুগ্রহ ঘাসের উপরিস্থ শিশিরের মত।
13
হীনবুদ্ধি পুত্র পিতার বিষাদজনক,
আর স্ত্রীর ঝগড়া অবিরত বিন্দুপাতের মত।
14
বাড়ি ও ধন পৈত্রিক অধিকার;
কন্তু বুদ্ধিমতী স্ত্রী মাবুদ থেকে পাওয়া যায়।
15
আলস্য অগাধ নিদ্রা নিয়ে আসে,
এবং অলস প্রাণ ক্ষুধায় কষ্ট পায়।
16
যে হুকুম পালন করে, সে নিজের প্রাণ রক্ষা করে;
যে তার নিজের পথ উপেক্ষা করে, সে বিনষ্ট হবে।
17
যে দরিদ্রকে কৃপা করে, সে মাবুদকে ঋণ দেয়;
তিনি তার সেই উপকারের পরিশোধ করবেন।
18
তোমার পুত্রকে শাসন কর, কারণ আশা আছে,
তোমার প্রাণ তার মৃত্যু ঘটাবার বাসনা না করুক।
19
অতি ক্রুদ্ধ লোক দণ্ড পাবে; তাকে যদি উদ্ধার কর,
তা আবার করতে হবে।
20
পরামর্শ শোন, শাসন গ্রহণ কর,
যেন তুমি শেষকালে জ্ঞানবান হও।
21
মানুষের মনে অনেক সঙ্কল্প হয়,
কিন্তু মাবুদেরই মন্ত্রণা স্থির থাকবে।
22
দয়াই মানুষকে বাঞ্ছনীয় করে,
এবং মিথ্যাবাদীর চেয়ে দরিদ্র লোক ভাল।
23
মাবুদের ভয় জীবনে নিয়ে যায়,
যার তা আছে, সে তৃপ্ত হয়ে বসতি করে,
অমঙ্গল তার কাছে যায় না।
24
অলস থালায় হাত ডুবায়,
পুনর্বার মুখে দিতেও চায় না।
25
নিন্দুককে প্রহার কর, তাতে অবোধ চতুর হবে,
বুদ্ধিমানকে তিরস্কার কর, সে জ্ঞান লাভ করবে।
26
যে পিতার প্রতি জুলুম করে ও মাতাকে তাড়িয়ে দেয়,
সে লজ্জাকর ও অপমানজনক পুত্র।
27
হে বৎস, শাসন মানতে নিবৃত্ত হলে
তুমি জ্ঞানের কথা থেকে ভ্রষ্ট হবে।
28
যে সাক্ষী পাষণ্ড, সে বিচারের নিন্দা করে,
দুষ্টদের মুখ অধর্ম গ্রাস করে।
29
প্রস্তুত রয়েছে নিন্দুকদের জন্য দণ্ডাজ্ঞা,
মূর্খদের পিঠের জন্য বেত্রাঘাত।
1
আঙ্গুর-রস নিন্দুক;
সুরা কলহকারিণী;
যে তাতে ভ্রান্ত হয়, সে জ্ঞানবান নয়।
2
বাদশাহ্র ভয়ঙ্করতা সিংহের হুঙ্কারের মত;
যে তাঁর ক্রোধ জন্মায়, সে নিজের প্রাণের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে।
3
ঝগড়া থেকে নিবৃত্ত হওয়া মানুষের গৌরব,
কিন্তু মূর্খমাত্রেই ঝগড়া করবে।
4
শীতের দরুন অলস হাল চাষ করে না,
শস্যের সময়ে সে চাইবে, কিন্তু কিছুই মিলবে না।
5
মানুষের হৃদয়ের পরামর্শ গভীর পানির মত;
কিন্তু বুদ্ধিমান তা তুলে আনবে।
6
অনেক লোক স্ব স্ব সাধুতার কীর্তন করে,
কিন্তু বিশ্বস্ত লোক কে খুঁজে পেতে পারে?
7
যে লোক ধার্মিক সে তার নিজের সিদ্ধতায় চলে,
তাদের যে সন্তানেরা তাদের অনুসরণ করে তারা ধন্য।
8
যে বাদশাহ্ বিচারাসনে বসেন,
তিনি দৃষ্টি দ্বারা সমস্ত নাফরমানী উড়িয়ে দেন।
9
কে বলতে পারে, আমি অন্তর বিশুদ্ধ করেছি,
আমার গুনাহ্ থেকে পাক-পবিত্র হয়েছি?
10
নানা রকম বাটখারা ও ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপের পাত্র,
উভয়ই মাবুদের নিকট ঘৃণার কর্ম।
11
বালকও কাজ দ্বারা তার নিজের পরিচয় দেয়,
তার কাজ বিশুদ্ধ ও সরল কি না, জানায়।
12
শুনবার জন্য কান ও দেখবার জন্য চোখ—
উভয়ই মাবুদের নির্মিত।
13
নিদ্রাকে ভালবেসো না, পাছে দীনতা ঘটে;
তুমি জেগে থাক, তাতে খাদ্যে তৃপ্ত হবে।
14
ক্রেতা বলে, ভাল নয়, ভাল নয়,
কিন্তু যখন চলে যায়, তখন ক্রয় করা জিনিস নিয়ে গর্ব করে।
15
সোনা আছে, অনেক মুক্তাও আছে,
কিন্তু জ্ঞানবিশিষ্ট ওষ্ঠাধর অমূল্য রত্ন।
16
যে অপরের জামিন হয়, তার পোশাক নাও;
যে বিজাতীয়দের জামিন হয়, তার পোশাক বন্ধক হিসেবে রাখ।
17
মিথ্যা কথার ফল মানুষের মিষ্ট বোধ হয়,
কিন্তু পিছনে তার মুখ কাঁকরে পরিপূর্ণ হয়।
18
পরামর্শ দ্বারা সকল সঙ্কল্প স্থির হয়;
তুমি সুমন্ত্রণার চালনায় যুদ্ধ কর।
19
যে রটনাকারী, সে গুপ্ত কথা ব্যক্ত করে;
যার মুখ আল্গা, তার সঙ্গে ব্যবহার করো না।
20
যে তার নিজের পিতা কিংবা মাতাকে বদদোয়া দেয়,
ঘোর অন্ধকারে তার প্রদীপ নিভে যাবে।
21
যে অধিকার প্রথমে ত্বরায় পাওয়া যায়,
তার শেষ ফল দোয়াযুক্ত হবে না।
22
তুমি বলো না, অপকারের প্রতিফল দেব;
মাবুদের অপেক্ষা কর, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন।
23
বিভিন্ন রকম বাটখারা মাবুদের ঘৃণাস্পদ,
ছলনার দাঁড়িপাল্লা ভাল নয়।
24
মানুষের পদক্ষেপ মাবুদ থেকে হয়,
তবে মানুষ কেমন করে তার পথ বুঝবে?
25
হঠাৎ ‘পবিত্র হল’ বলে উচ্চারণ করা,
আর মানতের পর বিচার করা, মানুষের পক্ষে ফাঁদস্বরূপ।
26
জ্ঞানবান বাদশাহ্ দুষ্টদেরকে ঝেড়ে ফেলেন,
তাদের উপর দিয়ে চাকা চালান।
27
মানুষের রূহ্ মাবুদের প্রদীপ,
তা অন্তরের সমস্ত অন্তঃপুর তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখে।
28
দয়া ও বিশ্বস্ততা বাদশাহ্কে রক্ষা করে;
তিনি দয়ায় নিজের সিংহাসন স্থির রাখেন।
29
যুবকদের বলই তাদের শোভা,
আর পক্ককেশ বৃদ্ধ লোকদের গৌরব।
30
প্রহারের আঘাত মন্দকে পরিষ্কার করে,
দণ্ডপ্রহার অন্তরের অন্তঃপুরে প্রবেশ করে।
1
মাবুদের হাতে বাদশাহ্র অন্তর পানির স্রোতের মত;
তিনি যে দিকে ইচ্ছা, সেই দিকে তা ফিরান।
2
মানুষের সকল পথই নিজের দৃষ্টিতে সরল,
কিন্তু মাবুদ হৃদয়গুলো পরিমাপ করেন।
3
ধার্মিকতা ও ন্যায়ের অনুষ্ঠান
মাবুদের কাছে কোরবানীর চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
4
উচ্চদৃষ্টি ও গর্বিত মন,
দুষ্টদের সেই প্রদীপ গুনাহ্ময়।
5
পরিশ্রমীর চিন্তা থেকে কেবল ধনলাভ হয়,
কিন্তু যে কেউ হঠকারী, তার কেবল অভাব ঘটে।
6
মিথ্যাবাদী জিহ্বা দ্বারা যে ধনলাভ হয়, তা চপল বাষ্পের মত,
তা যারা খোঁজ করে তারা মৃত্যুর ফাঁদস্বরূপ।
7
দুষ্টদের দুর্জনতা তাদেরকে উড়িয়ে দেয়,
কেননা তারা ন্যায়াচরণ করতে অসম্মত।
8
দোষ-ভারাক্রান্ত লোকের পথ ভীষণ বাঁকা;
কিন্তু বিশুদ্ধ লোকের কাজ সরল।
9
ছাদের কোণে বাস করা বরং ভাল,
তবু বিবাদিনী স্ত্রীর সঙ্গে প্রশস্ত বাড়িতে বাস করা নয়।
10
দুষ্টের প্রাণ অনিষ্টের আকাঙক্ষী,
তার দৃষ্টিতে তার প্রতিবেশী করুণা পায় না।
11
নিন্দুককে দণ্ড দিলে অবোধ বুদ্ধিমান হয়,
বুদ্ধিমানকে বুঝিয়ে দিলে সে জ্ঞান গ্রহণ করে।
12
যিনি ধর্মময়, যিনি দুষ্টদের কুলের বিষয় বিবেচনা করেন;
তিনি দুষ্টদেরকে ধ্বংস করেন।
13
যে দরিদ্রের ক্রন্দনে কান বন্ধ করে রাখা,
সে নিজে যখন ডাকবে, তখন উত্তর পাবে না।
14
গুপ্ত দান ক্রোধ শান্ত করে,
আর বক্ষঃস্থলে দেওয়া উপঢৌকন প্রচণ্ড ক্রোধ শান্ত করে।
15
ন্যায়াচরণ ধার্মিকের পক্ষে আনন্দ,
কিন্তু দুর্বৃত্তদের পক্ষে তা সর্বনাশ।
16
যে বুদ্ধির পথ ছেড়ে ভ্রমণ করে,
সে মৃতদের সমাজে থাকবে।
17
যে আমোদ ভালবাসে, তার দৈন্যদশা ঘটবে;
যে আঙ্গুর-রস ও তেল ভালবাসে, সে ধনবান হবে না।
18
দুষ্ট ধার্মিকদের মুক্তির মূল্যস্বরূপ,
বিশ্বাসঘাতক সরলদের মূল্যস্বরূপ,
19
বরং নির্জন ভূমিতে বাস করা ভাল,
তবু কলহপ্রিয়া ও বদ্রাগী স্ত্রীর সঙ্গে বাস করা ভাল নয়।
20
জ্ঞানীর নিবাসে বহুমূল্য ধনকোষ ও তেল আছে;
কিন্তু হীনবুদ্ধি তা খেয়ে ফেলে।
21
যে ধার্মিকতা ও দয়ার অনুগামী হয়,
সে জীবন, ধার্মিকতা ও সম্মান পায়।
22
জ্ঞানী বলবানদের নগর আক্রমণ করে,
এবং তার নির্ভর-স্থানের শক্তি নিপাত করে।
23
যে কেউ তার নিজের মুখ ও জিহ্বা রক্ষা করে,
সে সঙ্কট থেকে নিজের প্রাণ রক্ষা করে।
24
যে অভিমানী ও উদ্ধত, তার নাম নিন্দিত হয়;
সে অতিরিক্ত দর্পের সঙ্গে ব্যবহার করে।
25
অলসের অভিলাষ তাকে মৃত্যুসাৎ করে,
কেননা তার হাত পরিশ্রম করতে অসম্মত।
26
কেউ সমস্ত দিন অতিমাত্র লোভ করে;
কিন্তু ধার্মিক দান করে, কাতর হয় না।
27
দুষ্টদের কোরবানী ঘৃণাস্পদ,
অসাধু উদ্দেশ্যে আনা হলে তা আরও কত না ঘৃণার বস্তু হবে।
28
মিথ্যাসাক্ষী বিনষ্ট হবে;
কিন্তু যে ব্যক্তি ভাল করে শোনে, তার কথা চিরস্থায়ী।
29
দুষ্ট লোক তার নিজের মুখ দৃঢ় করে;
কিন্তু যে সরল, সে তার নিজের পথ সুস্থির করে।
30
এমন কোন জ্ঞান, বুদ্ধি বা মন্ত্রণা নেই
যা মাবুদের বিরুদ্ধে সফল হতে পারে।
31
যুদ্ধের দিনের জন্য ঘোড়া সুসজ্জিত হয়;
কিন্তু বিজয় মাবুদ থেকে হয়।
1
প্রচুর ধনের চেয়ে সুখ্যাতি বেছে
নেওয়া ভাল;
রূপা ও সোনার চেয়ে প্রসন্নতা ভাল।
2
ধনবান ও দরিদ্র একত্র মিলে;
মাবুদ তাদের উভয়ের নির্মাতা।
3
সতর্ক লোক বিপদ দেখে নিজেকে লুকায়,
কিন্তু অবোধ লোকেরা আগে গিয়ে দণ্ড পায়।
4
নম্রতা ও মাবুদের ভয়ের পুরস্কার হল
ধন, সম্মান ও জীবন।
5
কুটিল ব্যক্তির পথে কাঁটা ও ফাঁদ থাকে;
যে নিজের প্রাণ রক্ষা করে, সে তাদের থেকে দূরে থাকবে।
6
বালককে তার গন্তব্য পথানুরূপ শিক্ষা দাও,
সে প্রাচীন হলেও তা ছাড়বে না।
7
ধনবান দরিদ্রদের উপরে কর্তৃত্ব করে,
আর ঋণী মহাজনের গোলাম হয়।
8
যে অধর্ম-বীজ বোনে, সে দুর্গতি-শস্য কাটবে,
আর তার কোপের দণ্ড লোপ পাবে।
9
উদার ব্যক্তি দোয়াযুক্ত হবে;
কারণ সে দীনহীন লোককে নিজের খাদ্যের অংশ দেয়।
10
নিন্দুককে তাড়িয়ে দাও, ঝগড়া বাইরে যাবে,
বিরোধ ও অবমাননাও ঘুচবে।
11
যে হৃদয়ের পাক-পবিত্রতা ভালবাসে, তার ওষ্ঠে রহমত থাকে,
বাদশাহ্ তার বন্ধু হন।
12
মাবুদের চোখ জ্ঞানবানকে রক্ষা করে;
কিন্তু তিনি বেঈমানদের কথাবার্তা বিফল করে দেন।
13
অলস বলে, বাইরে সিংহ আছে,
চৌরাস্তায় গেলে আমি মারা পড়বো।
14
ব্যাভিচারী স্ত্রীদের মুখ গভীর খাত;
যে লোক মাবুদের ক্রোধের পাত্র সে তার মধ্যে পড়বে।
15
বালকের অন্তরে অজ্ঞানতা বাঁধা থাকে,
কিন্তু শাসন-দণ্ড তা তাড়িয়ে দেবে।
16
নিজের ধনবৃদ্ধির জন্য যে দরিদ্রদের প্রতি জুলুম করে,
আর যে ধনবানকে দান করে,
উভয়েরই অভাব ঘটে।
17
তুমি মনোযোগ দিয়ে জ্ঞানবানদের কথা শোন,
আমার জ্ঞানে মনোনিবেশ কর।
18
কেননা সেসব তোমার অন্তরে রাখলে,
একসঙ্গে তোমার ওষ্ঠে স্থির থাকলে, সুখপ্রদ হবে।
19
মাবুদ যেন তোমার আশ্রয় হন,
সেজন্য আমি তোমাকে, তোমাকেই আজ এসব জানালাম।
20
আমি তোমার কাছে কি উৎকৃষ্ট কথা লিখি নি
নানা যুক্তি ও জ্ঞান সম্বন্ধে?
21
যাতে তুমি সত্য ও নির্ভরযোগ্য কালাম জানতে পার,
কেউ তোমাকে পাঠালে তুমি যেন তাকে সত্য উত্তর দিতে পার।
22
দীনহীন বলে তাদের দ্রব্য হরণ করো না,
দুঃখীকে তোরণদ্বারে চূর্ণ করো না।
23
কেননা মাবুদ তাদের পক্ষ সমর্থন করবেন,
আর যারা তাদের দ্রব্য হরণ করে, তাদের প্রাণ হরণ করবেন।
24
বদরাগী লোকের সঙ্গে বন্ধুতা করো না,
ক্রোধীর সঙ্গে যাতায়াত করো না;
25
পাছে তুমি তার আচরণ শিক্ষা কর,
নিজের প্রাণের জন্য ফাঁদ প্রস্তুত কর।
26
যারা হাতে তালি দেয় ও ঋণের জামিন হয়,
তাদের মধ্যে তুমি এক জন হয়ো না।
27
যদি তোমার পরিশোধের সঙ্গতি না থাকে,
তবে গায়ের নিচে থেকে তোমার বিছানা নীত হবে কেন?
28
সীমানার পুরানো চিহ্ন স্থানান্তর করো না,
যা তোমার পূর্বপুরুষেরা স্থাপন করেছেন।
29
তুমি কি কোন ব্যক্তিকে তার কাজে খুবই নিপুণ দেখছ?
সে বাদশাহ্দের সাক্ষাতে দাঁড়াবে,
সে নীচ লোকদের সাক্ষাতে দাঁড়াবে না।
1
যখন তুমি শাসনকর্তার সঙ্গে
ভোজনে বসবে,
তখন তোমার সম্মুখে কে আছে,
ভালভাবে বিবেচনা করবে;
2
আর যদি তুমি পেটুক হও,
তবে নিজের গলায় নিজে ছুরি দেবে।
3
তার সুস্বাদু খাদ্যে লালসা করো না,
কারণ তা বঞ্চনার আহার।
4
ধন সঞ্চয় করতে অতিশয় যত্ন করো না,
তোমার নিজের বুদ্ধি থেকে ক্ষান্ত হও।
5
তুমি যখন ধনের দিকে চাইছো, দেখ, তা আর নেই;
কারণ ঈগল যেমন আসমানে উড়ে যায়,
ধন তেমনি নিজের জন্য নিশ্চয়ই পাখা প্রস্তুত করে।
6
কৃপণের খাদ্য ভোজন করো না,
তার সুস্বাদু খাবারে লালসা করো না;
7
কেননা সে অন্তরে যেমন ভাবে, নিজেও তেমনি;
সে তোমাকে বলে, তুমি ভোজন পান কর,
কিন্তু তার অন্তর তোমার সহবর্তী নয়।
8
তুমি যে গ্রাস খেয়েছ, তা বমি করবে,
তোমার করা প্রশংসা বৃথা যাবে।
9
হীনবুদ্ধির কর্ণগোচরে কথা বলো না,
কেননা সে তোমার কথায় যে বিজ্ঞতা রয়েছে তা তুচ্ছ করবে।
10
সীমানার পুরানো চিহ্ন স্থানান্তর করো না,
পিতৃহীনদের ক্ষেতে প্রবেশ করো না।
11
কেননা তাদের মুক্তিদাতা বলবান;
তিনি তোমার বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ সমর্থন করবেন।
12
তুমি শাসনে মন দাও,
জ্ঞানের কথায় কান দাও।
13
বালককে শাসন করতে ত্রুটি করো না;
তুমি দণ্ড দ্বারা তাকে মারলে সে মরবে না।
14
তুমি তাকে দণ্ড দ্বারা প্রহার করবে,
পাতাল থেকে তার প্রাণকে রক্ষা করবে।
15
বৎস, তোমার অন্তর যদি জ্ঞানশালী হয়,
তবে আমারও অন্তর আনন্দিত হবে;
16
বাস্তবিক আমার অন্তর উল্লসিত হবে।
যখন তোমার কথা ন্যায়ের কথা হয়,
17
তোমার মন গুনাহ্গারদের প্রতি ঈর্ষা না করুক,
কিন্তু তুমি সমস্ত দিন মাবুদের ভয়ে থাক।
18
কেননা শেষ ফল অবশ্য আছে,
তোমার আশা ছিন্ন হবে না।
19
বৎস, তুমি শোন, জ্ঞানবান হও,
তোমার হৃদয় সৎপথে চালাও।
20
মদ্যপায়ীদের সঙ্গী হয়ো না,
পেটুক মাংসভোজীদের সঙ্গী হয়ো না;
21
কারণ মদ্যপায়ী ও পেটুকের দৈন্যদশা ঘটে,
এবং ঢুলু ঢুলু ভাব মানুষকে ছেঁড়া কাপড় পরায়।
22
তোমার জন্মদাতা পিতার কথা শোন,
তোমার মা বৃদ্ধা হলে তাঁকে তুচ্ছ করো না।
23
সত্য ক্রয় কর, বিক্রি করো না;
প্রজ্ঞা, শাসন ও সুবিবেচনা ক্রয় কর।
24
ধার্মিকের পিতা মহা-উল্লসিত হন,
জ্ঞানবানের জন্মদাতা তাতে আনন্দ করেন।
25
তোমার পিতা-মাতা আহ্লাদিত হোন,
তোমার জননী উল্লসিতা হোন।
26
হে বৎস, তোমার হৃদয় আমাকে দাও
তোমার চোখ আমার পথগুলোতে প্রীত হোক।
27
কেননা পতিতা গভীর খাত,
জেনাকারী স্ত্রী সঙ্কীর্ণ কূপ।
28
সে দস্যুর মত ঘাঁটি বসায়,
মানুষের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
29
কে হায় হায় বলে? কে হাহাকার করে?
কে ঝগড়া করে? কে মাতম করে?
কে অকারণ আঘাত পায়?
কার চোখ লাল হয়?
30
যারা আঙ্গুর-রসের কাছে বহুকাল থাকে,
যারা সুরার সন্ধানে যায়।
31
আঙ্গুর-রসের প্রতি দৃষ্টিপাত করো না,
যদিও সেটি লাল রংয়ের,
যদিও সেটি পাত্রে চক্মক্ করে,
যদিও সেটি সহজে গলায় নেমে যায়;
32
অবশেষে সেটি সাপের মত কামড়ায়,
বিষধরের মত দংশন করে।
33
তোমার চোখ জেনাকারী স্ত্রীদেরকে দেখবে,
তোমার অন্তর কুটিল কথা বলবে;
34
তুমি তার মত হবে,
যে সমুদ্রের মধ্যস্থলে শয়ন করে,
যে মাস্তুলের উপরে শয়ন করে।
35
তুমি বলবে, লোকে আমাকে মেরেছে,
কিন্তু আমি ব্যথা পাই নি;
তারা আমাকে প্রহার করেছে,
কিন্তু আমি টের পাই নেই।
আমি কখন জাগ্রত হব?
আবার পানীয়ের খোঁজ করবো।
1
তুমি দুর্বৃত্ত লোকদের উপরে ঈর্ষা করো না,
তাদের সঙ্গে থাকতেও বাসনা করো না।
2
কেননা তাদের অন্তর আক্রমণের কল্পনা করে,
তাদের ওষ্ঠাধর অনিষ্টের কথা বলে।
3
জ্ঞান দ্বারা বাড়ি নির্মিত হয়,
আর বুদ্ধি দ্বারা তা স্থিরীকৃত হয়;
4
জ্ঞান দ্বারা সমস্ত কুঠরী পরিপূর্ণ হয়,
বহুমূল্য ও মনোরম্য সমস্ত দ্রব্যে।
5
জ্ঞানবান লোকের মহা ক্ষমতা আছে,
বিদ্বান লোক পরাক্রম বৃদ্ধি করে।
6
বস্তুত সুমন্ত্রণার চালনায় তুমি যুদ্ধ করবে,
আর অনেক মন্ত্রীর দরুন জয়ী হবে।
7
মূর্খের জন্য প্রজ্ঞা অতি উঁচু;
সে নগর-দ্বারে মুখ খোলে না।
8
যে অপকারের সঙ্কল্প করে,
লোকে তাকে কুসঙ্কল্পকারী বলবে।
9
অজ্ঞানতার সঙ্কল্প গুনাহ্ময়,
আর যে নিন্দুক, সে মানুষের চোখে ঘৃণিত।
10
সঙ্কটের দিনে যদি অবসন্ন হও,
তবে তোমার শক্তি সঙ্কুচিত হবে।
11
তাদেরকে উদ্ধার কর,
যারা মৃত্যুর কাছে নীত হচ্ছে,
যারা কাঁপতে কাঁপতে বধ্যভূমিতে যাচ্ছে,
আহা! তাদেরকে রক্ষা কর।
12
যদি বল, দেখ, আমরা এ জানতাম না,
তবে যিনি হৃদয় পরিমাপ করেন, তিনি কি তা বোঝেন না?
যিনি তোমার প্রাণ রক্ষা করেন, তিনি কি তা জানতে পারেন না?
তিনি কি প্রত্যেক মানুষকে তার কর্মানুযায়ী ফল দেবেন না?
13
হে বৎস, মধু খাও, যেহেতু তা উত্তম,
মধুর চাক খাও, তা তোমার রসনায় মিষ্ট লাগে;
14
জেনো, তোমার প্রাণের পক্ষে প্রজ্ঞা তদ্রূপ;
তা পেলে তোমার ভবিষ্যতের আশা থাকবে,
তোমার আশা ছিন্ন হবে না।
15
রে দুষ্ট, তুমি ধার্মিকের নিবাসের বিরুদ্ধে ওৎ পেতে থেকো না,
তার বাসস্থান নষ্ট করো না।
16
কেননা ধার্মিক সাত বার পড়লেও আবার উঠে;
কিন্তু দুষ্টেরা দুর্যোগে নিপাতিত হবে।
17
তোমার দুশমনের পতনে আনন্দ করো না,
সে নিপাতিত হলে তোমার অন্তর উল্লসিত না হোক;
18
পাছে মাবুদ তা দেখে অসন্তুষ্ট হন,
এবং তার উপর থেকে তাঁর ক্রোধ সরিয়ে নেন।
19
তুমি দুর্বৃত্তদের বিষয়ে রুষ্ট হয়ো না;
দুষ্টদের প্রতি ঈর্ষা করো না।
20
যেহেতু দুর্বৃত্ত লোকের ভবিষ্যতের আশা নেই,
দুষ্টদের প্রদীপ নিভে যাবে।
21
হে বৎস, মাবুদকে ভয় কর এবং বাদশাহ্কেও ভয় কর,
পরিবর্তনপ্রিয় লোকদের সঙ্গে যোগ দিও না;
22
কেননা অকস্মাৎ তাদের বিপদ ঘটবে;
উভয়ের দ্বারা যে সংহার হবে তা কে জানে?
23
এই সমস্ত জ্ঞানবানদের উক্তি।
বিচারে পক্ষপাতিত্ব করা ভাল নয়।
24
যে দুষ্টকে বলে, তুমি ধার্মিক,
জাতিরা তাকে বদদোয়া দেবে,
লোকবৃন্দ তাকে ঘৃণা করবে।
25
কিন্তু যারা তাকে ধমক দেয়, তারা প্রীতিপাত্র হবে,
তাদের প্রতি উত্তম দোয়া বর্ষিত হবে।
26
যে ব্যক্তি যথার্থ জবাব দেয়,
সে ওষ্ঠাধর চুম্বন করে।
27
বাইরে তোমার কাজের আয়োজন কর,
ক্ষেতে নিজের কাজ সম্পন্ন কর, পরে তোমার ঘর বাঁধ।
28
অকারণে তোমার প্রতিবেশীর বিপক্ষে সাক্ষী হয়ো না;
তুমি কি কথার মধ্য দিয়ে প্রতারণা করতে চাও?
29
বলো না, ‘সে আমার প্রতি যেমন করেছে,
আমিও তার প্রতি তেমনি করবো;
তার যেমন কাজ, তাকে তেমনি ফল দেব।’
30
আমি অলসের ক্ষেতের পাশ দিয়ে গেলাম,
হীনবুদ্ধির আঙ্গুরের বাগানের কাছ দিয়ে গেলাম;
31
আর দেখ, সেই সমস্ত ক্ষেত কাঁটাবন হয়ে উঠেছে,
আগাছা তার উপরটা আচ্ছন্ন করেছে,
তার প্রস্তরময় প্রাচীর ভগ্ন হয়েছে।
32
আমি দৃষ্টিপাত করলাম, মনোনিবেশ করলাম,
তা দর্শন করে উপদেশ পেলাম;
33
‘আর একটু নিদ্রা, আর একটু তন্দ্রা,
আর একটু শুয়ে হাত জড়সড় করবো; ’
34
তাই তোমার দরিদ্রতা দস্যুর মত আসবে,
তোমার দৈন্যদশা ঢালীর মত আসবে।
1
নিম্নলিখিত মেসালগুলোও
সোলায়মানের;
এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কর্মকর্তারা এগুলো লিখে নেন।
2
বিষয় গোপন করা আল্লাহ্র গৌরব,
বিষয়ের অনুসন্ধান করা বাদশাহ্দের গৌরব।
3
যেমন উচ্চতা সম্বন্ধে বেহেশত ও গভীরতার সম্বন্ধে দুনিয়া,
তদ্রূপ বাদশাহ্দের হৃদয় অনুসন্ধান করা যায় না।
4
রূপা থেকে খাদ বের করে ফেল,
স্বর্ণকারের যোগ্য একটি পাত্র বের হবে;
5
বাদশাহ্র সম্মুখ থেকে দুষ্টকে বের করে দাও,
তাঁর সিংহাসন ধার্মিকতায় স্থিরীকৃত হবে।
6
বাদশাহ্র সম্মুখে আত্মগৌরব করো না,
মহৎ লোকদের স্থানে দাঁড়াবে না;
7
কেননা বরং এই ভাল যে, তোমাকে বলা যাবে, ‘এখানে উঠে এসো’;
কিন্তু তোমার চোখ যাঁকে দর্শন করেছে,
সেই অধিপতির সাক্ষাতে অপদস্থ হওয়া তোমার পক্ষে ভাল নয়।
8
শীঘ্র ঝগড়া করতে যেও না;
বিবাদের শেষে তুমি কি করবে,
যখন তোমার প্রতিবেশী তোমাকে লজ্জায় ফেলবে?
9
প্রতিবেশীর সঙ্গে তোমার ঝগড়া মিটিয়ে ফেল,
কিন্তু পরের গুপ্ত কথা প্রকাশ করো না;
10
পাছে শ্রোতা তোমাকে তিরস্কার করে,
আর তোমার অখ্যাতি না ঘোঁচে।
11
উপযুক্ত সময়ে বলা কথা
রূপার ডালিতে সোনার আপেল ফলের মত।
12
সোনার নথ ও কাঞ্চনের অলংকার যেমন,
তেমনি বাধ্য লোকের কানের পক্ষে জ্ঞানবান ভর্ৎসনাকারী।
13
শস্য কাটার সময়ে যেমন তুষারের শীতলতা,
তেমনি প্রেরণকর্তাদের পক্ষে বিশ্বস্ত দূত;
কারণ সে নিজের মালিকের প্রাণ জুড়ায়।
14
যে তার দানের বিষয়ে মিথ্যা অহংকারের কথা বলে,
সে বৃষ্টিহীন মেঘ ও বায়ুর মত।
15
দীর্ঘসহিষ্ণুতা দ্বারা শাসনকর্তা প্ররোচিত হন,
এবং কোমল জিহ্বা অস্থি ভগ্ন করে।
16
তুমি কি মধু পেয়েছ?
যা তোমার পক্ষে যথেষ্ট, তা-ই খাও;
পাছে বেশি খেলে বমি কর।
17
প্রতিবেশীর বাড়িতে তোমার পদার্পণ বিরল কর;
পাছে বিরক্ত হয়ে সে তোমাকে ঘৃণা করে।
18
যে ব্যক্তি প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়,
সে গদা, তলোয়ার ও ধারালো তীরস্বরূপ।
19
সঙ্কটের সময়ে বিশ্বাসঘাতকের উপর ভরসা
ভাঙ্গ দাঁত ও বিকল পায়ের মত।
20
যে বিষণ্ন অন্তরের কাছে গজল গান করে,
সে যেন শীতকালে কাপড় ছাড়ে,
ক্ষতস্থানের উপরে অম্লরস দেয়।
21
তোমার দুশমন যদি ক্ষুধিত হয়, তাকে অন্ন ভোজন করাও;
যদি সে পিপাসিত হয়, তাকে পানি পান করাও;
22
কেননা তা করলে তা হবে
তার মাথায় জ্বলন্ত অঙ্গার রাশি করে রাখার মত,
আর মাবুদ তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
23
উত্তর দিকের বায়ু বৃষ্টির উৎপাদক,
তেমনি রটনাকারীর জিহ্বা ক্রোধদৃষ্টির জন্ম দেয়।
24
বরং ছাদের কোণে বাস করা ভাল;
তবু বিবাদিনী স্ত্রীর সঙ্গে প্রশস্ত বাড়িতে বাস করা ভাল নয়।
25
পিপাসিত প্রাণের পক্ষে যেমন শীতল পানি,
দূরদেশ থেকে পাওয়া মঙ্গল সংবাদ তেমনি।
26
ঘোলা পানির আধার ও মলিন ফোয়ারা যেরূপ,
দুষ্টের সম্মুখে বিচলিত ধার্মিক তদ্রূপ।
27
বেশি মধু খাওয়া ভাল নয়,
কঠিন কঠিন বিষয় অনুসন্ধান করা ভাল নয়।
28
যে নিজের রূহ্ দমন না করে,
সে এমন নগরের মত, যা ভেঙ্গে গেছে, যার প্রাচীর নেই।
1
যেমন গ্রীষ্মকালে তুষার ও
শস্যচ্ছেদনকালে বৃষ্টি,
তেমনি হীনবুদ্ধির পক্ষে সম্মান অনুপযুক্ত।
2
যেমন চড়াই পাখি ভ্রমণ করে, খঞ্জন পাখি উড়তে থাকে,
তেমনি অকারণে দেওয়া বদদোয়া কাছে আসে না।
3
ঘোড়ার জন্য চাবুক, গাধার জন্য বল্গা,
আর হীনবুদ্ধিদের পিঠের জন্য দণ্ড।
4
হীনবুদ্ধিকে তার অজ্ঞানতা অনুসারে উত্তর দিও না,
পাছে তুমিও তার মত হও।
5
হীনবুদ্ধিকে তার অজ্ঞানতা অনুসারে উত্তর দাও,
পাছে সে নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান হয়।
6
যে হীনবুদ্ধির হাতে সংবাদ প্রেরণ করে,
সে নিজের পা কেটে ফেলে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
7
খঞ্জের পা খুঁড়িয়ে চলে,
হীনবুদ্ধিদের মুখে নীতিকথা তদ্রূপ।
8
যেমন প্রস্তররাশির মধ্যে মণির থলি,
তেমনি সেই জন, যে হীনবুদ্ধিকে সম্মান প্রদান করে।
9
মাতালের হাতে যে কাঁটা উঠে,
তা যেমন, তেমনি হীনবুদ্ধিদের মুখে নীতিকথা।
10
যেমন তীরন্দাজ সকলকে ক্ষতবিক্ষত করে,
তেমনি সেই ব্যক্তি, যে হীনবুদ্ধিকে বেতন দেয়,
আর যে পথের লোককে বেতন দেয়।
11
যেমন কুকুর নিজের বমির প্রতি ফেরে,
তেমনি হীনবুদ্ধি নিজের অজ্ঞানতার প্রতি ফিরে আসে।
12
তুমি কি নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান লোক দেখছ?
তার চেয়ে বরং হীনবুদ্ধির বিষয়ে বেশি প্রত্যাশা আছে।
13
অলস বলে, পথে সিংহ আছে,
চৌরাস্তায় কেশরী থাকে।
14
কব্জাতে যেমন দরজা ঘোরে,
তেমনি অলস নিজের পালঙ্কে ঘোরে।
15
অলস থালায় হাত ডুবায়,
পুনর্বার মুখে তুলতে তার কষ্ট হয়।
16
সাত জন সুবিচারসিদ্ধ উত্তরদাতার চেয়ে
অলস নিজের দৃষ্টিতে বেশি জ্ঞানবান।
17
যে জন পথে যেতে যেতে অন্যের ঝগড়ায় নাক গলায়,
সে কুকুরের কান ধরে।
18
যে পাগল জ্বলন্ত তীর নিক্ষেপ করে,
তীর ও মৃত্যুজনক তীর নিক্ষেপ করে,
19
সে যেমন, তেমনি সেই ব্যক্তি,
যে প্রতিবেশীকে প্রতারণা করে,
আর বলে, আমি কি খেলা করছি না?
20
কাঠ শেষ হলে আগুন নিভে যায়,
রটনাকারী না থাকলে ঝগড়া নিবৃত্ত হয়।
21
যেমন জ্বলন্ত অঙ্গারের পক্ষে অঙ্গার ও আগুনের পক্ষে কাঠ,
তেমনি বিবাদের আগুন জ্বালাবার পক্ষে বিবাদী।
22
গুজবের কথা মিষ্টান্নস্বরূপ,
তা অন্তরের অন্তঃপুরে প্রবিষ্ট হয়।
23
অনুরাগী বচন ও দুষ্ট কুটিল হৃদয়
রূপার আভরণে মণ্ডিত মাটির পাত্রস্বরূপ।
24
যে ঘৃণা করে, সে ওষ্ঠাধরে ভান করে,
কিন্তু মনের মধ্যে ছল রাখে;
25
তার কথা মিষ্টি হলেও তাকে বিশ্বাস করো না,
কারণ তার অন্তরে সাতটা ঘৃণ্য বস্তু থাকে।
26
যদিও তার ঘৃণা কপটতায় আচ্ছন্ন,
তার দুষ্টামি সমাজে প্রকাশিত হবে।
27
যে খাদ খনন করে, সে তার মধ্যে পড়বে;
যে পাথর গড়িয়ে দেয়, তারই উপরে তা ফিরে আসবে।
28
মিথ্যাবাদী জিহ্বা যাদেরকে চূর্ণ করেছে, তাদেরকে ঘৃণা করে;
আর তোষামোদকারী মুখ বিনাশ সাধন করে।
1
আগামীকালের বিষয়ে গর্বের
কথা বলো না;
কেননা এক দিন কি উপস্থিত করবে, তা তুমি জান না।
2
অপরে তোমার প্রশংসা করুক,
তোমার নিজের মুখ না করুক;
অন্য লোকে করুক, তোমার নিজের ওষ্ঠ তা না করুক।
3
পাথর খুব ভারী ও বালিও ভারী,
কিন্তু অজ্ঞানের অসন্তোষ ঐ দু’টোর চেয়ে ভারী।
4
ক্রোধ নিষ্ঠুর ও কোপ বন্যার মত,
কিন্তু অন্তর্জ্বালার কাছে কে দাঁড়াতে পারে?
5
বরং প্রকাশ্য তিরস্কার ভাল,
তবু গুপ্ত মহব্বত ভাল নয়।
6
প্রণয়ীর প্রহার বিশ্বাসযোগ্য,
কিন্তু দুশমনের চুম্বন চাতুরীপূর্ণ।
7
তৃপ্ত প্রাণ মৌচাককেও পদতলে দলিত করে;
কিন্তু ক্ষুধার্ত প্রাণের কাছে তিক্ত দ্রব্যগুলোও মিষ্ট।
8
যেমন বাসা থেকে ভ্রমণকারী পাখি,
তেমনি স্বস্থান থেকে ভ্রমণকারী মানুষ।
9
সুগন্ধি তেল ও ধূপ চিত্তকে আমোদিত করে,
বন্ধুর আন্তরিক পরামর্শজনিত মিষ্টতাও তদ্রূপ।
10
নিজের মিত্রকে ও পিতার মিত্রকে ত্যাগ করো না;
নিজের বিপদের সময়ে ভাইয়ের বাড়িতে যেও না;
দূরস্থ ভাইয়ের চেয়ে নিকটস্থ প্রতিবেশী ভাল।
11
বৎস, জ্ঞানবান হও; আমার চিত্তকে আনন্দিত কর;
তাতে যে আমাকে ব্যঙ্গ করে, তাকে উত্তর দিতে পারবো।
12
সতর্ক লোক বিপদ দেখে নিজেকে লুকায়;
কিন্তু অবোধেরা আগে গিয়ে দণ্ড পায়।
13
যে অপরের জামিন হয়, তার পোশাক নাও;
যে বিজাতীয়ার জামিন হয়, তার পোশাক বন্ধক হিসেবে রাখ।
14
যে ভোরে উঠে উচ্চৈঃস্বরে নিজের বন্ধুকে দোয়া করে,
তা তার পক্ষে বদদোয়ারূপে গণিত হয়।
15
দুরন্ত বর্ষার দিনে অবিরত বৃষ্টিপাত,
আর বিবাদিনী স্ত্রী, এই উভয়ই সমান।
16
যে সেই স্ত্রীকে থামায়, সে বাতাস থামায়,
এবং তার ডান হাত তেল ধরে।
17
লোহা লোহাকে ধারালো করে,
তদ্রূপ মানুষ তার বন্ধুর মুখ ধারালো করে।
18
যে ডুমুর গাছ রাখে, সে তার ফল খাবে;
যে তার প্রভুর সেবা করে, সে সম্মানিত হবে।
19
পানির মধ্যে যেমন মুখের প্রতিরূপ মুখ,
তেমনি মানুষের প্রতিরূপ মানুষের হৃদয়।
20
পাতালের ও বিনাশ-স্থানের তৃপ্তি নেই,
মানুষের চোখের তৃপ্ত হয় না।
21
রূপার জন্য যেমন রূপা গলাবার পাত্র ও সোনার জন্য হাফর,
তেমনি যে প্রশংসা পায় তার দ্বারাই তাকে পরীক্ষা করা হয়।
22
যদিও উখলিতে গমের মধ্যে মুষল দ্বারা অজ্ঞানকে চূর্ণ কর,
তবুও তার অজ্ঞানতা দূর হবে না।
23
তুমি তোমার ভেড়ার পালের অবস্থা জেনে নাও,
নিজের পশুপালে মনোযোগ দাও;
24
কেননা ধন চিরস্থায়ী নয়,
মুকুট কি পুরুষানুক্রমে থাকে?
25
শুকনো ঘাস নিয়ে যাওয়ার পর নবীন ঘাস দেখা দেয়,
এবং পর্বতমালার ওষধি সংগ্রহ করা যায়।
26
ভেড়ার বাচ্চারা তোমাকে কাপড় দেবে,
ছাগলেরা ক্ষেতের মূল্যস্বরূপ হবে;
27
তোমার খাদ্যের জন্য, তোমার পরিবারের খাদ্যের জন্য
ছাগীরা যথেষ্ট দুধ দেবে,
তোমার যুবতী বাঁদীদের প্রতিপালন করবে।
1
কেউ তাড়না না করলেও দুষ্ট
পালায়;
কিন্তু ধার্মিকেরা সিংহের মত সাহসী।
2
দেশের অধর্মে তার অনেক মালিক হয়;
কিন্তু বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান লোক দ্বারা কর্তৃত্ব স্থায়ী হয়।
3
যে দরিদ্র লোক দীনহীনদের প্রতি জুলুম করে,
সে এমন প্লাবনের বৃষ্টির মত, যার পরে খাদ্য থাকে না।
4
যারা আইন-কানুন ত্যাগ করে তারা দুষ্টের প্রশংসা করে;
কিন্তু যারা আইন-কানুন পালন করে তারা দুষ্টদের প্রতিরোধ করে।
5
দুরাচারেরা বিচার বোঝে না,
কিন্তু মাবুদের অন্বেষীরা সকলই বোঝে।
6
বরং সেই দরিদ্র লোক ভাল, যে নিজের সিদ্ধতায় চলে,
তবু বিপথগামী কুটিল লোক ধনবান হলেও ভাল নয়।
7
যে আইন-কানুন মানে, সেই জ্ঞানবান পুত্র;
কিন্তু পেটুকদের সখা পিতার অপমানজনক।
8
যে সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদ নিয়ে নিজের ধন বাড়ায়,
সে তা এমন একজনের জন্য সঞ্চয় করে যে দীনহীনদের প্রতি সদয়।
9
যে আইন-কানুন শোনা থেকে নিজের কান ফিরিয়ে নেয়,
তার মুনাজাতও ঘৃণ্য।
10
যে সরল লোকদেরকে কুপথে নিয়ে ভ্রান্ত করে,
সে তার নিজের গর্তেই পড়বে;
কিন্তু সিদ্ধ লোকেরা মঙ্গলরূপ অধিকার পায়।
11
ধনী নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান,
কিন্তু বুদ্ধিমান দরিদ্র তার পরীক্ষা করে।
12
ধার্মিকদের উল্লাসে মহাগৌরব হয়,
কিন্তু দুষ্টদের উন্নতি হলে লোকদের খুঁজে পাওয়া ভার।
13
যে নিজের সমস্ত অধর্ম ঢেকে রাখে, সে কৃতকার্য হবে না;
কিন্তু যে তা স্বীকার করে ত্যাগ করে, সে করুণা পাবে।
14
সুখী সেই ব্যক্তি, যে সর্বদা ভয় রাখে;
কিন্তু যে অন্তর কঠিন করে, সে বিপদে পড়বে।
15
যেমন গর্জনকারী সিংহ ও পর্যটনকারী ভল্লুক,
তেমনি দীনহীন লোকের উপরে নিষ্ঠুর শাসনকর্তা।
16
যে শাসক হীনবুদ্ধি, সে আবার বড় জুলুমবাজ;
কিন্তু যে লোভ ঘৃণা করে, সেই দীর্ঘজীবী হবে।
17
যে মানুষ নর হত্যার দোষে ভারাক্রান্ত,
সে গর্ত পর্যন্ত পালাবে, কেউ তাকে নিবারণ না করুক।
18
যে সিদ্ধভাবে চলে, সে রক্ষা পাবে;
কিন্তু যে বিপথগামী বাঁকা পথে চলে, সে গর্তের মধ্যে পড়বে।
19
যে নিজের জমি চাষ করে, সে যথেষ্ট আহার পায়;
কিন্তু যে অসার লোকদের পিছনে পিছনে দৌড়ায়,
তার ঢের অকুলান হয়।
20
বিশ্বস্ত লোক অনেক দোয়া পাবে;
কিন্তু যে ধনবান হবার জন্য শীঘ্র করে, সে দণ্ডিত হবেই হবে।
21
পক্ষপাতিত্ব করা ভাল নয়,
একখণ্ড রুটির জন্য অধর্ম করাও ভাল নয়।
22
যার চোখ মন্দ, সে ধনের চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত;
সে জানে না যে, দীনতা তাকে গ্রাস করবে।
23
কোন লোককে যে তিরস্কার করে, শেষে সে রহমত পাবে,
যে জিহ্বাতে চাটুবাদ করে, সে নয়।
24
যে পিতা-মাতার ধন চুরি করে বলে, এই তো অধর্ম নয়,
সে ব্যক্তি বিনাশকারীর সখা।
25
যে বেশি আকাঙক্ষা করে, সে ঝগড়া উত্তেজিত করে,
কিন্তু যে মাবুদের উপর ঈমান আনে, সে পুষ্ট হবে।
26
যে নিজের হৃদয়কে বিশ্বাস করে, সে হীনবুদ্ধি;
কিন্তু যে প্রজ্ঞা-পথে চলে, সে রক্ষা পাবে।
27
যে দরিদ্রকে দান করে, তার অভাব ঘটে না,
কিন্তু যে চোখ মুদে, সে অনেক বদদোয়া পাবে।
28
দুষ্টদের উন্নতি হলে লোকেরা লুকায়;
তারা বিনষ্ট হলে ধার্মিকেরা বৃদ্ধি পায়।
1
যে পুনঃ পুনঃ তিরস্কৃত হয়েও
ঘাড় শক্ত করে,
সে হঠাৎ ভেঙ্গে পড়বে, তার প্রতিকার হবে না।
2
ধার্মিকেরা বৃদ্ধি পেলে লোকেরা আনন্দ করে,
কিন্তু দুষ্ট লোক কর্তৃত্ব পেলে লোকেরা আর্তস্বর করে।
3
যে প্রজ্ঞা ভালবাসে, সে পিতার আনন্দজনক হয়;
কিন্তু যে পতিতাদের প্রতি অনুরক্ত হয়, তার ধন নষ্ট হবে।
4
বাদশাহ্ ন্যায়বিচার দ্বারা দেশ সুস্থির করেন;
কিন্তু উৎকোচপ্রিয় তা লণ্ডভণ্ড করে।
5
যে ব্যক্তি নিজের প্রতিবেশীর তোষামোদ করে,
সে তার পায়ের নিচে জাল পাতে।
6
দুর্বৃত্ত লোকের অধর্মে ফাঁদ থাকে,
কিন্তু ধার্মিক আনন্দিত হয়ে গান করে।
7
ধার্মিক দীনহীন লোকদের বিচার বোঝে;
অজ্ঞ লোক জ্ঞান বোঝে না।
8
নিন্দাপ্রিয় লোকেরা নগরে আগুন লাগিয়ে দেয়;
কিন্তু জ্ঞানবানেরা ক্রোধ শান্ত করে।
9
অজ্ঞানের সঙ্গে জ্ঞানবানের ঝগড়া হলে,
সে রাগ করুক বা হাসুক, কিছুতেই শান্তি হয় না।
10
রক্তপাতী লোকেরা সিদ্ধব্যক্তিকে ঘৃণা করে;
আর সরল লোকের প্রাণনাশের চেষ্টা করে।
11
হীনবুদ্ধি নিজের সমস্ত ক্রোধ প্রকাশ করে,
কিন্তু জ্ঞানী তা সম্বরণ করে প্রশমিত করে।
12
যে শাসনকর্তা মিথ্যা কথায় কান দেন,
তাঁর কর্মকর্তারা সকলে দুষ্ট।
13
দরিদ্র ও জুলুমবাজ একটা ব্যাপারে সমান—
মাবুদ উভয়ের চোখেই আলো দান করে থাকেন।
14
যে বাদশাহ্ সত্যভাবে দীনহীনদের বিচার করেন,
তাঁর সিংহাসন নিত্য স্থির থাকবে।
15
দণ্ড ও তিরষ্কার প্রজ্ঞা দেয়;
কিন্তু অশাসিত বালক মাতার লজ্জাজনক।
16
দুষ্ট লোকেরা বৃদ্ধি পেলে অধর্ম বৃদ্ধি পায়;
কিন্তু ধার্মিকেরা তাদের নিপাত দেখবে।
17
তোমার পুত্রকে শাস্তি দাও, সে তোমাকে শান্তি দেবে,
সে তোমার প্রাণকে আনন্দিত করবে।
18
দর্শনের অভাবে লোকেরা উচ্ছৃঙ্খল হয়;
কিন্তু যে আইন-কানুন মানে, সে সুখী।
19
কেবল কালাম দ্বারা গোলামের শাসন হয় না,
কেননা সে বুঝলেও কথা মানবে না।
20
তুমি কি হঠকারী লোক দেখছ?
তার চেয়ে বরং হীনবুদ্ধির বিষয়ে বেশি আশা আছে।
21
যে গোলামকে বাল্যাবধি কোমলভাবে প্রতিপালন করে,
শেষে সেই গোলাম তার পুত্র হয়ে উঠে।
22
কোপন-স্বভাব ব্যক্তি ঝগড়া উত্তেজিত করে,
বদমেজাজী ব্যক্তি বিস্তর অধর্ম করে।
23
মানুষের অহংকার তাকে নিচে নামাবে,
কিন্তু নম্রচিত্ত ব্যক্তি সম্মান পাবে।
24
চোরের সহযোগী নিজের প্রাণকে ঘৃণা করে;
সে কসম করাবার কথা শোনে, কিন্তু কিছু বলে না।
25
লোক-ভয় ফাঁদজনক;
কিন্তু যে মাবুদের উপর ঈমান আনে,
সে উঁচু স্থানে স্থাপিত হবে।
26
অনেকে শাসনকর্তার দয়া খোঁজ করে;
কিন্তু মানুষের বিচার মাবুদ হতেই হয়।
27
অন্যায়কারী ধার্মিকদের ঘৃণাস্পদ;
আর সরলাচারী দুর্জনের ঘৃণাস্পদ।
1
যাকির পুত্র আগূরের কথা;
দৈববাণী।
ঈথীয়েলের প্রতি, ঈথীয়েল ও উকলের প্রতি সেই ব্যক্তির উক্তি।
2
সত্যি, আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ,
মানুষের বিবেচনা আমার নেই।
3
আমি প্রজ্ঞা শিক্ষা করি নি,
পবিত্রতমের জ্ঞান আমার নেই।
4
কে বেহেশতে গিয়ে নেমে এসেছেন?
কে তার মুষ্টিদ্বয়ে বায়ু গ্রহণ করেছেন?
কে তার কাপড়ের মধ্যে জলরাশি বেঁধেছেন?
কে দুনিয়ার সমস্ত প্রান্ত স্থাপন করেছেন?
তাঁর নাম কি? তাঁর পুত্রের নাম কি? যদি জান, বল।
5
আল্লাহ্র প্রত্যেক কালাম পরীক্ষাসিদ্ধ;
তিনি নিজের শরণাপন্ন লোকদের ঢালস্বরূপ।
6
তাঁর কালামের সঙ্গে কিছু যোগ করো না;
পাছে তিনি তোমার দোষ ব্যক্ত করেন,
আর তুমি মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হও।
7
আমি তোমার কাছে দুই বর ভিক্ষা করেছি,
আমার জীবন থাকতে তা অস্বীকার করো না;
8
প্রবঞ্চনা ও মিথ্যা কথা আমার কাছ থেকে দূর কর;
দরিদ্রতা বা ঐশ্বর্য আমাকে দিও না,
আমার নিরূপিত খাদ্যই আমাকে আহার করাও;
9
পাছে অতি তৃপ্ত হলে আমি তোমাকে অস্বীকার করে বলি, মাবুদ কে?
কিংবা পাছে দরিদ্র হলে চুরি করে বসি,
ও আমার আল্লাহ্র নাম অপব্যবহার করি।
10
মালিকের কাছে গোলামের দুর্নাম করো না,
পাছে সে তোমাকে বদদোয়া দেয় ও তুমি অপরাধী হও।
11
একটি বংশ আছে, তারা পিতাকে বদদোয়া দেয়,
আর মাতাকে মঙ্গলবাদ করে না।
12
একটি বংশ আছে, তারা নিজেদের দৃষ্টিতে পাক-পবিত্র,
তবু নিজেদের মলিনতা থেকে পাক-সাফ হয় নি।
13
একটি বংশ আছে, তাদের দৃষ্টি কেমন উঁচু!
তাদের চোখের পাতা উন্নত।
14
একটি বংশ আছে, তাদের দাঁত তলোয়ার ও চোয়ালের দন্তে ছুরি বসানো,
যেন দেশ থেকে দুঃখীদের, মানুষের মধ্য থেকে দরিদ্রদেরকে গ্রাস করে।
15
জোঁকের দু’টা কন্যা আছে, ‘দেহি, দেহি’।
তিনটা জিনিস কখনও তৃপ্ত হয় না।
চারটা জিনিস কখনও বলে না, যথেষ্ট হল;
16
পাতাল,
বন্ধ্যা স্ত্রীলোকের জঠর,
ভূমি, যা পানিতে তৃপ্ত হয় না,
আগুন, যা বলে না, যথেষ্ট হল।
17
যে চোখ তার পিতাকে পরিহাস করে,
নিজের মাতার হুকুম মানতে অবহেলা করে,
উপত্যকার কাকেরা তা তুলে নবে,
ঈগল পাখির বাচ্চাগুলো তা খেয়ে ফেলবে।
18
তিনটা জিনিস আমার জ্ঞানের অগম্য,
চারটা জিনিস আমি বুঝতে পারি না;
19
ঈগল পাখির পথ আসমানে,
সাপের পথ শৈলের উপরে,
জাহাজের পথ সমুদ্রের মধ্যস্থলে,
পুরুষের পথ যুবতীতে।
20
জেনাকারীণীর পথও তদ্রূপ;
সে খেয়ে মুখ মোছে,
আর বলে, আমি অধর্ম করি নি।
21
তিনটার ভারে ভূতল কাঁপে,
চারটার ভারে কাঁপে, সইতে পারে না;
22
গোলামের ভার, যখন সে রাজত্ব লাভ করে,
মূর্খের ভার, যখন সে ভক্ষ্যে পরিতৃপ্ত হয়,
23
ঘৃণিতা স্ত্রীর ভার, যখন সে পত্নীর পদ পায়,
আর বাঁদীর ভার, যখন সে নিজের কর্ত্রীর স্থান লাভ করে।
24
দুনিয়াতে এই চারটি অতি ক্ষুদ্র,
তবুও তারা বড় বুদ্ধি ধরে;
25
পিপীলিকা শক্তিমান জাতি নয়,
তবু গ্রীষ্মকালে স্ব স্ব খাদ্যের আয়োজন করে;
26
শাফন জন্তু বলবান জাতি নয়,
তবুও শৈলে ঘর বাঁধে;
27
পঙ্গপালগুলোর বাদশাহ্ নেই,
তবুও তারা দল বেঁধে যাত্রা করে;
28
টিক্টিকি হাত দিয়ে চলে,
তবুও বাদশাহ্র অট্টালিকায় থাকে।
29
তিনটা জিনিস সুন্দরভাবে গমন করে,
চারটা জিনিস সুন্দরভাবে চলে;
30
সিংহ, যে পশুদের মধ্যে বিক্রমী,
যে কাউকেও দেখে ফিরে যায় না;
31
যুদ্ধের ঘোড়া, আর ছাগল এবং বাদশাহ্,
যখন তাঁর সৈন্যদল তাঁর সঙ্গে থাকে।
32
তুমি যদি নিজের বড়াই করে মূর্খের কাজ করে থাক,
কিংবা যদি কুসঙ্কল্প করে থাক, তবে তোমার মুখে হাত দাও।
33
কেননা দুধ মন্থনে মাখন বের হয়,
নাসিকা মন্থনে রক্ত বের হয় ও ক্রোধ মন্থনে বিরোধ হয়।
1
লমূয়েল বাদশাহ্র কথা। তাঁর মা তাঁকে এই দৈববাণী শিক্ষা দিয়েছিলেন।
2
হে বৎস, কি বলবো?
হে আমার গর্ভের সন্তান, কি বলবো।
হে আমার মানতের পুত্র, তোমাকে আমি কি বলবো?
3
তুমি নারীদেরকে নিজের শক্তি দিও না,
যা বাদশাহ্দের বিনাশক, তাতে লিপ্ত হয়ো না।
4
বাদশাহ্দের জন্য, হে লমূয়েল,
বাদশাহ্দের জন্য মদ্যপান উপযুক্ত নয়,
‘সুরা কোথায়? এই কথা বলা শাসনকর্তাদের অনুচিত।
5
পাছে পান করে তাঁরা আইন-কানুন বিস্মৃত হন,
এবং কোন দুঃখীর বিচার বিপরীত করেন।
6
মৃতকল্প ব্যক্তিকে সুরা দাও,
তিক্তপ্রাণ লোককে আঙ্গুর-রস দাও;
7
সে পান করে দৈন্যদশা ভুলে যাক,
নিজের দুর্দশা আর মনে না করুক।
8
যারা নিজেদের পক্ষে কথা বলতে পারে না তাদের জন্য তুমি মুখ খোল,
এতিমদের পক্ষে তুমি কথা বল।
9
তোমার মুখ খোল, ন্যায়বিচার কর,
দুঃখী ও দরিদ্রের বিচার কর।
10
গুণবতী স্ত্রী কে পেতে পারে?
মুক্তা হতেও তাঁর মূল্য অনেক বেশি।
11
তাঁর স্বামীর হৃদয় তাঁতে নির্ভর করে,
স্বামীর লাভের অভাব হয় না।
12
তিনি সারা জীবন তাঁর উপকার করেন,
অপকার করেন না।
13
তিনি ভেড়ার লোম ও মসীনা খোঁজ করেন,
প্রফুল্লভাবে নিজের হাতে কাজ সম্পাদন করেন।
14
তিনি বাণিজ্য-জাহাজগুলোর মত,
দূর থেকে নিজের খাদ্যসামগ্রী আনয়ন করেন।
15
তিনি রাত থাকতে উঠেন,
আর নিজের পরিজনদের খাদ্য দেন,
নিজের বাঁদীদেরকে নির্ধারিত কাজ দেন।
16
তিনি ভূমির বিষয়ে সঙ্কল্প করে তা ক্রয় করেন,
নিজের হাতের ফল দিয়ে আঙ্গুরের বাগান প্রস্তুত করেন।
17
তিনি বলযুক্ত হয়ে কোমরবন্ধনী পরেন,
আপন বাহুযুগল বলশালী করেন।
18
তিনি দেখতে পান, তাঁর ব্যবসায় উত্তম,
রাতে তাঁর দীপ নির্বাপিত হয় না।
19
তিনি টেকুয়া নিতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন,
তাঁর দু’হাত তাঁতের টাকু ধরে।
20
তিনি দরিদ্রের প্রতি মুক্তহস্ত হন,
দীনহীনের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেন।
21
তিনি নিজের পরিবারের বিষয়ে তুষারপাত থেকে ভয় পান না;
কারণ তাঁর সমস্ত পরিজন লাল কাপড় পরে।
22
তিনি নিজের জন্য বুটিদার চাদর নির্মাণ করেন।
তাঁর পরিচ্ছদ শুভ্র মসীনার কাপড় ও বেগুনে কাপড়।
23
তাঁর স্বামী নগর-দ্বারে সমাদৃত হন,
যখন দেশের প্রাচীনদের সঙ্গে বসেন।
24
তিনি সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুত করে বিক্রি করেন,
বণিকের হাতে কটিবস্ত্র তুলে দেন।
25
শক্তি ও সমাদর তাঁর পরিচ্ছদ;
তিনি ভবিষ্যৎকালের বিষয়ে হাসবেন।
26
তিনি প্রজ্ঞার সঙ্গে মুখ খোলেন,
তাঁর কথায় দয়ার ব্যবস্থা থাকে।
27
তিনি নিজের পরিবারের আচরণের প্রতি লক্ষ্য রাখেন,
তিনি আলস্যের খাদ্য খান না।
28
তাঁর সন্তানেরা উঠে তাঁকে সুখী বলে;
তাঁর স্বামীও বলেন, আর তাঁর এরকম প্রশংসা করেন,
29
“অনেক মেয়ে অনেক গুণ প্রদর্শন করেছে,
কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে তুমি শ্রেষ্ঠা।”
30
লাবণ্য মিথ্যা, সৌন্দর্য অসার,
কিন্তু যে স্ত্রী মাবুদকে ভয় করেন,
তিনিই প্রশংসনীয়া।
31
তোমরা তাঁর অর্জিত পুরস্কার তাঁকে দাও,
নগর-দ্বারগুলোতে তাঁর কাজ তাঁর প্রশংসা করুক।
1
হেদায়েতকারীর কথা; তিনি দাউদের পুত্র, জেরুশালেমের বাদশাহ্।
2 হেদায়েতকারী বলছেন, অসারের অসার, সকলই অসার।
3 মানুষ সূর্যের নিচে যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হয়, তার সেসব পরিশ্রমে কি ফল দেখতে পায়?
4 এক পুরুষ চলে যায়, আর এক পুরুষ আসে; কিন্তু দুনিয়া নিত্যস্থায়ী।
5 সূর্যও ওঠে, আবার সূর্য অস্ত যায় এবং দ্রুত স্বস্থানে যায়, সেখানে গিয়ে আবার উঠে।
6 বায়ু দক্ষিণ দিকে যায় ও ঘুরে ঘুরে উত্তর দিকে যায়; নিরন্তর ঘুরে ঘুরে নিজের পথে যায় এবং বায়ু নিজের চক্রপথে ফিরে আসে।
7 পানির স্রোতগুলো সমুদ্রে প্রবেশ করে, তবুও সমুদ্র পূর্ণ হয় না; পানির স্রোতগুলো যে স্থানে যায়, সেই স্থানে পুনরায় চলে যায়।
8 সমস্ত বিষয় ক্লান্তিজনক; তার বর্ণনা করা মানুষের অসাধ্য; দর্শনে চোখ তৃপ্ত হয় না এবং শ্রবণে কান তৃপ্ত হয় না।
9 যা হয়েছে, তা-ই হবে; যা করা গেছে, তা-ই করা যাবে; সূর্যের নিচে নতুন কিছুই নেই।
10 এমন কি কিছু আছে, যার সম্বন্ধে মানুষ বলে, দেখ, এটা নতুন? তা আগে আমাদের পূর্ববর্তী যুগপর্যায়ে ছিল;
11 আগেকার দিনের লোকদের বিষয় কারো স্মরণে নেই এবং ভবিষ্যতে যারা জন্মাবে, তাদের বিষয়ও পরবর্তী বংশধরদের স্মরণে থাকবে না।
12
আমি হেদায়েতকারী, জেরুশালেমে ইসরাইলের বাদশাহ্ ছিলাম।
13 আর আমি প্রজ্ঞা দ্বারা আসমানের নিচে কৃত সমস্ত বিষয়ের অনুশীলন ও অনুসন্ধান করতাম; আল্লাহ্ বনি-আদমদেরকে কষ্টযুক্ত করার জন্য এই ভীষণ কষ্ট দিয়েছেন।
14 সূর্যের নিচে কৃত সমস্ত কাজ আমি দেখেছি; দেখ, সে সবই অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
15
যা বাঁকা, তা সোজা করা যায় না; এবং যা নেই, তা গণনা করা যায় না।
16 আমি আমার হৃদয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বললাম, বললাম, দেখ, আমার আগে জেরুশালেমে যেসব শাসনকর্তা ছিলেন, সেই সকলের চেয়ে আমি বেশি জ্ঞানবিশিষ্ট হয়েছি এবং আমার হৃদয় নানা রকম জ্ঞানে ও বিদ্যায় পারদর্শী হয়েছে।
17 আমি প্রজ্ঞা জানতে এবং পাগলামী ও অজ্ঞানতা জানতে মনোযোগ করলাম, আমি জানলাম যে, তাও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
18 কেননা প্রজ্ঞা বাড়লে মনস্তাপ বাড়ে এবং যে বিদ্যা বৃদ্ধি করে, সে ব্যথারও বৃদ্ধি করে।
1
আমি মনে মনে বললাম, ‘এসো, আমি একবার আমোদ-প্রমোদের দ্বারা তোমার পরীক্ষা করি, তুমি সুখভোগ কর;’ আর দেখ, তাও অসার।
2 আমি হাসির বিষয়ে বললাম, ওটা পাগলামী; এবং আমোদের বিষয়ে বললাম, ওতে কি উপকার হবে?
3 আমি মনে মনে দেখতে চাইলাম, কিভাবে মদ্যপানে শরীরকে তুষ্ট করবো, তখনও আমার মন প্রজ্ঞাসহকারে আমাকে পথ দেখাচ্ছিল— আর কিভাবে অজ্ঞানতা অবলম্বন করে শেষে দেখতে পারব, আসমানের নিচে বনি-আদমদের সমস্ত জীবনকালে কি কি করা ভাল।
4 আমি নিজের জন্য নানা মহৎ কাজ করলাম, নিজের জন্য নানা স্থানে বাড়ি নির্মাণ করলাম, নিজের জন্য আঙ্গুর-ক্ষেতগুলো প্রস্তুত করলাম;
5 আমি নিজের জন্য অনেক বাগান ও উপবন করে তার মধ্যে সমস্ত রকম ফলের গাছ রোপণ করলাম;
6 সেই বনের বৃদ্ধি পাওয়া গাছগুলোতে পানি সেচনের জন্য আমি বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করলাম।
7 আমি অনেক গোলাম বাঁদী ক্রয় করলাম এবং আমার বাড়িতে গোলামেরা জন্মগ্রহণ করলো; আর আমার আগে জেরুশালেমে যাঁরা ছিলেন, সেগুলো থেকে আমার গোমেষাদি পশুধন বেশি ছিল।
8 আমি রূপা ও সোনা এবং নানা বাদশাহ্র ও নানা প্রদেশের বিশেষ বিশেষ ধন সঞ্চয় করলাম; আমি অনেক গায়ক গায়িকা ও বনি-আদমদের সন্তোষকারিণী কত উপপত্নী পেলাম।
9 বাস্তবিক আমি মহান ছিলাম, আমার আগে যাঁরা জেরুশালেমে ছিলেন, সেই সকলের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী হলাম এবং আমার প্রজ্ঞা আমার সহবর্তিনী ছিল।
10 আর আমার চোখ দু’টি যা ইচ্ছা করতো, তা আমি তাদের অগোচর রাখতাম না; আমার হৃদয়কে কোন আনন্দভোগ করতে বারণ করতাম না; বাস্তবিক আমার সমস্ত পরিশ্রমে আমার হৃদয় আনন্দ করতো; সমস্ত পরিশ্রমে এ-ই আমার পুরস্কার হল।
11 পরে আমার হাত যেসব কাজ করতো, যে পরিশ্রমে আমি পরিশ্রান্ত হতাম, সেই সমস্তের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, সে সবই অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়; সূর্যের নিচে কোন কিছুতেই লাভ নেই।
12
পরে আমি প্রজ্ঞা এবং উন্মত্ততা ও অজ্ঞানতা দেখতে প্রবৃত্ত হলাম; কারণ যে ব্যক্তি রাজ পদের উত্তরাধিকারী হয়ে আসবে, সে কি করবে? আগে যা করা গিয়েছিল, তা-ই মাত্র।
13 তখন আমি দেখলাম, যেমন অন্ধকারের চেয়ে আলো উত্তম, তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে প্রজ্ঞা উত্তম।
14 জ্ঞানবানের মস্তকেই চোখ থাকে, কিন্তু হীনবুদ্ধি অন্ধকারে ভ্রমণ করে; তবুও আমি জানলাম যে, সকলেরই এক দশা ঘটে।
15 তখন আমি মনে মনে বললাম, হীনবুদ্ধির প্রতি যা ঘটে, তা-ই তো আমার প্রতি ঘটে, তবে আমি কি জন্য বেশি জ্ঞানবান হলাম? পরে আমি মনে মনে বললাম, এও অসার।
16 কেননা হীনবুদ্ধির মত জ্ঞানবানের বিষয়ও লোকে চিরকাল মনে রাখবে না, ভবিষ্যৎকালে কিছুই স্মরণে থাকবে না; আহা! হীনবুদ্ধি যেমন মরে, তেমনি জ্ঞানবানও মরে।
17 সুতরাং আমি জীবনে বিরক্ত হলাম; কেননা সূর্যের নিচে যে কাজ করা হয় তা আমার কষ্টদায়ক মনে হল; কারণ সকলই অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
18
সূর্যের নিচে আমি যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হতাম, আমার সেসব পরিশ্রমে বিরক্ত হলাম; কেননা আমার পরবর্তী ব্যক্তির জন্য তা রেখে যেতে হবে।
19 আর সে জ্ঞানবান হবে, কি হীনবুদ্ধি হবে, তা কে জানে? কিন্তু আমি সূর্যের নিচে যে পরিশ্রম করে প্রজ্ঞা দেখাতাম, সেসব পরিশ্রমের ফলাধিকারী সে হবে; এও অসার।
20 অতএব সূর্যের নিচে আমি যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হতাম, পুনরায় আমার সেসব পরিশ্রমের বিষয়ে নিজের হৃদয়কে নিরাশ করলাম।
21 কেননা এক ব্যক্তির পরিশ্রম প্রজ্ঞা, বিদ্যা ও কৌশল সহযুক্ত হতে পারে; তবুও যে ব্যক্তি সে বিষয়ে পরিশ্রম করে নি, তাকে তার অধিকার বলে তা দিয়ে যেতে হয়।
22 এও অসার ও বড় মন্দ। তবে সূর্যের নিচে মানুষ যেসব পরিশ্রম ও হৃদয়ের উদ্বেগে পরিশ্রান্ত হয়, তাতে তার কি ফল লাভ হয়?
23 কেননা তার সমস্ত দিন ব্যথাযুক্ত এবং তার কষ্ট মনস্তাপজনক, রাত্রেও তার দিল বিশ্রাম পায় না। এও অসার।
24
ভোজন পান করা এবং নিজের পরিশ্রমের মধ্যে প্রাণকে সুখভোগ করানো ছাড়া আর মঙ্গল মানুষের হয় না; এও আমি দেখলাম যে, তা আল্লাহ্ থেকে হয়।
25 আর আমা থেকে কে বেশি ভোজন করতে কিংবা বেশি সুখভোগ করতে পারে?
26 বস্তুত যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রীতিজনক, তাকে তিনি প্রজ্ঞা, বিদ্যা ও আনন্দ দেন; কিন্তু গুনাহ্গারকে কষ্ট দেন, যেন সে আল্লাহ্র প্রীতিজনক ব্যক্তিকে দেবার জন্য ধন সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে। এও অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
1
সকল বিষয়েরই সময় আছে ও আসমানের নিচে সমস্ত ব্যাপারের কাল আছে। জন্মের ও মরণের কাল;
2 রোপণের ও রোপিত বীজ উৎপাটনের কাল;
3 মেরে ফেলবার ও সুস্থ করার কাল;
4 ভাঙ্গবার ও গাঁথবার কাল; কাঁদবার ও হাসার কাল; মাতম করার ও নৃত্য করার কাল;
5 পাথর নিক্ষেপ করার ও তা সংগ্রহ করার কাল; আলিঙ্গনের কাল ও আলিঙ্গন না করার কাল; খোঁজ করার কাল ও হারাবার কাল;
6 রক্ষণের ও ফেলে দেবার কাল;
7 ছিঁড়বার কাল ও জোড়া দেবার কাল; নীরব থাকবার ও কথা বলবার কাল;
8 মহব্বত করার ও ঘৃণা করার কাল; যুদ্ধের কাল ও সন্ধির কাল।
9
শ্রমিকের পরিশ্রমে তার কি ফল হয়?
10 আল্লাহ্ বনি-আদমদের কষ্টযুক্ত করার জন্য যে কষ্ট দেন, তা আমি দেখেছি।
11 তিনি সকলই যথাকালে মনোহর করেছেন, আবার তাদের হৃদয়মধ্যে অতীত ও ভবিষ্যতের ধারণা রেখেছেন; তবুও আল্লাহ্ আদি থেকে শেষ পর্যন্ত যেসব কাজ করেন, মানুষ তার তত্ত্ব বের করতে পারে না।
12 আমি জানি, সারা জীবন আনন্দ ও সৎকর্ম করা ছাড়া আর মঙ্গল তাদের হয় না।
13 আর প্রত্যেক মানুষ যে ভোজন পান ও সমস্ত পরিশ্রমের মধ্যে সুখভোগ করে, তাও আল্লাহ্র দান।
14 আমি জানি, আল্লাহ্ যা কিছু করেন, তা চিরস্থায়ী; তা বাড়াতেও পারা যায় না, কমাতেও পারা যায় না; আর আল্লাহ্ তা করেছেন, যেন তাঁর সম্মুখে মানুষ ভয় পায়।
15 যা আছে, তা-ই ছিল এবং যা হবে, তাও আগে ছিল; এবং যা চলে গেছে, আল্লাহ্ তার অনুসন্ধান করেন।
16
আরও আমি সূর্যের নিচে, বিচারের স্থানে দেখলাম, সেখানেও নাফরমানী আছে; এবং ধার্মিকতার স্থানে দেখলাম, সেখানে নাফরমানী আছে।
17 আমি মনে মনে বললাম, আল্লাহ্ই ধার্মিকের ও দুষ্টের বিচার করবেন, কেননা সেখানে সমস্ত ব্যাপারের জন্য এবং সমস্ত কাজের জন্য বিশেষ কাল আছে।
18 আমি মনে মনে বললাম, বনি-আদমকে আল্লাহ্ পরীক্ষা করেন, যেন তারা দেখতে পায় যে, তারা নিজেই পশুর মত।
19 কেননা বনি-আদমদের প্রতি যা ঘটে, তা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি এক রকম ঘটনা ঘটে; এই যেমন মরে, সে তেমনি মরে; এবং তাদের সকলেরই নিশ্বাস এক; পশু থেকে মানুষের কোন কিছুতেই প্রাধান্য নেই, কেননা সকলই অসার।
20 সকলেই এক স্থানে গমন করে, সকলেই ধূলি থেকে উৎপন্ন এবং সকলেই ধূলিতে প্রতিগমন করে।
21 বনি-আদমদের রূহ্ ঊর্ধ্বগামী হয় ও পশুর রূহ্ ভূতলের দিকে অধোগামী হয়, তা কে জানে?
22
অতএব আমি দেখলাম, নিজের কাজে আনন্দ করা ছাড়া আর মঙ্গল মানুষের নেই; কেননা এ-ই তার অধিকার। মানুষের মৃত্যুর পরে যা ঘটবে, কে তাকে এনে তা দেখাতে পারে?
1
পরে আমি ফিরে, সূর্যের নিচে যেসব জুলুম হয়, তা নিরীক্ষণ করতে লাগলাম। আর দেখ, নির্যাতিত লোকদের অশ্রুপাত হচ্ছে, কিন্তু তাদের সান্ত্বনাকারী কেউ নেই; জুলুমবাজ লোকদের হাতে বল আছে, কিন্তু নির্যাতিত লোকদের সান্ত্বনা দেবার মত কেউ নেই।
2 অতএব যারা এখনও জীবিত আছে, তাদের চেয়ে, যারা ইতোপূর্বে মারা গেছে, আমি তাদের প্রশংসা করলাম।
3
কিন্তু যে আজ পর্যন্ত হয় নি এবং সূর্যের নিচে কৃত মন্দ কাজ দেখে নি, তার অবস্থা দু’টি বিষয় থেকেও ভাল।
4
পরে আমি সমস্ত পরিশ্রম ও কর্ম-কৌশল দেখে বুঝলাম, এতে মানুষ প্রতিবেশীর ঈর্ষাভাজন হয়; এও অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
5 হীনবুদ্ধি হাত জড়সড় করে নিজের মাংস ভোজন করে।
6 পরিশ্রম ও বায়ুভক্ষণসহ পূর্ণ দুই মুষ্টির চেয়ে শান্তিসহ পূর্ণ এক মুষ্টি ভাল।
7
তখন আমি ফিরে সূর্যের নিচে অসারতা নিরীক্ষণ করলাম।
8 কোন ব্যক্তি একা থাকে, তার দ্বিতীয় কেউ নেই, পুত্র নেই, ভাইও নেই, তবুও তার পরিশ্রমের সীমা নেই, তার চোখের ধনে তৃপ্ত হয় না। সে বলে, তবে আমি কার জন্য পরিশ্রম করছি ও নিজের প্রাণকে সুখভোগ থেকে বঞ্চিত করছি? এও অসার ও ভারী কষ্টজনক।
9
এক জনের চেয়ে দু’জন ভাল, কেননা তাদের পরিশ্রমে সুফল হয়।
10 কারণ তারা পড়ে গেলে এক জন নিজের সঙ্গীকে উঠাতে পারে; কিন্তু ধিক্ তাকে, যে একাকী, কেননা সে পড়ে গেলে তাকে তুলতে পারে, এমন দোসর কেউই নেই।
11 আবার দু’জন একত্র শয়ন করলে উষ্ণ হয়, কিন্তু এক জন কেমন করে উষ্ণ হবে?
12 আর যে একাকী, তাকে যদিও কেউ পরাস্ত করে, তবুও দু’জন তার প্রতিরোধ করবে এবং ত্রিগুণ সুতা শীঘ্র ছেঁড়ে না।
13
যে হীনবুদ্ধি বৃদ্ধ বাদশাহ্ আর কোন পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে না, তার চেয়ে বরং দরিদ্র জ্ঞানবান যুবক ভাল।
14 কেননা হয়তো সে বাদশাহ্ হবার জন্য কারাগার থেকে বের হয়েছিল; এমন কি, তার রাজ্যেও হয়তো সে গরীব অস্থায় জন্মেছিল।
15 আমি সূর্যের নিচে ভ্রমণকারী সমস্ত প্রাণীকে দেখলাম, তারা সেই যুবকের পিছনে গেল যে ব্যক্তি বাদশাহ্র পরে তার পদ লাভ করলো।
16 সেসব মানুষের, যাদের উপরে সে শাসনকর্তা হয়েছিল, তারা অসংখ্য; তবুও পরবর্তী মানুষেরা সেই ব্যক্তিতে আনন্দ করবে না। বস্তুত এও অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
1
তুমি আল্লাহ্র গৃহে গমনকালে তোমার চরণ সাবধানে ফেলো; কারণ হীনবুদ্ধিদের মত কোরবানী করার চেয়ে বরং শুনবার জন্য উপস্থিত হওয়া ভাল; কেননা ওরা যে মন্দ কাজ করছে, তা বোঝে না।
2 তুমি নিজের মুখকে দ্রুত কথা বলতে দিও না এবং আল্লাহ্র সাক্ষাতে কথা বলতে তোমার কথাগুলো যেন দ্রুত না হয়; কেননা আল্লাহ্ বেহেশতে ও তুমি দুনিয়াতে, অতএব তোমার কথা অল্প হোক।
3 কারণ স্বপ্ন বহুকষ্টসহ উপস্থিত হয়, আর হীনবুদ্ধি কথা অনেক কথা বললে বোকামী বের হয়ে আসে।
4 আল্লাহ্র কাছে মানত করলে তা পরিশোধ করতে বিলম্ব করো না, কারণ হীনবুদ্ধি লোকদের উপর তাঁর সন্তোষ নেই; যা মানত করবে, তা পরিশোধ করো।
5 মানত করে না দেওয়ার চেয়ে বরং তোমার মানত না করাই ভাল।
6 তুমি তোমার কথার দরুন নিজেকে গুনাহ্র মধ্যে ডুবিয়ে দিও না; এবং “ওটা ভুল,” এমন কথা ফেরেশতার সাক্ষাতে বলো না; আল্লাহ্ কেন তোমার কথায় ক্রুদ্ধ হয়ে তোমার হাতের কাজ নষ্ট করবেন?
7 বস্তুত অনেক স্বপ্ন দেখা ও অনেক কথা বলা অসারতা বয়ে নিয়ে আসে; কিন্তু তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর।
8
তুমি দেশে দরিদ্রের জুলুম, কিংবা বিচার ও ধার্মিকতার খণ্ডন দেখলে সেই ব্যাপারে চমৎকৃত হয়ো না, কেননা উচ্চপদস্থ লোকের চেয়ে উচ্চতর পদান্বিত এক জন রক্ষক আছেন; আবার যিনি উচ্চতম, তিনি উভয়ের কর্তা।
9 আর দেশের ফল সকলেরই জন্য; ভূমির দ্বারা বাদশাহ্ সেবা পেয়ে থাকেন।
10
যে ব্যক্তি টাকা ভালবাসে, সে টাকায় তৃপ্ত হয় না; আর যে ব্যক্তি ধনরাশি ভালবাসে, সে ধনাগমে তৃপ্ত হয় না; এও অসার।
11 সম্পত্তি বাড়লে ভোক্তাও বাড়ে; আর দৃষ্টিসুখ ছাড়া সম্পত্তিতে সম্পত্তির মালিকদের কি ফল হয়?
12 শ্রমজীবী বেশি বা অল্প আহার করুক, নিদ্রা তার মিষ্ট লাগে; কিন্তু ধনবানের পূর্ণতা তাকে নিদ্রা যেতে দেয় না।
13
সূর্যের নিচে আমি এই বিষম অনিষ্ট দেখেছি যে, ধনাধিকারীর অনিষ্টের জন্যই ধন রক্ষিত হয়;
14 আর দুর্ঘটনায় সেই ধনের ক্ষয় হয় এবং যদিও সে সন্তানের পিতা, কিন্তু তার হাতে কিছুই নেই।
15 সে মাতৃগর্ভ থেকে উলঙ্গ আসে; যেমন আসে তেমনি উলঙ্গই পুনরায় চলে যায়; পরিশ্রম করলেও সে যা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে, এমন কিছুই নেই।
16 এও বিষম অনিষ্ট; সে যেমন আসে, সর্বতোভাবে তেমনি যায়; অতএব বায়ুর জন্য পরিশ্রম করার পর তার কি ফল দেখবে?
17 আর সে সারা জীবন অন্ধকারে আহার করে এবং তার বিষম বিরক্তি, অসুস্থতা ও ক্রোধ উপস্থিত হয়।
18
দেখ, আমি দেখেছি, এ-ই উত্তম ও মনোরঞ্জক, আল্লাহ্ মানুষকে যে কয় দিন পরমায়ু দেন, সেসব দিন সে যেন সূর্যের নিচে নিজের কর্তব্য সমস্ত পরিশ্রমের মধ্যে ভোজন পান ও সুখভোগ করে, কারণ এ-ই তার অংশ।
19 আবার আল্লাহ্ যে কোন ব্যক্তিকে ধন-সম্পত্তি দান করেন, তাকে তা ভোগ করতে, নিজের অংশ নিতে ও নিজের পরিশ্রমে আনন্দ করতে ক্ষমতা দেন, এও আল্লাহ্র দান।
20 কারণ সে নিজের পরমায়ুর দিনগুলো তত স্মরণ করবে না, কেননা আল্লাহ্ তার হৃদয়ের আনন্দে তাকে অধিকার করে রাখেন।
1
সূর্যের নিচে আমি একটা অনিষ্টের বিষয় দেখেছি, তা মানবজাতির জন্য ভীষণ কষ্টের;
2 আল্লাহ্ কোন ব্যক্তিকে এত ধন, সম্পত্তি ও গৌরব দেন যে, অভীষ্ট বস্তুগুলোর মধ্যে তার প্রাণের জন্য কিছুই অভাব থাকে না, তবুও আল্লাহ্ তা ভোগ করার ক্ষমতা তাকে দেন না, কিন্তু অপর লোক তা ভোগ করে; এও অসার ও অনিষ্টকর ব্যাধি।
3 কোন ব্যক্তি যদি এক শত পুত্রের জন্ম দিয়ে অনেক বছর বেঁচে দীর্ঘজীবী হয়, কিন্তু তার প্রাণ যদি মঙ্গলে তৃপ্ত না হয় এবং তার কবরও যদি না হয়, তবে আমি বলি, তা থেকে বরং গর্ভস্রাবও ভাল।
4 কেননা তা বাষ্পবৎ আসে ও অন্ধকারে চলে যায় ও তার নাম অন্ধকারে ঢাকা পড়ে;
5 আবার তা সূর্য দেখে নি ও কিছুই জানে নি; তবুও সেই মানুষের চেয়ে এর বেশি বিশ্রাম হয়।
6 সে যদিও দুই হাজার বছর জীবিত থাকে এবং কোন মঙ্গল ভোগ না করে তবে কি লাভ, সকলই কি এক স্থানে যায় না?
7
মানুষের সমস্ত পরিশ্রম তার মুখের জন্য, তবুও ক্ষুধা নিবৃত্ত হয় না।
8 বস্তুত হীনবুদ্ধির চেয়ে জ্ঞানবানের বিশেষ সুবিধা কি? আর জীবিতদের সাক্ষাতে চলতে জানে এমন দুঃখী লোকেরই বা কি উৎকর্ষ?
9 দৃষ্টিসুখ যত ভাল, প্রাণের লালসা তত ভাল নয়; এও অসার ও বায়ুর পিছনে দৌড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
10
যা হয়েছে, অনেক দিন হল তার নামকরণ হয়েছিল, কারণ সকলে জানে যে, সে মানুষ এবং নিজের চেয়ে পরাক্রান্ত লোকের সঙ্গে বিতণ্ডা করতে সে অপারগ।
11
যাতে অসারতা বাড়ে, এমন অনেক কথা আছে, তাতে মানুষের কি উৎকর্ষ?
12 বস্তুত জীবনকালে মানুষের মঙ্গল কি, তা কে জানে? তার অসার জীবনকাল তো সে ছায়ার মত যাপন করে; আর মানুষের মৃত্যুর পরে সূর্যের নিচে কি ঘটবে, তা তাকে কে জানাতে পারে?
1
উৎকৃষ্ট সুগন্ধি তেলের চেয়ে সুখ্যাতি ভাল এবং জন্মদিনের চেয়ে মরণদিন ভাল।
2 ভোজের বাড়িতে যাওয়ার চেয়ে মাতম-গৃহে যাওয়া ভাল, কেননা তা সকল মানুষের শেষগতি এবং জীবিত লোক তাতে মনোনিবেশ করবে।
3 হাসি থেকে মনস্তাপ ভাল, কারণ মুখের বিষণ্নতায় হৃদয় খুশি হয়।
4 জ্ঞানবানদের হৃদয় মাতম-গৃহে থাকে, কিন্তু হীনবুদ্ধিদের দিল আমোদ-গৃহে থাকে।
5 হীনবুদ্ধিদের গান শোনার চেয়ে জ্ঞানবানের ভর্ৎসনা শোনা ভাল।
6 কেননা যেমন হাঁড়ির নিচে কাঁটার চড়চড় আওয়াজ, তেমনি হীনবুদ্ধির হাসি; এও অসার।
7 জুলুম জ্ঞানবানকে পাগল করে তোলে এবং ঘুষ বুদ্ধি নষ্ট করে।
8 কাজের আরম্ভ থেকে তার অন্ত ভাল এবং গর্বিত লোকের চেয়ে ধীর লোক ভাল।
9 তোমার রূহ্কে তাড়াতাড়ি বিরক্ত হতে দিও না, কেননা হীনবুদ্ধি লোকদেরই বুক বিরক্তির আশ্রয়।
10 তুমি জিজ্ঞাসা করো না, বর্তমান কালের চেয়ে পূর্বকাল কেন ভাল ছিল? কেননা এই বিষয়ে তোমার জিজ্ঞাসা করা প্রজ্ঞা থেকে উৎপন্ন হয় না।
11 পৈতৃক ধনের মত প্রজ্ঞা ভাল; যারা সূর্য দর্শন করে তাদের পক্ষে আরও উৎকৃষ্ট।
12 কেননা প্রজ্ঞা আশ্রয়, ধনও আশ্রয় বটে, কিন্তু প্রজ্ঞার উৎকৃষ্টতা এই যে, প্রজ্ঞা নিজের অধিকারীর জীবন রক্ষা করে।
13 আল্লাহ্র কাজ নিরীক্ষণ কর, কারণ তিনি যা বাঁকা করেছেন, তা সরল করা কার সাধ্য?
14 সুখের দিনে সুখী হও এবং দুঃখের দিনে দেখ, আল্লাহ্ সুখ ও দুঃখ পাশাপাশি রেখেছেন, অভিপ্রায় এই, তারপর কি ঘটবে, তার কিছুই যেন মানুষ জানতে না পারে।
15
আমি নিজের অসারতার কালে এ সবই দেখেছি; কোন ধার্মিক লোক নিজের ধার্মিকতায় বিনষ্ট হয় এবং কোন দুষ্ট লোক নিজের দুষ্টতায় দীর্ঘ কাল যাপন করে।
16 অতি ধার্মিক হয়ো না ও নিজেকে অতিশয় জ্ঞানবান দেখিও না;
17 কেন নিজেকে নষ্ট করবে? অতি দুষ্ট হয়ো না, অজ্ঞানও হয়ো না; তোমার সময় না হতে কেন মরবে?
18 তুমি যদি তা ধরে রাখ এবং তা থেকেও হাত নিবৃত্ত না কর, তবে ভাল; কেননা যে আল্লাহ্কে ভয় করে, সে ঐ সমস্ত চরম অবস্থা থেকে উত্তীর্ণ হবে।
19
জ্ঞানবানকে প্রজ্ঞা যত বলবান করে, নগরস্থ দশ জন পরাক্রমী তত করে না।
20 এমন ধার্মিক লোক দুনিয়াতে নেই, যে সৎকর্ম করে, গুনাহ্ করে না।
21 যত কথা বলা যায়, সকল কথায় মন দিও না; দিলে হয় তো শুনবে, তোমার গোলাম তোমাকে বদদোয়া দিচ্ছে।
22 কেননা তুমিও অন্যকে পুনঃ পুনঃ বদদোয়া দিয়েছ, তা তোমার মন জানে।
23
আমি প্রজ্ঞা দ্বারা এগুলোর পরীক্ষা করলাম; আমি বললাম, জ্ঞানবান হব, কিন্তু জ্ঞান আমার কাছ থেকে দূরে ছিল।
24 যা আছে, তা দূরে রয়েছে; তা অতি গভীর কে তা পেতে পারে?
25 আমি ফিরলাম ও মনোনিবেশ করলাম, যেন জানতে ও অনুসন্ধান করতে পারি, প্রজ্ঞা ও তত্ত্ব খোঁজ করতে পারি, জানতে পারি যে, নাফরমানী হীনবুদ্ধিতা মাত্র, আর অজ্ঞানতা পাগলামী মাত্র।
26 তাতে মৃত্যুর চেয়েও তিক্ত পদার্থ পেলাম, অর্থাৎ সেই স্ত্রীলোক, যার অন্তঃকরণ ফাঁদ, জাল ও হাত শিকলস্বরূপ; যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রীতিজনক, সে তা থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু গুনাহ্গার তার দ্বারা ধৃত হবে।
27 হেদায়েতকারী বলছেন, দেখ, তত্ত্ব পাবার জন্য একটির পর একটি বিবেচনা করে আমি এটি পেয়েছি।
28 আমার মন এখনও যার খোঁজ করে আসছে, তা আমি পাই নি; হাজারের মধ্যে এক জন পুরুষকে পেয়েছি; কিন্তু সেই সবের মধ্যে একটি স্ত্রীলোককেও পাই নি।
29 দেখ, কেবল এ-ই জানতে পেয়েছি যে, আল্লাহ্ মানুষকে সরল করে নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু তারা জীবনকে অনেক জটিল করে তুলেছে।
1
জ্ঞানবানের মত কে? কে বস্তুর ব্যাখ্যা জানে? মানুষের প্রজ্ঞা তার মুখ উজ্জ্বল করে এবং তার মুখের কঠিনতা পরিবর্তন হয়।
2 আমার পরামর্শ এই, তুমি বাদশাহ্র হুকুম পালন কর; আল্লাহ্র সাক্ষাতে কৃত শপথ করেছ বলেই তা সম্পন্ন কর।
3 তাঁর সম্মুখ থেকে তাড়াতাড়ি চলে যেও না; মন্দ বিষয়ে লিপ্ত থেকো না; কেননা তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন।
4 কারণ বাদশাহ্র কথা অনেক শক্তিশালী, আর ‘তুমি কি করছো?’ এমন কথা তাঁকে কে বলতে পারে?
5 যে ব্যক্তি হুকুম পালন করে, সে কোন মন্দ বিষয় জানবে না; আর জ্ঞানবানের মন সঠিক সময় ও বিচার জানে।
6 বস্তুত সমস্ত ব্যাপারের জন্য উপযুক্ত সময় ও বিচার আছে; কারণ মানুষের দুঃখ তার পক্ষে অতিমাত্র।
7 কেননা কি ঘটবে, তা সে জানে না; কিভাবেই বা ঘটবে, তা তাকে কে জানাতে পারে?
8 বায়ুকে যেমন ধরে রাখবার ক্ষমতা কারো নেই তেমনি মরণদিনের উপরে কর্তৃত্ব কারো নেই এবং যুদ্ধের সময় কারো ছুটি পাওয়া সম্ভব হবে না, আর নাফরমানী দুষ্টকে উদ্ধার করবে না।
9
আমি এই সমস্ত কিছুই দেখেছি ও সূর্যের নিচে যেসব কাজ করা যায়, তার প্রতি মনোনিবেশ করেছি; কোন কোন সময়ে এক জন অন্যের উপরে তার অমঙ্গলের জন্য কর্তৃত্ব করে।
10
আমি এও দেখেছি যে, দুষ্টরা কবর পেল, সমাধি মধ্যে প্রবেশ করলো; কিন্তু যারা সদাচরণ করেছিল, তারা পবিত্র স্থান থেকে চলে গেল এবং নগরে লোকে তাদের ভুলে গেল; এও অসার।
11 দুষ্কর্মের দণ্ডাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর হয় না, এই কারণে বনি-আদমদের অন্তঃকরণ দুষ্কর্ম করতে সম্পূর্ণভাবে রত হয়।
12 গুনাহ্গার যদিও শতবার দুষ্কর্ম করে দীর্ঘকাল থাকে, তবুও আমি নিশ্চয় জানি, আল্লাহ্-ভীত লোকদের, যারা আল্লাহ্র সাক্ষাতে ভয় পায়, তাদের মঙ্গল হবে;
13 কিন্তু দুষ্ট লোকের মঙ্গল হবে না ও সে দীর্ঘকাল থাকবে না; তার আয়ু ছায়াস্বরূপ; কারণ সে আল্লাহ্র সাক্ষাতে ভীত হয় না।
14
দুনিয়াতে এই সব অসারতা সাধিত হয়; এমন ধার্মিক লোক আছে, যাদের প্রতি দুষ্টদের কর্মানুযায়ী ফল ঘটে; আবার এমন দুষ্ট লোক আছে, যাদের প্রতি ধার্মিকদের কর্মানুযায়ী ফল ঘটে; আমি বললাম, এও অসার।
15 তখন আমি আমোদের প্রশংসা করলাম, কেননা ভোজন পান ও আমোদ করা ছাড়া সূর্যের নিচে মানুষের আর ভাল কিছু নেই; সূর্যের নিচে আল্লাহ্দত্ত তার জীবনকালে সেটাই তার পরিশ্রমে তার সহবর্তী হবে।
16
আমি যখন প্রজ্ঞার তত্ত্ব জানতে এবং দুনিয়াতে যে কষ্ট ঘটে, তা দেখতে মনোনিবেশ করলাম,
17 মানুষের চোখ দিনরাত যখন নিদ্রা দেখে না তখন আল্লাহ্র সমস্ত কাজের বিষয়ে এই বিষয়টি দেখলাম, সূর্যের নিচে আল্লাহ্ যে কাজ করেছেন, মানুষ তার তত্ত্ব পেতে পারে না; কারণ যদিও মানুষ তার অনুসন্ধানের জন্য পরিশ্রম করে, তবুও তার তত্ত্ব পেতে পারে না; এমন কি, জ্ঞানবান লোকেও যদি বলে জানতে পারব, তবু তার প্রকৃত তত্ত্ব খুঁজে পায় না।
1
বস্তুত আমি এ সব বিষয় অনুসন্ধান করার জন্য এ সব বিষয়ে মনোনিবেশ করলাম; ধার্মিক ও জ্ঞানবান লোকেরা এবং তাদের সমস্ত কাজ আল্লাহ্র হস্তগত; মহব্বত বা ঘৃণা, তা মানুষ জানে না; সমস্তই তাদের সম্মুখে।
2 সকলের প্রতি নির্বিশেষে সকলই ঘটে; ধার্মিক বা দুষ্ট এবং ভাল বা মন্দ ও পাক বা নাপাক এবং কোরবানীদাতা বা যে কোরবানী দেয় না, সকলের প্রতি এক রকম ঘটনা হয়; ভাল যেমন, গুনাহ্গারও তেমনি এবং শপথকারী যেমন, শপথে ভয়কারীও তেমনি।
3 সূর্যের নিচে যত কাজ করা যায়, তার মধ্যে দুঃখের বিষয় যে, সকলের প্রতি এক রকম ঘটনা হয়; এছাড়া, বনি-আদমদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ এবং সারা জীবন পাগলামী তাদের হৃদয়ের মধ্যে থাকে, পরে তারা মৃতদের কাছে যায়।
4 কারণ কে অব্যাহতি পায়? সমস্ত জীবিত লোকের মধ্যে প্রত্যাশা আছে, কেননা মৃত সিংহের চেয়ে বরং জীবিত কুকুর ভাল।
5 কারণ জীবিত লোকেরা জানে যে, তারা মরবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না এবং তাদের আর কোন ফলও হয় না, কারণ লোকে তাদের বিষয় ভুলে যায়।
6 তাদের মহব্বত, তাদের ঘৃণা ও তাদের ঈর্ষা সকল কিছুই বিনষ্ট হয়ে গেছে; সূর্যের নিচে যে কোন কাজ করা যায়, তাতে কোনকালেও তাদের আর কোন অধিকার হবে না।
7
তুমি যাও, আনন্দপূর্বক তোমার খাদ্য গ্রহণ কর, হৃষ্টচিত্তে তোমার আঙ্গুর-রস পান কর, কেননা আল্লাহ্ আগে থেকেই তোমার সমস্ত কাজ গ্রাহ্য করে আসছেন।
8 তোমার কাপড় সর্বদা সাদা রংয়ের থাকুক, তোমার মাথায় তেলের অভাব না হোক।
9 সূর্যের নিচে আল্লাহ্ তোমাকে অসার জীবনের যত দিন দিয়েছেন, তোমার সেসব অসার দিন থাকতে তুমি নিজের প্রিয়া স্ত্রীর সঙ্গে সুখে জীবন যাপন কর, কেননা জীবনের মধ্যে এবং তুমি সূর্যের নিচে যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হচ্ছো, তার মধ্যে এ-ই তোমার অধিকার।
10 তোমার হাত যে কোন কাজ করতে পারে, তোমার শক্তির সঙ্গে তা কর; কেননা তুমি যে স্থানে যাচ্ছ, সেই পাতালে কোন কাজ কি সঙ্কল্প, বা বিদ্যা বা প্রজ্ঞা, কিছুই নেই।
11
আমি ফিরলাম ও সূর্যের নিচে দেখলাম যে, দ্রুতগামীদের দ্রুতগমন, বা বীরদের যুদ্ধ, বা জ্ঞানবানদের অন্ন, বা বুদ্ধিমানদের ধন, বা বিজ্ঞদেরই দয়া লাভ হয়, এমন নয়, কিন্তু সকলের কাছে সময় ও সুযোগ আসে।
12 বাস্তবিক মানুষও নিজের কাল জানে না; যেমন মাছ অশুভ জালে ধৃত হয়, কিংবা যেমন পাখিগুলো ফাঁদে ধৃত হয়, তেমনি বনি-আদমেরা অশুভকালে ধরা পড়ে, তা হঠাৎ তাদের উপরে এসে পড়ে।
13
আবার আমি প্রজ্ঞাকে সূর্যের নিচে এভাবে দেখেছি, আর তা আমার দৃষ্টিতে মহৎ বোধ হল।
14 একটি ক্ষুদ্র নগর ছিল, তাতে লোক অল্প ছিল; পরে মহান কোন বাদশাহ্ এসে তা বেষ্টন করে তার বিরুদ্ধে বড় বড় দুর্গ নির্মাণ করলেন।
15 আর ঐ নগরের মধ্যে এক জন জ্ঞানবান দরিদ্র লোককে পাওয়া গেল; সে তার প্রজ্ঞা দ্বারা নগরটি রক্ষা করলো, কিন্তু সেই দরিদ্র লোকটিকে কেউই স্মরণ করলো না।
16 তখন আমি বললাম, পরাক্রম থেকে প্রজ্ঞা উত্তম, তবুও দরিদ্রের প্রজ্ঞাকে তুচ্ছ করা হয় ও তার কথা কেউ শোনে না।
17
হীনবুদ্ধিদের মধ্যে কর্তৃত্বকারীর চিৎকারের চেয়ে জ্ঞানবানদের কথা শান্তি-স্থানে বেশি শোনা হয়।
18 যুদ্ধাস্ত্রের চেয়েও প্রজ্ঞা উত্তম, কিন্তু এক জন গুনাহ্গার বহু মঙ্গল বিনষ্ট করে।
1
মৃত মাছি দ্বারা বণিকের সুগন্ধি তেল দুর্গন্ধ হয় ও ফেনা ওঠে; প্রজ্ঞা ও সম্মানের চেয়ে যৎকিঞ্চিৎ অজ্ঞানতার ভার বোশ।
2 জ্ঞানবানের হৃদয় তার ডানে, কিন্তু হীনবুদ্ধির হৃদয় তার বামে থাকে।
3 আবার পথে চলবার সময়েও অজ্ঞানের হৃদয় জ্ঞানশূন্য থাকে, আর সে প্রত্যেক জনকে দেখায় যে, সে অজ্ঞান।
4 যদিও তোমার উপরে শাসনকর্তার মনে বিরুদ্ধ ভাব জন্মে, তবুও তোমার স্থান ছেড়ো না, কেননা শান্তভাব বড় বড় গুনাহ্ ক্ষান্ত করে।
5
আমি সূর্যের নিচে একটি মন্দ বিষয় দেখেছি, তা শাসনকর্তা থেকে উৎপন্ন ভুলের মত দেখায়;
6 অজ্ঞানতা অতি উচ্চপদে স্থাপিত হয় এবং ধনবানেরা নিচু পদে বসে।
7 আমি গোলামদেরকে ঘোড়ার উপরে এবং অধিপতিদেরকে গোলামের মত পায়ে হেঁটে চলতে দেখেছি।
8
যে খাদ খনন করে, সে তার মধ্যে পড়বে; ও যে ব্যক্তি বেড়া ভেঙ্গে ফেলে, সাপে তাকে দংশন করবে।
9 যে ব্যক্তি পাথর সরায় সে তাতেই ব্যথা পাবে ও যে ব্যক্তি কাঠ কাটে সে তাতে বিপদ্গ্রস্ত হবে।
10 লোহা ভোঁতা হলে ও তাতে ধার না দিলে তা চালাতে বেশি বল লাগে, কিন্তু প্রজ্ঞাই কৃতকার্য হবার উপযুক্ত উপায়।
11 মন্ত্রমুগ্ধ হবার আগে যদি সাপে কামড় দেয়, তবে মন্ত্র উচ্চারণে কোনো ফল নেই।
12
জ্ঞানবানের মুখ থেকে বের হওয়া কথা অনুগ্রহ নিয়ে আসে, কিন্তু হীনবুদ্ধির নিজের কথা তাকে গ্রাস করে।
13 তার মুখ থেকে বের হওয়া কথার আরম্ভটাই হল অজ্ঞানতা আর তার মুখের শেষফলটা হল দুঃখদায়ক প্রলাপ।
14 অজ্ঞান লোক অনেক কথা বলে; কিন্তু কি হবে, তা মানুষ জানে না; এবং তারপর কি হবে, তা তাকে কে জানাতে পারে?
15 হীনবুদ্ধি লোকের পরিশ্রম তাকে ক্লান্ত করে, কেননা নগরে কিভাবে যেতে হয় তা সে জানে না।
16
হে দেশ, ধিক্ তোমাকে, যদি তোমার বাদশাহ্ বালক হন ও তোমার শাসনকর্তারা যদি খুব ভোরে ভোজন করেন।
17 হে দেশ, সুখী তুমি, যদি কুলীন-পুত্র তোমার বাদশাহ্ হন এবং তোমার শাসনকর্তারা উপযুক্ত সময়ে ভোজন করেন, বলবৃদ্ধির জন্য, মত্ততার জন্য নয়।
18 অলসতার জন্য ছাদ বসে যায় ও হাতের শিথিলতার জন্য ঘরে পানি পড়ে।
19 হাসির জন্য ভোজ প্রস্তুত করা হয় এবং আঙ্গুর-রস জীবন আনন্দযুক্ত করে, আর টাকা সকলই যোগায়।
20 মনের মধ্যেও বাদশাহ্কে বদদোয়া দিও না, নিজের শয়নাগারে ধনীকে বদদোয়া দিও না; কেননা শূন্যের পাখি সেই আওয়াজ নিয়ে যাবে; যার পাখা আছে, সে সেই কথা জানাবে।
1
তুমি পানির উপরে তোমার খাবার ছড়িয়ে দাও, কেননা অনেক দিনের পরে তা পাবে।
2 সাত জনকে, এমন কি, আট জনকেও অংশ বিতরণ কর, কেননা দুনিয়াতে কি বিপদ ঘটবে তা তুমি জান না।
3 মেঘগুলো যখন বৃষ্টিতে পূর্ণ হয়, তখন ভূতলে পানি সেচন করে; এবং গাছ যখন দক্ষিণে কিংবা উত্তরে পড়ে, তখন সেই গাছ যে দিকে পড়ে, সে সেই দিকে থাকে।
4 যে জন বায়ু মানে, সে বীজ বপন করবে না; এবং যে জন মেঘ দেখে, সে শস্য কাটবে না।
5 রূহের গতি ও গর্ভবতীর উদরস্থ অস্থির বৃদ্ধি যেমন তুমি জান না, তেমনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্র কাজও তুমি জান না।
6 তুমি খুব ভোরে নিজের বীজ বপন কর এবং সন্ধ্যাবেলাও কাজ থেকে বিরত থেকো না। কেননা এটা কিংবা ওটা, কোন্টা সফল হবে, কিংবা উভয় সমভাবে উৎকৃষ্ট হবে, তা তুমি জান না।
7
সত্যিই, আলো সুন্দর এবং চোখের পক্ষে সূর্যদর্শন ভাল।
8 কোন মানুষ যদি অনেক বছর জীবিত থাকে, তবে সেই সকলে আনন্দ করুক, কিন্তু অন্ধকারের দিনগুলোও মনে রাখুক; কেননা সেই সকল দিন অনেক হবে। যা যা ঘটে, সে সবই অসার।
9
হে যুবক, তুমি তোমার তরুণ বয়সে আনন্দ কর, যৌবনকালে তোমার হৃদয় তোমাকে আহ্লাদিত করুক, তুমি তোমার হৃদয়ের আবেগ-তাড়িত পথগুলোতে ও তোমার চোখের দৃষ্টিতে চল; কিন্তু জেনো, আল্লাহ্ এসব ধরে তোমাকে বিচারে আনবেন।
10 অতএব তোমার অন্তর থেকে বিরক্তি দূর কর, শরীর থেকে দুঃখ অপসারণ কর, কেননা তরুণ বয়স ও জীবনের অরুণোদয়কাল অসার।
1
আর তুমি যৌবনকালে তোমার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ কর, যেহেতু দুঃসময় আসছে এবং সেসব বছর সন্নিকট হচ্ছে, যখন তুমি বলবে, এতে আমার প্রীতি নেই।
2 সেই সময়ে সূর্য, আলো, চন্দ্র ও তারাগুলো অন্ধকারময় হবে এবং বৃষ্টির পরে পুনর্বার মেঘ ফিরে আসবে।
3 সেই দিনে বাড়ির রক্ষকেরা ভয়ে কাঁপবে, পরাক্রমী ব্যক্তিরা নত হবে ও পেষণকারী লোকেরা সংখ্যায় অল্প হয়েছে বলে কাজ ত্যাগ করবে এবং জানালা দিয়ে দর্শনকারিণীরা অন্ধীভূতা হবে;
4 আর পথের দিকের দরজা রুদ্ধ হবে; তখন যাঁতার আওয়াজ অতি সূক্ষ্ম হবে এবং পাখির কূজনে লোকে উঠে দাঁড়াবে ও বাদ্যকারিণী কন্যারা সকলে ক্ষীণ হবে।
5 আবার লোকে উঁচু স্থানে যেতে ভয় পাবে ও পথে ত্রাস হবে, কদম গাছে ফুল ফুটবে, ফড়িং অতি কষ্টে চলবে; ও কামনা নিস্তেজ হবে; কেননা মানুষ তার নিত্যস্থায়ী নিবাসে চলে যাবে ও মাতমকারীরা পথে পথে বেড়াবে।
6 সেই সময়ে রূপার তার খুলে যাবে, সোনার পানপাত্র ভেঙ্গে যাবে এবং ফোয়ারার ধারে কলস খণ্ড খণ্ড হবে ও কূপে পানি তোলার চাকা ভেঙ্গে যাবে।
7 আর ধূলি আগের মত মাটিতে প্রতিগমন করবে; এবং রূহ্ যাঁর দান, সেই আল্লাহ্র কাছে প্রতিগমন করবে।
8 হেদায়েতকারী বলছেন, অসারের অসার, সকলই অসার।
9
শেষ কথা, হেদায়েতকারী জ্ঞানবান ছিলেন; তাই তিনি লোকদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দিতেন এবং মনোনিবেশ ও বিবেচনা করতেন, অনেক প্রবাদ বিন্যাস করতেন।
10 হেদায়েতকারী উপযুক্ত শব্দের অনুসন্ধান করতেন এবং তিনি যা লিখেছেন তা খাঁটি ও সত্য।
11
জ্ঞানবানদের কথা রাখালের লাঠির মত, তাদের সঙ্কলিত কথাগুলো শক্ত করে পোঁতা গোঁজের মত, যেগুলো একই ভেড়ার রাখাল দ্বারা দেওয়া হয়েছে। আর শেষ কথা এই, হে বৎস, তুমি এসব থেকে উপদেশ গ্রহণ কর;
12 অনেক পুস্তক রচনার শেষ হয় না এবং অধ্যয়নের আধিক্যে শরীরের ক্লান্তি হয়।
13
এসো, আমরা সমস্ত বিষয়ের উপসংহার শুনি; আল্লাহ্কে ভয় কর ও তাঁর সমস্ত হুকুম পালন কর, কেননা এই সব মানুষের কর্তব্য।
14
কারণ আল্লাহ্ সমস্ত কাজ এমন কি, সমস্ত গুপ্ত বিষয় বিচারে আনবেন— তা ভাল হোক বা মন্দ হোক।
1
এটি সবচেয়ে সুন্দর গজল। এই গজল সোলায়মানের।
2
তিনি তাঁর মুখের চুম্বনে আমাকে চুম্বন করুন;
কারণ তোমার মহব্বত আঙ্গুর-রস থেকেও উত্তম।
3
তোমার সুগন্ধি তেল সৌরভে উৎকৃষ্ট;
তোমার নাম ঢেলে দেওয়া সুগন্ধি তেলের মত;
এই জন্যই কুমারীরা তোমাকে মহব্বত করে।
4
আমাকে আকর্ষণ কর।
আমরা তোমার পিছনে দৌড়াব।
বাদশাহ্ নিজের অন্তঃপুরে আমাকে এনেছেন।
আমরা তোমাতে উল্লসিতা হব, আনন্দ করবো,
আঙ্গুর-রস থেকেও তোমার প্রেমের কথা বেশি উল্লেখ করবো;
লোকে ন্যায়ত তোমাকে মহব্বত করে।
5
অয়ি জেরুশালেমের কন্যারা।
আমি কালো রংয়ের, কিন্তু সুন্দরী,
কায়দারের তাঁবুর মত, সোলায়মানের পর্দার মত।
6
তোমরা আমার প্রতি এভাবে দৃষ্টিপাত করো না যে, আমি কালো রংয়ের,
কারণ সূর্যই আমাকে বিবর্ণা করেছে।
আমার ভাইয়েরা আমার উপর রাগ করলো,
আমাকে সকল আঙ্গুরক্ষেতের রক্ষিকা করলো,
আমার নিজের আঙ্গুরক্ষেত আমি রক্ষা করি নি।
----
7
হে আমার প্রাণ-প্রিয়তম! আমাকে বল,
তুমি [পাল] কোথায় চরাচ্ছো?
মধ্যাহ্নকালে কোথায় শয়ন করাচ্ছো?
তোমার সখাদের পালের কাছে,
আমি কেন ঘোমটা দেওয়া নারীর মত হব?
8
অয়ি নারীকুল-সুন্দরী! তুমি যদি না জান,
তবে পালের পদচিহ্ন ধরে গমন কর,
এবং পালকদের তাঁবুগুলোর কাছে,
তোমার ছাগলের বাচ্চাগুলোকে চরাও।
9
ফেরাউনের রথের একটি স্ত্রী-ঘোড়ার সঙ্গে
অয়ি মম প্রিয়তমে! আমি তোমার তুলনা করেছি।
10
তোমার কানের দুল ঝুলছে তোমার গালের দু’পাশ দিয়ে,
হার তোমার গলায় শোভা পাচ্ছে।
11
আমরা তোমার জন্য সোনার অলংকার প্রস্তুত করবো,
তা রূপা দিয়ে সাজানো হবে।
----
12
যখন বাদশাহ্ সভায় বসলেন,
আমার জটামাংসীর সৌরভ ছড়াতে লাগল।
13
আমার প্রিয় আমার কাছে সুগন্ধির পুঁটলির মত,
যা আমার স্তনদ্বয়ের মাঝখানে সারা রাত শুয়ে থাকে।
14
আমার প্রিয় আমার কাছে মেহেদির পুষ্পগুচ্ছের মত,
যা ঐন্-গদীর আঙ্গুর-ক্ষেতে জন্মে।
----
15
দেখ, তুমি সুন্দরী,
অয়ি মম প্রিয়ে! দেখ, তুমি সুন্দরী,
তোমার নয়নযুগল কবুতরের মত।
----
16
হে আমার প্রিয়! দেখ, তুমি সুন্দর, হ্যাঁ, তুমি মনোহর,
আর আমাদের পালঙ্ক সবুজ রংয়ের।
17
এরস গাছ আমাদের বাড়ির কড়িকাঠ,
দেবদারু আমাদের বরগা।
1
আমি শারোণের গোলাপ,
উপত্যকার লিলি ফুল।
----
2
যেমন কাঁটাবনের মধ্যে লিলি ফুল,
তেমনি যুবতীদের মধ্যে আমার প্রিয়া।
----
3
যেমন বনের গাছপালার মধ্যে আপেল গাছ,
তেমনি যুবকদের মধ্যে আমার প্রিয়;
আমি পরমহর্ষে তাঁর ছায়াতে বসলাম,
তাঁর ফল আমার মুখে সুস্বাদু লাগল।
4
তিনি আমাকে পানশালাতে নিয়ে গেলেন,
আমার উপরে প্রেমই তাঁর নিশান হল।
5
তোমরা কিস্মিসের পিঠা দ্বারা আমাকে সুস্থির কর,
আপেল দ্বারা আমার প্রাণ জুড়াও;
কেননা আমি প্রেম-পীড়িতা।
6
তাঁর বাম হাত আমার মাথার নিচে থাকে,
তাঁর ডান হাত আমাকে আলিঙ্গন করে।
----
7
অয়ি জেরুশালেমের কন্যারা!
আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি,
কৃষ্ণসার ও মাঠের হরিণীদের কসম দিয়ে বলছি,
তোমরা প্রেমকে জাগিয়ো না, উত্তেজিত করো না,
যে পর্যন্ত তার বাসনা না হয়।
----
8
ঐ মম প্রিয়ের কণ্ঠস্বর! দেখ, তিনি আসছেন,
পর্বতমালার উপর দিয়ে,
উপপর্বতগুলোর উপর দিয়ে নৃত্য পরায়ণ হয়ে আসছেন।
9
আমার প্রিয় মৃগের ও হরিণের বাচ্চার মত;
দেখ, তিনি আমাদের প্রাচীরের পিছনে দাঁড়িয়ে,
জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছেন,
জাফ্রির মধ্য দিয়ে উঁকি মারছেন।
10
আমার প্রিয় কথা বললেন, আমাকে বললেন,
‘অয়ি মম প্রিয়ে! উঠ; অয়ি মম সুন্দরী! এসো;
11
কারণ দেখ, শীতকাল অতীত হয়েছে,
বর্ষা শেষ হয়ে গেছে,
12
ক্ষেতে ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছে,
পাখিদের গানের সময় হয়েছে,
আমাদের দেশে ঘুঘুর ডাক শোনা যাচ্ছে।
13
ডুমুর গাছের ফল রসযুক্ত হচ্ছে,
আঙ্গুরলতাগুলো মুকুলিত হয়েছে,
সেগুলো সৌরভ ছড়াচ্ছে।
অয়ি মম প্রিয়ে! উঠ;
অয়ি মম সুন্দরী! এসো।
14
অয়ি মম কপোতি! তুমি শৈলের ফাটলে,
ভূধরের গুপ্ত স্থানে রয়েছ,
আমাকে তোমার রূপ দেখতে দাও,
তোমার স্বর শুনতে দাও,
কেননা তোমার স্বর মিষ্ট ও তোমার রূপ মনোহর।’
15
তোমরা আমাদের জন্য সেই শিয়ালদেরকে,
ছোট শিয়ালদেরকে ধর,
যারা আঙ্গুরের বাগানগুলো নষ্ট করে;
কারণ আমাদের আঙ্গুরের বাগানগুলো মুকুলিত হয়েছে।
16
আমার প্রিয় আমারই, আর আমি তাঁরই;
তিনি লিলি ফুলবনে তার পাল চরান।
17
যতক্ষণ দিন শীতল না হয়,
ও ছায়াগুলো পালিয়ে না যায়,
হে আমার প্রিয়! ততক্ষণ তুমি ফিরে এসো,
আর কৃষ্ণসারের কিংবা হরিণের বাচ্চার মত হও,
বেথর পর্বতশ্রেণীর উপরে।
1
রাতের বেলায় আমি আমার বিছানায় আমার প্রাণ-প্রিয়তমের খোঁজ করছিলাম,
খোঁজ করছিলাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না।
2
বললাম, আমি এখন উঠে নগরে ভ্রমণ করবো,
গলিতে গলিতে ও চকে চকে ভ্রমণ করবো,
আমার প্রাণ-প্রিয়তমের খোঁজ করবো;
খোঁজ করেছিলাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না।
3
নগরে ভ্রমণকারী প্রহরীরা আমাকে দেখতে পেল,
আমি বললাম, তোমরা কি আমার প্রাণ-প্রিয়তমকে দেখেছ?
4
আমি তাদের কাছ থেকে একটু অগ্রসর হলাম,
তখনই আমার প্রাণ-প্রিয়তমকে পেলাম,
আমি তাঁকে ধরলাম, ছাড়লাম না,
যতক্ষণ নিজের মায়ের বাড়িতে না আনলাম,
আমার জননীর অন্তঃপুরে না আনলাম।
----
5
অয়ি জেরুশালেমের কন্যারা।
আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি,
কৃষ্ণসার ও মাঠের হরিণীদের কসম দিয়ে বলছি,
তোমরা প্রেমকে জাগিয়ো না, উত্তেজিত করো না,
যে পর্যন্ত তার বাসনা না হয়।
----
6
গন্ধরস ও কুন্দুরুতে সুবাসিত হয়ে,
বণিকের সমস্ত রকম দ্রব্যে সুবাসিত হয়ে,
ধোঁয়ার স্তম্ভের মত মরুভূমি থেকে আসছেন, উনি কে?
7
দেখ, ওটা সোলায়মানের পাল্কি,
ওর চারদিকে ষাটজন বীর আছেন,
ওরা ইসরাইলের বীরদের মধ্যবর্তী।
8
ওরা সকলে তলোয়ারধারী ও রণকুশল;
ওদের প্রত্যেকের কোমরে নিজের নিজের তলোয়ার বাঁধা আছে,
রাত্রিকালীন বিভীষিকার দরুন।
9
বাদশাহ্ সোলায়মান নিজের জন্য একটি চতুর্দোল নির্মাণ করলেন,
লেবাননের কাঠ দিয়ে তৈরি করলেন।
10
তিনি রূপা দিয়ে তার স্তম্ভ নির্মাণ করলেন,
সোনার তলদেশ ও বেগুনী রঙ্গের আসন করলেন,
এবং জেরুশালেমের কন্যাদের কর্তৃক মহব্বত দিয়ে তার মধ্যভাগ
খচিত হল।
11
অয়ি সিয়োন-কন্যারা।
তোমরা বাইরে গিয়ে বাদশাহ্ সোলায়মানকে নিরীক্ষণ কর;
তিনি সেই মুকুটে ভূষিত,
যা তাঁর মা তাঁর মাথায় দিয়েছিলেন,
তাঁর বিয়ের দিনে,
তাঁর অন্তরের আনন্দের দিনে।
----
1
অয়ি মম প্রিয়ে! দেখ, তুমি সুন্দরী,
দেখ, তুমি সুন্দরী;
ঘোমটার মধ্যে তোমার নয়নযুগল কবুতরের মত;
তোমার কেশপাশ এমন ছাগল পালের মত,
যারা গিলিয়দ-পর্বতের পাশে শুয়ে থাকে।
2
তোমার দাঁতগুলো ছিন্নলোমা ভেড়ীর পালের মত,
যারা গোসল করে উঠে এসেছে,
যাদের সকলের যমজ বাচ্চা আছে,
যাদের মধ্যে একটিও মৃত বাচ্চা নেই।
3
তোমার ওষ্ঠাধর লাল রংয়ের সুতার মত,
তোমার মুখ অতি মনোহর,
তোমার ঘোমটার মধ্যে তোমার গণ্ডদেশ ডালিম-খণ্ডের মত।
4
তোমার গলদেশ দাউদের সেই উচ্চগৃহের মত,
যা অস্ত্রাগারের জন্য নির্মিত,
যার মধ্যে এক হাজার ঢাল টাঙ্গান রয়েছে,
সে সমস্তই বীরদের ঢাল।
5
তোমার কুচযুগল দু’টি হরিণের বাচ্চার,
হরিণীর দু’টি যমজ বাচ্চার মত
যারা লিলি ফুলবনে চরে।
6
যতক্ষণ দিন শীতল না হয়,
ও ছায়াগুলো পালিয়ে না যায়,
ততক্ষণ আমি গন্ধরসের পর্বতে যাব,
আর কুন্দুরুর পর্বতে যাব।
7
অয়ি মম প্রিয়ে! তুমি সর্বাঙ্গসুন্দরী,
তোমাতে কোন খুঁত নেই।
8
আমারই সঙ্গে লেবানন থেকে এসো,
বধূ! আমারই সঙ্গে লেবানন থেকে এসো;
অবলোকন কর অমানার শৃঙ্গ থেকে,
শনীর ও হর্মোণ পর্বতের শৃঙ্গ থেকে,
সিংহদের বাসস্থান থেকে,
চিতা বাঘদের পর্বত থেকে।
9
তুমি আমার মন হরণ করেছ,
অয়ি মম ভগিনি! মম বধূ!
তুমি আমার মন হরণ করেছ,
তোমার এক পলকের চাহনি দ্বারা,
তোমার কণ্ঠের এক হার দ্বারা।
10
তোমার মহব্বত কেমন মনোরম!
অয়ি মম ভগিনি, মম বধূ!
তোমার মহব্বত আঙ্গুর-রস থেকে কত উৎকৃষ্ট!
তোমার তেলের সৌরভ সমস্ত সুগন্ধি দ্রব্যের চেয়ে কত উৎকৃষ্ট!
11
বধূ! তোমার ওষ্ঠাধর থেকে ফোঁটা ফোঁটা মধু ক্ষরে,
তোমার জিহ্বার তলে মধু ও দুধ আছে;
তোমার পোশাকের গন্ধ লেবাননের গন্ধের মত।
12
মম ভগিনি, মম কান্তা অর্গলবদ্ধ উপবন,
বন্ধ বাগান, সীলমোহর করা ফোয়ারা।
13
তোমার চারাগুলো ডালিমের উপবন,
তন্মধ্যে আছে সুস্বাদু ফল, জটামাংসীর সঙ্গে মেঁহেদি,
14
জটামাংসী ও জাফরান,
বচ, দারুচিনি ও সমস্ত রকম সুগন্ধি ধূপের গাছ,
গন্ধরস অগুরু ও প্রধান প্রধান সমস্ত সুগন্ধির তরু।
15
তুমি উপবনগুলোর উৎস,
তুমি জীবন্ত পানির কূপ,
লেবাননের প্রবাহিত স্রোতমালা।
----
16
হে উত্তরীয় বায়ু, জাগ, হে দখিনা বায়ু,
এসো, আমার উপবনে উপর দিয়ে বয়ে যাও;
উপবনের বিবিধ সুগন্ধি প্রবাহিত হোক,
আমার প্রিয় তার বাগানে আসুন,
নিজের উপাদেয় ফলগুলো আহার করুন।
----
17
আমি নিজের উপবনে এসেছি,
অয়ি মম ভগিনি! মম বধূ!
আমার গন্ধরস ও সুগন্ধি দ্রব্য সংগ্রহ করেছি,
আমার মধুসহ মধুচক্র চুষেছি,
আমার আঙ্গুর-রস ও দুধ পান করেছি।
হে বন্ধুরা! ভোজন কর; পান কর,
হে প্রিয়েরা, যথেষ্ট পান কর।
----
1
আমি নিদ্রিতা ছিলাম,
কিন্তু আমার হৃদয় জেগেছিল;
আমার প্রিয়ের স্বর,
তিনি দ্বারে আঘাত করে বললেন,
2
‘আমায় দুয়ার খুলে দাও;
অয়ি মম ভগিনি! মম প্রিয়ে! মম কপোতি! মম শুদ্ধমতি!
কারণ আমার মাথা ভিজে গেছে শিশিরে,
আমার কেশপাশ রাতের কুয়াশায়।’
3
‘আমি আমার পোশাক খুলেছি,
কেমন করে পরবো?
আমি পা দুখানি ধুয়েছি,
কেমন করে মলিন করবো?’
4
আমার প্রিয় দুয়ারের ছিদ্র দিয়ে তাঁর হাত ঢুকালেন,
তাঁর জন্য আমার অন্তর ব্যাকুল হল।
5
আমি আমার প্রিয়ের জন্য দুয়ার খুলতে উঠলাম;
তখন গন্ধরসে আমার হাত ভিজল,
আমার আঙ্গুল তরল গন্ধরসে ভিজল,
অর্গলের হাতলের উপরে।
6
আমি আমার প্রিয়ের জন্য দুয়ার খুলে দিলাম;
কিন্তু আমার প্রিয় ফিরে গিয়েছিলেন, চলে গিয়েছিলেন;
তিনি কথা বললে আমার প্রাণ উড়ে গিয়েছিল;
আমি তাঁর খোঁজ করলাম, কিন্তু পেলাম না,
আমি তাঁকে ডাকলাম, তিনি আমাকে জবাব দিলেন না।
7
নগরে ভ্রমণকারী প্রহরীরা আমাকে দেখতে পেল,
তারা আমাকে প্রহার করলো, ক্ষতবিক্ষত করলো,
প্রাচীরের প্রহরীরা আমার চাদর কেড়ে নিল।
8
অয়ি! জেরুশালেমের কন্যারা!
আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি,
তোমরা যদি আমার প্রিয়তমের দেখা পাও,
তবে তাঁকে বলো যে, আমি প্রেম-পীড়িতা।
----
9
অন্য প্রিয় থেকে তোমার প্রিয় কিসে বিশিষ্ট?
অয়ি নারীকুল-সুন্দরি!
অন্য প্রিয় থেকে তোমার প্রিয় কিসে বিশিষ্ট যে,
তুমি আমাদেরকে এরকম কসম দিচ্ছ?
10
আমার প্রিয়তম শ্বেত ও লাল রংয়ের;
তিনি দশ হাজারের মধ্যে অগ্রগণ্য।
11
তাঁর মাথা খাঁটি সোনার মত,
তাঁর কেশপাশ কুঞ্চিত ও দাঁড়কাকের মত কালো রংয়ের।
12
তাঁর নয়নযুগল স্রোতের ধারে থাকা এক জোড়া কবুতরের মত,
যেন দুধে গোশল করা ও পানির স্রোতের তীরে উপবিষ্ট।
13
তাঁর গণ্ডদেশ সুগন্ধি বাগানের কেয়ারি
ও আমোদকারী লতার স্তম্ভস্বরূপ;
তাঁর ওষ্ঠাধর লিলি ফুলের মত,
তরল গন্ধরস ক্ষরণকারী।
14
তাঁর হাত বৈদূর্যমণিতে খচিত সোনার আংটির মত;
তাঁর উদর নীলকান্তমণিতে খচিত হাতির দাঁতের শিল্পকর্মের মত।
15
তাঁর ঊরুদ্বয় সোনার চুঙ্গিতে বসান মারবেল পাথরের দু’টি থামের মত;
তাঁর দৃশ্য লেবাননের মত,
এরস গাছের মত উৎকৃষ্ট।
16
তাঁর কথা অতীব মধুর;
হ্যাঁ, তিনি সর্বতোভাবে মনোহর।
অয়ি জেরুশালেমের কন্যারা!
এই আমার প্রিয়, এই আমার সখা।
----
1
অয়ি নারীকুল-সুন্দরি!
তোমার প্রিয় কোথায় গেছেন?
তোমার প্রিয় কোন্ দিকের পথ ধরেছেন?
আমরা তোমার সঙ্গে তাঁর খোঁজ করবো।
----
2
আমার প্রিয়তম তার উপবনে সুগন্ধি ওষধির বাগানে গেছেন,
উপবনে পাল চরাবার জন্য ও লিলি ফুল তুলবার জন্য।
3
আমি আমার প্রিয়েরই ও আমার প্রিয় আমারই;
তিনি লিলি ফুলবনে পাল চরান।
----
4
অয়ি মম প্রিয়ে! তুমি তির্সা শহরের মত সুন্দরী,
জেরুশালেমের মত রূপবতী,
নিশান সহ বাহিনীর মত ভয়ঙ্করী।
5
তুমি আমা থেকে তোমার নয়ন দু’টি ফিরিয়ে নাও,
কেননা ওরা আমাকে ব্যাকুল করে তোলে;
তোমার কেশপাশ এমন ছাগল পালের মত,
যারা গিলিয়দের পাশে শুয়ে থাকে।
6
তোমার দাঁতগুলো ভেড়ীর পালের মত,
যারা গোসল করে উঠে এসেছে,
যাদের সকলের যমজ বাচ্চা আছে,
যাদের মধ্যে একটিও মৃত বাচ্চা নেই।
7
তোমার ঘোমটার মধ্যে তোমার গণ্ডদেশ ডালিম-খণ্ডের মত।
8
যদিও ষাটজন রাণী ও আশিজন উপপত্নী আছে,
আর অসংখ্য যুবতী আছে।
9
তবুও আমার ঘুঘু, আমার শুদ্ধমতি অদ্বিতীয়া;
সে তার মায়ের একমাত্র মেয়ে,
সে তার জননীর স্নেহপাত্রী;
তাকে দেখে কন্যারা সুখী বললো,
রাণীরা ও উপপত্নীরা তার প্রশংসা করলো।
----
10
উনি কে, যিনি অরুণের মত উদীয়মানা,
চন্দ্রের মত সুন্দরী,
সূর্যের মত তেজস্বিনী,
পতাকাবাহী বাহিনীর মত ভয়ঙ্করী?
11
আমি উপত্যকার নবীন গাছ দেখতে,
আঙ্গুরলতা পল্লবিত হয় কি না দেখতে,
দেখতে ডালিমের ফুল ফোটে কি না দেখতে,
বাদাম গাছের উপবনে নেমে গেলাম।
12
আমি কিছু বুঝবার আগেই আমার বাসনা আমাকে বসিয়ে দিল
আমার জাতির রাজকীয় রথের মধ্যে।
----
13
ফেরো ফেরো, অয়ি শূলম্মীয়ে;
ফেরো ফেরো, আমরা তোমাকে দেখব।
শূলম্মীয়াকে তোমরা কেন দেখবে?
মহনয়িমের নৃত্য দেখার মত কেন দেখবে?
----
1
অয়ি রাজকন্যে! পাদুকায় তোমার চরণ কেমন শোভা পাচ্ছে!
তোমার গোলাকার ঊরুদ্বয় সোনার হারস্বরূপ।
নিপুণ শিল্পীর হাতে তৈরি সোনার হারস্বরূপ।
2
তোমার দেহ এমন গোলাকার পাত্রের মত,
যাতে মিশানো আঙ্গুর-রসের অভাব নেই।
তোমার কোমর এমন গমের আঁটির মত,
যা লিলি ফুলের শ্রেণীতে শোভিত।
3
তোমার স্তনযুগল দুই হরিণের বাচ্চার মত,
হরিণীর যমজ বাচ্চার মত।
4
তোমার গলদেশ হাতির দাঁতের উঁচু গৃহের মত;
তোমার নয়নযুগল হিশ্বনের বৎ-রব্বীম ফটকের নিকটবর্তী পুস্করণীগুলোর মত;
তোমার নাসিকা লেবাননের সেই উঁচু গৃহের মত,
যা দামেস্কের দিকে মুখ করা।
5
তোমার দেহের উপর তোমার মাথা কর্মিল পর্বতের মত;
তোমার মাথার কেশপাশ বেগুনী রংয়ের মত,
তোমার কেশপাশে বাদশাহ্ বন্দী আছেন।
6
হে প্রেম, বিচিত্র আমোদের মধ্যে তুমি কেমন সুন্দরী ও মনোহারিণী!
----
7
তোমার এই উচ্চতা খেজুর গাছের মত,
তোমার কুচযুগ আঙ্গুরগুচ্ছস্বরূপ।
8
আমি বললাম, আমি খেজুর গাছে উঠবো,
আমি তার ফলের ছড়া ধরবো;
তোমার কুচযুগ আঙ্গুর ফলের গুচ্ছস্বরূপ হোক,
তোমার নিশ্বাসের গন্ধ আপেলের মত হোক;
9
তোমার তালু উত্তম আঙ্গুর-রসের মত হোক,
যা সহজে আমার প্রিয়ের গলায় নেমে যায়,
নিদ্রাগতদের ওষ্ঠ দিয়ে সরে যায়।
10
আমি আমার প্রিয়েরই, তাঁর বাসনা আমারই প্রতি।
11
হে আমার প্রিয়, চল, আমরা জনপদে যাই,
পল্লীগ্রামে কাল যাপন করি।
12
চল, খুব ভোরে উঠে আঙ্গুর-ক্ষেতে যাই,
দেখি, আঙ্গুরলতা পল্লবিত হয়েছে কি না,
তাতে মুকুল ধরেছে কি না,
ডালিম ফুল ফুটেছে কি না;
সেখানে তোমাকে আমার মহব্বত নিবেদন করবো।
13
দূদাফল সৌরভ বিস্তার করছে;
আমাদের দুয়ারে দুয়ারে নতুন ও পুরানো সমস্ত রকম উত্তম উত্তম ফল আছে;
হে আমার প্রিয়,
আমি তোমারই জন্য তা রেখেছি।
1
আহা, তুমি যদি আমার ভাইয়ের মত হতে,
যে আমার মাতার স্তন্য পান করতো,
তবে আমি তোমাকে সড়কে পেলে চুম্বন করতাম,
তবুও কেউ আমাকে তুচ্ছ করতো না।
2
আমি তোমাকে পথ দেখাতাম,
আমার মাতার বাড়িতে নিয়ে যেতাম;
তুমি আমাকে শিক্ষা প্রদান করতে,
আমি তোমাকে সুগন্ধ মিশানো আঙ্গুর-রস পান করাতাম,
আমার ডালিমের মিষ্ট রস পান করাতাম।
3
তাঁর বাম হাত আমার মাথার নিচে থাকতো,
তাঁর ডান হাত আমাকে আলিঙ্গন করতো।
----
4
অয়ি জেরুশালেম-কন্যারা!
আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি,
তোমরা প্রেমকে কেন জাগাবে?
কেন উত্তেজিত করবে, যে পর্যন্ত তার বাসনা না হয়?
----
5
উনি কে,
যিনি মরুভূমি থেকে উঠে আসছেন,
নিজের প্রিয়ের উপর ভর দিয়ে আসছেন?
----
আমি আপেল গাছের নিচে তোমাকে জাগালাম,
সেখানে তোমার মা তোমাকে নিয়ে প্রসব বেদনায় ভুগিয়েছিলেন,
সেখানে তোমার জননী ব্যথা সহ্য করেছিলেন,
ও তোমাকে প্রসব করেছিলেন।
----
6
তুমি আমাকে তোমার অন্তরে মুদ্রাঙ্কিত করে রাখ,
তোমার বাহুর মধ্যে আবদ্ধ করে রাখ;
কেননা মহব্বত মৃত্যুর মত বলবান;
অন্তর্জ্বালা পাতালের মত নিষ্ঠুর;
তার শিখা আগুনের শিখা, তা মাবুদেরই আগুন।
7
অনেক পানি মহব্বত নিবিয়ে দিতে পারে না,
অনেক নদী তা ডুবিয়ে দিতে পারে না;
কেউ যদি মহব্বতের জন্য বাড়ির সর্বস্ব দেয়,
লোকে তাকে যার-পর-নাই তুচ্ছ জ্ঞান করে।
----
8
‘আমাদের একটি ছোট বোন আছে, তার কুচযুগ নেই;
আমরা নিজের বোনের জন্য সেদিন কি করবো,
যে দিনে তার বিষয়ে প্রস্তাব হবে?
9
সে যদি প্রাচীরস্বরূপা হয়,
তার উপরে রূপার গম্বুজ নির্মাণ করবো,
সে যদি দ্বারস্বরূপা হয়,
এরস কাঠের কবাট দিয়ে তা ঘিরে রাখব।’
----
10
আমি প্রাচীরস্বরূপা এবং আমার কুচযুগ তার উঁচু গৃহের মত;
তখন তাঁর চোখে শান্তি আনয়নকারীর মত হলাম।
11
বাল্-হামোনে সোলায়মানের একটি আঙ্গুরক্ষেত ছিল,
তিনি তা কৃষকদেরকে জমা দিয়েছেন;
তার ফলের মূল্য হিসেবে প্রত্যেকে এক এক হাজার মুদ্রা দেবে।
12
আমার নিজের আঙ্গুরক্ষেত আমার সম্মুখে;
হে সোলায়মান, সেই হাজার মুদ্রা তোমারই হবে।
দুই শত মুদ্রা কৃষকদের থাকবে।
----
13
অয়ি উপবন-বাসিনী!
সখারা তোমার স্বর শুনবার জন্য কান পেতে আছে,
আমাকে তা শুনতে দাও।
----
14
হে আমার প্রিয়, শীঘ্র চল,
সুগন্ধময় পর্বতশ্রেণীর উপরে,
কৃষ্ণসার কিংবা হরিণের বাচ্চার মত হও।
1
আমোজের পুত্র ইশাইয়ার দর্শন, যা তিনি এহুদার বাদশাহ্ ঊষিয়, যোথম, আহস ও হিষ্কিয়ের সময়ে এহুদার ও জেরুশালেমের বিষয়ে দেখতে পেয়েছিলেন।
2
হে আসমান শোন, হে দুনিয়া কান দাও, কেননা মাবুদ বলেছেন। আমি সন্তানদের লালন-পালন করেছি ও বড় করে তুলেছি, আর তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
3 গরু তার মালিককে জানে, গাধা তার মালিকের যাবপাত্র চেনে, কিন্তু ইসরাইল জানে না, আমার লোকেরা বিবেচনা করে না।
4 আহা গুনাহ্গার জাতি, অপরাধে ভারগ্রস্ত লোক, দুষ্কর্মকারীদের বংশ, ভ্রষ্টাচারী সন্তানেরা; তারা মাবুদকে ত্যাগ করেছে, ইসরাইলের পবিত্রতমকে অবজ্ঞা করেছে, বিপথে গেছে, বিমুখ হয়েছে।
5
তোমারা আর কেন মার খাবে? কেন বিদ্রোহ করতেই থাকবে? তোমাদের গোটা মাথাটাই অসুস্থ ও গোটা হৃদয়টাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
6 পায়ের তলা থেকে মাথা পর্যন্ত কোন স্থানে স্বাস্থ্য নেই; কেবল আঘাত ও প্রহারের চিহ্ন ও নতুন ক্ষত; তা পরিষ্কার করা কি বাঁধা হয় নি এবং তেল দিয়ে কোমলও করা হয় নি।
7
তোমাদের দেশ ধ্বংসস্থান, তোমাদের সমস্ত নগর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; তোমাদের ভূমি বিদেশী লোকেরা তোমাদের সাক্ষাতে ভোগ করছে, তা বিদেশীদের দ্বারা বিনষ্ট ভূমির মত ধ্বংসস্থান হয়েছে।
8 আঙ্গুর-ক্ষেতের কুটির, শশা-ক্ষেতের কুঁড়ে-ঘর কিংবা অবরুদ্ধ নগর যেমন, সিয়োন-কন্যা তেমনি হয়ে পড়েছে।
9 বাহিনীগণের মাবুদ যদি আমাদের জন্য যৎকিঞ্চিৎ অবশিষ্ট না রাখতেন, তবে আমরা সাদুমের মত হতাম, আমুরার মত হতাম।
10
সাদুমের শাসনকর্তারা, মাবুদের কালাম শোন,; আমুরার লোকেরা, আমাদের আল্লাহ্র শরীয়তে কান দাও।
11 মাবুদ বলছেন, তোমাদের অনেক কোরবানীর আমার প্রয়োজন কি? ভেড়ার পোড়ানো-কোরবানীতে ও পুষ্ট পশুর মেদে আমার আর রুচি নেই; ষাঁড়ের বা ভেড়ার, বা ছাগলের রক্তে আমি কোন আনন্দ পাই না।
12 তোমরা যে আমার সাক্ষাতে উপস্থিত হয়ে আমার সমস্ত প্রাঙ্গণ পদতলে দলিত কর, তা তোমাদের কাছে কে চেয়েছে?
13 অসার নৈবেদ্য আর এনো না; ধূপ জ্বালানো আমার কাছে ঘৃণা লাগে; অমাবস্যা, বিশ্রামবার, মাহ্ফিলের আহ্বান— আমি অধর্মযুক্ত ঈদের সভাগুলো সইতে পারি না।
14 আমার প্রাণ তোমাদের অমাবস্যা ও নিরূপিত উৎসবগুলো ঘৃণা করে; সেসব আমার পক্ষে বোঝার মত হয়েছে, আমি সেসব বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
15 তোমরা মুনাজাতের জন্য হাত তুললে আমি তোমাদের থেকে আমার চোখ বন্ধ করে রাখব; যদিও অনেক মুনাজাত কর, তবুও শুনব না; তোমাদের হাত রক্তে পরিপূর্ণ।
16 তোমরা নিজেদের ধুয়ে নাও, বিশুদ্ধ কর, আমার দৃষ্টিসীমা থেকে তোমাদের নাফরমানী কাজ দূর কর; কদাচরণ ত্যাগ কর;
17 সদাচরণ শিক্ষা কর, ন্যায়বিচারের অনুশীলন কর, জুলুমবাজ লোককে শাসন কর, এতিম লোকের বিচার নিষ্পত্তি কর, বিধবার পক্ষ সমর্থন কর।
18
মাবুদ বলছেন, এসো, আমরা উত্তর প্রত্যুত্তর করি; তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ লাল রংয়ের হলেও তুষারের মত সাদা রংয়ের হবে; রক্তের মত লাল হলেও ভেড়ার লোমের মত সাদা হবে।
19 তোমরা যদি সম্মত ও বাধ্য হও, তবে দেশের ভাল ভাল ফল ভোগ করবে।
20 কিন্তু যদি অসম্মত ও বিরুদ্ধাচারী হও, তবে তলোয়ার তোমাদের ধ্বংস করবে; কেননা মাবুদের মুখ এই কথা বলেছে।
21
সতী নগরী কেমন পতিতা হয়েছে; সে তো ন্যায়বিচারে পূর্ণা ছিল। ধার্মিকতা তাতে বাস করতো, কিন্তু এখন হত্যাকারী লোকেরা থাকে।
22 তোমার রূপা খাদ হয়ে পড়েছে, তোমার আঙ্গুর-রস পানিতে মিশানো হয়েছে।
23 তোমার শাসনকর্তারা বিদ্রোহী এবং চোরদের সখা; তাদের প্রত্যেকে ঘুষ ভালবাসে ও আর উপহার পেতে চায়; তারা এতিম লোকের বিচার নিষ্পত্তি করে না এবং বিধবার ঝগড়া তাদের কাছে আসতে দেওয়া হয় না।
24
এজন্য প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের বীর বলেন, আহা, আমি বিপক্ষদের উপর গজব ঢেলে দিয়ে শান্তি পাব ও আমার দুশমনদেরকে প্রতিশোধ দেব।
25 আর তোমার বিরুদ্ধে আমার হাত তুলব, ক্ষার দ্বারা তোমার খাদ উড়িয়ে দেব ও তোমার সমস্ত সীসা দূর করবো।
26 আর আগে যেমন ছিল, তেমনি পুনর্বার তোমাকে শাসনকর্তাদের দেব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রিদের দেব; এর পরে তুমি ‘ধার্মিকতার পুরী, সতী নগরী’ নামে আখ্যাত হবে।
27
সিয়োন ন্যায়বিচার দ্বারা ও তার যে লোকেরা ফিরে আসে, তারা ধার্মিকতা দ্বারা মুক্তি পাবে।
28 কিন্তু অধর্মাচারী ও গুনাহ্গার সকলের বিনাশ একসঙ্গে ঘটবে ও যারা মাবুদকে ত্যাগ করে, তারা বিনষ্ট হবে।
29 বস্তুত লোকে তোমাদের আনন্দদানকারী এলা গাছগুলোর বিষয়ে লজ্জা পাবে এবং তোমরা নিজেদের মনোনীত বাগানগুলোর বিষয়ে হতাশ হবে।
30 কেননা তোমরা এলা গাছের শুকনো পাতা ও পানিহীন বাগানের মত হবে।
31 আর শক্তিশালী ব্যক্তি শুকনো খড়ের মত ও তার কাজ আগুনের ফুলকির মত হবে; উভয়ই একসঙ্গে জ্বলতে থাকবে, কেউ নিভাতে পারবে না।
1
আমোজের পুত্র ইশাইয়া এহুদার ও জেরুশালেমের বিষয়ে এই কালামের দর্শন পান।
2
শেষকালে এরকম ঘটবে; মাবুদের গৃহের পর্বত পর্বতমালার মস্তক হিসেবে স্থাপিত হবে, উপপর্বতগুলো থেকে উঁচুতে তোলা হবে এবং সমস্ত জাতি তার দিকে স্রোতের মত প্রবাহিত হবে।
3 আর অনেক দেশের লোক যাবে, বলবে, চল, আমরা মাবুদের পর্বতে, ইয়াকুবের আল্লাহ্র গৃহে গিয়ে উঠি; তিনি আমাদেরকে নিজের পথের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন, আর আমরা তাঁর পথে গমন করবো, কারণ সিয়োন থেকে শরীয়ত ও জেরুশালেম থেকে মাবুদের কালাম বের হবে।
4 আর তিনি জাতিদের বিচার করবেন এবং অনেক দেশের লোক সম্বন্ধে নিষ্পত্তি করবেন; আর তারা নিজ নিজ তলোয়ার ভেঙ্গে লাঙ্গলের ফাল গড়বে ও নিজ নিজ বর্শা ভেঙ্গে কাস্তে গড়বে; এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর তলোয়ার তুলবে না, তারা আর যুদ্ধ শিখবে না।
5
ইয়াকুবের কুল, চল, আমরা মাবুদের নূরে চলাফেরা করি।
6
বস্তুত তুমি নিজের লোকদের, ইয়াকুবের কুলকে ত্যাগ করেছ, কারণ তারা পূর্বদেশের প্রথায় পরিপূর্ণ ও ফিলিস্তিনীদের মত গণক হয়েছে এবং বিজাতি সন্তানদের হাতে হাত মিলিয়েছে।
7 আর তাদের দেশ রূপা ও সোনায় পরিপূর্ণ, তাদের ধনরাশির সীমা নেই; তাদের দেশ ঘোড়ায় পরিপূর্ণ এবং রথ যে কত তার হিসেব নেই।
8 আর তাদের দেশ মূর্তিতে পরিপূর্ণ, তারা নিজেদের হাতে তৈরি বস্তুর কাছে সেজদা করে, তা তো তাদেরই আঙ্গুল দিয়ে তৈরি করেছে।
9 আর সামান্য লোক অধোমুখ হয়, মান্য লোক অবনত হয়; অতএব তুমি তাদেরকে মাফ করো না।
10
তোমরা শৈলে প্রবেশ কর ও ধূলিতে লুকাও,
মাবুদের ভয়ংকরতা এবং তাঁর মহিমার উজ্জ্বলতা থেকে।
11
গর্বিত লোকের চাহনি অবনত করা হবে,
মান্য লোকদের গর্ব খর্ব হবে,
আর সেদিন কেবল মাবুদই উন্নত হবেন।
12
বস্তুত যা কিছু অহংকারী ও উদ্ধত এবং যা কিছু উঁচুতে তুলে ধরা হয়েছে, সেই সবকিছুর প্রতিকূলে বাহিনীগণের মাবুদের একদিন আসছে; সেসব নত হবে।
13 সেদিন লেবাননের উঁচু ও উন্নত সমস্ত এরস গাছের বিরুদ্ধে, বাশনের সমস্ত অলোন গাছের বিরুদ্ধে,
14 সমস্ত উঁচু পর্বতের বিরুদ্ধে, সমস্ত উন্নত পাহাড়ের বিরুদ্ধে,
15 সমস্ত উঁচু উচ্চগৃহের বিরুদ্ধে,
16 সমস্ত দৃঢ় প্রাচীরের বিরুদ্ধে, তর্শীশের সমস্ত জাহাজের বিরুদ্ধে এবং সমস্ত মনোহর শিল্পকর্মের বিরুদ্ধে যাবে।
17
আর মানুষের অহংকার অধোমুখ হবে,
মান্য লোকদের গর্ব খর্ব হবে;
18
আর সেদিন কেবল মাবুদই উন্নত হবেন।
19
আর সকল মূর্তি নিঃশেষে বিলুপ্ত হবে।
আর লোকেরা শৈলের গুহা ও ধূলির গর্তে প্রবেশ করবে,
মাবুদের ভয়ংকরতার দরুন ও তাঁর মহিমার উজ্জ্বলতার দরুন,
যখন তিনি দুনিয়াকে কাঁপাতে উঠবেন।
20
সেদিন মানুষ এবাদতের জন্য তৈরি নিজের রূপার ও সোনার সকল মূর্তি ইঁদুর ও চামচিকার কাছে নিক্ষেপ করবে;
21
আর পাহাড়ের গহ্বরে ও শৈলগুলোর ফাটলে প্রবেশ করবে,
মাবুদের ভয়ানকতার দরুন,
ও তাঁর মহিমার উজ্জ্বলতার দরুন,
যখন তিনি দুনিয়াকে কাঁপাতে উঠবেন।
22
তোমরা মানুষের আশ্রয় ছেড়ে যাও, যার নাকের আগায় তার প্রাণবায়ু থাকে; ফলে সে কিসের মধ্যে গণ্য?
1
বস্তুত দেখ, প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ জেরুশালেম ও এহুদা থেকে সাহায্য ও সাহায্যকারী, খাদ্য ও পানির সমস্ত সাহায্য দূর করবেন।
2 বীর ও যোদ্ধা, বিচারকর্তা, নবী, মন্ত্রজ্ঞ ও বৃদ্ধ,
3 পঞ্চাশপতি, সম্ভ্রান্ত লোক, মন্ত্রী, নিপুণ শিল্পী ও বশীকরণে জ্ঞানী, সকলেই দূর করে দেওয়া হবে।
4 আর আমি বালকদেরকে তাদের অধিপতি করবো, শিশুরা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করবে।
5 লোকেরা নির্যাতিত হবে, প্রত্যেকে অন্যের দ্বারা হবে, প্রত্যেক জন প্রতিবেশীর দ্বারা হবে; বালক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ও নিচ লোক সম্মানিত লোকদের বিরুদ্ধে অসম্মানের কাজ করবে।
6 মানুষ নিজের পিতৃকুলজাত ভাইকে ধরে বলবে, তোমার চাদর আছে, তুমি আমাদের শাসনকর্তা হও, এই বিনাশের অবস্থা তোমার শাসনের অধীন হোক;
7 সেদিন সে উচ্চৈঃস্বরে বলবে, আমি চিকিৎসক হব না, কারণ আমার বাড়িতে খাদ্য কিংবা কাপড় কিছুই নেই; আমাকে লোকদের শাসনকর্তা করো না।
8
বস্তুত জেরুশালেম বিনষ্ট হল ও এহুদা পড়ে গেল, কেননা তাদের জিহ্বা ও কাজ মাবুদের বিরুদ্ধে, তাঁর গৌরবময় উপস্থিতি তারা অগ্রাহ্য করে।
9 তাদের মুখের চেহারা তাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে; সাদুমের মত তারা নিজেদের গুনাহ্ প্রচার করে, গোপন করে না। ধিক্ তাদের প্রাণকে! কেননা তারা নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।
10
তোমরা ধার্মিকের বিষয় বল, তার মঙ্গল হবে; কেননা তারা নিজ নিজ কাজের ফলভোগ করবে।
11 ধিক্ দুষ্টকে! অমঙ্গল ঘটবে; কেননা তার কৃতকর্মের ফল তাকে দেওয়া হবে।
12 আমার লোকেরা! বালকেরা তাদের প্রতি জুলুম করে ও স্ত্রীলোকেরা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করে। হে আমার লোক, তোমার পথপ্রদর্শকেরাই তোমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়, ও তোমার চলাচলের পথ নষ্ট করে।
13
মাবুদ ঝগড়া করতে উঠেছেন, তিনি জাতিদের বিচার করতে দাঁড়িয়েছেন।
14 মাবুদ তাঁর লোকদের প্রাচীনবর্গকে ও শাসনকর্তাদেরকে বিচারে আনবেন; বলবেন, তোমরাই আঙ্গুরক্ষেত গ্রাস করেছ, দুঃখী লোক থেকে অপহৃত বস্তু তোমাদের বাড়িতে আছে।
15 তোমরা কি জন্য আমার লোকদেরকে নিপীড়ন করছো ও দুঃখীদের মুখ চুর্ণবিচুর্ণ করছো? বাহিনীগণের আল্লাহ্ মালিক, এই কথা বলছেন।
16
মাবুদ আরও বললেন, সিয়োনের কন্যারা গর্বিতা, তারা গলা বাড়িয়ে কটাক্ষ করে বেড়ায়, ছোট ছোট পদক্ষেপে চলে ও পায়ে রুণু রুণু আওয়াজ তোলে।
17 অতএব প্রভু সিয়োনের কন্যাদের মাথা কেশহীন করবেন ও মাবুদ তাদের মাথায় টাক পড়াবেন।
18
সেদিন প্রভু তাদের নূপুর, জালিবস্ত্র, চন্দ্রহার,
19 ঝুম্কা, চুড়ি, ঘোমটা,
20 ললাটভূষণ, পায়ের মল, কোমরের রেশমী ফিতা, আতরের শিশি, বাজু,
21 আংটি ও নাকের নোলক,
22 চিত্রিত কোর্তা, ঘাগরা, শাল, টাকার থলি,
23 আয়না, মসীনার কাপড়, পাগড়ী ও ওড়না কেড়ে নেবেন।
24 আর সুগন্ধির পরিবর্তে দুর্গন্ধ, ফিতার পরিবর্তে দড়ি, সুন্দর কেশবিন্যাসের পরিবর্তে কেশহীন মাথা, চাদরের পরিবর্তে চটের কাপড় ও সৌন্দর্যের পরিবর্তে দাগ হবে।
25 তোমরা পুরুষেরা তলোয়ার দ্বারা ও তোমার শক্তিশালী লোকেরা যুদ্ধে মারা পড়বে।
26 তার তোরণদ্বারগুলো কান্নাকাটি করবে ও মাতম করবে; আর সে উৎসন্না হয়ে ভূমিতে বসবে।
1
আর সেদিন সাত জন স্ত্রীলোক এক জন পুরুষকে ধরে বলবে, আমরা নিজেদেরই অন্ন ভোজন করবো, নিজেদেরই পোশাক পরবো; কেবল আমাদেরকে তোমার নামে আখ্যাত হবার অনুমতি দাও, তুমি আমাদের অপমান দূর কর।
2
সেদিন ইসরাইলের মধ্যে যারা বাঁচবে, তাদের পক্ষে মাবুদের তরুশাখা খুব সুন্দর ও মহিমাযুক্ত হবে এবং দেশের ফল শোভাময় ও সৌন্দর্য মণ্ডিত হবে।
3 আর সিয়োনে যে কেউ অবশিষ্ট থাকবে ও জেরুশালেমে যে কেউ বাকী থাকবে— জেরুশালেমে জীবিতদের মধ্যে যার যার নাম লেখা আছে— সে পবিত্র বলে আখ্যাত হবে।
4 আগে প্রভু বিচারের রূহ্ ও পুড়িয়ে দেবার রূহ্ দ্বারা সিয়োনের কন্যাদের ময়লা ধুয়ে ফেবেন এবং জেরুশালেমের মধ্য থেকে তার রক্ত দূর করে দেবেন।
5 আর মাবুদ সিয়োন পর্বতস্থ সমস্ত আবাস ও তার সভাগুলোর উপরে দিনের বেলা মেঘ ও ধোঁয়া এবং রাতে প্রজ্বলিত আগুনের তেজ সৃষ্টি করবেন, বস্তুত সকল প্রতাপের উপরে চন্দ্রাতপ থাকবে।
6 আর দিনের বেলা রৌদ্র থেকে ছায়া দেবার জন্য এবং ঝড় ও বৃষ্টির সময়ে আশ্রয় ও আচ্ছাদন-স্থান হবার জন্য একটি তাঁবু থাকবে।
1
আমি আমার প্রিয়ের উদ্দেশে তাঁর আঙ্গুরক্ষেতের বিষয়ে আমার প্রিয়ের একটি গজল-গান করি।
আমার প্রিয়ের একটি আঙ্গুরক্ষেত ছিল,
অতি উর্বর একটি পাহাড়ের চূড়ায়।
2
তিনি তার চারদিকে খনন করলেন,
তার পাথরগুলো তুলে ফেললেন,
সেই স্থানে উত্তম আঙ্গুরলতা রোপণ করলেন,
তার মাঝখানে উঁচু পাহারা-ঘর নির্মাণ করলেন,
আর আঙ্গুর মাড়াবার একটি কুণ্ডও খনন করলেন;
আর অপেক্ষা করলেন যে, আঙ্গুর ফল ধরবে,
কিন্তু ধরলো বন্য আঙ্গুর।
3
এখন হে জেরুশালেম-নিবাসীরা ও এহুদার সমস্ত লোক, আরজ করি, তোমরা আমার ও আমার আঙ্গুর-ক্ষেতের মধ্যে বিচার কর;
4 আমার আঙ্গুর-ক্ষেতে এমন আর কি করা যেত, যা আমি করি নি? আমি যখন অপেক্ষা করলাম যে, আঙ্গুর ফল ধরবে, তখন কেন তাতে বন্য আঙ্গুর ধরলো?
5 এখন শোন, আমি আমার আঙ্গুর-ক্ষেতের প্রতি যা করবো তা তোমাদেরকে জানাই; আমি তার বেড়া দূর করবো, তা ধ্বংস হবে, আমি তার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলবো, তা দলিত হবে।
6 আমি তা উৎসন্ন-স্থান করবো, তার লতা পরিষ্কার বা ভূমি খনন করা যাবে না, আর তা কাঁটাঝোপ ও কাঁটাগাছের জঙ্গল হবে এবং আমি মেঘমালাকে হুকুম দেব, যেন তাদের উপরে পানি বর্ষণ না করে।
7 ফলত ইসরাইল-কুল বাহিনীগণের মাবুদের আঙ্গুর-ক্ষেত এবং এহুদার লোকেরা তাঁর রমণীয় চারা; তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু দেখ, রক্তপাত; তিনি ধার্মিকতার অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু দেখ, দুঃখের কান্না।
8
ধিক্ তাদেরকে, যারা বাড়ির সঙ্গে বাড়ি যোগ করে,
ক্ষেতের সঙ্গে ক্ষেত সংযোগ করে,
অবশেষে আর স্থান থাকে না,
তোমাদেরকে দেশমধ্যে একাকী বাস করান হয়!
9
বাহিনীগণের মাবুদ আমাকে জানিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই অনেক বাড়ি ধ্বংসস্থান হবে, বড় ও সুন্দর হলেও সেই স্থানে কেউ বাস করবে না।
10
কারণ দশ বিঘা আঙ্গুর-ক্ষেতে এক বাৎ আঙ্গুর-রস উৎপন্ন হবে,
ও এক হোমর বীজে এক ঐফা মাত্র শস্য উৎপন্ন হবে।
11
ধিক্ তাদেরকে, যারা খুব সকালে ওঠে,
যেন সুরা পান করতে পারে;
যারা অনেক রাত পর্যন্ত বসে থাকে,
যতক্ষণ না আঙ্গুর-রস তাদেরকে উত্তপ্ত করে!
12
বীণা ও নেবল, তবল ও বাঁশী ও আঙ্গুর-রস,
এসব তাদের ভোজে বিদ্যমান;
কিন্তু তারা মাবুদের কাজ লক্ষ্য করে না,
তাঁর হাতের কাজ দেখলো না।
13
এই কারণে আমার লোকেরা জ্ঞানের অভাবের দরুন বন্দী হিসেবে নীত হয়, তাদের নেতৃবর্গ ক্ষুধার্ত ও তাদের জনগণ তৃষ্ণায় নিঃশেষিত হয়।
14 এই কারণ পাতাল তার উদর বিস্তার করেছে, অপরিমিতরূপে মুখ খুলে হা করেছে; আর ওদের আভিজাত্য, ওদের লোকারণ্য, ওদের কলহ এবং যারা ওদের মধ্যে উল্লাস করে সকলে সেখানে নেমে যাচ্ছে।
15
আর সামান্য লোক অধোমুখ হয়,
মান্য লোক অবনত হয় এবং
অহংকারীদের দৃষ্টি অবনত হয়।
16
কিন্তু বাহিনীগণের মাবুদ বিচারে উন্নত হন,
পবিত্রতম আল্লাহ্ ধর্মশীলতায় পবিত্র বলে মান্য হন।
17
আর ভেড়ার বাচ্চাগুলো যেমন নিজেদের চারণভূমিতে চরে, তেমনি চরবে,
বিদেশীরা হৃষ্টপুষ্ট লোকদের ধ্বংসস্থানগুলো উপভোগ করবে।
18
ধিক্ তাদেরকে, যারা মিথ্যার দড়ি দিয়ে অপরাধকে টেনে আনে,
আর যেন ঘোড়ার গাড়ির দড়ি দিয়ে গুনাহ্ টেনে আনে,
19
বলে, ‘তিনি তাড়াতাড়ি করুন,
নিজের কাজ তাড়াতাড়ি করুন,
যেন আমরা তা দেখতে পাই;
ইসরাইলের পবিত্রতমের মন্ত্রণা কাছে আসুক,
যেন আমরা তা জানতে পাই!’
20
ধিক্ তাদেরকে, যারা মন্দকে ভাল, আর ভালকে মন্দ বলে,
আলোকে আঁধার ও আঁধারকে আলো বলে ধরে,
মিষ্টকে তিক্ত, আর তিক্তকে মিষ্ট মনে করে!
21
ধিক্ তাদেরকে, যারা নিজ নিজ চোখে জ্ঞানবান,
নিজ নিজ দৃষ্টিতে বুদ্ধিমান!
22
ধিক্ তাদেরকে, যারা আঙ্গুর-রস পান করতে বীরপুরুষ,
আর সুরা মিশাতে বলবান;
23
যারা উৎকোচের জন্য দুষ্ট লোককে নির্দোষ করে,
আর ধার্মিককে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে!
24
অতএব আগুনের জিহ্বা যেমন নাড়া গ্রাস করে, শুকনো ঘাস যেমন আগুনের শিখায় পরিণত হয়, তেমনি তাদের মূল পচে যাওয়া কাঠের মত হবে ও তাদের ফুল ধুলার মত উড়ে যাবে। কেননা তারা বাহিনীগণের মাবুদের ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করেছে, ইসরাইলের পবিত্রতমের কালাম অবজ্ঞা করেছে।
25 এই কারণে নিজের লোকদের বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধে জ্বলে উঠেছেন, তিনি তাদের বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে আছেন এবং তাদেরকে আঘাত করেছেন; তাই উপপর্বতগুলো কেঁপে উঠলো ও ওদের লাশ সড়কের মধ্যে জঞ্জালের মত পড়ে রইলো।
এতেও তাঁর ক্রোধ নিবৃত্ত হয় নি,
কিন্তু এখনও তিনি তাঁর হাত বাড়িয়েই
রেখেছেন।
26
তিনি দূরবর্তী জাতিদের প্রতি নিশান তুলবেন, দুনিয়ার প্রান্তবাসীদের জন্য শিস্ দেবেন; আর দেখ, তারা অতি দ্রুত আসবে।
27 তাদের মধ্যে কেউ ক্লান্ত হবে না, হোঁচট খাবে না, কেউ ঢলে পড়বে না, ঘুমিয়ে পড়বে না; তাদের কোমরবন্ধনী খুলে যাবে না, তাদের জুতার ফিতা ছিঁড়বে না।
28 তাদের তীরগুলো ধারালো, তাদের সমস্ত ধনুকে চাড়া দেওয়া; তাদের ঘোড়াগুলোর খুর চক্মকি পাথরের মত, তাদের রথের চাকাগুলো ঘূর্ণিবাতাসের মত গণ্য হবে।
29 তাদের হুঙ্কার সিংহীর মত হবে; তারা সিংহের বাচ্চার মত হুঙ্কার করবে, হ্যাঁ, তারা গর্জে শিকার ধরবে, অবাধে নিয়ে যাবে, কেউ উদ্ধার করবে না।
30 তারা সেদিন এদের উপরে সমুদ্রগর্জনের মত গর্জে উঠবে; আর, কেউ যদি দেশের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, দেখ, অন্ধকার ও সঙ্কট, আর আলোও মেঘমণ্ডলে অন্ধকারময় হয়েছে।
1
যে বছর বাদশাহ্ উষিয়ের মৃত্যু হয়, আমি প্রভুকে একটি উঁচু ও উন্নত সিংহাসনে উপবিষ্ট দেখলাম; তাঁর রাজ-পোশাকের নিচের অংশে এবাদতখানা পূর্ণ হয়েছিল।
2 তাঁর কাছে সরাফগণ দণ্ডায়মান ছিলেন; তাঁদের মধ্যে প্রত্যেক জনের ছয়টি করে পাখা, প্রত্যেকে দু’টি পাখা দিয়ে নিজের মুখ আচ্ছাদন করেন ও দু’টি পাখা দ্বারা পা অচ্ছাদন করেন ও দু’টি পাখা দ্বারা উড়ে বেড়ান।
3 আর তাঁরা পরস্পর ডেকে বলতে লাগলেন,
‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র, বাহিনীগণের মাবুদ;
সমস্ত দুনিয়া তাঁর প্রতাপে পরিপূর্ণ।’
4
তখন ঘোষণাকারীর আওয়াজে প্রবেশ-দ্বারের কবাটগুলো কাঁপতে লাগল ও গৃহ ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হতে লাগল।
5
তখন আমি বললাম, হায়, আমি নষ্ট হলাম, কেননা আমি নাপাক-ওষ্ঠাধর মানুষ এবং নাপাক-ওষ্ঠাধর জাতির মধ্যে বাস করছি; আর আমার চোখ বাদশাহ্কে, বাহিনীগণের মাবুদকে দেখতে পেয়েছে।
6
পরে ঐ সরাফদের মধ্যে এক জন আমার কাছে উড়ে আসলেন, তাঁর হাতে ছিল একখানি জ্বলন্ত অঙ্গার, তিনি কোরবানগাহ্র উপর থেকে চিমটা দ্বারা তা নিয়েছিলেন।
7 আর তিনি আমার মুখে তা স্পর্শ করে বললেন, দেখ, এই তোমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করেছে, তোমার অপরাধ ঘুচে গেল ও তোমার গুনাহ্র কাফ্ফারা হল।
8
পরে আমি প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম; তিনি বললেন, আমি কাকে পাঠাব? আমাদের পক্ষে কে যাবে? আমি বললাম, এই আমি, আমাকে পাঠাও।
9
তখন তিনি বললেন, তুমি যাও, এই জাতিকে বল, তোমরা শুনতে থেকো, কিন্তু বুঝো না এবং দেখতে থেকে, কিন্তু জেনো না।
10 তুমি এই জাতির অন্তঃকরণ স্থূল কর, এদের কান ভারী কর ও এদের চোখ বন্ধ করে দাও, পাছে তারা চোখে দেখে, কানে শোনে, হৃদয়ে বোঝে এবং ফিরে আসে ও সুস্থ হয়।
11
তখন আমি বললাম, হে মালিক, কত দিন? তিনি বললেন, যতদিন সমস্ত নগর নিবাসবিহীন ও সমস্ত বাড়ি নরশূন্য এবং ভূমি ধ্বংস-স্থান হয়ে একেবারে উৎসন্ন না হয়, আর মাবুদ মানুষকে দূর না করেন,
12 এবং দেশের মধ্যে অনেক ভূমি একেবারে পরিত্যক্ত না হয়।
13 যদিও তার দশমাংশও থাকে, তবুও তাকে পুনর্বার গ্রাস করা যাবে; কিন্তু যেমন এলা ও অলোন গাছ ছিন্ন হলেও তার গুঁড়ি থাকে, তেমনি এই জাতির গুঁড়িস্বরূপ একটি পবিত্র বংশ থাকবে।
1
এহুদার বাদশাহ্ উষিয়ের পৌত্র যোথমের পুত্র আহসের সময়ে অরামের বাদশাহ্ রৎসীন ও ইসরাইলের বাদশাহ্ রমলিয়ের পুত্র পেকহ, জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন, কিন্তু যুদ্ধে তা জয় করতে পারলেন না।
2 তখন দাউদের কুলকে জানানো হল যে, অরাম আফরাহীমের সহায় হয়েছে। তাতে তাঁর ও তাঁর লোকদের হৃদয় আলোড়িত হল, যেমন বনের সমস্ত গাছ বায়ুর দ্বারা আলোড়িত হয়।
3
তখন মাবুদ ইশাইয়াকে বললেন, তুমি ও তোমার পুত্র শার-যাশূব উভয়ে আহসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য উপরিস্থ পুষ্করিণীর প্রণালীর মুখের কাছে ধোপাদের ক্ষেতের রাজপথে যাও এবং তাকে বল,
4 সাবধান, সুস্থির হও; ধোঁয়া ওঠা এই দুই কাঠের শেষ প্রান্ত থেকে, রৎসীন ও অরাম এবং রমলিয়ের পুত্রের ক্রোধের আগুনকে ভয় পেয়ো না, তোমার হৃদয়কে নিরাশ হতে দিও না।
5 অরাম, আফরাহীম ও রমলিয়ের পুত্র তোমার বিরুদ্ধে এই ধ্বংসের মন্ত্রণা করেছে, বলেছে,
6 এসো, আমরা এহুদার বিরুদ্ধে যাত্রা করি, তাকে ধ্বংস করি ও আমাদের পক্ষে যোগ দিতে তাকে বাধ্য করি এবং তার মধ্যে এক জনকে, টাবেলের পুত্রকে বাদশাহ্ করি।
7 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলছেন, তা স্থির থাকবে না এবং সিদ্ধও হবে না।
8 কেননা অরামের মাথা দামেস্ক ও দামেস্কের মাথা রৎসীন। আর পঁয়ষট্টি বছর গত হলে আফরাহীম বিনষ্ট হবে, আর জাতি হিসেবে থাকবে না।
9 আর আফরাহীমের মাথা সামেরিয়া ও সামেরিয়ার মাথা রমলিয়ের পুত্র। ঈমানে স্থির না থাকলে তোমরা কোনক্রমে স্থির থাকতে পারবে না।
10
মাবুদ আহসকে আবার বললেন,
11 তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে কোন চিহ্ন যাচ্ঞা কর, তা অধোলোক থেকে ঊর্ধ্বলোকে যে কোন স্থানে হতে পারে।
12
কিন্তু আহস বললেন, আমি যাচ্ঞা করবো না, মাবুদের পরীক্ষাও করবো না।
13
তিনি বললেন, হে দাউদের কুল, তোমরা একবার শোন, মানুষকে ক্লান্ত করা কি তোমাদের দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র বিষয় যে, আমার আল্লাহ্কেও ক্লান্ত করবে?
14 অতএব প্রভু নিজে তোমাদেরকে একটি চিহ্ন দেবেন; দেখ, এক জন কুমারী কন্যা গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করবে ও তাঁর নাম ইম্মানূয়েল [আমাদের সঙ্গে আল্লাহ্] রাখবে।
15 যা মন্দ তা অগ্রাহ্য করার এবং যা ভাল তা মনোনীত করার জ্ঞান পাবার সময়ে বালকটি দই ও মধু খাবে।
16 বাস্তবিক যা মন্দ তা অগ্রাহ্য করার ও যা ভাল তা মনোনীত করার জ্ঞান বালকটির না হতে, যে দেশের দুই বাদশাহ্কে তুমি ঘৃণা করছো, সে দেশ পরিত্যক্ত হবে।
17 এহুদা থেকে আফরাহীমের পৃথক হবার দিন থেকে যে রকম সময় কখনও হয় নি, মাবুদ তোমার প্রতি, তোমার লোকদের ও তোমার পিতৃ-কুলের প্রতি সেই রকম সময় উপস্থিত করবেন, আসেরিয়া দেশের বাদশাহ্কে আনবেন।
18
আর সেদিন মাবুদ মিসরের সমস্ত নদী প্রান্তস্থ মৌমাছির প্রতি ও আসেরিয়া দেশের মৌমাছির প্রতি শিস্ দেবেন।
19 তাতে তারা সকলে এসে উৎসন্ন উপত্যকাগুলোতে, শৈলের ছিদ্র সকলে, কাঁটাবনে ও মাঠে মাঠে বসবে।
20 সেদিন প্রভু ফোরাত নদীর পারস্থ ভাড়াটিয়া ক্ষুর দ্বারা, আসেরিয়ার বাদশাহ্র দ্বারা, মাথা ও পায়ের লোম ক্ষৌরি করে দেবেন এবং তা দিয়ে দাড়িও ফেলবেন।
21 সেদিন যদি কেউ একটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী ও দু’টি ভেড়া পোষে,
22 তবে তারা যে দুধ দেবে, সেই দুধের আধিক্যে সে দই খাবে; বস্তুত দেশের মধ্যে অবশিষ্ট সমস্ত লোক দই ও মধু খাবে।
23
আর সেদিন, যে যে স্থানে এক হাজার রূপার মুদ্রা মূল্যের এক হাজার আঙ্গুরলতা আছে, সেসব স্থান কাঁটাঝোপ আর কাঁটাগাছ হবে;
24 লোকে তীর ধনুক নিয়ে সেই স্থানে যাবে, কেননা সমস্ত দেশ কাঁটাঝোপ আর কাঁটাগাছের জঙ্গল হবে;
25 এবং যেসব পার্বত্য-ভূমি কোদাল দ্বারা খনন করা যায়, সেসব স্থানে কাঁটাঝোপের ও কাঁটার ভয়ে তুমি গমন করবে না; তা বলদের চরাণিস্থান ও ভেড়ার পদতলে দলিত হবার স্থান হবে।
1
পরে মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি একখানা বড় ফলক নাও এবং প্রচলিত অক্ষরে তাতে লেখ, ‘মহের-শালল-হাশ-বসের উদ্দেশে’;
2 এর প্রমাণের জন্য আমি ঊরিয় ইমাম ও যিবেরিখিয়ের পুত্র জাকারিয়া, এই দুই বিশ্বস্ত পুরুষকে নিজের সাক্ষী করবো।
3
পরে আমি আমার স্ত্রী মহিলা-নবীতে গমন করলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করলেন। তখন মাবুদ আমাকে বললেন, ওর নাম মহের-শালল-হাশ-বস [শীঘ্র-লুট-ত্বরা-অপহরণ] রাখ;
4 কেননা বালকটি বাবা, মা, এই কথা উচ্চারণ করার জ্ঞান না হওয়ার আগেই দামেস্কের ধন ও সামেরিয়ার লুটদ্রব্য আসেরিয়ার বাদশাহ্ নিয়ে যাবেন।
5
পরে মাবুদ আমাকে আরও বললেন,
6 এই লোকেরা তো শীলোহের মৃদুগামী স্রোত অগ্রাহ্য করে রৎসীনে ও রমলিয়ের পুত্রে আনন্দ করছে।
7 এই কারণ দেখ, প্রভু ফোরাত নদীর প্রবল ও প্রচুর পানি, অর্থাৎ আসেরিয়ার বাদশাহ্ ও তার সমস্ত প্রতাপকে, তাদের উপরে আনবেন; সে ফেঁপে সমস্ত খাল পূর্ণ করবে ও সমস্ত তীরভূমির উপর দিয়ে যাবে;
8 সে এহুদার দেশ দিয়ে বেগে বইবে, উথলে উঠে বাড়তে থাকবে, কণ্ঠ পর্যন্ত উঠবে; আর, হে ইম্মানূয়েল, তোমার দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তার মেলে দেওয়া পাখা দ্বারা ব্যাপ্ত হবে।
9
হে জাতিরা, কোলাহল কর, কিন্তু তোমরা আশাহত হবে;
হে দূরদেশীয় সমস্ত লোক, কান দাও;
তলোয়ার বাঁধ, কিন্তু তোমরা আশাভঙ্গ হবে,
তলোয়ার বাঁধ কিন্তু তোমরা আশাভঙ্গ হবে।
10
একসঙ্গে মন্ত্রণা কর, কিন্তু তা নিষ্ফল হবে;
কথা বল, কিন্তু তা স্থির থাকবে না,
কেননা ‘আল্লাহ্ আমাদের সঙ্গে আছেন’।
11
কারণ মাবুদ তাঁর শক্তিশালী হাত আমার উপর রেখে আমাকে এই কথা বললেন যে, এই লোকদের পথে গমন করা আমার অনুচিত।
12 তিনি বললেন, এই লোকেরা যে সমস্ত বিষয়কে চক্রান্ত বলে, তোমরা সে সমস্তকে চক্রান্ত বলো না এবং এদের ভয়ে ভীত হয়ো না, ত্রাসযুক্ত হয়ো না।
13 বাহিনীগণের মাবুদকেই পবিত্র বলে মান, তিনিই তোমাদের ভয়স্থান হোন, তিনিই তোমাদের ত্রাসভূমি হোন।
14 তা হলে তিনি পবিত্র স্থান হবেন; কিন্তু ইসরাইলের উভয়কুলের জন্য তিনি এমন পাথর হবেন যাতে লোকে উচোট খায় ও এমন পাষাণ হবেন যাতে লোকে বাধা পেয়ে পড়ে যায়। জেরুশালেম-নিবাসীদের জন্য তিনি হবেন পাশ ও ফাঁদস্বরূপ।
15 আর তাদের মধ্যে অনেক লোক উছোট খেয়ে পড়ে যাবে ও বিনষ্ট হবে এবং ফাঁদে আট্কে গিয়ে ধরা পড়বে।
16
তুমি সাক্ষ্যের কথা আবদ্ধ কর, আমার সাহাবীদের মধ্যে ব্যবস্থা সীলমোহর করে রাখ।
17
আমি মাবুদের আকাঙক্ষা করবো, যিনি ইয়াকুবের কুল থেকে নিজের মুখ আচ্ছাদন করেন এবং তাঁর অপেক্ষায় থাকব।
18 এই দেখ, আমি ও সেই সন্তানেরা, যাদেরকে মাবুদ আমাকে দিয়েছেন, সিয়োন-পর্বত নিবাসী বাহিনীগণের মাবুদের নিরূপণক্রমে আমরা ইসরাইলের মধ্যে চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণস্বরূপ।
19
আর যখন তারা তোমাদের বলে, তোমরা ভূতড়িয়া ও গণনাকারীদের কাছে, যারা বিড় বিড় ও ফিসফিস করে বকে, তাদের কাছে খোঁজ কর, তখন তোমরা বলবে, লোকেরা কি তাদের আল্লাহ্র কাছে খোঁজ করবে না? তারা জীবিতদের জন্য কি মৃতদের কাছে খোঁজ করবে?
20 ব্যবস্থার কাছে ও সাক্ষ্যের কাছে খোঁজ কর; এর অনুরূপ কথা যদি তারা না বলে, তবে তাদের কাছে কোন ভোরের আলো নেই।
21 আর তারা ক্লিষ্ট ও ক্ষুধিত হয়ে দেশের মধ্য দিয়ে গমন করবে এবং ক্ষুধিত হলে রাগ করে নিজেদের বাদশাহ্কে ও নিজেদের আল্লাহ্কে বদদোয়া দেবে এবং উপরের দিকে মুখ তুলবে;
22 আর তারা ভূমির দিকে চাইবে এবং দেখ, সঙ্কট ও অন্ধকার, চরম বিষণ্নতা; আর তারা মৃত্যুচ্ছায়াতে নিক্ষিপ্ত হবে।
1
কিন্তু যে দেশ আগে যাতনাগ্রস্ত ছিল, তার অন্ধকার আর থাকবে না; তিনি আগেকার দিনে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন, কিন্তু উত্তরকালে সমুদ্রের নিকটবর্তী সেই পথ, জর্ডানের তীরস্থ প্রদেশ, জাতিদের গালীলকে, গৌরবান্বিত করেছেন।
2
যে জাতি অন্ধকারে ভ্রমণ করতো,
তারা মহা-আলো দেখতে পেয়েছে;
যারা মৃত্যুচ্ছায়ার দেশে বাস করতো,
তাদের উপরে আলো উদিত হয়েছে।
3
তুমি সেই জাতির বৃদ্ধি করেছ, তাদের আনন্দ বাড়িয়েছ; তারা তোমার সাক্ষাতে শস্য কাটার সময়ের মত আহ্লাদ করে, যেমন লুট ভাগ করার সময়ে লোকেরা উল্লসিত হয়।
4 কারণ তুমি তার ভাড়ের জোয়াল, তার কাঁধের বাঁক, তার জুলুমবাজের দণ্ড ভেঙ্গে ফেলেছ, যেমন মাদিয়ানের দিনে করেছিলে।
5 বস্তুত তুমুল যুদ্ধে সজ্জিত ব্যক্তির সমস্ত সজ্জা ও রক্তে ভেজা কাপড়গুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, তা আগুনের খাদ্য হবে।
6
কারণ একটি বালক আমাদের জন্য জন্মেছেন,
একটি পুত্র আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে;
আর তাঁরই কাঁধের উপরে কর্তৃত্বভার থাকবে
এবং তাঁর নাম হবে ‘আশ্চর্য মন্ত্রী, বিক্রমশালী আল্লাহ্, নিত্যস্থায়ী পিতা, শান্তির বাদশাহ্’।
7
দাউদের সিংহাসন ও তাঁর রাজ্যের উপরে কর্তৃত্ববৃদ্ধির
ও শান্তির সীমা থাকবে না, যেন তা সুস্থির ও সুদৃঢ় করা হয়,
ন্যায়বিচারে ও ধার্মিকতা সহকারে,
এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
বাহিনীগণের মাবুদের গভীর আগ্রহ তা সম্পন্ন করবে।
8
প্রভু ইয়াকুবের কাছে একটি নির্দেশ প্রেরণ করেছেন, তা ইসরাইলের উপর পড়েছে।
9 আর দেশের সমস্ত লোক, আফরাহীম ও সামেরিয়া নিবাসীরা, তা জানতে পারবে; তারা অহংকারে ও অন্তরের গর্বে বলছে,
10
ইটগুলো পড়ে গেছে বটে,
কিন্তু আমরা মসৃণ করা প্রস্তরে গাঁথব;
ডুমুর কাঠগুলো কাটা গেছে বটে,
কিন্তু আমরা তার পরিবর্তে এরস কাঠ দেব।
11
অতএব মাবুদ রৎসীনের বিপক্ষদলকে তার বিরুদ্ধে উচ্চে স্থাপন করবেন ও তার দুশমনদেরকে উত্তেজিত করবেন;
12
অরাম সম্মুখে ও ফিলিস্তিনীরা পিছনে;
তারা হা করে ইসরাইলকে গ্রাস করবে
এত কিছুর পরেও তাঁর ক্রোধ নিবৃত্ত হয় নি,
কিন্তু তাঁর হাত এখনও বাড়ানো রয়েছে।
13
তবুও যিনি লোকদেরকে প্রহার করেছেন, তাঁর কাছে তারা ফিরে আসে নি, বাহিনীগণের মাবুদের খোঁজ করে নি।
14 এজন্য মাবুদ ইসরাইলের মাথা ও লেজ, খেজুরের ডাল ও নল-খাগড়া এক দিনেই কেটে ফেলবেন;
15 প্রাচীন ও সম্মানিত লোক সেই মাথা এবং মিথ্যা শিক্ষা-দায়ী নবী সেই লেজ।
16 কারণ এই জাতির পথপ্রদর্শকেরাই এদেরকে বিপথে চালায় এবং যারা তাদের দ্বারা চালিত হয়, তারা সংহারিত হচ্ছে।
17
এজন্য প্রভু তাদের যুবকগণে আনন্দ করবেন না,
এবং তাদের এতিম ও বিধবাদেরকে রহম করবেন না;
কেননা তারা সকলে আল্লাহ্বিহীন ও দুরাচার
এবং প্রত্যেক মুখ নাফরমানীর কথা বলে।
এত কিছুর পরেও তাঁর ক্রোধ নিবৃত্ত হয় নি,
কিন্তু তাঁর হাত এখনও উঠানোই রয়েছে।
18
বাস্তবিক নাফরমানী আগুনের মত জ্বলে, তা কাঁটাঝোপ ও কাঁটাবন গ্রাস করে; নিবিড় বনে জ্বলে ওঠে, তা ঘূর্ণায়মান ঘন ধোঁয়ার স্তম্ভ হয়ে ওঠে।
19 বাহিনীগণের মাবুদের ক্রোধে দেশ ঝলসানো এবং লোকেরা যেন আগুনের খাদ্য হয়েছে; কেউ আপন ভাইয়ের প্রতি মমতা করে না।
20 কেউ ডান পাশে যা আছে তা গ্রাস করে, তবুও ক্ষুধিত থাকে; আবার কেউ বাম পাশে যা আছে তা খায়, কিন্তু তৃপ্ত হয় না; প্রত্যেক জন নিজ নিজ বাহুর মাংস ভোজন করে;
21 মানশা আফরাহীমকে ও আফরাহীম মানশাকে এবং উভয়ে একসঙ্গে এহুদাকে আক্রমণ করে;
এত কিছুর পরেও তাঁর ক্রোধ নিবৃত্ত হয় নি,
কিন্তু তাঁর হাত এখনও উঠানোই রয়েছে।
1
ধিক্ সেই লোকদেরকে, যারা অধর্মের ব্যবস্থা স্থাপন করে, যারা উপদ্রবের বিধি জারি করে;
2 যেন দরিদ্রদেরকে ন্যায়বিচার থেকে ফিরিয়ে দেয় ও আমার দুঃখী লোকদের অধিকার হরণ করে, যেন বিধবারা তাদের লুটদ্রব্য হয়, আর তারা এতিমদেরকে তাদের লুণ্ঠিত দ্রব্য করতে পারে।
3 প্রতিফল দেবার দিনে ও দূর থেকে যখন বিনাশ আসবে, তখন তোমরা কি করবে? সাহায্যের জন্য কার কাছে পালাবে? আর তোমাদের প্রতাপ কোথায় রাখবে?
4 তারা বন্দীদের নিচে অধোমুখ হয়ে পড়বে, নিহতদের মধ্যে পড়ে থাকবে, এই মাত্র।
এত কিছুর পরেও তাঁর ক্রোধ নিবৃত্ত হয় নি,
কিন্তু তাঁর হাত এখনও তাঁর হাত উঠানোই রয়েছে।
5
ধিক্ আসেরিয়াকে! সে আমার ক্রোধের দণ্ড! সে সেই লাঠি, যার হাতে আমার কোপ।
6 আমি তাকে এক আল্লাহ্বিহীন জাতির বিরুদ্ধে পাঠাব, আমার গজব-পাত্র লোকদের বিরুদ্ধে হুকুম দেব, যেন সে লুট করে ও লুণ্ঠিত দ্রব্য নিয়ে যায় ও তাদেরকে পথের কাদার মত পায়ে মাড়ায়।
7 কিন্তু তার সঙ্কল্প সেই রকম নয়, তার হৃদয় তা ভাবে না; বরং সর্বনাশ করা এবং অনেক জাতিকে উচ্ছিন্ন করা তার মনস্কামনা।
8 কারণ সে বলে, ‘আমার শাসনকর্তারা কি সকলে বাদশাহ্ নন?
9 কল্নো কি কর্কমীশের মত নয়? হমাৎ কি অর্পদের মত নয়? সামেরিয়া কি দামেস্কের মত নয়?
10 সেসব মূর্তির রাজ্য আমার হস্তগত হয়েছে, সেগুলোর খোদাই-করা মূর্তি জেরুশালেম ও সামেরিয়ার মূর্তিগুলো অপেক্ষা উত্তম;
11 আমি সামেরিয়া ও তার মূর্তিগুলোর প্রতি যেমন করেছি, জেরুশালেম ও তার মূর্তিগুলোর প্রতিও কি তেমন করবো না?’
12
অতএব এরকম ঘটবে; সিয়োন পর্বতে ও জেরুশালেমে প্রভু তাঁর সমস্ত কাজ সমাপ্ত করার পর আমি আসেরিয়ার বাদশাহ্র উদ্ধত গর্বের ও গর্বিত দর্পের প্রতিফল দেব।
13 কেননা সে বলেছে, ‘আমার হাতের বল ও আমার বিজ্ঞতা দ্বারা আমি কাজ সিদ্ধ করেছি, কেননা আমি বুদ্ধিমান; আমি জাতিদের সীমাগুলো দূর করেছি ও তাদের সঞ্চিত ধন লুট করেছি; এবং যারা সিংহাসনে বসে আছে আমি বীরের মতই তাদেরকে নিচে নামিয়েছি।
14 আর পাখির বাসার মত জাতিদের ধন আমার হস্তগত হয়েছে; লোকে যেমন পরিত্যক্ত ডিম কুড়ায়, তেমনি আমি সমস্ত দুনিয়াকে সংগ্রহ করেছি; পাখা নাড়তে, বা ঠোঁট খুলতে, বা চিঁ চিঁ আওয়াজ করতে কেউ ছিল না।’
15 কুড়াল কি কুঠুরের বিরুদ্ধে অহংকার করবে? করাত কি করাত ব্যবহারকারী থেকে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করবে? যারা দণ্ড দেয়, দণ্ড যেন তাদেরকে চালনা করছে; যে কাঠ নয়, লাঠি যেন তাকে চালাচ্ছে।
16 অতএব প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, তার স্থূলকায় লোকদের মধ্যে কৃশতা প্রেরণ করবেন ও তার প্রতাপের নিচে জলন্ত শিখার মত আগুন জ্বলবে।
17 বাস্তবিক ইসরাইলের জ্যোতি আগুনের মত হবেন ও যিনি তার পবিত্রতম, তিনি আগুনের শিখার মত হবেন; তা এক দিনে ওর কাঁটাঝোপ ও কাঁটা আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে ছাই করে দিবে।
18 আর তিনি তার বনের ও বাগানের গৌরবকে, প্রাণ ও শরীরকে, সংহার করবেন; তাতে সে রোগীর মত ক্ষয় হয়ে যাবে।
19 আর তার বনের অবশিষ্ট গাছ এমন অল্প হবে যে, বালক তা গণনা করে লিখতে পারবে।
20
সেই দিনে ইসরাইলের অবশিষ্টাংশ ও ইয়াকুব-কুলের রক্ষা পাওয়া লোকেরা নিজেদের প্রহারকারীর উপরে আর নির্ভর করবে না; কিন্তু ইসরাইলের পবিত্রতম মাবুদের উপরে সত্যিকারভাবে নির্ভর করবে।
21 অবশিষ্টাংশরা ফিরে আসবে, ইয়াকুবের অবশিষ্টাংশরা বিক্রমশালী আল্লাহ্র কাছে ফিরে আসবে।
22 বস্তুতঃ, হে ইসরাইল, তোমার লোকেরা সমুদ্রের বালির মত হলেও তাদের অবশিষ্টাংশরাই ফিরে আসবে; ধ্বংস নির্ধারিত, তা ধার্মিকতার বন্যাস্বরূপ হবে।
23 কেননা প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, সমস্ত দুনিয়ার মধ্যে উচ্ছেদ, নির্ধারিত উচ্ছেদ, সাধন করবেন।
24
অতএব প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, হে আমার সিয়োন-নিবাসী লোকেরা, আসেরিয়াকে ভয় পেয়ো না; যদিও সে তোমাকে দণ্ডাঘাত করে ও তোমার বিরুদ্ধে লাঠি তোলে, যেমন মিসর করেছিল।
25 কারণ আর অতি অল্পকাল অতীত হলে ক্রোধ সিদ্ধ হবে, আমার কোপ ওর সংহারে সিদ্ধ হবে।
26
আর বাহিনীগণের মাবুদ তার বিরুদ্ধে চাবুক উত্তোলন করবেন, যেমন ওরেব শৈলে মাদিয়ানের হত্যাকাণ্ডে করেছিলেন; এবং তাঁর লাঠি সাগরের উপরে থাকবে, আর তিনি তা উত্তোলন করবেন, যেমন মিসরে করেছিলেন।
27 সেদিন তোমার কাঁধ থেকে ওর ভার ও তোমার ঘাড় থেকে ওর জোয়াল সরে যাবে এবং চর্বির বৃদ্ধির দরুন জোয়াল ভেঙ্গে যাবে।
28
সে অয়াতে এসেছে, মিগ্রোণ পিছনে ফেলেছে; মিক্মসে নিজের দ্রব্যসামগ্রী রেখেছে;
29 তারা গিরিপথ ছেড়ে এসেছে, গেবাতে রাত যাপন করেছে; রামা কাঁপছে, তালুতের গিবিয়া পালিয়ে যাচ্ছে।
30 অয়ি গল্লীম-কন্যে! তুমি তোমার স্বরে উচ্চশব্দ কর। লয়িশা, কান দাও। হায়! দুঃখিনী অনাথোৎ!
31 মদ্মেনার লোক পলাতক; গেবীম-নিবাসীরা সকলই নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে গেল।
32 সে আজ নোবে বিলম্ব করছে, সে সিয়োন-কন্যার পর্বতের, জেরুশালেম-পাহাড়ের, প্রতিকূলে হাত নাড়ছে।
33
দেখ, প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, ভয়ঙ্করভাবে ডালগুলো ভেঙ্গে ফেলবেন; তাতে অতি উঁচু মাথাবিশিষ্ট সমস্ত গাছ ছিন্ন হবে ও অতি উন্নত গাছগুলো ভূমিসাৎ হবে।
34 তিনি লোহা দ্বারা বনের ঝাড়গুলো কেটে ফেলবেন এবং লেবানন মহাপরাক্রমীর দ্বারা নিপাতিত হবে।
1
আর ইয়াসিরের গুঁড়ি থেকে একটি তরুশাখা বের হবেন ও তার মূল থেকে উৎপন্ন এক শাখা ফল প্রদান করবেন।
2 আর মাবুদের রূহ্— জ্ঞান ও বিবেচনার রূহ্, মন্ত্রণা ও পরাক্রমের রূহ্, জ্ঞান ও মাবুদ-ভয়ের রূহ্— তাঁতে অবস্থিতি করবেন; আর তিনি মাবুদ-ভয়ে আমোদিত হবেন।
3
তিনি চোখের দৃষ্টি অনুসারে বিচার করবেন না, কানে যা শুনবেন সেই অনুসারে নিষ্পত্তি করবেন না;
4 কিন্তু ধর্মশীলতায় দীনহীনদের বিচার করবেন, সরলতায় দুনিয়ার নম্রদের জন্য নিষ্পত্তি করবেন; তিনি তাঁর মুখস্থিত দণ্ড দ্বারা দুনিয়াকে আঘাত করবেন, নিজ ওষ্ঠাধরের নিশ্বাস দ্বারা অবাধ্যকে হত্যা করবেন।
5 আর ধর্মশীলতা তাঁর কোমরবন্ধনী ও বিশ্বস্ততা তাঁর কোমরে জড়াবার পটি হবে।
6 আর নেকড়ে বাঘ ভেড়ার বাচ্চার সঙ্গে একত্র বাস করবে; চিতাবাঘ ছাগলের বাচ্চার সঙ্গে শয়ন করবে; বাছুর, যুবসিংহ ও হৃষ্টপুষ্ট পশু একত্র থাকবে; এবং ক্ষুদ্র বালক তাদেরকে চালাবে।
7 গাভী ও ভল্লুকী চরবে, তাদের বাচ্চাগুলো একত্র শয়ন করবে এবং সিংহ বলদের মত বিচালি খাবে।
8 আর স্তন্যপায়ী শিশু কেউটে সাপের গর্তের উপরে খেলা করবে, যে শিশু স্তন্যপান ত্যাগ করেছে সে কালসাপের গর্তের উপরে হাত রাখবে।
9 সেসব আমার পবিত্র পর্বতের কোন স্থানে হিংসা কিংবা বিনাশ করবে না; কারণ সমুদ্র যেমন পানিতে আচ্ছন্ন, তেমনি দুনিয়া মাবুদ-বিষয়ক জ্ঞানে পরিপূর্ণ হবে।
10
আর সেদিন এই সমস্ত ঘটবে, ইয়াসিরের মূল, যিনি লোকবৃন্দের পতাকারূপে দাঁড়ান, তাঁর কাছে জাতিরা খোঁজ করবে; আর তাঁর বিশ্রামস্থান মহিমান্বিত হবে।
11 আর সেদিন যখন আসবে তখন প্রভু তাঁর নিজস্ব লোকদের অবশিষ্টাংশকে মুক্ত করে আনবার জন্য দ্বিতীয়বার হস্তক্ষেপ করবেন, অর্থাৎ আসেরিয়া, মিসর, পথ্রোষ, ইথিওপিয়া, ইলাম, শিনিয়র, হমাৎ ও সমুদ্রের উপকূলগুলো থেকে অবশিষ্ট লোকদেরকে আনবেন।
12
আর তিনি জাতিদের জন্য নিশান তুলবেন, ইসরাইলের বিতাড়িত লোকদের একত্র করবেন ও দুনিয়ার চার কোণ থেকে এহুদার ছিন্নভিন্ন লোকদেরকে সংগ্রহ করবেন।
13 আর আফরাহীমের ঈর্ষা দূর হবে ও যারা এহুদাকে কষ্ট দেয়, তারা উচ্ছিন্ন হবে; আফরাহীম এহুদার উপর ঈর্ষা করবে না ও এহুদা আফরাহীমকে কষ্ট দেবে না।
14 আর তারা পশ্চিম দিকে ফিলিস্তিনীদের কাঁধে ছোঁ মারবে, উভয়ে একত্র হয়ে পূর্বদেশের লোকদের দ্রব্য লুট করবে; তারা ইদোম ও মোয়াবের উপরে হস্তক্ষেপ করবে এবং অম্মোনীয়রা তাদের বাধ্য হবে।
15 আর মাবুদ মিসরীয় সমুদ্রের খাড়ী নিঃশেষে বিনষ্ট করবেন, ফোরাত নদীর উপরে নিজের উত্তপ্ত বায়ু সহকারে হাত দোলাবেন, তাকে প্রহার করে সাতটি প্রণালী করবেন যাতে লোকেরা জুতা পায়ে দিয়ে পার হতে পারে।
16 আর মিসর দেশ থেকে ইসরাইলের বের হয়ে আসার সময়ে যেমন তার জন্য পথ হয়েছিল, তেমনি তাঁর লোকদের অবশিষ্টাংশের, আসেরিয়া থেকে অবশিষ্ট লোকদের জন্য একটি রাজপথ হবে।
1
আর সেদিন তুমি বলবে,
হে মাবুদ, আমি তোমার প্রশংসা-গজল করবো;
কেননা তুমি আমার প্রতি ক্রুদ্ধ ছিলে,
কিন্তু তোমার ক্রোধ নিবৃত্ত হয়েছে,
আর তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছ।
2
দেখ, আল্লাহ্ আমার উদ্ধার;
আমি সাহস করবো, ভয় পাব না;
কেননা মাবুদ ইয়াহ্ওয়েহ্ আমার বল ও গান;
তিনি আমার উদ্ধার হয়েছেন।
3
এজন্য তোমরা আনন্দ সহকারে
উদ্ধারের সকল ফোয়ারা থেকে পানি তুলবে।
4
আর সেদিন তোমরা বলবে,
মাবুদের প্রশংসা-গজল কর, তাঁর নামে ডাক,
জাতিদের মধ্যে তাঁর সমস্ত কাজের কথা জানাও,
তাঁর নাম উন্নত, এই বলে ঘোষণা কর।
5
মাবুদের উদ্দেশে কাওয়ালী কর;
কেননা তিনি মহিমার কাজ করেছেন;
সমস্ত দুনিয়াতে এই কথা জানানো হোক।
6
অয়ি সিয়োন-নিবাসীনী! উচ্চধ্বনি কর, আনন্দগান কর;
কেননা যিনি ইসরাইলের পবিত্রতম,
তিনি তোমার মধ্যে মহান।
1
ব্যাবিলন বিষয়ক দৈববাণী; আমোজের পুত্র ইশাইয়া এই দর্শন পান।
2 তোমরা গাছপালাহীন পর্বতের উপরে নিশান তোল, লোকদের জন্য উচ্চধ্বনি কর, হাত দোলাও; তারা প্রধানবর্গের তোরণদ্বারে প্রবেশ করুক।
3 আমি নিজের পবিত্র লোকদের হুকুম করেছি, আমি আমার গজব কার্যকর করার জন্য আমার বীরদেরকে আহ্বান করেছি— যারা আমার বিজয়ে উল্লাস করে।
4
পর্বতমালায় লোক-সমারোহের শব্দ,
যেন মহাজনতার আওয়াজ!
একত্রীকৃত জাতিদের রাজ্যগুলোর কোলাহলের আওয়াজ!
বাহিনীগণের মাবুদ যুদ্ধের জন্য বাহিনী রচনা করছেন।
5
তারা আসছে দূরদেশ থেকে,
আসমানের প্রান্ত থেকে;
মাবুদ ও তাঁর ক্রোধের সমস্ত অস্ত্র
সমস্ত দেশ উচ্ছিন্ন করতে আসছেন।
6
হাহাকার কর, কেননা মাবুদের দিন নিকটবর্তী;
সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে বিনাশের মত তা আসছে।
7
এই কারণে সকলের হাত দুর্বল হবে,
8 মানুষের হৃদয়ে গলে যাবে; লোকেরা ভীষণ ভয় পাবে, নানা যন্ত্রণা ও ব্যথাগ্রস্ত হবে, তারা প্রসবকারিণীর মত ব্যথা ভোগ করবে; এক জন অন্যের প্রতি একাগ্র দৃষ্টিতে দেখবে, তাদের মুখ হবে আগুনের শিখার মুখ।
9
দেখ, মাবুদের দিন আসছে; দুনিয়াকে ধ্বংস-স্থান করার, সেখানকার গুনাহ্গারদের তার মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন করার জন্য, সেদিন হবে নিষ্ঠুর এবং ক্রোধ ও জলন্ত গজবের দিন।
10 বস্তুত আসমানের তারাগুলো ও নক্ষত্রগুলো আলো দেবে না; সূর্য উদয়-সময়ে নিস্তেজ হবে ও চন্দ্র তার জ্যোৎস্না প্রকাশ করবে না।
11
আর আমি দুনিয়ার লোকদের নাফরমানীর জন্য ও তাদের অপরাধের জন্য শাস্তি দেব; আমি অহঙ্কারীদের অহংকার শেষ করবো, দুর্দান্তদের গর্ব খর্ব করবো।
12 আমি উত্তম সোনা থেকেও মানুষকে, ওফীরের সোনা থেকেও মানুষকে দুষ্প্রাপ্য করবো।
13 এজন্য আমি আসমানকে কম্পান্বিত করবো এবং বাহিনীগণের মাবুদের ক্রোধে ও তাঁর জলন্ত গজবের দিনে দুনিয়া টলয়মান হয়ে স্থানচ্যুত হবে।
14 তাতে তাড়ানো হরিণের মত ও রাখালহীন ভেড়ার মত লোকেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জাতির প্রতি ফিরবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ দেশের দিকে পালিয়ে যাবে।
15 যে কারো উদ্দেশ পাওয়া যাবে, সে অস্ত্রবিদ্ধ হবে; ও যে কেউ ধরা পড়বে, সে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
16 আর তাদের চোখের সামনে তাদের শিশুদেরকে আছাড় মারা হবে, তাদের বাড়ি লুট করা হবে ও তাদের স্ত্রীরা বলাৎকৃত হবে।
17
দেখ, আমি তাদের বিরুদ্ধে মাদীয়দেরকে উত্তেজিত করবো; তারা রূপা তুচ্ছ করবে ও সোনা নিয়েও আনন্দ করবে না।
18 তাদের তীরন্দাজেরা যুবকদেরকে হত্যা করবে এবং তারা শিশুদের প্রতি করুণা করবে না, বালক বালিকাদের প্রতি মমতা দেখাবে না।
19 আর ব্যাবিলন— রাজ্যগুলোর সেই রত্ন ও কল্দীয়দের গর্বের সেই লাবণ্য— আল্লাহ্কর্তৃক উৎপাটিত সাদুম ও আমুরার মত হবে।
20 তার মধ্যে আর কখনও বসতি হবে না, পুরুষপুরুষানুক্রমে সেই স্থানে কেউ বাস করবে না, আরবীয়েরাও সে স্থানে তাঁবু ফেলবে না, ভেড়ার রাখালেরাও সেখানে নিজ নিজ পাল শয়ন করাবে না।
21 কিন্তু সেই স্থানে বন্যপশুরা শয়ন করবে; আর তাদের সমস্ত বাড়ি চিৎকারকারী জন্তুতে পরিপূর্ণ হবে, উটপাখিরা সেখানে বাসা করবে ও ছাগলেরা নাচবে।
22 আর তাদের উচ্চগৃহগুলোতে হায়েনারা আওয়াজ তুলবে, বিলাস-প্রাসাদে খেঁকশিয়ালরা বাস করবে; হ্যাঁ, তার কাল শীঘ্র উপস্থিত হবে; তার সমস্ত দিন দীর্ঘ হবে না।
1
কারণ মাবুদ ইয়াকুবের প্রতি করুণা করবেন, ইসরাইলকে পুনর্বার মনোনীত করবেন এবং তাদের দেশে তাদেরকে অধিষ্ঠিত করবেন; তাতে বিদেশী লোক তাদের প্রতি আসক্ত হবে, তারা ইয়াকুবের কুলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
2 আর জাতিরা তাদেরকে নিয়ে তাদের স্থানে পৌঁছে দেবে এবং ইসরাইল-কুল মাবুদের দেশে তাদেরকে গোলাম-বাঁদীর মত অধিকার করবে; নিজেরা যাদের কাছে বন্দী ছিল তাদের বন্দী করবে, আর নিজেদের জুলুমবাজদের উপরে কর্তৃত্ব করবে।
3
যেদিন মাবুদ তোমাকে দুঃখ ও উদ্বেগ থেকে এবং যে কঠোর গোলামীতে তুমি আবদ্ধ ছিলে তা থেকে বিশ্রাম দেবেন,
4 সেদিন তুমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র বিরুদ্ধে এই প্রবাদ বলবে,
আহা, জুলুমবাজ কেমন শেষ হয়েছে!
অপহারিণী কেমন শেষ হয়েছে!
5
মাবুদ দুষ্টদের দণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন,
শাসনকর্তাদের রাজদণ্ড ভেঙ্গে ফেলেছেন।
6
সে ক্রোধে লোকদেরকে আঘাত করতো,
আঘাত করতে ক্ষান্ত হত না,
সে কোপে জাতিদেরকে শাসন করতো,
অবিরাম তাড়না করতো।
7
সমস্ত দুনিয়া শান্ত ও সুস্থির হয়েছে,
সকলে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করছে।
8
দেবদারু ও লেবাননের এরস গাছগুলোও
তোমার বিষয়ে আনন্দ করে,
বলে, যেদিন থেকে তুমি ভূমিসাৎ হয়েছ,
আমাদের কাছে কোন কাঠুরে আসে না।
9
অধঃস্থ পাতাল তোমার জন্য বিচলিত হয়,
তোমার আগমনে তোমার সম্মুখে উপস্থিত হয়;
তোমার জন্য মৃতদেরকে,
দুনিয়ার প্রধান সকলকে সচেতন করে,
জাতিদের বাদশাহ্ সকলকে
নিজ নিজ সিংহাসন থেকে উঠিয়েছে।
10
তারা সকলে জবাবে তোমাকে বলে,
তুমিও কি আমাদের মত দুর্বল হয়ে পড়েছ?
তুমিও কি আমাদের সমান হলে?
11
পাতালে নামান হল তোমার জাঁক্জমক,
ও তোমার নেবল যন্ত্রের মধুর বাদ্য;
কীট তোমার নিচে পাতা রয়েছে,
কৃমি তোমাকে ঢেকে ফেলেছে।
12
হে শুকতারা! ঊষা-নন্দন!
তুমি তো বেহেশত থেকে পড়ে গেছ!
হে জাতিদের নিপাতনকারী,
তুমি ছিন্ন ও ভূপাতিত হয়েছ!
13
তুমি মনে মনে বলেছিলে,
‘আমি বেহেশত আরোহণ করবো,
আল্লাহ্র নক্ষত্রগুলোর উপরে আমার সিংহাসন উন্নত করবো;
জমায়েত-পর্বতে, উত্তর দিকের প্রান্তে, উপবিষ্ট হব;
14
আমি মেঘরূপ উচ্চস্থলীর উপরে উঠবো,
আমি সর্বশক্তিমানের মত হব।’
15
তোমাকে তো নামান হল পাতালে,
গর্তের গভীরতম তলে।
16
তোমাকে দেখলে লোকে একদৃষ্টিতে তোমার প্রতি নিরীক্ষণ করবে,
তোমার বিষয়ে বিবেচনা করবে,
‘এ কি সেই পুরুষ, যে দুনিয়াকে কম্পান্বিত করতো,
সমস্ত রাজ্য বিচলিত করতো,
17
জগৎকে নির্জন স্থানের মত করতো,
দুনিয়ার সমস্ত নগর উৎপাটন করতো,
বন্দীদেরকে বাড়ি যেতে দিত না?’
18
জাতিদের সমস্ত বাদশাহ্, সকলেই সসম্মানে,
প্রত্যেকে স্ব স্ব কবরে শয়ন করছেন;
19
কিন্তু তুমি নিজের কবর-স্থান থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত,
কুৎসিত তরুশাখার মত, তুমি সেই নিহতদের দ্বারা আচ্ছাদিত,
যারা তলোয়ারে বিদ্ধ, যারা গর্তের প্রস্তর রাশিতে নেমে যায়;
তুমি পদদলিত লাশের মত হয়েছ।
20
তুমি ওঁদের সঙ্গে কবরস্থ হবে না;
কারণ তুমি নিজের দেশ ধ্বংস করেছ,
নিজের লোকদের হত্যা করেছ;
দুর্বৃত্তদের বংশের নাম কোন কালে নেওয়া হবে না।
21
তোমরা ওর সন্তানদের জন্য বধ্যস্থান প্রস্তুত কর,
ওদের পূর্বপুরুষদের অপরাধের জন্য;
তারা উঠে দুনিয়া অধিকার না করুক,
দুনিয়াকে নগরে পরিপূর্ণ না করুক।
22
আর বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব; আমি ব্যাবিলনের নাম ও অবশিষ্টাংশ, পুত্র ও পৌত্রকে মুছে ফেলব, মাবুদ এই কথা বলেন।
23 আর আমি ঐ নগর শজারুদের জায়গা ও জলাভূমি করবো, ধ্বংসের ঝাঁটা দিয়ে আমি তাকে ঝাড়ু দেব, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
24
বাহিনীগণের মাবুদ শপথ করে বলেছেন, অবশ্যই, আমি যেমন সঙ্কল্প করেছি, তেমনি ঘটবে; আমি যে মন্ত্রণা করেছি, তা স্থির থাকবে।
25 ফলত আমার দেশে আসেরিয়াকে ভেঙ্গে ফেলবো, আমার পর্বতমালায় তাকে পদদলিত করবো; তাতে লোকদের কাঁধ থেকে তার জোয়াল দূর হবে এবং তাদের ঘাড় থেকে তার ভার সরে যাবে।
26 সমস্ত দুনিয়ার বিষয়ে এই পরিকল্পনা স্থির হয়েছে ও সমস্ত জাতির উপরে এই হাতই বাড়ানো রয়েছে।
27 কারণ বাহিনীগণের মাবুদ পরিকল্পনা করেছেন, কে তা ব্যর্থ করবে? তাঁরই হাত বাড়ানো রয়েছে, কে তা ফিরাবে?
28
যে বছর বাদশাহ্ আহসের মৃত্যু হয়, সেই বছরের এই ভবিষ্যদ্বাণী।
29
হে ফিলিস্তিন, যে দণ্ড তোমাকে প্রহার করতো, তা ভেঙ্গে গেছে বলে সর্বসাধারণে আনন্দ করো না; কেননা সেই মূল সাপ থেকে কেউটিয়া সাপ উৎপন্ন হবে এবং জ্বলন্ত উড়ুক্কু সাপ তার ফল হবে।
30 দীনহীনদের জ্যেষ্ঠ সন্তানেরা ভোজন করবে ও দরিদ্ররা নির্ভয়ে শয়ন করবে; আর আমি দুর্ভিক্ষ দ্বারা তোমার মূল হনন করবো এবং তোমার অবশিষ্টাংশ হত হবে।
31
হে তোরণদ্বার, হাহাকার কর; হে নগর, কাঁদ; হে ফিলিস্তিন, তুমি বিলীন, তোমার সমসস্ত কিছু বিলীন; কেননা উত্তর দিক থেকে ধোঁয়া আসছে, আর ওর শ্রেণী থেকে কেউ সরে যায় না।
32 আর এই জাতির দূতদেরকে কি উত্তর দেওয়া যাবে? মাবুদ সিয়োনের ভিত্তিমূল স্থাপন করেছেন এবং তাঁর দুঃখী লোকেরা তার মধ্যে আশ্রয় নেবে।
1
আহা, এক রাতের মধ্যে মোয়াবের আর নগর ধ্বংস হয়ে গেল; আহা, এক রাতের মধ্যে মোয়াবের কীর নগর ধ্বংস হয়ে গেল।
2 সে কাঁদবার জন্য দীবনের মন্দিরে, উচ্চস্থলীতে গেছে; নবোর উপরে ও মেদবার উপরে মোয়াব হাহাকার করছে, তাদের সকলের মাথা মুণ্ডন হয়েছে, প্রত্যেক জনের দাড়ি কাটা গেছে।
3 পথে পথে তাদের লোক চট পরেছে; তাদের ছাদের উপরে ও চকের মধ্যে সমস্ত লোক হাহাকার করছে, কান্নাকাটি করে যেন গলে পড়ছে।
4 হিষ্বোন ও ইলিয়ালী কাঁদছে; তাদের আর্তনাদ যহস পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে; সেজন্য মোয়াবের যোদ্ধারা আর্তনাদ করছে; তার প্রাণ তার মধ্যে কাঁপছে।
5 মোয়াবের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে; তার পলাতকেরা সোয়র পর্যন্ত, ইগ্লৎ-শলিশীয়ায় যাচ্ছে; তারা কাঁদতে কাঁদতে লূহীতের আরোহণ-পথ দিয়ে উঠছে, হোরোণয়িমের পথে বিনাশসূচক আর্তনাদ করছে।
6 নিম্রীমের সমস্ত পানি নষ্ট হয়ে গেছে; ঘাস শুকিয়ে গেছে, কচি ঘাস শেষ হয়ে গেছে, সবুজ রংয়ের কিছুই নেই।
7 এজন্য তারা নিজেদের রক্ষিত ধন ও সঞ্চিত দ্রব্য বাইশী গাছের স্রোতের পারে নিয়ে যাচ্ছে।
8 আহা, কান্নার আওয়াজ মোয়াবের পরিসীমা বেষ্টন করেছে; তার হাহাকার ইগ্লয়িম পর্যন্ত, তার হাহাকার বের্-এলীম পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে।
9 কারণ দীবনের পানি রক্তময় হয়েছে; আমি দীবনের উপরে আরও দুঃখ, মোয়াবের পলাতকের ও দেশের অবশিষ্টাংশের উপরে সিংহ আনয়ন করবো।
1
তোমরা সেলা থেকে মরুভূমি দিয়ে সিয়োন-কন্যার পর্বতে শাসনকর্তার কাছে ভেড়ার বাচ্চাগুলো পাঠিয়ে দাও।
2 যেমন ভ্রমণকারী পাখিগুলো, যেমন বিক্ষিপ্ত বাসা, মোয়াব-কন্যাদের অর্ণোনের ঘাটগুলোতে তেমনি হবে।
3
মন্ত্রণা দাও, বিচার কর, মধ্যাহ্নকালে নিজের ছায়াকে রাতের অন্ধকারের মত কর, বহিষ্কৃত লোকদের লুকিয়ে রাখ, পলাতককে প্রকাশ করো না।
4 মোয়াব, আমার বহিষ্কৃত লোকদেরকে তোমার সঙ্গে বাস করতে দাও, বিনাশকের সম্মুখে থেকে তাদের আশ্রয় হও। কারণ উৎপীড়ক শেষ হল, অপহার সমাপ্ত হল; যারা লোকদের পদতলে দলিত করতো, তারা দেশ থেকে উচ্ছিন্ন হল।
5
আর অটল মহব্বতে একটি সিংহাসন স্থাপিত হবে, এক জন বিশ্বস্ততার প্রভাবে দাউদের তাঁবুতে সেই আসনে বসবেন; তিনি বিচারকর্তা, বিচারে যত্নবান ও দ্রুত ধার্মিকতা সাধন করবেন।
6
আমরা মোয়াবের অহঙ্কারের কথা শুনেছি, সে অত্যন্ত অহঙ্কারী; তার অভিমান, অহঙ্কার ও ক্রোধের কথা শুনেছি; তার অহংকার কিছু নয়।
7 কাজেই মোয়াবের জন্য মোয়াবীয়েরা হাহাকার করবে, তার সমস্ত লোক হাহাকার করবে; তোমরা কীর্-হরেসেতের আঙ্গুর-পিঠার জন্য কাতরোক্তি করবে, নিতান্ত ক্ষুণ্ন হবে।
8 কারণ হিষ্বোনের ক্ষেতগুলো ও সিব্মার আঙ্গুর-লতা ম্লান হল; জাতিদের শাসনকর্তাদের দ্বারা তার সমস্ত চারা পদাহত হল; সেগুলো যাসের পর্যন্ত পৌঁছাত ও মরুভূমিতে যেত, তার ডালগুলো চারদিকে বিস্তৃত হয়েছিল, সেসব সমুদ্র পার হয়েছিল।
9 এজন্য সিব্মার আঙ্গুরলতার জন্য যাসেরের কাঁদবার সময়ে আমি কাঁদব; হে হিশ্বোন, হে ইলিয়ালী, আমি চোখের পানিতে তোমাকে সিক্ত করবো; কেননা তোমার গ্রীষ্মের ফল ও তোমার শস্যের কাটার আনন্দধ্বনি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
10 আর ফলবান ক্ষেত থেকে আনন্দ ও উল্লাস দূরীকৃত হল; আঙ্গুর-ক্ষেতের লোকেরা আর আনন্দগান বা আনন্দে চিৎকার করে না; কেউ পা দিয়ে চেপে চেপে কুণ্ডে আর আঙ্গুর-রস বের করে না, আমি আঙ্গুরপেষণের গান নিবৃত্ত করিয়েছি।
11
এই কারণ আমার হৃদয় মোয়াবের জন্য, আমার হৃদয় কীর্-হেরসের জন্য বীণার মত বাজছে।
12 যদিও মোয়াব দেখা দেয়, উচ্চস্থলীতে নিজেকে ক্লান্ত করে ও মুনাজাত করার জন্য নিজের পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে, তবুও সে কৃতকার্য হবে না।
13
মাবুদ মোয়াবের বিষয়ে আগে এই কথা বলেছিলেন।
14 কিন্তু এখন মাবুদ এই কথা বলেছেন, বেতনজীবীর বছরের মত তিন বছরের মধ্যে নিজের বিরাট লোকারণ্যসুদ্ধ মোয়াবের গৌরব তুচ্ছ করা হবে এবং অবশিষ্টাংশ অতি অল্প ও ক্ষীণবল হবে।
1
দেখ, দামেস্ক আর নগর রইলো না, তা থেকে উচ্ছিন্ন হল, তা ধ্বংসস্থান হবে।
2 অরোয়েরের সমস্ত নগর পরিত্যক্ত হল, সেগুলো পশুপালদের অধিকার হবে; তারা সেই স্থানে শয়ন করবে, কেউ তাদেরকে ভয় দেখাবে না।
3 আর আফরাহীমের দুর্গ ও দামেস্কের রাজ্য এবং অরামের অবশিষ্টাংশ অদৃশ্য হয়ে যাবে; সেসব বনি-ইসরাইলদের গৌরবের মত হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
4
আর সেদিন তা ঘটবে, ইয়াকুবের গৌরব ক্ষীণ হবে ও তার চর্বি গলে যাবে।
5 আর যেমন কেউ ক্ষেতের শস্য সংগ্রহ করে, হাত বাড়িয়ে শীষ কাটে, তেমনি হবে; যেমন কেউ রফায়ীম উপত্যকাতে পড়ে থাকা শীষ কুড়ায়, তেমনি হবে।
6 তবুও তাতে যৎকিঞ্চিত অবশিষ্ট থাকবে; জলপাই গাছের ফল ঝেড়ে নেবার পরেও যেমন তার সবচেয়ে উঁচু ডালে গোটা দুই তিন ফল, কিংবা ফলবান গাছের ডালে গোটা চার পাঁচ ফল থাকে [তেমনি হবে]; এই কথা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ বলেন।
7
সেদিন মানুষ নিজের নির্মাতার প্রতি দৃষ্টি রাখবে ও তার চোখ ইসরাইলের পবিত্রতমের প্রতি চেয়ে থাকবে।
8 সে নিজের হাতের তৈরি কোরবানগাহ্গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখবে না ও তার চোখ নিজের আঙ্গুতের তৈরি বস্তু, আশেরা-মূর্তি বা সূর্য-মূর্তিগুলো দেখবে না।
9
সেদিন তার দৃঢ় সমস্ত নগর বনের কিংবা পর্বত-শিখরের সেই পরিত্যক্ত স্থানের মত হবে, যা বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে পরিত্যক্ত হয়েছিল; আর দেশ ধ্বংসস্থান হবে।
10 কারণ তুমি নিজের উদ্ধারের আল্লাহ্কে ভুলে গিয়েছ ও তোমার আশ্রয়-শৈলকে স্মরণ কর নি; এজন্য সুন্দর সুন্দর চারা রোপণ করছো ও বিদেশী কলমের সঙ্গে লাগাচ্ছে।
11 তুমি রোপণের দিনে তাতে বেড়া দাও ও খুব ভোরে তোমার চারা পুষ্পিত কর, কিন্তু দুর্ভাগ্যের ও দুরারোগ্য ব্যথার দিনে তার ফল উড়ে যাবে।
12
হায় হায়, অনেক জাতির কোলাহল! তারা সমুদ্র-কল্লোলের মত কল্লোল-ধ্বনি করছে; লোকবৃন্দের গর্জন! তারা প্রবল বন্যার মত গর্জন করছে।
13 লোকবৃন্দ প্রবল বন্যার মত গর্জন করবে, কিন্তু তিনি তাদেরকে ধম্ক দেবেন, তাতে তারা দূরে পালিয়ে যাবে এবং বায়ুর সম্মুখে পর্বতস্থ তুষের মত, কিংবা ঝড়ের সম্মুখে ঘূর্ণায়মান ধূলির মত বিতাড়িত হবে।
14 সন্ধ্যাবেলা, দেখ, ত্রাস; প্রভাতের আগেই তারা নেই। এই আমাদের সর্বস্ব-হরণকারীদের অধিকার, এই আমাদের লুণ্ঠনকারীদের পরিণতি।
1
আহা, পাখার ঝিঁঝি শব্দ-বিশিষ্ট, ইথিওপিয়া দেশের নদীগুলোর ওপারের দেশ;
2 তুমি তো সমুদ্রপথে নলের তৈরি নৌকাতে পানির উপর দিয়ে দূতদেরকে প্রেরণ করেছ। হে দ্রুতগামী দূতেরা, যে জাতি দীর্ঘকায় ও মসৃণাঙ্গ, যে জনবৃন্দ আদি থেকে ভয়ঙ্কর, যে জাতি পরিমাণ করে ও দলন করে, যার দেশ নদনদী দ্বারা বিভক্ত, তার কাছে গমন কর।
3
হে দুনিয়ার লোকেরা, হে পৃথিবীর অধিবাসীরা, যখন পর্বতমালার উপরে নিশান উঠবে, দৃষ্টিপাত করো এবং যখন তূরী বাজবে, শুনো।
4 কেননা মাবুদ আমাকে এই কথা বলেছেন, নির্মল আসমানে সতেজ রৌদ্রের মত, শস্যকর্তনের উত্তপ্ত সময়ে কুয়াসাযুক্ত মেঘের মত, আমি ক্ষান্ত হব, নিজের বাসস্থানে থেকে নিরীক্ষণ করবো।
5 কারণ আঙ্গুর সঞ্চয় করার আগে যে সময়ে মুকুল ঝরে যাবে, ফুল থেকে আঙ্গুর ফল জন্মে পেকে যাবে, সেই সময়ে তিনি কাস্তে দিয়ে তার ডগা কাটবেন ও তার সমস্ত ডাল দূর করবেন, কেটে ফেলবেন।
6 পর্বতস্থ হিংস্র পাখিগুলোর ও বন্য পশুদের জন্য ওরা একসঙ্গে পরিত্যক্ত হবে; হিংস্র পাখিরা তার উপরে গ্রীষ্মকাল যাপন করবে ও সব বন্য পশু তার উপরে শীতকাল যাপন করবে।
7
সেই সময় বাহিনীগণের মাবুদের কাছে ঐ দীর্ঘকায় ও মসৃণাঙ্গ জাতিকে উপহার হিসেবে আনা হবে; হ্যাঁ, সেই যে জনবৃন্দ আদি থেকে ভয়ঙ্কর, যে জাতি পরিমাণ করে ও দলিত করে, যার দেশ নদনদী দ্বারা বিভক্ত, সেই জাতি থেকে বাহিনীগণের মাবুদের নামের স্থানে, সিয়োন পর্বতে, উপহার আনা হবে।
1
দেখ, মাবুদ দ্রুতগামী মেঘে আরোহণ করে মিসরে গমন করছেন; মিসরের মূর্তিগুলো তাঁর সাক্ষাতে কাঁপবে ও মিসরের অন্তর ভয়ে গলে যাবে।
2 আর আমি এক মিসরীয়কে অন্য মিসরীয়ের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করবো; তারা প্রত্যেকে আপন আপন ভাইয়ের ও প্রত্যেকে নিজ নিজ বন্ধুর সঙ্গে, নগর নগরের সঙ্গে ও রাজ্য রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধ করবে।
3 আর মিসরের রূহ্ তার অন্তরে শূন্য হয়ে যাবে এবং আমি তার পরিকল্পনা নিষ্ফল করবো; আর তারা মূর্তি, মৃতদের রূহ্, ভূতুড়িয়া ও গুনিনদের কাছে খোঁজ করবে।
4 আর আমি মিসরীয়দেরকে কঠিন মালিকের হাতে তুলে দেব, এক জন উগ্র বাদশাহ্ তাদের উপরে রাজত্ব করবে, এই কথা প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
5 আর সমুদ্র নির্জল হবে ও নদীতে চর পড়ে তা শুকিয়ে যাবে।
6 তার সমস্ত স্রোত দুর্গন্ধ হবে, মিসরের খালগুলো ছোট হয়ে চর পড়বে; নল-খাগ্ড়া ম্লান হবে।
7 নীল নদীর নিকটস্থ, নীল নদীর তীরস্থ মাঠগুলো ও নীল নদীর কাছে উপ্ত বীজগুলো শুকিয়ে যাবে, উড়ে যাবে, কিছুই থাকবে না।
8 জেলেরা হাহাকার করবে; যেসব লোক নীল নদীতে বড়শী ফেলে, তারা মাতম করবে এবং যারা পানির মুখে জাল পাতে, তারা হতাশ হবে।
9 আর যারা মসীনার কাপড় প্রস্তুত করে ও যারা পাতলা কাপড় বোনে, তারা লজ্জিত হবে।
10 আর তার সমস্ত স্তম্ভ ভেঙ্গে যাবে; যারা বেতনের জন্য কাজ করে, তারা সকলে প্রাণে দুঃখ পাবে।
11 সোয়নের প্রধানবর্গ নিতান্ত অজ্ঞান; ফেরাউনের বিজ্ঞ মন্ত্রীরা নির্বোধ মন্ত্রণা দিল; তোমরা কেমন করে ফেরাউনকে বলতে পার, আমি জ্ঞানীদের পুত্র, প্রাচীন বাদশাহ্দের সন্তান?
12 তোমার সেই জ্ঞানবানেরা কোথায়? তারা একবার তোমাকে সংবাদ দিক; বাহিনীগণের মাবুদ মিসরের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা করেছেন, তা তারা জানুক।
13 সোয়নের প্রধানবর্গ নির্বোধ হল; নোফের প্রধানবর্গ ভ্রান্ত হল; যারা মিসরীয় বংশদের কোণের পাথর, তারা মিসরকে বিপথে চালিয়েছে।
14 মাবুদ মিসরের অন্তরে কুটিলতার রূহ্ মিশিয়েছেন; মাতাল ব্যক্তি যেমন নিজের বমির উপরে টলতে থাকে, তেমনি ওরা মিসরকে তার সমস্ত কাজে দ্বিধাগ্রস্ত করেছে।
15 মিসরের জন্য মাথার বা লেজের, খেজুরের ডাল বা নল-খাগ্ড়ার করণীয় কোন কাজ হবে না।
16
সেদিন মিসর স্ত্রীলোকের মত হবে; বাহিনীগণের মাবুদ তার উপরে হাত দোলাবেন, সেই দোলনে সে ভীষণ ভয়ে কাঁপবে।
17 বাহিনীগণের মাবুদ তাদের বিরুদ্ধে যে মন্ত্রণা করেছেন, সেজন্য এহুদা দেশ মিসরের ত্রাসজনক হবে, কারো কাছে তার নামমাত্র করলে সে ভীষণ ভয়ে কাঁপবে।
18
সেদিন মিসর দেশের মধ্যে পাঁচটি নগর কেনানীয় ভাষাবাদী হবে এবং বাহিনীগণের মাবুদের উদ্দেশে শপথ করবে। একটি নগর উৎপাটন-নগর নামে আখ্যাত হবে।
19
সেদিন মিসর দেশের মধ্যস্থানে মাবুদের উদ্দেশে একটি কোরবানগাহ্ হবে এবং তার সীমার কাছে মাবুদের উদ্দেশে একটি স্তম্ভ স্থাপিত হবে।
20 তা মিসর দেশে বাহিনীগণের মাবুদের উদ্দেশে চিহ্ন ও সাক্ষীস্বরূপ হবে; কেননা তারা জুলুমবাজদের ভয়ে মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করবে এবং তিনি এক জন মুক্তিদাতা ও রক্ষককে পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করবেন।
21 আর মাবুদ মিসরকে নিজের পরিচয় দেবেন। সেদিন মিসরীয়েরা মাবুদকে জানবে; আর তারা কোরবানী ও নৈবেদ্য দ্বারা এবাদত করবে ও মাবুদের কাছে মানত করে পালন করবে।
22 আর মাবুদ মিসরকে প্রহার করবেন, প্রহার করে সুস্থ করবেন; আর তারা মাবুদের কাছে ফিরে আসবে, তাতে তিনি তাদের ফরিয়াদ গ্রাহ্য করে তাদেরকে সুস্থ করবেন।
23
সেদিন মিসর থেকে আসেরিয়া দেশ যাবার একটি রাজপথ হবে; তাতে আসেরিয়া মিসরে ও মিসরীয় আসেরিয়া দেশ যাতায়াত করবে এবং মিসরীয়েরা আসেরিয়দের সঙ্গে এবাদত করবে।
24 সেদিন ইসরাইল মিসর ও আসেরিয়া দেশের সঙ্গে তৃতীয় হবে, দুনিয়ার মধ্যে দোয়ার পাত্র হবে;
25 ফলত বাহিনীগণের মাবুদ তাদেরকে দোয়া করবেন, বলবেন, আমার লোক মিসর, আমার হাতের কাজ আসেরিয়া ও আমার অধিকার ইসরাইল দোয়াযুক্ত হোক।
1
যে বছর আসেরিয়ার বাদশাহ্ সর্গোনের প্রেরিত তর্তন [সেনাপতি] অস্দোদে আসেন, আর অস্দোদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা হস্তগত করেন,
2 সেই সময়ে মাবুদ আমোজের পুত্র ইশাইয়ার মধ্য দিয়ে এই কথা বললেন, তুমি গিয়ে নিজের কোমর থেকে চট খোল ও পা থেকে জুতা খোল। তাতে তিনি তা করলেন, উলঙ্গ হয়ে ও খালি পায়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।
3
তখন মাবুদ বললেন, আমার গোলাম ইশাইয়া যেমন মিসর ও ইথিওপিয়া দেশের বিষয়ে তিন বছরের চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণের জন্য উলঙ্গ হয়ে ও খালি পায়ে ঘুরে বেড়িয়েছে,
4 তেমনি আসেরিয়ার বাদশাহ্ মিসরের লজ্জার জন্য আবালবৃদ্ধ-মিসরীয়-বন্দী ও ইথিওপীয় নির্বাসিত লোকদেরকে উলঙ্গ অবস্থায়, খালি পায়ে ও পেছন অনাবৃত করে চালাবে।
5 তাতে তারা নিজেদের বিশ্বাসভূমি ইথিওপিয়া ও নিজেদের গৌরবাস্পদ মিসরের বিষয়ে ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত হবে।
6 সেদিন এই উপকূল-নিবাসীরা বলবে, আসেরিয়ার বাদশাহ্ থেকে উদ্ধার পাবার জন্য আমরা যার কাছে সাহায্য লাভের জন্য পালিয়ে গিয়েছিলাম, দেখ, এই আমাদের সেই বিশ্বাসভূমি; তবে আমরাই কিভাবে বাঁচবো?
1
দক্ষিণাঞ্চলে যেমন ঝটিকা মহাবেগে চলে, তেমনি মরুভূমি থেকে, ভয়ঙ্কর দেশ থেকে, বিপদ আসছে।
2 একটি নিদারুণ দর্শন আমাকে দেখানো হল; বেঈমান বেঈমানী করছে, বিনাশক বিনাশ করছে। হে ইলাম, উঠে যাও; হে মাদিয়া, অবরোধ কর; আমি ওর কৃত সমস্ত মাতম নিবৃত্ত করেছি।
3
এতে আমার সমস্ত কোমরে তীব্র যন্ত্রণা দেখা দিল, প্রসবকারিণীর ব্যথার মত আমার ব্যথা হল; আমি এমন নুইয়ে পড়েছি যে, শুনতে পাই না, আমি এমন ভয় পেয়েছি যে, দেখতে পাই না।
4 আমার অন্তর ধুক্ ধুক্ করছে, মহাত্রাস আমাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে; আমি যে সন্ধ্যাকাল ভালবেসেছিলাম, তা তিনি আমার পক্ষে ভীতিকর করলেন।
5
টেবিল প্রস্তুত, প্রহরীরা নিযুক্ত, ভোজন-পান চলছে; হে সেনাপতিরা উঠ, নিজ নিজ ঢালে তেল লাগাও।
6
বস্তুত প্রভু আমাকে এই কথা বললেন, যাও, এক জন প্রহরী নিযুক্ত কর; সে যা কিছু দেখবে, তার সংবাদ দিক্।
7 যখন সে দল দেখে, জোড়ায় জোড়ায় ঘোড়সওয়ার, গাধার দল, উটের দল দেখে, তখন সে যথাসাধ্য সাবধানে শুনবে।
8
আর সে সিংহের মত উঁচু আওয়াজ করে বললো, হে মালিক, আমি দিনের বেলা দিনের পর দিন উঁচু পাহারা-ঘরে দাঁড়িয়ে থাকি এবং প্রতি রাত্রে নিজের পাহারা-স্থানে দণ্ডায়মান রয়েছি।
9 আর দেখ, এক দল লোক এল; ঘোড়সওয়ারা জোড়ায় জোড়ায় এল। আর সে প্রত্যুত্তর করে বললো, ‘পড়লো, ব্যাবিলন পড়লো এবং তার দেবতাদের সমস্ত খোদাই-করা মূর্তি ভেঙ্গে ভূমিসাৎ হল।’
10
হে আমার মাড়াই করা শস্য, আমার খামারের সন্তান, আমি বাহিনীগণের মাবুদের, ইসরাইলের আল্লাহ্র কাছে যা শুনেছি, তা তোমাদেরকে জানালাম।
11
দূমা বিষয়ক দৈববাণী।
কেউ সেয়ীর থেকে আমাকে ডেকে বলছে, প্রহরি, রাত কত?
12 প্রহরী, রাত কত? প্রহরী বললো, সকাল আসছে এবং রাত আসছে, যদি আবার জিজ্ঞাসা করতে চাও, তবে জিজ্ঞাসা করো; ফিরে এসো।
13
আরব বিষয়ক দৈববাণী।
হে দদানীয় পথিকদলগুলো, তোমরা আরবে বনের মধ্যে রাত যাপন করবে।
14 তোমরা পিপাসিত লোকদের কাছে পানি আন; হে টেমা-দেশবাসীরা, তোমরা খাদ্য নিয়ে পলাতকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কর।
15 কেননা তারা তলোয়ারের সম্মুখ থেকে, খোলা তলোয়ারের, বাঁকানো ধনুকের ও প্রচণ্ড যুদ্ধের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গেল।
16 বস্তুত প্রভু আমাকে এই কথা বললেন, বেতনজীবীর বছরের মত আর এক বছরের মধ্যে কায়দারের সমস্ত প্রতাপ শেষ হয়ে যাবে;
17 আর কায়দার-বংশীয় বীরদের মধ্যে অল্প তীরন্দাজ মাত্র অবশিষ্ট থাকবে, কারণ মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেছেন।
1
এখন তোমার কি হয়েছে যে, তোমার অধিবাসীরা সকলে বাড়ির ছাদে উঠেছে?
2 হে কলরবপূর্ণ, কোলাহল-যুক্ত নগরী, উল্লাসপ্রিয় পুরি, তোমার নিহতরা তলোয়ারে আহত নয়, তারা যুদ্ধে মৃত নয়।
3 তোমার শাসনকর্তারা সকলে একবারে পালিয়ে গেল; ধনুক ব্যবহার না করেই তাদের ধরা হল; তোমার মধ্যে যেসব লোক পাওয়া গেল, তারা একবারে ধরা পরলো, তারা দূরে পালিয়ে গেল।
4 এজন্য আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে অন্য দিকে দৃষ্টিপাত কর, আমি ভীষণ কান্নাকাটি করবো; আমার জাতিরূপ কন্যার সর্বনাশ বিষয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করো না।
5 কেননা প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ থেকে কোলাহলের, দলনের ও ব্যাকুলতার দিন দর্শন-উপত্যকায় উপস্থিত; প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ও আর্তনাদ পর্বত পর্যন্ত যাচ্ছে।
6 আর ইলাম তূণ ধারণ করলো, তার সঙ্গে পদাতিক ও ঘোড়সওয়ারদের দল; এবং কীরের লোক ঢাল অনাবৃত করলো।
7 তোমার উত্তম উত্তম উপত্যকা রথে পরিপূর্ণ হল ও ঘোড়সওয়ারদের তোরণদ্বারের কাছে প্রস্তুত রাখা হল।
8 আর তিনি এহুদার আচ্ছাদন খুলে ফেললেন; আর সেদিন তুমি অরণ্য প্রাসাদে যুদ্ধের সাজ-পোশাকের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে।
9
আর তোমরা দাউদ-নগরের ভগ্নস্থানগুলো দেখলে; বাস্তবিক সেসব অনেক; ও নিচস্থ সরোবরের পানি একত্র করলে;
10 এবং জেরুশালেমের সমস্ত বাড়ি গণনা করলে ও প্রাচীর দৃঢ় করার জন্য সমস্ত বাড়ি ভেঙ্গে ফেললে।
11 আর তোমরা পুরানো পুষ্করিণীর পানির জন্য দুই প্রাচীরের মধ্যস্থানে সরোবর প্রস্তুত করলে; কিন্তু যিনি এই ঘটনা সম্পন্ন করেছেন, তাঁর প্রতি দৃষ্টি করলে না; যিনি দীর্ঘকাল থেকে এর সংগঠন করেছেন, তাঁকে দেখলো না।
12
আর সেদিন প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ কাঁদবার, মাতম করবার, মাথা মুণ্ডন ও কোমরে চট বাঁধার কথা ঘোষণা করলেন;
13 কিন্তু দেখ, আমোদ প্রমোদ, বলদ জবেহ্ ও ভেড়া জবেহ্, গোশ্ত ভোজন ও আঙ্গুর-রস পান। ‘এসো, আমরা ভোজন-পান করি, কেননা আগামীকাল মরে যাব।’
14
আর আমার কর্ণগোচরে বাহিনীগণের মাবুদ নিজেকে প্রকাশ করলেন, সত্যিই, মরণকাল পর্যন্ত তোমাদের এই অপরাধের কাফ্ফারা করা যাবে না, এই কথা প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
15 প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, এই কথা বলেন, তুমি ঐ কোষাধ্যক্ষের কাছে, অর্থাৎ বাড়ির নেতা শিব্নের কাছে গিয়ে তাকে বল, এখানে তুমি কি করছো?
16 এখানে তোমার কেই বা আছে যে, তুমি নিজের জন্য এখানে কবর খনন করেছ? এত উঁচু স্থানে নিজের কবর খনন করেছে, নিজের বসবাসের জন্য শৈল খনন করেছে।
17 দেখ, হে বীর, মাবুদ তোমাকে ছুড়ে ফেলবেন, তিনি শক্ত করে তোমাকে ধরবেন।
18 তিনি গোলকের মত তোমাকে নিশ্চয় ঘুরিয়ে প্রশস্ত দেশে নিক্ষেপ করবেন; সেই স্থানে তুমি মরবে এবং সেই স্থানে তোমার প্রতাপ-রথগুলো থাকবে; তুমি তোমার প্রভুর কুল-কলঙ্ক মাত্র।
19
আমি তোমার পদ থেকে তোমাকে উচ্ছেদ করবো, তোমার স্থান থেকে তোমাকে উপড়ে ফেলা হবে।
20 আর সেদিন আমি আমার গোলামকে, হিল্কিয়ের পুত্র ইলীয়াকীমকে ডাকব;
21 আর তোমার পোশাক তাকে পরাব, তোমার কোমরবন্ধ দিয়ে তাকে বলবান করবো ও তোমার কর্তৃত্ব তার হাতে তুলে দেব; সে জেরুশালেম-নিবাসীদের ও এহুদা-কূলের পিতা হবে।
22 আর আমি দাউদ-কুলের চাবি তার স্কন্ধে দেব; সে খুললে কেউ বন্ধ করবে না ও বন্ধ করলে কেউ খুলবে না।
23 যেমন লোকে দৃঢ় স্থানে গোঁজ লাগায়, তেমনি তাকে লাগিয়ে দেব; সে তার পিতৃকুলের প্রতাপ-সিংহাসনস্বরূপ হবে।
24 আর তার পিতৃকুলের সমস্ত গৌরব, সন্তান-সন্ততি ও পানপাত্র থেকে কুপা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষুদ্র পাত্র ঐ দণ্ডের সঙ্গে ঝুলান যাবে।
25 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, যে দণ্ড দৃঢ় স্থানে লাগানো ছিল, তা সেদিন সরে গিয়ে ছিড়ে পড়ে যাবে ও যে ভার তার উপরে ছিল তা ধ্বংস হবে, কারণ মাবুদ এই কথা বলেছেন।
1
হে তর্শীশের সমস্ত জাহাজ, হাহাকার কর, কেননা সর্বনাশ হল, বাড়ি কিংবা প্রবেশের পথমাত্র নেই; এই সংবাদ সাইপ্রাস দেশ থেকে ওদের জানানো হল।
2 হে উপকূল-নিবাসীরা, নীরব হও; তোমাদের দেশ সমুদ্র-পারগামী সীদোনীয় বণিকগণে পূর্ণ ছিল;
3 এবং মহাজলরাশিতে শীহোর নদীর বীজ, নীল নদীর শস্য তার লাভ হত এবং তা জাতিদের হাটস্বরূপ ছিল।
4
হে সিডন, লজ্জিত হও, কেননা সাগর, সমুদ্রের দৃঢ় দুর্গ, এই কথা বলছে, প্রসবযন্ত্রণা ভোগ করি নি, প্রসব করি নি, যুবকদের প্রতিপালন বা কুমারীদের ভরণপোষণ করি নি।
5 ঐ জনশ্রুতি মিসরে পৌঁছামাত্র লোকে টায়ারের সংবাদে ব্যথিত হবে।
6 তোমরা পার হয়ে তর্শীশে গমন কর; হে উপকূল-নিবাসীরা, হাহাকার কর।
7 এ কি তোমাদের সেই আনন্দনগরী? এই নগর না প্রাচীনকালেও প্রাচীনা ছিল এবং এর চরণ না দূরদেশে প্রবাস করার জন্য একে নিয়ে যেত?
8 মুকুট বিতরণকারিণী টায়ার, যার বণিকেরা নেতা, মহাজনেরা দুনিয়ার গৌরবান্বিত, এর বিরুদ্ধে এই মন্ত্রণা কে করেছে?
9 বাহিনীগণের মাবুদই এই মন্ত্রণা করেছেন; তিনি গর্বের সমস্ত গৌরব নাপাক করার ও দুনিয়ার সম্মানিত সকলকে অবমাননার পাত্র করার জন্যই এটা করেছেন।
10
হে তর্শীশ-কন্যা, তুমি নীল নদের মত তোমার দেশ প্লাবিত কর, তোমার কোমরবন্ধনী আর নেই।
11 তিনি সমুদ্রের উপরে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তিনি সমস্ত রাজ্য কাঁপিয়ে তুলেছেন; মাবুদ কেনানের দৃঢ় সমস্ত দুর্গ উচ্ছিন্ন করতে তার বিষয়ে হুকুম করেছেন।
12 আর তিনি বললেন, বলাৎকৃতা কুমারী, সীদোন-কন্যা, তুমি আর উল্লাস করবে না; উঠ, পার হয়ে সাইপ্রাসে যাও; সে স্থানেও তোমার বিশ্রাম হবে না।
13 ঐ দেখ, কলদ্ীয়দের দেশ; সেই জাতি আর নেই; আসেরিয়া বন্যজন্তুদের জন্য তা নির্ধারণ করেছে; তারা উচ্চগৃহ করে তার সমস্ত অট্টালিকা ভূমিসাৎ করেছে, নগর ধ্বংস স্থান করেছে।
14 হে তর্শীশের সমস্ত জাহাজ, হাহাকার কর, কেননা তোমাদের দৃঢ় দুর্গের সর্বনাশ হল।
15
সেই দিনে এরকম ঘটবে, এক বাদশাহ্র জীবনকাল অনুসারে টায়ারকে সত্তর বছর পর্যন্ত ভুলে থাকা হবে; সত্তর বছর শেষে টায়ারের দশা পতিতা বিষয়ক এই গানের মত হবে;
16 ‘হে ভুলে থাকা পতিতা, বীণা নিয়ে নগরে ভ্রমণ কর; মধুর তালে বাজাও, বিস্তর গান কর, যাতে তোমাকে আবার স্মরণ করা যায়।’
17
সত্তর বছরের শেষে মাবুদ টায়ারের খোঁজ-খবর নেবেন; পরে সে পুনর্বার নিজের লাভজনক ব্যবসায়ে প্রবৃত্ত হবে এবং ভূতলে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে পতিতাবৃত্তি করবে।
18 কিন্তু তার লাভ ও আয় মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে; তা কোষে রাখা কিংবা সঞ্চয় করা যাবে না; কেননা যারা মাবুদের সম্মুখে বাস করে, তাদের তৃপ্তিজনক খাবার ও সুন্দর পরিচ্ছদের জন্য তার লাভ দেওয়া হবে।
1
দেখ, মাবুদ দুনিয়াকে শূন্য করছেন, উৎসন্ন করছেন, উল্টিয়ে ফেলছেন ও তার নিবাসীদের ছড়িয়ে দিয়েছেন।
2 এভাবে লোক ও ইমাম, গোলাম ও মালিক, বাঁদী ও কর্ত্রী, ক্রেতা ও বিক্রেতা, ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা, ঋণী ও মহাজন, সকলে সমান হবে।
3 দুনিয়া একেবারে নিঃশেষিত হবে ও একেবারে লুণ্ঠিত হবে, কেননা মাবুদ এই কথা বলেছেন।
4
দুনিয়া শোকান্বিত ও নিস্তেজ হল, দুনিয়া ম্লান ও নিস্তেজ হল, দুনিয়ার সম্মানিত লোকেরা ম্লান হল।
5 আর দুনিয়া তার নিবাসীদের পদতলে নাপাক হল, কারণ তারা ব্যবস্থাগুলো লঙ্ঘন করেছে, বিধি লঙ্ঘন করেছে, চিরস্থায়ী নিয়ম ভঙ্গ করেছে।
6 সেজন্য বদদোয়া দুনিয়াকে গ্রাস করলো ও সেখানকার বাসিন্দারা দোষী সাব্যস্ত হল; সেজন্য দুনিয়া-নিবাসীদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হল, অল্প লোকই অবশিষ্ট আছে।
7 নতুন আঙ্গুর-রস শুকিয়ে গেছে, আঙ্গুরলতা ম্লান হয়েছে, প্রফুল্লচিত্ত সকলে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করছে।
8 তম্বুরার আমোদ নিবৃত্ত হল, উল্লাসকারীদের কোলাহল শেষ হল, বীণার আমোদ নিবৃত্ত হল।
9 লোকে আর গান সহকারে আঙ্গুর-রস পান করে না; সুরাপায়ীদের মুখে সুরা তিক্ত লাগে।
10 উৎসন্নতার নগর ভগ্ন হয়ে পড়লো, সমস্ত গৃহ বন্ধ হল, ভিতরে যাওয়া যায় না।
11 আঙ্গুর-রসের বিষয়ে রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার হয়, সমস্ত আমোদ অন্ধকার হল, দেশের বিলাস নির্বাসিত হল।
12 নগরে ধ্বংস অবশিষ্ট রইলো, তোরণদ্বার খণ্ড খণ্ড হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে।
13 বস্তুত দুনিয়াতে জাতিদের মধ্যে এরকম ঘটনা হবে; জলপাই গাছ ঝাড়া হলে পর, আঙ্গুর ফল সংগ্রহ করার পর যেমন অল্পই ফল গাছে থাকে, দুনিয়ার অবস্থা তেমনি হবে।
14
এরা উচ্চরব করবে, আনন্দগান করবে, মাবুদের মহিমার কারণে এরা সমুদ্র থেকে উচ্চধ্বনি শোনাবে।
15 অতএব তোমরা পূর্বদেশে মাবুদের গৌরব কর, সমুদ্রের উপকূলগুলোতে ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদের নামের গৌরব কর।
16 আমরা দুনিয়ার প্রান্ত থেকে কাওয়ালী শুনেছি, ‘ধার্মিক ব্যক্তির গৌরব হোক’। কিন্তু আমি বললাম, আমি ক্ষীণ হচ্ছি, আমি ক্ষীণ হচ্ছি, আমাকে ধিক্। বেঈমানরা বেঈমানী করেছে, হ্যাঁ, বেঈমানরা অতিশয় বেঈমানী করেছে।
17
হে পৃথিবী-নিবাসী, ত্রাস, খাত ও ফাঁদ তোমার উপরে এসেছে।
18 যে কেউ ত্রাসের জনশ্রুতিতে পালিয়ে বাঁচবে, সে খাতে পড়বে, যে খাত থেকে উঠে আসবে, সে ফাঁদে ধরা পড়বে; কারণ আসমানের সমস্ত জানালা মুক্ত হল ও দুনিয়ার সমস্ত মূল কাঁপতে লাগল।
19 দুনিয়া বিদীর্ণ হল, বিদীর্ণ হল; দুনিয়া ফেটে গেল, ফেটে গেল; দুনিয়া বিচলিত হল, বিচলিত হল।
20 দুনিয়া মাতালের মত টলটলায়মান হবে, কুঁড়ে ঘরের মত দুলবে; তার অধমের্র ভারে ভারগ্রস্ত হয়ে পড়ে যাবে, আর উঠতে পারবে না।
21
সেদিন মাবুদ আসমানে আসমানের বাহিনীগণকে ও দুনিয়াতে দুনিয়ার বাদশাহ্দেরকে প্রতিফল দেবেন।
22 তাতে তাদের জেলখানার গর্তে একসঙ্গে রাখা বন্দীদের মত একত্রে রাখা হবে ও কারাগারে বন্দী করে রাখা হবে, পরে অনেক দিন গত হলে তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া যাবে।
23 আর চন্দ্র মলিন ও সূর্য লজ্জিত হবে, কেননা বাহিনীগণের মাবুদ সিয়োন পর্বতে ও জেরুশালেমে রাজত্ব করবেন; এবং তাঁর প্রধানবর্গের সম্মুখে প্রতাপ থাকবে।
1
মাবুদ, তুমি আমার আল্লাহ্; আমি তোমার প্রতিষ্ঠা করবো, তোমার নামের প্রশংসা করবো; কেননা তুমি অলৌকিক কাজ করেছ; বিশ্বস্ততায় ও সত্যে তুমি পুরাকালীন মন্ত্রণাগুলো সাধন করেছ।
2 কারণ তুমি নগরকে স্তূপে, দৃঢ় নগরকে ধ্বংস্তূপে পরিণত করেছ; বিদেশীদের রাজপুরী আর নেই; তা কখনও নির্মিত হবে না।
3 এজন্য বলবান লোকেরা তোমার গৌরব করবে, নিষ্ঠুর জাতিদের নগর তোমাকে ভয় করবে।
4 কেননা তুমি দরিদ্রের দৃঢ় দুর্গ, সঙ্কটে দীনহীনের দৃঢ় দুর্গ, ঝটিকানিবারক আশ্রয়, রৌদ্রনিবারক ছায়া হয়েছ, যখন নিষ্ঠুরদের নিশ্বাস শীতকালের ঝড়বৃষ্টির মত হয়।
5 যেমন শুকনো দেশে রৌদ্র, তেমনি তুমি বিদেশীদের কোলাহল থামাবে; যেমন মেঘের ছায়াতে রৌদ্র, তেমনি নিষ্ঠুরদের গান থেমে যাবে।
6 আর বাহিনীগণের মাবুদ এই পর্বতে সর্বজাতির জন্য উত্তম উত্তম খাদ্য দ্রব্যের একটি ভোজ, পুরানো আঙ্গুর-রসের, মেদযুক্ত উত্তম খাদ্যদ্রব্য ও সবচেয়ে ভাল পুরানো আঙ্গুর-রসের একটি ভোজ প্রস্তুত করবেন,
7 আর সর্বদেশীয় লোকেরা যে ঘোমটায় আচ্ছাদিত আছে ও সব জাতের লোকদের সম্মুখে যে আবরক চাদর টাঙ্গান আছে, মাবুদ এই পর্বতে তা বিনষ্ট করবেন।
8 তিনি মৃত্যুকে অনন্তকালের জন্য বিনষ্ট করেছেন ও সার্বভৌম মাবুদ সকলের মুখ থেকে চোখের পানি মুছে দেবেন; এবং সমস্ত দুনিয়া থেকে নিজের লোকদের দুর্নাম দূর করবেন; কারণ মাবুদই এই কথা বলেছেন।
9 সেদিন লোকে বলবে, এই দেখ, ইনিই আমাদের আল্লাহ্; আমরা এরই অপেক্ষায় ছিলাম, ইনি আমাদেরকে নাজাত করবেন; ইনিই মাবুদ; আমরা এঁরই অপেক্ষায় ছিলাম, আমরা এঁর কৃত উদ্ধারে উল্লসিত হব, আনন্দ করবো।
10
কেননা মাবুদের হাত এই পর্বতে অধিষ্ঠিত থাকবে; আর যেমন পোয়াল গোবর সারের মধ্যে পদতলে দলিত হয়, তেমনি মোয়াব স্বস্থানে দলিত হবে।
11 আর সাঁতারু যেমন সাঁতারের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, তেমনি সে তার মধ্যে হাত বাড়িয়ে দেবে; কিন্তু তিনি তার হাতের কৌশলের সঙ্গে তার গর্ব খর্ব করবেন।
12 তিনি তোমার উঁচু প্রাচীরযুক্ত দৃঢ় দুর্গ ধ্বংস করেছেন, নত করেছেন, ভূমিসাৎ করেছেন, ধূলিশায়ী পর্যন্ত করেছেন।
1
সেদিন এহুদা দেশে এই গজল গাওয়া হবে;
আমাদের একটি দৃঢ় নগর আছে;
তিনি উদ্ধারকে প্রাচীর ও পরিখাস্বরূপ করবেন।
2
তোমরা তোরণদ্বারগুলো মুক্ত কর,
বিশ্বস্ত ধার্মিক জাতি প্রবেশ করবে।
3
যার মন তোমাতে সুস্থির,
তুমি তাকে শান্তিতে, শান্তিতেই রাখবে,
কেননা তোমাতেই তার নির্ভরতা।
4
তোমরা চিরকাল মাবুদের উপর নির্ভরতা রাখ;
কেননা মাবুদ ইয়াহ্ওয়েহ্ই তোমাদের অনন্তকালীন শৈল।
5
কারণ তিনি উঁচুতে বসবাসকারীদেরকে, উন্নত নগরকে অবনত করেছেন; তিনি তা অবনত করেন, অবনত করে ভূমিসাৎ করেন, ধূলিশায়ী পর্যন্ত করেন।
6 লোকদের পা— দুঃখীদের ও দরিদ্রদের পা দিয়ে তা মাড়াবে।
7 ধার্মিকের পথ সরলতায়, তুমি ধার্মিকের পথ সমান করে সরল করছো।
8 হ্যাঁ, আমরা তোমার বিচার-পথেই, হে মাবুদ, তোমার অপেক্ষায় রয়েছি; আমাদের প্রাণ তোমার নামের ও তোমার স্মরণচিহ্নের আকাঙক্ষা করে।
9 রাতের বেলায় আমি প্রাণের সঙ্গে তোমার আকাঙক্ষা করেছি; হ্যাঁ, সযত্নে আমার অন্তরস্থ রূহ্ দ্বারা তোমার খোঁজ করবো, কেননা দুনিয়াতে তোমার বিচারগুলো প্রচলিত হলে, দুনিয়া-নিবাসীরা ধার্মিকতা শিক্ষা করবে।
10 দুষ্ট লোক কৃপা পেলেও ধার্মিকতা শেখে না; সরলতার দেশে সে অন্যায় করে, মাবুদের মহিমা দেখে না।
11
হে মাবুদ, তোমার হাত তুমি উঁচুতে উঠিয়েছ, তবু তারা দেখে না; কিন্তু তারা লোকদের পক্ষে তোমার গভীর আগ্রহ দেখবে ও লজ্জা পাবে, হ্যাঁ, আগুন তোমার বিপক্ষদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।
12 হে মাবুদ, তুমি আমাদের জন্য শান্তি নির্ধারণ করবে, কেননা আমাদের সমস্ত কাজই তুমি আমাদের জন্য করে আসছ।
13 হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তুমি ছাড়া অন্য প্রভুরা আমাদের উপরে কর্তৃত্ব করেছিল; কিন্তু কেবল তোমারই সাহায্যে আমরা তোমার নামের ঘোষণা করবো।
14 মৃতেরা আর জীবিত হবে না, মৃতেরা আর উঠবে না; এজন্য তুমি প্রতিফল দিয়ে ওদেরকে সংহার করেছ, ওদের নাম পর্যন্ত মুছে ফেলেছ।
15 তুমি এই জাতির বৃদ্ধি করেছ, হে মাবুদ, তুমি এই জাতির বৃদ্ধি করেছ; তুমি মহিমান্বিত হয়েছ, তুমি দেশের সকল সীমা বিস্তার করেছ।
16
হে মাবুদ, সঙ্কটের সময়ে লোকেরা তোমার অপেক্ষায় ছিল, তোমা থেকে শাস্তি পাবার সময়ে মৃদু স্বরে বিনয় করতো।
17 গর্ভবতী স্ত্রী আসন্ন প্রসবকালে ব্যথা সহ্য করতে করতে যেমন কান্নাকাটি করে, হে মাবুদ, আমরা তোমার সাক্ষাতে তার মত হয়েছি।
18 আমরা গর্ভবতীর মত হয়েছি, আমরা ব্যথা সয়েছি, যেন বায়ু প্রসব করেছি; আমাদের দ্বারা দেশে রক্ষা পায় নি, দুনিয়া-নিবাসীরা ভূমিষ্ঠ হয় নি।
19 তোমার মৃতেরা জীবিত হবে, আমার মৃতদেহ বেঁচে উঠবে; হে ধূলি-নিবাসীরা, তোমরা জাগ্রত হও, আনন্দ গান কর; কেননা তোমার শিশির আলোর শিশিরের মত এবং ভূমি মৃতদেরকে ভূমিষ্ঠ করবে।
20
হে আমার জাতি, চল, তোমার অন্তরাগারে প্রবেশ কর, তোমার দ্বারগুলো রুদ্ধ কর; অল্পক্ষণ মাত্র লুকিয়ে থাক, যে পর্যন্ত ক্রোধ অতীত না হয়।
21 কেননা দেখ, মাবুদ তাঁর স্থান থেকে বের হয়েছেন, দুনিয়া-নিবাসীদের অপরাধের প্রতিফল দেবার জন্য; দুনিয়া তার উপর যে রক্তপাত হয়েছে তা প্রকাশ করবে, নিজের নিহতদেরকে আর ঢেকে রাখবে না।
1
সেদিন মাবুদ তাঁর ভয়ংকর, মহান ও শক্তিশালী তলোয়ার দ্বারা পলায়মান নাগ লিবিয়াথনকে, হ্যাঁ, এঁকে-বেঁকে পালিয়ে যাওয়া সাপ লিবিয়াথনকে প্রতিফল দেবেন এবং সমুদ্রস্থ প্রকাণ্ড জলচর নষ্ট করবেন।
2 সেই দিন— একটি আঙ্গুর-ক্ষেতের বিষয়ে তোমরা গান করো।
3
আমি মাবুদ তার রক্ষক,
আমি প্রতিক্ষণে তাতে পানি সেচন করবো;
কিছুতে যেন তার ক্ষতি না করে,
সেজন্য দিনরাত তা রক্ষা করবো।
4
আমার ক্রোধ নেই; আঃ! কাঁটা ও কাঁটাঝোপ যদি যুদ্ধে আমার বিপক্ষ হত! আমি সেসব আক্রমণ করে একেবারে পুড়িয়ে দিতাম।
5 সে বরং আমার পরাক্রমের আশ্রয় নিক, আমার সঙ্গে মিলিত হোক, আমার সঙ্গে মিলিতই হোক।
6 ভাবী কালে ইয়াকুব মূল বাঁধবে, ইসরাইল মুকুলিত ও উৎফুল্ল হবে এবং তারা ভূতলকে ফলে পরিপূর্ণ করবে।
7
তিনি ইসরাইলের প্রহারককে যেমন প্রহার করেছেন, তেমনি কি তাকেও প্রহার করলেন? কিংবা তারা কি নিহত হয়েছে, যেমন তাদের নিহতকারীরা নিহত হয়েছে?
8 তুমি দূর করে দিয়ে ও বন্দী দশায় পাঠিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করলে; তিনি পূর্বীয় বায়ুর দিনে নিজের প্রবল বায়ু দ্বারা তাকে ঝেড়ে দূর করলেন।
9 এজন্য এর মধ্য দিয়ে ইয়াকুবের অপরাধ মোচন হবে এবং এটা তার গুনাহ্ দূর করার সমস্ত ফল; সে চূণের ভগ্নচূর্ণ পাথরগুলোর মত কোরবানগাহ্র সমস্ত পাথর চূর্ণ করবে, আশেরা-মূর্তি ও সূর্য-মূর্তিগুলো আর উঠবে না।
10 কারণ সুদৃঢ় নগর নির্জন, মরুভূমির মত বাসভূমি মানব শূন্য ও পরিত্যক্ত হয়েছে; সেই স্থানে বাছুর চরবে ও শয়ন করবে এবং গাছের পাতা খাবে।
11 সেখানকার ডালপালা শুকিয়ে গেলে ভাঙ্গা যাবে, স্ত্রীলোকেরা এসে তাতে আগুন দেবে। কারণ সেই জাতি নির্বোধ, সেজন্য তার নির্মাতা তার প্রতি করুণা করবেন না, তার গঠনকর্তা তার প্রতি কৃপা করবেন না।
12
সেদিন মাবুদ ফোরাত নদীর প্রণালী থেকে মিসরের স্রোত পর্যন্ত ফল পাড়বেন; এভাবে, হে বনি-ইসরাইল, তোমাদের একে একে কুড়ানো যাবে।
13 আর সেদিন একটি বড় তূরী বাজবে; তাতে যারা আসেরিয়া দেশে নষ্ট হচ্ছিল ও যারা মিসর দেশে তাড়িত রয়েছে, তারা আসবে; এবং জেরুশালেমে পবিত্র পর্বতে মাবুদের কাছে সেজ্দা করবে।
1
হায়! আফরাহীমের মাতালদের অহংকারের মুকুট; হায়! তার তেজোময় শোভার মলিন ফুল, যা আঙ্গুর-রসে পরাভূতদের ফলশালী উপত্যকার মাথায় রয়েছে।
2 দেখ, প্রভুর এক জন বলবান ও বীর্যশালী লোক আছে; শিলাবৃষ্টি ও ধ্বংসকারী একটা বাতাসের মত, অতি বেগে ধাবমান প্রবল বৃষ্টির মত, বলপূর্বক সকলই ভূমিতে নিক্ষেপ করবে।
3 আফরাহীমের মাতালদের অহংকারের মুকুট পদতলে দলিত হবে;
4 এবং ফলশালী উপত্যকার মাথায় স্থিত তাদের তেজোময় শোভার মলিন যে ফুল, তা ফলসংগ্রহ কালের পূর্ববর্তী এমন প্রথমে পাকা ডুমুর ফলের মত হবে, যা লোকে দেখামাত্র লক্ষ্য করে, হাতের মুঠায় নেওয়া মাত্র গ্রাস করে।
5
সেদিন বাহিনীগণের মাবুদই তাঁর লোকদের অবশিষ্টাংশের জন্য শোভার মুকুট ও গৌরবের মালা হবেন;
6 আর বিচার করার জন্য উপবিষ্ট ব্যক্তির বিচারের রূহ্ ও যারা নগর-দ্বারে যুদ্ধ ফিরায়, তাদের শক্তিস্বরূপ হবেন।
7 কিন্তু এরাও আঙ্গুর-রসে ভ্রান্ত ও সুরাপানে টলটলায়মান হয়েছে; ইমাম ও নবী সুরাপানে ভ্রান্ত হয়েছে; তারা আঙ্গুর-রসে কবলিত ও সুরাপানে টলটলায়মান হয়, তারা দর্শনে ভ্রান্ত ও বিচারে বিচলিত হয়।
8 বস্তুত সকল টেবিল বমিতে ও মলে পরিপূর্র্ণ হয়েছে, কোন স্থান পরিস্কার নেই।
9
‘সে কাকে জ্ঞান শিক্ষা দেবে? কাকে বার্তা বুঝিয়ে দেবে? কি তাদেরকে, যারা দুধ ছেড়েছে ও স্তন্যপানে নিবৃত্ত হয়েছে?
10 কেননা বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে একটুকু, সেখানে একটুকু।’
11
‘শোন, তিনি বিদেশীদের ওষ্ঠ ও অদ্ভুত ভাষা দ্বারা এই লোকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন,
12 যাদেরকে তিনি বললেন, ‘এই বিশ্রামস্থানে, তোমরা ক্লান্তকে বিশ্রাম দাও, আর এটাই প্রাণ জুড়াবার স্থান;’ তবুও তারা শুনতে সম্মত হল না।
13 সেজন্য তাদের প্রতি মাবুদের কালাম ‘বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে একটুকু, সেখানে একটুকু’ হবে; যেন তারা গিয়ে পিছনে পড়ে ভেঙ্গে যায় ও ফাঁদে পরে ধরা পড়ে।
14
অতএব, হে ঠাট্টা-বিদ্রূপকারী লোকেরা, জেরুশালেমস্থ এই জাতির শাসনকর্তারা, মাবুদের কালাম শোন।
15 তোমরা বলেছ, ‘আমরা মৃত্যুর সঙ্গে নিয়ম করেছি, পাতালের সঙ্গে সন্ধি স্থির করেছি; সংহারকের কশা যখন উপনীত হবে, তখন আমাদের কাছে আসবে না, কেননা আমরা মিথ্যাকে আশ্রয় করেছি ও মিথ্যা ছলের আড়ালে লুকিয়েছি।’
16
এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি সিয়োনে ভিত্তিমূলের জন্য একটি পাথর স্থাপন করলাম; তা পরীক্ষিত পাথর বহুমূল্য কোণের পাথর, অতি দৃঢ়ভাবে বসান; যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে, সে টলবে না।
17 আর আমি ন্যায়বিচারকে মানরজ্জু ও ধার্মিকতাকে ওলোনসূত্র করবো; শিলাবৃষ্টি ঐ মিথ্যারূপ আশ্রয় ফেলে দেবে এবং বন্যা ঐ লুকাবার স্থান ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
18 আর মৃত্যুর সঙ্গে কৃত তোমাদের নিয়ম বিলোপ করা হবে ও পাতালের সঙ্গে তোমাদের সন্ধি স্থির থাকবে না; সংহারকের কশা যখন উপনীত হবে, তখন তোমরা তা দ্বারা দলিত হবে।
19 তা যতবার উপনীত হবে, ততবার তোমাদেরকে ধরবে, বস্তুত সে প্রভাতে, দিনে ও রাতে, উপনীত হবে; আর এই বার্তা বুঝলে কেবল ত্রাস জন্মাবে।
20
বাস্তবিক শোবার জন্য বিছানা খাটো ও সর্বাঙ্গে জড়াবার জন্য লেপও ছোট।
21 বস্তুত মাবুদ উঠবেন, যেমন পরাসীম পর্বতে উঠেছিলেন; তিনি ক্রোধ করবেন, যেমন গিবিয়োনের উপত্যকাতে করেছিলেন; এভাবে তিনি তাঁর কাজ, তাঁর অসম্ভব কাজ সিদ্ধ করবেন; তাঁর ব্যাপার, তাঁর বিজাতীয় ব্যাপার সম্পন্ন করবেন।
22 অতএব তোমরা নিন্দায় রত হয়ো না, পাছে তোমাদের বন্ধন দৃঢ়তর হয়; কেননা প্রভুর মুখে, বাহিনীগণের মাবুদেরই মুখে আমি সমস্ত দুনিয়ার জন্য উচ্ছেদের, নির্ধারিত উচ্ছেদের কথা শুনেছি।
23
তোমরা কান দাও, আমার কথা শোন; কান দাও, আমার কালাম শোন।
24 বীজ বপন করার জন্য কৃষক কি সমস্ত দিন হাল চাষ করে ও মাটি খুঁড়ে ভূমির ঢেলা ভাঙ্গে?
25 ভূমিতল সমান করার পর সে কি মহুরী ছড়ায় না ও জিরা বপন করে না? এবং ভাগ ভাগ করে গম নির্ধারিত স্থানে যব ও ক্ষেতের সীমাতে জনার কি বোনে না?
26 কারণ তার আল্লাহ্ তাকে যথার্থ শিক্ষা দেন; তিনি তাকে জ্ঞান দেন।
27 বস্তুত মহুরী হাতগাড়ি দ্বারা মাড়াই করা যায় না এবং জিরার উপরে গাড়ির চাকা ঘোরে না, কিন্তু মহুরী দণ্ড দিয়ে ও জিরা লাঠি দিয়ে মাড়া যায়।
28 রুটির জন্য শস্য চূর্ণ করতে হয়; কারণ সে কখনও তা মাড়াই করবে না; আর তার গাড়ির চাকা ও তার ঘোড়াগুলো তা ছড়ায় বটে, কিন্তু সে তা চূর্ণ করে না।
29 এও বাহিনীগণের মাবুদ থেকে হয়; তিনি মন্ত্রণাতে আশ্চর্য ও বুদ্ধিকৌশলে মহান।
1
অহো, অরীয়েল, অরীয়েল, দাউদের শিবির-নগর। তোমরা এক বছরের সঙ্গে অন্য বছর যোগ কর, উৎসবচক্র ঘুরে আসুক।
2 কিন্তু আমি অরীয়েলের প্রতি দুঃখ ঘটাবো, তাতে শোক ও মাতম হবে; আর সে আমার পক্ষে অরীয়েলের মত হবে।
3 আমি তোমার চারদিকে শিবির স্থাপন করবো ও উচ্চগৃহ দ্বারা তোমাকে বেষ্টন করবো এবং তোমার বিরুদ্ধে অবরোধ-জাঙ্গাল নির্মাণ করবো;
4 তাতে তুমি অবনত হবে, মাটি থেকে কথা বলবে ও ধুলা থেকে মুদুস্বরে তোমার কথা বলবে; ভূতুড়ে ব্যাপারের মত তোমার স্বর মাটি থেকে বের হবে ও ধূলা থেকে তোমার কথার ফুস্ফুস্ আওয়াজ উঠবে।
5 কিন্তু তোমার দুশমনদের লোক সংখ্যা সূক্ষ্ম ধুলার মত হবে এবং দুর্দান্তদের লোকারণ্য উড়ন্ত ভুষির মত হবে; হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যেই তা ঘটবে।
6 বাহিনীগণের মাবুদ মেঘ-গর্জন, ভূমিকম্প, মহাশব্দ, ঘূর্ণিবাতাস, ঝঞ্ঝা ও সর্বগ্রাসক আগুনের শিখা সহকারে তার তত্ত্ব নেবেন।
7 তাতে সর্বজাতির যে লোকারণ্য অরীয়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যেসব লোক তার ও তাদের দুর্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও তাকে সঙ্কটাপন্ন করে, তারা স্বপ্নের মত ও রাত্রিকালীন দর্শনের মত হবে;
8 এরকম হবে, যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, যেন সে ভোজন করছে; কিন্তু সে ঘুম থেকে জেগে উঠে, আর তার ক্ষুধা থেকে যায়; অথবা যেমন পিপাসিত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, যেন সে পান করছে; কিন্তু সে জেগে উঠে, আর দেখ, সে দুর্বল, তার প্রাণে পিপাসা রয়েছে; সিয়োন পর্বতের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী সর্বজাতির লোকারণ্য তেমনি হবে।
9
তোমরা চমৎকৃত হও ও আশ্চর্য জ্ঞান কর, চোখ বন্ধ কর ও অন্ধ হও; ওরা মাতাল, কিন্তু আঙ্গুর-রসে নয়; ওরা টল-টলায়মান, কিন্তু সুরাপানে নয়।
10 কারণ মাবুদ, তোমাদের উপরে গভীর ঘুমের রূহ্ ঢেলে দিয়েছেন ও তোমাদের নবীরূপ চোখ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং তোমাদের দর্শকরূপ মাথা ঢেকে রেখেছেন।
11
সমস্ত দর্শন তোমাদের পক্ষে সীলমোহর করা গুটানো-কিতাবের মত হয়েছে; যে লেখা পড়া জানে, তাকে কেউ যদি সেই কিতাব দিয়ে বলে, মেহেরবানী করে এটি পাঠ কর, তবে সে জবাবে বলবে, আমি পারি না, কারণ তা সীলমোহর করা।
12 আবার যে লেখা পড়া জানে না, তাকে যদি সে তা দিয়ে বলে, মেহেরবানী করে এটি পাঠ কর, তবে সে জবাবে বলবে আমি পড়তে জানি না।
13
প্রভু আরও বললেন, এই লোকেরা আমার কাছে আসে এবং নিজ নিজ মুখে ও ওষ্ঠাধরে আমার সম্মান করে, কিন্তু নিজ নিজ অন্তঃকরণ আমার কাছ থেকে দূরে রেখেছে এবং আমার কাছ থেকে তাদের যে ভয়, তাও মানুষের হুকুম, মুখস্থ করা মাত্র।
14 অতএব দেখ, আমি এই জাতির সঙ্গে পুনর্বার আশ্চর্য ব্যবহার, এমন কি, আশ্চর্য ও চমৎকার ব্যবহার করবো; এবং তাদের জ্ঞানবানদের জ্ঞান বিনষ্ট ও বিবেচক লোকদের বিবেচনা অন্তর্হিত হবে।
15
ধিক্ তাদেরকে, যারা গভীর মন্ত্রণা করে ও মাবুদের কাছ থেকে তা গুপ্ত রাখতে চেষ্টা করে, অন্ধকারে কাজ করে ও বলে, আমাদের কে দেখতে পায়? আমাদের কে চিনতে পারে?
16 তোমাদের কেমন বিপরীত বুদ্ধি! কুমার কি মাটির সমান বলে গণ্য? নির্মিত বস্তু কি নির্মাতার বিষয়ে বলবে, ঐ ব্যক্তি আমাকে নির্মাণ করে নি? গঠিত বস্তু কি তার গঠনকারীর বিষয়ে বলবে, ওর বুদ্ধি নেই?
17
অতি অল্পকাল গত হলে লেবানন কি বাগানে পরিণত হবে না? আর বাগান কি অরণ্য বলে গণ্য হবে না?
18 সেদিন বধিররা কিতাবের কালাম শুনবে এবং ঘন অন্ধকার ও অন্ধকারের মধ্য থেকে অন্ধদের চোখ দেখতে পাবে।
19 নম্র লোকেরাও মাবুদে উত্তরোত্তর আনন্দিত হবে এবং মানুষের মধ্যবর্তী দরিদ্ররা ইসরাইলের পবিত্রতায় উল্লাস করবে।
20 কেননা দুর্দান্ত লোক আর নেই, নিন্দুকরাও শেষ হয়ে গেল, যেসব লোক অধর্মে উৎসুক, তারা উচ্ছিন্ন হল।
21 তারা তো বাক্কৌশলে মানুষকে দোষী করে, নগর-দ্বারে দোষবক্তার জন্য ফাঁদ পাতে, অকারণে ধার্মিকের প্রতি অন্যায় করে।
22
অতএব ইব্রাহিমের মুক্তিদাতা মাবুদ ইয়াকুব কুলের বিষয়ে এই কথা বলেন, ইয়াকুব এখন লজ্জিত হবে না, তার মুখ এখন মলিন থাকবে না।
23 কেননা তার সন্তানেরা যখন তার মধ্যে আমার হস্তকৃত কাজ দেখবে, তখন আমার নাম পবিত্র বলে মানবে, ইয়াকুবের পবিত্রতমকে পবিত্র বলে মানবে, ইসরাইলের আল্লাহ্কে সম্ভ্রম করবে।
24 আর ভ্রান্ত-রূহ্গ্রস্ত লোকেরা বিবেচনার কথা বুঝবে, বচসাকারীরা পাণ্ডিত্য শিখিবে।
1
মাবুদ বলেন, ধিক্ সেই বিদ্রোহী সন্তানদেরকে, যারা মন্ত্রণা সাধন করে, কিন্তু আমা থেকে নয় এবং সন্ধি করে, কিন্তু আমার রূহের আবেশে নয়, উদ্দেশ্যে এই, যেন গুনাহ্র উপরে গুনাহ্ করতে পারে।
2 তারা মিসরে যাবার জন্য যাত্রা করে, কিন্তু আমাকে জিজ্ঞাসা করে নি, যেন ফেরাউনের পরাক্রমে পরাক্রমী হতে ও মিসরের ছায়াতে আশ্রয় নিতে পারে।
3 এজন্য ফেরাউনের পরাক্রম তোমাদের লজ্জাস্বরূপ হবে এবং মিসরের ছায়াতে আশ্রয় নেওয়া তোমাদের অপমানস্বরূপ হবে।
4 কারণ তার কর্মকর্তারা সোয়নে উপস্থিত, তার দূতেরা হানেষে এসেছে।
5 সকলে উপকারে অসমর্থ জাতির বিষয়ে লজ্জিত হবে; সেই জাতি সাহায্যকারী কি উপকারজনক নয়, বরং লজ্জা ও দুর্নামস্বরূপ।
6
দক্ষিণের সমস্ত পশু বিষয়ক দৈববাণী।
সঙ্কটের ও সঙ্কোচের যে দেশ সিংহীর ও কেশরীর, কালসাপের ও জ্বালাদায়ী উড়ুক্কু সাপের জন্মভূমি, সেই দেশ দিয়ে তারা গাধার কাঁধে করে নিজেদের ধন ও উটের ঝুঁটিতে করে নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে এক জাতির কাছে যাচ্ছে, যারা উপকার করতে পারবে না।
7 কারণ মিসরের সাহায্য অসার ও মিথ্যা; এজন্য আমি সেই জাতির এই নাম রাখলাম, ‘রহব [গর্বী], যে বসে থাকে।’
8
তুমি এখন যাও, ওদের সাক্ষাতে এই কথা ফলকের উপরে লেখ ও কিতাবে লিপিবদ্ধ কর; যেন তা উত্তরকালে সাক্ষ্যরূপে চিরকাল থাকে।
9 কেননা ওরা বিদ্রোহী জাতি ও মিথ্যাবাদী সন্তান; ওরা মাবুদের নির্দেশ শুনতে অসম্মত সন্তান।
10 তারা দর্শকদের বলে, তোমরা দর্শন করো না; নবীদের বলে, তোমরা আমাদের জন্য যথার্থ লক্ষণ বলো না; আমাদেরকে সুখের কথা বল, মায়াযুক্ত লক্ষণ বল;
11 পথ থেকে ফের, রাস্তা ছেড়ে যাও, ইসরাইলের পবিত্রতমকে আমাদের দৃষ্টিপথ থেকে দূর কর।
12
অতএব ইসরাইলের পবিত্রতম এই কথা বলেন, তোমরা এই কালাম হেয়জ্ঞান করেছ; এবং উপদ্রবের ও কুটিলতার উপরে উপর ভরসা করেছ ও তা অবলম্বন করেছ;
13 এই জন্য সেই অপরাধ তোমাদের জন্য উঁচু দেয়ালের পতনশীল ফুলা ফাটার মত হবে, যা হঠাৎ মুহূর্তমধ্যে ভেঙ্গে যাবে।
14 আর যেমন কুম্ভকারের পাত্র ভাঙ্গা যায়, তেমনি তিনি তা ভেঙ্গে ফেলবেন, চূর্ণ করবেন, মমতা করবেন না; তাতে চুলা থেকে আগুন তুলতে কিংবা কূপ থেকে পানি তুলতে একখানা পাত্রও পাওয়া যাবে না।
15
বস্তুত সার্বভৌম মাবুদ, ইসরাইলের পবিত্রতম, এই কথা বললেন, ফিরে এসে শান্ত হলে তোমরা নাজাত পাবে, সুস্থির থেকে বিশ্বাস করলে তোমাদের পরাক্রম হবে; কিন্তু তোমরা সম্মত হলে না।
16 তোমরা বললে, তা নয়, আমরা ঘোড়ায় চড়ে বেগে ধাবমান হব, এজন্য তোমরা বেগে ধাবমান হবে; আরও বললে, আমরা বেগবান বাহনে চড়ে যাব, এজন্য তোমাদের তাড়নাকারীরা বেগে চলে যাবে।
17 একজনের তর্জনে এক হাজার লোক পালিয়ে যাবে, পাঁচজনের তর্জনে তোমরা সকলে পালিয়ে যাবে; তাতে তোমাদের অবশিষ্টাংশ পর্বতের চূড়াস্থিত মাস্তুলের মত, কিংবা উপপর্বতের উপরিস্থ পতাকাদণ্ডের মত হবে।
18
আর সেজন্য মাবুদ তোমাদের প্রতি রহমত করার আকাঙক্ষায় অপেক্ষা করবেন, আর সেজন্য তোমাদের প্রতি করুণা করার আকাঙক্ষায় ঊর্ধ্বে থাকবেন; কেননা মাবুদ ন্যায়বিচারের আল্লাহ্; তারা সকলে দোয়াযুক্ত, যারা তাঁর অপেক্ষা করে।
19
বস্তুত জেরুশালেমে, সিয়োনে লোকেরা বাস করবে; তুমি আর কাঁদবে না; তোমার কান্নার আওয়াজে তিনি অবশ্য তোমাকে কৃপা করবেন; শোনা মাত্রই তোমাকে উত্তর দেবেন।
20 আর প্রভু যদিও তোমাদের সঙ্কটের খাদ্য ও কষ্টের পানি দেন, তবুও তোমার শিক্ষকরা আর গুপ্ত থাকবে না, বরং তোমার চোখ তোমার শিক্ষকদেরকে পাবে।
21 আর ডানে বা বামে ফিরবার সময়ে তোমার কান পেছন থেকে এই বাণী শুনতে পাবে, এই পথ, তোমরা এই পথেই চল।
22 আর তোমরা নিজেদের খোদাই করা রূপা মূর্তির সাজ ও ছাঁচে ঢালা সোনার মূর্তির আভরণ নাপাক করবে, তুমি তা নাপাক জিনিষের মত ফেলে দিয়ে বলবে, দূর! দূর!
23
আর তিনি তোমার বীজের জন্য বৃষ্টি দেবেন, তাতে তুমি ভূমিতে বপন করতে পারবে; এবং ভূমিজাত খাবার দেবেন, তা উত্তম ও পুষ্টিকর হবে; সেদিন তোমার পশুপাল প্রশস্ত মাঠে চরবে।
24 চাষকারী গরু ও সমস্ত গাধা কুলাতে ও চালুনীতে ঝাড়া ও সুস্বাদু দ্রব্যে মিশানো খাবার খাবে।
25 পরন্তু যে মহাহত্যার দিনে উচ্চগৃহগুলো পড়ে যাবে, সেদিন প্রত্যেক উঁচু পর্বতে ও প্রত্যেক উঁচু পাহাড়ে পানির প্রবাহ ও স্রোত হবে।
26 আর যেদিন মাবুদ নিজের লোকদের বিচ্ছিন্ন দেহ জোড়া দেবেন ও প্রহারজাত ক্ষত সুস্থ করবেন, সেদিন চন্দ্রের আলো সূর্যের আলোর মত হবে এবং সূর্যের আলো সপ্তগুণ বেশি, অর্থাৎ সপ্ত দিনের আলোর সমান হবে।
27
দেখ, মাবুদের নাম দূর থেকে আসছে, তাঁর ক্রোধের আগুন জ্বলছে ও ঘন ধোঁয়া উঠছে; তাঁর ওষ্ঠাধর তাপে পরিপূর্ণ, তাঁর জিহ্বা সর্বগ্রাসী আগুনের মত।
28 তাঁর নিশ্বাস প্লাবিত বন্যার মত, তা কণ্ঠ পর্যন্ত উঠবে; তা সর্বদেশীয় লোকদের বিনাশের কুলাতে ঝাড়তে উদ্যত; আর জাতিদের মুখে ভ্রান্তিজনক বল্গা দেওয়া যাবে।
29 পবিত্র উৎসব-রাতের মত তোমাদের গজল হবে এবং লোকে যেমন মাবুদের পর্বতে ইসরাইলের শৈলের কাছে গমনকালে বাঁশী বাজায়, তেমনি তোমাদের অন্তরের আনন্দ হবে।
30 মাবুদ প্রচণ্ড ক্রোধ, সর্বগ্রাস আগুনের শিখা, ভীষণ ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা নিজের মহিমান্বিত স্বর শোনাবেন ও নিজের বাহুর বল দেখাবেন।
31 কারণ মাবুদের কণ্ঠস্বরে আসেরিয়া ভেঙ্গে যাবে, তিনি তাকে দণ্ডাঘাত করবেন।
32 আর মাবুদ নির্ধারিত দণ্ডের যত আঘাত তাকে দিবেন, সেসব তবল ও বীণা সহকারে ঘটবে; এবং তিনি ঐ জাতির সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ করবেন।
33 কেননা তোফৎ [অগ্নিকুণ্ড] পূর্বকাল থেকে সাজান রয়েছে, তা-ই বাদশাহ্র জন্য প্রস্তুত আছে; তিনি তা গভীর ও প্রশস্ত করেছেন; তা আগুন ও প্রচুর কাঠ দিয়ে সাজানো হয়েছে; মাবুদের ফুৎকারে গন্ধকস্রোতের মত তাতে আগুন ধরিয়ে দেবে।
1
ধিক্ তাদেরকে, যারা সাহায্যের জন্য মিসরে নেমে যায়, ঘোড়াগুলোর উপরে নির্ভর করে, তার অসংখ্য রথের উপর নির্ভর করে, ঘোড়সওয়ারেরা অতি বলবান বলে তাদের উপরে নির্ভর করে, কিন্তু ইসরাইলের পবিত্রতমের দিকে চায় না এবং মাবুদের খোঁজ করে না।
2 তবুও তিনিও জ্ঞানবান; তিনি অমঙ্গল ঘটাবেন, নিজের কালাম অন্যথা করবেন না; তিনি দুর্বৃত্তদের কুলের বিরুদ্ধে ও অধর্মাচারীদের সহায়দের বিরুদ্ধে উঠবেন।
3 মিসরীয়েরা তো মানুষ মাত্র, আল্লাহ্ নয়; তাদের ঘোড়াগুলো মাংসমাত্র, রূহ্ নয়; এবং মাবুদ তাঁর হাত উঠালে সাহায্যকারী হোঁচট খাবে ও সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি পড়ে যাবে, সকলে একসঙ্গে বিনষ্ট হবে।
4
কারণ মাবুদ আমাকে এই কথা বলেন, যেমন সিংহ কিংবা যুবসিংহ পশু ধরলে পর গর্জন করে এবং তার বিরুদ্ধে ভেড়ার রাখালদের অনেককে ডেকে একত্র করলেও তাদের চিৎকারে ভয় পায় না, তাদের কোলাহলে অবনত হয় না, তেমনি বাহিনীগণের মাবুদ যুদ্ধ করার জন্য সিয়োন পর্বত ও তার পাহাড়ের উপরে নেমে আসবেন।
5 যেমন পাখিরা বাসার উপরে উড়তে থাকে, তেমনি বাহিনীগণের মাবুদ জেরুশালেমকে ঢেকে রাখবেন, ঢেকে রেখে উদ্ধার করবেন এবং আগে গিয়ে রক্ষা করবেন।
6
হে বনি-ইসরাইল, তোমরা যাঁকে ছেড়ে ঘোর বিপথে চলে গিয়েছ, তাঁর কাছে ফিরে এসো।
7 কারণ সেদিন প্রত্যেকে নিজ নিজ রূপার মূর্তি ও সোনার মূর্তি, যে যে পাপবস্তু তোমরা নিজের হাতে গঠন করেছ, সেসব ফেলে দেবে।
8
আর আসেরিয়া তলোয়ারে আঘাতে মারা পড়বে, কিন্তু পুরুষের তলোয়ারে নয়; তলোয়ার তাকে গ্রাস করবে, কিন্তু মানুষের তলোয়ারে নয়; আর সে তলোয়ারের সম্মুখ থেকে পালাবে ও তার যুবকেরা কর্মাধীন গোলাম হবে।
9 আর ত্রাসের কারণে তার শৈল চলে যাবে, তার সেনাপতিরা নিশান দেখে দারুণ ভয় পাবে; সিয়োনে যাঁর আগুন ও জেরুশালেমে যাঁর তুন্দুর আছে, সেই মাবুদ এই কথা বলেন।
1
দেখ, এক জন বাদশাহ্ ধার্মিকতায় রাজত্ব করবেন ও শাসনকর্তারা ন্যায়বিচার করবেন।
2 প্রত্যেক জন মানুষ যেন হবে ঝড়ো বাতাসের বিরুদ্ধে আচ্ছাদন, ঝড়ের বিরুদ্ধে আশ্রয়ের স্থান, শুকনো স্থানে পানির স্রোত ও ক্লান্তিজনক ভূমিতে কোন প্রকাণ্ড শৈলের ছায়ার মত।
3 তখন যারা দেখতে পায় তাদের চোখ বন্ধ থাকবে না, আর যারা শুনতে পায় তাদের কান শুনতে থাকবে।
4 আর চঞ্চল লোকদের অন্তর জ্ঞান পাবে এবং তোৎলাদের জিহ্বা সহজে স্পষ্ট কথা বলবে।
5 মূঢ়কে আর মহান বলা যাবে না এবং খল আর উদার বলে আখ্যাত হবে না।
6 কেননা মূঢ় মূঢ়তার কথা বলবে ও তার মন নাফরমানীর কল্পনা করবে; সে আল্লাহ্বিহীনতার কাজ করবে ও মাবুদের বিরুদ্ধে ভ্রান্তির কথা বলবে, ক্ষুধার্ত লোকের উদর শূন্য রাখবে, তৃষ্ণার্ত লোকের পানি বন্ধ করে দেবে।
7 আর নাফরমানের সকল কাজই মন্দ; সে মিথ্যা কথা দ্বারা নম্রদেরকে নষ্ট করার জন্য, এমন কি যখন দরিদ্র ব্যক্তি মত কথা বলে তখনও কুসঙ্কল্প করে।
8 কিন্তু মহাত্মা মহান কাজের সঙ্কল্প করে এবং সে মহৎ-পথে স্থির থাকে।
9
হে নিশ্চিন্ত মহিলারা, উঠ, আমার কথা শুন; হে নিশ্চিন্তমনা যুবতীরা, আমার কথায় কান দাও।
10 হে নিশ্চিন্তমনা যুবতীরা, এক বছর পরে কিছু দিন গত হলে পর তোমরা তোমরা ভয়ে কাঁপবে, কেননা আঙ্গুর ফলের সংহার হবে, ফল পাড়বার সময় আসবে না।
11 হে নিশ্চিন্ত মহিলারা, তোমরা ভয়ে কাঁপতে থাক; হে নিশ্চিন্তমনা মেয়েরা, তোমরা ভয়ে কাঁপতে থাক; কাপড়-চোপড় খুলে কোমরে চট বাঁধ।
12 সকলে বুক চাপড়িয়ে মনোরম ক্ষেতের ও ফলবতী আঙ্গুরলতার জন্য মাতম করবে।
13 আমার লোকদের ভূমিতে কাঁটা ও শেয়ালকাঁটা উৎপন্ন হবে; উল্লাসপ্রিয় নগরের সমস্ত আনন্দ-গৃহেও তা জন্মাবে;
14 কারণ রাজপুরী পরিত্যক্ত হবে, লোকারণ্যের নগর নির্জন হয়ে পড়বে, পাহাড় ও উঁচু পাহারা-ঘর চিরকালীন গুহা হবে, বন্য গাধার আনন্দের স্থান ও পশুপালের চরাণি-স্থান হবে;
15 যে পর্যন্ত উপর থেকে আমাদের উপরে রূহ্ সেচিত না হন, মরুভূমি ফল গাছের বাগানে পরিণত না হয় ও ফলবান ক্ষেত অরণ্য বলে গণ্য না হয়।
16 তখন সেই মরুভূমিতে ন্যায়বিচার বাস করবে, সেই ফলশালী ক্ষেতে ধার্মিকতা বসতি করবে।
17 আর শান্তিই ধার্মিকতার কাজ হবে এবং চিরকালের জন্য সুস্থিরতা ও চিরন্তন নিরাপত্তা ধার্মিকতার ফল হবে।
18 আর আমার লোকেরা শান্তির আশ্রমে, চিরন্তন নিরাপত্তার আবাসে ও নিশ্চিন্ত বিশ্রাম-স্থানে বাস করবে।
19
কিন্তু অরণ্য ভূমিসাৎ হবার সময়ে শিলাবৃষ্টি হবে, আর নগর সমপূর্ণভাবে নিপাতিত হবে।
20 সুখী তোমরা, যারা সমস্ত পানির স্রোতের ধারে বীজ বপন কর, যারা গরু ও গাধাকে চরতে দাও।
1
ধিক্ তোমাকে! তুমি যে ধ্বংসিত না হয়েও ধ্বংস করছো, প্রতারিত না হয়েও প্রতারণা করছো, ধ্বংস-কার্য সমাপ্ত করার পর তুমি ধ্বংসিত হবে, প্রতারণা করে শেষ করার পর লোকে তোমাকে প্রতারণা করবে।
2 হে মাবুদ, আমাদের প্রতি কৃপা কর, আমরা তোমার অপেক্ষায় রয়েছি; তুমি প্রতি প্রভাতে তোমার অপেক্ষাকারীদের শক্তিস্বরূপ হও ও সঙ্কটকালে আমাদের উদ্ধারস্বরূপ হও।
3 কোলাহলের শব্দে জাতিরা পালিয়ে গেল, তুমি উঠে দাঁড়ালে লোকবৃন্দ ছিন্নভিন্ন হল।
4 পতঙ্গ যেমন সংগ্রহ করে, তেমনি লোকে তোমাদের লুট সংগ্রহ করবে; ফড়িংরা যেমন লাফায়, তেমনি লোকে তার উপরে লাফাবে।
5
মাবুদ উন্নত; তিনি ঊর্ধ্বলোকে বাস করেন, তিনি সিয়োনকে ন্যায়বিচারে ও ধার্মিকতায় পূর্ণ করেছেন।
6 আর তোমার সময়ে স্থিতিশীলতা আসবে, উদ্ধারের, জ্ঞানের ও বুদ্ধির প্রাচুর্য ঘটবে; মাবুদের ভয় সিয়োনের ধনকোষ।
7
দেখ, ওদের সাহসী লোকেরা রাস্তায় রাস্তায় কাঁদছে, যারা সন্ধির খোঁজ করছে সেই দূতেরা ভীষণ কান্নাকাটি করছে।
8 সমস্ত রাজপথ নরশূন্য হয়েছে, কোন পথিকও নেই; সে নিয়ম ভঙ্গ করেছে, সমস্ত নগর তুচ্ছ করেছে, মানুষকে ঘাসের মত মনে করেছে।
9 দেশ শোকান্বিত ও মলিন হয়েছে, লেবানন লজ্জা পেয়েছে ও ম্লান হয়েছে, শারোণ মরুভূমির সমান এবং বাশন ও কর্মিলের সব গাছের পাতা ঝরে পড়েছে।
10
মাবুদ বলেন, আমি এখন উঠবো, এখন উন্নত হব, এখন গৌরবান্বিত হব।
11 তোমরা চিটারূপ গর্ভ ধারণ করবে, নাড়া প্রসব করবে; তোমাদের নিশ্বাস আগুনের মত, তা তোমাদেরকে গ্রাস করবে।
12 আর জাতিরা চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেলা চুনার মত হবে, আগুনে পোড়ানো কাঁটাঝোপের মত হবে।
13
হে দূরবর্তী লোকেরা, আমি যা করেছি, তা শোন; নিকটস্থ লোকেরা, আমার পরাক্রমের কথা স্বীকার কর।
14 সিয়োনে গুনাহ্গাররা কাঁপছে, আল্লাহ্বিহীন লোকদের কাঁপুনি ধরেছে। আমাদের মধ্যে কে সর্বগ্রাসী আগুনে থাকতে পারে? আমাদের মধ্যে কে চিরকালস্থায়ী আগুনের শিখাগুলোর কাছে থাকতে পারে?
15 যে ব্যক্তি ধার্মিকতার পথে চলে ও সরল ভাবের কথা বলে, যে জুলুম করে লাভ করা ঘৃণা করে, যে ঘুষ নেওয়া থেকে হাত সরিয়ে রাখে, যে খুন করার পরামর্শ শুনলে কান বন্ধ করে ও দুষ্কর্ম দেখা থেকে চোখ বন্ধ করে রাখে;
16 সেই ব্যক্তি উঁচু স্থানে বাস করবে, শৈলগুলোর দুর্গ তার আশ্রয়স্থান হবে; তাকে খাবার দেওয়া যাবে, সে নিশ্চয়ই পানি পাবে।
17
তোমার নয়নযুগল বাদশাহ্কে, তাঁর নিজের সৌন্দর্যে দেখতে পাবে, তা সীমাহীন একটি দেশ দেখতে পাবে।
18 তোমার অন্তর ঐ ত্রাসের বিষয় নিয়ে ভাববে— কোথায় সেই গণনাকর্তা, কোথায় সেই মুদ্রা-ওজনকারী? কোথায় সেই উচ্চগৃহ গণনাকারী?
19 তুমি আর সেই নিষ্ঠুর জাতিকে দেখতে পাবে না, সেই জাতিকে, যার দুর্বোধ্য ভাষা তুমি জান না, যার অস্পষ্ট কথা তুমি বুঝতে পার না।
20
আমাদের সমস্ত ঈদ পালনের নগর সিয়োনের প্রতি দৃষ্টি কর, তোমার নয়নযুগল শান্তিযুক্ত বসতিস্বরূপ জেরুশালেমকে দেখবে; তা অটল তাঁবুস্বরূপ, তার গোঁজ কখনও উৎপাটিত হবে না এবং তার কোন দড়ি ছিঁড়বে না।
21 বস্তুত সেখানে মাবুদ সপ্রতাপে আমাদের সহবর্তী হবেন, তা বড় বড় নদনদী ও বিস্তীর্ণ স্রোতোমালার স্থান; সেই স্থানে দাঁড়যুক্ত নৌকা গমনাগমন করবে না ও শক্তিশালী জাহাজ তা পার হয়ে আসবে না।
22 কেননা মাবুদ আমাদের বিচারকর্তা, মাবুদ আমাদের ব্যবস্থাপক, মাবুদ আমাদের বাদশাহ্, তিনিই আমাদের নাজাত করবেন।
23
তোমার দড়িগুলো ঢিলা হয়ে পড়েছে, লোকে নিজেদের মাস্তুলের গোড়া শক্ত কিংবা পাল খাটিয়ে দিতে পারে না; তখন বিস্তর লুটের সামগ্রী ভাগ করা হবে; খোঁড়ারাও লুটের মাল নিয়ে যাবে।
24 আর নগরবাসী কেউ বলবে না, আমি অসুস্থ; সেই স্থানের অধিবাসী লোকদের গুনাহ্ মাফ করা হবে।
1
হে জাতিরা, কাছে এসে শোন; হে লোকবৃন্দ, মনোযোগ দাও; দুনিয়া ও সেখানকার সকলে, দুনিয়া ও সেখানে উৎপন্ন সকল পদার্থ শুনুক।
2 কেননা সকল জাতির বিরুদ্ধে মাবুদের ক্রোধ, তাদের সৈন্য সামন্তের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচণ্ড কোপ প্রজ্বলিত হল; তিনি তাদেরকে নিঃশেষে বিনষ্ট করলেন, তাদেরকে হত হবার জন্য তুলে দিলেন।
3 আর তাদের নিহতরা বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে, তাদের লাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হবে, তাদের রক্ত পর্বতমালা দিয়ে প্রবাহিত হবে।
4 আর আসমানের সমস্ত বাহিনী ক্ষয় পাবে, আসমান কাগজের মত জড়িয়ে যাবে; এবং যেমন আঙ্গুরলতার শুকনো পাতা ও ডুমুর গাছের শুকনো ফল, তেমনি তার সমস্ত বাহিনী পুরানো হয়ে যাবে।
5
কেননা আমার তলোয়ার বেহেশতে পরিতৃপ্ত হয়েছে; দেখ, বিচার করবার জন্য তা ইদোম দেশের উপরে, আমার পরিত্যক্ত লোকদের উপরে পড়বে।
6 মাবুদের তলোয়ার তৃপ্ত হয়েছে রক্তে, আপ্যায়িত হয়েছে মেদে, ভেড়ার বাচ্চা ও ছাগলের রক্তে এবং ভেড়াগুলোর বৃক্কের মেদে; কেননা বস্রাতে মাবুদের একটি কোরবানী, ইদোম দেশে বিস্তর পশুবধ হবে।
7 তাদের সঙ্গে বন্য ষাঁড় ও ষাঁড়ের সঙ্গে যুবা ষাঁড় নেমে আসবে এবং তাঁদের ভূমি রক্তে পরিতৃপ্ত ও ধূলা মেদে ভিজে যাবে।
8 কেননা এটা মাবুদের প্রতিশোধের দিন, এটি সিয়োনের ঝগড়া সম্বন্ধীয় প্রতিফল-দানের বছর।
9 সেখানকার প্রবাহগুলো আল্কাতরায়, সেখানকার ধূলি গন্ধকে পরিণত হবে, সেখানকার ভূমি জলন্ত আল্কাতরা হবে।
10 দিন ও রাতে কখনও তা নিভবে না; চিরকাল তার ধোঁয়া উঠতে থাকবে; তা পুরুষানুক্রমে উৎসন্ন হয়ে থাকবে, তার মধ্য দিয়ে অনন্তকালেও কেউ যাবে না।
11 কিন্তু পানিভেলা ও শজারু তা অধিকার করবে এবং মহাপেচক ও দাঁড়কাক তার মধ্যে বাস করবে; আর তার উপরে অবস্তুতারূপ মানরজ্জু ও শূন্যতারূপ ওলোনসূত্র ধরা যাবে।
12 সেখানকার রাজত্ব ঘোষণা করতে রাজপুরুদের কেউই থাকবে না; সেখানকার নেতৃবর্গ সর্বতোভাবে ধ্বংস হবে।
13 তার সমস্ত অট্টালিকা কাঁটায়, তার সমস্ত দুর্গ বিছুটি ও শেয়ালকাঁটাতে আচ্ছাদিত হবে এবং সেই দেশ শিয়ালদের বাসস্থান, উটপাখির মাঠ হবে।
14 আর সমস্ত বন্যপশু হায়েনাদের সঙ্গে থাকবে এবং বন্য ছাগলেরা একে অন্যকে আহ্বান করে আনবে; আর সেখানে নিশাচর প্রাণীরা বাস করে বিশ্রামের স্থান পাবে।
15 সে স্থানে পেঁচক বাসা করে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চাগুলোকে নিজের ছায়াতে একত্র করবে; এবং সেখানে চিলেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ সঙ্গীনীর সঙ্গে একত্র হবে।
16
তোমরা মাবুদের কিতাবে অনুসন্ধান কর, তা পাঠ কর, এর একটিরও অভাব হবে না, তারা কেউ সঙ্গীনীবিহীন থাকবে না; কেননা আমার মুখ দ্বারা তিনিই এই হুকুম করেছেন এবং তিনিই নিজের রূহ্ দ্বারা তাদেরকে সংগ্রহ করেছেন।
17 আর তিনি গুলিবাঁটপূর্বক তাদেরকে সেই অধিকার দিয়েছেন, তাঁর হাত মানদড়ি দিয়ে প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করেছে; তারা চিরকাল তা অধিকার করবে, তারা পুরুষানুক্রমে সে স্থানে বাস করবে।
1
মরুভূমি ও শুকনা স্থান আমোদ করবে,
মরুভূমি উল্লসিত হবে, গোলাপের মত উৎফুল্ল হবে।
2
সে অনেক পুষ্পের দরুন উৎফুল্ল হবে,
আর আনন্দ ও গান সহকারে উল্লাস করবে;
তাকে দেওয়া হবে লেবাননের প্রতাপ,
কর্মিলের ও শারোণের শোভা;
তারা দেখতে পাবে মাবুদের মহিমা,
আমাদের আল্লাহ্র শোভা।
3
দুর্বল হাত সবল কর, কাঁপতে থাকা হাঁটু সুস্থির কর।
4
শংকিত লোকদেরকে বল, সাহস কর, ভয় করো না;
দেখ, তোমাদের আল্লাহ্ প্রতিশোধসহ ও খোদায়ী প্রতিকারসহ আসছেন,
তিনিই এসে তোমাদের নাজাত করবেন।
5
তৎকালে অন্ধদের চোখ খোলা যাবে,
আর বধিরদের কান মুক্ত হবে।
6
তৎকালে খঞ্জ হরিণের মত লাফ দেবে,
ও বধিরদের কণ্ঠ আনন্দগান করবে;
কেননা মরুভূমিতে পানি উৎসারিত হবে,
ও মরুভূমির নানা স্থানে প্রবাহিত হবে।
7
আর তপ্ত বালুকা জলাশয় হয়ে যাবে,
ও শুকনো ভূমি পানির ফোয়ারায় পরিপূর্ণ হবে;
শিয়ালদের নিবাসে, সেগুলো যেখানে শয়ন করতো,
সেই স্থানে নল খাগ্ড়ার বন হবে।
8
আর সেই স্থানে একটি জাঙ্গাল ও রাজপথ হবে;
তা পবিত্রতার পথ বলে আখ্যাত হবে;
তা দিয়ে কোন নাপাক লোক যাতায়াত করবে না,
কিন্তু তা ওদের জন্য হবে;
সে পথে পথিকরা, অজ্ঞানেরাও পরিভ্রমণ করবে না।
9
সেখানে সিংহ থাকবে না,
কোন হিংস্র জন্তু তাতে উঠবে না,
সেখানে তা দেখাই যাবে না;
কিন্তু মুক্তি পাওয়া লোকেরা সেই পথে চলবে;
10
আর মাবুদের নিস্তার পাওয়া লোকেরা ফিরে আসবে,
আনন্দগান সহকারে সিয়োনে আসবে,
এবং তাদের মাথায় নিত্যস্থায়ী আনন্দের মুকুট থাকবে;
তারা আমোদ ও আনন্দ লাভ করবে,
এবং খেদ ও আর্তস্বর দূরে পালিয়ে যাবে।
1
হিষ্কিয় বাদশাহ্র চতুর্দশ বছরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব এহুদার প্রাচীর-বেষ্টিত সমস্ত নগরের বিরুদ্ধে এসে সেসব হস্তগত করতে লাগলেন।
2 পরে আসেরিয়ার বাদশাহ্ লাখীশ থেকে রব্শাকিকে বড় সৈন্যদলের সঙ্গে জেরুশালেমে বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের কাছে প্রেরণ করলেন; তাতে তিনি এসে উচ্চতর পুষ্করিণীর প্রণালীর কাছে ধোপাদের-ভূমির রাজপথে অবস্থিতি করলেন।
3 পরে হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম নামে রাজপ্রাসাদের নেতা শিব্ন লেখক ও আসফের পুত্র যোয়াহ নামক ইতিহাস-রচয়িতা বের হয়ে তাঁর কাছে গেলেন।
4 রব্শাকি তাঁদের বললেন, “তোমরা হিষ্কিয়কে এই কথা বল, বাদশাহ্দের বাদশাহ্ আসেরিয়ার বাদশাহ্ এই কথা বলেন, তুমি যে সাহস করছো, সে কেমন সাহস?
5 আমি বলি, তোমার যুদ্ধের বুদ্ধি ও পরাক্রম কথার কথা মাত্র; বল দেখি, তুমি কার উপরে নির্ভর করে আমার বিরুদ্ধে গেলে?
6 দেখ, তুমি ঐ থেৎলা নলরূপ লাঠি, অর্থাৎ মিসরের উপরে নির্ভর করছো; কিন্তু যে কেউ তার উপরে নির্ভর করে, সে তার হাতে ফুটে তা বিদ্ধ করে; যত লোক মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের উপরে নির্ভর করে, তাদের পক্ষে সেও সেই রকম।
7 আর যদি আমাকে বল, আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উপর নির্ভর করি, তবে তিনি কি সেই আল্লাহ্ নন, যাঁর উচ্চস্থলী ও সমস্ত কোরবানগাহ্ হিষ্কিয় দূর করেছে এবং এহুদা ও জেরুশালেমের লোকদের বলেছে, ‘তোমরা এই কোরবানগাহ্র কাছে সেজ্দা করবে’?
8
তুমি একবার আমার প্রভু আসেরিয়ার বাদশাহ্র কাছে পণ কর; আমি তোমাকে দুই হাজার ঘোড়া দেব, যদি তুমি ঘোড়সওয়ার দিতে পার।
9 তবে কেমন করে আমার প্রভুর ক্ষুদ্রতম গোলামদের মধ্যে এক জন সেনাপতিকে হটিয়ে দেবে এবং সমস্ত রথ ও ঘোড়সওয়ারদের জন্য মিসরের উপরে ভরসা করবে?
10 বল দেখি, আমি কি মাবুদের সম্মতি ছাড়া এই দেশ ধ্বংস করতে এসেছি? মাবুদই আমাকে বলেছেন, তুমি ঐ দেশে গিয়ে সেটি ধ্বংস কর।”
11
তখন ইলিয়াকীম, শিবন্ ও যোয়াহ রব্শাকিকে বললেন, আরজ করি, আপনার গোলামদের কাছে অরামীয় ভাষায় বলুন, কেননা আমরা তা বুঝতে পারি; প্রাচীরের উপরিস্থ লোকদের শুনিয়ে আমাদের কাছে ইহুদী ভাষায় কথা বলবেন না।
12
কিন্তু রব্শাকি বললেন, আমার প্রভু কি তোমার প্রভুরই কাছে এবং তোমারই কাছে এই কথা বলতে আমাকে পাঠিয়েছেন? ঐ যে লোকেরা তোমাদের সঙ্গে নিজ নিজ বিষ্ঠা খেতে ও নিজ নিজ মূত্র পান করতে প্রাচীরের উপরে বসে আছে, ওদেরই কাছে কি তিনি পাঠান নি?
13
পরে রব্শাকি দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ইহুদী ভাষায় বলতে লাগলেন, “তোমরা বাদশাহ্দের বাদশাহ্ আসেরিয়ার বাদশাহ্র কথা শোন।
14 বাদশাহ্ এই কথা বলছেন, হিষ্কিয় তোমাদের ভ্রান্তি না জন্মাক; কেননা তোমাদেরকে রক্ষা করতে তার সাধ্য নেই।
15 আর হিষ্কিয় এই কথা বলে মাবুদের উপর তোমাদের বিশ্বাস না জন্মাক যে, মাবুদ আমাদেরকে নিশ্চয়ই উদ্ধার করবেন, এই নগর কখনও আসেরিয়ার বাদশাহ্র হস্তগত হবে না।
16
তোমরা হিষ্কিয়ের কথা শুনো না; কেননা আসেরিয়ার বাদশাহ্র এই কথা বলেন, তোমরা আমার সঙ্গে সন্ধি কর, বের হয়ে আমার কাছে এসো; তাহলে তোমরা প্রত্যেকে জন নিজ নিজ আঙ্গুর ফল ও ডুমুর ফল ভোজন করতে এবং নিজ নিজ কূপের পানি পান করতে পারবে;
17 পরে আমি এসে তোমাদের নিজের দেশের মত একটি দেশে, শস্য ও আঙ্গুর-রসের দেশে, রুটি ও আঙ্গুর-ক্ষেতের দেশে তোমাদের নিয়ে যাব।
18
মাবুদ আমাদের উদ্ধার করবেন, এই কথা বলে যেন হিষ্কিয় তোমাদেরকে না ভুলায়। জাতিদের দেবতারা কি কেউ আসেরিয়ার বাদশাহ্র হাত থেকে নিজ নিজ দেশ রক্ষা করেছে?
19 হমাত ও অর্পদের দেবতারা কোথায়? সফর্বয়িমের দেবতারা কোথায়? ওরা কি আমার হাত থেকে সামেরিয়াকে রক্ষা করেছে?
20 ভিন্ন ভিন্ন দেশের সমস্ত দেবতার মধ্যে কোন্ দেবতারা আমার হাত থেকে নিজেদের দেশ উদ্ধার করেছে? তবে মাবুদ আমার হাত থেকে জেরুশালেমকে উদ্ধার করবেন, এই কি সম্ভব?”
21
কিন্তু লোকেরা নীরব হয়ে থাকলো, তার একটি কথারও জবাব দিল না, কারণ বাদশাহ্র এই হুকুম ছিল, যে, তাকে কোন জবাব দিও না।
22 পরে হিল্কিয়ের পুত্র রাজপ্রাসাদের নেতা ইলিয়াকীম, শিব্ল লেখক ও আসফের পুত্র ইতিহাস-রচয়িতা যোয়াহ নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়ে হিষ্কিয়ের কাছে এসে রব্শাকির কথা জানালেন।
1
তা শুনে বাদশাহ্ হিষ্কিয় নিজের কাপড় ছিঁড়ে চট পরে মাবুদের গৃহে গমন করলেন।
2 আর রাজপ্রাসাদের নেতা ইলীয়াকীম ও শিব্ন লেখককে এবং ইমামদের প্রধান ব্যক্তিবর্গকে চট পরিয়ে আমোজের পুত্র ইশাইয়া নবীর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
3 তাঁরা তাঁকে বললেন, হিষ্কিয় এই কথা বলেন, আজকের দিন সঙ্কট, অনুযোগ ও অপমানের দিন, কেননা সন্তানেরা প্রসব-দ্বারে উপস্থিত, কিন্তু প্রসব করার শক্তি নেই।
4 জীবন্ত আল্লাহ্কে টিটকারি দেবার জন্য তার মালিক আসেরিয়া বাদশাহ্র প্রেরিত রব্শাকি যেসব কথা বলেছে, হয়তো আপনার আল্লাহ্ মাবুদ তা শুনবেন এবং তাকে সেসব কথার জন্য তিরস্কার করবেন, যা আপনার আল্লাহ্ মাবুদ শুনেছেন; অতএব যে অবশিষ্টাংশ এখনও আছে, আপনি তার জন্য মুনাজাত উৎসর্গ করুন।
5
তখন বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের গোলামেরা ইশাইয়ার কাছে উপস্থিত হলেন।
6 ইশাইয়া তাঁদের বললেন, তোমাদের মালিককে এই কথা বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যা শুনেছ ও যা বলে আসেরিয়ার বাদশাহ্র গোলামেরা আমার নিন্দা করেছে, সেই সমস্ত কথায় ভয় পেয়ো না।
7 দেখ, আমি তার মধ্যে একটি রূহ্ দেব এবং সে কোন সংবাদ শুনবে, শুনে নিজের দেশে ফিরে যাবে, পরে আমি তারই দেশে তাকে তলোয়ার দ্বারা নিপাত করবো।
8
পরে রব্শাকি ফিরে গেলেন, গিয়ে দেখতে পেলেন যে, আসেরিয়ার বাদশাহ্ লিব্নার বিপক্ষে যুদ্ধ করছেন; বস্তুত তিনি লাখীশ্ থেকে প্রস্থান করেছেন, এই কথা রব্শাকি শুনেছেন।
9 পরে তিনি ইথিওপিয়া দেশের বাদশাহ্ তির্হকের বিষয়ে এই সংবাদ শুনলেন যে, তিনি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে এসেছেন।
10 এই কথা শুনে তিনি হিষ্কিয়ের কাছে দূত পাঠালেন, বললেন, তোমরা এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়কে এই কথা বলবে, তোমার বিশ্বাস-ভূমি আল্লাহ্ এই কথা বলে তোমার ভ্রান্তি না জন্মান যে, জেরুশালেম আসেরিয়ার বাদশাহ্র হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
11 দেখ, দেশের সমস্ত স্থান নিঃশেষে বিনষ্ট করে আসেরিয়ার বাদশাহ্রা সমস্ত দেশের প্রতি যা যা করেছেন, তা তুমি শুনেছ; তবে তুমি কি উদ্ধার পাবে?
12 আমার পূর্বপুরুষরা যেসব জাতিকে বিনষ্ট করেছেন— গোষণ, হারণ, রেৎসফ এবং তলঃসর-নিবাসী আদন-সন্তানেরা— তাদের দেবতারা কি তাদেরকে উদ্ধার করেছে?
13 হমাতের বাদশাহ্, অর্পদের বাদশাহ্ এবং সফর্বয়িম নগরের, হেনার ও ইব্বার বাদশাহ্ কোথায়?
14
হিষ্কিয় দূতদের হাত থেকে পত্রখানি নিয়ে পাঠ করলেন; পরে হিষ্কিয় মাবুদের গৃহে উঠে গেলেন এবং মাবুদের সম্মুখে তা মেলে ধরলেন।
15 আর হিষ্কিয় মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন,
16 বললেন, হে বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, কারুবীদ্বয়ে আসীন তুমি, কেবল মাত্র তুমিই দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যের আল্লাহ্; তুমিই আসমান ও দুনিয়া নির্মাণ করেছ।
17 হে মাবুদ, কান দাও, শোন, হে মাবুদ চোখ উন্মীলন করে দেখ; জীবন্ত আল্লাহ্কে টিটকারি দেবার জন্য সন্হেরীব যেসব কথা বলে পাঠিয়েছে, তা শোন।
18 সত্যি বটে, হে মাবুদ, আসেরিয়ার বাদশাহ্রা সর্বদেশীয় লোকদের ও তাদের সমস্ত দেশ বিনষ্ট করেছে,
19 এবং তাদের দেবতাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে, কারণ তারা আল্লাহ্ নয়, কিন্তু মানুষের হাতের কাজ, কাঠ ও পাথর; এজন্য ওরা তাদেরকে বিনষ্ট করেছে।
20 অতএব এখন, হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তুমি তার হাত থেকে আমাদেরকে নিস্তার কর; তাতে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য জানতে পারবে যে, তুমি, কেবল মাত্র তুমিই মাবুদ।
21
পরে আমোজের পুত্র ইশাইয়া হিষ্কিয়ের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন; ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীবের বিষয়ে আমার কাছে মুনাজাত করেছ,
22 মাবুদ তার বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তা এই, “কুমারী সিয়োন-কন্যা তোমাকে তুচ্ছ ও পরিহাস করছে; জেরুশালেম-কন্যা তোমার দিকে মাথা নাড়ছে।
23 তুমি কাকে টিটকারী দিয়েছ? কার নিন্দা করেছ? কার বিরুদ্ধে উচ্চশব্দ করেছ ও উপরের দিকে চোখ তুলেছ?
24 ইসরাইলের পবিত্রতমেরই বিরুদ্ধে! তুমি তোমার গোলামদের দ্বারা প্রভুকে টিটকারি দিয়েছ, বলেছ, ‘আমি আমার অনেক রথ দিয়ে পর্বতমালার উঁচু মাথায়, লেবাননের নিভৃত স্থানে আরোহণ করেছি, আমি তার দীর্ঘকায় এরস গাছ ও উৎকৃষ্ট সমস্ত দেবদারু কেটে ফেলব, তার প্রান্তভাগস্থ উচ্চতম স্থানে, উর্বর ক্ষেতের কাননে প্রবেশ করবো।
25 আমি খনন করে পানি পান করেছি, আমি আমার পা দিয়ে মিসরের সমস্ত খাল শুকিয়ে ফেলব।’
26
তুমি কি শোন নি যে, আমি দীর্ঘকাল আগে এটি নির্ধারণ করেছিলাম, অনেক কাল আগেই এটি স্থির করেছিলাম? আমি এখন এটি সিদ্ধ করলাম, তোমা দ্বারা শীক্তিশালী সমস্ত নগর বিনাশ করে স্তূপ করলাম।
27 আর সেখানকার বাসিন্দারা শক্তিহীন, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত হল; তারা ক্ষেতের শাক ও নবীন ঘাস, ছাদের উপরিস্থ ঘাস ও অপক্ক শস্যবিশিষ্ট ক্ষেতের মত হল।
28 কিন্তু তোমার বসে থাকা, তোমার বাইরে যাওয়া, তোমার ভিতরে আসা এবং আমার বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধ প্রকাশ, এই সকল আমি জানি।
29 আমার বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধের কারণে এবং তোমার যে অহংকারের কথা আমার কর্ণগোচর হয়েছে, সেই কারণে আমি তোমার নাসিকায় আমার আঁকড়া ও তোমার ওষ্ঠে আমার বল্গা দেব এবং তুমি যে পথ দিয়ে এসেছো, সেই পথ দিয়ে তোমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।
30
আর হে হিষ্কিয়, তোমার জন্য এটি হবে চিহ্ন, তোমরা এই বছর নিজে থেকে উৎপন্ন শস্য ও দ্বিতীয় বছর তার মূলোৎপন্ন শস্য ভোজন করবে; পরে তোমরা তৃতীয় বছরে বীজ বপন করে শস্য কাটবে এবং আঙ্গুর-ক্ষেত করে তার ফলভোগ করবে।
31 আর এহুদা কুলে যে জীবিত অবশিষ্ট লোকেরা আছে, তারা আবার নিচে মূল বাঁধবে ও উপরে ফল দেবে।
32 কেননা জেরুশালেম থেকে অবশিষ্টরা, সিয়োন পর্বত থেকে বেঁচে থাকা লোকেরা বের হবে, বাহিনীগণের মাবুদের গভীর আগ্রহ তা সাধন করবে।
33
অতএব আসেরিয়ার বাদশাহ্র বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, সে এই নগরে আসবে না, এখানে তীর মারবে না, ঢাল নিয়ে এর সম্মুখে আসবে না, এর বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধবে না।
34 সে যে পথ দিয়ে এসেছে, সেই পথ দিয়েই ফিরে যাবে, এই নগরে আসবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
35 কারণ আমি আমার জন্য ও আমার গোলাম দাউদের জন্য এই নগর রক্ষার্থে এর ঢালস্বরূপ হবো।
36
পরে মাবুদের ফেরেশতা যাত্রা করে আশেরীয়দের শিবিরে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার লোককে হত্যা করলেন; লোকেরা খুব ভোরে উঠলো, আর দেখ, সমস্তই মৃত লাশ।
37 অতএব আসেরিয়ার বাদশাহ্ সন্হেরীব প্রস্থান করলেন এবং নিনেভেতে ফিরে গিয়ে বাস করলেন।
38
পরে তিনি যখন নিজের দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে প্রণিপাত করছিলেন, তখন অদ্রম্মেলক ও শরেৎসর নামক তাঁর দুই পুত্র তলোয়ার দ্বারা তাঁকে আঘাত করলো; পরে তারা অরারট দেশে পালিয়ে গেল। আর এসর-হদ্দোন নামক তাঁর পুত্র তাঁর পদে বাদশাহ্ হলেন।
1
সেই সময়ে হিষ্কিয়ের সাংঘাতিক অসুখ হয়েছিল। আর আমোজের পুত্র নবী ইশাইয়া তাঁর কাছে এসে বললেন, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি তোমার বাড়ির ব্যবস্থা করে রাখ, কেননা তোমার মৃত্যু হবে, তুমি বাঁচবে না।
2 তখন হিষ্কিয় দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে মাবুদের কাছে মুনাজাত করে বললেন,
3 হে মাবুদ, আরজ করি, তুমি এখন স্মরণ কর; আমি তোমার সাক্ষাতে বিশ্বস্ততায় ও একাগ্র চিত্তে চলেছি এবং তোমার দৃষ্টিতে যা ভাল, তা-ই করেছি। আর হিষ্কিয় ভীষণভাবে কান্নাকাটি করতে লাগলেন।
4
তখন ইশাইয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
5 যাও, হিষ্কিয়কে বল, তোমার পূর্বপুরুষ দাউদের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তোমার মুনাজাত শুনলাম; আমি তোমার চোখের পানি দেখলাম; দেখ, আমি তোমার আয়ু পনের বছর বৃদ্ধি করবো,
6 এবং আসেরিয়া দেশের বাদশাহ্র হাত থেকে তোমাকে ও এই নগরকে উদ্ধার করবো; আমি এই নগরের ঢালস্বরূপ হবো।
7
আর মাবুদ যে কথা বলেছেন, তা যে সফল করবেন, তার এই চিহ্ন মাবুদ থেকে আপনাকে দেওয়া যাবে।
8 দেখ, আহসের সোপানে ছায়া সূর্যের সঙ্গে ধাপগুলোতে যত ধাপ নেমে গেছে, আমি তার দশ ধাপ পিছনে ফিরিয়ে দেব। পরে সূর্য যত ধাপ নেমে গিয়েছিল, তার দশ ধাপ ফিরে গেল।
9
এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের লেখা; তিনি অসুস্থ হয়ে যখন অসুস্থতা থেকে সুস্থতা লাভ করেন, তখন তিনি এই কথা লিখেছিলেন।
10
আমি বললাম, আমার আয়ুর মধ্যাহ্নে আমি পাতালের তোরণদ্বারে প্রবেশ করবো,
আমার অবশিষ্ট বছরগুলো থেকে বঞ্চিত হলাম।
11
আমি বললাম, আমি মাবুদকে জীবিতদের দেশে তাঁকে আর দেখব না,
দুনিয়ার নিবাসী মানুষকেও আর দেখব না।
12
ভেড়ার রাখালের তাঁবুর মত আমার আবাস উঠিয়ে আমার কাছ থেকে নিয়ে নেওয় হল;
আমি তন্তুবায়ের মত আমার আয়ু গুটালাম;
তিনি তাঁত থেকে আমাকে কেটে ফেললেন;
তুমি এক দিবারাত্রের মধ্যে আমাকে শেষ করলে।
13
আমি সকাল পর্যন্ত নীরব থাকলাম;
তিনি সিংহের মত আমার সমস্ত অস্থি চূর্ণ করলেন;
তুমি এক দিবারাত্রের মধ্যে আমাকে শেষ করলে।
14
তালচোঁচ ও সারসের মত আমি চিঁচিঁ আওয়াজ করছিলাম,
ঘুঘুর মত কাতরোক্তি করছিলাম;
উপর দিকে দৃষ্টিপাত করতে করতে আমার চোখ ক্ষীণ হল;
হে মাবুদ, আমি নির্যাতিত, তুমি আমার সহায় হও।
15
আমি কি বলবো? তিনি আমাকে বললেন,
এবং নিজেই সাধন করলেন;
আমার প্রাণের তিক্ততার কারণে অবশিষ্ট সমস্ত বছর আমি ধীরে ধীরে গমন করবো।
16
হে মালিক, এই সকলের দ্বারা লোকেরা জীবিত থাকে,
কেবল এতেই আমার রূহের জীবন;
আমাকে সুস্থ কর, আমাকে সঞ্জীবিত কর।
17
দেখ, আমার শান্তির জন্যই আমার তিক্ততা, তিক্ততা উপস্থিত হল;
কিন্তু তুমি প্রেমে আমার প্রাণকে বিনাশকূপ থেকে উদ্ধার করলে,
তুমি তো আমার সমস্ত গুনাহ্ তোমার পিছনে ফেলেছ।
18
পাতাল তো তোমার প্রশংসা-গজল করে না;
মৃত্যু তোমার প্রশংসা করে না;
পাতালবাসীরা তোমার বিশ্বস্ততার অপেক্ষা করে না।
19
জীবিত, জীবিত লোকই তোমার প্রশংসা-গজল করবে,
আমি যেমন আজ করছি;
পিতা সন্তানদেরকে তোমার বিশ্বস্ততার কথা জানাবে।
20
মাবুদ আমাকে নিস্তার করবেন;
এবং আমরা তারযুক্ত যন্ত্রে কাওয়ালী গাইব,
যত দিন জীবিত থাকি, মাবুদের গৃহে গাইব।
21
ইশাইয়া বলেছিলেন, ডুমুরফলের চাপ নিয়ে ছেঁচে স্ফোটকের উপরে প্রলেপ দেওয়া হোক, তাতে তিনি বাঁচবেন।
22 আর হিষ্কিয় বলেছিলেন, আমি যে মাবুদের গৃহে উঠতে পারব, এর চিহ্ন কি?
1
ঐ সময়ে বলদনের পুত্র ব্যাবিলনের বাদশাহ্ মারডক-বলদন হিষ্কিয়ের কাছে পত্র ও উপঢৌকন-দ্রব্য পাঠালেন, কারণ তিনি শুনেছিলেন যে, হিষ্কিয় অসুস্থ হয়েছিলেন ও সুস্থতা লাভ করেছেন।
2 তাতে হিষ্কিয় দূতদের আগমনে আনন্দিত হলেন এবং নিজের কোষাগার, রূপা, সোনা, সুগন্ধি দ্রব্য ও বহুমূল্য তেল এবং সমুদয় অস্ত্রাগার ও ধনাগারগুলোর সমস্ত বস্তু তাদের দেখালেন। এমন কোন সামগ্রী তাঁর বাড়িতে বা তাঁর সমস্ত রাজ্যে ছিল না যা হিষ্কিয় তাদেরকে দেখান নি।
3
পরে নবী ইশাইয়া হিষ্কিয় বাদশাহ্র কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ লোকেরা কি বললো? আর ওরা কোথা থেকে আপনার কাছে এসেছিল? হিষ্কিয় বললেন, ওরা সুদূর ব্যাবিলন দেশ থেকে আমার কাছে এসেছে।
4
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা আপনার বাড়িতে কি কি দেখেছে? হিষ্কিয় বললেন, আমার বাড়িতে যা যা আছে, সবই দেখেছে; আমার ধনাগারগুলোর মধ্যে এমন কোন দ্রব্য নেই যা তাদের দেখাই নি।
5
ইশাইয়া হিষ্কিয়কে বললেন, বাহিনীগণের মাবুদের কালাম শুনুন।
6 দেখ, এমন সময় আসছে, যখন তোমার বাড়িতে যা কিছু আছে এবং তোমার পূর্বপুরুষদের সঞ্চিত যা যা আজ পর্যন্ত রয়েছে, সবই ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়া হবে; কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
7 আর যারা তোমা থেকে উৎপন্ন হবে, তোমার সেই সন্তানদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হবে; এবং তারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র প্রাসাদে নপুংসক হবে।
8
তখন হিষ্কিয় ইশাইয়াকে বললেন, আপনি মাবুদের যে কালাম বললেন, তা উত্তম। তিনি আরও বললেন, কারণ আমার সময়ে শান্তি ও সত্য থাকবে।
1
তোমরা সান্ত্বনা দাও, আমার লোকদেরকে সান্ত্বনা দাও, তোমাদের আল্লাহ্ এই কথা বলেন।
2 জেরুশালেমকে উৎসাহজনক কথা বল; আর তার কাছে এই কথা তবলিগ কর যে, তার সৈন্যবৃত্তি সমাপ্ত হয়েছে, তার অপরাধের মাফ হয়েছে; তার যত গুনাহ্, তার দ্বিগুণ ফল সে মাবুদের হাত থেকে পেয়েছে।
3
একজনের কণ্ঠস্বর, সে ঘোষণা করছে,
‘তোমরা মরুভূমিতে মাবুদের পথ প্রস্তুত কর,
মরুভূমিতে আমাদের আল্লাহ্র জন্য রাজপথ সরল কর।
4
প্রত্যেক উপত্যকা উঁচু করা হবে,
প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বত নিচু করা যাবে;
অসমান স্থান সোজা হবে, উঁচু ও নিচু ভূমি সমতল হবে;
5
আর মাবুদের মহিমা প্রকাশ পাবে,
আর সমস্ত মানুষ একসঙ্গে তা দেখবে,
কারণ মাবুদ এই কথা বলেছেন।’
6
এক জনের কণ্ঠস্বর শোনা গেল,
সে বলছে, ‘ঘোষণা কর,’
এক জন বললো, ‘কি ঘোষণা করবো?’
‘মানুষমাত্র ঘাসের মত, তার সমস্ত গৌরব ক্ষেতের ফুলের মত।
7
ঘাস শুকিয়ে যায়, ফুল ম্লান হয়ে পড়ে,
কারণ তার উপরে মাবুদের নিশ্বাস বয়ে যায়;
সত্যিই লোকেরা ঘাসের মত।
8
ঘাস শুকিয়ে যায়, ফুল ম্লান হয়ে পড়ে,
কিন্তু আমাদের আল্লাহ্র কালাম চিরকাল থাকবে।’
9
হে সিয়োনের কাছে সুসংবাদ তবলিগকারিণী!
উঁচু পর্বতে আরোহণ কর;
হে জেরুশালেমের কাছে সুসংবাদ তবলিগকারিণী!
সবলে উচ্চৈঃস্বর কর, উচ্চৈঃস্বর কর, ভয় করো না;
এহুদার নগরগুলোকে বল, দেখ, তোমাদের আল্লাহ্!
10
দেখ, সার্বভৌম মাবুদ সপরাক্রমে আসছেন,
তাঁর বাহু তাঁর জন্য কর্তৃত্ব করে;
দেখ, তাঁর সঙ্গে তাঁর দাতব্য বেতন আছে,
তাঁর সম্মুখে তাঁর দাতব্য পুরস্কার আছে।
11
তিনি ভেড়ার রাখালের মত তাঁর পাল চরাবেন,
তিনি বাচ্চাগুলোকে বাহুতে সংগ্রহ করবেন
এবং কোলে করে বহন করবেন;
দুগ্ধবতী সকলকে তিনি ধীরে ধীরে চালাবেন।
12
কে তার হাতের তালুতে জলরাশি মেপেছে, বিঘত দিয়ে আসমান পরিমাণ করেছে, দুনিয়ার ধুলা ঝুড়িতে ভরেছে, দাঁড়িপাল্লায় পর্বতমালাকে ও নিক্তিতে উপপর্বতগুলোকে ওজন করেছে?
13 কে মাবুদের রূহের পরিমাণ করেছে? কিংবা তাঁর মন্ত্রী হয়ে তাঁকে শিক্ষা দিয়েছে?
14 তিনি কার কাছে মন্ত্রণা গ্রহণ করেছেন? কে তাঁকে বুদ্ধি দিয়েছে ও বিচারপথ দেখিয়েছে, তাঁকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে ও বিবেচনার পথ জানিয়েছে?
15 দেখ, জাতিরা কলসের একটি জলবিন্দুর মত, আর দাঁড়িপাল্লায় লেগে থাকা ধূলিকণার মত গণ্য; দেখ, তিনি দ্বীপগুলোকে মিহি ধুলার মতই তোলেন।
16 আর লেবাননে জ্বাল দেবার জন্যে যথেষ্ট জ্বালানী ও পোড়ানো-কোরবানীর জন্য যথেষ্ট জন্তু নেই।
17 তাঁর সম্মুখে সমস্ত জাতি অবস্তুর মত, তিনি তাদেরকে অসার ও শূন্য জ্ঞান করেন।
18
তবে তোমরা কার সঙ্গে আল্লাহ্র তুলনা করবে? তাঁর সঙ্গে তুলনীয় কি রকম মূর্তি উপস্থিত করবে?
19 শিল্পকর মূর্তি ছাঁচে ঢালে, স্বর্ণকার তা সোনার পাতে মোড়ে ও তার জন্য রূপার শিকল প্রস্তুত করে।
20 যে ব্যক্তি এরকম উপহার দিতে পারে না, সে এমন কোন কাঠ মনোনীত করে যা সহজে পচে যায় না; নিজের জন্য এক জন বিজ্ঞ শিল্পকর খোঁজে, যেন সে এমন একটি মূর্তি প্রস্তুত করে, যা টলবে না।
21 তোমরা কি জান নি? তোমরা কি শোন নি? আদি থেকে কি তোমাদেরকে সংবাদ দেওয়া হয় নি? দুনিয়ার পত্তন থেকে তোমরা কি বোঝ নি?
22 তিনিই দুনিয়ার সীমাচক্রের উপরে উপবিষ্ট; সেখানকার বাসিন্দারা ফড়িংস্বরূপ; তিনি চন্দ্রাতপের মত আসমান বিছিয়ে দেন, আবাস তাঁবুর মত তা টাঙ্গিয়ে দেন।
23 তিনি ভূপতিদের নাম মুছে ফেলেন, দুনিয়ার বিচারকর্তাদের অসার বস্তুর মত করেন।
24 তারা রোপিত হয় নি, তারা উপ্ত হয় নি, ভূমিতে তাদের কাণ্ড বদ্ধমূল হয় নি, অমনি তিনি তাদের উপরে ফুৎকার দেন, তারা শুকিয়ে যায়, ঘূর্ণিবাতাস তাদেরকে শুকনো খড়ের মত উড়িয়ে দেয়।
25 অতএব তোমরা কার সঙ্গে আমার উপমা দেবে যে আমি তার মত হব? এই কথা পবিত্রতম বলেন।
26 উপরের দিকে চোখ তুলে দেখ, ঐ সমস্ত সৃষ্টি কে করেছে? তিনি বাহিনীর মত সংখ্যা অনুসারে তাদের বের করে আনেন, সকলের নাম ধরে তাদের আহ্বান করেন; তাঁর মহাক্ষমতা ও মহাশক্তির জন্য তাদের একটাও অনুপস্থিত থাকে না।
27
হে ইয়াকুব, তুমি কেন বলছো, হে ইসরাইল, কেন তুমি বলছো, আমার পথ মাবুদের কাছ থেকে লুকানো, আমার বিচার আমার আল্লাহ্ থেকে সরে গেছে?
28 তুমি কি জান নি? তুমি কি শোন নি? অনাদি অনন্ত আল্লাহ্, মাবুদ, দুনিয়ার প্রান্তগুলোর সৃষ্টিকর্তা ক্লান্ত হন না, শ্রান্ত হন না; তাঁর বুদ্ধির অনুসন্ধান করা যায় না।
29 তিনি ক্লান্ত ব্যক্তিকে শক্তি দেন ও শক্তিহীন লোকের বল বৃদ্ধি করেন।
30 তরুণেরা ক্লান্ত ও শ্রান্ত হয়, যুবকেরা শ্রান্ত ও ক্লান্ত হয়;
31 কিন্তু যারা মাবুদের অপেক্ষা করে, তারা উত্তরোত্তর নতুন শক্তি পাবে; তারা ঈগল পাখির মত ডানা মেলে উঁচুতে উঠবে; তারা দৌড়ালে শ্রান্ত হবে না; তারা হাঁটলেও ক্লান্ত হবে না।
1
হে উপকূলগুলো, আমার সাক্ষাতে নীরব হও; লোকবৃন্দ নতুন বল পাক; তারা কাছে আসুক, পরে কথা বলুক; আমরা একত্র হয়ে বিচার করবো।
2 কে পূর্বদিক থেকে এক জনকে উত্তেজিত করলো? তিনি ধর্মশীলতায় তাকে ডেকে নিজের অনুগামী করেন; তিনি জাতিদেরকে তার সম্মুখে দেবেন, বাদশাহ্দের উপর তাকে কর্তৃত্ব করাবেন, তিনি ধূলির মত তাদেরকে তার তলোয়ারের সম্মুখে দেবেন, বাতাসে ওড়া নাড়ার মত তার ধনুকের সম্মুখে দেবেন।
3 সে তাদের তাড়া করবে, নিরাপদে অগ্রসর হবে; যে পথে কখনও পদার্পণ করে নি, সেই পথে যাবে।
4 এসব কার কৃত, কার সাধিত? কে বংশ পরমপরাকে আদি থেকে আহ্বান করেন? আমি মাবুদ আদি এবং সেই আমি শেষকালীন লোকদের সহবর্তী।
5
উপকূলগুলো দৃষ্টিপাত করে ভয় পেল, দুনিয়ার প্রান্তগুলো ভয়ে কেঁপে উঠলো; তারা এগিয়ে গিয়ে একত্র হবে।
6 তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর সাহায্য করলো, আপন আপন ভাইকে বললো, সাহস কর।
7 শিল্পকর স্বর্ণকারকে আশ্বাস দিল এবং যে লোক হাতুড়ি দিয়ে সমান করে সে নেহাইর উপরে আঘাতকারীকে জোড়া দেবার বিষয়ে বললো, উত্তম হয়েছে; এবং প্রেক দিয়ে মূর্তিটা দৃঢ় করলো, যেন তা না নড়ে।
8
কিন্তু হে আমার গোলাম ইসরাইল, আমার মনোনীত ইয়াকুব, আমার বন্ধু ইব্রাহিমের বংশ,
9 আমি তোমাকে দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এনেছি, দুনিয়ার সীমা থেকে আহ্বান করে বলেছি, তুমি আমার গোলাম, আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, দূর করে দেই নি।
10 ভয় করো না, কারণ আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি; ব্যাকুল হয়ো না, কারণ আমি তোমার আল্লাহ্; আমি তোমাকে পরাক্রম দেব; আমি তোমার সাহায্য করবো; আমি নিজের ধর্মশীলতার ডান হাত দিয়ে তোমাকে ধরে রাখবো।
11
দেখ, যারা তোমার উপর রাগ করে, তারা সকলে লজ্জিত ও বিষণ্ন হবে; যারা তোমার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাদের কোন চিহ্ন থাকবে না, বিনষ্ট হবে।
12 যারা তোমার সঙ্গে বিরোধ করে, তাদেরকে তুমি খোঁজ করবে, কিন্তু দেখতে পাবে না; যারা তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাদের কোন চিহ্ন থাকবে না, কোন কিছুর মধ্যে গণ্য হবে না।
13 কেননা আমি মাবুদ তোমার আল্লাহ্ তোমার ডান হাত ধরে থাকব; তোমাকে বলবো, ভয় করো না, আমি তোমাকে সাহায্য করবো।
14 হে কীট ইয়াকুব, হে ক্ষুদ্র ইসরাইল, ভয় করো না; মাবুদ বলেন, আমি তোমাকে সাহায্য করবো; আর ইসরাইলের পবিত্রতম তোমার মুক্তিদাতা।
15 দেখ, আমি তোমাকে ধারালো দাঁতযুক্ত শস্য মাড়াই করার নতুন গুঁড়ির মত করবো; তুমি পর্বতমালাকে মাড়াই করে চূর্ণ করবে, উপপর্বতগুলোকে ভুষির সমান করবে।
16 তুমি তাদের ঝাড়বে, বায়ু তাদেরকে উড়িয়ে নেবে ও ঘূর্ণিবাতাস তাদের ছিন্নভিন্ন করবে; আর তুমি মাবুদে উল্লাস করবে, ইসরাইলের পবিত্রতমকে নিয়ে গর্ব করবে।
17
দুঃখী দরিদ্ররা পানি খোঁজ করে কিন্তু পানি নেই, তাদের জিহ্বা তৃষ্ণায় শুকিয়ে গেছে; আমি মাবুদ তাদেরকে উত্তর দেব, আমি ইসরাইলের আল্লাহ্ তাদেরকে ত্যাগ করবো না।
18 আমি গাছপালাহীন পাহাড়-শ্রেণীতে নদনদী ও উপত্যকার মধ্যে স্থানে স্থানে ফোয়ারা সৃষ্টি করবো; আমি মরুভূমিকে জলাশয় ও শুকনো ভূমিকে পানির ফোয়ারায় পরিণত করবো।
19 আমি মরুভূমিতে এরস, বাবলা, গুলমেঁদি ও জলপাই গাছ রোপণ করবো; আমি মরুভূমিতে দেবদারু, তিধর ও তাশূর গাছ একত্র লাগাব;
20 যেন তারা দেখে, জেনে ও বিবেচনা করে একেবারে নিশ্চয় বুঝতে পারে যে, মাবুদের হাত এই কাজ করেছে, ইসরাইলের পবিত্রতম তা সৃষ্টি করেছেন।
21
মাবুদ বলেন, তোমরা তোমাদের বিবাদ উপস্থিত কর; ইয়াকুবের বাদশাহ্ বলেন, তোমরা তোমাদের দৃঢ় যুক্তিগুলো কাছে আন।
22 ওরা সেসব নিয়ে কাছে আসুক, যা যা ঘটবে, আমাদের বলুক; আগের বিষয় কি কি তা বল; তা হলে আমরা বিবেচনা করে তার শেষ জানতে পারব; কিংবা ওরা আগামী ঘটনাগুলো আমাদের কর্ণগোচর করুক।
23 ভবিষ্যতে কি কি ঘটবে, তোমরা তা জানাও; তা করলে তোমরা যে দেবতা, তা বুঝতে পারব; হ্যাঁ, তোমরা মঙ্গল বা অমঙ্গল কর, তাতে আমরা বিস্মিত হয়ে একত্রে তা নিরীক্ষণ করবো।
24 দেখ, তোমরা অবস্তু ও তোমাদের কাজ কিছুই না; যে জন তোমাদের মনোনীত করে, সে ঘৃণার পাত্র।
25
আমি উত্তর দিক থেকে এক ব্যক্তিকে উত্তেজিত করলাম, সে উপস্থিত; সূর্যোদয়ের দিক থেকে সে আমার নামে আহ্বান করে; যেমন কেউ কাদা মাড়ায় ও কুমার যেমন মাটি দলাই-মলাই করে, তেমনি সে শাসনকর্তাদেরকে মাড়াবে।
26 কে আদি থেকে এর সংবাদ দিয়েছে, যাতে আমরা জানতে পারি? কে আগে বলেছে, যাতে আমরা বলতে পারি সে সত্যনিষ্ঠ? সংবাদদাতা তো কেউই নেই; ঘোষণাকারী তো কেউই নেই; তোমাদের কথা শুনবার তো কেউই নেই।
27 প্রথমে আমি সিয়োনকে বলবো, দেখ, এদেরকে দেখ; আর জেরুশালেমকে এক জন সুসংবাদ-তবলিগকারী দেব।
28 আমি চেয়ে দেখি, কেউই নেই; ওদের মধ্যে মন্ত্রণাদাতা এমন কেউ নেই যে, আমি জিজ্ঞাসা করলে একটি কথার উত্তর দিতে পারে।
29 দেখ, ওরা সকলে মিথ্যা, ওদের সমস্ত কাজ অসার, কিছুই নয়; ওদের ছাঁচে ঢালা সমস্ত মূর্তি বায়ু ও অবস্তুমাত্র।
1
ঐ দেখ, আমার গোলাম, আমি তাঁকে ধারণ করি; তিনি আমার মনোনীত, আমার প্রাণ তাঁতে প্রীত; আমি তাঁর উপরে নিজের রূহ্ স্থাপন করলাম; তিনি জাতিদের কাছে ন্যায়বিচার উপস্থিত করবেন।
2 তিনি চিৎকার করবেন না, উচ্চশব্দ করবেন না, পথে তাঁর স্বর শোনাবেন না।
3 তিনি থেৎলা নল ভাঙ্গবেন না; ধোঁয়াযুক্ত সল্তে নিভিয়ে ফেলবেন না; সত্যে তিনি ন্যায়বিচার প্রচলিত করবেন।
4 তিনি নিস্তেজ হবেন না, নিরুৎসাহ হবেন না, যে পর্যন্ত না দুনিয়াতে ন্যায়বিচার স্থাপন করেন; আর উপকূলগুলো তাঁর ব্যবস্থার অপেক্ষায় থাকবে।
5
মাবুদ আল্লাহ্, যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন ও তা বিছিয়ে দিয়েছেন, যিনি ভূতল ও সেখানে উৎপন্ন সমস্তই বিছিয়েছেন, যিনি এই দুনিয়ার নিবাসী সকলকে নিশ্বাস দেন ও সেখানে যে সমস্ত প্রাণী চলাচল করে তাদের রূহ্ দেন, তিনি এই কথা বলেন, আমি মাবুদ ধর্মশীলতায় তোমাকে আহ্বান করেছি,
6 আর আমি তোমার হাত ধরবো, তোমাকে রক্ষা করবো; এবং তোমাকে লোকদের নিয়মস্বরূপ ও জাতিদের দীপ্তিস্বরূপ করে নিযুক্ত করবো;
7 তুমি অন্ধদের চোখ খুলে দেবে, তুমি কারাগার থেকে বন্দীদের ও কারাকূপ থেকে অন্ধকারবাসীদেরকে বের করে আনবে।
8
আমি মাবুদ, এ-ই আমার নাম; আমি আমার গৌরব অন্যকে, কিংবা আমার প্রশংসা খোদাই-করা মূর্তিগুলোকে দেব না।
9 দেখ, আগের বিষয়গুলো সিদ্ধ হল; আর আমি নতুন নতুন ঘটনা জানাই, ঘটবার আগে তোমাদের তা জানাই।
10
হে সমুদ্রগামীরা ও সাগরস্থ সকলে,
হে উপকূলগুলো ও সেখানকার অধিবাসীরা,
তোমরা মাবুদের উদ্দেশে নতুন গজল গাও,
দুনিয়ার প্রান্ত থেকে তাঁর প্রশংসা গান কর।
11
মরুভূমি ও সেখানকার সমস্ত নগর উচ্চৈঃস্বর করুক,
কায়দারের বসতি গ্রামগুলো তা করুক,
শেলা-নিবাসীরা আনন্দ-রব করুক,
পর্বতমালার চূড়া থেকে আনন্দ চিৎকার করুক;
12
তারা মাবুদের গৌরব স্বীকার করুক,
উপকূলগুলোর মধ্যে তাঁর প্রশংসা প্রচার করুক।
13
মাবুদ বীরের মত যাত্রা করবেন,
যোদ্ধার মত তাঁর উদ্যোগকে উত্তেজিত করবেন;
তিনি জয়ধ্বনি করবেন, হ্যাঁ, মহানাদ করবেন;
তিনি দুশমনদের বিরুদ্ধে পরাক্রম দেখাবেন;
14
আমি অনেক দিন চুপ করে আছি, নীরব আছি, ক্ষান্ত রয়েছি; এখন প্রসবকারিণী স্ত্রীর মত চিৎকার করে উঠবো; আমি এককালে নিঃশ্বাস টেনে ফুৎকার করবো।
15 আমি পর্বত ও উপপর্বতগুলোকে ধ্বংস করবো, তার উপরকার সমস্ত ঘাস শুকিয়ে ফেলব এবং নদনদীকে উপকূল করবো ও সমস্ত জলাশয় শুকিয়ে ফেলব।
16 আমি অন্ধদেরকে তাদের অজানা পথ দিয়ে নিয়ে যাব; যেসব পথ তারা জানে না, সেসব পথ দিয়ে তাদেরকে চালাব; আমি তাদের আগে অন্ধকারকে আলো ও অসমান ভূমিকে সরল করবো; এ সব আমি করবো, তাদেরকে পরিত্যাগ করবো না।
17 যারা খোদাই-করা মূর্তিগুলোর উপর নির্ভর করে, যারা ছাঁচে ঢালা মূর্তিগুলোকে বলে, তোমরা আমাদের দেবতা, তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তারা ভীষণ লজ্জিত হবে।
18
হে বধির লোকেরা, শোন; হে অন্ধ লোকেরা, দেখবার জন্য চোখ মেল।
19 আমার গোলাম ছাড়া আর অন্ধ কে? আমার প্রেরিত দূতের মত বধির কে? আমার বন্ধুর মত অন্ধ কে? মাবুদের গোলামের মত অন্ধ কে?
20 তুমি অনেক বিষয় দেখছ, কিন্তু মন দিচ্ছ না; তার কান খোলা রয়েছে, কিন্তু সে শুনে না।
21 মাবুদ তাঁর ধর্মশীলতার অনুরোধে তাঁর ব্যবস্থাকে মহৎ ও মহিমান্বিত করতে প্রীত হলেন।
22
তবুও এই লোকেরা অপহৃত ও লুণ্ঠিত; তারা সকলে গর্তে ফেলা হয়েছে ও কারাগারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে; তারা অপহৃত হয়েছে, উদ্ধারকর্তা কেউ নেই; লুণ্ঠিত হয়েছে, কেউ বলে না, ফিরিয়ে দাও।
23 তোমাদের মধ্যে কে এতে সর্তকতার সঙ্গে মনযোগ দেবে? কে শুনে ভাবীকালের জন্য মনযোগ দেবে?
24 কে ইয়াকুবকে লুণ্ঠিত হতে দিয়েছে, ইসরাইলকে অপহারকদের হাতে দিয়েছে? তিনি কি মাবুদ নন, যাঁর বিরুদ্ধে আমরা গুনাহ্ করেছি, যাঁর পথে লোকেরা গমন করতে অসম্মত ছিল, তাঁর শরীয়ত মানত না?
25 সেজন্য তিনি তার উপরে তাঁর ক্রোধের তাপ ও যুদ্ধের প্রচণ্ডতা ঢেলে দিলেন; তাতে তার চারদিকে আগুন জ্বলে উঠলো, কিন্তু সে জানলো না; আগুন তার গায়ে লাগল, তবুও সে মনোযোগী হল না।
1
কিন্তু এখন, হে ইয়াকুব, তোমার সৃষ্টিকর্তা, হে ইসরাইল, তোমার নির্মাণকর্তা মাবুদ এই কথা বলেন, ভয় করো না, কেননা আমি তোমাকে মুক্ত করেছি, আমি তোমার নাম ধরে তোমাকে ডেকেছি, তুমি আমার।
2 তুমি যখন পানির মধ্য দিয়ে গমন করবে, আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব; যখন নদ-নদীর মধ্য দিয়ে গমন করবে, সেসব তোমাকে ডুবিয়ে দেবে না; যখন আগুনের মধ্য দিয়ে চলবে, তুমি পুড়বে না, তার শিখা তোমার উপরে জ্বলবে না।
3 কেননা আমি মাবুদ তোমার আল্লাহ্, ইসরাইলের পবিত্রতম, তোমার নাজাতদাতা; আমি তোমার মুক্তির মূল্য হিসেবে মিসর, তোমার পরিবর্তে ইথিওপিয়া ও সবা দেশ দিয়েছি।
4 তুমি আমার দৃষ্টিতে বহুমূল্য ও সম্ভ্রান্ত, আমি তোমাকে মহব্বত করেছি, সেজন্য আমি তোমার পরিবর্তে মানুষদেরকে ও তোমার প্রাণের পরিবর্তে জাতিদেরকে দেব।
5 ভয় করো না, কেননা আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি; আমি পূর্ব দিক থেকে তোমার বংশকে আনবো ও পশ্চিম দিক থেকে তোমাকে সংগ্রহ করবো;
6 আমি উত্তর দিক্কে বলবো, ছেড়ে দাও; দক্ষিণ দিক্কেও বলবো, আট্কে রেখো না; আমার পুত্রদেরকে দূর থেকে ও আমার কন্যাদেরকে দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এনে দাও;
7 যে কেউ আমার নামে আখ্যাত, যাকে আমি আমার গৌরবের জন্য সৃষ্টি করেছি সেই ব্যক্তিকে এনে দাও, আমি তাকে নির্মাণ করেছি, আমি তাকে গঠন করেছি।
8
বের কর সেই অন্ধ জাতিকে, যার চোখ আছে; সেই বধিরদেরকে, যাদের কান আছে।
9 সমস্ত জাতি একত্র হোক, লোকবৃন্দ সমবেত হোক; তাদের মধ্যে কে এর সংবাদ দিতে পারে ও আগের বিষয় আমাদেরকে শোনাতে পারে? তারা নিজেদের সাক্ষীদের উপস্থিত করুক, তাতে তারা সঠিক বলে প্রমাণিত হবে; অথবা তারা শুনুক ও বলুক যে, এই কথা সত্যি।
10 মাবুদ বলেন, তোমরাই আমার সাক্ষী এবং আমার মনোনীত গোলাম; যেন তোমরা জানতে ও আমাতে বিশ্বাস করতে পার এবং বুঝতে পার যে, আমিই তিনি; আমার আগে কোন আল্লাহ্ নির্মিত হয় নি এবং আমার পরেও হবে না।
11 আমি, আমিই মাবুদ; আমি ছাড়া আর কোন নাজাতদাতা নেই।
12 আমিই সংবাদ দিয়েছি, নাজাত করেছি, ঘোষণা করেছি, কোন বিজাতীয় দেবতা তোমাদের মধ্যে ছিল না; অতএব তোমরাই আমার সাক্ষী, এই কথা মাবুদ বলেন, আর আমিই আল্লাহ্।
13 এই দিন থেকে আমিই তিনি এবং আমার হাত থেকে উদ্ধারকারী কেউ নেই; আমি কাজ করবো, কে তা অন্যথা করবে?
14
মাবুদ, তোমাদের মুক্তিদাতা, ইসরাইলের পবিত্রতম, এই কথা বলেন, আমি তোমাদেরই জন্য ব্যাবিলনে লোক পাঠিয়েছি, তাদের সকলকে পালিয়ে যাওয়া লোকদের মত করে নিয়ে আসব, কল্দীয়দেরকে তাদের আনন্দগানের জাহাজে করে আনবো।
15 আমিই মাবুদ, তোমাদের পবিত্রতম, ইসরাইলের সৃষ্টিকর্তা, তোমাদের বাদশাহ্।
16
যিনি সমুদ্রে ও প্রচণ্ড জলরাশিতে পথ করে দেন,
17 যিনি রথ, ঘোড়া, সৈন্য ও বীরদেরকে বাইরে নিয়ে আসেন, — তারা এক সঙ্গে পড়ে যায়, আর উঠতে পারবে না, তারা পাটের মত মিট্মিট্ করতে করতে নিভে যায়—
18 সেই মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা আগের সমস্ত কাজ মনে করো না, পুরানো সমস্ত কাজকর্মের কথা আলোচনা করো না।
19 দেখ, আমি একটি নতুন কাজ করবো তা এখনই অঙ্কুরিত হবে; তোমরা কি তা জানবে না? এমন কি, আমি মরুভূমির মধ্যে পথ ও মরুভূমিতে নদনদী করে দেব।
20 বন্য জন্তুরা, শিয়াল ও উট পাখিরা আমার গৌরব করবে; কেননা আমি মরুভূমির মধ্যে পানি ও মরুভূমিতে নদনদী যোগাই, আমার লোকবৃন্দ, আমার মনোনীত লোকদের পান করাবার জন্যই যোগাই;
21 সেই যে লোকবৃন্দকে আমি নিজের জন্য সৃষ্টি করেছি, তারা আমার প্রশংসা তবলিগ করবে।
22
কিন্তু হে ইয়াকুব, আমাকে তুমি ডাক নি; হে ইসরাইল, তুমি আমার বিষয়ে ক্লান্ত হয়েছ।
23 তুমি আমার কাছে তোমার পোড়ানো-কোরবানীর ছাগল-ভেড়া আন নি, তোমার কোরবানী দ্বারা আমার সম্মান কর নি। আমি কোরবানীর বিষয়ে তোমাকে ভারগ্রস্ত করি নি, ধূপের বিষয়ে তোমাকে ক্লান্ত করি নি।
24 তুমি আমার জন্য টাকা দিয়ে বচ ক্রয় কর নি, তোমার কোরবানীর মেদে আমাকে তৃপ্ত কর নি; কিন্তু তোমার গুনাহ্ দ্বারা আমাকে গোলামীর কাজ করিয়েছ, তোমার অপরাধগুলো দ্বারা আমাকে ক্লান্ত করেছ।
25
আমি, আমিই আমার নিজের অনুরোধে তোমার সমস্ত অধর্ম মার্জনা করি, তোমার সমস্ত গুনাহ্ মনে রাখবো না।
26 আমাকে স্মরণ করিয়ে দাও; এসো, আমরা পরস্পর বিচার করি; তুমি যেন নির্দোষ বলে প্রমাণিত হও, সেজন্য নিজের কথা বল।
27 তোমার আদিপিতা গুনাহ্ করলো, তোমার মুখপাত্ররা আমার বিরুদ্ধে অধর্ম করেছে।
28 এজন্য আমি পবিত্র স্থানের ইমামদেরকে নাপাক করলাম এবং ইয়াকুবকে অভিশাপে ও ইসরাইলকে বিদ্রূপের হাতে তুলে দিলাম।
1
কিন্তু হে আমার গোলাম ইয়াকুব, হে আমার মনোনীত ইসরাইল, তুমি এখন শোন।
2 যিনি তোমাকে গঠন করেছেন, গর্ভ থেকে তোমাকে নির্মাণ করেছেন ও তোমার সাহায্য করবেন, সেই মাবুদ এই কথা বলেন, হে আমার গোলাম ইয়াকুব, হে আমার মনোনীত যিশুরূণ, ভয় করো না।
3 কেননা আমি পিপাসিত ভূমির উপরে পানি এবং শুকনো স্থানের উপরে পানিপ্রবাহ ঢেলে দেব; আমি তোমার বংশের উপরে আমার রূহ্, তোমার সন্তানদের উপরে আমার দোয়া ঢেলে দেব।
4 পানির স্রোতের ধারে যেমন বাইশী গাছ, তেমনি ঘাসের মধ্যে তারা অঙ্কুরিত হবে।
5 এক জন বলবে, আমি মাবুদের; আর এক জন ইয়াকুবের নামে অভিহিত হবে; এবং আর এক জন নিজের হাতে লিখবে ‘আমি মাবুদের’ ও ইসরাইল নাম গ্রহণ করবে।
6
মাবুদ, ইসরাইলের বাদশাহ্, তার মুক্তিদাতা, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমিই আদি, আমিই অন্ত, আমি ছাড়া আর কোন আল্লাহ্ নেই।
7 আমার মত কে ডাকবে ও তা জানাবে এবং আমার জন্য তা বিন্যাস করবে— যখন থেকে আমি পুরানো দিনের লোকদের স্থাপন করেছিলাম? আর যা যা আসছে এবং যা যা ঘটবে, তারা তা আগেই বলুক।
8 তোমরা ভয়ে কেঁপো না বা ভয় করো না; আমি কি পূর্বকাল থেকে তোমাদেরকে শুনাই নি ও জানাই নি? আর তোমরাই আমার সাক্ষী। আমি ছাড়া আর কোন আল্লাহ্ কি আছে? আর কোন শৈল নেই, আমি আর কাউকেও জানি না।
9
খোদাই-করা মূর্তির নির্মাতারা সকলে অবস্তু, তাদের মূল্যবান বস্তুগুলো উপকারী নয়; এবং তাদের নিজের সাক্ষীরা দেখে না, জানে না, যেন তারা লজ্জিত হয়।
10 কে দেবতা নির্মাণ করেছে, বা যা উপকারী নয়, এমন মূর্তি ছাঁচে ঢেলেছে?
11 দেখ, তার সমস্ত সহায় লজ্জিত হবে; সেই শিল্পকরেরা মানুষ মাত্র, তারা সকলে একত্র হোক, উঠে দাঁড়াক; তারা একেবারে কম্পান্বিত ও লজ্জিত হবে।
12
কর্মকার অস্ত্র তৈরি করে, তপ্ত অঙ্গারে পরিশ্রম করে, হাতুড়ি দ্বারা তা গড়ে, নিজের বলবান বাহু দ্বারা তা প্রস্তুত করে; আবার সে ক্ষুধিত হয়ে দুর্বল হয়, পানি পান না করে ক্লান্ত হয়।
13 ছুতার মিস্ত্রি সুতা দিয়ে মাপে, সে কলম দ্বারা তার আকৃতি লিখে, তাতে রেঁদা বুলায়, কম্পাস দিয়ে তার আকার নির্ধারণ করে এবং পুরুষের আকৃতি ও মানুষের সৌন্দর্য অনুসারে তা নির্মাণ করে, যেন তা বাড়িতে বাস করতে পারে।
14 কেউ নিজের জন্য এরস গাছ কাটে, তর্সা ও অলোন গাছ গ্রহণ করে, বনের গাছপালার মধ্যে কোন শক্তিশালী গাছ মনোনীত করে; সে ঝাউ গাছ রোপন করে, আর বৃষ্টি তা পালন করে।
15 পরে তা জ্বালানি কাঠ হয়ে মানুষের ব্যবহারে আসে; সে তার কিছু নিয়ে আগুন পোহায়; আবার তুন্দুর তপ্ত করে রুটি তৈরি করে; আবার একটি দেবমূর্তি নির্মাণ করে তার উপাসনা করে, একটি মূর্তি নির্মাণ করে তার কাছে ভূমিতে উবুড় হয়।
16 সে তার একটি অংশ আগুনে পোড়ায়, অন্য অংশ দ্বারা গোশ্ত রান্না করে ভোজন করে, শূল্যমাংস প্রস্তুত করে তৃপ্ত হয়, আবার আগুন পোহায়ে বলে, আহা, আমি আগুন পোহালাম, আগুনের তাপ নিলাম!
17 আর সে তার অবশিষ্ট অংশ দ্বারা একটি দেবতা, নিজের জন্য একটি মূর্তি নির্মাণ করে, সে তার কাছে ভূমিতে উবুড় হয় প্রণাম করে এবং তার কাছে প্রার্থনা করে বলে, আমাকে উদ্ধার কর, কেননা তুমি আমার দেবতা।
18 তারা জানে না ও বিবেচনা করে না; কেননা তিনি তাদের চোখ বন্ধ করেছেন, তাই তারা দেখতে পায় না; তাদের অন্তর বন্ধ করেছেন, তাই তারা বুঝতে পারে না।
19 কেউই মনে করে না, কারো এমন জ্ঞান বা বুদ্ধি নেই যে বলবে, আমি এর একটি অংশ আগুনে পুড়িয়েছি, আবার এর তপ্ত অঙ্গারে রুটি তৈরি করেছি, আমি শূল্যমাংস প্রস্তুত করে ভোজন করেছি, তবে এর অবশিষ্ট অংশ দ্বারা কি ঘৃণার বস্তু নির্মাণ করবো? কাঠের খণ্ডকে কি সেজদা করবো?
20 সে ভস্মভোজী, মন্ত্রমুগ্ধ অন্তর তাকে ভ্রান্ত করেছে, সে তার প্রাণ উদ্ধার করতে পারে না এবং এও বলে না যে, আমার ডান হাতে কি মিথ্যা কথা নেই?
21
হে ইয়াকুব, হে ইসরাইল, তুমি এসব স্মরণ কর, কেননা তুমি আমার গোলাম, আমি তোমাকে গঠন করেছি; তুমি আমার গোলাম; হে ইসরাইল, আমি তোমাকে ভুলে যাব না।
22 আমি তোমার সমস্ত অধর্ম কুয়াশার মত, তোমার সমস্ত গুনাহ্ মেঘের মত ঘুচিয়ে দিয়েছি; তুমি আমার প্রতি ফের, কেননা আমি তোমাকে মুক্ত করেছি।
23
হে বেহেশতগুলো, তোমরা আনন্দ-রব কর,
কেননা মাবুদ এই কাজ করেছেন;
হে দুনিয়ার অধঃস্থানগুলো জয়-জয়ধ্বনি কর;
হে পর্বতমালা, উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান কর,
হে বন ও তার মধ্যেকার সকল গাছপালা,
তোমরাও আনন্দ-গান কর কেননা মাবুদ ইয়াকুবকে মুক্ত করেছেন,
এবং ইসরাইলের মধ্যে নিজেকে মহিমান্বিত করবেন।
24
তোমার মুক্তিদাতা এবং গর্ভ হতেই তোমার গঠনকারী মাবুদ এই কথা বলেন, আমি মাবুদ সর্ববস্তুর নির্মাতা, আমি একাকী আসমান বিস্তার করেছি, আমি ভূতল বিছিয়েছি; আমার সঙ্গী কে?
25 মাবুদ বাচালদের চিহ্নগুলো ব্যর্থ করেন ও গণকদেরকে পাগল করে তোলেন, তিনি জ্ঞানবানদেরকে হটিয়ে দেন ও তাদের জ্ঞান মূর্খতাস্বরূপ করেন।
26 তিনি তাঁর গোলামের কথা সফল করেন ও তাঁর দূতদের মন্ত্রণা সিদ্ধ করেন; তিনি জেরুশালেমের বিষয়ে বলেন, তা বসতিবিশিষ্ট হবে, আর এহুদার নগরগুলোর বিষয়ে বলেন, সেগুলো পুনর্নির্মিত হবে, আর আমি দেশের উৎসন্ন সমস্ত স্থান আবার তৈরি করবো।
27 তিনি অগাধ পানিকে বলেন, শুকিয়ে যাও, আমি তোমার নদনদী শুকিয়ে ফেলব।
28 তিনি কাইরাসের উদ্দেশে বলেন, আমার পালরক্ষক, সে আমার সমস্ত মনোরথ সিদ্ধ করবে। তিনি জেরুশালেমের বিষয়ে বলেন, সে পুনর্নির্মিত হবে এবং এবাদতখানাকে বলেন, তোমার ভিত্তিমূল স্থাপিত হবে।
1
মাবুদ তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তি কাইরাসের বিষয়ে এই কথা বলেন, আমি তার ডান হাত ধরেছি, আমি তার সম্মুখে নানা জাতিকে পরাজিত করবো, আর বাদশাহ্দের রাজপোশাক খুলে ফেলবো; আমি তার আগে সমস্ত কবাট মুক্ত করবো, আর তোরণদ্বারগুলো বন্ধ থাকবে না।
2 আমি তোমার অগ্রভাগে গমন করে উঁচু-নিচু স্থান সমান করবো, আমি ব্রোঞ্জের কবাট ভেঙ্গে ফেলব ও লোহার হুড়কা কেটে ফেলবো।
3 আর আমি তোমাকে অন্ধকার জায়গায় রাখা ধনকোষ ও গুপ্ত স্থানে সঞ্চিত ধন-সম্পদ দেব, যেন তুমি জানতে পার, আমি মাবুদই তোমার নাম ধরে ডাকি, আমি ইসরাইলের আল্লাহ্।
4 আমার গোলাম ইয়াকুবের ও আমার মনোনীত ইসরাইলের জন্য আমি তোমার নাম ধরে তোমাকে ডেকেছি; তুমি আমাকে না জানলেও তোমাকে উপাধি দিয়েছি।
5 আমিই মাবুদ, আর কেউ নয়; আমি ছাড়া অন্য আল্লাহ্ নেই; তুমি আমাকে না জানলেও আমি তোমাকে শক্তিশালী করবো;
6 যেন সূর্যোদয়ের স্থান থেকে পশ্চিম দিক পর্যন্ত লোকে জানতে পারে যে, আমি ছাড়া অন্য আর কেউ নেই; আমিই মাবুদ, আর কেউ নয়।
7 আমি আলোর রচনাকারী ও অন্ধকারের সৃষ্টিকর্তা, আমি শান্তির রচনাকারী ও অনিষ্টের সৃষ্টিকর্তা; আমি মাবুদ এই সকলের সাধনকর্তা।
8
হে আসমান, উপর থেকে শিশির বর্ষণ কর,
মেঘমালা ধার্মিকতা বর্ষণ করুক;
ভূমি বিদীর্ণ হোক যেন উদ্ধার-ফল উৎপন্ন হতে পারে,
দুনিয়া সঙ্গে সঙ্গে ধার্মিকতা অঙ্কুরিত করুক
আমি মাবুদ এর সৃষ্টিকর্তা।
9
ধিক্ তাকে, যে তাঁর নির্মাতার সঙ্গে ঝগড়া করে; সে তো মাটির খোলার মধ্যবর্তী খোলা মাত্র। মাটি কি কুমারকে বলবে, ‘তুমি কি নির্মাণ করছো?’ তোমার সৃষ্ট বস্তু কি বলবে, ‘ওর হাত নেই’?
10 ধিক্ তাকে, যে পিতাকে বলে, ‘তুমি কি জন্মাছ?’ কিংবা স্ত্রীলোককে বলে,’ তুমি কি প্রসব করছো?’
11
মাবুদ, ইসরাইলের পবিত্রতম ও তার নির্মাতা এই কথা বলেন, তোমরা আগামী ঘটনাগুলোর বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা কর; আমার সন্তানদের ও আমার হাতের কাজের বিষয়ে আমাকে হুকুম দাও।
12 আমি দুনিয়া নির্মাণ করেছি ও দুনিয়ার উপরে মানবজাতির সৃষ্টি করেছি; আমি আমার হাতে আসমান বিছিয়ে দিয়েছি এবং আসমানের সমস্ত বাহিনীকে হুকুম দিয়ে আসছি।
13 আমিই ওকে ধর্মশীলতায় উজ্জীবিত করেছি, আর ওর সকল পথ সমান করবো; সেই আমার নগরটি গাঁথবে এবং আমার বন্দী থাকা লোকদের ছেড়ে দেবে, বিনামূল্যে ও বিনা পুরস্কারেই দেবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
14
মাবুদ এই কথা বলেন, মিসরের উপার্জিত সম্পত্তি ও ইথিওপিয়ার বাণিজ্যের লাভ এবং দীর্ঘকায় সবায়ীয়রা তোমার কাছে আসবে, তারা তোমারই হবে; তারা তোমার পশ্চাদ্গামী হবে; শিকলে বাঁধা অবস্থায় আসবে; আর তোমার কাছে ভূমিতে উবুড় হয়ে এই কথা নিবেদন করবে, ‘তোমারই মধ্যে আল্লাহ্ আছেন, আর কেউ নয়, আর কোন আল্লাহ্ নেই।’
15
হে ইসরাইলের আল্লাহ্, হে নাজাতদাতা, সত্যি, তুমি আত্মগোপনকারী আল্লাহ্।
16 তারা সকলে লজ্জিত ও বিষণ্ন হবে, তারা একসঙ্গে অপমানিত হয়ে চলে যাবে, সেই মূর্তি-নির্মাতারা!
17 কিন্তু ইসরাইল মাবুদ কর্তৃক অনন্তকালস্থায়ী উদ্ধার পেয়েছে; তোমরা অনন্তকালেও কখনও লজ্জিত বা বিষণ্ন হবে না।
18
কেননা আসমানের সৃষ্টিকর্তা মাবুদ, স্বয়ং আল্লাহ্, যিনি দুনিয়াকে সংগঠন করে নির্মাণ করেছেন, তা স্থাপন করেছেন ও অনর্থক সৃষ্টি না করে বাসোপযোগী করে নির্মাণ করেছেন, তিনি এই কথা বলেন, আমিই মাবুদ, আর কেউ নয়।
19 আমি গোপনে অন্ধকারময় দেশের কোন স্থানে কথা বলি নি; আমি ইয়াকুবের বংশকে এই কালাম বলি নি যে, ‘তোমরা অনর্থক আমার খোঁজ কর, আমি মাবুদ ন্যায্য কালাম বলি, সরলতার কথা বলি।
20
হে জাতিদের মধ্য থেকে উত্তীর্ণ লোক সকল, তোমরা একত্র হয়ে এসো, একসঙ্গে কাছে এসো, তারা কিছুই জানে না, যারা নিজেদের মূর্তির কাঠ বয়ে বেড়ায়, যারা এমন দেবতার কাছে মুনাজাত করে, যে উদ্ধার করতে পারে না।
21 তোমরা সংবাদ দাও, কথা উপস্থিত কর; হ্যাঁ, সকলে পরস্পর মন্ত্রণা করুক। আগে থেকে এই কথা কে জানিয়েছে? সেকাল থেকে কে সংবাদ দিয়েছে? আমি মাবুদ কি করি নি? আমি ছাড়া অন্য কোন আল্লাহ্ নেই; আমি ধর্মশীল ও উদ্ধারকারী আল্লাহ্; আমি ছাড়া অন্য কেউ নেই।
22
হে দুনিয়ার শেষ সীমাগুলো, আমার প্রতি দৃষ্টি করে উদ্ধার লাভ কর, কেননা আমিই আল্লাহ্, আর কেউ নয়।
23 আমি আমার নামে শপথ করেছি, আমার ধার্মিকতায় আমার মুখ কথা বলেছে, একটি কালাম, যা ফিরে আসবে না, বস্তুত আমার কাছে প্রত্যেকে হাঁটু পাতবে, প্রত্যেক জিহ্বা শপথ করবে।
24 লোকে আমাকে বলবে, কেবল মাবুদেই ধার্মিকতা ও শক্তি আছে; তাঁরই কাছে লোকেরা আসবে এবং যেসব লোক তাঁতে বিরক্ত, তারা লজ্জিত হবে।
25 মাবুদেই ইসরাইলের সমস্ত বংশ ধার্মিক বলে গণ্য হবে ও গৌরব লাভ করবে।
1
বেল নত হল, নবো উবুড় হয়ে পড়লো;
তাদের মূর্তিগুলো জন্তুদের উপরে ও পশুদের উপরে;
তোমরা যাদেরকে তুলে নিয়ে বেড়াতে,
তারা বোঝা হল, ক্লান্ত পশুর ভার হল।
2
তারা একসঙ্গে উবুড় হল, নত হয়ে পড়লো,
বোঝা রক্ষা করতে পারল না,
বরং নিজেরা বন্দী হয়ে চলে গেল।
3
হে ইয়াকুবের কুল, হে ইসরাইলকুলের সমস্ত অবশিষ্টাংশ,
আমার কথা শোন;
গর্ভ থেকে আমি তোমাদেরকে বহন করে আসছি,
মায়ের গর্ভ থেকে তোমাদেরকে বহন করে আসছি।
4
আর তোমাদের বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত আমি যে সেই থাকব,
তোমাদের চুল পাকবার বয়স পর্যন্ত আমিই তুলে বহন করবো;
আমিই নির্মাণ করেছি, আমিই বহন করবো;
হ্যাঁ, আমিই তুলে বহন করবো, রক্ষা করবো।
5
তোমরা আমাকে কার সদৃশ ও কার সমান বলবে,
কিংবা কার সঙ্গে আমার উপমা দিলে আমরা পরস্পর সমান হব?
6
তারা থলি থেকে সোনা ঢালে,
নিক্তিতে রূপা ওজন করে,
স্বর্ণকারকে বানি দেয়,
আর সে তা দ্বারা একটি দেবতা নির্মাণ করে,
পরে তারা ভূমিতে উবুড় হয়ে সেজ্দা করে।
7
তারা তাকে কাঁধে তুলে বহন করে,
স্বস্থানে বসিয়ে দেয়, তাতে সে দাঁড়িয়ে থাকে,
তার স্থান থেকে সরে না;
আবার এক জন তার কাছে কান্নাকাটি করে,
কিন্তু সে উত্তর দিতে পারে না,
কাউকেও সঙ্কট থেকে নিস্তার করতে পারে না।
8
তোমরা এই স্মরণ কর ও পুরুষত্ব দেখাও;
হে অধর্মাচারীরা, মনোযোগ দাও।
9
সেকালের পুরানো সমস্ত কাজ স্মরণ কর;
কারণ আমিই আল্লাহ্, আর কেউ নয়;
আমি আল্লাহ্, আমার মত কেউ নেই।
10
আমি শেষ কালের বিষয় আদি কাল থেকে জানাই,
যে কাজ এখনও করা হয় নি, তা আগে জানাই,
আর বলি, আমার মন্ত্রণা স্থির থাকবে,
আমি নিজের সমস্ত মনোরথ সিদ্ধ করবো।
11
আমি পূর্ব দিক থেকে হিংস্র পাখিকে,
দূরদেশ থেকে আমার মন্ত্রণার মানুষকে, আহ্বান করি;
আমি বলেছি, আর আমি সফল করবো;
আমি কল্পনা করেছি, আর আমি সিদ্ধ করবো।
12
হে কঠিন-চিত্তেরা,
তোমরা যারা ধার্মিকতা থেকে দূরবর্তী,
আমার কথা শোন;
13
আমি নিজের ধর্মশীলতা কাছে নিয়ে আসলাম;
তা দূরে থাকবে না, আর আমার উদ্ধারের বিলম্ব হবে না;
আমার শোভাস্বরূপ ইসরাইলের জন্য আমি সিয়োনে উদ্ধার স্থাপন করবো।
1
হে কুমারী ব্যাবিলন-কন্যে, তুমি নেমে ধূলিতে বস;
হে কল্দীয়দের কন্যে, ভূমিতে বস, সিংহাসন নেই;
কেননা লোকে তোমাকে আর কোমলা ও সুখভোগিনী বলে ডাকবে না।
2
যাঁতা নিয়ে শস্য পেষণ কর,
তোমার ঘোমটা খোল, পায়ের কাপড় তোল,
জঙ্ঘা অনাবৃত কর, পায়ে হেঁটে নদনদী পার হও।
3
তোমার নগ্নতা প্রকাশিত হবে,
হ্যাঁ, তোমার লজ্জার বিষয় দৃশ্য হবে;
‘আমি প্রতিশোধ দেব, কারো অনুরোধ মানব না।’
4
আমাদের মুক্তিদাতা, তাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ,
তিনি ইসরাইলের পবিত্রতম।
5
হে কল্দীয়দের কন্যে, নীরবে বস, অন্ধকারে আশ্রয় নেও;
কেননা তুমি আর রাজ্যগুলোর রাণী বলে আখ্যাতা হবে না।
6
আমি আমার লোকবৃন্দের উপরে ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম,
আমার অধিকার নাপাক করেছিলাম,
তোমার হাতে তাদের তুলে দিয়েছিলাম;
তুমি তাদের প্রতি রহম কর নি,
তোমার জোয়াল অতি ভারী করে বৃদ্ধ লোকের উপরে দিয়েছ।
7
আর তুমি বললে, আমি চিরকাল রাণী থাকব;
তাই তুমি এসব বিষয়ে মনোযোগ দাও নি,
শেষকালের ফলও বিবেচনা কর নি।
8
অতএব এখন, হে বিলাসিনী! তুমি এই কথা শোন,
তুমি নির্ভয়ে বসে আছ, মনে মনে বলছো,
আমিই আছি, আমা ভিন্ন আর কেউ নেই,
আমি বিধবা হয়ে বসবো না, সন্তান হারাবার ব্যথা পাব না।
9
কিন্তু সন্তান হারানো ও বিধবা হওয়া,
এই উভয়ই অকস্মাৎ একই দিনে তোমার প্রতি ঘটবে;
তোমার অনেক মায়াবীত্বর ও নানা রকম ইন্দ্রজালের প্রাচুর্য থাকলেও
উভয়ই পূর্ণ পরিমাণে তোমার উপরে আসবে।
10
তুমি তোমার দুষ্টতায় নির্ভর করেছ,
তুমি বলেছ, কেউ আমাকে দেখতে পায় না;
তোমার বিদ্যা ও তোমার জ্ঞান তোমাকে বিপথগামিনী করেছে;
তুমি মনে মনে বলেছ, আমিই আছি, আমা ভিন্ন আর কেউ নেই।
11
এজন্য দুর্দশা তোমার উপরে আসবে,
তুমি তা মন্ত্রবলে দূর করতে পারবে না;
তোমার উপরে বিপদ এসে পড়বে,
তুমি তার প্রতিবিধান করতে পারবে না;
তোমার উপরে হঠাৎ বিনাশ উপস্থিত হবে,
অথচ তুমি তার কিছু জান না।
12
যে বিবিধ ইন্দ্রজাল ও অনেক মায়াবীত্বের দরুন
তুমি বাল্যকাল থেকে পরিশ্রম করে আসছ,
এখন সেসব নিয়ে দাঁড়াও;
দেখি, যদি উপকার পাও,
দেখি, যদি ভয় দেখাতে পার।
13
তুমি নিজের অনেক মন্ত্রণায় ক্লান্ত হয়েছ;
তবে জ্যোতিষীরা, নক্ষত্রদর্শীরা,
যে দৈবজ্ঞেরা প্রতি মাসে ভবিষ্যদ্বাণী করে তারা উঠে বলুক,
তোমার প্রতি যা যা ঘটবে, তা থেকে তোমাকে নিস্তার করুক;
14
দেখ, তারা খড়ের মত হল;
আগুন তাদের পুড়িয়ে ফেললো;
তারা আগুনের শিখার বল থেকে নিজ নিজ প্রাণ উদ্ধার করতে পারবে না;
তা উষ্ণ হবার অঙ্গার বা সম্মুখে বসবার আগুন নয়।
15
তুমি যেসব বিষয়ে পরিশ্রম করেছ,
সেসব তোমার পক্ষে এরকম হল;
যারা তোমার সঙ্গে যৌবন কাল থেকে বাণিজ্য করেছে,
তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে ভ্রান্ত হল,
তোমার নিস্তারকারী কেউ নেই।
1
হে ইয়াকুবের কুল, এই কথা শোন;
তোমরা তো ইসরাইল নামে আখ্যাত,
এহুদা-জলাশয় থেকে নিঃসৃত;
তোমরা মাবুদের নাম নিয়ে শপথ করে থাক,
ইসরাইলের আল্লাহ্কে স্বীকার করে থাক,
কিন্তু সত্যে নয় ও ধার্মিকতায় নয়।
2
কারণ তারা পবিত্র নগরের লোক বলে পরিচয় দেয়,
ইসরাইলের আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করে;
তাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ।
3
আগের বিষয়গুলো আমি সেকাল থেকে জানি;
সেগুলো আমার মুখ থেকে বের হয়েছিল,
আমি তা জানাতাম;
আমি অকস্মাৎ সাধন করলাম, সেগুলো উপস্থিত হল।
4
কারণ আমি জানতাম যে, তুমি অবাধ্য,
তোমার ঘাড় লোহার শলাকার মত,
তোমার কপাল ব্রোঞ্জের;
5
এজন্য আমি আগে থেকে তোমাকে তার সংবাদ দিয়েছি,
উপস্থিত হবার আগে তা তোমাকে শুনিয়েছি;
পাছে তুমি বল, আমার মূর্তি এই করেছে,
আমার খোদাই-করা মূর্তি ও আমার ছাঁচে ঢালা মূর্তি এই হুকুম দিয়েছে।
6
তুমি শুনেছ, এ সব দেখ;
তোমরা কি তা জানাবে না?
এখন থেকে আমি তোমাকে নতুন নতুন কথা শোনাই,
সেসব নিগূঢ়, তুমি জানতে পার নি।
7
সেসব এখনই সৃষ্ট হল, আগে থেকে ছিল না;
আজকের আগে তুমি সেসব শোন নি;
পাছে তুমি বল যে, আমি সেসব জানতাম।
8
তুমি তো শোন নি, জানও নি,
আগে থেকে তোমার কান খোলাও হয় নি;
কেননা আমি জেনেছিলাম, তুমি নিতান্ত বিশ্বাসঘাতক,
গর্ভ থেকে অধর্মাচারী বলে আখ্যাত।
9
আমি আমার নামের অনুরোধে ক্রোধ সম্বরণ করবো,
নিজের প্রশংসার্থে তোমার প্রতি সংযত হব,
তোমাকে উচ্ছেদ করবো না।
10
দেখ, আমি তোমাকে আগুনে খাঁটি করেছি,
কিন্তু রূপা বলে নয়;
দুঃখরূপ অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে তোমাকে পরীক্ষাসিদ্ধ করেছি।
11
আমি নিজের, কেবল নিজেরই অনুরোধে কাজ করবো,
কারণ আমার নাম কেন নাপাক হবে?
আমি তো আমার গৌরব অন্যকে দেব না।
12
হে ইয়াকুব, হে আমার আহূত ইসরাইল,
আমার কথায় কান দাও;
আমিই তিনি, আমি আদি,
আবার আমিই অন্ত!
13
আমারই হাত দুনিয়ার ভিত্তিমূল স্থাপন করেছে,
আমার ডান হাত আসমান বিস্তার করেছে;
আমি তাদেরকে ডাকলে সে সমস্ত একসঙ্গে দাঁড়ায়।
14
তোমরা সকলে একত্র হয়ে শোন,
ওদের মধ্যে কে এই সব বিষয়ে আগেই সংবাদ দিয়েছে?
মাবুদ ঐ যে ব্যক্তিকে মহব্বত করেন,
সে ব্যাবিলনের সম্বন্ধে তাঁর মনোরথ সিদ্ধ করবে,
তার বাহু কল্দীয়দের উপরে স্থাপিত হবে।
15
আমি, আমিই কথা বললাম,
হ্যাঁ, আমি তাকে আহ্বান করেছি,
আমি তাকে আনলাম,
আর সে তার পথে কৃতার্থ হবে।
16
তোমরা আমার কাছে এসো,
এই কথা শোন, আমি আদি থেকে গোপনে বলি নি;
যে সময় থেকে সেই ঘটনা হচ্ছে,
সেই সময় থেকে আমি সেই স্থানে বর্তমান।
আর এখন সার্বভৌম মাবুদ আমাকে ও তাঁর রূহ্কে প্রেরণ করেছেন।
17
মাবুদ, তোমার মুক্তিদাতা, ইসরাইলের পবিত্রতম, এই কথা বলেন,
আমি মাবুদ তোমার আল্লাহ্,
আমি তোমার উপকারজনক শিক্ষা দান করি,
তোমার গন্তব্য পথে তোমাকে গমন করাই।
18
আহা! তুমি কেন আমার হুকুমে মনযোগ দাও নি?
করলে তোমার শান্তি নদীর মত,
তোমার ধার্মিকতা সমুদ্র-তরঙ্গের মত হত;
19
আর তোমার বংশ বালুকণার মত হত,
তোমার সন্তান তার কণাগুলোর মত হত,
তার নাম উচ্ছিন্ন হত না ও আমার সম্মুখ থেকে মুছে যেত না।
20
তোমরা ব্যাবিলন থেকে বের হও;
কল্দীয়দের মধ্য থেকে পালিয়ে যাও,
আনন্দগানের রবসহকারে এই প্রচার কর,
এই সংবাদ দাও, দুনিয়ার সীমা পর্যন্ত এই বিষয় উল্লেখ কর;
তোমরা বল, মাবুদ তাঁর গোলাম ইয়াকুবকে মুক্ত করেছেন।
21
তিনি যখন শুকনো স্থান দিয়ে তাদেরকে নিয়ে গেলেন,
তারা তৃষ্ণার্ত হল না,
তিনি তাদের জন্য শৈল থেকে স্রোত বহালেন;
তিনি শৈল ভেদ করলেন, পানি প্রবাহিত হল।
22
মাবুদ বলেন, দুষ্ট লোকদের কোনই শান্তি নেই।
1
হে উপকূলগুলো, আমার কালাম শোন;
হে দূরস্থ জাতিরা, কান দাও।
মাবুদ গর্ভ থেকে আমাকে ডেকেছেন,
মায়ের গর্ভ থেকে আমার নাম উল্লেখ করেছেন।
2
তিনি আমার মুখ ধারালো তলোয়ারস্বরূপ করেছেন,
তাঁর হাতের ছায়াতে আমাকে লুকিয়ে রেখেছেন,
আমাকে ধারালো তীরস্বরূপ করেছেন,
তাঁর তীর রাখবার খাপের মধ্যে রেখেছেন।
3
আর তিনি আমাকে বলেছেন ‘তুমি আমার গোলাম,
তুমি ইসরাইল, তোমাতেই আমি মহিমান্বিত হব।’
4
কিন্তু আমি বললাম, আহা! আমি পণ্ডশ্রম করেছি,
শূন্যতা ও অসারতার জন্য আমার শক্তি ব্যয় করেছি;
নিশ্চয়ই আমার বিচার মাবুদের কাছে,
আমার শ্রমের ফল আমার আল্লাহ্র কাছে রয়েছে।
5
আর এখন মাবুদ বলেন,
যিনি আমাকে গর্ভ থেকে নির্মাণ করেছেন,
যেন আমি তাঁর গোলাম হয়ে ইয়াকুবকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনি,
যেন ইসরাইল তাঁর কাছে সংগৃহীত হয়,
বাস্তবিক, মাবুদের দৃষ্টিতে আমি সম্মানিত,
আমার আল্লাহ্ আমার বল হয়েছেন;
6
তিনি বলেন, এটি লঘু বিষয় যে,
তুমি যে ইয়াকুবের বংশগুলোকে উঠাবার জন্য,
ইসরাইলের রক্ষাপ্রাপ্ত লোকদেরকে পুনর্বার আনবার জন্য আমার গোলাম হও,
আমি তোমাকে জাতিদের দীপ্তিস্বরূপ করবো,
যেন তুমি দুনিয়ার সীমা পর্যন্ত আমার উদ্ধারস্বরূপ হও।
7
যে ব্যক্তি মানুষের অবজ্ঞাত,
লোকবৃন্দের ঘৃণাস্পদ ও শাসনকর্তাদের গোলাম,
তাকে মাবুদ, ইসরাইলের মুক্তিদাতা ও তার পবিত্রতম, এই কথা বলেন,
তোমাকে দেখলে বাদশাহ্রা উঠে দাঁড়াবে,
নেতৃবর্গরা সেজ্দা করবে;
মাবুদের জন্যই করবে, তিনি তো বিশ্বসনীয়;
ইসরাইলের পবিত্রতমের জন্য করবে,
তিনি তো তোমাকে মনোনীত করেছেন।
8
মাবুদ এই কথা বলেন,
আমি প্রসন্নতার সময়ে তোমার মুনাজাতের উত্তর দিয়েছি,
উদ্ধারের দিনে তোমার সাহায্য করেছি;
আর আমি তোমাকে রক্ষা করবো,
তোমাকে লোকবৃন্দের সন্ধিরূপে দিয়েছি;
তাতে তুমি দেশের উন্নতি সাধন করবে,
ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিকারগুলো আবার অধিকারে আনবে;
9
তুমি বন্দীদেরকে বলবে, বের হও;
যারা অন্ধকারে আছে, তাদেরকে বলবে প্রকাশিত হও।
তারা পথে পথে চরবে,
গাছপালাহীন উঁচুস্থান তাদের চরাণিস্থান হবে।
10
তারা ক্ষুধিত বা পিপাসিত হবে না;
তপ্ত বালুকা বা রৌদ্র দ্বারা আহত হবে না;
কেননা যিনি তাদের প্রতি দয়াকারী,
তিনি তাদেরকে চরাবেন,
পানির ফোয়ারার কাছে নিয়ে যাবেন।
11
আর আমি আমার সমস্ত পর্বত রাস্তা বানাব,
আর আমার সমস্ত রাজপথ উঁচু করা হবে।
12
দেখ, এরা দূর থেকে আসবে;
আর দেখ, ওরা উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে আসবে;
আর এই লোকেরা সীনীম দেশ থেকে আসবে।
13
আসমান, আনন্দ-রব কর, দুনিয়া, উল্লসিত হও;
পর্বতমালা, উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান কর;
কেননা মাবুদ তাঁর লোকদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন,
আর তাঁর দুঃখীদের প্রতি করুণা করবেন।
14
কিন্তু সিয়োন বললো, মাবুদ আমাকে ত্যাগ করেছেন,
প্রভু আমাকে ভুলে গেছেন।
15
স্ত্রীলোক কি আপন স্তন্যপায়ী শিশুকে ভুলে যেতে পারে?
আপন গর্ভজাত বালকের প্রতি কি স্নেহ করবে না?
বরং তারা ভুলে যেতে পারে,
তবুও আমি তোমাকে ভুলে যাব না।
16
দেখ, আমি আমার হাতের তালুতে তোমার আকৃতি এঁকেছি,
তোমার প্রাচীর সর্বদা আমার সম্মুখে আছে।
17
তোমার পুত্রেরা ত্বরা করছে,
তোমার উৎপাটনকারী ও উৎসন্নকারীরা তোমার মধ্য থেকে বের হবে।
18
তুমি চারদিকে চোখ তুলে দেখ,
এরা সকলে একত্র হয়ে তোমার কাছে আসছে।
মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম,
তুমি গহনার মত এগুলোকে পরিধান করবে,
বিয়ের কনের গহনার মত এগুলোকে ধারণ করবে।
19
কারণ তোমার উৎসন্ন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানগুলোর
এবং তোমার নষ্ট দেশের বিষয় বলছি;
এখন তুমি নিবাসীদের পক্ষে সঙ্কীর্ণ হবে
এবং যারা তোমাকে গ্রাস করেছিল,
তারা দূরে থাকবে।
20
তোমার বিরহের সময়ের সন্তানেরা
এর পরে তোমার কর্ণগোচরে বলবে,
আমার পক্ষে এই স্থান সঙ্কীর্ণ;
সরে যাও, আমাকে বাস করতে দাও।
21
তখন তুমি মনে মনে বলবে,
আমার এই সকলকে কে জন্ম দিয়েছে?
আমি তো সন্তানহীনা ও বন্ধ্যা,
নির্বাসিতা ও পরিভ্রমণকারিণী ছিলাম;
এদেরকে কে প্রতিপালন করেছে;
দেখ, আমি একাকিনী অবশিষ্টা ছিলাম,
এরা কোথায় ছিল?
22
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন,
দেখ, আমি জাতিদের প্রতি আমার হাত তুলব,
লোকবৃন্দের প্রতি আমার নিশান উঠাবো,
তাতে তারা তোমার পুত্রদেরকে কোলে করে,
তোমার কন্যাদের কাঁধে করে এনে দেবে।
23
আর বাদশাহ্রা তোমার রক্ষণাবেক্ষণকারী পালক
ও তাদের রাণীরা তোমার ধাত্রী হবে;
তারা ভূমিতে মুখ রেখে তোমার কাছে সেজ্দা করবে,
ও তোমার পায়ের ধূলি চাটবে;
আর তুমি জানতে পারবে, আমিই মাবুদ;
যারা আমার অপেক্ষা করে, তারা লজ্জিত হবে না।
24
বীর থেকে কি যুদ্ধে ধৃত প্রাণী হরণ করা যায়?
কিংবা ন্যায়বানের বন্দীদেরকে কি মুক্ত করা যায়?
25
মাবুদ এই কথা বলেন,
অবশ্য বীরের বন্দীদেরকে হরণ করা যাবে,
ও ভয়ংকর লোকের ধৃত প্রাণীকে মুক্ত করা যাবে;
কারণ তোমার প্রতিবাদীর সঙ্গে আমিই ঝগড়া করবো,
আর তোমার সন্তানদেরকে আমিই উদ্ধার করবো।
26
আর আমি তোমার জুলুমবাজদেরকে তাদেরই গোশ্ত ভোজন করাব;
তারা নতুন আঙ্গুর-রসের মত নিজ নিজ রক্ত খেয়ে মাতাল হবে;
আর মানুষ মাত্র জানতে পারবে যে, আমিই মাবুদ তোমার উদ্ধারকর্তা,
তোমার মুক্তিদাতা, ইয়াকুবের এক বীর।
1
মাবুদ এই কথা বলেন,
আমি যে তালাক-নামা দ্বারা তোমাদের মাকে ত্যাগ করেছি,
তার সেই তালাক-নামা কোথায়?
কিংবা আমার মহাজনদের মধ্যে কার কাছে তোমাদের বিক্রি করেছি?
দেখ, তোমাদের অপরাধের দরুন তোমাদের বিক্রি করা হয়েছে,
এবং তোমাদের অধর্মের দরুন তোমাদের মা পরিত্যক্তা হয়েছে।
2
আমি আসলে কেউ উপস্থিত হল না কেন?
আমি ডাকলে কেউ উত্তর দিল না কেন?
আমার হাত কি এমন সংকীর্ণ হয়েছে যে,
আমি মুক্ত করতে পারি না?
আমার কি উদ্ধার করার ক্ষমতা নেই?
দেখ, আমি ধমক সমুদ্র শুকিয়ে ফেলি,
নদনদী মরুভূমিতে পরিণত করি,
সেখানকার সমস্ত মাছ পানির অভাবে দুর্গন্ধযুক্ত হয়,
পিপাসায় মারা পড়ে।
3
আমি আসমানকে কালিমা পরাই,
চট তার আচ্ছাদন করি।
4
আল্লাহ্ সার্বভৌম মাবুদ শিক্ষাগ্রাহীদের জিহ্বা দিয়েছেন,
কিভাবে ক্লান্ত লোককে কালাম দ্বারা সুস্থির করতে হয়;
যেন আমি বুঝতে পারি,
তিনি প্রতি প্রভাতে জাগিয়ে দেন,
আমার কান সজাগ করেন,
যেন আমি শিক্ষার্থীদের মত শুনতে পাই।
5
সার্বভৌম মাবুদ আমার কান খুলে দিয়েছেন
এবং আমি বিরুদ্ধাচারী হই নি,
পিছিয়ে যাই নি।
6
আমি প্রহারকদের প্রতি আমার পিঠ,
যারা দাড়ি উপড়িয়েছে,
তাদের প্রতি আমার গাল পেতে দিলাম,
অপমান ও থুথু থেকে আমার মুখ আচ্ছাদন করলাম না।
7
কারণ সার্বভৌম মাবুদ আমার সাহায্য করবেন,
সেজন্য আমি ভীষণ ভয় পাই নি,
সেজন্য চকমকি পাথরের মত আমার মুখ স্থাপন করেছি,
আমি জানি যে লজ্জিত হব না।
8
যিনি আমাকে ধার্মিক করেন, তিনি নিকটবর্তী;
কে আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে?
এসো, আমরা একত্র দাঁড়াই;
কে আমার প্রতিবাদী?
সে আমার কাছে আসুক।
9
দেখ, সার্বভৌম মাবুদ আমার সাহায্য করবেন,
কে আমাকে দোষী করবে?
দেখ, তারা সকলে কাপড়ের মত পুরানো হয়ে যাবে,
পোকা তাদের খেয়ে ফেলবে।
10
তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে,
যে মাবুদকে ভয় করে,
যে তাঁর গোলামের কথা শোনে?
যে অন্ধকারে চলে, যার আলো নেই,
সে মাবুদের নামে ভরসা করুক,
তাঁর আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করুক।
11
দেখ, আগুন জ্বালাচ্ছ ও শিখামণ্ডলে নিজেদের বেষ্টন করছো যে তোমরা,
তোমরা সকলে নিজেদের আগুনের আলোতে,
নিজেদের প্রজ্বলিত মশালের আলোতে গমন কর।
আমার হাত থেকে তোমরা যে ফল পাবে তা হল,
তোমরা যন্ত্রনার মধ্যে শয়ন করবে।
1
তোমরা, যারা ধার্মিকতার অনুগামী, যারা মাবুদের খোঁজ করছো, তোমরা আমার কথায় কান দাও; তোমাদের যে শৈল থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে ও যে কূপের ছিদ্র থেকে খুঁড়ে তোলা হয়েছে, তার প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
2 তোমাদের পিতা ইব্রাহিম ও তোমাদের প্রসবকারিণী সারার প্রতি দৃষ্টিপাত কর; ফলত যখন সে একাকী ছিল, তখন আমি তাকে ডেকে দোয়াযুক্ত ও বহুবংশ করলাম।
3 বস্তুত মাবুদ সিয়োনকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, তিনি তার সমস্ত উৎসন্ন স্থানকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং তার মরুভূমিকে আদনের মত ও তার শুকনো ভূমিকে মাবুদের বাগানের মত করেছেন; তার মধ্যে আমোদ ও আনন্দ, প্রশংসা-গজল ও সঙ্গীতের ধ্বনি পাওয়া যাবে।
4
হে আমার লোকেরা, আমার কথায় মনোযোগ দাও; হে আমার জনবৃন্দ, আমার কালামে কান দাও; কেননা আমার কাছ থেকে ব্যবস্থা বের হবে, আমি জাতিদের আলোর জন্য আমার বিচার স্থাপন করবো।
5 আমার ধর্মশীলতা নিকটবর্তী, আমার উদ্ধার করার কাজ শুরু হচ্ছে এবং আমার বাহু জাতিদের বিচার নিষ্পন্ন করবে; উপকূলগুলো আমারই অপেক্ষায় থাকবে ও আমার বাহুতে প্রত্যাশা রাখবে।
6 তোমরা আসমানের প্রতি চোখ তুলে দৃষ্টিপাত কর, অধঃস্থিত ভূমণ্ডলও নিরীক্ষণ কর; কেননা আসমান ধোঁয়ার মত অদৃশ্য হয়ে যাবে, দুনিয়া কাপড়ের মত পুরানো হয়ে যাবে এবং সেখানকার বাসিন্দারা সেরকম ভাবে মারা পড়বে; কিন্তু আমার উদ্ধার অনন্তকাল থাকবে, আমার ধর্মশীলতা বিনষ্ট হবে না।
7
তোমরা যারা ধার্মিকতা জান, যে লোকদের অন্তরে আমার ব্যবস্থা আছে, তোমরা আমার কথায় কান দাও; মানুষের টিট্কারিতে ভয় করো না, তাদের বিদ্রূপকে ভয় করো না।
8 কেননা কীট তাদেরকে কাপড়ের মতই খেয়ে ফেলবে ও কৃমিরা তাদের ভেড়ার লোমের মত খেয়ে ফেলবে; কিন্তু আমার ধর্মশীলতা অনন্তকাল ও আমার উদ্ধার পুরুষানুক্রমে থাকবে।
9
জাগ, জাগ, বল পরিধান কর, হে মাবুদের বাহু;
জাগ, যেমন পূর্বকালে, সেকালের বংশ পরস্পরায় জেগেছিলে,
তুমিই কি রহবকে কুচি কুচি করে কাট নি,
প্রকাণ্ড জলচরকে বিদ্ধ কর নি?
10
তুমিই কি সমুদ্র, মহাজলধির পানি শুকিয়ে ফেল নি,
সমুদ্রের গভীর স্থানকে কি পথ কর নি,
যেন মুক্তি পাওয়া লোকেরা পার হয়ে যায়?
11
মাবুদের উদ্ধার করা লোকেরা ফিরে আসবে,
আনন্দগান সহকারে সিয়োনে আসবে
এবং তাদের মাথায় নিত্যস্থায়ী আনন্দের মুকুট থাকবে;
তারা আমোদ ও আনন্দ লাভ করবে,
এবং খেদ ও আর্তস্বর দূরে পালিয়ে যাবে।
12
আমি, আমিই তোমাদের সান্ত্বনাকর্তা। তুমি কে যে, মানুষকে ভয় করছো, সে তো মরে যাবে; এবং মানুষের সন্তানকে ভয় করছো, সে তো ঘাসের মত অল্পক্ষণ স্থায়ী।
13 আর তোমার নির্মাতা মাবুদকে ভুলে গিয়েছ, যিনি আসমান বিছিয়েছেন, দুনিয়ার ভিত্তিমূল স্থাপন করেছেন; এবং তুমি সমস্ত দিন অবিরত জুলুমবাজদের ক্রোধ হেতু ভয় পাচ্ছ, যখন সে বিনাশ করতে প্রস্তুত হয়েছে? জুলুমবাজের ক্রোধ কোথায়? জুলুম থেকে শীঘ্রই মুক্ত হবে;
14 সে মরে গিয়ে কূপে নেমে যাবে না, আর তার খাদ্যের অভাব হবে না।
15 আমি তো মাবুদ, তোমার আল্লাহ্, আমি সমুদ্রকে আলোড়িত করলে তার তরঙ্গ কল্লোল-ধ্বনি করে; বাহিনীগণের মাবুদ, এই আমার নাম।
16 আর আমি আমার কালাম তোমার মুখে রাখলাম, আমার হাতের ছায়ায় তোমাকে আচ্ছাদন করলাম। আমার উদ্দেশ্যে, আসমান রোপন করি, দুনিয়ার ভিত্তিমূল স্থাপন করি এবং সিয়োনকে বলি, তুমি আমার লোক।
17
জাগ, জাগ, উঠে দাঁড়াও,
হে জেরুশালেম,
তুমি মাবুদের হাত থেকে
তাঁর ক্রোধের পানপাত্রে পান করেছ,
মত্ততাজনক বড় পানপাত্রে পান করেছ,
তলানি চেটে খেয়েছে।
18
এই পুরী যেসব শিশু সন্তান প্রসব করেছে, তাদের মধ্যে তাকে নিয়ে যাবার কেউই নেই; যেসব শিশু সন্তান প্রতিপালন করেছে, তাদের মধ্যে এর হাত ধরবার কেউ নেই।
19 এই দু’টি বিষয় তোমার প্রতি ঘটেছে; কে তোমার জন্য মাতম করবে? ধ্বংস ও বিনাশ, দুর্ভিক্ষ ও তলোয়ার; আমি কিভাবে তোমাকে সান্ত্বনা দেব?
20 জালে আটকা পড়া হরিণের মত তোমার শিশু সন্তানরা মূর্চ্ছিত হয়েছে, প্রতি সড়কের মাথায় পড়ে আছে; তারা মাবুদের গজবে, তোমার আল্লাহ্র তিরস্কারে পরিপূর্ণ।
21
অতএব তুমি এই কথা শোন, হে দুঃখিনী, তুমি মত্তা, কিন্তু আঙ্গুর-রসে নয়;
22 তোমার সার্বভৌম মাবুদ, তোমার আল্লাহ্, যিনি তাঁর লোকদের পক্ষ সমর্থনকারী, তিনি এই কথা বলেন, দেখ, আমি মত্ততাজনক পান পাত্র, আমার ক্রোধরূপ বড় পানপাত্র, তোমার হাত থেকে নিলাম; সেই পানপাত্রে তুমি আর পান করবে না।
23 আর আমি তোমার সেই জুলুমবাজদের হাতে তা তুলে দেবো, যারা তোমার প্রাণকে বলেছে, ‘হেঁট হও, আমরা তোমার উপর দিয়ে গমন করি,’ আর তুমি ভূমির মত ও সড়কের মত পথিকদের কাছে তোমার পিঠ পেতে দিয়াছ।
1
জাগ, জাগ, হে সিয়োন বল পরিধান কর;
পবিত্র নগরী জেরুশালেম, তোমার সমস্ত সুন্দর পোশাক পরিধান কর,
কেননা এখন থেকে তোমার মধ্যে খৎনা-না-করানো বা নাপাক লোক
আর প্রবেশ করবে না।
2
শরীরের ধুলা ঝেড়ে ফেল,
হে জেরুশালেম,
উঠ, উপবেশন কর;
হে বন্দী সিয়োন-কন্যে,
তোমার ঘাড়ের বাঁধনগুলো খুলে ফেল।
3
কারণ মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাকে বিনামূল্যে বিক্রি করা হয়েছিলে, আর বিনামূল্যেই মুক্ত হবে।
4 কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার লোকেরা আগে মিসরে প্রবাস করার জন্য সেই স্থানে নেমে গিয়েছিল; আবার আশেরিয়া অকারণে তাদের প্রতি জুলুম করলো।
5 আর মাবুদ বলেন, এখন এই স্থানে আমার কি আছে? কেননা আমার লোকেরা বিনামূল্যে নীত হয়েছে। মাবুদ বলেন, তাদের কর্তারা চিৎকার করছে এবং আমার নাম সমস্ত দিন অবিরত নিন্দিত হচ্ছে।
6 এজন্য আমার লোকেরা আমার নাম জানবে, এজন্য তারা সেদিন জানবে যে, আমিই কথা বলছি; দেখ, এই আমি।
7
আহা! পর্বতমালার উপরে,
তারই চরণ কেমন শোভা পাচ্ছে,
যে সুসংবাদ তবলিগ করে, শান্তি ঘোষণা করে,
মঙ্গলের সুসংবাদ তবলিগ করে,
উদ্ধার ঘোষণা করে, সিয়োনকে বলে,
তোমার আল্লাহ্ রাজত্ব করেন।
8
শোন, তোমার প্রহরীদের স্বর!
তারা উচ্চধ্বনি করছে,
তারা একসঙ্গে আনন্দগান করছে,
কেননা মাবুদ যখন সিয়োনে ফিরে আসেন,
তখন তারা প্রত্যক্ষ দেখবে।
9
হে জেরুশালেমের সমস্ত উৎসন্ন স্থান,
উচ্চরব কর, একসঙ্গে আনন্দগান কর,
কেননা মাবুদ তাঁর লোকদের সান্ত্বনা দিয়েছেন,
তিনি জেরুশালেমকে মুক্ত করেছেন।
10
মাবুদ সর্বজাতির দৃষ্টিতে
তাঁর পবিত্র বাহু অনাবৃত করেছেন;
আর দুনিয়ার সমুদয় প্রান্ত
আমাদের আল্লাহ্র উদ্ধার দেখবে।
11
চল চল, সেই স্থান থেকে বের হও,
নাপাক কোন বস্তু স্পর্শ করো না,
ওর মধ্য থেকে বের হও;
হে মাবুদের পাত্র-বাহকেরা, তোমরা পাক-পবিত্র হও।
12
কেননা তোমরা ত্বরান্বিত হয়ে বাইরে যাবে না,
পালিয়ে যাবে না;
কারণ মাবুদ তোমাদের আগে আগে যাবেন,
ইসরাইলের আল্লাহ্ তোমাদের পিছন দিকের রক্ষক হবেন।
13
দেখ, আমার গোলাম কৃতকার্য হবেন; তিনি উচ্চ ও উন্নত ও মহামহিম হবেন।
14 মানুষের চেয়ে তাঁর আকৃতি, মানব সন্তানদের চেয়ে তাঁর রূপ বিকারপ্রাপ্ত বলে যেমন অনেকে তাঁর বিষয়ে হতবুদ্ধি হত,
15 তেমনি তিনি অনেক জাতিকে আশ্চর্যান্বিত করবেন, তাঁর সম্মুখে বাদশাহ্রা মুখ বন্ধ করবে; কেননা তাদের কাছে যা বলা হয় নি, তারা তা দেখতে পাবে; তারা যা শোনে নি, তা বুঝতে পারবে।
1
আমরা যা শুনেছি, তা কে বিশ্বাস করেছে?
মাবুদের বাহু কার কাছে প্রকাশিত হয়েছে?
2
কারণ তিনি তাঁর সম্মুখে চারার মত
এবং শুকনো ভূমিতে উৎপন্ন মূলের মত বেড়ে উঠলেন;
তাঁর এমন রূপ বা শোভা নেই যে,
তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করি
এবং এমন আকৃতি নেই যে, তাঁকে ভালবাসি।
3
তিনি অবজ্ঞাত ও মানুষের ত্যাজ্য,
ব্যথার পাত্র ও যাতনা পরিচিত হলেন;
লোকে যা থেকে মুখ আচ্ছাদন করে,
তার মত তিনি অবজ্ঞাত হলেন,
আর আমরা তাঁকে মান্য করি নি।
4
সত্যি, আমাদের যাতনাগুলো তিনিই তুলে নিয়েছেন,
আমাদের ব্যথাগুলো তিনি বহন করেছেন;
তবু আমরা মনে করলাম,
তিনি আহত, আল্লাহ্ কর্তৃক প্রহারিত ও দুঃখার্ত।
5
কিন্তু তিনি আমাদের অধর্মের জন্য বিদ্ধ,
আমাদের অপরাধের জন্য চূর্ণ হলেন;
আমাদের শান্তিজনক শাস্তি তাঁর উপরে বর্তিল
এবং তাঁর ক্ষতগুলো দ্বারা আমাদের আরোগ্য হল।
6
আমরা সকলে ভেড়াগুলোর মত ভ্রান্ত হয়েছি,
প্রত্যেকে নিজ নিজ পথের দিকে ফিরেছি;
আর মাবুদ আমাদের সকলের অপরাধ
তাঁর উপরে বর্তিয়েছেন।
7
তিনি নির্যাতিত হলেন,
তবু দুঃখভোগ স্বীকার করলেন,
তিনি মুখ খুললেন না;
ভেড়ার বাচ্চা যেমন হত হবার জন্য নীত হয়,
ভেড়ী যেমন লোমচ্ছেদকদের সম্মুখে নীরব হয়,
তেমনি তিনি মুখ খুললেন না।
8
তিনি জুলুম ও বিচার দ্বারা দূরীকৃত হলেন;
তৎকালীন লোকদের মধ্যে কে এই কথা আলোচনা করলো যে,
তিনি জীবিতদের দেশ থেকে উচ্ছিন্ন হলেন?
আমার জাতির অধর্মের দরুনই তাঁর উপরে আঘাত পড়লো।
9
আর লোকে দুষ্টদের সঙ্গে তাঁর কবর নিরূপণ করলো,
এবং মৃত্যুতে তিনি ধনবানের সঙ্গী হলেন,
যদিও তিনি দৌরাত্ম করেন নি,
আর তাঁর মুখে ছলনার কথা ছিল না।
10
তবুও তাঁকে চূর্ণ করতে মাবুদেরই মনোবাসনা ছিল;
তিনি তাঁকে যাতনাগ্রস্ত করলেন,
তাঁর প্রাণ যখন দোষ-কোরবানী করবে,
তখন তিনি আপন বংশ দেখবেন, দীর্ঘায়ু হবেন
এবং তাঁর হাতে মাবুদের মনোরথ সিদ্ধ হবে;
11
তিনি তাঁর প্রাণের শ্রমফল দেখবেন, তৃপ্ত হবেন;
আমার ধার্মিক গোলাম নিজের জ্ঞান দিয়ে অনেককে ধার্মিক করবেন,
এবং তিনিই তাদের অপরাধগুলো বহন করবেন।
12
এজন্য আমি মহানদের মধ্যে তাঁকে অংশ দেব,
তিনি পরাক্রমীদের সঙ্গে লুটদ্রব্য ভাগ করবেন,
কারণ তিনি মৃত্যুর জন্য তাঁর প্রাণ ঢেলে দিলেন,
তিনি অধর্মীদের সঙ্গে গণিত হলেন;
আর তিনিই অনেকের গুনাহের ভার তুলে নিয়েছেন
এবং অধর্মীদের জন্য অনুরোধ করছেন।
1
মাবুদ এই কথা বলেন, “হে বন্ধ্যা স্ত্রীলোক, যে কখনও সন্তান জন্ম দেয় নি, তুমি আনন্দগান কর, যার কখনও প্রসব-বেদনা উঠে নি, তুমি উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান ও আনন্দ-চিৎকার কর; কেননা সধবার সন্তানের চেয়ে অনাথার সন্তান বেশি, মাবুদ এই কথা বলেন।
2 তুমি তোমার তাঁবুর স্থান বিস্তৃত কর, তোমার শিবিরের পর্দা বিস্তারিত হোক, ভয় করো না; তোমার দড়িগুলো লম্বা কর, তোমার সমস্ত গোঁজ দৃঢ় কর।
3 কেননা তুমি ডানে ও বামে বিস্তৃত হবে, তোমার বংশ জাতিদের দেশ দখল করবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরগুলোতে লোক বসাবে।
4
ভয় করো না, কেননা তুমি লজ্জা পাবে না;
বিষণ্ন হয়ো না, কেননা তুমি অপ্রতিভ হবে না;
কারণ তুমি তোমার যৌবনের অপমান ভুলে যাবে,
আর তোমার বৈধব্যের দুর্নাম স্মরণে থাকবে না।
5
কেননা তোমার নির্মাতা তোমার স্বামী,
তাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ;
আর ইসরাইলের পবিত্রতম তোমার মুক্তিদাতা,
তিনি সমস্ত দুনিয়ার আল্লাহ্ বলে আখ্যাত হবেন।
6
কারণ পরিত্যক্তা ও রূহে দুঃখিতা স্ত্রীর মত, কিংবা দূরীকৃতা যৌবনকালের স্ত্রীর মত হয়েছ, কিন্তু মাবুদ তোমাকে আবার ডেকেছেন; এই কথা তোমার আল্লাহ্ বলেন।
7
আমি ক্ষণকালের জন্য তোমাকে ত্যাগ করেছি, কিন্তু মহা করুণায় তোমাকে আশ্রয় দেব।
8 আমি ক্রুদ্ধ হয়ে এক নিমেষমাত্র তোমার কাছ থেকে আমার মুখ লুকিয়েছিলাম, কিন্তু অনন্তকালস্থায়ী দয়াতে তোমার প্রতি করুণা করবো, এই কথা তোমার মুক্তিদাতা মাবুদ বলেন।
9
বস্তুত আমার কাছে এসব নূহের দিনগুলোর মত; কারণ আমি যেমন শপথ করেছি যে, নূহের জলরাশি আর ভূতল প্লাবিত করবে না, তেমনি এই শপথ করলাম যে, তোমার প্রতি আর ক্রুদ্ধ হব না, তোমাকে আর ভর্ৎসনাও করবো না।
10 বস্তুত পর্বতমালা সরে যাবে, উপ-পর্বতগুলো টলবে; কিন্তু আমার অটল মহব্বত তোমার কাছ থেকে সরে যাবে না এবং আমার শান্তি-নিয়ম টলবে না; যিনি তোমার প্রতি অনুকম্পা করেন, সেই মাবুদ এই কথা বলেন।
11
হে দুঃখিনী, হে ঝড়ে আলোড়িতা, সান্ত্বনা-বঞ্চিতা, দেখ, আমি উজ্জ্বল পাথর দিয়ে তোমাকে তৈরি করবো, নীলকান্তমণি দ্বারা তোমার ভিত্তিমূল স্থাপন করবো;
12 আর পদ্মরাগমণি দ্বারা তোমার আলিসা ও সূর্যকান্তমণি দ্বারা তোমার তোরণদ্বারগুলো ও মনোহর পাথর দ্বারা তোমার সমস্ত পরিসীমা নির্মাণ করবো।
13 আর তোমার সন্তানেরা সকলে মাবুদের কাছ থেকে শিক্ষা পাবে, আর তোমার সন্তানদের পরম শান্তি হবে।
14 তুমি ধার্মিকতায় স্থিরীকৃত হবে; তুমি জুলুম থেকে দূরে থাকবে, বস্তুত তুমি ভয় পাবে না; এবং ত্রাস থেকে দূরে থাকবে, বাস্তবিক তা তোমার কাছে আসবে না।
15 দেখ, কেউ যদি তোমাকে আক্রমণ করে, তা আমা থেকে হবে না; যে তোমাকে আক্রমণ করবে, সে তোমার কারণেই মারা পড়বে।
16
দেখ, যে কর্মকার জ্বলন্ত অঙ্গারে বাতাস দেয়, আর তার কাজের জন্য অস্ত্র গঠন করে, আমিই তাকে সৃষ্টি করেছি, বিনাশ করার জন্য নাশকের সৃষ্টিও আমিই করেছি।
17 যে কোন অস্ত্র তোমার বিরুদ্ধে গঠিত হয়, তা সার্থক হবে না; যে কোন জিহ্বা বিচারে তোমার প্রতিবাদিনী হয়, তাকে তুমি দোষী করবে। মাবুদের গোলামদের এই অধিকার এবং আমার কাছ থেকে তাদের এই ধার্মিকতা লাভ হয়, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
হে পিপাসিত সমস্ত লোক,
তোমরা পানির কাছে এসো;
যার টাকা নেই, আসুক;
তোমরা এসো, খাদ্য ক্রয় কর, ভোজন কর;
হ্যাঁ, এসো, বিনা টাকায় খাদ্য,
বিনা মূল্যে আঙ্গুর-রস ও দুধ ক্রয় কর।
2
কেন অখাদ্যের জন্য টাকা খরচ করছো,
যাতে তৃপ্তি নেই, তার জন্য স্ব স্ব শ্রমফল দিচ্ছ?
শোন, আমার কথা শোন, উত্তম খাবার ভোজন কর,
পুষ্টিকর দ্রব্যে তোমাদের প্রাণ আপ্যায়িত হোক।
3
কান দাও, আমার কাছে এসো;
শোন, তোমাদের প্রাণ সঞ্জীবিত হবে;
আর আমি তোমাদের সঙ্গে একটি নিত্যস্থায়ী নিয়ম করবো,
দাউদের প্রতি কৃত অটল রহম স্থির করবো।
4
দেখ, আমি তাকে জাতিদের সাক্ষী হিসেবে, জাতিদের নায়ক ও হুকুমদাতা হিসেবে নিযুক্ত করলাম।
5 দেখ, তুমি যে জাতিকে জান না, তাকে আহ্বান করবে; যে জাতি তোমাকে জানত না, সে তোমার কাছে দৌড়ে আসবে; এটা তোমার আল্লাহ্ মাবুদের জন্য, ইসরাইলের পবিত্রতমের হেতু ঘটবে, কেননা তিনি তোমাকে মহিমান্বিত করেছেন।
6
মাবুদের খোঁজ কর, যখন তাঁকে পাওয়া যায়,
তাঁকে ডাক, যখন তিনি কাছে থাকেন;
7
দুষ্ট তার পথ, অধার্মিক তার সঙ্কল্প ত্যাগ করুক;
এবং সে মাবুদের প্রতি ফিরে আসুক,
তাতে তিনি তার প্রতি করুণা করবেন;
আমাদের আল্লাহ্র প্রতি ফিরে আসুক,
কেননা তিনি প্রচুররূপে মাফ করবেন।
8
কারণ মাবুদ বলেন, আমার সমস্ত সঙ্কল্প ও তোমাদের সমস্ত সঙ্কল্প এক নয় এবং তোমাদের সমস্ত পথ ও আমার সমস্ত পথ এক নয়।
9 কারণ ভূতল থেকে আসমান যত উঁচু, তোমাদের পথ থেকে আমার পথ ও তোমাদের সঙ্কল্প থেকে আমার সঙ্কল্প ততটাই উঁচু।
10 বাস্তবিক যেমন বৃষ্টি বা হিম আসমান থেকে নেমে আসে, আর সেখানে ফিরে যায় না, কিন্তু ভূমিকে পানি দান করে ফলবতী ও অঙ্কুরিত করে এবং বপনকারীকে বীজ ও ভক্ষককে খাবার দেয়, আমার মুখনির্গত কালাম তেমনি হবে;
11 তা নিষ্ফল হয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে না, কিন্তু আমি যা ইচ্ছা করি, তা সম্পন্ন করবে এবং যে জন্য তা প্রেরণ করি, সেই বিষয়ে সিদ্ধ হবে।
12
কারণ তোমরা আনন্দ সহকারে বাইরে যাবে
এবং শান্তিতে তোমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে।
পর্বত ও উপপর্বতগুলো তোমাদের সমক্ষে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করবে
এবং ক্ষেতের সমস্ত গাছ হাততালি দেবে।
13
কাঁটাগাছের পরিবর্তে দেবদারু,
কাঁটাঝোপের পরিবর্তে গুলমেঁদি উৎপন্ন হবে;
আর তা মাবুদের কীর্তিস্বরূপ হবে,
লোপহীন নিত্যস্থায়ী চিহ্ন হবে।
1
মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা ন্যায়বিচার রক্ষা কর, ধার্মিকতার অনুষ্ঠান কর, কেননা আমার উদ্ধার আগতপ্রায় এবং আমার ধার্মিকতার প্রকাশ সন্নিকট।
2 ধন্য সেই ব্যক্তি, যে এরকম আচরণ করে এবং সেই মানব সন্তান, যে তা দৃঢ় করে রাখে, যে বিশ্রামবার পালন করে, নাপাক করে না এবং সমস্ত দুষ্কর্ম থেকে নিজের হাত রক্ষা করে।
3
আর মাবুদের প্রতি আসক্ত বিজাতি-সন্তান এই কথা না বলুক যে, মাবুদ তাঁর লোকবৃন্দ থেকে আমাকে নিশ্চয়ই বিভক্ত করবেন এবং নপুংসক না বলুক, দেখ, আমি একটি শুকনো গাছ।
4 কেননা মাবুদ এই কথা বলেন যে, যে নপুংসক আমার বিশ্রামবার পালন করে, আমার সন্তোষজনক বিষয় মনোনীত করে ও আমার নিয়ম দৃঢ় করে রাখে,
5 তাদেরকে আমি আমার গৃহের মধ্যে ও আমার প্রাচীরের ভিতরে পুত্রকন্যার চেয়ে উত্তম স্থান ও নাম দেব; আমি তাদেরকে লোপহীন অনন্তকালস্থায়ী নাম দেব।
6 আর যে বিজাতি-সন্তানেরা মাবুদের পরিচর্যা করার জন্য, তাঁর নামের প্রতি মহব্বত দেখাবার জন্য ও তাঁর গোলাম হবার জন্য মাবুদের প্রতি আসক্ত হয়, অর্থাৎ যে কেউ বিশ্রামবার পালন করে, নাপাক করে না ও আমার নিয়ম দৃঢ় করে রাখে,
7 তাদেরকে আমি আমার পবিত্র পর্বতে আনবো এবং আমার মুনাজাত-গৃহে আনন্দিত করবো; তাদের পোড়ানো-কোরবানী ও অন্য সমস্ত কোরবানী আমার কোরবানগাহ্র উপরে কবুল করা হবে, যেহেতু আমার গৃহ সর্বজাতির মুনাজাত-গৃহ বলে আখ্যাত হবে।
8
সার্বভৌম মাবুদ, যিনি ইসরাইলের দূরীকৃত লোকদেরকে সংগ্রহ করেন, তিনি বলেন, আমি আরও বেশি সংগ্রহ করে তার সংগৃহীত লোকদের সঙ্গে যোগ করবো।
9
হে মাঠের সমস্ত পশু, হে সমস্ত বন্যপশু, গ্রাস করতে এসো।
10 তার প্রহরীরা অন্ধ, সকলেই অজ্ঞান; তারা সকলে বোবা কুকুর, ঘেউ ঘেউ করতে পারে না; তারা শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখে ও ঘুমাতে ভালবাসে।
11 সেই কুকুরেরা পেটুক, তাদের কখনও তৃপ্তি বোধ হয় না; আর এরা বিবেচনা-বিহীন পালক; সকলে নির্বিশেষে নিজ নিজ পথের দিকে ফিরেছে, নিজ নিজ লাভের চেষ্টা করছে।
12 প্রত্যেক জন বলে, চল, আমি আঙ্গুর-রস আনি, আমরা সুরাপানে মাতাল হব এবং যেমন আজকের দিন, তেমনি আগামীকালও হবে; তা আরও ভাল দিন হবে।
1
ধার্মিক বিনষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কেউ সেই বিষয়ে মনোযোগ করে না; আল্লাহ্ভক্ত ব্যক্তিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ বিবেচনা করে না। তবুও বিপদের সম্মুখ থেকে ধার্মিককে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
2 সে শান্তিতে প্রবেশ করে; সরল পথগামীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বিছানার উপরে বিশ্রাম করে।
3
কিন্তু, হে জাদুকারিণীর পুত্ররা, জেনাকারী ও পতিতার বংশ, তোমরা এগিয়ে এখানে এসো।
4 তোমরা কাকে উপহাস কর? কাকে দেখে মুখ বাঁকা কর ও জিহ্বা বের কর? তোমরা কি অধর্মের সন্তান ও মিথ্যাবাদীর বংশ নও?
5 তোমরা এলা গাছগুলোর মধ্যে সমস্ত সবুজ গাছের তলে কামনায় জ্বলে ওঠো, তোমরা নানা উপত্যকায় ও শৈল-ফাটলের তলে নিজ নিজ বালকদেরকে জবেহ্ করে থাক।
6
উপত্যকার মসৃণ পাথরগুলোর মধ্যে তোমার অংশ, সেগুলোই তোমার অধিকার; তাদেরই উদ্দেশে তুমি পানীয় দ্রব্য ঢেলেছ, নৈবেদ্য উৎসর্গ করেছ। এই সমস্ত দেখে আমি কি ক্ষান্ত হব?
7 তুমি উঁচু ও তুঙ্গ পর্বতের উপরে তোমার বিছানা পেতেছ; সেই স্থানেও তুমি কোরবানী করতে উঠেছিলে;
8 আর তোমার প্রতীক দরজা ও চৌকাঠের পিছনে রেখেছ; কেননা তুমি আমাকে ছেড়ে আর এক জনকে পেয়ে কাপড় খুলে পালঙ্কে উঠেছ, নিজের বিছানা বৃদ্ধি করে ওদের সঙ্গে নিয়ম করেছ, ওদের বিছানা দেখে তা ভালবেসেছ।
9 আর তুমি তেল মেখে বাদশাহ্র কাছে গমন করেছিলে, প্রচুর সুগন্ধিদ্রব্য ব্যবহার করেছিলে, দূরদেশে তোমার দূতদেরকে প্রেরণ করেছিলে এবং পাতাল পর্যন্ত নিজেকে অবনত করেছিলে।
10 বেশি যাতায়াতের দরুন তুমি পথশ্রান্তা হয়েছিলে, তবুও ‘আশা নেই’ এমন কথা বল নি; তোমার হাতের নাড়ী টের পেয়েছে, এজন্য তুমি ক্লান্ত হও নি।
11
বল দেখি, কার কাছ থেকে এমন ত্রাসযুক্ত ও ভীত হয়েছ যে, মিথ্যা কথা বলছো? এবং আমাকে ভুলে গিয়েছ, মনে স্থান দাও নি? আমি কি চিরকাল ধরে নীরব থাকি নি, তাই বুঝি আমাকে ভয় কর না?
12 আমি তোমার ধার্মিকতার তত্ত্ব আর তোমার সমস্ত কাজ দেখাব! সেসব তোমার উপকারী হবে না।
13 তুমি যখন সাহায্যের জন্য কান্নাকাটি কর, তখন তোমার সঞ্চিত মূর্তিরা তোমাকে উদ্ধার করুক। কিন্তু বায়ু তাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, একটি নিশ্বাস সেগুলোকে নিয়ে যাবে; কিন্তু যে ব্যক্তি আমার শরণাপন্ন সে দেশের অধিকার পাবে ও আমার পবিত্র পর্বত অধিকার করবে।
14
আর বলা হবে,
উঁচু কর, উঁচু কর, পথ পরিষ্কার কর,
আমার লোকদের পথ থেকে সমস্ত বাধা দূর কর।
15
কেননা যিনি উঁচু ও উন্নত, যিনি অনন্তকাল-নিবাসী, যাঁর নাম “পবিত্র”, তিনি এই কথা বলেন, আমি ঊর্ধ্বলোকে ও পবিত্র স্থানে বাস করি, চূর্ণ ও নম্র রূহ্ সম্পন্ন মানুষের সঙ্গেও বাস করি, যেন নম্র লোকদের রূহ্ ও চূর্ণ লোকদের হৃদয়কে সঞ্জীবিত করি।
16 কারণ আমি প্রতিদিন ঝগড়া করবো না, সব সময় ক্রোধ করবো না; করলে রূহ্ এবং আমার নির্মিত সমস্ত প্রাণী, আমার সম্মুখে মূর্চ্ছা যাবে।
17 তার লোভরূপ অপরাধে আমি ক্রুদ্ধ হলাম ও তাকে আঘাত করলাম, আমার মুখ লুকিয়ে ক্রোধ করলাম, তবুও সে বিমুখ হয়ে তার মনের মত পথে চললো।
18 আমি তার সমস্ত পথ দেখেছি, আর তাকে সুস্থ করবো; আমি তার পথপ্রদর্শকও হব এবং তাকে ও তার শোকাকুলদেরকে সান্ত্বনারূপ ধন দেব। আমি ওষ্ঠাধরের ফল সৃষ্টি করি;
19 শান্তি, শান্তি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী উভয়েরই, মাবুদ এই কথা বলেন; হ্যাঁ, আমি তাকে সুস্থ করবো!
20 কিন্তু দুষ্টরা আলোড়িত সমুদ্রের মত, তা তো স্থির হতে পারে না ও তার পানিতে পাঁক ও কাদা ওঠে।
21 আমার আল্লাহ্ বলেন, দুষ্ট লোকদের কোন কিছুতেই শান্তি নেই।
1
মুক্তকন্ঠে ঘোষণা কর, স্বর সংযত করো না, তূরীর মত উচ্চধ্বনি কর; আমার লোকদেরকে তাদের অধর্ম, ইয়াকুবের কুলকে তাদের সমস্ত গুনাহ্ জানাও।
2 তারা তো প্রতিদিন আমারই খোঁজ করে, আমার পথ জানতে ভালবাসে; যে জাতি ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করে ও তার আল্লাহ্র শাসন ত্যাগ করে নি, এমন জাতির মত আমাকে ধর্মশাসন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, আল্লাহ্র কাছে আসতে ভালবাসে।
3 আর বলে, ‘আমরা রোজা রেখেছি, তুমি কেন দৃষ্টিপাত কর না? আমরা নিজ নিজ প্রাণকে দুঃখ দিয়েছি, তুমি কেন তা জান না?’ দেখ, তোমাদের রোজার দিনে তোমরা সুখের চেষ্টা ও নিজ নিজ কর্মচারীদের প্রতি দৌরাত্ম্য করে থাক;
4 দেখ, তোমরা ঝগড়া ও কলহের জন্য এবং নাফরমানীর মুষ্টি দ্বারা আঘাত করার জন্য রোজা করে থাক। তোমরা এভাবে রোজা রাখলে ঊর্ধ্বলোকে নিজেদের স্বর শোনাতে পারবে না।
5 আমার মনোনীত রোজা কি এই রকম? মানুষের তার নিজের প্রাণকে দুঃখ দেবার দিন কি এই রকম? নল-খাগড়ার মত মাথা হেঁট করা এবং চট ও ভস্ম পেতে বসা রোজা? এটাকে কি তুমি মাবুদের প্রসন্নতার দিন ও তাঁর মনোনীত রোজা বল?
6
নাফরমানীর শিকলগুলো খুলে দেওয়া, জোয়ালের বাঁধন মুক্ত করা এবং দলিত লোকদেরকে স্বাধীন করে ছেড়ে দেওয়া ও প্রত্যেক জোয়াল ভেঙ্গে ফেলা কি নয়?
7 ক্ষুধিত লোককে তোমার খাদ্য বণ্টন করা, যে দুঃখীদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া, এ কি নয়? উলঙ্গকে দেখলে তাকে কাপড় দান করা, তোমার আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য করতে অনিচ্ছুক না হওয়া, এ কি নয়?
8 এই কাজ করলে অরুণের মত তোমার আলো প্রকাশ পাবে, তোমার সুস্থতা শীঘ্রই অঙ্কুরিত হবে; আর তোমার ধার্মিকতা তোমার অগ্রগামী হবে; মাবুদের মহিমা তোমার পশ্চাদ্বর্তী হবে।
9 সেই সময়ে তুমি ডাকবে ও মাবুদ উত্তর দেবেন; তুমি আর্তনাদ করবে ও তিনি বলবেন, এই যে আমি।
যদি তুমি নিজের মধ্য থেকে অত্যাচারের জোয়াল, অঙ্গুলির তর্জন ও অধর্মের কথা দূর কর,
10 আর যদি ক্ষুধিত লোককে তোমার প্রাণের ইষ্ট খাবার দাও ও দুঃখার্ত প্রাণীকে আপ্যায়িত কর, তবে অন্ধকারে তোমার আলো উদিত হবে ও তোমার অন্ধকার মধ্যাহ্নের সমান হবে।
11 আর মাবুদ নিয়ত তোমাকে পথ দেখাবেন, মরুভূমিতে তোমার প্রাণ তৃপ্ত করবেন ও তোমার সমস্ত অস্থি বলবান করবেন, তাতে তুমি পানির সেচ দেওয়া বাগানের মত হবে এবং এমন পানির ফোয়ারার মত হবে, যার পানি শুকায় না।
12 তোমার বংশীয় লোকেরা পুরাকালের উৎসন্ন সমস্ত স্থান নির্মাণ করবে; তুমি বহু পুরুষ আগের সকল ভিত্তির উপর গেঁথে তুলবে এবং ভগ্নস্থান-সংস্কারক ও বসতি-স্থানের রাস্তাগুলোর উদ্ধারকর্তা বলে আখ্যাত হবে।
13
তুমি যদি বিশ্রামবার লঙ্ঘন থেকে নিজেকে নিবৃত্ত কর, যদি আমার পবিত্র দিনে নিজের অভিলাষের চেষ্টা না কর, যদি বিশ্রামবারকে আমোদদায়ক ও মাবুদের পবিত্র দিনকে গৌরবান্বিত কর এবং তোমার নিজের কাজ সাধন না করে, নিজের অভিলাষ অনুযায়ী চেষ্টা না করে, নিজের কথা না বলে যদি তা গৌরবান্বিত কর,
14 তবে তুমি মাবুদে আমোদিত হবে এবং আমি তোমাকে দুনিয়ার উচ্চস্থলীগুলোর উপর দিয়ে আরোহণ করাব এবং তোমার পিতা ইয়াকুবের অধিকার ভোগ করাব, কারণ মাবুদের মুখ এই বলেছে।
1
দেখ, মাবুদের হাত এমন সংকীর্ণ নয় যে, তিনি উদ্ধার করতে পারেন না; তাঁর কান এমন ভারী নয় যে, তিনি শুনতে পান না;
2 কিন্তু তোমাদের অপরাধগুলো তোমাদের আল্লাহ্র সঙ্গে তোমাদের বিচ্ছেদ সৃষ্টি করেছে, তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ তোমাদের থেকে তাঁর শ্রীমুখ আচ্ছাদন করেছে, এজন্য তিনি শোনেন না।
3 বস্তুত তোমাদের হাত রক্তে ও তোমাদের অঙ্গুল অপরাধে নাপাক হয়েছে, তোমাদের ঠোট মিথ্যা কথা বলেছে, তোমাদের জিহ্বা নাফরমানীর কথা বলে।
4 কেউ ধার্মিকতায় অভিযোগ করে না, কেউ সত্যে যুক্তি প্রদর্শন করে না; তারা অবস্তুতে নির্ভর করে ও মিথ্যা বলে, গর্ভে অনিষ্ট ধারণ করে ও অন্যায় প্রসব করে।
5 তারা কালসাপের ডিম ফুটায় ও মাকড়সার জাল বুনে; যে তাদের ডিম খায়, সে মারা পড়ে, তা ফুটলে কালসাপ বের হয়।
6 তাদের জালের সুতায় কাপড় হবে না, তাদের কাজে তারা আচ্ছাদিত হবে না, তাদের সমস্ত কাজ অধর্মের কাজ, তাদের হাতে দৌরাত্ম্যের কাজ থাকে।
7 তাদের পা দুষ্কর্মের দিকে দৌড়ে যায়, তারা নির্দোষের রক্তপাত করতে ত্বরান্বিত হয়; তাদের সমস্ত চিন্তা অধর্মের চিন্তা, তাদের পথে ধ্বংস ও বিনাশ থাকে।
8 তারা শান্তির পথ জানে না, তাদের পথে বিচার নেই; তারা নিজেদের পথ বাঁকা করেছে; যে কেউ সেই পথে যায়, সে শান্তি কি তা জানে না।
9
এজন্য বিচার আমাদের থেকে দূরে থাকে, ধার্মিকতা আমাদের সঙ্গ ধরতে পারে না; আমরা আলোর অপেক্ষা করি, কিন্তু দেখ, অন্ধকার; আলোর অপেক্ষা করি, কিন্তু অন্ধকারে ভ্রমণ করি।
10 আমরা অন্ধ লোকদের মত দেওয়ালের জন্য হাতড়াই, চোখহীন লোকদের মত হাতড়াই; যেমন সন্ধ্যাবেলা তেমনি মধ্যাহ্নে আমরা হোঁচট খাই, মৃতদের মত আমরা অন্ধকার-স্থানে থাকি।
11 আমরা সকলে ভল্লুকের মত গর্জন করি, ঘুঘুর মত দারুণ মাতম করি; আমরা বিচারের অপেক্ষা করি, কিন্তু তা নেই; উদ্ধারের অপেক্ষা করি, কিন্তু তা আমাদের থেকে দূরবর্তী।
12
কেননা তোমার সাক্ষাতে আমাদের অধর্ম অনেক হয়েছে, আমাদের গুনাহ্গুলো আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে; ফলে আমাদের সমস্ত অধর্ম আমাদের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে, আর আমরা নিজেদের অপরাধগুলো জানি;
13 সেগুলো অধর্ম ও মাবুদকে অস্বীকার, তার আল্লাহ্র পিছনে চলা থেকে বিমুখ হওয়া, উপদ্রবের ও বিদ্রোহের কথাবার্তা, মিথ্যা কথা দিলে ধারণ ও দিল থেকে বের করণ।
14 আর ন্যায়বিচারকে পিছনে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ধার্মিকতা দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে; বস্তুত চকে সত্য হোঁচট খেয়ে পড়েছে ও সরলতা প্রবেশ করতে পায় না।
15 সত্য হারিয়ে গেছে, দুষ্কর্মত্যাগী লোক লুণ্ঠিত হচ্ছে। আর মাবুদ দৃষ্টিপাত করলেন, ন্যায়বিচার না থাকাতে অসন্তুষ্ট হলেন।
16
তিনি দেখলেন, সেখানে এমন কেউ নেই দেখে অবাক হলেন, কারণ সেখানে অনুরোধকারীও কেউ নেই; এই জন্য তাঁরই বাহু তাঁর জন্য উদ্ধার সাধন করলো, তাঁরই ধর্মশীলতা তাঁকে তুলে ধরলো।
17 তিনি ধর্মশীলতারূপ বুকপাটা বাঁধলেন, মাথায় উদ্ধাররূপ শিরস্ত্র ধারণ করলেন, তিনি প্রতিশোধরূপ পোশাক পরলেন, পরিচ্ছদের মত উদ্যোগ-পরিহিত হলেন।
18 লোকদের কাজ যেমন, তদনুসারেই তিনি প্রতিফল দেবেন; তার বিপক্ষদের ক্রোধরূপ, তার দুশমনদের প্রতিশোধরূপ দণ্ড দেবেন; উপকূলগুলোকে অপকারের প্রতিফল দেবেন।
19 তাতে পশ্চিম দেশীয়েরা মাবুদের নাম ভয় করবে, সূর্যোদয়স্থানের লোকেরা তাঁর প্রতাপ থেকে ভয় পাবে; কারণ তিনি এমন প্রবল বন্যার মত আসবেন, যা মাবুদের বায়ু দ্বারা তাড়িত।
20 আর এক জন মুক্তিদাতা আসবেন, সিয়োনের জন্য, ইয়াকুবের মধ্যে যারা অধর্ম থেকে ফিরে আসে তাদের জন্য, মাবুদ এই কথা বলেন।
21 মাবুদ বলেন, তাদের সঙ্গে আমার নিয়ম এই, আমার রূহ্, যিনি তোমাতে অবস্থিতি করেছেন ও আমার সমস্ত কালাম, যা আমি তোমার মুখে দিয়েছি, সেসব তোমার মুখ থেকে, তোমার বংশের মুখ থেকে ও তোমার বংশোৎপন্ন বংশের মুখ থেকে আজ থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত কখনও দূর করা যাবে না; মাবুদ এই কথা বলেন।
1
উঠ, আলোকিত হও, কেননা তোমার আলো উপস্থিত,
মাবুদের মহিমা তোমার উপরে উদিত হল।
2
কেননা, দেখ, অন্ধকার দুনিয়াকে,
ঘোর অন্ধকার জাতিদেরকে আচ্ছন্ন করছে,
কিন্তু তোমার উপরে মাবুদ উদিত হবেন
এবং তাঁর মহিমা তোমার উপরে দৃষ্ট হবে।
3
আর জাতিরা তোমার আলোর কাছে আগমন করবে,
বাদশাহ্রা তোমার অরুণোদয়ের আলোর কাছে আসবে।
4
তুমি চারদিকে চোখ তুলে দেখ,
ওরা সকলে একত্র হয়ে তোমার কাছে আসছে;
তোমার পুত্ররা দূর থেকে আসবে,
তোমার কন্যাদের কোলে করে আনা হবে।
5
তখন তুমি তা দেখে আনন্দে উজ্জ্বল হবে,
তোমার অন্তর স্পন্দিত ও বিকশিত হবে;
কেননা সমুদ্রের দ্রব্যরাশি তোমার দিকে ফিরিয়ে আনা যাবে,
জাতিদের ঐশ্বর্য তোমার কাছে আসবে।
6
তোমাকে আবৃত করবে উটের বহর,
মাদিয়ান ও ঐফার দ্রুতগামী সমস্ত উট;
সাবা দেশ থেকে সকলেই আসবে;
তারা সোনা ও কুন্দুরু আনবে
এবং মাবুদের প্রশংসার সুসংবাদ তবলিগ করবে।
7
কায়দারের সমস্ত ভেড়ার পাল তোমার কাছে একত্রীকৃত হবে,
নবায়োতের ভেড়াগুলো তোমার পরিচর্যা করবে;
আমার কোরবানগাহ্র উপরে কোরবানী হিসেবে তাদের কবুল করা হবে,
আর আমি নিজের ভূষণস্বরূপ গৃহ বিভূষিত করবো।
8
ওই কারা উড়ে আসছে,
মেঘের মত, নিজ নিজ খোপের দিকে কবুতরের মত?
9
সত্যিই উপকূলগুলো আমার অপেক্ষা করবে,
তর্শীশের সমস্ত জাহাজ অগ্রগামী হবে,
দূর থেকে তোমার সন্তানদের আনবে,
তাদের রূপা ও সোনার সঙ্গে আনবে,
তোমার আল্লাহ্ মাবুদের নামের জন্য,
ইসরাইলের পবিত্রতমের জন্য,
কেননা তিনি তোমাকে মহিমান্বিত করেছেন।
10
আর বিজাতি-সন্তানেরা তোমার প্রাচীর গাঁথবে,
তাদের বাদশাহ্রা তোমার পরিচর্যা করবে;
কেননা আমি ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাকে প্রহার করেছি,
কিন্তু অনুগ্রহে তোমার প্রতি করুণা করলাম।
11
আর তোমার তোরণদ্বারগুলো সব সময় খোলা থাকবে,
দিনে বা রাতে কখনও বন্ধ থাকবে না;
জাতিদের ঐশ্বর্য তোমার কাছে আনা যাবে,
আর তাদের বাদশাহ্দেরকেও সঙ্গে আনা যাবে।
12
কারণ যে জাতি বা রাজ্য তোমার গোলামী স্বীকার না করবে,
তা বিনষ্ট হবে;
হ্যাঁ, সেই জাতিরা নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
13
লেবাননের গৌরব তোমার কাছে আসবে,
দেবদারু, তিধর ও তাশূর গাছ একত্র আসবে,
আমার পবিত্র স্থান বিভূষিত করার জন্য আসবে,
এবং আমি আমার চরণের স্থান গৌরবান্বিত করবো।
14
আর যারা তোমাকে দুঃখ দিত,
তাদের সন্তানেরা হেঁট হয়ে তোমার কাছ আসবে;
এবং যারা তোমাকে হেয়জ্ঞান করতো,
তারা সকলে তোমার পদতলে সেজ্দা করবে,
আর তোমাকে বলবে, এটি মাবুদের নগরী,
এটি ইসরাইলের পবিত্রতমের সিয়োন।
15
তুমি পরিত্যক্তা ও ঘৃণিতা ছিলে,
তোমার মধ্য দিয়ে কেউ যাতায়াত করতো না,
তার পরিবর্তে আমি তোমাকে চিরস্থায়ী গর্বের পাত্র,
বহু পুরুষ পরমপরার আনন্দের পাত্র করবো।
16
আর তুমি জাতিদের দুধ পান করবে,
এবং বাদশাহ্দের স্তন চুষবে;
আর জানবে যে, আমি মাবুদই তোমার উদ্ধারকর্তা,
তোমার মুক্তিদাতা, ইয়াকুবের এক বীর।
17
আমি ব্রোঞ্জের পরিবর্তে সোনা এবং লোহার পরিবর্তে রূপা আনবো,
কাঠের পরিবর্তে ব্রোঞ্জ ও পাথরের পরিবর্তে লোহা আনবো;
আর আমি শান্তিকে তোমার অধ্যক্ষ্য করবো,
ধার্মিকতাকে তোমার শাসনকর্তা করবো।
18
আর শোনা যাবে না— তোমার দেশে উপদ্রবের কথা,
তোমার সীমার মধ্যে ধ্বংস ও বিনাশের কথা;
কিন্তু তুমি তোমার প্রাচীরের নাম ‘উদ্ধার’ রাখবে,
তোমার তোরণদ্বারের নাম ‘প্রশংসা’ রাখবে।
19
সূর্য আর দিনে তোমার জ্যোতি হবে না,
আলোর জন্য চন্দ্রও তোমাকে জ্যোৎস্না দেবে না,
কিন্তু মাবুদই তোমার চিরকালের জ্যোতি হবেন,
তোমার আল্লাহ্ই তোমার ভূষণ হবেন।
20
তোমার সূর্য আর অস্তমিত হবে না,
তোমার চন্দ্র আর ডুবে যাবে না;
কেননা মাবুদ তোমার চিরকালের জ্যোতি হবেন
এবং তোমার শোকের দিন সমাপ্ত হবে।
21
আর তোমার লোকেরা সকলে ধার্মিক হবে,
তারা চিরকালের জন্য দেশ অধিকার করবে,
তারা আমার রোপিত তরুর শাখা, আমার হাতের কাজ,
যেন আমার মহিমা প্রকাশিত হয়।
22
যে ছোট, সে হাজার হয়ে উঠবে,
যে ক্ষুদ্র, সে বলবান জাতি হয়ে উঠবে;
আমি মাবুদ যথাকালে তা দ্রুত সম্পন্ন করবো।
1
সার্বভৌম মাবুদের রূহ্ আমাতে অবস্থিতি করেন, কেননা নম্রদের কাছে সুসংবাদ তবলিগ করতে মাবুদ আমাকে অভিষেক করেছেন; তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, যেন আমি ভগ্নান্তঃকরণ লোকদের ক্ষত বেঁধে দিই; যেন বন্দী লোকদের কাছে মুক্তি ও কারাগারে আটক লোকদের কাছে কারামোচন প্রচার করি;
2 যেন মাবুদের প্রসন্নতার বছর ও আমাদের আল্লাহ্র প্রতিশোধের দিন ঘোষণা করি; যেন সমস্ত শোকার্তকে সান্ত্বনা দিতে পারি;
3 যেন সিয়োনের শোকার্ত লোকদের বর দিই, যেন তাদেরকে ভস্মের পরিবর্তে সৌন্দর্যের তাজ, শোকের পরিবর্তে আনন্দের তেল, অবসন্ন রূহের পরিবর্তে প্রশংসারূপ পরিচ্ছদ দান করি; তাই তাদের বলা হবে ধার্মিকতার গাছ, মাবুদ তাদের রোপন করেছেন তাঁর গৌরব প্রকাশের জন্য।
4
তারা পুরাকালের ধ্বংসপ্রাপ্ত সমস্ত স্থান নির্মাণ করবে, আগেকার দিনের উৎসন্ন সমস্ত স্থান গেঁথে তুলবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত নগর, বহু পুরুষ আগের উৎসন্ন সমস্ত স্থান নতুন করবে।
5 আর বিদেশীরা দাঁড়িয়ে তোমাদের পাল চরাবে, বিজাতি-সন্তানেরা তোমাদের শস্য-ক্ষেতের কৃষক ও তোমাদের আঙ্গুর-ক্ষেতের পাইটকারী হবে।
6 কিন্তু তোমরা মাবুদের ইমাম বলে আখ্যাত হবে, লোকে তোমাদেরকে আমাদের আল্লাহ্র পরিচারক বলবে; তোমরা জাতিদের ঐশ্বর্য ভোগ করবে ও তাদের প্রতাপে গর্ব করবে।
7 তোমাদের লজ্জার পরিবর্তে দ্বিগুণ অংশ হবে; অপমানের পরিবর্তে লোকেরা নিজ নিজ অধিকারে আনন্দধ্বনি করবে, সেজন্য নিজেদের দেশে দ্বিগুণ অংশ পাবে; তাদের আনন্দ চিরস্থায়ী হবে।
8 কেননা আমি মাবুদ ন্যায়বিচার ভালবাসি, অধর্মযুক্ত অপহরণ ঘৃণা করি; আর আমি সত্যে তাদের কাজের ফল দেব ও তাদের সঙ্গে চিরস্থায়ী একটি নিয়ম করবো।
9 আর তাদের বংশ জাতিদের মধ্যে ও তাদের সন্তানেরা লোকবৃন্দের মধ্যে পরিচিত হবে; দেখামাত্র সকলে তাদেরকে চিনবে যে, তারা মাবুদের দোয়াপ্রাপ্ত বংশ।
10
‘আমি মাবুদে অতিশয় আনন্দ করবো, আমার প্রাণ আমার আল্লাহ্কে নিয়ে উল্লাস করবে; কেননা বর যেমন ইমামের সাজ-পোশাকের মত টুপি পরে, কন্যা যেমন তার রত্নরাজি দ্বারা নিজেকে অলঙ্কৃতা করে, তেমনি তিনি আমাকে উদ্ধারের কাপড় পরিয়েছেন, ধার্মিকতার কোর্তায় আচ্ছাদন করেছেন।’
11 বস্তুত ভূমি যেমন তার অঙ্কুর বের করে, বাগান যেমন নিজের মধ্যে উপ্ত বীজ অঙ্কুরিত করে, তেমনি আল্লাহ্ মালিক সমস্ত জাতির সাক্ষাতে ধার্মিকতা ও প্রশংসা অঙ্কুরিত করবেন।
1
সিয়োনের জন্য আমি নীরব থাকব না, জেরুশালেমের জন্য ক্ষান্ত থাকব না, যতক্ষণ আলোর মত তার ধার্মিকতা, জ্বলন্ত প্রদীপের মত তার উদ্ধার প্রকাশিত না হয়।
2 আর জাতিরা তোমার ধার্মিকতা ও সমস্ত বাদশাহ্ তোমার প্রতাপ দর্শন করবে; এবং তুমি একটি নতুন নামে আখ্যাত হবে, যা মাবুদের মুখ নির্ণয় করবে।
3 আর তুমি মাবুদের হাতে একটা জাঁকজমকপূর্ণ মুকুট, তোমার আল্লাহ্র হাতে একটা রাজমুকুট হবে।
4 লোকে তোমাকে আর পরিত্যক্তা বলবে না এবং তোমার ভূমিকে আর ধ্বংসস্থান বলবে না; কিন্তু তুমি হিফ্সী বা ওতে আমার প্রীতি ও তোমার ভূমি বিয়ূলা বা বিবাহিতা নামে আখ্যায়িত হবে? কেননা মাবুদ তোমাতে প্রীত এবং তোমার ভূমি বিবাহিতা হবে।
5 বস্তুত যুবক যেমন কুমারীকে বিয়ে করে, তেমনি তোমার পুত্ররা তোমাকে বিয়ে করবে; এবং বর যেমন কন্যাতে আমোদ করে, তেমনি তোমার আল্লাহ্ তোমাতে আমোদ করবেন।
6
হে জেরুশালেম, আমি তোমার প্রাচীরের উপরে প্রহরীদেরকে নিযুক্ত করেছি; তারা দিনে বা রাতে কখনও নীরব থাকবে না।
7 তোমরা, যারা মাবুদকে স্মরণ করে থাক, তোমরা ক্ষান্ত থেকো না এবং তাঁকেও ক্ষান্ত থাকতে দিও না, যে পর্যন্ত তিনি জেরুশালেমকে স্থাপন না করেন ও দুনিয়ার মধ্যে প্রশংসার পাত্র না করেন।
8 মাবুদ তাঁর ডান হাত ও তাঁর বলবান বাহু তুলে কসম খেয়েছেন, নিশ্চয় আমি খাদ্যের জন্য তোমার দুশমনদেরকে তোমার গম আর দেব না এবং বিজাতি সন্তানেরা তোমার পরিশ্রম দ্বারা প্রস্তুত তোমার আঙ্গুর-রস আর পান করতে পাবে না;
9 কিন্তু যারা তা সঞ্চয় করবে তারাই ভোজন করবে, আর মাবুদের প্রশংসা করবে; এবং যারা তা সংগ্রহ করবে, তারাই আমার পবিত্র প্রাঙ্গণে পান করবে।
10
তোমরা অগ্রসর হও, তোরণদ্বার দিয়ে অগ্রসর হও,
লোকদের জন্য পথ প্রস্তুত কর,
উঁচু কর, রাজপথ উন্নত কর, সমস্ত পাথর সরিয়ে ফেল,
জাতিদের জন্য নিশান তুলে ধর।
11
দেখ, মাবুদ দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত এই বাণী শুনিয়েছেন,
তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বল, দেখ, তোমার উদ্ধার উপস্থিত;
দেখ, তাঁর সঙ্গে তাঁর দাতব্য বেতন আছে,
তাঁর সম্মুখে তাঁর দাতব্য পুরস্কার আছে।
12
আর তাদেরকে বলা যাবে,
‘পবিত্র লোক’, ‘মাবুদের মুক্ত করা লোক’;
এবং তোমাকে বলা যাবে, ‘খুঁজে পাওয়া নগরী’,
‘অপরিত্যক্তা নগরী’।
1
উনি কে, যিনি ইদোম থেকে আসছেন,
রক্তরঞ্জিত পোশাক পরে বস্রা থেকে আসছেন?
উনি কে, যিনি তাঁর পরিচ্ছদে মহিমান্বিত,
তাঁর মহা শক্তিতে চলে আসছেন?
‘এ আমি, যিনি ধর্মশীলতায় কথা বলেন,
ও যিনি উদ্ধার করণে বলবান।’
2
আপনার কোর্তা রক্তমাখা কেন?
আপনার পোশাক কুণ্ডে আঙ্গুরদলনকারীর পোশাকের মত কেন?
3
‘আমি কুণ্ডের আঙ্গুর একাকী দলন করেছি,
জাতিদের মধ্যে কেউই আমার সঙ্গে ছিল না।
আমি ক্রোধে তাদেরকে দলন করলাম,
ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে মাড়াই করলাম;
আর তাদের রক্তের ছিটা আমার পোশাকে লাগল,
আমার সমস্ত কাপড় কলঙ্কিত করলাম।
4
কেননা প্রতিশোধের দিন আমার হৃদয়ে রয়েছে,
ও আমার মুক্ত লোকদের বছর আসল।
5
আমি দেখলাম, কিন্তু সহকারী কেউ ছিল না;
আমি আশ্চর্য হলাম, কেননা সহায় কেউ ছিল না;
তাই আমারই বাহু আমার জন্য উদ্ধার সাধন করলো,
ও আমার কোপই আমাকে তুলে ধরলো।
6
আর আমি ক্রোধে জাতিদেরকে দলন করলাম,
ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে মাতাল করলাম,
মাটিতে তাদের রক্তপাত করলাম।’
7
আমি মাবুদের নানা রকম অটল মহব্বত ঘোষণা করবো; মাবুদ আমাদের যেসব করুণা করেছেন এবং তাঁর নানা রকম বিশ্বস্ততার মহব্বত অনুসারে ইসরাইল-কুলের যে প্রচুর মঙ্গল করেছেন, সেই অনুসারে আমি মাবুদের প্রশংসা করবো।
8 কারণ তিনি বললেন, ওরা অবশ্য আমার লোক, ওরা এমন সন্তান, যারা মিথ্যা আচরণ করবে না; এভাবে তিনি তাদের মুক্তিদাতা হলেন।
9 তাদের সকল দুঃখে তিনি দুঃখিত হতেন, তাঁর উপস্থিতির ফেরেশতা তাদেরকে উদ্ধার করতেন; তিনি তাঁর প্রেমে ও তাঁর স্নেহে তাদেরকে মুক্ত করতেন এবং পুরাকালের সমস্ত দিন তাদেরকে তুলে বহন করতেন।
10 কিন্তু তারা বিদ্রোহী হয়ে তাঁর পাক-রূহ্কে শোকাকুল করতো, তাতে তিনি ফিরে তাদের দুশমন হলেন, নিজে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন।
11 তখন তাঁর লোকেরা পুরাকাল, মূসার কাল স্মরণ করে বললো, তিনি কোথায়, যিনি তাঁর পালের রক্ষকদের সহকারে তাদেরকে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন? তিনি কোথায়, যিনি তাদের অন্তরে তাঁর পাক-রূহ্ রেখেছিলেন,
12 যিনি মূসার দক্ষিণে তাঁর মহিমান্বিত বাহু গমন করিয়েছিলেন, যিনি তাঁর চিরস্থায়ী নাম স্থাপনের জন্য তাদের সম্মুখে পানি দু’ভাগ করেছিলেন,
13 যিনি তাদেরকে মরুভূমিতে [ধাবমান] ঘোড়ার মত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে গমন করিয়েছিলেন, হোঁচট খেতে দেন নি?
14 পশুপাল যেমন উপত্যকায় নেমে যায়, তেমনি মাবুদের রূহ্ তাদেরকে বিশ্রাম করিয়েছিলেন; নিজের মহিমান্বিত নাম স্থাপনের জন্য তুমি তোমার লোকদেরকে তেমনি করে নিয়ে গিয়েছিলে।
15
তুমি বেহেশত থেকে অবলোকন কর, তোমার পবিত্রতার ও তোমার মহিমার বসতি থেকে দৃষ্টিপাত কর। তোমার গভীর আগ্রহ ও তোমার বিক্রমের কাজগুলো কোথায়? আমার প্রতি তোমার অন্তরস্থ বাৎসল্যের ও তোমার স্নেহের স্বর সরিয়ে রেখেছ।
16 তুমি তো আমাদের পিতা; যদিও ইব্রাহিম আমাদেরকে জানেন না ও ইসরাইল আমাদেরকে স্বীকার করেন না, তবুও তুমি মাবুদ আমাদের পিতা, অনাদিকাল থেকে আমাদের মুক্তিদাতা, এই তোমার নাম।
17 হে মাবুদ, তুমি কেন আমাদেরকে তোমার পথ ছেড়ে ভ্রান্ত্র হতে দিচ্ছ? তোমাকে ভয় না করতে আমাদের অন্তকরণকে কেন কঠিন করছো? তুমি তোমার গোলামদের, তোমার অধিকারস্বরূপ বংশদের জন্য ফিরে এসো।
18 তোমার পবিত্র লোকেরা অল্পকালমাত্র তাদের অধিকার ভোগ করেছে; আমাদের দুশমনরা তোমার পবিত্র স্থান পদতলে দলিত করেছে।
19 তুমি যাদের উপরে কখনও কর্তৃত্ব কর নি ও তোমার নাম যাদের উপরে কীর্তিত হয় নি, আমরা তাদের সমান হয়েছি।
1
আহা, তুমি আসমান বিদীর্ণ করে নেমে এসো, পর্বতমালা তোমার সাক্ষাতে ভয়ে কেঁপে উঠুক;
2 যেমন আগুন ডালপালা জ্বালিয়ে দেয়, যেমন আগুন পানি ফুটায় তেমনি তোমার বিপক্ষদের কাছে তোমার নাম প্রকাশ কর; তোমার সাক্ষাতে জাতিরা কেঁপে উঠুক।
3 যখন তুমি ভয়ানক কাজ করেছিলে, যার অপেক্ষা আমরা করি নি, তখন তুমি নেমে এসেছিলে, তোমার সাক্ষাতে পর্বতমালা কেঁপে উঠেছিল।
4 কারণ পুরাকাল থেকে লোকে শুনে নি, কানে অনুভব করে নি, চোখে দেখে নি যে, তোমা ভিন্ন আর কোন আল্লাহ্ আছেন, যিনি তাঁর অপেক্ষাকারীর পক্ষে কাজ করে থাকেন।
5 যে জন আনন্দপূর্বক সঠিক কাজ করে, যারা তোমার পথে তোমাকে স্মরণ করে, সে সকলের সঙ্গে তুমি সাক্ষাৎ করে থাক; দেখ, তুমি ক্রুদ্ধ হয়েছ, আর আমরা গুনাহ্ করেছি, বহুকাল থেকে এই অবস্থাতে আছি, তবে আমরা কি উদ্ধার পাব?
6 আমরা তো সকলে নাপাক ব্যক্তির মত হয়েছি, আমাদের সব ধার্মিকতা মলিন কাপড়ের সমান; আর আমরা সকলে পাতার মত শুকিয়ে গিয়েছি, আমাদের অপরাধগুলো বায়ুর মত আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
7 আবার, কেউ তোমার নামে ডাকে না, তোমাকে ধরতে উৎসুক হয় না; কেননা তুমি আমাদের থেকে তোমার মুখ লুকিয়েছ, আমাদের অপরাধের হাতে আমাদেরকে গলে যেতে দিচ্ছ।
8
কিন্তু এখন, হে মাবুদ, তুমি আমাদের পিতা; আমরা মাটি, আর তুমি আমাদের কুমার; আমরা সকলে তোমার হাতের কাজ।
9 হে মাবুদ, বিষম ক্রুদ্ধ হয়ো না, চিরকাল অপরাধ মনে রেখো না; ফরিয়াদ করি, দেখ, দৃষ্টি কর, আমরা সকলে তোমার লোক।
10 তোমার পবিত্র সমস্ত নগর মরুভূমি হয়ে গেছে, সিয়োন মরুভূমি হয়ে গেছে, জেরুশালেম ধ্বংসস্থান।
11 আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেখানে তোমার প্রশংসা করতেন, আমাদের সেই পবিত্র ও সুশোভন গৃহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের মনোরম সমস্ত বস্তু ধ্বংস হয়েছে।
12 হে মাবুদ, এসব দেখেও তুমি কি ক্ষান্ত থাকবে? তুমি কি নীরব থাকবে ও আমাদেরকে বিষম দুঃখ দেবে?
1
যারা জিজ্ঞাসা করে নি, আমি তাদেরকে আমার সন্ধান করতে দিয়েছি; যারা আমার খোঁজ করে নি, আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশ পেতে দিয়েছি; যে জাতি আমার নামে আখ্যাত হয় নি, তাকে আমি বললাম, “দেখ, এই আমি, দেখ এই আমি।”
2 আমি সমস্ত দিন বিদ্রোহী লোকবৃন্দের প্রতি আমার দু’হাত বাড়িয়েই রয়েছি; তারা নিজ নিজ কল্পনার অনুসরণ করে কুপথে গমন করে।
3 সেই লোকেরা আমার সাক্ষাতে অনবরত আমাকে অসন্তুষ্ট করে, বাগানের মধ্যে কোরবানী করে, ইটের উপরে সুগন্ধিদ্রব্য জ্বালায়।
4 তারা কবর-স্থানে বসে, গুপ্ত স্থানে রাত যাপন করে; তারা শূকরের গোশ্ত ভোজন করে ও তাদের পাত্রে ঘৃণিত মাংসের ঝোল থাকে;
5 তারা বলে, স্বস্থানে থাক, আমার কাছে এসো না, কেননা তোমার চেয়ে আমি পবিত্র। এরা আমার নাসিকার ধোঁয়া, সমস্ত দিন জ্বলতে থাকা আগুন।
6
দেখ, আমার সম্মুখে এই কথা লেখা আছে; আমি নীরব থাকব না, প্রতিফল দেব; এদের কোলেই প্রতিফল দেব;
7 মাবুদ বলেন, আমি তোমাদের কৃত অপরাধ এবং এর সঙ্গে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কৃত অপরাধগুলোর প্রতিফল দেব; তারা পর্বতমালার উপরে সুগন্ধি দ্রব্য জ্বালাত, উপপর্বতগুলোর উপরে আমাকে টিট্কারি দিত, সেজন্য আমি আগে তাদের কাজের পরিমাণ করে তাদের প্রতিফল দেব।
8
মাবুদ এই কথা বলেন, আঙ্গুরগুচ্ছে ফলের রস দেখলে লোকে যেমন বলে, এটি বিনষ্ট করো না, কেননা এতে বরকত আছে; তেমনি আমি আমার গোলামদের জন্য করবো, সমুদয় বিনাশ করবো না।
9 আর আমি ইয়াকুব থেকে একটি বংশকে এবং এহুদা থেকে আমার পর্বতমালার এক জন অধিকারীকে উৎপন্ন করবো, আমার মনোনীত লোকেরা তা অধিকার করবে ও আমার গোলামেরা সেখানে বসতি করবে।
10 আর আমার যে লোকবৃন্দ আমার খোঁজ করেছে, তাদের জন্য শারোণ হবে ভেড়ার পালের খোঁয়াড় এবং আখোর উপত্যকা হবে গরুর পালের বিশ্রাম-স্থান।
11 কিন্তু তোমরা যারা মাবুদকে ত্যাগ করছো, আমার পবিত্র পর্বত ভুলে যাচ্ছ, ভাগ্য দেবতার জন্য টেবিল সাজিয়ে থাক এবং নিরূপণী দেবীর উদ্দেশে মিশ্র সুরা পূর্ণ করে থাক,
12 তোমাদেরকে আমি তলোয়ারের জন্য নির্ধারণ করলাম, আর তোমরা সকলে বধ্য-স্থানে অবনত হবে; কারণ আমি ডাকলে তোমরা উত্তর দিতে না, আমি কথা বললে শুনতে না; কিন্তু আমার দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করতে এবং যাতে আমি আনন্দ পাই না, তা-ই তোমরা মনোনীত করতে।
13
এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমার গোলামেরা ভোজন করবে, কিন্তু তোমরা ক্ষুধার্ত থাকবে; দেখ, আমার গোলামেরা পান করবে, কিন্তু তোমরা তৃষ্ণার্ত থাকবে; দেখ, আমার গোলামেরা আনন্দ করবে, কিন্তু তোমরা লজ্জিত হবে;
14 দেখ, আমার গোলামেরা অন্তরের সুখে আনন্দরব করবে, কিন্তু তোমরা অন্তরের দুঃখে কান্নাকাটি করবে এবং রূহের ক্ষোভে হাহাকার করবে।
15 আর তোমরা আমার মনোনীত লোকদের কাছে তোমাদের নাম বদদোয়ারূপে রেখে যাবে এবং সার্বভৌম মাবুদ তোমাকে হত্যা করবেন, আর তিনি তাঁর গোলামদের অন্য নাম রাখবেন।
16 যে ব্যক্তি দুনিয়াতে নিজেকে দোয়া করবে, সে বিশ্বস্ততার আল্লাহ্র নামে নিজেকে দোয়া করবে; এবং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শপথ করবে, সে বিশ্বস্ততার আল্লাহ্র নামে শপথ করবে; কেননা পূর্বকালীন সমস্ত সঙ্কট লোকে ভুলে যাবে ও আমার দৃষ্টি থেকে তা লুকাবে।
17
কারণ দেখ, আমি নতুন আসমানের ও নতুন দুনিয়ার সৃষ্টি করি; এবং আগে যা ছিল, তা স্মরণে থাকবে না, আর মনে পড়বে না।
18 কিন্তু আমি যা সৃষ্টি করি, তোমরা তাতে চিরকাল আমোদ ও উল্লাস কর; কারণ দেখ, আমি জেরুশালেমকে উল্লাসভূমি ও তার লোকদেরকে আনন্দ-ভূমি করে সৃষ্টি করি।
19 আমি জেরুশালেমে উল্লাস করবো, আমার লোকদেরকে নিয়ে আমোদ করবো; এবং তার মধ্যে ফোঁপানোর আওয়াজ কি ক্রন্দনের আওয়াজ আর শোনা যাবে না।
20 সে স্থান থেকে অল্প দিনের কোন শিশু কিংবা অসমপূর্ণায়ু কোন বৃদ্ধ যাবে না; বরং বালকই এক শত বছর বয়ঃক্রমে মারা যাবে; এবং যে কেউ এক শত বছর বয়সের আগে মারা যাবে সে বদদোয়াগ্রস্ত বলে বিবেচিত হবে।
21 আর লোকেরা বাড়ি নির্মাণ করে তার মধ্যে বসতি করবে, আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করে তার ফল ভোগ করবে।
22 তারা বাড়ি নির্মাণ করলে অন্যে বাস করবে না, তারা রোপণ করলে অন্যে ভোগ করবে না; বস্তুত আমার লোকদের আয়ু গাছের আয়ুর মত হবে এবং আমার মনোনীত লোকেরা দীর্ঘকাল নিজ নিজ হাতের শ্রমফল ভোগ করবে।
23 তারা বৃথা পরিশ্রম করবে না, দুর্দশার জন্য সন্তানের জন্ম দেবে না, কারণ তারা মাবুদের দোয়াপ্রাপ্ত বংশ ও তাদের সন্তানেরা তাদের সহবর্তী হবে।
24 আর তাদের ডাকবার আগে আমি উত্তর দেব, তারা কথা বলতে না বলতে আমি শুনব।
25 নেকড়ে বাঘ ও ভেড়ার বাচ্চা একত্র চরবে, সিংহ বলদের মত বিচালি খাবে; আর ধূলিই সাপের খাদ্য হবে। তারা আমার পবিত্র পর্বতের কোন স্থানে কোন ক্ষতি কিংবা বিনাশ করবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
মাবুদ এই কথা বলেন, বেহেশত আমার সিংহাসন, দুনিয়া আমার পাদপীঠ; তোমরা আমার জন্য কিরূপ গৃহ নির্মাণ করবে? আমার বিশ্রাম স্থান কোন্ স্থান?
2 সমস্ত কিছুই তো আমার হাতের তৈরি, তাই এসব উৎপন্ন হল, মাবুদ এই কথা বলেন। কিন্তু এই ব্যক্তির প্রতি, অর্থাৎ যে দুঃখী, ভগ্নরূহ্ সম্পন্ন ও আমার কথায় কাঁপে, তার প্রতি আমি দৃষ্টিপাত করবো।
3 যে ব্যক্তি গরু কোরবানী করে, সে হত্যা করে; যে ব্যক্তি ভেড়ার বাচ্চা জবেহ্ করে, সে কুকুরের গলা ভেঙ্গে ফেলে; যে ব্যক্তি নৈবেদ্য কোরবানী করে, সে শূকরের রক্ত দেয়; যে ব্যক্তি সুগন্ধি ধূপ জ্বালায়, সে মিথ্যা দেবতার শুকরিয়া করে; হ্যাঁ, তারা নিজ নিজ পথ মনোনীত করেছে এবং তাদের প্রাণ নিজ নিজ ঘৃণার বস্তুতে প্রীত হয়;
4 আমিও তাদের জন্য নানা শাস্তি মনোনীত করবো এবং তাদের নিজের ত্রাসের বিষয় তাদের প্রতি ঘটাব; কারণ আমি ডাকলে কেউ উত্তর দিত না, আমি কথা বললে তারা শুনত না, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই সাধন করতো এবং যাতে আমার প্রীতি নেই তা-ই মনোনীত করতো।
5
তোমরা যারা মাবুদের কালামে কেঁপে উঠ, তোমরা তাঁর কালাম শোন; তোমাদের যে ভাইয়েরা তোমাদেরকে ঘৃণা করে, আমার নামের দরুন তোমাদেরকে বের করে দেয়, তারা বলেছে, মাবুদ মহিমান্বিত হোন, যেন আমরা তোমাদের আনন্দ দেখতে পাই; কিন্তু ওরাই লজ্জিত হবে।
6 শোন, নগর থেকে কলহের আওয়াজ আসছে, এবাদতখানা থেকে স্বর ভেসে আসছে! সেটি মাবুদের কণ্ঠস্বর, যিনি দুশমনদেরকে অপকারের প্রতিফল দেন।
7
ব্যথা উঠবার আগে সিয়োন প্রসব করলো; তার গর্ভযন্ত্রণার আগে পুত্র-সন্তান ভূমিষ্ঠ হল।
8 এমন কথা কে শুনেছে? এমন কাজ কে দেখেছে? এক দিনে কি কোন দেশের জন্ম হবে? কোন জাতি কি এক মহূর্তেই ভূমিষ্ঠ হবে? তবুও, গর্ভযন্ত্রণা হওয়ামাত্র সিয়োন তার সন্তানদেরকে প্রসব করলো।
9 আমি প্রসবকাল উপস্থিত করে কি প্রসব হতে দেব না? মাবুদ এই কথা বলেন। প্রসব হতে দিচ্ছি যে আমি, আমি কি গর্ভ রোধ করবো? এই কথা তোমার আল্লাহ্ বলেন।
10
তোমরা যারা জেরুশালেমকে ভালবাস, তোমরা সকলে তার সঙ্গে আনন্দ কর, তার বিষয়ে উল্লাস কর; তোমরা যারা তার জন্য শোকান্বিত, তোমরা সকলে তার সঙ্গে অতিশয় প্রফুল্ল হও;
11 যেন তোমরা তার সান্ত্বনারূপ স্তন্য চুষে তৃপ্ত হও, যেন তাকে দোহন করে তার প্রচুর প্রতাপে আমোদিত হও।
12
কারণ মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তার দিকে নদীর মত শান্তি ও উচ্ছলিত বন্যার মত জাতিদের প্রতাপ বহাব, তাতে তোমরা স্তন্য পান করবে, কোলে করে তোমাদেরকে বহন করা যাবে, হাঁটুর উপরে নাচান যাবে।
13 মা যেমন তার পুত্রকে সান্ত্বনা দেয়, তেমনি আমি তোমাদেরকে সান্ত্বনা দেব; তোমরা জেরুশালেমে সান্ত্বনা পাবে।
14
এসব দেখলে তোমাদের হৃদয় প্রফুল্ল হবে, তোমাদের সমস্ত অস্থি নবীন ঘাসের মত সতেজ হবে; এবং মাবুদের হাত তাঁর গোলামদের কাছে আত্ম পরিচয় প্রকাশ করবে, আর তিনি তাঁর দুশমনদের প্রতি কুপিত হবেন।
15 কারণ দেখ, মাবুদ আগুনের মধ্যে আগমন করবেন, তাঁর সমস্ত রথ ঘূর্ণিবাতাসের মত হবে; তিনি মহাতাপে তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করবেন, জ্বলন্ত আগুন দ্বারা তাঁর ভর্ৎসনা প্রকাশ করবেন।
16 কেননা মাবুদ আগুন দ্বারা ও তাঁর তলোয়ার দ্বারা সমস্ত মানুষের সঙ্গে নিজের ঝগড়া নিষ্পন্ন করবেন; আর মাবুদ কর্তৃক অনেক লোক নিহত হবে।
17 যারা মধ্যবর্তী এক ব্যক্তির পিছনে পিছনে বাগানে যাবার জন্য নিজেদের পবিত্র ও পাক-সাফ করে, শূকরের গোশ্ত, ঘৃণ্য দ্রব্য ও ইঁদুর খায়, তারা একসঙ্গে বিনষ্ট হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
18
আমিই তাদের কাজকর্ম ও কল্পনাগুলো জানি। সেই সময় উপস্থিত, যখন আমি সমস্ত জাতির ও সমস্ত ভাষাবাদী লোককে সংগ্রহ করবো; তারা এসে আমার মহিমা দর্শন করবে।
19
আর আমি তাদের মধ্যে একটি চিহ্ন স্থাপন করবো; এবং তাদের মধ্য থেকে উত্তীর্ণ লোকদেরকে জাতিদের কাছে, তর্শীশ, পূল ও তীরন্দাজ লূদ এবং তূবল ও যবনের কাছে, যে দূরস্থ উপকূলগুলো কখনও আমার খ্যাতি শুনে নি ও আমার মহিমা দেখে নি, তাদের কাছে প্রেরণ করবো; এবং তারা জাতিদের মধ্যে আমার মহিমার কথা ঘোষণা করবে।
20 আর মাবুদ বলেন, তারা সর্বজাতির মধ্য থেকে তোমাদের সমস্ত ভাইকে মাবুদের উদ্দেশে নৈবেদ্য বলে ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, ডুলি, খচ্চর ও উটে করে আমার পবিত্র পর্বত জেরুশালেমে আনবে। যেমন বনি-ইসরাইল পাক-সাফ পাত্রে করে মাবুদের গৃহে নৈবেদ্য আনে।
21 আর আমি তাদের মধ্যেও কতগুলো লোককে ইমাম ও লেবীয় হবার জন্য গ্রহণ করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
22
কারণ আমি যে নতুন আসমান ও নতুন দুনিয়া গঠন করবো, তা যেমন আমার সম্মুখে থাকবে, তেমনি তোমাদের বংশ ও তোমাদের নাম থাকবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
23 আর প্রতি অমাবস্যায় ও প্রতি বিশ্রামবারে সমস্ত মানুষ আমার সম্মুখে সেজ্দা করতে আসবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
24 আর তারা বাইরে গিয়ে, যে লোকেরা আমার বিরুদ্ধে অধর্ম করেছে, তাদের লাশ দেখবে; কারণ তাদের কীট মরবে না ও তাদের আগুন নিভবে না এবং তারা সমস্ত মানুষের ঘৃণার পাত্র হবে।
1
ইয়ারমিয়ার কালাম; তিনি হিল্কিয়ের পুত্র, বিন্ইয়ামীন প্রদেশীয় অনাথোৎ-নিবাসী ইমামদের এক জন।
2 আমোনের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ ইউসিয়ার সময়ে, তাঁর রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে, মাবুদের কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল।
3 আর ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়া-কীমের সময়ে, ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের একাদশ বছরের শেষ পর্যন্ত, পঞ্চম মাসে জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত কালাম নাজেল হল।
4
মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
5 উদরের মধ্যে তোমাকে গঠন করার আগে আমি তোমাকে জানতাম, তুমি গর্ভ থেকে বের হয়ে আসার আগে তোমাকে পবিত্র করেছিলাম; আমি তোমাকে জাতিদের কাছে নবী হিসেবে নিযুক্ত করেছি।
6 তখন আমি বললাম, হায় হায়, হে সার্বভৌম মাবুদ, দেখ, আমি কথা বলতে জানি না, কেননা আমি বালক।
7 কিন্তু মাবুদ আমাকে বললেন, ‘আমি বালক,’ এমন কথা বলো না; কিন্তু আমি তোমাকে যার কাছে পাঠাব, তারই কাছে তুমি যাবে এবং তোমাকে যা হুকুম করবো, তা-ই বলবে।
8 ওদের সম্মুখে ভয় পেয়ো না, কেননা তোমাকে রক্ষা করবার জন্য আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি, মাবুদ এই কথা বলেন।
9 পরে মাবুদ তাঁর হাত বাড়িয়ে আমার মুখ স্পর্শ করলেন এবং মাবুদ আমাকে বললেন, দেখ, আমি আমার কালাম তোমার মুখে দিলাম;
10 দেখ, উৎপাটন করবার, ভেঙ্গে ফেলবার, বিনাশ ও নিপাত করার জন্য, পত্তন ও রোপণ করার জন্য, আমি জাতিদের উপরে ও রাজ্যগুলোর উপরে আজ তোমাকে নিযুক্ত করলাম।
11
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল, ইয়ারমিয়া, তুমি কি দেখছ? আমি বললাম, আমি বাদাম গাছের একটি ডাল দেখছি।
12 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, ভাল দেখেছ, কেননা আমি আমার কালাম সফল করতে জাগ্রত আছি।
13 পরে দ্বিতীয়বার মাবুদের কালাম আমার কাছে নাজেল হল, তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ? আমি বললাম, ধোঁয়াযুক্ত একটি হাঁড়ি দেখছি; তার মুখ উত্তর দিক থেকে হেলে আছে।
14
তখন মাবুদ আমাকে বললেন, উত্তর দিক থেকে এই দেশ-নিবাসী সকলের উপরে অমঙ্গলরূপ বন্যা প্রবাহিত হবে।
15 কারণ, দেখ, আমি উত্তর দিকস্থ নানা রাজ্যের সমস্ত গোষ্ঠীকে ডাকব, মাবুদ এই কথা বলেন; তারা এসে জেরুশালেমের পুরদ্বারের প্রবেশ-স্থানে, তার চারদিকের সমস্ত প্রাচীরের সম্মুখে এবং এহুদার সমস্ত নগরের সম্মুখে, নিজ নিজ সিংহাসন স্থাপন করবে।
16 আর আমি এদের সমস্ত দুষ্কর্মের জন্য এদের বিরুদ্ধে আমার বিচারের রায় ঘোষণা করবো; কেননা এরা আমাকে পরিত্যাগ করে অন্য দেবতাদের কাছে ধূপ জ্বালিয়েছে ও নিজ নিজ হস্তকৃত বস্তুর কাছে ভূমিতে সেজদা করেছে।
17 অতএব তুমি কোমরবন্ধনী পর, উঠ; আমি তোমাকে যা যা হুকুম করি, সেসব তাদেরকে বল; তাদের সম্মুখে তুমি ভেঙ্গে পড়ো না, পাছে আমি তাদের সাক্ষাতে তোমাকে ভেঙ্গে ফেলি।
18 আর দেখ, আমি আজ সারা দেশের বিরুদ্ধে, এহুদার বাদশাহ্দের, তার নেতৃ-বর্গের, তার ইমামদের ও দেশের লোক-সাধারণের বিরুদ্ধে তোমাকে দৃঢ় নগর, লোহার স্তম্ভ ও ব্রোঞ্জের প্রাচীরস্বরূপ করলাম।
19 তারা তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করবে, কিন্তু তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না, কারণ তোমাকে রক্ষা করবার জন্য আমি তোমার সঙ্গে আছি, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 তুমি যাও, জেরুশালেমের কর্ণগোচরে এই কথা তবলিগ কর, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার পক্ষে তোমার যৌবনের ভক্তি, তোমার বিয়ের সময়কার মহব্বত আমার স্মরণ হয়; তুমি আমার পিছনে মরুভূমিতে, যেখানে বপন করা যায় নি, এমন দেশে গমন করেছিলে।
3 ইসরাইল মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র, তাঁর আয়ের অগ্রিমাংশ ছিল; যেসব লোক তাকে গ্রাস করবে, তারা দোষী হবে; তাদের প্রতি অমঙ্গল ঘটবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
4
হে ইয়াকুবের কুল, হে ইসরাইল-কুলের সমস্ত গোষ্ঠী, মাবুদের কালাম শোন।
5 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার কি অন্যায় দেখেছে যে, তারা আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে, অসারতার অনুগামী হয়ে অসার হয়েছে?
6 তারা বলে নি যে, সেই মাবুদ কোথায়, যিনি মিসর দেশ থেকে আমাদের বের করে এনেছিলেন, যিনি মরুভূমির মধ্য দিয়ে, মরুভূমি ও গর্তময় ভূমি দিয়ে, পানিশূন্যতার ও মৃত্যুচ্ছায়ার ভূমি দিয়ে পথিকবিহীন ও নিবাসী-বর্জিত ভূমি দিয়ে, আমাদেরকে নিয়ে এসেছিলেন?
7 আমি তোমাদের এই ফলবান দেশে এনেছিলাম, যেন তোমরা এখানকার ফল ও উত্তম উত্তম সামগ্রী ভোজন কর; কিন্তু তোমরা প্রবেশ করে আমার দেশ নাপাক করলে, আমার অধিকার ঘৃণাস্পদ করলে।
8 ইমামেরা বলে নি, ‘মাবুদ কোথায়?’ এবং যারা শরীয়ত পরিচালনা করে, তারা আমাকে জানে নি, পালকেরা আমার বিরুদ্ধে গুনাহের কাজ করেছে, নবীরা বাল দেবতার নাম নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী বলেছে এবং এমন পদার্থের পিছনে চলেছে, যাতে উপকার নেই।
9 অতএব আমি তোমাদের সঙ্গে আরও ঝগড়া করবো, মাবুদ এই কথা বলেন এবং তোমাদের পুত্রপৌত্রদের সঙ্গেও ঝগড়া করবো।
10 বস্তুত তোমরা পার হয়ে সাইপ্রাস দ্বীপের উপকূলগুলোতে যাও, দেখ; আর কায়দারে লোক পাঠাও, সূক্ষ্ম বিবেচনা কর, দেখ, কখনও এমন হয়েছে কি না?
11 কোন জাতি কি নিজেদের দেবতাদের পরিবর্তন করেছে? সেই দেবতারা তো আল্লাহ্ নয়। কিন্তু আমার লোকেরা এমন বস্তুর সঙ্গে নিজেদের গৌরবের পরিবর্তন করেছে, যাতে উপকার নেই।
12 হে আসমান, এতে স্তম্ভিত হও, রোমাঞ্চিত হও, নিতান্ত অসার হয়ে পড়, মাবুদ এই কথা বলেন।
13 কেননা আমার লোকবৃন্দ দু’টি দোষ করেছে; জীবন্ত পানির ফোয়ারা যে আমি, আমাকে তারা ত্যাগ করেছে; আর নিজেদের জন্য কুয়া খনন করেছে, সেসব ভগ্ন কুয়া জলাধার হতে পারে না।
14 ইসরাইল কি গোলাম? সে কি বাড়িতে জন্ম নেওয়া কেনা গোলাম? সে কেন লুটদ্রব্য হয়েছে?
15 যুবসিংহরা তার উপরে গর্জন ও হুঙ্কার করেছে; তারা তার দেশ ধ্বংস করেছে; তার নগরগুলা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নিবাসী কেউ নেই।
16 আবার নোফের ও তফনহেষের লোকেরা তোমার মাথা মুড়িয়েছে।
17 তুমি কি নিজে নিজের প্রতি এটা ঘটাও নি? বাস্তবিক তোমার আল্লাহ্ মাবুদ যখন তোমাকে পথ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তুমি তাঁকে পরিত্যাগ করেছ।
18 এখন শীহোর নদীর পানি পান করতে মিসরের পথে কেন যাচ্ছ? অথবা ফোরাত নদীর পানি পান করতে আশেরিয়া দেশের পথে কেন যাচ্ছ?
19 তোমারই নাফরমানী তোমাকে শাস্তি দেবে এবং তোমার বিপথে যাওয়াই তোমাকে অনুযোগ করবে; অতএব জেনো আর দেখো, এটা মন্দ ও তিক্ত বিষয় যে, তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদকে পরিত্যাগ করেছ ও মনের মধ্যে আমার ভয়কে স্থান দাও নি, এই কথা প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
20 বস্তুত অনেক দিন হল, আমি তোমার জোয়াল ভেঙ্গে ফেলেছিলাম, তোমার বন্ধনগুলো কেটে ফেলেছিলাম; আর তুমি বলেছিলে, আমি গোলামী করবো না; বাস্তবিক সমস্ত উঁচু পর্বতের উপরে ও সমস্ত সবুজ গাছের তলে তুমি নত হয়ে জেনা করে আসছ।
21 আমি তো একেবারে উৎকৃষ্ট জাতের উত্তম আঙ্গুরলতা করে তোমাকে রোপণ করেছিলাম, তুমি কেমন করে বিকৃত হয়ে আমার কাছে বিজাতীয় আঙ্গুরলতার ডাল হলে?
22 যদিও ক্ষার দিয়ে তুমি নিজেকে ধোও ও অনেক সাবান লাগাও, তবুও তোমার অপরাধের দাগ আমার সম্মুখে রয়েছে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
23 তুমি কেমন করে বলতে পার, আমি নাপাক নই, বাল দেবতাদের পিছনে যাই নি? উপত্যকাতে তোমার পথ দেখ; যা করেছ, তা চিন্তা করে দেখ; তুমি তোমার পথে ভ্রমণকারিণী উট; তুমি মরুভূমি-পরিচিতা বন্য গাধী,
24 যা অভিলাষক্রমে বায়ু আহার করে; তার কামাবেশে কে তাকে ফিরাতে পারে? যারা তার খোঁজ করে তারা নিজেদের ক্লান্ত করবে না, তার নিয়মিত মাসে তাকে পাবে।
25 সাবধান, পাছে তোমার পায়ের জুতা নষ্ট হয় ও তোমার কণ্ঠনালী তৃষ্ণায় শুকিয়ে যায়! কিন্তু তুমি বলেছ, আশা নেই, না, কেননা আমি বিদেশীদেরকে মহব্বত করে আসছি, তাদেরই পিছনে যাব।
26 চোর ধরা পড়লে যেমন লজ্জিত হয়, তেমনি ইসরাইল-কুল ও তাদের বাদশাহ্রা, কর্মকর্তারা, ইমামেরা ও নবীরা লজ্জিত হয়েছে;
27 বস্তুত তারা কাঠকে বলে, তুমি আমার পিতা; শিলাকে বলে, তুমি আমার জননী; তারা আমার প্রতি পিঠ ফিরিয়েছে, মুখ নয়; কিন্তু বিপদ কালে তারা বলবে, ‘তুমি উঠ, আমাদেরকে নিস্তার কর’।
28 কিন্তু তুমি নিজের জন্য যাদেরকে নির্মাণ করেছ, তোমার সেই দেবতারা কোথায়? তারাই উঠুক, যদি বিপদ কালে তোমাকে নিস্তার করতে পারে; কেননা হে এহুদা, তোমার যত নগর, তত দেবতা।
29
মাবুদ বলেন, তোমরা কেন আমার সঙ্গে ঝগড়া করছো? সকলেই আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ।
30 আমি তোমাদের সন্তানদেরকে বৃথাই আঘাত করেছি; তারা শাসন গ্রাহ্য করলো না; তোমাদেরই তলোয়ার বিনাশক সিংহের মত তোমাদের নবীদেরকে গ্রাস করেছে।
31 হে বর্তমানকালের লোকেরা, তোমরা মাবুদের কালাম দেখ; ইসরাইলের কাছে আমি কি মরুভূমি হয়েছি? কিংবা আমি কি অন্ধকারময় দেশ হয়েছি? আমার লোকেরা কেন বলে, আমরা ছুটে চলে গেছি, তোমার কাছে আর আসবো না?
32 কুমারী কি নিজের ভূষণ ও কন্যা কি নিজের মেখলা ভুলে যেতে পারে? কিন্তু আমার লোক অসংখ্য দিন আমাকে ভুলে রয়েছে।
33 তুমি প্রেমের অনুসন্ধান করতে তোমার পথ কেমন প্রস্তুত করেছ! এই কারণ তুমি দুষ্টদেরকেও তোমার পথ শিখিয়েছ।
34 আর তোমার পোশাকে নির্দোষ দীনহীন লোকদের রক্ত পাওয়া যাচ্ছে; তুমি তাদেরকে সিঁধ কাটার সময়ে ধর নি, কিন্তু এসব এই দুষ্কর্ম করার পরেও তুমি বলেছ,
35 আমি নির্দোষ, অবশ্য তাঁর ক্রোধ আমার কাছ থেকে চলে গেছে। দেখ, আমি তোমার বিচার করবো, কারণ তুমি বলছো, ‘আমি গুনাহ্ করি নি’।
36 তুমি তোমার পথ পরিবর্তন করতে কেন এত ঘুরে বেড়াও? আশেরিয়া দেশের বিষয়ে যেমন লজ্জিত হয়েছিলে, মিসরের বিষয়েও তেমনি লজ্জিত হবে।
37 তার কাছ থেকেও মাথায় হাত দিয়ে প্রস্থান করবে, কেননা মাবুদ তোমার বিশ্বাসপাত্রদেরকে অগ্রাহ্য করেছেন, তাদের সাহায্যে তুমি কৃতকার্য হবে না।
1
লোকে বলে, কেউ তার স্ত্রীকে ত্যাগ করার পর ঐ স্ত্রী তার সঙ্গ ছেড়ে যদি অন্য পুরুষের হয়, তবে তার স্বামী কি পুনর্বার তার কাছে গমন করবে? করলে কি সেই দেশ নিতান্ত নাপাক হবে না? কিন্তু তুমি অনেক প্রেমিকের সঙ্গে জেনা করেছ, তবু কি আমার কাছে ফিরে আসবে? মাবুদ এই কথা বলেন।
2 চোখ তুলে গাছপালাহীন উঁচু পর্বতগুলোর দিকে দেখ, কোন্ স্থানে তোমার সতীত্ব লঙ্ঘন না হয়েছে? তুমি ওদের জন্য মরুভূমিস্থ যাযাবরের মত রাজপথে বসেছ, তুমি তোমার জেনা ও দুষ্টতা দিয়ে দেশ নাপাক করেছ।
3 এজন্য বৃষ্টিধারা বন্ধ করা হয়েছে এবং শেষ বর্ষাও হয় নি; তবুও তুমি পতিতার ললাট ধারণ করেছ, লজ্জিতা হতে অসম্মত হয়েছ।
4 তুমি এইমাত্র কি আমাকে ডেকে বলবে না, ‘হে আমার পিতা, তুমিই আমার বাল্যকালের মিত্র।
5 তিনি কি চিরকাল ক্রোধ রাখবেন, শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করবেন?’ দেখ, তুমি মন্দ কথা বলেছ, মন্দ কাজ করেছ ও তা সিদ্ধ করেছ।
6
ইউসিয়া বাদশাহ্র সময়ে মাবুদ আমাকে বললেন, বিপথগামিনী ইসরাইল যা করেছে, তা কি তুমি দেখেছ? সে প্রত্যেক উঁচু পর্বতের উপরে ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে গিয়ে সেসব স্থানে জেনা করেছে।
7 সে এসব কাজ করার পর আমি বললাম, সে আমার কাছে ফিরে আসবে, কিন্তু সে ফিরে আসলো না; এবং তার বেঈমান বোন এহুদা তা দেখল।
8 আর আমি দেখলাম, বিপথগামিনী ইসরাইল জেনা করেছিল, এই কারণে আমি তাকে তালাক-নামা দিয়ে ত্যাগ করেছিলাম, তবুও তার বেঈমান বোন এহুদা ভয় করলো না, কিন্তু নিজেও গিয়ে জেনা করলো।
9 তার জেনার নির্লজ্জতায় দেশ নাপাক হয়েছিল; সে পাথর ও কাঠের সঙ্গে জেনা করতো।
10 এমন হলেও তার বেঈমান বোন এহুদা সমস্ত অন্তঃকরণের সঙ্গে নয়, কেবল কপটভাবে আমার প্রতি ফিরেছে, মাবুদ এই কথা বলেন।
11
আর মাবুদ আমাকে বললেন, বেঈমান এহুদার চেয়ে বিপথগামিনী ইসরাইল নিজেকে ধার্মিক দেখিয়েছে।
12 তুমি যাও, এসব কথা উত্তর দিকে তবলিগ কর, বল, মাবুদ বলেন, হে বিপথগামিনী ইসরাইল, ফিরে এসো; আমি তোমাদের প্রতি ক্রুদ্ধদৃষ্টিতে তাকাব না; যেহেতু আমি দয়াবান, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি চিরকাল ক্রোধ রাখবো না।
13 কেবলমাত্র তোমার এই অপরাধ স্বীকার কর যে, তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ ও প্রত্যেক সবুজ গাছের তলে বিদেশীদের সঙ্গে তোমার আচার ভ্রষ্ট করেছ, আর তোমরা আমার কথায় কান দাও নি, মাবুদ এই কথা বলেন।
14 হে বিপথগামী সন্তানেরা, ফিরে এসো, মাবুদ এই কথা বলেন, কেননা আমি তোমাদের স্বামী; আমি নগর থেকে এক জন ও গোষ্ঠী থেকে দু’জন করে তোমাদেরকে গ্রহণ করবো ও সিয়োনে আনবো;
15 আর তোমাদেরকে আমার মনের মত পালকদের দেব, তারা জ্ঞানে ও বিজ্ঞতায় তোমাদেরকে চরাবে।
16 মাবুদ বলেন, সেই সময়ে যখন তোমরা দেশে বর্ধিত ও বহুসংখ্যক হবে, তখন ‘মাবুদের শরীয়ত-সিন্দুক,’ এই কথা লোকে আর বলবে না, তা মনে আসবে না, তারা তা স্মরণে আনবে না, তার বিরহে দুঃখিত হবে না এবং তা আর নির্মাণ করা যাবে না।
17 সেই সময়ে জেরুশালেম মাবুদের সিংহাসন বলে আখ্যাত হবে এবং সমস্ত জাতি তার কাছে, মাবুদের নামের কাছে, জেরুশালেমে, একত্রীকৃত হবে; তারা আর নিজ নিজ দুষ্ট হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে চলবে না।
18 সেই সময়ে এহুদা-কুল ইসরাইল-কুলের সঙ্গে সঙ্গে গমন করবে এবং তারা একসঙ্গে উত্তর দেশ থেকে, যে দেশ আমি অধিকারের জন্য তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে দিয়েছি, সেই দেশে আসবে।
19
আর আমিই বলেছিলাম, আমি সন্তানদের মধ্যে তোমাকে কেমন স্থান দেব! মনোরম একটি দেশ, জাতিদের পরম-রত্নস্বরূপ অধিকার তোমাকে দান করবো! আমি বলেছিলাম, তোমরা আমাকে পিতা বলে ডাকবে এবং আমার পশ্চাদগমন থেকে ফিরে যাবে না।
20 হে ইসরাইল-কুল, সত্যিই যে স্ত্রী বেঈমানী করে তার স্বামীকে ছেড়ে যায়, তার মত তোমরাও আমার সঙ্গে বেঈমানী করেছ, মাবুদ এই কথা বলেন।
21 গাছপালাহীন পাহাড়গুলোর উপরে উচ্চরব, বনি-ইসরাইলদের কান্না ও কাত-রোক্তি শোনা যাচ্ছে; কারণ তারা কুটিল-পথগামী হয়েছে, নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভুলে গেছে।
22 হে বিপথগামী সন্তানেরা, ফিরে এসো, আমি তোমাদের বিপথগমন-রোগ ভাল করবো।
‘দেখ, আমরা তোমার কাছে এলাম, কেননা তুমিই আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ।
23 সত্যিই, উপপর্বতস্থ ও পর্বতস্থ লোকারণ্য মিথ্যামাত্র, সত্যিই আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের মধ্যেই আছে ইসরাইলের উদ্ধার।
24 কিন্তু বাল্যকাল থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের শ্রমফল, তাঁদের ভেড়া ও গবাদি পাল ও তাঁদের পুত্রকন্যাদের, সেই লজ্জাস্পদ দেবতাদের গ্রাসে পড়েছে।
25 এসো, আমরা নিজেদের লজ্জাতে শয়ন করি এবং আমাদের অপমান আমাদেরকে আচ্ছাদন করুক; কারণ আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি, আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা গুনাহ্ করেছি, বাল্যকাল থেকে আজ পর্যন্ত গুনাহ্ করেছি; আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথার বাধ্য হই নি।
1
মাবুদ বলেন, হে ইসরাইল, তুমি যদি ফিরে আসতে চাও, তবে আমারই কাছে ফিরে এসো; এবং যদি আমার দৃষ্টি থেকে তোমার ঘৃণার বস্তুগুলো দূর কর, তবে আর বিচলিত হবে না।
2 আর তুমি সত্যে, ন্যায়ে ও ধার্মিকতায় ‘জীবন্ত মাবুদের কসম’ বলে শপথ করবে, আর জাতিরা তাঁতেই দোয়া লাভ করবে, তাঁকে নিয়েই গর্ব করবে।
3
কারণ মাবুদ এহুদার ও জেরুশালেমের লোকদেরকে এই কথা বলেন, তোমরা তোমাদের পতিত ভূমি চাষ কর, কাঁটাবনের মধ্যে বীজ বপন করো না।
4 হে এহুদার লোক, হে জেরুশালেম-নিবাসীরা, তোমরা মাবুদের উদ্দেশে নিজেদের খৎনা করাও, নিজ নিজ হৃদয়ের ত্বক্ দূর করে ফেল, পাছে তোমাদের দুষ্কর্মের জন্য আমার ক্রোধ আগুনের মত জ্বলে উঠে এবং এমন পুড়িয়ে দেয় যে, কেউ নিভাতে পারবে না।
5
তোমরা এহুদা দেশে তবলিগ কর, জেরুশালেমে ঘোষণা কর; বল, তোমরা দেশে তূরীধ্বনি কর, চিৎকার করে বল, তোমরা জমায়েত হও, এসো, আমরা দৃঢ় নগরগুলোতে প্রবেশ করি।
6 সিয়োনের দিকে নিশান তোল, রক্ষা পাবার জন্য পালিয়ে যাও, বিলম্ব করো না; কেননা আমি উত্তর দিক থেকে অমঙ্গল ও মহাধ্বংস আনবো।
7 সিংহ তার গহ্বর থেকে উঠে আসছে, জাতিদের বিনাশক আসছে; সে পথে আছে, সে স্বস্থান থেকে বের হয়েছে, তোমার দেশ ধ্বংস স্থান করবার জন্য আসছে; তোমার নগরগুলো উচ্ছিন্ন ও জনবসতিহীন হবে।
8 এজন্য তোমরা চট পর, মাতম ও হাহাকার কর, কেননা মাবুদের জ্বলন্ত ক্রোধ আমাদের থেকে ফিরে যায় নি।
9 মাবুদ বলেন, সেদিন বাদশাহ্র অন্তর ও কর্মকর্তাদের অন্তর ক্ষয় পাবে, ইমামেরা চমকে উঠবে ও নবীরা স্তম্ভিত হবে।
10
তখন আমি বললাম, হায় হায়! হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি এই লোকদের ও জেরুশালেমকে নিতান্ত ভ্রান্ত করেছ, কথিত আছে, তোমাদের শান্তি হবে, কিন্তু তাদের প্রাণ পর্যন্ত তলোয়ার প্রবেশ করছে।
11
সেই সময়ে এই লোকদেরকে ও জেরুশালেমকে এই কথা বলা যাবে, মরুভূমিস্থ গাছপালাহীন পাহাড়গুলো থেকে উষ্ণ বায়ু আমার জাতির কন্যার দিকে আসছে, তা শস্য ঝাড়বার কি পরিষ্কার করার জন্য নয়।
12 তারচেয়ে বেশি প্রচণ্ড বায়ু আমার হুকুমনামায় আসছে, এখন আমিও লোকদের বিরুদ্ধে বিচারদণ্ড প্রচার করবো।
13 দেখ, সে মেঘমালার মত আসছে, তার রথগুলো ঘূর্ণিবাতাসের মত, তার ঘোড়াগুলো ঈগল পাখির চেয়েও দ্রুতগামী। হায় হায়, আমরা নষ্ট হলাম।
14 হে জেরুশালেম, অন্তর ধুয়ে তোমার দুষ্টতা ঘুচাও, যেন উদ্ধার পেতে পার; কত দিন তোমার অন্তরে দুশ্চিন্তা বাস করবে?
15 বস্তুত দান নগর থেকে কোন কণ্ঠস্বর ঘোষণা করছে, আফরাহীমের পর্বতমালা থেকে কেউ দুর্ঘটনার কথা ঘোষণা করছে।
16 তোমরা জাতিদের কাছে উল্লেখ কর; দেখ, জেরুশালেমের বিরুদ্ধে ঘোষণা কর; দূর দেশ থেকে অবরোধকারীরা আসছে, তারা এহুদার নগরগুলোর বিরুদ্ধে হুঙ্কার করছে।
17 তারা ক্ষেত্ররক্ষকদের মত জেরুশালেমের চারদিকে থাকবে, কেননা সে আমার বিপক্ষচারিণী হয়েছে, মাবুদ এই কথা বলেন।
18 তোমার পথ ও তোমার সমস্ত কাজকর্ম তোমার বিরুদ্ধে এটা ঘটিয়েছে; এটা তোমার নাফরমানীর ফল, হ্যাঁ, এটা তিক্ত, হ্যাঁ, এটা তোমার মর্মভেদী।
19
‘হায় আমার যাতনা! হায় আমার যাতনা! আমি অন্তরে ব্যথিত; আমার অন্তর কাঁপছে; আমি নীরব থাকতে পারি না; কেননা হে আমার প্রাণ, তুমি তূরীর আওয়াজ ও যুদ্ধের সিংহনাদ শুনেছ।
20 ধ্বংসের উপরে ধ্বংস প্রচারিত হচ্ছে, ফলে, সারা দেশ উচ্ছিন্ন হচ্ছে; হঠাৎ আমার তাঁবুগুলো, নিমেষের মধ্যে আমার পর্দাগুলো উচ্ছিন্ন হল।
21 আমি কত দিন যুদ্ধের নিশান দেখব ও তূরীর আওয়াজ শোনব?’
22 বস্তুত আমার লোকেরা অজ্ঞান, তারা আমাকে জানে না; তারা নির্বোধ বালক, তারা কদাচারে পটু, কিন্তু সদাচার করতে জানে না।
23
‘আমি দুনিয়াতে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ তা আকারহীন ও শূন্য ছিল; আমি আকাশমণ্ডলে দৃষ্টিপাত করলাম তার আলো ছিল না।
24 আমি পর্বতমালার প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, সেসব কাঁপছে ও উপপর্বতগুলো টলটলায়মান হচ্ছে।
25 আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, কোন মানুষ নেই এবং আসমানের সমস্ত পাখি পালিয়ে গেছে।
26 আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, মাবুদের সম্মুখে ও তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধের সম্মুখে বাগান মরুভূমি হয়ে পড়েছে ও তার সমস্ত নগর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।’
27
কারণ মাবুদ এই কথা বলেন, সমস্ত দেশ ধ্বংসের স্থান হবে তবুও আমি নিঃশেষে সংহার করবো না।
28 এইজন্য দুনিয়া শোক করবে, উপরিস্থ আসমান কালো রংয়ের হবে; কারণ আমি এই কথা বলেছি, মনে স্থির করেছি, এই বিষয়ে অনুশোচনা করি নি, এ থেকে ফিরবো না।
29 ঘোড়সওয়ারদের ও ধনুকধারীদের আওয়াজে নগরের সমস্ত লোক পালিয়ে যায়, তারা নিবিড় বনে প্রবেশ করে ও শৈলে ওঠে; সকল নগর পরিত্যক্ত তাদের মধ্যে বাসকারী কোন মানুষ নেই।
30 হে পুরি, তুমি উচ্ছিন্ন হলে কি করবে? যদিও লাল রংয়ের পোশাক পর, যদিও সোনার গহনায় নিজেকে সাজাও, যদিও অঞ্জন দ্বারা চোখ চির, তবুও সৌন্দর্যের চেষ্টা বৃথা হবে; তোমার প্রেমিকেরা তোমাকে অগ্রাহ্য করে, তোমার প্রাণনাশেরই চেষ্টা করে।
31 বস্তুত স্ত্রীর প্রসবকালের রবের মত, প্রথম প্রসবকালের আর্তনাদের মত আমি সিয়োন কন্যার স্বর শুনেছি; সে দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে দু’হাত তুলে বলছে, হায় হায়, হত্যাকারীদের সম্মুখে আমার প্রাণ অবসন্ন হল।
1
তোমরা জেরুশালেমের পথে পথে দৌড়ে বেড়াও, চারপাশে তাকিয়ে দেখ ও জেনে নাও এবং সেখানকার সকল চকে খোঁজ কর; যদি এমন এক জনকেও পেতে পার যে ন্যায়াচরণ করে, সত্যের অনুশীলন করে, তবে আমি নগরকে মাফ করবো।
2 তারা যদিও বলে, জীবন্ত মাবুদের কসম, তবুও তারা মিথ্যা শপথ করে।
3 হে মাবুদ, তোমার দৃষ্টি কি সত্যের প্রতি নয়? তুমি তাদেরকে প্রহার করলেও তারা দুঃখার্ত হল না; তাদেরকে চুরমার করলেও তারা শাসন গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো; তারা নিজ নিজ মুখ পাষাণের চেয়েও কঠিন করলো; তারা ফিরে আসতে অস্বীকার করলো।
4
তখন আমি বললাম, এরা তো দরিদ্র, এরা অজ্ঞান, কারণ মাবুদের পথ ও নিজেদের আল্লাহ্র বিচার জানে না;
5 আমি একবার মহৎ লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবো, কেননা তারা মাবুদের পথ ও নিজেদের আল্লাহ্র বিচার জানে। কিন্তু ওরা একযোগে জোয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে, বন্ধন ছিড়ে ফেলেছে।
6 এই জন্য বন থেকে সিংহ এসে তাদেরকে হত্যা করবে, জঙ্গলের নেকড়ে তাদেরকে বিনষ্ট করবে, চিতা বাঘ তাদের নগরের কাছে ওৎ পেতে থাকবে; যে কেউ নগর থেকে বের হবে, সে ছিন্নভিন্ন হবে; কারণ তাদের অধর্ম বেশি, তাদের বিপথগমন গুরুতর।
7
আমি কিভাবে তোমাকে মাফ করবো? তোমার সন্তানেরা আমাকে ত্যাগ করেছে, মিথ্যা দেবদেবীর নাম নিয়ে কসম খেয়েছে; আমি তাদেরকে পরিতৃপ্ত করলে তারা জেনা করলো ও দলে দলে পতিতার বাড়িতে গিয়ে একত্র হল।
8 তারা খাদ্যপুষ্ট কামুক ঘোড়ার মত ঘুরে বেড়াল, প্রত্যেক জন পরস্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ আওয়াজ করলো।
9 আমি কি এই সকলের প্রতিফল দেব না, মাবুদ এই কথা বলেন, আমার প্রাণ কি এই রকম জাতির প্রতিশোধ নেবে না?
10 তোমরা জেরুশালেমের আঙ্গুর ক্ষেতগুলোতে গিয়ে তা নষ্ট কর, কিন্তু নিঃশেষে সংহার করো না; তার তরুশাখাগুলো দূর কর, কারণ সেসব মাবুদের নয়।
11 কেননা ইসরাইল-কুল ও এহুদা-কুল আমার বিপরীতে অত্যন্ত বেঈমানী করেছে, মাবুদ এই কথা বলেন।
12 তারা মাবুদকে অস্বীকার করে বলেছে, ‘উনি তিনি নন; আর আমাদের প্রতি অমঙ্গল ঘটবে না, আমরা তলোয়ার বা দুর্ভিক্ষ দেখব না,
13 আর নবীরা বায়ুর মত হবে, তাদের মধ্যে আল্লাহ্র কালাম নেই, তাদেরই প্রতি এরকম করা যাবে।’
14 এই কারণ বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা এই কথা বলছো, এজন্য দেখ, আমি তোমার মুখস্থিত আমার কালামকে আগুনের মত ও এই জাতিকে কাঠের মত করবো, তা এদেরকে গ্রাস করবে।
15 মাবুদ বলেন, হে ইসরাইল-কুল, দেখ, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে দূর থেকে একটি জাতিকে আনবো; সে বলবান জাতি, সে প্রাচীন জাতি; তুমি সেই জাতির ভাষা জান না, তারা কি বলে, তা বুঝতে পার না।
16 তাদের তূণ খোলা কবরের মত, তারা সকলে বীর পুরুষ।
17 তারা তোমার পাকা শস্য ও তোমার খাদ্য, তোমার পুত্রকন্যাদের খাদ্য গ্রাস করবে; তারা তোমার ভেড়ার পাল ও গরুর পাল গ্রাস করবে; তোমার আঙ্গুরলতা ও ডুমুর গাছ গ্রাস করবে; তুমি যেসব প্রাচীরবেষ্টিত নগরের উপর নির্ভর করছো, সেসব তারা তলোয়ার দ্বারা চূর্ণ করবে।
18 কিন্তু মাবুদ বলেন, সেই সময়েও আমি নিঃশেষে তোমাদের সংহার করবো না।
19 আর যখন তারা বলবে, আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদের প্রতি এসব কেন করলেন। তখন তুমি তাদেরকে বলবে, তোমরা যেমন আমাকে ত্যাগ করেছ ও নিজেদের দেশে বিজাতীয় দেবতাদের গোলামী করেছ, তেমনি বিদেশে বিদেশীদের গোলামী করবে।
20
তোমরা ইয়াকুব-কুলকে এই কথা জানাও,
21 এহুদার মধ্যে এই কথা প্রচার কর, বল, হে অজ্ঞান নির্বোধ জাতি, চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির যে তোমরা, তোমরা এই কথা শোন।
22 মাবুদ বলেন তোমরা কি আমাকে ভয় করবে না? আমার সাক্ষাতে কি ভয়ে কাঁপবে না? আমি তো বালুকা দ্বারা সমুদ্রের সীমা নিত্যস্থায়ী প্রতিবন্ধকরূপে স্থির করেছি; সে তা পার হতে পারে না; তার তরঙ্গ আস্ফালন করলেও কৃতার্থ হয় না, কল্লোল-ধ্বনি করলেও সীমা অতিক্রম করতে পারে না।
23 কিন্তু এই লোকদের অন্তর অবাধ্য ও প্রতিকূলাচারী, তারা অবাধ্য হয়ে চলে গেছে।
24 তারা মনে মনে বলে না, এসো, আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদকে ভয় করি; তিনিই উপযুক্ত কালে প্রথম ও শেষ বর্ষার পানি দেন; আমাদের জন্য ফসল কাটার নিয়মিত সপ্তাহগুলো রক্ষা করেন।
25 তোমাদের অপরাধ এসব দূর করে দিয়েছে, তোমাদের গুনাহ্ তোমাদের মঙ্গল নিবারণ করেছে।
26 কারণ আমার লোকদের মধ্যে দুষ্ট লোক পাওয়া যায়, তারা ব্যাধের মত ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকে, তারা ফাঁদ পাতে ও মানুষ ধরে।
27 খাঁচা যেমন পাখিতে পরিপূর্ণ, তেমনি তাদের বাড়ি ছলে পরিপূর্ণ; এজন্য তারা উন্নত ও ধনবান হয়েছে;
28 তারা স্থূলকায় ও চাকচিক্যময় হয়েছে; হ্যাঁ, তারা নাফরমানীর সীমা ছাড়িয়ে গেছে, তারা বিচার করে না, এতিমের কল্যাণের জন্য বিচার করে না ও দরিদ্রদের বিচার নিষ্পত্তি করে না।
29 মাবুদ বলেন, আমি কি তাদের প্রতিফল দেব না? আমার প্রাণ কি এই রকম জাতির প্রতিশোধ দেবে না?
30
দেশের মধ্যে ভয়ানক ও রোমাঞ্চজনক ব্যাপার সাধিত হয়।
31 নবীরা মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, আর ইমামেরা তাদের বশবর্তী হয়ে কর্তৃত্ব করে; আর আমার লোকেরা এই রীতি ভালবাসে; কিন্তু এর পরিণামে তোমরা কি করবে?
1
হে বিন্ইয়ামীনের লোকেরা, তোমরা জেরুশালেমের মধ্য থেকে পালিয়ে যাও, তকোয় নগরে তূরী বাজাও, বৈৎ-হক্কেরমে ধ্বজা তোল, কেননা উত্তর দিক থেকে অমঙ্গল ও মহাধ্বংস উঁকি মারছে।
2 সুন্দরী সুখভোগিনী সিয়োন-কন্যাকে আমি সংহার করবো।
3 ভেড়ার রাখালেরা নিজ নিজ পাল সঙ্গে নিয়ে তার কাছে আসবে; তারা তার বিরুদ্ধে চারদিকে নিজ নিজ তাঁবু স্থাপন করবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে পাল চরাবে।
4 তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন কর; উঠ, আমরা মধ্যাহ্নকালে আক্রমণ করি। ধিক্ আমাদেরকে! কেননা দিবাবসান হচ্ছে, সন্ধ্যাবেলার ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে।
5 উঠ, আমরা রাতের বেলায়ই আক্রমণ করি, তার অট্টালিকাগুলো নষ্ট করি।
6 বস্তুত বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেছেন, তোমরা গাছ কেটে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধ; সেই নগর প্রতিফল পাবে; তার ভিতরে সকলই উপদ্রব।
7 যেমন ফোয়ারা তার পানি বের করে, তেমনি সে তার নাফরমানী বের করে; তার মধ্যে দৌরাত্ম্য ও লুটের আওয়াজ শোনা যায়; অসুস্থতা ও ক্ষতগুলো নিয়ত আমার দৃষ্টিগোচর রয়েছে।
8 হে জেরুশালেম, শাসন গ্রহণ কর, পাছে আমার প্রাণ তোমার কাছ থেকে ফিরে যায়, পাছে আমি তোমাকে ধ্বংস স্থান করি, জনবসতিহীন ভূমি করি।
9
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, ওরা ইসরাইলের অবশিষ্টাংশকে শেষ আঙ্গুর ফলের মত ঝেড়ে ফেলবে; তুমি আঙ্গুর ফল সংগ্রহকারীর মত ঝুড়িতে বার বার হাত দাও।
10 আমি কাকে বললে, কাকে সাক্ষ্য দিলে ওরা শুনবে? দেখ, তাদের কান বন্ধ, তারা শুনতে পায় না। দেখ, মাবুদের কালাম তাদের উপহাসের বিষয় হয়েছে; সেই কালামে তাদের কিছুই সন্তোষ হয় না।
11 আহা! আমি মাবুদের ক্রোধে পরিপূর্ণ হয়েছি; সম্বরণ করতে করতে ক্লান্ত হলাম; সড়কে বালকদের উপরে ও যুবকদের মাহ্ফিলের উপরে একসঙ্গে তা ঢেলে দাও; কারণ, এমন কি, স্বামী ও স্ত্রী, বৃদ্ধ ও জরাতুর সকলেই ধরা পড়বে।
12 আর ভূমি ও স্ত্রীসুদ্ধ তাদের বাড়িগুলো পরের অধিকার হবে; কারণ, আমি এই দেশবাসীদের বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে দেব, মাবুদ এই কথা বলেন,
13 কেননা তারা ক্ষুদ্র ও মহান সকলেই লোভে লুব্ধ, নবী ও ইমাম সকলেই ছলনা করে।
14 আর তারা আমার জাতির ক্ষত কেবল একটুমাত্র সুস্থ করেছে; যখন শান্তি নেই, তখন শান্তি শান্তি বলেছে।
15 তারা ঘৃণার কাজ করেছে বলে কি লজ্জিত হল? তারা মোটেই লজ্জিত হয় নি, বিষণ্ন হতেও জানে না; সেজন্য তারা তাদের মধ্যে পড়বে যারা শাস্তি ভোগ করবে; আমি যখন তাদের প্রতিফল দেব, তখন তাদের নিপাত হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
16
মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা পথে পথে দাঁড়িয়ে দেখ কোন্ কোন্টা চিরন্তন পথ; তা জিজ্ঞাসা করে বল, উত্তম পথ কোথায়? আর সেই পথে চল, তাতে তোমরা নিজ নিজ প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাবে। কিন্তু তারা বললো, আমরা চলবো না।
17 আর আমি তোমাদের উপরে প্রহরীদেরকে রাখলাম, বললাম ‘তোমরা তূরীধ্বনিতে কান দাও;’ কিন্তু তারা বললো, কান দেব না।
18 অতএব হে জাতিরা, শোন; হে মণ্ডলী, তাদের প্রতি কি কি ঘটবে তা জান।
19 হে দুনিয়া, শোন, দেখ, আমিই এই জাতির উপরে অমঙ্গল আনবো, তাদের পরিকল্পনাগুলোর ফল বর্তাব, কারণ তারা আমার কথায় মনযোগ দেয় নি; আর আমার ব্যবস্থা, তারা তা হেয়জ্ঞান করেছে।
20 সাবা থেকে আমার কাছে কেন ধূপ আসে? কেন দূর দেশ থেকে মিষ্ট বচ আসে? তোমাদের পোড়ানো-কোরবানীগুলো আমার গ্রাহ্য নয়, তোমাদের কোরবানীও আমার তুষ্টিজনক নয়।
21 অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই জাতির সম্মুখে নানা বাধা রাখব, আর পিতা ও পুত্রেরা একসঙ্গে তাতে উচোট খাবে; প্রতিবেশী ও তার বন্ধু বিনষ্ট হবে।
22
মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, উত্তর দেশ থেকে এক জনসমাজ আসছে, দুনিয়ার প্রান্ত থেকে একটি মহাজাতি উত্তেজিত হয়ে আসছে।
23 তারা ধনুক ও বর্শাধারী, নিষ্ঠুর ও করুণাশূন্য, তাদের রব সমুদ্র-গর্জনের মত এবং তারা ঘোড়ায় চড়ে আসছে। অয়ি সিয়োন-কন্যে, তোমারই বিপরীতে যুদ্ধ করবার জন্য তারা প্রত্যেক জন যোদ্ধার মত সুসজ্জিত হয়েছে।
24 আমরা এই বিষয়ে জনশ্রুতি শুনেছি, আমাদের হাত অবশ হল; যন্ত্রণা প্রসবকারিণীর মত ব্যথা আমাদেরকে ধরলো।
25 মাঠে যেও না, পথে গমন করো না, কেননা সেখানে দুশমনের তলোয়ার, চারদিকেই ভয়।
26 হে আমার জাতির কন্যে, তুমি চট পর, ভস্মে লুটিয়ে পর, একমাত্র পুত্রবিয়োগ শোকের মত শোক কর, তীব্র মাতম কর; কেননা বিনাশক অকস্মাৎ আমাদের উপরে আসবে।
27
আমি আমার লোকদের মধ্যে তোমাকে পরীক্ষক করে দুর্গরূপে স্থাপন করেছি; যেন তুমি তাদের পথ জানতে পার ও পরীক্ষা করে দেখতে পার।
28 তারা সকলে দারুণ অবাধ্য, কুৎসা রটনা করে বেড়ায়; তারা ব্রোঞ্জ ও লোহার মত; তারা সকলেই ভ্রষ্টাচারী।
29 যাঁতা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সীসা আগুনে শেষ হয়েছে; অনর্থক তা খাঁটি করার চেষ্টা হচ্ছে; কারণ দুষ্টদেরকে বের করা যাচ্ছে না।
30 তাদেরকে পরিত্যক্ত রূপা বলা যাবে, কারণ মাবুদ তাদেরকে পরিত্যাগ করেছেন।
1
ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
2 তুমি মাবুদের গৃহের দ্বারে গিয়ে দাঁড়াও, সেখানে এই কথা তবলিগ কর, বল, হে এহুদার সমস্ত লোক, মাবুদের কাছে সেজ্দা করবার জন্য এই সকল দ্বারে প্রবেশ করে থাক যে তোমরা, তোমরা মাবুদের কালাম শোন।
3 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ আচার-ব্যবহার শুদ্ধ কর, তাতে আমি তোমাদেরকে এই স্থানে বাস করতে দেব।
4 তোমরা এই মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করো না, যথা, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস ইত্যাদি।
5
যদি তোমরা নিজ নিজ আচার-ব্যবহার সমপূর্ণভাবে শুদ্ধ কর; যদি বাদী প্রতিবাদীর বিচার যথার্থরূপে নিষ্পত্তি কর;
6 যদি বিদেশী, এতিম ও বিধবাদের প্রতি জুলুম না কর, এই স্থানে নির্দোষের রক্তপাত না কর এবং নিজেদের অমঙ্গলের জন্য অন্য দেবতাদের পিছনে না যাও,
7 তবে আমি এই স্থানে, তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই যে দেশ দিয়েছি, এখানে তোমাদেরকে যুগে যুগে চিরকাল বাস করতে দেব।
8
দেখ, তোমরা মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করছো, তা উপকার করতে পারে না।
9 তোমরা কি চুরি, খুন, জেনা, মিথ্যা শপথ এবং বালের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাবে এবং যাদেরকে জান নি, এমন অন্য দেবতাদের পেছনে চলবে, আর এখানে এসে,
10 এই যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, এই গৃহে আমার সাক্ষাতে দাঁড়াবে, আর বলবে, আমরা উদ্ধার পেলাম, যেন ঐ সমস্ত ঘৃণার কাজ করতে পার?
11 এই যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, এই গৃহ কি তোমাদের দৃষ্টিতে দস্যুদের গহ্বর হয়েছে? দেখ, আমি, আমিই এই সমস্ত দেখেছি, মাবুদ এই কথা বলেন।
12
কিন্তু শীলোতে আমার যে স্থান ছিল, যেখানে আমি প্রথমে আমার নাম বাস করিয়েছিলাম, তোমরা একবার সেখানে গমন কর এবং আমার লোক ইসরাইলের নাফরমানীর দরুন আমি সেই স্থানের প্রতি যা করেছি, তা দেখ।
13 আর এখন তোমরা এসব কাজ করেছ, মাবুদ এই কথা বলেন এবং আমি খুব ভোরে উঠে তোমাদেরকে কথা বললেও তোমরা শোন নি, আমি তোমাদেরকে ডাকলেও তোমরা জবাব দাও নি;
14 সেজন্য এই যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, যাতে তোমরা নির্ভর করছো এবং এই যে স্থান আমি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে দিয়েছি, এর প্রতিও আমি এখন তা-ই করবো, যা শীলোর প্রতি করেছিলাম।
15 আর তোমাদের ভাইদেরকে, আফরাহীমের সমস্ত বংশকে, যেমন বের করে দিয়েছি, তেমনি তোমাদেরকেও আমার দৃষ্টিপথ থেকে বের করে দেব।
16
অতএব তুমি এই জাতির জন্য মুনাজাত করো না, তাদের জন্য আমার কাছে কাতরোক্তি ও মুনাজাত উৎসর্গ করো না, কেননা আমি তোমার কথা শুনব না।
17 তারা এহুদার নগরে নগরে ও জেরুশালেমের পথে পথে যা করছে, তা কি তুমি দেখছ না?
18 বালকেরা কাঠ কুড়ায়, পিতারা আগুন জ্বালায়, স্ত্রীলোকেরা ময়দা ছানে, আকাশ-রাণীর উদ্দেশে পিঠা রান্না করে ও অন্য দেবতাদের উদ্দেশে পানীয় নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য তা করে, যেন এভাবে তারা আমার অসন্তোষ জন্মায়।
19 তারা কি আমারই অসন্তোষ জন্মায়? মাবুদ এই কথা বলেন; তারা কি নিজেদেরই অসন্তোষ জন্মিয়ে নিজেদের দুঃখ দিচ্ছে না?
20 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, এই স্থানের উপরে, মানুষ, পশু এবং ক্ষেতের গাছ ও ভূমির ফল, এই সকলের উপরে আমার ক্রোধ ও গজব ঢালা যাবে; আর তা জ্বলতেই থাকবে, নিভে যাবে না।
21
বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন; তোমরা নিজেদের অন্যান্য কোরবানীর সঙ্গে পোড়ানো-কোরবানী যোগ কর, গোশ্ত খেয়ে ফেল।
22 বস্তুত যেদিন আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছিলাম, সেই সময়ে পোড়ানো-কোরবানীর কিংবা কোরবানীর বিষয় তাদেরকে বলেছিলাম, কিংবা হুকুম দিয়েছিলাম, এমন নয়;
23 বরং তাদেরকে এই হুকুম দিয়েছিলাম, তোমরা আমার কথা মান্য কর, তাতে আমি তোমাদের আল্লাহ্ হব ও তোমরা আমার লোক হবে; আর আমি তোমাদেরকে যে পথে চলবার হুকুম দিই, সেই পথেই চলো, যেন তোমাদের মঙ্গল হয়।
24 কিন্তু তারা শুনলো না, কানও দিল না, বরং নিজেদের মন্ত্রণায়, নিজেদের হৃদয়ের কঠিনতায় আচরণ করলো, তারা অগ্রসর না হয়ে পিছে হটে গেল।
25 যেদিন তোমাদের পূর্বপুরুষেরা মিসর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছিল, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি প্রতিদিন খুব ভোরে উঠে আমার সমস্ত গোলামকে, অর্থাৎ নবীদেরকে, তোমাদের কাছে প্রেরণ করে আসছি।
26 তবুও লোকেরা আমার কালাম শোনে নি, কানও দেয় নি, কিন্তু নিজ নিজ ঘাড় শক্ত করতো; তারা পূর্বপুরুষদের চেয়েও বেশি দুরাচারী হয়েছে।
27
আর তুমি তাদেরকে এসব কথা বলবে, কিন্তু তারা তোমার কথা শুনবে না; তুমি তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তোমাকে জবাব দেবে না।
28 তখন তুমি তাদেরকে বলবে, এই সেই জাতি, যে তার আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য করে নি, শাসন গ্রহণ করে নি; সত্য বিনষ্ট হয়েছে ও এদের মুখ থেকে তা উচ্ছিন্ন হয়েছে।
29
হে জেরুশালেম, তুমি তোমার চুল কেটে দূরে ফেলে দাও, গাছপালাহীন পাহাড়গুলোর উপরে উঠে মাতম কর, কেননা মাবুদ তাঁর ক্রোধের পাত্র এই বংশকে অগ্রাহ্য করেছেন, পরিত্যাগ করেছেন।
30
কারণ আমার দৃষ্টিতে যা মন্দ, এহুদার সন্তানেরা তা-ই করেছে, মাবুদ এই কথা বলেন; এই যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, এটি নাপাক করবার জন্য তারা এর মধ্যে নিজেদের ঘৃণিত বস্তুগুলো রেখেছে।
31 আর তারা নিজ নিজ পুত্রকন্যাদেরকে আগুনে পোড়াবার জন্য হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকায় তোফতের উচ্চস্থলীগুলো প্রস্তুত করেছে; তা আমি হুকুম করি নি, আমার মনেও তা উদয় হয় নি।
32 এজন্য মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যখন ঐ স্থান আর তোফৎ কিংবা হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকা নামে আখ্যাত হবে না, কিন্তু হত্যার উপত্যকা বলে আখ্যাত হবে; কারণ লোকেরা স্থানের অভাবের কারণে ঐ তোফতে কবর দেবে।
33 আর এই জাতির লাশ আসমানের পাখিদের ও ভূমির পশুগুলোর খাবার হবে, কেউ তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে না।
34 তখন আমি এহুদার সকল নগরে ও জেরুশালেমের সকল পথে আমোদের আওয়াজ ও আনন্দের আওয়াজ, বর ও কন্যার কণ্ঠস্বর নিবৃত্ত করবো; কেননা দেশ ধ্বংসস্থান হয়ে পড়বে।
1
মাবুদ বলেন, সেই সময়ে লোকেরা এহুদার বাদশাহ্দের অস্থি, তার কর্মকর্তাদের অস্থি, ইমামদের অস্থি, নবীদের অস্থি ও জেরুশালেম-নিবাসী লোকদের অস্থি তাদের কবর থেকে বের করবে।
2 আর তারা সূর্যের, চন্দ্রের ও সমস্ত আকাশ-বাহিনীর সম্মুখে— তারা যাদেরকে ভক্তি ও সেবা করতো, যাদের অনুগামী হত, যাদেরকে খোঁজ করতো ও যাদের কাছে সেজ্দা করতো, তাদের সম্মুখে— সেসব অস্থি ছড়িয়ে দেবে। সেগুলো আর একত্রীকৃত কিংবা কবরে স্থাপিত হবে না; সারের মত ভূমির উপরে থাকবে।
3 আর এই দুষ্ট গোষ্ঠীর অবশিষ্ট যে সমস্ত লোক থাকবে— যে সকল স্থানে আমি তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছি, সেসব স্থানে থাকবে— তারা জীবনের চেয়ে মরণই বাঞ্ছনীয় জ্ঞান করবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
4
তুমি তাদেরকে আরও বলবে, মাবুদ এই কথা বলেন, মানুষ পড়ে গেলে কি আর ওঠে না? বিপথে গেলে কি আর ফিরে আসে না?
5 তবে জেরুশালেমের এই জাতি কেন নিত্যস্থায়ী বিপথগমন দ্বারা বিপথগামী হয়েছে? তারা প্রবঞ্চনাকে দৃঢ়ভাবে ধরে রয়েছে, তারা ফিরে আসতে অসম্মত।
6 আমি মনযোগ দিয়ে শুনলাম, কিন্তু তারা সঠিক কথা বললো না; কেউ তার নাফরমানীর জন্য তওবা করে বলে না, ‘হায়, আমি কি করলাম!’ ঘোড়া যেমন ঊর্ধ্বশ্বাসে যুদ্ধে দৌড়ে যায়, তেমনি প্রত্যেকে নিজ নিজ ধাবন পথে ফিরে।
7 আসমানে হাড়গিলাও তার সময় জানে এবং ঘুঘু, তালচোঁচ ও বক নিজ নিজ আগমনের কাল রক্ষা করে, কিন্তু আমার লোকেরা মাবুদের বিধান জানে না।
8
তোমরা কেমন করে বলতে পার, আমরা জ্ঞানী এবং আমাদের কাছে মাবুদের শরীয়ত আছে? দেখ, আলেমদের মিথ্যা-লেখনী তা মিথ্যা করে ফেলেছে।
9 জ্ঞানীরা লজ্জিত হল, ব্যাকুল হল ও ফাঁদে ধরা পড়লো; দেখ, তারা মাবুদের কালাম অগ্রাহ্য করেছে, তবে তাদের জ্ঞান কি রকম?
10 এজন্য আমি অন্য লোকদেরকে তাদের স্ত্রী এবং অন্য অধিকারীদেরকে তাদের ক্ষেত দেব; কেননা ক্ষুদ্র বা মহান সবারই লোভ আছে, নবী ও ইমামসুদ্ধ সমস্ত লোক প্রবঞ্চনায় রত।
11 আর তারা আমার জাতির কন্যার ক্ষত কেবল একটুমাত্র সুস্থ করেছে; যখন শান্তি নেই, তখন বলেছে, শান্তি, শান্তি।
12 তারা ঘৃণার কাজ করেছে বলে কি লজ্জিত হল? তারা মোটেই লজ্জিত হয় নি, তারা বিষণ্ন হতেও জানেও না; এজন্য তারা তাদের মধ্যে পড়বে, যারা শাস্তি ভোগ করবে; আমি যখন তাদের প্রতিফল দেব, তখন তাদের নিপাত হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
13
আমি তাদেরকে নিঃশেষে সংহার করবো, মাবুদ এই কথা বলেন; আঙ্গুরলতায় আঙ্গুর ফল, কিংবা ডুমুরগাছে ডুমুর ফল থাকবে না, পাতাও শুকিয়ে যাবে; হ্যাঁ, আমি তাদের জন্য আক্রমণকারী লোকদেরকে নির্ধারণ করেছি।
14
আমরা কেন বলে থাকি? এসো আমরা একত্র হয়ে প্রাচীরবেষ্টিত নগরে নগরে প্রবেশ করি, সেখানে ধ্বংস হই; কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে ধ্বংসের পাত্র করলেন ও বিষবৃক্ষের রস পান করালেন, কারণ আমরা মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
15 আমরা শান্তির অপেক্ষা করলাম; কিন্তু কিছুই মঙ্গল হল না; সুস্থতার সময়ের অপেক্ষা করলাম, কিন্তু দেখ, উদ্বেগ উপস্থিত।
16 দান নগর থেকে দুশমনের ঘোড়াগুলোর নাসিকাধ্বনি শোনা যাচ্ছে; তার ঘোড়াগুলোর হ্রেষা শব্দে সমস্ত দেশ কাঁপছে; তারা এসেছে, জনপদ ও তার মধ্যেকার সমস্ত দ্রব্য এবং নগর ও সেখানকার নিবাসীবর্গকে গ্রাস করেছে।
17 বস্তুত দেখ, আমি তোমাদের মধ্যে সাপ, কালসাপ প্রেরণ করবো, তারা কোন মন্ত্র মানবে না, তোমাদেরকে দংশন করবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
18
আহা, আমি যদি দুঃখে সান্ত্বনা পেতাম! আমার অন্তর মূর্চ্ছিত।
19 দেখ, দূর দেশ থেকে আমার জাতির কন্যার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে; মাবুদ কি সিয়োনে নেই? তার বাদশাহ্ কি তার মধ্যবর্তী নন? তারা নিজেদের খোদাই-করা মূর্তি ও বিজাতীয় অসার বস্তুগুলো দ্বারা আমাকে কেন অসন্তুষ্ট করেছে?
20 শস্য কাটার সময় গেল, ফলচয়নের কাল শেষ হল, কিন্তু আমাদের উদ্ধার লাভ হয় নি।
21 আমি আমার জাতির কন্যার স্বাস্থ্যের ভগ্নতার জন্য ভগ্ন হয়েছি, আমি মলিন ও আতঙ্কিত হয়েছি।
22 গিলিয়দে কি মলম নেই? সেখানে কি চিকিৎসক নেই? তবে আমার জাতির কন্যা কেন স্ব্বাস্থ্য লাভ করে নি?
1
হায় হায়, আমার মাথা কেন পানির ঝর্ণা হল না! আমার চোখ কেন অশ্রুর ফোয়ারা হল না! তা হলে আমি আমার জাতির কন্যার নিহত লোকদের বিষয়ে দিনরাত কাঁদতে পারতাম।
2 হায় হায়, মরুভূমিতে পথিকদের রাত যাপনের কুটিরের মত কেন আমার কুটির হয় নি! হলে আমি স্বজাতীয়দেরকে ত্যাগ করে স্থানান্তরে যেতে পারতাম। কেননা তারা সকলে জেনাকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের সমাজ।
3 তারা জিহ্বারূপ ধনুকে মিথ্যারূপ তীর ধনুকে লাগায়; এবং দেশে বিশ্বস্ততার পক্ষে তাদের বিক্রম প্রকাশ হয় নি; বরং তারা একটা নাফরমানী থেকে অন্য নাফরমানীর প্রতি অগ্রসর হয় এবং তারা আমাকে জানে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
4 তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বন্ধু থেকে সাবধান থাক, কোন ভাইকেও বিশ্বাস করো না, কেননা প্রত্যেক ভাই নিতান্তই প্রতারণা করে, প্রত্যেক বন্ধু কুৎসা রটনা করে বেড়ায়।
5 প্রত্যেকে নিজ নিজ বন্ধুকে প্রবঞ্চনা করে, সত্যি কথা বলে না; তারা নিজ নিজ জিহ্বাকে মিথ্যা বলতে শিক্ষা দিয়েছে, তারা অপরাধ করার জন্য কষ্ট স্বীকার করে।
6 তুমি ছলনার মধ্যস্থানে বাস করছো; তারা ছলনা কারণে আমাকে জানতে অস্বীকার করে, মাবুদ এই কথা বলেন।
7
অতএব বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদেরকে গলাব, তাদের পরীক্ষা করবো; আমার জাতির কন্যা হেতু আর কি করবো?
8 তাদের জিহ্বা প্রাণনাশক তীর; তা ছলের কথা বলে; লোকে মুখে বন্ধুর সঙ্গে প্রেমালাপ করে, কিন্তু অন্তরে তার জন্য ঘাঁটি বসায়।
9 মাবুদ বলেন, আমি কি তাদেরকে এই সকলের প্রতিফল দেব না? আমার প্রাণ কি এই রকম জাতির প্রতিশোধ নেবে না?
10
আমি পর্বতমালার বিষয়ে কাঁদব ও হাহাকার করবো, মরুভূমিস্থ চরাণিস্থানের বিষয়ে মাতম করবো, কেননা সেসব ধ্বংস ও পথিকবিহীন হল; পশুপালের ডাক আর শোনা যায় না, আসমানের পাখিগুলো ও পশুগুলো পালিয়ে গেছে, চলে গেছে।
11 আমি জেরুশালেমকে ঢিবি ও শিয়ালদের বাসস্থান করবো; আমি এহুদার নগরগুলো জনবসতিহীন ধ্বংসস্থান করবো।
12
এসব বুঝতে পারে, এমন জ্ঞানবান কে? মাবুদের মুখে কালাম শুনে জানাতে পারে এমন ব্যক্তি কে? দেশ কি জন্য বিনষ্ট ও মরুভূমির মত পোড়ো জমি ও পথিকবিহীন হল?
13 মাবুদ বলেন, কারণ এই, তারা আমার সেই শরীয়ত ত্যাগ করেছে, যা আমি তাদের সম্মুখে রেখেছিলাম; তারা আমার কথা মান্য করে নি, সে পথে চলে নি;
14 কিন্তু নিজ নিজ হৃদয়ের কঠিনতার ও বাল দেবতাদের পিছনে চলেছ, তাদের পূর্বপুরুষেরা তাদেরকে এই শিক্ষা দিয়েছিল।
15 এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই লোকদেরকে নাগদানা ভোজন করাব, বিষবৃক্ষের রস পান করাব।
16 তারা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা যাদেরকে জানে নি, এমন জাতিদের মধ্যে তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করবো এবং যতদিন তাদেরকে সংহার না করি, ততদিন আমি তাদের পিছনে পিছনে তলোয়ার প্রেরণ করবো।
17
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা বিবেচনা কর, মাতমকারিণীদেরকে ডাক, তারা আসুক; জ্ঞানবতী স্ত্রীলোকদের কাছে লোক পাঠাও, তারা আসুক।
18 তারা দ্রুত এসে আমাদের জন্য হাহাকার করুক, যেন আমাদের চোখ অশ্রুতে ভেসে যায়, আমাদের চোখ দিয়ে পানির ধারা বের হয়।
19 কারণ সিয়োন থেকে এই হাহাকার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, আমরা কেমন হৃতসর্বস্ব হলাম। আমরা অতিশয় লজ্জিত হলাম; কারণ আমরা দেশত্যাগী হয়েছি, দুশমনরা আমাদের আবাসগুলো ভূমিসাৎ করলো।
20 আহা! হে স্ত্রীলোকেরা, মাবুদের কথা শোন, তাঁর মুখের কালামে কান দাও এবং নিজ নিজ কন্যাদেরকে হাহাকার করতে শিক্ষা দাও, প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবাসিনীকে মাতম করতে শিক্ষা দাও।
21 কেননা মৃত্যু আমাদের জানালায় উঠলো, তা আমাদের অট্টালিকায় প্রবেশ করলো; যেন বাইরে থেকে বালকেরা উচ্ছিন্ন হয়, চক থেকে যুবকেরা উচ্ছিন্ন হয়।
22 তুমি বল, মাবুদ এই কথা বলেন, মানুষের লাশ সারের মত ক্ষেতে পড়ে থাকবে, শস্য কর্তনকারীদের পিছনে যে শস্যগুচ্ছ পড়ে থাকে, তার মত হবে, কেউ তাদেরকে সংগ্রহ করবে না।
23
মাবুদ এই কথা বলেন, জ্ঞানবান তার জ্ঞানের বিষয়ে গর্ব না করুক, বিক্রমী তার বিক্রমের গর্ব না করুক, ধনবান তার ধনের গর্ব না করুক।
24 কিন্তু যে ব্যক্তি গর্ব করে, সে এই বিষয়ের গর্ব করুক যে, সে বুঝতে পারে ও আমার এই পরিচয় পেয়েছে যে, আমি মাবুদ দুনিয়াতে অটল মহব্বত, বিচার ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করি, কারণ ঐ সকলে আমি প্রীত, মাবুদ এই কথা বলেন।
25
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি যাদের খৎনা করানো হয়েছে তাদের খৎনা-না-করানো বলে প্রতিফল দেব;
26 আমি মিসরকে, এহুদাকে, ইদোমকে, অম্মোনীয়দেরকে, মোয়াবকে এবং মরুভূমিবাসী যারা মাথার দু’পাশের চুল কাটে, তাদের সকলকে প্রতিফল দেব; কেননা সমস্ত জাতি খৎনা-না-করানো, আর ইসরাইলের সমস্ত কুল অন্তরে খৎনা-না-করানো।
1
হে ইসরাইল-কুল, মাবুদ তোমাদের বিষয়ে যে কথা বলেন, তা শোন।
2 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা জাতিদের ব্যবহার শিখো না, আসমানের নানা চিহ্নকে ভয় পেয়ো না; বাস্তবিক জাতিরাই তা থেকে ভীত হয়।
3 কেননা জাতিদের বিধিগুলো অসার; লোকে বনে যে কাঠ কাটে, তা-ই বাটালি সহকারে কারুশিল্পীর হস্তকৃত কাজ হয়ে ওঠে।
4 লোকে তা রূপা ও সোনা দিয়ে অলঙ্কৃত করে; এবং যেন না নড়ে, সেজন্য হাতুড়ি দিয়ে প্রেক মেরে তা দৃঢ় করে।
5 সেসব খোদিত স্তম্ভস্বরূপ; কথা বলতে পারে না; তাদেরকে বহন করতে হয়, কারণ তারা চলতে পারে না। তোমরা তাদেরকে ভয় পেয়ো না। কারণ তারা অমঙ্গল করতে পারে না, মঙ্গল করতেও তাদের সাধ্য নেই।
6
হে মাবুদ, তোমার মত আর কেউই নেই; তুমি মহান, তোমার নাম ও পরাক্রমে মহৎ।
7 হে জাতিদের বাদশাহ্, তোমাকে কে না ভয় করবে? তা তোমারই পাওনা, কেননা জাতিদের সমস্ত জ্ঞানী লোকের মধ্যে, তাদের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে, তোমার মত কেউ নেই।
8 কিন্তু তারা সকলে পশুর মত ও স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন; তাদের মূর্তিগুলো যে শিক্ষা দেয় তা কাঠের মতই অসার।
9 তর্শীশ থেকে রূপার পাত ও ঊফস থেকে সোনা আনা হয়; মূর্তিগুলো কারুকরের কৃত ও স্বর্ণকারের হাতের তৈরি; তাদের পরিচ্ছদ নীল ও বেগুনে, সে সবই শিল্পনিপুণ লোকদের হাতের কাজ।
10 কিন্তু মাবুদ সত্য আল্লাহ্; তিনিই জীবন্ত আল্লাহ্ ও অনন্তকালস্থায়ী বাদশাহ্; তাঁর ক্রোধে দুনিয়া কেঁপে ওঠে এবং তাঁর কোপ জাতিরা সইতে পারে না।
11
তোমরা ওদেরকে এই কথা বল, ‘যে দেবতারা আসমান ও দুনিয়া গঠন করে নি, তারা দুনিয়া থেকে ও আসমানের নিচ থেকে উচ্ছিন্ন হবে’।
12 তিনি নিজের শক্তিতে দুনিয়া গঠন করেছেন, নিজের জ্ঞানে দুনিয়া স্থাপন করেছেন, নিজের বুদ্ধিতে আসমান বিস্তার করেছেন।
13 তিনি গর্জে উঠলে আসমানে জলরাশির আওয়াজ হয়, তিনি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে বাষ্প উত্থাপন করেন; তিনি বৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ গঠন করেন, তিনি তাঁর ভাণ্ডার থেকে বায়ু বের করে আনেন।
14 প্রত্যেক মানুষ পশুর মত হয়েছে, সে জ্ঞানহীন; প্রত্যেক স্বর্ণকার তার মূর্তি দ্বারা লজ্জিত হয়। কারণ তার ছাঁচে ঢালা বস্তু, মিথ্যামাত্র, তার মধ্যে শ্বাসবায়ু নেই।
15 সেসব অসার, মায়ার কর্মমাত্র; তাদের প্রতিফল দানকালে তারা বিনষ্ট হবে।
16 যিনি ইয়াকুবের অধিকার, তিনি সেরকম নন; কারণ তিনি সমস্ত বস্তুর গঠনকারী এবং ইসরাইল তাঁর অধিকাররূপ বংশ; তাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ!
17
হে অবরুদ্ধস্থান-নিবাসীনী! তুমি ভূমি থেকে তোমার সামগ্রী কুড়িয়ে নাও।
18 কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই সময়ে দেশীয় লোকদেরকে ফিঙ্গার পাথরের মত নিক্ষেপ করবো এবং এমন সঙ্কটাপন্ন করবো যে, তারা টের পাবে।
19 হায় হায়, আমার কেমন ক্ষত! আমার ক্ষত অতি বেদনাযুক্ত; তবুও আমি বললাম, এ আমার অসুস্থতা, আমি তা সহ্য করবো।
20 আমার তাঁবু বিনষ্ট হল; আমার সমস্ত দড়ি ছিঁড়ে গেল, আমার সন্তানেরা আমার কাছ থেকে প্রস্থান করলো, তারা আর নেই। আমার তাঁবু পুনর্বার টাঙ্গাতে ও আমার পর্দা ঝোলাতে এক জনও নেই।
21 কেননা পালকেরা পশুর মত হয়েছে, মাবুদের কাছে খোঁজ করে নি, এজন্য বুদ্ধিপূর্বক চলে নি, তাদের সমস্ত পাল ছিন্নভিন্ন হয়েছে।
22 কোলাহলের আওয়াজ! দেখ, তা উপস্থিত হচ্ছে, উত্তর দেশ থেকে বড় কলরব আসছে; এহুদার নগর সকল বিধ্বস্ত ও শিয়ালদের বাসস্থান করা হবে।
23 হে মাবুদ, আমি জানি, মানুষের পথ তার বশে নয়, মানুষ চলতে চলতে তার পদক্ষেপ স্থির করতে পারে না।
24 হে মাবুদ, আমাকে শাসন কর, কেবল বিচারপূর্বক কর; ক্রোধপূর্বক করো না, পাছে তুমি আমাকে ক্ষীণ করে ফেল।
25 ঢেলে দাও তোমার গজব সেই জাতিদের উপরে, যারা তোমাকে জানে না; সেই গোষ্ঠীগুলোর উপরে, যারা তোমার নামে ডাকে না; কেননা তারা ইয়াকুবকে গ্রাস করেছে, গ্রাস করে সংহার করেছে, তারা তার বাসস্থান শূন্য করেছে।
1
ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
2 তোমরা এই নিয়মের কথা শোন এবং এহুদার লোকদের কাছে ও জেরুশালেম-নিবাসীদের কাছে বল।
3 তুমি তাদেরকে বল, মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্ এই কথা বলেন, এই নিয়মের কথা যে কেউ না মানবে, সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক।
4 মিসর দেশ থেকে, সেই লোহার হাপর থেকে, তোমাদের পূর্বপুরুষদের বের করে আনবার দিনে আমি তাদের তা হুকুম করেছিলাম, বলেছিলাম, ‘তোমরা আমার কথায় মনোযোগ দিয়ো এবং আমি তোমাদের যেসব হুকুম দিই, তা পালন করো, তাতে তোমরা আমার লোক হবে এবং আমি তোমাদের আল্লাহ্ হব;
5 যেন আমি সেই শপথ সিদ্ধ করতে পারি, যে শপথ তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে, তাদেরকে আজকের মত এই দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ দেবার জন্য করেছিলাম।’ তখন আমি জবাব দিলাম, বললাম, আমিন, মাবুদ।
6
আর মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি এহুদার নগরে নগরে ও জেরুশালেমের পথে পথে এ সব কথা তবলিগ কর, বল, তোমরা এই নিয়মের কথা শোন ও সেসব পালন কর।
7 কেননা যেদিন আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে মিসর দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছি, খুব ভোরে উঠে আমি তাদেরকে দৃঢ়ভাবে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছি, তোমরা আমার কথা মান্য কর।
8 তবু তারা মনযোগ দিল না, কান দিল না, কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ দুষ্ট হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে আচরণ করলো; সেজন্য আমি এই নিয়মের সমস্ত কথা তাদের উপরে আরোপ করলাম; যে নিয়ম আমি তাদেরকে পালন করতে হুকুম দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা পালন করে নি।
9
আর মাবুদ আমাকে বললেন, এহুদার লোকদের মধ্যে ও জেরুশালেম নিবাসীদের মধ্যে চক্রান্ত পাওয়া গেছে।
10 তারা নিজেদের সেই পূর্বপুরুষদের অপরাধের প্রতি ফিরেছে, যারা আমার কথা শুনতে অস্বীকার করেছিল; আর তারা সেবা করবার জন্য অন্য দেবতাদের পিছনে গেছে; ইসরাইল-কুল ও এহুদা-কুল আমার সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছে, যা আমি তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করেছিলাম।
11 অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদের প্রতি অমঙ্গল ঘটাবো, তারা তা থেকে রক্ষা পেতে পারবে না; তখন তারা আমার কাছে কান্নাকাটি করবে, কিন্তু আমি তাদের কথা শুনব না।
12 আর এহুদার নগরগুলো ও জেরুশালেম-নিবাসীরা যে দেবতাদের কাছে ধূপ জ্বালিয়ে থাকে, তাদের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করবে, কিন্তু তারা বিপদের সময়ে তাদেরকে কোন মতে নিস্তার করবে না।
13 বস্তুত হে এহুদা, তোমার যত নগর তত দেবতা; এবং জেরুশালেমের যত সড়ক, তোমরা সেই লজ্জাস্পদ দেবতাদের জন্য তত কোরবানগাহ্, বালের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাবার জন্য তত ধূপগাহ্ স্থাপন করেছ।
14
অতএব তুমি এই জাতির জন্য মুনাজাত করো না, এদের জন্য খেদোক্তি কি মুনাজাত উৎসর্গ করো না, কেননা এরা বিপদে পড়ে যে সময়ে আমাকে ডাকবে, তখন আমি এদের কথা শোনব না।
15 আমার বাড়িতে আমার প্রিয়ার কি কাজ? সে তো অনেকের সঙ্গে জেনা করেছে এবং ওয়াদা ও কোরবানীর গোশ্ত দ্বারা কি তুমি শাস্তি এড়াতে পারবে? তুমি যখন দুষ্কর্ম কর, তখনই উল্লাস করে থাক।
16 মাবুদ তোমার নাম ‘ফলশোভায় মনোহর সবুজ জলপাই গাছ’ রেখেছিলেন; তিনি মহা তুমুল-শব্দ সহকারে তার উপরে আগুন জ্বালিয়েছেন, তাই তার ডালগুলো ভেঙ্গে পড়লো।
17 বাস্তবিক বাহিনীগণের মাবুদ, যিনি তোমাকে রোপণ করেছিলেন, তিনি তোমার বিরুদ্ধে অমঙ্গলের কথা বলেছেন, ‘ইসরাইল-কুলের ও এহুদা-কুলের নাফরমানী এর কারণ; তারা বালের কাছে ধূপ জ্বালিয়ে আমাকে অসন্তুষ্ট করাতে নিজেদের প্রতি নিজেরাই তার প্রতিফল বর্তিয়েছে।’
18
মাবুদ আমাকে জানালে পর আমি বুঝলাম; সেই সময়ে তুমি আমাকে তাদের কর্মকাণ্ড জানালে।
19 কিন্তু আমি জবেহ্ করার জন্য আনা নম্র গৃহপালিত ভেড়ার বাচ্চার মত ছিলাম; জানতাম না যে, তারা আমার বিরুদ্ধে কুমন্ত্রণা করেছে, বলেছে, এসো, আমরা ফলসুদ্ধ গাছটি নষ্ট করি, জীবিত লোকদের দেশ থেকে ওকে কেটে ফেলি, যেন ওর নাম আর স্মরণে না থাকে।
20 কিন্তু হে বাহিনীগণের মাবুদ, তুমি ধর্মত বিচার করে থাক, তুমি মর্মের ও অন্তঃকরণের পরীক্ষা করে থাক; তাদের প্রতি তোমার প্রতিশোধের দান আমাকে দেখতে দাও, কেননা তোমারই কাছে আমি আমার বিবাদের কথা নিবেদন করেছি।
21
এজন্য অনাথোতের লোকদের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, তারা তোমার প্রাণের খোঁজ করে, বলে, তুমি মাবুদের নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলো না, বললে আমাদের হাতে মারা পড়বে;
22 এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদেরকে প্রতিফল দেব; যুবকেরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে; তাদের পুত্রকন্যারা ক্ষুধায় মারা যাবে; তাদের অবশিষ্ট কেউ থাকবে না;
23 কেননা অনাথোতের লোকদেরকে প্রতিফল দেবার বছরে আমি তাদের প্রতি অমঙ্গল ঘটাবো।
1
হে মাবুদ, আমি যখন তোমার সঙ্গে ঝগড়া করি, তখন তুমিই ধর্মময়; তবুও তোমার সঙ্গে বাদানুবাদ করবো। দুষ্ট লোকদের পথ কেন কুশলযুক্ত হয়? যারা অতিশয় বিশ্বাসঘাতক, তারা কেন শান্তিতে থাকে?
2 তুমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছ; তারা মূল বেঁধেছে; তারা বৃদ্ধি পেয়ে ফলবানও হচ্ছে; তুমি তাদের মুখের নিকটস্থ, কিন্তু তাদের অন্তঃকরণ থেকে দূরবর্তী।
3 কিন্তু, হে মাবুদ, তুমি আমাকে জান, তুমি আমাকে দেখছ এবং তোমার প্রতি আমার মন কেমন, তার পরীক্ষা নিয়ে থাক; ওদেরকে ভেড়ার মত নিহত হবার জন্য টেনে নাও, হত্যার দিনের জন্য নিযুক্ত করে রাখ।
4 কত দিন দেশ শোক করবে ও সমস্ত ক্ষেতের ঘাস শুকনো থাকবে? দেশ-নিবাসীদের নাফরমানীর জন্য পশু ও পাখিগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; কারণ লোকেরা বলে, সে আমাদের শেষ দশা দেখবে না।
5
তুমি যদি পদাতিকদের সঙ্গে দৌড় দিয়ে থাক, আর তারা তোমাকে ক্লান্ত করে থাকে, তবে ঘোড়াগুলোর সঙ্গে কিভাবে পেরে উঠবে? আর যদিও শান্তির দেশে নির্ভয়ে থাক, তবুও জর্ডানের জঙ্গলে কি করবে?
6 বস্তুত তোমার ভাইয়েরা ও তোমার পিতৃকুল, তারাই তোমার প্রতি বেঈমানী করেছে, তারাই তোমার পিছনে ‘ধর ধর’ বলে ডাকছে; তারা তোমাকে ভাল ভাল কথা বললেও তাদের কথায় বিশ্বাস করো না।
7
আমি আমার বাড়ি ত্যাগ করেছি; আমার অধিকার ছেড়ে দিয়েছি, আমার প্রাণের প্রিয়পাত্রীকে দুশমনদের হাতে তুলে দিয়েছি।
8 আমার পক্ষে আমার অধিকার অরণ্যস্থ সিংহতুল্য হল; সে আমার বিরুদ্ধে হুঙ্কার করলো, এজন্য আমি তাকে ঘৃণা করেছি।
9 আমার পক্ষে কি আমার অধিকার ছাপযুক্ত শকুনীর মত হয়েছে? শকুনীরা কি চারদিকে তার বিরুদ্ধে এসেছে? চল, তোমরা সমস্ত বন্য পশু একত্র কর, তাদেরকে খাওয়াতে আন।
10 অনেক পালরক্ষক আমার আঙ্গুরক্ষেত বিনষ্ট করেছে, আমার ভূমি পদতলে দলিত করেছে, আমার সুন্দর ভূমিকে ধ্বংসিত মরুভূমি করেছে।
11 তারা তা ধ্বংসস্থান করেছে, তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে আমার কাছে মাতম করছে; সারা দেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, কেননা কেউ মনোযোগ দেয় না।
12 মরুভূমিতে গাছপালাহীন যেসব পাহাড় আছে, তাদের উপর দিয়ে বিনাশকরা এসেছে, বস্তুত মাবুদের তলোয়ার দেশের এক সীমা থেকে অপর সীমা পর্যন্ত সকলই গ্রাস করছে, কোন প্রাণীর শান্তি নেই।
13 তারা গম বুনেছে, কাঁটারূপ শস্য কেটেছে, অনেক কষ্ট করলেও কিছু উপকার পায় না; তোমরা মাবুদের জ্বলন্ত ক্রোধের দরুন তোমাদের ফলের বিষয়ে লজ্জিত হও।
14
আমার সমস্ত দুষ্ট প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মাবুদ এই কথা বলেন, আমি আমার লোক ইসরাইলকে যার অধিকারী করেছি, সেই অধিকার তারা স্পর্শ করে, দেখ, আমি তাদের ভূমি থেকে তাদেরকে উৎপাটন করবো এবং তাদের মধ্য থেকে এহুদা-কুলকেও উৎপাটন করবো।
15 আর তাদের উৎপাটনের পরে আমি আবার তাদের প্রতি করুণা করবো, তাদের প্রত্যেক জনকে পুনরায় তার অধিকারে ও তার ভূমিতে এনে দেব।
16 আর তারা যদি যত্নপূর্বক আমার লোকদের পথ শিখে এবং যেমন বালের নামে শপথ করতে আমার লোকদেরকে শিক্ষা দিত, তেমনি যদি জীবন্ত মাবুদের কসম বলে আমার নামে শপথ করে, তবে তারা আমার লোকদের মধ্যে একীভূত হবে।
17 কিন্তু তারা যদি কথা না শোনে, তবে আমি সেই জাতিকে উৎপাটন করবো, উৎপাটন করে বিনষ্ট করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
মাবুদ আমাকে এই কথা বললেন, তুমি যাও, মসীনা-সুতার একটি অন্তর্বাস ক্রয় কর ও তা কোমরে পর, তা পানিতে ডোবাবে না।
2 তাতে আমি মাবুদের কালাম অনুসারে এই অন্তর্বাস ক্রয় করলাম ও আমার কোমরে পরলাম।
3 পরে দ্বিতীয় বার মাবুদের কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
4 যথা, তুমি যে অন্তর্বাস ক্রয় করে কোমরে পরেছ, উঠ, তা নিয়ে ফোরাত নদীর কাছে গিয়ে সেখানকার শৈলের কোন ছিদ্রে লুকিয়ে রাখ।
5 তাতে আমি মাবুদের হুকুম অনুসারে গিয়ে ফোরাত নদীর কাছে তা লুকিয়ে রাখলাম।
6 পরে বহুদিন গত হলে মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি উঠ, ফোরাতের কাছে যাও এবং আমার হুকুমে সেখানে যে অন্তর্বাস লুকিয়ে রেখেছ, তা সেখান থেকে তুলে নাও।
7 তখন আমি ফোরাতের কাছে গেলাম এবং খনন করে যে স্থানে অন্তর্বাসটি লুকিয়ে রেখেছিলাম, সেখান থেকে তা তুলে নিলাম; আর দেখ, সেই অন্তর্বাসটি নষ্ট হয়েছে, কোন কাজের যোগ্য নয়।
8
তখন মাবুদের কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
9 যথা, মাবুদ এই কথা বলেন, এভাবে আমি এহুদার অহংকার ও জেরুশালেমের মহা অহংকার চূর্ণ করে ফেলবো।
10 এই যে দুষ্ট জাতি আমার কথা শুনতে অস্বীকার করে, নিজ নিজ হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে চলে এবং অন্য দেবতাদের সেবা ও তাদের কাছে সেজ্দা করার জন্য তাদের অনুগামী হয়, তারা এই অন্তর্বাসের মত হবে, যা কোন কাজের যোগ্য নয়।
11 কেননা মাবুদ বলেন, মানুষের কোমরে যেমন অন্তর্বাস জড়িয়ে থাকে, তেমনি আমি সমস্ত ইসরাইল-কুল ও সমস্ত এহুদা-কুলকে আমার সঙ্গে জড়িয়েছিলাম, যেন তারা আমার কীর্তি, প্রশংসা ও সম্মানের জন্য আমার লোক হয়; কিন্তু তারা শুনতে চাইল না।
12
অতএব তুমি তাদেরকে এই কথা বল, ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, প্রত্যেক কলসী আঙ্গুর-রসে পূর্ণ করা যাবে; তাতে তারা তোমাকে বলবে, প্রত্যেক কলসী যে আঙ্গুর-রসে পূর্ণ করা যাবে, তা আমরা কি জানি না?
13 তখন তুমি তাদেরকে বলো, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই দেশ-নিবাসী সমস্ত লোককে, অর্থাৎ দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ্দের, ইমামদের, নবীদের ও জেরুশালেম-নিবাসী সমস্ত লোককে মত্ততায় পূর্ণ করবো।
14 আর আমি এক জনকে অন্য জনের বিরুদ্ধে, আর পিতাদের ও পুত্রদের একসঙ্গে আছড়াব, মাবুদ এই কথা বলেন; আমি মমতা করবো না, কৃপা করবো না, করুণা করবো না; তাদেরকে বিনষ্ট করবো।
15
তোমরা শোন, কান দাও, অহঙ্কার করো না, কেননা মাবুদ কথা বলেছেন।
16 তোমরা সময় থাকতে নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের গৌরব স্বীকার কর, নতুবা তিনি অন্ধকার উপস্থিত করবেন, আর ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন পর্বতমালায় তোমাদের পায়ে হোঁচট লাগবে এবং তোমরা আলোর অপেক্ষা করলে তিনি তা মৃত্যুচ্ছায়াতে পরিণত করবেন, ঘোর অন্ধকারস্বরূপ করবেন।
17 তোমরা যদি এই কথা শোন, তবে তোমাদের দর্পের কারণে আমার প্রাণ নিরালায় কান্নাকাটি করবে এবং আমার চোখ অশ্রুপাত করবে, অশ্রুধারা বইবে, কেননা মাবুদের পাল বন্দী হল।
18 তুমি বাদশাহ্ ও মাতারাণীকে বল, তোমরা অবনত হও, বস, কেননা তোমাদের পাগড়ী, তোমাদের গৌরবের মুকুট খসে পড়লো।
19 দক্ষিণ প্রদেশের নগরগুলো রুদ্ধ হল; তা খুলে দেয়, এমন কেউ নেই; সমস্ত এহুদার লোকদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার সমস্ত লোক বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
20
তোমরা চোখ তুলে দেখ, ওরা উত্তর দিক থেকে আসছে; তোমাকে যে ভেড়ার পাল দেওয়া হয়েছিল, তোমার সেই সুন্দর ভেড়ার পাল কোথায়?
21 তুমি যাদেরকে আত্মীয়রূপে নিজের উপরে প্রভুত্ব করতে শিক্ষা দিয়েছ, যখন তিনি তাদেরকে মস্তকরূপে তোমার উপরে নিযুক্ত করবেন, সে সময় কি বলবে? প্রসবকালে যেমন স্ত্রীলোক, তেমনি তুমি কি যন্ত্রণাগ্রস্ত হবে না?
22 আর যদি তুমি মনে মনে বল, আমার এমন দশা কেন ঘটলো? তোমার অনেক অপরাধের দরুন তোমার পরিচ্ছদের শেষভাগ তুলে দেওয়া হল, তোমার পাদমূলের প্রতি জুলুম করা হল।
23 ইথিওপীয় কি তার ত্বক, কিংবা চিতাবাঘ কি তার চিত্রবিচিত্র পরিবর্তন করতে পারে? তা হলে দুষ্কর্ম অভ্যাস করেছ যে তোমরা, তোমরাও সৎকর্ম করতে পারবে।
24 আর আমি এদেরকে উড়িয়ে দেব, যেমন মরুভূমিস্থ বায়ুর সম্মুখে নাড়া উড়ে যায়।
25 এ-ই তোমার পরিণাম, আমা দ্বারা নিরূপিত তোমার অংশ, মাবুদ এই কথা বলেন; যেহেতু তুমি আমাকে ভুলে গেছ এবং মিথ্যাতে বিশ্বাস করেছ।
26 এজন্য আমিও তোমার পরিচ্ছদের শেষভাগ মুখের উপরিভাগ পর্যন্ত তুলে দেব, আর তোমার লজ্জা দেখা যাবে।
27 আমি পর্বতমালার উপরে ও মাঠে মাঠে তোমার ঘৃণিত ব্যাপারগুলো, তোমার জেনা, তোমার হ্্েরষা, তোমার পতিতাবৃত্তি সম্বন্ধীয় কুকর্ম দেখেছি। ধিক তোমাকে, জেরুশালেম! তুমি পাবিত্র থাকতে চাওনা; আর কত দিন এমন থাকবে?
1
ভারী অনাবৃষ্টির বিষয়ে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল।
2 এহুদা শোক করছে, তার নগর-দ্বারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেসব মলিন অবস্থায় ভূমিতে পড়ে আছে; আর জেরুশালেমের আর্তরব উর্ধ্বে উঠছে।
3 তাদের প্রধানেরা নিজ নিজ অধীনদের পানির জন্য পাঠায়; তারা গর্তগুলোর কাছে এসে একটুও পানি পায় না, শূন্য পাত্র হাতে করে ফিরে যায়; তারা লজ্জিত ও বিষণ্ন হয়ে মাথা ঢেকে রাখে।
4 দেশে বৃষ্টি না হওয়াতে ভূমি নিরাশ হয়েছে বলে কৃষকেরা লজ্জা পেয়ে নিজ নিজ মাথা ঢেকে রাখে।
5 এমন কি, ঘাস নেই বলে হরিণীও মাঠে প্রসব করে শিশু ত্যাগ করে চলে যায়।
6 বন্য গাধাগুলো গাছপালাহীন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে শিয়ালদের মত বাতাসের জন্য হাঁপায়; ঘাস না থাকাতে তাদের চোখ ক্ষীণ হয়েছে।
7
যদিও আমাদের অপরাধগুলো আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, তবুও, হে মাবুদ, তুমি তোমার নামের অনুরোধে কাজ কর; আমরা তো নানাভাবে বিপথগামী হয়েছি; আমরা তোমারই বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
8 হে ইসরাইলের আশাভূমি, সঙ্কটকালে তার উদ্ধারকর্তা, কেন তুমি এই দেশে প্রবাসী কিংবা এক রাতের পথিকের মত হও?
9 কেন তুমি স্তম্ভিত মানুষের মত, উদ্ধার করতে অসমর্থ বীরের মত হও? তবুও হে মাবুদ, তুমি আমাদের মধ্যবর্তী, আর আমাদের উপরে তোমার নাম কীর্তিত; আমাদেরকে পরিত্যাগ করো না।
10
মাবুদ এই জাতির বিষয়ে এই কথা বলেন, তারা এভাবেই ভ্রমণ করতে ভালবাসে, নিজ নিজ পা থামায় নি; এই কারণে মাবুদ তাদেরকে গ্রাহ্য করেন না; তিনি এখন তাদের অপরাধ স্মরণ করবেন, তাদের গুনাহ্গুলোর প্রতিফল দেবেন।
11
মাবুদ আমাকে আরও বললেন, তুমি এই জাতির পক্ষে মঙ্গল মুনাজাত করো না।
12 তারা রোজা করলেও আমি তাদের কাতরোক্তি শুনবো না, পোড়ানো-কোরবানী ও নৈবেদ্য কোরবানী করলেও তাদেরকে গ্রাহ্য করবো না, কিন্তু আমিই তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা তাদেরকে সংহার করবো।
13
তখন আমি বললাম, হায়, সার্বভৌম মাবুদ! দেখ, নবীরা তাদেরকে বলছে, তোমরা তলোয়ার দেখবে না, তোমাদের প্রতি দুর্ভিক্ষ ঘটবে না, কারণ আমি এই স্থানে তোমাদেরকে সত্যিই শান্তি দেব।
14 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, সেই নবীরা আমার নামে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে; আমি তাদেরকে প্রেরণ করি নি, তাদেরকে হুকুম দিই নি, তাদের কাছে কথা বলি নি; তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা দর্শন ও মন্ত্র, অবস্তু ও নিজ নিজ হৃদয়ের প্রতারণামূলক ভবিষ্যদ্বাণী বলে।
15 এজন্য যে নবীরা আমার নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, আমি তাদেরকে না পাঠালেও বলে, এই দেশে তলোয়ার কি দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হবে না, তাদের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ দ্বারা সেই নবীদের বিনাশ হবে।
16 আর তারা যে জাতির কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সে জাতি দুর্ভিক্ষ ও তলোয়ারের দরুন জেরুশালেমের পথে পথে নিক্ষিপ্ত হবে এবং তাদের ও তাদের স্ত্রী ও পুত্রকন্যাদেরকে কবর দেবার জন্য কেউ থাকবে না; কারণ আমি তাদের নাফরমানীকে তাদের উপরে ঢেলে দেব।
17 আর তুমি তাদেরকে এই কথা বল, দিনরাত আমার চোখ থেকে পানির ধারা পড়ুক, তা নিবৃত্ত না হোক, কেননা আমার জাতির কুমারী কন্যা মহাভঙ্গে ও বিষম আঘাতে ভগ্ন হল।
18 আমি যদি বের হয়ে ক্ষেতে যাই, তবে দেখ, তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোক; যদি নগরে প্রবেশ করি, তবে দেখ, ক্ষুধায় অসুস্থ হওয়া লোক; কারণ নবী ও ইমাম উভয়ে দেশ পর্যটন করে, কিছুই জানে না।
19
তুমি কি এহুদাকে নিতান্তই অগ্রাহ্য করেছ? তোমার প্রাণ কি সিয়োনকে ঘৃণা করেছে? তুমি আমাদেরকে কেন এমন আঘাত করলে যে, আমারা সুস্থ হতে পারছি না? আমরা শান্তির অপেক্ষা করলাম, কিছুই মঙ্গল হল না; সুস্থতার সময়ের অপেক্ষা করলাম, আর দেখ, উদ্বেগ!
20 হে মাবুদ, আমরা আমাদের নাফরমানী ও আমাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধ স্বীকার করছি; কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
21 তুমি তোমার নামের অনুরোধে আমাদের ঘৃণা করো না, তোমার মহিমার সিংহাসনকে অনাদরের পাত্র করো না; আমাদের সঙ্গে তোমার নিয়ম স্মরণ কর, ভঙ্গ করো না।
22 জাতিদের অসার দেবতাদের মধ্যে এমন কে আছে যে বৃষ্টি দিতে পারে? কিংবা আসমান কি পানি বর্ষণ করতে পারে? হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্, তুমিই কি সেই বৃষ্টিদাতা নও? এজন্য আমরা তোমার অপেক্ষায় থাকব, কেননা তুমিই এসব করে থাক।
1
তখন মাবুদ আমাকে বললেন, মূসা ও শামুয়েল যদি আমার সম্মুখে দাঁড়াত, তবুও আমার প্রাণ এই জাতির অনুকূল হত না; তুমি আমার সম্মুখ থেকে তাদেরকে বিদায় কর, তারা চলে যাক।
2 আর যদি তারা তোমাকে বলে, কোথায় চলে যাব? তবে তাদের বলো, মাবুদ এই কথা বলেন, মৃত্যুর পাত্র মৃত্যুর স্থানে, তলোয়ারের পাত্র তলোয়ারের স্থানে, দুর্ভিক্ষের পাত্র দুর্ভিক্ষের স্থানে ও বন্দীত্বের পাত্র বন্দীত্বের স্থানে গমন করুক।
3 মাবুদ বলেন, আমি চার জাতিকে তাদের উপরে নিযুক্ত করবো; হত্যা করার জন্য তলোয়ার, টানাটানি করার জন্য কুকুর, খেয়ে ফেলবার ও বিনাশ করার জন্য আসমানের পাখি ও ভূমির পশু।
4 আর আমি এমন করবো যে তারা দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যে ভেসে বেড়াবে; এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের পুত্র মানশার জন্য, জেরুশালেমে তার কৃতকর্মের জন্য এসব করবো।
5
হে জেরুশালেম, কে তোমাকে রহম করবে? কেই বা তোমার জন্য মাতম করবে? কেই বা তোমার মঙ্গল জিজ্ঞাসা করতে আসবে?
6 মাবুদ বলেন, তুমিই আমাকে ত্যাগ করেছ, তুমি পিছিয়ে পড়েছ, এজন্য আমি তোমার বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে তোমাকে নষ্ট করেছি; আমি মাফ করতে করতে ক্লান্ত হলাম।
7 আমি তাদেরকে দেশের তোরণদ্বারগুলোর মধ্যে কুলাতে করে ঝেড়েছি, তাদেরকে সন্তান-বিরহিত করেছি, আমার লোকদেরকে বিনষ্ট করেছি, তারা নিজেদের পথ থেকে ফিরে নি।
8 তাদের বিধবারা আমার সম্মুখে সমুদ্রের বালি হতেও বহুসংখ্যক হয়েছে; আমি তাদের কাছে যুবকদের জননীর বিরুদ্ধে মধ্যাহ্নকালে বিনাশক এক জনকে এনেছি, অকস্মাৎ তার প্রতি দুঃখ ও বিহ্বলতা উপস্থিত করেছি।
9 সপ্ত সন্তানের জননী ক্ষীণা হয়েছে, প্রাণত্যাগ করেছে, দিন থাকতে তার সূর্য অস্তগমন করেছে, সে লজ্জিতা ও হতাশ হয়েছে; আর আমি তাদের অবশিষ্টাংশকে দুশমনদের সম্মুখে তলোয়ারের হাতে তুলে দেব, মাবুদ এই কথা বলেন।
10
হায়! হায়! মা আমার, আমি সমস্ত দুনিয়ার বিরোধের ও বিবাদের পাত্র, তুমি আমাকে কেন প্রসব করেছ? আমি তো কাউকেও সুদের জন্য ঋণ দেই নি, আমাকেও কেউ দেয় নি, তবুও সকলে আমাকে বদদোয়া দিচ্ছে।
11 মাবুদ বললেন, আমি নিশ্চয়ই তোমাকে মুক্ত করে তোমার মঙ্গল করবো; নিশ্চয়ই দুশমনদেরকে সঙ্কটকালে ও দুর্দশার সময়ে তোমার কাছে ফরিয়াদ করাব।
12
লোহা, উত্তর দেশীয় লোহা ও ব্রোঞ্জ কি ভাঙ্গা যায়?
13 আমি তোমার ঐশ্বর্য ও ধনকোষগুলো লুণ্ঠিত দ্রব্য হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করবো; তোমার গুনাহ্গুলোর জন্য তোমার সীমার সর্বত্রই করবো।
14 আর তোমার দুশমনদের দ্বারা তোমার অজ্ঞাত একটি দেশে তোমাকে নিয়ে যাব; কেননা আমার ক্রোধে আগুন জ্বলে উঠলো, তা তোমাদের উপরে জ্বলে উঠবে।
15
হে মাবুদ, তুমিই জান; আমাকে স্মরণ কর, আমার তত্ত্বানুসন্ধান কর, আমার তাড়নাকারীদেরকে অন্যায়ের প্রতিশোধ দাও, তোমার দীর্ঘসহিষ্ণুতায় আমাকে হরণ করো না; জেনো আমি তোমার জন্য টিট্কারি সহ্য করেছি।
16 যখন তোমার কালামগুলো পাওয়া গেল, আমি সেগুলো ভোজন করলাম, আর তোমার কালামগুলো আমার আমোদ ও অন্তরের হর্ষজনক ছিল; কেননা হে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, আমার উপরে তোমার নাম কীর্তিত।
17 আমি পরিহাসকারীদের সভাতে বসি নি, উল্লাস করি নি; তোমার হাত আমার উপর ছিল বলে একাকী বসতাম, কেননা তুমি আমাকে ক্রোধে পূর্ণ করেছ।
18 আমার যাতনা নিত্যস্থায়ী ও আমার ক্ষত দুরারোগ্য কেন? তা চিকিৎসা অগ্রাহ্য করছে। তুমি কি আমার কাছে মিথ্যা স্রোত ও অস্থায়ী পানির মত হবে?
19
অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যদি ফিরে এসো, তবে আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনবো, তুমি আমার সাক্ষাতে দাঁড়াবে; এবং যদি নিকৃষ্ট বস্তু থেকে কাঞ্চন বের করে নাও, তবে আমার মুখস্বরূপ হবে; ওরা তোমার কাছে ফিরে আসবে, কিন্তু তুমি ওদের কাছে ফিরে যাবে না।
20 আর আমি এই জাতির কাছে তোমাকে ব্রোঞ্জের দৃঢ় প্রাচীরস্বরূপ করবো; তারা তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করবে, কিন্তু তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না, কেননা তোমার নাজাত ও তোমার উদ্ধারের জন্য আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি, মাবুদ এই কথা বলেন।
21 আর আমি দুষ্টদের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করবো, নিষ্ঠুরদের হাত থেকে তোমাকে মুক্ত করবো।
1
আবার মাবুদের কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 যথা, তুমি এই স্থানে বিয়ে করো না, পুত্রকন্যাদের জন্ম দিও না,
3 কেননা এই স্থানে জাত পুত্র-কন্যাদের বিষয়ে এবং এই দেশে তাদের প্রসবকারিণী মাতাদের ও জন্মদাতা পিতাদের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন,
4 তারা অতি যন্ত্রণাদায়ক মরণে মরবে, তাদের জন্য কেউ মাতম করবে না, কেউ তাদেরকে দাফন করবে না; তারা ভূমির উপরে সারের মত পড়ে থাকবে; এবং তারা তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ দ্বারা হত হবে; তাদের লাশ আসমানের পাখিদের ও ভূমির পশুদের খাবার হবে।
5
বস্তুত মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি শোকের বাড়িতে প্রবেশ করো না, মাতম করতে যেও না, তাদের জন্য কান্নাকাটি করো না; কেননা, মাবুদ বলেন, আমি এই জাতি থেকে আমার শান্তি, অটল মহব্বত ও করুণা অপহরণ করেছি।
6 এই দেশে ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত লোক মরবে, কেউ তাদেরকে দাফন করবে না, লোকে তাদের জন্য মাতম করবে না ও তাদের জন্য কেউ তার অঙ্গের ক্ষত কিংবা মাথা মুণ্ডন করবে না;
7 মৃত লোকের জন্য শোককারীদেরকে সান্ত্বনাসূচক রুটি বিতরণ করবে না, পিতা কিংবা মাতার জন্য শোকে সান্ত্বনাসূচক পাত্রে পান করাবে না।
8 আর তুমি তাদের সঙ্গে ভোজন ও পান করতে বসবার জন্য কোন ভোজ-গৃহে প্রবেশ করবে না।
9 কেননা বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই স্থানে তোমাদের দৃষ্টি-গোচরে, তোমাদের বর্তমান সময়ে, আমোদের আওয়াজ ও আনন্দের আওয়াজ, বর ও কন্যার কণ্ঠস্বর নিবৃত্ত করবো।
10
আর তুমি এই জাতির কাছে এ সব কথা তবলিগ করলে যখন তারা তোমাকে বলবে, মাবুদ আমাদের বিরুদ্ধে এ সব মহাবিপদের কথা কেন বলেছেন? আমাদের অপরাধ কি? আমাদের গুনাহ্ কি, যা আমরা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের বিরুদ্ধে করেছি?
11 তখন তুমি তাদেরকে বলবে, মাবুদ বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে ত্যাগ করেছে, তারা অন্য দেবতাদের পিছনে গিয়ে তাদের সেবা করেছে, তাদের কাছে ভূমিতে উবুড় হয়েছে এবং আমাকে ত্যাগ করেছে, আমার শরীয়ত পালন করে নি।
12 আর তোমরা নিজেদের পূর্বপুরুষদের চেয়েও মন্দ আচরণ করেছ; কারণ দেখ, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দুষ্ট হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে চলছো, তাই আমার কথায় কান দিচ্ছ না।
13 এজন্য তোমাদের পূর্বপুরুষেরা ও তোমরা যে দেশ সম্পর্কে জান নি, এমন একটি দেশে আমি এই দেশ থেকে তোমাদেরকে নিক্ষেপ করবো; সেই স্থানে তোমরা দিনরাত অন্য দেবতাদের সেবা করবে, কেননা আমি তোমাদেরকে রহম করবো না।
14
এজন্য, মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে লোকেরা আর বলবে না, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, যিনি বনি-ইসরাইলকে মিসর দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছেন;
15 কিন্তু তারা বলবে, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, যিনি বনি-ইসরাইলকে উত্তর দেশ থেকে এবং আর যেসব দেশে তিনি তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন, সেসব দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছেন, বস্তুত আমি তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়েছিলাম, তাদের সেই দেশে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবো।
16
মাবুদ বলেন, দেখ, আমি অনেক জেলে আনাবো, তারা মাছের মত তাদেরকে ধরবে; পরে আমি অনেক শিকারী আনাবো, তারা শিকার করে প্রত্যেক পর্বত থেকে, প্রত্যেক উপপর্বত থেকে ও শৈলের ছিদ্রগুলো থেকে তাদেরকে আনবে।
17 কেননা তাদের সমস্ত পথে আমার দৃষ্টি আছে, তারা আমার সম্মুখ থেকে লুকানো নয় এবং তাদের অপরাধও আমার দৃষ্টি থেকে গুপ্ত নয়।
18 আমি প্রথমে তাদের অপরাধের ও তাদের গুনাহ্র দ্বিগুণ ফল দেব; কেননা তারা নিজেদের জঘন্য পদার্থরূপ শবে আমার দেশ নাপাক করেছে এবং নিজেদের ঘৃণার বস্তুগুলোতে আমার অধিকার পরিপূর্ণ করেছে।
19
হে মাবুদ, আমার বল ও আমার দুর্গ এবং সঙ্কটকালে আমার আশ্রয়, দুনিয়ার প্রান্তগুলো থেকে জাতিরা তোমার কাছে এসে বলবে, ‘কেবল মিথ্যা বিষয়ে ও অসার বস্তুতে আমাদের পূর্বপুরুষদের অধিকার ছিল, তার মধ্যে একটাও উপকারী নয়।
20 মানুষ কি নিজের জন্য দেবতা তৈরি করবে? তারা তো আল্লাহ্ নয়।’
21 এজন্য দেখ, আমি তাদেরকে জানাবো, একটিবার তাদেরকে আমার ক্ষমতা ও পরাক্রম জানাবো, তাতে তারা জানবে যে, আমার নাম মাবুদ।
1
এহুদার গুনাহ্ লোহার লেখনী ও হীরকের কাঁটা দিয়ে লেখা হয়েছে, তাদের চিত্তফলকে ও তাদের কোরবানগাহ্র শৃঙ্গে তা খোদাই করা হয়েছে।
2 আর তাদের বালকেরা সবুজ গাছের কাছে উঁচু পাহাড়ের উপরে তাদের কোরবানগাহ্ ও আশেরা-মূর্তিগুলো স্মরণ করে।
3 হে দেশের মধ্যেকার আমার পর্বত, আমি তোমার ঐশ্বর্য, তোমার সমস্ত ধনকোষ লুটদ্রব্যের মত বিতরণ করবো; গুনাহের দরুন তোমার সীমার সর্বত্র তোমার উচ্চস্থলীগুলোও বিতরণ করবো।
4 আমি তোমাকে যে অধিকার দিয়েছিলাম, তুমি নিজেই সেই অধিকার থেকে চ্যুত হবে এবং আমি তোমার অজ্ঞাত সেই দেশে তোমাকে দিয়ে দুশমনদের সেবা করাব; কারণ তোমরা আমার ক্রোধের আগুন জ্বালিয়েছ, তা চিরকাল জ্বলতে থাকবে।
5
মাবুদ এই কথা বলেন, যে ব্যক্তি মনুষ্যে নির্ভর করে, মাংসকে নিজের বাহু জ্ঞান করে ও যার অন্তঃকরণ মাবুদ থেকে সরে যায়, সে বদদোয়াগ্রস্ত।
6 সে মরুভূমিস্থ ঝাউ গাছের মত হবে, মঙ্গল আসলে তার দর্শন পাবে না, কিন্তু মরুভূমির উত্তপ্ত স্থানে ও নিবাসীহীন লবণ-ভূমিতে বাস করবে।
7 সেই ব্যক্তি দোয়াযুক্ত হোক, যে মাবুদের উপর নির্ভর করে, যার বিশ্বাসভূমি মাবুদ।
8 সে পানির ধারে লাগানো এমন গাছের মত হবে, যা স্রোতের ধারে মূল বিস্তার করে, গ্রীষ্মের আগমনে সে ভয় করবে না এবং তার পাতা সতেজ থাকবে; অনাবৃষ্টির বছরের সে নিশ্চিন্ত থাকবে, ফলদানেও নিবৃত্ত হবে না।
9
অন্তঃকরণ সবচেয়ে প্রবঞ্চক, তার রোগ দুরারোগ্য, কে তা বুঝতে পারে?
10 আমি মাবুদ অন্তঃকরণের অনুসন্ধান করি, আমি মর্মের পরীক্ষা করি; আমি প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ আচরণ অনুসারে নিজ নিজ কাজের ফল দিয়ে থাকি।
11 ডিমে তা না দিলেও যেমন তিতির পাখি বাচ্চাদের সংগ্রহ করে, তেমনি সেই ব্যক্তি যে অসৎ উপায়ে ধন সঞ্চয় করে, সেই ধন অর্ধেক বয়সে তাকে ছেড়ে যাবে এবং শেষকালে সে মূঢ় হয়ে পড়বে।
12
আদিকাল থেকে উচ্চে অবস্থিত মহিমা-সিংহাসন আমাদের পবিত্র স্থানের স্থান।
13 হে মাবুদ, ইসরাইলের প্রত্যাশাভূমি, যত লোক তোমাকে পরিত্যাগ করে, সকলেই লজ্জিত হবে। ‘যারা আমার কাছ থেকে সরে যায়, তাদের নাম ধূলিতে লেখা হবে; কারণ তারা জীবন্ত পানির ফোয়ারা মাবুদকে ত্যাগ করেছে।’
হযরত ইয়ারমিয়ার মুনাজাত
14 হে মাবুদ, আমাকে সুস্থ কর, তাতে আমি সুস্থ হব; আমাকে নিস্তার কর, তাতে আমি নিস্তার পাব, কেননা তুমি আমার প্রশংসাভূমি।
15 দেখ, ওরা আমাকে বলছে, মাবুদের কালাম কোথায়? তা একবার উপস্থিত হোক।
16 আমি তো তোমার দেওয়া পালরক্ষকের কাজ থেকে পালিয়ে যাই নি এবং অশুভ দিনেরও আকাঙক্ষা করি নি, তা তুমি জান; আমার মুখ থেকে যা বের হত, তা তোমার সম্মুখে ছিল।
17 আমার ত্রাসজনক হয়ো না; বিপদকালে তুমিই আমার আশ্রয়।
18 যারা আমাকে তাড়না করে, তারা লজ্জিত হোক, কিন্তু আমি যেন লজ্জিত না হই; তারা নিরাশ হোক, কিন্তু আমি যেন নিরাশ না হই; তুমি তাদের উপরে অমঙ্গলের দিন উপস্থিত কর ও দ্বিগুণ ধ্বংস দিয়ে তাদের ধ্বংস কর।
19
মাবুদ আমাকে এই কথা বললেন, এহুদার বাদশাহ্রা যে দ্বার দিয়ে ভিতরে আসে ও বাইরে যায়, তুমি জনসাধারণের সেই দ্বারে ও জেরুশালেমের সকল দ্বারে গিয়ে দাঁড়াও;
20 আর তাদের বল, হে এহুদার বাদশাহ্রা, হে সমস্ত এহুদা, হে সমস্ত জেরুশালেম-নিবাসী, তোমরা যত লোক এসব দ্বার দিয়ে ভিতরে এসে থাক, সকলে মাবুদের কালাম শোন।
21 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ প্রাণের বিষয়ে সাবধান হও, বিশ্রামবারে কোন বোঝা বহন কর না, জেরুশালেমের দ্বার দিয়ে ভিতরে এনো না।
22 আর বিশ্রামবারে নিজ নিজ বাড়ি থেকে কোন বোঝা বের করো না এবং কোন কাজ করো না; কিন্তু বিশ্রামবার পবিত্র করো, যেমন আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে হুকুম দিয়েছিলাম।
23 তবুও তারা শোনে নি, কান দেয় নি, কিন্তু নিজ নিজ ঘাড় শক্ত করেছিল, যেন কথা শুনতে কিংবা উপদেশ গ্রাহ্য করতে না হয়।
24
মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা যদি যত্নপূর্বক আমার কথায় কান দেও, বিশ্রামবারে এই নগর-দ্বার দিয়ে কোন বোঝা ভিতরে না আন, যদি বিশ্রামবার পবিত্র কর, সেই দিনে কোন কাজ না কর,
25 তবে দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ্রা ও প্রধানবর্গ রথে ও ঘোড়ায় চড়ে এই নগর-দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে, তারা, তাদের কর্মকর্তারা, এহুদার লোক ও জেরুশালেম নিবাসীরা প্রবেশ করবে এবং এই নগর নিত্যস্থায়ী বাসস্থান হবে।
26 আর এহুদার নগরগুলো, জেরুশালেমের চারদিকের অঞ্চল, বিন্ইয়ামীন প্রদেশ, নিম্নভূমি, পার্বতীয় দেশ ও দক্ষিণ দেশ থেকে লোকেরা পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানী ভক্ষ— নৈবেদ্য ও ধূপ নিয়ে আসবে; তারা মাবুদের গৃহে স্তবের উপহার আনবে।
27 কিন্তু যদি তোমরা আমার কথায় কান না দেও, বিশ্রামবার পবিত্র না কর, বিশ্রামবারে বোঝা বয়ে জেরুশালেমের দ্বারে প্রবেশ কর, তবে আমি তার সকল দ্বারে আগুন জ্বালাবো; তা জেরুশালেমের অট্টালিকা সকল গ্রাস করবে, কেউ নিভাতে পারবে না।
1
ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের কাছ থেকে এই কালাম নাজেল হল,
2 তুমি উঠে কুমারের বাড়িতে নেমে যাও, সেখানে আমি তোমাকে আমার কালাম শোনাব।
3 তখন আমি কুমারের বাড়িতে নেমে গেলাম, আর দেখ, সে কুলালচক্রে কাজ করছিল।
4 আর সে মাটি দিয়ে যে পাত্র তৈরি করছিল, তা যখন কুমারের হাতে নষ্ট হয়ে গেল, তখন সে তা নিয়ে আর একটি পাত্র তৈরি করলো, কুমারের দৃষ্টিতে যা ভাল সেই অনুসারেই করলো।
5
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল;
6 মাবুদ বলেন, হে ইসরাইল-কুল, তোমাদের সঙ্গে আমি কি এই কুমারের মত ব্যবহার করতে পারি না? হে ইসরাইল-কুল, দেখ, যেমন কুমারের হাতে মাটি, তেমনি আমার হাতে তোমরা।
7 যখন আমি কোন জাতির কিংবা রাজ্যের বিষয়ে উন্মূলন, উৎপাটন ও বিনাশের কথা বলি,
8 তখন আমি যে জাতির বিষয়ে কথা বলেছি, তারা যদি তাদের নাফরমানী থেকে ফিরে, তবে তাদের যে অমঙ্গল করতে আমার মনস্থ ছিল, তা থেকে আমি ক্ষান্ত হবো।
9 আর যখন আমি কোন জাতি কিংবা রাজ্যের বিষয়ে গেঁথে তুলবার ও রোপণ করার কথা বলি,
10 তখন তারা যদি আমার নির্দেশ না মেনে আমার সাক্ষাতে কদাচরণ করে, তবে তাদের যে মঙ্গল করার কথা ছিল, তা থেকে আমি ক্ষান্ত হবো।
11 অতএব এখন তুমি গিয়ে এহুদার লোকদের ও জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে অমঙ্গল প্রস্তুত করছি, তোমাদের বিরুদ্ধে সঙ্কল্প করছি; তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ থেকে ফির, নিজ নিজ পথ ও নিজ নিজ কাজকর্ম ভাল কর।
12
কিন্তু তারা বলে, আশা নেই, কেননা আমরা নিজেদেরই সঙ্কল্প অনুসারে চলবো, প্রত্যেকে নিজ নিজ দুষ্ট হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে কাজ করবো।
13
এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা এখন জাতিদের মধ্যে জিজ্ঞাসা কর, এরকম কথা কে শুনেছে? কুমারী ইসরাইল অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে।
14 লেবাননের তুষার কি তার পর্বতের ভাঙ্গন দিয়ে উধাও হয়ে যায়? কিংবা দূর থেকে আগত সুশীতল পানির স্রোত কি বন্ধ হয়?
15 বাস্তবিক আমার লোকেরা আমাকে ভুলে গেছে, তারা অসার মূর্তির উদ্দেশে ধূপ জ্বালাচ্ছে এবং এরা তাদের পথে, চিরন্তন পথে উচোট খেয়েছে, তারা সঠিক পথে না গিয়ে বিপথের পথিক হয়েছে।
16 এতে তারা তাদের দেশকে বিস্ময়ের ও নিত্যবিদ্রূপের বিষয় করে; যে কেউ তার কাছ দিয়ে গমন করবে, সে বিস্ময়াপন্ন হয়ে মাথা নাড়বে।
17 যেমন পূর্বীয় বায়ু করে, তেমনি আমি দুশমনদের সম্মুখে তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করবো; তাদের বিপদের সময়ে তাদেরকে পিঠ দেখাব, মুখ নয়।
18
তখন তারা বললো, চল, আমরা ইয়ারমিয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ করি, কেননা ইমামের কাছ থেকে শরীয়ত, জ্ঞানবানের কাছ থেকে মন্ত্রণা ও নবীর কাছ থেকে কালাম চলে যাবে না; চল, আমরা জিহ্বা দ্বারা ওকে প্রহার করি, ওর কোন কথায় মনোযোগ না করি।
19
হে মাবুদ, আমার প্রতি মনোযোগ দাও, যারা আমার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাদের কথা শোন।
20 উপকারের বদলে কি অপকার করা হবে? তারা তো আমার প্রাণের জন্য গর্ত খনন করেছে। স্মরণ কর, তাদের থেকে তোমার গজব ফিরাবার চেষ্টায় আমি তাদের পক্ষে মঙ্গলের কথা বলবার জন্য তোমার সম্মুখে দাঁড়াতাম।
21 অতএব তুমি তাদের সন্তানদেরকে দুর্ভিক্ষের হাতে তুলে দাও, তাদেরকে তলোয়ারের হস্তগত কর, আর তাদের স্ত্রীরা পুত্রহীনা ও বিধবা হোক, তাদের পুরুষেরা মহামারীতে বিনষ্ট ও তাদের যুবকেরা যুদ্ধে তলোয়ারের আঘাতপ্রাপ্ত হোক।
22 তুমি তাদের প্রতি অকস্মাৎ সৈন্যদল উপস্থিত করলে তাদের বাড়িগুলো থেকে কান্নার আওয়াজ শোনা যাক; কেননা তারা আমাকে ধরবার জন্য গর্ত খনন করেছে ও আমার পায়ের জন্য গোপনে ফাঁদ পেতেছে।
23 আর হে মাবুদ, প্রাণনাশ করার জন্য আমার বিরুদ্ধে তাদের কৃত সমস্ত মন্ত্রণা তুমিই জান; তুমি তাদের অপরাধ মাফ করো না, তাদের গুনাহ্ তোমার সম্মুখ থেকে মুছে ফেলো না; তারা তোমার সম্মুখে নিপাতিত হোক; তুমি তোমার ক্রোধের সময়ে তাদের শাস্তি দাও।
1
মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যাও, কুমারের কাছ থেকে একটি ঘট ক্রয় কর এবং লোকদের কতিপয় প্রাচীন লোক ও ইমামদের কিছু সংখ্যক প্রাচীন লোক সঙ্গে করে নাও।
2 আর খর্পরদ্বারের প্রবেশ-স্থানের কাছে হিন্নোম-সন্তানের যে উপত্যকা আছে, সেই স্থানে গমন কর; পরে আমি তোমাকে যে কথা বলবো, তা সেই স্থানে তবলিগ কর।
3 এই কথা বল, হে এহুদার বাদশাহ্রা, হে জেরুশালেম-নিবাসীরা, মাবুদের কালাম শোন; বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই স্থানের উপর এমন অমঙ্গল ঘটাবো যে, তা যে শুনবে, তার কান শিহরিয়ে উঠবে।
4 কারণ তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছে, এই স্থান নাপাক স্থান করেছে এবং তারা, তাদের পূর্বপুরুষেরা ও এহুদার বাদশাহ্রা যাদেরকে জানত না, এমন অন্য দেবতাদের উদ্দেশে এই স্থানে ধূপ জ্বালিয়েছে, আর নির্দোষদের রক্তে এই স্থান পরিপূর্ণ করেছে।
5 তারা বালের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী হিসেবে নিজ নিজ পুত্রদেরকে আগুনে পোড়াবার জন্য বালের উচ্চস্থলী নির্মাণ করেছে; তা আমি হুকুম করি নি, উচ্চারণ করি নি এবং তা আমার মনেও উদয় হয় নি।
6 এই কারণ, মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যখন এই স্থান আর তোফৎ কিংবা হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকা নামে আখ্যাত হবে না, কিন্তু হত্যার উপত্যকা বলে আখ্যাত হবে।
7 আর আমি এই স্থানে এহুদার ও জেরুশালেমের মন্ত্রণা বিফল করবো এবং দুশমনদের সম্মুখে তলোয়ার দ্বারা ও তাদের যারা প্রাণনাশ করতে চায় সেই লোকদের দ্বারা তাদেরকে নিপাত করবো; আমি তাদের লাশ খাদ্যের জন্য আসমানের পাখিদেরকে ও ভূমির পশুদেরকে দেব।
8 আর আমি এই নগর বিস্ময়ের ও শিশ শব্দের বিষয় করবো, যে কেউ এর কাছ দিয়ে যাতায়াত করবে, সে এর প্রতি উপস্থিত সকল আঘাত দেখে বিস্মিত হবে ও শিশ দেবে।
9 আর যখন তাদের দুশমনেরা ও যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায় তাদের কর্তৃক তারা অবরুদ্ধ ও ক্লিষ্ট হবে, তখন আমি তাদেরকে তাদের পুত্রদের ও কন্যাদের মাংস ভোজন করাব এবং তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ বন্ধুর মাংস ভোজন করবে।
10
পরে তুমি তোমার সঙ্গী পুরুষদের সাক্ষাতে সেই ঘট ভেঙ্গে ফেলবে,
11 এবং তাদেরকে বলবে, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, যেমন কুমারের কোন পাত্র ভেঙ্গে ফেললে আর তা জোড়া দেওয়া যায় না, তেমনি আমি এই জাতি ও এই নগর ভেঙ্গে ফেলবো; তাতে কবর দেবার জন্য স্থানের অভাবে লোকেরা তোফতে কবর দেবে।
12 মাবুদ বলেন, আমি এই স্থান ও এই স্থানের অধিবাসীদের প্রতি এই কাজ করবো, আমি এই নগর তোফতের মত করবো।
13 তাতে জেরুশালেমের বাড়িগুলো ও এহুদার বাদশাহ্দের বাড়িগুলো, অর্থাৎ যে সমস্ত বাড়ির ছাদে তারা আসমানের সমস্ত বাহিনীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত এবং অন্য দেবতাদের উদ্দেশে পানীয় নৈবেদ্য ঢালত, সেসব বাড়ি তোফতের মত নাপাক স্থান হবে।
14
পরে মাবুদ ইয়ারমিয়াকে ভবিষ্যদ্বাণী বলবার জন্য যেখানে পাঠিয়েছিলেন, তিনি সেই তোফৎ থেকে এসে মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সমস্ত লোককে বললেন,
15 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই নগরের ও এর নিকটস্থ নগরগুলোর বিষয়ে যেসব অমঙ্গলের কথা বলেছি, সেসবই এদের উপরে ঘটাব, কারণ এরা নিজ নিজ ঘাড় শক্ত করেছে, যেন আমার কথা শুনতে না হয়।
1
ইয়ারমিয়া যখন এসব ভবিষ্যদ্বাণী তবলিগ করছিলেন, তখন ইম্মেরের সন্তান ইমাম পশ্হূর, মাবুদের গৃহের প্রধান নেতা, সেই কথা শুনল।
2 পশ্হূর ইয়ারমিয়া নবীকে প্রহার করে মাবুদের গৃহগামী বিন্ইয়ামীনের উচ্চতর দ্বারে অবস্থিত হাঁড়ি-কাঠে তাঁকে আটক করে রাখল।
3 পরের দিন পশ্হূর ইয়ারমিয়াকে হাঁড়িকাঠ থেকে মুক্ত করে আনলো। তখন ইয়ারমিয়া তাকে বললেন, মাবুদ তোমার নাম পশ্হূর রাখেন নি, কিন্তু মাগোরমিষাবীব [চারদিকেই ভয়] রেখেছেন।
4 কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার পক্ষে ও তোমার সমস্ত বন্ধুর পক্ষে তোমাকে ভয়ের পাত্র করবো। তারা দুশমনদের তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে ও তুমি স্বচক্ষে তা দেখবে এবং আমি সমস্ত এহুদাকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে তুলে দেব; তাতে সে তাদেরকে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবে ও তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করবে।
5 আর আমি এই নগরের সমস্ত সম্পত্তি, শ্রমোপার্জিত অর্থ, বহুমূল্য বস্তু ও এহুদার বাদশাহ্দের ধনকোষগুলো দুশমনদের হাতে প্রদান করবো; আর তারা সেসব লুটপাট করে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবে।
6 আর হে পশ্হূর, তুমি ও তোমার গৃহনিবাসীরা সকলে বন্দীদশার স্থানে যাবে, তুমি ব্যাবিলনে উপস্থিত হবে, সেই স্থানে মরবে ও সেই স্থানে তোমাকে দাফন করা হবে; তোমার এবং যাদের কাছে তুমি মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলেছ, তোমার সেসব বন্ধুরও সেই গতি হবে।
7
হে মাবুদ, তুমি আমাকে প্ররোচনা করলে আমি প্ররোচিত হলাম; তুমি আমা থেকে বলবান, তুমি আমাকে পরাভূত করেছ। আমি সমস্ত দিন উপহাসের পাত্র হয়েছি, সকলেই আমাকে ঠাট্টা করে।
8 যতবার আমি কথা বলি, ততবার চেঁচিয়ে উঠি; দৌরাত্ম্য ও লুটপাট বলে চেঁচাই; মাবুদের কালামের দরুন সমস্ত দিন আমাকে উপহাস ও বিদ্রূপ করা হয়।
9 যদি বলি, তাঁর বিষয় আর উল্লেখ করবো না, তাঁর নামে আর কিছু বলবো না, তবে আমার অন্তরে যেন জ্বলন্ত আগুন হয়ে অস্থিমধ্যে বন্ধ হয়ে থাকে; তা সহ্য করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, সত্যিই আমি আর তা ভিতরে রাখতে পারি না।
10 কারণ আমি অনেকের ফিস্ফিসানি শুনছি, চারদিকে ভয় রয়েছে। ‘তোমরা অভিযোগ কর এবং আমরাও ওর নামে অভিযোগ করবো,’ আমার সমস্ত বন্ধু আমার স্খলনের অপেক্ষা করে এই কথা বলে, ‘কি জানি, সে প্ররোচিত হবে, আর আমরা প্রবল হয়ে তাকে পরাজিত করে প্রতিশোধ নেব।’
11 কিন্তু মাবুদ শক্তিশালী যোদ্ধার মত আমার সঙ্গে থাকেন, এজন্য আমার তাড়নাকারীরা হোঁচট খাবে, প্রবল হবে না, বুদ্ধিপূর্বক না চলাতে তারা মহালজ্জিত হবে; সেই অপমান সবসময় থাকবে, তা কেউ ভুলে যাবে না।
12 কিন্তু, হে বাহিনীগণের মাবুদ, তুমি তো ধার্মিকের পরীক্ষক, মর্ম ও হৃদয়ের পরিদর্শক, তুমি তাদেরকে প্রতিশোধ দাও, আমি দেখি, কেননা আমি আমার বিবাদের বিষয় তোমারই কাছে প্রকাশ করলাম।
13 তোমরা মাবুদের উদ্দেশে গান কর, মাবুদের প্রশংসা কর, কারণ তিনি দুর্বৃত্তদের হাত থেকে দরিদ্র লোকের প্রাণ উদ্ধার করেছেন।
14
আমি যেদিন জন্মেছিলাম, সেদিন বদদোয়াগ্রস্ত হোক; আমার মা যেদিন আমাকে প্রসব করেছিলেন, সেদিন দোয়া-বিহীন হোক।
15 ‘তোমার পুত্র-সন্তান হল’, এই সংবাদ দিয়ে যে ব্যক্তি আমার পিতাকে পরমানন্দিত করেছিল, সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক।
16 মাবুদ মাফ না করে যেসব নগর ধ্বংস করেছিলেন, ঐ ব্যক্তি সেসব নগরের মত হোক; সে খুব ভোরে কান্নাকাটির আওয়াজ ও মধ্যাহ্নকালে চিৎকারের আওয়াজ শুনুক।
17 তিনি কেন আমাকে গর্ভের মধ্যে মেরে ফেললেন না? তা হলে আমার জননী আমার কবর হতেন, তাঁর গর্ভ নিত্য ভারী থাকতো।
18 লজ্জায় জীবন কাটাবার জন্য আমি কষ্ট ও খেদ দেখতে কেন গর্ভ থেকে বের হয়ে আসলাম?
1
সিদিকিয় বাদশাহ্ মল্কিয়ের সন্তান পশ্হূরকে ও মাসেয়ের পুত্র সফনিয় ইমামকে ইয়ারমিয়ার কাছে এই কথা বলবার জন্য প্রেরণ করেছিলেন,
2 যথা, ‘তুমি আমাদের জন্য মাবুদের কাছে জিজ্ঞাসা কর, কেননা ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন; হয় তো মাবুদ তাঁর নিজের সমস্ত অলৌকিক কাজ অনুসারে আমাদের প্রতি ব্যবহার করবেন, তা হলে ঐ বাদশাহ্ আমাদের কাছ থেকে ফিরে যাবেন।’ সেই সময়ে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল।
3
ইয়ারমিয়া তাদেরকে বললেন, তোমরা সিদিকিয়কে এই কথা বল,
4 মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, তোমরা যেসব যুদ্ধাস্ত্র দ্বারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সঙ্গে ও তোমাদের অবরোধকারী কল্দীয়দের সঙ্গে প্রাচীরের বাইরে যুদ্ধ করছো, আমি সেই সবের মুখ তোমাদের দিকে ফিরিয়ে দেব এবং এই নগরের মধ্যে সেসব সংগ্রহ করবো।
5 আর আমি আমার প্রসারিত হাত ও বলবান বাহু দ্বারা ক্রোধে, রোষে ও মহাকোপে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবো।
6 আমি এই নগরবাসী সমস্ত মানুষ ও পশুকে সংহার করবো; তারা মহামারীতে মারা পড়বে।
7 আর, মাবুদ বলেন, তারপর আমি এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়, তার গোলামদের ও লোকদেরকে, এমন কি, এই নগরের যেসব লোক মহামারী, তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ থেকে অবশিষ্ট থাকবে, তাদেরকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাতে, তাদের দুশমনদের হাতে ও যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায় সেই লোকদের হাতে তুলে দেব; সেই বাদশাহ্ তলোয়ারের আঘাতে তাদেরকে আঘাত করবে, তাদের প্রতি মমতা করবে না, মাফ কিংবা করুণা করবে না।
8
আর তুমি এই লোকদের বল, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, তোমাদের সম্মুখে আমি জীবনের পথ ও মৃত্যুর পথ রাখছি।
9 যে ব্যক্তি এই নগরে থাকবে, সে তলোয়ারে, দুর্ভিক্ষে ও মহামারীতে মারা পড়বে; কিন্তু যে ব্যক্তি বাইরে গিয়ে তোমাদের অবরোধকারী কল্দীয়দের পক্ষে দাঁড়াবে, সে বাঁচবে এবং তার প্রাণ তার পক্ষে লুটদ্রব্যের মত হবে।
10 কেননা, মাবুদ বলেন, আমি অমঙ্গলের জন্য এই নগরের বিপরীতে আমার মুখ রেখেছি, মঙ্গলের জন্য নয়; এটা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হস্তগত হবে এবং সে এই শহর আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
11
আর এহুদার বাদশাহ্র কুলের বিষয় তোমরা মাবুদের কালাম শোন;
12 হে দাউদের কুল, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা খুব ভোরে বিচার নিষ্পত্তি কর এবং লুণ্ঠিত ব্যক্তিকে উপদ্রবীর হাত থেকে উদ্ধার কর, নতুুবা তোমাদের আচরণের নাফরমানীর দরুন আমার ক্রোধ আগুনের মত বের হবে এবং এমনভাবে পুড়িয়ে দেবে যে, কেউ তা নিভাতে পারবে না।
13 হে উপত্যকা-নিবাসীনী, উপত্যকার শৈলবাসিনী, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; তোমরা বলছো, আমাদের বিপরীতে কে নেমে আসবে? আমাদের নিবাসে কে প্রবেশ করবে?
14 মাবুদ বলেন, আমি তোমাদের কাজের ফল অনুসারে তোমাদেরকে সমুচিত দণ্ড দেব; আমি তার বনে আগুন জ্বালাবো, তা তার চারদিকে সবকিছুই গ্রাস করবে।
1
মাবুদ এই কথা বললেন, তুমি এহুদার রাজপ্রাসাদে গিয়ে সেই স্থানে এই কথা বল।
2 তুমি বল, হে দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট এহুদার বাদশাহ্, তুমি, তোমার গোলামেরা ও এই সমস্ত দ্বার দিয়ে প্রবেশকারী তোমার লোকেরা, তোমরা মাবুদের কালাম শোন।
3 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান কর এবং লুণ্ঠিত ব্যক্তিকে জুলুমবাজের হাত থেকে উদ্ধার কর; বিদেশী, এতিম ও বিধবাদের প্রতি অন্যায় জুলুম করো না এবং এই স্থানে নির্দোষের রক্তপাত করো না।
4 কেননা তোমরা যদি এই কথা যত্নপূর্বক পালন কর, তবে দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ্রা তাদের গোলামদের ও লোকদের সঙ্গে রথে ও ঘোড়ায় চড়ে এই বাড়ির দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে।
5 কিন্তু, তোমরা যদি এসব কালাম অনুসারে না চল, তবে, মাবুদ বলেন, আমি আমারই নামে শপথ করছি যে, এই বাড়ি উৎসন্ন স্থান হবে।
6 কেননা মাবুদ এহুদার বাদশাহ্র কুলের বিষয়ে এই কথা বলেন, তুমি আমার কাছে গিলিয়দ ও লেবানন-শৃঙ্গ; কিন্তু অবশ্য আমি তোমাকে মরুভূমি ও জনবসতিহীন নগরগুলোর সমান করবো।
7 আর তোমার বিরুদ্ধে বিনাশক পুরুষদের প্রত্যেককে অস্ত্রসহ প্রস্তুত করবো; তারা তোমার উৎকৃষ্ট এরস গাছগুলো কেটে ফেলে আগুনে নিক্ষেপ করবে।
8
আর বিভিন্ন জাতির লোকেরা এই নগরের কাছ দিয়ে যাবে এবং তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ সঙ্গীকে বলবে, মাবুদ কি জন্য এই মহানগরের প্রতি এমন ব্যবহার করেছেন?
9 তখন তারা জবাবে বলবে, কারণ এই লোকেরা নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের নিয়ম ত্যাগ করে অন্য দেবতাদের কাছে সেজ্দা করতো ও তাদের সেবা করতো।
10 তোমরা মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করো না, তার জন্য মাতম করো না; যে ব্যক্তি প্রস্থান করছে, বরং তারই জন্য ভীষণ কান্নাকাটি কর; কেননা সে আর ফিরে আসবে না, তাঁর জন্মভূমি আর দেখবে না।
11
বস্তুত ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যে শল্লুম তার পিতা ইউসিয়ার পদে রাজত্ব করেছিল ও এই স্থান থেকে চলে গেছে, তার বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, সে এই স্থানে আর ফিরে আসবে না;
12 কিন্তু যে স্থানে বন্দীরূপে নীত হয়েছে; সেই স্থানে মারা যাবে, এই দেশ আর দেখবে না।
13
ধিক্ তাকে, যে অধর্ম দ্বারা তার বাড়ি ও অন্যায় দ্বারা তার উঁচু কক্ষ নির্মাণ করে, যে বিনা বেতনে তার প্রতিবেশীকে খাটায় এবং তার শ্রমের ফল তাকে দেয় না;
14 যে বলে, ‘আমি নিজের জন্য একটি বড় বাড়ি ও প্রশস্ত উঁচু কক্ষ নির্মাণ করবো,’ এবং সে তার নিজের জন্য জানালা বসায়; আর এরস কাঠ দিয়ে ঘর আবৃত করে এবং লাল রং লেপন করে।
15 এরস গাছ নিয়ে প্রতিযোগিতা করছো বলেই কি তুমি বাদশাহ্ থাকবে? তোমার পিতা কি ভোজন পান করতো না, বিচার ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান কি করতো না? এর জন্যই তার মঙ্গল হল।
16 সে দুঃখী দীনহীনের বিচার করতো বলে তার মঙ্গল হল। মাবুদ বলেন, আমাকে জানা কি তা-ই নয়?
17 কিন্তু তোমার চোখ ও তোমার অন্তঃকরণ কেবল তোমারই লাভ ও নির্দোষের রক্তপাত এবং উপদ্রবের ও দৌরাত্মের অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছুই লক্ষ্য করে না।
18 অতএব ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, তার বিষয়ে লোকেরা ‘হায় আমার ভাই,’ কিংবা ‘হায় আমার বোন’ বলে মাতম করবে না এবং ‘হায় প্রভু,’ কিংবা ‘হায় তাঁর গৌরব’ বলেও মাতম করবে না।
19 গাধার কবরের মত তার কবর হবে; লোকে তাকে টেনে জেরুশালেমের দ্বারের বাইরে ফেলে দেবে।
20
তুমি লেবাননে গিয়ে ক্রন্দন কর; বাশনে গিয়ে জোরে চিৎকার কর; এবং অবারীম থেকে ক্রন্দন কর; কেননা তোমার প্রেমিকেরা সকলে বিনষ্ট হল।
21 তোমার শান্তির সময়ে আমি তোমার কাছে কথা বলেছিলাম, কিন্তু তুমি বলেছিলে, আমি শুনব না; তোমার বাল্যকাল থেকেই তোমার ব্যবহার এই রকম; তুমি আমার কথা মান্য কর নি।
22 বায়ু তোমার সমস্ত পালককে খেয়ে ফেলবে; তোমার প্রেমিকেরা বন্দীদশার স্থানে গমন করবে; বস্তুত তখন তুমি তোমার সমস্ত দুষ্কর্মের দরুন লজ্জিত ও বিষণ্ন হবে।
23
হে লেবানন বাসিনী! এরস বনে বাসকারিণী! যখন তুমি প্রসব যন্ত্রণার মত যন্ত্রণা পাবে, তখন কেমন কাতরোক্তি করবে।
24
মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, যিহোয়াকীমের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ কনিয় আমার ডান হাতে থাকা মোহরের মত হলেও আমি তোমাকে সেখান থেকে ফেলে দেব।
25 আর যারা তোমার প্রাণের খোঁজ করে তাদের হাতে ও যাদের তুমি ভয় পাও তাদের হাতে অর্থাৎ ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার ও কল্দীয়দের হাতে তোমাকে তুলে দেব।
26 আর তোমাকে ও তোমার প্রসবকারিণী মাকে তুলে অন্য দেশে নিক্ষেপ করবো, যে দেশে তোমার জন্ম হয় নি; সেই স্থানে তোমরা মরবে।
27 কিন্তু যে দেশে ফিরে আসতে তাদের প্রাণ আকাঙক্ষা করে, সেখানে তারা ফিরে আসতে পারবে না।
28
এই কনিয় কি তুচ্ছ ভাঙ্গা পাত্র? এ কি অপ্রীতিজনক পাত্র? এই ব্যক্তি ও এর বংশ কেন বহিঙ্কৃত হয়েছে? তাদের অজ্ঞাত দেশে কেন নিক্ষিপ্ত হয়েছে?
29
হে দেশ, দেশ, দেশ, মাবুদের কালাম শোন।
30 মাবুদ এই কথা বলেন, এই ব্যক্তির বিষয়ে লেখ, এ নিঃসন্তান, এই পুরুষ জীবনকালে কৃতকার্য হবে না; কারণ এর বংশের কোন ব্যক্তি কৃতকার্য হবে না, দাউদের সিংহাসনে উপবেশন ও এহুদার উপরে কর্তৃত্ব করবে না।
1
মাবুদ বলেন, ধিক্ সেই পালকদেরকে যারা আমার পালের ভেড়াগুলোকে নষ্ট ও ছিন্নভিন্ন করে।
2 এজন্য মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, যে পালকেরা আমার লোকদেরকে চরায়, তাদের বিরুদ্ধে এই কথা বলেন, তোমরা আমার ভেড়াগুলোকে ছিন্নভিন্ন করেছ, তাদের তাড়িয়ে দিয়েছ, তাদের তত্ত্বাবধান কর নি; দেখ, আমি তোমাদের আচরণের নাফরমানীর প্রতিফল তোমাদেরকে দেব, মাবুদ এই কথা বলেন।
3 আর আমি যেসব দেশে আমার পাল তাড়িয়ে দিয়েছি, সেখান থেকে তার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করবো, পুনর্বার তাদেরকে খোঁয়াড়ে আনবো এবং তারা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হবে।
4 আর আমি তাদের উপরে এমন পালকদেরকে নিযুক্ত করবো, যারা তাদের চরাবে; তখন তারা আর ভয় পাবে না কিংবা নিরাশ হবে না এবং কেউ নিরুদ্দেশ হবে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
5
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি দাউদের বংশে একটি ধার্মিক তরুশাখা উৎপন্ন করবো; তিনি বাদশাহ্ হয়ে রাজত্ব করবেন, বুদ্ধিপূর্বক চলবেন এবং দেশে ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করবেন।
6 তাঁর সময়ে এহুদা উদ্ধার পাবে ও ইসরাইল নির্ভয়ে বাস করবে, আর তিনি এই নামে আখ্যাত হবেন, “মাবুদ আমাদের ধার্মিকতা।”
7
অতএব, মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে লোকেরা আর বলবে না, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, যিনি বনি-ইসরাইলকে মিসর দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছেন,
8 কিন্তু তারা বলবে, সেই জীবন্ত মাবুদের কসম, যিনি ইসরাইলের কুলজাত বংশকে উত্তর দেশ থেকে এবং যেসব দেশে আমি তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছিলাম, সেসব দেশ থেকে উঠিয়ে এনেছেন, চালিয়ে এনেছেন; আর তারা তাদের দেশে বাস করবে।
9
নবীদের বিষয়: আমার অন্তরে হৃদয় ভেঙ্গে পড়ছে, আমার সমস্ত অস্থি কাঁপছে; মাবুদের হেতু ও তাঁর পবিত্র কালামের হেতু আমি মাতালের মত, আঙ্গুর-রসে মত্ত ব্যক্তির মত হয়েছি।
10 কেননা দেশ জেনাকারীগণে পরিপূর্ণ; হ্যাঁ, বদদোয়ার কারণে দেশ শোক করছে; মরুভূমিস্থ চরাণিস্থানগুলো শুকিয়ে গেছে; এবং লোকদের গমন-পথ মন্দ হয়েছে ও তাদের পরাক্রম ন্যায়সঙ্গত নয়।
11 কেননা নবী ও ইমাম উভয়ে গুনাহ্গার হয়েছে; মাবুদ বলেন, আমার গৃহেও আমি তাদের দুষ্কর্ম দেখেছি।
12 এই কারণে তাদের পক্ষে তাদের পথ অন্ধকারময় পিচ্ছিল স্থানের মত হবে; তারা তাড়া খেয়ে তার মধ্যে পড়বে; কেননা তাদেরকে প্রতিফল দেবার বছরে আমি তাদের প্রতি অমঙ্গল ঘটাবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
13 আমি সামেরিয়ার নবীদের মধ্যে অসঙ্গত ব্যাপার দেখেছিলাম; তারা বালের নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলতো ও আমার লোক ইসরাইলকে ভ্রান্ত করতো।
14 আর জেরুশালেমের নবীদের মধ্যে সাংঘাতিক ব্যাপার দেখেছি; তারা জেনা করে ও মিথ্যার পথে চলে এবং দুর্বৃত্তদের হাত এমন বলবান করে যে, কেউ তার কুপথ থেকে ফেরে না; তারা সকলে আমার কাছে সাদুমের মত এবং সেখানকার নিবাসীরা আমুরার সমান হয়েছে।
15
এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ সেই নবীদের বিষয়ে এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদেরকে নাগদানা ভোজন করাব, বিষবৃক্ষের রস পান করাব, কেননা জেরুশালেমের নবীদের থেকে নাফরমানী উৎপন্ন হয়ে সমস্ত দেশ ছেয়ে ফেলেছে।
16
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, ঐ যে নবীরা তোমাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তাদের কথা শুনো না, তারা তোমাদেরকে ভুলায়; তারা নিজ নিজ হৃদয়ের দর্শন বলে, মাবুদের মুখে শুনে বলে না।
17 যারা আমাকে অবজ্ঞা করে, তাদের কাছে তারা অবিরত বলে, মাবুদ বলেছেন, তোমাদের শান্তি হবে; এবং যারা নিজ নিজ হৃদয়ের কঠিনতায় চলে, তাদের প্রত্যেক জনকে বলে, অমঙ্গল তোমাদের কাছে আসবে না।
18 বাস্তবিক কে মাবুদের সভায় দাঁড়িয়ে দেখেছে ও তাঁর কালাম শুনেছে? কে আমার কথায় কান দিয়ে তা শুনতে পেয়েছে?
19 দেখ, মাবুদের ঝটিকা, তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ, হ্যাঁ, ঘূর্ণিবাতাস বয়ে যাচ্ছে; তা দুষ্টদের মাথায় লাগবে।
20 যে পর্যন্ত মাবুদ তাঁর মনের অভিপ্রায় সফল ও সিদ্ধ না করেন, সে পর্যন্ত তাঁর ক্রোধ ফিরবে না; তোমরা শেষকালে তা সমপূর্ণভাবে বুঝতে পারবে।
21 আমি সেই নবীদেরকে প্রেরণ করি নি, তারা নিজেরা দৌড়েছে; আমি তাদেরকে বলি নি, তারা নিজেরা ভবিষ্যদ্বাণী বলেছে।
22 কিন্তু তারা যদি আমার সভায় দাঁড়াত, তবে আমার লোকদেরকে আমার কালাম শোনাত এবং তাদের কুপথ ও তাদের নাফরমানী কাজ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখত।
23
মাবুদ বলেন, আমি কি কেবল কাছের আল্লাহ্, দূরের কি আল্লাহ্ নই?
24 মাবুদ বলেন, এমন গুপ্ত স্থানে কি কেউ লুকাতে পারে যে, আমি তাকে দেখতে পাব না? আমি কি বেহেশত ও দুনিয়ার সমস্ত স্থান জুড়ে থাকি না? মাবুদ এই কথা বলেন।
25 নবীরা যা বলেছে, তা আমি শুনেছি, তারা আমার নামে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, যথা, আমি স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখেছি।
26 যে নবীরা মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, যারা নিজের অন্তঃকরণের কপটতার নবী, তাদের অন্তঃকরণে তা কত কাল থাকবে?
27 তাদের সঙ্কল্প এই, তাদের পূর্বপুরুষেরা বাল দেবতার দরুন যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিল, তেমনি তারা নিজ নিজ প্রতিবেশীর কাছে নিজ নিজ স্বপ্নের বৃত্তান্ত কথন দ্বারা আমার লোকদেরকে আমার নাম ভুলে যেতে দেবে।
28 যে নবী স্বপ্ন দেখেছে, সে স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলুক; এবং যে আমার কালাম পেয়েছে, সে সত্যরূপে আমার কালামই বলুক। মাবুদ বলেন, শস্যের কাছে খড়ের মূল্য কি?
29 মাবুদ বলেন, আমার কালাম কি আগুনের মত নয়? তা কি হাতুড়ির মত নয়, যা পাথর টুকরা টুকরা করে?
30
অতএব মাবুদ বলেন, দেখ, যেসব নবী নিজ নিজ প্রতিবেশী থেকে আমার কালাম হরণ করে, আমি তাদের বিপক্ষ।
31 মাবুদ বলেন, দেখ, আমি সেই সকল নবীর বিপক্ষ, যারা নিজ নিজ জিহ্বা ব্যবহার করে বলে, ‘তিনিই বলেন।’
32 মাবুদ বলেন, দেখ, আমি তাদের বিপক্ষ, যারা মিথ্যা স্বপ্নের ভবিষ্যদ্বাণী বলে ও তার বৃত্তান্ত বলে, নিজেদের মিথ্যা কথা ও দাম্ভিকতা দ্বারা আমার লোকদেরকে ভ্রান্ত করে; কিন্তু আমি তাদেরকে পাঠাই নি, তাদেরকে হুকুম দেই নি; তারা এই লোকদের কিছুমাত্র উপকারী হতে পারে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
33
আর যে সময়ে এসব লোক কিংবা কোন নবী বা ইমাম তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, মাবুদের দৈববাণী কি? তখন তুমি তাদেরকে বলবে, তোমরাই প্রভুর ভার! মাবুদ বলেন, আমি তোমাদেরকে দূর করে দেব।
34 আর যে কোন নবী, ইমাম বা সামান্য লোক বলবে, ‘মাবুদের দৈববাণী,’ তাকে ও তার কুলকে আমি প্রতিফল দেব।
35 তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীকে ও আপন আপন ভাইকে এই কথা বলবে, মাবুদ কি জবাব দিয়েছেন?
36 আর, মাবুদ কি বলেছেন? কিন্তু ‘মাবুদের দৈববাণী,’ এই কথা আর উচ্চারণ করো না; কারণ প্রত্যেকে নিজের কথাই তার পক্ষে দৈববাণী হবে; কেননা তোমরা জীবন্ত আল্লাহ্র, আমাদের আল্লাহ্ বাহিনীগণের মাবুদের কালাম বিপরীত করেছ।
37 তোমরা নবীকে বলো, মাবুদ তোমাকে কি জবাব দিয়েছেন? আর, মাবুদ কি বলেছেন?
38 কিন্তু ‘মাবুদের দৈববাণী,’ এই কথা যদি বল, তবে মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা বলছো, ‘মাবুদের দৈববাণী’; কিন্তু আমি তোমাদের কাছে লোক প্রেরণ করে বলেছি, ‘মাবুদের দৈববাণী’ এই কথা বলো না।
39 এজন্য দেখ, আমি তোমাদের একেবারে তুলে নেব এবং তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে নগর দিয়েছি, তাসুদ্ধ তোমাদের আমার কাছ থেকে দূর করে দেব।
40 আর আমি এমন নিত্যস্থায়ী দুর্নাম ও নিত্যস্থায়ী অপমান তোমাদের উপর আনব, যা লোকে ভুলে যাবে না।
1
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার যিহোয়াকীমের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিকনিয়, এহুদার কর্মকর্তাদের, শিল্পকর ও কর্মকারদেরকে জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে বন্দী করে নিয়ে যাবার পর মাবুদ আমাকে দর্শন দিলেন; আর দেখ, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের সম্মুখে রয়েছে দুই ডালা ডুমুর ফল।
2 তার মধ্যে একটি ডালায় প্রথমে পাকা ডুমুর ফলের মত অতি উত্তম ফল ছিল, আর একটি ডালায় অতি মন্দ ফল ছিল, এমন মন্দ যে খাওয়া যায় না।
3 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, ইয়ারমিয়া, তুমি কি দেখছ? আমি বললাম, ডুমুর ফল; উত্তম ফল অতি উত্তম এবং মন্দ ফল অতি মন্দ, এমন মন্দ যে খাওয়া যায় না।
4
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
5 ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন, আমি এহুদার যে বন্দীদের এই স্থান থেকে কল্দীয়দের দেশে পাঠিয়েছি, তাদের এই উত্তম ডুমুর ফলের মত করে মঙ্গলার্থে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবো।
6 কারণ আমি মঙ্গলার্থে তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখবো ও পুনর্বার তাদেরকে এই দেশে আনবো; তাদেরকে গাঁথব, উৎপাটন করবো না; রোপণ করবো, উন্মূলন করবো না।
7 আর আমিই যে মাবুদ, তা জানবার মন তাদেরকে দেব; আর তারা আমার লোক হবে ও আমি তাদের আল্লাহ্ হব; কেননা তারা সর্বান্তঃকরণে আমার প্রতি ফিরে আসবে।
8
আর যে মন্দ ফল, এমন মন্দ যে তা খাওয়া যায় না, তা যেমন, সত্যিই মাবুদ এই কথা বলেন, তেমনি আমি এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়কে তার কর্মকর্তাদেরকে ও জেরুশালেমের অবশিষ্ট লোকদেরকে— যারা এই দেশে রয়েছে তাদের এবং যারা মিসর দেশে বাস করছে তাদেরকে— তুলে দেব;
9 আমি অমঙ্গলার্থে তাদের দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যে ভেসে বেড়াবার জন্য তুলে দেব; এবং যেসব স্থানে তাড়িয়ে দেব, সেসব স্থানে তাদেরকে উপহাস, প্রবাদ, বিদ্রূপ ও বদদোয়ার পাত্র করবো।
10 আর আমি তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দিয়েছি, সেখান থেকে তারা যে পর্যন্ত নিঃশেষে উচ্ছিন্ন না হয়, সে পর্যন্ত তাদের মধ্যে তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী প্রেরণ করবো।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের প্রথম বছরে, এহুদার সমস্ত লোকের বিষয়ে এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল;
2 নবী ইয়ারমিয়া এহুদার সমস্ত লোক ও জেরুশালেম-নিবাসী সকলের কাছে তা তবলিগ করে বললেন,
3 আমোনের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ ইউসিয়ার ত্রয়োদশ বছর থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ এই তেইশ বছর কাল মাবুদের কালাম আমার কাছে উপস্থিত হয়েছে এবং আমি তোমাদের তা বলেছি, খুব ভোরে উঠে বলেছি, কিন্তু তোমরা শোন নি।
4 আর মাবুদ তাঁর সমস্ত গোলাম নবীদেরকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, খুব ভোরে উঠে পাঠিয়েছেন, কিন্তু তোমরা শোন নি, শুনবার জন্য কানও দেয় নি।
5 তাঁরা বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ থেকে ও নিজ নিজ আচরণের নাফরমানী থেকে ফির, তাতে মাবুদ তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দিয়েছেন, তোমরা সেখানে যুগে যুগে চিরকাল বাস করতে পারবে।
6 আর অন্য দেবতাদের সেবা ও তাদের কাছে সেজ্দা করার জন্য তাদের পিছনে যেও না, নিজেদের হাতের তৈরি বস্তু দ্বারা আমাকে অসন্তুষ্ট করো না; তাতে আমি তোমাদের অমঙ্গল করবো না।
7 কিন্তু, মাবুদ বলেন, তোমরা আমার কথা শোন নি, এভাবে নিজেদের হস্তকৃত বস্তু দ্বারা আমাকে অসন্তুষ্ট করে নিজেদের অমঙ্গল ঘটাচ্ছ।
8
অতএব বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা আমার কালাম শোন নি,
9 এজন্য দেখ, আমি হুকুম পাঠিয়ে উত্তর দিকস্থ সমস্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে আসবো, মাবুদ বলেন, আমি আমার গোলাম ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারকে আনবো ও তাদেরকে এই দেশের বিরুদ্ধে, এই স্থানের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে ও এর চারদিকের সব জাতির বিরুদ্ধে আনবো; এবং এদেরকে নিঃশেষে বিনষ্ট করবো এবং বিস্ময়ের ও বিদ্রূপের বিষয় ও চিরস্থায়ী উৎসন্ন স্থান করবো।
10 আর এদের মধ্য থেকে আমোদের আওয়াজ ও আনন্দের আওয়াজ, বর, কন্যার কণ্ঠস্বর, যাঁতার আওয়াজ ও প্রদীপের আলো সংহার করবো।
11 তাতে সমগ্র দেশটি উৎসন্ন স্থান ও বিস্ময়ের বিষয় হবে; এবং এই জাতিরা সত্তর বছর ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলামী করবে।
12
মাবুদ আরও বলেন, সত্তর বছর সমপূর্ণ হলে আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্কে ও সেই জাতিকে তাদের অপরাধের সমুচিত প্রতিফল দেব, কল্দীয়দের দেশকে চিরস্থায়ী ধ্বংস-স্থান করবো।
13 আর সেই দেশের বিরুদ্ধে আমি যা যা বলেছি, এই কিতাবে যা যা লেখা আছে, ইয়ারমিয়া সমস্ত জাতির বিরুদ্ধে যে ভবিষ্যদ্বাণী বলেছে, আমার সেসব কালাম ঐ দেশের প্রতি সফল করবো।
14 বস্তুত অনেক জাতি ও মহান বাদশাহ্রা তাদের দিয়ে গোলামী করাবে এবং আমি তাদের কাজ অনুসারে ও হাতের কাজ অনুসারে প্রতিফল তাদের দেব।
15
বাস্তবিক মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, আমাকে এই কথা বললেন, তুমি আমার হাত থেকে এই ক্রোধরূপ আঙ্গুর-রসের পানপাত্র গ্রহণ কর এবং যে সমস্ত জাতির কাছে আমি তোমাকে পাঠাই, তাদেরকে তা পান করাও।
16 তারা পান করবে, মাতাল হবে এবং তাদের মধ্যে যে তলোয়ার আমি পাঠাব, তার দরুন পাগল হয়ে যাবে। তোমরা আমার কালাম শোন নি,
17 তখন আমি মাবুদের হাত থেকে সেই পানপাত্র গ্রহণ করলাম এবং মাবুদ যে সমস্ত জাতির কাছে আমাকে পাঠালেন, তাদেরকে পান করালাম।
18 যাদেরকে পান করালাম তারা এই— জেরুশালেম ও এহুদার নগরগুলোকে এবং তার বাদশাহ্দের ও কর্মকর্তাদেরকে— যেন তারা উৎসন্ন স্থান এবং বিস্ময়ের, বিদ্রূপের ও বদদোয়ার বিষয় হয়;
19 যেমন আজ হচ্ছে— মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন, তার গোলামেরা, তার কর্মকর্তারা ও তার সমস্ত লোক;
20 এবং সমস্ত মিশ্রিত জাতি, ঊষ দেশের সমস্ত বাদশাহ্ ও ফিলিস্তিনীদের দেশের সমস্ত বাদশাহ্,
21 অস্কিলোন, গাজা, ইক্রোণ ও অস্দোদের অবশিষ্টাংশ;
22 ইদোম, মোয়াব ও অম্মোনীয়রা; এবং টায়ারের সমস্ত বাদশাহ্, সিডনের সমস্ত বাদশাহ্ ও সমুদ্রপারস্থ উপকূলের বাদশাহ্রা,
23 দদান, টেমা, বূষ ও কপালের পার্শ্বদ্বয়ের চুল ছোট করে কাটা সমস্ত লোক,
24 এবং আরবের সমস্ত বাদশাহ্ ও মরুভূমিবাসী মিশ্রিত জাতিদের সমস্ত বাদশাহ্;
25 এবং সিম্রীর সমস্ত বাদশাহ্, এলমের সমস্ত বাদশাহ্ ও মাদীয়দের সমস্ত বাদশাহ্;
26 এবং উত্তর দিকের কাছে ও দূরের সমস্ত বাদশাহ্, নির্বিশেষে এই সকলে; ভূতলে যত রয়েছে, দুনিয়ার সেসব রাজ্য; আর এদের পরে শেশকের বাদশাহ্ পান করবে।
27
আর তুমি তাদেরকে এই কথা বলবে, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্ এই কথা বলেন, তোমরা পান করে মাতাল হয়ে বমি কর এবং তোমাদের মধ্যে আমার প্রেরিত তলোয়ারের দরুন পড়ে যাও, আর উঠো না।
28
আর যদি তারা তোমার হাত থেকে পান করার জন্য পাত্রটি গ্রহণ করতে অসম্মত হয়, তবে তাদের বলবে, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের অবশ্যই তা পান করতে হবে।
29 কেননা দেখ, আমার নাম যার উপরে কীর্তিত হয়েছে, আমি প্রথমত সেই নগরের অমঙ্গল করি; আর তোমরা কি নিতান্তই অদণ্ডিত থাকবে? তোমরা অদণ্ডিত থাকবে না; কারণ আমি দুনিয়া-নিবাসীমাত্রের বিরুদ্ধে তলোয়ার আহ্বান করবো, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
30
অতএব তুমি তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে এ সব কথা তবলিগ কর, তাদেরকে বল, মাবুদ ঊর্ধ্বলোক থেকে হুঙ্কার করবেন, তাঁর পবিত্র বাসস্থান থেকে তাঁর স্বর শোনাবেন; তিনি তাঁর বাথানের বিরুদ্ধে ভারী হুঙ্কার করবেন; তিনি দুনিয়া-নিবাসীমাত্রের বিরুদ্ধে আঙ্গুর মাড়াইকারীর মত সিংহনাদ করবেন।
31 দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত শোরগোল প্রতিধ্বনিত হবে, কেননা জাতিদের সঙ্গে মাবুদের ঝগড়া আছে; তিনি সমস্ত মানুষের বিচার করবেন; যারা দুষ্ট, তাদেরকে তিনি তলোয়ারের হাতে তুলে দেবেন, মাবুদ এই কথা বলেন।
32
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, এক জাতির পরে অন্য জাতির প্রতি অমঙ্গল উপস্থিত হবে এবং দুনিয়ার প্রান্ত থেকে প্রচণ্ড ঘূর্ণিবায়ু উঠবে।
33
সেসময় মাবুদ কর্তৃক নিহত লোকগুলো দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে দুনিয়ার অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দেখা যাবে; কেউ তাদের জন্য মাতম করবে না এবং তাদেরকে সংগ্রহ করা কি কবর দেওয়া যাবে না, তারা ভূমির উপরে সারের মত পড়ে থাকবে।
34 ভেড়ার রাখালেরা, তোমরা হাহাকার ও কান্নাকাটি কর; ভেড়া পালের নেতৃবর্গ, তোমরা ধূলিতে লুণ্ঠিত হও, কেননা তোমাদের হত্যার ও ছিন্নভিন্ন হবার সময় এসে পড়েছে; আর তোমরা সুন্দর একটি পাত্রের মত পড়ে গিয়ে চুরমার হবে।
35 ভেড়ার রাখালদের পলায়ন-স্থান কিংবা ভেড়ার আগে গমনকারীদের উত্তরণ-স্থান থাকবে না।
36 ভেড়ার রাখালদের ক্রন্দনের আওয়াজ ও ভেড়ার আগে গমনকারীদের হাহাকার শোনা যাচ্ছে, কেননা মাবুদ তাদের চরাণি-স্থান উচ্ছিন্ন করছেন।
37 আর মাবুদের জ্বলন্ত ক্রোধের দরুন শান্তিযুক্ত বাথানগুলো বিনষ্ট হচ্ছে।
38 যুবসিংহ যেন তার গহ্বর ছেড়ে এসেছে; বস্তুত উৎপীড়ক তলোয়ারের রোষ ও তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধের দরুন তাদের দেশ বিস্ময়ের স্থান হল।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের রাজত্বের আরম্ভে এই কালাম মাবুদের কাছ থেকে নাজেল হল,
2 যথা, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি মাবুদের গৃহের প্রাঙ্গণে দাঁড়াও এবং মাবুদের গৃহে সেজ্দা করার জন্য আগত এহুদার সমস্ত নগরবাসীদের যেসব কথা বলতে আমি তোমাকে হুকুম করি, সেসব তাদেরকে বল, একটা কথাও চেপে রেখো না।
3 হয় তো তারা শুনবে ও প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ থেকে ফিরবে; তা হলে তাদের আচরণের নাফরমানীর জন্য আমি তাদের যে অমঙ্গল করতে মনস্থ করেছি, তা থেকে ক্ষান্ত হবো।
4 তুমি তাদের বলবে, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা যদি আমার কথা না শোন; আমি তোমাদের সম্মুখে যে শরীয়ত দিয়েছি, সেই পথে না চল;
5 আমি তোমাদের কাছে যাদেরকে পাঠিয়ে আসছি, কিন্তু খুব ভোরে উঠে পাঠালেও যাদের কথা তোমরা শোন নি, আমার গোলাম সেই নবীদের কালাম না শোন;
6 তবে আমি এই গৃহ শীলোর সমান করবো এবং এই নগর দুনিয়ার জাতির কাছে বদদোয়ার বিষয় করবো।
7
যখন ইয়ারমিয়া মাবুদের গৃহে এসব কথা বললেন, তখন ইমামেরা, নবীরা ও সমস্ত লোক তা শুনলো।
8 আর ইয়ারমিয়া সমস্ত লোকের কাছে মাবুদের হুকুমের সমস্ত কথা বলে শেষ করলে পর ইমামেরা, নবীরা ও সমস্ত লোক লোক তাঁকে ধরে বললো, তুমি মরবেই মরবে;
9 তুমি কেন মাবুদের নাম করে এই ভবিষ্যদ্বাণী বলেছ যে, এই গৃহ শীলোর সমান হবে এবং নগর উৎসন্ন, জনবসতিহীন হবে? আর সমস্ত লোক মাবুদের গৃহে ইয়ারমিয়ার কাছে একত্র হল।
10
তখন এহুদার কর্মকর্তারা এই কথা শুনে রাজপ্রাসাদ থেকে মাবুদের গৃহে উঠে আসলেন এবং মাবুদের গৃহের নতুন দ্বারের প্রবেশ-স্থানে বসলেন।
11 পরে ইমাম ও নবীরা কর্মকর্তাদেরকে ও সমস্ত লোককে বললো, এই ব্যক্তি প্রাণদণ্ডের যোগ্য, কেননা সে এই নগরের বিপরীতে ভবিষ্যদ্বাণী বলেছে, তোমরা তো নিজের কানে তা শুনেছ।
12
তখন ইয়ারমিয়া সমস্ত কর্মকর্তা ও সমস্ত লোককে বললেন, তোমরা যেসব কথা শুনলে, এই গৃহ ও এই নগরের বিপরীতে এই সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী বলতে মাবুদই আমাকে প্রেরণ করেছেন।
13 অতএব এখন তোমরা নিজ নিজ পথ ও কাজকর্ম বিশুদ্ধ কর, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথায় মনযোগ দাও; তা হলে মাবুদ তোমাদের বিরুদ্ধে যে অমঙ্গলের কথা বলেছেন, তা করতে ক্ষান্ত হবেন।
14 আর আমি, দেখ, আমি তোমাদের হস্তগত; তোমাদের দৃষ্টিতে যা ভাল ও ন্যায্য, তা-ই আমার প্রতি কর।
15 কেবল নিশ্চয় জেনো, যদি তোমরা আমাকে হত্যা কর, তবে নিজেদের উপরে, এই নগরের উপরে ও এই স্থানের অধিবাসীদের উপরে নির্দোষের রক্তপাতের অপরাধ বর্তাবে, কেননা সত্যিই ঐ সমস্ত কথা তোমাদের কর্ণগোচরে বলবার জন্য মাবুদ আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন।
16
তখন কর্মকর্তারা ও সমস্ত লোকেরা তাদের ইমাম ও নবীদেরকে বললো, এই ব্যক্তি প্রাণদণ্ডের যোগ্য নয়, কেননা ইনি আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নামে আমাদের কাছে কথা বলেছেন।
17 তখন দেশের প্রাচীনদের মধ্যে কয়েকজন উঠে লোকদের সমস্ত সমাজকে বললেন,
18 এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয়ের সময়ে মোরেষ্টীয় মিকাহ্ ভবিষ্যদ্বাণী বলতেন; তিনি এহুদার সমস্ত লোককে বলেছিলেন, ‘বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, সিয়োন ক্ষেতের মত কর্ষিত হবে, জেরুশালেম কাঁথড়ার ঢিবি হয়ে যাবে; এবং সেই গৃহের পর্বত বনস্থ উচ্চস্থলীর সমান হবে।’
19 বল দেখি, এহুদার বাদশাহ্ হিষ্কিয় ও সমস্ত এহুদা কি তাকে হত্যা করেছিলেন? তিনি কি মাবুদকে ভয় করে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ জানালেন না? তা করাতে মাবুদ তাঁদের বিরুদ্ধে যে অমঙ্গলের কথা বলেছিলেন, তা থেকে ক্ষান্ত হলেন। আমরা তো নিজ নিজ প্রাণের বিরুদ্ধে ভারী অমঙ্গল করছি।
20
এছাড়া, আর এক জন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মাবুদের নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলতেন, তিনি কিরিয়ৎ-যিয়ারীমস্থ শমরিয়ের পুত্র ঊরিয়; তিনি ইয়ারমিয়ার মত এই নগরেরর ও এই দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বলেছিলেন।
21 আর যখন যিহোয়াকীম বাদশাহ্, তাঁর সমস্ত যুদ্ধবীর ও সমস্ত নেতা সেই ব্যক্তির কথা শুনতে পেলেন, তখন বাদশাহ্ তাঁকে হত্যা করতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু ঊরিয় তা শুনে ভয় পেয়ে মিসরে পালিয়ে গেলেন।
22 তখন যিহোয়াকীম বাদশাহ্ অক্বোরের পুত্র ইল্নাথন এবং তার সঙ্গে অন্য কয়েকজন লোককে মিসরে প্রেরণ করলেন;
23 আর তারা ঊরিয়কে মিসর থেকে এনে যিহোয়াকীম বাদশাহ্র কাছে উপস্থিত করলো; বাদশাহ্ তাঁকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করে সাধারণ লোকের কবর-স্থানে তাঁর লাশ নিক্ষেপ করলেন।
24
যা হোক, শাফনের পুত্র অহীকামের হাত ইয়ারমিয়ার সপক্ষ থাকায় তাঁকে হত্যা করার জন্য লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হল না।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের রাজত্বের আরম্ভে মাবুদের কাছ থেকে এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল;
2 মাবুদ আমাকে এই কথা বললেন, তুমি কয়েকটি চামড়ার ফিতা ও জোয়াল প্রস্তুত করে তোমার কাঁধে রাখ;
3 আর যে দূতেরা জেরুশালেমে এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের কাছে এসেছে, তাদের দ্বারা ইদোমের বাদশাহ্র, মোয়াবের বাদশাহ্র, অম্মোনীয়দের বাদশাহ্র, টায়ারের বাদশাহ্র ও সিডনের বাদশাহ্র কাছে তা পাঠাও।
4 আর তাদের মালিককে বলবার জন্য তাদের এই হুকুম দাও, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা তোমাদের মালিককে এই কথা বলবে,
5 আমিই আমার মহাপরাক্রম ও প্রসারিত বাহু দ্বারা দুনিয়া, দুনিয়া-নিবাসী মানুষ ও পশু নির্মাণ করেছি এবং আমি যাকে তা দেওয়া উচিত মনে করি, তাকে তা দিয়ে থাকি।
6 সম্প্রতি আমি এসব দেশ আমার গোলাম ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাতে দিয়েছি এবং তার গোলামী করবার জন্য মাঠের পশুগুলোও তাকে দিয়েছি।
7 আর সমস্ত জাতি তার, তার পুত্রের ও তার পৌত্রের গোলাম হবে; পরে তার দেশের সময়ও উপস্থিত হবে, তখন অনেক জাতি ও মহান বাদশাহ্রা তাকেও গোলামী করাবে।
8
আর যে জাতি ও যে রাজ্য সেই ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের গোলাম না হবে ও ব্যাবিলনের বাদশাহ্র জোয়ালের নিচে তার ঘাড় না রাখবে, মাবুদ বলেন, আমি তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা সেই জাতিকে প্রতিফল দেব, যে পর্যন্ত ওর হাত দিয়ে তাদেরকে সংহার না করি।
9 আর তোমাদের কর্তব্য এই, তোমাদের যে নবী, গণক, স্বপ্নদর্শক, গণক ও মায়াবীরা তোমাদের বলে, তোমরা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম হবে না, তাদের কথায় কান দিও না;
10 কেননা তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, যেন তোমরা স্বদেশ থেকে দূরীকৃত এবং আমা দ্বারা বিতাড়িত হয়ে বিনষ্ট হও।
11 কিন্তু যে জাতি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র জোয়ালের নিচে তার ঘাড় রাখবে ও তার গোলাম হবে, মাবুদ বলেন, আমি সেই জাতিকে স্বদেশে স্থির থাকতে দেব; তারা সেখানে কৃষিকর্ম করবে ও সেখানে বাস করবে।
12
পরে আমি সেসব কালাম অনুসারে এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়কে এই কথা বললাম, আপনারা আপনাদের ঘাড় ব্যাবিলনের বাদশাহ্র জোয়ালের নিচে রেখে তাঁর ও তাঁর লোকদের গোলাম হোন, তাতে বাঁচবেন।
13 যে জাতি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম না হবে, তার বিরুদ্ধে মাবুদ যা বলেছেন, সেই অনুসারে আপনারা অর্থাৎ আপনি ও আপনার লোকেরা তলোয়ারে, দুর্ভিক্ষে ও মহামারীতে কেন মরবেন?
14 যে নবীরা আপনাদের বলে, আপনারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম হবেন না, তাদের কথায় কান দিবেন না, কেননা তারা আপনাদের কাছে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে।
15 কারণ মাবুদ বলেন, আমি তাদেরকে পাঠাই নি, কিন্তু তারা মিথ্যা করে আমার নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলে; এর ফল এই, যারা তোমাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সেই নবীদের ও তোমাদের উভয়কে আমি দূর করে দিয়ে ধ্বংস করে দেব।
16
পরে আমি ইমামদেরকে ও সমস্ত লোককে বললাম, মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের যে নবীরা তোমাদের কাছে এই ভবিষ্যদ্বাণী বলে, দেখ, মাবুদের গৃহের পাত্রগুলো ব্যাবিলন থেকে সম্প্রতি শীঘ্র ফিরিয়ে আনা যাবে, তোমরা তাদের কথায় কান দিও না, কেননা তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে।
17 তোমরা তাদের কথায় কান দিও না; ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম হও, তাতে বাঁচবে; এই নগর কেন উৎসন্ন হবে?
18 কিন্তু তারা যদি নবী হয় ও তাদের কাছে বাস্তবিক মাবুদের কালাম থাকে, তবে মাবুদের গৃহে, এহুদার রাজপ্রাসাদে ও জেরুশালেমে যেসব পাত্র অবশিষ্ট আছে, তা যেন ব্যাবিলনে না যায়, এজন্য বাহিনীগণের মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করুক।
19 কারণ দুই স্তম্ভ, সমুদ্রপাত্র ও পীঠগুলো এবং যে সমস্ত পাত্র এই নগরে অবশিষ্ট আছে,
20 — অর্থাৎ ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার যিহোয়াকীমের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিকনিয় এবং এহুদার ও জেরুশালেমের সমস্ত প্রধানবর্গকে বন্দী করে জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবার সময়ে যেসব পাত্র নিয়ে যান নি— সেই সমস্ত কিছুর বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন,
21 হ্যাঁ, মাবুদের গৃহে, এহুদার রাজপ্রাসাদে ও জেরুশালেমে অবশিষ্ট সেই পাত্রগুলোর বিষয়ে বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন,
22 সেসব ব্যাবিলনে নীত হবে এবং যে পর্যন্ত আমি তাদের তত্ত্বানুসন্ধান না করবো, সে পর্যন্ত সেই স্থানে থাকবে, মাবুদ এই কথা বলেন; পরে আমি সেসব এই স্থানে আবার ফিরিয়ে আনবো।
1
ঐ বছরে, এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের রাজত্বের আরম্ভে, চতুর্থ বছরের পঞ্চম মাসে, গিবিয়োন-নিবাসী অসূরের পুত্র নবী হনানিয় মাবুদের গৃহে ইমামদের ও সমস্ত লোকের সাক্ষাতে আমাকে এই কথা বললো,
2 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র জোয়াল ভেঙ্গে ফেলেছি।
3 ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার এই স্থান থেকে মাবুদের গৃহের যেসব পাত্র ব্যাবিলনে নিয়ে গেছে, সেসব আমি দুই বছরের মধ্যে এই স্থানে ফিরিয়ে আনবো।
4 আর যিহোয়াকীমের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিকনিয়কে ও এহুদার সমস্ত বন্দী, যারা ব্যাবিলনে গেছে, তাদেরকে এই স্থানে ফিরিয়ে আনবো, মাবুদ এই কথা বলেন; কেননা আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র জোয়াল ভেঙ্গে ফেলব।
5
তখন ইয়ারমিয়া নবী ইমামদের সাক্ষাতে এবং মাবুদের গৃহে দণ্ডায়মান লোকদের সাক্ষাতে হনানিয় নবীর সঙ্গে কথা বললেন,
6 ইয়ারমিয়া নবী বললেন, আমিন; মাবুদ তা-ই করুন; মাবুদের গৃহের পাত্রগুলো ও বন্দী লোকগুলোকে ব্যাবিলন থেকে এই স্থানে ফিরিয়ে আনবার বিষয়ে তুমি যে যে ভবিষ্যদ্বাণী বললে, মাবুদ তোমার সেসব কালাম সিদ্ধ করুন।
7 কিন্তু আমি তোমার কর্ণগোচরে ও সমস্ত লোকের কর্ণগোচরে একটি কথা বলি, শোন।
8 আমার ও তোমার আগে সে কালের যে নবীরা ছিল, তারা অনেক দেশ ও মহৎ মহৎ রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, অমঙ্গল ও মহামারী বিষয়ক ভবিষ্যদ্বাণী বলেছিল।
9 যে নবী শান্তির ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সেই নবীর কালাম সফল হলেই জানা যায় যে, মাবুদ সত্যিই সেই নবীকে প্রেরণ করেছেন।
10
তখন হনানিয় নবী ইয়ারমিয়া নবীর কাঁধ থেকে সেই জোয়াল নিয়ে ভেঙ্গে ফেললো।
11 আর হনানিয় সমস্ত লোক লোকের সাক্ষাতে বললো, মাবুদ এই কথা বলেন, দুই বছরের মধ্যে আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের জোয়াল এভাবে ভেঙ্গে সমস্ত জাতির কাঁধ থেকে দূর করবো। পরে ইয়ারমিয়া নবী চলে গেলেন।
12
হনানিয় ইয়ারমিয়া নবীর কাঁধ থেকে জোয়াল নিয়ে ভেঙ্গে ফেলার পর ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
13 তুমি গিয়ে হনানিয়কে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি কাঠের জোয়াল ভাঙ্গলে বটে, কিন্তু তার পরিবর্তে লোহার জোয়াল প্রস্তুত করবে।
14 কেননা বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, এসব জাতি যেন ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের গোলাম হয়, সেজন্য আমি তাদের কাঁধে লোহার জোয়াল দিলাম; তারা তার গোলাম হবে; আর আমি তাকে মাঠের পশুগুলোও দিলাম।
15
তখন নবী ইয়ারমিয়া হনানিয় নবীকে বললেন, হে হনানিয়, শোন; মাবুদ তোমাকে প্রেরণ করেন নি, কিন্তু তুমি এই লোকদেরকে মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করাচ্ছ।
16 অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাকে ভূতল থেকে দূর করে দেব; তুমি এই বছরেই মরবে, কেননা তুমি মাবুদের বিরুদ্ধে বিপথগমনের কথা বলেছ।
17 পরে হনানিয় নবী সেই বছরের সপ্তম মাসে প্রাণত্যাগ করলো।
1
ইয়ারমিয়া নবী নির্বাসিত লোকদের অবশিষ্ট প্রাচীনদের কাছে এবং বখতে-নাসার কর্তৃক জেরুশালেম থেকে বন্দীরূপে ব্যাবিলনে নীত ইমামদের, নবীদের ও সমস্ত লোকের কাছে পত্রের এসব কথা লিখেছিলেন।
2 যিকনিয় বাদশাহ্, মাতারাণী ও নপুংসকদের এবং এহুদার ও জেরুশালেমের কর্মকর্তারা, শিল্পকরেরা ও কর্মকারেরা জেরুশালেম থেকে প্রস্থান করার পর তিনি এই পত্র লিখেছিলেন।
3 ইয়ারমিয়া এই পত্রখানি শাফনের পুত্র ইলিয়াসা ও হিল্কিয়ের পুত্র গমরিয়ের হাতে পাঠিয়ে দেন। এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয় ব্যাবিলনে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের কাছে, এদেরকে পাঠিয়েছিলেন। সেই পত্রে লেখা ছিল:
4
বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, সমস্ত নির্বাসিত লোকের প্রতি— আমি যেসব লোককে জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে বন্দী করে এনেছি, তাদের প্রতি— হুকুম এই;
5 —তোমরা বাড়ি নির্মাণ করে বাস কর, উপবন রোপণ করে ফল ভোগ কর;
6 বিয়ে করে পুত্রকন্যার জন্ম দাও এবং নিজ নিজ পুত্রদের বিয়ে দাও ও নিজ নিজ কন্যাদের বিয়ে দাও; তারা সন্তান-সন্ততি উৎপন্ন করুক; এইভাবে তোমরা হ্রাস না পেয়ে সেখানে বৃদ্ধি পাও।
7 আর আমি তোমাদেরকে যে নগরে বন্দী করে এনেছি, সেখানকার শান্তির চেষ্টা কর ও সেখানকার জন্য মাবুদের কাছে মুনাজাত কর; কেননা সেখানকার শান্তিতে তোমাদের শান্তি হবে।
8 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমাদের মধ্যে উপস্থিত তোমাদের নবীরা ও গণকেরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করুক; এবং তোমরা যেসব স্বপ্ন দেখে থাক, সেই স্বপ্নগুলোতে মনোযোগ দিও না।
9 কেননা তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা করে আমার নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলে; আমি তাদেরকে প্রেরণ করি নি, মাবুদ এই কথা বলেন।
10
বস্তুত মাবুদ এই কথা বলেন, ব্যাবিলনের সম্বন্ধে সত্তর বছর সমপূর্ণ হলে আমি তোমাদের তত্ত্বাবধান করবো এবং তোমাদের পক্ষে আমার মঙ্গলবাক্য সিদ্ধ করবো, তোমাদের পুনর্বার এই স্থানে ফিরিয়ে আনবো।
11 কেননা মাবুদ বলেন, আমি তোমাদের পক্ষে যেসব সঙ্কল্প করছি, তা আমিই জানি; সেসব মঙ্গলের সঙ্কল্প, অমঙ্গলের নয়, তোমাদের শেষ ফল ও আশাসিদ্ধি দেবার সঙ্কল্প!
12 আর তোমরা আমাকে আহ্বান করবে এবং গিয়ে আমার কাছে মুনাজাত করবে, আর আমি তোমাদের কথায় কান দিব।
13 আর তোমরা আমার খোঁজ করে আমাকে পাবে; কারণ তোমরা সর্বান্তঃকরণে আমার খোঁজ করবে;
14 আর আমি তোমাদেরকে আমার উদ্দেশ পেতে দেব, মাবুদ এই কথা বলেন; এবং আমি তোমাদের বন্দীদশা ফিরাব এবং যেসব জাতির মধ্যে ও যেসব স্থানে তোমাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছি, সেসব স্থান থেকে তোমাদেরকে সংগ্রহ করবো, মাবুদ এই কথা বলেন; এবং যে স্থান থেকে তোমাদেরকে বন্দী করে এনেছি, সেই স্থানে তোমাদেরকে পুনর্বার নিয়ে যাব।
15
তোমরা তো বলেছ, মাবুদ ব্যাবিলনে আমাদের জন্য নবীদের সৃষ্টি করেছেন।
16 দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ্র ও এই নগরবাসী সমস্ত লোকের বিষয়ে, তোমাদের যে ভাইয়েরা তোমাদের সঙ্গে বন্দীদশার স্থানে প্রস্থান করে নি, সেই সবকিছুর বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন।
17 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদের উপরে তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী প্রেরণ করবো; এবং ঘৃণাজনক যে ডুমুরফল এমন মন্দ যে খাওয়া যায় না, তার মত তাদেরকে করবো।
18 হ্যাঁ, আমি তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী নিয়ে তাদের পিছনে পিছনে ধাবমান হব এবং দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যে তাদেরকে ভেসে বেড়াবার জন্য তুলে দেব; এবং যেসব জাতির মধ্যে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছি, সেসব জাতির কাছে তাদেরকে বদদোয়া, বিস্ময়, বিদ্রূপ ও টিটকারির পাত্র করবো।
19 কারণ, মাবুদ বলেন, আমি খুব ভোরে উঠে তাদের কাছে আমার গোলাম নবীদেরকে পাঠালেও তারা আমার কথায় কান দেয় নি; তোমরা শুনতে চাও নি, মাবুদ এই কথা বলেন।
20 অতএব তোমরা যত নির্বাসিত লোক, যাদের আমি জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে প্রেরণ করেছি, তোমরা সকলে মাবুদের কালাম শোন।
21
কোলায়ের পুত্র আহাব ও মাসেয়ের পুত্র সিদিকিয়, যারা মিথ্যা করে আমার নামে তোমাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তাদের বিষয়ে বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি তাদের ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাতে তুলে দেব; সে তোমাদের দৃষ্টিগোচরে তাদেরকে হত্যা করবে।
22 আর ব্যাবিলনে এহুদার যত নির্বাসিত লোক আছে, তাদের মধ্যে ঐ দুই ব্যক্তির উপলক্ষে এই বদদোয়ার কথা প্রচলিত হবে, ‘ব্যাবিলনের বাদশাহ্ যে সিদিকিয় ও আহাবকে আগুনে পুড়িয়ে ছিলেন, তাদের মত মাবুদ তোমাকে করুন।’
23 কেননা তারা ইসরাইলের মধ্যে মূঢ়তার কাজ করেছে, নিজ নিজ প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জেনা করেছে এবং মিথ্যা করে আমার নামে, আমি যা হুকুম করি নি, এমন কথা বলেছে; আমিই জানি, আমিই সাক্ষী, মাবুদ এই কথা বলেন।
24
আর তুমি নিহিলামীয় শময়িয়ের বিষয়ে এই কথা বলবে,
25 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তুমি জেরুশালেমের সমস্ত লোকের কাছে ও মাসেয়ের পুত্র সফনিয় ইমাম এবং সমস্ত ইমামের কাছে তোমার নামে এই পত্র পাঠিয়েছ,
26 যথা, ‘মাবুদ যিহোয়াদা ইমামের পরিবর্তে তোমাকে ইমাম-পদে নিযুক্ত করেছেন, যেন তোমরা মাবুদের গৃহে নেতা হও; যে কোন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেকে নবী বলে দেখায়, তোমার উচিত তাকে হাঁড়িকাঠে ও বেড়ীতে বন্ধ করা।
27 অতএব অনাথোতীয় যে ইয়ারমিয়া তোমাদের কাছে নিজেকে নবী বলে দেখায়, তাকে তুমি কেন তিরস্কার কর নি?
28 না করাতেই সে ব্যাবিলনে আমাদের কাছে একটি পত্র পাঠিয়ে বলেছে, ‘বিলম্ব হবে, তোমরা বাড়ি নির্মাণ করে বাস কর, উপবন রোপণ করে ফল ভোগ কর।’
29 ইমাম সফনিয় নবী ইয়ারমিয়ার কর্ণগোচরে সেই পত্র পাঠ করলেন।
30 পরে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
31 তুমি সমস্ত নির্বাসিত লোকের কাছে এই কথা বলে পাঠাও, মাবুদ নিহিলামীয় শময়িয়ের বিষয়ে এই কথা বলেন, আমি শময়িয়কে প্রেরণ না করলেও সে তোমাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে মিথ্যা কথায় তোমাদের বিশ্বাস জন্মিয়েছে।
32 সেজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি নিহিলামীয় শময়িয় ও তার বংশকে দণ্ড দেব; তার কোন সন্তান এই জাতির মধ্যে বাস করবে না; আর আমি আমার লোকদের যে মঙ্গল করবো, তা সে দেখতে পাবে না, মাবুদ এই কথা বলেন; কারণ সে মাবুদের বিরুদ্ধে বিপথগমনের কথা বলেছে।
1
মাবুদের কাছ থেকে এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল,
2 মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, আমি তোমার কাছে যেসব কথা বলেছি, সেসব একটি কিতাবে লিখে রাখ।
3 কেননা, মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি আমার লোক ইসরাইলের ও এহুদার বন্দীদশা ফিরাব; আর আমি তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবো এবং তারা তা অধিকার করবে।
4
ইসরাইল ও এহুদার বিষয়ে মাবুদ যেসব কালাম বললেন, তা এই।
5 মাবুদ এই কথা বলেন; আমরা ভয়ের, কম্পনের আওয়াজ শুনেছি, শান্তির নয়।
6 তোমরা একবার জিজ্ঞাসা করে দেখ, পুরুষের কি প্রসববেদনা হয়? প্রসবকালে যেমন স্ত্রীলোকের, তেমনি আমি প্রত্যেক পুরুষের কোমরে হাত ও সকলের মুখ বিষাদে ম্লান কেন দেখছি?
7 হায়! সেদিন মহৎ, তার মত দিন আর নেই; এ ইয়াকুবের সঙ্কটকাল, কিন্তু এ থেকে সে নিস্তার পাবে।
8
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমি সেদিন তোমার ঘাড় থেকে ওর জোয়াল ভেঙ্গে ফেলব, তোমার বন্ধনগুলো মুক্ত করবো এবং বিদেশীরা তাকে আর গোলামী করাবে না।
9 কিন্তু তারা নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের ও নিজেদের বাদশাহ্ দাউদের গোলামী করবে, আমি তাদের জন্য তাঁকেই উৎপন্ন করবো।
10 অতএব, হে আমার গোলাম ইয়াকুব, ভয় করো না, মাবুদ এই কথা বলেন; হে ইসরাইল, নিরাশ হয়ো না; কেননা দেখ, আমি দূর থেকে তোমাকে ও বন্দীদশার দেশ থেকে তোমার বংশকে নিস্তার করবো; ইয়াকুব ফিরে এসে নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে থাকবে, কেউ তাকে ভয় দেখাবে না।
11 কেননা তোমার উদ্ধারের জন্য আমিই তোমার সহবর্তী, মাবুদ এই কথা বলেন; কারণ আমি যাদের মধ্যে তোমাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছি, সেসব জাতিকে নিঃশেষে সংহার করবো; তোমাকে নিঃশেষে সংহার করবো না, কিন্তু ন্যায়বিচার করে শাস্তি দেব, কোন মতে অদণ্ডিত রাখবো না।
12
কারণ মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার আঘাত অপ্রতিকার্য ও তোমার ক্ষত ব্যথাজনক।
13 তোমার পক্ষ সমর্থন করার কেউই নেই; তোমার ক্ষত ভাল করার ওষুধ নেই, তোমার সুস্থতা লাভ করার কোন আশাও নেই।
14 তোমার প্রেমিকরা সকলে তোমাকে ভুলে গেছে, তারা তোমার খোঁজ করে না; কারণ আমি তোমাকে দুশমনদের আঘাতের মত আঘাত করেছি, নির্দয়ের মত শাস্তি দিয়েছি; কেননা তোমার অপরাধ বহুল, তোমার গুনাহ্ প্রবল।
15 তোমার ক্ষতের জন্য কেন কান্নাকাটি কর? তোমার ব্যথা দুরারোগ্য; তোমার অপরাধ বহুল, তোমার গুনাহ্ প্রবল, এজন্য আমি তোমার প্রতি এসব করেছি।
16 অতএব যারা তোমাকে গ্রাস করে, তাদের সকলকে গ্রাস করা হবে; তোমার দুশমনদের সকলেই বন্দীদশার স্থানে যাবে; এবং যারা তোমার সম্পত্তি লুট করে, তারা লুণ্ঠিত হবে; ও যারা তোমার দ্রব্য হরণ করে, তাদের দ্রব্য আমি হরণ করাব।
17 কারণ আমি তোমার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনবো ও তোমার ক্ষতগুলো ভাল করবো, মাবুদ এই কথা বলেন, কেননা তারা বলে, এ দূরীকৃতা, এ সেই সিয়োন, যার খোঁজ কেউ করে না।
18 মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি ইয়াকুবের তাঁবুগুলোর বন্দীদশা ফিরাব ও তার সমস্ত আবসের প্রতি করুণা করবো; তাতে নগর তার উপপর্বতের উপরে নির্মিত হবে ও রাজপুরীতে রীতিমত মানুষের বসতি হবে।
19 আর সেই স্থানের মধ্য থেকে প্রশংসা-গজল ও আনন্দকারীদের ধ্বনি বের হবে; আর আমি লোকদের বৃদ্ধি করবো, তারা হ্রাস পাবে না; আমি তাদেরকে গৌরবান্বিত করবো, তারা আর লঘু থাকবে না।
20 আর তাদের সন্তান-সন্ততি আগের মত হবে, তাদের মণ্ডলী আমার সম্মুখে স্থিরীকৃত হবে; এবং যারা তাদের প্রতি জুলুম করে, সেই সকলকে আমি দণ্ড দেব।
21 তাদের অধিপতি তাদেরই মধ্যে এক জন হবেন ও তাদের মধ্যে উৎপন্ন এক জন ব্যক্তি তাদের শাসনকর্তা হবেন; আর আমি তাঁকে আমার নিকটস্থ করবো, তিনি আমার কাছে আসবেন; কেননা তিনি কে, যিনি আমার কাছে আসতে সাহস পেয়েছেন? মাবুদ এই কথা বলেন।
22 আর তোমরা আমার লোক হবে এবং আমি তোমাদের আল্লাহ্ হবো।
23
দেখ, মাবুদের ঝটিকা, তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ, হ্যাঁ, হু হু শব্দকারী ঝটিকা বের হচ্ছে; তা দুষ্টদের মাথায় লাগবে।
24 যে পর্যন্ত মাবুদ তাঁর মনের অভিপ্রায় সফল ও সিদ্ধ না করেন, সেই পর্যন্ত তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ ফিরবে না; তোমরা শেষকালে তা বুঝতে পারবে।
1
মাবুদ বলেন, সেই সময়ে আমি ইসরাইলের সমস্ত গোষ্ঠীর আল্লাহ্ হব এবং তারা আমার লোক হবে।
2 মাবুদ এই কথা বলেন, তলোয়ার থেকে রক্ষা পাওয়া লোকেরা মরুভূমিতে রহমত লাভ করলো; সে ইসরাইল, আমি তাকে বিশ্রাম দিতে গমন করলাম।
3 মাবুদ দূর থেকে আমাকে দর্শন দিয়ে বললেন, আমি তো চিরন্তন প্রেমে তোমাকে মহব্বত করে আসছি, এজন্য আমি তোমার প্রতি চিরকাল বিশ্বস্ত থাকব।
4 হে কুমারি ইসরাইল, আমি তোমাকে পুনর্বার গেঁথে তুলব, তুমি নির্মিত হবে, তুমি পুনর্বার তোমার তবল তুলে নেবে এবং আনন্দকারীদের শ্রেণীতে নৃত্য করতে করতে গমন করবে।
5 তুমি সামেরিয়ার পর্বতমালায় পুনর্বার আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করবে; রোপনকারীরা আঙ্গুরলতা রোপণ করবে ও তার ফল ভোগ করবে।
6 কেননা এমন দিন উপস্থিত হবে, যেদিন প্রহরীরা পর্বতময় আফরাহীম প্রদেশে ঘোষণা করে বলবে, উঠ, চল, আমরা সিয়োনে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে গমন করি।
7
অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা ইয়াকুবের জন্য আনন্দরব কর, জাতিদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে উচ্চধ্বনি কর, ঘোষণা কর, প্রশংসা কর, আর বল, হে মাবুদ, তোমার লোকদেরকে, ইসরাইলের অবশিষ্টাংশকে, উদ্ধার কর।
8 দেখ, আমি তাদের উত্তর দেশ থেকে আনবো, দুনিয়ার প্রান্তভাগ থেকে সংগ্রহ করবো; তারা অন্ধ, খঞ্জ, গর্ভবতী ও প্রসূতিসুদ্ধ মহাসমাজ হয়ে এই স্থানে ফিরে আসবে।
9 তারা কাঁদতে কাঁদতে আসবে এবং বিনয় সহকারে আমা দ্বারা চালিত হবে; আমি তাদের পানির স্রোতের কাছ দিয়ে সরল পথে গমন করাব, সেই পথে তারা হোঁচট খাবে না, যেহেতু আমি ইসরাইলের পিতা এবং আফরাহীম আমার প্রথমজাত পুত্র।
10
হে জাতিবৃন্দ, তোমরা মাবুদের কালাম শোন এবং দূরস্থ উপকূলগুলোতে তা প্রচার কর; আর বল, যিনি ইসরাইলকে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তিনিই তাকে সংগ্রহ করবেন, আর রক্ষক যেমন নিজের পালকে রক্ষা করে, তেমনি রক্ষা করবেন।
11 কারণ মাবুদ ইয়াকুবকে উদ্ধার করেছেন, তার চেয়েও বেশি বলবানের হাত থেকে তাকে মুক্ত করেছেন।
12 তারা এসে উঁচু সিয়োনে আনন্দগান করবে এবং স্রোতের মত প্রবাহিত হয়ে মাবুদের মঙ্গলদানের কাছে, গম, আঙ্গুর-রস, তেল, ভেড়ার বাচ্চাগুলোর ও বাছুরগুলোর জন্য আসবে এবং তাদের প্রাণ সুসিক্ত বাগানের মত হবে;
13 তারা আর অবসন্ন হবে না। তখন কন্যারা নেচে আনন্দ করবে এবং যুবকেরা ও বৃদ্ধেরা একত্র হয়ে আনন্দ করবে; কারণ আমি তাদের শোক উল্লাসে পরিণত করবো; তাদের সান্ত্বনা দেব ও দুঃখ ঘুচিয়ে আহ্লাদিত করবো।
14 আর আমি পুষ্টিকর দ্রব্য দ্বারা ইমামদের প্রাণ আপ্যায়িত করবো এবং আমার মঙ্গলদান দ্বারা আমার লোকেরা তৃপ্ত হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
15 মাবুদ এই কথা বলেন, রামায় আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, হাহাকার ও ভীষণ কান্নাকাটি হচ্ছে! রাহেলা তার সন্তানদের জন্য কাঁদছে, সে তার সন্তানদের বিষয়ে প্রবোধ কথা মানে না, কেননা তারা নেই।
16 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার কান্নার আওয়াজ ও চোখের পানি মুছে ফেল; কেননা তোমার কাজের পুরস্কার দেওয়া হবে, মাবুদ এই কথা বলেন, আর তারা দুশমনের দেশ থেকে ফিরে আসবে।
17 তোমার শেষকালের বিষয়ে প্রত্যাশা আছে, মাবুদ এই কথা বলেন; হ্যাঁ, তোমার সন্তানেরা নিজেদের অঞ্চলে ফিরে আসবে।
18
আমি আফরাহীমের স্বর স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি; সে খেদোক্তি করে বলেছে, ‘যাকে বশ করা হয় নি এমন বাছুরটির মত তুমি আমাকে শাস্তি দিয়েছ, আমি শাস্তি ভোগ করেছি; আমাকে ফিরাও, তাতে আমি ফিরব, কেননা তুমিই আমার আল্লাহ্ মাবুদ।
19 আমি ফিরার পর অনুতাপ করলাম ও শিক্ষা পাবার পর ঊরুদেশে আঘাত করলাম; আমি লজ্জিত ও নিতান্ত বিষণ্ন হলাম, কেননা নিজের যৌবনকালের অপযশ বহন করলাম।’
20 আফরাহীম কি আমার প্রিয় পুত্র? সে কি আনন্দদায়ী বালক? হ্যাঁ, যতবার আমি তার বিরুদ্ধে কথা বলি, ততবার পুনরায় তাকে সাগ্রহে স্মরণ করি; এই কারণে তার জন্য আমার অন্তর ব্যাকুল হয়; অবশ্য আমি তার প্রতি করুণা করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
21
তুমি স্থানে স্থানে নিজের জন্য পথের চিহ্ন রাখ, স্তম্ভ স্থাপন কর, যে পথে গমন করেছিলে, সেই রাজপথে মনোনিবেশ কর; হে ইসরাইল-কুমারী, ফিরে এসো; তোমার এসব নগরে ফিরে এসো।
22 অয়ি বিপথগামিনী কন্যে, কতকাল ভ্রমণ করবে? মাবুদ তো দুনিয়াতে একটি নতুন নিয়ম সৃষ্টি করলেন; নারী পুরুষকে বেষ্টন করবে।
23
বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, আমি যখন এই লোকদের বন্দীদশা ফিরাব, তখন তারা এহুদা দেশে ও সেখানকার সকল নগরে পুনর্বার এই কথা বলবে, ‘হে ধর্মময় নিবাস, হে পবিত্র-পর্বত, মাবুদ তোমাকে দোয়া করুন।’
24 এহুদা ও তার সমস্ত নগর এবং কৃষকরা ও যারা পালের সঙ্গে ইতস্তত ভ্রমণ করে, তারা সেখানে একত্রে বাস করবে।
25 কারণ আমি আপ্যায়িত করেছি ক্লান্ত প্রাণকে এবং প্রত্যেক অবসন্ন প্রাণকে তৃপ্ত করেছি।
26
তখন আমি ঘুম থেকে জেগে দৃষ্টিপাত করলাম, আর আমার ঘুম আমার সুখদায়ক ছিল।
27
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি ইসরাইল-কুল ও এহুদা-কুলরূপ ক্ষেতে মানুষকে ও পশুকে বীজের মত বপন করবো;
28 আর যেমন আমি তাদের উন্মূলন, উৎপাটন, নিপাত, বিনাশ ও অমঙ্গল করতে জাগ্রত ছিলাম, তেমনি তাদেরকে গাঁথতে ও রোপণ করতেও জাগ্রত থাকব, মাবুদ এই কথা বলেন।
29 সেই সময়ে লোকে আর বলবে না, পিতারা আঙ্গুর ফল খেয়েছিলেন, তাই সন্তানদের দাঁত টকেছে।
30 কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ অপরাধের দরুন মরবে; যে ব্যক্তি আঙ্গুর ফল খাবে তারই দাঁত টকে যাবে।
31
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি ইসরাইল-কুল ও এহুদা-কুলের সঙ্গে একটি নতুন নিয়ম স্থির করবো।
32 মিসর দেশ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদেরকে হাত ধরে বের করে আনবার দিনে আমি তাদের সঙ্গে যে নিয়ম স্থির করেছিলাম, সেই নিয়মানুসারে নয়; আমি তাদের স্বামী হলেও তারা আমার সেই নিয়ম লঙ্ঘন করলো, মাবুদ এই কথা বলেন।
33 কিন্তু সেই সকল দিনের পর আমি ইসরাইল-কুলের সঙ্গে এই নিয়ম স্থির করবো, মাবুদ এই কথা বলেন, আমি তাদের অন্তরে আমার শরীয়ত দেব ও তাদের অন্তরে তা লিখব; এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব ও তারা আমার লোক হবে।
34 আর, ‘তোমরা মাবুদকে জান,’ এই কথা বলে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীকে ও আপন আপন ভাইকে আর শিক্ষা দেবে না; কারণ তারা ক্ষুদ্র ও মহান সকলেই আমাকে জানবে, মাবুদ এই কথা বলেন; কেননা আমি তাদের অপরাধ মাফ করবো এবং তাদের গুনাহ্ আর স্মরণে আনবো না।
35
যিনি দিনের বেলায় আলোর জন্য সূর্যকে এবং রাতের বেলায় আলোর জন্য চাঁদকে ও তারাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম দেন, যিনি সমুদ্রকে আলোড়ন করলে তার তরঙ্গ কল্লোল-ধ্বনি করে, সেই মাবুদ এই কথা বলেন;
36 ‘বাহিনীগণের মাবুদ’ তাঁর নাম; যদি এসব নিয়ম আমার সম্মুখ থেকে অদৃশ্য হয়,— মাবুদ এই কথা বলেন,— তবে আমার সম্মুখে নিত্যস্থায়ী জাতি হিসেবে ইসরাইল-বংশের অবস্থিতিও শেষ হবে।
37 মাবুদ এই কথা বলেন, যদি উপরে আসমান পরিমাপ করা যায়, নিম্নে দুনিয়ার মূল যদি অনুসন্ধান করে পাওয়া যায়, তবে আমিও তাদের কৃত সমস্ত কাজের দরুন ইসরাইলের সমস্ত বংশকে দূর করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
38
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে হননেলের উচ্চগৃহ থেকে কোণের দ্বার পর্যন্ত নগরটি মাবুদের উদ্দেশে নির্মিত হবে;
39 এবং সেখান থেকে মানরজ্জু বরাবর সম্মুখপথে গারেব উপপর্বতের উপর দিয়ে টানা যাবে ও ঘুরে গোয়াতে উপস্থিত হবে।
40 আর লাশ ও ভস্মের সমস্ত উপত্যকা ও কিদ্রোণ স্রোত পর্যন্ত সকল ক্ষেত, পূর্বদিক্স্থ অশ্ব-দ্বারের কোণ পর্যন্ত, মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে; তা কোন কালেও আর উৎপাটিত বা নিপাতিত হবে না।
1
এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের দশম বছরে, অর্থাৎ বখতে-নাসারের অষ্টাদশ বছরে, মাবুদের কাছ থেকে যে কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল।
2 সেই সময়ে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সৈন্যসামন্ত জেরুশালেম অবরোধ করছিল এবং ইয়ারমিয়া নবী এহুদার রাজপ্রাসাদে স্থিত রক্ষীদের প্রাঙ্গণে বন্দী ছিলেন;
3 যেহেতু এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয় তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিলেন, বলেছিলেন, তুমি কেন ভবিষ্যদ্বাণী বলে বলছো, ‘মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই নগর ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে তুলে দেব এবং সে এটি হস্তগত করবে;
4 আর এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয় কল্দীয়দের হাত থেকে রক্ষা পাবে না, কিন্তু ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে অবশ্যই তুলে দেওয়া হবে এবং সম্মুখাসম্মুখি হয়ে তার সঙ্গে কথা বলবে ও স্বচক্ষে তার চোখ দেখবে;
5 আর সে সিদিকিয়কে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবে; এবং আমি যে পর্যন্ত তার তত্ত্বাবধান না করবো, ততদিন পর্যন্ত সে সেই স্থানে থাকবে, মাবুদ এই কথা বলেন; তোমরা কল্দীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করেও কৃতকার্য হবে না’?
6
ইয়ারমিয়া বললেন, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে উপস্থিত হয়েছিল,
7 দেখ, তোমার চাচা শল্লুমের পুত্র হনমেল তোমার কাছে এসে এই কথা বলবে, অনাথোতে আমার যে ক্ষেত আছে, তা তুমি নিজের জন্য ক্রয় কর, কেননা ক্রয় দ্বারা তা মুক্ত করার অধিকার তোমার আছে।
8 পরে মাবুদের কালাম অনুসারে আমার চাচার পুত্র হনমেল রক্ষীদের প্রাঙ্গণে আমার কাছে এসে আমাকে বললো, আরজ করি, বিন্ইয়ামীন প্রদেশস্থ অনাথোতে আমার যে ক্ষেত আছে, তা তুমি ক্রয় কর; কেননা উত্তরাধিকার তোমার এবং মুক্ত করার অধিকার তোমার; তুমি নিজের জন্য তা ক্রয় কর।
9
তখন আমি বুঝলাম, এ মাবুদের কালাম। পরে আমি আমার চাচার পুত্র হনমেলের কাছে অনাথোতে অবস্থিত সেই ক্ষেত ক্রয় করলাম ও তার মূল্য সতেরো শেকল রূপা তাকে ওজন করে দিলাম।
10 আর আমি দলিলে স্বাক্ষর করলাম, সীলমোহর করলাম ও সাক্ষী রাখলাম এবং তাকে সেই রূপা নিক্তিতে ওজন করে দিলাম।
11 পরে বিধি ও নিয়ম সম্বলিত দলিলের দুই অনুলিপি, অর্থাৎ সীলমোহর করা একটি পত্র ও খোলা একটি পত্র নিলাম।
12 পরে আমার জ্ঞাতি হনমেলের সাক্ষাতে এবং দলিলে স্বাক্ষরকারী সাক্ষীদের সাক্ষাতে, রক্ষীদের প্রাঙ্গণে উপবিষ্ট সমস্ত ইহুদীর সাক্ষাতে আমি সেই দলিল মহসেয়ের পৌত্র নেরিয়ের পুত্র বারূকের হাতে তুলে দিলাম।
13 আর তাদের সাক্ষাতে বারূককে এই হুকুম করলাম,
14 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তুমি এই সীলমোহর করা ও খোলা দু’খানা দলিল নিয়ে একটি মাটির পাত্রে রাখ, যেন অনেক দিন থাকে।
15 কেননা বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, বাড়ির, ক্ষেত ও আঙ্গুর-ক্ষেতের ক্রয়-বিক্রয় এই দেশে আবার চলবে।
16
নেরিয়ের পুত্র বারূককে সেই দলিল দেবার পর আমি মাবুদের কাছে এই মুনাজাত করলাম,
17 হে সার্বভৌম মাবুদ! দেখ, তুমিই তোমার মহাপরাক্রম ও প্রসারিত বাহু দ্বারা আসমান ও দুনিয়া নির্মাণ করেছ; তোমার অসাধ্য কিছুই নেই।
18 তুমি হাজার পুরুষ পর্যন্ত অটল মহব্বত করে থাক; আর পূর্বপুরুষদের অপরাধের প্রতিফল তাদের পরবর্তী সন্তানদের কোলে দিয়ে থাক; তুমি মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্, বাহিনীগণের মাবুদ তোমার নাম।
19 তুমি মন্ত্রণায় মহান ও কর্মে শক্তিমান; প্রত্যেককে তার নিজ নিজ পথ অনুসারে ও নিজ নিজ কাজ অনুসারে সমূচিত ফল দেবার জন্য তাদের সমস্ত পথের প্রতি তোমার চোখ খোলা রয়েছে।
20 তুমি মিসর দেশে নানা চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখিয়েছিলে, আজ পর্যন্তও ইসরাইল ও সমস্ত মানবজাতির মধ্যে করে আসছ; আর নিজের জন্য কীর্তি সাধন করেছ, আজও করছো।
21 তুমি চিহ্ন-কাজ, অদ্ভুত লক্ষণ, বলবান হাত, প্রসারিত বাহু ও ভয়ঙ্কর মহাকর্ম দ্বারা তোমার লোক ইসরাইলকে মিসর দেশ থেকে বের করেছিলে।
22 আর এই যে দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ দিতে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলে, তা তাদেরকে দিয়েছিলে;
23 এবং তারা এসে তা অধিকার করেছিল; কিন্তু তারা তোমার কথা মান্য করে নি, তোমার শরীয়তের পথেও চলে নি; তুমি যা পালন করতে হুকুম করেছিলে, তার কিছুই পালন করে নি, এজন্য তুমি তাদের উপরে এ সব অমঙ্গল ঘটিয়েছ।
24 ঐ সমস্ত জাঙ্গাল দেখ, ওরা জয় করার নিমিত্ত নগরের কাছে এসেছে; এবং তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা এর বিপরীতে যুদ্ধকারী কল্দীয়দের হাতে নগর দেওয়া হয়েছে; তুমি যা বলেছ, তা সফল হয়েছে; আর দেখ, এসব তুমি দেখছো।
25 আর, হে সার্বভৌম মাবুদ, তুমি আমাকে বলেছ, তুমি টাকা দিয়ে ক্ষেত ক্রয় কর ও সাক্ষী রাখ, কিন্তু এই নগর কল্দীয়দের হাতে দেওয়া হল।
26
পরে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
27 দেখ, আমিই মাবুদ সমস্ত মানুষের আল্লাহ্; আমার অসাধ্য কি কিছু আছে?
28
অতএব মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি কল্দীয়দের হাতে ও ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাতে এই নগর তুলে দেব, তাতে সে তা হস্তগত করবে।
29 আর যে কল্দীয়েরা এই নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তারা প্রবেশ করে এই নগরে আগুন লাগাবে; এবং আমাকে অসন্তুষ্ট করার জন্য যেসব বাড়ির ছাদে লোকেরা বালের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাত ও অন্য দেবতাদের উদ্দেশে পানীয় নৈবেদ্য ঢেলে দিত, সেসব গৃহসুদ্ধ এই নগর আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
30 কেননা বনি-ইসরাইল ও এহুদার লোকেরা বাল্যকাল থেকে, আমার দৃষ্টিতে যা মন্দ, কেবল তা-ই করে আসছে; বাস্তবিক বনি-ইসরাইল নিজেদের হস্তকৃত বস্তু দ্বারা আমাকে কেবল অসন্তুষ্ট করেছে, মাবুদ এই কথা বলেন।
31 কারণ এই নগর নির্মিত হবার দিন থেকে আজ পর্যন্ত এটি আমার ক্রোধ ও কোপের কারণ হয়ে আসছে; সেজন্য এখন এটি আমার সম্মুখ থেকে দূর করে দেব।
32 কেননা বনি-ইসরাইল ও এহুদার লোকেরা, অর্থাৎ তারা, তাদের বাদশাহ্রা, কর্মকর্তারা, ইমামেরা, নবীরা, এহুদার লোকেরা ও জেরুশালেম-নিবাসীরা আমাকে অসন্তুষ্ট করার জন্য নানা রকম দুষ্কর্ম করেছে।
33 তারা আমার প্রতি পিঠ ফিরিয়েছে, মুখ নয়; আমি তাদের শিক্ষা দিলে, খুব ভোরে উঠে শিক্ষা দিলেও, তারা উপদেশ গ্রহণ করার জন্য কান দেয় নি।
34 কিন্তু যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, তা নাপাক করতে তার মধ্যে তাদের ঘৃণার বস্তুগুলো স্থাপন করেছে।
35 আর তারা মোলকের উদ্দেশে নিজ নিজ পুত্রকন্যাদেরকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করাবার জন্য হিন্নোম-সন্তানের উপত্যকায় বালের উচ্চস্থলীগুলো নির্মাণ করেছে, আমি তা হুকুম করি নি; তা আমার মনেও উদয় হয় নি যে, তারা এই ঘৃণার কাজ করে, যেন এহুদাকে গুনাহ্ করায়।
36
অতএব এখন, তোমরা যে নগরের বিষয়ে বলে থাক, এটি তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হস্তগত হল, এই নগরের বিষয়ে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন;
37 দেখ, আমি নিজের ক্রোধ, কোপ ও প্রচণ্ড রোষে তাদেরকে যেসব দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছি, সেসব দেশ থেকে তাদেরকে সংগ্রহ করবো এবং পুনর্বার এই স্থানে আনবো ও নির্ভয়ে বাস করাব।
38 আর তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হবো।
39 আর আমি তাদের ও তাদের পরে তাদের সন্তানদের মঙ্গলের জন্য তাদেরকে এক অন্তর ও এক পথ দেব, যেন তারা চিরকাল আমাকে ভয় করে।
40 আমি তাদের সঙ্গে এই নিত্যস্থায়ী নিয়ম স্থির করবো যে, তাদের প্রতি কখনও বিমুখ হব না, তাদের মঙ্গল করবো এবং তারা যেন আমাকে পরিত্যাগ না করে, এজন্য আমার প্রতি ভয় তাদের অন্তঃকরণে স্থাপন করবো।
41 আমি তাদের মঙ্গলার্থে তাদের বিষয়ে আনন্দ করবো এবং বিশ্বস্তভাবে সর্বান্তঃকরণে ও সমস্ত প্রাণের সঙ্গে তাদেরকে এই দেশে রোপণ করবো।
42
কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যেমন এই লোকদের উপরে এ সব মহৎ অমঙ্গল এনেছি, তেমনি তাদের যে সমস্ত মঙ্গল ওয়াদা করেছি, সেসবও আনবো।
43 আর এই যে দেশের বিষয়ে তোমরা বলছো, ‘এটা নরশূন্য ও পশুশূন্য ধ্বংসস্থান হয়েছে, কল্দীয়দের হস্তগত হয়েছে,
44 এর মধ্যে আবার ক্ষেত ক্রয় করা যাবে। বিন্ইয়ামীন প্রদেশে, জেরুশালেমের চারদিকের অঞ্চলে, এহুদার সকল নগরে পার্বত্য অঞ্চলের সকল নগরে, নিম্নভূমির সকল নগরে ও দক্ষিণের সকল নগরে লোকেরা টাকা দিয়ে ক্ষেত ক্রয় করবে, দলিলে লিখে দেবে, সীলমোহর করবে ও তার সাক্ষী রাখবে; কেননা আমি তাদের বন্দীদশা ফিরাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
ইয়ারমিয়া তখনও রক্ষীদের প্রাঙ্গণে রুদ্ধ ছিলেন আর সেই সময়ে মাবুদের কালাম দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে নাজেল হল,
2 যথা, মাবুদ, যিনি এই কাজ সাধন করেন, যিনি তা সুস্থির করার জন্য নিরূপণ করেন, যাঁর নাম মাবুদ, তিনি এই কথা বলেন;
3 তুমি আমাকে আহ্বান কর, আর আমি তোমাকে উত্তর দেব এবং এমন মহৎ ও দুরূহ নানা বিষয় তোমাকে জানাবো, যা তুমি জান না।
4 কারণ এই নগরের যেসব বাড়ি ও এহুদার বাদশাহ্দের যেসব বাড়ি ও জাঙ্গাল ও তলোয়ার থেকে রক্ষার জন্য উৎপাটিত হয়েছে, সেই সকলের বিষয়ে মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন,
5 লোকেরা কল্দীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসে, কিন্তু ঐ সমস্ত বাড়ি সেই মানুষের শবে পরিপূর্ণ হবে, যাদেরকে আমি আমার ক্রোধ ও আমার প্রচণ্ড কোপে আঘাত করেছি এবং যাদের সমস্ত নাফরমানীর দরুন এই নগর থেকে আমার মুখ লুকিয়েছি।
6 দেখ, আমি এই নগরের ক্ষত বেঁধে এর চিকিৎসা করবো, তাদেরকে সুস্থ করবো ও তাদের কাছে প্রচুর শান্তি ও সত্য প্রকাশ করবো।
7 আর আমি এহুদা ও ইসরাইলের বন্দীদশা ফিরাব এবং আগেকার দিনের মত পুনর্বার তাদের গেঁথে তুলব।
8 আর তারা যেসব অপরাধ করে আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে, তা থেকে আমি তাদেরকে পাক-পবিত্র করবো; এবং তারা যেসব অপরাধ করে আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ ও বিদ্রোহ করেছে, সেসব আমি মাফ করবো।
9 আর দুনিয়ার সমস্ত জাতির সম্মুখে এই নগর আমার পক্ষে আনন্দের কীর্তি, প্রশংসা ও শোভাস্বরূপ হবে; আমি তাদের যে সমস্ত মঙ্গল করবো, তা তারা শুনবে এবং আমি নগরের যে সমস্ত মঙ্গল ও শান্তি বিধান করবো, সেই কারণে তারা থরথর করে কাঁপবে।
10
মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা এই যে স্থানকে ধ্বংসপ্রাপ্ত, নরশূন্য ও পশুশূন্য বলে থাক, হ্যাঁ, এহুদার যে নগরগুলো ও জেরুশালেমের যেসব পথ উৎসন্ন, নরশূন্য, জনশূন্য ও পশুবিহীন হয়েছে,
11 এই স্থানে পুনর্বার আমোদের আওয়াজ ও আনন্দের আওয়াজ, বর ও কন্যার কণ্ঠস্বর শোনা যাবে; এবং তাদেরও কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, যারা বলে, ‘বাহিনীগণের মাবুদের প্রশংসা কর, কেননা মাবুদ মঙ্গলস্বরূপ, তাঁর অটল মহব্বত অনন্তকালস্থায়ী,’ আর যারা মাবুদের গৃহে প্রশংসা-গজলরূপ উপহার আনয়ন করে। কেননা আগেকার দিনের মত আমি এই দেশের বন্দীদশা ফিরাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
12
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, এই নরশূন্য ও পশুশূন্য ধ্বংসস্থানে এবং এর সমস্ত নগর আবার রাখালদের চারণভূমি হবে, তারা নিজেদের পাল শয়ন করাবে।
13 পার্বত্য অঞ্চলের, নিম্নভূমির, দক্ষিণের সকল নগরে, বিন্ইয়ামীন দেশে ও জেরুশালেমের চারদিকের অঞ্চলে এবং এহুদার সকল নগরে, ভেড়া গণনাকারীর লোকের হাতের নিচ দিয়ে ভেড়ার পালেরা পুনরায় চলবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
14
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যখন আমি সেই মঙ্গলের কথা সফল করবো, যা আমি ইসরাইল-কুলের ও এহুদা কুলের সম্বন্ধে বলেছি।
15 সেই সকল দিনে ও সেই সময়ে আমি দাউদের বংশে ধার্মিকতার এক তরুশাখাকে উৎপন্ন করবো; তিনি দেশে ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করবেন।
16 সেই সকল দিনে এহুদা উদ্ধার পাবে, জেরুশালেম নির্ভয়ে বাস করবে, আর সে এই নামে আখ্যাত হবে, ‘মাবুদ আমাদের ধার্মিকতা।’
17
কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইল-কুলের সিংহাসনে উপবিষ্ট হবার জন্য দাউদের বংশে পুরুষের অভাব হবে না;
18 আর নিত্য আমার সম্মুখে পোড়ানো-কোরবানী, শস্য-উৎসর্গ ও পশু-কোরবানী করতে লেবীয় ইমামদের মধ্যে লোকের অভাব হবে না।
19
পরে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের কালাম নাজেল হল,
20 যথা, মাবুদ বলেন, তোমরা যদি দিন সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম কিংবা রাত সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম এরকম ভঙ্গ করতে পার যে, যথাসময়ে দিন কি রাত না হয়,
21 তবে আমার গোলাম দাউদের সঙ্গে আমার যে নিয়ম আছে, তাও ভঙ্গ করা যাবে, তার সিংহাসনে বসতে তার বংশজাত লোকের অভাব হবে; এবং আমার পরিচারক লেবীয় ইমামদের সঙ্গে কৃত আমার নিয়মও ভঙ্গ করা হবে।
22 আসমানের বাহিনী যেমন গণনা করা যায় না ও সমুদ্রের বালি যেমন পরিমাণ করা যায় না, তেমনি আমি আমার গোলাম দাউদের বংশকে ও আমার পরিচারক লেবীয়দেরকে বৃদ্ধি করবো।
23
আবার ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
24 এই লোকেরা কি বলেছে, তা কি তুমি টের পাও নি? তারা বলেছে, মাবুদ যে দুই গোষ্ঠীকে মনোনীত করেছিলেন, তাদেরকে অগ্রাহ্য করেছেন; এভাবে তারা আমার লোকবৃন্দকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাদের সম্মুখে তারা আর জাতি বলে গণ্য হয় না।
25 মাবুদ এই কথা বলেন, যদি দিন ও রাত সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম না থাকে, যদি আমি আসমান ও দুনিয়ার অনুশাসনগুলো নির্ধারণ না করে থাকি,
26 তা হলে আমি ইয়াকুব ও আমার গোলাম দাউদের বংশকে অগ্রাহ্য করে ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের বংশের শাসনকর্তা করার জন্য তার বংশ থেকে লোকও গ্রহণ করবো না; সত্যিই আমি তাদের বন্দীদশা ফিরাব ও তাদের প্রতি করুণা করবো।
1
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার, তাঁর সমস্ত সৈন্য ও তাঁর কর্তৃত্বাধীন ভূখণ্ডের সমস্ত রাজ্য এবং সমস্ত জাতি যে সময়ে জেরুশালেম ও তার সমস্ত নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল, সেই সময়ে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের কাছ থেকে এই কালাম নাজেল হল,
2 মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তুমি যাও, এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের সঙ্গে আলাপ করে তাকে এই কথা বল, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে এই নগর তুলে দেব, আর সে তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
3 তুমিও তার হাত থেকে রেহাই পাবে না, নিশ্চয়ই ধরা পড়বে ও তার হাতে তুলে দেওয়া হবে; এবং তুমি নিজের চোখে ব্যাবিলনের বাদশাহ্কে দেখবে ও সে সম্মুখাসম্মুখি হয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলবে, আর তুমি ব্যাবিলনে গমন করবে।
4 তবুও, হে এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়, মাবুদের কালাম শোন; মাবুদ তোমার বিষয়ে এই কথা বলেন, তুমি তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে না;
5 তুমি শান্তিতে মরবে এবং তোমার পূর্বপুরুষদের জন্য, তোমার পূর্ববর্তী বাদশাহ্দের জন্য, যেমন আগুন জ্বালানো হয়েছিল, তেমনি লোকে তোমার জন্যও আগুন জ্বালাবে এবং ‘হায় মালিক’ বলে তোমার জন্য মাতম করবে; কেননা মাবুদ বলেন, আমি এই কথা বললাম।
6
পরে ইয়ারমিয়া নবী জেরুশালেমে এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়কে ঐ সমস্ত কথা বললেন;
7 সেই সময়ে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সৈন্যরা জেরুশালেমের বিরুদ্ধে ও এহুদার অবশিষ্ট সমস্ত নগরের বিরুদ্ধে, লাখীশের বিরুদ্ধে ও অসেকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল; বাস্তবিক এহুদা দেশস্থ নগরের মধ্যে প্রাচীরবেষ্টিত সেই দু’টি মাত্র নগর অবশিষ্ট ছিল।
8
বাদশাহ্ সিদিকিয় জেরুশালেমের সমস্ত লোকের সঙ্গে তাদের কাছে মুক্তি ঘোষণার জন্য নিয়ম স্থির করার পর মাবুদের কাছ থেকে যে কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল, তার বৃত্তান্ত।
9 স্থির হয়েছিল যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ইবরানী গোলামকে ও ইবরানী বাঁদীকে মুক্ত করে বিদায় করবে, কেউ তাদেরকে অর্থাৎ নিজেদের ইহুদী ভাইকে দিয়ে গোলামী করাবে না।
10 আর, সমস্ত কর্মকর্তা ও সমস্ত লোক সম্মত হয়েছিল; তারা এই নিয়মে আবদ্ধ হয়েছিল যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ গোলাম বাঁদীকে মুক্ত করে বিদায় করবে, আর গোলামী করাবে না; তারা সম্মত হয়ে তাদেরকে মুক্ত করে বিদায় করেছিল।
11 কিন্তু পরবর্তীকালে তারা তাদের মনোভাব পরিবর্তন করলো, যাদেরকে মুক্ত করে বিদায় করেছিল, সেই গোলাম-বাঁদীদেরকে আবার আনিয়ে নিজেদের গোলাম-বাঁদী করার জন্য বশীভূত করলো।
12 এজন্য মাবুদ থেকে এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল,
13 মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, মিসর দেশ থেকে, গোলাম-গৃহ থেকে, তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে বের করে আনবার দিনে আমিই তাদের সঙ্গে এই নিয়ম করেছিলাম,
14 ‘তোমার কোন ইবরানী ভাইকে যদি তোমার কাছ বিক্রি করা হয়, তবে সপ্তম বছরের শেষে তুমি তাকে মুক্ত করবে; সে ছয় বছর তোমার গোলামী করার পর তুমি তাকে মুক্ত করে নিজের কাছ থেকে চলে যেতে দেবে।’ কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার কালাম মান্য করে নি এবং তাতে কান দেয় নি।
15 সম্প্রতি তোমরা ফিরেছিলে, আমার দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তা-ই করেছিলে, অর্থাৎ প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর মুক্তি ঘোষণা করেছিলে এবং যে গৃহের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, তার মধ্যে আমার সম্মুখে নিয়ম স্থির করেছিলে।
16 কিন্তু এখন তোমরা ঘুরে গেছ, আমার নাম নাপাক করেছ; যাদেরকে মুক্ত করে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বিদায় দিয়েছিলে, তাদেরকে প্রত্যেককে নিজ নিজ গোলাম-বাঁদী করেছ, তোমরা তাদেরকে নিজেদের গোলাম-বাঁদী করার জন্য বশীভূত করেছ।
17 এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা আপন আপন ভাই ও প্রতিবেশীর মুক্তি ঘোষণা করতে আমার কথায় মনযোগ দাও নি; অতএব মাবুদ বলেন, দেখ, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার, মহামারী ও দুর্ভিক্ষের মুক্তি ঘোষণা করছি, আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্যে ভেসে বেড়াবার জন্য তুলে দেব।
18 যে লোকেরা আমার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, যারা আমার সাক্ষাতে নিয়ম করে তার কথা পালন করে নি, বাছুরকে দুই খণ্ড করে তার মধ্য দিয়ে গমন করেছে, আমি তাদেরকে তেমনি তাদের হাতে তুলে দেব;
19 এহুদার কর্মকর্তারা, জেরুশালেমের কর্মকর্তারা, নপুংসকরা, ইমামেরা ও দেশের সমস্ত লোক, যারা বাছুরটির দুই খণ্ডের মধ্য দিয়ে গমন করেছে,
20 তাদেরকে আমি তাদের দুশমনদের হাতে ও প্রাণনাশে সচেষ্ট লোকদের হাতে তুলে দেব; তাতে তাদের লাশ আসমানের পাখিদের ও ভূমির পশুদের খাদ্য হবে।
21 আর এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয় ও তার কর্মকর্তাদেরকে আমি তাদের দুশমনদের ও প্রাণনাশে সচেষ্ট লোকদের হাতে, হ্যাঁ, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র যে সৈন্যরা তোমাদের কাছ থেকে উঠে গেছে, তাদের হাতে তুলে দেব।
22 মাবুদ বলেন, দেখ, আমি হুকুম দ্বারা তাদের এই নগরে ফিরিয়ে আনবো; আর তারা এই নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এটি হস্তগত করবে ও আগুনে পুড়িয়ে দেবে; আর আমি এহুদার সকল নগরকে জনশূন্য ধ্বংসস্থান করবো।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের সময়ে মাবুদের কাছ থেকে এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল।
2 তুমি রেখবীয় কুলজাত লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ কর এবং মাবুদের গৃহের একটি কুঠরীতে এনে তাদেরকে পান করার জন্য আঙ্গুর-রস দাও।
3 তখন আমি হবৎসিনিয়ের পৌত্র ইয়ারমিয়ার পুত্র যাসিনিয়কে, তার ভাইদেরকে ও সকল পুত্র এবং রেখবীয়দের সমস্ত কুলকে সঙ্গে নিলাম;
4 আমি তাদেরকে মাবুদের গৃহে আল্লাহ্র লোক যিগ্দলিয়ের পুত্র হাননের সন্তানদের কুঠরীতে নিয়ে গেলাম; শল্লুমের পুত্র মাসেয় নামক দ্বারপালের কুঠরীর উপরে কর্মকর্তাদের যে কুঠরী, উক্ত কুঠরী তার পাশে অবস্থিত।
5 পরে আমি আঙ্গুর-রসে পূর্ণ কতিপয় ভাণ্ড ও কতকগুলো বাটি রেখবীয় কুলজাত লোকদের সম্মুখে রেখে তাদেরকে বললাম, তোমরা আঙ্গুর-রস পান কর।
6 কিন্তু তারা বললো, আমরা আঙ্গুর-রস পান করবো না, কেননা আমাদের পূর্বপুরুষ রেখবের পুত্র যিহোনাদব আমাদের এই হুকুম দিয়েছেন, তোমরা ও তোমাদের সন্তানেরা কেউ কখনও আঙ্গুর-রস পান করবে না;
7 আর বাড়ি নির্মাণ, বীজ বপন ও আঙ্গুর-ক্ষেতের চাষ করবে না এবং এই সকলের অধিকারী হবে না, কিন্তু সারা জীবন তাঁবুতে বাস করবে; যেন, তোমরা যে স্থানে প্রবাস করছো, সেই দেশে দীর্ঘজীবী হও।
8 অতএব আমাদের পূর্বপুরুষ রেখবের পুত্র যিহোনাদব আমাদের যেসব হুকুম দিয়েছেন, সেই অনুসারে আমরা তাঁর হুকুম পালন করে আসছি; ফলত আমরা ও আমাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা সারা জীবনে আঙ্গুর-রস পান করি নি,
9 এবং আমাদের বাসের জন্য বাড়ি নির্মাণ করি নি; আর আঙ্গুর-ক্ষেত, শস্য ক্ষেত বা বীজ আমাদের নেই;
10 কিন্তু আমরা তাঁবুবাসী এবং আমাদের পূর্বপুরুষ যিহোনাদব আমাদের যে সমস্ত হুকুম দিয়েছেন, সেই সকল মেনে সেই অনুসারে কাজ করে আসছি।
11 কিন্তু ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার যখন এই দেশের মধ্যে আসলেন, তখন আমরা বললাম, এসো, আমরা কল্দীয় সৈন্য ও অরামীয় সৈন্যের সম্মুখ থেকে জেরুশালেমে চলে যাই; এজন্য আমরা জেরুশালেমে বাস করছি।
12
পরে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
13 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তুমি গিয়ে এহুদার লোকদের ও জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে বল, মাবুদ বলেন, তোমরা আমার কালাম পালন করার জন্য কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?
14 রেখবের পুত্র যিহোনাদব তার সন্তানদেরকে আঙ্গুর-রস পান করতে বারণ করলে তার সেই হুকুমে অটল রয়েছে; আজও তারা আঙ্গুর-রস পান করে না, কারণ তারা তারাদের পূর্বপুরুষদের হুকুম মানে; কিন্তু আমি তোমাদের কাছে কথা বলেছি, খুব ভোরে উঠে বলেছি, তবুও তোমরা আমার কথায় মনযোগ দাও নি।
15 আমি আমার সমস্ত গোলাম নবীদেরকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছি, খুব ভোরে উঠে প্রেরণ করে তোমাদেরকে বলেছি, তোমরা নিজ নিজ কুপথ থেকে ফির, তোমাদের আচার-ব্যবহার শুদ্ধ কর এবং অন্য দেবতাদের সেবা করবার জন্য তাদের পিছনে যেও না; তাতে আমি তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দিয়েছি, তার মধ্যে তোমরা বাস করবে, কিন্তু তোমরা কান দাও নি এবং আমার কথায় মনযোগ দাও নি।
16 রেখবের পুত্র যিহোনাদব যা হুকুম করেছিল, তার সন্তানেরা তা-ই অটলভাবে পালন করছে; কিন্তু এই জাতি আমার কথায় মনযোগ দেয় নি।
17 এজন্য মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি এহুদার বিপরীতে ও জেরুশালেম-নিবাসী সকলের বিপরীতে যেসব অমঙ্গলের কথা বলেছি, সেসব তাদের প্রতি ঘটাবো; কারণ আমি তাদের কাছে কথা বলেছি, কিন্তু তারা শোনে নি এবং তাদেরকে আহ্বান করেছি, কিন্তু তারা উত্তর দেয় নি।
18
পরে ইয়ারমিয়া রেখবীর কুলকে বললেন, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা নিজেদের পূর্বপুরুষ যিহোনাদবের হুকুমে মনযোগ দিয়েছ, তার সমস্ত আদেশমালা পালন করেছ ও তার সমস্ত হুকুম অনুসারে কাজ করেছ;
19 এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, রেখবের পুত্র যিহোনাদবের জন্য আমার সম্মুখে দাঁড়াবার লোকের অভাব কখনও হবে না।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের চতুর্থ বছরে এই কালাম মাবুদের কাছ থেকে ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল,
2 যথা, তুমি একখানি গুটানো কিতাব নাও এবং আমি যেদিন তোমার কাছে কথা বলেছিলাম, সেই থেকে, ইউসিয়ার সময় থেকে, আজ পর্যন্ত ইসরাইল, এহুদা ও সমস্ত জাতির বিরুদ্ধে তোমাকে যা যা বলেছি, সেই সমস্ত কালাম সেই কিতাবে লিখ।
3 হয় তো, আমি এহুদা-কুলের উপরে যেসব অমঙ্গল ঘটাবার সঙ্কল্প করেছি, তারা সেসব অমঙ্গলের কথা শুনে প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ থেকে ফিরবে; আর আমি তাদের অপরাধ ও গুনাহ্ মার্জনা করবো।
4
পরে ইয়ারমিয়া নেরিয়ের পুত্র বারূককে ডাকলেন; এবং বারূক ইয়ারমিয়ার প্রতি কথিত মাবুদের সমস্ত কালাম তাঁর মুখে শুনে একটি গুটিয়ে রাখা কিতাবে লিখলেন।
5 পরে ইয়ারমিয়া বারূককে হুকুম করলেন, বললেন, আমাকে মাবুদের গৃহে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলে সেখানে যেতে পারি না।
6 অতএব তুমি যাও এবং আমার মুখে শুনে যা যা এই কিতাবে লিখেছ, মাবুদের সেই সকল কালাম রোজা রাখবার দিনে মাবুদের গৃহে লোকদের শুনিয়ে পাঠ কর, আর তুমি এহুদার নগরগুলো থেকে আগত সমস্ত লোকের সাক্ষাতেও তা পাঠ করবে।
7 হয় তো, মাবুদের সম্মুখে তারা ফরিয়াদ উপস্থিত করবে এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ থেকে ফিরবে, কেননা মাবুদ এই জাতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত ক্রোধের ও রোষের কথা বলেছেন।
8 পরে নেরিয়ের পুত্র বারূক ইয়ারমিয়া নবীর হুকুম অনুসারে সমস্ত কাজ করলেন, ঐ কিতাবে লেখা মাবুদের কালাম মাবুদের গৃহে পাঠ করলেন।
9
পরে ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের পঞ্চম বছরের নবম মাসে জেরুশালেমের সমস্ত লোক এবং এহুদার নগরগুলো থেকে জেরুশালেমে আগত সমস্ত লোক, মাবুদের সাক্ষাতে রোজা রাখবার কথা ঘোষণা করলো।
10 তখন বারূক মাবুদের গৃহে, উপরিস্থ প্রাঙ্গণে, মাবুদের গৃহের নতুন দ্বারের প্রবেশ স্থানে, শাফনের পুত্র গমরিয় লেখকের কক্ষে ঐ কিতাব নিয়ে সমস্ত লোকের কর্ণগোচরে ইয়ারমিয়ার কথাগুলো পাঠ করলেন।
11
যখন শাফনের পৌত্র গমরিয়ের পুত্র মীখায় সেই কিতাবে লেখা মাবুদের সমস্ত কালাম শুনলেন,
12 তখন তিনি রাজপ্রসাদে নেমে লেখকের কুঠরীতে গেলেন; আর দেখ, সেই স্থানে কর্মকর্তা সকলে, অর্থাৎ ইলীশামা লেখক, শময়িয়ের পুত্র দলায়, অক্বোরের পুত্র ইল্নাথন, শাফনের পুত্র গমরিয় ও হনানিয়ের পুত্র সিদিকিয় প্রভৃতি সমস্ত কর্মকর্তা উপবিষ্ট ছিলেন।
13 লোকদের কর্ণগোচরে যখন বারূক ঐ কিতাব পাঠ করেছিলেন, তখন মীখায় যেসব কথা শুনেছিলেন, তা তাঁদেরকে জানালেন।
14 তাতে কর্মকর্তারা সকলে কূশির প্রপৌত্র শেলিমিয়ের পৌত্র নথনিয়ের পুত্র যেহুদীকে দিয়ে বারূককে এই কথা বলে পাঠালেন, তুমি লোকদের কর্ণগোচরে যে কিতাব পাঠ করেছ, তা নিয়ে এসো; অতএব নেরিয়ের পুত্র বারূক কিতাবখানি নিয়ে তাঁদের কাছে আসলেন।
15 তাঁরা বললেন, আরজ করি, তুমি বসে আমাদের কর্ণগোচরে সেটি পাঠ কর; তাতে বারূক তাঁদের কর্ণগোচরে পাঠ করলেন।
16 তখন ঐ সমস্ত কথা শুনে তাঁরা সকলে ভয় পেয়ে পরস্পর পরসপরের দিকে তাকালেন এবং বারূককে বললেন, আমরা এসব কথার বিষয় অবশ্য বাদশাহ্কে জানাবো।
17 পরে তাঁরা বারূককে জিজ্ঞাসা করলেন, বল দেখি, তুমি কেমন করে তাঁর মুখে শুনে এসব কথা লিখেছিলে?
18 জবাবে বারূক বললেন, তিনি আমার কাছে এসব কথা উচ্চারণ করছিলেন এবং আমি কালি দিয়ে এই কিতাবে সেগুলো লিখছিলাম।
19 তখন কর্মকর্তারা বারূককে বললেন, তুমি ও ইয়ারমিয়া লুকিয়ে থাক; কেউ যেন তোমাদের সন্ধান না পায়।
20
পরে তাঁরা ইলীশামা লেখকের কুঠরীতে কিতাবখানি রেখে প্রাঙ্গণে বাদশাহ্র কাছে গিয়ে তাঁর কর্ণগোচরে ঐ সমস্ত কথা বললেন।
21 তাতে বাদশাহ্ কিতাবখানি আনবার জন্য যেহুদীকে পাঠালেন, আর যেহুদী ইলীশামা লেখকের কুঠরী থেকে তা এনে বাদশাহ্র কর্ণগোচরে ও তাঁর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান কর্মকর্তাদের কর্ণগোচরে তা পাঠ করতে লাগলেন।
22 ঐ সময়ে নবম মাসে বাদশাহ্ শীতকাল যাপনের বাড়িতে বসেছিলেন এবং তাঁর সম্মুখে জ্বলন্ত আগুনের আঙ্গটা ছিল।
23 আর যেহুদী তিন চার পাতা পাঠ করার পর বাদশাহ্ লেখকের ছুরি দিয়ে কিতাবখানি কেটে ঐ আঙ্গটার আগুনে ফেলে দিতে লাগলেন; এভাবে শেষে সমস্ত কিতাবখানি আঙ্গটার আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হল।
24 বাদশাহ্ ও তাঁর গোলামেরা ঐ সমস্ত কালাম শুনেও কেউ ভয় পেল না ও নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়লেন না।
25 যদিও ইল্নাথন, দলায় ও গমরিয়, কিতাবখানি যেন পোড়ানো না হয়, সেজন্য বাদশাহ্কে বিনয় করেছিলেন, তবুও তিনি তাঁদের কথা শুনলেন না।
26 আর বাদশাহ্ রাজপুত্র যিরহমেলকে, অস্রীয়েলের পুত্র সরায় ও অব্দিয়েলের পুত্র শেলিমিয়কে হুকুম করলেন, তোমরা বারূক লেখক ও ইয়ারমিয়া নবীকে ধর; কিন্তু মাবুদ তাঁদেরকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
27
ইয়ারমিয়ার মুখে শুনে বারূক যেসব কালাম লিখেছিলেন, সেই কিতাবখানি বাদশাহ্ পুড়িয়ে দেবার পর মাবুদের এই কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল,
28 তুমি পুনর্বার আর একটি কিতাব গ্রহণ কর; এবং ঐ প্রথম কালামগুলো, অর্থাৎ এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীম কর্তৃক পুড়িয়ে ফেলা সেই প্রথম কিতাবে যা ছিল, সেই সমস্ত তার মধ্যে লিখ।
29 আর এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের বিষয়ে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি এই কিতাব পুড়িয়েছ, বলেছ, তুমি কেন এর মধ্যে এই কথা লিখেছ যে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ অবশ্য আসবেন ও এই দেশ বিনষ্ট করবেন এবং জনশূন্য ও পশুহীন করবেন?
30 অতএব এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, দাউদের সিংহাসনে বসতে তার কেউ থাকবে না এবং তার লাশ দিনে রৌদ্রে ও রাতের বেলায় হিমে নিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে থাকবে।
31 আর আমি তাকে, তার বংশ ও তার গোলামদেরকে তাদের অপরাধের প্রতিফল দেব, আর তাদের বিরুদ্ধে এবং জেরুশালেম-নিবাসীদের ও এহুদার লোকদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অমঙ্গলের কথা বললেও তারা কান দেয় নি, আমি তাদের উপরে সেই সকল অমঙ্গল ঘটাবো।
32
পরে ইয়ারমিয়া আর একখানি কিতাব নিয়ে নেরিয়ের পুত্র বারূক লেখককে দিলেন, তাতে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীম যে কিতাব আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, তার সমস্ত কথা তিনি পুনর্বার ইয়ারমিয়ার মুখে শুনে লিখলেন; এছাড়া, ঐ রকম অন্যান্য অনেক কথাও তাতে লেখা হল।
1
যিহোয়াকীমের পুত্র কনিয়ের পদে ইউসিয়ার পুত্র সিদিকিয় বাদশাহ্ হয়ে রাজত্ব করেন; ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার তাঁকেই এহুদা দেশের বাদশাহ্ করেছিলেন।
2 কিন্তু তিনি, তাঁর গোলামেরা ও দেশীয় লোকেরা ইয়ারমিয়া নবী দ্বারা কথিত মাবুদের কালামে কান দিতেন না।
3
পরে বাদশাহ্ সিদিকিয় শেলিমিয়ের পুত্র যিহূখল ও মাসেয়ের পুত্র ইমাম সফনিয়কে নবী ইয়ারমিয়ার কাছে প্রেরণ করে বললেন, আরজ করি, আপনি আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে আমাদের জন্য মুনাজাত করুন।
4 সেই সময়ে ইয়ারমিয়া লোকদের মধ্যে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতেন, কারণ তখনও তাঁকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয় নি।
5 আর ফেরাউনের সৈন্য মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিল; এবং জেরুশালেম-অবরোধকারী কল্দীয়েরা তাদের সংবাদ শুনে জেরুশালেম থেকে চলে গিয়েছিল।
6
তখন ইয়ারমিয়া নবীর কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
7 মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, এহুদার যে বাদশাহ্ আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতে তোমাদের পাঠিয়েছে, তাকে এই কথা বল, দেখ, ফেরাউনের যে সৈন্য তোমাদের সাহায্যার্থে বের হয়ে এসেছে, তারা মিসরে তাদের দেশে ফিরে যাবে।
8 আর কল্দীয়েরা পুনর্বার আসবে, এই নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং নগরটি হস্তগত করে আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
9 মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা এই কথা বলে নিজেদের প্রাণকে প্রবঞ্চনা করো না যে, কল্দীয়েরা আমাদের কাছ থেকে অবশ্য চলে যাবে; কেননা তারা যাবে না।
10 বাস্তবিক যে কল্দীয়েরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, তোমরা তাদের সমস্ত সৈন্যকে আঘাত করলেও যদি তাদের মধ্যে কয়েকজন তলোয়ারে আঘাতপ্রাপ্ত লোক কেবল তাদের তাঁবুতে অবশিষ্ট থাকে, তবুও তারাই উঠে এই নগর আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
11
কল্দীয়দের সৈন্যদল যে সময়ে ফেরাউনের সৈন্যদলের ভয়ে জেরুশালেম থেকে উঠে গিয়েছিল,
12 সেই সময়ে ইয়ারমিয়া বিন্ইয়ামীন প্রদেশে যাবার ও সেখানে লোকদের কাছ থেকে নিজেদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করার ইচ্ছায় জেরুশালেম থেকে প্রস্থান করলেন।
13 যখন তিনি বিন্ইয়ামীনের দ্বারে উপস্থিত হন, তখন সেই স্থানে রক্ষকদের এক জন নেতা ছিল, তার নাম যিরিয়, সে হনানিয়ের পৌত্র, শেলিমিয়ের পুত্র; সেই ব্যক্তি ইয়ারমিয়া নবীকে ধরে বললো, তুমি কল্দীয়দের পক্ষে যাচ্ছ।
14 ইয়ারমিয়া বললেন, এটা মিথ্যে কথা, আমি কল্দীয়দের পক্ষে যাচ্ছি না। তবুও যিরিয় তাঁর কথা না শুনে ইয়ারমিয়াকে ধরে কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে গেল।
15 সেই কর্মকর্তারা ইয়ারমিয়ার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে প্রহার করলো এবং যোনাথন লেখকের বাড়িতে স্থাপিত কারাগারে রাখল, কেননা তারা সেই গৃহেই একটি কারাগার করেছিল।
16
সেই কারাকূপে ও কারাকক্ষে প্রবেশ করার পর ইয়ারমিয়া সেই স্থানে অনেক দিন যাপন করলেন।
17
পরে বাদশাহ্ সিদিকিয় লোক পাঠিয়ে তাঁকে আনালেন; আর বাদশাহ্ তাঁর বাড়িতে তাঁকে নির্জনে জিজ্ঞাসা করলেন, মাবুদের কোন কালাম কি আছে? ইয়ারমিয়া বললেন, হ্যাঁ, আছে। তিনি আরও বললেন, আপনাকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে তুলে দেওয়া হবে।
18 ইয়ারমিয়া বাদশাহ্ সিদিকিয়কে এও বললেন, আপনার বিরুদ্ধে, আপনার গোলামদের বিরুদ্ধে, কিংবা এই লোকদের বিরুদ্ধে, আমি কি অপরাধ করেছি যে, আপনারা আমাকে কারাগারে রেখেছেন?
19 আর যারা আপনাদের কাছে এই ভবিষ্যদ্বাণী বলতো যে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ আপনাদের কিংবা এই দেশের বিরুদ্ধে আসবেন না, আপনাদের সেই নবীরা কোথায়?
20 এখন, হে আমার মালিক বাদশাহ্, আরজ করি, শুনুন; আমি যোনাথন লেখকের বাড়িতে যেন না মরি, এজন্য আপনি সেই স্থানে আমাকে আর পাঠাবেন না, আরজ করি, আমার এই ফরিয়াদ আপনার সাক্ষাতে গ্রাহ্য হোক।
21 তখন লোকেরা বাদশাহ্ সিদিকিয়ের হুকুমে ইয়ারমিয়াকে রক্ষীদের প্রাঙ্গণে রাখল এবং যে পর্যন্ত নগরের সমস্ত রুটি শেষ না হল, সে পর্যন্ত প্রতিদিন রুটি-ওয়ালাদের পাড়া থেকে একখানা রুটি নিয়ে তাঁকে দেওয়া হত। এই প্রকারে ইয়ারমিয়া রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থাকলেন।
1
আর মত্তনের পুত্র শফটিয়, পশ্হূরের পুত্র গদলিয়, শেলিমিয়ের পুত্র যিহূখল ও মল্কিয়ের পুত্র পশহূর শুনতে পেল যে, ইয়ারমিয়া সমস্ত লোকের কাছে এসব কালাম বলেছেন,
2 যথা, ‘মাবুদ এই কথা বলেন, যে কেউ এই নগরে থাকবে, সে তলোয়ারে, দুর্ভিক্ষে ও মহামারীতে মারা পড়বে; কিন্তু যে কেউ বের হয়ে কল্দীয়দের কাছে যাবে, সে বাঁচবে, লুটদ্রব্যের মত নিজের প্রাণ লাভ করে বাঁচবে।
3 মাবুদ এই কথা বলেন, এই নগর অবশ্য ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সৈন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ও সে তা হস্তগত করবে।’
4 তখন কর্মকর্তারা বাদশাহ্কে বললেন, এই ব্যক্তির প্রাণদণ্ড করতে হুকুম হোক, কেননা সে লোকদের কাছে এই রকম কথা বলে এই নগরে অবশিষ্ট যোদ্ধাদের হাত ও লোক সকলের হাত দুর্বল করছে; কারণ এই ব্যক্তি এই জাতির মঙ্গল চেষ্টা করে না, কেবল অমঙ্গল চেষ্টা করে।
5 সিদিকিয় বাদশাহ্ বললেন, দেখ, সে তোমাদেরই হাতে আছে; কারণ তোমাদের বিরুদ্ধে বাদশাহ্র কিছু করার সাধ্য নেই।
6 তখন তাঁরা ইয়ারমিয়াকে ধরে রক্ষীদের প্রাঙ্গণে স্থাপিত রাজপুত্র মল্কিয়ের কুয়ার মধ্যে ফেলে দিল; দড়িতে করে ইয়ারমিয়াকে নামিয়ে দিল; সেই কুয়ায় পানি ছিল না, কিন্তু কাদা ছিল এবং ইয়ারমিয়া সেই কাদার মধ্যে প্রায় ডুবে যেতে লাগলেন।
7
ইতোমধ্যে রাজপ্রাসাদে স্থিত এবদ-মেলক নামে এক জন ইথিওপীয় নপুংসক শুনতে পেল যে, ইয়ারমিয়াকে কুয়ায় ফেলে দেওয়া হয়েছে; তখন বাদশাহ্ বিন্-ইয়ামীনের দ্বারে বসেছিলেন।
8 এবদ-মেলক রাজপ্রাসাদ থেকে বাইরে গিয়ে বাদশাহ্কে বললো,
9 হে আমার মালিক বাদশাহ্, এই লোকেরা নবী ইয়ারমিয়ার প্রতি যা যা করেছে, সমস্তই মন্দ ব্যবহার করেছে; তাঁকে কুয়ায় ফেলে দিয়েছে; তিনি সেই স্থানে ক্ষুধায় মৃতপ্রায় হয়েছেন, কেননা নগরে আর রুটি নেই।
10 তখন বাদশাহ্ ইথিওপীয় এবদ-মেলককে হুকুম করলেন, তুমি এই স্থান থেকে ত্রিশ জন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ইয়ারমিয়া নবী বেঁচে থাকতে থাকতে তাঁকে কুয়া থেকে তুলে আন।
11 তখন এবদ-মেলক সেই লোকদেরকে সঙ্গে নিয়ে রাজপ্রাসাদে গিয়ে ভাণ্ডারের নিচ থেকে কতকগুলো পুরানো কাপড় ও পুরানো নেকড়া নিয়ে দড়ি দিয়ে কূপে ইয়ারমিয়ার কাছে নামিয়ে দিল।
12 আর ইথিওপীয় এবদ-মেলক ইয়ারমিয়াকে বললো, এই পুরানো কাপড় ও পুরানো নেকড়াগুলো আপনার বগলে দড়ির নিচে দিন। ইয়ারমিয়া তা করলেন।
13 আর ওরা ঐ দড়ি ধরে টেনে কুয়া থেকে তাঁকে তুললো; এবং ইয়ারমিয়া রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থাকলেন।
14
পরে বাদশাহ্ সিদিকিয় লোক পাঠিয়ে ইয়ারমিয়া নবীকে মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের তৃতীয় প্রবেশ-স্থানে নিজের কাছে আনালেন; আর বাদশাহ্ ইয়ারমিয়াকে বললেন; আমি আপনাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, আমার কাছে কিছুই গোপন করবেন না।
15 ইয়ারমিয়া সিদিকিয়কে বললেন, আমি যদি আপনাকে তা জানাই, তবে আপনি কি আমাকে নিশ্চয়ই হত্যা করবেন না? আর আমি যদি আপনাকে পরামর্শ দিই, আপনি আমার কথায় কান দিবেন না।
16 বাদশাহ্ সিদিকিয় গোপনে ইয়ারমিয়ার কাছে শপথ করে বললেন, আমাদের এই জীবাত্মার নির্মাতা জীবন্ত মাবুদের কসম, আমি আপনাকে হত্যা করবো না এবং আপনার প্রাণনাশ করবার জন্য যারা চেষ্টা করছে তাদের হাতে আপনাকে তুলে দেব না।
17
তখন ইয়ারমিয়া সিদিকিয়কে বললেন, মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তুমি যদি বের হয়ে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কর্মকর্তাদের কাছে যাও, তবে তোমার প্রাণ বাঁচবে, এই নগরও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে না এবং তুমি বাঁচবে, তুমি ও তোমার পরিবার বাঁচবে।
18 কিন্তু যদি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কর্মকর্তাদের কাছে না যাও, তবে এই নগর কল্দীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং তারা তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে, আর তুমিও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।
19 সিদিকিয় বাদশাহ্ ইয়ারমিয়াকে বললেন, যে ইহুদীরা কল্দীয়দের পক্ষে গেছে, তাদেরকে আমি ভয় করি; কি জানি, আমাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, আর তারা আমাকে অপমান করবে।
20 ইয়ারমিয়া বললেন, আপনাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না; আরজ করি, আমি আপনাকে যা বলি, সেই বিষয়ে আপনি মাবুদের কথা মান্য করুন; তাতে আপনার মঙ্গল হবে, আপনার প্রাণ বাঁচবে।
21 কিন্তু আপনি যদি যেতে অসম্মত হন, তবে মাবুদ আমাকে যা জানিয়েছেন, সেই কথা এই;
22 দেখুন, এহুদার রাজপ্রাসাদে অবশিষ্ট সমস্ত স্ত্রীলোক ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কর্মকর্তাদের কাছে নীত হবে। আর সেই স্ত্রীলোকেরা বলবে, তোমার মিত্ররা তোমাকে ভুলিয়েছে, পরাজিত করেছে, তোমার পা কাদার মধ্যে ডুবে গেছে, ওরা তোমাকে ত্যাগ করেছে।
23 আর লোকেরা আপনার সমস্ত স্ত্রী ও আপনার সন্তানদেরকে বাইরে কল্দীয়দের কাছে নিয়ে যাবে; এবং আপনিও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাবেন না, কিন্তু ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে ধরা পড়বেন এবং তিনি এই নগরকে আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।
24
পরে সিদিকিয় ইয়ারমিয়াকে বললেন, এসব কথা কেউ যেন জানতে না পারে, জানলে আপনি মারা পড়বেন।
25 কিন্তু আমি যে আপনার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি, কর্মকর্তারা যদি তা শুনতে পায় এবং আপনার কাছে এসে বলে, ‘তুমি বাদশাহ্কে কি কি বলেছ তা আমাদের জানাও, আমাদের কাছ থেকে কিছুই গোপন করো না, তাতে আমরা তোমাকে হত্যা করবো না, আর বাদশাহ্ তোমাকে কি কি বলেছেন, জানাও,’
26 তবে আপনি তাদেরকে এই কথা বলবেন, বাদশাহ্ যেন আমাকে যোনাথনের বাড়িতে পুনর্বার প্রেরণ না করেন, সেখানে যেন না মরি, বাদশাহ্র কাছে আমি এই ফরিয়াদ করেছিলাম।
27 পরে কর্মকর্তারা সকলে ইয়ারমিয়ার কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন; তাতে তিনি বাদশাহ্র হুকুম অনুসারে ঐ সমস্ত কথা তাঁদের বললেন। তখন তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ক্ষান্ত হলেন; বস্তুত সেসব কথা কেউই জানতে পারল না।
28 আর জেরুশালেমের পরাজয়ের দিন পর্যন্ত ইয়ারমিয়া রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থাকলেন।
1
জেরুশালেমের পরাজয় এভাবে হয়েছিল। এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের নবম বছরের দশম মাসে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার ও তাঁর সমস্ত সৈন্য জেরুশালেমের বিরুদ্ধে এসে তা অবরোধ করলেন।
2 পরে সিদিকিয়ের একাদশ বছরের চতুর্থ মাসের নবম দিনে নগরের প্রাচীরের একটি স্থান ভেঙ্গে গেল।
3 তখন ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সমস্ত কর্মকর্তা, অর্থাৎ নের্গলশরেৎসর, সমগর-নবো, প্রধান নপুংসক শর্সখীম ও প্রধান গণক নের্গলশরেৎসর প্রভৃতি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সমস্ত কর্মকর্তা প্রবেশ করে মধ্যম দ্বারে বসলেন।
4 আর এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয় ও সমস্ত যোদ্ধা তাঁদেরকে দেখে পালিয়ে গেলেন, রাতের বেলায় বাদশাহ্র বাগানের পথে দুই প্রাচীরের মধ্যস্থিত দ্বার দিয়ে নগরের বাইরে গেলেন; আর তিনি অরাবা সমভূমির পথে প্রস্থান করলেন।
5 কিন্তু কল্দীয়দের সৈন্য তাঁদের পিছনে ধাবমান হয়ে জেরিকোর সমভূমিতে বাদশাহ্ সিদিকিয়ের নাগাল পেল ও তাঁকে ধরে হমাৎ দেশস্থ রিব্লাতে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের কাছে আনলো; তাতে তিনি তাঁর দণ্ডবিধান করলেন।
6 আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ রিব্লাতে সিদিকিয়ের সাক্ষাতে তাঁর পুত্রদেরকে হত্যা করলেন, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ এহুদার সমস্ত নেতৃবর্গকেও হত্যা করলেন।
7 আর তিনি সিদিকিয়ের চোখ উৎপাটন করে তাঁকে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবার জন্য ব্রোঞ্জের শিকল দিয়ে বাঁধলেন।
8
পরে কল্দীয়েরা রাজপ্রাসাদ ও সাধারণ লোকদের ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিল এবং জেরুশালেমের সমস্ত প্রাচীর ভেঙ্গে ফেললো।
9 আর নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি, যারা নগরে অবশিষ্ট ছিল, সেই লোকদের ও যারা পক্ষান্তরে গিয়ে তাঁর সপক্ষ হয়েছিল, তাদেরকে এবং অন্য অবশিষ্ট লোকদের বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন।
10 তবুও নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি কতগুলো দীনদরিদ্র লোককে এহুদা দেশে অবশিষ্ট রাখলেন এবং সেদিন তাদেরকে আঙ্গুরক্ষেত ও ভূমি দিলেন।
11
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার ইয়ারমিয়ার বিষয়ে নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতিকে এই হুকুম দিয়েছিলেন,
12 তুমি তাঁকে গ্রহণ করে তাঁর তত্ত্বাবধান করো, তাঁর কোন ক্ষতি করো না; বরং তিনি তোমাকে যেমন বলবেন, তাঁর সঙ্গে তেমনি ব্যবহার করো।
13 অতএব নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি, প্রধান নপুংসক নবূশস্বন ও প্রধান গণক নের্গল-শরেৎসর এবং ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সমস্ত প্রধানবর্গ,
14 লোক প্রেরণ করে রক্ষীদের প্রাঙ্গণ থেকে ইয়ারমিয়াকে নিয়ে আসলেন এবং তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের হাতে দিলেন; তাতে তিনি লোকদের মধ্যে বাস করলেন।
15
যে সময়ে ইয়ারমিয়া রক্ষীদের প্রাঙ্গণে বন্দী ছিলেন, সে সময় তাঁর কাছে মাবুদের এই কালাম উপস্থিত হয়েছিল,
16 তুমি গিয়ে ইথিওপীয় এবদ-মেলককে বল, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, মঙ্গলের জন্য নয়, কিন্তু অমঙ্গলের জন্য আমি এই নগরের উপরে আমার সমস্ত কালাম সফল করবো, সেদিন তোমার সাক্ষাতে সেসব সফল হবে।
17 কিন্তু সেদিন আমি তোমাকে উদ্ধার করবো, মাবুদ এই কথা বলেন এবং তুমি যে লোকদের ভয় করছো, তাদের হাতে তোমাকে তুলে দেওয়া হবে না।
18 আমি তোমাকে অবশ্য রক্ষা করবো, তুমি তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে না, কিন্তু লুণ্ঠিত দ্রব্যের মত তোমার প্রাণলাভ হবে; কেননা তুমি আমার উপর ভরসা করেছ, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
রক্ষক-সেনাপতি নবূষরদন ইয়ারমিয়াকে রামা থেকে বিদায় দেবার পর তাঁর কাছে মাবুদের যে কালাম নাজেল হল, তার বৃত্তান্ত। নবূষরদন যখন তাঁকে গ্রহণ করলেন, তখন তিনি শিকলে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন এবং জেরুশালেম ও এহুদার যে সমস্ত লোককে নির্বাসনের জন্য ব্যাবিলনে নেওয়া হচ্ছিল, তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
2 রক্ষক-সেনাপতি ইয়ারমিয়াকে গ্রহণ করে বললেন, তোমার আল্লাহ্ মাবুদ এই স্থানের বিষয়ে এই অমঙ্গলের কথা বলেছিলেন;
3 আর মাবুদ তা ঘটিয়েছেন, যেমন বলেছিলেন তেমনি করেছেন। তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছ, তাঁর কথা মান্য কর নি, এজন্য তোমাদের প্রতি এই সব ঘটলো।
4 এখন দেখ, আজ আমি তোমার হাতের শিকল থেকে তোমাকে মুক্ত করলাম; তুমি যদি আমার সঙ্গে ব্যাবিলনে যেতে ইচ্ছা কর, তবে এসো, আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহদৃষ্টি রাখবো; আর যদি আমার সঙ্গে ব্যাবিলনে যেতে তোমার ইচ্ছা না হয়, তবে ক্ষান্ত হও; দেখ, সমস্ত দেশ তোমার সম্মুখে আছে; যে স্থানে যাওয়া তোমার উত্তম ও ভাল মনে হয়, সেই স্থানে যাও।
5 ইয়ারমিয়া তখনও কিছু বলছেন না দেখে আবারও তিনি বললেন, ভাল, তুমি শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে ফিরে যাও, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ তাঁকেই এহুদার নগরগুলোর উপরে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছেন, তুমি লোকদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে বাস কর; কিংবা যে কোন স্থানে যাওয়া তোমার ভাল মনে হয়, সেই স্থানে যাও।’ পরে রক্ষক-সেনাপতি তাঁকে পাথেয় ও উপঢৌকন দিয়ে বিদায় করলেন।
6 তাতে ইয়ারমিয়া মিস্পাতে অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে গিয়ে দেশে অবশিষ্ট লোকদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে বাস করতে লাগলেন।
7
মাঠে অবস্থিত সৈন্যদের সমস্ত সেনাপতি ও তাঁদের লোকেরা যখন শুনতে পেল যে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ অহীকামের পুত্র গদলিয়কে দেশে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছেন এবং যারা বন্দীরূপে ব্যাবিলনে নীত হয় নি, সেসব পুরুষ, স্ত্রী, বালক-বালিকা ও জনপদস্থ দরিদ্র লোকদেরকে তাঁর হাতে দেওয়া হয়েছে, তখন তারা মিস্পাতে গদলিয়ের কাছে এল;
8 অর্থাৎ নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল এবং যোহানন ও যোনাথন নামে কারেহের দুই পুত্র, তন্হূমতের পুত্র সরায়, নটোফাতীয় এফয়ের পুত্ররা ও মাখাথীয়ের পুত্র যাসনিয়, এরা নিজ নিজ লোকদের সঙ্গে উপস্থিত হল।
9 আর শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয় তাদের কাছে ও তাদের লোকদের কাছে শপথ করে বললেন, তোমরা কল্দীয়দের গোলামদের ভয় করো না, দেশে বাস করে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র গোলাম হও, তাতে তোমাদের মঙ্গল হবে।
10 আর আমি, দেখ, যে কল্দীয়েরা আমাদের এখানে আসবে, আমি তাদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবার জন্য এই মিস্পাতে বাস করবো; কিন্তু তোমরা আঙ্গুর-রস, গ্রীষ্মের ফল ও তেল সঞ্চয় করে নিজ নিজ পাত্রে রাখ এবং যেসব নগর তোমাদের হস্তগত হয়েছে, সেখানে বাস কর।
11 আর মোয়াবে, অম্মোনীয়দের মধ্যে ইদোমে ও অন্যান্য দেশে যেসব ইহুদী ছিল, তারা যখন শুনলো যে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ এহুদার একটি অংশ অবশিষ্ট রেখেছেন এবং শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে তাদের উপরে নিযুক্ত করেছেন,
12 তখন সেই ইহুদীরা সকলে যে সমস্ত স্থানে বিতাড়িত হয়েছিল, সেই সকল স্থান থেকে ফিরে এল, এহুদা দেশে মিস্পাতে গদলিয়ের কাছে উপস্থিত হল এবং প্রচুর আঙ্গুর-রস ও গ্রীষ্মের ফল সঞ্চয় করতে লাগল।
13
পরে কারেহের পুত্র যোহানন ও মাঠে অবস্থিত সৈন্যদের সমস্ত সেনাপতি মিস্পাতে গদলিয়ের কাছে এসে তাঁকে বললো,
14 আপনি কি জানেন, অম্মোনীয়দের বাদশাহ্ বালীস আপনার প্রাণনাশ করতে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইলকে প্রেরণ করেছেন? কিন্তু অহীকামের পুত্র গদলিয় তাদের কথায় বিশ্বাস করলেন না।
15 পরে কারেহের পুত্র যোহানন মিস্পাতে গদলিয়কে গোপনে বললো, যদি আপনার অনুমতি হয়, তবে আমি গিয়ে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইলকে হত্যা করি, কেউ তা জানতে পারবে না; সে কেন আপনার প্রাণ নষ্ট করবে? করলে আপনার কাছে সংগৃহীত সমস্ত ইহুদী ছিন্নভিন্ন হবে এবং এহুদার অবশিষ্টাংশ বিনষ্ট হবে।
16 কিন্তু অহীকামের পুত্র গদলিয় কারেহের পুত্র যোহাননকে বললেন, এই কাজ করো না; কেননা ইসমাইলের বিষয়ে তুমি যা বলছো, তা মিথ্যে।
1
ইরিশামার পৌত্র নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল বাদশাহ্র প্রধান কর্মচারীদের মধ্যে গণনা-করা রাজ-বংশীয় ছিল; সপ্তম মাসে সে দশ জন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে মিস্পাতে অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে এল; আর তারা মিস্পাতে একত্রে ভোজন করলো।
2 পরে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল ও তার ঐ দশ জন সঙ্গী উঠে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র নিযুক্ত শাসনকর্তা, শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে, তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করলো।
3 আর মিস্পাতে গদলিয়ের সঙ্গে যে সমস্ত ইহুদী ছিল এবং যে কল্দীয় সৈন্য সেখানে পাওয়া গেল ইসমাইল তাদের সকলকে হত্যা করলো।
4
গদলিয়কে হত্যা করার পরের দিন কেউই সেই বিষয়টি না জানবার আগেই,
5 শিখিম, শীলো ও সামেরিয়া থেকে আশি জন পুরুষ আসছিল; তারা দাড়ি কেটে, ছেঁড়া কাপড় পরে ও নিজ নিজ অঙ্গ কাটাকুটি করে মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসে কোরবানী করার জন্য নৈবেদ্য ও ধূপ নিয়ে আসছিল।
6 আর নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য মিস্পা থেকে বের হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে গেল এবং তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে বললো, অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে চল।
7 পরে তারা নগরের মধ্যস্থানে আসলে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল ও তার সঙ্গী পুরুষেরা তাদেরকে হত্যা করে সেখানকার কুয়ার মধ্যে নিক্ষেপ করলো।
8 কিন্তু তাদের মধ্যে দশ জনকে পাওয়া গেল, যারা ইসমাইলকে বললো, আমাদেরকে হত্যা করবেন না, কেননা ক্ষেতে আমাদের গম, যব, তেল ও মধুর গুপ্ত ভাণ্ডার আছে। তাতে সে ক্ষান্ত হল, তাদের ভাইদের সঙ্গে তাদেরকে হত্যা করলো না।
9
ঐ লোকদের হত্যা করার পর ইসমাইল যে কুয়ায় তাদের লাশ গদলিয়ের পাশে ফেলে দিয়েছিল, তা বাদশাহ্ আসা ইসরাইলের বাদশাহ্ বাশার ভয়ে প্রস্তুত করেছিলেন; নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল সেটা নিহতদের লাশে পরিপূর্ণ করলো।
10 পরে ইসমাইল মিস্পাতে অবশিষ্ট সমস্ত লোককে বন্দী করে নিয়ে গেল, রাজকুমারীরা ও যে সমস্ত লোক মিস্পাতে অবশিষ্ট ছিল, যাদেরকে নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি অহীকামের পুত্র গদলিয়ের হাতে দিয়েছিলেন, তাদেরকে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল বন্দী করে অম্মোনীয়দের কাছে যাবার জন্য প্রস্থান করলো।
11
কিন্তু কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সেনাপতিরা সকলে যখন শুনতে পেল যে, নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল এসব দুষ্কর্ম করেছে,
12 তখন তারা সমস্ত লোককে নিয়ে নথনিয়ের পুত্র ইসমাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল এবং গিবিয়োনে অবস্থিত বড় জলাশয়ের কাছে তার দেখা পেল।
13 তখন ইসমাইলের সঙ্গে যেসব লোক ছিল, তারা কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সেনাপতিদেরকে দেখে আনন্দিত হল।
14 আর ইসমাইল যেসব লোককে বন্দী করে মিস্পা থেকে নিয়ে যাচ্ছিল, তারা ঘুরে কারেহের পুত্র যোহাননের কাছে ফিরে এল।
15 কিন্তু নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল আট জন লোক নিয়ে যোহাননের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গিয়ে অম্মোনীয়দের কাছে গেল।
16 নথনিয়ের পুত্র যে ইসমাইল অহীকামের পুত্র গদলিয়কে হত্যা করেছিল, তার কাছ থেকে কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সেনাপতিরা যেসব অবশিষ্ট লোককে মিস্পা থেকে ফিরিয়ে এনেছিল, তাদেরকে সঙ্গে নিল, অর্থাৎ যুদ্ধ পারদর্শী পুরুষদের এবং গিবিয়োন থেকে আনা স্ত্রীলোক, বালক-বালিকা ও নপূংসকদেরকে সঙ্গে নিল;
17 আর তারা কল্দীয়দের ভয়ে মিসরে যাবার জন্য বেথেলহেমের পাশে কিমহমের যে সরাইখানা আছে, সেখানে প্রবাস করলো।
18 কেননা নথনিয়ের পুত্র ইসমাইল ব্যাবিলনের বাদশাহ্র নিযুক্ত শাসনকর্তা অহীকামের পুত্র গদলিয়কে হত্যা করেছিল, সেজন্য্য তারা কল্দীয়দের ভয়ে ভীত হয়েছিল।
1
পরে সমস্ত সেনাপতি এবং কারেহের পুত্র যোহানন ও হোশয়িয়ের পুত্র যাসনিয়, আর ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত লোক কাছে এল,
2 এবং নবী ইয়ারমিয়াকে বললো, আমাদের এই ফরিয়াদ আপনার সাক্ষাতে গ্রাহ্য হোক; আপনি আমাদের জন্য, অর্থাৎ এ সব অবশিষ্ট লোকের জন্য, আপনার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত করুন; কেননা আপনি স্বচক্ষে আমাদের দেখছেন, আমরা অনেকে ছিলাম, এখন অল্পই অবশিষ্ট আছি।
3 অতএব কোন্ পথ আমাদের গন্তব্য, কি করা আমাদের কর্তব্য, তা যেন আপনার আল্লাহ্ মাবুদ আমাদেরকে জানিয়ে দেন।
4 তখন ইয়ারমিয়া নবী তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের কথা শুনলাম, দেখ, তোমাদের কথা অনুসারে আমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত করবো এবং মাবুদ তোমাদের যে কোন উত্তর দেবেন, তার সমস্ত কথা তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো, কিছুই তোমাদের কাছে গোপন করবো না।
5 তারা ইয়ারমিয়াকে বললো, মাবুদ আমাদের মধ্যে সত্য ও বিশ্বাস্য সাক্ষী হোন; আপনার আল্লাহ্ মাবুদ আপনার দ্বারা যে কোন কথা আমাদের কাছে বলে পাঠাবেন, সেই অনুসারে আমরা অবশ্য করবো।
6 ভাল হোক, বা মন্দ হোক, আমরা যাঁর কাছে আপনাকে প্রেরণ করছি, আমাদের আল্লাহ্ সেই মাবুদের কথা মান্য করবো; যেন আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য করি বলে আমাদের মঙ্গল হয়।
7
পরে দশ দিন গত হলে মাবুদের কালাম ইয়ারমিয়ার কাছে নাজেল হল।
8 তাতে তিনি কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সেনাপতিদেরকে এবং ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত লোককে ডেকে বললেন,
9 তোমরা যাঁর কাছে নিজেদের ফরিয়াদ উপস্থিত করবার জন্য আমাকে প্রেরণ করেছিলে, সেই মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্,
10 এই কথা বলেন, তোমরা যদি স্থির হয়ে এই দেশে বাস কর, তবে আমি তোমাদেরকে গড়ে তুলব, উৎপাটন করবো না, তোমাদেরকে রোপণ করবো, উন্মূলন করবো না; কেননা তোমাদের যে অমঙ্গল করেছি, সেই বিষয়ে ক্ষান্ত হলাম।
11 তোমরা যে ব্যাবিলনের বাদশাহ্কে ভয় পেয়েছ, তাকে ভয় পেয়ো না; মাবুদ বলেন, তাকে ভয় পেয়ো না; কেননা তোমাদের নিস্তার করতে ও তার হাত থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করতে আমি তোমাদের সহবর্তী।
12 আর আমি তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করবো, তাতে সে তোমাদের প্রতি করুণা করবে ও তোমাদের নিজেদের ভূমিতে আবার তোমাদের ফিরিয়ে আনবে।
13 কিন্তু যদি তোমরা বল, আমরা এই দেশে বাস করবো না, এভাবে যদি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য না করে বল,
14 ‘না, আমরা মিসর দেশে যাব, সেই স্থানে যুদ্ধ দেখতে, তূরীবাদ্য শুনতে ও খাদ্যের অভাবে ক্ষুধায় কষ্টভোগ করতে হবে না, আর আমরা সেখানে বাস করবো,’
15 তবে এখন, হে এহুদার অবশিষ্ট লোকেরা, তোমরা মাবুদের কালাম শোন; বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা যদি মিসরে প্রবেশ করতে নিতান্তই উন্মুখ হও ও সেখানে প্রবাস করতে যাও,
16 তা হলে যে তলোয়ারের ভয় করছো, তা মিসর দেশেই তোমাদের নাগাল পাবে, আর যে দুর্ভিক্ষে ব্যাকুল হচ্ছো, তা মিসর দেশে তোমাদের অনুবর্তী হবে, তাতে তোমরা সেখানে মরবে।
17 যেসব লোক মিসরে প্রবাস করতে যাবার জন্য উন্মুখ হয়েছে, তাদের এই গতি হবে, তারা তলোয়ার, দুর্িভক্ষ ও মহামারী দ্বারা মারা পড়বে; আমি তাদের প্রতি যে অমঙ্গল ঘটাবো, তা থেকে তাদের মধ্যে কেউই উদ্ধার বা রক্ষা পাবে না।
18
কেননা বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, জেরুশালেম-নিবাসীদের উপরে যেমন আমার ক্রোধ ও গজব ঢালা হয়েছে, তোমরা মিসরে গমন করলে তোমাদের উপরে তেমনি আমার কোপ ঢালা হবে, তোমরা বিদ্রূপ, বিস্ময়, বদদোয়া ও উপহাসের পাত্র হবে; এই স্থান আর কখনও দেখতে পাবে না।
19 হে এহুদার অবশিষ্ট লোকেরা, মাবুদ তোমাদের বলেছেন, তোমরা মিসরে প্রবেশ করো না; নিশ্চয় জেনো, আমি আজ তোমাদের এই সাক্ষ্য দিলাম।
20 বস্ততঃ তোমরা নিজেদের প্রাণের বিরুদ্ধে প্রতারণা করেছ, কেননা তোমরা আমাকে তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে প্রেরণ করেছিলে, বলেছিলে, ‘তুমি আমাদের জন্য আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত কর, তাতে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যা যা বলবেন, সেই অনুসারে তুমি আমাদের জানাবে, আমরা তা করব।’
21 আর আজ আমি তোমাদেরকে তা জানালাম; কিন্তু তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ যেসব বিষয়ের জন্য আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, তার কোন বিষয়ে তোমরা তাঁর কথা মান্য করলে না।
22 অতএব এখন নিশ্চয় জেনো, তোমরা যে স্থানে প্রবাস করার জন্য যেতে বাসনা করছো, সেই স্থানে তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা মারা পড়বে।
1
ইয়ারমিয়া যখন সব লোকের কাছে তাদের আল্লাহ্ মাবুদের সমস্ত কালাম— যেসব কালাম বলবার জন্য তাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁকে তাদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, সেসব কালাম বলা শেষ করলেন,
2 তখন হোশয়িয়ের পুত্র অসরিয় ও কারেহের পুত্র যোহানন এবং গর্বিত লোকেরা সকলে ইয়ারমিয়াকে বললো, তুমি মিথ্যা বলছো; মিসরে প্রবাস করতে যেও না; এই কথা বলতে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তোমাকে পাঠান নি।
3 কিন্তু নেরিয়ের পুত্র বারূক আমাদের বিরুদ্ধে তোমাকে উত্তেজিত করে তুলছে, আমাদেরকে কল্দীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই তা করেছে, যেন তারা আমাদের হত্যা করে, কিংবা বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে যায়।
4 এভাবে কারেহের পুত্র যোহানন এবং সেনাপতিরা সকলে ও সমস্ত লোক এহুদা দেশে বাস করার সম্বন্ধে মাবুদের কথা মান্য করলো না।
5 কিন্তু কারেহের পুত্র যোহানন এবং সেনাপতিরা সকলে এহুদার সমস্ত অবশিষ্টাংশকে নিয়ে, অর্থাৎ জাতিরা ছিন্নভিন্ন হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে এহুদা দেশে প্রবাস করবার জন্য যারা ফিরে এসেছিল—
6 সেই পুরুষ, স্ত্রী ও বালক-বালিকা সকলকে এবং রাজকুমারীদেরকে ও যেসব লোককে নবূষরদন রক্ষক-সেনাপতি শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে রেখে গিয়েছিলেন, তাদের এবং ইয়ারমিয়া নবী ও নেরিয়ের পুত্র বারূককে নিয়ে মিসর দেশে প্রবেশ করলো;
7 কারণ তারা মাবুদের কথা মান্য না করে তফন্হেষ পর্যন্ত গেল।
8
পরে তফন্হেষে ইয়ারমিয়ার কাছ মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
9 তোমার হাতে কয়েকটি বড় বড় পাথর নিয়ে তফন্হেষে ফেরাউনের বাড়ির প্রবেশস্থানে যে ইটের গাঁথুনি আছে, তার সুরকির মধ্যে ইহুদীদের সাক্ষাতে ঐ পাথরগুলো লুকিয়ে রাখ,
10 আর তাদেরকে বল, বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি হুকুম প্রেরণ করে আমার গোলাম ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারকে নিয়ে আসবো এবং এই যেসব পাথর লুকিয়ে রাখলাম, এর উপরে তার সিংহাসন স্থাপন করবো, আর সে এর উপরে তার রাজকীয় চন্দ্রাতপ বিস্তার করবে।
11 সে এসে মিসর দেশে আঘাত করবে, মৃত্যুর পাত্রকে মৃত্যুতে, বন্দীত্বের পাত্রকে বন্দীত্বে ও তলোয়ারের পাত্রকে তলোয়ারের হাতে তুলে দেবে।
12 আর আমি মিসরস্থ দেবালয়গুলোতে আগুন লাগাব, বস্তুত সে দেবতাদের কতগুলোকে পুড়িয়ে দেবে ও কতগুলোকে বন্দী করে নিয়ে যাবে; এবং ভেড়ার রাখাল যেমন তার শরীরে কাপড় জড়ায়, তেমনি সে এই মিসর দেশ দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করবে; এবং সে এই স্থান থেকে শান্তিতে প্রস্থান করবে।
13 আর সে মিসর দেশীয় সূর্যপুরীর স্তম্ভগুলো ভেঙ্গে ফেলবে ও মিসরস্থ সমস্ত দেবালয় আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
1
মিসর দেশে বাসকারী যে সব ইহুদীরা মিগ্দোলে, তফন্হেষে, নোফে ও পথ্রোষ প্রদেশে ছিল তাদের বিষয়ে ইয়ারমিয়ার কাছে এই কালাম নাজেল হল,
2 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, জেরুশালেমের উপরে ও এহুদার সমস্ত নগরের উপরে আমি যে সমস্ত অমঙ্গল উপস্থিত করেছি, তা তোমরা দেখেছ; দেখ, আজ সেসব উৎসন্ন স্থান আছে, সেখানে কেউ বাস করে না;
3 এর কারণ লোকদের নাফরমানী, যা আমাকে অসন্তুষ্ট করার জন্য তারা করতো; তাদের, তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের অপরিচিত অন্য দেবতাদের সেবা করার জন্য তারা তাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাতে যেত।
4 তবুও আমি আমার সমস্ত গোলাম নবীদেরকে তোমাদের কাছে পাঠাতাম, খুব ভোরে উঠে পাঠিয়ে বলতাম, আহা, তোমরা আমার ঘৃণিত এই জঘন্য কাজ করো না।
5 কিন্তু তারা মান্য করতো না এবং নিজ নিজ দুষ্কর্ম থেকে ফিরবার জন্য, অন্য দেবতাদের উদ্দেশে আর ধূপ না জ্বালাবার জন্য, কান দিত না।
6 এজন্য আমার গজব ও ক্রোধ বর্ষিত হল, এহুদার নগরে নগরে ও জেরুশালেমের পথে পথে জ্বলে উঠলো, তাতে সেগুলো আজ যেমন রয়েছে, তেমনি উৎসন্ন ও ধ্বংস হয়ে পড়ে রয়েছে।
7 অতএব এখন মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা কেন নিজ নিজ প্রাণের বিরুদ্ধে মহাগুনাহ্ করছো? এই কাজে তো নিজেদের সম্পর্কীয় পুরুষ, স্ত্রী, বালক ও স্তন্যপায়ী শিশুদেরকে এহুদার মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন করবে, নিজেদের কাউকেও অবশিষ্ট রাখবে না।
8 তোমরা এই যে মিসর দেশে প্রবাস করার জন্য এসেছো, এখানে অন্য দেবতাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালিয়ে কেন নিজেদের হাতের কাজ দ্বারা আমাকে অসন্তুষ্ট করছো? তোমরা উচ্ছিন্ন হবে এবং দুনিয়ার সমস্ত জাতির মধ্যে বদদোয়া ও উপহাসের পাত্র হবে।
9 তোমাদের পূর্বপুরুষদের দুষ্কর্ম এহুদার বাদশাহ্দের দুষ্কর্ম, তাদের স্ত্রীদের দুষ্কর্ম, তোমাদের নিজেদের দুষ্কর্ম ও তোমাদের স্ত্রীদের দুষ্কর্ম, যা এহুদা দেশে ও জেরুশালেমের পথে পথে করা হত, সেসব কি ভুলে গেছ?
10 এই লোকেরা আজ পর্যন্ত নিজেদের অন্তর ভেঙ্গে চুরমার করে নি, ভয়ও করে নি এবং আমি আমার যে ব্যবস্থা ও বিধিকলাপ তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের সম্মুখে রেখেছি এরা সেই অনুসারে আচরণ করে নি।
11
এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাদের অমঙ্গল করতে ও সমস্ত এহুদাকে উচ্ছিন্ন করতে উন্মুখ হলাম।
12 আর আমি এহুদার অবশিষ্টাংশকে, অর্থাৎ যারা মিসর দেশে প্রবাস করতে যাবার জন্য উন্মুখ হয়েছে, তাদেরকে ধরবো; তারা সকলে বিনষ্ট হবে, মিসর দেশেই ধ্বংস হবে; তারা তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ দ্বারা বিনষ্ট হবে; ক্ষুদ্র ও মহান সকলে তলোয়ারে ও দুর্ভিক্ষে মারা পড়বে এবং অভিসম্পাত, বিস্ময়, বদদোয়া ও উপহাসের পাত্র হবে।
13 আমি যেমন তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা জেরুশালেমকে দণ্ড দিয়েছি, তেমনি মিসর দেশ-নিবাসীদেরকে দণ্ড দেব;
14 তাতে এহুদার যে অবশিষ্ট লোক মিসরে প্রবাস করতে এসেছে, তাদের মধ্যে কেউ উদ্ধার বা রক্ষা পাবে না; সেই এহুদা দেশে ফিরে যেতে পারবে না, যেখানে বাস করার জন্য ফিরে যেতে মনস্থ করছে; কতগুলো পলাতক লোক ছাড়া আর কেউ ফিরে যাবে না।
15
তখন যেসব পুরুষ জানত যে, তাদের স্ত্রীরা অন্য দেবতাদের উদ্দেশে ধূপ জ্বালায়, তারা এবং কাছে দণ্ডায়মান সমস্ত স্ত্রীলোক, এক মহাসমাজ, অর্থাৎ মিসরের পথ্রোষ প্রদেশে বাসকারী সমস্ত লোক ইয়ারমিয়াকে জবাবে বললো,
16 তুমি মাবুদের নামে আমাদেরকে যে কথা বলেছ, তোমার সেই কথা আমরা শুনব না;
17 কিন্তু আমাদেরই যা বলেছি সেই সমস্ত কথা অনুসারে কাজ করবোই করবো, আকাশ-রাণীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাবো ও পেয় উৎসর্গ ঢালব; আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা, আমাদের বাদশাহ্রা ও আমাদের কর্মকর্তারা এহুদার নগরে নগরে ও জেরুশালেমের পথে পথে তা-ই করতাম, আর সেখানে আমরা খাদ্যদ্রব্যে তৃপ্ত হতাম এবং সুখে ছিলাম, কোন অমঙ্গল দেখতাম না।
18 কিন্তু যে সময় থেকে আমরা আকাশ-রাণীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালানো ও পেয় উৎসর্গ ঢালা ছেড়ে দিয়েছি, সে সময় থেকে আমাদের সমস্ত বস্তুর অভাব হচ্ছে এবং আমরা তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ দ্বারা বিনষ্ট হচ্ছি।
19 আর আমরা যখন আকাশ-রাণীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাতাম ও পেয় উৎসর্গ ঢালতাম, তখন কি নিজ নিজ স্বামীকে না জানিয়ে তাঁর পূজার জন্য পিঠা প্রস্তুত করতাম ও তাঁর উদ্দেশে পেয় উৎসর্গ ঢালতাম?
20
পরে ইয়ারমিয়া সমস্ত লোককে, পুরুষ, কি স্ত্রী যত লোক সেই জবাব দিয়েছিল, সেসব লোককে এই কথা বললেন,
21 এহুদার নগরে নগরে ও জেরুশালেমের পথে পথে তোমরা ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষেরা, তোমাদের বাদশাহ্রা ও কর্মকর্তারা এবং জনপদস্থ লোকেরা যে ধূপ জ্বালাত, মাবুদ কি সেই ধূপ জ্বালানো স্মরণ করেন নি, তা কি তাঁর মনে পড়ে নি?
22 মাবুদ তোমাদের দুষ্ট আচরণ ও তোমাদের কৃত ঘৃণার কাজের দরুন আর সহ্য করতে পারলেন না, এজন্য তোমাদের দেশ আজ যেমন রয়েছে, তেমনি উৎসন্ন, বিস্ময়জনক, বদদোয়াগ্রস্ত ও জনশূন্য হল।
23 তোমরা ধূপ জ্বালিয়েছ, মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছ, মাবুদের কথা মান্য কর নি এবং তাঁর শরীয়ত, বিধি ও নির্দেশ অনুসারে চল নি, সেজন্যই আজ যেমন রয়েছে, তেমনি তোমাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটেছে।
24
ইয়ারমিয়া সমস্ত পুরুষলোক এবং সমস্ত স্ত্রীলোককে আরও বললেন, হে মিসর দেশস্থ সমস্ত ইহুদী, তোমরা মাবুদের কালাম শোন;
25 বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা মুখে যা বলেছ, হাত দিয়ে তা সম্পন্ন করেছ, তোমরা বলেছ, ‘আমরা আকাশ-রাণীর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাবার ও পেয় উৎসর্গ ঢালবার যে মানত করেছি, তা অবশ্য সিদ্ধ করবো;’ ভাল, তোমাদের মানত অটল কর, তোমাদের মানত সিদ্ধ কর।
26 অতএব, হে মিসর দেশে বাসকারী সমস্ত ইহুদী, মাবুদের কালাম শোন; মাবুদ বলেন, দেখ, আমি আমার মহানামে শপথ করেছি, ‘জীবন্ত সার্বভৌম মাবুদের কসম,’ এই কথা বলে মিসর দেশস্থ কোন ইহুদী আমার নাম আর মুখে আনবে না।
27 দেখ, আমি তাদের অমঙ্গলের জন্য জাগরিত, মঙ্গলের জন্য নয়; তাতে মিসর দেশস্থ সমস্ত এহুদার লোক তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা নিঃশেষে বিনষ্ট হবে।
28 তলোয়ার থেকে রক্ষা পাওয়া অতি অল্প লোক মিসর দেশ থেকে এহুদা দেশে ফিরে যাবে; এতে এহুদার অবশিষ্ট সমস্ত লোক, যারা মিসর দেশে প্রবাস করার জন্য এখানে এসেছে, তারা জানতে পারবে যে, কার কথা স্থির থাকবে, আমার বা তাদের।
29 মাবুদ বলেন, তোমাদের কাছে এ-ই চিহ্ন হবে যে, আমি এই স্থানে তোমাদের প্রতিফল দেব, যেন তোমরা জানতে পার যে, তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কালাম অবশ্য অটল থাকবে, অমঙ্গলের জন্য।
30 মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি যেমন এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়কে তার প্রাণনাশে সচেষ্ট দুশমন ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাতে তুলে দিয়েছি, তেমনি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন হফ্রাকেও তার দুশমনদের হাতে, যারা তার প্রাণনাশে সচেষ্ট, তাদের হাতে তুলে দেব।
1
ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের চতুর্থ বছরে যখন নেরিয়ের পুত্র বারূক এ সব কথা ইয়ারমিয়ার মুখে শুনে কিতাবে লিখলেন, তখন নবী ইয়ারমিয়া তাঁকে এই কথা বললেন,
2 হে বারূক, মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, তোমার বিষয়ে এই কথা বলেন,
3 তুমি বলেছ, হায় হায়, ধিক্ আমাকে! কেননা মাবুদ আমার ব্যথার উপরে দুঃখ যোগ করেছেন; আমি কাতর আর্তনাদ করতে করতে শ্রান্ত হয়েছি, কিছুমাত্র বিশ্রাম পাচ্ছি না।
4 তুমি তাকে এই কথা বল, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি যা গেঁথেছি, তা আমি ভেঙ্গে ফেলবো; যা রোপণ করেছি, তা আমি উৎপাটন করবো; আর এই সারা দেশে তা করবো।
5 তবে তুমি কি নিজের জন্য মহৎ মহৎ বিষয় চেষ্টা করবে? সে চেষ্টা করো না; কেননা দেখ, আমি সমস্ত মানুষের প্রতি অমঙ্গল ঘটাবো, মাবুদ এই কথা বলেন; কিন্তু তুমি যেসব স্থানে যাবে; সেসব স্থানে লুণ্ঠিত দ্রব্যের মত তোমার প্রাণ তোমাকে দেব।
1
জাতিদের বিষয়ে ইয়ারমিয়া নবীর কাছে মাবুদের যে কালাম নাজেল হল, তার বৃত্তান্ত।
2
মিসরের বিষয়। ইউসিয়ার পুত্র এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের চতুর্থ বছরে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন-নখোর যে সৈন্যসামন্তকে পরাজিত করলেন, ফোরাত নদীর তীরস্থ কর্কমীশে উপস্থিত সেই সৈন্যসামন্ত বিষয়ক কথা।
3
তোমরা ঢাল ও ফলক প্রস্তুত কর এবং যুদ্ধ করার জন্য নিকটবর্তী হও।
4 ঘোড়াগুলোকে সজ্জিত কর, হে ঘোড়সওয়াররা, ঘোড়ায় চড় এবং শিরস্ত্রাণ পরে সম্মুখে দাঁড়াও, বর্শা চকচকে কর, বর্ম পরিধান কর।
5 আমি কি জন্য এ সব দেখেছি? তারা ভয় পেয়ে পিঠ ফিরাচ্ছে, তাদের বীরেরা চূর্ণ হচ্ছে, তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাচ্ছে, ফিরে তাকায় না; চারদিকে ভয়, মাবুদ এই কথা বলেন।
6 দ্রুতগামী লোককে পালিয়ে যেতে দিও না, বীরকে পার পেতে দিও না; উত্তর দিকে ফোরাত নদীর কাছে তারা হোঁচট খেয়ে পড়েছে।
7 সে কে, যে নীল নদের মত উঠে আসছে, নদীগুলোর মত জলরাশি আস্ফালন করছে?
8 মিসর নীল নদের মত উঠে আসছে, নদীগুলোর মত জলরাশি আস্ফালন করছে; আর সে বলে, আমি উথলে উঠব, ভূতল আপ্লাবিত করবো, আমি নগর ও সেই স্থানের অধিবাসীদের বিনষ্ট করবো।
9 হে সমস্ত ঘোড়া, উঠে যাও; হে সমস্ত রথ, উন্মত্তের মত হও; বীরেরা, ঢালধারী ইথিওপিয়া ও পূট এবং তীরন্দাজ ও ধনুকে চাড়াদায়ী লূদীয়রা এগিয়ে যাক।
10 এটি প্রভুর, বাহিনীগণের মাবুদের দিন, তাঁর বিপক্ষদেরকে প্রতিফল দেবার জন্য প্রতিশোধের দিন; তলোয়ার গ্রাস করে তৃপ্ত হবে, তাদের রক্তপানে পরিতৃপ্ত হবে, কেননা উত্তর দিকের দেশে ফোরাত নদীর কাছে প্রভুর, বাহিনীগণের মাবুদের একটি কোরবানী হচ্ছে।
11 হে কুমারী মিসর-কন্যে, তুমি গিলিয়দে উঠে যাও, ওষুধ গ্রহণ কর; তুমি বৃথাই অনেক ওষুধ ব্যবহার করছো; তুমি সুস্থ হবে না।
12 জাতিরা তোমার অপমানের কথা শুনেছে, তোমার কাতরোক্তিতে দুনিয়া পরিপূর্ণ হচ্ছে, কেননা এক বীর অন্য বীর কর্তৃক হোঁচট খেয়েছে, তারা উভয়ে একসঙ্গে পড়ে গেল।
13
মিসর দেশকে পরাজিত করার জন্য ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের আগমন বিষয়ে মাবুদ ইয়ারমিয়াকে এই কথা বললেন।
14
তোমরা মিসরে প্রচার কর, মিগ্দোলে ঘোষণা কর এবং নোফে ও তফন্হেষে ঘোষণা কর, বল, তুমি উঠে দাঁড়াও, নিজেকে প্রস্তুত কর, কেননা তলোয়ার তোমার চারদিকে গ্রাস করেছে।
15 তোমার বলবানেরা কেন ভেসে গেল? তারা স্থির থাকতে পারল না, যেহেতু মাবুদ তাদেরকে অধঃপাতিত করলেন।
16 তিনি অনেককে হোঁচট খাওয়ালেন, হ্যাঁ, তারা এক জন অন্যের উপরে গিয়ে পড়লো; আর তারা বললো, উঠ, আমরা এই উৎপিড়ক তলোয়ার থেকে ফিরে স্বজাতির কাছে ও আমাদের জন্মভূমিতে যাই।
17 সেই স্থানে লোকেরা উচ্চৈঃস্বরে বললো, মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন শব্দমাত্র, সে সময় বয়ে যেতে দিয়েছে।
18 বাহিনীগণের মাবুদ যাঁর নাম, সেই বাদশাহ্ বলেন, আমার জীবনের কসম, পর্বতমালার মধ্যে তাবোরের মত কিংবা সমুদ্রের নিকটস্থ কর্মিলের মত এক ব্যক্তি আসবে।
19 হে মিসর-নিবাসিনী কন্যে, নির্বাসনের জন্য সম্বল প্রস্তুত কর; কেননা নোফ ধ্বংসিত, পতিত ভূমি ও জনশূন্য হবে।
20 মিসর অতি সুন্দরী তরুণী গাভী, কিন্তু উত্তর দিক থেকে দংশক আসছে, আসছে।
21 মিসরের মধ্যবর্তী তার বেতনভোগীরা পুষ্ট বাছুরটির মত, তারাও ফিরে গেছে, একযোগে পালিয়ে গেছে, স্থির থাকে নি, কেননা তাদের বিপদের দিন, প্রতিফল পাবার সময়, তাদের কাছে উপস্থিত।
22 তার আওয়াজ সাপের মত চলবে; কারণ ওরা সসৈন্যে চলবে এবং কাঠুরিয়াদের মত কুড়ালি নিয়ে তার বিরুদ্ধে আসবে।
23 মাবুদ বলেন, ওরা তার বন কেটে ফেলবে, তার অনুসন্ধান করা যায় না, কারণ ওরা পঙ্গপালের চেয়েও বেশি, ওরা অসংখ্য।
24 মিসরকন্যা লজ্জিতা হবে, তাকে উত্তর দিকের দেশগুলোর লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
25
বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, বলেন, দেখ, আমি নো নগরের আমোন দেবকে, ফেরাউন ও মিসরকে এবং তার দেবতাদের ও বাদশাহ্দেরকে, ফেরাউন ও তার শরণাপন্ন সকলকে প্রতিফল দেব;
26 আর যারা তাদের প্রাণনাশ করার জন্য সচেষ্ট, তাদের হাতে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের ও তার গোলামদের হাতে তাদেরকে তুলে দেব; কিন্তু তারপরে সেই দেশ আগেকার দিনের মত বাসযোগ্য হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
27
পরন্তু, হে আমার গোলাম ইয়াকুব, তুমি ভয় করো না; হে ইসরাইল, নিরাশ হয়ো না; কেননা দেখ, আমি দূর থেকে তোমাকে, বন্দীত্ব-দেশ থেকে তোমার বংশকে নিস্তার করবো; ইয়াকুব ফিরে আসবে, নির্ভয় ও নিশ্চিন্ত থাকবে, কেউ তাকে ভয় দেখাবে না।
28 মাবুদ বলেন, হে আমার গোলাম ইয়াকুব, তুমি ভয় করো না, কেননা আমি তোমার সহবর্তী; হ্যাঁ, যাদের মধ্যে আমি তোমাকে দূর করেছি, সেসব জাতিকে নিঃশেষে সংহার করবো, কিন্তু তোমাকে নিঃশেষে সংহার করবো না; আমি ন্যয়বিচার করে শাস্তি দেব, কোন মতে অদণ্ডিত রাখবো না।
1
ফেরাউন গাজা পরাজিত করার আগে ফিলিস্তিনীদের বিষয়ে ইয়ারমিয়া নবীর কাছে মাবুদের যে কালাম নাজেল হল, তার বৃত্তান্ত।
2
মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, উত্তর দিক থেকে পানি উথলে আসছে, তা প্লাবনকারী বন্যা হয়ে উঠবে, দেশ ও তার মধ্যেকার সমস্ত বস্তু, নগর ও সেখানকার অধিবাসীদেরকে প্লাবিত করবে, তাতে লোকেরা কান্নাকাটি করবে, দেশ-নিবাসীরা সকলে হাহাকার করবে।
3 দুশমনের বলবান ঘোড়াগুলোর খুরের শব্দে, রথের ঘর্ঘর ধ্বনিতে, চাকার শব্দে পিতাদের হাত অবশ হয়ে যাবার ফলে তাদের বালকদের প্রতিও ফিরে দেখবে না।
4 কেননা সমস্ত ফিলিস্তিনীকে বিনষ্ট করার দিন, টায়ার ও সিডনের প্রত্যেক অবশিষ্ট সাহায্যকারীকে উচ্ছিন্ন করার দিন আসছে; কারণ মাবুদ ফিলিস্তিনীদেরকে, কপ্তোরের উপকূলের অবশিষ্ট লোককে, বিনষ্ট করবেন।
5 গাজার মাথায় টাক পড়লো, অস্কিলোন, তাদের উপত্যকার অবশিষ্টাংশ নীরব হল; তুমি কত কাল তোমার অঙ্গ কাটাকুটি করবে?
6 হে মাবুদের তলোয়ার, তুমি আর কত কাল পরে ক্ষান্ত হবে? তুমি তোমার কোষে প্রবেশ কর, শান্ত হও, ক্ষান্ত হও।
7 তা কিভাবে ক্ষান্ত হতে পারে? মাবুদ তো ওকে হুকুম দিয়েছেন; অস্কিলোনের বিরুদ্ধে ও সমুদ্র-বক্ষের বিরুদ্ধে, সেখানে তিনি তাকে নিযুক্ত করেছেন।
1
মোয়াবের বিষয়। বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, হায় হায় নবো! ওটা তো উচ্ছিন্ন হল; কিরিয়াথয়িম লজ্জিত হল, পরহস্তগত হল, তাদের দুর্গ লজ্জিত হল, ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হল।
2 মোয়াবের প্রশংসা আর নেই, লোকেরা হিশ্বোনে তার অমঙ্গলার্থে মন্ত্রণা করেছে, ‘এসো, আমরা তাদেরকে উচ্ছিন্ন করি, জাতি হিসেবে আর থাকতে দেব না।’ হে মদ্মেনা, তুমিও নিস্তব্ধ হবে, তলোয়ার তোমার পিছনে তাড়া করবে।
3 হোরোণয়িম থেকে ক্রন্দনের আওয়াজ, ধ্বংস ও মহাবিনাশ।
4 মোয়াব ভগ্ন হল; তার ছোটদের ক্রন্দনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
5 লূহীতের উঠে যাবার পথে লোকে কাঁদতে কাঁদতে উঠছে; কেননা হোরোণয়িমের নেমে যাবার পথে বিনাশের জন্য সঙ্কটের কান্না শোনা যাচ্ছে।
6 ‘পালিয়ে যাও, নিজ নিজ প্রাণ রক্ষা কর, মরুভূমিস্থ ঝাউ গাছের মত হও।’
7 কারণ তুমি তোমার কাজের ও তোমার ধনকোষের উপর নির্ভর করতে, এজন্য তোমাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং কমোশ নির্বাসনে গমন করবে, তার ইমাম ও নেতৃবর্গ একসঙ্গে যাবে।
8 প্রত্যেক নগরের উপর বিনাশক আসবে, কোন নগর রক্ষা পাবে না; উপত্যকা বিনষ্ট হবে, সমভূমি উচ্ছিন্ন হবে, যেমন মাবুদ বলেছেন।
9 মোয়াবকে পক্ষযুগল দাও, যেন সে উড়ে পালিয়ে যায়; তার নগরগুলো ধ্বংস হবে, তন্মধ্যে বাসকারী কেউ থাকবে না।
10 বদদোয়াগ্রস্ত হোক সেই ব্যক্তি, যে শিথিলভাবে মাবুদের কাজ করে; বদদোয়াগ্রস্ত হোক সেই ব্যক্তি, যে তার তলোয়ারকে রক্তপাত করতে বারণ করে।
11
মোয়াব বাল্যকাল থেকে নিশ্চিন্ত ও তার গাদের উপরে সুস্থির আছে, এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে ঢালা হয় নি, সে নির্বাসনে যায় নি; এজন্য তার রস তার মধ্যেই রয়েছে ও তার স্বাদ বিকৃত হয় নি।
12 অতএব মাবুদ বলেন, দেখ, এমন দিন আসছে, যেদিন আমি তার কাছে সেচকদের পাঠাব, তারা তাকে সেচন করবে, তার পাত্রগুলো শূন্য করবে এবং তাদের সমস্ত কুপা ভেঙ্গে ফেলবে।
13 ইসরাইল-কুল তার বিশ্বাস-ভূমি বেথেলের বিষয়ে যেমন লজ্জিত হয়েছিল, তেমনি মোয়াব কমোশের বিষয়ে লজ্জিত হবে।
14 তোমরা কেমন করে বলতে পার, আমরা বীর ও যুদ্ধের জন্য বলবান?
15 মোয়াব বিনষ্ট হল, তার নগরগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে ও তার মনোনীত যুবকেরা বধ্যস্থানে নেমে গেছে; এই কথা সেই বাদশাহ্ বলেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ।
16 মোয়াবের বিপদ আগত প্রায় ও তার অমঙ্গল অতি ত্বরান্বিত।
17 তোমরা যত লোক তার চারদিকে থাক, তার জন্য মাতম কর, আর তোমরা যত লোক তার নাম জান, বল, এই দৃঢ় দণ্ড, এই সুন্দর লাঠি কেমন ভেঙ্গে গেছে!
18 হে দীবোন-নিবাসীনী কন্যে, তুমি তোমার প্রতাপ থেকে নেমে এসো, শুকনো ভূমিতে বস, কেননা মোয়াবের বিনাশক তোমার বিরুদ্ধে এসেছে, তোমার দৃঢ় দুর্গগুলো ধ্বংস করেছে।
19 হে অরোয়ের-নিবাসিনী, তুমি পথের পাশে দাঁড়িয়ে অবলোকন কর এবং পলাতক ও রক্ষা পাওয়া স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা কর, কি হয়েছে?
20 মোয়াব লজ্জিত হয়েছে, কেননা সে ভেঙ্গে পড়েছে; তোমরা হাহাকার ও ক্রন্দন কর; অর্ণোনে এই কথা প্রচার কর, ‘মোয়াব উৎসন্ন হল’।
21 আর বিচার-দণ্ড উপস্থিত হল, সমভূমির উপরে,
22 হোলন, যহস, মেফাৎ, দীবোন,
23 নবো, বৈৎ-দিব্লাথয়িম, কিরিয়াথয়িম, বৈৎ-গামূল, বৈৎ-মিয়োন, করিয়োৎ ও
24 বস্রার উপরে এবং মোয়াব দেশের দূরের কি কাছের সমস্ত নগরের উপরে হল।
25 মোয়াবের শিং কেটে ফেলা হল ও তার বাহু ভেঙ্গে ফেলা হল, মাবুদ এই কথা বলেন।
26
তোমরা তাকে মাতাল কর, কারণ সে মাবুদের বিরুদ্ধে বড়াই করতো। আর মোয়াব বমি করে তার মধ্যে গড়াগড়ি দেবে এবং নিজেও পরিহাস-পাত্র হবে।
27 ইসরাইল কি তোমার পরিহাস পাত্র ছিল না? সে কি চোরের মধ্যে ধরা পড়েছিল? তুমি তার বিষয় যতবার কথা বল, ততবার মাথা নেড়ে থাক।
28 হে মোয়াবনিবাসীরা, তোমরা নগরগুলো ত্যাগ কর, শৈলে গিয়ে বাস কর, এমন কবুতরের মত হও, যে গর্তের মুখের ধারে বাসা করে।
29 আমরা মোয়াবের অহঙ্কারের কথা শুনেছি, সে অত্যন্ত অহঙ্কারী; তার অভিমান, অহঙ্কার, উদ্ধতভাব ও চিত্ত-গরিমার কথা শুনেছি।
30 মাবুদ বলেন, আমি তার ক্রোধ জানি, তা কিছু নয়; তার অহংকার কোন কাজের হয় নি।
31 এজন্য আমি মোয়াবের বিষয়ে হাহাকার করবো, সমস্ত মোয়াবের জন্য ক্রন্দন করবো; কীর-হেরেসের লোকদের বিষয়ে কাতরোক্তি করে যাব।
32 হে সিব্মার আঙ্গুর লতা, আমি যাসেরের কান্নার চেয়ে তোমার বিষয়ে বেশি কান্নাকাটি করবো; তোমার ডালগুলো সমুদ্রপারে যেত, তা যাসের সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তারিত হত; তোমার গ্রীষ্মের ফলের উপরে ও আঙ্গুর ফলের উপরে ধ্বংসকারীরা এসে পড়েছে।
33 মোয়াবের ফলবান ক্ষেত ও ভূমি থেকে আনন্দ ও উল্লাস দূরীকৃত হল এবং আমি আঙ্গুরকুণ্ড আঙ্গুর-রস-বিহীন করলাম; লোকে আনন্দের চিৎকার সহকারে আর আঙ্গুর মাড়াই করবে না; সেই চিৎকার আনন্দের চিৎকার হবে না।
34 হিশ্বোন থেকে ইলিয়ালী পর্যন্ত চিৎকার উঠছে, তার আওয়াজ যহস পর্যন্ত ছড়িয়েছে; সোয়র থেকে হোরোণয়িম পর্যন্ত, ইগ্লৎ-শলিশীয়া পর্যন্ত, আওয়াজ যাচ্ছে, কেননা নিম্রীমস্থ পানিও শুকিয়ে গেল।
35 মাবুদ আরও বলেন, আমি মোয়াবের মধ্যে উচ্চস্থলীতে কোরবানকারী ও তার দেবতার উদ্দেশে ধূপ জ্বালানো লোকদের মুছে ফেলবো।
36
তাই মোয়াবের জন্য আমার হৃদয় বাঁশীর মত বাজছে, কীর-হেরেসের লোকদের বিষয়ে আমার অন্তঃকরণ বাঁশীর মত বাজছে; এজন্য তার উপার্জিত প্রচুর ধন নষ্ট হল।
37 হ্যাঁ, প্রত্যেকের মাথা কামানো ও প্রত্যেক দাড়ি কাটা হয়েছে, সকলের হাতে কাটাকুটি ও কোমরে চট দেখা যায়।
38 মোয়াবের সমস্ত ছাদে ও তার চকের সর্বত্র মাতম শোনা যাচ্ছে, কেননা মাবুদ বলেন, আমি মোয়াবকে একটা অবাঞ্ছিত পাত্রের মত ভেঙ্গে ফেললাম।
39 সে কেমন ভেঙ্গে গেল! লোকে কেমন হাহাকার করছে। মোয়াব তার লজ্জার কারণে কেমন পিঠ ফিরিয়েছে! এভাবে মোয়াব তার চারদিকের সমস্ত লোকের পরিহাস-পাত্র ও ভীতিকর হবে।
40 কারণ মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, ঐ ব্যক্তি ঈগলের মত উড়ে আসবে এবং মোয়াবের উপরে তারা পাখা বিস্তার করবে।
41 নগরগুলো পরহস্তগত, দুর্গগুলো অধিকৃত হল; সেদিন মোয়াবের বীরগণের অন্তর প্রসব-যন্ত্রণা ভোগকারিণী স্ত্রীলোকের অন্তরের সমান হবে।
42 মোয়াব ধ্বংস হল, আর জাতি থাকবে না, কেননা সে মাবুদের বিরুদ্ধে বড়াই করেছে।
43 মাবুদ বলেন, হে মোয়াব-নিবাসী, ত্রাস, খাত ও ফাঁদ তোমার উপরে এসেছে।
44 যে কেউ ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে, সে খাতে পড়বে; যে কেউ খাত থেকে উঠে আসবে, সে ফাঁদে ধরা পড়বে; কেননা আমি তার উপরে, মোয়াবের উপরে, প্রতিফল-দানের বছর আনবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
45
হিশ্বোনের ছায়াতলে পলাতকেরা শক্তিহীন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কারণ হিশ্বোন থেকে আগুন ও সীহোনের মধ্য থেকে আগুনের শিখা বের হয়েছে, আর মোয়াবের পাশ ও কলহকারীদের মাথার তালু গ্রাস করেছে।
46 হে মোয়াব, ধ্িক তোমাকে! কমোশের লোকেরা বিনষ্ট হল, কারণ তোমার পুত্ররা বন্দী হল, তোমার কন্যাদের বন্দীদশার স্থানে নীত হল।
47 কিন্তু শেষকালে আমি মোয়াবের বন্দীদশা ফিরাব, মাবুদ এই কথা বলেন। মোয়াবের বিচারের কথা এই পর্যন্ত।
1
অম্মোনীয়দের বিষয়। মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইলের কি পুত্র নেই? তার উত্তরাধিকারী কি কেউ নেই? তবে মিল্কম কেন গাদের ভূমি অধিকার করে ও তার লোকেরা ওর নগরগুলোতে বাস করে?
2 এজন্য মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি অম্মোনীয়দের রব্বা নগরে যুদ্ধের সিংহনাদ শোনাব; তখন তা ধ্বংসের ঢিবি হবে এবং তার কন্যাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে; সেই সময় ইসরাইল তার অধিকার-গ্রাসকারীদেরকে অধিকারচ্যুত করবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
3 হে হিশ্বোন, হাহাকার কর, কেননা অয় বিনষ্ট হল; হে রব্বার কন্যা ক্রন্দন কর, চট পর, মাতম কর, প্রাচীরগুলোর মধ্যে দৌড়াদৌড়ি কর, কেননা মিল্কম নির্বাসনে যাবে, তার ইমাম ও নেতৃবর্গ একসঙ্গে যাবে।
4 হে বিপথগামিনী কন্যে, তুমি কেন তোমার উপত্যকাগুলো নিয়ে গর্ব করছো? তোমার উপত্যকা বিলীন হবে। অয়ি স্বধনে বিশ্বাসকারিণী, তুমি কেন বলছো, আমার বিরুদ্ধে কে আসবে?
5 প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার চারদিকের সকলের থেকে তোমার প্রতি ত্রাস উপস্থিত করবো; তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ সম্মুখস্থ পথে বিতাড়িত হবে, কেউ পরিভ্রান্তকে সংগ্রহ করবে না।
6 তবুও পরে আমি অম্মোনীয়দের বন্দীদশা ফিরাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
7
ইদোমের বিষয়। বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তৈমনে কি আর প্রজ্ঞা নেই? বুদ্ধিমানদের মধ্যে কি মন্ত্রণার লোপ হয়েছে? তাদের জ্ঞান কি অন্তর্হিত হয়েছে?
8 হে দদান-নিবাসীরা, তোমরা পালিয়ে যাও, মুখ ফিরাও, গভীর গুহায় গিয়ে বাস কর, কেননা আমি ইসের উপরে তার বিপদ, তাকে প্রতিফল দেবার সময় উপস্থিত করবো।
9 যদি আঙ্গুর-সঞ্চয়কারীরা তোমার কাছে আসে, তারা কিছু ফল অবশিষ্ট রাখবে না; যদি রাতের বেলায় চোর আসে, তারা যথেষ্ট পেলেও ক্ষতি করবে।
10 বস্তুত আমি ইস্কে জনশুন্য করেছি, তার গুপ্ত স্থানগুলো অনাবৃত করেছি, সে কোনভাবে লুকিয়ে থাকতে পারবে না; তার বংশ, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নষ্ট হয়েছে, সে আর নেই।
11 তুমি তোমার এতিম বালকদেরকে ত্যাগ কর, আমি তাদেরকে বাঁচাব; তোমার বিধবারাও আমাতে বিশ্বাস করুক।
12
কেননা মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, সেই পাত্রে পান করা যাদের নিয়ম ছিল না, তাদেরকে সেই পাত্রে পান করতে হবে, তবে তুমি কি নিতান্তই অদণ্ডিত থাকবে? তুমি অদণ্ডিত থাকবে না, অবশ্য পান করবে।
13 কেননা, মাবুদ বলেন, আমি আমার নামে এই কসম খেয়েছি, বস্রা বিস্ময়, টিটকারি, উৎসন্নতা ও বদদোয়ার পাত্র হবে; আর তার সমস্ত নগর চিরকাল উৎসন্ন-স্থান থাকবে।
14
আমি মাবুদের কাছ থেকে এই বার্তা শুনেছি এবং জাতিদের কাছে এক জন দূত প্রেরিত হয়েছে; তোমরা জমায়েত হও, এর বিপক্ষে যাত্রা কর, যুদ্ধ করার জন্য গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে দাঁড়াও।
15 কেননা দেখ, আমি তোমাকে জাতিদের মধ্যে ক্ষুদ্র করেছি, মানবজাতির মধ্যে অবজ্ঞাত করেছি।
16 হে শৈল-ফাটলের বাসিন্দা, পর্বতের চূড়ার অধিকারী, তোমার ভয়ঙ্করতার বিষয়ে তোমার অন্তঃকরণের অহঙ্কার তোমাকে বঞ্চনা করেছে; তুমি যদিও ঈগল পাখির মত উঁচু স্থানে বাসা কর, তবুও আমি তোমাকে সেখান থেকে নামাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
17
আর ইদোম বিস্ময়ের পাত্র হবে, যারা তার কাছ দিয়ে গমন করে, সকলে বিস্মিত হবে ও তার প্রতি উপস্থিত সকল আঘাতের জন্য শিস দেবে।
18 মাবুদ বলেন, সাদুম, আমুরা ও সেখানকার নিকটবর্তী নগরগুলোর উৎপাটনহেতু যেমন হয়েছিল, তেমনি হবে, কেউ সেখানে থাকবে না, কোন লোক তার মধ্যে প্রবাস করবে না।
19 দেখ, সেই ব্যক্তি সিংহের মত জর্ডানের গভীর অরণ্য থেকে বেরিয়ে সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসবে; বস্তুত আমি চোখের নিমিষে তাকে সেখান থেকে দূর করে দেব এবং তার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করবো। কেননা আমার মত কে আছে? আমার সময় নির্ধারণ কে করবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াবে, এমন পালক কোথায়?
20 অতএব মাবুদের মন্ত্রণা শোন, যা তিনি ইদোমের বিরুদ্ধে করেছেন; তাঁর সঙ্কল্পগুলো শোন, যা তিনি তৈমন-নিবাসীদের বিপক্ষে করেছেন। নিশ্চয়ই লোকেরা তাদের টেনে নিয়ে যাবে, পালের বাচ্চাগুলোকেও নিয়ে যাবে; নিশ্চয়ই তিনি তাদের চরাণি-স্থান তাদের সঙ্গে উৎসন্ন করবেন।
21 দুনিয়া তাদের পতনের শব্দে কাঁপছে, লোহিত সাগর পর্যন্ত কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে!
22 দেখ, সে ঈগল পাখির মত উঠে উড়ে আসবে, বস্রার বিপরীতে তারা পাখা মেলে ধরবে; আর ইদোমের বীরদের অন্তর সেদিন প্রসব-যন্ত্রণা ভোগকারিণী স্ত্রীর অন্তরের সমান হবে।
23
দামেস্কের বিষয়। হমাৎ ও অর্পদ লজ্জিত হল, কারণ তারা অমঙ্গলের বার্তা শুনলো, বিগলিত হল; অশান্ত সাগরের মত অশান্ত দেখা যাচ্ছে, তা সুস্থির হতে পারে না।
24 দামেস্ক ক্ষীণবল হয়েছে, পালিয়ে যাবার জন্য ফিরছে ও ভীষণ ভয় পেয়েছে; যেমন প্রসবকালে স্ত্রীলোকের, তেমনি তার যন্ত্রণা ও ব্যথা শুরু হয়েছে।
25 সেই বিখ্যাত নগর, আমার আনন্দজনক পুরী, কেন পরিত্যক্ত হয় নি?
26 এজন্য সেদিন তার যুবকেরা তার চকে মরে পড়ে থাকবে ও সমস্ত যোদ্ধা স্তব্ধ হয়ে যাবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
27 আর আমি দামেস্কের প্রাচীরে আগুন লাগাব, তা বিন্হদদের অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
28
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার কর্তৃক পরাহত কায়দার ও হাৎসোর রাজ্যগুলোর বিষয়।
মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা উঠ, কায়দারে যাও এবং পূর্বদেশের লোকদের সর্বস্ব লুট কর।
29 লোকে তাদের তাঁবু ও পশুপালগুলো নিয়ে যাবে; তাদের পর্দা, তাদের সমস্ত পাত্র ও তাদের উট নিজেদের জন্য নিয়ে যাবে; এবং উচ্চৈঃস্বরে তাদের বিষয়ে বলবে, চারদিকেই ভয়।
30 মাবুদ বলেন, হে হাৎসোর-নিবাসীরা, পালিয়ে যাও, দূরে চলে যাও, গভীরে গিয়ে বাস কর, কেননা ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার তোমাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণা করেছে, তোমাদের বিরুদ্ধে সঙ্কল্প স্থির করেছে।
31 তোমরা উঠ, সেই আরামে থাকা জাতির বিরুদ্ধে যাত্রা কর, যে নির্ভয়ে বাস করে, যার কপাট নেই, হুড়কা নেই, যে একাকী থাকে, মাবুদ এই কথা বলেন।
32 তাদের উটগুলো লুটবস্তু হবে, তাদের বিপুল পশুধন লুণ্ঠিত দ্রব্য হবে এবং যে লোকেরা যারা মাথার দু’পাশের চুল কেটেছে, তাদের আমি সকল বায়ুর দিকে উড়িয়ে দেব এবং চারদিক থেকে তাদের বিপদ আনবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
33 আর হাৎসোর শিয়ালদের বসতি ও চিরস্থায়ী ধ্বংসস্থান হবে; সেখানে কেউ থাকবে না, কোন লোক তার মধ্যে বাস করবে না।
34
এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের রাজত্বের আরম্ভকালে এলমের বিষয়ে মাবুদের এই কালাম ইয়ারমিয়া নবীর কাছে নাজেল হল—
35 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এলমের ধনুক, তাদের প্রধান শক্তি, ভেঙ্গে ফেলবো।
36 আর আসমানের চারদিক থেকে চার বায়ু এলমের উপরে প্রবাহিত করবো এবং ঐ সমস্ত বায়ুর দিকে তাদেরকে উড়িয়ে দেব; দূরীকৃত ইলামীয়রা যার কাছে না যাবে, এমন জাতি থাকবে না।
37 আর আমি ইলামীয়দেরকে তাদের দুশমনদের সম্মুখে ও যারা তাদের প্রাণনাশে সচেষ্ট তাদের সম্মুখে ভীষণ ভয় ধরিয়ে দেব; আমি তাদের উপরে অমঙ্গল অর্থাৎ আমার প্রচণ্ড ক্রোধ উপস্থিত করবো, মাবুদ এই কথা বলেন এবং যতদিন তাদের সংহার না করি, ততদিন তাদের পিছনে পিছনে তলোয়ার পাঠাব;
38 আর আমি নিজের সিংহাসন এলমে স্থাপন করবো এবং সেই স্থান থেকে বাদশাহ্ ও কর্মকর্তাদেরকে মুছে ফেলব, মাবুদ এই কথা বলেন।
39 কিন্তু শেষকালে আমি এলমের বন্দীদশা ফিরাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
মাবুদ ইয়ারমিয়া নবী দ্বারা ব্যাবিলনের বিষয়ে, কল্দীয়দের দেশের বিষয়ে, যে কথা বলেছিলেন তা এই—
2 তোমরা জাতিদের মধ্যে ঘোষণা কর, প্রচার কর, ধ্বজা তুলে ধর; প্রচার কর, গুপ্ত রেখো না; বল, ‘ব্যাবিলন পরহস্তগত হল, বেল লজ্জিত হল, মারডকের মুখ বিষণ্ন্ন হল; তার মূর্তিগুলো লজ্জিত হল, মূর্তিগুলো বিস্মিত হল।’
3 কেননা উত্তর দিক থেকে এক জাতি তার বিরুদ্ধে উঠে এল; সে তার দেশ ধ্বংস করবে, সেখানে কেউ বাস করবে না; মানুষ ও পশু পালিয়ে গেল, চলে গেল।
4
মাবুদ বলেন, সেই সময়ে ও সেই কালে বনি-ইসরাইলরা আসবে, তারা ও এহুদার লোকেরা একসঙ্গে আসবে, কাঁদতে কাঁদতে চলে আসবে ও তাদের আল্লাহ্, মাবুদের খোঁজ করবে।
5 তারা সিয়োনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, সেই দিকে মুখ রাখবে, বলবে, চল, তোমরা এমন নিয়ম দ্বারা মাবুদের প্রতি আসক্ত হও, যা অনন্তকাল থাকবে, যা কখনও লোকে ভুলে যাবে না।
6
আমার লোকেরা হারানো ভেড়া হয়ে পড়েছে, তাদের পালকেরা তাদেরকে ভ্রান্ত করেছে, নানা পর্বতে পথহারা করে ফেলেছে; ওরা পর্বত থেকে উপপর্বতে গমন করেছে, নিজেদের শয়নস্থান ভুলে গেছে।
7 যারা তাদেরকে পেয়েছে, তারা গ্রাস করেছে; তাদের দুশমনদের বলেছে, আমাদের দোষ হয় নি, কারণ ওরা ধর্মনিবাস মাবুদের, নিজেদের পূর্বপুরুষদের আশাভূমি মাবুদের, বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে।
8
তোমরা তাড়াতাড়ি ব্যাবিলনের মধ্য থেকে বের হয়ে পড়, কল্দীয়দের দেশ থেকে নির্গমন কর এবং পালের অগ্রগামী ছাগলের মত হও।
9 কেননা দেখ, আমি উত্তর দেশ থেকে মহাজাতি-সমাজ উত্তেজিত করে ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে গমন করাব, তারা ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে সৈন্য রচনা করবে, তাতে তা পরহস্তগত হবে; তাদের তীর দক্ষ বীরের মত হবে, বিফল হয়ে ফিরে আসবে না।
10 কল্দিয়া লুটবস্তু হবে; যেসব লোক সেই দেশ লুট করবে, তারা তৃপ্ত হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
11
ওহে তোমরা, যারা আমার অধিকার লুট করছো, তোমরা তো আনন্দ ও উল্লাস করছো, শস্য-মাড়াইকারিণী গাভীর মত নাচানাচি করছো, তেজস্বী ঘোড়ার মত হ্রেষা শব্দ করছো;
12 এজন্য তোমাদের মা অতি লজ্জিত হবে, তোমাদের জননী হতাশ হবে; দেখ, জাতিদের মধ্যে সে ক্ষুদ্র হবে, মরুভূমি, শুকনো স্থান ও মরুভূমি হবে।
13 মাবুদের ক্রোধের কারণে সে আর বসতি-স্থান হবে না, সম্পূর্ণ ধ্বংসস্থান হবে; যে কেউ ব্যাবিলনের কাছ দিয়ে যাবে সে বিস্মিত হবে ও তার সমস্ত আঘাত দেখে উপহাস করবে।
14 হে ধনুকধারী লোকেরা, ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে চারদিকে সৈন্য রচনা কর, তার প্রতি তীর নিক্ষেপ কর, তীর নিক্ষেপে কাতর হয়ো না, কেননা সে মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে।
15 তার চারদিকে সিংহনাদ কর— সে আত্মসমর্পণ করেছে, তার ভিত্তিগুলো পড়ে গেছে, তার প্রাচীরগুলো উৎপাটিত হয়েছে; কেননা এ মাবুদের প্রতিশোধ গ্রহণ; তোমরা ওর প্রতিশোধ নাও; সে যেমন করেছে, তার প্রতি তেমনি কর।
16 ব্যাবিলন থেকে বীজবাপককে কেটে ফেল, ফসল কাটার সময়ে যে কাস্ত্যা ধরে, তাকে কেটে ফেল, উৎপীড়ক তলোয়ারের ভয়ে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ জাতির কাছে ফিরে যাবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ দেশের দিকে পালিয়ে যাবে।
17
ইসরাইল ছিন্নভিন্ন ভেড়ার মত; সিংহগুলো তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে; প্রথমত আশেরিয়ার বাদশাহ্ তাকে গ্রাস করেছিল, এখন শেষে এই ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার তার অস্থিগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে।
18 এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, দেখ, আমি আশেরিয়ার বাদশাহ্কে যেমন প্রতিফল দিয়েছি, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ ও তার দেশকে তেমনি প্রতিফল দেব।
19 আর ইসরাইলকে তার চরাণি-স্থানে ফিরিয়ে আনবো; সে কর্মিলের ও বাশনের উপরে চরবে এবং আফরাহীম-পর্বতমালায় ও গিলিয়দে তার প্রাণ তৃপ্ত হবে।
20 মাবুদ বলেন, সেই সময়ে ও সেই কালে ইসরাইলের অপরাধের অনুসন্ধান করা যাবে, কিন্তু পাওয়া যাবে না; এবং এহুদার গুনাহ্গুলোর অনুসন্ধান করা যাবে, কিন্তু পাওয়া যাবে না; কেননা আমি যাদেরকে অবশিষ্ট রাখি, তাদেরকে মাফ করবো।
21
মাবুদ বলেন, তুমি মরাথয়িম [দ্বিগুণ বিদ্রোহ] দেশের বিরুদ্ধে ও পকোদ [প্রতিফল] নিবাসীদের বিরুদ্ধে যাও, তাদের পিছনে পিছনে গিয়ে তাদের জবেহ্ কর, নিঃশেষে বিনষ্ট কর; আমি তোমাকে যা যা করতে হুকুম করেছি, সেই অনুসারে কর।
22 দেশে সংগ্রামের আওয়াজ ও মহাবিনাশের আওয়াজ!
23 সমস্ত দুনিয়ার হাতুড়ি কেমন ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেল! জাতিদের মধ্যে ব্যাবিলন কেমন উৎসন্ন হল!
24 হে ব্যাবিলন, আমি তোমার জন্য ফাঁদ পেতেছি, আর তুমি তাতে ধরাও পড়েছ, কিন্তু জানতে পার নি; তোমাকে পাওয়া গেছে, আবার তুমি ধরাও পড়েছ, কেননা তুমি মাবুদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছ।
25 মাবুদ তাঁর অস্ত্রাগার খুললেন, নিজের ক্রোধের অস্ত্রগুলো বের করে আনলেন, কেননা কল্দীয়দের দেশে সর্বশক্তিমান সার্বভৌম মাবুদের কাজ আছে।
26
তোমরা প্রান্তসীমা থেকে তার বিরুদ্ধে এসো, তার শস্যভাণ্ডারগুলো খুলে দাও, রাশির মত তাকে ঢিবি কর, নিঃশেষে বিনষ্ট কর; তার কিছু অবশিষ্ট রেখো না।
27 তার সমস্ত ষাঁড় হত্যা কর, তারা বধ্যস্থানে নেমে যাক; হায় হায়, তাদের দিন, তাদের প্রতিফলের সময়, এসে পড়লো!
28 শোন! ঐ তাদের কণ্ঠস্বর, যারা পালাচ্ছে ও ব্যাবিলন দেশ থেকে রক্ষা পাচ্ছে; তারা সিয়োনে এসে ঘোষণা করছে কিভাবে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাঁর বায়তুল-মোকাদ্দসের জন্য প্রতিশোধ নিয়েছে।
29
তোমরা ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে ধনুর্ধ্বারীদের, ধনুকে চাড়াদায়ী সকলকে, আহ্বান কর; চারদিকে তার বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন কর, কাউকেও রক্ষা পেতে দিও না; তার কাজ অনুসারে ফল তাকে দাও; সে যা যা করেছে, তার প্রতি সেই অনুসারে কর; কেননা সে মাবুদের বিরুদ্ধে, ইসরাইলের পবিত্রতমের বিরুদ্ধে, অহংকার করেছে।
30 এজন্য সেদিন তার যুবকেরা তার রাস্তায় মরে পড়ে থাকবে ও তার সমস্ত যোদ্ধা ধ্বংস হয়ে যাবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
31 হে অহংকার, প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, কেননা তোমার সেদিন উপস্থিত, যেদিন আমি তোমাকে প্রতিফল দেব।
32 তখন ঐ অহংকার হোঁচট খেয়ে পড়বে, কেউ তাকে উঠাবে না; এবং আমি তার সকল নগরে আগুন লাগিয়ে দেব, তা তার চারদিকের সবকিছুই গ্রাস করবে।
33
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, বনি-ইসরাইল ও এহুদার লোকেরা নির্বিশেষে নির্যাতিত হচ্ছে; এবং যারা তাদেরকে বন্দী-দশায় রেখেছে, তারা তাদেরকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে, বিদায় করতে অসম্মত রয়েছে।
34 তাদের মুক্তিদাতা বলবান; ‘বাহিনীগণের মাবুদ’ তাঁর নাম; তিনি সমপূর্ণভাবে তাদের ঝগড়া নিষ্পন্ন করবেন, যেন তিনি দুনিয়াকে সুস্থির করেন ও ব্যাবিলন-নিবাসীদেরকে অস্থির করেন।
35 মাবুদ বলেন, কল্দীয়দের উপরে, ব্যাবিলন-নিবাসীদের উপরে, ব্যাবিলনের কর্মকর্তাদের উপরে ও তার জ্ঞানবানদের উপরে তলোয়ার রয়েছে।
36 তার গণকদের উপরে তলোয়ার রয়েছে, তারা হতবুদ্ধি হবে; তার বীরদের উপরে তলোয়ার রয়েছে, তারা ধ্বংস হবে।
37 তার ঘোড়াগুলোর উপরে, তার রথগুলোর উপরে ও তার মধ্যকার সমস্ত মিশ্রিত লোকের উপরে তলোয়ার রয়েছে, তারা অবলাদের সমান হবে; তার সকল ধনকোষের উপরে তলোয়ার রয়েছে, সেসব লুট হবে।
38 তার জলাধারগুলোর উপরে উত্তাপ রয়েছে, সেগুলো শুকিয়ে যাবে; কেননা সেটি খোদাই-করা মূর্তির দেশ ও সেখানকার লোকেরা তাদের মূর্তিগুলোর বিষয়ে পাগল হয়ে যাবে।
39
এজন্য সেখানে বন্যপশু ও হায়েনারা বাস করবে এবং উটপাখি বাসা করবে; তা আর কখনও লোকালয় হবে না; পুরুষানুক্রমে সেই স্থানে বসতি হবে না।
40 মাবুদ এই কথা বলেন, আল্লাহ্ যখন সাদুম, আমুরা ও সেখানকার নিকটস্থ নগরগুলো উৎপাটন করেছিলেন, তখন যেরকম হয়েছিল, সেরকম হবে; কোন ব্যক্তি সেখানে বাস করবে না, কোন বনি-আদম তার মধ্যে বাস করবে না।
41
দেখ, উত্তর দিক থেকে এক জনসমাজ আসছে, দুনিয়ার প্রান্ত থেকে একটি মহাজাতি ও অনেক বাদশাহ্ উত্তেজিত হয়ে আসছে।
42 তারা ধনুক ও বর্শাধারী, নিষ্ঠুর ও নির্দয়; তাদের আওয়াজ সমুদ্র গর্জনের মত ও তারা ঘোড়ায় চড়ে আসছে; অয়ি ব্যাবিলন-কন্যে, তোমারই বিপরীতে যুদ্ধ করার জন্য তারা প্রত্যেকজন যোদ্ধার মত সুসজ্জিত হয়েছে।
43 ব্যাবিলনের বাদশাহ্ তাদের জনশ্রুতি শুনেছে, তার হাত অবশ হল, যন্ত্রণা, প্রসবকারিণীর মত বেদনা, তাকে ধরলো।
44
দেখ, যে সিংহের মত জর্ডানের গভীর জঙ্গল থেকে উঠে সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসবে; কিন্তু আমি চোখের নিমিষে তাকে সেখান থেকে দূর করে দেব এবং তার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করবো। কেননা আমার মত কে আছে? আমার সময় নির্ধারণ কে করবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াবে এমন পালক কোথায়?
45 অতএব মাবুদের মন্ত্রণা শোন, যা তিনি ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে করেছেন; তাঁর সঙ্কল্পগুলো শোন, যা তিনি কল্দীয়দের দেশের বিরুদ্ধে করেছেন। নিশ্চয়ই লোকেরা তাদেরকে টেনে নিয়ে যাবে, পালের বাচ্চাগুলোকেও নিয়ে যাবে; নিশ্চয়ই তিনি তাদের চরাণি-স্থান তাদের সঙ্গে উৎসন্ন করবেন।
46 ব্যাবিলন পরহস্তগত হয়েছে, এই শব্দে দুনিয়া কাঁপছে ও জাতিদের মধ্যে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
1
মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি, ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে ও লেব-কামাই নিবাসীদের বিরুদ্ধে একটি বিনাশক বায়ু উৎপন্ন করবো।
2 আর আমি ব্যাবিলনে বিদেশীদের প্রেরণ করবো, তারা তাকে ঝাড়বে, তার দেশ শূন্য করবে, কারণ তারা বিপদের দিনে চারদিকে তার বিরুদ্ধে আসবে।
3 তীরন্দাজ ধনুকে চাড়া না দিক; সে বর্মসজ্জায় উত্থিত না হোক; তোমরা তার যুবকদের প্রতি রহম করো না, তার সমস্ত সৈন্য নিঃশেষে বিনষ্ট কর।
4 তারা কল্দীয়দের দেশে নিহত ও চকে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
5
কারণ ইসরাইল কিংবা এহুদা যে তার আল্লাহ্ বাহিনীগণের মাবুদ কর্তৃক পরিত্যক্ত, তা নয়; যদিও এদের দেশ ইসরাইলের পবিত্রতমের বিরুদ্ধে দোষে পরিপূর্ণ হয়েছে।
6 তোমরা ব্যাবিলনের মধ্য থেকে পালিয়ে যাও, প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষা কর; তার অপরাধে তোমরা উচ্ছিন্ন হয়ো না; কেননা এ মাবুদের প্রতিশোধ গ্রহণের সময়, তিনি তাকে অপকারের প্রতিফল দিতে উদ্যত।
7 মাবুদের হাতে ব্যাবিলন সোনার পাত্রের মত ছিল, তা সমস্ত দুনিয়াকে মাতাল করতো, জাতিরা তার মদ পান করেছে, সেজন্য জাতিরা পাগল হয়েছে।
8 ব্যাবিলন অকস্মাৎ পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেল; তার জন্য হাহাকার কর; তার ব্যথার প্রতিকারের জন্য ওষুধ গ্রহণ কর; কি জানি সে সুস্থ হবে।
9 ‘আমরা ব্যাবিলনকে সুস্থ করতে যত্ন করেছি, কিন্তু সে সুস্থ হল না; তাকে ত্যাগ কর, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দেশে যাই, কেননা ওর বিচার উচ্চতায় আকাশ ছোঁয়া।
10 মাবুদ আমাদের ধার্মিকতা প্রকাশ করেছেন; এসো, আমরা সিয়োনে গিয়ে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাজ ঘোষণা করি।’
11
তোমরা তীরগুলো ধারালো কর, ঢাল ধর; মাবুদ মাদীয় বাদশাহ্দের মন উত্তেজিত করেছেন, কেননা তাঁর সঙ্কল্প ব্যাবিলনের বিপক্ষ, তার বিনাশের জন্য; বস্তুত তা মাবুদের প্রতিশোধ গ্রহণ, তাঁর বায়তুল-মোকাদ্দসের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ।
12 তোমরা ব্যাবিলনের প্রাচীরের বিরুদ্ধে নিশান স্থাপন কর, রক্ষী দলগুলোকে সাহস দাও, প্রহরীদেরকে নিযুক্ত কর, গোপন স্থানে সৈন্য রাখ; কেননা মাবুদ ব্যাবিলন-নিবাসীদের বিষয়ে যা বলেছেন, তা সঙ্কল্প করেছেন, সিদ্ধও করেছেন।
13 হে জলরাশির উপরে বাসকারিণী! ধনকোষে ঐশ্বর্যশালিনী! তোমার শেষকাল, তোমার ধনলোভের পরিণাম উপস্থিত।
14 বাহিনীগণের মাবুদ তাঁর নামে এই কসম খেয়েছেন, সত্যিই আমি তোমাকে পঙ্গপালের মত জনগণে পরিপূর্ণ করেছি, তারা তোমার বিরুদ্ধে সিংহনাদ করবে।
15 তিনি নিজের শক্তিতে দুনিয়া গঠন করেছেন। নিজের জ্ঞানে দুনিয়া স্থাপন করেছেন, নিজের বুদ্ধিতে আসমান বিছিয়ে দিয়েছেন।
16 তিনি গর্জে উঠলে আসমানে জলরাশির আওয়াজ হয়, তিনি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে বাষ্প উত্থাপন করেন; তিনি বৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ গঠন করেন; তিনি তাঁর ভাণ্ডার থেকে বায়ু বের করে আনেন।
17 প্রত্যেক মানুষ পশুর মত হয়েছে, সে জ্ঞানহীন; প্রত্যেক স্বর্ণকার তার মূর্তির দ্বারা লজ্জিত হয়; কারণ তার ছাঁচে ঢালা বস্তু মিথ্যামাত্র, তার মধ্যে শ্বাসবায়ু নেই।
18 সেসব অসার, মায়ার কর্মমাত্র; তাদের প্রতিফল দানকালে তারা বিনষ্ট হবে।
19 যিনি ইয়াকুবের অধিকার, তিনি সেরকম নন; কারণ তিনি সমস্ত বস্তুর গঠনকারী এবং ইসরাইল তাঁর অধিকাররূপ বংশ; তাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ!
20
তুমি আমার মুদগর ও যুদ্ধের অস্ত্র; তোমাকে দিয়ে আমি জাতিদেরকে চূর্ণ করবো; তোমাকে দিয়ে রাজ্যগুলো সংহার করবো;
21 তোমাকে দিয়ে ঘোড়া ও তার সওয়ারকে চূর্ণ করবো; তোমাকে দিয়ে রথ ও তার আরোহীকে চূর্ণ করবো;
22 তোমাকে দিয়ে পুরুষ ও স্ত্রীকে চূর্ণ করবো; তোমাকে দিয়ে বৃদ্ধ ও বালককে চূর্ণ করবো; তোমাকে দিয়ে ও যুবক যুবতীকে চূর্ণ করবো;
23 তোমাকে দিয়ে পালরক্ষক ও তার পাল চূর্ণ করবো; তোমাকে দিয়ে কৃষক ও তার বলদযুগল চূর্ণ করবো; এবং তোমাকে দিয়ে শাসনকর্তা ও রাজ-কর্মচারীদের চূর্ণ করবো।
24 আর আমি ব্যাবিলনকে ও কল্দীয় দেশ-নিবাসী সকলকে তাদের সেসব দুষ্কর্মের প্রতিফল দেব, যা তারা সিয়োনে তোমাদের চোখের সম্মুখে করেছে, মাবুদ এই কথা বলেন।
25
হে বিনাশক পর্বত, তুমি সমস্ত দুনিয়ার বিনাশক; মাবুদ বলেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, আমি তোমার বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে দেবো, শৈল থেকে তোমাকে গড়িয়ে ফেলে দেব ও তোমাকে ভস্মীভূত পর্বত করবো।
26 লোকে তোমা থেকে কোণের জন্য পাথর কিংবা ভিত্তিমূলের জন্য পাথর নেবে না, কিন্তু তুমি চিরকাল ধ্বংসস্থান থাকবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
27 তোমরা দেশে ধ্বজা তোল, জাতিদের মধ্যে তূরী বাজাও, তার বিপক্ষে নানা জাতিকে প্রস্তুত কর, আরারাত, মিন্নি ও অস্কিনস রাজ্যকে তার বিপক্ষে আহ্বান কর, তার বিপক্ষে এক জন সেনাপতি নিযুক্ত কর, পঙ্গপালের মত ঘোড়াগুলোকে পাঠাও।
28 তার বিপক্ষে জাতিদেরকে, মাদীয়দের বাদশাহ্দেরকে, তাদের শাসনকর্তাদেরকে, কর্মকর্তাদেরকে ও তার কর্তৃত্বাধীন সমস্ত দেশের লোককে প্রস্তুত কর।
29 দেশ কাঁপছে ও ব্যথিত হচ্ছে; কেননা ব্যাবিলন দেশকে ধ্বংস ও নিবাসশূন্য করার জন্য ব্যাবিলনের বিপক্ষে মাবুদের সঙ্কল্প সফল হচ্ছে।
30 ব্যাবিলনের যোদ্ধারা যুদ্ধে বিরত হয়েছে, তারা নিজেদের দুর্গের মধ্যে রয়েছে; তাদের শক্তি শেষ হয়ে গেছে; তারা স্ত্রীলোকদের সমান হয়েছে; তার আবাসগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার হুড়কাগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
31 এক ধাবক অন্য ধাবকের কাছে ধাবিত হচ্ছে, বার্তাবহ বার্তাবহের কাছে যাচ্ছে, যেন ব্যাবিলনের বাদশাহ্কে এই বার্তা দেওয়া হয় যে, তার নগরের চারদিক অন্যেরা দখল করে নিল;
32 এবং পার-ঘাটাগুলো দখল করে নেওয়া হয়েছে, তারা নলবন আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে ও যোদ্ধারা ভীষণ ভয় পেয়েছে।
33 কারণ বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলর আল্লাহ্, এই কথা বলেন, ব্যাবিলন-কন্যা শস্য-মাড়াইকালীন খামার-স্বরূপ; স্বল্পকাল মধ্যে তার জন্য ফসল কাটার সময় উপস্থিত হবে।
34
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার আমাকে গ্রাস করেছেন, আমাকে চূর্ণ করেছেন, আমাকে শূন্যপাত্রস্বরূপ করেছেন, আমাকে দানবের মত গ্রাস করেছেন, আমার উপাদেয় খাবার দ্বারা তার উদর পূর্ণ করেছেন, আমাকে দূর করেছেন।
35 ‘আমার প্রতি ও আমার মাংসের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্যের ফল ব্যাবিলনের উপরে বর্তুক,’ এই কথা সিয়োন-নিবাসীনী বলছে; এবং ‘আমার রক্ত কল্দীয় দেশ-নিবাসীদের উপরে বর্তুক,’ এই কথা জেরুশালেম বলছে।
36
এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার ঝগড়া নিষ্পন্ন করবো; তোমার জন্য প্রতিশোধ নেব এবং তার সমুদ্রকে পানিশূন্য ও তার ফোয়ারাকে শুকিয়ে ফেলব।
37 আর ব্যাবিলন ধ্বংসস্থান, শিয়ালদের বাসস্থান, বিস্ময় ও বিদ্রূপের বিষয় এবং জনবসতিহীন হবে।
38 তারা একত্রে সিংহের মত গর্জন করবে, সিংহের বাচ্চাদের মত গোঁ গোঁ শব্দ করবে।
39 তারা উত্তপ্ত হলে পর আমি তাদের ভোজ প্রস্তুত করবো ও তাদেরকে মাতাল করবো; যেন তারা উল্লাস করে ও চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হয়, আর জাগরিত না হয়, মাবুদ এই কথা বলেন।
40 আমি তোমাদেরকে ভেড়ার বাচ্চার মত, ছাগলগুলোর সঙ্গে ভেড়াগুলোর মত, বধ্যস্থানে নামিয়ে আনবো।
41 শেশক কেমন পরহস্তগত! সমস্ত দুনিয়ার প্রশংসাপাত্র কেমন পরাজিত হয়েছে। জাতিগুলোর মধ্যে ব্যাবিলন কেমন ধ্বংসস্থান হয়েছে।
42 ব্যাবিলনের উপরে সমুদ্র উঠেছে, সে তার তরঙ্গের কল্লোলে আচ্ছাদিত।
43 তার নগরগুলো ধ্বংসস্থান হল, ভূমি ও মরুভূমি শুকিয়ে গেল; সেই দেশে কেউ বাস করে না, কোন লোক সেখানে যাতায়াত করে না।
44 আর আমি ব্যাবিলনে বেল দেবকে প্রতিফল দেব, তার মুখ থেকে তার গিলিত দ্রব্য বের করবো; এবং জাতিরা আর তার দিকে অগ্রসর হবে না; ব্যাবিলনের প্রাচীরও পড়ে যাবে।
45
হে আমার লোকেরা, তোমরা তার মধ্য থেকে বের হও, প্রত্যেকে মাবুদের প্রজ্বলিত ক্রোধ থেকে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষা কর।
46 আর তোমাদের হৃদয়কে গলে যেতে দিও না এবং দেশের মধ্যে যে জনরব শোনা যাবে, তাতে ভয় পেয়ো না, কেননা এক বছর এক জনরব উঠবে, তারপর আর এক বছর অন্য এক জনরব উঠবে; দেশে দৌরাত্ম বাড়বে, শাসনকর্তা আরেক শাসনকর্তার বিপক্ষ হবে।
47 অতএব দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি ব্যাবিলনের খোদাই-করা মূর্তিগুলোকে প্রতিফল দেব; আর তার সমস্ত দেশ লজ্জিত হবে ও সেখানকার নিহত লোকেরা তার মধ্যে পড়ে থাকবে।
48 আর আসমান, দুনিয়া ও তন্মধ্যস্থিত সকলে ব্যাবিলনের বিষয়ে আনন্দগান করবে, কেননা লুটকারীরা উত্তর দিক থেকে তার কাছে আসবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
49 ব্যাবিলন যেমন ইসরাইলের নিহতদেরকে নিপাত করেছে, সেরকম দেশের সমস্ত নিহতরা ব্যাবিলনে পড়ে থাকবে।
50
তলোয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছ যে তোমরা, তোমরা চল, বিলম্ব করো না; দূরদেশে মাবুদকে স্মরণ কর এবং জেরুশালেমকে মনে কর।
51 আমরা উপহাস শুনেছি, তাই লজ্জিত হয়েছি, আমাদের মুখ অপমানে আচ্ছন্ন হয়েছে, কেননা বিদেশী লোকেরা মাবুদের গৃহের সকল পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেছিল।
52 এজন্য মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে আমি তার খোদাই-করা মূর্তিগুলোকে প্রতিফল দেব, আর তার দেশের সর্বত্র আহত লোকেরা কোঁকাবে।
53 ব্যাবিলন যদিও আসমান পর্যন্ত উঠে, যদিও নিজের বলের দুর্গ দৃঢ় করে, তবুও আমার হুকুমে লুণ্ঠনকারীরা তার কাছে যাবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
54 ব্যাবিলনের মধ্য থেকে কান্নার আওয়াজ, কল্দীয়দের দেশ থেকে মহাধ্বংসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
55 কেননা মাবুদ ব্যাবিলনকে উচ্ছিন্ন করছেন, তার মধ্যবর্তী মহাশব্দকে ক্ষান্ত করছেন, ওদের তরঙ্গগুলো জলরাশির মত গর্জন করছে; তাদের কল্লোল-ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
56 কারণ তার উপরে, ব্যাবিলনের উপরে, বিনাশক এসেছে, তার বীরেরা ধরা পড়ল, তাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে গেল; কেননা মাবুদ প্রতিফলদাতা, তিনি অবশ্য সমুচিত ফল দেবেন।
57 আর আমি তার কর্মকর্তাদের, তার জ্ঞানবানদের, তার শাসনকর্তাদের, তার রাজ-কর্মচারীদের ও তার বীরদেরকে মাতাল করবো; তাতে তারা চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হবে, আর জেগে উঠবে না, এই কথা বাদশাহ্ বলেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের মাবুদ।
58 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, ব্যাবিলনের প্রশস্ত প্রাচীরগুলো একেবারে ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং তার উঁচু দ্বারগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যাবে; আর লোকবৃন্দ কেবল অসারতার জন্য ও জাতিরা কেবল আগুনের জন্য পরিশ্রম করবে; এবং তারা ক্লান্ত হবে।
59
এহুদার বাদশাহ্ সিদিকিয়ের চতুর্থ বছরে মহসেয়ের পৌত্র নেরিয়ের পুত্র সরায় যে সময়ে বাদশাহ্র সঙ্গে ব্যাবিলনে গমন করেন, সে সময় ইয়ারমিয়া নবী সরায়কে যা হুকুম করেছিলেন, তার বৃত্তান্ত। উক্ত সরায় সেনানিবাসের নেতা ছিলেন।
60 আর ব্যাবিলনের ভাবী অমঙ্গলের কথা, অর্থাৎ ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে এই যেসব কথা লেখা আছে, তা ইয়ারমিয়া একখানা কিতাবে লিখেছিলেন।
61 আর ইয়ারমিয়া সরায়কে বললেন, ব্যাবিলনে উপস্থিত হলে পর তুমি দেখো, যেন এসব কথা পাঠ কর,
62 আর বলবে, হে মাবুদ, তুমি এই স্থানকে উচ্ছিন্ন করার কথা বলেছ, বলেছ যে, এখানে মানুষ বা পশু কিছুই বাস করবে না, এটি চিরকালীন ধ্বংসস্থান হবে।
63 পরে এই কিতাবের পাঠ সমাপ্ত হলে তুমি এর সঙ্গে একখানা পাথর বেঁধে ফোরাত নদীর মাঝখানে এটা নিক্ষেপ করবে;
64 আর তুমি বলবে, আমি [মাবুদ] ব্যাবিলনের যে অমঙ্গল ঘটাবো, তার জন্য ব্যাবিলন এরকম ডুবে যাবে, আর কখনও উঠবে না; ‘এবং তারা ক্লান্ত হবে’। ইয়ারমিয়ার কথা এখানেই শেষ।
1
সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজত্ব করতে আরম্ভ করেন, আর তিনি একাদশ বছর কাল জেরুশালেমে রাজত্ব করেন; তাঁর মায়ের নাম হমূটল, তিনি লিব্না-নিবাসী ইয়ারমিয়ার কন্যা।
2 যিহোয়াকীমের সকল কাজ অনুসারে সিদিকিয়ও মাবুদের দৃষ্টিতে যা মন্দ তা-ই করতেন।
3 কারণ জেরুশালেমে ও এহুদায় মাবুদের ক্রোধজনিত ঘটনা হল, যে পর্যন্ত না তিনি তাঁর সম্মুখ থেকে তাদেরকে দূরে ফেলে দিলেন, আর সিদিকিয় ব্যাবিলনের বাদশাহ্র বিদ্রোহী হলেন।
4
পরে তাঁর রাজত্বের নবম বছরের দশম মাসের দশম দিনে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার ও তাঁর সমস্ত সৈন্য জেরুশালেমের বিরুদ্ধে এসে শিবির স্থাপন করলেন ও তার বিরুদ্ধে চারদিকে অবরোধ দেয়াল গাঁথলেন;
5 আর সিদিকিয়ের একাদশ বছর পর্যন্ত নগর অবরুদ্ধ থাকলো।
6 চতুর্থ মাসের নবম দিনে, নগরে মহা দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, দেশের লোকদের জন্য খাদ্যদ্রব্য কিছুই রইলো না।
7 পরে নগর-প্রাচীরের একটি স্থান ভেঙ্গে গেল ও সমস্ত যোদ্ধা রাতে নগর থেকে বাইরে গিয়ে বাদশাহ্র বাগানের নিকটস্থ দুই প্রাচীরের দ্বারের পথ দিয়ে পালিয়ে গিয়ে অরাবা সমভূমির পথে গেল। তখন কল্দীয়েরা নগরের বিরুদ্ধে চারদিকে ছিল।
8 কিন্তু কল্দীয়দের সৈন্য বাদশাহ্র পিছনে দৌড়ে গিয়ে জেরিকোর সমভূমিতে সিদিকিয়কে ধরলো, তাতে তাঁর সকল সৈন্য তাঁর কাছ থেকে ছিন্নভিন্ন হল।
9 তখন তারা বাদশাহ্কে ধরে হমাৎ দেশস্থ রিব্লাতে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেল, পরে তিনি তাঁর দণ্ডবিধান করলেন।
10 আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ সিদিকিয়ের সাক্ষাতেই তাঁর পুত্রদেরকে হত্যা করলেন; এবং এহুদার সমস্ত নেতৃবর্গকেও রিব্লাতে হত্যা করলেন; আর সিদিকিয়ের চোখ উৎপাটন করলেন;
11 পরে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে বন্দী করে রাখলেন।
12
পরে পঞ্চম মাসের দশম দিনে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের ঊনবিংশ বছরে, রক্ষক-সেনাপতি নবূষরদন— যিনি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়াতেন— জেরুশালেমে প্রবেশ করলেন;
13 তিনি মাবুদের গৃহ ও রাজপ্রাসাদ পুড়িয়ে দিলেন এবং জেরুশালেমের সকল বাড়ি ও বড় বড় সকল অট্টালিকা আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।
14 আর রক্ষ-সেনাপতির অনুগামী সমস্ত কল্দীয় সৈন্য জেরুশালেমের চারদিকের সমস্ত প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলল।
15 আর রক্ষক-সেনাপতি নবূষরদন কতকগুলো দীনদরিদ্র লোককে, নগরে পরিত্যক্ত অবশিষ্ট লোকদেরকে ও যারা বিপক্ষে গিয়েছিল, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র সপক্ষ হয়েছিল, তাদেরকে এবং অবশিষ্ট সাধারণ লোকদেরকে বন্দী করে নিয়ে গেলেন।
16 কেবল আঙ্গুরক্ষেত পালন ও ভূমি চাষবাস করবার জন্য রক্ষ-সেনাপতি নবূষরদন কতকগুলো দীনদরিদ্র লোককে দেশে রাখলেন।
17
আর মাবুদের গৃহের ব্রোঞ্জের দুই স্তম্ভ ও মাবুদের গৃহের পীঠগুলো ও ব্রোঞ্জের সমুদ্রপাত্র কল্দীয়েরা খণ্ড খণ্ড করে সেসব ব্রোঞ্জ ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
18 আর পাত্র, হাতা, কর্তরী, বাটি ও চামচ এবং পরিচর্যা করার সমস্ত ব্রোঞ্জের পাত্র নিয়ে গেল।
19 আর বাটি, ধূপদানি, গামলা, পাত্র, প্রদীপ-আসন, চামচ ও সেঁকপাত্র প্রভৃতি— সোনার পাত্রের সোনা ও রূপার পাত্রের রূপা— রক্ষক-সেনাপতি নিয়ে গেলেন।
20 যে দু’টি স্তম্ভ, একটি সমুদ্রপাত্র ও পীঠগুলোর নিচে বারোটি ব্রোঞ্জের ষাঁড় বাদশাহ্ সোলায়মান মাবুদের গৃহের জন্য নির্মাণ করেছিলেন, সেসব পাত্রের ব্রোঞ্জ অপরিমিত ছিল।
21 ফলত ঐ দুই স্তম্ভের প্রত্যেকের উচ্চতা আঠার হাত ও পরিধি বারো হাত ছিল এবং তা চার আঙ্গুল পুরু ছিল; তা ফাঁপা ছিল।
22 আর তার উপরে পাঁচ হাত পরিমাণ উঁচু ব্রোঞ্জের একটি মাথলা ছিল, মাথলার উপরে চারদিকে জালকার্য ও ডালিমের আকৃতি, ছিল; সেই সকলও ব্রোঞ্জের; এবং তার দ্বিতীয় স্তম্ভেরও ঐ মত আকার ও ডালিম ছিল।
23 পাশে ছিয়ানব্বইটি ডালিম ছিল, চারদিকের জালকার্যের উপরে শ্রেণীবদ্ধ এক শত ডালিম ছিল।
24
পরে রক্ষ-সেনাপতি মহা-ইমাম সরায়কে, দ্বিতীয় ইমাম সফনিয়কে ও তিন জন দ্বারপালকে ধরলেন।
25 আর তিনি নগর থেকে যোদ্ধাদের উপরে নিযুক্ত এক জন কর্মচারীকে এবং যাঁরা বাদশাহ্র মুখ দর্শন করতেন, তাঁদের মধ্যে নগরে পাওয়া সাত জন লোককে, দেশের লোক-সংগ্রহকারী সৈন্যাধক্ষের লেখককে ও নগর মধ্যে পাওয়া দেশের লোকদের মধ্যে ষাটজনকে ধরলেন।
26 রক্ষ-সেনাপতি নবূষরদন তাঁদেরকে ধরে রিব্লাতে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেলেন।
27 আর ব্যাবিলনের বাদশাহ্ হমাৎ দেশস্থ রিব্লাতে তাঁদেরকে আঘাত করে হত্যা করলেন। এভাবে এহুদা তার দেশ থেকে বন্দী হয়ে নীত হল।
28
বখতে-নাসার কর্তৃক এসব লোক বন্দীরূপে নীত হল; সপ্তম বছরে তিন হাজার তেইশজন ইহুদী;
29 বখতে-নাসারের অষ্টাদশ বছরে তিনি জেরুশালেম থেকে আটশত বত্রিশজনকে বন্দী করে নিয়ে যান।
30
বখতে-নাসারের ত্রয়োবিংশ বছরে রক্ষক-সেনাপতি নবূষরদন সাতশত পঁয়তাল্লিশ জন ইহুদীকে বন্দী করে নিয়ে যান। এরা সবসুদ্ধ চার হাজার ছয় শত প্রাণী।
31
পরে এহুদার যিহোয়াখীন বাদশাহ্র বন্দীদশার সপ্তত্রিংশ বছরে, বারো মাসের পঞ্চবিংশ দিনে, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ ইবিল-মারডক তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াখীনের মাথা উঠালেন ও তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করলেন।
32 আর তিনি তাঁর সঙ্গে ভালভাবে কথা বললেন, তাঁর সঙ্গে যেসব বাদশাহ্ ব্যাবিলনে ছিলেন, তাঁদের আসন থেকে তাঁর আসন উচ্চে স্থাপন করলেন।
33 আর ইনি কারাবাসের পোশাক পরিবর্তন করলেন; এবং সারা জীবন প্রতিনিয়ত বাদশাহ্র সম্মুখে ভোজন পান করতে লাগলেন।
34 আর তাঁর মরণদিন পর্যন্ত ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হুকুমে তাঁকে নিয়মিতভাবে বৃত্তি দেওয়া হত, তাঁর সমস্ত জীবনে তাঁকে দিনের উপযুক্ত খাদ্যদ্রব্য প্রতিদিন দেওয়া হত।
1
হায়, সেই নগরী কেমন একাকিনী বসে আছে যে লোকে পরিপূর্ণা ছিল।
সে বিধবার মত হয়েছে, যে জাতিদের মধ্যে প্রধানা ছিল।
প্রদেশগুলোর মধ্যে যে রাজ্ঞী ছিল, সে কর্মাধীনা বাঁদী হয়েছে।
2
সে রাতের বেলা ভীষণ কান্নাকাটি করে; তার গণ্ডে অশ্রু পড়ছে;
তার সমস্ত প্রেমিকের মধ্যে এমন এক জনও নেই যে,
তাকে সান্ত্বনা দেবে;
তার বন্ধুরা সকলে তাকে প্রবঞ্চনা করেছে,
তারা তার দুশমন হয়ে উঠেছে।
3
এহুদা দুঃখে ও মহা গোলামীত্বে নির্বাসিত হয়েছে;
সে জাতিদের মধ্যে বাস করছে, বিশ্রাম পায় না;
তার তাড়নাকারীরা সকলে সঙ্কীর্ণ পথে তাকে ধরেছিল।
4
সিয়োনের রাস্তাগুলো শোক করছে,
কারণ কেউ ঈদে আসে না;
তার সমস্ত দ্বার শূন্য;
তার ইমামেরা দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করে;
তার কুমারীরা ক্লিষ্টা, সে নিজে কষ্ট পাচ্ছে।
5
তার দুশমনরা তার মালিকস্বরূপ হয়েছে,
তার দুশমনরা ভাগ্যবান হয়েছে;
কেননা তার অনেক অধর্মের দরুন মাবুদ তাকে ক্লিষ্ট করেছেন;
তার শিশু বালকেরা বিপক্ষের আগে আগে বন্দী হয়ে গেছে।
6
আর সিয়োন-কন্যার সমস্ত শোভা তাকে ছেড়ে গেছে;
তার নেতৃবর্গ এমন হরিণগুলোর মত হয়েছে,
যারা চরাণি-স্থান পায় না;
তারা শক্তিহীন হয়ে তাড়নাকারীদের আগে আগে গমন করেছে।
7
জেরুশালেম নিজের দুঃখের ও দুর্গতির সময়ে,
নিজের পুরানো দিনের মনোহর সামগ্রীগুলোর কথা স্মরণ করছে;
তার লোকেরা যখন বিপক্ষের হস্তগত হয়েছিল,
তার সাহায্যকারী কেউ ছিল না,
তখন বিপক্ষরা তাকে দেখলো,
তার উৎসন্নতায় উপহাস করলো।
8
জেরুশালেম অতিশয় গুনাহ্ করেছে,
এজন্য ঘৃণাস্পদ হল;
যারা তাকে সম্মান করতো,
তারা তাকে তুচ্ছ করছে,
কারণ তার উলঙ্গতা দেখতে পেয়েছে;
সে নিজেও দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করছে,
মুখ পিছনে ফিরাচ্ছে।
9
তার নাপাকীতা তার কাপড়ে লেগে ছিল,
সে তার শেষফল মনে করতো না,
এজন্য আশ্চর্যভাবে পড়ে গেল;
তাকে সান্ত্বনা দেবার কেউ নেই;
আমার দুঃখ দেখ, হে মাবুদ, কারণ দুশমন অহংকার করেছে;
10
বিপক্ষ তার সমস্ত মনোহর দ্রব্যে হাত লাগিয়েছে;
ফলে সে দেখেছে, জাতিরা তার পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেছে,
যাদের বিষয়ে তুমি হুকুম করেছিলে যে,
তারা তোমার সমাজে প্রবেশ করবে না।
11
তার সমস্ত লোক দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করছে,
তারা খাদ্যের চেষ্টা করছে,
প্রাণ ফিরিয়ে আনবার জন্য খাদ্যের পরিবর্তে
নিজ নিজ মনোহর দ্রব্য সকল দিয়ে দিয়েছে।
দেখ, হে মাবুদ, মনযোগ দাও,
কেননা আমি তুচ্ছাস্পদ হয়েছি।
12
হে পথিক সকল, এতে কি তোমাদের কিছু আসে যায় না?
একটু ঘুরে তাকিয়ে দেখ, আমাকে যে ব্যথা দেওয়া হয়েছে,
তার মত ব্যথা আর কোথাও কি আছে?
তা দ্বারা মাবুদ তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধের দিনে আমাকে ক্লিষ্ট করেছেন।
13
তিনি ঊর্ধ্বলোক থেকে আমার অস্থিচয়ের মধ্যে আগুন পাঠিয়েছেন,
তিনি আমার পায়ের নিমিত্ত জাল পেতেছেন,
আমার মুখ পিছনে ফিরিয়েছেন,
আমাকে অনাথা ও সমস্ত দিন মূর্চ্ছাপন্না করেছেন।
14
আমার সমস্ত অধর্ম তিনি জোয়ালের মত বেঁধেছেন;
তাঁর হাত দিয়ে সেগুলো একত্রে বুনেছেন।
তা আমার ঘাড়ে উঠলো, আমার বল খর্ব করলো;
যাদের বিরুদ্ধে আমি উঠতে পারি না,
তাদেরই হাতে প্রভু আমাকে তুলে দিয়েছেন।
15
প্রভু আমার মধ্যস্থিত আমার সমস্ত বীরকে নগণ্য করেছেন,
তিনি আমার যুবকদেরকে ভেঙ্গে ফেলবার জন্য
আমার বিপরীতে সভা আহ্বান করেছেন,
প্রভু এহুদা-কুমারীকে আঙ্গুরকুণ্ডে মাড়াই করেছেন।
16
এই কারণে আমি কান্নাকাটি করছি;
আমার চোখ, আমার চোখ পানির ঝর্ণা হয়েছে;
কেননা সান্ত্বনাকারী, যিনি আমার প্রাণ ফিরিয়ে আনবেন,
তিনি আমা থেকে দূরে গেছেন;
আমার বালকেরা এতিম, কারণ দুশমন বিজয়ী হয়েছে।
17
সিয়োন অঞ্জলি প্রসারণ করছে;
তার সান্ত্বনাকারী কেউ নেই;
মাবুদ ইয়াকুবের সম্বন্ধে হুকুম দিয়েছেন যে,
তার চারদিকের লোক তার বিপক্ষ হোক;
জেরুশালেম তাদের মধ্যে ঘৃণাস্পদ।
18
মাবুদই ধর্মময়, কারণ আমি তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করেছি;
হে জাতি সকল, আরজ করি, শোন, আমার ব্যথা দেখ;
আমার কুমারীরা ও যুবকেরা বন্দী হয়ে গেছে।
19
আমি আমার প্রেমিকদেরকে ডাকলাম, তারা আমাকে বঞ্চনা করলো;
আমার ইমামেরা ও আমার প্রাচীনবর্গরা নগরের মধ্যে প্রাণত্যাগ করলো,
বাস্তবিক তারা নিজ নিজ প্রাণ ফিরিয়ে আনবার জন্য খাদ্যের খোঁজ করছিল।
20
দৃষ্টিপাত কর, হে মাবুদ, কেননা আমি সঙ্কটাপন্না;
আমার অন্ত্র দগ্ধ হচ্ছে;
আমার ভিতরে অন্তর বিকারপ্রাপ্ত হচ্ছে,
কারণ আমি অতিশয় বিরুদ্ধাচরণ করেছি;
বাইরে তলোয়ার নিঃসন্তান করছে, ভিতরে যেন মৃত্যু উপস্থিত।
21
লোকে আমার দীর্ঘনিশ্বাস শুনতে পেয়েছে;
আমার সান্ত্বনাকারী কেউ নেই;
আমার দুশমনরা সকলে আমার অমঙ্গলের কথা শুনেছে;
তারা আমোদ করছে,
কেননা তুমিই তা করেছ;
তুমি নিজের ঘোষিত দিন উপস্থিত করবে,
তখন তারা আমার সমান হবে।
22
তাদের সমস্ত নাফরমানী তোমার দৃষ্টিগোচর হোক;
তুমি আমার সমস্ত অধমের জন্য আমার প্রতি যেরকম করেছ,
তাদের প্রতিও সেরকম কর,
কেননা আমার দীর্ঘনিশ্বাস বেশি ও আমার অন্তর মূর্চ্ছিত।
1
তিনি তাঁর ক্রোধে সিয়োন-কন্যাকে কেমন মেঘাচ্ছন্ন করেছেন!
তিনি ইসরাইলের শোভা বেহেশত থেকে ভূতলে নিক্ষেপ করেছেন;
তিনি তাঁর ক্রোধের দিনে তাঁর পাদপীঠ স্মরণ করেন নি।
2
প্রভু ইয়াকুবের সমস্ত বাসস্থান গ্রাস করেছেন, করুণা করেন নি;
তিনি ক্রোধে এহুদা-কন্যার দৃঢ় দুর্গগুলো উৎপাটন করেছেন,
তিনি সেসব ভূমিসাৎ করেছেন;
রাজ্য ও তার নেতৃবর্গকে নাপাক করেছেন।
3
তিনি প্রচণ্ড ক্রোধে ইসরাইলের সমস্ত শিং ভেঙ্গে ফেলেছেন,
তনি দুশমনের সম্মুখ থেকে তাঁর ডান হাত সঙ্কুচিত করেছেন,
চতুর্দিক পুড়িয়ে দেওয়া আগুনের শিখার মত তিনি ইয়াকুবের মধ্যে জ্বলে উঠেছেন।
4
তিনি দুশমনের মত তাঁর ধনুকে চাড়া দিয়েছেন,
বিপক্ষের মত ডান হাত তুলে দাঁড়িয়েছেন,
আর নয়নরঞ্জন সকলকে হত্যা করেছেন;
তিনি সিয়োন-কন্যার তাঁবুর মধ্যে তাঁর ক্রোধের আগুন ঢেলে দিয়েছেন।
5
প্রভু দুশমনের মত হয়েছেন, ইসরাইলকে গ্রাস করেছেন,
তিনি তার সমস্ত অট্টালিকা গ্রাস করেছেন,
তার দুর্গ সকল ধ্বংস করেছেন,
তিনি এহুদা-কন্যার শোক ও মাতম বৃদ্ধি করেছেন।
6
তিনি বাগানের কুটীরের মত নিজের কুটীর দূর করেছেন,
আপনার জমায়েত-স্থান বিনষ্ট করেছেন;
মাবুদ সিয়োনে ঈদ ও বিশ্রামবার বিস্মৃত করিয়েছেন,
প্রচণ্ড ক্রোধে বাদশাহ্কে ও ইমামকে অবজ্ঞা করেছেন।
7
প্রভু তাঁর নিজের কোরবানগাহ্ দূর করেছেন,
তাঁর পবিত্র স্থান ঘৃণা করেছেন;
তিনি তার অট্টালিকার ভিত্তি শত্রুর হাতে তুলে দিয়েছেন;
তারা মাবুদের গৃহমধ্যে ঈদের দিনের মত কোলাহল করেছে।
8
মাবুদ সিয়োন-কন্যার প্রাচীর নষ্ট করার সঙ্কল্প করেছেন;
তিনি সূত্রপাত করেছেন,
লোপ করণ থেকে নিজের হাত থামিয়ে রাখেন নি;
তিনি পরিখা ও প্রাচীরকে মাতম করিয়েছেন,
সেসব একসঙ্গে তেজোহীন হয়েছে।
9
তোরণদ্বার সকল মাটিতে আচ্ছন্ন হয়েছে,
তিনি তার অর্গল নষ্ট ও খণ্ড খণ্ড করেছেন;
তার বাদশাহ্ ও নেতৃবর্গ জাতিদের মধ্যে থাকে;
পরিচালনার কিতাব বলতে আর কিছু নেই;
তার নবীরাও মাবুদের কাছ থেকে কোন দর্শন পায় না।
10
সিয়োন-কন্যার প্রাচীনেরা মাটিতে বসে আছে,
নীরব হয়ে রয়েছে;
তারা নিজ নিজ মাথায় ধূলি ছড়িয়েছে,
তারা কোমরে চট বেঁধেছে,
জেরুশালেম-কুমারীরা ভূমি পর্যন্ত মাথা হেঁট করেছে।
11
আমার নেত্রযুগল অশ্রুপাতে ক্ষীণ হয়েছে,
আমার অন্ত্র জ্বলছে;
আমার লোকদের ধ্বংসের কারণে
আমার যকৃৎ মাটিতে ঢালা যাচ্ছে,
কেননা নগরের চকে চকে বালক-বালিকা
ও স্তন্যপায়ী শিশু মূর্চ্ছাপন্ন হয়।
12
তারা নিজের নিজের মাকে বলে,
গম ও আঙ্গুর-রস কোথায়?
কেননা তারা নগরের চকে চকে তলোয়ারে বিদ্ধ লোকদের মত মূর্চ্ছাপন্ন হয়,
নিজ নিজ মাতার বক্ষঃস্থলে প্রাণত্যাগ করে।
13
অয়ি জেরুশালেম-কন্যে,
আমি কি বলে তোমার কাছে সাক্ষ্য দেব?
কিসের সঙ্গে তোমার উপমা দেব?
অয়ি সিয়োন-কুমারী, আমি তোমার সান্ত্বনার জন্য
কিসের সঙ্গে তোমার তুলনা দেব?
কেননা তোমার আঘাত সমুদ্রের মত বিশাল,
তোমার চিকিৎসা করা কার সাধ্য?
14
তোমার নবীরা তোমার জন্য মিথ্যা ও মূর্খতার দর্শন পেয়েছে,
তারা তোমার বন্দীদশা ফিরাবার জন্য তোমার অধর্ম ব্যক্ত করে নি,
কিন্তু তোমার জন্য মিথ্যা দৈববাণী সকল
ও নির্বাসনের বিষয় সকল দর্শন করেছে।
15
যেসব লোক তোমার কাছ দিয়ে যায়,
তারা তোমার দিকে হাততালি দেয়;
তারা শিশ দিয়ে জেরুশালেম-কন্যার দিকে মাথা নেড়ে বলে,
এ কি সেই নগর, যা ‘পরম সৌন্দর্যের স্থল’
ও ‘সমস্ত দুনিয়ার আনন্দ-স্থল’ নামে আখ্যাত ছিল?
16
তোমার সমস্ত দুশমন তোমার বিরুদ্ধে মুখ খুলে হ্যাঁ, করেছে,
তারা শিস দিয়ে দাঁত ঘর্ষণ করে,
বলে, আমরা তাকে গ্রাস করলাম,
এটি অবশ্য সেদিন, যার আকাঙ্খা করতাম;
আমরা পেলাম, দেখলাম।
17
মাবুদ যে সঙ্কল্প করেছিলেন, তা সিদ্ধ করেছেন;
পুরাকালে যা হুকুম করেছিলেন,
সেই কালাম পূর্ণ করেছেন,
তিনি নিপাত করেছেন, রহম করেন নি;
তিনি দুশমনকে তোমার উপরে আনন্দ করতে দিয়েছেন,
তোমার বিপক্ষদের শিং উঁচু করেছেন।
18
লোকদের অন্তর প্রভুর কাছে কান্নাকাটি করেছে;
অহো সিয়োন-কন্যার প্রাচীর!
দিনরাত অশ্রুধারা পানির স্রোতের মত বয়ে যাক,
নিজেকে কোন বিশ্রাম দিও না,
তোমার চোখের তারাকে ক্ষান্ত হতে দিও না।
19
উঠ, রাতের বেলায় প্রত্যেক প্রহরের আরম্ভে মাতম কর,
প্রভুর সম্মুখে তোমার অন্তর পানির মত ঢেলে দাও,
তাঁর উদ্দেশে হাত তোল,
তোমার শিশুদের প্রাণ রক্ষার্থে,
যারা প্রতি রাস্তার মোড়ে মোড়ে ক্ষুধায় মূর্চ্ছাপন্ন রয়েছে।
20
দেখ, হে মাবুদ, মনযোগ দাও,
তুমি কার প্রতি এমন ব্যবহার করেছ?
স্ত্রীলোক কি তার গর্ভফল, যাদেরকে হাতে করে দুলিয়েছে,
সেই শিশুদেরকে ভোজন করবে?
প্রভুর পবিত্র স্থানে কি ইমাম ও নবী নিহত হবে?
21
বালক ও বৃদ্ধ পথে পথে ভূমিতে পড়ে আছে,
আমার কুমারীরা ও আমার যুবকেরা
তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছে;
তুমি তোমার ক্রোধের দিনে তাদেরকে হত্যা করেছ;
তুমি হত্যা করেছ, দয়া কর নি।
22
তুমি চারদিক থেকে আমার ত্রাস সকলকে
ঈদের দিনে মত আহ্বান করেছ;
মাবুদের ক্রোধের দিনে উত্তীর্ণ বা রক্ষা পাওয়া কেউই রইলো না;
আমি যাদেরকে দোলাতাম ও ভরণপোষণ করতাম,
আমার দুশমন তাদেরকে সংহার করেছে।
1
আমি সেই ব্যক্তি, যে তাঁর ক্রোধের দণ্ডঘটিত দুঃখ দেখেছে।
2
আমাকে তিনি চালিয়েছেন, আর গমন করিয়েছেন,
অন্ধকারে, আলোকে নয়।
3
সত্যিই আমার বিরুদ্ধে তিনি তাঁর হাত তুলেছেন;
সমস্ত দিন বারে বারে তুলেছেন।
4
তিনি আমার মাংস ও চামড়া শুকিয়ে ফেলেছেন;
আমার অস্থিগুলো ভেঙ্গে দিয়েছেন।
5
তিনি আমাকে অবরোধ করেছেন,
এবং তিক্ততা ও কষ্ট দ্বারা আমাকে বেষ্টন করেছেন;
6
তিনি আমাকে অন্ধকারে বাস করিয়েছেন,
বহুকালের মৃতদের মত করেছেন।
7
তিনি আমার চারদিকে বেড়া দিয়েছেন,
আমি বের হতে পারি না;
তিনি আমার শিকল ভারী করেছেন।
8
আমি যখন ক্রন্দন ও আর্তনাদ করি,
তিনি আমার মুনাজাত অগ্রাহ্য করেন।
9
তিনি খোদাই-করা পাথর দ্বারা আমার পথ রোধ করেছেন,
তিনি আমার পথ বাঁকা করেছেন।
10
তিনি আমার পক্ষে লুকিয়ে থাকা ভল্লুক বা অন্তরালে গুপ্ত সিংহস্বরূপ।
11
তিনি আমার পথ বিপথ করেছেন,
আমাকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন, এতিম করেছেন।
12
তিনি তাঁর ধনুকে চাড়া দিয়ে আমাকে তীরের লক্ষ্য করে রেখেছেন।
13
তিনি তাঁর তূণ থেকে তীর নিয়ে আমার মর্মে প্রবেশ করিয়েছেন।
14
আমি হয়েছি স্বজাতীয় সকলের উপহাসের বিষয়,
সমস্ত দিন তাদের গানের বিষয়।
15
তিনি আমাকে তিক্ততায় পূর্ণ করেছেন,
আমাকে নাগদানায় পূরিত করেছেন।
16
তিনি কঙ্কর দ্বারা আমার দাঁত ভেঙ্গেছেন,
আমাকে ভস্মে আচ্ছাদন করেছেন।
17
তুমি আমার প্রাণ শান্তি থেকে দূর করেছ,
আমি মঙ্গল ভুলে গিয়েছি।
18
আমি বললাম, আমার বল ও মাবুদতে আমার প্রত্যাশা নষ্ট হয়েছে।
19
আমি স্মরণ করলাম আমার দুঃখ ও আমার দুর্দশা, নাগদানা ও বিষ।
20
আমার প্রাণ নিত্য তা স্মরণে রাখছে,
আমার প্রাণ আমার অন্তরে অবসন্ন হচ্ছে।
21
আমি পুনর্বার এই কথা মনে করি,
তাই আমার প্রত্যাশা আছে।
22
মাবুদের অটল মহব্বতের গুণে আমরা নষ্ট হই নি;
কেননা তাঁর বিবিধ করুণা শেষ হয় নি।
23
নতুন নতুন করুণা প্রতি প্রভাতে! তোমার বিশ্বস্ততা মহৎ।
24
আমার প্রাণ বলে, মাবুদই আমার অধিকার;
এজন্য আমি তাঁতে প্রত্যাশা করবো।
25
মাবুদ মঙ্গলস্বরূপ, তাঁর আকাঙক্ষীদের পক্ষে,
তাঁর অন্বেষী প্রাণের পক্ষে।
26
মাবুদের উদ্ধারের প্রত্যাশা করা,
নীরবে অপেক্ষা করা, এ-ই মঙ্গল।
27
যৌবনকালে জোয়াল বহন করা মানুষের মঙ্গল।
28
সে একাকী বসুক, নীরব থাকুক,
কারণ তিনি তার কাঁধে [জোয়াল] রেখেছেন।
29
সে ধুলাতে মুখ দিক, তবে প্রত্যাশা হলে হতেও পারে।
30
সে তার প্রহারকের কাছে গাল পেতে দিক; অপমানে পরিপূর্ণ হোক।
31
কেননা প্রভু চিরতরে পরিত্যাগ করবেন না।
32
যদিও মনস্তাপ দেন, তবুও তাঁর প্রচুর অটল মহব্বত অনুসারে করুণা করবেন।
33
কেননা তিনি অন্তরের সঙ্গে দুঃখ দেন না,
মানুষকে শোকার্ত করেন না।
34
লোকে যে দেশের বন্দীদেরকে পদতলে দলিত করে,
35
সর্বশক্তিমানের সম্মুখে মানুষের প্রতি অন্যায় করে,
36
কারো বিবাদের অন্যায় নিষ্পত্তি করে,
তা প্রভু দেখতে পারেন না।
37
প্রভু হুকুম না করলে কার কালাম সিদ্ধ হতে পারে?
38
সর্বশক্তিমানের মুখ থেকে কি বিপদ ও সম্পদ দুই বের হয় না?
39
জীবিত মানুষ কেন আক্ষেপ করে,
প্রত্যেক ব্যক্তি তার গুনাহ্র দণ্ডের জন্য?
40
এসো, আমরা নিজ নিজ পথের সন্ধান ও পরীক্ষা করি,
এবং মাবুদের কাছে ফিরে আসি;
41
এসো, হস্তযুগলের সঙ্গে হৃদয়কেও
বেহেশত-নিবাসী আল্লাহ্র দিকে উত্তোলন করি।
42
আমরা অধর্মও বিদ্রোহাচরণ করেছি;
তুমি মাফ কর নি।
43
তুমি ক্রোধে আচ্ছাদন করে আমাদেরকে তাড়না করেছ,
হত্যা করেছ, রহম কর নি।
44
তুমি মেঘে নিজেকে আচ্ছাদন করেছ,
মুনাজাত তা ভেদ করতে পারে না।
45
তুমি জাতিদের মধ্যে আমাদেরকে জঞ্জাল ও আবর্জনার মত করেছ।
46
আমাদের সমস্ত দুশমন আমাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে হা করেছে।
47
ত্রাস ও খাত, উৎসন্নতা ও ভঙ্গ, আমাদের প্রতি উপস্থিত।
48
আমার জাতিরূপ কন্যার ভঙ্গের কারণে
আমার চোখ থেকে পানির ধারা বইছে।
49
আমার চোখ অবিশ্রান্ত অশ্রুতে ভাসছে, বিরাম পায় না,
50
যে পর্যন্ত মাবুদ বেহেশত থেকে হেঁট হয়ে দৃষ্টিপাত না করেন।
51
আমার নগরীর সমস্ত কন্যার বিষয়ে আমি যা দেখতে পাচ্ছি তাতে আমার কাঁদছে।
52
অকারণে যারা আমার দুশমন,
তারা আমাকে পাখির মত শিকার করেছে।
53
তারা আমার জীবন কূপে সংহার করেছে,
এবং আমার উপরে পাথর নিক্ষেপ করেছে।
54
আমার মাথার উপর দিয়ে পানি বয়ে গেল;
আমি বললাম, আমি উচ্ছিন্ন হয়েছি।
55
হে মাবুদ, আমি পাতালের কুয়ার মধ্য থেকে
তোমার নামে ডেকেছি।
56
তুমি আমার ফরিয়াদ শুনেছ;
আমার নিঃশ্বাস, আমার আর্তনাদ থেকে কান লুকিয়ে রেখো না।
57
যেদিন আমি তোমাকে ডেকেছি,
সেই দিন তুমি কাছে এসেছো, বলেছ, ভয় করো না।
58
হে, প্রভু, তুমি আমার প্রাণের সমস্ত ঝগড়া নিষ্পত্তি করেছ;
আমার জীবন মুক্ত করেছ।
59
হে মাবুদ, তুমি আমার প্রতি কৃত জুলুম দেখেছ,
আমার বিচার নিষ্পত্তি কর।
60
ওদের সমস্ত প্রতিশোধ ও আমার বিরুদ্ধে কৃত সমস্ত সঙ্কল্প তুমি দেখেছো।
61
হে মাবুদ, তুমি ওদের টিটকারি
ও আমার বিরুদ্ধে কৃত ওদের সমস্ত সঙ্কল্প শুনেছ;
62
আমার প্রতিরোধীদের মুখের বচন
ও আমার বিরুদ্ধে সমস্ত দিন তাদের বক্বকানি শুনেছ।
63
তাদের উপবেশন ও উত্থান নিরীক্ষণ কর,
আমি তাদের গানস্বরূপ।
64
হে মাবুদ, তুমি তাদের হস্তকৃত কাজ অনুযায়ী
প্রতিফল তাদেরকে দেবে।
65
তুমি তাদেরকে অন্তরের জড়তা দেবে,
তোমার বদদোয়া তাদের প্রতি বর্তিবে।
66
তুমি তাদেরকে ক্রোধে তাড়না করবে,
মাবুদের বেহেশতের নিচে থেকে উচ্ছিন্ন করবে।
1
হায়, সোনা কেমন মলিন হয়েছে!
খাঁটি সোনা কেমন বিকৃত হয়েছে!
বায়তুল-মোকাদ্দসের পাথরগুলো প্রতিটি রাস্তার মাথায় নিক্ষিপ্ত রয়েছে।
2
হায়, বহুমূল্য সিয়োন-পুত্ররা, যারা খাঁটি সোনার মত,
তারা মৃন্ময় ভাণ্ডের মত, কুম্ভকারের হাতের তৈরি বস্তুর মত গণিত হয়েছে।
3
শৃগালীরাও স্তন দেয়, নিজ নিজ শিশুদেরকে দুধ পান করায়;
আমার জাতিরূপ কন্যা নিষ্ঠুরা হয়েছে, মরুভূমিস্থ উটপাখিদের ন্যায়।
4
স্তন্যপায়ী শিশুর জিহ্বা পিপাসায় তালুতে সংলগ্ন হয়েছে;
বালক-বালিকারা রুটি চাচ্ছে,
কেউ তাদেরকে তা দেয় না।
5
যারা উপাদেয় দ্রব্য ভোজন করতো,
তারা এতিম হয়ে পথে পথে রয়েছে;
যাদেরকে লাল রংয়ের কাপড় পরিয়ে লালন-পালন করা যেত,
তারা সারের ঢিবি আলিঙ্গন করছে।
6
বাস্তবিক আমার জাতিরূপ কন্যার অপরাধ
সেই সাদুমের গুনাহ্ হতেও বেশি,
যা এক নিমিষে উৎপাটিত হয়েছিল,
অথচ তার উপরে মানুষের হাত পড়ে নি।
7
তার নেতৃবর্গ হিমের চেয়ে নির্মল,
দুধের চেয়ে শুভ্রবর্ণ ছিলেন;
প্রবালের চেয়ে লাল রংয়ের অঙ্গ তাঁদের ছিল;
নীলকান্তমণির মত কান্তি তাঁদের ছিল;
8
তাঁদের মুখ কালি হতেও কালো হয়ে পড়েছে;
পথে তাঁদেরকে চেনা যায় না;
তাঁদের চামড়া অস্থিতে সংলগ্ন হয়েছে;
তা কাঠের মত শুকিয়ে গেছে।
9
ক্ষুধায় নিহত লোকের চেয়ে বরং তলোয়ারে নিহত লোক ধন্য,
কেননা এরা ক্ষেতের শস্যের অভাবে
যেন শূলে বিদ্ধ হয়ে ক্ষয় পাচ্ছে।
10
স্নেহময়ী স্ত্রীদের হাত নিজ নিজ শিশু রান্না করেছে;
আমার জাতিরূপ কন্যার ভঙ্গের কারণে এরা তাদের খাদ্যদ্রব্য হয়েছে।
11
মাবুদ তাঁর ক্রোধ সম্পন্ন করেছেন,
তাঁর প্রচণ্ড গজব ঢেলে দিয়েছেন;
তিনি সিয়োনে আগুন জ্বালিয়েছেন,
তা তার ভিত্তিমূল গ্রাস করেছে।
12
দুনিয়ার বাদশাহ্রা, দুনিয়াবাসী সমস্ত লোক, বিশ্বাস করতো না যে,
জেরুশালেমের দ্বারে কোন বিপক্ষ কি দুশমন প্রবেশ করতে পারবে।
13
এর কারণ তার নবীদের গুনাহ্ ও তার ইমামদের অপরাধ;
কেননা তারা তার মধ্যে ধার্মিকদের রক্তপাত করতো।
14
তারা অন্ধদের মত পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছে,
রক্তে কলুষিত হয়েছে,
লোকেরা তাদের কাপড় স্পর্শ করতে পারে না।
15
লোকে তাদেরকে চেঁচিয়ে বলেছে, তোমরা পথ ছাড়;
নাপাক, পথ ছাড়, পথ ছাড় সপর্শ করো না;
তারা পালিয়ে গেছে, ঘুরে বেড়িয়েছে;
জাতিদের মধ্যে লোকে বলেছে,
ওরা এই স্থানে আর প্রবাস করতে পারবে না।
16
মাবুদের মুখ তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছে,
তিনি তাদেরকে আর দেখতে পারেন না;
লোকে ইমামদের মুখাপেক্ষা করে নি,
প্রাচীনদের প্রতি কৃপা করে নি।
17
এখনও আমাদের চোখ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে,
মিথ্যা সাহায্যের প্রত্যাশায়;
আমরা অপেক্ষা করতে করতে এমন জাতির অপেক্ষায় রয়েছি,
যে রক্ষা করতে পারে না।
18
দুশমনেরা আমাদের পাদবিক্ষেপের অনুসরণ করে,
আমরা নিজ নিজ পথে বেড়াতে পারি না;
আমাদের শেষকাল নিকটবর্তী, আমাদের আয়ু সমপূর্ণ হল,
হ্যাঁ, আমাদের শেষকাল উপস্থিত।
19
আমাদের তাড়নাকারীরা আসমানের ঈগল পাখির চেয়ে বেগবান ছিল;
তারা পর্বতের উপরে আমাদের পিছনে পিছনে দৌড়াত,
মরুভূমিতে আমাদের জন্য ঘাঁটি বসাত।
20
যিনি আমাদের নাসিকায় বায়ুস্বরূপ, মাবুদের অভিষিক্ত,
তিনি তাদের গর্তে ধৃত হলেন,
যাঁর বিষয়ে বলেছিলাম,
আমরা তাঁর ছায়ায় জাতিদের মধ্যে জীবন যাপন করবো।
21
হে ঊষদেশ-নিবাসীনী ইদোম-কন্যে,
তুমি আনন্দকর ও পুলকিতা হও।
তোমার কাছেও সেই পানপাত্র আসবে,
তুমি মত্তা হবে, উলঙ্গিনী হবে।
22
সিয়োন-কন্যা, তোমার অপরাধ শেষ হল;
তিনি তোমাকে আর বন্দী দশায় ফেলে রাখবেন না;
হে ইদোম-কন্যা, তিনি তোমার অপরাধের প্রতিফল দেবেন,
তোমার গুনাহ্ অনাবৃত করবেন।
1
হে মাবুদ, আমাদের প্রতি যা ঘটেছে, স্মরণ কর,
দৃষ্টিপাত কর, আমাদের অপমান দেখ।
2
আমাদের অধিকার বিদেশীদের হাতে,
আমাদের বাড়িগুলো বিজাতীয়দের হাতে গেছে।
3
আমরা এতিম ও পিতৃহীন, আমাদের মায়েরা বিধবাদের মত হয়েছেন।
4
আমাদের পানি আমরা রূপা দিয়ে ক্রয় করে পান করেছি,
আমাদের কাঠ মূল্য দিয়ে ক্রয় করতে হয়।
5
লোকে ঘাড় ধরে আমাদেরকে তাড়না করে,
আমরা পরিশ্রান্ত, কোন বিশ্রাম পাই না।
6
আমরা মিসরীয়দের কাছে করজোড় করেছি,
আশেরীয়দের কাছেও করেছি, খাদ্যে তৃপ্ত হবার জন্য।
7
আমাদের পিতৃপুরুষেরা গুনাহ্ করেছেন, এখন তাঁরা নেই,
আমরাই তাঁদের অপরাধ বহন করেছি।
8
আমাদের উপরে গোলামেরা কর্তৃত্ব করে,
তাদের হাত থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে, এমন কেউ নেই।
9
প্রাণসংশয়ে আমরা খাদ্য আহরণ করি,
মরুভূমিতে অবস্থিত তলোয়ারের কারণে।
10
আমাদের চামড়া তুন্দুরের মত জ্বলে,
দুর্ভিক্ষের জ্বলন্ত তাপের কারণে।
11
সিয়োনে রমণীরা ভ্রষ্টা হল,
এহুদার নগরগুলোতে কুমারীরা ভ্রষ্টা হল।
12
নেতৃবর্গের হাত বেঁধে ফাঁসি দেওয়া হল,
প্রাচীন লোকদের মুখ সমাদৃত হল না।
13
যুবকদেরকে যাঁতা বইতে হল,
শিশুরা কাঠের বোঝার ভারে হোঁচট খেল।
14
প্রাচীনেরা তোরণদ্বারে উপবেশনে নিবৃত্ত,
যুবকরা বাদ্য বাদনে নিবৃত্ত হয়েছে;
15
আমাদের অন্তরের আনন্দলুপ্ত হয়েছে,
আমাদের নৃত্য শোকে পরিণত হয়েছে।
16
আমাদের মাথা থেকে মুকুট খসে পড়েছে,
ধিক্ আমাদেরকে! কেননা আমরা গুনাহ্ করেছি।
17
এজন্য আমাদের অন্তঃকরণ মূর্চ্ছিত হয়েছে,
এ সব কারণে আমাদের চোখ নিস্তেজ হয়েছে।
18
কেননা সিয়োন পর্বত উচ্ছিন্ন স্থান হয়েছে,
শিয়ালেরা তার উপর দিয়ে যাতায়াত করে।
19
হে মাবুদ, তুমি অনন্তকাল সমাসীন;
তোমার সিংহাসন পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
20
কেন চিরতরে আমাদেরকে ভুলে যাবে?
কেন এত দিন আমাদেরকে ত্যাগ করে থাকবে?
21
হে মাবুদ, তোমার প্রতি আমাদেরকে ফিরাও তাতে আমরা ফিরবো;
আগেকার দিনের মত নতুন সময় আমাদেরকে দাও।
22
কিন্তু তুমি আমাদেরকে একেবারে অগ্রাহ্য করেছ,
আমাদের প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়েছ।
1
ত্রিশ বছরের চতুর্থ মাসের পঞ্চম দিনে, যখন আমি কবার নদীতীরে নির্বাসিত লোকদের মধ্যে ছিলাম তখন বেহেশত খুলে গেল, আর আমি আল্লাহ্র দর্শন লাভ করলাম।
2 বাদশাহ্ যিহোয়াখীনের নির্বাসনের পঞ্চম বছরের ঐ মাসের পঞ্চম দিনে,
3 কল্দীয়দের দেশে কবার নদীতীরে বুষির পুত্র ইহিস্কেল ইমামের কাছে মাবুদের কালাম নাজেল হল এবং সেই স্থানে মাবুদ তাঁর উপরে হস্তার্পণ করলেন।
4
আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, উত্তর দিক থেকে ঘূর্ণিবাতাস, বিরাট মেঘ ও তার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং তার চারদিকে তেজ ও তার মধ্যস্থানে আগুনের মধ্যবর্তী জ্বলন্ত ধাতুর মত ঝক্মক করছিল।
5 আর তার মধ্য থেকে চারটি প্রাণীর মূর্তি প্রকাশ পেল। তাদের আকৃতি এই; তাদের রূপ মানুষের মত।
6 আর প্রত্যেকের চারটি মুখ ও চারটি পাখা।
7 তাদের পা সোজা, পায়ের তলা বাছুরের পায়ের তলার মত এবং তারা পরিষ্কার করা ব্রোঞ্জের উজ্জ্বলতার মত উজ্জ্বল।
8 তাদের চার পাশে পাখার নিচে মানুষের হাত ছিল; চারটি প্রাণীরই এরকম মুখ ও পাখা ছিল;
9 তাদের পাখা পরস্পর সংযুক্ত; গমন কালে তারা ফিরতো না, প্রত্যেকে সম্মুখদিকে গমন করতো।
10 তাদের মুখের আকৃতি এই; তাদের মানুষের মুখ ছিল, আর ডানদিকে চারটি সিংহের মুখ এবং বামদিকে চারটি গরুর মুখ, আবার প্রত্যেকেরই ঈগল পাখির মুখ ছিল।
11 উপরিভাগে তাদের মুখ ও পাখা বিছিন্ন্ন ছিল, এক একটির দু’টি পাখা পরস্পর সংযুক্ত ছিল এবং আর দু’টি পাখা দ্বারা শরীর আচ্ছাদিত ছিল।
12 আর তারা প্রত্যেকে সামনের দিকে গমন করতো; যে দিকে যেতে রূহের ইচ্ছা হত, তারা সেই দিকে গমন করতো; গমনকালে ফিরতো না।
13 এই আকৃতিবিশিষ্ট প্রাণীদের আভা জ্বলন্ত অঙ্গার ও মশালের আভার মত; সেই আগুন ঐ প্রাণীদের মধ্যে গমনাগমন করতো, সেই আগুন তেজোময় ও সেই আগুন থেকে বিদ্যুৎ বের হত।
14 আর ঐ প্রাণীদের দ্রুত যাতায়াত বিদ্যুতের ঝলকের আভার মত।
15
আমি যখন ঐ প্রাণীদেরকে অবলোকন করলাম, দেখলাম, ভূতলে ঐ প্রাণীদের পাশে চার মুখের এক একটির জন্য এক একটি চাকা ছিল।
16 চারটি চাকার আভা ও কাঠামো বৈদূর্যমণির মত উজ্জ্বল; চারটির রূপ একই এবং তাদের আভা ও রচনা চাকার মধ্যেকার চাকার মত ছিল।
17 গমনকালে ঐ চারটি চাকা চারপাশে গমন করতো, গমনকালে ফিরতো না।
18 তাদের নেমি উঁচু ও ভয়ঙ্কর এবং সেই চারটি নেমির চারদিক চোখে পরিপূর্ণ ছিল।
19 আর প্রাণীদের গমনকালে তাদের পাশে ঐ চাকাগুলোও গমন করতো; এবং প্রাণীদের ভূতল থেকে উপরে উঠবার সময়ে চাকাগুলোও উপরে উঠত।
20 যে কোন স্থানে রূহের ইচ্ছা হত, সেই স্থানে তারা যেত; সেই দিকেই রূহের যাবার ইচ্ছা হত; আর তাদের পাশে পাশে চাকাগুলোও উঠতো, কেননা সেই প্রাণীর রূহ্ ঐ চাকাগুলোর মধ্যে ছিল।
21 ওরা যখন চলতো, এরাও তখন চলতো; এবং ওরা যখন থামত, এরাও তখন থামত; আর ওরা যখন ভূতল থেকে উপরে উঠতো, চাকাগুলোও তখন পাশা পাশি উপরে উঠতো, কেননা সেই প্রাণীর রূহ্ ঐ সমস্ত চাকার মধ্যে ছিল।
22
আর সেই প্রাণীর মাথার উপরে এক শূন্যস্থানের আকৃতি ছিল, তা ভয়ঙ্কর স্ফটিকের আভার মত তাদের মাথার উপরে বিছানো ছিল।
23 সেই শূন্যস্থানের নিচে তাদের পাখা সকল পরস্পরের দিকে সোজাভাবে মেলে দেওয়া ছিল, প্রত্যেক প্রাণীর এই দিকে দুই, ওই দিকে দুই পাখা ছিল, সেগুলো তাদের শরীর আচ্ছাদন করেছিল।
24 আর তাদের গমনকালে আমি তাদের পাখাগুলোর ধ্বনিও শুনলাম, তা মহাজলরাশির কল্লোলের মত, সর্বশক্তিমানের রবের মত, সৈন্যসামন্তের ধ্বনির মত তুমুল ধ্বনি। দণ্ডায়মান হবার সময় তারা নিজ নিজ পাখা শিথিল করতো।
25 তাদের মাথার উপরিস্থ শূন্যস্থানের উপরে একটি শব্দ হচ্ছিল; দণ্ডায়মান হবার সময়ে তারা নিজ নিজ পাখা শিথিল করতো।
26
আর তাদের মাথার উপরিস্থ শূন্যস্থানের উপরে একটি সিংহাসনের, নীলকান্তমণির মত আভাবিশিষ্ট একটি সিংহাসনের মূর্তি ছিল; সেই সিংহাসন-মূর্তির উপরে মানুষের আকৃতির মত একটি মূর্তি ছিল, তা তার উপরে ছিল।
27 তাঁর কোমরের আকৃতি থেকে উপরের দিকে আমি জ্বলন্ত ধাতুর মত আভা দেখলাম; আগুনের আভা যেন তার মধ্যে চারদিকে ছিল; এবং তাঁর কোমরের আকৃতি থেকে নিচের দিকে আগুনের মত আভা দেখলাম এবং তাঁর চারদিকে তেজ ছিল।
28 বৃষ্টির দিনে মেঘে উৎপন্ন ধনুকের যেমন আভা, তাঁর চারদিকের তেজের আভা সেরকম ছিল। এ মাবুদের মহিমার মূর্তির আভা। আমি তা দেখামাত্র উবুড় হয়ে পড়লাম এবং কথা বলছে এমন এক জন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।
1
তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান তুমি পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও; আমি তোমার সঙ্গে আলাপ করবো।
2 যে সময়ে তিনি আমার সঙ্গে কথা বললেন, তখন রূহ্ আমাতে প্রবেশ করে আমাকে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করালেন; তাতে যিনি আমার সঙ্গে কথা বললেন, তাঁর কালাম আমি শুনলাম।
3 তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, আমি বনি-ইসরাইলদের কাছে, বিদ্রোহী জাতিদের কাছে তোমাকে প্রেরণ করছি; তারা আমার বিদ্রোহী হয়েছে, তারা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা আমার বিরুদ্ধে গুনাহের কাজ করে আসছে, আজ পর্যন্তও করছে।
4 সেই সন্তানেরা উদ্ধত ও কঠিনচিত্ত, আমি তাদের কাছে তোমাকে প্রেরণ করছি; তুমি তাদেরকে বলো, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন।
5 আর তারা শুনুক বা না শুনুক— তারা তো বিদ্রোহীকুল— তবুও জানতে পারবে, তাদের মধ্যে এক জন নবী উপস্থিত হল।
6 হে মানুষের সন্তান, তুমি তাদেরকে ভয় পেয়ো না, তাদের কথাকে ভয় পেয়ো না; কাঁটাঝোপ ও কাঁটা তোমার কাছে আছে বটে এবং তুমি বৃশ্চিকের মধ্যে বাস করছো, তবুও তাদের কথায় ভয় করো না ও তাদের মুখ দেখে ভয় পেয়ো না, তারা তো বিদ্রোহীকুল।
7 তুমি তাদের কাছে আমার কালামগুলো বলো, তারা শুনুক বা না শুনুক; তারা তো অত্যন্ত বিদ্রোহী।
8
হে মানুষের সন্তান, আমি তোমাকে যা বলি, তুমি শোন; তুমি সেই বিদ্রোহীকুলের মত বিদ্রোহী হয়ো না; তোমার মুখ খোল, আমি তোমাকে যা দিই, তা ভোজন কর।
9 পরে আমি দেখলাম, আর দেখ, একখানি হাত আমার প্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হল, আর দেখ, তার মধ্যে একখানি গুটিয়ে রাখা কিতাব ছিল।
10 তিনি আমার সম্মুখে তা মলে ধরলেন, সেই কিতাবখানির ভিতরে বাইরে লেখা, আর মাতম, খেদোক্তি ও সন্তাপের কথা তাতে লেখা ছিল।
1
পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, তোমার কাছে যা উপস্থিত, তা ভোজন কর, এই কিতাবখানি ভোজন কর এবং ইসরাইল-কুলের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বল।
2 তখন আমি মুখ খুললাম, আর তিনি আমাকে সেই কিতাব ভোজন করালেন;
3 আর তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, আমি তোমাকে যে কিতাব দিলাম, তা খেয়ে উদর পরিপূর্ণ কর। তখন আমি তা ভোজন করলাম; আর তা আমার মুখে মধুর মত মিষ্ট লাগল।
4
পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, তুমি যাও, ইসরাইল-কুলের কাছে গিয়ে তাদেরকে আমার কালামগুলো বল।
5 কারণ তুমি দুর্বোধ্য ও কঠিন ভাষাবাদী কোন জাতির কাছে প্রেরিত হও নি, কিন্তু ইসরাইল-কুলের কাছে প্রেরিত হচ্ছ।
6 যাদের কথা তোমার বোধের অগম্য, এমন দুর্বোধ্য ও কঠিন ভাষাবাদী অনেক জাতির কাছে তুমি প্রেরিত হও নি; আমি তাদের কাছে তোমাকে পাঠালে তারা তোমার কথা অবশ্য শুনতো।
7 কিন্তু ইসরাইল-কুল তোমার কথা শুনতে সম্মত হবে না, যেহেতু তারা আমার কথা শুনতে সম্মত নয়, কারণ ইসরাইল-কুলের সকলেই উদ্ধত ও কঠিনচিত্ত।
8 দেখ, আমি তাদের মুখের বিপরীতে তোমার মুখ এবং তাদের কপালের বিপরীতে তোমার কপাল দৃঢ় করলাম।
9 যে হীরক চক্মকি পাথর থেকেও শক্ত, তার মত আমি তোমার কপাল শক্ত করলাম; যদিও তারা বিদ্রোহীকুল, তবুও তাদেরকে ভয় করো না ও তাদের মুখ দেখে ভয় পেয়ো না।
10 আরও তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান আমি তোমাকে যা যা বলি, সেসব কালাম তুমি অন্তরে গ্রহণ কর, কান দিয়ে শোন।
11 আর যাও, ঐ নির্বাসিত লোকদের, তোমার স্বজাতি সন্তানদের কাছে গিয়ে তাদেরকে বল; তারা শুনুক বা না শুনুক, তবুও তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন।
12
পরে রূহ্ আমাকে তুলে নিলেন এবং আমি আমার পেছন দিকে এই কালাম মহাকল্লোলের শব্দের মত তাঁর স্থান থেকে শুনলাম, ‘ধন্য মাবুদের মহিমা।’
13 আর ঐ প্রাণীদের পরস্পরের পাখা চালানোর আওয়াজ, তাদের পাশে চাকার আওয়াজ, এই মহাকল্লোলের আওয়াজ শুনলাম।
14 আর রূহ্ আমাকে তুলে নিয়ে গেলে আমি মনে দুঃখ পেয়ে গমন করলাম; আর মাবুদের হাত আমার উপরে বলবৎ ছিল।
15 আমি টেল্-আবীবে অবস্থিত নির্বাসিত লোকদের, কবার নদীতীরবাসীদের কাছে এলাম এবং তারা যে স্থানে বাস করতো, সেই স্থানে সাত দিন স্তব্ধ থেকে তাদের মধ্যে বসে রইলাম।
16
সাত দিন গত হলে পর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
17 হে মানুষের সন্তান, আমি তোমাকে ইসরাইল-কুলের জন্য প্রহরী নিযুক্ত করলাম; তুমি আমার মুখে কথা শুনবে এবং আমার নামে তাদেরকে চেতনা দেবে।
18 যখন আমি দুষ্ট লোককে বলি, তুমি মরবেই মরবে, তখন তুমি যদি তাকে চেতনা না দাও এবং তার প্রাণরক্ষার জন্য চেতনা দেবার জন্য সেই দুষ্ট লোককে তার কুপথের বিষয় কিছু না বল, তবে সেই দুষ্ট লোক নিজের অপরাধে মরবে, কিন্তু তার রক্তের প্রতিশোধ আমি তোমার হাত থেকে নেব।
19 কিন্তু তুমি দুষ্টকে চেতনা দিলে, সে যদি তার নাফরমানী ও কুপথ থেকে না ফেরে, তবে সে নিজের অপরাধে মরবে, কিন্তু তুমি তোমার প্রাণ রক্ষা করলে।
20 আবার, কোন ধার্মিক লোক যদি তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে অন্যায় করে, আর আমি তার সামনে বাধা রাখি, তবে সে মরবে; তুমি তাকে চেতনা না দিলে সে নিজের গুনাহে মরবে এবং তার কৃত ধর্মকর্ম আর স্মরণে আসবে না; কিন্তু আমি তোমার হাত দিয়ে তার রক্তের প্রতিশোধ নেব।
21 আর তুমি ধার্মিক লোককে গুনাহ্ না করতে চেতনা দিলে সে যদি গুনাহ্ না করে, তবে সচেতন হওয়াতে সে অবশ্য বাঁচবে; আর তুমিও তোমার প্রাণ রক্ষা করলে।
22
পরে সেই স্থানে মাবুদ আমার উপরে হস্তার্পণ করলেন, আর তিনি বললেন, উঠ, বের হয়ে সমতল ভূমিতে যাও, আমি সেখানে তোমার সঙ্গে কথা বলবো।
23 তাতে আমি উঠে সমতল ভূমিতে গেলাম, আর দেখলাম, সেই স্থানে মাবুদের সেই মহিমা দণ্ডায়মান, কবার নদীতীরে যে মহিমা দেখেছিলাম; তখন আমি উবুড় হয়ে পড়লাম।
24 পরে রূহ্ আমাতে প্রবেশ করে আমাকে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করালেন; আর তিনি আমার সঙ্গে কথা বলে আমাকে বললেন, যাও, তুমি তোমার বাড়ির দরজা বন্ধ করে ভিতরে থাক।
25 কিন্তু হে মানুষের সন্তান, দেখ, লোকেরা দড়ি দিয়ে তোমাকে বাঁধবে, তাতে তুমি বাইরে তাদের মধ্যে যেতে পারবে না।
26 আর আমিও তোমার জিহ্বা মুখের তালুতে আট্কে দেব, তাতে তুমি বোবা হবে, তাদের কাছে দোষবক্তা হবে না, কেননা তারা বিদ্রোহীকুল।
27 কিন্তু যখন আমি তোমার সঙ্গে কথা বলি, তখন তোমার মুখ খুলে দেব, তাতে তুমি তাদেরকে এই কথা বলবে, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন; যে শুনে সে শুনুক, যে না শুনে সে না শুনুক; কেননা তারা বিদ্রোহীকুল।
1
আর হে মানুষের সন্তান, তুমি একখানি ইট নিয়ে তোমার সম্মুখে রাখ ও তার উপরে একটি নগর অর্থাৎ জেরুশালেমের ছবি আঁক।
2 আর তা সৈন্যে বেষ্টিত কর, তার বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়াল গাঁথ, তার বিপরীতে জাঙ্গাল বাঁধ, স্থানে স্থানে তার বিরুদ্ধে শিবির স্থাপন কর ও তার বিরুদ্ধে চারদিকে প্রাচীর-ভেদক যন্ত্র স্থাপন কর।
3 আর একখানা লোহার পাত্র নিয়ে তোমার ও নগরের মধ্যস্থলে লোহার প্রাচীরের মত তা স্থাপন কর এবং তোমার মুখ তার দিকে রাখ, তাতে তা অবরুদ্ধ হবে ও তুমি তা অবরোধ করে থাকবে। ইসরাইল-কুলের জন্য এটি চিহ্নস্বরূপ হবে।
4
পরে তুমি বাম পাশে শয়ন করে ইসরাইল-কুলের অপরাধ তার উপরে রাখ; যতদিন তুমি তাতে শয়ন করবে, ততদিন তাদের অপরাধ বহন করবে।
5 আমি তাদের অপরাধ-বছরের সংখ্যা তোমার জন্য দিনের সংখ্যা, অর্থাৎ তিনশত নব্বই দিন রাখলাম; এভাবে তুমি ইসরাইল-কুলের অপরাধ বহন করবে।
6 সেসব সমাপ্ত করার পর তুমি তোমার ডান পাশে শয়ন করবে এবং এহুদা-কুলের অপরাধ বহন করবে; আমি চল্লিশ দিন, এক এক বছরের জন্য এক এক দিন, তোমার জন্য রাখলাম।
7 আর তুমি তোমার মুখ জেরুশালেমের অবরোধের দিকে রাখবে, তোমার বাহু অনাবৃত করবে ও তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বলবে।
8 আর দেখ, আমি দড়ি দিয়ে তোমাকে বেঁধে রাখব, তাতে তুমি যতদিন তোমার অবরোধের দিন সমাপ্ত না করবে, ততদিন পর্যন্ত এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফিরবে না।
9
আর তুমি নিজের কাছে গম, যব, মাষ, মসুর ডাল, কঙ্গু ও জনার নিয়ে সকলই একটি পাত্রে রাখ এবং তা দিয়ে রুটি প্রস্তুত কর; যতদিন পাশে শয়ন করবে, ততদিন, অর্থাৎ তিনশত নব্বই দিন, তা ভোজন করো।
10 তোমরা খাদ্য পরিমাণপূর্বক, অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ তোলা করে ভোজন করতে হবে; তুমি বিশেষ বিশেষ সময়ে তা ভোজন করবে।
11 আর পানিও পরিমাণপূর্বক, অর্থাৎ হিনের ষষ্ঠাংশ করে পান করতে হবে; তুমি বিশেষ বিশেষ সময়ে তা পান করবে।
12 আর ঐ খাদ্যদ্রব্য যবের পিঠার মত করে ভোজন করবে এবং তাদের দৃষ্টিতে মানুষের বিষ্ঠা দিয়ে তা পাক করবে।
13 আর মাবুদ বললেন, আমি বনি-ইসরাইলদেরকে যে জাতিদের মধ্যে দূর করে দেব, তাদের মধ্যে থাকবার সময়ে তারা এভাবে নিজ নিজ নাপাক রুটি খাবে।
14 তখন আমি বললাম, আহা, সার্বভৌম মাবুদ, দেখ, আমার প্রাণ নাপাক হয় নি; আমি বাল্যকাল থেকে আজ পর্যন্ত স্বয়ং মৃত কিংবা পশু দ্বারা বিদীর্ণ কিছুই খাই নি, ঘৃণ্য গোশ্ত কখনও আমার মুখে যায় নি।
15 তখন তিনি আমাকে বললেন, দেখ, আমি মানুষের বিষ্ঠার পরিবর্তে তোমাকে গোবর দিলাম, তুমি তা দিয়ে তোমার রুটি পাক করবে।
16
আর তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, দেখ, আমি জেরুশালেমে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করবো, তাতে তারা পরিমাণপূর্বক ভাবনা সহকারে অন্ন ভোজন করবে, পরিমাণপূর্বক ও বিস্ময় সহকারে পানি পান করবে;
17 যেন তারা খাদ্য ও পানির অভাবে পরস্পর বিস্ময়াপন্ন ও নিজ নিজ অপরাধে ক্ষীণ হয়।
1
আর, হে মানুষের সন্তান, তুমি একখানা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অর্থাৎ নাপিতের ক্ষুর নিয়ে, তোমার মাথা ও দাড়ি ক্ষৌরি করবে; পরে নিক্তি নিয়ে সেই চুলগুলো ভাগ ভাগ করবে।
2 পরে নগরের অবরোধ কাল শেষ হলে তার তৃতীয়াংশ নগরের মধ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেবে এবং তৃতীয়াংশ নিয়ে নগরের চারদিকে তলোয়ার দ্বারা কাটাকুটি করবে, অপর তৃতীয়াংশ বায়ুতে উড়িয়ে দেবে, পরে আমি তাদের পিছনে তলোয়ার কোষমুক্ত করবো।
3 আবার তুমি তার অল্পসংখ্যক চুল নিয়ে তোমার কাপড়ে ভাঁজে গুঁজে রাখবে।
4 পরে তারও কিছু নিয়ে আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়ে পুড়িয়ে দেবে, তা থেকেই আগুন বের হয়ে সমস্ত ইসরাইল-কুলে লাগবে।
5
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এ হল জেরুশালেম; আমি একে জাতিদের মধ্যে স্থাপন করেছি এবং এর চারদিকে নানা দেশ রয়েছে;
6 কিন্তু সে দুষ্কর্ম করার জন্য ঐ জাতিদের চেয়ে আমার অনুশাসনগুলোর ও নিজের চারদিকের দেশের লোকের চেয়ে আমার বিধিকলাপের বিদ্রোহী হয়েছে; কারণ এরা আমার অনুশাসন অগ্রাহ্য করেছে এবং আমার বিধিপথে চলে নি।
7 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা চারদিকের জাতিদের থেকে বেশি গণ্ডগোল করেছ, আমার বিধিপথে গমন কর নি, আমার অনুশাসনগুলো পালন কর নি এবং তোমাদের চারদিকের জাতিদের শাসন অনুসারেও চল নি।
8 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি, আমিই তোমার বিপক্ষ; আমি জাতিদের সাক্ষাতে তোমার মধ্যে বিচার সাধন করবো।
9 যা কখনও করি নি এবং যার মত আর কখনও করবো না, তা-ই তোমার ঘৃণার কাজগুলোর জন্য তোমার মধ্যে করবো।
10 এজন্য তোমার মধ্যে পিতারা সন্তানদেরকে ভোজন করবে ও সন্তানেরা নিজ নিজ পিতাকে ভোজন করবে এবং আমি তোমার মধ্যে বিচার সাধন করবো ও তোমার সমস্ত অবশিষ্টাংশকে সমস্ত বায়ুর দিকে উড়িয়ে দেব।
11 অতএব, সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, তুমি যখন তোমার সকল জঘন্য বস্তু ও ঘৃণার কাজ দ্বারা আমার পবিত্র স্থান নাপাক করেছ, তখন আমিও নিশ্চয় সংহার করবো, চক্ষুলজ্জা করবো না, আমি কিছু দয়াও করবো না।
12 তোমার তৃতীয়াংশ লোক মহামারীতে মরবে, অথবা তোমার মধ্যে দুর্ভিক্ষ দ্বারা ক্ষয় পাবে; অপর তৃতীয়াংশ তোমার চারদিকে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে; এবং শেষ তৃতীয়াংশকে আমি সমস্ত বায়ুর দিকে উড়িয়ে দিয়ে তাদের পিছনে তলোয়ার কোষমুক্ত করবো।
13
এইভাবে আমার ক্রোধ সম্পন্ন হবে এবং আমি তাদের উপরে আমার ক্রোধ চরিতার্থ করে শান্ত হব; তাদের উপর আমার গজব ঢেলে দেওয়া হলে পর তারা জানতে পারবে যে, আমি মাবুদ আমার অন্তর্জ্বালায় এই কথা বলেছি।
14 আর আমি তোমাকে চারদিকের জাতিদের মধ্যে, পথিকমাত্রের দৃষ্টিতে, উৎসন্ন-স্থান ও উপহাসের পাত্র করবো।
15 হ্যাঁ, তুমি তোমার চারদিকের জাতিদের কাছে উপহাসের, কটুবাক্য, উপদেশ ও বিস্ময়ের বিষয় হবে; কেননা আমি ক্রোধ, গজব ও ভীষণ শাস্তি দ্বারা তোমার মধ্যে বিচার সাধন করবো, আমি মাবুদই এই কথা বললাম।
16 আমি সেখানকার লোকদের প্রতি দুর্ভিক্ষরূপ ভয়ংকর তীরগুলো নিক্ষেপ করবো, সেগুলো বিনাশার্থক তীর, আমি তোমাদেরকে বিনষ্ট করার জন্য সেসব নিক্ষেপ করবো; এবং তোমাদের উপরে দুর্ভিক্ষের ভার বৃদ্ধি করবো ও তোমাদের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করবো।
17 আর আমি তোমাদের বিরুদ্ধে দুর্ভিক্ষ ও হিংস্র জন্তুদের পাঠাব; তারা তোমাকে নিঃসন্তান করবে; আর মহামারী ও রক্ত তোমার মধ্য দিয়ে গমনাগমন করবে, আর আমি তোমার বিরুদ্ধে তলোয়ার আনাবো; আমি মাবুদই এই কথা বললাম।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইলের পর্বতমালার দিকে মুখ রেখে তাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
3 এই কথা বল, হে ইসরাইলের পর্বতমালা, তোমরা সার্বভৌম মাবুদের কালাম শোন। সার্বভৌম মাবুদ পর্বতমালাকে, উপপর্বত-মালাকে, জলপ্রণালী ও উপত্যকাগুলোকে এই কথা বলেন, দেখ, আমি, আমিই তোমাদের উপরে একটি তলোয়ার আনবো ও তোমাদের উচ্চস্থলীগুলো বিনষ্ট করবো।
4 তোমাদের কোরবানগাহ্ সব ধ্বংস ও সূর্য মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলা হবে; এবং আমি তোমাদের নিহত লোকদের তোমাদের মূর্তিগুলোর সম্মুখে নিক্ষেপ করবো।
5 আমি বনি-ইসরাইলদের লাশ তাদের মূর্তিগুলোর সম্মুখে রাখবো এবং তোমাদের কোরবানগাহ্গুলোর চারদিকে তোমাদের অস্থি ছড়িয়ে দেব।
6 তোমাদের সমস্ত বসতি-স্থানে নগরগুলো উৎসন্ন হবে, উচ্চস্থলীগুলো ধ্বংস হবে; যেন তোমাদের কোরবানগাহ্গুলো উৎসন্ন ও ধ্বংস হয় এবং তোমাদের মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়, আর না থাকে, আর তোমাদের ধূপগাহ্গুলো উচ্ছিন্ন হয় এবং তোমাদের তৈরি বস্তুগুলো লোপ পায়।
7 আর তোমাদের মধ্যে লোকেরা নিহত হয়ে পড়ে থাকবে;
তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
8
তবুও আমি একটি অবশিষ্টাংশ রাখবো, বস্তুত দেশ বিদেশে তোমাদের ছিন্নভিন্ন হবার সময়ে তোমাদের কোন কোন লোক জাতিদের মধ্যে তলোয়ার থেকে রক্ষা পাবে।
9 আর তোমাদের সেই রক্ষা পাওয়া লোকেরা যাদের কাছে বন্দীরূপে নীত হবে, সেই জাতিদের মধ্যে আমাকে স্মরণ করবে; দেখবে তাদের যে জেনাকারী অন্তর আমাকে ত্যাগ করে গেছে ও তাদের যে চোখ নিজ নিজ মূর্তিগুলোর পিছনে চলে জেনা করেছে, তা আমি ভেঙ্গে ফেলেছি; তাতে তারা নিজ নিজ ঘৃণ্য আচার-ব্যবহার দ্বারা যেসব দুষ্কর্ম করেছে, সেজন্য নিজেদের দৃষ্টিতে নিজেদের ঘৃণা করবে।
10
আর তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ;
আমি তাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটাবার কথা বৃথা বলি নি।
11
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি করে করাঘাত কর ও ভূমিতে পদাঘাত কর এবং ইসরাইল-কুলের সমস্ত ঘৃণ্য দুষ্কর্মের জন্য হাহাকার কর, কেননা তারা তলোয়ারে, দুর্ভিক্ষে ও মহামারীতে মারা পড়বে।
12 দূরবর্তী লোক মহামারীতে মরবে, নিকটবর্তী লোক তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে এবং অবশিষ্ট ও রক্ষা পাওয়া লোক দুর্ভিক্ষে মরবে; এভাবেই আমি তাদের উপর আমার গজব ঢেলে দেব।
13 যখন সমস্ত উঁচু পাহাড়ে, পর্বতের চূড়ায়, সবুজ গাছের তলে তাদের কোরবানগাহ্র চারদিকে মূর্তিগুলোর মধ্যে তাদের নিহত লোকেরা থাকবে এবং প্রত্যেক ঝোপাল এলা গাছের তলে, যে স্থানে তারা নিজ নিজ মূর্তিগুলোর উদ্দেশে খোশবুযুক্ত নৈবেদ্য উৎসর্গ করতো, সেই স্থানেও থাকবে তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
14 আর আমি তাদের উপরে আমার হাত বাড়িয়ে দেবো এবং তাদের সমস্ত বসতি-স্থানে, মরুভূমি থেকে দিব্লা পর্যন্ত দেশ জনশূন্য ও ধ্বংসস্থান করবো; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, সার্বভৌম মাবুদ ইসরাইল দেশের বিষয়ে এই কথা বলেন, শেষ পরিণাম; দেশের চার দিক থেকে শেষ পরিণাম আসছে।
3 এখন তোমার শেষ পরিণাম উপস্থিত; আমি তোমার উপরে আমার গজব ঢেলে দেব, তোমার আচার অনুসারে বিচার করবো, তোমার সমস্ত ঘৃণার কাজের ফল তোমার উপরে রাখবো।
4 আমি তোমার প্রতি চক্ষুলজ্জা করবো না, দয়াও করবো না, কিন্তু তোমার সমস্ত চালচলনের জন্য ও তোমার সমস্ত ঘৃণার কাজের জন্য তোমাকে শাস্তি দেব;
তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
5
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন,
দেখ, অমঙ্গল, একা অমঙ্গল আসছে।
6
শেষ পরিণাম আসছে; সেই শেষ পরিণাম আসছে;
তা তোমার বিরুদ্ধে জেগে উঠছে;
দেখ, তা আসছে।
7
হে দেশ-নিবাসী লোক, তোমার পালা আসছে, কাল আসছে, দিন সন্নিকট হচ্ছে; সে কোলাহলের দিন, পর্বতমালার উপরে আনন্দধ্বনির দিন নয়।
8 আমি এখন অবিলম্বে তোমার উপরে আমার গজব ঢেলে দেব, তোমার প্রতি আমার ক্রোধ সাধন করবো, তোমার আচারানুসারে বিচার করবো, তোমার সমস্ত ঘৃণার কাজের ফল তোমার উপরে রাখবো।
9 আমি চক্ষুলজ্জা করবো না দয়াও করবো না, কিন্তু তোমার সমস্ত চালচলনের জন্য ও তোমার সমস্ত ঘৃণার কাজের জন্য তোমাকে শাস্তি দেব; তাতে তোমরা জানবে যে, আমি মাবুদই আঘাত করি।
10
ঐ দেখ, সেদিন; দেখ, তা আসছে; তোমার পালা উপস্থিত, দণ্ড পুষ্পিত, অহংকার বিকশিত হয়েছে।
11 দৌরাত্ম্য বেড়ে নাফরমানীর দণ্ড হয়ে উঠছে; তাদের কেউই থাকবে না, তাদের লোকারণ্য বা তাদের ধন থাকবে না; তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতাও থাকবে না।
12 কাল আসছে, দিন সন্নিকট হল; ক্রেতা আনন্দ না করুক, বিক্রেতা শোক না করুক; কেননা, সেখানকার সমস্ত লোকারণ্যের উপরে গজব উপস্থিত।
13 বস্তুত উভয়ে জীবিত অবস্থায় থাকলেও বিক্রেতা বিক্রি হয়ে যাওয়া অধিকারের কাছে ফিরে যাবে না, কেননা এই দর্শন সেখানকার সমস্ত লোকারণ্য বিষয়ক; কেউ ফিরে যাবে না; তাদের জীবনের অপরাধে কেউ তাদের জীবাত্মা সবল করতে পারবে না।
14
তারা তূরী বাজিয়ে সবকিছু প্রস্তুত করেছে, কিন্তু কেউ যুদ্ধে গমন করে না, কেননা আমার ক্রোধ সেখানকার সমস্ত লোকারণ্যের প্রতি উপস্থিত।
15 বাইরে তলোয়ার এবং ভিতরে মহামারী ও দুর্ভিক্ষ। যে ব্যক্তি ক্ষেতে থাকবে, সে তলোয়ারের আঘাতে মরবে; যে নগরে থাকবে, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী তাকে গ্রাস করবে।
16 কিন্তু তাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা রক্ষা পাবে, তারা পর্বতমালার উপরে থেকে উপত্যকাস্থ ঘুঘুর মত হবে, সকলে নিজ নিজ অপরাধের কারণে মাতম করবে।
17 সকলের হাত দুর্বল হবে, সকলের হাঁটু পানির মত দ্রব হবে।
18 তারা কোমরে চট বাঁধবে, মহাত্রাসে আচ্ছন্ন হবে, সকলের মুখে চুন পড়বে, তাদের সকলের মাথায় টাক পড়বে।
19 তারা নিজ নিজ রূপা চকে ফেলে দেবে, তাদের সোনা নাপাক বস্তু হবে; মাবুদের ক্রোধের দিনে তাদের সোনা বা রূপা তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না; তা তাদের প্রাণ তৃপ্ত, কিংবা তাদের উদর পূর্ণ করবে না কেননা তা-ই তাদের উচোট খাইয়ে গুনাহের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
20 তারা তাদের সুন্দর গহনার জন্য গর্ব করতো এবং তা দিয়ে তাদের ঘৃণ্য বস্তুগুলোর মূর্তি ও জঘন্য বস্তু গড়তো, এই কারণ আমি তা তাদের নাপাক বস্তু করলাম।
21 আর আমি তা শিকারের বস্তু হিসেবে বিদেশীদের হাতে ও লুটদ্রব্য হিসেবে দুনিয়ার দুষ্ট লোকদের হাতে তুলে দেব, তারা তা নাপাক করবে।
22 আর আমি তাদের থেকে আমার মুখ ফিরাব, তাতে আমার পবিত্র স্থান নাপাক হবে, দস্যুরা তার মধ্যে প্রবেশ করে তা নাপাক করবে।
23
তুমি শিকল প্রস্তুত কর, কেননা দেশ রক্তপাতরূপ অপরাধে পরিপূর্ণ এবং নগর জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ।
24 সেজন্য আমি জাতিদের মধ্যে দুষ্ট লোকদেরকে আনবো, তারা ওদের বাড়িগুলো অধিকার করবে; আমি বলবান লোকদের গর্ব চূর্ণ করবো; আর তাদের পবিত্র স্থানগুলো নাপাক হবে।
25 সংহার আসছে, তারা শান্তির খোঁজ করবে, কিন্তু তা মিলবে না।
26 বিপদের উপরে বিপদ ঘটবে, জনরবের উপরে জনরব হবে; আর তারা নবীর কাছে দর্শনের চেষ্টা করবে, কিন্তু ইমামের শরীয়তের জ্ঞান ও প্রাচীন লোকদের মন্ত্রণা লোপ পাবে।
27 বাদশাহ্ শোকাকুল ও শাসনকর্তা উৎসন্নতা-রূপ পরিচ্ছদে পরিচ্ছন্ন হবে ও দেশের লোকদের হাত কাঁপবে; আমি তাদের প্রতি তাদের আচার অনুসারে ব্যবহার করবো; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
ষষ্ঠ বছরের ষষ্ঠ মাসের পঞ্চম দিনে আমি আমার বাড়িতে বসে ছিলাম এবং এহুদার প্রাচীনবর্গরা আমার সম্মুখে বসে ছিল, এমন সময়ে সার্বভৌম মাবুদ সেই স্থানে আমার উপরে হস্তার্পণ করলেন।
2 তাতে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, আগুনের আকারের মত একটি মূর্তি; তাঁর কোমরের আকৃতি থেকে নিচের দিকে আগুনের মত এবং কোমর থেকে উপরের দিকে যেন জ্যোতির আকৃতি ও জ্বলন্ত ধাতুর উজ্জ্বলতা।
3 তিনি এক হাত বাড়িয়ে আমার মাথার চুল ধরলেন, তাতে রূহ্ আমাকে তুলে দুনিয়া ও আসমানের মধ্যপথে নিয়ে গেলেন এবং আল্লাহ্র দেওয়া দর্শনের মধ্যে জেরুশালেমে উত্তরমুখী ভিতর-দ্বারের প্রবেশ-স্থানে বসালেন; সেই স্থানে অন্তর্জ্বালা-জনক অন্তর্জ্বালার মূর্তি স্থাপিত ছিল।
4 আর দেখ, সমতল ভূমিতে যে দৃশ্য আমি দেখেছিলাম সে স্থানে ইসরাইলের আল্লাহ্র সেরকম মহিমা রয়েছে।
5
তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, তুমি চোখ তুলে উত্তর-দিকে দৃষ্টি দাও; তাতে আমি উত্তর দিকে চোখ তুললাম, আর দেখ কোরবানগাহ্র দ্বারের উত্তরে, প্রবেশ-স্থানে ঐ অন্তর্জ্বালার মূর্তি রয়েছে।
6 আর তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এরা কি করে, তুমি কি দেখছ? ইসরাইল-কুল আমার পবিত্র স্থান থেকে আমাকে দূর করার জন্য এখানে বেশি ঘৃণার কাজ করছে। কিন্তু এর পরেও তুমি আবার আরো অনেক ঘৃণার কাজ দেখবে।
7
তখন তিনি আমাকে প্রাঙ্গণের দ্বারে আনলেন এবং আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, দেয়ালের মধ্যে একটি ছিদ্র।
8 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এই দেয়াল খোঁড়; যখন আমি সেই দেয়াল খুঁড়লাম, দেখ, একটি দরজা।
9 তিনি আমাকে বললেন, তুমি ভিতরে গিয়ে দেখ, তারা এখানে কি কি ঘৃণার কাজ করছে।
10 তাতে আমি ভিতরে গিয়ে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, সমস্ত রকম সরীসৃপ ও ঘৃণ্য পশুর আকৃতি এবং ইসরাইল-কুলের সমস্ত মূর্তি চারদিকে দেয়ালের শরীরে চিত্রিত রয়েছে;
11 আর তাদের সম্মুখে ইসরাইল-কুলের প্রাচীনদের সত্তর জন পুরুষ দণ্ডায়মান এবং তাদের মধ্য স্থানে শাফনের পুত্র যাসনিয় দণ্ডায়মান, আর প্রত্যেকের হাতে এক এক ধূনাচি; আর ধূপের ধোঁয়ার মেঘের সৌরভ উপর দিকে উঠছে।
12 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, ইসরাইল-কুলের প্রাচীনবর্গ অন্ধকারে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ঠাকুর ঘরে, কি কি কাজ করে, তা কি তুমি দেখলে? কারণ তারা বলে, মাবুদ আমাদেরকে দেখতে পান না, মাবুদ দেশ ত্যাগ করেছেন।
13 তিনি আমাকে আরও বললেন, এর পরেও তুমি আবার তাদের কৃত আরো অনেক ঘৃণার কাজ দেখবে।
14
পরে তিনি মাবুদের গৃহের উত্তর দিকের দ্বারের প্রবেশ-স্থানে আমাকে আনলেন; আর দেখ, সেখানে স্ত্রীলোকেরা বসে তম্মুষ দেবতার জন্য কান্নাকাটি করছে।
15 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, তুমি কি এটা দেখলে? এর পরেও তুমি আবার এসবের চেয়ে আরো অনেক ঘৃণার কাজ দেখবে।
16
পরে তিনি আমাকে মাবুদের গৃহের ভিতর-প্রাঙ্গণে আনলেন, আর দেখ, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের প্রবেশ-স্থানে, বারান্দা ও কোরবানগাহ্র মধ্যস্থানে, অনুমান পঁচিশ জন পুরুষ, তাঁরা মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের দিকে পিছনে ফিরে ও পূর্ব দিকে মুখ করে সূর্যের কাছে সেজ্দা করছে।
17 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান তুমি কি দেখলে? এখানে এহুদা-কুল যেসব ঘৃণার কাজ করছে, তাদের পক্ষে কি তা করা লঘু বিষয়? কারণ তারা দেশকে জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ করেছে; এবং আবার ফিরে আমাকে বিরক্ত করেছে; আর দেখ, তারা তাদের নাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে।
18 অতএব আমিও কোপাবেশে কাজ করবো, চক্ষুলজ্জা করবো না, দয়াও করবো না; তারা যদিও আমার কর্ণগোচরে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে, তবুও তাদের কথা শুনব না।
1
তখন তিনি আমার কর্ণগোচরে উচ্চরবে ঘোষণা করে বললেন, হে নগর-ধ্বংসের জন্য নিযুক্ত লোকেরা কাছে এসো, প্রত্যেকে নিজ নিজ বিনাশক-অস্ত্র হাতে করে এসো।
2 আর দেখ, উত্তর দিকস্থ উচ্চতর দ্বার থেকে ছয় জন পুরুষ আসল, তাদের প্রত্যেক জনের হাতে সংহারক অস্ত্র ছিল এবং তাদের মধ্যস্থলে মসীনা-কাপড় পরা এক জন পুরুষ ছিল; এর কোমরে লিখবার সরঞ্জাম ছিল; তারা ভিতরে এসে ব্রোঞ্জের কোরবানগাহ্র পাশে দণ্ডায়মান হল।
3
তখন ইসরাইলের আল্লাহ্র মহিমা যে কারুবীর উপরে ছিল, তা থেকে উঠে এবাদতখানার গোবরাটের কাছে গেল; এবং তিনি ঐ মসীনা-কাপড় পরিহিত পুরুষকে ডাকলেন, যার কোমরে লিখবার সরঞ্জাম ছিল।
4 আর মাবুদ তাকে বললেন, তুমি নগরের মধ্য দিয়ে, জেরুশালেমের মধ্য দিয়ে যাও এবং তার মধ্যে কৃত সমস্ত ঘৃণার কাজের বিষয়ে যেসব লোক দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করে ও কোঁকায়, তাদের প্রত্যেকের কপালে চিহ্ন দাও।
5 পরে আমি শুনলাম, তিনি অবশিষ্ট লোকদের এই হুকুম দিলেন, তোমরা নগর দিয়ে এর পেছন পেছন যাও এবং আঘাত কর, চক্ষুলজ্জা করো না, দয়াও করো না;
6 বৃদ্ধ, যুবক, কুমারী, শিশু ও স্ত্রীলোকদেরকে নিঃশেষে হত্যা কর, কিন্তু যাদের কপালে চিহ্নটি দেখা যায়, তাদের কারো কাছে যেও না; আর আমার পবিত্র স্থান থেকে আরম্ভ কর। তাতে তারা এবাদতখানার সম্মুখস্থিত প্রাচীন নেতৃবর্গদের থেকে আরম্ভ করলো।
7 পরে তিনি তাদের বললেন, এবাদতখানা নাপাক কর, সমস্ত প্রাঙ্গণ নিহত লোকে পরিপূর্ণ কর; বের হও। তাতে তারা গিয়ে নগরের মধ্যে আঘাত করতে লাগল।
8 তারা যখন আঘাত করছিল, আর আমি অবশিষ্ট রইলাম, তখন উবুড় হয়ে কেঁদে কেঁদে বললাম, আহা, সার্বভৌম মাবুদ! তুমি জেরুশালেমের উপরে তোমার গজব ঢেলে দেবার সময়ে কি ইসরাইলের সমস্ত অবশিষ্টাংশকে নষ্ট করবে?
9 তখন তিনি আমাকে বললেন, ইসরাইল ও এহুদাকুলের অপরাধ অতি ভারী; এবং দেশ রক্তে পরিপূর্ণ ও নগর অত্যাচারে পরিপূর্ণ; কারণ তারা বলে, মাবুদ দেশ ত্যাগ করেছেন, মাবুদ দেখতে পান না।
10 অতএব আমিও চক্ষুলজ্জা করবো না, দয়াও করবো না; তাদের কাজের ফল তাদের উপরে বর্তাব।
11
আর দেখ, মসীনা-কাপড় পরিহিত পুরুষ, যার কোমরে লিখবার সরঞ্জাম ছিল, সে এই সংবাদ দিল, আপনি যেমন আমাকে হুকুম করেছিলেন, আমি তেমনি করেছি।
1
পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, কারুবীদের মাথার উপরিস্থ শূন্যস্থানে যেন নীলকান্তমণি বিরাজমান, সিংহাসনের মূর্তিবিশিষ্ট একটি আকৃতি তাদের উপরে প্রকাশ পেল।
2 পরে তিনি ঐ মসীনা-কাপড় পরা ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ঐ ঘূর্ণায়মান চাকাগুলোর মধ্যস্থানে কারুবীর নিচে প্রবেশ কর এবং কারুবীদের মধ্যস্থান থেকে দু’হাত ভরে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে নগরের উপরে নিক্ষেপ কর; তাতে সেই ব্যক্তি আমার সাক্ষাতে সেখানে প্রবেশ করলো।
3 যখন সেই পুরুষ প্রবেশ করলো, তখন কারুবীগণ এবাদতখানার দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ভিতরের প্রাঙ্গণ মেঘে পরিপূর্ণ ছিল।
4 আর মাবুদের মহিমা কারুবীর উপর থেকে উঠে এবাদতখানার গোবরাটের উপরে দাঁড়াল এবং এবাদতখানা মেঘে পরিপূর্ণ ও প্রাঙ্গণ মাবুদের মহিমার তেজে পরিপূর্ণ হল।
5 আর কারুবীদের পাখার আওয়াজ বাইরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল, সেটি সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র কথা বলার আওয়াজের মত।
6
আর তিনি যখন ঐ মসীনা-কাপড় পরা পুরুষকে এই হুকুম দিলেন, ‘তুমি এই ঘূর্ণায়মান চাকাগুলোর মধ্য থেকে, কারুবীদের মধ্যস্থান থেকে, আগুন নাও,’ তখন সে প্রবেশ করে একটি চাকার পাশে দাঁড়ালো।
7 তখন এক জন কারুবী তাদের মধ্য থেকে কারুবীদের মধ্যস্থিত আগুন পর্যন্ত হাত বাড়িয়ে তার কিছু নিয়ে ঐ মসীনার পোশাক পরা পুরুষের অঞ্জলিতে দিল, আর সে তা নিয়ে বাইরে গেল।
8 আর কারুবীদের পাখাগুলোর নিচে মানুষের হাতের আকৃতি প্রকাশ পেল।
9
পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, এক জন কারুবীর পাশে একটি চাকা, অন্য কারুবীর পাশে অন্য চাকা, এভাবে চার জন কারুবীর পাশে চারটি চাকা; ঐ চাকাগুলোর আভা বৈদুর্ষমণির প্রভার মত।
10 তাদের আকৃতি এই, চারটির রূপ একই ছিল; যেন চাকার মধ্যে চাকা রয়েছে।
11 গমনকালে তারা নিজেদের চার পাশে গমন করতো; গমনকালে ফিরতো না; যে স্থান মাথার সম্মুখ, সেই স্থানে তারা তার পিছনে গমন করতো, গমনকালে ফিরতো না।
12 আর তাদের সর্বাঙ্গ, তাদের পিঠ, হাত ও পাখা এবং চাকাগুলোর চারদিকে চোখে পরিপূর্ণ ছিল, চারটির চাকায় চোখ ছিল।
13 আর আমি শুনলাম, সেই চাকাগুলোকে কেউ উচ্চৈঃস্বরে বললো, ঘূর্ণায়মান চাকা।
14 প্রত্যেক প্রাণীর চারটি মুখ; প্রথম কারুবীর মুখ, দ্বিতীয় মানুষের মুখ, তৃতীয় সিংহের মুখ ও চতুর্থ ঈগল পাখির মুখ।
15
তখন কারুবীরা উপরে উঠে গেল। আমি কবার নদীর তীরে সেই প্রাণীকে দেখেছিলাম।
16 কারুবীদের গমনকালে চাকাগুলোও তাদের পাশে পাশে যেত; এবং কারুবীরা যখন ভূতল থেকে উপরে উঠে যাবার জন্য নিজ পাখা উঠাত, চাকাগুলোও তখন তাদের পাশ ছাড়তো না।
17 ওরা দাঁড়ালে এরাও দাঁড়াত এবং ওরা উঠলে এরাও একসঙ্গে উঠত, কেননা ঐ চাকাগুলোতে সেই প্রাণীর রূহ্ ছিল।
18
পরে মাবুদের মহিমা গৃহের গোবরাটের উপর থেকে প্রস্থান করে কারুবীদের উপরে দাঁড়ালো।
19 তখন কারুবীরা আমার দৃষ্টিগোচরে প্রস্থানকালে পাখা মেলে ভূতল থেকে উপরে দিকে গমন করলো; এবং তাদের পাশে চাকাগুলোও গমন করলো; পরে কারুবীরা মাবুদের গৃহের পূর্বদ্বারের প্রবেশ-স্থানে দাঁড়াল; তখন ইসরাইলের আল্লাহ্র মহিমা উর্ধ্বে তাদের উপরে ছিল।
20
আমি কবার নদীর কাছে ইসরাইলের আল্লাহ্র বাহন সেই প্রাণীকে দেখেছিলাম; আর এরা যে কারুবী, তা জানলাম।
21 প্রত্যেক প্রাণীর চারটি মুখ ও চারটি পাখা এবং তাদের পাখার নিচে মানুষের হাতের মূর্তি ছিল।
22 আমি কবার নদীর কাছে যে যে মুখ দেখেছিলাম, সেগুলো এদেরই মুখের মূর্তি; এরা তাদেরই আকৃতিবিশিষ্ট; বাস্তবিক এরা সেই প্রাণী; প্রত্যেক প্রাণী সম্মুখ দিকেই গমন করতো।
1
আবার রূহ্ আমাকে উঠিয়ে মাবুদের গৃহের পূর্বদ্বারের কাছে আনলেন যেটি পূর্বমুখী ছিল; আর দেখ, সেই দ্বারের প্রবেশ-স্থানে পঁচিশ জন পুরুষ; এবং তাদের মধ্যস্থানে আমি অসূরের পুত্র যাসনিয় ও বনায়ের পুত্র প্লটিয়— লোকদের কর্মকর্তা এই দু’জনকে দেখলাম।
2 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এই নগরের মধ্যে এরা অধর্মের সঙ্কল্পকারী ও কুমন্ত্রণাদায়ক;
3 এরাই বলে, বাড়িগুলো তৈরি করার সময় সন্নিকট হয় নি; এই নগর হাঁড়ি ও আমরা মাংস।
4 অতএব এদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল; হে মানুষের সন্তান, ভবিষ্যদ্বাণী বল।
5
তখন মাবুদের রূহ্ আমার উপরে নেমে আসলেন, আর তিনি বললেন, তুমি বল, মাবুদ এই কথা বলেন; হে ইসরাইল-কুল, তোমরা অমুক অমুক কথা বলেছ; তোমাদের মনে যা যা উঠেছে, সেসব আমি জানি।
6 তোমরা এই নগরে নিজেদের নিহত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছ, তোমরা নিহত লোকে এখানকার রাস্তাগুলো পরিপূর্ণ করেছ।
7 এই কারণে সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের যে নিহত লোকদের তোমরা নগরের মধ্যে রেখেছ, তারাই মাংস এবং এই নগর হাঁড়ি; কিন্তু তোমাদের এর মধ্য থেকে বের করা যাবে।
8 তোমরা তলোয়ারের ভয় করেছ, আর আমি তোমাদের বিরুদ্ধে তলোয়ারই আনবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
9 আর আমি তোমাদেরকে এর মধ্য থেকে বের করে বিদেশীদের হাতে তুলে দেব এবং তোমাদের মধ্যে বিচার সাধন করবো।
10 তোমরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে; আমি ইসরাইলের সীমাতে তোমাদের বিচার করবো; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ;
11
এই নগর তোমাদের জন্য হাঁড়ি হবে না এবং তোমরা এর মধ্যস্থিত মাংস হবে না;
12 আমি ইসরাইলের সীমাতে তোমাদের বিচার করবো; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ; কেননা তোমরা আমার বিধিপথে চল নি, আমার অনুশাসন পালন কর নি, কিন্তু তোমাদের চারদিকের জাতিদের নিয়ম অনুসারে কাজ করেছ।
13
আর আমি ভবিষ্যদ্বাণী বলছিলাম, এমন সময়ে বনায়ের পুত্র প্লটিয় মারা গেল। তখন আমি উবুড় হয়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি করলাম, বললাম, হায়, সার্বভৌম মাবুদ! তুমি কি ইসরাইলের অবশিষ্টাংশকে নিঃশেষে সংহার করবে?
14
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
15 হে মানুষের সন্তান, তোমার ভাইয়েরা, হ্যাঁ, তোমার ভাইয়েরা, তোমার জ্ঞাতিরা ও ইসরাইলের সমস্ত কুল, এদের সকলকে জেরুশালেম নিবাসীরা বলে, তোমরা মাবুদের কাছ থেকে দূরে যাও, এই দেশ অধিকার হিসেবে আমাদেরকেই দেওয়া হয়েছে।
16 অতএব তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যদিও তাদেরকে জাতিদের কাছে দূর করেছি, যদিও দেশ-বিদেশে ছিন্নভিন্ন করেছি, তবুও তারা যেসব দেশে গেছে, সেসব দেশে আমি কিয়ৎকাল তাদের পবিত্র স্থান হয়েছি।
17
অতএব তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদেরকে সংগ্রহ করবো ও তোমরা যেসব দেশে ছিন্নভিন্ন হয়েছ, সেসব দেশ থেকে একত্র করবো এবং ইসরাইল দেশ তোমাদের দেব।
18 তারা সে দেশে যাবে, সেখানকার সমস্ত জঘন্য পদার্থ ও সেখানকার সমস্ত ঘৃণ্য বস্তু সেখান থেকে দূর করবে।
19 আমি তাদেরকে একই হৃদয় দান করবো ও তোমাদের হৃদয়ে একটি নতুন রূহ্ স্থাপন করবো; আর তাদের মাংস থেকে প্রস্তরময় হৃদয় দূর করবো, তাদেরকে মাংসময় হৃদয় দেব,
20 যেন তারা আমার বিধিপথে চলে এবং আমার অনুশাসনগুলো মান্য ও পালন করে; আর তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব।
21 কিন্তু যাদের হৃদয় তাদের জঘন্য পদার্থগুলোর দিকে ও তাদের ঘৃণার বস্তুগুলোর পিছনে চলে, তাদের কাজের ফল আমি তাদেরই মস্তকে বর্তাব, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
22
পরে কারুবীগণ নিজ নিজ পাখা মেলে দিল, তখন চাকাগুলোও তাদের পাশে ছিল এবং ইসরাইলের আল্লাহ্র মহিমা উর্ধ্বে তাদের উপরে ছিল।
23 পরে মাবুদের মহিমা নগরের মধ্য থেকে উপরে উঠে নগরের পূর্ব পাশের পর্বতের উপরে গিয়ে থামল।
24 আর রূহ্ আমাকে তুলে দর্শনযোগে আল্লাহ্র রূহের প্রভাবে কল্দীয়দের দেশে নির্বাসিত লোকদের কাছে আনলেন; আর আমি যা দর্শন করেছিলাম, তা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।
25 পরে মাবুদ আমাকে যেসব বিষয় দেখিয়েছিলেন, সে সমস্তই আমি নির্বাসিত লোকদের বললাম।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি একটা বিদ্রোহী-কুলের মধ্যে বাস করছো; দেখবার চোখ থাকলেও তারা দেখে না, শুনবার কান থাকলেও শোনে না, কেননা তারা বিদ্রোহী-কুল।
3 অতএব, হে মানুষের সন্তান, তুমি নিজের জন্য নির্বাসনে যাবার জিনিসপত্র প্রস্তুত কর, দিনের বেলা তাদের সাক্ষাতে নির্বাসনে যাবার জন্য প্রস্থান কর ও নির্বাসনে যাবার জন্য তাদের সাক্ষাতে স্বস্থান থেকে অন্য স্থানে যাও; হয় তো তারা বুঝতে পারবে যে, তারা বিদ্রোহী-কুল।
4 তুমি দিনের বেলা তাদের সাক্ষাতে নির্বাসনে যাবার জিনিসপত্রের মত তোমার জিনিসপত্র বের করবে; লোকে যেমন নির্বাসনে যাবার জন্য প্রস্থান করে, তেমনি সন্ধ্যাবেলা তাদের সাক্ষাতে প্রস্থান করবে।
5 তুমি তাদের সাক্ষাতে দেয়ালে গর্ত করে তা দিয়ে সেই জিনিসপত্র বের করো।
6 তাদের সাক্ষাতে তা কাঁধে তুলে অন্ধকার সময়ে নিয়ে যাবে; তোমার মুখ আচ্ছাদন করবে, যেন ভূমি দেখতে না পাও; কেননা আমি তোমাকে ইসরাইল-কুলের জন্য চিহ্নস্বরূপ করে রেখেছি।
7
তখন আমি সেই হুকুম অনুসারে কাজ করলাম; নির্বাসনে যাবার জিনিসপত্রের মত আমার জিনিসপত্র দিনের বেলা বের করলাম, পরে সন্ধ্যাবেলা নিজের হাতে দেয়ালে গর্ত করলাম, অন্ধকার সময়ে তা আমার কাঁধে তুলে তাদের সাক্ষাতে সকলই নিয়ে গেলাম।
8
পরে খুব ভোরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
9 হে মানুষের সন্তান, ইসরাইল-কুল সেই বিদ্রোহী-কুল কি তোমাকে বলে নি, ‘তুমি কি করেছ?’
10 তাদের বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এই দৈববাণী দ্বারা জেরুশালেমের শাসনকর্তাকে ও ওরা যার মধ্যবর্তী, সেসব ইসরাইল-কুলকে বুঝায়।
11 তুমি বল, আমি তোমাদের পক্ষে চিহ্ন; আমি যেমন করলাম, তেমনি তাদের প্রতিও করা যাবে; তারা নির্বাসিত হয়ে বন্দীত্বস্থানে যাবে।
12 আর তাদের মধ্যবর্তী শাসনকর্তা অন্ধকার সময়ে ভার কাঁধে করে বহির্গমন করবে, লোকে জিনিসপত্র বের করার জন্য প্রাচীর খুঁড়বে, সে তার মুখ আচ্ছাদন করবে, যাতে সে চোখে মাটি দেখতে না পায়।
13 আর আমি তার উপরে আমার জাল পাতব, তাতে সে আমার ফাঁদে ধৃত হবে; আমি কল্দীয়দের দেশ ব্যাবিলনে তাকে নিয়ে যাব; তবুও সে তা দেখতে পাবে না, অথচ সেই স্থানে মরবে।
14 আমি তার চারদিকে তার সহকারী সমস্ত লোকজন ও তার সমস্ত সৈন্যদলকে সমস্ত বায়ুর মুখে উড়িয়ে দেব এবং তাদের পিছনে তলোয়ার কোষমুক্ত করবো।
15 আর তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ, যখন আমি তাদের জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করবো ও নানা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব।
16 তবুও আমি তাদের কতকগুলো লোককে তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী থেকে অবশিষ্ট রাখবো; যেন তারা যে জাতিদের কাছে যাবে, তাদের মধ্যে নিজেদের সমস্ত ঘৃণার কাজ প্রচার করে; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
17
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
18 হে মানুষের সন্তান, তুমি কাঁপতে কাঁপতে তোমার রুটি ভোজন কর এবং উদ্বেগ ও চিন্তার সঙ্গে তোমার পানি পান কর।
19 আর দেশের লোকদের এই কথা বল, ইসরাইল দেশস্থ জেরুশালেম-নিবাসীদের বিষয়ে সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তারা চিন্তার সঙ্গে নিজ নিজ রুটি ভোজন করবে, বিস্ময়ের সঙ্গে নিজ নিজ পানি পান করবে; কেননা সেখানকার নিবাসীদের দৌরাত্ম্যের কারণে তাদের দেশের ও তার মধ্যেকার সর্বস্ব ধ্বংস হবে।
20 আর বসতিবিশিষ্ট নগরগুলো উৎসন্ন হবে ও দেশ ধ্বংসস্থান হবে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
21
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
22 হে মানুষের সন্তান, এ কেমন প্রবাদ, যা ইসরাইল দেশে তোমাদের মধ্যে প্রচলিত, যথা, ‘কাল বিলম্ব হচ্ছে, প্রত্যেক দর্শন বিফল হল?’
23 তুমি তাদের বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি এই প্রবাদ মুছে ফেলবো; এটি প্রবাদ হিসেবে ইসরাইলের মধ্যে আর চলবে না; কিন্তু তাদের বল, কাল সন্নিকট ও সমস্ত দর্শনের কথা সফল হবে।
24 কারণ মিথ্যা দর্শন কিংবা চাটুবাদের মন্ত্রতন্ত্র ইসরাইল-কুলের মধ্যে আর থাকবে না।
25 কেননা আমি মাবুদ, আমি কথা বলবো; আর আমি যে কালাম বলবো, তা অবশ্য সফল হবে, বিলম্ব আর হবে না; কারণ, হে বিদ্রোহী-কুল, তোমাদের বর্তমান সময়েই আমি কথা বলবো এবং তা সফলও করবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
26
আবার মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
27 হে মানুষের সন্তান, দেখ, ইসরাইল-কুল বলে, ঐ ব্যক্তি যে দর্শন পায়, সে অনেক বিলম্বের কথা; সে দূরবর্তী কালের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী বলছে।
28 এজন্য তুমি তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার সমস্ত কালাম সফল হতে আর বিলম্ব হবে না; আমি যে কালাম বলবো তা সফল হবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, ইসরাইলের যে নবীরা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তুমি তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল; এবং যারা নিজ নিজ অন্তর থেকে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তাদেরকে বল, তোমরা মাবুদের কালাম শোন।
3 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ধিক্ সেই নির্বোধ নবীদেরকে, যারা নিজ নিজ রূহের পিছনে চলে, কিছুই দেখে নি।
4 হে ইসরাইল, তোমার নবীরা উৎসন্ন স্থানের শিয়ালদের মত।
5 তোমরা কোন ফাটলে উঠ নি এবং মাবুদের দিনে যুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য ইসরাইল-কুলের জন্য প্রাচীরও দৃঢ় কর নি।
6 তারা মিথ্যা দর্শন পেয়েছে, মিথ্যা মন্ত্র পড়েছে, তারা বলে, ‘মাবুদ বলেন,’ অথচ মাবুদ তাদের প্রেরণ করেন নি; আর তারা আশা করেছে যে, সেই কালাম সিদ্ধ হবে।
7 তোমরা কি মিথ্যা দর্শন পাও নি? মিথ্যা কথারূপ মন্ত্র কি পড় নি? কেননা আমি না বললেও তোমরা বলছো, মাবুদ এই কথা বলেন।
8
এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা মিথ্যা কালাম বলেছ ও মিথ্যা কথারূপ দর্শন পেয়েছ; এজন্য দেখ, আমি তোমাদের বিপক্ষ, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
9 বস্তুত আমার হাত সেই নবীদের বিপক্ষ উঠবে, যারা মিথ্যা দর্শন পায় ও মিথ্যা মন্ত্র পড়ে; তারা আমার লোকদের সভায় থাকবে না এবং ইসরাইল-কুলের খান্দাননামায় তাদের নাম উল্লিখিত হবে না, আর ইসরাইল-দেশে প্রবেশ করবে না; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম মাবুদ।
10
শান্তি না হলেও তারা ‘শান্তি’ বলে আমার লোকদেরকে ভ্রান্ত করেছে; এবং কেউ দেয়াল নির্মাণ করলে, দেখ, তারা চুন দিয়ে তা লেপন করে।
11 এজন্য যারা চুন দিয়ে তা লেপন করে, তাদেরকে বল, তা পড়ে যাবে, প্লাবনকারী বৃষ্টি আসবে; হে বড় বড় শিলাবৃষ্টি, তোমরা পড়বে এবং প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস সজোরে বইবে।
12 দেখ, সেই দেয়াল যখন পড়ে যাবে, তখন এই কথা কি তোমাদেরকে বলা যাবে না, তোমরা যা দিয়ে লেপন করেছ, সেই প্রলেপ কোথায়?
13 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমিই আমার ক্রোধে প্রচণ্ড ঝড় দ্বারা তা বিদীর্ণ করবো, আমার কোপে প্লাবনকারী বৃষ্টি আসবে ও আমার ক্রোধে বড় শিলাবৃষ্টি তা বিনাশ করবে।
14 এই ভাবে তোমরা চুন দিয়ে যে দেয়াল লেপন করেছ, তা আমি ভেঙ্গে ফেলবো, ভূমিসাৎ করবো, তাতে তার মূল অনাবৃত হবে, তা পড়বে; আর তার মধ্যে তোমাদের বিনাশ হবে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
15
যেভাবে আমি সেই দেয়ালে এবং যারা তা লেপন করেছে তাদের উপরে আমার গজব ঢেলে দেব; আর আমি তোমাদের বলবো, সেই দেয়াল আর নেই এবং তার লেপনকারীরাও নেই;
16 অর্থাৎ যারা জেরুশালেমের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী বলে এবং শান্তি না হলেও তার জন্য শান্তির দর্শন পায়, ইসরাইলের সেই নবীরা নেই; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
17
আর হে মানুষের সন্তান, তোমার জাতির যে কন্যারা নিজ নিজ অন্তর থেকে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তুমি তাদের বিরুদ্ধে তোমার মুখ রাখ এবং তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল;
18 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ধিক্ সেই স্ত্রীলোকদেরকে, যারা প্রাণের শিকার করার জন্যই সমস্ত কনুইয়ের জন্য বালিশ সেলাই করে ও সর্ব আকৃতির লোকের মাথার জন্য আবরণী প্রস্তুত করে; তোমরা কি আমার লোকদের প্রাণ শিকার করে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করবে?
19 তোমরা তো কয়েক মুষ্টি যব বা কয়েক টুকরা রুটির জন্য আমার লোকদের মধ্যে আমাকে নাপাক করেছ, ফলত যে সমস্ত প্রাণী হত্যার যোগ্য নয়, তাদেরকে হত্যা করার জন্য ও যে সমস্ত প্রাণী বাঁচবার যোগ্য নয়, তাদেরকে বাঁচাবার জন্য, তোমরা আমার সেই লোকদেরকে মিথ্যা কথা বলে থাক, যারা মিথ্যা কথা শুনে থাকে।
20
অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, তোমাদের যে যে বালিশ দ্বারা তোমরা পাখি শিকারের মত প্রাণ শিকার করে থাক, আমি সেই সবের বিপক্ষ; আমি তোমাদের বাহু থেকে সেসব বালিশ নিয়ে ছিঁড়ে ফেলবো; এবং তোমরা যাদেরকে পাখির মত শিকার করে থাক, আমি সেসব প্রাণকে মুক্ত করবো;
21 আর আমি তোমাদের আবরণী ছিঁড়ে ফেলবো ও তোমাদের হাত থেকে আমার লোকদেরকে উদ্ধার করবো; তারা শিকারে ধরা পড়বার জন্য তোমাদের হাতে আর থাকবে না; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
22 আমি যে ধার্মিককে বিষণ্ন করি নি, তোমরা মিথ্যা কথা দ্বারা তার অন্তঃকরণ দুঃখার্ত করেছ এবং দুষ্ট লোকের হাত সবল করেছ, যেন সে জীবন পাবার জন্য নিজের কুপথ থেকে না ফেরে;
23 এজন্য তোমরা মিথ্যা দর্শন আর দেখবে না, মন্ত্র আর পড়বে না; এবং আমি তোমাদের হাত থেকে আমার লোকদের উদ্ধার করবো; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
পরে ইসরাইলের কয়েকজন প্রাচীন আমার কাছে এসে আমার সম্মুখে বসলো।
2 তখন মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
3 হে মানুষের সন্তান, ঐ লোকেরা নিজ নিজ মূর্তিকে নিজ নিজ হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছে ও নিজ নিজ দৃষ্টির সম্মুখে রেখেছে যাতে উচোট খেয়ে গুনাহ্ করে; আমি কি কোন মতে ওদেরকে আমার কাছে অনুসন্ধান করতে দেব?
4 অতএব তুমি ওদের সঙ্গে আলাপ করে ওদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইল-কুলের যে কোন ব্যক্তি নিজের মূর্তিকে হৃদয়ে ঠাঁই দেয় ও আমার দৃষ্টির সম্মুখে নিজের অপরাধজনক বিঘ্ন রাখে এবং নবীর কাছে আসে, সেই ব্যক্তিকে আমি মাবুদ তার যত মূর্তি আছে সেই অনুসারে সেই বিষয়ে উত্তর দেব;
5 যেন আমি ইসরাইল-কুলকে তাদের হৃদয়রূপ ফাঁদে ধরি, কেননা নিজ নিজ মূর্তিগুলোকে ভালবেসে তারা সকলে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে।
6
অতএব তুমি ইসরাইল-কুলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা ফের, তোমাদের মূর্তিগুলো থেকে বিমুখ হও, তোমাদের সমস্ত ঘৃণার কাজ থেকে বিমুখ হও।
7 কেননা ইসরাইল-কুলের মধ্যে ও ইসরাইলে প্রবাসকারী বিদেশীদের মধ্যে যে কেউ আমার কাছ থেকে নিজেকে পৃথক করে, তার মূর্তিগুলোকে হৃদয়ে স্থান দেয় ও তার দৃষ্টির সম্মুখে স্থাপন করে যাতে উচোট খেয়ে গুনাহ্ করে, সে যদি আমার কাছে অনুসন্ধান করার জন্য নবীর কাছে আসে, তবে আমি মাবুদ নিজে তাকে উত্তর দেব।
8 ফলত আমি সেই মানুষের বিরুদ্ধে মুখ রাখবো এবং তাকে চিহ্ন ও প্রবাদের জন্য বিস্ময়াস্পদ করবো এবং আমার লোকদের মধ্য থেকে তাকে মুছে ফেলব; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
9
কোন নবী যদি প্ররোচিত হয়ে কথা বলে, তবে জেনো, আমিই মাবুদ সেই নবীকে প্ররোচনা করেছি; আমি তার বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে আমার লোক ইসরাইলের মধ্য থেকে তাকে মুছে ফেলব।
10 এভাবে তারা নিজ নিজ অপরাধ বহন করবে; অনুসন্ধান করতে আসা ঐ ব্যক্তি ও নবী উভয়ের সমান অপরাধ হবে;
11 যেন ইসরাইল-কুল আর আমা থেকে বিপথগামী না হয় এবং নিজেদের সমস্ত অধর্ম দ্বারা আর নিজেদের নাপাক না করে; কিন্তু তারা যেন আমার লোক হয় ও আমি তাদের আল্লাহ্ হই, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
12
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
13 হে মানুষের সন্তান, কোন দেশ বিশ্বাস ভঙ্গ দ্বারা আমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করলে যখন আমি তার বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে দেই, তার খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করি ও তার মধ্যে দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করে সেখানকার মানুষ ও পশু উচ্ছিন্ন করি;
14 তখন তার মধ্যে যদি নূহ্, দানিয়াল ও আইউব, এই তিন ব্যক্তি থাকে, তবে তারা নিজ নিজ ধার্মিকতায় নিজ নিজ প্রাণমাত্র রক্ষা করবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15 আমি যদি দেশের সর্বত্র হিংস্র পশুদের প্রেরণ করি ও তারা লোকদের নিঃসন্তান করে এবং দেশ ধ্বংসস্থান ও পশুর ভয়ে পথিক-বিহীন হয়, অথচ তার মধ্যে ঐ তিন ব্যক্তি থাকে,
16 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, তারাও পুত্র কিংবা কন্যাদেরকে উদ্ধার করতে পারবে না, কেবল নিজেরাই উদ্ধার পাবে, কিন্তু দেশ ধ্বংসস্থান হয়ে যাবে।
17 অথবা যদি আমি দেশের বিরুদ্ধে তলোয়ার এনে বলি, ‘দেশের সর্বত্র তলোয়ার গমন করুক,’
18 আর সেখানকার মানুষ ও পশু উচ্ছিন্ন করি, অথচ তার মধ্যে ঐ তিন ব্যক্তি থাকে, সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, তারাও পুত্র কিংবা কন্যাদেরকে উদ্ধার করতে পারবে না, কেবল নিজেরাই উদ্ধার পাবে।
19 অথবা আমি যদি সেই দেশে মহামারী প্রেরণ করি এবং সেখানকার মানুষ ও পশু উচ্ছিন্ন করার জন্য তার উপরে আমার গজব ঢেলে রক্ত বইয়ে দিই,
20 অথচ দেশের মধ্যে নূহ্, দানিয়াল ও আইউব থাকে, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, তারাও পুত্র কিংবা কন্যাকে উদ্ধার করতে পারবে না; নিজ নিজ ধার্মিকতায় নিজ নিজ প্রাণমাত্র উদ্ধার করবে।
21
কারণ সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এমন যদি হয়, তবে আমি মানুষ ও পশু উচ্ছিন্ন করার জন্য জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আমার চারটি ভয়ংকর শাস্তি, অর্থাৎ তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ, হিংস্র পশু ও মহামারী প্রেরণ করলে কি না ঘটবে?
22 তবুও দেখ, তার মধ্যে কতকগুলো রক্ষা পাওয়া লোক, পুত্র ও কন্যা, বাইরে আনা হবে; দেখ, তারা তোমাদের কাছে আসবে এবং তোমরা তাদের আচার ব্যবহার ও ক্রিয়াকলাপ দেখবে; তাতে আমি জেরুশালেমের উপরে যেসব অমঙ্গল ঘটিয়েছি, তার উপর যা কিছু উপস্থিত করেছি, সেই বিষয়ে তোমরা সান্ত্বনা পাবে।
23 বস্তুত ওরা তোমাদেরকে সান্ত্বনা দেবে; কেননা তাদের আচার-ব্যবহার ও ক্রিয়াকলাপ দেখে তোমরা বুঝবে, আমি তার মধ্যে যা করেছি, তার কিছুই অকারণে করি নি; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, অন্য সব গাছের চেয়ে আঙ্গুরলতার গাছ, বনের গাছগুলোর মধ্যে আঙ্গুরলতার ডাল, কিসে শ্রেষ্ঠ?
3 কোন কাজের জন্য কি তা থেকে কাঠ গ্রহণ করা যায়? কিংবা কোন পাত্র ঝুলাবার জন্য কি তা দিয়ে গোঁজ তৈরি করা যায়?
4 দেখ, তা জ্বালানী কাঠ হিসেবে আগুনে ফেলে দেওয়ার পর আগুন তার দুই দিক পুড়িয়ে ফেলল; এর মাঝখানটাও পুড়ে গেল; এর পর কি তা কোন কাজে লাগবে?
5 দেখ, অবিকল থাকতে তা কোন কাজে লাগতো না, তবে যখন আগুন তা খেয়ে ফেলল, পুড়িয়ে দেওয়া হল, তখন তা কি কোন কাজে লাগতে পারবে?
6
অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যেমন জ্বালানী কাঠ হিসেবে বনের গাছগুলোর মধ্যে আঙ্গুরলতার গাছ দিয়েছি, তেমনি জেরুশালেম-নিবাসী লোকদেরকে দিলাম।
7 আমি তাদের বিরুদ্ধে মুখ রাখবো; আগুন থেকে রক্ষা পেলেও আগুন তাদের গ্রাস করবে; যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে মুখ রাখি, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
8 আর আমি দেশ ধ্বংসস্থান করবো, কারণ তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি জেরুশালেমকে তার ঘৃণার কাজগুলোর কথা জানাও।
3 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ জেরুশালেমকে এই কথা বলেন, তোমার উৎপত্তি ও জন্মস্থান কেনানীয়দের দেশ, তোমার পিতা আমোরীয় ও মা হিত্তীয়া।
4 তোমার জন্মের বৃত্তান্ত এই; তুমি যেদিন জন্মেছিলে, তোমার নাড়ি কাটা হয় নি এবং তোমাকে পরিষ্কার করার জন্য পানিতে গোসল করান হয় নি, তুমি লবণ মাখানো বা পটিতে বেষ্টিত হও নি।
5 তোমার প্রতি কেউ স্নেহদৃষ্টি করে কৃপা সহকারে এর কোন কাজ করে নি, কিন্তু তুমি জন্মদিনে তোমার স্বাভাবিক ঘৃণাযুক্ত অবস্থায় মাঠে নিক্ষিপ্তা হয়েছিলে।
6
আর আমি তোমার কাছ দিয়ে যাবার সময় তোমাকে তোমার রক্তের মধ্যে ছট্ফট্ করতে দেখলাম এবং তোমাকে বললাম, ‘তুমি নিজের রক্তে লিপ্তা হলেও জীবিত হও,’ হ্যাঁ, তোমাকে বললাম, ‘তুমি নিজের রক্তে লিপ্তা হলেও জীবিত হও।’
7 আমি তোমাকে ক্ষেতের চারার মত অনেক বড় করে তুললাম, তাতে তুমি বৃদ্ধি পেয়ে বড় হয়ে উঠলে, খুব সুন্দরী হয়ে উঠলে, তোমার স্তনযুগল সুগঠিত ও চুল দীর্ঘ হল; কিন্তু তুমি বিবস্ত্রা ও উলঙ্গিনী ছিলে।
8
তখন আমি তোমার কাছ দিয়ে যাবার সময় তোমার প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, দেখ, তোমার সময় প্রেমের সময়, এজন্য আমি তোমার উপরে আমার কাপড় মেলে দিয়ে তোমার উলঙ্গতা ঢেকে দিলাম; এবং আমি শপথ করে তোমার সঙ্গে নিয়ম স্থির করলাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন, তাতে তুমি আমার হলে।
9 পরে আমি তোমাকে পানিতে গোসল করালাম, তোমার শরীর থেকে সমস্ত রক্ত ধুয়ে দিলাম, আর তেল লাগিয়ে দিলাম।
10 আর আমি তোমাকে বিচিত্র পোশাক পরালাম, শুশুকের চামড়ার জুতা পরালাম এবং তোমাকে মসীনা কাপড়ে জড়ালাম ও রেশমের কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম।
11 পরে তোমাকে নানা গহনা দিয়ে সাজালাম, তোমার হাতে কঙ্কণ ও গলদেশে হার দিলাম।
12 আমি তোমার নাকে নথ, কানে দুল ও মাথায় সুন্দর মুকুট দিলাম।
13 এভাবে তুমি সোনা ও রূপা দিয়ে সাজলে; তোমার কাপড় মসীনা সুতা ও রেশম দ্বারা তৈরি এবং শিল্পকর্মে বিচিত্র হল, তুমি মিহি সুজি, মধু ও তেল ভোজন করতে এবং পরম-সুন্দরী হয়ে অবশেষে রাণীর পদ পেলে।
14 আর তোমার সৌন্দর্যের জন্য জাতিদের মধ্যে তোমার কীর্তি ছড়িয়ে গেল, কেননা আমি তোমাকে যে শোভা দিয়েছিলাম, তা দ্বারা তোমার সৌন্দর্য সিদ্ধ হয়েছিল, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15
পরে তুমি তোমার সৌন্দর্যে নির্ভর করে নিজের সুনামের কারণে জেনাকারিণী হলে; যে কেউ কাছ দিয়ে যেত, তার উপরে তোমার ব্যভিচাররূপ পানি সেচন করতে; সেটা তারই ভোগ্য হত।
16 আর তুমি তোমার কোন কোন কাপড় নিয়ে নিজের জন্য চিত্র বিচিত্র উচ্চস্থলী প্রস্তুত করে তার উপরে পতিতাবৃত্তি করতে; এরকম হওয়া উচিত ছিল না, হবারও কথাও ছিল না।
17 আর আমার সোনা ও আমার রূপা দিয়ে তৈরি যেসব গহনা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম তুমি তা নিয়ে পুরুষাকৃতি মূর্তি তৈরি করে তাদের সঙ্গে জেনা করতে।
18 আর তুমি আমার বিচিত্র পোশাকগুলো নিয়ে তাদেরকে পরাতে এবং আমার তেল ও ধূপ তাদের সম্মুখে রাখতে।
19 আর আমি তোমাকে আমার যে খাদ্য দিয়েছিলাম, যে মিহি সুজি, তেল ও মধু তোমাকে খেতে দিয়েছিলাম, তা তুমি খোশবুর জন্য তাদের সম্মুখে রাখতে; এ-ই করা হত, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
20 আর তুমি, আমার জন্য প্রস্তুত তোমার যে পুত্রকন্যাদের, তাদেরকে নিয়ে খাদ্যরূপে ওদের কাছে কোরবানী করেছ।
21 তোমার জেনা কি ক্ষুদ্র বিষয় যে, তুমি আমার সন্তানদেরকেও জবেহ্ করে কোরবানী করেছ ও আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করিয়েছ?
22 নিজের সমস্ত ঘৃণার কাজে ও জেনায় মগ্ন হওয়াতে তুমি তোমার যৌবনাবস্থার সেই সময় স্মরণ কর নি, যখন তুমি বিবস্ত্রা ও উলঙ্গিনী ছিলে, নিজের রক্তে ছট্ফট্ করছিলে।
23
আর তোমার এসব দুষ্কার্যের পরে— সার্বভৌম মাবুদ বলেন, ধিক্, ধিক্ তোমাকে।
24 তুমি নিজের জন্য উঁচু স্থান নির্মাণ করেছ এবং প্রত্যেক চকে উঁচু স্থান প্রস্তুত করেছ।
25 প্রত্যেক পথের মাথায় তুমি তোমার উঁচু স্থান নির্মাণ করেছ, তোমার সৌন্দর্যকে ঘৃণার বস্তু করেছ, প্রত্যেক পথিকের জন্য নিজের পা খুলে দিয়েছ এবং তোমার বেশ্যাক্রিয়া বাড়িয়ে তুলেছ।
26 আরও তুমি তোমার প্রতিবেশী স্থূলমাংস মিসরীয়দের সঙ্গে জেনা করেছ এবং আমাকে অসন্তুষ্ট করার জন্য তোমার পতিতাবৃত্তি আরও বাড়িয়েছ।
27 এজন্য দেখ, আমি তোমার উপরে হাত বাড়িয়ে তোমার নিরূপিত বৃত্তি খর্ব করলাম; এবং যারা তোমাকে হিংসা করে, যে ফিলিস্তিনীদের কন্যারা তোমার কুকর্মের ব্যবহারে লজ্জিতা হয়েছে, তাদের হাতে তোমাকে তুলে দিলাম।
28 আরও তুমি তৃপ্ত না হওয়াতে আসেরীয়দের সঙ্গে পতিতাবৃত্তি করেছ; কিন্তু তাদের সঙ্গে জেনা করলেও তৃপ্ত হও নি।
29 আর তুমি বাণিজ্যের দেশ কল্দিয়া পর্যন্ত তোমার জেনার কাজ বৃদ্ধি করেছ, কিন্তু এতেও তৃপ্ত হলে না।
30
সার্বভৌম মাবুদ বলেন, তোমার হৃদয় কেমন দুর্বল! তুমি তো এ সব করেছ, এ উদ্ধত পতিতার কাজ;
31 তুমি প্রত্যেক পথের মাথায় তোমার উঁচু স্থান নির্মাণ করেছ, প্রত্যেক চকে তোমার উঁচু স্থান প্রস্তুত করেছ; এতে তুমি পতিতার মত হও নি; তুমি তো পণ অবজ্ঞা করেছ।
32 জেনাকারীণী স্ত্রী! তুমি তোমার স্বামীর পরিবর্তে পরপুরুষকে গ্রহণ করে থাক।
33 লোকে সব পতিতাকেই টাকা দেয়, কিন্তু তুমি তোমার প্রেমিকমাত্রকেই উপহার দিয়েছ এবং তোমার পতিতাবৃত্তিক্রমে তারা যেন সমস্ত দিক থেকে তোমার কাছে আসে, এজন্য তাদেরকে ঘুষ দিয়েছ।
34 এতে অন্যান্য স্ত্রী থেকে তোমার পতিতাবৃত্তি বিপরীত; বস্তুত লোকেরা জেনা করার জন্য তোমার পিছনে যায় না, আর তুমি কিছু পণ না নিয়ে পণ দিয়ে থাক, এতেই তোমার কাণ্ড বিপরীত।
35
অতএব, হে পতিতা, মাবুদের কালাম শোন;
36 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার লজ্জাস্থান খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তোমার প্রেমিকদের সঙ্গে তোমার জেনা হেতু তোমার উলঙ্গতা অনাবৃত হয়েছে, সেজন্য এবং তোমার সমস্ত ঘৃণার মূর্তির জন্য, আর তুমি তাদেরকে যে রক্ত দিয়েছ, তোমার সন্তানদের সেই রক্তের জন্য,
37 দেখ, আমি তোমার সেসব প্রেমিককে একত্র করবো, যাদের সঙ্গে তুমি মিলিত হয়েছ এবং যাদেরকে তুমি মহব্বত করেছ ও যাদেরকে হিংসা করেছ; তোমার বিরুদ্ধে চারদিক থেকে তাদেরকে একত্র করবো, পরে তাদের সম্মুখে তোমার উলঙ্গতা অনাবৃত করবো, তাতে তারা তোমার সমস্ত উলঙ্গতা দেখবে।
38 আর সতী ধর্মভ্রষ্টা ও রক্তপাতকারিণী স্ত্রীলোকদের বিচারের মত আমি তোমার বিচার করবো এবং ক্রোধ ও অন্তর্জ্বালার রক্ত তোমার উপরে উপস্থিত করবো।
39 আর আমি তাদের হাতে তোমাকে তুলে দেব, তাতে তারা তোমার উঁচু স্থান ভেঙ্গে ফেলবে, তোমার উঁচু স্থানগুলো উৎপাটন করবে, তোমাকে বিবস্ত্রা করবে এবং তোমার গহনাগুলো হরণ করবে; তারা তোমাকে বিবস্ত্রা ও উলঙ্গিনী করে রাখবে।
40 আর তারা তোমার বিরুদ্ধে জনসমাজ আনবে, পাথর ছুঁড়ে তোমাকে হত্যা করবে ও নিজ নিজ তলোয়ার দ্বারা বিদ্ধ করবে;
41 এবং তোমার বাড়িগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেবে ও অনেক স্ত্রীলোকের সাক্ষাতে তোমাকে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেবে; এভাবে আমি তোমার জেনার কাজ বন্ধ করাব; তুমি আর পণ দেবে না।
42 আমি তোমার প্রতি আমার ক্রোধ চরিতার্থ করে শান্ত হব, তাতে তোমার উপর থেকে আমার অন্তর্জ্বালা যাবে, আমি ক্ষান্ত হব, আর অসন্তুষ্ট হব না।
43 তুমি তোমার যৌবনাবস্থা স্মরণ কর নি, কিন্তু এসব বিষয়ে আমাকে ক্রুদ্ধ করেছ; এজন্য দেখ, আমিও তোমার কাজের ফল তোমার মাথায় দেব, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; ঐ সমস্ত ঘৃণার আচরণের পরে তুমি আর কুকর্ম করবে না।
44
দেখ, যে কেউ প্রবাদ ব্যবহার করে, সে তোমার বিরুদ্ধে এই প্রবাদ ব্যবহার করবে, ‘যেমন মা তেমনি কন্যা’।
45 তুমি তোমার মায়ের কন্যা, সেও তার স্বামীকে ও সন্তানদেরকে ঘৃণা করতো; এবং তুমি নিজের বোনদের বোন, তারাও নিজ নিজ স্বামী ও সন্তানদেরকে ঘৃণা করতো; তোমাদের মা হিত্তীয়া ও তোমাদের পিতা আমোরীয় ছিল।
46 তোমার বড় বোন সামেরিয়া, সে তার কন্যাদের সঙ্গে তোমার বামদিকে বাস করে; এবং তোমার ছোট বোন সাদুম, সে তার কন্যাদের সঙ্গে তোমার ডানদিকে বাস করে।
47 কিন্তু তুমি যে তাদের পথে চলেছ ও তাদের ঘৃণার কাজ করেছ, তা নয়, বরং সেটি লঘু বিষয় বলে নিজের সমস্ত আচার-ব্যবহারে তাদের থেকেও ভ্রষ্টা হয়েছ।
48 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, তোমার বোন সাদুম ও তার কন্যারা তোমার মত ও তোমার কন্যাদের মত কাজ করে নি।
49 দেখ, তোমার বোন সাদুমের এই অপরাধ ছিল; তার ও তার কন্যাদের অহংকার, খাদ্য সামগ্রীর পূর্ণতা এবং নিশ্চিন্ততাযুক্ত শান্তি ছিল; আর সে দুঃখী ও দরিদ্রের হাত সবল করতো না।
50 তারা অহঙ্কারিণী ছিল ও আমার সাক্ষাতে ঘৃণার কাজ করতো, অতএব আমি তা দেখে তাদেরকে দূর করলাম।
51 আর সামেরিয়া তোমার গুনাহ্র অর্ধেক গুনাহ্ও করে নি, কিন্তু তুমি তোমর ঘৃণার কাজ তাদের থেকেও বেশি বাড়িয়েছ এবং নিজের কৃত সমস্ত ঘৃণার কাজ দ্বারা তোমার বোনদের ধার্মিক প্রতিপন্ন করেছ।
52 তুমিও নিজের অপমান বহন কর, কেননা তুমি তোমার বোনদের পক্ষে বিচার নিষ্পত্তি করেছ; তুমি যেসব গুনাহের কাজ দ্বারা তাদের চেয়ে বেশি ঘৃণার যোগ্য হয়েছ; তাতে তারা তোমার চেয়ে ধার্মিক হয়েছে; তুমিও লজ্জিতা হও, নিজের অপমান বহন কর, কেননা তুমি তোমার বোনদেরকে ধার্মিক প্রতিপন্ন করেছ।
53
আমি তাদের বন্দীদশা, সাদুম ও তার কন্যাদের বন্দীদশা এবং সামেরিয়া ও তার কন্যাদের বন্দীদশা ফিরাব এবং তাদের মধ্যে তোমার বন্দীদের বন্দীদশা ফিরাব;
54 যেন তুমি তোমার বোনদের সান্ত্বনার কারণ হয়ে, যা যা করেছ, সেসব কাজের জন্য নিজের অপমান বহন করতে ও অপমানিত হতে পার।
55 আর তোমার বোনেরা, সাদুম ও তার কন্যারা, আগের অবস্থা ফিরে পাবে এবং সামেরিয়া ও তার কন্যারা আগের অবস্থা ফিরে পাবে এবং তুমি ও তোমার কন্যারা আগের অবস্থা ফিরে পাবে।
56 তোমার অহঙ্কারের সময়ে তুমি তোমার বোন সাদুমের নাম মুখে আনতে না;
57 তখন তোমার নাফরমানী প্রকাশ পায় নি; যেমন এই সময়ে অরামের কন্যারা ও তার চারদিকের নিবাসিনী সকলে, ফিলিস্তিনীদের কন্যারা, তোমাকে টিটকারি দিচ্ছে; এরা চারদিকে তোমাকে তুচ্ছ করে।
58 তুমি তোমার কুকর্মের ও তোমার ঘৃণার আচরণেরই ভার বহন করেছ, মাবুদ এই কথা বলেন।
59
কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যেরকম কাজ করেছ, আমি তোমার প্রতিও সেই রকমক কাজ করবো; তুমি তো শপথ অবজ্ঞা করে নিয়ম ভঙ্গ করেছ।
60 তবুও তোমার যৌবনকালে তোমার সঙ্গে আমার যে নিয়ম ছিল, তা আমি স্মরণ করবো এবং তোমার পক্ষে চিরস্থায়ী একটি নিয়ম স্থির করবো।
61 তখন তুমি তোমার আচার ব্যবহার স্মরণ করে লজ্জিতা হবে, যখন নিজের বোনদের, নিজের বড় ও ছোট বোনদের গ্রহণ করবে; আর আমি তাদেরকে কন্যাদের মত তোমাকে দেব, কিন্তু তোমার নিয়ম অনুসারে নয়।
62 বাস্তবিক আমিই তোমার সঙ্গে আমার নিয়ম স্থির করবো; তাতে তুমি জানবে যে, আমিই মাবুদ;
63 অভিপ্রায় এই, আমি যখন তোমার অন্যায়গুলো মাফ করবো, তখন তুমি যেন তা স্মরণ করে লজ্জিতা হও ও নিজের অপমানের দরুন আর কখনও মুখ না খোল, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল;
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইল-কুলের কাছে দৃষ্টান্ত-কথা ও উপমা উপস্থান কর।
3 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, একটি প্রকাণ্ড ঈগল পাখি ছিল; তার বড় ডানা ও পালকগুলো দীর্ঘ ও চিত্রবিচিত্র লোমে পরিপূর্ণ; ঐ পাখি লেবাননে এসে এরস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডাল নিয়ে গেল;
4 সে তার উঁচু ডালের অগ্রভাগ কেটে বাণিজ্যের দেশে নিয়ে গিয়ে বণিকদের একটি নগরে রাখল।
5 আর সে ঐ ভূমির একটি বীজ নিয়ে উর্বর ক্ষেতে লাগিয়ে দিল; সে প্রচুর পানির ধারে তা রাখল, বাইশী গাছের মত তা রোপণ করলো।
6 পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে খর্ব অথচ ছড়িয়ে পড়া আঙ্গুরলতা হল; তার ডাল ঐ ঈগলের অভিমুখে ফিরল; ও সেই পাখির নিচে তার মূল থাকলো; এভাবেই তা আঙ্গুরলতা হয়ে ডালবিশিষ্ট ও পল্লবিত হল।
7 কিন্তু বড় ডানা ও অনেক পালক বিশিষ্ট আর একটি প্রকাণ্ড ঈগল ছিল, আর দেখ, ঐ আঙ্গুরলতা পানিতে সেচিত হবার জন্য নিজের রোপন স্থান থেকে তার দিকে শিকড় বাকিয়ে তারা ডাল বাড়িয়ে দিল।
8 সে প্রচুর পানির কাছে উর্বরা ভূমিতে রোপিত হয়েছিল, সুতরাং বহুশাখায় ভূষিতা ও ফলবতী হয়ে উৎকৃষ্ট আঙ্গুরলতা হতে পারত।
9 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সে কি কৃতকার্য হবে? তার শিকড় কি উৎপাটিত হবে না? তার ফল কি কাটা যাবে না? সে শুকিয়ে যাবে ও তার ডালের নবীন অগ্রভাগগুলো ম্লান হবে। তার শিকড় থেকে তাকে তুলে নেবার জন্য শক্তিশালী হাত ও অনেক সৈন্য লাগবে না।
10 আর দেখ, সে রোপিত হয়েছে বলে কি কৃতকার্য হবে? পূবের বাতাসের আঘাতে সে কি একেবারে শুকিয়ে যাবে না? সে তার রোপন-স্থানে অবশ্য শুকিয়ে যাবে।
11
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
12 তুমি সেই বিদ্রোহী-কুলকে এই কথা বল, তোমরা কি এর তাৎপর্য জান না? তাদের বল, দেখ, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ জেরুশালেমে এসে তার বাদশাহ্ ও তার কর্মকর্তাদেরকে নিজের কাছে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
13 আর সে রাজবংশের একটি বীজ নিয়ে তার সঙ্গে নিয়ম করলো, শপথ দ্বারা তাকে আবদ্ধ করলো এবং দেশের পরাক্রমী লোকদের নিয়ে গেল;
14 যেন রাজ্যটি খর্ব হয়, নিজেকে আর উঁচু করতে না পারে, কিন্তু তার নিয়ম পালন করে যেন স্থির থাকে।
15 কিন্তু সে তার বিদ্রোহী হয়ে ঘোড়া ও অনেক সৈন্য পাবার জন্য মিসরে দূত পাঠিয়ে দিল। সে কি কৃতকার্য হবে? এমন কাজ যে করে, সে কি রক্ষা পাবে? সে তো নিয়ম ভঙ্গ করেছে, তবু কি উদ্ধার পাবে?
16 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, যে বাদশাহ্ তাকে বাদশাহ্ করলো, যার শপথ সে তুচ্ছ করলো ও যার নিয়ম সে ভঙ্গ করলো, সেই বাদশাহ্র বাসস্থানে ও তারই কাছে ব্যাবিলনের মধ্যে সে মারা যাবে।
17 আর ফেরাউন পরাক্রান্ত বাহিনী ও মহাজনসমাজ দ্বারা যুদ্ধে তার সাহায্য করবে না, যদিও অনেক লোকের প্রাণ বিনাশ করার জন্য জাঙ্গাল বাঁধা ও অবরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়।
18 সে তো শপথ অবজ্ঞা করে নিয়ম ভঙ্গ করেছে; হ্যাঁ, দেখ, হাত জোড় করার পরেও সে এসব কাজ করেছে, সে রক্ষা পাবে না।
19 অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, সে আমার শপথ অবজ্ঞা করেছে, আমার নিয়ম ভঙ্গ করেছে, অতএব আমি এর ফল তার মাথায় বর্তাব।
20 আর আমি আমার জাল তার উপরে পাতব, সে আমার ফাঁদে ধরা পড়বে; আমি তাকে ব্যাবিলনে নিয়ে যাব এবং সে আমার বিরুদ্ধে যে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, সেই কারণে সেখানে আমি তার বিচার করবো।
21 তার সকল সৈন্যের মধ্যে যত লোক পালাবে, সকলেই তলোয়ারে আঘাতে মারা পড়বে এবং অবশিষ্ট লোকেরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমি মাবুদ এই কথা বলেছি।
22
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমিই এরস গাছের উঁচু ডালের একটি কলম নিয়ে রোপণ করবো, তার ডালগুলোর অগ্রভাগ থেকে অতি কোমল একটি ডাল ভেঙ্গে নিয়ে উঁচু ও উন্নত পর্বতে রোপণ করবো;
23 ইসরাইলের উচ্চতর পর্বতে তা রোপণ করবো; তাতে তা বহু ডালযুক্ত ও ফলবান হয়ে বিশাল এরস গাছ হয়ে উঠবে; তার তলে সব জাতের সকল পাখি বাসা করবে, তার ডালের ছায়াতেই বাসা করবে।
24 তাতে ক্ষেতের সমস্ত গাছ জানবে যে, আমি মাবুদ উঁচু গাছকে নিচু করেছি, নিচু গাছকে উঁচু করেছি, সতেজ গাছকে শুকিয়ে ফেলেছি ও শুকনো গাছকে সতেজ করেছি; আমি মাবুদ এই কথা বললাম, আর এটা করলাম।
1
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 ‘পূর্বপুরুষেরা টক আঙ্গুর ফল খায়, তাই সন্তানদের দাঁত টকে যায়,’ এই যে প্রবাদ তোমরা ইসরাইল-দেশের বিষয়ে বল, এতে তোমাদের অভিপ্রায় কি?
3 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম ইসরাইলের মধ্যে তোমাদের এই প্রবাদের ব্যবহার আর করতে হবে না।
4 দেখ, সমস্ত প্রাণ আমার; যেমন পিতার প্রাণ, তেমনি সন্তানের প্রাণও আমার; যে প্রাণী গুনাহ্ করে, সেই মরবে।
5
পরন্তু কোন ব্যক্তি যদি ধার্মিক হয় এবং ন্যায় ও সঠিক কাজ করে,
6 পর্বতের উপরে ভোজন না করে, ইসরাইল-কুলের মূর্তিগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত না করে, নিজের প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ভ্রষ্ট না করে ও ঋতুমতী স্ত্রীর কাছেও না যায়;
7 এবং কারো প্রতি দৌরাত্ম্য না করে; ঋণীকে বন্ধক ফিরিয়ে দেয়, কারো দ্রব্য বলপূর্বক অপহরণ না করে, ক্ষুধিত লোককে খাদ্য দেয় ও উলঙ্গকে কাপড় পরায়,
8 সুদের লোভে ঋণ না দেয়, কোন সুদ না নেয়, অন্যায় থেকে নিজের হাত বিরত রাখে, মানুষের মধ্যে যথার্থ বিচার করে,
9 আমার বিধিপথে চলে এবং সত্য আচরণের উদ্দেশে আমার অনুশাসনগুলো পালন করে, তবে সেই ব্যক্তি ধার্মিক; সে অবশ্য বাঁচবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
10
কিন্তু সেই ব্যক্তির পুত্র যদি দস্যু ও রক্তপাতকারী হয় এবং সেই রকম কোন একটা কাজ করে; সেসব করণীয় কোন কাজ না করে;
11 যদি পর্বতের উপরে ভোজন করে থাকে ও নিজের প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ভ্রষ্ট করে থাকে,
12 দুঃখী দরিদ্রের প্রতি দৌরাত্ম্য করে থাকে, পরের দ্রব্য বলপূর্বক অপহরণ করে থাকে, বন্ধক দ্রব্য ফিরিয়ে না দিয়ে থাকে এবং মূর্তিগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করে থাকে, ঘৃণার কাজ করে থাকে;
13 যদি সুদের লোভে ঋণ দিয়ে থাকে ও বৃদ্ধি নিয়ে থাকে, তবে সে কি বাঁচবে? সে বাঁচবে না; সে এসব ঘৃণার কাজ করেছে; সে মরবেই মরবে; তার রক্ত তারই উপরে বর্তাবে।
14
আবার দেখ, এর পুত্র যদি তার পিতার কৃত সমস্ত গুনাহ্ দেখে বিবেচনা করে ও সেই রকম কাজ না করে,
15 পর্বতের উপরে ভোজন না করে, ইসরাইল-কুলের মূর্তিগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত না করে, নিজের প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ভ্রষ্ট না করে,
16 কারো প্রতি দৌরাত্ম্য না করে, বন্ধক দ্রব্য না রাখে, কারো দ্রব্য বলপূর্বক অপহরণ না করে, কিন্তু যার খিদে পেয়েছে তাকে খাবার দেয় ও উলঙ্গকে কাপড় পরায়,
17 দুঃখী লোকের প্রতি জুলুম থেকে নিজের হাত ফিরিয়ে রাখে, সুদ বা বৃদ্ধি না নেয়, আমার অনুশাসন সকল পালন করে ও আমার বিধিপথে গমন করে, তবে সে তার পিতার অপরাধে মরবে না, সে অবশ্য বাঁচবে।
18 কিন্তু তার পিতা ভারী জুলুম করতো, ভাইয়ের দ্রব্য বলপূর্বক অপহরণ করতো, স্বজাতীয় লোকদের মধ্যে অসৎকর্ম করতো; তাই দেখ, সে নিজের অপরাধে মারা পড়লো।
19
কিন্তু তোমরা বলছো, ‘সেই পুত্র কেন পিতার অপরাধ বহন করে না?’ সেই পুত্র তো ন্যায় ও সঠিক কাজ করেছে এবং আমার বিধিগুলো রক্ষা করেছে, সেসব পালন করেছে; সে অবশ্য বাঁচবে।
20 যে প্রাণী গুনাহ্ করে, সেই মরবে; পিতার অপরাধ পুত্র বহন করবে না; ও পুত্রের অপরাধ পিতা বহন করবে না; ধার্মিকের ধার্মিকতা তার উপরে বর্তাবে ও দুষ্টের নাফরমানী তার উপরে বর্তাবে।
21
এছাড়া, দুষ্ট লোক যদি নিজের করা সমস্ত গুনাহ্ থেকে ফেরে ও আমার বিধিগুলো পালন করে এবং ন্যায় ও সঠিক কাজ করে, তবে সে অবশ্য বাঁচবে; সে মারা যাবে না।
22 তার পূর্বকৃত কোন অধর্ম তার বলে স্মরণে আনা যাবে না; সে যে সঠিক কাজ করেছে, তাতে বাঁচবে।
23 দুষ্ট লোকের মরণে কি আমার কিছু সন্তোষ আছে? এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; বরং সে তার কুপথ থেকে ফিরে বাঁচে, এতে কি আমার সন্তোষ হয় না?
24 আর ধার্মিক লোক যদি তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে অন্যায় করে ও দুষ্টের কৃত সমস্ত ঘৃণার কাজ অনুসারে আচরণ করে, তবে সে কি বাঁচবে? তার কৃত কোন ধর্মকর্ম স্মরণে আনা যাবে না; সে যে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে ও যে গুনাহ্ করেছে, তাতেই তার মৃত্যু হবে।
25
কিন্তু তোমরা বলছো, ‘প্রভুর পথ সরল নয়’। হে ইসরাইল-কুল, একবার শোন; আমার পথ কি সরল নয়?
26 তোমাদের পথ কি অসরল নয়? ধার্মিক লোক যখন তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে অন্যায় করে ও তাতে মারা যায়, তখন নিজের কৃত অন্যায়েই মারা যায়।
27 আর দুষ্ট লোক যখন নিজের কৃত নাফরমানী থেকে ফিরে ন্যায় ও সঠিক কাজ করে, তখন তার প্রাণ বাঁচায়।
28 সে বিবেচনা করে নিজের কৃত সমস্ত অধর্ম থেকে ফিরল, এজন্য সে অবশ্য বাঁচবে; সে মরবে না।
29 কিন্তু ইসরাইল-কুল বলছে, প্রভুর পথ সরল নয়। হে ইসরাইল-কুল, আমার পথ কি সরল নয়? তোমাদের পথ কি অসরল নয়?
30
অতএব হে ইসরাইল-কুল, আমি তোমাদের প্রত্যেকের আচার ব্যবহার অনুসারে তোমাদের বিচার করবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন। তোমরা ফের, নিজেদের কৃত সমস্ত অধর্ম থেকে মন ফিরাও, তা না হলে তোমাদের অপরাধ তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।
31 তোমরা নিজেদের করা সমস্ত অধর্ম নিজেদের থেকে দূরে ফেলে দাও এবং নিজেদের জন্য নতুন হৃদয় ও নতুন রূহ্ প্রস্তুত কর; কেননা, হে ইসরাইল-কুল, তোমরা কেন মরবে?
32 কারণ যে মারা যায়, তার মরণে আমার কোন সন্তোষ নেই, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; অতএব তোমরা মন ফিরিয়ে বাঁচ।
1
আর তুমি ইসরাইলের নেতৃ-বর্গের বিষয়ে মাতম কর।
2 বল, তোমার মা কি ছিল? সে তো সিংহী ছিল; সিংহদের মধ্যে শয়ন করতো, যুবসিংহদের মধ্যে তার বাচ্চাগুলোকে প্রতিপালন করতো।
3 তার প্রতিপালিত এক বাচ্চা যুবসিংহ হয়ে উঠলো, সে পশু শিকার করতে শিখল, মানুষদেরকে গ্রাস করতে লাগল।
4 জাতিরাও তার বিষয় শুনতে পেল; সে তাদের গর্তে ধরা পড়লো; আর তারা তার নাক ফুঁড়ে মিসর দেশে নিয়ে গেল।
5 সেই সিংহী যখন দেখলো, সে প্রতীক্ষা করেছিল, কিন্তু তার প্রত্যাশা বিনষ্ট হল, তখন নিজের আর একটা বাচ্চাকে যুবসিংহ করে তুললো।
6 পরে সে সিংহদের সঙ্গে যাতায়াত করতে করতে যুবসিংহ হয়ে উঠলো; সে পশু শিকার করতে শিখল, মানুষদেরকে গ্রাস করতে লাগল।
7 সে তাদের অট্টালিকাগুলো ধ্বংস করলো; তাদের নগরগুলো উৎসন্ন করলো; তার গর্জনের শব্দে দেশ ও তার সমস্তই স্তম্ভিত হল।
8 তখন চারদিকের জাতিরা নানা প্রদেশ থেকে তার বিপক্ষে দাঁড়াল, তার উপরে নিজেদের জাল পাতল; সে তাদের গর্তে ধরা পড়লো।
9 তারা তার নাক ফুঁড়ে খাঁচায় রাখল, তাকে ব্যাবিলনের বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেল; ইসরাইলের কোন পর্বতে যেন তার হুঙ্কার আর শুনতে পাওয়া না যায়, তাই তাকে দুর্গের মধ্যে রাখল।
10
তোমার রক্তে তোমার মা পানির ধারে লাগানো আঙ্গুরলতার মত ছিল, সে অনেক পানি পেয়ে ফলবান হয়ে উঠলো ও শাখা-প্রশাখায় পূর্ণ হল।
11 আর তার শাখাদণ্ড দৃঢ় ও শাসনকর্তাদের রাজদণ্ড হবার যোগ্য হল; সে দীর্ঘতায় মেঘ স্পর্শ করে এবং উচ্চতায় ও প্রচুর ডালপালায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলো।
12 কিন্তু সে কোপে উৎপাটিত হল, ভূমিতে নিক্ষিপ্ত হল; পূর্ব্বীয় বায়ুতে তার ফল শুকিয়ে গেল; তার দৃঢ় শাখাগুলো ভেঙ্গে ফেলা হল ও শুকিয়ে গেল, আগুন সেগুলো গ্রাস করলো।
13 এখন সে মরুভূমির মধ্যে নির্জল ও শুকনো ভূমিতে রোপিত হয়েছে।
14 তার শাখাদণ্ড থেকে আগুন বের হয়ে তার ফল গ্রাস করেছে; রাজদণ্ডের জন্য একটি দৃঢ় শাখাও তাতে নেই। এটা একটা মাতম এবং এটি মাতমের জন্য থাকবে।
1
সপ্তম বছরের পঞ্চম মাসের দশম দিনে ইসরাইলের প্রাচীনদের মধ্যে কয়েকজন পুরুষ মাবুদের ইচ্ছা জানবার জন্য এসে আমার সম্মুখে বসলো।
2 তখন মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
3 হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইলের প্রাচীনদের সঙ্গে আলাপ করে তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা কি আমার ইচ্ছা জানতে এসেছো? সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, আমি তোমাদেরকে আমার ইচ্ছা জানতে দেব না।
4 হে মানুষের সন্তান, তুমি কি তাদের বিচার করবে? তবে তাদের পূর্বপুরুষদের ঘৃণার কাজগুলোর কথা তাদের জানাও;
5 আর তাদের বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি যেদিন ইসরাইলকে মনোনীত করেছিলাম, ইয়াকুবের কুল-জাত বংশের পক্ষে শপথ করেছিলাম, মিসর দেশে তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছিলাম, যখন তাদের পক্ষে শপথ করে বলেছিলাম, আমিই তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ;
6 সেদিন তাদের পক্ষে শপথ করে বলেছিলাম যে, আমি তাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করবো এবং তাদের জন্য যে দেশ অনুসন্ধান করেছি, সর্ব দেশের ভূষণস্বরূপ সেই দুগ্ধমধু প্রবাহী দেশে নিয়ে যাব;
7 আর আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের চোখে ভাল লাগা ঘৃণার বস্তুগুলো দূর কর এবং মিসরের মূর্তিগুলো দ্বারা নিজেদের নাপাক করো না; আমিই তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ।
8 কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধাচারী হল, আমার কথা শুনতে অসম্মত হল, নিজ নিজের চোখে ভাল লাগা ঘৃণার বস্তুগুলো দূর করলো না এবং মিসরের মূর্তিগুলোকেও ছাড়ল না; তাতে আমি বললাম, আমি তাদের উপরে আমার গজব ঢেলে দেব, মিসর দেশের মধ্যে তাদের প্রতি আমার ক্রোধ সাধন করবো।
9 কিন্তু আমি আমার নামের অনুরোধে কাজ করলাম; যেন যাদের মধ্যে তারা বাস করছিল ও যাদের সাক্ষাতে আমি তাদেরকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনে নিজের পরিচয় দিয়েছিলাম, সেই জাতিদের সাক্ষাতে আমার নাম নাপাক না হয়।
10
পরে আমি তাদের মিসর দেশ থেকে বের করে মরুভূমিতে আনলাম।
11 আর আমি তাদের, আমার বিধিকলাপ দিলাম ও আমার শরীয়তগুলো জানালাম, যা পালন করলে তা দ্বারা মানুষ বাঁচে।
12 এছাড়া, আমার ও তাদের মধ্যে চিহ্নস্বরূপ আমার বিশ্রাম দিনগুলোও তাদের দিলাম যেন তারা জানতে পারে যে, আমিই মাবুদ যিনি তাদের পবিত্র করেন।
13 কিন্তু ইসরাইল-কুল সেই মরুভূমিতে আমার বিরুদ্ধাচারী হল; আমার বিধিপথে চললো না এবং আমার অনুশাসনগুলো অগ্রাহ্য করলো, যা পালন করলে তা দ্বারা মানুষ বাঁচে; আর আমার বিশ্রাম দিনগুলো অতিশয় নাপাক করলো; তখন আমি বললাম, আমি তাদেরকে সংহার করার জন্য মরুভূমিতে তাদের উপরে আমার গজব ঢেলে দেব।
14 কিন্তু আমি আমার নামের অনুরোধে কাজ করলাম, যেন যাদের সাক্ষাতে তাদেরকে বের করে এনেছিলাম, সেই জাতিদের সাক্ষাতে আমার নাম নাপাক না হয়।
15 এছাড়া, আমি মরুভূমিতে তাদের বিপক্ষে শপথ করলাম, বললাম, আমি সর্বদেশের ভূষণ যে দুগ্ধমধু প্রবাহী দেশ তাদের দিয়েছি, সেই দেশে তাদের নিয়ে যাব না;
16 কারণ তারা আমার অনুশাসনগুলো অগ্রাহ্য করতো, আমার বিধিপথে চলতো না ও আমার বিশ্রামবার নাপাক করতো, কেননা তাদের অন্তঃকরণ তাদের মূর্তিগুলোর অনুগামী ছিল।
17 কিন্তু তাদের বিনাশ সাধনে আমার চক্ষুলজ্জা হল, এজন্য আমি সেই মরুভূমিতে তাদেরকে সংহার করলাম না।
18
আর সেই মরুভূমিতে আমি তাদের সন্তানদেরকে বললাম, তোমরা তোমাদের পিতাদের বিধিপথে চলো না, তাদের অনুশাসনগুলো মান্য করো না ও তাদের মূর্তিগুলো দ্বারা নিজেদের নাপাক করো না;
19 আমিই তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ; আমারই বিধিপথে চল ও আমারই অনুশাসনগুলো রক্ষা কর, পালন কর;
20 আর আমার বিশ্রামবার পবিত্র কর, তা-ই আমার ও তোমাদের মধ্যে চিহ্নস্বরূপ হবে, যেন তোমরা জানতে পার যে, আমিই তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ।
21 তবুও সেই সন্তানেরা আমার বিরুদ্ধাচারী হল; তারা আমার বিধিপথে চললো না এবং আমার অনুশাসনগুলো পালন করার জন্য সতর্ক হল না, যা পালন করলে তা দ্বারা মানুষ বাঁচে; তারা আমার বিশ্রামবারও নাপাক করলো; তখন আমি বললাম, আমি তাদের উপরে আমার গজব ঢেলে দেব, মরুভূমিতে তাদের উপর আমার ক্রোধ সাধন করবো।
22 তবুও আমি হাত সরিয়ে রাখলাম, আমার নামের অনুরোধে কাজ করলাম যেন সেই জাতিদের সাক্ষাতে আমার নাম নাপাক না হয়, যাদের সাক্ষাতে তাদেরকে বের করে এনেছিলাম।
23 এছাড়া, আমি মরুভূমিতে তাদের বিপক্ষে শপথ করলাম, বললাম, তাদেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করে দেব, নানা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব;
24 কারণ তারা আমার অনুশাসনগুলো পালন করলো না, আমার বিধিকলাপ অগ্রাহ্য করলো, আমার বিশ্রামবার নাপাক করলো ও তাদের পিতাদের মূর্তিগুলোর প্রতি তাদের চোখ আসক্ত থাকলো।
25 এছাড়া, যা মঙ্গলজনক নয়, এমন বিধিকলাপ এবং যা দ্বারা কেউ বাঁচতে পারে না, এমন অনুশাসনগুলো তাদের দিলাম।
26 তারা গর্ভ উন্মোচক সমস্ত সন্তানকে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করাত, তাই আমি তাদেরকে নিজ নিজ উপহারে নাপাক হতে দিলাম, যেন আমি তাদের ধ্বংস করি, যেন তারা জানতে পারে যে, আমিই মাবুদ।
27
অতএব, হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইল-কুলের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, এতেই আমার কুফরী করেছে।
28 কারণ আমি তাদের যে দেশ দেব বলে শপথ করেছিলাম, যখন সেই দেশে আনলাম, তখন তারা যে কোন স্থানে কোন উঁচু পর্বত কিংবা কোন ঝোপাল গাছ দেখতে পেত, সেই স্থানে কোরবানী করতো, সেই স্থানে আমার অসন্তোষজনক নৈবেদ্য কোরবানী করতো, সেই স্থানে নিজেদের খোশবুযুক্ত দ্রব্যও রাখত এবং সেই স্থানে নিজেদের পেয় উৎসর্গ ঢালত।
29 তাতে আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা যে উচ্চস্থলীতে উঠে যাও, সেটি কি? এভাবে আজ পর্যন্ত তার নাম বামা [উচ্চস্থলী] হয়ে রয়েছে।
30 অতএব তুমি ইসরাইল-কুলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা কি তোমাদের পূর্বপুরুষদের রীতিতে নিজেদের নাপাক করছো? তাদের ঘৃণার বস্তুগুলোর পিছনে চলে জেনা করছো?
31 তোমরা যখন নিজেদের উপহার দাও, যখন নিজ নিজ সন্তানদের আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করাও, তখন আজ পর্যন্ত নিজেদের সমস্ত মূর্তির দ্বারা কি নিজদেরকে নাপাক করছো? তবে, হে ইসরাইল-কুল, আমি কি তোমাদের আমার ইচ্ছা জানতে দেব? সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, আমি তোমাদেরকে আমার ইচ্ছা জানতে দেব না।
32 আর তোমরা যা মনে করে থাক, তা কোনক্রমে হবে না; তোমরা তো বলছো, আমরা জাতিদের মত হব, ভিন্ন ভিন্ন দেশের গোষ্ঠীগুলোর মত হব, কাঠ ও পাথরের পরিচর্যা করবো।
33
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, আমি আমার শক্তিশালী হাত, বাড়িয়ে দেওয়া বাহু ও গজব ঢেলে দিয়ে তোমাদের উপরে রাজত্ব করবো।
34 আমি আমার শক্তিশালী হাত, বাড়িয়ে দেওয়া বাহু ও গজব ঢেলে দিয়ে জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদেরকে বের করে নিয়ে আসবো এবং যেসব দেশে তোমরা ছিন্নভিন্ন হয়ে রয়েছ, সেসব দেশ থেকে তোমাদেরকে একত্র করবো।
35 আমি জাতিগুলোকে মরুভূমিতে এনে সম্মুখাসম্মুখি হয়ে সেই স্থানে তোমাদের সঙ্গে বিচার করবো।
36 আমি মিসর দেশের মরুভূমিতে যেমন তোমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে বিচার করেছিলাম, তোমাদের সঙ্গে তেমনি বিচার করবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
37 আর আমি তোমাদেরকে পাঁচনীর নিচে দিয়ে গমন করাব ও নিয়মরূপ বন্ধনে আবদ্ধ করবো।
38 পরে বিদ্রোহী ও আমার বিরুদ্ধে অধর্মাচারী সকলকে ঝেড়ে তোমাদের মধ্য থেকে দূর করবো; তারা যে দেশে প্রবাস করে, সেখান থেকে তাদের বের করে আনবো বটে, কিন্তু তারা ইসরাইল-দেশে প্রবেশ করবে না; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
39
এখন, হে ইসরাইল-কুল, সার্বভৌম মাবুদ তোমাদের বিষয়ে এই কথা বলেন, তোমরা যাও, প্রত্যেকে নিজ নিজ মূর্তিগুলোর সেবা কর; কিন্তু উত্তরকালে তোমরা আমার কথা মান্য করবেই করবে; তখন নিজ নিজ উপহার ও মূর্তিগুলো দ্বারা আমার পবিত্র নাম আর নাপাক করবে না।
40
কারণ সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার পবিত্র পর্বত, ইসরাইলের উচ্চতর পর্বতে, ইসরাইলের সমস্ত কুল, তারা সকলেই, দেশের মধ্যে আমার সেবা করবে; সেই স্থানে আমি তাদেরকে গ্রাহ্য করবো, সেই স্থানে তোমাদের সমস্ত পবিত্র বস্তুর সঙ্গে তোমাদের উপহার ও তোমাদের কোরবানীর অগ্রিমাংশ চাইব।
41 যখন জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদের আনবো এবং যেসব দেশে তোমরা ছিন্নভিন্ন হয়ে রয়েছ, সেসব দেশ থেকে তোমাদের একত্র করবো, তখন আমি খোশবু ধূপের মত তোমাদেরকে গ্রাহ্য করবো; আর তোমাদের দ্বারা জাতিদের সাক্ষাতে পবিত্র বলে মান্য হবো।
42 আর আমি তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের যে দেশ দেব বলে শপথ করেছিলাম, সেই ইসরাইল দেশে যখন তোমাদেরকে আনবো, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
43
আর সেখানে তোমরা সেই আচার ব্যবহার ও সমস্ত ক্রিয়াকলাপ স্মরণ করবে, যা দ্বারা নিজেদের নাপাক করেছ; আর তোমাদের কৃত সমস্ত কুকর্মের জন্য তোমরা নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করবে।
44 হে ইসরাইল-কুল, সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমি যখন তোমাদের মন্দ আচার ব্যবহার অনুসারে নয় ও তোমাদের দুষ্ট ক্রিয়াকলাপ অনুসারে নয়, কিন্তু আমার নামের অনুরোধে তোমাদের সঙ্গে ব্যবহার করবো, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
45
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
46 হে মানুষের সন্তান, তুমি দক্ষিণ দিকে মুখ কর, দক্ষিণ দেশের দিকে কালাম বর্ষণ কর ও দক্ষিণ মরুভূমিস্থ অরণ্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
47 আর দক্ষিণের অরণ্যকে বল, তুমি মাবুদের কালাম শোন; সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ আমি তোমার মধ্যে আগুন জ্বালাবো, তা তোমার মধ্যে সমস্ত সতেজ গাছ ও সমস্ত শুকনো গাছ গ্রাস করবে; সেই জ্বলন্ত আগুন নিভে যাবে না; দক্ষিণ থেকে উর পর্যন্ত সমুদয় মুখ তা দ্বারা দগ্ধ হবে।
48 তাতে সমস্ত প্রাণী দেখবে যে, আমি মাবুদ তা জ্বালিয়েছি; তা কেউ নিভবে না।
49 তখন আমি বললাম, হ্যাঁ, সার্বভৌম মাবুদ, তারা আমার বিষয়ে বলে, ঐ ব্যক্তি কি উপমার মধ্য দিয়ে কথা বলে?
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি জেরুশালেমের দিকে তোমার মুখ রাখ, পবিত্র স্থানের দিকে কালাম বর্ষণ কর ও ইসরাইল-দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
3 তুমি ইসরাইল-দেশকে বল, মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; আমি কোষ থেকে আমার তলোয়ার বের করে তোমার মধ্য থেকে ধার্মিক ও দুষ্ট উভয়কে মুছে ফেলব।
4 আমি যখন তোমার মধ্য থেকে ধার্মিক ও দুষ্ট লোককে মুছে ফেলব, তখন আমার তলোয়ার কোষ থেকে বের হয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত সমস্ত প্রাণীর বিরুদ্ধে যাবে;
5 তাতে সমস্ত প্রাণী জানবে যে, আমি মাবুদ কোষ থেকে আমার তলোয়ার বের করেছি, তা আর ফিরবে না।
6 আর হে মানুষের সন্তান, তুমি দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ কর; কোমর ভেঙ্গে মনস্তাপপূর্বক তাদের সাক্ষাতে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ কর।
7 আর যখন, তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘কেন দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করছো?’ তখন বল, বার্তার নিমিত্ত, কেননা তা আসছে; তখন প্রত্যেকটি হৃদয় গলে যাবে, প্রত্যেকটি হাত দুর্বল হবে, প্রত্যেকটি মন নিস্তেজ হবে ও প্রত্যেকটি জানু পানির মত হয়ে পড়বে; দেখ, তা আসছে, তা সফলও হবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
8
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
9 হে মানুষের সন্তান, ভবিষ্যদ্বাণী বল, মাবুদ এই কথা বলেন; তুমি বল, তলোয়ার, তলোয়ার, সেটি শাণিত ও পালিশ করা হয়েছে।
10 সেটি শাণিত করা হয়েছে, যেন সংহার করে; পালিশ করা হয়েছে, যেন বিদ্যুতের চম্কায়; তবে আমরা কি আনন্দ করবো? আমার পুত্রের রাজদণ্ড প্রত্যেক কাঠকে তুচ্ছ করে।
11 তা পালিশ করার জন্য দেওয়া হয়েছে, যেন হাত দিয়ে ধরা যায়; তলোয়ার শাণিত ও পালিশ করা হয়েছে, যেন হত্যাকারীর হাতে দেওয়া হয়।
12 হে মানুষের সন্তান, কান্নাকাটি কর ও হাহাকার কর, কেননা সেটা আমার লোকদের বিরুদ্ধে, ওটা ইসরাইলের সমস্ত নেতার বিরুদ্ধে উপস্থিত হয়েছে; আমার লোকদের সঙ্গে তাদেরও তলোয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে; অতএব তুমি তোমার ঊরুদেশে আঘাত কর।
13 কারণ পরীক্ষা করা হয়েছে; সেই তুচ্ছ রাজদণ্ড যদি আর না থাকে, তাতে কি? এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
14 অতএব, হে মানুষের সন্তান, তুমি ভবিষ্যদ্বাণী বল ও করে করাঘাত কর; সেই তলোয়ার, আহত লোকদের তলোয়ার, দু’টি বরং তিনটি তলোয়ার হয়ে উঠুক; এই তলোয়ার জবেহ্ করার জন্য, অনেককে জবেহ্ করার জন্যই একটা তলোয়ার; তা চারদিকে তাদেরকে ঘেরাও করবে।
15 আমি তাদের সমস্ত নগর-দ্বারে তলোয়ারের ত্রাস রাখলাম, যেন তাদের অন্তঃকরণ গলে যায় ও তাদের অনেকের পতন হয়। আঃ! তা বিদ্যুতের মত চম্কায়, তা হত্যার জন্য শাণিত হয়েছে।
16 হে তলোয়ার, একাগ্র হয়ে ডান দিকে ফের, প্রস্তুত হয়ে বাম দিকে যাও; যে দিকে তোমার মুখ রাখা যায়, সেই দিকে গমন কর।
17 আমিও করে করাঘাত করবো ও আমার ক্রোধ চরিতার্থ করে শান্ত হব; আমি মাবুদ এই কথা বললাম।
18
আবার মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
19 হে মানুষের সন্তান, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র তলোয়ার আসবে বলে তুমি দুই পথ আঁক; সেই দুই পথ একটি দেশ থেকে আসবে; আর তুমি হস্তাকৃতি একটি চিহ্ন খোদাই কর, নগরগামী পথের মাথায় তা খোদাই কর।
20 তলোয়ারের জন্য অম্মোনীয়দের রব্বা নগরগামী এক পথ ও এহুদার প্রাচীরবেষ্টিত জেরুশালেম নগরগামী অন্য পথ আঁক।
21 কেননা ব্যাবিলনের বাদশাহ্ গণাপড়ার জন্য দুই পথের সঙ্গমস্থানে, অর্থাৎ সেই দুই পথের মাথায়, দণ্ডায়মান হল; সে গুলিবাট সহকারে তীর নিক্ষেপ করলো, মূর্তিগুলোর কাছে অনুসন্ধান করলো ও যকৃৎ নিরীক্ষণ করলো।
22 তার ডান দিকে গুলি উঠলো, ‘জেরুশালেম,’ সেই স্থানে প্রাচীরভেদী যন্ত্র স্থাপন করতে, হত্যার হুকুম দিতে, উচ্চৈঃস্বরে সিংহনাদ করতে, নগর-দ্বারগুলোর বিরুদ্ধে প্রাচীরভেদী যন্ত্র স্থাপন করতে, জাঙ্গাল বাঁধতে ও উচ্চগৃহ প্রস্তুত করতে হবে।
23 কিন্তু মন্ত্রটি তাদের দৃষ্টিতে মিথ্যা মনে হবে; তারা ওদের কাছে পুনঃ পুনঃ শপথ করেছিল; কিন্তু তিনি তাদের অপরাধ স্মরণীয় করেন, যেন তাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়।
24
এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ অপরাধ স্মরণীয় করেছ, কেননা তোমাদের অধর্মগুলো অনাবৃত হল, তাই তোমাদের সমস্ত কাজে তোমাদের গুনাহ্ প্রকাশ পাচ্ছে, তোমরা স্মরণীয় হওয়াতে তোমাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হবে।
25 আর হে আহত দুষ্ট ইসরাইল-নরপতি, শেষ অপরাধের সময়ে তোমার দিন উপস্থিত হল।
26 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, পাগড়ী অপসারণ কর ও রাজমুকুট দূর কর; যা আছে, তা আর থাকবে না; যা খর্ব তা উঁচু হোক ও যা উঁচু তা খর্ব হোক।
27 আমি বিপর্যয়ের পর বিপর্যয় নিয়ে আসবা; যা আছে, তাও থাকবে না, যতক্ষণ তিনি না আসেন, যাঁর এতে ন্যায্য অধিকার; আমি তাঁকেই এই সমস্ত দেব।
28
আর হে মানুষের সন্তান, তুমি এই ভবিষ্যদ্বাণী বল, সার্বভৌম মাবুদ অম্মোনীয়দের বিষয়ে ও তাদের উপহাসের বিষয়ে এই কথা বলেন; তুমি বল, তলোয়ার, তলোয়ার কোষ থেকে বের করা হয়েছে, সেটি হত্যা করার জন্য পালিশ করা হয়েছে, যেন গ্রাস করে, যেন বিদ্যুতের মত চম্কায়।
29 এদিকে লোকেরা তোমার জন্য মিথ্যা দর্শন পায় ও তোমার জন্য মিথ্যা মন্ত্র পাঠ করে, যেন তোমাকে সেই আহত দুষ্টদের ঘাড়ের উপরে নিক্ষেপ করে, যাদের দিন শেষের অপরাধকাল উপস্থিত হয়েছে।
30 সেটি পুনর্বার কোষে রাখ; তুমি যে স্থানে সৃষ্ট ও যে দেশে উৎপন্ন হয়েছিলে, সেখানে আমি তোমার বিচার করবো।
31 আর আমি তোমার উপরে আমার গজব ঢেলে দেব; আমি তোমার বিরুদ্ধে আমার ক্রোধের আগুনে ফুঁ দেব এবং বিনাশ সাধনে নিপুণ এমন নিষ্ঠুর লোকদের হাতে তোমাকে তুলে দেব।
32 তুমি আগুনের কাঠের মত হবে; তোমার রক্ত দেশের মধ্যেই পড়বে; লোকে তোমাকে আর কখনও স্মরণ করবে না; কেননা আমি মাবুদ এই কথা বললাম।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষ সন্তান, তুমি কি বিচার করবে? সেই রক্তপাতের নগরীর বিচার করবে? তবে তার সমস্ত ঘৃণার কাজের কথা তাকে জানাও।
3 তুমি বলবে, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এ সেই নগরী, যে নিজের মধ্যে রক্তপাত করে থাকে, যেন তার কাল উপস্থিত হয়; সে নিজের জন্য মূর্তিগুলোকে তৈরি করে থাকে, যেন সে নাপাক হয়।
4 তুমি যে রক্তপাত করেছ, তা দ্বারা তুমি দণ্ডনীয়া হয়েছ ও তুমি যেসব মূর্তি তৈরি করেছ, তা দ্বারা নাপাক হয়েছ; এবং তুমি নিজের দিন সন্নিকট করেছ ও তোমার আয়ুর শেষ প্রান্তে উপস্থিত হয়েছ; এজন্য আমি তোমাকে জাতিদের ও সকল দেশের কাছে বিদ্রূপের পাত্র করলাম।
5 তোমার কাছের কি দূরের সকলে তোমাকে বিদ্রূপ করবে, তুমি তো অখ্যাত ও কলহপূর্ণা।
6
দেখ, ইসরাইলের নেতৃবর্গ, প্রত্যেকে তোমার মধ্যে রক্তপাত করার জন্য নিজ নিজ ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
7 তোমার মধ্যে পিতা-মাতাকে তুচ্ছ করা হয়েছে; তোমার মধ্যে বিদেশীর প্রতি জুলুম করা হয়েছে; তোমার মধ্যে এতিম ও বিধবার প্রতি দৌরাত্ম্য করা হয়েছে।
8 তুমি আমার পবিত্র বস্তুগুলো অবজ্ঞা করেছ ও আমার বিশ্রামবারগুলো নাপাক করেছ।
9 রক্তপাত করার জন্য তোমার মধ্যে কিছু লোক কুৎসা রটনা করে থাকে; এবং তোমার মধ্যে লোকে পর্বতের উপরে ভোজন করে; তোমার মধ্যে লোকে কুকর্ম করে;
10 তোমার মধ্যে লোকে পিতার উলঙ্গতা অনাবৃত করে; তোমার মধ্যে লোকে ঋতুমতী নাপাক স্ত্রীকে বলাৎকার করে;
11 তোমার মধ্যে কেউ তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ঘৃণার কাজ করে; কেউ বা আপন পুত্রবধূর সঙ্গে কুকর্ম করে নিজেকে নাপাক করে; আর কেউ বা তোমার মধ্যে নিজের বোনকে, আপন পিতার কন্যাকে, বলাৎকার করে।
12 রক্তপাত করার জন্য তোমার মধ্যে লোকে ঘুষ গ্রহণ করে; তুমি সুদ ও বৃদ্ধি নেও, লোভে জুলুম করে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে লাভ করেছ এবং আমাকেই ভুলে গিয়েছ, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
13
অতএব দেখ, তুমি যে অন্যায় লাভ করেছ ও তোমার মধ্যে যে রক্তপাত হয়েছে, সেই কারণে আমি করে করাঘাত করেছি।
14 আমি যে সময় তোমার কাছ থেকে হিসেব নেব, সেই সময়ে তোমার অন্তঃকরণ কি সুস্থির থাকবে? তোমার হাত কি সবল থাকবে? আমি মাবুদ এই কথা বললাম, আর তা সিদ্ধ করবো।
15 আমি তোমাকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন ও নানাদেশে ছড়িয়ে দেব এবং তোমার মধ্য থেকে তোমার নাপাকীতা দূর করবো।
16 তুমি নিজের দোষে জাতিদের সাক্ষাতে নাপাক হবে; তাতে তুমি জানবে যে, আমিই মাবুদ।
17
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
18 হে মানুষের সন্তান, ইসরাইল-কুল আমার কাছে খাদস্বরূপ হয়েছে; তারা সকলে হাপরের মধ্যে ব্রোঞ্জ, দস্তা, লোহা ও সীসার মত; তারা রূপার খাদের মত হয়েছে।
19 অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা সকলে খাদ হয়ে গেছ, এজন্য দেখ, আমি তোমাদের জেরুশালেমের মধ্যে একত্র করবো।
20 যেমন লোকে আগুনে ফুঁ দিয়ে গলাবার জন্য রূপা, ব্রোঞ্জ, লোহা, সীসা ও দস্তা হাপরের মধ্যে একত্র করে, তেমনি আমি আমার ক্রোধে ও প্রচণ্ড কোপে তোমাদের একত্র করবো এবং সেখানে রেখে গলাব।
21 হ্যাঁ, আমি তোমাদের সংগ্রহ করে আমার ক্রোধের আগুনে ফুঁ দেব, তাতে তোমরা তার মধ্যে গলে যাবে।
22 যেমন হাপরের মধ্যে রূপা গলানো হয়, তেমনি তার মধ্যে তোমাদেরকে গলানো হবে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমি মাবুদ তোমাদের উপরে আমার গজব ঢাললাম।
23
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
24 হে মানুষের সন্তান, তুমি দেশকে বল, তুমি এমন একটি দেশ, যা পরিষ্কৃত হয় নি ও ক্রোধের দিনে বৃষ্টিতে সিক্ত হয় নি।
25 সেখানকার নেতৃবর্গ সেখানে চাক্রান্ত করে; তারা এমন গর্জনকারী সিংহের মত, যে শিকার ছিন্নভিন্ন করে; তারা প্রাণীদেরকে গ্রাস করেছে; তারা ধন ও বহুমূল্য বস্তু হরণ করে; তারা সেখানে অনেক স্ত্রীকে বিধবা করেছে।
26 সেখানকার ইমামেরা আমার শরীয়তের প্রতি দৌরাত্ম্য করেছে ও আমার পবিত্র বস্তু সকল নাপাক করেছে, পবিত্র ও সামান্যের মধ্যে কোন প্রভেদ রাখে নি, পাক-নাপাকীতার মধ্যে কোন প্রভেদ শিক্ষা দেয় নি ও আমার বিশ্রামবারগুলোর প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে, আর আমি তাদের মধ্যে নাপাক হচ্ছি।
27 সেখানকার কর্মকর্তারা সেখান এমন নেকড়ে বাঘের মত, যারা শিকার ছিন্নভিন্ন করে; তারা রক্তপাত করে, প্রাণ বিনাশ করে, যেন অন্যায় লাভ পেতে পারে।
28 আর সেখানকার নবীদের তাদের জন্য চুন দিয়ে দেয়াল লেপণ করেছে, তারা মিথ্যা দর্শন পায় ও তাদের জন্য মিথ্যাকথারূপ মন্ত্র পড়ে; মাবুদ কথা না বললেও তারা বলে, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন।
29 দেশের লোকেরা ভারী জুলুম করেছে, পরের দ্রব্য বলপূর্বক অপহরণ করেছে, দুঃখী দরিদ্রের প্রতি দৌরাত্ম্য করেছে এবং বিদেশীর প্রতি অন্যায়পূর্বক জুলুম করেছে।
30 আর আমি যেন দেশ বিনষ্ট না করি, এজন্য তাদের মধ্যে এমন এক জন পুরুষকে খোঁজ করলাম, যে তার প্রাচীর সারাবে ও দেশের নিমিত্ত আমার সম্মুখে তার ফাটলে দাঁড়াবে, কিন্তু পেলাম না।
31 এজন্য আমি তাদের উপরে আমার গজব বর্ষণ করলাম; আমি আমার কোপাগ্নি দ্বারা তাদেরকে সংহার করলাম; তাদের কাজের ফল তাদের মাথায় বর্তালাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, দু’টি স্ত্রীলোক ছিল, তারা এক মায়ের কন্যা।
3 তারা যৌবনকালেই মিসরে জেনা করলো; সেখানে তাদের স্তন মর্দিত হত, সেখানে লোকেরা তাদের কৌমার্যকালীন চুচুক টিপতো।
4 তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠার নাম অহলা [তার তাঁবু] ও তার বোনের নাম অহলীবা [তার মধ্যে আমার তাঁবু]; তারা আমার হল এবং পুত্রকন্যা প্রসব করলো। তাদের নামের তাৎপর্য হল এই— অহলা সামেরিয়া ও অহলীবা জেরুশালেম।
5
আমার থাকতে অহলা জেনা করলো, নিজের প্রেমিকদের প্রতি, নিকটবর্তী আসেরীয়দের প্রতি কামাসক্তা হল;
6 এরা নীল রংয়ের পোশাক পরা, শাসনকর্তা ও সেনাপতিরা, সকলেই মনোহর যুবক ও ঘোড়সওয়ার যোদ্ধা।
7 সে তাদের অর্থাৎ সমস্ত উচ্চপদস্থ আসেরীয়া-সন্তানের সঙ্গে জেনা করতো এবং যাদের প্রতি কামাসক্তা হত, তাদের সমস্ত মূর্তি দিয়ে সে নিজেকে নাপাক করতো।
8 আবার সে মিসরে যে জেনা করতো তা এখনও পরিত্যাগ করে নি; কেননা তার যৌবনকালে লোকে তার সঙ্গে শয়ন করতো, তারাই তার কৌমার্যকালীন চুচুক টিপতো ও তার সঙ্গে রতিক্রিয়া করতো।
9 এজন্য আমি তার প্রেমিকদের হাতে— সে যাদের প্রতি কামাসক্তা ছিল, সেই আসেরীয়দের হাতে তাকে তুলে দিলাম।
10 তারা তার উলঙ্গতা অনাবৃত করলো, তার পুত্রকন্যাদের হরণ করে তাকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করলো; এভাবে স্ত্রীলোকদের মধ্যে তার অখ্যাতি হল, কারণ লোকেরা তাকে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দিল।
11
এসব দেখেও তার বোন অহলীবা তার কামাসক্তিতে তার চেয়েও, হ্যাঁ, পতিতাবৃত্তিতে সেই বোনের চেয়েও বেশি ভ্রষ্ট হল।
12 সে নিকটবর্তী আসেরীয়দের প্রতি— শাসনকর্তা ও সেনাপতিদের প্রতি কামাসক্তা হল; তারা জমকালো পোশাক-পরিহিত ঘোড়সওয়ার যোদ্ধা, সকলেই মনোহর যুবক।
13 আর আমি দেখলাম, সে নাপাক, উভয়ে একই পথে চলছে।
14 আর সে তার পতিতাবৃত্তি বাড়াল, কেননা সে দেয়ালে চিত্রিত পুরুষদেরকে অর্থাৎ কল্দীয়দের লাল রংয়ে আঁকা প্রতিরূপ দেখলো;
15 তাদের কোমরবন্ধনী, তাদের মাথায় রঙীন দীর্ঘ পাগড়ী, তারা সকলে দেখতে সেনানীদের মত, কল্দীয় দেশজাত ব্যাবিলনীয়দের রূপবিশিষ্ট।
16 তাদেরকে দেখামাত্র সে কামাসক্তা হয়ে কল্দীয় দেশে তাদের কাছে দূত প্রেরণ করলো।
17 তাতে ব্যাবিলনীয়েরা তার কাছে এসে প্রেমের বিছানায় শয়ন করলো ও জেনা করে তাকে ভ্রষ্ট করলো; সে তাদের দ্বারা নাপাক হল, পরে তাদের প্রতি তার প্রাণে ঘৃণা হল।
18 সে তার পতিতাবৃত্তি প্রকাশ করলো, তার উলঙ্গতা অনাবৃত করলো; তাতে আমার প্রাণে তার বোনের প্রতি যেমন ঘৃণা হয়েছিল, তার প্রতিও তেমনি ঘৃণা হল।
19 আর সে তার পতিতাবৃত্তি বাড়িয়ে তুলল, যে সময়ে মিসর দেশে পতিতাবৃত্তি করতো, নিজের সেই যৌবনকাল স্মরণ করলো।
20 কেননা গাধার মত মাংসবিশিষ্ট ও ঘোড়ার মত রেতোবিশিষ্ট তাদের শৃঙ্গারকারিগণে সে কামাসক্তা হল।
21 এভাবে, মিসরীয়েরা যে সময়ে কৌমার্যকালীন স্তন বলে তোমার চুচুক টিপতো, তুমি পুনর্বার সেই যৌবনকালীয় কুকর্মের চেষ্টা করেছ।
22
এজন্য, হে অহলীবা, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, তোমার প্রাণে যাদের প্রতি ঘৃণা হয়েছে, তোমার সেই প্রেমিকদের আমি তোমার বিরুদ্ধে দাঁড় করাব, চারদিক থেকে তাদের তোমার বিরুদ্ধে আনবো।
23 ব্যাবিলনীয়েরা এবং কল্দীয়েরা সকলে, পকোদ, শোয়া ও কোয়া এবং তাদের সঙ্গে সমস্ত আসেরিয়দের আনা হবে; তারা সকলে মনোহর যুবক, শাসনকর্তা, সেনাপতি, উচ্চপদস্থ লোক, সকলে যোদ্ধা ও ঘোড়সওয়ার।
24 তারা অস্ত্রশস্ত্র, রথ, ঘোড়ার গাড়ি ও জাতিসমাজ সঙ্গে নিয়ে তোমার বিরুদ্ধে আসবে। তারা বর্ম, ঢাল ও টোপর ধরে তোমার বিরুদ্ধে চারদিকে উপস্থিত হবে; এবং আমি তাদের হাতে বিচারের ভার তুলে দেব, তারা নিজেদের অনুশাসন অনুসারে, তোমার বিচার করবে।
25 আর আমি আমার অন্তর্জ্বালা তোমার বিরুদ্ধে স্থাপন করবো; তারা তোমার প্রতি কোপে ব্যবহার করবে; তারা তোমার নাক ও কান কেটে ফেলবে ও তোমার অবশিষ্ট লোকেরা তলোয়ারে আঘাতে মারা পড়বে; তারা তোমার পুত্রকন্যাদের হরণ করবে ও তোমার অবশিষ্ট লোকেরা আগুনে পুড়ে মারা যাবে।
26 তারা তোমাকে বিবস্ত্রা করবে ও তোমার সুন্দর গহনাগুলো হরণ করবে।
27 এভাবে আমি তোমার কুকর্ম ও মিসর দেশ থেকে কৃত তোমার পতিতাবৃত্তি নিবৃত্ত করবো, তাতে তুমি ওদের প্রতি আর দৃষ্টিপাত করবে না এবং মিসরকেও আর স্মরণ করবে না।
28 কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, তুমি যাদেরকে হিংসা করছো, যাদের প্রতি তোমার প্রাণে ঘৃণা হয়েছে, তাদের হাতে আমি তোমাকে তুলে দেব।
29 তারা তোমার প্রতি হিংসা করবে ও তোমার সমস্ত শ্রমফল হরণ করবে এবং তোমাকে উলঙ্গিনী ও বিবস্ত্রা করে পরিত্যাগ করবে, তাতে তোমার জেনা-ঘটিত উলঙ্গতা, তোমার কুকর্ম ও তোমার পতিতাবৃত্তি, অনাবৃত হবে।
30 তুমি জাতিদের পিছনে চলে জেনা করেছ, তাদের মূর্তিগুলো দ্বারা নাপাক হয়েছ, এজন্য এসব তোমার প্রতি করা যাবে।
31 তুমি তোমার বোনের পথে গমন করেছ, এজন্য আমি তার পানপাত্র তোমার হাতে দেব।
32 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি তোমার বোনের পাত্রে পান করবে, সেই পাত্র গভীর ও বড়; তুমি পরিহাসের বিষয় হবে; সেই পাত্রে অনেকটা ধরে।
33 তুমি মাতলামী ও খেদে, বিস্ময়ের ও ধ্বংসের পাত্রে, তোমার বোন সামেরিয়ার পাত্রে পরিপূর্ণা হবে।
34 তুমি তাতে পান করবে, গাদও খেয়ে ফেলবে এবং তার খোলা চাটবে ও নিজের স্তন বিদীর্ণ করবে; কেননা আমি এই কথা বললাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
35 অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছ, আমাকে পিছনে ফেলেছ, সেজন্য তুমি আবার তোমার কুকর্মের ও পতিতাবৃত্তির ভার বহন কর।
36
মাবুদ আমাকে আরও বললেন, হে মানুষের সন্তান, তুমি কি অহলার ও অহলীবার বিচার করবে? তবে তাদের ঘৃণার কাজগুলোর কথা তাদেরকে জানাও।
37 কেননা তারা জেনার কাজ করেছে ও তাদের হাতে রক্ত আছে; তারা তাদের মূর্তিগুলোর সঙ্গে জেনা করেছে এবং আমার জন্য প্রসূত তাদের সন্তানদেরকে মূর্তিগুলোর খাবার হিসেবে আগুনের মধ্য দিয়ে গমন করিয়েছে।
38 তারা আমার প্রতি আরও এই অপকর্ম করেছে, সেদিন আমার পবিত্র স্থান নাপাক করেছে এবং তারা আমার বিশ্রামবার নাপাক করেছে।
39 কারণ যখন তারা তাদের মূর্তিগুলোর উদ্দেশে নিজ নিজ বালকদেরকে জবেহ্ করতো, তখন সেদিন আমার পবিত্র স্থানে এসে তা নাপাক করতো; আর দেখ, আমার গৃহের মধ্যে তারা এই কাজ করেছে।
40
এছাড়া, তোমরা দূরস্থ পুরুষদের আনবার জন্য দূত প্রেরণ করেছ; দূত প্রেরিত হলে, দেখ, তারা আসল; তুমি তাদের জন্য গোসল করলে, চোখে অঞ্জন দিলে ও অলঙ্কারে নিজেকে বিভূষিত করলে;
41 পরে রাজকীয় বিছানায় বসে তার সামনে টেবিল সাজিয়ে তার উপরে আমার ধূপ ও আমার তেল রাখলে।
42 আর তার সঙ্গে নিশ্চিন্ত লোকারণ্যের কলরব হল এবং সাধারণ লোকদের সঙ্গে মরুভূমি থেকে মদ্যপায়ীদের আনা হল, তারা ঐ দুই রমণীর হাতে কঙ্কণ ও মাথায় সুন্দর মুকুট দিল।
43
তখন জেনার কাজে যে দুর্বল, সেই স্ত্রীর সম্বন্ধে আমি বললাম, এখন তারা এর সঙ্গে এবং এ তাদের সঙ্গে জেনা করবে।
44 আর পুরুষেরা যেমন পতিতার কাছে গমন করে, তেমনি তারা ওর কাছে গমন করতো; এভাবে তারা অহলার ও অহলীবার, সেই দুই কুকর্মকারিণী রমণীর কাছে গমন করতো।
45 আর ধার্মিক ব্যক্তিরাই জেনাকারীণী ও রক্তপাতকারিণীদের বিচার অনুসারে তাদের বিচার করবে; কেননা তারা জেনাকারিণী ও তাদের হাতে রক্ত আছে।
46
বস্তুত সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে জনসমাজ আন এবং তাদেরকে ভেসে বেড়াতে ও লুটদ্রব্য হতে দাও।
47 সেই সমাজ তাদেরকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে ও নিজেদের তলোয়ার দ্বারা খণ্ড খণ্ড করবে; তারা তাদের পুত্রকন্যাদেরকে হত্যা করবে এবং তাদের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
48 এই ভাবে আমি দেশ থেকে কুকর্ম নিবৃত্ত করবো, তাতে সমস্ত স্ত্রীলোক শিক্ষা পাবে, তোমাদের কুকর্মের মত আচরণ করবে না।
49 আর লোকেরা তোমাদের কুকর্মের বোঝা তোমাদের উপরে রাখবে এবং তোমরা নিজেদের মূর্তি-সম্বন্ধীয় সকল গুনাহ্ বহন করবে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম মাবুদ।
1
আর নবম বছরের দশম মাসের দশম দিনে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি এই দিনের, আজকের এই দিনের নাম লিখে রাখ, আজকের এই দিনে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ জেরুশালেমের কাছে আসল।
3 তুমি সেই বিদ্রোহী-কুলের উদ্দেশে একটি দৃষ্টান্তকথা বল, তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হাঁড়ি চড়াও, তার মধ্যে পানিও দাও।
4 তার মাংসখণ্ডগুলো, প্রত্যেক উত্তম খণ্ড, ঊরু ও কাঁধ তার মধ্যে একত্র কর; উৎকৃষ্ট অস্থিগুলো দিয়ে তা পূর্ণ কর।
5 পালের মধ্যে যে ভেড়া উৎকৃষ্ট তা গ্রহণ কর এবং হাঁড়ির নিচে অস্থি সাজাও, তা সুসিদ্ধ কর এবং তার মধ্যে অস্থি সকলও রান্না করা হোক।
6
অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ধিক্ সেই রক্তপূর্ণা পুরীকে, সেই হাঁড়িকে, যার মধ্যে কলঙ্ক আছে ও যার কলঙ্ক তার মধ্য থেকে বের হয় নি! তুমি খণ্ড খণ্ড করে তার সমুদয় বের কর, তার বিষয়ে গুলিবাঁট করা হয় নি।
7 কেননা তার রক্ত তার মধ্যে আছে; সে শুকনো পাষাণের উপরে তা রেখেছে, ধূলি দ্বারা আচ্ছাদিত করার জন্য মাটির উপরে তা ঢালে নি।
8 ক্রোধ উৎপাদন করার জন্য, প্রতিশোধ নেবার জন্য, আমি তার রক্ত শুকনো পাষাণের উপরে রেখেছি, যেন আচ্ছাদিত না হয়।
9
অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ধিক্ সেই রক্তপূর্ণা পুরীকে!
10 আমিও বিশাল রাশি সাজাব। বিস্তর কাঠ দাও, আগুন প্রজ্বলিত কর, গোশ্ত সুসিদ্ধ কর, সুরস ঝোল কর, অস্থিগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হোক।
11 পরে হাঁড়ি শূন্য হলে তার অঙ্গারের উপরে তা স্থাপন কর, যেন তা তপ্ত হলে তার ব্রোঞ্জ পুড়ে লাল হয় এবং তার মধ্যে তার নাপাকীতা গলে যায় ও তার কলঙ্ক নিঃশেষিত হয়।
12 সে পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়েছে, তবুও তার কলঙ্কের পুরু স্তর তার মধ্য থেকে পরিস্কার করা যায় নি, সেজন্য তা আগুনে ফেলে দেওয়া হোক।
13 তোমার নাপাকীতার কুকর্ম আছে; আমি তোমাকে পবিত্র করলেও তুমি পবিত্র হলে না, এজন্য তুমি তোমার নাপাকীতা থেকে আর পাক-পবিত্র হবে না, যতদিন না আমি তোমার উপরে আমার গজব ঢেলে দিয়ে শান্ত না হবো।
14 আমি মাবুদ এই কথা বললাম; এই কথা সফল হবে, আমি তা সাধন করবো, ক্ষান্ত হব না, রহম করবো না, অনুশোচনাও করবো না; তোমার আচরণ ও তোমার কাজ যেরকম, সেই অনুসারে বিচার করা যাবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15
আরও মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
16 হে মানুষের সন্তান, দেখ, আমি আঘাত দ্বারা তোমার নয়নের প্রীতিপাত্রকে তোমা থেকে হরণ করবো; তবুও তুমি মাতম বা কান্নাকাটি করবে না এবং তোমার অশ্রুপাতও হবে না।
17 দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়, নীরব হও, মৃতের জন্য মাতম করো না; তুমি মাথায় পাগড়ী বাঁধ ও পায়ে জুতা দাও; তুমি ওষ্ঠাধর ঢেকো না ও লোকদের পাঠানো রুটি খেয়ো না।
18 তখন আমি খুব ভোরে লোকদের সঙ্গে কথা বললাম; পরে সন্ধ্যাবেলা আমার স্ত্রীর মৃত্যু হল; এবং খুব ভোরে আমি যে হুকুম পেয়ে ছিলাম সেই অনুযায়ী কাজ করলাম।
19
আর লোকেরা আমাকে বললো, এদের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ কি যে, তুমি এরকম করছো? তা কি আমাদেরকে জানাবে না?
20 তখন আমি তাদেরকে বললাম, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
21 তুমি ইসরাইল-কুলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমার যে পবিত্র স্থান তোমাদের শক্তির গর্ব, তোমাদের নয়নের প্রীতিপাত্র ও তোমাদের প্রাণের মমতার বস্তু, তা-ই আমি নাপাক করবো এবং তোমাদের যে পুত্রকন্যাদেরকে ত্যাগ করেছ, তারা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
22 তখন তোমরা আমার এই কাজের মত কাজ করবে, ওষ্ঠাধর আচ্ছাদন করবে না ও লোকদের প্রেরিত রুটি খাবে না।
23 তোমরা মাথায় পাগড়ী ও পায়ে জুতা পড়বে, মাতম বা কান্নাকাটি করবে না, কিন্তু নিজ নিজ অপরাধে ক্ষীণ হয়ে যাবে এবং এক জন অন্য জনের কাছে কোঁকাবে।
24 এভাবে ইহিস্কেল তোমাদের জন্য চিহ্নস্বরূপ হবে; সে যা যা করলো, তোমরা সেসবই করবে; তা যখন ঘটবে, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম মাবুদ।
25
আর, হে মানুষের সন্তান, যেদিন আমি তাদের শক্তি, তাদের শোভার আমোদ, তাদের নয়নের প্রীতিপাত্র ও প্রাণের আকাঙিক্ষত বস্তু, তাদের পুত্রকন্যাদেরকে তাদের থেকে হরণ করবো,
26 সেদিন কি তা তোমাকে অবগত করার জন্য পলাতক ব্যক্তি তোমার কাছে আসবে না?
27 সেদিন পলাতকের কাছে তোমার মুখ খোলা যাবে, তাতে তুমি কথা বলবে, আর বোবা থাকবে না; এভাবে তুমি তাদের জন্য চিহ্নস্বরূপ হবে; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি অম্মোনীয়দের দিকে মুখ রাখ ও তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
3 তুমি অম্মোনীয়দেরকে বল, তোমরা সার্বভৌম মাবুদের কালাম শোন। সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি আমার পবিত্র স্থান অপবিত্র করা হয়েছে দেখে তার বিষয়ে, ইসরাইল-ভূমি ধ্বংস হতে দেখে তার বিষয়ে এবং এহুদা-কুল বন্দী হয়ে যাত্রা করেছে দেখে তার বিষয়ে, বলেছ, ‘বাহবা, বাহবা’;
4 এজন্য দেখ, আমি তোমাকে অধিকার হিসেবে পূর্বদেশের লোকদের হাতে তুলে দেব, তারা তোমার মধ্যে তাদের শিবির স্থাপন করবে ও তোমার মধ্যে তাদের তাঁবু ফেলবে; তারাই তোমার ফল ভোজন করবে ও তোমার দুধ পান করবে।
5 আর আমি রব্বাকে উটের বাথান ও অম্মোনীয়দের দেশকে ছাগল-ভেড়ার পালের বিশ্রাম-স্থান করবো; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
6 কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি ইসরাইল দেশের বিরুদ্ধে হাততালি দিয়েছ, পদাঘাত করেছ ও প্রাণের সঙ্গে সমপূর্ণ অবজ্ঞাভাবে আনন্দ করেছ।
7 এজন্য দেখ, আমি তোমার বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়েছি, জাতিদের লুটদ্রব্য হিসেবে তোমাকে তুলে দেব, জাতিদের মধ্য থেকে তোমাকে কেটে ফেলবো, দেশগুলোর মধ্য থেকে তোমাকে ধ্বংস করে দেব; আমি তোমাকে মুছে ফেলবো, তাতে তুমি জানবে যে, আমিই মাবুদ।
8
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, মোয়াব ও সেয়ীর বলছে, দেখ, এহুদা-কুল, অন্য সকল জাতির মত।
9 এজন্য দেখ, আমি মোয়াবের পাশ নগরগুলোর দিকে খুলে দেব, অর্থাৎ তার চারদিকের সকল নগরে, বিশেষত দেশের ভূষণ বৈৎ-যিশীমোতে, বাল্-মিয়োনে ও কিরিয়াথয়িমে,
10 অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে পূর্বদেশের লোকদের জন্য পথ প্রস্তুত করে দেশ অধিকারের জন্য দেব, এভাবে জাতিদের মধ্যে অম্মোনীয়দের আর স্মরণ করা হবে না।
11 আর আমি মোয়াবকে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেব, তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
12
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ইদোম প্রতিশোধ নেবার উদ্দেশ্যে এহুদা-কুলের প্রতি কাজ করেছে ও নিতান্ত দণ্ডনীয় হয়েছে, তাদের প্রতিশোধ নিয়েছে;
13 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি ইদোমের উপরে আমার হাত বাড়িয়ে দেবো, তার মধ্য থেকে মানুষ ও পশু মুছে ফেলব, আমি তৈমন থেকে তার দেশ উৎসন্ন স্থান করবো ও দদান পর্যন্ত তার লোক তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
14 আর ইদোমের উপরে আমার প্রতিশোধ নেবার ভার আমার লোক ইসরাইলের হাতে তুলে দেব, তাতে আমার ক্রোধ অনুসারে ও আমার গজব অনুসারে তারা ইদোমের প্রতি ব্যবহার করবে, তখন ওরা জানতে পারবে যে, আমি প্রতিশোধ নিয়েছি; সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন।
15
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ফিলিস্তিনীরা প্রতিশোধ নেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করেছে, হ্যাঁ, চিরশত্রুতার কারণে বিনাশ করার জন্য প্রাণের অবজ্ঞার সঙ্গে প্রতিশোধ নিয়েছে;
16 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি ফিলিস্তিনীদের উপরে আমার হাত বাড়িয়ে দেব, করেথীয়দেরকে কেটে ফেলব এবং সমুদ্রের উপকূলের অবশিষ্ট সকলকে বিনষ্ট করবো।
17 আর আমি কোপের কারণে নানা ভর্ৎসনা দ্বারা তাদের উপরে চরম প্রতিশোধ নেব; আমি যখন তাদের প্রতিশোধ নেব, তখন তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আর একাদশ বছরে, মাসের প্রথম দিনে, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, জেরুশালেমের বিষয়ে টায়ার বলেছে, ‘বাহবা, জাতিদের তোরণদ্বার ভেঙ্গে গেছে; সে আমার দিকে ফিরেছে; আমি পূর্ণা হব, সে তো উচ্ছিন্ন হয়েছে;
3 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে টায়ার, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; সমুদ্র যেমন তরঙ্গ সৃষ্টি করে, তেমনি তোমার বিপক্ষে আমি অনেক জাতিকে দাঁড় করাব।
4 তারা টায়ারের প্রাচীর বিনষ্ট করবে, তার উচ্চগৃহগুলো ভেঙ্গে ফেলবে; এবং আমি সেই নগরের ধূলি তা থেকে চেঁচে ফেলবো ও তাকে শুকনো পাষাণ করবো।
5 সে সমুদ্রের মধ্যে জাল বিস্তার করার স্থান হবে, কেননা আমিই এই কথা বললাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; আর সে জাতিদের লুটদ্রব্য হবে।
6 আর জনপদে তার যে কন্যারা আছে, তারা তলোয়ারের আঘাতে নিহত হবে; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
7
কারণ সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমিই উত্তর দিক থেকে ঘোড়া, রথ ও ঘোড়সওয়ারদের এবং জনসমাজের ও অনেক সৈন্যের সঙ্গে বাদশাহ্দের বাদশাহ্ ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারকে আনিয়ে সোরে উপস্থিত করবো।
8 সে জনপদে অবস্থানরত তোমার কন্যাদের তলোয়ারে আঘাতে হত্যা করবে, তোমার বিরুদ্ধে গড় গাঁথবে, তোমার বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধবে ও তোমার বিরুদ্ধে ঢাল উত্তোলন করবে।
9 আর সে তোমার প্রাচীরে উচ্চগৃহ-ভেদক যন্ত্র স্থাপন করবে ও তার ধারালো অস্ত্র দ্বারা তোমার উচ্চগৃহগুলো ভেঙ্গে ফেলবে।
10 তার এত বেশি ঘোড়া থাকবে যে, তাদের ধূলি তোমাকে আচ্ছাদন করবে; সে যখন ভগ্নপ্রাচীর নগরে প্রবেশের মত তোমার দ্বার দিয়ে ভিতরে যাবে, তখন ঘোড়সওয়ারদের, চাকার ও রথের শব্দে তোমার প্রাচীর কাঁপবে।
11 সে তার ঘোড়াগুলোর খুরে তোমার সমস্ত পথ দলিত করবে, তলোয়ার দ্বারা তোমার লোকদেরকে হত্যা করবে ও তোমার পরাক্রমসূচক স্তম্ভগুলো ভূমিসাৎ হবে।
12 ওরা তোমার সম্পত্তি লুট করবে, তোমার বাণিজ্য-দ্রব্য হরণ করবে, তোমার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলবে ও তোমার মনোরম বাড়িগুলো ধ্বংস করবে; এবং তারা তোমার পাথর, কাঠ ও ধূলি পানির মধ্যে নিক্ষেপ করবে।
13 আর আমি তোমার গানের আওয়াজ বন্ধ করে দেব; এবং তোমার বীণার ধ্বনি আর শোনা যাবে না।
14 আর আমি তোমাকে শুকনো পাষাণ করবো; তুমি জাল বিস্তার করার স্থান হবে; তুমি আর নির্মিত হবে না; কেননা আমি মাবুদ এই কথা বললাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15
সার্বভৌম মাবুদ টায়ারকে এই কথা বলেন, তোমার পতনের শব্দে, তোমার মধ্যে আহত লোকদের কোঁকানিতে ও ভয়ানক নরহত্যায় উপকূলগুলো কি কাঁপবে না?
16 তখন সমুদ্রের নেতৃবর্গ সকলে তাদের সিংহাসন থেকে নামবে, তাদের রাজ-পোশাক, কারুকার্যমণ্ডিত কাপড়গুলো খুলে ফেলবে; তারা ত্রাস পরিধান করবে; তারা ভূমিতে বসবে, সর্বক্ষণ ভয়ে কাঁপবে ও তোমার বিষয়ে বিস্ময়াপন্ন হবে।
17 আর তারা তোমার বিষয়ে মাতম করে তোমাকে বলবে, হে সমুদ্র থেকে উৎপন্ন স্থান-নিবাসিনী, তুমি কেমন বিনষ্ট হলে! সেই বিখ্যাত পুরী, যে তার নিবাসীদের সঙ্গে সমুদ্রে শক্তিশালী ছিল, তারা তার সমস্ত অধিবাসীর উপর তাদের ভয়ানক ক্ষমতা অর্পণ করতো।
18 এখন তোমার পতনের দিনে উপকূলগুলো কাঁপছে, তোমার শেষগতিতে সমুদ্রস্থিত দ্বীপগুলো ভীষণ ভয় পাচ্ছে।
19
কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, যখন আমি নিবাসীহীন নগরগুলোর মত তোমাকে উচ্ছিন্ন নগর করবো, যখন আমি তোমার উপরে জলধি উঠাবো ও মহৎ জলরাশি তোমাকে আচ্ছাদন করবে,
20 তখন আমি তোমাকে পাতালগামীদের সঙ্গে প্রাচীনকালের লোকদের কাছে নামাব এবং পাতালে, চিরকালীন ধ্বংসের স্থানে, পাতালগামী সকলের সঙ্গে বাস করাব, তাতে তুমি আর বসতিস্থান পাবে না; এবং জীবিতদের দেশে তোমার শোভা আর দেখাবে না।
21 আমি তোমাকে ত্রাসস্বরূপ করবো, তুমি আর থাকবে না; লোকেরা তোমার খোঁজ করলেও আর কখনও তোমাকে পাবে না, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
আবার মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি টায়ারের বিষয়ে মাতম কর।
3 টায়ারকে বল, হে সমুদ্রের প্রবেশস্থান-নিবাসিনী, অনেক উপকূলবর্তী জাতিদের বণিক, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে টায়ার, তুমি বলছো, আমি পরমাসুন্দরী।
4 সমুদ্রগুলোর মধ্যস্থলে তোমার স্থান আছে; তোমার নির্মাণকারীরা তোমাকে সৌন্দর্যময়ী করেছে।
5 তারা সনীরীয় দেবদারু কাঠ দিয়ে তোমার সমস্ত তক্তা প্রস্তুত করেছে, তোমার জন্য মাস্তুল প্রস্তুত করার জন্য লেবানন থেকে এরস গাছ এনেছে।
6 তারা বাশন দেশীয় অল্লোন গাছ থেকে তোমার দাঁড় প্রস্তুত করেছে; সাইপ্রাস উপকূলগুলো থেকে আনা তাশূর কাঠ দিয়ে খচিত হাতির দাঁত দ্বারা তোমার পাটাতন নির্মাণ করেছে।
7 তোমার নিশান হবার জন্য মিসর দেশ থেকে আনা সূচী-কর্মে চিত্রিত মসীনা-কাপড় তোমার পাল ছিল; ইলীশার উপকূলগুলো থেকে আনা নীল ও বেগুনী কাপড় ছিল তোমার আচ্ছাদন।
8 সিডন ও অর্বদ-নিবাসীরা তোমার দাঁড়ী ছিল; হে টায়ার, তোমার জ্ঞানবানেরা তোমার মধ্যে তোমার নাবিক ছিল।
9 গবালের প্রাচীনবর্গরা ও জ্ঞানবানেরা তোমার মধ্যে তোমার মেরামতের মিস্ত্রি ছিল। সমুদ্রগামী সমস্ত জাহাজ ও তাদের নাবিকরা তোমার বাণিজ্যদ্রব্যের বিনিময় করার জন্য তোমার মধ্যে ছিল।
10 পারস্য, লূদ ও পূট দেশীয়েরা তোমার সৈন্যসামন্তের মধ্যে তোমার যোদ্ধা ছিল; তারা তোমার মধ্যে ঢাল ও শিরস্ত্রাণ টাঙ্গিয়ে রাখত; তারাই তোমার শোভা সমপাদন করেছে।
11 অর্বদের লোক তার সৈন্যসামন্তের সঙ্গে চারদিকে তোমার প্রাচীরের উপরে ছিল, যুদ্ধবীরেরা তোমার সকল উচ্চগৃহে ছিল, তারা চারদিকে তোমার প্রাচীরে তাদের ঢাল টাঙ্গিয়ে রাখত; তারাই তোমাকে নিখুঁত সৌন্দর্যের অধিকারী করেছে।
12
সমস্ত রকম ধনের প্রাচুর্যের দরুন তর্শীশ তোমার বণিক ছিল; তারা রূপা, লোহা, দস্তা ও সীসা দিয়ে তোমার পণ্য পরিশোধ করতো।
13 গ্রীস, তূবল ও মেশক তোমার ব্যবসায়ী ছিল; তারা কেনা-গোলাম ও তৈজসপত্র দিয়ে তোমার বাণিজ্যদ্রব্যের বিনিময় করতো।
14 বৈৎ-তোগর্মের লোকেরা ঘোটক, যুদ্ধের ঘোড়া ও খচ্চর এনে তোমার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতো।
15 দদানের লোকেরা তোমার ব্যবসায়ী ছিল, অনেক উপকূল তোমার করায়ত্ত হাট ছিল; তারা হাতির দাতের শিং ও আব্লুস কাঠ তোমার মূল্য হিসেবে আনত।
16 তোমার তৈরি প্রচুর দ্রব্যের দরুন অরাম তোমার বণিক ছিল; সেখানকার লোকেরা তাম্রমণি, বেগুনে ও বুটিদার কাপড়, মসীনার কাপড় এবং প্রবাল ও পদ্মরাগমণি দিয়ে তোমার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতো।
17 এহুদা এবং ইসরাইল-দেশ তোমার ব্যবসায়ী ছিল; সেখানকার লোকেরা মিন্নীতের গম, পক্কান্ন, মধু, তেল ও ওষুধ দিয়ে তোমার বাণিজ্যদ্রব্যের বিনিময় করতো।
18 সমস্ত রকমের প্রচুর ধন-সম্পদের কারণে ও তোমার নির্মিত দ্রব্যের প্রাচুর্যের জন্য দামেস্ক তোমার বণিক ছিল, সেখানকার লোকেরা হিল্বোনের আঙ্গুর-রস ও শুভ্র ভেড়ার লোম আনত।
19 বদান ও গ্রীস উষল থেকে এসে তোমার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতো; তোমার বিনিময় যোগ্য দ্রব্যের মধ্যে পিটানো লোহা, দারচিনি ও দারুচিনি থাকতো।
20 দদান রথে বিছাবার গালিচা সম্বন্ধে তোমার ব্যবসায়ী ছিল।
21 আরব এবং কায়দারের নেতৃবর্গরা সকলে তোমার অধীনস্ত বণিক ছিল, ভেড়ার বাচ্চা, ভেড়া ও ছাগ, এসব বিষয়ে তারা তোমার বণিক ছিল।
22 সাবার ও রয়মার ব্যবসায়ীরাও তোমার ব্যবসায়ী ছিল; তারা সমস্ত রকম শ্রেষ্ঠ গন্ধদ্রব্য ও সমস্ত রকম বহুমূল্য পাথর এবং সোনা দিয়ে তোমার পণ্য পরিশোধ করতো।
23 হারণ, কন্নী, এদন, সাবার এই ব্যবসায়ীরা এবং আশেরিয়া ও কিল্মদ তোমার ব্যবসায়ী ছিল।
24 এরা তোমার ব্যবসায়ী ছিল; এরা অপূর্ব পোশাক এবং নীল রংয়ের ও বুটিদার কাপড় ও শিল্পীত পোশাক, দড়িতে বাঁধা এরস কাঠের সিন্দুকে করে, তোমার বিক্রয় স্থানে আনয়ন করতো।
25 তর্শীশের জাহাজগুলো দ্রব্য-বিনিময়ে তোমার কাফেলা ছিল; এভাবে তুমি পরিপূর্ণা ছিলে, সমুদ্রগুলোর মধ্যস্থলে অতিশয় প্রতাপান্বিতা ছিলে।
26
তোমার দাঁড়ীরা তোমাকে গভীর পানিতে নিয়ে গেছে; পূর্বীয় বায়ু সমুদ্রগুলোর মধ্যস্থলে তোমাকে ভেঙ্গে ফেলেছে।
27 তোমার ধন, তোমার পণ্য দ্রব্যগুলো, তোমার বিনিময়যোগ্য দ্রব্যগুলো, তোমার নাবিকরা, তোমার কর্ণধারেরা, তোমার জাহাজ মেরামতের মিস্ত্রি ও দ্রব্য বিনিময়কারীরা এবং তোমার মধ্যবর্তী সমস্ত যোদ্ধা তোমার মধ্যস্থিত জনসমাজের সঙ্গে তোমার পতনের দিনে সমুদ্রগুলোর মাঝখানে ডুবে যাবে।
28 তোমার কর্ণধারদের ক্রন্দনের শব্দে উপনগরগুলো কেঁপে উঠবে।
29 আর সমস্ত দাঁড়ী, নাবিকরা, সমুদ্রগামী সমস্ত কর্ণধার নিজ নিজ জাহাজ থেকে নেমে স্থলে দাঁড়াবে,
30 তোমার জন্য চিৎকার করবে, ভীষণ কান্নাকাটি, নিজ নিজ মাথায় ধূলা দেবে ও ভস্মে গড়াগড়ি দেবে।
31 আর তারা তোমার জন্য মাথা মুণ্ডন করবে ও কোমরে চট বাঁধবে এবং তোমার জন্য মনের দুঃখে কান্না সহকারে তীব্র মাতম করবে।
32 আর তারা শোক করে তোমার জন্য মাতম করবে, তোমার বিষয়ে এই বলে মাতম করবে, ‘কে সমুদ্রের মধ্যস্থানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া টায়ারের সঙ্গে তুলনীয়?
33 যখন সমুদ্রগুলো থেকে তোমার পণ্য দ্রব্য নানা স্থানে যেত, তখন তুমি বহুসংখ্যক জাতিকে তৃপ্ত করতে; তোমার ধন ও প্রচুর বিনিময়-যোগ্য দ্রব্যের দরুন তুমি দুনিয়ার বাদশাহ্দেরকে ধনী করতে।
34 এখন তুমি সমুদ্র দ্বারা গভীর পানিতে ভেঙ্গে গেলে তোমার বিনিমেয় দ্রব্য ও তোমার সমস্ত সমাজ তোমার মধ্যে ডুবে গেল।
35 উপকূল-নিবাসীরা সকলে তোমার অবস্থায় বিস্ময়াপন্ন হয়েছে ও তাদের বাদশাহ্রা ভীষণ ভয় পেয়েছে, ভয়ে তাদের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে।
36 জাতিদের মধ্যবর্তী বণিকরা তোমার বিষয়ে শিস দেয়; তুমি ত্রাসস্বরূপ হলে এবং তুমি চিরকালের জন্য শেষ হয়ে যাবে।’
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি টায়ারের শাসনকর্তাকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার অন্তর গর্বিত হয়েছে, তুমি বলেছ, আমি দেবতা, আমি সমুদ্রগুলোর মধ্যস্থলে দেবতাদের আসনে বসে আছি; কিন্তু তুমি তো মানুষ মাত্র, দেবতা নও, তবুও তোমার অন্তরকে দেবতার অন্তরের মত বলে মনে করছো।
3 দেখ, তুমি দানিয়ালের চেয়েও জ্ঞানী, কোন নিগূঢ় কথা তোমার কাছে লুকানো নয়;
4 তোমার জ্ঞান ও বুদ্ধিতে তুমি নিজের জন্য ঐশ্বর্য উপার্জন করেছ, তার কোষে সোনা ও রূপা সঞ্চয় করেছ;
5 তোমার জ্ঞানের মহত্ত্বে বাণিজ্য দ্বারা নিজের ঐশ্বর্য বৃদ্ধি করেছ, তাই তোমার ঐশ্বর্যে তোমার অন্তর গর্বিত হয়েছে;
6 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি নিজের অন্তরকে দেবতাদের মত বলে মনে করছো;
7 এজন্য দেখ, আমি তোমার বিরুদ্ধে বিদেশীদেরকে আনবো, জাতিদের মধ্যে তারা ভীমবিক্রান্ত, তারা তোমার জ্ঞানসৌন্দর্যের বিরুদ্ধে তাদের তলোয়ার কোষমুক্ত করবে ও তোমার আলো নাপাক করবে।
8 তারা তোমাকে কুয়ায় নামাবে; তুমি সমুদ্রগুলোর মধ্যস্থলে, নিহত লোকদের মত মৃত্যুবরণ করবে।
9 তোমার হত্যাকারীর সাক্ষাতে তুমি বলবে, ‘আমি দেবত’? কিন্তু যে তোমাকে বিদ্ধ করবে, তার হাতে তো তুমি মানুষ মাত্র, দেবতা নও।
10 তুমি বিদেশীদের হাতে খৎনা-না-করানো লোকদের মত মরবে, কেননা আমি এই কথা বললাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
11
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
12 হে মানুষের সন্তান, তুমি টায়ারের বাদশাহ্র জন্য মাতম কর ও তাকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি পরিমাণের মুদ্রাঙ্ক, তুমি পূর্ণজ্ঞান, তুমি সৌন্দর্যে সিদ্ধ;
13 তুমি আল্লাহ্র বাগান আদনে ছিলে; সব রকম দামী দামী পাথর, চূণি, পীতমণি, হীরক, বৈদূর্যমণি, গোমেদক, সূর্যকান্ত, নীলকান্তমণি ও মরকত এবং সোনা তোমার আচ্ছাদন ছিল, তোমার ঢাক ও বাঁশীর কারুকার্য তোমার মধ্যে ছিল; তোমার সৃষ্টির দিনে এসব প্রস্তুত হয়েছিল।
14 তুমি অভিষিক্ত আচ্ছাদক কারুবী ছিলে, আমি তোমাকে স্থাপন করেছিলাম, তুমি আল্লাহ্র পবিত্র পর্বতে ছিলে; তুমি আগুনের মত ঝক্মক করা পাথরের মধ্যে চলাচল করতে।
15 তোমার সৃষ্টির দিন থেকে তুমি তোমার আচারে সিদ্ধ ছিলে; শেষে তোমার মধ্যে অন্যায় পাওয়া গেল।
16 তোমার প্রচুর বাণিজ্যের দরুন তোমার অভ্যন্তর জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ হল, তুমি গুনাহ্ করলে, তাই আমি তোমাকে আল্লাহ্র পর্বত থেকে তাড়িয়ে দিলাম এবং হে আচ্ছাদক কারুবী, তোমাকে আগুনের মত ঝক্মক করা পাথরগুলোর মধ্য থেকে সরিয়ে দিলাম।
17 তোমার অন্তর তোমার সৌন্দর্যে গর্বিত হয়েছিল; তুমি নিজের আলো হেতু তোমার জ্ঞান নষ্ট করেছ; আমি তোমাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করলাম, বাদশাহ্দের সম্মুখে রাখলাম, যেন তারা তোমাকে দেখতে পায়।
18 তোমার অপরাধের কারণে তুমি নিজের বাণিজ্য-বিষয়ক অন্যায় দ্বারা নিজের পবিত্র স্থানগুলো নাপাক করেছ; এজন্য আমি তোমার মধ্য থেকে আগুন বের করলাম, সে তোমাকে গ্রাস করলো; এবং আমি তোমাকে দর্শনকারী সকলের সাক্ষাতে ভস্ম করে ভূমিতে ফেলে দিলাম।
19 জাতিদের মধ্যে যত লোক তোমাকে জানে, তারা সকলে তোমার বিষয়ে বিস্ময়াপন্ন হল; তুমি ত্রাসস্বরূপ হলে এবং তুমি চিরকালের জন্য শেষ হয়ে যাবে।
20
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
21 হে মানুষের সন্তান, তুমি সিডনের দিকে মুখ রাখ ও তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল;
22 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে সিডন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; আমি তোমার মধ্যে মহিমান্বিত হব; তাতে লোকেরা জানবে যে, আমিই মাবুদ, কেননা আমি সেই নগরকে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেব ও তার মধ্যে পবিত্র বলে মান্য হবো।
23 আমি তার মধ্যে মহামারী ও তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে রক্ত প্রেরণ করবো এবং আহত লোকেরা তার মধ্যে পড়বে, কারণ তলোয়ার চারদিকে তার বিরুদ্ধ হবে, তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
24
তখন ইসরাইল-কুলের জ্বালাজনক কোন হুল কিংবা ব্যথাজনক কোন কাঁটা তাদের অবজ্ঞাকারী চারদিকের কোন লোকের মধ্যে আর উৎপন্ন হবে না; তাতে তারা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম মাবুদ।
25
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, যে জাতিদের মধ্যে ইসরাইল-কুল ছিন্নভিন্ন হয়েছে, তাদের মধ্যে থেকে যখন আমি তাদের সংগ্রহ করবো এবং জাতিদের সাক্ষাতে তাদের মধ্যে পবিত্র বলে মান্য হব, তখন আমি আমার গোলাম ইয়াকুবকে যে ভূমি দিয়েছি, তারা নিজেদের সেই ভূমিতে বাস করবে।
26 তারা নির্ভয়ে সেখানে বাস করবে; হ্যাঁ, তারা বাড়ি নির্মাণ করবে ও আঙ্গুরের বাগান করবে এবং নির্ভয়ে বাস করবে; কেননা তখন আমি তাদের অবজ্ঞাকারী চারদিকের সমস্ত লোককে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেব; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ তাদের আল্লাহ্।
1
দশম বছরে দশম মাসের দ্বাদশ দিনের দিন, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল;
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের বিরুদ্ধে মুখ রাখ এবং তার ও সমস্ত মিসরের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
3 তুমি এই কথা বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; তুমি সেই প্রকাণ্ড কুমির, যে তার নদীগুলোর মধ্যে শয়ন করে, বলে, আমার নদী আমারই, আমিই নিজের জন্য তা উৎপন্ন করেছি।
4 কিন্তু আমি আকড়া দিয়ে তোমার চোয়ালে কড়া লাগাব, তোমার স্রোতের মাছগুলোকে তোমার আঁশের সঙ্গে লাগিয়ে দেব এবং তোমার স্রোতগুলোর মধ্য থেকে তোমাকে টেনে তুলে আনব; তোমার স্রোতের মাছগুলো তখনও তোমার আঁশে লেগে থাকবে।
5 আর আমি তোমার স্রোতের সমস্ত মাছসুদ্ধ তোমাকে মরুভূমিতে ফেলে দেব; তুমি মাঠের উপরে পড়ে থাকবে, সংগৃহীত বা সঞ্চিত হবে না; আমি তোমাকে ভূমির পশুদের ও আসমানের পাখিগুলোর খাদ্য হিসেবে দিলাম।
6 তাতে মিসর-নিবাসী সকলে জানবে যে, আমিই মাবুদ, যেহেতু তারা ইসরাইল-কুলের পক্ষে নলের লাঠি হয়েছিল।
7 যখন তারা তোমার হাত ধরতো, তখন তুমি ফেটে তাদের সমস্ত কাঁধ বিদীর্ণ করতে; এবং যখন তারা তোমার উপরে নির্ভর করতো তখন তুমি ভেঙ্গে যেতে ও তাদের সমস্ত কোমর অসার করতে।
8
সেজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমার বিরুদ্ধে তলোয়ার আনবো ও তোমার মধ্য থেকে মানুষ ও পশু মুছে ফেলব।
9 মিসর দেশ ধ্বংস ও উৎসন্ন স্থান হবে; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ; যেহেতু তুমি বলতে, নদী আমার, আমিই তা উৎপন্ন করেছি।
10 এজন্য দেখ, আমি তোমার ও তোমার স্রোতগুলোর বিপক্ষ; আমি মিগ্দোল থেকে সিবেনী পর্যন্ত ও ইথিওপিয়া দেশের সীমা পর্যন্ত, মিসর দেশ নিতান্ত উৎসন্ন ও ধ্বংসস্থান করবো।
11
মানুষ তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করবে না ও পশু তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করবে না; এবং চল্লিশ বছর পর্যন্ত সেখানে বসতি হবে না।
12 আর আমি মিসর দেশকে ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্য ধ্বংসস্থান করবো এবং উচ্ছিন্ন নগরগুলোর মধ্যে তার নগরগুলো চল্লিশ বছর পর্যন্ত ধ্বংসস্থান থাকবে; আর আমি মিসরীয়দেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন ও দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দেব।
13
কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, যেসব জাতির মধ্যে মিসরীয়েরা ছিন্নভিন্ন হবে তাদের মধ্য থেকে আমি চল্লিশ বছর শেষে তাদেরকে সংগ্রহ করবো।
14 আর মিসরের বন্দীদশা ফিরাব ও তাদের উৎপত্তিস্থান পথ্রোষ দেশে তাদেরকে প্রত্যাগমন করাব, সেখানে তারা দুর্বল একটি রাজ্য হবে।
15 অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে তা দুর্বল হবে এবং নিজেকে আর জাতিদের উপরে বড় করে তুলবে না; আমি তাদেরকে ন্যূন করবো, তারা আর জাতিদের উপরে কর্তৃত্ব করবে না।
16 মিসর আর ইসরাইল-কুলের বিশ্বাসভূমি হবে না; এরা ওদের দিকে ফিরে গেছে বলে আর অপরাধ স্মরণ করাবে না; তাতে তারা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম মাবুদ।
17
আর সপ্তবিংশ বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
18 হে মানুষের সন্তান, ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার তার সৈন্যসামন্তকে টায়ারের বিরুদ্ধে ভারী পরিশ্রম করিয়েছে; সকলের মাথার চুল ও সকলের কাঁধের ছাল-চামড়া উঠে গেছে; কিন্তু টায়ারের বিরুদ্ধে সে যে পরিশ্রম করেছে, তার বেতন সে কিংবা তার সৈন্য টায়ার থেকে পায় নি।
19 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারকে মিসর দেশ দেব; সে তার লোকদের নিয়ে যাবে, তার দ্রব্য লুট করবে ও তার সম্পত্তি অপহরণ করবে; তা-ই তার সৈন্যের বেতন হবে।
20 সে যে পরিশ্রম করেছে, তার বেতনস্বরূপ আমি মিসর দেশ তাকে দিলাম, কেননা তারা আমারই জন্য কাজ করেছে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
21
সেদিন আমি ইসরাইল-কুলের জন্য একটি শিং জন্মাতে দেব এবং তাদের মধ্যে তোমার মুখ খুলে দেব; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আবার মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, ভবিষ্যদ্বাণী বল, তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা হাহাকার করে বল, ‘হায়! সে কেমন দিন!’
3 কারণ সেই দিন নিকটবর্তী, হ্যাঁ, মাবুদের দিন, সেই মেঘময় দিন নিকটবর্তী; তা জাতিদের ধ্বংসে দিন হবে।
4 মিসরে তলোয়ার প্রবেশ করবে ও ইথিওপিয়ায় যাতনা হবে; কেননা তখন মিসরে নিহত লোকেরা মরে পড়ে থাকবে, তার জনগণ নীত হবে ও তার ভিত্তিমূলগুলো উৎপাটিত হবে।
5 ইথিওপিয়া, পূট ও লূদ এবং সমস্ত মিশ্রিত লোক, আর কূব ও মিত্রদেশীয় লোকেরা তাদের সঙ্গে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
6
মাবুদ এই কথা বলেন, যারা মিসরের স্তম্ভস্বরূপ, তারাও ধ্বংস হবে এবং তার পরাক্রমের গর্ব খর্ব হবে; সেখানে মিগ্দোল থেকে সিবেনী পর্যন্ত লোকেরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
7 তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে ধ্বংস হবে এবং দেশের সকল নগর উচ্ছিন্ন নগরগুলোর মধ্যে থাকবে।
8
যখন আমি মিসরে আগুন লাগাই এবং তার সহকারীরা সকলে চুরমার হয়ে যাবে তখন তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
9
সেদিন নিশ্চিন্ত ইথিওপিয়াকে ভয় দেখাবার জন্য দূতেরা নৌকাযোগে আমার কাছ থেকে বের হবে, তাতে মিসরের ধ্বংসের দিনে যেমন হয়েছিল, তেমনি তাদের মধ্যে যাতনা হবে; বস্তুত দেখ, তা আসছে।
10
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসারের হাত দিয়ে মিসরের লোকারণ্য শেষ করবো।
11 সে এবং তার লোকদের, জাতিদের মধ্যে সেই পরাক্রমশালী লোকদেরকে দেশ বিনাশ করবার জন্য আনা হবে এবং মিসরের বিরুদ্ধে তারা তলোয়ার কোষমুক্ত করবে ও মৃত দেহের দ্বারা দেশ পূর্ণ করবে।
12 আর আমি স্রোতগুলোকে শুকনো স্থান করবো, দেশকে দুর্বৃত্তদের হাতে বিক্রি করবো ও বিদেশীদের হাত দিয়ে দেশ ও সেখানকার সবকিছুই ধ্বংস করবো; আমি মাবুদ এই বললাম।
13
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি মূর্তিগুলো বিনষ্ট করবো, নোফ থেকে অবস্তু-মূর্তিগুলো শেষ করবো, মিসর দেশ থেকে কোন নেতা আর উৎপন্ন হবে না এবং আমি মিসর দেশে ভয় জন্মাব।
14 আর আমি পথ্রোষকে ধ্বংস করবো, সোয়নে আগুন লাগাব ও নো-নগরে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেব।
15 আর মিসরের বলস্বরূপ সীনের উপরে আমার গজব ঢেলে দেব ও নো-নগরের জনগণকে মুছে ফেলব।
16 আমি মিসরে আগুন লাগাব; যাতনাতে সীন ছট্ফট্ করবে, নো-নগর ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং নোফে বিপক্ষ লোকেরা দিনমানে আসবে।
17 আবেন ও পী-বেশতের যুবকেরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে এবং সেসব পুরী বন্দীদশায় গমন করবে।
18 আর তফন্হেষে দিন অন্ধকার হয়ে যাবে, কেননা তখন সেই স্থানে আমি মিসরের জোয়ালগুলো ভেঙ্গে ফেলবো; তাতে তার মধ্যে তার পরাক্রমের ছটা শেষ হবে; সে নিজে নিজেই মেঘাচ্ছন্ন হবে ও তার কন্যারা বন্দীদশায় যাবে।
19 এভাবে আমি মিসরকে বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেব, তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
20
একাদশ বছরের প্রথম মাসের সপ্তম দিনে, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
21 হে মানুষের সন্তান, আমি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের বাহু ভেঙ্গেছি, আর দেখ, সুস্থ হবার জন্য তা পটি দিয়ে বাঁধা হয় নি, যাতে তলোয়ার ধারণের উপযুক্ত শক্তি পায়।
22 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের বিপক্ষ, আমি তার বলবান ও ভাঙ্গা উভয় বাহু ভেঙ্গে ফেলবো এবং তার হাত থেকে তলোয়ার ফেলে দেব।
23 আর আমি মিসরীয়দেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন ও নানাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব।
24 আর আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র বাহু বলবান করবো ও তারই হাতে আমার তলোয়ার দেব; কিন্তু ফেরাউনের বাহু ভেঙ্গে ফেলবো, তাতে সে ওর সাক্ষাতে আহত লোকের মত কাতরোক্তি করবে।
25 আর আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র বাহু বলবান করবো, কিন্তু ফেরাউনের বাহু ঝুলে পড়বে; তাতে লোকেরা জানবে যে, আমিই মাবুদ, যখন আমি ব্যাবিলনের বাদশাহ্র হাতে আমার তলোয়ার দেব এবং সে মিসর দেশের বিরুদ্ধে তা চালনা করবে।
26 আর আমি মিসরীয়দেরকে জাতিদের মধ্য ছিন্নভিন্ন ও নানাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
একাদশ বছরের তৃতীয় মাসের প্রথম দিনে, মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনকে ও তার জনগণকে বল, তুমি তোমার মহিমায় কার তুল্য?
3 দেখ, আশেরিয়া লেবাননের এরস গাছের মতই ছিল, তার সুন্দর ডাল, ঘন ছায়া ও উঁচু লম্বা ছিল; তার শিখর মেঘমালার মধ্যবর্তী ছিল।
4 সে পানি পেয়ে বর্ধিত ও ঝর্ণার পানি পেয়ে উঁচু হয়েছিল; তার স্রোতগুলো তার বাগানের চারদিকে প্রবাহিত হত এবং সে ক্ষেতের সকল গাছের কাছে প্রণালী পানি পাঠাত।
5 এই কারণে ক্ষেতের সমস্ত গাছের চেয়ে সে উঁচু হয়ে উঠলো এবং সে ডাল মেললে প্রচুর পানি পেয়ে সেগুলো বৃদ্ধি পেল ও তার ডাল লম্বা হল।
6 তার ডালে আসমানের সকল পাখি বাসা করতো এবং তার ডালের নিচে মাঠের সকল পশু প্রসব করতো এবং তার ছায়াতে সকল মহাজাতি বাস করতো।
7 সে তার মহত্ত্বে ও লম্বা লম্বা ডালে খুব সুন্দর ছিল; কেননা তার মূল প্রচুর পানির পাশে ছিল।
8 আল্লাহ্র বাগানে এরস গাছগুলো তাকে গোপন করতে পারতো না, দেবদারু সকল ডালপালায় তার সমান ছিল না; এবং অর্মোণ গাছগুলো তার মত ডালবিশিষ্ট ছিল না; আল্লাহ্র বাগানে অবস্থিত কোন গাছ সৌন্দর্যে তার মত ছিল না।
9 আমি প্রচুর ডালপালা দিয়ে তাকে সুন্দর করেছিলাম, আদনে আল্লাহ্র বাগানে অবস্থিত সমস্ত গাছ তার উপরে ঈর্ষা করতো।
10
অতএব সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি লম্বায় উঁচু হলে; সেই গাছ মেঘমালার মধ্যে তোমার শিখর স্থাপন করলো ও উচ্চতায় তার অন্তঃকরণ গর্বিত হল;
11 এজন্য আমি তাকে জাতিদের মধ্যে বলবানের হাতে তুলে দেব, সে তার সঙ্গে উপযুক্ত ব্যবহার করবে; আমি তার নাফরমানীর জন্য তাকে দূর করলাম।
12 তাতে বিদেশীরা, জাতিদের মধ্যে পরাক্রমশালী লোকেরা, তাকে কেটে ফেললো ও ছেড়ে গেল; পর্বতমালার উপরে ও উপত্যকাগুলোতে তার ডাল পড়ে আছে এবং দেশের সকল পানির স্রোতে তার ডালপালা ভেঙ্গে গেল; দুনিয়ার সমস্ত জাতি তার ছায়া থেকে প্রস্থান করলো, তাকে ছেড়ে গেল।
13 তার পড়ে যাওয়া কাণ্ডে আসমানের সকল পাখি বাস করবে এবং তার ডালের কাছে মাঠের সকল পশু থাকবে;
14 এর অর্থ এই যে, যেন পানির নিকটবর্তী গাছগুলো নিজ নিজ উচ্চতায় গর্বিত না হয়, নিজ নিজ শিখর মেঘমালার মধ্যে স্থাপন না করে, পানির পাশের কোন গাছ যেন স্ব স্ব উচ্চতায় দণ্ডায়মান না হয়; কেননা তাদের সকলকে মৃত্যুর হাতে, অধোভুবনে, আদম-সন্তানদের মধ্যে, পাতালবাসীদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
15
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, পাতালে তার নেমে যাবার দিনে আমি শোক নির্ধারণ করলাম; আমি তার জন্য গভীর ঝর্ণাকে আচ্ছাদন করলাম ও তার স্রোতগুলো থামিয়ে দিলাম, তাতে সমস্ত পানি বন্ধ হয়ে গেল; এবং আমি তার জন্য লেবাননকে কালো রংয়ের করলাম ও ক্ষেতের গাছগুলো তার জন্য শুকিয়ে গেল।
16 যখন আমি তাকে পাতালবাসীদের কাছে ফেলে দিলাম, তখন তার পতনের শব্দে জাতিদেরকে কাঁপিয়ে তুললাম; আর আদনের সমস্ত গাছ, লেবাননের উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠ পানি পাওয়া সমস্ত গাছ, দুনিয়ার গভীর স্থানে সান্ত্বনা পেল।
17 তার সঙ্গে তারাও পাতালে তলোয়ার দ্বারা নিহত লোকদের কাছে নেমেছে; তারা তার বাহুস্বরূপ হয়ে তারই ছায়াতে জাতিদের মধ্যে বাস করেছিল।
18
তুমি প্রতাপে ও মহত্ত্বে আদন বাগানের গাছগুলোর মধ্যে কার মত? তবুও আদন বাগানের গাছগুলোর সঙ্গে তোমাকেও দুনিয়ার গভীর স্থানে আনা হবে; খৎনা-না-করানো সকলের মধ্যে তলোয়ার দ্বারা নিহত লোকদের সঙ্গে শয়ন করবে। এ সেই ফেরাউন ও তার সমস্ত লোক; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
দ্বাদস বছরের দ্বাদস মাসের প্রথম দিনে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের জন্য মাতম কর, আর তাকে বল, জাতিদের যুবা সিংহের সঙ্গে তোমার তুলনা করা হয়েছিল; কিন্তু তুমি নদীর মধ্যেকার কুমিরের মত; তুমি তোমার নদীগুলোর মধ্যে আস্ফালন করতে, নিজের পা দিয়ে পানি মলিন করতে ও সেখানকার নদনদী ঘোলা করতে।
3 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি বহু জাতির সমাজ দ্বারা তোমার উপরে আমার জাল বিস্তার করবো, তারা আমার টানা জালে তোমাকে তুলবে।
4 পরে আমি তোমাকে স্থলে ছেড়ে দেব, তোমাকে মাঠের উপরে ফেলে দেব; আসমানের পাখিগুলোকে তোমার উপরে বসাব, সমস্ত ভূতলের পশুরা তোমাকে খেয়ে তৃপ্ত হবে।
5 আমি পর্বতমালার উপরে তোমার গোশ্ত ফেলবো ও তোমার দীর্ঘ শবে উপত্যকাগুলো পূর্ণ করবো।
6 আর তুমি যেখানে সাঁতার দিচ্ছ, সেই দেশকে পর্বত পর্যন্ত তোমার রক্তে সিক্ত করবো, আর পানির প্রবাহগুলো তোমাতে পরিপূর্ণ হবে।
7 তোমাকে নিভিয়ে ফেলবার সময়ে আমি আসমান আচ্ছাদন করবো, তার নক্ষত্রগুলো কালো রংয়ের করবো; আমি সূর্যকে মেঘাচ্ছন্ন করবো ও চন্দ্র জ্যোৎস্না দেবে না।
8 আসমানে যত উজ্জ্বল জ্যোতি আছে, সেগুলোকে আমি তোমার উপরে কালো রংয়ের করবো, তোমার দেশের উপরে অন্ধকার নিয়ে আসব; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
9 আর আমি বহু জাতির মনে ত্রাস জন্মাব, যখন তোমার অজ্ঞাত নানা দেশে জাতিদের মধ্যে তোমার ধ্বংস উপস্থিত করবো।
10 হ্যাঁ, তোমার বিষয়ে বহু জাতিকে বিস্ময়াপন্ন করবো, তাদের বাদশাহ্রা তোমার জন্য রোমাঞ্চিত হবে, যখন তাদের সাক্ষাতেই আমি আমার তলোয়ার চালাব; তোমার পতনের দিনে তারা নিমিষে নিমিষে কেঁপে উঠবে, প্রত্যেকে নিজের প্রাণের বিষয়ে কাঁপতে থাকবে।
11 কেননা সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ব্যাবিলনের বাদশাহ্র তলোয়ার তোমার উপরে আসবে।
12 আমি বীরদের তলোয়ার দ্বারা তোমার সমস্ত লোককে নিপাত করবো; তারা সকলে জাতিদের মধ্যে পরাক্রমশালী; তারা মিসরের অহংকার চূর্ণ করবে, তার সমস্ত লোক ধ্বংস করবে।
13 আর আমি প্রচুর পানির পাশ থেকে তার সকল পশুর পাল মুছে ফেলব; তাতে মানুষের পা সেগুলোকে আর মলিন করবে না, পশুদের খুরও সেগুলোকে মলিন করবে না।
14 সেই সময় আমি সেখানকার পানি নির্মল করবো ও সেখানকার নদনদীগুলো তেলের মত প্রবাহিত করবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15 যখন আমি মিসর দেশ ধ্বংসস্থান ও উৎসন্ন করবো এবং ভূমির সমস্ত বস্তু যখন আঘাতপ্রাপ্ত হবে, যখন আমি সেই স্থানের অধিবাসী সকলকে আঘাত করবো, তখন তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
16
এ মাতম-গীত; লোকেরা গানের মধ্য দিয়ে তা গাইবে:
জাতিদের কন্যারা এই গান করবে;
তারা মিসরের ও তার সমস্ত লোকের উদ্দেশে এই গান করবে;
এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
17
আর দ্বাদশ বছরে, সেই মাসের পঞ্চদশ দিনে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
18 হে মানুষের সন্তান, তুমি মিসরের লোকদের বিষয়ে হাহাকার কর এবং তাদের অর্থাৎ সেই জাতিকে ও বিখ্যাত জাতিদের কন্যাদের দুনিয়ার গভীর স্থানে পাতালবাসীদের কাছে নামিয়ে দাও।
19 তুমি কার চেয়ে সুন্দর? নেমে যাও, খৎনা-না-করানোদের সঙ্গে শয়ন কর।
20 তারা তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকদের মধ্যে পড়ে থাকবে; তাকে তলোয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে; তোমরা সেই জাতি ও তার সমস্ত লোককে টেনে নিয়ে যাও।
21 বলবান বীরেরা পাতালের মধ্যে থেকে তার ও তার সহকারীদের সঙ্গে কথা বলবে; সেই খৎনা-না-করানো লোকেরা, সেই তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকেরা নেমে গেছে, শুয়ে আছে।
22
সেই স্থানে আসেরিয়া ও তার সমস্ত জনসমাজ আছে; তার কবরগুলো তার চারদিকে আছে; তারা সকলে নিহত, তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছে।
23 গর্তের গভীর স্থানে তাদের কবর দেওয়া হয়েছে এবং তার সমাজ তার কবরের চারদিকে আছে; তারা সকলে নিহত, তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছে, যারা জীবিতদের দেশে ত্রাস জন্মাত।
24
সেই স্থানে ইলাম ও তার কবরের চারদিকে তার সমস্ত লোকেরা আছে; তারা সকলে নিহত, তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছে, তারা খৎনা-না-করানো অবস্থায় দুনিয়ার গভীর স্থানে নেমে গেছে; তারা জীবিতদের দেশে ত্রাস জন্মাত এবং পাতালবাসীদের সঙ্গে নিজেদের অপমান ভোগ করছে।
25 নিহত লোকদের মধ্যে তার সমস্ত লোকসহ তার বিছানা পাতা হয়েছে; তার চারদিকে তার কবরগুলো রয়েছে; তারা সকলে খৎনা-না-করানো অবস্থায় তলোয়ারের আঘাতে নিহত হয়েছে; কেননা জীবিতদের দেশে তারা ত্রাস জন্মাত, আর তারা পাতালবাসীদের সঙ্গে নিজেদের অপমান ভোগ করেছে; নিহত লোকদের মধ্যেই তাকে রাখা হয়েছে।
26
সেই স্থানে মেশক, তূবল ও তার সমস্ত জনগণ আছে; তার চারদিকে তার কবরগুলো রয়েছে; তারা সকলে খৎনা-না-করানো অবস্থায় তলোয়ারের আঘাতে নিহত হয়েছে; কেননা জীবিতদের দেশে তারা ত্রাস জন্মাত।
27 কিন্তু তারা খৎনা-না-করানো মারা যাওয়া সেই বীরদের সঙ্গে শয়ন করবে না, যারা তাদের যুদ্ধের সাজ-পোশাকসুদ্ধ পাতালে নেমে গেছে ও যাদের তলোয়ার তাদের মাথার নিচে রাখা গেছে ও যাদের অপরাধ তাদের অস্থির উপরে রয়েছে, কেননা জীবিতদের দেশে তারা বীরদের ত্রাসভূমি ছিল।
28 তুমিও খৎনা-না-করানো লোকদের মধ্যে ভেঙ্গে পড়বে ও তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকদের সঙ্গে শয়ন করবে।
29
সেই স্থানে ইদোম, তার বাদশাহ্রা ও তার সমস্ত নেতৃবর্গ আছে; পরাক্রান্ত হলেও তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকদের সঙ্গে তাদেরকে রাখা গেছে; তারা খৎনা-না-করানো লোকদের সঙ্গে ও পাতালবাসীদের সঙ্গে শয়ন করবে।
30
সেই স্থানে উত্তর দেশীয় নেতৃবর্গরা সকলে ও সীদোনীয় সকল লোক আছে; তারা নিহত লোকদের সঙ্গে নেমে গেছে; নিজেদের পরাক্রমে ভয়ানক হলেও তারা লজ্জিত হয়েছে; তারা তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকদের কাছে খৎনা-না-করানো অবস্থায় শুয়ে রয়েছে এবং পাতালবাসীদের সঙ্গে নিজেদের অপমান ভোগ করছে।
31
এই সমস্ত যখন ফেরাউন দেখবে তখন তার সমস্ত লোকদের বিষয়ে সে সান্ত্বনা পাবে— ফেরাউন ও তার সমস্ত সৈন্য তলোয়ারের আঘাতে নিহত হয়েছে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
32 কেননা আমি জীবিতদের দেশে তার দ্বারা ত্রাস উৎপন্ন করেছি; আর খৎনা-না-করানো লোকদের মধ্যে, তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোকদের সঙ্গে, ফেরাউন ও তার সমস্ত লোক শায়িত হবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি তোমার জাতির লোকদের সঙ্গে আলাপ কর, তাদের বল, আমি কোন দেশের বিরুদ্ধে তলোয়ার ব্যবহার করলে, যদি সেই দেশের লোকেরা নিজেদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তিকে নিয়ে নিজেদের প্রহরী নিযুক্ত করে;
3 সে তলোয়ারকে দেশের বিরুদ্ধে আসতে দেখলে যদি তূরী বাজিয়ে লোকদের সচেতন করে,
4 তবে কোন ব্যক্তি যদি তূরীর আওয়াজ শুনেও সচেতন না হয়, যদি তলোয়ার উপস্থিত হয় ও তাকে সংহার করে, তার রক্ত তারই মাথায় বর্তাবে।
5 সে তূরীর আওয়াজ শুনেও সচেতন হয় নি; তার রক্ত তারই উপরে বর্তাবে; যদি সচেতন হত, তবে প্রাণ বাঁচাতে পারত।
6 কিন্তু সেই প্রহরী তলোয়ার আসতে দেখলে যদি তূরী না বাজায় এবং লোকদের সচেতন করা না হয়, আর যদি তলোয়ার উপস্থিত হয় ও তাদের মধ্যে কোন প্রাণীকে সংহার করে, তবে তার অপরাধের দরুনই তাকে সংহার করা হবে, কিন্তু আমি সেই প্রহরীর হাত থেকে তার রক্তের পরিশোধ নেব।
7
হে মানুষের সন্তান, আমি তোমাকেই ইসরাইল-কুলের প্রহরী নিযুক্ত করলাম; অতএব তুমি আমার মুখে কালাম শোন ও আমার নামে তাদেরকে সচেতন কর।
8 আমি যখন দুষ্ট লোককে বলি, হে দুষ্ট, তোমাকে অবশ্যই মরতে হবে, তখন তুমি তার পথের বিষয়ে সেই দুষ্ট লোককে সচেতন করার জন্য যদি কিছু না বল, তবে সেই দুষ্ট নিজের অপরাধের জন্য মারা যাবে; কিন্তু আমি তোমার হাত থেকে তার রক্তের পরিশোধ নেব।
9 কিন্তু তুমি সেই দুষ্টকে তার পথ থেকে ফিরাবার জন্য তার পথের বিষয়ে সচেতন করলে যদি সে তার পথ থেকে না ফেরে, তবে সে নিজের অপরাধের কারণেই মারা যাবে, কিন্তু তুমি তোমার প্রাণ রক্ষা করলে।
10
আর, হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইল-কুলকে বল, তোমরা এরকম বলে থাক, আমাদের অধর্ম ও গুনাহ্র ভার আমাদের উপরে আছে এবং তাতেই আমরা ক্ষয় পাচ্ছি, তবে কেমন করে বাঁচবো?
11 তুমি তাদের বল, সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, দুষ্ট লোকের মরণে আমার সন্তোষ নেই; বরং দুষ্ট লোক যে তার পথ থেকে ফিরে বাঁচে, তাতেই আমার সন্তোষ। তোমরা ফির, নিজ নিজ কুপথ থেকে ফির; কারণ, হে ইসরাইল-কুল, তোমরা কেন মরবে?
12 আর হে মানুষের সন্তান, তুমি তোমার জাতির সন্তানদেরকে বল, ধার্মিকের ধার্মিকতা তার অধর্মের দিনে তাকে রক্ষা করবে না; আবার দুষ্টের যে নাফরমানী, তাতে সে তার নাফরমানী থেকে ফিরবার দিনে হোঁচট খাবে না; এবং ধার্মিক লোক গুনাহ্ করার দিনে ধার্মিকতা দ্বারা বাঁচবে না।
13 যখন আমি ধার্মিকের উদ্দেশে বলি, সে অবশ্য বাঁচবে, তখন যদি সে তার ধার্মিকতায় নির্ভর করে অন্যায় করে, তবে তার সমস্ত ধর্মকর্ম আর স্মরণ করা হবে না; সে যে অন্যায় করেছে, তাতেই মরবে।
14 আর, যখন আমি দুষ্টকে বলি, তুমি মরবেই মরবে, তখন যদি সে তার গুনাহ্ থেকে ফিরে ন্যায় ও সঠিক কাজ করে— সেই দুষ্ট যদি বন্ধক ফিরিয়ে দেয়,
15 অপহৃত দ্রব্য পরিশোধ করে এবং অন্যায় না করে জীবনদায়ক বিধিপথে চলে— তবে অবশ্য বাঁচবে, সে মরবে না।
16 তার কৃত সমস্ত গুনাহ্ আর তার বলে স্মরণ করা হবে না; সে ন্যায় ও সঠিক কাজ করেছে, অবশ্য বাঁচবে।
17
তবুও তোমার জাতির লোকেরা বলছে, প্রভুর পথ সরল নয়; কিন্তু আসলে তাদেরই পথ অসরল।
18 ধার্মিক লোক যখন তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে অন্যায় করে, তখন সে তাতেই মরবে।
19 আর দুষ্ট লোক যখন তার নাফরমানী থেকে ফিরে ন্যায় ও সঠিক কাজ করে, তখন সে সেকারণেই বাঁচবে।
20 তবুও তোমরা বলেছো, প্রভুর পথ সরল নয়। হে ইসরাইল-কুল, আমি তোমাদের প্রত্যেকের পথ অনুসারে তোমাদের বিচার করবো।
21
আর আমাদের নির্বাসনের বারো বছরের দশম মাসের পঞ্চম দিনে জেরুশালেম থেকে এক জন পলাতক আমার কাছে এসে বললো, নগরের পতন হয়েছে।
22 আর সেই পলাতকের আসার আগে সন্ধ্যাবেলা মাবুদ আমার উপরে হস্তার্পণ করেছিলেন এবং খুব ভোরে সেই পলাতকের উপস্থিত হবার অপেক্ষায় তিনি আমার মুখ খুলে দিলেন, তখন আমার মুখ খুলে গেল, আমি আর বোবা রইলাম না।
23
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
24 হে মানুষের সন্তান, ইসরাইল-দেশে যারা সেসব উৎসন্ন স্থানে বাস করে, তারা বলছে, ইব্রাহিম মাত্র এক জন লোক ছিলেন, আর দেশের অধিকার পেয়েছিলেন; কিন্তু আমরা অনেক লোক, আমাদেরকেই দেশ অধিকার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
25 অতএব তুমি তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা রক্তসুদ্ধ গোশ্ত ভোজন করে থাক, নিজ নিজ মূর্তিগুলোর প্রতি চোখ তুলে রক্তপাত করে থাক; তোমরা কি দেশের অধিকারী হবে?
26 তোমরা তোমাদের তলোয়ারের শক্তিতে নির্ভর করে থাক, ঘৃণার কাজ করে থাক ও প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর স্ত্রীকে নাপাক করে থাক; তোমরা কি দেশের অধিকারী হবে?
27 তুমি তাদেরকে এই কথা বলবে, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, যারা সেসব উৎসন্ন স্থানে আছে, তারা তলোয়ারের আঘাতে মারা যাবে; এবং যে কেউ মাঠে আছে, তাকে আমি খাবার হিসেবে পশুদের কাছে তুলে দিলাম; এবং যারা দুর্গে বা গুহাতে থাকে, তারা মহামারীতে মারা যাবে।
28 আর আমি দেশকে ধ্বংস ও বিস্ময়ের স্থান করবো, তার পরাক্রমের গর্ব নিবৃত্ত হবে এবং ইসরাইলের পর্বতমালা ধ্বংস হবে, কেউ তা দিয়ে চলাচল করবে না।
29
তখন তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ, যখন আমি তাদের কৃত সমস্ত ঘৃণার কাজের জন্য দেশকে ধ্বংস ও বিস্ময়ের স্থান করবো।
30
আর হে মানুষের সন্তান, তোমার জাতির লোকেরা দেয়ালের কাছে ও বাড়িগুলোর প্রবেশ পথে তোমার বিষয়ে কথাবার্তা বলে ও প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীকে ও ভাইকে বলে, চল, আমরা গিয়ে শুনি, মাবুদের কাছ থেকে যে কালাম বের হয়, তা কি।
31 আর লোকেরা যেমন আসে, তেমনি তারা তোমার কাছে আসে, আমার লোক বলে তোমার সম্মুখে বসে ও তোমার কথাগুলো শোনে, কিন্তু তা পালন করে না; কেননা মুখে তারা বিলক্ষণ মহব্বত দেখায়, কিন্তু তাদের অন্তর তাদের লাভের দিকে যায়।
32 আর দেখ, তাদের কাছে তুমি মধুর স্বরবিশিষ্ট নিপুণ বাদ্যকরের সুচারু কাওয়ালীস্বরূপ; তারা তোমার কথা শোনে, কিন্তু পালন করে না।
33 যখন এসব ঘটবে, আর দেখ তা নিশ্চয়ই ঘটবে, তখন তারা জানবে যে, তাদের মধ্যে এক জন নবী রয়েছে।
1
আবার মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইলের পালকদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল, ভবিষ্যদ্বাণী বল, তাদেরকে, অর্থাৎ সেই পালকদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ইসরাইলের সেই পালকদেরকে ধিক্, যারা নিজেদেরকেই পালন করছে।
3 মেষগুলোকে পালন করা কি পালকদের কর্তব্য নয়? তোমরা চর্বি খেয়ে থাক, মেষের লোম পরিধান করে থাক, পুষ্ট মেষ কোরবানী করে থাক, কিন্তু মেষগুলোকে পালন কর না।
4 তোমরা দুর্বলদের সবল কর নি, অসুস্থদের চিকিৎসা কর নি, ভগ্নাঙ্গের ক্ষত বাঁধ নি, দূরীকৃতকে ফিরিয়ে আন নি, হারানদের খোঁজ কর নি, কিন্তু বল ও উপদ্রবপূর্বক তাদের শাসন করেছ।
5 আর পালকের অভাবে মেষগুলো ছিন্নভিন্ন হয়েছে; তারা বন্যপশুগুলোর খাদ্য হয়েছে, ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
6 আমার মেষেরা সকল পর্বতে ও সকল উঁচু পাহাড়ের উপরে ভ্রমণ করছে; সমস্ত ভূতলে আমার মেষগুলো ছিন্নভিন্ন হয়েছে; তাদের খোঁজ বা সন্ধান করে, এমন কেউ নেই।
7
অতএব হে পালকেরা, মাবুদের কালাম শোন।
8 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, আমার পাল লুটদ্রব্য হয়েছে এবং আমার মেষগুলো বন্য পশুদের খাদ্য হয়েছে; কেননা পালক নেই এবং আমার পালকেরা আমার মেষদের খোঁজ করে নি; বরং সেই পালকেরা নিজেদেরকেই পালন করেছে, আমার মেষগুলোকে পালন করে নি;
9 এজন্য, হে পালকেরা, তোমরা মাবুদের কালাম শোন।
10 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি সেই পালকদের বিপক্ষ; আমি তাদের হাত থেকে আমার মেষগুলোকে উদ্ধার করবো এবং তাদের পালকের কাজ থেকে চ্যুত করবো, সেই পালকেরা আর নিজদেরকে পালন করবে না; আর আমি আমার মেষগুলোকে তাদের মুখ থেকে উদ্ধার করবো, তাদের খাদ্য হতে দেব না।
11
কারণ সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি, আমিই আমার মেষদের খোঁজ করবো, তাদেরকে খুঁজে বের করবো।
12 পালক তার ছিন্নভিন্ন মেষের পালের মধ্যে থাকবার দিনে যেমন তার পাল খুঁজে বের করে, তেমনি আমি আমার মেষগুলোকে খুঁজে বের করবো এবং যেসব স্থানে তারা মেঘাচ্ছন্ন অন্ধকারময় দিনে ছিন্নভিন্ন হয়েছে, সেসব স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করবো।
13 আর আমি জাতিদের মধ্য থেকে তাদেরকে বের করে আনবো, নানা দেশ থেকে সংগ্রহ করবো এবং তাদের নিজের ভূমিতে তাদেরকে আনবো; আর ইসরাইলের পর্বতগুলোর উপরে, পানি প্রবাহগুলোর কাছে এবং দেশের সকল বসতি-স্থানে তাদেরকে চরাব।
14 আমি উত্তম চরাণিতে তাদেরকে চরাব এবং ইসরাইলের উঁচু উঁচু পর্বতে তাদের বাথান হবে; তারা সেই স্থানে উত্তম বাথানে শয়ন করবে এবং ইসরাইলের পর্বতমালায় সবুজ চরাণিতে চরবে।
15 আমিই আমার মেষগুলোকে চরাব, আমিই তাদেরকে শয়ন করাব, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
16 আমি হারানো মেষের খোঁজ করবো, যারা বিপথে গেছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনবো, আহতদের ক্ষত বেঁধে দেব ও অসুস্থদেরকে সবল করবো এবং হৃষ্টপুষ্ট ও বলবানকে সংহার করবো; আমি ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়ে তাদেরকে পালন করবো।
17
আর তোমাদের বিষয়ে, হে আমার মেষপাল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি মেষ ও মেষের, আবার মেষদের ও ছাগদের মধ্যে বিচার করবো।
18 এ কি তোমাদের কাছে তুচ্ছ বিষয় মনে হয় যে, উত্তম চরাণিতে চরছো, আবার নিজেদের অবশিষ্ট ঘাস পদতলে দলিত করছো? এবং নির্মল পানি পান করছো? আবার অবশিষ্টকে পদ দ্বারা মলিন করছো?
19 আমার মেষ পালের অবস্থা এই, তোমরা যা পায়ে মাড়িয়েছ, তারা তা-ই খায় ও তোমরা যা পা দিয়ে মলিন করেছ, তারা তা-ই পান করে।
20
অতএব সার্বভৌম মাবুদ তাদেরকে এই কথা বলেন, দেখ, আমি, আমিই হৃষ্টপুষ্ট মেষের ও কৃশ মেষের মধ্যে বিচার করবো।
21 তোমরা পাশ ও কাঁধ দিয়ে দুর্বলদের ঠেলছ, শিং দিয়ে আঘাত করছে, তাদেরকে বাইরে ছিন্নভিন্ন না করে ক্ষান্ত হও না।
22 এজন্য আমি আমার মেষপালকে রক্ষা করবো, তারা আর লুটদ্রব্য হবে না; এবং আমি মেষ ও মেষের মধ্যে বিচার করবো।
23
আর আমি তাদের উপরে একমাত্র পালককে উৎপন্ন করবো, তিনি তাদেরকে পালন করবেন, তিনি আমার গোলাম দাউদ; তিনিই তাদেরকে চরাবেন এবং তিনিই তাদের পালক হবেন।
24 আর আমি মাবুদ তাদের আল্লাহ্ হব এবং আমার গোলাম দাউদ তাদের মধ্যে নেতা হবেন; আমি মাবুদই এই কথা বললাম।
25
আমি তাদের পক্ষে শান্তির নিয়ম স্থির করবো ও হিংস্র পশুদেরকে দেশ থেকে শেষ করবো; তাতে তারা নির্ভয়ে মরুভূমিতে বাস করবে ও বনে-জঙ্গলে ঘুমাতে পারবে।
26 আর আমি তাদের ও আমার পাহাড়ের চারদিকের পরিসীমাকে আশীর্বাদস্বরূপ করবো; এবং যথাসময়ে পানির ধারা বর্ষণ করবো, দোয়ার ধারা বর্ষিত হবে।
27 আর ক্ষেতের গাছ ফল উৎপন্ন করবে ও ভূমি নিজের শস্য দেবে; এবং তারা নির্ভয়ে স্বদেশে থাকবে, তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ। যখন আমি তাদের জোয়ালের খিল ভেঙ্গে ফেলবো এবং যারা তাদের গোলামী করিয়েছে, তাদের হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করবো।
28 তারা আর জাতিদের লুটদ্রব্য হবে না এবং বন্য পশুগুলো তাদেরকে আর গ্রাস করবে না; কিন্তু তারা নির্ভয়ে বাস করবে, কেউ তাদের ভয় দেখাবে না।
29 আর আমি তাদের জন্য নাম-করা বাগান উৎপন্ন করবো; তাতে দেশের মধ্যে ক্ষুধায় তারা আর মারা যাবে না এবং তারা জাতিদের কৃত অপমান আর ভোগ করবে না।
30 আর তারা জানবে যে, আমি মাবুদ, তাদের সহবর্তী আল্লাহ্ ও তারা আমার লোক ইসরাইল-কুল, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
31 আর তোমরা আমার মেষ, আমার চরাণির মেষ; তোমরা মানুষ, আমিই তোমাদের আল্লাহ্; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, তুমি সেয়ীর পর্বতের বিরুদ্ধে মুখ রাখ, তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল;
3 আর তাকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে সেয়ীর পর্বত, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, আমি তোমার বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে দেব এবং তোমাকে ধ্বংসের ও বিস্ময়ের পাত্র করবো।
4 আমি তোমার নগরগুলোকে উৎসন্ন স্থান করবো এবং তুমি ধ্বংস হবে, তাতে তুমি জানবে যে, আমিই মাবুদ।
5 তোমার চিরন্তন শত্রুভাব আছে এবং তুমি বনি-ইসরাইলদের তাদের বিপদকালে, শেষের অপরাধকালে, তলোয়ারের হাতে তুলে দিয়েছ;
6 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, আমি তোমাকে রক্তাক্ত করবো এবং রক্ত তোমার পিছনে দৌড়াবে; তুমি রক্ত ঘৃণা কর নি, তাই রক্ত তোমার পিছনে দৌড়াবে।
7 আমি সেয়ীর পর্বতকে বিস্ময়ের পাত্র ও ধ্বংসস্থান করবো এবং চলাচলকারী লোককে তার মধ্য থেকে মুছে ফেলব।
8 আমি তার নিহত লোক দিয়ে তার পর্বতগুলো পূর্ণ করবো; তোমার উপত্যকাগুলোতে ও তোমার সমস্ত জলপ্রবাহে তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোক পড়ে থাকবে।
9 আমি তোমাকে চিরস্থায়ী ধ্বংসস্থান করবো এবং তোমার নগরগুলো জনবসতিহীন হবে; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
10
তুমি বলেছ, এই দুই জাতি ও এই দুই দেশ আমারই হবে এবং আমরা তাদের অধিকারী হব, তবুও মাবুদ সেই স্থানে ছিলেন;
11 এজন্য, সার্বভৌম মাবুদ বলেন, আমার জীবনের কসম, তুমি যেমন তাদের প্রতি নিজের বিদ্বেষ অনুযায়ী কাজ করেছ, তেমনি আমি তোমার সেই ক্রোধ ও ঈর্ষার অনুযায়ী কাজ করবো এবং যখন তোমার বিচার করবো, তখন তাদের মধ্যে নিজের পরিচয় দেব।
12
আর তুমি জানবে যে, আমি মাবুদ তোমার সেসব নিন্দাবাদ শুনেছি, যা তুমি ইসরাইলের পর্বতমালার বিষয়ে বলেছ; তুমি বলেছ, সেগুলো ধ্বংসস্থান, সেগুলো গ্রাস করার জন্যই আমাদের দেওয়া হয়েছে।
13 এভাবে তোমরা আমার বিপরীতে তোমাদের মুখ দিয়ে তোমরা অহংকার করেছ এবং আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছ; আমি তা শুনেছি।
14 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সমস্ত দুনিয়ার আনন্দের দিনে আমি তোমাকে ধ্বংস করবো।
15 তুমি ইসরাইল-কুলের অধিকার ধ্বংস হতে দেখে যেমন আনন্দ করেছ, আমি তোমার সঙ্গে তেমনি ব্যবহার করবো; হে সেয়ীর পর্বত, তুমি ধ্বংস হবে, ইদোমের সমস্ত স্থান ধ্বংস হবে; তাতে লোকে জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আর, হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইলের পর্বতমালার কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বল, তুমি বল, হে ইসরাইলের পর্বতমালা, মাবুদের কালাম শোন।
2 সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দুশমন তোমাদের বিরুদ্ধে বলেছে, ‘বাহবা!’ আর, ‘সেই চিরন্তন উচ্চস্থলীগুলো আমাদের অধিকার হল;’
3 এজন্য তুমি ভবিষ্যদ্বাণী বল, তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, লোকেরা তোমাদেরকে জাতিদের অবশিষ্ট অংশের অধিকার করার জন্য ধ্বংস ও চারদিকে গ্রাস করেছে এবং তোমরা লোকদের টিটকারির ও নিন্দার পাত্র হয়েছ;
4 এজন্য, হে ইসরাইলের পর্বতমালা, তোমরা সার্বভৌম মাবুদের কালাম শোন; সার্বভৌম মাবুদ সেই পর্বত, উপপর্বত, পানির প্রবাহ ও উপত্যকা সবকিছুকে এবং সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঁথড়া ও পরিত্যক্ত নগরগুলোকে এই কথা বলেন, তোমরা চারদিকের জাতিদের অবশিষ্ট অংশের লুটদ্রব্য ও হাসির পাত্র হয়েছ;
5 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, নিশ্চয়ই আমি সেই জাতিদের অবশিষ্ট অংশের বিরুদ্ধে, বিশেষত সমস্ত ইদোমের বিরুদ্ধে আমার অন্তর্জ্বালার আগুনেই কথা বলেছি, কেননা তারা তাদের সমস্ত অন্তরের উল্লাসে ও প্রাণের অবজ্ঞায় লুটের আশায় শূন্য করার জন্য আমার দেশ নিজেদের অধিকার বলে নির্ধারণ করেছে।
6
অতএব তুমি ইসরাইল দেশের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী বল এবং সেই পর্বত, উপপর্বত, পানির প্রবাহ ও উপত্যকার সকলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি আমার অর্ন্তজ্বালায় ও আমার কোপে বলেছি, তোমরা জাতিদের কাছে অপমান বহন করেছ;
7 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, আমি আমার হাত তুলে শপথ করেছি, তোমাদের চারদিকে যে জাতিরা আছে, তারাই নিশ্চয় নিজেদের অপমান বহন করবে।
8
কিন্তু হে ইসরাইলের পর্বতমালা, তোমরা নিজেদের শাখা বাড়িয়ে আমার লোক ইসরাইলকে নিজ নিজ ফল দেবে, কেননা তাদের আগমন সন্নিকট।
9 কারণ দেখ, আমি তোমাদের সপক্ষ; এবং আমি তোমাদের প্রতি ফিরব, তাতে তোমাদের মধ্যে চাষ ও বীজবপন হবে।
10 আর আমি তোমাদের উপরে লোকজনকে, সমস্ত ইসরাইল-কুলকে, তার সকলকেই বহুসংখ্যক করবো; আর নগরগুলো বসতিবিশিষ্ট হবে এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থানগুলো নির্মিত হবে।
11 আর আমি তোমাদের উপরে মানুষ ও পশুকে বহুসংখ্যক করবো, তাতে তারা বৃদ্ধি পাবে ও বহুসংখ্যক হবে; এবং আমি তোমাদের আগেকার দিনের মত বসতিস্থান করবো এবং তোমাদের আগের দশার চেয়ে বেশি মঙ্গল তোমাদের দেব; তাতে তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
12 আমি তোমাদের উপর দিয়ে লোকজনকে, আমার লোক ইসরাইলকে, যাতায়াত করাব; তারা তোমাকে ভোগ করবে ও তুমি তাদের অধিকার-ভূমি হবে, এখন থেকে তাদেরকে আর সন্তানহীন করবে না।
13
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তারা তোমাকে মানুষ গ্রাসকারী ও নিজের জাতির সন্তাননাশক বলে;
14 এজন্য তুমি আর মানুষকে গ্রাস করবে না এবং তোমার জাতিকে আর সন্তানহীন করবে না, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
15 আমি তোমাকে আর জাতিদের অপমনের কথা শোনাব না, তুমি আর লোকদের উপহাসের ভার বহন করবে না এবং তোমার জাতির উচোট খাবার কারণ হবে না, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
16
আর মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
17 হে মানুষের সন্তান, ইসরাইল-কুল যখন নিজেদের ভূমিতে বাস করতো, তখন তাদের আচরণ ও কাজ দ্বারা তা নাপাক করতো; তাদের আচরণ আমার দৃষ্টিতে স্ত্রীলোকের মাসিক ঋতুকালীন নাপাকীতার মত মনে হল।
18 অতএব সেই দেশে তাদের রক্তপাতের কারণে এবং তাদের মূর্তিগুলো দ্বারা দেশ নাপাক করার কারণে, আমি তাদের উপরে আমার গজব ঢেলে দিলাম।
19 আর আমি তাদেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করলাম এবং তারা নানা দেশে ছড়িয়ে পড়লো; তাদের আচরণ ও কাজ অনুসারে আমি তাদের বিচার করলাম।
20 আর তারা যেখানে গেল, সেখানে জাতিদের কাছে গিয়ে আমার পবিত্র নাম নাপাক করলো; কেননা লোকে তাদের বিষয়ে বলতো ওরা মাবুদের লোক এবং তাঁরই দেশ থেকে বের হয়েছে।
21 কিন্তু আমার নামের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে আমার মনোযোগ ছিল, কারণ ইসরাইল-কুল, জাতিদের মধ্যে যেখানে গেছে, সেখানেই আমার নাম নাপাক করেছে।
22
অতএব তুমি ইসরাইল-কুলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইসরাইল-কুল, আমি তোমাদের জন্য কাজ করছি, তা নয়, কিন্তু আমার সেই পবিত্র নামের অনুরোধে কাজ করছি, যা তোমরা যেখানে গিয়াছ, সেখানে জাতিদের মধ্যে নাপাক করেছ।
23 আমি আমার সেই মহৎ নাম পবিত্র করবো, যা জাতিদের মধ্যে নাপাক করা হয়েছে, যা তোমরা তাদের মধ্যে নাপাক করেছ; আর জাতিরা জানবে যে, আমিই মাবুদ, যখন আমি তাদের সাক্ষাতে তোমাদের কাছে পবিত্র বলে মান্য হব, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
24 কারণ আমি জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদেরকে গ্রহণ করবো, নানা দেশ থেকে তোমাদেরকে সংগ্রহ করবো ও তোমাদেরই দেশে তোমাদেরকে উপস্থিত করবো।
25 আর আমি তোমাদের উপরে পবিত্র পানি ছিটাব, তাতে তোমরা পাক-পবিত্র হবে; আমি তোমাদের সকল নাপাকীতা ও তোমাদের সকল মূর্তি থেকে তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করবো।
26 আর আমি তোমাদের নতুন অন্তর দেব ও তোমাদের অন্তরে নতুন রূহ্ স্থাপন করবো; আমি তোমাদের মাংস থেকে প্রস্তরময় অন্তর দূর করবো ও তোমাদেরকে মাংসময় অন্তর দেব।
27 আর আমার রূহ্কে তোমাদের অন্তরে স্থাপন করবো এবং তোমাদের আমার বিধিপথে চালাব, তোমরা আমার অনুশাসনগুলো রক্ষা ও পালন করবে।
28 আর আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশে তোমরা বাস করবে; আর তোমরা আমার লোক হবে এবং আমিই তোমাদের আল্লাহ্ হব।
29 আমি তোমাদের সমস্ত নাপাকীতা থেকে তোমাদের উদ্ধার করবো; এবং শস্য আহ্বান করে প্রচুর করে দেব, তোমাদের উপরে দুর্ভিক্ষ পাঠাব না।
30 আমি গাছের ফল ও ক্ষেতে উৎপন্ন দ্রব্য প্রচুর করে দেব, যেন জাতিদের মধ্যে তোমরা আর দুর্ভিক্ষের দরুন টিটকারি ভোগ না কর।
31 তখন তোমরা নিজেদের মন্দ আচরণ ও অসৎ কাজগুলো স্মরণ করবে এবং নিজেদের অপরাধ ও জঘন্য কাজের কারণে নিজেদের দৃষ্টিতে নিজদেরকে অতিশয় ঘৃণা করবে।
32 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, তোমরা জেনো, আমি তোমাদের জন্য এই কাজ করছি, তা নয়; হে ইসরাইল-কুল, তোমরা নিজেদের আচরণের কারণেই লজ্জিত ও বিষণ্ন হও।
33
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, যেদিন আমি তোমাদের সকল অপরাধ থেকে তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করবো, সেদিন নগরগুলোকে বসতিবিশিষ্ট করবো এবং উৎসন্ন স্থানগুলো নির্মিত হবে।
34 আর যে দেশ পথিকদের সাক্ষাতে ধ্বংসস্থান ছিল, সেই ধ্বংসিত দেশে কৃষিকর্ম চলবে।
35 আর লোকে বলবে, এই ধ্বংসিত দেশ আদন বাগানের মত হল এবং উচ্ছিন্ন, ধ্বংসিত ও উৎপাটিত নগরগুলো প্রাচীরবেষ্টিত ও বসতিস্থান হল।
36 তখন তোমাদের চারদিকে অবশিষ্ট জাতিরা জানতে পাবে যে, আমি মাবুদ উৎপাটিত স্থানগুলো নির্মাণ করেছি ও ধ্বংসিত স্থান বাগানে পরিণত করেছি; আমি মাবুদ এই কথা বলেছি এবং এ সিদ্ধ করবো।
37
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তাদের পক্ষে তা করার জন্য আমি ইসরাইল-কুলকে আমার কাছে খোঁজ করতে দেব; আমি তাদের ভেড়ার পালের মত লোকজনে বৃদ্ধি করবো।
38 যেমন পবিত্র ভেড়ার পালে, যেমন জেরুশালেমে ঈদের সময়ের ভেড়ার পালে, তেমনি লোকজন দ্বারা এই উচ্ছিন্ন নগরগুলো পরিপূর্ণ হবে; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
মাবুদের হাত আমার উপরে আসল এবং তিনি তাঁর রূহে আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে উপত্যকার মধ্যে রাখলেন; তা অস্থিতে পরিপূর্ণ ছিল।
2 পরে তিনি চারদিকে তাদের কাছ দিয়ে আমাকে গমন করালেন; আর দেখ, সেই উপত্যকায় বিস্তর অস্থি ছিল; এবং দেখ, সেইগুলো খুবই শুকনো।
3 পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এসব অস্থি কি জীবিত হবে? আমি বললাম, হে সার্বভৌম মাবুদ, আপনি জানেন।
4 তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি এসব অস্থির উদ্দেশে ভবিষ্যদ্বাণী বল, তাদেরকে বল, হে শুকনো অস্থিগুলো, মাবুদের কালাম শোন।
5 সার্বভৌম মাবুদ এসব অস্থিকে এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাদের মধ্যে নিশ্বাস প্রবেশ করাব, তাতে তোমরা জীবিত হবে।
6 আর আমি তোমাদের উপরে শিরা দেব, তোমাদের উপরে মাংস উৎপন্ন করবো, চামড়া দ্বারা তোমাদের আচ্ছাদন করবো ও তোমাদের মধ্যে রূহ্ দেব, তাতে তোমরা জীবিত হবে, আর তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
7
তখন আমি যেমন হুকুম পেলাম, সেই অনুসারে ভবিষ্যদ্বাণী বললাম; আর আমার ভবিষ্যদ্বাণী বলবার সময়ে আওয়াজ হল, আর দেখ, মড় মড় ধ্বনি হল এবং সেসব অস্থির মধ্যে প্রত্যেক অস্থি নিজ নিজ অস্থির সঙ্গে সংযুক্ত হল।
8 পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, তাদের উপরে শিরা হল ও মাংস উৎপন্ন হল এবং চামড়া তাদেরকে আচ্ছাদন করলো, কিন্তু তাদের মধ্যে নিশ্বাস ছিল না।
9 পরে তিনি আমাকে বললেন, নিশ্বাসের উদ্দেশে ভবিষ্যদ্বাণী বল, হে মানুষের সন্তান, ভবিষ্যদ্বাণী বল এবং নিশ্বাসকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে নিশ্বাস চারদিক থেকে বায়ু এসো এবং এই নিহত লোকদের মধ্যে প্রবাহিত হও, যেন তারা জীবিত হয়।
10 তখন, তিনি আমাকে যে হুকুম দিলেন, সেই অনুসারে আমি ভবিষ্যদ্বাণী বললাম; তাতে রূহ্ তাদের মধ্যে প্রবেশ করলো এবং তারা জীবিত হল ও নিজ নিজ পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল; সে এক বিশাল বাহিনী।
11
পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এ সমস্ত অস্থিগুলো হল ইসরাইল-কুল; দেখ, তারা বলছে, আমাদের অস্থিগুলো শুকিয়ে গেছে এবং আমাদের আশা নষ্ট হয়েছে; আমরা একেবারে উচ্ছিন্ন হলাম।
12 এজন্য তুমি ভবিষ্যদ্বাণী বল, তাদেরকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি তোমাদের কবরগুলো খুলে দেব, হে আমার লোকবৃন্দ, তোমাদের কবর থেকে তোমাদের উত্থাপন করবো এবং ইসরাইল দেশে নিয়ে যাব।
13
তখন তোমরা জানবে যে, আমিই মাবুদ, কেননা আমি তোমাদের কবরগুলো খুলে দেব এবং হে আমার লোকবৃন্দ, তোমাদের কবর থেকে তোমাদেরকে উত্থাপন করবো।
14 আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার রূহ্ দেব, তাতে তোমরা জীবিত হবে; এবং আমি তোমাদের দেশে তোমাদের বসাব, তাতে তোমরা জানবে যে, আমি মাবুদ এই কথা বলেছি এবং তা সিদ্ধ করেছি; মাবুদ এই কথা বলেন।
15
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
16 হে মানুষের সন্তান, তুমি নিজের জন্য একখানি কাঠ নিয়ে তার উপরে এই কথা লেখ, ‘এহুদার জন্য এবং তার সখা সঙ্গে যুক্ত বনি-ইসরাইলদের জন্য।’ পরে আর একখানি কাঠ নিয়ে তার উপরে লেখ, ‘ইউসুফের জন্য, তা আফরাহীম ও তার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ইসরাইল-কুলের কাঠ।’
17 পরে সেই দু’খানি কাঠ পরস্পর জোড়া দিয়ে তোমার জন্য একটি কাঠ কর, দু’খানি কাঠ তোমার হাতে একীভূত হোক।
18 আর যখন তোমার জাতির সন্তানেরা তোমাকে বলবে, ‘এতে আপনার অভিপ্রায় কি, তা কি আমাদেরকে জানাবেন না?’
19 তখন তুমি তাদের বলো, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আফরাহীমের হাতে ইউসুফের যে কাঠ আছে, আমি তা গ্রহণ করবো ও তার সঙ্গে যুক্ত ইসরাইলের বংশদেরকে গ্রহণ করবো, তাদেরকে ওর অর্থাৎ এহুদার কাঠের সঙ্গে জোড়া দেব এবং তাদেরকে একটি কাঠ করবো, তাতে সেই সকল আমার হাতে একীভূত হবে।
20
আর তুমি সেই যে দু’টি কাঠে লিখবে, তা তাদের সাক্ষাতে তোমার হাতে থাকবে।
21 আর তুমি তাদেরকে বলো, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, বনি-ইসরাইলেরা যেখানে যেখানে গমন করেছে, আমি সেখানকার জাতিদের মধ্য থেকে তাদেরকে গ্রহণ করবো এবং চারদিক থেকে তাদের একত্র করে তাদের দেশে নিয়ে যাব।
22 আর আমি সেই দেশে, ইসরাইলের পর্বতগুলোতে, তাদের একই জাতি করবো ও একই বাদশাহ্ তাদের সকলের বাদশাহ্ হবেন; তারা আর দুই জাতি হবে না, আর কখনও দুই রাজ্যে বিভক্ত হবে না।
23 আর তারা নিজেদের মূর্তি ও জঘন্য বস্তু দ্বারা এবং নিজেদের কোন অধর্ম দ্বারা নিজেদের আর নাপাক করবে না; হ্যাঁ, যেসব স্থানে তারা গুনাহ্ করেছে, তাদের সেসব বাসস্থান থেকে আমি তাদেরকে নিস্তার করবো এবং পাক-পবিত্র করবো; তাতে তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব।
24
আর আমার গোলাম দাউদ তাদের উপরে বাদশাহ্ হবেন; তাদের সকলের এক জনই পালক হবে এবং তারা আমার অনুশাসন পথে চলবে, আর আমার বিধিকলাপ রক্ষা করে তদনুযায়ী আচরণ করবে।
25 আর আমি আমার গোলাম ইয়াকুবকে যে দেশ দিয়েছি, যার মধ্যে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা বাস করতো, সেই দেশে তারা বাস করবে, তারা ও তাদের পুত্রপৌত্ররা চিরকাল বাস করবে এবং আমার গোলাম দাউদ চিরকালের জন্য তাদের নেতা হবেন।
26 আর আমি তাদের জন্য শান্তির একটি নিয়ম স্থির করবো; তাদের সঙ্গে তা চিরস্থায়ী নিয়ম হবে; আমি তাদের বসাব ও বাড়াব এবং আমার পবিত্র স্থান চিরকালের জন্য তাদের মধ্যে স্থাপন করবো।
27 আর আমার আবাস তাদের উপরে অবস্থান করবে এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব ও তারা আমার লোক হবে।
28 তখন আমি যে ইসরাইলের পবিত্রকারী মাবুদ, তা জাতিরা জানবে, কেননা তখন আমার পবিত্র স্থান তাদের মধ্যে চিরকাল থাকবে।
1
মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
2 হে মানুষের সন্তান, মাজুজ দেশীয় ইয়াজুজ, মেশকের ও তূবলের প্রধান শাসনকর্তার দিকে মুখ রাখ ও তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল,
3 তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইয়াজুজ, মেশকের ও তূবলের প্রধান শাসনকর্তা, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ;
4 তোমাকে এদিক ওদিক ফিরাব ও তোমার আকড়া দিয়ে চোয়াল ছিদ্র করবো, আর তোমাকে ও তোমার সমস্ত সৈন্য, ঘোড়াগুলো ও পূর্ণ সজ্জিত সমস্ত ঘোড়সওয়ারকে, ঢাল ও ফলকধারী মহাসমাজকে, তলোয়ার-ধারী সমস্ত লোককে বাইরে আনবো।
5 পারস্য, ইথিওপিয়া ও পূট তাদের সঙ্গী হবে; এরা সকলে ঢাল ও শিরস্ত্রাণধারী;
6 গোমর ও তার সকল সৈন্যদল, উত্তর দিকের প্রান্তবাসী তোগর্মের কুল ও তার সকল সৈন্যদল, এই নানা মহাজাতি তোমার সঙ্গী হবে।
7 প্রস্তুত হও, নিজেকে প্রস্তুত কর— তুমি ও তোমার কাছে সমাগত তোমার সমস্ত সমাজ— এবং তুমি তাদের রক্ষক হও।
8 বহুদিন অতীত হলে তোমাকে আহ্বান করা যাবে; ভবিষ্যতের বছরগুলোতে তুমি একটি দেশ আক্রমণ করবে যে দেশ তলোয়ার থেকে রেহাই পেয়েছে, যে দেশে অনেক জাতি থেকে লোক সংগৃহীত হয়ে ইসরাইলের চিরোৎসন্ন পর্বতগুলোতে আসবে; তারা জাতিদের মধ্য থেকে বাইরে আনা হয়েছে এবং তারা সকলেই নির্ভয়ে বাস করবে।
9 কিন্তু তুমি উঠবে, ঝঞ্ঝার মত আসবে, মেঘের মত তুমি ও তোমার সঙ্গে তোমার সকল সৈন্যদল ও অনেক জাতি সেই দেশ গ্রাস করবে।
10
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সেদিন নানা বিষয় তোমার মনে পড়বে এবং তুমি অনিষ্টের সঙ্কল্প করবে।
11 তুমি বলবে, আমি সেই দেশের বিরুদ্ধে যাত্রা করবো যার প্রাচীর-বিহীন গ্রাম আছে, আমি সেই শান্তিযুক্ত লোকদের কাছে যাব, তারা নির্ভয়ে বাস করছে; তারা সকলে প্রাচীরহীন স্থানে বাস করছে; এবং তাদের অর্গল বা কবাট নেই।
12 তুমি লুট করবে ও দ্রব্য হরণ করবে; আগে উৎসন্ন সেই বসতিস্থানগুলোর বিরুদ্ধে এবং জাতিদের মধ্য থেকে সংগৃহীত, আর পশু ও ধনপ্রাপ্ত এবং দুনিয়ার কেন্দ্রে বসবাসকারী জাতির বিরুদ্ধে হাত বাড়াবে।
13 সাবা, দদান ও তর্শীশের বণিকরা এবং সেখানকার সকল গ্রাম তোমাকে বলবে, তুমি কি লুট করার জন্য আসলে? দ্রব্য হরণ করার জন্য কি তোমার এই জনসমাজকে একত্র করলে? সোনা ও রূপা নিয়ে যাওয়া, পশু ও ধন হরণ করা, বিস্তর লুট করাই কি তোমার অভিপ্রায়?
14
অতএব, হে মানুষের সন্তান, তুমি ভবিষ্যদ্বাণী বল, ইয়াজুজকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সেদিন যখন আমার লোক ইসরাইল নির্ভয়ে বাস করবে, তখন তুমি কি তা জানবে না?
15 আর তুমি তোমার স্থান থেকে, উত্তর দিকের প্রান্ত থেকে আসবে এবং অনেক জাতি তোমার সঙ্গে আসবে; তারা সকলে ঘোড়ায় চড়ে আসবে, মহাসমাজ ও পরাক্রমশালী সৈন্যসামন্ত হবে।
16 আর তুমি মেঘের মত দেশ আচ্ছাদন করার জন্য আমার লোক ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাত্রা করবে; ভাবী কালে এরকম ঘটবে; আমি তোমাকে আমার দেশের বিরুদ্ধে আনবো, যেন জাতিরা আমাকে জানতে পারে, কেননা তখন, হে ইয়াজুজ, আমি তাদের দৃষ্টিগোচরে তোমার মধ্য দিয়ে পবিত্র বলে মান্য হবো।
17
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি কি সেই ব্যক্তি, যার বিষয়ে আমি আগেকার দিনে আমার গোলামেরা দ্বারা, অর্থাৎ যারা সেই সময়ে অনেক বছর যাবৎ ভবিষ্যদ্বাণী বলতো, সেই ইসরাইলীয় নবীদের দ্বারা এই কথা বলতাম যে, আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে আনাবো?
18 সেদিন যখন ইয়াজুজ ইসরাইল দেশের বিরুদ্ধে আসবে, তখন আমার কোপাগ্নি আমার নাসিকায় উঠবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
19 কারণ আমি নিজের অন্তর্জ্বালায় ও রোষানলে বলেছি, অবশ্য সেদিন ইসরাইল দেশে মহাকম্প হবে।
20 তাতে সমুদ্রের মাছ, আসমানের পাখি, বনের পশু, ভূচর সরীসৃপ এবং ভূতলস্থ সমস্ত মানুষ আমার সাক্ষাতে ভয়ে কাঁপবে, পর্বতগুলো উৎপাটিত হবে, শৈলের চূড়াগুলো পড়ে যাবে এবং সমস্ত প্রাচীর ভূমিসাৎ হবে।
21 আর আমি নিজের সকল পর্বতে তার বিরুদ্ধে তলোয়ার আহ্বান করবো, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; প্রত্যেকের তলোয়ার তার ভাইয়ের বিরুদ্ধ হবে।
22 আর আমি মহামারী ও রক্ত দ্বারা বিচারে তার সঙ্গে ঝগড়া করবো এবং তার উপরে, তার সকল সৈন্যদলের ও তার সঙ্গী অনেক জাতির উপরে ভীষণ বৃষ্টি ও বড় বড় শিলাবৃষ্টি, আগুন ও গন্ধক বর্ষণ করবো।
23 আর আমি নিজের মহত্ত্ব ও পবিত্রতা প্রকাশ করবো, বহুসংখ্যক জাতির সাক্ষাতে নিজের পরিচয় দেব; তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
1
আর, হে মানুষের সন্তান, তুমি ইয়াজুজের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বল, তুমি বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইয়াজুজ!, মেশকের ও তূবলের অধিপতি, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ।
2 আমি তোমাকে এদিক ওদিক ফিরাব, তোমাকে চালাব, উত্তর দিকের প্রান্ত থেকে তোমাকে আনাবো এবং ইসরাইলের পর্বতগুলোতে তোমাকে উপস্থিত করবো।
3 আর আমি আঘাত করে তোমার ধনুক তোমার বাম হাত থেকে খসাব ও তোমার ডান হাত থেকে তোমার তীরগুলো নিপাত করবো।
4 ইসরাইলের পর্বতগুলোতে তুমি, তোমার সকল সৈন্যদল ও তোমার সঙ্গী জাতিরা মরে পড়ে থাকবে; আমি তোমাকে খাবার হিসেবে সব জাতের হিংস্র পাখি ও বন্য পশুদের দেব।
5 তুমি মাঠে পড়ে থাকবে, কেননা আমি এই কথা বললাম; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
6 আর আমি মাজুজের মধ্যে ও নিশ্চিন্ত উপকূল-নিবাসীদের মধ্যে আগুন প্রেরণ করবো, তাতে তারা জানবে যে, আমিই মাবুদ।
7
আর আমি আমার লোক ইসরাইলের মধ্যে আমার পবিত্র নাম জানাবো, আমার পবিত্র নাম আর নাপাক হতে দেব না; তাতে জাতিরা জানবে যে, আমিই মাবুদ, ইসরাইলের মধ্যে পবিত্রতম।
8 দেখ, যা আসছে তা সিদ্ধ হবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; এ সেদিন, যে দিনের কথা আমি বলেছি।
9
তখন ইসরাইলের সকল নগর-নিবাসী লোকেরা বাইরে যাবে এবং ঢাল ও ফলক, ধনুক ও তীর এবং লাঠি ও শূল, এসব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগুন জ্বালাবে ও পুড়িয়ে ফেলবে; তারা সাত বছর পর্যন্ত সেসব নিয়ে আগুন জ্বালাবে।
10 তারা মাঠ থেকে কাঠ আনবে না, বনের গাছ কাটবে না; কেননা তারা সেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগুন জ্বালাবে; তারা তাদের লুণ্ঠনকারীদের ধন লুট করবে ও যারা তাদের সম্পত্তি অপহরণ করেছিল, তাদের সম্পত্তি অপহরণ করবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
11
আর সেদিন আমি ইসরাইলের মধ্যে ইয়াজুজকে কবরস্থান দেব, তা সমুদ্রের পূর্বদিক্স্থ পথিকদের উপত্যকা; এবং তা পথিকদের গতি রোধ করবে; সেই স্থানে লোকে ইয়াজুজ ও তার সমস্ত লোককে দাফন করবে এবং তার নাম রাখবে গে-হামোন-ইয়াজুজ [ইয়াজুজের লোকারণ্যের উপত্যকা]।
12 দেশ পাক-পবিত্র করার জন্য ইসরাইল-কুল তাদেরকে দাফন করতে সাত মাস ব্যস্ত থাকবে।
13 আর দেশের সকল লোক তাদের দাফন করবে এবং আমার নিজের গৌরব প্রকাশ করার দিনে সেই কাজ তাদের পক্ষে সুনামের হবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
14 আর যারা নিয়মিত কাজে নিযুক্ত থাকবে, তাদেরকে তারা পৃথক করে দেবে, তারা দেশ পর্যটন করবে, পর্যটনকারীরা ভূমিতে অবশিষ্ট সকলকে দেশ পাক-পবিত্র করার জন্য দাফন করবে; সপ্তম মাসের শেষে তারা অনুসন্ধান করবে।
15 আর সেই দেশপর্যটনকারীরা পর্যটন করবে; এবং যখন কেউ মানুষের অস্থি দেখে, তখন তার পাশে একটি চিহ্ন গাঁথবে; পরে যারা কবর দেয় তারা গে-হামোন-ইয়াজুজে তার কবর দেবে।
16 আবার একটি নগরের নাম হামোনা [লোকারণ্য] হবে; এভাবে তারা দেশ পাক-পবিত্র করবে।
17
আর হে মানুষের সন্তান, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি সব জাতের পাখিদেরকে এবং সমস্ত বনপশুকে বল, তোমরা একত্র হয়ে এসো, সর্বদিক্ থেকে আমার কোরবানীর ভোজে সমবেত হও, কেননা আমি ইসরাইলের পর্বতমালার উপরে তোমাদের জন্য একটি মহা কোরবানী করবো; তাতে তোমরা গোশ্ত খাবে ও রক্ত পান করবে।
18 তোমরা বীরদের গোশ্ত খাবে ও ভূপতিদের রক্ত পান করবে, তারা সকলে বাশন দেশের হৃষ্টপুষ্ট ভেড়া, ভেড়ার বাচ্চা, ছাগল ও ষাঁড়ের।
19 আর আমি তোমাদের জন্য যে কোরবানী প্রস্তুত করেছি, তাতে তোমরা তৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত চর্বি ভোজন ও মাতাল না হওয়া পর্যন্ত রক্ত পান করবে।
20 আর আমার টেবিলে ঘোড়া, রথ, বীর ও সব রকম যোদ্ধাদেরকে খেয়ে তারা তৃপ্ত হবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
21
আর আমি জাতিদের মধ্যে আমার গৌরব স্থাপন করবো এবং আমি যে শাসন করবো ও তাদের উপর যে উঠাব, তা সমস্ত জাতি দেখবে।
22 আর সেই দিনে ও তারপরে ইসরাইল-কুল জানবে যে, আমি মাবুদই তাদের আল্লাহ্।
23 আর জাতিরা জানবে যে, ইসরাইল-কুল নিজের অপরাধের জন্য নির্বাসিত হয়েছিল, বস্তুত তারা আমার বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিল, তাই আমি তাদের দিক থেকে আমার মুখ লুকিয়েছিলাম ও তাদেরকে বিপক্ষদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম, আর তারা সকলে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়েছিল।
24 তাদের যেমন নাপাকীতা ও যেমন অধর্ম, আমি তাদের প্রতি তেমনি ব্যবহার করেছিলাম; আমি তাদের থেকে আমার মুখ লুকিয়েছিলাম।
25
এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এখন আমি ইয়াকুবের বন্দীদশা ফিরাব, সমস্ত ইসরাইল-কুলের প্রতি করুণা করবো এবং আমার পবিত্র নামের পক্ষে উদ্যোগী হবে।
26 আর তারা নিজেদের অপমান ও আমার বিরুদ্ধে কৃত নিজেদের সমস্ত সত্যলঙ্ঘনের ভার বইবে, যখন তারা নির্ভয়ে তাদের দেশে বাস করবে, আর কেউ তাদের ভয় দেখাবে না,
27 যখন আমি জাতিদের মধ্য থেকে তাদের ফিরিয়ে আনবো ও তাদের দুশমনদের সমস্ত দেশ থেকে তাদের সংগ্রহ করবো এবং বহুসংখ্যক জাতির সাক্ষাতে তাদের মধ্য দিয়ে পবিত্র বলে মান্য হবো।
28 তখন তারা জানবে যে, আমিই তাদের আল্লাহ্ মাবুদ, কেননা আমি জাতিদের কাছে তাদের নির্বাসিত করেছিলাম, আর আমি তাদেরই দেশে তাদের একত্র করেছি, তাদের মধ্যে কাউকেও আর সেখানে অবশিষ্ট রাখবো না।
29 আর আমি তাদের দিক থেকে আমার মুখ আর লুকাব না, কারণ আমি ইসরাইল-কুলের উপরে আমার রূহ্ ঢেলে দেব, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
আমাদের নির্বাসনের পঞ্চবিংশ বছরে, বছরের আরম্ভে মাসের দশম দিনে, অর্থাৎ নগর নিপাতিত হবার পরে চতুর্দশ বছরের সেই দিনে, মাবুদ আমার উপরে হস্তার্পণ করলেন ও আমাকে সেই স্থানে উপস্থিত করলেন।
2 তিনি আল্লাহ্র দেওয়া দর্শনযোগে আমাকে ইসরাইল দেশে উপস্থিত করলেন ও অতি উঁচু কোন একটি পর্বতে বসালেন; তার উপরে দক্ষিণ দিকে যেন একটি নগরের গাঁথুনি ছিল।
3 তিনি আমাকে সেই স্থানে নিয়ে গেলেন, আর দেখ, এক জন পুরুষ; তাঁর আভা ব্রোঞ্জের আভার মত, তাঁর হাতে কার্পাসের একটি দড়ি ও মাপবার একটি নল ছিল এবং তিনি দ্বারে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
4 পরে সেই পুরুষটি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, আমি তোমাকে যা যা দেখাব, সেসব তুমি স্বচক্ষে নিরীক্ষণ কর, স্বকর্ণে শোন ও আমি তোমাকে যা কিছু দেখাব তাতে মনোযোগ দাও, কেননা তোমাকে সেসব দেখাবার জন্যই তোমাকে এই স্থানে আনা হয়েছে; তুমি যা যা দেখবে, তার সকলই ইসরাইল-কুলকে জানাবে।
5
আর দেখ, এবাদতখানার বাইরে চারদিকে একটি প্রাচীর, আর সেই পুরুষের হাতে মাপবার একটি নল, তা ছয় হাত লম্বা, এর প্রত্যেক হাত এক হাত চার আঙ্গুল পরিমিত। পরে তিনি দেয়ালটি মাপলেন; তা চওড়ায় এক নল ও উচ্চতায় এক নল।
6 পরে তিনি পূর্বমূখী দ্বারে আসলেন, তার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেন এবং দ্বারের গোবরাটটি মাপলেন; তা চওড়ায় এক নল পরিমিত; এবং অন্য কপাটটিও চওড়ায় এক নল পরিমিত।
7 আর প্রত্যেকটি কক্ষ লম্বায় এক নল ও চওড়ায় এক নল পরিমিত; এক একটির কক্ষের মধ্যে পাঁচ হাত ব্যবধান ছিল; এবং দ্বারের বারান্দার পাশে এবাদতখানার দিকে দ্বারের গোবরাট ছিল, এক নল পরিমিত।
8 আর তিনি এবাদতখানার দিকে দ্বারের বারান্দাটি মাপলেন, তা এক নল হল।
9 পরে তিনি দ্বারের বারান্দা আট হাত এবং তার উপস্তম্ভগুলো দুই হাত মাপলেন; দ্বারের বারান্দা এবাদতখানার দিকে ছিল।
10 আর পূর্বমূখী দ্বারের কক্ষ এক পাশে তিনটি, অন্য পাশের তিনটি ছিল; তিনটির মাপ একই ছিল; এবং এপাশে ওপাশে অবস্থিত উপস্তম্ভগুলোও একই মাপের ছিল।
11 পরে তিনি দ্বারের প্রবেশস্থানের চওড়াটা মাপলেন; তা দশ হাত পরিমিত আর দ্বারের লম্বা তের হাত পরিমিত ছিল।
12 আর বাসাগুলোর সম্মুখে এক হাত পরিমিত প্রান্ত ছিল; এবং অন্য পাশের এক হাত পরিমিত প্রান্ত ছিল; এবং প্রত্যেক বাসা এক পাশে ছয় হাত পরিমিত এবং অন্য পাশে ছয় হাত পরিমিত ছিল।
13 পরে তিনি এক কক্ষের ছাদ থেকে অপর কক্ষের ছাদ পর্যন্ত দ্বারের চওড়া মাপলেন, তা পঁচিশ হাত পরিমিত এবং এক প্রবেশ-দ্বার অপর প্রবেশ-দ্বারের সম্মুখে ছিল।
14 পরে তিনি উপস্তম্ভগুলো ষাট হাত করে ধরলেন; এবং প্রাঙ্গণ উপস্তম্ভগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত হল, তার চারদিকে দ্বার ছিল।
15 আর প্রবেশস্থানে দ্বারের অগ্রদেশ থেকে অন্তঃস্থ দ্বারের বারান্দার অগ্রদেশ পর্যন্ত পঞ্চাশ হাত ছিল।
16 আর দ্বারের ভিতরে সমস্ত দিকে কক্ষগুলোর ও তার উপস্তম্ভগুলোর জালবদ্ধ জানালা ছিল এবং তার মণ্ডপগুলোতেও ঐ একই রকম জানালা ছিল; জানালাগুলো ভিতরে চারদিকে ছিল; এবং উপস্তম্ভগুলোতে খেজুর গাছের আকৃতি ছিল।
17
পরে তিনি আমাকে বাইরের প্রাঙ্গণে আনলেন; আর দেখ, সেই স্থানে অনেক কুঠরী ও চারদিকে প্রাঙ্গণের জন্য নির্মিত একটি প্রস্তরবাঁধা ভূমি; সেই প্রস্তরবাঁধা ভূমির উপরে ত্রিশটি কুঠরী।
18 সেই প্রস্তরবাঁধা ভূমি দ্বারগুলোর পাশে দ্বারের লম্বা অনুযায়ী ছিল, এটি নিম্নতর প্রস্তরবাঁধা ভূমি।
19 পরে তিনি দ্বারের নিম্নতম অগ্রদেশ থেকে ভিতরের প্রাঙ্গণের অগ্রদেশ পর্যন্ত বাইরে চওড়াটা মাপলেন, পূর্ব দিকে ও উত্তর দিকে তা এক শত হাত।
20
পরে তিনি বাইরের প্রাঙ্গণের উত্তরমুখী দ্বারের লম্বা ও চওড়া মাপলেন।
21 তার বাসা এক পাশে তিনটি ও অন্য পাশে তিনটি এবং তার উপস্তম্ভ ও মণ্ডপগুলোর পরিমাণ প্রথম দ্বারের পরিমাণের মত; লম্বায় পঞ্চাশ হাত ও চওড়ায় পঁচিশ হাত।
22 আর তার জানালা, মণ্ডপ ও খেজুরাকৃতি সকল পূর্বমুখী দ্বারের পরিমাণ অনুরূপ ছিল, লোকেরা সাতটি ধাপ দিয়ে তাতে আরোহণ করতো; তার সম্মুখে তার মণ্ডপ ছিল।
23 আর উত্তরদ্বার ও পূর্বদ্বারের সম্মুখে ভিতরের প্রাঙ্গণের দ্বার ছিল; তিনি এক দ্বার থেকে অন্য দ্বার পর্যন্ত মাপলেন এবং তা এক শত হাত হল।
24
পরে তিনি আমাকে দক্ষিণ দিকে নিয়ে গেলেন, আর দেখ, দক্ষিণ দিকে এক দ্বার; আর তিনি তার উপস্তম্ভ ও মণ্ডপগুলো মাপলেন, তার পরিমাণ আগের পরিমাণের মতই।
25 আর অন্যান্য জানালার মত চারদিকে তার ও তার মণ্ডপগুলোর জানালা ছিল, লম্বায় পঞ্চাশ ও চওড়ায় পঁচিশ হাত।
26 আর তাতে আরোহণ করার সাতটি ধাপ ছিল ও সেগুলোর সম্মুখে তার মণ্ডপ ছিল; এবং তার উপস্তম্ভে এক দিকে একটি ও অন্য দিকে একটি, এরকম দু’টি খেজুরের আকৃতি ছিল।
27 আর দক্ষিণ দিকে ভিতরের প্রাঙ্গণের একটি দ্বার ছিল; পরে তিনি দক্ষিণমুখী এক দ্বার থেকে অন্য দ্বার পর্যন্ত মাপলেন এবং তা একশত হাত ছিল।
28
পরে তিনি আমাকে দক্ষিণ দ্বার দিয়ে ভিতরের প্রাঙ্গণের মধ্যে আনলেন; এবং আগের পরিমাণ অনুসারে দক্ষিণ দ্বার মাপলেন।
29 আর তার কক্ষ, উপস্তম্ভ ও মণ্ডপগুলো ঐ পরিমাণের অনুরূপ ছিল; এবং চারদিকে তার ও তার মণ্ডপের জানালা ছিল; দ্বার লম্বায় পঞ্চাশ হাত ও চওড়ায় পঁচিশ হাত ছিল।
30 আর চারদিকে মণ্ডপ ছিল, তা পঁচিশ হাত লম্বাও পাঁচ হাত চওড়া।
31 আর তার মণ্ডপগুলো বাইরের প্রাঙ্গণের পাশে এবং তার উপস্তম্ভে খেজুর আকৃতি ছিল; এবং তার উপস্তম্ভে খেজুর আকৃতি ছিল; এবং তার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
32
পরে তিনি আমাকে পূর্ব দিকে ভিতরের প্রাঙ্গণের মধ্যে আনলেন; এবং ঐ পরিমাণ অনুসারে দ্বার মাপলেন।
33 তার কক্ষ, উপস্তম্ভ ও মণ্ডপগুলো ঐ পরিমাণের অনুরূপ ছিল; এবং চারদিকে তার ও তার মণ্ডপের জানালা ছিল, লম্বায় পঞ্চাশ হাত ও চওড়ায় পঁচিশ হাত ছিল।
34 আর তার মণ্ডপগুলো বাইরের প্রাঙ্গণের পাশে ছিল এবং এদিকে ওদিকে তার উপস্তম্ভে খেজুর আকৃতি ছিল এবং তার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
35
পরে তিনি আমাকে উত্তরদ্বারে আনলেন; এবং ঐ পরিমাণ অনুসারে তা মাপলেন।
36 তার কক্ষ, উপস্তম্ভ ও মণ্ডপগুলো এবং চারদিকে জানালা ছিল; লম্বায় পঞ্চাশ ও চওড়ায় পঁচিশ হাত ছিল।
37 তার উপস্তম্ভগুলো বাইরের প্রাঙ্গণের পাশে এবং এদিকে ওদিকে উপস্তম্ভে খেজুর আকৃতি ছিল; এবং তার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
38
দ্বারগুলোর উপস্তম্ভের কাছে দ্বারযুক্ত একটি কুঠরী ছিল; সেখানে লোকেরা পোড়ানো-কোরবানী ধুয়ে নিত।
39 আর দ্বারের বারান্দায় এদিকে দুই টেবিল, ওদিকে দুই টেবিল ছিল, তার কাছে পোড়ানো-কোরবানী, গুনাহ্ কোরবানী ও দোষ-কোরবানী পশু জবেহ্ করা হত।
40 আর দ্বারের পাশে বাইরে উত্তরদ্বারের প্রবেশস্থানে সিঁড়ির কাছে দু’টি টেবিল ছিল, আবার দ্বারের বারান্দার পার্শ্ববর্তী অন্য পাশে দু’টি টেবিল ছিল।
41 দ্বারের পাশে এদিকে চারটি টেবিল, ওদিকে চারটি টেবিল ছিল; সবসুদ্ধ আটটি টেবিল ছিল যার উপরে কোরবানীর যন্ত্রপাতি রাখা হত।
42 আর পোড়ানো-কোরবানীর জন্য চারটি টেবিল ছিল, তা মসৃণ করা পাথর দিয়ে তৈরি এবং দেড় হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া ও এক হাত উঁচু ছিল; পোড়ানো-কোরবানীর ও অন্য কোরবানীর পশু যা দ্বারা জবেহ্ করা হত, সেসব অস্ত্র সেখানে রাখা যেত।
43 আর চার আঙ্গুল লম্বা আঁকড়া চারদিকের দেয়ালে মারা ছিল এবং টেবিলগুলোর উপরে উপহারের গোশ্ত রাখা যেত।
44
আর ভিতরের দ্বারের বাইরে গায়কদের কুঠরী অন্তঃপ্রাঙ্গণে ছিল, একটি ছিল, উত্তরদ্বারের পাশে, সেটি দক্ষিণমুখী; আর একটি ছিল, পূর্বদ্বারের পাশে, সেটি উত্তরমুখী।
45 পরে তিনি আমাকে বললেন, যে ইমামেরা এবাদতখানার দেখাশোনার কাজ করে, এই দক্ষিণমুখী কুঠরী তাদের হবে।
46 আর যে ইমামেরা কোরবানগাহ্র দেখাশোনার কাজ করে, এই উত্তরমুখী কুঠরী তাদের হবে। এরা সাদোকের সন্তান, লেবির সন্তানদের মধ্যে এরাই মাবুদের পরিচর্যা করার জন্য তাঁর কাছে আসে।
47 পরে তিনি সেই প্রাঙ্গণ মাপলেন, তা একশত হাত লম্বা ও একশত হাত চওড়া, চারদিকে সমান ছিল; কোরবানগাহ্ এবাদতখানার সম্মুখে ছিল।
48
পরে তিনি আমাকে এবাদতখানার বারান্দায় নিয়ে গিয়ে সেই বারান্দার উপস্তম্ভগুলো মাপলেন; প্রত্যেকটি এদিকে পাঁচ হাত, ওদিকে পাঁচ হাত পরিমিত; এবং দ্বারের চওড়া এদিকে তিন হাত, ওদিকে তিন হাত পরিমিত ছিল।
49 বারান্দাটি লম্বায় বিশ হাত ও চওড়ায় এগার হাত ছিল; এবং দশ ধাপ দিয়ে লোকে তাতে উঠতো; আর উপস্তম্ভের কাছে এদিকে একটি স্তম্ভ, ওদিকে একটি স্তম্ভ ছিল।
1
পরে তিনি আমাকে এবাদতখানার কাছে এনে উপস্তম্ভগুলো মাপলেন; সেগুলোর চওড়া এদিকে ছয় হাত, ওদিকে ছয় হাত ছিল, এ-ই তাঁবুর চওড়া।
2 আর প্রবেশস্থানের চওড়া দশ হাত ও সেই প্রবেশস্থানের পাশে এদিকে পাঁচ হাত, ওদিকে পাঁচ হাত। পরে তিনি তার লম্বা চল্লিশ হাত ও চওড়া বিশ হাত মাপলেন।
3 পরে তিনি ভিতরে প্রবেশ করে প্রবেশস্থানের প্রত্যেক উপস্তম্ভ দুই হাত, প্রবেশস্থান ছয় হাত ও প্রবেশস্থানের চওড়া সাত হাত মাপলেন।
4 পরে তিনি তার লম্বা বিশ হাত ও এবাদতখানার অগ্রদেশে তার চওড়া বিশ হাত মাপলেন এবং আমাকে বললেন, এটি মহা-পবিত্র স্থান।
5
পরে তিনি এবাদতখানার দেয়াল ছয় হাত ও চারদিকে এবাদতখানা বেষ্টনকারী প্রত্যেক পাশের কুঠরীর চার হাত চওড়া মাপলেন।
6 একতলার উপরে অন্য তলা, এভাবে তিন তলা পর্যন্ত পাশের কুঠরীগুলো ছিল, তার একেক তলায় ত্রিশ কুঠরী ছিল; এবং এবাদতখানার সঙ্গে সংলগ্ন হবার জন্য চারদিকের সকল পাশে অবস্থিত কুঠরীগুলোর জন্য এবাদতখানার গায়ে একটি দেয়াল ছিল; তার উপরে সেসব নির্ভর করতো, কিন্তু এবাদতখানার দেয়ালের মধ্যে ঢুকানো ছিল না।
7 আর উচ্চতা অনুসারে কুঠরীগুলো উত্তরোত্তর প্রশস্ত হয়ে এবাদতখানা বেষ্টন করলো, কারণ তা চারদিকে ক্রমশ উঁচু হয়ে এবাদতখানা বেষ্টন করলো, এজন্য উচ্চতা অনুসারে এবাদতখানার গায়ে উত্তরোত্তর প্রশস্ত হল; এবং নিচের তলা থেকে মধ্য তলা দিয়ে উপরের তলায় যাবার পথ ছিল।
8 আরও দেখলাম, এবাদতখানার মেজে চারদিকে উঁচু, পাশে অবস্থিত কুঠরীগুলো ছয় হাত পরিমিত সমপূর্ণ এক এক নল।
9 বাইরের দিকে অবস্থিত কুঠরীগুলোর যে দেয়াল, তা পাঁচ হাত মোটা ছিল এবং অবশিষ্ট শূন্য স্থান এবাদতখানার পাশে অবস্থিত সেসব কুঠরীর স্থান ছিল।
10 কুঠরীগুলোর মধ্যে এবাদতখানার চারদিকে প্রত্যেক পাশে বিশ হাত চওড়া স্থান ছিল।
11 আর পাশে অবস্থিত এই কুঠরীগুলোর দ্বার সেই শূন্য স্থানের দিকে ছিল, তার একটি দ্বার উত্তর দিকে, অন্য দ্বারটি দক্ষিণ দিকে ছিল; এবং চারদিকে সেই শূন্য স্থানের চওড়া ছিল পাঁচ হাত।
12
আর খোলা স্থানের সম্মুখে পশ্চিম দিকে যে গাঁথুনি ছিল, তার চওড়া সত্তর হাত ছিল এবং চারদিকে সেই গাঁথনির দেয়ালটি পাঁচ হাত মোটা ছিল; এবং তার লম্বা নব্বই হাত ছিল।
13
পরে তিনি এবাদতখানার লম্বা একশত হাত এবং খোলা স্থানের, গাঁথুনি ও তার দেয়ালের লম্বা একশত হাত মাপলেন।
14 আর পূর্ব দিকে এবাদখানা ও খোলা স্থানের অগ্রদেশ একশত হাত চওড়া ছিল।
15
আর তিনি খোলা স্থানের সম্মুখভাগে অবস্থিত গাঁথনির লম্বা, অর্থাৎ ওর পিছনে যা ছিল, তা এবং এদিকে ওদিকে ওর অপ্রশস্ত বারান্দা একশত হাত মাপলেন এবং এবাদতখানার ভিতরখানা ও প্রাঙ্গণের বারান্দাগুলো মাপলেন।
16 চারদিকে গোবরাট, জালবদ্ধ জানালা এবং অপ্রশস্ত বারান্দা ছিল, এক একটি কপাটের সম্মুখে চারদিকে কাঠের তিরস্করিণী ভূমি থেকে জানালা পর্যন্ত ছিল; আর জানালাগুলো আচ্ছাদিত ছিল;
17 আর প্রবেশস্থানের উপরের স্থান, অন্তর্গৃহ, বাইরের স্থান ও সমস্ত দেয়াল, চারদিকে ভিতরে ও বাইরে যা যা ছিল, সকলের বিশেষ বিশেষ পরিমাণ নির্ধারিত হল।
18 আর ওতে কারুবী ও খেজুরের শিল্পকর্ম ছিল, দু’টা করে কারুবীর মধ্যে এক একটি খেজুর গাছ এবং এক একটি কারুবীর দু’টি করে মুখ ছিল।
19 বস্তুত এক পাশের খেজুরের দিকে মানুষের মুখ এবং অন্য পাশের খেজুরের দিকে সিংহের মুখ চারদিকে সমস্ত গৃহে শিল্পীত ছিল।
20 ভূমি থেকে দ্বারের উপরিভাগ পর্যন্ত সেই কারুবী ও খেজুর শিল্পীত ছিল; এটি এবাদতখানার দেয়াল।
21 এবাদতখানার দ্বারকাঠগুলো চারকোনা বিশিষ্ট এবং পবিত্র স্থানের সম্মুখভাগের আকৃতিও সেই রকম ছিল।
22 কোরবানগাহ্ কাঠের তৈরি, তিন হাত উঁচু ও লম্বায় দুই হাত; এবং তার কোণ, পায়া ও শরীর কাঠের ছিল। পরে তিনি আমাকে বললেন, এটি মাবুদের সম্মুখস্থ টেবিল।
23 আর বায়তুল-মোকাদ্দসের ও বায়তুল-মোকাদ্দসের দুই দ্বার ছিল এবং এক এক দ্বারের দু’টা করে কবাট ছিল;
24 দু’টা করে ঘূর্ণি কবাট ছিল, অর্থাৎ এক দ্বারের দুই কবাট ও অন্য দ্বারের দুই কবাট ছিল।
25 সেগুলোতে ও বায়তুল-মোকাদ্দসের সেই সব কবাটে দেয়ালের শিল্পকর্মের মত কারুবী ও খেজুর শিল্পীত ছিল। আর বহিঃস্থ বারান্দার সম্মুখ-ভাগে কাঠের ঝিলিমিলি ছিল।
26 বারান্দার দুই পাশে, তার এদিকে ওদিকে জালবদ্ধ জানালা ও খেজুর আকৃতি ছিল। এবাদতখানার পাশে অবস্থিত কুঠরী সকল ও বারান্দার ছাউনিও এরকম ছিল।
1
পরে তিনি আমাকে উত্তর দিকস্থ পথে বাইরের প্রাঙ্গণে নিয়ে গেলেন; এবং খোলা স্থানের সম্মুখে ও গাঁথনির সম্মুখে উত্তর দিকস্থ কুঠরীতে নিয়ে গেলেন।
2 সেটি এক শত হাত লম্বা এবং চওড়ায় ছিল পঞ্চাশ হাত; এবং প্রবেশ দ্বার ছিল উত্তরমুখী।
3 ভিতরের প্রাঙ্গণের বিশ হাতের সম্মুখে এবং বাইরের প্রাঙ্গণের প্রস্তরবাঁধা ভূমির সম্মুখে এক অপ্রশস্ত বারান্দার অনুরূপ অন্য অপ্রশস্ত বারান্দা তৃতীয় তালা পর্যন্ত ছিল।
4 আর কুঠরীগুলোর সম্মুখে ভিতরের দিকে দশ হাত চওড়া এক শত হাতের একটি পথ ছিল এবং সকলের দ্বার উত্তর দিকে ছিল।
5 উপরিস্থ কুঠরীগুলো ক্ষুদ্র ছিল, কেননা গাঁথনির অধঃস্থিত ও মধ্যস্থিত কুঠরী থেকে এদের স্থান অপ্রশস্ত বারান্দার দরুন সংকীর্ণ ছিল।
6 কেননা তাদের তিন তলা ছিল, আর প্রাঙ্গণ-স্তম্ভের মত স্তম্ভ ছিল না, এজন্য অধঃস্থিত ও মধ্যস্থিত কুঠরীগুলোর চেয়ে উপরের কুঠরীগুলো সঙ্কুচিত ছিল।
7 আর বাইরে কুঠরীগুলোর সমান্তরাল অথচ বাইরের প্রাঙ্গণের পাশে কুঠরীগুলোর সম্মুখে একটি বেড়া ছিল, তা পঞ্চাশ হাত লম্বা।
8 কারণ বাইরের প্রাঙ্গণের পাশে কুঠরীগুলোর লম্বা পঞ্চাশ হাত ছিল, কিন্তু দেখ, এবাদতখানার আগে তা এক শত হাত ছিল।
9 বাইরের প্রাঙ্গণ থেকে সেখানে গেলে প্রবেশস্থান এই কুঠরীর নিচে পূর্ব দিকে পড়তো।
10 প্রাঙ্গণের বেড়ার প্রশস্ত পাশে পূর্ব দিকে খোলা স্থানের সম্মুখে এবং গাঁথনির সম্মুখে কুঠরী-শ্রেণী ছিল।
11
আর তাদের সম্মুখে যে পথ ছিল, তার আকার উত্তর দিকস্থ কুঠরীগুলোর মত ছিল; তার লম্বা অনুযায়ী চওড়া ছিল; আর তাদের সমস্ত নির্গমস্থান, তাদের গঠনও দ্বারের অনুযায়ী ছিল।
12 দক্ষিণ দিকের কুঠরীগুলোর দ্বারগুলোর মত একটি দ্বার পথের মুখে ছিল; সেই পথ সেখানকার বেড়ার সম্মুখে, যে আসত, তার পূর্ব দিকে পড়তো।
13
পরে তিনি আমাকে বললেন, খোলা স্থানের সম্মুখে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের যেসব কুঠরী আছে, সেগুলো পবিত্র কুঠরী। যে ইমামেরা মাবুদের কাছে উপস্থিত হয়, তারা সেই স্থানে অতি পবিত্র দ্রব্যগুলো ভোজন করবে; সেই স্থানে তারা অতি পবিত্র দ্রব্যগুলো এবং শস্য-উৎসর্গ, গুনাহ্-কোরবানী ও দোষ-কোরবানী রাখবে, কেননা স্থানটি পবিত্র।
14 যে সময় ইমামেরা প্রবেশ করে, সেই সময়ে তারা পবিত্র স্থান থেকে বাইরের প্রাঙ্গণে বের হবে না; তারা যে যে পোশাক পরে পরিচর্যা করে, সেসব পোশাক সেখানে রাখবে, কেননা সে সকল পবিত্র; তারা অন্য পোশাক পরবে, পরে লোকদের স্থানে গমন করবে।
15
ভিতরের গৃহের পরিমাপ সমাপ্ত করলে পর তিনি আমাকে পূর্বমুখী দ্বারের দিকে বাইরে নিয়ে গেলেন এবং তার চারদিক মাপলেন।
16 তিনি মাপবার নল দিয়ে পূর্ব পাশ মাপলেন, মাপবার নলে তা সবসুদ্ধ পাঁচ শত নল পরিমিত।
17 তিনি উত্তর পাশ মাপলেন, মাপবার নলে তা সবসুদ্ধ পাঁচ শত নল পরিমিত।
18 তিনি দক্ষিণ পাশ মাপলেন, মাপবার নলে তা পাঁচ শত নল পরিমিত।
19 তিনি পশ্চিম পাশের দিকে ফিরে মাপবার নল দিয়ে পাঁচ শত নল মাপলেন।
20 এভাবে তিনি তার চারদিক মাপলেন; যা পবিত্র ও যা সাধারণ, তার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য তার চারদিকে প্রাচীর ছিল; তা পাঁচ শত নল দীর্ঘ ও পাঁচ শত নল চওড়া ছিল।
1
পরে তিনি আমাকে পূর্বমুখী দ্বারের কাছে আনলেন;
2 আর দেখ, পূর্ব দিক থেকে ইসরাইলের আল্লাহ্র মহিমা আসল; তাঁর আওয়াজ জলরাশির শব্দের মত এবং তাঁর প্রতাপে দুনিয়া উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
3 আমি যে দর্শন দেখেছিলাম, অর্থাৎ যখন তিনি নগরের বিনাশ করতে এসেছিলেন, তখন যে দর্শন দেখেছিলাম, এই দর্শনটিও সেই একই রকম, আর কবার নদীর তীরেও একই রকম দর্শন দেখেছিলাম; তখন আমি উবুড় হয়ে পড়লাম।
4 আর মাবুদের মহিমা পূর্বমুখী দ্বারের পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলো।
5 পরে রূহ্ আমাকে উঠিয়ে অন্তঃপ্রাঙ্গণে আনলেন; আর দেখ, এবাদতখানা মাবুদের প্রতাপে পরিপূর্ণ হল।
6
আর আমি শুনলাম, এবাদতখানার মধ্য থেকে এক জন আমার কাছে কথা বলছেন, তখন এক ব্যক্তি আমার পাশে দণ্ডায়মান হলেন।
7 তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, এটি আমার সিংহাসনের স্থান এবং এটি আমার পা রাখার জায়গা, এই স্থানে বনি-ইসরাইলদের মধ্যে আমি চিরকাল বাস করবো; এবং ইসরাইল-কুল, তারা বা তাদের বাদশাহ্রা, নিজ নিজ জেনা দ্বারা ও তাদের উচ্চস্থলীতে বাদশাহ্দের লাশ দ্বারা আমার পবিত্র নাম আর অপবিত্র করবে না।
8 তারা আমার গোবরাটের কাছে তাদের গোবরাট ও আমার চৌকাঠের পাশে তাদের চৌকাঠ দিত এবং আমার ও তাদের মধ্যে কেবল একটি দেয়াল ছিল; আর তারা নিজেদের করা জঘন্য কাজ দিয়ে আমার পবিত্র নাম অপবিত্র করতো, এজন্য আমি নিজের জ্বলন্ত ক্রোধে তাদেরকে গ্রাস করেছি।
9 এখন তারা নিজেদের জেনা ও নিজেদের বাদশাহ্দের লাশ আমার কাছ থেকে দূর করুক, তাতে আমি চিরকাল তাদের মধ্যে বাস করবো।
10
হে মানুষের সন্তান, তুমি ইসরাইল-কুলকে এই এবাদতখানার কথা জানাও, যেন তারা নিজ নিজ অপরাধের জন্য লজ্জিত হয়, আর তারা এর সমস্ত স্থান পরিমাপ করুক।
11 যদি তারা নিজেদের কৃত সমস্ত কাজের জন্য লজ্জিত হয়, তবে তুমি তাদেরকে এবাদতখানার আকার, গঠন, নির্গমন-স্থান ও প্রবেশ-স্থানগুলো, তার সমস্ত আকৃতি ও সমস্ত অনুশাসন, তার সমস্ত আকৃতি ও সমস্ত ব্যবস্থার কথা জানাও, আর তাদের সাক্ষাতে লেখ; এবং তারা তার সমস্ত আকৃতি ও সমস্ত অনুশাসন রক্ষা করে তদনুযায়ী কাজ করুক।
12 এবাদতখানার ব্যবস্থা এই; পর্বতের শিখরে চারদিকে তার সমস্ত পরিসীমা অতি পবিত্র। দেখ, এ-ই সেই এবাদতখানার ব্যবস্থা।
13
হাতের মাপ অনুসারে কোরবানগাহ্র মাপ এই। প্রত্যেক হাত এক হাত চার আঙ্গুল পরিমিত। তার মূল এক হাত উঁচু ও এক হাত চওড়া এবং চারদিকে তার প্রান্তে অবস্থিত কিনারা এক বিঘত পরিমিত; এই কোরবানগাহ্র তল।
14 আর ভূমিতে অবস্থিত মূল থেকে অধঃস্থ সোপানাকৃতি পর্যন্ত দুই হাত ও তার পরিসর এক হাত; আবার সেই ছোট সোপানাকৃতি থেকে বড় সোপানাকৃতি পর্যন্ত চার হাত ও তার চওড়া এক হাত।
15 আর উপরিস্থ কোরবানগাহ্ চার হাত; এবং কোরবানগাহ্ থেকে চারটি শিং উপরের দিকে উঠে গেছে।
16 আর সেই কোরবানগাহ্ বারো হাত লম্বা ও বারো হাত চওড়া, চারদিকে সমান হবে।
17 সোপানটি চার পাশে চৌদ্দ হাত লম্বা ও চৌদ্দ হাত চওড়া এবং তার চারদিকে অবস্থিত কিনারা অর্ধেক হাত পরিমিত এবং তার মূল চারদিকে এক হাত পরিমিত হবে এবং তার ধাপগুলো পূর্বমুখী হবে।
18
পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সেই কোরবানগাহে পোড়ানো-কোরবানীদান ও রক্ত ছিটাবার জন্য যেদিন তা প্রস্তুত করা যাবে, সেই দিনের জন্য তৎসংক্রান্ত অনুশাসন এই।
19 সার্বভৌম মাবুদ বলেন, সাদোক বংশজাত সে লেবীয় ইমামেরা আমার পরিচর্যা করতে আমার কাছে উপস্থিত হয়, তাদেরকে তুমি গুনাহ্-কোরবানীর জন্য একটি যুবা ষাঁড় দেবে।
20 পরে তার রক্তের কিছু পরিমাণ নিয়ে কোরবানগাহ্র চারটি শিংয়ে, সিঁড়ির চার প্রান্তে ও চারদিকে তার নিকালে সেচন করে কোরবানগাহ্ পাক-পবিত্র করবে ও তার জন্য কাফ্ফারা দেবে।
21 পরে তুমি ঐ গুনাহ্র জন্য ষাঁড় নিয়ে যাবে, আর সে পবিত্র এলাকার বাইরে এবাদতখানার নির্ধারিত স্থানে তা পুড়িয়ে দেবে।
22
আর তুমি দ্বিতীয় দিনে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি নিখুঁত ছাগল কোরবানী করবে; তাতে ইমামেরা ষাঁড় দ্বারা যেমন করেছিল, তেমনি কোরবানগাহ্ পাক-পবিত্র করবে।
23 ওর পবিত্রকরণ সমাপ্ত হলে পর তুমি নিখুঁত একটি যুবা ষাঁড় ও পালের নিখুঁত একটি ভেড়া কোরবানী করবে।
24 তুমি তাদেরকে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত করবে এবং ইমামেরা তাদের উপরে লবণ ফেলে দিয়ে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী উদ্দেশ্যে তাদেরকে কোরবানী করবে।
25 এক সপ্তাহ কাল প্রতিদিন তুমি গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে এক একটি ছাগল কোরবানী করবে; আর তারা নিখুঁত একটি যুবা ষাঁড় ও পালের একটি ভেড়া কোরবানী করবে।
26 সপ্তাহ কাল তারা কোরবানগাহ্র জন্য কাফ্ফারা দেবে, তা পাক-পবিত্র করবে ও সংস্কার দ্বারা পবিত্র করবে।
27 সেসব দিন অতীত হলে পর অষ্টম দিন থেকে ইমামেরা সেই কোরবানগাহে তোমাদের পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করবে, তাতে আমি তোমাদেরকে গ্রাহ্য করবো; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
পরে তিনি পবিত্র স্থানের পূর্বমুখী বহির্দ্বারের দিকে আমাকে ফিরিয়ে আনলেন; তখন সেই দ্বার রুদ্ধ ছিল।
2 পরে মাবুদ আমাকে বললেন, এই দ্বার রুদ্ধ থাকবে, খোলা যাবে না; এবং এটি দিয়ে কেউ প্রবেশ করবে না; কেননা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ এটি দিয়ে প্রবেশ করেছেন, সেজন্য এটি রুদ্ধ থাকবে।
3 শাসনকর্তা বলে কেবল শাসনকর্তাই মাবুদের সম্মুখে আহার করার জন্য এর মধ্যে বসবেন; তিনি এই দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে ভিতরে আসবেন ও সেই পথ দিয়ে বাইরে যাবেন।
4
পরে তিনি উত্তরদ্বারের পথে আমাকে এবাদতখানার সম্মুখে আনলেন; তাতে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস মাবুদের প্রতাপে পরিপূর্ণ হল; তখন আমি উবুড় হয়ে পড়লাম।
5 মাবুদ আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দসের সমস্ত বিধি ও সমস্ত অনুশাসনগুলোর বিষয়ে যা যা আমি তোমাকে বলবো, তুমি তাতে মনোযোগ দাও, স্বচক্ষে তা নিরীক্ষণ কর ও স্বকর্ণে শোন এবং এই এবাদতখানায় প্রবেশ করার ও পবিত্র স্থান থেকে বাইরে যাবার সমস্ত অনুশাসনের বিষয়ে মনোযোগ কর।
6 আর সেই বিদ্রোহী দলকে, ইসরাইল-কুলকে বল, সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইসরাইল-কুল, তোমাদের সকল জঘন্য কাজ যথেষ্ট হয়েছে।
7 বস্তুত তোমরা খৎনা-না-করানো অন্তর ও খৎনা-না-করানো মাংসবিশিষ্ট বিজাতীয় লোকদেরকে আমার পবিত্র স্থানে থাকতে ও আমার সেই এবাদতখানা নাপাক করতে ভিতরে আনয়ন করেছ, তোমরা আমার উদ্দেশে খাবার, চর্বি ও রক্ত কোরবানী করেছ, আর তোমরা আমার নিয়ম ভঙ্গ করেছ, তোমাদের সকল জঘন্য কাজ ছাড়াও তা করেছ।
8 আর তোমরা আমার পবিত্র বিষয়গুলোর রক্ষণীয় রক্ষা কর নি; কিন্তু নিজেদের ইচ্ছামতে আমার পবিত্র স্থানের রক্ষণীয়ের রক্ষক নিযুক্ত করেছ।
9
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, বনি-ইসরাইলদের মধ্যে যেসব বিজাতীয় লোক আছে, তাদের মধ্যে খৎনা-না-করানো অন্তর ও খৎনা-না-করানো মাংসবিশিষ্ট কোন বিজাতীয় লোক আমার পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবে না।
10 কিন্তু ইসরাইল যখন বিপথে গিয়েছিল, তাদের মূর্তিগুলোর পিছনে চলার জন্য আমাকে ছেড়ে বিপথে গিয়েছিল, তখন যে লেবীয়রা আমার কাছ থেকে দূরে গিয়েছিল, তারা নিজ নিজ গুনাহ্ বহন করবে।
11 তবুও তারা আমার পবিত্র স্থানের পরিচারক হবে, এবাদতখানার সকল দ্বারে পরিদর্শক ও এবাদতখানার পরিচারক হবে; তারা লোকদের জন্য পোড়ানো-কোরবানী ও অন্য কোরবানী করবে এবং তাদের পরিচর্যা করতে তাদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবে।
12 তাদের মূর্তিগুলোর সাক্ষাতে তারা লোকদের পরিচর্যা করতো এবং ইসরাইল-কুলের অপরাধজনক বিঘ্ন স্বরূপ হত; সেজন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার হাত তুললাম, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; তারা নিজ নিজ গুনাহ্ বহন করবে।
13 আমার উদ্দেশে ইমামের কাজ করতে তারা আমার কাছে আসবে না; এবং আমার পবিত্র দ্রব্যগুলোর, বিশেষত আমার অতি পবিত্র দ্রব্যগুলোর কাছে আসবে না, কিন্তু নিজেদের অপমান ও নিজেদের কৃত জঘন্য কাজের ভার বহন করবে।
14 তবুও আমি তাদেরকে এবাদতখানার সমস্ত সেবাকর্মে ও তন্মধ্যে কর্তব্য সমস্ত কাজে এবাদতখানার রক্ষণীয়ের রক্ষক করবো।
15
কিন্তু বনি-ইসরাইল যখন আমাকে ছেড়ে বিপথে গিয়েছিল, তখন সাদোকের সন্তান যে লেবীয় ইমামেরা আমার পবিত্র স্থানের রক্ষণীয় দ্রব্য রক্ষা করতো, তারাই আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার কাছে আসবে এবং আমার উদ্দেশে চর্বি ও রক্ত কোরবানী করার জন্য আমার সম্মুখে দণ্ডায়মান হবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
16 তারাই আমার পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবে এবং তারাই আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার টেবিলের কাছে আসবে ও আমার রক্ষণীয় রক্ষা করবে।
17 ভিতরের প্রাঙ্গণের দ্বারে প্রবেশ করার সময়ে তারা মসীনার পোশাক পরবে; ভিতরের প্রাঙ্গণের সকল দ্বারে ও গৃহের মধ্যে পরিচর্যা করার সময় তাদের শরীরে ভেড়ার লোমের কাপড় উঠবে না।
18 তাদের মস্তকে মসীনার পাগড়ী ও কটীদেশে মসীনার জাঙ্গিয়া থাকবে; ঘাম হয় এমন কিছুই তারা পরবে না।
19 আর যখন তারা বাইরের প্রাঙ্গণে, অর্থাৎ লোকদের কাছে বাইরের প্রাঙ্গণে বের হবে, তখন নিজেদের পরিচর্যার পোশাকগুলো ত্যাগ করে পবিত্র কুঠরীতে রেখে দেবে এবং অন্য কাপড় পরবে; নিজেদের ঐ পোশাক দিয়ে লোকদেরকে পবিত্র করবে না।
20 তারা মাথা মুণ্ডন করবে না ও চুল লম্বা হতে দেবে না, কেবল মাথার চুল ছোট করে কাটবে।
21 আর অন্তঃপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সময়ে ইমামদের মধ্যে কেউই আঙ্গুর-রস পান করবে না।
22 তারা বিধবাকে কিংবা পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করবে না, কিন্তু ইসরাইল-কুলজাত কুমারী কন্যাকে, কিংবা ইমামের বিধবাকে বিয়ে করবে।
23 আর তারা আমার লোকদেরকে পবিত্র ও সাধারণ বস্তুর প্রভেদ শিক্ষা দেবে এবং পাক ও নাপাকের প্রভেদ জানাবে।
24 আর ঝগড়া হলে তারা বিচারের জন্য উপস্থিত হবে; আমার সকল শাসনানুসারে বিচার নিষ্পন্ন করবে; এবং আমার সমস্ত ঈদে আমার শরীয়ত ও আমার বিধিগুলো পালন করবে এবং আমার বিশ্রামবারগুলো পবিত্র করবে।
25 তারা কোন মৃত লোকের লাশের কাছে গিয়ে নিজেদের নাপাক করবে না, কেবল পিতা বা মাতা, পুত্র বা কন্যা, ভাই বা অনূঢ়া বোনের জন্য তারা নাপাক হতে পারবে।
26 ইমাম পাক-পবিত্র হলে পর তাকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে।
27 পরে যেদিন সে বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে পরিচর্যা করার জন্য পবিত্র স্থানে অর্থাৎ অন্তঃপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করবে, সেদিন নিজের জন্য গুনাহ্-কোরবানী করবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
28
আর তাদের একটি অধিকার হবে, আমিই তাদের অধিকার; তোমরা ইসরাইলের মধ্যে তাদেরকে কোন অধিকার দেবে না, আমিই তাদের অধিকার।
29 শস্য-উৎসর্গ, গুনাহ্-কোরবানী ও দোষ-কোরবানী তাদের খাদ্য হবে এবং ইসরাইলের মধ্যে সমস্ত বর্জিত দ্রব্য তাদের হবে।
30 আর সমস্ত প্রথমে পাকা শস্যাদির মধ্যে প্রত্যেকের অগ্রিমাংশ এবং তোমাদের সমস্ত উপহারের মধ্যে প্রত্যেক উপহারের সকলই ইমামদের হবে; এবং তোমরা নিজ নিজ ছানা ময়দার অগ্রিমাংশ ইমামকে দেবে, তা করলে নিজ নিজ বাড়িতে দোয়া অবস্থিতি করাবে।
31 পাখি হোক বা পশু হোক, স্বয়ং মৃত কিংবা বিদীর্ণ কিছুই ইমামদের খাদ্য হবে না।
1
আর যখন তোমরা অধিকারের জন্য গুলিবাঁট করে দেশ বিভাগ করবে, সেই সময়ে মাবুদের উদ্দেশে একটি পবিত্র ভূমিখণ্ড উপহার হিসেবে নিবেদন করবে; তার লম্বা পঁচিশ হাজার হাত ও চওড়া বিশ হাজার হাত হবে; এর সমস্ত পরিসীমা পবিত্র হবে।
2 তার মধ্যে পাঁচ শত হাত লম্বা ও পাঁচ শত হাত চওড়া, চারদিকে চতুঙ্কোণ ভূমি পবিত্র স্থানের জন্য থাকবে; আবার তার বহির্ভাগে চারদিকে পঞ্চাশ হাত পরিমিত পরিসর থাকবে।
3 ঐ পরিমিত অংশের মধ্যে তুমি পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ও দশ হাজার হাত চওড়া ভূমি মাপবে; তারই মধ্যে পবিত্র স্থানটি মহা-পবিত্র স্থান হবে।
4 দেশের এই অংশটি পবিত্র হবে; তা ইমামদের, পবিত্র স্থানের পরিচারকদের, যারা মাবুদের পরিচর্যার জন্য তাঁর কাছে আগমন করে তাদের হবে; তা তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের স্থান ও পবিত্র স্থানের জন্য পবিত্র হবে।
5 আবার পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ও দশ হাজার হাত চওড়া ভূমি এবাদতখানার পরিচারক লেবীয়দের জন্য হবে, বাস করার নগর তাদের অধিকারের জন্য হবে।
6
আর নগরের অধিকারের জন্য তোমরা পবিত্র উপহারের পাশে পাঁচ হাজার হাত চওড়া ও পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ভূমি দেবে, এ সব ইসরাইল-কুলের জন্য হবে।
7 আবার পবিত্র উপহারের এবং নগরের অধিকারের উভয় পাশে সেই পবিত্র উপহারের সম্মুখে ও নগরের অধিকারের সম্মুখে অর্থাৎ পশ্চিম প্রান্তের পশ্চিমে ও পূর্ব প্রান্তের আগে এবং লম্বায় পশ্চিম সীমা থেকে পূর্ব সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশগুলোর মধ্যে কোন অংশের সমতুল্য ভূমি শাসনকর্তাকে দেবে।
8 দেশে এই স্থানটি ইসরাইলের মধ্যে তাঁর অধিকার হবে; এবং আমার নিযুক্ত শাসনকর্তারা আর আমার লোকদের উপরে দৌরাত্ম্য করবে না, কিন্তু ইসরাইল-কুলকে নিজ নিজ বংশানুসারে দেশের ভূমি ভোগ করতে দেবে।
9
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, হে ইসরাইলের শাসনকর্তারা, এ-ই তোমাদের যথেষ্ট হোক; তোমরা দৌরাত্ম্য ও বল প্রয়োগ দূর কর, ন্যায় ও ধার্মিকতার অনুষ্ঠান কর, আমার লোকদেরকে অধিকারচ্যুত করতে ক্ষান্ত হও, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
10
ন্যায্য পাল্লা, ন্যায্য ঐফা ও ন্যায্য বাৎ তোমাদের হোক।
11 ঐফার ও বাৎ-এর একই মাপ হবে; বাৎ হোমরের দশ ভাগের এক ভাগ, ঐফাও হোমরের দশ ভাগের এক ভাগ, এই উভয়ের পরিমাণ হোমরের অনুরূপ হবে।
12 আর শেকল বিশ গেরা পরিমিত হবে; বিশ শেকলে, পঁচিশ শেকলে ও পনের শেকলে তোমাদের মানি হবে।
13
তোমরা এই উপহার উৎসর্গ করবে; তোমরা গমের হোমর থেকে ঐফার ষষ্ঠাংশ ও যবের হোমর থেকে ঐফার ষষ্ঠাংশ দেবে।
14 আর তেলের, বাৎ পরিমিত তেলের নির্দিষ্ট অংশ এক কোর থেকে বাতের দশ ভাগের এক ভাগ; কোর দশ বাৎ পরিমিত অথচ হোমরের সমান, কেননা দশ বাৎ-এ এক হোমর হয়।
15 আর ইসরাইলের জলসিক্ত ভূমিতে চরে, এমন ছাগল-ভেড়ার পাল থেকে দুই শত ভেড়ার মধ্যে একটি ভেড়া দেবে; লোকদের জন্য কাফ্ফারা করার জন্য তা-ই শস্য-উৎসর্গের, পোড়ানো-কোরবানীর ও মঙ্গল-কোরবানীর জন্য হবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
16 দেশের সমস্ত লোক ইসরাইলের নেতাকে এই উপহার দিতে বাধ্য হবে।
17 আর ঈদে, অমাবস্যায় ও বিশ্রামবারে, ইসরাইল-কুলের সমস্ত উৎসবে, পোড়ানো-কোরবানী এবং খাদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য কোরবানী করা শাসনকর্তার কর্তব্য হবে; তিনি ইসরাইল-কুলের জন্য কাফ্ফারা করার জন্য গুনাহ্-কোরবানী ও শস্য-উৎসর্গ এবং পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করবেন।
18
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, প্রথম মাসের প্রথম দিনে তুমি নিখুঁত একটি ষাঁড় নিয়ে পবিত্র স্থান পবিত্র করবে।
19 আর ইমাম সেই গুনাহ্-কোরবানীর রক্তের কিছু পরিমাণ নিয়ে এবাদতখানার চৌকাঠে, কোরবানগাহ্র সিঁড়ির চার প্রান্তে এবং ভিতরের প্রাঙ্গণের দ্বারের চৌকাঠে দেবে।
20 আর যে কেউ ভুলবশত গুনাহ্ করে ও যে কেউ অবোধ, তার জন্য তুমি মাসের সপ্তম দিনেও তেমনি করবে, এই ভাবে তোমরা এবাদতখানার জন্য কাফ্ফারা দেবে।
21
প্রথম মাসের চতুর্থ দিনে তোমাদের ঈদুল ফেসাখ হবে, তা সাত দিনের উৎসব; খামিহীন রুটি খেতে হবে।
22 সেই দিনে শাসনকর্তা নিজের জন্য ও দেশস্থ সকল লোকের জন্য গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে একটি ষাঁড় কোরবানী করবেন।
23 সেই উৎসবের সারা সপ্তাহ ধরে তিনি সাত দিনের প্রতিদিন নিখুঁত সাতটি ষাঁড় ও সাতটি ভেড়া দিয়ে মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী করবেন এবং প্রতিদিন একটি করে ছাগল দিয়ে গুনাহ্-কোরবানী করবেন।
24 আর শস্য-উৎসর্গের জন্য ষাঁড়ের প্রতি এক ঐফা ও ভেড়ার প্রতি এক ঐফা সুজি ও ঐফার প্রতি এক হিন তেল দেবেন।
25 সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে, ঈদের সময়ে তিনি সাত দিন পর্যন্ত সেরকম করবেন; গুনাহ্-কোরবানী ও পোড়ানো-কোরবানী এবং শস্য-উৎসর্গ ও তেল উৎসর্গ করবেন।
1
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, ভিতরের প্রাঙ্গণের পূর্বমুখী দ্বারটি কাজের ছয় দিন বন্ধ থাকবে, কিন্তু বিশ্রামবারে খোলা হবে এবং অমাবস্যার দিনেও খোলা হবে।
2 আর শাসনকর্তা বাইরে থেকে দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে প্রবেশ করে দ্বারের চৌকাঠের কাছে দণ্ডায়মান হবেন এবং ইমামেরা তাঁর পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী সকল কোরবানী করবে এবং তিনি দ্বারের গোবরাটে সেজ্দা করবেন, পরে বের হয়ে আসবেন, কিন্তু সন্ধ্যা না হলে দ্বার বন্ধ করা যাবে না।
3 আর দেশের লোকেরা সকল বিশ্রামবারে ও অমাবস্যায় সেই দ্বারের প্রবেশস্থানে মাবুদের কাছে সেজ্দা করবে।
4
মাবুদের উদ্দেশে শাসনকর্তাকে এই পোড়ানো-কোরবানী করতে হবে, বিশ্রামবারে নিখুঁত ছয়টি ভেড়ার বাচ্চা ও নিখুঁত একটি ভেড়া।
5 আর শস্য-উৎসর্গ হিসেবে ভেড়ার প্রতি এক ঐফা সুজি এবং ভেড়ার বাচ্চাগুলোর জন্য তাঁর হাতে যতটা উঠবে এবং ঐফার প্রতি এক হিন তৈল।
6 আর অমাবস্যার দিনে একটি নিখুঁত ষাঁড় এবং ছয়টি ভেড়ার বাচ্চা ও একটি ভেড়া, এরাও নিখুঁত হবে।
7 আর শস্য-উৎসর্গ হিসেবে তিনি বাছুরটির প্রতি এক ঐফা, ভেড়ার প্রতি এক ঐফা সুজি ও ভেড়ার বাচ্চাগুলোর জন্য তাঁর হাতে যতটা উঠবে এবং ঐফার প্রতি এক হিন তেল দেবেন।
8 আর নেতা যখন আসবেন, তখন দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে প্রবেশ করবেন এবং সেই পথ দিয়ে বের হয়ে আসবেন।
9
আর দেশের সকল লোক উৎসবের সময়ে যখন মাবুদের সম্মুখে আসবে, তখন সেজ্দা করার জন্য যে ব্যক্তি উত্তরদ্বারের পথ দিয়ে প্রবেশ করবে, সে দক্ষিণদ্বারের পথ দিয়ে বের হয়ে আসবে; এবং যে ব্যক্তি দক্ষিণদ্বারের পথ দিয়ে প্রবেশ করবে, সে উত্তরদ্বারের পথ দিয়ে বের হয়ে আসবে; যে ব্যক্তি যে দ্বারের পথ দিয়ে প্রবেশ করবে, সে সেখানে ফিরে যাবে না, কিন্তু নিজের সম্মুখস্থ পথ দিয়ে বের হয়ে আসবে।
10 আর শাসনকর্তা তাদের মধ্যে থেকে তাদের প্রবেশকালে প্রবেশ করবেন ও তাদের বের হয়ে আসার সময় বের হবেন।
11
আর উৎসবে ও ঈদে শস্য-উৎসর্গের সঙ্গে একটি ষাঁড়ের জন্য এক ঐফা, একটি ভেড়ার জন্য এক ঐফা সুজি ও ভেড়ার বাচ্চাগুলোর জন্য তাঁর হাতে যতটা উঠবে এবং ঐফার প্রতি এক হিন তেল লাগবে।
12 আর শাসনকর্তা যখন স্বেচ্ছাদত্ত দান মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানী বা মঙ্গল-কোরবানী হিসেবে কোরবানী করবেন, তখন তাঁর জন্য পূর্বমুখী দ্বার খুলে দিতে হবে। আর তিনি বিশ্রামবারে যেমন করেন, তেমনি তার পোড়ানো-কোরবানী ও মঙ্গল-কোরবানী করবেন, পরে বের হয়ে আসবেন এবং তাঁর বের হবার পর সেই দ্বার বন্ধ করা যাবে।
13
আর তুমি প্রত্যহ মাবুদের উদ্দেশে পোড়ানো-কোরবানীর জন্য এক বছরের নিখুঁত একটি ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করবে; প্রত্যহ প্রাতে তা কোরবানী করবে।
14 আর প্রত্যহ প্রাতে তার সঙ্গে খাদ্য-উপহার হিসেবে ঐফার ষষ্ঠাংশ সুজি ও সেই মিহি সুজি ময়ান দেবার জন্য হিনের তিন ভাগের এক ভাগ তেল, এই শস্য-উৎসর্গ মাবুদের উদ্দেশে উৎসর্গ করবে, এই বিধি চিরস্থায়ী হবে।
15 এভাবে প্রত্যহ প্রাতে সেই ভেড়ার বাচ্চা, নৈবেদ্য ও তেল কোরবানী করা যাবে। এ হল নিয়মিত পোড়ানো-কোরবানী।
16
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, শাসনকর্তা যদি তার পুত্রদের মধ্যে কোন এক জনকে কিছু দান করেন, তবে তা তার অধিকার হবে, তা তাঁর পুত্রদের হবে; তা অধিকার বলে তাদের স্বত্ব হবে।
17 কিন্তু তিনি যদি নিজের কোন গোলামকে তার অধিকারের কিছু দান করেন, তবে তা মুক্তিবছর পর্যন্ত তার থাকবে, পরে পুনর্বার শাসনকর্তার হবে; কেবল তাঁর পুত্ররা তাঁর অধিকার পাবে।
18 আর শাসনকর্তা লোকদেরকে দৌরাত্মপূর্বক অধিকারচ্যুত করার জন্য তাদের অধিকার থেকে কিছু নেবেন না; তিনি নিজের অধিকারের মধ্য থেকে তার পুত্রদেরকে অধিকার দেবেন; যেন আমার লোকেরা নিজ নিজ অধিকার থেকে ছিন্নভিন্ন হয়ে না যায়।
19
পরে তিনি দ্বারের পাশে অবস্থিত প্রবেশের পথ দিয়ে আমাকে ইমামদের উত্তরমুখী পবিত্র কুঠরীশ্রেণীতে আনলেন; আর দেখ পশ্চিম দিকে পিছনে একটি স্থান ছিল।
20 তখন তিনি আমাকে বললেন, এই স্থানে ইমামেরা দোষ-কোরবানী ও গুনাহ্-কোরবানী রান্না করবে ও নৈবেদ্য ভাজবে; যেন তারা লোকদেরকে পবিত্র করার জন্য তা বাইরের প্রাঙ্গণে নিয়ে না যায়।
21
পরে তিনি আমাকে বাইরের প্রাঙ্গণে এনে সেই প্রাঙ্গণের চার কোণ দিয়ে গমন করালেন; আর দেখ, ঐ প্রাঙ্গণের প্রত্যেক কোণে একটি করে প্রাঙ্গণ ছিল।
22 প্রাঙ্গণের চার কোণে চল্লিশ হাত লম্বা ও ত্রিশ হাত চওড়া প্রাচীরবেষ্টিত প্রাঙ্গণ ছিল। সেই চার কোণের প্রাঙ্গণগুলোর একই পরিমাণ ছিল;
23 চারটির মধ্যে প্রত্যেকের চারদিকে গাঁথনি-শ্রেণী ছিল এবং ঐ চারদিকের গাঁথনি-শ্রেণীর তলে উনান পাতা ছিল।
24 তখন তিনি আমাকে বললেন, এসব পাচকদের বাড়ি, এই স্থানে এবাদতখানার পরিচারকেরা লোকদের কোরবানীর জিনিস সিদ্ধ করবে।
1
পরে তিনি আমাকে ঘুরিয়ে এবাদতখানার প্রবেশস্থানে আনলেন, আর দেখ, এবাদতখানার গোবরাটের নিচে থেকে পানি বের হয়ে পূর্ব দিকে বইছে, কেননা এবাদতখানার সম্মুখভাগ পূর্ব দিকে ছিল; আর সেই পানি নিচে থেকে এবাদতখানার দক্ষিণ পাশ দিয়ে কোরবানগাহ্র দক্ষিণে নেমে যাচ্ছিল।
2 পরে তিনি আমাকে উত্তরদ্বারের পথ দিয়ে বের করলেন এবং ঘুরিয়ে বাইরের পথ দিয়ে, পূর্বমুখী পথ দিয়ে, বহির্দ্বার পর্যন্ত নিয়ে গেলেন; আর দেখ, দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ছিল।
3
সে ব্যক্তি যখন পূর্ব দিকে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর হাতে একটি মানসূত্র ছিল; তিনি এক হাজার হাত মেপে আমাকে পানির মধ্য দিয়ে গমন করালেন; তখন গোড়ালি পর্যন্ত পানি উঠলো।
4 আবার তিনি এক হাজার হাত মেপে আমাকে পানির মধ্য দিয়ে গমন করালেন, তখন হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠলো। আবার তিনি এক হাজার হাত মেপে আমাকে পানির মধ্য দিয়ে গমন করালেন; তখন কোমর পর্যন্ত পানি উঠলো।
5 আবার তিনি এক হাজার হাত মাপলেন; তা আমার অগম্য নদী হল; কারণ পানি বেড়ে উঠেছিল, সাঁতার দেবার মত পানি, পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায় না, এমন নদী হয়েছিল।
6
তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, তুমি দেখলে? পরে তিনি আমাকে পুনরায় ঐ নদীর তীরে নিয়ে গেলেন।
7 আর আমি যখন ফিরে গেলাম, তখন দেখ, সেই নদীর তীরে এপারে ওপারে অনেক গাছ ছিল।
8 তখন তিনি আমাকে বললেন, এই পানি পূর্ব দিক্স্থ অঞ্চলে বইছে, অরাবা সমভূমিতে নেমে যাবে এবং সমুদ্রের দিকে যাবে; যে পানি বের করা হয়েছে তা সমুদ্রে যাবে ও এর পানি উত্তম হবে।
9 আর এই স্রোতের পানি যে কোন স্থানে বইবে সে স্থানের অসংখ্য জীবজন্তু বাঁচবে; আর যার-পর-নাই প্রচুর মাছ হবে; কেননা এই পানি সেখানে গেছে বলে সেখানকার পানি উত্তম হবে; এবং এই স্রোত যে কোন স্থান দিয়ে বইবে, সেই স্থানের সকলই সঞ্জীবিত হবে।
10 আর তার তীরে জেলেরা দাঁড়াবে, ঐন্গদী থেকে ঐন্-ইগ্লয়িম পর্যন্ত জাল মেলে রাখাবার স্থান হবে; মহাসমুদ্রের মাছের মত বিভিন্ন জাতের মাছ জন্মে যার-পর-নাই প্রচুর হবে।
11 কিন্তু তার বিল ও জলাভূমির প্রতিকার হবে না; তা লবণের জন্য নিরূপিত।
12 আর নদীর ধারে এপারে ওপারে সব রকমের খাবার ফলের গাছ হবে, তার পাতা শুকিয়ে যাবে না ও ফল শেষ হবে না; প্রতিমাসে তার ফল পাকবে, কেননা তার সেচনের পানি পবিত্র স্থান থেকে বের হবে; আর তার ফল খাবারের জন্য ও পাতা সুস্থতার জন্য ব্যবহৃত হবে।
13
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা ইসরাইলের বারো বংশকে যে দেশ অধিকার জন্য দেবে, তার সীমা এই; ইউসুফের দুই অংশ হবে।
14 আর তোমরা সকলে সমান অংশ অধিকার বলে তা পাবে, কারণ আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই দেশ দেব বলে শপথ করেছিলাম; এই দেশ অধিকার হিসেবে তোমাদের হবে।
15
আর দেশের সীমা এই; উত্তর দিকে মহাসমুদ্র থেকে সদাদের প্রবেশস্থান পর্যন্ত হিৎলোনের পথ;
16 হমাৎ, বরোথা, সিব্রয়িম, যা দামেস্কের সীমার ও হমাতের সীমার মধ্যস্থিত; হৌরণের সীমার নিকটস্থ হৎসর-হত্তীকোন।
17 আর সমুদ্র থেকে সীমা দামেস্কের সীমাস্থ হৎসোর-ঐনন পর্যন্ত যাবে, আর উত্তর দিকে হমাতের সীমা; এটা উত্তরপ্রান্ত।
18
আর পূর্বপ্রান্ত হৌরণ, দামেস্ক ও গিলিয়দের এবং ইসরাইল-দেশের মধ্যবর্তী জর্ডান; তোমরা উত্তর সীমা থেকে পূর্ব সমুদ্র পর্যন্ত মাপবে; এটা পূর্বপ্রান্ত।
19
আর দক্ষিণপ্রান্ত দক্ষিণে তামর থেকে কাদেশস্থ মরীবৎ জলাশয় মিসরের স্রোতোমার্গ ও মহাসমুদ্র পর্যন্ত; দক্ষিণ দিকের এটা দক্ষিণপ্রান্ত।
20 আর পশ্চিমপ্রান্ত মহাসমুদ্র; দক্ষিণ সীমা থেকে হমাতের প্রবেশস্থানের সম্মুখ পর্যন্ত এটা পশ্চিমপ্রান্ত।
21 এভাবে তোমরা ইসরাইলের বংশানুক্রমে নিজেদের মধ্যে এই দেশ বিভাগ করবে।
22 তোমরা নিজেদের জন্য এবং যে বিদেশী লোকেরা তোমাদের মধ্যে প্রবাস করে তোমাদের মধ্যে সন্তান উৎপন্ন করে, তাদের জন্য তা অধিকার করার জন্য গুলিবাঁট দ্বারা বিভাগ করবে; এবং এরা বনি-ইসরাইলদের মধ্যে স্বজাতীয় লোকদের মত গণিত হবে, তোমাদের সঙ্গে ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে অধিকার পাবে।
23 তোমাদের যে বংশের মধ্যে যে বিদেশী লোক প্রবাস করবে, তার মধ্যে তোমরা তাকে অধিকার দেবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
1
বংশগুলোর নাম এই এই। উত্তরপ্রান্ত থেকে হিৎলোনের পথের পাশ ও হমাতের প্রবেশস্থানের কাছ দিয়ে হৎসর-ঐনন পর্যন্ত দামেস্কের সীমাতে, উত্তর দিকে হমাতের পাশে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দানের একটি অংশ হবে।
2 আর দানের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত আশেরের একটি অংশ।
3 আশেরের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত নপ্তালির একটি অংশ।
4 নপ্তালির সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত মানশার একটি অংশ।
5 মানশার সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত আফরাহীমের একটি অংশ।
6 আফরাহীমের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত রূবেণের একটি অংশ।
7 আর রূবেণের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত এহুদার একটি অংশ।
8
এহুদার সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত উপহার-ভূমি থাকবে; তোমরা চওড়ায় পঁচিশ হাজার হাত ও পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত লম্বায় অন্যান্য অংশের মত একটি অংশ উপহারের জন্য নিবেদন করবে ও তার মধ্যস্থানে পবিত্র স্থান থাকবে।
9 মাবুদের উদ্দেশে তোমরা যে উপহার-ভূমি নিবেদন করবে, তা পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ও দশ হাজার হাত চওড়া হবে।
10 সেই পবিত্র উপহার-ভূমি ইমামদের জন্য হবে; তা উত্তর দিকে পঁচিশ হাজার হাত লম্বা, পশ্চিম দিকে দশ হাজার হাত চওড়া, পূর্ব দিকে দশ হাজার হাত চওড়া ও দক্ষিণ দিকে পঁচিশ হাজার হাত লম্বা; তার মধ্য স্থানে মাবুদের পবিত্র স্থান থাকবে।
11 তা সাদোক-সন্তানদের মধ্যে পবিত্রীকৃত ইমামদের জন্য হবে, তারা আমার রক্ষণীয় দ্রব্য রক্ষা করেছে; বনি-ইসরাইলদের ভ্রান্তির সময়ে লেবীয়েরা যেমন ভ্রান্ত হয়েছিল, ওরা তেমন ভ্রান্ত হয় নি।
12 লেবীয়দের সীমার কাছে দেশের উপহার-ভূমি থেকে গৃহীত সেই উপহার-ভূমি তাদের হবে, তা অতি পবিত্র।
13 আর ইমামদের সীমার সম্মুখে লেবীয়েরা পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ও দশ হাজার হাত চওড়া [ভূমি] পাবে; সমস্তুটুকুর লম্বা পঁচিশ হাজার ও চওড়া দশ হাজার হাত হবে।
14 তারা তার কিছু বিক্রি করবে না, বা পরিবর্তন করবে না এবং দেশের [সেই] অগ্রিমাংশ হস্তান্তরীকৃত হবে না, কেননা তা মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র।
15
আর পঁচিশ হাজার হাত লম্বা সেই ভূমির সম্মুখে চওড়া অনুসারে যে পাঁচ হাজার হাত অবশিষ্ট থাকে, তা সাধারণ স্থান বলে নগরের, বসতির ও পরিসরের জন্য হবে; নগরটি তার মধ্যস্থানে থাকবে।
16 তার পরিমাণ এরকম হবে; উত্তরপ্রান্ত চার হাজার পাঁচ শত হাত, দক্ষিণপ্রান্ত চার হাজার পাঁচ শত হাত, পূর্বপ্রান্ত চার হাজার পাঁচ শত হাত ও পশ্চিমপ্রান্ত চার হাজার পাঁচ শত হাত।
17 আর নগরের পরিসরভূমি থাকবে; উত্তর দিকে দুই শত পঞ্চাশ হাত, দক্ষিণ দিকে দুই শত পঞ্চাশ হাত, পূর্ব দিকে দুই শত পঞ্চাশ হাত ও পশ্চিম দিকে দুই শত পঞ্চাশ হাত।
18 আর পবিত্র উপহারভূমির সম্মুখে অবশিষ্ট স্থান লম্বায় পূর্ব দিকে দশ হাজার হাত ও পশ্চিমে দশ হাজার হাত হবে, আর তা পবিত্র উপহারভূমির সম্মুখে থাকবে, সেই স্থানের উৎপন্ন দ্রব্য নগরের কর্মচারী লোকদের খাদ্যের জন্য হবে।
19 আর ইসরাইলের সমস্ত বংশের মধ্য থেকে নগরের শ্রমজীবীরা তা চাষ করবে।
20 সেই উপহারভূমি সবসুদ্ধ পঁচিশ হাজার হাত লম্বা ও পঁচিশ হাজার হাত চওড়া হবে; তোমরা নগরের অধিকারসুদ্ধ চারকোনা বিশিষ্ট পবিত্র উপহারভূমি আলাদা করে রাখবে।
21
পবিত্র উপহারভূমির ও নগরের অধিকারের দুই পাশে যেসব অবশিষ্ট ভূমি, তা শাসনকর্তার হবে; অর্থাৎ— পঁচিশ হাজার হাত পরিমিত উপহারভূমি থেকে পূর্বসীমা পর্যন্ত, ও পশ্চিম দিকে পঁচিশ হাজার হাত পরিমিত সেই উপহারভূমি থেকে পশ্চিমসীমা পর্যন্ত অন্য সকল অংশের সম্মুখে শাসনকর্তার অংশ হবে এবং পবিত্র উপহারভূমি ও এবাদখানার পবিত্র স্থান তার মধ্যস্থিত হবে।
22 আর শাসনকর্তার অধিকারের অংশের মধ্যস্থিত লেবীয়দের অধিকার ও নগরের অধিকার ছাড়া যা এহুদার সীমার ও বিন্ইয়ামীনের সীমার মধ্যে আছে, তা শাসনকর্তার হবে।
23
আর অবশিষ্ট বংশগুলোর এসব অংশ হবে; পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত বিন্ইয়ামীনের একটি অংশ।
24 বিন্ইয়ামীনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত শিমিয়োনের একটি অংশ।
25 শিমিয়োনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত ইষাখরের একটি অংশ।
26 ইষাখরের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত সবূলূনের একটি অংশ।
27 সবূলূনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত গাদের একটি অংশ।
28 আর গাদের সীমার কাছে দক্ষিণপ্রান্তের দিকে তামর থেকে কাদেশস্থ মরীবৎ জলাশয় মিসরের, স্রোতোমার্গ ও মহাসমুদ্র পর্যন্ত দক্ষিণ সীমা হবে।
29 তোমরা ইসরাইল-বংশগুলোর অধিকারারের জন্য যে দেশ গুলিবাঁট দ্বারা ভাগ করবে, তা এই; এবং তাদের ঐ সমস্ত অংশ, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
30
আর নগরের এসব পরিসর হবে; উত্তর পাশে পরিমাণে চার হাজার পাঁচ শত হাত।
31 আর নগরের দ্বার সকল ইসরাইল-বংশগুলোর নাম অনুসারে হবে; তিনটি দ্বার উত্তর দিকে থাকবে; রূবেণের একটি দ্বার, এহুদার একটি দ্বার ও লেবির একটি দ্বার।
32 পূর্ব পাশে চার হাজার পাঁচ শত হাত, আর তিন দ্বার হবে; ইউসুফের একটি দ্বার, বিন্ইয়ামীনের একটি দ্বার, দানের একটি দ্বার।
33 দক্ষিণ পাশে পরিমাণে চার হাজার পাঁচ শত হাত, আর তিনটি দ্বার হবে; শিমিয়োনের একটি দ্বার, ইষাখরের একটি দ্বার ও সবূলূনের একটি দ্বার।
34 আর পশ্চিম পাশে চার হাজার পাঁচ শত হাত ও তার তিনটি দ্বার হবে; গাদের একটি দ্বার, আশেরের একটি দ্বার ও নপ্তালির একটি দ্বার।
35 পরিধি আঠার হাজার হাত পরিমিত হবে; আর সেদিন থেকে নগরটির এই নাম হবে, “এখানে মাবুদ আছেন”।
1
এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমের রাজত্বের তৃতীয় বছরে ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বখতে-নাসার জেরুশালেমে এসে নগর অবরোধ করলেন।
2 আর প্রভু তাঁর হাতে এহুদার বাদশাহ্ যিহোয়াকীমকে এবং আল্লাহ্র গৃহের কতকগুলো পাত্র তুলে দিলেন; আর তিনি সেগুলো শিনিয়র দেশে তাঁর দেবালয়ে নিয়ে গেলেন; এবং পাত্রগুলো তাঁর দেবতার ভাণ্ডার-গৃহে রাখলেন।
3
পরে বাদশাহ্ রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারী অস্পনসকে বলে দিলেন, যেন তিনি বনি-ইসরাইলদের মধ্যে,
4 বিশেষত রাজবংশ ও প্রধানবর্গের মধ্যে কয়েক জন যুবককে আনয়ন করেন, যারা নিষ্কলঙ্ক, সুন্দর ও সমস্ত বিদ্যায় তৎপর, বুদ্ধিতে বিচক্ষণ, জ্ঞানে বিজ্ঞ ও রাজপ্রাসাদে দাঁড়াবার যোগ্য; আর যেন তিনি তাদেরকে কল্দীয়দের গ্রন্থ ও ভাষা শিক্ষা দেন।
5 পরে বাদশাহ্ এও স্থির করলেন যে, তাদের যেন বাদশাহ্র খাবার ও তাঁর পানীয় আঙ্গুর-রস থেকে প্রতিদিনের অংশ দেওয়া হয়; এবং তাদেরকে এভাবে তিন বছর পরিপোষণ করতে হবে যেন সেই সময়ের শেষে তারা বাদশাহ্র কাছে দাঁড়াতে পারে।
6 তাদের মধ্যে এহুদা-বংশীয় দানিয়াল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয় ছিলেন।
7 আর রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারী তাঁদের নাম রাখলেন; তিনি দানিয়ালকে বেল্টশৎসর, হনানিয়কে শদ্রক, মীশায়েলকে মৈশক ও অসরিয়কে অবেদ্নগো নাম দিলেন।
8
কিন্তু দানিয়াল মনে স্থির করলেন যে, তিনি বাদশাহ্র খাবার ও তাঁর পানীয় আঙ্গুর-রস দ্বারা নিজেকে নাপাক করবেন না। এজন্য নিজেকে যেন নাপাক করতে না হয়, এই অনুমতি রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারীর কাছে অনুমতি চাইলেন।
9 তখন আল্লাহ্ সেই রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারীর কাছে দানিয়ালকে দয়া ও করুণার পাত্র করলেন।
10 তাতে রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারী জবাবে দানিয়ালকে বললেন, আমি আমার মালিক বাদশাহ্কে ভয় করি, তিনিই তোমাদের খাবার ও পানীয়-দ্রব্য নির্ধারণ করেছেন; তিনি তোমাদের সমবয়স্ক যুবকদের মুখের চেয়ে তোমাদের মুখ কেন শুকনো দেখবেন? এতে বাদশাহ্ আমার মাথা কেটে ফেলতে পারেন।
11 পরে রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারী দানিয়াল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়ের উপরে যে প্রধান প্রহরীকে নিযুক্ত করেছিলেন, তাঁকে দানিয়াল বললেন,
12 আপনি মেহেরবানী করে দশ দিন আপনার গোলামদের পরীক্ষা করুন; ভোজন পান করার জন্য আমাদেরকে সব্জি ও পানি দিতে হুকুম দিন;
13 পরে নিজের সম্মুখে আমাদের চেহারা এবং রাজকীয় ভক্ষ্যভোগী যুবকদের চেহারার পরীক্ষা হোক; পরে আপনি যেমন দেখবেন, সেই অনুসারে আপনার এই গোলামদের সঙ্গে ব্যবহার করবেন।
14 তখন তিনি তাঁদের এই কথায় কান দিয়ে দশ দিন পর্যন্ত তাঁদের পরীক্ষা করলেন।
15 দশ দিন পরে দেখা গেল, রাজকীয় ভক্ষ্যভোগী সকল যুবকের চেয়ে এঁরা সুরূপ ও স্বাস্থ্যবান।
16 এজন্য প্রধান প্রহরী তাঁদের ঐ খাবার ও পানীয় আঙ্গুর-রস বাদ দিয়ে তাঁদেরকে শুধু শাক-সব্জি দিতে থাকলেন।
17
আর আল্লাহ্ সেই চার জন যুবককে সমস্ত গ্রন্থে ও বিদ্যায় জ্ঞান ও পারদর্শিতা দিলেন; আর সমস্ত দর্শন ও স্বপ্নকথায় দানিয়াল বুদ্ধিমান হলেন।
18
পরে বাদশাহ্ যে সময়ের শেষে সকলকে আনবার কথা বলে দিয়েছিলেন, সেই সময় উত্তীর্ণ হলে রাজপ্রাসাদের প্রধান কর্মচারী তাঁদেরকে বখতে-নাসারের সম্মুখে উপস্থিত করলেন।
19 তখন বাদশাহ্ তাঁদের সঙ্গে আলাপ করলেন; আর তাদের মধ্যে দানিয়াল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়, এই কয়েকজনের সমকক্ষ কাউকেও দেখতে পাওয়া গেল না; এজন্য তাঁরা বাদশাহ্র সম্মুখে দণ্ডায়মান হলেন।
20 আর জ্ঞান ও বুদ্ধি-সংক্রান্ত যে কোন কথা বাদশাহ্ তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর সমগ্র রাজ্যের সমস্ত জাদুকর ও গণক থেকে তাঁদেরকে দশগুণ বেশি বিজ্ঞ দেখতে পেলেন।
21
দানিয়াল বাদশাহ্ কাইরাসের প্রথম বছর পর্যন্ত কাজে বহাল থাকলেন।
1
বখতে-নাসারের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে বখতে-নাসার স্বপ্ন দেখলেন, আর তাঁর মন উদ্বিগ্ন হল ও তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গেল।
2 পরে বাদশাহ্ হুকুম করলেন, যেন তাঁকে ঐ স্বপ্ন বুঝিয়ে দেবার জন্য মন্ত্রবেত্তা, গণক, মায়াবী ও কল্দীয়দের ডাকা হয়। তারা এসে বাদশাহ্র সম্মুখে দাঁড়ালো।
3 তখন বাদশাহ্ তাদের বললেন, আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্ন বুঝবার জন্য আমার মন অস্থির হয়ে উঠেছে।
4 তখন কল্দীয়েরা অরামীয় ভাষায় বাদশাহ্কে বললো, বাদশাহ্! চিরজীবী হোন; আপনার এই গোলামদেরকে স্বপ্নটি বলুন, আমরা তাৎপর্য জানাবো।
5 বাদশাহ্ জবাবে কল্দীয়দেরকে বললেন, আমার এই আদেশবাক্য বের হয়েছে; তোমরা যদি সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নের তাৎপর্য আমাকে না জানাও, তবে খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং তোমাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংসস্তুপ করা যাবে;
6 কিন্তু যদি সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নের তাৎপর্য জানাও, তবে আমার কাছে উপহার, পারিতোষিক ও মহাসমাদর পাবে; অতএব সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নের তাৎপর্য আমাকে জানাও।
7 তারা পুনর্বার জবাবে বললো, বাদশাহ্, আপনার গোলামদেরকে স্বপ্নটি বলুন, আমরা তার তাৎপর্য জানাবো।
8 বাদশাহ্ জবাবে বললেন, আমি নিশ্চয় জানলাম, আমার আদেশবাক্য বের হয়েছে দেখে তোমরা কাল বিলম্ব করতে চাইছো;
9 কিন্তু যদি তোমরা সেই স্বপ্নটি আমাকে না জানাও, তবে তোমাদের জন্য একমাত্র ব্যবস্থা রইলো; কেননা তোমরা আমার সাক্ষাতে মিথ্যা কথা ও বঞ্চনার কথা বলবার মন্ত্রণা করছো, যে পর্যন্ত না সময়ের পরিবর্তন হয়; অতএব তোমরা আমাকে স্বপ্নটি বল, তাতে জানবো, স্বপ্নের তাৎপর্যও আমাকে জানাতে পার।
10 কল্দীয়েরা বাদশাহ্র সম্মুখে জবাবে বললো, বাদশাহ্র স্বপ্নের কথা জানাতে পারে, দুনিয়াতে এমন কোন মানুষ নেই; বাস্তবিক মহান, বা পরাক্রান্ত কোন বাদশাহ্ কখন কোন মন্ত্রবেত্তাকে বা গণককে বা কল্দীয়কে এমন কথা জিজ্ঞাসা করেন নি।
11 বাদশাহ্ যে কথা জিজ্ঞাসা করছেন, তা দুরূহ; বস্তুত যাঁরা মাংসময় দেহে বাস করেন না, সেই দেবতারা ছাড়া আর কেউ নেই যে, বাদশাহ্র সম্মুখে তা জানাতে পারে।
12
এই কথা শুনে বাদশাহ্ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও কোপান্বিত হয়ে ব্যাবিলনের সমস্ত বিদ্বান লোককে হত্যা করতে হুকুম দিলেন।
13 তখন এই হুকুম প্রচারিত হল যে, বিদ্বান লোকদেরকে হত্যা করতে হবে; আর লোকেরা দানিয়াল ও তাঁর সহচরদেরকে হত্যা করার জন্য তাদের খোঁজ করলো।
14
তখন যে রাজসেনাপতি অরিয়োক ব্যাবিলনীয় বিদ্বান লোকদের হত্যা করার জন্য বের হয়েছিলেন, তাঁর কাছে দানিয়াল বিবেচনা ও জ্ঞান সহকারে কথা বললেন।
15 তিনি বাদশাহ্র কর্মকর্তা অরিয়োককে জিজ্ঞাসা করলেন, বাদশাহ্র হুকুম এত প্রচণ্ড কেন? তাতে অরিয়োক দানিয়ালকে সমস্ত কথা খুলে বললেন।
16 তখন দানিয়াল বাদশাহ্র কাছে গিয়ে এই বিনতি করলেন, আমার জন্য সময় নির্ধারণ করতে হুকুম দিন, যেন আমি বাদশাহ্কে স্বপ্নটির তাৎপর্য জানাতে পারি।
17
পরে দানিয়াল বাড়িতে গিয়ে নিজের সহচর হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়কে সেই কথা জানালেন;
18 যেন তাঁরা ঐ নিগূঢ় বিষয় সম্বন্ধে বেহেশতের আল্লাহ্র কাছে করুণা চান; দানিয়াল ও তাঁর সহচরগণ যেন ব্যাবিলনের অন্য বিদ্বান লোকদের সঙ্গে বিনষ্ট না হন।
19
তখন রাত্রিকালীন দর্শনে দানিয়ালের কাছে ঐ নিগূঢ় বিষয় প্রকাশিত হল; তখন দানিয়াল বেহেশতের আল্লাহ্কে শুকরিয়া জানালেন।
20 দানিয়াল বললেন,
আল্লাহ্র নাম যুগে যুগে চিরকাল ধন্য হোক,
কেননা জ্ঞান ও পরাক্রম তাঁরই।
21
তিনিই কাল ও ঋতু পরিবর্তন করেন;
বাদশাহ্দেরকে পদভ্রষ্ট করেন ও বাদশাহ্দেরকে পদস্থ করেন;
তিনি জ্ঞানীদেরকে জ্ঞান দেন, বিবেচকদেরকে বিবেচনা দেন।
22
তিনিই গভীর ও গুপ্ত বিষয় প্রকাশ করেন, অন্ধকারে যা আছে,
তা তিনি জানেন এবং তাঁর কাছে নূর বাস করেন।
23
হে আমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্,
আমি তোমার শুকরিয়া ও প্রশংসা করি,
তুমি আমাকে জ্ঞান ও সামর্থ দিয়েছ,
আমরা তোমার কাছে যা চেয়েছিলাম,
তা আমাকে এখন জানালে;
তুমি বাদশাহ্র স্বপ্ন আমাদেরকে জানালে।
24
সুতরাং দানিয়াল সেই অরিয়োকের কাছে গেলেন, যাঁকে বাদশাহ্ ব্যাবিলনের বিদ্বান লোকদেরকে হত্যা করতে নিযুক্ত করেছিলেন; তিনি গিয়ে তাঁকে এরকম বললেন, আপনি ব্যাবিলনের বিদ্বান লোকদেরকে হত্যা করবেন না; বাদশাহ্র কাছে আমাকে নিয়ে চলুন; আমি বাদশাহ্কে স্বপ্নের তাৎপর্য জানাবো।
25
তখন অরিয়োক তাড়াতাড়ি দানিয়ালকে বাদশাহ্র কাছে নিয়ে গেলেন, আর বাদশাহ্কে এই কথা বললেন, নির্বাসিত ইহুদীদের মধ্যে এই এক ব্যক্তিকে পেলাম; ইনি বাদশাহ্কে তাঁর স্বপ্নের তাৎপর্য জানাবেন।
26 বাদশাহ্ বেল্টশৎসর নামে আখ্যাত দানিয়ালকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্ন ও তার তাৎপর্য তুমি কি আমাকে জানাতে পার?
27 দানিয়াল বাদশাহ্র সাক্ষাতে জবাবে বললেন, বাদশাহ্ যে নিগূঢ় কথা জিজ্ঞাসা করেছেন, তা বিদ্বান বা গণক বা মন্ত্রবেত্তা বা জ্যোতির্বেত্তারা বাদশাহ্কে জানাতে পারে না;
28 কিন্তু আল্লাহ্ বেহেশতে আছেন, তিনি নিগূঢ় বিষয় প্রকাশ করেন, আর ভবিষ্যতে যা যা ঘটবে, তা তিনি বাদশাহ্ বখতে-নাসারকে জানিয়েছেন। আপনার স্বপ্ন এবং বিছানার উপরে আপনার মনের দর্শন এই।
29 হে বাদশাহ্, বিছানায় আপনার মনে এই চিন্তা উৎপন্ন হয়েছিল যে, এর পরে কি হবে; আর যিনি নিগূঢ় বিষয় প্রকাশ করেন, তিনি আপনাকে ভাবী ঘটনা জানিয়েছেন।
30 কিন্তু আমার নিজের সম্বন্ধে বক্তব্য এই যে, অন্য কোন জীবিত লোকের চেয়ে আমার বেশি জ্ঞান আছে বলে যে আমার কাছে এই নিগূঢ় বিষয় প্রকাশিত হল তা নয়, কিন্তু অভিপ্রায় এই, যেন বাদশাহ্কে এর তাৎপর্য জানানো যায়, আর আপনি যেন আপনার মনের চিন্তা বুঝতে পারেন।
31
হে বাদশাহ্, আপনি দৃষ্টিপাত করেছিলেন, আর দেখলেন, একটি প্রকাণ্ড মূর্তি। সেই মূর্তিটি বিশাল এবং ভীষণ উজ্জ্বল; তা আপনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিল; আর তার দৃশ্য ভয়ঙ্কর।
32 সেই মূর্তির বৃত্তান্ত এই; তার মাথাটি সোনার, তার বুক ও বাহু রূপার; তার উদর ও ঊরুদেশ ব্রোঞ্জের;
33 তার জঙ্ঘা লোহার এবং তার পা কিছু লোহার ও কিছু মাটির ছিল।
34 আপনি দৃষ্টিপাত করতে থাকলেন, শেষে মানুষের হাতে কাটা হয় নি এমন একটি পাথর সেই মূর্তির লোহা ও মাটির দুই পায়ে আঘাত করে সেগুলো চুরমার করে ফেললো।
35 তখন সেই লোহা, মাটি, ব্রোঞ্জ, রূপা ও সোনা একসঙ্গে চুরমার হয়ে গ্রীষ্মকালীন খামারের তুষের মত হল, আর বায়ু সেসব উড়িয়ে নিয়ে গেল, তাদের জন্য আর কোথাও স্থান পাওয়া গেল না। আর যে পাথরখানি ঐ মূর্তিকে আঘাত করেছিল, তা বৃদ্ধি পেয়ে মহাপর্বত হয়ে উঠলো এবং সমস্ত দুনিয়া পূর্ণ করলো।
36
এটাই ছিল সেই স্বপ্ন। এখন আমরা বাদশাহ্র সাক্ষাতে এর তাৎপর্য প্রকাশ করবো।
37 হে বাদশাহ্, আপনি বাদশাহ্দের বাদশাহ্, বেহেশতের আল্লাহ্ আপনাকে রাজ্য, ক্ষমতা, পরাক্রম ও মহিমা দিয়েছেন।
38 আর যে কোন স্থানে মানুষ বাস করে, সেই স্থানে তিনি মাঠের পশু ও আসমানের পাখিদেরকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন এবং তাদের সকলের উপরে আপনাকে কর্তৃত্ব দিয়েছেন; আপনিই সেই সোনার মাথা।
39 আপনার পিছনে আপনার চেয়ে ক্ষুদ্র আর একটি রাজ্য উঠবে; তারপর ব্রোঞ্জের তৃতীয় একটি রাজ্য উঠবে, তা সমস্ত দুনিয়ার উপরে কর্তৃত্ব করবে।
40 আর চতুর্থ রাজ্য লোহার মত দৃঢ় হবে; কারণ লোহা যেমন সমস্ত কিছু ভেঙ্গে চুরমার করে তেমনি সেই রাজ্য অন্য সমস্ত রাজ্যকে ভেঙ্গে চুরমার করবে।
41 আর আপনি দেখেছেন, দুই পা ও পায়ের আঙ্গুল সকল কিছু কুমারের মাটির ও কিছু লোহার, এতে বিভক্ত রাজ্য বুঝায়; কিন্তু সেই রাজ্যে লোহার দৃঢ়তা থাকবে, কেননা আপনি কাদায় মিশানো লোহা দেখেছেন।
42 আর পায়ের আঙ্গুলগুলো যেমন কিছু লোহার ও কিছু মাটির ছিল, তেমনি রাজ্যের একাংশ দৃঢ় ও একাংশ ভঙ্গুর হবে।
43 আর আপনি যেমন দেখেছেন, লোহা কাদায় মিশানো হয়েছে, তেমনি সেই লোকেরা মানুষের বীর্যে পরস্পর মিশ্রিত হবে; কিন্তু যেমন লোহা মাটির সঙ্গে মিশে যায় না, তেমনি তারা পরস্পর মিশ্রিত থাকবে না।
44 আর সেই বাদশাহ্দের সময়ে বেহেশতের আল্লাহ্ একটি রাজ্য স্থাপন করবেন, তা কখনও বিনষ্ট হবে না এবং সেই রাজত্ব অন্য জাতির হাতে তুলে দেওয়া হবে না; তা ঐ সমস্ত রাজ্যগুলোকে চুরমার করে বিনষ্ট করে নিজে চিরস্থায়ী হবে।
45 কারণ আপনি তো দেখেছেন, পর্বত থেকে একখানি পাথর যা মানুষের হাতে কাটা হয় নি এবং ঐ লোহা, ব্রোঞ্জ, মাটি, রূপা ও সোনাকে চুরমার করলো; মহান আল্লাহ্ বাদশাহ্কে ভাবী ঘটনা জানিয়েছেন; স্বপ্নটি নিশ্চিত ও তার তাৎপর্য সত্য।
46
তখন বাদশাহ্ বখতে-নাসার উবুড় হয়ে দানিয়ালকে সেজ্দা করলেন এবং তাঁর উদ্দেশে নৈবেদ্য ও সুগন্ধি দ্রব্য উৎসর্গ করতে হুকুম দিলেন।
47 বাদশাহ্ দানিয়ালকে বললেন, সত্যিই তোমাদের আল্লাহ্ দেবতাদের আল্লাহ্, বাদশাহ্দের প্রভু ও নিগূঢ়তত্ত্ব প্রকাশক, কেননা তুমি এই নিগূঢ়তত্ত্বের বিষয় প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছ।
48 তখন বাদশাহ্ দানিয়ালকে মহান করলেন, তাঁকে অনেক বহুমূল্য উপহার দিলেন এবং তাঁকে ব্যাবিলনের সমস্ত প্রদেশের কর্তা ও ব্যাবিলনের সমস্ত বিদ্বান লোকের প্রধান অধিপতি নিযুক্ত করলেন।
49 পরে দানিয়াল বাদশাহ্র কাছে নিবেদন করলে বাদশাহ্ শদ্রক, মৈশক ও অবেদ-নগোকে ব্যাবিলন প্রদেশের রাজকার্যে নিযুক্ত করলেন; কিন্তু দানিয়াল রাজদ্বারে থাকতেন।
1
বাদশাহ্ বখতে-নাসার একটি সোনার মূর্তি তৈরি করলেন, তা উচ্চতায় ষাট হাত ও চওড়ায় ছয় হাত, তা তিনি ব্যাবিলন প্রদেশের দূরা উপত্যকায় স্থাপন করলেন।
2 আর বাদশাহ্ বখতে-নাসার সেই যে মূর্তি স্থাপন করেছিলেন, তা প্রতিষ্ঠা করতে আসার জন্য ক্ষিতিপাল, প্রতিনিধি ও শাসনকর্তাদেরকে, মহা-বিচারকর্তা, কোষাধ্যক্ষ, ব্যবস্থাপক ও অধিপতিদেরকে এবং প্রদেশগুলোর সমস্ত কর্মকর্তাদেরকে একত্র করতে বাদশাহ্ বখতে-নাসার লোক প্রেরণ করলেন।
3 তখন ক্ষিতিপালরা, প্রতিনিধিরা, শাসনকর্তারা, মহা-বিচারকর্তৃরা, কোষাধ্যক্ষরা, ব্যবস্থাপকরা ও অধিপতিরা এবং প্রদেশগুলোর সমস্ত কর্মকর্তা বাদশাহ্ বখতে-নাসারের স্থাপিত সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য একত্র হলেন। পরে তাঁরা বখতে-নাসারের স্থাপিত মূর্তির সম্মুখে দাঁড়ালেন।
4 তখন ঘোষক উচ্চৈঃস্বরে বললেন, ‘হে লোকবৃন্দ, জাতিগণ ও নানা ভাষাবাদীগণ, তোমাদের প্রতি এই হুকুম দেওয়া হচ্ছে;
5 যে সময়ে তোমরা শিঙ্গা, বাঁশী, বীণা, চতুস্তন্ত্রী, পরিবাদিনী ও মৃদঙ্গ প্রভৃতি সমস্ত রকম যন্ত্রের বাজনার শব্দ শুনবে, সেই সময় বাদশাহ্ বখতে-নাসারের স্থাপিত সোনার মূর্তির সম্মুখে উবুড় হয়ে সেজ্দা করবে।
6 যে ব্যক্তি উবুড় হয়ে সেজ্দা না করবে, সে তখনই প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।’
7 অতএব সমস্ত লোক যখন শিঙ্গা, বাঁশী, বীণা, চতুস্তন্ত্রী ও পরিবাদিনী প্রভৃতি সমস্ত রকম যন্ত্রের বাজনার শব্দ শুনলো, তখন সমস্ত লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদী উবুড় হয়ে বাদশাহ্ বখতে-নাসারের স্থাপিত সোনার মূর্তিকে সেজ্দা করলো।
8
সে সময় কয়েকজন কল্দীয় কাছে এসে ইহুদীদের উপরে দোষারোপ করলো।
9 তারা বাদশাহ্ বখতে-নাসারের কাছে এই কথা বললো, হে বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
10 হে বাদশাহ্, আপনি এই হুকুম করেছেন, ‘যে কেউ শিঙ্গা, বাঁশী, বীণা, চতুস্তন্ত্রী, পরিবাদিনী ও মৃদঙ্গ প্রভৃতি সমস্ত রকম যন্ত্রের বাজনার শব্দ শুনবে, সে উবুড় হয়ে ঐ সোনার মূর্তিকে সেজ্দা করবে;
11 যে ব্যক্তি উবুড় হয়ে সেজ্দা না করবে, সে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।’
12 ব্যাবিলন প্রদেশের রাজকর্মে আপনার নিযুক্ত শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো নামে কয়েক জন ইহুদী আছে; হে বাদশাহ্, সেই ব্যক্তিরা আপনাকে মান্য করে নি; তারা আপনার দেবতাদের সেবা করে না এবং আপনি যে সোনার মূর্তি স্থাপন করেছেন, তাকেও সেজ্দা করে না।
13
তখন বখতে-নাসার ক্রোধে ও কোপে শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোকে আনতে হুকুম করলেন; তাতে তাদেরকে বাদশাহ্র সম্মুখে আনা হল।
14 বখতে-নাসার তাঁদের বললেন, হে শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো, এই কি তোমাদের সংকল্প যে আমার দেবতার সেবা করবে না, আমার স্থাপিত সোনার মূর্তিকে সেজ্দা করবে না?
15 এখনও যদি তোমরা শিঙ্গা, বাঁশী, বীণা, চতুস্তন্ত্রী, পরিবাদিনী ও মৃদঙ্গ ইত্যাদি নানা রকম যন্ত্রের বাদ্য শোনামাত্র আমার তৈরি সোনার মূর্তিকে উবুড় হয়ে সেজ্দা করতে প্রস্তুত হও, ভালই; কিন্তু যদি সেজ্দা না কর, তবে তখনই প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে; আর এমন দেবতা কে যে, আমার হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করবে?
16
শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো বাদশাহ্কে জবাবে বললেন, হে বখতে-নাসার, আপনাকে এই কথার উত্তর দেওয়া আমাদের পক্ষে নিষ্প্রয়োজন।
17 যদি হয়, আমরা যাঁর সেবা করি, আমাদের সেই আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ আছেন, আর, হে বাদশাহ্, তিনি আপনার হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করবেন;
18 আর যদি নাও হয়, তবু হে বাদশাহ্ আপনি জানবেন, আমরা আপনার দেবতাদের সেবা করবো না এবং আপনার স্থাপিত সোনার মূর্তিকে সেজ্দা করবো না।
19
তখন বখতে-নাসার ক্রোধে পরিপূর্ণ হলেন এবং শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্নগোর বিরুদ্ধে তাঁর মুখ ভয়ঙ্কর হল; তিনি বলে দিলেন ও হুকুম করলেন, অগ্নিকুণ্ড যে পরিমাণে উত্তপ্ত আছে, তার চেয়ে যেন সাত গুণ বেশি উত্তপ্ত করা হয়;
20 আর তিনি তাঁর সৈন্যের মধ্যে কয়েকজন শক্তিশালী পুরুষকে হুকুম দিলেন, যেন তারা শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোকে বেঁধে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে।
21 তখন তাদের নিজ নিজ জামা, আঙরাখা, পরিচ্ছদ প্রভৃতি কাপড়সুদ্ধ বেঁধে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হল।
22 আর বাদশাহ্র হুকুম প্রচণ্ড ও অগ্নিকুণ্ড অতি উত্তপ্ত ছিল, সেই জন্য যে পুরুষেরা শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোকে নিক্ষেপ করলো, তারাই আগুনের শিখায় পুড়ে মরলো।
23 আর শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো, এই তিন জনকে বেঁধে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে ফেলে দেওয়া হল।
24
তখন বাদশাহ্ বখতে-নাসার চমৎকৃত হলেন ও দ্রুত নিজের স্থান থেকে উঠে দাড়ালেন; তিনি তাঁর মন্ত্রীদেরকে বললেন, আমরা কি তিন জন পুরুষকে বেঁধে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করি নি? তাঁরা জবাবে বাদশাহ্কে বললেন, হ্যাঁ, মহারাজ।
25 তখন বাদশাহ্ বললেন, দেখ, আমি চার ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছি; ওরা মুক্ত হয়ে আগুনের মধ্যে চলাচল করছে, ওদের কোন হানি হয় নি; আর চতুর্থ ব্যক্তির অবয়ব দেবপুত্রের মত।
26 তখন বখতে-নাসার সেই প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের দুয়ারের কাছে গিয়ে বললেন, হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র গোলাম শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো, বের হয়ে এসো। তখন শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগো আগুনের মধ্য থেকে বের হয়ে আসলেন।
27 পরে ক্ষিতিপাল, প্রতিনিধি, শাসনকর্তা ও রাজমন্ত্রিরা একত্র হয়ে ঐ তিন ব্যক্তিকে নিরীক্ষণ করে দেখলেন, আগুন তাঁদের শরীরে কোন ক্ষতি করে নি, তাঁদের মাথার কেশও পোড়ে নি, কাপড়ও বিকৃত হয় নি এবং তাদের শরীরে আগুনের গন্ধও নেই।
28
তখন বখতে-নাসার এই কথা বললেন, শদ্রকের, মৈশকের ও অবেদ্-নগোর আল্লাহ্ ধন্য, তিনি তাঁর ফেরেশতা প্রেরণ করে, তাঁর সেই গোলামদের উদ্ধার করলেন, যারা তাঁকে বিশ্বাস করেছে, বাদশাহ্র হুকুম লঙ্ঘন করেছে এবং নিজেদের আল্লাহ্ ছাড়া যেন অন্য কোন দেবতার সেবা ও পূজা করতে না হয়, সেই জন্য নিজ নিজ প্রাণ দিয়াছে।
29 অতএব আমি এই নিয়ম স্থাপন করছি, সকল দেশের লোক, জাতি ও ভাষাবিদদের মধ্যে যে কেউ শদ্রকের, মৈশকের ও অবেদ্-নগোর আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কোন ভ্রান্তির কথা বলবে, সে খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং তার বাড়ি ধ্বংসস্তুপ করা যাবে; কেননা এই রকম উদ্ধার করতে সমর্থ আর কোন দেবতা নেই।
30 তখন বাদশাহ্ ব্যাবিলন প্রদেশে শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোকে উচ্চ-পদস্থ করলেন।
1
দুনিয়া-নিবাসী সকল লোক, জাতি ও ভাষাবাদীর প্রতি বাদশাহ্ বখতে-নাসারের বাণী। তোমাদের প্রচুর উন্নতি হোক।
2 সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আমার পক্ষে যেসব চিহ্ন-কাজ ও অলৌকিক কজ করেছেন, তা আমি আনন্দিত হয়েই তোমাদের জানাতে ইচ্ছা করছি।
3 আহা! তাঁর চিহ্ন-কাজগুলো কেমন মহৎ! তাঁর অলৌকিক কাজগুলো কেমন পরাক্রমশালী! তাঁর রাজ্য অনন্তকালীন রাজ্য ও তাঁর কর্তৃত্ব পুরুষানুক্রমে স্থায়ী।
4
আমি বখতে-নাসার আমার বাড়িতে শান্তিযুক্ত ও আমার প্রাসাদে তেজস্বী ছিলাম।
5 আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম, তা আমার ত্রাসজনক হল এবং বিছানার উপরে নানা চিন্তা ও মনের দর্শন আমাকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দিল।
6 অতএব সেই স্বপ্নের তাৎপর্য আমাকে জানবার জন্য আমি ব্যাবিলনের সমস্ত বিদ্বান লোককে আমার কাছে আনতে হুকুম করলাম।
7 পরে মন্ত্রবেত্তা, গণক, কল্দীয় ও জ্যোতির্বেত্তারা আমার কাছে আসলে আমি তাদের কাছে সেই স্বপ্ন বললাম; কিন্তু তারা আমাকে তার তাৎপর্য বলতে পারল না।
8 অবশেষে দানিয়াল, যাঁর নাম আমার দেবতার নাম অনুসারে বেল্টশৎসর, যাঁর অন্তরে পবিত্র দেবতাদের রূহ্ আছেন, তিনি আমার সম্মুখে আসলেন, আর আমি তাঁর কাছে সেই স্বপ্ন বললাম; যথা—
9
হে মন্ত্রবেত্তাদের নেতা বেল্টশৎসর, আমি জানি, পবিত্র দেবতাদের রূহ্ তোমার অন্তরে আছেন এবং কোন গোপন বিষয় জানা তোমার পক্ষে কষ্টকর নয়; আমি স্বপ্নে যে যে দর্শন পেয়েছি, তা ও তার তাৎপর্য আমাকে জানাও।
10 বিছানার উপরে আমার মনের দর্শন এই; আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, দুনিয়ার মধ্যস্থলে একটি গাছ রয়েছে, তার উচ্চতা অনেক।
11 সেই গাছটি বৃদ্ধি পেয়ে সুদৃঢ় ও উচ্চতায় আকাশ ছোঁয়া হল, সমস্ত দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত দৃশ্যমান হল।
12 তার সুন্দর সুন্দর পাতা ও অনেক ফল ছিল, তার মধ্যে সকলের জন্য খাদ্য ছিল; তার নিচে মাঠের পশুগুলো ছায়া পেত, তার ডালে আসমানের পাখিরা বাস করতো এবং সমস্ত প্রাণী তা থেকে খাদ্য পেত।
13 পরে আমি আমার বিছানার উপরে মনের দর্শনে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, এক জন প্রহরী, এক জন পবিত্র ব্যক্তি, বেহেশত থেকে নেমে আসলেন।
14 তিনি উচ্চৈঃস্বরে এই কথা বললেন, গাছটি কেটে ফেল, এর ডাল কেটে ফেল, এর পাতা ঝেড়ে ফেল এবং এর ফল ছড়িয়ে দাও; এর তলা থেকে পশুগুলো ও এর ডাল থেকে পাখিরা চলে যাক।
15 কিন্তু ভূমিতে এর মূলের কাণ্ডকে লোহা ও ব্রোঞ্জের শিকলে বেঁধে ক্ষেতের কোমল ঘাসের মধ্যে রাখ; আর সে আসমানের শিশিরে ভিজুক এবং পশুদের সঙ্গে দুনিয়ার ঘাসে তার অংশ হোক;
16 তার স্বভাব মানুষের না থেকে পরিবর্তিত হোক ও তাকে পশুর স্বভাব দেওয়া হোক; এবং তার উপরে সাত কাল ঘুরুক।
17 এই বার্তা প্রহরীবর্গের হুকুমে ও এই বিষয়টি পবিত্রগণের কথায় দেওয়া হল; অভিপ্রায় এই, যেন জীবিত লোকেরা জানতে পারে যে, মানুষের রাজ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কর্তৃত্ব করেন, যাকে তা দিতে ইচ্ছা করেন, তাকে তা দেন ও মানুষের মধ্যে অতি নিচ ব্যক্তিকে তার উপরে নিযুক্ত করেন।
18 আমি বাদশাহ্ বখতে-নাসার এই স্বপ্ন দেখেছি; এখন হে বেল্টশৎসর, তুমি তাৎপর্য বল, কেননা আমার রাজ্যস্থ কোন বিদ্বান আমাকে এর তাৎপর্য বলতে পারে না, কিন্তু তুমি বলতে পার, কেননা তোমার অন্তরে পবিত্র দেবতাদের রূহ্ আছেন।
19
তখন দানিয়াল, যাঁর নাম বেল্টশৎসর, কিছু সময় স্তম্ভিত হয়ে রইলেন, ভাবনাতে ভীষণ ভয় পেলেন। বাদশাহ্ বললেন, হে বেল্টশৎসর, সেই স্বপ্ন ও তার তাৎপর্যে তুমি ভয় পেয়ো না। বেল্টশৎসর জবাবে বললেন, হে আমার প্রভু, এই স্বপ্ন আপনার দুশমনদের প্রতি ঘটুক ও এর তাৎপর্য আপনার বিপক্ষ লোকদের প্রতি ঘটুক।
20 আপনি যে গাছটি দেখেছেন, যা বৃদ্ধি পেল, বলবান হয়ে উঠলো, যার উচ্চতা আসমান পর্যন্ত পৌঁছাল ও সারা দুনিয়াতে দৃশ্যমান হল,
21 যার পাতা সুন্দর ও ফল বিস্তর ছিল, যাতে সকলের জন্য খাদ্য ছিল, যার তলে মাঠের পশুগুলো বাস করতো এবং যার ডালে আসমানের পাখিরা বাস করতো;
22 হে বাদশাহ্, সেই গাছ আপনি; আপনি বৃদ্ধি পেয়েছেন, বলবান হয়ে উঠেছেন, আপনার মহিমা বৃদ্ধি পেয়েছে, আসমান পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং আপনার কর্তৃত্ব দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত ব্যাপৃত হয়েছে।
23 আর বাদশাহ্ দেখেছেন, এক জন প্রহরী, এক জন পবিত্র ব্যক্তি, বেহেশত থেকে নেমে আসছেন, আর বলছেন, ‘গাছটা কেটে ফেল ও বিনষ্ট কর, কিন্তু ভূমিতে এর মূলের কাণ্ডকে লোহা ও ব্রোঞ্জের শিকলে বেঁধে ক্ষেতের কোমল ঘাসের মধ্যে রাখ; তা আসমানের শিশিরে ভিজুক, মাঠের পশুদের সঙ্গে তার অংশ হোক, যে পর্যন্ত না তার উপরে সাত কাল ঘোরে।’
24 হে বাদশাহ্, এর তাৎপর্য এই; আর আমার মালিক বাদশাহ্র উপরে যা এসেছে, তা সর্বশক্তিমানেরই নিরূপণ।
25 আপনি মানব-সমাজ থেকে দূরীকৃত হবেন, মাঠের পশুদের সঙ্গে আপনার বসতি হবে, বলদের মত আপনাকে ঘাস খেতে দেওয়া হবে, আপনি আসমানের শিশিরে ভিজবেন এবং এভাবে সাত বছর চলে যাবে; যে পর্যন্ত না আপনি জানবেন যে, মানুষের রাজ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কর্তৃত্ব করেন ও যাকে তা দিতে ইচ্ছা করেন, তাকে তা দেন।
26 আর গাছটির মূলের কাণ্ড রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছিল; সুতরাং আপনি যখন জানতে পাবেন যে, বেহেশতই কর্তৃত্ব করে, তখন আপনার হাতে আপনার রাজত্ব ফিরিয়ে আনা হবে।
27 অতএব, হে বাদশাহ্, আপনি আমার পরামর্শ গ্রাহ্য করুন; আপনি ধার্মিকতা দ্বারা আপনার গুনাহ্গুলো ও দুঃখীদের প্রতি করুণা দেখিয়ে আপনার অপরাধগুলো মুছে ফেলুন; হয় তো আপনার শান্তিকাল বৃদ্ধি পাবে।
28
এই সমস্তই বাদশাহ্ বখতে-নাসারের উপর ঘটলো।
29 বারো মাসের শেষে তিনি ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদের উপরে বেড়াচ্ছিলেন।
30 বাদশাহ্ এই কথা বললেন, এ কি সেই মহতী ব্যাবিলন নয়, যা আমি আমার মহাশক্তির দ্বারা ও আমার প্রতাপের মহিমার জন্য রাজধানী করার জন্য নির্মাণ করেছি?
31 বাদশাহ্র মুখ থেকে এই কথা বের হতে না হতেই আকাশ থেকে এই বাণী হল, হে বাদশাহ্ বখতে-নাসার! তোমাকে বলা হচ্ছে, তোমার রাজত্ব তোমা থেকে গেল।
32 আর তুমি মানব-সমাজ থেকে দূরীকৃত হবে, মাঠের পশুদের সঙ্গে তোমার বসতি হবে, বলদের মত তোমাকে ঘাস খাওয়ানো যাবে ও তোমার উপরে সাত কাল ঘুরবে; যে পর্যন্ত না তুমি জানবে যে, মানুষের রাজ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কর্তৃত্ব করেন ও যাকে তা দিতে ইচ্ছা করেন, তাকে তা দেন।
33 সেই দণ্ডে বখতে-নাসারের সম্বন্ধে সেই কালাম সিদ্ধ হল; তিনি মানব সমাজ থেকে দূরীকৃত হলেন, বলদের মত ঘাস খেতে লাগলেন, তাঁর শরীর আসমানের শিশিরে ভিজল, ক্রমে তাঁর চুল ঈগল পাখির পালকের মত ও তাঁর নখ পাখির নখরের মত হয়ে উঠলো।
34
আর সেই সময়ের শেষে আমি বখতে-নাসার বেহেশতের দিকে চোখ তুললাম ও আমার বুদ্ধি আমাতে ফিরে আসল; তাতে আমি সর্বশক্তিমানের গৌরব করলাম এবং অনন্তজীবী আল্লাহ্র প্রশংসা ও সম্মান করলাম; কারণ তাঁর কর্তৃত্ব অনন্তকালীন কর্তৃত্ব ও তাঁর রাজ্য পুরুষানুক্রমে স্থায়ী;
35 আর দুনিয়া নিবাসীরা সকলে অবস্তুবৎ গণ্য; তিনি বেহেশতী বাহিনী ও দুনিয়া নিবাসীদের মধ্যে তাঁর ইচ্ছানুসারে কাজ করেন; এবং এমন কেউ নেই যে, তাঁর হাত থামিয়ে দেবে, কিংবা তাঁকে বলবে, তুমি কি করছো?
36 সেই সময়ে আমার বুদ্ধি আমাতে ফিরে আসল এবং আমার রাজ্যের গৌরবার্থে আমার প্রতাপ ও তেজ আমাতে ফিরে আসল; আর আমার মন্ত্রীরা ও আমার পদস্থ লোকেরা আমার খোঁজ করলো এবং আমি আমার রাজ্যে পুনঃস্থাপিত হলাম ও আমার মহিমা অতিশয় বৃদ্ধি পেল।
37 এখন আমি বখতে-নাসার সেই বেহেশতী রাজ্যের প্রশংসা, প্রতিষ্ঠা ও সম্মান করছি; কেননা তাঁর সমস্ত কাজ সত্য ও তাঁর সমস্ত পথ ন্যায্য; আর যারা স্বগর্বে চলে, তিনি তাদেরকে খর্ব করতে পারেন।
1
বাদশাহ্ বেল্শৎসর নিজের এক হাজার পদস্থ লোকদের জন্য মহাভোজ প্রস্তুত করলেন এবং সেই এক হাজার লোকদের সাক্ষাতে আঙ্গুর-রস পান করলেন।
2 আঙ্গুর-রসের স্বাদ গ্রহণ করতে করতে বেল্শৎসর হুকুম করলেন, আমার পিতা বখতে-নাসার জেরুশালেমের এবাদতখানা থেকে যেসব সোনা ও রূপার পাত্র নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো আনা হোক, যেন বাদশাহ্ ও তাঁর পদস্থ লোকেরা, তাঁর পত্নীরা ও তাঁর উপপত্নীরা সেসব পাত্রে পান করতে পারেন।
3 তখন এবাদতখানা থেকে, জেরুশালেমের আল্লাহ্র এবাদতখানা থেকে আনা ঐ সোনার পাত্রগুলো নিয়ে আসা হল, আর বাদশাহ্ ও তাঁর পদস্থ লোকেরা, তাঁর পত্নীরা ও তাঁর উপপত্নীরা সেসব পাত্রে পান করলেন।
4 তাঁরা আঙ্গুর-রস পান করতে করতে সোনার, রূপার, ব্রোঞ্জের, লোহার, কাঠের ও পাথরের তৈরি দেবতাদের প্রশংসা করতে লাগলেন।
5
ঠিক তখনই মানুষের একটি হাত এসে রাজপ্রাসাদের দেওয়ালের প্রলেপের উপরে প্রদীপ-আসনের সম্মুখে লিখতে লাগল; এবং যে হাতটি লিখছিল, সেটি বাদশাহ্ দেখতে পেলেন।
6 তখন বাদশাহ্র মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল, তাঁর ভাবনা তাঁকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দিল; তাঁর কোমরের গ্রন্থি শিথিল হয়ে পড়লো এবং তাঁর হাঁটু কাঁপতে লাগল।
7 বাদশাহ্ উচ্চৈঃস্বরে গণক, কল্দীয় ও জ্যোতির্বেত্তাদের আনতে হুকুম করলেন। বাদশাহ্ ব্যাবিলনের বিদ্বানদের বললেন, যে কোন ব্যক্তি এই লেখা পড়ে এর তাৎপর্য আমাকে জানাবে, তাকে বেগুনে কাপড় পরানো হবে, তার গলায় সোনার হার দেওয়া হবে এবং সে রাজ্যে তৃতীয় হবে।
8 তখন বাদশাহ্র বিদ্বান লোকেরা ভিতরে আসল; কিন্তু সেই লেখা পড়তে কিংবা বাদশাহ্কে তার তাৎপর্য জানাতে পারল না।
9 তখন বেল্শৎসর বাদশাহ্ ভীষণ ভয় পেলেন, তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল ও তাঁর পদস্থ লোকেরা হতভম্ব হয়ে গেলেন।
10
বাদশাহ্র ও তাঁর পদস্থ লোকদের সেই কথা শুনে রাণী ভোজনশালায় আসলেন। রাণী বললেন, হে বাদশাহ্, চিরজীবী হোন; আপনি ভয় পাবেন না এবং আপনার মুখ ফ্যাকাশে হতে দেবেন না।
11 আপনার রাজ্যের মধ্যে এক জন ব্যক্তি আছেন, তাঁর অন্তরে পবিত্র দেবতাদের রূহ্ আছেন; আপনার পিতার সময়ে তাঁর মধ্যে আলো, বুদ্ধিকৌশল ও দেবতাদের জ্ঞানের মত জ্ঞান পরিলক্ষিত হয়েছিল এবং আপনার পিতা বাদশাহ্ বখতে-নাসার, হ্যাঁ, বাদশাহ্, আপনার পিতা তাঁকে মন্ত্রবেত্তাদের, গণকদের, কল্দীয়দের ও জ্যোতির্বেত্তাদের প্রধান করে নিযুক্ত করেছিলেন;
12 কেননা উৎকৃষ্ট রূহ্, জ্ঞান, বুদ্ধিকৌশল এবং স্বপ্নের তাৎপর্য বলবার, গূঢ়বাক্য প্রকাশ করার ও সন্দেহ ভঞ্জন করার ক্ষমতা সেই দানিয়ালের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল, যাঁকে বাদশাহ্ বেল্টশৎসর নাম দিয়েছিলেন। অতএব সেই দানিয়ালকে ডাকা হোক, তিনি তাৎপর্য জানাবেন।
13
তখন দানিয়ালকে বাদশাহ্র কাছে আনা হল। বাদশাহ্ দানিয়ালকে বললেন, তুমিই কি দানিয়াল সেই নির্বাসিত ইহুদীদের এক জন, যাদের আমার পিতা মহারাজ এহুদা দেশ থেকে এনেছিলেন?
14 তোমার বিষয়ে আমি শুনতে পেয়েছি যে, তোমার অন্তরে দেবতাদের রূহ্ আছেন এবং আলো, বুদ্ধিকৌশল ও উৎকৃষ্ট জ্ঞান তোমার মধ্যে লক্ষিত হয়।
15 আর সম্প্রতি এই লেখা পাঠ করার ও এর তাৎপর্য আমাকে জানবার জন্য বিদ্বান ও গণকদের আমার কাছে আনা হয়েছিল; কিন্তু তারা লেখার তাৎপর্য আমাকে জানাতে পারে নি।
16 কিন্তু তোমার বিষয়ে শুনেছি যে, তুমি তাৎপর্য প্রকাশ করতে ও সন্দেহ ভঞ্জন করতে পার; এখন যদি তুমি এই লেখা পাঠ করতে ও এর তাৎপর্য আমাকে জানাতে পার, তবে বেগুনে কাপড় পরানো হবে, তোমার গলায় সোনার হার দেওয়া হবে এবং তুমি রাজ্যে তৃতীয় পদের অধিকারী হবে।
17
তখন দানিয়াল জবাবে বাদশাহ্কে বললেন, আপনার দান আপনারই থাকুক, আপনার পুরস্কার অন্যকে দিন; কিন্তু আমি বাদশাহ্র কাছে এই লিপি পাঠ করবো এবং এর তাৎপর্য তাঁকে জানাবো।
18 হে বাদশাহ্, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আপনার পিতা বখতে-নাসারকে রাজ্য, মহিমা, গৌরব ও প্রতাপ দিয়েছিলেন।
19 তিনি তাঁকে যে মহিমা দিয়েছিলেন, তার ফলে সমস্ত লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদীরা তাঁর সাক্ষাতে কাঁপত ও ভয় করতো; তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হত্যা করতেন, যাকে ইচ্ছা তাকে জীবিত রাখতেন এবং যাকে ইচ্ছা তাকে উচ্চপদ দিতেন, যাকে ইচ্ছা তাকে অবনত করতেন।
20 কিন্তু তাঁর অন্তঃকরণ গর্বিত হলে ও তাঁর রূহ্ কঠিন হয়ে পড়লে তিনি দুঃসাহসী হলেন, তাই আপন রাজ-সিংহাসন থেকে চ্যুত হলেন ও তাঁর কাছ থেকে গৌরব নিয়ে নেওয়া হল।
21 তিনি মানুষের সমাজ থেকে দূরীকৃত হলেন, তাঁর অন্তর পশুর সমান হল ও বন্য গাধার সাথে তাঁর বাস হল; তিনি বলদের মত ঘাস খেতেন এবং তাঁর শরীর আসমানের শিশিরে ভিজত; যে পর্যন্ত না তিনি জানতে পারলেন যে, মানুষের রাজ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কর্তৃত্ব করেন ও তার উপরে যাকে ইচ্ছা তাকে নিযুক্ত করেন।
22 হে বেল্শৎসর, আপনি তাঁরই পুত্র, আপনি এসব জানলেও আপনি আপনার অন্তঃকরণ নম্র করেন নি।
23 কিন্তু বেহেশতের অধিপতির বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন; এবং তাঁর এবাদতখানার নানা পাত্র আপনার সম্মুখে আনা হয়েছে, আর আপনি, আপনার পদস্থ লোকেরা, আপনার পত্নীরা ও আপনার উপপত্নীরা সেসব পাত্রে আঙ্গুর-রস পান করেছেন; এবং রূপার, সোনার, ব্রোঞ্জের, লোহার, কাঠের ও পাথরের তৈরি যে দেবতারা দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, কিছু জানতেও পারে না, আপনি তাদের প্রশংসা করেছেন; কিন্তু আপনার নিঃশ্বাস যাঁর হাতে ও আপনার সকল পথ যাঁর অধীন, আপনি সেই আল্লাহ্র সমাদর করেন নি।
24
এজন্য তাঁর কাছ থেকে এই হাত প্রেরিত হল ও এই কথা লেখা হল।
25 লেখা কথাটি এই, ‘মিনে মিনে, তকেল, উপারসীন,’ গণিত, গণিত, তুলাদণ্ডে পরিমিত ও খণ্ডিত।
26 এর তাৎপর্য এই— ‘গণিত,’ আল্লাহ্ আপনার রাজ্যের গণনা করেছেন, তা শেষ করেছেন;
27 ‘তুলাদণ্ডে পরিমিত,’ আপনি দাড়িপাল্লায় পরিমিত হয়ে লঘুরূপে নির্ণীত হয়েছেন;
28 ‘খণ্ডিত,’ আপনার রাজ্য খণ্ডিত হয়ে মাদীয় ও পারসীকদের দেওয়া হল।
29
তখন বেল্শৎসরের হুকুমে দানিয়াল বেগুনে কাপড় পরানো হল ও তাঁর গলায় সোনার হার দেওয়া হল এবং তাঁর বিষয়ে এই কথা ঘোষণা করে দেওয়া হল যে, তিনি রাজ্যে তৃতীয় পদের অধিকারী হলেন।
30
সেই রাতে কল্দীয় বাদশাহ্ বেল্শৎসর নিহত হন।
31 পরে মাদীয় দারিয়ুস রাজ্যের ভার গ্রহণ করেন; তখন তাঁর প্রায় বাষট্টি বছর বয়স হয়েছিল।
1
দারিয়ুস বিষয়টি উপযুক্ত মনে করে সাম্রাজ্যের সমস্ত রাজ্যের উপরে এক শত বিশ জন ক্ষিতিপাল,
2 এবং তাঁদের উপরে তিন জন সভাপতি নিযুক্ত করেন; সেই তিনজনের মধ্যে দানিয়াল এক জন ছিলেন। এর অভিপ্রায় এই, যেন ঐ ক্ষিতিপালেরা তাঁদের কাছে হিসাব দেন, আর বাদশাহ্র কোন ক্ষতি না হয়।
3 সেই দানিয়াল সভাপতিদের ও ক্ষিতিপালদের থেকে বিশিষ্ট ছিলেন, কেননা তাঁর অন্তরে উৎকৃষ্ট রূহ্ ছিল; আর বাদশাহ্ তাঁকে সমস্ত রাজ্যের জন্য নিযুক্ত করতে মনস্থ করলেন।
4
তখন সভাপতিরা ও ক্ষিতিপালেরা রাজকর্মের বিষয়ে দানিয়ালের দোষ ধরতে চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু কোন দোষ বা অপরাধ পেলেন না; কেননা তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন, তাঁর মধ্যে কোন ভ্রান্তি কিংবা অপরাধ পাওয়া গেল না।
5 তখন সেই ব্যক্তিরা বললেন, আমরা ঐ দানিয়ালের অন্য কোন দোষ পাব না; কেবল তাঁর আল্লাহ্র শরীয়ত সম্পর্কিত যদি তাঁর কোন দোষ পাই।
6
তখন সেই সভাপতিরা ও ক্ষিতি-পালেরা বাদশাহ্র কাছে সমাগত হয়ে তাঁকে বললেন, বাদশাহ্ দারিয়ুস, চিরজীবী হোন।
7 রাজ্যের সভাপতিরা, প্রতিনিধিরা, ক্ষিতি-পালরা, মন্ত্রীরা ও শাসনকর্তারা সকলে মন্ত্রণা করে এমন রাজাজ্ঞা স্থাপন ও দৃঢ় আইন জারি করতে বিহিত বুঝেছেন যে, যদি কেহ ত্রিশ দিন পর্যন্ত বাদশাহ্ ছাড়া অন্য কোন দেবতা কিংবা মানুষের কাছে মুনাজাত করে, তবে হে বাদশাহ্, সে সিংহদের খাতে নিক্ষিপ্ত হবে।
8 এখন হে বাদশাহ্, আপনি সেই আইন জারি করুন এবং বিধিপত্রে স্বাক্ষর করুন, যেন মাদীয় ও পারসীকদের অলোপ্য ব্যবস্থানুসারে তা অপরিবর্তনীয় হয়।
9 অতএব বাদশাহ্ দারিয়ুস সেই পত্র ও জারিকৃত আইনে স্বাক্ষর করলেন।
10
পত্রখানি স্বাক্ষরিত হয়েছে, দানিয়াল যখন তা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর বাড়িতে গেলেন; তাঁর কুঠরীতে জানালা জেরুশালেমের দিকে খোলা ছিল; তিনি দিনের মধ্যে তিনবার হাঁটু পেতে তাঁর আল্লাহ্র সম্মুখে মুনাজাত ও প্রশংসা-গজল করলেন, যেমন আগে করতেন।
11 তখন সেই লোকেরা সমাগত হয়ে দেখলেন, দানিয়াল তাঁর আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করছেন ও করুণা চাইছেন।
12 তখন তাঁরা বাদশাহ্র কাছে গিয়ে রাজকীয় আইনের বিষয়ে বাদশাহ্র কাছে এই নিবেদন করলেন; হে বাদশাহ্, আপনি কি এই জারিকৃত আইনে স্বাক্ষর করেন নি যে, কোন ব্যক্তি যদি ত্রিশ দিনের মধ্যে বাদশাহ্ ছাড়া কোন দেবতা বা মানুষের কাছে মুনাজাত করে, সে সিংহদের খাতে নিক্ষিপ্ত হবে? বাদশাহ্ উত্তর করলেন, মাদীয় ও পারসীকদের অলোপ্য ব্যবস্থানুসারে তা স্থির হয়েছে।
13 তখন তাঁরা বাদশাহ্র সম্মুখে বললেন, হে বাদশাহ্, নির্বাসিত ইহুদীদের মধ্যবর্তী দানিয়াল আপনাকে এবং আপনার স্বাক্ষরিত প্রতিষেধ মান্য করে না, কিন্তু প্রতিদিন তিনবার মুনাজাত করে।
14
বাদশাহ্ এই কথা শুনে অতিশয় মনক্ষুণ্ন হলেন এবং দানিয়ালকে উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা করলেন; সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করতে অনেক যত্ন করলেন।
15 তখন ঐ লোকেরা বাদশাহ্র কাছে সমাগত হয়ে বাদশাহ্কে বললেন, বাদশাহ্, জানবেন, যে কোন প্রতিষেধ কি বিধি বাদশাহ্ স্থির করেছেন, তা অন্যথা হতে পারে না, মাদীয় ও পারসীকদের এ-ই ব্যবস্থা।
16
তখন বাদশাহ্ হুকুম দিলেন, তাই তাঁরা দানিয়ালকে এনে সিংহদের খাতে নিক্ষেপ করলেন। বাদশাহ্ দানিয়ালকে বললেন, তুমি অবিরত যাঁর সেবা করে থাক, তোমার সেই আল্লাহ্ তোমাকে রক্ষা করবেন।
17 পরে একটি পাথর আনা হল ও খাতের মুখে স্থাপিত হল এবং দানিয়ালের বিষয়ে যেন কিছু পরিবর্তন না হয়, এজন্য বাদশাহ্ নিজের সীলমোহরে ও তাঁর পদস্থ লোকদের সীলমোহরে তা সীলমোহরকৃত করলেন।
18
পরে বাদশাহ্ তাঁর প্রাসাদে গিয়ে কোন খাদ্য গ্রহণ না করেই রাতি যাপন করলেন, নিজের সামনে কোন উপভোগের সামগ্রী আনতে দিলেন না, তাঁর নিদ্রাও হল না।
19
পরে বাদশাহ্ খুব ভোরে উঠে তাড়াতাড়ি সিংহদের খাতের কাছে গেলেন।
20 আর খাতের কাছে গিয়ে তিনি আর্তস্বরে দানিয়ালকে ডাকলেন; বাদশাহ্ দানিয়ালকে বললেন, হে জীবন্ত আল্লাহ্র সেবক দানিয়াল, তুমি অবিরত যাঁর সেবা কর, তোমার সেই আল্লাহ্ কি সিংহের মুখ থেকে তোমাকে রক্ষা করতে পেরেছেন?
21 তখন দানিয়াল বাদশাহ্কে বললেন, হে বাদশাহ্ চিরজীবী হোন।
22 আমার আল্লাহ্ তাঁর ফেরেশতা পাঠিয়ে সিংহদের মুখ বন্ধ করেছেন, তারা আমার ক্ষতি করে নি; কেননা তাঁর সাক্ষাতে আমার নির্দোষিতা পরিলক্ষিত হল; এবং হে বাদশাহ্, আপনার সাক্ষাতেও আমি কোন অপরাধ করি নি।
23 তখন বাদশাহ্ ভীষণ খুশি হলেন এবং দানিয়ালকে খাত থেকে তুলতে হুকুম করলেন। তাতে দানিয়ালকে খাত থেকে তুলে নেওয়া হল, আর তাঁর শরীরে কোন রকম আঘাত দেখা গেল না, কারণ তিনি তাঁর আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করেছিলেন।
24
পরে বাদশাহ্ হুকুম করলেন, তাতে যারা দানিয়ালের উপরে দোষারোপ করেছিল, তাদেরকে এনে তাদের পুত্র-কন্যা ও স্ত্রীসহ সিংহদের খাতে ফেলে দেওয়া হল; আর তারা খাতের তল স্পর্শ করতে না করতে সিংহরা তাদেরকে আক্রমণ করে তাদের সমস্ত অস্থি চূর্ণ করলো।
25
তখন বাদশাহ্ দারিয়ুস সমস্ত পৃথিবী-নিবাসী লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদীকে এই পত্র লিখলেন, ‘তোমাদের প্রচুর উন্নতি হোক!
26 আমি এই হুকুম করছি, আমার রাজ্যের অধীন সমস্ত জায়গায় লোকেরা দানিয়ালের আল্লাহ্র সাক্ষাতে কম্পমান হোক ও ভয় করুক; কেননা তিনি জীবন্ত আল্লাহ্ ও অনন্তকাল স্থায়ী এবং তাঁর রাজ্য অবিনাশী ও তাঁর কর্তৃত্ব শেষ পর্যন্ত থাকবে।
27 তিনি রক্ষা করেন ও উদ্ধার করেন এবং তিনি বেহেশতে ও দুনিয়াতে চিহ্ন-কাজ ও আলৌকিক কাজ সাধন করেন; তিনি দানিয়ালকে সিংহদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।’
28
আর দারিয়ুস ও পারসীক কাইরাসের রাজত্বকালে এই দানিয়ালের প্রচুর উন্নতি হল।
1
ব্যাবিলনের বাদশাহ্ বেল্শৎসরের প্রথম বছরে দানিয়াল বিছানায় স্বপ্ন ও মনের দর্শন দেখলেন; তখন তিনি সেই স্বপ্নটি এভাবে লিখে রাখলেন:
2
আমি রাতের বেলায় আমার দর্শনে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, মহাসমুদ্রের উপরে আসমানের চারটা বায়ু প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হচ্ছে।
3 আর সমুদ্র থেকে বড় চারটা জন্তু বের হল, তারা একটি থেকে আর একটি ভিন্ন।
4 প্রথমটা সিংহের মত; এবং ঈগল পাখির মত তার পাখা ছিল; আমি দেখতে দেখতে তার সেই দুই পাখা উৎপাটিত হল, পরে তাকে ভূমি থেকে উঠিয়ে মানুষের মত দুই পায়ে দাঁড় করানো হল এবং মানুষের অন্তর তাকে দেওয়া হল।
5 পরে দেখ, আর একটি জন্তু; এই দ্বিতীয় জন্তুটা ভল্লুকের মত, সে এক পাশে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল এবং তার মুখে দাঁতগুলোর মধ্যে তিনটি পাঁজরের অস্থি ছিল; তাকে বলা হল, ওঠ, যথেষ্ট গোশ্ত ভোজন কর।
6 তারপর আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, আর একটি জন্তু, সে চিতাবাঘের মত, তার পিঠে পাখির মত চারটি পাখা ছিল; আবার সেই জন্তুর চারটি মাথা ছিল এবং তাকে কর্তৃত্ব দেওয়া হল।
7 তারপর আমি রাতের বেলায় দর্শনে দেখলাম, আর দেখ, চতুর্থ একটি জন্তু, সে ভয়ঙ্কর, ক্ষমতাপন্ন ও অতিশয় শক্তিমান এবং তার বড় লোহার দাঁত ছিল। সে তার শিকারকে চুরমার করে গিলে ফেলল, উচ্ছিষ্টগুলো পদতলে দলিত করলো; আর আগের সকল জন্তু থেকে সে ভিন্ন ও তার দশটি শিং ছিল।
8 আমি সেই শিংগুলোর বিষয় ভাবছিলাম, আর দেখ, তাদের মধ্যে আর একটি শিং উঠলো, এটা ক্ষুদ্র, এর সামনেই আগের শিংগুলোর তিনটি শিং সমূলে উৎপাটিত হল; আর দেখ, ঐ শিংগুলোতে মানুষের চোখের মত চোখ দম্ভ-ভরা কথার মুখ ছিল।
9
আমি দেখতে না দেখতে কয়েকটি সিংহাসন স্থাপিত হল এবং অনেক দিনের বৃদ্ধ উপবিষ্ট হলেন, তাঁর পরিচ্ছদ হিমানীর মত শুক্লবর্ণ এবং তাঁর মাথার চুল বিশুদ্ধ ভেড়ার লোমের মত; তাঁর সিংহাসন আগুনের শিখার মত, তার চাকাগুলো যেন জ্বলন্ত আগুন।
10 তাঁর সম্মুখ থেকে আগুনের স্রোত বের হয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল; হাজার হাজার লোক তাঁর পরিচর্যা করছিল এবং অযুত অযুত লোক তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান ছিল; বিচার বসলো এবং কিতাব সকল খোলা হল।
11 আমি ঐ শিংগুলোর কথিত দম্ভ-ভরা কথার দরুন দেখতে থাকলাম, আমি দেখতে থাকলাম, যে পর্যন্ত সেই জন্তু হত না হল, তার শরীর বিনষ্ট না হল এবং তাকে আগুন শিখার মধ্যে ফেলে দেওয়া না হল।
12 আর অন্য সকল জন্তুর গতি এরকম: তাদের থেকে কর্তৃত্ব নিয়ে নেওয়া হল, তবুও কাল ও সময় পর্যন্ত তাদের আয়ু বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
13
আমি রাতের বেলায় দর্শনে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, আসমানের মেঘ সহকারে ইবনুল-ইনসানের মত এক পুরুষ আসলেন, তিনি সেই বৃদ্ধের কাছে উপস্থিত হলেন, তাঁর সম্মুখে তাকে আনা হল।
14 আর তাঁকে কর্তৃত্ব, মহিমা ও রাজত্ব দেওয়া হল; লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদীকে তাঁর সেবা করতে হবে; তাঁর কর্তৃত্ব অনন্তকালীন কর্তৃত্ব, তা লোপ পাবে না এবং তাঁর রাজ্য বিনষ্ট হবে না।
15
আমি দানিয়াল আমার দেহের মধ্যে রূহে বিষণ্ন হলাম ও আমার মনের দর্শন আমাকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দিল।
16 যাঁরা কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি তাঁদের একজনের কাছে গেলাম এবং এগুলোর তথ্য জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বিষয়টির তাৎপর্য বুঝিয়ে দিলেন,
17 ‘ঐ চারটা বিরাট জন্তু চার জন বাদশাহ্, তারা দুনিয়া থেকে উৎপন্ন হবে।
18 কিন্তু সর্বশক্তিমানের পবিত্রগণ রাজত্ব লাভ করবে এবং চিরকাল, যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব ভোগ করবে।’
19
তখন আমি সেই চতুর্থ জন্তুর তথ্য জানতে চাইলাম, যে অন্য সকল থেকে ভিন্ন ও অতি ভয়ানক, যার দাঁত লোহার ও নখ ব্রোঞ্জের, যে তার শিকারকে চুরমার করে গিলে ফেলেছিল ও উচ্ছিষ্টকে পদতলে দলিত করেছিল।
20 আর তার মাথার দশটি শিং-এর তথ্য ও যে অন্য শিং উঠেছিল, যার সাক্ষাতে তিনিটি শিং পড়ে গেল; সেই শিং, যার চোখ ও দম্ভ-ভরা কথার মুখ ছিল, সহচরদের চেয়ে যার বিপুল দৃশ্য ছিল, সেই শিংগুলোর তথ্য জানতে চাইলাম।
21 আমি দেখলাম, সেই শিং পবিত্রগণের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরকে জয় করলো;
22 যে পর্যন্ত না সেই অনেক দিনের বৃদ্ধ আসলেন, আর সর্বশক্তিমানের পবিত্রগণের হাতে বিচার-ভার দেওয়া হল এবং পবিত্রগণের রাজত্ব-ভোগের সময় উপস্থিত হল।
23
তিনি এরকম কথা বললেন, ঐ চতুর্থ জন্তু দুনিয়ার চতুর্থ রাজ্য; সেই রাজ্য অন্য সকল রাজ্য থেকে ভিন্ন হবে এবং সমস্ত দুনিয়াকে গ্রাস, মাড়াই ও চূর্ণ করবে।
24 আর তার দশটি শিং-এর তাৎপর্য; ঐ রাজ্য থেকে দশ জন বাদশাহ্ উৎপন্ন হবে। তাদের পরে আর এক জন উঠবে, সে পূর্ববর্তী বাদশাহ্দের থেকে ভিন্ন হবে এবং তিন বাদশাহ্কে নিপাত করবে।
25 সে সর্বশক্তিমানের বিপরীতে কথা বলবে, সর্বশক্তিমানের পবিত্রগণের উপর জুলুম করবে এবং নিরূপিত কাল ও শরীয়তের পরিবর্তন করতে মনস্থ করবে এবং এক কাল, দুই কাল ও অর্ধেক কাল পর্যন্ত তাদের তার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
26 পরে বিচার বসবে, তার কর্তৃত্ব তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে, শেষ পর্যন্ত তার ক্ষয় ও বিনাশ করা যাবে।
27 আর রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও সমস্ত আসমানের অধঃস্থিত রাজ্যের মহিমা সর্বশক্তিমানের পবিত্র লোকদেরকে দেওয়া হবে; তাঁর রাজ্য অনন্তকাল স্থায়ী রাজ্য এবং সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁর সেবা করবে ও তাঁর বাধ্য হবে।
28
এই পর্যন্ত বৃত্তান্তের শেষ। আমি দানিয়াল আমার ভাবনার জন্য আমি ভীষণ ভয় পেলাম ও আমার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল; কিন্তু আমি সেই কথা মনে রাখলাম।
1
বেল্শৎসর বাদশাহ্র রাজত্বের তৃতীয় বছরে আমি দানিয়াল প্রথম দর্শনের পরে আর একটি দর্শন পেলাম।
2 আমি দর্শনক্রমে দৃষ্টিপাত করতে করতে দেখলাম, যেন আমি ইলাম প্রদেশস্থ শূশন রাজপ্রাসাদে আছি; আরও দেখলাম, যেন আমি ঊলয় নদীর তীরে আছি।
3 পরে আমি চোখ তুলে দেখলাম, আর দেখ, নদীর সম্মুখে একটি ভেড়া দাঁড়িয়ে আছে, তার দু’টি শিং এবং সেই শিং দু’টি উঁচু, কিন্তু একটি অন্যটির চেয়ে বেশি উঁচু; ও যেটি বেশি উঁচু, সেটি পিছনে উৎপন্ন হয়েছে।
4 আমি দেখলাম, ঐ ভেড়া পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে শিং দিয়ে আঘাত করলো, তার সম্মুখে কোন জন্তু দাঁড়াতে পারল না এবং তার হাত থেকে উদ্ধার করতে পারে, এমন কেউ ছিল না, আর সে স্বেচ্ছামত কাজ করতো, আর আত্মগরিমা করতো।
5
আমি এই বিষয় বিবেচনা করছিলাম, আর দেখ, পশ্চিম দিক থেকে একটি ছাগল সমস্ত দুনিয়া পার হয়ে আসল, ভূমি স্পর্শ করলো না; আর সেই ছাগলের দুই চোখের মধ্যস্থানে স্পষ্ট একটা শিং ছিল।
6 পরে দুই শিংবিশিষ্ট যে ভেড়াকে আমি দেখেছিলাম, নদীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তার কাছে এসে সে ভয়ংকর বেগে তার দিকে দৌড়ে গেল।
7 আর আমি দেখলাম, সে ভেড়ার কাছে আসল এবং তার উপর ক্রোধে উত্তেজিত হল এবং ভেড়াকে আঘাত করলো ও তার দু’টি শিং ভেঙ্গে ফেললো, তার সম্মুখে দাঁড়াবার শক্তি ঐ ভেড়ার আর রইলো না; আর সে তাকে ভূমিতে ফেলে দিয়ে পায়ে দলতে লাগল; তার হাত থেকে ঐ ভেড়াটিকে উদ্ধার করে, এমন কেউ ছিল না।
8 পরে ঐ ছাগলটি অতিশয় আত্মগরিমা করলো, কিন্তু বলবান হওয়ার পর সেই বিশাল শিং ভেঙ্গে গেল এবং তার স্থানে আসমানের চার বায়ুর দিকে চারটি বিলক্ষণ শিং সৃষ্টি হল।
9
আর তাদের একটির মধ্য থেকে খুব ছোট একটি শিং সৃষ্টি হল, সেটি দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে এবং সেই শোভিত দেশের দিকে অতিশয় বৃদ্ধি পেতে লাগল।
10 আর সে আসমানের বাহিনী পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল এবং সেই বাহিনী ও তারাগুলোর কিছু অংশ ভূমিতে ফেলে দিল এবং পদতলে দলতে লাগল।
11 সে বাহিনীপতির বিপক্ষেও আত্মগরিমা করলো ও তাঁর উদ্দেশ্যে দেওয়া নিত্য নৈবেদ্য অপহরণ করলো এবং তাঁর পবিত্র স্থান নিপাতিত হল।
12 আর অধর্মের কারণে নিত্য কোরবানীর বিরুদ্ধে একটি বাহিনী তার হাতে দেওয়া হল এবং সে সত্যকে ভূমিতে নিপাত করলো এবং কাজ করলো ও কৃতকার্য হল।
13
পরে আমি এক জন পবিত্র ব্যক্তিকে কথা বলতে শুনলাম এবং যিনি কথা বলছিলেন, তাঁকে আর এক জন পবিত্র ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, সেই নিত্য কোরবানীর অপহরণ ও সেই ধ্বংসজনক অধর্ম, দলিত হবার জন্য পবিত্র স্থানের ও বাহিনীর সমর্পণ সম্বন্ধীয় দর্শন কত দিনের জন্য?
14 তিনি তাঁকে বললেন, দুই হাজার তিন শত সন্ধ্যা ও সকাল বেলার জন্য; পরে পবিত্র স্থানের পক্ষে বিচার নিষ্পত্তি হবে।
15
আমি দানিয়াল এরকম দর্শন পাবার পর তা বুঝবার চেষ্টা করলাম; আর দেখ, পুরুষাকৃতি এক ব্যক্তি আমার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন;
16 এবং আমি ঊলয়ের তীর থেকে মানুষের স্বর শুনলাম, সেই স্বর ডেকে বললো, জিবরাইল, একে দর্শনের তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
17 তাতে আমি যে স্থানে দাঁড়িয়েছিলাম, তিনি সেই স্থানের কাছে আসলেন; তিনি আসলে পর আমি ভীষণ ভয় পেলাম, উবুড় হয়ে পড়লাম; কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, হে মানুষের সন্তান, বুঝে নাও, কারণ এই দর্শন শেষকাল-বিষয়ক।
18
যখন তিনি আমার সঙ্গে আলাপ করলেন, তখন আমি গভীর নিদ্রায় ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়লাম; কিন্তু তিনি আমাকে স্পর্শ করে স্বস্থানে দাঁড় করালেন।
19 আর তিনি বললেন, দেখ, ক্রোধের শেষ দিকে যা ঘটবে, তা তোমাকে জানাই, কেননা এ নিরূপিত শেষকালের কথা।
20 তুমি দুই শিংবিশিষ্ট যে ভেড়া দেখলে, সে মাদীয় ও পারসীক বাদশাহ্।
21 আর সেই লোমশ ছাগল গ্রীস দেশের বাদশাহ্ এবং তার দুই চোখের মধ্যস্থানে যে বড় শিং, সে প্রথম বাদশাহ্।
22 আর তার ভেঙ্গে পরা ও তার পরিবর্তে আর চারটি শিং উৎপন্ন হওয়া, এর মর্ম এই, সেই জাতি থেকে চারটি রাজ্য উৎপন্ন হবে, কিন্তু তার মত পরাক্রম-বিশিষ্ট হবে না।
23 তাদের রাজ্য পরবর্তীকালে গুনাহের মাত্রা পূর্ণ হলে দেখতে ভীষণ চেহারার ও গূঢ়বাক্য বলা এক জন বাদশাহ্র সৃষ্টি হবে।
24 সে শক্তিতে পরাক্রান্ত হবে, কিন্তু শক্তিতে বলে নয় এবং সে আশ্চর্যভাবে বিনাশ করবে; আর কৃতকার্য হবে, কাজ সফল করবে এবং শক্তিমান ও পবিত্র লোকদেরকে বিনাশ করবে।
25 তার চালাকির জন্য সে তার হাতে চাতুরী সফল করবে; সে মনে মনে আত্মগরিমা করবে ও নিশ্চিন্ত অবস্থাপন্ন অনেককে বিনষ্ট করবে এবং অধিপতিদের অধিপতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। শেষে সে ধ্বংস হবে, কিন্তু মানুষের শক্তিতে নয়।
26
আর সন্ধ্যা ও সকাল বেলার বিষয়ে কথিত দর্শন সত্য; কিন্তু তুমি এই দর্শন মুদ্রাঙ্কিত কর, কেননা এ অনেক দিনের কথা।
27 আর আমি দানিয়াল কিছু দিন ক্লান্ত ও অসুস্থ ছিলাম, তারপর উঠে বাদশাহ্র কাজ করলাম; আর সেই দর্শনে চমৎকৃত হলাম, কিন্তু কেউ তা বুঝতে পারল না।
1
মাদীয় বংশজাত জারেক্সেসের পুত্র যে দারিয়ুস কল্দীয় রাজ্যের বাদশাহ্র পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন,
2 তাঁর প্রথম বছরে, তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরে, আমি দানিয়াল গ্রন্থাবলি দ্বারা বছরের সংখ্যা বুঝলাম, অর্থাৎ জেরুশালেমের উৎসন্ন-দশা শেষ হতে সত্তর বছর লাগবে, মাবুদের এই যে কালাম ইয়ারমিয়া নবীর কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তা বুঝলাম।
3
পরে আমি রোজা রেখে, চট পরে ও ভস্ম লেপন করে মুনাজাত ও বিনতির চেষ্টায় আমার মালিক আল্লাহ্র প্রতি তাকালাম।
4 আর আমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত করলাম ও গুনাহ্ স্বীকার করে বললাম হে মালিক, তুমিই সেই মহান ও ভক্তিপূর্ণ ভয় জাগানো আল্লাহ্, যিনি তাদের সঙ্গে নিয়ম ও অটল মহব্বত রক্ষা করেন, যারা তাঁকে মহব্বত করে ও তাঁর হুকুম পালন করে।
5 আমরা গুনাহ্ ও অপরাধ করেছি, দুষ্টামি করেছি ও বিদ্রোহী হয়েছি, তোমার বিধি ও অনুশাসন ত্যাগ করেছি;
6 আর তোমার যে গোলাম নবীরা আমাদের বাদশাহ্রা, নেতৃবর্গ, পূর্বপুরুষরাও জনপদস্থ লোক সকলকে তোমার নামে কথা বলতেন, তাঁদের কথায়ও আমরা কান দিই নি।
7
হে মালিক, ধর্মশীলতা তোমার, কিন্তু আমরা লজ্জার পাত্র, যেমন আজ দেখা যাচ্ছে; এহুদার লোক ও জেরুশালেম-নিবাসীরা এবং সমস্ত ইসরাইল এই অবস্থায় রয়েছে,— যারা কাছে ও যারা দূরে রয়েছে, যারা সেসব দেশে রয়েছে, যেখানে তুমি তাদের তাড়িয়ে দিয়েছ, তোমার বিরুদ্ধে কৃত সত্যলঙ্ঘনের কারণেই তাড়িয়ে দিয়েছ।
8 হে মালিক, আমরা, আমাদের বাদশাহ্রা, কর্মকর্তারা ও পূর্বপুরুষরা সকলে মুখের বিবর্ণতার পাত্র, কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
9 করুণা ও মাফ আমাদের মালিক আল্লাহ্র; কারণ আমরা তাঁর বিদ্রোহী হয়েছি;
10 এবং আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথা মান্য করি নি, তিনি তাঁর গোলাম নবীদের দ্বারা আমাদের সামনে যে সমস্ত ব্যবস্থা রেখেছেন, আমরা সেই পথে চলি নি।
11
হ্যাঁ, সমস্ত ইসরাইল তোমার ব্যবস্থা লঙ্ঘন করেছে, তোমার কালাম মান্য করার অনিচ্ছায় বিপথগামী হয়েছে, সেইজন্য আল্লাহ্র গোলাম মূসার শরীয়তে লেখা বদদোয়া ও শপথ আমাদের উপরে বর্ষিত হয়েছে, কারণ আমরা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি।
12 আর আমাদের বিরুদ্ধে ও যে বিচারকেরা আমাদের বিচার করতেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি যে যে কালাম বলেছেন, সেসব সফল করে আমাদের উপরে ভারী অমঙ্গল ঘটিয়েছেন; কেননা জেরুশালেমের প্রতি যেমন করা হয়েছে, আসমানের নিচে আর কোথাও সেই রকম করা হয় নি।
13 মূসার শরীয়তে যেরকম লেখা আছে, সেই অনুসারে এ সব অমঙ্গল আমাদের উপরে এসেছে, তবুও আমরা নিজ নিজ অপরাধ থেকে ফিরবার জন্য ও তোমার সত্য সম্বন্ধে বুদ্ধি লাভ করার জন্য, নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করি নি।
14 এজন্য মাবুদ এই অমঙ্গলের প্রতি সজাগ থেকেছেন ও আমাদের উপরে তা উপস্থিত করেছেন, কেননা আমাদের আল্লাহ্ মাবুদ নিজের সকল কাজে ধর্মশীল, কিন্তু আমরা তাঁর কথার অবাধ্য হয়েছি।
15
এখন, হে মালিক, আমাদের আল্লাহ্, তুমি শক্তিশালী হাত দ্বারা মিসর দেশ থেকে তোমার লোকদের এনে কীর্তিলাভ করেছ, যেমন আজ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে; আমরা গুনাহ্ করেছি, দুষ্টামি করেছি।
16 হে মালিক, আরজ করি, তোমার সমস্ত ধর্মশীলতা অনুসারে তোমার নগর জেরুশালেম— তোমার পবিত্র পর্বত থেকে তোমার ক্রোধ ও গজব নিবৃত্ত কর; কেননা আমাদের গুনাহ্ ও আমাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধের কারণে জেরুশালেম ও তোমার লোকেরা চারদিকের সমস্ত লোকের উপহাসের পাত্র হয়েছে।
17 অতএব, হে আমাদের আল্লাহ্, এখন তোমার এই গোলামের মুনাজাত ও ফরিয়াদ শোন এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া তোমার পবিত্র স্থানের প্রতি তোমার নিজের অনুরোধে তোমার মুখ উজ্জ্বল কর।
18 হে আমার আল্লাহ্, কান দাও, শোন, চোখ মেলে দেখো এবং আমাদের ধ্বংসিত স্থানগুলোর প্রতি ও যার উপরে তোমার নাম কীর্তিত হয়েছে, সেই নগরের প্রতি দৃষ্টিপাত কর; কারণ আমরা নিজের ধার্মিকতার জন্য নয়, কিন্তু তোমার মহাকরুণা স্মরণ করেই তোমার সম্মুখে আমাদের ফরিয়াদ উপস্থিত করলাম।
19 হে মালিক, শোন; হে মালিক, মাফ কর; হে মালিক, মনোযোগ দাও ও কাজ কর, বিলম্ব করো না; হে আমার আল্লাহ্, তোমার নিজের অনুরোধে কাজ কর, কেননা তোমার নগর ও তোমার লোকদের উপরে তোমার নাম কীর্তিত হয়েছে।
20
এইভাবে আমি নিবেদন ও মুনাজাত করছিলাম এবং আমার গুনাহ্ ও আমার জাতি ইসরাইলের গুনাহ্ স্বীকার করছিলাম এবং আমার আল্লাহ্র পবিত্র পর্বতের জন্য আমার আল্লাহ্ মাবুদের সম্মুখে ফরিয়াদ উপস্থিত করছিলাম;
21 আমার মুনাজাতের কথা শেষ হতে না হতেই, আমি প্রথম দর্শনে যে ব্যক্তিকে দেখেছিলাম, সেই জিবরাইল বেগে উড়ে এসে সন্ধ্যাকালীন কোরবানীর সময়ে আমাকে স্পর্শ করলেন।
22 তিনি আমাকে বুঝিয়ে দিলেন এবং আমার সঙ্গে আলাপ করে বললেন, হে দানিয়াল, আমি এখন তোমাকে বুদ্ধিকৌশল দিতে এসেছি।
23 তোমার বিনতির শুরুতেই হুকুম বের হয়েছিল, তাই আমি তোমাকে সংবাদ দিতে এলাম, কেননা তুমি অতিশয় প্রীতির পাত্র; অতএব এই বিষয় বিবেচনা কর ও এই দর্শন বুঝে নাও।
24
তোমার জাতি ও তোমার পবিত্র নগরের সম্বন্ধে সত্তর সপ্তাহ নির্ধারিত হয়েছে— অধর্ম সমাপ্ত করার জন্য, গুনাহ্ শেষ করার জন্য, অপরাধের কাফ্ফারা করার জন্য, অনন্তকাল স্থায়ী ধার্মিকতা আনয়ন করার জন্য, দর্শন ও ভবিষ্যদ্বাণী সীলমোহর করার জন্য এবং মহাপবিত্রকে অভিষেক করার জন্য।
25 অতএব তুমি জেনে নাও ও বুঝে নাও যে, জেরুশালেমকে পুনঃস্থাপন ও নির্মাণ করার হুকুম দেওয়ার সময় থেকে অভিষিক্ত ব্যক্তি, নায়ক পর্যন্ত সাত সপ্তাহ আর বাষট্টি সপ্তাহ হবে, সেটি চক ও পরিখাসহ পুনরায় নির্মিত হবে, সঙ্কটকালেই হবে।
26 সেই বাষট্টি সপ্তাহের পরে অভিষিক্ত ব্যক্তি উচ্ছিন্ন হবেন এবং তাঁর কিছুই থাকবে না; আর আগামী নায়কের লোকেরা নগর ও পবিত্র স্থান বিনষ্ট করবে ও প্লাবন দ্বারা তা শেষ হবে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হবে; ধ্বংস, বিধ্বংস নিরূপিত।
27 এক সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি অনেকের সঙ্গে দৃঢ় নিয়ম করলেন; সেই সপ্তাহের অর্ধকালে তিনি কোরবানী ও নৈবেদ্য নিবৃত্ত করবেন; পরে ঘৃণার বস্তুগুলোর উপরে ধ্বংসকারী নেমে আসবে; এবং উচ্ছিন্নতা, নির্ধারিত উচ্ছিন্নতা পর্যন্ত ধ্বংসকারীর উপর ক্রোধ বর্ষিত হবে।
1
পারস্যের বাদশাহ্ কাইরাসের তৃতীয় বছরে বেল্টশৎসর নামে আখ্যাত দানিয়ালের কাছে একটি কালাম প্রকাশিত হল, সেই কালাম সত্য ও মহাযুদ্ধ বিষয়ক; তিনি কালাম বুঝলেন, সেই দর্শনও বুঝতে পারলেন।
2
সেই সময়ে আমি দানিয়াল পূর্ণ তিন সপ্তাহ ধরে শোক করছিলাম;
3 সেই পূর্ণ তিন সপ্তাহ যতদিন শেষ হল না, ততদিন সুস্বাদু খাদ্য ভোজন করলাম না, গোশ্ত কি আঙ্গুর-রস আমার মুখে প্রবেশ করলো না এবং আমি তেল মাখলাম না।
4 পরে প্রথম মাসের চব্বিশতম দিনে যখন আমি হিদ্দেকল নামক মহানদীর তীরে ছিলাম, তখন চোখ তুলে তাকালাম,
5 আর দেখ, মসীনা-কাপড় পরা ও উফসের উত্তম সোনার কোমরবন্ধনী পরা এক ব্যক্তি;
6 তাঁর শরীর বৈদূর্যমণির মত, তাঁর মুখ বিদ্যুতের প্রভার মত, তাঁর চোখ জ্বলন্ত মশালের মত, তাঁর হাত ও পা পালিশ করা ব্রোঞ্জের আভাবিশিষ্ট এবং তাঁর স্বর লোকারণ্যের আওয়াজের মত।
7 আমি দানিয়াল একাকী সেই দর্শন পেলাম; কারণ আমার সঙ্গীরা সেই দর্শন পেল না, কিন্তু তারা ভীষণ কেঁপে উঠলো এবং নিজেদের লুকাবার জন্য পালিয়ে গেল।
8 এজন্য আমি একা থেকে সেই মহৎ দর্শন দেখতে লাগলাম, তখন আমার কোন শক্তি রইলো না; আমার মুখ মরার মত ফ্যাকাশে হয়ে গেল, আমি কিছুমাত্র বল রক্ষা করতে পারলাম না।
9 পরে আমি তাঁর কথার আওয়াজ শুনলাম, আর সেই কথার আওয়াজ শোনামাত্র আমি গভীর নিদ্রায় উবুড় হয়ে পড়লাম।
10
আর দেখ, একটি হাত আমাকে স্পর্শ করে আমার জানু ও আমার দুই হাতের উপরে ভর করিয়ে দিল।
11 পরে তিনি আমাকে বললেন, হে মহা প্রীতিপাত্র দানিয়াল, আমি তোমাকে যেসব কথা বলবো, সেসব বুঝে নাও এবং উঠে দাঁড়াও, কেননা আমি এখন তোমারই কাছে প্রেরিত হলাম। তিনি আমাকে এই কথা বললে আমি কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালাম।
12 তখন তিনি আমাকে বললেন, হে দানিয়াল, ভয় করো না, কেননা প্রথম যেদিন তুমি বুঝবার জন্য ও তোমার আল্লাহ্র সাক্ষাতে নিজেকে বিনীত করার জন্য মনঃসংযোগ করেছিলে, সেদিন থেকে তোমার বাণী শোনা হয়েছে; এবং তোমার বাণীর জন্যই আমি এসেছি।
13 কিন্তু পারস্য-রাজ্যের শাসনকর্তা একুশ দিন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। পরে দেখ, প্রধান শাসনকর্তাদের মধ্যে মিকাইল নামক এক জন আমাকে সাহায্য করতে আসলেন; আর আমি সেই স্থানে পারস্যের বাদশাহ্দের কাছে থাকলাম।
14 এখন, উত্তরকালে তোমার জাতির প্রতি যা ঘটবে, তা আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিতে এসেছি; কেননা দর্শনটি এখনও দীর্ঘকালের অপেক্ষা করছে।
15
তিনি আমাকে এই কথা বলার পর আমি অবাক হয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়ে রইলাম।
16 আর দেখ, মানুষের আকৃতি-বিশিষ্ট এক ব্যক্তি আমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করলেন; তখন আমি মুখ খুলে কথা বললাম, যিনি আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁকে বললাম, হে আমার প্রভু, এই দর্শনের দরুন মর্মবেদনা আমাকে ধরেছে, কিছুমাত্র বল রক্ষা করতে পারছি না।
17 কারণ আমার এই প্রভুর গোলাম কিভাবে আমার এই প্রভুর সঙ্গে কথা বলতে পারে? এখন আমার কিছুমাত্র বল নেই, আমার মধ্যে শ্বাসও নেই।
18
তখন সেই যে ব্যক্তি দেখতে মানুষের মত, তিনি পুনর্বার স্পর্শ করে আমাকে সবল করলেন।
19 আর তিনি বললেন, হে মহাপ্রীতি-পাত্র, ভয় কর না, তোমার শান্তি হোক, সবল হও, সবল হও। তিনি আমার সঙ্গে আলাপ করলে আমি সবল হলাম, আর বললাম, আমার প্রভু বলুন, কেননা আপনি আমাকে সবল করেছেন।
20 তখন তিনি বললেন, আমি কি জন্য তোমার কাছে এসেছি, তা কি জান? এখন আমি পারস্যের শাসনকর্তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে ফিরে যাব; আর দেখ, আমি চলে গেলে গ্রীসের শাসনকর্তা আসবে।
21 যা হোক, সত্যের গ্রন্থে যা লেখা আছে, তা আমি তোমাকে জানাই; ওদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করতে তোমাদের শাসনকর্তা মিকাইল ছাড়া আর কেউ নেই।
1
আর মাদীয় দারিয়ুসের প্রথম বছরে আমিই তাঁকে সবল ও শক্তিমান করতে দাঁড়িয়েছিলাম।
2
যাহোক, এখন আমি তোমাকে সত্য কথা জানাবো। দেখ, পারস্যে আর তিন জন বাদশাহ্ উৎপন্ন হবে, আর চতুর্থ বাদশাহ্ সবচেয়ে বেশি ধনশালী হবে এবং আপন ধনে শক্তিমান হলে গ্রীস-রাজ্যের বিরুদ্ধে সকলকে উত্তেজিত করবে।
3 পরে শক্তিশালী এক জন বাদশাহ্ উৎপন্ন হবে, সে মহাকর্তৃত্ব-বিশিষ্ট কর্তা হবে ও স্বেচ্ছানুসারে কাজ করবে।
4 সে উৎপন্ন হলে তার রাজ্য ভেঙ্গে যাবে, আসমানের চার বায়ুর দিকে বিভক্ত হবে, কিন্তু তার বংশের জন্য নয়, আর সে যে কর্তৃত্ব করতো, সেই অনুসারে নয়; বস্তুত তার রাজ্য উৎপাটিত হয়ে তাদের নয়, কিন্তু অন্যদের হবে।
5
আর দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্ বলবান হবে, কিন্তু তার শাসনকর্তাদের মধ্যে এক জন তার চেয়েও বলবান হয়ে প্রভুত্ব পাবে, তার প্রভুত্ব মহাপ্রভুত্ব হবে।
6 আর, কয়েক বছর পরে তারা পরস্পর সম্বন্ধ স্থাপন করবে, আর বন্ধুত্বের জন্য দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্র কন্যা উত্তর দেশের বাদশাহ্র কাছে গমন করবে; কিন্তু সেই কন্যা নিজের বাহুবল রক্ষা করবে না এবং সেই বাদশাহ্ ও তার বাহু স্থায়ী হবে না; কিন্তু সেই মহিলাকে এবং তার রক্ষীদের, তার সন্তানদের ও সাহায্যকারী সকলকেই তুলে দেওয়া হবে।
7
তবুও তার মূলের একটি তরুশাখা থেকে এক জন তার পদে সৃষ্টি হবে, আর সৈন্যদের বিরুদ্ধে এসে উত্তর দেশের বাদশাহ্র দুর্গে প্রবেশ করবে এবং সেই সবের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পরাক্রম দেখাবে।
8 আর সে তাদের ছাঁচে ঢালা মূর্তিগুলোর সাথে, তাদের রূপা ও সোনার নানা রমণীয় পাত্রের সাথে তাদের দেবতাদেরকে বন্দী করে মিসরে নিয়ে যাবে। পরে কয়েক বছর উত্তর দেশের বাদশাহ্কে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকবে।
9 আর সে দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করবে, কিন্তু নিজের দেশে ফিরে যাবে।
10
তার পুত্ররা যুদ্ধ করবে এবং বিপুল বলসমারোহ সংগ্রহ করবে; তারা আসবে, মহা বন্যার মত এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধ করবে ও তাদের দুশমনদের দুর্গ পর্যন্ত যুদ্ধ করবে।
11 তাতে দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্ ভীষণ ক্রুদ্ধ হবে এবং যাত্রা করে তার সাথে, উত্তর দেশের বাদশাহ্র সাথে, যুদ্ধ করবে; সেও মহাসমারোহ একত্র করবে, কিন্তু সেই সমারোহ তার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
12 ঐ সমারোহ নীত হবে ও সে উদ্ধতচিত্ত হবে, আর হাজার হাজার লোককে হত্যা করবে, তবুও শক্তিশালী থাকবে না।
13 উত্তর দেশের বাদশাহ্ ফিরে আসবে এবং প্রথম সমারোহের চেয়ে বড় সমারোহ একত্র করবে; আর কালপর্যায়ের শেষে, নির্দিষ্ট বছর শেষে, মহা সৈন্য ও প্রচুর সামগ্রী নিয়ে আসবে।
14
সেই সময় দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্র বিরুদ্ধে অনেক লোক উঠবে; এবং এই দর্শন যাতে সফল হয়, সেই জন্য তোমার জাতির মধ্যে দুর্দান্ত লোকেরা নিজেদের উঁচু করবে, কিন্তু তারা সফল হবে না।
15 এইভাবে উত্তর দেশের বাদশাহ্ আসবে, জাঙ্গাল বাঁধবে এবং সুদৃঢ় নগর হস্তগত করবে; তাতে দক্ষিণ দেশের সৈন্য ও তার মনোনীত লোকেরা স্থির থাকবে না, স্থির থাকার শক্তি তাদের হবে না।
16 কিন্তু যে তার বিরুদ্ধে আসবে, সে স্বেচ্ছানুসারে কাজ করবে, তার সাক্ষাতে কেউ দাঁড়াতে পারবে না; আর সে সুন্দর দেশে দণ্ডায়মান হবে ও তার হাতে বিনাশ থাকবে।
17 পরে সে তার সমস্ত রাজ্যের পরাক্রম সঙ্গে করে আনবার জন্য উন্মুখ হবে ও তার সাথে শান্তির নিয়ম স্থাপন করবে; এবং বিনাশ করার উদ্দেশে তাকে নারীদের কন্যা দেবে, কিন্তু এটা স্থির থাকবে না ও তার হবে না।
18 পরে সে উপকূলগুলোর বিরুদ্ধে গিয়ে অনেককে হস্তগত করবে; কিন্তু এক জন সেনাপতি তার কৃত উপহাস নিবৃত্ত করবে, এমন কি, সে তার উপহাস তাকেই ফিরিয়ে দেবে।
19 তখন সে নিজের দেশের দুর্গগুলোর প্রতি মুখ ফিরাবে; কিন্তু হোঁচট খেয়ে পড়বে, তার উদ্দেশ আর পাওয়া যাবে না।
20
পরে এমন এক জন তার পদ পাবে, যে রাজ্যের শোভাস্থানে কর্মকর্তাকে প্রেরণ করবে, কিন্তু সে অল্প দিনের মধ্যে বিনষ্ট হবে, ক্রোধেও নয়, যুদ্ধেও নয়।
21 পরে এক জন তুচ্ছ ব্যক্তি তার পদ পাবে। তাকে রাজ্যের মহিমা দেওয়া হয় নি, কিন্তু সে নিশ্চিন্ততার সময়ে এসে চাটুবাদ দ্বারা রাজ্য লাভ করবে;
22 তার সম্মুখ থেকে বিশাল সৈন্য বাহিনী বের হয়ে সমূলে ধ্বংস হবে এবং নিয়মের নায়কও ধ্বংস হবে।
23 তার সাথে মিত্রতার চুক্তি স্থির করার দিন থেকে সে ছলনা করবে, কারণ সে এসে অল্প লোক দ্বারা পরাক্রমী হবে।
24 সে নিশ্চিন্ততার সময়ে প্রদেশের অতি উত্তম উত্তম স্থানে প্রবেশ করবে এবং তার পূর্বপুরুষেরা এবং পূর্বপুরুষদের পূর্বপুরুষেরাও যা করে নি, তা করবে; সে লোকদের মধ্যে লুটদ্রব্য, কেড়ে নেওয়া জিনিসপত্র এবং সম্পত্তি বিতরণ করবে, দৃঢ় দুর্গগুলোর বিরুদ্ধে কৌশল কল্পনা করবে, কিছু কাল এটা করবে।
25 আর সে অনেক সৈন্য সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্র বিরুদ্ধে তার বল ও অন্তর উত্তেজিত করবে; তাতে দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্ এক বিশাল শক্তিশালী সৈন্য সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করবে, কিন্তু স্থির থাকবে না, কেননা তারা তার বিরুদ্ধে নানা কৌশল কল্পনা করবে।
26 যারা তার খাবারের ভাগী, তারাই তাকে বিনষ্ট করবে ও তাদের সৈন্য সমূলে ধ্বংস হবে; এবং অনেকে নিহত হবে।
27 আর এই দুই বাদশাহ্র অন্তর হিংসাপূর্ণ হবে এবং তারা একই টেবিলে বসে মিথ্যা কথা বলবে, কিন্তু তা সফল হবে না, কেননা তখনও শেষ নির্ধারিত কালের অপেক্ষা করবে।
28 আর সে অনেক সম্পত্তি নিয়ে আপন দেশে ফিরে যাবে ও তার অন্তঃকরণ পবিত্র নিয়মের বিপক্ষ হবে এবং সে কাজ করে তার নিজের দেশে ফিরে যাবে।
29
নির্ধারিত কালে সে ফিরে আসবে, দক্ষিণ দেশে প্রবেশ করবে, কিন্তু পূর্বকালে, যেমন ছিল উত্তরকালে তেমন হবে না।
30 কারণ সাইপ্রাসের জাহাজগুলো তার বিরুদ্ধে আসবে, এজন্য সে বিষণ্ন হয়ে ফিরে যাবে ও পবিত্র নিয়মের বিরুদ্ধে ক্রোধ করে কাজ করবে; সে ফিরে আসবে, যারা পবিত্র নিয়ম ত্যাগ করে, তাদের প্রতি মনোযোগ দেবে।
31 আর তার কাছ থেকে সৈন্যরা উঠে, বায়তুল-মোকাদ্দস অর্থাৎ দুর্গ নাপাক করবে, নিত্য নৈবেদ্য নিবৃত্ত করবে এবং সর্বনাশা ঘৃণার বস্তু স্থাপন করবে।
32 যারা সেই নিয়ম সম্বন্ধে দুষ্কর্ম করে, সে তাদের চাটুবাদ দ্বারা ভ্রষ্ট করবে, কিন্তু যে লোকেরা তোমার আল্লাহ্কে জানে, তারা বলবান হয়ে কাজ করবে।
33 আর লোকদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান, তারা অনেককে উপদেশ দেবে; তবুও কিছু দিন পর্যন্ত তারা তলোয়ারের আঘাতে ও আগুনের শিখায় মারা পড়বে এবং বন্দী করা ও লুট করা হবে।
34 যখন পড়বে, তখন তারা অল্প সাহায্য পাবে, আর অনেকে চাটুবাদ দ্বারা তাদের প্রতি আসক্ত হবে।
35 আর বুদ্ধিমানদের মধ্যে কারও কারও পতন হবে, যেন তারা পরীক্ষাসিদ্ধ, খাঁটি ও নিখুঁত করা হয়; শেষ পর্যন্ত তা হবে; কেননা তখনও নির্ধারিত কালের অপেক্ষা করা যাবে।
36
আর সেই বাদশাহ্ স্বেচ্ছানুযায়ী কাজ করবে ও সমস্ত দেবতার চেয়ে নিজেকে বড় করে দেখাবে ও অহংকার করবে এবং দেবতাদের আল্লাহ্র বিপরীতে অদ্ভুত কথা বলবে, আর ক্রোধ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সে সফল হবে; কেননা যা নির্ধারিত, তাই করা যাবে।
37 আর সে তার পূর্বপুরুষদের দেবতাদেরকে মানবে না এবং স্ত্রীলোকদের কামনাকে কিংবা কোন দেবতাকে মানবে না; কেননা সে নিজেকেই সবচেয়ে বড় করে দেখাবে।
38 কিন্তু সে স্বস্থানে দুর্গ-দেবতার সম্মান করবে এবং আপন পূর্বপুরুষদের অজ্ঞাত দেবকে সোনা, রূপা, মণি ও মনোরম্য বস্তু দিয়ে সম্মান করবে।
39 আর সে বিজাতীয় দেবতার সাহায্যে অতি দৃঢ় দুর্গগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ রচনা করবে; যত লোক তাকে স্বীকার করবে, তাদেরকে সে অতি সম্মানিত করবে; তাদেরকে অনেকের উপরে কর্তৃত্বপদ দেবে ও পারিতোষিক হিসেবে ভূমি ভাগ করে দেবে।
40
পরে শেষকালে দক্ষিণ দেশের বাদশাহ্ তাকে আক্রমণ করবে; আর উত্তর দেশের বাদশাহ্ রথ, ঘোড়সওয়ার ও অনেক জাহাজের সাথে ঘূর্ণিবাতাসের মত তার বিরুদ্ধে আসবে; এবং নানা দেশের মধ্যে প্রবেশ করবে ও উথলে উঠে বাড়তে থাকবে।
41 সে সুন্দর দেশেও প্রবেশ করবে, তাতে অনেক দেশ পরাভূত হবে, কিন্তু ইদোম ও মোয়াব এবং অম্মোনীয়দের শ্রেষ্ঠাংশ তার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
42 আর সে নানা দেশের উপরে হাত বাড়িয়ে দেবে, আর মিসর দেশ রক্ষা পাবে না।
43 মিসরীয়দের সোনা ও রূপার ভাণ্ডারগুলো ও সমস্ত রত্ন তার হস্তগত হবে এবং লিবীয় ও ইথিওপীয়রা তার অনুচর হবে।
44 কিন্তু পূর্ব ও উত্তর দেশ থেকে আগত সংবাদ তাকে ভীষণ ভয় দেখাবে এবং সে অনেককে উচ্ছিন্ন ও নিঃশেষে বিনষ্ট করার জন্য মহাক্রোধে যাত্রা করবে।
45 আর সে সমুদ্রের ও পবিত্র সুুন্দর পাহাড়ের মধ্যে রাজকীয় শিবির স্থাপন করবে; তবুও তার শেষকাল উপস্থিত হবে, কেউ তার সাহায্য করবে না।
1
সেই সময় যে মহান শাসনকর্তা তোমার জাতির সন্তানদের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকেন, সেই মিকাইল উঠে দাঁড়াবেন, আর এমন সঙ্কটের কাল উপস্থিত হবে, যা জাতিদের শুরুর কাল থেকে শুরু করে সেই সময় পর্যন্ত কখনও হয় নি; কিন্তু সেই সময়ে তোমার স্বজাতীয় যে কারও নাম কিতাবে লেখা পাওয়া যাবে, সে উদ্ধার পাবে।
2 আর মাটির ধূলিতে নিদ্রিত লোকদের মধ্যে অনেকে জাগরিত হবে— কেউ কেউ অনন্ত জীবনের উদ্দেশে এবং কেউ কেউ লজ্জার ও অনন্ত ঘৃণার উদ্দেশে।
3 আর যারা বুদ্ধিমান, তারা আসমানের আলোর মত এবং যারা অনেককে ধার্মিকতার প্রতি ফিরায়, তারা তারাগুলোর মত অনন্তকাল ধরে জ্বল্ জ্বল্ করবে।
4 কিন্তু হে দানিয়াল, তুমি শেষকাল পর্যন্ত এই সব কালাম বন্ধ করে রাখ, এই কিতাব সীলমোহর করে রাখ; অনেকে ইতস্তত ধাবমান হবে এবং জ্ঞানের বৃদ্ধি হবে।
5
তখন আমি দানিয়াল দেখলাম, আর দেখ, অন্য দু’জন দাঁড়িয়ে আছেন, এক ব্যক্তি নদীতীরে এপারে এবং অন্য ব্যক্তি নদীতীরে ওপারে।
6 আর এক ব্যক্তি সেই মসীনা-কাপড় পরিহিত ব্যক্তি যিনি পানির উপরে ছিলেন তাঁকে বললেন, এই আশ্চর্য আশ্চর্য বিষয়ের শেষ কত দিনে হবে?
7
পরে আমি শুনতে পেলাম, সেই মসীনা-কাপড় পরিহিত ও নদীর পানির উপরে অবস্থিত ব্যক্তি তাঁর ডান ও বাম হাত বেহেশতের দিকে তুলে নিত্যজীবী আল্লাহ্র নামে শপথ করে বললেন, এটা এক কাল, দুই কাল ও অর্ধেক কালে হবে এবং পবিত্র জাতির বাহুভঙ্গ সম্পূর্ণ হলে এই সমস্ত সিদ্ধ হবে।
8
আমি এই কথা শুনলাম বটে, কিন্তু বুঝতে পারলাম না; তখন আমি বললাম, হে আমার প্রভু, এই সবের শেষ ফল কি হবে?
9
তিনি বললেন, হে দানিয়াল, তুমি যাও, কেননা শেষকাল পর্যন্ত এই সব কালাম বন্ধ ও সীলমোহর করা অবস্থায় থাকবে।
10 অনেকে নিজেদের খাঁটি ও নিখুঁত করবে এবং পরীক্ষাসিদ্ধ হবে, কিন্তু দুষ্টেরা দুষ্টাচরণ করবে, আর দুষ্টদের মধ্যে কেউ বুঝবে না; কেবল বুদ্ধিমানেরাই বুঝবে।
11 আর যে সময়ে নিত্য নৈবেদ্য নিবৃত্ত হবে ও ধ্বংসকারী ঘৃণ্যার বস্তু স্থাপিত হবে, সেই সময় পর্যন্ত এক হাজার দুই শত নব্বই দিন হবে।
12 ধন্য সেই লোক, যে ধৈর্য ধরে সেই এক হাজার তিন শত পঁয়ত্রিশ দিন পর্যন্ত থাকবে।
13 কিন্তু তুমি শেষ সময়ের অপেক্ষাতে গমন কর, তাতে বিশ্রাম পাবে এবং দিনগুলোর শেষে তুমি তোমার পুরস্কার পাবার জন্য বেঁচে উঠবে।”
1
এহুদার বাদশাহ্ উষিয়, যোথম, আহস ও হিষ্কিয়ের সময়ে এবং যোয়াশের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের সময়ে মাবুদের এই কালাম বেরির পুত্র হোসিয়ার কাছে নাজেল হল।
2
মাবুদ যখন প্রথমে হোসিয়ার সঙ্গে কথা বলেন, তখন মাবুদ হোসিয়াকে বললেন, তুমি যাও, জেনাকারী স্ত্রী ও জেনার সন্তানদের গ্রহণ কর, কেননা এই দেশ মাবুদের কাছ থেকে সরে যাওয়ায় ভয়ানক জেনা করছে।
3 তাতে তিনি গিয়ে দিব্লায়িমের কন্যা গোমরকে গ্রহণ করলেন, আর সেই স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে তাঁর জন্য পুত্র প্রসব করলো।
4
তখন মাবুদ তাঁকে বললেন, তুমি ওর নাম যিষ্রিয়েল রাখ, কেননা অল্পদিন পরে আমি যেহূর কুলকে যিষ্রিয়েলের রক্তপাতের ফল ভোগ করাব এবং ইসরাইল-কুলের রাজ্য শেষ করবো।
5 আর সেদিন আমি যিষ্রিয়েল-উপত্যকাতে ইসরাইলের ধনুক ভেঙ্গে ফেলব।
6
পরে সেই স্ত্রী পুনর্বার গর্ভধারণ করে কন্যা প্রসব করলো; তাতে মাবুদ হোসিয়াকে বললেন, তুমি তার নাম লো-রুহামা [অনুকম্পিতা নয়] রাখ, কেননা আমি ইসরাইল-কুলের প্রতি আর অনুকম্পা করবো না, কোনক্রমে তাদের গুনাহ্ মাফ করবো না।
7 কিন্তু এহুদা-কুলের প্রতি অনুকম্পা করবো এবং তাদেরকে তাদের আল্লাহ্ মাবুদ উদ্ধার করবেন; ধনুক বা তলোয়ার বা যুদ্ধ বা ঘোড়া বা ঘোড়সওয়ার দ্বারা উদ্ধার করবো না।
8
পরে সে লো-রুহামাকে স্তন্যপান ত্যাগ করিয়ে গর্ভবতী হল এবং একটি পুত্র প্রসব করলো।
9 তখন মাবুদ বললেন, তুমি তার নাম লো-অম্মি [আমার লোক নয়] রাখ; কেননা তোমরা আমার লোক নও এবং আমিও তোমাদের পক্ষ হব না।
10
কিন্তু বনি-ইসরাইলদের সংখ্যা সমুদ্রের সেই বালুকণার মত হবে, যা পরিমাণ ও গণনা করা যায় না। আর এই কথা যে স্থানে তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘তোমরা আমার লোক নও,’ সেই স্থানে তাদেরকে বলা যাবে, ‘জীবন্ত আল্লাহ্র সন্তান।’
11 আর এহুদার ও ইসরাইলের লোকেরা একসঙ্গে সংগৃহীত হবে এবং নিজেদের উপর এক জন শাসনকর্তা নিযুক্ত করবে এবং সেই দেশ থেকে যাত্রা করবে; কেননা যিষ্রিয়েলের দিন মহৎ হবে।
1
তোমরা নিজেদের ভাইদেরকে অম্মি [আমার লোক] ও নিজেদের বোনদেরকে রুহামা [অনুকম্পিতা] বল।
2
তোমরা ঝগড়া কর, তোমাদের মায়ের সঙ্গে ঝগড়া কর, কেননা সে আমার স্ত্রী নয় এবং আমিও তার স্বামী নই; সে তার দৃষ্টি থেকে তার পতিতাবৃত্তি এবং তার স্তন-যুগলের মধ্য থেকে তার জেনা দূর করুক।
3 নতুবা আমি তাকে বিবস্ত্রা করবো, সে জন্মদিনে যেমন ছিল, তেমনি করে তাকে রাখবো এবং তাকে মরুভূমির সমান ও মরুভূমির মত করবো, তৃষ্ণা দ্বারা হত্যা করবো।
4 আর তার সন্তানদেরকে অনুকম্পা করবো না, কারণ তারা জেনার সন্তান।
5 বাস্তবিক তাদের মা জেনা করেছে, তাদের গর্ভধারিণী লজ্জাকর কাজ করেছে; কেননা সে বলতো, আমি আমার প্রেমিকদের পিছনে পিছনে গমন করবো, তারাই আমাকে খাদ্য ও পানি, ভেড়ার লোম ও মসীনা, তেল ও পানীয় দ্রব্য দেয়।
6 এজন্য দেখ, আমি কাঁটা দ্বারা তার পথ রোধ করবো ও তার চারদিকে প্রাচীর গাঁথব, তাতে সে তার পথের সন্ধান পাবে না।
7 সে আপন প্রেমিকদের পিছনে পিছনে দৌড়ে যাবে, কিন্তু তাদের নাগাল পাবে না; সে তাদের খোঁজ করবে, কিন্তু সন্ধান পাবে না। তখন সে বলবে, আমি ফিরে আমার প্রথম স্বামীর কাছে যাব; কেননা এখনকার চেয়ে তখন আমার পক্ষে মঙ্গল ছিল।
8 সে তো বুঝত না যে, আমিই তাকে সেই শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেল দিতাম এবং তার রূপা ও সোনার বৃদ্ধি করতাম— যা তারা বালদেবের জন্য ব্যবহার করেছে।
9
অতএব আমি শস্যের সময়ে আমার শস্য ও আঙ্গুর-রসের ঋতুতে আমার আঙ্গুর-রস ফিরিয়ে নেব এবং যা তার লজ্জা নিবারণ করতো, আমার সেই ভেড়ার লোম ও মসীনা তুলে নেব।
10 এখন আমি তার প্রেমিকদের সাক্ষাতে তার ভ্রষ্টতা প্রকাশ করবো; কেউ তাকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করবে না।
11 আর আমি তার সমস্ত আমোদ, তার উৎসব, অমাবস্যা, বিশ্রামবার ও ঈদগুলো বন্ধ করে দেব।
12 আর আমি তার আঙ্গুরলতা ও সমস্ত ডুমুর গাছ বিনষ্ট করবো, যার বিষয়ে সে বলেছে, ‘এই সব আমার পুরস্কার, আমার প্রেমিকেরা তা আমাকে দিয়েছে’; কিন্তু আমি এসব অরণ্যে পরিণত করবো, আর মাঠের পশুগুলো সেসব খেয়ে ফেলবে।
13 আর আমি বাল-দেবতাদের সময়ের প্রতিফল তাকে ভোগ করাব, যাদের উদ্দেশে সে ধূপ জ্বালাত ও আংটি ও গহনা-গাঁটি নিজেকে সাজিয়ে প্রেমিকদের পিছনে গমন করতো এবং আমাকে ভুলে থাকতো, মাবুদ এই কথা বলেন।
14
অতএব দেখ, আমি তাকে প্ররোচিত করে মরুভূমিতে আনবো, আর চিত্ততোষক কথা বলবো।
15 আর আমি সেই স্থান থেকে তার আঙ্গুরক্ষেত এবং আশাদ্বার বলে আখোর উপত্যকা তাকে দেব; এবং সে সেখানে সাড়া দেবে, যেমন যৌবনকালে, যেমন মিসর থেকে বের হয়ে আসার দিনে করেছিল।
16
আর মাবুদ বলেন, সেই দিনে সে আমাকে ‘ঈশী’ [আমার স্বামী] বলে সম্বোধন করবে; কিন্তু ‘বালী’ [আমার নাথ] বলে আর সম্বোধন করবে না।
17 কারণ আমি তার মুখ থেকে বালদেবদের নাম দূর করবো, তাদের নাম নিয়ে তাদের আর স্মরণ করা হবে না।
18 আর সেদিন আমি লোকদের জন্য মাঠের পশু, আসমানের পাখি ও ভূমির সরীসৃপগুলোর সঙ্গে নিয়ম করবো; এবং ধনুক, তলোয়ার ও যুদ্ধের সাজ-পোশাক ভেঙ্গে দেশের মধ্য থেকে দূর করে দেব ও তাদেরকে নিশ্চিন্তে শয়ন করাব।
19 আর আমি চিরকালের জন্য তোমাকে বাগ্দান করবো; হ্যাঁ, ধার্মিকতা, ন্যায়বিচার, অটল মহব্বত ও বহুবিধ করুণায় তোমাকে বাগ্দান করবো।
20 আমি বিশ্বস্ততায় তোমাকে বাগ্দান করবো, তাতে তুমি মাবুদকে জানবে।
21
আবার মাবুদ বলেন, সেই দিনে আমি উত্তর দেব; আমি আকাশকে উত্তর দেব, আসমান ভূতলকে উত্তর দেবে;
22 ভূতল শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেলকে উত্তর দেবে এবং এসব যিষ্রিয়েলকে উত্তর দেবে।
23 আমি নিজের জন্য তাকে দেশে রোপণ করবো, যে ‘অনুকম্পিতা নয়,’ তাকে অনুকম্পা করবো এবং যে ‘আমার লোক নয়,’ তাকে বলবো, তুমি আমার লোক এবং সে বলবে, তুমি আমার আল্লাহ্।
1
পরে মাবুদ আমাকে বললেন, তুমি পুনরায় গিয়ে প্রেমিকের প্রিয়া অথচ জেনাকারীণী এক জন স্ত্রীকে মহব্বত কর; যেমন মাবুদ বনি-ইসরাইলকে মহব্বত করেন, যদিও তারা অন্য দেবতাদের প্রতি ফিরে থাকে এবং আঙ্গুরের পিঠা ভালবাসে।
2 তাতে আমি পনের রূপার মুদ্রা দিয়ে এবং এক হোমর যব ও অর্ধেক হোমর যব দিয়ে তাকে নিজের জন্য ক্রয় করলাম।
3 আর আমি তাকে বললাম, ‘তুমি অনেক দিন পর্যন্ত আমার জন্য বসে থাকবে, জেনা করবে না ও কোন পুরুষের স্ত্রী হবে না; এবং আমিও তোমার প্রতি তেমনি ব্যবহার করবো।’
4 কেননা বনি-ইসরাইল বাদশাহ্-হীন, শাসনকর্তাহীন, কোরবানীহীন, স্তম্ভহীন, এফোদ বা মূর্তিহীন হয়ে অনেক দিন পর্যন্ত বসে থাকবে।
5 পরে বনি-ইসরাইল ফিরে আসবে, নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদ ও নিজেদের বাদশাহ্ দাউদের খোঁজ করবে এবং পরবর্তীকালে সভয়ে মাবুদ ও তাঁর মঙ্গল-ভাবের আশ্রয় নেবে।
1
হে বনি-ইসরাইল, তোমরা মাবুদের কালাম শোন, কেননা দেশ-নিবাসীদের সঙ্গে মাবুদের ঝগড়া আছে, কারণ দেশে বিশ্বস্ততা নেই, রহম নেই, আল্লাহ্র জ্ঞানও নেই।
2 শপথ, মিথ্যা কথা, খুন, চুরি ও জেনা চলছে, লোকেরা জুলুম করে এবং রক্তপাতের উপরে রক্তপাত হয়।
3 এজন্য দেশ শোকাকুল হবে এবং মাঠের পশু ও আসমানের পাখিসহ দেশনিবাসীরা সকলে ম্লান হবে, আর সমুদ্রের সমস্ত মাছও মরে যাবে।
4 তবুও কেউ ঝগড়া না করুক ও কেউ অনুযোগ না করুক; কারণ তোমার জাতি ইমামের সঙ্গে বিবাদকারী লোকদের মত।
5 আর তুমি দিনে হোঁচট খাবে ও নবী রাতের বেলায় তোমার সঙ্গে হোঁচট খাবে এবং আমি তোমার মাকে বিনাশ করবো।
6 জ্ঞানের অভাবের দরুন আমার লোকেরা বিনষ্ট হচ্ছে; তুমি তো জ্ঞান অগ্রাহ্য করেছ, এজন্য আমিও তোমাকে নিতান্ত অগ্রাহ্য করলাম, তুমি আর আমার ইমাম থাকবে না; তুমি তোমার আল্লাহ্র শরীয়ত ভুলে গেছ, আমিও তোমার সন্তানদেরকে ভুলে যাব।
7
তারা যত বেশি বৃদ্ধি পেত, আমার বিরুদ্ধে তত বেশি গুনাহ্ করতো; আমি তাদের সম্মান অপমানে পরিণত করবো।
8 এরা আমার লোকদের গুনাহ্র দ্বারা জীবিকা অর্জন করে, আর এরা তাদের অপরাধের প্রতি নিজেদের অন্তর নিবদ্ধ করে।
9 ঘটবে এই, যেমন লোক তেমনি ইমাম; আমি তাদের প্রত্যেকের কর্মপথ অনুযায়ী দণ্ড দেব ও প্রত্যেকের কাজের প্রতিফল দেব।
10 তারা ভোজন করবে, অথচ তৃপ্ত হবে না; জেনা করবে, অথচ বহুবংশ হবে না; কেননা তারা মাবুদকে ত্যাগ করেছে।
11
জেনা, মদ ও নতুন আঙ্গুর-রস, এসব বুদ্ধি হরণ করে।
12 আমার লোকেরা নিজেদের কাঠের টুকরার সাথে পরামর্শ করে ও তাদের লাঠি তাদেরকে দৈববাণী দেয়; কারণ জেনার রূহ্ তাদেরকে ভ্রান্ত করেছে, আর তারা নিজেদের আল্লাহ্র অধীনতা ছেড়ে জেনা করছে।
13 তারা পর্বতশৃঙ্গের উপরে কোরবানী করে এবং উপপর্বতের উপরে অলোন, লিব্নী ও এলা গাছের তলে ধূপ জ্বালায়, কেননা তার ছায়া উত্তম। এজন্য তোমাদের কন্যারা পতিতা হয় ও তোমাদের পুত্রবধূরা জেনা করে।
14 তোমাদের কন্যারা পতিতা হলে এবং পুত্রবধূরা জেনা করলে আমি তাদের দণ্ড দেব না, কেননা লোকেরা নিজেরাও পতিতাদের সঙ্গে গুপ্ত স্থানে যায় ও গণিকাদের সঙ্গে কোরবানী করে; এই নির্বোধ জাতি নিপাতিত হবে।
15
হে ইসরাইল, তুমি যদিও জেনাকারী হও, তবুও এহুদা দণ্ডনীয় না হোক; হ্যাঁ, তোমরা গিল্গলে পদার্পণ করো না, বৈৎ-আবনে উপস্থিত হয়ো না এবং ‘জীবন্ত মাবুদের কসম’ বলে শপথ করো না।
16 কারণ স্বেচ্ছাচারিণী গাভীর মত ইসরাইল স্বেচ্ছাচারী হয়েছে; এখন প্রশস্ত ময়দানে যেমন ভেড়ার বাচ্চাকে, তেমনি মাবুদ তাদেরকে চরাবেন।
17 আফরাহীম মূর্তিগুলোর প্রতি আসক্ত; তাকে থাকতে দাও।
18 তাদের মদ্যপান শেষ হলে তারা অবিরত পতিতার কাছ গমন করে; তার নেতৃবর্গ অপমান অতিশয় ভালবাসে।
19 বায়ু তার পক্ষদ্বয়ে সেই জাতিকে তুলেছে, তাতে তারা নিজেদের কোরবানীর বিষয়ে লজ্জিত হবে।
1
হে ইমামেরা, এই কথা শোন; হে ইসরাইল-কুল, মনোযোগ দাও; হে রাজকুল, কান দাও, কারণ তোমাদেরই বিচার হচ্ছে; কেননা তোমরা মিস্পাতে ফাঁদস্বরূপ ও তাবোরে বিস্তৃত জালস্বরূপ হয়েছ।
2 জুলুমবাজেরা হত্যাকাণ্ডের গভীরে নেমেছে, কিন্তু আমি তাদের সকলকে শাস্তি দেব।
3
আমি আফরাহীমকে জানি, ইসরাইলও আমার অগোচর নয়; বস্তুত হে আফরাহীম, তুমি এখন জেনা করেছ, ইসরাইল নাপাক হয়েছে।
4 তাদের কাজগুলো তাদেরকে তাদের আল্লাহ্র প্রতি ফিরে আসতে দেয় না, কেননা তাদের অন্তরে জেনার রূহ্ থাকে এবং তারা মাবুদকে জানে না।
5 আর ইসরাইলের অহংকার তার মুখের উপরে প্রমাণ দিচ্ছে, এজন্য ইসরাইল ও আফরাহীম নিজেদের অপরাধে হোঁচট খাবে এবং তাদের সঙ্গে এহুদাও হোঁচট খাবে।
6 তারা নিজ নিজ গোমেষপাল নিয়ে মাবুদের খোঁজ করতে যাবে, কিন্তু তাঁর উদ্দেশ পাবে না; তিনি তাদের কাছ থেকে চলে গেছেন।
7 তারা মাবুদের বিরুদ্ধে বেঈমানী করেছে, কারণ বিজাতীয় সন্তান উৎপন্ন করেছে; এখন অমাবস্যা তাদেরকে ও তাদের অধিকার গ্রাস করবে।
8
তোমরা গিবিয়াতে ভেরী বাজাও, রামাতে তুরীধ্বনি কর, বৈৎ-আবনে সিংহনাদ করে বল, হে বিন্ইয়ামীন, তোমার পিছনে দুশমন।
9 ভর্ৎসনার দিনে আফরাহীম ধ্বংসস্থান হবে; যা নিশ্চয় ঘটবে, তা-ই আমি ইসরাইল-বংশগুলোর মধ্যে ঘোষণা করেছি।
10 এহুদার শাসনকর্তারা তাদের মত হয়েছে, যারা সীমার চিহ্ন স্থানান্তর করে; তাদের উপরে আমি পানির মত আমর গজব ঢেলে দেব।
11 আফরাহীম নির্যাতিত ও বিচারে চুরমার হচ্ছে, কারণ সে নিজের ইচ্ছায় মিথ্যা বিধানের অনুসারী হয়েছে।
12 এজন্য আমি আফরাহীমের পক্ষে কীটস্বরূপ, এহুদা-কুলের পক্ষে ক্ষয়স্বরূপ হয়েছি।
13 যখন আফরাহীম নিজের রোগ ও এহুদা নিজের ক্ষত দেখতে পেল, তখন আফরাহীম আশেরিয়া দেশের কাছে গমন করলো ও মহান বাদশাহ্র কাছে লোক পাঠাল; কিন্তু সে তোমাদেরকে সুস্থ করতে পারে না, তোমাদের ক্ষত ভাল করতে পারবে না।
14 কারণ আমি আফরাহীমের পক্ষে সিংহের মত ও এহুদাকুলের পক্ষে যুবা কেশরীর মত হব; আমি, আমিই বিদীর্ণ করে চলে যাব; আমি নিয়ে যাব, কেউ উদ্ধার করবে না।
15 আমি নিজের স্থানে ফিরে যাব, যে পর্যন্ত তারা দোষ স্বীকার না করে ও আমার উপস্থিতির খোঁজ না করে; সঙ্কটের সময়ে তারা সযত্নে আমার খোঁজ করবে।
1
চল, আমরা মাবুদের কাছে ফিরে যাই, কারণ তিনিই বিদীর্ণ করেছেন, তিনি আমাদেরকে সুস্থও করবেন; তিনি আঘাত করেছেন, তিনি আমাদের ক্ষত বেঁধেও দিবেন।
2 দুই দিন পরে তিনি আমাদেরকে সঞ্জীবিত করবেন, তৃতীয় দিনে উঠাবেন, তাতে আমরা তাঁর সাক্ষাতে বেঁচে থাকব।
3 এসো, আমরা মাবুদকে জানি, তাঁকে জানবার জন্য তাঁর পেছনে চলি; অরুণোদয়ের মত তাঁর উদয় নিশ্চিত; আর তিনি আমাদের কাছে বৃষ্টির মত আসবেন, ভূমি-সেচনকারী শেষ বর্ষার মত আসবেন।
4
হে আফরাহীম, তোমার জন্য আমি কি করবো? হে এহুদা, তোমার জন্য কি করবো? তোমাদের সাধুতা তো সকাল বেলার মেঘের মত, শিশিরের মত, যা প্রত্যুষে উড়ে যায়।
5 এজন্য আমি নবীদের দ্বারা লোকদেরকে টুকরা টুকরা করেছি, আমার মুখের কালাম দ্বারা হত্যা করেছি; এবং আমার বিচার বিদ্যুতের মত বের হয়।
6 কারণ আমি অটল মহব্বতই চাই, কোরবানী নয়; এবং পোড়ানো-কোরবানীর চেয়ে আল্লাহ্বিষয়ক জ্ঞান চাই।
7 কিন্তু এরা আদমে আমার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে; ঐ স্থানে আমার বিরুদ্ধে বেঈমানী করেছে।
8 গিলিয়দ দুর্বৃত্তদের নগর, তা রক্তে রঞ্জিত।
9 যেমন দস্যুদল মানুষের অপেক্ষায় ঘাঁটি বসিয়ে থাকে, তেমনি ইমাম সমাজ শিখিমে যাবার পথে হত্যা করে, হ্যাঁ, তারা কুকর্ম করেছে।
10 আমি ইসরাইলকুলে রোমাঞ্চকর ব্যাপার দেখেছি; ঐ স্থানে আফরাহীমের পতিতাবৃত্তি প্রচলিত, ইসরাইল নাপাক হয়েছে।
11 আর হে এহুদা, আমি যখন আমার লোকদের বন্দীদশা ফিরাই, তখন তোমার জন্যও ফসল নিরূপিত।
1
আমি যখন ইসরাইলকে সুস্থ করতে চাই, তখন আফরাহীমের অপরাধ ও সামেরিয়ার নাফরমানী প্রকাশ পায়; কারণ তারা প্রতারণার কাজ করে; ভিতরে চোর প্রবেশ করে, বাইরে দস্যুদল লুট করে।
2 আর তাদের সমস্ত নাফরমানী যে আমার স্মরণে আছে, এই কথা তারা অন্তঃকরণে বিবেচনা করে না; এখন তাদের কাজগুলো তাদের ঘিরে ফেলেছে, আমার দৃষ্টিগোচরে যেসব রয়েছে।
3 তারা নিজেদের নাফরমানী দ্বারা বাদশাহ্কে ও নিজেদের মিথ্যা কথা দ্বারা কর্মকর্তাদেরকে আনন্দিত করে।
4 তারা সকলে পতিতাগামী, রুটি-ওয়ালার উত্তপ্ত তুন্দুর-স্বরূপ; ময়দা ছানলে পর খামি ফেঁপে না ওঠা পর্যন্ত রুটি-ওয়ালা আগুন উস্কায় না।
5 আমাদের বাদশাহ্র উৎসবের দিনে কর্মকর্তারা অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত আঙ্গুর-রসে উত্তপ্ত হল, সে নিন্দুকদের সঙ্গে হাত মিলাল।
6 কারণ তারা যখন ঘাঁটি বসায়, তখন তুন্দুরের মত নিজেদের অন্তর প্রস্তুত করে, তাদের রুটি-ওয়ালা সমস্ত রাত ঘুমিয়ে থাকে, প্রাতঃকালে সেই তুন্দুর যেন প্রচণ্ড আগুনে জ্বলে।
7 তারা সকলে তুন্দুরের মত উত্তপ্ত এবং নিজেদের শাসনকর্তাদের গ্রাস করে; তাদের সকল বাদশাহ্দের পতন হয়েছে; তাদের মধ্যে কেউই আমাকে আহ্বান করে না।
8
আফরাহীম তো জাতিদের সঙ্গে মিশে গেছে; আফরাহীম এক দিক পুড়ে যাওয়া পিঠার মত।
9 বিদেশীরা তার বল গ্রাস করেছে, কিন্তু সে তা জানে না; তার মাথার নানা জায়গায় চুল পেকেছে; কিন্তু সে তাও জানে না।
10 ইসরাইলের অহংকার তার মুখের উপরে প্রমাণ দিচ্ছে; এমন হলেও তারা নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের প্রতি ফেরে নি ও তাঁর খোঁজ করে নি।
11
হ্যাঁ, আফরাহীম অবোধ কবুতরের মত হয়েছে, সে বুদ্ধিহীন, লোকেরা মিসরকে আহ্বান করে, আশেরিয়া দেশ গমন করে।
12 তারা যখন যাবে, আমি তাদের উপরে আমার জাল বিস্তার করবো; আসমানের পাখির মত তাদেরকে নামিয়ে আনবো; তাদের মণ্ডলী যেমন শুনেছে, তেমনি আমি তাদের শাস্তি দেব।
13 ধিক্ তাদেরকে! কেননা তারা আমার কাছ থেকে চলে গেছে; তাদের সর্বনাশ! কেননা তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে; আমি তাদেরকে মুক্ত করতাম, কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলেছে।
14 তারা অন্তঃকরণের সঙ্গে আমার কাছে কান্নাকাটি করে নি, কিন্তু নিজ নিজ বিছানায় হাহাকার করে; তারা শস্য ও আঙ্গুর-রসের জন্য একত্র হয় ও আমাকে ছেড়ে বিপথে গমন করে।
15 আমিই তো শিক্ষা দিয়ে তাদের বাহু সবল করেছি; তবুও তারা আমারই বিরুদ্ধে কুকল্পনা করে।
16 তারা ফিরে আসে বটে, কিন্তু যিনি ঊর্ধ্বস্থ, তাঁর প্রতি নয়; তারা বাকানো ধনুকের মত; তাদের কর্মকর্তারা নিজ নিজ জিহ্বার দুঃসাহসের জন্য তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে, এ-ই মিসর দেশে তাদের পক্ষে উপহাস।
1
তুমি তোমার মুখে তূরী স্থাপন কর। সে মাবুদের গৃহের উপরে ঈগল পাখির মত আসছে, কেননা লোকেরা আমার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে ও আমার বিরুদ্ধে অধর্ম করেছে।
2 তারা আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলবে, হে আমার আল্লাহ্, আমরা ইসরাইল, তোমাকে জানি।
3 ইসরাইল, যা ভাল, তা দূরে ফেলে দিয়েছে, দুশমন তার পিছনে পিছনে দৌড়ে যাবে।
4 তারাই বাদশাহ্দেরকে স্থাপন করেছে, আমা থেকে হয় নি; তারা শাসনকর্তাদের নিযুক্ত করেছে, আমি তা জানি নি; তারা নিজেদের সোনা ও রূপা দ্বারা নিজেদের জন্য মূর্তি তৈরি করেছে, যেন তারা উচ্ছিন্ন হয়।
5 হে সামেরিয়া, তিনি তোমার বাছুরের মূর্তি দূরে ফেলে দিয়েছেন; ওদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলো; ওরা কত দেরিতে তারা বিশুদ্ধ হবে?
6 কেননা ইসরাইলের লোকেরাই ঐ বাছুর তৈরি করেছে; শিল্পকার তা গড়েছে, তা আল্লাহ্ নয়; বাস্তবিক সামেরিয়ার বাছুর খণ্ড-বিখণ্ড হবে।
7 কেননা তারা বায়ুরূপ বীজ বপন করে, ঝঞ্ঝারূপ শস্য কাটবে; তার ক্ষেতে শস্য নেই; চারা শস্য দেবে না; শস্য দিলেও বিদেশীরা তা গ্রাস করবে।
8 ইসরাইলকে গ্রাস করা হল; এখন তারা অপ্রীতিকর পাত্রের মত জাতিদের মধ্যে আছে।
9 ওরা তো আশেরিয়া দেশ গেল, সে এমন বন্য গাধা, যে একাকী থাকে; আফরাহীম প্রেমিকদেরকে পণ দিয়েছে।
10 যদিও তারা জাতিদের মধ্যে লোকদের পণ দেয়, তবুও আমি এখন এদেরকে একত্র করবো; বাদশাহ্ ও শাসনকর্তাদের বোঝার ভারে তারা ক্রমশ কুঁজো হয়ে পড়ছে।
11
আফরাহীম গুনাহ্র কাজ হিসেবে অনেক কোরবানগাহ্ করেছে, এজন্য কোরবানগাহ্ সকল তার পক্ষে গুনাহ্স্বরূপ হয়েছে।
12 আমি তার জন্য আমার ব্যবস্থার দশ হাজার কথা লিখি; কিন্তু সেসব বিজাতীয়রূপে গণ্য করা হয়।
13 তারা আমার উপহার-কোরবানী নিয়ে তার গোশ্ত উৎসর্গ করে ও তা খেয়ে ফেলে; মাবুদ তাদেরকে গ্রাহ্য করেন না; এখন তিনি তাদের অপরাধ স্মরণ করে তাদের গুনাহ্র প্রতিফল দেবেন, তারা মিসরে ফিরে যাবে।
14 কারণ ইসরাইল তার নির্মাতাকে ভুলে গেছে ও স্থানে স্থানে প্রাসাদ গেঁথেছে; এবং এহুদা অনেক প্রাচীর-বেষ্টিত নগর প্রস্তুত করেছে; কিন্তু আমি তার নগরে নগরে আগুন পাঠাব, সে সেখানকার দুর্গগুলো গ্রাস করবে।
1
হে ইসরাইল, জাতিদের মত তুমি আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত থেকো না, কেননা তুমি তোমার আল্লাহ্কে ত্যাগ করে জেনা করছো, শস্যের প্রত্যেক খামারে পতিতার বেতন ভালবেসেছ।
2 খামার কিংবা আঙ্গুরপেষণস্থান তাদের খাদ্য দেবে না; তারা নতুন আঙ্গুর-রস থেকে বঞ্চিত হবে।
3 তারা মাবুদের দেশে বাস করবে না; কিন্তু আফরাহীম মিসরে ফিরে যাবে, আর তারা আশেরিয়া দেশে নাপাক দ্রব্য ভোজন করবে।
4 তারা মাবুদের উদ্দেশে আঙ্গুর-রস নিবেদন করবে না এবং তাদের কোরবানীগুলো তাঁর তুষ্টিজনক হবে না; তাদের পক্ষে সেসব শোককারীদের খাদ্যের সমান হবে; যারা তা ভোজন করবে, তারা সকলে নাপাক হবে; বস্তুত তাদের খাদ্য তাদেরই ক্ষুধা মিটাবার জন্য হবে, তা মাবুদের গৃহে পৌঁছাবে না।
5 ঈদের দিনে ও মাবুদের উৎসব-দিনে তোমরা কি করবে?
6 কারণ দেখ, তারা ধ্বংসস্থান থেকে পালিয়ে গেল, তবুও মিসর তাদেরকে একত্র করবে, মোফ তাদেরকে দাফন করবে, তাদের রূপার মনোহর দ্রব্যগুলো বিছুটিগাছের অধিকার হবে, তাদের সকল তাঁবুতে কাঁটাগাছ জন্মাবে।
7 প্রতিফল দানের সময় উপস্থিত, দণ্ডের সময় উপস্থিত; এই কথা ইসরাইল জানুক যে, তারা ভাবে ‘নবী অজ্ঞান, রূহ্বিশিষ্ট লোক উন্মাদ’; এর কারণ হল তোমার অনেক অপরাধ ও অনেক বিদ্বেষ।
8 আফরাহীম আমার আল্লাহ্র সঙ্গে প্রহরী ছিল; নবীদের সকল পথে রয়েছে ব্যাধের ফাঁদ, তার আল্লাহ্র গৃহে রয়েছে বিদ্বেষ।
9 তারা গিবিয়ার সময়ের মত অত্যন্ত ভ্রষ্ট হয়েছে; তিনি তাদের অপরাধ স্মরণ করবেন, তাদের সকল গুনাহ্র প্রতিফল দেবেন।
10 আমি মরুভূমিতে আঙ্গুর ফলের মত ইসরাইলকে পেয়েছিলাম; আমি ডুমুর গাছের আগাম পাকা ফলের মত তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেখেছিলাম; কিন্তু তারা বাল-পিয়োরের কাছে গিয়ে সেই লজ্জাস্পদের উদ্দেশে নিজেদের পৃথক করলো এবং নিজেরা সেই ভালবাসার বস্তুর মত জঘন্য হয়ে পড়লো।
11 আফরাহীমের গৌরব পাখির মত উড়ে যাবে; না প্রসব, না গর্ভ, না গর্ভধারণ হবে;
12 যদিও তারা সন্তান-সন্ততি পালন করে, তবুও আমি তাদেরকে এমন নিঃসন্তান করবো যে, এক জন মানুষও থাকবে না; আবার ধিক্ তাদের, যখন আমি তাদের পরিত্যাগ করি।
13 টায়ারকে আমি যেমন দেখেছি, আফরাহীমও সেই রকম সুন্দর স্থানে রোপিত; কিন্তু আফরাহীম তার সন্তানদেরকে বাইরে ঘাতকের কাছে নিয়ে যাবে।
14 হে মাবুদ, তাদেরকে দাও; তুমি কি দেবে? তাদেরকে সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়া জঠর ও শুকনো স্তন দাও।
15 গিল্গলে তাদের সমস্ত দুষ্টামি দেখা যায়, বস্তুত সেখানে তাদের প্রতি আমার ঘৃণা জন্মেছিল; আমি তাদের কর্মকাণ্ডের নাফরমানীর জন্য আমার গৃহ থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেব, আর ভালবাসব না, তাদের কর্মকর্তারা সকলে বিদ্রোহী।
16 আফরাহীম আহত, তাদের মূল শুকিয়ে গেছে, তারা আর ফলবে না; যদিও তারা সন্তানের জন্ম দেয়, তবুও আমি তাদের প্রিয় গর্ভফল মেরে ফেলবো।
17 আমার আল্লাহ্ তাদেরকে অগ্রাহ্য করবেন, কেননা তারা তাঁর কালাম মানে নি; আর তারা জাতিদের মধ্যে ইতস্তত ভ্রমণ করবে।
1
ইসরাইল ফলভারে সমৃদ্ধ একটি আঙ্গুরলতার মত, তার ফল ধরে; সে তার ফলের আধিক্য অনুসারে অনেক কোরবানগাহ্ তৈরি করেছে, নিজ দেশের উৎকর্ষ অনুসারে বহু উৎকৃষ্ট স্তম্ভ নির্মাণ করেছে।
2 তাদের অন্তঃকরণ বিভক্ত; এখন তারা দোষী প্রতিপন্ন হবে। তিনিই তাদের কোরবানগাহ্ সব ধ্বংস করবেন, তাদের সমস্ত স্তম্ভই নষ্ট করবেন।
3 অবশ্য এখন তারা বলবে, আমাদের বাদশাহ্ নেই, কারণ আমরা মাবুদকে ভয় করি না, তবে বাদশাহ্ আমাদের জন্য কি করতে পারে?
4 তারা মিথ্যা কথা বলে, নিয়ম করার সময় মিথ্যা শপথ করে; তাই মকদ্দমা ভূমির আলিস্থ বিষবৃক্ষের মত অঙ্কুরিত হয়।
5 সামেরিয়া-নিবাসীরা বৈৎ-আবনের বাছুরের মূর্তির জন্য ভয় পাবে; কারণ তার লোকেরা তার জন্য শোকার্ত হবে এবং তার যে ইমামেরা তার জন্য আনন্দ করতো, তারাও তার জন্য, তার গৌরবের জন্য শোকার্ত হবে, কারণ গৌরব তাকে ছেড়ে নির্বাসিত হবে।
6 সেও বিবাদ-রাজ্যের উপঢৌকন দ্রব্য বলে আশেরিয়া দেশ নীত হবে; আফরাহীম লজ্জা পাবে, ইসরাইল আপন মন্ত্রণায় লজ্জিত হবে।
7 সামেরিয়ার বাদশাহ্ উচ্ছিন্ন হল, সে পানির উপরের ফেনার মত হল।
8 ইসরাইলের গুনাহ্স্বরূপ আবনের উচ্চ-স্থলীগুলোও বিনষ্ট হবে, তাদের কোরবানগাহ্গুলোর উপরে কাঁটা ও শেয়ালকাঁটা জন্মাবে; এবং তারা পর্বত-মালাকে বলবে, আমাদেরকে ঢেকে রাখ ও উপপর্বতগুলোকে বলবে, আমাদের উপরে পড়।
9
হে ইসরাইল, গিবিয়ার সময় থেকে তুমি গুনাহ্ করে আসছ; তোমার লোকেরা সেই স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে; অন্যায়ী বংশের প্রতিকুলে কৃত যুদ্ধ কি গিবিয়াতে তাদেরকে ধরবে না?
10 আমি যখন ইচ্ছা, তাদের শাস্তি দেব; আর তারা যখন তাদের দু’টি অপরাধরূপ জোয়ালিতে আবদ্ধ রয়েছে, তখন তাদের বিপক্ষে জাতিদের সংগৃহীত হবে।
11 আর আফরাহীম এমন শিক্ষিতা গাভীস্বরূপ, যে শস্য মাড়াই করতে ভালবাসে, কিন্তু আমি তার সুন্দর ঘাড়ে হস্তক্ষেপ করেছি, আমি আফরাহীমের উপরে এক জন আরোহীকে বসাব; এহুদা হাল টানবে, ইয়াকুব তার ঢেলা ভাঙ্গবে।
12 তোমরা নিজেদের জন্য ধার্মিকতার বীজ বপন কর, অটল মহব্বত অনুযায়ী শস্য কাট, নিজেদের জন্য পতিত ভূমি চাষ কর; কেননা মাবুদের খোঁজ করার সময় আছে, যে পর্যন্ত তিনি এসে তোমাদের উপর ধার্মিকতা না বর্ষান।
13 তোমরা দুষ্টতারূপ চাষ করেছ, অধর্মরূপ শস্য কেটেছ, মিথ্যার ফল ভোজন করেছ; কারণ তুমি নিজের পথে, নিজের বীরদের উপর নির্ভর করেছ।
14 এজন্য তোমার লোকবৃন্দের বিরুদ্ধে কোলাহল উঠবে; তোমার দৃঢ় দুর্গগুলোর সর্বনাশ হবে; যেমন যুদ্ধের দিনে শল্মন বৈৎ-অর্বেলের সর্বনাশ করেছিল; মা ও বালকদেরকে আছাড় মেরে খণ্ড খণ্ড করা হয়েছিল।
15 তোমাদের মহাদুষ্টতার দরুন বেথেল তোমাদের প্রতি তা ঘটাবে; অরুণোদয় কালে ইসরাইলের বাদশাহ্ উচ্ছিন্ন হবে।
1
ইসরাইলের বাল্যকালে আমি তাকে ভালবাসতাম এবং মিসর থেকে আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম।
2 তারা লোকদেরকে ডাকলে লোকেরা দৃষ্টিপথ থেকে দূরে গেল, বাল দেবতাদের উদ্দেশে কোরবানী দিল এবং মূর্তিগুলোর উদ্দেশে ধূপ জ্বালাল।
3 আমিই তো আফরাহীমকে হাঁটতে শিখিয়েছিলাম, আমি তাদেরকে কোলে নিতাম; কিন্তু আমি যে তাদেরকে সুস্থ করলাম, তা তারা বুঝল না।
4 আমি মানুষের দয়ার বন্ধনী দ্বারা তাদেরকে আকর্ষণ করতাম, প্রেমের দড়ি দিয়েই করতাম, আর আমি তাদের পক্ষে সেই লোকদের মত ছিলাম, যারা ঘাড় থেকে জোয়াল উঠিয়ে নেয় এবং আমি তাদেরকে খাবার দিতাম।
5
সে মিসর দেশে ফিরে যাবে না, কিন্তু আশেরিয়াই তার বাদশাহ্ হবে, কেননা তারা ফিরে আসতে অসম্মত হল।
6 আর তাদের নগরগুলোর উপরে তলোয়ার পড়বে, তাদের অর্গলগুলোকে সংহার করবে, লোকদেরকে গ্রাস করবে, এর কারণ তাদের নিজের মন্ত্রণাগুলো।
7 আমার লোকেরা আমার কাছ থেকে ফিরে গিয়ে বিপথগমনের দিকে ঝুঁকে; যিনি ঊর্ধ্বস্থ, তাঁর কাছে আহূত হলেও কেউই তাঁর মহিমা স্বীকার করে না।
8
হে আফরাহীম, আমি কিভাবে তোমাকে ত্যাগ করবো? হে ইসরাইল, কিভাবে তোমাকে পরের হাতে তুলে দেব? কিভাবে তোমাকে অদ্মার মত করবো? কিভাবে তোমাকে সবোয়িমের মত রাখবো? আমার অন্তঃকরণ ব্যাকুল হচ্ছে, আমার করুণা-সমষ্টি একসঙ্গে প্রজ্বলিত হচ্ছে।
9 আমি আমার প্রচণ্ড ক্রোধ সফল করবো না, আফরাহীমের সর্বনাশ করতে ফিরব না, কেননা আমি আল্লাহ্, মানুষ নই; আমি তোমার মধ্যবর্তী পবিত্রতম, কোপে উপস্থিত হব না।
10 তারা মাবুদের পিছনে চলবে; তিনি সিংহের মত গর্জন করবেন; হ্যাঁ, তিনি আহ্বান করবেন, আর পশ্চিম দিক থেকে সন্তানেরা কাঁপতে কাঁপতে আসবে।
11 তারা মিসর থেকে চটকপাখির মত, আশেরিয়া দেশ থেকে কবুতরের মত কাঁপতে কাঁপতে আসবে; আর আমি তাদের বাড়িতে তাদেরকে বাস করাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
আফরাহীম বাতাস খায় ও পূর্বীয় বায়ুর পিছনে দৌড়ে যায়; সে সমস্ত দিন মিথ্যা কথা ও জুলুম বৃদ্ধি করে, তারা আশেরিয়া দেশের সঙ্গে নিয়ম স্থির করেছে এবং মিসরে জলপাই তেল পাঠিয়েছে।
2
আর এহুদার সঙ্গে মাবুদের ঝগড়া আছে,
তিনি ইয়াকুবকে তার পথ অনুসারে দণ্ড দেবেন,
তার কার্যানুযায়ী প্রতিফল দেবেন।
3
জরায়ুর মধ্যে সে আপন ভাইয়ের পাদমূল ধরেছিল,
আর বয়সকালে আল্লাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল।
4
হ্যাঁ, সে ফেরেশতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছিল;
সে তাঁর কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করেছিল;
সে বেথেলে তাঁকে পেয়েছিলে,
তিনি সেখানে আমাদের সঙ্গে আলাপ করলেন।
5
মাবুদ বাহিনীগণের আল্লাহ্;
মাবুদ তাঁর স্মরণীয় নাম।
6
অতএব তুমি তোমার আল্লাহ্র কাছে ফিরে এসো, রহম ও ন্যায়বিচার রক্ষা কর; প্রতিদিন তোমার আল্লাহ্র অপেক্ষায় থাক।
7
সে ব্যবসায়ী, তার হাতে ছলনার নিক্তি, সে ঠকাতে ভালবাসে।
8 আর আফরাহীম বলেছে, আমি তো ঐশ্বর্যবান হলাম, নিজের জন্য সংস্থান করলাম, আমার সমস্ত শ্রমে এমন কোন অপরাধ পাওয়া যাবে না, যাতে গুনাহ্ হয়।
9 কিন্তু আমিই মিসর দেশ থেকে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ; আমি নির্দিষ্ট ঈদের দিনের মত তোমাকে পুনর্বার তাঁবুতে বাস করাব।
10 আর আমি নবীদের কাছে কথা বলেছি, আমি দর্শনের বৃদ্ধি করেছি ও নবীদের দ্বারা দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছি।
11 গিলিয়দ কি অধর্মময়? তারা অসার মাত্র; গিল্গলে তারা ষাঁড় কোরবানী করে; আবার তাদের কোরবানগাহ্ সকল ক্ষেতের আলিতে অবস্থিত পাথরের স্তূপের ন্যায়।
12 আর ইয়াকুব অরাম দেশে পালিয়ে গিয়েছিল; ইসরাইল স্ত্রী পাবার জন্য গোলামের কাজ ও স্ত্রীর পাবার জন্য পশুপালকের কাজ করেছিল।
13 মাবুদ এক জন নবী দ্বারা ইসরাইলকে মিসর থেকে এনেছিলেন, আর এক জন নবী দ্বারা সে পালিত হয়েছিল।
14 আফরাহীম তাঁকে অতিশয় অসন্তুষ্ট করেছে; এজন্য তার রক্ত তারই উপরে থাকবে, আর তার প্রভু তার উপহাস তাকে ফিরিয়ে দেবেন।
1
আফরাহীম কথা বললে লোকের ত্রাস জন্মাত, ইসরাইল দেশে সে উন্নত হয়েছিল, কিন্তু বালের বিষয়ে দোষী হওয়াতে সে মারা গেল।
2 আর এখন তারা উত্তরোত্তর আরও গুনাহ্ করছে, তারা নিজেদের জন্য নিজেদের রূপা দ্বারা ছাঁচে ঢালা মূর্তি ও নিজেদের বুদ্ধি অনুযায়ী মূর্তি তৈরি করেছে; সে সমস্তই শিল্পকারদের কর্মমাত্র; তাদেরই বিষয়ে ওরা বলে, যেসব লোক কোরবানী করে, তারা বাছুরগুলোকে চুম্বন করুক!
3 এজন্য তারা সকাল বেলার মেঘের মত, খুব ভোরে অন্তর্হিত শিশিরের মত, ঘূর্ণিবাতাস দ্বারা খামার থেকে বাতাসে উড়ে যাওয়া ভুষির মত ও জানালা থেকে বের হওয়া ধোঁয়ার মত হবে।
4 তবুও আমিই মিসর দেশ থেকে তোমার আল্লাহ্ মাবুদ; আমাকে ছাড়া আর কোন আল্লাহ্কে তুমি জানবে না এবং আমি ছাড়া তোমার আর কোন উদ্ধারকর্তা নেই।
5 আমিই মরুভূমিতে, ভীষণ শুকনা দেশে, তোমাকে দেখাশুনা করেছিলাম।
6 চরাণির স্থান পেয়ে তারা তৃপ্ত হল, তৃপ্ত হয়ে অহংকারী হল, এজন্য তারা আমাকে ভুলে গেছে।
7 এজন্য আমি তাদের পক্ষে সিংহের মত হলাম, চিতাবাঘের মত আমি পথের পাশে অপেক্ষায় থাকব।
8 আমি বাচ্চা চুরি হয়ে যাওয়া ভল্লুকীর মত তাদের সম্মুখীন হব, তাদের বক্ষ বিদীর্ণ করবো, সেই স্থানে সিংহীর মত তাদেরকে গ্রাস করবো; বনপশু তাদেরকে খণ্ড খণ্ড করবে।
9
হে ইসরাইল, এটাই তোমার সর্বনাশ যে, তুমি আমার বিপক্ষ, নিজের সহায়ের বিপক্ষ।
10 বল দেখি, তোমার বাদশাহ্ কোথায়, যে তোমার সকল নগরে তোমাকে রক্ষা করবে? তোমার কাজীরাই বা কোথায়? তুমি তো বলতে, আমাকে বাদশাহ্ ও শাসনকর্তাদের দাও।
11 আমি ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাকে বাদশাহ্ দিয়েছি, আর ভীষণ রাগান্বিত হয়ে তাকে হরণ করেছি।
12 আফরাহীমের অপরাধ বোচ্কাতে বন্ধ, তার গুনাহ্ সঞ্চিত আছে।
13 প্রসবকারিণী স্ত্রীর মত যন্ত্রণা তাকে ধরবে; সে অবোধ সন্তান, উপযুক্ত সময়ে প্রসব-দ্বারে উপস্থিত হয় না।
14
পাতালের হাত থেকে আমি তাদের উদ্ধার করবো, মৃত্যু থেকে আমি তাদের মুক্ত করবো। হে মৃত্যু, তোমার মহামারী সকল কোথায়? হে পাতাল, তোমার সংহার কোথায়? অনুশোচনা আমার দৃষ্টি থেকে গুপ্ত থাকবে।
15 যদিও আফরাহীম ভাইদের মধ্যে ফলবান হয়, তবুও একটি পূর্বীয় বায়ু আসবে, মাবুদের শ্বাস মরুভূমি থেকে উঠে আসবে; তাতে তার ফোয়ারা শুকনো হবে ও তার উৎস শুকিয়ে যাবে। ঐ ব্যক্তি তার সমস্ত মনোরম পাত্রের ভাণ্ডার লুট করবে।
16 সামেরিয়া দণ্ড পাবে, কারণ সে তার আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচারিণী হয়েছে, তারা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে, তাদের শিশুদেরকে আছড়ে খণ্ড খণ্ড করা যাবে, তাদের গর্ভবতী স্ত্রীলোকদের উদর বিদীর্ণ করা যাবে।
1
হে ইসরাইল, তুমি তোমার আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফিরে এসো; কেননা তুমি নিজের অপরাধে হোঁচট খেয়েছ।
2 তোমরা বক্তব্য প্রস্তুত করে মাবুদের কাছে ফিরে এসো; তাঁকে বল, সমুদয় অপরাধ হরণ কর; যা উত্তম, তা গ্রহণ কর; তাতে আমরা ষাঁড় কোরবানীর মত করে নিজ নিজ ওষ্ঠাধর দিয়ে তোমার প্রশংসা করবো।
3 আশেরিয়া আমাদের উদ্ধার করবে না, আমরা ঘোড়ায় আরোহণ করবো না এবং নিজেদের হাতের কাছের আর কোন বস্তুকে আর কখনও বলবো না, ‘আমাদের আল্লাহ্।’ কেননা তোমারই কাছে এতিম লোকেরা করুণা পায়।
4
আমি তাদের বিপথগমনের প্রতিকার করবো, আমি স্বেচ্ছায় তাদেরকে মহব্বত করবো; কেননা তার প্রতি আমার আর কোন ক্রোধ নেই।
5 আমি ইসরাইলের পক্ষে শিশিরের মত হব; সে লিলি ফুলের মত ফুটবে, আর লেবাননের মত মূল বাঁধবে।
6 তার তরুশাখাগুলো ছড়িয়ে যাবে, জলপাই গাছের মত তার শোভা এবং লেবাননের মত তার সৌরভ হবে।
7 যারা তার ছায়াতলে বাস করে, তারা ফিরে আসবে, শস্যের মত সঞ্জীবিত হবে, আঙ্গুরলতার মত ফুটবে, লেবাননীয় আঙ্গুর-রসের মত তার সুখ্যাতি হবে।
8 হে আফরাহীম, মূর্তিগুলোর সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক? আমি উত্তর দিয়েছি, আর তার প্রতি দৃষ্টি রাখবো; আমি সতেজ দেবদারুর মত; আমার কাছ থেকেই তোমার বিশ্বস্ততা আসে।
9
জ্ঞানবান কে? সে এসব বুঝবে;
বুদ্ধিমান কে? সে এসব জানা যাবে;
কেননা মাবুদের সমস্ত পথ সরল
এবং ধার্মিকেরা সেসব পথে চলে,
কিন্তু অধর্মাচারীরা সেসব পথে হোঁচট খায়।
1
পথূয়েলের পুত্র যোয়েলের কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল।
2
হে প্রাচীনেরা, এই কথা শোন; আর হে দেশ-নিবাসী সকলে, কান দাও। তোমাদের সময়ে কি এমন ঘটনা ঘটেছে? কিংবা তোমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ে কি এমন হয়েছে?
3 তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে এর বৃত্তান্ত বল এবং তারা তাদের সন্তানদেরকে বলুক, আবার সেই সন্তানেরা ভাবী পুরুষপরমপরাকে বলুক।
4 শূককীটে যা রেখে গেছে, তা পঙ্গপালে খেয়েছে; পঙ্গপালে যা রেখে গেছে, তা পতঙ্গে খেয়েছে; পতঙ্গে যা রেখে গেছে, তা ঘুর্ঘুরিয়াতে খেয়েছে।
5
হে মাতাল লোকেরা, জেগে ওঠ ও কান্নাকাটি কর; হে মদ্যপায়ী সকলে, মিষ্ট আঙ্গুর-রসের জন্য হাহাকার কর; কেননা তোমাদের মুখ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
6 কারণ আমার দেশের বিরুদ্ধে একটি জাতি উঠে এসেছে, সে বলবান ও অসংখ্য; তার দাঁতগুলো সিংহের দাঁতের মত, তার কশের দাঁত সিংহীর কশের দাঁতের মত।
7 সে আমার আঙ্গুরলতা ধ্বংস করেছে, আমার ডুমুর গাছ বাকলশূন্য করেছে; সে ছাল খুলে ফেলেছে, তা ফেলে দিয়েছে; তার ডালগুলো সাদা হয়ে পড়েছে।
8
তুমি এমন কন্যার মত মাতম কর, যেন যৌবনকালে স্বামীর শোকে চটের কাপড় পরেছে।
9 মাবুদের গৃহ থেকে শস্য-উৎসর্গ ও পেয়-নৈবেদ্য অপহৃত হয়েছে, মাবুদের পরিচারক ইমামেরা শোক করছে।
10 ক্ষেত বিনষ্ট, ভূমি শোকান্বিত, কেননা শস্য বিনষ্ট হয়েছে, নতুন আঙ্গুর-রস শুকিয়ে গেছে এবং তেল শেষ হয়ে গেছে।
11
কৃষকরা লজ্জিত হও, আঙ্গুর-ক্ষেতের পালকেরা গম ও যবের জন্য হাহাকার কর; কেননা ক্ষেতের শস্য নষ্ট হয়েছে।
12 আঙ্গুর-লতা শুকিয়ে গেছে ও ডুমুর গাছ ম্লান হয়েছে, ডালিম, খেজুর, আপেল ও ক্ষেতের সমস্ত গাছ শুকিয়ে গেছে, বস্তুতঃ লোকদের মধ্যেকার আনন্দ শুকিয়ে গেছে।
13
হে ইমামেরা, তোমরা চট পরে মাতম কর; হে কোরবানগাহ্র পরিচারকরা, হাহাকার কর; হে আমার আল্লাহ্র পরিচারকরা, এসো, চট পরে সমস্ত রাত যাপন কর; কেননা তোমাদের আল্লাহ্র গৃহে শস্য-উৎসর্গ ও পেয়-নৈবেদ্যের অভাব হয়েছে।
14 তোমরা পবিত্র রোজা নির্ধারণ কর, একটি বিশেষ মাহ্ফিল আহ্বান কর, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের গৃহে প্রাচীনবর্গ ও দেশ-নিবাসী সমস্ত লোককে একত্র কর এবং মাবুদের কাছে কান্নাকাটি কর।
15
হায় হায়, কেমন দিন! মাবুদের দিন তো সন্নিকট; তা সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে প্রলয়ের মত আসছে।
16
আমাদের দৃষ্টি থেকে খাদ্য ও আমাদের আল্লাহ্র এবাদতখানা থেকে আনন্দ ও উল্লাস কি উচ্ছিন্ন হয় নি?
17 বীজগুলো নিজ নিজ ঢেলার নিচে পচে যাচ্ছে; গোলাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত, শস্যাগারগুলো উৎপাটিত; কারণ শস্য ম্লান হয়েছে।
18 পশুগুলো কেমন কাতর আর্তনাদ করছে! ষাঁড়ের পাল ব্যাকুল হচ্ছে, কেননা তাদের চারণভূমি নেই; ভেড়ার পালও দণ্ডভোগ করছে।
19
হে মাবুদ আমি তোমাকেই ডাকছি, কেননা আগুন মরুভূমির চরাণিগুলো গ্রাস করেছে, তার শিখা ক্ষেতের সমস্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলেছে।
20 মাঠের পশুগুলোও তোমার কাছে আকাঙ্খা করে, কেননা জলপ্রণালীগুলো শুকিয়ে গেছে ও আগুন মরুভূমিস্থ চরাণিগুলো গ্রাস করেছে।
1
তোমরা সিয়োনে তূরী বাজাও, আমার পবিত্র পর্বতে সিংহনাদ কর, দেশ-নিবাসী সকলেই কেঁপে উঠুক; কেননা মাবুদের দিন আসছে, হ্যাঁ, সেই দিন সন্নিকট।
2 তা অন্ধকার ও ঘোর অন্ধকারের দিন, মেঘের ও ঘন অন্ধকারের দিন, পর্বতমালার উপরে অরুণের মত তা ব্যাপ্ত হচ্ছে। বলবতী একটি মহাজাতি; তার মত জাতি যুগের আরম্ভ থেকে হয় নি এবং তারপর পুরুষানুক্রমে বছর-পর্যায়েও হবে না।
3
তাদের আগে আগুন গ্রাস করে, পিছনে বহ্নি-শিখা জ্বলে; তাদের সম্মুখে দেশ যেন আদন বাগান, তাদের পিছনে ধ্বংসপ্রাপ্ত মরুভূমি, তা থেকে কিছুই রক্ষা পায় নি।
4 তাদের আকার ঘোড়ার আকৃতির মত এবং তারা ঘোড়সওয়ারদের মত ধাবমান হয়।
5 তাদের লম্ফের আওয়াজ পর্বতশৃঙ্গের উপরে রথের শব্দের মত, নাড়া পোড়ানো আগুনের শিখার শব্দের মত; তারা যুদ্ধের জন্য শ্রেণীবদ্ধ শক্তিশালী জাতির মত।
6 তাদের সম্মুখে জাতিরা যন্ত্রণাগ্রস্ত, সকলেরই মুখ কালিমাযুক্ত হয়।
7 তারা বীরের মত দৌড়ায়, যোদ্ধাদের মত প্রাচীরে ওঠে, প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে অগ্রসর হয়, নিজেদের পথ জটিল করে না।
8 তারা এক জন অন্যের উপরে চাপাচাপি করে না; সকলেই নিজ নিজ পথে অগ্রসর হয় এবং তলোয়ারের উপরে পড়লেও আহত হয় না।
9 তারা নগরের উপর লাফ দেয়, প্রাচীরের উপরে দৌড়ায়, বাড়ির মধ্যে ওঠে, চোরের মত জানালা দিয়ে প্রবেশ করে।
10 তাদের সম্মুখে দুনিয়া কাঁপে, আকাশমণ্ডল কমপমান হয়, চন্দ্র ও সূর্য অন্ধকারময় হয়, নক্ষত্রগুলো নিজ নিজ আলো দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
11 মাবুদ নিজের সৈন্যসামন্তের আগে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনাচ্ছেন; কেননা তাঁর বাহিনী বিরাট বড়; যারা তাঁর হুকুম মান্য করে তারা বলবান। কেননা মাবুদের দিন মহৎ ও অতি ভয়ানক; আর কে তা সহ্য করতে পারে?
12 কিন্তু, মাবুদ বলেন, এখনও তোমরা সমস্ত অন্তঃকরণের সঙ্গে এবং রোজা, কান্নাকাটি ও মাতম সহকারে আমার কাছে ফিরে এসো।
13 আর নিজ নিজ কাপড় না ছিঁড়ে অন্তঃকরণ ছিঁড় এবং তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে ফিরে এসো, কেননা তিনি কৃপাময় ও স্নেহশীল ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান এবং অমঙ্গলের বিষয়ে অনুশোচনা করেন।
14 কে জানে যে, তিনি ফিরে অনুশোচনা করবেন না এবং তাঁর পিছনে দোয়া, অর্থাৎ তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের উদ্দেশে শস্য-উৎসর্গ ও পেয়-নৈবেদ্য রেখে যাবেন না?
15
তোমরা সিয়োনে তূরী বাজাও, পবিত্র রোজা নির্ধারণ কর, একটি বিশেষ মাহ্ফিল আহ্বান কর;
16 লোকদের একত্র কর, পবিত্র সমাজ নির্ধারণ কর, প্রাচীনদেরকে আহ্বান কর, বালক বালিকাদের ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদেরকে একত্র কর; বর তার বাসগৃহ থেকে, কন্যা তার অন্তঃপুর থেকে বের হোক।
17 বারান্দার ও কোরবানগাহ্র মধ্যস্থানে মাবুদের পরিচারক ইমামেরা কান্নাকাটি করুক, তারা বলুক,
হে মাবুদ, তোমার লোকদের প্রতি মমতা কর,
তোমার অধিকারকে উপহাসের বিষয় করো না;
তাদের বিষয়ে জাতিদেরকে গল্প করতে দিও না,
লোকজন কেন বলবে যে, ‘ওদের আল্লাহ্ কোথায়?’
18
তখন মাবুদ তাঁর দেশের জন্য উদ্যোগী হলেন ও তাঁর লোকদের প্রতি রহম করলেন।
19 আর মাবুদ জবাব দিলেন, তাঁর লোকদের বললেন, দেখ, আমি তোমাদের কাছে শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেল পাঠিয়েছি, তোমরা তাতে তৃপ্ত হবে; এবং আমি জাতিদের মধ্যে তোমাদেরকে আর উপহাসের পাত্র করবো না।
20 বরং আমি তোমাদের কাছ থেকে উত্তর দেশীয় সৈন্য দূর করবো এবং তাকে শুকনো ও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশে তাড়িয়ে দেব, পূর্ব সমুদ্রের দিকে তার অগ্রভাগ ও পশ্চিম সমুদ্রের দিকে তার পশ্চাদ্ভাগ ফেলে দেব; আর তার দুর্গন্ধ ও পূতিগন্ধ উঠবে, কারণ সে মহৎ মহৎ কাজ করেছে।
21
হে দেশ, ভয় করো না, উল্লসিত হও, আনন্দ কর, কেননা মাবুদ মহৎ মহৎ কাজ করেছেন।
22 হে ক্ষেতের পশুরা, ভয় করো না, কেননা মরুভূমিস্থ চারণভূমি সবুজ হয়ে উঠছে, গাছ ফলবান হচ্ছে, ডুমুর গাছ ও আঙ্গুরলতা নিজ নিজ ফল দিচ্ছে।
23 আর হে সিয়োন-সন্তানেরা, তোমরা উল্লসিত হও, তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদে আনন্দ কর, কেননা তিনি তোমাদেরকে যথাপরিমাণে অগ্রিম বৃষ্টি দিলেন এবং প্রথমত তোমাদের জন্য প্রথম ও শেষ বর্ষার পানি বর্ষান করলেন।
24 এভাবে খামারগুলো শস্যে পরিপূর্ণ হবে, আঙ্গুর-রস ও তেলে কুণ্ডগুলো উথলে উঠবে।
25 আর পঙ্গপাল, পতঙ্গ, ঘুর্ঘুরিয়া ও শূককীট— আমি যে আমার মহাসৈন্য তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি, তারা যেসব বছরের শস্যাদি খেয়েছে, আমি তা পরিশোধ করে তোমাদের দেব।
26 তোমরা প্রচুর খাদ্য ভোজন করে তৃপ্ত হবে; এবং তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নামের প্রশংসা করবে, যিনি তোমাদের প্রতি আশ্চর্য ব্যবহার করেছেন; আর আমার লোকেরা কখনও লজ্জিত হবে না।
27 তাতে তোমরা জানবে, আমি ইসরাইলের মধ্যবর্তী এবং আমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ, অন্য কেউ নেই এবং আমার লোকেরা কখনও লজ্জিত হবে না।
28
আর তারপর এরকম ঘটবে,
আমি সকল মানুষের উপরে আমার রূহ্ সেচন করবো,
তাতে তোমাদের পুত্রকন্যাদের ভবিষ্যদ্বাণী বলবে
তোমাদের প্রাচীনেরা স্বপ্ন দেখবে,
তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে;
29
আর সেই সময়ে আমি গোলাম-বাঁদীদের উপরে,
আমার রূহ্ সেচন করবো।
30
আর আমি আসমানে ও দুনিয়াতে অদ্ভুত লক্ষণ দেখাব;
রক্ত, আগুন ও ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখাব।
31
মাবুদের ঐ মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিনের আগমনের আগে
সূর্য অন্ধকার ও চন্দ্র রক্ত হয়ে যাবে।
32
আর যে কেউ মাবুদের নামে ডাকবে, সেই রক্ষা পাবে;
কারণ মাবুদের কালাম অনুসারে সিয়োন পর্বতে
ও জেরুশালেমে রক্ষাপ্রাপ্ত দল থাকবে
এবং পলাতক সকলের মধ্যে এমন লোক থাকবে,
যাদেরকে মাবুদ ডাকবেন।
1
কারণ দেখ, সেই কালে ও সেই সময়ে যখন আমি এহুদা ও জেরুশালেমের বন্দীদশা ফিরাব,
2 তখন সমস্ত জাতিকে সংগ্রহ করে যিহোশাফট উপত্যকায় নামাব এবং সেখানে আমার লোক ও আমার অধিকার ইসরাইলের জন্য তাদের সঙ্গে বিচার করবো, কেননা তারা তাদেরকে জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করেছে ও আমার দেশ ভাগ করে নিয়েছে।
3 আর তারা আমার লোকদের জন্য গুলিবাঁট করেছে এবং পতিতার বিনিময়ে পুত্র দিয়েছে ও পান করার জন্য আঙ্গুর-রসের বিনিময়ে কন্যা বিক্রি করেছে।
4
আবার হে টায়ার, হে সিডন, হে ফিলিস্তিনীদের সমস্ত অঞ্চল, আমার কাছে তোমরা কি? তোমরা কি প্রতিফল বলে আমার অপকার করবে? আমার অপকার করলে আমি অবিলম্বে ও অতি শীঘ্র সেই অপকারের ফল তোমাদেরই মাথায় বর্তাব।
5 কেননা তোমরা আমার রূপা ও আমার সোনা হরণ করেছ এবং আমার উৎকৃষ্ট রত্নগুলো নিজ নিজ মন্দিরে নিয়ে গিয়েছ;
6 আর এহুদার লোকেরা ও জেরুশালেম-সন্তানদেরকে তাদের সীমা থেকে দূর করার জন্য গ্রীক-সন্তানদের কাছে বিক্রি করেছ।
7 দেখ, তোমরা যে স্থানে পাঠাবার জন্য তাদেরকে বিক্রি করেছ, সেখান থেকে আমি তাদেরকে জাগিয়ে উঠিয়ে আনবো এবং তোমাদের অপকারের ফল তোমাদেরই মাথায় বর্তাব।
8 আর তোমাদের পুত্রকন্যাদেরও এহুদার সন্তানদের হাতে বিক্রি করবো, তারা তাদের দূরস্থ শিবায়ীয় জাতির কাছে বিক্রি করবে, কেননা এই কথা মাবুদ বলেছেন।
9
তোমরা জাতিদের মধ্যে এই কথা তবলিগ কর, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও, বীরদেরকে জাগিয়ে তোল, যোদ্ধারা কাছে আসুক, উঠে আসুক।
10 তোমরা নিজ নিজ লাঙ্গলের ফাল ভেঙ্গে তলোয়ার গড়, নিজ নিজ কাস্তা ভেঙ্গে বর্শা প্রস্তুত কর; দুর্বল বলুক, আমি বীর।
11 হে চারদিকের জাতিরা, তোমরা সকলে ত্বরা কর, এসো, জমায়েত হও; হে মাবুদ, তুমিও সেখানে তোমার বীরদেরকে নামিয়ে দাও।
12
জাতিরা জেগে উঠুক, যিহোশাফট-উপত্যকায় আসুক, কেননা সেই স্থানে আমি চারদিকের সমস্ত জাতির বিচার করতে বসবো।
13 তোমরা কাস্তে লাগাও, কেননা শস্য পেকেছে; এসো, আঙ্গুর ফল দলন কর, কেননা কুণ্ড পূর্ণ হয়েছে, রসের আধারগুলো উথলে উঠছে; কেননা তাদের নাফরমানী বিষম।
14
সমারোহ, সমারোহ দণ্ডাজ্ঞার উপত্যকায়! কেননা দণ্ডাজ্ঞার উপত্যকায় মাবুদের দিন সন্নিকট।
15 সূর্য ও চন্দ্র অন্ধকার হচ্ছে, নক্ষত্রগুলো নিজ নিজ তেজ গুটিয়ে নিচ্ছে।
16 আর মাবুদ সিয়োন থেকে গর্জন করবেন, জেরুশালেম থেকে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনাবেন; এবং আকাশমণ্ডল ও দুনিয়া কেঁপে উঠবে; কিন্তু মাবুদ তাঁর লোকদের আশ্রয় ও বনি-ইসরাইলদের দুর্গস্বরূপ হবেন।
17 তাতে তোমরা জানবে যে, আমি তোমাদের আল্লাহ্ মাবুদ, আমি আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে বাস করি; তখন জেরুশালেম পবিত্র হবে; বিদেশীরা আর তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করবে না।
18
সেদিন পর্বতমালা থেকে মিষ্ট আঙ্গুর-রস ক্ষরণ হবে, উপপর্বতগুলো থেকে দুধের স্রোত বইবে এবং এহুদার সমস্ত প্রণালীতে পানি বইবে, আর মাবুদের গৃহ থেকে একটি ঝর্ণা বের হবে, তা শিটীমের স্রোতোমার্গকে পানি দেবে।
19 মিসর ধ্বংসস্থান হবে, ইদোম ধ্বংসিত মরুভূমি হবে, এর কারণ এহুদা লোকদের প্রতি কৃত জুলুম, কেননা তারা নিজ নিজ দেশে নির্দোষের রক্তপাত করেছে।
20 কিন্তু এহুদা চিরকাল ও জেরুশালেম পুরুষানুক্রমে বসতি পূর্ণ থাকবে।
21 আর আমি তাদের যে রক্ত নির্দোষ প্রতিপন্ন করি নি তা নির্দোষ প্রতিপন্ন করবো; কারণ মাবুদ সিয়োনে বাস করেন।
1
আমোজের কথা। তিনি তকোয়স্থ ভেড়ার পালকদের এক জন ছিলেন; তিনি এহুদার বাদশাহ্ উষিয়ের কালে এবং যোয়াশের পুত্র ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের কালে, ভূমিকম্পের দু’বছর আগে, ইসরাইল সম্বন্ধে এসব দর্শন পান।
2
তিনি বললেন, মাবুদ সিয়োন থেকে গর্জন করবেন, জেরুশালেম থেকে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনাবেন; তাতে ভেড়ার রাখালদের চারণভূমিগুলো শোক করবে হবে, কর্মিলের শিখর শুকিয়ে যাবে।
3
মাবুদ এই কথা বলেন, দামেস্কের তিনটা অধর্মের কারণে,
এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না,
কেননা তারা লোহার শস্য-মাড়াই যন্ত্রে গিলিয়দকে মাড়াই করেছে;
4
অতএব আমি হসায়েল-কুলে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা বিন্হদদের অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
5
আর আমি দামেস্কের অর্গল ভেঙ্গে ফেলবো, আবনের উপত্যকা থেকে সেখানকার নিবাসীকে ও বৈৎ-এদন থেকে রাজদণ্ডধারীকে মুছে ফেলব; এবং অরামের লোকেরা বন্দী হয়ে কীরে যাবে; মাবুদ এই কথা বলেন।
6
মাবুদ এই কথা বলেন,
গাজার তিনটা অধর্মের কারণে, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না,
কেননা তারা ইদোমের হাতে তুলে দেবার জন্য
সমস্ত লোককে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল;
7
অতএব আমি গাজার প্রাচীরে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা তার অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
8
আর আমি অস্দোদ থেকে সেখানকার নিবাসীকে ও অস্কিলোন থেকে রাজদণ্ড-ধারীকে মুছে ফেলব; ইক্রোণের বিপক্ষে আমার হাত বাড়িয়ে দেবো, আর ফিলিস্তিনীদের অবশিষ্টাংশও বিনষ্ট হবে; এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
9
মাবুদ এই কথা বলেন,
টায়ারের তিনটা অধর্মের জন্য, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না,
কেননা তারা সমস্ত লোককে ইদোমের হাতে তুলে দিয়েছিল,
ভ্রাতৃ-নিয়ম স্মরণ করলো না।
10
অতএব আমি টায়ারের প্রাচীরে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা তার অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
11
মাবুদ এই কথা বলেন,
ইদোমের তিনটা অধর্মের কারণে, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না;
কেননা সে তলোয়ার নিয়ে আপন ভাইকে তাড়না করেছিল, করুণার বিরুদ্ধাচরণ করেছিল; তার ক্রোধ নিত্য জ্বলে উঠতো, তার কোপ সব সময় প্রস্তুত থাকতো;
12
অতএব আমি তৈমনের উপরে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা বস্রার অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
13
মাবুদ এই কথা বলেন,
অম্মোনীয়দের তিনটা অধর্মের কারণে, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তাদের দণ্ড নিবারণ করবো না;
কেননা তারা গিলিয়দস্থ গর্ভবতী স্ত্রীলোকদের উদর বিদীর্ণ করেছিল, যেন নিজেদের সীমা সম্প্রসারণ করতে পারে;
14
অতএব আমি রব্বার প্রাচীরে আগুন জ্বালাবো,
তা তার অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে,
যুদ্ধের দিনে সিংহনাদ হবে, ঘূর্ণিবাতাস দিনে প্রচণ্ড ঝটিকা হবে;
15
আর তাদের বাদশাহ্ ও তার কর্মকর্তারা একসঙ্গে নির্বাসনে যাত্রা করবে; মাবুদ এই কথা বলেন।
1
মাবুদ এই কথা বলেন,
মোয়াবের তিনটা অধর্মের কারণে, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না;
কেননা সে ইদোমের বাদশাহ্র অস্থি পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিলে;
2
অতএব আমি মোয়াবের উপরে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা করিয়োতের অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে,
এবং কোলাহল, সিংহনাদ ও তুরীধ্বনি সহকারে মোয়াব প্রাণত্যাগ করবে;
3
আর আমি তার মধ্য থেকে শাসনকর্তাকে মুছে ফেলব
এবং তার সঙ্গে তার সকল কর্মকর্তাদেরকেও সংহার করবো;
মাবুদ এই কথা বলেন।
4
মাবুদ এই কথা বলেন,
এহুদার তিনটা অধর্মের কারণে,
এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না;
কেননা তারা মাবুদের শরীয়ত অগ্রাহ্য করেছে,
তাঁর বিধিগুলো পালন করে নি,
কিন্তু তাদের পূর্বপুরুষেরা যে মিথ্যা বস্তুর অনুগামী হয়েছিল,
তা দ্বারা নিজেরাও বিভ্রান্ত হয়েছে।
5
অতএব আমি এহুদার উপরে আগুন নিক্ষেপ করবো,
তা জেরুশালেমের অট্টালিকাগুলো গ্রাস করবে।
6
মাবুদ এই কথা বলেন,
ইসরাইলের তিনটা অধর্মের কারণে, এমন কি, চারটা অধর্মের জন্য
আমি তার দণ্ড নিবারণ করবো না,
কেননা তারা রূপার বিনিময়ে ধার্মিককে
ও এক জোড়া জুতার বিনিময়ে দরিদ্রকে বিক্রি করেছে।
7
তারা দীনহীন লোকদের মাথায় ভূমির ধূলির আকাঙক্ষা করে ও নম্র লোকদের পথ বাঁকা করে এবং পিতা ও পুত্র এক নারীতে গমন করে, যেন আমার পবিত্র নাম অপবিত্র হয়।
8 আর তারা সমস্ত কোরবানগাহ্র কাছে বন্ধক নেওয়া কাপড়ের উপরে শয়ন করে ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত লোকদের আঙ্গুর-রস তাদের আল্লাহ্র এবাদতখানায় পান করে।
9
আমিই তো তাদের সম্মুখে সেই আমোরীয়কে উচ্ছিন্ন করেছিলাম, যে এরস গাছের মত দীর্ঘকায় ও অলোন গাছের মত বলিষ্ঠ ছিল; তবু আমি উপরে তার ফল ও নিচে তার মূল উচ্ছিন্ন করেছিলাম।
10 আর ইমোরীয়ের দেশ অধিকার হিসেবে দেবার জন্য আমিই তোমাদের মিসর দেশ থেকে এনেছিলাম ও চল্লিশ বছর পর্যন্ত মরুভূমিতে গমন করিয়েছিলাম।
11 আর আমি তোমাদের পুত্রদের মধ্যে কাউকে কাউকে নবী ও তোমাদের যুবকদের মধ্যে কাউকে কাউকে নাসরীয় করে উৎপন্ন করতাম। হে বনি-ইসরাইলরা, এই কথা কি সত্যি নয়? মাবুদ এই কথা বলেন।
12
কিন্তু তোমরা সেই নাসরীয়দের আঙ্গুর-রস পান করাতে এবং সেই নবীদের হুকুম করতে যেন ভবিষ্যদ্বাণী না বলে।
13 দেখ, পরিপূর্ণ ঘোড়ার গাড়ি যেমন গমের আঁটি পেষণ করে, তেমনি আমি তোমাদেরকে তোমাদের স্থানে নিষ্পেষণ করবো।
14 দ্রুতগামীর পলায়নের উপায় নষ্ট হবে, বলবান আপন বল দৃঢ় করবে না ও বীর নিজের প্রাণ রক্ষা করবে না;
15 আর তীরন্দাজ দাঁড়িয়ে থাকবে না ও দ্রুত দৌড়াতে পারা লোকেরাও রক্ষা পাবে না এবং ঘোড়সওয়ারও নিজের প্রাণ রক্ষা করবে না;
16 আর বীরদের মধ্যে যে জন সাহসী, সেও সেদিন উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
হে বনি-ইসরাইল, তোমরা এই কালাম শোন, যা তোমাদের বিরুদ্ধে মাবুদ বলেছেন— আমি মিসর দেশ থেকে যাকে বের করে এনেছি, সেসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে—
2 আমি দুনিয়ার সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে তোমাদেরই পরিচয় নিয়েছি, এজন্য তোমাদের সমস্ত অপরাধ বিচার করে তোমাদের প্রতিফল দেব।
3
একপরামর্শ না হলে দুই ব্যক্তি কি একসঙ্গে চলে?
4 শিকার না পেলে বনের মধ্যে সিংহ কি গর্জন করে? কোন পশু না ধরলে গহ্বরে যুবা কেশরী কি হুঙ্কার করে?
5 কল না পাতলে পাখি কি ফাঁদের কাছে আসবে? কিছু ধরা না পড়লে কল কি ভূমি থেকে লাফিয়ে উঠে?
6 নগরের মধ্যে তূরী বাজলে লোকেরা কি কাঁপে না? মাবুদ না ঘটালে নগরের মধ্যে কি অমঙ্গল ঘটে?
7 নিশ্চয়ই সার্বভৌম মাবুদ নিজের গোলাম নবীদের কাছে তাঁর গূঢ় মন্ত্রণা প্রকাশ না করে কিছুই করেন না।
8 সিংহ গর্জন করলে, কে না ভয় করবে? সার্বভৌম মাবুদ কথা বললেন, কে না ভবিষ্যদ্বাণী বলবে?
9
তোমরা অস্দোদের অট্টালিকাগুলোর উপরে ও মিসর দেশের অট্টালিকাগুলোর উপরে ঘোষণা কর, আর বল, তোমরা সামেরিয়ার পর্বতমালার উপরে জমায়েত হও; আর দেখ, তার মধ্যে কত মহাকোলাহল! তার মধ্যে কত জুলুম!
10 ওরা ন্যায় আচরণ করতে জানে না, মাবুদ এই কথা বলেন, তারা নিজ নিজ অট্টালিকায় দৌরাত্ম ও লুট সঞ্চয় করে।
11 এজন্য সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, এক জন বিপক্ষ! সে দেশ ঘিরে ফেলবে, সে তোমার প্রতিরক্ষার উপায়গুলো ধ্বংস করবে এবং তোমার অট্টালিকাগুলো লুট করবে।
12
মাবুদ এই কথা বলেন, সিংহের মুখ থেকে যেমন ভেড়ার রাখাল দু’টি পা কিংবা একটি কর্ণমূল উদ্ধার করে, তেমনি সেই বনি-ইসরাইলদের উদ্ধার করা যাবে, যারা সামেরিয়ায় বিছানার কোণে কিংবা পালঙ্কের উপর শিল্পীত চাদরে বসে থাকে।
13 তোমরা শোন, আর ইয়াকুবের কুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাও, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্ বলেন।
14 কেননা আমি যেদিন ইসরাইলকে তার অধর্মগুলোর প্রতিফল দেব, সেদিন বৈথেলস্থ কোরবানগাহ্গুলোকে প্রতিফল দেব, তাতে কোরবানগাহ্র শিংগুলো ছিন্ন হয়ে ভূমিতে পড়বে।
15 আমি শীতকালের ও গ্রীষ্মকালের বাড়িকে আঘাত করবো; হাতির দাতের বাড়িগুলো নষ্ট হবে এবং অনেক বাড়ি ধ্বংস হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
হে সামেরিয়ার পাহাড়ের উপরিস্থ বাশনের গাভীগুলো, এই কালাম শোন; তোমরা দীনহীন লোকদের প্রতি জুলুম করছো, দরিদ্রদেরকে চূর্ণ করছো এবং নিজেদের মালিকদের বলছো কিছু আন, আমরা পান করি।
2 সার্বভৌম মাবুদ তাঁর পবিত্রতার শপথ করে বলেছেন, দেখ, তোমাদের উপরে এমন সময় আসছে, যে সময়ে লোকে তোমাদেরকে আঁকড়া ও তোমাদের শেষাংশকে জেলের বড়শি দিয়ে টেনে নিয়ে যাবে।
3 আর তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ সম্মুখস্থ ভগ্নস্থান দিয়ে বের হবে এবং হর্মোণে নিক্ষিপ্ত হবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
4
তোমরা বেথেলে গিয়ে অধর্ম কর, গিল্গলে গিয়ে অধর্মের বৃদ্ধি কর এবং প্রতি প্রভাতে নিজ নিজ কোরবানী ও প্রতি তিন দিনের দিন নিজ নিজ দশ ভাগের এক ভাগ উৎসর্গ কর।
5 আর শুকরিয়ার উদ্দেশে খামিযুক্ত দ্রব্য কোরবানী কর এবং স্বেচ্ছাদত্ত উপহারের বিষয় ঘোষণা কর ও প্রচার কর; কেননা, হে বনি-ইসরাইল, তোমরা এই রকম করতেই ভালবাস, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন।
6
আর আমিও তোমাদের সমস্ত নগরে দন্তাবলির পরিচ্ছন্নতা ও তোমাদের সমস্ত বাসস্থানে খাদ্যাভাব তোমাদেরকে দিলাম; তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসলে না, মাবুদ এই কথা বলেন।
7 আর শস্য পাকবার তিন মাস আগে আমিও তোমাদের থেকে বৃষ্টি নিবারণ করলাম; এক নগরে বৃষ্টি ও অন্য নগরে অনাবৃষ্টি দিলাম; একটি ক্ষেত পানিতে সিক্ত হল, অন্য ক্ষেতটি পানির অভাবে শুকিয়ে গেল।
8 তাই পানি পান করার জন্য দুই তিন নগরের লোক টলতে টলতে অন্য এক নগরে যেত, কিন্তু তৃপ্ত হত না;
তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসলে না,
মাবুদ এই কথা বলেন।
9
আমি শস্যের শোষ ও ম্লানি রোগ দ্বারা তোমাদের আঘাত করলাম; শূককীট তোমাদের বহুসংখ্যক বাগান, তোমাদের আঙ্গুরক্ষেত, তোমাদের ডুমুর গাছ ও জলপাই গাছ খেয়ে ফেললো;
তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসলে না,
মাবুদ এই কথা বলেন।
10
আমি তোমাদের মধ্যে মিসর দেশের মহামারীর মত মহামারী পাঠালাম; তলোয়ার দ্বারা তোমাদের যুবকদের হত্যা করলাম ও তোমাদের ঘোড়াগুলোকে নিয়ে গেলাম; আর তোমাদের শিবিরের দুর্গন্ধ তোমাদের নাসিকাতে প্রবেশ করালাম;
তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসলে না,
মাবুদ এই কথা বলেন।
11
আমি তোমাদের কতগুলো স্থান উৎপাটন করলাম, যেমন আল্লাহ্ সাদুম ও আমুরা উৎপাটন করেছিলেন, তাতে তোমরা আগুন থেকে তুলে নেওয়া জ্বলন্ত কাঠের মত হলে;
তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসলে না,
মাবুদ এই কথা বলেন।
12
হে ইসরাইল, এজন্য আমি তোমার প্রতি এরকম ব্যবহার করবো; আর এই কারণে, হে ইসরাইল, তুমি তোমার আল্লাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত হও।
13 কেননা দেখ, তিনি পর্বতমালার নির্মাতা ও বায়ুর সৃষ্টিকর্তা; তিনি মানুষের কাছে তাঁর চিন্তা প্রকাশ করেন; তিনি আলোকে অন্ধকার করেন ও দুনিয়ার উচ্চস্থলীগুলোর উপর দিয়ে চলাচল করেন; বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ, এই তাঁর নাম।
1
হে ইসরাইল-কুল, আমি তোমাদের বিষয়ে যে মাতম করি, তা শোন।
2 ইসরাইল-কুমারী পড়ে গেছে, সে আর উঠবে না; সে তার ভূমিতে আছাড় খেয়েছে; তাকে উঠাবার কেউ নেই।
3
কারণ সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, যে নগরের লোকেরা এক হাজার লোক বের হয়, তার একশত অবশিষ্ট থাকবে; আর যেখানে লোকেরা একশত হয়ে বের হয়, তার দশ জন অবশিষ্ট থাকবে, ইসরাইল-কুলের জন্য।
4
কারণ মাবুদ ইসরাইল-কুলকে এই কথা বলেন, তোমরা আমার খোঁজ কর, তাতে বাঁচবে।
5 কিন্তু বেথেলের খোঁজ করো না, গিল্গলে প্রবেশ করো না ও বের্শেবাতে যেও না; কেননা গিল্গল অবশ্য নির্বাসিত হবে, বেথেল অসার হয়ে পড়বে।
6
মাবুদের খোঁজ কর, তাতে বাঁচবে; নতুবা তিনি ইউসুফের কুলে আগুনের মতই জ্বলবেন, আর সেই আগুন গ্রাস করবে, বেথেলে সেই আগুন নিভিয়ে ফেলবার কেউই থাকবে না।
7 তোমরা বিচারকে তিক্ত বস্তুতে পরিণত করছো ও ধার্মিকতাকে ভূমিসাৎ করছে।
8
তাঁর খোঁজ কর, যিনি কৃত্তিকা ও মৃগশীর্ষ নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন, যিনি ঘন অন্ধকারকে প্রভাতে পরিণত করেন, যিনি দিনকে রাতের মত অন্ধকারময় করেন, যিনি সমুদ্রের জলরাশিকে আহ্বান করে স্থলের উপর ঢেলে দেন; তাঁর নাম মাবুদ।
9 তিনি বলবানের প্রতি হঠাৎ সর্বনাশ উপস্থিত করেন, তাতে সর্বনাশ দুর্গের উপরে আসে।
10
যে নগর-দ্বারে অনুযোগ করে, লোকে তাকে হিংসা করে এবং তারা সত্যবাদীকে ঘৃণা করে।
11 তোমরা দীনহীন লোককে পদতলে দলিত করছো ও তার কাছ থেকে গমরূপ দর্শনী গ্রহণ করছো; এজন্য, তোমরা খোদাই-করা পাথরের বাড়ি নির্মাণ করেছ বটে, কিন্তু তাতে বাস করতে পারবে না; তোমরা রম্য আঙ্গুরক্ষেত রোপণ করেছ বটে, কিন্তু তার আঙ্গুর-রস পান করতে পারবে না।
12 কেননা আমি জানি, তোমাদের অধর্ম বহুবিধ, তোমাদের গুনাহ্ কঠোর; তোমরা ধার্মিককে কষ্ট দিচ্ছ, ঘুষ গ্রহণ করছো এবং নগর-দ্বারে দরিদ্র লোকদের প্রতি অন্যায় করছো।
13 এজন্য এমন সময়ে বুদ্ধিমান লোক চুপ করে থাকে, কেননা এটি দুঃসময়।
14
উত্তমের চেষ্টা কর, মন্দের নয়, যেন বাঁচতে পার; তাতে মাবুদ, বাহিনীগণের আল্লাহ্, তোমাদের সঙ্গে থাকবেন, যেমন তোমরা বলে থাক।
15 মন্দকে ঘৃণা কর ও উত্তমকে ভালবাস এবং নগর-দ্বারে ন্যায়বিচার স্থাপন কর; তাতে হয় তো বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ ইউসুফের অবশিষ্টাংশের প্রতি কৃপা করবেন।
16
এজন্য প্রভু, বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ, এই কথা বলেন, সমস্ত চকে মাতম হবে এবং লোকে সমস্ত পথে হায় হায় করবে; আর তারা চেঁচিয়ে কৃষককে মাতম করতে বলবে, যারা মাতম করতে নিপুণ তাদেরকে হাহাকার করতে বলবে।
17 আর সমস্ত আঙ্গুর-ক্ষেতে মাতম হবে, কেননা আমি তোমার মধ্য দিয়ে গমন করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
18
তোমরা, যারা মাবুদের দিনের আকাঙক্ষা কর; ধিক্ তোমাদের! মাবুদের দিন তোমাদের কি করবে? তা অন্ধকার, আলো নয়।
19 কোন ব্যক্তি হয়তো সিংহ থেকে পালিয়ে গেল, আর ভল্লুকীর সম্মুখে পড়লো; অথবা বাড়িতে গিয়ে দেয়ালে হাত রাখলে সাপ তাকে দংশন করলো।
20 মাবুদের দিন কি আলো, অন্ধকার কি নয়? তা কি ঘোর অন্ধকার নয়, তাতে কি আলো থাকবে?
21
আমি তোমাদের উৎসবগুলো ঘৃণা করি, অগ্রাহ্য করি, আমি তোমাদের মাহ্ফিলগুলো আমি সহ্য করতে পারি না।
22 তোমরা আমার কাছে পোড়ানো-কোরবানী ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করলে আমি তা গ্রাহ্য করবো না এবং তোমাদের পুষ্ট পশুর মঙ্গল-কোরবানীদানেও দৃষ্টিপাত করবো না।
23 আমার কাছ থেকে তোমার সঙ্গীতের শোরগোল দূর কর, আমি তোমার নেবল-যন্ত্রের বাদ্য শোনব না।
24 কিন্তু বিচার পানির মত প্রবাহিত হোক, ধার্মিকতা চিরপ্রবাহমান স্রোতের মত বয়ে যাক।
25
হে ইসরাইল-কুল, তোমরা মরুভূমিতে চল্লিশ বছর পর্যন্ত কি আমার উদ্দেশে কোরবানী ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করেছিলে?
26 বরং তোমরা তোমাদের বাদশাহ্ সিক্কুৎকে ও কীয়ূন নামক তোমাদের মূর্তিগুলোকে, তোমাদের দেবতার তারা, যা তোমরা নিজেদের জন্য তৈরি করেছিলে, এসব তুলে বহন করতে।
27 অতএব আমি তোমাদের নির্বাসনের জন্য দামেস্কের ওদিকে গমন করাব, মাবুদ এই কথা বলেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের আল্লাহ্।
1
ধিক্ তাদেরকে যারা সিয়োনে নিশ্চিন্ত বাস করছে ও তাদেরকে যারা সামেরিয়া পর্বতে নির্ভয়ে বাস করছে, জাতিদের শ্রেষ্ঠাংশের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ, ইসরাইল-কুল যাদের শরণাগত।
2 তোমরা কল্নীতে গিয়ে দেখ ও সেখান থেকে বড় হমাতে গমন কর, পরে ফিলিস্তিনীদের গাতে নেমে যাও; সেই সকল রাজ্য কি এই দুই রাজ্য থেকে উত্তম? কিংবা তাদের সীমা কি তোমাদের সীমা থেকে বড়?
3 ওরা অমঙ্গলের দিনকে নিজেদের থেকে দূরে রাখছে ও দৌরাত্ম্যের আসন নিকটবর্তী করছে;
4 তারা হাতির দাঁতের বিছানায় শয়ন করে, পালঙ্কের উপরে নিজ নিজ শরীর লম্বা করে এবং পালের মধ্য থেকে ভেড়ার বাচ্চাগুলোর, আস্তাবলের মধ্য থেকে বাছুরগুলোকে এনে ভোজন করে;
5 তারা নেবল-যন্ত্রের বাদ্যে উচ্চস্বরে গান করে, দাউদের মত নিজেদের জন্য নানা বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবন করে;
6 তারা বড় বড় ভাণ্ডে আঙ্গুর-রস পান করে এবং উৎকৃষ্ট তেল শরীরে মাখে, কিন্তু তারা ইউসুফের দুর্দশায় দুঃখিত হয় না।
7 এজন্য এখন তারা প্রথম নির্বাসিত লোকদের সঙ্গে নির্বাসিত হবে ও আরামে শয়নকারীদের আনন্দ-চিৎকার শেষ হবে।
8
সার্বভৌম মাবুদ নিজের নামে কসম খেয়েছেন, এই কথা বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ বলেন; আমি ইয়াকুবের অহংকার ঘৃণা করি ও তার অট্টালিকাগুলো দেখতে পারি না; এজন্য আমি নগর ও তার মধ্যকার সকলকে অন্যের হাতে তুলে দেব।
9
একটি বাড়িতে দশ জন মানুষ অবশিষ্ট থাকলেও তারা মারা পড়বে।
10 আর বাড়ি থেকে লাশগুলো বের করার জন্য কোন ব্যক্তির চাচা, এমন কি, শবদাহকারী, তাকে তোলার পর অন্তঃপুরস্থ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবে, এখনও কি তোমার কাছে আর কেউ আছে? সে বলবে, কেউ নেই। তখন সে বলবে, চুপ কর; মাবুদের নাম উচ্চারণ করার নয়।
11 কারণ দেখ, মাবুদ হুকুম করেন আর বড় বাড়ি খণ্ড-বিখণ্ড ও ছোট বাড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
12
শৈলে কি ঘোড়ারা দৌড়াবে, কিংবা কেউ বলদ নিয়ে হাল বইবে? তবে তোমরা কেন বিচারকে বিষবৃক্ষস্বরূপ ও ধার্মিকতার ফলকে তিক্ত বস্তুস্বরূপ করেছ?
13 তোমরা অবস্তুতে আনন্দ করছো, বলছো, আমরা কি নিজেদের বলে শৃঙ্গ দু’টি লাভ করি নি?
14 কারণ, হে ইসরাইল-কুল, দেখ, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে একটি জাতি দাঁড় করাব, এই কথা বাহিনীগণের আল্লাহ্ মাবুদ বলেন; তারা হমাতের প্রবেশস্থান থেকে অরাবা সমভূমির স্রোতোমার্গ পর্যন্ত তোমাদের প্রতি জুলুম করবে।
1
সার্বভৌম মাবুদ আমাকে এরকম দেখালেন; দেখ, পরবর্তী সময়ে অঙ্কুরিত ঘাসের অঙ্কুরারম্ভে তিনি পঙ্গপালদেরকে গঠন করলেন; আর দেখ, বাদশাহ্র ঘাস কাটার পরে সেই ঘাস উৎপন্ন হচ্ছিল।
2 তারা ভূমির ওষধি নিঃশেষে ভোজন করলে আমি বললাম, হে সার্বভৌম মাবুদ, আরজ করি, মাফ কর; ইয়াকুব কিভাবে দাঁড়াবে? কেননা সে ক্ষুদ্র।
3 মাবুদ সেই বিষয়ে অনুশোচনা করলেন; মাবুদ বললেন, ঐ রকম ঘটবে না।
4
সার্বভৌম মাবুদ আমাকে এরকম দেখালেন; দেখ, সার্বভৌম মাবুদ বিবাদের জন্য আগুনকে আহ্বান করলেন, আর সে মহাজলধিকে গ্রাস করে ভূমি গ্রাস করতে লাগল।
5 তখন আমি বললাম, হে সার্বভৌম মাবুদ, আরজ করি, ক্ষান্ত হও; ইয়াকুব কিভাবে দাঁড়াবে? কেননা সে ক্ষুদ্র।
6 মাবুদ সেই বিষয়ে অনুশোচনা করলেন; সার্বভৌম মাবুদ বললেন, এও হবে না।
7
তিনি আমাকে এরকম দেখালেন, দেখ, প্রভু ওলোন হাতে নিয়ে ওলোনের দ্বারা প্রস্তুত একটি দেয়ালের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন।
8 আর মাবুদ আমাকে বললেন, আমোজ, তুমি কি দেখছ? আমি বললাম, ওলোন দেখতে পাচ্ছি। তখন প্রভু বললেন, দেখ, আমি আমার লোক ইসরাইলের মধ্যে ওলোনসূত্র লাগাচ্ছি, তাদের আর অমনি ছেড়ে যাব না।
9 আর ইস্হাকের উচ্চস্থলীগুলো ধ্বংস হবে, ইসরাইলের পবিত্রস্থানগুলো উৎসন্ন হবে এবং আমি তলোয়ার নিয়ে ইয়ারাবিমের কুলের বিরুদ্ধে উঠবো।
10
তখন বেথেলের ইমাম অমৎসিয় ইসরাইলের বাদশাহ্ ইয়ারাবিমের কাছে এই কথা বলে পাঠাল, আমোজ ইসরাইল-কুলের মধ্যে নিজের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে, দেশ তার এত কথা সহ্য করতে পারে না।
11 কেননা আমোজ এই কথা বলছে, ইয়ারাবিম তলোয়ারের আঘাতে নিহত হবেন ও ইসরাইল অবশ্য স্বদেশ থেকে নির্বাসিত হবে।
12
আর অমৎসিয় আমোজকে বললো, হে দর্শক, তুমি যাও, এহুদা দেশে পালিয়ে যাও, সেই স্থানে রুটি আহার কর ও সেই স্থানে ভবিষ্যদ্বাণী বল;
13 কিন্তু বেথেলে আর কখনও ভবিষ্যদ্বাণী বলো না, কেননা এটা বাদশাহ্র পবিত্র স্থান ও রাজপুরী।
14
তখন আমোজ উত্তরে অমৎসিয়কে বললেন, আমি নিজে নবী ছিলাম না, নবীর সন্তানও ছিলাম না, কেবল ভেড়ার রাখাল ও ডুমুরফল সংগ্রাহক ছিলাম।
15 কিন্তু মাবুদ আমাকে পশুপালের পিছনে চলা থেকে নিয়ে আসলেন এবং মাবুদ আমাকে বললেন, যাও, আমার লোক ইসরাইলের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বল।
16 অতএব এখন তুমি মাবুদের কালাম শোন, তুমি বলছো, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী বলো না, ইস্হাক-কুলের বিরুদ্ধে প্রচার করো না;
17 এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, তোমার স্ত্রী নগরে পতিতা হবে, তোমার পুত্রকন্যারা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে, তোমার ভূমি মানরজ্জু দ্বারা বিভক্ত হবে এবং তুমি নিজে নাপাক দেশে মারা যাবে, আর ইসরাইল স্বদেশ থেকে অবশ্য নির্বাসিত হবে।
1
সার্বভৌম মাবুদ আমাকে এরকম দেখালেন; দেখ, এক ঝুড়ি গ্রীষ্মের ফল। আর তিনি বললেন, আমোজ, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ?
2 আমি বললাম, এক ঝুড়ি গ্রীষ্মের ফল। তখন মাবুদ আমাকে বললেন, আমার লোক ইসরাইলের কাছে পরিণাম আসল; আমি তাদের আর অমনি ছেড়ে যাব না।
3 সেদিন প্রাসাদের গান হাহাকার হয়ে যাবে, এই কথা সার্বভৌম মাবুদ বলেন; লাশ অনেক; লোকে সমস্ত জায়গায় সেই সব ফেলে দিয়েছে। চুপ!
4
ওহে তোমরা যারা দরিদ্র লোককে গ্রাস করছো ও দেশের অভাবী লোকদের লোপ করছো, তোমরা এই কালাম শোন।
5 তোমরা বলে থাক, ‘অমাবস্যা কখন গত হবে? আমরা শস্য বিক্রি করতে চাই। বিশ্রামদিন কখন গত হবে? আমরা গমের ব্যবসা করতে চাই। ঐফা ক্ষুদ্র ও শেকল ভারী করবো, আর ছলনার দাঁড়িপাল্লা দ্বারা ঠকাব;
6 রূপা দিয়ে দীনহীনদেরকে ও এক জোড়া জুতা দিয়ে দরিদ্রকে ক্রয় করবো এবং গমের ছাঁট বিক্রি করবো।’
7 মাবুদ ইয়াকুবের মহিমাস্থলের নাম নিয়ে এই কসম খেয়েছেন, নিশ্চয়ই এদের কোন কাজ আমি কখনও ভুলে যাব না।
8 এর জন্য কি দেশ কাঁপবে না? দেশ-নিবাসী সকলে কি শোকান্বিত হবে না? সমুদয় দেশ নীল নদীর মত স্ফীত হয়ে উঠবে, মিসরীয় নদীর মত ঢেউ খেলে আবার নেমে যাবে।
9
সার্বভৌম মাবুদ এই কথা বলেন, সেদিন আমি মধ্যাহ্নকালে সূর্যকে অস্তগত করবো এবং আলোর দিনে দেশকে অন্ধকারময় করবো।
10 আমি তোমাদের উৎসবগুলো শোকে ও তোমাদের সমস্ত গজল বিলাপে পরিণত করবো; সকলের কোমরে চট পরাবো ও সকলের মাথায় টাক পড়াব; একমাত্র পুত্রশোকের মত দেশকে শোক করাব এবং তার শেষকাল তীব্র দুঃখের দিন হবে।
11
সার্বভৌম মাবুদ বলেন, দেখ, এমন দিন আসছে, যে দিনে আমি এই দেশে দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করবো; তা খাবারের দুর্ভিক্ষ কিংবা পানির পিপাসা নয়, কিন্তু মাবুদের কালাম শ্রবণের।
12 লোকেরা টলতে টলতে এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্র পর্যন্ত এবং উত্তর থেকে পূর্ব পর্যন্ত ভ্রমণ করবে; তারা মাবুদের কালামের খোঁজে ইতস্তত দৌড়াদৌড়ি করবে, কিন্তু তা পাবে না।
13 সেদিন সুন্দরী যুবতীরা ও যুবকেরা পিপাসায় মূর্চ্ছাপন্ন হবে।
14 যারা সামেরিয়ার গুনাহ্ নিয়ে শপথ করে, বলে, ‘হে দান, তোমার জীবন্ত আল্লাহ্র কসম, বের্শেবার জীবন্ত পথের কসম,’ তারা পড়ে যাবে, আর কখনও উঠবে না।
1
আমি প্রভুকে দেখলাম, তিনি কোরবানগাহ্র কাছে দণ্ডায়মান ছিলেন; তিনি বললেন, তুমি স্তম্ভের শীর্ষস্থানে আঘাত কর, দ্বারের গোবরাট কেঁপে উঠুক, তুমি সকলের মাথায় তা ভেঙ্গে ফেল; আর তাদের শেষাংশকে আমি তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করবো, তাদের মধ্যে এক জনও পলাতে পারবে না, এক জনও রক্ষা পেতে পারবে না।
2 তারা খনন করে পাতাল পর্যন্ত গেলেও সেখান থেকে আমার হাত তাদেরকে ধরে আনবে এবং আসমান পর্যন্ত উঠলেও আমি সেখান থেকে তাদেরকে নামাব।
3 আর তারা কর্মিলের শৃঙ্গে গিয়ে লুকালেও আমি সেখানে অনুসন্ধান করে তাদেরকে ধরবো; আমার দৃষ্টি সীমা থেকে সমুদ্রের তলে গিয়ে লুকালেও আমি সেখানে সাপকে হুকুম দেব, সে তাদেরকে দংশন করবে।
4 আর তারা দুশমনদের সম্মুখে বন্দীদশার স্থানে গেলেও আমি সেখানে তলোয়ারকে হুকুম দেব, আর তা তাদেরকে হত্যা করবে; এভাবে অমঙ্গলের জন্য আমি তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখবো, মঙ্গলের জন্য নয়।
5
প্রভু, বাহিনীগণের মাবুদ, তিনিই দেশকে স্পর্শ করলে তা গলে যায় ও দেশ-নিবাসী সকলে শোকান্বিত হয়; এবং সমুদয় দেশ নীল নদীর মত স্ফীত হয়ে উঠবে, মিসরীয় নদীর মত নেমে যাবে।
6 তিনি আসমানে তাঁর উঁচু কক্ষগুলো নির্মাণ করেছেন, দুনিয়ার উপরে তাঁর চন্দ্রাতপ স্থাপন করেছেন; তিনি সমুদ্রের জলরাশিকে ডেকে স্থলের উপরে ঢেলে দেন; মাবুদ তাঁর নাম।
7 মাবুদ বলেন, হে বনি-ইসরাইল, তোমরা কি আমার কাছে ইথিওপীয়দের মত নও? আমি কি মিসর দেশ থেকে ইসরাইলকে, কপ্তোর থেকে ফিলিস্তিনীদেরকে এবং কীর থেকে অরামীয়দেরকে আনি নি?
8 দেখ, সার্বভৌম মাবুদের দৃষ্টি এই গুনাহ্গার রাজ্যের উপরে রয়েছে; আর আমি ভূতল থেকে তা মুছে ফেলব; তবুও ইয়াকুবের কুলকে একেবারে মুছে ফেলব না, মাবুদ এই কথা বলেন।
9 কারণ দেখ, আমি হুকুম দেব, আর যেমন কুলাতে শস্য চালে, তেমনি আমি সমস্ত জাতির মধ্যে ইসরাইল-কুলকে চালব, কিন্তু একটি কণাও ভূমিতে পড়বে না।
10 আমার সেই গুনাহ্গার লোকেরা সকলে তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে, যারা বলছে, অমঙ্গল আমাদের কাছ পর্যন্ত আসবে না, আমাদের সম্মুখবর্তী হবে না।
11
সেদিন আমি দাউদের পড়ে যাওয়া কুটির পুনঃস্থাপন করবো, তার ফাটল বন্ধ করে দেব ও উৎপাটিত স্থানগুলো পুনর্গঠন করবো এবং আগের মত তা নির্মাণ করবো;
12 যেন তারা ইদোমের অবশিষ্ট লোক এবং যত জাতির উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে, সকলের অধিকারী হয়; মাবুদ, যিনি তা সাধন করেন, তিনি এই কথা বলেন।
13
মাবুদ বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে হালবাহক শস্যচ্ছেদকের সঙ্গে ও আঙ্গুরপেষক বীজ বাপকের সঙ্গে মিলবে; পর্বতগুলো থেকে মিষ্ট আঙ্গুর-রস ক্ষরণ হবে এবং সকল উপপর্বত গলে যাবে।
14 আর আমি আমার লোক ইসরাইলের বন্দীদশা ফিরাব; তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরগুলো নির্মাণ করে সেখানে বাস করবে, আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করে তার রস পান করবে এবং বাগান প্রস্তুত করে তার ফল ভোগ করবে।
15 আর আমি তাদের ভূমিতে তাদের রোপণ করবো; আমি তাদেরকে যে ভূমি দিয়েছি, তা থেকে তারা আর উৎপাটিত হবে না; তোমার আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বলেন।
1
ওবদিয়ের দর্শন।
সার্বভৌম মাবুদ ইদোমের বিষয়ে এই কথা বলেন। আমরা মাবুদের কাছ থেকে বার্তা শুনেছি এবং জাতিদের কাছে এক ফেরেশতা প্রেরিত হয়েছে; তোমরা ওঠ, চল, আমরা তার বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য যাই।
2 দেখ, আমি তোমাকে জাতিদের মধ্যে ক্ষুদ্র করেছি; তুমি নিতান্ত অবজ্ঞার পাত্র।
3 হে শৈলের ফাটলে বাসকারী, হে উঁচু স্থান-নিবাসী, তোমার অন্তঃকরণের অহঙ্কার তোমাকে বঞ্চনা করেছে; তুমি মনে মনে বলছো, কে আমাকে ভূমিতে নামাবে?
4 তুমি যদিও ঈগল পাখির মত উচ্চে আরোহণ কর, যদিও তারাগুলোর মধ্যে তোমার বাসা স্থাপিত হয়, তবুও আমি তোমাকে সেখান থেকে নামাব, মাবুদ এই কথা বলেন।
5
তোমার কাছে যদি চোরেরা আসে, রাত্রিকালীন বিনাশকারীরা আসে— তুমি কেমন উচ্ছিন্ন হবে!— তবে তারা কি কেবল প্রয়োজনমত চুরি করবে? তোমার কাছে যদি আঙ্গুর সংগ্রহকারীরা আসে, তারা কি কিছু ফল অবশিষ্ট রাখবে না?
6 ইসের সম্পত্তি কেমন খোঁজ করা গেছে! তার গুপ্তধনের কেমন অনুসন্ধান হয়েছে!
7 যেসব লোক তোমার সঙ্গে চুক্তি করেছে, তারা তোমাকে সীমা পর্যন্ত বিদায় দিয়েছে; তোমার মিত্ররা তোমাকে প্রবঞ্চনা করে পরাজিত করেছে; যারা তোমার খাদ্য খায়, তারা তোমার নিচে ফাঁদ পাতে; না, ইদোমে কোন বিবেচনাবোধ নেই।
8
মাবুদ বলেন, সেদিন আমি কি ইদোমের জ্ঞানবানদের বিনষ্ট করবো না? ইসের পর্বত থেকে কি বুদ্ধিমানদের দূর করবো না?
9 হে তৈমন, তোমার বীরেরা ভীষণ ভয় পাবে, যেন ইসের পর্বত থেকে নরহত্যায় সকল মানুষ উচ্ছিন্ন হয়।
10
তোমার ভাই ইয়াকুবের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্যের জন্য তুমি লজ্জায় আচ্ছন্ন ও চিরকালের জন্য উচ্ছিন্ন হবে।
11 যেদিন তুমি অন্য পক্ষে দাঁড়িয়েছিলে, যেদিন বিদেশীরা তার সম্পত্তি হরণ করে নিয়ে গিয়েছিল ও বিজাতিরা তার তোরণদ্বারে প্রবেশ করেছিল এবং জেরুশালেমের উপরে গুলিবাঁট করেছিল, সেদিন তুমিও তাদের একজনের মত ছিলে।
12 কিন্তু তোমার ভাইয়ের দুর্দিনে, তার বিষম দুর্দশার দিনে, তার দিকে তুচ্ছদৃষ্টি করো না; এহুদার সন্তানদের বিনাশের দিনে তাদের বিষয়ে আনন্দ করো না এবং সঙ্কটের দিনে অহংকারের কথা বলো না।
13 আমার লোকদের দুর্যোগের দিনে তাদের তোরণদ্বারে প্রবেশ করো না; তুমি তাদের দুর্যোগের দিনে তাদের অমঙ্গলের দিকে দৃষ্টি দিয়ো না এবং তাদের দুর্যোগের দিনে তাদের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করো না।
14 আর তাদের পলাতকদের খুন করার জন্য পথের সংযোগ স্থানে দাঁড়াবে না; এবং সঙ্কটের দিনে তাদের রক্ষা পাওয়া লোকদের দুশমনদের হাতে তুলে দিও না।
15
কেননা সর্বজাতির উপরে মাবুদের দিন সন্নিকট; তুমি যেরকম করেছ, তোমার প্রতিও তেমনি করা যাবে, তোমার অপকারের ফল তোমারই মাথায় বর্তাবে।
16 কেননা আমার পবিত্র পর্বতে তোমরা যেভাবে পান করেছ, তেমনি সমস্ত জাতি অনবরত পান করবে, পান করতে করতে গিলবে, পরে তারা এমন হবে যে, তাদের কখনও কোন অস্তিত্ব ছিল না।
17
কিন্তু সিয়োন পর্বতে রক্ষা পাওয়া লোকেরা থাকবে, আর তা পবিত্র হবে এবং ইয়াকুবের কুল নিজেদের অধিকারের অধিকারী হবে।
18 আর ইয়াকুবের কুল আগুন ও ইউসুফের কুল শিখা, আর ইসের কুল নাড়াস্বরূপ হবে; সেই আগুন তাদের গ্রাস করবে; তাতে ইসের কুলে রক্ষা পাওয়া কোন লোক থাকবে না, কারণ মাবুদ এই কথা বলেছেন।
19
তখন দক্ষিণের লোকেরা ইসের পর্বত ও নিম্নভূমির লোকেরা ফিলিস্তিনীদের দেশ অধিকার করবে; আর লোকেরা আফরাহীম ও সামেরিয়ার ভূমি অধিকার করবে; এবং বিন্ইয়ামীন গিলিয়দকে অধিকার করবে।
20 আর বনি-ইসরাইলদের নির্বাসিত সৈন্য সারিফৎ পর্যন্ত কেনানীয়দের দেশ অধিকার করবে এবং জেরুশালেমের যে নির্বাসিত লোকেরা সফারদে আছে তারা দক্ষিণের নগরগুলো অধিকার করবে।
21 আর ইসের পর্বতের বিচার করার জন্য শাসনকর্তারা সিয়োন পর্বতে উঠবে; এবং রাজ্য মাবুদের হবে।
1
মাবুদের এই কালাম অমিত্তয়ের পুত্র ইউনুসের কাছে নাজেল হল,
2 তুমি ওঠ, নিনেভেতে, সেই মহানগরে যাও, আর নগরের বিরুদ্ধে ঘোষণা কর, কেননা তাদের নাফরমানী আমার সম্মুখে উঠেছে।
3
কিন্তু ইউনুস মাবুদের সম্মুখ থেকে তর্শীশে পালিয়ে যাবার জন্য উঠলেন; তিনি যাফোতে নেমে তর্শীশে যাবে এমন একটি জাহাজ পেলেন; তখন জাহাজের ভাড়া দিয়ে মাবুদের সম্মুখ থেকে নাবিকদের সঙ্গে তর্শীশে যাবার জন্য সেই জাহাজে প্রবেশ করলেন।
4 কিন্তু মাবুদ সমুদ্রে প্রচণ্ড বায়ু পাঠিয়ে দিলেন, সমুদ্রে ভারী ঝড় উঠলো, এমন কি, জাহাজ ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হল।
5 তখন নাবিকেরা ভয় পেল, প্রত্যেকে নিজ নিজ দেবতার কাছে কাঁদতে লাগল, আর ভার লাঘবের জন্য জাহাজের মাল সমুদ্রে ফেলে দিল। কিন্তু ইউনুস জাহাজের খোলে নেমেছিলেন এবং সেখানে শয়ন করে গভীর নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন।
6
তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন তাঁর কাছে এসে বললেন, ওহে, তুমি যে ঘুমাচ্ছো তোমার কি হল? ওঠ, তোমার আল্লাহ্কে ডাক; হয় তো আল্লাহ্ আমাদের বিষয় চিন্তা করবেন ও আমরা ধ্বংস হব না।
7 পরে নাবিকেরা পরসপর বললো, এসো, আমরা গুলিবাঁট করি, তা হলে জানতে পারব, কার দোষে আমাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটছে। পরে তারা গুলিবাঁট করলো, আর ইউনুসের নামে গুলি উঠলো।
8 তখন তারা তাকে বললো, বল দেখি, কার দোষে আমাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটছে? তোমার ব্যবসা কি? তুমি কোথা থেকে এসেছো? তুমি কোন্ দেশের লোক? কোন্ জাতির লোক?
9 তিনি তাদেরকে বললেন, আমি এক জন ইবরানী; আমি মাবুদকে ভয় করি, তিনি বেহেশতের আল্লাহ্, তিনি সমুদ্র ও স্থল নির্মাণ করেছেন।
10 তখন সেই লোকেরা ভীষণ ভয় পেয়ে তাঁকে বললো, তুমি এ কি কাজ করেছ? কেননা তিনি যে মাবুদের সম্মুখ থেকে পালাচ্ছেন, তা তারা জানত, কারণ তিনি তাদেরকে বলেছিলেন।
11
পরে তারা তাঁকে বললো, আমরা তোমাকে কি করলে সমুদ্র আমাদের প্রতি ক্ষান্ত হতে পারে? কেননা সমুদ্র উত্তরোত্তর প্রচণ্ড হয়ে উঠছিল।
12 তিনি তাদেরকে বললেন, আমাকে ধরে সমুদ্রে ফেলে দাও, তাতে সমুদ্র তোমাদের পক্ষে ক্ষান্ত হবে; কেননা আমি জানি, আমারই দোষে তোমাদের উপরে এই ভারী ঝড় উপস্থিত হয়েছে।
13 তবুও সেই লোকেরা জাহাজ ফিরিয়ে ডাঙ্গায় নিয়ে যাবার জন্য ঢেউ কাটতে চেষ্টা করতে লাগল; কিন্তু পারল না, কারণ সমুদ্র তাদের বিপরীতে উত্তরোত্তর প্রচণ্ড হয়ে উঠছিল।
14 এজন্য তারা মাবুদকে ডাকতে লাগল, আর বললো, ফরিয়াদ করি, হে মাবুদ, ফরিয়াদ করি, এই ব্যক্তির প্রাণের জন্য আমাদের বিনাশ না হোক এবং আমাদের উপরে নির্দোষের রক্ত অর্পণ করো না; কেননা, হে মাবুদ, তুমি তোমার ইচ্ছামত কাজ করেছ।
15 পরে তারা ইউনুসকে ধরে সমুদ্রে ফেলে দিল, তাতে সমুদ্র থামল, আর প্রচণ্ড হল না।
16 তখন সেই লোকেরা মাবুদকে ভীষণ ভয় করতে লাগল; আর তারা মাবুদের উদ্দেশে কোরবানী করলো এবং নানা মানত করলো।
17
আর মাবুদ ইউনুসকে গ্রাস করার জন্য একটা বড় মাছ ঠিক করে রেখেছিলেন; সেই মাছের উদরে ইউনুস তিন দিন ও তিন রাত রইলেন।
1
তখন ইউনুস ঐ মাছটির উদরে থেকে তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন। তিনি বললেন,
2
আমি সঙ্কটে মাবুদকে ডাকলাম,
আর তিনি আমাকে জবাব দিলেন;
আমি পাতালের উদর থেকে আর্তনাদ করলাম,
তুমি আমার ফরিয়াদ শুনলে।
3
তুমি আমাকে অগাধ পানিতে, সমুদ্র-গর্ভে নিক্ষেপ করলে,
আর স্রোত আমাকে বেষ্টন করলো,
তোমার সকল ঢেউ, তোমার সকল তরঙ্গ,
আমার উপর দিয়ে বয়ে গেল।
4
আমি বললাম, আমি তোমার দৃষ্টি সীমা থেকে দূরীভূত,
তবুও পুনরায় তোমার পবিত্র এবাদতখানার দিকে দৃষ্টিপাত করবো।
5
জলরাশি আমাকে ঘিরে ধরলো, প্রাণ পর্যন্ত উঠলো,
জলধি আমাকে বেষ্টন করলো,
লতাগুল্ম আমার মাথায় জড়াল।
6
আমি পর্বতমালার মূল পর্যন্ত নেমে গেলাম;
আমার পিছনে দুনিয়ার অর্গলগুলো চিরতরে বন্ধ হল;
তবুও, হে আমার আল্লাহ্ মাবুদ,
তুমি আমার প্রাণকে কূপ থেকে উঠালে।
7
আমার প্রাণ অবসন্ন হলে আমি মাবুদকে স্মরণ করলাম,
আর আমার মুনাজাত তোমার কাছে,
তোমার পবিত্র এবাদতখানায় উপস্থিত হল।
8
যারা মিথ্যা দেবদেবী মানে,
তারা নিজের দয়ানিধিকে পরিত্যাগ করে;
9
কিন্তু আমি তোমার উদ্দেশে প্রশংসা-গজল সহ কোরবানী করবো;
আমি যে মানত করেছি, তা পূর্ণ করবো;
মাবুদেরই কাছেই উদ্ধার।
10
পরে মাবুদ সেই মাছটিকে হুকুম করলেন, আর সে ইউনুসকে শুকনো ভূমির উপরে বমি করে দিল।
1
পরে দ্বিতীয়বার মাবুদের কালাম ইউনুসের উপর নাজেল হল;
2 তিনি বললেন, তুমি উঠ, নিনেভেতে, সেই মহানগরে যাও, আর আমি তোমাকে যা ঘোষণা করতে বলি, তা সেই নগরের উদ্দেশে ঘোষণা কর।
3 তখন ইউনুস মাবুদের কালাম অনুসারে নিনেভেতে গেলেন। নিনেভে আল্লাহ্র দৃষ্টিতে মহানগর, সেখানে তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে হেঁটে যেতে তিন দিন লাগত।
4 পরে ইউনুস নগরে প্রবেশ করতে আরম্ভ করে এক দিনের পথ গেলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, ‘আর চল্লিশ দিন গত হলে নিনেভে উৎপাটিত হবে।’
5
তখন নিনেভে শহরের লোকেরা আল্লাহ্র উপরে ঈমান আনলো; তারা রোজা ঘোষণা করলো এবং মহান থেকে ক্ষুদ্র পর্যন্ত সকলে চট পরলো।
6
আর সেই বার্তা নিনেভের বাদশাহ্র কাছে পৌঁছালে পর তিনি তাঁর সিংহাসন থেকে উঠলেন, শরীরের শাল রেখে দিলেন এবং চট পরে ভস্মে বসলেন।
7 আর তিনি নিনেভেতে বাদশাহ্র ও তাঁর রাজ-কর্মচারীদের হুকুমে এই কথা উচ্চৈঃস্বরে প্রচার করালেন, মানুষ ও গোমেষাদি পশু কেউ কিছু আস্বাদন না করুক, ভোজন বা পানি গ্রহণ না করুক;
8 কিন্তু মানুষ ও পশু চট পরে যথাশক্তি আল্লাহ্কে ডাকুক, আর প্রত্যেকে নিজ নিজ কুপথ ও নিজ নিজ খারাপ পথ ও দৌরাত্ম্য থেকে ফিরে আসুক।
9 হয় তো, আল্লাহ্ ক্ষান্ত হবেন, মন পরিবর্তন করবেন ও তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত হবেন, তাতে আমরা বিনষ্ট হব না।
10
তখন আল্লাহ্ তাদের কাজ, তারা যে নিজ নিজ কুপথ থেকে বিমুখ হল, তা দেখলেন, আর তাদের যে অমঙ্গল করবেন বলেছিলেন, সেই বিষয়ে অনুশোচনা করলেন; তা করলেন না।
1
কিন্তু এতে ইউনুস মহা বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হলেন।
2 তিনি মাবুদের কাছে মুনাজাত করে বললেন, হে মাবুদ, ফরিয়াদ করি, আমি স্বদেশে থাকতে কি এই কথাই বলি নি? সেজন্য দ্রুত তর্শীশে পালাতে গিয়েছিলাম; কেননা আমি জানতাম, তুমি কৃপাময় ও স্নেহশীল আল্লাহ্, ক্রোধে ধীর ও অটল মহব্বতে মহান এবং অমঙ্গলের বিষয়ে অনুশোচনাকারী।
3 অতএব এখন, হে মাবুদ, ফরিয়াদ করি, আমা থেকে আমার প্রাণ হরণ কর, কেননা আমার জীবনের চেয়ে মরণ ভাল।
4 মাবুদ বললেন, তুমি ক্রোধ করে কি ভাল করছো?
5 তখন ইউনুস নগরের বাইরে গিয়ে নগরের পূর্ব দিকে বসে রইলেন; সেখানে তিনি নিজের জন্য একটি কুটির তৈরি করে তার নিচে ছায়াতে বসলেন, নগরের কি দশা হয় দেখবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।
6
তখন মাবুদ আল্লাহ্ একটি এরণ্ড গাছ নিরূপণ করলেন; আর সেই গাছটি বাড়িয়ে ইউনুসের উপরে আনলেন, যেন তাঁর মাথার উপরে ছায়া হয়, যেন তাঁর কষ্ট থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। আর ইউনুস সেই এরণ্ড গাছটির জন্য বড় খুশি হলেন।
7 কিন্তু পর দিন সূর্য ওঠার সময় আল্লাহ্ একটি কীট নিরূপণ করলেন, সে ঐ এরণ্ড গাছটিকে দংশন করলে তা শুকিয়ে গেল।
8 পরে যখন সূর্য উঠলো, আল্লাহ্ উষ্ণ পূর্বীয় বায়ু নির্ধারণ করলেন, তাতে ইউনুসের মাথায় এমন রৌদ্র লাগল যে, তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে নিজের মৃত্যুর জন্য মুনাজাত করে বললেন, আমার জীবনের চেয়ে মরণ ভাল।
9
তখন আল্লাহ্ ইউনুসকে বললেন, তুমি এরণ্ড গাছটির জন্য ক্রোধ করে কি ভাল করছো? তিনি বললেন, মৃত্যু পর্যন্ত আমার ক্রোধ করাই ভাল।
10 মাবুদ বললেন, তুমি এই এরণ্ড গাছের জন্য কোন শ্রম কর নি এবং এটা বাড়িয়ে তোল নি; এটি এক রাতে উৎপন্ন ও এক রাতে উচ্ছিন্ন হল, তবুও এর প্রতি তোমার দয়াবোধ জেগে উঠেছে।
11 তবে আমি কি নিনেভের প্রতি, ঐ মহানগরের প্রতি, দয়া করবো না? সেখানে এমন এক লক্ষ বিশ হাজারের বেশি মানুষ আছে, যারা ডান হাত থেকে বাম হাতের প্রভেদ জানে না; আর অনেক পশুও আছে।
11
এহুদার বাদশাহ্ যোথম, আহস ও হিষ্কিয়ের সময়ে মাবুদের এই কালাম মোরেষ্টীয় মিকাহ্র উপর নাজেল হল; তিনি সামেরিয়া ও জেরুশালেমের বিষয় এই দর্শন পেলেন।
সামেরিয়া ও জেরুশালেমের ভাবী দণ্ড
হে জাতিরা, তোমরা সকলেই শোন; হে দুনিয়া ও তার সমস্ত বস্তু, মনোযোগ দাও; আর সার্বভৌম মাবুদ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হোন, প্রভু তাঁর পবিত্র এবাদতখানা থেকে সাক্ষী হোন।
কেননা দেখ, মাবুদ তাঁর স্থান থেকে বের হয়ে আসছেন, তিনি নেমে দুনিয়ার উচ্চস্থলীগুলোর উপর দিয়ে গমন করবেন। তাঁর নিচে পর্বতমালা গলে যাবে, উপত্যকাগুলো বিদীর্ণ হবে, যেমন আগুনের উত্তাপে মোম গলে যায়, যেমন গড়ান স্থানে পানি ঝরে পড়ে। ইয়াকুবের অধর্মের জন্য ও ইসরাইল-কুলের বিবিধ গুনাহের জন্য এসব হচ্ছে, ইয়াকুবের অধর্ম কি? সামেরিয়া কি নয়? এহুদার উচ্চস্থলীগুলোই বা কি? জেরুশালেম কি নয়?
এজন্য আমি সামেরিয়াকে মাটির ধ্বংসস্তূপ করবো, আঙ্গুরলতার বাগান করবো; আমি তার পাথরগুলো উপত্যকায় ফেলে দেব, তার ভিত্তিমূল অনাবৃত করবো। আর তার সমস্ত খোদাই-করা মূর্তি খণ্ডবিখণ্ড করা যাবে ও তার সমস্ত বেতন আগুনে পোড়ান যাবে এবং আমি তার সকল মূর্তি ধ্বংস করবো, কেননা সে পতিতার বেতন দ্বারা তা সঞ্চয় করেছে এবং তা পুনরায় পতিতার বেতন হয়ে যাবে।
এহুদার শহরগুলোর উপরে বিচারদণ্ড
এজন্য আমি মাতম ও হাহাকার করবো, আমি খালি পায়ে ও উলঙ্গ হয়ে বেড়াব, আমি শিয়ালদের মত মাতম করবো, উটপাখিদের মত শোকধ্বনি করবো। কেননা তার ক্ষত চিকিৎসায় সুস্থতা লাভ করবে না; হ্যাঁ, তা এহুদা পর্যন্ত উপস্থিত; আমার জাতির তোরণদ্বার পর্যন্ত, জেরুশালেম পর্যন্ত উপস্থিত। তোমরা গাতে এই কথা জানিয়ো না, একটুও কান্নাকাটি করো না, বৈৎ-লি-অফ্রায় আমি ধূলিতে গড়াগড়ি দিয়েছি। হে শাফীর-নিবাসীনী, তুমি উলঙ্গ ও লজ্জিত হয়ে চলে যাও; সানন-নিবাসীনী বাইরে যেতে পারে না; বৈৎ-এৎসলের মাতম তোমাদের থেকে তার অবলম্বন হরণ করবে।
12 মারোৎ-নিবাসীনী মঙ্গলের আকাঙক্ষায় অতিশয় পীড়িতা, কেননা জেরুশালেমের দ্বার পর্যন্ত মাবুদের কাছ থেকে অমঙ্গল উপস্থিত হয়েছে।
13 হে লাখীশ-নিবাসীনী, তুমি ঘোড়ার গাড়িতে দ্রুতগামী পশু যোগ কর; সে সিয়োন-কন্যার অগ্রিম গুনাহ্স্বরূপ ছিল, কেননা তোমার মধ্যে ইসরাইলের অধর্মগুলো পাওয়া গেল।
14 এজন্য তুমি মোরেষৎ-গাৎকে বিদায়কালীন উপহার দেবে; ইসরাইলের বাদশাহ্দের পক্ষে অক্ষীবের বাড়িগুলো প্রতারণা-স্বরূপ হবে।
15 হে মারেশা-নিবাসীনী, আমি পুনর্বার তোমার বিরুদ্ধে এক অধিকারীকে আনবো; ইসরাইলের গৌরব অদুল্লম পর্যন্ত আসবে।
16 তুমি তোমার আদরের পাত্র শিশুদের জন্য মাথা মুণ্ডন কর, চুল কেটে ফেল, শকুনীর মত তোমার টাক বৃদ্ধি কর, কেননা তারা তোমার কাছ থেকে নির্বাসনে গেছে।
1
ধিক্ তাদেরকে, যারা নিজ নিজ বিছানায় অধর্ম কল্পনা ও কুকর্ম স্থির করে! তারা রাত প্রভাত হওয়ামাত্র তা সাধন করে, কেননা তা তাদের ক্ষমতার অধীন।
2 তারা ভূমির প্রতি লোভ করে সবলে তা কেড়ে নেয় এবং ঘরের প্রতিও লোভ করে তা হরণ করে; এভাবে তারা পুরুষ ও তার ঘরের প্রতি, মানুষের ও তার পৈতৃক অধিকারের প্রতি দৌরাত্ম্য করে।
3
এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন অমঙ্গল কল্পনা করি, যা থেকে তোমরা নিজ নিজ ঘাড় বের করতে পারবে না এবং গর্ব করে চলতে পারবে না; কেননা সেই সময় দুঃসময়।
4
সেদিন লোকেরা তোমাদের বিষয়ে একটি প্রবাদ গ্রহণ করবে এবং আর্তনাদ সহকারে মাতম করবে, বলবে, আমাদের নিতান্তই সর্বনাশ হল, তিনি আমার জাতির অধিকার হস্তান্তর করেন; তিনি একেবারে আমার কাছ থেকে তা দূর করেন! আমাদের ভূমি ভাগ করে ধর্মত্যাগী লোককে দেন।
5
এজন্য গুলিবাঁট দ্বারা জমি ভাগ করতে মাবুদের সমাজে তোমার কেউ থাকবে না।
6
‘তোমরা তবলিগ করো না,’ এভাবে তারা তবলিগ করে; ‘কেউ তাদের কাছে এই কথা তবলিগ করা উচিত হবে না; অপমান ঘুচবে না।’
7 হে ইয়াকুবের কুল, এ কি বলা যাবে, ‘মাবুদের রূহ্ কি সঙ্কুচিত হয়েছে?’ এসব কি তাঁর কাজ? সরলাচারী লোকের পক্ষে আমার কালামগুলো কি মঙ্গলজনক নয়?
8 কিন্তু সম্প্রতি আমার লোকেরা দুশমনের মত হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে; যুদ্ধবিমুখ নিশ্চিন্ত পথিকদের শরীরের কাপড় থেকে তোমরা শাল কেড়ে নিচ্ছো।
9 তোমরা আমার লোকদের নারীদেরকে তাদের প্রিয় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছ, তাদের শিশুদের থেকে আমার দেওয়া শোভা চিরকালের জন্য হরণ করছে।
10 ওঠ, প্রস্থান কর, এটা তো বিশ্রামের স্থান নয়, কেননা নাপাকীতা বিনাশ করছে, আর সেই বিনাশ ভয়ানক।
11 বায়ু ও মিথ্যা কথার অনুগামী কোন লোক যদি মিথ্যা করে বলে, আমি আঙ্গুর-রস ও সুরার বিষয়ে তোমার কাছে কালাম তবলিগ করবো, তবে সে এই লোকদের কালাম-তবলিগকারী হবে।
12
হে ইয়াকুব, আমি নিশ্চয়ই তোমার সমস্ত লোককে সমবেত করবো, আমি নিশ্চয়ই ইসরাইলের অবশিষ্টাংশকে সংগ্রহ করবো; তাদেরকে বস্রার ভেড়াগুলোর মত একত্র করবো; যেমন বাথানের মধ্যস্থিত ভেড়ার পাল, তেমনি অনেক লোকের কারণে তারা কোলাহল করবে।
13
ভঙ্গকারী উঠে তাদের অগ্রগামী হলেন; তারা বেড়া ভেঙ্গেছে, দ্বারে পৌঁছেছে, তা দিয়ে বাইরে গেছে এবং তাদের বাদশাহ্ তাদের সম্মুখে চলে গেলেন; আর মাবুদ তাদের অগ্রগামী হলেন।
1
আর আমি বললাম, শোন, হে ইয়াকুবের প্রধানবর্গ ও ইসরাইল-কুলের শাসনকর্তারা ন্যায়বিচার সম্বন্ধে জানা কি তোমাদের উচিত নয়?
2 তোমরা সৎকর্ম ঘৃণা করছো ও দুষ্কর্ম ভালবাসছ, লোকদের শরীর থেকে চামড়া ও অস্থি থেকে মাংস ছাড়িয়ে নিচ্ছ।
3 এই লোকেরা আমার লোকদের গোশ্ত খাচ্ছে; তাদের চামড়া খুলে অস্থি ভেঙ্গে ফেলছে; যেমন হাঁড়ির জন্য খাদ্যদ্রব্য, কিংবা কড়াইয়ের মধ্যে গোশ্ত, তেমনি তা কুচি কুচি করে কাটছে।
4 সেই সময়ে তারা মাবুদের কাছে কান্নাকাটি করবে, কিন্তু তিনি তাদেরকে উত্তর দেবেন না; বরং তারা যেমন নিজেদের ব্যবহার দ্বারা দুষ্কর্ম করেছে, তেমনি তিনি সেই সময়ে তাদের থেকে আপন মুখ লুকাবেন।
5
যে নবীরা আমার লোকদেরকে ভ্রান্ত করে, যারা দাঁত দিয়ে দংশন করে, আর বলে, ‘শান্তি’ কিন্তু তাদের মুখে যে ব্যক্তি কিছু না দেয়, তার সঙ্গে যুদ্ধ নিরূপণ করে, তাদের বিরুদ্ধে মাবুদ এই কথা বলেন,
6 এই কারণ তোমাদের কাছে রাত উপস্থিত হবে, তোমরা দর্শন পাবে না; তোমাদের কাছে অন্ধকার উপস্থিত হবে, তোমরা মন্ত্র পাঠ করবে না; এই নবীদের উপরে সূর্য অস্তগত হবে ও এদের উপরে দিন কালো রংয়ের হবে।
7 তাতে এই দর্শকেরা লজ্জিত ও এই গণকেরা হতাশ হবে, সকলে নিজ নিজ মুখ বন্ধ করবে, কেননা আল্লাহ্ উত্তর দেবেন না।
8 কিন্তু ইয়াকুবকে তার অধর্ম ও ইসরাইলকে তার গুনাহ্ জানাবার জন্য আমি সত্যিই মাবুদের রূহের দেওয়া শক্তিতে এবং ন্যায়বিচারে ও বিক্রমে পরিপূর্ণ।
9
হে ইয়াকুব-কুলের প্রধানবর্গ ও ইসরাইল-কুলের শাসনকর্তারা তোমরা একথা শোন; তোমরা যা কিছু সরল তা বাঁকা করছো।
10 তোমরা প্রত্যেকে সিয়োনকে রক্তে ও জেরুশালেমকে জোর-জুলুমে গেঁথে তুলেছ।
11 সেখানকার প্রধানবর্গ ঘুষ নিয়ে বিচার করে, সেখানকার ইমামেরা বেতন নিয়ে শিক্ষা দেয় ও সেখানকার নবীরা টাকা নিয়ে দৈববাণী বলে; তবুও মাবুদের উপরে নির্ভর করে বলে, আমাদের মধ্যে কি মাবুদ নেই? কোন অমঙ্গল আমাদের কাছ আসবে না।
12 এজন্য তোমাদের নিমিত্ত সিয়োন ক্ষেতের মত কর্ষিত হবে ও জেরুশালেম ধ্বংসস্তূপ হয়ে যাবে এবং এবাদতখানার পর্বত বনের উচ্চস্থলীর সমান হবে।
1
কিন্তু শেষকালে এরকম ঘটবে; মাবুদের গৃহের পর্বত অন্য পর্বতমালার মস্তকরূপে স্থাপিত হবে, উপপর্বতগুলো থেকে উচ্চীকৃত হবে; তাতে জাতিরা তার দিকে স্রোতের মত প্রবাহিত হবে।
2 আর অনেক জাতি যেতে যেতে বলবে, চল, আমরা মাবুদের পর্বতে, ইয়াকুবের আল্লাহ্র গৃহে গিয়ে উঠি; তিনি আমাদের তাঁর পথের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন, আর আমরা তাঁর পথে গমন করবো; কারণ সিয়োন থেকে শরীয়ত ও জেরুশালেম থেকে মাবুদের কালাম বের হবে।
3 আর তিনি অনেক জাতির মধ্যে বিচার করবেন এবং দূরস্থ বলবান জাতিদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন; আর তারা নিজ নিজ তলোয়ার ভেঙ্গে লাঙ্গলের ফাল গড়বে ও নিজ নিজ বর্শা ভেঙ্গে কাস্তে গড়বে; এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর তলোয়ার তুলবে না, তারা আর যুদ্ধ শিখবে না।
4 কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ আঙ্গুরলতার ও নিজ নিজ ডুমুর গাছের তলে বসবে; কেউ তাদেরকে ভয় দেখাবে না; কেননা বাহিনীগণের মাবুদের মুখ এই কথা বলেছে।
5 কারণ প্রত্যেক জাতি নিজ নিজ দেবতার নামে চলে; আর আমরা যুগে যুগে চিরকাল আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের নামে চলবো।
6
মাবুদ বলেন, সেই দিনে আমি খঞ্জকে সমবেত করবো এবং যে তাড়িতা হয়েছে ও যাকে আমি দুঃখ দিয়েছি, তাকে সংগ্রহ করবো।
7 আর খঞ্জকে অবশিষ্টাংশ করে রাখবো ও দূরীকৃতকে বলবান জাতি করবো; এবং মাবুদ এখন থেকে চিরকাল সিয়োন পর্বতে তাদের উপর রাজত্ব করবেন।
8 আর হে পালের উচ্চগৃহ, হে সিয়োন-কন্যার পাহাড়, তোমার কাছে রাজ্য আসবেই আসবে, হ্যাঁ, পূর্বকালীন কর্তৃত্ব, জেরুশালেম-কন্যার রাজ্য আসবে।
9
তুমি এখন কেন ঘোর চিৎকার করছো? তোমার মধ্যে কি বাদশাহ্ নেই? তোমার মন্ত্রী কি বিনষ্ট হল? তাই বলে কি স্ত্রীর প্রসব-বেদনার মত বেদনা তোমাকে ধরেছে?
10
হে সিয়োন-কন্যা তুমি প্রসবকারিণীর মত ব্যথা ভোগ কর, কোঁকাও ও ছটফট কর; কেননা এখন তোমাকে নগর ছেড়ে মাঠে বাস করতে ও ব্যাবিলন পর্যন্ত যেতে হবে; সেখানে তুমি উদ্ধার পাবে; সেখানে মাবুদ তোমাকে তোমার দুশমনদের হাত থেকে মুক্ত করবেন।
11 এখন অনেক জাতি তোমার বিরুদ্ধে সমবেত হল; তারা বলে, সিয়োন নাপাক হোক, আমাদের চোখ তার দুর্দশা দেখুক।
12 কিন্তু তারা মাবুদের সঙ্কল্প সকল জানে না ও তাঁর মন্ত্রণা বোঝে না; বস্তুত তিনি তাদেরকে আঁটির মত খামারে সংগ্রহ করেছেন।
13
হে সিয়োন-কন্যা ওঠ, শস্য মাড়াই কর; কেননা আমি তোমার শিং লোহার ও খুর ব্রোঞ্জের করে দেব, তুমি অনেক জাতিকে চূর্ণ করবে; এবং তুমি মাবুদের উদ্দেশে তাদের লুণ্ঠিত দ্রব্য ও সমস্ত দুনিয়ার প্রভুর উদ্দেশে তাদের সম্পত্তি নিবেদন করবে।
1
হে সৈন্যদল-কন্যা, এখন তুমি প্রাচীরের মধ্যেই অবরুদ্ধ হলে; কারণ আমাদের বিরুদ্ধে একটা অবরোধ হল। তারা দণ্ড দিয়ে ইসরাইলের বিচারকর্তার চোঁয়ালে আঘাত করবে।
2
আর তুমি, হে বেথেলহেম-ইফ্রাথা, তুমি এহুদার হাজার হাজার লোকদের মধ্যে ক্ষুদ্রা বলে অগণিতা, তোমার ভেতর থেকে ইসরাইলের মধ্যে শাসনকর্তা হবার জন্য আমার উদ্দেশে এক জন ব্যক্তি উৎপন্ন হবেন; প্রাক্কাল থেকে, অনাদিকাল থেকে তাঁর উৎপত্তি।
3 এজন্য তিনি তাদেরকে ত্যাগ করবেন, যে পর্যন্ত প্রসবকারিণী প্রসব না করেন, সেই সময় পর্যন্ত। পরে তাঁর অবশিষ্ট ভাইয়েরা বনি-ইসরাইলদের কাছে ফিরে আসবে।
4 আর তিনি দাঁড়াবেন এবং মাবুদের শক্তিতে, তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের নামের শক্তিতে, তাঁর আল্লাহ্ মাবুদের নামের মহিমাতে, তাঁর পাল চরাবেন; তাই তারা বাস করবে, কেননা সেকালে তিনি দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত মহান হবেন।
5 আর ইনিই আমাদের শান্তি হবেন। আশেরিয়া যখন আমাদের দেশে আসবে ও আমাদের অট্টালিকাগুলো দলিত করবে, তখন আমরা তার বিপক্ষে সাত জন পালরক্ষক ও আট জন নরপতিকে উত্থাপন করবো।
6 তারা তলোয়ার দ্বারা আশেরিয়া দেশ এবং নমরূদের দেশের দ্বারে দ্বারে সেই দেশ শাসন করবে; আশেরিয়া আমাদের দেশে এসে আমাদের সীমা দলিত করলে তিনি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করবেন।
7
আর অনেক জাতির মধ্যে ইয়াকুবের অবশিষ্টাংশ মাবুদের কাছ থেকে আগত শিশিরের মত, ঘাসের উপরে পড়া বৃষ্টির মত হবে, যা মানুষের জন্য বিলম্ব করে না ও তাদের অপেক্ষা করে না।
8 আর জাতিদের মধ্যে, অনেক জাতির মধ্যে, ইয়াকুবের অবশিষ্টাংশ, বন্য পশুদের মধ্যে যেমন সিংহ, ভেড়ার পালগুলোর মধ্যে যেমন যুবসিংহ, তেমনি হবে; এই যদি পালের মধ্য দিয়ে যায়, তবে দলন করে ও বিদীর্ণ করে; কেউ তাদের উদ্ধার করতে পারে না।
9 তোমার বিপক্ষদের উপরে তোমার হাত উন্নত হোক, আর তোমার সমস্ত দুশমন উচ্ছিন্ন হোক।
10
আর মাবুদ বলেন, সেদিন আমি তোমার মধ্য থেকে তোমার ঘোড়াগুলো মুছে ফেলব ও তোমার রথগুলো নষ্ট করবো;
11 আর আমি তোমার দেশের নগরগুলো ধ্বংস করবো ও তোমার দুর্গগুলো নিপাত করবো;
12 আর আমি তোমার হাতের মধ্য থেকে সকল মায়াবিত্ব মুছে ফেলব, গণকেরা তোমার মধ্যে আর থাকবে না;
13 এবং আমি তোমার মধ্য থেকে তোমার খোদাই-করা মূর্তি ও তোমার স্তম্ভগুলো ধ্বংস করবো; তুমি আর তোমার হাতের তৈরি বস্তুর কাছে সেজ্দা করবে না।
14 আর আমি তোমার মধ্য থেকে তোমার আশেরা-মূর্তিগুলো উৎপাটন করবো ও তোমার নগরগুলো বিনষ্ট করবো।
15 আর আমি ক্রোধে ও প্রচণ্ডতায় সেই জাতিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব, যারা কথা শুনে নি।
1
তোমরা একবার শোন, মাবুদ কি বলছেন; তুমি ওঠ, পর্বতমালার সম্মুখে মামলা উপস্থিত কর, উপপর্বতগুলো তোমার কথা শুনুক।
2
হে পর্বতমালা, হে দুনিয়ার অটল ভিত্তিমূলগুলো, তোমরা মাবুদের অভিযোগ শোন; কেননা তাঁর লোকদের সঙ্গে মাবুদের ঝগড়া হচ্ছে, তিনি ইসরাইলের সঙ্গে বিচার করছেন।
3
হে আমার লোকেরা, আমি তোমাদের কি করলাম? কিসে তোমাদেরকে ক্লান্ত করলাম? আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাও।
4 আমি তো মিসর দেশ থেকে তোমাকে এনেছিলাম, গোলাম-গৃহ থেকে মুক্ত করেছিলাম এবং তোমাদের আগে মূসা, হারুন ও মরিয়মকে পাঠিয়েছিলাম।
5 হে আমার লোকেরা, একবার স্মরণ কর, মোয়াবের বাদশাহ্ বালাক কি মন্ত্রণা করেছিল ও বিয়োরের পুত্র বালাম তাকে কি উত্তর দিয়েছিল; শিটীম থেকে গিল্গল পর্যন্ত কি ঘটেছিল, স্মরণ কর, যেন তোমরা মাবুদের করা উদ্ধারের কাজগুলোর কথা জানতে পার।
6
‘আমি কি নিয়ে মাবুদের সম্মুখে উপস্থিত হব, ঊর্ধ্বস্থ আল্লাহ্র সম্মুখে প্রণত হব? আমি কি পোড়ানো-কোরবানী নিয়ে, এক বছর বয়সের বাছুরগুলোকে নিয়ে, তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হব?
7 হাজার হাজার মেষে ও অযুত অযুত নদী-ভরা তেলে কি মাবুদ খুশি হবেন? আমি আমার অধর্মের জন্য কি নিজের প্রথমজাত পুত্রকে দেব? আমার প্রাণের গুনাহের দরুন কি শরীরের ফল দান করবো?’
8 হে মানুষ, যা ভাল, তা তিনি তোমাকে জানিয়েছেন; বস্তুত ন্যায্য আচরণ, দয়ায় অনুরাগ ও নম্রভাবে তোমার আল্লাহ্র সঙ্গে চলাচল, এছাড়া মাবুদ তোমার কাছে আর কিসের অনুসন্ধান করেন?
9
মাবুদের কণ্ঠস্বর নগরকে আহ্বান করছেন; তোমার নামকে ভয় করা প্রজ্ঞার বিষয়; হে বংশ সকল ও নগরের সমবেত লোকবৃন্দ শোন!
10 দুষ্টের বাড়িতে কি এখনও নাফরমানীর ভাণ্ডার ও ঘৃণিত হীন ঐফা আছে?
11 নাফরমানীর নিক্তিতে ও ছলনার বাট্খারায় আমি কি বিশুদ্ধ হব?
12 সেখানকার ধনবান লোকেরা জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ ও সেই স্থানের অধিবাসীরা মিথ্যা কথা বলেছে, তাদের জিহ্বা প্রবঞ্চনার কথা বলে।
13 এজন্য আমিও সাংঘাতিকভাবে তোমাকে প্রহার করেছি, তোমার গুনাহের দরুন তোমাকে ধ্বংস করেছি।
14 তুমি আহার করবে, তবুও তৃপ্ত হবে না, কিন্তু তোমার মধ্যে ক্ষীণতা থাকবে; তুমি তোমার জিনিসপত্র রক্ষা করতে চাইবে কিন্তু তা রক্ষা করতে পারবে না; যা রক্ষা করবে, তা আমি তলোয়ার দ্বারা বিনষ্ট করবো।
15 বীজ বপন করেও তুমি শস্য কাটতে পাবে না, জলপাই পেষণ করেও শরীরে তেল লেপন করতে পাবে না এবং আঙ্গুর মাড়াই করেও আঙ্গুর-রস পান করতে পাবে না।
16 কারণ অম্রির বিধি ও আহাব-কুলের কাজগুলো পালিত হচ্ছে এবং তোমরা তাদের পরামর্শানুসারে চলছো, যেন আমি তোমাকে বিস্ময়ের বিষয় ও তোমার নিবাসীদেরকে বিদ্রুপের বিষয় করি; আর তোমরা আমার লোকদের উপহাস বহন করবে।
1
ধিক্ আমাকে! কেননা আমি গ্রীষ্মকালীন ফল আহরণ করার কিংবা আঙ্গুর সংগ্রহের পরের সংগ্রহকারীদের মত হয়েছি; খাবার যোগ্য একটি আঙ্গুরগুচ্ছ নেই; আমার প্রাণ প্রথম পাকা ডুমুর ফল আশা করছে।
2 দুনিয়া থেকে বিশ্বস্ত লোক উচ্ছিন্ন হয়েছে, মানুষের মধ্যে সরল লোক একেবারে নেই; সকলেই রক্তপাত করার জন্য ঘাঁটি বসায়; প্রত্যেকে আপন আপন ভাইকে জালে আটকাতে চেষ্টা করে।
3 যা মন্দ, সেই কাজ সযত্নে করার জন্য তাদের দুই হাতই ব্যতিব্যস্ত; কর্মকর্তা অর্থ চায়, বিচারকর্তা উপহার গ্রহণে প্রস্তুত; এবং বড় মানুষ আপন প্রাণের নাফরমানী মুখে ব্যক্ত করে; তারা তা জালের মত বুনে।
4 তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তম, সে কাঁটাঝোপের মত; আর যে অতি সরল, সে কাঁটাযুক্ত বেড়া থেকেও মন্দ; তোমার প্রহরীদের দিন, তোমার সমুচিত দণ্ড, আসছে; এখনই তাদের ব্যাকুল হবার সময়।
5 তোমরা বন্ধুর উপর বিশ্বাস করো না; আত্মীয়ের উপরও বিশ্বাস স্থাপন করো না; তোমার বক্ষঃস্থলে শয়নকারিণী স্ত্রীর কাছেও কথা বলতে সতর্ক হবে।
6 কেননা পুত্র পিতাকে লঘুজ্ঞান করে, কন্যা তার মায়ের ও পুত্রবধূ তার শাশুড়ীর বিরুদ্ধে ওঠে, নিজ নিজ পরিজনই মানুষের দুশমন।
7
কিন্তু আমি মাবুদের প্রতি দৃষ্টি রাখবো, আমার উদ্ধারের আল্লাহ্র অপেক্ষা করবো; আমার আল্লাহ্ আমার কথা শুনবেন।
8
হে আমার বিদ্বেষিণী, আমার বিরুদ্ধে আনন্দ করো না; পড়ে গেলেও আমি উঠবো, অন্ধকারে বসে থাকলেও মাবুদ হবেন আমার আলো।
9 আমি মাবুদের ক্রোধ বহন করবো, কারণ আমি তাঁর বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছি; শেষে তিনি আমার বিবাদে পক্ষ অবলম্বন করে আমার বিচার নিষ্পত্তি করবেন; তিনি আমাকে বের করে আলোতে আনবেন, আমি তাঁর ধর্মশীলতা দর্শন করবো।
10 তা দেখে আমার বিদ্বেষিণী লজ্জায় আচ্ছন্ন হবে; সে তো আমাকে বলতো, ‘তোমার আল্লাহ্ মাবুদ কোথায়?’ আমি স্বচক্ষে তাকে দেখব; এখন সে পথের কাদার মত পদতলে দলিতা হবে।
11
তোমার প্রাচীর গাঁথবার দিন। সেদিন তোমার সীমানা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
12 সেদিন তোমার কাছে লোকেরা আসবে, আশেরিয়া ও মিসরের নগরগুলো থেকে, মিসর থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত, আর সমুদ্র থেকে সমুদ্র এবং পর্বত থেকে পর্বত পর্যন্ত আসবে।
13 তবুও অধিবাসীদের দোষে, তাদের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে, দেশ ধ্বংসস্থান হয়ে যাবে।
14
তুমি তোমার পাঁচনী নিয়ে তোমার লোকদেরকে, স্বতন্ত্র বাসকারী তোমার অধিকারস্বরূপ পালকে, কর্মিলের মধ্যস্থিত অরণ্যে চরাও; আগেকার দিনে যেমন চরতো, তেমনি তারা বাশনে ও গিলিয়দে চরে বেড়াক।
15
মিসর দেশ থেকে তোমার বের হয়ে আসার দিনের মত আমি তাদের অলৌকিক কাজগুলো দেখাব।
16 জাতিরা দেখে নিজেদের সমস্ত পরাক্রমের বিষয়ে লজ্জিত হবে; তারা মুখে হাত দেবে ও তাদের কান বধির হয়ে যাবে।
17 তারা সাপের মত ধুলা চাটবে, তারা কাঁপতে কাঁপতে ভূমিস্থ কীটের মত নিজ নিজ গোপন স্থান থেকে বের হয়ে আসবে; তারা সভয়ে আমাদের আল্লাহ্ মাবুদের কাছে আসবে ও তোমাকে ভয় করবে।
18
কে তোমার মত আল্লাহ্?— অপরাধ ক্ষমাকারী ও আপন অধিকারের অবশিষ্টাংশের অধর্মের ক্ষমাকারী! তিনি চিরকাল ক্রোধ রাখেন না, কারণ তিনি দয়ায় প্রীত।
19 তিনি ফিরে আমাদের প্রতি করুণা করবেন; তিনি আমাদের অপরাধগুলো পদতলে মর্দিত করবেন; হ্যাঁ, তুমি তোমার লোকদের সমস্ত গুনাহ্ সমুদ্রের অগাধ পানিতে নিক্ষেপ করবে।
20 তুমি ইয়াকুবের জন্য সেই বিশ্বস্ততা ও ইব্রাহিমের জন্য সেই রহম সাধন করবে, যা পূর্বকাল থেকে আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলে।
1
নিনেভে-বিষয়ক দৈববাণী। ইল্কোশীয় নহূমের দর্শন-কিতাব।
2
মাবুদ স্বগৌরব-রক্ষণে উদ্যোগী আল্লাহ্, তিনি প্রতিফলদাতা; মাবুদ প্রতিফলদাতা ও ক্রোধশালী; মাবুদ তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের প্রতিফল দেন, আপন দুশমনদের জন্য ক্রোধ সঞ্চয় করেন।
3 মাবুদ ক্রোধে ধীর ও পরাক্রমে মহান এবং তিনি অবশ্য গুনাহ্র দণ্ড দেন; ঘূর্ণিবাতাস ও ঝড় মাবুদের পথ, মেঘ তাঁর পদধূলি।
4 তিনি সমুদ্রকে তিরস্কার করেন, শুকিয়ে ফেলেন, নদ-নদীগুলো পানিশূন্য করেন; বাশন ও কর্মিল ম্লান হয়, আর লেবাননের পুষ্প ম্লান হয়।
5 তাঁর ভয়ে পর্বতমালা কাঁপে, উপপর্বতগুলো গলে যায় এবং তাঁর সম্মুখ থেকে দুনিয়া, দুনিয়া ও সেখানকার অধিবাসী সকলে কেঁপে ওঠে।
6 তাঁর ক্রোধের সম্মুখে কে দাঁড়াতে পারে? তাঁর কোপের প্রদাহে কে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? তাঁর ক্রোধ আগুনের মত ধাবমান হয়, তাঁর দ্বারা শৈলগুলো বিদীর্ণ হয়।
7
মাবুদ মঙ্গলস্বরূপ, সঙ্কটের দিনে তিনি দুর্গ; আর যারা তাঁর আশ্রয় নেয়, তিনি তাদেরকে জানেন।
8 কিন্তু তিনি প্লাবনকারী বন্যা দ্বারা সেই স্থান সংহার করবেন এবং তাঁর দুশমনদেরকে অন্ধকারে বিতাড়িত করবেন।
9
তোমরা মাবুদের বিরুদ্ধে কি চিন্তা করছো? তিনি একেবারে শেষ করবেন, দ্বিতীয় বার সঙ্কট উপস্থিত হবে না।
10 কেননা, কাঁটার মত জড়িত থাকলে ও মদ্যপানে মাতাল হলেও, তারা শুকনো খড়ের মত নিঃশেষে আগুনে পুড়ে যাবে।
11 হে নিনেভে, এক জন তোমা থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যে মাবুদের বিরুদ্ধে কুকল্পনা করছে, যে পাষণ্ডতায় মন্ত্রণা দেয়।
12
মাবুদ এই কথা বলেন, পূর্ণশক্তি ও বহুসংখ্যক হলেও তারা অমনি ছিন্ন হবে এবং বাদশাহ্ অতীত হবে। হে এহুদা, আমি তোমাকে নত করেছি, আর নত করবো না।
13 এখন আমি তোমার কাঁধ থেকে তার জোয়াল ভাঙ্গব ও তোমার বন্ধন কেটে ফেলব।
14
আর হে নিনেভে, তোমার বিষয়ে মাবুদ এই হুকুম করলেন, তোমার নাম বহন করতে আর কোন লোক থাকবে না, আমি তোমার দেবালয় থেকে খোদাই-করা ও ছাঁচে ঢালা মূর্তি ধ্বংস করবো, আমি তোমার কবর প্রস্তুত করবো, কেননা তুমি জঘন্য।
15
দেখ, পর্বতমালার উপরে তারই পা, যে সুসমাচার নিয়ে আসে, শান্তি ঘোষণা করে; হে এহুদা, তুমি তোমার ঈদগুলো পালন কর; তোমার মানতগুলো পূর্ণ কর, কেননা পাষণ্ড আর তোমার কাছে যাতায়াত করবে না; সে সর্বতোভাবে উচ্ছিন্ন হল।
1
খণ্ডবিখণ্ডকারী তোমার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে; তুমি দুর্গ রক্ষা কর, পথে প্রহরীর কাজ কর, কোমর কষে বাঁধ, নিজেকে খুব শক্তিশালী কর।
2 কারণ মাবুদ ইসরাইলের জাঁকজমকের মত ইয়াকুবের জাঁকজমককে পুনরায় সতেজ করতে উদ্যত; কারণ ধ্বংসকারীরা তাদেরকে ধ্বংস করেছে ও তাদের আঙ্গুরলতাগুলো বিনষ্ট করেছে।
3
ওর বীরদের ঢাল রক্তাক্ত, যোদ্ধারা লাল রংয়ের কাপড় পরিহিত, ওর আয়োজন-দিনে রথগুলো ঝলসে ওঠে ও বর্শাগুলো চালিত হয়।
4 পথে পথে রথগুলো উন্মত্তের মত চলে, প্রশস্ত চকে দৌড়াতে দৌড়াতে পরসপর আঘাত করে; তাদের আভা মশালের মত, তারা বিদ্যুতের মত ধাবমান হয়।
5
বাদশাহ্ তাঁর কুলীনবর্গকে স্মরণ করেন, তারা যাবার সময় হোঁচট খায়, প্রাচীরের দিকে দৌড়াদৌড়ি হচ্ছে, অবরোধ-যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।
6 নদীর দ্বারগুলো খুলে গেল; প্রাসাদ বিলীন হল।
7 হ্যাঁ, এটি নিরূপিত; নিনেভে বিবস্ত্রা হয়েছে, নীতা হচ্ছে ও তার বাঁদীরা কবুতরের ধ্বনির মত শোকধ্বনি করছে, বক্ষঃস্থলে করাঘাত করছে, নিনেভে তো জন্ম থেকে পানিতে পূর্ণ পুষ্করিণীস্বরূপা, কিন্তু সকলে পালিয়ে যাচ্ছে;
8 দাঁড়াও, দাঁড়াও বললেও কেউ মুখ ফিরায় না।
9 তোমরা রূপা লুট কর, সোনা লুট কর! সেই স্থানে মূল্যবান ধন-সম্পদ অফুরন্ত! সেখানে সব রকম ধন-রত্নের প্রাচুর্য আছে!
10 সে শূন্য, শূন্যীকৃত ও উৎসন্ন হয়েছে! আর হৃদয় গলে গেছে ও হাঁটুতে কাঁপন ধরেছে এবং কারও কোমরে শক্তি নেই ও প্রত্যেক মানুষের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
11
কোথায় সেই সিংহদের গহ্বর, যুবা কেশরীদের সেই ভোজনস্থান, যে স্থানে সিংহ, সিংহী ও সিংহের বাচ্চা ঘুরে বেড়াত, ভয় দেখাবার কেউ ছিল না?
12 সিংহ তার বাচ্চাগুলোর জন্য যথেষ্ট পশু মারত, তার সিংহীদের জন্য অনেকের গলা চেপে মারত, তার গুহাগুলো শিকারের পশু ও গহ্বরগুলো বিদীর্ণ পশু দিয়ে পরিপূর্ণ করতো।
13
দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, আমি তোমার রথগুলো পুড়িয়ে দিয়ে ধোঁয়ায় লীন করবো এবং তলোয়ার তোমার যুবা কেশরীদেরকে গ্রাস করবে; হ্যাঁ, আমি দুনিয়া থেকে তোমার লুণ্ঠিত দ্রব্য মুছে ফেলব; এবং তোমার দূতদের স্বর আর শুনা যাবে না।
1
ধিক্ ঐ রক্তপাতী নগরকে। সে একেবারে মিথ্যায় ও জোর-জুলুমে পরিপূর্ণ; লুট পরিত্যাগ করে না।
2 কশার আওয়াজ; ঘূর্ণায়মান চাকার আওয়াজ; ধাবমান ঘোড়া ও লম্ফমান রথ;
3 ঘোড়সওয়ার যোদ্ধা, চাক্চিক্যময় তলোয়ার, চক্চকে বর্শা; নিহতদের রাশি ও মৃত দেহের স্তূপ, লাশগুলোর শেষ নেই, ওদের লাশের উপরে লোকে হোঁচট খায়।
4 এর কারণ হল সেই পরমাসুন্দরী পতিতার অনেক পতিতাবৃত্তি; সেই প্রধান জাদুকারিণী তার পতিতাবৃত্তিতে জাতিদেরকে ও তার মায়াতে গোষ্ঠীগুলোকে বিক্রি করে।
5
বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, আমি তোমার কাপড় তুলে তোমার মুখের উপরে টেনে দেব; জাতিদেরকে, তোমার উলঙ্গতা ও নানা রাজ্যের লোকদেরকে তোমার লজ্জা দেখাব।
6 আমি তোমার উপরে জঞ্জাল নিক্ষেপ করে তোমাকে ঘৃণার বস্তু করবো ও হাসির পাত্র বলে স্থাপন করবো।
7 তাই যে কেউ তোমাকে দেখবে, সে তোমার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে, আর বলবে, নিনেভে উৎসন্ন হল, তার বিষয়ে কে মাতম করবে? আমি কোথায় গিয়ে তোমার জন্য সান্ত্বনাকারীদের খোঁজ করবো?
8
তুমি কি থিব্সের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? সে তো নদীগুলোর পারে সুখে আসীন ও তার চারদিকে ঘিরে ছিল পানি; জলরাশি ছিল তার পরিখা, সমুদ্র তার প্রাচীর ছিল।
9 ইথিওপিয়া ও মিসর তার বলস্বরূপ, তা অসীম; পুট ও লিবীয়রা তার সহকারী ছিল।
10 তবুও সেও নির্বাসিতা হল, বন্দীদশার দেশে গেল, তার শিশুদেরকেও সকল পথের মাথায় আছাড় মেরে খণ্ড খণ্ড করা হল; দুশমনরা তার সম্মানিত পুরুষদের জন্য গুলিবাঁট করলো এবং তার পদস্থ লোকদের শিকল দিয়ে বাঁধা হল।
11
তুমিও মাতাল হবে, লুকিয়ে থাকবে; তুমিও দুশমনের ভয়ের কারণে আশ্রয় লাভের চেষ্টা করবে।
12 তোমার দৃঢ় দুর্গগুলো প্রথমে পাকা ফলবিশিষ্ট ডুমুর গাছের মত হবে; সঞ্চালিত হলে তার ফল ভক্ষকের মুখে পড়ে।
13 দেখ, তোমার মধ্যস্থিত লোকেরা স্ত্রীলোক; তোমার দেশের তোরণদ্বারগুলো দুশমনদের জন্য খোলা হয়েছে, আগুন তোমার অর্গলগুলো গ্রাস করেছে।
14 তুমি অবরোধ সময়ের জন্য পানি তুলে রাখ, তোমার দুর্গগুলো দৃঢ় কর, ইটখোলাতে যাও, কাদা ছান, ইটের পাঁজা সাজাও।
15
সেখানে আগুন তোমাকে গ্রাস করবে; তলোয়ার তোমাকে কেটে ফেলবে, তা পতঙ্গের মত তোমাকে খেয়ে ফেলবে;
16 তুমি পতঙ্গের মত বড় ঝাঁক হও। তুমি আসমানের তারা হতেও তোমার বণিকদের বৃদ্ধি করেছ; পতঙ্গ ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে।
17 তোমার মুকুটপরিহিতরা পঙ্গপালের মত; তোমার সেনাপতিরা অগণিত ফড়িংয়ের মত; ফড়িং তো শীতের দিনে বেড়াতে আশ্রয় নেয়, কিন্তু সূর্যোদয় হলে উড়ে যায়; কোন স্থানে যায়, তা জানা যায় না।
18
হে আশেরিয়ার বাদশাহ্, তোমার পালরক্ষকেরা ঘুমিয়ে পড়েছে, তোমার কুলীনেরা বিশ্রাম করছে, তোমার লোকেরা পর্বতমালার উপরে ছিন্নভিন্ন রয়েছে, তাদেরকে সংগ্রহ করার কেউ নেই;
19 তোমার আঘাতের প্রতিকার নেই; তোমার ক্ষত সাংঘাতিক; যারা তোমার বার্তা শুনবে, তারা তোমার কথায় হাততালি দেবে; কেননা তোমার নিষ্ঠুরতা কে না ভোগ করেছে?
1
হাবাক্কুক নবীর দৈববাণী; তিনি এই দর্শন পান।
2
হে মাবুদ, কত কাল আমি আর্তনাদ করবো, আর তুমি শুনবে না? আমি দৌরাত্মের বিষয়ে তোমার কাছে কাঁদছি, আর তুমি নিস্তার করছো না।
3 তুমি কেন আমাকে অধর্ম দেখাচ্ছ, কেন দুষ্কর্মের প্রতি দৃষ্টিপাত করছো? লুটপাট ও দৌরাত্ম আমার সম্মুখে হচ্ছে, বিরোধ উপস্থিত, ঝগড়া বেড়ে উঠছে।
4 তাই শরীয়ত নিস্তেজ হচ্ছে, বিচার কোন মতে নিষ্পন্ন হচ্ছে না; কারণ দুর্জনেরা ধার্মিককে ঘিরে থাকে, সেই কারণে বিচার বিপরীত হয়ে পড়ে।
5
তোমরা জাতিদের মধ্যে দৃষ্টিপাত কর, নিরীক্ষণ কর এবং চমৎকার জ্ঞান লাভ করে হতবুদ্ধি হও; যেহেতু আমি তোমাদের সময়ে একটি কাজ করবো, তার বৃত্তান্ত কেউ তোমাদেরকে জানালেও তোমরা বিশ্বাস করবে না।
6 কারণ দেখ, আমি কল্দীয়দেরকে উঠাবো; তারা সেই নিষ্ঠুর ও ত্বরান্বিত জাতি, যে পরের নিবাস সকল অধিকার করার জন্য দুনিয়ার সর্বত্র ভ্রমণ করে।
7 তারা ত্রাসজনক ও ভয়ঙ্কর, তাদের শাসন ও উন্নতি তাদেরই থেকে উৎপন্ন।
8 তাদের ঘোড়াগুলো চিতাবাঘ থেকেও দ্রুতগামী ও সন্ধ্যাকালীন নেকড়ে বাঘ থেকেও হিংস্র; তাদের ঘোড়সওয়াররা বেগমান; তাদের ঘোড়সওয়াররা দূর থেকে আগত; ঈগল পাখি যেমন খাবারের খোঁজে দ্রুতবেগে চলে, তেমনি তারা উড়ে চলে।
9 তারা সকলে দৌরাত্ম্য করতে আসে, তারা অগ্রসর হতে উন্মুখ; এবং তারা বন্দীদেরকে বালুকণার মত একত্র করে।
10 সেই জাতি বাদশাহ্দেরকে বিদ্রূপ করে এবং শাসনকর্তারা তার উপহাসের পাত্র; সে দৃঢ় দুর্গগুলোকে উপহাস করে ও মাটির ঢিবি তৈরি করে তা হস্তগত করে।
11 এভাবে সে প্রচণ্ড বায়ুর মত হঠাৎ বইবে, অগ্রসর হবে, আর দোষী হবে, নিজের শক্তিই তার দেবতা।
12
হে মাবুদ, আমার আল্লাহ্, আমার পবিত্রতম, তুমি কি অনাদিকাল থেকে নও? আমরা মারা পড়বো না; হে মাবুদ, তুমি বিচারের জন্যই ওকে নিরূপণ করেছ; হে শৈল, তুমি শাসন করার জন্যই ওকে স্থাপন করেছ।
13 তোমার চোখ এমন নির্মল যে মন্দ দেখতে পার না এবং দুষ্কর্মের প্রতি তুমি দৃষ্টিপাত করতে পার না, তবে বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি কেন দৃষ্টিপাত করছো? আর দুর্জন নিজের চেয়ে ধার্মিক লোককে গ্রাস করলে কেন নীরব থাক?
14 মানুষদেরকে সমুদ্রের মাছের মত কিংবা শাসকবিহীন কীটের মত কেন কর?
15 সেই সকলকে বড়শিতে তুলে, তাদেরকে নিজের জালে ধরে, খালুইতে একত্র করে; এজন্য সে আনন্দিত ও উল্লসিত হয়।
16 এজন্য সে তার জালের উদ্দেশে কোরবানী করে ও তার খালুইয়ের উদ্দেশে ধূপ জ্বালায়; কেননা তা দ্বারা তার অংশ পুষ্ট ও তার খাদ্য মেদযুক্ত হয়।
17 এজন্য সে কি তার জালের মধ্য থেকে মাছ বের করতে থাকবে? ও করুণা না করে জাতিদেরকে ধ্বংস করতেই থাকবে?
1
আমি আমার পাহারা-স্থানে দাঁড়াবো, দুর্গের উপরে নিজেকে অবস্থান করবো; আমার আবেদনের বিষয়ে তিনি আমাকে কি বলবেন এবং আমি কি উত্তর দেব, তা দেখে বুঝবো।
2 তখন মাবুদ জবাবে আমাকে বললেন, এই দর্শনের কথা লেখ, সুস্পষ্ট করে ফলকে খোদাই কর, যে পাঠ করে, সে যেন দৌড়াতে পারে।
3 কেননা এই দর্শন এখনও নিরূপিত কালের জন্য ও তা পরিণামের আকাঙ্খা করছে, আর মিথ্যে হবে না; তার বিলম্ব হলেও তার অপেক্ষা কর, কেননা তা অবশ্য উপস্থিত হবে, যথাসময়ে পূর্ণ হবে, বিলম্ব করবে না।
4 দেখ, তার প্রাণ অহংকারে ফুলে উঠেছে, তার অন্তর সরল নয়, কিন্তু ধার্মিক ব্যক্তি তার ঈমান দ্বারাই বাঁচবে।
5
বস্তুত মদ তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে; সে অভিমানী বীর, সে ঘরে থাকে না; সে পাতালের মত অপরিমিত লোভী, সে মৃত্যুর মত, তৃপ্ত হয় না, কিন্তু সর্বজাতিকে একত্র করে আত্মসাৎ করে এবং সর্বলোকবৃন্দকে নিজের কাছে সংগ্রহ করে।
6 তারা সকলে কি তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত কথা ও তার বিষয়ে পরিহাসজনক প্রবাদ উত্থাপন করবে না? লোকে বলবে,
“ধিক্ তাকে, যে পরধনে বর্দ্ধিষ্ণু হয়—
কত দিন হবে?—
আর যে বন্ধকী দ্রব্যের ভারে ভারী হয়।”
7
যারা তোমাকে দংশন করবে, তারা কি হঠাৎ উঠবে না? যারা তোমাকে সঞ্চালন করবে, তারা কি শীঘ্র জাগবে না? তখন তুমি তাদের লুণ্ঠিত বস্তু হবে।
8 তুমি অনেক জাতির সম্পত্তি লুট করেছ; এই কারণে জাতিদের সমস্ত শেষাংশ তোমার সম্পত্তি লুট করবে; এর কারণ হল মানুষের রক্তপাত এবং দেশ, নগর ও সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্য।
9 ধিক তাকে যে তার কুলের জন্য অন্যায় লাভ সংগ্রহ করে, যেন উচ্চে বাসা করতে পারে, যেন অমঙ্গলের হাত থেকে উদ্ধার পেতে পারে।
10
অনেক জাতিকে উচ্ছিন্ন করাতে তুমি তোমার কুলের লজ্জাজনক মন্ত্রণা করেছ ও তোমার প্রাণের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছ।
11 কেননা দেয়ালের মধ্য থেকে পাথর কাঁদবে ও কাঠের মধ্য থেকে কড়ি-বরগা তার উত্তর দেবে।
12
ধিক্ তাকে, যে রক্তপাত করে নগর গাঁথে,
যে অন্যায় দ্বারা নগর সংস্থাপন করে।
13
দেখ, এ কি বাহিনীগণের মাবুদ থেকে হয় না যে, লোকবৃন্দ আগুনের জন্য পরিশ্রম করে এবং জাতিরা অসারতার জন্য ক্লান্ত হয়?
14 কারণ সমুদ্র যেমন পানিতে আচ্ছন্ন, তেমনি দুনিয়া মাবুদের মহিমাবিষয়ক জ্ঞানে পরিপূর্ণ হবে।
15
ধিক্ তাকে, যে তার প্রতিবেশীকে পান করায়;
তুমি ভাণ্ডে তোমার বিষ মিশিয়ে থাক,
আবার তাকে মাতাল করে থাক,
যেন তুমি তাদের উলঙ্গতা দেখতে পাও।
16
তুমি সম্মানের পরিবর্তে অপমানেই পরিপূর্ণ হয়েছ; তুমিও পান করে উলঙ্গ হও; মাবুদের ডান হাতের পানপাত্র তোমার দিকে ফিরান যাবে ও তোমার গৌরবের উপরে জঘন্য লজ্জা উপস্থিত হবে।
17 কারণ লেবাননের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্য তোমাকে আচ্ছন্ন করবে ও পশুদের সংহার তোমার ত্রাস জন্মাবে; এর কারণ মানুষের রক্তপাত এবং দেশ, নগর ও সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্য।
18
খোদাই-করা মূর্তিতে উপকার কি যে, তার নির্মাতা তা ক্ষোদাই করে? ছাঁচে ঢালা মূর্তি ও মিথ্যার শিক্ষকেই বা উপকার কি যে, নিজের নির্মিত বস্তুর নির্মাতা তাতে বিশ্বাস করে নির্বাক মূর্তি তৈরি করে?
19 ধিক্ তাকে, যে কাঠকে বলে, তুমি জাগ, নির্বাক পাথরকে বলে, তুমি ওঠ। সে কি শিক্ষা দেবে? দেখ, সে সোনা ও রূপায় মোড়ানো, তার অন্তরে শ্বাসবায়ুর লেশমাত্রও নেই।
20 কিন্তু মাবুদ তাঁর পবিত্র এবাদতখানায় আছেন; সমস্ত দুনিয়া তাঁর সম্মুখে নীরব থাক।
2
হাবুক্কুক নবীর মুনাজাত। স্বর, শিগিয়োনোৎ।
হে মাবুদ, আমি তোমার বার্তা শুনলাম, ভয় পেলাম;
হে মাবুদ, আমাদের কালে তোমার কাজ সজীব কর,
আমাদের আমাদের কালে সেগুলো তুমি আবার কর;
কোপের সময়ে করুণা স্মরণ কর।
3
আল্লাহ্ তৈমন থেকে আসছেন,
পারণ পর্বত থেকে পবিত্রতম আসছেন।
আসমান তাঁর প্রভায় সমাচ্ছন্ন,
দুনিয়া তাঁর প্রশংসায় পরিপূর্ণ।
4
তাঁর তেজ আলোর মত,
তাঁর হাত থেকে কিরণ বের হয়;
ঐ স্থান তাঁর পরাক্রমের অন্তরাল।
5
তাঁর আগে আগে মহামারী চলে,
তাঁর পদচিহ্ন দিয়ে জ্বলন্ত অঙ্গার গমন করে।
6
তিনি থামলেন এবং দুনিয়াকে নাড়ালেন,
তিনি দৃষ্টিপাত করলেন এবং জাতিদেরকে কাঁপিয়ে তুললেন;
সনাতন পর্বতগুলো খণ্ড-বিখণ্ড হল,
চিরন্তন পাহাড়গুলো নত হল;
অনাদিকাল থেকে তাঁর গতি।
7
আমি দেখলাম, কুশনের তাঁবুগুলো ক্লিষ্ট,
মাদিয়ান দেশীয় পর্দাগুলো কেঁপে উঠলো।
8
মাবুদ কি নদ-নদীর প্রতি বিরক্ত হলেন,
তোমার গজব কি নদ-নদীর উপরে বর্তিল,
সমুদ্রের প্রতি কি তোমার কোপ হল যে,
তুমি তোমার ঘোড়াগুলোতে আরোহণ করলে?
তোমার বিজয়ী রথগুলোতে আরোহণ করলে?
9
তুমি তোমার ধনুক একেবারে অনাবৃত করেছ,
তোমার কালাম অনুসারে শাস্তি দেবার জন্য দণ্ডগুলো শপথ করেছে।
[সেলা]
তুমি ভূতলকে বিদীর্ণ করে নদ-নদীময় করলে।
10
পর্বতমালা তোমাকে দেখে কেঁপে উঠলো,
প্রচণ্ড জলরাশি বয়ে গেল,
গহ্বর তার আওয়াজ উঁচুতে তুললো,
তার ঢেউগুলো উপরে তুলল।
11
সূর্য ও চন্দ্র স্ব স্ব বাসস্থানে দাঁড়িয়ে থাকলো,
তোমার দ্রুতগামী বাণগুলোর আলোতে,
তোমার বজ্ররূপ বর্শার তেজে।
12
তুমি ক্রোধে ভূতল দিয়ে গমন করলে,
কোপে জাতিদেরকে শস্যের মত মাড়াই করলে।
13
তুমি যাত্রা করলে, তোমার লোকদের উদ্ধার করার জন্য,
তোমার অভিষিক্ত লোকের উদ্ধারের জন্য;
তুমি দুষ্টের বাড়ির মাথা চূর্ণ করলে,
গলা পর্যন্ত তার মূল অনাবৃত করলে।
14
তুমি তার যোদ্ধাদের মাথা তারই দণ্ড দ্বারা বিদ্ধ করলে;
তারা ঘূর্ণিবাতাসের মত আমাকে ছিন্নভিন্ন করতে এসেছিল;
তারা দুঃখীকে গোপনে গ্রাস করতে আনন্দ করতো।
15
তুমি তোমার ঘোড়ার পাল নিয়ে সমুদ্র দিয়ে গমন করলে।
সেই মহাজলরাশি দিয়ে গমন করলে।
16
আমি শুনলাম, আমার অন্তর কাঁপতে লাগল,
সেই শব্দে আমার ওষ্ঠাধর কেঁপে উঠলো,
আমার অস্থিতে পচন প্রবেশ করলো,
আমি স্বস্থানে কাঁপতে লাগলাম,
কারণ আমাকে বিশ্রাম করতে হবে,
সঙ্কটের দিনের অপেক্ষায়,
যখন আক্রমণকারীরা আসবে লোকদের বিরুদ্ধে।
17
যদিও ডুমুর গাছ পুষ্পিত হবে না,
আঙ্গুরলতায় ফুল ধরবে না,
জলপাই গাছ ফলদানে ব্যর্থ হবে,
ও ক্ষেতে খাদ্যদ্রব্য উপন্ন হবে না,
খোঁয়াড় থেকে ভেড়ার পাল উচ্ছিন্ন হবে,
গোয়ালে গরু থাকবে না;
18
তবু আমি মাবুদে আনন্দ করবো,
আমার নাজাতের আল্লাহ্তে উল্লসিত হবো।
19
সার্বভৌম মাবুদ আমার বল,
তিনি আমার চরণ হরিণীর চরণের মত করেন,
তিনি আমার উচ্চস্থলীগুলো দিয়ে আমাকে চলাচল করাবেন।
প্রধান বাদ্যকরের জন্য; আমার তারযুক্ত যন্ত্রে।
1
মাবুদের এই কালাম আমোনের পুত্র এহুদার বাদশাহ্ ইউসিয়ার সময়ে সফনিয়ের কাছে নাজেল হল। ইনি কূশির পুত্র, কূশি গদলিয়ের পুত্র, গদলিয় অমরিয়ের পুত্র, অমরিয় হিষ্কিয়ের পুত্র।
2
আমি ভূতল থেকে সকলই সংহার করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
3 আমি মানুষ ও পশুকে সংহার করবো, আমি আসমানের পাখিকে, সমুদ্রের মাছকে সংহার করবো ও দুষ্টদেরকে উচোট খাওয়াব; হ্যাঁ, আমি ভূতল থেকে মানুষকে মুছে ফেলব, মাবুদ এই কথা বলেন।
4 আর আমি এহুদা ও জেরুশালেম-নিবাসী সকলের বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়িয়ে দেব এবং এই স্থান থেকে বালের সমস্ত কিছু ও পুরোহিতসুদ্ধ তাদের নাম মুছে ফেলব;
5 এবং তাদেরকেও মুছে ফেলব, যারা ছাদের উপরে আকাশ-বাহিনীর কাছে সেজদা করে এবং যারা মাবুদের কাছে শপথ করে ও সেজদা করে, অথচ মিল্কম দেবতার নামেও শপথ করে,
6 এবং যারা মাবুদের পিছনে চলা থেকে ফিরে গেছে ও যারা মাবুদের খোঁজ করে নি ও তাঁর অনুসন্ধান করে নি।
7
তুমি সার্বভৌম মাবুদের সাক্ষাতে নীরব হও; কেননা মাবুদের দিন সন্নিকট; কারণ মাবুদ একটি কোরবানীর আয়োজন করেছেন, তাঁর দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকদের পবিত্র করেছেন।
8 মাবুদের সেই কোরবানীর দিনে আমি কর্মকর্তাদের, রাজকুমারদের ও বিজাতীয় পোশাক পরা সমস্ত লোককে দণ্ড দেব।
9 আর যারা লাফ দিয়ে গোবরাট পার হয়, যারা নিজেদের প্রভুর বাড়ি জোর-জুলুমে ও ছলনায় পরিপূর্ণ করে, সেদিন আমি তাদেরকে দণ্ড দেব।
10 মাবুদ বলেন, সেই দিন মৎস্য-দ্বার থেকে ক্রন্দনের আওয়াজ, দ্বিতীয় বিভাগ থেকে হাহাকার ও উপপর্বতগুলো থেকে মহাভঙ্গের আওয়াজ শোনা যাবে।
11 হে মক্তেশ [উদূখল] নিবাসীরা, তোমরা হাহাকার কর, কেননা সমস্ত ব্যবসায়ী লোক ধ্বংস হয়েছে, সকল রূপার বাহক বিনাশ পেয়েছে।
12 সেই সময়ে আমি প্রদীপ জ্বেলে জেরুশালেমের সন্ধান করবো; আর যে লোকেরা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গাদের উপরে সুস্থির আছে, যারা মনে মনে বলে, মাবুদ মঙ্গলও করবেন না, অমঙ্গলও করবেন না, তাদেরকে দণ্ড দেব।
13 তাদের সম্পদ লুট হবে ও তাদের বাড়িগুলো ধ্বংসস্থান হবে; তারা বাসগৃহ নির্মাণ করবে, কিন্তু তাতে বাস করতে পারবে না; আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করবে, কিন্তু তার আঙ্গুর-রস পান করতে পারবে না।
14
মাবুদের মহাদিন কাছে এসে গেছে, তা নিকটবর্তী, অতি শীঘ্র আসছে; ঐ মাবুদের দিনের আওয়াজ; সেখানে বীর তীব্র আর্তনাদ করছে।
15 সেদিন ক্রোধের দিন, সঙ্কট ও সঙ্কোচের দিন, বিনাশ ও সর্বনাশের দিন, অন্ধকার ও তমাসার দিন,
16 মেঘ ও গাঢ় তমাসার দিন, তূরীধ্বনি ও রণনাদের দিন; তা প্রাচীরবেষ্টিত নগর ও উঁচু দুর্গগুলোর বিপক্ষ।
17 আমি মানুষকে দুঃখ দেব; তারা অন্ধের মত ভ্রমণ করবে, কারণ তারা মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করেছে; তাদের রক্ত ধুলার মত ও তাদের মাংস মলের মত ঢালা যাবে।
18 মাবুদের ক্রোধের দিনে তাদের রূপা বা তাদের সোনা তাদেরকে উদ্ধার করতে পারবে না; কিন্তু তাঁর অন্তর্জ্বালার তাপে সমস্ত দেশ আগুনে পুড়ে যাবে, কেননা তিনি দেশ-নিবাসী সকলের বিনাশ, হ্যাঁ, ভয়ানক সংহার করবেন।
1
হে লজ্জাহীন জাতি, তোমরা জমায়েত হও,
2 হ্যাঁ, জমায়েত হও, কেননা দণ্ডাজ্ঞা সফল হবার সময় হল, দিন তো তুষের মত উড়ে যাচ্ছে; মাবুদের ক্রোধের আগুন তোমাদের উপরে এসে পড়লো, মাবুদের গজবের দিন তোমাদের উপরে এসে পড়লো।
3 হে দেশস্থ সমস্ত নম্র লোক, তাঁর শাসন পালন করেছ যে তোমরা, তোমরা মাবুদের খোঁজ কর, ধর্মের অনুশীলন কর, নম্রতার অনুশীলন কর; হয় তো মাবুদের ক্রোধের দিনে তোমরা গুপ্তস্থানে রক্ষা পাবে।
4
কারণ গাজা পরিত্যক্ত ও অস্কিলোন ধ্বংসস্থান হবে; অস্দোদের লোকদেরকে মধ্যাহ্নকালে তাড়িয়ে দেওয়া হবে ও ইক্রোণকে উপ্ড়ে ফেলা হবে।
5 ধিক্ সমুদ্রের উপকূল-নিবাসীদেরকে, করেথীয়দের জাতিকে! হে কেনান, ফিলিস্তিনীদের দেশ, মাবুদের কালাম তোমাদের বিপক্ষ; আমি তোমাকে এমনভাবে ধ্বংস করবো যে, তোমাতে আর কেউ বসতি করবে না।
6 আর সমুদ্রের তীরস্থ অঞ্চল বাথানে, ভেড়ার রাখালদের গহ্বরে ও ভেড়ার খোঁয়াড়ে পরিণত হবে।
7 সেই অঞ্চল এহুদা-কুলের অবশিষ্টাংশের অধিকার হবে; তারা তার উপরে নিজ নিজ পাল চরাবে; সন্ধ্যাবেলা অস্কিলোনের বাড়িতে বাড়িতে শয়ন করবে; কেননা আল্লাহ্ মাবুদ তাদের তত্ত্বাবধান করবেন ও তাদের বন্দীদশা ফিরাবেন।
8
আমি মোয়াবের উপহাস ও অম্মোনীয়দের কটুবাক্য শুনেছি; তারা আমার লোকদের উপহাস করেছে, আর তাদের সীমানার বিপরীতে নিজেদের বড় করে দেখিয়েছে।
9 এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ, ইসরাইলের আল্লাহ্, এই কথা বলেন, আমার জীবনের কসম, মোয়াব অবশ্য সাদুমের মত এবং অম্নোন-সন্তানেরা আমুরার মত হবে, বিছুটির আশ্রয়, লবণের কূপ ও নিত্য ধ্বংসস্থান হবে; আমার লোকদের অবশিষ্টাংশ তাদের সম্পত্তি লুট করবে ও আমার জাতির অবশিষ্ট লোকেরা তাদের অধিকার পাবে।
10 এটা তাদের অহঙ্কারের প্রতিফল; কেননা তারা টিটকারি দিয়েছে, বাহিনীগণের মাবুদের লোকদের বিরুদ্ধে নিজেদের বড় করে দেখিয়েছে।
11 মাবুদ ওদের প্রতি ভয়ঙ্কর হবেন, কারণ তিনি দুনিয়ার সমস্ত দেবতাকে দুর্বল করবেন এবং মানুষেরা সকলে নিজ নিজ স্থান থেকে তাঁর কাছে সেজ্দা করবে, জাতিদের উপকূলগুলো করবে।
12
হে ইথিওপীয়রা, তোমারও আমার তলোয়ারের আঘাতে নিহত হবে।
13 আর তিনি উত্তর দিকের বিরুদ্ধে তাঁর হাত বাড়াবেন, আশেরিয়াকে বিনষ্ট করবেন এবং নিনেভেকে ধ্বংস ও মরুভূমির মত পানি শূন্য স্থানে পরিণত করবেন।
14 আর তার মধ্যে পশুপাল ও সমস্ত রকম বন্য প্রাণী শয়ন করবে, পানিভেলা ও শজারু তার স্তম্ভের চূড়ায় রাত যাপন করবে; জানালার মধ্য দিয়ে তাদের গানের শব্দ শোনা যাবে; গোবরাটে উৎসন্নতা থাকবে; কেননা তিনি তার এরস কাঠের কাজ অনাবৃত করেছেন।
15 এ সেই উল্লাসপ্রিয়া নগরী, যে নির্ভয়ে বসে থাকতো, যে মনে মনে বলতো, আমিই আছি, আমি ছাড়া আর কেউ নেই; সে একেবারে ধ্বংসের পাত্র হল, পশুদের আশ্রয়-স্থান হল! যে কেউ তার কাছ দিয়ে যাবে, সে শিস দেবে, তার বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাবে।
1
ধিক্ সেই বিদ্রোহিণী ও ভ্রষ্টাকে, সেই জুলুমবাজ নগরীকে!
2 সে কাউকে মানে নি, শাসন গ্রহণ করে নি, মাবুদের উপর নির্ভর করে নি, তাঁর আল্লাহ্র কাছে আসে নি।
3 তার মধ্যস্থিত কর্মকর্তারা গর্জনকারী সিংহ, তার বিচারকরা সন্ধ্যা-কালীন নেকড়ে বাঘ; তারা সকাল বেলার জন্য কিছুমাত্র অবশিষ্ট রাখে না।
4 তার নবীরা দাম্ভিক ও বিশ্বাসঘাতক, তার ইমামেরা পবিত্রকে অপবিত্র করেছে, তারা শরীয়তের বিরুদ্ধে জুলুম করেছে।
5 তার মধ্যবর্তী মাবুদ ধর্মশীল; তিনি অন্যায় করেন না, প্রতি প্রভাতে ন্যায়বিচার স্থাপন করেন, প্রতি ভোরে তা করতে ত্রুটি করেন না; কিন্তু অন্যায়কারীররা লজ্জা পায় না।
6 আমি জাতিদেরকে উচ্ছিন্ন করেছি, তাদের উঁচু দুর্গগুলো ধ্বংস হয়েছে; আমি তাদের পথ শূন্য করেছি, তা দিয়ে কেউ আর চলাচল করে না; তাদের নগরগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সেখানে মানুষ নেই, কোন বাসকারী আর নেই।
7 আমি বললাম তুমি অবশ্য আমাকে ভয় করবে, তুমি শাসন গ্রহণ করবে, তাতে তার নিবাস উচ্ছিন্ন হবে না; আমার সকল শাস্তিও তার উপরে আসবে না। কিন্তু সেখানকার অধিবাসীরা আগ্রহের সঙ্গে নিজেদের সকল কাজ নষ্ট করে ফেলতে লাগল।
8
এজন্য মাবুদ বলেন, তোমরা সেদিন পর্যন্ত আমার অপেক্ষায় থাক, যেদিন আমি হরণ করতে উঠবো; কেননা আমার বিচার এই; আমি জাতিদেরকে সংগ্রহ করে ও রাজ্য সকল একত্র করে তাদের উপরে আমার গজব, আমার সমস্ত ক্রোধের আগুন ঢেলে দেব; বস্তুত আমার অন্তর্জ্বালার তাপে সমস্ত দুনিয়া আগুনে পুড়ে যাবে।
9
আর সেই সময় আমি জাতিদেরকে বিশুদ্ধ ওষ্ঠ দেব, যেন তারা সকলেই মাবুদের নামে ডাকে ও একযোগে তাঁর এবাদত করে।
10 ইথিওপিয়া দেশের নদীগুলোর পার থেকে আমার এবাদতকারীরা, আমার ছড়িয়ে পড়া লোকেরা, আমার জন্য নৈবেদ্য আনবে।
11 তুমি নিজের যেসব কাজের জন্য আমার কাছে অপরাধিনী হয়েছ, তার জন্য সেদিন লজ্জিত হবে না; কেননা সেই সময়ে আমি তোমার অহংকারযুক্ত উল্লাসকারী লোকদের তোমার কাছ থেকে হরণ করবো; তাতে তুমি আমার পবিত্র পর্বতে আর অহঙ্কার করবে না।
12 আর আমি তোমার মধ্যে দীনদুঃখী একটি জাতিকে অবশিষ্ট রাখবো; তারা মাবুদের নামের আশ্রয় নেবে।
13 ইসরাইলের অবশিষ্ট লোক অন্যায় করবে না, মিথ্যা কথা বলবে না এবং তাদের মুখে প্রতারক জিহ্বা থাকবে না; বস্তুত তারা নির্ভয়ে বিচরণ ও শয়ন করবে, তাদেরকে ভয় দেখাবার কেউ থাকবে না।
14
হে সিয়োন-কন্যা, আনন্দগান কর; হে ইসরাইল, জয়ধ্বনি কর; হে জেরুশালেম-কন্যা, আনন্দ কর, মনে প্রাণে উল্লাস কর।
15 মাবুদ তোমার দণ্ডগুলো দূর করে দিয়েছেন, তোমার দুশমনকে সরিয়ে দিয়েছেন; ইসরাইলের বাদশাহ্ মাবুদ তোমার মধ্যবর্তী; তুমি আর অমঙ্গলের ভয় করবে না।
16 সেদিন জেরুশালেমকে এই কথা বলা যাবে, ভয় করো না; হে সিয়োন, তোমার হাত শিথিল না হোক।
17 তোমার আল্লাহ্ মাবুদ তোমার মধ্যবর্তী; সেই বীর উদ্ধার করবেন, তিনি তোমার বিষয়ে পরম আনন্দ করবেন; তিনি প্রেমে তোমাকে নতুন করে তুলবেন, আনন্দগান দ্বারা তোমার বিষয়ে উল্লাস করবেন।
18 যারা নির্দিষ্ট ঈদ পালন করতে না পেরে খেদ করে, তাদেরকে আমি একত্র করবো; তারা তোমা থেকে উৎপন্ন, তারা ধিক্কারে ভারগ্রস্ত।
19 দেখ, যেসব লোক তোমাকে দুঃখ দেয়, সেই সময়ে আমি তাদের প্রতি যা করার, তা করবো; আর আমি খঞ্জকে উদ্ধার করবো ও বিতাড়িতকে সংগ্রহ করবো; এবং যাদের লজ্জা সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে গেছে, আমি তাদেরকে প্রশংসার ও কীর্তির পাত্র করবো।
20 সেই সময়ে আমি তোমাদের আনবো, সেই সময়ে তোমাদেরকে সংগ্রহ করবো; কারণ আমি দুনিয়ার সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদেরকে কীর্তি ও প্রশংসার পাত্র করবো; কেননা তখন আমি তোমাদের সম্মুখেই তোমাদেরকে বন্দীদশা থেকে ফিরিয়ে আনবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
বাদশাহ্ দারিয়ুসের দ্বিতীয় বছরের ষষ্ঠ মাসের প্রথম দিনে মাবুদের কালাম হগয় নবী দ্বারা শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল নামক এহুদার নেতা এবং যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসার কাছে নাজেল হল।
2
তিনি বললেন, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, লোকেরা বলছে, সময়, মাবুদের গৃহ নির্মাণের সময়, উপস্থিত হয় নি।
3 তখন হগয় নবীর দ্বারা মাবুদের এই কালাম নাজেল হল;
4 এটা কি তোমাদের নিজ নিজ ছাদযুক্ত বাড়িতে বাস করার সময়? এই গৃহ তো উৎসন্ন রয়েছে।
5 এজন্য এখন বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ পথ আলোচনা কর।
6 তোমরা অনেক বীজ বপন করেও অল্প সঞ্চয় করছো, আহার করেও তৃপ্ত হচ্ছ না, পান করেও তৃপ্ত হচ্ছ না, কাপড়-চোপড় পরেও উষ্ণ হচ্ছ না এবং বেতনজীবী লোক ছেঁড়া থলিতে বেতন রাখে।
7
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ পথ আলোচনা কর।
8 পর্বতে উঠে গিয়ে কাঠ আন, এই গৃহ নির্মাণ কর, তাতে আমি এই গৃহের প্রতি খুশি হব এবং গৌরবান্বিত হব, মাবুদ এই কথা বলেন।
9 তোমরা অনেক ফসল পাবার অপেক্ষা করেছিলে, আর দেখ, অল্প পেলে; এবং যা বাড়িতে এনেছিলে, তার উপরে আমি ফুঁ দিলাম। বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, এর কারণ কি? কারণ এই যে, আমার গৃহ উৎসন্ন রয়েছে, তবুও তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে দৌড়ে যাচ্ছ।
10 এজন্য তোমাদেরই কারণে আসমান রুদ্ধ হয়েছে, শিশির পড়ে না ও ভূমি রুদ্ধ হয়েছে, ফল দেয় না।
11 আর আমি দেশের ও পর্বতমালার উপরে, শস্য, আঙ্গুর-রস ও তেল প্রভৃতি ভূমিতে উৎপন্ন বস্তুর উপরে এবং মানুষ, পশু ও তোমাদের হাতের সমস্ত শ্রমের উপরে অনাবৃষ্টিকে আহ্বান করলাম।
12
তখন শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল, যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসা এবং লোকদের সমস্ত অবশিষ্টাংশ তাদের আল্লাহ্ মাবুদের কথার বাধ্য হলেন এবং তাদের আল্লাহ্ মাবুদ কর্তৃক প্রেরিত হগয় নবীর সকল কথায় মনোযোগ দিলেন; লোকেরাও মাবুদকে ভয় করতে লাগল।
13 তখন মাবুদের দূত হগয় মাবুদের সংবাদবাহক হিসেবে লোকদের বললেন, মাবুদ বলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।
14 পরে মাবুদ শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল নামক এহুদার শাসনকর্তার রূহ্ ও যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসার রূহ্ এবং লোকদের সমস্ত অবশিষ্টাংশের রূহ্কে উত্তেজিত করলেন; তাঁরা এসে নিজেদের আল্লাহ্ বাহিনীগণের মাবুদের গৃহে কাজ করতে লাগল।
15
এই কাজ বাদশাহ্ দারিয়ুসের দ্বিতীয় বছরের ষষ্ঠ মাসের চব্বিশ দিনের দিন শুরু হল।
1
সপ্তম মাসের একবিংশ দিনে মাবুদের এই কালাম নবী হগয়ের মধ্য দিয়ে নাজেল হল,
2 তুমি এখন শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল নামক এহুদার শাসনকর্তাকে, যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসাকে ও লোকদের অবশিষ্টাংশকে এই কথা বল,
3 তোমাদের মধ্যে অবশিষ্ট এমন কে আছে যে, পূর্বপ্রতাপের অবস্থায় এই গৃহ দেখেছিল? আর এখন তোমরা এটা কি অবস্থায় দেখতে পাচ্ছ? এটা কি তোমাদের দৃষ্টিতে অবস্তুর মত নয়?
4 কিন্তু এখন, হে সরুব্বাবিল, তুমি বলবান হও, এই কথা মাবুদ বলেন, আর হে যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসা, তুমি বলবান হও; এবং দেশের সমস্ত লোক, তোমরা বলবান হও, এই কথা মাবুদ বলেন; আর কাজ কর, কেননা আমি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
5 তোমরা যখন মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিলে, তখন আমি তোমাদের সঙ্গে কালাম দ্বারা নিয়ম স্থির করেছিলাম; এবং আমার রূহ্ তোমাদের মধ্যে অধিষ্ঠান করেন; তোমরা ভয় করো না।
6 কেননা বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আর একবার, অল্পকালের মধ্যে, আমি আসমান ও জমিনকে এবং সমুদ্র ও শুকনো ভূমিকে কাঁপিয়ে তুলব।
7 আর আমি সর্বজাতিকে কাঁপিয়ে তুলব; এবং সর্বজাতির মনোরঞ্জন বস্তু সকল আসবে; আর আমি এই গৃহ প্রতাপে পরিপূর্ণ করবো, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
8 রূপা আমারই, সোনাও আমারই, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
9 এই গৃহের আগের প্রতাপের চেয়ে এর পরের প্রতাপ অনেক বেশি হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; আর এই স্থানে আমি শান্তি নিয়ে আসব, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
10
দারিয়াবসের দ্বিতীয় বছরের নবম মাসের চতুর্বিংশ দিনে মাবুদের এই কালাম নবী হগয়ের মধ্য দিয়ে নাজেল হল;
11 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি একবার ইমামদেরকে শরীয়তের বিষয় জিজ্ঞাসা কর,
12 বল, কেউ যদি তার পোশাকের ভাঁজে পবিত্র মাংস বহন করে, আর সেই অঞ্চলে রুটি বা সিদ্ধ সব্জি বা আঙ্গুর-রস বা তেল বা অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ করা হয়, তবে সেই দ্রব্য কি পবিত্র হবে? ইমামেরা জবাবে বললেন, না।
13 তখন হগয় বলিলেন, লাশের স্পর্শে নাপাক হওয়া কোন লোক যদি এর মধ্যে কোন দ্রব্য স্পর্শ করে, তবে তা কি নাপাক হবে? ইমামেরা জবাবে বললেন, তা নাপাক হবে।
14 তখন হগয় জবাবে বললেন, মাবুদ বলেন, আমার সম্মুখে এই বংশ তদ্রূপ ও এই জাতিও তদ্রূপ; তাদের হাতের সমস্ত কাজও তদ্রূপ; এবং ঐ স্থানে তারা যা কোরবানী করে তা নাপাক।
15
এখন, ফরিয়াদ করি, আজকের আগে যত দিন মাবুদের এবাদতখানায় প্রস্তরের উপরে প্রস্তর স্থাপিত ছিল না, সেই সকল দিন নিয়ে আলোচনা কর।
16 সেই সকল দিনে তোমাদের মধ্যে কেউ বিশ কাঠা শস্যরাশির কাছে আসলে কেবল দশ কাঠা পেত এবং আঙ্গুরের কুণ্ড থেকে পঞ্চাশ পাত্র পরিমাণ আঙ্গুর-রস নিতে আসলে কেবল বিশ পাত্র পেত।
17 আমি শস্যের শোষ, ম্লানি ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা তোমাদের হাতের সমস্ত কাজে তোমাদেরকে আঘাত করতাম, তবুও তোমরা আমার প্রতি ফিরতে না, এই কথা মাবুদ বলেন।
18 ফরিয়াদ করি, আজকের দিন থেকে এবং এর পরেও আলোচনা কর, নবম মাসের চব্বিশ দিনের দিন থেকে, মাবুদের এবাদতখানার ভিত্তিমূল স্থাপনের দিন থেকে, আলোচনা কর।
19 গোলায় কি কিছু বীজ অবশিষ্ট আছে? আর আঙ্গুর, ডুমুর, ডালিম এবং জলপাই-গাছও ফলে নি। কিন্তু আজ থেকে আমি আশীর্বাদ করবো।
20
পরে মাসের চব্বিশ দিনের দিন মাবুদের এই কালাম দ্বিতীয় বার হগয়ের নিকটে নাজেল হল;
21 তুমি এহুদার শাসনকর্তা সরুব্বাবিলকে এই কথা বল, আমি আসমান ও জমিনকে কাঁপিয়ে তুলব;
22 আর বাদশাহ্দের সিংহাসন উল্টে ফেলবো, জাতিদের সকল রাজ্যের পরাক্রম নষ্ট করবো, রথ ও রথারোহীদেরকে উল্টে ফেলব এবং ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারেরা আপন আপন ভাইয়ের তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে।
23 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, সেই দিন হে শল্টীয়েলের পুত্র, আমার গোলাম, সরুব্বাবিল, আমি তোমাকে গ্রহণ করবো, এই কথা মাবুদ বলেন; আমি তোমাকে সীলমোর করার অঙ্গুরীয়স্বরূপ রাখব; কেননা আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
11
দারিয়ুসের দ্বিতীয় বছরের অষ্টম মাসে মাবুদের এই কালাম ইদ্দোর পৌত্র বেরিখিয়ের পুত্র জাকারিয়া নবীর কাছে উপস্থিত হল।
বনি-ইসরাইলকে অনুতাপ করার আহ্বান
মাবুদ তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। অতএব তুমি এই লোকদেরকে বল, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন; তোমরা আমার প্রতি ফের, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, আমিও তোমাদের প্রতি ফিরব, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন। তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের মত হয়ো না, তাদেরকে পূর্বকালীন নবীরা উচ্চৈঃস্বরে বলতো, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমরা নিজ নিজ কুপথ ও নিজ নিজ কুকর্ম থেকে ফিরে এসো; কিন্তু তারা শুনত না, আমার কথায় কান দিত না, মাবুদ এই কথা বলেন। তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কোথায়? এবং নবীরা কি চিরকাল বেঁচে থাকে? কিন্তু আমি আমার গোলাম নবীদেরকে যা যা হুকুম করেছিলাম, আমার সেসব কালাম ও বিধি কি তোমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট পৌঁছায় নি? তখন তারা ফিরে এসে বললো, বাহিনীগণের মাবুদ আমাদের আচার ও কাজ অনুসারে আমাদের প্রতি যেমন ব্যবহার করতে মনস্থ করেছিলেন, আমাদের প্রতি তেমনি ব্যবহার করেছেন।
প্রথম দর্শন: ঘোড়ায় আরোহী এক জন পুরুষ
দারিয়ুসের দ্বিতীয় বছরের একাদশ মাসের অর্থাৎ শবাট মাসের, চব্বিশতম দিনে মাবুদের কালাম ইদ্দোর পৌত্র বেরিখিয়ের পুত্র নবী জাকারিয়ার কাছে নাজেল হল। তিনি বললেন, আমি রাতের বেলায় দর্শন পেলাম, আর দেখ, লাল রংয়ের ঘোড়ায় আরোহী এক জন পুরুষ, তিনি নিম্নভূমিস্থ গুলমেদি গাছগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর পেছন লাল রংয়ের, মেটে ও সাদা রংয়ের কয়েকটি ঘোড়া ছিল। তখন আমি বললাম, হে আমার প্রভু, এরা কে? তাতে আমার সঙ্গে আলাপকারী ফেরেশতা আমাকে বললেন, এরা কে, তা আমি তোমাকে জানাবো। আর যে পুরুষ গুলমেদি গাছগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি বললেন, মাবুদ এদেরকে দুনিয়াতে ইতস্তত ভ্রমণ করতে পাঠিয়েছেন। তখন তারা জবাবে, যিনি গুলমেদি গাছগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, মাবুদের সেই ফেরেশতাকে বললো, আমরা দুনিয়াতে ইতস্তত ভ্রমণ করেছি, আর দেখ, সমস্ত দুনিয়া সুস্থির ও শান্তিপূর্ণ।
12
তখন মাবুদের ফেরেশতা বললেন, হে বাহিনীগণের মাবুদ, তুমি এই সত্তর বছর যাদের উপরে ক্রুদ্ধ হয়ে রয়েছ, সেই জেরুশালেম ও এহুদার নগরগুলোর প্রতি করুণা করতে কতকাল বিলম্ব করবে?
13 তখন যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, মাবুদ তাঁকে জবাবে নানা মঙ্গলকথা, নানা সান্ত্বনাদায়ক কথা বললেন।
14 আর যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তিনি আমাকে বললেন, তুমি ঘোষণা কর, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, জেরুশালেম ও সিয়োনের উপর আমি অসম্ভব ক্রুদ্ধ হয়েছি।
15 আর নিশ্চিন্ত জাতিদের প্রতি আমার ক্রোধ জন্মেছে; কেননা আমি সামান্য ক্রুদ্ধ হলে তারা আরও বেশি অমঙ্গল যোগ করলো।
16 এজন্য মাবুদ এই কথা বলেন, আমি করুণা করে জেরুশালেমে ফিরে এলাম; তার মধ্যে আমার গৃহ নির্মিত হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; এবং জেরুশালেমে মাপের দড়ি ধরা হবে।
17 তুমি আরও ঘোষণা কর, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমার নগরগুলো পুনর্বার মঙ্গলে পরিপূর্ণ হবে এবং মাবুদ সিয়োনকে পুনরায় সান্ত্বনা দেবেন ও জেরুশালেমকে পুনর্বার মনোনীত করবেন।
18
পরে আমি চোখ তুলে দেখলাম, আর দেখ, চারটি শিং।
19 তখন আমার সঙ্গে আলাপকারী ফেরেশতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো কি? তিনি আমাকে বললেন, এ সেই সব শিং যা এহুদা, ইসরাইল এবং জেরুশালেমকে ছিন্নভিন্ন করেছে।
20 পরে মাবুদ আমাকে চার জন কর্মকার দেখালেন।
21 আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কি করতে আসছে? তিনি বললেন, ঐ শিংগুলো এহুদাকে এমন ছিন্নভিন্ন করেছে যে, কেউই মাথা তুলতে পারে নি; কিন্তু যেসব জাতিরা এহুদা দেশকে ছিন্নভিন্ন করার জন্য শিং উঠিয়েছে, তাদের ভয় দেখাবার জন্য ও তাদের শিংগুলো নিচে ফেলে দেবার জন্য এরা আসছে।
1
পরে আমি চোখ তুলে লক্ষ্য করলাম, আর দেখ, পরিমাপের দড়ি হাতে এক জন পুরুষ।
2 তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি আমাকে বললেন, জেরুশালেম মাপতে, তার চওড়া ও তার লম্বা কত তা দেখতে যাচ্ছি।
3 আর দেখ, যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তিনি অগ্রসর হলেন; আর এক জন ফেরেশতা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন।
4 তিনি তাঁকে বললেন, তুমি দৌড়ে গিয়ে যুবককে বল, জেরুশালেমের মধ্যবর্তী মানুষ ও পশুদের জন্য প্রাচীর-বিহীন গ্রামগুলোর মত তার বসতি হবে;
5 কারণ মাবুদ বলেন, আমিই তার চারদিকে আগুনের প্রাচীরস্বরূপ হব এবং আমি তার মধ্যবর্তী মহিমাস্বরূপ হবো।
6
অহো! অহো! উত্তর দেশ থেকে পালিয়ে যাও, মাবুদ এই কথা বলেন; কেননা আমি তোমাদের আসমানের চার বায়ুর মত ছড়িয়ে দিয়েছি, মাবুদ এই কথা বলেন।
7 অহো সিয়োন, ব্যাবিলন-কন্যার সহনিবাসীনী! জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যাও।
8 কারণ বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন; মহিমার পরে তিনি আমাকে সেই জাতিদের কাছে পাঠালেন, যারা তোমাদের লুট করেছে; কেননা যে ব্যক্তি তোমাদেরকে স্পর্শ করে, সে তাঁর চোখের মণি স্পর্শ করে।
9 কারণ দেখ, আমি তাদের উপরে আমার হাত উঠাব, তাতে তারা তাদের গোলামদের লুটবস্তু হবে, আর তোমরা জানবে যে, বাহিনীগণের মাবুদই আমাকে পাঠিয়েছেন।
10
সিয়োন-কন্যে, আনন্দগান কর, আহ্লাদ কর, কেননা দেখ, আমি আসছি, আর আমি তোমার মধ্যে বাস করবো, মাবুদ এই কথা বলেন।
11 সেই দিনে অনেক জাতি মাবুদের প্রতি আসক্ত হবে, আমার লোক হবে; এবং আমি তোমার মধ্যে বাস করবো, তাতে তুমি জানবে যে, বাহিনীগণের মাবুদই আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন।
12 আর মাবুদ পবিত্র দেশে নিজের অংশ বলে এহুদাকে অধিকার করবেন ও জেরুশালেমকে আবার মনোনীত করবেন।
13
মাবুদের সাক্ষাতে প্রাণীমাত্র নীরব হও, কেননা তিনি তাঁর পবিত্র শরীয়ত-তাঁবুর মধ্য থেকে জেগে উঠেছেন।
1
পরে তিনি আমাকে মহা-ইমাম ইউসাকে দেখালেন; ইনি মাবুদের ফেরেশতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর তাঁর বিরুদ্ধতা করার জন্য শয়তান তাঁর ডান পাশে দাঁড়িয়েছিল।
2 তখন মাবুদ শয়তানকে বললেন, শয়তান, মাবুদ তোমাকে ভর্ৎসনা করুন; হ্যাঁ, যিনি জেরুশালেমকে মনোনীত করেছেন, সেই মাবুদ তোমাকে ভর্ৎসনা করুন; এই ব্যক্তি কি আগুন থেকে তুলে নেওয়া জ্বলন্ত কাঠের টুকরার মত নয়?
3 তখন ইউসা মলিন কাপড় পরিহিত হয়েই ফেরেশতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
4 তাতে সেই ফেরেশতা নিজের সম্মুখে দণ্ডায়মান ব্যক্তিদেরকে বললেন, এঁর দেহ থেকে ঐ মলিন কাপড়গুলো খুলে ফেল। পরে তিনি তাঁকে বললেন, দেখ, আমি তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছি ও তোমাকে শুভ্র পোশাক পরাব।
5 তখন আমি বললাম, এঁর মাথায় পরিষ্কার পাগড়ী দিতে হুকুম দেওয়া হোক। তখন তাঁর মাথায় পরিষ্কার পাগড়ী দেওয়া হল এবং তাঁকে পোশাক পরানো হল; আর মাবুদের ফেরেশতা কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন।
6
পরে মাবুদের ফেরেশতা ইউসাকে দৃঢ়ভাবে বললেন,
7 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তুমি যদি আমার পথে চল ও আমার রক্ষণীয়-দ্রব্য রক্ষা কর, তবে তুমিও আমার গৃহের বিচার করবে এবং আমার প্রাঙ্গণের রক্ষকও হবে, আর এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, আমি তোমাকে এদের মধ্যে গমনাগমন করার অধিকার দেব।
8 হে মহা-ইমাম ইউসা, তুমি শোন এবং তোমার সম্মুখে উপবিষ্ট তোমার সখারাও শুনুক, কেননা তারা অদ্ভুত প্রকৃতির লোক; কারণ দেখ, আমি আমার গোলাম তরুশাখাকে আনয়ন করবো।
9 দেখ, ইউসার সম্মুখে আমি এই পাথর স্থাপন করেছি; সেই পাথরের উপরে সাতটি চোখ আছে; দেখ, আমি তার লেখাটা ক্ষোদাই করে লিখব, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; এবং আমি এক দিনে সেই দেশের অপরাধ দূর করবো।
10 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, সেদিন তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীকে আঙ্গুরলতা ও ডুমুর গাছের তলে দাওয়াত করবে।
1
পরে যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তিনি পুনরায় এসে আমাকে ঘুম থেকে জাগালেন।
2 আর তিনি আমাকে বললেন, কি দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম, আমি দেখলাম, আর দেখ, একটি প্রদীপ-আসন, সমস্তটাই সোনার; তার মাথার উপরে তেলের আধার ও তার উপরে সাতটি প্রদীপ এবং তার মাথার উপরে স্থিত প্রত্যেকটি প্রদীপের জন্য সাতটি নল;
3 তার কাছে দু’টি জলপাই গাছ, একটি তেলের আধারের ডানে ও একটি তার বামে।
4 তখন যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আমার প্রভু, এগুলো কি?
5 তাতে যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তিনি জবাবে আমাকে বললেন, এসব কি তা কি জান না? আমি বললাম, হে আমার প্রভু জানি না।
6 তখন তিনি জবাবে আমাকে বললেন, এ সরুব্বাবিলের প্রতি মাবুদের কালাম, ‘পরাক্রম দ্বারা নয়, বল দ্বারাও নয়, কিন্তু আমার রূহ্ দ্বারা,’ এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
7 হে বিশাল পর্বত, তুমি কে? সরুব্বাবিলের সম্মুখে তুমি সমভূমি হবে এবং ‘রহমত, রহমত হোক, এর প্রতি,’ এই হর্ষধ্বনির সঙ্গে সে মস্তকস্বরূপ পাথরখানি বের করে আনবে।
8
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
9 সরুব্বাবিলের হাত এই গৃহের ভিত্তিমূল স্থাপন করেছে, আবার তারই হাত তা সমাপ্ত করবে; তাতে তুমি জানবে যে বাহিনীগণের মাবুদই তোমাদের কাছে আমাকে পাঠিয়েছেন।
10 কারণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের দিনকে কে তুচ্ছ জ্ঞান করেছে? সরুব্বাবিলের হাতে ওলোন দেখে তারা তো আনন্দ করবে; এই সাতটি তো মাবুদের চোখ, এরা সমস্ত দুনিয়া পর্যটন করে।
11
পরে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, প্রদীপ-আসনটির ডানে ও বামে দুই দিকে অবস্থিত এই দু’টি জলপাই গাছের তাৎপর্য কি?
12 দ্বিতীয়বার তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, সোনার যে দুই নল নিজে থেকেই সোনালী রংয়ের তেল বের করে, তার পাশে জলপাই ফলের এই যে দু’টি শাখা আছে তার তাৎপর্য কি?
13 তিনি আমাকে জবাবে বললেন, এসব কি, তা কি জান না? আমি বললাম, হে আমার প্রভু, জানি না।
14 তখন তিনি বললেন, ওঁরা সেই দুই অভিষিক্ত জন, যাঁরা সমস্ত দুনিয়ার প্রভুর সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন।
1
পরে আমি আবার চোখ তুলে তাকালাম, আর দেখ, একখানি গুটিয়ে রাখা কিতাব উড়ছে।
2 তখন তিনি আমাকে বললেন, কি দেখতে পাচ্ছ? আমি জবাবে বললাম, একখানি গুটিয়ে রাখা কিতাব উড়তে দেখছি; তা বিশ হাত লম্বা ও দশ হাত চওড়া।
3 তিনি আমাকে বললেন, সেটি সমস্ত দেশের উপরে বের হওয়া বদদোয়া; বস্তুত যে কেউ চুরি করে, সে ওর এক দিকের বিধান অনুসারে উচ্ছিন্ন হবে এবং যে কেউ শপথ করে, সে ওর অন্য দিকের বিধান অনুসারে উচ্ছিন্ন হবে।
4 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, আমি ওকে বের করে আনবো, সে চোরের বাড়িতে ও আমার নামে মিথ্যা শপথকারীর বাড়িতে প্রবেশ করবে এবং তার বাড়ির মধ্যে অবস্থান করে কাঠ ও পাথরসুদ্ধ বাড়ি বিনাশ করবে।
5
পরে যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তিনি বাইরে এসে আমাকে বললেন, তুমি চোখ তুলে দেখ, ওটা কি বের হচ্ছে?
6 তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওটা কি? তিনি বললেন, ওটি ঐফাপাত্র; আরও বললেন, ওটা সমস্ত দেশে তাদের অধর্ম।
7 আর দেখ, সেই ঐফাপাত্রের সীসার ঢাকনিটা তোলা হল, আর তার মধ্যে এক জন স্ত্রীলোক বসে আছে।
8 তিনি বললেন, এ দুষ্টতা। পরে তিনি ঐ স্ত্রীলোককে ঐফার মধ্যে ফেলে দিয়ে তার মুখে সেই সীসার ঢাকনিটা চেপে দিলেন।
9 তখন আমি চোখ তুলে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, দুই জন স্ত্রীলোক বের হয়ে এল; তাদের পাখায় বায়ু ছিল; আর হাড়গিলার পাখার মত তাদের পাখা ছিল, তারা দুনিয়া ও আসমানের মধ্যপথে সেই ঐফা উঠিয়ে নিয়ে গেল।
10 তখন যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ওরা ঐফাটি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
11 তিনি আমাকে বললেন, এরা শিনিয়র দেশে ওর জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করবে; তা প্রস্তুত হলে সেখানে ওকে তার স্থানে স্থাপন করা যাবে।
1
পরে আমি পুনর্বার চোখ তুলে দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, দু’টি পর্বতের মধ্য থেকে চারটি রথ বের হল; সেই দু’টি পর্বত ছিল ব্রোঞ্জের।
2 প্রথম রথে লাল রংয়ের ঘোড়াগুলো, দ্বিতীয় রথে কালো রংয়ের ঘোড়াগুলো,
3 তৃতীয় রথে সাদা রংয়ের ঘোড়াগুলো ও চতুর্থ রথে বিন্দুচিত্রিত বলবান ঘোড়াগুলো ছিল।
4 তখন যে ফেরেশতা আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, আমি তাঁকে বললাম, হে আমার প্রভু, এসব কি?
5 সেই ফেরেশতা জবাবে আমাকে বললেন, এঁরা বেহেশতের চারটি বায়ু, সমস্ত দুনিয়ার প্রভুর সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে থাকবার পরে বের হয়ে আসছেন।
6 যে রথে কালো রংয়ের ঘোড়াগুলো আছে, তা উত্তর দেশে যাচ্ছে; ও সাদা রংয়ের ঘোড়াগুলো তাদের পিছনে পিছনে চললো এবং বিন্দুচিত্রিত ঘোড়াগুলো দক্ষিণ দেশে চললো।
7 আর বলবান ঘোড়াগুলো চললো এবং দুনিয়ার সর্বত্র ভ্রমণ করার অনুমতি প্রার্থনা করলো; তাতে তিনি বললেন, চলে যাও, দুনিয়ার সর্বত্র ভ্রমণ কর; তাতে তারা দুনিয়ার সর্বত্র ভ্রমণ করলো।
8 তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, দেখ, যারা উত্তর দেশে যাচ্ছে, তারা উত্তর দেশে আমার রূহ্কে সুস্থির করেছে।
9
পরে মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
10 তুমি নির্বাসিত লোকদের কাছে, অর্থাৎ হিল্দয়, টোবিয় ও যিদায়ের কাছ থেকে রূপা ও সোনা গ্রহণ কর; সেদিন যাও, সফনিয়ের পুত্র ইউসিয়ার বাড়িতে গমন কর, ব্যাবিলন থেকে তারা সেখানে এসেছে;
11 তুমি রূপা ও সোনা গ্রহণ করে মুকুট তৈরি কর এবং যিহোষাদকের পুত্র মহা-ইমাম ইউসার মাথায় পরিয়ে দাও।
12 আর তাকে বল, বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, সেই পুরুষ, যাঁর নাম ‘তরুশাখা’, তিনি তাঁর স্থানে তরুশাখার মত বৃদ্ধি পাবেন এবং মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস গাঁথবেন;
13 হ্যাঁ, তিনিই মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস গাঁথবেন, তিনিই রাজকীয় সম্মান ধারণ করবেন, তাঁর সিংহাসনে বসে কর্তৃত্ব করবেন এবং তাঁর সিংহাসনের উপরে উপবিষ্ট ইমাম হবেন, তাতে এই দুইয়ের মধ্যে শান্তির মন্ত্রণা থাকবে।
14 পরন্তু হেলেম, টোবিয় ও যিদায়ের জন্য এবং সফনিয়ের পুত্রের সৌজন্যের জন্য, এই মুকুট স্মরণার্থে মাবুদের বায়তুল মোকাদ্দসে থাকবে।
15
আর দূরবর্তী লোকেরা এসে মাবুদের বায়তুল-মোকাদ্দস নির্মাণে সাহায্য করবে; আর তোমরা জানবে যে, বাহিনীগণের মাবুদই তোমাদের কাছে আমাকে পাঠিয়েছেন। তোমরা যদি যত্নপূর্বক নিজেদের আল্লাহ্ মাবুদের কথায় মনোযোগ দাও, তবে তা সিদ্ধ হবে।
1
আর দারিয়ুস বাদশাহ্র চতুর্থ বছরে কিষ্লেব নামক নবম মাসের চতুর্থ দিনে মাবুদের কালাম জাকারিয়ার কাছে নাজেল হল।
2 সেই সময় বেথেলের লোকেরা শরেৎসর, রেগম্মেলক ও তাদের লোকদেরকে মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করতে প্রেরণ করলো,
3 বাহিনীগণের মাবুদের গৃহের ইমামদের এবং নবীদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পাঠাল যে, আমি এত বছর যেমন করছি, তেমনি পঞ্চম মাসে নিজেকে পৃথক করে কি শোক প্রকাশ ও রোজা রাখব?
4 তখন বাহিনীগণের মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল, তুমি দেশের সকল লোক ও ইমামদেরকে এই কথা বল,
5 তোমরা এই সত্তর বছর কাল পঞ্চম ও সপ্তম মাসে যখন রোজা রেখেছ ও শোক করেছ, তখন তা কি আমার, আমারই উদ্দেশে করেছ?
6 আর যখন ভোজন কর ও পান কর, তখন কি তোমরাই ভোজন ও তোমরাই পান কর না?
7 জেরুশালেম ও তার চারদিকের সমস্ত নগর যখন বসতি ও কুশলবিশিষ্ট ছিল এবং দক্ষিণ দেশ ও নিম্নভূমি যখন বসতিবিশিষ্ট ছিল, সেই সময় মাবুদ আগেকার নবীদের দ্বারা যেসব কথা ঘোষণা করেছিলেন, তা কি তোমরা শুনবে না?
8
আর মাবুদের এই কালাম জাকারিয়ার কাছে নাজেল হল,
9 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেছেন, তোমরা যথার্থ বিচার কর এবং প্রত্যেকে আপন আপন ভাইয়ের সঙ্গে দয়া ও করুণাযুক্ত ব্যবহার কর;
10 এবং বিধবা, এতিম, বিদেশী ও দুঃখী লোকদের উপর জুলুম করো না এবং তোমরা কেউ মনে মনে আপন ভাইয়ের অনিষ্ট চিন্তা করো না।
11 কিন্তু তারা কান দিতে অসম্মত হয়ে ঘাড় ফিরিয়ে রাখত এবং যেন শুনতে না পায়, সেজন্য নিজ নিজ কান ভারী করতো।
12 হ্যাঁ, তারা নিজ নিজ অন্তঃকরণ হীরার মত কঠিন করতো, যেন শরীয়তের কথার শুনতে না হয় এবং বাহিনীগণের মাবুদ নিজের রূহ্ দ্বারা আগের নবীদের হাতে যেসব কালাম প্রেরণ করতেন, তাও শুনতে না হয়; এজন্য বাহিনীগণের মাবুদ মহা ক্রুদ্ধ হলেন।
13 তখন তিনি ডাকলে তারা যেমন শুনতো না, তেমনি বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বললেন, তারা ডাকলে আমিও শুনব না;
14 আর আমি ঘূর্ণিবাতাস দ্বারা তাদেরকে অপরিচিত সর্বজাতির মধ্যে ছিন্নভিন্ন করবো। এভাবে তাদের পরে দেশ এমন ধ্বংস হয়েছে যে, তা দিয়ে কেউ যাতায়াত করে নি। এভাবে তারা মনোরম দেশকে ধ্বংসস্থান করেছিল।
1
পরে বাহিনীগণের মাবুদের এই কালাম নাজেল হল,
2 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, আমি মহৎ অন্তর্জ্বালায় সিয়োনের জন্য জ্বলেছি, আর আমি তার জন্য মহাক্রোধে জ্বলছি।
3 মাবুদ এই কথা বলেন, আমি সিয়োনে ফিরে এসেছি, আমি জেরুশালেমে বাস করবো; আর জেরুশালেম সত্যপুরী নামে এবং বাহিনীগণের মাবুদের পর্বত পবিত্র পর্বত নামে আখ্যাত হবে।
4 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, যারা বেশি বয়সের কারণে লাঠিতে ভর করে চলে, এমন প্রাচীন ও প্রাচীনারা পুনর্বার জেরুশালেমের চকে বসবে।
5 আর চকে খেলাধুলা করে এমন বালক বালিকাতে নগরের চকগুলো পরিপূর্ণ হবে।
6 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, এই লোকদের অবশিষ্টাংশের দৃষ্টিতে যদি সেই সময়ে তা অসম্ভব মনে হয়, তবে কি আমার দৃষ্টিতেও অসম্ভব মনে হবে? এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
7 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, দেখ, আমি পূর্ব দেশ ও পশ্চিম দেশ থেকে আমার লোকদের উদ্ধার করবো;
8 আর আমি তাদেরকে আনবো, তাতে তারা জেরুশালেমে বাস করবে; এবং বিশ্বস্ততায় ও ধার্মিকতায় তারা আমার লোক হবে ও আমি তাদের আল্লাহ্ হবো।
9
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, বাহিনীগণের মাবুদের গৃহের ভিত্তি স্থাপনকালীন নবীদের মুখে বর্তমান কালে এসব কথা শুনতে পাচ্ছ যে তোমরা, তোমাদের হাত সবল হোক; এবাদতখানা নির্মিত হবে।
10 বস্তুত সেই দিনের আগে মানুষের বেতন ছিল না, পশুর ভাড়াও ছিল না; এবং যে কেউ ভিতরে আসত কিংবা বাইরে যেত, বিপক্ষ লোকের জন্য তার কিছুই শান্তি হত না; আর আমি প্রত্যেক জনকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর বিপক্ষে প্রেরণ করতাম।
11 কিন্তু এখন আমি এই লোকদের অবশিষ্টাংশের প্রতি আগের দিনগুলোর মত ব্যবহার করবো না, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
12 কেননা শান্তিযুক্ত বীজ হবে, আঙ্গুরলতা ফলবতী হবে, ভূমি তার শস্য উৎপন্ন করবে ও আসমান তার শিশির দান করবে; আর আমি এই লোকদের অবশিষ্টাংশকে এই সকলের অধিকারী করবো।
13 আর হে এহুদা-কুল ও ইসরাইল-কুল, জাতিদের মধ্যে তোমরা যেমন বদদোয়াস্বরূপ ছিলে, তেমনি আমি তোমাদেরকে নিস্তার করবো, আর তোমরা দোয়াস্বরূপ হবে; ভয় করো না; তোমাদের হাত সবল হোক।
14
কেননা বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে ক্রুদ্ধ করাতে আমি যেমন তোমাদের অমঙ্গল সাধনের সঙ্কল্প করলাম, অনুশোচনা করলাম না,
15 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, তেমনি আবার এই সময়ে জেরুশালেম ও এহুদা-কুলের মঙ্গল সাধনের সঙ্কল্প করলাম; তোমরা ভয় করো না।
16 তোমরা এসব কাজ করো, নিজ নিজ প্রতিবেশীর কাছে সত্যি কথা বলো, তোমাদের নগর-দ্বারে সত্য ও শান্তিজনক বিচার করো।
17 আর মনে মনে নিজ নিজ প্রতিবেশীর অনিষ্ট চিন্তা করো না এবং মিথ্যা শপথ ভালবেসো না; কেননা এসব আমি ঘৃণা করি, মাবুদ এই কথা বলেন।
18
পরে বাহিনীগণের মাবুদের এই কালাম আমার কাছে নাজেল হল,
19 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও দশম মাসের যেসব রোজা, তা এহুদা-কুলের জন্য আনন্দ, আমোদ ও মঙ্গলোৎসব হয়ে উঠবে; অতএব তোমরা সত্য ও শান্তি ভালবেসো।
20
বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, এর পরে নানা জাতি এবং অনেক নগরের নিবাসীরা আসবে।
21 এক নগরের নিবাসীরা অন্য নগরে গিয়ে এই কথা বলবে, চল, আমরা মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করতে ও বাহিনীগণের মাবুদের খোঁজ করতে শীঘ্র যাই; আমিও যাব।
22 আর অনেক দেশের লোক ও বলবান জাতিরা বাহিনীগণের মাবুদের খোঁজ করতে ও মাবুদের কাছে ফরিয়াদ করতে জেরুশালেমে আসবে।
23 বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তখন জাতিদের সর্ব ভাষাবাদী দশ জন পুরুষ এক জন ইহুদী পুরুষের পোশাকের কিনারা ধরে এই কথা বলবে, আমরা তোমাদের সঙ্গে যাব, কেনন আমরা শুনলাম, আল্লাহ্ তোমাদের সহবর্তী।
1
হদ্রক দেশের বিরুদ্ধে মাবুদের কালামের দৈববাণী এবং দামেস্ক তার অবস্থিতি-স্থান; কেননা মানুষের এবং সমস্ত ইসরাইলের চোখ মাবুদের প্রতি রয়েছে।
2 আর তার পাশে অবস্থিত হমাৎ এবং প্রচুর জ্ঞানবিশিষ্ট টায়ার ও সীদোনও তার ভাগী হবে।
3 টায়ার নিজের জন্য দৃঢ় দুর্গ নির্মাণ করেছে এবং ধুলার মত রূপা ও পথের কাদার মত উত্তম সোনা সঞ্চয় করেছে।
4 দেখ, প্রভু তাকে অধিকারচ্যুত করবেন ও সমুদ্রগর্ভে তার সম্পদ নিক্ষেপ করবেন এবং সে আগুনে পুড়ে যাবে।
5 তা দেখে অস্কিলোন ভয় পাবে, গাজাও দেখে ভীষণ ব্যথিত হবে এবং ইক্রোণও তেমনি হবে, কেননা তার প্রত্যাশিত ভূমি লজ্জিত হবে, গাজা থেকে বাদশাহ্ উচ্ছিন্ন হবে ও অস্কিলোনে বসতি থাকবে না।
6 আর অস্দোদে জারজ বংশ বাস করবে এবং আমি ফিলিস্তিনীদের অহংকার চূর্ণ করবো।
7 আর আমি তার মুখ থেকে তার পেয় রক্ত ও দাঁতের মধ্য থেকে তার জঘন্য বস্তুগুলো অপসারণ করবো; আর সে অবশিষ্ট থেকে নিজেও আমাদের আল্লাহ্র লোক হবে; সে এহুদার একটি বংশের মত হবে; এবং ইক্রোণ যিবূষীয়ের মত হবে।
8 আর আমি সৈন্যসামন্তের বিরুদ্ধে আমার কুলের চারদিকে শিবির স্থাপন করবো, যেন কেউ যাতায়াত না করে; তাতে কোন প্রজা পীড়নকারী আর তাদের কাছ দিয়ে যাবে না, কারণ এখন আমি স্বচক্ষে দেখলাম।
9
হে সিয়োন-কন্যা অতিশয় উল্লাস কর;
হে জেরুশালেম-কন্যা, জয়ধ্বনি কর।
দেখ, তোমার বাদশাহ্ তোমার কাছে আসছেন;
তিনি ধর্মময় ও তাঁর কাছে উদ্ধার আছে,
তিনি নম্র ও গাধার উপর উপবিষ্ট, গাধার বাচ্চার উপর উপবিষ্ট।
10
আর আমি আফরাহীম থেকে রথ ও জেরুশালেম থেকে ঘোড়া মুছে ফেলব, আর যুদ্ধ-ধনু উচ্ছিন্ন হবে; এবং তিনি জাতিদের কাছে শান্তির কথা বলবেন; আর তাঁর কর্তৃত্ব এক সমুদ্র থেকে অপর সমুদ্র পর্যন্ত ও নদী থেকে দুনিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত ব্যাপ্ত হবে।
11 আর তোমার বিষয়ে বলছি, তোমার নিয়মের রক্তের জন্য আমি তোমার বন্দীদেরকে সেই পানিবিহীন কুয়ার মধ্য থেকে মুক্ত করেছি।
12 হে আশার বন্দীরা, তোমরা ফিরে দৃঢ় দুর্গে এসো, আমি আজই অঙ্গীকার করছি, আমি তোমাকে দ্বিগুণ অংশ দেব।
13 কারণ আমি নিজের জন্য এহুদাকে ধনুক হিসেবে আকর্ষণ করেছি, তীর হিসেবে আফরাহীমকে সন্ধান করেছি; আর হে সিয়োন, আমি তোমার সন্তানদের, হে গ্রীস তোমার সন্তানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করবো ও তোমাকে বীরের তলোয়ারস্বরূপ করবো।
14 আর মাবুদ তাদের উপরে দর্শন দেবেন ও তাঁর তীর বিদ্যুতের মত বের হবে; এবং সার্বভৌম মাবুদ তূরী বাজাবেন, আর দক্ষিণের ঘূর্ণিবাতাস সহকারে গমন করবেন।
15 বাহিনীগণের মাবুদ তাদেরকে রক্ষা করবেন, তাতে তারা গ্রাস করবে ও ফিঙ্গার পাথরগুলো পদতলে দলিত করবে; আর তারা পান করবে এবং আঙ্গুর-রসে মাতাল লোকের মত আওয়াজ করবে; আর তারা বড় পানপাত্রের মত পূর্ণ হবে, কোরবানগাহ্র কোণের মত হবে।
16 আর সেদিন তাদের আল্লাহ্ মাবুদ তাদেরকে তাঁর লোক হিসেবে ভেড়ার পালের মত উদ্ধার করবেন, বস্তুত তারা মুকুটস্থ মণির মত তাঁর দেশে চাক্চিক্যবিশিষ্ট হবে।
17 আঃ! তাদের কেমন মঙ্গল ও কেমন শোভা! শস্য যুবকদেরকে ও নতুন আঙ্গুর-রস যুবতীদেরকে সতেজ করবে।
1
তোমরা শেষ বর্ষার সময়ে মাবুদের কাছে বৃষ্টি যাচ্ঞা কর; মাবুদ বিদ্যুতের উৎপাদক। তিনি লোকদের প্রচুর বৃষ্টি দেবেন, প্রত্যেক জনের ক্ষেতে ঘাস দেবেন।
2 কেননা মূর্তিগুলো অসারতার কথা বলেছে, গণকেরা মিথ্যা দর্শন পেয়েছে ও মিথ্যা স্বপ্নের কথা বলেছে; তারা বৃথাই সান্ত্বনা দেয়; এই কারণে লোকেরা পালকহীন ভেড়ার পালের মত চলে যায় ও দুঃখ পায়।
3 পালকদের প্রতি আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হচ্ছে, আর আমি ছাগলগুলোকে প্রতিফল দেব; কারণ বাহিনীগণের মাবুদ আপন পাল এহুদা-কুলের তত্ত্বাবধান করেছেন এবং তাকে তাঁর যুদ্ধের সতেজ ঘোড়ার মত করবেন।
4 এহুদা থেকে কোণের পাথর, গোঁজ, যুদ্ধ-ধনু এবং সমস্ত শাসনকর্তা উৎপন্ন হবে।
5 বীরদের মত তারা যুদ্ধে দুশমনদের পথের কাদায় দলিত করবে; তারা যুদ্ধ করবে, কেননা মাবুদ তাদের সহবর্তী; আর ঘোড়সওয়াররা লজ্জিত হবে।
6 আর আমি এহুদা-কুলকে বিক্রমশালী করবো, ইউসুফ-কুলকে উদ্ধার করবো এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনবো, কেননা তাদের প্রতি আমার করুণা আছে এবং তারা এমন হবে, যেন আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করি নি; কারণ আমিই তাদের আল্লাহ্ মাবুদ আর আমি তাদেরকে মুনাজাতের উত্তর দেব।
7 আর আফরাহীম বীরের মত হবে এবং আঙ্গুর-রস দ্বারা যেমন আনন্দ হয়, তাদের অন্তঃকরণ তেমনি আনন্দ করবে; তাদের সন্তানরা দেখবে ও আহ্লাদিত হবে, তাদের অন্তঃকরণ মাবুদে উল্লাস করবে।
8 আমি মৃদু ধ্বনি সহকারে তাদের ডাকব এবং একত্র করবো, কারণ আমি তাদের মুক্ত করেছি এবং তারা যেমন বহুবংশ ছিল, তেমনি বহুবংশ হবে।
9 আর আমি জাতিদের মধ্যে তাদের বপন করবো; তারা নানা দূর দেশে আমাকে স্মরণ করবে; আর তারা নিজ নিজ সন্তানসহ জীবিত থাকবে ও ফিরে আসবে।
10 আমি তাদের মিসর দেশ থেকে ফিরিয়ে আনবো, আশেরিয়া থেকে সংগ্রহ করবো; আমি তাদেরকে গিলিয়দ দেশে ও লেবাননে আনবো, আর তাদের স্থানের অকুলান হবে।
11 আর তিনি সঙ্কট-সাগর দিয়ে যাবেন, তরঙ্গময় সমুদ্রকে প্রহার করবেন, তাতে নীল নদের সকল গভীর স্থান শুকিয়ে যাবে, আশেরিয়া দেশের গর্ব খর্ব হবে ও মিসরের রাজদণ্ড দূর হবে।
12 আর আমি তাদেরকে মাবুদে বিক্রমশালী করবো এবং তারা তাঁর নামে চলাচল করবে, মাবুদ এই কথা বলেন।
1
হে লেবানন, তোমার দ্বারগুলো খুলে দাও, আগুন তোমার এরস গাছগুলো গ্রাস করুক।
2 হে দেবদারু, হাহাকার কর, কেননা এরস গাছ পড়ে গেল, সেরা গাছগুলো নষ্ট হল; হে বাশনের অলোন গাছগুলো হাহাকার কর, কেননা দুর্গম বন ভূমিসাৎ হল।
3 ভেড়ার রাখালদের হাহাকার-ধ্বনি! কারণ তাদের গৌরব নষ্ট হল; যুবা সিংহদের গর্জন-ধ্বনি! কেননা জর্ডানের শোভাস্থান নষ্ট হল।
4
আমার আল্লাহ্ মাবুদ এই কথা বললেন, তুমি জবেহ্ হবার জন্য যে মেষের পাল ঠিক হয়ে আছে তাদের চরাও;
5 তাদের অধিকারীরা তাদেরকে হত্যা করে, তবুও নিজেদের দোষী মনে করে না; এবং তাদের বিক্রয়কারীরা প্রত্যেকে বলে, মাবুদ ধন্য হোন, আমি ধনী হলাম; এবং তাদের পালকেরা তাদের প্রতি দয়া করে না।
6 কারণ, মাবুদ বলেন, আমি দেশ-নিবাসীদের প্রতি আর দয়া করবো না, কিন্তু দেখ, আমি মানুষের মধ্যে প্রত্যেককে তার প্রতিবেশী ও তার বাদশাহ্র হাতে তুলে দেব; তারা দেশকে চূর্ণ করবে, আর আমি তাদের হাত থেকে কাউকেও উদ্ধার করবো না।
7
তখন আমি সেই জবেহ্ হওয়ার জন্য ঠিক হওয়া মেষের পালকে, সত্যি, সেই দুঃখী মেষগুলোকে চরাতে লাগলাম। আর আমি নিজের জন্য দু’টি পাঁচনী নিলাম; তার একটির নাম প্রসন্নতা, অন্যটির নাম ঐক্যবন্ধন রাখলাম; আর আমি সেই মেষ পাল চরালাম।
8 আর আমি এক মাসের মধ্যে তার তিন জন পালককে উচ্ছিন্ন করলাম; কারণ আমার প্রাণ তাদের প্রতি অসহিষ্ণু হল তাদের প্রাণও আমাকে ঘৃণা করলো।
9 তখন আমি বললাম, আমি তোমাদের চরাব না; যে মরে সে মরুক ও যে উচ্ছিন্ন হয় সে উচ্ছিন্ন হোক এবং অবশিষ্ট লোকেরা এক জন অন্যের মাংস গ্রাস করুক।
10 পরে আমি প্রসন্নতা নামক আমার পাঁচনী নিলাম, তা খণ্ড খণ্ড করলাম, যেন সর্বজাতির সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম ভঙ্গ করি।
11 আর সেদিন তা ভেঙ্গে ফেলা হল, তাই পালের মধ্যে যেসব দুঃখী আমাতে মনোযোগ করতো, তারা জানতে পারল যে, এ মাবুদের কালাম।
12 তখন আমি তাদের বললাম, যদি তোমাদের ভাল মনে হয়, তবে আমার বেতন দাও, নতুবা ক্ষান্ত হও। অতএব তারা আমার বেতন বলে ত্রিশটি রূপার মুদ্রা ওজন করে দিল।
13 তখন মাবুদ আমাকে বললেন, সেটি কুমারের কাছে ফেলে দাও, বিলক্ষণ মূল্য, ওদের বিচারে আমি এরকম মূল্যবান; আর আমি সেই ত্রিশটি রূপার মুদ্রা নিয়ে মাবুদের গৃহে কুমারের কাছে ফেলে দিলাম।
14 পরে ঐক্যবন্ধন নামক আমার অন্য পাঁচনী খণ্ড খণ্ড করলাম, যেন এহুদা ও ইসরাইলের ভ্রাতৃভাব নষ্ট করি।
15
পরে মাবুদ আমাকে বললেন, এবার তুমি এক জন নির্বোধ ভেড়ার রাখালের দ্রব্য গ্রহণ কর।
16 কেননা দেখ, আমি দেশে এমন এক জন মেষ পালককে উঠাবো, যে উচ্ছিন্ন লোকদের তত্ত্বাবধান করবে না, ছিন্নভিন্ন লোকদের খোঁজ করবে না, ভগ্নাঙ্গ লোককে সুস্থ করবে না, সুস্থিরেরও ভরণপোষণ করবে না, কিন্তু হৃষ্টপুষ্ট মেষগুলোর গোশ্ত খাবে এবং তাদের খুর ছিঁড়বে।
17 ধিক্ সেই অকর্মণ্য পালককে, যে পাল ত্যাগ করে! তার বাহু ও ডান চোখে তলোয়ার আঘাত করবে; তার বাহু নিতান্তই শুকিয়ে যাবে ও তার ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাবে।
1
ইসরাইলের বিষয়ে মাবুদের কালামরূপ দৈববাণী: যিনি আসমান মেলে দিয়েছেন, দুনিয়ার ভিত্তিমূল স্থাপন করেছেন এবং মানুষের অন্তরস্থ রূহের নির্মাণ করেছেন সেই মাবুদ বলেন,
2 দেখ, আমি চারদিকের সর্বজাতির পক্ষে জেরুশালেমকে সুরার পানপাত্রস্বরূপ করবো এবং জেরুশালেমের অবরোধকালে এটা এহুদাতেও সফল হবে।
3 সেদিন আমি জেরুশালেমকে সর্বজাতিরই বোঝাস্বরূপ পাথর করবো; যত লোক সেই বোঝা নেবে, তারা ক্ষতবিক্ষত হবে; আর তার বিরুদ্ধে দুনিয়ার সমস্ত জাতি জমায়েত হবে।
4 মাবুদ বলেন, সেদিন আমি সমস্ত ঘোড়াকে স্তব্ধতায় ও ঘোড়সওয়ারকে উন্মাদনায় আহত করবো এবং এহুদা-কুলের প্রতি আমার চোখ খোলা থাকবে, আর জাতিদের সমস্ত ঘোড়াকে অন্ধতায় আহত করবো।
5 আর এহুদার নেতৃবর্গ মনে মনে বলবে, জেরুশালেম-নিবাসীরা তোমাদের আল্লাহ্ বাহিনীগণের মাবুদে আমার বল।
6
সেদিন আমি এহুদার নেতৃবর্গকে কাঠের রাশির মধ্যস্থিত জ্বলন্ত অঙ্গারের মত ও আটির মধ্যস্থিত প্রজ্বলিত আগুন শিখার মত করবো; তারা ডান দিকে ও বাম দিকে চারপাশের সকল জাতিকে গ্রাস করবে এবং জেরুশালেম, পুনরায় আপন স্থানে, জেরুশালেমে, বসতি করবে।
7
আর মাবুদ প্রথমে এহুদার তাঁবুগুলোকে বিজয় দান করবেন, যেন দাউদ-কুলের শোভা ও জেরুশালেম-নিবাসীদের শোভা এহুদার চেয়ে বেশি না হয়।
8 সেদিন মাবুদ জেরুশালেম-নিবাসীদেরকে রক্ষা করবেন; আর সেদিন তাদের মধ্যে যে হোঁচট খেল, সেও দাউদের মত হবে এবং দাউদের কুল আল্লাহ্র মত, মাবুদের যে ফেরেশতা তাদের অগ্রগামী, তাঁর মত হবে।
9 আর সেদিন আমি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আগত সমস্ত জাতিকে ধ্বংস করতে উদ্যোগী হব।
10
আর দাউদ-কুলের ও জেরুশালেম-নিবাসীদের উপরে আমি রহমত ও বিনতির রূহ্ সেচন করবো; তাতে তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে, সেই আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে এবং তাঁর জন্য মাতম করবে, যেমন একমাত্র পুত্রের জন্য মাতম করা হয় এবং তাঁর জন্য শোকাকুল হবে, যেমন প্রথমজাত পুত্রের জন্য লোকে শোকাকুল হয়।
11 সেদিন জেরুশালেমে অতিশয় মাতম হবে, যেমন মাতম মগিদ্দোন সমস্থলিতে হদদ্-রিম্মোণে হয়েছিল।
12 দেশীয় প্রত্যেক গোষ্ঠী পৃথক পৃথকভাবে মাতম করবে; দাউদ-কুলের গোষ্ঠী পৃথক ও তাদের স্ত্রীরা পৃথক; নাথনকুলের গোষ্ঠী পৃথক ও তাদের স্ত্রীরা পৃথক;
13 লেবি-কুলের গোষ্ঠী পৃথক ও তাদের স্ত্রীরা পৃথক; শিমিয়ির গোষ্ঠী পৃথক ও তাদের স্ত্রীরা পৃথক;
14 অবশিষ্ট সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে এক এক গোষ্ঠী পৃথক ও তাদের স্ত্রীরা পৃথক পৃথক মাতম করবে।
1
সেদিন দাউদ-কূল ও জেরুশালেম-নিবাসীদের জন্য গুনাহ্ ও নাপাকীতা ধোবার জন্য একটি ফোয়ারা খোলা হবে।
2 আর বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, সেদিন আমি দেশ থেকে মূর্তিগুলোর নাম মুছে ফেলবো, তাদের বিষয় আর কারো স্মরণে থাকবে না; আবার আমি নবীদের ও নাপাকীতার রূহ্কে দেশ থেকে দূর করবো।
3 যদি তখনও কেউ ভবিষ্যদ্বাণী বলে, তবে তার জন্মদাতা পিতা-মাতা তাকে বলবে, তুমি বাঁচবে না, কেননা তুমি মাবুদের নাম করে মিথ্যা বলছো; এবং সে ভবিষ্যদ্বাণী বললে তার জন্মদাতা পিতা-মাতা তাকে অস্ত্রবিদ্ধ করবে।
4 আর সেদিন নবীরা প্রত্যেকে ভবিষ্যদ্বাণী বলবার সময়ে নিজ নিজ দর্শনের বিষয়ে লজ্জিত হবে এবং প্রতারণা করার জন্য লোমশ কাপড় আর পরবে না।
5 কিন্তু প্রত্যেকে বলবে, আমি নবী নই, আমি এক জন কৃষক, বাল্যকাল থেকে এক জন গোলাম।
6 আর যখন কেউ তাকে বলবে, তোমার দুই হাতের মধ্যে এসব ক্ষতের দাগ কি? তখন সে জবাবে বলবে, আমার আত্মীয়দের বাড়িতে যেসব আঘাত পেয়েছি, এ সেই সকল আঘাত।
7
হে তলোয়ার, তুমি আমার পালকের, আমার স্বজাতীয় পুরুষের বিরুদ্ধে জাগ্রত হও, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; পালককে আঘাত কর, তাতে পালের মেষেরা ছড়িয়ে পড়বে; আর আমি ক্ষুদ্রদের বিরুদ্ধেও আমার হাত উঠাব।
8 মাবুদ বলেন, সমস্ত দেশে দুই অংশ লোক উচ্ছিন্ন হয়ে প্রাণত্যাগ করবে; কিন্তু তৃতীয় অংশ তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে।
9 সেই তৃতীয় অংশকে আমি আগুনে প্রবেশ করাব, যেমন রূপা খাঁটি করা যায়, তেমনি খাঁটি করবো ও যেমন সোনা পরীক্ষিত হয়, তেমনি তাদের পরীক্ষা করবো; তারা আমার নামে ডাকবে এবং আমি তাদের উত্তর দেব; আমি বলবো, এ আমার লোক; আর তারা বলবে, মাবুদ আমার আল্লাহ্।
1
দেখ, মাবুদের একটি দিন আসছে; সেদিন তোমার মধ্যে তোমার সম্পত্তি লুট হয়ে ভাগ হবে।
2 কারণ আমি সমস্ত জাতিকে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সংগ্রহ করবো; তাতে নগর শত্রুহস্তগত, সকল বাড়ির দ্রব্য লুণ্ঠিত ও স্ত্রীলোকেরা ধর্ষিতা হবে এবং নগরের অর্ধেক লোক নির্বাসনে যাবে, আর অবশিষ্ট লোকেরা নগর থেকে উচ্ছিন্ন হবে না।
3 তখন মাবুদ বের হবেন এবং সংগ্রামের দিনে যেমন যুদ্ধ করেছিলেন, তেমনি ঐ জাতিদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন।
4 আর সেদিন তাঁর চরণ সেই জৈতুন পর্বতের উপরে দাঁড়াবে, যা জেরুশালেমের সম্মুখে পূর্ব দিকে অবস্থিত; তাতে জৈতুন পর্বতের মধ্যদেশ পূর্ব দিকে ও পশ্চিম দিকে বিদীর্ণ হয়ে বিরাট বড় উপত্যকা হয়ে যাবে, পর্বতের অর্ধেক উত্তর দিকে ও অর্ধেক দক্ষিণ দিকে সরে যাবে।
5 তখন তোমরা আমার পর্বতমালার উপত্যকা দিয়ে পালিয়ে যাবে; কেননা পর্বতমালার সেই উপত্যকা আৎসল পর্যন্ত যাবে; হ্যাঁ, তোমরা পালিয়ে যাবে, যেমন এহুদার বাদশাহ্ উষিয়ের সময়ে ভূমিকম্পের সম্মুখ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলে; আর আমার আল্লাহ্ মাবুদ আসবেন, তোমার সঙ্গে পবিত্র ব্যক্তিরা সকলেই আসবেন।
6
আর সেদিন আলো হবে না, জ্যোতির্গণ সঙ্কুচিত হবে।
7 সে অদ্বিতীয় দিন হবে, মাবুদই তার তত্ত্ব জানেন; তা দিনও হবে না, রাতও হবে না, কিন্তু সন্ধ্যাবেলায় আলো হবে।
8
আর সেদিন জেরুশালেম থেকে জীবন্ত পানি বের হবে, তার অর্ধেক পূর্বসমুদ্রের ও অর্ধেক পশ্চিমসমুদ্রের দিকে যাবে; তা গ্রীষ্ম ও শীতকালে থাকবে।
9
আর মাবুদ সমস্ত দেশের উপরে বাদশাহ্ হবেন; সেদিন মাবুদ অদ্বিতীয় হবেন এবং তাঁর নামও অদ্বিতীয় হবে।
10
গেবা থেকে জেরুশালেমের দক্ষিণস্থ রিম্মোণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ রূপান্তরিত হয়ে অরাবা সমভূমির মত হবে এবং নগরটি উন্নত হয়ে আপন স্থানে বসতিবিশিষ্ট হবে; বিন্ইয়ামীনের দ্বার থেকে প্রথম দ্বারের স্থান, কোণের দ্বার এবং হননেলের উচ্চগৃহ থেকে বাদশাহ্র আঙ্গুর মাড়াই করার স্থান পর্যন্ত সেরকম হবে।
11 আর লোকেরা তার মধ্যে বাস করবে; আর কখনও বদদোয়াগ্রস্ত হবে না, কিন্তু জেরুশালেম নির্ভয়ে বসতি করবে।
12
আর যেসব জাতি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবে মাবুদ এরকম আঘাতে তাদেরকে আহত করবেন; পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াবার সময়ে তাদের মাংস ক্ষয় পাবে, কোটরে চোখ দু’টি ক্ষয় পাবে ও মুখে জিহ্বা ক্ষয় পাবে।
13 আর সেদিন তাদের মধ্যে মাবুদের কাছ থেকে মহাকোলাহল হবে; তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর হাত ধরবে এবং প্রত্যেকের হাত নিজ নিজ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উত্তোলিত হবে।
14 এহুদাও জেরুশালেমের পক্ষে যুদ্ধ করবে এবং চারদিকের সমস্ত জাতির ধন, সোনা, রূপা ও কাপড়-চোপড় বিপুল পরিমাণে সঞ্চয় করা যাবে।
15 আর সেসব শিবিরে উপস্থিত ঘোড়া, খচ্চর, উট, গাধা প্রভৃতি সকল পশুর প্রতি আঘাত ঐ আঘাতের মত হবে।
16
আর জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আগত সমস্ত জাতির মধ্যে যারা অবশিষ্ট থাকবে, তারা প্রতি বছর বাহিনীগণের মাবুদ বাদশাহ্র কাছে সেজ্দা করতে ও কুটীরোৎসব পালন করতে আসবে।
17 আর দুনিয়ার যেসব গোষ্ঠী বাহিনীগণের মাবুদ বাদশাহ্র কাছে সেজ্দা করতে জেরুশালেমে আসবে না, তাদের উপরে বৃষ্টি হবে না।
18 মিসরের গোষ্ঠী যদি না আসে, উপস্থিত না হয়, তবে তাদের উপরে বৃষ্টি হবে না; যেসব জাতি কুটীরোৎসব পালন করতে না আসবে, তাদেরকে মাবুদ যে আঘাতে আহত করবেন, সেই আঘাত ওদের প্রতিও ঘটবে।
19 এই আঘাত মিসরের দণ্ড হবে এবং যেসব জাতি কুটীরোৎসব পালন করতে না আসবে, তাদের সকলের সেই দণ্ড হবে।
20
সেদিন ‘মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র’ এই কথা ঘোড়াগুলোর ঘণ্টিতে লেখা থাকবে এবং মাবুদের গৃহের রান্না করার পাত্রগুলো কোরবানগাহ্র সম্মুখস্থ পাত্রগুলোর মত হবে।
21 আর জেরুশালেম ও এহুদার সমস্ত রান্না করার পাত্র বাহিনীগণের মাবুদের উদ্দেশে পবিত্র হবে; এবং যারা কোরবানী করে, তারা সকলে এসে তার মধ্যে কোন কোন পাত্র নিয়ে তাতে রান্না করবে; আর সেদিন বাহিনীগণের মাবুদের গৃহে কোন ব্যবসায়ী আর থাকবে না।
1
মালাখির দ্বারা ইসরাইলের প্রতি মাবুদের কালামরূপ দৈববাণী।
2
আমি তোমাদেরকে মহব্বত করেছি, মাবুদ এই কথা বলেন। কিন্তু তোমরা বলছো, কিসে তুমি আমাদেরকে মহব্বত করেছ? মাবুদ বলেন, ইস্ কি ইয়াকুবের ভাই নয়? তবুও আমি ইয়াকুবকে প্রেম করেছি;
3 কিন্তু ইস্কে অপ্রেম করেছি, তার পর্বতমালাকে ধ্বংসস্থান ও তার অধিকার মরুভূমিস্থ শিয়ালদের বাসস্থান করেছি।
4 ইদোম বলে, আমরা চূর্ণ হয়েছি বটে, কিন্তু ফিরে উৎসন্ন স্থানগুলো গাঁথব; বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন, তারা গাঁথবে, কিন্তু আমি ভেঙ্গে ফেলবো এবং তাদেরকে এই নাম দেওয়া যাবে, ‘দুষ্টতার অঞ্চল’ ও ‘সেই জাতি, যার প্রতি মাবুদ নিয়ত ক্রোধ করেন’।
5 আর তোমাদের চোখ তা দেখবে এবং তোমরা বলবে, ইসরাইলের সীমানার বাইরেও মাবুদ মহীয়ান হোন।
6
পুত্র পিতাকে এবং গোলাম প্রভুকে সমাদর করে; ভাল, আমি যদি পিতা হই, তবে আমার সমাদর কোথায়? আর আমি যদি প্রভু হই, তবে আমার প্রতি ভয় কোথায়? হে ইমামেরা, তোমরা যে আমার নাম অবজ্ঞা করছো, তোমাদেরকেই বাহিনীগণের মাবুদ এই কথা বলেন। কিন্তু তোমরা বলছো, কিসে তোমার নাম অবজ্ঞা করেছি?
7 তোমরা আমার কোরবানগাহ্র উপরে নাপাক খাদ্য নিবেদন করেছ। তবুও বলছো, কিসে তোমাকে নাপাক করেছি? মাবুদের টেবিল তুচ্ছ, এই কথা বলাতেই তা করেছ।
8 আর যখন তোমরা কোরবানীর জন্য অন্ধ পশু কোরবানী কর, সেটি কি মন্দ নয়? এবং যখন খঞ্জ ও রুগ্ন পশু কোরবানী কর, সেটি কি মন্দ নয়? তোমার দেশের শাসনকর্তার কাছে তা কোরবানী কর দেখি; সে কি তোমার প্রতি খুশি হবে? সে কি তোমাকে গ্রাহ্য করবে? এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
9 এখন বলি, শোন, আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ কর, যেন তিনি আমাদের প্রতি সদয় হন; তোমাদের হাত দিয়ে ঐ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তোমাদের মধ্যে কি তিনি কাউকেও গ্রাহ্য করবেন? এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
10 হায়! তোমাদেরই মধ্যে এক জন যদি কবাট বন্ধ করতো, যেন তোমরা আমার কোরবানগাহ্র উপরে বৃথা আগুন জ্বালাতে না পার! তোমাদের উপর আমি সন্তুষ্ট নই, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; এবং তোমাদের হাত থেকে আমি নৈবেদ্য গ্রাহ্য করবো না।
11 কারণ সূর্যের উদয়স্থান থেকে তার অস্তগমনস্থান পর্যন্ত জাতিদের মধ্যে আমার নাম মহৎ এবং প্রত্যেক স্থানে আমার নামের উদ্দেশে ধূপ জ্বালায় ও পবিত্র নৈবেদ্য উৎসৃষ্ট হচ্ছে; কেননা জাতিদের মধ্যে আমার নাম মহৎ, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
12 কিন্তু তোমরা তা নাপাক করছো; কেননা তোমরা বলছো, মাবুদের টেবিল নাপাক, সেই টেবিলের ফল, তাঁর খাদ্য তুচ্ছ।
13 আরও বলছো, দেখ, কেমন বিড়ম্বনা! আর তোমরা তার উপরে ফুঁ দিয়েছ, এই বাহিনীগণের মাবুদ বলেন। আর তোমরা লুণ্ঠিত, খঞ্জ ও রুগ্ন পশুকে উপস্থিত করেছ, এমনভাবে নৈবেদ্য উপস্থিত করছো; আমি কি তোমাদের হাত থেকে তা গ্রাহ্য করবো? মাবুদ এই কথা বলেন।
14 আর পালের মধ্যে পুরুষ পশু থাকলেও যে প্রতারক মানত করে প্রভুর উদ্দেশে খুঁতযুক্ত পশু কোরবানী করে, সে বদদোয়াগ্রস্ত; কেননা আমি মহান বাদশাহ্, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; এবং জাতিদের মধ্যে আমার নাম ভয়াবহ।
1
এখন, হে ইমামেরা, তোমাদের প্রতি এই হুকুম।
2 বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, যদি আমার নামের মহিমা স্বীকার করার জন্য তোমরা কথা না শোন ও মনোযোগ না কর, তবে আমি তোমাদের উপরে বদদোয়া প্রেরণ করবো ও তোমাদের দোয়ার পাত্র সকলকে বদদোয়া দেব; বাস্তবিক আমি সেসব লোককে বদদোয়া দিয়েছি, কেননা তোমরা মনোযোগ দাও না।
3 দেখ, আমি তোমাদের জন্য বংশধরকে ভৎর্সনা করবো ও তোমাদের মুখে বিষ্ঠা ছড়াব এবং লোকেরা তার সঙ্গে তোমাদের নিয়ে যাবে।
4
আর তোমরা জানবে, লেবির সঙ্গে যেন আমার নিয়ম থাকে, সেজন্য আমি তোমাদের কাছে এই হুকুম পাঠালাম, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
5 তার সঙ্গে আমার যে নিয়ম ছিল, তা জীবন ও শান্তির নিয়ম, আর আমি তাকে উভয়ই দিতাম, যেন সে ভয় করে, আর সে আমাকে ভয় করতো এবং আমার নামে ভয় পেত।
6 তার মুখে সত্যের ব্যবস্থা ছিল ও তার কথায় কোন অন্যায় পাওয়া যেত না; সে শান্তিতে ও সরলতায় আমার সঙ্গে চলাফেরা করতো এবং অনেককে অপরাধ থেকে ফিরিয়ে রাখত।
7 বস্তুত ইমামের মুখ জ্ঞান রক্ষা করে ও তার মুখে লোকেরা শরীয়তের খোঁজ করে; কেননা সে বাহিনীগণের মাবুদের দূত।
8 কিন্তু তোমরা পথ থেকে সরে পড়েছ, শরীয়তের বিষয়ে অনেককে হোঁচট খাইয়েছ; তোমরা লেবির নিয়ম নষ্ট করেছ; এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
9 এজন্য আমিও সকল লোকের সাক্ষাতে তোমাদেকে তুচ্ছতার পাত্র ও নিচ করলাম, কারণ তোমরা আমার পথ রক্ষা করছো না, শরীয়তের বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব করে থাক।
10
আমাদের সকলের কি এক জন পিতা নন? এই আল্লাহ্ই কি আমাদের সৃষ্টি করেন নি? তবে আমরা কেন প্রত্যেকে আপন আপন ভাইয়ের প্রতি বেঈমানী করি, নিজেদের পৈতৃক নিয়ম নাপাক করি?
11 এহুদা বেঈমানী করেছে এবং ইসরাইল ও জেরুশালেমে জঘন্য কাজ করেছে; কেননা এহুদা মাবুদের সেই পবিত্র-স্থান নাপাক করেছে, যা তিনি ভালবাসেন ও এক বিজাতীয় দেবতার কন্যাকে বিয়ে করেছে।
12 যে ব্যক্তি এই কাজ করে, মাবুদ তার প্রতি এরকম করবেন, ইয়াকুবের তাঁবুগুলো থেকে যে জাগায় ও যে উত্তর দেয় এবং যে বাহিনীগণের মাবুদের উদ্দেশে নৈবেদ্য আনয়ন করে, তাকে উচ্ছিন্ন করবেন।
13
আর তোমাদের দ্বিতীয় অপকর্ম এই, তোমরা অশ্রুপাতে, কান্নাকাটিতে ও আর্তস্বরে মাবুদের কোরবানগাহ্ আচ্ছন্ন করে থাক, কারণ তিনি আর কোরবানীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না ও তোমাদের হাত থেকে তুষ্টিজনক বলে কিছু গ্রাহ্য করেন না।
14 তবুও তোমরা বলছো, এর কারণ কি? কারণ এই, মাবুদ তোমার যৌবনকালীন স্ত্রীর ও তোমার মধ্যে সাক্ষী হয়েছেন; ফলত তুমি তার প্রতি বেঈমানী করেছ, যদিও সে তোমার সখী ও তোমার নিয়মের স্ত্রী।
15 মাবুদ কি স্বামী ও স্ত্রীকে এক করে সৃষ্টি করেন নি? রূহে ও মাংসে তারা তাঁরই। তারা কেন এক? কারণ তিনি তাদের মধ্য দিয়ে একটি আল্লাহ্-ভক্ত বংশ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। অতএব তোমার নিজ নিজ রূহের বিষয়ে সাবধান হও এবং কেউ তার যৌবনকালীন স্ত্রীর প্রতি বেঈমানী না করুক।
16 কেননা আমি স্ত্রীত্যাগ ঘৃণা করি, এই কথা ইসরাইলের আল্লাহ্ মাবুদ বলেন, আর যে তার পোশাক জোর-জুলুম দিয়ে ঢাকে, তাকে ঘৃণা করি, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন। অতএব তোমরা নিজ নিজ রূহের বিষয়ে সাবধান হও, বেঈমানী করো না।
17
তোমরা নিজ নিজ কথা দ্বারা মাবুদকে ক্লান্ত করেছ। তবুও বলে থাক, কিসে তাঁকে ক্লান্ত করেছি? এই কথায় করছো, তোমরা বলছো, যে কেউ দুষ্কর্ম করে, সে মাবুদের দৃষ্টিতে উত্তম; তিনি তাদের প্রতি প্রীত; অথবা, বিচারকর্তা আল্লাহ্ কোথায়?
1
দেখ, আমি আমার দূতকে প্রেরণ করবো, সে আমার আগে পথ প্রস্তুত করবে; এবং তোমরা যে প্রভুর খোঁজ করছো, তিনি অকস্মাৎ তাঁর এবাদতখানায় আসবেন; নিয়মের সেই দূত, যাঁতে তোমাদের প্রীতি, দেখ, তিনি আসছেন, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
2 কিন্তু তাঁর আগমনের দিন কে সহ্য করতে পারবে; আর তিনি দর্শন দিলে কে দাঁড়াতে পারবে; কেননা তিনি রূপা পরিষ্কার করা আগুনের মত ও ধোপার সাবানের মত।
3 তিনি রূপা-পরিষ্কারক ও শুদ্ধিকারক হয়ে বসবেন, তিনি লেবির সন্তানদের পাক-পবিত্র করবেন, সোনার ও রূপার মত তাদের বিশুদ্ধ করবেন; তাতে তারা মাবুদের উদ্দেশে ধার্মিকতায় নৈবেদ্য কোরবানী করবে।
4 তখন এহুদা ও জেরুশালেমের নৈবেদ্য মাবুদের তুষ্টিজনক হবে, যেমন আগেকার দিনে, আদিকালের বছরগুলোতে হয়েছিল।
5
আর আমি বিচার করতে তোমাদের কাছে আসব; এবং মায়াবী, পতিতাগামী ও মিথ্যা শপথকারীদের বিরুদ্ধে ও যারা বেতনের বিষয়ে বেতনজীবীর প্রতি এবং বিধবা ও এতিম লোকের প্রতি জুলুম করে, বিদেশীর প্রতি অন্যায় করে ও আমাকে ভয় করে না, তাদের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষী দিতে দেরি করবো না, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
6
কারণ আমি মাবুদ, আমার পরিবর্তন নেই; তাই তোমরা, হে ইয়াকুবের সন্তানেরা, বিনষ্ট হচ্ছ না।
7 তোমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে তোমরা আমার বিধিকলাপ থেকে সরে পড়েছ, সেসব পালন কর নি। আমার কাছে ফিরে এসো, আমিও তোমাদের কাছে ফিরে আসবো, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন। কিন্তু তোমরা বলছো, আমরা কিসে ফিরব?
8
মানুষ কি আল্লাহ্কে ঠকাবে? তোমরা তো আমাকে ঠকিয়ে থাক। কিন্তু তোমরা বলছো, কিসে তোমাকে ঠকিয়েছি? দশমাংশে ও উপহারে।
9 তোমরা অভিশাপে বদদোয়াগ্রস্ত; হ্যাঁ, তোমরা, এ সব জাতি, আমাকেই ঠকাচ্ছ।
10 তোমরা সমস্ত দশ ভাগের এক ভাগ ভাণ্ডারে আন, যেন আমার গৃহে খাদ্য থাকে; আর তোমরা এতে আমার পরীক্ষা কর, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন, আমি আসমানের দরজাগুলো মুক্ত করে তোমাদের প্রতি অপরিমেয় দোয়া বর্ষণ করি কি না।
11 আর আমি তোমাদের জন্য গ্রাসকারীকে ভর্ৎসনা করবো, সে তোমাদের ভূমির ফল বিনষ্ট করবে না এবং ক্ষেতে তোমাদের আঙ্গুরলতার ফল অকালে ঝরাবে না, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
12 আর সর্ব জাতি তোমাদেরকে সুখী বলবে, কেননা তোমরা প্রীতিজনক দেশ হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
13
তোমরা আমার বিরুদ্ধে শক্ত শক্ত কথা বলেছ, মাবুদ এই কথা বলেন। কিন্তু তোমরা বলছো, আমরা কিসে তোমার বিরুদ্ধে কথা বলেছি? তোমরা বলেছ, আল্লাহ্র সেবা করা অনর্থক;
14 এবং তাঁর রক্ষণীয়-দ্রব্য রক্ষা ও বাহিনীগণের মাবুদের সাক্ষাতে শোকবেশে চলাফেরা করায় আমাদের লাভ কি হল?
15 আমরা এখন গর্বিত লোকদেরকে সুখী বলি; হ্যাঁ, দুর্বৃত্তরা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহ্র পরীক্ষা করেও রক্ষা পায়।
16
তখন, যারা মাবুদকে ভয় করতো, তারা পরস্পর আলাপ করলো এবং মাবুদ মনোযোগ দিয়ে শুনলেন; আর যারা মাবুদকে ভয় করতো ও তাঁর নাম ধ্যান করতো, তাদের জন্য তাঁর সম্মুখে একটি স্মরণ করার কিতাব লেখা হল।
17 আর তারা আমারই হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; আমার কাজ করার দিনে তারা আমার নিজস্ব হবে; এবং কোন মানুষ যেমন আপন সেবাকারী পুত্রের প্রতি মমতা করে, আমি তাদের প্রতি তেমনি মমতা করবো।
18 তখন তোমরা ফিরে আসবে এবং ধার্মিক ও দুষ্টের মধ্যে, যে আল্লাহ্র সেবা করে ও যে তাঁর সেবা না করে, উভয়ের মধ্যে প্রভেদ দেখবে।
1
কারণ দেখ, সেদিন আসছে, তা হাপরের মত জ্বলবে এবং দাম্ভিক ও দুর্বৃত্তরা সকলে খড়ের মত হবে; আর সেই যেদিন আসছে, তা তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন; সে দিন তাদের মূল বা শাখা কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না।
2 কিন্তু তোমরা যে আমার নাম ভয় করে থাক, তোমাদের প্রতি ধার্মিকতা-সূর্য উদিত হবেন, তাঁর রশ্মিতে থাকবে সুস্থতা; এবং তোমরা বের হয়ে পালের বাছুরগুলোর মত নাচবে।
3 আর তোমরা দুষ্ট লোকদেরকে মাড়াই করবে; কেননা আমার কাজ করার দিনে তারা তোমাদের পদতলে ছাইয়ের মত হবে, এই কথা বাহিনীগণের মাবুদ বলেন।
4
তোমরা আমার গোলাম মূসার শরীয়ত স্মরণ কর; তাকে আমি হোরেবে সমস্ত ইসরাইলের জন্য সেই বিধি ও অনুশাসন হুকুম করেছিলাম।
5 দেখ, মাবুদের সেই মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিন আসার আগে আমি তোমাদের কাছে নবী ইলিয়াসকে প্রেরণ করবো।
6 সে সন্তানদের প্রতি পিতাদের হৃদয় ও পিতাদের প্রতি সন্তানদের হৃদয় ফিরাবে; পাছে আমি এসে দুনিয়াকে অভিশাপে আঘাত করি।
1
ঈসা মসীহের বংশ-তালিকা এই— তিনি দাউদের সন্তান, ইব্রাহিমের সন্তান।
2 ইব্রাহিমের পুত্র ইস্হাক; ইস্হাকের পুত্র ইয়াকুব; ইয়াকুবের পুত্র এহুদা ও তাঁর ভাইয়েরা;
3 এহুদার পুত্র পেরস ও সেরহ, তামরের গর্ভজাত; পেরসের পুত্র হিষ্রোণ; হিষ্রোণের পুত্র রাম;
4 রামের পুত্র অম্মীনাদব; অম্মীনাদবের পুত্র নহোশোন; নহশোনের পুত্র সল্মোন;
5 সল্মোনের পুত্র বোয়স, রাহবের গর্ভজাত; বোয়সের পুত্র ওবেদ, রূতের গর্ভজাত; ওবেদের পুত্র ইয়াসির;
6 ইয়াসিরের পুত্র বাদশাহ্ দাউদ। দাউদের পুত্র সোলায়মান, ঊরিয়ের বিধবার গর্ভজাত;
7 সোলায়মানের পুত্র রহবিয়াম; রহবিয়ামের পুত্র অবিয়; অবিয়ের পুত্র আসা;
8 আসার পুত্র যিহোশাফট; যিহোশাফটের পুত্র যোরাম; যোরামের পুত্র উষিয়;
9 উষিয়ের পুত্র যোথম; যোথমের পুত্র আহস; আহসের পুত্র হিষ্কিয়;
10 হিষ্কিয়ের পুত্র মানশা; মানশার পুত্র আমোন; আমোনের পুত্র ইউসিয়া;
11 ইউসিয়ার সন্তান যিকনিয় ও তাঁর ভাইয়েরা, তারা ব্যাবিলনে নির্বাসন কালে জন্মগ্রহণ করেছেন।
12
যিকনিয়ের পুত্র শল্টীয়েল, সে ব্যাবিলনে নির্বাসনে যাওয়ার পরে জন্মগ্রহণ করেছে; শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল;
13 সরুব্বাবিলের পুত্র অবীহূদ; অবীহূদের পুত্র ইলীয়াকীম; ইলীয়াকীমের পুত্র আসোর;
14 আসোরের পুত্র সাদোক; সাদোকের পুত্র আখীম; আখীমের পুত্র ইলীহূদ;
15 ইলীহূদের পুত্র ইলিয়াসর; ইলিয়াসরের পুত্র মত্তন; মত্তনের পুত্র ইয়াকুব;
16 ইয়াকুবের পুত্র ইউসুফ; ইনি মরিয়মের স্বামী; এই মরিয়মের গর্ভে ঈসার জন্ম হয়, যাঁকে মসীহ্ [অভিষিক্ত] বলা হয়।
17
এভাবে ইব্রাহিম থেকে দাউদ পর্যন্ত সর্বমোট চৌদ্দ পুরুষ; আর দাউদ থেকে ব্যাবিলনের নির্বাসন পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ এবং ব্যাবিলনের নির্বাসন থেকে মসীহ্ পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ।
18
ঈসা মসীহের জন্ম এভাবে হয়েছিল। তাঁর মা মরিয়ম ইউসুফের প্রতি বাগ্দত্তা হলে তাঁদের সহবাসের আগে জানা গেল, পাক-রূহ্ের শক্তিতে তিনি গর্ভবতী হয়েছেন।
19 আর তাঁর স্বামী ইউসুফ ধার্মিক ছিলেন বলে তাঁকে সাধারণ লোকদের কাছে নিন্দার পাত্র করতে চাইলেন না। সেজন্য তিনি তাঁকে গোপনে তালাক দেবার ইচ্ছা করলেন।
20 তিনি এসব ভাবছেন, এমন সময় দেখ, প্রভুর এক জন ফেরেশতা স্বপ্নে তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, ইউসুফ, দাউদ-সন্তান, তোমার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রহণ করতে ভয় করো না, কেননা তাঁর গর্ভে যে শিশু জন্মেছেন, তিনি পাক-রূহের শক্তিতেই জন্মেছেন;
21 আর তিনি পুত্র প্রসব করবেন এবং তুমি তাঁর নাম ঈসা [নাজাতদাতা] রাখবে; কারণ তিনিই তাঁর লোকদেরকে তাদের গুনাহ্ থেকে নাজাত করবেন।
22 এসব ঘটলো, যেন নবীর মধ্য দিয়ে প্রভুর এই যে কালাম নাজেল হয়েছিল তা পূর্ণ হয়,
23
“দেখ, সেই কন্যা গর্ভবতী হবে এবং
পুত্র প্রসব করবে,
আর তাঁর নাম ইম্মানূয়েল রাখা হবে;”
অনুবাদ করলে এই নামের অর্থ, ‘আমাদের সঙ্গে আল্লাহ্’।
24 পরে ইউসুফ ঘুম থেকে উঠে প্রভুর ফেরেশতা তাঁকে যেমন হুকুম করেছিলেন তেমনি করলেন। তিনি মরিয়মকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলেন।
25 আর যে পর্যন্ত মরিয়ম পুত্র প্রসব না করলেন, সেই পর্যন্ত ইউসুফ তাঁর সঙ্গে সহবাস করলেন না, আর তিনি পুত্রের নাম ঈসা রাখলেন।
1
বাদশাহ্ হেরোদের সময়ে এহুদিয়ার বেথেলহেমে ঈসার জন্ম হলে পর, দেখ, পূর্ব দেশ থেকে কয়েক জন পণ্ডিত জেরুশালেমে এসে বললেন,
2 ইহুদীদের যে বাদশাহ্ জন্মেছেন, তিনি কোথায়? কারণ আমরা পূর্বদেশে আসমানে তাঁর তারা দেখেছি ও তাঁকে সেজ্দা করতে এসেছি।
3 এই কথা শুনে বাদশাহ্ হেরোদ অস্থির হয়ে উঠলেন ও তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সমস্ত লোকেরাও অস্থির হয়ে উঠলো।
4 আর তিনি সমস্ত প্রধান ইমাম ও লোক-সাধারণের আলেমদেরকে একত্র করে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, মসীহ্ কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?
5 তাঁরা তাঁকে বললেন, এহুদিয়ার বেথেলহেমে, কেননা নবীর মধ্য দিয়ে এই কথা লেখা হয়েছে,
6
“আর তুমি, হে এহুদা দেশের
বেথেলহেম,
তুমি এহুদার শাসনকর্তাদের মধ্যে কোন মতে ক্ষুদ্রতম নও,
কারণ তোমা থেকে সেই শাসনকর্তা
উৎপন্ন হবেন,
যিনি আমার লোক ইসরাইলকে পালন
করবেন।”
7
তখন হেরোদ সেই পণ্ডিতদেরকে গোপনে ডেকে, ঐ তারা কোন্ সময়ে দেখা গিয়েছিল, তা তাঁদের কাছ থেকে বিশেষ করে জেনে নিলেন।
8 পরে তিনি তাঁদেরকে বেথেলহেমে পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, তোমরা গিয়ে বিশেষ করে সেই শিশুর খোঁজ কর; দেখা পেলে পর আমাকে সংবাদ দিও, যেন আমিও গিয়ে তাঁকে সেজ্দা করতে পারি।
9 বাদশাহ্র কথা শুনে তাঁরা প্রস্থান করলেন, আর দেখ পূর্বদেশে তাঁরা যে তারা দেখেছিলেন, তা তাঁদের আগে আগে চললো, শেষে যেখানে শিশুটি ছিলেন তার উপরে এসে স্থগিত হয়ে রইলো।
10 তারাটি দেখতে পেয়ে তাঁরা মহানন্দে অতিশয় আনন্দিত হলেন।
11 পরে তাঁরা বাড়ির মধ্যে গিয়ে শিশুটিকে তাঁর মা মরিয়মের সঙ্গে দেখতে পেলেন ও ভূমিষ্ঠ হয়ে তাঁকে সেজ্দা করলেন এবং তাঁদের ধনকোষ খুলে তাঁকে সোনা, কুন্দুরু ও গন্ধরস উপহার দিলেন।
12 পরে তাঁরা স্বপ্নে হুকুম পেলেন যেন হেরোদের কাছে ফিরে না যান, তখন অন্য পথ দিয়ে তাঁরা নিজেদের দেশে চলে গেলেন।
13
তাঁরা চলে গেলে পর, দেখ, প্রভুর এক জন ফেরেশতা স্বপ্নে ইউসুফকে দর্শন দিয়ে বললেন, উঠ, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে নিয়ে মিসরে পালিয়ে যাও; আর আমি যতদিন তোমাকে না বলি, তত দিন সেখানে থাক; কেননা হেরোদ শিশুটিকে হত্যা করার জন্য তাঁর খোঁজ করবে।
14 তখন ইউসুফ উঠে সেই রাতেই শিশুটিকে ও তাঁর মাকে নিয়ে মিসরে চলে গেলেন;
15 এবং হেরোদের মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে থাকলেন। এটা ঘটলো যেন নবীর মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া প্রভুর এই কালাম পূর্ণ হয়, “আমি মিসর থেকে আপন পুত্রকে ডেকে আনলাম”।
বাদশাহ্ হেরোদ শিশুদের হত্যা করান
পরে হেরোদ যখন দেখলেন যে, তিনি পণ্ডিতদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তখন মহা ক্রুদ্ধ হলেন এবং সেই পণ্ডিতদের কাছে বিশেষ করে যে সময় জেনে নিয়েছিলেন, সেই অনুসারে দু’বছর ও তার অল্প বয়সের যত বালক বেথেলহেম ও তার সমস্ত পরিসীমার মধ্যে ছিল, লোক পাঠিয়ে তাদের সকলকে হত্যা করালেন।
17 তখন ইয়ারমিয়া নবীর মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া প্রভুর এই কালাম পূর্ণ হল,
18
“রামায় আওয়াজ শোনা যাচ্ছে,
হাহাকার ও ভীষণ কান্নাকাটি;
রাহেলা তার সন্তানদের জন্য কাঁদছেন,
সান্ত্বনা পেতে চান না,
কেননা তারা আর নেই।”
19
হেরোদের মৃত্যু হলে পর, দেখ, প্রভুর এক জন ফেরেশতা মিসরে ইউসুফকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বললেন,
20 উঠ, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে নিয়ে ইসরাইল দেশে যাও; কারণ যারা শিশুটির প্রাণ-নাশের চেষ্টা করেছিল, তারা মারা গেছে।
21 তাতে তিনি উঠে শিশুটিকে ও তাঁর মাকে নিয়ে ইসরাইল দেশে আসলেন।
22 কিন্তু যখন তিনি শুনতে পেলেন যে, আর্খিলায় তার পিতা হেরোদের পদে এহুদিয়াতে রাজত্ব করছেন তখন সেখানে যেতে ভয় পেলেন। পরে স্বপ্নে হুকুম পেয়ে গালীল প্রদেশে চলে গেলেন।
23 তাঁরা নাসরত নামক নগরে গিয়ে বাস করতে লাগলেন, যেন নবীদের মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া এই কালাম পূর্ণ হয় যে, তিনি নাসরতীয় বলে আখ্যাত হবেন।
1
সেই সময়ে বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া উপস্থিত হয়ে এহুদিয়ার মরুভূমিতে তবলিগ করতে লাগলেন;
2 তিনি বললেন, ‘তওবা কর, কেননা বেহেশতী-রাজ্য সন্নিকট হল।’
3 ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর বিষয়ে নবী ইশাইয়া বলেছিলেন,
“মরুভূমিতে এক জনের কণ্ঠস্বর,
সে ঘোষণা করছে,
তোমরা প্রভুর পথ প্রস্তুত কর,
তাঁর রাজপথগুলো সরল কর।”
4
ইয়াহিয়া উটের লোমের কাপড় পরতেন ও তাঁর কোমরে চামড়ার কোমরবন্ধনী পরতেন; পঙ্গপাল ও বনমধু তাঁর খাদ্য ছিল।
5 তখন জেরুশালেম, সমস্ত এহুদিয়া এবং জর্ডানের নিকটবর্তী সমস্ত অঞ্চলের লোক বের হয়ে তাঁর কাছে যেতে লাগল।
6 তারা নিজ নিজ গুনাহ্ স্বীকার করে জর্ডান নদীতে তাঁর দ্বারা বাপ্তিস্ম নিতে লাগল।
7
কিন্তু অনেক ফরীশী ও সদ্দূকী বাপ্তিস্ম নেবার জন্য আসছে দেখে তিনি তাদেরকে বললেন, হে সাপের বংশধরেরা, আগামী গজব থেকে পালিয়ে যেতে তোমাদেরকে কে চেতনা দিল?
8 অতএব মন পরিবর্তনের উপযোগী ফলে ফলবান হও।
9 আর ভেবো না যে, তোমরা মনে মনে বলতে পার, ইব্রাহিম আমাদের পিতা; কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, আল্লাহ্ এসব পাথর থেকে ইব্রাহিমের জন্য সন্তান উৎপন্ন করতে পারেন।
10 আর এখনই গাছগুলোর গোড়ায় কুড়াল লাগানো আছে; অতএব যে কোন গাছে উত্তম ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।
11
আমি তোমাদেরকে মন পরিবর্তনের জন্য পানিতে বাপ্তিস্ম দিচ্ছি বটে, কিন্তু আমার পরে যিনি আসছেন, তিনি আমার চেয়ে শক্তিমান; আমি তাঁর জুতা বইবারও যোগ্য নই; তিনি তোমাদেরকে পাক-রূহ্ ও আগুনে বাপ্তিস্ম দেবেন।
12 তাঁর কুলা তাঁর হাতে আছে, আর তিনি তাঁর খামার পরিষ্কার করবেন এবং তাঁর গম গোলায় সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।
13
সেই সময়ে ঈসা ইয়াহিয়া কর্তৃক বাপ্তিস্ম নেবার জন্য গালীল থেকে জর্ডানে তাঁর কাছে আসলেন।
14 কিন্তু ইয়াহিয়া তাঁকে বারণ করতে লাগলেন, বললেন, আপনার কাছে আমারই বাপ্তিস্ম নেওয়া উচিত, আর আপনি কিনা এসেছেন আমার কাছে?
15 কিন্তু জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, এখন সম্মত হও, কেননা এভাবে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁর কথায় সম্মত হলেন।
16 পরে ঈসা বাপ্তিস্ম নিয়ে যখন পানি থেকে উঠলেন; আর দেখ, তাঁর জন্য বেহেশত খুলে গেল এবং তিনি আল্লাহ্র রূহ্কে কবুতরের মত নেমে তাঁর নিজের উপরে আসতে দেখলেন।
17 আর দেখ, বেহেশত থেকে এই বাণী হল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, এঁর উপরেই আমি সন্তুষ্ট।’
1
তখন ঈসা ইবলিস দ্বারা পরীক্ষিত হবার জন্য, পাক-রূহের পরিচালনায় মরুভূমিতে নীত হলেন।
2 আর চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত রোজা রাখার পর তাঁর খিদে পেল।
3 তখন শয়তান পরীক্ষা করার জন্য কাছে এসে তাঁকে বললো, তুমি যদি আল্লাহ্র পুত্র হও, তবে বলো, যেন এই পাথরগুলো রুটি হয়ে যায়।
4 কিন্তু জবাবে তিনি বললেন, লেখা আছে,
“মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচবে না,
কিন্তু আল্লাহ্র মুখ থেকে যে প্রত্যেক
কালাম বের হয়,
তাতেই বাঁচবে।”
5
তখন শয়তান তাঁকে পবিত্র নগরে নিয়ে গেল এবং বায়তুল-মোকাদ্দসের চূড়ার উপরে দাঁড় করালো,
6 আর তাঁকে বললো, তুমি যদি আল্লাহ্র পুত্র হও, তবে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়, কেননা লেখা আছে,
“তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে তোমার
বিষয়ে হুকুম দেবেন,
আর তাঁরা তোমাকে হাতে করে তুলে
নেবেন,
পাছে তোমার পায়ে পাথরের আঘাত
লাগে।”
7
ঈসা তাকে বললেন, আবার লেখা আছে,
“তুমি তোমার আল্লাহ্ মালিকের পরীক্ষা করো না।”
8
আবার শয়তান তাঁকে খুব উঁচু একটি পর্বতে নিয়ে গেল এবং দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য ও সেই সবের প্রতাপ দেখালো,
9 আর তাঁকে বললো, তুমি যদি ভূমিষ্ঠ হয়ে আমাকে সেজ্দা কর, এ সবই আমি তোমাকে দেব।
10 তখন ঈসা তাঁকে বললেন, দূর হও, শয়তান; কেননা লেখা আছে,
“তোমার মালিক আল্লাহ্কেই সেজদা
করবে,
কেবল তাঁরই এবাদত করবে।”
11
তখন শয়তান তাঁর কাছ থেকে চলে গেল, আর দেখ, ফেরেশতারা কাছে এসে তাঁর পরিচর্যা করতে লাগলেন।
12
পরে ঈসা শুনতে পেলেন যে, ইয়াহিয়াকে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে, তখন তিনি গালীলে চলে গেলেন;
13 আর নাসরত ত্যাগ করে সমুদ্রতীরে, সবূলূন ও নপ্তালি অঞ্চলে অবস্থিত কফরনাহূমে গিয়ে বাস করলেন;
14 যেন নবী ইশাইয়ার মধ্য দিয়ে যে কালাম নাজেল হয়েছিল তা পূর্ণ হয়,
15
“সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশ, সমুদ্রের
পথে,
জর্ডান নদীর অন্য পারে, অ-ইহুদীদের
গালীল,
16
যে জাতি অন্ধকারে বসে ছিল,
তারা মহা আলো দেখতে পেল,
যারা মৃত্যুর দেশে ও ছায়াতে বসে
ছিল,
তাদের উপরে আলো উদিত হল।”
17
সেই সময় থেকে ঈসা তবলিগ করতে আরম্ভ করলেন; বলতে লাগলেন, ‘মন ফিরাও, কেননা বেহেশতী-রাজ্য সন্নিকট’।
18
একদিন তিনি গালীল সমুদ্রের তীর দিয়ে বেড়াতে বেড়াতে শিমোন, যাকে পিতর বলা হয়, আর তাঁর ভাই আন্দ্রিয়কে দেখতে পেলেন। তাঁরা সাগরে জাল ফেলছেন, কারণ তাঁরা জেলে ছিলেন।
19 তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর।
20 আমি তোমাদেরকে মানুষ ধরা জেলে করবো। আর তখনই তাঁরা তাদের জাল পরিত্যাগ করে তাঁর পিছনে চললেন।
21 পরে তিনি সেখান থেকে এগিয়ে গিয়ে সিবদিয়ের পুত্র ইয়াকুব ও ইউহোন্না নামে দুই ভাইকে দেখতে পেলেন। তাঁরা তাঁদের পিতা সিবদিয়ের সঙ্গে নৌকায় জাল সারছিলেন। ঈসা তাঁদেরকে ডাকলেন।
22 আর তখনই তাঁরা নৌকা ও তাঁদের পিতাকে পরিত্যাগ করে তাঁর পিছনে চললেন।
23
পরে ঈসা সারা গালীলে ভ্রমণ করতে লাগলেন; তিনি লোকদের বিভিন্ন মজলিস-খানায় উপদেশ দিলেন, বেহেশতী-রাজ্যের সুসমাচার তবলিগ করলেন এবং লোকদের সমস্ত রকম রোগ ও সমস্ত রকম অসুস্থতা থেকে তাদের সুস্থ করলেন।
24 আর তাঁর কথা সারা সিরিয়া দেশে ছড়িয়ে পড়লো এবং নানা রকম রোগ ও ব্যাধিতে কষ্ট পাওয়া সমস্ত অসুস্থ লোক, বদ-রূহে পাওয়া লোক ও মৃগীরোগী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকদের তাঁর কাছে আনা হল, আর তিনি তাদেরকে সুস্থ করলেন।
25 আর গালীল, দিকাপলি, জেরুশালেম, এহুদিয়া ও জর্ডান নদীর অন্য পার থেকে অনেক লোক এসে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
1
তিনি অনেক লোক দেখে পর্বতে উঠলেন; আর তিনি বসলে পর তাঁর সাহাবীরা তাঁর কাছে আসলেন।
2 তখন তিনি মুখ খুলে তাঁদেরকে এই উপদেশ দিতে লাগলেন—
3
ধন্য যারা রূহে দীনহীন,
কারণ বেহেশতী-রাজ্য তাদেরই।
4
ধন্য যারা শোক করে,
কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে।
5
ধন্য যারা মৃদুশীল,
কারণ তারা দেশের অধিকারী হবে।
6
ধন্য যারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধিত ও
তৃষ্ণার্ত,
কারণ তারা পরিতৃপ্ত হবে।
7
ধন্য যারা করুণা করে,
কারণ তারা করুণা পাবে।
8
ধন্য যারা নির্মল অন্তরের অধিকারী,
কারণ তারা আল্লাহ্র দর্শন পাবে।
9
ধন্য যারা মিলন করে দেয়,
কারণ তারা আল্লাহ্র পুত্র বলে
আখ্যায়িত হবে।
10
ধন্য যারা ধার্মিকতার জন্য নির্যাতিত
হয়েছে,
কারণ বেহেশতী-রাজ্য তাদেরই।
11
ধন্য তোমরা, যখন লোকে আমার জন্য তোমাদেরকে নিন্দা করে ও নির্যাতন করে এবং মিথ্যা করে তোমাদের বিরুদ্ধে সব রকম মন্দ কথা বলে।
12 আনন্দ করো, উল্লসিত হয়ো, কেননা বেহেশতে তোমাদের পুরস্কার প্রচুর; কারণ তোমাদের আগে যে নবীরা ছিলেন, তাঁদেরকে তারা সেইভাবে নির্যাতন করতো।
13
তোমরা দুনিয়ার লবণ, কিন্তু লবণের স্বাদ যদি চলে যায়, তবে তা কিভাবে লবণের গুণবিশিষ্ট করা যাবে? তা আর কোন কাজে লাগে না, কেবল বাইরে ফেলে দেবার ও লোকের পদতলে দলিত হবার যোগ্য হয়।
14
তোমরা দুনিয়ার নূর; পর্বতের উপরে অবস্থিত নগর গুপ্ত থাকতে পারে না।
15 আর লোকে প্রদীপ জ্বেলে ঢাকনার নিচে রাখে না, কিন্তু প্রদীপ-আসনের উপরেই রাখে, তাতে তা গৃহস্থিত সমস্ত লোককে আলো দেয়।
16 তেমনি তোমাদের নূর মানুষের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হোক, যেন তারা তোমাদের সৎকর্ম দেখে তোমাদের বেহেশতী পিতার গৌরব করে।
17
মনে করো না যে, আমি শরীয়ত বা নবীদের কিতাব লোপ করতে এসেছি; আমি তা লোপ করতে আসি নি, কিন্তু পূর্ণ করতে এসেছি।
18 কেননা আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে পর্যন্ত আসমান ও দুনিয়া শেষ না হবে, সেই পর্যন্ত শরীয়তের একটি মাত্রা বা একটি বিন্দুও মুছে যাবে না, সমস্তই সফল হবে।
19 অতএব যে কেউ এসব ক্ষুদ্রতম হুকুমের মধ্যে কোন একটি হুকুম লঙ্ঘন করে ও লোকদেরকে তা লঙ্ঘন করতে শিক্ষা দেয়, তাকে বেহেশতী-রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র বলা যাবে; কিন্তু যে কেউ সেসব পালন করে ও শিক্ষা দেয়, তাকে বেহেশতী-রাজ্যে মহান বলা যাবে।
20 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, আলেম ও ফরীশীদের চেয়ে তোমাদের ধার্মিকতা যদি বেশি না হয়, তবে তোমরা কোন মতে বেহেশতী-রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
21
তোমরা শুনেছ, আগেকার দিনের লোকদের কাছে বলা হয়েছিল, “তুমি খুন করো না,” আর ‘যে খুন করে সে বিচারের দায়ে পড়বে’।
22 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ আপন ভাইয়ের প্রতি ক্রোধ করে, সে বিচারের দায়ে পড়বে; আর যে কেউ আপন ভাইকে বলে, ‘রে নির্বোধ,’ সে মহাসভার বিচারের দায়ে পড়বে। আর যে কেউ বলে, ‘রে মূঢ়,’ সে দোজখের আগুনের দায়ে পড়বে।
23 অতএব তুমি যখন কোরবানগাহ্র কাছে তোমার নৈবেদ্য কোরবানী করছো, তখন সেই স্থানে যদি মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাইয়ের কোন অনুযোগ আছে,
24 তবে সেই স্থানে কোরবানগাহ্র সম্মুখে তোমার নৈবেদ্য রাখ, আর চলে গিয়ে প্রথমে তোমার ভাইয়ের সঙ্গে সম্মিলিত হও, পরে এসে তোমার নৈবেদ্য কোরবানী করো।
25 তুমি যখন বিপক্ষের সঙ্গে পথে থাক, তখন তার সঙ্গে শীঘ্র মীমাংসা করো, পাছে বিপক্ষ তোমাকে বিচারকর্তার হাতে তুলে দেয় ও বিচারকর্তা তোমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়, আর তুমি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হও।
26 আমি তোমাকে সত্যি বলছি, যতদিন শেষ পয়সাটা পর্যন্ত পরিশোধ না করবে, ততদিন তুমি কোন মতে সেই স্থান থেকে বাইরে আসতে পারবে না।
27
তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছিল, “তুমি জেনা করো না”।
28 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তার সঙ্গে জেনা করলো।
29 আর তোমার ডান চোখ যদি তোমাকে গুনাহ্ করায়, তবে তা উপড়ে দূরে ফেলে দাও; কেননা তোমার সমস্ত শরীর দোজখে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং একটি অঙ্গের নাশ হওয়া তোমার পক্ষে ভাল।
30 আর তোমার ডান হাত যদি তোমাকে গুনাহ্ করায়, তবে তা কেটে দূরে ফেলে দাও; কেননা তোমার সমস্ত শরীর দোজখে যাওয়ার চেয়ে বরং একটি অঙ্গের নাশ হওয়া তোমার পক্ষে ভাল।
31
আর বলা হয়েছিল, “যে কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় সে তাকে তালাক-নামা দিক্”।
32 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ জেনা ছাড়া অন্য কারণে তার স্ত্রীকে তালাক দেয় সে তাকে জেনাকারিণী করে। যে ব্যক্তি সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে, সেও জেনা করে।
33
আবার তোমরা শুনেছ, আগেকার দিনের লোকদের কাছে বলা হয়েছিল, ‘তুমি মিথ্যা কসম খেয়ো না, কিন্তু প্রভুর উদ্দেশে তোমার কসমগুলো পালন কোরো।’
34 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, কোন কসমই খেয়ো না; বেহেশতের নামে কসম খেয়ো না, কেননা তা আল্লাহ্র সিংহাসন; দুনিয়ার নামে কসম খেয়ো না, কেননা তা তাঁর পাদপীঠ।
35 আর জেরুশালেমের নামে কসম খেয়ো না, কেননা তা মহান বাদশাহ্র নগরী।
36 আর তোমার মাথার নামে কসম খেয়ো না, কেননা একগাছি চুল সাদা বা কালো করার সাধ্য তোমার নেই।
37 কিন্তু তোমাদের কথা হ্যাঁ, হ্যাঁ, না, না, হোক; এর অতিরিক্ত যা, তা মন্দ থেকে জন্মে।
38
তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছিল, “চোখের বদলে চোখ ও দাঁতের বদলে দাঁত”।
39 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা দুষ্টের প্রতিরোধ করো না; বরং যে কেউ তোমার ডান গালে চড় মারে, অন্য গাল তার দিকে ফিরিয়ে দাও।
40 আর যে তোমার সঙ্গে বিচার-স্থানে ঝগড়া করে তোমার কোর্তা নিতে চায়, তাকে জামাটাও নিতে দাও।
41 আর যে কেউ এক মাইল যেতে তোমাকে পীড়াপীড়ি করে, তার সঙ্গে দুই মাইল যাও।
42 যে তোমার কাছে কিছু চায়, তাকে দাও এবং যে তোমার কাছে ধার চায়, তা থেকে বিমুখ হয়ো না।
43
তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছিল, “তোমার প্রতিবেশীকে মহব্বত করবে,” এবং “তোমার দুশমনকে ঘৃণা করবে”।
44
কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা নিজ নিজ দুশমনদেরকে মহব্বত করো এবং যারা তোমাদেরকে নির্যাতন করে, তাদের জন্য মুনাজাত করো;
45 যেন তোমরা তোমাদের বেহেশতী পিতার সন্তান হও, কারণ তিনি ভাল-মন্দ লোকদের উপরে তাঁর সূর্য উদিত করেন এবং ধার্মিক-অধার্মিকদের উপরে বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
46 কেননা যারা তোমাদেরকে মহব্বত করে, যদি তাদেরকেই তোমরা মহব্বত কর তবে তোমাদের কি পুরস্কার হবে? কর-আদায়কারীরাও কি সেই মত করে না?
47 আর তোমরা যদি কেবল আপন আপন ভাইদেরকে সালাম জানাও, তবে বেশি কি কাজ কর? অ-ইহুদীরাও কি সেরকম করে না?
48 অতএব তোমাদের বেহেশতী পিতা যেমন সিদ্ধ, তোমরাও তেমনি সিদ্ধ হও।
1
সাবধান, লোককে দেখাবার জন্য তাদের সাক্ষাতে তোমাদের ধর্মকর্ম করো না, করলে তোমাদের বেহেশতী পিতার কাছ থেকে তোমরা কোন পুরস্কার পাবে না।
2
অতএব তুমি যখন দান কর, তখন তোমার সম্মুখে তূরী বাজিয়ো না, যেমন ভণ্ডরা লোকের কাছে প্রশংসা পাবার জন্য মজলিস-খানায় ও পথে করে থাকে; আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
3 কিন্তু তুমি যখন দান কর, তখন তোমার ডান হাত কি করছে, তা তোমার বাম হাতকে জানতে দিও না।
4 এভাবে তোমার দান যেন গোপনে হয়; তাতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দেবেন।
5
আর তোমরা যখন মুনাজাত কর, তখন ভণ্ডদের মত হয়ো না; কারণ তারা মজলিস-খানায় ও পথের কোণে দাঁড়িয়ে লোক-দেখানো মুনাজাত করতে ভালবাসে; আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
6 কিন্তু তুমি যখন মুনাজাত কর, তখন তোমার ভিতরের ঘরে প্রবেশ করো, আর দরজা বন্ধ করে তোমার পিতা, যিনি গোপনে বর্তমান, তাঁর কাছে মুনাজাত করো; তাতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দেবেন।
7
আর মুনাজাত করার সময় তোমরা অনর্থক পুনরুক্তি করো না, যেমন অ-ইহুদীরা করে থাকে; কেননা তারা মনে করে, বেশি কথা বললেই তাদের মুনাজাতের উত্তর পাবে।
8 অতএব তোমরা তাদের মত হয়ো না, কেননা তোমাদের কি কি প্রয়োজন, তা যাচ্ঞা করার আগে তোমাদের পিতা জানেন।
9
অতএব তোমরা এই ভাবে মুনাজাত
করো;
হে আমাদের বেহেশতী পিতা,
তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক,
10
তোমার রাজ্য আসুক,
তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হোক,
যেমন বেহেশতে তেমনি দুনিয়াতেও
হোক;
11
আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আজ
আমাদেরকে দাও;
12
আর আমাদের অপরাধগুলো মাফ
কর,
যেমন আমরাও নিজ নিজ
অপরাধীদেরকে মাফ করেছি;
13
আর আমাদেরকে পরীক্ষাতে এনো
না,
কিন্তু মন্দ থেকে রক্ষা কর।
14
তোমরা যদি লোকের অপরাধ মাফ কর, তবে তোমাদের বেহেশতী পিতা তোমাদেরকেও মাফ করবেন।
15 কিন্তু তোমরা যদি লোকদেরকে মাফ না কর, তবে তোমাদের পিতা তোমাদের অপরাধও মাফ করবেন না।
16
আর তোমরা যখন রোজা রাখ, তখন ভণ্ডদের মত মুখ কালো করে রেখো না; কেননা তারা লোককে রোজা দেখাবার জন্য নিজেদের মুখ কালো করে রাখে; আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
17 কিন্তু তুমি যখন রোজা রাখ, তখন মাথায় তেল দিও এবং মুখ ধুইও;
18 যেন লোকে তোমার রোজা দেখতে না পায়, কিন্তু তোমার পিতা, যিনি গোপনে বর্তমান, তিনিই দেখতে পান; তাতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দেবেন।
19
তোমরা দুনিয়াতে নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় করো না; এখানে তো কীটে ও মরিচায় ক্ষয় করে এবং এখানে চোরে সিঁধ কেটে চুরি করে।
20 কিন্তু বেহেশতে নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় কর; সেখানে কীটে ও মরিচায় ক্ষয় করে না, সেখানে চোরেও সিঁধ কেটে চুরি করে না।
21 কারণ যেখানে তোমার ধন, সেখানে তোমার মনও থাকবে।
22
চোখই শরীরের প্রদীপ; অতএব তোমার চোখ যদি সরল হয়, তবে তোমার সমস্ত শরীর আলোতে পূর্ণ হবে।
23 কিন্তু তোমার চোখ যদি মন্দ হয়, তবে তোমার সমস্ত শরীর অন্ধকারময় হবে। অতএব তোমার মধ্যকার আলো যদি অন্ধকার হয়, সেই অন্ধকার কত বড়!
24
কেউই দুই মালিকের গোলামী করতে পারে না; কেননা সে হয় তো এক জনকে হিংসা করবে, আর এক জনকে মহব্বত করবে, নয় তো এক জনের প্রতি অনুরক্ত হবে, আর এক জনকে তুচ্ছ করবে; তোমরা আল্লাহ্ এবং ধন উভয়ের গোলামী করতে পার না।
25
এজন্য আমি তোমাদেরকে বলছি, ‘কি ভোজন করবো, কি পান করবো’ বলে প্রাণের বিষয়ে, কিংবা ‘কি পরবো’ বলে শরীরের বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না; খাদ্য থেকে প্রাণ ও কাপড় থেকে শরীর কি বড় বিষয় নয়?
26 আসমানের পাখিগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত কর; তারা বপনও করে না, কাটেও না, গোলাঘরে সঞ্চয়ও করে না, তবুও তোমাদের বেহেশতী পিতা তাদেরকে আহার দিয়ে থাকেন; তোমরা কি তাদের থেকে বেশি শ্রেষ্ঠ নও?
27 আর তোমাদের মধ্যে কে চিন্তিত হয়ে নিজের বয়স এক হাত মাত্র বৃদ্ধি করতে পারে?
28 আর কাপড়ের জন্য কেন চিন্তিত হও? ক্ষেতের ফুলের বিষয়ে চিন্তা কর, সেগুলো কেমন বেড়ে ওঠে;
29 সেসব পরিশ্রম করে না, সুতাও কাটে না; তবুও আমি তোমাদেরকে বলছি, সোলায়মানও তাঁর সমস্ত প্রতাপে এর একটির মত সুসজ্জিত ছিলেন না।
30 ভাল, ক্ষেতের যে ঘাস আজ আছে ও আগামীকাল চুলায় ফেলে দেওয়া হবে, তা যদি আল্লাহ্ এভাবে সাজিয়ে থাকেন, তবে হে অল্প বিশ্বাসীরা, তোমাদেরকে কি আরও বেশি করে সাজাবেন না?
31 অতএব এই বলে চিন্তিত হয়ো না যে,
32 ‘কি ভোজন করবো?’ বা ‘কি পান করবো?’ বা ‘কি পরবো?’ কেননা অ-ইহুদীরাই এসব বিষয় চেষ্টা করে থাকে; তোমাদের বেহেশতী পিতা তো জানেন যে, এসব দ্রব্য তোমাদের প্রয়োজন আছে।
33 কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁর রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তা হলে ঐ সমস্ত দ্রব্যও তোমাদেরকে দেওয়া হবে।
34 অতএব আগামীকালের জন্য চিন্তিত হয়ো না, কেননা আগামীকাল তার নিজের বিষয় নিজেই চিন্তিত হবে; দিনের কষ্ট দিনের জন্যই যথেষ্ট।
1
তোমরা বিচার করো না, যেন তোমাদেরও বিচার করা না হয়।
2 কেননা তোমরা যেভাবে বিচার কর, সেই একইভাবে তোমাদেরও বিচার করা হবে। তোমরা যেভাবে মেপে দাও, সেই একই-ভাবে তোমাদের জন্য মাপা হবে।
3 আর তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটা আছে, তা-ই কেন দেখছো, কিন্তু তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ আছে, তা কেন ভেবে দেখছো না?
4 অথবা তুমি কেমন করে আপন ভাইকে বলবে, এসো, আমি তোমার চোখ থেকে কুটাটি বের করে দিই? আর দেখ, তোমার নিজের চোখে কড়িকাঠ রয়েছে!
5 হে ভণ্ড, আগে নিজের চোখ থেকে কড়ি-কাঠ বের করে ফেল, আর তখন তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কুটাটি বের করার জন্য সপষ্ট দেখতে পাবে।
6
পবিত্র বস্তু কুকুরদেরকে দিও না এবং তোমাদের মুক্তা শূকরের সম্মুখে ফেলো না; পাছে তারা পা দিয়ে তা দলায় এবং ফিরে তোমাদেরকে আক্রমণ করে।
7
যাচ্ঞা কর, তোমাদেরকে দেওয়া যাবে; খোঁজ কর, পাবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
8 কেননা যে কেউ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে এবং যে খোঁজ করে, সে পায়। আর যে আঘাত করে, তার জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
9 তোমাদের মধ্যে এমন লোক কে যে, তার পুত্র রুটি চাইলে তাকে পাথর দেবে,
10 কিংবা মাছ চাইলে তাকে সাপ দেবে?
11 অতএব তোমরা মন্দ হয়েও যদি তোমাদের সন্তানদেরকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করতে জান, তবে এটা কত বেশি নিশ্চয় যে, তোমাদের বেহেশতী পিতা, যারা তাঁর কাছে যাচ্ঞা করে, তাদেরকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করবেন।
12
অতএব সমস্ত বিষয়ে তোমরা যা যা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাদের প্রতি সেরকম করো; কেননা এ-ই শরীয়তের ও নবীদের কিতাবের সার।
13
সঙ্কীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ কর; কেননা সর্বনাশে যাবার দ্বার প্রশস্ত ও পথ পরিসর এবং অনেকেই তা দিয়ে প্রবেশ করে;
14 কেননা জীবনে যাবার দ্বার সঙ্কীর্ণ ও পথ দুর্গম এবং অল্প লোকেই তা পায়।
15
ভণ্ড নবীদের থেকে সাবধান; তারা মেষের বেশে তোমাদের কাছে আসে, কিন্তু অন্তরে গ্রাসকারী নেকড়ে বাঘ।
16 তোমরা তাদের ফল দ্বারাই তাদেরকে চিনতে পারবে। লোকে কি কাঁটা গাছ থেকে আঙ্গুর ফল, কিংবা শিয়ালকাঁটা থেকে ডুমুর ফল সংগ্রহ করে?
17 সেই ভাবে প্রত্যেক ভাল গাছে ভাল ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে।
18 ভাল গাছে মন্দ ফল ধরতে পারে না এবং মন্দ গাছে ভাল ফল ধরতে পারে না।
19 যে কোন গাছে ভাল ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।
20 অতএব তোমরা ওদের ফল দ্বারাই ওদেরকে চিনতে পারবে।
21
যারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তারা সকলেই যে বেহেশতী-রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার বেহেশতী পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পারবে।
22 সেদিন অনেকে আমাকে বলবে, হে প্রভু, হে প্রভু, আপনার নামেই আমরা কি ভবিষ্যদ্বাণী বলি নি? আপনার নামেই কি বদ-রূহ্ ছাড়াই নি? আপনার নামেই কি অনেক কুদরতি-কাজ করি নি?
23 তখন আমি তাদেরকে স্পষ্টই বলবো, আমি কখনও তোমাদেরকে চিনি না; হে দুর্বৃত্তরা, আমার কাছ থেকে দূর হও।
24
অতএব যে কেউ আমার এসব কালাম শুনে পালন করে, তাকে এমন এক জন বুদ্ধিমান লোকের মত বলতে হবে, যে পাথরের উপরে তার বাড়ি নির্মাণ করলো।
25 পরে বৃষ্টি নামলো, বন্যা আসল, বায়ু বইলো এবং সেই বাড়িতে লাগল, তবুও তা পড়লো না, কারণ পাথরের উপরে তার ভিত্তিমূল স্থাপিত হয়েছিল।
26 আর যে কেউ আমার এসব কালাম শুনে পালন না করে, তাকে এমন এক জন নির্বোধ লোকের মত বলতে হবে, যে বালুকণার উপরে তার বাড়ি নির্মাণ করলো।
27 পরে বৃষ্টি নামলো, বন্যা আসল, বায়ু বইলো এবং সেই বাড়িতে আঘাত করলো; তাতে তা পড়ে গেল ও তার পতন ঘোরতর হল।
28
ঈসা যখন এসব কথা বলা শেষ করলেন তখন লোকেরা তাঁর উপদেশে চমৎকার জ্ঞান করলো;
29 কারণ তিনি ক্ষমতাপন্ন ব্যক্তির মত তাদেরকে উপদেশ দিতেন, তাদের আলেমদের মত নয়।
1
তিনি পর্বত থেকে নেমে আসলে পর অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
2
আর দেখ, এক জন কুষ্ঠ রোগী কাছে এসে তাঁর সামনে উবুড় হয়ে বললো, হে প্রভু, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আমাকে পাক-পবিত্র করতে পারেন।
3 তখন তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে সপর্শ করলেন, বললেন, আমার ইচ্ছা, তুমি পাক-পবিত্র হও; আর তখনই সে কুষ্ঠ থেকে পাক-পবিত্র হল।
4 পরে ঈসা তাকে বললেন, দেখো, এই কথা কাউকেও বলো না; কিন্তু ইমামের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং তাদের কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য মূসার হুকুম অনুসারে নৈবেদ্য কোরবানী কর।
5
আর তিনি কফরনাহূমে প্রবেশ করলে এক জন শতপতি তাঁর কাছে এসে বিনতি-পূর্বক বললেন,
6 হে প্রভু, আমার গোলাম বাড়িতে পক্ষাঘাতে পড়ে আছে, ভীষণ যন্ত্রণা পাচ্ছে।
7 তিনি তাকে বললেন, আমি গিয়ে তাকে সুস্থ করবো।
8 শতপতি জবাবে বললেন, হে প্রভু, আমি এমন যোগ্য নই যে, আপনি আমার ছাদের নিচে আসেন; কেবল মুখে বলুন, তাতেই আমার গোলাম সুস্থ হবে।
9 কারণ আমিও কর্তৃত্বের অধীন লোক, আবার সৈন্যেরা আমার অধীন; আমি তাদের এক জনকে ‘যাও’ বললে সে যায় এবং অন্যকে ‘এসো’ বললে সে আসে, আর আমার গোলামকে ‘এই কাজ কর’ বললে সে তা করে।
10 এই কথা শুনে ঈসা আশ্চর্য জ্ঞান করলেন এবং যারা তাঁর পিছনে পিছনে আসছিল তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, ইসরাইলের মধ্যে কারো এত বড় ঈমান দেখতে পাই নি।
11 আর আমি তোমাদেরকে বলছি, অনেকে পূর্ব ও পশ্চিম থেকে আসবে এবং ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুবের সঙ্গে বেহেশতী-রাজ্যে একত্রে বসবে;
12 কিন্তু বেহেশতী-রাজ্যের সন্তানদেরকে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হবে; সেই স্থানে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষবে।
13 পরে ঈসা সেই শতপতিকে বললেন, চলে যাও, যেমন ঈমান আনলে, তেমনি তোমার প্রতি হোক। আর সেই দণ্ডেই তার গোলাম সুস্থ হল।
14
আর ঈসা পিতরের বাড়িতে এসে দেখলেন, তাঁর শাশুড়ি বিছানায় শুয়ে আছেন, তাঁর জ্বর হয়েছে।
15 পরে তিনি তাঁর হাত স্পর্শ করলেন, আর জ্বর ছেড়ে গেল; তখন তিনি উঠে ঈসার পরিচর্যা করতে লাগলেন।
16 আর সন্ধ্যা হলে লোকেরা অনেক বদ-রূহে পাওয়া লোককে তাঁর কাছে আনলো, তাতে তিনি মুখের কথায়ই সেই রূহ্দেরকে ছাড়ালেন এবং সকল অসুস্থ লোককে সুস্থ করলেন;
17 যেন ইশাইয়া নবীর মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া এই কালাম পূর্ণ হয়, “তিনি নিজে আমাদের দুর্বলতাগুলো গ্রহণ করলেন ও ব্যাধিগুলো বহন করলেন।”
18
আর ঈসা তাঁর চারদিকে অনেক লোক দেখে অন্য পারে যেতে হুকুম করলেন।
19 তখন এক জন আলেম এসে তাঁকে বললেন, হুজুর, আপনি যে কোন স্থানে যাবেন, আমি আপনার পিছনে পিছনে যাব।
20 ঈসা তাঁকে বললেন, শিয়ালদের গর্ত আছে এবং আসমানের পাখিগুলোর বাসা আছে; কিন্তু ইবনুল-ইনসানের মাথা রাখার স্থান নেই।
21 সাহাবীদের মধ্যে আর এক জন তাঁকে বললেন, হে প্রভু, আগে আমার পিতাকে কবর দিয়ে আসতে অনুমতি দিন।
22 কিন্তু ঈসা তাঁকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর; মৃতেরাই নিজ নিজ মৃতদের কবর দিক।
23
আর তিনি নৌকায় উঠলে তাঁর সাহাবীরা তাঁর সঙ্গে গেলেন।
24 অকস্মাৎ সাগরে ভারী ঝড় উঠলো, এমন কি নৌকা ঢেউয়ের কারণে ডুবে যাচ্ছিল; কিন্তু তিনি ঘুমাচ্ছিলেন।
25 তখন তাঁরা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে জাগিয়ে বললেন, হে প্রভু, রক্ষা করুন, আমরা মারা পড়লাম।
26 তিনি তাঁদেরকে বললেন, হে অল্পবিশ্বাসীরা, কেন ভয় পাচ্ছ? তখন তিনি উঠে বায়ু ও সমুদ্রকে ধমক দিলেন; তাতে সব কিছু একেবারে শান্ত হয়ে গেলো।
27 আর সেই ব্যক্তিরা আশ্চর্য জ্ঞান করে বললেন, ইনি কেমন লোক, বায়ু ও সমুদ্রও যে এঁর হুকুম মানে!
28
পরে তিনি অন্য পারে গাদারীয়দের দেশে গেলে দু’জন বদ-রূহে পাওয়া লোক কবর স্থান থেকে বের হয়ে তাঁর সম্মুখে আসল; তারা এত বড় দুর্দান্ত ছিল যে, ঐ পথ দিয়ে কেউই যেতে পারতো না।
29 আর দেখ, তাঁরা চেঁচিয়ে উঠলো, বললো, হে আল্লাহ্র পুত্র, আপনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কি? আপনি কি নিরূপিত সময়ের আগে আমাদেরকে যন্ত্রণা দিতে এখানে আসলেন?
30 তখন তাদের থেকে কিছু দূরে বড় একটি শূকরের পাল চরছিল।
31 তাতে বদ-রূহ্রা ফরিয়াদ করে তাঁকে বললো, যদি আমাদেরকে ছাড়িয়ে দেন, তবে ঐ শূকরের পালে পাঠিয়ে দিন।
32 তিনি তাদেরকে বললেন, চলে যাও। তখন তারা বের হয়ে সেই শূকরের পালে প্রবেশ করলো; আর দেখ, সমস্ত শূকর মহাবেগে ঢালু পাড় দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সাগরে পড়লো ও পানিতে ডুবে মারা গেল।
33 তখন যারা পাল চড়াচ্ছিল তারা পালিয়ে গেল এবং নগরে গিয়ে সমস্ত বিষয়, বিশেষত সেই বদ-রূহে পাওয়া লোকদের বিষয়ে সকলকে বললো।
34 আর দেখ, নগরের সমস্ত লোক ঈসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হয়ে আসল এবং তাঁকে দেখে তাদের সীমা থেকে চলে যেতে ফরিয়াদ করলো।
1
পরে তিনি নৌকায় উঠে পার হলেন এবং নিজের নগরে আসলেন। আর দেখ, কয়েক জন লোক তাঁর কাছে এক জন পক্ষাঘাতগ্রস্তকে আনলো, সে খাটের উপরে শোয়ানো ছিল।
2 ঈসা তাদের ঈমান দেখে সেই পক্ষাঘাতগ্রস্তকে বললেন, বৎস, সাহস কর, তোমার গুনাহ্ মাফ হল।
3 আর দেখ, কয়েক জন আলেম মনে মনে বললো, এই ব্যক্তি কুফরী করছে।
4 তখন ঈসা তাদের চিন্তা বুঝতে পেরে বললেন, তোমরা কেন মনে মনে কুচিন্তা করছো?
5 কারণ, কোনটা বলা সহজ, ‘তোমার গুনাহ্ মাফ হল’, না ‘তুমি উঠে হেঁটে বেড়াও’?
6 কিন্তু দুনিয়াতে গুনাহ্ মাফ করার ক্ষমতা ইবনুল-ইনসানের আছে, এই কথা যেন তোমরা জানতে পার, এজন্য— তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্তকে বললেন— উঠ, তোমার বিছানা তুলে নেও এবং তোমার বাড়িতে চলে যাও।
7 তখন সে উঠে তার বাড়িতে চলে গেল।
8 তা দেখে লোকেরা ভয় পেল, আর আল্লাহ্ মানুষকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তারা আল্লাহ্র গৌরব করলো।
9
আর সেই স্থান থেকে যেতে যেতে ঈসা দেখলেন, মথি নামক এক ব্যক্তি করগ্রহণ-স্থানে বসে আছে; তিনি তাকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর। তাতে সে উঠে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
10
পরে তিনি বাড়ির মধ্যে ভোজন করতে বসেছেন, আর দেখ, অনেক কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গার এসে ঈসার এবং তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে ভোজনে বসলো।
11 তা দেখে ফরীশীরা তাঁর সাহাবীদেরকে বললো, তোমাদের হুজুর কি জন্য কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গারদের সঙ্গে ভোজন করেন?
12 তা শুনে তিনি বললেন, সুস্থ লোকদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই, বরং অসুস্থদেরই প্রয়োজন আছে।
13 কিন্তু তোমরা গিয়ে শিক্ষা কর, এই কালামের মর্ম কি, “আমি করুণাই চাই, কোরবানী নয়”; কেননা আমি ধার্মিকদেরকে নয়, কিন্তু গুনাহ্গারদেরকে ডাকতে এসেছি।
14
তখন ইয়াহিয়ার সাহাবীরা তাঁর কাছে এসে বললো, ফরীশীরা ও আমরা অনেক বার রোজা রাখি, কিন্তু আপনার সাহাবীরা রোজা রাখে না, এর কারণ কি?
15 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, বর সঙ্গে থাকতে কি বাসর ঘরের লোকেরা মাতম করতে পারে? কিন্তু এমন সময় আসবে, যখন তাদের কাছ থেকে বরকে নিয়ে যাওয়া হবে; তখন তারা রোজা রাখবে।
16 পুরানো কোর্তায় কেউ নতুন কাপড়ের তালি দেয় না, কেননা তার তালিতে কাপড় ছিঁড়ে যায় এবং ছিদ্র আরও বড় হয়।
17 আর লোকে পুরানো চামড়ার থলিতে নতুন আঙ্গুর-রস রাখে না; রাখলে থলিগুলো ফেটে যায়, তাতে আঙ্গুর-রস পড়ে যায়, থলিগুলোও নষ্ট হয়; কিন্তু লোকে নতুন চামড়ার থলিতেই টাট্কা আঙ্গুর-রস রাখে, তাতে উভয়েরই রক্ষা হয়।
18
তিনি তাদেরকে এসব কথা বলছেন, আর দেখ, মজলিস-খানার এক জন নেতা এসে তাঁর সম্মুখে উবুড় হয়ে বললেন, আমার কন্যাটি হয়তো এতক্ষণ মারা গেছে; কিন্তু আপনি এসে তার উপরে হাত রাখুন, তাতে সে বাঁচবে।
19 তখন ঈসা উঠে তাঁর সঙ্গে গমন করলেন, তাঁর সাহাবীরাও চললেন।
20 আর দেখ, বারো বছর থেকে প্রদর রোগগ্রস্ত এক জন স্ত্রীলোক তাঁর পিছনের দিকে এসে তাঁর চাদরের থোপ স্পর্শ করলো;
21 কারণ সে মনে মনে বলছিল, তাঁর চাদরটা স্পর্শ করতে পারলেই আমি সুস্থ হবো।
22 তখন ঈসা মুখ ফিরিয়ে তাকে দেখে বললেন, বৎসে সাহস কর, তোমার ঈমান তোমাকে সুস্থ করলো। সেই মুহূর্ত থেকে স্ত্রীলোকটি সুস্থ হল।
23
পরে ঈসা সেই নেতার বাড়িতে এসে যখন দেখলেন যারা বাঁশী বাজায় তারা রয়েছে ও লোকেরা কোলাহল করছে,
24 তখন বললেন, সরে যাও, কন্যাটি তো মারা যায় নি, ঘুমিয়ে রয়েছে। তখন তারা তাঁকে উপহাস করলো।
25 কিন্তু লোকদেরকে বের করে দেওয়া হলে তিনি ভিতরে গিয়ে কন্যাটির হাত ধরলেন, তাতে সে উঠে বসলো।
26 আর এই ঘটনার কথা সেই দেশজুড়ে রটে গেল।
27
পরে ঈসা সেই স্থান থেকে প্রস্থান করলে, দু’জন অন্ধ তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল; তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগল, হে দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি করুণা করুন।
28 তিনি বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলে পর সেই অন্ধেরা তাঁর কাছে আসল; তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা কি বিশ্বাস কর যে, আমি এই কাজ করতে পারি? তারা তাঁকে বললো, হ্যাঁ, প্রভু।
29 তখন তিনি তাদের চোখ স্পর্শ করলেন, আর বললেন, তোমাদের বিশ্বাস অনুসারে তোমাদের প্রতি হোক।
30 তখন তাদের চোখ খুলে গেল। আর ঈসা তাদেরকে দৃঢ়ভাবে নিষেধ করে দিলেন, বললেন, দেখো, যেন কেউ এই বিষয় জানতে না পারে।
31 কিন্তু তারা বাইরে গিয়ে সেই অঞ্চলের সমস্ত জায়গায় তাঁর কীর্তি প্রকাশ করলো।
32
তারা বাইরে যাচ্ছে, এমন সময়ে লোকেরা একটি বদ-রূহে পাওয়া বোবা লোককে তাঁর কাছে আনলো।
33 বদ-রূহ্ ছাড়ানো হলে সেই বোবা কথা বলতে লাগল; তখন লোকেরা আশ্চর্য জ্ঞান করে বললো, ইসরাইলের মধ্যে এমন কখনও দেখা যায় নি।
34 কিন্তু ফরীশীরা বলতে লাগল, বদ-রূহ্দের অধিপতি দ্বারা সে বদ-রূহ্ ছাড়ায়।
35
আর ঈসা সমস্ত নগরে ও গ্রামে ভ্রমণ করতে লাগলেন; তিনি লোকদের মজলিস-খানায় উপদেশ দিলেন ও বেহেশতী-রাজ্যের সুসমাচার তবলিগ করলেন এবং সমস্ত রকম রোগ ও সমস্ত রকম অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দান করলেন।
36 কিন্তু অনেক লোক দেখে তিনি তাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হলেন, কেননা তারা ব্যাকুল ও পরিশ্রান্ত ছিল, যেন রাখালবিহীন ভোড়ার পাল।
37 তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্যকারী লোক অল্প;
38 অতএব শস্য-ক্ষেতের মালিকের কাছে মুনাজাত কর, যেন তিনি নিজের শস্য-ক্ষেতে কার্যকারী লোক পাঠিয়ে দেন।
1
পরে তিনি তাঁর বারো জন সাহাবীকে কাছে ডেকে তাঁদেরকে নাপাক-রূহ্দের উপরে ক্ষমতা দিলেন, যেন তাঁরা তাদেরকে ছাড়াতে এবং সমস্ত রকম রোগ ও অসুস্থতা থেকে সুস্থ করতে পারেন।
2
সেই বারো জন প্রেরিতের নাম এই— প্রথম, শিমোন, যাঁকে পিতর বলে এবং তাঁর ভাই আন্দ্রিয়, সিবদিয়ের পুত্র ইয়াকুব এবং তাঁর ভাই ইউহোন্না,
3 ফিলিপ ও বর্থলময়, থোমা ও কর-আদায়কারী মথি, আল্ফেয়ের পুত্র ইয়াকুব ও থদ্দেয়,
4 কানানী শিমোন এবং ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা, যে তাঁকে দুশমনদের হাতে তুলে দিয়েছিল।
5
এই বারো জনকে ঈসা প্রেরণ করলেন, আর তাঁদেরকে এই হুকুম দিলেন—
6
তোমরা অ-ইহুদীদের পথে যেও না এবং সামেরিয়দের কোন নগরে প্রবেশ করো না, বরং ইসরাইল-কুলের হারানো মেষদের কাছে যাও।
7 আর তোমরা যেতে যেতে এই সুসমাচার তবলিগ কর, বেহেশতী-রাজ্য সন্নিকট’।
8 তোমরা অসুস্থদেরকে সুস্থ করো, মৃতদেরকে উত্থাপন করো, কুষ্ঠ রোগীদেরকে পাক-পবিত্র করো, বদ-রূহে পাওয়া ব্যক্তি থেকে বদ-রূহ্ ছাড়ায়ো। তোমরা বিনামূল্যে পেয়েছ, বিনামূল্যেই দান করো।
9 তোমাদের থলিতে সোনা বা রূপা বা ব্রোঞ্জ নিও না,
10 এবং যাত্রার জন্য থলি বা দু’টি জামা বা জুতা বা লাঠি, এই সকলের আয়োজন করো না; কেননা কার্যকারী নিজের খাবারের যোগ্য।
11 আর তোমরা যে নগরে বা গ্রামে প্রবেশ করবে, সেখানকার কোন্ ব্যক্তি যোগ্য তা অনুসন্ধান করো, আর যে পর্যন্ত অন্য স্থানে না যাও, সেখানেই থেকো।
12 আর তার বাড়িতে প্রবেশ করার সময়ে সেই বাড়িকে মঙ্গলবাদ করো।
13 তাতে সেই বাড়ি যদি যোগ্য হয়, তবে তোমাদের শান্তি তার প্রতি বর্ষিত হোক; কিন্তু যদি যোগ্য না হয়, তবে তোমাদের শান্তি তোমাদের কাছে ফিরে আসুক।
14 আর যে কেউ তোমাদেরকে গ্রহণ না করে এবং তোমাদের কথা না শোনে, সেই বাড়ি কিংবা সেই নগর থেকে বের হবার সময়ে তোমাদের পায়ের ধূলা ঝেড়ে ফেলো।
15 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, বিচার-দিনে সেই নগরের দশার চেয়ে বরং সাদুম ও আমুরা দেশের দশা সহনীয় হবে।
16
দেখ, নেকড়ে বাঘের মধ্যে যেমন ভেড়া, তেমনি আমি তোমাদেরকে প্রেরণ করছি; অতএব তোমরা সাপের মত সতর্ক ও কবুতরের মত অমায়িক হও।
17 কিন্তু তোমরা মানুষ থেকে সাবধান থেকো; কেননা তারা তোমাদেরকে বিচার-সভার লোকদের হাতে ধরিয়ে দেবে এবং তাদের মজলিস-খানায় কশাঘাত করবে।
18 এমন কি, আমার জন্য তোমাদেরকে দেশের শাসনকর্তাদের ও বাদশাহ্দের সম্মুখে, তাদের ও অ-ইহুদীদের কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য নেওয়া হবে।
19 কিন্তু যখন লোকে তোমাদেরকে ধরিয়ে দেবে, তখন তোমরা কিভাবে কি বলবে, সে বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না; কারণ তোমাদের যা বলবার, তা সেই দণ্ডেই তোমাদেরকে দান করা যাবে।
20 কেননা তোমরা কথা বলবে, এমন নয়, কিন্তু তোমাদের পিতার যে রূহ্ তোমাদের অন্তরে কথা বলেন, তিনিই বলবেন।
21 আর ভাই ভাইকে ও পিতা সন্তানকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেবে এবং সন্তানেরা মাতা-পিতার বিপক্ষে উঠে তাঁদেরকে খুন করাবে।
22 আবার আমার নামের জন্য সকলে তোমাদের ঘৃণা করবে; কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সে-ই নাজাত পাবে।
23 আর তারা যখন তোমাদেরকে এক নগরে নির্যাতন করবে, তখন অন্য নগরে পালিয়ে যেয়ো; কেননা আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, ইসরাইলের সকল নগরে তোমাদের কাজ শেষ হবে না, যে পর্যন্ত ইবনুল-ইনসান ফিরে না আসেন।
24
সাহাবী ওস্তাদ থেকে বড় নয় এবং গোলাম মালিক থেকে বড় নয়।
25 সাহাবী তার ওস্তাদের মত ও গোলাম তার মালিকের মত হলেই তার পক্ষে যথেষ্ট। তারা যখন বাড়ির মালিককে বেল্সবূল বলেছে, তখন তাঁর পরিজনদেরকে আরও কি না বলবে?
26
অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, কেননা এমন লুকানো কিছুই নেই, যা প্রকাশ পাবে না এবং এমন গুপ্ত কিছুই নেই, যা জানা যাবে না।
27 আমি যা তোমাদেরকে অন্ধকারে বলি, তা তোমরা আলোতে বলো এবং যা কানে কানে শোন, তা ছাদের উপর থেকে প্রচার করো।
28 আর যারা শরীরটা মেরে ফেলতে পারে কিন্তু রূহ্ মেরে ফেলতে পারে না তাদেরকে ভয় করো না; কিন্তু যিনি রূহ্ ও শরীর উভয়ই দোজখে বিনষ্ট করতে পারেন, বরং তাঁকেই ভয় কর।
29 দু’টি চড়াই পাখি কি এক পয়সায় বিক্রি হয় না? আর তোমাদের পিতার অনুমতি ছাড়া তাদের একটিও ভূমিতে পড়ে না।
30 কিন্তু তোমাদের মাথার কেশগুলোও সমস্ত গণনা করা আছে।
31 অতএব ভয় করো না, তোমরা অনেক চড়াই পাখি থেকেও শ্রেষ্ঠ।
32
অতএব যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, আমিও আমার বেহেশতী পিতার সাক্ষাতে তাকে স্বীকার করবো।
33 কিন্তু যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে অস্বীকার করে, আমিও আমার বেহেশতী পিতার সাক্ষাতে তাকে অস্বীকার করবো।
34
মনে করো না যে, আমি দুনিয়াতে শান্তি দিতে এসেছি; শান্তি দিতে আসি নি, কিন্তু তলোয়ার দিতে এসেছি।
35 কেননা আমি পিতার সঙ্গে পুত্রের, মায়ের সঙ্গে কন্যার এবং শাশুড়ির সঙ্গে পুত্র বধূর বিচ্ছেদ জন্মাতে এসেছি;
36 আর নিজ নিজ পরিজনই মানুষের দুশমন হবে।
37 যে কেউ পিতা বা মাতাকে আমার চেয়ে বেশি ভালবাসে, সে আমার যোগ্য নয় এবং যে কেউ পুত্র বা কন্যাকে আমার চেয়ে বেশি ভালবাসে, সে আমার যোগ্য নয়।
38 আর যে কেউ নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমাকে অনুসরণ না করে, সে আমার যোগ্য নয়।
39 যে কেউ আপন প্রাণ রক্ষা করে, সে তা হারাবে এবং যে কেউ আমার জন্য আপন প্রাণ হারায়, সে তা রক্ষা করবে।
40
যে তোমাদেরকে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে; আর যে আমাকে গ্রহণ করে, সে আমার প্রেরণকর্তাকেই গ্রহণ করে।
41 যে নবীকে নবী বলে গ্রহণ করে, সে নবীর পুরস্কার পাবে এবং যে ধার্মিককে ধার্মিক বলে গ্রহণ করে, সে ধার্মিকের পুরস্কার পাবে।
42 আর যে কেউ এই ক্ষুদ্রদের মধ্যে কোন এক জনকে সাহাবী বলে কেবল এক বাটি শীতল পানি পান করতে দেয়, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, সে কোন মতে তার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে না।
1
এভাবে ঈসা তাঁর বারো জন সাহাবীর প্রতি হুকুম সমাপ্ত করার পর গালীলের নগরে নগরে উপদেশ দেবার ও তবলিগ করার জন্য সেই স্থান থেকে প্রস্থান করলেন।
2
পরে ইয়াহিয়া কারাগারে থেকে মসীহের কাজের বিষয় শুনে তাঁর নিজের সাহাবীদের দ্বারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করে পাঠালেন,
3 ‘যাঁর আগমন হবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না আমরা অন্যের অপেক্ষায় থাকবো?’
4 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা যাও, যা যা শুনছো ও দেখছো, তার সংবাদ ইয়াহিয়াকে দাও;
5 অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে ও খঞ্জেরা চলছে, কুষ্ঠ রোগীরা পাক-পবিত্র হচ্ছে ও বধিরেরা শুনতে পাচ্ছে এবং মৃতেরা উত্থাপিত হচ্ছে ও দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করা হচ্ছে;
6 আর ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আমাকে নিয়ে মনে কোন বাধা না পায়।
7
তারা চলে যাচ্ছে, এমন সময়ে ঈসা লোকদেরকে ইয়াহিয়ার বিষয়ে বলতে লাগলেন, তোমরা মরুভূমিতে কি দেখতে গিয়েছিলে?
8 কি বাতাসে কেঁপে ওঠা নল? তবে কি দেখতে গিয়েছিলে? কি কোমল পোশাক পরা কোন ব্যক্তিকে? দেখ, যারা কোমল পোশাক পরে, তারা রাজপ্রাসাদে থাকে।
9 তবে কি জন্য গিয়েছিলে? কি এক জন নবীকে দেখবার জন্য? হ্যাঁ, আমি তোমাদেরকে বলছি, নবীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে।
10 ইনি সেই ব্যক্তি, যাঁর বিষয়ে লেখা আছে,
“দেখ, আমি আপন দূতকে তোমার
সম্মুখে প্রেরণ করি;
সে তোমার আগে তোমার পথ প্রস্তুত
করবে।”
11
আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া থেকে মহান কেউই উৎপন্ন হয় নি, তবুও বেহেশতী-রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সে তাঁর চেয়েও মহান।
12 আর বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়ার কাল থেকে এখন পর্যন্ত বেহেশতী-রাজ্য বলে আক্রান্ত হচ্ছে এবং আক্রমণকারীরা সবলে তা অধিকার করছে।
13 কেননা সমস্ত নবী ও শরীয়ত ইয়াহিয়া পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী বলেছে।
14 আর তোমরা যদি গ্রহণ করতে সম্মত হও, তবে জানবে, যে ইলিয়াসের আগমন হবে, তিনি এই ব্যক্তি।
15 যার শুনবার কান আছে সে শুনুক।
16
কিন্তু আমি কার সঙ্গে এই কালের লোকদের তুলনা করবো? তারা এমন বালকদের মত, যারা বাজারে বসে তাদের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলে,
17
‘আমরা তোমাদের কাছে বাঁশী
বাজালাম,
তোমরা নাচলে না
আমরা মাতম করলাম,
তোমরা বুক চাপড়ালে না।’
18
কারণ ইয়াহিয়া এসে ভোজন পান করেন নি; তাতে লোকে বলে, তাকে বদ-রূহে পেয়েছে।
19 ইবনুল-ইনসান এসে ভোজন পান করেন; তাতে লোকে বলে, ঐ দেখ, এক জন পেটুক ও মদ্যপায়ী, কর-আদায়কারীদের ও গুনাহ্গারদের বন্ধু। কিন্তু প্রজ্ঞা নিজের কর্ম দ্বারা নির্দোষ বলে গণিত হয়।
20
তখন যে যে নগরে তাঁর সবচেয়ে বেশি কুদরতী কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তিনি সেসব নগরকে ভর্ৎসনা করতে লাগলেন, কেননা তারা মন ফিরায় নি—
21 ‘কোরাসীন, ধিক্ তোমাকে! বৈৎসৈদা, ধিক্ তোমাকে! কেননা তোমাদের মধ্যে যেসব কুদরতী কাজ করা হয়েছে, সেসব যদি টায়ার ও সিডনে করা হত, তবে অনেক দিন আগে তারা চট পরে ভস্মে বসে তওবা করতো।
22 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের দশা থেকে বরং টায়ার ও সিডনের দশা বিচার-দিনে সহনীয় হবে।
23 আর হে কফরনাহূম, তুমি না কি বেহেশত পর্যন্ত উঁচুতে উঠবে? তুমি পাতাল পর্যন্ত নেমে যাবে; কেননা যেসব কুদরতী কাজ তোমার মধ্যে করা হয়েছে, সেসব যদি সাদুমে করা হত, তবে তা আজ পর্যন্ত থাকতো।
24 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমার দশা থেকে বরং সাদুম দেশের দশা বিচার দিনে সহনীয় হবে।’
25
সেই সময়ে ঈসা এই কথা বললেন, হে আমার পিতা, হে বেহেশতের ও দুনিয়ার মালিক, আমি তোমাকে শুকরিয়া জানাচ্ছি, কেননা তুমি বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমানদের কাছ থেকে এসব বিষয় গুপ্ত রেখে শিশুদের কাছে প্রকাশ করেছ;
26 হ্যাঁ, পিতা, কেননা তা তোমার দৃষ্টিতে প্রীতিজনক হল।
27 সকলই আমার পিতা আমার হাতে দিয়েছেন; আর পুত্রকে কেউ জানে না, কেবল পিতা জানেন; পিতাকে কেউ জানে না, কেবল পুত্র জানেন এবং পুত্র যার কাছে তাঁকে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেন, সে জানে।
28
হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোকেরা, আমার কাছে এসো, আমি তোমাদেরকে বিশ্রাম দেব।
29 আমার জোয়াল নিজের কাঁধে তুলে নেও এবং আমার কাছে শিক্ষা কর, কেননা আমি মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত; তাতে তোমরা নিজ নিজ প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাবে।
30 কারণ আমার জোয়াল সহজ ও আমার ভার লঘু।
1
সেই সময়ে ঈসা বিশ্রামবারে শস্য-ক্ষেত দিয়ে গমন করলেন; আর তাঁর সাহাবীদের খিদে পেয়েছিল বলে শীষ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে লাগলেন।
2 কিন্তু ফরীশীরা তা দেখে তাঁকে বললো, দেখ, বিশ্রামবারে যা করা উচিত নয়, তা-ই তোমার সাহাবীরা করছে।
3 তিনি তাদেরকে বললেন, দাউদ ও তাঁর সঙ্গীদের যখন খিদে পেয়েছিল তখন তিনি কি করেছিলেন তা কি তোমরা পাঠ কর নি?
4 তিনি তো আল্লাহ্র গৃহে প্রবেশ করলেন এবং তাঁরা দর্শন-রুটি ভোজন করলেন, যা তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের ভোজন করা উচিত ছিল না, কেবল ইমামেরা তা ভোজন করতে পারতো।
5 আর তোমরা কি শরীয়তে পাঠ কর নি যে, বিশ্রামবারে ইমামেরা এবাদতখানায় বিশ্রামবার লঙ্ঘন করলেও তাদের কোন দোষ হয় না?
6 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, এই স্থানে বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে মহান এক ব্যক্তি আছেন।
7 কিন্তু “আমি করুণাই চাই, কোরবানী নয়,” এই কথার অর্থ কি তা যদি তোমরা জানতে তবে নির্দোষদেরকে দোষী করতে না।
8 কেননা ইবনুল-ইনসান বিশ্রামবারের কর্তা।
9
পরে তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে তাদের মজলিস-খানায় প্রবেশ করলেন।
10 আর দেখ, এক জন লোক ছিল যার একখানি হাত শুকিয়ে গিয়েছিল। তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, বিশ্রামবারে কি সুস্থ করা উচিত? তাঁর উপরে দোষারোপ করার জন্য এই কথা বললো।
11 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে, যার একটি ভেড়া আছে, আর সেটি যদি বিশ্রামবারে গর্তে পড়ে যায়, তবে সে কি তা ধরে তুলবে না?
12 তবে ভেড়া থেকে মানুষ আরও কত শ্রেষ্ঠ! অতএব বিশ্রামবারে সৎকর্ম করা উচিত।
13 তখন তিনি সেই লোকটিকে বললেন, তোমার হাত বাড়িয়ে দাও; তাতে সে বাড়িয়ে দিল, আর তা অন্যটির মত পুনরায় সুস্থ হল।
14
পরে ফরীশীরা বাইরে গিয়ে কিভাবে তাঁকে বিনষ্ট করতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে সেই পরামর্শ করতে লাগল।
15
ঈসা তা জেনে সেখান থেকে চলে গেলেন; অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে গেল, আর তিনি সকলকে সুস্থ করলেন,
16 এবং এই দৃঢ় হুকুম দিলেন, তোমরা আমার পরিচয় দিও না।
17 —যেন ইশাইয়া নবীর মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া এই কালাম পূর্ণ হয়,
18
“দেখ, আমার গোলাম,
তিনি আমার মনোনীত,
আমার প্রিয়, আমার প্রাণ তাঁতে প্রীত,
আমি তাঁর উপরে আমার রূহ্কে স্থাপন
করবো,
আর তিনি জাতিদের কাছে ন্যায়বিচার
তবলিগকরবেন।
19
তিনি কলহ করবেন না,
উচ্চশব্দও করবেন না,
পথে কেউ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে
পাবে না।
20
তিনি থেৎলা নল ভাঙ্গবেন না,
সধূম শলতে নিভিয়ে ফেলবেন না,
যে পর্যন্ত না ন্যায়বিচার বিজয়
লাভ করে।
21
আর তাঁর নামে অ-ইহুদীরা প্রত্যাশা
রাখবে।”
22
তখন এক জন বদ-রূহে পাওয়া লোককে তাঁর কাছে আনা হল, সে অন্ধ ও বোবা; আর তিনি তাকে সুস্থ করলেন, তাতে সেই বোবা কথা বলতে ও দেখতে লাগল।
23 এতে সমস্ত লোক চমৎকৃত হল ও বলতে লাগল, ইনি কি সেই দাউদ-সন্তান?
24 কিন্তু ফরীশীরা তা শুনে বললো, এই ব্যক্তি আর কিছুতে নয়, কেবল বদ-রূহ্দের অধিপতি বেল্সবূলের দ্বারাই বদ-রূহ্ ছাড়ায়।
25 তাদের চিন্তা জেনে তিনি তাদেরকে বললেন, যে কোন রাজ্য নিজের মধ্যে বিভক্ত হয়, তা উচ্ছিন্ন হয় এবং যে কোন নগর কিংবা পরিবার নিজের মধ্যে বিভক্ত হয়, তা স্থির থাকবে না।
26 আর শয়তান যদি শয়তানকে ছাড়ায়, সে তো নিজেরই মধ্যে ভাগ হয়ে গেল; তবে তার রাজ্য কিভাবে স্থির থাকবে?
27 আর আমি যদি বেল্সবূলের দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়াই, তবে তোমাদের লোকেরা কার দ্বারা ছাড়ায়? এজন্য তারাই তোমাদের বিচারকর্তা হবে।
28 কিন্তু আমি যদি আল্লাহ্র রূহ্ দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়াই, তবে আল্লাহ্র রাজ্য তো তোমাদের কাছে এসে পড়েছে।
29 আর আগে সেই বলবান ব্যক্তিকে না বেঁধে কে কেমন করে সেই বলবানের বাড়িতে প্রবেশ করে তার ঘরের দ্রব্য লুট করতে পারবে? বাঁধলে পরেই সে তার ঘর লুট করবে।
30 যে আমার সপক্ষ নয়, সে আমার বিপক্ষ এবং যে আমার সঙ্গে কুড়ায় না, সে ছড়ায়।
31
এই কারণে আমি তোমাদেরকে বলছি, মানুষের সকল গুনাহ্ ও নিন্দার কথা মাফ করা হবে, কিন্তু পাক-রূহের বিরুদ্ধে নিন্দা করলে তার মাফ হবে না।
32 আর যে কেউ ইবনুল-ইনসানের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে, সে মাফ পাবে; কিন্তু যে কেউ পাক-রূহের বিরুদ্ধে কথা বলে, সে মাফ পাবে না, ইহকালেও নয়, পরকালেও নয়।
33
হয় গাছকে ভাল বল এবং তার ফলকেও ভাল বল; নয় গাছকে মন্দ বল এবং তার ফলকেও মন্দ বল; কেননা ফল দ্বারাই গাছ চেনা যায়।
34 হে সাপের বংশেরা, তোমরা মন্দ হয়ে কেমন করে ভাল কথা বলতে পার? কেননা দিল থেকে যা ছাপিয়া উঠে, মুখ তা-ই বলে।
35 ভাল মানুষ ভাল ভাণ্ডার থেকে ভাল দ্রব্য বের করে এবং মন্দ মানুষ মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দ দ্রব্য বের করে।
36 আর আমি তোমাদেরকে বলছি, মানুষেরা যত অনর্থক কথা বলে, বিচার-দিনে সেই সবের হিসাব দিতে হবে।
37 কারণ তোমার কথা দ্বারা তুমি নির্দোষ বলে গণিত হবে, আর তোমার কথা দ্বারাই তুমি দোষী বলে গণিত হবে।
38
তখন কয়েক জন আলেম ও ফরীশী তাঁকে বললো, হুজুর, আমরা আপনার কাছে কোন চিহ্ন-কাজ দেখতে ইচ্ছা করি।
39 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, এই কালের দুষ্ট ও জেনাকারী লোকে চিহ্নের খোঁজ করে, কিন্তু ইউনুস নবীর চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্ন এদেরকে দেওয়া যাবে না।
40 কারণ ইউনুস যেমন তিন দিন তিন রাত বড় মাছের পেটে ছিলেন, তেমনি ইবনুল-ইনসানও তিন দিন ও তিন রাত দুনিয়ার গর্ভে থাকবেন।
41 নিনেভের লোকেরা বিচারে এই কালের লোকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে এদেরকে দোষী করবে, কেননা তারা ইউনুসের তবলিগে মন ফিরিয়েছিল, আর দেখ, ইউনুস থেকে মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন।
42 দক্ষিণ দেশের রাণী বিচারে এই কালের লোকদের সঙ্গে উঠে এদেরকে দোষী করবেন; কেননা সোলায়মানের জ্ঞানের কথা শুনবার জন্য তিনি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এসেছিলেন, আর দেখ, সোলায়মান থেকে মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন।
43
আর নাপাক রূহ্ যখন মানুষ থেকে বের হয়ে যায়, তখন পানিবিহীন নানা স্থান দিয়ে ভ্রমণ করতে করতে বিশ্রামের খোঁজ করে, কিন্তু তা পায় না।
44 তখন সে বলে, আমি যেখান থেকে বের হয়ে এসেছি, আমার সেই বাড়িতে ফিরে যাই; পরে সে এসে তা শূন্য, পরিষ্কার ও সাজানো-গোছানো দেখতে পায়।
45 তখন সে গিয়ে নিজের চেয়েও দুষ্ট অপর সাতটি রূহ্কে সঙ্গে নিয়ে আসে, আর তারা সেই স্থানে প্রবেশ করে বাস করে; তাতে সেই মানুষের প্রথম দশা থেকে শেষ দশা আরও মন্দ হয়। এই কালের দুষ্ট লোকদের প্রতি তা-ই ঘটবে।
46
তিনি লোকদেরকে এসব কথা বলছেন এমন সময়ে, দেখ, তাঁর মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে কথা বলবার চেষ্টায় বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
47 তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, দেখুন, আপনার মা ও ভাইয়েরা আপনার সঙ্গে কথা বলবার চেষ্টায় বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।
48 কিন্তু যে এই কথা বললো, জবাবে তাকে তিনি বললেন, আমার মা কে? আমার ভাইয়েরাই বা কারা?
49 পরে তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, এই দেখ, আমার মা ও আমার ভাইয়েরা;
50 কেননা যে কেউ আমার বেহেশতী পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই আমার ভাই ও বোন ও মা।
1
সেদিন ঈসা বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে সমুদ্রের তীরে বসলেন।
2 আর অনেক লোক তাঁর কাছে সমাগত হল, তাতে তিনি একখানি নৌকায় উঠে বসলেন এবং সমস্ত লোক তীরে দাঁড়িয়ে রইলো।
3 তখন তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা তাদেরকে অনেক কথা বলতে লাগলেন।
4
তিনি বললেন, দেখ, বীজ বপনকারী বীজ বপন করতে গেল। বপনের সময় কতগুলো বীজ পথের পাশে পড়লো, তাতে পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেললো।
5 আর কতগুলো বীজ পাথুরে ভূমিতে পড়লো, যেখানে বেশি মাটি ছিল না, তাতে বেশি মাটি না পাওয়াতে তা শীঘ্র অঙ্কুরিত হয়ে উঠলো,
6 কিন্তু সূর্য উঠলে পর পুড়ে গেল এবং তার শিকড় না থাকাতে শুকিয়ে গেল।
7 আর কতগুলো বীজ কাঁটাবনে পড়লো, তাতে কাঁটাগাছ বেড়ে তা চেপে রাখল।
8 আর কতগুলো বীজ উত্তম ভূমিতে পড়লো ও ফল দিতে লাগল; কতগুলো শত গুণ ও কতগুলো ষাট গুণ ও কতগুলো ত্রিশ গুণ।
9 যার কান আছে সে শুনুক।
10
পরে সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি জন্য দৃষ্টান্ত দ্বারা ওদের কাছে কথা বলছেন?
11 জবাবে তিনি বললেন, বেহেশতী-রাজ্যের নিগূঢ় তত্ত্বগুলো তোমাদেরকে জানতে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হয় নি।
12 কেননা যার আছে, তাকে দেওয়া যাবে ও তার অনেক হবে; কিন্তু যার নেই তার যা আছে, তাও তার কাছ থেকে নেওয়া যাবে।
13 এজন্য আমি তাদেরকে দৃষ্টান্ত দ্বারা কথা বলছি, কারণ তারা দেখেও দেখে না, শুনেও শুনে না এবং বুঝেও না।
14 আর তাদের সম্বন্ধে ইশাইয়া নবীর এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হচ্ছে,
“তোমরা কান দিয়ে শুনবে,
কিন্তু কোন মতে বুঝবে না;
আর চোখ দিয়ে দেখবে,
কিন্তু কোন মতে জানবে না;
15
কেননা এই লোকদের অন্তর অসার হয়েছে, শুনতে তাদের কান ভারী হয়েছে ও তারা চোখ বন্ধ করেছে, পাছে তারা চোখে দেখে, আর কানে শুনে, অন্তরে বুঝে এবং ফিরে আসে, আর আমি তাদেরকে সুস্থ করি।”
16 কিন্তু ধন্য তোমাদের চোখ, কেননা তা দেখে এবং তোমাদের কান, কেননা তা শুনে;
17 কারণ আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমরা যা যা দেখছ, তা অনেক নবী ও ধার্মিক লোক দেখতে বাসনা করেও দেখতে পান নি এবং তোমরা যা যা শুনছো, তা তাঁরা শুনতে বাসনা করেও শুনতে পান নি।
18
অতএব তোমরা বীজ বপনকারীর দৃষ্টান্ত শোন।
19 যখন কেউ সেই বেহেশতী-রাজ্যের কালাম শুনেও না বুঝে, তখন সেই শয়তান এসে তার অন্তরে যা বপন করা হয়েছিল তা হরণ করে নেয়; এই সেই বীজের মত যা পথের পাশে বপন করা হয়েছে।
20 আর যে পাথুরে ভূমিতে বপন করা বীজের মত, সে কালাম শুনে অমনি আনন্দপূর্বক গ্রহণ করে, কিন্তু তার অন্তরে মূল নেই বলে তা অল্প কালমাত্র স্থির থাকে;
21 পরে সেই কালামের জন্য দুঃখ-কষ্ট কিংবা নির্যাতন আসলে তখনই সে পিছিয়ে যায়।
22 আর যে কাঁটাবনের মধ্যে বপন করা বীজের মত, সে কালাম শুনে, আর সংসারের চিন্তা ও ধনের মায়া সেই কালাম চেপে রাখে, তাতে সে ফলহীন হয়।
23 আর যে উত্তম ভূমিতে বপন করা বীজের মত, সে কালাম শুনে তা বুঝে ও বাস্তবিক ফলবান হয় এবং কতগুলো শত গুণ, কতগুলো ষাট গুণ ও কতগুলো ত্রিশ গুণ ফল দেয়।
24
পরে তিনি তাদের কাছে আর একটি দৃষ্টান্ত উপস্থিত করলেন, বললেন, বেহেশতী-রাজ্যকে এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায়, যিনি নিজের ক্ষেতে ভাল বীজ বপন করলেন।
25 কিন্তু লোকে ঘুমিয়ে পড়লে পর তাঁর দুশমন এসে ঐ গমের মধ্যে শ্যামাঘাসের বীজ বপন করে চলে গেল।
26 পরে যখন বীজ অঙ্কুরিত হয়ে ফল দিল, তখন শ্যামাঘাসও প্রকাশ হয়ে পড়লো।
27 তাতে সেই গৃহকর্তার গোলামেরা এসে তাঁকে বললো, হুজুর, আপনি কি নিজের ক্ষেতে ভাল বীজ বোনেন নি? তবে শ্যামাঘাস কোথা থেকে হল?
28 তিনি তাদেরকে বললেন, কোন দুশমন এই করেছে। গোলামেরা তাঁকে বললো, তবে আপনি কি চান যে, আমরা গিয়ে তা তুলে ফেলি?
29 তিনি বললেন, না, কি জানি, শ্যামাঘাস তুলে ফেলবার সময়ে তোমরা তার সঙ্গে গমও উপড়ে ফেলবে।
30 শস্য কর্তনের সময় পর্যন্ত উভয়কে একত্রে বাড়তে দাও। পরে কর্তনের সময়ে আমি কর্তনকারীদেরকে বলবো, তোমরা প্রথমে শ্যামাঘাস সংগ্রহ করে পোড়াবার জন্য বোঝা বোঝা বেঁধে রাখ, কিন্তু গম আমার গোলায় সংগ্রহ কর।
31
তিনি আর একটি দৃষ্টান্ত তাদের কাছে উপস্থিত করলেন, বললেন, বেহেশতী-রাজ্য এমন একটি সরিষা-দানার মত, যা কোন ব্যক্তি নিয়ে তার ক্ষেতে বপন করলো।
32 সকল বীজের মধ্যে ঐ বীজ অতি ক্ষুদ্র; কিন্তু বেড়ে উঠলে পর তা শাক থেকে বড় হয় এবং এমন গাছ হয়ে উঠে যে, আসমানের পাখিগুলো এসে তার ডালে বাস করে।
33
তিনি তাদেরকে আর একটি দৃষ্টান্ত বললেন, বেহেশতী-রাজ্য এমন খামির মত, যা কোন স্ত্রীলোক নিয়ে তিন মাণ ময়দার মধ্যে ঢেকে রাখল, শেষে সমস্তই ফেঁপে উঠলো।
34
এ সব কথা ঈসা দৃষ্টান্ত দ্বারা লোকদেরকে বললেন, দৃষ্টান্ত ছাড়া তাদেরকে কিছুই বললেন না;
35 যেন নবীর মধ্য দিয়ে নাজেল হওয়া এই কালাম পূর্ণ হয়,
“আমি দৃষ্টান্ত কথায় আপন মুখ খুলবো,
দুনিয়ার আরম্ভের সময় থেকে যা যা গুপ্ত
আছে,
সেসব ব্যক্ত করবো।”
36
তখন তিনি লোকদেরকে বিদায় করে বাড়িতে আসলেন। আর তাঁর সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, ক্ষেতের শ্যামা-ঘাসের দৃষ্টান্তটি আমাদেরকে স্পষ্ট করে বলুন।
37 জবাবে তিনি বললেন, যিনি ভাল বীজ বপন করেন, তিনি ইবনুল-ইনসান।
38 ক্ষেত হল দুনিয়া; ভাল বীজ হল বেহেশতী-রাজ্যের সন্তানেরা;
39 শ্যামাঘাস সেই শয়তানের সন্তানরা; যে দুশমন তা বুনেছিল, সে শয়তান; কর্তনের সময় যুগের শেষ সময়; কর্তনকারীরা ফেরেশতা।
40 অতএব যেমন শ্যামাঘাস সংগ্রহ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায়, তেমনি যুগের শেষ সময়ে হবে।
41 ইবনুল-ইনসান নিজের ফেরেশতাদেরকে প্রেরণ করবেন; তাঁরা তাঁর রাজ্য থেকে যারা অন্যদের গুনাহ্ করায় তাদের সকলকে ও দুর্বৃত্তদেরকে সংগ্রহ করবেন,
42 এবং তাদেরকে অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেবেন; সেই স্থানে তারা কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
43 তখন ধার্মিকেরা তাদের পিতার রাজ্যে সূর্যের মত দেদীপ্যমান হবে। যার কান আছে সে শুনুক।
44
বেহেশতী-রাজ্য হল ক্ষেতের মধ্যে গুপ্ত এমন ধনের মত, যা দেখতে পেয়ে এক ব্যক্তি গোপন করে রাখল, পরে সে খুশী মনে চলে গেল এবং সর্বস্ব বিক্রি করে সেই ক্ষেতটি ক্রয় করলো।
45
আবার বেহেশতী-রাজ্য এমন এক জন বণিকের মত, যে উত্তম উত্তম মুক্তা খোঁজ করছিল,
46 সে একটি মহামূল্য মুক্তা দেখতে পেয়ে গিয়ে সর্বস্ব বিক্রি করে তা ক্রয় করলো।
47
আবার বেহেশতী-রাজ্য এমন একটি টানা জালের মত, যা সাগরে ফেলে দেওয়া হলে তাতে সব রকম মাছ ধরা পড়লো।
48 জালটা পরিপূর্ণ হলে লোকে কূলে টেনে তুললো, আর বসে বসে ভালগুলো সংগ্রহ করে পাত্রে রাখল এবং মন্দগুলো ফেলে দিল।
49 যুগের শেষ সময়ে এরকম হবে; ফেরেশতারা এসে ধার্মিকদের মধ্য থেকে দুষ্টদেরকে পৃথক করবেন এবং তাদেরকে অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেবেন;
50 সেই স্থানে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষবে।
51
তোমরা কি এসব বুঝেছো? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ।
52 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, এজন্য বেহেশতী-রাজ্যের সম্বন্ধে শিক্ষিত প্রত্যেক আলেম এমন গৃহকর্তার মত, যে তার ভাণ্ডার থেকে নতুন ও পুরানো দ্রব্য বের করে।
53 এসব দৃষ্টান্ত সমাপ্ত করার পর ঈসা সেখান থেকে চলে গেলেন।
54
আর তিনি স্বদেশে এসে লোকদের মজলিস-খানায় তাদেরকে উপদেশ দিতে লাগলেন, তাতে তারা চমৎকৃত হয়ে বললো, এই মানুষটি এমন জ্ঞান ও এমন কুদরতি-কাজ করার ক্ষমতা কোথা থেকে পেলো?
55 এ কি কাঠমিস্ত্রির পুত্র নয়? এর মায়ের নাম কি মরিয়ম নয়? এবং ইয়াকুব, ইউসুফ, শিমোন ও এহুদা কি এর ভাই নয়?
56 আর এর বোনেরা কি সকলে আমাদের এখানে নেই? তবে সে কোথা থেকে এ সব পেল?
57 এভাবে ঈসাকে নিয়ে তাদের মনে বাধা আসতে লাগল। কিন্তু ঈসা তাদেরকে বললেন, নিজের দেশ ও নিজের কুল ছাড়া আর কোথাও নবীরা অনাদৃত হন না।
58 আর তাদের অবিশ্বাসের জন্য তিনি সেখানে অনেক কুদরতি-কাজ করলেন না।
1
সেই সময়ে বাদশাহ্ হেরোদ ঈসার কথা শুনতে পেলেন,
2 আর তাঁর কর্মচারীদেরকে বললেন, ইনি সেই বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া; যিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন, আর সেজন্য পরাক্রমগুলো তাঁতে কাজ করে চলেছে।
3 কারণ হেরোদ আপন ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়ার জন্য ইয়াহিয়াকে ধরে বেঁধে কারাগারে রেখেছিলেন;
4 কেননা ইয়াহিয়া তাকে বলেছিলেন, ওকে স্ত্রী হিসেবে রাখা আপনার উচিত নয়।
5 আর তিনি তাঁকে হত্যা করতে ইচ্ছা করলেও লোকদেরকে ভয় করতেন, কেননা লোকেরা তাঁকে নবী বলে মানতো।
6 কিন্তু হেরোদের জন্মদিনের উৎসব উপস্থিত হলে, হেরোদিয়ার কন্যা লোকদের মধ্যে নেচে হেরোদকে সন্তুষ্ট করলো।
7 এজন্য তিনি শপথপূর্বক এই ওয়াদা করলেন, তুমি যা চাইবে, তা-ই তোমাকে দেব।
8 তখন সে তার মায়ের পরামর্শ নিয়ে বললো, বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়ার মাথা থালায় করে এখানে আমাকে দিন।
9 এতে বাদশাহ্ দুঃখিত হলেন, কিন্তু যারা তাঁর সঙ্গে বসেছিল তাদের সম্মুখে তিনি শপথ করেছিলেন বলে তা দিতে হুকুম করলেন,
10 তিনি লোক পাঠিয়ে কারাগারে ইয়াহিয়ার মাথা কাটালেন।
11 আর তাঁর মাথাটি একখানি থালায় করে এনে সেই কন্যাকে দেওয়া হল; আর সে তা তার মায়ের কাছে নিয়ে গেল।
12 পরে তাঁর সাহাবীরা এসে লাশটি নিয়ে গিয়ে দাফন করলো এবং ঈসার কাছে এসে তাঁকে সংবাদ দিল।
13
ঈসা তা শুনে সেখান থেকে নৌকা যোগে একাকী একটি নির্জন স্থানে প্রস্থান করলেন; আর লোকেরা তা শুনে নানা নগর থেকে এসে স্থলপথে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
14 তখন তিনি বের হয়ে অনেক লোক দেখে তাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হলেন এবং তাদের অসুস্থ লোকদেরকে সুস্থ করলেন।
15 পরে সন্ধ্যা হলে সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, এই স্থানটি নির্জন, বেলাও গেছে; লোকদেরকে বিদায় করুন যেন ওরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিজেদের জন্য খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতে পারে।
16 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, ওদের যাবার প্রয়োজন নেই, তোমরাই ওদেরকে খাবার দাও।
17 তাঁরা তাঁকে বললেন, আমাদের এখানে কেবল পাঁচখানি রুটি ও দু’টি মাছ ছাড়া আর কিছুই নেই।
18 তিনি বললেন, সেগুলো এখানে আমার কাছে আন।
19 পরে তিনি লোকদেরকে ঘাসের উপরে বসতে হুকুম করলেন; আর সেই পাঁচখানি রুটি ও দু’টি মাছ নিয়ে বেহেশতের দিকে তাকিয়ে দোয়া করলেন এবং রুটি কয়খানি ভেঙ্গে সাহাবীদেরকে দিলেন। সাহাবীরা তা লোকদেরকে দিলেন।
20 তাতে সকলে আহার করে তৃপ্ত হল এবং তাঁরা অবশিষ্ট গুঁড়াগাঁড়া পূর্ণ বারো ডালা তুলে নিলেন।
21 যারা আহার করেছিল তারা স্ত্রী ও শিশু ছাড়া আনুমানিক পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল।
22
আর ঈসা তখনই সাহাবীদেরকে দৃঢ়ভাবে বলে দিলেন, যেন তাঁরা নৌকায় উঠে তাঁর আগে অন্য পারে যান, আর ইতোমধ্যে তিনি লোকদেরকে বিদায় করে দেবেন।
23 পরে তিনি লোকদেরকে বিদায় করে বিরলে মুনাজাত করার জন্য পর্বতে উঠলেন। সন্ধ্যা হলে তিনি সেই স্থানে একাকী থাকলেন।
24 কিন্তু নৌকাখানি স্থল থেকে অনেকটা দূরে গিয়ে পড়েছিল, ঢেউয়ে টলমল করছিল, কারণ বাতাস প্রতিকূল ছিল।
25 পরে রাতের চতুর্থ প্রহরে তিনি সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে তাঁদের কাছে আসলেন।
26 তখন সাহাবীরা তাঁকে সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটতে দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে বললেন, এ যে ভূত! আর ভয়ে চেঁচাতে লাগলেন।
27 কিন্তু ঈসা তখনই তাদের সঙ্গে কথা বললেন, বললেন, সাহস কর, এ আমি, ভয় করো না।
28
তখন পিতর জবাবে তাঁকে বললেন, হে প্রভু, যদি আপনি হন, তবে আমাকে পানির উপর দিয়ে আপনার কাছে যেতে হুকুম করুন।
29 তিনি বললেন, এসো; তাতে পিতর নৌকা থেকে নেমে পানির উপর দিয়ে হেঁটে ঈসার কাছে চললেন।
30 কিন্তু বাতাস দেখে তিনি ভয় পেলেন এবং ডুবে যেতে যেতে চিৎকার ডেকে বললেন, হে প্রভু, আমায় রক্ষা করুন।
31 তখনই ঈসা হাত বাড়িয়ে তাঁকে ধরলেন, আর তাঁকে বললেন, হে অল্পবিশ্বাসী, কেন সন্দেহ করলে?
32 পরে তাঁরা নৌকায় উঠলে বাতাস থেমে গেল।
33 আর যাঁরা নৌকায় ছিলেন, তাঁরা এসে তাঁকে সেজ্দা করে বললেন, সত্যিই আপনি আল্লাহ্র পুত্র।
34
পার হয়ে তাঁরা স্থলে, গিনেষরৎ প্রদেশে, উপস্থিত হলেন।
35 সেখানকার লোকেরা তাঁকে চিনতে পেরে চারদিকে সেই দেশের সর্বত্র সংবাদ পাঠালো এবং যত অসুস্থ লোক ছিল সকলকে তাঁর কাছে আনালো;
36 আর তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন অসুস্থরা তাঁর চাদরের কিনারাটা কেবল স্পর্শ করতে পারে; আর যত লোক স্পর্শ করলো তারা সকলে সুস্থ হল।
1
তখন জেরুশালেম থেকে ফরীশীরা ও আলেমেরা ঈসার কাছে এসে বললো,
2 আপনার সাহাবীরা কি জন্য প্রাচীনদের পরম্পরাগত নিয়ম লঙ্ঘন করে? কেননা আহার করার সময়ে তারা হাত ধোয় না।
3 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরাও তোমাদের পরম্পরাগত নিয়মের জন্য আল্লাহ্র হুকুম কেন লঙ্ঘন কর?
4 কারণ আল্লাহ্ বলেছেন, “তুমি তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর কোরো;” আর “যে কেউ পিতার বা মাতার নিন্দা করে, তার প্রাণদণ্ড অবশ্য হবে।”
5 কিন্তু তোমরা বলে থাক, যে ব্যক্তি পিতাকে বা মাতাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে যা দিয়ে তোমার উপকার হতে পারতো, তা আল্লাহ্কে দেওয়া হয়েছে,’
6 সে তার পিতাকে বা তার মাতাকে আর সম্মান করবে না; এভাবে তোমরা তোমাদের পরম্পরাগত নিয়মের জন্য আল্লাহ্র কালাম নিষ্ফল করেছ।
7 ভণ্ডরা, নবী ইশাইয়া তোমাদের বিষয়ে বিলক্ষণ ভবিষ্যদ্বাণী বলেছেন,
8
“এই লোকেরা মুখের কথায়ই আমার
সমাদর করে,
কিন্তু এদের অন্তঃকরণ আমার কাছ থেকে দূরে থাকে;
9
এবং এরা অনর্থক আমার এবাদত
করে,
মানুষের আদেশমালা ধর্মসূত্র বলে
শিক্ষা দেয়।”
10
পরে তিনি লোকদেরকে কাছে ডেকে বললেন, তোমরা শোন ও বুঝ।
11 মুখের ভিতরে যা যায়, তা যে মানুষকে নাপাক করে, এমন নয়, কিন্তু মুখ থেকে যা বের হয়, তা-ই মানুষকে নাপাক করে।
12 তখন সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, আপনি কি জানেন, এই কথা শুনে ফরীশীরা অপমান বোধ করেছে?
13 জবাবে তিনি বললেন, আমার বেহেশতী পিতা যেসব চারা রোপণ করেন নি, সেসব উপড়ে ফেলা হবে।
14 ওদেরকে থাকতে দাও, ওরা অন্ধদের অন্ধ পথদর্শক; যদি অন্ধ অন্ধকে পথ দেখায়, উভয়েই গর্তে পড়বে।
15 পিতর জবাবে তাঁকে বললেন, এই দৃষ্টান্তটি আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন।
16 তিনি বললেন, তোমরাও কি এখন পর্যন্ত অবোধ রয়েছ?
17 এটা কি বোঝ না যে, যা কিছু মুখের ভিতরে যায়, তা উদরে যায়, পরে বহিঃস্থানে নিক্ষিপ্ত হয়;
18 কিন্তু যা যা মুখ থেকে বের হয়, তা অন্তঃকরণ থেকে আসে, আর তা-ই মানুষকে নাপাক করে।
19 কেননা অন্তঃকরণ থেকে কুচিন্তা, খুন, জেনা, পতিতাগমন, চুরি, মিথ্যাসাক্ষ্য, নিন্দা বের হয়ে আসে।
20 এই সকলই মানুষকে নাপাক করে; কিন্তু হাত না ধুয়ে ভোজন করলে মানুষ তাতে নাপাক হয় না।
21
পরে ঈসা সেখান থেকে প্রস্থান করে টায়ার ও সিডন প্রদেশে চলে গেলেন।
22 আর দেখ, ঐ অঞ্চলের এক জন কেনানীয় স্ত্রীলোক এসে এই বলে চেঁচাতে লাগল, হে প্রভু, দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি করুণা করুন, আমার কন্যাটিকে বদ-রূহে পেয়েছে এবং অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছে।
23 কিন্তু তিনি তাকে কোনই জবাব দিলেন না। তখন তাঁর সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে নিবেদন করলেন, একে বিদায় করুন, কেননা সে আমাদের পিছনে পিছনে চেঁচাচ্ছে।
24 জবাবে তিনি বললেন, ইসরাইল-কুলের হারানো ভেড়া ছাড়া আর কারো কাছে আমি প্রেরিত হই নি।
25 কিন্তু স্ত্রীলোকটি এসে তাঁকে সেজ্দা করে বললো, প্রভু, আমার উপকার করুন।
26 জবাবে তিনি বললেন, সন্তানদের খাদ্য নিয়ে কুকুরদের কাছে ফেলে দেওয়া ভাল নয়।
27 তাতে সে বললো, হ্যাঁ, প্রভু, কেননা কুকুরেরাও নিজ নিজ কর্তাদের টেবিল থেকে যে গুঁড়াগাঁড়া পড়ে তা খায়।
28 তখন জবাবে ঈসা তাকে বললেন, হে নারী, তোমার ঈমানের জোর খুব বেশি, তোমার যেমন ইচ্ছা, তেমনি তোমার প্রতি হোক। আর সেই দণ্ড থেকে তার কন্যা সুস্থ হল।
29
পরে ঈসা সেখান থেকে প্রস্থান করে গালীল সমুদ্রের ধারে উপস্থিত হলেন এবং পর্বতে উঠে সেই স্থানে বসলেন।
30 আর অনেক লোক তাঁর কাছে আসতে লাগল, তারা তাদের সঙ্গে খঞ্জ, অন্ধ, বোবা, নুলা এবং আরও অনেক লোককে নিয়ে তাঁর পায়ের কাছে ফেলে রাখল; আর তিনি তাদেরকে সুস্থ করলেন।
31 এভাবে বোবারা কথা বলছে, নুলারা সুস্থ হচ্ছে, খঞ্জেরা চলছে এবং অন্ধেরা দেখছে, আর তা দেখে লোকেরা আশ্চর্য জ্ঞান করলো এবং ইসরাইলের আল্লাহ্র গৌরব করলো।
32
তখন ঈসা তাঁর সাহাবীদেরকে কাছে ডেকে বললেন, এই লোকদের প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; কেননা এরা আজ তিন দিন আমার সঙ্গে রয়েছে এবং এদের কাছে কোন খাবার নেই; আর আমি এদেরকে অনাহারে বিদায় করতে ইচ্ছা করি না, পাছে এরা পথে মূর্চ্ছা পড়ে।
33 সাহাবীরা তাঁকে বললেন, নির্জন স্থানে আমরা কোথায় এত রুটি পাব যে, এত লোককে তৃপ্ত করতে পারি?
34 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের কাছে কয়-খানা রুটি আছে? তাঁরা বললেন, সাতখানা, আর কয়েকটি ছোট মাছ।
35 তখন তিনি লোকদেরকে ভূমিতে বসতে হুকুম করলেন।
36 পরে তিনি সেই সাতখানা রুটি ও সেই কয়টি মাছ নিলেন, শুকরিয়া-পূর্বক ভাঙ্গলেন এবং সাহাবীদেরকে দিলেন, সাহাবীরা লোকদেরকে দিলেন।
37 তখন সকলে আহার করে তৃপ্ত হল এবং যেসব গুঁড়াগাড়া অবশিষ্ট রইলো, তাতে পূর্ণ সাত ঝুড়ি তাঁরা উঠিয়ে নিলেন।
38 যারা আহার করেছিল, তারা স্ত্রী ও শিশু ছাড়া চার হাজার পুরুষ ছিলেন।
39 পরে তিনি লোকদেরকে বিদায় করে নৌকায় উঠে মগদনের সীমাতে উপস্থিত হলেন।
1
পরে ফরীশীরা ও সদ্দূকীরা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য কাছে এসে নিবেদন করলো, যেন তিনি তাদেরকে আসমান থেকে কোন চিহ্ন দেখান।
2 কিন্তু জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, সন্ধ্যা হলে তোমরা বলে থাক, পরিষ্কার দিন হবে, কারণ আসমান লাল হয়েছে।
3 আর খুব ভোরে বলে থাক, আজ ঝড় হবে, কারণ আসমান লাল ও মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে। তোমরা আসমানের লক্ষণ বুঝতে পার, কিন্তু কালের চিহ্নগুলো বুঝতে পার না।
4 এই কালের দুষ্ট ও জেনাকারী লোকেরা চিহ্নের খোঁজ করে, কিন্তু ইউনুসের চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্ন তাদেরকে দেওয়া যাবে না। তখন তিনি তাদেরকে ত্যাগ করে চলে গেলেন।
5
সাহাবীরা অন্য পারে যাবার সময়ে রুটি নিতে ভুলে গিয়েছিলেন।
6 ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা সতর্ক হও, ফরীশী ও সদ্দূকীদের খামি থেকে সাবধান থাক।
7 তখন তাঁরা পরস্পর তর্ক করে বলতে লাগলেন, আমরা যে রুটি আনি নি।
8 এই কথা বুঝতে পেরে ঈসা বললেন, হে অল্পবিশ্বাসীরা, তোমাদের রুটি নেই বলে কেন পরস্পর তর্ক করছো?
9 এখনও কি বোঝ না, মনেও কি পড়ে না, সেই পাঁচ হাজার লোকের খাদ্য পাঁচখানি রুটি, আর কত ডালা তুলে নিয়েছিলে?
10 এবং সেই চার হাজার লোকের খাদ্য সাতখানি রুটি, আর কত ঝুড়ি তুলে নিয়েছিলে?
11 তোমরা কেন বোঝ না যে, আমি তোমাদেরকে রুটির বিষয় বলি নি? কিন্তু তোমরা ফরীশী ও সদ্দূকীদের খামি থেকে সাবধান থাক।
12 তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন, তিনি রুটির খামি থেকে নয়, কিন্তু ফরীশী ও সদ্দূকীদের শিক্ষা থেকে সাবধান থাকবার কথা বলেছেন।
13
পরে ঈসা সিজারিয়া-ফিলিপীর অঞ্চলে গিয়ে তাঁর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনুল-ইনসান কে, এই বিষয়ে লোকে কি বলে?
14 তাঁরা বললেন, কেউ কেউ বলে, আপনি বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া; কেউ কেউ বলে আপনি ইলিয়াস; আর কেউ কেউ বলে, আপনি ইয়ারমিয়া কিংবা নবীদের কোন এক জন।
15 তিনি তাঁদেরকে বললেন, কিন্তু তোমরা কি বল, আমি কে?
16 শিমোন পিতর জবাবে বললেন, আপনি সেই মসীহ্, জীবন্ত আল্লাহ্র পুত্র।
17 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, হে ইউনুসের পুত্র শিমোন, ধন্য তুমি! কেননা রক্তমাংস তোমার কাছে এই কথা প্রকাশ করে নি, কিন্তু আমার বেহেশতী পিতা প্রকাশ করেছেন।
18 আর আমিও তোমাকে বলছি, তুমি পিতর, আর এই পাথরের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গাঁথবো, আর পাতালের ফটকগুলো তার বিপক্ষে প্রবল হবে না।
19 আমি তোমাকে বেহেশতী-রাজ্যের চাবিগুলো দেব; আর তুমি দুনিয়াতে যা কিছু বাঁধবে, তা বেহেশতে বেঁধে রাখা হবে এবং দুনিয়াতে যা কিছু মুক্ত করবে, তা বেহেশতে মুক্ত হবে।
20 তখন তিনি সাহাবীদেরকে এই হুকুম দিলেন, আমি যে সেই মসীহ্, এই কথা কাউকেও বলো না।
21
সেই সময় থেকে ঈসা তাঁর সাহাবীদেরকে স্পষ্টই বলতে লাগলেন যে, তাঁকে জেরুশালেমে যেতে হবে এবং প্রাচীনদের, প্রধান ইমামদের ও আলেমদের কাছ থেকে অনেক দুঃখ ভোগ করতে হবে ও হত হতে হবে, আর তৃতীয় দিনে উঠতে হবে।
22 এতে পিতর তাঁকে কাছে নিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন, বললেন, প্রভু, তা আপনার কাছ থেকে দূরে থাকুক, তা আপনার প্রতি কখনও ঘটবে না।
23 কিন্তু তিনি মুখ ফিরিয়ে পিতরকে বললেন, আমার সম্মুখ থেকে দূর হও শয়তান, তুমি আমার পথের বাধা; কেননা যা আল্লাহ্র, তা নয়, কিন্তু যা মানুষের, তা-ই তুমি ভাবছো।
24
তখন ঈসা তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করতে ইচ্ছা করে, তবে সে নিজেকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলে নিক এবং আমার পিছনে আসুক।
25 কেননা যে কেউ তার প্রাণ রক্ষা করতে ইচ্ছা করে, সে তা হারাবে, আর যে কেউ আমার জন্য তার প্রাণ হারায়, সে তা পাবে।
26 বস্তুতঃ মানুষ যদি সারা দুনিয়া লাভ করে নিজের প্রাণ হারায়, তবে তার কি লাভ হবে? কিংবা মানুষ নিজের প্রাণের পরিবর্তে কি দেবে?
27
কেননা ইবনুল-ইনসান তাঁর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর পিতার প্রতাপে আসবেন, আর তখন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কাজ অনুসারে প্রতিফল দেবেন।
28 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েক জন আছে, যারা কোন মতে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না, যে পর্যন্ত ইবনুল-ইনসানকে তাঁর রাজ্যে আসতে না দেখবে।
1
ছয় দিন পরে ঈসা পিতর, ইয়াকুব ও তাঁর ভাই ইউহোন্নাকে সঙ্গে করে বিরলে একটি উঁচু পর্বতে নিয়ে গেলেন।
2 পরে তিনি তাঁদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন; তাঁর মুখ সূর্যের মত উজ্জ্বল এবং তাঁর পোশাক আলোর মত সাদা হল।
3 আর দেখ, মূসা ও ইলিয়াস তাঁদেরকে দেখা দিলেন, তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথোপকথন করতে লাগলেন।
4 তখন পিতর ঈসাকে বললেন, প্রভু, এখানে আমাদের থাকা ভাল; যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তবে আমি এখানে তিনটি কুটির তৈরি করি, একটি আপনার জন্য, একটি মূসার জন্য এবং একটি ইলিয়াসের জন্য।
5 তিনি কথা বলছেন, এমন সময়ে দেখ, একখানি উজ্জ্বল মেঘ তাঁদেরকে ছায়া করলো, আর দেখ, সেই মেঘ থেকে এই বাণী হল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, এঁতেই আমি প্রীত, এঁর কথা শোন’।
6
এই কথা শুনে সাহাবীরা উবুড় হয়ে পড়লেন এবং ভীষণ ভয় পেলেন।
7 পরে ঈসা কাছে এসে তাঁদেরকে স্পর্শ করে বললেন, উঠ, ভয় করো না।
8 তখন তাঁরা চোখ তুলে আর কাউকেও দেখতে পেলেন না, কেবল ঈসা একা ছিলেন।
9
পর্বত থেকে নামবার সময়ে ঈসা তাঁদেরকে এই হুকুম দিলেন, যে পর্যন্ত ইবনুল-ইনসান মৃতদের মধ্য থেকে না উঠেন, সেই পর্যন্ত তোমরা এই দর্শনের কথা কাউকেও বলো না।
10 তখন সাহাবীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তবে আলেমেরা কেন বলেন যে, প্রথমে ইলিয়াসের আগমন হওয়া আবশ্যক?
11 জবাবে তিনি বললেন, সত্যি বটে, ইলিয়াস আসবেন এবং সকলই পুনঃস্থাপন করবেন;
12 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, ইলিয়াস এসে গেছেন এবং লোকেরা তাঁকে চিনে নি, বরং তাঁর প্রতি যা ইচ্ছা তা-ই করেছে; তেমনি ইবনুল-ইনসানকেও তাদের থেকে দুঃখভোগ করতে হবে।
13 তখন সাহাবীরা বুঝলেন যে, তিনি তাঁদেরকে বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়ার বিষয় বলেছেন।
14
পরে তাঁরা লোকদের কাছে আসলে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে হাঁটু পেতে বললো,
15 প্রভু, আমার পুত্রের প্রতি করুণা করুন, কেননা সে মৃগীরোগগ্রস্ত এবং অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছে, কারণ সে বার বার আগুনে ও বার বার পানিতে পড়ে থাকে।
16 আর আমি আপনার সাহাবীদের কাছে তাকে এনেছিলাম, কিন্তু তাঁরা তাকে সুস্থ করতে পারলেন না।
17 জবাবে ঈসা বললেন, হে অবিশ্বাসী ও বিপথগামী বংশ, আমি কত কাল তোমাদের সঙ্গে থাকব? কত কাল তোমাদের প্রতি সহিষ্ণুতা করবো? তোমরা ওকে এখানে আমার কাছে আন।
18 পরে ঈসা তাকে ধমক্ দিলেন, তাতে সেই বদ-রূহ্ তাকে ছেড়ে গেল, আর বালকটি সেই দণ্ড থেকে সুস্থ হল।
19 তখন সাহাবীরা গোপনে ঈসার কাছে এসে বললেন, কি জন্য আমরা সেটি ছাড়াতে পারলাম না?
20 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের ঈমান অল্প বলে; কেননা আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যদি তোমাদের একটি সরিষা-দানার মত ঈমান থাকে, তবে তোমরা এই পর্বতকে বলবে, ‘এখান থেকে ঐখানে সরে যাও,’ আর তা সরে যাবে; তোমাদের অসাধ্য কিছুই থাকবে না।
21 কিন্তু মুনাজাত ও রোজা ছাড়া আর কিছুতেই এই জাতি বের হয় না।
22
গালীলে তাঁদের একত্র হবার সময়ে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, ইবনুল-ইনসানকে মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে;
23 এবং তারা তাঁকে হত্যা করবে, আর তৃতীয় দিনে তিনি উঠবেন। এতে তাঁরা অত্যন্ত দুঃখিত হলেন।
24
পরে তাঁরা কফরনাহূমে আসলে, যারা কর আদায় করতো, তারা পিতরের কাছে এসে বললো, তোমাদের হুজুর কি কর দেন না? তিনি বললেন, দিয়ে থাকেন।
25 পরে তিনি বাড়ির মধ্যে আসলে ঈসা আগেই তাঁকে বললেন, শিমোন, তোমার কেমন মনে হয়? দুনিয়ার বাদশাহ্রা কাদের কাছ থেকে কর বা রাজস্ব গ্রহণ করে থাকেন? কি আপন সন্তানদের থেকে, না অন্য লোক থেকে?
26 পিতর বললেন, অন্য লোক থেকে। তখন ঈসা তাঁকে বললেন, তবে সন্তানেরা স্বাধীন।
27 তবুও আমরা যেন ওদের কাছে বাধা হয়ে না উঠি, এজন্য তুমি সাগরে গিয়ে বড়শী ফেল, তাতে প্রথমে যে মাছটি উঠবে, সেটি ধরে তার মুখ খুললে একটি টাকা পাবে; সেটি নিয়ে আমার এবং তোমার জন্য ওদেরকে দাও।
1
সেই সময়ে সাহাবীরা ঈসার কাছে এসে বললেন, তবে বেহেশতী-রাজ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?
2 তিনি একটি শিশুকে নিজের কাছে ডেকে তাঁদের মধ্যে দাঁড় করালেন,
3 এবং বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমরা যদি না ফির ও শিশুদের মত না হয়ে উঠ, তবে কোন মতে বেহেশতী-রাজ্যে প্রবেশ করতে পাবে না।
4 অতএব যে কেউ নিজেকে এই শিশুর মত নত করে, সে-ই বেহেশতী-রাজ্যে শ্রেষ্ঠ।
5 আর যে কেউ এর মত একটি শিশুকে আমার নামে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে।
6
কিন্তু যে ক্ষুদ্রজনেরা আমার উপর ঈমান আনে, যদি তোমাদের কেউ তাদের সম্মুখে এমন কোন বাধা স্থাপন করে যাতে তারা উচোট খায় তবে, তার গলায় বড় যাঁতা বেঁধে তাকে সমুদ্রের অগাধ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া বরং তার পক্ষে ভাল।
7 ধিক্ দুনিয়াকে, সে লোকদের গুনাহের পথে নিয়ে যায়! কেননা গুনাহের পথে নিয়ে যাবার জন্য উসকানি অবশ্যই উপস্থিত হবে; কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যার দ্বারা উসকানি উপস্থিত হবে।
8
আর তোমার হাত কিংবা পা যদি তোমাকে গুনাহের পথে নিয়ে যায়, তবে তা কেটে ফেলে দাও; দুই হাত কিংবা দুই পা নিয়ে অনন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং খঞ্জ কিংবা নুলা হয়ে জীবনে প্রবেশ করা তোমার ভাল।
9 আর তোমার চোখ যদি তোমাকে গুনাহের পথে নিয়ে যায়, তবে তা উপড়ে ফেলে দাও; দুই চোখ নিয়ে দোজখের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং এক চোখ নিয়ে জীবনে প্রবেশ করা তোমার ভাল।
10
দেখো, এই ক্ষুদ্রজনদের মধ্যে একটিকেও তুচ্ছ করো না;
11 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, তাদের ফেরেশতারা বেহেশতে সতত আমার বেহেশতী পিতার মুখ দর্শন করেন। কারণ যারা হারিয়ে গেছে, তাদের নাজাত করতে ইবনুল-ইনসান এসেছেন।
12 তোমাদের কি মনে হয়? কোন ব্যক্তির যদি এক শত ভেড়া থাকে, আর তাদের মধ্যে একটি হারিয়ে যায়, তবে সে কি অন্য নিরানব্বইটা ছেড়ে পর্বতে গিয়ে ঐ হারানো ভেড়াটির খোঁজ করে না?
13 আর যদি সে কোনক্রমে সেটি পায়, তবে আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে নিরানব্বইটা হারিয়ে যায় নি, তাদের চেয়ে সেটির জন্য সে বেশি আনন্দ করে।
14 ঠিক সেভাবে এই ক্ষুদ্রজনদের মধ্যে এক জনও যে বিনষ্ট হয়, তোমাদের বেহেশতী পিতার এমন ইচ্ছা নয়।
15
আর যদি তোমার ভাই তোমার কাছে কোন অপরাধ করে, তবে যাও, যখন কেবল তুমি ও সে একা থাক, তখন সেই দোষ তাকে বুঝিয়ে দাও। যদি সে তোমার কথা শুনে, তুমি আপন ভাইকে ফিরে পেলে।
16 কিন্তু যদি সে না শুনে, তবে আর দুই এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে যাও, যেন “দুই কিংবা তিন জন সাক্ষীর মুখে সমস্ত কথা নিষ্পন্ন হয়।”
17 আর যদি সে তাদের কথা অমান্য করে, মণ্ডলীকে বল; আর যদি মণ্ডলীর কথাও অমান্য করে, সে তোমার কাছে অ-ইহুদী লোকের ও কর-আদায়কারীর মত হোক।
18 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমরা দুনিয়াতে যা কিছু বাঁধবে, তা বেহেশতে বেঁধে রাখা হবে এবং দুনিয়াতে যা কিছু মুক্ত করবে, তা বেহেশতে মুক্ত হবে।
19 আবার আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, দুনিয়াতে তোমাদের দু’জন যা কিছু যাচ্ঞা করবে, সেই বিষয়ে যদি একচিত্ত হয়, তবে আমার বেহেশতী পিতা কর্তৃক তাদের জন্য তা করা যাবে।
20 কেননা যেখানে দুই বা তিন জন আমার নামে একত্র হয়, সেখানে আমি তাদের মধ্যে আছি।
21
তখন পিতর তাঁর কাছে এসে বললেন, প্রভু, আমার ভাই আমার কাছে কত বার অপরাধ করলে আমি তাকে মাফ করবো? কি সাত বার পর্যন্ত?
22 ঈসা তাঁকে বললেন, তোমাকে বলছি না, শুধু সাত বার পর্যন্ত নয়, কিন্তু সত্তর গুণ সাত বার পর্যন্ত।
23
এজন্য বেহেশতী-রাজ্য এমন এক জন বাদশাহ্র মত, যিনি তাঁর গোলামদের কাছে হিসাব নিতে চাইলেন।
24 তিনি হিসাব আরম্ভ করলে, এক জনকে তাঁর কাছে আনা হল, যে তাঁর কাছে দশ হাজার তালন্ত ঋণ ছিল।
25 কিন্তু তার পরিশোধ করার সঙ্গতি না থাকাতে তার মালিক তাকে ও তার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং সর্বস্ব বিক্রি করে আদায় করতে হুকুম করলেন।
26 তাতে সেই গোলাম তাঁর পায়ে পড়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে বললো, হে মালিক, আমার প্রতি ধৈর্য ধরুন, আমি আপনার সমস্তই পরিশোধ করবো।
27 তখন সেই গোলামের মালিক করুণাবিষ্ট হয়ে তাকে মুক্ত করলেন ও তার ঋণ মাফ করলেন।
28 কিন্তু সেই গোলাম বাইরে গিয়ে তার সহগোলামদের মধ্যে এক জনকে দেখতে পেল, যে তার কাছে এক শত সিকি ঋণী ছিল; সে তাকে ধরে গলা টিপে বললো, তুই যা ধার করেছিস, তা পরিশোধ কর্।
29 তখন তার সহগোলাম তার পায়ে পড়ে বিনতিপূর্বক বললো, আমার প্রতি ধৈর্য ধর, আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করবো।
30 তবুও সে সম্মত হল না, কিন্তু গিয়ে তাকে কারাগারে ফেলে রাখল, যে পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করে।
31 এই ব্যাপার দেখে তার সহগোলামেরা বড়ই দুঃখিত হল, আর তাদের মালিকের কাছে গিয়ে সমস্ত বৃত্তান্ত বলে দিল।
32 তখন তার মালিক তাকে কাছে ডেকে এনে বললেন, দুষ্ট গোলাম! তুমি আমার কাছে ফরিয়াদ করাতে আমি তোমার ঐ সমস্ত ঋণ মাফ করেছিলাম;
33 আমি যেমন তোমার প্রতি করুণা করেছিলাম, তেমনি তোমার সহগোলামের প্রতি করুণা করা কি তোমারও উচিত ছিল না?
34 আর তার মালিক ক্রুদ্ধ হয়ে পীড়নকারীদের কাছে তাকে তুলে দিলেন, যে পর্যন্ত সেই সমস্ত ঋণ পরিশোধ না করে।
35 আমার বেহেশতী পিতাও তোমাদের প্রতি এরকম করবেন, যদি তোমরা প্রত্যেক জন অন্তঃকরণের সঙ্গে আপন আপন ভাইকে মাফ না কর।
1
এসব কথা সমাপ্ত করার পর ঈসা গালীল থেকে প্রস্থান করলেন, পরে জর্ডান নদীর অন্যপারস্থ এহুদিয়ার অঞ্চলে উপস্থিত হলেন;
2 আর অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল এবং তিনি সেখানে লোকদেরকে সুস্থ করলেন।
3
আর ফরীশীরা তাঁর কাছে এসে পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, যে কোন কারণে কি আপন স্ত্রীকে তালাক দেওয়া উচিত?
4 জবাবে তিনি বললেন, তোমরা কি পাঠ কর নি যে, সৃষ্টিকর্তা আদিতে পুরুষ ও স্ত্রী করে তাদেরকে নির্মাণ করেছিলেন, আর বলেছিলেন,
5 “এই কারণ মানুষ পিতা ও মাতাকে পরিত্যাগ করে আপন স্ত্রীতে আসক্ত হবে এবং সে দু’জন একাঙ্গ হবে”?
6 সুতরাং তারা আর দুই নয়, কিন্তু একাঙ্গ। অতএব আল্লাহ্ যা যোগ করে দিয়েছেন, মানুষ তা বিয়োগ না করুক।
7 তারা তাঁকে বললো, তবে মূসা কেন তালাক-নামা দিয়ে তালাক দেবার হুকুম দিয়েছেন?
8
তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের অন্তঃকরণ কঠিন বলে মূসা তোমাদেরকে নিজ নিজ স্ত্রীকে তালাক দেবার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু আদি থেকে এরকম হয় নি।
9 আর আমি তোমাদেরকে বলছি, জেনার দোষ ছাড়া যে কেউ আপন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য স্ত্রীলোককে বিয়ে করে, সে জেনা করে। যে ব্যক্তি সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে, সেও জেনা করে।
10
সাহাবীরা তাঁকে বললেন, যদি আপন স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষের এরকম সম্বন্ধ হয়, তবে বিয়ে না করাই ভাল।
11 তিনি তাঁদেরকে বললেন, সকলে এই কথা গ্রহণ করে না, কিন্তু যাদেরকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারাই করে।
12 কারণ এমন নপুংসক আছে, যারা মায়ের উদর থেকে সেরকম হয়ে জন্মেছে; আর এমন নপুংসক আছে, যাদেরকে মানুষে নপুংসক করেছে; আর এমন নপুংসক আছে, যারা বেহেশতী-রাজ্যের জন্য নিজেদের নপুংসক করেছে। এই কথা যে গ্রহণ করতে পারে, সে গ্রহণ করুক।
13
তখন কতগুলো শিশু তাঁর কাছে আনা হল, যেন তিনি তাদের উপরে হাত রাখেন ও তাদের জন্য দোয়া করেন; তাতে সাহাবীরা তাদেরকে ভর্ৎসনা করলেন।
14 কিন্তু ঈসা বললেন, শিশুদেরকে আমার কাছে আসতে দাও, বারণ করো না; কেননা বেহেশতী-রাজ্য এদের মত লোকদেরই।
15 পরে তিনি তাদের উপরে হাত রেখে সেখান থেকে চলে গেলেন।
16
আর দেখ, এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললো, হুজুর, অনন্ত জীবন পাবার জন্য আমি কিরূপ সৎকর্ম করবো?
17 তিনি তাকে বললেন, আমাকে সৎ এর বিষয় কেন জিজ্ঞাসা কর? সৎ এক জন মাত্র আছেন। কিন্তু তুমি যদি জীবনে প্রবেশ করতে ইচ্ছা কর, তবে হুকুমগুলো পালন কর।
18 সে বললো, কোন্ কোন্ হুকুম? ঈসা বললেন, এই এই, “নরহত্যা করো না, জেনা করো না, চুরি করো না,
19 মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না, পিতা ও মাতাকে সমাদর করো এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করো”।
20 সেই যুবক তাঁকে বললো, আমি এগুলো সবই পালন করেছি, এখন আমার কি ত্রুটি আছে?
21 ঈসা তাকে বললেন, যদি সিদ্ধ হতে ইচ্ছা কর, তবে চলে যাও, তোমার যা যা আছে, বিক্রি কর এবং দরিদ্রদেরকে দান কর, তাতে বেহেশতে ধন পাবে; আর এসো, আমার অনুসারী হও।
22 কিন্তু এই কথা শুনে সেই যুবক দুঃখিত হয়ে চলে গেল, কারণ তার বিস্তর সম্পত্তি ছিল।
23
তখন ঈসা তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, ধনবানের পক্ষে বেহেশতী-রাজ্যে প্রবেশ করা দুষ্কর।
24 আবার তোমাদেরকে বলছি, আল্লাহ্র রাজ্যে ধনবানের প্রবেশ করার চেয়ে বরং সূচের ছিদ্র দিয়ে উটের যাওয়া সহজ।
25 এই কথা শুনে সাহাবীরা ভীষণ আশ্চর্য হয়ে বললেন, তবে কে নাজাত পেতে পারে?
26 ঈসা তাঁদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, তা মানুষের অসাধ্য বটে, কিন্তু আল্লাহ্র পক্ষে সকলই সাধ্য।
27
তখন পিতর জবাবে তাঁকে বললেন, দেখুন, আমরা সমস্তই পরিত্যাগ করে আপনার অনুসারী হয়েছি; আমরা তবে কি পাব?
28 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমরা যত জন আমার অনুসারী হয়েছ, পুনঃসৃষ্টিকালে যখন ইবনুল-ইনসান আপন মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরাও বারোটি সিংহাসনে বসে ইসরাইলের বারো বংশের বিচার করবে।
29 আর যে কোন ব্যক্তি আমার নামের জন্য নিজের বাড়ি, বা ভাই-বোন, বা পিতা-মাতা, বা সন্তান, বা ক্ষেত পরিত্যাগ করেছে, সে তার শত গুণ পাবে এবং অনন্ত জীবনের অধিকারী হবে।
30 কিন্তু যারা প্রথম, এমন অনেক লোক শেষে পড়বে এবং যারা শেষের, এমন অনেক লোক প্রথম হবে।
1
কেননা বেহেশতী-রাজ্য এমন এক জন গৃহকর্তার মত, যিনি খুব সকাল বেলায় নিজের আঙ্গুর-ক্ষেতে মজুর লাগাবার জন্য বাইরে গেলেন।
2 তিনি মজুরদের সঙ্গে দিনে এক সিকি বেতন স্থির করে তাদেরকে নিজ আঙ্গুর-ক্ষেতে প্রেরণ করলেন।
3 পরে তিনি তিন ঘটিকার সময়ে বাইরে গিয়ে দেখলেন, অন্য কয়েক জন বাজারে দাঁড়িয়ে আছে যাদের কেউ কাজে লাগায় নি,
4 এবং তাদেরকে বললেন, তোমরাও আঙ্গুর-ক্ষেতে যাও, যা ন্যায্য তোমাদেরকে দেব; তাতে তারা গেল।
5 আবার তিনি ছয় ও নয় ঘটিকার সময়েও বাইরে গিয়ে ঐ একই রকম করলেন।
6 পরে একাদশ ঘটিকার সময়ে বাইরে গিয়ে আর কয়েক জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন, আর তাদেরকে বললেন, কি জন্য সমস্ত দিন এখানে দাঁড়িয়ে আছ?
7 তারা তাঁকে বললো, কেউই আমাদেরকে কাজে লাগায় নি। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরাও আঙ্গুর-ক্ষেতে যাও।
8 পরে সন্ধ্যা হলে সেই আঙ্গুর-ক্ষেতের মালিক তার দেওয়ানকে বললেন, মজুরদেরকে ডেকে মজুরি দাও, শেষ জন থেকে আরম্ভ করে প্রথম জন পর্যন্ত দাও।
9 তাতে যারা একাদশ ঘটিকার সময়ে লাগিয়েছিল, তারা এসে এক এক জন এক এক সিকি পেল।
10 পরে যাদের প্রথমে লাগিয়েছিল তারা এসে মনে করলো, আমরা বেশি পাব; কিন্তু তারাও এক এক সিকি পেল।
11 পেয়ে তারা সেই গৃহকর্তার বিরুদ্ধে বচসা করে বলতে লাগল,
12 শেষের এরা তো এক ঘণ্টা মাত্র খেটেছে, আমরা সমস্ত দিন খেটেছি ও রৌদ্রে পুড়েছি, আপনি এদেরকে আমাদের সমান করলেন।
13 জবাবে তিনি তাদের এক জনকে বললেন, হে বন্ধু! আমি তোমার প্রতি কোন অন্যায় করি নি; তুমি কি আমার কাছে কাজ করতে এক সিকিতে রাজী হও নি?
14 তোমার যা পাওনা তা নিয়ে চলে যাও; আমার ইচ্ছা, তোমাকে যা, ঐ শেষের জনকেও তা-ই দেব।
15 যা আমার নিজের, তা আমার ইচ্ছামত ব্যবহার করার অধিকার কি আমার নেই? না আমি দয়ালু বলে তোমার চোখ টাটাচ্ছে?
16 এভাবে যারা শেষের, তারা প্রথম হবে এবং যারা প্রথম, তারা শেষে পড়বে।
17
পরে যখন ঈসা জেরুশালেমে যেতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি সেই বারো জন সাহাবীকে বিরলে নিয়ে গেলেন, আর পথের মধ্যে তাঁদেরকে বললেন,
18 দেখ, আমরা জেরুশালেমে যাচ্ছি; আর ইবনুল-ইনসানকে প্রধান ইমামদের ও আলেমদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে;
19 তারা তাঁর প্রাণদণ্ড বিধান করবে এবং বিদ্রূপ করার, কশাঘাত করার ও ক্রুশে দেবার জন্য অ-ইহুদীদের হাতে তাঁকে তুলে দেবে; পরে তিনি তৃতীয় দিনে উঠবেন।
20
তখন সিবদিয়ের পুত্রদের মা তাঁর দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কাছে এসে মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁর কাছে কিছু যাচ্ঞা করলেন।
21 তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি চাও? তিনি বললেন, হুকুম করুন, যেন আপনার রাজ্যে আমার এই দুই পুত্রের এক জন আপনার ডান পাশে, আর এক জন বাম পাশে বসতে পারে।
22 কিন্তু জবাবে ঈসা বললেন, তোমরা কি যাচ্ঞা করছো, তা বোঝ না; আমি যে পাত্রে পান করতে যাচ্ছি, তাতে কি তোমরা পান করতে পার? তাঁরা বললেন, পারি।
23 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা আমার পাত্রে পান করবে বটে, কিন্তু যাদের জন্য আমার পিতা কর্তৃক স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের ছাড়া আর কাউকেও আমার ডান পাশে ও বাম পাশে বসতে দেবার আমার অধিকার নেই।
24
এই কথা শুনে অন্য দশ জন ঐ দুই ভাইয়ের প্রতি রুষ্ট হলেন।
25 কিন্তু ঈসা তাঁদেরকে কাছে ডেকে বললেন, তোমরা জান, অ-ইহুদীদের শাসনকর্তারা তাদের উপরে প্রভুত্ব করে এবং যারা মহান, তারা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করে।
26 তোমাদের মধ্যে সেরকম হবে না; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ মহান হতে চায়, সে তোমাদের পরিচারক হবে;
27 এবং তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, সে তোমাদের গোলাম হবে;
28 যেমন ইবনুল-ইনসান পরিচর্যা পেতে আসেন নি, কিন্তু পরিচর্যা করতে এবং অনেকের পরিবর্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে এসেছেন।
29
পরে জেরিকো থেকে তাঁদের বের হবার সময়ে অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
30 আর দেখ, দু’জন অন্ধ পথের পাশে বসেছিল; সেই পথ দিয়ে ঈসা যাচ্ছেন শুনে তারা চেঁচিয়ে বললো, প্রভু, দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি করুণা করুন।
31 তাতে লোকেরা চুপ্ চুপ্ বলে তাদেরকে ধমক্ দিল; কিন্তু তারা আরও বেশি চেঁচিয়ে বললো, প্রভু, দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি করুণা করুন।
32 তখন ঈসা থেমে তাদেরকে ডাকলেন, আর বললেন, তোমরা কি চাও? আমি তোমাদের জন্য কি করবো?
33 তারা তাঁকে বললো, প্রভু, আমাদের চোখ যেন খুলে যায়।
34 তখন ঈসা করুণাবিষ্ট হয়ে তাদের চোখ স্পর্শ করলেন, আর তখনই তারা দেখতে পেল ও তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগলো।
1
পরে যখন তাঁরা জেরুশালেমের নিকটবর্তী হয়ে জৈতুন পর্বতে, বৈৎফগী গ্রামে আসলেন, তখন ঈসা দু’জন সাহাবীকে পাঠিয়ে দিলেন,
2 তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের সম্মুখে ঐ গ্রামে যাও। তোমরা অমনি দেখতে পাবে একটি গাধী বাঁধা আছে এবং তাঁর সঙ্গে একটি বাচ্চাও আছে, খুলে আমার কাছে আন।
3 আর যদি কেউ তোমাদেরকে কিছু বলে, তবে বলবে, এদের প্রভুর প্রয়োজন আছে; তাতে সে তখনই তাদেরকে পাঠিয়ে দেবে।
4 এরকম ঘটলো, যেন নবীর মধ্য দিয়ে বলা এই কালাম পূর্ণ হয়,
5
“তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বল,
দেখ, তোমার বাদশাহ্ তোমার কাছে
আসছেন;
তিনি মৃদুশীল ও গাধার উপরে উপবিষ্ট
এবং বাচ্চার, গাধার বাচ্চার উপরে
উপবিষ্ট।”
6
পরে ঐ সাহাবীরা গিয়ে ঈসার হুকুম অনুসারে কাজ করলেন,
7 গাধীটিকে ও বাচ্চাটিকে আনলেন এবং তাদের উপরে তাদের কাপড় পেতে দিলেন, আর তিনি তাদের উপরে বসলেন।
8 আর ভিড়ের মধ্যে অধিকাংশ লোক নিজ নিজ কাপড় পথে পেতে দিল এবং অন্য অন্য লোক গাছের ডাল কেটে পথে ছড়িয়ে দিল।
9 আর যেসব লোক তাঁর সামনে ও পিছনে যাচ্ছিল, তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগল,
হোশান্না দাউদ-সন্তান,
ধন্য, যিনি প্রভুর নামে আসছেন;
ঊর্ধ্বলোকে হোশান্না।
10
আর তিনি জেরুশালেমে প্রবেশ করলে নগরময় হুলস্থূল পড়ে গেল; সকলে বললো, উনি কে?
11 তাতে লোকেরা বললো, উনি সেই নবী, গালীলের নাসরতীয় ঈসা।
12
পরে ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করলেন এবং যত লোক সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করছিল, তাদের সকলকে বের করে দিলেন এবং মহাজনদের টেবিল ও যারা কবুতর বিক্রি করছিল, তাদের আসনগুলো উল্টিয়ে ফেললেন,
13 আর তাদেরকে বললেন, লেখা আছে, “আমার গৃহ মুনাজাতের-গৃহ বলে আখ্যাত হবে,” কিন্তু তোমরা এটাকে “দস্যুদের গহ্বর” করে তুলছো।
14
পরে অন্ধেরা ও খঞ্জেরা বায়তুল-মোকাদ্দসে তাঁর কাছ আসল, আর তিনি তাদেরকে সুস্থ করলেন।
15 কিন্তু প্রধান ইমামেরা ও আলেমেরা তাঁর কৃত অলৌকিক কাজগুলো দেখে, আর যে বালকেরা ‘হোশান্না দাউদ-সন্তান,’ বলে বায়তুল-মোকাদ্দসে চেঁচাচ্ছিল, তাদেরকে দেখে রুষ্ট হল;
16 এবং তাঁকে বললো, শুনছো, এরা কি বলছে? ঈসা তাদেরকে বললেন, হ্যাঁ, তোমরা কি কখনও পাঠ কর নি যে, “তুমি শিশু ও দুগ্ধপোষ্যদের মুখ থেকে প্রশংসা-গজল সম্পন্ন করেছ”?
17 পরে তিনি তাদেরকে ছেড়ে নগরের বাইরে বৈথনিয়ায় গেলেন, আর সেই স্থানে রাত্রি যাপন করলেন।
18
খুব ভোরে নগরে ফিরে যাবার সময়ে তাঁর খিদে পেল।
19 পথের পাশে একটা ডুমুর গাছ দেখে তিনি তার কাছে গেলেন এবং পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন তিনি গাছটিকে বললেন, আর কখনও তোমাতে ফল না ধরুক; আর হঠাৎ সেই ডুমুর গাছটা শুকিয়ে গেল।
20 তা দেখে সাহাবীরা আশ্চর্য জ্ঞান করে বললেন, ডুমুরগাছটা হঠাৎ কেমন করে শুকিয়ে গেল?
21 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যদি তোমাদের ঈমান থাকে, আর সন্দেহ না কর, তবে তোমরা কেবল ডুমুর গাছের প্রতি এরকম করতে পারবে, তা নয়, কিন্তু এই পর্বতকেও যদি বল, ‘উপড়ে গিয়ে সাগরে পড়,’ তবে তা-ই হবে।
22 আর তোমরা মুনাজাতে বিশ্বাসপূর্বক যা কিছু যাচ্ঞা করবে, সে সবই পাবে।
23
পরে তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে আসলে পর তাঁর উপদেশ দেবার সময়ে প্রধান ইমামেরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গরা কাছে এসে বললো, তুমি কি ক্ষমতায় এসব করছো? আর কেই বা তোমাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে?
24 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, আমিও তোমাদেরকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করবো; তা যদি আমাকে বল, তবে কি ক্ষমতায় এসব করছি, তা আমিও তোমাদেরকে বলবো।
25 ইয়াহিয়া বাপ্তিস্ম দেবার অধিকার কোথা থেকে পেয়েছিল? বেহেশত থেকে না মানুষ থেকে? তখন তারা পরস্পর তর্ক করে বললো, যদি বলি বেহেশত থেকে, তা হলে সে আমাদেরকে বলবে, তবে তোমরা তাঁর উপর ঈমান আন নি কেন?
26 আর যদি বলি, মানুষ থেকে, লোক-সাধারণকে ভয় করি; কারণ সকলে ইয়াহিয়াকে নবী বলে মানে।
27 তখন তারা ঈসাকে জবাবে বললো, আমরা জানি না। তিনিও তাদেরকে বললেন, তবে আমিও কি ক্ষমতায় এসব করছি, তোমাদেরকে বলবো না।
28
কিন্তু তোমাদের কি মনে হয়? এক ব্যক্তির দুই পুত্র ছিল; তিনি প্রথম জনের কাছে গিয়ে বললেন, বৎস, যাও, আজ আঙ্গুর-ক্ষেতে কাজ কর।
29 সে জবাবে বললো, আমি যাবো না; শেষে অনুশোচনা করে গেল।
30 পরে তিনি দ্বিতীয় জনের কাছে গিয়ে সেই একই কথা বললেন। সে জবাবে বললো, জ্বী আব্বা, আমি যাচ্ছি; কিন্তু গেল না।
31 সেই দুইয়ের মধ্যে কে পিতার ইচ্ছা পালন করলো? তারা বললো, প্রথম জন। ঈসা তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, কর-আদায়কারী ও পতিতারা তোমাদের আগে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করছে।
32 কেননা ইয়াহিয়া ধার্মিকতার পথ দিয়ে তোমাদের কাছে আসলেন, আর তোমরা তাঁর উপর ঈমান আনলে না; কিন্তু কর-আদায়কারী ও পতিতারা তাঁর উপর ঈমান আনলো; কিন্তু তোমরা তা দেখেও কোন অনুশোচনা করলে না ও তাঁর উপর ঈমান আনলে না।
33
আর একটি দৃষ্টান্ত শোন; এক জন গৃহকর্তা ছিলেন, তিনি আঙ্গুরের ক্ষেত প্রস্তুত করে তার চারদিকে বেড়া দিলেন ও তার মধ্যে আঙ্গুর-কুণ্ড খনন করলেন এবং উঁচু পাহারা-ঘর নির্মাণ করলেন; পরে কৃষকদেরকে তা জমা দিয়ে অন্য দেশে চলে গেলেন।
34 আর ফলের সময় সন্নিকট হলে তিনি নিজের ফল গ্রহণ করার জন্য কৃষকদের কাছে তাঁর গোলামদেরকে প্রেরণ করলেন।
35 তখন কৃষকেরা তাঁর গোলামদেরকে ধরে এক জনকে প্রহার করলো, অন্য এক জনকে খুন করলো, আরেকজনকে পাথর মারলো।
36 আবার তিনি প্রথম বারের চেয়ে আরও বেশী গোলাম প্রেরণ করলেন; তাদের প্রতিও তারা সেই মত ব্যবহার করলো।
37 অবশেষে তিনি তাঁর পুত্রকে তাদের কাছে প্রেরণ করলেন, বললেন, তারা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।
38 কিন্তু কৃষকেরা পুত্রকে দেখে পরস্পর বললো, এই ব্যক্তিই উত্তরাধিকারী, এসো, আমরা একে হত্যা করে এর অধিকার হস্তগত করি।
39 পরে তারা তাঁকে ধরে আঙ্গুর-ক্ষেতের বাইরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলো।
40 অতএব আঙ্গুর-ক্ষেতের মালিক যখন আসবেন, তখন সেই কৃষকদেরকে কি করবেন?
41 তারা তাঁকে বললো, সেই দুষ্টদেরকে নিদারুণভাবে বিনষ্ট করবেন এবং সেই ক্ষেত এমন অন্য কৃষকদেরকে জমা দেবেন, যারা ফলের সময়ে তাঁকে ফল দেবে।
42
ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা কি কখনও পাক-কিতাবে পাঠ কর নি,
“যে পাথরটি রাজমিস্ত্রিরা অগ্রাহ্য করেছে,
তা-ই কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠলো;
তা প্রভু থেকেই হয়েছে
আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অদ্ভুত লাগে”?
43
এজন্য আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহ্র রাজ্য কেড়ে নেওয়া যাবে এবং এমন এক জাতিকে দেওয়া হবে, যে জাতি তার ফল দেবে।
44 আর এই পাথরের উপরে যে পড়বে, সে ভেঙ্গে যাবে; কিন্তু এই পাথর যার উপরে পড়বে, তাকে চুরমার করে ফেলবে।
45
তাঁর এসব দৃষ্টান্ত শুনে প্রধান ইমামেরা ও ফরীশীরা বুঝলো যে, তিনি তাদেরই বিষয় বলছেন।
46 আর তারা তাঁকে ধরতে চেষ্টা করলো, কিন্তু লোকসাধারণকে ভয় করাতে তা করলো না, কেননা লোকে তাঁকে নবী বলে মান্য করতো।
1
ঈসা আবার দৃষ্টান্ত দ্বারা কথা বললেন,
2 তিনি তাদেরকে বললেন, বেহেশতী-রাজ্য এমন এক জন বাদশাহ্র মত, যিনি তাঁর পুত্রের বিয়ের ভোজের আয়োজন করলেন।
3 সেই ভোজে দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকদেরকে ডাকবার জন্য তিনি তাঁর গোলামদেরকে প্রেরণ করলেন; কিন্তু তারা আসতে চাইল না।
4 তাতে তিনি আবার অন্য গোলামদেরকে প্রেরণ করলেন, বললেন, দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকদেরকে বল, দেখ, আমার ভোজ প্রস্তুত করেছি, আমার ষাঁড়গুলো ও হৃষ্টপুষ্ট পশুগুলো জবেহ্ করা হয়েছে, সকলই প্রস্তুত; তোমরা বিয়ের ভোজে এসো।
5 কিন্তু তারা অবহেলা করে কেউ নিজের ক্ষেতে, কেউ বা নিজের ব্যাপারে চলে গেল।
6 অবশিষ্ট সকলে তাঁর গোলামদেরকে ধরে অপমান করলো ও হত্যা করলো।
7 তাতে বাদশাহ্ ক্রুদ্ধ হলেন এবং সৈন্যসামন্ত পাঠিয়ে সেই হত্যাকারীদেরকে বিনষ্ট করলেন ও তাদের নগর পুড়িয়ে দিলেন।
8 পরে তিনি তাঁর গোলামদেরকে বললেন, বিয়ের ভোজ তো প্রস্তুত, কিন্তু ঐ দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকেরা এর যোগ্য ছিল না;
9 অতএব তোমরা রাজপথের মাথায় মাথায় গিয়ে যত লোকের দেখা পাও, সকলকে বিয়ের ভোজে ডেকে আন।
10 তাতে ঐ গোলামেরা রাজপথে গিয়ে ভাল-মন্দ যত লোকের দেখা পেল, সকলকেই ডেকে নিয়ে আসল, তাতে বিয়ে-বাড়ি মেহমানদের দ্বারা পরিপূর্ণ হল।
11
পরে বাদশাহ্ মেহমানদেরকে দেখবার জন্যে ভিতরে এসে এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, যার বিয়ের পোশাক ছিল না;
12 তিনি তাকে বললেন, হে বন্ধু, তুমি কেমন করে বিয়ের পোশাক ছাড়া এখানে প্রবেশ করলে? সে এর কোন জবাব দিতে পারল না।
13 তখন বাদশাহ্ পরিচারকদেরকে বললেন, ওর হাত-পা বেঁধে ওকে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও; সেখানে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
14 বাস্তবিক অনেকে আহ্বানপ্রাপ্ত, কিন্তু অল্পই মনোনীত।
15
তখন ফরীশীরা গিয়ে পরামর্শ করলো, কিভাবে তাঁকে কথার ফাঁদে ফেলতে পারে।
16 আর তারা হেরোদীয়দের সঙ্গে তাদের শাগরেদকে দিয়ে তাঁকে বলে পাঠাল, হুজুর, আমরা জানি, আপনি সত্য এবং সত্যরূপে আল্লাহ্র পথের বিষয় শিক্ষা দিচ্ছেন এবং আপনি কারো বিষয়ে ভীত নন, কেননা আপনি মানুষের মুখাপেক্ষা করেন না।
17 ভাল, আমাদেরকে বলুন, আপনার মত কি? সীজারকে কর দেওয়া উচিত কি না?
18 কিন্তু ঈসা তাদের দুষ্টামি বুঝে বললেন, ভণ্ডরা, আমার পরীক্ষা কেন করছো?
19 সেই করের মুদ্রা আমাকে দেখাও। তখন তারা তাঁর কাছে একটি দীনার আনলো।
20 তিনি তাদেরকে বললেন, এই ছবি ও এই নাম কার? তারা বললো, সম্রাটের।
21 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, তবে সম্রাটের যা যা, সম্রাটকে দাও। আর আল্লাহ্র যা যা, আল্লাহ্কে দাও।
22 এই কথা শুনে তারা আশ্চর্য জ্ঞান করলো এবং তাঁকে ছেড়ে চলে গেল।
23
সেদিন সদ্দূকীরা— যারা বলে পুনরুত্থান নেই— তাঁর কাছে আসল
24 এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, হুজুর, মূসা বলেছেন, কেউ যদি নিঃসন্তান হয়ে মারা যায়, তবে তার ভাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করে আপন ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করবে।
25 ভাল, আমাদের মধ্যে সাতটি ভাই ছিল; আর জ্যেষ্ঠ ভাই বিয়ের পর মারা গেল এবং সন্তান না হওয়াতে আপন ভাইয়ের জন্য নিজের স্ত্রীকে রেখে গেল।
26 দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রভৃতি সপ্তম জন পর্যন্ত সেই স্ত্রীকে বিয়ে করলো।
27 সকলের শেষে সেই স্ত্রীও মারা গেল।
28 অতএব পুনরুত্থানে ঐ সাত জনের মধ্যে সে কার স্ত্রী হবে? সকলেই তো তাকে বিয়ে করেছিল।
29
জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা ভুল করছো, কারণ তোমরা না জান পাক-কিতাব, না জান আল্লাহ্র পরাক্রম।
30 কেননা পুনরুত্থানে লোকে বিয়ে করে না এবং বিবাহিতাও হয় না, বরং বেহেশতে আল্লাহ্র ফেরেশতাদের মত থাকে।
31 কিন্তু মৃতদের পুনরুত্থান বিষয়ে আল্লাহ্ তোমাদেরকে যা বলেছেন, তা কি তোমরা পাঠ কর নি?
32 তিনি বলেন,
“আমি ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্;”
আল্লাহ্ মৃতদের আল্লাহ্ নন, কিন্তু জীবিতদের।
33 এই কথা শুনে লোকেরা তাঁর শিক্ষায় চমৎকার জ্ঞান করলো।
34
ফরীশীরা যখন শুনতে পেল, তিনি সদ্দূকীদেরকে নিরুত্তর করেছেন, তখন তারা একসঙ্গে এসে জুটলো।
35 আর তাদের মধ্যে এক জন আলেম ঈসাকে পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞাসা করলো,
36 হুজুর, শরীয়তের মধ্যে কোন্ হুকুম মহৎ?
37 তিনি তাকে বললেন, “তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার আল্লাহ্ প্রভুকে মহব্বত করবে,”
38 এটি মহৎ ও প্রথম হুকুম। আর দ্বিতীয়টি এর মত;
39 “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে।”
40 এই দু’টি হুকুমে সমস্ত শরীয়ত এবং নবীদের কিতাবের শিক্ষা ঝুলছে।
41
আর ফরীশীরা একত্র হলে ঈসা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন,
42 মসীহের বিষয়ে তোমাদের কি মনে হয়, তিনি কার সন্তান? তারা বললো, দাউদের সন্তান।
43 তিনি তাদেরকে বললেন, তবে দাউদ কিভাবে রূহের আবেশে তাঁকে প্রভু বলেন? তিনি বলেন—
44
“প্রভু আমার প্রভুকে বললেন,
তুমি আমার দক্ষিণে বস,
যতদিন আমি তোমার দুশমনদেরকে
তোমার পদতলে না রাখি।”
45
অতএব দাউদ যখন তাঁকে প্রভু বলেন, তখন তিনি কিভাবে তাঁর সন্তান?
46 তখন কেউ তাঁকে কোন উত্তর দিতে পারল না; আর সেদিন থেকে তাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে কারো সাহস হল না।
1
তখন ঈসা লোকদেরকে ও নিজের সাহাবীদেরকে বললেন,
2 আলেম ও ফরীশীরা মূসার আসনে বসে।
3 অতএব তারা তোমাদেরকে যা কিছু বলে, তা পালন করো, মান্য করো, কিন্তু তাদের কাজের মত কাজ করো না; কেননা তারা বলে, কিন্তু করে না।
4 তারা ভারী ভারী বোঝা বেঁধে লোকদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়, কিন্তু নিজেরা আঙ্গুল দিয়েও তা সরাতে চায় না।
5 তারা লোককে দেখাবার জন্যই তাদের সমস্ত কাজ করে; কেননা তারা নিজেদের কবচ প্রশস্ত করে এবং চাদরের থোপ বড় করে,
6 আর ভোজে প্রধান স্থান, মজলিস-খানায় প্রধান প্রধান আসন,
7 হাটে বাজারে মঙ্গলবাদ এবং লোকের কাছে রব্বি [হুজুর] বলে সম্ভাষণ— এসব ভালবাসে।
8 কিন্তু তোমাদেরকে ‘রব্বি’ বলে ডাকুক তা চেয়ো না, কারণ তোমাদের ‘রব্বি’ এক জন এবং তোমরা সকলে ভাই ভাই।
9 আর দুনিয়াতে কাউকেও ‘পিতা’ বলে সম্বোধন করো না, কারণ তোমাদের পিতা এক জন, তিনি সেই বেহেশতে আছেন।
10 তোমাদেরকে ‘নেতা’ বলে ডাকুক তা চেয়ো না, কারণ তোমাদের নেতা এক জন, তিনি মসীহ্।
11 কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, সে তোমাদের পরিচারক হবে।
12 আর যে কেউ নিজেকে উঁচু করে, তাকে নত করা যাবে; আর যে কেউ নিজেকে নত করে, তাকে উঁচু করা যাবে।
13
কিন্তু, হ্যাঁ আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমাদেরকে! কারণ তোমরা মানুষের সম্মুখে বেহেশতী-রাজ্য রুদ্ধ করে থাক;
14 নিজেরাও তাতে প্রবেশ কর না এবং যারা প্রবেশ করতে আসে, তাদেরকেও প্রবেশ করতে দাও না।
15
হ্যাঁ, আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমাদেরকে! কারণ এক জনকে ইহুদী-ধর্মাবলম্বী করার জন্য তোমরা সাগরে ও স্থলে পরিভ্রমণ করে থাক; আর যখন কেউ তোমাদের ধর্ম-মতে আসে তখন তাকে তোমাদের চেয়ে দ্বিগুণ দোজখী করে তোল।
16
হ্যাঁ, অন্ধ পথ-প্রদর্শকেরা, ধিক্ তোমাদেরকে! তোমরা বলে থাক, কেউ বায়তুল-মোকাদ্দসের কসম করলে তা কিছুই নয়, কিন্তু যে কেউ এবাদতখানাস্থ সোনার কসম করলো, সে আবদ্ধ হল।
17 মূঢ়েরা ও অন্ধেরা, বল দেখি, কোনটি শ্রেষ্ঠ? সোনা না সেই এবাদতখানা, যা সোনাকে পবিত্র করেছে?
18 আরও বলে থাক, কেউ কোরবানগাহ্র কসম করলে তা কিছুই নয়, কিন্তু যে কেউ তার উপরিস্থ উপহারের কসম করলো, সে আবদ্ধ হল।
19 হ্যাঁ অন্ধেরা, বল দেখি, কোন্টি শ্রেষ্ঠ? উপহার, না সেই কোরবানগাহ্, যা উপহারকে পবিত্র করে?
20 যে ব্যক্তি কোরবানগাহ্র কসম খায়, সে তো কোরবানগাহ্র ও তার উপরিস্থ সমস্ত কিছুরই কসম খায়।
21 আর যে বায়তুল-মোকাদ্দসের কসম খায়, সে বায়তুল-মোকাদ্দসের এবং যিনি সেখানে বাস করেন, তাঁরও কসম খায়।
22 আর যে বেহেশতের কসম খায়, সে আল্লাহ্র সিংহাসনের এবং যিনি তাতে উপবিষ্ট, তাঁরও কসম খায়।
23
হ্যাঁ আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমদেরকে! কারণ তোমরা পুদিনা, মৌরি ও জিরার দশ ভাগের এক ভাগ দিয়ে থাক; আর শরীয়তের মধ্যে গুরুতর বিষয়— ন্যায়বিচার, করুণা ও বিশ্বাস— পরিত্যাগ করেছ; কিন্তু এসব পালন করা এবং ঐ সকলও পরিত্যাগ না করা, তোমাদের উচিত ছিল।
24 অন্ধ পথ-প্রদর্শকেরা, তোমরা মশা ছেঁকে ফেল, কিন্তু উট গিলে থাক।
25
হ্যাঁ আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমাদেরকে! কারণ তোমরা পানপাত্র ও ভোজনপাত্রের বাইরেটা পরিষ্কার করে থাক, কিন্তু সেগুলোর ভিতরে জুলুম ও অন্যায়ে ভরা।
26 অন্ধ ফরীশী, আগে পানপাত্র ও ভোজনপত্রের ভিতরটা পরিষ্কার কর, যেন তা বাহিরেও পরিষ্কার হয়।
27
হ্যাঁ আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমাদেরকে! কারণ তোমরা চুনকাম করা কবরের মত; তা বাইরে দেখতে সুন্দর বটে, কিন্তু ভিতরে মরা মানুষের অস্থি ও সব রকম নাপাকীতায় ভরা।
28 তেমনি তোমরাও বাইরে লোকদের কাছে ধার্মিক বলে দেখিয়ে থাক, কিন্তু ভিতরে তোমরা ভণ্ডামি ও অধর্মে পরিপূর্ণ।
29
হ্যাঁ আলেম ও ফরীশীরা, ভণ্ডরা, ধিক্ তোমাদেরকে! কারণ তোমরা নবীদের কবর গেঁথে থাক এবং ধার্মিকদের সমাধি-স্তম্ভ শোভিত করে থাক,
30 আর বলে থাক, আমরা যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ে থাকতাম, তবে নবীদের রক্তপাতে তাঁদের সহভাগী হতাম না।
31 এতে তোমরা নিজেদের বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, যারা নবীদেরকে খুন করেছিল, তোমরা তাদেরই সন্তান।
32 তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যা শুরু করে গেছে এবার তা তোমরা পূর্ণ কর।
33 সাপের দল, কালসাপের বংশেরা, তোমরা কেমন করে বিচারে দোজখের আজাব এড়াবে?
34 এই কারণ দেখ, আমি তোমাদের কাছে নবী, বিজ্ঞ ও আলেমদেরকে প্রেরণ করবো, তাদের মধ্যে কতক জনকে তোমরা খুন করবে ও ক্রুশে দেবে, কতক জনকে তোমাদের মজলিস-খানায় কশাঘাত করবে এবং এক নগর থেকে আর এক নগরে তাড়না করবে,
35 যেন দুনিয়াতে যত ধার্মিক লোকের রক্তপাত হয়ে আসছে, সেসব তোমাদের উপরে বর্তে— ধার্মিক হাবিলের রক্তপাত থেকে, বরখিয়ের পুত্র যে জাকারিয়াকে তোমরা বায়তুল-মোকাদ্দসের ও কোরবানগাহ্র মধ্যস্থানে খুন করেছিলে, তাঁর রক্তপাত পর্যন্ত।
36 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এই কালের লোকদের উপরে এ সবই বর্তাবে।
37
হ্যাঁ জেরুশালেম, জেরুশালেম, তুমি নবীদেরকে খুন করে থাক ও তোমার কাছে যারা প্রেরিত হয়, তাদেরকে পাথর মেরে থাক! পাখির মা যেমন তার বাচ্চাদেরকে পাখার নিচে একত্র করে, তেমনি আমিও কত বার তোমার সন্তানদেরকে একত্র করতে ইচ্ছা করেছি, কিন্তু তোমরা সম্মত হলে না।
38 দেখ, তোমাদের বাড়ি তোমাদের জন্য উৎসন্ন হয়ে পড়ে থাকবে।
39 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা এখন থেকে আমাকে আর দেখতে পাবে না, যে পর্যন্ত না বলবে, “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন!”
1
পরে ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছিলেন, এমন সময়ে তাঁর সাহাবীরা তাঁকে বায়তুল-মোকাদ্দসের গাঁথনিগুলো দেখাবার জন্য কাছে আসলেন।
2 কিন্তু জবাবে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা কি এসব দেখছো না? আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এই স্থানের একখানি পাথর অন্য পাথরের উপরে থাকবে না, সমস্তই ভূমিসাৎ হবে।
3
পরে তিনি জৈতুন পর্বতের উপরে বসলে সাহাবীরা গোপনে তাঁর কাছে এসে বললেন, আমাদেরকে বলুন দেখি, এসব ঘটনা কখন হবে? আর আপনার আগমনের এবং যুগান্তের চিহ্ন কি?
4 জবাবে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, দেখো, কেউ যেন তোমাদেরকে না ভুলায়।
5 কেননা অনেকে আমার নাম ধরে আসবে, বলবে, আমিই সেই মসীহ্, আর অনেক লোককে ভুলাবে।
6 আর তোমরা যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের জনরব শুনবে; দেখো, ব্যাকুল হয়ো না; কেননা এসব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও শেষ নয়।
7 কারণ জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠবে এবং স্থানে স্থানে দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকমপ হবে।
8 কিন্তু এই সকলই যাতনার আরম্ভ মাত্র।
9
সেই সময়ে লোকেরা কষ্ট দেবার জন্য তোমাদেরকে ধরিয়ে দেবে ও তোমাদেরকে খুন করবে, আর আমার নামের জন্য সমস্ত জাতি তোমাদেরকে ঘৃণা করবে।
10 আর সেই সময়ে অনেকের পতন হবে, এক জন অন্য জনের সঙ্গে বেইমানী করবে, এক জন অন্য জনকে ঘৃণা করবে।
11 আর অনেক ভণ্ড নবী উঠে অনেককে ভুলাবে।
12 আর অধর্মের বৃদ্ধি হওয়াতে অধিকাংশ লোকের মহব্বত শীতল হয়ে যাবে।
13 কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সেই নাজাত পাবে।
14 আর সমস্ত জাতির কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য বেহেশতী-রাজ্যের এই সুসমাচার সারা দুনিয়ায় তবলিগ করা যাবে; আর তখন শেষ সময় উপস্থিত হবে।
15
অতএব যখন দেখবে, ধ্বংসের যে ঘৃণার বস্তু দানিয়াল নবীর দ্বারা উক্ত হয়েছে, তা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে আছে, — যে জন পাঠ করে, সে বুঝুক, —
16 তখন যারা এহুদিয়াতে থাকে, তারা পাহাড়ী এলাকায় পালিয়ে যাক;
17 যে কেউ ছাদের উপরে থাকে, সে বাড়ি থেকে জিনিসপত্র নেবার জন্য নিচে না নামুক;
18 আর যে কেউ ক্ষেতে থাকে, সে তার কাপড় নেবার জন্য পিছনে ফিরে না আসুক।
19 হায়, সেই সময়ে গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রীদের সন্তাপ হবে!
20 আর মুনাজাত কর, যেন তোমাদের পালিয়ে যাওয়া শীতকালে কিংবা বিশ্রামবারে না ঘটে।
21 কেননা সেই সময়ে এরকম “মহাক্লেশ উপস্থিত হবে, যা দুনিয়ার আরম্ভ থেকে এই পর্যন্ত কখনও হয় নি, কখনও হবেও না।”
22 আর সেই দিনের সংখ্যা যদি কমিয়ে দেওয়া না যেত, তবে কোন প্রাণীই রক্ষা পেত না; কিন্তু মনোনীতদের জন্য সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া যাবে।
23 তখন যদি কেউ তোমাদেরকে বলে, দেখ, সেই মসীহ্ এখানে, কিংবা ওখানে, তোমরা বিশ্বাস করো না।
24 কেননা ভণ্ড মসীহ্রা ও ভণ্ড নবীরা উঠবে এবং এমন মহৎ মহৎ চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত অদ্ভুত লক্ষণ দেখাবে যে, যদি হতে পারে, তবে মনোনীতদেরকেও ভুলাবে।
25 দেখ, আমি আগেই তোমাদেরকে বললাম।
26 অতএব লোকে যদি তোমাদেরকে বলে, ‘দেখ, তিনি মরু-ভূমিতে,’ তোমরা বাইরে যেও না; ‘দেখ, তিনি ভিতরের গৃহে,’ তোমরা বিশ্বাস করো না।
27 কারণ বিদ্যুৎ যেমন পূর্বদিক থেকে বের হয়ে পশ্চিম দিক পর্যন্ত প্রকাশ পায়, তেমনি ইবনুল-ইনসানের আগমন হবে।
28 যেখানে লাশ থাকে, সেখানে শকুন জুটবে।
29
আর সেই সময়ের কষ্টের পরেই সূর্য অন্ধকার হবে, চন্দ্র জ্যোৎস্না দেবে না, আসমান থেকে তারাগুলোর পতন হবে ও আসমানের পরাক্রমগুলো বিচলিত হবে।
30 আর তখন ইবনুল-ইনসানের চিহ্ন আসমানে দেখা যাবে, আর তখন দুনিয়ার সমস্ত গোষ্ঠী মাতম করবে এবং ইবনুল-ইনসানকে আসমানের মেঘরথে পরাক্রম ও মহা প্রতাপে আসতে দেখবে।
31 আর তিনি মহা তূরীধ্বনি সহকারে নিজের ফেরেশতাদেরকে প্রেরণ করবেন; তাঁরা আসমানের এক সীমা থেকে অন্য সীমা পর্যন্ত চার দিক থেকে তাঁর মনোনীতদেরকে একত্র করবেন।
32
ডুমুর গাছ থেকে দৃষ্টান্ত শিখ; যখন তার ডাল কোমল হয়ে পাতা বের করে, তখন তোমরা জানতে পার, গ্রীষ্মকাল সন্নিকট;
33 সেভাবে তোমরা ঐ সমস্ত ঘটনা দেখলেই জানবে, তিনি সন্নিকট, এমন কি, দ্বারে উপস্থিত।
34 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এই কালের লোকদের লোপ হবে না, যে পর্যন্ত না এ সব সিদ্ধ হয়।
35 আসমানের ও দুনিয়ার লোপ হবে, কিন্তু আমার কথার লোপ কখনও হবে না।
36
কিন্তু সেই দিনের ও সেই দণ্ডের তত্ত্ব কেউই জানে না, বেহেশতের ফেরেশতারাও জানেন না, পুত্রও জানেন না, কেবল পিতা জানেন।
37 বাস্তবিক নূহের সময়ে যেমন হয়েছিল, ইবনুল-ইনসানের আগমনও তেমনি হবে।
38 কারণ বন্যার সেই পূর্ববর্তী কালে, জাহাজে নূহের প্রবেশ দিন পর্যন্ত, লোকে যেমন ভোজন ও পান করতো,
39 বিয়ে করতো ও বিবাহিতা হত এবং বুঝতে পারল না, যতদিন না বন্যা এসে সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল; তেমনি ইবনুল-ইনসানের আগমন হবে।
40 তখন দু’জন ক্ষেতে থাকবে, এক জনকে নেওয়া যাবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
41 দুই জন স্ত্রীলোক যাঁতা পিষবে, এক জনকে নেওয়া যাবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
42 অতএব জেগে থাক, কেননা তোমাদের প্রভু কোন্ দিন আসবেন, তা তোমরা জান না।
43
কিন্তু এই কথা জেনো, চোর কোন্ প্রহরে আসবে তা যদি গৃহকর্তা জানতো, তবে জেগে থাকতো, নিজের বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না।
44 এজন্য তোমরাও প্রস্তুত থাক, কেননা যে সময়ে তোমরা মনে করবে না, সেই সময়েই ইবনুল-ইনসান আসবেন।
45
এখন, সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান গোলাম কে, যাকে তার মালিক নিজের পরিজনের উপরে নিযুক্ত করেছেন, যেন সে তাদেরকে উপযুক্ত সময়ে খাদ্য দেয়?
46 ধন্য সেই গোলাম, যাকে তার মালিক এসে সেরকম কাজ করতে দেখবেন।
47 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তিনি তাকে তার সমস্ত কিছুর নেতা করে নিযুক্ত করবেন।
48 কিন্তু সেই দুষ্ট গোলাম যদি মনে মনে বলে, ‘আমার মালিকের আসার বিলম্ব আছে,’
49 আর যদি তার সহ-গোলামদেরকে মারতে এবং মাতাল লোকদের সঙ্গে ভোজন ও পান করতে আরম্ভ করে,
50 তবে যেদিন সে অপেক্ষা না করবে এবং যে সময় সে না জানবে, সেদিন সেই সময়েই সেই গোলামের মালিক আসবেন;
51 আর তাকে দ্বিখণ্ডিত করে ভণ্ডদের মধ্যে তার অংশ নির্ধারণ করবেন; সেই স্থানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
1
তখন বেহেশতী-রাজ্য এমন দশ জন কুমারীর মত বলতে হবে, যারা নিজ নিজ প্রদীপ নিয়ে বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হল।
2 তাদের মধ্যে পাঁচ জন নির্বুদ্ধি, আর পাঁচ জন সুবুদ্ধি ছিল।
3 কারণ যারা নির্বুদ্ধি, তারা নিজ নিজ প্রদীপ নিল কিন্তু সঙ্গে তেল নিল না;
4 কিন্তু সুবুদ্ধিরা নিজ নিজ প্রদীপের সঙ্গে পাত্রে করে তেল নিল।
5 আর বর বিলম্ব করাতে সকলে ঢুলতে ঢুলতে ঘুমিয়ে পড়লো।
6 পরে মাঝ রাতে এই উচ্চরব হল, দেখ, বর! তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হও।
7 তাতে সেই কুমারীরা সকলে উঠলো এবং নিজ নিজ প্রদীপ সাজালো।
8 আর নির্বুদ্ধিরা সুবুদ্ধিদেরকে বললো, তোমাদের তেল থেকে আমাদেরকে কিছু দাও; কেননা আমাদের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে।
9 কিন্তু সুবুদ্ধিরা জবাবে বললো, হয় তো তোমাদের ও আমাদের জন্য কুলাবে না; তোমরা বরং বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে নিজেদের জন্য ক্রয় কর।
10 তারা ক্রয় করতে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে বর আসলেন এবং যারা প্রস্তুত ছিল তারা তাঁর সঙ্গে বিয়ের বাড়িতে প্রবেশ করলে পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল।
11 শেষে অন্য সকল কুমারীও এসে বলতে লাগল, প্রভু, প্রভু, আমাদেরকে দরজা খুলে দিন।
12 কিন্তু জবাবে তিনি বললেন, তোমাদেরকে সত্যি বলছি, আমি তোমাদেরকে চিনি না।
13 অতএব জেগে থাক; কেননা তোমরা সেদিন বা সেই সময়ের কথা জান না।
14
কারণ মনে কর, যেন কোন ব্যক্তি বিদেশে যাচ্ছেন, তিনি তাঁর গোলামদেরকে ডেকে নিজের সম্পত্তি তাদের হাতে তুলে দিলেন।
15 তিনি এক জনকে পাঁচ তালন্ত, অন্য জনকে দুই তালন্ত এবং আর এক জনকে এক তালন্ত, যার যেমন শক্তি, তাকে সেই অনুসারে দিলেন, পরে বিদেশে চলে গেলেন।
16 যে পাঁচ তালন্ত পেয়েছিল, সে তখনই গেল, তা দিয়ে ব্যবসা করলো এবং আরও পাঁচ তালন্ত লাভ করলো।
17 যে দুই তালন্ত পেয়েছিল, সেও তেমনি করে আরও দুই তালন্ত লাভ করলো।
18 কিন্তু যে এক তালন্ত পেয়েছিল, সে গিয়ে ভূমিতে গর্ত খুঁড়ে তার মালিকের টাকা লুকিয়ে রাখল।
19 দীর্ঘকালের পর সেই গোলামদের মালিক এসে তাদের কাছ থেকে হিসাব নিলেন।
20 তখন যে পাঁচ তালন্ত পেয়েছিল, সে এসে আরও পাঁচ তালন্ত এনে বললো, মালিক, আপনি আমাকে পাঁচ তালন্ত দিয়েছিলেন; দেখুন, আমি আরও পাঁচ তালন্ত লাভ করেছি।
21 তার মালিক তাকে বললেন, বেশ, উত্তম ও বিশ্বস্ত গোলাম; তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত হলে, আমি তোমাকে বহু বিষয়ের উপরে নিযুক্ত করবো; তুমি তোমার মালিকের আনন্দের সহভাগী হও।
22 পরে যে দুই তালন্ত পেয়েছিল, সেও এসে বললো, মালিক, আপনি আমাকে দুই তালন্ত দিয়েছিলেন; দেখুন, আমি আরও দুই তালন্ত লাভ করেছি।
23 তার মালিক তাকে বললেন, বেশ! উত্তম ও বিশ্বস্ত গোলাম; তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত হলে, আমি তোমাকে বহু বিষয়ের উপরে নিযুক্ত করবো; তুমি তোমার মালিকের আনন্দের সহভাগী হও।
24 পরে যে এক তালন্ত পেয়েছিল, সেও এসে বললো, মালিক, আমি জানতাম, আপনি কঠিন লোক; যেখানে বোনেন নি, সেখানে কেটে থাকেন ও যেখানে ছড়ান নি, সেখানে কুড়িয়ে থাকেন।
25 তাই আমি ভয় পেয়ে আপনার তালন্ত ভূমির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলাম; দেখুন, আপনার যা আপনি পেলেন।
26 কিন্তু তার মালিক জবাবে তাকে বললেন, দুষ্ট অলস গোলাম, তুমি নাকি জানতে, আমি যেখানে বুনি নি, সেখানে কাটি এবং যেখানে ছড়াই নি, সেখানে কুড়াই?
27 তবে মহাজনদের হাতে আমার টাকা রেখে দেওয়া তোমার উচিত ছিল; তা করলে আমি এসে আমার যা তা সুদের সঙ্গে পেতাম।
28 অতএব তোমরা এর কাছ থেকে ঐ তালন্ত নেও এবং যার দশ তালন্ত আছে, তাকে দাও;
29 কেননা যে কোন ব্যক্তির কাছে আছে, তাকে দেওয়া হবে, তাতে তার অনেক হবে; কিন্তু যার নেই, তার যা আছে, তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।
30 আর তোমরা ঐ অনুপযোগী গোলামকে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও; সেই স্থানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে।
31
আর যখন ইবনুল-ইনসান সমস্ত ফেরেশতা সঙ্গে করে আপন প্রতাপে আসবেন, তখন তিনি নিজের মহিমার সিংহাসনে বসবেন।
32 আর সমস্ত জাতি তাঁর সম্মুখে একসংগে জমায়েত করা হবে; পরে তিনি তাদের এক জন থেকে অন্য জনকে পৃথক করবেন, যেমন পালরক্ষক ছাগল থেকে ভেড়া পৃথক করে;
33 আর তিনি ভেড়াগুলোকে তাঁর ডান দিকে ও ছাগলগুলোকে বাম দিকে রাখবেন।
34 তখন বাদশাহ্ তাঁর ডান দিকে স্থিত লোকদেরকে বলবেন, এসো, আমার পিতার দোয়ার-পাত্রেরা, দুনিয়া পত্তনের সময় থেকে যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তার অধিকারী হও।
35 কেননা আমি ক্ষুধিত হয়েছিলাম, আর তোমরা আমাকে আহার দিয়েছিলে; পিপাসিত হয়েছিলাম, আর আমাকে পান করিয়েছিলে; মেহমান হয়েছিলাম, আর আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলে;
36 খালি গায়ে ছিলাম, আর আমাকে কাপড় পরিয়েছিলে; অসুস্থ হয়েছিলাম, আর আমার তত্ত্বাবধান করেছিলে; কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আর আমাকে দেখতে এসেছিলে।
37 তখন ধার্মিকেরা জবাবে তাঁকে বলবে, প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধিত দেখে ভোজন করিয়েছিলাম, কিংবা পিপাসিত দেখে পান করিয়েছিলাম?
38 কবেই বা আপনাকে মেহমান দেখে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিংবা খালি গায়ে দেখে কাপড় পরিয়েছিলাম?
39 কবেই বা আপনাকে অসুস্থ কিংবা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেখে আপনার কাছে গিয়েছিলাম?
40 তখন বাদশাহ্ জবাবে তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, আমার এই ভাইদের— এই ক্ষুদ্রতমদের— মধ্যে এক জনের প্রতি যখন তা করেছিলে, তখন আমারই প্রতি করেছিলে।
41
পরে তিনি বাম দিকে স্থিত লোকদেরকেও বলবেন, ওহে শাপগ্রস্ত লোকেরা, আমার কাছ থেকে দূর হও, শয়তানের ও তার দূতদের জন্য যে অনন্ত আগুন প্রস্তুত করা গেছে, তার মধ্যে যাও।
42 কেননা আমি ক্ষুধিত হয়েছিলাম, আর তোমরা আমাকে আহার দাও নি; পিপাসিত হয়েছিলাম, আর আমাকে পান করাও নি;
43 মেহমান হয়েছিলাম, আর আমাকে আশ্রয় দাও নি; খালি গায়ে ছিলাম, আর আমাকে কাপড় পরাও নি; যখন অসুস্থ হয়েছিলাম ও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন আমার তত্ত্বাবধান কর নি।
44 তখন তারাও জবাবে বলবে, প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধিত, বা পিপাসিত, বা মেহমান, বা খালি গায়ে, বা অসুস্থ, বা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেখে আপনার পরিচর্যা করি নি?
45 তখন জবাবে তিনি তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমরা এই ক্ষুদ্রতম লোকদের কোন এক জনের প্রতি যখন তা কর নি, তখন আমারই প্রতি কর নি।
46 পরে এরা অনন্ত দণ্ডে, কিন্তু ধার্মিকেরা অনন্ত জীবনে প্রবেশ করবে।
1
যখন ঈসা এসব কথা শেষ করলেন, তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন,
2 তোমরা জান, দুই দিন পরে ঈদুল ফেসাখ আসছে, আর ইবনুল-ইনসানকে ক্রুশে বিদ্ধ করবার জন্য ধরিয়ে দেওয়া হবে।
3
তখন প্রধান ইমামেরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গরা কায়াফা নামক মহা-ইমামের প্রাঙ্গণে একত্র হল;
4 আর এই পরামর্শ করলো, যেন ছলে ঈসাকে ধরে হত্যা করতে পারে।
5 কিন্তু তারা বললো, ঈদের সময়ে নয়, পাছে লোকদের মধ্যে গণ্ডগোল বাধে।
6
ঈসা যখন বৈথনিয়ায় কুষ্ঠ রোগী শিমোনের বাড়িতে ছিলেন,
7 তখন এক জন স্ত্রীলোক শ্বেত পাথরের পাত্রে বহুমূল্য সুগন্ধি তেল নিয়ে তাঁর কাছে আসল এবং তিনি ভোজনে বসলে তাঁর মাথায় ঢেলে দিল।
8 কিন্তু তা দেখে সাহাবীরা বিরক্ত হয়ে বললেন, এই অপব্যয় কেন?
9 এ তো অনেক টাকায় বিক্রি করে তা দরিদ্রদেরকে দেওয়া যেত।
10 কিন্তু ঈসা তা বুঝে তাঁদেরকে বললেন, স্ত্রীলোকটিকে কেন দুঃখ দিচ্ছ? এ তো আমার প্রতি সৎকাজ করলো।
11 কেননা দরিদ্রেরা তোমাদের কাছে সব সময়ই আছে, কিন্তু তোমরা আমাকে সব সময় পাবে না।
12 বস্তুতঃ আমার দেহের উপরে এই সুগন্ধি তেল ঢেলে দেওয়াতে এই আমার সমাধির উপযোগী কাজ করলো।
13 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, সারা দুনিয়ায় যে কোন স্থানে এই সুসমাচার তবলিগ করা হবে, সেই স্থানে এর এই কাজের কথাও এর স্মরণার্থে বলা যাবে।
14
তখন বারো জনের মধ্যে এক জন, যাকে ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা বলা হত, সে প্রধান ইমামদের কাছে গিয়ে বললো,
15 আমাকে কি দিতে চান, বলুন, আমি তাঁকে আপনাদের হাতে তুলে দেব। তারা তাকে ত্রিশটি রূপার খণ্ড ওজন করে দিল,
16 আর সেই সময় থেকে সে তাঁকে ধরিয়ে দেবার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগল।
17
পরে খামিহীন রুটির ঈদের প্রথম দিন সাহাবীরা ঈসার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার জন্য আমরা কোথায় ঈদুল ফেসাখের মেজবানী প্রস্তুত করবো? আপনার ইচ্ছা কি?
18 তিনি বললেন, তোমরা নগরে অমুক ব্যক্তির কাছ যাও, আর তাকে বল, হুজুর বলছেন, আমার সময় সন্নিকট; আমি তোমারই বাড়িতে আমার সাহাবীদের সঙ্গে ঈদুল ফেসাখ পালন করবো।
19 তাতে সাহাবীরা ঈসার হুকুম অনুসারে কাজ করলেন ও ঈদুল ফেসাখের মেজবানীর প্রস্তুত করলেন।
20
পরে সন্ধ্যা হলে তিনি সেই বারো জন সাহাবীর সঙ্গে ভোজনে বসলেন।
21 আর ভোজনের সময়ে তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমাদের মধ্যে এক জন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
22 তখন তাঁরা অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে প্রত্যেক জন তাঁকে বলতে লাগলেন, প্রভু, সে কি আমি?
23 জবাবে তিনি বললেন, যে আমার সঙ্গে ভোজনপাত্রে হাত ডুবালো, সেই আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
24 ইবনুল-ইনসানের বিষয়ে যেমন লেখা আছে, তেমনি তিনি যাচ্ছেন; কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যার দ্বারা ইবনুল-ইনসানকে ধরিয়ে দেওয়া হয়; সেই মানুষের জন্ম না হলে তার পক্ষে ভাল ছিল।
25 তখন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সেই এহুদা বললো, রব্বি, সে কি আমি? তিনি তাঁকে বললেন, তুমিই বললে।
26
পরে তাঁরা ভোজন করছেন, এমন সময়ে ঈসা রুটি নিয়ে দোয়াপূর্বক ভাঙ্গলেন এবং সাহাবীদেরকে দিলেন, আর বললেন, নাও, ভোজন কর, এ আমার শরীর।
27 পরে তিনি পানপাত্র নিয়ে শুকরিয়াপূর্বক তাঁদেরকে দিয়ে বললেন, তোমরা সকলে এ থেকে পান কর;
28 কারণ এ আমার রক্ত, নতুন নিয়মের রক্ত, যা অনেকের জন্য, গুনাহ্ মাফের জন্য ঢেলে দেওয়া হয়।
29 আর আমি তোমাদেরকে বলছি, এখন থেকে যতদিন আমি আমার পিতার রাজ্যে তোমাদের সঙ্গে আঙ্গুর ফলের রস নতুনভাবে পান না করি ততদিন পর্যন্ত আমি এই আঙ্গুর ফলের রস আর কখনও পান করবো না।
30
পরে তাঁরা গজল গেয়ে বের হয়ে জৈতুন পর্বতে গেলেন।
31
তখন ঈসা তাঁদেরকে বললেন, এই রাতে আমাকে নিয়ে তোমাদের সকলের মনে বাধা আসবে; কেননা লেখা আছে,
“আমি পালরক্ষককে আঘাত করবো,
তাতে পালের মেষেরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।”
32
কিন্তু উত্থিত হলে পর আমি তোমাদের আগে গালীলে যাব।
33 পিতর জবাবে তাঁকে বললেন, সকলের মনে আপনাকে নিয়ে বাধা আসলেও আমার মনে আপনাকে নিয়ে কখনও বাধা আসবে না।
34 ঈসা তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যি বলছি, এই রাতে মোরগ ডাকবার আগে তুমি তিন বার আমাকে অস্বীকার করবে।
35 পিতর তাঁকে বললেন, যদি আপনার সঙ্গে মরতেও হয়, কোন মতে আপনাকে অস্বীকার করবো না। সমস্ত সাহাবীরাও সেই রকম কথা বললেন।
36
তখন ঈসা তাঁদের সঙ্গে গেৎশিমানী নামক একটি স্থানে গেলেন, আর তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, আমি যতক্ষণ ওখানে গিয়ে মুনাজাত করি, ততক্ষণ তোমরা এখানে বসে থাক।
37 পরে তিনি পিতরকে এবং সিবদিয়ের দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন, আর দুঃখার্ত ও ব্যাকুল হতে লাগলেন।
38 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, আমার প্রাণ মরণ পর্যন্ত দুঃখার্ত হয়েছে; তোমরা এখানে থাক, আমার সঙ্গে জেগে থাক।
39 পরে তিনি কিঞ্চিৎ আগে গিয়ে উবুড় হয়ে পড়ে মুনাজাত করে বললেন, হে আমার পিতা, যদি হতে পারে, তবে এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবুও আমার ইচ্ছামত না হোক, তোমার ইচ্ছামত হোক।
40 পরে তিনি সেই সাহাবীদের কাছে এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন, আর তিনি পিতরকে বললেন, এ কি? এক ঘণ্টাও কি আমার সঙ্গে জেগে থাকতে তোমাদের শক্তি হল না?
41 জেগে থাক ও মুনাজাত কর, যেন পরীক্ষায় না পড়; রূহ্ ইচ্ছুক বটে, কিন্তু দেহ দুর্বল।
42 পুনরায় তিনি দ্বিতীয়বার গিয়ে এই মুনাজাত করলেন, হে আমার পিতা, আমি পান না করলে যদি তা দূর না হয়, তবে তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হোক।
43 পরে তিনি আবার এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন, কেননা তাদের চোখ ভারী হয়ে পড়েছিল।
44 আর তিনি পুনরায় তাদেরকে ছেড়ে গিয়ে তৃতীয় বার আগের মত কথা বলে মুনাজাত করলেন।
45 তখন তিনি সাহাবীদের কাছে এসে বললেন, এখনও তোমরা ঘুমাচ্ছ আর বিশ্রাম করছো, দেখ, সময় উপস্থিত, ইবনুল-ইনসানকে গুনাহ্গারদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।
46 উঠ, আমরা যাই; এই দেখ, যে ব্যক্তি আমাকে দুশমনদের হাতে তুলে দিচ্ছে, সে কাছে এসে পড়েছে।
47
তিনি যখন কথা বলছেন, দেখ, এহুদা, সেই বারো জনের এক জন, আসলো এবং তার সঙ্গে অনেক লোক তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে প্রধান ইমামদের ও লোকদের প্রাচীনদের কাছ থেকে আসলো।
48 যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সে তাদেরকে এই সঙ্কেত বলেছিল, আমি যাকে চুম্বন করবো, সে ঐ ব্যক্তি, তোমরা তাকে ধরবে।
49 সে তখনই ঈসার কাছ গিয়ে বললো, রব্বি, আস্সালামু আলাইকুম, আর তাঁকে আগ্রহ-পূর্বক চুম্বন করলো।
50 ঈসা তাকে বললেন, বন্ধু, যা করতে এসেছো, কর। তখন তারা কাছে এসে ঈসার উপরে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে ধরলো।
51 আর দেখ, ঈসার সঙ্গীদের মধ্যে এক ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে তলোয়ার বের করলেন এবং মহা-ইমামের গোলামকে আঘাত করে তার একটা কান কেটে ফেললেন।
52 তখন ঈসা তাঁকে বললেন, তোমার তলোয়ার খাপে রাখ, কেননা যেসব লোক তলোয়ার ধারণ করে, তারা তলোয়ার দ্বারা বিনষ্ট হবে।
53 আর তুমি কি মনে কর যে, আমি আমার পিতার কাছে ফরিয়াদ করলে তিনি এখনই আমার জন্য দ্বাদশ বাহিনীর চেয়ে বেশি ফেরেশতা পাঠিয়ে দেবেন না?
54 কিন্তু তা করলে কেমন করে পাক-কিতাবের এই সব কালাম পূর্ণ হবে যে, এরকম হওয়া আবশ্যক?
55 সেই সময়ে ঈসা লোকদেরকে বললেন, লোকে যেমন দস্যু ধরতে যায়, তেমনি কি তোমরা তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে আমাকে ধরতে আসলে? আমি প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে বসে উপদেশ দিয়েছি, তখন তো আমাকে ধরলে না।
56 কিন্তু এ সব ঘটলো, যেন নবীদের লেখা কালামগুলো পূর্ণ হয়। তখন সাহাবীরা সকলে তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।
57
আর যারা ঈসাকে ধরেছিল, তারা তাঁকে মহা-ইমাম কায়াফার কাছে নিয়ে গেল; সেই স্থানে আলেমেরা ও প্রাচীনবর্গরা সমবেত হয়েছিল।
58 আর পিতর দূরে থেকে তাঁর পিছনে পিছনে মহা-ইমামের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত আসলেন এবং শেষে কি হয়, তা দেখবার জন্য ভিতরে গিয়ে পদাতিকদের সঙ্গে বসলেন।
59 তখন প্রধান ইমামেরা এবং সমস্ত মহাসভা ঈসাকে হত্যা করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাসাক্ষ্য খোঁজ করলো,
60 কিন্তু অনেক মিথ্যাসাক্ষী এসে জুটলেও তা পেল না।
61 অবশেষে দু’জন এসে বললো, এই ব্যক্তি বলেছিল, আমি আল্লাহ্র এবাদতখানা ভেঙ্গে ফেলতে, আবার তিন দিনের মধ্যে তা গেঁথে তুলতে পারি।
62 তখন মহা-ইমাম উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বললেন, তুমি কি কোন উত্তর দেবে না? তোমার বিরুদ্ধে এরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছে?
63 কিন্তু ঈসা নীরব রইলেন। মহা-ইমাম তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে জীবন্ত আল্লাহ্র নামে কসম দিচ্ছি, আমাদেরকে বল দেখি, তুমি কি সেই মসীহ্, আল্লাহ্র পুত্র?
64 জবাবে ঈসা বললেন, তুমিই বললে; আরও আমি তোমাদেরকে বলছি, এখন থেকে তোমরা ইবনুল-ইনসানকে পরাক্রমের ডান পাশে বসে থাকতে এবং আসমানের মেঘরথে আসতে দেখবে।
65 তখন মহা-ইমাম তাঁর কাপড় ছিঁড়ে বললেন, এ কুফরী করলো, আর সাক্ষীতে আমাদের কি প্রয়োজন? দেখ, এখন তোমরা কুফরী শুনলে;
66 তোমাদের কি বিবেচনা হয়? তারা জবাবে বললো, এ মৃত্যুর যোগ্য।
67 তখন তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁকে ঘুসি মারলো;
68 আর কেউ কেউ তাঁকে প্রহার করে বললো, রে মসীহ্, আমাদের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বল্, কে তোকে মারলো?
69
ইতোমধ্যে পিতর বাইরে প্রাঙ্গণে বসেছিলেন; আর এক জন বাঁদী তাঁর কাছে এসে বললো, তুমিও সেই গালীলীয় ঈসার সঙ্গে ছিলে।
70 কিন্তু তিনি সকলের সাক্ষাতে অস্বীকার করে বললেন, তুমি কি বলছো, আমি বুঝতে পারলাম না।
71 তিনি ফটকের কাছে গেলে আর এক বাঁদী তাঁকে দেখে সেই স্থানের লোকদেরকে বললো, এই ব্যক্তি সেই নাসরতীয় ঈসার সঙ্গে ছিল।
72 তিনি আবার অস্বীকার করলেন, কসম খেয়ে বললেন, আমি সেই ব্যক্তিকে চিনি না।
73 আর অল্পক্ষণ পরে, যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তারা এসে পিতরকে বললো, সত্যিই তুমিও তাদের এক জন, কেননা তোমার ভাষা তোমার পরিচয় দিচ্ছে।
74 তখন তিনি বদদোয়াপূর্বক শপথ করে ও কসম খেয়ে বলতে লাগলেন, আমি সেই ব্যক্তিকে চিনি না।
75 তখনই মোরগ ডেকে উঠলো। তাতে ঈসা এই যে কথা বলেছিলেন, ‘মোরগ ডাকবার আগে তুমি তিন বার আমাকে অস্বীকার করবে,’ তা পিতরের মনে পড়লো এবং তিনি বাইরে গিয়ে ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন।
1
প্রভাত হলে প্রধান ইমামেরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গরা সকলে ঈসাকে হত্যা করার জন্য তাঁর বিপক্ষে পরামর্শ করলো;
2 আর তাঁকে বেঁধে নিয়ে গিয়ে শাসনকর্তা পীলাতের হাতে তুলে দিল।
3
তখন এহুদা, যে ঈসার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সে যখন বুঝতে পারল যে, ঈসার দণ্ডাজ্ঞা হয়েছে, তখন অনুশোচনা করে সেই ত্রিশটি রূপার মুদ্রা প্রধান ইমাম ও প্রাচীনদের কাছে ফিরিয়ে দিল, আর বললো, নির্দোষ রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে আমি গুনাহ্ করেছি।
4 তারা বললো, তাতে আমাদের কি? তুমিই তা বুঝবে।
5 তখন সে ঐ মুদ্রাগুলো বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেল এবং গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেল।
6 পরে প্রধান ইমামেরা সেসব মুদ্রা নিয়ে বললো, এগুলো ভাণ্ডারে রাখা উচিত নয়, কারণ তা রক্তের মূল্য।
7 পরে তারা পরামর্শ করে বিদেশীদের কবর দেবার জন্য ঐ টাকায় কুমারের জমি ক্রয় করলো।
8 এজন্য আজ পর্যন্ত সেই জমিকে রক্তের জমি বলা হয়।
9 তখন ইয়ারমিয়া নবীর মাধ্যমে নাজেল হওয়া এই কালাম পূর্ণ হল,
“আর তারা সেই ত্রিশটি রূপার মুদ্রা নিল;
তা তাঁর মূল্য,
যাঁর মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল,
বনি-ইসরাইলদের কতগুলো লোক যাঁর
মূল্য নির্ধারণ করেছিল;
10
তারা সেগুলো নিয়ে কুমারের ক্ষেতের
জন্য দিল,
যেমন প্রভু আমার প্রতি হুকুম
করেছিলেন।”
11
ইতোমধ্যে ঈসাকে শাসনকর্তার সম্মুখে দাঁড় করানো হল। শাসনকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি ইহুদীদের বাদশাহ্? ঈসা তাঁকে বললেন, তুমিই বললে।
12 আর যখন প্রধান ইমামেরা ও প্রাচীনবর্গরা তাঁর উপরে দোষারোপ করছিল, তিনি তার কোনই জবাব দিলেন না।
13 তখন পীলাত তাঁকে বললেন, তুমি কি শুনছো না, ওরা তোমার বিপক্ষে কত বিষয় সাক্ষ্য দিচ্ছে?
14 তিনি তাঁকে এক কথারও জবাব দিলেন না; এতে শাসনকর্তা অতিশয় আশ্চর্য জ্ঞান করলেন।
15
আর শাসনকর্তার এই রীতি ছিল, ঈদের সময়ে লোকেরা যাকে চাইত এমন এক জন বন্দীকে তিনি মুক্তি দিতেন।
16 সেই সময়ে তাদের এক জন প্রসিদ্ধ বন্দী ছিল, তার নাম বারাব্বা।
17 অতএব তারা একত্র হলে পীলাত তাদেরকে বললেন, তোমাদের ইচ্ছা কি, আমি তোমাদের জন্য কাকে মুক্ত করবো? বারাব্বাকে, না, যাকে মসীহ্ বলে সেই ঈসাকে?
18 কারণ তিনি জানতেন, তারা হিংসা বশতঃ তাঁকে দুশমনদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল।
19 তিনি বিচারাসনে বসে আছেন, এমন সময়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলে পাঠালেন, সেই ধার্মিকের প্রতি তুমি কিছুই করো না; কারণ আমি আজ স্বপ্নে তাঁর জন্য অনেক দুঃখ পেয়েছি।
20 আর প্রধান ইমামেরা ও প্রাচীনবর্গরা লোকদেরকে প্রবৃত্তি দিল, যেন তারা বারাব্বাকে চেয়ে নেয় ও ঈসাকে হত্যা করবার কথা বলে।
21 তখন শাসনকর্তা তাদেরকে বললেন, তোমাদের ইচ্ছা কি? সেই দু’জনের মধ্যে কাকে ছেড়ে দেব? তারা বললো, বারাব্বাকে।
22 পীলাত তাদেরকে বললেন, তবে ঈসা, যাকে মসীহ্ বলে, তাকে কি করবো? তারা সকলে বললো, ওকে ক্রুশে দেওয়া হোক।
23
তিনি বললেন, কেন? সে কি অপরাধ করেছে? কিন্তু তারা আরও চেঁচিয়ে বললো, ওকে ক্রুশে দেওয়া হোক।
24
পীলাত যখন দেখলেন, তাঁর চেষ্টা বিফল, বরং আরও গোলযোগ হচ্ছে, তখন পানি নিয়ে লোকদের সাক্ষাতে হাত ধুয়ে বললেন, এই ধার্মিক ব্যক্তির রক্তপাতের সম্বন্ধে আমি নির্দোষ, তোমরাই তা বুঝবে।
25 তাতে সমস্ত লোক জবাবে বললো, ওর রক্ত আমাদের উপরে ও আমাদের সন্তানদের উপরে বর্তুক।
26 তখন তিনি তাদের জন্য বারাব্বাকে ছেড়ে দিলেন এবং ঈসাকে কশাঘাত করে ক্রুশে দেবার জন্য সৈন্যদের হাতে তুলে দিলেন।
27
তখন শাসনকর্তার সৈন্যরা ঈসাকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছে সমস্ত সৈন্যদল একত্র করলো।
28 আর তারা তাঁর কাপড় খুলে নিয়ে তাঁকে একখানি লাল রংয়ের কাপড় পরালো।
29 আর কাঁটার মুকুট গেঁথে তাঁর মাথায় দিল ও তাঁর ডান হাতে এক গাছি নল দিল; পরে তাঁর সম্মুখে জানু পেতে তাঁকে বিদ্রূপ করে বললো, ‘ইহুদী-বাদশাহ্, সালাম!’
30 আর তারা তাঁর শরীরে থুথু দিল ও সেই নল নিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করতে লাগল।
31 আর তাঁকে বিদ্রূপ করার পর পোশাকখানি খুলে ফেলে তারা আবার তাঁর নিজের পোশাক পরিয়ে দিল এবং তাঁকে ক্রুশে দেবার জন্য নিয়ে চললো।
32
আর বের হয়ে তারা শিমোন নামে এক জন কুরীণীয় লোকের দেখা পেল; তাকেই তাঁর ক্রুশ বহন করার জন্য বাধ্য করলো।
33 পরে গল্গথা নামক স্থানে, অর্থাৎ যাকে মাথার খুলির স্থান বলে,
34 সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা তাঁকে পিত্ত মিশানো আঙ্গুর-রস পান করতে দিল; তিনি তা আস্বাদন করে পান করতে চাইলেন না।
35 পরে তারা তাঁকে ক্রুশে দিয়ে তাঁর কাপড়-চোপড় গুলিবাঁট করে ভাগ করে নিল;
36 এবং সেখানে বসে তাঁকে চৌকী দিতে লাগল।
37 আর ওরা তাঁর মাথার উপরে তাঁর বিরুদ্ধে এই দোষের কথা লিখে লাগিয়ে দিল, ‘এই ব্যক্তি ঈসা, ইহুদীদের রাজা’।
38
তখন দু’জন দস্যু তাঁর সঙ্গে ক্রুশে বিদ্ধ হল, এক জন ডান পাশে, আর এক জন বাম পাশে।
39 তখন যেসব লোক সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল, তারা মাথা নাড়তে নাড়তে তাঁর নিন্দা করে বললো,
40 ওহে, তুমি না এবাদতখানা ভেঙ্গে ফেল, আর তিন দিনের মধ্যে গেঁথে তুল! নিজেকে রক্ষা কর; যদি আল্লাহ্র পুত্র হও, ক্রুশ থেকে নেমে এসো।
41 আর সেভাবে প্রধান ইমামেরা আলেমরা ও প্রাচীনরা বিদ্রূপ করে বললো,
42 ঐ ব্যক্তি অন্য অন্য লোককে রক্ষা করতো, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। ও তো ইসরাইলের বাদশাহ্! এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক; তা হলে আমরা ওর উপরে ঈমান আনবো।
43 ও তো আল্লাহ্র উপরে ভরসা রাখে, এখন তিনি নিস্তার করুন, যদি ওকে চান; কেননা ও বলেছে, আমি আল্লাহ্র পুত্র।
44 আর যে দু’জন দস্যু তাঁর সঙ্গে ক্রুশে বিদ্ধ হয়েছিল, তারাও সেই একই কথা বলে তাঁকে তিরস্কার করলো।
45
পরে বেলা ষষ্ঠ ঘটিকা থেকে নবম ঘটিকা পর্যন্ত সারা দেশ অন্ধকারময় হয়ে রইলো।
46 আর নবম ঘটিকার সময়ে ঈসা জোরে চিৎকার করে ডেকে বললেন, “এলী এলী লামা শবক্তানী,” অর্থাৎ “আল্লাহ্ আমার, আল্লাহ্ আমার, তুমি কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ?”
47 তাতে যারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই কথা শুনে বললো, এই ব্যক্তি ইলিয়াসকে ডাকছে।
48 আর তাদের এক জন অমনি দৌড়ে গেল, একখানি স্পঞ্জ নিয়ে তাতে সিরকা ভরলো এবং একটা নলে লাগিয়ে তাঁকে পান করতে দিল।
49 কিন্তু অন্য সকলে বললো, থাক্, দেখি, ইলিয়াস ওকে রক্ষা করতে আসেন কি না।
50
পরে ঈসা আবার জোরে চিৎকার করে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
51 আর দেখ, বায়তুল-মোকাদ্দসের পর্দা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চিরে দু’ভাগ হয়ে গেল, ভূমিকমপ হল ও শৈলগুলো বিদীর্ণ হল,
52 এবং কবরগুলো খুলে গেল, আর অনেক পবিত্র লোকের মৃত দেহ জীবিত হয়ে উঠলো;
53 এবং তাঁর পুনরুত্থানের পর তাঁরা কবর থেকে বের হয়ে পবিত্র নগরে প্রবেশ করলেন, আর অনেক লোককে দেখা দিলেন।
54 শতপতি এবং যারা তাঁর সঙ্গে ঈসাকে পাহারা দিচ্ছিল, তারা ভূমিকমপ ও আর যা যা ঘটছিল তা দেখে অতিশয় ভয় পেয়ে বললো, সত্যিই, ইনি আল্লাহ্র পুত্র ছিলেন।
55
আর সেখানে অনেক স্ত্রীলোক ছিলেন, দূর থেকে দেখছিলেন; তাঁরা ঈসার পরিচর্যা করতে করতে গালীল থেকে তাঁর পিছনে পিছনে এসেছিলেন।
56 তাঁদের মধ্যে মগ্দলীনী মরিয়ম, ইয়াকুবের ও যোষির মা মরিয়ম এবং সিবদিয়ের পুত্রদের মা ছিলেন।
57
পরে সন্ধ্যা হলে অরিমাথিয়ার ইউসুফ নামে এক জন ধনবান লোক আসলেন। তিনি নিজেও ঈসার সাহাবী হয়েছিলেন।
58 তিনি পীলাতের কাছে গিয়ে ঈসার লাশ যাচ্ঞা করলেন। তখন পীলাত তা দিতে হুকুম করলেন।
59 তাতে ইউসুফ লাশটি নিয়ে পরিষ্কার চাদরে জড়ালেন,
60 এবং যে নতুন কবর তিনি নিজের জন্য শৈলে খুদিয়েছিলেন সেই কবরে তাঁর দেহ রাখলেন। তিনি সেই কবরের মুখে একখানি বড় পাথর গড়িয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
61 মগ্দলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম সেখানে ছিলেন, তাঁরা কবরের সম্মুখে বসে রলেন।
62
পরদিন, অর্থাৎ আয়োজন-দিনের পরের দিন, প্রধান ইমামেরা ও ফরীশীরা পীলাতের কাছে একত্র হয়ে বললো,
63 হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে, সেই প্রবঞ্চক জীবিত থাকতে বলেছিল, তিন দিনের পরে আমি জীবিত হয়ে উঠবো।
64 অতএব তৃতীয় দিন পর্যন্ত তার কবর পাহারা দিতে হুকুম করুন; পাছে তার সাহাবীরা এসে তাকে চুরি করে নিয়ে যায়, আর লোকদেরকে বলে, তিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন; তা হলে প্রথম ভ্রান্তির চেয়ে শেষ ভ্রান্তি আরও বেশি মন্দ হবে।
65 পীলাত তাদেরকে বললেন, তোমাদের কাছে প্রহরী-দল আছে; তোমরা গিয়ে যথাসাধ্য রক্ষা কর।
66 তাতে তারা গিয়ে প্রহরী-দলের সঙ্গে সেই পাথরের উপর সীলমোহর করে কবর রক্ষা করতে লাগল।
1
বিশ্রামবার অবসান হলে, সপ্তাহের প্রথম দিন খুব ভোরে, মগ্দলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবর দেখতে আসলেন।
2 আর দেখ, মহা-ভূমিকমপ হল; কেননা প্রভুর এক জন ফেরেশতা বেহেশত থেকে নেমে এসে সেই পাথরখানি সরিয়ে দিলেন এবং তার উপরে বসলেন।
3 তাঁর চেহারা বিদ্যুতের মত এবং তাঁর পোশাক তুষারের মত সাদা রংয়ের।
4 তাঁর ভয়ে প্রহরীরা কাঁপতে লাগল ও মরার মত হয়ে পড়লো।
5 সেই ফেরেশতা স্ত্রীলোক কয়টিকে বললেন, তোমরা ভয় করো না, কেননা আমি জানি যে, তোমরা ক্রুশে হত ঈসার খোঁজ করছো।
6 তিনি এখানে নেই; কেননা তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন, যেমন বলেছিলেন; এসো, তিনি যেখানে শুয়েছিলেন, সেই স্থান দেখ।
7 আর শীঘ্র গিয়ে তাঁর সাহাবীদেরকে বল যে, তিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং দেখ, তোমাদের আগে গালীলে যাচ্ছেন, সেখানে তাঁকে দেখতে পাবে; দেখ, আমি তোমাদেরকে বললাম।
8 তখন তাঁরা সভয়ে ও মহানন্দে শীঘ্র কবর থেকে প্রস্থান করে তাঁর সাহাবীদেরকে সংবাদ দেবার জন্য দৌড়ে গেলেন।
9 আর দেখ, ঈসা তাদের সম্মুখবর্তী হলেন, বললেন, “আস্সালামু আলাইকুম।” তখন তাঁরা কাছে এসে তাঁর পা ধরলেন ও তাঁকে সেজ্দা করলেন।
10 তখন ঈসা তাঁদেরকে বললেন, ভয় করো না; তোমরা যাও, আমার ভাইদেরকে সংবাদ দাও, যেন তারা গালীলে যায়; সেখানে তারা আমাকে দেখতে পাবে।
11
তাঁরা যাচ্ছেন, ইতোমধ্যে দেখ, প্রহরী-দলের কেউ কেউ নগরে গিয়ে যা যা ঘটেছিল, সেসব বিবরণ প্রধান ইমামদেরকে জানালো।
12 তখন তারা প্রাচীনদের সঙ্গে একত্র হয়ে ও পরামর্শ করে ঐ সৈন্যদেরকে অনেক টাকা দিল, বললো,
13 তোমরা বলো যে, তার সাহাবীরা রাতের বেলায় এসে যখন আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম তখন তাকে চুরি করে নিয়ে গেছে।
14 আর যদি এই কথা শাসনকর্তার কর্ণগোচর হয়, তবে আমরাই তাঁকে বুঝিয়ে তোমাদের ভাবনা দূর করবো।
15 তখন তারা সেই টাকা নিয়ে, যেমন শিক্ষা পেল, তেমনি কাজ করলো। আর ইহুদীদের মধ্যে সেই জনরব রটে গেল, তা আজ পর্যন্ত রয়েছে।
16
পরে এগার জন সাহাবী গালীলে ঈসার নির্ধারিত পর্বতে গমন করলেন,
17 আর তাঁকে দেখে সেজ্দা করলেন; কিন্তু কেউ কেউ সন্দেহ করলেন।
18 তখন ঈসা কাছে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি তাঁদের বললেন, বেহেশতে ও দুনিয়াতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে।
19 অতএব তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতিকে সাহাবী কর; পিতার ও পুত্রের ও পাক-রূহের নামে তাদেরকে বাপ্তিস্ম দাও;
20 আমি তোমাদেরকে যা যা হুকুম করেছি, সেসব পালন করতে তাদেরকে শিক্ষা দাও। আর দেখ, আমিই যুগের শেষ সময় পর্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।
1
ঈসা মসীহের সুসংবাদের আরম্ভ; তিনি আল্লাহ্র পুত্র।
2 ইশাইয়া নবীর কিতাবে যেমন লেখা আছে,
“দেখ, আমি আমার সংবাদদাতাকে
তোমার আগে প্রেরণ করবো;
সে তোমার পথ প্রস্তুত করবে।
3
মরুভূমিতে একজনের কণ্ঠস্বর,
সে ঘোষণা করছে,
তোমরা প্রভুর পথ প্রস্তুত কর,
তাঁর রাজপথ সকল সরল কর;”
4
সেই অনুসারে ইয়াহিয়া উপস্থিত হয়ে মরুভূমিতে বাপ্তিস্ম দিতে লাগলেন এবং গুনাহ্ মাফের জন্য মন পরিবর্তনের বাপ্তিস্ম তবলিগ করতে লাগলেন।
5 তাতে সমস্ত এহুদিয়া দেশ ও জেরুশালেম-নিবাসী সকলে বের হয়ে ইয়াহিয়ার কাছে যেতে লাগল। আর তারা নিজ নিজ গুনাহ্ স্বীকার করে জর্ডান নদীতে তাঁর দ্বারা বাপ্তিস্ম নিতে লাগল।
6 ইয়াহিয়া উটের লোমের কাপড় পরতেন এবং তাঁর কোমরে চামড়ার কোমরবন্ধনী ছিল। তিনি পঙ্গপাল ও বনমধু ভোজন করতেন।
7 তিনি তবলিগ করে বলতেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিমান তিনি আমার পরে আসছেন; আমি হেঁট হয়ে তাঁর জুতার ফিতা খুলবার যোগ্য নই।
8 আমি তোমাদেরকে পানিতে বাপ্তিস্ম দিলাম কিন্তু তিনি তোমাদেরকে পাক-রূহে বাপ্তিস্ম দেবেন।
9
সেই সময়ে ঈসা গালীল প্রদেশের নাসরত গ্রাম থেকে এসে ইয়াহিয়ার দ্বারা জর্ডান নদীতে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করলেন।
10 আর তৎক্ষণাৎ পানির মধ্য থেকে উঠবার সময়ে তিনি দেখলেন, আসমান দু’ভাগ হয়ে গেল এবং পাক-রূহ্ কবুতরের মত তাঁর উপরে নেমে আসছেন।
11 আর বেহেশত থেকে এই বাণী হল, ‘তুমিই আমার প্রিয় পুত্র, তোমাতেই আমি প্রীত’।
12
আর তৎক্ষণাৎ পাক-রূহ্ ঈসাকে মরুভূমিতে পাঠিয়ে দিলেন।
13 সেই মরু-ভূমিতে তিনি চল্লিশ দিন ধরে শয়তানের দ্বারা পরীক্ষিত হলেন; আর তিনি বন্য পশুদের সঙ্গে রইলেন এবং বেহেশতের ফেরেশতারা তাঁর পরিচর্যা করতেন।
14
আর ইয়াহিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর ঈসা গালীলে এসে আল্লাহ্র সুসমাচার তবলিগ করে বলতে লাগলেন,
‘কাল সমপূর্ণ হল, আল্লাহ্র রাজ্য সন্নিকট হল;
15
তোমরা মন ফিরাও ও সুসংবাদে
বিশ্বাস কর।’
16
পরে গালীল-সমুদ্রের তীর দিয়ে যেতে যেতে তিনি দেখলেন, শিমোন ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয় সাগরে জাল ফেলছেন, কেননা তাঁরা জেলে ছিলেন।
17 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে মানুষ ধরা জেলে করবো।
18 আর তৎক্ষণাৎ তাঁরা জাল পরিত্যাগ করে তাঁর পিছনে চললেন।
19 পরে তিনি কিঞ্চিৎ আগে গিয়ে সিবদিয়ের পুত্র ইয়াকুব ও তাঁর ভাই ইউহোন্নাকে দেখতে পেলেন; তাঁরাও নৌকাতে জাল সারছিলেন।
20 তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে ডাকলেন, তাতে তাঁরা তাঁদের পিতা সিবদিয়কে কর্মচারীদের সঙ্গে নৌকায় রেখে তাঁর পিছনে চললেন।
21
পরে তাঁরা কফরনাহূমে প্রবেশ করলেন আর তৎক্ষণাৎ তিনি বিশ্রামবারে মজলিস-খানায় গিয়ে উপদেশ দিতে লাগলেন।
22 তাতে লোকে তাঁর উপদেশে চমৎকৃত হল, কারণ তিনি ক্ষমতাসম্পন্ন্ন ব্যক্তির মত তাদেরকে উপদেশ দিতেন, আলেমদের মত নয়।
23 তখন তাদের মজলিস-খানায় এক ব্যক্তি ছিল, যাকে নাপাক রূহে পেয়েছিল;
24 সে চেঁচিয়ে বললো, হে নাসরতীয় ঈসা, আপনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কি? আপনি কি আমাদেরকে বিনাশ করতে আসলেন?
25 আমি জানি, আপনি কে; আল্লাহ্র সেই পবিত্র ব্যক্তি। তখন ঈসা তাকে ধমক্ দিয়ে বললেন, চুপ কর, ওর মধ্য থেকে বের হও।
26 তাতে সেই নাপাক রূহ্ তাকে মুচ্ড়ে ধরে ভীষণ চিৎকার করে তার মধ্য থেকে বের হয়ে গেল।
27 এতে সকলে চমৎকৃত হল, এমন কি তারা পরস্পর বিতর্ক করে বললো, এটা কি? এটা কেমন নতুন উপদেশ! উনি ক্ষমতা সহকারে বদ-রূহ্দেরকেও হুকুম করেন আর তারা তাঁর হুকুম মানে।
28 তখন তাঁর কথা তৎক্ষণাৎ সমুদয় গালীল প্রদেশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।
29
পরে মজলিস-খানা থেকে বের হয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁরা ইয়াকুব ও ইউহোন্নার সঙ্গে শিমোন ও আন্দ্রিয়ের বাড়িতে প্রবেশ করলেন।
30 তখন শিমোনের শাশুড়ির জ্বর হয়েছিল বলে তিনি শুয়ে ছিলেন; আর তাঁরা তৎক্ষণাৎ তাঁর কথা ঈসাকে বললেন,
31 তাতে তিনি কাছে গিয়ে তাঁর হাত ধরে তাঁকে উঠালেন। তখন তাঁর জ্বর ছেড়ে গেল আর তিনি তাঁদের পরিচর্যা করতে লাগলেন।
32
পরে সন্ধ্যাবেলা, সূর্য অস্ত গেলে লোকেরা সমস্ত অসুস্থ লোককে এবং বদ-রূহে পাওয়া লোকদেরকে তাঁর কাছে আনলো।
33 আর নগরের সকল লোক সেই বাড়ির দরজায় একত্র হল।
34 তাতে তিনি নানা রকম রোগে অসুস্থ অনেক লোককে সুস্থ করলেন এবং অনেক বদ-রূহ্ ছাড়ালেন, আর তিনি বদ-রূহ্দেরকে কথা বলতে দিলেন না, কারণ তারা তাঁকে চিনতো।
35
পরে খুব ভোরে, রাত পোহাবার অনেকক্ষণ আগে তিনি উঠে বাইরে গেলেন এবং নির্জন স্থানে গিয়ে সেখানে মুনাজাত করলেন।
36 আর শিমোন ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন,
37 এবং তাঁকে পেয়ে বললেন, সমস্ত লোক আপনার খোঁজ করছে।
38 তিনি তাঁদেরকে বললেন, চল, আমরা অন্যন্য নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে যাই, আমি সেসব স্থানেও তবলিগ করবো, কেননা সেজন্যই বের হয়েছি।
39 পরে তিনি সমস্ত গালীল দেশে লোকদের মজলিস-খানায় গিয়ে তবলিগ করতে ও বদ-রূহ্ ছাড়াতে লাগলেন।
40
একদিন এক জন কুষ্ঠ রোগী এসে তাঁর সম্মুখে ফরিয়াদ করে ও জানু পেতে বললো, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তবে আপনি আমাকে পাক-পবিত্র করতে পারেন।
41 তিনি করুণাবিষ্ট হয়ে হাত বাড়িয়ে তাঁকে স্পর্শ করলেন, বললেন, আমার ইচ্ছা, তুমি পাক-পবিত্র হও।
42 তৎক্ষণাৎ কুষ্ঠরোগ তাকে ছেড়ে গেল, সে পাক-পবিত্র হল।
43 তখন তিনি তাকে দৃঢ় ভাবে হুকুম দিয়ে বিদায় করলেন, বললেন,
44 দেখো, কাউকেও কিছু বলো না; কিন্তু ইমামের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং লোকদের কাছে সাক্ষ্য দেবার ও তোমার পাক-পবিত্রতার জন্য মূসার নিরূপিত উপহার কোরবানী কর।
45 কিন্তু সে বাইরে গিয়ে সেই কথা এমন বেশি প্রচার করতে ও চারদিকে বলতে লাগল যে, ঈসা আর প্রকাশ্যরূপে কোন নগরে প্রবেশ করতে পারলেন না, কিন্তু বাইরে নির্জন স্থানে থাকলেন; আর লোকেরা সকল দিক থেকে তাঁর কাছে আসতে লাগল।
1
কয়েক দিন পরে তিনি আবার কফরনাহূমে চলে আসলে শোনা গেল যে, তিনি বাড়িতে আছেন।
2 আর এত লোক তাঁর কাছে একত্রিত হল যে, দরজার কাছেও আর স্থান রইলো না। আর তিনি তাদের কাছে পাক-কালাম তবলিগ করতে লাগলেন।
3
তখন লোকেরা চার জন লোক দিয়ে এক জন পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোককে বহন করিয়ে তাঁর কাছে নিয়ে আসল।
4 কিন্তু ভিড়ের কারণে তাঁর কাছে আসতে না পারাতে তিনি যেখানে ছিলেন সেই স্থানের ছাদ খুলে ফেললো আর ছিদ্র করে যে খাটে পক্ষাঘাত-গ্রস্ত লোকটি শুয়েছিল সেটি নামিয়ে দিল।
5 তাদের বিশ্বাস দেখে ঈসা সেই পক্ষা-ঘাতগ্রস্তকে বললেন, বৎস, তোমার গুনাহ্ মাফ করা হল।
6 কিন্তু সেখানে কয়েক জন আলেম বসেছিল; তারা মনে মনে এরকম তর্ক করতে লাগল,
7 এই ব্যক্তি এমন কথা কেন বলছে? এ যে কুফরী করছে; একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কে গুনাহ্ মাফ করতে পারে?
8 তারা মনে মনে এরকম তর্ক করছে, ঈসা তৎক্ষণাৎ আপন রূহে তা বুঝতে পেরে তাদেরকে বললেন, তোমরা মনে মনে এমন তর্ক কেন করছো?
9 পক্ষাঘাতগ্রস্তকে কোন্টা বলা সহজ— ‘তোমার গুনাহ্ মাফ হলো’, না ‘উঠ, তোমার বিছানা তুলে নিয়ে চলে যাও’?
10 কিন্তু দুনিয়াতে গুনাহ্ মাফ করতে ইবনুল-ইনসানের ক্ষমতা আছে, তা যেন তোমরা জানতে পার, এজন্য— তিনি সেই পক্ষাঘাত-গ্রস্ত লোককে বললেন—
11 তোমাকে বলছি, উঠ, তোমার খাট তুলে নিয়ে তোমার বাড়িতে যাও।
12 তাতে সে উঠলো ও তৎক্ষণাৎ খাট তুলে নিয়ে সকলের সাক্ষাতে বাইরে চলে গেল; এতে সকলে ভীষণ আশ্চর্য হল আর এই কথা বলে আল্লাহ্কে মহিমান্বিত করতে লাগল যে, এমন কখনও দেখি নি।
13
পরে তিনি আবার বের হয়ে সাগরের তীরে গমন করলেন। তখন সমস্ত লোক তাঁর কাছে আসল, আর তিনি তাদেরকে উপদেশ দিলেন।
14 পরে তিনি যেতে যেতে দেখলেন, আল্ফেয়ের পুত্র লেবি করগ্রহণ-স্থানে বসে আছেন। তিনি তাঁকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর; তাতে তিনি উঠে তাঁর পিছনে চলতে লালেন।
15
পরে তিনি লেবির বাড়িতে ভোজন করতে বসলেন, আর অনেক কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গার ঈসা ও তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে ভোজনে বসলো; কারণ অনেকে উপস্থিত ছিল, আর তারা তাঁর পিছনে পিছনে চলছিল।
16 কিন্তু তিনি গুনাহ্গার ও কর-আদায়কারীদের সঙ্গে ভোজন করছেন দেখে ফরীশীদের আলেমেরা তাঁর সাহাবীদেরকে বললো, উনি কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গারদের সঙ্গে ভোজন পান করেন।
17 ঈসা তা শুনে তাদেরকে বললেন, সুস্থ লোকদের চিকিৎসকের প্রয়োজন, নেই কিন্তু অসুস্থদেরই প্রয়োজন আছে; আমি ধার্মিকদেরকে নয়, কিন্তু গুনাহ্গারদেরকেই ডাকতে এসেছি।
18
আর ইয়াহিয়ার সাহাবীরা ও ফরীশীরা রোজা রাখছিল। আর তারা ঈসার কাছে এসে তাঁকে বললো, ইয়াহিয়ার সাহাবীরা ও ফরীশীদের সাহা— বীরা রোজা রাখে, কিন্তু আপনার সাহাবীরা রোজা রাখে না, এর কারণ কি?
19 ঈসা তাদেরকে বললেন, বর সঙ্গে থাকতে কি বাসর ঘরের লোকে রোজা রাখতে পারে? যতদিন তাদের সঙ্গে বর থাকেন ততদিন তারা রোজা রাখতে পারে না।
20 কিন্তু এমন সময় আসবে যখন তাদের কাছ থেকে বরকে নিয়ে যাওয়া হবে; সেদিন তারা রোজা রাখবে।
21
পুরানো কাপড়ে কেউ নতুন কাপড়ের তালি দেয় না; দিলে সেই নতুন তালিতে ঐ পুরানো কাপড় ছিঁড়ে যায় এবং ছিদ্র আরও বড় হয়।
22 আর পুরানো কুপায় কেউ টাট্কা আঙ্গুর-রস রাখে না, রাখলে আঙ্গুর-রসে কুপাগুলো ফেটে যায়; তাতে আঙ্গুর-রস নষ্ট হয় এবং কুপাগুলোও নষ্ট হয়; কিন্তু টাট্কা আঙ্গুর-রস নতুন কুপাতে রাখতে হবে।
23
আর তিনি বিশ্রামবারে শস্য-ক্ষেত দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর সাহা— বীরা চলতে চলতে শীষ ছিঁড়তে লাগলেন।
24 এতে ফরীশীরা তাঁকে বললো, দেখ, যা উচিত নয় তা ওরা বিশ্রামবারে কেন করছে?
25 তিনি তাদেরকে বললেন, দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা খাদ্যের অভাবে ক্ষুধিত হলে তিনি যা করেছিলেন তা কি তোমরা কখনও পাঠ কর নি?
26 তিনি তো অবিয়াথর মহা-ইমামের সময়ে আল্লাহ্র গৃহে প্রবেশ করে, যে দর্শন-রুটি ইমামেরা ছাড়া আর কারো ভোজন করা উচিত নয়, তা-ই ভোজন করেছিলেন এবং সঙ্গীদেরকেও দিয়েছিলেন।
27 তিনি তাদেরকে আরও বললেন, বিশ্রামবার মানব-জাতির জন্যই হয়েছে, মানবজাতি বিশ্রামবারের জন্য হয় নি;
28 সুতরাং ইবনুল-ইনসান বিশ্রামবারেরও কর্তা।
1
এর পর ঈসা আবার মজলিস-খানায় প্রবেশ করলেন; সেখানে একটি লোক ছিল, যার একখানি হাত শুকিয়ে গিয়েছিল।
2 তিনি বিশ্রামবারে তাকে সুস্থ করেন কি না দেখবার জন্য লোকেরা তাঁর প্রতি দৃষ্টি রাখল যেন তাঁর নামে দোষারোপ করতে পারে।
3 তখন তিনি যে লোকটির হাত শুকিয়ে গিয়েছিল তাকে বললেন, মাঝখানে এসে দাঁড়াও।
4 পরে তিনি লোকদের বললেন, বিশ্রামবারে কি করা উচিত? ভাল করা না মন্দ করা? প্রাণ রক্ষা করা না হত্যা করা? কিন্তু তারা চুপ করে রইলো।
5 তখন তিনি তাদের অন্তরের কঠিনতার দরুন দুঃখিত হয়ে সক্রোধে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে সেই লোকটিকে বললেন, তোমার হাত বাড়িয়ে দাও। সে তার হাত বাড়িয়ে দিল, আর হাতটি আগে যেমন ছিল, তেমনি হয়ে গেলো।
6 পরে ফরীশীরা বের হয়ে কিভাবে তাঁকে বিনষ্ট করা যায় সেই ব্যাপারে তৎক্ষণাৎ হেরোদীয়দের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পরামর্শ করতে লাগল।
7
পরে ঈসা তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে সমুদ্রের তীরে গেলেন; তাতে গালীল থেকে অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চললো।
8 আর তিনি যে সমস্ত মহৎ মহৎ কাজ করছিলেন তা শুনে এহুদিয়া, জেরুশালেম, ইদোম, জর্ডান নদীর অপর পারস্থ দেশ এবং টায়ার ও সিডনের চারদিক থেকে অনেক লোক তাঁর কাছে আসল।
9 তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে একখানি নৌকা তাঁর জন্য প্রস্তুত রাখতে বললেন যেন ভিড়ের জন্য লোকে তাঁর উপরে চাপাচাপি করে না পড়ে।
10 কেননা তিনি অনেক লোককে সুস্থ করলেন, সেজন্য সমস্ত অসুস্থ লোকেরা তাঁকে স্পর্শ করার চেষ্টায় তাঁর গায়ের উপরে পড়ছিল।
11 আর নাপাক রূহ্রা তাঁকে দেখলেই তাঁর সম্মুখে পড়ে চেঁচিয়ে বলতো, আপনি আল্লাহ্র পুত্র;
12 কিন্তু তিনি তাদেরকে দৃঢ়ভাবে নিষেধ করে দিতেন, যেন তারা তাঁর পরিচয় না দেয়।
13
পরে তিনি পর্বতে উঠলে পর যাঁদেরকে তিনি চাইলেন তাদেরকে তাঁর কাছে ডাকলেন; তাতে তাঁরা তাঁর কাছে আসলেন।
14 আর তিনি বারো জনকে নিযুক্ত করলেন, যেন তাঁরা তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকেন ও যেন তিনি তাঁদেরকে তবলিগ করার জন্য প্রেরণ করতে পারেন,
15 এবং তাঁরা বদ-রূহ্ ছাড়াবার ক্ষমতা পান।
16 তিনি যে বারোজনকে নিযুক্ত করলেন তাদের মধ্যে শিমোনের নাম দিলেন পিতর,
17 এবং সিবদিয়ের পুত্র ইয়াকুব ও সেই ইয়াকুবের ভাই ইউহোন্না, এই দু’জনের নাম দিলেন বোয়ানের্গিস, অর্থাৎ বজ্রধ্বনির পুত্রেরা।
18 আর আন্দ্রিয়, ফিলিপ, বর্থলময়, মথি, থোমা, আল্ফেয়ের পুত্র ইয়াকুব, থদ্দেয় ও উদ্যোগী শিমোন,
19 এবং যে তাঁকে দুশমনদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল সেই ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা।
20
পরে তিনি বাড়িতে আসলে পর পুনর্বার এত লোকের জমায়েত হল যে, তাঁরা আহার করতেও পারলেন না।
21 এই কথা শুনে তাঁর আত্মীয়েরা তাঁকে ধরে নিতে আসলেন। কেননা তারা বললো, সে পাগল হয়েছে।
22 আর যে আলেমেরা জেরুশালেম থেকে এসেছিল তারা বললো, একে বেল্সবূবে পেয়েছে। সে বদ-রূহ্দের অধিপতি দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়ায়।
23 তখন তিনি তাদেরকে কাছে ডেকে দৃষ্টান্ত দিয়ে বললেন, শয়তান কিভাবে শয়তানকে ছাড়াতে পারে?
24 কোন রাজ্য যদি নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, তবে সেই রাজ্য স্থির থাকতে পারে না।
25 আর কোন পরিবার যদি নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় তবে সেই পরিবার স্থির থাকতে পারবে না।
26 আর শয়তান যদি নিজের বিপক্ষে উঠে ও ভাগ হয়ে যায় তবে সেও স্থির থাকতে পারে না এবং সেখানেই তার শেষ হয়।
27 আর আগে সেই বলবান ব্যক্তিকে না বাঁধলে কেউ তার ঘরে প্রবেশ করে তার দ্রব্য লুট করতে পারে না; কিন্তু বাঁধলে পর সে তার ঘর লুট করতে পারবে।
28
আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, মানুষ যে সমস্ত গুনাহ্ ও কুফরী করে তা মাফ করা হবে।
29 কিন্তু যে ব্যক্তি পাক-রূহের নিন্দা করে অনন্তকালেও তার মাফ নেই, তার গুনাহ্ অনন্ত কাল ধরে থাকবে।
30 ওকে নাপাক রূহে পেয়েছে, তাদের এই কথার কারণেই তিনি এই কথা বললেন।
31
এর পরে তাঁর মা ও তাঁর ভাইয়েরা আসলেন এবং বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁকে ডেকে পাঠালেন।
32 তখন তাঁর চারদিকে লোক বসেছিল; তারা তাঁকে বললো, দেখুন, আপনার মা ও আপনার ভাইয়েরা বাইরে আপনার খোঁজ করছেন।
33 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, আমার মা কে? আমার ভাইয়েরাই বা কারা?
34 পরে যারা তাঁর চারদিকে বসেছিল তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, এই দেখ, আমার মা ও আমার ভাইয়েরা;
35 কেননা যে কেউ আল্লাহ্র ইচ্ছা পালন করে সেই আমার ভাই ও বোন ও মা।
1
পরে তিনি আবার সমুদ্রের তীরে উপদেশ দিতে লাগলেন; তাতে তাঁর কাছে এত বেশি লোক একত্র হল যে, তিনি সাগরের মধ্যে একখানি নৌকায় উঠে বসলেন এবং সমাগত লোকেরা সমুদ্রের তীরে স্থলে থাকলো।
2 তখন তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা তাদেরকে অনেক উপদেশ দিতে লাগলেন। উপদেশের মধ্যে তিনি তাদেরকে বললেন,
3 শোন, বীজ বপনকারী বীজ বপন করতে গেল;
4 বপনের সময়ে কতগুলো বীজ পথের পাশে পড়লো, তাতে পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেললো।
5 আর কতগুলো বীজ পাথুরে ভূমিতে পড়লো, যেখানে বেশি মাটি ছিল না। সেখানে বেশি মাটি না পাওয়াতে তা শীঘ্র অঙ্কুরিত হয়ে উঠলো,
6 কিন্তু সূর্য উঠলে পর তা পুড়ে গেল এবং তার শিকড় না থাকাতে শুকিয়ে গেল।
7 আর কতগুলো বীজ কাঁটাবনের মধ্যে পড়লো, তাতে কাঁটাবন বেড়ে তা চেপে রাখল, তাতে ফল ধরলো না।
8 আর কতগুলো বীজ উত্তম ভূমিতে পড়লো, তা অঙ্কুরিত হয়ে ও বেড়ে উঠে ফল দিল; কতগুলো ত্রিশ গুণ, কতগুলো ষাট গুণ ও কতগুলো শত গুণ ফল দিল।
9 পরে তিনি বললেন, যার শুনবার কান আছে, সে শুনুক।
10
যখন তিনি নির্জনে ছিলেন, তাঁর সঙ্গীরা সেই বারো জনের সঙ্গে তাঁকে দৃষ্টান্তগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
11 তিনি তাঁদেরকে বললেন, আল্লাহ্র রাজ্যের নিগূঢ় তত্ত্ব তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ঐ বাইরের লোকদের কাছে সকলই দৃষ্টান্ত দ্বারা বলা হয়ে থাকে;
12 যেন তারা দেখেও দেখতে না পায় এবং শুনেও বুঝতে না পারে, পাছে তারা ফিরে আসে ও তাদেরকে মাফ করা যায়।
13
পরে তিনি তাদেরকে বললেন, এই দৃষ্টান্ত কি বুঝতে পার না? তবে কেমন করে অন্য সকল দৃষ্টান্ত বুঝতে পারবে?
14 সেই বীজ বপনকারী কালামরূপ বীজ বপন করে।
15 পথের পাশে যারা, তারা এমন লোক, যাদের মধ্যে কালাম-বীজ বপন করা হয়; আর যখন তারা শুনে, তৎক্ষণাৎ শয়তান এসে তাদের মধ্যে যা বপন করা হয়েছিল সেই কালাম হরণ করে নিয়ে যায়।
16 আর তেমনি যারা পাথুরে ভূমিতে বপন করা বীজের মত, তারা এমন লোক, যারা কালামটি শুনে তৎক্ষণাৎ আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করে;
17 আর তাদের অন্তরে শিকড় নেই বলে তারা অল্পকাল মাত্র স্থির থাকে, পরে সেই কালামের জন্য কষ্ট কিংবা নির্যাতন আসলে তৎক্ষণাৎ পিছিয়ে যায়।
18 আর যারা কাঁটাবনের মধ্যে বপন করা বীজের মত, তারা এমন লোক,
19 যারা কালাম শুনেছে, কিন্তু সংসারের চিন্তা, ধনের মায়া ও অন্যান্য বিষয়ের অভিলাষ ভিতরে গিয়ে ঐ কালাম চেপে রাখে, সেজন্য তাতে কোন ফল ধরে না।
20 আর যারা উত্তম ভূমিতে বপন করা বীজের মত, তারা এমন লোক, যারা সেই কালাম শুনে গ্রাহ্য করে এবং কেউ ত্রিশ গুণ, কেউ ষাট গুণ ও কেউ শত গুণ ফল দেয়।
21
তিনি তাদেরকে আরও বললেন, কাঠার নিচে কিংবা পালঙ্কের নিচে রাখার জন্য কেউ কি প্রদীপ আনে? না কি তা প্রদীপ-আসনের উপরে রাখার জন্য?
22 কেননা এমন গুপ্ত কিছুই নেই যা প্রকাশিত হবে না; এমন লুকানো কিছুই নেই যা প্রকাশ পাবে না।
23 যার শুনবার কান আছে, সে শুনুক।
24 আর তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা যা শুনছো তাতে মনযোগ দাও। তোমরা যেভাবে মেপে দাও, সেভাবেই তোমাদের জন্য মাপা যাবে এবং তোমাদেরকে আরও দেওয়া যাবে।
25 কারণ যার আছে তাকে আরও দেওয়া যাবে আর যার নেই তার যা আছে তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া যাবে।
26
তিনি আরও বললেন, আল্লাহ্র রাজ্য এ রকম: এক জন ব্যক্তি যেন ভূমিতে বীজ বুনলো।
27 পরে রাতে ঘুমিয়ে থেকে ও দিনে জেগে থেকে সময় কাটায়, ইতোমধ্যে ঐ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে বেড়ে উঠে, কিন্তু কিভাবে তা বেড়ে উঠে তা সে জানে না।
28 ভূমি নিজে নিজেই ফল উৎপন্ন করে; প্রথমে অঙ্কুর, পরে শীষ, তারপর শীষের মধ্যে পূর্ণ শস্য।
29 কিন্তু ফল পাকলে সে তৎক্ষণাৎ কাস্তে লাগায়, কেননা শস্য কাটার সময় উপস্থিত।
30
আর তিনি বললেন, আমরা কিসের সঙ্গে আল্লাহ্র রাজ্যের তুলনা করবো? কোন্ দৃষ্টান্ত দ্বারাই বা তা ব্যক্ত করবো?
31 তা একটি সরিষা-দানার মত; সেই বীজ ভূমিতে বোনার সময়ে ভূমির সকল বীজের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র বটে,
32 কিন্তু বপন করা হলে তা অঙ্কুরিত হয়ে সকল শাক-সব্জি থেকেও বড় হয়ে উঠে এবং বড় বড় ডাল বের হয়; তাতে আসমানের পাখিগুলো তার ছায়ার নিচে বাসা বাঁধতে পারে।
33
এই রকম অনেকগুলো দৃষ্টান্ত দ্বারা তিনি তাদের শুনবার ক্ষমতা অনুসারে তাদের কাছে কালাম তবলিগ করতেন;
34 আর দৃষ্টান্ত ছাড়া তাদেরকে কিছুই বলতেন না; পরে বিরলে তাঁর সাহাবীদেরকে সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিতেন।
35
সেই দিন সন্ধ্যা হলে তিনি তাঁদেরকে বললেন, চল, আমরা ওপারে যাই।
36 তখন তাঁরা লোকদেরকে বিদায় করে, তিনি নৌকাখানিতে যেমন ছিলেন, তেমনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন এবং আরও নৌকা তাঁর সঙ্গে ছিল।
37 পরে ভীষণ ঝড় উঠলো এবং ঢেউগুলো নৌকায় এমন আঘাত করলো যে, নৌকা পানিতে পূর্ণ হতে লাগল।
38 তখন তিনি নৌকার পশ্চাদ্ভাগে বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন; আর তাঁরা তাঁকে জাগিয়ে বললেন, হুজুর, আপনার কি চিন্তা হচ্ছে না যে, আমরা মারা পড়ছি?
39 তখন তিনি জেগে উঠে বাতাসকে ধমক্ দিলেন ও সমুদ্রকে বললেন, নীরব হও, স্থির হও; তাতে বাতাস থেমে গেল এবং মহাশান্তি হল।
40 পরে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা এত ভয় পাও কেন? এখনও কি তোমাদের বিশ্বাস হয় নি?
41 তাতে তাঁরা ভীষণ ভয় পেয়ে পরস্পর বলতে লাগলেন, ইনি তবে কে যে, বাতাস এবং সমুদ্রও এঁর হুকুম মানে?
1
পরে তাঁরা সমুদ্রের ওপারে গেরাসেনীদের দেশে উপস্থিত হলেন।
2 তিনি নৌকা থেকে বের হলে তৎক্ষণাৎ এক ব্যক্তি কবর-স্থান থেকে তাঁর সম্মুখে আসল, তাকে নাপাক রূহে পেয়েছিল।
3 সে কবরের মধ্যে বাস করতো এবং কেউ তাকে শিকল দিয়েও আর বেঁধে রাখতে পারতো না।
4 কেননা লোকে বার বার তাকে বেড়ী ও শিকল দিয়ে বাঁধতো, কিন্তু সে শিকল ছিঁড়ে ফেলতো এবং বেড়ী ভেঙ্গে খণ্ডবিখণ্ড করতো; কেউ তাকে বশ করতে পারতো না।
5 আর সে দিনরাত সব সময় কবরে ও পর্বতে থেকে চিৎকার করতো এবং পাথর দিয়ে নিজেই নিজেকে আঘাত করতো।
6 সে দূর থেকে ঈসাকে দেখে দৌড়ে আসল, তাঁকে সেজ্দা করলো এবং উচ্চরবে চেঁচিয়ে বললো,
7 হে ঈসা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র পুত্র, আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি? আমি আপনাকে আল্লাহ্র কসম দিচ্ছি, আমাকে যাতনা দেবেন না।
8 কেননা তিনি তাকে বলেছিলেন, হে নাপাক রূহ্, এই ব্যক্তি থেকে বের হও।
9 তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কি? জবাবে সে বললো, আমার নাম বাহিনী,
10 কারণ আমরা অনেকে আছি। পরে সে বিস্তর ফরিয়াদ করলো, যেন তিনি তাদেরকে সেই অঞ্চল থেকে পাঠিয়ে না দেন।
11 সেই স্থানে পর্বতের পাশে একটি বড় শূকরের পাল চরছিল।
12 আর তারা ফরিয়াদ করে বললো, ঐ শূকরগুলোর মধ্যে প্রবেশ করতে আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন।
13 তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন সেই নাপাক রূহ্রা বের হয়ে শূকরদের মধ্যে প্রবেশ করলো; তাতে সেই শূকর-পাল, কমবেশ দুই হাজার শূকর, মহাবেগে দৌড়ে ঢালু পার দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়লো এবং সাগরে ডুবে মারা গেল।
14
তখন যারা সেগুলোকে চরাচ্ছিল, তারা পালিয়ে গিয়ে নগরে ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে সংবাদ দিল। তখন কি ঘটেছে তা দেখবার জন্য লোকেরা সেখানে আসল।
15 তারা ঈসার কাছে এসে দেখতে পেল যে, সেই বদ-রূহে পাওয়া ব্যক্তি, যাকে বাহিনীতে পেয়েছিল, সে কাপড় পরে সুস্থ মনে বসে আছে; তাতে তারা ভয় পেল।
16 আর ঐ বদ-রূহে পাওয়া লোকটির ও শূকর-পালের ঘটনা যারা দেখেছিল, তারা তাদেরকে সমস্ত বৃত্তান্ত বললো।
17 তখন তারা তাদের সীমানা থেকে প্রস্থান করতে তাঁকে ফরিয়াদ করতে লাগল।
18 পরে তিনি নৌকায় উঠছেন, এমন সময়ে যে ব্যক্তিকে বদ-রূহে পেয়েছিল, সে তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন তাঁর সঙ্গে থাকতে পারে।
19 কিন্তু তিনি তাকে অনুমতি দিলেন না, বরং বললেন, তুমি বাড়িতে তোমার আত্মীয়দের কাছে চলে যাও এবং প্রভু তোমার জন্য যে যে মহৎ কাজ করেছেন ও তোমার প্রতি যে করুণা করেছেন তা তাদেরকে জানও।
20 তখন সে প্রস্থান করে, ঈসা তার জন্য যে যে মহৎ কাজ করেছিলেন তা দিকাপলিতে তবলিগ করতে লাগল; তাতে সকলেই আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
21
পরে ঈসা যখন নৌকায় করে পুনরায় পারে গেলেন তখন তাঁর কাছে বিস্তর লোকের জমায়েত হল; তখন তিনি সমুদ্র-তীরে ছিলেন।
22 আর সমাজের নেতাদের মধ্যে যায়ীর নামে এক জন এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ে পড়লেন,
23 এবং অনেক ফরিয়াদ করে বললেন, আমার মেয়েটি মারা যেতে বসেছে, আপনি এসে তার উপরে হাত রাখুন, যেন সে সুস্থ হয়ে বাঁচে।
24 তখন তিনি তার সঙ্গে চললেন এবং অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চললো ও তাঁর উপরে চাপাচাপি করে পড়তে লাগল।
25
আর একটি স্ত্রীলোক বারো বছর থেকে প্রদর রোগে আক্রান্ত হয়েছিল,
26 অনেক চিকিৎসকের দ্বারা অনেক কষ্ট ভোগ করেছিল এবং সর্বস্ব ব্যয় করেও কোনরূপ সুস্থ হয় নি, বরং আরও অসুস্থ হয়েছিল।
27 সে ঈসার বিষয় শুনে ভিড়ের মধ্যে তাঁর পিছনের দিকে এসে তাঁর কাপড় স্পর্শ করলো।
28 কেননা সে বললো, আমি যদি কেবল তাঁর কাপড় স্পর্শ করতে পারি, তবেই সুস্থ হবো।
29 আর তৎক্ষণাৎ তার রক্তস্রাব শুকিয়ে গেল; আর সে যে ঐ রোগ থেকে মুক্ত হয়েছে তা তার শরীরে টের পেল।
30 ঈসা তৎক্ষণাৎ অন্তরে জানতে পেলেন যে, তাঁর মধ্য থেকে শক্তি বের হয়েছে, তাই ভিড়ের মধ্যে মুখ ফিরিয়ে বললেন, কে আমার কাপড় স্পর্শ করলো?
31 তাঁর সাহাবীরা বললেন, আপনি দেখছেন, লোকেরা আপনার উপরে চাপাচাপি করে পড়ছে, তবু বলছেন, কে আমাকে স্পর্শ করলো?
32 কিন্তু কে এই কাজ করেছিল, তাকে দেখবার জন্য তিনি চারদিকে দৃষ্টিপাত করলেন।
33 তাতে সেই স্ত্রীলোকটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে, তার প্রতি কি করা হয়েছে জানাতে, তাঁর সম্মুখে উবুড় হয়ে পড়লো, আর সমস্ত সত্যি ঘটনা তাঁকে বললো।
34 তখন তিনি তাকে বললেন, হে কন্যে, তোমার ঈমান তোমাকে রক্ষা করলো, শান্তিতে চলে যাও ও তোমার রোগ থেকে মুক্ত থাক।
35
তিনি এই কথা বলছেন, ইতোমধ্যে মজলিস-খানার নেতার বাড়ি থেকে লোক এসে বললো, আপনার কন্যার মৃত্যু হয়েছে, হুজুরকে আর কেন কষ্ট দিচ্ছেন?
36 কিন্তু ঈসা সে কথা শুনতে পেয়ে মজলিস-খানার নেতাকে বললেন, ভয় করো না, কেবল ঈমান আনো।
37 আর পিতর, ইয়াকুব এবং ইয়াকুবের ভাই ইউহোন্না, এই তিন জন ছাড়া তিনি আর কাউকেও তাঁর সঙ্গে যেতে দিলেন না।
38 পরে তাঁরা সমাজের নেতার বাড়িতে আসলেন, আর তিনি দেখলেন, কোলাহল হচ্ছে, লোকেরা ভীষণ কান্নাকাটি ও মাতম করছে।
39 তিনি ভিতরে গিয়ে তাদেরকে বললেন, তোমরা কোলাহল ও রোদন করছো কেন? বালিকাটি মারা যায় নি, ঘুমিয়ে রয়েছে।
40 এতে তারা তাঁকে উপহাস করলো; কিন্তু তিনি সকলকে বের করে দিয়ে, বালিকার পিতামাতাকে এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে নিয়ে যেখানে বালিকাটি ছিল সেখানে প্রবেশ করলেন।
41 পরে তিনি বালিকার হাত ধরে তাকে বললেন, টালিথা কুমী; অনুবাদ করলে এর অর্থ এই, বালিকা, তোমাকে বলছি, উঠ।
42 তাতে বালিকাটি তৎক্ষণাৎ উঠে বেড়াতে লাগল, কেননা তার বয়স বারো বছর ছিল। এতে তারা বড়ই বিস্ময়ে একেবারে চমৎকৃত হল।
43 পরে তিনি তাদেরকে এই দৃঢ় হুকুম দিলেন, যেন কেউ এই ঘটনার কথা জানতে না পারে, আর কন্যাটিকে কিছু আহার দিতে হুকুম করলেন।
1
পরে তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করে নিজের নগরে আসলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও তাঁর পিছনে পিছনে চললেন।
2 বিশ্রামবার উপস্থিত হলে তিনি মজলিস-খানায় উপদেশ দিতে লাগলেন; তাতে অনেক লোক তাঁর কথা শুনে চমৎকৃত হয়ে বললো, এই লোক কোথা থেকে এসব পেয়েছে? একে যে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে যে এরকম কুদরতি-কাজগুলো সম্পন্ন হয়, এই বা কি?
3 এ কি সেই ছুতার মিস্ত্রি, মরিয়মের সেই পুত্র নয়? ইয়াকুব, যোষি, এহুদা ও শিমোনের ভাই নয়? এর বোনেরা কি এখানে আমাদের মধ্যে নেই? এভাবে তারা তাঁর বিষয়ে মনে বাধা পেতে লাগল।
4 তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, নিজের দেশ ও আত্মীয় স্বজন এবং নিজের বাড়ি ছাড়া আর কোথাও নবীরা অসম্মানিত হন না।
5 তখন তিনি সেই স্থানে আর কোন কুদরতি-কাজ করতে পারলেন না, কেবল কয়েক জন রোগগ্রস্ত লোকের উপরে হাত রেখে তাদেরকে সুস্থ করলেন।
6 আর তিনি তাদের ঈমান না আনার দরুন আশ্চর্য জ্ঞান করলেন।
পরে তিনি চারদিকে গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করে উপদেশ দিলেন।
7
আর তিনি সেই বারো জনকে ডেকে দু’জন দু’জন করে তাঁদেরকে প্রেরণ করতে আরম্ভ করলেন এবং তাদেরকে নাপাক-রূহ্দের উপরে ক্ষমতা দান করলেন।
8 তিনি তাদের হুকুম করলেন, তোমরা যাত্রার জন্য একটি করে লাঠি ছাড়া আর কিছু নিও না, রুটিও না, ঝুলিও না, থলিতে পয়সাও না;
9 কিন্তু পায়ে জুতা দাও, আর দু’টো জামা গায়ে দিও না।
10 তিনি তাদেরকে আরও বললেন, তোমরা যে কোন স্থানে যে বাড়িতে প্রবেশ করবে, সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত সেই গৃহেই থেকো।
11 আর যদি কোন স্থানের লোকেরা তোমাদেরকে গ্রহণ না করে এবং তোমাদের কথাও না শুনে, তবে সেখান থেকে প্রস্থান করার সময় তাদের উদ্দেশে সাক্ষ্যের জন্য নিজ নিজ পায়ের ধূলা ঝেড়ে ফেলো।
12 পরে তাঁরা প্রস্থান করে তবলিগ করতে লাগলেন যেন, লোকেরা তওবা করে।
13 আর তাঁরা অনেক বদ-রূহ্ ছাড়ালেন ও অনেক অসুস্থ লোকের মাথায় তেল দিয়ে তাদেরকে সুস্থ করলেন।
14
আর বাদশাহ্ হেরোদ তাঁর কথা শুনতে পেলেন, কেননা তাঁর নাম প্রসিদ্ধ হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন, আর সেজন্য পরাক্রমগুলো তাঁতে কাজ করে চলেছে।
15 কিন্তু কেউ কেউ বললো, উনি ইলিয়াস এবং কেউ কেউ বললো, উনি এক জন নবী, নবীদের মধ্যে কোন এক জনের মত।
16 কিন্তু হেরোদ তাঁর কথা শুনে বললেন, আমি যে ইয়াহিয়ার মাথা কেটে ফেলেছি, তিনিই জীবিত হয়ে উঠেছেন।
17
কারণ হেরোদ আপন ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়ার জন্য নিজেই লোক পাঠিয়ে ইয়াহিয়াকে ধরে কারাগারে বন্দী করেছিলেন, কেননা তিনি হেরোদিয়াকে বিয়ে করেছিলেন।
18 কারণ ইয়াহিয়া হেরোদকে বলেছিলেন, ভাইয়ের স্ত্রীকে রাখা আপনার উচিত নয়।
19 আর হেরোদিয়া তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠে নি,
20 কারণ হেরোদ ইয়াহিয়াকে ধার্মিক ও পবিত্র লোক জেনে ভয় করতেন ও তাঁকে রক্ষা করতেন। আর তাঁর কথা শুনে তিনি ভীষণ অস্বস্তি বোধ করলেও তাঁর কথা শুনতে ভাল-বাসতেন।
21 পরে এক সুবিধার দিন উপস্থিত হল, যখন হেরোদ তাঁর জন্মদিনে তাঁর বড় বড় রাজ-কর্মচারীদের, সেনাপতিদের এবং গালীলের প্রধান লোকদের জন্য এক রাতে ভোজ প্রস্তুত করলেন;
22 আর হেরোদিয়ার কন্যা ভিতরে এসে ও নেচে হেরোদ এবং যাঁরা তাঁর সঙ্গে ভোজে বসেছিলেন, তাঁদের সন্তুষ্ট করলো। তাতে বাদশাহ্ সেই কন্যাকে বললেন, তোমার যা ইচ্ছা হয়, আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দেব।
23 আর তিনি শপথ করে তাকে বললেন, অর্ধেক রাজ্য পর্যন্ত হোক, আমার কাছে যা চাইবে, তা-ই তোমাকে দেব।
24 তাতে সে বাইরে গিয়ে তার মাকে জিজ্ঞাসা করলো, কি চাইব? সে বললো, বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়ার মাথা।
25 সে তৎক্ষণাৎ বাদশাহ্র কাছে এসে তা চাইল, বললো, আমি ইচ্ছা করি যে, আপনি এখনই বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়ার মাথা থালায় করে আমাকে দিন।
26 তখন বাদশাহ্ অতিশয় দুঃখিত হলেও তাঁর শপথের জন্য এবং যারা ভোজে বসেছিল, তাদের ভয়ে, তাকে ফিরিয়ে দিতে চাইলেন না।
27 আর বাদশাহ্ তৎক্ষণাৎ এক জন সেনাকে পাঠিয়ে ইয়াহিয়ার মাথা আনতে হুকুম করলেন; সে কারাগারে গিয়ে তাঁর মাথা কেটে ফেললো,
28 পরে তাঁর মাথা থালায় করে এনে সেই কন্যাকে দিলে পর সে তা নিয়ে গিয়ে তার মাকে দিল।
29 এই সংবাদ পেয়ে তাঁর সাহা— বীরা এসে তাঁর লাশ নিয়ে গিয়ে দাফন করলো।
30
পরে প্রেরিতেরা ঈসার কাছে এসে একত্র হলেন; আর তাঁরা যা কিছু করেছিলেন ও যা কিছু শিক্ষা দিয়েছিলেন সমস্তই তাঁকে জানালেন।
31 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা বিরলে একটি নির্জন স্থানে এসে কিছু কাল বিশ্রাম কর। কারণ অনেক লোক আসা যাওয়া করছিল, তাই তাঁদের আহার করবারও অবকাশ ছিল না।
32 পরে তাঁরা নৌকাযোগে বিরলে একটি নির্জন স্থানে যাত্রা করলেন।
33 কিন্তু লোকে তাঁদেরকে যেতে দেখলো এবং অনেকে তাঁদেরকে চিনতে পারল, তাই সব নগর থেকে দৌড়ে তাঁদের আগেই সেখানে উপস্থিত হল।
34 তখন ঈসা বের হয়ে অনেক লোক দেখে তাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হলেন, কেননা তারা পালক-বিহীন ভেড়ার পালের মত ছিল; আর তিনি তাদেরকে অনেক বিষয় শিক্ষা দিতে লাগলেন।
35
পরে দিবা প্রায় অবসান হলে তাঁর সাহাবীরা কাছে এসে তাঁকে বললেন, এটি নির্জন স্থান এবং বেলাও প্রায় শেষ হয়ে গেছে;
36 এদেরকে বিদায় করুন, যেন এরা চারদিকে পাড়ায় পাড়ায় ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিজেদের জন্য খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারে।
37 কিন্তু জবাবে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরাই ওদেরকে আহার দাও। তাঁরা বললেন, আমরা গিয়ে কি দুই শত সিকির রুটি কিনে নিয়ে ওদেরকে খেতে দেব?
38 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের কাছে কয়খানা রুটি আছে? গিয়ে দেখ। তাঁরা দেখে বললেন, পাঁচখানি রুটি এবং দু’টি মাছ আছে।
39 তখন তিনি সকলকে সবুজ ঘাসের উপরে দলে দলে বসিয়ে দিতে হুকুম করলেন।
40 তারা এক শত এক শত করে ও পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করে সারি সারি বসে গেল।
41 পরে তিনি সেই পাঁচখানি রুটি ও দু’টি মাছ নিয়ে আসমানের দিকে চোখ তুলে দোয়া করলেন এবং সেই রুটি কয়খানি ভেঙ্গে লোকদের সম্মুখে রাখার জন্য সাহাবীদেরকে দিতে লাগলেন; আর সেই দু’টি মাছও সকলকে ভাগ করে দিলেন।
42 তাতে সকলে আহার করে তৃপ্ত হল।
43 পরে তাঁরা গুঁড়াগাঁড়ায় ভরা বারো ডালা এবং মাছও কিছু তুলে নিলেন।
44 যারা সেই রুটি ভোজন করেছিল, তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই ছিল পাঁচ হাজার।
45
পরে তিনি তৎক্ষণাৎ সাহাবীদেরকে দৃঢ় করে বলে দিলেন, যেন তাঁরা নৌকায় উঠে তাঁর আগে অন্য পারে বৈৎসৈদার দিকে যান, আর ইতোমধ্যে তিনি লোকদেরকে বিদায় দিলেন।
46 লোকদেরকে বিদায় করে তিনি মুনাজাত করার জন্য পর্বতে চলে গেলেন।
47
যখন সন্ধ্যা হল, তখন নৌকাখানি সমুদ্রের মাঝখানে ছিল এবং তিনি স্থলে ছিলেন।
48 পরে সম্মুখ বাতাসের দরুন তাঁদের নৌকা বাইতে কষ্ট হচ্ছে দেখে, তিনি প্রায় রাতের চতুর্থ প্রহরে সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে তাঁদের কাছে আসলেন এবং তাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে উদ্যত হলেন।
49 কিন্তু সমুদ্রের উপর দিয়ে তাঁকে হাঁটতে দেখে তাঁরা তাঁকে ভূত মনে করলেন, আর চেঁচিয়ে উঠলেন;
50 কারণ সকলেই তাঁকে দেখেছিলেন ও ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন, তাঁদেরকে বললেন, সাহস কর, এই আমি, ভয় করো না।
51 পরে তিনি তাঁদের কাছে নৌকায় উঠলেন, আর বাতাস থেমে গেল; তাতে তাঁরা ভীষণ আশ্চর্য হলেন।
52 কেননা রুটির বিষয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন নি, তাঁদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
53
পরে তাঁরা পার হয়ে স্থলে, গিনেষরৎ প্রদেশে, এসে নৌকা লাগালেন।
54 আর নৌকা থেকে বের হলে লোকেরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে চিনতে পারল;
55 তারা সমুদয় অঞ্চলে চারদিকে দৌড়াতে লাগল, আর অসুস্থ লোকদেরকে খাটের উপরে করে তিনি যে কোন স্থানে আছেন তা জেনে সেই স্থানে আনতে লাগল।
56 আর গ্রামে, বা নগরে, বা পাড়ায়, যে কোন স্থানে তিনি প্রবেশ করলেন, সেই স্থানে তারা অসুস্থদেরকে বাজারে নিয়ে আসল এবং তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন ওরা তাঁর কাপড়ের প্রান্তভাগটুকু স্পর্শ করতে পারে, আর যত লোক তাঁকে স্পর্শ করলো সকলেই সুস্থ হল।
1
আর ফরীশীরা ও কয়েক জন আলেম জেরুশালেম থেকে এসে তাঁর কাছে একত্র হল।
2 তারা দেখলো যে, তাঁর কয়েক জন সাহাবী নাপাক অবস্থায় অর্থাৎ হাত না ধুয়ে আহার করছেন।
3 ফরীশীরা ও ইহুদীরা সকলে প্রাচীনদের পরমপরাগত নিয়ম মান্য করায় ভাল করে হাত না ধুয়ে আহার করে না।
4 আর বাজার থেকে আসলে তারা গোসল না করে আহার করে না। এছাড়া তারা আরও অনেক বিষয় মানবার হুকুম পেয়েছে, যথা, ঘটি, ঘড়া ও ব্রোঞ্জের নানা পাত্র ইত্যাদি ধোয়া।
5 পরে ফরীশীরা ও আলেমেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমার সাহাবীরা কেন প্রাচীনদের পরমপরাগত নিয়ম অনুসারে চলে না, কিন্তু নাপাক হাতে আহার করে?
6 তিনি তাদেরকে বললেন, ভণ্ডরা, ইশাইয়া তোমাদের বিষয়ে সঠিক কথাই ভবিষ্যদ্বাণী বলেছেন, যেমন লেখা আছে,
“এই লোকেরা মুখেই আমার সম্মান
করে,
কিন্তু এদের অন্তঃকরণ আমার কাছ
থেকে দূরে থাকে।
7
এরা অনর্থক আমার এবাদত করে,
মানুষের আদেশমালা ধর্মসূত্র বলে শিক্ষা দেয়।”
8
তোমরা আল্লাহ্র হুকুম ত্যাগ করে মানুষের পরমপরাগত নিয়ম ধরে রয়েছ।
9
তিনি তাদেরকে আরও বললেন, তোমাদের পরমপরাগত নিয়ম পালনের জন্য তোমরা আল্লাহ্র হুকুম অমান্য করবার জন্য ভাল পথই তোমাদের আছে।
10 কেননা মূসা বলেছেন, “তুমি তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সম্মান কর,” আর, “যে কেউ পিতার বা মাতার নিন্দা করে, তার প্রাণদণ্ড হোক।”
11 কিন্তু তোমরা বলে থাক, মানুষ যদি পিতাকে কিংবা মাতাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে যা দিয়ে তোমার উপকার হতে পারতো, তা কোরবান, অর্থাৎ আল্লাহ্কে দেওয়া হয়েছে,’
12 তবে তোমরা তাকে পিতার বা মাতার জন্য আর কিছুই করতে দাও না।
13 এভাবে তোমাদের পরমপরাগত নিয়ম দ্বারা তোমরা আল্লাহ্র কালাম নিষ্ফল করছো; আর এই রকম অনেক কাজ করে থাক।
14
পরে তিনি লোকদেরকে পুনরায় কাছে ডেকে বললেন, তোমরা সকলে আমার কথা শোন ও বুঝ।
15 মানুষের বাইরে এমন কিছুই নেই, যা তার ভিতরে গিয়ে তাকে নাপাক করতে পারে;
16 কিন্তু যা কিছু মানুষ থেকে বের হয়, সে সবই মানুষকে নাপাক করে।
17
পরে তিনি লোকদের ছেড়ে বাড়ির ভিতরে আসলে পর তাঁর সাহাবীরা তাঁকে সেই দৃষ্টান্তটির অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন।
18 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরাও কি এমন অবোধ? তোমরা কি বোঝ না যে, যা কিছু বাইরে থেকে মানুষের ভিতরে যায়, তা তাকে নাপাক করতে পারে না?
19 তা তো তার অন্তরে প্রবেশ করে না, কিন্তু উদরে প্রবেশ করে এবং বহিঃস্থানে গিয়ে পড়ে। এই কথায় তিনি সমস্ত খাদ্যদ্রব্যকে পাক-পবিত্র বললেন।
20 তিনি আরও বললেন, মানুষ থেকে যা বের হয়, তা-ই মানুষকে নাপাক করে।
21 কেননা ভিতর থেকে, মানুষের অন্তঃকরণ থেকে, কুচিন্তা বের হয়— পতিতাগমন, চৌর্যবৃত্তি, খুন,
22 জেনা, লোভ, নাফরমানী, ছল, লমপটতা, কুদৃষ্টি, নিন্দা, অহংকার ও মূর্খতা;
23 এসব মন্দ বিষয় ভিতর থেকে বের হয় এবং মানুষকে নাপাক করে।
24
পরে তিনি উঠে সেই স্থান থেকে টায়ার ও সিডন অঞ্চলে গমন করলেন। আর তিনি একটি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, তিনি চাইলেন যেন কেউ জানতে না পারে তিনি কোথায় আছেন; কিন্তু গুপ্ত থাকতে পারলেন না।
25 কারণ তখনই এক জন স্ত্রীলোক, যার একটি মেয়ে ছিল, আর তাকে নাপাক রূহে পেয়েছিল, তাঁর বিষয় শুনতে পেয়ে এসে তাঁর পায়ে পড়লো।
26 স্ত্রীলোকটি গ্রীক, জাতিতে সুর-ফৈনীকী। সে তাঁর কাছে ফরিয়াদ করতে লাগল, যেন তিনি তার কন্যার বদ-রূহ্ ছাড়িয়ে দেন।
27 তিনি তাকে বললেন, প্রথমে সন্তানেরা তৃপ্ত হোক, কেননা সন্তানদের খাদ্য নিয়ে কুকুরদের কাছে ফেলে দেওয়া ভাল নয়।
28 কিন্তু স্ত্রীলোকটি জবাবে তাঁকে বললো, হ্যাঁ, প্রভু, আর কুকুরেরাও টেবিলের নিচে ছেলেদের খাদ্যের গুঁড়াগাঁড়া খায়।
29 তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার এই জবাবের জন্য, এখন গিয়ে দেখবে, তোমার কন্যার বদ-রূহ্ ছেড়ে গেছে।
30 পরে সে বাড়িতে গিয়ে দেখতে পেল, কন্যাটি বিছানায় শুয়ে আছে এবং বদ-রূহ্ বের হয়ে গেছে।
31
পরে তিনি টায়ার অঞ্চল থেকে বের হলেন এবং সিডন হয়ে দিকাপলি অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে গালীল-সাগরের কাছে আসলেন।
32 তখন লোকেরা এক জন বধির ও তোৎলাকে তাঁর কাছে এনে তাঁকে তার উপরে হাত রাখতে ফরিয়াদ করলো।
33 তিনি তাকে ভিড়ের মধ্য থেকে বিরলে এক পাশে এনে তার দুই কানে তাঁর আঙ্গুল দিলেন, থুথু ফেললেন ও তার জিহ্বা স্পর্শ করলেন।
34 আর তিনি আসমানের দিকে দৃষ্টি করে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে তাকে বললেন, ইপ্ফাথা, অর্থাৎ খুলে যাক।
35 তাতে তার কান খুলে গেল, জিহ্বার বন্ধন মুক্ত হল, আর সে স্পষ্ট কথা বলতে লাগল।
36 পরে তিনি তাদেরকে হুকুম করলেন, তোমরা এই কথা কাউকেও বলো না; কিন্তু তিনি যত বারণ করলেন, ততই তারা গভীর আগ্রহে আরও বেশি প্রচার করলো।
37 আর তারা ভীষণ চমৎকৃত হয়ে বললো, ইনি সকলই উত্তমরূপে করেছেন, ইনি বধিরদেরকে শুনবার শক্তি এবং বোবাদেরকে কথা বলবার শক্তি দান করেন।
1
সেই সময়ে যখন আবার লোকের ভিড় হল, আর তাদের কাছে কোন খাবার ছিল না, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে কাছে ডেকে বললেন,
2 এই লোকদের প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; কেননা এরা আজ তিন দিন আমার সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে এবং এদের কাছে কোন খাবার নেই।
3 আর আমি যদি এদেরকে অনাহারে বাড়িতে বিদায় করি, তবে এরা পথে মূর্চ্ছা পড়বে; আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ দূর থেকে এসেছে।
4 জবাবে তাঁর সাহাবীরা বললেন, এখানে মরুভূমির মধ্যে কে কোথা থেকে রুটি দিয়ে এসব লোককে তৃপ্ত করতে পারবে?
5 তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে কয়খানা রুটি আছে? তাঁরা বললেন, সাতখানা।
6 পরে তিনি লোকদেরকে ভূমিতে বসতে হুকুম করলেন এবং সেই সাতখানি রুটি নিয়ে শুকরিয়াপূর্বক ভেঙ্গে লোকদের সম্মুখে রাখার জন্য সাহাবীদেরকে দিতে লাগলেন; তাঁরা লোকদের সম্মুখে রাখলেন।
7 তাঁদের কাছে কয়েকটি ছোট ছোট মাছও ছিল, তিনি দোয়া করে সেগুলোও লোকদের সম্মুখে রাখতে বললেন।
8 তাতে লোকেরা আহার করে তৃপ্ত হল এবং তাঁরা অবশিষ্ট গুঁড়াগাঁড়া সাত ঝুড়ি তুলে নিলেন।
9 সেখানে কমবেশ চার হাজার লোক ছিল; পরে তিনি তাদেরকে বিদায় করলেন।
10 আর তখনই তিনি সাহাবীদের সঙ্গে নৌকায় উঠে দল্মনুথা প্রদেশে আসলেন।
11
পরে ফরীশীরা বাইরে এসে তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদ করতে লাগল, পরীক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে আসমান থেকে একটি চিহ্ন দেখতে চাইলো।
12 তখন তিনি রূহে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বললেন, এই কালের লোকেরা কেন চিহ্নের খোঁজ করে? আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এই লোকদেরকে কোন চিহ্ন-কাজ দেখানো যাবে না।
13 পরে তিনি তাদেরকে ছেড়ে আবার নৌকায় উঠে অন্য পারে গেলেন।
14
আর সাহাবীরা রুটি নিতে ভুলে গিয়েছিলেন, নৌকায় তাঁদের কাছে কেবল একখানি ছাড়া আর রুটি ছিল না।
15 পরে তিনি তাঁদেরকে হুকুম করলেন, সাবধান, তোমরা ফরীশীদের খামির বিষয়ে ও হেরোদের খামির বিষয়ে সাবধান থেকো।
16 তাতে তাঁরা পরস্পর তর্ক করে বলতে লাগলেন, আমাদের কাছে তো রুটি নেই।
17 তা বুঝে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের রুটি নেই বলে কেন তর্ক করছো? তোমরা কি এখনও কিছু জানতে পারছো না, বুঝতে পারছো না? তোমাদের অন্তঃকরণ কি কঠিন হয়ে রয়েছে?
18 চোখ থাকতে কি দেখতে পাও না? কান থাকতে কি শুনতে পাও না? আর মনেও কি পড়ে না?
19 আমি যখন পাঁচ হাজার লোকের মধ্যে পাঁচখানা রুটি ভেঙ্গে দিয়েছিলাম, তখন তোমরা গুঁড়াগাঁড়ায় ভরা কত ডালা তুলে নিয়েছিলে? তাঁরা বললেন, বারো ঝুড়ি।
20 আর যখন চার হাজার লোকের মধ্যে সাতখানা রুটি ভেঙ্গে দিয়েছিলাম, তখন গুঁড়াগাঁড়ায় ভরা কত ঝুড়ি তুলে নিয়েছিলে? তাঁরা বললেন, সাত ঝুড়ি।
21 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা কি এখনও বুঝতে পারছো না?
22
পরে তাঁরা বৈৎসৈদাতে আসলেন; আর লোকেরা এক জন অন্ধকে তাঁর কাছে এনে তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন তিনি তাকে স্পর্শ করেন।
23 তখন তিনি সেই অন্ধের হাত ধরে তাকে গ্রামের বাইরে নিয়ে গেলেন; পরে তার চোখে থুথু দিয়ে ও তার উপরে হাত রেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিছু দেখতে পাচ্ছ কি?
24 সে চোখ তুলে চাইলো ও বললো, মানুষ দেখছি, তারা গাছের মত দেখতে, হেঁটে বেড়াচ্ছে।
25 তখন তিনি তার চোখের উপরে আবার হাত রাখলেন, তাতে সে স্থির দৃষ্টিপাত করলো ও সুস্থ হল, স্পষ্টভাবে সকলই দেখতে পেল।
26 পরে তিনি তাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন, বললেন, এই গ্রামে প্রবেশ করো না।
27
পরে ঈসা ও তাঁর সাহাবীরা প্রস্থান করে সিজারিয়া-ফিলিপী অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে গেলেন। আর পথের মধ্যে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কে, এই বিষয়ে লোকে কি বলে?
28 তাঁরা তাঁকে বললেন, অনেকে বলে, আপনি বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া; আর কেউ কেউ বলে, আপনি ইলিয়াস; আর কেউ কেউ বলে, আপনি নবীদের মধ্যে এক জন।
29 তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তোমরা কি বল? আমি কে? পিতর জবাবে তাঁকে বললেন, আপনি সেই মসীহ্।
30 তখন তিনি তাঁর কথা কাউকেও বলতে তাঁদেরকে দৃঢ়ভাবে নিষেধ করে দিলেন।
31
পরে তিনি তাঁদেরকে এই শিক্ষা দিতে আরম্ভ করলেন যে, ইবনুল-ইনসানকে অনেক দুঃখ ভোগ করতে হবে এবং প্রাচীনবর্গ, প্রধান ইমাম ও আলেমদের কর্তৃক অগ্রাহ্য হতে হবে, নিহত হতে হবে, আর তিন দিন পরে আবার উঠতে হবে।
32 এই কথা তিনি স্পষ্টভাবেই বললেন। তাতে পিতর তাঁকে কাছে নিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন।
33 কিন্তু তিনি মুখ ফিরিয়ে তাঁর সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে পিতরকে অনুযোগ করলেন, বললেন, আমার সম্মুখ থেকে দূর হও, শয়তান; কেননা যা আল্লাহ্র তা নয়, কিন্তু যা মানুষের তা-ই তুমি ভাবছো।
34
পরে তিনি তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে লোকদেরকেও ডেকে বললেন, কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করতে ইচ্ছা করে, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলে নিক এবং আমার পিছনে আসুক।
35 কেননা যে কেউ আপন প্রাণ রক্ষা করতে ইচ্ছা করে, সে তা হারাবে; কিন্তু যে কেউ আমার এবং ইঞ্জিলের জন্য আপন প্রাণ হারায়, সে তা রক্ষা করবে।
36 বস্তুত মানুষ যদি সমুদয় দুনিয়া লাভ করে আপন প্রাণ খোয়ায়, তবে তার কি লাভ হবে?
37 কিংবা মানুষ আপন প্রাণের পরিবর্তে কি দিতে পরে?
38 কেননা যে কেউ এই কালের জেনাকারী ও গুনাহ্গার লোকদের মধ্যে আমাকে ও আমার কালামকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করে, তবে ইবনুল-ইনসান যখন পবিত্র ফেরেশতাদের সঙ্গে আপন পিতার প্রতাপে আসবেন তখন তিনি তাকে লজ্জার বিষয় বলে মনে করবেন।
1
আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েক জন আছে, যারা কোন মতে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না, যে পর্যন্ত আল্লাহ্র রাজ্য পরাক্রমের সঙ্গে আসতে না দেখে।
2
ছয় দিন পরে ঈসা কেবল পিতর, ইয়াকুব ও ইউহোন্নাকে সঙ্গে নিয়ে বিরলে একটি উঁচু পর্বতে গেলেন, আর তিনি তাঁদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন।
3 আর তাঁর পোশাক উজ্জ্বল এবং অতিশয় শুভ্রবর্ণ হল, দুনিয়ার কোন ধোপার পক্ষে সেরকম শুভ্রবর্ণ করা সম্ভব নয়।
4 আর ইলিয়াস ও মূসা তাঁদেরকে দেখা দিলেন; তাঁরা ঈসার সঙ্গে কথোপকথন করতে লাগলেন।
5 তখন পিতর ঈসাকে বললেন, রব্বি, এখানে আমাদের থাকা ভাল; আমরা তিনটি কুটির তৈরি করি, একটি আপনার জন্য, একটি মূসার জন্য এবং একটি ইলিয়াসের জন্য।
6 কারণ কি বলতে হবে, তা তিনি বুঝলেন না, কেননা তাঁরা ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন।
7 পরে একখানি মেঘ উপস্থিত হয়ে তাঁদেরকে ঢেকে ফেললো; আর সেই মেঘ থেকে এই বাণী হল, ‘ইনি আমার প্রিয় পুত্র, এঁর কথা শোন।’
8 পরে হঠাৎ তাঁরা চারদিকে দৃষ্টিপাত করে আর কাউকেও দেখতে পেলেন না, দেখলেন, কেবল একা ঈসা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
9
পর্বত থেকে নামবার সময়ে তিনি তাঁদেরকে দৃঢ় হুকুম দিয়ে বললেন, তোমরা যা যা দেখলে, তা কাউকেও বলো না, যতদিন মৃতদের মধ্য থেকে ইবনুল-ইনসান উত্থাপিত না হন।
10 তখন মৃতদের মধ্য থেকে উত্থান কি, তাঁরা এই বিষয় পরস্পর আলোচনা করে সেই কথা নিজেদের মধ্যে রেখে দিলেন।
11 পরে তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, বললেন, আলেমেরা তো বলেন, প্রথমে ইলিয়াসকে আসতে হবে।
12 তিনি তাঁদেরকে বললেন, ইলিয়াস প্রথমে এসে সকল বিষয় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন বটে; আর ইবনুল-ইনসানের বিষয়ে কিভাবেই বা লেখা রয়েছে যে, তাঁকে অনেক দুঃখ পেতে ও অবজ্ঞাত হতে হবে?
13 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলছি, ইলিয়াসের বিষয়ে যেমন লেখা আছে, সেই অনুসারে তিনি এসে গেছেন এবং লোকেরা তাঁর প্রতি যা ইচ্ছা তা-ই করেছে।
14
পরে তাঁরা সাহাবীদের কাছে এসে দেখলেন, তাঁদের চারদিকে অনেক লোক, আর আলেমেরা তাঁদের সঙ্গে বাদানুবাদ করছে।
15 তাঁকে দেখামাত্র সমস্ত লোক অতিশয় চমৎকৃত হল ও তাঁর কাছে দৌড়ে গিয়ে তাঁকে সালাম জানালো।
16 তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, এদের সঙ্গে তোমরা কোন্ বিষয়ে বাদানুবাদ করছো?
17 তাতে লোকদের মধ্যে এক জন জবাবে বললো, হুজুর, আমার পুত্রটিকে আপনার কাছে এনেছিলাম, তাকে বোবা রূহে পেয়েছে;
18 আর সেটি তাকে যেখানে ধরে, সেখানে আছাড় মারে, আর তার মুখে ফেনা উঠে এবং সে দাঁত কিড়মিড় করে, আর শক্ত হয়ে যায়; আমি আপনার সাহাবীদেরকে তা ছাড়াতে বললাম, কিন্তু তাঁরা পারলেন না।
19 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, হে অবিশ্বাসী বংশ, আমি কত কাল তোমাদের কাছে থাকব? কত কাল তোমাদের প্রতি সহিষ্ণুতা করবো? ওকে আমার কাছে আন।
20 তারা তাকে তাঁর কাছে আনলো; তাঁকে দেখামাত্র সেই রূহ্ তাকে অতিশয় মুচড়ে ধরলো। সে ভূমিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল আর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে লাগল।
21 তখন তিনি তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কতদিন হল তার এই রকম হয়েছে?” সে বললো, ছেলে বেলা থেকে;
22 আর সেই রূহ্ একে বিনাশ করার জন্য অনেক বার আগুনে ও অনেক বার পানিতে ফেলে দিয়েছে; কিন্তু আপনি যদি কিছু করতে পারেন, তবে আমাদের প্রতি রহম করে উপকার করুন।
23 ঈসা তাকে বললেন, যদি পারেন! — যে ঈমান আনে, তার পক্ষে সকলই সম্ভব।
24 অমনি সেই বালকের পিতা চেঁচিয়ে কেঁদে কেঁদে বললো, ঈমান এনেছি; আমার মধ্যে যে অবিশ্বাস রয়েছে তা দূর করে দিন।
25 পরে লোকেরা এক সঙ্গে দৌড়ে আসছে দেখে ঈসা সেই নাপাক রূহ্কে ধমক দিয়ে বললেন, হে বধির বোবা রূহ্, আমিই তোমাকে হুকুম দিচ্ছি, এর মধ্য থেকে বের হও, আর কখনও এর মধ্যে প্রবেশ করো না।
26 তখন সে চেঁচিয়ে তাকে অতিশয় মুচড়ে ধরলো এবং বের হয়ে গেল; তাতে বালকটি মরার মত হয়ে পড়লো; এমন কি অধিকাংশ লোক বললো, সে মারা গেছে।
27 কিন্তু ঈসা তার হাত ধরে তাকে তুললে সে উঠলো।
28 পরে তিনি বাড়িতে আসলে তাঁর সাহাবীরা গোপনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা কেন সেটা ছাড়াতে পারলাম না?
29 তিনি বললেন, মুনাজাত ছাড়া আর কিছুতেই এই জাতি বের হয় না।
30
সেই স্থান থেকে প্রস্থান করে তাঁরা গালীলের মধ্য দিয়ে গমন করলেন, আর তিনি চাইলেন যেন কেউ তা জানতে পায়।
31 কেননা তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে উপদেশ দিয়ে বলতেন, ইবনুল-ইনসানকে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে; তারা তাঁকে হত্যা করবে; তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পরে তিনি আবার উঠবেন।
32 কিন্তু তাঁরা সেই কথা বুঝলেন না এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেও ভয় করলেন।
33
পরে তাঁরা কফরনাহূমে আসলেন, আর বাড়ির মধ্যে উপস্থিত হলে তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, পথে তোমরা কোন্ বিষয়ে তর্কবিতর্ক করছিলে?
34 তাঁরা চুপ করে রইলেন, কারণ কে শ্রেষ্ঠ, পথে পরস্পর এই বিষয়ে বাদানুবাদ করেছিলেন।
35 তখন তিনি বসে সেই বারো জনকে ডেকে বললেন, কেউ যদি প্রথম হতে ইচ্ছা করে, তবে সে সকলের শেষে থাকবে ও সকলের পরিচারক হবে।
36 পরে তিনি একটি শিশুকে নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং তাকে কোলে করে তাঁদেরকে বললেন,
37 যে কেউ আমার নামে এর মত কোন শিশুকে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে, আর যে কেউ আমাকে গ্রহণ করে, সে আমাকে নয়, কিন্তু যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, তাঁকেই গ্রহণ করে।
38
ইউহোন্না তাঁকে বললেন, হুজুর, আমরা এক ব্যক্তিকে আপনার নামে বদ-রূহ্ ছাড়াতে দেখেছিলাম, আর তাকে বারণ করেছিলাম, কারণ সে আমাদের অনুসরণ করে না।
39 কিন্তু ঈসা বললেন, তাকে বারণ করো না কারণ এমন কেউ নেই, যে আমার নামে কুদরতি-কাজ করে কেউ ফিরে আমার নিন্দা করতে পারে।
40 কারণ যে কেউ আমাদের বিপক্ষ নয়, সে আমাদের সপক্ষ।
41 বাস্তবিক যে কেউ তোমাদেরকে মসীহের লোক বলে এক বাটি পানি পান করতে দেয়, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, সে কোন মতে তার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে না।
42
আর এই যে ছোটরা আমার উপর ঈমান আনে, যদি তোমাদের কেউ তাদের সম্মুখে এমন কোন বাধা স্থাপন করে যাতে তারা উচোট খায়, তবে বরং তার গলায় বড় যাঁতা বেঁধে তাকে সাগরে ফেলে দিলেও তার পক্ষে ভাল।
43 আর তোমার হাত যদি তোমাকে গুনাহের পথে নিয়ে যায়, তবে তা কেটে ফেল;
44 দুই হাত নিয়ে দোজখে, সেই অনির্বাণ আগুনে যাওয়ার চেয়ে বরং নুলা হয়ে জীবনে প্রবেশ করা তোমার পক্ষে ভাল।
45 আর তোমার পা যদি তোমাকে গুনাহের পথে নিয়ে যায়, তবে তা কেটে ফেল;
46 দুই পা নিয়ে দোজখে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং খোঁড়া হয়ে জীবনে প্রবেশ করা তোমার পক্ষে ভাল।
47 আর তোমার চোখ যদি তোমাকে গুনাহের পথে নিয়ে যায়, তবে তা উপড়ে ফেল; দুই চোখ নিয়ে দোজখে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং একটি চোখ নিয়ে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করা তোমার পক্ষে ভাল;
48 দোজখে তো লোকদের কীট মরে না এবং আগুন নিভে যায় না।
49
বস্তুতঃ প্রত্যেক ব্যক্তিকে আগুনরূপ লবণে লবণাক্ত করা যাবে।
50 লবণ ভাল, কিন্তু লবণ যদি লবণত্ব হারায়, তবে তোমরা কিসে তা আস্বাদযুক্ত করবে? তোমরা নিজ নিজ অন্তরে লবণ রাখ এবং পরস্পর শান্তিতে থাক।
1
সেই স্থান থেকে উঠে তিনি এহুদিয়ার অঞ্চলে ও জর্ডান নদীর অপর পারে আসলেন; তাতে তাঁর কাছে আবার লোক সমাগত হতে লাগল এবং তিনি নিজের রীতি অনুসারে আবার তাদেরকে উপদেশ দিলেন।
2 তখন ফরীশীরা কাছে এসে পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, স্ত্রী পরিত্যাগ করা কি পুরুষের পক্ষে উচিত?
3 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, মূসা তোমাদেরকে কি হুকুম দিয়েছেন?
4 তারা বললো, তালাক-নামা লিখে আপন স্ত্রীকে তালাক দেবার অনুমতি মূসা দিয়েছেন।
5
ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমাদের অন্তঃকরণ কঠিন বলে তিনি এই বিধি লিখেছেন;
6 কিন্তু সৃষ্টির আদি থেকে আল্লাহ্ পুরুষ ও স্ত্রী করে তাদেরকে নির্মাণ করেছেন;
7 “এই কারণে মানুষ তার পিতা-মাতাকে ত্যাগ করে আপন স্ত্রীতে আসক্ত হবে,
8 আর সে দু’জন একাঙ্গ হবে;” সুতরাং তারা আর দুই নয়, কিন্তু একাঙ্গ।
9 অতএব আল্লাহ্ যার যোগ করে দিয়েছেন, মানুষ তার বিয়োগ না করুক।
10
পরে সাহাবীরা বাড়িতে আবার সেই বিষয় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন।
11 তিনি তাঁদেরকে বললেন, যে কেউ আপন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য স্ত্রীকে বিয়ে করে, সে তার বিরুদ্ধে জেনা করে;
12 আর স্ত্রী যদি আপন স্বামীকে পরিত্যাগ করে আর এক জনকে বিয়ে করে, তবে সেও জেনা করে।
13
পরে লোকেরা কতগুলো শিশুকে তাঁর কাছে আনলো, যেন তিনি তাদেরকে স্পর্শ করেন; তাতে সাহাবীরা তাদেরকে ভর্ৎসনা করলেন।
14 কিন্তু ঈসা তা দেখে অসন্তুষ্ট হলেন, আর তাঁদেরকে বললেন, শিশুদেরকে আমার কাছে আসতে দাও, বারণ করো না; কেননা আল্লাহ্র রাজ্য এদের মত লোকদেরই।
15 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে ব্যক্তি শিশুর মত হয়ে আল্লাহ্র রাজ্য গ্রহণ না করে, সে কোন মতে তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
16 পরে তিনি তাদেরকে কোলে নিলেন ও তাদের উপরে হাত রেখে দোয়া করলেন।
17
পরে তিনি বের হয়ে পথে যাচ্ছেন, এমন সময়ে এক জন দৌড়ে এসে তাঁর সম্মুখে হাঁটু পেতে জিজ্ঞাসা করলো, হে সৎ ওস্তাদ, অনন্ত জীবনের অধিকারী হবার জন্য আমি কি করবো?
18 ঈসা তাকে বললেন, আমাকে সৎ কেন বলছো? এক জন ছাড়া সৎ আর কেউ নেই, তিনি আল্লাহ্।
19 তুমি হুকুমগুলো জানো, “নরহত্যা করো না, জেনা করো না, চুরি করো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না, প্রবঞ্চনা করো না, তোমার পিতামাতাকে সমাদর কোরো”।
20 সেই বক্তি তাঁকে বললো, হুজুর, বাল্যকাল থেকে এসব আমি পালন করে আসছি।
21 ঈসা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে মহব্বতে পূর্ণ হয়ে তাকে বললেন, একটি বিষয়ে তোমার ত্রুটি আছে, যাও, তোমার যা কিছু আছে বিক্রি করে দরিদ্রদেরকে দান কর, তাতে বেহেশতে ধন পাবে; আর এসো, আমার অনুসারী হও।
22 এই কথায় সে বিষণ্ন হল, দুঃখিত হয়ে চলে গেল, কারণ তার বিস্তর সম্পত্তি ছিল।
23
তখন ঈসা চারদিকে দৃষ্টিপাত করে তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, যাদের ধন আছে, তাদের পক্ষে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন দুষ্কর!
24 তাঁর কথায় সাহাবীরা আশ্চর্য হলেন; কিন্তু ঈসা পুনর্বার তাঁদেরকে বললেন, বৎসরা, যারা ধনের উপর নির্ভর করে, আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করা তাদের পক্ষে কেমন দুষ্কর!
25 আল্লাহ্র রাজ্যে ধনবানের প্রবেশ করার চেয়ে বরং সূচের ছিদ্র দিয়ে উটের যাওয়া সহজ।
26 তখন তাঁরা অতিশয় আশ্চর্য হয়ে বললেন, তবে কে নাজাত পেতে পারে?
27 ঈসা তাঁদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, এটা মানুষের পক্ষে অসম্ভব বটে, কিন্তু আল্লাহ্র পক্ষে অসম্ভব নয়, কারণ আল্লাহ্র পক্ষে সকলই সম্ভব।
28
তখন পিতর তাঁকে বলতে লাগলেন, দেখুন, আমরা সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করে আপনার অনুসারী হয়েছি।
29 ঈসা বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এমন কেউ নেই, যে আমার জন্য ও সুসমাচারের জন্য তার বাড়ি বা ভাই-বোন বা পিতা-মাতা বা সন্তান-সন্ততি বা জায়গা-জমি ত্যাগ করেছে, কিন্তু এখন ইহকালে তার শতগুণ না পাবে;
30 সে বাড়ি, ভাই-বোন, মা, সন্তান-সন্তুতি ও জায়গা-জমি, নির্যাতনের সঙ্গে এসব পাবে এবং আগামী যুগে অনন্ত জীবন পাবে।
31 কিন্তু যারা প্রথম, এমন অনেক লোক শেষে পড়বে ও যারা শেষের, তারা প্রথম হবে।
32
একবার তাঁরা পথে ছিলেন, জেরুশালেমে যাচ্ছিলেন এবং ঈসা তাদের আগে আগে চলছিলেন, তখন তাঁরা আশ্চর্য হলেন আর যাঁরা পিছনে চলছিলেন, তাঁরা ভয় পেলেন। পরে তিনি আবার সেই বারো জনকে নিয়ে নিজের প্রতি যা যা ঘটবে, তা তাঁদেরকে বলতে লাগলেন।
33 তিনি বললেন, দেখ, আমরা জেরুশালেমে যাচ্ছি, আর ইবনুল-ইনসানকে প্রধান ইমাম ও আলেমদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে; তারা তাঁর প্রাণদণ্ড বিধান করবে এবং অ-ইহুদীদের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হবে।
34 আর তারা তাঁকে বিদ্রূপ করবে, তাঁর মুখে থুথু দেবে, তাঁকে কশাঘাত করবে ও হত্যা করবে; আর তিন দিন পরে তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন।
35
পরে সিবদিয়ের দুই পুত্র, ইয়াকুব ও ইউহোন্না, তাঁর কাছে এসে বললেন, হুজুর, আমাদের বাসনা এই, আমরা আপনার কাছে যা যাচ্ঞা করবো, আপনি তা আমাদের জন্য করুন।
36 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের বাসনা কি? তোমাদের জন্য আমি কি করবো?
37 তাঁরা বললেন, আমাদেরকে এই বর দান করুন, যেন আপনি যখন মহিমা লাভ করবেন তখন আমরা এক জন আপনার ডান পাশে, আর এক জন বাম পাশে বসতে পারি।
38 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা কি যাচ্ঞা করছো, তা বোঝ না। আমি যে পাত্রে পান করি, তাতে কি তোমরা পান করতে পার এবং আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নেই, তাতে কি তোমরা বাপ্তিস্ম নিতে পার?
39 তাঁরা বললেন, পারি। ঈসা তাঁদেরকে বললেন, আমি যে পাত্রে পান করি, তাতে তোমরা পান করবে এবং আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নেই, তাতে তোমরাও বাপ্তিস্ম নেবে;
40 কিন্তু যাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের ছাড়া আর কাউকেও আমার ডান পাশে বা বাম পাশে বসতে দিতে আমার অধিকার নেই।
41
এই কথা শুনে অন্য দশ জন ইয়াকুব ও ইউহোন্নার প্রতি বিরক্ত হতে লাগলেন।
42 কিন্তু ঈসা তাঁদেরকে কাছে ডেকে বললেন, তোমরা জান, জাতিদের মধ্যে যারা শাসনকর্তা বলে গণ্য, তারা তাদের উপরে প্রভুত্ব করে এবং তাদের মধ্যে যারা মহান, তারা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করে।
43 তোমাদের মধ্যে সেরকম হওয়া উচিত নয়; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ মহান হতে চায়, সে তোমাদের পরিচারক হবে;
44 এবং তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, সে সকলের গোলাম হবে।
45 কারণ বাস্তবিক ইবনুল-ইনসানও পরিচর্যা পেতে আসেন নি, কিন্তু পরিচর্যা করতে এবং অনেকের পরিবর্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে এসেছেন।
46
পরে তাঁরা জেরিকোতে আসলেন। আর তিনি যখন তাঁর সাহাবীদের ও বিস্তর লোকের সঙ্গে জেরিকো থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, তখন তীময়ের পুত্র বর্তীময় নামে এক জন অন্ধ ভিক্ষুক পথের পাশে বসেছিল।
47 সে যখন শুনতে পেল তিনি নাসরতীয় ঈসা, তখন চেঁচিয়ে বলতে লাগল, হে ঈসা, দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি করুণা করুন।
48 তখন অনেক লোক চুপ চুপ বলে তাকে ধমক্ দিল; কিন্তু সে আরও বেশি চেঁচিয়ে বলতে লাগল, হে দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি করুণা করুন।
49 তখন ঈসা থেমে বললেন, ওকে ডাক; তাতে লোকেরা সেই অন্ধকে ডেকে বললো, ওহে, সাহস কর, উঠ, উনি তোমাকে ডাকছেন।
50 তখন সে তার কাপড় ফেলে লাফ দিয়ে উঠে ঈসার কাছে গেল।
51 ঈসা তাকে বললেন, তুমি কি চাও? আমি তোমার জন্য কি করবো? অন্ধ তাঁকে বললো, রব্বূণী (হে আমার হুজুর), যেন দেখতে পাই।
52 ঈসা তাকে বললেন, চলে যাও, তোমার ঈমান তোমাকে সুস্থ করলো। তখনই সে দেখতে পেল এবং পথ দিয়ে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল।
1
পরে যখন তাঁরা জেরুশালেমের নিকটবর্তী হয়ে জৈতুন পর্বতে বৈৎফগী ও বৈথনিয়া গ্রামে আসলেন, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্যে দুই জনকে পাঠিয়ে দিলেন,
2 তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের সম্মুখে ঐ গ্রামে যাও; সেখানে প্রবেশ করা মাত্র একটি গাধার বাচ্চা বাঁধা দেখতে পাবে, যার উপরে কোন মানুষ কখনও বসে নি; সেটিকে খুলে আন।
3 আর যদি কেউ তোমাদেরকে বলে, এই কাজ কেন করছো? তবে বলো, এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে; তাতে সে তৎক্ষণাৎ সেটিকে এখানে পাঠিয়ে দেবে।
4 তখন তাঁরা গিয়ে দেখতে পেলেন, একটি গাধার বাচ্চা একটি দরজার কাছে, বাইরে রাস্তায় বাঁধা রয়েছে, আর তা খুলতে লাগলেন।
5 তাতে যারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, গাধার বাচ্চাটিকে খুলে কি করছো?
6 তাতে ঈসা যেমন বলেছিলেন, তাঁরা ওদেরকে সেই মত বললেন, আর ওরা তাঁদেরকে সেটি নিয়ে যেতে দিল।
7 পরে তাঁরা সেই গাধার বাচ্চাটিকে ঈসার কাছে এনে তার উপরে তাঁদের কাপড় পেতে দিলেন; আর তিনি তার উপরে বসলেন।
8 তখন অনেকে নিজ নিজ কাপড় পথে পেতে দিল ও অন্যেরা ক্ষেত থেকে ডালপালা কেটে পথে ছড়িয়ে দিল।
9 আর যেসব লোক সামনে ও পিছনে যাচ্ছিল, তারা চিৎকার করে বলতে লাগল,
হোশান্না! ধন্য তিনি,
যিনি প্রভুর নামে আসছেন!
10
ধন্য যে রাজ্য আসছে,
আমাদের পিতা দাউদের রাজ্য;
ঊর্ধ্বলোকে হোশান্না।
11
পরে তিনি জেরুশালেমে প্রবেশ করে বায়তুল-মোকাদ্দসে গেলেন, আর চারদিকে দৃষ্টিপাত করে সকলই দেখে বেলা অবসান হওয়াতে সেই বারো জনের সঙ্গে বের হয়ে বৈথনিয়াতে গমন করলেন।
12
পরের দিন তাঁরা বৈথনিয়া থেকে বের হয়ে আসলে পর তিনি ক্ষুধার্ত হলেন;
13 এবং দূর থেকে পাতায় ঢাকা একটি ডুমুর গাছ দেখে, হয়তো তা থেকে কিছু ফল পাবেন বলে কাছে গেলেন; কিন্তু কাছে গেলে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না; কেননা তখন ডুমুর ফলের সময় ছিল না।
14 তিনি গাছটিকে বললেন, এখন থেকে কেউ কখনও তোমার ফল ভোজন না করুক। এই কথা তাঁর সাহাবীরা শুনতে পেলেন।
15
পরে তাঁরা জেরুশালেমে আসলেন, আর তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে গিয়ে, যারা বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় করছিল, তাদেরকে বের করে দিতে লাগলেন এবং মহাজনদের টেবিল ও যারা কবুতর বিক্রি করছিল, তাদের আসনগুলো উল্টিয়ে ফেললেন।
16 আর বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্য দিয়ে কাউকেও কোন পাত্র নিয়ে যেতে দিলেন না।
17 আর তিনি উপদেশ দিয়ে তাদেরকে বললেন, এই কথা কি লেখা নেই, “আমার বাড়িকে সর্বজাতির মুনাজাতের গৃহ বলা হবে?” কিন্তু তোমরা এটিকে “দস্যুদের গহ্বর” করে তুলেছো।
18 এই কথা শুনে প্রধান ইমাম ও আলেমেরা কিভাবে তাঁকে বিনষ্ট করা যায় তারই উপায় খোঁজ করতে লাগল; কেননা তারা তাঁকে ভয় করতো, কারণ তাঁর উপদেশে সমস্ত লোক চমৎকৃত হয়েছিল।
19 আর সন্ধ্যা হলে ঈসা ও তাঁর সাহাবীরা নগরের বাইরে চলে গেলেন।
20
খুব ভোরে তাঁরা যেতে যেতে দেখলেন, সেই ডুমুরগাছটি সমূলে শুকিয়ে গেছে।
21 তখন পিতর আগের কথা স্মরণ করে তাঁকে বললেন, রব্বি, দেখুন, আপনি যে ডুমুরগাছটিকে বদদোয়া দিয়েছিলেন, সেটি শুকিয়ে গেছে।
22 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, আল্লাহ্র উপরে ঈমান রাখ।
23 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে কেউ এই পর্বতকে বলে, ‘উপড়ে গিয়ে সাগরে গিয়ে পড়,’ এবং মনে মনে সন্দেহ না করে, কিন্তু বিশ্বাস করে যে, যা বলে তা ঘটবে, তবে তার জন্য তা-ই হবে।
24 এজন্য আমি তোমাদেরকে বলি, যা কিছু তোমরা মুনাজাতের সময় যাচ্ঞা কর, বিশ্বাস করো যে, তা পেয়েছো, তাতে তোমাদের জন্য তা-ই হবে।
25
আর তোমরা যখনই মুনাজাত করতে দাঁড়াও, যদি কারো বিরুদ্ধে তোমাদের কোন কথা থাকে, তাকে মাফ করো;
26 যেন তোমাদের বেহেশতী পিতাও তোমাদের অপরাধগুলো মাফ করেন।
27
পরে তাঁরা আবার জেরুশালেমে আসলেন; আর তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে বেড়াচ্ছিলেন, এমন সময়ে প্রধান ইমামেরা, আলেমেরা ও প্রাচীনবর্গরা তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললো,
28 তুমি কি ক্ষমতায় এসব করছো? এসব করতে তোমাকে এই ক্ষমতা কেই বা দিয়েছে?
29 ঈসা তাদেরকে বললেন, আমিও তোমাদেরকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করবো, আমাকে উত্তর দাও, তা হলে আমি তোমাদেরকে বলবো, কি ক্ষমতায় এসব করছি।
30 ইয়াহিয়া বাপ্তিস্ম দেবার অধিকার বেহেশত থেকে পেয়েছিলেন, না মানুষ থেকে? আমাকে উত্তর দাও।
31 তখন তারা পরস্পর আলোচনা করে বললো, যদি বলি, বেহেশত থেকে, তা হলে সে বলবে, তবে তোমরা তাঁর উপর ঈমান আনো নি কেন?
32 আবার যদি বলি, মানুষের কাছ থেকে, তবে? তারা লোকসাধারণকে ভয় করতো, কারণ সকলে ইয়াহিয়াকে সত্যিই নবী বলে মানতো।
33 অতএব তারা ঈসাকে এই উত্তর দিল, আমরা জানি না। তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, তবে আমিও কি ক্ষমতায় এসব করছি, তা তোমাদেরকে বলবো না।
1
পরে তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা তাদের কাছে কথা বলতে লাগলেন। এক ব্যক্তি আঙ্গুর-ক্ষেত করে তার চারদিকে বেড়া দিলেন, আঙ্গুর প্রেষণের জন্য কুণ্ড খনন করলেন এবং উঁচু পাহারা-ঘর নির্মাণ করলেন; আর কৃষকদেরকে তা ইজারা দিয়ে অন্য দেশে চলে গেলেন।
2 পরে কৃষকদের কাছে আঙ্গুর-ক্ষেতের ফলের অংশ পাবার জন্য তাদের কাছে উপযুক্ত সময়ে এক জন গোলামকে পাঠিয়ে দিলেন;
3 তারা তাকে ধরে প্রহার করলো ও খালি হাতে বিদায় করে দিল।
4 আবার তিনি তাদের কাছে আর এক জন গোলামকে পাঠালেন; তারা তার মাথায় আঘাত করলো ও অপমান করলো।
5 পরে তিনি আর এক জনকে পাঠালেন; তারা তাকে হত্যা করলো এবং আরও অনেকের মধ্যে কাউকেও প্রহার, কাউকেও বা হত্যা করলো।
6 তখন তাঁর আর এক জন মাত্র ছিলেন, তিনি প্রিয়তম পুত্র; তিনি তাদের কাছে শেষে তাঁকেই পাঠালেন, বললেন, তারা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।
7 কিন্তু কৃষকেরা পরস্পর বললো, এই তো উত্তরাধিকারী, এসো, আমরা একে হত্যা করি, তাতে অধিকার আমাদেরই হবে।
8 পরে তারা তাঁকে ধরে হত্যা করলো এবং আঙ্গুর-ক্ষেতের বাইরে ফেলে দিল।
9 সেই আঙ্গুর-ক্ষেতের মালিক কি করবেন? তিনি এসে সেই কৃষকদেরকে বিনষ্ট করবেন এবং ক্ষেত অন্য লোকদেরকে দেবেন।
10 তোমরা কি পাক-কিতাবের এই কালাম পাঠ কর নি,
“যে পাথর রাজমিস্ত্রিরা অগ্রাহ্য করেছে,
তা-ই কোণের প্রধান পাথর হয়ে
উঠলো;
11
এটা প্রভু হতেই হয়েছে,
আর আমাদের দৃষ্টিতে অদ্ভুত লাগে”?
12
তখন তারা তাঁকে ধরতে চেষ্টা করলো, কেননা তারা বুঝেছিল যে, তিনি তাদেরই বিষয়ে সেই দৃষ্টান্ত বলেছিলেন; কিন্তু তারা লোকসাধারণকে ভয় করতো বলে তাঁকে পরিত্যাগ করে চলে গেল।
13
পরে তারা কয়েকজন ফরীশী ও হেরোদীয়কে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিল, যেন তারা তাঁকে কথার ফাঁদে ধরতে পারে।
14 তারা এসে তাঁকে বললো, হুজুর, আমরা জানি, আপনি সৎ এবং কারো বিষয়ে ভীত নন; কারণ আপনি মানুষের মুখাপেক্ষা করেন না, কিন্তু সত্যরূপে আল্লাহ্র পথের বিষয় শিক্ষা দিচ্ছেন; সীজারকে কি কর দেওয়া উচিত?
15 আমরা কর দেব কি দেব না? তিনি তাদের কপটতা বুঝে বললেন, আমাকে কেন পরীক্ষা করছো? একটি দীনার এনে দাও, আমি দেখি।
16 তারা একটি দীনার আনলো; তিনি তাদেরকে বললেন, এই ছবি ও এই নাম কার? তারা বললো, সম্রাটের।
17 ঈসা তাদেরকে বললেন, সম্রাটের যা যা তা সম্রাটকে দাও, আর আল্লাহ্র যা তা আল্লাহ্কে দাও। তখন তারা তাঁর বিষয়ে অতিশয় আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
18
পরে সদ্দূকীরা— যারা বলে, পুনরুত্থান নেই— তাঁর কাছে আসল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো,
19 হুজুর, মূসা আমাদের জন্য লিখেছেন, কারো ভাই যদি স্ত্রী রেখে মারা যায়, আর তার সন্তান না থাকে, তবে তার ভাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করে আপন ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করবে।
20 ভাল, তারা সাত ভাই ছিল; প্রথম জন এক জন স্ত্রীকে বিয়ে করলো, আর সে সন্তান না রেখে মারা গেল।
21 পরে দ্বিতীয় জন তাকে বিয়ে করলো, কিন্তু সেও সন্তান না রেখে মারা গেল;
22 তৃতীয় জনও তেমনি। এভাবে সাত জনই কোন সন্তান রেখে যায় নি; সকলের শেষে সেই স্ত্রীও মারা গেল।
23 পুনরুত্থান দিনে যখন তারা উঠবে, সে তাদের মধ্যে কার স্ত্রী হবে? তারা সাত জনই তো তাকে বিয়ে করেছিল।
24
ঈসা তাদেরকে বললেন, এটা-ই কি তোমাদের ভ্রান্তির কারণ নয় যে, তোমরা না জান পাক-কিতাব, না জান আল্লাহ্র পরাক্রম?
25 মৃতদের মধ্য থেকে উঠলে পর লোকেরা তো বিয়ে করে না এবং বিবাহিতাও হয় না, বরং বেহেশতে ফেরেশতাদের মত থাকে।
26 কিন্তু মৃতদের বিষয়ে, তারা যে উত্থিত হয়, এই বিষয়ে মূসার কিতাবে ঝোপের ঘটনায় আল্লাহ্ তাঁকে কিরূপ বলেছিলেন, তা কি তোমরা পাঠ কর নি? তিনি বলেছিলেন, “আমি ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্।”
27 তিনি মৃতদের আল্লাহ্ নন, কিন্তু জীবিতদের। তোমরা বড়ই ভ্রান্তিতে পড়েছ।
28
আর আলেমদের এক জন কাছে এসে তাদেরকে তর্ক বিতর্ক করতে শুনে এবং ঈসা তাদেরকে বিলক্ষণ উত্তর দিয়েছেন জেনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, সকল হুকুমের মধ্যে কোন্টি প্রথম?
29 জবাবে ঈসা বললেন, প্রথমটি এই, “হে ইসরাইল, শোন; আমাদের আল্লাহ্ প্রভু একই প্রভু;
30 আর তুমি তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার আল্লাহ্ প্রভুকে মহব্বত করবে।”
31 দ্বিতীয়টি এই, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে।” এই দু’টি হুকুম থেকে বড় আর কোন হুকুম নেই।
32 আলেম তাঁকে বললো, বেশ, হুজুর, আপনি সত্যি বলেছেন যে, তিনি এক এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই;
33 আর সমস্ত অন্তঃকরণ, সমস্ত বুদ্ধি ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তাঁকে মহব্বত করা এবং প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করা সমস্ত পোড়ানো-কোরবানী ও অন্যান্য কোরবানী থেকে শ্রেষ্ঠ।
34 তখন সে বুদ্ধিপূর্বক উত্তর দিয়েছে দেখে ঈসা তাকে বললেন, আল্লাহ্র রাজ্য থেকে তুমি খুব দূরে নও। এর পরে তাঁকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে আর কারো সাহস হল না।
35
আর বায়তুল-মোকাদ্দসে উপদেশ দেবার সময়ে ঈসা প্রসঙ্গ করে বললেন, আলেমেরা কেমন করে বলে যে, মসীহ্ দাউদের সন্তান?
36 দাউদ নিজেই তো পাক-রূহের আবেশে এই কথা বলেছেন,
“প্রভু আমার প্রভুকে বললেন,
তুমি আমার ডান দিকে বস,
যতদিন তোমার দুশমনদেরকে
তোমার পায়ের তলায় না রাখি।”
37
দাউদ নিজেই তো তাঁকে প্রভু বলেন, তবে তিনি কিভাবে তাঁর সন্তান হলেন? আর সাধারণ লোকে আনন্দপূর্বক তাঁর কথা শুনতো।
38
আর তিনি তাঁর উপদেশের মধ্যে তাদেরকে বললেন, আলেমদের থেকে সাবধান, তারা লম্বা লম্বা কোর্তা পরে বেড়াতে চায় এবং হাট বাজারে লোকদের কাছ থেকে সালাম পেতে চায়,
39 মজলিস-খানায় প্রধান প্রধান আসন এবং ভোজে প্রধান প্রধান স্থান ভালবাসে।
40 এই যে লোকেরা বিধবাদের বাড়িসুদ্ধ গ্রাস করে, আর লোক দেখাবার লম্বা লম্বা মুনাজাত করে, এরা বিচারে আরও বেশি দণ্ড পাবে।
41
আর তিনি ভাণ্ডারের সম্মুখে বসে, লোকেরা ভাণ্ডারের মধ্যে কিভাবে টাকা-পয়সা রাখছে, তা দেখছিলেন। তখন অনেক ধনবান তার মধ্যে বিস্তর টাকা-পয়সা রাখল।
42 পরে একটি দরিদ্রা বিধবা এসে দু’টি ক্ষুদ্র মুদ্রা তাতে রাখল, যার মূল্য সিকি পয়সা।
43 তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে কাছে ডেকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, ভাণ্ডারে যারা মুদ্রা রাখছে, তাদের সকলের চেয়ে এই দরিদ্র বিধবা বেশি রাখল;
44 কেননা অন্য সকলে নিজ নিজ অতিরিক্ত ধন থেকে কিছু কিছু রেখেছে, কিন্তু সে নিজের অভাব থাকলেও বেঁচে থাকবার জন্য তার যা ছিল, সমস্তই রাখল।
1
পরে ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বাইরে যাবার সময়ে তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক জন তাঁকে বললেন, হুজুর, দেখুন, কেমন পাথর ও কত বড় দালান!
2 ঈসা তাঁকে বললেন, তুমি কি এসব বড় বড় দালান দেখছো? এর একটি পাথর আর একটি পাথরের উপরে থাকবে না, সকলই ভূমিসাৎ হবে।
3
পরে তিনি জৈতুন পর্বতে বায়তুল-মোকাদ্দসের উল্টো দিকে বসলে পর পিতর, ইয়াকুব, ইউহোন্না ও আন্দ্রিয় বিরলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,
4 আমাদেরকে বলুন দেখি, এসব ঘটনা কখন হবে? আর এই সমস্ত কিছু পূর্ণ হবার সময়ের চিহ্নই বা কি?
5 ঈসা তাঁদেরকে বলতে লাগলেন, দেখো কেউ যেন তোমাদেরকে না ভুলায়।
6 অনেকে আমার নাম ধরে আসবে, বলবে, আমিই সেই, আর অনেক লোককে ভুলাবে।
7 কিন্তু তোমরা যখন যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের জনরব শুনবে, তখন ব্যাকুল হয়ো না; এসব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও শেষ নয়।
8 কারণ জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠবে। স্থানে স্থানে ভূমিকমপ হবে; দুর্ভিক্ষ হবে; এসব যাতনার আরম্ভ মাত্র।
9
তোমরা নিজেদের বিষয়ে সাবধান থেকো। লোকে তোমাদেরকে বিচার-সভার লোকদের হাতে তুলে দেবে এবং মজলিস-খানায় তোমাদের বেত মারা হবে; আর আমার জন্য তোমরা শাসনকর্তা ও বাদশাহ্দের কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য তাদের সম্মুখে দাঁড়াবে।
10 আর প্রথমে সর্বজাতির কাছে সুসমাচার তবলিগ হওয়া আবশ্যক।
11 কিন্তু লোকে যখন তোমাদেরকে ধরিয়ে দেবার জন্য নিয়ে যাবে, তখন কি বলবে সেজন্য আগেই চিন্তিত হয়ো না; বরং সেই দণ্ডে যে কথা তোমাদেরকে দেওয়া যাবে, তা-ই বলো; কেননা তোমরাই যে কথা বলবে, তা নয়, কিন্তু পাক-রূহ্ই বলবেন।
12 তখন ভাই ভাইকে ও পিতা সন্তানকে মেরে ফেলবার জন্য ধরিয়ে দেবে এবং সন্তানেরা আপন আপন মাতা-পিতার বিপক্ষে উঠে তাদেরকে খুন করাবে।
13 আর আমার নামের জন্য তোমরা সকলের ঘৃণিত হবে; কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সেই নাজাত পাবে।
14
কিন্তু যখন তোমরা দেখবে, ধ্বংসের সেই ঘৃণার বস্তু যেখানে দাঁড়াবার নয়, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে— যে পাঠ করে, সে বুঝুক, —তখন যারা এহুদিয়াতে থাকে, তারা পাহাড়ী এলাকায় পালিয়ে যাক,
15 এবং যে কেউ ছাদের উপরে থাকে, সে বাড়ি থেকে জিনিসপত্র নেবার জন্য নিচে না নামুক ও তার মধ্যে প্রবেশ না করুক;
16 এবং যে কেউ ক্ষেতে থাকে, সে নিজের কাপড় নেবার জন্য পিছনে ফিরে না যাক।
17 হায়, সেই সময় গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রী নারীদের অবস্থা কি ভীষণই না হবে!
18 আর মুনাজাত করো, যেন এই অবস্থা শীতকালে না হয়।
19 কেননা সেই সময় এরকম দুঃখ-কষ্ট উপস্থিত হবে, যেরকম দুঃখ-কষ্ট আল্লাহ্র কৃত সৃষ্টির প্রথম থেকে এই পর্যন্ত কখনও হয় নি, কখনও হবে না।
20 আর প্রভু যদি সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে না দিতেন, তবে কোন প্রাণীই রক্ষা পেত না; কিন্তু তিনি যাদেরকে মনোনীত করেছেন, সেই মনোনীতদের জন্য সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে দিলেন।
21
আর সেই সময়ে যদি কেউ তোমাদেরকে বলে, দেখ, সেই মসীহ্ এখানে, কিংবা দেখ, ওখানে, তোমরা বিশ্বাস করো না।
22 কেননা ভণ্ড মসীহ্রা ও ভণ্ড নবীরা উঠবে এবং নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখাবে, যেন, যদি হতে পারে, তবে মনোনীতদেরকেও ভুলায়।
23 কিন্তু তোমরা সাবধান থেকো। দেখ, আমি আগেই তোমাদেরকে সকলই জানালাম।
24
আর সেই সময়ে, সেই কষ্টের পরে, সূর্য অন্ধকার হবে, চন্দ্র জ্যোৎস্না দেবে না,
25 আসমান থেকে তারাগুলোর পতন হবে ও আসমানের পরাক্রমগুলো বিচলিত হবে।
26 আর তখন লোকেরা দেখবে, ইবনুল-ইনসান মহাপরাক্রম ও মহিমার সঙ্গে মেঘযোগে আসছেন।
27 তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে প্রেরণ করে দুনিয়ার সীমা থেকে আসমানের সীমা পর্যন্ত চার দিক থেকে তাঁর মনোনীতদেরকে একত্র করবেন।
28
আর ডুমুরগাছ দেখে তা থেকে শিক্ষা লাভ কর; যখন তার ডাল কোমল হয়ে পাতা বের হয়, তখন তোমরা জানতে পার যে, গ্রীষ্মকাল সন্নিকট;
29 সেভাবে তোমরা ঐ সমস্ত ঘটনা দেখলেই জানতে পারবে যে, তিনি সন্নিকট, এমন কি, দ্বারে উপস্থিত।
30 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে পর্যন্ত এ সব পূর্ণ না হবে, সেই পর্যন্ত এই কালের লোকদের লোপ হবে না।
31 আসমানের ও দুনিয়ার লোপ হবে, কিন্তু আমার কথার লোপ কখনও হবে না।
32
কিন্তু সেই দিনের বা সেই দণ্ডের তত্ত্ব কেউই জানে না; বেহেশতী ফেরেশতারাও জানেন না, পুত্রও জানেন না, কেবল পিতা জানেন।
33 সাবধান, তোমরা জেগে থেকো ও মুনাজাত করো; কেননা সেই সময় কবে হবে, তা জান না।
34 কোন ব্যক্তি যেন তার বাড়ি ছেড়ে বিদেশে গিয়ে প্রবাস করছেন; আর তিনি তার গোলামদেরকে ক্ষমতা দিয়েছেন, প্রত্যেকের কাজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং দারোয়ানকে জেগে থাকতে হুকুম করেছেন।
35 অতএব তোমরা জেগে থেকো, কেননা বাড়ির মালিক কখন আসবেন, কি সন্ধ্যাবেলা, কি দুপুর রাতে, কি মোরগ ডাকার সময়ে, কি ভোর বেলায়, তোমরা তা জান না;
36 তিনি হঠাৎ এসে তোমাদেরকে যেন না দেখেন, তোমরা ঘুমিয়ে রয়েছ।
37 আর আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তা-ই সকলকে বলি, জেগে থাক।
1
দুই দিন পরে ঈদুল ফেসাখ ও খামিহীন রুটির ঈদ; এমন সময়ে প্রধান ইমামেরা ও আলেমেরা কিভাবে তাঁকে কৌশলে ধরে হত্যা করতে পারে তারই চেষ্টা করছিল।
2 কেননা তারা বললো, ঈদের সময়ে নয়, পাছে লোকদের মধ্যে গণ্ডগোল হয়।
3
ঈসা যখন বৈথনিয়াতে কুষ্ঠ রোগী শিমোনের বাড়িতে ছিলেন, তখন তিনি ভোজনে বসলে এক জন স্ত্রীলোক শ্বেত পাথরের পাত্রে বহুমূল্য খাঁটি জটামাংসীর তেল নিয়ে আসল। সে পাত্রটি ভেঙ্গে তাঁর মাথায় তেল ঢেলে দিল।
4 কিন্তু উপস্থিত কোন কোন ব্যক্তি বিরক্ত হয়ে পরস্পর বললো, তেলের এরকম অপব্যয় হল কেন?
5 এই তেল তো বিক্রি করলে তিন শত সিকিরও বেশি পাওয়া যেত এবং তা দরিদ্রদেরকে দান করা যেত। আর তারা সেই স্ত্রীলোকটির প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলো।
6 কিন্তু ঈসা বললেন, একে থাকতে দাও, কেন একে দুঃখ দিচ্ছো? এ আমার প্রতি সৎকাজ করলো।
7 কেননা দরিদ্রেরা তোমাদের কাছে সব সময়ই আছে; তোমরা যখন ইচ্ছা কর, তাদের দয়া দেখাতে পার; কিন্তু আমাকে সব সময় পাবে না।
8 এ যা করতে পারতো, তা-ই করলো; আগে এসে আমাকে কবরের জন্য প্রস্তুত করতে আমার দেহে সুগন্ধি তেল ঢেলে দিলো।
9 আর আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, সারা দুনিয়ায় যে কোন স্থানে সুসমাচার তবলিগ করা হবে, সেই স্থানে এর স্মরণার্থে এর এই কাজের কথাও বলা যাবে।
10
পরে ঈষ্কোরিয়োতীয় এহুদা, সেই বারো জনের মধ্যে এক জন, প্রধান ইমামদের কাছে গেল, যেন তাদের হাতে ঈসাকে ধরিয়ে দিতে পারে।
11 তারা শুনে আনন্দিত হল এবং তাকে টাকা দিতে স্বীকার করলো; তখন সে কোন্ সুযোগে তাঁকে ধরিয়ে দেবে, তারই চেষ্টা করতে লাগল।
12
খামিহীন রুটির ঈদের প্রথম দিন, যেদিন ঈদুল ফেসাখের ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করা হত, সেদিন তাঁর সাহাবীরা তাঁকে বললেন, আমরা কোথায় গিয়ে আপনার জন্য ঈদুল ফেসাখের মেজবানী প্রস্তুত করবো? আপনার ইচ্ছা কি?
13 তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে দুই জনকে পাঠিয়ে দিলেন, বললেন, তোমরা নগরে যাও, এমন এক ব্যক্তি তোমাদের সম্মুখে পড়বে, যে এক কলসী পানি নিয়ে আসছে; তারই পিছনে পিছনে যেও;
14 আর সে যে বাড়িতে প্রবেশ করে, সেই বাড়ির মালিককে বলো, হুজুর বলছেন, যেখানে আমি আমার সাহাবীদের সঙ্গে ঈদুল ফেসাখের মেজবানী ভোজন করতে পারি, আমার সেই মেহমান-শালা কোথায়?
15 তাতে সেই ব্যক্তি তোমাদেরকে উপরের একটি সুসজ্জিত প্রশস্ত কুঠরী দেখিয়ে দেবে, সেই স্থানে আমাদের জন্য ভোজ প্রস্তুত করো।
16 পরে সাহাবীরা প্রস্থান করে নগরে গেলেন, আর তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি দেখতে পেলেন; পরে তাঁরা ঈদুল ফেসাখের মেজবানী প্রস্তুত করলেন।
17
পরে সন্ধ্যা হলে তিনি সেই বারো জনের সঙ্গে উপস্থিত হলেন।
18 তাঁরা বসে ভোজন করছেন, এমন সময়ে ঈসা বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তোমাদের এক জন আমাকে ধরিয়ে দেবে, সে আমার সঙ্গে ভোজন করছে।
19 তখন তাঁরা দুঃখিত হলেন এবং একে একে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, সে কি আমি?
20 তিনি তাঁদেরকে বললেন, এই বারো জনের মধ্যে এক জন, যে আমার সঙ্গে ভোজনপাত্রে হাত ডুবাচ্ছে, সেই।
21 কেননা ইবনুল-ইনসানের বিষয়ে যেমন লেখা আছে, তেমনি তিনি যাচ্ছেন; কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে ইবনুল-ইনসানকে ধরিয়ে দেয়। সেই মানুষের জন্ম না হলে তার পক্ষে ভালই ছিল।
22
তাঁরা ভোজন করছেন, এমন সময়ে তিনি রুটি নিয়ে দোয়াপূর্বক ভাঙ্গলেন এবং তাঁদেরকে দিলেন, আর বললেন, তোমরা নেও, এ আমার শরীর।
23 পরে তিনি পানপাত্র নিয়ে শুকরিয়াপূর্বক তাঁদেরকে দিলেন এবং তাঁরা সকলেই তা থেকে পান করলেন।
24 আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, এ আমার রক্ত, নতুন নিয়মের রক্ত, যা অনেকের জন্য ঢেলে দেওয়া হয়।
25 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যেদিন আমি আল্লাহ্র রাজ্যে নতুন ভাবে তা পান না করি, সেদিন পর্যন্ত আমি আঙ্গুর ফলের রস আর কখনও পান করবো না।
26
পরে তাঁরা গজল গেয়ে বের হয়ে জৈতুন পর্বতে গেলেন।
27 তখন ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা সকলে আমাকে নিয়ে মনে বাধা পাবে; কেননা লেখা আছে,
“আমি পালরক্ষককে আঘাত করবো,
তাতে মেষেরা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়বে।”
28
কিন্তু পুনরুত্থিত হলে পর আমি তোমাদের আগে গালীলে যাব।
29 পিতর তাঁকে বললেন, যদি সকলের মনে বাধা আসেও, তবুও আমার মনে বাধা আসবে না।
30 ঈসা তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যি বলছি, তুমিই আজ, এই রাত্রে, মোরগ দু’বার ডাকবার আগে, তিন বার আমাকে অস্বীকার করবে।
31 কিন্তু তিনি আরও জোর দিয়ে বলতে লাগলেন, যদি আপনার সঙ্গে মরতেও হয়, কোন মতে আপনাকে অস্বীকার করবো না। অন্য সকলেও তেমনি বললেন।
32
পরে তাঁরা গেৎশিমানী নামক একটি স্থানে আসলেন; আর তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, আমি যতক্ষণ মুনাজাত করি, তোমরা এখানে বসে থাক।
33 পরে তিনি পিতর, ইয়াকুব ও ইউহোন্নাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন এবং মনে অত্যন্ত যন্ত্রণা পেতে ও উদ্বিগ্ন হতে লাগলেন।
34 তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমার প্রাণ মরণ পর্যন্ত দুঃখার্ত হয়েছে; তোমরা এখানে থাক, আর জেগে থাক।
35 পরে তিনি কিঞ্চিৎ আগে গিয়ে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়লেন এবং এই মুনাজাত করলেন, যদি হতে পারে, তবে যেন সেই সময় তাঁর কাছ থেকে চলে যায়।
36 তিনি বললেন, আব্বা, পিতা, তোমার পক্ষে সকলই সম্ভব; আমার কাছ থেকে এই পানপাত্র দূর কর; তবুও আমার ইচ্ছামত না হোক, তোমার ইচ্ছামত হোক।
37 পরে তিনি এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন, আর তিনি পিতরকে বললেন, শিমোন, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছো? এক ঘণ্টাও কি জেগে থাকতে তোমার শক্তি হল না?
38 তোমরা জেগে থাক ও মুনাজাত কর যেন পরীক্ষায় না পড়; রূহ্ ইচ্ছুক বটে, কিন্তু দেহ দুর্বল।
39 আর তিনি পুনরায় গিয়ে সেই কথা বলে মুনাজাত করলেন।
40 পরে তিনি আবার এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন; কারণ তাঁদের চোখ বড়ই ভারী হয়ে পড়েছিল, আর তাঁকে কি উত্তর দেবেন, তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না।
41 পরে তিনি তৃতীয়বার এসে তাঁদেরকে বললেন, এখনও তোমরা ঘুমাচ্ছ ও বিশ্রাম করছো; যথেষ্ট হয়েছে; সময় উপস্থিত, দেখ, ইবনুল-ইনসানকে গুনাহ্গারদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
42 উঠ, আমরা যাই; এই দেখ, যে ব্যক্তি আমাকে ধরিয়ে দিচ্ছে, সে কাছে এসে গেছে।
43
আর তিনি যখন কথা বলছেন, তৎক্ষণাৎ এহুদা, সেই বারো জনের এক জন আসল এবং তার সঙ্গে অনেক লোক তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে প্রধান ইমামদের, আলেমদের ও প্রাচীনদের কাছ থেকে আসলো।
44 যে তাঁকে ধরিয়ে দিচ্ছিল, সে আগে তাদেরকে এই সঙ্কেত বলেছিল, আমি যাকে চুম্বন করবো, সে-ই ঐ ব্যক্তি, তোমরা তাকে ধরে সাবধানে নিয়ে যাবে।
45 সে এসে তৎক্ষণাৎ তাঁর কাছে গিয়ে বললো, রব্বি; আর তাঁকে আগ্রহপূর্বক চুম্বন করলো।
46 তখন তারা তাঁর উপরে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে ধরলো।
47 কিন্তু যারা পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে এক জন তাঁর তলোয়ার খুলে মহা-ইমামের গোলামকে আঘাত করে তার একটি কান কেটে ফেললো।
48 তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, যেমন দস্যু ধরতে যায়, তেমনি কি তোমরা তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে আমাকে ধরতে আসলে?
49 আমি প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে তোমাদের কাছে থেকে উপদেশ দিয়েছি, তখন তো আমায় ধরলে না; কিন্তু পাক-কিতাবের কালাম সফল হওয়া আবশ্যক।
50 তখন সাহাবীরা সকলে তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।
51
আর এক জন যুবক উলঙ্গ শরীরে একখানি চাদর জড়িয়ে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগল;
52 তারা তাকে ধরলো, কিন্তু সে সেই চাদরখানি ফেলে উলঙ্গই পালিয়ে গেল।
53
পরে তারা ঈসাকে মহা-ইমামের কাছে নিয়ে গেল; তাঁর সঙ্গে প্রধান ইমামেরা, প্রাচীনবর্গরা ও আলেমেরা সকলে সমবেত হল।
54 আর পিতর দূরে থেকে তাঁর পিছনে পিছনে ভিতরে মহা-ইমামের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত গেলেন এবং পদাতিকদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন।
55
তখন প্রধান ইমামেরা ও সমস্ত মহাসভা ঈসাকে হত্যা করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য খোঁজ করলো, কিন্তু পেল না।
56 কেননা অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল বটে, কিন্তু তাদের সাক্ষ্য মিললো না।
57 পরে কয়েক জন দাঁড়িয়ে তাঁর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে বললো,
58 আমরা ওকে এই কথা বলতে শুনেছি, আমি এই হাতের তৈরি এবাদতখানা ভেঙ্গে ফেলবো, আর তিন দিনের মধ্যে এমন আর একটি এবাদতখানা নির্মাণ করবো যা হাতের তৈরি নয়।
59 এতেও তাদের সাক্ষ্য মিললো না।
60 তখন মহা-ইমাম মধ্যস্থানে দাঁড়িয়ে ঈসাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন উত্তরই দেবে না? তোমার বিরুদ্ধে এরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছে?
61 কিন্তু তিনি নীরব রইলেন, কোন জবাব দিলেন না। আবার মহা-ইমাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সেই মসীহ্, পরমধন্যের পুত্র?
62 ঈসা বললেন, আমি সেই; আর তোমরা ইবনুল-ইনসানকে পরাক্রমের ডান পাশে বসে থাকতে ও আসমানের মেঘসহ আসতে দেখবে।
63 তখন মহা-ইমাম নিজের কাপড় ছিঁড়ে বললেন, আর সাক্ষীর আমাদের কি প্রয়োজন?
64 তোমরা তো কুফরী শুনলে; তোমাদের কি বিবেচনা হয়? তারা সকলে তাঁকে দোষী করে বললো এ মৃত্যুর যোগ্য।
65 তখন কেউ কেউ তাঁর গাঁয়ে থুথু দিতে লাগল এবং তাঁর মুখ ঢেকে তাঁকে ঘুষি মারতে লাগল, আর বলতে লাগল, ভবিষ্য-দ্বাণী বল্ না? পরে পদাতিকরা প্রহার করতে করতে তাঁকে গ্রহণ করলো।
66
পিতর যখন নিচে প্রাঙ্গণে ছিলেন, তখন মহা-ইমামের এক জন বাঁদী আসল;
67 সে পিতরকে আগুন পোহাতে দেখে তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললো, তুমিও তো সেই নাসারতীয় ঈসার সঙ্গে ছিলে।
68 কিন্তু তিনি অস্বীকার করে বললেন, তুমি যা বলছো, তা আমি জানিও না, বুঝিও না। পরে তিনি বের হয়ে ফটকের কাছে গেলেন, আর মোরগ ডেকে উঠলো।
69 কিন্তু বাঁদী তাঁকে দেখে, যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল তাদেরকেও বলতে লাগল, এই ব্যক্তি তাদের এক জন।
70 তিনি আবার অস্বীকার করলেন। কিছু সময় পরে, যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, আবার তারা পিতরকে বললো, সত্যিই তুমি তাদের এক জন, কেননা তুমি গালীলীয় লোক।
71 কিন্তু তিনি বদদোয়াপূর্বক শপথ করে ও কসম খেয়ে বলতে লাগলেন, তোমরা যে ব্যক্তির কথা বলছো তাকে আমি চিনি না।
72 তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় বার মোরগ ডেকে উঠলো; তাতে ঈসা এই যে কথা বলেছিলেন, ‘মোরগ দু’বার ডাকবার আগে তুমি তিন বার আমাকে অস্বীকার করবে,’ তা পিতরের মনে পড়লো এবং তিনি সেই বিষয় চিন্তা করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
1
আর প্রধান ইমামেরা খুব ভোরে প্রাচীন নেতাদের, আলেমদের ও সমস্ত মহাসভার সংগে পরামর্শ করে ঈসাকে বেঁধে নিয়ে গিয়ে পীলাতের হাতে তুলে দিল।
2 তখন পীলাত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি ইহুদীদের বাদশাহ্? জবাবে তিনি তাঁকে বললেন, তুমিই বললে।
3 পরে প্রধান ইমামেরা তাঁর উপরে অনেক দোষারোপ করতে লাগল।
4 পীলাত তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোনই উত্তর দেবে না? দেখ, এরা তোমার উপরে কত দোষারোপ করছে।
5 কিন্তু ঈসা আর কোন জবাব দিলেন না; তাতে পীলাত আশ্চর্য হলেন।
6
ঈদুল ফেসাখের সময়ে তিনি লোকদের জন্য এমন এক জন বন্দীকে মুক্ত করতেন, যাকে তারা চাইতো।
7 সেই সময়ে বারাব্বা নামে এক ব্যক্তি বিদ্রোহীদের সঙ্গে কারাগারে আটক ছিল, তারা বিদ্রোহ করে নরহত্যাও করেছিল।
8 তখন লোকেরা উপরে গিয়ে, তিনি তাদের জন্য যা করতেন, তা-ই যাচ্ঞা করতে লাগল।
9 পীলাত জবাবে তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের জন্য ইহুদীদের বাদশাহ্কে মুক্ত করে দেব, এ কি তোমাদের ইচ্ছা?
10 কেননা প্রধান ইমামেরা যে হিংসাবশতঃ তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল তা তিনি জানতে পেরেছিলেন।
11 কিন্তু প্রধান ইমামেরা জনতাকে উত্তেজিত করে নিজেদের জন্য বরং বারাব্বার মুক্তি চাইতে বললো।
12 পরে পীলাত আবার জবাবে তাদেরকে বললেন, তবে তোমরা যাকে ইহুদীদের বাদশাহ্ বল, তাকে নিয়ে কি করবো?
13 তারা পুনর্বার চিৎকার করে বললো, ওকে ক্রুশে দাও।
14 পীলাত তাদেরকে বললেন, কেন? এ কি অপরাধ করেছে? কিন্তু তারা ভীষণভাবে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, ওকে ক্রুশে দাও।
15 তখন পীলাত লোকগুলোকে সন্তুষ্ট করার মানসে তাদের জন্য বারাব্বাকে মুক্ত করলেন এবং ঈসাকে কশাঘাত করে ক্রুশের উপরে হত্যা করার জন্য তুলে দিলেন।
16
পরে সৈন্যেরা প্রাঙ্গণের মধ্যে, অর্থাৎ রাজপ্রাসাদের ভিতরে, তাঁকে নিয়ে গিয়ে সমস্ত সেনাদলকে ডেকে একত্র করলো।
17 পরে তাঁকে বেগুনে কাপড় পরালো এবং কাঁটার মুকুট গেঁথে তাঁর মাথায় দিল,
18 আর তাঁর বন্দনা করে বলতে লাগল, ইহুদী-রাজ, আস্সালামু আলাইকুম!
19 আর তাঁর মাথায় লাঠি দ্বারা আঘাত করলো, আর তাঁর গায়ে থুথু দিল ও হাঁটু পেতে তাঁকে সেজ্দা করলো।
20 তাঁকে বিদ্রূপ করার পর তারা ঐ বেগুনে কাপড় খুলে তাঁর নিজের কাপড় পরিয়ে দিল। পরে তারা ক্রুশে দেবার জন্য তাঁকে বাইরে নিয়ে গেল।
21
আর শিমোন নামে এক জন কুরীণীয় লোক পল্লীগ্রাম থেকে সেই পথ দিয়ে আসছিল — সে সিকন্দরের ও রূফের পিতা — তাকেই তারা ঈসার ক্রুশ বইবার জন্য বাধ্য করলো।
22 পরে তারা তাঁকে গলগথা নামক স্থানে নিয়ে গেল; এই নামের অর্থ ‘মাথার খুলির স্থান’।
23 আর তারা তাঁকে গন্ধরসে মিশানো আঙ্গুর-রস দিতে চাইল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না।
24 পরে তারা তাঁকে ক্রুশে দিল এবং তাঁর কাপড়গুলো ভাগ করে নিল; কে কি নেবে তা ঠিক করার জন্য গুলিবাঁট করলো।
25
সকাল ন’টার সময় তারা তাঁকে ক্রুশে দিল।
26 আর তাঁর উপরে এই দোষ-নামা লেখা হল, ‘ইহুদীদের বাদশাহ্’।
27 আর তারা তাঁর সঙ্গে দু’জন দস্যুকে ক্রুশে দিল— এক জনকে তাঁর ডানে ও এক জনকে তাঁর বামে।
28 তখন পাক-কিতাবের এই কালাম পূর্ণ হল, তিনি অধর্মীদের সঙ্গে গণিত হলেন।
29 আর যেসব লোক সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল, তারা মাথা নেড়ে তাঁর নিন্দা করে বললো, ওহে, তুমি না এবাদতখানা ভেঙ্গে ফেল, আর তিন দিনের মধ্যে গেঁথে তোল!
30 নিজেকে রক্ষা কর, ক্রুশ থেকে নেমে এসো।
31 আর সেভাবে প্রধান ইমামেরাও আলেমদের সঙ্গে নিজেদের মধ্যে তাঁকে বিদ্রূপ করে বললো, ঐ ব্যক্তি অন্য অন্য লোককে রক্ষা করতো, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না;
32 মসীহ্ ইসরাইলের বাদশাহ্, এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, দেখে আমরা তাঁর উপর ঈমান আনবো। আর যারা তাঁর সঙ্গে ক্রুশে বিদ্ধ হয়েছিল, তারাও তাঁকে তিরস্কার করলো।
33
পরে বেলা ছয় ঘটিকা থেকে নয় ঘটিকা পর্যন্ত সমুদয় দেশ অন্ধকারময় হয়ে রইলো।
34 আর নয় ঘটিকার সময়ে ঈসা উচ্চরবে ডেকে বললেন, এলোই, এলোই, লামা শবক্তানী; অনুবাদ করলে এর অর্থ এই, ‘আল্লাহ্ আমার, আল্লাহ্ আমার, তুমি কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ’?
35 তাতে যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই কথা শুনে বললো, দেখ, ও ইলিয়াসকে ডাকছে।
36 আর এক জন দৌড়ে একখানি স্পঞ্জে সির্কা ভরে তা নলে লাগিয়ে তাঁকে পান করতে দিয়ে বললো, থাক্, দেখি, ইলিয়াস ওকে নামাতে আসেন কি না।
37
পরে ঈসা জোরে চিৎকার করে প্রাণত্যাগ করলেন।
38 তখন বায়তুল-মোকাদ্দসের পর্দা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চিরে দু’ভাগ হয়ে গেল।
39 আর যে শত-পতি তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি যখন দেখলেন যে, ঈসা এইভাবে ইন্তেকাল করলেন, তখন বললেন, সত্যিই ইনি আল্লাহ্র পুত্র ছিলেন।
40
কয়েকজন স্ত্রীলোকও দূরে থেকে তা দেখছিলেন; তাদের মধ্যে মগ্দলীনী মরিয়ম, ছোট ইয়াকুবের ও যোশির মা মরিয়ম এবং শালোমী ছিলেন।
41 যখন তিনি গালীলে ছিলেন, তখন এঁরা তাঁর পিছনে পিছনে যেতেন ও তাঁর পরিচর্যা করতেন। আরও অনেক স্ত্রীলোক সেখানে ছিলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমে এসেছিলেন।
42
পরে সন্ধ্যা হলে, সেদিন আয়োজন দিন অর্থাৎ বিশ্রামবারের আগের দিন বলে,
43 অরিমাথিয়ার ইউসুফ নামক এক জন সম্ভ্রান্ত পরিষদ-সদস্য আসলেন, তিনি নিজেও আল্লাহ্র রাজ্যের অপেক্ষা করতেন; তিনি সাহসপূর্বক পিলাতের কাছে গিয়ে ঈসার লাশ যাচ্ঞা করলেন।
44 কিন্তু ঈসা যে এত শীঘ্র ইন্তেকাল করেছেন, এতে পীলাত আশ্চর্য জ্ঞান করলেন এবং সেই শতপতিকে ডেকে এনে, তিনি এর মধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন কি না, জিজ্ঞাসা করলেন;
45 পরে শতপতির কাছ থেকে জেনে ইউসুফকে লাশটি দান করলেন।
46 ইউসুফ একখানি চাদর কিনে তাঁকে নামিয়ে ঐ চাদরে জড়ালেন এবং শৈলে খোদাই-করা একটি কবরে রাখলেন; পরে কবরের মুখে একখানি পাথর গড়িয়ে দিলেন।
47 তাঁকে যে স্থানে রাখা হল, তা মগ্দলীনী মরিয়ম ও যোশির মা মরিয়ম দেখতে পেলেন।
1
বিশ্রামবার অতীত হলে পর মগ্দলীনী মরিয়ম, ইয়াকুবের মা মরিয়ম এবং শালোমী সুগন্ধি দ্রব্য ক্রয় করলেন, যেন গিয়ে তাঁর লাশে মাখাতে পারেন।
2 পরে সপ্তাহের প্রথম দিন তাঁরা খুব ভোরে, সূর্য উঠলে পর, কবরের কাছে আসলেন।
3 তাঁরা পরস্পর বলাবলি করছিলেন, কবরের মুখ থেকে কে আমাদের জন্য পাথরখানি সরিয়ে দেবে?
4 এমন সময় তাঁরা দৃষ্টিপাত করে দেখলেন, পাথরখানি সরানো হয়েছে; কেননা তা বেশ বড় ছিল।
5 পরে তাঁরা কবরের ভিতরে গিয়ে দেখলেন, ডান পাশে সাদা পোশাক পরা এক জন যুবক বসে আছেন; তাতে তাঁরা খুব অবাক হলেন।
6 তিনি তাঁদেরকে বললেন, অবাক হয়ো না, তোমরা নাসরতীয় ঈসার খোঁজ করছো, যিনি ক্রুশে হত হয়েছেন; তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন, এখানে নেই; দেখ, এই স্থানে তাঁকে রাখা হয়েছিল;
7 কিন্তু তোমরা যাও, তাঁর সাহাবীদেরকে আর পিতরকে বল, তিনি তোমাদের আগে গালীলে যাচ্ছেন; যেমন তিনি তোমাদেরকে বলেছিলেন, সেখানে তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে।
8 তখন তাঁরা বের হয়ে কবর থেকে পালিয়ে গেলেন, কারণ তাঁরা ভীষণ ভয়ে কাঁপছিলেন ও বিস্মিত হয়েছিলেন; তাঁরা এত ভয় পেয়েছিলেন যে, কাউকে কিছু বললেন না।
9
সপ্তাহের প্রথম দিনে ঈসা খুব ভোরে পুনরুত্থিত হলে পর প্রথমে সেই মগ্দলীনী মরিয়মকে দর্শন দিলেন, যাঁর মধ্য থেকে তিনি সাতটি বদ-রূহ্ ছাড়িয়েছিলেন।
10 তিনিই গিয়ে যাঁরা ঈসার সঙ্গে থাকতেন তাঁদেরকে সংবাদ দিলেন, তখন তাঁরা শোক ও কান্নাকাটি করছিলেন।
11 যখন তাঁরা শুনলেন যে, তিনি জীবিত আছেন ও তাঁকে দর্শন দিয়েছেন, তখন সেই কথা তাঁরা বিশ্বাস করলেন না।
12
তারপর তাঁদের দু’জন যখন পল্লীগ্রামে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি আর এক আকারে তাঁদের কাছে প্রকাশিত হলেন।
13 তাঁরা গিয়ে অন্য সকলকে এই কথা জানালেন, কিন্তু তাঁদের কথাতেও তাঁরা বিশ্বাস করলেন না।
14
তারপর সেই এগার জন সাহাবী ভোজনে বসলে পর তিনি তাঁদের কাছে প্রকাশিত হলেন এবং তাঁদের অবিশ্বাস ও মনের কঠিনতার জন্য তাঁদেরকে তিরস্কার করলেন; কেননা তিনি পুনরুত্থিত হলে পর যাঁরা তাঁকে দেখেছিলেন, তাঁদের কথায় তাঁরা বিশ্বাস করেন নি।
15 আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা সারা দুনিয়ায় যাও, সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার তবলিগ কর।
16 যে ঈমান আনে ও বাপ্তিস্ম নেয়, সে নাজাত পাবে; কিন্তু যে ঈমান আনে না, তার বিচার করে শাস্তি দেওয়া যাবে।
17 আর যারা ঈমান আনে, এই চিহ্নগুলো তাদের অনুবর্তী হবে; তারা আমার নামে বদ-রূহ্ ছাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তারা সাপ তুলবে,
18 এবং প্রাণনাশক কিছু পান করলেও তাতে কোন মতে তাদের ক্ষতি হবে না; তারা অসুস্থদের উপরে হাত রাখবে, আর তারা সুস্থ হবে।
19
তাঁদের সঙ্গে কথা বলবার পর প্রভু ঈসাকে ঊর্ধ্বে, বেহেশতে তুলে নেওয়া হল এবং সেখানে তিনি আল্লাহ্র ডান পাশে বসলেন।
20 আর তাঁরা প্রস্থান করে সর্বত্র তবলিগ করতে লাগলেন এবং প্রভু তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে অনুবর্তী চিহ্নগুলো দ্বারা সেই কালামের সত্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন। আমিন।
1
প্রথম থেকে যাঁরা স্বচক্ষে দেখেছেন এবং কালামের সেবা করে এসেছেন, তাঁরা আমাদের কাছে সবকিছু যেমন জানিয়েছেন,
2 সেই অনুসারে অনেকেই আমাদের মধ্যে সমপূর্ণভাবে গৃহীত বিষয়াবলির বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে আরম্ভ করেছেন,
3 সেজন্য আমিও প্রথম থেকে সকল বিষয় সবিশেষ অনুসন্ধান করেছি বলে, হে মহামহিম থিয়ফিল, আপনাকে সুবিন্যস্ত একটি বিবরণ লেখা ভাল মনে করলাম;
4 যেন, আপনি যেসব বিষয় শিক্ষা পেয়েছেন, সেসব সত্যি কি না তা জানতে পারেন।
5
এহুদিয়ার বাদশাহ্ হেরোদের সময়ে অবিয়ের পালার মধ্যে জাকারিয়া নামে এক জন ইমাম ছিলেন; তাঁর স্ত্রী হারুন-বংশীয়া, তাঁর নাম এলিজাবেত।
6 তাঁরা দু’জন আল্লাহ্র সাক্ষাতে ধার্মিক ছিলেন, প্রভুর সমস্ত হুকুম ও নিয়ম অনুসারে নির্দোষভাবে চলতেন।
7 তাঁদের কোন সন্তান ছিল না, কেননা এলিজাবেত বন্ধ্যা ছিলেন এবং দু’জনেরই অধিক বয়স হয়েছিল।
8
একদিন যখন জাকারিয়া নিজের পালা অনুসারে আল্লাহ্র সাক্ষাতে ইমামীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন,
9 তখন ইমামীয় কাজের প্রথানুসারে গুলিবাঁট ক্রমে তাঁকে প্রভুর পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে ধূপ জ্বালাতে হল।
10 সেই ধূপ জ্বালাবার সময়ে সমস্ত লোক বাইরে থেকে মুনাজাত করছিল।
11 তখন প্রভুর এক জন ফেরেশতা ধূপ-গাহের ডান পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে দর্শন দিলেন।
12 তাঁকে দেখে জাকারিয়ার মন অস্থির হয়ে উঠলো, ভীষণ ভয় তাঁকে পেয়ে বসলো।
13 কিন্তু ফেরেশতা তাঁকে বললেন, জাকারিয়া, ভয় করো না, কেননা তোমার ফরিয়াদ গ্রাহ্য হয়েছে, তোমার স্ত্রী এলিজাবেত তোমার জন্য পুত্র প্রসব করবেন ও তুমি তার নাম ইয়াহিয়া রাখবে।
14 আর তোমার আনন্দ ও উল্লাস হবে এবং তার জন্মে অনেকে আনন্দিত হবে।
15 কারণ সে প্রভুর সম্মুখে মহান হবে এবং আঙ্গুর-রস বা সুরা কিছুই পান করবে না; আর সে মায়ের গর্ভ থেকেই পাক-রূহে পরিপূর্ণ হবে;
16 এবং বনি-ইসরাইলদের মধ্যে অনেককে তাদের আল্লাহ্ মালিকের প্রতি ফিরাবে।
17 সে তাঁর সম্মুখে ইলিয়াসের রূহে ও পরাক্রমে গমন করবে, যেন পিতাদের অন্তর সন্তানদের প্রতি ও অবাধ্যদেরকে ধার্মিকদের বিজ্ঞতায় চলবার জন্য ফিরাতে পারে, প্রভুর জন্য সুসজ্জিত এক দল লোককে প্রস্তুত করতে পারে।
18 তখন জাকারিয়া ফেরেশতাকে বললেন, কেমন করে আমি তা জানতে পারব? কেননা আমি বৃদ্ধ এবং আমার স্ত্রীরও অনেক বয়স হয়েছে।
19 ফেরেশতা জবাবে তাঁকে বললেন, আমি জিবরাইল, আল্লাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকি, তোমার সঙ্গে কথা বলবার ও তোমাকে এসব বিষয়ের সুখবর দেবার জন্য প্রেরিত হয়েছি।
20 আর দেখ, এসব যেদিন ঘটবে, সেদিন পর্যন্ত তুমি নীরব থাকবে, কথা বলতে পারবে না; যেহেতু আমার এই সকল বাক্য যা যথাসময়ে সফল হবে, তাতে তুমি বিশ্বাস করলে না।
21
আর লোকেরা জাকারিয়ার অপেক্ষা করছিল এবং বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে তাঁর বিলম্ব হওয়াতে তারা আশ্চর্য জ্ঞান করতে লাগল।
22 পরে তিনি বাইরে এসে তাদের কাছে কথা বলতে পারলেন না; তখন তারা বুঝলো যে, বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে তিনি কোন দর্শন পেয়েছেন; আর তিনি তাদের কাছে নানা সঙ্কেত করতে থাকলেন এবং বোবা হয়ে রইলেন।
23 পরে তাঁর এবাদতের সময় পূর্ণ হলে তিনি নিজের বাড়িতে চলে গেলেন।
24
এই সময়ের পরে তাঁর স্ত্রী এলিজাবেত গর্ভবতী হলেন; আর তিনি পাঁচ মাস নিজেকে সঙ্গোপনে রাখলেন, বললেন,
25 লোকদের মধ্যে আমার অপযশ খণ্ডাবার জন্য এই সময়ে দৃষ্টিপাত করে প্রভু আমার প্রতি এরকম ব্যবহার করেছেন।
26
পরে ষষ্ঠ মাসে জিবরাইল ফেরেশতা আল্লাহ্র কাছ থেকে গালীল দেশের নাসরত নামক নগরে এক জন কুমারীর কাছে প্রেরিত হলেন,
27 তিনি দাউদ-কুলের ইউসুফ নামক এক জন পুরুষের বাগ্দত্তা ছিলেন; সেই কুমারীর নাম মরিয়ম।
28 ফেরেশতা গৃহের মধ্যে তাঁর কাছে এসে বললেন,
আস্সালামো আলাইকুম!
তুমি মহা অনুগ্রহ লাভ করেছ;
প্রভু তোমার সহবর্তী।
29
কিন্তু তিনি সেই কথায় ভীষণ অস্থির হয়ে উঠলেন, আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন, এ কেমন সালাম?
30 ফেরেশতা তাঁকে বললেন, মরিয়ম, ভয় করো না, কেননা তুমি আল্লাহ্র কাছ থেকে রহমত লাভ করেছ।
31 আর দেখ, তুমি গর্ভবতী হয়ে পুত্র প্রসব করবে ও তাঁর নাম ঈসা রাখবে।
32 তিনি মহান হবেন, আর তাঁকে ইবনুল্লাহ্ বলা হবে; আর প্রভু আল্লাহ্ তাঁর পিতা দাউদের সিংহাসন তাঁকে দেবেন;
33 তিনি ইয়াকুব-কুলের উপরে যুগে যুগে রাজত্ব করবেন ও তাঁর রাজ্যের শেষ হবে না।
34 তখন মরিয়ম ফেরেশতাকে বললেন, এটি কিভাবে হবে, কেননা আমি তো এক জন কুমারী?
35 ফেরেশতা জবাবে তাঁকে বললেন, পাক-রূহ্ তোমার উপরে আসবেন এবং সর্বশক্তিমানের শক্তি তোমার উপরে ছায়া করবে; এই কারণ যে পবিত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন, তাঁকে ইবনুল্লাহ্ বলা হবে।
36 আর দেখ, তোমার জ্ঞাতি যে এলিজাবেত, তিনিও বৃদ্ধ বয়সে পুত্র-সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন; লোকে যাঁকে বন্ধ্যা বলতো, কিন্তু এখন তাঁর ছয় মাস চলছে।
37 কেননা আল্লাহ্র কোন কালাম শক্তিহীন হবে না।
38 তখন মরিয়ম বললেন, দেখুন, আমি প্রভুর বাঁদী; আপনার কথা অনুসারে আমার প্রতি ঘটুক। পরে ফেরেশতা তাঁর কাছ থেকে চলে গেলেন।
39
সেই সময়ে মরিয়ম উঠে তাড়াতাড়ি পাহাড়ী অঞ্চলে এহুদার একটি নগরে গেলেন,
40 এবং জাকারিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে এলিজাবেতকে সালাম জানালেন।
41 আর এরকম হল, যখন এলিজাবেত মরিয়মের সালাম শুনলেন, তখন তাঁর গর্ভে শিশুটি নেচে উঠলো; আর এলিজাবেত পাক-রূহে পূর্ণ হলেন এবং উচ্চরবে বললেন,
42 নারীদের মধ্যে তুমি ধন্য এবং ধন্য তোমার গর্ভের ফল।
43 আর আমার প্রভুর মা আমার কাছে আসবেন, আমার এমন সৌভাগ্য কোথা থেকে হল?
44 কেননা দেখ, তোমার সালামের আওয়াজ আমার কানে প্রবেশ করা মাত্র শিশুটি আমার জঠরে উল্লাসে নেচে উঠলো।
45 আর তুমি ধন্যা, কেননা তুমি ঈমান আনলে, কারণ প্রভু তাঁকে যা যা বলেছেন সেসব সিদ্ধ হবে।
46
তখন মরিয়ম বললেন,
আমার প্রাণ প্রভুর মহিমা ঘোষণা করছে,
47
আমার রূহ্ আমার নাজাতদাতা
আল্লাহ্তে উল্লসিত হয়েছে।
48
কারণ তিনি তাঁর বাঁদীর নিচ অবস্থার
প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন;
কেননা দেখ, এখন থেকে পুরুষপরমপরা
সকলে আমাকে ধন্যা বলবে।
49
কারণ যিনি পরাক্রমী, তিনি আমার
জন্য মহৎ মহৎ কাজ করেছেন;
এবং তাঁর নাম পবিত্র।
50
আর যারা তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে,
তাঁর করুণা তাদের পুরুষপরমপরায়
বর্তে।
51
তিনি আপন বাহু দ্বারা বিক্রমের কাজ
করেছেন;
যারা নিজেদের হৃদয়ের কল্পনায়
অহঙ্কারী,
তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছেন।
52
তিনি বিক্রমীদেরকে সিংহাসন থেকে
নামিয়ে দিয়েছেন ও নিচদেরকে
উন্নত করেছেন।
53
তিনি ক্ষুধার্তদেরকে উত্তম উত্তম
দ্রব্যে পরিপূর্ণ করেছেন,
এবং ধনবানদেরকে শূন্য হাতে
বিদায় করেছেন।
54
তিনি তাঁর গোলাম ইসরাইলের
উপকার করেছেন,
যেন আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে
বলা তাঁর করুণা অনুসারে,
55
ইব্রাহিম ও তার বংশের প্রতি চিরতরে
করুণা স্মরণ করেন।
56
আর মরিয়ম মাস তিনেক এলিজাবেতের কাছে রইলেন, পরে নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেন।
57
পরে এলিজাবেতের প্রসবকাল সমপূর্ণ হলে তিনি পুত্র প্রসব করলেন।
58 তখন তাঁর প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা শুনতে পেল যে, প্রভু তাঁর প্রতি মহা করুণা করেছেন, আর তারা তাঁর সঙ্গে আনন্দ করতে লাগল।
59
পরে তারা অষ্টম দিনে বালকটির খৎনা করতে আসল, আর তার পিতার নাম অনুসারে তার নাম জাকারিয়া রাখতে চাইল।
60 কিন্তু তার মা জবাবে বললেন, তা নয়, এর নাম ইয়াহিয়া রাখা হবে।
61 তারা তাঁকে বললো, আপনার গোষ্ঠীর মধ্যে এই নামে তো কাউকেও ডাকা হয় না।
62 পরে তারা তার পিতাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলো, আপনার ইচ্ছা কি? এর কি নাম রাখা যাবে?
63 তিনি একখানি লিপিফলক চেয়ে নিয়ে লিখলেন, এর নাম ইয়াহিয়া। তাতে সকলে আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
64 আর তখনই তাঁর মুখ ও তাঁর জিহ্বা খুলে গেল, আর তিনি কথা বললেন, আল্লাহ্র প্রশংসা করতে লাগলেন।
65 এতে চারদিকের প্রতিবেশীরা সকলে ভয় পেল, আর এহুদিয়ার পাহাড়ী অঞ্চলের সর্বত্র লোকে এ সব কথা বলাবলি করতে লাগল।
66 আর যত লোক এই কথা শুনলো, সকলে তা মনে গেঁথে রেখে বলতে লাগল, এই বালকটি তবে কি হবে? কারণ প্রভুর হাত তাঁর সহবর্তী ছিল।
67
তখন তার পিতা জাকারিয়া পাক-রূহে পরিপূর্ণ হলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী বললেন; তিনি বললেন,
68
ইসরাইলের আল্লাহ্ প্রভু ধন্য হোন;
কেননা তিনি তত্ত্বাবধান করেছেন,
তাঁর লোকদের জন্য মুক্তি সাধন
করেছেন,
69
আর আমাদের জন্য তাঁর গোলাম
দাউদের কুলে নাজাতের এক শৃঙ্গ
উঠিয়েছেন,
70
—যেমন তিনি পুরাকাল থেকে তাঁর
সেই পবিত্র নবীদের মুখ দ্বারা বলে
এসেছেন—
71
আমাদের দুশমনদের হাত থেকে ও
যারা আমাদেরকে ঘৃণা করে,
তাদের সকলের হাত থেকে রক্ষা
করেছেন।
72
আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি করুণা
করার জন্য,
তাঁর পবিত্র নিয়ম স্মরণ করার জন্য।
73
এই সেই কসম, যা তিনি আমাদের
পূর্বপুরুষ ইব্রাহিমের কাছে শপথ
করেছিলেন,
74
আমাদেরকে এই বর দেবার জন্য
যে আমরা দুশমনদের হাত
থেকে নিস্তার পেয়ে,
নির্ভয়ে পবিত্রভাবে ও ধার্মিকতায়
তাঁর এবাদত করতে পারবো।
75
তাঁর সাক্ষাতে সারা জীবন করতে
পারবো।
76
আর, হে বালক, তুমি সর্বশক্তিমানের
নবী বলে আখ্যাত হবে,
কারণ তুমি প্রভুর সম্মুখে চলবে,
তাঁর পথ প্রস্তুত করার জন্য;
77
তাঁর লোকেরা গুনাহ্ মাফের মধ্য
দিয়ে যে নাজাত লাভ করবে সেই
বিষয়ে জ্ঞান দেবার জন্য।
78
তা আমাদের আল্লাহ্র সেই
করুণাযুক্ত স্নেহহেতু হবে,
যার দ্বারা ঊর্ধ্ব থেকে ঊষা আমাদের
তত্ত্বাবধান করবে,
79
যারা অন্ধকারে ও মৃত্যুচ্ছায়ায় বসে
আছে,
তাদের উপরে আলো দেবার জন্য, আমাদের চরণ শান্তির পথে চালাবার জন্য।
80
পরে বালকটি বেড়ে উঠতে এবং রূহে বলবান হতে লাগলেন; আর তিনি যত দিন ইসরাইলের কাছে প্রকাশিত না হলেন, তত দিন মরুভূমিতে ছিলেন।
1
সেই সময়ে সম্রাট অগাস্টাসের এই হুকুম বের হল যে, সারা দুনিয়ার লোকের নাম লেখাতে হবে।
2 সিরিয়ার শাসনকর্তা কুরীণিয়ের সময়ে এই প্রথম নাম লেখানো হয়।
3 সকলে নাম লেখাবার জন্য নিজ নিজ নগরে যেতে লাগল।
4 আর ইউসুফও গালীলের নাসরত নগর থেকে এহুদিয়ায় বেথেলহেম নামক দাউদের নগরে গেলেন, কারণ তিনি দাউদের কুল ও গোষ্ঠীজাত ছিলেন;
5 তিনি তাঁর বাগ্দত্তা স্ত্রী মরিয়মের সঙ্গে নাম লেখাবার জন্য গেলেন; তখন ইনি গর্ভবতী ছিলেন।
6 তাঁরা সেই স্থানে আছেন, এমন সময়ে মরিয়মের প্রসবকাল সমপূর্ণ হল।
7 আর তিনি তাঁর প্রথমজাত পুত্র প্রসব করলেন; এবং তাঁকে কাপড়ে জড়িয়ে যাবপাত্রে রাখলেন, কারণ পান্থশালায় তাঁদের জন্য কোন স্থান ছিল না।
8
ঐ অঞ্চলে ভেড়ার রাখালরা মাঠে অবস্থান করছিল এবং রাতের বেলায় নিজ নিজ পাল পাহারা দিচ্ছিল।
9 আর প্রভুর এক জন ফেরেশতা তাদের কাছে এসে দাঁড়ালেন এবং প্রভুর মহিমা তাদের চারদিকে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিল; তাতে তারা ভীষণ ভয় পেল।
10 তখন ফেরেশতা তাদেরকে বললেন, ভয় করো না, কেননা দেখ, আমি তোমাদেরকে মহানন্দের সুসমাচার জানাচ্ছি; সেই আনন্দ সমস্ত লোকেরই হবে;
11 কারণ আজ দাউদের নগরে তোমাদের জন্য নাজাতদাতা জন্মেছেন; তিনি মসীহ্, প্রভু।
12 আর তোমাদের কাছে এ-ই হল তার চিহ্ন— তোমরা দেখতে পাবে একটি শিশু কাপড়ে জড়ানো ও যাবপাত্রে শোয়ানো রয়েছে।
13 পরে হঠাৎ বেহেশতী বাহিনীর একটি বড় দল ঐ ফেরেশতার সঙ্গী হয়ে আল্লাহ্র প্রশংসা-গান করতে করতে বলতে লাগলেন,
14
ঊর্ধ্বলোকে আল্লাহ্র মহিমা,
দুনিয়াতে [তাঁর] প্রীতিপাত্র মানুষের
মধ্যে শান্তি।
15
ফেরেশতারা তাদের কাছ থেকে বেহেশতে চলে গেলে পর ভেড়ার রাখালরা পরস্পর বললো, চল, আমরা একবার বেথেলহেম পর্যন্ত যাই এবং এই যে ব্যাপার প্রভু আমাদেরকে জানালেন তা গিয়ে দেখি।
16 পরে তারা তাড়াতাড়ি গিয়ে মরিয়ম ও ইউসুফ এবং সেই যাবপাত্রে শোয়ানো শিশুটিকে দেখতে পেল।
17 দেখে বালকটির বিষয়ে যে কথা তাদেরকে বলা হয়েছিল তা জানালো।
18 তাতে যত লোক ভেড়ার রাখালদের মুখে ঐ সব কথা শুনলো, সকলে এসব বিষয়ে আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
19 কিন্তু মরিয়ম সেসব কথা হৃদয়ের মধ্যে আন্দোলন করতে করতে মনে সঞ্চয় করে রাখলেন।
20 আর ভেড়ার রাখালদেরকে যেমন বলা হয়েছিল, তারা তেমনি সবকিছু দেখে শুনে আল্লাহ্র গৌবর ও প্রশংসা-গান করতে করতে ফিরে আসলো।
21
আর যখন বালকটির খৎনা করাবার জন্য আট দিন পূর্ণ হল, তখন তাঁর নাম ঈসা রাখা হল; এই নাম তাঁর গর্ভস্থ হবার আগে ফেরেশতার দ্বারা রাখা হয়েছিল।
22
পরে যখন মূসার শরীয়ত অনুসারে তাঁদের পাক-পবিত্র হবার কাল সম্পূর্ণ হল, তখন তাঁরা তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে গেলেন, যেন তাঁকে প্রভুর কাছে উপস্থিত করেন,
23 যেমন প্রভুর শরীয়তে লেখা আছে, ‘গর্ভ উন্মোচক প্রত্যেক পুরুষ সন্তান প্রভুর উদ্দেশে পবিত্র বলে আখ্যাত হবে’;
24 আর যেন কোরবানী দান করেন, যেমন প্রভুর শরীয়তে উক্ত হয়েছে, ‘এক জোড়া ঘুঘু কিংবা দু’টি কবুতরের বাচ্চা।’
25
আর দেখ, শামাউন নামে এক ব্যক্তি জেরুশালেমে ছিলেন। তিনি ধার্মিক ও আল্লাহ্ভক্ত ছিলেন এবং ইসরাইলের সান্ত্বনার অপেক্ষা করছিলেন ও পাক-রূহ্ তাঁর উপরে ছিলেন।
26 আর পাক-রূহ্ দ্বারা তাঁর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল যে, তিনি প্রভুর মসীহ্কে দেখতে না পেলে মৃত্যু দেখবেন না।
27 তিনি সেই রূহের আবেশে বায়তুল-মোকাদ্দসে আসলেন এবং শিশু ঈসার পিতা-মাতা যখন তাঁর বিষয়ে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার জন্য তাঁকে ভিতরে আনলেন,
28 তখন তিনি তাঁকে কোলে নিলেন, আর আল্লাহ্র গৌরব করলেন ও বললেন,
29
হে মালিক, এখন তুমি তোমার
কালাম অনুসারে তোমার
গোলামকে শান্তিতে বিদায় করছো,
30
কেননা আমার নয়নযুগল তোমার
নাজাত দেখতে পেল,
31
যা তুমি এসব জাতির সম্মুখে প্রস্তুত
করেছ,
32
অ-ইহুদীদের প্রতি প্রকাশিত হবার নূর,
ও তোমার লোক ইসরাইলের গৌরব।
33
শিশুটির বিষয়ে এসব কথা শুনে তাঁর পিতা-মাতা আশ্চর্য জ্ঞান করতে লাগলেন।
34 আর শিমিয়োন তাঁদেরকে দোয়া করলেন এবং তাঁর মা মরিয়মকে বললেন, দেখ, ইনি ইসরাইলের মধ্যে অনেকের পতন ও উত্থানের জন্য এবং যার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে, এমন চিহ্ন হবার জন্য স্থাপিত,
35 —আর তোমার নিজের প্রাণও তলোয়ারে বিদ্ধ হবে— যেন অনেক হৃদয়ের চিন্তা প্রকাশিত হয়।
36
আর হান্না নাম্নী এক জন মহিলা-নবী ছিলেন, তিনি পনূয়েলের কন্যা, আশের বংশজাত; তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল, তিনি কুমারী অবস্থার পর সাত বছর স্বামীর সঙ্গে বাস করেন,
37 আর চুরাশি বছর পর্যন্ত বিধবা হয়ে থাকেন, তিনি বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে প্রস্থান না করে রোজা ও মুনাজাত সহকারে রাত দিন এবাদত করতেন।
38 তিনি সেই সময়ে উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করলেন এবং যত লোক জেরুশালেমের মুক্তির অপেক্ষা করছিল, তাদেরকে ঈসার কথা বলতে লাগলেন।
39
আর প্রভুর শরীয়ত অনুসারে মরিয়ম ও ইউসুফ সমস্ত কাজ করার পর গালীলে, তাঁদের নিজের নগর নাসরতে ফিরে গেলেন।
40
পরে বালকটি বেড়ে উঠতে ও বলবান হতে লাগলেন, জ্ঞানে পূর্ণ হতে থাকলেন; আর আল্লাহ্র রহমত তাঁর উপরে ছিল।
41
তাঁর পিতা-মাতা প্রত্যেক বছর ঈদুল ফেসাখের সময়ে জেরুশালেমে যেতেন।
42 তাঁর বারো বছর বয়স হলে তাঁরা ঈদের রীতি অনুসারে জেরুশালেমে গেলেন;
43 এবং ঈদের সময় সমাপ্ত করে যখন ফিরে আসছিলেন, তখন বালক ঈসা জেরুশালেমে রয়ে গেলেন; আর তাঁর পিতা-মাতা তা জানতেন না,
44 কিন্তু তিনি সহযাত্রীদের সঙ্গে আছেন মনে করে তাঁরা এক দিনের পথ গেলেন; পরে জ্ঞাতি ও পরিচিত লোকদের মধ্যে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন;
45 আর তাঁকে না পেয়ে তাঁর খোঁজ করতে করতে তাঁরা আবার জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
46 তিন দিন পর তাঁরা তাঁকে বায়তুল-মোকাদ্দসে খুঁজে পেলেন; তিনি আলেমদের মধ্যে বসে তাঁদের কথা শুনছিলেন ও তাঁদেরকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন;
47 আর যারা তাঁর কথা শুনছিল, তারা সকলে তাঁর বুদ্ধি ও উত্তরে অতিশয় আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
48 তাঁকে দেখে তাঁরা চমৎকৃত হলেন এবং তাঁর মা তাঁকে বললেন, বৎস, আমাদের প্রতি এরকম ব্যবহার কেন করলে? দেখ, তোমার পিতা এবং আমি কাতর হয়ে তোমার খোঁজ করছিলাম।
49 তিনি তাদেরকে বললেন, কেন আমার খোঁজ করলে? আমার পিতার বাড়িতে আমাকে থাকতেই হবে, এই কথা কি জানতে না?
50 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে যে কথা বললেন, তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না।
51 পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে নাসরতে চলে গেলেন ও তাঁদের বাধ্য হয়ে থাকলেন। আর তাঁর মা সমস্ত কথা তাঁর অন্তরে গেঁথে রাখলেন।
52
পরে ঈসা জ্ঞানে ও বয়সে এবং আল্লাহ্র ও মানুষের কাছে অনুগ্রহে বৃদ্ধি পেতে থাকলেন।
1
টিবেরিয়াস সম্রাটের রাজত্বের পঞ্চদশ বছরে যখন পন্তীয় পীলাত এহুদিয়ার শাসনকর্তা, হেরোদ গালীলের বাদশাহ্, তাঁর ভাই ফিলিপ যিতূরিয়া ও ত্রাখোনীতিয়া প্রদেশের বাদশাহ্ এবং লুষাণিয় অবিলীনীর বাদশাহ্,
2 তখন হানন ও কায়াফা মহা-ইমাম ছিলেন। ঠিক এই সময়ে আল্লাহ্র কালাম মরুভূমিতে জাকারিয়ার পুত্র ইয়াহিয়ার কাছে নাজেল হল।
3 তাতে তিনি জর্ডানের নিকটবর্তী সমস্ত দেশে এসে গুনাহ্ মাফের জন্য মন পরিবর্তনের বাপ্তিস্ম তবলিগ করতে লাগলেন;
4 যেমন ইশাইয়া নবীর কিতাবে লেখা আছে,
“মরুভূমিতে এক জনের কণ্ঠস্বর,
সে ঘোষণা করছে,
তোমরা প্রভুর পথ প্রস্তুত কর,
তাঁর রাজপথগুলো সরল কর।
5
প্রত্যেক উপত্যকা পরিপূর্ণ হবে,
প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বত নিচু করা
হবে,
যা যা বাঁকা, সেসব সরল করা হবে,
যা যা অসমান, সেসব সমান করা হবে,
6
এবং সমস্ত দুনিয়া আল্লাহ্র নাজাত
দেখতে পাবে।”
7
অতএব যেসব লোক তাঁর দ্বারা বাপ্তিস্ম নিতে বের হয়ে আসল, তিনি তাদেরকে বললেন, হে সাপের বংশধরেরা, আগামী গজব থেকে পালিয়ে যেতে তোমাদেরকে কে চেতনা দিল?
8 অতএব মন পরিবর্তনের উপযুক্ত ফলে ফলবান হও। মনে মনে বলতে আরম্ভ করো না যে, ইব্রাহিম আমাদের পিতা; কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, আল্লাহ্ এসব পাথর থেকে ইব্রাহিমের জন্য সন্তান উৎপন্ন করতে পারেন।
9 আর এখনই গাছগুলোর গোড়ায় কুড়াল লাগানো আছে; অতএব যে কোন গাছে উত্তম ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।
10
তখন লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, তবে আমাদের কি করতে হবে?
11 জবাবে তিনি তাঁদেরকে বললেন, যার দু’টি কোর্তা আছে, সে যার নেই তাকে একটি দিক; আর যার কাছে খাদ্যদ্রব্য আছে, সেও তেমনি করুক।
12 আর কর-আদায়কারীরাও বাপ্তিস্ম নিতে আসল এবং তাঁকে বললো, হুজুর, আমাদের কি করতে হবে?
13 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের জন্য যা নিরূপিত, তার বেশি আদায় করো না।
14 আর সৈনিকেরাও তাকে জিজ্ঞাসা করলো, আমাদেরই বা কি করতে হবে? তিনি তাদেরকে বললেন, কারো প্রতি দৌরাত্ম্য করো না, অন্যায়পূর্বক কিছু আদায়ও করো না এবং তোমাদের বেতনে সন্তুষ্ট থেকো।
15
আর লোকেরা যখন অপেক্ষায় ছিল এবং ইয়াহিয়ার বিষয়ে সকলে মনে মনে এই তর্ক বিতর্ক করছিল, কি জানি, ইনিই বা সেই মসীহ্,
16 তখন ইয়াহিয়া জবাবে সকলকে বললেন, আমি তোমাদেরকে পানিতে বাপ্তিস্ম দিচ্ছি বটে, কিন্তু এমন এক জন আসছেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিমান, যাঁর জুতার ফিতা খুলবার যোগ্য আমি নই; তিনি তোমাদেরকে পাক-রূহ্ ও আগুনে বাপ্তিস্ম দেবেন।
17 তাঁর কুলা তাঁর হাতে আছে; তিনি তাঁর খামার পরিষ্কার করবেন ও গম তাঁর গোলায় সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।
18
আরও অনেক উপদেশ দিয়ে ইয়াহিয়া লোকদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করতেন।
19 কিন্তু বাদশাহ্ হেরোদ আপন ভাইয়ের স্ত্রী হেরোদিয়ার বিষয়ে এবং নিজের সমস্ত দুষ্কর্মের বিষয়ে ইয়াহিয়া কর্তৃক দোষীকৃত হলে, তার সেসব দুষ্কর্মগুলোর সঙ্গে এটিও যোগ করলেন,
20 ইয়াহিয়াকে কারাগারে বন্দী করলেন।
21
আর যখন সমস্ত লোক বাপ্তিস্ম নিচ্ছিল, তখন ঈসাও বাপ্তিস্ম নিয়ে মুনাজাত করছেন, এমন সময়ে বেহেশত খুলে গেল,
22 এবং পাক-রূহ্ দৈহিক আকারে, কবুতরের মত তাঁর উপরে নেমে আসলেন, আর বেহেশত থেকে এই বাণী হল, “তুমি আমার প্রিয় পুত্র, তোমাতেই আমি প্রীত।”
23
আর ঈসা নিজে যখন কাজ আরম্ভ করেন, তখন প্রায় ত্রিশ বছর বয়স্ক ছিলেন; তিনি (যেমন ধরা হত) ইউসুফের পুত্র— ইনি আলীর পুত্র,
24 ইনি মত্ততের পুত্র, ইনি লেবির পুত্র, ইনি মল্কির পুত্র, ইনি যান্নায়ের পুত্র, ইনি ইউসুফের পুত্র,
25 ইনি মত্তথিয়ের পুত্র, ইনি আমোজের পুত্র, ইনি নহূমের পুত্র, ইনি ইষ্লির পুত্র, ইনি নগির পুত্র,
26 ইনি মাটের পুত্র, ইনি মত্তথিয়ের পুত্র, ইনি শিমিয়ির পুত্র, ইনি যোষেখের পুত্র, ইনি যূদার পুত্র,
27 ইনি যোহানার পুত্র, ইনি রীষার পুত্র, ইনি সরুব্বাবিলের পুত্র, ইনি শল্টীয়েলের পুত্র, ইনি নেরির পুত্র,
28 ইনি মল্কির পুত্র, ইনি অদ্দীর পুত্র, ইনি কোষমের পুত্র, ইনি ইল্মাদমের পুত্র, ইনি এরের পুত্র,
29 ইনি ইউসার পুত্র, ইনি ইলীয়েষরের পুত্র, ইনি যোরীমের পুত্র, ইনি মত্ততের পুত্র, ইনি লেবির পুত্র,
30 ইনি শিমিয়োনের পুত্র, ইনি যূদার পুত্র, ইনি ইউসুফের পুত্র, ইনি যোনমের পুত্র, ইনি ইলিয়াকীমের পুত্র,
31 ইনি মিলেয়ার পুত্র, ইনি মিন্নার পুত্র, ইনি মত্তথের পুত্র, ইনি নাথনের পুত্র, ইনি দাউদের পুত্র,
32 ইনি ইয়াসিরের পুত্র, ইনি ওবেদের পুত্র, ইনি বোয়সের পুত্র, ইনি সল্মোনের পুত্র, ইনি নহশোনের পুত্র,
33 ইনি অম্মীনাদবের পুত্র, ইনি অদমানের পুত্র, ইনি অর্ণির পুত্র, ইনি হিষ্রোণের পুত্র, ইনি পেরসের পুত্র, ইনি এহুদার পুত্র,
34 ইনি ইয়াকুবের পুত্র, ইনি ইস্হাকের পুত্র, ইনি ইব্রাহিমের পুত্র, ইনি তেরহের পুত্র, ইনি নাহোরের পুত্র,
35 ইনি সরূগের পুত্র, ইনি রিয়ূর পুত্র, ইনি পেলগের পুত্র, ইনি এবরের পুত্র, ইনি শেলহের পুত্র,
36 ইনি কৈননের পুত্র, ইনি অফক্ষদের পুত্র, ইনি সামের পুত্র, ইনি নূহের পুত্র, ইনি লামাকের পুত্র,
37 ইনি মুতাওশালেহের পুত্র, ইনি হানোকের পুত্র, ইনি ইয়ারুদের পুত্র, ইনি মাহলাইলের পুত্র, ইনি কৈননের পুত্র,
38 ইনি আনুশের পুত্র, ইনি শিসের পুত্র, ইনি আদমের পুত্র, ইনি আল্লাহ্র পুত্র।
1
ঈসা পাক-রূহে পূর্ণ হয়ে জর্ডান নদী থেকে ফিরে আসলেন এবং চল্লিশ দিন পর্যন্ত সেই রূহের আবেশে মরুভূমির মধ্যে চালিত হলেন,
2 আর শয়তান দ্বারা পরীক্ষিত হলেন। সেসব দিন তিনি কিছুই আহার করেন নি; পরে সেসব দিন শেষ হলে পর ক্ষুধিত হলেন।
3 তখন শয়তান তাঁকে বললো, তুমি যদি আল্লাহ্র পুত্র হও, তবে এই পাথরটিকে বল, যেন তা রুটি হয়ে যায়।
4 জবাবে ঈসা তাকে বললেন, লেখা আছে, “মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচে না।”
5
পরে সে তাঁকে উপরে নিয়ে গিয়ে মুহূর্তকালের মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত রাজ্য দেখালো।
6 আর শয়তান তাঁকে বললো, তোমাকেই আমি এ সব কর্তৃত্ব ও এই সকলের প্রতাপ দেব; কেননা এই সকল আমাকে দেওয়া হয়েছে, আর আমার যাকে ইচ্ছা, তাকে দান করি;
7 অতএব তুমি যদি আমার সম্মুখে পড়ে সেজ্দা কর, তবে এসবই তোমার হবে।
8 জবাবে ঈসা তাকে বললেন, লেখা আছে, “তোমার আল্লাহ্ প্রভুকেই সেজ্দা করবে, কেবল তাঁরই এবাদত করবে”।
9
আর সে তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে গেল ও বায়তুল-মোকাদ্দসের চুড়ার উপরে দাঁড় করালো এবং তাঁকে বললো, তুমি যদি আল্লাহ্র পুত্র হও, তবে এই স্থান থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়;
10 কেননা লেখা আছে,
‘তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে তোমার বিষয়ে হুকুম দেবেন,
যেন তাঁরা তোমাকে রক্ষা করেন;’
11
আর ‘তাঁরা তোমাকে হাতে করে তুলে নেবেন,
যেন তোমার চরণে পাথরের আঘাত না লাগে।’
12
জবাবে ঈসা তাকে বললেন, লেখা আছে, “তুমি তোমার আল্লাহ্ মালিকের পরীক্ষা করো না”।
13 আর সমস্ত পরীক্ষা শেষ করে শয়তান কিছুকালের জন্য তাঁর কাছ থেকে চলে গেল।
14
তখন ঈসা পাক-রূহের শক্তিতে পূর্ণ হয়ে গালীলে ফিরে গেলেন এবং তাঁর কীর্তি চারদিকের সমস্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লো।
15 আর তিনি তাদের মজলিস-খানাগুলোতে উপদেশ দিয়ে সকলের দ্বারা গৌরবান্বিত হতে লাগলেন।
16
আর তিনি যেখানে লালিত-পালিত হয়েছিলেন, সেই নাসরতে উপস্থিত হলেন এবং আপন রীতি অনুসারে বিশ্রামবারে মজলিস-খানায় প্রবেশ করলেন ও পাঠ করতে দাঁড়ালেন।
17 তখন ইশাইয়া নবীর কিতাব তাঁর হাতে দেওয়া হল, আর তিনি কিতাবখানি খুলে সেই স্থান পেলেন যেখানে লেখা আছে,
18
“প্রভুর রূহ্ আমার মধ্যে অবস্থিতি করেন,
কারণ তিনি আমাকে অভিষিক্ত করেছেন,
দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করার জন্য;
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, বন্দীদের কাছে মুক্তি,
এবং অন্ধদের কাছে দৃষ্টিদান ঘোষণা করার জন্য,
নির্যাতিতদেরকে নিস্তার করে বিদায় করার জন্য,
19
প্রভুর রহমতের বছর ঘোষণা করার জন্য”।
20
পরে তিনি কিতাবখানি বন্ধ করে কর্মচারীর হাতে দিয়ে বসলেন। তাতে মজলিস-খানায় সকলের চোখ তাঁর প্রতি স্থির হয়ে রইলো।
21 আর তিনি তাদেরকে বলতে লাগলেন, পাক-কিতাবের এই কালাম তোমাদের কর্ণগোচরে পূর্ণ হল।
22 তাতে সকলে তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দিল ও তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া সুন্দর সুন্দর কথায় আশ্চর্য হল; আর বললো, এ কি ইউসুফের পুত্র নয়?
23 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে অবশ্য এই প্রবাদ বাক্য বলবে, চিকিৎসক, নিজেকেই সুস্থ কর; কফরনাহূমে যা যা করা হয়েছে বলে শুনেছি, এখানে এই স্বদেশেও কর।
24 তিনি আরও বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, কোন নবী স্বদেশে গ্রাহ্য হয় না।
25 আর আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, ইলিয়াসের সময় যখন তিন বছর ছয় মাস পর্যন্ত আসমান রুদ্ধ ছিল ও সারা দেশে মহা দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হয়েছিল,
26 কিন্তু ইলিয়াস তাদের কারো কাছে প্রেরিত হন নি, কেবল সিডন দেশের সারিফতে এক জন বিধবা স্ত্রীলোকের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন।
27 আর আল-ইয়াসা নবীর সময়ে ইসরাইলের মধ্যে অনেক কুষ্ঠ রোগী ছিল, কিন্তু তাদের কেউই পাক-পবিত্র হয় নি, কেবল সিরিয়া দেশের নামান হয়েছিল।
28 এই কথা শুনে মজলিস-খানার উপস্থিত লোকেরা সকলে ক্রোধে পূর্ণ হল;
29 আর তারা উঠে তাঁকে নগরের বাইরে ঠেলে নিয়ে চললো এবং যে পর্বতে তাদের নগর নির্মিত হয়েছিল, তার অগ্রভাগ পর্যন্ত নিয়ে গেল, যেন তাঁকে নিচে ফেলে দিতে পারে।
30 কিন্তু তিনি তাদের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলে গেলেন।
31
পরে তিনি গালীলের কফরনাহূম নগরে নেমে আসলেন। আর তিনি বিশ্রামবারে লোকদেরকে উপদেশ দিতে লাগলেন;
32 এবং লোকেরা তাঁর উপদেশে চমৎকৃত হল; কারণ তাঁর কথা ক্ষমতাযুক্ত ছিল।
33 তখন ঐ মজলিস-খানায় এক ব্যক্তি ছিল, তাঁকে নাপাক রূহে পেয়েছিল;
34 সে চিৎকার করে বললো, হে নাসরতীয় ঈসা, আপনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কি? আপনি কি আমাদেরকে বিনাশ করতে আসলেন? আমি জানি আপনি কে, আল্লাহ্র সেই পবিত্র ব্যক্তি।
35 তখন ঈসা তাকে ধম্ক দিয়ে বললেন, চুপ্ কর এবং লোকটির মধ্য থেকে বের হও, তখন সেই বদ-রূহ্ তাকে মাঝখানে ফেলে দিয়ে তার মধ্য থেকে বের হয়ে গেল, তার কোন ক্ষতি করলো না।
36 তখন সকলে চমৎকৃত হল এবং পরসপর বলাবলি করতে লাগল, এ কেমন কথা? ইনি ক্ষমতায় ও পরাক্রমে নাপাক রূহ্দেরকে হুকুম করেন, আর তারা বের হয়ে যায়।
37 পরে চারদিকের অঞ্চলের সর্বত্র তাঁর কীর্তির কথা ছড়িয়ে পড়লো।
38
পরে তিনি মজলিস-খানা থেকে উঠে শিমোনের বাড়িতে প্রবেশ করলেন; তখন শিমোনের শাশুড়ির ভীষণ জ্বর হয়েছিল, তাই তাঁরা তাঁর সুস্থতার জন্য তাঁকে ফরিয়াদ জানালেন।
39 তখন তিনি তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে জ্বরকে ধম্ক দিলেন, তাতে তাঁর জ্বর ছেড়ে গেল; আর তিনি তৎক্ষণাৎ উঠে তাঁদের পরিচর্যা করতে লাগলেন।
40
পরে সূর্য অস্ত যাবার সময়ে লোকদের অসুস্থ রোগীদের, যারা নানা রোগে ভুগছিল, তারা তাদেরকে তাঁর কাছে আনলো; আর তিনি প্রত্যেক জনের উপরে হাত রেখে তাদেরকে সুস্থ করলেন।
41 আর অনেক লোকের মধ্য থেকে বদ-রূহ্ও বের হয়ে গেল, তারা চিৎকার করে বললো, আপনি আল্লাহ্র পুত্র; কিন্তু তিনি তাদেরকে ধমক্ দিলেন, কথা বলতে দিলেন না, কারণ তারা জানত যে, তিনিই সেই মসীহ্।
42
পরে প্রভাত হলে তিনি বের হয়ে কোন নির্জন স্থানে গমন করলেন; আর লোকেরা তাঁর খোঁজ করলো এবং তাঁর কাছে এসে তাঁকে নিবৃত্ত করতে চাইল, যেন তিনি তাদের কাছ থেকে চলে না যান।
43 কিন্তু তিনি তাদেরকে বললেন, অন্য অন্য নগরেও আমাকে আল্লাহ্র রাজ্যের সুসমাচার তবলিগ করতে হবে; কেননা সেজন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।
44 পরে তিনি এহুদিয়ার নানা মজলিস-খানায় তবলিগ করতে লাগলেন।
1
একবার যখন লোকেরা তাঁর উপরে চাপাচাপি করে পড়ে আল্লাহ্র কালাম শুনছিল, তখন তিনি গিনেষরৎ হ্রদের কূলে দাঁড়িয়েছিলেন,
2 আর তিনি দেখলেন, হ্রদের ধারে দু’খানি নৌকা রয়েছে, কিন্তু জেলেরা নৌকা থেকে নেমে গিয়ে জাল ধুচ্ছিল।
3 তাতে তিনি ঐ দু’টির মধ্য থেকে শিমোনের নৌকায় উঠে স্থল থেকে একটু দূরে যেতে তাঁকে অনুরোধ করলেন; আর তিনি নৌকায় বসে লোকদেরকে উপদেশ দিতে লাগলেন।
4 পরে কথা শেষ করে তিনি শিমোনকে বললেন, তুমি গভীর পানিতে নৌকা নিয়ে চল, আর তোমরা মাছ ধরবার জন্য তোমাদের জাল ফেল।
5 শিমোন জবাবে বললেন, হে প্রভু, আমরা সমস্ত রাত পরিশ্রম করে কিছুই পাই নি, কিন্তু আপনার কথায় আমি জাল ফেলবো।
6 তাঁরা জাল ফেললে পর মাছের বড় ঝাঁক ধরা পড়লো ও তাঁদের জাল ছিঁড়তে শুরু করলো; তাতে তাঁদের যে অংশীদারেরা অন্য নৌকায় ছিলেন, তাঁদেরকে তাঁরা ডাকলেন যেন তাঁরা এসে তাঁদের সাহায্য করেন।
7 তাঁরা এসে দু’খানি নৌকা এমন পূর্ণ করলেন যে, নৌকা দু’খানি ডুবে যাবার মত হল।
8 তা দেখে শিমোন পিতর ঈসার জানুর উপরে পড়ে বললেন, আমার কাছ থেকে চলে যান, কেননা, হে প্রভু, আমি গুনাহ্গার।
9 কারণ জালে এত মাছ ধরা পড়েছিল বলে তিনি ও যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, সকলে চমৎকৃত হয়েছিলেন;
10 আর সিবদিয়ের পুত্র ইয়াকুব ও ইউহোন্না, যাঁরা শিমোনের অংশীদার ছিলেন, তাঁরাও চমৎ-কৃত হয়েছিলেন। তখন ঈসা শিমোনকে বললেন, ভয় করো না, এখন থেকে তুমি মানুষ ধরবে।
11 পরে তাঁরা নৌকা কূলে এনে সব কিছু ফেলে রেখে তাঁর পিছনে চললেন।
12
একবার তিনি কোন নগরে গেলেন; সেই স্থানে এক জন সর্বাঙ্গকুষ্ঠ রোগী ছিল; সে ঈসাকে দেখে উবুড় হয়ে পড়ে ফরিয়াদ সহকারে বললো, প্রভু, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তবে আমাকে পাক-পবিত্র করতে পারেন।
13 তখন তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করলেন, বললেন, আমার ইচ্ছা, তুমি পাক-পবিত্র হও; আর তখনই তার কুষ্ঠ চলে গেল।
14 পরে তিনি তাকে হুকুম দিলেন, এই কথা কাউকেও বলো না, কিন্তু ইমামের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং লোকদের কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য তোমার পাক-পবিত্রকরণ সম্বন্ধে মূসার হুকুম অনুসারে নৈবেদ্য কোরবানী কর।
15 কিন্তু তাঁর বিষয়ে জনরব আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে লাগল; আর তাঁর কথা শুনবার জন্য এবং নিজ নিজ রোগ থেকে সুস্থ হবার জন্য অনেক লোক সমাগত হতে লাগল।
16 কিন্তু তিনি কোন না কোন নির্জন স্থানে গিয়ে মুনাজাত করতেন।
17
আর এক দিন তিনি উপদেশ দিচ্ছিলেন এবং ফরীশীরা ও আলেমেরা কাছে বসেছিল; তারা গালীল ও এহুদিয়ার সমস্ত গ্রাম এবং জেরুশালেম থেকে এসেছিল; আর প্রভুর শক্তি তাঁর সংগে ছিল, যেন তিনি সুস্থ করেন।
18 আর দেখ, কয়েক জন লোক এক জনকে খাটে করে আনলো, সে পক্ষা-ঘাতগ্রস্ত; তারা তাকে ভিতরে এনে তাঁর সম্মুখে রাখতে চেষ্টা করলো।
19 কিন্তু ভিড়ের জন্য ভিতরে আনবার পথ না পাওয়াতে ঘরের ছাদে উঠলো এবং টালিগুলোর মধ্য দিয়ে বিছানাসুদ্ধ তাকে মাঝখানে ঈসার সম্মুখে নামিয়ে দিল।
20 তাদের ঈমান দেখে তিনি বললেন, বন্ধু, তোমার গুনাহ্ মাফ হল।
21 তখন আলেমেরা ও ফরীশীরা এই তর্ক করতে লাগল, এ কে, যে কুফরী করছে? একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কে গুনাহ্ মাফ করতে পারে?
22 ঈসা তাদের তর্ক জেনে জবাবে তাদেরকে বললেন, তোমরা মনে মনে কেন তর্ক করছো?
23 কোন্টা বলা সহজ, ‘তোমার গুনাহ্ মাফ হলো’, না ‘তুমি উঠে হেঁটে বেড়াও’?
24 কিন্তু দুনিয়াতে গুনাহ্ মাফ করতে ইবনুল-ইনসানের ক্ষমতা আছে, তা যেন তোমরা জানতে পার, এজন্য— তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোককে বললেন, তোমাকে বলছি, উঠ। তোমার বিছানা তুলে নিয়ে তোমার ঘরে যাও।—
25 তাতে সে তখনই তাদের সাক্ষাতে উঠলো এবং নিজের বিছানা তুলে নিয়ে আল্লাহ্র গৌরব করতে করতে তার বাড়িতে চলে গেল।
26 তখন সকলে ভীষণ আশ্চর্য হল, আর আল্লাহ্কে মহিমান্বিত করতে লাগল এবং ভয়ে পরিপূর্ণ হয়ে বলতে লাগল, আজ আমরা অলৌকিক ব্যাপার দেখলাম।
27
তারপর তিনি বাইরে গেলেন, আর দেখলেন, লেবি নামে এক জন কর-আদায়কারী করগ্রহণ-স্থানে বসে আছেন; তিনি তাঁকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর।
28 তাতে তিনি সব কিছু পরিত্যাগ করে উঠে তাঁর পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন।
29
পরে লেবি তাঁর বাড়িতে তাঁর জন্য বড় একটি ভোজ প্রস্তুত করলেন এবং অনেক কর-আদায়কারী ও অন্যান্য লোক তাঁদের সঙ্গে ভোজনে বসেছিল।
30 তখন ফরীশীরা ও তাদের আলেমেরা তাঁর সাহাবীদের বিরুদ্ধে বচসা করে বলতে লাগল, তোমরা কি কারণে কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গারদের সঙ্গে ভোজন পান করছো?
31 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, সুস্থ লোকদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই, কিন্তু অসুস্থ লোকদেরই প্রয়োজন আছে।
32 আমি ধার্মিকদেরকে নয়, কিন্তু গুনাহ্গারদেরকেই ডাকতে এসেছি, যেন তারা মন ফিরায়।
33
পরে তারা তাঁকে বললো, ইয়াহিয়ার সাহাবীরা বার বার রোজা রাখে ও মুনাজাত করে, ফরীশীদের শাগরেদরাও সেরকম করে; কিন্তু তোমার সাহাবীরা ভোজন পান করে থাকে।
34 ঈসা তাদেরকে বললেন, বর সঙ্গে থাকতে তোমরা কি বাসর-ঘরের লোকদেরকে রোজা করাতে পার?
35 কিন্তু সময় আসবে; আর যখন বরকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে, তখন তারা রোজা রাখবে।
36 তিনি তাদেরকে আরও একটি দৃষ্টান্ত বললেন, তা এই— কেউ নতুন কাপড় থেকে টুকরা ছিঁড়ে পুরানো কাপড়ে লাগায় না; তা করলে নতুনটাও ছিঁড়তে হয় এবং পুরানো কাপড়েও সেই নতুনের তালি মিলবে না।
37 আর পুরানো কুপায় কেউ টাট্কা আঙ্গুর-রস রাখে না; রাখলে টাট্কা আঙ্গুর-রসে কুপাগুলো ফেটে যাবে, তাতে আঙ্গুর-রসও পড়ে যাবে, কুপাগুলোও নষ্ট হবে।
38 কিন্তু টাট্কা আঙ্গুর-রস নতুন কুপাতেই রাখতে হয়।
39 আর পুরানো আঙ্গুর-রস পান করে কেউ টাট্কা চায় না, কেননা সে বলে, পুরাতনই ভাল।
1
এক দিন বিশ্রামবারে ঈসা শস্য-ক্ষেত দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময়ে তাঁর সাহাবীরা শীষ ছিঁড়ে ছিঁড়ে হাতে ঘষে ঘষে খেতে লাগলেন।
2 তাতে কয়েক জন ফরীশী বললো, বিশ্রামবারে যা করা উচিত নয়, তোমরা কেন তা করছো?
3 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, দাউদ ও তাঁর সঙ্গীদের যখন খিদে পেয়েছিল তখন তিনি কি করেছিলেন, তাও কি তোমরা পাঠ কর নি?
4 তিনি তো আল্লাহ্র গৃহে প্রবেশ করে যে দর্শন-রুটি কেবল ইমামদের ছাড়া আর কারো ভোজন করা উচিত নয়, তা নিয়ে নিজে ভোজন করেছিলেন এবং সঙ্গীদেরকেও দিয়েছিলেন।
5 পরে তিনি তাদেরকে বললেন, ইবনুল-ইনসান বিশ্রামবারের কর্তা।
6
আর এক বিশ্রামবারে তিনি মজলিস-খানায় প্রবেশ করে উপদেশ দিলেন; সেই স্থানে একটি লোক ছিল, যার ডান হাত শুকিয়ে গিয়েছিল।
7 আর তিনি বিশ্রামবারে সুস্থ করেন কি না তা দেখবার জন্য আলেমেরা ও ফরীশীরা তাঁর প্রতি দৃষ্টি রাখল, যেন তাঁর নামে দোষারোপ করার সূত্র পায়।
8 কিন্তু তিনি তাদের চিন্তা জানতেন, আর হাত শুকিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তিকে বললেন, উঠ, মাঝখানে দাঁড়াও। তাতে সে উঠে দাঁড়ালো।
9 পরে ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করি, বিশ্রামবারে কি করা উচিত? ভাল করা না মন্দ করা? প্রাণ রক্ষা করা না নাশ করা?
10 তাদের সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করে সেই লোকটিকে বললেন, তোমার হাত বাড়িয়ে দাও। সে তা-ই করলো, আর তার হাত সুস্থ হল।
11 কিন্তু তারা ক্রোধে পূর্ণ হল, আর ঈসার প্রতি কি করবে, সেই কথা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল।
12
সেই সময়ে তিনি একদিন মুনাজাত করার জন্য বের হয়ে পর্বতে গেলেন, আর আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করতে করতে সমস্ত রাত যাপন করলেন।
13 পরে যখন দিন হল, তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে ডাকলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে বারো জনকে মনোনীত করলেন, আর তাঁদেরকে ‘প্রেরিত’ নাম দিলেন।
14 শিমোন, যাঁকে তিনি পিতর নামও দিলেন ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয় এবং ইয়াকুব ও ইউহোন্না এবং ফিলিপ এবং বর্থলময়,
15 এবং মথি ও থোমা এবং আল্ফেয়ের (পুত্র) ইয়াকুব ও উদ্যোগী আখ্যাত শিমোন,
16 ইয়াকুবের (পুত্র) এহুদা, এবং ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা, যে তাঁকে দুশমনদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল।
17
পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে একটি সমান ভূমির উপরে গিয়ে দাঁড়ালেন; আর তাঁর অনেক সাহাবী এবং সমস্ত এহুদিয়া ও জেরুশালেম এবং টায়ার ও সিডনের সমুদ্র উপকূল থেকে অনেক লোক উপস্থিত হল;
18 তারা তাঁর কথা শুনবার ও নিজ নিজ রোগ থেকে সুস্থ হবার জন্য তাঁর কাছে এসেছিল এবং যারা নাপাক রূহ্ দ্বারা কষ্ট পাচ্ছিল তারা সুস্থ হল।
19 আর সমস্ত লোক তাঁকে স্পর্শ করতে চেষ্টা করলো, কেননা তাঁর মধ্য থেকে শক্তি বের হয়ে সকলকে সুস্থ করছিল।
20
পরে তিনি তাঁর সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, ধন্য দীনহীনেরা, কারণ আল্লাহ্র রাজ্য তোমাদেরই।
21 ধন্য তোমরা, যারা এখন ক্ষুধিত, কারণ তোমরা পরিতৃপ্ত হবে। ধন্য তোমরা, যারা এখন কান্নাকাটি কর, কারণ তোমরা হাসবে।
22
ধন্য তোমরা, যখন লোকে ইবনুল-ইনসানের জন্য তোমাদেরকে হিংসা করে, আর যখন তোমাদেরকে পৃথক করে দেয় ও নিন্দা করে এবং তোমাদের নাম মন্দ বলে দূর করে দেয়।
23 সেদিন আনন্দ করো ও নৃত্য করো, কেননা দেখ, বেহেশতে তোমাদের পুরস্কার প্রচুর; কেননা তাদের পূর্বপুরুষেরা নবীদের প্রতি তা-ই করতো।
24 কিন্তু ধিক্ তোমাদেরকে, তোমরা যারা ধনবান, কারণ তোমরা তোমাদের সান্ত্বনা পেয়েছ।
25 ধিক্ তোমাদেরকে, যারা এখন পরিতৃপ্ত, কারণ তোমরা ক্ষুধিত হবে; ধিক্ তোমাদেরকে, যারা এখন হাসছো, কারণ তোমরা মাতম করবে ও কাঁদবে।
26 ধিক্ তোমাদেরকে, যখন সকল লোকে তোমাদের সুখ্যাতি করে, কারণ তাদের পূর্বপুরুষেরা ভণ্ড নবীদের প্রতি তা-ই করতো।
27
কিন্তু তোমরা যে শুনছো, আমি তোমাদেরকে বলি, তোমরা নিজ নিজ দুশমনদেরকে মহব্বত করো; যারা তোমাদেরকে হিংসা করে, তাদের মঙ্গল করো;
28 যারা তোমাদেরকে বদদোয়া দেয়, তাদেরকে দোয়া করো; যারা তোমাদেরকে নিন্দা করে, তাদের জন্য মুনাজাত করো।
29 যে তোমার এক গালে চড় মারে, তার দিকে অন্য গালও পেতে দিও; এবং যে তোমার কোর্তা তুলে নেয়, তাকে জামাও নিতে বারণ করো না।
30 যে কেউ তোমার কাছে কিছু চায়, তাকে দিও; এবং যে তোমার দ্রব্য নিয়ে যায়, তার কাছে তা আর চেয়ো না।
31 আর তোমরা যেমনটি ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাদের প্রতি সেই রকম ব্যবহার করো।
32
আর যারা তোমাদেরকে মহব্বত করে, তাদেরকেই মহব্বত করলে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পেতে পার? কেননা, গুনাহ্গার লোকেরাও, যারা তাদেরকে মহব্বত করে, তারাও তাদেরকে মহব্বত করে।
33 আর যারা তোমাদের উপকার করে, যদি তাদের উপকার কর, তবে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পেতে পার?
34 গুনাহ্গার লোকেরাও তা-ই করে। আর যাদের কাছে পাবার আশা থাকে, যদি তাদেরকেই ধার দাও, তবে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পেতে পার? গুনাহ্গার লোকেরাও গুনাহ্গার লোকদেরকে ধার দেয়, যেন সেই পরিমাণে ফিরে পায়।
35 কিন্তু তোমরা নিজ নিজ দুশমনদেরকে মহব্বত করো, তাদের ভাল করো এবং কখনও নিরাশ না হয়ে ধার দিও, তা করলে তোমাদের মহাপুরস্কার হবে এবং তোমরা সর্বশক্তিমানের সন্তান হবে, কেননা তিনি অকৃতজ্ঞদের ও দুষ্টদের প্রতিও কৃপাবান।
36 তোমাদের পিতা যেমন দয়ালু, তোমরাও তেমনি দয়ালু হও।
37
আর তোমরা বিচার করো না, তাতে তোমাদেরও বিচার করা হবে না; আর দোষী করো না, তাতে তোমাদেরও দোষী করা হবে না। তোমরা ছেড়ে দিও, তাতে তোমাদেরও ছেড়ে দেওয়া যাবে।
38 দান কর, তাতে তোমাদেরকেও দেওয়া যাবে; লোকে প্রচুর পরিমাণে চেপে চেপে, ঝাঁকিয়ে নিয়ে, উপ্চে পড়বার মত করে তোমাদের কোলে দেবে; কারণ তোমরা যেভাবে মেপে দাও, সেভাবে তোমাদের জন্যও মাপা যাবে।
39
আর তিনি তাদেরকে একটি দৃষ্টান্তও বললেন, অন্ধ কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? উভয়েই কি গর্তে পড়বে না?
40 ছাত্র শিক্ষক থেকে বড় নয়, কিন্তু যে কেউ পরিপক্ক হয়, সে তার শিক্ষকের মত হবে।
41 আর তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটা আছে, তা-ই কেন দেখছো, কিন্তু তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ আছে, তা কেন ভেবে দেখছো না?
42 তোমার চোখে যে কড়িকাঠ আছে, তা যখন দেখছো না, তখন তুমি কেমন করে আপন ভাইকে বলতে পার, ভাই, এসো, আমি তোমার চোখ থেকে কুটাটা বের করে দিই? তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ আছে, তা তো তুমি দেখছো না! হে ভণ্ড, আগে নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠ বের করে ফেল, তারপর তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটা আছে, তা বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
43
কারণ এমন ভাল গাছ নেই, যাতে মন্দ ফল ধরে এবং এমন মন্দ গাছও নেই, যাতে ভাল ফল ধরে।
44 স্ব স্ব ফল দ্বারাই প্রত্যেক গাছ চেনা যায়; লোকে তো কাঁটাবন থেকে ডুমুর সংগ্রহ করে না এবং কাঁটাঝোপ থেকে আঙ্গুর ফল সংগ্রহ করে না।
45 ভাল মানুষ তার হৃদয়ের ভাল ভাণ্ডার থেকে ভালই বের করে এবং মন্দ মানুষ মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দই বের করে; যেহেতু হৃদয়ের উপচয় থেকে তার মুখ কথা বলে।
46
আর তোমরা কেন আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু, বলে ডাক, অথচ আমি যা যা বলি, তা কর না?
47 যে কেউ আমার কাছে এসে আমার কথা শুনে পালন করে, সে কার মত তা আমি তোমাদেরকে জানাচ্ছি।
48 সে এমন এক ব্যক্তির মত, যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে খনন করলো, খুঁড়ে গভীর করলো ও পাথরের উপরে ভিত্তিমূল স্থাপন করলো; পরে বন্যা আসলে সেই বাড়ির উপর দিয়ে পানির স্রোত বেগে বয়ে গেল, কিন্তু তা হেলাতে পারল না, কারণ তা উত্তমরূপে নির্মিত হয়েছিল।
49 কিন্তু যে শুনে পালন না করে, সে এমন এক ব্যক্তির মত, যে মাটির উপরে কোন ভিত্তিমূল ছাড়াই বাড়ি নির্মাণ করলো; পরে পানির স্রোত বেগে বয়ে সেই বাড়িতে লাগল, আর অমনি তা পড়ে গেল এবং সেই বাড়ি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল।
1
লোকদের কাছে তাঁর সমস্ত কথা বলা শেষ করে তিনি কফরনাহূমে প্রবেশ করলেন।
2
তখন এক জন শতপতির এক জন গোলাম অসুস্থ হয়ে মৃতপ্রায় হয়েছিল; সে তার প্রিয়পাত্র ছিল।
3 তিনি ঈসার সংবাদ শুনে ইহুদীদের কয়েক জন প্রাচীনকে দিয়ে তাঁর কাছে নিবেদন করে পাঠালেন, যেন তিনি এসে তার গোলামকে বাঁচান।
4 তারা ঈসার কাছে এসে আগ্রহপূর্বক ফরিয়াদ করে বলতে লাগলেন, আপনি যে তার জন্য এই কাজ করেন, তিনি তার যোগ্য;
5 কেননা তিনি আমাদের জাতিকে মহব্বত করেন, আর আমাদের মজলিস-খানা তিনি নিজে নির্মাণ করে দিয়েছেন।
6 ঈসা তাদের সঙ্গে গমন করলেন, আর তিনি বাড়ির অনতিদূরে থাকতেই শতপতি কয়েক জন বন্ধুর মধ্য দিয়ে তাঁকে বলে পাঠালেন, প্রভু, নিজেকে কষ্ট দেবেন না; কেননা আমি এমন যোগ্য নই যে, আপনি আমার ছাদের নিচে আসেন;
7 সেজন্য আমি নিজেকেও আপনার কাছে আসার যোগ্য মনে করি নি; আপনি মুখে বলুন, তাতেই আমার গোলাম সুস্থ হবে।
8 কারণ আমিও কর্তৃত্বের অধীনে নিযুক্ত লোক, আবার সৈন্যরা আমার অধীন; আর আমি তাদের এক জনকে ‘যাও’ বললে সে যায় এবং অন্যকে ‘এসো’ বললে সে আসে, আর আমার গোলামকে ‘এই কাজ কর’ বললে সে তা করে।
9 এসব কথা শুনে ঈসা তার বিষয়ে আশ্চর্য জ্ঞান করলেন এবং যে লোকেরা তাঁর পিছনে পিছনে আসছিল, তিনি তাদের দিকে ফিরে বললেন, আমি তোমাদেরকে বলছি, ইসরাইলের মধ্যেও এত বড় ঈমান দেখতে পাই নি।
10 পরে যাদেরকে পাঠান হয়েছিল, তারা বাড়িতে ফিরে গিয়ে সেই গোলামকে সুস্থ দেখতে পেলেন।
11
কিছু কাল পরে তিনি নায়িন্ নামক নগরে যাত্রা করলেন এবং তাঁর সাহাবীরা ও অনেক লোক তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিল।
12 যখন তিনি নগর-দ্বারের নিকটবর্তী হলেন তখন লোকেরা একটি মৃত মানুষকে বহন করে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল; সে তার মায়ের একমাত্র পুত্র এবং সেই মা এক জন বিধবা; আর নগরের অনেক লোক তার সঙ্গে ছিল।
13 তাকে দেখে প্রভু তার প্রতি করুণাবিষ্ট হলেন এবং তাকে বললেন, কেঁদো না।
14 পরে কাছে গিয়ে খাট সপর্শ করলেন; তাতে বাহকেরা দাঁড়ালো। তিনি বললেন, হে যুবক, তোমাকে বলছি, উঠ।
15 তাতে সেই মৃত মানুষটি উঠে বসলো এবং কথা বলতে লাগল; পরে তিনি তাকে তার মায়ের হাতে তুলে দিলেন।
16 তখন সকলে ভয়ে ভীত হল এবং আল্লাহ্কে মহিমান্বিত করে বলতে লাগল, ‘আমাদের মধ্যে এক জন মহান নবীর উদয় হয়েছে’, আর ‘আল্লাহ্ আপন লোকদের তত্ত্বাবধান করেছেন’।
17 পরে সমুদয় এহুদিয়াতে এবং চারদিকে সমস্ত অঞ্চলে তাঁর বিষয়ে এই কথা ছড়িয়ে পড়লো।
18
আর ইয়াহিয়ার সাহাবীরা তাঁকে এসব বিষয়ে সংবাদ দিল।
19 তাতে ইয়াহিয়া তাঁর দু’জন সাহাবীকে ডেকে তাদের দ্বারা প্রভুর কাছে জিজ্ঞাসা করে পাঠালেন, ‘যাঁর আগমন হবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না, আমরা অন্যের অপেক্ষায় থাকব?’
20 পরে সেই দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া আমাদের দ্বারা আপনার কাছে এই কথা বলে পাঠিয়েছেন, যাঁর আগমন হবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না, আমরা অন্য জনের অপেক্ষায় থাকব?
21 সেই সময় তিনি অনেক লোককে রোগ, ব্যাধি ও দুষ্ট রূহ্ থেকে সুস্থ করলেন এবং অনেক অন্ধকে দেখবার ক্ষমতা দিলেন।
22 পরে তিনি ঐ দুই জনকে এই জবাব দিলেন, তোমরা যাও, যা দেখলে ও শুনলে তার সংবাদ ইয়াহিয়াকে দাও। তাঁকে বলো, অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে, খঞ্জেরা চলছে, কুষ্ঠ রোগীরা পাক-পবিত্র হচ্ছে, বধিরেরা শুনতে পাচ্ছে, মৃতেরা উত্থাপিত হচ্ছে, দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করা হচ্ছে;
23 আর ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আমাকে নিয়ে মনে কোন বাধা না পায়।
24
ইয়াহিয়ার দূতেরা প্রস্থান করলে পর তিনি লোকদেরকে ইয়াহিয়ার বিষয়ে বলতে লাগলেন, তোমরা মরুভূমিতে কি দেখতে গিয়েছিলে? কি বাতাসে কেঁপে ওঠা নল?
25 তবে কি দেখতে গিয়েছিলে? কি কোমল পোশাক পরা কোন ব্যক্তিকে? দেখ, যারা জাঁকাল পোশাক পরে এবং বিলাসিতায় কাল যাপন করে, তারা তো রাজপ্রাসাদে থাকে।
26 তবে কি দেখতে গিয়েছিলে? কি এক জন নবীকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদেরকে বলছি, নবীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে।
27 ইনি সেই ব্যক্তি, যাঁর বিষয়ে লেখা আছে, “দেখ, আমি আমার দূতকে তোমার আগে প্রেরণ করি, সে তোমার আগে তোমার পথ প্রস্তুত করবে।”
28
আমি তোমাদেরকে বলছি, স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে ইয়াহিয়া থেকে মহান কেউই নেই; তবুও আল্লাহ্র রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সে তাঁর চেয়েও মহান।
29 (আর সমস্ত লোক ও কর-আদায়কারীরা এই কথা শুনে আল্লাহ্কে ধর্মময় বলে স্বীকার করলো, কেননা তারা ইয়াহিয়ার বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিল;
30 কিন্তু ফরীশীরা ও আলেমেরা তাঁর দ্বারা বাপ্তিস্ম না নেওয়াতে তাদের বিষয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যকে বিফল করেছিল।)
31
অতএব আমি কার সঙ্গে এই কালের লোকদের তুলনা করবো? তারা কিসের মত?
32 তারা এমন বালকদের মত, যারা বাজারে বসে এক জন আর এক জনকে ডেকে বলে, ‘আমরা তোমাদের কাছে বাঁশী বাজালাম, তোমরা নাচলে না; আমরা মাতম করলাম, তোমরা কাঁদলে না।
33 কারণ বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া এসে রুটি খান নি, আঙ্গুর-রসও পান করেন নি, তাই তোমরা বল, তাকে বদ-রূহে পেয়েছে।
34 ইবনুল-ইনসান এসে ভোজন পান করলেন, আর তোমরা বল, ঐ দেখ, এক জন পেটুক ও মদ্যপায়ী, কর-আদায়কারীদের ও গুনাহ্গারদের বন্ধু।
35 কিন্তু প্রজ্ঞা তাঁর সকল সন্তান দ্বারা নির্দোষ বলে গণিত হলেন।
36
আর ফরীশীদের মধ্যে এক জন তাঁকে তার সঙ্গে ভোজন করতে দাওয়াত করলো। তাতে তিনি সেই ফরীশীর বাড়িতে প্রবেশ করে ভোজনে বসলেন।
37 আর দেখ, সেই নগরে এক জন গুনাহ্গার স্ত্রীলোক ছিল। সে যখন জানতে পারল, তিনি সেই ফরীশীর বাড়িতে ভোজনে বসেছেন, তখন একটি শ্বেত পাথরের পাত্রে সুগন্ধি তেল নিয়ে আসল।
38 পরে পিছনের দিকে তাঁর পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিতে তাঁর পা ভিজাতে লাগল এবং তার মাথার চুল দিয়ে তা মুছে দিল, আর তাঁর পা চুম্বন করতে করতে সেই সুগন্ধি তেল মাখাতে লাগল।
39 তা দেখে, যে ফরীশী তাঁকে দাওয়াত করেছিল, সে মনে মনে বললো, এ যদি নবী হত তবে জানতে পারতো, একে যে স্পর্শ করছে সে কে এবং কি রকম স্ত্রীলোক, কারণ সে গুনাহ্গার।
40 তখন জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, শিমোন, তোমাকে আমার কিছু বলবার আছে।
41 সে বললো, হুজুর, বলুন। এক মহাজনের দু’জন ঋণী ছিল; এক জন ঋণ নিয়েছিল পাঁচ শত সিকি, আর এক জন পঞ্চাশ সিকি।
42 তাদের পরিশোধ করার সঙ্গতি না থাকাতে তিনি উভয়কেই মাফ করলেন। ভাল, তাদের মধ্যে কে তাঁকে বেশি মহব্বত করবে?
43 শিমোন জবাবে বললো, আমার মনে হয়, যার বেশি ঋণ মাফ করলেন, সেই। তিনি তাকে বললেন, যথার্থ বিচার করলে।
44 আর তিনি সেই স্ত্রীলোকের দিকে ফিরে শিমোনকে বললেন, এই স্ত্রীলোকটিকে দেখছো? আমি তোমার বাড়িতে প্রবেশ করলাম, তুমি আমার পা ধোবার পানি দিলে না, কিন্তু এই স্ত্রীলোকটি চোখের পানিতে আমার পা ভিজিয়েছে ও নিজের চুল দিয়ে তা মুছে দিয়েছে।
45 তুমি আমাকে চুম্বন করলে না, কিন্তু যখন থেকে আমি ভিতরে এসেছি, সে আমার পা চুম্বন করছে, ক্ষান্ত হয় নি। তুমি তেল দিয়ে আমার মাথা অভিষিক্ত করলে না,
46 কিন্তু সে সুগন্ধি দ্রব্যে আমার পা অভিষিক্ত করেছে।
47 এজন্য তোমাকে বলছি, সে অনেক গুনাহ্ করলেও তা মাফ করা হয়েছে; কেননা সে বেশি মহব্বত করলো; কিন্তু যাকে অল্প মাফ করা যায়, সে অল্পই মহব্বত করে।
48 পরে তিনি সেই স্ত্রীলোককে বললেন, তোমার গুনাহ্ মাফ হয়েছে।
49 তখন যারা তাঁর সঙ্গে ভোজনে বসেছিল, তারা মনে মনে বলতে লাগল, এ কে যে, গুনাহ্ মাফ করে?
50 কিন্তু তিনি সেই স্ত্রীলোককে বললেন, তোমার ঈমান তোমাকে নাজাত দিয়েছে; শান্তিতে প্রস্থান কর।
1
এর পরেই তিনি ঘোষণা করতে করতে এবং আল্লাহ্র রাজ্যের সুসমাচার তবলিগ করতে নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করতে লাগলেন। আর তাঁর সঙ্গে সেই বারো জন,
2 এবং যাঁরা দুষ্ট রূহ্ কিংবা রোগ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন, এমন কয়েক জন স্ত্রীলোক ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন মগ্দলীনী মরিয়ম, যাঁর মধ্য থেকে সাতটি বদ-রূহ্ বের হয়েছিল,
3 যোহানা, যিনি হেরোদের বিষয়াধ্যক্ষ কূষের স্ত্রী এবং শোশন্না ও আরও কয়েকজন স্ত্রীলোক; তাঁরা নিজ নিজ সম্পত্তি থেকে তাঁদের পরিচর্যা করতেন।
4
আর যখন অনেক লোক সমাগত হচ্ছিল এবং ভিন্ন ভিন্ন নগর থেকে লোকেরা তাঁর কাছে আসছিল, তখন তিনি দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে বললেন,
5 বীজ বাপক তার বীজ বপন করতে গেল। বপনের সময়ে কতগুলো বীজ পথের পাশে পড়লো, তাতে তা পদতলে দলিত হল ও আসমানের পাখিরা তা খেয়ে ফেললো।
6 আর কতগুলো পাথুরে ভূমির উপরে পড়লো, তাতে তা অঙ্কুরিত হলে রস না পাওয়াতে শুকিয়ে গেল।
7 আর কতগুলো কাঁটাবনের মধ্যে পড়লো, তাতে কাঁটাগাছগুলো সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কুরিত হয়ে তা চেপে রাখল।
8 আর কতগুলো বীজ উত্তম ভূমিতে পড়লো, তাতে তা অঙ্কুরিত হয়ে শত গুণ ফল উৎপন্ন করলো। এই কথা বলে তিনি জোরে বললেন, যার শুনতে কান থাকে, সে শুনুক।
9
পরে তাঁর সাহাবীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ দৃষ্টান্তের অর্থ কি?
10 তিনি বললেন, আল্লাহ্র রাজ্যের নিগূঢ়তত্ত্বগুলো তোমাদেরকে জানতে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আর সকলের কাছে দৃষ্টান্ত দ্বারা বলা হয়েছে, যেন তারা দেখেও না দেখে এবং শুনেও না বোঝে।
11
দৃষ্টান্তটি এই— সেই বীজ আল্লাহ্র কালাম।
12 আর তারাই পথের পাশের লোক, যারা শুনেছে, পরে শয়তান এসে তাদের অন্তর থেকে সেই কালাম হরণ করে নেয়, যেন তারা ঈমান না এনে নাজাত না পায়।
13 আর তারাই পাথুরে ভূমিতে পড়া লোক, যারা শুনে আনন্দপূর্বক সেই কালাম গ্রহণ করে, কিন্তু তাদের মূল নেই বলে তারা অল্প সময়ের জন্য ঈমান আনে, আর পরীক্ষার সময়ে সরে পড়ে।
14 আর যেগুলো কাঁটাবনের মধ্যে পড়লো, তারা এমন লোক, যারা শুনেছে, কিন্তু চলতে চলতে জীবনের চিন্তা ও ধন ও সুখভোগের দ্বারা চাপা পড়ে এবং পাকা ফল উৎপন্ন করে না।
15 আর যা উত্তম ভূমিতে পড়লো, তারা এমন লোক, যারা সৎ ও উত্তম অন্তরে কালাম শুনে ধরে রাখে এবং ধৈর্য সহকারে ফল উৎপন্ন করে।
16
আর প্রদীপ জ্বেলে কেউ পাত্র দিয়ে ঢেকে রাখে না, কিংবা পালঙ্কের নিচে রাখে না, কিন্তু প্রদীপ-আসনের উপরেই রাখে, যেন যারা ভিতরে যায়, তারা আলো দেখতে পায়।
17 কারণ এমন গুপ্ত কিছুই নেই যা প্রকাশিত হবে না এবং এমন লুকানো কিছুই নেই যা জানা যাবে না ও প্রকাশ পাবে না।
18 অতএব তোমরা কিভাবে শুনছো সেই বিষয়ে মনোযোগ দাও; কেননা যার আছে, তাকে দেওয়া যাবে; আর যার নেই, তার যা আছে বলে মনে করা হয়, তাও তার কাছ থেকে নেওয়া যাবে।
19
আর তাঁর মা ও ভাইয়েরা তাঁর কাছে আসলেন, কিন্তু জনতার ভিড়ের দরুন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারলেন না।
20 পরে তাঁকে জানান হল, আপনার মা ও আপনার ভাইয়েরা আপনাকে দেখবার বাসনায় বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।
21 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, এই যে ব্যক্তিরা আল্লাহ্র কালাম শোনে ও পালন করে, এরাই আমার মা ও ভাইয়েরা।
22
একদিন তিনি স্বয়ং ও তাঁর সাহাবীরা একখানি নৌকায় উঠলেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, এসো, আমরা হ্রদের ওপারে যাই; তাতে তাঁরা নৌকা খুলে দিলেন।
23 কিন্তু তাঁরা নৌকা ছেড়ে দিলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, আর হ্রদে ঝড় এসে পড়লো, তাতে নৌকা পানিতে পূর্ণ হতে লাগল ও তাঁরা সঙ্কটে পড়লেন।
24 পরে তাঁরা কাছে গিয়ে তাঁকে জাগিয়ে বললেন, প্রভু, প্রভু, আমরা মারা পড়লাম। তখন তিনি জেগে উঠে বাতাসকে ও পানির তরঙ্গকে ধমক্ দিলেন, আর উভয়ই থেমে গেল ও শান্তি হল।
25 পরে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের ঈমান কোথায়? তখন তাঁরা ভয়ে আশ্চর্য হয়ে পরস্পর বললেন, ইনি তবে কে যে বাতাস ও পানিকে হুকুম দেন, আর তারা এঁর হুকুম মানে?
26
পরে তাঁরা গালীলের অন্য পারে গেরাসেনীদের অঞ্চলে পৌঁছালেন।
27 আর তিনি স্থলে নামলে ঐ নগরের একটা বদ-রূহে পাওয়া লোক সম্মুখে উপস্থিত হল; সে অনেক দিন থেকে কাপড় পরতো না ও বাড়িতে থাকতো না, কিন্তু কবরে থাকতো।
28 ঈসাকে দেখামাত্র সে চিৎকার করে উঠলো এবং তাঁর সম্মুখে পড়ে চিৎকার বললো, হে ঈসা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র পুত্র, আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি? আপনার কাছে ফরিয়াদ করি, আমাকে যাতনা দেবেন না।
29 কারণ তিনি সেই নাপাক রূহ্কে লোকটি থেকে বের হয়ে যেতে হুকুম করলেন; কেননা ঐ রূহ্ দীর্ঘকাল থেকে তাকে ধরেছিল, আর শিকল ও বেড়ী দ্বারা বেঁধে রাখলেও সে শিকল ছিঁড়ে বদ-রূহের বশে নির্জন স্থানে চলে যেত।
30 ঈসা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কি? সে বললো, বাহিনী; কেননা অনেক বদ-রূহ্ তার মধ্যে প্রবেশ করেছিল।
31 পরে তারা তাঁকে ফরিয়াদ করতে লাগল, যেন তিনি তাদেরকে অতল গর্তে চলে যেতে হুকুম না দেন।
32
সেই স্থানে পর্বতের উপরে বড় একটি শূকরের পাল চরছিল। তাতে বদ-রূহ্রা তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন তিনি তাদেরকে শূকরগুলোর মধ্যে প্রবেশ করতে অনুমতি দেন; তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন।
33 তখন বদ-রূহ্রা সেই লোকটির মধ্য থেকে বের হয়ে শূকরগুলোর মধ্যে প্রবেশ করলো, তাতে সেই পাল বেগে ঢালু পাড় দিয়ে দৌড়ে গিয়ে হ্রদে পড়ে ডুবে মারা গেল।
34
এই ঘটনা দেখে, যারা সেগুলোকে চরাচ্ছিল, তারা পালিয়ে গেল এবং নগরে ও পাড়ায় পাড়ায় সংবাদ দিল।
35 তখন কি ঘটেছে, দেখবার জন্য লোকেরা বের হল এবং ঈসার কাছে এসে দেখলো, যে লোকটির মধ্য থেকে বদ-রূহ্গুলো বের হয়েছে, সে কাপড় পরে ও সুবোধ হয়ে ঈসার পায়ের কাছে বসে আছে; তাতে তারা ভয় পেল।
36 আর যারা সেই সব ঘটনা দেখেছিল, তারা সেই বদ-রূহে পাওয়া লোকটি কিভাবে সুস্থ হয়েছিল তা তাদেরকে বললো।
37 তাতে গেরাসেনীদের প্রদেশের চারদিকের সমস্ত লোক তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন তিনি তাদের কাছ থেকে চলে যান, কেননা তারা মহাভয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। তখন তিনি নৌকায় উঠে ফিরে আসলেন।
38 আর যার মধ্য থেকে বদ-রূহ্গুলো বের হয়েছিল, সেই লোকটি অনুরোধ করলো, যেন তাঁর সঙ্গে থাকতে পারে;
39 কিন্তু তিনি তাকে বিদায় করে বললেন, তুমি তোমার বাড়িতে ফিরে যাও এবং তোমার জন্য আল্লাহ্ যে যে মহৎ কাজ করেছেন, তার বৃত্তান্ত বল। তাতে সে চলে গিয়ে, ঈসা তার জন্য যে যে মহৎ কাজ করেছেন তা নগরের সর্বত্র তবলিগ করতে লাগল।
40
ঈসা ফিরে আসলে লোকেরা তাঁকে সাদরে গ্রহণ করলো; কারণ সকলে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল।
41 আর দেখ, যায়ীর নামে এক ব্যক্তি আসলেন; তিনি মজলিস-খানার এক জন নেতা। তিনি ঈসার পায়ে পড়ে তাঁর বাড়িতে আসতে তাঁকে ফরিয়াদ করতে লাগলেন;
42 কারণ তাঁর একটি মাত্র কন্যা ছিল, বয়স কমবেশ বারো বছর, আর সে মৃতপ্রায় হয়েছিল। ঈসা যখন যাচ্ছিলেন, লোকেরা তাঁর উপরে চাপাচাপি করে পড়তে লাগল।
43
আর এক জন স্ত্রীলোক, যে বারো বছর ধরে রক্তস্রাব রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, যে চিকিৎসকদের পিছনে সর্বস্ব ব্যয় করেও কারো দ্বারা সুস্থ হতে পারে নি,
44 সে পিছনের দিকে এসে তাঁর কাপড়ের প্রান্ত-ভাগটুকু স্পর্শ করলো; আর তৎক্ষণাৎ তার রক্তস্রাব বন্ধ হল।
45
তখন ঈসা বললেন, কে আমাকে স্পর্শ করলো? সকলে অস্বীকার করলে পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা বললেন, প্রভু, লোকেরা চাপাচাপি করে আপনার উপরে পড়ছে।
46 কিন্তু ঈসা বললেন, আমাকে কেউ সপর্শ করেছে, কেননা আমি টের পেয়েছি আমার মধ্য থেকে শক্তি বের হল।
47 স্ত্রীলোকটি যখন দেখলো, সে লুকিয়ে থাকতে পারে নি, তখন কাঁপতে কাঁপতে আসল এবং তাঁর সম্মুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে, কি জন্য তাঁকে স্পর্শ করেছিল এবং কিভাবে তৎক্ষণাৎ সুস্থ হয়েছিল, তা সব লোকের সাক্ষাতে বর্ণনা করলো।
48 তিনি তাকে বললেন, বৎস! তোমার ঈমান তোমাকে সুস্থ করলো; শান্তিতে চলে যাও।
49
তিনি কথা বলছেন, এমন সময়ে মজলিস-খানার নেতার বাড়ি থেকে এক জন এসে বললো, আপনার কন্যার মৃত্যু হয়েছে, ওস্তাদকে আর কষ্ট দেবেন না।
50 তা শুনে ঈসা তাঁকে জবাবে বললেন, ভয় করো না, কেবল ঈমান আনো, তাতে সে সুস্থ হবে।
51
পরে তিনি সেই বাড়িতে উপস্থিত হলে, পিতর, ইয়াকুব ও ইউহোন্না এবং বালিকাটির বাবা ও মা ছাড়া আর কাউকেও প্রবেশ করতে দিলেন না।
52 তখন সকলে তার জন্য কাঁদছিল ও মাতম করছিল। তিনি বললেন, কেঁদো না; সে মারা যায় নি, ঘুমিয়ে রয়েছে।
53 তখন তারা তাঁকে উপহাস করলো, কেননা তারা জানতো, সে ইন্তেকাল করেছে।
54 কিন্তু তিনি তার হাত ধরে ডেকে বললেন, বালিকা, উঠ।
55 তাতে তার রূহ্ ফিরে আসল ও সে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াল; আর তিনি তাকে কিছু আহার দিতে হুকুম করলেন।
56 এতে তার পিতা-মাতা চমৎকৃত হল, কিন্তু তিনি তাদেরকে হুকুম করলেন, এই ঘটনার কথা কাউকেও বলো না।
1
পরে তিনি সেই বারো জনকে একত্রে ডেকে তাঁদেরকে সমস্ত বদ-রূহ্র উপরে এবং রোগ ভাল করার জন্য শক্তি ও ক্ষমতা দিলেন;
2 আর আল্লাহ্র রাজ্য তবলিগ করতে এবং রোগীদের সুস্থ করতে তাঁদেরকে প্রেরণ করলেন।
3 আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, পথের জন্য কিছুই নিও না, লাঠিও না, ঝুলিও না, খাদ্যও না, টাকাও না; দু’টা করে জামাও নিও না।
4 আর তোমরা যে কোন বাড়িতে প্রবেশ কর, সেখানে থেকো এবং সেখান থেকে প্রস্থান করো।
5 আর যেসব লোক তোমাদেরকে গ্রহণ না করে, সেই নগর থেকে প্রস্থান করার সময়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যের জন্য তোমাদের পায়ের ধুলা ঝেড়ে ফেলো।
6 পরে তাঁরা প্রস্থান করে চারদিকে গ্রামে গ্রামে যেতে লাগলেন, সর্বত্র সুসমাচার তবলিগ করতে এবং সুস্থতা দান করতে লাগলেন।
7
আর যা যা হচ্ছিল, বাদশাহ্ হেরোদ সমস্তই শুনতে পেলেন এবং তিনি বড় অস্থির হলেন, কারণ কেউ কেউ বলতো, ইয়াহিয়া মৃতদের মধ্য থেকে উঠেছেন।
8 আর কেউ কেউ বলতো, ইলিয়াস দর্শন দিয়েছেন; আর কেউ কেউ বলতো, পূর্বকালীন নবীদের এক জন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন।
9 আর হেরোদ বললেন, আমিই তো ইয়াহিয়ার মাথা কেটে ফেলেছি; কিন্তু ইনি কে, যাঁর বিষয়ে এরকম কথা শুনতে পাচ্ছি? আর তিনি তাঁকে দেখবার চেষ্টা করতে লাগলেন।
10
পরে প্রেরিতেরা যা যা করেছিলেন, ফিরে এসে তার বৃত্তান্ত ঈসাকে বললেন। আর তিনি তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে বৈৎসৈদা নামক নগরে গেলেন।
11 কিন্তু লোকেরা তা জানতে পেরে তাঁর পিছনে পিছনে চললো, আর তিনি তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করে তাদের কাছে আল্লাহ্র রাজ্যের বিষয় কথা বললেন এবং যাদের সুস্থ হবার প্রয়োজন ছিল তাদেরকে সুস্থ করলেন।
12
পরে দিবা অবসান হতে লাগল, আর সেই বারো জন কাছে এসে তাঁকে বললেন, আপনি এই লোকদেরকে বিদায় করুন, যেন এরা চারদিকে গ্রামে ও পাড়ায় গিয়ে রাত্রি যাপন করে ও খাদ্যদ্রব্য খুঁজে নেয়, কেননা এখানে আমরা নির্জন স্থানে আছি।
13 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরাই এদেরকে আহার দাও। তাঁরা বললেন, পাঁচখানা রুটি ও দু’টি মাছ ছাড়া আমাদের কাছে কিছু নেই; তবে কি আমরা গিয়ে এ সব লোকের জন্য খাদ্য কিনে আনতে পারব?
14 কারণ সেখানে অনুমান পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করে ওদেরকে সারি সারি বসিয়ে দাও।
15 তাঁরা সেরকম করলেন, সকলকে বসিয়ে দিলেন।
16 পরে তিনি সেই পাঁচখানা রুটি ও দু’টি মাছ নিয়ে আসমানের দিকে দৃষ্টি করে সেগুলোর জন্য আল্লাহ্কে শুকরিয়া জানালেন ও ভাঙ্গলেন; আর লোকদের সম্মুখে রাখার জন্য সাহাবীদেরকে দিতে লাগলেন।
17 তাতে সকলে আহার করে তৃপ্ত হল এবং তারা যা অবশিষ্ট রাখল, সেসব গুঁড়াগাঁড়া কুড়ালে পর বারো ডালা হল।
18
একবার তিনি একাকী মুনাজাত করছিলেন, সাহাবীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন; আর তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কে, এই বিষয়ে লোকেরা কি বলে?
19 তাঁরা জবাবে বললেন, বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহিয়া; কিন্তু কেউ কেউ বলে, আপনি ইলিয়াস, আর কেউ কেউ বলে, পূর্বকালীন নবীদের এক জন জীবিত হয়ে উঠেছেন।
20 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, কিন্তু তোমরা কি বল, আমি কে? পিতর জবাবে বললেন, আপনি আল্লাহ্র সেই মসীহ্।
21
তখন তিনি তাঁদেরকে দৃঢ়ভাবে বলে দিলেন ও হুকুম করলেন, এই কথা কাউকেও বলো না;
22 তিনি বললেন, ইবনুল-ইনসানকে অনেক দুঃখভোগ করতে হবে; প্রাচীনদের, প্রধান ইমামদের ও আলেমদের কর্তৃক অগ্রাহ্য হতে হবে এবং হত হতে হবে; আর তৃতীয় দিনে উঠতে হবে।
23
আর তিনি সকলকে বললেন, কেউ যদি আমার পিছনে আসতে ইচ্ছা করে, তবে সে নিজেকে অস্বীকার করুক, প্রতিদিন আপন ক্রুশ তুলে নিক এবং আমার পিছনে আসুক।
24 কেননা যে কেউ আপন প্রাণ রক্ষা করতে ইচ্ছা করে, সে তা হারাবে; কিন্তু যে কেউ আমার জন্য আপন প্রাণ হারায়, সে-ই তা রক্ষা করবে।
25 কারণ মানুষ যদি সারা দুনিয়া লাভ করে নিজেকে নষ্ট করে, কিংবা হারায়, তবে তার কি লাভ হল?
26 কেননা যে কেউ আমাকে ও আমার কালামকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করে, ইবনুল-ইনসান যখন নিজের প্রতাপে এবং পিতার ও পবিত্র ফেরেশতাদের প্রতাপে আসবেন, তখন তিনি তাকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করবেন।
27 কিন্তু আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েক জন আছে, যারা, যে পর্যন্ত আল্লাহ্র রাজ্য দেখতে না পাবে, সেই পর্যন্ত কোন মতে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না।
28
এসব কথা বলবার পরে অনুমান আট দিন গত হলে তিনি পিতর, ইউহোন্না ও ইয়াকুবকে সঙ্গে নিয়ে মুনাজাত করার জন্য পর্বতে উঠলেন।
29 আর দেখ তিনি মুনাজাত করছেন, এমন সময়ে তাঁর মুখের দৃশ্য অন্য রকম হল এবং তাঁর পোশাক শুভ্র ও উজ্জ্বল হল।
30 আর দেখ, দু’জন পুরুষ, মূসা ও ইলিয়াস, তাঁর সঙ্গে কথোপকথন করতে লাগলেন।
31 তাঁরা সপ্রতাপে দেখা দিয়ে তাঁর সেই যাত্রার বিষয় কথা বলতে লাগলেন, যা তিনি জেরুশালেমে সমাপন করতে উদ্যত ছিলেন।
32 তখন পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা নিদ্রায় ভারাক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু জেগে উঠে তাঁর মহিমা এবং ঐ দুই ব্যক্তিকে দেখলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
33 পরে তাঁরা তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করছেন, এমন সময়ে পিতর ঈসাকে বললেন, প্রভু, এখানে আমাদের থাকা ভাল; আমরা তিনটি কুটির তৈরি করি; একটি আপনার জন্য, একটি মূসার জন্য, আর একটি ইলিয়াসের জন্য; কিন্তু তিনি কি বললেন, তা নিজেই বুঝতে পারলেন না।
34 তিনি এই কথা বলছেন, এমন সময়ে একখানি মেঘ এসে তাঁদেরকে ছায়া করলো; তাতে তাঁরা সেই মেঘে প্রবেশ করলে এঁরা ভয় পেলেন।
35 আর সেই মেঘ থেকে এই বাণী হল, ইনিই আমার পুত্র, আমার মনোনীত, এঁর কথা শোন।
36 এই বাণী হবামাত্র সেখানে একা ঈসাকে দেখা গেল। আর তাঁরা নীরব রইলেন, যা যা দেখেছিলেন তার কিছুই সেই সময়ে কাউকেও জানালেন না।
37
পরদিন তাঁরা সেই পর্বত থেকে নেমে আসলে অনেক লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো।
38 আর দেখ, ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি চিৎকার করে বললো, হুজুর, আরজ করি, আমার পুত্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, কেননা এটি আমার একমাত্র সন্তান।
39 আর দেখুন, একটা রূহ্ একে আক্রমণ করে, আর এ হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠে। সেই রূহ্টি একে মুচড়ে ধরে, তাতে সে মুখ দিয়ে ফেনা বের করে, আর রূহ্টি তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে কষ্ট দিয়ে ছেড়ে যায়।
40 আর আমি আপনার সাহাবীদেরকে নিবেদন করেছিলাম, যেন তাঁরা এটাকে ছাড়িয়ে দেন, কিন্তু তাঁরা পারলেন না।
41 তখন জবাবে ঈসা বললেন, হে অবিশ্বাসী ও বিপথগামী বংশ, কত কাল আমি তোমাদের কাছে থাকব ও তোমাদের প্রতি সহিষ্ণুতা করবো? তোমার পুত্রকে এখানে আন।
42 সে আসছে, এমন সময়ে ঐ বদ-রূহ্ তাকে ফেলে দিল ও ভয়ানক ভাবে মুচড়ে ধরলো। কিন্তু ঈসা সেই নাপাক রূহ্কে ধমক্ দিলেন, বালকটিকে সুস্থ করলেন ও তার পিতার কাছে তাকে ফিরিয়ে দিলেন।
43 তখন সকলে আল্লাহ্র মহিমায় চমৎকৃত হল।
44
আর তিনি যে সমস্ত কাজ করছিলেন, তাতে সকল লোক আশ্চর্য জ্ঞান করলে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা এসব কথা মনযোগ দিয়ে শোন,; কেননা সমপ্রতি ইবনুল-ইনসানকে মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।
45 কিন্তু তাঁরা এই কথা বুঝলেন না এবং এর অর্থ তাঁদের থেকে গুপ্ত রাখা হল, যাতে তাঁরা বুঝে উঠতে না পারেন এবং তাঁর কাছে এই কথার বিষয় জিজ্ঞাসা করতে তাঁদের ভয় হল।
46
আর তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, এই তর্ক তাঁদের মধ্যে উপস্থিত হল।
47 তখন ঈসা তাঁদের হৃদয়ের তর্ক জেনে একটি শিশুকে নিয়ে তাঁর নিজের পাশে দাঁড় করালেন,
48 এবং তাঁদেরকে বললেন, যে কেউ আমার নামে এই শিশুটিকে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে। যে কেউ আমাকে গ্রহণ করে, সে তাঁকেই গ্রহণ করে, যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন; কারণ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে ক্ষুদ্র, সেই মহান।
49
পরে ইউহোন্না বললেন, প্রভু, আমরা এক ব্যক্তিকে আপনার নামে বদ-রূহ্ ছাড়াতে দেখেছিলাম, আর তাকে বারণ করছিলাম, কারণ সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
50 কিন্তু ঈসা তাঁকে বললেন, বারণ করো না, কেননা যে তোমাদের বিপক্ষ নয়, সে তোমাদের সপক্ষ।
51
আর যখন তাঁর ঊর্ধ্বে নীত হবার সময় পূর্ণ হয়ে আসছিল, তখন তিনি একান্ত মনে জেরুশালেমে যেতে উন্মুখ হলেন,
52 এবং তাঁর আগে দূতদেরকে প্রেরণ করলেন আর তাঁরা গিয়ে সামেরীয়দের কোন গ্রামে প্রবেশ করলেন, যাতে তাঁর জন্য আয়োজন করতে পারেন।
53 কিন্তু লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করলো না, কেননা তিনি জেরুশালেমে যেতে উন্মুখ ছিলেন।
54 তা দেখে তাঁর সাহাবী ইয়াকুব ও ইউহোন্না বললেন, প্রভু, আপনি কি ইচ্ছা করেন যে, ইলিয়াস যেমন করেছিলেন, তেমনি আমরা বলি, আসমান থেকে আগুন নেমে এসে এদেরকে ভস্ম করে ফেলুক?
55 কিন্তু তিনি মুখ ফিরিয়ে তাঁদেরকে ধমক দিলেন।
56 পরে তাঁরা অন্য গ্রামে চলে গেলেন।
57
তাঁরা পথে যাচ্ছেন, এমন সময়ে এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, আপনি যে কোন স্থানে যাবেন, আমি আপনার পিছনে যাব।
58 ঈসা তাকে বললেন, শিয়ালদের গর্ত আছে এবং আসমানের পাখিগুলোর বাসা আছে, কিন্তু ইবনুল-ইনসানের মাথা রাখার স্থান নেই।
59 আর এক জনকে তিনি বললেন, আমাকে অনুসরণ কর। কিন্তু সে বললো, প্রভু, আগে আমার পিতাকে কবর দিয়ে আসতে অনুমতি দিন।
60 তিনি তাকে বললেন, মৃতেরাই নিজ নিজ মৃতদের কবর দিক; কিন্তু তুমি গিয়ে আল্লাহ্র রাজ্য ঘোষণা কর।
61 আর এক জন বললো, প্রভু, আমি আপনাকে অনুসরণ করবো, কিন্তু আগে নিজের বাড়ির লোকদের কাছে বিদায় নিয়ে আসতে অনুমতি দিন।
62 কিন্তু ঈসা তাকে বললেন, যে কোন ব্যক্তি লাঙ্গলে হাত দিয়ে পিছনে ফিরে চায়, সে আল্লাহ্র রাজ্যের উপযুক্ত নয়।
1
তারপর প্রভু আরও সত্তর জনকে নিযুক্ত করলেন, আর তিনি যেখানে যেখানে যেতে উদ্যত ছিলেন, সেসব নগরে ও স্থানে তাঁর আগে দু’জন দু’জন করে তাদেরকে প্রেরণ করলেন।
2 তিনি তাদেরকে বললেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্যকারী লোক অল্প; অতএব শস্য-ক্ষেতের মালিকের কাছে মুনাজাত কর, যেন তিনি নিজের শস্য-ক্ষেতে কার্যকারী লোক পাঠিয়ে দেন।
3 তোমরা যাও, দেখ, কেন্দুয়াদের মধ্যে যেমন ভেড়ার বাচ্চা, তেমনি তোমাদেরকে প্রেরণ করছি।
4 তোমরা কোন থলি বা ঝুিল বা জুতা সঙ্গে নিয়ে যেও না এবং পথের মধ্যে কাউকেও সালাম জানাবে না।
5 আর যে কোন বাড়িতে প্রবেশ করবে, প্রথমে বলো, এই বাড়িতে শান্তি বর্ষিত হোক।
6 আর সেখানে যদি শান্তির লোক থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার উপরে অবস্থিতি করবে, নতুবা তা তোমাদের প্রতি ফিরে আসবে।
7 আর সেই গৃহেই থেকো এবং তারা যা দেয়, তা-ই ভোজন পান করো; কেননা কার্যকারী লোক তার বেতনের যোগ্য! এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেও না।
8 আর তোমরা যে কোন নগরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদেরকে গ্রহণ করে, তবে যা তোমাদের সম্মুখে রাখা হবে, তা-ই ভোজন করো।
9 আর সেখানকার অসুস্থদেরকে সুস্থ করো এবং তাদেরকে বলো, আল্লাহ্র রাজ্য তোমাদের সন্নিকট হল।
10 কিন্তু তোমরা যে কোন নগরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদেরকে গ্রহণ না করে, তবে বের হয়ে সেই নগরের পথে পথে গিয়ে এই কথা বলো,
11 তোমাদের নগরের যে ধূলা আমাদের পায়ে লেগেছে, তাও তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে ফেললাম; তবুও এই কথা জেনো যে, আল্লাহ্র রাজ্য সন্নিকট হল।
12 আমি তোমাদেরকে বলছি, সেদিন সেই নগরের দশা থেকে বরং সাদুমের দশা সহনীয় হবে।
13
কোরাসীন, ধিক্ তোমাকে! বৈৎসৈদা, ধিক্ তোমাকে! কেননা তোমাদের মধ্যে যেসব কুদরতি-কাজ করা হয়েছে, সেসব যদি টায়ার ও সীডনে করা হত, তবে অনেক দিন আগে তারা চট পরে ভস্মে বসে তওবা করতো।
14 কিন্তু বিচারের দিনে তোমাদের দশা থেকে বরং টায়ার ও সিডনের দশা সহনীয় হবে।
15 আর হে কফরনাহূম, তুমি না কি আসমান পর্যন্ত উঁচুতে উঠবে? তুমি পাতাল পর্যন্ত নেমে যাবে।
16
যে তোমাদেরকে মানে, সে আমাকেই মানে এবং যে তোমাদেরকে অগ্রাহ্য করে, সে আমাকেই অগ্রাহ্য করে; আর যে আমাকে অগ্রাহ্য করে, সে তাঁকেই অগ্রাহ্য করে, যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন।
17
পরে সেই সত্তর জন আনন্দে ফিরে এসে বললো, প্রভু, আপনার নামে বদ-রূহ্রাও আমাদের বশীভূত হয়।
18 তিনি তাদেরকে বললেন, আমি শয়তানকে বিদ্যুতের মত বেহেশত থেকে পড়তে দেখছি।
19 আমি তোমাদেরকে সাপ ও বৃশ্চিক পদতলে দলিত করার এবং দুশমনের সমস্ত শক্তির উপরে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দিয়েছি। কিছুতেই কোন মতে তোমাদের ক্ষতি করবে না;
20 তবুও রূহ্রা যে তোমাদের বশীভূত হয়, এতে আনন্দ করো না; কিন্তু তোমাদের নাম যে বেহেশতে লেখা আছে, এতেই আনন্দ কর।
21
সেই সময়ে তিনি পাক-রূহে উল্লসিত হলেন ও বললেন, হে আমার পিতা, বেহেশতের ও দুনিয়ার প্রভু, আমি তোমাকে শুকরিয়া জানাচ্ছি, কেননা তুমি বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমানদের থেকে এসব বিষয় গুপ্ত রেখে শিশুদের কাছে এসব প্রকাশ করেছ। হ্যাঁ, পিতা, কেননা তা তোমার দৃষ্টিতে প্রীতিজনক হল।
22 আমার পিতা সকলই আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। পুত্র কে, তা কেউ জানে না, কেবল পিতা জানেন; আর পিতা কে, তা কেউ জানে না, কেবল পুত্র জানেন, আর পুত্র যার কাছে তাঁকে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেন, সে জানে।
23
পরে তিনি সাহাবীদের প্রতি ফিরে বিরলে বললেন, ধন্য সেসব লোক, তোমরা যা যা দেখছো, যারা তা দেখতে পায়।
24 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা যা যা দেখেছো, তা অনেক নবী ও বাদশাহ্ দেখতে বাসনা করেও দেখতে পান নি। তোমরা যা যা শুনছো, তা তাঁরা শুনতে বাসনা করেও শুনতে পান নি।
25
আর দেখ, এক জন আলেম উঠে তাঁর পরীক্ষা করে বললো, হুজুর, কি করলে আমি অনন্ত জীবনের অধিকারী হব?
26 তিনি তাকে বললেন, শরীয়তে কি লেখা আছে? কিরূপ পাঠ করছো?
27 সে জবাবে বললো, “তুমি তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত শক্তি ও তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমার আল্লাহ্ প্রভুকে মহব্বত করবে এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে।”
28 তিনি তাকে বললেন, যথার্থ উত্তর করলে; তা-ই কর, তাতে জীবন পাবে।
29 কিন্তু সে নিজেকে নির্দোষ দেখাবার ইচ্ছায় ঈসাকে বললো, ভাল, আমার প্রতিবেশী কে?
30
এই কথা নিয়ে ঈসা বললেন, এক ব্যক্তি জেরুশালেম থেকে জেরিকোতে নেমে যাচ্ছিল, এমন সময়ে দস্যুদলের হাতে পড়লো। দস্যুরা তার কাপড় খুলে নিল এবং তাকে আঘাত করে আধমরা অবস্থায় ফেলে চলে গেল।
31 ঘটনাক্রমে এক জন ইমাম সেই পথ দিয়ে নেমে যাচ্ছিল; সে তাকে দেখে এক পাশ দিয়ে চলে গেল।
32 পরে সেভাবে এক জন লেবীয়ও সেই স্থানে এসে দেখে এক পাশ দিয়ে চলে গেল।
33 কিন্তু এক জন সামেরীয় সেই পথ দিয়ে যেতে যেতে তার কাছে আসল;
34 আর তাকে দেখে করুণাবিষ্ট হল এবং কাছে এসে তেল ও আঙ্গুর-রস ঢেলে দিয়ে তার ক্ষতগুলো বেঁধে দিল; পরে তার নিজের পশুর উপরে তাকে বসিয়ে একটি পান্থশালায় নিয়ে গিয়ে তার সেবা-যত্ন করলো।
35 পরের দিন দু’টি সিকি বের করে পান্থশালার মালিককে দিয়ে বললো, এই ব্যক্তির প্রতি যত্ন করো, বেশি যা কিছু ব্যয় হয়, আমি যখন ফিরে আসি, তখন পরিশোধ করবো।
36 তোমার কেমন মনে হয়, এই তিন জনের মধ্যে কে ঐ দস্যুদের হাতে পড়া ব্যক্তির প্রতিবেশী হয়ে উঠলো?
37 সে বললো, যে ব্যক্তি তার প্রতি করুণা করলো, সেই। তখন ঈসা তাকে বললেন, যাও, তুমিও সেরকম কর।
38
এর পরে তাঁরা যখন যাচ্ছিলেন তখন তিনি একটি গ্রামে প্রবেশ করলেন, আর মার্থা নামে একটি স্ত্রীলোক তার বাড়িতে তাঁর মেহমানদারী করলেন।
39 মরিয়ম নামে তাঁর একটি বোন ছিলেন, তিনি প্রভুর পায়ের কাছে বসে তাঁর কথা শুনতে লাগলেন।
40 কিন্তু মার্থা পরিচর্যার বিষয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত ছিলেন; আর তিনি কাছে এসে বললেন, প্রভু, আপনি কি কিছু মনে করছেন না যে, আমার বোন পরিচর্যার ভার একা আমার উপরে ফেলে রেখেছে? অতএব ওকে বলে দিন যেন আমার সাহায্য করে।
41 কিন্তু প্রভু জবাবে তাঁকে বললেন, মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক বিষয়ে চিন্তিত ও ব্যস্ত আছ;
42 কিন্তু অল্প কয়েকটি বিষয়, বরং একটি মাত্র বিষয় আবশ্যক। বাস্তবিক মরিয়ম সেই উত্তম অংশটি মনোনীত করেছে, যা তার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না।
1
এক সময়ে তিনি কোন স্থানে মুনাজাত করছিলেন; যখন শেষ করলেন, তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক জন তাঁকে বললেন, প্রভু, আমাদেরকে মুনাজাত করতে শিক্ষা দিন, যেমন ইয়াহিয়াও তাঁর সাহাবী— দেরকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।
2 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা যখন মুনাজাত কর, তখন বলো,
হে আমাদের বেহেশতী পিতা,
তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।
3
তোমার রাজ্য আসুক।
আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রতিদিন আমাদেরকে দাও।
4
আর আমাদের গুনাহ্ মাফ কর;
কেননা আমরাও আমাদের প্রত্যেক অপরাধীকে মাফ করি।
আর আমাদের পরীক্ষাতে এনো না।
5
আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে কারো যদি বন্ধু থাকে, আর সে যদি মধ্যরাত্রে তার কাছে গিয়ে বলে, ‘বন্ধু আমাকে তিনখানা রুটি ধার দাও,
6 কেননা আমার এক বন্ধু পথে যেতে যেতে আমার কাছে এসেছেন, তাঁর সম্মুখে রাখার মত আমার কিছুই নেই;
7 তা হলে সেই ব্যক্তি ভিতরে থেকে কি এমন উত্তর দেবে, ‘আমাকে কষ্ট দিও না, এখন দরজা বন্ধ এবং আমার সন্তানেরা আমার কাছে শুয়ে আছে, আমি উঠে তোমাকে কিছু দিতে পারি না?’
8 আমি তোমাদেরকে বলছি, সে যদিও বন্ধু বলে উঠে তা না দেয়, তবুও সে বারংবার অনুরোধ করছে বলে উঠে তার প্রয়োজন অনুসারে তা তাকে দেবে।
9
আর আমি তোমাদেরকে বলছি, যাচ্ঞা কর, তোমাদেরকে দেওয়া যাবে, খোঁজ কর, পাবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
10 কেননা যে কেউ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে এবং যে খোঁজ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তার জন্য খুলে দেওয়া যায়।
11 তোমাদের মধ্যে এমন পিতা কে, যার পুত্র রুটি চাইলে তাকে পাথর দেবে? কিংবা মাছ চাইলে মাছের পরিবর্তে সাপ দেবে?
12 কিংবা ডিম চাইলে তাকে বৃশ্চিক দেবে?
13 অতএব তোমরা মন্দ হয়েও যদি তোমাদের সন্তানদেরকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করতে জান, তবে এটা কত বেশি নিশ্চিত যে, বেহেশতী পিতা, যারা তাঁর কাছে যাচ্ঞা করে, তাদেরকে পাক-রূহ্ দান করবেন।
14
আর তিনি একটা বোবা বদ-রূহ্ ছাড়িয়েছিলেন। বদ-রূহ্ বের হলে সেই বোবা কথা বলতে লাগল; তাতে লোকেরা আশ্চর্য জ্ঞান করলো।
15 কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, এই ব্যক্তি বদ-রূহ্দের অধিপতি বেল্সবূলের দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়ায়।
16 আর কেউ কেউ পরীক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে আসমান থেকে কোন চিহ্ন চাইল।
17 কিন্তু তিনি তাদের মনের ভাব জেনে তাদেরকে বললেন, যে কোন রাজ্য নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়, তা উচ্ছিন্ন হয়, এক গৃহ অন্য গৃহের বিপক্ষ হলে তার পতন ঘটে।
18 আর শয়তানও যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়, তবে তার রাজ্য কিভাবে স্থির থাকবে? কেননা তোমরা বলছো, আমি বেল্সবূলের দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়াই।
19 আর আমি যদি বেল্সবূলের দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়াই, তবে তোমাদের লোকেরা কার দ্বারা ছাড়ায়? তোমরা ঠিক কথা বলছো কিনা তার জন্য তারাই তোমাদের বিচার করবে।
20 কিন্তু আমি যদি আল্লাহ্র অঙ্গুলি দ্বারা বদ-রূহ্ ছাড়াই, তবে আল্লাহ্র রাজ্য তো তোমাদের কাছে এসে পড়েছে।
21 সেই বলবান ব্যক্তি যখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থেকে নিজের বাড়ি রক্ষা করে, তখন তার সম্পত্তি নিরাপদে থাকে।
22 কিন্তু যে ব্যক্তি তার থেকে বেশি বলবান, সে এসে যখন তাকে পরাজিত করে, তবে যে অস্ত্রশস্ত্রের উপর সে ভরসা করেছিল তা হরণ করে নেয়, আর লুট ভাগ করে নেয়।
23 যে আমার সপক্ষ নয়, সে আমার বিপক্ষ এবং যে আমার সঙ্গে কুড়ায় না, সে ছাড়িয়ে ফেলে।
24
যখন নাপাক রূহ্ মানুষ থেকে বের হয়ে যায়, তখন পানিবিহীন নানা স্থান দিয়ে ভ্রমণ করে বিশ্রামের খোঁজ করে; কিন্তু না পেয়ে বলে, আমি যেখান থেকে বের হয়ে এসেছি, আমার সেই বাড়িতে ফিরে যাই।
25 পরে এসে তা মার্জিত ও সাজানো দেখতে পায়।
26 তখন সে গিয়ে নিজের থেকে দুষ্ট অপর সাতটা রূহ্কে সঙ্গে নিয়ে আসে এবং তারা সেই স্থানে প্রবেশ করে বাস করে; তাতে সেই মানুষের প্রথম দশা থেকে শেষ দশা আরও মন্দ হয়।
27
তিনি এসব কথা বলছেন, এমন সময়ে ভিড়ের মধ্য থেকে কোন একটি স্ত্রীলোক চিৎকার করে তাঁকে বললো, ধন্য সেই গর্ভ, যা আপনাকে ধারণ করেছিল, আর সেই স্তন, যার দুগ্ধ আপনি পান করেছিলেন।
28 তিনি বললেন, কিন্তু এর চেয়ে বরং ধন্য তারাই, যারা আল্লাহ্র কালাম শোনে ও তা পালন করে।
29
পরে তাঁর কাছে আরও অনেক লোকের জমায়েত হতে থাকলে তিনি বলতে লাগলেন, এই কালের লোকেরা দুষ্ট। এরা চিহ্নের খোঁজ করে, কিন্তু ইউনুসের চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্ন তাদেরকে দেওয়া যাবে না।
30 কারণ ইউনুস যেমন নিনেভের লোকদের কাছে চিহ্নস্বরূপ হয়েছিলেন, তেমনি ইবনুল-ইনসানও এই কালের লোকদের কাছে চিহ্ন হবেন।
31 বিচারে সময় দক্ষিণ দেশের রাণী এই কালের লোকদের সঙ্গে উঠে এদেরকে দোষী করবেন, কেননা সোলায়মানের জ্ঞানের কথা শুনবার জন্য তিনি দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এসেছিলেন; আর দেখ, সোলায়মানের চেয়েও মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন।
32 নিনেভের লোকেরা বিচারের সময়ে এই কালের লোকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে এদেরকে দোষী করবে; কেননা তারা ইউনুসের তবলিগের ফলে মন ফিরিয়েছিল, আর দেখ, ইউনুস থেকে মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন।
33
প্রদীপ জ্বেলে কেউ গুপ্ত কুঠরীতে কিংবা কাঠার নিচে রাখে না, কিন্তু প্রদীপ-আসনের উপরেই রাখে, যেন যারা ভিতরে যায় তারা আলো দেখতে পায়।
34 তোমার চোখই শরীরের প্রদীপ; তোমার চোখ যখন সরল হয়, তখন তোমার সমস্ত শরীরও আলোতে পূর্ণ হয়; কিন্তু চোখ মন্দ হলে তোমার শরীরও অন্ধকারে পূর্ণ হয়।
35 অতএব দেখো, তোমার অন্তরে যে আলো আছে, তা অন্ধকার কি না।
36 বাস্তবিক, তোমার সমস্ত শরীর যদি আলোতে পূর্ণ হয়, কোনও অংশ অন্ধকারময় না থাকে, তবে প্রদীপ যেমন নিজের তেজে তোমাকে আলো দান করে, তেমনি তোমার শরীর সমপূর্ণভাবে আলোতে পূর্ণ হবে।
37
তিনি কথা বলছেন এমন সময়ে এক জন ফরীশী তাঁকে ভোজনের দাওয়াত করলো; আর তিনি ভিতরে গিয়ে ভোজনে বসলেন।
38 ফরীশী দেখে আশ্চর্য জ্ঞান করলো যে, ভোজনের আগে তিনি গোসল করেন নি।
39 কিন্তু প্রভু তাকে বললেন, তোমরা ফরীশীরা তো পানপাত্রের ও ভোজনপাত্রের বাইরের দিকটা পরিষ্কার করে থাক, কিন্তু তোমাদের ভিতরে দৌরাত্ম্য ও নাফরমানীতে ভরা।
40 নির্বোধেরা, যিনি বাইরের ভাগ তৈরি করেছেন, তিনি কি ভিতরের ভাগও তৈরি করেন নি?
41 বরং ভিতরে যা যা আছে, তা দান কর, আর দেখ, তোমাদের পক্ষে সকলই পাক-পবিত্র।
42
কিন্তু ফরীশীরা, ধিক্ তোমাদেরকে, কেননা তোমরা পুদিনা, তেজপাতা ও সকল প্রকার শাকের দশ ভাগের এক ভাগ দান করে থাক, আর ন্যায়বিচার ও আল্লাহ্-প্রেম উপেক্ষা করে থাক; কিন্তু এসব পালন করা এবং ঐ সমস্ত পরিত্যাগ না করা তোমাদের উচিত ছিল।
43 ফরীশীরা, ধিক্ তোমাদেরকে, কেননা তোমরা মজলিস-খানায় প্রধান আসন ও হাট বাজারে লোকদের সালাম পেতে ভালবাস।
44 ধিক্ তোমাদেরকে, কারণ তোমরা এমন গুপ্ত কবরের মত, যার উপর দিয়ে লোকে না জেনে যাতায়াত করে।
45
তখন আলেমদের এক জন জবাবে তাঁকে বললো, হুজুর, এই কথা বলে আপনি আমাদেরও অপমান করছেন।
46 তিনি বললেন, আলেমেরা, ধিক্ তোমাদেরকেও, কেননা তোমরা মানুষের উপরে দুর্বহ বোঝা চাপিয়ে দিয়ে থাক, কিন্তু নিজেরা একটি আঙ্গুল দিয়ে সেসব বোঝা স্পর্শ কর না।
47 ধিক্ তোমাদেরকে, কেননা তোমরা নবীদের কবর গেঁথে থাক, আর তোমাদের পূর্বপুরুষেরা তাঁদেরকে খুন করেছিল।
48 সুতরাং তোমরা সাক্ষী হচ্ছ এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাজের অনুমোদন করছো; কেননা তারা তাঁদেরকে খুন করেছিল, আর তোমরা তাঁদের কবর গেঁথে থাক।
49 এই কারণ আল্লাহ্র প্রজ্ঞাও বললেন, আমি তাদের কাছে নবী ও প্রেরিতদেরকে প্রেরণ করবো, আর তাদের মধ্য থেকে তারা কাউকে কাউকে খুন করবে ও নির্যাতন করবে,
50 যেন দুনিয়া পত্তনের সময় থেকে যত নবীর রক্তপাত হয়েছে, তার প্রতিশোধ এই কালের লোকদের কাছ থেকে নেওয়া যায়—
51 হাবিলের রক্ত থেকে সেই জাকারিয়ার রক্ত পর্যন্ত যিনি কোরবানগাহ্ ও বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যস্থানে নিহত হয়েছিলেন— হ্যাঁ, আমি তোমাদেরকে বলছি, এই কালের লোকদের কাছ থেকে তার প্রতিশোধ নেওয়া যাবে।
52 আলেমেরা, ধিক্ তোমাদেরকে, কেননা তোমরা জ্ঞানের চাবি হরণ করে নিয়েছ; নিজেরা প্রবেশ করলে না এবং যারা প্রবেশ করছিল, তাদেরকেও বাধা দিলে।
53
তিনি সেই স্থান থেকে বের হয়ে আসলে আলেম ও ফরীশীরা তাঁকে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করতে ও নানা বিষয়ে কথা বলাবার জন্য উত্তেজিত করতে লাগল,
54 তাঁর মুখের কথায় তাঁকে ফাঁদে ফেলবার জন্য অপেক্ষা করে রইলো।
1
ইতোমধ্যে যখন হাজার হাজার লোক সমাগত হয়ে এক জন অন্যের উপর পড়তে লাগল, তখন তিনি প্রথমে তাঁর সাহাবীদেরকে বলতে লাগলেন, তোমরা ফরীশীদের খামি থেকে সাবধান থাক, তা কপটতা।
2 কিন্তু এমন ঢাকা কিছুই নেই, যা প্রকাশ পাবে না এবং এমন গুপ্ত কিছুই নেই, যা জানা যাবে না।
3 অতএব তোমরা অন্ধকারে যা কিছু বলেছ, তা আলোতে শোনা যাবে; এবং বন্ধ ঘরে কানে কানে যা বলেছ, তা ছাদের উপর থেকে প্রচার করা হবে।
4
হে আমার বন্ধুরা, আমি তোমাদেরকে বলছি, যারা শরীর ধ্বংস করার পর আর কিছু করতে পারে না, তাদেরকে ভয় করো না।
5 তবে কাকে ভয় করবে, তা বলে দেই; হত্যা করার পর দোজখে নিক্ষেপ করতে যাঁর ক্ষমতা আছে, তাঁকেই ভয় কর; হ্যাঁ, আমি তোমাদেরকে বলছি, তাঁকেই ভয় কর।
6 পাঁচটি চড়াই পাখি কি দুই পয়সায় বিক্রি হয় না? আর তাদের মধ্যে একটিও আল্লাহ্র দৃষ্টিগোচরে গুপ্ত নয়।
7 এমন কি, তোমাদের মাথার চুলগুলোও সমস্ত গণনা করা আছে। ভয় করো না, তোমরা অনেক চড়াই পাখি থেকেও শ্রেষ্ঠ।
8
আর আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, ইবনুল-ইনসানও আল্লাহ্র ফেরেশতাদের সাক্ষাতে তাকে স্বীকার করবেন;
9 কিন্তু যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে অস্বীকার করে, আল্লাহ্র ফেরেশতাদের সাক্ষাতে তাকে অস্বীকার করা হবে।
10 আর যে কেউ ইবনুল-ইনসানের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে, সে মাফ পাবে; কিন্তু যে কেউ পাক-রূহের নিন্দা করে, সে মাফ পাবে না।
11 আর লোকে যখন তোমাদেরকে মজলিস-খানায় এবং শাসনকর্তাদের ও কর্তৃপক্ষদের সম্মুখে নিয়ে যাবে, তখন কিভাবে কি উত্তর দেবে, অথবা কি বলবে, সেই বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না;
12 কেননা কি কি বলা উচিত, তা পাক-রূহ্ সেই সময়ে তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন।
13
পরে লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, হুজুর, আমার ভাইকে বলুন, যেন পৈতৃক ধন আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়।
14 কিন্তু তিনি তাকে বললেন, বন্ধু, তোমাদের উপরে বিচারকর্তা বা বিভাগকর্তা করে আমাকে কে নিযুক্ত করেছে?
15 পরে তিনি তাদেরকে বললেন, সাবধান, সমস্ত রকম লোভ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো, কেননা উপ্চে পড়লেও মানুষের সম্পত্তিতে তার জীবন হয় না।
16 আর তিনি তাদেরকে এই দৃষ্টান্তটি বললেন, এক জন ধনবানের ভূমিতে প্রচুর শস্য উৎপন্ন হয়েছিল।
17 তাতে সে মনে মনে চিন্তা করতে লাগল, কি করি?
18 আমার শস্য রাখার স্থান নেই। পরে বললো, এরকম করবো, আমার গোলাঘরগুলো ভেঙ্গে বড় বড় গোলাঘর তৈরি করবো এবং তার মধ্যে আমার সমস্ত শস্য ও আমার দ্রব্য রাখবো।
19 আর আপন প্রাণকে বলবো, প্রাণ, বহু বছরের জন্য তোমার জন্য অনেক দ্রব্য সঞ্চিত আছে; বিশ্রাম কর, ভোজন পান কর, আমোদ প্রমোদ কর।
20 কিন্তু আল্লাহ্ তাকে বললেন, হে নির্বোধ, আজ রাতেই তোমার প্রাণ তোমার কাছ থেকে দাবি করে নেওয়া যাবে, তবে তুমি এই যে আয়োজন করলে, এসব কার হবে?
21 যে কেউ নিজের জন্য ধন সঞ্চয় করে কিন্তু আল্লাহ্র উদ্দেশে ধনবান নয়, সে এই রকম।
22
পরে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, এই জন্য আমি তোমাদেরকে বলছি, ‘কি ভোজন করবো’ বলে প্রাণের বিষয়ে, কিংবা ‘কি পরবো’ বলে শরীরের বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না।
23 কেননা খাদ্য থেকে প্রাণ ও কাপড় থেকে শরীর বড় বিষয়।
24 কাকগুলোর বিষয় চিন্তা কর; তারা বুনেও না কাটেও না; তাদের ভাণ্ডারও নেই, গোলাঘরও নেই; আর আল্লাহ্ তাদেরকে আহার দিয়ে থাকেন;
25 পাখিগুলোর চেয়ে তোমরা কত বেশি শ্রেষ্ঠ! আর তোমাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা করে কে নিজের বয়স এক ঘণ্টা মাত্র বৃদ্ধি করতে পারে?
26 অতএব তোমরা অতি ছোট কাজও যদি করতে না পার, তবে অন্য অন্য বিষয়ে কেন চিন্তা কর?
27 ক্ষেতের ফুলের বিষয় বিবেচনা কর, সেগুলো কেমন বাড়ে; সেগুলো কোন পরিশ্রম করে না, সুতাও কাটে না, তবুও আমি তোমাদেরকে বলছি, সোলায়মান তাঁর সমস্ত জাঁক্জমকের মধ্যে থেকেও এর একটির মত সুসজ্জিত ছিলেন না।
28 ভাল, ক্ষেতের যে ঘাস আজ আছে ও আগামীকাল চুলায় ফেলে দেওয়া হবে, তা যদি আল্লাহ্ এভাবে সাজিয়ে থাকেন, তবে হে অল্পবিশ্বাসীরা, তোমাদেরকে কত বেশি নিশ্চয় সাজাবেন!
29 আর, কি ভোজন করবে, কি পান করবে, এই বিষয়ে তোমরা সচেষ্ট হয়ো না এবং উদ্ধিগ্ন হয়ো না;
30 কেননা দুনিয়ার জাতিরা এসব বিষয়ে সচেষ্ট; কিন্তু তোমাদের পিতা জানেন যে, এসব দ্রব্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে।
31 তোমরা বরং তাঁর রাজ্যের বিষয়ে সচেষ্ট হও, তা হলে এই সকলও তোমাদেরকে দেওয়া যাবে।
32
হে ক্ষুদ্র ভেড়ার পাল, ভয় করো না, কেননা তোমাদেরকে সেই রাজ্য দিতে তোমাদের পিতার মঙ্গল ইচ্ছা হয়েছে।
33 তোমাদের যা আছে, বিক্রি করে দান কর। নিজেদের জন্য এমন থলি প্রস্তুত কর, যা পুরানো হয় না; বেহেশতে অক্ষয় ধন সঞ্চয় কর, যেখানে চোর কাছে আসে না, কীটেও ক্ষয় করে না;
34 কেননা যেখানে তোমাদের ধন, সেখানে তোমাদের মনও থাকবে।
35
তোমাদের কোমর বেঁধে রাখ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখ;
36 এবং তোমরা এমন লোকদের মত হও, যারা তাদের মালিকের অপেক্ষায় থাকে যে, তিনি বিয়ে ভোজ থেকে কখন ফিরে আসবেন, যেন তিনি এসে দরজায় আঘাত করলে তারা তখনই তাঁর জন্য দরজা খুলে দিতে পারে।
37 ধন্য সেই গোলামেরা, যাদেরকে মালিক এসে জেগে থাকতে দেখবেন। আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তিনি কোমর বেঁধে তাদেরকে ভোজনে বসাবেন এবং কাছে এসে তাদের পরিচর্যা করবেন।
38 যদি দ্বিতীয় প্রহরে কিংবা যদি তৃতীয় প্রহরে এসে তিনি জেগে থাকতে দেখেন, তবে তারা ধন্য।
39 কিন্তু এই কথা জেনো, চোর কোন সময়ে আসবে, তা যদি গৃহকর্তা জানতো, তবে জেগে থাকতো, নিজের বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না।
40 তোমরাও প্রস্তুত থাক; কেননা যে সময়ে মনে করবে না, সেই সময়েই ইবনুল-ইনসান আসবেন।
41
তখন পিতর বললেন, প্রভু আপনি কি আমাদেরকে, না সকলকেই এই দৃষ্টান্ত বলছেন?
42 প্রভু বললেন, সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান কর্মচারী কে, যাকে তার মালিক নিজের পরিজনদের উপরে নিযুক্ত করবেন, যেন সে তাদেরকে উপযুক্ত সময়ে খাদ্যের নির্ধারিত অংশ দেয়?
43 ধন্য সেই গোলাম, যাকে তার মালিক এসে সেরকম করতে দেখবেন।
44 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, তিনি তাকে তার সমস্ত কিছুর নেতা করে নিযুক্ত করবেন।
45 কিন্তু সেই গোলাম যদি মনে মনে বলে, আমার মালিকের আসার বিলম্ব আছে এবং সে গোলাম-বাঁদীদের প্রহার করতে, ভোজন পান করতে ও মাতাল হতে আরম্ভ করে,
46 তবে যেদিন সে অপেক্ষা না করবে ও যে সময়ের কথা সে না জানবে, সেদিন সেই সময়ে সেই গোলামের প্রভু আসবেন এবং তাকে দ্বিখণ্ড করে অবিশ্বস্তদের মধ্যে তার স্থান নির্ধারণ করবেন।
47 আর সেই গোলাম, যে নিজের মালিকের ইচ্ছা জেনেও প্রস্তুত হয় নি ও তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে নি, সে অনেক প্রহারে প্রহৃত হবে।
48 কিন্তু যে না জেনে প্রহারের যোগ্য কাজ করেছে, সে অল্প প্রহারে প্রহৃত হবে। আর যে কোন ব্যক্তিকে বেশি দেওয়া হয়েছে, তার কাছে বেশি দাবি করা হবে এবং লোকে যার কাছে বেশি রেখেছে, তার কাছে বেশি চাইবে।
49
আমি দুনিয়াতে আগুন জ্বালাতে এসেছি; আর এখন যদি তা প্রজ্বলিত হয়ে থাকে, তবে আর চাই কি?
50 কিন্তু আমাকে একটি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে হবে, আর তা যতদিন সম্পন্ন না হয়, ততদিন আমি কত না চাপের মধ্যে আছি!
51 তোমরা কি মনে করছো, আমি দুনিয়াতে শান্তি দিতে এসেছি? তোমাদেরকে বলছি, তা নয়, বরং বিভেদ।
52 কারণ এখন থেকে এক বাড়িতে পাঁচ জন ভিন্ন হবে, তিন জন দু’জনের বিপক্ষে,
53 ও দু’জন তিন জনের বিপক্ষে; পিতা পুত্রের বিপক্ষে এবং পুত্র পিতার বিপক্ষে; মা কন্যার বিপক্ষে এবং কন্যা মায়ের বিপক্ষে; শাশুড়ি বধূর বিপক্ষে এবং বধূ শাশুড়ির বিপক্ষে পৃথক হবে।
54
আর তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা যখন পশ্চিমে মেঘ উঠতে দেখ, তখন অমনি বলে থাক, বৃষ্টি আসছে; আর তা-ই ঘটে।
55 আর যখন দক্ষিণা বাতাস বইতে দেখ, তখন বলে থাক, বড় রৌদ্র হবে এবং তা-ই ঘটে।
56 ভণ্ডরা তোমরা দুনিয়ার ও আসমানের ভাব বুঝতে পার, কিন্তু এই সময় বুঝতে পার না, এটা কেমন?
57
আর ন্যায্য কি, তা তোমরা কেন বিচার কর না?
58 ফলত যখন বিপক্ষের সঙ্গে শাসনকর্তার কাছে যাবে, পথের মধ্যে তা থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করো; পাছে সে তোমাকে বিচারকর্তার সম্মুখে টেনে নিয়ে যায়, আর বিচারকর্তা তোমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং পুলিশ তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে।
59 আমি তোমাকে বলছি, যতদিন শেষ পয়সাটা পর্যন্ত পরিশোধ না করবে, ততদিন তুমি কোন মতে সেখান থেকে বাইরে আসতে পাবে না।
1
সেই সময়ে উপস্থিত কয়েক জন তাঁকে সেই গালীলীয়দের বিষয়ে সংবাদ দিল, যাদের রক্ত পীলাত তাদের কোরবানীর পশুর রক্তের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন।
2 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কি মনে করছো, সেই গালীলীয়দের এরকম দুর্গতি হয়েছে বলে তারা অন্য সকল গালীলীয় লোকের চেয়ে বেশি গুনাহ্গার ছিল?
3 আমি তোমাদেরকে বলছি, তা নয়; বরং যদি মন না ফিরাও, তোমরা সকলেই তেমনি বিনষ্ট হবে।
4 অথবা সেই আঠারো জন, যাদের উপরে শীলোহে অবস্থিত উচ্চগৃহ পড়ে গিয়ে তারা মারা পড়লো, তোমরা কি তাদের বিষয়ে মনে করছো যে, তারা জেরুশালেম-নিবাসী অন্য সকল লোকের চেয়ে বেশি অপরাধী ছিল?
5 আমি তোমাদেরকে বলছি, তা নয়; বরং যদি মন না ফিরাও, তোমরা সকলেই তেমনি বিনষ্ট হবে।
6
আর তিনি এই দৃষ্টান্তটি বললেন, কোন ব্যক্তির আঙ্গুর-ক্ষেতে তাঁর একটা ডুমুর গাছ ছিল; আর তিনি এসে সেই গাছে ফলের খোঁজ করলেন, কিন্তু পেলেন না।
7 তাতে তিনি আঙ্গুর ক্ষেতের রক্ষককে বললেন, দেখ, আজ তিন বছর ধরে এসে এই ডুমুর গাছে ফল খোঁজ করছি, কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না। তুমি এটা কেটে ফেল; এটা কেন ভূমিও নষ্ট করবে।
8 সে জবাবে তাঁকে বললো, মালিক, এই বছরও ওটা থাকতে দিন, আমি ওর মূলের চারদিকে খুঁড়ে সার দেব,
9 তারপর যদি ওতে ফল ধরে তবে তো ভালই, নয় তো ওটা কেটে ফেলবেন।
10
তিনি বিশ্রামবারে কোন মজলিস-খানায় শিক্ষা দিচ্ছিলেন।
11 আর দেখ, এক জন স্ত্রীলোক, যাকে আঠারো বছর ধরে মন্দ রূহে পেয়েছিল, সে তাকে কুঁজা করে রেখেছে, কোন মতে সোজা হতে পারতো না।
12 তাকে দেখে ঈসা কাছে ডাকলেন, আর বললেন, হে নারী, তোমার দুর্বলতা থেকে মুক্ত হলে।
13 পরে তিনি তার উপরে হাত রাখলেন; তাতে সে তখনই সোজা হয়ে দাঁড়াল, আর আল্লাহ্র গৌরব করতে লাগল।
14 কিন্তু বিশ্রামবারে ঈসা সুস্থ করেছিলেন বলে মজলিস-খানার নেতা ক্রুদ্ধ হল, সে জবাবে লোকদেরকে বললো, ছয় দিন আছে, সেই সকল দিনে কাজ করা উচিত; অতএব ঐ সমস্ত দিনে এসে সুস্থ হয়ো, বিশ্রামবারে নয়।
15 কিন্তু প্রভু তাকে উত্তর দিয়ে বললেন, ভণ্ডরা, তোমাদের প্রত্যেক জন কি বিশ্রামবারে নিজ নিজ বলদ কিংবা গাধা যাবপাত্র থেকে খুলে পানি খাওয়াতে নিয়ে যায় না?
16 তবে এই স্ত্রীলোক, ইব্রাহিমের কন্যা, যাকে শয়তান, দেখ, আজ আঠারো বছর ধরে বেঁধে রেখেছিল, এর এই বন্ধন থেকে বিশ্রামবারে মুক্তি পাওয়া কি উচিত নয়?
17 তিনি এসব কথা বললে তাঁর বিপক্ষেরা সকলে লজ্জিত হল; কিন্তু তাঁর দ্বারা যে সমস্ত মহিমার কাজ হচ্ছিল, তাতে সমস্ত সাধারণ লোক আনন্দিত হল।
18
তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র রাজ্য কিসের মত? আমি কিসের সঙ্গে তার তুলনা দেব?
19 তা সরিষা-দানার মত, যা কোন ব্যক্তি নিয়ে নিজের বাগানে বপন করলো। পরে তা বেড়ে গাছ হয়ে উঠলো এবং আসমানের পাখিরা এসে তার শাখাতে বাস করলো।
20
আবার তিনি বললেন, আমি কিসের সঙ্গে আল্লাহ্র রাজ্যের তুলনা দেব?
21 তা এমন খামির মত, যা কোন স্ত্রীলোক নিয়ে তিন মাণ ময়দার মধ্যে মিশালো, শেষে সমস্তই ফেঁপে উঠলো।
22
আর তিনি নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করে উপদেশ দিতে দিতে জেরুশালেমের দিকে গমন করছিলেন।
23 তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, প্রভু, যারা নাজাত পাচ্ছে, তাদের সংখ্যা কি অল্প?
24 তিনি তাদেরকে বললেন, সঙ্কীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করতে প্রাণপণ কর; কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, অনেকে প্রবেশ করতে চেষ্টা করবে, কিন্তু পারবে না।
25 গৃহকর্তা উঠে দরজা বন্ধ করলে পর তোমরা বাইরে দাঁড়িয়ে দরজায় আঘাত করতে আরম্ভ করবে, বলবে, প্রভু, আমাদেরকে দরজা খুলে দিন; আর জবাবে তিনি তোমাদেরকে বলবেন, আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক;
26 তখন তোমরা বলতে আরম্ভ করবে, আমরা আপনার সাক্ষাতে ভোজন পান করেছি এবং আমাদের পথে পথে আপনি উপদেশ দিয়েছেন।
27 কিন্তু তিনি বলবেন, তোমাদেরকে বলছি, আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক; হে দুর্বৃত্তরা, আমার কাছ থেকে দূর হও।
28 সেই স্থানে কান্নাকাটি করবে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষবে; তখন তোমরা দেখবে, ইব্রাহিম, ইস্হাক ও ইয়াকুব এবং নবীরা সকলে আল্লাহ্র রাজ্যে রয়েছেন, আর তোমাদেরকে বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
29 আর পূর্ব ও পশ্চিম থেকে এবং উত্তর ও দক্ষিণ থেকে লোকেরা এসে আল্লাহ্র রাজ্যে বসবে।
30 আর দেখ, যারা শেষের, এমন কোন কোন লোক প্রথম হবে এবং যারা প্রথম, এমন কোন কোন লোক শেষে পড়বে।
31
সেই সময়ে কয়েক জন ফরীশী কাছে এসে তাঁকে বললো, বের হও, এই স্থান থেকে চলে যাও; কেননা হেরোদ তোমাকে হত্যা করতে চাইছেন।
32 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা গিয়ে সেই শিয়ালকে বল, দেখ, আজ এবং আগামীকাল আমি বদ-রূহ্ ছাড়াচ্ছি ও রোগীদের সুস্থ করছি এবং তৃতীয় দিনে আমার কাজ শেষ করবো।
33 যা হোক, আজ, আগামীকাল ও পরশু আমাকে গমন করতে হবে; কারণ এমন হতে পারে না যে, জেরুশালেমের বাইরে কোন নবী বিনষ্ট হয়।
34 জেরুশালেম, জেরুশালেম, তুমি নবীদেরকে হত্যা করে থাক ও তোমার কাছে যারা প্রেরিত হয়, তাদেরকে পাথর মেরে থাক! পাখির মা যেমন তার বাচ্চাদেরকে পাখার নিচে একত্র করে, আমি কত বার তেমনি তোমার সন্তানদেরকে একত্র করতে ইচ্ছা করেছি, কিন্তু তোমরা সম্মত হলে না।
35 দেখ, তোমাদের সেই বাড়ি তোমাদের জন্য উৎসন্ন হয়ে পড়ে রইলো। আর আমি তোমাদেরকে বলছি, যে সময় পর্যন্ত তোমরা না বলবে, “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন,” সেই সময় পর্যন্ত তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না।
1
তিনি এক বিশ্রামবারে প্রধান ফরীশীদের এক জন আলেমের বাড়িতে আহার করতে গেলেন, আর তারা তাঁর উপরে দৃষ্টি রাখল।
2 আর দেখ, এক জন শোথ-রোগী তাঁর সম্মুখে ছিল।
3 জবাবে ঈসা আলেমদের ও ফরীশীদেরকে বললেন, বিশ্রামবারে সুস্থ করা উচিত কিনা?
4 কিন্তু তারা চুপ করে রইলো। তখন তিনি তাকে ধরে সুস্থ করলেন, পরে বিদায় দিলেন।
5 আর তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যার সন্তান কিংবা বলদ কূপে পড়লে সে বিশ্রামবারে তৎক্ষণাৎ তাকে তুলবে না?
6 তারা এসব কথার উত্তর দিতে পারল না।
7
আর দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকেরা কিভাবে প্রধান প্রধান আসন মনোনীত করছে, তা লক্ষ্য করে তিনি তাদেরকে একটি দৃষ্টান্ত বললেন; তিনি তাদেরকে বললেন,
8 যখন কেউ তোমাকে বিয়ে ভোজে দাওয়াত করে, তখন প্রধান আসনে বসবে না; কি জানি, তোমার চেয়ে বেশি সম্মানিত আর কোন লোককে তিনি দাওয়াত দিয়েছেন,
9 আর যে ব্যক্তি তোমাকে ও তাকে দাওয়াত করেছে, সে এসে তোমাকে বলবে, এই স্থানটি ওনাকে ছেড়ে দাও; আর তখন তুমি লজ্জিত হয়ে নিম্নতম স্থান গ্রহণ করতে যাবে।
10 কিন্তু তুমি যখন দাওয়াতপ্রাপ্ত হও, তখন নিম্নতম স্থানে গিয়ে বসবে; তাতে যে ব্যক্তি তোমাকে দাওয়াত করেছে, সে যখন আসবে, তোমাকে বলবে, বন্ধু, উচ্চতর স্থানে গিয়ে বস; তখন যারা তোমার সঙ্গে বসে আছে, সেই সবের সাক্ষাতে তোমার গৌরব হবে।
11 কেননা যে কেউ নিজেকে উঁচু করে, তাকে নত করা যাবে, আর যে কেউ নিজেকে নত করে, তাকে উঁচু করা যাবে।
12
আবার যে ব্যক্তি তাঁকে দাওয়াত করেছিল, তাকেও তিনি বললেন, তুমি যখন মধ্যাহ্ন ভোজ কিংবা রাত্রিকালীন ভোজ প্রস্তুত কর, তখন তোমার বন্ধুদেরকে, বা তোমার ভাইদেরকে, বা তোমার জ্ঞাতিদেরকে কিংবা ধনী প্রতিবেশীদেরকে ডেকো না; কি জানি, তারাও তোমাকে পাল্টা দাওয়াত করবে, আর তুমি প্রতিদান পাবে।
13 কিন্তু তুমি যখন ভোজ প্রস্তুত কর, তখন দরিদ্র, নুলা, খঞ্জ ও অন্ধদেরকে দাওয়াত করো;
14 তাতে তুমি ধন্য হবে, কেননা তোমাকে প্রতিদান দিতে তাদের কিছু নেই, তাই ধার্মিকদের পুনরুত্থানের সময়ে তুমি প্রতিদান পাবে।
15
এসব কথা শুনে যারা বসেছিল, তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ্র রাজ্যে ভোজন করবে।
16 তিনি তাকে বললেন, কোন ব্যক্তি বড় একটি ভোজ প্রস্তুত করে অনেককে দাওয়াত করলেন।
17 পরে ভোজনের সময়ে তাঁর গোলাম দ্বারা দাওয়াতীদেরকে বলে পাঠালেন, এসো, এখন সকলই প্রস্তুত।
18 তখন তারা সকলেই একমত হয়ে অজুহাত দিতে লাগল। প্রথম জন তাকে বললো, আমি একখানি ক্ষেত ক্রয় করলাম, তা দেখতে না গেলে নয়; ফরিয়াদ করি, আমাকে ছেড়ে দিতে হবে।
19 আর এক জন বললো, আমি পাঁচ জোড়া বলদ কিনলাম, তাদের পরীক্ষা করতে যাচ্ছি; ফরিয়াদ করি, আমাকে ছেড়ে দিতে হবে।
20 আর এক জন বললো, আমি বিয়ে করলাম, এজন্য যেতে পারছি না।
21 পরে সে গোলাম এসে তার মালিককে এ সব বৃত্তান্ত জানালো। তখন সেই গৃহকর্তা ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর গোলামকে বললেন, শীঘ্র বের হয়ে নগরের পথে পথে ও গলিতে গলিতে যাও, দরিদ্র, নুলা, খঞ্জ ও অন্ধদেরকে এখানে আন।
22 পরে সেই গোলাম বললো, মালিক, আপনি যা হুকুম করেছিলেন, তা করা হয়েছে, আর এখনও স্থান আছে।
23 তখন মালিক সেই গোলামকে বললেন, বের হয়ে রাজপথে রাজপথে ও সরু পথগুলোতে যাও এবং আসার জন্য লোকদেরকে পীড়াপীড়ি কর, যেন আমার বাড়ি পরিপূর্ণ হয়।
24 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, ঐ দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এক জনও আমার ভোজের আস্বাদ পাবে না।
25
একবার অনেক লোক তার সঙ্গে যাচ্ছিল; তখন তিনি মুখ ফিরিয়ে তাদেরকে বললেন,
26 যদি কেউ আমার কাছে আসে, আর আপন পিতা-মাতা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে, ভাই-বোন, এমন কি নিজের প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান না করে, তবে সে আমার সাহাবী হতে পারে না।
27 যে কেউ নিজের ক্রুশ বহন না করে ও আমার পিছনে পিছনে না আসে, সে আমার সাহাবী হতে পারে না।
28 বাস্তবিক উচ্চগৃহ নির্মাণ করতে ইচ্ছা হলে কে তোমাদের মধ্যে আগে বসে ব্যয় হিসাব করে না দেখবে, সমাপ্ত করার সঙ্গতি তার আছে কি না?
29 কি জানি ভিত্তিমূল বসালে পর যদি সে সমাপ্ত করতে না পারে, তবে যত লোক তা দেখবে, সকলে তাকে বিদ্রূপ করতে আরম্ভ করবে,
30 বলবে, এই ব্যক্তি নির্মাণ করতে আরম্ভ করেছিল, কিন্তু সমাপ্ত করতে পারল না।
31 অথবা কোন্ বাদশাহ্ অন্য বাদশাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবার সময়ে আগে বসে বিবেচনা করবে না, যিনি বিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমার বিরুদ্ধে আসছেন, আমি দশ হাজার নিয়ে কি তার মুখামুখি হতে পারি?
32 যদি না পারেন, তবে দুশমন দূরে থাকতে তিনি দূত প্রেরণ করে সন্ধি স্থাপন করতে চাইবেন।
33 ভাল, তেমনি তোমাদের মধ্যে যে কেউ নিজের সর্বস্ব ত্যাগ না করে, সে আমার সাহাবী হতে পারে না।
34
লবণ তো উত্তম; কিন্তু সেই লবণেরও যদি স্বাদ চলে গিয়ে থাকে, তবে তা কিসে আস্বাদযুক্ত করা যাবে?
35 তা না ভূমির, না সারের ঢিবির উপযোগী; লোকে তা বাইরে ফেলে দেয়। যার শুনবার কান আছে সে শুনুক।
1
আর কর-আদায়কারী ও গুনাহ্গারেরা সকলে তাঁর কথা শুনবার জন্য তাঁর কাছে আসছিল।
2 তাতে ফরীশীরা ও তাদের আলেমরা বচসা করে বলতে লাগল, এই ব্যক্তি গুনাহ্গারদেরকে গ্রহণ করে ও তাদের সঙ্গে ভোজন-পান করে।
3
তখন তিনি তাদেরকে এই দৃষ্টান্তটি বললেন।
4 তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির একশত ভেড়া আছে ও সেসব ভেড়ার মধ্য থেকে একটি ভেড়া হারিয়ে যায় তবে কি সে নিরানব্বইটা মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ে যে পর্যন্ত সেই হারানোটি না পায়, সেই পর্যন্ত তার খোঁজ করতে যায় না?
5 আর তা পেলে পর সে আনন্দপূর্বক কাঁধে তুলে নেয়।
6 পরে ঘরে এসে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে ডেকে বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার যে ভেড়াটি হারিয়ে গিয়েছিল তা খুঁজে পেয়েছি।
7 আমি তোমাদেরকে বলছি, তেমনি এক জন গুনাহ্গার মন ফিরালে বেহেশতে আনন্দ হবে; যাদের মন ফিরানো আবশ্যক নয়, এমন নিরানব্বই জন ধার্মিকের বিষয়ে তত আনন্দ হবে না।
8
অথবা কোন স্ত্রীলোক যার দশটি সিকি আছে, সে যদি একটি হারিয়ে ফেলে, তবে প্রদীপ জ্বেলে ঘর ঝাড় দিয়ে যে পর্যন্ত তা না পায়, ভাল করে খুঁজে দেখে না?
9 আর পেলে পর সে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে ডেকে বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমি যে সিকিটি হারিয়ে ফেলেছিলাম তা পেয়েছি।
10 তেমনি আমি তোমাদেরকে বলছি, এক জন গুনাহ্গার মন ফিরালে আল্লাহ্র ফেরেশতাদের মধ্যে আনন্দ হয়।
11
আর তিনি বললেন, এক ব্যক্তির দু’টি পুত্র ছিল;
12 তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ জন তার পিতাকে বললো, আব্বা, সম্পত্তির যে অংশ আমার ভাগে পড়ে, তা আমাকে দাও। তাতে তিনি তাদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন।
13 অল্প দিন পরে সেই কনিষ্ঠ পুত্র সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা নিয়ে দূরদেশে চলে গেল, আর সেখানে সে অনাচারে নিজের টাকা উড়িয়ে দিল।
14 সে সব ব্যয় করে ফেললে পর সেই দেশে ভারী দুর্ভিক্ষ হল, তাতে সে কষ্টে পড়তে লাগল।
15 তখন সে গিয়ে সেই দেশের এক জন গৃহস্থের আশ্রয় নিল; আর সে তাকে শূকর চরাবার জন্য তার মাঠে পাঠিয়ে দিল;
16 তখন শূকরে যে শুঁটি খেত, তা দিয়ে সে উদর পূর্ণ করতে বাঞ্ছা করতো, আর কেউই তাকে তাও দিত না।
17 কিন্তু চেতনা পেলে সে বললো, আমার পিতার কত মজুর বেশি বেশি খাদ্য পাচ্ছে, কিন্তু আমি এখানে ক্ষুধায় মরছি।
18 আমি উঠে আমার পিতার কাছে যাব, তাঁকে বলবো, আব্বা, বেহেশতের বিরুদ্ধে এবং তোমার সাক্ষাতে আমি গুনাহ্ করেছি;
19 আমি আর তোমার পুত্র নামের যোগ্য নই; তোমার এক জন মজুরের মত আমাকে রাখ।
20 পরে সে উঠে তার পিতার কাছে আসল। সে দূরে থাকতেই তার পিতা তাকে দেখতে পেলেন ও করুণাবিষ্ট হলেন, আর দৌড়ে গিয়ে তার গলা ধরে তাকে চুম্বন করতে থাকলেন।
21 তখন পুত্র তাঁকে বললো, আব্বা, বেহেশতের বিরুদ্ধে ও তোমার সাক্ষাতে আমি গুনাহ্ করেছি, আমি আর তোমার পুত্র নামের যোগ্য নই।
22 কিন্তু পিতা তার গোলামদেরকে বললেন, শীঘ্র করে সর্বপেক্ষা উত্তম কোর্তাটি আন, আর একে পরিয়ে দাও। এর হাতে আংটি দাও ও পায়ে জুতা পরাও;
23 আর হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি এনে জবেহ্ কর; আমরা ভোজন করে আমোদ প্রমোদ করি;
24 কারণ আমার এই পুত্র মারা গিয়েছিল, এখন বেঁচে উঠেছে; হারিয়ে গিয়েছিল, এখন পাওয়া গিয়েছে। তাতে তারা আমোদ প্রমোদ করতে লাগল।
25
তখন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্ষেতে ছিল, পরে সে আসতে আসতে যখন বাড়ির কাছে পৌঁছালো, তখন বাদ্য ও নৃত্যের আওয়াজ শুনতে পেল।
26 আর সে এক জন গোলামকে কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, এসব কি হচ্ছে?
27 সে তাকে বললো, তোমার ভাই ফিরে এসেছে এবং তোমার পিতা হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি মেরেছেন, কেননা তিনি তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছেন।
28 তাতে সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলো, ভিতরে যেতে চাইল না; তখন তার পিতা সাধ্য সাধনা করতে লাগলেন।
29 কিন্তু সে জবাবে পিতাকে বললো, দেখ, এত বছর আমি তোমার সেবা করে আসছি, কখনও তোমার হুকুম লঙ্ঘন করি নি, তবুও আমাকে কখনও একটি ছাগলের বাচ্চা দাও নি, যেন আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে আমোদ প্রমোদ করতে পারি।
30 কিন্তু তোমার এই যে পুত্র পতিতাদের সঙ্গে তোমার ধন খেয়ে ফেলেছে, সে যখন আসল, তারই জন্য হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি জবেহ্ করলে।
31 তিনি তাকে বললেন, বৎস, তুমি সব সময়ই আমার সঙ্গে আছ, আর যা যা আমার, সকলই তোমার।
32 কিন্তু আমাদের আমোদ প্রমোদ ও আনন্দ করা উচিত, কারণ তোমার এই ভাই মারা গিয়েছিল, এখন বেঁচে উঠেছে; হারিয়ে গিয়েছিল, এখন পাওয়া গেছে।
1
আর তিনি সাহাবীদেরকেও বললেন, এক জন ধনবান লোক ছিল, তার এক ব্যবস্থাপক ছিল; তাকে এই বলে অপবাদ দেওয়া হল যে, সে মালিকের ধন অপচয় করছে।
2 পরে সে তাকে ডেকে বললো, তোমার বিষয়ে এ কি কথা শুনছি? তোমার ব্যবস্থাপক পদের হিসাব দাও, কেননা তুমি আর ব্যবস্থাপক থাকতে পারবে না।
3 তখন সেই ব্যবস্থাপক মনে মনে বললো, কি করবো? আমার মালিক তো আমার কাছ থেকে ব্যবস্থাপক-পদ নিয়ে নিচ্ছেন; মাটি কাটার বলও আমার নেই, ভিক্ষা করতে আমার লজ্জা হয়।
4 আমার ব্যবস্থাপক-পদ গেলে লোকে যেন নিজ নিজ বাড়িতে আমাকে গ্রহণ করে, এজন্য যা করতে হবে তা আমি জানি।
5 পরে সে তার মালিকের প্রত্যেক ঋণীকে ডেকে প্রথম জনকে বললো, তুমি আমার মালিকের কত ধার?
6 সে বললো, এক শত মণ তৈল। তখন সে তাকে বললো, তোমার ঋণপত্র নেও এবং শীঘ্র বসে পঞ্চাশ লেখ।
7 পরে সে আর এক জনকে বললো, তুমি কত ধার? সে বললো, নয় শত মণ গম। তখন সে বললো, তোমার ঋণপত্র নিয়ে সাত শত বিশ মণ লেখ।
8 তাতে সেই মালিক সেই অধার্মিক ব্যবস্থাপকের প্রশংসা করলো, কারণ সে বুদ্ধিমানের কাজ করেছিল। বাস্তবিক এই যুগের সন্তানেরা নিজের জাতির সম্বন্ধে আলোর সন্তানদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।
9 আর আমিই তোমাদেরকে বলছি, নিজেদের জন্যে অধার্মিকতার ধন দ্বারা বন্ধুত্ব লাভ কর, যেন সেটি শেষ হলে তারা তোমাদেরকে সেই অনন্ত আবাসে গ্রহণ করে।
10
যে ক্ষুদ্রতম বিষয়ে বিশ্বস্ত, সে প্রচুর বিষয়েও বিশ্বস্ত; আর যে ক্ষুদ্রতম বিষয়ে অধার্মিক, সে প্রচুর বিষয়েও অধার্মিক।
11 অতএব তোমরা যদি অধার্মিকতার ধনে বিশ্বস্ত না হয়ে থাক, তবে কে বিশ্বাস করে তোমাদের কাছে সত্য ধন রাখবে?
12 আর যদি পরের বিষয়ে বিশ্বস্ত না হয়ে থাক, তবে কে তোমাদের নিজের বিষয় তোমাদেরকে দেবে?
13 কোন ভৃত্য দুই মালিকের গোলামী করতে পারে না, কেননা সে হয় এক জনকে ঘৃণা করবে, অন্যকে মহব্বত করবে, নয় তো এক জনের প্রতি অনুরক্ত হবে, অন্যকে তুচ্ছ করবে। তোমরা আল্লাহ্ এবং ধন উভয়ের গোলামী করতে পার না।
14
তখন ফরীশীরা, যারা টাকা ভালবাসত তারা এসব কথা শুনছিল, আর তারা তাঁকে উপহাস করতে লাগল।
15 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরাই তো মানুষের সাক্ষাতে নিজদেরকে ধার্মিক দেখিয়ে থাক, কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের অন্তঃকরণ জানেন; কেননা মানুষের মধ্যে যা উঁচু, তা আল্লাহ্র সাক্ষাতে ঘৃণার যোগ্য।
16
শরীয়ত ও নবীদের কিতাব ইয়াহিয়া না আসা পর্যন্ত কার্যকরী ছিল; সেই থেকে আল্লাহ্র রাজ্যের সুসমাচার তবলিগ হচ্ছে এবং প্রত্যেক জন সবলে সেই রাজ্যে প্রবেশ করছে।
17 কিন্তু শরীয়তের এক বিন্দু পড়ে যাওয়ার চেয়ে বরং আসমানের ও দুনিয়ার লোপ হওয়া সহজ।
18
যে কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আর এক জনকে বিয়ে করে, সে জেনা করে; আর যে কেউ স্বামীত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে, সেও জেনা করে।
19
এক জন ধনবান লোক ছিল, সে বেগুনে কাপড় ও মসীনার কাপড় পরতো এবং প্রতিদিন জাঁকজমকের সঙ্গে আমোদ প্রমোদ করতো।
20 তার ফটক-দ্বারে লাসার নামে এক জন ভিখারীকে রাখা হয়েছিল,
21 তার শরীর ঘায়ে ভরা ছিল এবং সে সেই ধনবানের টেবিল থেকে পড়ে যাওয়া গুঁড়াগাঁড়া খেয়ে পেট ভরাতে চাইত; আবার কুকুরেরাও এসে তার ঘা চেটে দিত।
22 কালক্রমে ঐ ভিখারি মারা গেল, আর ফেরেশতারা তাকে নিয়ে ইব্রাহিমের কোলে বসালেন।
23 পরে সেই ধনবানও মারা গেল এবং তাকে দাফন করা হল। আর পাতালে, যাতনার মধ্যে, সে চোখ তুলে দূর থেকে ইব্রাহিমকে এবং তাঁর কোলে লাসারকে দেখতে পেল।
24 তাতে সে চিৎকার বললো, পিতা ইব্রাহিম, আমার প্রতি করুণা করুন, লাসারকে পাঠিয়ে দিন, যেন সে অঙ্গুলির অগ্রভাগ পানিতে ডুবিয়ে আমার জিহ্বা শীতল করে, কেননা এই আগুনের শিখায় আমি যন্ত্রণা পাচ্ছি।
25 কিন্তু ইব্রাহিম বললেন, বৎস স্মরণ কর, তুমি তোমার জীবন কালে কত সুখভোগ করেছ, আর লাসার তেমনি কষ্ট ভোগ করেছে; এখন সে এই স্থানে সান্ত্বনা পাচ্ছে।
26 আর তাছাড়া আমাদের ও তোমাদের মধ্যে বড় একটি ফাঁকা স্থান রয়েছে, যেন এই স্থান থেকে যারা তোমাদের কাছে যেতে চায়, তারা না পারে, আবার ঐ স্থান থেকে আমাদের কাছে কেউ পার হয়ে আসতে না পারে।
27 তখন সে বললো, আমি আপনাকে অনুরোধ করি, পিতা, আমার পিতার বাড়িতে লাসারকে পাঠিয়ে দিন;
28 কেননা আমার পাঁচটি ভাই আছে; সে গিয়ে তাদের কাছে সাক্ষ্য দিক; যেন তারাও এই যাতনা-স্থানে না আসে।
29 কিন্তু ইব্রাহিম বললেন, তাদের কাছে মূসার শরীয়ত ও নবীদের কিতাব রয়েছে; তাঁদেরই কথায় তারা মনযোগ দিক।
30 তখন সে বললো, তা নয়, পিতা ইব্রাহিম, বরং মৃতদের মধ্য থেকে যদি কেউ তাদের কাছে যায়, তা হলে তারা মন ফিরাবে।
31 কিন্তু তিনি বললেন, তারা যদি মূসার শরীয়ত ও নবীদের কিতাবের কথা না শুনে, তবে মৃতদের মধ্য থেকে কেউ উঠলেও তারা মন ফিরাবে না।
1
ঈসা তাঁর সাহাবীদেরকে আরও বললেন, গুনাহের পথে নিয়ে যাবার জন্য উসকানি উপস্থিত হবে না এমন হতে পারে না; কিন্তু ধিক্ তাকে, যার দ্বারা উসকানি উপস্থিত হবে!
2 যে এই ক্ষুদ্রদের মধ্যে এক জনের সম্মুখে এমন কোন বাধা স্থাপন করে যাতে সে উচোট খায়, তবে তাকে বরং গলায় যাঁতা বেঁধে সাগরে ফেলে দেওয়া তার পক্ষে ভাল। তোমরা তোমাদের নিজেদের বিষয়ে সাবধান থাক।
3 তোমার ভাই যদি গুনাহ্ করে, তাকে অনুযোগ করো; আর সে যদি তওবা করে, তাকে মাফ করো।
4 আর যদি সে এক দিনের মধ্যে সাত বার তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে, আর সাত বার তোমার কাছে ফিরে এসে বলে, অনুতাপ করলাম, তবে তাকে মাফ করো।
5
আর প্রেরিতেরা প্রভুকে বললেন, আমাদের ঈমান বাড়িয়ে দিন।
6 প্রভু বললেন, একটি সর্ষেদানার মত ঈমান যদি তোমাদের থাকে, তবে ‘তুমি সমূলে উপড়ে গিয়ে সাগরে রোপিত হও’ এই কথা তুঁত গাছটিকে বললে গাছটি তোমাদের কথা মানবে।
7
আর তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যার গোলাম হাল বেয়ে কিংবা ভেড়া চরিয়ে ক্ষেত থেকে ভিতরে আসলে সে তাকে বলবে, ‘তুমি এখনই এসে খেতে বস’?
8 বরং তাকে কি বলবে না, ‘আমি কি খাব, তার আয়োজন কর এবং আমি যতক্ষণ ভোজন পান করি, ততক্ষণ কোমর বেঁধে আমার সেবা কর, তারপর তুমি ভোজন পান করবে’?
9 সেই গোলাম হুকুম পালন করলো বলে সে কি তাকে শুকরিয়া জানাবে?
10 সেইভাবে সমস্ত হুকুম পালন করলে পর তোমরাও বলো আমরা অযোগ্য গোলাম, যা করতে বাধ্য ছিলাম, তা-ই করলাম।
11
জেরুশালেমে যাবার সময়ে তিনি সামেরিয়া ও গালীল দেশের মধ্য দিয়ে গমন করলেন।
12 তিনি কোন গ্রামে প্রবেশ করছেন, এমন সময়ে দশ জন কুষ্ঠ রোগী তাঁর সম্মুখে পড়লো, তারা দূরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল,
13 ঈসা, প্রভু, আমাদেরকে করুণা করুন!
14 তাদেরকে দেখে তিনি বললেন, যাও, ইমামদের কাছে গিয়ে নিজেদের দেখাও। যেতে যেতে তারা পাক-পবিত্র হয়ে গেল।
15 তখন তাদের এক জন নিজেকে সুস্থ দেখে উচ্চরবে আল্লাহ্র গৌরব করতে করতে ফিরে আসল,
16 এবং ঈসার পায়ে উবুড় হয়ে পড়ে তাঁকে শুকরিয়া জানাতে লাগল; সেই ব্যক্তি এক জন সামেরীয়।
17 জবাবে ঈসা বললেন, দশ জন কি পাক-পবিত্র হয় নি? তবে সেই নয় জন কোথায়?
18 আল্লাহ্র গৌরব করার জন্য ফিরে এসেছে, এই বিদেশী লোকটি ভিন্ন এমন কাউকেও কি পাওয়া গেল না?
19 পরে তিনি তাকে বললেন, উঠে চলে যাও, তোমার ঈমান তোমাকে সুস্থ করেছে।
20
ফরীশীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, আল্লাহ্র রাজ্য কখন আসবে? জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, আল্লাহ্র রাজ্য জাঁক-জমকের সঙ্গে আসে না;
21 আর লোকে বলবে না, দেখ, এই স্থানে! কিংবা ঐ স্থানে! কারণ দেখ, আল্লাহ্র রাজ্য তোমাদের মধ্যেই আছে।
22
আর তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, এমন সময় আসবে, যখন তোমরা ইবনুল-ইনসানের সময়ের একটি দিন দেখতে ইচ্ছা করবে, কিন্তু দেখতে পাবে না।
23 তখন লোকেরা তোমাদেরকে বলবে, দেখ ঐ স্থানে! দেখ, এই স্থানে! যেও না, তাদের পিছনে যেও না।
24 কেননা বিদ্যুৎ যেমন আসমানের নিচে এক দিক থেকে চমকালে আসমানের নিচে অন্যদিক পর্যন্ত আলোকিত হয়, ইবনুল-ইনসান তাঁর দিনে ঠিক তেমনি হবেন।
25 কিন্তু প্রথমে তাঁকে অনেক দুঃখ-ভোগ করতে এবং এই কালের লোকদের কাছে অগ্রাহ্য হতে হবে।
26 আর নূহের সময়ে যেমন হয়েছিল, ইবনুল-ইনসানের সময়েও তেমনি হবে।
27 লোকে ভোজন পান করতো, বিয়ে করতো, বিবাহিতা হত, যে পর্যন্ত না নূহ্ জাহাজে প্রবেশ করলেন, আর বন্যা এসে সকলকে বিনষ্ট করলো।
28 আবার লূতের সময়ে যেমন হয়েছিল— লোকে ভোজন পান, ক্রয়-বিক্রয়, গাছ লাগানো ও বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতো;
29 কিন্তু যেদিন লূত সাদুম থেকে বের হলেন, সেদিন আসমান থেকে আগুন ও গন্ধক বর্ষিয়ে সকলকে বিনষ্ট করলো—
30 ইবনুল-ইনসান যেদিন প্রকাশিত হবেন, সেই দিনেও ঠিক তেমনি হবে।
31 সেদিন যে কেউ ছাদের উপরে থাকবে, আর তার জিনিসপত্র ঘরে থাকবে, সে তা নেবার জন্য নিচে না নামুক; আর তেমনি যে কেউ ক্ষেতে থাকবে, সেও পিছনে ফিরে না আসুক।
32 লূতের স্ত্রীকে স্মরণ করো।
33 যে কেউ আপন প্রাণ লাভ করতে চেষ্টা করে, সে তা হারাবে; আর যে কেউ প্রাণ হারায়, সে তা বাঁচাবে।
34 আমি তোমাদেরকে বলছি, সেই রাতে দু’জন এক বিছানায় থাকবে, তাদের এক জনকে নেওয়া যাবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
35 দু’জন স্ত্রীলোক একত্রে যাঁতা পিষবে; তাদের এক জনকে নেওয়া যাবে এবং অন্য জনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
36 তখন তাঁরা জবাবে তাঁকে বললেন, হে প্রভু, কোথায়?
37 তিনি তাঁদেরকে বললেন, যেখানে লাশ, সেখানেই শকুন জুটবে।
1
নিরুৎসাহিত না হয়ে তাঁদের সব সময়ই যে মুনাজাত করা উচিত, এই বিষয়ে তিনি সাহাবীদের কাছে এই দৃষ্টান্তটি বললেন,
2 তিনি বললেন, কোন নগরে এক জন বিচারকর্তা ছিল, সে আল্লাহ্কে ভয় করতো না, মানুষকেও মানতো না।
3 আর সেই নগরে এক বিধবা ছিল, সে তার কাছে এসে বলতো, অন্যায়ের প্রতিকার করে আমার বিপক্ষের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করুন!
4 বিচারকর্তা কিছুকাল পর্যন্ত সম্মত হল না; কিন্তু পরে মনে মনে বললো, যদিও আমি আল্লাহ্কে ভয় করি না, মানুষকেও মানি না,
5 তবুও এই বিধবা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এজন্য অন্যায় থেকে একে উদ্ধার করবো। তা নাহলে সে সব সময় এসে আমাকে জ্বালাতন করবে।
6 পরে প্রভু বললেন, শোন, ঐ অধার্মিক বিচারকর্তা কি বলে।
7 তবে যারা দিনরাত আল্লাহ্র কাছে কান্নাকাটি করে, আল্লাহ্ কি তাঁর সেই মনোনীতদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করবেন না, যদিও তিনি তাঁদের বিষয়ে ধৈর্য ধরে আছেন?
8 আমি তোমাদেরকে বলছি, তিনি শীঘ্রই তাদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করবেন। কিন্তু ইবনুল-ইনসান যখন আসবেন, তখন কি দুনিয়াতে ঈমান দেখতে পাবেন?
9
যারা নিজেদের উপরে বিশ্বাস রাখতো, মনে করতো যে, তারাই ধার্মিক এবং অন্য সকলকে হেয় জ্ঞান করতো, এমন কয়েক জনকে তিনি এই দৃষ্টান্তটি বললেন।
10 দুই ব্যক্তি মুনাজাত করার জন্য বায়তুল-মোকাদ্দসে গেল; এক জন ফরীশী আর এক জন কর-আদায়কারী।
11 ফরীশী দাঁড়িয়ে নিজে নিজে এরকম মুনাজাত করলো, হে আল্লাহ্, আমি তোমাকে শুকরিয়া জানাই যে, আমি অন্য সব লোকের মত জুলুমবাজ, অন্যায়কারী ও জেনাকারী নই কিংবা ঐ কর-আদায়কারীর মতও নই;
12 আমি সপ্তাহের মধ্যে দুই বার রোজা রাখি, সমস্ত আয়ের দশ ভাগের এক ভাগ দান করি।
13 কিন্তু কর-আদায়কারী দূরে দাঁড়িয়ে বেহেশতের দিকে চোখ তুলতেও সাহস পেল না, বরং সে বুকে করাঘাত করতে করতে বললো, হে আল্লাহ্, আমার প্রতি, এই গুনাহ্গারের প্রতি রহম কর।
14 আমি তোমাদেরকে বলছি, এই ব্যক্তি ধার্মিক গণিত হয়ে নিজের বাড়িতে নেমে গেল, ঐ ব্যক্তি নয়; কেননা যে কেউ নিজেকে উঁচু করে, তাকে নত করা যাবে; কিন্তু যে নিজেকে নত করে, তাকে উঁচু করা যাবে।
15
আর লোকেরা তাঁদের ছোট শিশুদেরকেও তাঁর কাছে আনলো, যেন তিনি তাদেরকে স্পর্শ করেন। সাহাবীরা তা দেখে তাদেরকে ভর্ৎসনা করতে লাগলেন।
16 কিন্তু ঈসা তাদেরকে কাছে ডাকলেন, বললেন, শিশুদেরকে আমার কাছে আসতে দাও, বারণ করো না, কেননা আল্লাহ্র রাজ্য এদের মত লোকদেরই।
17 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে কেউ শিশুর মত হয়ে আল্লাহ্র রাজ্য গ্রহণ না করে, সে কোন মতে তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
18
এক জন নেতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, হে সৎ হুজুর, কি করলে আমি অনন্ত জীবনের অধিকারী হব?
19 ঈসা তাকে বললেন, আমাকে সৎ কেন বলছো? এক জন ছাড়া সৎ আর কেউ নেই, তিনি আল্লাহ্।
20 তুমি হুকুমগুলো জান, “জেনা করো না, খুন করো না, চুরি করো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না, তোমার পিতা-মাতাকে সমাদর কোরো”।
21 সে বললো, বাল্যকাল থেকে এসব পালন করে আসছি।
22 এই কথা শুনে ঈসা তাকে বললেন, এখনও একটি বিষয়ে তোমার ত্রুটি আছে; তোমার যা কিছু আছে সমস্ত বিক্রি কর, আর দরিদ্রদেরকে বিতরণ কর, তাতে বেহেশতে ধন পাবে; আর এসো, আমার পশ্চাৎগামী হও।
23 কিন্তু এই কথা শুনে সে অতিশয় দুঃখিত হল, কারণ সে অতিশয় ধনবান ছিল।
24 তখন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে ঈসা বললেন, যাদের ধন আছে, তাদের পক্ষে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন দুষ্কর!
25 বাস্তবিক আল্লাহ্র রাজ্যে ধনবানের প্রবেশ করার চেয়ে বরং সূচের ছিদ্র দিয়ে উটের প্রবেশ করা সহজ।
26
যারা শুনলো, তারা বললো, তাহলে কে নাজাত পেতে পারে?
27 তিনি বললেন, যা মানুষের অসাধ্য, তা আল্লাহ্র সাধ্য।
28 তখন পিতর বললেন, দেখুন, আমাদের নিজেদের সবকিছু পরিত্যাগ করে আপনার অনুসারী হয়েছি।
29
তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এমন কেউ নেই, যে আল্লাহ্র রাজ্যের জন্য নিজের বাড়ি বা স্ত্রী বা ভাই-বোন বা পিতা-মাতা বা সন্তান-সন্ততি ত্যাগ করলে,
30 ইহকালে তার বহুগুণ এবং আগামী যুগে অনন্ত জীবন না পাবে।
31
পরে তিনি সেই বারো জনকে কাছে নিয়ে তাঁদেরকে বললেন, দেখ, আমরা জেরুশালেমে যাচ্ছি; আর নবীদের দ্বারা ইবনুল-ইনসানের বিষয়ে যা যা লেখা হয়েছে, সেসব সিদ্ধ হবে।
32 কারণ তাঁকে অ-ইহুদীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে এবং লোকেরা তাঁকে বিদ্রুপ করবে, তাঁকে অপমান করবে, তাঁর গায়ে থুথু দেবে;
33 এবং কশাঘাত করে তাঁকে হত্যা করবে; পরে তৃতীয় দিনে তিনি পুনরায় উঠবেন।
34
সাহাবীরা কিন্তু এই সমস্ত বিষয়ের কিছুই বুঝতে পারলেন না। প্রকৃত পক্ষে তিনি তাঁদের কাছে যা যা বলেছিলেন তার অর্থ তাঁদের থেকে গুপ্ত রইলো, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারলেন না।
35
আর যখন তিনি জেরিকোর নিকটবর্তী হলেন, এক জন অন্ধ পথের পাশে বসে ভিক্ষা করছিল;
36 সে লোকদের চলার আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলো, এর কারণ কি?
37 লোকে তাকে বললো, নাসরতীয় ঈসা এই পথ দিয়ে যাচ্ছেন।
38 তখন সে চিৎকার বললো, হে ঈসা, দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি করুণা করুন।
39 যারা আগে আগে যাচ্ছিল, তারা চুপ চুপ বলে তাকে ধমক্ দিল, কিন্তু সে আরও বেশি চেঁচিয়ে বলতে লাগল, হে দাউদ-সন্তান আমার প্রতি করুণা করুন।
40 তখন ঈসা থেমে তাকে তাঁর কাছে আনতে হুকুম করলেন; পরে সে কাছে আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
41 তুমি কি চাও? আমি তোমার জন্য কি করবো? সে বললো, প্রভু, যেন দেখতে পাই।
42 ঈসা তাকে বললেন, দেখতে পাও; তোমার ঈমান তোমাকে সুস্থ করলো।
43 তাতে সে তৎক্ষণাৎ দেখতে পেল এবং আল্লাহ্র গৌরব করতে করতে তাঁর পিছনে পিছনে গমন চললো। তা দেখে সকল লোক আল্লাহ্র প্রশংসা করলো।
1
পরে তিনি জেরিকোতে প্রবেশ করে নগরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
2 আর দেখ, সক্কেয় নামে এক ব্যক্তি ছিল, আর সে ছিল এক জন প্রধান কর-আদায়কারী এবং ধনবান।
3 আর ঈসা কে, সে তা দেখতে চেষ্টা করছিল, কিন্তু ভিড়ের দরুন পারল না, কেননা সে খর্বকায় ছিল।
4 তাই সে আগে দৌড়ে গিয়ে তাঁকে দেখবার জন্য একটি ডুমুর গাছে উঠলো, কারণ তিনি সেই পথে যাচ্ছিলেন।
5 পরে ঈসা যখন সেই স্থানে উপস্থিত হলেন, তখন উপরের দিকে চেয়ে তাকে বললেন, সক্কেয়, শীঘ্র নেমে এসো, কেননা আজ তোমার বাড়িতে আমাকে থাকতে হবে।
6 তাতে সে শীঘ্র নেমে আসল এবং আনন্দের সঙ্গে তাঁর মেহমানদারী করলো।
7 তা দেখে সকলে বচসা করে বলতে লাগল, ইনি এক জন গুনাহ্গারের ঘরে রাত যাপন করতে গেলেন।
8 তখন সক্কেয় দাঁড়িয়ে প্রভুকে বললো, প্রভু দেখুন, আমার সম্পত্তির অর্ধেক আমি দরিদ্রদেরকে দান করছি; আর যদি অন্যায়পূর্বক কারো কিছু হরণ করে থাকি, তার চারগুণ ফিরিয়ে দিচ্ছি।
9 তখন ঈসা তাকে বললেন, আজ এই বাড়িতে নাজাত উপস্থিত হল; যেহেতু এই ব্যক্তিও ইব্রাহিমের সন্তান।
10 কারণ যা হারিয়ে গিয়েছিল, তার খোঁজ ও নাজাত করতে ইবনুল-ইনসান এসেছেন।
11
যখন, তারা এসব কথা শুনছিল, তখন তিনি একটি দৃষ্টান্তও বললেন, কারণ তিনি জেরুশালেমের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন; আর তারা অনুমান করছিল যে, আল্লাহ্র রাজ্যের প্রকাশ তখনই হবে।
12 অতএব তিনি বললেন, ভদ্র-বংশীয় এক ব্যক্তি দূরদেশে গেলেন, অভিপ্রায় এই যে, নিজের জন্য রাজপদ নিয়ে ফিরে আসবেন।
13 আর তিনি তাঁর দশ জন গোলামকে ডেকে দশটি মুদ্রা দিয়ে বললেন, আমি যে পর্যন্ত না আসি, তুমি তা দিয়ে ব্যবসা কর।
14 কিন্তু তাঁর লোকেরা তাঁকে ঘৃণা করতো, তারা তাঁর পিছনে দূত পাঠিয়ে দিল, বললো, আমাদের ইচ্ছা নয় যে, এই ব্যক্তি আমাদের উপরে রাজত্ব করেন।
15 পরে তিনি রাজপদ লাভ করে যখন ফিরে আসলেন, তখন যাদেরকে টাকা দিয়েছিলেন, সেই গোলামদেরকে তাঁর কাছে ডেকে আনতে বললেন, যেন তিনি জানতে পারেন, তারা ব্যবসা করে কে কত লাভ করেছে।
16 তখন প্রথম ব্যক্তি কাছে এসে বললো, প্রভু, আপনার মুদ্রা দিয়ে আরও দশটি মুদ্রা লাভ করেছি।
17 তিনি তাকে বললেন, ধন্য! উত্তম গোলাম, তুমি অতি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত হলে; এজন্য দশটি নগরের উপরে কর্তৃত্ব কর।
18 দ্বিতীয় ব্যক্তি কাছে এসে বললো, প্রভু, আপনার মুদ্রা দিয়ে আরও পাঁচটি মুদ্রা লাভ করেছি।
19 তিনি তাকেও বললেন, তুমিও পাঁচটি নগরের উপরে কর্তৃত্ব কর।
20 পরে আর এক জন এসে বললো, প্রভু, দেখুন, এই আপনার মুদ্রা।
21 আমি এটি রুমালে বেঁধে রেখে দিয়েছিলাম, কারণ আপনার সম্বন্ধে আমার ভয় ছিল, কেননা আপনি কঠিন লোক, যা রাখেন নি, তা তুলে নেন এবং যা বুনেন নি, তা কাটেন।
22 তিনি তাকে বললেন, দুষ্ট গোলাম, আমি তোমার নিজের মুখের কথা দিয়েই তোমার বিচার করবো। তুমি না জানতে যে, আমি কঠিন লোক, যা রাখি নি, তা-ই তুলে নেই এবং যা বুনি নি, তা-ই কাটি?
23 তবে আমার টাকা মহাজনদের কাছে রাখ নি কেন? তা করলে আমি এসে সুদের সঙ্গে তা আদায় করতে পরতাম।
24 আর যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তিনি তাদেরকে বললেন, এর কাছ থেকে ঐ মুদ্রা নিয়ে নেও এবং যার দশটি মুদ্রা আছে তাকে দাও।
25 তারা তাঁকে বললো, প্রভু এর যে দশটি মুদ্রা আছে।
26 তিনি তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে বলছি, যার আছে, তাকে আরও দেওয়া যাবে; কিন্তু যার নেই, তার যা আছে, তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া যাবে।
27 এছাড়া, আমার এই যে দুশমনেরা ইচ্ছা করে নি যে, আমি তাদের উপরে রাজত্ব করি, তাদেরকে এই স্থানে আন, আর আমার সাক্ষাতে হত্যা কর।
28
এসব কথা বলে তিনি তাদের আগে আগে চললেন, জেরুশালেমের দিকে উঠতে লাগলেন।
29
পরে যখন জৈতুন নামক পর্বতের পাশে অবস্থিত বৈৎফগী ও বৈথনিয়ার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি দু’জন সাহাবীকে পাঠিয়ে দিলেন,
30 বললেন, ঐ সম্মুখস্থ গ্রামে যাও; সেখানে প্রবেশ করামাত্র একটি গাধার বাচ্চা বাঁধা দেখতে পাবে, যাতে কোন মানুষ কখনও বসে নি; সেটি খুলে আন।
31 আর যদি কেউ তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে, এটি কেন খুলছ, তবে এরকম বলবে, এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।
32 তখন যাঁদেরকে পাঠানো হল, তাঁরা গিয়ে, তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনই দেখতে পেলেন।
33 যখন তাঁরা গাধার বাচ্চাটি খুলছিলেন, তখন মালিকেরা তাঁদেরকে বললো, গাধার বাচ্চাটি খুলছ কেন?
34 তাঁরা বললেন, এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।
35 পরে তাঁরা সেটিকে ঈসার কাছে নিয়ে আসলেন এবং তার পিঠে তাদের কাপড় পেতে তার উপরে ঈসাকে বসালেন।
36 পরে যখন তিনি যেতে লাগলেন, লোকেরা নিজ নিজ কাপড় পথে পেতে দিতে লাগল।
37 আর তিনি নিকটবর্তী হচ্ছেন, জৈতুন পর্বত থেকে নামবার স্থানে উপস্থিত হয়েছেন, এমন সময়ে, সমস্ত সাহাবীরা যেসব কুদরতি-কাজ দেখেছিল, সেই সব কাজের জন্য আনন্দ-পূর্বক চিৎকার আল্লাহ্র প্রশংসা করে বলতে লাগল,
38
“ধন্য সেই বাদশাহ্, যিনি প্রভুর নামে আসছেন;
বেহেশতে শান্তি এবং ঊর্ধ্বলোকে মহিমা।”
39
তখন লোকদের মধ্য থেকে কয়েক জন ফরীশী তাঁকে বললো, হুজুর, আপনার সাহাবীদেরকে ধমক দিন।
40 জবাবে তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে বলছি, এরা যদি চুপ করে থাকে, তবে পাথরগুলো চেঁচিয়ে উঠবে।
41
পরে যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন নগরটি দেখে তার জন্য কাঁদলেন,
42 বললেন, তুমি, তুমিই যদি আজ যা যা শান্তিজনক, তা বুঝতে! কিন্তু এখন সেসব তোমার দৃষ্টি থেকে গুপ্ত রইলো।
43 কারণ তোমার উপরে এমন সময় উপস্থিত হবে, যে সময়ে তোমার দুশমনেরা তোমার চারদিকে জাঙ্গাল বাঁধবে, তোমাকে বেষ্টন করবে, তোমাকে সমস্ত দিক দিয়ে অবরোধ করবে,
44 এবং তোমাকে ও তোমার মধ্যবর্তী তোমার সন্তানদেরকে ভূমিসাৎ করবে, তোমার মধ্যে পাথরের উপরে পাথর থাকতে দেবে না; কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের সময় তুমি চিনে নাও নি।
45
পরে তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করলেন এবং বিক্রেতাদেরকে বের করতে আরম্ভ করলেন,
46 তাদেরকে বললেন, লেখা আছে,
“আমার গৃহ মুনাজাতের গৃহ হবে,”
কিন্তু তোমরা তা “দস্যুদের গহ্বর” করে তুলেছ।”
47
আর তিনি প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে উপদেশ দিতেন। আর প্রধান ইমামেরা ও আলেমরা এবং লোকদের নেতৃবর্গরা তাঁকে বিনষ্ট করতে চেষ্টা করতে লাগল;
48 কিন্তু কিভাবে তা করবে তার কোন উপায় তারা খুঁজে পেল না, কেননা লোকেরা সকলে একাগ্র মনে তাঁর কথা শুনত।
1
এক দিন তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে লোকদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন ও সুসমাচার তবলিগ করছেন, ইতোমধ্যে প্রধান ইমামেরা ও আলেমেরা প্রাচীনদের সঙ্গে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো,
2 আমাদেরকে বল, তুমি কি ক্ষমতায় এসব করছো? তোমাকে যে এই ক্ষমতা দিয়েছেন, সেই বা কে?
3 জবাবে তিনি তাদেরকে বললেন, আমিও তোমাদেরকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করবো, আমাকে বল;
4 ইয়াহিয়ার বাপ্তিস্ম বেহেশত থেকে হয়েছিল না মানুষ থেকে?
5 তখন তারা পরস্পর তর্ক করলো, বললো, যদি বলি, বেহেশত থেকে, তা হলে সে বলবে, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস কর নি কেন?
6 আর যদি বলি, মানুষ থেকে, তবে লোকেরা আমাদেরকে পাথর মারবে; কারণ তাদের এই ধারণা হয়েছে যে, ইয়াহিয়া নবী ছিলেন।
7 তারা জবাবে বললো, আমরা জানি না, কোথা থেকে।
8 ঈসা তাদেরকে বললেন, তবে আমিও কি ক্ষমতায় এসব করছি তা তোমাদেরকে বলবো না।
9
পরে তিনি লোকদেরকে এই দৃষ্টান্তটি বলতে লাগলেন; কোন ব্যক্তি আঙ্গুরের বাগান করেছিলেন, পরে তা কৃষকদেরকে জমা দিয়ে দীর্ঘকালের জন্য অন্য দেশে চলে গেলেন।
10 পরে যথা সময়ে কৃষকদের কাছে এক গোলামকে পাঠিয়ে দিলেন, যেন তারা আঙ্গুর-ক্ষেতের ফলের অংশ তাঁকে দেয়; কিন্তু কৃষকেরা তাঁকে প্রহার করে খালি হাতে বিদায় করে দিল।
11 পরে তিনি আর এক জন গোলামকে পাঠালেন, তারা তাকেও প্রহার করে অপমানপূর্বক খালি হাতে বিদায় করে দিল।
12 পরে তিনি তৃতীয় এক জনকে পাঠালেন, তারা তাকেও ক্ষতবিক্ষত করে বাইরে ফেলে দিল।
13 তখন আঙ্গুর-ক্ষেতের মালিক বললেন, আমি কি করবো? আমার প্রিয় পুত্রকে পাঠাব; হয়তো তারা তাঁকে সম্মান করবে;
14 কিন্তু কৃষকেরা তাঁকে দেখে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, এই ব্যক্তিই উত্তরাধিকারী; এসো, আমরা একে হত্যা করি, যেন অধিকার আমাদেরই হয়।
15 পরে তারা তাঁকে আঙ্গুর-ক্ষেতের বাইরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলো। এখন আঙ্গুর-ক্ষেতের মালিক তাদেরকে নিয়ে কি করবেন?
16 তিনি এসে এই কৃষকদেরকে বিনষ্ট করবেন এবং ক্ষেত অন্য লোকদেরকে দেবেন। এই কথা শুনে তারা বললো, এমন না হোক।
17 কিন্তু তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, তবে এই যে কথা লেখা রয়েছে তার অর্থ কি, “যে পাথর রাজমিস্ত্রিরা অগ্রাহ্য করেছে, তা-ই কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠলো”?
18 সেই পাথরের উপরে যে পড়বে, সে ভেঙ্গে যাবে; কিন্তু সেই পাথর যার উপরে পড়বে, তাকে চুরমার করে ফেলবে।
19
সেই সময়ে আলেমেরা ও প্রধান ইমামেরা তাঁর উপরে হস্তক্ষেপ করতে চেষ্টা করলো, কিন্তু তারা লোকদেরকে ভয় করলো; কেননা তারা বুঝেছিল যে, তিনি তাদেরই বিষয়ে সেই দৃষ্টান্ত বলেছিলেন।
20
তখন তারা তাঁর উপরে দৃষ্টি রাখল এবং এমন কয়েক জন গোয়েন্দা পাঠিয়ে দিল যারা ছদ্মবেশী ধার্মিক সাজবে, যেন তাঁর কথা ধরে তাঁকে শাসনকর্তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের হাতে তুলে দিতে পারে।
21 তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, হুজুর, আমরা জানি, আপনি যথার্থ কথা বলেন ও যথার্থ শিক্ষা দেন, কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না, কিন্তু সত্যরূপে আল্লাহ্র পথের বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন।
22 সীজারকে কর দেওয়া শরীয়ত অনুসারে আমাদের উচিত কি না?
23 কিন্তু তিনি তাদের ধূর্ততা বুঝতে পেরে বললেন, আমাকে একটি দীনার দেখাও; এতে কার মূর্তি ও নাম আছে?
24 তারা বললো, রোম-সম্রাটের।
25 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, তবে যা যা রোম-সম্রাটের তা সম্রাটকে দাও, আর যা যা আল্লাহ্র তা আল্লাহ্কে দাও।
26 এতে তারা লোকদের সাক্ষাতে তাঁর কথার কোন ছিদ্র ধরতে পারল না, বরং তার উত্তরে আশ্চর্য জ্ঞান করে চুপ করে রইলো।
27
আর সদ্দূকীরা, যারা প্রতিবাদ করে বলে, পুনরুত্থান নেই, তাদের কয়েক জন কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো,
28 হুজুর, মূসা আমাদের জন্য লিখেছেন, কারো ভাই যদি স্ত্রী রেখে মারা যায়, আর তার সন্তান না থাকে, তবে তার ভাই সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করবে ও আপন ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করবে।
29 ভাল, সাতটি ভাই ছিল; প্রথম জন এক জন স্ত্রীকে বিয়ে করলো, আর সে সন্তান না রেখে মারা গেল।
30 পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাই সেই স্ত্রীকে বিয়ে করলো;
31 এভাবে সাত জনই সন্তান না রেখে মারা গেল।
32 শেষে সেই স্ত্রীও মারা গেল।
33 অতএব পুনরুত্থানে সে তাদের মধ্যে কার স্ত্রী হবে? তারা সাত জনই তো তাকে বিয়ে করেছিল।
34
ঈসা তাদেরকে বললেন, এই দুনিয়ার সন্তানেরা বিয়ে করে এবং বিবাহিতা হয়।
35 কিন্তু যারা সেই দুনিয়ার এবং মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের অধিকারী হবার যোগ্য গণিত হয়েছে, তারা বিয়ে করে না এবং বিবাহিতাও হয় না।
36 তারা আর মরতেও পারে না, কেননা তারা ফেরেশতাদের সমতুল্য এবং পুনরুত্থানের সন্তান হওয়াতে আল্লাহ্র সন্তান।
37 আবার মৃতরা যে উত্থাপিত হয়, এই বিষয়ে মূসাও ঝোপের বৃত্তান্তে দেখিয়েছেন; কেননা তিনি প্রভুকে “ইব্রাহিমের আল্লাহ্, ইস্হাকের আল্লাহ্ ও ইয়াকুবের আল্লাহ্” বলেছেন।
38 আল্লাহ্ তো মৃতদের আল্লাহ্ নন, কিন্তু জীবিতদের; কেননা তাঁর সাক্ষাতে সকলেই জীবিত।
39
তখন কয়েক জন আলেম বললো, হুজুর, আপনি বেশ বলেছেন।
40 বাস্তবিক, সেই সময় থেকে তাঁকে আর কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে তাদের আর সাহস হল না।
41
আর তিনি তাদেরকে বললেন, লোকে কেমন করে মসীহ্কে দাউদের সন্তান বলে?
42 দাউদ তো নিজে জবুর শরীফে বলেন,
“প্রভু আমার প্রভুকে বললেন,
প্রভু তুমি আমার ডানদিকে বস,
43
যতদিন না আমি তোমার দুশমনদেরকে
তোমার পায়ের তলায় রাখি।”
44
অতএব দাউদ তাঁকে প্রভু বলেছেন; তবে তিনি কিভাবে তাঁর সন্তান?
45
পরে তিনি সব লোকের কর্ণগোচরে তাঁর সাহাবীদের বললেন,
46 আলেমদের থেকে সাবধান, তারা লম্বা লম্বা কাপড় পরে বেড়াতে চায় ও হাট বাজারে লোকদের মঙ্গলবাদ, মজলিস-খানায় প্রধান প্রধান আসন এবং ভোজে প্রধান প্রধান স্থান ভালবাসে।
47 তারা বিধবাদের বাড়ি গ্রাস করে এবং লোককে দেখাবার জন্য লম্বা লম্বা মুনাজাত করে; তারা বিচারে আরও বেশি দণ্ড পাবে।
1
পরে তিনি চোখ তুলে দেখলেন, ধনবানেরা ভাণ্ডারে নিজ নিজ দান রাখছে।
2 আর তিনি দেখলেন, এক জন দীনহীন বিধবা সেই স্থানে দু’টি সিকি পয়সা রাখছে।
3 তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, এই দরিদ্র বিধবা সকলের চেয়ে বেশি রাখল;
4 কেননা এরা সকলে নিজ নিজ অতিরিক্ত ধন থেকে কিছু কিছু দানের মধ্যে রাখল, কিন্তু এ নিজের অনটন সত্ত্বেও এর বেঁচে থাকবার জন্য যা কিছু ছিল, সমস্তই রাখল।
5
আর যখন কেউ কেউ বায়তুল-মোকাদ্দসের বিষয় বলছিল, সেটি কেমন সুন্দর সুন্দর পাথরে ও উপহারের জিনিসে সুশোভিত,
6 তখন তিনি বললেন, তোমরা তো এই সব দেখছো, কিন্তু এমন সময় আসছে, যখন এর একখানি পাথর অন্য পাথরের উপরে থাকবে না, সমস্তই ভূমিসাৎ হবে।
7
তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হুজুর, তবে এসব ঘটনা কখন হবে? আর যখন এসব সফল হবার সময় হবে, তখন তার চিহ্নই বা কি?
8 তিনি বললেন, দেখো, ভ্রান্ত হয়ো না; কেননা অনেকে আমার নাম ধরে আসবে, বলবে, ‘আমিই তিনি’ ও সময় সন্নিকট; তোমরা তাদের পিছনে যেও না।
9 আর যখন তোমরা যুদ্ধের ও গণ্ডগোলের কথা শুনবে, ভয় পেও না, কেননা প্রথমে এসব ঘটবেই ঘটবে, কিন্তু তখনই শেষ নয়।
10
পরে তিনি তাঁদেরকে বললেন, জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠবে।
11 বড় বড় ভূমিকমপ এবং স্থানে স্থানে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী হবে, আর আসমানে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর লক্ষণ ও মহৎ মহৎ চিহ্ন-কাজ হবে;
12 কিন্তু এসব ঘটনার আগে লোকেরা তোমাদের উপরে হস্তক্ষেপ করবে, তোমাদেরকে নির্যাতন করবে, মজলিস-খানায় নিয়ে যাবে ও কারাগারে তুলে দেবে; আমার নামের জন্য তোমাদেরকে বাদশাহ্দের ও শাসনকর্তাদের সম্মুখে নিয়ে যাওয়া হবে।
13 সাক্ষ্যের জন্য এসব তোমাদের প্রতি ঘটবে।
14 অতএব মনে মনে স্থির করো যে, কি উত্তর দিতে হবে, তার জন্য আগে চিন্তা করবে না।
15 কেননা আমি তোমাদেরকে এমন মুখ ও বিজ্ঞতা দেব যে, তোমাদের বিপক্ষেরা কেউ প্রতিরোধ করতে বা উত্তর দিতে পারবে না।
16 আর তোমাদের পিতা-মাতা, ভাইয়েরা, জ্ঞাতি ও বন্ধুরা তোমাদের ধরিয়ে দেবে এবং তোমাদের কোন কোন ব্যক্তিকে তারা খুন করাবে।
17 আর আমার নামের দরুন সকলে তোমাদের ঘৃণা করবে।
18 কিন্তু তোমাদের মাথার একগাছি কেশও নষ্ট হবে না।
19 তোমরা নিজ নিজ ধৈর্যে নিজ নিজ প্রাণ লাভ করবে।
20
আর যখন তোমরা জেরুশালেমকে সৈন্যসামন্ত দ্বারা ঘেরাও হতে দেখবে, তখন জানবে যে, তার ধ্বংস সন্নিকট।
21 তখন যারা এহুদিয়ায় থাকে, তারা পাহাড়ী এলাকায় পালিয়ে যাক এবং যারা নগরের মধ্যে থাকে, তারা বাইরে যাক; আর যারা পল্লীগ্রামে থাকে, তারা নগরে প্রবেশ না করুক।
22 কেননা তখন প্রতিশোধের সময়, যে সমস্ত কথা লেখা আছে, সেসব পূর্ণ হবার সময়।
23 হায়, সেই সময়ে গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী স্ত্রীদের সন্তাপ! কেননা দেশে বিষম দুর্গতি হবে এবং এই জাতির উপরে আল্লাহ্র গজব নেমে আসবে।
24 লোকেরা তলোয়ারের আঘাতে মারা পড়বে এবং বন্দী হয়ে সকল জাতির মধ্যে নীত হবে; আর জাতিদের সময় সমপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জেরুশালেম জাতিদের দ্বারা পদ-দলিত হবে।
25
আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রগুলোর মধ্যে নানা চিহ্ন প্রকাশ পাবে এবং দুনিয়াতে সমস্ত জাতি কষ্ট পাবে, তারা সমুদ্রের ও তরঙ্গের গর্জনে ভীষণ ভয় পাবে।
26 ভয়ে এবং ভূমণ্ডলে যা যা ঘটবে তার আশঙ্কায় মানুষের প্রাণ উড়ে যাবে; কেননা আসমানের পরাক্রমগুলো বিচলিত হবে।
27 আর সেই সময় তারা ইবনুল-ইনসানকে পরাক্রম ও মহামহিমা সহকারে মেঘযোগে আসতে দেখবে।
28 কিন্তু এসব ঘটনা আরম্ভ হলে তোমরা উঠে দাঁড়ায়ো, মাথা তুলো, কেননা তোমাদের মুক্তি সন্নিকট।
29
আর তিনি তাদেরকে একটি দৃষ্টান্ত বললেন, ডুমুর গাছ ও অন্যান্য গাছগুলোকে লক্ষ্য কর;
30 যখন সেগুলো পল্লবিত হয়, তখন তা দেখে তোমরা নিজেরাই বুঝতে পার যে, এখন গ্রীষ্মকাল সন্নিকট।
31 তেমনি তোমরাও যখন এসব ঘটছে দেখতে পাবে, তখন জানবে, আল্লাহ্র রাজ্য সন্নিকট।
32 আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, যে পর্যন্ত সমস্ত সিদ্ধ না হবে, সেই পর্যন্ত এই কালের লোকদের লোপ হবে না।
33 আসমানের ও দুনিয়ার লোপ হবে, কিন্তু আমার কথার লোপ কখনও হবে না।
34
কিন্তু নিজেদের বিষয়ে সাবধান থেকো, পাছে উচ্ছৃঙ্খলতায়, মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের অন্তর ভারগ্রস্ত হয়, আর সেদিন হঠাৎ ফাঁদের মত তোমাদের উপরে এসে পড়ে;
35 কেননা সেদিন সমস্ত ভূতল-নিবাসী সকলের উপরে উপস্থিত হবে।
36 কিন্তু তোমরা সব সময় জেগে থেকো এবং মুনাজাত করো, যেন এই যেসব ঘটনা হবে তা এড়াতে এবং ইবনুল-ইনসানের সম্মুখে দাঁড়াতে শক্তিমান হও।
37
আর তিনি প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে উপদেশ দিতেন এবং প্রতি রাত্রে বাইরে গিয়ে জৈতুন নামক পর্বতে গিয়ে থাকতেন।
38 আর সমস্ত লোক তাঁর কথা শুনবার জন্য খুব ভোরে বায়তুল-মোকাদ্দসে তাঁর কাছে আসতো।
1
তখন খামিহীন রুটির ঈদ নিকটবর্তী হচ্ছিল। এই ঈদকে ঈদুল ফেসাখও বলা হয়।
2 আর প্রধান ইমামেরা ও আলেমেরা কিভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারে, তারই চেষ্টা করছিল; কেননা তারা লোকদেরকে ভয় করতো।
3
আর শয়তান ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা, বারো জনের এক জন, তার ভিতরে প্রবেশ করলো।
4 তখন সে গিয়ে কিভাবে ঈসাকে তাদের হাতে তুলে দিতে পারবে সেই ব্যাপারে প্রধান ইমামদের ও সেনাপতিদের সঙ্গে কথাবার্তা বললো।
5 এতে তারা আনন্দিত হয়ে তাকে টাকা দিতে ওয়াদা করলো।
6 তাতে এহুদা সম্মত হল এবং জনতার অগোচরে তাঁকে তাদের হাতে ধরিয়ে দেবার সুযোগ খুঁজতে লাগল।
7
পরে খামিহীন রুটির দিন, অর্থাৎ যেদিন ঈদুল ফেসাখের ভেড়ার বাচ্চা কোরবানী করতে হত, সেই দিন আসল।
8 তখন তিনি পিতর ও ইউহোন্নাকে প্রেরণ করে বললেন, তোমরা গিয়ে আমাদের জন্য ঈদুল ফেসাখের মেজবানী প্রস্তুত কর, আমরা ভোজন করবো।
9 তাঁরা বললেন, কোথায় প্রস্তুত করবো? আপনার ইচ্ছা কি?
10 তিনি তাঁদেরকে বললেন, দেখ, তোমরা নগরে প্রবেশ করলে এমন এক ব্যক্তি তোমাদের সম্মুখে পড়বে, যে ব্যক্তি এক কলসী পানি নিয়ে আসছে; তোমরা তার পিছন পিছন যে বাড়িতে সে প্রবেশ করবে সেখানে যাবে।
11 আর তোমরা বাড়ির মালিককে বলবে, হুজুর আপনাকে বলছেন, যেখানে আমি আমার সাহাবীদের সঙ্গে ঈদুল ফেসাখের মেজবানীর ভোজন করতে পারি, সেই মেহমানশালা কোথায়?
12 তাতে সে তোমাদেরকে সাজানো একটি উপরের বড় কুঠরী দেখিয়ে দেবে; সেই স্থানে মেজবানী প্রস্তুত করো।
13 তাঁরা গিয়ে তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনই দেখতে পেলেন; আর ঈদুল ফেসাখের মেজবানীর প্রস্তুত করলেন।
14
পরে সময় উপস্থিত হলে তিনি ও তাঁর সঙ্গে প্রেরিতেরা ভোজনে বসলেন।
15 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমার দুঃখ-ভোগের আগে তোমাদের সঙ্গে আমি এই ঈদুল ফেসাখের মেজবানীর ভোজন করতে একান্তই বাঞ্ছা করেছি;
16 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, যে পর্যন্ত আল্লাহ্র রাজ্যে এর উদ্দেশ্য পূর্ণ না হয়, সেই পর্যন্ত আমি তা আর ভোজন করবো না।
17 পরে তিনি পানপাত্র গ্রহণ করে শুকরিয়াপূর্বক বললেন, এই নাও এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নাও;
18 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, যে পর্যন্ত আল্লাহ্র রাজ্যের আগমন না হয়, এখন থেকে সেই পর্যন্ত আমি আঙ্গুর ফলের রস আর পান করবো না।
19 পরে তিনি রুটি নিয়ে শুকরিয়াপূর্বক ভাঙ্গলেন এবং তাঁদেরকে দিলেন, বললেন, এ আমার শরীর, যা তোমাদের জন্য দেওয়া যাচ্ছে, আমার স্মরণার্থে এরকম করো।
20 আর সেভাবে তিনি ভোজন শেষ হলে পানপাত্রটি নিয়ে বললেন, এই পানপাত্র আমার রক্তে নতুন নিয়ম, যে রক্ত তোমাদের জন্য ঢেলে দেওয়া হচ্ছে।
21 কিন্তু দেখ, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তার হাত আমার সঙ্গে টেবিলের উপরে রয়েছে।
22 কেননা যেমন নির্ধারিত হয়েছে, সেই অনুসারে ইবনুল-ইনসান যাচ্ছেন, কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
23 তখন তাঁরা পরস্পর জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, তবে আমাদের মধ্যে এই কাজ কে করবে?
24
আর তাঁদের মধ্যে এই বিবাদও উৎপন্ন হল যে, তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য?
25 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, জাতিদের বাদশাহ্রাই তাদের উপরে প্রভুত্ব করে এবং তাদের শাসনকর্তারাই ‘হিতকারী’ বলে আখ্যাত হয়।
26 কিন্তু তোমরা সেরকম হয়ো না; বরং তোমাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ, সে কনিষ্ঠের মত হোক এবং যে প্রধান, সে পরিচারকের মত হোক।
27 কারণ কে শ্রেষ্ঠ? যে ভোজনে বসে, না যে পরিচর্যা করে? যে ভোজনে বসে, সেই কি নয়? কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে পরিচারকের মত রয়েছি।
28
তোমরাই আমার সকল পরীক্ষার মধ্যে আমার সঙ্গে সঙ্গে বরাবর রয়েছ;
29 আর আমার পিতা যেমন আমার জন্য নির্ধারণ করেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের জন্য একটি রাজ্য নির্ধারণ করছি,
30 যেন তোমরা আমার রাজ্যে আমার মেঝে ভোজন পান কর; আর তোমরা সিংহাসনে বসে ইসরাইলের বারো বংশের বিচার করবে।
31
শিমোন, শিমোন, দেখ, শয়তান তোমাদেরকে গমের মত চালবার জন্য দাবী করছে;
32 কিন্তু আমি তোমার জন্য ফরিয়াদ করেছি, যেন তোমার নিজের ঈমান ব্যর্থ না হয়; আর তুমিও একবার ফিরলে পর তোমার ভাইদেরকে সুস্থির করো।
33 তিনি তাঁকে বললেন, প্রভু, আপনার সঙ্গে আমি কারাগারে যেতে এবং মরতেও প্রস্তুত আছি।
34 তিনি বললেন, পিতর, আমি তোমাকে বলছি, যে পর্যন্ত তুমি আমাকে চিন না বলে তিন বার অস্বীকার না করবে, সেই পর্যন্ত আজ মোরগ ডাকবে না।
35
আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি যখন থলি, ঝুলি ও জুতা ছাড়া তোমাদেরকে পাঠিয়েছিলাম, তখন তোমাদের কি কিছুর অভাব হয়েছিল? তাঁরা বললেন, কিছুরই নয়।
36 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, কিন্তু এখন যার থলি আছে, সে তা গ্রহণ করুক, একই ভাবে ঝুলিও গ্রহণ করুক এবং যার নেই, সে তার কোর্তা বিক্রি করে তলোয়ার ক্রয় করুক।
37 কেননা আমি তোমাদেরকে বলছি, এই যে কালাম লেখা আছে, “আর তিনি অধর্মীদের সঙ্গে গণিত হলেন,” তা আমার মধ্যে পূর্ণ হতে হবে; কারণ আমার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা পূর্ণ হচ্ছে।
38 তখন তাঁরা বললেন, প্রভু, দেখুন, দু’খানি তলোয়ার আছে। তিনি তাদেরকে বললেন, এই যথেষ্ট।
39
পরে তিনি বের হয়ে আপন রীতি অনুসারে জৈতুন পর্বতে গেলেন এবং সাহাবীরাও তাঁর পিছন পিছন চললেন।
40 সেই স্থানে উপস্থিত হলে পর তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা মুনাজাত কর, যেন পরীক্ষায় না পড়।
41 পরে তিনি তাদের থেকে কমবেশ এক ঢেলার পথ দূরে গেলেন এবং জানু পেতে মুনাজাত করতে লাগলেন,
42 বললেন, পিতা, যদি তোমার অভিমত হয়, আমার কাছ থেকে এই পানপাত্র দূর কর; তবুও আমার ইচ্ছা নয়, তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক;
43 তখন বেহেশত থেকে এক জন ফেরেশতা দেখা দিয়ে তাঁকে সবল করলেন।
44 পরে তিনি মর্মভেদী দুঃখে মগ্ন হয়ে আরও একাগ্রভাবে মুনাজাত করলেন; আর তাঁর শরীরের ঘাম যেন রক্তের ঘনীভূত বড় বড় ফোঁটা হয়ে ভূমিতে পড়তে লাগল।
45 পরে তিনি মুনাজাত করে উঠলে পর সাহাবীদের কাছে এসে দেখলেন, তাঁরা মনের দুঃখের কারণে ঘুমিয়ে পড়েছেন,
46 আর তাঁদেরকে বললেন, কেন ঘুমাচ্ছো? উঠ, মুনাজাত কর, যেন পরীক্ষায় না পড়।
47
তিনি কথা বলছেন, এমন সময়ে দেখ, অনেক লোক এবং যার নাম এহুদা— সেই বারো জনের মধ্যে এক জন— সে তাদের আগে আগে আসছে; সে ঈসাকে চুম্বন করার জন্য তাঁর কাছে আসল।
48 কিন্তু ঈসা তাঁকে বললেন, এহুদা, চুম্বন দ্বারা কি ইবনুল-ইনসানকে ধরিয়ে দিচ্ছ?
49 তখন কি কি ঘটবে, তা দেখে যাঁরা তাঁর কাছে ছিলেন, তাঁরা বললেন, প্রভু, আমরা কি তলোয়ার দ্বারা আঘাত করবো?
50 আর তাঁদের মধ্যে এক ব্যক্তি মহা-ইমামের গোলামকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন।
51 কিন্তু জবাবে ঈসা বললেন, এই পর্যন্ত ক্ষান্ত হও। পরে তিনি তার কান স্পর্শ করে তাকে সুস্থ করলেন।
52 আর তাঁর বিরুদ্ধে যে প্রধান ইমামেরা, বায়তুল-মোকাদ্দসের সেনাপতিরা ও প্রাচীনবর্গরা এসেছিল, ঈসা তাদেরকে বললেন, লোকে যেমন দস্যুর বিরুদ্ধে যায়, তেমনি তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে কি তোমরা আসলে?
53 আমি যখন প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখন তো আমার উপর তোমরা হাত তোল নি; কিন্তু এখন তোমাদের সময় এবং অন্ধকারের অধিকার।
54
পরে তারা তাঁকে ধরে নিয়ে গেল এবং মহা-ইমামের বাড়িতে আনলো; আর পিতর দূরে থেকে পিছন পিছন চললেন।
55 পরে লোকেরা প্রাঙ্গণের মধ্যে আগুন জ্বেলে একত্রে বসলে পিতর তাদের মধ্যে বসলেন।
56 তিনি সেই আলোর কাছে বসলে এক জন বাঁদী তাঁকে দেখে তাঁর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে বললো, এই ব্যক্তিও ওর সঙ্গে ছিল।
57 কিন্তু তিনি অস্বীকার করে বললেন, হে নারী, আমি তাঁকে চিনি না।
58 একটু পরে আর এক জন তাঁকে দেখে বললো, তুমিও তাদের এক জন। পিতর বললেন, ওহে, আমি নই।
59 ঘণ্টা খানেক পরে আর এক জন দৃঢ়ভাবে বললো, সত্যি, এই ব্যক্তিও তার সঙ্গে ছিল, কেননা এ গালীলীয় লোক।
60 তখন পিতর বললেন, ওহে, তুমি কি বলছো আমি বুঝতে পারছি না। তিনি কথা বলছিলেন, আর অমনি মোরগ ডেকে উঠলো।
61 আর প্রভু মুখ ফিরিয়ে পিতরের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন; তাতে প্রভু এই যে কালাম বলেছিলেন, ‘আজ মোরগ ডাকবার আগে তুমি তিন বার আমাকে অস্বীকার করবে,’ তা পিতরের মনে পড়লো।
62 আর তিনি বাইরে গিয়ে ভীষণভাবে কান্নাকাটি করলেন।
63
আর যে লোকেরা ঈসাকে ধরেছিল, তারা তাঁকে বিদ্রূপ ও প্রহার করতে লাগল।
64 আর তাঁর চোখ ঢেকে জিজ্ঞাসা করলো, ভবিষ্যদ্বাণী বল্ দেখি, কে তোকে মারলো?
65 আর তারা নিন্দা করে তাঁর বিরুদ্ধে আরও অনেক কথা বলতে লাগল।
66
যখন দিন হল, তখন লোকদের প্রাচীনদের সমাজ, প্রধান ইমামেরা আলেমরা একত্র হল এবং তাদের মাহ্ফিলের মধ্যে তাঁকে আনালো, আর বললো, তুমি যদি সেই মসীহ্ হও, তবে আমাদেরকে বল।
67 তিনি তাদেরকে বললেন, যদি তোমাদেরকে বলি, তোমরা বিশ্বাস করবে না;
68 আর যদি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করি, কোন উত্তর দেবে না;
69 কিন্তু এখন থেকে ইবনুল-ইনসান আল্লাহ্র পরাক্রমের ডান পাশে উপবিষ্ট থাকবেন।
70 তখন সকলে বললো, তবে তুমি কি আল্লাহ্র পুত্র? তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরাই বলছো যে, আমি সেই।
71 তখন তারা বললো, আর সাক্ষ্যে আমাদের কি প্রয়োজন? আমরা নিজেরাই তো এর মুখে শুনলাম।
1
পরে তারা দলসুদ্ধ সকলে উঠে তাঁকে পীলাতের কাছে নিয়ে গেল।
2 আর তারা তাঁর উপরে দোষারোপ করে বলতে লাগল, আমরা দেখতে পেলাম যে, এই ব্যক্তি আমাদের জাতিকে বিপথগামী করছে, সীজারকে কর দিতে বারণ করে, আর বলে যে, আমিই মসীহ্, বাদশাহ্।
3 তখন পীলাত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি ইহুদীদের বাদশাহ্? তিনি তাঁকে জবাবে বললেন, তুমিই বললে।
4 তখন পীলাত প্রধান ইমামদেরকে ও সমাগত লোকদেরকে বললেন, আমি এই ব্যক্তির কোন দোষই দেখতে পাচ্ছি না।
5 কিন্তু তারা আরও জোর দিয়ে বলতে লাগল, এই ব্যক্তি সমুদয় এহুদিয়ায় এবং গালীল থেকে এই স্থান পর্যন্ত শিক্ষা দিয়ে লোকদেরকে উত্তেজিত করে।
6
এই কথা শুনে পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, এই ব্যক্তি কি গালীলীয়?
7 পরে যখন তিনি জানতে পারলেন, ইনি হেরোদের অধিকারের লোক, তখন তাঁকে হেরোদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, কেননা সেই সময়ে তিনিও জেরুশালেমে ছিলেন।
8
ঈসাকে দেখে হেরোদ অতিশয় আনন্দিত হলেন, কেননা তিনি তাঁর বিষয় শুনেছিলেন, এজন্য অনেক দিন থেকে তাঁকে দেখতে বাঞ্ছা করছিলেন এবং তাঁর কৃত কোন চিহ্ন দেখবার আশা করতে লাগলেন।
9 তিনি তাঁকে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু ঈসা তাঁকে কোন জবাব দিলেন না।
10 আর প্রধান ইমামেরা ও আলেমেরা দাঁড়িয়ে উগ্রভাবে তাঁর উপর দোষারোপ করছিল।
11 আর হেরোদ ও তাঁর সৈন্যেরা তাঁকে তুচ্ছ করলেন ও বিদ্রূপ করলেন এবং জমকাল পোশাক পরিয়ে তাঁকে আবার পীলাতের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
12 সেদিন হেরোদ ও পীলাত পরসপর বন্ধু হয়ে উঠলেন, কেননা আগে তাঁদের মধ্যে শত্রুভাব ছিল।
13
পরে পীলাত প্রধান ইমামেরা নেতৃবর্গ ও লোকদেরকে একত্র ডেকে তাদেরকে বললেন,
14 তোমরা এই ব্যক্তিকে আমার কাছে এই বলে এনেছ যে, সে লোককে বিপথে নিয়ে যায়; আর দেখ, আমি তোমাদের সাক্ষাতে বিচার করলেও, তোমরা তার উপরে যেসব দোষারোপ করছো, তার মধ্যে এই ব্যক্তির কোন দোষই পেলাম না;
15 আর হেরোদও পান নি, কেননা তিনি তাকে আমাদের কাছে ফেরৎ পাঠিয়েছেন; আর দেখ, এই ব্যক্তি প্রাণদণ্ডের যোগ্য কিছুই করে নি।
16 অতএব আমি তাকে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেব।
17
তিনি এই কথা বললেন কারণ ঐ ঈদের সময়ে তাদের জন্য এক জনকে তাঁর ছেড়ে দিতেই হত।
18 কিন্তু তারা দলসুদ্ধ সকলে চিৎকার করে বললো, একে দূর কর, আমাদের জন্য বারাব্বাকে ছেড়ে দাও।
19 নগরের মধ্যে দাঙ্গা ও খুন হওয়ার কারণে সেই ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল।
20 পরে পীলাত ঈসাকে মুক্ত করার বাসনায় আবার তাদের কাছে কথা বললেন।
21 কিন্তু তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগল, ওকে ক্রুশে দাও, ওকে ক্রুশে দাও।
22 পরে তিনি তৃতীয় বার তাদেরকে বললেন, কেন? এ কি অপরাধ করেছে? আমি তার প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোন দোষই পাই নি, অতএব একে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেব।
23 কিন্তু তারা চিৎকার করে উগ্রভাবে চেঁচাতে থাকলো, যেন তাঁকে ক্রুশে দেওয়া হয়; আর তাদের চিৎকার প্রবল হল।
24 তখন পীলাত তাদের যাচ্ঞা অনুসারে করতে হুকুম দিলেন;
25 দাঙ্গা ও খুন করার কারণে যে ব্যক্তিকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল তারা তাকে চাইলো, তিনি তাকে মুক্ত করলেন, কিন্তু লোকদের ইচ্ছামত ঈসাকে তাদের হাতে তুলে দিলেন।
26
পরে তারা তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে শিমোন নামে এক জন কুরীণীয় লোক পল্লীগ্রাম থেকে আসছিল, তারা তাকে ধরে তার কাঁধে ক্রুশ চাপিয়ে দিল, যেন সে ঈসার পিছনে পিছনে তা বহন করে।
27 আর অনেক লোক তাঁর পিছনে পিছনে চললো। তাদের মধ্যে অনেক স্ত্রীলোক ছিল, তারা তাঁর জন্য হাহাকার ও মাতম করছিল।
28 কিন্তু ঈসা তাদের দিকে ফিরে বললেন, ওগো জেরুশালেমের কন্যারা, আমার জন্য কেঁদো না, বরং নিজেদের এবং নিজ নিজ সন্তান-সন্ততির জন্য কাঁদ।
29 কেননা দেখ, এমন সময় আসছে, যে সময়ে লোকে বলবে, ধন্য সেই স্ত্রীলোকেরা, যারা বন্ধ্যা, যাদের উদর কখনও প্রসব করে নি, যাদের স্তন কখনও দুধ দেয় নি।
30 সেই সময়ে লোকেরা পর্বতমালাকে বলতে আরম্ভ করবে, আমাদের উপরে পড়; এবং উপপর্বতমালাকে বলবে, আমাদেরকে ঢেকে রাখ।
31 কারণ লোকেরা সরস গাছের প্রতি যদি এমন করে, তবে শুকনো গাছের প্রতি কি না ঘটবে?
32
আরও দু’জন লোককে, দু’জন দুষ্কৃতিকারীকে হত্যা করবার জন্য ঈসার সঙ্গে নিয়ে চললো।
33
পরে মাথার খুলি নামক স্থানে গিয়ে তারা সেখানে তাঁকে এবং সেই দুই দুষ্কৃতিকারীকে ক্রুশে দিল, এক জনকে তাঁর ডান পাশে ও অন্য জনকে বাম পাশে রাখল।
34 তখন ঈসা বললেন, পিতা, এদেরকে মাফ কর, কেননা এরা কি করছে, তা জানে না। পরে তারা তাঁর কাপড়গুলো ভাগ করে গুলিবাঁট করলো। লোকেরা দাঁড়িয়ে দেখছিল।
35 আলেমেরাও তাঁকে উপহাস করে বলতে লাগল, ঐ ব্যক্তি অন্যান্য লোককে রক্ষা করতো, যদি সে আল্লাহ্র সেই মসীহ্, তাঁর মনোনীত হয়, নিজেকে রক্ষা করুক;
36 আর সেনারাও তাঁকে বিদ্রূপ করলো, কাছে গিয়ে তাঁর কাছে অম্লরস নিয়ে বলতে লাগল,
37 তুমি যদি ইহুদীদের বাদশাহ্ হও, তবে নিজেকে রক্ষা কর।
38 আর তাঁর মাথার উপরে একটি ফলকে এই কথা লেখা ছিল, “এই ব্যক্তি ইহুদীদের বাদশাহ্।”
39
আর যে দুই দুষ্কৃতিকারীকে ক্রুশে টাঙ্গান হয়েছিল, তাদের মধ্যে এক জন তাঁকে নিন্দা করে বলতে লাগল, তুমি নাকি সেই মসীহ্? নিজেকে ও আমাদেরকে রক্ষা কর।
40 কিন্তু অন্য জন উত্তর দিয়ে তাকে অনুযোগ করে বললো, তুমি কি আল্লাহ্কেও ভয় কর না?
41 আমরা তো একই দণ্ড পাচ্ছি। আর আমরা ন্যায়সঙ্গত দণ্ড পাচ্ছি; কারণ যা যা করেছি, তারই সমুচিত ফল পাচ্ছি; কিন্তু ইনি কোন অপকর্ম করেন নি।
42 পরে সে বললো, ঈসা আপনি যখন আপন রাজ্যে ফিরে আসবেন তখন আমাকে স্মরণ করবেন।
43 তিনি তাকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আজই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হবে।
44
তখন বেলা অনুমান ষষ্ঠ ঘটিকা, আর নবম ঘটিকা পর্যন্ত সারা দেশ অন্ধকারময় হয়ে রইলো, সূর্যের আলো রইলো না।
45 আর বায়তুল-মোকাদ্দসের পর্দাখানি মাঝামাঝি চিরে গেল।
46 আর ঈসা উচ্চরবে চিৎকার করে বললেন, আব্বা, তোমার হাতে আমার রূহ্ সমর্পণ করি। আর এই কথা বলে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
47 যা ঘটলো, তা দেখে শতপতি আল্লাহ্র গৌরব করে বললেন, সত্যি এই ব্যক্তি ধার্মিক ছিলেন।
48 আর যে সমস্ত লোক এই দৃশ্য দেখবার জন্য সমাগত হয়েছিল, তারা যা যা ঘটলো, তা দেখে বুকে করাঘাত করতে করতে ফিরে গেল।
49 আর তাঁর পরিচিত সকলে এবং যে স্ত্রীলোকেরা তাঁর সঙ্গে গালীল থেকে এসেছিলেন, তারা দূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছিলেন।
50
আর সেই স্থানে ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ধর্মসভার এক জন সদস্য, এক জন সৎ ও ধার্মিক লোক,
51 এই ব্যক্তি ওদের মন্ত্রণাতে ও কর্মকাণ্ডে সম্মত হন নি; তিনি ইহুদীদের অরিমাথিয়া নগরের লোক; তিনি আল্লাহ্র রাজ্যের অপেক্ষা করছিলেন।
52 এই ব্যক্তি পীলাতের কাছে গিয়ে ঈসার লাশ যাচ্ঞা করলেন;
53 পরে তা নামিয়ে সরু চাদরে জড়ালেন এবং শৈলে খোদিত এমন একটি কবরের মধ্যে তাঁকে রাখলেন, যাতে কখনও কাউকেও রাখা হয় নি।
54 সেদিন আয়োজনের দিন এবং বিশ্রামবারের আরম্ভ সন্নিকট হচ্ছিল।
55 আর যে স্ত্রীলোকেরা তাঁর সঙ্গে গালীল থেকে এসেছিলেন, তাঁরা পিছনে পিছনে গিয়ে সেই কবর এবং কিভাবে তাঁর লাশ রাখা হয়েছে তা দেখলেন;
56 পরে ফিরে গিয়ে খোশবু মলম ও তেল প্রস্তুত করলেন।
1
বিশ্রামবারে তাঁরা বিধিমতে বিশ্রাম করলেন। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম দিন খুব ভোরে তাঁরা কবরের কাছে আসলেন এবং যে খোশবু মলম প্রস্তুত করেছিলেন তা নিয়ে আসলেন।
2 তারা দেখলেন কবর থেকে পাথরখানা সরানো রয়েছে,
3 কিন্তু ভিতরে গিয়ে ঈসার লাশ দেখতে পেলেন না।
4 তাঁরা এই বিষয় ভাবছেন, এমন সময়ে দেখ, উজ্জ্বল পোশাক পরা দুই জন পুরুষ তাঁদের কাছে দাঁড়ালেন।
5 তখন তাঁরা ভয় পেয়ে ভূমির দিকে মুখ নত করলে সেই দুই ব্যক্তি তাঁদেরকে বললেন, মৃতদের মধ্যে জীবিতের খোঁজ কেন করছো? তিনি এখানে নেই, কিন্তু উঠেছেন।
6 গালীলে থাকতে থাকতেই তিনি তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তা স্মরণ কর;
7 তিনি তো বলেছিলেন, ইবনুল-ইনসানকে গুনাহ্গার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে, ক্রুশারোপিত হতে হবে এবং তৃতীয় দিনে উঠতে হবে।
8 তখন তাঁর সেই কথাগুলো তাঁদের স্মরণ হল;
9 আর তাঁরা কবর থেকে ফিরে গিয়ে সেই এগারো জনকে ও অন্য সকলকে এই সব সংবাদ দিলেন।
10 এঁরা মগ্দলীনী মরিয়ম, যোহানা ও ইয়াকুবের মা মরিয়ম; আর এঁদের সঙ্গে অন্য স্ত্রীলোকেরাও প্রেরিতদেরকে এসব কথা বললেন।
11 কিন্তু এসব কথা তাঁদের কাছে গল্পের মত মনে হল; তাঁরা তাঁদের কথায় বিশ্বাস করলেন না।
12 তবুও পিতর উঠে কবরের কাছে দৌড়ে গেলেন এবং হেঁট হয়ে দৃষ্টিপাত করে দেখলেন, কেবল কাপড় পড়ে রয়েছে; আর যা ঘটেছে, তাতে আশ্চর্য জ্ঞান করে স্বস্থানে চলে গেলেন।
13
আর দেখ, সেদিন তাঁদের দু’জন জেরুশালেম থেকে চার মাইল দূরবর্তী ইম্মায়ূ নামক গ্রামে যাচ্ছিলেন,
14 এবং তাঁরা ঐ সমস্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পর কথোপকথন করছিলেন।
15 তাঁরা কথাবার্তা বলছেন ও পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, এমন সময়ে ঈসা নিজে কাছে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে গমন করতে লাগলেন;
16 কিন্তু তাঁদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁকে চিনতে পারলেন না।
17 তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা চলতে চলতে পরস্পর যেসব কথা বলাবলি করছো, সেসব কি? তাঁরা বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে রলেন।
18 পরে ক্লিয়পা নামে তাঁদের এক জন জবাবে তাঁকে বললেন, আপনি কি একা জেরুশালেমে প্রবাস করছেন, আর এই কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে যেসব ঘটনা হয়েছে, তা জানেন না?
19 তিনি তাঁদেরকে বললেন, কি কি ঘটনা ঘটেছে? তাঁরা তাঁকে বললেন, নাসরতীয় ঈসা বিষয়ক ঘটনা, যিনি আল্লাহ্র ও সব লোকের সাক্ষাতে কাজে ও কথায় পরাক্রমী নবী ছিলেন;
20 আর কিভাবে প্রধান ইমামেরা ও আমাদের নেতৃবর্গরা প্রাণদণ্ড দেবার জন্য তুলে দিলেন ও ক্রুশে হত্যা করালেন।
21 কিন্তু আমরা আশা করছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ইসরাইলকে মুক্ত করবেন। আর এসব ছাড়া আজ তিন দিন চলছে, এসব ঘটেছে।
22 আবার আমাদের কয়েক জন স্ত্রীলোক আমাদেরকে চমৎকৃত করলেন; তাঁরা খুব ভোরে তাঁর কবরের কাছে গিয়েছিলেন।
23 তারা তাঁর লাশ দেখতে না পেয়ে এসে বললেন, ফেরেশতাদের দর্শন পেয়েছি, তাঁরা বলেন, তিনি জীবিত আছেন।
24 আর আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে কেউ কেউ কবরের কাছে গিয়ে, সেই স্ত্রীলোকেরা যেমন বলেছিলেন, তেমনি দেখতে পেলেন, কিন্তু তাঁকে দেখতে পান নি।
25 তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা কত অবোধ! এবং নবীরা যে সমস্ত কথা বলেছেন, সেই সকল কথা বিশ্বাস করতে তোমাদের চিত্ত কত শিথিল!
26 মসীহের কি আবশ্যক ছিল না যে, এ সব দুঃখভোগ করেন ও আপন প্রতাপে প্রবেশ করেন?
27 পরে তিনি মূসার শরীয়ত ও সমস্ত নবীদের কিতাব থেকে আরম্ভ করে সমস্ত কিতাবে তাঁর নিজের বিষয়ে যেসব কথা আছে, তা তাঁদেরকে বুঝিয়ে দিলেন।
28
পরে তাঁরা যেখানে যাচ্ছিলেন, সেই গ্রামের কাছে উপস্থিত হলেন; আর তিনি আগে যাবার লক্ষণ দেখালেন।
29 কিন্তু তাঁরা সাধ্য সাধনা করে বললেন, আমাদের সঙ্গে অবস্থান করুন, কারণ সন্ধ্যা হয়ে আসল, বেলা প্রায় গেছে। তাতে তিনি তাঁদের সঙ্গে অবস্থান করার জন্য বাড়িতে প্রবেশ করলেন।
30 পরে যখন তিনি তাঁদের সঙ্গে ভোজনে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে দোয়া করলেন এবং ভেঙ্গে তাঁদেরকে দিতে লাগলেন।
31 অমনি তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন; আর তিনি তাঁদের থেকে অন্তর্হিত হলেন।
32 তখন তাঁরা পরস্পর বললেন, পথের মধ্যে যখন তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, আমাদের কাছে পাক-কিতাবের অর্থ খুলে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আমাদের ভিতরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল না?
33 আর তাঁরা সেই দণ্ডেই উঠে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন; এবং সেই এগারো জনকে ও তাঁদের সঙ্গীদেরকে সমবেত দেখতে পেলেন;
34 তাঁরা বললেন, প্রভু নিশ্চয়ই উঠেছেন এবং শিমোনকে দেখা দিয়েছেন।
35 পরে সেই দু’জন পথের ঘটনার বিষয় এবং রুটি ভাঙ্গবার সময়ে তাঁরা কিভাবে তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন, এসব বৃত্তান্ত বললেন।
36
তাঁরা পরস্পর এসব কথাবার্তা বলছেন, ইতোমধ্যে তিনি নিজে তাঁদের মধ্যস্থানে দাঁড়ালেন ও তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের শান্তি হোক।
37 এতে তাঁরা ভীষণ ভয় পেয়ে ও আতঙ্কিত হয়ে মনে করলেন, রূহ্ দেখছি।
38 তিনি তাঁদেরকে বললেন, কেন ভয় পাচ্ছ? তোমাদের অন্তরে বিতর্কের উদয়ই বা কেন হচ্ছে?
39 আমার হাত ও আমার পা দেখ, এ আমি স্বয়ং; আমাকে স্পর্শ কর, আর দেখ; কারণ আমাকে যেমন দেখছো, রূহের এরকম অস্থি-মাংস নেই।
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদেরকে হাত ও পা দেখালেন।
41 তখনও তাঁরা এত আনন্দিত হয়েছিলেন যে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এবং তখনও আশ্চর্য জ্ঞান করছিলেন, তাই তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের কাছে এখানে কি কোন খাবার আছে?
42 তখন তাঁরা তাঁকে একখানি ভাজা মাছ দিলেন।
43 তিনি তা নিয়ে তাঁদের সাক্ষাতে ভোজন করলেন।
44
পরে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমি তোমাদেরকে যা বলেছিলাম। আমার সেই কথা এই, মূসার শরীয়তে ও নবীদের কিতাবে এবং জবুর শরীফে আমার বিষয়ে যা যা লেখা আছে, সেসব অবশ্য পূর্ণ হবে।
45 তখন তিনি তাঁদের বুদ্ধির দ্বার খুলে দিলেন, যেন তাঁরা পাক-কিতাব বুঝতে পারেন;
46 আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, এরকম লেখা আছে যে, মসীহ্ দুঃখভোগ করবেন এবং তৃতীয় দিনে মৃতদের মধ্য থেকে উঠবেন;
47 আর তাঁর নামে গুনাহ্ মাফের মন পরিবর্তনের কথা সর্বজাতির কাছে তবলিগ হবে— জেরুশালেম থেকে আরম্ভ করা হবে।
48 তোমরাই এই সকলের সাক্ষী।
49 আর দেখ, আমার পিতা যা ওয়াদা করেছেন, তা আমি তোমাদের কাছে প্রেরণ করছি; কিন্তু যে পর্যন্ত উপর থেকে শক্তি না পাও, সেই পর্যন্ত তোমরা এই নগরেই থেকো।
50
পরে তিনি তাঁদেরকে বৈথনিয়ার সম্মুখ পর্যন্ত নিয়ে গেলেন এবং হাত তুলে তাঁদেরকে দোয়া করলেন।
51 পরে এ রকম হল, তিনি দোয়া করতে করতে তাঁদের থেকে পৃথক হলেন এবং ঊর্ধ্বে, বেহেশতে নীত হতে লাগলেন।
52 আর তাঁরা তাঁকে সেজ্দা করে মহানন্দে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন;
53 এবং সব সময় বায়তুল-মোকাদ্দসে থেকে আল্লাহ্র প্রশংসা করতে থাকলেন।
1
আদিতে কালাম ছিলেন এবং কালাম আল্লাহ্র সঙ্গে ছিলেন এবং কালাম নিজেই আল্লাহ্ ছিলেন।
2
তিনি আদিতে আল্লাহ্র সঙ্গে ছিলেন।
3 সকলই তাঁর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল, যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে কিছুই তাঁকে ছাড়া হয় নি।
4 তাঁর মধ্যে জীবন ছিল এবং সেই জীবনই ছিল মানুষের নূর।
5 আর সেই নূর অন্ধকারের মধ্যে আলো দিচ্ছে, আর সেই অন্ধকার নূরকে জয় করতে পারে নি।
6
এক জন মানুষ উপস্থিত হলেন, তিনি আল্লাহ্ থেকে প্রেরিত হয়েছিলেন, তাঁর নাম ইয়াহিয়া।
7 তিনি সাক্ষ্যের জন্য এসেছিলেন, যেন সেই নূরের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁর সাক্ষ্য শুনে ঈমান আনে।
8 তিনি নিজে সেই নূর ছিলেন না, কিন্তু আসলেন যেন সেই নূরের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
9 প্রকৃত নূর, যিনি সকল মানুষের মধ্যে নূর দান করেন, তিনি দুনিয়াতে আসছিলেন।
10
তিনি দুনিয়াতেই ছিলেন এবং দুনিয়া তাঁর দ্বারাই সৃষ্ট হয়েছিল, আর দুনিয়া তাঁকে চিনলো না।
11 তিনি নিজের অধিকারে আসলেন, আর যারা তাঁর নিজের, তারা তাঁকে গ্রহণ করলো না।
12 কিন্তু যত লোক তাঁকে গ্রহণ করলো, সেই সকলকে, যারা তাঁর নামে ঈমান আনে তাদেরকে, তিনি আল্লাহ্র সন্তান হবার ক্ষমতা দিলেন।
13 তারা রক্ত থেকে নয়, দেহের কামনা-বাসনা থেকে নয়, মানুষের ইচ্ছা হতেও নয়, কিন্তু আল্লাহ্ থেকে জাত।
14
আর সেই কালাম মানব দেহে মূর্তিমান হলেন এবং আমাদের মধ্যে প্রবাস করলেন, আর আমরা তাঁর মহিমা দেখলাম, যেমন পিতা থেকে আগত একজাতের মহিমা; তিনি রহমতে ও সত্যে পূর্ণ।
15
ইয়াহিয়া তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন, আর উচ্চৈঃস্বরে বললেন, ইনি সেই ব্যক্তি, যাঁর বিষয়ে আমি বলেছি, যিনি আমার পরে আসছেন, তিনি আমার অগ্রগণ্য হলেন, কেননা তিনি আমার আগে ছিলেন।
16
কারণ তাঁর পূর্ণতা থেকে আমরা সকলে রহমতের উপরে রহমত পেয়েছি;
17 কারণ শরীয়ত মূসার মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রহমত ও সত্য ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে উপস্থিত হয়েছে।
18
আল্লাহ্কে কেউ কখনও দেখে নি; একজাত পুত্র, যিনি পিতার হৃদয়ের কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন।
19
আর ইয়াহিয়ার সাক্ষ্য এই— যখন ইহুদীরা কয়েক জন ইমাম ও লেবীয়কে দিয়ে জেরুশালেম থেকে তাঁর কাছে এই কথা জিজ্ঞাসা করে পাঠালো, ‘আপনি কে?’
20 তখন তিনি স্বীকার করলেন, অস্বীকার করলেন না; তিনি স্বীকার করে বললেন, আমি সেই মসীহ্ নই।
21 তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, তবে আপনি কে? আপনি কি ইলিয়াস? তিনি বললেন, আমি নই। আপনি কি সেই নবী? জবাবে তিনি বললেন, না।
22 তখন তারা তাঁকে বললো, আপনি কে? যারা আমাদেরকে পাঠিয়েছেন, তাদেরকে যেন উত্তর দিতে পারি। আপনার বিষয়ে আপনি কি বলেন?
23 তিনি বললেন, আমি “মরুভূমিতে এক জনের কণ্ঠস্বর, যে ঘোষণা করছে, তোমরা প্রভুর পথ সরল কর,” যেমন নবী ইশাইয়া বলেছিলেন।
24
তারা ফরীশীদের কাছ থেকে প্রেরিত হয়েছিল।
25 আর তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো, আপনি যদি সেই মসীহ্ নন, ইলিয়াসও নন, সেই নবীও নন, তবে বাপ্তিস্ম দিচ্ছেন কেন?
26 ইয়াহিয়া জবাবে তাদেরকে বললেন, আমি পানিতে বাপ্তিস্ম দিচ্ছি বটে, কিন্তু তোমাদের মধ্যে এক জন দাঁড়িয়ে আছেন, যাঁকে তোমরা জান না,
27 যিনি আমার পরে আসছেন; আমি তাঁর জুতার ফিতা খুলবারও যোগ্য নই।
28 জর্ডান নদীর অন্য পারে, বৈথনিয়াতে, যেখানে ইয়াহিয়া বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন, সেখানে এসব ঘটলো।
29
পরদিন তিনি ঈসাকে তাঁর কাছে আসতে দেখলেন, আর বললেন, ঐ দেখ, আল্লাহ্র মেষশাবক, যিনি দুনিয়ার গুনাহ্র ভার নিয়ে যান।
30 উনি সেই ব্যক্তি, যার বিষয়ে আমি বলেছিলাম, আমার পরে এমন এক ব্যক্তি আসছেন, যিনি আমার অগ্রগণ্য হলেন, কেননা তিনি আমার আগে ছিলেন।
31 আর আমি তাঁকে চিনতাম না, কিন্তু তিনি যেন ইসরাইলের কাছ প্রকাশিত হন, এজন্য আমি এসে পানিতে বাপ্তিস্ম দিচ্ছি।
32 আর ইয়াহিয়া সাক্ষ্য দিলেন, বললেন, আমি পাক-রূহ্কে কবুতরের মত বেহেশত থেকে নামতে দেখেছি; তিনি তাঁর উপরে অবস্থিতি করলেন।
33 আর আমি তাঁকে চিনতাম না, কিন্তু যিনি আমাকে পানিতে বাপ্তিস্ম দিতে পাঠিয়েছেন, তিনিই আমাকে বললেন, যাঁর উপরে রূহ্কে নেমে অবস্থিতি করতে দেখবে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি পাক-রূহে বাপ্তিস্ম দেন।
34 আর আমি দেখেছি ও সাক্ষ্য দিয়েছি যে, ইনিই আল্লাহ্র পুত্র।
35
পরদিন পুনরায় ইয়াহিয়া ও তাঁর দু’জন সাহাবী দাঁড়িয়ে ছিলেন;
36 আর ঈসা বেড়াচ্ছিলেন, এমন সময়ে ইয়াহিয়া তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, ঐ দেখ, আল্লাহ্র মেষশাবক।
37 সেই দুই সাহাবী তাঁর এই কথা শুনে ঈসার পিছনে পিছনে যেতে লাগলেন।
38 তাতে ঈসা ফিরে তাঁদেরকে পিছনে পিছনে আসতে দেখে বললেন, কিসের খোঁজ করছো? তাঁরা বললেন, রব্বি— অনুবাদ করলে এর অর্থ ওস্তাদ— আপনি কোথায় থাকেন?
39 তিনি তাদেরকে বললেন, এসো, দেখবে। অতএব তাঁরা গিয়ে তিনি যেখানে থাকেন সেই স্থান দেখলেন। তারা সেদিন তাঁর কাছে থাকলেন; তখন বেলা অনুমান দশম ঘটিকা।
40 ইয়াহিয়ার কথা শুনে যে দু’জন ঈসার পিছনে পিছনে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জন শিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয়।
41 তিনি প্রথমে আপন ভাই শিমোনের দেখা পান, আর তাঁকে বলেন, আমরা মসীহের দেখা পেয়েছি— অনুবাদ করলে এর অর্থ অভিষিক্ত।
42 তিনি তাঁকে ঈসার কাছে আনলেন। ঈসা তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, তুমি ইউহোন্নার পুত্র শিমোন, তোমাকে কৈফা বলে ডাকা হবে— অনুবাদ করলে এর অর্থ পিতর [পাথর]।
43
পরের দিন তিনি গালীলে যেতে ইচ্ছা করলেন ও ফিলিপের দেখা পেলেন। আর ঈসা তাঁকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর।
44 ফিলিপ বৈৎসৈদার লোক; আন্দ্রিয় ও পিতর সেই নগরের লোক।
45 ফিলিপ নথনেলের দেখা পেলেন, আর তাঁকে বললেন, মূসা শরীয়তে ও নবীরা যাঁর কথা লিখেছেন, আমরা তাঁর দেখা পেয়েছি; তিনি নাসরতীয় ঈসা, ইউসুফের পুত্র।
46 নথনেল তাঁকে বললেন, নাসরত থেকে কি উত্তম কিছু উৎপন্ন হতে পারে? ফিলিপ তাঁকে বললেন, এসো, দেখ।
47 ঈসা নথনেলকে তাঁর নিজের কাছে আসতে দেখে তাঁর বিষয়ে বললেন, ঐ দেখ, এক জন প্রকৃত ইসরাইল, যার অন্তরে ছল নেই।
48 নথনেল তাঁকে বললেন, আপনি কিসে আমাকে চিনলেন? জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, ফিলিপ, তোমাকে ডাকবার আগে যখন তুমি সেই ডুমুর গাছের তলে ছিলে, তখন তোমাকে দেখেছিলাম।
49 জবাবে নথনেল তাঁকে বললেন, রব্বি, আপনিই আল্লাহ্র পুত্র, আপনিই ইসরাইলের বাদশাহ্।
50 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, আমি যে তোমাকে বললাম, সেই ডুমুর গাছের তলে তোমাকে দেখেছিলাম, সেজন্য কি ঈমান আনলে? এসব থেকেও মহৎ মহৎ বিষয় দেখতে পাবে।
51 আর তিনি তাঁকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা দেখবে, বেহেশত খুলে গেছে এবং আল্লাহ্র ফেরেশতারা ইবনুল-ইনসানের উপর দিয়ে উঠছেন ও নামছেন।
1
আর তৃতীয় দিনে গালীলের কান্না নগরে একটি বিয়ে হল এবং ঈসার মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন;
2 আর সেই বিয়েতে ঈসা ও তাঁর সাহাবীদেরকে দাওয়াত করা হয়েছিল।
3 পরে সেখানে আঙ্গুর-রস ফুরিয়ে গেলে ঈসার মা তাঁকে বললেন, ওদের আঙ্গুর-রস নেই।
4 ঈসা তাঁকে বললেন, হে নারী, এই বিষয়ে তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি? আমার সময় এখনও উপস্থিত হয় নি।
5 তাঁর মা পরিচারকদেরকে বললেন, ইনি তোমাদেরকে যা কিছু বলেন, তা-ই কর।
6 সেখানে ইহুদীদের পাক-সাফের রীতি অনুসারে পাথরের ছয়টা জালা বসানো ছিল, তার এক একটাতে দুই তিন মণ করে পানি ধরতো।
7 ঈসা তাদেরকে বললেন, ঐ সমস্ত জালায় পানি পূর্ণ কর। তারা সেগুলো কানায় কানায় পূর্ণ করলো।
8 পরে তিনি তাদেরকে বললেন, এখন সেটি থেকে কিছু তুলে ভোজের মালিকের কাছে নিয়ে যাও। তারা নিয়ে গেল।
9 ভোজের মালিক যখন সেই পানি, যা আঙ্গুর-রস হয়ে গিয়েছিল তা খেয়ে দেখলেন আর তা কোথা থেকে আসল, তা জানতেন না— কিন্তু যে পরিচারকেরা পানি তুলেছিল, তারা জানতো— তখন ভোজের মালিক বরকে ডেকে বললেন,
10 সকল লোকেই প্রথমে উত্তম আঙ্গুর-রস পরিবেশন করে এবং যথেষ্ট পান করা হলে পর তার চেয়ে কিছু মন্দ পরিবেশন করে; তুমি উত্তম আঙ্গুর-রস এখন পর্যন্ত রেখেছ।
11 এভাবে ঈসা গালীলের কান্না নগরে এই প্রথম চিহ্ন-কাজ সাধন করে নিজের মহিমা প্রকাশ করলেন; আর তাঁর সাহাবীরা তাঁর উপর ঈমান আনলেন।
12
পরে তিনি তাঁর মা ও ভাইয়েরা এবং তাঁর সাহাবীরা কফরনাহূমে নেমে গেলেন, আর সেখানে বেশি দিন থাকলেন না।
13
তখন ইহুদীদের ঈদুল ফেসাখ সন্নিকট ছিল, আর ঈসা জেরুশালেমে গেলেন।
14 পরে তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে দেখলেন, লোকে গরু, ভেড়া ও কবুতর বিক্রি করছে এবং মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়কারীরা বসে আছে;
15 তখন ঘাস দ্বারা এক গাছা কশা প্রস্তুত করে গরু, ভেড়া সমস্তই বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বের করে দিলেন এবং টাকা ক্রয়-বিক্রয়কারীদের মুদ্রা ছড়িয়ে দিলেন ও টেবিল উল্টিয়ে ফেললেন;
16 আর যারা কবুতর বিক্রি করছিল, তাদেরকে বললেন, এই স্থান থেকে এসব নিয়ে যাও; আমার পিতার গৃহকে ব্যবসার গৃহ করো না।
17 তাঁর সাহাবীদের মনে পড়লো যে, লেখা আছে, “তোমার গৃহ-বিষয়ক গভীর আগ্রহ আমাকে গ্রাস করবে।”
18 তখন ইহুদীরা জবাবে তাঁকে বললো, তুমি আমাদেরকে কি চিহ্ন-কাজ দেখাচ্ছো যে এসব করছো?
19 জবাবে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা এই এবাদতখানা ভেঙ্গে ফেল, আমি তিন দিনের মধ্যেই তা উঠাবো।
20 তখন ইহুদীরা বললো, এই এবাদতখানা নির্মাণ করতে ছেচল্লিশ বছর লেগেছে; তুমি কি তিন দিনের মধ্যে তা উঠাবে?
21 কিন্তু তিনি আপন দেহরূপ বায়তুল-মোকাদ্দসের বিষয় বলছিলেন।
22 অতএব যখন তিনি মৃতদের মধ্যে থেকে উঠলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের মনে পড়লো যে, তিনি এই কথা বলেছিলেন; আর তাঁরা পাক-কিতাবে এবং ঈসার বলা কথায় বিশ্বাস করলেন।
23
তিনি ঈদুল ফেসাখের সময়ে যখন জেরুশালেমে ছিলেন, তখন যেসব চিহ্ন-কাজ সাধন করলেন, তা দেখে অনেকে তাঁর নামে ঈমান আনলো।
24 কিন্তু এই বিষয়ে ঈসা তাদের বিশ্বাস করলেন না, কারণ তিনি সকলকে জানতেন,
25 এবং কেউ যে মানুষের বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়, এতে তাঁর প্রয়োজন ছিল না; কেননা মানুষের অন্তরে কি আছে, তা তিনি নিজে জানতেন।
1
ফরীশীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর নাম নীকদীম; তিনি ইহুদীদের এক জন নেতা।
2 তিনি রাতের বেলায় ঈসার কাছে আসলেন এবং তাঁকে বললেন, রব্বি, আমরা জানি, আপনি আল্লাহ্র কাছ থেকে আগত শিক্ষক; কেননা আপনি এই যে সব চিহ্ন-কাজ সাধন করছেন, আল্লাহ্ সহবর্তী না থাকলে এসব কেউ করতে পারে না।
3 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, সত্যি সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, নতুন জন্ম না হলে কেউ আল্লাহ্র রাজ্য দেখতে পায় না।
4 নীকদীম তাঁকে বললেন, মানুষ বৃদ্ধ হলে কেমন করে তার জন্ম হতে পারে? সে কি দ্বিতীয়বার মায়ের গর্ভে প্রবেশ করে জন্ম নিতে পারে?
5 জবাবে ঈসা বললেন, সত্যি সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, যদি কেউ পানি এবং রূহ্ থেকে না জন্মে, তবে সে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না।
6 দেহ থেকে যা জাত, তা দেহই; আর রূহ্ থেকে যা জাত, তা রূহ্ই।
7 আমি যে তোমাকে বললাম, তোমাদের নতুন জন্ম হওয়া আবশ্যক, এতে আশ্চর্য জ্ঞান করো না।
8 বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে এবং তুমি তার আওয়াজ শুনতে পাও; কিন্তু কোথা থেকে আসে, আর কোথায় চলে যায়, তা জান না; রূহ্ থেকে জাত প্রত্যেক জন সেরকম।
9 নীকদীম জবাবে তাঁকে বললেন, এসব কিভাবে হতে পারে?
10 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, তুমি ইসরাইলের শিক্ষক হয়েও এসব বুঝতে পারছো না?
11
সত্যি সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, আমরা যা জানি তা বলি এবং যা দেখেছি তার সাক্ষ্য দিই; আর তোমরা আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর না।
12 আমি দুনিয়াবী বিষয়ের কথা বললে, তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে বেহেশতী বিষয়ের কথা বললে কেমন করে বিশ্বাস করবে?
13 আর বেহেশতে কেউ উঠে নি; কেবল যিনি বেহেশতে থাকেন ও বেহেশত থেকে নেমে এসেছেন, সেই ইবনুল-ইনসান ছাড়া।
14 আর মূসা যেমন মরুভূমিতে সেই সাপকে উঁচুতে উঠিয়েছিলেন, তেমনি ইবনুল-ইনসানকেও উঁচুতে তোলা হতে হবে,
15 যেন, যে কেউ তাঁতে ঈমান আনে, সে অনন্ত জীবন পায়।
16
কারণ আল্লাহ্ দুনিয়াকে এমন মহব্বত করলেন যে, তাঁর এক জাত পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁতে ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।
17
কেননা আল্লাহ্ দুনিয়ার বিচার করতে পুত্রকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেন নি, কিন্তু দুনিয়া যেন তাঁর দ্বারা নাজাত পায় সেজন্য তিনি তাঁকে প্রেরণ করেছেন।
18 যে তাঁতে ঈমান আনে, তার বিচার করা যায় না; যে ঈমান আনে না, তাঁর বিচার হয়ে গেছে, যেহেতু সে আল্লাহ্র এক জাত পুত্রের নামে ঈমান আনে নি।
19 আর সেই বিচার এই যে, দুনিয়াতে নূর এসেছে এবং মানুষেরা নূর থেকে অন্ধকার বেশি ভালবাসলো, কেননা তাদের কাজগুলো মন্দ ছিল।
20 কারণ যে কেউ মন্দ আচরণ করে, সে নূর ঘৃণা করে এবং সে নূরের কাছে আসে না, পাছে তার কাজগুলোর দোষ প্রকাশিত হয়ে পরে।
21 কিন্তু যে যা সত্যি তা পালন করে, সে নূরের কাছে আসে, যেন তার কাজগুলো আল্লাহ্র ইচ্ছামত সাধিত বলে প্রকাশ পায়।
22
তারপর ঈসা ও তাঁর সাহাবীরা এহুদিয়া দেশে আসলেন, আর তিনি সেখানে তাঁদের সঙ্গে থাকলেন এবং বাপ্তিস্ম দিতে লাগলেন।
23 আর ইয়াহিয়াও শালীমের নিকটবর্তী ঐনোন নামে একটি স্থানে বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন, কারণ সেই স্থানে অনেক পানি ছিল;
24 আর লোকেরা এসে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতো, কারণ তখনও ইয়াহিয়া কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন নি।
25
তখন এক জন ইহুদীর সঙ্গে পাক-পবিত্রকরণ বিষয়ে ইয়াহিয়ার সাহাবীদের তর্ক হল।
26 পরে তারা ইয়াহিয়ার কাছে এসে তাঁকে বললো, রব্বি, যিনি জর্ডান নদীর ওপারে আপনার সঙ্গে ছিলেন, যাঁর বিষয়ে আপনি সাক্ষ্য দিয়েছেন, দেখুন, তিনি বাপ্তিস্ম দিচ্ছেন এবং সকলে তাঁর কাছে যাচ্ছে।
27 ইয়াহিয়া জবাবে বললেন, বেহেশত থেকে মানুষকে যা দেওয়া হয়েছে, তা ছাড়া সে আর কিছুই গ্রহণ করতে পারে না।
28 তোমরা নিজেরাই আমার সাক্ষী যে, আমি বলেছি, আমি সেই মসীহ্ নই, কিন্তু তাঁর আগে প্রেরিত হয়েছি।
29 যে ব্যক্তি কন্যাকে পেয়েছে, সেই বর; কিন্তু বরের বন্ধু যে দাঁড়িয়ে তাঁর কথা শোনে, সে বরের গলার আওয়াজ শুনে অতিশয় আনন্দিত হয়; অতএব আমার এই আনন্দ পূর্ণ হল।
30 তাঁকে বৃদ্ধি পেতে হবে, কিন্তু আমাকে হ্রাস পেতে হবে।
31
যিনি উপর থেকে আসেন, তিনি সর্বপ্রধান; যে দুনিয়া থেকে, সে দুনিয়াবী এবং দুনিয়ারই কথা বলে; যিনি বেহেশত থেকে আসেন, তিনি সর্বপ্রধান।
32 তিনি যা দেখেছেন ও শুনেছেন, তারই সাক্ষ্য দিচ্ছেন, আর তাঁর সাক্ষ্য কেউ গ্রহণ করে না।
33 যে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে, সে এতে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্ সত্য।
34 কারণ আল্লাহ্ যাঁকে প্রেরণ করেছেন, তিনি আল্লাহ্র কালাম বলেন; কারণ আল্লাহ্ রূহ্কে মেপে দেন না।
35 পিতা পুত্রকে মহব্বত করেন এবং সমস্তই তাঁর হাতে দিয়েছেন।
36 যে কেউ পুত্রের উপর ঈমান আনে, সে অনন্ত জীবন পেয়েছে; কিন্তু যে কেউ পুত্রকে অমান্য করে, সে জীবন দেখতে পাবে না, কিন্তু আল্লাহ্র গজব তার উপরে অবস্থিতি করবে।
1
ঈসা যখন জানলেন যে, ফরীশীরা শুনেছে, ‘ঈসা ইয়াহিয়ার চেয়ে বেশি সাহাবী করেন এবং বাপ্তিস্ম দেন’—
2 কিন্তু ঈসা নিজে বাপ্তিস্ম দিতেন না, তাঁর সাহাবীরাই দিতেন—
3 তখন তিনি এহুদিয়া ত্যাগ করলেন এবং পুনর্বার গালীলে চলে গেলেন,
4 আর সামেরিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হল।
5 তাতে তিনি শুখর নামক সামেরিয়ার একটি নগরের কাছে গেলেন; ইয়াকুব তাঁর পুত্র ইউসুফকে যে ভূমি দান করেছিলেন, সেই নগর তার নিকটবর্তী।
6 আর সেই স্থানে ইয়াকুবের কূপ ছিল। তখন তিনি পথশ্রান্ত হওয়াতে সেই কূপের পাশেই বসলেন। বেলা তখন অনুমান ষষ্ঠ ঘটিকা। সামেরিয়ার এক জন স্ত্রীলোক সেই কূপ থেকে পানি তুলতে আসল।
7
ঈসা তাকে বললেন, আমাকে পান করার পানি দাও।
8 কেননা তাঁর সাহাবীরা খাদ্য ক্রয় করতে নগরে গিয়েছিলেন।
9 তাতে সামেরীয় স্ত্রীলোকটি বললো, আপনি ইহুদী হয়ে কেমন করে আমার কাছে পান করার পানি চাচ্ছেন? আমি তো সামেরীয় স্ত্রীলোক। —কেননা সামেরীয়দের সঙ্গে ইহুদীদের কোন দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক নেই।—
10 জবাবে ঈসা তাকে বললেন, তুমি যদি জানতে, আল্লাহ্র দান কি, আর কে তোমাকে বলছে, ‘আমাকে পান করার পানি দাও’, তবে তাঁরই কাছে তুমি যাচ্ঞা করতে এবং তিনি তোমাকে জীবন্ত পানি দিতেন।
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বললো, হুজুর, পানি তুলবার কোন পাত্র আপনার কাছে নেই, কূপটিও গভীর; তবে সেই জীবন্ত পানি কোথা থেকে পেলেন?
12 আমাদের পূর্ব-পুরুষ ইয়াকুব থেকে কি আপনি মহান? তিনিই আমাদেরকে এই কূপ দিয়েছেন, আর এর পানি তিনি নিজে ও তাঁর পুত্ররা পান করতেন, তাঁর পশুপালও পান করতো।
13 জবাবে ঈসা তাকে বললেন, যে কেউ এই পানি পান করে, তার আবার পিপাসা পাবে;
14 কিন্তু আমি যে পানি দেব, তা যে কেউ পান করে, তার পিপাসা আর কখনও হবে না; বরং আমি তাকে যে পানি দেব, তা তার অন্তরে এমন পানির ফোয়ারা হবে, যা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলে উঠবে।
15 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বললো, হুজুর, সেই পানি আমাকে দিন, যেন আমার পিপাসা না পায় এবং পানি তুলবার জন্য এতটা পথ হেঁটে আসতে না হয়।
16
ঈসা তাকে বললেন, যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডেকে নিয়ে এসো।
17 স্ত্রীলোকটি জবাবে তাঁকে বললো, আমার স্বামী নেই।
18 ঈসা তাকে বললেন, তুমি ভালই বলেছ তোমার স্বামী নেই; কেননা ইতোমধ্যে তোমার পাঁচটি স্বামী হয়ে গেছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্যি বলেছ।
19 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বললো, হুজুর, আমি দেখছি যে, আপনি এক জন নবী।
20 আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই পর্বতে এবাদত করতেন, আর আপনারা বলে থাকেন, যে স্থানে এবাদত করা উচিত, সে স্থানটি জেরুশালেমেই আছে।
21 ঈসা তাকে বলেন, হে নারী, আমার কথায় বিশ্বাস কর; এমন সময় আসছে, যখন তোমরা না এই পর্বতে, না জেরুশালেমে পিতার এবাদত করবে।
22 তোমরা যা জান না, তার এবাদত করছো; আমরা যা জানি, তার এবাদত করছি, কারণ ইহুদীদের মধ্য দিয়েই নাজাত পাবার উপায় এসেছে।
23 কিন্তু এমন সময় আসছে, বরং এখনই উপস্থিত, যখন প্রকৃত এবাদতকারীরা রূহে ও সত্যে পিতার এবাদত করবে; কারণ বাস্তবিক পিতা এরকম এবাদতকারীদেরই খোঁজ করেন।
24 আল্লাহ্ রূহ্; আর যারা তাঁর এবাদত করে, তাদেরকে রূহে ও সত্যে এবাদত করতে হবে।
25 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বললো, আমি জানি, মসীহ্, যাঁকে অভিষিক্ত বলে, তিনি আসছেন, তিনি যখন আসবেন, তখন আমাদেরকে সকলই জানাবেন।
26 ঈসা তাকে বললেন, তোমার সঙ্গে কথা বলছি যে আমি, আমিই তিনি।
27
এই সময় তাঁর সাহাবীরা আসলেন এবং আশ্চর্য হলেন যে, তিনি এক জন স্ত্রীলোকের সঙ্গে কথা বলছেন, তবুও কেউ বললেন না আপনি কি চান? কিংবা, কি জন্য ওর সঙ্গে কথা বলছেন?
28 তখন সেই স্ত্রীলোকটি নিজের কলসী ফেলে রেখে নগরে গেল,
29 আর লোকদেরকে বললো, এসো, এক জন মানুষকে দেখ, আমি যা কিছু করেছি, তিনি সকলই আমাকে বলে দিলেন; তিনিই কি সেই মসীহ্ নন?
30 তারা নগর থেকে বের হয়ে তাঁর কাছে আসতে লাগল।
31
ইতোমধ্যে সাহাবীরা তাঁকে ফরিয়াদ করে বললেন, রব্বি, আহার করুন।
32 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, খাবারের জন্য আমার এমন খাদ্য আছে, যা তোমরা জান না।
33 অতএব সাহাবীরা পরস্পর বলতে লাগলেন, কেউ কি তাঁকে খাদ্য এনে দিয়েছে?
34 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, আমার খাদ্য এই, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, যেন তাঁর ইচ্ছা পালন করি ও তাঁর কাজ সাধন করি।
35 তোমরা কি বল না, আর চার মাস পরে শস্য কাটার সময় হবে? দেখ, আমি তোমাদেরকে বলছি, চোখ তুলে ক্ষেতের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, শস্য এখনই কাটার মত সাদা রংয়ের হয়েছে।
36 যে কাটে সে বেতন পায় এবং অনন্ত জীবনের জন্য শস্য সংগ্রহ করে; যেন, যে বুনে ও যে কাটে, উভয়ে একত্র আনন্দ করে।
37 কেননা এই স্থলে এই কথা সত্যি, এক জন বুনে, আর এক জন কাটে।
38 আমি তোমাদেরকে এমন শস্য কাটতে প্রেরণ করলাম, যার জন্য তোমরা পরিশ্রম কর নি; অন্যেরা পরিশ্রম করেছে এবং তোমরা তাদের শ্রম-ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছ।
39
সেই নগরের সামেরীয়রা অনেকে সেই স্ত্রীলোকটি যে সাক্ষ্য দিয়েছিল— আমি যা কিছু করেছি, তিনি আমাকে সকলই বলে দিলেন— তার এই কথার জন্য তাঁর উপর ঈমান আনলো।
40 অতএব সেই সামেরিয়েরা যখন তাঁর কাছে আসল, তখন তাঁকে ফরিয়াদ করলো, যেন তিনি তাদের কাছে অবস্থিতি করেন; তাতে তিনি দুই দিন সেখানে অবস্থান করলেন।
41 তখন আরও অনেক লোক তাঁর কথা শুনে তাঁর উপর ঈমান আনলো;
42 আর তারা সেই স্ত্রীলোককে বললো, এখন যে আমরা ঈমান এনেছি, তা তোমার কথা শুনে নয়, কেননা আমরা নিজেরা শুনেছি ও জানতে পেরেছি যে, ইনি সত্যিই দুনিয়ার নাজাতদাতা।
43
সেই দুই দিনের পর তিনি সেখান থেকে গালীলে গমন করলেন।
44 কারণ ঈসা নিজে এই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, নবী নিজের দেশে সমাদর পান না।
45 অতএব তিনি যখন গালীলে আসলেন, তখন গালীলীয়েরা তাঁকে গ্রহণ করলো, কারণ জেরুশালেমে ঈদের সময়ে তিনি যা যা করেছিলেন, সেসব তারা দেখেছিল; কেননা তারাও সেই ঈদে গিয়েছিল।
46
পরে তিনি আবার গালীলের সেই কান্না নগরে গেলেন, যেখানে পানিকে আঙ্গুর-রস করেছিলেন। সেখানে এক জন রাজ-কর্মচারী ছিলেন, তার পুত্র কফরনাহূমে অসুস্থ ছিল।
47 ঈসা এহুদিয়া থেকে গালীলে এসেছেন শুনে তিনি তাঁর কাছে গেলেন এবং ফরিয়াদ জানালেন, যেন তিনি গিয়ে তার পুত্রকে সুস্থ করেন; কারণ সে মৃতপ্রায় হয়েছিল।
48 তখন ঈসা তাকে বললেন, চিহ্ন-কাজ এবং অদ্ভুত লক্ষণ যদি না দেখ, তোমরা কোন মতে ঈমান আনবে না।
49 সেই রাজ-কর্মচারী তাঁকে বললেন, হে প্রভু, আমার ছেলেটি মারা যাবার আগেই আসুন।
50 ঈসা তাকে বললেন, যাও, তোমার পুত্র বাঁচলো। ঈসা সেই ব্যক্তিকে যে কথা বললেন, তিনি তা বিশ্বাস করে চলে গেলেন।
51 তিনি যাচ্ছেন, এমন সময়ে তার গোলামেরা তার কাছে এসে বললো, আপনার বালকটি বাঁচলো।
52 তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ ঘটিকায় তার উপশম আরম্ভ হয়েছিল? তারা তাঁকে বললো, গতকাল সপ্তম ঘটিকার সময়ে তার জ্বর ছেড়ে গেছে।
53 তাতে পিতা বুঝলেন, ঈসা সেই ঘটিকাতেই তাকে বলেছিলেন, তোমার পুত্র বাঁচলো; আর তিনি নিজে ও তার সমস্ত পরিবার ঈসার উপর ঈমান আনলেন।
54 এহুদিয়া থেকে গালীলে আসার পর ঈসা আবার এই দ্বিতীয় চিহ্ন-কাজ করলেন।
1
এর পরে ইহুদীদের একটি ঈদ উপস্থিত হল; আর ঈসা জেরুশালেমে গেলেন।
2 জেরুশালেমে মেষ-দ্বারের কাছ একটি পুকুর আছে; ইবরানী ভাষায় সেটির নাম বৈথেস্দা, তার পাঁচটি চাঁদনি-ঘাট আছে।
3 সেসব ঘাটে অনেক রোগী, অন্ধ, খঞ্জ ও যাদের শরীর একেবারে শুকিয়ে গেছে তারা পড়ে থাকতো।
4 তারা পানি কম্পনের অপেক্ষায় থাকতো। কেননা বিশেষ বিশেষ সময়ে ঐ পুকুরে প্রভুর এক জন ফেরেশতা নেমে আসতেন ও পানি কাঁপাতেন; সেই পানি কাঁপানোর পরে যে কেউ প্রথমে পানিতে নামতো, তার যে কোন রোগ হোক, সে তা থেকে মুক্তি পেত।
5
আর সেখানে একটি লোক ছিল, সে আটত্রিশ বছরের রোগী।
6 ঈসা তাকে পড়ে থাকতে দেখে ও দীর্ঘকাল সেই অবস্থায় রয়েছে জেনে বললেন, তুমি কি সুস্থ হতে চাও?
7 রোগী জবাবে বললো, হুজুর, আমার এমন কোন লোক নেই যে, যখন পানি কাঁপে তখন আমাকে পুকুরে নামিয়ে দেয়; আমি যেতে যেতে আর এক জন আমার আগে নেমে পড়ে।
8 ঈসা তাকে বললেন, উঠ, তোমার খাট তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও।
9 তাতে তৎক্ষণাৎ সেই ব্যক্তি সুস্থ হল এবং নিজের খাট তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াতে লাগল। সেদিন ছিল বিশ্রামবার।
10
অতএব যাকে সুস্থ করা হয়েছিল, তাকে ইহুদীরা বললো, আজ বিশ্রামবার, খাট বহন করা তোমার পক্ষে উচিত নয়।
11 কিন্তু সে তাদেরকে জবাবে বললো, যিনি আমাকে সুস্থ করলেন, তিনিই আমাকে বললেন, তোমার খাট তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও।
12 তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলো, সেই ব্যক্তি কে, যে তোমাকে বলেছে, খাট তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও?
13 কিন্তু যে সুস্থ হয়েছিল, সে জানত না, তিনি কে, কারণ সেখানে অনেক লোক থাকাতে ঈসা চলে গিয়েছিলেন।
14
তারপরে ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দসে তার দেখা পেলেন, আর তাকে বললেন, দেখ, তুমি সুস্থ হলে; আর গুনাহ্ করো না, পাছে তোমার আরও বেশি মন্দ ঘটে।
15 সেই ব্যক্তি চলে গেল ও ইহুদীদেরকে বললো যে, যিনি তাকে সুস্থ করেছেন তিনি ঈসা।
16 আর এই কারণে ইহুদীরা ঈসাকে নির্যাতন করতে শুরু করলো, কেননা তিনি বিশ্রামবারে এসব করছিলেন।
17 কিন্তু ঈসা তাদেরকে এই জবাব দিলেন, আমার পিতা এখন পর্যন্ত কাজ করছেন, আমিও করছি।
18 ঈসার এই কথার জন্য ইহুদীরা তাঁকে হত্যা করতে আরও চেষ্টা করতে লাগল; কেননা তিনি কেবল বিশ্রামবার লঙ্ঘন করতেন তা নয়, কিন্তু আবার আল্লাহ্কে নিজের পিতা বলে নিজেকে আল্লাহ্র সমান করতেন।
19
অতএব জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, পুত্র নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না, কেবল পিতাকে যা করতে দেখেন, তা-ই করেন; কেননা তিনি যা যা করেন, পুত্রও তা-ই করেন।
20 কারণ পিতা পুত্রকে ভাল-বাসেন এবং তিনি যা যা করেন, সকলই তাঁকে দেখান; আর এর চেয়েও মহৎ মহৎ কাজ তাঁকে দেখাবেন, যেন তোমরা আশ্চর্য মনে কর।
21 কেননা পিতা যেমন মৃতদেরকে উঠান ও জীবন দান করেন, তেমনি পুত্রও যাদেরকে ইচ্ছা, জীবন দান করেন।
22 পিতা কারো বিচার করেন না, কিন্তু বিচারের সমস্ত ভার পুত্রকে দিয়েছেন,
23 যেন সকলে যেমন পিতাকে সমাদর করে, তেমনি পুত্রকে সমাদর করে। পুত্রকে যে সমাদর করে না, যিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন সে পিতাকেও সমাদর করে না।
24 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে ব্যক্তি আমার কালাম শুনে ও যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর উপর ঈমান আনে, সে অনন্ত জীবন পেয়েছে এবং তাকে বিচারে আনা হবে না; সে মৃত্যু থেকে জীবনে পার হয়ে গেছে।
25
সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, এমন সময় আসছে, বরং এখন উপস্থিত, যখন মৃতেরা আল্লাহ্র পুত্রের কণ্ঠস্বর শুনবে এবং যারা শুনবে, তারা জীবিত হবে।
26 কেননা পিতা যেমন জীবনের অধিকারী, তেমনি তিনি পুত্রকেও জীবনের অধিকারী হতে দিয়েছেন।
27 আর তিনি তাঁকে বিচার করার অধিকার দিয়েছেন, কেননা তিনি ইবনুল-ইনসান।
28 এতে আশ্চর্য মনে করো না; কেননা এমন সময় আসছে, যখন কবরস্থ সকলে তাঁর স্বর শুনবে,
29 এবং যারা সৎকর্ম করেছে, তারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য ও যারা অসৎকর্ম করেছে, তারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বের হয়ে আসবে।
30
আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না; যেমন শুনি তেমনি বিচার করি; আর আমার বিচার ন্যায্য, কেননা আমি নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করতে চেষ্টা করি না, কিন্তু যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করতে চেষ্টা করি।
31
আমি যদি নিজের বিষয়ে নিজে সাক্ষ্য দিই, তবে আমার সাক্ষ্য সত্যি নয়।
32 আমার বিষয়ে আর এক জন সাক্ষ্য দিচ্ছেন; এবং আমি জানি, আমার বিষয়ে তিনি যে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, সেই সাক্ষ্য সত্যি।
33 তোমরা ইয়াহিয়ার কাছে লোক পাঠিয়েছ, আর তিনি সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
34 কিন্তু আমি যে সাক্ষ্য গ্রহণ করি, তা মানুষ থেকে নয়; তবুও আমি এসব বলছি, যেন তোমরা নাজাত পাও।
35 তিনি সেই জ্বলন্ত ও জ্যোতির্ময় প্রদীপ ছিলেন এবং তোমরা তাঁর আলোতে কিছু কাল আনন্দ করতে ইচ্ছুক হয়েছিলে।
36 কিন্তু ইয়াহিয়ার দেওয়া সাক্ষ্যের চেয়ে আমার আরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আছে; কেননা পিতা আমাকে যেসব কাজ সম্পন্ন করতে দিয়েছেন, সেসব কাজ আমি করছি, সেসব আমার বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন।
37 আর পিতা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন; তাঁর স্বর তোমরা কখনও শোন নি, তাঁর আকারও দেখ নি।
38 আর তাঁর কালাম তোমাদের অন্তরে অবস্থিতি করে না; কেননা তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর তোমরা ঈমান আন না।
39
তোমরা পাক-কিতাব অনুসন্ধান করে থাক, কারণ তোমরা মনে করে থাক যে, তাতেই তোমাদের অনন্ত জীবন রয়েছে; আর তা-ই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়;
40 আর তোমরা জীবন পাবার জন্য আমার কাছে আসতে ইচ্ছা কর না।
41 আমি মানুষের কাছ থেকে গৌরব গ্রহণ করি না!
42 কিন্তু আমি তোমাদেরকে জানি, তোমাদের অন্তরে তো আল্লাহ্র মহব্বত নেই।
43 আমি আমার পিতার নামে এসেছি, আর তোমরা আমাকে গ্রহণ কর না; অন্য কেউ যদি নিজের নামে আসে, তাকে তোমরা গ্রহণ করবে।
44 তোমরা কিভাবে ঈমান আনতে পার? তোমরা তো পরস্পরের কাছ থেকে প্রশংসা গ্রহণ করছো এবং একমাত্র আল্লাহ্র কাছ থেকে যে প্রশংসা আসে, তার চেষ্টা কর না।
45 মনে করো না যে, আমি পিতার কাছে তোমাদের উপরে দোষারোপ করবো; এক জন আছেন, যিনি তোমাদের উপরে দোষারোপ করেন; তিনি মূসা, যাঁর উপরে তোমরা প্রত্যাশা রেখেছ।
46 কারণ যদি তোমরা মূসার উপর ঈমান আনতে, তবে আমার উপরও ঈমান আনতে, কেননা আমারই বিষয়ে তিনি লিখেছেন।
47 কিন্তু তাঁর লেখায় যদি বিশ্বাস না কর, তবে আমার কথায় কিভাবে বিশ্বাস করবে?
1
এর পরে ঈসা গালীল-সাগরের, অর্থাৎ টিবেরিয়াস-সাগরের, অন্য পারে চলে গেলেন।
2 আর বিস্তর লোক তাঁর পিছনে পিছনে যেতে লাগল, কেননা তিনি রোগীদের উপরে যেসব চিহ্ন-কাজ করতেন, সেসব তারা দেখতে পেত।
3 আর ঈসা পর্বতে উঠলেন এবং সেখানে তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে বসলেন।
4 তখন ইহুদীদের ঈদ ঈদুল ফেসাখ সন্নিকট ছিল।
5 আর ঈসা চোখ তুলে বিস্তর লোক তাঁর কাছে আসছে দেখে ফিলিপকে বললেন, ওদের খাবারের জন্য আমরা কোথায় রুটি কিনতে পাব?
6 এই কথা তিনি তাঁর পরীক্ষার জন্য বললেন? কেননা কি করবেন, তা তিনি নিজে জানতেন।
7 ফিলিপ তাঁকে জবাবে বললেন, ওদের জন্য দুই শত সিকির রুটিও এরকম যথেষ্ট নয় যে, প্রত্যেক জন কিছু কিছু পেতে পারে।
8 তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক জন, শিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয় তাঁকে বললেন,
9 এখানে একটি বালক আছে, তার কাছে যবের পাঁচখানা রুটি এবং দু’টি মাছ আছে; কিন্তু এত লোকের মধ্যে তাতে কি হবে?
10 ঈসা বললেন, লোকদেরকে বসিয়ে দাও। সেই স্থানে অনেক ঘাস ছিল আর তার উপরেই লোকেরা বসে গেল। সেখানে পুরুষের সংখ্যা অনুমান পাঁচ হাজার লোক ছিল।
11 তখন ঈসা সেই রুটি কয়খানি নিলেন ও শুকরিয়া জানালেন এবং যারা বসেছিল তাদেরকে ভাগ করে দিলেন; সেভাবে মাছ কয়টি থেকেও যে যত চাইল তা তিনি তাদের দিলেন।
12 আর তারা তৃপ্ত হলে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, অবশিষ্ট গুঁড়াগাঁড়াগুলো সংগ্রহ কর, যেন কিছুই নষ্ট না হয়।
13 তাতে তাঁরা সংগ্রহ করলেন, আর ঐ পাঁচখানা যবের রুটির গুঁড়াগাঁড়ায় সেই লোকদের ভোজনের পর যা বেঁচেছিল, তাতে বারো ডালা পূর্ণ করলেন।
14 অতএব সেই লোকেরা তাঁর কৃত চিহ্ন-কাজ দেখে বলতে লাগল, উনি সত্যিই সেই নবী, যিনি দুনিয়াতে আসছেন।
15
তখন ঈসা বুঝতে পারলেন যে, তারা এসে তাঁকে বাদশাহ্ করার জন্য ধরতে উদ্যত হয়েছে, তাই আবার নিজে একাকী পর্বতে চলে গেলেন।
16
সন্ধ্যা হলে তাঁর সাহাবীরা সমুদ্রতীরে নেমে গেলেন,
17 এবং একখানি নৌকায় উঠে সমুদ্রপারে কফরনাহূমের দিকে যেতে লাগলেন। সেই সময়ে অন্ধকার হয়েছিল এবং ঈসা তখনও তাঁদের কাছে আসেন নি।
18 আর খুব জোরে বাতাস বইছিল বলে সাগরে বড় বড় ঢেউ উঠছিল।
19 এভাবে দেড় বা দুই মাইল বেয়ে গেলে পর তাঁরা ঈসাকে দেখতে পেলেন, তিনি সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে নৌকার কাছে আসছেন; এতে তাঁরা ভয় পেলেন।
20 কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, এ আমি, ভয় করো না।
21 তখন তাঁরা তাঁকে নৌকায় তুলে নিতে চাইলেন; আর তাঁরা যেখানে যাচ্ছিলেন, নৌকাটি তৎক্ষণাৎ সেখানে পৌঁছে গেল।
22
পর দিন, যে লোকেরা সমুদ্রের অন্য পারে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা দেখেছিল যে, সেখানে একটি নৌকা ছাড়া আর কোন নৌকা ছিল না এবং ঈসা সাহাবীদের সঙ্গে সেই নৌকাতে উঠেন নি, কেবল তাঁর সাহাবীরা একাই চলে গিয়েছিলেন।
23 কিন্তু টিবেরিয়াস থেকে কয়েকখানি নৌকা, যেখানে প্রভু শুকরিয়া জানালে পর লোকেরা রুটি খেয়েছিল, সেই স্থানের কাছে এসেছিল।
24 অতএব লোকেরা যখন দেখলো, ঈসা সেখানে নেই, তাঁর সাহাবীরাও নেই, তখন তারা সেসব নৌকায় চড়ে ঈসার খোঁজে কফরনাহূমে আসল।
25
আর সমুদ্রের পারে তাঁকে পেয়ে বললো, রব্বি, আপনি এখানে কখন এসেছেন?
26 ঈসা তাদেরকে জবাবে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা চিহ্ন-কাজ দেখেছো বলে আমার খোঁজ করছো, তা নয়; কিন্তু সেই রুটি খেয়েছিলে ও তৃপ্ত হয়েছিলে বলেই আমার খোঁজ করছো।
27 যে খাদ্য নষ্ট হয়ে যায় সেই খাদ্যের জন্য পরিশ্রম করো না, কিন্তু সেই খাদ্যের জন্য পরিশ্রম কর, যা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে, যা ইবনুল-ইনসান তোমাদেরকে দেবেন, কেননা পিতা-আল্লাহ্ তাঁকেই সীলমোহরকৃত করেছেন।
28 তখন তারা তাঁকে বললো, আমরা যেন আল্লাহ্র কাজ করতে পারি, এজন্য আমাদেরকে কি করতে হবে?
29 জবাবে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, আল্লাহ্র কাজ এই, যেন তাঁতে তোমরা ঈমান আনো, যাঁকে তিনি প্রেরণ করেছেন।
30 তারা তাঁকে বললো, ভাল, আপনি এমন কি চিহ্ন-কাজ করছেন, যা দেখে আমরা আপনার উপর ঈমান আনবো? আপনি কি কাজ করছেন?
31 আমাদের পূর্বপুরুষেরা মরুভূমিতে মান্না খাইয়েছিলেন, যেমন লেখা আছে, “তিনি ভোজনের জন্য তাদেরকে বেহেশত থেকে খাদ্য দিলেন।”
32 ঈসা তাদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, মূসা তোমাদেরকে বেহেশত থেকে সেই খাদ্য দেন নি, কিন্তু আমার পিতাই তোমাদেরকে বেহেশত থেকে প্রকৃত খাদ্য দেন।
33 কেননা আল্লাহ্র খাদ্য তা-ই, যা বেহেশত থেকে নেমে আসে ও দুনিয়াকে জীবন দান করে।
34 তখন তারা তাঁকে বললো, হুজুর, চিরকাল সেই খাদ্য আমাদেরকে দিন।
35
ঈসা তাদেরকে বললেন, আমিই সেই জীবন-খাদ্য। যে ব্যক্তি আমার কাছে আসে, সে ক্ষুধার্ত হবে না এবং যে আমাতে ঈমান আনে, সে তৃষ্ণার্ত হবে না, কখনও না।
36 কিন্তু আমি তোমাদেরকে বলেছি যে, তোমরা আমাকে দেখেছো, তবুও ঈমান আন নি।
37 পিতা যাদের আমাকে দেন, তারা আমারই কাছে আসবে এবং যে আমার কাছে আসবে, তাকে আমি কোন মতে বাইরে ফেলে দেব না।
38 কেননা আমার ইচ্ছা সাধন করার জন্য আমি বেহেশত থেকে নেমে আসি নি; কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁরই ইচ্ছা সাধন করার জন্য এসেছি।
39 আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা এই, তিনি আমাকে যে সমস্ত লোকদের দিয়েছেন, তাদের কাউকেই যেন না হারাই, কিন্তু শেষ দিনে জীবিত করে তুলি।
40 কারণ আমার পিতার ইচ্ছা এই, যে কেউ পুত্রকে দর্শন করে ও তাঁতে ঈমান আনে, সে যেন অনন্ত জীবন পায়; আর আমিই তাঁকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব।
41
অতএব ইহুদীরা তাঁর বিষয়ে বচসা করতে লাগল, কেননা তিনি বলেছিলেন, আমিই সেই খাদ্য, যা বেহেশত থেকে নেমে এসেছে।
42 তারা বললো, এ কি ইউসুফের পুত্র সেই ঈসা নয়, যার পিতামাতাকে আমরা জানি? তবে এ কেমন করে বলে, আমি বেহেশত থেকে নেমে এসেছি?
43 জবাবে ঈসা তাঁদেরকে বললেন, তোমরা পরস্পর বচসা করো না।
44 পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আকর্ষণ না করলে কেউ আমার কাছে আসতে পারে না, আর আমি তাকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব।
45 নবীদের কিতাবে লেখা আছে, “তারা সকলে আল্লাহ্র কাছে শিক্ষা পাবে।” যে কেউ পিতার কাছে শুনে শিক্ষা পেয়েছে, সেই আমার কাছে আসে।
46 কেউ যে পিতাকে দেখেছে, তা নয়; যিনি আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছেন, কেবল তিনিই পিতাকে দেখেছেন।
47 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে ঈমান আনে, সে অনন্ত জীবন পেয়েছে।
48 আমিই জীবন-খাদ্য।
49 তোমাদের পূর্বপুরুষেরা মরু-ভূমিতে মান্না খেয়েছিল, আর তারা ইন্তেকাল করেছে।
50 এ সেই খাদ্য, যা বেহেশত থেকে নেমে আসে, যেন লোকে তা খায় ও মারা না যায়।
51 আমিই সেই জীবন্ত খাদ্য, যা বেহেশত থেকে নেমে এসেছে। কেউ যদি এই খাদ্য খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে, আর আমি দুনিয়ার জীবনের জন্য যে খাদ্য দেব, তা আমার শরীর।
52
অতএব ইহুদীরা পরস্পর তর্ক করে বলতে লাগল, এই ব্যক্তি কেমন করে আমাদেরকে ভোজনের জন্য নিজের শরীর দিতে পারে?
53 ঈসা তাদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা যদি ইবনুল-ইনসানের গোশ্ত ভোজন ও তাঁর রক্ত পান না কর, তোমাদের মধ্যে জীবন নেই।
54 যে আমার গোশ্ত ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে অনন্ত জীবন পেয়েছে এবং আমি তাকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব।
55 কারণ আমার গোশ্ত প্রকৃত খাদ্য এবং আমার রক্ত প্রকৃত পানীয়।
56 যে আমার গোশ্ত ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে আমার মধ্যে থাকে এবং আমি তার মধ্যে থাকি।
57 যেমন জীবন্ত পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন এবং পিতার কারণে আমি জীবিত আছি, ঠিক সেভাবে যে কেউ আমাকে ভোজন করে, সেও আমার কারণে জীবিত থাকবে।
58 এ সেই খাদ্য, যা বেহেশত থেকে নেমে এসেছে; পূর্বপুরুষেরা যেমন খেয়েছিল এবং মারা গিয়েছিল, সেরকম নয়; এই খাদ্য যে ভোজন করে, সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে।
59
এসব কথা তিনি কফরনাহূমে উপদেশ দেবার সময়ে মজলিস-খানায় বললেন।
60
তাঁর সাহাবীদের মধ্যে অনেকে এই কথা শুনে বললো, এ কঠিন কথা, কে এই কথা গ্রহণ করতে পারে?
61 কিন্তু তাঁর সাহাবীরা এই বিষয়ে বচসা করছে, ঈসা তা অন্তরে জানতে পেরে তাদেরকে বললেন, এই কথায় কি তোমরা মনে বাধা পেয়েছ?
62 তবে ইবনুল-ইনসান আগে যেখানে ছিলেন, সেখানে তোমরা তাঁকে উঠতে দেখলে কি বলবে?
63 রূহ্ই জীবনদায়ক, দৈহিক শক্তি জীবন দিতে পারে না; আমি তোমাদেরকে যেসব কথা বলেছি, তা রূহ্ ও জীবন;
64 কিন্তু তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা বিশ্বাস করে না। কেননা ঈসা প্রথম থেকে জানতেন, কে কে বিশ্বাস করে না এবং কেই বা তাঁকে দুশমনদের হাতে তুলে দেবে?
65 তিনি আরও বললেন, এজন্য আমি তোমাদেরকে বলেছি, যদি পিতা থেকে ক্ষমতা দেওয়া না হয়, তবে কেউই আমার কাছে আসতে পারে না।
66
এতে তাঁর অনেক সাহাবী পিছিয়ে পড়লো, তাঁর সঙ্গে আর যাতায়াত করলো না।
67 অতএব ঈসা সেই বারো জনকে বললেন, তোমরাও কি চলে যেতে ইচ্ছা করছো?
68 শিমোন পিতর তাঁকে জবাবে বললেন, প্রভু, কার কাছে যাব? আপনার কাছে অনন্ত জীবনের কথা আছে;
69 আর আমরা ঈমান এনেছি ও জেনেছি যে, আপনিই আল্লাহ্র সেই পবিত্র ব্যক্তি।
70 ঈসা তাঁদেরকে জবাবে বললেন, তোমরা এই যে বারো জন, আমি কি তোমাদেরকে মনোনীত করি নি? আর তোমাদের মধ্যেও এক জন শয়তান আছে।
71 এই কথা তিনি ঈষ্করিয়োতীয় শিমোনের পুত্র এহুদার বিষয়ে বললেন, কারণ সেই ব্যক্তি তাঁকে ধরিয়ে দেবে, সে বারো জনের মধ্যে এক জন।
1
এই সকলের পরে ঈসা গালীলে চলাফেরা করতে লাগলেন, কেননা ইহুদীরা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করায় তিনি এহুদিয়াতে যেতে চাইলেন না।
2 এদিকে ইহুদীদের কুটিরবাস ঈদ সন্নিকট হল।
3 অতএব তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে বললো, এই স্থান থেকে প্রস্থান কর, এহুদিয়াতে চলে যাও; যেন তুমি যা যা করছো, তোমার সেসব কাজ তোমার সাহাবীরাও দেখতে পায়।
4 কারণ এমন কেউ নেই যে, নিজেকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করে অথচ গোপনে কাজ করে। তুমি যখন এসব কাজ করছো, তখন নিজেকে দুনিয়ার কাছে প্রকাশ কর।
5 —কারণ তাঁর ভাইয়েরাও তাঁর উপর ঈমান আনে নি।—
6 তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, আমার সময় এখনও আসে নি, কিন্তু তোমাদের সময় সর্বদাই উপস্থিত।
7 দুনিয়া তোমাদেরকে ঘৃণা করতে পারে না, কিন্তু আমাকে ঘৃণা করে, কারণ আমি তার বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিই যে, তার কাজ মন্দ।
8 তোমরাই ঈদে যাও; আমি এখনও এই ঈদে যাচ্ছি না, কেননা আমার সময় এখনও সমপূর্ণ হয় নি।
9
তাদেরকে এই কথা বলে তিনি গালীলেই রইলেন।
10
কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা ঈদে গেলে পর তিনিও গেলেন, প্রকাশ্যরূপে নয়, কিন্তু এক প্রকার গোপনে।
11 তাতে ইহুদীরা ঈদে তাঁর খোঁজ করতে লাগল, আর বললো, সেই ব্যক্তি কোথায়?
12 আর সমাগত লোকেরা তাঁর বিষয়ে ফিস্ ফিস্ করে অনেক কথা বলতে লাগল। কেউ কেউ বললো, তিনি ভাল লোক; আর কেউ কেউ বললো, তা নয়, বরং সে লোকদেরকে ভুলাচ্ছে।
13 কিন্তু ইহুদীদের ভয়ে কেউ তাঁর বিষয়ে প্রকাশ্য-রূপে কিছু বললো না।
14
ঈদের মাঝামাঝি সময়ে ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দসে গেলেন এবং উপদেশ দিতে লাগলেন।
15 তাতে ইহুদীরা আশ্চর্য জ্ঞান করে বললো, এই ব্যক্তি শিক্ষা না নিয়ে কিভাবে জ্ঞানবান হয়ে উঠলো?
16 ঈসা তাদেরকে জবাবে বললেন, আমার উপদেশ আমার নয়, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর।
17 যদি কেউ তাঁর ইচ্ছা পালন করতে ইচ্ছা করে, তবে সে এই উপদেশের বিষয়ে জানতে পারবে যে, এই শিক্ষা আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে, নাকি আমি নিজের থেকে বলি।
18 যে নিজের থেকে বলে, সে নিজেরই গৌরব চেষ্টা করে; কিন্তু যিনি তাঁর প্রেরণকর্তার গৌরবের চেষ্টা করেন, তিনি সত্যবাদী, আর তাঁর মধ্যে কোন অধর্ম নেই।
19
মূসা তোমাদেরকে কি শরীয়ত দেন নি? তবুও তোমাদের মধ্যে কেউই সেই শরীয়ত পালন করে না। কেন আমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছো?
20 লোকেরা জবাবে বললো, তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছে?
21 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, আমি একটি কাজ করেছি, আর সেজন্য তোমরা সকলে আশ্চর্য বোধ করছো।
22 মূসা তোমাদেরকে খৎনার নিয়ম দিয়েছেন— তা যে মূসার কাছ থেকে এসেছে, এমন নয়, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে— এবং তোমরা বিশ্রামবারের মানুষের খৎনা করে থাক।
23 মূসার শরীয়তের যেন লঙ্ঘন না হয়, সেজন্য বিশ্রামবারে মানুষের খৎনা করানো যায়, তবে আমি বিশ্রামবারেও একটি মানুষকে সর্বাঙ্গীন সুস্থ করেছি বলে আমার উপরে রাগ করছো কেন?
24 বাইরের চেহারা দেখে বিচার করো না, কিন্তু ন্যায্যভাবে বিচার কর।
25
তখন জেরুশালেম-নিবাসীদের মধ্যে কয়েক জন বললো, এ কি সেই ব্যক্তি নয়, যাকে তাঁরা হত্যা করতে চেষ্টা করছেন?
26 আর দেখ, এ তো প্রকাশ্যরূপে কথা বলছে, আর তাঁরা একে কিছুই বলছেন না; নেতৃবর্গ কি বাস্তবিক জানেন যে, ইনি সেই মসীহ্?
27 যা হোক এ কোথা থেকে আসল, তা আমরা জানি; মসীহ্ যখন আসবেন, তখন তিনি কোথা থেকে আসবেন, তা কেউ জানবে না।
28 তখন ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দসে উপদেশ দিতে দিতে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, তোমরা তো আমাকে জান এবং আমি কোথা থেকে এসেছি তাও জান। আর আমি নিজের থেকে আসি নি; কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি সত্যময়; তোমরা তাঁকে জান না;
29 আমিই তাঁকে জানি, কেননা আমি তাঁর কাছ থেকে এসেছি, আর তিনিই আমাকে প্রেরণ করেছেন।
30 এজন্য লোকেরা তাঁকে ধরতে চেষ্টা করলো, তবুও কেউ তাঁর উপরে হস্তক্ষেপ করলো না, কারণ তখনও তাঁর সময় উপস্থিত হয় নি।
31 কিন্তু লোকদের মধ্যে অনেকে তাঁর উপর ঈমান আনলো, আর বললো, মসীহ্ যখন আসবেন তখন এঁর কাজের চেয়েও কি তিনি বেশি চিহ্ন-কাজ করবেন?
32
ফরীশীরা তাঁর বিষয়ে লোকদেরকে এসব কথা ফিস্ ফিস্ করে বলতে শুনল; আর প্রধান ইমামেরা ও ফরীশীরা তাঁকে ধরে আনবার জন্য কয়েক জন পদাতিককে পাঠিয়ে দিল।
33 তাতে ঈসা বললেন, আমি এখন অল্প কাল তোমাদের সঙ্গে আছি, তারপর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর কাছে যাচ্ছি।
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমাকে পাবে না; আর আমি যেখানে আছি, সেখানে তোমরা আসতে পার না।
35 তখন ইহুদীরা পরস্পর বলতে লাগল, এ কোথায় যাবে যে, আমরা একে খুঁজে পাব না? এ কি গ্রীকদের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদীদের কাছে যাবে ও গ্রীকদেরকে উপদেশ দেবে?
36 এ যে বললো, ‘আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমাকে পাবে না এবং আমি যেখানে আছি, সেখানে তোমরা আসতে পার না’, এই কথার অর্থ কি?
37
শেষ দিন, ঈদের প্রধান দিন, ঈসা দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, কেউ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, তবে আমার কাছে এসে পান করুক।
38 যে আমার উপর ঈমান আনে, পাক-কিতাব যেমন বলে, তার অন্তর থেকে জীবন্ত পানির নদী বইবে।
39 যারা তাঁর উপর ঈমান এনে যে রূহ্কে পাবে, তিনি সেই রূহের বিষয়ে এই কথা বললেন; কারণ তখনও রূহ্ দেওয়া হয় নি, কেননা তখনও ঈসা মহিমান্বিত হন নি।
40
সেসব কথা শুনে লোকদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, ইনি সত্যিই সেই নবী।
41 আর কেউ কেউ বললো, ইনি সেই মসীহ্। কিন্তু কেউ কেউ বললো, তা কেমন করে হবে? মসীহ্ কি গালীল থেকে আসবেন?
42 পাক-কিতাবে কি বলে নি, মসীহ্ দাউদের বংশ থেকে এবং দাউদ যেখানে ছিলেন, সেই বেথেলহেম গ্রাম থেকে আসবেন?
43 এইভাবে তাঁকে নিয়ে লোকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল।
44 আর তাদের কয়েক জন তাঁকে ধরতে চাচ্ছিল, তবুও কেউ তাঁর উপরে হস্তক্ষেপ করলো না।
45
তখন পদাতিকেরা প্রধান ইমামদের ও ফরীশীদের কাছে আসলো। এরা তাদেরকে বললো, তাকে আন নি কেন?
46 পদাতিকেরা জবাবে বললো, এই ব্যক্তি যেরকম কথা বলেন, কোন মানুষ কখনও এরকম কথা বলে নি।
47 ফরীশীরা তাদেরকে বললো, তোমরাও কি ভ্রান্ত হলে?
48 নেতাদের মধ্যে কিংবা ফরীশীদের মধ্যে কি কেউ ওর উপর ঈমান এনেছেন?
49 কিন্তু এই যে লোকেরা যারা শরীয়ত জানে না, এরা বদদোয়াগ্রস্ত।
50 তখন নীকদীম— তাদের মধ্যে এক জন, যিনি আগে তাঁর কাছে এসেছিলেন— তিনি তাদেরকে বললেন,
51 আগে কোন মানুষের কথা না শুনে ও সে কি করে তা না জেনে, আমাদের শরীয়ত কি কারো বিচার করতে বলে?
52 জবাবে তারা তাঁকে বললো, তুমিও কি গালীলের লোক? অনুসন্ধান করে দেখ, গালীল থেকে কোন নবীর উদয় হয় না।
1
পরে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেল, কিন্তু ঈসা জৈতুন পর্বতে গেলেন।
2 আর খুব ভোরে তিনি পুনর্বার বায়তুল-মোকাদ্দসে আসলে পর সমস্ত লোক তাঁর কাছে আসল; আর তিনি বসে তাঁদেরকে উপদেশ দিতে লাগলেন।
3 তখন আলেম ও ফরীশীরা একটি স্ত্রীলোককে তাঁর কাছে আনলো যে জেনা করতে গিয়ে ধরা পরেছিল। তাকে মধ্যস্থানে দাঁড় করিয়ে তাঁকে বললো,
4 হুজুর, এই স্ত্রীলোকটা জেনা করা অবস্থায় ধরা পড়েছে।
5 শরীয়তে মূসা এই রকম লোককে পাথর মারবার হুকুম আমাদেরকে দিয়েছেন, তবে আপনি কি বলেন?
6 তারা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য এই কথা বললো, যেন তাঁর নামে দোষারোপ করার সূত্র পেতে পারে। কিন্তু ঈসা হেঁট হয়ে আঙ্গুল দিয়ে ভূমিতে লিখতে লাগলেন।
7 পরে তারা যখন পুনঃ পুনঃ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল তিনি মাথা তুলে তাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোন গুনাহ্ করে নি, সে-ই প্রথমে একে পাথর মারুক।
8 পরে তিনি পুনর্বার হেঁট হয়ে আঙ্গুল দিয়ে ভূমিতে লিখতে লাগলেন।
9 তখন তারা এই কথা শুনে এবং নিজ নিজ বিবেক দ্বারা দোষীকৃত হয়ে, একে একে বাইরে গেল, প্রাচীন লোক থেকে আরম্ভ করে শেষ জন পর্যন্ত চলে গেল; তাতে কেবল ঈসা অবশিষ্ট থাকলেন, আর সেই স্ত্রীলোকটি মধ্যস্থানে দাঁড়িয়েছিল।
10 তখন ঈসা মাথা তুলে, স্ত্রীলোকটি ছাড়া আর কাউকেও দেখতে না পেয়ে, তাকে বললেন, হে নারী, যারা তোমার নামে অভিযোগ করেছিল, তারা কোথায়? কেউ কি তোমাকে দোষী করে নি?
11 সে বললো, না, হুজুর, কেউ করে নি। তখন ঈসা তাকে বললেন, আমিও তোমাকে দোষী করি না; যাও, এখন থেকে আর গুনাহ্ করো না।
12
আবার ঈসা লোকদের কাছে কথা বললেন, তিনি বললেন, আমি দুনিয়ার নূর; যে আমাকে অনুসরণ করে, সে কোন মতে অন্ধকারে চলবে না, কিন্তু জীবনের নূর পাবে।
13 তাতে ফরীশীরা তাঁকে বললো, তুমি তোমার নিজের বিষয়ে নিজে সাক্ষ্য দিচ্ছ; তোমার সাক্ষ্য সত্যি নয়।
14 জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, যদিও আমি আমার বিষয়ে নিজে সাক্ষ্য দিই, তবুও আমার সাক্ষ্য সত্যি; কারণ আমি কোথা থেকে এসেছি, কোথায়ই বা যাচ্ছি, তা জানি; কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি, আর কোথায়ই বা যাচ্ছি, তা তোমরা জান না।
15 মানুষ যেভাবে বিচার করে তোমরাও সেইভাবে বিচার করছো; আমি কারো বিচার করি না।
16 আর যদিও আমি বিচার করি, আমার বিচার সত্যি, কেননা আমি একা নই, কিন্তু আমি আছি এবং পিতা আছেন, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
17 আর তোমাদের শরীয়তেও লেখা আছে, দু’জনের সাক্ষ্য সত্যি।
18 আমি নিজে আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিই, আর পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
19 তখন তারা তাঁকে বললো, তোমার পিতা কোথায়? জবাবে ঈসা বললেন, তোমরা আমাকেও জান না, আমার পিতাকেও জান না; যদি আমাকে জানতে, আমার পিতাকেও জানতে।
20 এসব কথা তিনি বায়তুল-মোকাদ্দসে উপদেশ দেবার সময়ে ভাণ্ডার-গৃহে বললেন; এবং কেউ তাঁকে ধরলো না, কারণ তখনও তাঁর সময় উপস্থিত হয় নি।
21
পরে তিনি আবার তাদেরকে বললেন, আমি যাচ্ছি, আর তোমরা আমার খোঁজ করবে ও তোমাদের গুনাহে মারা যাবে; আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তোমরা আসতে পার না।
22 তখন ইহুদীরা বললো, এ কি আত্মঘাতী হবে? সেজন্য কি বলছে, আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তোমরা আসতে পার না?
23 তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা অধঃস্থানের, আমি ঊর্ধ্বস্থানের; তোমরা এই দুনিয়ার, আমি এই দুনিয়ার নই।
24 কেননা যদি বিশ্বাস না কর যে, আমিই তিনি, তবে তোমাদের গুনাহের মধ্যেই তোমরা মরবে।
25 তখন তারা বললো, তুমি কে? ঈসা তাদেরকে বললেন, তা-ই তো প্রথম থেকে তোমাদেরকে বলছি।
26 তোমাদের বিষয়ে বলবার ও বিচার করার অনেক কথা আছে; যা হোক, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি সত্য এবং আমি তাঁর কাছে যা যা শুনেছি, তা-ই দুনিয়াকে বলছি।
27 তিনি যে তাদেরকে পিতার বিষয়ে বলছিলেন, তা তারা বুঝতে পারল না।
28 তখন ঈসা বললেন, যখন তোমরা ইবনুল-ইনসানকে উঁচুতে তুলবে, তখন জানবে যে, আমিই তিনি, আর আমি নিজের থেকে কিছু করি না, কিন্তু পিতা যেমন আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সেই অনুসারে এসব কথা বলি।
29 আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সঙ্গে সঙ্গে আছেন; তিনি আমাকে একা ছেড়ে দেন নি, কেননা আমি সব সময় তাঁর সন্তোষজনক কাজ করি।
30
তিনি এসব কথা বললে পর অনেকে তাঁর উপর ঈমান আনলো।
31
অতএব যে ইহুদীরা তাঁর উপর ঈমান আনলো, তাদেরকে ঈসা বললেন, তোমরা যদি আমার কথায় স্থির থাক, তা হলে সত্যিই তোমরা আমার সাহাবী;
32 আর তোমরা সেই সত্য জানবে এবং সেই সত্য তোমাদেরকে স্বাধীন করবে।
33 তারা তাঁকে জবাবে বললো, আমরা ইব্রাহিমের বংশ, কখনও কারো গোলাম হই নি; আপনি কেমন করে বলছেন যে, তোমাদেরকে স্বাধীন করা যাবে?
34
ঈসা জবাবে তাদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ গুনাহ্ করে, সে গুনাহ্র গোলাম।
35 আর গোলাম বাড়িতে চিরকাল থাকে না, পুত্র চিরকাল থাকেন।
36 অতএব পুত্র যদি তোমাদেরকে স্বাধীন করেন, তবে তোমরা প্রকৃতভাবে স্বাধীন হবে।
37 আমি জানি, তোমরা ইব্রাহিমের বংশ; কিন্তু আমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছো, কারণ আমার কালাম তোমাদের অন্তরে স্থান পায় না।
38 আমার পিতার কাছে আমি যা যা দেখেছি, তা-ই বলছি; আর তোমাদের পিতার কাছে তোমরা যা যা শুনেছ, তা-ই করছো।
39
তারা জবাবে তাকে বললো, আমাদের পিতা ইব্রাহিম। ঈসা তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি ইব্রাহিমের সন্তান হতে, তবে ইব্রাহিমের মতই কাজ করতে।
40 কিন্তু আল্লাহ্র কাছে সত্য শুনে তোমাদেরকে জানিয়েছি যে আমি, আমাকেই হত্যা করতে চেষ্টা করছো; ইব্রাহিম এরকম করেন নি।
41 তোমাদের পিতার কাজ তোমরা করছো। তারা তাঁকে বললো, আমরা জারজ সন্তান নই; আমাদের একমাত্র পিতা আছেন, তিনি আল্লাহ্।
42 ঈসা তাদেরকে বললেন, আল্লাহ্ যদি তোমাদের পিতা হতেন, তবে তোমরা আমাকে মহব্বত করতে, কেননা আমি আল্লাহ্ থেকে বের হয়ে এসেছি; আমি তো নিজের থেকে আসি নি, কিন্তু তিনিই আমাকে প্রেরণ করেছেন।
43 তোমরা কেন আমার কথা বোঝ না? কারণ এই যে, তোমরা আমার কালাম গ্রহণ করতে পার না।
44 তোমরা তোমাদের পিতা শয়তানের এবং তোমাদের পিতার অভিলাষগুলো পালন করাই তোমাদের ইচ্ছা; সে আদি থেকেই নরহন্তা, কখনও সত্যে বাস করে নি, কারণ তার মধ্যে সত্য নেই। সে যখন মিথ্যা বলে, তখন নিজ থেকেই বলে, কেননা সে মিথ্যাবাদী ও মিথ্যার পিতা।
45 কিন্তু আমি সত্য বলি, তাই তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না।
46 তোমাদের মধ্যে কে আমাকে গুনাহ্গার বলে প্রমাণ করতে পারে? যদি আমি সত্যি বলি, তবে তোমরা কেন আমার উপর ঈমান আন না?
47 যে কেউ আল্লাহ্র, সে আল্লাহ্র কথাগুলো শুনে; এজন্যই তোমরা শোন না, কারণ তোমরা আল্লাহ্র নও।
48
ইহুদীরা জবাবে তাঁকে বললো, আমরা কি ঠিকই বলি না যে, তুমি এক জন সামেরীয় ও তোমাকে বদ-রূহে পেয়েছে?
49 জবাবে ঈসা বললেন, আমাকে বদ-রূহে পায় নি, কিন্তু আমি আমার পিতাকে সমাদর করি, আর তোমরা আমাকে অসম্মান কর।
50 কিন্তু আমি আমার গৌরবের খোঁজ করি না; এক জন আছেন, যিনি খোঁজ করেন ও বিচার করেন।
51 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, কেউ যদি আমার কথা পালন করে, সে কখনও মৃত্যু দেখবে না।
52 ইহুদীরা তাঁকে বললো, এখন জানলাম, তোমাকে বদ-রূহে পেয়েছে; ইব্রাহিম ও নবীরা ইন্তেকাল করেছেন; আর তুমি বলছো, কেউ যদি আমার কথা পালন করে, সে কখনও মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না।
53 তুমি কি আমাদের পূর্বপুরুষ ইব্রাহিমের চেয়ে বড়? তিনি তো ইন্তেকাল করেছেন এবং নবীরাও ইন্তেকাল করেছেন; তুমি নিজের বিষয়ে কি বল?
54 জবাবে ঈসা বললেন, আমি যদি নিজেকে গৌরবান্বিত করি, তবে আমার গৌরব কিছুই নয়; আমার পিতাই আমাকে গৌরবান্বিত করছেন, যাঁর বিষয়ে তোমরা বলে থাক যে, তিনি তোমাদের আল্লাহ্;
55 আর তোমরা তাঁকে জান নি; কিন্তু আমি তাঁকে জানি; আর আমি যদি বলি যে, তাঁকে জানি না, তবে তোমাদেরই মত মিথ্যাবাদী হব; কিন্তু আমি তাঁকে জানি এবং তাঁর কালাম পালন করি।
56 তোমাদের পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম আমার দিন দেখবার আশায় উল্লসিত হয়েছিলেন এবং তিনি তা দেখলেন ও আনন্দ করলেন।
57 তখন ইহুদীরা তাঁকে বললো, তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয় নি, তুমি কি ইব্রাহিমকে দেখেছ?
58 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, ইব্রাহিমের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি।
59 তখন তারা তাঁর উপর ছুড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল, কিন্তু ঈসা নিজেকে গোপন করে বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বের হয়ে গেলেন।
1
আর তিনি যেতে যেতে একটি লোককে দেখতে পেলেন, সে জন্ম থেকে অন্ধ।
2 তাঁর সাহাবীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রব্বি, কে গুনাহ্ করেছিল, এই ব্যক্তি, না এর পিতা-মাতা, যাতে এই লোকটি অন্ধ হয়ে জন্মেছে?
3 জবাবে ঈসা বললেন, গুনাহ্ এ করেছে, কিংবা এর পিতা-মাতা করেছে, তা নয়; কিন্তু এই ব্যক্তিতে আল্লাহ্র কাজ যেন প্রকাশিত হয়, তাই এমন হয়েছে।
4 যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন দিন থাকতে থাকতে তাঁর কাজ আমাদেরকে করতে হবে; রাত আসছে, তখন কেউ কাজ করতে পারে না।
5 আমি যতদিন দুনিয়াতে আছি, আমিই দুনিয়ার নূর।
6 এই কথা বলে তিনি ভূমিতে থুথু ফেলে তা দিয়ে কাদা করলেন; পরে ঐ ব্যক্তির চোখে সেই কাদা লেপন করলেন ও তাকে বললেন,
7 শীলোহ সরোবরে যাও, ধুয়ে ফেল; অনুবাদ করলে এই নামের অর্থ ‘প্রেরিত’। তখন সে গিয়ে ধুয়ে ফেললো এবং দেখতে পেয়ে ফিরে আসল।
8
তখন প্রতিবেশীরা এবং যারা আগে তাকে দেখেছিল যে, সে ভিক্ষা করতো, তারা বলতে লাগল, এ কি সে নয়, যে বসে ভিক্ষা চাইত?
9 কেউ কেউ বললো, না, কিন্তু তারই মত; সে বললো, আমিই সে।
10 তখন তারা তাকে বললো, তবে কিভাবে তোমার চোখ খুলে গেল?
11 সে জবাবে বললো, ঈসা নামে সেই ব্যক্তি কাদা করে আমার চোখে লেপন করলেন, আর আমাকে বললেন, শীলোহে যাও, ধুয়ে ফেল; তাতে আমি গিয়ে ধুয়ে ফেললে দৃষ্টি পেলাম।
12 তারা তাকে বললো, সেই ব্যক্তি কোথায়? সে জবাবে বললো, তা জানি না।
13
আগে যে অন্ধ ছিল, তাকে তারা ফরীশীদের কাছ নিয়ে গেল।
14 যেদিন ঈসা কাদা করে তার চোখ খুলে দেন, সেদিন ছিল বিশ্রামবার।
15 এজন্য আবার ফরীশীরাও তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, কিভাবে দৃষ্টি পেলে? সে তাদেরকে বললো, তিনি আমার চোখের উপরে কাদা দিলেন, পরে আমি ধুয়ে ফেললাম, আর দেখতে পাচ্ছি।
16 তখন কয়েক জন ফরীশী বললো, সেই ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছ থেকে আসে নি, কেননা সে বিশ্রামবার পালন করে না। আর কেউ কেউ বললো, যে ব্যক্তি গুনাহ্গার, সে কিভাবে এমন সব চিহ্ন-কাজ করতে পারে? এভাবে তাদের মধ্যে মতভেদ হল।
17 পরে তারা পুনরায় সেই অন্ধকে বললো, তুমি তার বিষয়ে কি বল? কারণ সে তোমারই চোখ খুলে দিয়েছে। সে বললো, তিনি একজন নবী।
18
ইহুদীরা তার বিষয়ে বিশ্বাস করলো না যে, সে অন্ধ ছিল, আর দৃষ্টি পেয়েছে, এজন্য তারা ঐ দৃষ্টি পাওয়া লোকটির পিতা— মাতাকে ডেকে এনে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো,
19 এ কি তোমাদের পুত্র, যার বিষয়ে তোমরা বলে থাক, এ অন্ধ হয়েই জন্মেছিল? তবে এখন কিভাবে দেখতে পাচ্ছে?
20 তার পিতা-মাতা জবাবে বললো, আমরা জানি, এ আমাদেরই পুত্র এবং অন্ধ হয়েই জন্মেছিল,
21 কিন্তু এখন কিভাবে দেখতে পাচ্ছে, তা জানি না এবং কেই বা এর চোখ খুলে দিয়েছে তাও আমরা জানি না; একেই জিজ্ঞাসা করুন, এর বয়স হয়েছে, নিজের কথা নিজেই বলবে।
22 তার পিতা-মাতা ইহুদীদেরকে ভয় করতো, সেজন্য এই কথা বললো; কেননা ইহুদীরা আগেই স্থির করেছিল, কেউ যদি তাঁকে মসীহ্ বলে স্বীকার করে, তা হলে সে সমাজচ্যুত হবে;
23 সেই জন্যই তার পিতা-মাতা বললো, এর বয়স হয়েছে, একেই জিজ্ঞাসা করুন।
24
অতএব যে অন্ধ ছিল, তারা দ্বিতীয়বার তাকে ডেকে বললো, আল্লাহ্র গৌরব স্বীকার কর; আমরা জানি যে, সেই ব্যক্তি গুনাহ্গার।
25 সে জবাবে বললো, তিনি গুনাহ্গার কি না, তা জানি না; একটি বিষয় জানি, আমি অন্ধ ছিলাম, এখন দেখতে পাচ্ছি।
26 তারা তাকে বললো, সে তোমার প্রতি কি করেছিল? কিভাবে তোমার চোখ খুলে দিল?
27 সে জবাবে বললো, একবার আপনাদেরকে বলেছি, আপনারা শোনেন নি; তবে আবার শুনতে চান কেন? আপনারাও কি তাঁর সাহাবী হতে চান?
28 তখন তারা তাকে গালি দিয়ে বললো, তুই সেই ব্যক্তির সাহাবী; আমরা মূসার সাহাবী।
29 আমরা জানি আল্লাহ্ মূসার সঙ্গে কথা বলেছিলেন; কিন্তু এ কোথা থেকে আসল, তা জানি না।
30 সেই ব্যক্তি জবাবে তাদেরকে বললো, এর মধ্যে তো আশ্চর্য এই যে, তিনি কোথা থেকে আসলেন, তা আপনারা জানেন না, তবুও তিনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন।
31 আমরা জানি, আল্লাহ্ গুনাহ্গারদের কথা শুনেন না, কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহ্-ভক্ত হয়, আর তাঁর ইচ্ছা পালন করে, তিনি তারই কথা শুনেন।
32 জগতের আদি থেকে এমন কথা কখনও শোনা যায় নি যে, কেউ জন্মান্ধের চোখ খুলে দিয়েছে।
33 তিনি যদি আল্লাহ্ থেকে না আসতেন, তবে কিছুই করতে পারতেন না।
34 তারা জবাবে তাকে বললো, তুই একেবারে গুনাহ্তেই জন্মেছিস, আর তুই আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছিস্? পরে তারা তাকে বের করে দিল।
35
ঈসা শুনলেন যে, তারা তাকে বের করে দিয়েছে; আর তিনি তার দেখা পেয়ে বললেন, তুমি কি ইবনুল-ইনসানের উপর ঈমান এনেছো?
36 সে জবাবে বললো, প্রভু, তিনি কে? আমি যেন তাঁর উপর ঈমান আনতে পারি।
37 ঈসা তাকে বললেন, তুমি তাঁকে দেখেছ; আর তিনিই তোমার সঙ্গে কথা বলছেন।
38 সে বললো, ঈমান আনছি, প্রভু, আর সে তাঁকে সেজ্দা করলো।
39
তখন ঈসা বললেন, বিচারের জন্য আমি এই দুনিয়াতে এসেছি, যেন যারা দেখে না, তারা দেখতে পায় এবং যারা দেখে, তারা যেন অন্ধ হয়।
40 ফরীশীদের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিল, তারা এসব কথা শুনল, আর তাঁকে বললো, আমরাও কি অন্ধ না কি?
41 ঈসা তাদেরকে বললেন, যদি অন্ধ হতে তবে তোমাদের গুনাহ্ থাকতো না; কিন্তু এখন তোমরা বলে থাক, আমরা দেখছি, তাই তোমাদের গুনাহ্ রয়েছে।
1
সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ দ্বার দিয়ে মেষদের খোঁয়াড়ে প্রবেশ না করে, কিন্তু আর কোন দিক দিয়ে প্রবেশ করে, সে চোর ও দস্যু।
2 কিন্তু যে দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে, সে মেষদের পালক।
3 তাকেই দারোয়ান দ্বার খুলে দেয় এবং মেষেরা তার গলার আওয়াজ শুনে; আর সে নাম ধরে তার নিজের মেষগুলোকে ডাকে ও বাইরে নিয়ে যায়।
4 যখন সে নিজের মেষগুলোকে বের করে, তখন তাদের আগে আগে গমন করে; আর মেষেরা তার পিছনে পিছনে চলে, কারণ তারা তার কণ্ঠস্বর জানে।
5 কিন্তু তারা কোন মতে অপর লোকের পিছনে যাবে না, বরং তার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে; কারণ অপর লোকদের গলার আওয়াজ তারা চেনে না।
6 এই দৃষ্টান্তটি ঈসা তাদেরকে বললেন, কিন্তু তিনি তাদেরকে যে কি বললেন, তা তারা বুঝলো না।
7
অতএব ঈসা পুনর্বার তাদেরকে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, আমিই মেষদের দ্বার।
8 যারা আমার আগে এসেছিল, তারা সকলে চোর ও দস্যু, কিন্তু মেষেরা তাদের কথা শুনে নি।
9 আমিই দ্বার, আমার মধ্য দিয়ে যদি কেউ প্রবেশ করে, সে নাজাত পাবে এবং ভিতরে আসবে ও বাইরে যাবে ও চরানি পাবে।
10 চোর আসে, কেবল যেন চুরি, খুন ও বিনাশ করতে পারে; আমি এসেছি, যেন তারা জীবন পায় ও জীবনের উপচয় পায়।
11
আমিই উত্তম মেষপালক; উত্তম মেষপালক মেষদের জন্য আপন প্রাণ সমর্পণ করে।
12 যে বেতনজীবী, মেষপালক নয়, মেষগুলো যার নিজের নয়, সে নেকড়ে বাঘ আসতে দেখলে মেষগুলো ফেলে পালিয়ে যায়; তাতে নেকড়ে বাঘ মেষগুলোকে ধরে নিয়ে যায় ও তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে;
13 সে পালিয়ে যায়, কারণ সে বেতনজীবী, মেষগুলোর জন্য চিন্তা করে না।
14 আমিই উত্তম মেষপালক; আমার নিজের সকলকে আমি জানি এবং আমার নিজের সকলে আমাকে জানে,
15 যেমন পিতা আমাকে জনেন ও আমি পিতাকে জানি; এবং মেষদের জন্য আমি আপন প্রাণ সমর্পণ করি।
16 আমার আরও মেষ আছে, সেসব এই খোঁয়াড়ের নয়; তাদেরকেও আমার আনতে হবে এবং তারা আমার কণ্ঠস্বর শুনবে, তাতে এক পাল ও এক পালক হবে।
17 পিতা আমাকে এজন্য মহব্বত করেন, কারণ আমি আপন প্রাণ সমর্পণ করি, যেন পুনরায় তা গ্রহণ করি।
18 কেউ আমার কাছ থেকে তা হরণ করে না, বরং আমি নিজে থেকেই তা সমর্পণ করি। তা সমর্পণ করতে আমার ক্ষমতা আছে এবং পুনরায় তা গ্রহণ করতেও আমার ক্ষমতা আছে; এই হুকুম আমি আমার পিতার কাছ থেকে পেয়েছি।
19
এসব কথার জন্য ইহুদীদের মধ্যে পুনরায় মতভেদ দেখা দিল।
20 তাদের মধ্যে অনেকে বললো, একে বদ-রূহে পেয়েছে ও সে পাগল, এর কথা কেন শুনছো?
21 অন্যেরা বললো, এসব তো বদ-রূহে পাওয়া লোকের কথা নয়; বদ-রূহ্ কি অন্ধদের চোখ খুলে দিতে পারে?
22
সেই সময়ে জেরুশালেমে এবাদতখানা-প্রতিষ্ঠার ঈদ উপস্থিত হল;
23 তখন শীতকাল আর ঈসা বায়তুল-মোকাদ্দসে সোলায়মানের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
24 তাতে ইহুদীরা তাঁকে ঘিরে বলতে লাগল, আর কত কাল আমাদের সন্দেহের মধ্যে রাখবে? তুমি যদি মসীহ্ হও তবে স্পষ্ট করে আমাদেরকে বল।
25 ঈসা জবাবে বললেন, আমি তোমাদেরকে বলেছি, তবুও তোমরা বিশ্বাস কর না। আমি যেসব কাজ আমার পিতার নামে করছি, সেসব আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
26 কিন্তু তোমরা বিশ্বাস কর না, কারণ তোমরা আমার মেষদের মধ্যে নও।
27 আমার মেষেরা আমার কণ্ঠস্বর শোনে, আর আমি তাদেরকে জানি এবং তারা আমার পিছনে পিছনে চলে;
28 আর আমি তাদেরকে অনন্ত জীবন দিই, তারা কখনই বিনষ্ট হবে না এবং কেউই আমার হাত থেকে তাদেরকে কেড়ে নেবে না।
29 আমার পিতা, যিনি তাদের আমাকে দিয়েছেন, তিনি সবচেয়ে মহান; এবং কেউই পিতার হাত থেকে কিছুই কেড়ে নিতে পারে না।
30 আমি ও পিতা, আমরা এক।
31
ইহুদীরা আবার তাঁকে মারবার জন্য পাথর তুললো।
32 ঈসা তাদেরকে জবাবে বললেন, পিতা থেকে তোমাদেরকে অনেক উত্তম কাজ দেখিয়েছি, তার কোন্ কাজের জন্য আমাকে পাথর মারতে চাও?
33 ইহুদীরা তাঁকে এই জবাব দিল, উত্তম কাজের জন্য তোমাকে পাথর মারতে চাই না, কিন্তু কুফরী করার জন্য পাথর মারি, কারণ তুমি মানুষ হয়ে নিজেকে আল্লাহ্ বলে দাবী করছো।
34 ঈসা তাদেরকে জবাবে বললেন, তোমাদের শরীয়তে কি লেখা নেই, “আমি বললাম, তোমরা আল্লাহ্”?
35 যাদের কাছে আল্লাহ্র কালাম উপস্থিত হয়েছিল, তিনি যদি তাদেরকে আল্লাহ্ বলেন— আর
36 পাক-কিতাবের কথা তো খণ্ডন হতে পারে না— তবে যাঁকে পিতা পবিত্র করলেন ও দুনিয়াতে প্রেরণ করলেন, তোমরা কি তাঁকে বল যে, তুমি কুফরী করছো, কেননা আমি বললাম যে, আমি ইবনুল্লাহ্?
37 আমার পিতার কাজ যদি না করি, তবে আমাকে বিশ্বাস করো না।
38 কিন্তু যদি করি, আমাকে বিশ্বাস না করলেও, সেই কাজে বিশ্বাস কর; যেন তোমরা জানতে পার ও বুঝতে পার যে, পিতা আমার মধ্যে আছেন এবং আমি পিতার মধ্যে আছি।
39 তারা আবার তাঁকে ধরতে চেষ্টা করলো, কিন্তু তিনি তাদের হাত এড়িয়ে বের হয়ে গেলেন।
40
পরে তিনি আবার জর্ডান নদীর অন্য পারে, যেখানে ইয়াহিয়া প্রথমে বাপ্তিস্ম দিতেন, সেই স্থানে গেলেন; আর সেখানে থাকতে লাগলেন।
41 তাতে অনেকে তাঁর কাছে আসল এবং বললো, ইয়াহিয়া কোন চিহ্ন-কাজ করেন নি, কিন্তু এই ব্যক্তির বিষয়ে ইয়াহিয়া যেসব কথা বলেছিলেন, সে সবই সত্যি।
42 আর সেখানে অনেকে তাঁর উপর ঈমান আনলো।
1
বৈথনিয়ায় এক ব্যক্তি অসুস্থ ছিলেন, তাঁর নাম লাসার; তিনি মরিয়ম ও তাঁর বোন মার্থার গ্রামের লোক।
2 ইনি সেই মরিয়ম, যিনি প্রভুকে সুগন্ধি তেল মাখিয়ে দেন এবং তার চুল দিয়ে তাঁর পা মুছিয়ে দিয়েছিলেন; তাঁরই ভাই লাসার অসুস্থ ছিলেন।
3 অতএব বোনেরা তাঁকে বলে পাঠালেন, প্রভু, দেখুন, আপনি যাকে মহব্বত করেন তাঁর অসুখ হয়েছে।
4 ঈসা শুনে বললেন, এই অসুস্থতা মৃত্যুর জন্য হয় নি; কিন্তু আল্লাহ্র মহিমার জন্য হয়েছে, যেন আল্লাহ্র পুত্র এর দ্বারা মহিমান্বিত হন।
5 ঈসা মার্থাকে ও তাঁর বোনকে এবং লাসারকে মহব্বত করতেন।
6 যখন তিনি শুনলেন যে, তাঁর অসুখ হয়েছে, তখন যে স্থানে ছিলেন, সেই স্থানে আরও দুই দিন রইলেন।
7
এর পরে তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, এসো, আমরা আবার এহুদিয়াতে যাই।
8 সাহাবীরা তাঁকে বললেন, রব্বি, এই তো ইহুদীরা আপনাকে পাথর মারবার চেষ্টা করছিল, তবু আপনি আবার সেখানে যাচ্ছেন?
9 জবাবে ঈসা বললেন, দিনে কি বারো ঘণ্টা নেই? যদি কেউ দিনে চলে, সে হোঁচট খায় না, কেননা সে এই দুনিয়ার আলো দেখে।
10 কিন্তু যদি কেউ রাতে চলে, সে হোঁচট খায়, কেননা আলো তার মধ্যে নেই।
11
তিনি এই কথা বললেন, আর এর পরে তাঁদেরকে বললেন, আমাদের বন্ধু লাসার ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু আমি ঘুম থেকে তাকে জাগাতে যাচ্ছি।
12 তখন সাহাবীরা তাঁকে বললেন, প্রভু, সে যদি ঘুমিয়েই থাকে তবে রক্ষা পাবে।
13 ঈসা তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে বলেছিলেন, কিন্তু তাঁরা মনে করলেন যে, তিনি নিদ্রাজনিত বিশ্রামের কথা বলছেন।
14 অতএব ঈসা তখন স্পষ্টভাবে তাঁদেরকে বললেন, লাসার ইন্তেকাল করেছে;
15 আর তোমাদের জন্য আনন্দ করছি যে, আমি সেখানে ছিলাম না, যেন তোমরা বিশ্বাস কর; তবুও চল, আমরা তার কাছে যাই।
16 তখন থোমা যাঁকে দিদুমঃ [যমজ] বলে, তিনি সঙ্গী-সাহাবীদেরকে বললেন, চল, আমরাও যাই, যেন তাঁর সঙ্গে গিয়ে মরতে পারি।
17
ঈসা এসে শুনতে পেলেন যে, ইতিমধ্যেই লাসার চার দিন কবরে আছেন।
18 বৈথনিয়া জেরুশালেমের থেকে বেশি দূরে নয়, কমবেশ এক মাইল দূর;
19 আর ইহুদীদের অনেকে মার্থা ও মরিয়মের কাছে এসেছিল, যেন তাঁদের ভাইয়ের বিষয়ে তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিতে পারে।
20 যখন মার্থা শুনলেন, ঈসা আসছেন, তিনি গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, কিন্তু মরিয়ম বাড়িতে বসে রইলেন।
21 মার্থা ঈসাকে বললেন, প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন, আমার ভাই মারা যেত না।
22 আর এখনও আমি জানি, আপনি আল্লাহ্র কাছে যা কিছু যাচ্ঞা করবেন, তা আল্লাহ্ আপনাকে দেবেন।
23 ঈসা তাকে বললেন, তোমার ভাই আবার উঠবে।
24 মার্থা তাঁকে বললেন, আমি জানি শেষ দিনে, পুনরুত্থান দিনে, সে আবার উঠবে।
25 ঈসা তাঁকে বললেন, আমিই পুনরুত্থান ও জীবন; যে আমার উপর ঈমান আনে, সে মরলেও জীবিত থাকবে;
26 আর যে কেউ জীবিত আছে এবং আমার উপর ঈমান আনে, সে কখনও মরবে না; এই কথা কি বিশ্বাস কর?
27 তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রভু, আমি বিশ্বাস করেছি যে, দুনিয়াতে যাঁর আগমন হবে, আপনি সেই মসীহ্, আল্লাহ্র পুত্র।
28
এই কথা বলে মার্থা চলে গেলেন, আর তাঁর বোন মরিয়মকে গোপনে ডেকে বললেন, হুজুর উপস্থিত, তোমাকে ডাকছেন।
29 তিনি এই কথা শুনে শীঘ্র উঠে তাঁর কাছে গেলেন।
30 ঈসা তখনও গ্রামের মধ্যে প্রবেশ করেন নি; যেখানে মার্থা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, সেই স্থানেই ছিলেন।
31 তখন যে ইহুদীরা মরিয়মের সঙ্গে বাড়ির মধ্যে ছিল ও তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল তারা তাঁকে শীঘ্র উঠে বাইরে যেতে দেখে তাঁর পিছনে পিছনে চললো, মনে করলো, তিনি কবরের কাছে কাঁদতে যাচ্ছেন।
32 ঈসা যেখানে ছিলেন, মরিয়ম যখন সেখানে আসলেন, তখন তাঁকে দেখে তাঁর পায়ে পড়ে বললেন, প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন, আমার ভাই মারা যেত না।
33 ঈসা যখন দেখলেন, তিনি কাঁদছেন ও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যে ইহুদীরা এসেছিল তাঁরাও কাঁদছে, তখন তিনি রূহে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন ও খুব অস্থির হলেন। ঈসা বললেন, তাকে কোথায় দাফন করেছ?
34 তাঁরা বললো, প্রভু, এসে দেখুন।
35 ঈসা কাঁদলেন।
36 তাঁতে ইহুদীরা বললো, দেখ, ইনি তাঁকে কেমন মহব্বত করতেন।
37 কিন্তু তাদের কেউ কেউ বললো, এই যে ব্যক্তি অন্ধের চোখ খুলে দিয়েছেন, ইনি কি ওর মৃত্যুও নিবারণ করতে পারতেন না?
38
তাতে ঈসা পুনর্বার অন্তরে উত্তেজিত হয়ে কবরের কাছে আসলেন। সেই কবর একটা গহ্বর এবং তার উপরে একখানি পাথর ছিল।
39 ঈসা বললেন, তোমরা পাথর-খানি সরিয়ে ফেল। মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা তাঁকে বললেন, প্রভু, এখন ওতে দুর্গন্ধ হয়েছে, কেননা আজ চার দিন।
40 ঈসা তাঁকে বললেন, আমি কি তোমাকে বলি নি যে, যদি বিশ্বাস কর তবে আল্লাহ্র মহিমা দেখতে পাবে? তখন তারা পাথরখানি সরিয়ে ফেললো।
41 পরে ঈসা উপরের দিকে চোখ তুলে বললেন, পিতা, আমি তোমার শুকরিয়া করি যে, তুমি আমার কথা শুনেছ।
42 আর আমি জানতাম, তুমি সব সময় আমার কথা শুনে থাক; কিন্তু এই যেসব লোক চারদিকে দাঁড়িয়ে আছে, এদের জন্য এই কথা বললাম, যেন এরা বিশ্বাস করে যে, তুমিই আমাকে প্রেরণ করেছ।
43 এই কথা বলে তিনি উচ্চরবে ডেকে বললেন, লাসার, বাইরে এসো।
44 তাতে সেই মৃত ব্যক্তি বের হয়ে আসলেন; তাঁর পা ও হাত কবরের কাপড়ে বাঁধা ছিল এবং মুখ কাপড়ে বাঁধা ছিল। ঈসা তাঁদেরকে বললেন, একে খুলে দাও ও যেতে দাও।
45
তখন ইহুদীদের অনেকে যারা মরিয়মের কাছে এসেছিল এবং ঈসার এই সব কাজ দেখে তারা তাঁর উপর ঈমান আনলো।
46 কিন্তু তাদের কেউ কেউ ফরীশীদের কাছে গেল এবং ঈসা যা যা করেছিলেন, তাদেরকে বললো।
47 অতএব প্রধান ইমামেরা ও ফরীশীরা সভা করে বলতে লাগল, আমরা কি করি? এই ব্যক্তি তো অনেক চিহ্ন-কাজ করছে।
48 আমরা যদি একে এরকম চলতে দিই, তবে সকলে এর উপর ঈমান আনবে; আর রোমীয়েরা এসে আমাদের স্থান ও জাতি উভয় কেড়ে নেবে।
49 কিন্তু তাদের মধ্যে এক জন, কাইয়াফা, সেই বছরের মহা-ইমাম, তাদেরকে বললেন, তোমরা কিছুই বোঝ না!
50 তোমরা বিবেচনাও কর না যে, তোমাদের পক্ষে এটি ভাল, যেন লোকদের জন্য এক ব্যক্তি মরে, আর সমস্ত জাতি বিনষ্ট না হয়।
51 এই কথা যে তিনি নিজের থেকে বললেন, তা নয়, কিন্তু সেই বছরের মহা-ইমাম হওয়াতে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী বললেন যে, সেই জাতির জন্য ঈসা মরবেন।
52 আর কেবল সেই জাতির জন্য নয়, কিন্তু আল্লাহ্র যেসব সন্তান চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সেই সকলকে একত্র করার জন্যও মরবেন।
53 অতএব সেদিন থেকে তারা তাঁকে হত্যা করার পরামর্শ করতে লাগল।
54
তাতে ঈসা আর প্রকাশ্যরূপে ইহুদীদের মধ্যে যাতায়াত করলেন না, কিন্তু সেখান থেকে মরুভূমির নিকটবর্তী জনপদে আফরাহীম নামক নগরে গেলেন, আর সেখানে সাহাবীদের সঙ্গে অবস্থিতি করলেন।
55
তখন ইহুদীদের ঈদুল ফেসাখ সন্নিকট ছিল এবং অনেক লোক নিজেদের পাক-পবিত্র করার জন্য ঈদুল ফেসাখের আগে জনপদ থেকে জেরুশালেমে গেল।
56 তারা ঈসার খোঁজ করতে লাগল এবং বায়তুল-মোকাদ্দসে দাঁড়িয়ে পরস্পর বললো, তোমাদের কেমন মনে হয়? তিনি কি ঈদে আসবেন না?
57 আর প্রধান ইমামেরা ও ফরীশীরা হুকুম করেছিল যে, তিনি কোথায় আছেন, তা যদি কেউ জানে তবে দেখিয়ে দিক; যেন তারা তাঁকে ধরতে পারে।
1
পরে ঈদুল ফেসাখের ছয় দিন আগে ঈসা বৈথনিয়াতে আসলেন; সেখানে সেই লাসার ছিলেন, যাঁকে ঈসা মৃতদের মধ্যে থেকে উঠিয়েছিলেন।
2 তাতে সেই স্থানে তাঁর জন্য ভোজ প্রস্তুত করা হল ও মার্থা পরিচর্যা করলেন এবং যারা তাঁর সঙ্গে ভোজনে বসেছিল, লাসার তাদের মধ্যে এক জন ছিলেন।
3 তখন মরিয়ম আধা সের বহুমূল্য জটামাংসীর আতর এনে ঈসার পায়ে মাখিয়ে দিলেন এবং নিজের চুল দিয়ে তাঁর পা মুছে দিলেন; তাতে আতরের সুগন্ধে বাড়ি পরিপূর্ণ হল।
4 কিন্তু তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক জন, যে তাঁকে দুশমনদের হাতে তুলে দেবে, সেই ঈষ্করিয়োতীয় এহুদা বললো,
5 এই আতর তিন শত সিকিতে বিক্রি করে কেন দরিদ্রদেরকে দেওয়া গেল না?
6 সে যে দরিদ্র লোকদের জন্য চিন্তা করতো বলে এই কথা বললো, তা নয়; কিন্তু কারণ এই, সে ছিল চোর, আর তার কাছে টাকার থলি থাকাতে তার মধ্যে যা রাখা হত, তা থেকে চুরি করতো।
7 তখন ঈসা বললেন, ওকে ছাড়; আমার সমাধি-দিনের জন্য একে সেটি রাখতে দাও।
8 কেননা তোমাদের কাছে দরিদ্রেরা সব সময়ই আছে, কিন্তু আমাকে সব সময় পাচ্ছ না।
9
ইহুদীদের সাধারণ লোকেরা জানতে পারল যে, তিনি সেই স্থানে আছেন; আর তারা কেবল ঈসার জন্য আসল, তা নয়, কিন্তু যে লাসারকে তিনি মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছিলেন, তাঁকেও দেখতে আসল।
10 কিন্তু প্রধান ইমামেরা পরামর্শ করলো, যেন লাসারকেও হত্যা করতে পারে;
11 কেননা তাঁরই জন্য ইহুদীদের মধ্যে অনেকে গিয়ে ঈসার উপর ঈমান আনতে লাগল।
12
পরদিন ঈদে আগত বিস্তর লোক ঈসা জেরুশালেমে আসছেন শুনতে পেয়ে,
13 খেজুর পাতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হল, আর চিৎকার করে বলতে লাগল,
হোশান্না;
ধন্য তিনি যিনি প্রভুর নামে আসছেন,
যিনি ইসরাইলের বাদশাহ্।
14
তখন ঈসা একটি গাধার বাচ্চা পেয়ে তার উপরে বসলেন, যেমন লেখা আছে,
15
“অয়ি সিয়োন কন্যে, ভয় করো না,
দেখ, তোমার বাদশাহ্ আসছেন,
গাধার শাবকে চড়ে আসছেন।”
16
তাঁর সাহাবীরা প্রথমে এ সব বুঝলেন না, কিন্তু ঈসা যখন মহিমান্বিত হলেন, তখন তাঁদের স্মরণ হল যে, তাঁর বিষয়ে এসব লেখা ছিল, আর লোকেরা তাঁর প্রতি এসব করেছে।
17 তিনি যখন লাসারকে কবর থেকে বের হয়ে আসতে ডেকেছিলেন এবং মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছিলেন, তখন যে লোকেরা তাঁর সঙ্গে ছিল, তারা সাক্ষ্য দিতে লাগল।
18 আর এই কারণে লোকেরা গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো, কেননা তারা শুনেছিল যে, তিনি সেই চিহ্ন-কাজ করেছেন।
19 তখন ফরীশীরা পরস্পর বলতে লাগল, তোমরা দেখছ, তোমাদের সমস্ত চেষ্টা বিফল; দেখ, সারা দুনিয়া ওর দলে চলে গেছে।
20
যারা এবাদত করার জন্য ঈদে এসেছিল, তাদের মধ্যে কয়েক জন গ্রীকও ছিল;
21 এরা গালীলের বৈৎসৈদা-নিবাসী ফিলিপের কাছে এসে তাঁকে ফরিয়াদ করলো, হুজুর, আমরা ঈসাকে দেখতে ইচ্ছা করি।
22 ফিলিপ এসে আন্দ্রিয়কে বললেন, আন্দ্রিয় ও ফিলিপ এসে ঈসাকে বললেন।
23 তখন জবাবে ঈসা তাদেরকে বললেন, সময় উপস্থিত, যেন ইবনুল-ইনসান মহিমান্বিত হন।
24 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, গমের বীজ যদি মাটিতে পড়ে না মরে, তবে তা একটিমাত্র থাকে; কিন্তু যদি মরে, তবে অনেক ফল উৎপন্ন করে।
25 যে আপন প্রাণ ভালবাসে, সে তা হারায়; আর যে এই দুনিয়াতে আপন প্রাণ অপ্রিয় জ্ঞান করে, সে অনন্ত জীবনের জন্য তা রক্ষা করবে।
26 কেউ যদি আমার পরিচর্যা করে, তবে সে আমার অনুসারী হোক; তাতে আমি যেখানে থাকি আমার পরিচারকও সেখানে থাকবে; কেউ যদি আমার পরিচর্যা করে, তবে পিতা তার সম্মান করবেন।
27
এখন আমার প্রাণ অস্থির হয়ে উঠেছে; এতে কি বলবো পিতা, এই সময় থেকে আমাকে নিস্তার কর? কিন্তু এরই জন্য আমি এই সময় পর্যন্ত এসেছি।
28 পিতা তোমার নাম মহিমান্বিত কর। তখন বেহেশত থেকে এই বাণী হল, ‘আমি তা মহিমান্বিত করেছি, আবার মহিমান্বিত করবো।’
29 যে লোকেরা দাঁড়িয়ে শুনেছিল, তারা বললো, মেঘ-গর্জন হল; আর কেউ কেউ বললো, কোন ফেরেশতা এঁর সঙ্গে কথা বলেছেন।
30 জবাবে ঈসা বললেন, ঐ বাণী আমার জন্য হয় নি, কিন্তু তোমাদেরই জন্য।
31 এখন এই দুনিয়ার বিচার উপস্থিত, এখন এই দুনিয়ার অধিপতি বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে।
32 আর আমাকে যখন ভূতল থেকে উঁচুতে তোলা হবে তখন সকলকে আমার কাছ আকর্ষণ করবো।
33 তিনি কিভাবে মৃত্যুবরণ করবেন, তা এই কথার দ্বারা নির্দেশ করলেন।
34 তখন লোকেরা জবাবে তাঁকে বললো, আমরা শরীয়ত থেকে শুনেছি যে, মসীহ্ চিরকাল থাকেন; তবে আপনি কিভাবে বলছেন যে, ইবনুল-ইনসানকে উঁচুতে তুলতে হবে? সেই ইবনুল-ইনসান কে?
35 তখন ঈসা তাদেরকে বললেন, আর অল্প কালমাত্র নূর তোমাদের মধ্যে আছে। যতদিন তোমাদের মধ্যে নূর আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে এসে না পড়ে; আর যে ব্যক্তি অন্ধকারে যাতায়াত করে, সে কোথায় যায়, তা জানে না।
36 যতদিন তোমাদের কাছে নূর আছে, সেই নূরের উপর ঈমান আনো, যেন তোমরা নূরের সন্তান হতে পার। ঈসা এসব কথা বললেন, আর প্রস্থান করে তাদের থেকে লুকালেন।
37
কিন্তু যদিও তিনি তাদের সাক্ষাতে এত চিহ্ন-কাজ করেছিলেন, তবুও তারা তাঁর উপর ঈমান আনলো না;
38 যেন ইশাইয়া নবীর কালাম পূর্ণ হয়, তিনি তো বলেছিলেন,
“হে প্রভু, আমরা যা শুনেছি,
তা কে বিশ্বাস করেছে?
আর প্রভুর বাহু কার কাছে প্রকাশিত হয়েছে?”
39
এজন্য তারা বিশ্বাস করতে পারে নি, কারণ ইশাইয়া আবার বলেছেন,
40
“তিনি তাদের চোখ অন্ধ করেছেন,
তাদের অন্তর কঠিন করেছেন,
পাছে তারা চোখে দেখে,
হৃদয়ে বুঝে এবং ফিরে আসে
এবং আমি তাদেরকে সুস্থ করি।”
41
ইশাইয়া এ সব বলেছিলেন, কেননা তিনি তাঁর মহিমা দেখেছিলেন, আর তাঁরই বিষয় বলেছিলেন।
42 তবুও নেতাদের মধ্যেও অনেকে তাঁর উপর ঈমান আনলো; কিন্তু ফরীশীদের ভয়ে স্বীকার করলো না, পাছে সমাজচ্যুত হয়;
43 কেননা আল্লাহ্র কাছে গৌরবের চেয়ে তারা বরং মানুষের কাছে গৌরব বেশি ভালবাসত।
44
ঈসা উচ্চৈঃস্বরে বললেন, যে আমার উপর ঈমান আনে সে আমার উপর নয়, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর উপরই ঈমান আনে;
45 এবং যে আমাকে দর্শন করে, সে তাঁকেই দর্শন করে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
46 আমি নূরস্বরূপ হয়ে এই দুনিয়াতে এসেছি, যেন যে কেউ আমার উপর ঈমান আনে, সে অন্ধকারে না থাকে।
47 আর যদি কেউ আমার কথা শুনে পালন না করে, আমি তার বিচার করি না, কারণ আমি দুনিয়ার বিচার করতে নয়, কিন্তু দুনিয়ার নাজাত করতে এসেছি।
48 যে আমাকে অগ্রাহ্য করে এবং আমার কথা গ্রহণ না করে, তার বিচারকর্তা আছে; আমি যে কথা বলেছি, তা-ই শেষ দিনে তার বিচার করবে।
49 কারণ আমি নিজের থেকে বলি নি; কিন্তু কি বলবো ও কি তবলিগ করবো তা আমার পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনিই আমাকে হুকুম করেছেন।
50 আর আমি জানি যে, তাঁর হুকুম অনন্ত জীবন। অতএব আমি যা যা বলি, তা পিতা আমাকে যেমন বলেছেন, তেমনি বলি।
1
ঈদুল ফেসাখের আগে ঈসা এই দুনিয়া থেকে পিতার কাছে তাঁর প্রস্থান করার সময় উপস্থিত জেনে, দুনিয়াতে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব যে লোকদেরকে মহব্বত করতেন, তাদেরকে শেষ পর্যন্ত মহব্বত করলেন।
2 আর রাত্রি কালে ভোজের সময়ে— শয়তান তাঁকে ধরিয়ে দেবার সংকল্প শিমোনের পুত্র ঈষ্করিয়োতীয় এহুদার অন্তরে স্থাপন করলে পর,
3 তিনি জানলেন যে, পিতা সমস্তই তাঁর হাতে দিয়েছেন ও তিনি আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছেন, আর আল্লাহ্র কাছে যাচ্ছেন;
4 জেনে তিনি ভোজ থেকে উঠলেন এবং উপরের কাপড় খুলে রাখলেন, আর একখানি গামছা নিয়ে কোমর বাঁধলেন।
5 পরে তিনি পাত্রে পানি ঢাললেন ও সাহাবীদের পা ধুয়ে দিতে লাগলেন এবং যে গামছা দ্বারা কোমর বেঁধেছিলেন তা দিয়ে মুছে দিতে লাগলেন।
6 এভাবে তিনি শিমোন পিতরের কাছে আসলেন। পিতর তাঁকে বললেন, প্রভু, আপনি কি আমার পা ধুয়ে দেবেন?
7 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, আমি যা করছি, তা তুমি এখন জানতে পারছ না, কিন্তু এর পরে বুঝবে।
8 পিতর তাঁকে বললেন, আপনি কখনও আমার পা ধুয়ে দেবেন না। জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, যদি তোমাকে ধুয়ে না দিই তবে আমার সঙ্গে তোমার কোন অংশ নেই।
9 শিমোন পিতর বললেন, প্রভু, কেবল পা নয়, আমার হাত ও মাথাও ধুয়ে দিন।
10 ঈসা তাঁকে বললেন, যে গোসল করেছে, পা ধোয়া ছাড়া আর কিছুই তার প্রয়োজন নেই, সে তো সর্বাঙ্গে পাক-পবিত্র; আর তোমরা পাক-পবিত্র, কিন্তু সকলে নও।
11 কেননা যে ব্যক্তি তাঁকে ধরিয়ে দেবে, তাকে তিনি জানতেন; এজন্য বললেন, তোমরা সকলে পাক-পবিত্র নও।
12
যখন তিনি তাঁদের পা ধুয়ে দিলেন, আর তাঁর উপরের কাপড় পরে পুনর্বার বসলেন, তখন তাঁদেরকে বললেন, আমি তোমাদের প্রতি কি করলাম, জান?
13 তোমরা আমাকে হুজুর ও প্রভু বলে সম্বোধন করে থাক; আর তা ভালই বল, কেননা আমি তা-ই।
14 ভাল, আমি প্রভু ও হুজুর হয়ে যখন তোমাদের পা ধুয়ে দিলাম, তখন তোমাদেরও পরস্পরের পা ধোয়ানো উচিত?
15 কেননা আমি তোমাদেরকে দৃষ্টান্ত দেখালাম, যেন তোমাদের প্রতি আমি যেমন করেছি, তোমরাও তেমনি কর।
16 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, গোলাম নিজের মালিক থেকে বড় নয় ও প্রেরিত নিজের প্রেরণকর্তা থেকে বড় নয়।
17 এসব যখন তোমরা জান, ধন্য তোমরা, যদি এসব পালন কর।
18 তোমাদের সকলের বিষয়ে আমি বলছি না; আমি কাকে কাকে মনোনীত করেছি, তা আমি জানি; কিন্তু পাক-কিতাবের এই কালাম পূর্ণ হওয়া চাই, “যে আমার রুটি খায়, সে আমার বিরুদ্ধে পাদমূল উঠিয়েছে।”
19 এখন থেকে, ঘটবার আগে, আমি তোমাদেরকে বলে রাখছি, যেন ঘটলে পর তোমরা বিশ্বাস কর যে, আমিই তিনি।
20 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, আমি যে কোন ব্যক্তিকে প্রেরণ করি, তাকে যে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে এবং আমাকে যে গ্রহণ করে, সে তাঁকে গ্রহণ করে, যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন।
21
এই কথা বলে ঈসা রূহে অস্থির হলেন, আর সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের মধ্যে এক জন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
22 সাহাবীরা এক জন অন্যের দিকে তাকাতে লাগলেন, স্থির করতে পারলেন না, তিনি কার বিষয় বললেন।
23 তখন ঈসার সাহাবীদের এক জন, যাঁকে ঈসা মহব্বত করতেন, তিনি তাঁর কোলে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন।
24 তখন শিমোন পিতর তাঁকে ইঙ্গিত করলেন ও বললেন, বল, উনি যার বিষয় বলছেন, সে কে?
25 তাতে তিনি সেরকম ভাবে বসে থাকাতে ঈসার বুকের দিকে মাথা কাত করে বললেন, প্রভু, সে কে?
26 জবাবে ঈসা বললেন, যার জন্য আমি রুটিখণ্ড ডুবাবো ও যাকে দেব, সেই। পরে তিনি রুটিখণ্ড ডুবিয়ে নিয়ে ঈষ্কোরিয়োতীয় শিমোনের পুত্র এহুদাকে দিলেন।
27 আর সেই রুটিখণ্ড দেওয়ার পরেই শয়তান তার মধ্যে প্রবেশ করলো। তখন ঈসা তাকে বললেন, যা করছো, শীঘ্র কর।
28 কিন্তু তিনি কিভাবে তাকে এই কথা বললেন, যাঁরা ভোজনে বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ তা বুঝলেন না;
29 এহুদার কাছে টাকার থলি থাকাতে কেউ কেউ মনে করলেন, ঈসা তাকে বললেন, ঈদের জন্য যা যা আবশ্যক কিনে আন, কিংবা সে যেন দরিদ্রদেরকে কিছু দেয়।
30 রুটিখণ্ড গ্রহণ করে সে তৎক্ষণাৎ বাইরে গেল; আর তখন রাত হয়েছে।
31
সে বাইরে গেলে পর ঈসা বললেন, এখন ইবনুল-ইনসান মহিমান্বিত হলেন এবং আল্লাহ্ তাঁর মধ্যে মহিমান্বিত হলেন।
32 আল্লাহ্ যখন তাঁর মধ্যে মহিমান্বিত হলেন, তখন আল্লাহ্ও তাঁকে তাঁর নিজের মধ্যে মহিমান্বিত করবেন, আর শীঘ্রই তাঁকে মহিমান্বিত করবেন।
33 সন্তানেরা, এখনও অল্পকাল আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; তোমরা আমার খোঁজ করবে, আর আমি যেমন ইহুদীদেরকে বলেছিলাম। ‘আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তোমরা যেতে পার না,’ তেমনি তোমাদেরকেও এখন তা-ই বলছি।
34 একটি নতুন হুকুম আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি, তোমরা পরস্পর মহব্বত কর; আমি যেমন তোমাদেরকে মহব্বত করেছি, তোমরাও তেমনি পরস্পর মহব্বত কর।
35 তোমরা যদি নিজেদের মধ্যে পরস্পর মহব্বত রাখ, তবে তাতেই সকলে জানবে যে, তোমরা আমার সাহাবী।
36
শিমোন পিতর তাঁকে বললেন, প্রভু আপনি কোথায় যাচ্ছেন? জবাবে ঈসা বললেন, আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তুমি এখন আমার পিছনে যেতে পার না; কিন্তু পরে যেতে পারবে।
37 পিতর তাঁকে বললেন, প্রভু, কি জন্য এখন আপনার পিছনে যেতে পারি না? আপনার জন্য আমি আমার প্রাণ দেব।
38 জবাবে ঈসা বললেন, আমার জন্য তুমি কি তোমার প্রাণ দেবে? সত্যি, সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, যতক্ষণ তুমি তিন বার আমাকে অস্বীকার না কর, ততক্ষণ মোরগ ডাকবে না।
1
তোমাদের মন অস্থির না হোক; আল্লাহ্র উপরে বিশ্বাস কর, আমাতেও বিশ্বাস কর।
2 আমার পিতার বাড়িতে অনেক বাসস্থান আছে, যদি না থাকতো, তোমাদেরকে বলতাম; কেননা আমি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করতে যাচ্ছি।
3 আর আমি যখন যাই ও তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করি, তখন পুনর্বার আসবো এবং আমার কাছে তোমাদেরকে নিয়ে যাব; যেন, আমি যেখানে থাকি, তোমরাও সেখানে থাক।
4 আর আমি যেখানে যাচ্ছি, তোমরা তার পথ জান।
5 থোমা তাঁকে বললেন, প্রভু, আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তা আমরা জানি না, পথ কিসে জানবো?
6 ঈসা তাকে বললেন, আমিই পথ ও সত্য ও জীবন; আমার মধ্য দিয়ে না আসলে কেউ পিতার কাছে আসতে পারে না।
7 যদি তোমরা আমাকে জানতে, তবে আমার পিতাকেও জানতে; এখন থেকে তাঁকে জানছো এবং দেখেছো।
8
ফিলিপ তাঁকে বললেন, প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখান, তা-ই আমাদের যথেষ্ট।
9 ঈসা তাঁকে বললেন, ফিলিপ, এতদিন আমি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি, তবুও কি তুমি আমাকে জান না? যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকে দেখেছে; তুমি কেমন করে বলছো পিতাকে আমাদের দেখান?
10 তুমি কি বিশ্বাস কর না যে, আমি পিতার মধ্যে আছি এবং পিতা আমার মধ্যে আছেন? আমি তোমাদেরকে যেসব কথা বলি, তা নিজের থেকে বলি না; কিন্তু পিতা আমার মধ্যে থেকে তাঁর কাজগুলো সাধন করেন।
11 আমার কথায় বিশ্বাস কর যে, আমি পিতার মধ্যে আছি এবং পিতা আমার মধ্যে আছেন; তা না হলে অন্ততঃ আমার এই সব কাজের জন্য আমাকে বিশ্বাস কর।
12 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে আমার উপর ঈমান আনে, আমি যেসব কাজ করছি, সেও তা করবে, এমন কি এসব হতেও বড় বড় কাজ করবে; কেননা আমি পিতার কাছে যাচ্ছি;
13 আর তোমরা আমার নামে যা কিছু যাচ্ঞা করবে, তা আমি সাধন করবো, যেন পিতা পুত্রে মহিমান্বিত হন।
14 যদি আমার নামে আমার কাছে কিছু যাচ্ঞা কর, তবে আমি তা করবো।
15
তোমরা যদি আমাকে মহব্বত কর, তবে আমার হুকুমগুলো পালন করবে।
16 আর আমি পিতার কাছে নিবেদন করবো এবং তিনি আর এক জন সহায় তোমাদেরকে দেবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন; তিনি সত্যের রূহ্;
17 দুনিয়া তাঁকে গ্রহণ করতে পারে না, কেননা সে তাঁকে দেখতে পায় না, তাঁকে জানেও না; তোমরা তাঁকে জান, কারণ তিনি তোমাদের কাছে অবস্থিতি করেন ও তোমাদের অন্তরে থাকবেন।
18
আমি তোমাদেরকে এতিম অবস্থায় রেখে যাব না, আমি তোমাদের কাছে আসছি।
19 আর অল্প কাল গেলে দুনিয়া আর আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাবে; কারণ আমি জীবিত আছি; এজন্য তোমরাও জীবিত থাকবে।
20 সেদিন তোমরা জানবে যে, আমি আমার পিতার মধ্যে আছি ও তোমরা আমার মধ্যে আছ এবং আমি তোমাদের মধ্যে আছি।
21 যে ব্যক্তি আমার হুকুমগুলো পেয়ে সেসব পালন করে, সে আমাকে মহব্বত করে; আর যে আমাকে মহব্বত করে, আমার পিতা তাকে মহব্বত করবেন এবং আমিও তাকে মহব্বত করবো, আর নিজেকে তার কাছে প্রকাশ করবো।
22 তখন এহুদা— ঈষ্করিয়োতীয় নয়— তাঁকে বললেন, প্রভু, কি হয়েছে যে, আপনি আমাদেরই কাছে নিজেকে প্রকাশ করবেন, আর দুনিয়ার কাছে নয়?
23 জবাবে ঈসা তাঁকে বললেন, কেউ যদি আমাকে মহব্বত করে, তবে সে আমার কালামগুলো পালন করবে; আর আমার পিতা তাকে মহব্বত করবেন এবং আমরা তার কাছে আসবো ও তার সঙ্গে বাস করবো।
24 যে আমাকে মহব্বত করে না, সে আমার কালামগুলো পালন করে না। আর তোমরা যে কালাম শুনতে পাচ্ছ, তা আমার নয়, কিন্তু পিতার, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
25
তোমাদের কাছে থাকতে থাকতেই আমি এসব কথা বললাম।
26 কিন্তু সেই সহায়, পাক-রূহ্, যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনি সমস্ত বিষয়ে তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন এবং আমি তোমাদেরকে যা যা বলেছি, সেসব স্মরণ করিয়ে দেবেন।
27 শান্তি আমি তোমাদের কাছে রেখে যাচ্ছি, আমারই শান্তি তোমাদেরকে দান করছি; দুনিয়া যেভাবে দান করে, আমি সেভাবে দান করি না। তোমাদের হৃদয় অস্থির না হোক, ভীতও না হোক।
28 তোমরা শুনেছ যে, আমি তোমাদেরকে বলেছি, আমি যাচ্ছি, আবার তোমাদের কাছে আসছি। যদি তোমরা আমাকে মহব্বত করতে, তবে আনন্দ করতে যে, আমি পিতার কাছে যাচ্ছি; কারণ পিতা আমার চেয়ে মহান।
29 আর এখন, ঘটবার আগে, আমি তোমাদেরকে বললাম, যেন ঘটলে পর তোমরা বিশ্বাস কর।
30 আমি তোমাদের সঙ্গে আর বেশি কথা বলবো না; কারণ দুনিয়ার অধিপতি আসছে, আর আমার উপর তার কোন ক্ষমতা নেই;
31 কিন্তু দুনিয়া যেন জানতে পায় যে, আমি পিতাকে মহব্বত করি এবং পিতা আমাকে যেমন হুকুম দিয়েছেন, আমি তেমনই করে থাকি। উঠ, আমরা এই স্থান থেকে প্রস্থান করি।
1
আমি প্রকৃত আঙ্গুরলতা এবং আমার পিতা কৃষক।
2 আমার মধ্যে স্থিত যে কোন শাখায় ফল না ধরে, তা তিনি কেটে ফেলে দেন; এবং যে কোন শাখায় ফল ধরে, তা তিনি পরিষ্কার করেন, যেন তাতে আরও বেশি ফল ধরে।
3 আমি তোমাদেরকে যে কথা বলেছি, তার জন্য তোমরা এখন পরিষ্কৃত আছ।
4 আমার মধ্যে থাক, আর আমি তোমাদের মধ্যে থাকি; ডাল যেমন আঙ্গুরলতায় যুক্ত না থাকলে নিজে নিজে ফল ধরতে পারে না, তেমনি আমার মধ্যে না থাকলে তোমরাও ফল ধরাতে পার না।
5 আমি আঙ্গুরলতা, তোমরা শাখা; যে আমার মধ্যে থাকে এবং যাতে আমি থাকি, সেই ব্যক্তি প্রচুর ফলে ফলবান হয়; কেননা আমাকে ছাড়া তোমরা কিছুই করতে পার না।
6 কেউ যদি আমার মধ্যে না থাকে, তা হলে শাখার মত তাকে বাইরে ফেলে দেওয়া যায় ও সে শুকিয়ে যায়; এবং লোকে সেগুলো কুড়িয়ে আগুনে ফেলে দেয়, আর সেসব পুড়ে যায়।
7
তোমরা যদি আমার মধ্যে থাক এবং আমার কালাম যদি তোমাদের মধ্যে থাকে, তবে তোমাদের যা ইচ্ছা হয়, যাচ্ঞা করো, তোমাদের জন্য তা করা যাবে।
8 এতেই আমার পিতা মহিমান্বিত হন যে, তোমরা প্রচুর ফলে ফলবান হও; আর তোমরা আমার সাহাবী হবে।
9 পিতা যেমন আমাকে মহব্বত করেছেন, আমিও তেমনি তোমাদেরকে মহব্বত করেছি; তোমরা আমার মহব্বতে অবস্থিতি কর।
10 তোমরা যদি আমার হুকুমগুলো পালন কর, তবে আমার মহব্বতে অবস্থিতি করবে, যেমন আমিও আমার পিতার হুকুমগুলো পালন করেছি এবং তাঁর মহব্বতে অবস্থিতি করছি।
11
এসব কথা তোমাদেরকে বলেছি, যেন আমার আনন্দ তোমাদের মধ্যে থাকে এবং তোমাদের আনন্দ সমপূর্ণ হয়।
12
আমার হুকুম এই, তোমরা পরস্পর মহব্বত কর, যেমন আমি তোমাদেরকে মহব্বত করেছি।
13 কেউ যদি আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেয়, তবে তার চেয়ে বেশি মহব্বত কারো নেই।
14 আমি তোমাদেরকে যে সমস্ত হুকুম দিচ্ছি, তা যদি পালন কর, তবে তোমরা আমার বন্ধু।
15 আমি তোমাদেরকে আর গোলাম বলি না, কেননা প্রভু কি করেন, গোলাম তা জানে না; কিন্তু তোমাদেরকে আমি বন্ধু বলেছি, কারণ আমার পিতার কাছে যা যা শুনেছি, সকলই তোমাদেরকে জানিয়েছি।
16 তোমরা যে আমাকে মনোনীত করেছ, এমন নয়, কিন্তু আমিই তোমাদেরকে মনোনীত করেছি; আর আমি তোমাদেরকে নিযুক্ত করেছি, যেন তোমরা গিয়ে ফলবান হও এবং তোমাদের ফল যেন থাকে; যেন তোমরা আমার নামে পিতার কাছে যা কিছু যাচ্ঞা করবে, তা তিনি তোমাদেরকে দেন।
17
এসব তোমাদেরকে হুকুম করছি, যেন তোমরা পরস্পর মহব্বত কর।
18
দুনিয়া তোমাদেরকে ঘৃণা করে, আর তোমরা তো জান যে, সে তোমাদের আগে আমাকে ঘৃণা করেছে।
19 তোমার যদি দুনিয়ার হতে, তবে দুনিয়া তার নিজের মনে করে তোমাদের মহব্বত করতো; কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার নও, বরং আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে থেকে মনোনীত করেছি, এজন্য দুনিয়া তোমাদেরকে ঘৃণা করে।
20 আমি তোমাদেরকে যা বলেছি, আমার সেই কথা স্মরণে রেখো, ‘গোলাম তার মালিক থেকে বড় নয়;’ লোকে যখন আমাকে নির্যাতন করেছে, তখন তোমাদেরকেও নির্যাতন করবে; তারা যদি আমার কথা পালন করতো, তোমাদের কথাও পালন করতো।
21 কিন্তু তারা আমার নামের জন্য তোমাদের প্রতি এ সব করবে, কারণ আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন, তাঁকে তারা জানে না।
22 আমি যদি না আসতাম ও তাদের কাছে কথা না বলতাম, তবে তাদের গুনাহ্ হত না; কিন্তু এখন তাদের গুনাহ্ ঢাকবার উপায় নেই।
23 যে আমাকে ঘৃণা করে, সে আমার পিতাকেও ঘৃণা করে।
24 যেরকম কাজ আর কেউ কখনও করে নি, সেরকম কাজ যদি আমি তাদের মধ্যে না করতাম, তবে তাদের গুনাহ্ হত না; কিন্তু এখন তারা আমাকে ও আমার পিতাকে, উভয়কেই দেখেছে এবং ঘৃণা করেছে।
25 কিন্তু এরকম হল, যেন তাদের শরীয়তে লেখা এই কালাম পূর্ণ হয়, “তারা অকারণে আমাকে ঘৃণা করেছে”।
26
যাঁকে আমি পিতার কাছ থেকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব, সত্যের সেই রূহ্, যিনি পিতার কাছ থেকে বের হয়ে আসেন — যখন সেই সহায় আসবেন — তিনিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।
27 আর তোমরাও সাক্ষী, কারণ তোমরা প্রথম থেকে আমার সঙ্গে সঙ্গে আছ।
1
এসব কথা তোমাদেরকে বললাম, যেন তোমরা মনে বাধা না পাও।
2 লোকে তোমাদেরকে সমাজ থেকে বের করে দেবে; এমন কি, সময় আসছে, যখন যে কেউ তোমাদেরকে হত্যা করে, সে মনে করবে, আমি আল্লাহ্র উদ্দেশে এবাদতরূপ কোরবানী করলাম।
3 তারা এসব করবে, কারণ তারা না পিতাকে, না আমাকে জানতে পেরেছে।
4 কিন্তু আমি তোমাদেরকে এসব বললাম, যেন এই সকলের সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন তোমরা স্মরণ করতে পার যে, আমি তোমাদেরকে এসব বলেছি। প্রথম থেকে এসব তোমাদেরকে বলি নি, কারণ আমি তোমাদের সঙ্গেই ছিলাম।
5
কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর কাছে এখন যাচ্ছি, আর তোমাদের মধ্যে কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে না, কোথায় যাচ্ছেন?
6 কিন্তু তোমাদেরকে এসব বললাম, সেজন্য তোমাদের অন্তর দুঃখে পরিপূর্ণ হয়েছে।
7
তবুও আমি তোমাদেরকে সত্যি বলছি, আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ আমি না গেলে সেই সহায় তোমাদের কাছে আসবেন না; কিন্তু আমি যদি যাই, তবে তোমাদের কাছে তাঁকে পাঠিয়ে দেব।
8 আর তিনি এসে গুনাহ্র সম্বন্ধে, ধার্মিকতার সম্বন্ধে ও বিচারের সম্বন্ধে, জগৎকে দোষী করবেন।
9 গুনাহ্র সম্বন্ধে, কেননা তারা আমার উপর ঈমান আনে না;
10 ধার্মিকতার সম্বন্ধে, কেননা আমি পিতার কাছে যাচ্ছি ও তোমরা আর আমাকে দেখতে পাবে না;
11 বিচারের সম্বন্ধে, কেননা এই দুনিয়ার অধিপতিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
12
তোমাদেরকে বলবার আমার আরও অনেক কথা আছে, কিন্তু তোমরা এখন সেসব সহ্য করতে পার না।
13 যখন তিনি, সত্যের রূহ্ আসবেন তখন পথ দেখিয়ে তোমাদেরকে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন; কারণ তিনি নিজের থেকে কিছু বলবেন না, কিন্তু যা যা শোনেন, তা-ই বলবেন এবং আগামী ঘটনাও তোমাদেরকে জানাবেন।
14 তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন; কেননা যা আমার, তা-ই নিয়ে তোমাদেরকে জানাবেন।
15 পিতার যা যা আছে, সকলই আমার; এজন্য বললাম, যা আমার, তিনি তা-ই নিয়ে তোমাদেরকে জানাবেন।
16
অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না; এবং আবার অল্পকাল পরে আমাকে দেখতে পাবে।
17 এতে সাহাবীদের মধ্যে কয়েক জন পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, উনি আমাদেরকে এ কি বলছেন, ‘অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে দেখতে পাবে না এবং আবার অল্পকাল পরে আমাকে দেখতে পাবে,’ আর, ‘কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি’।
18 অতএব তাঁরা বললেন, ইনি ‘অল্পকাল’ বলতে কি বুঝাচ্ছেন? ইনি কি বলেন, আমরা বুঝতে পারি না।
19 ঈসা জানলেন যে, তাঁরা তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছেন; তাই তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি যে বলেছি, অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে দেখতে পাচ্ছ না এবং আবার অল্পকাল পরে আমাকে দেখতে পাবে, এই বিষয়ে কি পরস্পর জিজ্ঞাসা করছো?
20 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা কান্নাকাটি করবে ও মাতম করবে, কিন্তু দুনিয়া আনন্দ করবে; তোমরা দুঃখার্ত হবে, কিন্তু তোমাদের দুঃখ আনন্দে পরিণত হবে।
21 প্রসবকালে নারী দুঃখ পায়, কারণ তার সময় উপস্থিত, কিন্তু সন্তান প্রসব করলে পর দুনিয়াতে একটি মানুষ জন্মগ্রহণ করলো, এই আনন্দে তার কষ্টের কথা আর মনে থাকে না।
22 ভাল, তোমরাও এখন দুঃখ পাচ্ছ, কিন্তু আমি তোমাদেরকে আবার দেখতে পাবো তাতে তোমাদের অন্তর আনন্দিত হবে এবং তোমাদের সেই আনন্দ কেউ তোমাদের থেকে কেড়ে নেবে না।
23 আর সেই দিনে তোমরা আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করবে না। সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, পিতার কাছে যদি তোমরা কিছু যাচ্ঞা কর, তিনি আমার নামে তোমাদেরকে তা দেবেন।
24 এই পর্যন্ত তোমরা আমার নামে কিছু যাচ্ঞা কর নি; যাচ্ঞা কর, তাতে পাবে, যেন তোমাদের আনন্দ সমপূর্ণ হয়।
25
আমি উপমা দ্বারা এসব বিষয় তোমাদেরকে বললাম; এমন সময় আসছে, যখন তোমাদেরকে আর উপমা দ্বারা বলবো না, কিন্তু স্পষ্টভাবে পিতার বিষয় জানাবো।
26 সেদিন তোমরা আমার নামেই যাচ্ঞা করবে, আর আমি তোমাদেরকে বলছি না যে, আমিই তোমাদের জন্য পিতার কাছে নিবেদন করবো;
27 কারণ পিতা নিজে তোমাদেরকে মহব্বত করেন, কেননা তোমরা আমাকে মহব্বত করেছ এবং ঈমান এনেছো যে, আমি আল্লাহ্র কাছ থেকে বের হয়ে এসেছি।
28 আমি পিতা থেকে বের হয়েছি এবং দুনিয়াতে এসেছি; আবার এই দুনিয়া পরিত্যাগ করে পিতার কাছে যাচ্ছি।
29
তাঁর সাহাবীরা বললেন, দেখুন, এখন আপনি স্পষ্টভাবে বলছেন, কোন উপমার মধ্য দিয়ে কথা বলছেন না।
30 এখন আমরা জানি, আপনি সকলই জানেন, কেউ যে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তা আপনার দরকার নেই; এতে আমরা বিশ্বাস করছি যে, আপনি আল্লাহ্র কাছ থেকে বের হয়ে এসেছেন।
31 ঈসা জবাবে তাঁদেরকে বললেন, এখন বিশ্বাস করছো?
32 দেখ, এমন সময় আসছে, বরং এসেছে, যখন তোমরা ছিন্নভিন্ন হয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে যাবে এবং আমাকে একাকী পরিত্যাগ করবে; তবুও আমি একা নই, কারণ পিতা আমার সঙ্গে আছেন।
33 এ সব তোমাদেরকে বললাম, যেন তোমরা আমার মধ্যে শান্তি পাও। দুনিয়াতে তোমরা কষ্ট পাচ্ছ; কিন্তু সাহস কর, আমিই দুনিয়াকে জয় করেছি।
1
ঈসা এসব কথা বললেন, আর বেহেশতের দিকে চোখ তুলে বললেন, পিতা, সময় উপস্থিত হল; তোমার পুত্রকে মহিমান্বিত কর, যেন পুত্র তোমাকে মহিমান্বিত করেন।
2 তুমি তাঁকে মানুষের উপরে কর্তৃত্ব দিয়েছ, যেন, তুমি যে সমস্ত লোকদের তাঁর হাতে দিয়েছ, তিনি তাদেরকে অনন্ত জীবন দেন।
3 আর এ-ই অনন্ত জীবন যে, তারা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় আল্লাহ্কে এবং তুমি যাঁকে পাঠিয়েছ, তাঁকে, ঈসা মসীহ্কে, জানতে পায়।
4 তুমি আমাকে যে কাজ করতে দিয়েছ, তা সমাপ্ত করে আমি দুনিয়াতে তোমাকে মহিমান্বিত করেছি।
5 আর এখন, হে আমার পিতা, দুনিয়া সৃষ্টি হবার আগে তোমার কাছে আমার যে মহিমা ছিল, তুমি সেই মহিমায় তোমার নিজের কাছে আমাকে মহিমান্বিত কর।
6
দুনিয়ার মধ্য থেকে তুমি আমাকে যে লোকদের দিয়েছ, আমি তাদের কাছে তোমার নাম প্রকাশ করেছি। তারা তোমারই ছিল এবং তাদের তুমি আমাকে দিয়েছ, আর তারা তোমার কালাম পালন করেছে।
7 এখন তারা জানতে পেরেছে যে, তুমি আমাকে যা কিছু দিয়েছ, সে সবই তোমার কাছ থেকে এসেছে;
8 কেননা তুমি আমাকে যেসব কালাম দিয়েছ, তা আমি তাদেরকে দিয়েছি; আর তারা গ্রহণও করেছে এবং সত্যিই জেনেছে যে, আমি তোমার কাছ থেকে এসেছি এবং বিশ্বাস করেছে যে, তুমি আমাকে প্রেরণ করেছ।
9 আমি তাদেরই জন্য নিবেদন করছি; দুনিয়ার জন্য নিবেদন করছি না, কিন্তু যাদেরকে আমায় দিয়েছ, তাদের জন্য নিবেদন করছি; কেননা তারা তোমারই।
10 আর আমার সকলই তোমার ও তোমার সকলই আমার; আর আমি তাদের মধ্যে মহিমান্বিত হয়েছি।
11 আমি আর দুনিয়াতে নেই, কিন্তু এরা দুনিয়াতে রয়েছে এবং আমি তোমার কাছে আসছি। পবিত্র পিতা, তোমার নামে তাদেরকে রক্ষা কর, —যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ— যেন তারা এক হয়, যেমন আমরা এক।
12 তাদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমি তাদেরকে তোমার নামে রক্ষা করে এসেছি— যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ— আমি তাদেরকে সাবধানে রেখেছি, তাদের মধ্যে কেউ বিনষ্ট হয় নি, কেবল সেই বিনাশ-সন্তান বিনষ্ট হয়েছে, যেন পাক-কিতাবের কালাম পূর্ণ হয়।
13 কিন্তু এখন আমি তোমার কাছে আসছি, আর দুনিয়াতে এসব কথা বলছি, যেন তারা আমার আনন্দ তাদের মধ্যে সমপূর্ণরূপে পায়।
14 আমি তাদেরকে তোমার কালাম দিয়েছি; আর দুনিয়া তাদেরকে ঘৃণা করেছে, কারণ তারা দুনিয়ার নয়, যেমন আমিও দুনিয়ার নই।
15 আমি নিবেদন করছি না যে, তুমি তাদেরকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাও, কিন্তু তাদেরকে সেই শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর।
16 তারা দুনিয়ার নয়, যেমন আমিও দুনিয়ার নই।
17 তাদেরকে সত্যে পবিত্র কর; তোমার কালামই সত্যস্বরূপ।
18 তুমি যেমন আমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছ, তেমনি আমিও তাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি।
19 আর তাদের জন্য আমি নিজেকে পবিত্র করি, যেন তারাও সত্যিই পবিত্রীকৃত হয়।
20
আর আমি কেবল তাদেরই জন্য নিবেদন করছি তা নয়, কিন্তু এদের কথার মধ্য দিয়ে যারা আমার উপর ঈমান আনে, তাদের জন্যও করছি; যেন তারা সকলে এক হয়।
21 পিতা, যেমন তুমি আমার মধ্যে ও আমি তোমার মধ্যে, তেমনি তারাও যেন আমাদের মধ্যে থাকে; যেন দুনিয়া বিশ্বাস করে যে, তুমি আমাকে প্রেরণ করেছ।
22 আর তুমি আমাকে যে মহিমা দিয়েছ, তা আমি তাদেরকে দিয়েছি; যেন তারাও এক হয়, যেমন আমরা এক;
23 আমি তাদের মধ্যে ও তুমি আমার মধ্যে, যেন তারা সিদ্ধ হয়ে এক হয়; যেন দুনিয়া জানতে পারে যে, তুমি আমাকে প্রেরণ করেছ এবং আমাকে যেমন মহব্বত করেছ, তাদেরকেও মহব্বত করেছ।
24 পিতা, আমার ইচ্ছা এই, আমি যেখানে থাকি, তুমি আমায় যাদেরকে দিয়েছ, তারাও যেন সেখানে আমার সঙ্গে থাকে, যেন তারা আমার সেই মহিমা দেখতে পায়, যা তুমি আমাকে দিয়েছ, কেননা দুনিয়া পত্তনের আগে তুমি আমাকে মহব্বত করেছিলে।
25
ধর্মময় পিতা, দুনিয়া তোমাকে জানে নি, কিন্তু আমি তোমাকে জানি এবং এরা জেনেছে যে, তুমিই আমাকে প্রেরণ করেছ।
26 আর আমি এদেরকে তোমার নাম জানিয়েছি ও জানাবো; যেন তুমি যে মহব্বতে আমাকে মহব্বত করেছ, তা তাদের মধ্যে থাকে এবং আমি তাদের মধ্যে থাকি।
1
এই সমস্ত কথা বলে ঈসা তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে বের হয়ে কিদ্রোন স্রোত পার হলেন। সেখানে একটি বাগান ছিল, তার মধ্যে ঈসা ও তাঁর সাহাবীরা প্রবেশ করলেন।
2 আর এহুদা, যে তাঁকে দুশমনদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল, সে সেই স্থানটি চিনত, কারণ ঈসা অনেক বার তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে সেই স্থানে একত্র হতেন।
3 অতএব এহুদা সৈন্যদলকে এবং প্রধান ইমামদের ও ফরীশীদের কাছ থেকে পদাতিকদেরকে সঙ্গে নিয়ে মশাল, প্রদীপ ও অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসল।
4 তখন ঈসা, তাঁর প্রতি যা যা ঘটতে যাচ্ছে সমস্ত কিছু জেনে বের হয়ে আসলেন, আর তাদেরকে বললেন, কার খোঁজ করছো?
5 তারা তাঁকে জবাবে বললো, নাসরতীয় ঈসার। তিনি তাদেরকে বললেন, আমিই তিনি। আর এহুদা, যে তাঁকে ধরিয়ে দিচ্ছিল, সে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।
6 তিনি যখন তাদেরকে বললেন, আমিই তিনি, তখন তারা পিছিয়ে গেল ও ভূমিতে পড়ে গেল।
7 পরে তিনি আবার তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কার খোঁজ করছো? তারা বললো, নাসরতীয় ঈসার।
8 জবাবে ঈসা বললেন, আমি তো তোমাদেরকে বললাম যে, আমিই তিনি; অতএব তোমরা যদি আমার খোঁজ কর, তবে এদেরকে যেতে দাও;
9 যেন তিনি এই যে কথা বলেছিলেন, তা পূর্ণ হয়, ‘তুমি আমাকে যেসব লোক দিয়েছ, আমি তাদের কাউকেও হারাই নি।’
10 তখন শিমোন পিতরের কাছে তলোয়ার থাকাতে তিনি তা খুলে মহা-ইমামের গোলামকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন। সেই গোলামের নাম ছিল মল্ক।
11 তখন ঈসা পিতরকে বললেন, তলোয়ার খাপে রাখ; আমার পিতা আমাকে যে পানপাত্র দিয়েছেন তা থেকে কি আমি পান করবো না?
12
তখন সৈন্যদল এবং সহস্রপতি ও ইহুদীদের পদাতিকেরা ঈসাকে ধরলো ও তাঁকে বেঁধে প্রথমে হাননের কাছে নিয়ে গেল;
13 কারণ যে কাইয়াফা সেই বছর মহা-ইমাম ছিলেন, এই হানন তাঁর সম্পর্কে শ্বশুর ছিলেন।
14 এই সেই কাইয়াফা, যিনি ইহুদীদেরকে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন, লোকদের জন্য এক জনের মৃত্যু হওয়াই ভাল।
15
আর শিমোন পিতর এবং আর এক জন সাহাবী ঈসার পিছনে পিছনে চললেন। সেই সাহাবী মহা-ইমামের পরিচিত ছিলেন এবং ঈসার সঙ্গে মহা-ইমামের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন।
16 কিন্তু পিতর বাইরে প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে রইলেন। অতএব মহা-ইমামের পরিচিত সেই অন্য সাহাবী বাইরে এসে দ্বার-রক্ষিকাকে বলে পিতরকে ভিতরে নিয়ে গেলেন।
17 তখন সেই দ্বার-রক্ষিকা পিতরকে বললো, তুমিও কি সেই ব্যক্তির সাহাবীদের এক জন?
18 তিনি বললেন, আমি নই। আর গোলামেরা ও পদাতিকেরা কয়লার আগুন জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, কারণ তখন শীত পড়েছিল, আর তারা আগুন পোহাচ্ছিল; এবং পিতরও তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন।
19
ইতোমধ্যে মহা-ইমাম ঈসাকে তাঁর সাহাবীদের ও শিক্ষার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
20 জবাবে ঈসা তাকে বললেন, আমি স্পষ্টভাবে দুনিয়ার কাছে কথা বলেছি; আমি সব সময় মজলিস-খানায় ও বায়তুল-মোকাদ্দসে শিক্ষা দিয়েছি, যেখানে ইহুদীরা সকলে একত্র হয়; গোপনে কিছু বলি নি।
21 আমাকে কেন জিজ্ঞাসা কর? যারা শুনেছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, আমি কি বলেছি; দেখ, আমি কি কি বলেছি, এরা জানে।
22 তিনি যখন এই কথা বললেন তখন পদাতিকদের এক জন, যে কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, সে ঈসাকে চড় মেরে বললো, মহা-ইমামকে এমন জবাব দিলি?
23 ঈসা তাকে বললেন, যদি মন্দ বলে থাকি, সেই মন্দের সাক্ষ্য দাও; কিন্তু যদি ভাল বলে থাকি, কি জন্য আমাকে মার?
24 পরে হানন বাঁধা অবস্থায় তাঁকে মহা-ইমাম কাইয়াফার কাছে প্রেরণ করলেন।
25
শিমোন পিতর দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন। তখন লোকেরা তাঁকে বললো, তুমিও কি ওর সাহাবীদের এক জন? তিনি অস্বীকার করলেন, বললেন, আমি নই।
26 মহা-ইমামের এক গোলাম, পিতর যার কান কেটে ফেলেছিলেন, তার এক জন আত্মীয় বললো, আমি কি বাগানে ওর সঙ্গে তোমাকে দেখি নি?
27 তখন পিতর আবার অস্বীকার করলেন এবং তৎক্ষণাৎ মোরগ ডেকে উঠলো।
28
পরে লোকেরা ঈসাকে কাইয়াফার কাছ থেকে খুব ভোরে রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেল। আর তারা যেন নাপাক না হয়, কিন্তু ঈদুল ফেসাখের মেজবানী ভোজন করতে পারে, এজন্য তারা রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলো না।
29 অতএব পীলাত বাইরে তাদের কাছে গেলেন ও বললেন, তোমরা এই ব্যক্তির উপরে কি দোষারোপ করছো?
30 তারা জবাবে তাঁকে বললো, এ যদি দুষ্কর্মকারী না হত, আমরা আপনার হাতে একে তুলে দিতাম না।
31 তখন পীলাত তাদেরকে বললেন, তোমরাই ওকে নিয়ে যাও এবং তোমাদের শরীয়ত মতে ওর বিচার কর। ইহুদীরা তাঁকে বললো, কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতে আমাদের অধিকার নেই—
32 যেন ঈসার সেই কথা পূর্ণ হয়, যা বলে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর কি রকম মৃত্যু হবে।
33
তখন পীলাত আবার রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং ঈসাকে ডেকে তাঁকে বললেন, তুমিই কি ইহুদীদের বাদশাহ্?
34 জবাবে ঈসা বললেন, তুমি কি এই কথা নিজের থেকে বলছো? না অন্যেরা আমার বিষয়ে তোমাকে এই কথা বলে দিয়েছে?
35 পীলাত জবাবে বললেন, আমি কি ইহুদী? তোমার স্বজাতির লোকেরা ও প্রধান ইমামেরাই আমার কাছে তোমাকে তুলে দিয়েছে; তুমি কি করেছ?
36 জবাবে ঈসা বললেন, আমার রাজ্য এই দুনিয়ার নয়; যদি আমার রাজ্য এই দুনিয়ার হত, তবে আমার অনুচরেরা প্রাণপণ করতো, যেন আমি ইহুদীদের হাতে না পড়ি; কিন্তু আমার রাজ্য তো এখানকার নয়।
37 তখন পীলাত তাঁকে বললেন, তবে তুমি কি বাদশাহ্? জবাবে ঈসা বললেন, তুমিই বলছো যে, আমি বাদশাহ্। আমি এজন্যই জন্মগ্রহণ করেছি ও এজন্য দুনিয়াতে এসেছি, যেন সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিই। যে কেউ সত্যের, সে আমার কথা শোনে।
38 পীলাত তাঁকে বললেন, সত্য কি?
এই কথা বলে তিনি আবার বাইরে ইহুদীদের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে বললেন, আমি তো এর কোনই দোষ পাচ্ছি না।
39 কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে যে, আমি ঈদুল ফেসাখের সময়ে তোমাদের জন্য এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিই; ভাল, তোমরা কি ইচ্ছা কর যে, আমি তোমাদের জন্য ইহুদীদের বাদশাহ্কে ছেড়ে দেব?
40 তারা আবার চেঁচিয়ে বললো, একে নয়, কিন্তু বারাব্বাকে। সেই বারাব্বা এক জন দস্যু ছিল।
1
তখন পীলাত ঈসাকে নিয়ে কশাঘাতে প্রহার করালেন।
2 আর সৈন্যেরা কাঁটার মুকুট গেঁথে তাঁর মাথায় দিল এবং তাঁকে বেগুনে কাপড় পরালো;
3 আর তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, ইহুদী-রাজ, ‘আস্সালামু আলাইকুম’ এবং তাঁকে চড় মারতে লাগল।
4 তখন পীলাত আবার বাইরে গেলেন ও লোকদেরকে বললেন, দেখ, আমি একে তোমাদের কাছে বাইরে আনলাম, যেন তোমরা জানতে পার যে, আমি এর কোনই দোষ পাচ্ছি না।
5 ঈসাকে সেই কাঁটার মুকুট ও বেগুনে কাপড় পরিয়েই বাইরে আনলেন, আর পীলাত লোকদেরকে বললেন, দেখ, এই সেই মানুষ।
6 তখন ঈসাকে দেখেই প্রধান ইমামেরা ও পদাতিকেরা চেঁচিয়ে বললো, ওকে ক্রুশে দাও, ওকে ক্রুশে দাও। পীলাত তাদেরকে বললেন, তোমরা নিজেরা একে নিয়ে ক্রুশে দাও; কেননা আমি এর কোন দোষ পাচ্ছি না।
7 ইহুদীরা তাঁকে জবাবে বললো, আমাদের একটি ব্যবস্থা আছে, সেই ব্যবস্থা অনুসারে তার প্রাণদণ্ড হওয়া উচিত, কারণ সে নিজেকে ইবনুল্লাহ্ বলে দাবী করেছে।
8
পীলাত যখন এই কথা শুনলেন, তিনি আরও ভয় পেলেন।
9 তিনি আবার রাজ-প্রাসাদে প্রবেশ করলেন ও ঈসাকে বললেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো?
10 কিন্তু ঈসা তাঁকে কোন জবাব দিলেন না। অতএব পীলাত তাঁকে বললেন, আমার সঙ্গে কেন কথা বলছো না? তুমি কি জান না যে, তোমাকে ছেড়ে দেবার ক্ষমতা আমার আছে এবং তোমাকে ক্রুশে দেবার ক্ষমতাও আমার আছে?
11 জবাবে ঈসা বললেন, যদি উপর থেকে তোমাকে ক্ষমতা দেওয়া না হত, তবে আমার বিরুদ্ধে তোমার কোন ক্ষমতা থাকতো না; এজন্য যে ব্যক্তি তোমার হাতে আমাকে তুলে দিয়েছে, তারই গুনাহ্ বেশি।
12 এই জন্য পীলাত তাঁকে ছেড়ে দিতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু ইহুদীরা চেঁচিয়ে বললো, আপনি যদি ওকে ছেড়ে দেন, তবে আপনি সম্রাটের বন্ধু নন; যে কেউ নিজেকে বাদশাহ্ করে তোলে, সে সম্রাটের বিপক্ষে কথা বলে।
13
এই কথা শুনে পীলাত ঈসাকে বাইরে আনলেন এবং শিলাস্তরণ নামক স্থানে বিচারাসনে বসলেন; সেই স্থানের ইবরানী নাম গব্বথা।
14 সেদিন ঈদুল ফেসাখের আয়োজন দিন; বেলা অনুমান ছয় ঘটিকা। পীলাত ইহুদীদেরকে বললেন, দেখ, তোমাদের বাদশাহ্।
15 তাতে তারা চেঁচিয়ে বললো, দূর কর, দূর কর, ওকে ক্রুশে দাও। পীলাত তাদেরকে বললেন, তোমাদের বাদশাহ্কে কি ক্রুশে দেব? প্রধান ইমামেরা জবাবে বললো, সীজার ছাড়া আমাদের অন্য বাদশাহ্ নেই।
16 তখন তিনি ঈসাকে তাদের হাতে তুলে দিলেন, যেন তাঁকে ক্রুশে দেওয়া হয়।
17
তখন তারা ঈসাকে নিল; এবং তিনি নিজে ক্রুশ বহন করতে করতে বের হয়ে মাথার খুলি নামক স্থানে গেলেন। ইবরানী ভাষায় সেই স্থানকে গল্গথা বলে।
18 সেখানে তারা তাঁকে ক্রুশে দিল এবং তাঁর সঙ্গে আর দুই জনকে দুই পাশে ও মধ্যস্থানে ঈসাকে দিল।
19 আর পীলাত একখানি দোষপত্র লিখে ক্রুশের উপরিভাগে লাগিয়ে দিলেন। তাতে এই কথা লেখা ছিল, ‘নাসরতীয় ঈসা, ইহুদীদের বাদশাহ্।’
20 তখন ইহুদীরা অনেকে সেই দোষপত্র পাঠ করলো, কারণ যেখানে ঈসাকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল, সেই স্থান নগরের সন্নিকট এবং সেটি ইবরানী, রোমীয় ও গ্রীক ভাষায় লেখা ছিল।
21 অতএব ইহুদীদের প্রধান ইমামেরা, পীলাতকে বললো, ‘ইহুদীদের বাদশাহ্,’ এমন কথা লিখবেন না, কিন্তু লিখুন যে, এই ব্যক্তি বলতো, আমি ইহুদীদের বাদশাহ্।’
22 পীলাত জবাবে বললেন, যা লিখেছি, তা লিখেছি।
23
ঈসাকে ক্রুশে দেবার পরে সৈন্যেরা তাঁর কাপড়গুলো নিয়ে চার ভাগ করে প্রত্যেক সৈন্যকে এক এক ভাগ দিল এবং জামাও নিল; ঐ জামায় কোন সেলাই ছিল না, উপর থেকে সমস্তটাই বোনা ছিল।
24 অতএব তারা পরস্পর বললো, এটি চিরব না, এসো, আমরা গুলিবাঁট করে দেখি, এটি কার হবে; যেন পাক-কিতাবের এই কালাম পূর্ণ হয়,
“তারা নিজেদের মধ্যে আমার কাপড়গুলো ভাগ করলো,
আর আমার কাপড়ের জন্য গুলিবাঁট করলো।”
25
বাস্তবিক সৈন্যরা তা-ই করলো। আর ঈসার ক্রুশের কাছে তাঁর মা ও তাঁর মায়ের বোন, ক্লোপার (স্ত্রী) মরিয়ম এবং মগ্দলিনী মরিয়ম, এঁরা দাঁড়িয়েছিলেন।
26
ঈসা তাঁর মাকে দেখে এবং যাঁকে মহব্বত করতেন, সেই সাহাবী কাছে দাঁড়িয়ে আছেন দেখে মাকে বললেন, হে নারী, ঐ দেখ, তোমার পুত্র।
27 পরে তিনি সেই সাহাবীকে বললেন, ঐ দেখ তোমার মা। তাতে সেই সময় থেকে ঐ সাহাবী তাঁকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
28
এর পরে ঈসা, সমস্তই এখন সমাপ্ত হল জেনে পাক-কিতাবের কালাম যেন সিদ্ধ হয়, এজন্য বললেন, ‘আমার পিপাসা পেয়েছে’।
29 সেই স্থানে সিরকায় পূর্ণ একটি পাত্র ছিল; তাতে লোকেরা সিরকায় পূর্ণ একটি স্পঞ্জ এসোব নলে লাগিয়ে তাঁর মুখের কাছ ধরলো।
30 সিরকা গ্রহণ করার পর ঈসা বললেন, ‘সমাপ্ত হল’; পরে মাথা নত করে রূহ্ সমর্পণ করলেন।
31
সেদিন আয়োজন দিন, অতএব বিশ্রামবারে সেই দেহগুলো যেন ক্রুশের উপরে না থাকে— কেননা ঐ বিশ্রামবার মহাদিন ছিল— এজন্য ইহুদীরা পীলাতের কাছে নিবেদন করলো, যেন তাদের পা ভেঙ্গে তাদেরকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
32 অতএব সৈন্যেরা এসে ঐ প্রথম ব্যক্তির এবং তার সঙ্গে ক্রুশে বিদ্ধ অন্য ব্যক্তির পা ভাঙ্গল;
33 কিন্তু তারা যখন ঈসার কাছে এসে দেখলো যে, তিনি ইন্তেকাল করেছেন, তখন তাঁর পা ভাঙ্গল না।
34 কিন্তু এক জন সৈন্য বর্শা দিয়ে তাঁর পাঁজরে খোঁচা মারল; আর তাতে তখনই সেখান থেকে রক্ত ও পানি বের হয়ে আসল।
35 যে ব্যক্তি দেখেছে, সে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তার সাক্ষ্য যথার্থ; আর সে জানে যে, সে সত্যি বলছে, যেন তোমরাও বিশ্বাস কর।
36 কারণ এসব ঘটলো, যেন পাক-কিতাবের এই কালাম পূর্ণ হয়,
“তাঁর একখানি অস্থিও ভাঙ্গা হবে না।”
37
আবার পাক-কিতাবের আর একটি কথা এই,
“তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে,
তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে।”
38
এর পরে অরিমাথিয়ার ইউসুফ— যিনি ঈসার সাহাবী ছিলেন, কিন্তু ইহুদীদের ভয়ে গুপ্তভাবেই ছিলেন— তিনি পীলাতকে নিবেদন করলেন, যেন তিনি ঈসার লাশ নিয়ে যেতে পারেন। পীলাত অনুমতি দিলে পর তিনি এসে ঈসার লাশ নিয়ে গেলেন।
39 আর যিনি প্রথমে রাতের বেলায় তাঁর কাছে এসেছিলেন, সেই নীকদীমও গন্ধরসে মিশানো অনুমান পঞ্চাশ সের অগুরু নিয়ে আসলেন।
40 তখন তাঁরা ঈসার লাশ নিয়ে ইহুদীদের কবর দেবার রীতি অনুযায়ী ঐ সুগন্ধি দ্রব্যের সঙ্গে মসীনার কাপড় দিয়ে বাঁধলেন।
41 আর যে স্থানে তাঁকে ক্রুশে দেওয়া হয়, সেই স্থানে একটি বাগান ছিল, সেই বাগানের মধ্যে এমন একটি নতুন কবর ছিল, যার মধ্যে কাউকেও কখনও রাখা হয় নি।
42 অতএব ঐ দিন ইহুদীদের আয়োজন দিন বলে, তাঁরা সেই কবরের মধ্যে ঈসাকে রাখলেন, কেননা সেই কবর কাছেই ছিল।
1
সপ্তাহের প্রথম দিন খুব ভোরে অন্ধকার থাকতে থাকতে মগ্দলীনী মরিয়ম কবরের কাছে গেলেন, আর দেখলেন, কবর থেকে পাথরখানি সরানো হয়েছে।
2 তখন তিনি দৌড়ে শিমোন পিতরের কাছে এবং ঈসা যাকে মহব্বত করতেন, সেই অন্য সাহাবীর কাছে আসলেন, আর তাঁদেরকে বললেন, লোকে প্রভুকে কবর থেকে তুলে নিয়ে গেছে; তাঁকে কোথায় রেখেছে, আমরা জানি না।
3 অতএব পিতর ও সেই অন্য সাহাবী বের হয়ে কবরের কাছে যেতে লাগলেন।
4 তাঁরা দু’জন একসঙ্গে দৌড়ে আসলেন, আর সেই অন্য সাহাবী পিতরকে পিছনে ফেলে আগে কবরের কাছে উপস্থিত হলেন;
5 এবং হেঁট হয়ে ভিতরে চেয়ে দেখলেন, কাপড়গুলো পড়ে রয়েছে, তবুও ভিতরে প্রবেশ করলেন না।
6 শিমোন পিতরও তাঁর পিছনে পিছনে আসলেন, আর তিনি কবরে প্রবেশ করলেন; এবং দেখলেন, কাপড়গুলো পড়ে রয়েছে,
7 আর যে রুমালখানি তাঁর মাথার উপরে ছিল, তা সেই কাপড়ের সঙ্গে নেই, স্বতন্ত্র একটি স্থানে গুটিয়ে রাখা হয়েছে।
8 পরে সেই অন্য সাহাবী, যিনি কবরের কাছে প্রথমে এসেছিলেন, তিনিও ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন ও বিশ্বাস করলেন।
9 কারণ এই পর্যন্ত তাঁরা পাক-কিতাবের এই কথা বুঝেন নি যে, মৃতদের মধ্যে থেকে তাঁকে উঠতে হবে।
10 পরে ঐ দুই সাহাবী আবার স্বস্থানে চলে গেলেন।
11
কিন্তু মরিয়ম কাঁদতে কাঁদতে বাইরে কবরের কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে হেঁট হয়ে কবরের ভিতরে দৃষ্টিপাত করলেন;
12 আর দেখলেন, সাদা কাপড় পরা দু’জন ফেরেশতা ঈসার লাশ যে স্থানে রাখা হয়েছিল, এক জন তাঁর মাথার দিকে, অন্য জন পায়ের দিকে বসে আছেন।
13 তাঁরা তাঁকে বললেন, নারী, কাঁদছো কেন? তিনি তাঁদেরকে বললেন, লোকে আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে; কোথায় রেখেছে, জানি না।
14 এই বলে তিনি পিছনের দিকে ফিরলেন, আর দেখলেন, ঈসা দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু চিনতে পারলেন না যে, তিনি ঈসা।
15 ঈসা তাঁকে বললেন, নারী, কাঁদছো কেন? কার খোঁজ করছো? তিনি তাঁকে বাগানের মালি মনে করে বললেন, হুজুর, আপনি যদি তাঁকে নিয়ে গিয়ে থাকেন, আমায় বলুন কোথায় রেখেছেন;
16 আমিই তাঁকে নিয়ে যাব। ঈসা তাঁকে বললেন, মরিয়ম। তিনি ফিরে ইবরানী ভাষায় তাঁকে বললেন, রব্বূণি! এর অর্থ ‘হে গুরু’।
17 ঈসা তাঁকে বললেন, আমাকে স্পর্শ করো না, কেননা এখনও আমি ঊর্ধ্বে পিতার কাছে যাই নি; কিন্তু তুমি আমার ভাইদের কাছে গিয়ে তাদেরকে বল, যিনি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা এবং আমার আল্লাহ্ ও তোমাদের আল্লাহ্, তাঁর কাছে আমি ঊর্ধ্বে যাচ্ছি।
18 তখন মগ্দলীনী মরিয়ম সাহাবীদের কাছে গিয়ে এই সংবাদ দিলেন, আমি প্রভুকে দেখেছি, আর তিনি আমাকে এই কথা বলেছেন।
19
সেদিন সপ্তাহের প্রথম দিন, সন্ধ্যা হলে, সাহাবীরা যেখানে ছিলেন, সেই স্থানের দরজাগুলো ইহুদীদের ভয়ে বন্ধ ছিল; এমন সময়ে ঈসা এসে মধ্যস্থানে দাঁড়ালেন এবং তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের শান্তি হোক;
20 এই বলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর দুই হাত ও পাঁজর দেখালেন। অতএব প্রভুকে দেখতে পেয়ে সাহাবীরা আনন্দিত হলেন।
21 তখন ঈসা আবার তাঁদেরকে বললেন, তোমাদের শান্তি হোক; পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন, তেমনি আমিও তোমাদেরকে প্রেরণ করি।
22 এই বলে তিনি তাঁদের উপরে ফুঁ দিলেন, আর তাঁদেরকে বললেন, পাক-রূহ্ গ্রহণ কর;
23 তোমরা যাদের গুনাহ্ মাফ করবে, তাদের গুনাহ্ মাফ হবে; যাদের গুনাহ্ মাফ করবে না, তাদের গুনাহ্ মাফ হবে না।
24
ঈসা যখন এসেছিলেন, তখন থোমা, সেই বারো জনের এক জন, যাকে দিদুমঃ বলে, তিনি তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না।
25 অতএব অন্য সাহাবীরা তাঁকে বললেন, আমরা প্রভুকে দেখেছি। কিন্তু তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি যদি তাঁর দুই হাতে প্রেকের চিহ্ন না দেখি ও সেই প্রেকের স্থানে আমার আঙ্গুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরের মধ্যে আমার হাত না দিই, তবে কোন মতে বিশ্বাস করবো না।
26
আট দিন পরে তাঁর সাহাবীরা পুনরায় গৃহ-মধ্যে ছিলেন এবং থোমা তাদের সঙ্গে ছিলেন। দ্বারগুলো বন্ধ ছিল, এমন সময়ে ঈসা এসে তাঁদের মধ্যস্থানে দাঁড়ালেন, আর বললেন, তোমাদের শান্তি হোক।
27 পরে তিনি থোমাকে বললেন, এই দিকে তোমার আঙ্গুল বাড়িয়ে দাও, আমার হাত দু’খানি দেখ, আর তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, আমার পাঁজরের মধ্যে দাও এবং অবিশ্বাস করো না, বিশ্বাস কর।
28 থোমা জবাবে তাঁকে বললেন, প্রভু আমার, আল্লাহ্ আমার!
29 ঈসা তাঁকে বললেন, তুমি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করেছ? ধন্য তারা, যারা না দেখে বিশ্বাস করে।
30
ঈসা সাহাবীদের সাক্ষাতে আরও অনেক চিহ্ন-কাজ করেছিলেন; সেসব এই কিতাবে লেখা হয় নি।
31 কিন্তু এসব লেখা হয়েছে, যেন তোমরা ঈমান আন যে, ঈসা-ই মসীহ্, আল্লাহ্র পুত্র, আর ঈমান এনে যেন তাঁর নামে জীবন পাও।
1
তারপর ঈসা টিবেরিয়াস-সমুদ্রের তীরে আবার সাহাবীদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করলেন;
2 আর তিনি এভাবে নিজেকে প্রকাশ করলেন। শিমোন পিতর, থোমা, যাঁকে দিদুমঃ বলে, গালীলের কান্না-নিবাসী নথনেল, সিবদিয়ের দুই পুত্র এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্যে আর দু’জন, এঁরা একত্রে ছিলেন।
3 শিমোন পিতর তাঁদেরকে বললেন, আমি মাছ ধরতে যাই। তাঁরা তাঁকে বললেন, আমরাও তোমার সঙ্গে যাব। তাঁরা বের হয়ে গিয়ে নৌকায় উঠলেন, আর সেই রাতে কিছু ধরতে পারলেন না।
4
পরে প্রভাত হয়ে আসছে, এমন সময় ঈসা তীরে দাঁড়ালেন, তবুও সাহাবীরা চিনতে পারলেন না যে, তিনি ঈসা।
5 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, সন্তানেরা, তোমাদের কাছে কি কিছু খাবার আছে? তাঁরা জবাবে বললেন, না।
6 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, নৌকার ডান পাশে জাল ফেল, পাবে। অতএব তাঁরা জাল ফেললেন এবং এত মাছ ধরা পড়লো যে, তাঁরা আর তা টেনে তুলতে পারলেন না।
7 অতএব ঈসা যাঁকে মহব্বত করতেন, সেই সাহাবী পিতরকে বললেন, উনি প্রভু। তাতে ‘উনি প্রভু’ এই কথা শুনে শিমোন পিতর দেহে কাপড় জড়ালেন, কেননা তিনি উলঙ্গ ছিলেন এবং সাগরে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন।
8 কিন্তু অন্য সাহাবীরা মাছে পূর্ণ জাল টানতে টানতে ছোট নৌকাতে করে আসলেন; কেননা তাঁরা স্থল থেকে দূরে ছিলেন না, অনুমান দুই শত হাত দূরে ছিলেন।
9
পারে উঠে তাঁরা দেখতে পেলেন, কয়লার আগুন রয়েছে ও তাঁর উপরে মাছ আর রুটি রয়েছে।
10 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, যে মাছ এখন ধরলে, তার কিছু আন।
11 শিমোন পিতর উঠে জাল স্থলে টেনে তুললেন, তা এক শত তিপ্পান্নটা বড় মাছে পূর্ণ ছিল, আর এত মাছেও জাল ছিঁড়লো না।
12 ঈসা তাঁদেরকে বললেন, এসো, আহার কর। তাতে সাহাবীদের কারো এমন সাহস হল না যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কে?’ তাঁরা জানতেন যে, তিনি প্রভু।
13 ঈসা এসে ঐ রুটি নিয়ে তাঁদেরকে দিলেন, আর সেভাবে মাছও দিলেন।
14 মৃতদের মধ্য থেকে উঠলে পর ঈসা এখন এই তৃতীয় বার তাঁর সাহাবীদেরকে দর্শন দিলেন।
15
তাঁরা আহার করলে পর ঈসা শিমোন পিতরকে বললেন, হে ইউহোন্নার পুত্র শিমোন, এদের চেয়ে তুমি কি আমাকে বেশি মহব্বত কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রভু; আপনি জানেন, আমি আপনাকে ভালবাসি। তিনি তাঁকে বললেন, আমার মেষশাবকগুলোকে চরাও।
16 পরে তিনি দ্বিতীয়বার তাঁকে বললেন, হে ইউহোন্নার পুত্র শিমোন, তুমি কি আমাকে মহব্বত কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রভু, আপনি জানেন, আমি আপনাকে ভালবাসি। তিনি তাঁকে বললেন, আমার মেষগুলোকে পালন কর।
17 তিনি তৃতীয়বার তাঁকে বললেন, হে ইউহোন্নার পুত্র শিমোন, তুমি কি আমকে ভালবাস? পিতর দুঃখিত হলেন যে, তিনি তৃতীয়বার তাঁকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে ভালবাস?’ আর তিনি তাঁকে বললেন, প্রভু, আপনি সকলই জানেন, আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি। ঈসা তাঁকে বললেন, আমার মেষগুলোকে চরাও।
18 সত্যি, সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, যখন তুমি যুবক ছিলে, তখন তুমি তোমার কোমর বাঁধতে এবং যেখানে ইচ্ছা, বেড়াতে; কিন্তু যখন বৃদ্ধ হবে, তখন তোমার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং আর এক জন তোমার কোমর বেঁধে দেবে ও যেখানে যেতে তোমার ইচ্ছা নেই, সেখানে তোমাকে নিয়ে যাবে।
19 এই কথা বলে ঈসা নির্দেশ করলেন যে, পিতর কি রকম মৃত্যু দ্বারা আল্লাহ্র গৌরব করবেন। এই কথা বলবার পর তিনি তাঁকে বললেন, আমার পিছনে এসো।
20
পিতর মুখ ফিরিয়ে দেখলেন, সেই সাহাবী পিছনে পিছনে আসছেন, যাঁকে ঈসা মহব্বত করতেন এবং যিনি রাতের বেলা ভোজের সময়ে তাঁর বক্ষঃস্থলের দিকে হেলে পড়ে বলেছিলেন, প্রভু, কে আপনাকে দুশমনদের হাতে তুলে দাওবে?
21 তাঁকে দেখে পিতর ঈসাকে বললেন, প্রভু, এর কি হবে?
22 ঈসা তাঁকে বললেন, আমি যদি ইচ্ছা করি, এ আমার আগমন পর্যন্ত থাকে, তাতে তোমার কি? তুমি আমার পিছনে এসো।
23 অতএব ভাইদের মধ্যে এই কথা রটে গেল যে, সেই সাহাবী মারা যাবেন না; কিন্তু ঈসা তাঁকে বলেন নি যে, তিনি মারা যাবেন না; কেবল বলেছিলেন, আমি যদি ইচ্ছা করি, এ আমার আগমন পর্যন্ত থাকে, তাতে তোমার কি?
24
সেই সাহাবীই এসব বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং এসব লিখেছেন; আর আমরা জানি তাঁর সাক্ষ্য সত্যি।
25 ঈসা আরও অনেক কাজ করেছিলেন; সেসব যদি এক এক করে লেখা হত, তবে আমার মনে হয়, লিখতে লিখতে এত কিতাব হয়ে উঠতো যে, দুনিয়াতেও তা ধরতো না।
1
হে থিয়ফিল, প্রথম কিতাবটি আমি সেসব বিষয় নিয়ে রচনা করেছি, যা ঈসা সেদিন পর্যন্ত যে সব কাজ করতে ও শিক্ষা দিতে আরম্ভ করেছিলেন,
2 যে দিনে তিনি তাঁর মনোনীত প্রেরিতদেরকে পাক-রূহ্ দ্বারা হুকুম দিয়ে ঊর্ধ্বে নীত হলেন।
3 তিনি তাঁর দুঃখভোগের পরে তাঁদের কাছে অনেক প্রমাণ দ্বারা দেখালেন যে, তিনি জীবিত আছেন। ফলত তিনি চল্লিশ দিন যাবৎ তাঁদেরকে দর্শন দিলেন এবং আল্লাহ্র রাজ্যের বিষয় নানান কথা বললেন।
4 একবার তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তখন তিনি তাঁদের এই হুকুম দিলেন, তোমরা জেরুশালেম থেকে প্রস্থান করো না, কিন্তু পিতার ওয়াদা করা যে দানের কথা আমার কাছে শুনেছ তার অপেক্ষায় থাক।
5 কেননা ইয়াহিয়া পানিতে বাপ্তিস্ম দিতেন বটে, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তোমাদের পাক-রূহে বাপ্তিস্ম হবে।
6
অতএব তাঁরা একত্র হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, প্রভু, আপনি কি এই সময়ে ইসরাইলের হাতে রাজ্য ফিরিয়ে আনবেন?
7 তিনি তাঁদেরকে বললেন, যেসব সময় বা কাল পিতা নিজের কর্তৃত্বের অধীন রেখেছেন, তা তোমাদের জানবার বিষয় নয়।
8 কিন্তু পাক-রূহ্ তোমাদের উপরে আসলে পর তোমরা শক্তি পাবে; আর তোমরা জেরুশালেমে, সমুদয় এহুদিয়া ও সামেরিয়া প্রদেশে এবং দুনিয়ার শেষপ্রান্ত পর্যন্ত আমার সাক্ষী হবে।
9 এই কথা বলবার পর তিনি তাঁদের দৃষ্টিতে ঊর্ধ্বে নীত হলেন এবং একখানি মেঘ তাঁকে তাঁদের দৃষ্টিপথের আড়ালে নিয়ে গেল।
10 তিনি যাচ্ছেন, আর তাঁরা আসমানের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছেন, এমন সময়ে দেখ, সাদা কাপড় পরা দু’জন পুরুষ তাঁদের কাছে দাঁড়ালেন;
11 আর তাঁরা বললেন, হে গালীলীয় লোকেরা, তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে রয়েছ কেন? এই যে ঈসা তোমাদের কাছ থেকে বেহেশতে ঊর্ধ্বে নীত হলেন, তাঁকে যেভাবে বেহেশতে তুলে নেওয়া হল সেভাবে তিনি ফিরে আসবেন।
12
তখন তাঁরা জৈতুন নামক পর্বত থেকে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন। সেই পর্বতটি জেরুশালেমের নিকটবর্তী, প্রায় অর্ধেক মাইলের পথ।
13 নগরে প্রবেশ করলে পর তাঁরা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেই উপরের কুঠরিতে গেলেন। এঁরা ছিলেন পিতর, ইউহোন্না, ইয়াকুব ও আন্দ্রিয়, ফিলিপ ও থোমা, বর্থলময় ও মথি, আলফ্েয়ের পুত্র ইয়াকুব ও উদ্যোগী শিমোন এবং ইয়াকুবের (ভাই) এহুদা।
14 এঁরা সকলে স্ত্রীলোকদের সঙ্গে এবং ঈসার মা মরিয়মের ও তাঁর ভাইদের সঙ্গে এক চিত্তে মুনাজাতে নিবিষ্ট রইলেন।
15
সেই সময়ে এক দিন যখন অনুমান এক শত বিশ জন এক স্থানে সমবেত ছিলেন তখন পিতর ভাইদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন,
16 ‘হে ভাইয়েরা, এহুদার বিষয়ে পাক-রূহ্ দাউদের মুখ দিয়ে আগেই যা বলেছিলেন, সেই কিতাবের কথা পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল। যারা ঈসাকে ধরেছিল, এই এহুদাই তাদের পথপ্রদর্শক হয়েছিল;
17 কেননা সেই ব্যক্তি আমাদেরই এক জন ছিল এবং এই পরিচর্যা-কাজের অধিকার পেয়েছিল।’
18 সে অধর্মের বেতন দ্বারা একখণ্ড ভূমি ক্রয় করলো এবং সেই ভূমিতে অধোমুখে পড়ে তার পেট ফেটে গেল ও নাড়িভুঁড়িগুলো বের হয়ে পড়লো।
19 আর জেরুশালেম-নিবাসী সকল লোকে তা জানতে পেরেছিল; এজন্য তাদের ভাষায় ঐ ক্ষেত হকলদামা, অর্থাৎ রক্তক্ষেত, নামে আখ্যাত।
20 পিতর আরও বললেন, ‘বস্তুত জবুর শরীফে লেখা আছে,
“তার নিবাস শূন্য হোক,
তাতে বাস করে,
এমন কেউ না থাকুক;” এবং
“অন্য ব্যক্তি তার নেতার পদ প্রাপ্ত হোক।”
21
অতএব ইয়াহিয়ার বাপ্তিস্ম থেকে আরম্ভ করে, যেদিন প্রভু ঈসা আমাদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বে নীত হন, সেদিন পর্যন্ত যত দিন তিনি আমাদের কাছে ভিতরে আসতেন ও বাইরে যেতেন, তত দিন সব সময় যাঁরা আমাদের সহচর ছিলেন,
22 তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হওয়া আবশ্যক।’
23 তখন তাঁরা ইউসুফ, যাঁকে বার্শব্বা বলে ডাকে এবং যাঁর উপাধি যুষ্ট এবং মত্তথিয়— এই দুই জনকে দাঁড় করালেন।
24 এর পরে তাঁরা মুনাজাত করলেন, হে প্রভু, তুমি সকলের অন্তঃকরণ জান, এহুদা নিজের স্থানে যাবার জন্য এই যে পরিচর্যা ও প্রেরিত-পদ ছেড়ে গেছে,
25 তার স্থান গ্রহণ করার জন্য তুমি এই দুইয়ের মধ্যে যাকে মনোনীত করেছ, তাকে দেখিয়ে দাও।
26 পরে তাঁরা উভয়ের জন্য গুলিবাঁট করলেন, আর মত্তথিয়ের নামে গুলি উঠলো; তাতে তিনি এগার জন প্রেরিতের সঙ্গে গণিত হলেন।
1
পরে পঞ্চাশত্তমীর দিন উপস্থিত হলে তাঁরা সকলে এক স্থানে সমবেত হলেন।
2 তখন হঠাৎ আসমান থেকে প্রচণ্ড বায়ুর বেগের শব্দের মত একটা আওয়াজ আসল এবং যে গৃহে তাঁরা বসেছিলেন, সেই আওয়াজে গৃহটি পূর্ণ হয়ে গেল।
3 এমন সময়ে তাঁরা দেখতে পেলেন আগুনের জিহ্বার মত অনেক জিহ্বা অংশ অংশ হয়ে পড়ছে এবং সেই জিহ্বাগুলো এসে তাঁদের প্রত্যেক জনের উপরে বসলো।
4 তাতে তাঁরা সকলে পাক-রূহে পরিপূর্ণ হলেন এবং রূহ্ তাঁদেরকে যেরকম কথা বলার শক্তি দান করলেন, সেই অনুসারে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।
5
সেই সময়ে আসমানের নিচের সমস্ত দেশ থেকে আগত বহু ভক্ত ইহুদীরা এসে জেরুশালেমে বাস করছিল।
6 আর তাদের অনেক লোক সেই ধ্বনি শুনে সমাগত হল এবং তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল, কারণ প্রত্যেক জন তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁদেরকে কথা বলতে শুনছিল।
7 তখন সকলে ভীষণ আশ্চর্য ও চমৎকৃত হয়ে বলতে লাগল, দেখ, এই যে লোকেরা কথা বলছে, এরা সকলে কি গালীলীয় নয়?
8 তবে আমরা কেমন করে প্রত্যেকে নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা শুনছি?
9 পার্থীয়, মাদীয় ও ইলামীয় লোক এবং মেসোপটেমিয়া, এহুদিয়া ও কাপ্পাদকিয়া, পন্ত ও এশিয়া, ফরুগিয়া ও পাম্ফুলিয়া,
10 মিসর এবং লিবিয়া দেশস্থ কুরীণীর নিকটবর্তী অঞ্চল-নিবাসী এবং প্রবাসকারী রোমীয় ইহুদী ও ইহুদী-ধর্মাবলম্বী অ-ইহুদী লোকেরা এবং ক্রীটীয় ও আরবীয় লোক যে আমরা,
11 আমাদের নিজ নিজ ভাষায় ওদেরকে আল্লাহ্র মহৎ মহৎ কাজের কথা বলতে শুনছি।
12 এভাবে তারা সকলে চমৎকৃত হল ও হতবুদ্ধি হয়ে পরস্পর বলতে লাগল, এর অর্থ কি?
13 অন্য লোকেরা পরিহাস করে বললো, ওরা মিষ্ট আঙ্গুর-রসে মাতাল হয়েছে।
14
কিন্তু পিতর এগার জনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাদের কাছে বক্তৃতা করে বললেন, হে ইহুদী লোকেরা, হে জেরুশালেম-নিবাসী সকলে, তোমরা এই কথা জেনে রাখ এবং আমার কথা শুন।
15 কেননা তোমরা যে অনুমান করছো, এরা মাতাল, তা নয়, কারণ এখন তো সকাল নয় ঘটিকা মাত্র।
16 কিন্তু এটি সেই ঘটনা, যার কথা যোয়েল নবীর মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে,
17
“শেষ কালে এরকম হবে, এই কথা আল্লাহ্ বলছেন,
আমি মানুষের উপরে আমার রূহ্ সেচন করবো;
তাতে তোমাদের পুত্ররা ও তোমাদের কন্যারা ভবিষ্যদ্বাণী বলবে,
আর তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে,
এবং তোমাদের প্রাচীনেরা স্বপ্ন দেখবে।
18
আবার আমার গোলামদের উপরে
এবং আমার বাঁদীদের উপরে সেই সময়ে আমি আমার রূহ্ সেচন করবো,
আর তারা ভবিষ্যদ্বাণী বলবে।
19
আমি উপরে আসমানে নানা অদ্ভুত লক্ষণ
এবং নিচে দুনিয়াতে নানা চিহ্ন রক্ত, আগুন ও ধোঁয়া দেখাবো।
20
প্রভুর সেই মহৎ ও প্রসিদ্ধ দিনের আগমনের আগে
সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে, চন্দ্র রক্ত হয়ে যাবে;
21
আর এরকম হবে, যে কেউ প্রভুর নামে ডাকবে,
সেই নাজাত পাবে।”
22
হে ইসরাইল লোকেরা, এসব কথা শোন। নাসরতীয় ঈসা কুদরতি-কাজ, অদ্ভুত লক্ষণ ও চিহ্নগুলো দ্বারা তোমাদের কাছে আল্লাহ্-কর্তৃক প্রমাণিত মানুষ; তাঁরই দ্বারা আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে ঐ সমস্ত কাজ করেছেন, যা তোমরা নিজেরাই জান।
23 সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাঁর নিরূপিত মন্ত্রণা ও পূর্বজ্ঞান অনুসারে তোমাদের হাতে দিলে তোমরা তাঁকে অধর্মীদের দ্বারা ক্রুশে দিয়ে হত্যা করেছিলে।
24 কিন্তু আল্লাহ্ মৃত্যু-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে তাঁকে উঠিয়েছেন; কেননা তাঁকে ধরে রাখবার সাধ্য মৃত্যুর ছিল না।
25 কারণ দাউদ তাঁর বিষয়ে বলেন,
“আমি প্রভুকে নিয়তই আমার সম্মুখে দেখতাম;
কারণ তিনি আমার ডান পাশে আছেন, যেন আমি বিচলিত না হই।
26
এজন্য আমার অন্তর আনন্দিত ও আমার জিহ্বা উল্লসিত হল;
আবার আমার দেহও প্রত্যাশায় প্রবাস করবে;
27
কারণ তুমি আমার প্রাণ পাতালে পরিত্যাগ করবে না,
আর নিজের বিশ্বস্ত গোলামের ক্ষয় দেখতে দেবে না।
28
তুমি আমাকে জীবনের পথ জানিয়েছ,
তোমার উপস্থিতি দ্বারা আমাকে আনন্দে পূর্ণ করবে।”
29
ভাইয়েরা, সেই পিতৃকুলপতি দাউদের বিষয়ে আমি তোমাদেরকে মুক্ত কণ্ঠে বলতে পারি যে, তিনি ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁকে দাফন করা হয়েছে, আর তাঁর কবর আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে রয়েছে।
30 ভাল, তিনি নবী ছিলেন এবং জানতেন, আল্লাহ্ কসম খেয়ে তাঁর কাছে এই শপথ করেছিলেন যে, তাঁর এক জন বংশধরকে তাঁর সিংহাসনে বসাবেন;
31 অতএব দাউদ আগে থেকে দেখে মসীহেরই পুনরুত্থান বিষয়ে এই কথা বললেন যে, তাঁকে পাতালে পরিত্যাগও করা হয় নি, তাঁর দেহ ক্ষয়ও হয় নি।
32 এই ঈসাকেই আল্লাহ্ উঠিয়েছেন, আমরা সকলেই এই বিষয়ের সাক্ষী।
33 অতএব আল্লাহ্র ডান পাশে বসবার গৌরব তাঁকেই দান করা হয়েছে এবং পিতার কাছ থেকে ওয়াদা করা পাক-রূহ্ পেয়েছেন, আর এখন তোমরা যা দেখছো ও শুনছো, তা তিনি সেচন করলেন।
34 কেননা দাউদ বেহেশতে যান নি, কিন্তু তিনি নিজে এই কথা বলেন,
“প্রভু আমার প্রভুকে বললেন,
তুমি আমার ডান দিকে বস,
35
যতদিন আমি তোমার দুশমনদেরকে, তোমার পায়ের তলায় না রাখি।”
36
অতএব ইসরাইলের সমস্ত কুল নিশ্চিত-ভাবে জানুক যে, যাঁকে তোমরা ক্রুশে দিয়েছিলে, আল্লাহ্ সেই ঈসাকেই প্রভু ও মসীহ্ উভয়ই করেছেন।
37
এই কথা শুনে তাদের অন্তরে যেন শেল-বিদ্ধ হল এবং তারা পিতরকে ও অন্য প্রেরিতদেরকে বলতে লাগল, ভাইয়েরা, আমরা কি করবো?
38 তখন পিতর তাদেরকে বললেন, মন ফিরাও এবং তোমরা প্রত্যেক জন তোমাদের গুনাহ্ মাফের জন্য ঈসা মসীহের নামে বাপ্তিস্ম নেও; তা হলে পাক-রূহ্রূপ দান পাবে।
39 কারণ তোমাদের জন্য, তোমাদের সন্তানদের জন্য এবং দূরবর্তী সকলের জন্য অর্থাৎ, যত লোককে আমাদের আল্লাহ্ প্রভু ডেকে আনবেন তাদের সকলের জন্য এই ওয়াদা করা হয়েছে।
40 এছাড়া, আরও অনেক কথা বলে তিনি সাক্ষ্য দিলেন ও তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বললেন, এই কালের কুটিল লোকদের থেকে তোমাদের নিজেদেরকে রক্ষা কর।
41 তখন যারা তাঁর কথা গ্রাহ্য করলো, তারা বাপ্তিস্ম নিল; তাতে সেদিন কমবেশ তিন হাজার লোক তাঁদের সঙ্গে সংযুক্ত হল।
42 আর তারা প্রেরিতদের শিক্ষায় ও সহভাগিতায়, রুটি ভাঙ্গায় ও মুনাজাতে নিবিষ্ট থাকলো।
43
তখন সকলের মধ্যে ভয় উপস্থিত হল, কেননা প্রেরিতদের কর্তৃক অনেক অদ্ভুত লক্ষণ ও চিহ্ন-কাজ সাধিত হত।
44 আর যারা ঈমান আনলো, তারা সকলে একসঙ্গে সমস্তই সাধারণে রাখতো;
45 আর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে যার যেমন প্রয়োজন, সেই অনুসারে সকলকে ভাগ করে দিত।
46 আর তারা প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে একসঙ্গে মিলিত হত এবং বাড়িতে রুটি ভেঙ্গে উল্লাসে ও হৃদয়ের সরলতায় খাদ্য গ্রহণ করতো; তারা আল্লাহ্র প্রশংসা করতো এবং সমস্ত লোকের প্রীতির পাত্র হল।
47 আর যারা নাজাত পাচ্ছিল, প্রভু দিন দিন তাদেরকে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করতেন।
1
এক দিন মুনাজাতের নির্দিষ্ট সময়ে, বিকেল তিন ঘটিকায়, পিতর ও ইউহোন্না বায়তুল-মোকাদ্দসে যাচ্ছিলেন।
2 লোকেরা প্রতিদিন এক ব্যক্তিকে বহন করে এনে বায়তুল-মোকাদ্দসের সুন্দর নামক দ্বারে রেখে দিত। সে জন্ম থেকেই খঞ্জ ছিল; যারা বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করে তাদের কাছে ভিক্ষা চাইবার জন্য তাকে সেখানে রাখা হত।
3 সে পিতরকে ও ইউহোন্নাকে বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করতে উদ্যত দেখে ভিক্ষা পাবার জন্য ফরিয়াদ করতে লাগল।
4 তাতে পিতর ও ইউহোন্না তার প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে বললেন, আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
5 তাতে সে তাঁদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে রইলো, তাঁদের কাছ থেকে কিছু পাবার অপেক্ষা করছিল।
6 কিন্তু পিতর বললেন, রূপা কি সোনা আমার নেই, কিন্তু যা আছে, তা তোমাকে দান করি; নাসরতীয় ঈসা মসীহের নামে হেঁটে বেড়াও।
7 পরে তিনি তার ডান হাত ধরে তাকে তুললেন; তাতে তৎক্ষণাৎ তার পা ও গোড়ালি সবল হল।
8 সে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল ও হেঁটে বেড়াতে লাগল এবং বেড়াতে বেড়াতে, লাফ দিতে দিতে, আল্লাহ্র প্রশংসা করতে করতে তাঁদের সঙ্গে বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করলো।
9 সমস্ত লোক তাকে হাঁটতে ও আল্লাহ্র প্রশংসা করতে দেখল;
10 আর তারা তাকে চিনতে পারলো যে, এই সেই ব্যক্তি, যে বায়তুল-মোকাদ্দসের সুন্দর দ্বারে বসে ভিক্ষা করতো। তার প্রতি যা ঘটেছিল, তাতে লোকেরা অত্যন্ত চমৎকৃত ও বিস্মিত হল।
11
আর সে পিতরকে ও ইউহোন্নাকে ধরে থাকাতে লোকেরা অতিশয় চমৎকৃত হয়ে তাঁদের কাছে সোলায়মানের নামে যে বারান্দা ছিল, সেখানে দৌড়ে আসল।
12 তা দেখে পিতর লোকদেরকে বললেন, হে ইসরাইলের লোকেরা, এই ব্যক্তির বিষয়ে কেন আশ্চর্য জ্ঞান করছো? অথবা আমরাই যে নিজের শক্তি বা ভক্তিগুণে একে চলবার শক্তি দিয়েছি, এই কথা মনে করে কেনই বা আমাদের প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছ?
13 ইব্রাহিমের, ইস্হাকের ও ইয়াকুবের আল্লাহ্, আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, তাঁর গোলাম সেই ঈসাকে মহিমান্বিত করেছেন। তোমরা তাঁকে দুশমনদের হাতে তুলে দিয়েছিলে এবং পীলাত যখন তাঁকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, তখন পিলাতের সাক্ষাতে তোমরা তাঁকে অস্বীকার করেছিলে।
14 তোমরা সেই পবিত্র ও ধর্মময় ব্যক্তিকে অস্বীকার করে তোমাদের জন্য এক জন নরঘাতককে ছেড়ে দিতে বলেছিলে,
15 কিন্তু তোমরা জীবনের আদিকর্তাকে হত্যা করেছিলে। আর আল্লাহ্ তাঁকে মৃতদের মধ্যে থেকে উঠিয়েছেন, আমরা এর সাক্ষী।
16 আর তাঁর নামে ঈমান আনার ফলে এই যে ব্যক্তিকে তোমরা দেখছো ও জানো, তাঁরই নাম একে বলবান করেছে; তাঁরই দেওয়া ঈমান তোমাদের সকলের সাক্ষাতে একে সমপূর্ণ সুস্থতা এনে দিয়েছে।
17
এখন হে ভাইয়েরা, আমি জানি, তোমাদের নেতাদের মত তোমরাও অজ্ঞানতা-বশত সেই কাজ করেছ;
18 কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর মসীহের দুঃখভোগের বিষয়ে যেসব কথা সমস্ত নবীর মুখ দ্বারা আগে জানিয়ে ছিলেন, সেসব এভাবে পূর্ণ করেছেন।
19 অতএব তোমরা মন ফিরাও ও ফির, যেন তোমাদের গুনাহ্ মুছে ফেলা হয়,
20 যেন এভাবে প্রভুর সম্মুখ থেকে সান্ত্বনার সময় উপস্থিত হয় এবং আল্লাহ্ তোমাদের জন্য আগেই যাঁকে নিরূপিত করে রেখেছেন সেই মসীহ্কে, ঈসাকে, প্রেরণ করেন।
21 আল্লাহ্ অনেক দিন আগে নিজের পবিত্র নবীদের মুখ দ্বারা যে কালের বিষয়ে বলেছেন, যে পর্যন্ত না সমস্ত বিষয়ের পুনঃস্থাপনের সেই কাল উপস্থিত হয়, তত দিন পর্যন্ত নিশ্চয়ই তাঁকে বেহেশতে থাকতে হবে।
22 মূসা তো বলেছিলেন, “প্রভু আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইদের মধ্যে থেকে আমার মত এক জন নবীকে উৎপন্ন করবেন, তিনি তোমাদেরকে যা যা বলবেন, সেসব বিষয়ে তোমরা তাঁর কথা শুনবে;
23 আর এরকম হবে, যে কোন প্রাণী সেই নবীর কথা না শুনবে, সেই লোক লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।”
24 আর শামুয়েল ও তাঁর পরবর্তী যত নবী কথা বলেছেন, তাঁরাও সকলে এই কালের কথা বলেছেন।
25 তোমরা নবীদের সন্তান, আর সেই নিয়মেরও সন্তান, যা আল্লাহ্ তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে স্থাপন করেছিলেন, তিনি তো ইব্রাহিমকে বলেছিলেন, “আর তোমার বংশে দুনিয়ার সমস্ত পিতৃকুল দোয়া পাবে।”
26 আল্লাহ্ আপন গোলামকে উৎপন্ন করে প্রথমে তোমাদেরই কাছে তাঁকে প্রেরণ করলেন, যেন তিনি তোমাদের অধর্মগুলো থেকে তোমাদের প্রত্যেক জনকে ফিরিয়ে এনে তোমাদেরকে দোয়া করেন।
1
তাঁরা লোকদের কাছে কথা বলছেন, এমন সময়ে ইমামেরা ও বায়তুল-মোকাদ্দসের সেনাপতি এবং সদ্দূকীরা হঠাৎ তাঁদের কাছে এসে উপস্থিত হল।
2 তারা অতিশয় বিরক্ত হয়েছিল, কারণ তাঁরা লোকদেরকে উপদেশ দিচ্ছিলেন এবং ঈসার মধ্য দিয়ে মৃতদের আবার পুনরুত্থিত হয়ে উঠবার বিষয় তবলিগ করছিলেন।
3 তখন সন্ধ্যা হয়েছিল বলে তারা তাঁদেরকে ধরে পর দিন পর্যন্ত আটক করে রাখল।
4 কিন্তু যেসব লোক কালাম শুনেছিল, তাদের মধ্যে অনেকে ঈমান আনল; তাতে পুরুষদের সংখ্যা কমবেশ পাঁচ হাজার হল।
5
পরের দিন লোকদের নেতৃবর্গরা, প্রাচীন-বর্গরা ও আলেমরা জেরুশালেমে একত্র হলেন,
6 এবং মহা-ইমাম হানন, কাইয়াফা, যোহন, আলেক্সান্দর, আর মহা-ইমামের আত্মীয় স্বজন সকলে উপস্থিত ছিলেন।
7 তাঁরা পিতর ও ইউহোন্নাকে মধ্যস্থানে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কি ক্ষমতায় অথবা কি নামে তোমরা এই কাজ করেছ?
8 তখন পিতর পাক-রূহে পূর্ণ হয়ে তাঁদেরকে বললেন, হে লোকদের নেতৃবর্গ ও প্রাচীন-বর্গরা,
9 এক জন দুর্বল মানুষের উপকার সাধন করেছি বলে যদি আজ আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কিভাবে এ লোক সুস্থ হয়েছে,
10 তবে আপনারা সকলে ও সমস্ত ইসরাইল লোক এই কথা জানুন যে, আপনারা যাঁকে ক্রুশে দিয়েছিলেন এবং যাঁকে আল্লাহ্ মৃতদের মধ্য থেকে উঠালেন, সেই নাসরতীয় ঈসা মসীহের নামে, তাঁরই গুণে এই ব্যক্তি আপনাদের সম্মুখে সুস্থ শরীরে দাঁড়িয়ে আছে।
11
তিনিই সেই পাথর, যা রাজমিস্ত্রিদের অর্থাৎ আপনাদের,
আপনাদেরই দ্বারা অবজ্ঞাত হয়েছিল,
তা কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠলো।
12
আর অন্য কারো কাছে নাজাত নেই; কেননা আসমানের নিচে মানুষের মধ্যে এমন আর কোন নাম দেওয়া হয় নি, যে নামে আমরা নাজাত পেতে পারি।
13
তখন পিতরের ও ইউহোন্নার সাহস দেখে এবং এরা যে অশিক্ষিত ও সামান্য লোক তা বুঝে, তাঁরা আশ্চর্য জ্ঞান করলেন এবং চিনতে পারলেন যে, এঁরা ঈসার সঙ্গে ছিলেন।
14 আর ঐ সুস্থতা লাভ করা ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে দেখে তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারলেন না।
15 পরে তাঁদেরকে সভা থেকে বাইরে যেতে হুকুম দিয়ে তাঁরা পরস্পর এই পরামর্শ করতে লাগলেন,
16 এই লোকদের প্রতি কি করি? কেননা জেরুশালেম-নিবাসী সকলেই জানে যে, ওদের দ্বারা একটা প্রসিদ্ধ চিহ্ন-কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আমরাও তা অস্বীকার করতে পারি না।
17 কিন্তু কথাটা যেন লোকদের মধ্যে আরও রটে না যায়, এজন্য ওদেরকে ভয় দেখানো যাক, যেন কোন লোককেই আর এই নামে কিছু না বলে।
18 পরে তাঁরা ওঁদেরকে ডেকে এই হুকুম দিলেন, তোমরা ঈসার নামে একেবারেই কোন কথা বলো না, কোন শিক্ষাও দিও না।
19 কিন্তু পিতর ও ইউহোন্না জবাবে তাঁদেরকে বললেন, আল্লাহ্র চোখে কোনটা ঠিক, আপনাদের কথা শোনা নাকি আল্লাহ্র হুকুম পালন করা? আপনারা বিচার করে দেখুন।
20 কারণ আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি তা না বলে থাকতে পারি না।
21 পরে তাঁরা ওঁদেরকে আরও ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দিলেন। লোকদের ভয়ে তাঁরা স্থির করতে পারছিলেন না, কিভাবে ওঁদেরকে শাস্তি দেওয়া যায়, কারণ যা ঘটেছিল, সেজন্য সকল লোক আল্লাহ্র গৌরব করছিল।
22 কেননা সেই সুস্থতা-দানরূপ চিহ্ন-কাজ যে ব্যক্তিতে সাধিত হয়েছিল, তার বয়স চল্লিশ বছরের বেশি হয়েছিল।
23
তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলে পর তাঁরা তাঁদের সঙ্গীদের কাছে গেলেন এবং প্রধান ইমামেরা ও প্রাচীনবর্গরা তাঁদেরকে যা যা বলেছিলেন সেই সমস্তই জানালেন।
24 তা শুনে সকলে এক চিত্তে আল্লাহ্র উদ্দেশে উচ্চৈঃস্বরে বলতে লাগল, হে সার্বভৌম প্রভু, তুমি আসমান, দুনিয়া, সমুদ্র এবং এই সকলের মধ্যে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা;
25 তুমি পাক-রূহ্ দ্বারা তোমার গোলাম আমাদের পিতা দাউদের মুখ দিয়ে এই কথা বলেছিলে, যথা,
“জাতিরা কেন কলহ করলো?
লোকবৃন্দ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করলো?
26
দুনিয়ার বাদশাহ্রা দণ্ডায়মান হল, শাসনকর্তারা একত্র হল,
প্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁর অভিষিক্তের বিরুদ্ধে।”
27
কেননা সত্যিই তোমার পবিত্র গোলাম ঈসা, যাঁকে তুমি অভিষিক্ত করেছ, তাঁর বিরুদ্ধে হেরোদ ও পন্তীয় পীলাত জাতিদের ও ইসরাইল লোকদের সঙ্গে এই নগরে একত্র হয়েছিল,
28 যেন তোমার হাত ও তোমার পরামর্শ দ্বারা আগে থেকে যেসব বিষয় নির্ধারিত হয়েছিল, তা সম্পন্ন করে।
29 আর এখন, হে প্রভু, ওদের ভয় প্রদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাত কর; এবং তোমার এই গোলামদেরকে সমপূর্ণ সাহসের সঙ্গে তোমার কালাম বলবার ক্ষমতা দাও,
30 সুস্থতা দান করবার জন্য তোমার হাত বাড়িয়ে দাও; আর তোমার পবিত্র গোলাম ঈসার নামে যেন চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ সাধিত হয়।
31 যে স্থানে তাঁরা সমবেত হয়েছিলেন, তাঁরা মুনাজাত করলে পর সেই স্থান কেঁপে উঠলো; এবং তাঁরা সকলেই পাক-রূহে পরিপূর্ণ হলেন ও সাহসপূর্বক আল্লাহ্র কালাম বলতে থাকলেন।
32
আর যে বহুসংখ্যক লোক ঈমান এনেছিল, তারা একচিত্ত ও একপ্রাণ ছিল। তাদের এক জনও নিজের সম্পত্তির মধ্যে কিছুই নিজের বলে দাবী করতো না, কিন্তু তাদের সকল বিষয় সাধারণে থাকতো।
33 আর প্রেরিতেরা মহাপরাক্রমে প্রভু ঈসার পুনরুত্থানের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতেন এবং তাদের সকলের উপরে মহা রহমত ছিল।
34 এমন কি, তাদের মধ্যে কেউই দীনহীন ছিল না; কারণ যারা ভূমির অথবা বাড়ির মালিক ছিল, তারা তা বিক্রি করে, বিক্রি করা সম্পত্তির মূল্য এনে প্রেরিতদের পায়ের কাছে রাখত।
35 পরে যার যেমন প্রয়োজন তাকে তেমনি দেওয়া হত।
36
আর ইউসুফ নামে এক জন লেবীয় লোক সাইপ্রাস দ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে প্রেরিতেরা বার্নাবাস নাম দিয়েছিলেন, অনুবাদ করলে এই নামের অর্থ ‘উৎসাহের সন্তান’।
37 তাঁর একখণ্ড ভূমি থাকাতে তিনি তা বিক্রি করে তার মূল্য এনে প্রেরিতদের পায়ের কাছে রাখলেন।
1
কিন্তু অননিয় নামে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী সাফীরা একটি সম্পত্তি বিক্রি করলো,
2 এবং স্ত্রীর জানামতেই তার মূল্যের কিছু রেখে দিল, আর বাকি টাকা এনে প্রেরিতদের পায়ের কাছে রাখল।
3 তখন পিতর বললেন, অননিয়, শয়তান কেন তোমার অন্তর এমন পূর্ণ করেছে যে, তুমি পাক-রূহের কাছে মিথ্যা বললে এবং ভূমির মূল্য থেকে কতকটা রেখে দিলে?
4 সেই ভূমি বিক্রয়ের আগে কি তা তোমারই ছিল না? এবং বিক্রি হলে পর কি সেটি তোমার নিজের অধিকারে ছিল না? তবে এমন বিষয় তোমার অন্তরে কেন ধারণ করলে? তুমি মানুষের কাছে মিথ্যা বললে এমন নয়, আল্লাহ্রই কাছে বললে।
5 এসব কথা শোনামাত্র অননিয় ভূমিতে পড়ে মারা গেল; আর যারা শুনলো, সকলেই ভীষণ ভয় পেল।
6 পরে যুবকেরা উঠে তাকে কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে কবর দিল।
7
আর প্রায় তিন ঘণ্টা পরে তার স্ত্রীও উপস্থিত হল, কিন্তু কি ঘটেছে তা সে জানত না।
8 তখন পিতর তাকে জবাবে বললেন, আমাকে বল দেখি, তোমরা সেই ভূমি কি এত টাকাতে বিক্রি করেছিলে? সে বললো, হ্যাঁ, এত টাকাতেই বটে।
9 তাতে পিতর তাকে বললেন, তোমরা প্রভুর রূহ্কে পরীক্ষা করার জন্য কেন এক মত হলে? দেখ, যারা তোমার স্বামীকে দাফন করেছে, তারা দ্বারে পদার্পণ করছে এবং তোমাকে বাইরে নিয়ে যাবে।
10 সে তৎক্ষণাৎ তাঁর পায়ের কাছে পড়ে মারা গেল; আর ঐ যুবকেরা ভিতরে এসে তাকে মৃত দেখলো এবং বাইরে নিয়ে গিয়ে তার স্বামীর পাশে কবর দিল।
11 তখন সমস্ত মণ্ডলী এবং যত লোক এই কথা শুনলো, সকলেই ভীষণ ভয় পেল।
12
আর প্রেরিতদের মধ্য দিয়ে লোকদের মধ্যে অনেক চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ সাধিত হত; এবং তাঁরা সকলে একচিত্তে সোলায়মানের বারান্দাতে একসঙ্গে মিলিত হতেন।
13 কিন্তু অন্য লোকদের মধ্য থেকে আর কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে সাহস করলো না, তবুও লোকেরা তাদেরকে সম্মান করতো।
14 আর উত্তরোত্তর অনেক পুরুষ ও স্ত্রীলোক ঈমান এনে প্রভুতে সংযুক্ত হতে লাগল।
15 এমন কি, লোকেরা রোগীদেরকে বিছানায় ও খাটে করে বাইরে পথে পথে এনে রাখত যেন পিতর আসার সময়ে অন্ততঃ তাঁর ছায়া কারো কারো উপরে পড়ে।
16 আর জেরুশালেমের চারদিকের নগরগুলো থেকেও অনেক লোক রোগীদেরকে এবং নাপাক রূহ্ দ্বারা কষ্ট পাওয়া ব লোকদেরকে নিয়ে ভিড় করতো, আর তারা সকলেই সুস্থ হত।
17
পরে মহা-ইমাম এবং তাঁর সঙ্গীরা সকলে অর্থাৎ সদ্দূকী-সমপ্রদায় উঠলেন, তারা ঈর্ষাতে পূর্ণ হলেন,
18 এবং প্রেরিতদেরকে ধরে সাধারণ কারাগারে আটক করলেন।
19 কিন্তু রাতের বেলায় প্রভুর এক জন ফেরেশতা কারাগারের দ্বারগুলো খুলে দিলেন ও তাঁদেরকে বাইরে এনে বললেন,
20 তোমরা যাও, বায়তুল-মোকাদ্দসে দাঁড়িয়ে লোকদেরকে এই জীবন সম্পর্কে সমস্ত কথা বল।
21 এই কথা শুনে তাঁরা খুব ভোরে বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করে উপদেশ দিতে লাগলেন। ইতোমধ্যে মহা-ইমাম ও তাঁর সঙ্গীরা এসে মহাসভাকে এবং বনি-ইসরাইলদের সমস্ত প্রাচীনদলকে ডেকে একত্র করলেন এবং ওঁদেরকে নিয়ে আসার জন্য কারাগারে লোক পাঠালেন।
22 কিন্তু যে পদাতিকেরা গেল, তারা কারাগারে তাঁদেরকে পেল না;
23 তখন ফিরে এসে এই সংবাদ দিল, আমরা দেখলাম, কারাগার সুদৃঢ়ভাবে বন্ধ, দ্বারে দ্বারে পাহারাদারেরা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দ্বার খুললে ভিতরে কাউকেও পেলাম না।
24 এই কথা শুনে বায়তুল-মোকাদ্দসের সেনাপতি এবং প্রধান ইমামেরা ভেবে আকুল হলেন যে, এর পরিণাম কি হবে।
25 ইতোমধ্যে কোন ব্যক্তি এসে তাঁদেরকে এই সংবাদ দিল, দেখুন, আপনারা যে লোকদেরকে কারাগারে রেখেছিলেন, তাঁরা বায়তুল-মোকাদ্দসে দাঁড়িয়ে আছে ও লোকদেরকে উপদেশ দিচ্ছে।
26 তখন সেনাপতি পদাতিকদেরকে সঙ্গে করে সেখানে গিয়ে তাঁদেরকে ধরে আনলেন, কিন্তু লোকে তাঁদেরকে পাথর মারতে পারে সেই ভয়ে তাঁরা প্রেরিতদের প্রতি কোন বল প্রয়োগ করলেন না।
27
পরে তাঁরা তাঁদেরকে এনে মহাসভার মধ্যে দাঁড় করালেন, আর মহা-ইমাম তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, বললেন,
28 আমরা তোমাদেরকে এই নামে উপদেশ দিতে দৃঢ়ভাবে নিষেধ করেছিলাম; তবুও দেখ, তোমরা তোমাদের উপদেশে জেরুশালেম পরিপূর্ণ করেছ এবং সেই ব্যক্তির রক্ত আমাদের উপরে বর্তাতে মনস্থ করেছ।
29 কিন্তু পিতর ও অন্য প্রেরিতেরা জবাবে বললেন, মানুষের চেয়ে বরং আল্লাহ্র হুকুম পালন করতে হবে।
30 যাঁকে আপনারা ক্রুশে টাঙ্গিয়ে হত্যা করেছিলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ সেই ঈসাকে মৃত্যু থেকে জীবিত করে তুলেছেন,
31 আর তাঁকেই আল্লাহ্ অধিপতি ও নাজাতদাতা করে তাঁর ডান পাশে বসবার গৌরব দান করেছেন, যেন ইসরাইলকে মন পরিবর্তন ও গুনাহ্ মাফ করার সুযোগ দান করেন।
32 এসব বিষয়ের আমরা সাক্ষী এবং যে রূহ্ আল্লাহ্ তাঁর বাধ্য লোকদেরকে দিয়েছেন, সেই পাক-রূহ্ও সাক্ষী।
33
এই কথা শুনে তাঁরা ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন ও ওঁদেরকে হত্যা করার মনস্থ করলেন।
34 কিন্তু মহাসভায় গমলীয়েল নামে এক জন ফরীশী উঠে ঐ লোকদেরকে কিছুক্ষণের জন্য বের করার হুকুম দিলেন। তিনি শরীয়তের এক জন শিক্ষক ছিলেন এবং সকলে তাঁকে মান্য করতো।
35 পরে তিনি তাঁদেরকে বললেন, হে বনি-ইসরাইলরা, সেই লোকদের বিষয়ে তোমরা কি করতে উদ্যত হয়েছ, সেই বিষয়ে সাবধান হও।
36 কেননা ইতোপূর্বে থুদা উঠে নিজেকে মহাপুরুষ বলে দাবী করেছিল এবং কমবেশ চারশত জন তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। সে হত হল এবং যত লোক তার অনুগত হয়েছিল সকলে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়লো, কেউই রইলো না।
37 সেই ব্যক্তির পরে নাম লিখে দেবার সময়ে গালীলীয় এহুদা উঠে কতগুলো লোককে তার পিছনে টেনে নিয়েছিল; সেও বিনষ্ট হল এবং যত লোক তার অনুগত হয়েছিল, সকলে ছড়িয়ে পড়লো।
38 এখন আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা এই লোকদের থেকে ক্ষান্ত হও, তাদেরকে থাকতে দাও; কেননা এই পরামর্শ কিংবা এই ব্যাপার যদি মানুষ থেকে হয়ে থাকে, তবে লোপ পাবে;
39 কিন্তু যদি আল্লাহ্ থেকে হয়ে থাকে, তবে তাদেরকে লোপ করা তোমাদের সাধ্য নয়, কি জানি, দেখা যাবে যে, তোমরা আল্লাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করছো।
40 তখন তারা তাঁর কথায় সম্মত হলেন, আর প্রেরিতদেরকে কাছে ডেকে প্রহার করলেন এবং ঈসার নামে কোন কথা বলতে নিষেধ করে ছেড়ে দিলেন।
41 তখন প্রেরিতেরা মহাসভার সম্মুখ থেকে আনন্দ করতে করতে চলে গেলেন, কারণ তাঁরা সেই নামের জন্য অপমানিত হবার যোগ্য-পাত্র গণিত হয়েছিলেন।
42 আর তাঁরা প্রতিদিন বায়তুল-মোকাদ্দসে ও বাড়িতে উপদেশ দিতেন এবং ঈসা-ই যে মসীহ্, এই সুসমাচার তবলিগ করতেন, ক্ষান্ত হতেন না।
1
আর এই সময়ে, যখন সাহাবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তখন গ্রীক ভাষা-ভাষী ইহুদীরা ইবরানীদের বিপক্ষে বচসা করতে লাগল, কেননা দৈনিক পরিচর্যায় তাদের বিধবারা উপেক্ষিত হচ্ছিল।
2 তখন সেই বারো জন প্রেরিত সমস্ত উম্মতদের কাছে ডেকে বললেন, আমরা যে আল্লাহ্র কালাম ত্যাগ করে ভোজনের পরিচর্যা করি, এটা উপযুক্ত নয়।
3 কিন্তু হে ভাইয়েরা, তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে যাদের সুনাম আছে এবং রূহে ও বিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এমন সাত জনকে বেছে নেও; তাঁদেরকে আমরা এই কাজের ভার দেব।
4 কিন্তু আমরা মুনাজাতে ও কালামের পরিচর্যায় নিবিষ্ট থাকব।
5 এই কথায় সমস্ত লোক সন্তুষ্ট হল এবং তারা ঈমানে ও পাক-রূহে পরিপূর্ণ স্তিফানকে মনোনীত করলো। এছাড়া, তারা ফিলিপ, প্রখর, নীকানর, তীমোন, পার্মিনা ও ্এণ্টিয়কের ইহুদী-ধর্মাবলম্বী নিকলায়কে মনোনীত করলো।
6 তারা এঁদেরকে প্রেরিতদের সম্মুখে উপস্থিত করলো এবং তাঁরা মুনাজাত করে এঁদের উপরে হস্তার্পণ করলেন।
7
আর আল্লাহ্র কালাম ছড়িয়ে পড়তে লাগল এবং জেরুশালেমে উম্মতের সংখ্যা অতিশয় বৃদ্ধি পেতে লাগল; আর ইমামদের মধ্যে অনেক লোক ঈমানের বশবর্তী হল।
8
আর স্তিফান রহমতে ও শক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে লোকদের মধ্যে মহা মহা অদ্ভুত লক্ষণ ও চিহ্ন-কাজ সাধন করতে লাগলেন।
9 কিন্তু যাকে মুক্ত-করা লোকদের মজলিস-খানা বলে, তার কয়েক জন এবং কোন কোন কুরীণীয় ও আলেক্জান্দ্রিয়ার লোক এবং কিলিকিয়া ও এশিয়ার কতগুলো লোক উঠে স্তিফানের সঙ্গে বাদানুবাদ করতে লাগল।
10 কিন্তু তিনি যে বিজ্ঞতার ও যে রূহের বলে কথা বলছিলেন, তার প্রতিরোধ করতে তাদের সাধ্য হল না।
11 তখন তারা কয়েক জনকে দলে ভিড়াল, আর এরা এই কথা বললো, আমরা একে মূসার ও আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কুফরী করতে শুনেছি।
12 আর তারা লোক সাধারণকে, প্রাচীন নেতৃবর্গদের ও আলেমদেরকে উত্তেজিত করে তুললো এবং স্তিফানকে আক্রমণ করে ধরলো। তারা তাঁকে মহাসভাতে নিয়ে গেল,
13 এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দাঁড় করালো। এই মিথ্যা সাক্ষীরা বললো, এই ব্যক্তি পবিত্র স্থানের ও শরীয়তের বিরুদ্ধে কথা বলতে ক্ষান্ত হয় না।
14 আমরা একে বলতে শুনেছি যে, সেই নাসরতীয় ঈসা এই স্থান ভেঙ্গে ফেলবে এবং মূসা আমাদের কাছে যেসব নিয়ম-প্রণালী দিয়ে গেছেন, সেসব পরিবর্তন করবে।
15 তখন যারা সভায় বসেছিল, তারা সকলে তাঁর প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে দেখল, তাঁর মুখ ফেরেশতার মুখের মত।
1
তখন মহা-ইমাম স্তিফানকে বললেন, এসব কথা কি সত্যি?
2 জবাবে তিনি বললেন, হে ভাইয়েরা ও পিতারা, শুনুন। আমাদের পিতা ইব্রাহিম হারণে বাস করার আগে যে সময়ে মেসোপটেমিয়ায় ছিলেন, সেই সময়ে মহিমাময় আল্লাহ্ তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন, আর বলেছিলেন,
3 “তুমি স্বদেশ থেকে ও তোমার জ্ঞাতি কুটুম্বদের মধ্য থেকে বের হও এবং আমি যে দেশ তোমাকে দেখাই, সেই দেশে চল।”
4 তখন তিনি কলদীয়দের দেশ থেকে বের হয়ে গিয়ে হারণে বাস করলেন; আর তাঁর পিতার মৃত্যু হলে পর আল্লাহ্ তাঁকে সেখান থেকে এই দেশে আনলেন, যে দেশে আপনারা এখন বাস করছেন,
5 কিন্তু এই দেশের মধ্যে তাঁকে কোন অধিকার দিলেন না, এক পা পরিমিত ভূমিও দিলেন না। কিন্তু তিনি তাঁর কাছে অঙ্গীকার করলেন, তিনি তাঁকে ও তাঁর পরে তাঁর বংশকে অধিকারার্থে তা দেবেন, যদিও তখন তাঁর সন্তান হয় নি।
6 আর আল্লাহ্ এরকম বললেন, যে, “তাঁর বংশ পরদেশে প্রবাসী থাকবে এবং লোকে তাদেরকে দিয়ে গোলামী করাবে ও চার শত বছর পর্যন্ত তাদের প্রতি দৌরাত্ম্য করবে;
7 আর তারা যে জাতির গোলাম হবে, আমিই তার বিচার করবো,” আল্লাহ্ আরও বললেন, “এর পরে তারা বের হয়ে আসবে এবং এই স্থানে আমার এবাদত করবে।”
8 আর তিনি তাঁকে খৎনার নিয়ম দিলেন; আর এভাবে ইব্রাহিম ইস্হাককে জন্ম দিলেন এবং অষ্টম দিনে তাঁর খৎনা করলেন। পরে ইস্হাক ইয়াকুবের এবং ইয়াকুব সেই বারো জন পিতৃকুলপতির জন্ম দিলেন।
9
আর পিতৃকুলপতিরা ইউসুফের প্রতি ঈর্ষা করে তাঁকে বিক্রি করলে তিনি মিসরে নীত হন।
10 কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁর সমস্ত দুঃখ-কষ্ট থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন, আর মিসরের বাদশাহ্ ফেরাউনের সুনজরে আনলেন ও বিজ্ঞতা দিলেন। তাতে ফেরাউন তাঁকে মিসরের ও তাঁর সমস্ত গৃহের নেতৃত্ব পদে নিযুক্ত করলেন।
11 পরে সমস্ত মিসর ও কেনান দেশে দুর্ভিক্ষ হল, বড়ই কষ্ট উপস্থিত হল, আর আমাদের পূর্বপুরুষদের খাদ্যের অভাব হল।
12 কিন্তু মিসরে শস্য আছে শুনে ইয়াকুব আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে প্রথমবার প্রেরণ করলেন।
13 পরে দ্বিতীয়বারে ইউসুফ আপন ভাইদের কাছে নিজের পরিচয় দিলেন এবং ইউসুফের পরিবার সম্বন্ধে ফেরাউন জানতে পারলেন।
14 পরে ইউসুফ তাঁর পিতা ইয়াকুবকে এবং তাঁর সমস্ত জ্ঞাতিকে নিজের কাছে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা সংখ্যায় মোট পঁচাত্তর জন ছিলেন।
15 তাতে ইয়াকুব মিসরে গেলেন, পরে তাঁর ও আমাদের পূর্বপুরুষদের মৃত্যু হল।
16 আর তাঁরা শিখিমে নীত হলেন এবং যে কবর ইব্রাহিম রূপা দিয়ে শিখিমে হমোর-সন্তানদের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন, সেখানে সমাহিত হলেন।
17
পরে আল্লাহ্ ইব্রাহিমের কাছে যে ওয়াদা করেছিলেন, সেই ওয়াদা পূর্ণ হবার সময় কাছে এসে গেলে, লোকেরা মিসরে বৃদ্ধি পেয়ে বহুসংখ্যক হয়ে উঠলো।
18 অবশেষে মিসরের উপরে এমন আর এক জন বাদশাহ্ উৎপন্ন হলেন, যিনি ইউসুফকে জানতেন না।
19 তিনি আমাদের জাতির সঙ্গে চাতুর্য ব্যবহার করলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি দৌরাত্ম্য করলেন। এমন কি, তাঁদের শিশুরা যেন জীবিত না থাকে সেজন্য তাদের বাইরে ফেলে দেওয়া হত।
20 সেই সময়ে মূসার জন্ম হয়। তিনি আল্লাহ্র দৃষ্টিতে সুন্দর ছিলেন এবং তিন মাস পর্যন্ত পিতার বাড়িতে পালিত হলেন।
21 পরে তাঁকে বাইরে ফেলে দেওয়া হলে ফেরাউনের কন্যা তুলে নেন ও তাঁর নিজের পুত্র করার উদ্দেশ্যে প্রতিপালন করেন।
22 আর মূসা মিসরীয়দের সমস্ত বিদ্যায় শিক্ষিত হলেন এবং তিনি কথায় ও কাজে শক্তিশালী ছিলেন।
23
মূসার বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তাঁর নিজের ভাইদের, বনি-ইসরাইলদের তত্ত্বাবধান করার ইচ্ছা তাঁর অন্তরে জেগে উঠলো।
24 তখন এক জনের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে দেখে তিনি তার পক্ষ হলেন, সেই মিসরীয় ব্যক্তিকে আঘাত করে নির্যাতিত লোকের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার করলেন।
25 তিনি মনে করছিলেন, তাঁর ভাইয়েরা বুঝেছে যে, তাঁর হাত দিয়ে আল্লাহ্ তাদেরকে উদ্ধার করছেন; কিন্তু তারা তা বুঝতে পারল না।
26 আর পর দিন তারা যখন মারামারি করছিল, তখন তিনি তাদের কাছে দেখা দিয়ে মিলন করিয়ে দেবার চেষ্টা করলেন, বললেন, ওহে, তোমরা পরস্পর ভাই, এক জন অন্যের প্রতি অন্যায় করছো কেন?
27 কিন্তু যে ব্যক্তি প্রতিবেশীর প্রতি অন্যায় করছিল, সে তাঁকে ঠেলে ফেলে দিয়ে বললো, তোমাকে নেতা ও বিচারকর্তা করে আমাদের উপরে কে নিযুক্ত করেছে?
28 গতকাল যেমন সেই মিসরীয়কে খুন করলে, তেমনি কি আমাকেও খুন করতে চাইছো?
29 এই কথা শুনে মূসা পালিয়ে গেলেন, আর মাদিয়ান দেশে প্রবাসী হলেন; সেখানে তাঁর দুই পুত্রের জন্ম হয়।
30
পরে চল্লিশ বছর পূর্ণ হলে তুর পর্বতের মরুভূমিতে এক জন ফেরেশতা একটা ঝোপে আগুনের শিখায় তাঁকে দর্শন দিলেন।
31 মূসা সেই দৃশ্য দেখে আশ্চর্য জ্ঞান করলেন, আর ভাল করে দেখবার জন্য কাছে যাচ্ছেন, এমন সময়ে প্রভুর এই বাণী শোনা গেল,
32 “আমি তোমার পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্, ইব্রাহিমের, ইস্হাকের ও ইয়াকুবের আল্লাহ্।” তখন মূসা ভয়ে কাঁপতে লাগলেন এবং ভাল করে তাকিয়ে দেখবার সাহস করলেন না।
33 পরে প্রভু তাঁকে বললেন, “তোমার পা থেকে জুতা খুলে ফেল; কেননা যে স্থানে তুমি দাঁড়িয়ে আছ, সেটি পবিত্র ভূমি।
34 আমি মিসরে অবস্থিত আমার লোকদের দুঃখ সত্যিই দেখেছি, তাদের আর্তস্বর শুনেছি, আর তাদেরকে উদ্ধার করতে নেমে এসেছি, এখন এসো, আমি তোমাকে মিসরে প্রেরণ করি।”
35
এই যে মূসাকে তারা অস্বীকার করেছিল, বলেছিল, ‘তোমাকে নেতা ও বিচারকর্তা করে কে নিযুক্ত করেছে?’ তাঁকেই আল্লাহ্, যে ফেরেশতা ঝোপে তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন, সেই ফেরেশতার মধ্য দিয়ে নেতা ও মুক্তিদাতা করে প্রেরণ করলেন।
36 তিনিই মিসরে, লোহিত সাগরে ও মরুভূমিতে চল্লিশ বছর কাল নানা রকম অদ্ভুত লক্ষণ ও চিহ্ন-কাজ সাধন করে তাদেরকে বের করে আনলেন।
37 ইনি সেই মূসা, যিনি বনি-ইসরাইলকে এই কথা বলেছিলেন, “আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার মত এক জন নবীকে উৎপন্ন করবেন।”
38 তিনিই মরুভূমিতে বনি-ইসরাইলদের দলের মধ্যে ছিলেন; যে ফেরেশতা তুর পর্বতে তাঁর কাছে কথা বলেছিলেন, তিনিই তাঁর এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি আমাদেরকে দেবার জন্য জীবন্ত বাণী পেয়েছিলেন।
39 আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাঁর বাধ্য হতে চাইলেন না, বরং তাঁকে অগ্রাহ্য করলেন। আর তারা মনে মনে পুনরায় মিসরের দিকে ফিরে হারুনকে বললেন,
40 “আমাদের জন্য দেবতা নির্মাণ কর, তাঁরাই আমাদের আগে আগে যাবেন, কেননা এই যে মূসা মিসর দেশ থেকে আমাদেরকে বের করে আনলেন, তাঁর কি হল, আমরা জানি না”।
41 আর সেই সময়ে তারা একটা বাছুর তৈরি করলেন এবং সেই মূর্তির উদ্দেশে কোরবানী করলেন ও নিজেদের হাতের তৈরি বস্তুতে আমোদ করতে লাগলেন।
42 কিন্তু আল্লাহ্ বিমুখ হলেন, তাদেরকে আসমানের বাহিনী পূজা করার জন্যই ফেলে রাখলেন; যেমন নবীদের কিতাবে লেখা আছে, “হে ইসরাইল-কূল, মরুভূমিতে চল্লিশ বছর ধরে তোমরা কি আমার উদ্দেশে পশু কোরবানী ও উপহার উৎসর্গ করেছিলে?
43 তোমরা বরং মোলকের তাঁবু ও রিফন্ দেবতার তারা তুলে বহন করেছিলে, সেই মূর্তিদ্বয়, যা তোমরা পূজা করার জন্য গড়েছিলে; আর আমি তোমাদেরকে ব্যাবিলনের ওদিকে নির্বাসিত করবো।”
44
যেমন তিনি হুকুম করেছিলেন, তদনুযায়ী শরীয়ত-তাঁবু মরুভূমিতে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে ছিল। তিনি মূসাকে বলেছিলেন, তুমি যেরকম আদর্শ দেখলে, সেই অনুসারে সেটি নির্মাণ কর।
45 আর আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাঁদের সময়ে সেটি পেয়ে ইউসার সঙ্গে সেই জাতিদের অধিকারে প্রবেশ করলেন, যাদেরকে আল্লাহ্ আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্মুখ থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই তাঁবু দাউদের সময় পর্যন্ত রইল।
46 ইনি আল্লাহ্র দৃষ্টিতে মেহেরবানী লাভ করলেন এবং ইয়াকুবের আল্লাহ্র জন্য এক আবাস প্রস্তুত করার অনুমতি যাচ্ঞা করলেন;
47 কিন্তু সোলায়মান তাঁর জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করলেন।
48 তবুও যিনি সর্বশক্তিমান, তিনি হস্তনির্মিত গৃহে বাস করেন না; যেমন নবী বলেন,
49
“বেহেশত আমার সিংহাসন, দুনিয়া আমার পাদপীঠ;
প্রভু বলেন, তোমরা আমার জন্য কিরূপ গৃহ নির্মাণ করবে?
50
অথবা আমার বিশ্রাম-স্থান কোথায়?
আমারই হাত কি এসব নির্মাণ করে নি?”
51
হে একগুঁয়ে লোকেরা এবং অন্তরে এবং কানে খৎনা-না-করানো লোকেরা, তোমরা সব সময় পাক-রূহের প্রতিরোধ করে থাক; তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন, তোমরাও তেমনি।
52 তোমাদের পূর্ব-পুরুষেরা কোন্ নবীকে নির্যাতন না করেছে? তারা তাঁদেরকেই হত্যা করেছিল, যাঁরা আগে সেই ধর্মময়ের আগমনের কথা জানাতেন, যাঁকে সমপ্রতি তোমরা দুশমনদের হাতে তুলে দিয়ে হত্যা করেছ;
53 তোমরাই ফেরেশতাদের দ্বারা হুকুম করা শরীয়ত পেয়েছিলে, কিন্তু পালন কর নি।
54
এই কথা শুনে তারা ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত ঘষতে লাগল।
55 কিন্তু তিনি পাক-রূহে পরিপূর্ণ হয়ে বেহেশতের প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে দেখলেন যে, আল্লাহ্র মহিমা রয়েছে এবং ঈসা আল্লাহ্র ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন,
56 আর তিনি বললেন, দেখ, আমি দেখছি, বেহেশত খোলা রয়েছে এবং ইবনুল-ইনসান আল্লাহ্র ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
57 কিন্তু তাঁরা উচ্চৈঃস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো, নিজ নিজ কানে আঙ্গুল দিল এবং এক যোগে তাঁর উপরে গিয়ে পড়লো।
58 আর তাঁকে নগর থেকে বের করে পাথর মারতে লাগল এবং সাক্ষীরা নিজ নিজ কাপড় খুলে শৌল নামে এক যুবকের পায়ের কাছে রাখলো।
59 এদিকে তারা যখন স্তিফানকে পাথর মারছিল, তখন তিনি ডেকে মুনাজাত করলেন, হে প্রভু ঈসা, আমার রূহ্কে গ্রহণ কর।
60 পরে তিনি হাঁটু পেতে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, প্রভু, এদের বিপক্ষে এই গুনাহ্ ধরো না। এই কথা বলে তিনি ইন্তেকাল করলেন। আর শৌল তাঁর হত্যার অনুমোদন করছিলেন।
1
সেদিন জেরুশালেমের মণ্ডলীর প্রতি বড়ই নির্যাতন উপস্থিত হল, তাতে প্রেরিতেরা ছাড়া অন্য সকলে এহুদিয়ার ও সামেরিয়ার জনপদে ছড়িয়ে পড়লো।
2 আর কয়েক জন ভক্ত লোক স্তিফানকে দাফন করলেন ও তাঁর জন্য অনেক মাতম করলেন।
3 কিন্তু শৌল মণ্ডলীর উচ্ছেদ সাধন করতে লাগলেন, ঘরে ঘরে প্রবেশ করে পুরুষ ও স্ত্রীলোকদেরকে টেনে এনে জেলে দিতে লাগলেন।
4
তখন যারা ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা চারদিকে ভ্রমণ করে সুসমাচারের কালাম করতে লাগল।
5 আর ফিলিপ সামেরিয়ার নগরে গিয়ে লোকদের কাছে মসীহ্কে তবলিগ করতে লাগলেন।
6 আর লোকেরা ফিলিপের কথা শুনে ও তাঁর কৃত চিহ্ন-কাজগুলো দেখে মন দিয়ে তাঁর কথা শুনল।
7 কারণ নাপাক রূহ্বিষ্ট অনেক লোক থেকে সেসব রূহ্ চিৎকার করে চেঁচিয়ে বের হয়ে আসলো এবং অনেক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও খঞ্জ সুস্থ হল;
8 তাতে ঐ নগরে বড়ই আনন্দ হল।
9
কিন্তু শিমোন নামে এক ব্যক্তি ছিল, সে আগে থেকে সেই নগরে যাদু দেখাত ও সামেরিয় জাতিকে চমৎকৃত করতো। সে নিজেকে এক জন মহাপুরুষ বলে দাবী করতো,
10 এবং তার কথা ছোট বড় সকলে শুনতো। তারা বলতো, এই ব্যক্তি আল্লাহ্র সেই শক্তি, যা মহতী নামে আখ্যাত।
11 লোকে তার কথায় মনযোগ দিত, কারণ সে বহুকাল থেকে তার যাদুর কাজ দিয়ে তাদেরকে চমৎকৃত করে আসছিল।
12 কিন্তু ফিলিপ আল্লাহ্র রাজ্য ও ঈসা মসীহের নাম বিষয়ক সুসমাচার তবলিগ করলে তারা তাঁর কথায় ঈমান আনল, আর পুরুষ ও স্ত্রীলোকেরা বাপ্তিস্ম নিতে লাগল।
13 আর শিমোন নিজেও ঈমান আনল এবং বাপ্তিস্ম নিয়ে ফিলিপের সঙ্গে সঙ্গেই থাকতে লাগল; আর অনেক চিহ্ন-কাজ ও মহাপরাক্রমের কাজ সাধিত হচ্ছে দেখে চমৎকৃত হল।
14
জেরুশালেমে প্রেরিতেরা যখন শুনতে পেলেন যে, সামেরীয়রা আল্লাহ্র কালাম গ্রহণ করেছে, তখন তাঁরা পিতর ও ইউহোন্নাকে তাদের কাছ প্রেরণ করলেন।
15 তাঁরা এসে তাদের জন্য মুনাজাত করলেন, যেন তাঁরা পাক-রূহ্ পায়;
16 কেননা এই পর্যন্ত তাদের কারো উপরে পাক-রূহ্ নেমে আসেন নি; কেবল তারা প্রভু ঈসার নামে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিল।
17 তখন তাঁরা তাদের উপরে হস্তার্পণ করলেন, আর তারা পাক-রূহ্ লাভ করলো।
18 আর শিমোন যখন দেখতে পেল, প্রেরিতদের হস্তার্পণ দ্বারা পাক-রূহ্ দেওয়া হচ্ছে, তখন সে তাঁদের কাছে টাকা এনে বললো,
19 আমাকেও এই ক্ষমতা দিন, যেন আমি যার উপরে হাত রাখবো, সে পাক-রূহ্ পায়।
20 কিন্তু পিতর তাকে বললেন, তোমার রূপা তোমার সঙ্গে বিনষ্ট হোক, কেননা আল্লাহ্র দান তুমি অর্থ দিয়ে ক্রয় করতে মনস্থ করেছ।
21 এই বিষয়ে তোমার অংশ বা অধিকার কিছুই নেই; কারণ তোমার অন্তর আল্লাহ্র সাক্ষাতে সরল নয়।
22 অতএব তোমার এই নাফরমানী থেকে মন ফিরাও এবং প্রভুর কাছে ফরিয়াদ কর, কি জানি, তোমার হৃদয়ের কল্পনার মাফ হলেও হতে পারে;
23 কেননা আমি দেখছি, তোমার মন মন্দতায় পরিপূর্ণ ও তুমি গুনাহ্র বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছ।
24 তখন শিমোন জবাবে বললো, আপনারাই আমার জন্য প্রভুর কাছে ফরিয়াদ করুন, যেন আপনারা যা যা বললেন, তার কিছুই আমার প্রতি না ঘটে।
25
পরে তাঁরা সাক্ষ্য দিয়ে ও প্রভুর কালাম তবলিগ করে জেরুশালেমে ফিরে যেতে যেতে সামেরিয়দের অনেক গ্রামে সুসমাচার তবলিগ করলেন।
26
পরে প্রভুর এক জন ফেরেশতা ফিলিপকে এই কথা বললেন, উঠ, দক্ষিণ দিকে, যে পথ জেরুশালেম থেকে গাজার দিকে নেমে গেছে, সেই পথে যাও। সেই পথটি ছিল মরুভূমির মধ্যে।
27 তাতে তিনি উঠে গমন করলেন। আর দেখ, সেখানে ইথিওপিয়া দেশের এক কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ইথিওপীয়দের কান্দাকি রাণীর অধীন উচ্চপদস্থ এক জন নপুংসক এবং রাণীর সমস্ত ধনকোষের নেতা ছিলেন। তিনি এবাদত করার জন্য জেরুশালেমে এসেছিলেন;
28 পরে ফিরে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর রথে বসে ইশাইয়া নবীর কিতাব পাঠ করছিলেন।
29 তখন পাক-রূহ্ ফিলিপকে বললেন, ঐ রথের কাছে যাও ও তার সঙ্গে সঙ্গে চল।
30 তাতে ফিলিপ দৌড়ে কাছে গিয়ে শুনলেন, তিনি ইশাইয়া নবীর কিতাব পাঠ করছেন। ফিলিপ বললেন, আপনি যা পাঠ করছেন, তা কি বুঝতে পারছেন?
31 তিনি বললেন, কেউ আমাকে বুঝিয়ে না দিলে কেমন করে বুঝতে পারব? পরে তিনি ফিলিপকে তাঁর কাছে উঠে বসতে অনুরোধ করলেন।
32 পাক-কিতাবের যে কথা তিনি পড়ছিলেন, তা এই—
“তিনি হত হবার জন্য ভেড়ার মত নীত হলেন,
এবং লোমচ্ছেদকের সম্মুখে ভেড়ার বাচ্চা যেমন নীরব থাকে,
সেরকম তিনি মুখ খুললেন না।
33
তাঁর হীনাবস্থায় তাঁর সম্বন্ধীয় বিচার অপনীত হল,
তাঁর সমকালীন লোকদের বর্ণনা কে করতে পারে?
যেহেতু তাঁর জীবন দুনিয়া থেকে অপনীত হল।”
34
নপুংসক জবাবে ফিলিপকে বললেন, নিবেদন করি, নবী কার বিষয় এই কথা বলেন? নিজের বিষয়ে, না অন্য কারো বিষয়ে?
35 তখন ফিলিপ মুখ খুলে পাক-কিতাবের সেই কথা থেকে আরম্ভ করে তাঁর কাছে ঈসার বিষয়ে সুসমাচার তবলিগ করলেন।
36 পরে পথে যেতে যেতে তাঁরা কোন এক স্থানে উপস্থিত হলেন যেখানে পানি ছিল। তখন নপুংসক বললেন, এই দেখুন, এখানে পানি আছে; আমার বাপ্তিস্ম নেবার বাধা কি?
37 পরে তিনি রথ থামাতে হুকুম করলেন, আর ফিলিপ ও নপুংসক উভয়ে পানির মধ্যে নামলেন এবং ফিলিপ তাঁকে বাপ্তিস্ম দিলেন।
38 আর যখন তারা পানির মধ্য থেকে উঠলেন, তখন প্রভুর রূহ্ ফিলিপকে হরণ করে নিয়ে গেলেন এবং নপুংসক আর তাঁকে দেখতে পেলেন না, ফলে তিনি আনন্দ করতে করতে নিজের পথে চলে গেলেন।
39 কিন্তু ফিলিপকে অস্দোদে দেখতে পাওয়া গেল; আর তিনি নগরে নগরে ভ্রমণ করে সুসমাচার তবলিগ করতে করতে শেষে সিজারিয়াতে উপস্থিত হলেন।
1
এদিকে শৌল তখনও প্রভুর সাহাবীদের হত্যা করবেন বলে ভয় দেখাচ্ছিলেন।
2 তিনি মহা-ইমামের কাছে গিয়ে, দামেস্ক শহরের মজলিস-খানাগুলোতে দেবার জন্য পত্র চাইলেন, যেন যারা ‘সেই পথে’ চলে এমন পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক যে সমস্ত লোককে পান, তাদেরকে বেঁধে জেরুশালেমে আনতে পারেন।
3 পরে তিনি যেতে যেতে দামেস্কের কাছ উপস্থিত হলেন, তখন হঠাৎ আসমান থেকে আলো তাঁর চারদিকে চমকে উঠলো।
4 তাতে তিনি ভূমিতে পড়ে শুনতে পেলেন, তাঁর প্রতি এই বাণী হচ্ছে, শৌল শৌল, কেন আমাকে নির্যাতন করছো?
5 তিনি বললেন, প্রভু আপনি কে? প্রভু বললেন, আমি ঈসা যাঁকে তুমি নির্যাতন করছো;
6 কিন্তু উঠ, নগরে প্রবেশ কর, তোমাকে কি করতে হবে, তা বলা যাবে।
7 আর তাঁর সহপথিকেরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তারা ঐ বাণী শুনল বটে, কিন্তু কাউকেও দেখতে পেল না।
8 পরে শৌল ভূমি থেকে উঠলেন, কিন্তু চোখ মেললে পর কিছুই দেখতে পেলেন না; আর তারা তাঁর হাত ধরে তাঁকে দামেস্কে নিয়ে গেল।
9 আর তিন দিন পর্যন্ত তিনি চোখে কিছু দেখতে পেলেন না এবং কিছুই ভোজন বা পান করলেন না।
10
দামেস্কে অননিয় নামে এক জন সাহাবী ছিলেন।
11 প্রভু তাঁকে দর্শনযোগে বললেন, অননিয়। তিনি বললেন, প্রভু, দেখুন, এই আমি। তখন প্রভু তাঁকে বললেন, তুমি উঠে সরল নামক পথে গিয়ে এহুদার বাড়িতে তার্ষ নগরীর শৌল নামক ব্যক্তির খোঁজ কর।
12 আর দেখ, সে মুনাজাত করছে এবং সে দেখেছে, অননিয় নামে এক ব্যক্তি এসে তার উপরে হাত রাখছে, যেন সে দৃষ্টি ফিরে পায়।
13 অননিয় জবাবে বললেন, প্রভু, আমি অনেকের কাছে এই ব্যক্তির বিষয় শুনেছি, সে জেরুশালেমে তোমার পবিত্র লোকদের প্রতি কত উপদ্রব করেছে;
14 এই স্থানেও যত লোক তোমার নামে ডাকে, তাদের সকলকে বন্দী করার ক্ষমতা সে প্রধান ইমামদের কাছ থেকে পেয়েছে।
15 কিন্তু প্রভু তাঁকে বললেন, তুমি যাও, কেননা জাতিদের ও বাদশাহ্দের এবং বনি-ইসরাইলদের কাছে আমার নাম বহন করার জন্য আমি তাকে মনোনীত করেছি।
16 আমার নামের জন্য তাকে কত কষ্ট ভোগ করতে হবে তা আমি তাকে দেখাবো।
17
তখন অননিয় চলে গিয়ে সেই বাড়িতে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর উপরে হাত রেখে বললেন, ভাই শৌল, যিনি তোমার আসার পথে তোমাকে দর্শন দিলেন, তিনি প্রভু ঈসা। তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, যেন তুমি দৃষ্টি পাও এবং পাক-রূহে পরিপূর্ণ হও।
18 আর অমনি তাঁর চোখ থেকে যেন আঁশ পড়ে গেল, তিনি দৃষ্টি ফিরে পেলেন এবং উঠে বাপ্তিস্ম নিলেন।
19 পরে আহার করে শক্তি লাভ করলেন।
20
আর তিনি কয়েক দিন দামেস্কের সাহাবীদের সঙ্গে থাকলেন এবং সময় নষ্ট না করে বিভিন্ন মজলিস-খানায় এই বলে তবলিগ করতে লাগলেন যে, ঈসা-ই আল্লাহ্র পুত্র।
21 আর যারা তাঁর কথা শুনতে পেল, তারা সকলে চমৎকৃত হয়ে বলতে লাগল, জেরুশালেমে যারা এই নামে ডাকে তাদেরকে যে ব্যক্তি উৎপাটন করতো, এ কি সেই ব্যক্তি নয়? এখানে যারা সেই পথে চলে তাদেরকে বন্দী করে প্রধান ইমামদের কাছে নিয়ে যাবার জন্যই কি সে এখানে আসে নি?
22 কিন্তু শৌল উত্তরোত্তর শক্তিমান হয়ে উঠলেন এবং ঈসা-ই যে মসীহ্ তা প্রমাণ করে দামেস্ক-নিবাসী ইহুদীদেরকে নিরুত্তর করতে লাগলেন।
23
এর কিছু দিন পরে ইহুদীরা তাঁকে হত্যা করার পরামর্শ করলো,
24 কিন্তু শৌল তাঁদের চক্রান্ত জানতে পারলেন। আর তারা যেন তাঁকে হত্যা করতে পারে, এজন্য নগর-ফটকগুলো দিনরাত পাহারা দিতে লাগল।
25 কিন্তু একদিন রাত্রে তাঁর সাগরেদেরা তাঁকে নিয়ে একটি ঝুড়িতে করে প্রাচীর দিয়ে নামিয়ে দিল।
26
পরে তিনি জেরুশালেমে উপস্থিত হয়ে সাহাবীদের সঙ্গে যোগ দিতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু সকলে তাঁকে ভয় করতে লাগলো। তারা এই কথা বিশ্বাস করতে পারল না যে, তিনি সাহাবী হয়েছেন।
27 তখন বার্নাবাস তাঁর হাত ধরে প্রেরিতদের কাছে নিয়ে গেলেন এবং পথের মধ্যে তিনি কিভাবে প্রভুকে দেখতে পেয়েছেন ও প্রভু যে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কিভাবে তিনি দামেস্কে ঈসার নামে সাহসপূর্বক তবলিগ করেছেন, এসব তাঁদের কাছে বর্ণনা করলেন।
28 আর শৌল জেরুশালেমে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতেন, ভিতরে আসতেন ও বাইরে যেতেন, প্রভুর নামে সাহসপূর্বক তবলিগ করতেন।
29 তিনি গ্রীক ভাষাবাদী ইহুদীদের সঙ্গে কথাবার্তা ও তর্ক করতেন, কিন্তু তারা তাঁকে হত্যা করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল।
30 ঈমানদার ভাইয়েরা এই কথা জানতে পেরে তাঁকে সিজারিয়াতে নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে তার্ষ নগরে পাঠিয়ে দিলেন।
31
তখন এহুদিয়া, গালীল ও সামেরিয়ার সর্বত্র মণ্ডলী শান্তিভোগ করতে ও বৃদ্ধি পেতে লাগল এবং প্রভুর ভয়ে ও পাক-রূহের আশ্বাসে চলতে চলতে বহুসংখ্যক হয়ে উঠলো।
32
আর পিতর সকল স্থানে ভ্রমণ করতে করতে লুদ্দা-নিবাসী পবিত্র লোকদের কাছেও গেলেন।
33 সেই স্থানে তিনি ঐনিয় নামে এক ব্যক্তির দেখা পান যে পক্ষাঘাত রোগে আট বছর যাবৎ বিছানায় পড়ে ছিল।
34 পিতর তাকে বললেন, ঐনিয়, ঈসা মসীহ্ তোমাকে সুস্থ করলেন, উঠ, তোমার বিছানা তুলে নাও।
35 তাতে সে তৎক্ষণাৎ উঠলো। তখন লুদ্দা ও শারোণ-নিবাসী সমস্ত লোক তাকে দেখতে পেল এবং তারা প্রভুর প্রতি ফিরল।
36
আর যাফোতে টাবিথা নাম্নী এক মহিলা সাহাবী ছিলেন, অনুবাদ করলে এই নামের অর্থ দর্কা [হরিণী]; তিনি নানা সৎকর্ম ও দানকার্যে ব্যাপৃত ছিলেন।
37 ঘটনাক্রমে তিনি সেই সময়ে অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করলেন। তাতে লোকেরা তাকে গোসল করিয়ে উপরের কুঠরিতে শুইয়ে রাখল।
38 আর লুদ্দা যাফোর নিকটবর্তী হওয়াতে, পিতর লুদ্দায় আছেন শুনে সাহাবীরা তাঁর কাছে দু’জন লোক পাঠিয়ে ফরিয়াদ করলো, আপনি আমাদের এখান পর্যন্ত আসতে বিলম্ব করবেন না।
39 তখন পিতর উঠে তাদের সঙ্গে চললেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হলে তারা তাঁকে সেই উপরের কুঠরিতে নিয়ে গেল, আর বিধবারা সকলে তাঁর চারদিকে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকল এবং দর্কা তাদের সঙ্গে থাকবার সময়ে যেসব জামা ও কাপড় প্রস্তুত করেছিলেন সেসব দেখাতে লাগল।
40 কিন্তু পিতর সকলকে বের করে দিয়ে হাঁটু পেতে মুনাজাত করলেন; পরে সেই দেহের দিকে ফিরে বললেন, টাবিথা, উঠ। তাতে তিনি চোখ মেললেন এবং পিতরকে দেখে উঠে বসলেন।
41 তখন পিতর হাত ধরে তাকে উঠালেন এবং পবিত্র লোকদেরকে ও বিধবাদেরকে ডেকে তাদের দেখালেন যে, দর্কা জীবিত হয়ে উঠেছেন।
42 এই কথা যাফোর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লো এবং অনেক লোক প্রভুতে ঈমান আনল।
43 আর পিতর অনেক দিন যাফোতে, শিমোন নামক এক জন চর্মকারের বাড়িতে অবস্থিতি করলেন।
1
সিজারিয়াতে কর্ণীলিয় নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ইতালীয় নামক সৈন্যদলের এক জন শতপতি।
2 তিনি আল্লাহ্-ভক্ত ছিলেন এবং সমস্ত পরিবারের সঙ্গে আল্লাহ্কে ভয় করতেন। তিনি লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করতেন এবং সব সময় আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করতেন।
3 এক দিন অনুমান বিকাল তিন ঘটিকার সময়ে তিনি দর্শনে স্পষ্ট দেখলেন যে, আল্লাহ্র এক ফেরেশতা তার কাছে ভিতরে এসে বলছেন, কর্ণীলিয়।
4 তখন তিনি তাঁর প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে ভয় পেয়ে বললেন, প্রভু, কি চান? ফেরেশতা তাঁকে বললেন, তোমার মুনাজাত ও তোমার দানগুলো স্মরণীয় হিসেবে ঊর্ধ্বে আল্লাহ্র সম্মুখে উপস্থিত হয়েছে।
5 আর এখন তুমি যাফোতে লোক পাঠিয়ে শিমোন, যাকে পিতর বলে, তাকে ডেকে আন;
6 সে শিমোন নামে এক জন চর্মকারের বাড়িতে অবস্থিতি করছে, তার বাড়ি সমুদ্রের ধারে।
7 কর্ণীলিয়ের সঙ্গে যে ফেরেশতা কথা বললেন, তিনি চলে গেলে পর কর্ণীলিয় বাড়ির ভৃত্যদের মধ্যে দুই জনকে এবং যারা সব সময় তাঁর সেবা করতো, তাদের মধ্য থেকে এক জন আল্লাহ্-ভক্ত সেনাকে ডাকলেন,
8 আর তাদেরকে সমস্ত কথা বলে যাফোতে পাঠিয়ে দিলেন।
9
পরদিন তারা পথে যেতে যেতে যখন নগরের কাছে উপস্থিত হল, তখন পিতর অনুমান বেলা দুপুর সময় মুনাজাত করার জন্য ছাদের উপরে উঠলেন।
10 তখন তাঁর খুব খিদে পেয়েছিল, তাঁর আহার করার ইচ্ছা হল; কিন্তু লোকেরা খাদ্য প্রস্তুত করছে, এমন সময়ে তিনি তন্দ্রার মত অবস্থায় ছিলেন।
11 আর দেখলেন, আসমান খুলে গেছে এবং একখানা বড় চাদরের মত কোন পাত্র নেমে আসছে, তা চারকোণে ধরে দুনিয়াতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে;
12 আর তার মধ্যে দুনিয়ার সব রকমের চতুস্পদ ও সরীসৃপ এবং আসমানের পাখি আছে।
13 পরে তাঁর প্রতি এই বাণী হল, উঠ, পিতর, মেরে ভোজন কর।
14 কিন্তু পিতর বললেন, প্রভু, এমন না হোক; আমি কখনও কোন নাপাক কিংবা নাপাক দ্রব্য ভোজন করি নি।
15 তখন দ্বিতীয় বার তাঁর প্রতি এই বাণী হল, আল্লাহ্ যা পাক-পবিত্র করেছেন, তুমি তা নাপাক বলো না।
16 এরকম তিনবার হল, পরে তৎক্ষণাৎ ঐ পাত্র আসমানে তুলে নেওয়া হল।
17
পিতর সেই যে দর্শন পেয়েছিলেন, তার কি অর্থ হতে পারে, এই বিষয়ে মনে মনে চিন্তা করছিলেন, ইতোমধ্যে দেখ, কর্ণীলিয়ের প্রেরিত লোকেরা শিমোনের বাড়ির খোঁজ করে ফটক দুয়ারে এসে দাঁড়াল,
18 আর ডেকে জিজ্ঞাসা করলো, শিমোন যাঁকে পিতর বলে, তিনি কি এখানে থাকেন?
19 পিতর সেই দর্শনের বিষয়ে ভাবছেন, এমন সময়ে পাক-রূহ্ বললেন, দেখ, তিন জন লোক তোমার খোঁজ করছে।
20 কিন্তু তুমি উঠে নিচে যাও, তাদের সঙ্গে গমন কর, কিছুমাত্র সন্দেহ করো না, কারণ আমিই তাদেরকে প্রেরণ করেছি।
21 তখন পিতর সেই লোকদের কাছে নেমে গিয়ে বললেন, দেখ, তোমরা যার খোঁজ করছো, আমি সেই ব্যক্তি; তোমরা কি জন্য এসেছ?
22 তারা বললো, শতপতি কর্ণীলিয়, এক জন ধার্মিক লোক, যিনি আল্লাহ্কে ভয় করেন এবং সমস্ত ইহুদী জাতির মধ্যে যাঁর সুখ্যাতি আছে। তিনি পবিত্র ফেরেশতার দ্বারা হুকুম পেয়েছেন, যেন আপনাকে ডেকে নিজের বাড়িতে এনে আপনার নিজের মুখের কথা শুনেন।
23 তখন পিতর তাদেরকে ভিতরে ডেকে এনে নিয়ে তাদের মেহমানদারী করলেন।
পরদিন উঠে তিনি তাদের সঙ্গে চললেন, আর যাফো-নিবাসী ভাইদের মধ্যে কয়েকজনও তাঁর সঙ্গে গমন করলেন।
24 পরদিন তাঁরা সিজারিয়াতে প্রবেশ করলেন; তখন কর্ণীলিয় তাঁর জ্ঞাতিদেরকে ও আত্মীয় বন্ধুদেরকে ডেকে একত্র করে তাঁদের অপেক্ষা করছিলেন।
25 পরে পিতর যখন প্রবেশ করলেন, তখন কর্ণীলিয় তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁর পায়ে পড়ে সেজ্দা করলেন।
26 কিন্তু পিতর তাঁকে উঠালেন, বললেন, উঠুন; আমি নিজেও তো এক জন মানুষ।
27 পরে তিনি আলাপ করতে করতে প্রবেশ করে দেখলেন, অনেক লোক সমাগত হয়েছে।
28 তখন তিনি তাদেরকে বললেন, আপনারা তো জানেন, ইহুদী নয় এমন কোন লোকের সঙ্গে যোগ দেওয়া কিংবা তার কাছে আসা ইহুদী লোকের পক্ষে আইনসম্মত নয়; কিন্তু আমাকে আল্লাহ্ দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কোন মানুষকে নাপাক কিংবা অপবিত্র বলা উচিত নয়।
29 এজন্য আমাকে ডেকে পাঠান হলে আমি কোন আপত্তি না করে এসেছি; এখন জিজ্ঞাসা করি, আপনারা কি কারণে আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন?
30
তখন কর্ণীলিয় বললেন, আজ চার দিন হল, আমি এই সময়ে বিকাল তিনটার সময়ে নিজের বাড়িতে মুনাজাত করছিলাম, এমন সময়ে, দেখুন, উজ্জ্বল পোশাক পরা এক জন পুরুষ আমার সম্মুখে দাঁড়ালেন;
31 তিনি বললেন, ‘কর্ণীলিয়, তোমার মুনাজাত গ্রাহ্য হয়েছে এবং তোমার দানগুলো আল্লাহ্র সাক্ষাতে স্মরণ করা হয়েছে।
32 অতএব যাফোতে লোক পাঠিয়ে শিমোন, যাকে পিতর বলে, তাকে ডেকে আন; সে সমুদ্রের ধারে শিমোন চর্মকারের বাড়িতে আছেন।’
33 এজন্য আমি অবিলম্বে আপনার কাছে লোক পাঠিয়ে দিলাম; আপনি এসেছেন, ভালই করেছেন। অতএব এখন আমরা সকলে আল্লাহ্র সাক্ষাতে উপস্থিত আছি; প্রভু আপনাকে যেসব হুকুম করেছেন তা সবই শুনব।
34
তখন পিতর মুখ খুলে বললেন, আমি সত্যিই বুঝলাম, আল্লাহ্ মুখাপেক্ষা করেন না;
35 কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেউ তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে ও সঠিক কাজ করে, সে তাঁর গ্রাহ্য হয়।
36 আপনারা তো জানেন যে, তিনি বনি-ইসরাইলদের কাছে একটি খবর প্রেরণ করেছেন; ঈসা মসীহ্ দ্বারা শান্তি তবলিগ করেছেন; তিনিই সকলের প্রভু।
37 ইয়াহিয়া কর্তৃক তবলিগকৃত বাপ্তিস্মর পর গালীল থেকে আরম্ভ হয়ে সেই খবর সমুদয় এহুদিয়াতে ছড়িয়ে গেল।
38 আপনারা তো এও জানেন যে, আল্লাহ্ নাসরতীয় ঈসাকে কিভাবে পাক-রূহে ও পরাক্রমে অভিষেক করেছিলেন; তিনি ভাল কাজ করে বেড়াতেন এবং শয়তানের দ্বারা কষ্ট পাওয়া সমস্ত লোককে সুস্থ করতেন; কারণ আল্লাহ্ তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
39 আর তিনি ইহুদীদের জনপদে ও জেরুশালেমে যা যা করেছেন, আমরা সেই সবের সাক্ষী। লোকেরা তাঁকে ক্রুশে টাঙ্গিয়ে হত্যা করেছিল।
40 কিন্তু আল্লাহ্ তাঁকে তৃতীয় দিনে উঠালেন এবং প্রত্যক্ষ হতে দিলেন;
41 সমস্ত লোকের প্রত্যক্ষ, এমন নয়, কিন্তু আগে আল্লাহ্ কর্তৃক নিযুক্ত সাক্ষীদের, অর্থাৎ আমাদের প্রত্যক্ষ হতে দিলেন, আর আমরা মৃতদের মধ্য থেকে তাঁর পুনরুত্থান হলে পর তাঁর সঙ্গে ভোজন পান করেছি।
42 আর তিনি হুকুম করলেন, যেন আমরা লোকদের কাছে তবলিগ করি ও সাক্ষ্য দিই যে, তাঁকেই আল্লাহ্ জীবিত ও মৃত লোকদের বিচারকর্তা নিযুক্ত করেছেন।
43 তাঁর পক্ষে নবীরা সকলে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে কেউ তাঁতে ঈমান আনে, সে তাঁর নামের গুণে গুনাহের মাফ পায়।
44
পিতর এই কথা বলছেন, এমন সময়ে যত লোক কালাম শুনছিল, সকলের উপরে পাক-রূহ্ নেমে আসলেন।
45 তখন পিতরের সঙ্গে আগত খৎনাপ্রাপ্ত ঈমানদার লোকেরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন, কারণ অ-ইহুদীদের উপরেও পাক-রূহ্রূপ দানের সেচন হল;
46 কেননা তাঁরা ওদেরকে নানা ভাষায় কথা বলতে ও আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা করতে শুনলেন।
47 তখন পিতর জবাবে বললেন, এই যে লোকেরা আমাদেরই মত পাক-রূহ্ পেয়েছেন, পানিতে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে কি কোন লোক এঁদের বাধা দিতে পারে?
48 পরে তিনি ঈসা মসীহের নামে তাঁদেরকে বাপ্তিস্ম দেবার হুকুম দিলেন। তখন তারা কয়েক দিন থাকতে তাঁকে ফরিয়াদ জানালেন।
1
পরে প্রেরিতেরা এবং এহুদিয়ার ভাইয়েরা শুনতে পেলেন যে, অ-ইহুদী লোকেরাও আল্লাহ্র কালাম গ্রহণ করেছে।
2 আর যখন পিতর জেরুশালেমে আসলেন, তখন খৎনা করানো লোকেরা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে বললেন,
3 তুমি খৎনা-না-করানো লোকদের বাড়িতে প্রবেশ করেছ ও তাদের সঙ্গে আহার করেছ।
4 তখন পিতর প্রথম থেকে আরম্ভ করে যা যা ঘটেছিল তাঁদেরকে সমস্ত বৃত্তান্ত বুঝিয়ে দিলেন,
5 বললেন, ‘আমি যাফো নগরে মুনাজাত করছিলাম, এমন সময়ে তন্দ্রার মত অবস্থায় একটি দর্শন পেলাম, দেখলাম, একখানা বড় চাদরের মত কোন পাত্র নেমে আসছে, তা চার কোণে ধরে আসমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তা আমার কাছ পর্যন্ত আসলো।
6 আমি তার প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে চিন্তা করতে লাগলাম, আর দেখলাম, তার মধ্যে দুনিয়ার চতুস্পদ জন্তু, আর বন্য পশু, সরীসৃপ ও আসমানের পাখিগুলো আছে।
7 আর আমি একটি বাণীও শুনলাম, যা আমাকে বললো, উঠ, পিতর, মার, খাও।
8 কিন্তু আমি বললাম, প্রভু, এমন না হোক; কেননা নাপাক বা অপবিত্র কোন দ্রব্য কখনও আমার মুখের ভিতরে প্রবেশ করে নি।
9 কিন্তু দ্বিতীয় বার আসমান থেকে বাণী হল, আল্লাহ্ যা পাক-পবিত্র করেছেন, তুমি তা নাপাক বলো না।
10 এরকম তিন বার হল; পরে সেসব আবার আসমানে টেনে নেওয়া হল।
11 আর দেখ, অবিলম্বে তিন জন পুরুষ, যে বাড়িতে আমরা ছিলাম, সেখানে এসে দাঁড়ালো; সিজারিয়া থেকে তাদেরকে আমার কাছে পাঠানো হয়েছিল।
12 আর পাক-রূহ্ আমাকে সন্দেহ না করে তাদের সঙ্গে যেতে বললেন। আর এই ছয় জন ভাই আমার সঙ্গে গমন করলেন। পরে আমরা সেই ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করলাম।
13 তিনি আমাদেরকে বললেন, যে, তিনি এক জন ফেরেশতার দর্শন পেয়েছিলেন, সেই ফেরেশতা তাঁর বাড়িতে দাঁড়িয়ে বললেন, যাফোতে লোক পাঠিয়ে শিমোন, যাকে পিতর বলে, তাকে ডেকে আন;
14 সে তোমাকে এমন কথা বলবে, যা দ্বারা তুমি ও তোমার সমস্ত পরিবার নাজাত পাবে।
15 পরে আমি কথা বলতে আরম্ভ করলে, যেমন প্রথমে আমাদের উপরে হয়েছিল, তেমনি তাঁদের উপরেও পাক-রূহ্ নেমে আসলেন।
16 তাতে প্রভুর কথা আমার স্মরণ হল, যেমন তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়াহিয়া পানিতে বাপ্তিস্ম দিতেন, কিন্তু তোমাদের পাক-রূহে বাপ্তিস্ম হবে।’
17 অতএব, তারা প্রভু ঈসা মসীহের উপর ঈমান আনলে পর, যেমন আমাদেরকে, তেমনি যখন তাদেরকেও আল্লাহ্ সমান বর দান করলেন, তখন আমি কে যে, আল্লাহ্কে নিবৃত্ত করতে পারি?
18 এসব কথা শুনে তারা চুপ করে রইলেন এবং আল্লাহ্র গৌরব করলেন, বললেন, তবে তো আল্লাহ্ অ-ইহুদীদেরকেও মন পরিবর্তনের সুযোগ দান করেছেন যেন তারা জীবন পেতে পারে।
19
ইতোমধ্যে স্তিফানের উপলক্ষে যে নির্যাতন নেমে এসেছিল, তার ফলে যারা ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা ফিনিশিয়া, সাইপ্রাস ও এণ্টিয়ক পর্যন্ত চারদিকে ভ্রমণ করে কেবল ইহুদীদেরই কাছে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করতে লাগল।
20 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েক জন সাইপ্রাস দ্বীপের লোক ও কুরীণীয় লোক ছিল; এরা এণ্টিয়কে এসে গ্রীক ভাষাভাষী ইহুদীদের কাছেও কথা বললো, প্রভু ঈসার বিষয়ে সুসমাচার তবলিগ করলো।
21 আর প্রভুর হাত তাদের সহবর্তী ছিল এবং বহুসংখ্যক লোক ঈমান এনে প্রভুর প্রতি ফিরলো।
22 পরে তাদের বিষয় জেরুশালেমের মণ্ডলীর কর্ণগোচর হল; তাতে এঁরা এণ্টিয়ক পর্যন্ত বার্নাবাসকে প্রেরণ করলেন।
23 বার্নাবাস সেখানে উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্র রহমত দেখে আনন্দ করলেন; এবং সকলকে উৎসাহ দিতে লাগলেন, যেন তারা হৃদয়ের একাগ্রতায় প্রভুতে স্থির থাকে।
24 বার্নাবাস এক জন সৎ লোক ছিলেন এবং পাক-রূহে ও বিশ্বাসে পরিপূর্ণ ছিলেন। আর অনেক লোক প্রভুতে সংযুক্ত হল।
25
পরে তিনি শৌলের খোঁজ করতে তার্ষ নগরে গমন করলেন এবং তাঁকে পেয়ে এণ্টিয়কে আনলেন।
26 আর তাঁরা সমপূর্ণ এক বছর কাল মণ্ডলীতে একত্র হয়ে অনেক লোককে উপদেশ দিলেন; আর প্রথমে এণ্টিয়কেই সাহাবীরা ‘ঈসায়ী’ নামে আখ্যাত হল।
27
সেই সময়ে কয়েক জন নবী জেরুশালেম থেকে এণ্টিয়কে আসলেন।
28 তাঁদের মধ্যে আগাব নামে এক ব্যক্তি উঠে পাক-রূহের আবেশে জানালেন যে, সারা দুনিয়াতে মহাদুর্ভিক্ষ হবে; তা ক্লৌদিয়ের রাজত্বের সময়ে ঘটলো।
29 তাতে সাহাবীরা প্রতি জন স্ব স্ব সঙ্গতি অনুসারে এহুদিয়া-নিবাসী ভাইদের পরিচর্যার জন্য তাঁদের কাছে সাহায্য পাঠাতে স্থির করলেন।
30 তারা সেই মত কাজ করলেন এবং বার্নাবাসের ও শৌলের হাত দিয়ে প্রাচীনদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দিলেন।
1
সেই সময় বাদশাহ্ হেরোদ মণ্ডলীর কয়েক জনের প্রতি জুলুম করার জন্য হস্তক্ষেপ করলেন।
2 তিনি ইউহোন্নার ভাই ইয়াকুবকে তলোয়ার দ্বারা হত্যা করলেন।
3 এতে ইহুদীরা সন্তুষ্ট হল দেখে তিনি আবার পিতরকেও ধরলেন। তখন খামিহীন রুটির ঈদের সময় ছিল।
4 তিনি তাকে ধরে কারাগারে রাখলেন এবং তাঁকে পাহারা দেবার জন্য চার জনে দল, এমন চার দল সেনার উপর ভার দিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ঈদুল ফেসাখের পরে তাঁকে লোকদের কাছে এনে উপস্থিত করবেন।
5 এভাবে পিতর কারাগারে আটক থাকলেন, কিন্তু মণ্ডলীর লোকেরা তাঁর বিষয়ে আল্লাহ্র কাছে একাগ্র ভাবে মুনাজাত করছিল।
6
পরে হেরোদ যেদিন তাঁকে বাইরে আনাবেন, তার আগের রাতে পিতর দু’জন সেনার মধ্যস্থানে দুই শিকলে বাঁধা অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং প্রবেশ পথে প্রহরীরা কারাগার পাহারা দিচ্ছিল।
7 আর দেখ, প্রভুর এক ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে দাঁড়ালেন এবং কারাকক্ষটি আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তিনি পিতরের কুক্ষিদেশে আঘাত করে তাঁকে জাগিয়ে বললেন, শীঘ্র উঠ। তখন তাঁর দুই হাত থেকে শিকল পড়ে গেল।
8 পরে সেই ফেরেশতা তাঁকে বললেন, কোমর বাঁধ ও তোমার জুতা পায়ে দাও। তিনি তা করলেন। পরে ফেরেশতা তাঁকে বললেন, গায়ে কাপড় দিয়ে আমার পিছনে পিছনে এসো।
9 তাতে তিনি বের হয়ে তাঁর পিছনে পিছনে যেতে লাগলেন; কিন্তু ফেরেশতার দ্বারা যা করা হল, তা যে বাস্তবিক, তা তিনি বুঝতে পারলেন না, বরং মনে করলেন, তিনি দর্শন দেখছেন।
10 পরে তাঁরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রহরী দল পার হয়ে যেখান দিয়ে নগরে যাওয়া যায়, সেই লৌহ-দ্বারের কাছে উপস্থিত হলেন। সেই দ্বারের কবাট তাঁদের সম্মুখে নিজে নিজেই খুলে গেল। তাতে তাঁরা বের হয়ে একটা রাস্তার শেষ পর্যন্ত গমন করলেন, আর অমনি ফেরেশতা তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করলেন।
11 তখন পিতর সচেতন হয়ে বললেন, এখন আমি নিশ্চয় জানলাম, প্রভু তাঁর ফেরেশতাকে প্রেরণ করে হেরোদের হাত থেকে এবং ইহুদী লোকদের সমস্ত আকাঙ্খা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।
12
এই বিষয় আলোচনা করে তিনি ইউহোন্নার মা মরিয়মের বাড়ির দিকে চলে গেলেন। এই ইউহোন্নাকে মার্ক নামেও ডাকা হত। সেই বাড়িতে অনেক লোক একত্র হয়েছিল ও মুনাজাত করছিল।
13 পরে তিনি বাইরের দরজায় আঘাত করলে রোদা নাম্নী এক জন বাঁদী শুনতে আসলো;
14 এবং পিতরের স্বর চিনতে পেরে আনন্দ বশতঃ দরজা না খুলেই ভিতরে দৌড়ে গিয়ে সংবাদ দিল, পিতর দরজার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা তাঁকে বললো, তুমি পাগল; কিন্তু সে দৃঢ়ভাবে বলতে লাগল, না, তা-ই বটে!
15 তখন তাঁরা বললো, উনি তাঁর ফেরেশতা।
16 কিন্তু পিতর আঘাত করতে থাকলেন; তখন তাঁরা দরজা খুলে তাঁকে দেখতে পেল ও চমৎকৃত হল।
17 তাতে তিনি হাত দিয়ে নীরব হবার জন্য ইশারা করে, প্রভু কিভাবে তাঁকে কারাগার থেকে উদ্ধার করে এনেছেন, তা তাদের কাছে বর্ণনা করলেন, আর বললেন, তোমরা ইয়াকুবকে ও ভাইদেরকে এই সংবাদ দিও; পরে তিনি বের হয়ে অন্য স্থানে চলে গেলেন।
18
দিন হলে পর, পিতর কোথায় গেলেন তা নিয়ে সৈন্যদের মধ্যে খুব একটা হুলুস্থূল পড়ে গেল।
19 পরে হেরোদ তাঁর সন্ধান করে না পাওয়াতে রক্ষীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের প্রাণদণ্ড করতে হুকুম দিলেন এবং এহুদিয়া থেকে প্রস্থান করে তিনি সিজারিয়াতে গিয়ে থাকলেন।
20
আর তিনি টায়ার ও সীডনের লোকদের উপরে বড়ই রাগান্বিত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা একমত হয়ে তাঁর কাছে আসলো এবং বাদশাহ্র শয়নাগারের নেতা ব্লাস্তকে সপক্ষ করে সন্ধি যাচ্ঞা করলো, কারণ বাদশাহ্র দেশ থেকে তাদের দেশে খাদ্য সামগ্রী আসত।
21 তখন এক নির্ধারিত দিনে হেরোদ রাজপোশাক পরে সিংহাসনে বসে তাদের কাছে বক্তৃতা করলেন।
22 তখন লোকেরা চিৎকার করে বলতে লাগল, এই দেবতার কথা, মানুষের নয়।
23 আর প্রভুর এক ফেরেশতা তখনই তাঁকে আঘাত করলেন, কেননা তিনি আল্লাহ্কে গৌরবান্বিত করলেন না; আর তিনি ক্রিমির উৎপাতে মারা গেলেন।
24
কিন্তু আল্লাহ্র কালাম বৃদ্ধি পেতে ও ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
25
আর বার্নাবাস ও শৌল তাদের পরিচর্যা কাজ সম্পন্ন করার পর জেরুশালেম থেকে ফিরে গেলেন; ইউহোন্না যাঁকে মার্কও বলে, তাঁকে সঙ্গে নিলেন।
1
তখন এণ্টিয়কো মণ্ডলীতে বার্নাবাস, শিমোন, যাকে নীগের বলে, কুরীণীয় লুকিয়, বাদশাহ্ হেরোদের সঙ্গে লালিত-পালিত মনহেম এবং শৌল নামে কয়েক জন নবী ও শিক্ষক ছিলেন।
2 তাঁরা প্রভুর সেবা ও রোজা করছিলেন, এমন সময়ে পাক-রূহ্ বললেন, আমি বার্নাবাস ও শৌলকে যে কাজে আহ্বান করেছি, আমার সেই কাজের জন্য এখন তাদেরকে পৃথক করে দাও।
3 তখন তাঁরা রোজা ও মুনাজাত করে তাঁদের উপরে হস্তার্পণ করলেন এবং তাঁদেরকে বিদায় দিলেন।
4
এভাবে তাঁরা পাক-রূহ্ কর্তৃক প্রেরিত হয়ে সিলূকিয়াতে গেলেন এবং সেখান থেকে জাহাজে করে সাইপ্রাস দ্বীপে গমন করলেন।
5 তাঁরা সালামীতে উপস্থিত হয়ে ইহুদীদের মজলিস-খানাগুলোতে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করতে লাগলেন। তখন ইউহোন্না-মার্ক ভৃত্য হিসেবে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
6 আর তাঁরা সমস্ত দ্বীপের মধ্য দিয়ে গমন করে পাফঃ নগরে উপস্থিত হলে এক জন ইহুদী মায়াবী ও ভণ্ড নবীকে দেখতে পেলেন, তার নাম বর্-ঈসা;
7 সে শাসনকর্তা সের্গিয় পৌলের বন্ধু ছিল; সেই শাসনকর্তা এক জন বুদ্ধিমান লোক ছিলেন। তিনি বার্নাবাস ও শৌলকে কাছে ডেকে আল্লাহ্র কালাম শুনতে চাইলেন।
8 কিন্তু ইলুমা, সেই মায়াবী— কেননা অনুবাদ করলে এ-ই তার নামের অর্থ— সেই শাসনকর্তাকে ঈমান থেকে ফিরাবার চেষ্টায় তাঁদের প্রতিরোধ করতে লাগল।
9 কিন্তু শৌল, যাকে পৌলও বলে, পাক-রূহে পরিপূর্ণ হয়ে তার প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে বললেন,
10 হে সমস্ত রকম ছলে ও সমস্ত রকম দুষ্টামিতে পরিপূর্ণ শয়তানের সন্তান, সমস্ত রকম ধার্মিকতার দুশমন, তুমি প্রভুর সরল পথকে বাঁকা করতে কি ক্ষান্ত হবে না?
11 এখন দেখ, প্রভুর হাত তোমার বিরুদ্ধে উঠেছে, তুমি অন্ধ হবে, কিছুকাল সূর্য দেখতে পাবে না। আর অমনি কুজ্-ঝটিকা ও অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করলো, তাতে সে হাত ধরে চালাবার লোকের খোঁজে এদিক ওদিক চলতে লাগল।
12 তখন সেই ঘটনা দেখে শাসনকর্তা প্রভুর উপর ঈমান আনলেন, কারণ তিনি যে উপদেশ লাভ করেছিলেন তাতে চমৎকৃত হয়েছিলেন।
13
পরে পৌল ও তাঁর সঙ্গীরা পাফঃ থেকে জাহাজ ছেড়ে পাম্ফুলিয়ার পর্গা নগরে উপস্থিত হলেন। তখন ইউহোন্না-মার্ক তাঁদেরকে ছেড়ে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
14 কিন্তু তারা পর্গা থেকে অগ্রসর হয়ে পিষিদিয়ার এণ্টিয়কে উপস্থিত হলেন এবং বিশ্রামবারে মজলিস-খানায় প্রবেশ করে সেখানে বসলেন।
15 শরীয়ত ও নবীদের কিতাব পাঠ সমাপ্ত হলে মজলিস-খানার কর্মকর্তা তাঁদেরকে বলে পাঠালেন, ভাইয়েরা লোকদের কাছে যদি আপনাদের কোন উপদেশ থাকে, বলুন।
16 তখন পৌল দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বলতে লাগলেন, হে ইসরাইল লোকেরা ও অন্যান্যরা, যারা আল্লাহ্কে ভয় কর, শোন।
17
এই ইসরাইল জাতির আল্লাহ্ আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে মনোনীত করে নিয়েছিলেন এবং এই জাতি যখন মিসর দেশে প্রবাস করছিল, তখন তাদেরকে উন্নত করলেন ও মহা শক্তিতে সেখান থেকে বের করে আনলেন।
18 আর তিনি মরুভূমিতে কমবেশ চল্লিশ বছর কাল তাদের ব্যবহার সহ্য করলেন।
19 পরে তিনি কেনান দেশে সাত জাতিকে উৎপাটন করে অধিকার হিসেবে সেসব জাতির দেশ তাদেরকে দিলেন। এভাবে কমবেশ চারশত পঞ্চাশ বছর অতীত হল।
20 তারপর তিনি শামুয়েল নবীর সময় পর্যন্ত শাসনকর্তাদের দিলেন।
21 তারপর তারা এক জন বাদশাহ্ চাইল, তাতে আল্লাহ্ তাদেরকে চল্লিশ বছরের জন্য বিন্ইয়ামীন বংশজাত কীশের পুত্র শৌলকে দিলেন।
22 পরে তিনি তাঁকে সরিয়ে দিয়ে তাদের বাদশাহ্ হবার জন্য দাউদকে উৎপন্ন করলেন, যাঁর পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, ‘আমি ইয়াসিরের পুত্র দাউদকে পেয়েছি, সে আমার মনের মত লোক, সে আমার সমস্ত ইচ্ছা পালন করবে’।
23 তাঁরই বংশ থেকে আল্লাহ্ ওয়াদা অনুসারে ইসরাইলের জন্য এক জন নাজাতদাতাকে, ঈসাকে উপস্থিত করলেন;
24 তাঁর আগমনের আগে ইয়াহিয়া সমস্ত ইসরাইল জাতির কাছে মন পরিবর্তনের বাপ্তিস্ম তবলিগ করেছিলেন।
25 আর ইয়াহিয়া যখন তাঁর নির্ধারিত কাজ শেষ করছিলেন তখন এই কথা বলতেন, তোমরা আমাকে কোন্ ব্যক্তি বলে মনে কর? আমি তিনি নই; কিন্তু দেখ, আমার পরে এমন এক ব্যক্তি আসছেন, যাঁর পায়ের জুতার ফিতা খুলবার যোগ্যও আমি নই।
26
হে ভাইয়েরা, ইব্রাহিম বংশের সন্তানেরা ও তোমরা যত লোক আল্লাহ্কে ভয় কর, আমাদেরই কাছ এই নাজাতের কালাম প্রেরিত হয়েছে।
27 কেননা জেরুশালেম-নিবাসীরা এবং তাদের নেতৃবর্গরা তাঁকে না জানাতে এবং নবীদের যেসব বাণী প্রতি বিশ্রামবারে পাঠ করা হয়, সেই সকলও না জানাতে, তাঁর দণ্ডাজ্ঞা করে সেসব পূর্ণ করলো।
28 আর প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোনই দোষ না পেলেও তারা পীলাতের কাছে যাচ্ঞা করলো, যেন তাঁকে হত্যা করা হয়।
29 আর তাঁর বিষয়ে যেসব কথা লেখা ছিল, তা পূর্ণ হলে পর তাঁকে ক্রুশ থেকে নামিয়ে কবরে সমাহিত করলো।
30 কিন্তু আল্লাহ্ মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে উঠালেন।
31 আর যাঁরা তাঁর সঙ্গে গালীল থেকে জেরুশালেমে এসেছিলেন, তাঁদেরকে তিনি অনেক দিন পর্যন্ত দেখা দিলেন; তাঁরাই এখন লোকদের কাছে তাঁর সাক্ষী।
32 আর পিতৃগণের কাছে কৃত প্রতিজ্ঞার বিষয়ে আমরা তোমাদেরকে এই সুসমাচার জানাচ্ছি যে,
33 আল্লাহ্ ঈসাকে মৃত্যু থেকে জীবিত করে আমাদের সন্তানদের পক্ষে সেই ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, যেমন দ্বিতীয় জবুরেও লেখা আছে, “তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমাকে জন্ম দিয়েছি।”
34 আর তিনি যে তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন এবং তাঁকে যে আর ক্ষয়ে ফিরে যেতে হবে না, এই বিষয়ে আল্লাহ্ এরকম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে দাউদের পবিত্র অটল অঙ্গীকারগুলো দিব।”
35 কেননা তিনি অন্য জবুরেও বলেন, “তুমি নিজের বিশ্বস্ত গোলামের ক্ষয় দেখতে দেবে না।”
36 বস্তুতঃ দাউদ তাঁর সমকালীন লোকদের মধ্যে আল্লাহ্র পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার পর ইন্তেকাল করলেন এবং নিজের পূর্ব-পুরুষদের কাছে সংগৃহীত হলেন ও তাঁর দেহ ক্ষয় হয়ে গেল।
37 কিন্তু আল্লাহ্ যাঁকে উঠিয়েছেন, তাঁর দেহ ক্ষয় হয় নি।
38 অতএব, হে ভাইয়েরা, তোমরা জেনো, এই ব্যক্তি দ্বারা গুনাহের মাফ পাবার কথা তোমাদেরকে জানানে যাচ্ছে;
39 আর মূসার শরীয়তের মধ্য দিয়ে তোমরা যেসব বিষয়ে ধার্মিক গণিত হতে পারতে না, যে কেউ ঈমান আনে, সে সেসব বিষয়ে এই ব্যক্তিতেই ধার্মিক গণিত হয়।
40 অতএব দেখো, নবীদের কিতাবে যা বলা হয়েছে, তা যেন তোমাদের প্রতি না ঘটে—
41
“হে অবজ্ঞাকারীরা, দৃষ্টিপাত কর,
আর চমকে উঠ এবং অন্তর্হিত হও;
যেহেতু তোমাদের সময়ে আমি এক কাজ করবো,
সেই কাজের কথা যদি কেউ তোমাদের কাছে বর্ণনা করে,
তোমরা কোন মতে বিশ্বাস করবে না।”
42
পৌল ও বার্নাবাস মজলিস-খানা থেকে বাইরে যাবার সময়ে লোকেরা ফরিয়াদ করলো, যেন পরের বিশ্রামবারে সেসব কথা তাদের কাছে বলা হয়।
43 আর মজলিস-খানার সভা সমাপ্ত হলে পর অনেক ইহুদী ও ইহুদী-ধর্মাবলম্বী ভক্ত লোক পৌল ও বার্নাবাসের সঙ্গে সঙ্গে গেল। তখন সেই লোকদের সঙ্গে তাঁরা কথা বললেন এবং আল্লাহ্র রহমতে স্থির থাকতে তাদেরকে উৎসাহ দিলেন।
44
পরবর্তী বিশ্রামবারে নগরের প্রায় সমস্ত লোক আল্লাহ্র কালাম শুনতে সমাগত হল।
45 কিন্তু ইহুদীরা লোকসমারোহ দেখে ঈর্ষাতে পরিপূর্ণ হল এবং নিন্দা করতে করতে পৌলের কথার প্রতিবাদ করতে লাগল।
46 আর পৌল ও বার্নাবাস সাহস-পূর্বক কথা বললেন, বললেন, প্রথমে তোমাদেরই কাছে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করা আমাদের আবশ্যক ছিল; তোমরা যখন তা ঠেলে ফেলে দিচ্ছ এবং তোমাদের নিজেদেরকে অনন্ত জীবনের অযোগ্য বিবেচনা করছো, তখন দেখ, আমরা অ-ইহুদীদের দিকে ফিরছি।
47 কেননা প্রভু আমাদেরকে এরকম হুকুম দিয়েছেন,
“আমি তোমাকে জাতিদের কাছে দীপ্তিস্বরূপ করেছি,
যেন তুমি দুনিয়ার সীমা পর্যন্ত নাজাতস্বরূপ হও।”
48
এই কথা শুনে অ-ইহুদীরা আনন্দিত হল ও প্রভুর কালামের গৌরব করতে লাগল; এবং যত লোক অনন্ত জীবনের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল, তারা ঈমান আনলো।
49 আর প্রভুর কালাম সেই দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লো।
50 কিন্তু ইহুদীরা ভক্ত ভদ্র মহিলাদেরকে ও নগরের প্রধানবর্গকে উত্তেজিত করে তুলে পৌলের ও বার্নাবাসের প্রতি নির্যাতন শুরু করলো এবং তাদের সীমানা থেকে তাঁদের বের করে দিল।
51 তখন তাঁরা তাদের বিরুদ্ধে পায়ের ধুলা ঝেড়ে দিয়ে ইকনিয় শহরে চলে গেলেন।
52 আর সাহাবীরা আনন্দে ও পাক-রূহে পরিপূর্ণ হতে থাকলেন।
1
পরে পৌল ও বার্নাবাস একসঙ্গে ইকনিয় শহরে ইহুদীদের মজলিস-খানায় প্রবেশ করলেন এবং এমনভাবে কথা বললেন, যে, ইহুদী ও গ্রীকদের অনেক লোক ঈমান আনলো।
2 কিন্তু যে ইহুদীরা অবাধ্য হল, তারা ভাইদের বিপক্ষে অ-ইহুদীদের উত্তেজিত করে তাদের মন বিষিয়ে তুললো।
3 পৌল ও বার্নাবাস সেই স্থানে অনেক দিন অবস্থিতি করলেন এবং সাহসের সঙ্গে প্রভুর পক্ষে কথা বললেন, আর প্রভুও তাঁদের মধ্য দিয়ে নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ সাধন করে তাঁর রহমতের কালামের পক্ষে সাক্ষ্য দিতেন।
4 আর নগরের লোকেরা দুই দলে বিভক্ত হল, এক দল ইহুদীদের পক্ষ, অন্য দল প্রেরিতদের পক্ষ হল।
5 আর অ-ইহুদীরা ও ইহুদীরা, তাদের নেতাদের সঙ্গে তাঁদেরকে অপমান করতে ও পাথর মারতে সচেষ্ট হল,
6 কিন্তু তাঁরা তা জানতে পেরে লুকায়নিয়ার লুস্ত্রা ও দর্বী নগরে এবং চারদিকের অঞ্চলে পালিয়ে গেলেন;
7 আর সেখানে সুসমাচার তবলিগ করতে লাগলেন।
8
লুস্ত্রা নগরে এক ব্যক্তি বসে থাকতো, তার পায়ে কোন বল ছিল না; সে মাতৃগর্ভ থেকে খঞ্জ ছিল এবং কখনও হাঁটে নি।
9 সেই ব্যক্তি পৌলের কথা শুনছিল; তখন পৌল তার প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে, সুস্থ হবার জন্য তার বিশ্বাস আছে দেখে,
10 তাকে জোরে ডেকে বললেন, তোমার পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াও; তাতে সে লাফ দিয়ে উঠলো ও হাঁটতে লাগল।
11 আর পৌল যা করলেন, তা দেখে লোকেরা লুকায়নীয় ভাষায় চিৎকার করে বলতে লাগল, দেবতারা মানুষের রূপ ধারণ করে আমাদের মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছেন।
12 আর তারা বার্নাবাসকে ‘জিউস’ বলে ডাকল এবং পৌল প্রধান বক্তা ছিলেন বলে তাঁকে ‘হার্ম্মিস’ বলে ডাকলো।
13 আর নগরের সম্মুখে জিউসের যে মন্দির ছিল, তার পুরোহিত কতগুলো ষাঁড় ও মালা নগর-দ্বারে এনে লোকদের সঙ্গে উৎসর্গ করতে চাইলো।
14 কিন্তু প্রেরিত পৌল ও বার্নাবাস তা শুনে নিজ নিজ কাপড় ছিঁড়ে, দৌড়ে বের হয়ে লোকদের মধ্যে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলতে লাগলেন,
15 বন্ধুরা, এসব কেন করছেন? আমরাও আপনাদেরই মত মানুষ মাত্র; আমরা আপনাদেরকে এই সুসমাচার জানাচ্ছি যে, এসব অসার বস্তু থেকে সেই জীবন্ত আল্লাহ্র প্রতি ফিরে আসতে হবে, যিনি আসমান, দুনিয়া, সমুদ্র এবং সেই সবের মধ্যবর্তী সমস্তই নির্মাণ করেছেন।
16 তিনি অতীত কালে পুরুষ পরমপরায় সমস্ত জাতিকে নিজ নিজ পথে গমন করতে দিয়েছেন;
17 তবুও তিনি সব সময় মঙ্গল করে নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আসমান থেকে আপনাদেরকে বৃষ্টি এবং ফলোৎপাদক ঋতু দিয়ে খাদ্যে ও আনন্দে আপনাদের অন্তর পরিতৃপ্ত করে আসছেন।
18 এসব কথা বলে তাঁরা অনেক কষ্টে তাঁদের উদ্দেশে কোরবানী নিবেদন করা থেকে লোকদেরকে নিবৃত্ত করলেন।
19
কিন্তু এণ্টিয়ক ও ইকনিয় থেকে কয়েক জন ইহুদী এসে লোকদেরকে প্রবৃত্তি দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়ালো। তারা পৌলকে পাথর মারলো এবং তিনি মরে গেছেন মনে করে নগরের বাইরে টেনে নিয়ে গেল।
20 কিন্তু মসীহী ঈমানদাররা তাঁর চারপাশে দাঁড়ালে তিনি উঠে নগর মধ্যে প্রবেশ করলেন। পরদিন তিনি বার্নাবাসের সঙ্গে দর্বীতে চলে গেলেন।
21
আর সেই নগরে সুসমাচার তবলিগ করে এবং অনেক লোককে উম্মত করে তাঁরা লুস্ত্রায়, ইকনিয়ে ও এণ্টিয়কে ফিরে গেলেন।
22 তাঁরা যেতে যেতে সাহাবীদের ঈমানে শক্তিশালী করে তুললেন এবং তাদেরকে উৎসাহ দিতে লাগলেন, যেন তারা ঈমানে স্থির থাকে। তাঁরা বললেন, অনেক দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে আল্লাহ্র রাজ্যে প্রবেশ করতে হবে।
23 আর তাঁরা তাদের জন্য প্রত্যেক মণ্ডলীতে প্রাচীন নেতৃবর্গদের নিযুক্ত করে এবং রোজা রেখে মুনাজাত করে, যে প্রভুর উপর তারা ঈমান এনেছিল, তাঁর হাতে তাদেরকে তুলে দিলেন।
24
পরে তাঁরা পিষিদিয়ার মধ্য দিয়ে গমন করে পামফুলিয়া প্রদেশে উপস্থিত হলেন।
25 আর তাঁরা পর্গা নগরে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করে অত্তালিয়া বন্দরে চলে গেলেন;
26 এবং সেখান থেকে জাহাজে করে এণ্টিয়কে ফিরে আসলেন। যে কাজ তাঁরা সাধন করে এসেছেন, সেজন্য এই স্থান থেকেই তাঁদের আল্লাহ্র রহমতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
27 তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মণ্ডলীকে একত্র করলেন এবং আল্লাহ্ তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে থেকে যে কত কাজ করেছিলেন ও তিনি যে অ-ইহুদীদের জন্য ঈমানের দ্বার খুলে দিয়েছিলেন, সেসব বর্ণনা করলেন।
28 পরে তাঁরা সাহাবীদের সঙ্গে অনেক দিন থাকলেন।
1
পরে এহুদিয়া থেকে কয়েক জন লোক এসে ভাইদেরকে শিক্ষা দিতে লাগল যে, তোমরা যদি মূসার শরীয়ত অনুসারে নিজদেরকে সুন্নত না করাও, তবে নাজাত পেতে পারবে না।
2 আর তাদের সঙ্গে পৌলের ও বার্নাবাসের অনেক বাকযুদ্ধ ও বাদানুবাদ হলে পর ভাইয়েরা স্থির করলেন, সেই তর্কের মীমাংসা করার জন্য পৌল ও বার্নাবাস এবং তাঁদের মধ্যে আরও কয়েক জন, জেরুশালেমে প্রেরিতদের ও প্রাচীনদের কাছে যাবেন।
3 অতএব মণ্ডলী তাদেরকে যাবার ব্যবস্থা করে দিল। তাঁরা ফিনিশিয়া ও সামেরিয়া দেশ দিয়ে গমন করতে করতে অ-ইহুদীরা কিভাবে ঈমান আনছে সেই বিষয় বর্ণনা করলেন এবং সকল ভাইদের পরমানন্দ জন্মালেন।
4 পরে তাঁরা জেরুশালেমে উপস্থিত হলে পর মণ্ডলী, প্রেরিতেরা ও প্রাচীনবর্গরা তাঁদের গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহ্ তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে থেকে যেসব কাজ করেছিলেন, তাঁরা সেসবই বর্ণনা করলেন।
5 কিন্তু ফরীশী দলের কয়েক জন ঈমানদার উঠে বলতে লাগল, সেই লোকদের খৎনা করা এবং মূসার শরীয়ত পালনের হুকুম দেওয়া আবশ্যক।
6
পরে এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রেরিতেরা ও প্রাচীনবর্গরা সমবেত হলেন।
7 আর অনেক বাদানুবাদ হলে পিতর উঠে তাঁদেরকে বললেন— ‘হে ভাইয়েরা, তোমরা জান, এর অনেক দিন আগে আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে আমাকে মনোনীত করেছিলেন, যেন আমার মুখে অ-ইহুদীরা সুসমাচারের কালাম শুনে ঈমান আনে।
8 আর আল্লাহ্, যিনি অন্তঃকরণ জানেন, তিনি তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন, আমাদেরকে যেমন, তেমনি তাদেরকেও পাক-রূহ্ দান করেছেন;
9 এবং আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য রাখেন নি, ঈমান দ্বারাই তাদের অন্তর পাক-পবিত্র করেছেন।
10 অতএব এখন তোমরা কেন আল্লাহ্কে পরীক্ষা করছো, সাহাবীদের কাঁধে সেই জোয়াল দিচ্ছ, যার ভার না আমাদের পূর্বপুরুষেরা, না আমরা বহন করতে সমর্থ হয়েছি?
11 কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, ওরা যেমন, আমরাও তেমনি প্রভু ঈসার রহমত দ্বারাই নাজাত পাব।’
12
তখন সমস্ত লোক নীরব হয়ে রইলো; আর বার্নাবাসের ও পৌলের দ্বারা অ-ইহুদীদের মধ্যে আল্লাহ্ কি কি চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ সাধন করেছেন, তা তাঁদের কাছেই শুনতে লাগল।
13 তাঁদের কথা শেষ হলে পর ইয়াকুব জবাবে বললেন, ‘হে ভাইয়েরা, আমার কথা শোন।
14 আল্লাহ্ তাঁর নামের জন্য অ-ইহুদীদের মধ্য থেকে এক দল লোক গ্রহণ করবার জন্য কিভাবে প্রথমে তাদের তত্ত্ব নিয়েছিলেন তা শিমোন বর্ণনা করেছেন।
15 আর নবীদের কালাম তার সঙ্গে মিলে, যেমন লেখা আছে,
16
“এর পরে আমি ফিরে আসবো,
দাউদের পড়ে যাওয়া কুটির পুনরায় গাঁথব,
তার ধ্বংসস্থানগুলো পুনরায় গাঁথব,
আর তা পুনরায় স্থাপন করবো;
17
যেন অবশিষ্ট লোকেরা প্রভুর খোঁজ করে,
আর যে জাতিদের উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে,
তারা সকলেও করে, প্রভু এই কথা বলেন,
18
তিনি অনেক কাল আগে থেকেই এসব বিষয় জানিয়ে দেন।”
19
অতএব আমার বিচার এই, অ-ইহুদীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্র প্রতি ফিরে, তাদেরকে আমরা কষ্ট দেব না, কেবল তাদেরকে লিখে পাঠাব,
20 যেন তারা মূর্তি সংক্রান্ত নাপাকীতা, জেনা, গলা টিপে মারা প্রাণীর গোশ্ত এবং রক্ত, এসব থেকে পৃথক থাকে।
21 কেননা প্রতি নগরে অতি পূর্বকাল থেকে মূসার এমন লোক আছে, যারা তাঁকে তবলিগ করে, প্রতি বিশ্রামবারে মজলিস-খানায় মজলিস-খানায় তাঁর কিতাব পাঠ করা হচ্ছে।’
22
তখন প্রেরিতেরা ও প্রাচীনবর্গরা সমস্ত মণ্ডলীর সহযোগে, নিজেদের মধ্যে থেকে মনোনীত কোন কোন লোককে, অর্থাৎ বার্শব্বা নামে আখ্যাত এহুদা এবং সীল, ভাইদের মধ্যে অগ্রগণ্য এই দু’জনকে পৌল ও বার্নাবাসের সঙ্গে এণ্টিয়কে পাঠাতে ভাল মনে করলেন;
23 এবং তাঁদের হাতে এরকম পত্র লিখে পাঠালেন— এণ্টিয়ক, সিরিয়া ও কিলিকিয়া-নিবাসী ভাইদের কাছে প্রেরিতদের ও প্রাচীনদের, অর্থাৎ তোমাদের ভাইদের মঙ্গলবাদ।
24 আমরা শুনতে পেয়েছি যে, আমরা যাদেরকে কোন হুকুম দিই নি, এমন কয়েক ব্যক্তি আমাদের মধ্য থেকে গিয়ে নানা কথা বলে তোমাদের প্রাণ অস্থির করে তোমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে।
25 এজন্য আমরা একমত হয়ে কয়েক জনকে মনোনীত করে তাদেরকে আমাদের প্রিয় বার্নাবাস ও পৌলের সঙ্গে তোমাদের কাছে পাঠাতে ভাল মনে করলাম।
26 বার্নাবাস ও পৌল আমাদের প্রভু ঈসার মসীহের নামের জন্য প্রাণপণ করেছেন।
27 অতএব এহুদা ও সীলকে প্রেরণ করলাম, এঁরা মুখেও তোমাদেরকে সেসব বিষয় জানাবেন।
28 কারণ পাক-রূহের এবং আমাদের এই বিষয় ভাল মনে হল, যেন এই কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া তোমাদের উপরে আর কোন ভার না দিই।
29 ফলে মূর্তির প্রসাদ এবং রক্ত ও গলা টিপে মারা প্রাণীর গোশ্ত খাওয়া ও জেনা থেকে পৃথক থাকা তোমাদের উচিত; এসব থেকে নিজেদের সযত্নে রক্ষা করলে তোমাদের কুশল হবে। তোমাদের মঙ্গল হোক।’
30
তখন তারা বিদায় হয়ে এণ্টিয়কে আসলেন এবং লোকদেরকে একত্র করে পত্রখানি দিলেন।
31 তা পাঠ করে তারা সেই আশ্বাসের কথায় আনন্দিত হল।
32 আর এহুদা ও সীল নিজেরাও নবী ছিলেন বলে অনেক কথা দ্বারা ভাইদেরকে উৎসাহ দিলেন ও ঈমানে শক্তিশালী করে তুললেন।
33 তাঁরা সেই স্থানে কিছু কাল যাপন করার পর যাঁরা তাঁদেরকে পাঠিয়েছিলেন,
34 তাঁদের কাছে ফিরে যাবার জন্য ভাইয়েরা তাঁদের শান্তিতে বিদায় দিলেন।
35 কিন্তু পৌল ও বার্নাবাস এণ্টিয়কে অবস্থিতি করলেন, তাঁরা অন্যান্য অনেক লোকের সঙ্গে প্রভুর কালাম নিয়ে শিক্ষা দিতেন ও সুসমাচার তবলিগ করতেন।
36
কয়েক দিন পরে পৌল বার্নাবাসকে বললেন, চল, আমরা যেসব নগরে প্রভুর কালাম তবলিগ করেছিলাম, সেসব নগরে এখন ফিরে গিয়ে ভাইদের তত্ত্বাবধান করি, দেখি, তারা কেমন আছে।
37 আর বার্নাবাস চাইলেন, ইউহোন্না যাঁকে মার্ক বলে, তাঁকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন;
38 কিন্তু পৌল মনে করলেন, যে ব্যক্তি পাম্ফুলিয়াতে তাঁদেরকে ছেড়ে গিয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে কাজে যান নি, এমন লোককে সঙ্গে করে নেওয়া উচিত নয়।
39 এতে এমন মতবিরোধ হল যে, তাঁরা পরস্পর পৃথক হলেন; বার্নাবাস মার্ককে সঙ্গে করে জাহাজে সাইপ্রাস দ্বীপে গমন করলেন;
40 কিন্তু পৌল শীলকে মনোনীত করলেন, ঈমানদার ভাইয়েরা প্রভুর রহমতের হাতে তাঁদের তুলে দিলে তাঁরা প্রস্থান করলেন।
41 আর তিনি সিরিয়া ও কিলিকিয়া দিয়ে গমন করতে করতে মণ্ডলীগুলোকে শক্তিশালী করে তুললেন।
1
পরে তিনি দর্বীতে ও লুস্ত্রায় উপস্থিত হলেন। আর দেখ, সেখানে তীমথি নামে এক জন সাহাবী ছিলেন; তিনি এক জন ঈমানদার ইহুদী মহিলার পুত্র, কিন্তু তার ছিলেন পিতা গ্রীক;
2 লুস্ত্রা ও ইকনীয়-নিবাসী ভাইয়েরা তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিত।
3 পৌলের ইচ্ছা হল, যেন সেই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে গমন করেন; আর তিনি ঐ সমস্ত স্থানেও ইহুদীদের জন্য তাঁকে নিয়ে তাঁর খৎনা করলেন; কেননা তাঁর পিতা যে গ্রীক, তা সকলে জানতো।
4 আর তাঁরা নগরে নগরে ভ্রমণ করতে করতে জেরুশালেমের প্রেরিতদের ও প্রাচীনদের নির্ধারিত নিয়মাবলি পালন করতে ভাইদের হাতে অর্পণ করলেন।
5 এভাবে মণ্ডলীগুলো ঈমানে শক্তিশালী হতে থাকলো এবং দিন দিন সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল।
6
তাঁরা ফরুগিয়া ও গালাতিয়া প্রদেশ দিয়ে গমন করলেন, কেননা এশিয়া প্রদেশে কালাম তবলিগ করতে পাক-রূহ্কর্তৃক নিবৃত্ত হয়েছিলেন।
7 আর তাঁরা মুশিয়া দেশের কাছে উপস্থিত হয়ে বিথুনিয়ায় যেতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু ঈসার রূহ্ তাঁদেরকে যেতে দিলেন না।
8 তখন তারা মুশিয়া দেশ ছেড়ে ত্রোয়াতে চলে গেলেন।
9 আর রাতের বেলায় পৌল একটি দর্শন পেলেন; ম্যাসিডোনিয়ার এক জন পুরুষ দাঁড়িয়ে বিনতিপূর্বক তাঁকে বলছে, পার হয়ে ম্যাসিডোনিয়াতে এসে আমাদের উপকার করুন।
10 তিনি সেই দর্শন পেলে আমরা অবিলম্বে ম্যাসিডোনিয়া দেশে যেতে চেষ্টা করলাম, কারণ বুঝলাম, সেখানকার লোকদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করতে আল্লাহ্ আমাদেরকে ডেকেছেন।
11
আমরা ত্রোয়া থেকে যাত্রা করে সোজা পথে সামথ্রীতে এবং তার পরদিন নিয়াপলিতে উপস্থিত হলাম।
12 সেখান থেকে ফিলিপীতে গেলাম; সেটি ম্যাসিডোনিয়ার ঐ বিভাগের প্রধান নগর, রোমীয় উপনিবেশ। সেই নগরে আমরা কয়েক দিন অবস্থিতি করলাম।
13 আর বিশ্রামবারে নগর-দ্বারের বাইরে নদীতীরে গেলাম, মনে করলাম, সেখানে মুনাজাতের স্থান আছে; আর আমরা বসে সমাগত স্ত্রীলোকদের কাছে কথা বলতে লাগলাম।
14 আর সেই স্থানে থুয়াতীরা নগরের লুদিয়া নাম্নী এক জন আল্লাহ্-ভক্ত স্ত্রীলোক আমাদের কথা শুনছিলেন। তিনি বেগুনিয়া কাপড় বিক্রি করতেন, আর প্রভু তাঁর হৃদয় খুলে দিলেন, যেন তিনি পৌলের কথায় মনোযোগ দেন।
15 তিনি ও তাঁর পরিবার বাপ্তিস্ম নিলে পর তিনি ফরিয়াদ করে বললেন, আপনারা যদি আমাকে প্রভুতে ঈমানদার বলে বিবেচনা করে থাকেন, তবে আমার বাড়িতে এসে থাকুন। আর তিনি আমাদেরকে সাধ্যসাধনা করে নিয়ে গেলেন।
16
একদিন আমরা সেই মুনাজাতের স্থানে যাচ্ছিলাম, এমন সময়ে দৈবজ্ঞ রূহ্বিশিষ্টা এক জন বাঁদীর সঙ্গে আমাদের দেখা হল। সে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারতো এবং তাতে তার কর্তাদের বিস্তর লাভ হত।
17 সে পৌলের এবং আমাদের পিছনে যেতে যেতে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, এই ব্যক্তিরা সর্বশক্তিমানের গোলাম, এঁরা তোমাদেরকে নাজাতের পথ জানাচ্ছেন।
18 সে অনেক দিন পর্যন্ত এরকম করতে থাকলো। কিন্তু পৌল বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে সেই রূহ্কে বললেন, আমি ঈসা মসীহের নামে তোমাকে হুকুম দিচ্ছি, এর মধ্য থেকে বের হয়ে যাও; তাতে সেই মুহূর্তেই সে বের হয়ে গেল।
19
কিন্তু তার কর্তারা, লাভের আশা চলে গেল দেখে পৌলকে ও সীলকে ধরে শহর-চকে নেতাদের সম্মুখে টেনে নিয়ে গেল।
20 তারা নেতাদের কাছে তাঁদেরকে এনে বললো, এই ব্যক্তিরা আমাদের নগর অতিশয় অস্থির করে তুলছে; এরা ইহুদী;
21 আর আমরা রোমীয়, আমাদের যেরকম রীতিনীতি গ্রহণ বা পালন করতে নেই, এরা তা-ই তবলিগ করছে।
22 তাতে লোকেরা তাঁদের বিরুদ্ধে উঠলো এবং শাসনকর্তারা তাঁদের কাপড় খুলে ফেলে দিলেন ও বেত্রাঘাত করতে হুকুম দিলেন,
23 এবং তাঁদেরকে বিস্তর প্রহার করা হলে পর কারাগারে নিক্ষেপ করলেন এবং সাবধানে প্রহরা দিতে কারারক্ষককে হুকুম দিলেন।
24 এই রকম হুকুম পেয়ে সে তাঁদেরকে নিয়ে কারাগারের ভিতরের ঘরে নিয়ে গেল এবং হাড়িকাঠ দিয়ে তাঁদের পা আট্কে রাখলো।
25 কিন্তু মাঝ রাতে পৌল ও সীল আল্লাহ্র উদ্দেশে মুনাজাত এবং প্রশংসা-কাওয়ালী করছিলেন এবং বন্দীরা তাঁদের গান কান পেতে শুনছিল।
26 তখন হঠাৎ মহা ভূমিকমপ হল, এমন কি, কারাগারের ভিত্তিমূল কেঁপে উঠলো; আর অমনি সমস্ত দ্বার খুলে গেল ও সকলের বন্ধন মুক্ত হল।
27 তাতে কারারক্ষক ঘুম থেকে জেগে উঠলো এবং কারাগারের দ্বারগুলো খুলে গেছে দেখে, তলোয়ার কোষমুক্ত করে আত্মহত্যা করতে উদ্যত হল; কারণ সে মনে করেছিল বন্দীরা পালিয়ে গেছে।
28 কিন্তু পৌল চিৎকার করে ডেকে বললেন, ওহে, নিজের ক্ষতি করো না, কেননা আমরা সকলেই এই স্থানে আছি।
29 তখন সে আলো আনতে বলে ভিতরে দৌড়ে গেল এবং ভীষণ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে পৌলের ও সীলের সম্মুখে পড়লো।
30 আর সে তাঁদেরকে বাইরে এনে বললো, হুজুরগণ, নাজাত পাবার জন্য আমাকে কি করতে হবে?
31 তাঁরা বললেন, তুমি ও তোমার পরিবার ঈসা মসীহের উপর ঈমান আন, তাতে নাজাত পাবে।
32 পরে তাঁরা তাকে এবং তার বাড়িতে উপস্থিত সমস্ত লোককে আল্লাহ্র কালাম বললেন।
33 আর রাতের সেই দণ্ডেই সে তাঁদেরকে নিয়ে তাঁদের প্রহারের ক্ষতগুলো ধুয়ে দিল এবং সে নিজে ও তার সকল লোক অবিলম্বে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করলো।
34 পরে সে তাঁদেরকে উপরে ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁদের সম্মুখে খাদ্যদ্রব্য রাখল এবং সমস্ত পরিবারের সঙ্গে আল্লাহ্র উপরে ঈমান আনতে পেরে অতিশয় আনন্দিত হল।
35
দিন হলে শাসনকর্তারা বেত্রধরদের দ্বারা বলে পাঠালেন, সেই লোকদেরকে ছেড়ে দাও।
36 তাতে কারারক্ষক পৌলকে এই সংবাদ দিল যে, নেতৃবর্গ আপনাদেরকে ছেড়ে দিতে বলে পাঠিয়েছেন, অতএব আপনারা এখন বের হয়ে শান্তিতে প্রস্থান করুন।
37 কিন্তু পৌল তাদেরকে বললেন, তাঁরা আমাদেরকে বিচারে দোষী না করে সর্বসাধারণের সাক্ষাতে প্রহার করিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন, আমরা তো রোমীয় নাগরিক, এখন কি গোপনে আমাদেরকে বের করে দিচ্ছেন? তা হবে না; তারা নিজে এসে আমাদেরকে বাইরে নিয়ে যান।
38 তখন বেত্রধরেরা নেতাদেরকে এই সংবাদ দিল। তাতে তাঁরা যে রোমীয় নাগরিক, এই কথা শুনে নেতৃবর্গ ভয় পেলেন,
39 এবং এসে তাঁদেরকে ফরিয়াদ জানালেন, আর বাইরে নিয়ে গিয়ে নগর থেকে প্রস্থান করতে অনুরোধ করলেন।
40 তখন তাঁরা কারাগার থেকে বের হয়ে লুদিয়ার বাড়িতে গেলেন। আর সেখানে ভাইদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হলে তাঁদেরকে উৎসাহ দিলেন; পরে সেখান থেকে চলে গেলেন।
1
পরে তাঁরা আম্ফিপলি ও আপল্লোনিয়া দিয়ে গমন করে থিষলনীকী শহরে আসলেন। সেই স্থানে ইহুদীদের একটি মজলিস-খানা ছিল।
2 আর পৌল তাঁর রীতি অনুসারে তাদের কাছে গেলেন এবং তিনটি বিশ্রামবারে পাক-কিতাবের কথা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করলেন, অর্থ বুঝিয়ে দিলেন।
3 তিনি তাদের দেখালেন যে, মসীহের মৃত্যুবরণ করা ও মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করা আবশ্যক ছিল। তিনি তাদের বললেন, এই যে ঈসাকে আমি তোমাদের কাছে তবলিগ করছি, তিনিই সেই মসীহ্।
4 তাতে তাদের মধ্যে কয়েক জন তাঁদের কথায় ঈমান আনলো এবং পৌলের ও সীলের সঙ্গে যোগ দিল; আর ভক্ত গ্রীকদের মধ্যে অনেক লোক ও বেশ কয়েক জন প্রধান মহিলা তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন।
5 কিন্তু ইহুদীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে, বাজারের কয়েক জন দুষ্ট লোককে সঙ্গে নিয়ে ভিড় জমাল এবং নগরে গোলযোগ বাঁধিয়ে দিল। তারপর তারা পৌল ও সীলকে খুঁজে বের করে লোকদের কাছে আনবার জন্য যাসোনের বাড়ি আক্রমণ করলো;
6 কিন্তু তাঁদেরকে না পাওয়াতে তাঁরা যাসোন এবং কয়েক ভাইকে নগর-প্রশাসকদের সম্মুখে টেনে নিয়ে গেল ও চেঁচিয়ে বলতে লাগল, এই যে লোকেরা জগৎ-সংসারকে লণ্ডভণ্ড করে ফেলেছে, এরা এই স্থানেও উপস্থিত হয়েছে;
7 আর যাসোন এদের মেহমানদারী করেছে। এরা সকলে সম্রাটের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে ও বলে, ঈসা নামে আর এক জন বাদশাহ্ আছেন।
8 এসব কথা শুনিয়ে তারা জনতাকে ও নগরের কর্মকর্তাদেরকে অস্থির করে তুললো।
9 তখন তাঁরা যাসোনের ও আর সকলের জামিন নিয়ে তাঁদেরকে ছেড়ে দিলেন।
10
পরে ভাইয়েরা অবিলম্বে পৌলকে ও সীলকে রাতের বেলা বিরয়াতে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা ইহুদীদের মজলিস-খানায় গমন করলেন।
11 থিষলনীকীর ইহুদীদের চেয়ে এরা ভদ্র ছিল; কেননা এরা সমপূর্ণ আগ্রহপূর্বক কালাম গ্রহণ করলো, আর এসব বাস্তবিকই এরকম কি না তা জানবার জন্য প্রতিদিন পাক-কিতাব পরীক্ষা করতে লাগল।
12 অতএব তাদের মধ্যে অনেকে এবং গ্রীকদের মধ্যেও অনেক সম্ভ্রান্ত মহিলা ও পুরুষ ঈমান আনলেন।
13 কিন্তু থিষলনীকীর ইহুদীরা যখন জানতে পারলো যে, বিরয়াতেও পৌল কর্তৃক আল্লাহ্র কালাম তবলিগ হয়েছে, তখন তারা সেখানেও এসে লোকদেরকে অস্থির ও উত্তেজিত করে তুলতে লাগল।
14 তখন ভাইয়েরা অবিলম্বে পৌলকে সমুদ্র পর্যন্ত নিয়ে যাবার জন্য প্রেরণ করলেন; আর সীল ও তীমথি সেখানে রইলেন।
15 আর যারা পৌলকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল, তারা তাঁকে এথেন্স পর্যন্ত নিয়ে গেল। পরে তারা পৌলের কাছ থেকে এই নির্দেশ নিয়ে প্রস্থান করলো যে, যেন সীল ও তীমথি খুব তাড়াতাড়ি তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।
16
পৌল যখন তাদের অপেক্ষায় এথেন্সে ছিলেন, তখন সেই নগর মূর্তিতে পরিপূর্ণ দেখে তাঁর অন্তরে তাঁর রূহ্ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো।
17 অতএব তিনি মজলিস-খানায় ইহুদী ও ভক্ত লোকদের কাছে এবং বাজারে প্রতিদিন যাদের সঙ্গে দেখা হত, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতেন।
18 আবার এপিকিউরীয় ও স্টোয়িকীয় কয়েক জন দার্শনিক তাঁর সঙ্গে তর্কবিতর্ক করতে লাগল। আর কেউ কেউ বললো, এই বাচালটা কি বলতে চায়? আর কেউ কেউ বললো, ওকে বিজাতীয় দেবতাদের প্রচারক বলে মনে হয়; কারণ তিনি ঈসা ও পুনরুত্থান বিষয়ক সুসমাচার তবলিগ করতেন।
19 পরে তারা তাঁর হাত ধরে এরিওপেগসে নিয়ে গিয়ে বললো, এই যে নতুন শিক্ষা আপনি তবলিগ করছেন, তা কি রকম, আমরা কি জানতে পারি?
20 কারণ আপনার কতগুলো কথা আমাদের কানে অদ্ভুত শোনাচ্ছে; অতএব আমরা জানতে বাসনা করি, এসব কথার অর্থ কি।
21 (এথেন্সের সকল লোক ও সেখানকার প্রবাসী বিদেশীরা কেবল নতুন কোন কথা বলা বা শোনা ছাড়া আর কিছুতে সময় ব্যয় করতো না।)
22
তখন পৌল এরিওপেগসের মধ্যস্থলে দাঁড়িয়ে বললেন, হে এথেন্সের লোকেরা, দেখছি, তোমরা সর্ব বিষয়ে বড়ই দেবতা-ভক্ত।
23 কেননা বেড়াবার সময়ে তোমাদের উপাস্য বস্তুগুলো দেখতে দেখতে একটি বেদী দেখতে পেলাম, যার উপরে লেখা আছে, ‘অজানা দেবতার উদ্দেশে।’ অতএব তোমরা যে অজানা দেবতার ভজনা করছো, তাঁকে আমি তোমাদের কাছে তবলিগ করি।
24 আল্লাহ্, যিনি দুনিয়া ও তার মধ্যেকার সমস্ত বস্তু নির্মাণ করেছেন, তিনিই বেহেশতের ও দুনিয়ার প্রভু। তিনি হাতের তৈরি কোন মন্দিরে বাস করেন না।
25 তাঁর কোন কিছুর অভাব নেই, সেজন্য তিনি মানুষের হাত দ্বারা সেবিতও হন না। কেননা তিনিই সকলকে জীবন, শ্বাস ও সমস্ত কিছু দান করেন।
26 আর তিনি এক ব্যক্তি থেকে মানুষের সকল জাতিকে উৎপন্ন করেছেন, যেন তারা সমস্ত ভূতলে বাস করে। তিনি তাদের নির্দিষ্ট কাল ও নিবাসের সীমা স্থির করে দিয়েছেন।
27 আল্লাহ্ তা করেছেন, যেন মানুষ অনুসন্ধান করতে করতে তাঁর উদ্দেশ পেয়ে যাবার আশায় তাঁর খোঁজ করে; অথচ তিনি আমাদের কারো কাছ থেকে দূরে নন।
28 কেননা তাঁতেই আমাদের জীবন, গতি ও সত্তা; যেমন তোমাদের কয়েক জন কবিও বলেছেন, ‘কারণ আমরাও তাঁর সন্তান’।
29 অতএব আমরা যখন আল্লাহ্র সন্তান, তখন আল্লাহ্র স্বরূপকে মানুষের শিল্প ও কল্পনা অনুসারে খোদাই-করা সোনার বা রূপার বা পাথরের মত জ্ঞান করা আমাদের কর্তব্য নয়।
30 আল্লাহ্ সেই অজ্ঞানতার কাল উপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু এখন সমস্ত জায়গায় ও সকল মানুষকে মন পরিবর্তন করতে হুকুম দিচ্ছেন;
31 কেননা তিনি একটি দিন স্থির করেছেন, যে দিনে তাঁর নির্ধারিত ব্যক্তি দ্বারা ন্যায়ভাবে জগৎ সংসারের বিচার করবেন; এই বিষয়ে সকলের বিশ্বাস যোগ্য প্রমাণ দিয়েছেন, ফলত মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে উঠিয়েছেন।
32
তখন মৃতদের পুনরুত্থানের কথা শুনে কেউ কেউ উপহাস করতে লাগল; কিন্তু আর কেউ কেউ বললো, আপনার কাছে এই বিষয় আর একবার শুনবো।
33 এভাবে পৌল তাদের মধ্য থেকে প্রস্থান করলেন।
34 কিন্তু কোন কোন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গ ধরলো ও ঈমান আনলো; তাদের মধ্যে এরিওপেগসীয় দিয়নুষিয় এবং দামারিস্ নাম্নী এক জন স্ত্রীলোক ও তাঁদের সঙ্গে আর কয়েক জন ছিলেন।
1
তারপর পৌল এথেন্স থেকে প্রস্থান করে করিন্থে আসলেন।
2 আর তিনি আক্কিলা নামে এক ইহুদীর দেখা পেলেন; ইনি পন্ত প্রদেশের লোক ছিলেন। অল্প দিন আগে তিনি তাঁর স্ত্রী প্রিষ্কিল্লার সঙ্গে ইটালী থেকে এসেছিলেন, কেননা সম্রাট ক্লৌদিয় সমস্ত ইহুদীকে রোম থেকে চলে যেতে হুকুম করেছিলেন। পৌল তাঁদের কাছে গেলেন।
3 আর তিনিও তাঁদের মত তাঁবুর ব্যবসা করতেন বলে তাদের সঙ্গে অবস্থিতি করলেন ও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে লাগলেন।
4 প্রতি বিশ্রামবারে তিনি মজলিস-খানায় গিয়ে ঈসার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন এবং ইহুদী ও গ্রীক লোকেরা যেন ঈমান আনে তার চেষ্টা করতেন।
5
যখন সীল ও তীমথি ম্যাসিডোনিয়া থেকে আসলেন, তখন পৌল আল্লাহ্র কালাম তবলিগে নিবিষ্ট ছিলেন, ঈসা-ই যে মসীহ্, এর প্রমাণ ইহুদীদেরকে দিচ্ছিলেন।
6 কিন্তু ইহুদীরা প্রতিরোধ ও নিন্দা করাতে তিনি কাপড় ঝেড়ে তাদেরকে বললেন, তোমাদের রক্ত তোমাদের মস্তকেই বর্তুক, আমি নির্দোষ; এখন থেকে আমি অ-ইহুদীদের কাছে চললাম।
7 পরে তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করে তিতিয় যুষ্ট নামে এক জন আল্লাহ্-ভক্ত লোকের বাড়িতে প্রবেশ করলেন, এর বাড়ি মজলিস-খানার পাশে ছিল।
8 আর মজলিস-খানার কর্মকর্তা ক্রীষ্প সমস্ত পরিবারের সঙ্গে প্রভুতে ঈমান আনলেন; এবং করিন্থীয়দের মধ্যে অনেক লোক পৌলের কথা শুনে ঈমান আনলো ও বাপ্তিস্ম নিল।
9 আর প্রভু রাতের বেলায় দর্শনযোগে পৌলকে বললেন, ভয় করো না, বরং কথা বল, নীরব থেকো না;
10 কারণ আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি, তোমার ক্ষতি করার জন্য কেউই তোমাকে আক্রমণ করবে না; কেননা এই নগরে আমার অনেক লোক আছে।
11 তাতে তিনি দেড় বছর অবস্থিতি করে তাদের মধ্যে আল্লাহ্র কালাম শিক্ষা দিলেন।
12
আর গাল্লিয়ো যখন আখায়ার শাসনকর্তা, তখন ইহুদীরা এক যোগে পৌলের বিপক্ষে উঠলো ও তাঁকে বিচারাসনের সম্মুখে নিয়ে গিয়ে বললো,
13 এই ব্যক্তি শরীয়তের বিপরীতে আল্লাহ্র এবাদত করতে লোকদেরকে কুপ্রবৃত্তি দেয়।
14 কিন্তু যখন পৌল মুখ খুলতে উদ্যত হলেন, তখন গাল্লিয়ো ইহুদীদেরকে বললেন, কোন রকম অপরাধ কিংবা দুষ্কর্ম যদি হত, তবে, হে ইহুদীরা, তোমাদের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানো আমার পক্ষে যুক্তি সঙ্গত হত;
15 কিন্তু কালাম বা নাম বা তোমাদের শরীয়ত সম্বন্ধীয় প্রশ্ন যদি হয়, তবে তোমরা নিজেরাই তা মীমাংসা কর, আমি সেই রকম বিষয়ের বিচারকর্তা হতে চাই না।
16 পরে তিনি তাদেরকে বিচারাসন থেকে তাড়িয়ে দিলেন।
17 তাতে সকলে মজলিস-খানার কর্মকর্তা সোস্থিনিকে ধরে বিচারাসনের সম্মুখে প্রহার করতে লাগল; আর গাল্লিয়ো সেসব বিষয়ে কোন মনোযোগ দিলেন না।
18
পৌল আরও অনেক দিন অবস্থিতি করার পর ভাইদের কাছে বিদায় নিয়ে সমুদ্র-পথে সিরিয়া দেশে প্রস্থান করলেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রিষ্কিল্লা ও আক্কিলাও গেলেন। তিনি কিংক্রিয়াতে মাথা মুণ্ডন করেছিলেন, কেননা তাঁর একটি মানত ছিল।
19 পরে তাঁরা ইফিষে পৌঁছিলেন, আর তিনি সেই স্থানে ঐ দু’জনের সঙ্গ ত্যাগ করলেন; কিন্তু তিনি নিজে মজলিস-খানায় প্রবেশ করে ইহুদীদের কাছে ঈসার বিষয়ে কথা বললেন।
20 আর তারা তাদের কাছে আর কিছু দিন থাকতে তাঁকে ফরিয়াদ করলেও তিনি সম্মত হলেন না;
21 কিন্তু তাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন, বললেন, আল্লাহ্র ইচ্ছা হলে আমি আবার তোমাদের কাছে ফিরে আসব। পরে তিনি জাহাজে করে ইফিষ থেকে প্রস্থান করলেন।
22
আর সিজারিয়ায় উপস্থিত হয়ে জেরুশালেমে গেলেন এবং মণ্ডলীকে মঙ্গলবাদ করে সেখান থেকে এণ্টিয়কে চলে গেলেন।
23
সেখানে কিছুকাল অতিবাহিত করে তিনি প্রস্থান করলেন এবং ক্রমে গালাতিয়া ও ফরুগিয়া প্রদেশে ভ্রমণ করতে করতে সাহাবীদেরকে ঈমানে শক্তিশালী করে তুললেন।
24
আপল্লো নামক এক জন ইহুদী ইফিষে আসলেন; তিনি আলেক্জান্দ্রিয়া শহরে বাস করতেন। তিন এক জন সুবক্তা এবং পাক-কিতাবে ক্ষমতাপন্ন ব্যক্তি ছিলেন।
25 তিনি প্রভুর পথের বিষয়ে শিক্ষা পেয়েছিলেন এবং রূহে উত্তপ্ত হওয়াতে ঈসার বিষয়ে সূক্ষ্মভাবে কথা বলতেন ও শিক্ষা দিতেন, কিন্তু কেবল ইয়াহিয়ার বাপ্তিস্মের বিষয় জানতেন।
26 তিনি মজলিস-খানায় সাহসপূর্বক কথা বলতে আরম্ভ করলেন। আর প্রিষ্কিল্লা ও আক্কিলা তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে নিজেদের কাছে আনলেন এবং আল্লাহ্র পথ আরও সুক্ষ্মভাবে বুঝিয়ে দিলেন।
27 পরে তিনি আখায়াতে যেতে চাইলে ভাইয়েরা তাঁকে উৎসাহ দিলেন, আর তাঁকে গ্রহণ করতে সাহাবীদেরকে পত্র লিখলেন। তাতে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে, যারা আল্লাহ্র রহমতে ঈমান এনেছিলেন, তাদের বিস্তর উপকার করলেন।
28 কারণ ঈসা-ই যে মসীহ্, এই কথা কিতাবের কালাম দ্বারা প্রমাণ করে তিনি ক্ষমতার সঙ্গে লোক-সাধারণের সাক্ষাতে ইহুদীদেরকে একেবারে নিরুত্তর করলেন।
1
আপল্লো যে সময়ে করিন্থে ছিলেন, সেই সময়ে পৌল উত্তর অঞ্চল দিয়ে গমন করে ইফিষে আসলেন।
2 তিনি সেখানে কয়েক জন সাহাবীর দেখা পেলেন; আর তাদেরকে বললেন, ঈমান আনার পর তোমরা কি পাক-রূহ্ পেয়েছিলে? তারা তাঁকে বললো, পাক-রূহ্ যে আছেন, তাও আমরা শুনি নি।
3 তিনি বললেন, তবে কোন বাপ্তিস্ম নিয়েছিলে? তারা বললো, ইয়াহিয়ার বাপ্তিস্ম।
4 পৌল বললেন, ইয়াহিয়া মন পরিবর্তনের বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম দিতেন, লোকদেরকে বলতেন, যিনি তাঁর পরে আসবেন, তাঁতে অর্থাৎ ঈসাতে তাদেরকে ঈমান আনতে হবে।
5 এই কথা শুনে তারা প্রভু ঈসার নামে বাপ্তিস্ম নিল।
6 আর পৌল তাদের উপরে হস্তার্পণ করলে পাক-রূহ্ তাদের উপরে আসলেন, তাতে তারা নানা ভাষায় কথা বলতে এবং ভবিষ্যদ্বাণী বলতে লাগল।
7 তারা সবসুদ্ধ বারো জন পুরুষ ছিল।
8
পরে তিনি মজলিস-খানায় প্রবেশ করে তিন মাস সাহসপূর্বক কথা বললেন, আল্লাহ্র রাজ্যের বিষয়ে আলাপ করতেন ও তারা যেন ঈমান আনে তার চেষ্টা করতে লাগলেন।
9 কিন্তু যখন কয়েক জন কঠিন ও অবাধ্য হয়ে লোকদের সাক্ষাতে সেই পথের নিন্দা করতে লাগল, তখন তিনি তাদের কাছ থেকে চলে গেলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে প্রতিদিন তূরান্নের বক্তৃতাগৃহে গিয়ে যুক্তিতর্কের সঙ্গে আলোচনা করতে লাগলেন।
10
এভাবে দু’বছর কাল চললো; তাতে এশিয়া-নিবাসী ইহুদী ও গ্রীক সকলেই প্রভুর কালাম শুনতে পেল।
11
আর আল্লাহ্ পৌলের হাত দ্বারা অসামান্য কুদরতি-কাজ সাধন করতেন;
12 এমন কি, তাঁর শরীর থেকে রুমাল কিংবা গামছা অসুস্থ লোকদের কাছে আনলে ব্যাধি তাদেরকে ছেড়ে যেত এবং দুষ্ট রূহ্রা বের হয়ে যেত।
13
আর কয়েক জন পর্যটনকারী ইহুদী ওঝাও দুষ্ট রূহ্বিষ্ট লোকদের কাছে প্রভু ঈসার নাম ব্যবহার করে তাদের ছাড়াতে চেষ্টা করতো। তারা বলতো, পৌল যাঁর বিষয়ে তবলিগ করেন, সেই ঈসার কসম দিয়ে তোমাদেরকে বলছি।
14 আর স্কিবা নামে এক জন ইহুদী প্রধান ইমামের সাতটি পুত্র ছিল, তারা এই রকম করতো।
15 তাতে মন্দ রূহ্ জবাবে তাদেরকে বললো, ঈসাকে আমি জানি, পৌলকেও চিনি, কিন্তু তোমরা কে?
16 তখন যে ব্যক্তি মন্দ রূহ্বিষ্ট, সে তাদের উপরে লাফ দিয়ে পড়লো, তাদের সকলকে পরাজিত করে তাদের উপরে এমন বল প্রকাশ করলো যে, তারা উলঙ্গ ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল।
17 আর এই কথা ইফিষ-নিবাসী ইহুদী ও গ্রীক সকলেই জানতে পেল, তাতে সকলে খুব ভয় পেল এবং প্রভু ঈসার নাম প্রশংসিত হতে লাগল।
18 আর যারা ঈমান এনেছিল, তাদের অনেকে এসে নিজ নিজ কাজ স্বীকার ও প্রকাশ করতে লাগল।
19 আর যারা জাদুর খেলা দেখাত, তাদের মধ্যে অনেকে নিজ নিজ বই এনে একত্র করে সকলের সাক্ষাতে পুড়িয়ে ফেলল। সেসব কিতাবের মূল্য গণনা করলে দেখা গেল, পঞ্চাশ হাজার রূপার মুদ্রা।
20 এভাবে সপরাক্রমে প্রভুর কালাম বৃদ্ধি পেতে ও প্রবল হতে লাগল।
21
এসব কাজ সম্পন্ন হলে পর পৌল রূহে সঙ্কল্প করলেন যে, তিনি ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়া যাবার পর জেরুশালেমে যাবেন, তিনি বললেন, সেখানে যাবার পর আমাকে রোম নগরও দেখতে হবে।
22 আর তীমথি ও ইরাস্ত নামে যে দু’জন তাঁর পরিচর্যা করতেন, তাঁদের তিনি ম্যাসিডোনিয়াতে প্রেরণ করলেন এবং তিনি নিজে কিছুকাল এশিয়া প্রদেশে রইলেন।
23
আর সেই সময়ে এই পথের বিষয় ভীষণ হুলস্থূল পড়ে গেল।
24 কারণ দীমীত্রিয় নামে এক জন স্বর্ণকার দেবী আর্তেমিসের রূপার মন্দির নির্মাণ করতো এবং কারিগরদেরকে যথেষ্ট কাজের যোগান দিত।
25 সেই ব্যক্তি তাদেরকে এবং সেই ব্যবসার কারিগরদেরকে ডেকে বললো, মহোদয়গণ, আপনারা জানেন, এই কাজের দ্বারা আমাদের বেশ অর্থ উপার্জন হয়।
26 আর আপনারা দেখছেন ও শুনছেন, কেবল এই ইফিষে নয়, প্রায় সমস্ত এশিয়ায় এই পৌল বিস্তর লোককে প্রবৃত্তি দিয়ে ফিরিয়েছে, এই কথা বলেছে যে, হাতের তৈরি দেবমূর্তি আসলে কোন দেবতাই নয়।
27 এতে এই আশঙ্কা হচ্ছে, কেবল আমাদের এই ব্যবসার দুর্নাম হবে, তা নয়; কিন্তু মহাদেবী আর্তেমিসের মন্দির নগণ্য হয়ে পড়বে, আবার যাঁকে সমস্ত এশিয়া, এমন কি, জগৎ সংসার পূজা করে, তিনিও মহিমাচ্যুত হবেন।
28
এই কথা শুনে তারা ক্রোধে পরিপূর্ণ হয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, ইফিষীয়দের আর্তেমিসই মহাদেবী।
29 তাতে নগর গণ্ডগোলে পরিপূর্ণ হল; পরে লোকেরা একযোগে রঙ্গভূমিতে বেগে দৌড়ে গেল, আর ম্যাসিডোনিয়ার গায় ও আরিষ্টার্খ নামে পৌলের দু’জন সহযাত্রীকে ধরে নিয়ে গেল।
30 তখন পৌল লোকদের কাছে যেতে চাইলে সাহাবীরা তাঁকে যেতে দিলেন না।
31 আর এশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক জন তাঁর বন্ধু ছিলেন বলে তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে এই নিবেদন করলেন, যেন তিনি রঙ্গভূমিতে নিজের বিপদ ঘটাতে না যান।
32
তখন নানা লোকে নানা কথা বলে চিৎকার করছিল, কেননা সভা গোলযোগে পরিপূর্ণ হয়েছিল এবং কি জন্য সমাগত হয়েছিল অধিকাংশ লোকই তা জানত না।
33 তখন ইহুদীরা আলেকজাণ্ডারকে সম্মুখে উপস্থিত করায় লোকেরা জনতার মধ্য থেকে তাকে বের করলো; তাতে আলেকজাণ্ডার হাত দিয়ে ইশারা করে লোকদের কাছে পক্ষসমর্থন করতে উদ্যত হল।
34 কিন্তু যখন তারা জানতে পারলো যে, সে ইহুদী, তখন সকলে একস্বরে অনুমান দুই ঘণ্টা কাল এই বলে চেঁচাতে থাকলো, ‘ইফিষীয়দের আর্তেমিসই মহাদেবী’।
35 শেষে নগর সমপাদক জনতাকে ক্ষান্ত করে বললেন, হে ইফিষীয় লোকেরা, বল দেখি, ইফিষীয়দের নগরী যে মহাদেবী আর্তেমিসের এবং আসমান থেকে পড়া মূর্তির রক্ষাকারী, এই সব মানুষের মধ্যে তা কে না জানে?
36 অতএব এই কথা অখণ্ডনীয় হওয়াতে তোমাদের ক্ষান্ত থাকা এবং অবিবেচনার কোন কাজ না করা উচিত।
37 কারণ এই যে লোকদেরকে তোমরা এই স্থানে এনেছ, এরা তো মন্দিরগুলোর অপহারকও নয়, আমাদের দেবীর নিন্দুকও নয়।
38 অতএব যদি কারো বিরুদ্ধে দীমীত্রিয়ের ও তার সঙ্গী কারিগরদের কোন কথা থাকে, তবে আদালত খোলা আছে, শাসনকর্তারাও আছেন, তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুক।
39 কিন্তু তোমাদের অন্য কোন দাবী-দাওয়া যদি থাকে, তবে নিয়মিত সভায় তার নিষ্পত্তি হবে।
40 বস্তুত আজকের ঘটনার কারণে দাঙ্গা-হাঙ্গামার দোষে দোষী বলে আমাদের নামে অভিযোগ হবার আশঙ্কাও আছে, যেহেতু এর কোন কারণ নেই, এই জনসমাগমের বিষয়ে উত্তর দেবার কোন উপায় আমাদের নেই।
41 এই বলে তিনি সভাকে বিদায় করলেন।
1
সেই কোলাহল থেমে গেলে পর পৌল সাহাবীদেরকে ডেকে পাঠালেন এবং উৎসাহ দিলেন ও মঙ্গলবাদ-পূর্বক বিদায় গ্রহণ করে ম্যাসিডোনিয়াতে যাবার জন্য প্রস্থান করলেন।
2 পরে সেই অঞ্চল দিয়ে গমন করতে করতে অনেক কথা দ্বারা সাহাবীদেরকে উৎসাহ দিয়ে গ্রীস দেশে উপস্থিত হলেন।
3 সেই স্থানে তিন মাস যাপন করে যখন তিনি জাহাজে করে সিরিয়া দেশে যেতে উদ্যত হলেন, তখন ইহুদীরা তাঁর বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করাতে তিনি ম্যাসিডোনিয়া দিয়ে ফিরে যেতে স্থির করলেন।
4 আর বিরয়া নগরীর পুর্হের পুত্র সোপাত্র, থিষলনীকীয় আরিষ্টার্খ ও সিকুন্দ, দর্ব্বী নগরের গায়, তীমথি এবং এশিয়ার তুখিক ও ত্রফিম, এঁরা তাঁর সঙ্গে গেলেন।
5 এঁরা অগ্রসর হয়ে ত্রোয়াতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
6 পরে খামিহীন রুটির ঈদ গত হলে আমরা ফিলিপী থেকে সমুদ্রপথে প্রস্থান করে পাঁচ দিনে ত্রোয়াতে তাঁদের কাছে উপস্থিত হলাম; সেখানে সাত দিন অবস্থান করলাম।
7
আর সপ্তাহের প্রথম দিনে আমরা রুটি ভাঙ্গবার জন্য একত্র হলাম এবং পৌল সাহাবীদের কাছে কথা বলতে ছিলেন। তিনি পরদিন প্রস্থান করতে উদ্যত ছিলেন বলে মাঝ রাত পর্যন্ত তাদের কাছে তবলিগ করলেন।
8 আমরা যে উপরিস্থ কুঠরিতে জমায়েত হয়েছিলাম, সেখানে অনেক প্রদীপ ছিল।
9 আর উতুখ নামে এক জন যুবক জানালার উপর বসেছিল, সে গভীর নিদ্রায় মগ্ন হয়ে পড়েছিল; এবং পৌল আরও অনেকক্ষণ পর্যন্ত কথা বললে সে নিদ্রায় মগ্ন হওয়াতে তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে গেল, তাতে লোকেরা তাকে মৃত অবস্থায় তুলে নিল।
10 তখন পৌল নেমে গিয়ে তার গায়ের উপরে পড়লেন ও তাকে আলিঙ্গন করে বললেন, তোমরা কোলাহল করো না; কেননা এর মধ্যে প্রাণ আছে।
11 পরে তিনি উপরে গিয়ে রুটি ভেঙ্গে ভোজন করে অনেকক্ষণ, এমন কি, রাত প্রভাত পর্যন্ত তবলিগ করলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন।
12 আর তারা সেই বালককে জীবিত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অসামান্য উৎসাহ লাভ করলো।
13
আর আমরা আগে গিয়ে জাহাজে উঠে আঃস বন্দরে যাত্রা করলাম, সেখান থেকে পৌলকে তুলে নেব মনস্থ করলাম; কারণ তিনি স্থলপথে যাবেন বলে স্থির করেছিলেন।
14 পরে তিনি আঃস বন্দরে আমাদের সঙ্গ ধরলে আমরা তাঁকে তুলে নিয়ে মিতুলীনীতে আসলাম।
15 সেখান থেকে জাহাজ খুলে পরদিন খীয় দ্বীপের সম্মুখে উপস্থিত হলাম; দ্বিতীয় দিনে সামঃ দ্বীপে লাগালাম, পরদিন মিলেটাস বন্দরে আসলাম।
16 কারণ পৌল ইফিষ ছেড়ে যেতে স্থির করেছিলেন, যাতে এশিয়াতে তাঁর কালবিলম্ব না হয়; তিনি ত্বরা করছিলেন যেন সাধ্য হলে পঞ্চাশত্তমীর দিন জেরুশালেমে উপস্থিত থাকতে পারেন।
17
মিলেটাস বন্দর থেকে তিনি ইফিষে লোক পাঠিয়ে মণ্ডলীর প্রাচীন লোকদেরকে ডেকে পাঠালেন।
18 তাঁরা তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাঁদেরকে বললেন, তোমরা জান, এশিয়া প্রদেশে এসে আমি প্রথম দিন থেকে তোমাদের সঙ্গে কিভাবে সমস্ত কাল যাপন করেছি,
19 সমপূর্ণ নম্র মনে ও অশ্রুপাতের সঙ্গে এবং ইহুদীদের ষড়যন্ত্র থেকে উৎপন্ন নানা পরীক্ষার মধ্যে থেকে প্রভুর গোলামীর কাজ করেছি;
20 মঙ্গললের কোন কথা গোপন না করে তোমাদেরকে সকলই জানিয়েছি এবং প্রকাশ্যে ও ঘরে ঘরে শিক্ষা দিতে সঙ্কোচ করি নি;
21 আল্লাহ্র প্রতি মন পরিবর্তন এবং আমাদের প্রভু ঈসার প্রতি ঈমানের বিষয়ে ইহুদী ও গ্রীকদের কাছে সাক্ষ্য দিয়ে আসছি।
22 আর এখন দেখ, আমি পাক-রূহের বন্দী হয়ে জেরুশালেমে গমন করছি; সেই স্থানে আমার প্রতি কি কি ঘটবে তা জানি না।
23 শুধুমাত্র জানি, পাক-রূহ্ প্রতি নগরে আমার কাছে এই বলে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, বন্ধন ও দুঃখ-কষ্ট আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
24 কিন্তু আমি নিজের প্রাণকেও কিছুর মধ্যে গণ্য করি না, আমার পক্ষে মহামূল্য গণ্য করি না, যেন নির্ধারিত পথের শেষ পর্যন্ত দৌড়াতে পারি এবং আল্লাহ্র রহমতের সুসমাচারের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার যে পরিচর্যা পদ প্রভু ঈসার কাছ থেকে পেয়েছি তা সমাপ্ত করতে পারি।
25
আর এখন দেখ, আমি জানি যে, যাদের মধ্যে আমি সেই রাজ্যের বিষয়ে তবলিগ করে বেড়িয়েছি, সেই তোমরা সকলে আমার মুখ আর দেখতে পাবে না;
26 এই কারণ আজ তোমাদেরকে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সকলের রক্তের দায় থেকে আমি মুক্ত;
27 কারণ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্র সমস্ত পরামর্শ জানাতে সঙ্কুচিত হই নি।
28 তোমরা নিজেদের বিষয়ে সাবধান এবং পাক-রূহ্ তোমাদেরকে নেতা করে যার মধ্যে নিযুক্ত করেছেন, সেসব পালের বিষয়ে সাবধান হও, আল্লাহ্র সেই মণ্ডলীকে পালন কর, যাকে তিনি নিজের রক্ত দ্বারা ক্রয় করেছেন।
29 আমি জানি, আমি গেলে পর দুরন্ত নেকড়েরা তোমাদের মধ্যে প্রবেশ করবে, পালের প্রতি মমতা করবে না;
30 এবং তোমাদের মধ্য হতেও কোন কোন লোক উঠে সাহাবীদেরকে তাদের দলে টেনে নেবার জন্য বিপরীত কথা বলবে।
31 অতএব জেগে থাক, স্মরণ কর, আমি তিন বছর ধরে রাত দিন প্রত্যেক জনকে অশ্রুপাতের সঙ্গে চেতনা দিতে ক্ষান্ত হই নি।
32 আর এখন আল্লাহ্র কাছে ও তাঁর রহমতের কালামের কাছে তোমাদেরকে তুলে দিলাম, তিনি তোমাদেরকে গেঁথে তুলতে ও পবিত্রীকৃত সকলের মধ্যে উত্তরাধিকার দিতে সমর্থ।
33 আমি কারো রূপার বা সোনার বা কাপড়ের প্রতি লোভ করি নি।
34 তোমরা নিজেরা জান, আমার নিজের এবং আমার সঙ্গীদের অভাব দূর করার জন্য এই দুই হাত কাজ করেছে।
35 সমস্ত বিষয়ে আমি তোমাদেরকে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছি যে, এইভাবে পরিশ্রম করে দুর্বলদের সাহায্য করতে হবে এবং প্রভু ঈসার এই কথা স্মরণ করা উচিত, কেননা তিনি নিজে বলেছেন, গ্রহণ করার চেয়ে বরং দান করা ধন্য হবার বিষয়।
36
এই কথা বলে তিনি হাঁটু পেতে সকলের সঙ্গে মুনাজাত করলেন।
37 তাতে সকলে ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন এবং পৌলের গলা ধরে তাঁকে চুম্বন করতে লাগলেন।
38 তাঁর বলা এই কথার জন্য সবচেয়ে বেশি দুঃখ করলেন যে, তাঁরা তাঁর মুখ আর দেখতে পাবেন না। পরে জাহাজ পর্যন্ত তাঁকে রেখে আসতে গেলেন।
1
তাঁদের কাছ থেকে কষ্টে বিদায় নিয়ে, জাহাজ খুলে দিয়ে, আমরা সোজা পথে কো দ্বীপে এলাম, পরদিন রোদঃ দ্বীপে এবং সেখান থেকে পাতারায় উপস্থিত হলাম।
2 আর এমন একখানি জাহাজ পেলাম, যা পার হয়ে ফিনিশিয়ায় যাবে, আমরা তাতে উঠে যাত্রা করলাম।
3 পরে সাইপ্রাস দ্বীপ দেখা দিলে তা বাম দিকে ফেলে আমরা সিরিয়া দেশে গিয়ে টায়ারে নামলাম; কেননা সেখানে জাহাজের মালপত্র নামাবার কথা ছিল।
4 আর সেখানকার সাহাবীদের সন্ধান করে আমরা সাত দিন সেখানে অবস্থিতি করলাম; তাঁরা রূহের দ্বারা পৌলকে বললেন, যেন তিনি জেরুশালেমে না যান।
5 সেই কয়েক দিন যাপন করলে পর আমরা বের হয়ে প্রস্থান করলাম, তখন তাঁরা সকলে স্ত্রী পুত্র নিয়ে নগরের বাইরে পর্যন্ত আমাদেরকে এগিয়ে দিতে আসলেন। সেখানে সমুদ্রতীরে হাঁটু পেতে আমরা মুনাজাতপূর্বক পরস্পর বিদায় গ্রহণ করলাম।
6 পরে আমরা জাহাজে উঠলাম ও তাঁরা স্বস্থানে ফিরে গেলেন।
7
পরে টায়ার ছেড়ে আমরা তলিমায়িতে উপস্থিত হয়ে সমুদ্রযাত্রা শেষ করলাম এবং ভাইদেরকে মঙ্গলবাদ করে এক দিন তাঁদের সঙ্গে রইলাম।
8 পরদিন আমরা প্রস্থান করে সিজারিয়াতে এলাম এবং সুসমাচার-তবলিগকারী ফিলিপ, যিনি সেই সাত জনের এক জন, তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করলাম।
9 সেই ব্যক্তির চারটি কুমারী কন্যা ছিলেন, যারা ভবিষ্যদ্বাণী বলতেন।
10 সেই স্থানে আমরা অনেক দিন অবস্থিতি করলে এহুদিয়া থেকে আগাব নামে এক জন নবী উপস্থিত হলেন।
11 আর তিনি আমাদের কাছে এসে পৌলের কোমরবন্ধনী নিয়ে তাঁর নিজের হাত পা বেঁধে বললেন, পাক-রূহ্ এই কথা বলছেন, যে ব্যক্তির এই কোমরবন্ধনী, তাঁকে ইহুদীরা জেরুশালেমে এভাবে বাঁধবে এবং অ-ইহুদীদের হাতে তুলে দেবে।
12 এই কথা শুনে সেখানকার ভাইয়েরা ও আমরা পৌলকে ফরিয়াদ করলাম, যেন তিনি জেরুশালেমে না যান।
13 তখন পৌল জবাবে বললেন, তোমরা এ কি করছো, কান্নাকাটি করে আমার অন্তর চূর্ণ করছো? কারণ আমি প্রভু ঈসার নামের জন্য জেরুশালেমে কেবল বন্দী হতে নয়, বরং মরতেও প্রস্তুত আছি।
14 এভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে অসম্মত হলে আমরা ক্ষান্ত হয়ে বললাম, প্রভুরই ইচ্ছা সিদ্ধ হোক।
15
এসব দিনের শেষে আমরা জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে জেরুশালেমে যাত্রা করলাম।
16 আর সিজারিয়া থেকে কয়েক জন সাহাবী আমাদের সঙ্গে চললেন। তাঁরা সাইপ্রাস দ্বীপের ম্নাসোন নামক এক জনকে সঙ্গে করে আনলেন; ইনি প্রথম দিকের এক জন সাহাবী; তাঁরই বাড়িতে আমাদের মেহমান হবার কথা।
17
জেরুশালেমে উপস্থিত হবার পর ভাইয়েরা সানন্দে আমাদেরকে গ্রহণ করলেন।
18 পরদিন পৌল আমাদের সঙ্গে ইয়াকুবের বাড়িতে প্রবেশ করলেন; সেখানে প্রাচীন-বর্গরা সকলে উপস্থিত হলেন।
19 পরে তিনি তাঁদেরকে মঙ্গলবাদ করে, আল্লাহ্ তাঁর পরিচর্যা দ্বারা অ-ইহুদীদের মধ্যে যেসব কাজ সাধন করেছিলেন তার বৃত্তান্ত একটি একটি করে তাঁদেরকে জানালেন।
20 আর তা শুনে তাঁরা আল্লাহ্র গৌরব করলেন এবং তাঁকে বললেন, ভাই তুমি দেখছো, ইহুদীদের মধ্যে কত হাজার লোক ঈমানদার হয়েছে, আর তারা সকলে শরীয়তের পক্ষে গভীর আগ্রহী।
21 আর তোমার বিষয়ে তারা এই সংবাদ পেয়েছে যে, তুমি অ-ইহুদীদের মধ্যে প্রবাসী সমস্ত ইহুদীকে মূসার পথ পরিত্যাগ করতে শিক্ষা দিয়ে বলে থাক, যেন তারা শিশুদের খৎনা না করে ও রীতি মেনে না চলে।
22 অতএব এখন কি করা যায়? তারা তো শুনতে পাবে যে, তুমি এসেছ।
23 অতএব আমরা তোমাকে যা বলি, তা-ই কর। আমাদের এমন চার জন পুরুষ আছে, যারা মানত করেছে;
24 তুমি তাদেরকে নিয়ে তাদের সঙ্গে নিজেকেও পাক-পবিত্র কর এবং তাদের মাথা মুণ্ডনের জন্য ব্যয় কর। তা করলে সকলে জানবে যে, তোমার বিষয়ে যেসব সংবাদ ওরা পেয়েছে, তা কিছু নয়, বরং তুমি নিজেও শরীয়ত পালন করে যথা নিয়মে চলছো।
25 কিন্তু অ-ইহুদীদের মধ্য থেকে যারা ঈমানদার হয়েছে, তাদের বিষয়ে আমরা বিচার করে লিখেছি যে, মূর্তির প্রসাদ, রক্ত, গলা টিপে মারা প্রাণীর গোশ্ত এবং জেনা এসব থেকে যেন তারা তাদেরকে রক্ষা করে।
26
তখন পৌল সেই কয়েক জনকে নিয়ে পরদিন তাদের সঙ্গে পাক-সাফ হয়ে বায়তুল-মোকাদ্দসে প্রবেশ করলেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য নৈবেদ্য কোরবানী করা পর্যন্ত পাক-সাফকরণের কাজে কত দিন লাগবে তা জানালেন।
27
আর সেই সাত দিন প্রায় সমাপ্ত হলে এশিয়া প্রদেশের ইহুদীরা বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে তাঁর দেখা পেয়ে সমস্ত জনতাকে উত্তেজিত করে তুললো এবং তাঁকে ধরে চেঁচিয়ে বলতে লাগল,
28 ‘হে বনি-ইসরাইলরা, সাহায্য কর; এ সেই ব্যক্তি, যে সর্বত্র সকলকে আমাদের জাতির ও শরীয়তের এবং এই স্থানেরও বিরুদ্ধে শিক্ষা দেয়; আবার এ গ্রীকদেরকেও বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে এনেছে ও এই পবিত্র স্থান অপবিত্র করেছে।’
29 কারণ তারা আগে নগরের মধ্যে ইফিষীয় ত্রফিমকে পৌলের সঙ্গে দেখেছিল। তারা মনে করেছিল পৌল তাকে বায়তুল-মোকাদ্দসের মধ্যে এনে থাকবেন।
30 তখন সারা নগর উত্তেজিত হয়ে উঠলো, লোকেরা দৌড়ে আসলো এবং পৌলকে ধরে বায়তুল-মোকাদ্দসের বাইরে টেনে নিয়ে গেল, আর অমনি দ্বারগুলো বন্ধ করা হল।
31 এভাবে তারা তাঁকে হত্যা করতে চেষ্টা করলে সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতির কাছে এই সংবাদ আসলো যে, সারা জেরুশালেমে গণ্ডগোল শুরু হয়েছে। অমনি তিনি সেনাদেরকে ও শতপতিদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কাছে দৌড়ে আসলেন;
32 তাতে লোকেরা প্রধান সেনাপতিকে ও সেনাদেরকে দেখতে পেয়ে পৌলকে প্রহার করা থেকে নিবৃত্ত হল।
33 তখন প্রধান সেনাপতি কাছে এসে তাঁকে ধরলেন ও দু’টা শিকল দিয়ে বাঁধতে হুকুম দিলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে, আর এ কি করেছে?
34 তাতে জনতার মধ্যে চেঁচিয়ে কেউ কেউ এক রকম, কেউ কেউ অন্য রকম কথা বললো। আর তিনি কোলাহলের জন্য আসল ঘটনা কিছুই বুঝতে না পেরে তাঁকে দুর্গে নিয়ে যেতে হুকুম দিলেন।
35 তখন সিঁড়ির উপরে উপস্থিত হলে ক্রুদ্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচাবার জন্য সৈন্যেরা পৌলকে বহন করতে লাগল;
36 কেননা লোকেরা ভিড় করে তাঁর পিছনে পিছনে আসছিল, আর চিৎকার করে বলছিল, ওকে দূর কর।
37
তারা পৌলকে দুর্গের ভিতরে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে পৌল প্রধান সেনাপতিকে বললেন, আপনার কাছে কি কিছু বলতে পারি?
38 তিনি বললেন, তুমি কি গ্রীক জান? তবে তুমি কি সেই মিসরীয় নও, যে এর আগে বিদ্রোহ করেছিল ও গুপ্তহন্তাদের মধ্যে চার হাজার জনকে সঙ্গে করে মরু-ভূমিতে গিয়েছিল?
39 তখন পৌল বললেন, আমি ইহুদী, কিলিকিয়াস্থ তার্ষের লোক, সামান্য নগরের লোক নই; আপনাকে ফরিয়াদ করি, লোকদের কাছে আমাকে কথা বলতে অনুমতি দিন।
40 আর তিনি অনুমতি দিলে পৌল সিঁড়ির উপরে দাঁড়িয়ে লোকদের কাছে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন; তখন সকলে নিস্তব্ধ হলে তিনি তাদের কাছে ইবরানী ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন।
1
ভাইয়েরা ও পিতারা, আমি এখন আপনাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি, শুনুন।
2
তখন তিনি ইবরানী ভাষায় তাদের কাছে কথা বলছেন শুনে তারা আরও শান্ত হল। পরে তিনি বললেন,
3
আমি এক জন ইহুদী, কিলিকিয়ার তার্ষ নগরে আমার জন্ম; কিন্তু এই নগরে গমলীয়েলের পায়ের কাছে বসে আমি মানুষ হয়েছি; পূর্বপুরুষদের শরীয়তের সূক্ষ্ম নিয়ম অনুসারে শিক্ষিত হয়েছি; আর আপনারা সকলে আজও যেমন আছেন, তেমনি আমিও আল্লাহ্র পক্ষে গভীর আগ্রহী ছিলাম।
4 আমি প্রাণনাশ পর্যন্ত এই পথের লোকদের প্রতি জুলুম করতাম, পুরুষ ও স্ত্রীলোকদেরকে বেঁধে জেলখানায় দিতাম।
5 এই বিষয়ে মহা-ইমাম ও সমস্ত প্রাচীন নেতৃবর্গরাও আমার সাক্ষী; তাঁদের কাছ থেকে আমি ভাইদের সমীপে পত্র নিয়ে দামেস্ক শহরে যাত্রা করেছিলাম, যেন যারা সেখানে ছিল, তাঁদেরকেও বেঁধে জেরুশালেমে নিয়ে আসতে পারি, যেন তাদের শাস্তি দেওয়া হয়।
6
আর যেতে যেতে দামেস্কের কাছে উপস্থিত হলে দুপুর বেলা হঠাৎ আসমান থেকে মহা আলো আমার চারদিকে চমকে উঠলো।
7 তাতে আমি ভূমিতে পড়ে গেলাম ও শুনলাম, একটি বাণী আমাকে বলছে, শৌল, শৌল, কেন আমাকে নির্যাতন করছো?
8 জবাবে আমি বললাম, প্রভু, আপনি কে? তিনি আমাকে বললেন, আমি নাসরতীয় ঈসা, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছো।
9 আর যারা আমার সঙ্গে ছিল, তারা সেই আলো দেখতে পেল বটে, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁর বাণী শুনতে পেল না।
10 পরে আমি বললাম, প্রভু, আমি কি করবো? প্রভু আমাকে বললেন, উঠে দামেস্কে যাও, তোমাকে যা যা করতে হবে বলে নির্ধারিত আছে, সেসব সেখানেই তোমাকে বলা যাবে।
11 পরে আমি সেই আলোর তেজে দৃষ্টিহীন হওয়াতে আমার সঙ্গীরা হাত ধরে আমাকে নিয়ে চললো, আর আমি দামেস্কে উপস্থিত হলাম।
12 পরে অননিয় নামে এক ব্যক্তি, যিনি মূসার শরীয়ত অনুসারে ভক্ত এবং সেই স্থানের সমস্ত ইহুদীর কাছে সুখ্যাতিপন্ন ছিলেন,
13 তিনি আমার কাছে এসে পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ভাই শৌল, দৃষ্টি ফিরে পাও; তাতে আমি সেই তখনই তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করে দেখতে পেলাম।
14 পরে তিনি বললেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের আল্লাহ্ তোমাকে নিযুক্ত করেছেন, যেন তুমি তাঁর ইচ্ছা জানতে পার এবং সেই ধর্মময়কে দেখতে ও তাঁর মুখের বাণী শুনতে পাও;
15 কারণ তুমি যা যা দেখেছ ও শুনেছ, সেই বিষয়ে সকল মানুষের কাছে তাঁর সাক্ষী হবে।
16 আর এখন কেন বিলম্ব করছো? উঠ, বাপ্তিস্ম নাও ও তাঁর নামে ডেকে তোমার গুনাহ্ ধুয়ে ফেল।
17
তারপর আমি জেরুশালেমে ফিরে এসে এক দিন বায়তুল-মোকাদ্দসে মুনাজাত করছিলাম, এমন সময়ে অভিভূত হয়ে তাঁকে দেখলাম,
18 তিনি আমাকে বললেন, ত্বরা কর, শীঘ্র জেরুশালেম থেকে বের হও, কেননা এই লোকেরা আমার বিষয়ে তোমার সাক্ষ্য গ্রাহ্য করবে না।
19 আমি বললাম, প্রভু, তারা তো জানে যে, যারা তোমাতে ঈমান আনতো আমি প্রতি মজলিস-খানায় তাদেরকে প্রহার করে কারাগারে আটক রাখতাম;
20 আর যখন তোমার সাক্ষী স্তিফানের রক্তপাত হয়, তখন আমি নিজে কাছে দাঁড়িয়ে সম্মতি দিচ্ছিলাম ও যারা তাঁকে হত্যা করছিল তাদের কাপড় রক্ষা করছিলাম।
21 তিনি আমাকে বললেন, প্রস্থান কর, কেননা আমি তোমাকে দূরে অ-ইহুদীদের কাছে প্রেরণ করবো।
22
লোকেরা এই পর্যন্ত তাঁর কথা শুনলো, পরে চিৎকার করে বললো, ওকে দুনিয়া থেকে দূর করে দাও, ওর বেঁচে থাকা তো উচিত হয় নি।
23 পরে তারা চেঁচিয়ে কাপড়-চোপড় ছুঁড়ে দিয়ে আসমানে ধূলি উড়াতে লাগল;
24 তাতে প্রধান সেনাপতি পৌলকে দুর্গের ভিতরে নিয়ে যাবার হুকুম দিলেন এবং বললেন, কশাঘাতে প্রহার করে এর পরীক্ষা করতে হবে, যেন তিনি জানতে পারেন লোকে কি দোষ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এরকম চেঁচাচ্ছে।
25 পরে যখন তারা কশা দিয়ে তাঁকে বাঁধলো, তখন, যে শতপতি কাছে দাঁড়িয়েছিলেন, পৌল তাঁকে বললেন, যে ব্যক্তি রোমীয় এবং বিচারে এখনও দোষী হয় নি, তাকে কোরা প্রহার করা কি আপনাদের পক্ষে উচিত?
26 এই কথা শুনে সেই শতপতি প্রধান সেনাপতির কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, আপনি কি করতে উদ্যত হয়েছেন? এই ব্যক্তি যে রোমীয়।
27 তাতে প্রধান সেনাপতি কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, বল দেখি, তুমি কি রোমীয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
28 প্রধান সেনাপতি জবাবে বললেন, এই পৌরাধিকার আমি বহু অর্থ দিয়ে ক্রয় করেছি। পৌল বললেন, কিন্তু আমি জন্মের দ্বারাই রোমীয়।
29 অতএব যারা তাঁর পরীক্ষা করতে উদ্যত ছিল, তারা তখনই তাঁর কাছ থেকে চলে গেল; আর তিনি যে রোমীয় নাগরিক তা জেনেও তাঁকে বেঁধেছিলেন বলে প্রধান সেনাপতি নিজেও ভয় পেলেন।
30
কিন্তু পরদিন, ইহুদীরা তাঁর উপর কি জন্য দোষারোপ করছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্য প্রধান সেনাপতি তাঁকে মুক্ত করলেন ও প্রধান ইমামদের ও সমস্ত মহা-সভাকে একত্র হতে হুকুম দিলেন এবং পৌলকে নামিয়ে তাঁদের কাছে উপস্থিত করলেন।
1
আর পৌল মহাসভার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে বললেন, হে ভাইয়েরা, আজ পর্যন্ত আমি সর্ব বিষয়ে সৎবিবেকে আল্লাহ্র সম্মুখে জীবন যাপন করে আসছি।
2 তখন মহা-ইমাম অননিয়, যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদেরকে হুকুম দিলেন, যেন পৌলের মুখে আঘাত করে।
3 তখন পৌল তাঁকে বললেন, হে চুনকাম-করা প্রাচীর, আল্লাহ্ তোমাকে আঘাত করবেন; তুমি শরীয়ত অনুসারে আমার বিচার করতে বসেছ, আর শরীয়তের বিপরীতে আমাকে আঘাত করতে হুকুম দিচ্ছ?
4 তাতে যারা কাছে দাঁড়িয়েছিল, তারা বললো, তুমি কি আল্লাহ্র মহা-ইমামকে কটুবাক্য বলছো?
5 পৌল বললেন, হে ভাইয়েরা, আমি জানতাম না যে, উনি মহা-ইমাম; কেননা লেখা আছে, “তুমি স্বজাতীয় লোকদের নেতাকে দুর্বাক্য বলো না।”
6 কিন্তু পৌল যখন বুঝতে পারলেন যে, তাদের একাংশ সদ্দূকী ও একাংশ ফরীশী, তখন মহাসভার মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, হে ভাইয়েরা, আমি ফরীশী এবং ফরীশীদের সন্তান; মৃতদের প্রত্যাশা ও পুনরুত্থান সম্বন্ধে আমার বিচার হচ্ছে।
7 তিনি এই কথা বলতে না বলতে ফরীশী ও সদ্দূকীদের মধ্যে বিরোধ উৎপন্ন হল, সভার মধ্যে দুই দল হয়ে গেল।
8 কারণ সদ্দূকীরা বলে, পুনরুত্থান নেই, ফেরেশতা বা রূহ্ নেই; কিন্তু ফরীশীরা উভয়ই স্বীকার করে।
9 তখন মহাকোলাহল হল এবং ফরীশী পক্ষীয় আলেমদের মধ্যে কয়েক জন লোক উঠে দাঁড়িয়ে তর্ক করে বলতে লাগল, আমরা এই ব্যক্তির কোন দোষ দেখতে পাচ্ছি না; কোন রূহ্ কিংবা কোন ফেরেশতা যদি এর সঙ্গে কথা বলে থাকেন, তবে আমাদের কি?
10 এভাবে ভীষণ বিরোধ হলে, পাছে তারা পৌলকে খণ্ড খণ্ড করে ছিঁড়ে ফেলে, এই ভয়ে প্রধান সেনাপতি হুকুম দিলেন, সৈন্যদল নেমে গিয়ে তাদের মধ্য থেকে পৌলকে কেড়ে দুর্গে নিয়ে যাক।
11
সেই রাতে প্রভু পৌলের কাছ দাঁড়িয়ে বললেন, সাহস কর, কেননা আমার বিষয়ে যেমন জেরুশালেমে সাক্ষ্য দিয়েছ, তেমনি রোমেও দিতে হবে।
12
দিন হলে ইহুদীরা ষড়যন্ত্র করে নিজেদের একটি প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ করলো, বললো, আমরা যে পর্যন্ত পৌলকে হত্যা না করবো, সেই পর্যন্ত ভোজন বা পান করবো না।
13 চল্লিশ জনের বেশি লোক এক সঙ্গে শপথ করে এইভাবে চক্রান্ত করলো।
14 তারা প্রধান ইমামদের ও প্রাচীনদের কাছে গিয়ে বললো, আমরা এক মহা অভিশাপে নিজেদের আবদ্ধ করেছি, যে পর্যন্ত পৌলকে হত্যা না করবো, সেই পর্যন্ত কিছুরই স্বাদ গ্রহণ করবো না।
15 অতএব আপনারা এখন মহাসভার সঙ্গে প্রধান সেনাপতির কাছে এই আবেদন করুন, যেন তিনি আপনাদের কাছে তাকে নামিয়ে এনে দেন, বলুন যে, আপনারা আরও সূক্ষ্মভাবে তার বিষয়ে বিচার করতে উদ্যত হয়েছেন; আর সে কাছে উপস্থিত হবার আগেই আমরা তাকে হত্যা করতে প্রস্তুত রইলাম।
16 কিন্তু পৌলের ভাগ্নে তাদের এই চক্রান্তের কথা শুনতে পেয়ে চলে গিয়ে দুর্গমধ্যে প্রবেশ করে পৌলকে এসব কথা জানাল।
17 তাতে পৌল এক জন শতপতিকে কাছে ডেকে বললেন, প্রধান সেনাপতির কাছে এই যুবককে নিয়ে যান; কারণ তাঁর কাছে এর কিছু বলবার আছে।
18 তাতে তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান সেনাপতির কাছে গিয়ে বললেন, বন্দী পৌল আমাকে কাছে ডেকে আপনার কাছে এই যুবককে আনতে নিবেদন করলো, কেননা আপনার কাছে এর কিছু বলবার আছে।
19 তখন প্রধান সেনাপতি তার হাত ধরে এক পাশে নিয়ে গিয়ে গোপনে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার কাছে তোমার কি বলবার আছে?
20 সে বললো, ইহুদীরা আপনার কাছে এই নিবেদন করার পরামর্শ করেছে, যেন আপনি আগামীকাল আরও সূক্ষ্মভাবে পৌলের বিষয় অনুসন্ধান করার জন্য তাঁকে মহাসভার কাছে নিয়ে যান।
21 অতএব আপনি তাদের কথা গ্রাহ্য করবেন না। কেননা তাদের মধ্যে চল্লিশ জনের বেশি লোক তাঁর জন্য চক্রান্ত করেছে; তারা একটি অভিশাপে তাদেরকে আবদ্ধ করেছে, যে পর্যন্ত তাঁকে হত্যা না করবে সেই পর্যন্ত ভোজন বা পান করবে না, আর এখনই প্রস্তুত আছে, আপনার অনুমতির অপেক্ষা করছে।
22 তখন প্রধান সেনাপতি ঐ যুবককে এই হুকুম দিয়ে বিদায় করলেন, তুমি যে এসব আমাকে জানিয়েছ তা কাউকেও বলো না।
23
পরে তিনি দু’জন শতপতিকে কাছে ডেকে বলে দিলেন, সিজারিয়া পর্যন্ত যাবার জন্য রাত নয় ঘটিকার সময়ে দুই শত সৈন্য ও সত্তর জন ঘোড়সওয়ার এবং দুই শত বর্শাধারী লোক প্রস্তুত রেখো।
24 আর তিনি বাহন যোগাতে হুকুম করলেন, যেন তারা পৌলকে তার উপরে চড়িয়ে নিরাপদে শাসনকর্তা ফীলিক্সের কাছে পৌঁছে দেয়।
25 পরে তিনি এই মর্মে একখানি পত্র লিখলেন,
26
মহামহিম শাসনকর্তা ফীলিক্সের সমীপে ক্লৌদিয় লুষিয়ের মঙ্গলবাদ।
27 ইহুদীরা এই ব্যক্তিকে ধরে হত্যা করতে উদ্যত হলে আমি সেনাদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে একে রক্ষা করলাম, কেননা জানতে পেলাম যে, এই ব্যক্তি এক জন রোমীয়।
28 পরে তারা কি কারণে এর উপরে দোষারোপ করছে, তা জানবার জন্য তাদের মহাসভাতে একে নামিয়ে নিয়ে গেলাম।
29 তাতে আমি বুঝলাম, তাদের শরীয়ত সম্বন্ধীয় কোন কোন বিষয় নিয়ে এর উপরে দোষারোপ হয়েছে, কিন্তু প্রাণদণ্ডের বা শিকলের যোগ্য কোন দোষের কারণে এর নামে অভিযোগ হয় নি।
30 আর এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চক্রান্ত হবে, এই সংবাদ পেয়ে আমি অবিলম্বেই আপনার কাছে একে পাঠিয়ে দিলাম। এর উপরে যারা দোষারোপ করেছে, তাদেরকেও হুকুম করলাম, তারা আপনার কাছে এর বিরুদ্ধে যা বলবার থাকে তা বলে।
31
পরে সৈন্যেরা যে হুকুম পেয়েছিল সেই অনুসারে পৌলকে নিয়ে রাতের বেলায় আন্তিপাত্রি নগর পর্যন্ত গেল।
32 পরদিন ঘোড়সওয়ারদেরকে তাঁর সঙ্গে যাবার জন্য রেখে তারা দুর্গে ফিরে আসল।
33 ওরা সিজারিয়াতে পৌঁছে শাসনকর্তার হাতে পত্রখানি দিয়ে পৌলকেও তাঁর কাছে উপস্থিত করলো।
34 তিনি পত্র পাঠ করে জিজ্ঞাসা করলেন, সে কোন্ প্রদেশের লোক? তখন তিনি কিলিকিয়া প্রদেশের লোক, এই কথা জানতে পেয়ে শাসনকর্তা বললেন, যারা তোমার উপরে দোষারোপ করেছে, তারা যখন আসবে, তখন তোমার কথা শুনবো। পরে তিনি হেরোদের রাজপ্রাসাদে তাঁকে রাখতে হুকুম দিলেন।
1
পাঁচ দিন পরে অননিয় মহা-ইমাম কয়েক জন প্রাচীন এবং তর্তুল্ল নামে এক জন উকিলকে সঙ্গে করে সেখানে গেলেন এবং তাঁরা পৌলের বিরুদ্ধে শাসনকর্তার কাছে আবেদন করলেন।
2 পৌলকে ডেকে আনা হলে পর তর্তুল্ল তাঁর নামে এই বলে দোষারোপ করতে লাগল, হে মহামহিম ফীলিক্স, আপনার দ্বারা আমরা মহাশান্তি ভোগ করে আসছি এবং আপনার দূরদর্শিতার গুণে এই জাতি নানা রকম মঙ্গলের কাজ দেখতে পেয়েছে,
3 এই কথা আমরা সর্বতোভাবে সর্বত্র সমপূর্ণ কৃতজ্ঞতা সহকারে স্বীকার করছি।
4 কিন্তু কথার বাহুল্যে যেন আপনাকে কষ্ট না দিই, এজন্য ফরিয়াদ করি, আপনি নিজের দয়াগুণে আমাদের অল্প কিছু কথা শুনুন।
5 কারণ আমরা দেখতে পেলাম, এই ব্যক্তি মহামারীস্বরূপ, দুনিয়ার সমস্ত ইহুদীর মধ্যে কলহজনক এবং নাসরতীয় দলের অগ্রণী,
6 আর সে বায়তুল-মোকাদ্দসও নাপাক করার চেষ্টা করেছিল। সেজন্য আমরা একে ধরেছি।
7 আমরা যেসব বিষয়ে এর উপরে দোষারোপ করছি,
8 আপনি নিজে একে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেসব জানতে পারবেন।
9
ইহুদীরাও সায় দিয়ে বললো, এসব কথা ঠিক।
10
পরে শাসনকর্তা পৌলকে কথা বলবার জন্য ইশারা করলে তিনি এর জবাবে বললেন, আপনি অনেক বছর থেকে এই জাতির বিচার করে আসছেন, এই কথা জানাতে আমি স্বচ্ছন্দে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি।
11
আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, আজ বারো দিনের বেশি হয় নি, আমি এবাদত করার জন্য জেরুশালেমে গিয়েছিলাম।
12 আর এরা বায়তুল-মোকাদ্দসে আমাকে কারো সঙ্গে বাক্বিতণ্ডা করতে, কিংবা জনতাকে উত্তেজিত করতে দেখে নি, মজলিস-খানাতেও নয়, নগরেও নয়।
13 আর এখন এরা আমার উপরে যেসব দোষারোপ করছে, আপনার কাছে সেই সমস্ত বিষয়ের কোন প্রমাণ উপস্থিত করতে পারবে না।
14 কিন্তু আপনার কাছে আমি এই কথা স্বীকার করি, এরা যাকে দল বলে, সেই পথ অনুসারে আমি আমার পূর্বপুরুষের আল্লাহ্র এবাদত করে থাকি। যা যা শরীয়ত অনুযায়ী এবং যা যা নবীদের কিতাবে লেখা আছে, সেসব বিশ্বাস করি।
15 আর এরাও যেমন প্রতীক্ষা করে থাকে, তেমনি আমি আল্লাহ্র উপরে এই প্রত্যাশা করছি যে, ধার্মিক অধার্মিক উভয় রকম লোকের পুনরুত্থান হবে।
16 আর এই বিষয়ে আমিও আল্লাহ্র ও মানুষের প্রতি পরিষ্কার বিবেক রক্ষা করতে সব সময় যত্ন করে থাকি।
17 অনেক বছর পরে আমি স্বজাতির লোকদের কিছু দান দেবার জন্য এবং নৈবেদ্য কোরবানী করার জন্য এসেছিলাম;
18 এই উপলক্ষে লোকেরা আমাকে বায়তুল-মোকাদ্দসে পাক-পবিত্র অবস্থায় দেখেছিল, কোন ভিড়ও হয় নি, গণ্ডগোলও হয় নি;
19 কিন্তু এশিয়া প্রদেশের কয়েকজন ইহুদী উপস্থিত ছিল, তাদেরই উচিত ছিল, যেন আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে যদি তাদের কোন কথা থাকে, তবে উপস্থিত হয় এবং দোষারোপ করে।
20 নতুবা এই উপস্থিত লোকেরাই বলুক, আমি মহাসভার সম্মুখে দাঁড়ালে এরা আমার কি অপরাধ পেয়েছে?
21 না, কেবল এই এক কথা, যা তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলেছিলাম ‘মৃতদের পুনরুত্থান বিষয়ে আজ আপনাদের সম্মুখে আমার বিচার হচ্ছে’।
22
তখন ফীলিক্স, সেই পথের বিষয়ে ভাল করে জানতেন বলে বিচার স্থগিত রাখলেন, বললেন, প্রধান সেনাপতি লুষিয় যখন আসবেন, তখন আমি তোমাদের বিচার নিষ্পত্তি করবো।
23 পরে তিনি শতপতিকে এই হুকুম দিলেন, তুমি একে আবদ্ধ রাখ, কিন্তু স্বচ্ছন্দে রেখো, যদি এর কোন আত্মীয় এর সেবা করার জন্য আসে তবে তাকে বারণ করো না।
24
কয়েক দিন পরে ফীলিক্স তাঁর ইহুদী স্ত্রী দ্রুষিল্লার সঙ্গে এসে পৌলকে ডেকে পাঠালেন ও তাঁর মুখে মসীহ্ ঈসার উপর ঈমান আনার বিষয় শুনলেন।
25 পৌল স্বার্থপরতার, ইন্দ্রিয় দমনের এবং আগামী বিচারের বিষয় বর্ণনা করলে ফীলিক্স ভয় পেয়ে জবাবে বললেন, এখনকার মত যাও, উপযুক্ত সময় পেলে আমি তোমাকে ডেকে আনবো।
26 তিনি এও আশা করেছিলেন যে, পৌল তাঁকে টাকা দেবেন, এজন্য পুনঃ পুনঃ তাঁকে ডেকে এনে তাঁর সঙ্গে আলাপ করতেন।
27 কিন্তু দু’বছর অতীত হলে পর্কিয় ফীষ্ট ফীলিক্সের পদ পেলেন, আর ফীলিক্স ইহুদীদের প্রীতির পাত্র হবার ইচ্ছা করে পৌলকে বন্দী রেখে গেলেন।
1
ফীষ্ট সেই প্রদেশে উপস্থিত হবার তিন দিন পরে সিজারিয়া থেকে জেরুশালেমে গেলেন।
2 তাতে প্রধান ইমামেরা এবং ইহুদীদের প্রধান প্রধান লোক তাঁর কাছে পৌলের বিরুদ্ধে আবেদন করলেন।
3 তারা অনুরোধ করলেন, যেন ফীষ্ট পৌলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাঁকে জেরুশালেমে পাঠাবার ব্যবস্থা করে দেন। প্রকৃত পক্ষে, তাঁরা পথের মধ্যে তাঁকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
4 কিন্তু ফীষ্ট জবাবে বললেন, পৌল সিজারিয়াতে বন্দী আছে; আমিও অবিলম্বে সেখানে যাচ্ছি।
5 অতএব তোমাদের মধ্যে যারা ক্ষমতাপন্ন, তারা আমার সঙ্গে সেখানে গিয়ে, সেই ব্যক্তির কোন দোষ যদি থাকে, তবে তার উপরে দোষারোপ করুক।
6
আর তাঁদের কাছে আট দশ দিনের অনধিক কাল অবস্থিতি করে তিনি সিজারিয়াতে নেমে গেলেন; এবং পরদিন বিচারাসনে বসে পৌলকে আনতে হুকুম করলেন।
7 তিনি উপস্থিত হলে জেরুশালেম থেকে আগত ইহুদীরা তাঁর চারদিকে দাঁড়িয়ে তাঁর বিপক্ষে অনেক ভারী ভারী দোষের কথা উত্থাপন করতে লাগল, কিন্তু তার প্রমাণ দেখাতে পারলো না।
8 এদিকে পৌল নিজের পক্ষ সমর্থন করে বললেন, ইহুদীদের শরীয়তের বিরুদ্ধে, বায়তুল-মোকাদ্দসের বিরুদ্ধে কিংবা সম্রাটের বিরুদ্ধে আমি কোন অপরাধ করি নি।
9 কিন্তু ফীষ্ট ইহুদীদের প্রীতিপাত্র হবার ইচ্ছা করাতে পৌলকে জবাবে বললেন, তুমি কি জেরুশালেমে গিয়ে সেখানে আমার সাক্ষাতে এসব বিষয়ে বিচার পেতে সম্মত আছ?
10 পৌল বললেন, আমি সম্রাটের বিচারাসনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছি, এখানে আমার বিচার হওয়া উচিত। আমি ইহুদীদের প্রতি কোন অন্যায় করি নি, এই কথা আপনিও বিলক্ষণ জানেন।
11 তবে যদি আমি অপরাধী হই এবং মৃত্যুর যোগ্য কিছু করে থাকি, তা হলে মরতে অস্বীকার করি না; কিন্তু এরা আমার উপরে যেসব দোষারোপ করছে, এসব যদি কিছুই না হয়, তবে এদের হাতে আমাকে তুলে দিতে কারো অধিকার নেই; আমি সম্রাটের কাছে আপীল করি।
12 তখন ফীষ্ট মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরামর্শ করে জবাবে বললেন, তুমি সম্রাটের কাছে আপীল করলে; সম্রাটের কাছেই যাবে।
13
পরে কয়েক দিন গত হলে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প এবং বর্ণীকি সিজারিয়ায় উপস্থিত হলেন এবং ফীষ্টকে সালাম জানালেন।
14 তাঁরা অনেক দিন সেখানে অবস্থিতি করলে ফীষ্ট বাদশাহ্র কাছে পৌলের কথা উপস্থিত করে বললেন, ফীলিক্স একটা লোককে বন্দী রেখে গেছেন।
15 যখন আমি জেরুশালেমে ছিলাম, তখন ইহুদীদের প্রধান ইমামেরা ও প্রাচীনবর্গরা সেই ব্যক্তির বিষয় আবেদন করে তার বিরুদ্ধে দণ্ডাজ্ঞা যাচ্ঞা করেছিল।
16 আমি তাদেরকে এই জবাব দিয়েছিলাম, যার নামে দোষারোপ হয়, সে যতদিন দোষারোপকারীদের সঙ্গে সম্মুখা-সম্মুখি না হয় এবং আরোপিত দোষ সম্বন্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পায়, ততদিন কোন ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া রোমীয়দের প্রথা নয়।
17 পরে তারা একসঙ্গে এই স্থানে আসলে আমি কাল বিলম্ব না করে পরদিন বিচারাসনে বসে সেই ব্যক্তিকে আনতে হুকুম করলাম।
18 পরে দোষারোপকারীরা দাঁড়িয়ে, আমি যে রকম দোষ অনুমান করেছিলাম, সেই রকম কোন দোষ তার বিষয়ে উত্থাপন করলো না;
19 কিন্তু তার বিরুদ্ধে তাদের নিজের ধর্ম বিষয়ে এবং ঈসা নামে কোন মৃত ব্যক্তি, যাকে পৌল জীবিত বলতো, তার বিষয়ে কয়েকটি তর্ক উপস্থিত করলো।
20 তখন এসব বিষয় কিভাবে অনুসন্ধান করতে হবে, আমি স্থির করতে না পেরে বললাম, তুমি কি জেরুশালেমে গিয়ে সেখানে এই বিষয়ে বিচার পেতে সম্মত আছ?
21 তখন পৌল আপীল করে সম্রাটের বিচারের জন্য রক্ষিত থাকতে বিনতি করায়, আমি যে পর্যন্ত তাকে সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে দিতে না পারি, সেই পর্যন্ত বন্দী রাখতে হুকুম দিলাম।
22 তখন আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, আমিও সেই ব্যক্তির কাছে কথা শুনতে চেয়েছিলাম। ফীষ্ট বললেন, আগামীকাল শুনতে পাবেন।
23
অতএব পরদিন আগ্রিপ্প ও বর্ণীকি মহা আড়ম্বরের সঙ্গে আসলেন এবং প্রধান সেনাপতিদের ও নগরের প্রধান লোকদের সঙ্গে সভাস্থলে প্রবেশ করলেন, আর ফীষ্টের হুকুমে পৌলকে সেখানে আনা হল।
24 তখন ফীষ্ট বললেন, হে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প এবং আর যাঁরা এই সভাতে উপস্থিত আছেন, আপনারা একে দেখছেন, এর বিষয়ে সমস্ত ইহুদীরা জেরুশালেমে এবং এই স্থানে আমার কাছে আবেদন করে চিৎকার করে বলেছিল, ওর আর বেঁচে থাকা উচিত নয়।
25 কিন্তু আমি দেখতে পেলাম, এ প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোন কাজ করে নি, তবুও এই ব্যক্তি নিজে সম্রাটের কাছ আপীল করাতে একে পাঠাতে স্থির করেছি।
26 আমার প্রভুর কাছে এর বিষয়ে লিখতে পারি, আমার এমন নিশ্চিত কিছুই নেই; সেজন্য আপনার কাছে, বিশেষত হে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প, আপনার কাছে একে উপস্থিত করলাম, যেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পর লিখবার কিছু সূত্র পাই।
27 কেননা বন্দী পাঠাবার সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাগুলো লিখে না পাঠানো আমার অসঙ্গত বোধ হয়।
1
পরে আগ্রিপ্প পৌলকে বললেন, তোমার পক্ষে যা বলবার আছে, তোমাকে বলতে অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে। তখন পৌল হাত বাড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে লাগলেন—
2 হে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প, ইহুদীরা আমার উপরে যেসব দোষারোপ করে, সেই সম্বন্ধে আজ আপনার সাক্ষাতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারছি, এজন্য আমি নিজেকে ধন্য মনে করি;
3 বিশেষ কারণ এই, ইহুদীদের সমস্ত রীতিনীতি ও তর্ক সম্বন্ধে আপনি অভিজ্ঞ। অতএব নিবেদন করি, সহিষ্ণুতাপূর্বক আমার কথা শুনুন।
4
বাল্যকাল থেকে আমার আচার ব্যবহার, যা আদি থেকে স্বজাতীয়দের মধ্যে এবং জেরুশালেমে হয়ে এসেছে, তা ইহুদীরা সকলেই জানে;
5 তারা অনেক দিন থেকে আমাকে চিনে বলে ইচ্ছা করলে এই সাক্ষ্য দিতে পারে যে, আমাদের ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্মাচারী সমপ্রদায় অনুসারে আমি ফরীশী মতে জীবন যাপন করতাম।
6 আর আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আল্লাহ্ কর্তৃক যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার উপর প্রত্যাশা রাখার দরুন এখন আমার বিচার করা হচ্ছে।
7 আমাদের বারো বংশ দিনরাত একাগ্রমনে এবাদত করতে করতে সেই অঙ্গীকারের ফল পাবার প্রত্যাশা করছে; আর হে বাদশাহ্, সেই প্রত্যাশার বিষয়েই ইহুদীদের কর্তৃক আমার উপরে দোষারোপ হচ্ছে।
8 আল্লাহ্ যদি মৃতদেরকে জীবিত করেন, তবে তা আপনাদের বিচারে কেন বিশ্বাসের অযোগ্য মনে হয়?
9
আমিই তো মনে করতাম যে, নাসরতীয় ঈসার নামের বিরুদ্ধে অনেক কাজ করা আমার কর্তব্য।
10 আর আমি জেরুশালেমে তা-ই করতাম; প্রধান ইমামদের কাছ থেকে ক্ষমতা লাভ করে পবিত্র লোকদের মধ্যে অনেককে আমি কারাগারে বন্দী করতাম ও তাঁদের প্রাণদণ্ডের সময়ে সম্মতি প্রকাশ করতাম।
11 আর সমস্ত মজলিস-খানায় বার বার তাঁদেরকে শাস্তি দিয়ে বলপূর্বক ধর্মনিন্দা করাতে চেষ্টা করতাম এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে বিদেশী নগর পর্যন্তও তাঁদেরকে নির্যাতন করতাম।
12
এই উপলক্ষে প্রধান ইমামদের কাছ থেকে ক্ষমতা ও হুকুমপত্র নিয়ে আমি দামেস্কে যাচ্ছিলাম,
13 এমন সময়ে হে বাদশাহ্, দুপুরবেলা পথের মধ্যে দেখলাম, আসমান থেকে সূর্যের তেজের চেয়েও উজ্জ্বল আলো আমার ও আমার সহযাত্রীদের চারদিকে জ্বলতে লাগল।
14 তখন আমরা সকলে ভূমিতে পড়ে গেলে আমি একটি বাণী শুনলাম, সেটি ইবরানী ভাষায় আমাকে বললো, ‘শৌল, শৌল, কেন আমাকে নির্যাতন করছো? কাঁটার মুখে পদাঘাত করা তোমার পক্ষে কষ্টকর!’
15 তখন আমি বললাম, ‘প্রভু, আপনি কে?’ প্রভু বললেন, ‘আমি ঈসা, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছো?
16 কিন্তু উঠ, তোমার পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও, তুমি যে যে বিষয়ে আমাকে দেখেছ ও যে যে বিষয়ে আমি তোমাকে দর্শন দেব, সেসব বিষয়ে যেন তোমাকে সেবক ও সাক্ষী নিযুক্ত করি, এই অভিপ্রায়ে তোমাকে দর্শন দিলাম।
17 আমি যাদের কাছে তোমাকে প্রেরণ করছি, সেই লোকদের ও অ-ইহুদীদের থেকে তোমাকে উদ্ধার করবো,
18 যেন তুমি তাদের চোখ খুলে দাও, যেন তারা অন্ধকার থেকে আলোর প্রতি এবং শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে আল্লাহ্র প্রতি ফিরে আসে, যেন আমার উপর ঈমান আনার দ্বারা গুনাহ্র মাফ পায় ও পবিত্রীকৃত লোকদের মধ্যে অধিকার পায়।’
19
এজন্য, হে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প, আমি সেই বেহেশতী দর্শনের অবাধ্য হলাম না;
20 কিন্তু প্রথমে দামেস্কের লোকদের কাছে, পরে জেরুশালেমে ও এহুদার সমস্ত জনপদে এবং অ-ইহুদীদের কাছেও তবলিগ করতে লাগলাম যে, তারা যেন মন ফিরায় ও আল্লাহ্র প্রতি ফিরে আসে, মন পরিবর্তনের উপযোগী কাজ করে।
21 এই কারণ ইহুদীরা বায়তুল-মোকাদ্দসে আমাকে ধরে হত্যা করতে চেষ্টা করছিল।
22 কিন্তু আল্লাহ্র কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে আমি আজ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি, ক্ষুদ্র ও মহান সকলের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি, নবীরা এবং মূসাও যা ঘটবে বলে গেছেন, তার বাইরে আর কিছুই বলছি না।
23 আর তা এই, মসীহ্কে দুঃখভোগ করতে হবে, আর তিনিই প্রথম, মৃতদের পুনরুত্থান দ্বারা, আমাদের লোক ও অ-ইহুদী এই উভয়ের কাছে আলো ঘোষণা করবেন।
24
এভাবে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন, এমন সময়ে ফীষ্ট উচ্চরবে বললেন, পৌল তুমি পাগল; বহুবিদ্যাভ্যাস তোমাকে পাগল করে তুলেছে।
25 পৌল বললেন, হে মহামহিম ফীষ্ট, আমি পাগল নই, কিন্তু যুক্তিপূর্ণ সত্যের উক্তি তবলিগ করছি।
26 বাস্তবিক বাদশাহ্ এসব বিষয় জানেন, আর তাঁরই সাক্ষাতে আমি সাহসপূর্বক কথা বলছি; কারণ আমার ধারণা এই যে, এর কিছুই বাদশাহ্র অগোচর নয়; যেহেতু এই সব ঘটনা তো গোপনে ঘটে নি।
27 হে বাদশাহ্ আগ্রিপ্প, আপনি কি নবীদেরকে বিশ্বাস করেন? আমি জানি আপনি বিশ্বাস করেন।
28 তখন আগ্রিপ্প পৌলকে বললেন, তুমি অল্পেই আমাকে ঈসায়ী করতে চেষ্টা করছো।
29 পৌল বললেন, আল্লাহ্র কাছে এই মুনাজাত করছি, অল্পে হোক বা অধিকে হোক, কেবল আপনি নন, কিন্তু অন্য যত লোক আজ আমার কথা শুনছে, সকলেই যেন এই বন্ধন ছাড়া আমি যেমন, তেমনি হন।
30
তখন বাদশাহ্, শাসনকর্তা ও বর্ণীকী এবং তাঁদের সঙ্গে উপবিষ্ট লোকেরা উঠলেন;
31 আর অন্য স্থানে গিয়ে পরস্পর আলাপ করে বললেন, এই ব্যক্তি প্রাণদণ্ডের কিংবা বন্ধনের যোগ্য কিছুই করে নি।
32 আর আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, এই ব্যক্তি যদি সম্রাটের কাছে আপীল না করতো, তবে মুক্তি পেতে পারত।
1
যখন স্থির হল যে, আমরা জাহাজে করে ইতালীতে যাত্রা করবো, তখন পৌল ও অন্য কয়েক জন বন্দীর ভার আগস্তীয় সৈন্যদলের যুলিয় নামে এক জন শতপতির হাতে দেওয়া হল।
2 পরে আমরা এমন একখানি আদ্রামুত্তীয় জাহাজে উঠে যাত্রা করলাম, যে জাহাজ এশিয়ার উপকুলের নানা স্থানে যাবে। ম্যাসিডোনিয়ার থিষলনীকী-নিবাসী আরিষ্টার্খ আমাদের সঙ্গে ছিলেন।
3 পর দিন আমাদের জাহাজ সীদোনে থামলো; আর যুলিয় পৌলের প্রতি সৌজন্য ব্যবহার করে তাকে বন্ধু-বান্ধবের কাছে যেতে অনুমতি দিলেন যেন তারা তাঁকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী দিতে পারে।
4 পরে সেখান থেকে জাহাজ খুলে সম্মুখ বাতাস হওয়াতে আমরা সাইপ্রাস দ্বীপের আড়ালে থেকে চলতে লাগলাম।
5 পরে কিলিকিয়ার ও পাম্ফুলিয়ার সম্মুখস্থ সমুদ্র পার হয়ে লুকিয়া দেশস্থ মুরা নগরে উপস্থিত হলাম।
6 সেই স্থানে শতপতি ইতালীতে যেতে উদ্যত একখানি আলেক্জাণ্ড্রিয়ার জাহাজ দেখতে পেয়ে আমাদেরকে সেই জাহাজে তুলে দিলেন।
7 পরে বহু দিন ধীরে ধীরে চলে কষ্টে ক্নীদের সম্মুখে উপস্থিত হলে, বাতাসের কারণে আর অগ্রসর হতে না পারাতে, আমরা সল্মোনীর সম্মুখ দিয়ে ক্রীট দ্বীপের আড়ালে আড়ালে চললাম।
8 পরে কষ্টে উপকূলের কাছ দিয়ে যেতে যেতে ‘সুন্দর পোতাশ্রয়’ নামক স্থানে উপস্থিত হলাম। লাসেয়া নগর সেই স্থানের নিকটবর্তী।
9
এভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হওয়াতে এবং রোজা-ঈদ অতীত হয়েছিল বলে জাহাজে করে যাওয়াটা সঙ্কটজনক হওয়াতে, পৌল তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে বললেন,
10 জনাবেরা, আমি দেখছি যে, এই যাত্রায় অনিষ্ট ও অনেক ক্ষতি হবে, তা কেবল মালের ও জাহাজের এমন নয়, আমাদের প্রাণেরও হবে।
11 কিন্তু শতপতি পৌলের কথার চেয়ে প্রধান নাবিকের ও জাহাজের মালিকের কথায় বেশি কান দিলেন।
12 আর ঐ পোতাশ্রয়ে শীতকাল যাপনের সুবিধা না হওয়াতে অধিকাংশ লোক সেখান থেকে যাত্রা করার পরামর্শ করলো, যেন কোনভাবে ফিনিশিয়ায় পৌঁছে সেখানে শীতকাল যাপন করতে পারে। সেই স্থানটি ছিল ক্রীট দ্বীপের একটি পোতাশ্রয় এবং সেটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক খোলা ছিল।
13
পরে যখন দক্ষিণ বায়ু মন্দ মন্দ বইতে লাগল, তখন তারা তাদের অভিপ্রায় সিদ্ধ হল মনে করে জাহাজ খুলে ক্রীট দ্বীপের কূলের খুব কাছ দিয়ে চলতে লাগল।
14 কিন্তু অল্পকাল পরে কূল থেকে উরাকুলো নামে অতি প্রচণ্ড একটি ঝড় আঘাত করতে লাগল।
15 তখন জাহাজ ঝড়ের মধ্যে পড়ে বায়ুর প্রতিরোধ করতে না পারাতে আমরা তা ভেসে যেতে দিলাম।
16 পরে কৌদা নামে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপের আড়ালে আড়ালে চলে বহুকষ্টে জাহাজের ছোট নৌকাখানি নিজেদের বশ করতে পারলাম।
17 তখন মাল্লারা তা তুলে নিয়ে, নানা উপায়ে জাহাজের পাশে বেঁধে দৃঢ় করলো। আর পাছে সূর্তি নামক চড়াতে গিয়ে পড়ে, এই ভয়ে নোঙ্গরগুলো নামিয়ে দিয়ে জাহাজটিকে অমনি চলতে দেওয়া হল।
18 ঝড়ের অতিশয় আঘাতের দরুন পরের দিন তারা মালপত্র পানিতে ফেলে দিতে লাগল।
19 তৃতীয় দিনে তারা নিজের হাতে জাহাজের সরঞ্জাম ফেলে দিল।
20 আর অনেক দিন পর্যন্ত সূর্য বা তারা প্রকাশ না পাওয়াতে এবং ভীষণ ঝড়ের আঘাতে, আমাদের রক্ষা পাবার সমস্ত আশা ক্রমে দূরীভূত হল।
21
তখন সকলে অনেক দিন অনাহারে থাকলে পর পৌল তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, ভাইয়েরা, আমার কথা গ্রাহ্য করে ক্রীট দ্বীপ থেকে জাহাজ না ছাড়া এবং এই অনিষ্ট ও ক্ষতি হতে না দেওয়া আপনাদের উচিত ছিল।
22 কিন্তু এখন আমার পরামর্শ এই, আপনারা সাহস করুন, কেননা আপনাদের কারো প্রাণের হানি হবে না, কেবল জাহাজের হবে।
23 কারণ আমি যাঁর লোক এবং যাঁর এবাদত করি, সেই আল্লাহ্র এক জন ফেরেশতা গত রাতে আমার কাছে দাঁড়িয়ে বললেন,
24 পৌল, ভয় করো না, সম্রাটের সম্মুখে তোমাকে দাঁড়াতে হবে। আর দেখ, যারা তোমার সঙ্গে যাচ্ছে, আল্লাহ্ তাদের সকলকেই তোমায় দান করেছেন।
25 অতএব ভাইয়েরা সাহস করুন, কেননা আল্লাহ্র উপরে আমার এমন বিশ্বাস আছে যে, আমার কাছে যেরকম উক্ত হয়েছে, সেরকমই ঘটবে।
26 কিন্তু কোন দ্বীপে গিয়ে আমাদের পড়তে হবে।
27
এভাবে আমরা আদ্রিয়া সাগরে ইতস্তত চলতে চলতে যখন চতুর্দশ রাত উপস্থিত হল, তখন প্রায় মধ্যরাত্রে মাল্লারা অনুমান করতে লাগল যে, তারা কোন দেশের নিকটবর্তী হচ্ছে।
28 আর তারা পানি মেপে বিশ বাঁউ পানি পেল; একটু পরে আবার পানি মেপে পনের বাঁউ পেল।
29 তখন পাছে আমরা পাথরের উপরে গিয়ে পড়ি, এই আশঙ্কায় তারা জাহাজের পিছনের ভাগ থেকে চারটি নোঙ্গর ফেলে দিনের অপেক্ষা করতে লাগলো।
30 আর মাল্লারা জাহাজ থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল এবং জাহাজের সম্মুখ দিক থেকে নোঙ্গর ফেলবার ছল করে নৌকাখানি সাগরে নামিয়ে দিয়েছিল।
31 এজন্য পৌল শতপতিকে ও সেনাদেরকে বললেন, ওরা জাহাজে না থাকলে আপনারা রক্ষা পাবেন না।
32 তখন সৈন্যেরা নৌকাখানির দড়ি কেটে তা পানিতে ফেলে দিল।
33
পরে দিন হয়ে আসছে, এমন সময়ে পৌল সমস্ত লোককে কিছু আহার করতে অনুরোধ করে বললেন, আজ চৌদ্দ দিন হল, আপনারা অপেক্ষা করে আছেন, কিছু খাদ্য গ্রহণ না করে অনাহারে কালক্ষেপ করছেন।
34 অতএব ফরিয়াদ করি, আহার করুন, কেননা তা আপনাদের রক্ষার জন্য উপকারী হবে; কারণ আপনাদের কারো মাথার একগাছি কেশও নষ্ট হবে না।
35 এই কথা বলে পৌল রুটি নিয়ে সকলের সাক্ষাতে আল্লাহ্র শুকরিয়া করলেন, পরে তা ভেঙ্গে ভোজন করতে আরম্ভ করলেন।
36 তখন সকলে সাহস পেল এবং আহার করলো।
37 সেই জাহাজে আমরা সবসুদ্ধ দুই শত ছিয়াত্তর জন ছিলাম।
38 সকলে খাদ্যে তৃপ্ত হলে পর তারা সমস্ত গম সাগরে ফেলে দিয়ে জাহাজের ভার লাঘব করলো।
39
দিন হলে তারা সেই স্থলটি চিনতে পারলো না। কিন্তু এমন একটি উপসাগর দেখতে পেল, যার বালুকাময় তীর ছিল; আর পরামর্শ করলো, যদি পারে, তবে সেই তীরের উপরে যেন জাহাজ তুলে দেয়।
40 তারা নোঙ্গরগুলো কেটে তা সাগরে ফেলে দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে হালের বন্ধন খুলে দিল; পরে বাতাসের সম্মুখে অগ্রভাগের পাল তুলে সেই বালুকাময় তীরের অভিমুখে চলতে লাগল।
41 কিন্তু একটা চরে হঠাৎ ঠেকে গিয়ে জাহাজটা আটকে গেল, তাতে সম্মুখের অংশটি বসে যাওয়াতে জাহাজটি অচল হয়ে রইলো, কিন্তু পিছনের ভাগ প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙ্গে যেতে লাগল।
42 তখন সৈন্যেরা বন্দীদেরকে হত্যা করার পরামর্শ করলো, পাছে কেউ সাঁতার দিয়ে পালিয়ে যায়।
43 কিন্তু শতপতি পৌলকে রক্ষা করার বাসনায় তাদেরকে সেই সঙ্কল্প থেকে ক্ষান্ত করলেন, আর এই হুকুম দিলেন, যারা সাঁতার জানে, তারা আগে ঝাঁপ দিয়ে ডাঙ্গায় উঠুক;
44 আর অবশিষ্ট সকলে তক্তা কিংবা জাহাজের যা পায়, তা ধরে ডাঙ্গায় উঠুক। এভাবে সকলে ডাঙ্গায় উঠে রক্ষা পেল।
1
আমরা রক্ষা পেলে পর জানতে পারলাম যে, সেই দ্বীপের নাম মাল্টা।
2 আর সেখানকার লোকেরা আমাদের প্রতি অসাধারণ দয়া প্রকাশ করলো, বস্তুতঃ বৃষ্টি ও শীতের কারণে আগুন জ্বেলে আমাদের সকলকে অভ্যর্থনা করলো।
3 কিন্তু পৌল এক বোঝা কাঠ কুড়িয়ে ঐ আগুনের উপরে ফেলে দিলে আগুনের উত্তাপে একটা কালসাপ বের হয়ে তাঁর হাত কামড়ে ধরলো।
4 তখন ঐ লোকেরা তাঁর হাতে সেই সাপটা ঝুলছে দেখে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, এই ব্যক্তি নিশ্চয় খুনী, সমুদ্র থেকে রক্ষা পেলেও ধর্ম একে বাঁচতে দিল না।
5 কিন্তু তিনি হাত ঝেড়ে সাপটাকে আগুনের মধ্যে ফেলে দিলেন ও তাঁর কোনই ক্ষতি হল না।
6 তখন তারা অপেক্ষা করতে লাগল যে, তাঁর দেহ ফুলে উঠবে, কিংবা হঠাৎ তিনি মারা গিয়ে ভূমিতে পড়ে যাবেন; কিন্তু অনেক ক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকলে পর, তাঁর প্রতি কোন ভয়ঙ্কর ব্যাপার ঘটছে না দেখে, তারা মত বদলিয়ে বলতে লাগল, উনি দেবতা।
7
ঐ স্থানের কাছে সেই দ্বীপের পুব্লিয় নামক প্রধানের ভূসম্পত্তি ছিল; তিনি আমাদেরকে সাদরে গ্রহণ করে সৌজন্য সহকারে তিন দিন পর্যন্ত আমাদের মেহমানদারী করলেন।
8 সেই সময়ে পুব্লিয়ের পিতা জ্বর ও আমাশয় রোগে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ভুগছিল। আর পৌল ভিতরে তাঁর কাছে গিয়ে মুনাজাতপূর্বক তাঁর উপরে হাত রেখে তাঁকে সুস্থ করলেন।
9 এই ঘটনা হলে পর অন্য যত রোগী ঐ দ্বীপে ছিল, তারা এসে সুস্থ হল।
10 আর তারা বিস্তর সমাদরে আমাদেরকে সম্মান করলো এবং আমাদের প্রস্থান করার সময়ে নানা রকম প্রয়োজনীয় সামগ্রী জাহাজে এনে দিল।
11
তিন মাস গত হলে পর আমরা আলেকজাণ্ড্রিয়া শহরের একটি জাহাজে উঠে যাত্রা করলাম। সেই জাহাজটি ঐ দ্বীপে শীতকাল যাপন করেছিল এবং তার মাথায় যমজ-দেবতার মূর্তি ছিল।
12 পরে সুরাকূষে জাহাজ ভিড়িয়ে আমরা সেখানে তিন দিন থাকলাম।
13 আর সেখান থেকে ঘুরে ঘুরে রীগিয়ে উপস্থিত হলাম; এক দিনের পর দখিনা বাতাস উঠলো, আর দ্বিতীয় দিন পূতিয়লীতে উপস্থিত হলাম।
14 সেই স্থানে কয়েক জন ভাইয়ের দেখা পেলাম, আর তাঁরা অনুনয় বিনয় করলে সাত দিন তাঁদের সঙ্গে অবস্থিতি করলাম; এভাবে আমরা রোমে উপস্থিত হলাম।
15 আর সেখান থেকে ঈমানদার ভাইয়েরাও আমাদের সংবাদ পেয়ে অপ্পিয়ের হাট ও তিন সরাই পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন; তাঁদেরকে দেখে পৌল আল্লাহ্র শুকরিয়া করে সাহস পেলেন।
16
রোমে আমাদের উপস্থিত হবার পরে পৌল নিজের প্রহরী সৈনিকের সঙ্গে স্বতন্ত্র বাস করার অনুমতি পেলেন।
17
আর তিন দিন পর তিনি ইহুদীদের প্রধান প্রধান লোককে ডেকে এনে একত্র করলেন। তারা সমাগত হলে তিনি তাঁদেরকে বললেন, হে ভাইয়েরা, আমি যদিও স্বজাতীয়দের কিংবা পূর্বপুরুষদের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে কিছুই করি নি, তবুও জেরুশালেম থেকে প্রেরিত বন্দীরূপে রোমীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
18 আর তারা আমার বিচার করে প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোন দোষ না পাওয়াতে আমাকে মুক্তি দিতে চেয়েছিল;
19 কিন্তু ইহুদীরা প্রতিবাদ করায় আমি সম্রাটের কাছে আপীল করতে বাধ্য হলাম; স্বজাতীয়দের উপরে দোষারোপ করার কোন কথা যে আমার ছিল তা নয়।
20 সেই কারণে আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলার জন্য আপনাদেরকে আহ্বান করলাম; কারণ ইসরাইলের প্রত্যাশা হেতুই আমাকে এই শিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছে।
21 তারা তাঁকে বললো, আমরা আপনার বিষয়ে এহুদিয়া থেকে কোন পত্র পাই নি; অথবা ভাইদের মধ্যেও কেউ এখানে এসে আপনার বিষয়ে মন্দ সংবাদ দেন নি, বা মন্দ কথাও বলেন নি।
22 কিন্তু আপনার মত কি, তা আমরা আপনার মুখে শুনতে বাসনা করি; কারণ এই দলের বিষয়ে আমরা জানি যে, সর্বত্র লোকে এর বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে।
23
পরে তারা একটি দিন নির্ধারণ করে সেদিন অনেকে তাঁর বাসায় তাঁর কাছে আসলো; তাদের কাছে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাখ্যা করে আল্লাহ্র রাজ্যের বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন এবং মূসার শরীয়ত ও নবীদের কিতাব নিয়ে ঈসার বিষয়ে তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন।
24 তাতে কেউ কেউ তার কথায় বিশ্বাস করল, আর কেউ কেউ অবিশ্বাস করলেন।
25 এভাবে তাদের মধ্যে মতের একতা না হওয়ায় তারা বিদায় হতে লাগল; যাবার আগে পৌল এই একটি কথা বলে দিলেন, পাক-রূহ্ ইশাইয়া নবীর দ্বারা আপনাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে এই কথা ভালই বলেছিলেন, যথা—
26
“এই লোকদের কাছে গিয়ে বল, তোমরা কানে শুনবে,
কিন্তু কোন মতে বুঝবে না,
এবং চোখে দেখবে, কিন্তু কোন মতে জানবে না;
27
কারণ এই লোকদের অন্তর অসার হয়েছে,
শুনতে তাদের কান ভারী হয়েছে,
ও তারা চোখ বন্ধ করে রেখেছে,
পাছে তারা চোখে দেখে,
এবং কানে শুনে, অন্তরে বুঝে এবং ফিরে আসে,
আর আমি তাদেরকে সুস্থ করি।”
28
অতএব আপনারা জানুন যে, অ-ইহুদীদের কাছে আল্লাহ্র এই নাজাত প্রেরিত হল; আর তারা তা শুনবে।
29
আর পৌল সমপূর্ণ দু’বছর পর্যন্ত একটি ভাড়াটিয়া ঘরে থাকলেন এবং যত লোক তাঁর কাছে আসত, সকলকেই গ্রহণ করে সমপূর্ণ সাহসপূর্বক আল্লাহ্র রাজ্যের কথা তবলিগ করতেন,
30 এবং ঈসা মসীহের বিষয়ে উপদেশ দিতেন, কেউ তাঁকে বাধা দিত না।
1
আমি পৌল, ঈসা মসীহের গোলাম, প্রেরিত হবার জন্য আহ্বান প্রাপ্ত এবং আল্লাহ্র ইঞ্জিলের জন্য পৃথক্কৃত—
2
যে ইঞ্জিল আল্লাহ্ পাক-কিতাবে তাঁর নবীদের দ্বারা আগে ওয়াদা করেছিলেন,
3 তা তাঁর পুত্র বিষয়ক, যিনি দৈহিক দিক থেকে দাউদের বংশজাত,
4 যিনি পবিত্রতার রূহের সম্বন্ধে মৃতদের পুনরুত্থান দ্বারা সপরাক্রমে আল্লাহ্র পুত্র বলে ঘোষিত; তিনি ঈসা মসীহ্, আমাদের প্রভু,
5 যাঁর দ্বারা আমরা তাঁর নামের জন্য রহমত ও প্রেরিত-পদ পেয়েছি, যেন সকল জাতির মানুষ ঈমান এনে আল্লাহ্র বাধ্য হয়।
6 সেই লোকদের মধ্যে তোমরাও আছ, ঈসা মসীহের লোক হবার জন্য তোমাদের আহ্বান করা হয়েছে—
7
রোম শহরে আল্লাহ্র প্রিয় আহ্বানপ্রাপ্ত পবিত্র যত লোক আছেন, তাদের সকলের কাছে লিখছি: আমাদের পিতা আল্লাহ্ ও ঈসা মসীহের কাছ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
8
প্রথমত আমি ঈসা মসীহের মাধ্যমে তোমাদের সকলের জন্য আমার আল্লাহ্র শুকরিয়া করছি যে, তোমাদের ঈমান সারা দুনিয়াতে তবলিগ করা হচ্ছে।
9 কারণ আল্লাহ্, যাঁর এবাদত আমি আপন রূহে তাঁর পুত্রের ইঞ্জিল তবলিগের মধ্য দিয়ে করে থাকি, তিনি আমার সাক্ষী যে, আমি মুনাজাতে সব সময় তোমাদের নাম উল্লেখ করে থাকি।
10 আমার মুনাজাতের সময়ে আমি সব সময় যাচ্ঞা করি যেন শেষ পর্যন্ত কোনভাবে আল্লাহ্র ইচ্ছায় তোমাদের কাছে যাবার বিষয়ে সফলকাম হতে পারি।
11 কেননা আমি তোমাদের দেখবার আকাঙ্খা করছি, যেন তোমাদেরকে এমন কোন রূহানিক বর দিই, যা তোমাদেরকে শক্তিশালী করে তোলে;
12 অর্থাৎ যাতে তোমাদের ও আমার, উভয় পক্ষের আন্তরিক ঈমান দ্বারা তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেও উৎসাহ পাই।
13
আর হে ভাইয়েরা, আমার ইচ্ছা নয় যে, তোমরা এই বিষয় অজ্ঞাত থাক, আমি বারবার তোমাদের কাছে আসতে ইচ্ছা করেও এই পর্যন্ত বাধা পেয়ে আসছি। আমি অ-ইহুদী অন্য সব লোকের মধ্যে যেমন, তেমনি তোমাদের মধ্যেও কোন ফল লাভের প্রত্যাশায় আছি।
14 সভ্য-অসভ্য, বিজ্ঞ ও অজ্ঞ, সকলের কাছে আমি ঋণী।
15 সেজন্য আমার সাধ্য অনুসারে আমি রোম-নিবাসী তোমাদের কাছেও ইঞ্জিল তবলিগ করতে আগ্রহী।
16
কেননা আমি ইঞ্জিল সম্বন্ধে লজ্জিত নই; কারণ তা প্রত্যেক ঈমানদারের পক্ষে নাজাতের জন্য আল্লাহ্র শক্তি; প্রথমত ইহুদীর পক্ষে, তারপর অ-ইহুদীরও পক্ষে।
17 কারণ আল্লাহ্র দেওয়া এক ধার্মিকতা ইঞ্জিলের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল ঈমানের মধ্য দিয়েই মানবজাতিকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়, যেমন লেখা আছে, “কিন্তু ধার্মিক ব্যক্তি ঈমান আনার মধ্য দিয়েই বাঁচবে”।
18
কারণ আল্লাহ্র গজব বেহেশত থেকে সেই মানুষের সমস্ত ভক্তিহীনতা ও অধার্মিকতার উপরে প্রকাশিত হচ্ছে, যারা অধার্মিকতা দিয়ে সত্যের প্রতিরোধ করে।
19 কেননা আল্লাহ্র বিষয়ে যা জানা যেতে পারে, তা তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট, কারণ আল্লাহ্ তা তাদের কাছে প্রকাশ করেছেন।
20 ফলত তাঁর অদৃশ্য গুণ, অর্থাৎ তাঁর অনন্ত পরাক্রম ও খোদায়ী স্বভাব, দুনিয়ার সৃষ্টির শুরু থেকে তাঁর নানা রকম কাজ পরিষ্কার হয়ে ফুটে উঠেছে, এজন্য মানুষের উত্তর দেবার আর কোন উপায় নেই;
21 কারণ আল্লাহ্কে জানবার পরেও তারা তাঁকে আল্লাহ্ বলে তাঁর গৌরব করে নি; কিন্তু নিজেদের তক-বিতর্কে অসার হয়ে পড়েছে এবং তাদের অবোধ অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে।
22 নিজেদেরকে বিজ্ঞ বলে তারা মূর্খ হয়েছে;
23 এবং অস্থায়ী মানুষ, পাখি, চতুষ্পদ ও সরীসৃপের মূর্তিবিশিষ্ট প্রতিকৃতির সঙ্গে অক্ষয় আল্লাহ্র গৌরব বিনিময় করেছে।
24
এই কারণে আল্লাহ্ তাদেরকে নিজ নিজ হৃদয়ের নানা অভিলাষ অনুসারে এমন নাপাকিতার হাতে তুলে দিলেন যে, তাদের দেহ তাদের মধ্যে অনাদৃত হচ্ছে;
25 কারণ তারা মিথ্যার সঙ্গে আল্লাহ্র সত্যের পরিবর্তন করেছে এবং সৃষ্টিকর্তাকে বাদ দিয়ে সৃষ্ট বস্তুর পূজা ও এবাদত করেছে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তাই যুগে যুগে ধন্য। আমিন।
26
এজন্য আল্লাহ্ তাদেরকে ঘৃণ্য রিপুর হাতে তুলে দিয়েছেন; এমন কি তাদের স্ত্রীলোকেরা স্বাভাবিক ব্যবহারের পরিবর্তে স্বভাবের বিপরীত ব্যবহার করেছে।
27 আর পুরুষেরাও তেমনি স্বাভাবিক স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করে সমকামিতার কুৎসিত কাজে লিপ্ত থেকে কামনায় জ্বলে উঠেছে এবং নিজেদের মধ্যে নিজ নিজ বিপথগমনের সমুচিত প্রতিফল পেয়েছে।
28
আর যেমন তারা আল্লাহ্কে নিজেদের জ্ঞানে ধারণ করতে সম্মত হয় নি, তেমনি আল্লাহ্ তাদের অনুচিত কাজ করতে গুনাহ্পূর্ণ মনের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
29 তারা সমস্ত রকমের অধার্মিকতা, নাফরমানী, লোভ, হিংসা ও পরশ্রীকাতরতায় পরিপূর্ণ। তারা হত্যা, ঝগড়া, ছল ও দুর্বৃত্তিতে পূর্ণ;
30 তারা অন্যের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, অন্যের নিন্দা করে ও আল্লাহ্কে ঘৃণা করে। তারা বদমেজাজী, অহংকারী ও গর্বিত, মন্দ বিষয়ের উৎপাদক ও পিতা-মাতার অবাধ্য।
31 তারা নির্বোধ, নিয়ম ভঙ্গকারী, হৃদয়হীন ও নির্দয়।
32 তারা আল্লাহ্র এই বিচার জানত যে, যারা এরকম আচরণ করে, তারা মৃত্যুর যোগ্য। তবুও তারা সেরকম আচরণ করে, কেবল তা নয় কিন্তু যারা তা করে তাদের তারা অনুমোদনও করে।
1
অতএব হে মানুষ, তুমি যে কেউ হও না কেন, তুমি যে বিচার করছো, তোমার উত্তর দেবার পথ নেই; কারণ যে বিষয়ে তুমি পরের বিচার করে থাক, সেই বিষয়ে নিজেকেই দোষী করে থাক; কেননা তুমি যে বিচার করছো, তুমি সেই একই রকম আচরণ করে থাক।
2 আর আমরা জানি, যারা এরকম আচরণ করে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সত্য অনুযায়ী বিচার করে থাকেন।
3 আর হে মানুষ, যারা এরকম আচরণ করে, তুমি যখন তাদের বিচার করে থাক, আবার নিজেও তেমনি করে থাক, তখন তুমি কি আল্লাহ্র বিচার এড়াবে বলে মনে করছো?
4 অথবা তাঁর অশেষ দয়া, ধৈর্য ও চিরসহিষ্ণুতাকে হেয়জ্ঞান করছো? আল্লাহ্র দয়া যে তোমাকে মন পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়, তা কি জান না?
5 কিন্তু তোমার কঠিন ভাব এবং অপরিবর্তনশীল অন্তর অনুসারে তুমি তোমার নিজের জন্য সেই গজবের দিনের জন্য এমন শাস্তি সঞ্চয় করছো, যখন আল্লাহ্র ন্যায়বিচার প্রকাশ পাবে।
6 তিনি তো প্রত্যেক মানুষকে তার কাজ অনুযায়ী ফল দেবেন,
7 সৎকর্মের সঙ্গে ধৈর্য সহযোগে যারা মহিমা, সমাদর ও অক্ষয়তার খোঁজ করে, তাদেরকে তিনি অনন্ত জীবন দেবেন।
8 কিন্তু যারা প্রতিযোগী এবং সত্যের অবাধ্য ও অধার্মিকতার অনুসারী, তাদের প্রতি আল্লাহ্র গজব ও রোষ, দুঃখ-কষ্ট ও সঙ্কট নেমে আসবে;
9 প্রথমে ইহুদীর, পরে অ-ইহুদীদেরও উপরে, অর্থাৎ কদাচারী সমস্ত মানুষের প্রাণের উপরে বর্ষিত হবে।
10 কিন্তু প্রত্যেক সদাচারী মানুষের প্রতি, প্রথমে ইহুদীদের, পরে অ-ইহুদীদেরও প্রতি প্রতাপ, সমাদর ও শান্তি বর্তাবে।
11 কেননা আল্লাহ্ কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না।
12
কারণ শরীয়তবিহীন অবস্থায় যত লোক গুনাহ্ করেছে, শরীয়ত-বিহীন অবস্থায় তাদের বিনাশও ঘটবে; আর শরীয়তের অধীনে যত লোক গুনাহ্ করেছে, শরীয়ত দ্বারাই তাদের বিচার করা যাবে।
13 কারণ যারা শরীয়ত শোনে, তারা যে আল্লাহ্র কাছে ধার্মিক, এমন নয়, কিন্তু যারা শরীয়ত পালন করে, তারাই ধার্মিক গণিত হবে।
14 যে অ-ইহুদীরা কোন শরীয়ত পায় নি, তারা যখন স্বভাবত শরীয়ত অনুযায়ী আচরণ করে, তখন কোন শরীয়ত না পেলেও তাদের নিজেদের শরীয়ত নিজেরাই হয়ে ওঠে।
15 তারা শরীয়তের দাবি-দাওয়া নিজ নিজ অন্তরে লেখা বলে দেখায়, তাদের বিবেকও সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় এবং তাদের নানা চিন্তা হয় তাদেরকে দোষী করে, না হয় তাদের পক্ষ সমর্থন করে—
16 যেদিন আল্লাহ্ আমার তবলিগকৃত ইঞ্জিল অনুসারে ঈসা মসীহ্ দ্বারা মানুষের গুপ্ত বিষয়গুলোর বিচার করবেন সেদিন তা প্রকাশিত হবে।
17
তুমি হয় তো ইহুদী নামে আখ্যাত, মূসার শরীয়তের উপরে নির্ভর করছো, আল্লাহ্কে নিয়ে গর্ববোধ করছো,
18 শরীয়ত থেকে শিক্ষা লাভ করাতে তাঁর ইচ্ছা জানে এবং যা যা শ্রেয় সেই সবের অনুমোদন করে থাক,
19 নিশ্চয় বুঝেছ যে, তুমিই অন্ধদের পথ প্রদর্শক, যারা অন্ধকারে বাস করে তুমিই তাদের নূর,
20 তুমি অবোধদের সংশোধন-কারী, শিশুদের শিক্ষক, কারণ তুমি শরীয়তের মধ্যে জ্ঞান ও সত্যের পরিচয় পেয়েছ।
21 ভাল, তুমি যে অপরকে শিক্ষা দিচ্ছ, তুমি নিজেকে শিক্ষা দাও না কেন? তুমি যে চুরি করতে নেই বলে তবলিগ করছো, তুমি কি চুরি করছো না?
22 তুমি যে জেনা না করার কথা বলছো, তুমি কি জেনা করছো না? তুমি যে মূর্তিপূজা ঘৃণা করছো, তুমি কি দেবালয়ের সম্পদ লুট করছো না?
23 তুমি যে শরীয়ত নিয়ে গর্ববোধ করছো, তুমি কি শরীয়ত লঙ্ঘন দ্বারা আল্লাহ্র অসম্মান করছো না?
24 কেননা লেখা আছে, ‘তোমাদের জন্যই জাতিদের মধ্যে আল্লাহ্র নাম নিন্দিত হচ্ছে’।
25
বাস্তবিক খৎনা করানোতে লাভ আছে বটে, যদি তুমি শরীয়ত পালন কর; কিন্তু যদি শরীয়ত লঙ্ঘন কর, তবে তোমার খৎনা তো অ-খৎনা হয়ে পড়লো।
26 অতএব খৎনা-না-করানো লোক যদি শরীয়তের দাবি-দাওয়া পালন করে, তবে তার অখৎনা কি খৎনা বলে গণিত হবে না?
27 আর স্বাভাবিক খৎনা-না-করানো লোক যদি শরীয়ত পালন করে, তবে লেখা শরীয়ত ও খৎনা সত্ত্বেও শরীয়ত লঙ্ঘন করছো যে তুমি, সে কি তোমাকে দোষী করবে না?
28 কেননা বাইরে যে ইহুদী সে ইহুদী নয় এবং দেহের বাইরে কৃত খৎনাই যে প্রকৃত খৎনা তা নয়।
29 কিন্তু অন্তরে যে ইহুদী, সে-ই প্রকৃত ইহুদী এবং হৃদয়ের যে খৎনা, যা আক্ষরিক নয়, কিন্তু রূহে, তা-ই প্রকৃত খৎনা, তার প্রশংসা মানুষ থেকে হয় না, কিন্তু আল্লাহ্ থেকে হয়।
1
তবে ইহুদীর বেশি কি সুযোগ-সুবিধা আছে? খৎনা করানোরই বা মূল্য কি?
2 তা সমস্ত দিক দিয়েই মূল্যবান। প্রথমত এই যে, আল্লাহ্র বাণী তাদের কাছে আমানত রাখা হয়েছিল।
3 ভাল, কেউ কেউ যদি অবিশ্বাসী হয়ে থাকে, তাতেই বা কি? তাদের অবিশ্বাস কি আল্লাহ্র বিশ্বস্ততা নিষ্ফল করবে?
4 তা নিশ্চয় না, বরং আল্লাহ্কে সত্য বলে স্বীকার করা যাক, সব মানুষ মিথ্যাবাদী হয় হোক; যেমন লেখা আছে,
“তুমি যেন তোমার কথায় ধর্মময় প্রতিপন্ন হও,
এবং তোমার বিচারকালে বিজয়ী হও।”
5
কিন্তু আমাদের অধার্মিকতা যদি আল্লাহ্র ধার্মিকতাকে নিশ্চিত করে, তবে কি বলবো? আল্লাহ্, যিনি ক্রোধে প্রতিফল দেন, তিনি কি অন্যায় করে থাকেন? তা নিশ্চয় না, —আমি সাধারণ মানুষের মত কথা বলছি—
6 কেননা তা হলে আল্লাহ্ কেমন করে দুনিয়ার বিচার করবেন?
7 কিন্তু আমার মিথ্যায় যদি আল্লাহ্র সত্য তাঁর গৌরবার্থে উপচে পড়ে, তবে আমিও বা এখন গুনাহ্গার বলে আর বিচারের সম্মুখীন হচ্ছি কেন?
8 আর কেনই বা বলবো না— যেমন আমাদের নিন্দা আছে এবং যেমন কেউ কেউ বলে যে, আমরা বলে থাকি, ‘এসো, মন্দ কাজ করি, যেন উত্তম ফল ফলে’? তাদের দণ্ডাজ্ঞা ন্যায্য।
9
তবে দাঁড়াল কি? আমাদের অবস্থা কি অন্য লোকদের চেয়ে ভাল? তা নিশ্চয় না; কারণ আমরা ইতোপূর্বে ইহুদী ও গ্রীক উভয়ের বিরুদ্ধে দোষ দিয়েছি যে, সকলেই গুনাহ্র অধীন।
10 যেমন লেখা আছে,
“ধার্মিক কেউই নেই, এক জনও নেই,
11
বুঝতে পারে, এমন কেউই নেই,
আল্লাহ্র খোঁজ করে, এমন কেউই নেই।
12
সকলেই বিপথে গেছে, তারা একসঙ্গে অকর্মণ্য হয়েছে;
দয়া দেখায় এমন কেউই নেই, এক জনও নেই।
13
তাদের কণ্ঠ অনাবৃত কবরস্বরূপ;
তারা জিহ্বা দ্বারা ছলনা করেছে;
তাদের ঠোঁটের নিচে কালসাপের বিষ থাকে;
14
তাদের মুখ বদদোয়া ও কটুবাক্যে পূর্ণ;
15
তাদের পা রক্তপাতের জন্য দ্রুতগামী।
16
তাদের পথে পথে থাকে ধ্বংস ও বিনাশ,
17
এবং শান্তির পথ তারা জানে নি;
18
তারা আল্লাহ্কে ভয় করে না।”
19
আর আমরা জানি, শরীয়ত যা কিছু বলে, তা শরীয়তের অধীন লোকদেরকে বলে; যেন প্রত্যেক মুখ বন্ধ হয় এবং সমস্ত দুনিয়া আল্লাহ্র বিচারের অধীন হয়।
20 যেহেতু শরীয়তের কাজ দ্বারা কোন প্রাণী তাঁর সাক্ষাতে ধার্মিক বিবেচিত হবে না, কেননা শরীয়ত দ্বারা গুনাহ্র জ্ঞান জন্মে।
21
কিন্তু এখন শরীয়ত ছাড়াই আল্লাহ্র দেওয়া ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে, আর শরীয়ত ও নবীদের কর্তৃক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে।
22 আল্লাহ্র দেওয়া সেই ধার্মিকতা ঈসা মসীহে ঈমান দ্বারা যারা ঈমান আনে তাদের সকলের প্রতি বর্তে— কারণ প্রভেদ নেই;
23 কেননা সকলেই গুনাহ্ করেছে এবং আল্লাহ্র গৌরব-বিহীন হয়েছে—
24 ওরা বিনামূল্যে তাঁরই রহমতে, মসীহ্ ঈসাতে প্রাপ্য মুক্তি দ্বারা ধার্মিক পরিগণিত হয়।
25 তাঁকেই আল্লাহ্ তাঁর রক্তের দ্বারা কাফ্ফারার কোরবানী হিসেবে তুলে ধরেছেন যা ঈমানের মধ্য দিয়েই পাওয়া যায়। তিনি এর মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের ধার্মিকতা দেখিয়েছেন, কেননা খোদায়ী সহিষ্ণুতায় তিনি আগেকার দিনেও মানুষের কৃত গুনাহ্ অনুযায়ী শাস্তি দেন নি।
26 এইভাবে তিনি এখন বর্তমানকালে তাঁর ধার্মিকতা দেখান, যেন তিনি নিজে যেমন ধার্মিক তেমনি যে কেউ ঈসাতে ঈমান আনে, তাকেও ধার্মিকরূপে গণনা করেন।
27
অতএব গর্ব করার আর কি আছে? কিছুই নেই। কিরূপ শরীয়ত দ্বারা? কাজের শরীয়ত দ্বারা? না, তা নয়; কিন্তু ঈমানের শরীয়ত দ্বারা।
28 কেননা আমারা এই কথা জানি যে, শরীয়ত পালন করা ছাড়া ঈমান দ্বারাই মানুষ ধার্মিক বলে পরিগণিত হয়।
29 আল্লাহ্ কি কেবল ইহুদীদের আল্লাহ্, অ-ইহুদীদেরও কি নন? হ্যাঁ, তিনি অ-ইহুদীদেরও আল্লাহ্,
30 কেননা বাস্তবিক আল্লাহ্ এক, আর তিনি খৎনা করানো লোকদেরকে ঈমানের মধ্য দিয়ে এবং খৎনা-না-করানো লোকদেরকেও ঈমানের মধ্য দিয়ে ধার্মিক গণনা করবেন।
31 তবে আমরা কি ঈমান দ্বারা শরীয়ত নিষ্ফল করছি? নিশ্চয় তা নয়; বরং শরীয়ত সংস্থাপন করছি।
1
তবে দৈহিক দিক থেকে আমাদের আদিপিতা যে ইব্রাহিম তাঁর সম্বন্ধে কি বলবো, তিনি কি পেয়েছেন?
2 কারণ ইব্রাহিম যদি কাজের জন্যই ধার্মিক পরিগণিত হয়ে থাকেন, তবে গর্ব করার বিষয় তাঁর আছে;
3 কিন্তু আল্লাহ্র কাছে তাঁর গর্ব করার কোন বিষয় নেই; কেননা পাক-কিতাব কি বলে? “ইব্রাহিম আল্লাহ্র উপরে ঈমান আনলেন এবং সেই ঈমানই তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে পরিগণিত হল।”
4 যে কাজ করে, তার বেতন তো তার পক্ষে রহমতের বিষয় বলে নয়, কিন্তু প্রাপ্য বলে পরিগণিত হয়।
5 কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের কাজের উপরে নির্ভর না করে যিনি ভক্তিহীনকে ধার্মিক বিবেচনা করেন কেবল তাঁরই উপরে ঈমান আনে, তার সেই ঈমানই ধার্মিকতা বলে পরিগণিত হয়।
6 এইভাবে দাউদও সেই ব্যক্তিকে ধন্য বলে উল্লেখ করেছেন, যাকে আল্লাহ্ কোন কাজ ছাড়াই ধার্মিক বলে বিবেচনা করেন, যথা—
7
“ধন্য তারা যাদের অধর্ম মাফ করা হয়েছে,
যাদের গুনাহ্ আচ্ছাদিত হয়েছে;
8
ধন্য সেই ব্যক্তি যার পক্ষে প্রভু গুনাহ্ গণনা করেন না”।
9
ভাল, এই ‘ধন্য’ শব্দ কি খৎনা-করানো লোকের প্রতি বর্তে, না খৎনা-না-করানো লোকের প্রতিও বর্তে? কারণ আমরা বলি, ইব্রাহিমের ঈমানের জন্যই তাঁকে ধার্মিক বলে গণনা করা হয়েছিল।
10 কোন্ অবস্থায় তিনি ধার্মিক গণিত হয়েছিল? খৎনা-করানো অবস্থায়, নাকি খৎনা-না-করানো অবস্থায়? খৎনা-করানো অবস্থায় নয়, কিন্তু খৎনা-না-করানো অবস্থায়।
11 আর তিনি যে খৎনা-চিহ্ন পেয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর ঈমানের ধার্মিকতার চিহ্ন, যে ঈমান খৎনা-না-করানো অবস্থায় থাকতেও তাঁর ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল এই, যেন খৎনা-না-করানো অবস্থায় যারা ঈমান আনে, তিনি তাদের সকলের পিতা হন, যেন তাদের পক্ষে সেই ধার্মিকতা গণনা করা হয়;
12 আর যেন খৎনা-করানো লোকদেরও পিতা হন; অর্থাৎ যারা খৎনা-করানো কেবল তাদের নয়, কিন্তু খৎনা-না-করানো অবস্থায় আমাদের পিতা ইব্রাহিমের যে ঈমান ছিল, যারা তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করে তিনি তাদেরও পিতা।
13
কারণ শরীয়ত দ্বারা নয়, কিন্তু ঈমানের ধার্মিকতা দ্বারা ইব্রাহিম বা তাঁর বংশের কাছে দুনিয়ার উত্তরাধিকারী হবার ওয়াদা করা হয়েছিল।
14 কেননা যারা শরীয়ত পালন করে, তারাই যদি উত্তরাধিকারী হয়, তবে ঈমানকে নিরর্থক করা হল এবং সেই ওয়াদাকে নিষ্ফল করা হল।
15 শরীয়ত তো আল্লাহ্র গজবকে ডেকে নিয়ে আসে; কিন্তু যেখানে শরীয়ত নেই, সেখানে শরীয়ত লঙ্ঘন করার প্রশ্নও নেই।
16
এজন্য প্রতিজ্ঞা ঈমানের মধ্য দিয়ে আসে, যেন তা রহমতের দান অনুসারে গ্রহণ করা হয়। অভিপ্রায় এই যে, যেন এই প্রতিজ্ঞা সমস্ত বংশের পক্ষে, শুধু শরীয়ত অবলম্বনকারীদের পক্ষে নয়, কিন্তু ইব্রাহিমের মত একই ঈমানে ঈমানদার তাদের পক্ষে অটল থাকে; কেননা তিনি আমাদের সকলের পিতা,
17 যেমন লেখা আছে, “আমি তোমাকে বহুজাতির পিতা করলাম,” সেই আল্লাহ্র সাক্ষাতেই তিনি আমাদের সকলের পিতা, যাঁকে তিনি বিশ্বাস করলেন, যিনি মৃতদেরকে জীবন দেন এবং যা নেই, তা আছে বলে ঘোষণা করেন।
18 প্রত্যাশা না থাকলেও ইব্রাহিম প্রত্যাশা-যুক্ত হয়ে ঈমান আনলেন, যেন ‘তোমার বংশধরেরা আসমানের তারার মত অসংখ্য হবে,’ এই কালাম অনুসারে তিনি বহুজাতির পিতা হন।
19 আর ঈমানে দুর্বল না হয়ে, তাঁর বয়স প্রায় শত বছর হলেও, তিনি তাঁর নিজের মৃতকল্প শরীর এবং সারার গর্ভের মৃত-কল্পতাও টের পেলেন বটে,
20 তবুও আল্লাহ্র প্রতিজ্ঞার প্রতি লক্ষ্য করে অবিশ্বাস-বশত সন্দেহ করলেন না; কিন্তু ঈমানে বলবান হলেন, আল্লাহ্র গৌরব করলেন,
21 এবং নিশ্চয় জানলেন, আল্লাহ্ যা প্রতিজ্ঞা করেছেন, তা সফল করতে সমর্থও আছেন।
22 আর এই কারণে তা তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণিত হল।
23 তাঁর পক্ষে গণিত হল, তা যে কেবল তাঁর জন্য লেখা হয়েছে, এমন নয়, কিন্তু আমাদেরও জন্য লেখা হয়েছে।
24 আমাদের পক্ষেও তা গণিত হবে, কেননা যিনি আমাদের প্রভু ঈসাকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, আমরা তাঁর উপরে ঈমান এনেছি।
25 সেই ঈসা আমাদের অপরাধের জন্য সমর্পিত হলেন এবং আমাদের ধার্মিক গণনা করার জন্য পুনরুত্থিত হলেন।
1
অতএব ঈমানের মধ্য দিয়ে ধার্মিক পরিগণিত হওয়াতে আমাদের ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্র সঙ্গে আমাদের শান্তি স্থাপিত হয়েছে;
2 আর তাঁরই দ্বারা আমরা ঈমানের মধ্য দিয়ে এই রহমতের মধ্যে প্রবেশ করেছি, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি এবং আল্লাহ্র মহিমার প্রত্যাশায় গর্ব বোধ করছি।
3 কেবল তা নয়, কিন্তু নানা রকম দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও গর্ব বোধ করছি, কারণ আমরা জানি দুঃখ-কষ্ট ধৈর্যকে,
4 ধৈর্য পরীক্ষাসিদ্ধতাকে এবং পরীক্ষাসিদ্ধতা প্রত্যাশাকে উৎপন্ন করে।
5 আর প্রত্যাশা লজ্জার কারণ হয় না, যেহেতু আমাদেরকে দেওয়া পাক-রূহ্ দ্বারা আল্লাহ্র মহব্বত আমাদের অন্তরে সেচন করা হয়েছে।
6
কেননা যখন আমরা শক্তিহীন ছিলাম, তখন মসীহ্ উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের জন্য প্রাণ দিলেন।
7 বস্তুত ধার্মিকের জন্য প্রায় কেউ প্রাণ দেবে না, সজ্জন ব্যক্তির জন্য হয় তো কেউ সাহস করে প্রাণ দিলেও দিতে পারে।
8 কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের প্রতি তাঁর নিজের মহব্বত দেখিয়েছেন; কারণ আমরা যখন গুনাহ্গার ছিলাম, তখনও মসীহ্ আমাদের জন্য প্রাণ দিলেন।
9 সুতরাং সমপ্রতি তাঁর রক্তে যখন ধার্মিক গণিত হয়েছি, তখন আমরা কত সুনিশ্চিত যে, তাঁর দ্বারা আল্লাহ্র আজাব থেকে রেহাই পাব।
10 কেননা যখন আমরা আল্লাহ্র দুশমন ছিলাম, তখন আল্লাহ্র সঙ্গে তাঁর পুত্রের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সম্মিলিত হলাম। এভাবে সম্মিলিত হয়েছি বলে এটা কত বেশি নিশ্চয় যে, তাঁর জীবনের মধ্য দিয়ে নাজাত পাব।
11 কেবল তা নয়, কিন্তু আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ দ্বারা আল্লাহ্কে নিয়ে গর্ব বোধ করে থাকি, যাঁর মাধ্যমে এখন আমরা সেই সম্মিলন লাভ করেছি।
12
অতএব যেমন এক জন মানুষের মধ্য দিয়ে গুনাহ্ ও গুনাহ্ দ্বারা মৃত্যু দুনিয়াতে প্রবেশ করলো; আর এইভাবে মৃত্যু সকল মানুষের কাছে উপস্থিত হল, কেননা সকলেই গুনাহ্ করলো —
13 কারণ শরীয়তের আগেও দুনিয়াতে গুনাহ্ ছিল; কিন্তু শরীয়ত না থাকলে গুনাহ্কে গুনাহ্ বলে ধরা হয় না।
14 তবুও যারা আদমের মত হুকুম লঙ্ঘন করে গুনাহ্ করে নি, আদম থেকে মূসা পর্যন্ত তাদের উপরেও মৃত্যু রাজত্ব করছিল। আর যাঁর আগমনের কথা ছিল, আদম ছিলেন তাঁরই প্রতিচ্ছবি।
15
কিন্তু অপরাধ যেরকম, রহমতের দানটি সেরকম নয়। কেননা সেই একের অপরাধে যখন অনেকে মারা গেল, তখন আল্লাহ্র রহমত এবং আর এক ব্যক্তির— ঈসা মসীহের— রহমতে প্রদত্ত দান, অনেকের প্রতি আরও বেশি পরিমাণে উপচে পড়লো।
16 আর এক ব্যক্তি গুনাহ্ করাতে যেমন ফল হল, এই দান তেমন নয়; কেননা বিচার এক ব্যক্তি থেকে দণ্ডাজ্ঞা পর্যন্ত, কিন্তু রহমতের দান অনেক অপরাধ থেকে ধার্মিক-গণনা পর্যন্ত।
17 কারণ সেই একজনের অপরাধে যখন সেই একজনের দ্বারা মৃত্যু রাজত্ব করলো, তখন সেই আর এক জন ব্যক্তি অর্থাৎ, ঈসা মসীহ্ দ্বারা, যারা রহমতের ও ধার্মিকতা দানের উপচয় পায়, তারা কত বেশি সুনিশ্চিত জীবনে রাজত্ব করবে।
18
অতএব যেমন একটি অপরাধ দ্বারা সকল মানুষের কাছে দণ্ডাজ্ঞা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হল, তেমনি ধার্মিকতার একটি কাজ দ্বারা সকল মানুষের কাছে জীবনদায়ক ধার্মিক-গণনা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হল।
19 কারণ যেমন সেই একজনের অবাধ্যতার ফলে অনেককে গুনাহ্গার বলে ধরা হল, তেমনি সেই আর এক ব্যক্তির বাধ্যতা দ্বারা অনেককে ধার্মিক বলে ধরা হবে।
20 আর শরীয়ত এর পরে পাশে উপস্থিত হল, যেন অপরাধের পরিমাণ বাড়ে; কিন্তু যেখানে গুনাহ্র পরিমাণ বেড়ে গেল, সেখানে রহমত আরও উপচে পড়লো;
21 যেন গুনাহ্ যেমন মৃত্যুতে রাজত্ব করেছিল, তেমনি আবার রহমত ধার্মিকতা দ্বারা রাজত্ব করে, যেন আমাদের প্রভু ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবনের দিকে পরিচালিত করে।
1
তবে কি বলবো? রহমতের বৃদ্ধি যেন হয় এজন্য কি গুনাহে লিপ্ত থাকব? নিশ্চয় তা নয়।
2 আমরা তো গুনাহ্র কাছে মৃত্যুবরণ করেছি, তবে আমরা কিভাবে আবার গুনাহ্র মধ্যে জীবন যাপন করবো?
3 অথবা তোমরা কি জান না যে, আমরা যত লোক মসীহ্ ঈসাতে বাপ্তিস্ম নিয়েছি, সকলে তাঁর মৃত্যুর মধ্যে বাপ্তিস্ম নিয়েছি?
4 অতএব আমরা তাঁর মৃত্যুর মধ্যে বাপ্তিস্ম দ্বারা তাঁর সঙ্গে সমাধিপ্রাপ্ত হয়েছি; যেন, মসীহ্ যেমন পিতার মহিমা দ্বারা মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত হলেন, তেমনি আমরাও জীবনের নতুনতায় চলি।
5
কেননা যখন আমরা তাঁর মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁর সঙ্গে একীভূত হয়েছি, তখন অবশ্য পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও হব।
6 আমরা তো এই কথা জানি যে, আমাদের পুরানো সত্তা তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে, যেন গুনাহের এই দেহ শক্তিহীন হয়, যাতে আমরা গুনাহ্র গোলাম আর না থাকি।
7 কেননা যে মরেছে সে গুনাহ্ থেকে মুক্ত হয়েছে।
8 আর আমরা যখন মসীহের সঙ্গে মরেছি, তখন বিশ্বাস করি যে, তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব।
9 কারণ আমরা জানি, মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন বলে মসীহ্ আর কখনও মরবেন না, তাঁর উপরে মৃত্যুর আর কর্তৃত্ব নেই।
10 ফলত তাঁর যে মৃত্যু হয়েছে, তা দ্বারা তিনি গুনাহ্র সম্বন্ধে একবারই মরলেন এবং তাঁর যে জীবন আছে, তা দ্বারা তিনি আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে জীবিত আছেন।
11 তেমনি তোমরাও তোমাদেরকে গুনাহ্র কাছে মৃত, কিন্তু মসীহ্ ঈসাতে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে জীবিত বলে মনে কর।
12
অতএব গুনাহ্ তোমাদের মৃত্যুর অধীন দেহে কর্তৃত্ব না করচক— করলে তোমরা তার অভিলাষগুলোর বাধ্য হয়ে পড়বে;
13 আর নিজ নিজ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অধার্মিকতার অস্ত্র হিসেবে গুনাহ্র কাছে তুলে দিও না, কিন্তু নিজেদেরকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত জেনে আল্লাহ্র হাতে তুলে দাও এবং নিজ নিজ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধার্মিকতার অস্ত্র হিসেবে আল্লাহ্কে দিয়ে দাও।
14 কেননা গুনাহ্ তোমাদের উপরে আর কর্তৃত্ব করবে না; কারণ তোমরা শরীয়তের অধীন নও, কিন্তু রহমতের অধীন।
15
তবে দাঁড়াল কি? আমরা শরীয়তের অধীন নই, রহমতের অধীন, এজন্য কি গুনাহ্ করবো? নিশ্চয় তা নয়।
16 তোমরা কি জান না যে, হুকুম পালন করার জন্য যার কাছে গোলাম হিসেবে নিজদেরকে তুলে দেও, যার হুকুম মান, তোমরা তারই গোলাম; হয় মৃত্যুজনক গুনাহ্র গোলাম, নয় ধার্মিকতাজনক হুকুম পালনের গোলাম?
17 কিন্তু আল্লাহ্র শুকরিয়া হোক যে, তোমরা গুনাহ্র গোলাম ছিলে বটে, কিন্তু যে শিক্ষা তোমাদের দেওয়া হয়েছে তোমরা সর্বান্তঃকরণের সঙ্গে সেই শিক্ষার বাধ্য হয়েছ;
18 এবং গুনাহ্ থেকে মুক্ত হয়ে তোমরা ধার্মিকতার গোলাম হয়েছ।
19 মানুষের দুর্বলতার দরুন আমি মানুষের মত কথা বলছি। কারণ, তোমরা যেমন আগে অধর্মের লক্ষ্যে নিজ নিজ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাপাকীতা ও অধর্মের কাছে গোলাম হিসেবে তুলে দিয়েছিলে, তেমনি এখন পবিত্রতার লক্ষ্যে নিজ নিজ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধার্মিকতার কাছে গোলাম হিসেবে তুলে দাও।
20
কেননা যখন তোমরা গুনাহ্র গোলাম ছিলে, তখন ধার্মিকতার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত ছিলে।
21 ভাল, এখন যে সমস্ত বিষয়ে তোমাদের লজ্জা বোধ হয়, সেই সময়ে সেসবে তোমাদের কি ফল হত? বাস্তবিক সেসব কিছুর শেষ ফল হল মৃত্যু।
22 কিন্তু এখন গুনাহ্ থেকে মুক্ত হয়ে এবং আল্লাহ্র গোলাম হয়ে তোমরা পবিত্রতার জন্য ফল পাচ্ছ এবং তার শেষ ফল হল অনন্ত জীবন।
23 কেননা গুনাহ্র বেতন মৃত্যু; কিন্তু আল্লাহ্র মেহেরবানী-দান আমাদের প্রভু ঈসা মসীহেতে অনন্ত জীবন।
1
হে ভাইয়েরা, তোমরা কি জান না— কারণ যারা শরীয়ত জানে, আমি তাদেরকেই বলছি— মানুষ যত কাল জীবিত থাকে, তত কাল পর্যন্ত শরীয়তের দাবী তার উপরে থাকে?
2 কারণ যত দিন স্বামী জীবিত থাকে, তত দিন সধবা স্ত্রী নিয়ম দ্বারা তার কাছে আবদ্ধ থাকে; কিন্তু স্বামী ইন্তেকাল করলে পর সেই আইনের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়।
3 সুতরাং যদি সে স্বামী জীবিত থাকতে অন্য পুরুষের সঙ্গে বাস করে, তবে জেনাকারিণী বলে আখ্যাত হবে; কিন্তু স্বামীর মৃত্যু হলে সে ঐ আইন থেকে মুক্ত হয় এবং অন্য কাউকে বিয়ে করলেও জেনাকারীণী হবে না।
4
অতএব, হে আমার ভাইয়েরা, মসীহের দেহ দ্বারা শরীয়ত সম্বন্ধে তোমাদের মৃত্যু হয়েছে, যেন তোমরা অন্যের হও— যিনি মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত হয়েছেন তাঁরই হও; যেন আমরা আল্লাহ্র জন্য ফল উৎপন্ন করি।
5 কেননা যখন আমরা গুনাহ্-স্বভাবের বশে ছিলাম, তখন শরীয়ত হেতু গুনাহ্-বাসনাগুলো মৃত্যুর নিমিত্ত ফল উৎপন্ন করার জন্য আমাদের শরীরের মধ্যে কাজ করতো।
6 কিন্তু এখন আমরা শরীয়ত থেকে মুক্ত হয়েছি; কেননা যাতে আবদ্ধ ছিলাম তার কাছে মরেছি, যেন লিখিত পুরানো শরীয়তের অধীনে নয় কিন্তু রূহের নতুনতায় গোলামীর কাজ করি।
7
তবে কি বলবো? শরীয়ত কি গুনাহ্? কোন ক্রমেই নয়; বরং গুনাহ্ কি, তা আমি জানতাম না, কেবল শরীয়ত দ্বারা তা জানতে পেরেছি; কেননা “লোভ করো না,” এই কথা যদি শরীয়ত না বলতো তবে লোভ কি তা জানতাম না।
8 কিন্তু গুনাহ্ সুযোগ পেয়ে সেই হুকুম দ্বারা আমার অন্তরে সব রকম লোভ জাগিয়ে তুলল; কেননা শরীয়ত ছাড়া গুনাহ্ মৃত থাকে।
9 আর আমি এক সময়ে শরীয়ত ছাড়া জীবিত ছিলাম, কিন্তু সেই হুকুম আসলে পর গুনাহ্ জীবিত হয়ে উঠলো, আর আমি মরলাম;
10 এবং জীবনজনক যে হুকুম, তা আমার মৃত্যুজনক বলে দেখা দিল।
11 ফলত গুনাহ্ সুযোগ পেয়ে হুকুম দ্বারা আমার সঙ্গে প্রবঞ্চনা করলো ও তা দ্বারা আমার মৃত্যু ঘটাল।
12 অতএব শরীয়ত পবিত্র এবং হুকুমও পবিত্র, ন্যায্য ও উত্তম।
13
তবে যা উত্তম, তা-ই কি আমার মৃত্যুস্বরূপ হল? নিশ্চয় তা নয়। বরং গুনাহ্ই তা করলো, যা উত্তম তা দ্বারা আমার মৃত্যু হল যেন গুনাহ্ যে সত্যিই গুনাহ্ তা প্রকাশ পায়, যেন হুকুম দ্বারা গুনাহ্ অতি মাত্রায় বৃদ্ধি লাভ করে।
14
কারণ আমরা জানি, শরীয়ত রূহানিক, কিন্তু আমি রক্ত-মাংসের বলে গুনাহ্র অধীনে আমাকে বিক্রি করা হয়েছে।
15 কারণ আমি যে কি করি তা নিজেই বুঝি না; কেননা আমি যা ইচ্ছা করি, তা-ই যে কাজে করি, এমন নয়, বরং যা ঘৃণা করি, তা-ই করি।
16 কিন্তু আমি যা ইচ্ছা করি না, তা-ই যখন করি, তখন শরীয়ত যে উত্তম, তা স্বীকার করি।
17 তা হলে দেখা যায়, এই রকম কাজ আমি নিজে থেকে করি না, কিন্তু আমার মধ্যে বাসকারী গুনাহ্ তা করাচ্ছে।
18 যেহেতু আমি জানি যে আমাতে, অর্থাৎ আমার দেহে, উত্তম কিছুই বাস করে না; উত্তম কাজ করতে আমার ইচ্ছা আছে বটে কিন্তু তা করতে পারি না।
19 কেননা আমি যা ইচ্ছা করি, সেই উত্তম কাজ করি না; কিন্তু মন্দ, যা করতে ইচ্ছা করি না, সেসব কাজই করি।
20 পরন্তু যা আমি ইচ্ছা করি না, তা যদি করি, তবে তা আর আমি করছি না, কিন্তু আমার মধ্যে বসবাসকারী গুনাহ্ তা করাচ্ছে।
21
অতএব আমি এই নিয়ম দেখতে পাচ্ছি যে, সৎকর্ম করতে ইচ্ছা করলেও মন্দ আমার কাছে উপস্থিত হয়।
22 বস্তুত অন্তরতম সত্তার ভাব অনুসারে আমি আল্লাহ্র শরীয়তে আমোদ করি।
23 কিন্তু আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অন্য রকম এক নিয়ম দেখতে পাচ্ছি; তা আমার মনের নিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং গুনাহ্র যে নিয়ম আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আছে, আমাকে তার বন্দী গোলাম করে রাখে।
24 কি দুর্ভাগা মানুষ আমি! এই মৃত্যুর দেহ থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে?
25 আমাদের ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে আমি আল্লাহ্র শুকরিয়া করি! অতএব আমি মনের দিক দিয়ে আল্লাহ্র শরীয়তের গোলামী করি, কিন্তু দেহের দিক দিয়ে গুনাহের নিয়মের গোলামী করি।
1
অতএব এখন, যারা মসীহ্ ঈসাতে আছে তাদের প্রতি কোন দণ্ডাজ্ঞা নেই।
2 কেননা মসীহ্ ঈসাতে জীবনদাতা পাক-রূহের যে নিয়ম, তা আমাকে গুনাহ্ ও মৃত্যুর নিয়ম থেকে মুক্ত করেছে।
3 কারণ শরীয়ত মানুষের গুনাহ্-স্বভাবের দরুন দুর্বল হওয়াতে যা করতে পারে নি, আল্লাহ্ নিজে তা করেছেন, নিজের পুত্রকে মানুষের মত গুনাহ্-স্বভাব দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন এবং তাঁর পুত্রকে গুনাহ্-কোরবানী হিসেবে পাঠিয়ে দিয়ে দৈহিকভাবে গুনাহ্র দণ্ডাজ্ঞা করেছেন,
4 যেন আমরা যারা গুনাহ্-স্বভাবের বশে নয়, কিন্তু পাক-রূহের বশে চলছি, শরীয়তের দাবী-দাওয়া আমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে।
5 কেননা যারা গুনাহ্-স্বভাবের বশে আছে, তারা দুনিয়ার বিষয় ভাবে; কিন্তু যারা পাক-রূহের বশে আছে, তারা রূহানিক বিষয় ভাবে।
6 কারণ গুনাহ্-স্বভাবের ইচ্ছামত যারা চলে তাদের ফল হল মৃত্যু, কিন্তু পাক-রূহের ইচ্ছামত যারা চলে তাদের ফল হল জীবন ও শান্তি।
7 কেননা গুনাহ্-স্বভাবের ইচ্ছামত চলা হল আল্লাহ্র প্রতি শত্রুতা, কারণ তা আল্লাহ্র শরীয়তের বশীভূত হয় না, বাস্তবিক হতে পারেও না।
8 আর যারা গুনাহ্-স্বভাবের অধীনে থাকে, তারা আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
9
কিন্তু তোমরা গুনাহ্-স্বভাবের অধীনে নও, পাক-রূহের অধীনে রয়েছ, অবশ্য যদি আল্লাহ্র রূহ্ তোমাদের মধ্যে বাস করেন। কিন্তু মসীহের রূহ্ যার অন্তরে নেই, সে মসীহের নয়।
10 আর যদি মসীহ্ তোমাদের মধ্যে থাকেন, তবে যদিও দেহ গুনাহ্র কারণে মৃত, কিন্তু রূহ্ ধার্মিকতার কারণে জীবন্ত।
11 আর যিনি মৃতদের মধ্য থেকে ঈসাকে উঠালেন, তাঁর রূহ্ যদি তোমাদের মধ্যে বাস করেন, তবে যিনি মৃতদের মধ্য থেকে মসীহ্ ঈসাকে উঠালেন, তিনি তোমাদের অন্তরে বাসকারী আপন রূহ্ দ্বারা তোমাদের মৃত্যুর অধীন দেহকেও জীবিত করবেন।
12
অতএব হে ভাইয়েরা, আমরা ঋণী, কিন্তু গুনাহ্-স্বভাবের কাছে নয় যে, গুনাহ্-স্বভাবের বশে জীবন যাপন করবো।
13 কারণ যদি গুনাহ্-স্বভাবের বশে জীবন যাপন কর তবে তোমরা নিশ্চয় মরবে, কিন্তু যদি পাক-রূহের দ্বারা দেহের ক্রিয়াগুলো ধ্বংস কর তবে জীবিত থাকবে।
14 কেননা যত লোক আল্লাহ্র রূহ্ দ্বারা চালিত হয়, তারাই আল্লাহ্র সন্তান।
15 বস্তুত তোমরা গোলামীর রূহ্ পাও নি যার জন্য ভয় করবে; কিন্তু দত্তক পুত্রের রূহ্ পেয়েছ, যে রূহে আমরা আল্লাহ্কে আব্বা, পিতা, বলে ডাকি।
16 পাক-রূহ্ নিজেও আমাদের রূহের সঙ্গে এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমরা আল্লাহ্র সন্তান।
17 আর যখন সন্তান, তখন উত্তরাধিকারী, আল্লাহ্র উত্তরাধিকারী ও মসীহের সহ-উত্তরাধিকারী— যদি বাস্তবিক আমরা তাঁর সঙ্গে দুঃখভোগ করি তবে তাঁর সঙ্গে মহিমান্বিতও হব।
18
কারণ আমার বিবেচনা এই, আমাদের প্রতি যে মহিমা প্রকাশিত হবে, তার সঙ্গে এই বর্তমান কালের দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়।
19 কেননা সমস্ত সৃষ্টি ঐকান্তিক-ভাবে প্রতীক্ষা করছে কখন আল্লাহ্র সন্তানেরা প্রকাশিত হবে।
20 কারণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যই বিফল হয়ে গেছে; অবশ্য স্বেচ্ছায় যে তা হয়েছে তা নয়, কিন্তু আল্লাহ্ই তা বিফলতার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
21 এই প্রত্যাশায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যে, সৃষ্টি নিজেও যেন ক্ষয়ের গোলামী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ্র সন্তানদের মহিমার স্বাধীনতার অংশীদার হতে পারে।
22 কারণ আমরা জানি, সমস্ত সৃষ্টি এখন পর্যন্ত একসঙ্গে ভীষণ প্রসব-বেদনায় আর্তনাদ করছে।
23 কেবল তা নয়; কিন্তু রূহ্রূপ অগ্রিমাংশ পেয়েছি যে আমরা, আমরা নিজেরাও দত্তকপুত্রতার অপেক্ষা, অর্থাৎ নিজ নিজ দেহের মুক্তির অপেক্ষা করতে করতে অন্তরে আর্তনাদ করছি।
24 কেননা প্রত্যাশায় আমরা নাজাত পেয়েছি; কিন্তু দৃষ্টিগোচর যে প্রত্যাশা, তা প্রত্যাশাই নয়। কেননা যে যা দেখতে পায়, সে তার জন্য কেন প্রত্যাশা করবে?
25 কিন্তু আমরা যা দেখতে পাই না, যদি তার প্রত্যাশা করি, তবে ধৈর্য সহকারে তার অপেক্ষায় থাকি।
26
আর সেভাবে পাক-রূহ্ও আমাদের দুর্বলতায় সাহায্য করেন; কেননা যেভাবে মুনাজাত করা উচিত সেভাবে মুনাজাত করতে জানি না, কিন্তু পাক-রূহ্ নিজে অব্যক্ত আর্তনাদ দ্বারা আমাদের পক্ষে অনুরোধ করেন।
27 আর আল্লাহ্, যিনি সকলের অন্তর অনুসন্ধান করেন, তিনি পাক-রূহের মনের কথা জানেন, কারণ তিনি পবিত্র লোকদের পক্ষে আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুসারেই অনুরোধ করেন।
28
আর আমরা জানি, যারা আল্লাহ্কে মহব্বত করে, যারা তাঁর সঙ্কল্প অনুসারে আহ্বান পেয়েছ, তাদের পক্ষে সকলই মঙ্গলার্থে একসঙ্গে কাজ করছে।
29 কারণ তিনি যাদের আগে জানলেন, তাদের আপন পুত্রের প্রতিমূর্তির অনুরূপ হবার জন্য আগে নিরূপণও করলেন; যেন ইনি অনেক ভাইয়ের মধ্যে প্রথমজাত হন।
30 আর তিনি যাদেরকে আগে নির্ধারণ করলেন, তাদেরকে আহ্বানও করলেন, আর যাদেরকে আহ্বান করলেন, তাদেরকে ধার্মিক প্রতিপন্ন করলেন; আর যাদেরকে ধার্মিক প্রতিপন্ন করলেন, তাদেরকে মহিমান্বিতও করলেন।
31
এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কি বলবো? আল্লাহ্ যখন আমাদের সপক্ষ, তখন আমাদের বিপক্ষ কে?
32 যিনি নিজের পুত্রের প্রতি মমতা করলেন না, কিন্তু আমাদের সকলের জন্য তাঁকে মৃত্যুর হাতে তুলে দিলেন, তিনি কি তাঁর সঙ্গে সব কিছুই আমাদেরকে দান করবেন না?
33 আল্লাহ্র মনোনীতদের বিপক্ষে কে অভিযোগ করবে? আল্লাহ্ তো তাদেরকে ধার্মিক করেন; কে দোষী করবে?
34 মসীহ্ ঈসা তো মৃত্যুবরণ করলেন এবং পুনরুত্থিতও হলেন; আর তিনিই আল্লাহ্র ডান পাশে আছেন এবং আমাদের পক্ষে অনুরোধ করছেন।
35 মসীহের মহব্বত থেকে কে আমাদের পৃথক করবে? দুঃখ-কষ্ট বা সঙ্কট? বা নির্যাতন? বা দুর্ভিক্ষ? বা উলঙ্গতা? বা প্রাণ-সংশয়? বা তলোয়ার?
36 যেমন লেখা আছে, “তোমার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত নিহত হচ্ছি; আমরা জবেহ্ করতে নেওয়া ভেড়ার মত হলাম।”
37 কিন্তু যিনি আমাদেরকে মহব্বত করেছেন, তাঁরই দ্বারা আমরা এসব বিষয়ে বিজয়ীর চেয়েও বেশি বিজয়ী হই।
38 কেননা আমি নিশ্চয় জানি, মৃত্যু, বা জীবন, বা ফেরেশতারা, বা আধিপত্যগুলো, বা উপস্থিত বিষয়গুলো, বা ভাবী বিষয়গুলো, বা পরাক্রমগুলো,
39 বা ঊর্ধ্ব স্থান, বা গভীর স্থান, বা অন্য কোন সৃষ্ট বস্তু, কিছুই আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসাতে অবস্থিত আল্লাহ্র মহব্বত থেকে আমাদেরকে পৃথক করতে পারবে না।
1
আমি মসীহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সত্যি বলছি, মিথ্যা বলছি না, আমার বিবেকও পাক-রূহের দ্বারা নিশ্চিত করছে যে,
2 আমার অন্তরে গভীর দুঃখ ও অশেষ যাতনা হচ্ছে।
3 কেননা আমার ভাইদের জন্য, যারা দৈহিক দিক দিয়ে আমার স্বজাতীয়, তাদের জন্য আমিই যেন মসীহের কাছ থেকে পৃথক হয়ে বদদোয়ার পাত্র হই, এমন কামনা করতে পারতাম।
4 কারণ তারা ইসরাইলীয়; দত্তক পুত্রের অধিকার, মহিমা, নিয়ম-কানুন, শরীয়তদান, এবাদত ও প্রতিজ্ঞাগুলো তাদেরই,
5 পূর্বপুরুষেরা তাদের এবং দৈহিক দিক দিয়ে তাদেরই মধ্য থেকে মসীহ্, যিনি সকল কিছুর উপরে, তিনি এসেছেন। আল্লাহ্ যুগে যুগে ধন্য, আমিন।
6
কিন্তু আল্লাহ্র কালাম যে বিফল হয়ে পড়েছে, এমন নয়; কারণ যারা ইসরাইল জাতির মধ্যে জন্মেছে, তারা সকলেই যে সত্যিকারের ইসরাইলীয় তা নয়;
7 আর ইব্রাহিমের বংশজাত বলে তারা যে সকলেই তাঁর সত্যিকারের সন্তান তাও নয়, কিন্তু “ইস্হাকেই তোমার বংশ আখ্যাত হবে।”
8 এর অর্থ এই, যারা গুনাহ্-স্বভাবের সন্তান, তারা যে আল্লাহ্র সন্তান, এমন নয়, কিন্তু প্রতিজ্ঞার সন্তানেরাই ইব্রাহিমের বংশ বলে পরিগণিত হয়।
9 কেননা প্রতিজ্ঞায় এই কথা বলা হয়েছে— “এই ঋতুতেই আমি আসব, তখন সারার একটি পুত্র হবে।”
10 কেবল তা নয়, কিন্তু আবার রেবেকা এক ব্যক্তি হতে— আমাদের পূর্বপুরুষ ইস্হাক হতে গর্ভবতী হলে পর,
11 যখন সন্তানেরা ভূমিষ্ঠ হয় নি এবং ভাল-মন্দ কিছুই করে নি, তখনও যেন আল্লাহ্র নির্বাচনের উদ্দেশ্য চলতে থাকে এবং তা কর্ম হেতু নয়, কিন্তু যিনি আহ্বান করেছেন তাঁর ইচ্ছা হেতু,
12 তাঁকে বলা হয়েছিল, “জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠের গোলাম হবে”
13 যেমন লেখা আছে, “আমি ইয়াকুবকে মহব্বত করেছি, কিন্তু ইস্কে অগ্রাহ্য করেছি।”
14
তবে আমরা কি বলবো? আল্লাহ্ কি অন্যায় করেছেন? তা নিশ্চয় না।
15 কারণ তিনি মূসাকে বলেন, “আমি যাকে করুণা করি, তাকে করুণা করবো; ও যার প্রতি মমতা করি, তার প্রতি মমতা করবো।”
16 অতএব এটা কোন মানুষের ইচ্ছা বা চেষ্টার ফলে হয় না, কিন্তু করুণাময় আল্লাহ্ থেকে হয়।
17 কেননা পাক-কিতাব ফেরাউনকে বলে, “আমি এজন্যই তোমাকে বাদশাহ্ করেছি, যেন তোমার মধ্য দিয়ে আমার পরাক্রম দেখাই, আর যেন সারা দুনিয়াতে আমার নাম ঘোষিত হয়।”
18 অতএব তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে করুণা করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার অন্তর কঠিন করেন।
19
এতে তুমি আমাকে বলবে, তবে তিনি আবার দোষ ধরেন কেন? কারণ তাঁর ইচ্ছার প্রতিরোধ কে করে?
20 হে মানুষ, বরং তুমি কে যে আল্লাহ্র প্রতিবাদ করছো? নির্মিত বস্তু কি নির্মাতাকে বলতে পারে, আমাকে এরকম করে কেন তৈরি করলে?
21 কিংবা কাদার উপরে কুমারের কি এমন অধিকার নেই যে, একই মাটির তাল থেকে একটি সমাদরের পাত্র, আর একটা অনাদরের পাত্র গড়তে পারে?
22 আর তাতেই বা কি— যদি আল্লাহ্ তাঁর গজব দেখাবার ও তাঁর পরাক্রম জানবার ইচ্ছা করে বিনাশের জন্য নির্দিষ্ট গজবের পাত্রদের প্রতি বিপুল সহিষ্ণুতায় ধৈর্য ধরে থাকেন?
23 তিনি এজন্য তা করে থাকেন যেন সেই করুণার পাত্রদেরকে তাঁর মহিমা-ধন জানিয়ে দিতে পারেন, যাদেরকে মহিমার জন্য আগে প্রস্তুত করেছেন,
24 আর যাদেরকে আহ্বান করেছেন, কেবল ইহুদীদের মধ্য থেকে নয়, অ-ইহুদীদের মধ্য থেকে আমাদেরকেই করেছেন।
25 যেমন তিনি হোসিয়ার কিতাবে বলেন, “যারা আমার লোক নয়, তাদেরকে আমি নিজের লোক বলে ডাকব এবং যে প্রিয়তমা ছিল না তাকে প্রিয়তমা বলে ডাকব।
26 আর যে স্থানে তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘তোমরা আমার লোক নও,’ সেই স্থানে তাদেরকে বলা হবে ‘জীবন্ত আল্লাহ্র সন্তান’।
27
আর ইশাইয়া ইসরাইলের বিষয়ে এই কথা উচ্চৈঃস্বরে বলেন, “ইসরাইলের সন্তানদের সংখ্যা যদি সমুদ্রের বালুকণার মতও হয়, তবুও তার অবশিষ্ট অংশই নাজাত পাবে;
28 যেহেতু প্রভু দুনিয়ার উপর তাঁর বিচার দ্রুত সাধন করবেন এবং তা সমপূর্ণভাবেই করবেন।”
29 আর যেমন ইশাইয়া আগে বলেছিলেন, “বাহিনীগণের প্রভু যদি আমাদের জন্য কিছু বংশধর অবশিষ্ট না রাখতেন, তবে আমরা সাদুম ও আমুরার মত হতাম।”
30
তবে আমরা কি বলবো? অ-ইহুদীরা, যারা ধার্মিকতার জন্য কঠোরভাবে চেষ্ট করতো না, তারা ধার্মিকতা লাভ করেছে, ঈমানের মধ্য দিয়ে ধার্মিকতা লাভ করেছে;
31 কিন্তু ইসরাইল ধার্মিকতার শরীয়তের জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা করেও সেই শরীয়ত পর্যন্ত পৌঁছায় নি।
32 কারণ কি? কারণ হল তারা ঈমানের মধ্য দিয়ে সেই ধার্মিকতার জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা করে নি, কিন্তু কর্ম দ্বারা কঠোরভাবে চেষ্টা করতো।
33 তারা সেই বাধাজনক পাথরে বাধা পেল; যেমন লেখা আছে, “দেখ, আমি সিয়োনে একটি এমন পাথর স্থাপন করবো যাতে লোকে উচোট খায়, ও এমন একটি পাষাণ স্থাপন করবো যাতে লোকে বাধা পেয়ে পড়ে যায়। আর যে তাঁর উপরে ঈমান আনে সে লজ্জিত হবে না।”
1
ভাইয়েরা আমার হৃদয়ের একান্ত বাসনা এবং তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ এই, যেন তারা নাজাত পায়।
2 কেননা আমি তাদের পক্ষে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্র বিষয়ে তাদের গভীর আগ্রহ আছে, কিন্তু তা জ্ঞান অনুযায়ী নয়।
3 কেননা আল্লাহ্র কাছ থেকে যে ধার্মিকতা আসে তা তারা না জানায় এবং নিজের ধার্মিকতা স্থাপন করার চেষ্টা করায়, তারা আল্লাহ্র ধার্মিকতার প্রতি নিজেদের সমর্পণ করে নি;
4 কেননা মসীহ্ই শরীয়তের পরিণাম যেন তাঁর উপর যারা ঈমান আনে তাদের প্রত্যেককে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা যায়।
5
কারণ মূসা লিখেছেন, শরীয়ত পালনের মধ্য দিয়ে যে ধার্মিকতা আসে, যে ব্যক্তি সেই ধার্মিকতা অনুযায়ী চলে, সে শরীয়তের দ্বারাই জীবিত থাকবে।
6 কিন্তু ঈমানের মধ্য দিয়ে যে ধার্মিকতা তা এই রকম বলে, মনে মনে বলো না, ‘কে বেহেশতে আরোহণ করবে?’— অর্থাৎ মসীহ্কে নামিয়ে আনবার জন্য কে বেহেশতে আরোহণ করবে;— অথবা ‘কে পাতালে নামবে?’—
7 অর্থাৎ মৃতদের মধ্য থেকে মসীহ্কে উঠিয়ে আনবার জন্য কে পাতালে নামবে।
8 কিন্তু পাক-কিতাব কি বলে? ‘সেই বার্তা তোমার কাছে, তোমাদের মুখে ও তোমাদের অন্তরে রয়েছে,’ অর্থাৎ ঈমানেরই সেই বার্তা, যা আমরা তবলিগ করি।
9 কারণ তুমি যদি ‘মুখে’ ঈসাকে প্রভু বলে স্বীকার কর এবং ‘হৃদয়ে’ ঈমান আন যে, আল্লাহ্ তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপন করেছেন, তবেই তুমি নাজাত পাবে।
10 কারণ লোকে অন্তরে ঈমান আনে, ধার্মিকতার জন্য এবং মুখে স্বীকার করে, নাজাতের জন্য।
11 কেননা পাক-কিতাব বলে, “যে কেউ তাঁর উপরে ঈমান আনে, সে লজ্জিত হবে না।”
12 কারণ ইহুদী ও গ্রীকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই; কেননা সকলেরই একমাত্র প্রভু; যত লোক তাঁকে ডাকে, তাদের সকলের পক্ষে তিনি ধনবান।
13 কারণ “যে কেউ প্রভুর নামে ডাকে, সে নাজাত পাবে।”
14
তবে তারা যাঁর উপর ঈমান আনে নি, কেমন করে তাঁকে ডাকবে? আর যাঁর কথা শোনে নি, কেমন করে তাঁর উপর ঈমান আনবে? আর তবলিগকারী না থাকলে কেমন করে শুনবে?
15 আর কেউ না পাঠালে কেমন করে তবলিগ করবে? যেমন লেখা আছে, “যারা মঙ্গলের সুসমাচার তবলিগ করে, তাদের পা কেমন শোভা পায়।”
16 কিন্তু সকলে সুসমাচারের বাধ্য হয় নি। কারণ ইশাইয়া বলেন, “হে প্রভু, আমরা যা শুনেছি, তা কে বিশ্বাস করেছে?”
17 অতএব শুনবার মধ্য দিয়ে ঈমান আসে এবং মসীহের কালামের মধ্য দিয়ে তা শুনতে পাওয়া যায়।
18
কিন্তু আমি বলি, তারা কি শুনতে পায় নি? পেয়েছে বৈ কি! “তাদের আওয়াজ সারা দুনিয়াতে, তাদের কথা দুনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লো।”
19 কিন্তু আমি বলি, বনি-ইসরাইলরা কি বুঝতে পারে নি? প্রথমে মূসা বলেন, “যারা কোন জাতি নয় এমন লোকদের দ্বারা আমি তোমাদের অন্তর্জ্বালা জন্মাব; মূঢ় জাতি দ্বারা তোমাদের ক্রুদ্ধ করবো।”
20 আর ইশাইয়া খুব সাহসের সঙ্গে বলেন, “যারা আমার খোঁজ করে নি, তারা আমাকে পেয়েছে, যারা আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে নি, তাদেরকে দর্শন দিয়েছি।”
21 কিন্তু বনি-ইসরাইলদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সমস্ত দিন অবাধ্য ও বিদ্রোহী লোকবৃন্দের প্রতি হাত বাড়িয়ে ছিলাম।”
1
তবে আমি বলি, আল্লাহ্ কি তাঁর লোকদের ত্যাগ করেছেন? তা নিশ্চয় না; আমিও তো এক জন ইসরাইলীয়, ইব্রাহিমের বংশজাত, বিন্-ইয়ামীন গোষ্ঠীর লোক।
2 আল্লাহ্ তাঁর যে লোকদেরকে আগে থেকেই জানতেন তাদের ত্যাগ করেন নি। অথবা তোমরা কি জান না, ইলিয়াসের বিষয়ে পাক-কিতাব কি বলে? তিনি ইসরাইলের বিপক্ষে আল্লাহ্র কাছে এভাবে অনুরোধ করেছেন,
3 “প্রভু, তারা তোমার নবীদেরকে হত্যা করেছে, তোমার কোরবানগাহ্গুলো উৎপাটন করেছে, আর আমি একাই অবশিষ্ট আছি, আর তারা আমারও প্রাণ নিতে চেষ্টা করছে।”
4 কিন্তু আল্লাহ্ তাঁকে কি জবাব দিয়েছেন? “বাল দেবতার সম্মুখে যারা হাঁটু পাতে নি, এমন সাত হাজার লোককে আমি আমার জন্য অবশিষ্ট রেখেছি।”
5 একইভাবে এই বর্তমান কালেও অবশিষ্ট এক অংশ রয়েছে যাদের তিনি রহমতের মধ্য দিয়ে বেছে নিয়েছেন।
6 তা যখন রহমতের মধ্য দিয়েই হয়ে থাকে, তখন তা আর কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয় নি; নতুবা রহমত আর রহমত রইলো না।
7
তবে কি? বনি-ইসরাইল যার খোঁজ করছিল তা তারা পায় নি, কিন্তু আল্লাহ্ যাদের নির্বাচন করে রেখেছিলেন তারা তা পেয়েছে; অন্য সকলের অন্তর কঠিন হয়েছে,
8 যেমন লেখা আছে,
“আল্লাহ্ তাদেরকে জড়তার রূহ্ দিয়েছেন;
এমন চোখ দিয়েছেন, যা দেখতে পায় না;
এমন কান দিয়েছেন, যা শুনতে পায় না,
আজও পর্যন্ত।”
9
আর দাউদ বলেন,
“তাদের টেবিল তাদের জন্য ফাঁদ ও পাশস্বরূপ হোক,
তা বাধাজনক পাথর ও প্রতিফলস্বরূপ হোক।
10
তাদের চোখ অন্ধ হোক, যেন তারা দেখতে না পায়;
তুমি তাদের পিঠ সব সময় কুঁজো করে রাখ।”
11
তবে আমি বলি, তারা কি পতনের জন্য হোঁচট খেয়েছে? নিশ্চয় তা নয়; বরং তাদের পতনে অ-ইহুদীদের কাছে নাজাত উপস্থিত হয়েছে, যেন তাদের অন্তর্জ্বালা জন্মে।
12 ভাল, তাদের পতনে যখন দুনিয়ার ধনলাভ হল এবং তাদের ক্ষতিতে যখন অ-ইহুদীদের ধনলাভ হল, তখন তাদের পূর্ণতায় আরও কত না বেশি হবে?
13
কিন্তু হে অ-ইহুদীরা, তোমাদেরকে বলছি; অ-ইহুদীদের জন্য প্রেরিত বলে আমি নিজের পরিচর্যা-পদের গৌরব করছি;
14 যদি কোনভাবে আমার স্বজাতির লোকদের অন্তর্জ্বালা জন্মিয়ে তাদের মধ্যে কিছু লোককে নাজাত করতে পারি।
15 কারণ তাদের দূরীকরণে যখন আল্লাহ্র সঙ্গে দুনিয়ার সম্মিলন হল, তখন তিনি যখন ইহুদীদের গ্রহণ করবেন তখন কি মৃতদের জীবন লাভের মত অবস্থা হবে না?
16 আর অগ্রিমাংশ যদি পবিত্র হয় তবে সুজির তালও পবিত্র; এবং মূল যদি পবিত্র হয় তবে শাখা সকলও পবিত্র।
17
আর যদি কতগুলো ডাল ভেঙ্গে ফেলে তুমি বন্য জলপাই গাছের চারা হলেও তোমাকে সেই স্থানে কলম হিসেবে লাগান হয়, আর তুমি জলপাই গাছের রসের মূলের অংশী হও,
18 তবে সেই ভেঙ্গে ফেলা শাখাগুলোর বিরুদ্ধে অহংকার করো না। যদি অহংকার কর, তবে মনে রেখো, তুমি মূলকে ধারণ করছো না, কিন্তু মূলই তোমাকে ধারণ করছে।
19 এতে তুমি বলবে, আমাকে কলম হিসাবে লাগাবার জন্যই কতগুলো শাখা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
20 বেশ ভাল কথা, ঈমান না আনার ফলে ওদেরকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং ঈমানের মধ্য দিয়েই তুমি দাঁড়িয়ে আছ।
21 অহংকারী হয়ো না, বরং ভয় কর, কেননা আল্লাহ্ যখন সেই প্রকৃত শাখাগুলোকে রেহাই দেন নি, তখন তোমাকেও রেহাই দেবেন না।
22 অতএব আল্লাহ্র দয়ার ভাব ও কঠোর ভাব দেখ; যারা পড়ে গেছে, তাদের প্রতি কঠোর ভাব এবং তোমার প্রতি আল্লাহ্র দয়ার ভাব, যদি তুমি সেই মধুর দয়ার শরণাপন্ন থাক; নতুবা তোমাকেও কেটে ফেলা হবে।
23 আবার ওরা যদি ওদের অবিশ্বাস ত্যাগ করে, তবে ওদেরকেও লাগানো যাবে, কারণ আল্লাহ্ ওদের আবার লাগাতে সমর্থ আছেন।
24 বস্তুত যেটি স্বভাবত বন্য জলপাই গাছ, তোমাকে তা থেকে কেটে নিয়ে যখন স্বভাবের বিপরীতে উত্তম জলপাই গাছে লাগানো হয়েছে, তখন প্রকৃত শাখা যে ওরা, ওদেরকে নিজের জলপাই গাছে লাগানো যাবে, সেটি কত বেশি নিশ্চয়।
25
কারণ, ভাইয়েরা তোমরা যেন তোমাদের জ্ঞানে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে না কর, এজন্য আমি চাই না যে, তোমরা এই নিগূঢ়তত্ত্ব সম্বন্ধে অজ্ঞাত থাক। সেই নিগূঢ়-তত্ত্ব এই যে, ইসরাইলের একটি অংশের উপরে কঠিনতা ভর করে রয়েছে, যে পর্যন্ত অ-ইহুদীদের পূর্ণ সংখ্যা প্রবেশ না করে;
26 আর এইভাবে সমস্ত ইসরাইল নাজাত পাবে; যেমন লেখা আছে, “সিয়োন থেকে উদ্ধারকর্তা আসবেন; তিনি ইয়াকুব থেকে ভক্তিহীনতা দূর করবেন;
27 আর এ-ই তাদের পক্ষে আমার নিয়ম, যখন আমি তাদের গুনাহ্ দূর করবো।”
28 ওরা ইঞ্জিলের সম্বন্ধে তোমাদের জন্য তারা আল্লাহ্র দুশমন, কিন্তু নির্বাচনের সম্বন্ধে পূর্বপুরুষদের জন্য তারা আল্লাহ্র প্রিয়পাত্র।
29 কেননা আল্লাহ্ তাঁর দানগুলো সম্বন্ধে ও তাঁর আহ্বান সম্বন্ধে মন পরিবর্তন করেন না।
30 ফলত তোমরা যেমন আগে আল্লাহ্র অবাধ্য ছিলে, কিন্তু এখন ওদের অবাধ্যতার জন্য করুণা পেয়েছ,
31 তেমনি এরাও এখন অবাধ্য হয়েছে, যেন তোমাদের করুণা-প্রাপ্তিতে তারাও এখন করুণা পায়।
32 কেননা আল্লাহ্ সকলকেই অবাধ্যতার কাছে রুদ্ধ করেছেন, যেন তিনি সকলেরই প্রতি করুণা করতে পারেন।
33
আহা! আল্লাহ্র ধনাঢ্যতা ও প্রজ্ঞা ও জ্ঞান কেমন সীমাহীন! তাঁর বিচারগুলো কেমন বোধের অতীত! তাঁর পথগুলো কেমন সন্ধানের অতীত!
34 কেননা প্রভুর মন কে জেনেছে? “কে-ই বা তাঁর পরামর্শদাতা হয়েছে?”
35 অথবা কে আগে তাকে কিছু দান করেছে, যেন সে তার প্রতিদান পেতে পারে?
36 যেহেতু সকলই তাঁর থেকে ও তাঁর দ্বারা ও তাঁর জন্য। যুগে যুগে তাঁরই মহিমা হোক। আমিন।
1
অতএব হে ভাইয়েরা, আল্লাহ্র অসীম করুণার অনুরোধে আমি তোমাদেরকে ফরিয়াদ করছি, তোমরা নিজ নিজ দেহকে জীবিত, পবিত্র ও আল্লাহ্র প্রীতিজনক কোরবানী হিসেবে কোরবানী কর, এ-ই তোমাদের রূহানিক এবাদত।
2 আর এই যুগের অনুরূপ হয়ো না, কিন্তু মনের নতুনীকরণ দ্বারা সম্পূর্ণ রূপান্তরিত হয়ে উঠো, যেন তোমরা পরীক্ষা করে জানতে পার আল্লাহ্র ইচ্ছা কি। আল্লাহ্র ইচ্ছা উত্তম, গ্রহণযোগ্য ও সিদ্ধ।
3
বস্তুত আমাকে যে রহমত দেওয়া হয়েছে, তার গুণে আমি তোমাদের মধ্যবর্তী প্রত্যেক জনকে বলছি, নিজেকে যতটুকু বড় মনে করা উপযুক্ত কেউ তার থেকে বড় মনে না করুক; কিন্তু আল্লাহ্ যাকে যে পরিমাণে ঈমান দান করেছেন, সেই অনুসারে সে নিজের বিষয়ে মনে করুক।
4 কেননা যেমন আমাদের এক দেহে অনেক অঙ্গ, কিন্তু সকল অঙ্গের একই রকম কাজ নয়,
5 তেমনি এই অনেকে যে আমরা, আমরা মসীহে এক দেহ এবং প্রত্যেকে পরস্পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
6 আর আমাদেরকে যে রহমত দেওয়া হয়েছে, সেই অনুসারে যখন আমরা বিশেষ বিশেষ বর পেয়েছি, তখন সেই বর যদি ভবিষ্যদ্বাণী হয়, তবে এসো, ঈমানের পরিমাণ অনুসারে ভবিষ্যদ্বাণী বলি;
7 অথবা যদি তা পরিচর্যা করার বর হয়, তবে সেই পরিচর্যায় নিবিষ্ট হই; অথবা যে শিক্ষা দেবার বর পেয়েছে, সে শিক্ষা দিক,
8 কিংবা যে উৎসাহ দেবার বর পেয়েছে, সে উৎসাহ দিক; যে দান করার বর পেয়েছে, সে সরলভাবে দান করুক, যে শাসন করার বর পেয়েছে, সে আগ্রহ সহকারে শাসন করুক, যে রহম করার বর পেয়েছে, সে হৃষ্টচিত্তে রহম করুক।
9
মহব্বতের মধ্যে কোন রকম ভণ্ডামী না থাকুক। যা মন্দ তা নিতান্তই ঘৃণা কর, যা ভাল তাতে আসক্ত হও।
10 ভাইদের মহব্বত করার ব্যাপারে পরস্পর স্নেহশীল হও; সমাদরে এক জন অন্যকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান কর।
11 যত্নে শিথিল হয়ো না, রূহে উদ্দীপ্ত হও, প্রভুর গোলামি কর,
12 প্রত্যাশায় আনন্দ কর, দুঃখভোগে ধৈর্যশীল হও, মুনাজাতে নিবিষ্ট থাক,
13 পবিত্র লোকদের অভাবের সময়ে সাহায্য কর, মেহমানদের সেবায় রত থাক।
14
যারা নির্যাতন করে তাদেরকে দোয়া কর, হ্যাঁ, দোয়া কর, বদদোয়া দিও না।
15 যারা আনন্দ করে তাদের সঙ্গে আনন্দ কর; যারা কান্না করে তাদের সঙ্গে কাঁদ।
16 তোমরা পরস্পরের প্রতি একমনা হও, গর্বিত হয়ো না, কিন্তু অবনত লোকদের বিনত সহচর হও। নিজেদের জ্ঞানে বুদ্ধিমান হয়ো না।
17 মন্দের বদলে কারো মন্দ করো না; সকল মানুষের দৃষ্টিতে যা উত্তম, ভেবে চিন্তে তা-ই কর।
18 যদি সম্ভব হয় তোমাদের পক্ষে যতদূর সম্ভব মানুষের সঙ্গে শান্তিতে থাক।
19 হে প্রিয়জনেরা তোমরা নিজেরা প্রতিশোধ নিও না, বরং আল্লাহ্কে সেই শাস্তি দিতে দাও, কারণ লেখা আছে, “প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ, আমিই প্রতিফল দেব, এই কথা প্রভু বলেন।”
20 বরং “তোমার দুশমনের যদি খিদে পায়, তাকে খেতে দাও; যদি তার পিপাসা পায়, তাকে পান করাও; কেননা তা করলে তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত অঙ্গার রাশি করে রাখবে।”
21 তুমি মন্দের দ্বারা পরাজিত হয়ো না, কিন্তু উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাজিত কর।
1
প্রত্যেক মানুষ দেশের কর্তৃপক্ষের অধীনতা স্বীকার করুক; কেননা আল্লাহ্র নিরূপিত না হলে কেউ কর্তৃত্বের অধিকার পায় না এবং যেসব কর্তৃপক্ষ আছেন, আল্লাহ্ই তাদের নিযুক্ত করে থাকেন।
2 অতএব যে ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধ করে সে আল্লাহ্র নিয়োগের প্রতিরোধ করে; আর যারা প্রতিরোধ করে তারা নিজেদের উপরে শাস্তি ডেকে আনবে।
3 কেননা শাসনকর্তারা সৎকাজের প্রতি নয়, কিন্তু মন্দ কাজের প্রতি ভয়াবহ। আর তুমি কি কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ভয় থাকতে চাও? তবে সদাচরণ কর। তা করলে পর তার কাছ থেকে তোমরা প্রশংসা পাবে।
4 কেননা মঙ্গলের জন্য তিনি তোমার পক্ষে আল্লাহ্রই পরিচারক। কিন্তু যদি মন্দ আচরণ কর, তবে ভীত হও, কেননা তিনি বৃথা তলোয়ার ধারণ করেন না; কারণ তিনি আল্লাহ্র পরিচারক, যে মন্দ আচরণ করে, আল্লাহ্র হয়ে তাদের শাস্তি বিধান করেন।
5 অতএব কেবল আল্লাহ্র আজাবের ভয়ে নয়, কিন্তু বিবেকেরও জন্য তাঁদের অধীনতা স্বীকার করা আবশ্যক।
6 কারণ এজন্য তোমরা রাজকরও দিয়ে থাক; কেননা তাঁরা আল্লাহ্র সেবাকারী, সেই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
7 যার যা প্রাপ্য তাকে তা দাও। যাঁকে কর দিতে হয়, কর দাও; যাঁকে শুল্ক দিতে হয়, শুল্ক দাও; যাঁকে ভয় করতে হয়, ভয় কর; যাঁকে সম্মান করতে হয়, সম্মান কর।
8
তোমরা পরসপরের কাছ মহব্বতের ঋণ ছাড়া আর কোনও ঋণে আবদ্ধ হয়ো না; কেননা পরকে যে মহব্বত করে, সে শরীয়ত পূর্ণরূপে পালন করেছে।
9 কারণ “জেনা করো না, খুন করো না, চুরি করো না, লোভ করো না,” এবং আর যে কোন হুকুম থাকুক, সেই সব নিয়ে একত্রে বলা হয়েছে, “প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত কোরো।”
10 মহব্বত প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধন করে না, অতএব মহব্বতই শরীয়তের পূর্ণতা।
11
এছাড়া, তোমরা এই কাল সম্পর্কে জান; ফলত এখন তোমাদের ঘুম থেকে জাগবার সময় উপস্থিত; কেননা যখন আমরা ঈমান এনেছিলাম, তখনকার চেয়ে এখন নাজাত আমাদের আরও বেশি সন্নিকট।
12 রাত প্রায় শেষ হয়ে গেল, দিন আগত প্রায়; অতএব এসো, আমরা অন্ধকারের কাজকর্ম পরিত্যাগ করি এবং নূরের যুদ্ধের সাজ-পোশাক পরি।
13 এসো, রঙ্গরসে ও মত্ততায় নয়, লমপটতায় ও স্বেচ্ছাচারিতায় নয়, বিবাদে ও ঈর্ষায় নয়, কিন্তু দিনের উপযুক্ত শিষ্টভাবে চলি।
14 কিন্তু তোমরা প্রভু ঈসা মসীহ্কে পরিধান কর, অভিলাষ পূর্ণ করার জন্য গুনাহ্-স্বভাবের ইচ্ছা পূর্ণ করার চিন্তা করো না।
1
ঈমানে যে দুর্বল তাকে সাদরে গ্রহণ করো, কিন্তু তার ভিন্ন মতামতের বিষয়ের বিচার করার জন্য নয়।
2 এক ব্যক্তির বিশ্বাস আছে যে, সবরকম খাবারই সে খেতে পারবে, কিন্তু যে ঈমানে দুর্বল সে শুধু শাক-সব্জি খায়।
3 যে যা কিছু খায়, সে এমন ব্যক্তিকে তুচ্ছ না করুক, যে তা খায় না; এবং যে ব্যক্তি যে সব খাদ্য খায় না, সে এমন ব্যক্তির বিচার না করুক, যে তা খায়; কারণ আল্লাহ্ তাকে গ্রহণ করেছেন।
4 তুমি কে, যে অপরের ভৃত্যের বিচার কর? নিজের মালিকের কাছে হয় সে স্থির থাকে, নয় সে পড়ে যায়। বরং তাকে স্থির রাখা যাবে, কেননা প্রভু তাকে স্থির রাখতে পারেন।
5
এক জন একটি দিনকে অন্য দিন থেকে বেশি মান্য করে; আর এক জন সকল দিনকেই সমানরূপে মান্য করে; কে কি করবে বা না করবে তাতে যেন তার মন সমপূর্ণভাবে সাড়া দেয়।
6 দিন যে মানে, সে প্রভুর উদ্দেশেই মানে; আর যে খাওয়া-দাওয়া করে, সে প্রভুর উদ্দেশেই খাওয়া-দাওয়া করে, কেননা সে আল্লাহ্র শুকরিয়া করে; এবং যে খায় না, সেও প্রভুর উদ্দেশেই খায় না এবং আল্লাহ্র শুকরিয়া করে।
7
কারণ আমাদের মধ্যে কেউ নিজের উদ্দেশে জীবিত থাকে না এবং কেউ নিজের উদ্দেশে মরে না।
8 কেননা আমরা যদি জীবিত থাকি, তবে প্রভুরই উদ্দেশে জীবিত থাকি; এবং যদি মরি, তবে প্রভুরই উদ্দেশে মরি। অতএব আমরা জীবিত থাকি বা মরি, আমরা প্রভুরই।
9 কারণ এই উদ্দেশে মসীহ্ ইন্তেকাল করলেন ও জীবিত হলেন, যেন তিনি মৃত ও জীবিত উভয়েরই প্রভু হন।
10
কিন্তু তুমি কেন তোমার ভাইয়ের বিচার কর? কেনই বা তুমি তোমার ভাইকে তুচ্ছ কর? আমরা সকলেই তো আল্লাহ্র বিচারাসনের সম্মুখে দাঁড়াব।
11 কেননা লেখা আছে, “প্রভু বলছেন, আমার জীবনের কসম, আমার কাছে প্রত্যেকেই হাঁটু পাতবে এবং প্রত্যেক জিহ্বা আল্লাহ্র গৌরব স্বীকার করবে।”
12 সুতরাং আমাদের প্রত্যেক জনকে আল্লাহ্র কাছে নিজ নিজ হিসাব দিতে হবে।
13
অতএব, এসো, আমরা পরস্পর আর কেউ কারো বিচার না করি, বরং তোমরা ঠিক কর যে, ভাইয়ের সম্মুখে এমন কিছু রাখব না যাতে সে উচোট খায় ও যাতে সে মনে বাধা পায়।
14 আমি জানি এবং ঈসা মসীহে নিশ্চয় বুঝেছি, কোন বস্তুই স্বভাবতঃ নাপাক নয়; কিন্তু যে যা নাপাক জ্ঞান করে, তারই পক্ষে তা নাপাক।
15 বস্তুত তুমি কি খাও সেই কারণে তোমার ভাই যদি দুঃখিত হয়, তবে তুমি তো আর মহব্বতের নিয়মে চলছো না। যার জন্য মসীহের মৃত্যু হল, তোমার খাবার-দাবার দ্বারা তাকে নষ্ট করো না।
16 অতএব তোমাদের যা ভাল, তা নিন্দার বিষয় না হোক।
17 কারণ আল্লাহ্র রাজ্য ভোজন পানে নয়, কিন্তু ধার্মিকতা, শান্তি এবং পাক-রূহে আনন্দ।
18 কেননা যে এই বিষয়ে মসীহের গোলামি করে, সে আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য এবং মানুষের কাছেও পরীক্ষাসিদ্ধ।
19
অতএব যেসব বিষয় শান্তিজনক ও যে সমস্ত বিষয়ের দ্বারা পরস্পরকে গেঁথে তুলতে পারি, এসো, আমরা তারই চেষ্টা করি।
20 খাদ্যের জন্য আল্লাহ্র কাজ ধ্বংস কোরো না। সকল বস্তুই পাক-পবিত্র বটে, কিন্তু যে ব্যক্তি যা কিছু খেলে তার মনে বাধার সৃষ্টি করে, তবে তার পক্ষে সেসব নাপাক।
21 গোশ্ত ভোজন বা আঙ্গুর-রস পান, অথবা এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে তোমার কোন ভাই মনে বাধা পায়।
22 তোমার যে ঈমান আছে, তা নিজের কাছেই আল্লাহ্র সম্মুখে রাখ। সেই ব্যক্তি ধন্য, যে যা অনুমোদন করে, তাতে নিজের বিবেক তাকে দোষী না করে।
23 কিন্তু যে সন্দেহ করে কোন কিছু খায়, তবে সে দোষী সাব্যস্ত হয়, কারণ তার খাওয়া ঈমান অনুযায়ী নয়; আর যা কিছু ঈমান অনুযায়ী নয়, তা-ই গুনাহ্।
1
কিন্তু আমরা যারা ঈমানে শক্তিশালী, আমাদের উচিত যেন দুর্বল লোকদের দুর্বলতা বহন করি, আর নিজেদের তুষ্ট না করি।
2 আমরা প্রত্যেকে অবশ্যই আমাদের প্রতিবেশীকে গেঁথে তুলবার উদ্দেশ্যে তার মঙ্গলের জন্য যেন তাকে সন্তুষ্ট রাখি।
3 কারণ মসীহ্ও নিজেকে সন্তুষ্ট করলেন না, বরং যেমন লেখা আছে, “যারা তোমাকে তিরস্কার করে, তাদের তিরস্কার আমার উপরে পড়লো।”
4 কারণ আগেকার দিনে যা যা লেখা হয়েছিল, সেসব আমাদের শিক্ষার জন্যই লেখা হয়েছিল, যেন কিতাব অনুযায়ী ধৈর্য ও উৎসাহ দ্বারা আমরা প্রত্যাশা পাই।
5 ধৈর্যের ও উৎসাহের আল্লাহ্ এমন বর দিন, যাতে তোমরা মসীহ্ ঈসার অনুরূপে পরস্পর একমনা হও,
6 যেন তোমরা একচিত্তে এক মুখে আমাদের ঈসা মসীহের আল্লাহ্র ও পিতার গৌরব কর।
7
অতএব যেমন মসীহ্ তোমাদেরকে গ্রহণ করলেন, তেমনি আল্লাহ্র গৌরবের জন্য তোমরাও এক জন অন্যকে গ্রহণ কর।
8 কেননা আমি বলি যে, আল্লাহ্র সত্যের জন্যই মসীহ্ খৎনা সম্বন্ধীয় পরিচারক হয়েছেন, যেন তিনি পূর্বপুরুষদেরকে দেওয়া প্রতিজ্ঞাগুলো স্থির করেন,
9 এবং অ-ইহুদীরা যেন আল্লাহ্র করুণার জন্যই তাঁর গৌরব করে; যেমন লেখা আছে, “এজন্য আমি জাতিদের মধ্যে তোমার গৌরব স্বীকার করবো, তোমার নামের উদ্দেশে প্রশংসা-গান করবো।”
10 আবার তিনি বলেন, “জাতিরা! তাঁর লোকদের সঙ্গে আনন্দ কর।”
11
আবার “সমস্ত জাতি প্রভুর প্রশংসা কর, সমস্ত লোকবৃন্দ তাঁর প্রশংসা করুক।”
12 আবার ইশাইয়া বলেন, “ইয়াসিরের মূল থাকবে, আর জাতিদের উপর কর্তৃত্ব করতে এক জন দাঁড়াবেন, তাঁরই উপর জাতিরা প্রত্যাশা রাখবে।”
13 প্রত্যাশার আল্লাহ্ তোমাদেরকে ঈমান দ্বারা সমস্ত আনন্দ ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন, যেন তোমরা পাক-রূহের পরাক্রমে প্রত্যাশায় উপচে পড়।
14
আর, হে আমার ভাইয়েরা, আমি নিজেও তোমাদের বিষয়ে নিশ্চয় বুঝতে পারছি যে, তোমরা নিজেরা মঙ্গলভাবে পরিপূর্ণ, সমস্ত জ্ঞানে পূর্ণ, পরস্পরকে চেতনা প্রদানেও সমর্থ।
15 তবুও তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি বলে কয়েকটি বিষয় অপেক্ষাকৃত সাহসপূর্বক লিখলাম, কারণ আল্লাহ্ কর্তৃক আমাকে এই রহমত দান করা হয়েছে,
16 যেন আমি মসীহ্ ঈসার সেবক হয়ে, অ-ইহুদীদের কাছে আল্লাহ্র ইঞ্জিলের ইমামত্ব করি, যেন অ-ইহুদীরা পাক-রূহে পবিত্রীকৃত উপহার হিসেবে গ্রাহ্য হয়।
17
অতএব মসীহ্ ঈসাতে আল্লাহ্ সম্বন্ধীয় বিষয়ে আমার গর্ব করার অধিকার আছে।
18 কেননা আমি সেই বিষয়ে এমন একটি কথাও বলতে সাহস করবো না, যা অ-ইহুদীদেরকে বাধ্য করার জন্য মসীহ্ আমার মধ্য দিয়ে সাধন করেন নি;
19 তিনি কথায় ও কাজে, নানা চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণের পরাক্রমে, পাক-রূহের পরাক্রমে এরকম সাধন করেছেন যে, জেরুশালেম থেকে ইল্লুরিকা পর্যন্ত চারদিকে আমি মসীহের সুসমাচার সমপূর্ণভাবে তবলিগ করেছি।
20 আর আমার লক্ষ্য এই, মসীহের নাম যে স্থানে কখনও উচ্চারিত হয় নি এমন স্থানে যেন সুসমাচার তবলিগ করি, পরের স্থাপিত ভিত্তিমূলের উপরে যেন না গাঁথি।
21 যেমন লেখা আছে, “তাঁর সংবাদ যাদেরকে দেওয়া যায় নি, তারা দেখতে পাবে; এবং যারা শোনে নি, তারা বুঝতে পারবে।”
22
এই কারণ বশত আমি তোমাদের কাছে যেতে চেয়েও অনেকবার বাধা পেয়েছি।
23 কিন্তু এখন এই সব অঞ্চলে আমার আর স্থান নেই এবং অনেক বছর ধরে আকাঙ্খা করে আসছি যে, স্পেন দেশে যাবার সময়ে তোমাদের ওখানে যাব;
24 কারণ আশা করি যে, যাবার সময়ে তোমাদের দেখতে পাব এবং প্রথমে তোমাদের সঙ্গলাভে আমি কিছুকাল তৃপ্ত হলে তোমরা আমাকে সেখানে এগিয়ে দেবে।
25 কিন্তু এখন পবিত্র লোকদের পরিচর্যা করতে জেরুশালেমে যাচ্ছি।
26 কারণ জেরুশালেমের পবিত্র লোকদের মধ্যে যারা দীন-দরিদ্র, তাদের জন্য ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়া প্রদেশের লোকেরা খুশি হয়ে সহভাগিতা-সূচক কিছু চাঁঁদা সংগ্রহ করেছে।
27 বাস্তবিক তারা খুশি হয়েই তা করেছে, আর তারা ওদের কাছে ঋণীও আছে; কেননা যখন অ-ইহুদীরা রূহানিক বিষয়ে তাদের সহভাগী হয়েছে, তখন ওরাও সাংসারিক বিষয়ে তাদের সেবা করার জন্য ঋণী।
28 অতএব সেই কাজ সম্পন্ন করার এবং যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তা তাদের দেবার পর, আমি তোমাদের কাছ দিয়ে স্পেন দেশে যাব।
29 আর আমি জানি, যখন তোমাদের কাছে আসবো তখন মসীহের পরিপূর্ণ দোয়া নিয়েই আসবো।
30
ভাইয়েরা, আমাদের ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে এবং পাক-রূহের মহব্বতের মধ্য দিয়ে আমি তোমাদেরকে ফরিয়াদ করি, তোমরা আল্লাহ্র কাছে আমাদের জন্য মুনাজাতের মধ্য দিয়ে আমার সঙ্গে প্রাণপণ কর,
31 যেন আমি এহুদিয়ার যে সব লোক ঈমান আনে নি সেই লোকদের থেকে রক্ষা পাই এবং জেরুশালেমের জন্য আমার যে পরিচর্যা, তা যেন পবিত্র লোকদের কাছে গ্রাহ্য হয়।
32 আল্লাহ্র ইচ্ছায় আমি যেন তোমাদের কাছে আনন্দে উপস্থিত হয়ে তোমাদের সঙ্গে প্রাণ জুড়াতে পারি।
33 শান্তির আল্লাহ্ তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকুন। আমিন।
1
আমাদের বোন, কিংক্রিয়াস্থ মণ্ডলীর পরিচারিকা, ফৈবীর জন্য আমি তোমাদের কাছে সুপারিশ করছি,
2 যেন তোমরা তাঁকে প্রভুতে, পবিত্র লোকদের যেভাবে আপন করে নেওয়া কর্তব্য সেইভাবে তাকে গ্রহণ কর এবং যে কোন বিষয়ে তোমাদের থেকে তাঁর উপকারের প্রয়োজন হতে পারে তা কর; কেননা তিনিও অনেকের এবং আমার নিজেরও উপকার করেছেন।
3
মসীহ্ ঈসাতে আমার সহকারী প্রিষ্কা ও আক্কিলাকে সালাম জানাও;
4 তাঁরা আমার প্রাণ রক্ষার জন্য আপন প্রাণ বিপন্ন করেছিলেন। কেবল আমিই যে তাঁদের শুকরিয়া করি, এমন নয়, কিন্তু অ-ইহুদীদের সমস্ত মণ্ডলীও করে।
5 আর তাঁদের গৃহস্থিত মণ্ডলীকেও সালাম জানাও। আমার প্রিয় ইপেনিত, যিনি এশিয়া প্রদেশে মসীহ্কে প্রথম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁকে সালাম জানাও।
6 মরিয়ম, যিনি তোমাদের জন্য বহু পরিশ্রম করেছেন, তাঁকে সালাম জানাও।
7 আমার স্বজাতীয় ও আমার সহবন্দী আন্দ্রনীক্ ও যুনিয়কে সালাম জানাও; তাঁরা প্রেরিতদের মধ্যে সুপরিচিত ও আমার আগে মসীহে ঈমান এনেছেন।
8 প্রভুতে আমার প্রিয় যে আম্প্লিয়াত, তাঁকে সালাম জানাও।
9 মসীহে আমাদের সহকারী ঊর্বাণকে এবং আমার প্রিয় স্তাখিস্কেও সালাম জানাও।
10 মসীহে পরীক্ষাসিদ্ধ আপিল্লিস্কে সালাম জানাও। আরিষ্টবুলের পরিজনদেরকে সালাম জানাও।
11 আমার স্বজাতীয় হেরোদিয়োনকে সালাম জানাও। নার্কিসের পরিজনবর্গের মধ্যে যাঁরা প্রভুতে আছেন, তাঁদেরকে সালাম জানাও।
12 ত্রুফেণা ও ত্রুফোষা, যাঁরা প্রভুতে পরিশ্রম করেন, তাঁদেরকে সালাম জানাও। প্রিয়া পর্ষীস্, যিনি প্রভুতে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁকে সালাম জানাও।
13 প্রভুতে মনোনীত রূফকে, আর তাঁর মাকে— যিনি আমারও মা— সালাম জানাও।
14 অসুংক্রিত, ফ্রিগোন, হের্মেস, পাত্রোবাস্, হের্মাস্ এবং তাঁদের সঙ্গের ভাইদেরকে সালাম জানাও।
15 ফিললগ ও যুলিয়া, নীরিয় ও তাঁর বোন এবং ওলুমপ ও তাঁদের সঙ্গের সমস্ত পবিত্র লোককে সালাম জানাও।
16 তোমরা পবিত্র চুম্বনে পরস্পর সালাম জানাও। মসীহের সমস্ত মণ্ডলী তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছে।
17
ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে ফরিয়াদ করছি, তোমরা যে শিক্ষা পেয়েছ, তার বিপরীতে যারা দলাদলি ও বাধার সৃষ্টি করে তাদেরকে চিনে রাখ ও তাদের থেকে দূরে থাক।
18 কেননা এই ধরনের লোকেরা আমাদের প্রভু মসীহের গোলামি করে না, কিন্তু নিজ নিজ উদরের গোলামি করে এবং সুন্দর সুন্দর কথা ও স্তুতিবাদ দ্বারা সরল লোকদের মন ভুলায়।
19 কেননা তোমাদের বাধ্যতার কথা সব লোকের কাছে জানানো হয়েছে। অতএব তোমাদের জন্য আমি আনন্দ করছি; কিন্তু আমার ইচ্ছা এই যে, তোমরা উত্তম বিষয়ে বিজ্ঞ ও মন্দ বিষয়ে অমায়িক হও।
20 আর শান্তির আল্লাহ্ ত্বরায় শয়তানকে তোমাদের পদতলে দলিত করবেন।
আমাদের ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
21
আমার সহকারী তিমথি এবং আমার স্বজাতীয় লুকিয়, যাসোন ও সোষিপাত্র তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন।
22
এই পত্রের লেখক আমি তর্তিয় প্রভুতে তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন।
23
আমার এবং সমস্ত মণ্ডলীর যিনি মেহমানদারী করেন সেই গায়ঃ তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন।
24 এই নগরের ধনাধ্যক্ষ ইরাস্ত এবং ভাই ক্কার্ত তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন।
25
যিনি তোমাদেরকে সুস্থির করতে সমর্থ— আমার সুসমাচার অনুসারে ও ঈসা মসীহ্ বিষয়ক তবলিগ অনুযায়ী, সেই নিগূঢ়তত্ত্বের প্রকাশ অনুসারে যা অনাদিকাল থেকে গুপ্ত ছিল,
26 কিন্তু এখন প্রকাশিত হয়েছে এবং নবীদের লেখা কিতাব দ্বারা, অনন্তকালীন আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে, ঈমানের বাধ্য হবার জন্য, সর্বজাতির কাছে জানানো হয়েছে,
27 ঈসা মসীহ্ দ্বারা সেই একমাত্র প্রজ্ঞাবান আল্লাহ্র গৌরব যুগ-পর্যায়ের যুগে যুগে হোক। আমিন।
1
আমি পৌল, আল্লাহ্র ইচ্ছাক্রমে ঈসা মসীহের আহ্বানপ্রাপ্ত প্রেরিত এবং ভাই সোস্থিনি—
2 করিন্থে অবস্থিত আল্লাহ্র মণ্ডলীর সমীপে, মসীহ্ ঈসাতে পবিত্রীকৃত ও আহ্বানপ্রাপ্ত পবিত্র লোকদের, এবং যারা সমস্ত জায়গায় আমাদের ঈসা মসীহের নামে ডাকে, তাদের সকলে সমীপে এই পত্র লিখছি: মসীহ্ ঈসা তাদের এবং আমাদের প্রভু।
3 আমাদের পিতা আল্লাহ্ এবং ঈসা মসীহের রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
4
আল্লাহ্র যে রহমত মসীহ্ ঈসার মাধ্যমে তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি তোমাদের বিষয়ে প্রতিনিয়ত আল্লাহ্র শুকরিয়া করছি;
5 কেননা তাঁতেই তোমরা সর্ববিষয়ে সব রকম বাক্যে ও সব রকম জ্ঞানে ধনবান হয়েছ,
6 এরূপে মসীহের সাক্ষ্য তোমাদের মধ্যে দৃঢ়ভাবে রয়েছে।
7 এজন্য আমাদের ঈসা মসীহের প্রকাশের অপেক্ষা করছো বলে তোমরা কোন বরদানে পিছিয়ে পড় নি;
8 আর তিনি তোমাদেরকে শেষ পর্যন্ত স্থির রাখবেন, আমাদের ঈসা মসীহের দিনে অনিন্দনীয় রাখবেন।
9 আল্লাহ্ বিশ্বাসযোগ্য, যাঁর দ্বারা তোমরা তাঁর পুত্র আমাদের ঈসা মসীহের সহভাগিতার জন্য আহ্বানপ্রাপ্ত হয়েছ।
10
কিন্তু হে ভাইয়েরা, আমাদের ঈসা মসীহের নামে আমি তোমাদেরকে বিনয় করে বলি, তোমরা সকলে এক হও, তোমাদের মধ্যে দলাদলি না হোক, কিন্তু এক মনে ও এক উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হও।
11 কেননা, হে আমার ভাইয়েরা, আমি ক্লোয়ীর পরিজনের দ্বারা তোমাদের বিষয়ে সংবাদ পেয়েছি যে, তোমাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ আছে।
12 আমি এই কথা বলছি যে, তোমরা প্রত্যেক জন বলে থাক, আমি পৌলের, আর আমি আপল্লোর, আর আমি কৈফার, আর আমি মসীহের।
13 মসীহ্ কি বিভক্ত হয়েছেন? পৌল কি তোমাদের জন্য ক্রুশে হত হয়েছে? অথবা পৌলের নামে কি তোমরা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছ?
14 আল্লাহ্র শুকরিয়া করি যে, আমি তোমাদের মধ্যে ক্রীসপ ও গায়ঃ ব্যতীত আর কাউকেও বাপ্তিস্ম দেই নি,
15 যেন কেউ না বলে যে, তোমরা আমার নামে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছ।
16 আর স্তিফানের পরিজনকেও বাপ্তিস্ম দিয়েছি, আর কাউকেও বাপ্তিস্ম দিয়েছি বলে আমার জানা নেই।
17 কারণ মসীহ্ আমাকে বাপ্তিস্ম দেবার জন্য প্রেরণ করেন নি, কিন্তু ইঞ্জিল তবলিগ করার জন্য প্রেরণ করেছেন; সেই ইঞ্জিল তিনি আমাকে জ্ঞানীদের ভাষায় তবলিগ করতে পাঠান নি, যেন মসীহের ক্রুশ বিফল না হয়।
18
কারণ যারা বিনাশ পাচ্ছে, তাদের কাছে সেই ক্রুশের কথা মূর্খতাস্বরূপ, কিন্তু নাজাত পাচ্ছি যে আমরা, আমাদের কাছে তা আল্লাহ্র পরাক্রমস্বরূপ।
19 কারণ লেখা আছে,
“আমি জ্ঞানবানদের জ্ঞান নষ্ট করবো,
বিবেচক লোকদের বিবেচনা ব্যর্থ করবো।”
20
জ্ঞানবান কোথায়? আলেমই বা কোথায়? এই যুগের বাদানুবাদকারীই বা কোথায়? আল্লাহ্ কি দুনিয়ার জ্ঞানকে মূর্খতায় পরিণত করেন নি?
21 কারণ, আল্লাহ্র জ্ঞানক্রমে যখন দুনিয়া নিজের জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ্কে জানতে পারে নাই, তখন তবলিগের মূর্খতা দ্বারা যারা ঈমান এনেছে তাদের নাজাত করতে আল্লাহ্র বাসনা হল।
22 কেননা ইহুদীরা চিহ্ন-কার্য দেখতে চায় এবং গ্রীকেরা জ্ঞানের অন্বেষণ করে;
23 কিন্তু আমরা ক্রুশে হত মসীহ্কে তবলিগ করি; তিনি ইহুদীদের কাছে বিঘ্নস্বরূপ ও অ-ইহুদীদের কাছে মূর্খতাস্বরূপ,
24 কিন্তু ইহুদী ও গ্রীক, আহ্বানপ্রাপ্ত সকলের কাছে মসীহ্ আল্লাহ্রই পরাক্রম ও আল্লাহ্রই জ্ঞান-স্বরূপ।
25 কেননা আল্লাহ্র মূর্খতা বলে যা মনে হয়, তা মানুষের জ্ঞান অপেক্ষা অধিক জ্ঞানযুক্ত এবং আল্লাহ্র দুর্বলতা বলে যা মনে হয়, তা মানুষের শক্তি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।
26
কারণ, হে ভাইয়েরা, তোমাদের যখন আহ্বান করা হয়েছিল সেই সময়কার অবস্থা ভেবে দেখ, মানুষের বিচার অনুসারে তোমাদের মধ্যে অনেকেই যে জ্ঞানবান, পরাক্রমী, উচ্চপদস্থ ছিল, তা নয়;
27 কিন্তু আল্লাহ্ দুনিয়ার মূর্খতার বিষয় সকল মনোনীত করলেন, যেন জ্ঞানবানদের লজ্জা দেন; এবং আল্লাহ্ দুনিয়ার দুর্বল বিষয় সকল মনোনীত করলেন, যেন শক্তিমান বিষয় সকলকে লজ্জা দেন;
28 এবং দুনিয়ার যা যা নীচ ও যা যা তুচ্ছ, যা কিছু নয়, সেসব আল্লাহ্ মনোনীত করলেন, যেন, দুনিয়াতে যা যা বড় বলে মনে করা হয়, সেই সব মূল্যহীন হতে পারে;
29 যেন কোন মানুষ আল্লাহ্র সাক্ষাতে গর্ব না করতে পারে।
30 আল্লাহ্ই মসীহ্ ঈসাতে তোমাদের জীবনের উৎস, যিনি আল্লাহ্ থেকে আমাদের জন্য জ্ঞানস্বরূপ হয়েছেন, তিনিই আমাদের ধার্মিকতা, পবিত্রতা এবং মুক্তি— যেমন লেখা আছে,
31 “যে ব্যক্তি গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক”।
1
হে ভাইয়েরা, আমি যখন তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন সুন্দর ভাষায় বা জ্ঞানের উৎকৃষ্টতা অনুসারে তোমাদেরকে যে আল্লাহ্র নিগূঢ়তত্ত্ব জ্ঞাত করছিলাম তা নয়।
2 কেননা আমি মনে স্থির করেছিলাম, তোমাদের মধ্যে আর কিছুই জানবো না, কেবল ঈসা মসীহ্ এবং তাঁকে ক্রুশে হত বলেই জানবো।
3 আর আমি তোমাদের কাছে যখন ছিলাম তখন দুর্বল, ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে ছিলাম,
4 আর আমার কথা ও আমার তবলিগ জ্ঞানের বাক্চাতুর্যে মনোহর ছিল না, বরং পাক-রূহের ও পরাক্রমের প্রদর্শনযুক্ত ছিল,
5 যেন তোমাদের ঈমান মানুষের জ্ঞানের উপরে নয় কিন্তু আল্লাহ্র পরাক্রমের উপরে নির্ভর করে।
6
তবুও আমরা পরিপক্কদের মধ্যে জ্ঞানের কথা বলছি, কিন্তু সেই জ্ঞান এই যুগের নয় এবং এই যুগের শাসনকর্তাদেরও নয়, এরা তো ক্ষমতাশূন্য হয়ে পড়ছেন।
7 কিন্তু আমরা আল্লাহ্র সেই নিগূঢ়তত্ত্বরূপ জ্ঞানের কথা বলছি, যা গুপ্ত ছিল, যা আল্লাহ্ আমাদের মহিমার জন্য যুগপর্যায়ের পূর্বেই নির্ধারণ করেছিলেন।
8 এই যুগের শাসনকর্তাদের মধ্যে কেউ তা জানেন নাই; কেননা যদি জানতেন, তবে মহিমার প্রভুকে ক্রুশে দিতেন না।
9 কিন্তু, যেমন লেখা আছে,
“চোখ যা দেখে নি, কান যা শোনে নি
এবং মানুষের হৃদয়াকাশে যা ওঠে নি,
যারা তাঁকে মহব্বত করে,
আল্লাহ্ তাদের জন্য তা প্রস্তুত করে রেখেছেন।”
10
কারণ আমাদের কাছে আল্লাহ্ তাঁর রূহ্ দ্বারা তা প্রকাশ করেছেন, কেননা পাক-রূহ্ সকলই অনুসন্ধান করেন, আল্লাহ্র গভীর বিষয় সকলও অনুসন্ধান করেন।
11 কারণ মানুষের মধ্যে কে মানুষের সত্যিকারের বিষয়সমূহ জানে? কেবল মানুষের অন্তরস্থ রূহ্ই তার চিন্তা সকল জানে; তেমনি আল্লাহ্র বিষয়গুলো কেউ জানে না, কেবল আল্লাহ্র রূহ্ই তা জানেন।
12 কিন্তু আমরা দুনিয়ার রূহ্কে পাই নি, বরং আল্লাহ্ থেকে নির্গত রূহ্কে পেয়েছি, যেন আল্লাহ্ মেহেরবানী করে আমাদেরকে যা যা দান করেছেন তা জানতে পারি।
13 আমরা সেসব বিষয়েরই কথা, মানুষের শিক্ষানুরূপ জ্ঞানের বাক্য দ্বারা নয়, কিন্তু পাক-রূহের শিক্ষা অনুসারে বলছি; যারা পাক-রূহ্ লাভ করেছেন তাদের কাছ রূহানিক সত্য ব্যাখ্যা করছি।
14 কিন্তু যারা রূহানিক নয় তারা আল্লাহ্র রূহের বিষয়গুলো গ্রহণ করে না, কেননা তার কাছে সেসব মূর্খতা; আর সেসব সে জানতে পারে না, কারণ তা রূহানিকভাবে বিচারিত হয়।
15 কিন্তু যে রূহানিক লোক, সে সমস্ত বিষয়ের বিচার করে; আর তার বিচার কারো দ্বারা হয় না।
16 কেননা “কে প্রভুর মন জেনেছে যে, তাঁকে উপদেশ দিতে পারে?” কিন্তু মসীহের মন আমাদের আছে।
1
আর হে ভাইয়েরা, যারা রূহানিক তাদের কাছে যেভাবে কথা বলা প্রয়োজন সেই রকমভাবে তোমাদের কাছে কথা বলি নি, কিন্তু গুনাহ্-স্বভাবের লোকদের কাছে, মসীহ্ সম্বন্ধীয় শিশুদের কাছে যেভাবে কথা বলে সেই ভাবে তোমাদের কাছে কথা বলেছি।
2 আমি তোমাদেরকে দুগ্ধ পান করিয়েছিলাম, অন্ন দেই নি, কেননা তখন তোমাদের শক্তি হয় নি;
3 এমন কি, এখনও তোমাদের শক্তি হয় নি, কারণ এখনও তোমরা দুনিয়াবী রয়েছ; বাস্তবিক যখন তোমাদের মধ্যে ঈর্ষা ও ঝগড়া রয়েছে, তখন তোমরা কি দুনিয়াবী নও এবং সাধারণ মানুষের মত কি চলছো না?
4 কেননা যখন তোমাদের একজন বলে আমি পৌলের, আর এক জন বলে আমি আপল্লোর, তখন তোমরা কি মানুষ মাত্র নও?
5 ভাল, আপল্লো কি? আর পৌলই বা কি? তারা তো পরিচারকমাত্র, যাদের দ্বারা তোমরা ঈমানদার হয়েছ— যেমন প্রভু এক একজনকে তাঁর কাজ দিয়েছেন।
6 আমি রোপণ করলাম, আপল্লো পানি সেচন করলেন, কিন্তু আল্লাহ্ বৃদ্ধি দিতে থাকলেন।
7 অতএব রোপক কিছু নয়, সেচকও কিছু নয়, আল্লাহ্ই বৃদ্ধি দিয়ে থাকেন।
8 আর রোপক ও সেচক উভয়েই এক এবং যার যেরূপ নিজের শ্রম, সে তদ্রূপ নিজের বেতন পাবে।
9 কারণ আমরা আল্লাহ্রই সহকার্যকারী; তোমরা আল্লাহ্রই ক্ষেত, আল্লাহ্রই গাঁথুনি।
10
আল্লাহ্র যে রহমত আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুসারে আমি জ্ঞানবান গাঁথকের মত ভিত্তিমূল স্থাপন করেছি, আর তার উপরে অন্য লোকেরা গাঁথছে; কিন্তু প্রত্যেক জন দেখুক, কিরূপে সে তার উপরে গাঁথে।
11 কেননা কেবল যা স্থাপিত হয়েছে, তা ব্যতীত অন্য ভিত্তিমূল কেউ স্থাপন করতে পারে না, সেই ভিত্তিমূল হলেন ঈসা মসীহ্।
12 এখন এই ভিত্তিমূলের উপরে যদি কেউ স্বর্ণ, রৌপ্য, বহুমূল্য প্রস্তর, কাষ্ঠ, খড় ও নাড়া দিয়ে গাঁথে,
13 তবে প্রত্যেক ব্যক্তির কর্ম প্রকাশিত হবে। কারণ বিচারের দিনই তা প্রকাশ করবে, কেননা সেই দিনের প্রকাশ অগ্নির মধ্য দিয়েই হবে; আর প্রত্যেকের কর্ম যে কি প্রকার, সেই অগ্নিই তার পরীক্ষা করবে।
14 যে যা গেঁথেছে, তার সেই কর্ম যদি থাকে, তবে সে বেতন পাবে।
15 যার কর্ম পুড়ে যায়, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু সে নিজে নাজাত পাবে। তবে তার অবস্থা এমন হবে যে, সে যেন অগ্নির মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে।
16
তোমরা কি জান না যে, তোমরা আল্লাহ্র থাকবার গৃহ, এবং আল্লাহ্র রূহ্ তোমাদের মধ্যে বাস করেন?
17 যদি কেউ আল্লাহ্র এবাদতখানা বিনষ্ট করে, তবে আল্লাহ্ তাকে বিনষ্ট করবেন, কেননা আল্লাহ্র এবাদতখানা পবিত্র, আর তোমরাই সেই এবাদতখানা।
18
কেউ নিজেকে বঞ্চনা না করুক। তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে এই যুগে জ্ঞানবান বলে মনে করে, তবে সে জ্ঞানবান হবার জন্য মূর্খ হোক।
19 যেহেতু এই দুনিয়ার যে জ্ঞান, তা আল্লাহ্র কাছে মূর্খতা। কারণ লেখা আছে, “তিনি জ্ঞানবানদেরকে তাদের ধূর্ততায় ধরেন।”
20 আবার লেখা আছে, “প্রভু জ্ঞানবানদের তর্কবিতর্ক জানেন যে, সেসব অসার।”
21
অতএব কেউ মানুষকে নিয়ে গর্ব না করুক। কেননা সকলই তোমাদের—
22 পৌল, বা আপল্লো, বা কৈফা, বা দুনিয়া, বা জীবন, বা মরণ, বা উপস্থিত বিষয়, বা ভবিষ্যৎ বিষয়, সকলই তোমাদের;
23 আর তোমরা মসীহের ও মসীহ্ আল্লাহ্র।
1
লোকে আমাদেরকে এরূপ মনে করুক যে, আমরা মসীহের সেবক ও আল্লাহ্র নিগূঢ়তত্ত্বরূপ ধনের ধনাধক্ষ্য।
2 আর এই স্থলে ধনাধ্যক্ষের এই গুণ থাকা প্রয়োজন, যেন তাকে বিশ্বস্ত দেখতে পাওয়া যায়।
3 কিন্তু তোমাদের দ্বারা কিংবা মানুষের আদালতে যে আমার বিচার হয়, তা আমার মতে অতি ক্ষুদ্র বিষয়; এমন কি, আমি আমার নিজেরও বিচার করি না।
4 কারণ আমি আমার নিজের বিরুদ্ধে কিছু জানি না, তবু এতে আমি নির্দোষ বলে প্রতিপন্ন হচ্ছি না; কিন্তু যিনি আমার বিচার করেন, তিনি প্রভু।
5 অতএব তোমরা সময়ের পূর্বে, যে পর্যন্ত প্রভু না আসেন, সেই পর্যন্ত কোন বিচার করো না; তিনিই অন্ধকারের গুপ্ত বিষয় সকল দীপ্তিতে আনবেন, এবং হৃদয়-সমূহের পরামর্শ সকল প্রকাশ করবেন; আর সেসময় প্রত্যেকে আল্লাহ্র কাছ থেকে নিজ নিজ প্রশংসা পাবে।
6
হে ভাইয়েরা, আমি আমার ও আপল্লোর উদাহরণ দিয়ে তোমাদের জন্য এসব কথা বললাম, যেন আমাদের দ্বারা তোমরা এই শিক্ষা পাও যে, যা লেখা আছে, তা অতিক্রম করতে নেই, তোমরা কেউ যেন একজনের পক্ষে অন্য জনের বিপক্ষে গর্ব না কর।
7 কেননা কে তোমাকে অন্যদের থেকে বিশিষ্ট করে তোলে? তোমার এমন কি আছে যা দান হিসাবে পাও নি? আর যখন পেয়েছ তখন পাও নি বলে শ্লাঘা কেন করছো?
8 তোমরা এখন পূর্ণ হয়েছ! এখন ধনবান হয়েছ! আমাদের ছাড়াই রাজত্ব পেয়েছ! আর রাজত্ব পেলে ভালই হত, তোমাদের সঙ্গে আমরাও রাজত্ব পেতাম।
9 কারণ আমার বোধ হয়, প্রেরিতগণ যে আমরা, আল্লাহ্ আমাদেরকে বধ্য লোকদের মত শেষের বলে দেখিয়েছেন; কেননা আমরা দুনিয়ার ও ফেরেশতাগণের ও মানুষের ঠাট্টার পাত্র হয়েছি।
10 আমরা মসীহের নিমিত্ত মূর্খ হয়েছি, কিন্তু তোমরা মসীহে বুদ্ধিমান হয়েছ; আমরা দুর্বল, কিন্তু তোমরা বলবান; তোমরা গৌরবান্বিত, কিন্তু আমরা অনাদৃত।
11 এখনকার এই দণ্ড পর্যন্ত আমরা ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ও বস্ত্রহীন রয়েছি, আর বেত্রাঘাতে আহত হচ্ছি, ও গৃহহীন হয়েছি;
12 এবং স্বহস্তে কাজ করে পরিশ্রম করছি; নিন্দিত হতে হতে দোয়া করছি, তাড়িত হতে হতে সহ্য করছি,
13 অপবাদের পাত্র হতে হতে বিনয় করছি; অদ্য পর্যন্ত আমরা যেন দুনিয়ার আবর্জনা, সকল বস্তুর জঞ্জাল হয়ে রয়েছি।
14
আমি তোমাদেরকে লজ্জা দেবার জন্য নয়, কিন্তু আমার প্রিয় বৎস বলে তোমাদেরকে চেতনা দেবার জন্য এসব লিখছি।
15 কেননা যদিও মসীহে তোমাদের দশ সহস্র পালনকর্তা থাকে, তবুও পিতা অনেক নয়; কারণ মসীহ্ ঈসাতে ইঞ্জিল দ্বারা আমিই তোমাদের জন্ম দিয়েছি।
16 অতএব তোমাদের আরজ করি, তোমরা আমার অনুকারী হও।
17 এই অভিপ্রায়ে আমি তীমথিকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি; তিনি প্রভুতে আমার প্রিয় ও বিশ্বস্ত সন্তান; তিনি তোমাদেরকে মসীহ্ ঈসাতে আমার পন্থা সকল স্মরণ করাবেন, যা আমি সর্বত্র সমস্ত মণ্ডলীতে শিক্ষা দিয়ে থাকি।
18
আমি তোমাদের কাছে আসবো না বলে কেউ কেউ গর্বিত হয়ে উঠেছে।
19 কিন্তু প্রভু যদি ইচ্ছা করেন, তবে আমি অবিলম্বে তোমাদের কাছে আসবো এবং যারা গর্বিত হয়ে উঠেছে তাদের কথা নয়, কিন্তু তাদের পরাক্রম জানবো।
20 কেননা আল্লাহ্র রাজ্য কথার ব্যাপার নয়, কিন্তু পরাক্রমের ব্যাপার।
21 তোমাদের ইচ্ছা কি? আমি কি বেত নিয়ে তোমাদের কাছে যাব? না, মহব্বত ও মৃদুতার মনোভাব নিয়ে যাব?
1
বাস্তবিক শোনা যাচ্ছে যে, তোমাদের মধ্যে জেনা আছে, আর এমন জেনা, যা অ-ইহুদীদের মধ্যেও নেই, এমন কি, তোমাদের মধ্যে একজন তার সৎমায়ের সঙ্গে ঘর করছে।
2 আর তোমরা গর্ব করছো! বরং মাতম কর নি কেন, যেন এমন কর্ম যে ব্যক্তি করেছে, তাকে তোমাদের মধ্য থেকে বের করে দেওয়া হয়?
3 আমি, দেহে অনুপস্থিত হলেও রূহে উপস্থিত হয়ে, যে ব্যক্তি এমন কাজ করেছে, উপস্থিত ব্যক্তির মত তার বিচার করেছি।
4 যখন তোমরা আমাদের প্রভু ঈসার নামে সমাগত হও আর আমিও রূহে তোমাদের সঙ্গে থাকব এবং আমাদের প্রভু ঈসার পরাক্রম আমাদের উপর থাকবে।
5 তখন সেই ব্যক্তিকে দৈহিকভাবে বিনাশের জন্য শয়তানের হস্তে সমর্পণ করতে হবে, যেন প্রভু ঈসার নির্ধারিত দিনে তার রূহ্ নাজাত পায়।
6
তোমাদের গর্ব করা ভাল নয়। তোমরা কি জান না যে, অল্প খামি সুজির সমস্ত তাল ফাঁপিয়ে তোলে।
7 পুরাতন খামি বের করে দাও; যেন তোমরা নতুন তাল হতে পার— তোমরা তো খামিহীন। কারণ আমাদের ঈদুল ফেসাখের মেষশাবক কোরবানীরূপে উৎসর্গীকৃত হয়েছেন, তিনি মসীহ্।
8
অতএব এসো, আমরা পুরাতন খামি দিয়ে নয়, হিংসা ও নাফরমানীর খামি দিয়ে নয়, কিন্তু সরলতা ও সত্যতার খামিহীন রুটি দিয়ে ঈদটি পালন করি।
9
আমি আমার পত্রে তোমাদেরকে লিখেছিলাম যে, জেনাকারীদের সংসর্গে থাকতে নেই;
10 এই দুনিয়ার জেনাকারী বা লোভী বা প্রবঞ্চক বা প্রতিমাপূজকদের সংসর্গ একেবারে ছাড়তে হবে, তা নয়, কেননা তা হলে তো তোমাদের দুনিয়ার বাইরে চলে যাওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
11 কিন্তু এখন তোমাদেরকে লিখছি যে, ভাই নামে আখ্যাত কোন ব্যক্তি যদি জেনাকারী বা লোভী বা প্রতিমাপূজক বা কটুভাষী বা মাতাল বা প্রবঞ্চক হয়, তবে তার সংসর্গে থাকতে নেই, এমন ব্যক্তির সঙ্গে আহারও করতে নেই।
12 বস্তুতঃ বাইরের লোকদের বিচারে আমার কাজ কি? ভিতরের লোকদের বিচার কি তোমরা কর না?
13 কিন্তু বাইরের লোকদের বিচার আল্লাহ্ করবেন। তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে সেই দুষ্ট লোককে বের করে দাও।
1
যখন তোমাদের মধ্যে কোন একজনের বিরুদ্ধে কোন কথা থাকে তবে কোন্ সাহসে তার বিচার পবিত্র লোকদের কাছে নিয়ে না গিয়ে অধার্মিকদের কাছে নিয়ে যায়?
2 অথবা তোমরা কি জান না যে, পবিত্র লোকেরা দুনিয়ার বিচার করবেন? আর দুনিয়ার বিচার যদি তোমাদের দ্বারা হয়, তবে তোমরা কি যৎসামান্য বিষয়ের বিচার করার অযোগ্য?
3 তোমরা কি জান না যে, আমরা ফেরেশতাদের বিচার করবো, তবে দুনিয়াবী বিষয় বিচার করা কি সামান্য কথা নয়?
4 সুতরাং তোমাদের বিচার যদি দুনিয়াবী বিষয় সক্রান্ত হয়, তবে মণ্ডলীর চোখে যারা কিছুরই মধ্যে গণ্য নয়, তাদের উপরেই কি বিচারের দায়িত্ব দিয়ে থাক?
5 আমি তোমাদের লজ্জা দেবার জন্য এই কথা বলছি। এটা কেমন কথা? তোমাদের মধ্যে কি এমন একজনও জ্ঞানবান নেই যে, ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া হলে তার নিষপত্তি করে দিতে পারে?
6 কিন্তু ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই আদালতে যায়, তা আবার অ-ঈমানদারদের কাছে!
7 তোমরা যে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিচার চাও, এতে তোমাদের বিশেষ ক্ষতি হচ্ছে। এর চেয়ে বরং অন্যায় সহ্য কর না কেন? অথবা বঞ্চিত হও না কেন?
8 কিন্তু তোমরাই অন্যায় করছো, বঞ্চনা করছো, আর তা ভাইদের প্রতিই করছো।
9 অথবা তোমরা কি জান না যে, অধার্মিকেরা আল্লাহ্র রাজ্যে অধিকার পাবে না? ভ্রান্ত হয়ো না; যারা অসচ্চরিত্র বা প্রতিমাপূজক বা জেনাকারী বা সমকামী,
10 বা চোর বা লোভী বা মাতাল বা কটুভাষী বা প্রবঞ্চক, তারা আল্লাহ্র রাজ্যে অধিকার পাবে না।
11 আর তোমরা কেউ কেউ সেই ধরনের লোক ছিলে; কিন্তু তোমরা ঈসা মসীহের নামে ও আমাদের আল্লাহ্র রূহে তোমাদের ধৌত করা হয়েছে, পবিত্র করা হয়েছ ও ধার্মিক বলে গণনা করা হয়েছ।
12
‘সকলই আমার পক্ষে বিধেয়’, তা হতে পারে কিন্তু সকলই যে মঙ্গলজনক তা নয়; ‘সকলই আমার পক্ষে বিধেয়’, কিন্তু আমি কোন কিছুরই গোলাম হব না।
13 খাদ্য পেটের জন্য এবং পেট খাদ্যের জন্য, কিন্তু আল্লাহ্ উভয়েরই লোপ করবেন। দেহ জেনার জন্য নয়, কিন্তু প্রভুর জন্য এবং প্রভু দেহের জন্য।
14 আর আল্লাহ্ আপন পরাক্রম দ্বারা প্রভুকে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, আমাদেরকেও পুনরুত্থিত করবেন।
15 তোমরা কি জান না যে, তোমাদের দেহ মসীহের অঙ্গ? তবে আমি কি মসীহের অঙ্গ নিয়ে গিয়ে পতিতার অঙ্গে পরিণত করবো? তা নিশ্চয় না।
16 অথবা তোমরা কি জান না, যে ব্যক্তি পতিতার সঙ্গে যুক্ত হয়, সে তার সঙ্গে একদেহ হয়? কারণ পাক-কিতাবে লেখা আছে, “সে দু’জন একাঙ্গ হবে।”
17
কিন্তু যে ব্যক্তি প্রভুর সঙ্গে যুক্ত হয়, সে তাঁর সঙ্গে একাত্মা হয়।
18 তোমরা জেনা থেকে পলায়ন কর। মানুষ অন্য যে কোন গুনাহ্ করে, তা তার দেহের বাইরে করে; কিন্তু যে জেনা করে, সে নিজের দেহের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করে।
19 অথবা তোমরা কি জান যে, তোমাদের দেহ পাক-রূহের থাকবার ঘর, যিনি তোমাদের অন্তরে থাকেন, যাঁকে তোমরা আল্লাহ্র কাছ থেকে পেয়েছ?
20 আর তোমরা নিজের নও, কারণ মূল্য দ্বারা তোমাদের ক্রয় করা হয়েছ। অতএব তোমাদের দেহে আল্লাহ্র গৌরব কর।
1
আবার তোমরা যেসব কথা লিখেছ, তার বিষয়ে বলছি— স্ত্রীলোককে স্পর্শ না করা পুরুষের ভাল;
2 কিন্তু জেনা নিবারণের জন্য প্রত্যেক পুরুষের নিজ নিজ স্ত্রী থাকুক এবং প্রত্যেক স্ত্রীর নিজ নিজ স্বামী থাকুক।
3 স্বামী তার স্ত্রীকে তার প্রাপ্য দিক; আর তদ্রূপ স্ত্রীও তার স্বামীকে তার প্রাপ্য দিক।
4 স্ত্রীর নিজের দেহের উপরে তার কোন কর্তৃত্ব নেই, কিন্তু স্বামীর আছে; আর একই রকম ভাবে স্বামীর নিজের দেহের উপরে তার কোন কর্তৃত্ব নেই, কিন্তু স্ত্রীর আছে।
5 তোমরা এক জন অন্য জনকে বঞ্চিত করো না; কেবল মুনাজাত করতে সুযোগ পাবার জন্য উভয়ে এক পরামর্শ হয়ে কিছু কাল পৃথক থাকতে পার; তারপর আবার একত্রে মিলিত হবে, যেন শয়তান তোমাদের আত্মসংযমের অক্ষমতার জন্য তোমাদেরকে পরীক্ষায় না ফেলে।
6 কিন্তু এটা আমার হুকুম নয়, কেবল অনুমতি দিয়েই এই কথা বলছি।
7 আর আমার ইচ্ছা এই যে, সকল মানুষই আমার মত হয়; কিন্তু প্রত্যেক জন আল্লাহ্ থেকে নিজ নিজ মেহেরবানী-দান পেয়েছে, একজনের দান এক প্রকার, অন্যজনের দান অন্য প্রকার।
8
অবিবাহিত লোকদের ও বিধবাদের কাছে আমার কথা এই, তারা যদি আমার মত থাকতে পারে, তবে তাদের পক্ষে তা-ই ভাল;
9 কিন্তু তারা যদি ইন্দ্রিয় দমন করতে না পারে, তবে বিয়ে করুক; কেননা দেহের কামনার আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরবার চেয়ে বরং বিয়ে করা ভাল।
10 আর বিবাহিত লোকদেরকে এই হুকুম দিচ্ছি— আমি দিচ্ছি তা নয়, কিন্তু প্রভুই দিচ্ছেন— স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে চলে না যাক—
11 যদি চলে যায়, তবে সে অবিবাহিতা থাকুক, কিংবা স্বামীর সঙ্গে সম্মিলিত হোক— আর স্বামীও স্ত্রীকে তালাক না দিক।
12
কিন্তু আর সকলকে প্রভু বলছেন না কিন্তু আমি বলেছি, যদি কোন ভাইয়ের মসীহে অ-ঈমানদার স্ত্রী থাকে, আর সেই নারী তার সঙ্গে বাস করতে সম্মত হয়, তবে সে তাকে পরিত্যাগ না করুক;
13 আবার যে স্ত্রীর মসীহে অ-ঈমানদার স্বামী আছে, আর সেই ব্যক্তি তার সঙ্গে বাস করতে সম্মত হয় তবে সে স্বামীকে পরিত্যাগ না করুক।
14 কেননা মসীহে অ-ঈমানদার স্বামী সেই স্ত্রীতে পবিত্রীকৃত হয়েছে এবং মসীহে অ-ঈমানদার স্ত্রী সেই স্বামীতে পবিত্রীকৃত হয়েছে; তা না হলে তোমাদের সন্তানরা তো নাপাক হত, কিন্তু বাস্তবিক তারা পবিত্র।
15 তথাপি মসীহে অ-ঈমানদার স্বামী বা স্ত্রী যদি চলে যায়, চলে যাক; এই রকম ক্ষেত্রে সেই ভাই বা সেই বোন কোন রকম গোলামীতে আবদ্ধ নয়, কিন্তু আল্লাহ্ আমাদেরকে শান্তিতে বাস করতেই আহ্বান করেছেন।
16 কারণ, হে নারী, তুমি কি করে জান যে, তুমি তোমার স্বামীকে নাজাত করতে পারবে না? অথবা হে স্বামী, তুমি কি করে জান যে, তুমি তোমার স্ত্রীকে নাজাত করতে পারবে না?
17
কেবল প্রভু যাকে যেমন নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছেন, আল্লাহ্ যাকে যেমন আহ্বান করেছেন, সে তেমনি চলুক। আর এই প্রকার নিয়ম আমি সমস্ত মণ্ডলীতে দিয়ে থাকি।
18 কোন লোককে কি খৎনা-করানো অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে? সে খৎনার চিহ্ন মুছে না ফেলুক। আবার কোন লোককে কি খৎনা-না-করানো অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে? সে খৎনা না করুক।
19 খৎনা কিছু নয়, খৎনা না করানোও কিছু নয়, কিন্তু আল্লাহ্র হুকুম পালনই প্রধান বিষয়।
20 যে ব্যক্তিকে যে আহ্বানে আহ্বান করা হয়েছে, সে তাতেই থাকুক।
21 তোমাকে যখন আহ্বান করা হয়েছে তখন কি গোলাম ছিলে? চিন্তা করো না; কিন্তু যদি স্বাধীন হবার সুযোগ পাও তবে তোমার বর্তমান অবস্থাকে বেশী করে কাজে লাগায়ো।
22 কেননা যে গোলামকে প্রভুতে আহ্বান করা হয়েছে, সে প্রভুর দ্বারা স্বাধীন হয়েছে; তদ্রূপ যে স্বাধীন লোক আহ্বান করা হয়েছে, সে মসীহের গোলাম।
23 তোমাদেরকে মূল্য দ্বারা ক্রয় করা হয়েছ, মানুষের গোলাম হয়ো না।
24 হে ভাইয়েরা, তোমাদের প্রত্যেককে যে অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে, সেই অবস্থায় আল্লাহ্র কাছে থাক।
25
আর কুমারীদের বিষয়ে আমি প্রভুর কোন হুকুম পাই নি, কিন্তু প্রভুর করুণায় বিশ্বাসযোগ্য লোকের মত আমার অভিমত প্রকাশ করছি।
26 আমার বোধ হয়, উপস্থিত সঙ্কটজনক অবস্থায় এ-ই ভাল, অর্থাৎ যে যেমন আছ তেমনি থাকাই মানুষের পক্ষে ভাল।
27 তুমি কি স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত আছ? মুক্ত হতে চেষ্টা করো না। তুমি কি স্ত্রী থেকে মুক্ত? তবে স্ত্রী লাভের চেষ্টা করো না।
28 কিন্তু বিয়ে করলেও তোমার গুনাহ্ হয় না; আর কুমারী কন্যা যদি বিয়ে করে, তবে তারও গুনাহ্ হয় না। তথাপি এরূপ লোকদের দৈহিক ক্লেশ ঘটবে; আর তোমাদের প্রতি আমার মমতা হচ্ছে।
29
কিন্তু আমি এই কথা বলছি, ভাইয়েরা, সময় সংক্ষিপ্ত, এখন থেকে যাদের স্ত্রী আছে তারা এমনভাবে চলুক, যেন তাদের স্ত্রী নেই;
30 এবং যারা শোক করছে, তারা যেন শোক করছে না; যারা আনন্দ করছে, তারা যেন আনন্দ করছে না; যারা ক্রয় করছে, তারা যেন কিছুরই মালিক নয়;
31 আর যারা দুনিয়ার বিষয় সকল ভোগ করছে, তারা যেন তা পূর্ণমাত্রায় করছে না, কেননা দুনিয়ার বর্তমান রূপ লোপ পেতে চলেছে।
32 কিন্তু আমার বাসনা এই যে, তোমরা চিন্তামুক্ত হও। যে অবিবাহিত, সে প্রভুর বিষয় চিন্তা করে, কিরূপে প্রভুকে সন্তুষ্ট করবে।
33 কিন্তু যে বিবাহিত, সে সংসারের বিষয় চিন্তা করে, কিরূপে স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করবে;
34 তাই তার স্বার্থের বিভক্তি ঘটে। আর অবিবাহিতা স্ত্রীলোক ও কুমারী প্রভুর বিষয় চিন্তা করে, যেন দেহে ও রূহে পবিত্র হয়; কিন্তু বিবাহিতা স্ত্রী সংসারের বিষয় চিন্তা করে, কিরূপে স্বামীকে সন্তুষ্ট করবে।
35 এই কথা আমি তোমাদের নিজের মঙ্গলের জন্য বলছি; তোমাদের উপর কোন বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দেবার জন্য নয়, কিন্তু তোমরা যেন শিষ্টাচরণ কর এবং একাগ্র মনে প্রভুতে আসক্ত থাক।
36
কিন্তু যদি কেউ মনে করে যে, সে তার কুমারী কন্যার প্রতি ন্যায় আচরণ করছে না, যদি তার বিয়ের বয়স অতীত হয়ে থাকে, আর বিয়ে দেওয়া আবশ্যক হয়, তবে সে তার ইচ্ছামত কাজ করুক; এতে তার কোন গুনাহ্ হবে না, তার বিয়ে হোক।
37 কিন্তু যে ব্যক্তি অন্তরে স্থির, যার কোন প্রয়োজন নেই এবং নিজেই নিজের ইচ্ছামত কাজ করতে পারে, সে যদি নিজের কন্যাকে কুমারী রাখতে অন্তরে স্থির করে থাকে, তবে ভালই করে।
38 অতএব যে নিজের কুমারী কন্যার বিয়ে দেয়, সে ভাল করে; এবং যে না দেয়, সে আরও ভাল করে।
39
স্বামী যতদিন জীবিত থাকে, স্ত্রী তত-দিন তার সংগে আবদ্ধ থাকে, কিন্তু স্বামীর মৃত্যু হলে পর সে স্বাধীন হয়। তখন যাকে সে ইচ্ছা করে তার সঙ্গে বিবাহিতা হতে পারে, অবশ্য সেই লোক যেন প্রভুর হয়।
40 কিন্তু আমার মত অনুসারে সে যদি সেই অবস্থায় থাকে তবে আরও সুখী হবে। আর আমার মনে হয়, আমিও আল্লাহ্র রূহ্কে পেয়েছি।
1
আর এবার মূর্তির কাছে উৎসর্গ করা খাদ্যের বিষয় বলছি; আমরা জানি যে, আমাদের সকলের জ্ঞান আছে। জ্ঞান গর্বিত করে, কিন্তু প্রেমই গেঁথে তোলে।
2 যদি কেউ মনে করে, সে কিছু জানে, তবে যেরূপ জানতে হয়, তদ্রূপ এখনও জানে না;
3 কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ্কে মহব্বত করে, আল্লাহ্ তাকে জানেন।
4 ভাল, মূর্তির কাছে উৎসর্গ করা খাদ্য ভোজনের বিষয়ে আমরা জানি, দুনিয়াতে মূর্তি কিছুই নয় এবং এক আল্লাহ্ ছাড়া দ্বিতীয় আর কেউ নেই।
5 কেননা কি বেহেশতে কি দুনিয়াতে যাদেরকে দেবতা বলা যায়, এমন কতগুলো যদিও আছে— বাস্তবিক অনেক দেবতা ও অনেক প্রভু আছে—
6 তথাপি আমাদের জ্ঞানে একমাত্র আল্লাহ্ সেই পিতা, যাঁর থেকে সকলই সৃষ্টি হয়েছে ও যাঁর জন্য আমরা বেঁচে আছি; এবং একমাত্র প্রভু সেই ঈসা মসীহ্, যাঁর দ্বারা সকলই হয়েছে, এবং যাঁর দ্বারা আমরা অস্তিত্ব প্রাপ্ত হয়েছি।
7
তবে কি না সকলের এই জ্ঞান নেই; কিন্তু কিছু লোক এখনও মূর্তির সংশ্রবে থাকায় মূর্তির কাছে উৎসর্গ করা খাদ্য সেই জ্ঞানেই খেয়ে থাকে; এবং তাদের বিবেক দুর্বল বলে তা কলুষিত হয়।
8 কিন্তু খাদ্য দ্রব্যের কারণে আমরা আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য হই না; ভোজন না করলে আমাদের কোন ক্ষতি হয় না, ভোজন করলেও আমাদের কোন লাভ হয় না।
9 কিন্তু সাবধান, তোমাদের এই ক্ষমতা যেন কোনক্রমে দুর্বলদের পতনের কারণ না হয়।
10 কারণ, তোমার তো জ্ঞান আছে, তোমাকে যদি কেউ দেবতার মন্দিরে ভোজনে বসতে দেখে, তবে সে দুর্বল লোক বলে তার বিবেক কি মূর্তির কাছে উৎসর্গ করা খাদ্য খেতে উৎসাহ পাবে না?
11 সুতরাং তোমার জ্ঞান দ্বারা সেই ভাই, যার জন্য মসীহ্ মৃত্যুবরণ করেছেন, সেই দুর্বল ব্যক্তি বিনষ্ট হয়।
12 এরূপে ভাইদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করলে ও তাদের দুর্বল বিবেকে আঘাত করলে, তোমরা মসীহের বিরুদ্ধে গুনাহ্ কর।
13 অতএব খাদ্য দ্রব্য যদি আমার ভাইয়ের বিঘ্ন জন্মায়, তবে আমি গোশ্ত ভোজন করা ছেড়েই দেব, যেন আমার ভাইয়ের বিঘ্ন না জন্মাই।
1
আমি কি স্বাধীন নই? আমি কি প্রেরিত নই? আমাদের প্রভু ঈসাকে আমি কি দেখি নি? তোমরাই কি প্রভুতে আমার কাজের ফল নও?
2 আমি যদিও অন্য লোকদের জন্য প্রেরিত না হয়ে থাকি, তথাপি তোমাদের জন্য বটে, কেননা প্রভুতে তোমরাই আমার প্রেরিত-পদের সীলমোহর।
3 যারা আমার পরীক্ষা করে, তাদের কাছে আমার উত্তর এটাই।
4 ভোজন পান করার অধিকার কি আমাদের নেই?
5 অন্য সকল প্রেরিত ও প্রভুর ভাইয়েরা ও কৈফা, এঁদের মত কোন ধর্মবোনকে বিয়ে করে সঙ্গে নিয়ে নানা স্থানে যাবার অধিকার কি আমাদের নেই?
6 কিংবা কেবল আমার ও বার্ণবারই কি পরিশ্রম করে খাবার যোগাতে হবে?
7 কে নিজের অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধে যায়? কে আঙ্গুরক্ষেত প্রস্তুত করে তার ফল না খায়? অথবা কে পশুর পাল চরিয়ে পালের দুধ না খায়?
8 আমি কি মানুষের ক্ষমতায় এসব কথা বলছি? অথবা শরীয়তেও কি এই কথা বলে না?
9 কারণ মূসার শরীয়তে লেখা আছে, “শস্যমাড়াইকারী বলদের মুখে জাল্তি বেঁধো না।”
10
আল্লাহ্ কি শুধুমাত্র বলদেরই বিষয় চিন্তা করেন? এই কথা কি তিনি আমাদের জন্যও বলেন নি? বস্তুতঃ আমাদেরই জন্য এই কথা লেখা হয়েছে, কারণ যে চাষ করে, আশা নিয়েই তার চাষ করা উচিত; এবং যে শস্য মাড়াই করে, ভাগ পাবার আশাতেই তার শস্য মাড়া উচিত।
11 আমরা যখন তোমাদের কাছে রূহানিক বীজ বপন করেছি, তখন যদি তোমাদের কাছ থেকে দুনিয়াবী ফল গ্রহণ করি, তবে তাতে কি অধিক কিছু পাওয়া হয়?
12 যদি তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করার অন্য লোকদের অধিকার থাকে তবে আমাদের কি আরও বেশী অধিকার নেই? তবুও আমরা এই কর্তৃত্ব ব্যবহার করি নি, বরং সকলই সহ্য করছি, যেন মসীহের ইঞ্জিলের কোন বাধা না জন্মাই।
13 তোমরা কি জান না যে, পবিত্র বিষয়ের কাজ যারা করে, তারা পবিত্র স্থানের বস্তু খায় এবং যারা কোরবানগাহ্র সেবা করে, তারা কোরবানগাহ্র অংশীদার হয়?
14 সেরূপে প্রভু ইঞ্জিল তবলিগকারীদের জন্য এই বিধান করেছেন যে, তাদের উপজীবিকা ইঞ্জিল থেকেই হবে।
15 কিন্তু আমি এর কিছুই ব্যবহার করি নি, আর আমার সম্বন্ধে যে এরূপ করা হবে, সেজন্য আমি এসব লিখছি না; কেননা কেউ যে আমার শ্লাঘা নিষ্ফল করবে, তা অপেক্ষা বরং আমার মরণ ভাল।
16 কারণ আমি যদিও ইঞ্জিল তবলিগ করি, তবু আমার শ্লাঘা করার কিছুই নেই; কেননা আমার উপরে অর্পিত ভার অবশ্যই আমাকে বহন করতে হবে; ধিক্ আমাকে, যদি আমি ইঞ্জিল তবলিগ না করি।
17 বস্তুতঃ আমি যদি নিজের ইচ্ছায় এই কাজ করি, তবে আমার পুরস্কার আছে; কিন্তু যদি নিজের ইচ্ছায় না করি, তবু এই কাজের ভার আমার হস্তে সমর্পিত রয়েছে।
18 তবে আমার পুরস্কার কি? তা এই যে, আমি তোমাদের কাছে ইঞ্জিল তবলিগ করতে পারি, তাতে তোমাদের কোন অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন নেই, যদিও ইঞ্জিলের বিষয়ে তোমাদের কাছ থেকে তা নেবার অধিকার আমার আছে।
19 কারণ সকল লোক থেকে স্বাধীন হলেও আমি সকলের গোলামী স্বীকার করলাম, যেন অধিক লোককে লাভ করতে পারি।
20 আমি ইহুদীদের লাভ করার জন্য ইহুদীদের কাছে ইহুদীর মত হলাম; নিজে শরীয়তের অধীন না হলেও আমি শরীয়তের অধীন লোকদের লাভ করার জন্য শরীয়তের অধীনদের কাছে শরীয়তের অধীনের মত হলাম।
21 আমি আল্লাহ্র শরীয়তবিহীন নই, বরং মসীহের শরীয়তের অনুগত রয়েছি, তথাপি শরীয়তবিহীন লোকদেরকে লাভ করার জন্য শরীয়ত-বিহীনদের কাছে শরীয়তবিহীনের মত হলাম।
22 দুর্বলদেরকে লাভ করার জন্য আমি দুর্বলদের কাছে দুর্বল হলাম, সমস্ত উপায়ে কতগুলো লোককে নাজাত করার জন্য আমি সর্বজনের কাছে সব রকম হলাম।
23 আমি সব কিছুই ইঞ্জিলের জন্য করি, যেন তাঁর সহভাগী হই।
24
তোমরা কি জান না যে, দৌড় প্রতিযোগিতায় যারা দৌড়ায়, তারা সকলে দৌড়ায়, কিন্তু কেবল একজন পুরস্কার পায়? তোমরা এরূপে দৌড়াও, যেন পুরস্কার পাও।
25 আর যে কেউ মল্লযুদ্ধ করে, সে সর্ববিষয়ে ইন্দ্রিয়দমন করে। তার ক্ষয়নীয় মুকুট পাবার জন্য তা করে, কিন্তু আমরা অক্ষয় মুকুট পাবার জন্য করি।
26 অতএব আমি যে উদ্দেশ্য ছাড়া দৌড়াচ্ছি তা নয়; যে মুষ্টিযুদ্ধ করতে গিয়ে শূন্যে আঘাত করে আমি সেরূপ করছি না।
27 বরং আমার নিজের দেহকে শাস্তি দিয়ে অধীনে রাখছি, পাছে অন্য লোকদের কাছে তবলিগ করার পর আমি নিজে কোনক্রমে অযোগ্য হয়ে না পড়ি।
1
হে ভাইয়েরা, আমি চাই যেন তোমরা জানতে পার যে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা সকলে সেই মেঘের নিচে ছিলেন ও সকলে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে গমন করেছিলেন;
2 এবং সকলে মূসার উদ্দেশে মেঘে ও সাগরে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন,
3 এবং সকলে একই রূহানিক খাদ্য ভোজন করেছিলেন;
4 আর, সকলে একই রূহানিক পানীয় পান করেছিলেন; কারণ, তারা এমন এক রূহানিক পাথর থেকে পান করতেন, যা তাদের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছিল; আর সেই পাথর ছিলেন মসীহ্।
5 কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকের প্রতি আল্লাহ্ নারাজ হয়েছিলেন এবং তাঁরা মরুভূমিতে ধ্বংস হলেন।
6
এই সব বিষয় আমাদের দৃষ্টান্তস্বরূপে ঘটেছিল, যেন তাঁরা যেমন অভিলাষ করেছিলেন, আমরা তেমনি মন্দ বিষয়ের অভিলাষ না করি।
7 আবার যেমন তাঁদের মধ্যে কতগুলো লোক প্রতিমাপূজক হয়েছিল, তোমরা তেমনি না হও; যেমন লেখা আছে, “লোকেরা ভোজন পান করতে বসলো, পরে ক্রীড়া করতে উঠলো।”
8 আর যেমন তাদের মধ্যে কতগুলো লোক জেনা করেছিল এবং এক দিনে তেইশ সহস্র লোক মারা পড়েছিল, আমরা যেন তেমনি জেনা না করি।
9 আর যেমন তাদের মধ্যে কতগুলো লোক পরীক্ষা করেছিল এবং সর্পের আঘাতে মারা পরেছিল, আমরা যেন তেমনি মসীহের পরীক্ষা না করি।
10 আর যেমন তাদের মধ্যে কতগুলো লোক বচসা করেছিল এবং সংহারকের দ্বারা বিনষ্ট হয়েছিল তোমরা তেমনি বচসা করো না।
11 এসব তাদের প্রতি দৃষ্টান্তরূপে ঘটেছিল এবং আমাদের, যাদের উপর যুগের শেষ সময় উপস্থিত হয়েছে, সেই আমাদেরই চেতনার জন্য লেখা হয়েছে।
12 অতএব যে মনে করে আমি দাঁড়িয়ে আছি, সে সাবধান হোক, পাছে পড়ে যায়।
13 মানুষ যা সহ্য করতে পারে, তা ছাড়া অন্য কোন পরীক্ষা তো তোমাদের প্রতি ঘটে নি; আর আল্লাহ্ বিশ্বাসযোগ্য; তিনি তোমাদের প্রতি তোমাদের শক্তির অতিরিক্ত পরীক্ষা ঘটতে দেবেন না, বরং পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষার পথও করে দেবেন, যেন তোমরা সহ্য করতে পার।
14 অতএব, হে আমার প্রিয়েরা, প্রতিমাপূজা থেকে পালাও।
15 আমি তোমাদের বুদ্ধিমান জেনে বলছি; আমি যা বলি, তোমরা তা বিচার করে দেখ।
16 আমরা শুকরিয়ার যে পানপাত্র নিয়ে শুকরিয়া জানাই, তা কি মসীহের রক্তের সহভাগিতা নয়? আমরা যে রুটি ভাঙ্গি, তা কি মসীহের শরীরের সহভাগিতা নয়?
17 কারণ অনেকে যে আমরা, আমরা এক রুটি, এক শরীর; কেননা আমরা সকলে সেই এক রুটির অংশীদার।
18 ইসরাইল জাতির প্রতি তাকিয়ে দেখ; যারা কোরবানীর জিনিস ভোজন করে, তারা কি কোরবানগাহ্র সহভাগী নয়?
19 তবে আমি কি বলছি? মূর্তির কাছে কোরবানী করা খাদ্য কি কিছুরই মধ্যে গণ্য?
20 বরং অ-ইহুদীরা যা যা উৎসর্গ করে, তা বদ-রূহ্দের উদ্দেশে কোরবানী করে, আল্লাহ্র উদ্দেশে নয়; আর আমার এমন ইচ্ছা নয় যে, তোমরা বদ-রূহ্দের সহভাগী হও।
21 প্রভুর পানপাত্র ও বদ-রূহ্দের পানপাত্র, তোমরা এই উভয় পাত্রে পান করতে পার না; প্রভুর টেবিল ও বদ-রূহ্দের টেবিল, তোমরা এই উভয় টেবিলের অংশীদার হতে পার না।
22 অথবা আমরা কি প্রভুর ক্রোধ জন্মাচ্ছি? তাঁর থেকে কি আমরা বলবান?
23
সবই আইনসম্মত, কিন্তু সবই যে মঙ্গলজনক, তা নয়; সবই আইনসম্মত, কিন্তু সব কিছুই যে গেঁথে তোলে, তা নয়।
24 কেউই স্বার্থ চেষ্টা না করুক, বরং প্রত্যেকে পরের মঙ্গলের চেষ্টা করুক।
25 যে কোন দ্রব্য বাজারে বিক্রি হয়, বিবেকের কাছে কোন প্রশ্ন না করে তা ভোজন করো;
26 যেহেতু “দুনিয়া ও তার সমস্ত বস্তু প্রভুরই।”
27
অ-ঈমানদারদের মধ্যে কেউ যদি তোমাদের দাওয়াত করে, আর তোমরা যেতে ইচ্ছা কর, তবে বিবেকের কাছে কোনও প্রশ্ন না করে, যে কোন সামগ্রী তোমাদের সম্মুখে রাখা হয়, তা-ই ভোজন করো।
28 কিন্তু যদি কেউ তোমাদের বলে, এটা মূর্তির কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে, তবে যে জানালো, তার জন্য এবং বিবেকের জন্য তা ভোজন করো না।
29 যে বিবেকের কথা আমি বললাম, তা তোমার নয়, কিন্তু সেই অন্য ব্যক্তির। কারণ আমার স্বাধীনতা কেন পরের বিবেকের দ্বারা বিচারিত হবে?
30 যদি আমি শুকরিয়া জানিয়ে ভোজন করি, তবে যার জন্যে আমি শুকরিয়া জানাই, তার জন্য কেন নিন্দিত হই?
31 অতএব তোমরা ভোজন, বা পান, বা যা কিছু কর, সকলই আল্লাহ্র গৌরবার্থে কর।
32 ইহুদী, বা গ্রীক, বা আল্লাহ্র মণ্ডলী, কারো বিঘ্ন জন্মাবে না;
33 যেমন আমিও সমস্ত বিষয়ে সকলের প্রীতিকর হই, নিজের মঙ্গলের চেষ্টা করি না, কিন্তু অনেকের মঙ্গলের চেষ্টা করি, যেন তারা নাজাত পায়।
1
যেমন আমিও মসীহের অনুকারী, তোমরা তেমনি আমার অনুকারী হও।
2
আমি তোমাদের প্রশংসা করছি যে, তোমরা সমস্ত বিষয়ে আমাকে স্মরণ করে থাক এবং তোমাদের কাছে যে সব শিক্ষা দান করেছি, তোমরা তা ধরে আছ।
3 কিন্তু আমার ইচ্ছা এই, যেন তোমরা জান যে, প্রত্যেক পুরুষের মস্তকস্বরূপ মসীহ্ এবং স্ত্রীর মস্তকস্বরূপ স্বামী, আর মসীহের মস্তকস্বরূপ আল্লাহ্।
4 যে কোন পুরুষ মাথা ঢেকে রেখে মুনাজাত করে, কিংবা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সে তার নিজের মাথার অপমান করে।
5 কিন্তু যে কোন স্ত্রী মাথা ঢেকে না রেখে মুনাজাত করে, কিংবা ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সে তার নিজের মাথার অপমান করে; কারণ সে মাথা মুণ্ডিত স্ত্রী লোকের সমান হয়ে পড়ে।
6 ভাল, স্ত্রী যদি মাথা ঢেকে না রাখে, সে চুলও কেটে ফেলুক; কিন্তু চুল কেটে ফেলা বা মাথা মুণ্ডন করা যদি স্ত্রী লোকের লজ্জার বিষয় হয়, তবে মাথা ঢেকে রাখুক।
7 বাস্তবিক মাথা ঢেকে রাখা পুরুষের উচিত নয়, কেননা সে আল্লাহ্র প্রতিমূর্তি ও গৌরব; কিন্তু স্ত্রী পুরুষের গৌরব।
8 কারণ পুরুষ স্ত্রীলোক থেকে নয়, বরং স্ত্রীলোক পুরুষ থেকে এসেছে।
9 আর স্ত্রীর জন্য পুরুষ সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষের জন্য স্ত্রী লোকের সৃষ্টি হয়েছে।
10
এই কারণে স্ত্রীর মাথায় কর্তৃত্বাধীনের চিহ্ন রাখা কর্তব্য— ফেরেশতাগণের জন্য।
11 তথাপি প্রভুতে স্ত্রীও পুরুষ ছাড়া নয়, আবার পুরুষও স্ত্রী ছাড়া নয়।
12 কারণ যেমন পুরুষ থেকে স্ত্রী, তেমনি আবার স্ত্রীর মধ্য দিয়ে পুরুষ হয়েছে, কিন্তু সকলই আল্লাহ্ থেকে।
13 তোমরা নিজেদের মধ্যে বিচার কর, মাথা না ঢেকে আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করা কি স্ত্রীলোকের পক্ষে উপযুক্ত?
14 স্বয়ং প্রকৃতিও কি তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় না যে, পুরুষ যদি লম্বা চুল রাখে, তবে তা তার অপমানের বিষয়;
15 কিন্তু স্ত্রীলোক যদি লম্বা চুল রাখে, তবে তা তার গৌরবের বিষয়, কারণ সেই চুল তাকে আবরণের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে।
16 কিন্তু কেউ যদি এই নিয়ে তর্ক করতে চায়, তবে আমি বলবো যে, এই প্রকার ব্যবহার আমাদের মধ্যেও নেই এবং আল্লাহ্র মণ্ডলীগুলোর মধ্যেও নেই।
17
কিন্তু এই হুকুম দেবার উপলক্ষে আমি তোমাদের প্রশংসা করি না, কারণ তোমরা যে সমবেত হয়ে থাক, তাতে ভাল না হয়ে বরং মন্দই হয়।
18 কারণ প্রথমতঃ শুনতে পাচ্ছি, যখন তোমরা মণ্ডলীতে জমায়েত হও, তখন তোমাদের মধ্যে দলাদলি হয়ে থাকে এবং আমি এর কিছুটা বিশ্বাসও করি।
19 আর বাস্তবিক তোমাদের মধ্যে দলভেদ হওয়া আবশ্যক, যেন তোমাদের মধ্যে যারা পরীক্ষাসিদ্ধ তারা প্রকাশিত হয়।
20 যা হোক, তোমরা যখন এক স্থানে জমায়েত হও, তখন প্রকৃত পক্ষে প্রভুর ভোজ খাওয়া হয় না;
21 কেননা খাবারের সময় প্রত্যেকে অন্যের আগে তার নিজের খাবার গ্রহণ করে, তাতে একজনের ক্ষুধা থাকে, আর একজন মাতাল হয়। এটা কেমন?
22 ভোজন পান করার জন্য কি তোমাদের ঘর-বাড়ি নেই? অথবা তোমরা কি আল্লাহ্র মণ্ডলীকে অবজ্ঞা করছো এবং যাদের কিছু নেই, তাদেরকে লজ্জা দিচ্ছ? আমি তোমাদেরকে কি বলবো? আমি কি তোমাদের প্রশংসা করবো? এই বিষয়ে প্রশংসা করতে পারি না।
23
কারণ আমি প্রভুর কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি এবং তোমাদেরকে সেই একই শিক্ষা দিচ্ছি যে, প্রভু ঈসা যে রাত্রিতে সমর্পিত হন, সেই রাত্রিতে তিনি রুটি নিলেন,
24 এবং শুকরিয়াপূর্বক ভাঙ্গলেন ও বললেন, ‘এটা আমার শরীর, এটা তোমাদের জন্য; আমার স্মরণার্থে এটা কোরো’।
25 সেই একই ভাবে তিনি ভোজনের পর পানপাত্রও নিয়ে বললেন, ‘এই পানপাত্র আমার রক্তে নতুন নিয়ম; তোমরা যতবার পান করবে, আমার স্মরণার্থে এটা কোরো’।
26 কারণ যতবার তোমরা এই রুটি ভোজন কর এবং এই পানপাত্রে পান কর, ততবার প্রভুর মৃত্যু তবলিগ করে থাক, যে পর্যন্ত তিনি না আসেন।
27 অতএব যে কেউ অযোগ্যরূপে প্রভুর রুটি ভোজন কিংবা পানপাত্রে পান করবে, সে প্রভুর শরীর ও রক্তের দায়ী হবে।
28 মানুষ নিজের পরীক্ষা করুক এবং এভাবে সেই রুটি ভোজন ও সেই পানপাত্রে পান করুক।
29 কেননা যে ব্যক্তি ভোজন ও পান করে, সে যদি তাঁর শরীর না চেনে, তবে সে নিজের উপর শাস্তি ডেকে নিয়ে আসে।
30 এই কারণে তোমাদের মধ্যে অনেক লোক দুর্বল ও অসুস্থ আছে এবং অনেকে ইন্তেকাল করেছে।
31 আমরা যদি নিজেরা নিজেদের বিচার করতাম, তবে আমরা বিচারিত হতাম না;
32 কিন্তু প্রভু যখন আমাদের বিচার করেন, তখন তিনি আমাদের শাসন করেন, যেন দুনিয়ার সঙ্গে শাস্তি না পাই।
33 অতএব, হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা যখন ভোজন করার জন্য জমায়েত হও, তখন একজন অন্যের অপেক্ষা করো।
34 যদি কারো ক্ষুধা পায়, তবে সে ঘরে গিয়ে ভোজন করুক; তোমাদের জমায়েত হওয়া যেন তাদের শাস্তির কারণ না হয়। আর অন্যান্য সমস্ত বিষয়ে যখন আমি আসবো তখন হুকুম করবো।
1
আর হে ভাইয়েরা, রূহানিক দান সমূহের বিষয়ে তোমরা যে অজ্ঞাত থাক, তা আমার ইচ্ছা নয়।
2 তোমরা জান, যখন তোমরা অ-ঈমানদার ছিলে, তখন এ সব মূর্তির দিকেই চালিত হতে যারা কথা বলতে পারে না ।
3 এজন্য আমি তোমাদের জানাচ্ছি যে, আল্লাহ্র রূহে কথা বললে, কেউ বলে না, ‘ঈসা বদদোয়া প্রাপ্ত হোক’ এবং পাক-রূহের আবেশ ছাড়া কেউ বলতে পারে না, ‘ঈসাই প্রভু’।
4
পাক-রূহের দান নানা প্রকার, কিন্তু রূহ্ এক;
5 এবং পরিচর্যা নানা প্রকার, কিন্তু প্রভু এক;
6 এবং ক্রিয়াসাধক গুণ নানা প্রকার, কিন্তু আল্লাহ্ এক; তিনি সকলের মধ্যে সকল ক্রিয়ার সাধনকর্তা।
7 কিন্তু মঙ্গলের জন্য প্রত্যেকের মধ্যে পাক-রূহ্ প্রকাশিত হন।
8 কারণ একজনকে সেই রূহ্ দ্বারা প্রজ্ঞার বাক্য প্রদান করা হয়, আর একজনকে সেই রূহ্ অনুসারে জ্ঞানের বাক্য,
9 আর একজনকে সেই রূহে ঈমান, আর একজনকে সেই একই রূহে আরোগ্য সাধনের নানা মেহেরবানী-দান,
10 আর একজনকে কুদরতি-কাজ করার গুণ, আর একজনকে ভবিষ্যদ্বাণী, আর একজনকে ভাল-মন্দ রূহ্দের চিনে নেবার শক্তি, আর একজনকে নানা রকম ভাষা বলবার শক্তি এবং আর একজনকে বিশেষ বিশেষ ভাষার অর্থ করার শক্তি দেওয়া হয়;
11 কিন্তু এসব কাজ সেই একমাত্র পাক-রূহ্ই করে থাকেন; তিনি যাকে যেভাবে দিতে ইচ্ছা করেন, তাকে সেভাবেই দান করে থাকেন।
12
কেননা যেমন দেহ এক, আর তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অনেক এবং দেহের সমুদয় অঙ্গ অনেক হলেও, এক দেহ হয়, মসীহ্ও সেরূপ।
13 ফলত আমরা ইহুদী বা গ্রীক, বা গোলাম বা স্বাধীন, সকলেই এক দেহ হবার জন্য একই পাক-রূহে বাপ্তিস্ম নিয়েছি এবং আমাদের সকলকে একই পাক-রূহ্ থেকে পান করতে দেওয়া হয়েছে।
14 আর বাস্তবিক দেহ একটি অঙ্গ নয়, কিন্তু অনেক অঙ্গ দিয়ে গঠিত।
15 পা যদি বলে, আমি তো হাত নই, সেজন্য দেহের অংশ নই, তবে তা যে দেহের অংশ নয়, এমন নয়।
16 আর কান যদি বলে, আমি তো চোখ নই, সেজন্য দেহের অংশ নই, তবে তা যে দেহের অংশ নয়, এমন নয়।
17 সমস্ত দেহ যদি চোখ হত, তবে শুনবার শক্তি কোথায় থাকতো? এবং সমস্তই যদি শুনবার শক্তি হত, তবে ঘ্রাণ কোথায় থাকতো?
18 কিন্তু এখন আল্লাহ্ অঙ্গ সকল এক এক করে দেহের মধ্যে যেমন ইচ্ছা করেছেন, সেরূপ বসিয়েছেন।
19 নতুবা সবই যদি একটি অঙ্গ হত, তবে দেহ কোথায় থাকতো?
20 কিন্তু এখন অঙ্গ অনেক বটে, কিন্তু দেহ এক।
21 আর চোখ হাতকে বলতে পারে না, তোমাতে আমার প্রয়োজন নেই; আবার মাথাও পা দুখানিকে বলতে পারে না, তোমাদের আমার প্রয়োজন নাই;
22 বরং দেহের যেসব অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে বোধ হয়, সেগুলো অধিক প্রয়োজনীয়।
23 আর আমরা দেহের যেসব অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত অনাদরণীয় বলে মনে করি, সেগুলোকে অধিক আদরে ভূষিত করি এবং আমাদের যে অঙ্গগুলো শ্রীহীন সেগুলো অধি-কতর সৌন্দর্য প্রাপ্ত হয়;
24 কিন্তু আমাদের যেসব অঙ্গ সুশ্রী, সেগুলোর সেই প্রয়োজন নেই। বাস্তবিক, আল্লাহ্ দেহ সংগঠিত করেছেন,
25 অসমপূর্ণকে অধিক আদর করেছেন, যেন দেহের মধ্যে বিচ্ছেদ না হয়, বরং অঙ্গসকল যেন পরস্পরের জন্য সমভাবে চিন্তা করে।
26 আর এক অঙ্গ দুঃখ পেলে তার সঙ্গে সকল অঙ্গই দুঃখ পায় এবং এক অঙ্গ গৌরব প্রাপ্ত হলে তার সঙ্গে সকল অঙ্গই আনন্দ করে।
27 তোমরা মসীহের দেহ এবং এক একজন এক একটি অঙ্গ।
28 আর আল্লাহ্ মণ্ডলীতে প্রথমতঃ প্রেরিতদেরকে, দ্বিতীয়তঃ নবীদেরকে, তৃতীয়তঃ শিক্ষকদেরকে স্থাপন করেছেন; তারপর নানা রকম পরাক্রমকার্য, তারপর আরোগ্যসাধক মেহেরবানী-দান, উপকার, শাসনপদ, নানা রকম ভাষা দিয়েছেন।
29 সকলেই কি প্রেরিত? সকলেই কি নবী? সকলেই কি শিক্ষক? সকলেই কুদরতী কাজ করে?
30 সকলেই কি আরোগ্যসাধক মেহেরবানী-দান পেয়েছে? সকলেই কি বিশেষ বিশেষ ভাষা বলে? সকলেই কি অর্থ বুঝিয়ে দেয়?
31 তোমরা শ্রেষ্ঠ দানসকল লাভ করার জন্যে যত্নবান হও। এছাড়া, আমি তোমাদের আরও উৎকৃষ্ট এক পথ দেখাচ্ছি।
1
যদি আমি মানুষের এবং ফেরেশতাদেরও ভাষায় কথা বলি, কিন্তু আমার মধ্যে মহব্বত না থাকে, তবে আমি শব্দকারক ঘণ্টা ও ঝনঝনকারী করতাল হয়ে পড়েছি।
2 আর যদি ভবিষ্যদ্বাণী প্রাপ্ত হই ও সমস্ত নিগূঢ়তত্ত্ব ও সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হই এবং যদি আমার সমপূর্ণ ঈমান থাকে যাতে আমি পর্বত স্থানান্তর করতে পারি, কিন্তু আমার মধ্যে মহব্বত না থাকে, তবে আমি কিছুই নই।
3 আর আমার যা কিছু আছে সমস্তই যদি দরিদ্রদেরকে খাবার জন্য দান করি এবং পোড়াবার জন্য নিজের দেহ দান করি, কিন্তু আমার মধ্যে মহব্বত না থাকে, তবে আমার কোনও লাভ নেই।
4
মহব্বত চিরসহিষ্ণু, মহব্বত মধুর, ঈর্ষা করে না,
5 মহব্বত আত্মশ্লাঘা করে না, গর্ব করে না, অশিষ্টাচরণ করে না, স্বার্থ চেষ্টা করে না, রেগে ওঠে না, অপকার গণনা করে না,
6 অধার্মিকতায় আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যের সঙ্গে আনন্দ করে;
7 সকলই বহন করে, সকলই বিশ্বাস করে, সকলই প্রত্যাশা করে, সকলই ধৈর্য সহকারে সহ্য করে।
8
এই মহব্বত কখনও শেষ হয় না। কিন্তু যদি ভবিষ্যদ্বাণী থাকে, তার লোপ হবে; যদি বিশেষ বিশেষ ভাষা থাকে, সেই সব শেষ হবে; যদি জ্ঞান থাকে, তার লোপ হবে।
9 কেননা আমরা যা জানি তা অংশ মাত্র এবং যে ভবিষ্যদ্বাণী বলি তাও অংশ মাত্র;
10 কিন্তু যা পূর্ণ তা আসলে পর, যা অংশ মাত্র তার লোপ হবে।
11 আমি যখন শিশু ছিলাম, তখন শিশুর মত কথা বলতাম, শিশুর মত চিন্তা করতাম, শিশুর মত বিচার করতাম; এখন সাবালক হয়েছি বলে শিশুসুলভ ভাবগুলো ত্যাগ করেছি।
12 কারণ এখন আমরা আয়নায় যেন অস্পষ্ট দেখছি, কিন্তু তখন সম্মুখাসম্মুখি হয়ে দেখব; এখন আমি মাত্র কতগুলো অংশ জানতে পাই, কিন্তু সেসময় আমি সম্পূর্ণ জানতে পারব, যেমন আল্লাহ্ আমাকে সম্পূর্ণভাবে জানেন।
13 আর এখন বিশ্বাস, প্রত্যাশা, মহব্বত এই তিনটি আছে, আর এদের মধ্যে মহব্বতই শ্রেষ্ঠ।
1
তোমরা মহব্বতের অনুধাবন কর, আবার রূহানিক বর সকলের জন্য উদ্যোগী হও, বিশেষত যেন ভবিষ্যদ্বাণী বলতে পার।
2 কেননা যে ব্যক্তি বিশেষ ভাষায় কথা বলে সে মানুষের কাছে নয়, কিন্তু আল্লাহ্র কাছে কথা বলে; কারণ কেউ তা বুঝতে পারে না, বরং সে রূহে নিগূঢ়তত্ত্ব বলে।
3 কিন্তু যে ব্যক্তি ভবিষ্যদ্বাণী বলে সে মানুষের কাছে গেঁথে তুলবার এবং উৎসাহ ও সান্ত্বনার কথা বলে।
4 যে ব্যক্তি বিশেষ ভাষায় কথা বলে সে নিজেকে গেঁথে তোলে, কিন্তু যে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।
5 আমি চাই, যেন তোমরা সকলে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে পার, কিন্তু এর চেয়ে অধিক পরিমাণে চাই যেন ভবিষ্যদ্বাণী বলতে পার; কেননা যে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলে, মণ্ডলীকে গেঁথে তুলবার জন্য সে যদি অর্থ বুঝিয়ে না দেয়, তবে যে ভবিষ্যদ্বাণী বলে সে তার চেয়ে মহান।
6
এখন, হে ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে এসে যদি বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলি, কিন্তু তোমাদের কাছে আল্লাহ্র সত্য প্রকাশের কথা কিংবা জ্ঞান কিংবা ভবিষ্যদ্বাণী কিংবা উপদেশক্রমে কথা না বলি, তবে আমার কাছ থেকে তোমাদের কি উপকার হবে?
7 বাঁশী হোক, কি বীণা হোক, ধ্বনিযুক্ত নিষপ্রাণ বস্তুও যদি তালমান না রেখে বাজে, তবে বাঁশীতে বা বীণাতে কি বাজছে তা কিসে জানা যাবে?
8 বস্তুতঃ তূরীর ধ্বনি যদি অস্পষ্ট হয়, তবে কে যুদ্ধের জন্য সুসজ্জিত হবে?
9 তেমনি তোমরা যদি জিহ্বা দ্বারা, যা সহজে বোঝা যায়, এমন কথা না বল, তবে কি বলা হচ্ছে, তা কিসে জানা যাবে? বরঞ্চ তোমাদের কথা আকাশকেই বলা হবে।
10 হয় তো দুনিয়াতে অনেক প্রকার ভাষা আছে, আর ভাষাবিহীন কিছুই নেই।
11 ভাল, আমি যদি ভাষার বিশেষের অর্থ না জানি, তবে যে জন বলে, তার পক্ষে আমি বিদেশীর মত হব এবং আমার পক্ষে সেই বক্তাও তা-ই হবে।
12 অতএব তোমরা যখন নানা রকম রূহানিক বর প্রাপ্ত হতে চাও, তখন যে বর দ্বারা মণ্ডলীকে গেঁথে তোলা যায় সেই রকম বর লাভ করতে চেষ্টা কর।
13 এজন্য যে ব্যক্তি বিশেষ ভাষায় কথা বলে সে মুনাজাত করুক, যেন সে তার অর্থ বুঝিয়ে দিতে পারে।
14 কেননা যদি আমি বিশেষ ভাষায় মুনাজাত করি, তবে আমার রূহ্ মুনাজাত করে, কিন্তু আমার বুদ্ধি কোন কাজ করে না।
15 তবে দাঁড়াল কি? আমি রূহে মুনাজাত করবো, বুদ্ধিতেও মুনাজাত করবো; রূহে কাওয়ালী গাইব, বুদ্ধিতেও কাওয়ালী গাইব।
16 নতুবা যদি তুমি রূহে শুকরিয়া দাও, তবে যে ব্যক্তি সামান্য শ্রোতার স্থান পূর্ণ করে, সে কেমন করে তোমার শুকরিয়াতে ‘আমিন’ বলবে? তুমি কি বলছো, তা তো সে জানে না।
17 কারণ তুমি সুন্দররূপে শুকরিয়া দিচ্ছ বটে, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে গড়ে তোলা হয় না।
18 আমি আল্লাহ্র শুকরিয়া করছি যে, তোমাদের সকলের অপেক্ষা আমি বেশী ভাষায় কথা বলে থাকি;
19 কিন্তু মণ্ডলীর মধ্যে, বিশেষ ভাষায় দশ সহস্র কথা বলার চেয়ে, বরং বুদ্ধি দ্বারা পাঁচটি কথা বলতে চাই যেন অন্য লোকদেরও শিক্ষা দিতে পারি।
20
ভাইয়েরা, তোমরা বুদ্ধিতে বালক হয়ো না, বরঞ্চ মন্দ বিষয়ে শিশুদের মত হও, কিন্তু বুদ্ধিতে পরিপক্ক হও।
21 শরীয়তে লেখা আছে, “আমি পরভাষীদের দ্বারা এবং পরদেশীদের মুখ দিয়ে এই জাতির কাছে কথা বলবো, কিন্তু তা করলেও তারা আমার কথা শুনবে না, এই কথা প্রভু বলেন।”
22 অতএব সেই বিশেষ বিশেষ ভাষা ঈমানদারদের জন্য নয়, বরং অ-ঈমানদারদেরই জন্য চিহ্নস্বরূপ; কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণী অ-ঈমানদারদের জন্য নয়, বরং ঈমানদারদেরই জন্য চিহ্নস্বরূপ।
23 অতএব সমস্ত মণ্ডলী এক স্থানে সমবেত হয়ে যদি সবাই বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলে এবং কয়েকজন সাধারণ লোক বা কয়েকজন অ-ঈমানদার লোক প্রবেশ করে, তবে তারা কি বলবে না যে, তোমরা পাগল?
24 কিন্তু সকলে যদি ভবিষ্যদ্বাণী বলে, আর কোন অ-ঈমানদার বা সাধারণ ব্যক্তি প্রবেশ করে, তবে সেই লোকদের কথার দ্বারা তারা নিজেদের দোষ দেখতে পাবে ও সেই সব কথার দ্বারা বিচারিত হবে,
25 তাতে তার হৃদয়ের গোপন বিষয় সকল প্রকাশ পাবে; এবং এরূপে সে সেজদায় পড়ে আল্লাহ্র এবাদত করবে, বলবে, আল্লাহ্ বাস্তবিকই তোমাদের মধ্যে আছেন।
26
ভাইয়েরা, তবে দাঁড়াল কি? তোমরা যখন জমায়েত হও, তখন যদি কেউ গজল গায়, কেউ উপদেশ দেয়, কেউ আল্লাহ্র সত্য প্রকাশ করে, কেউ বিশেষ ভাষায় কথা বলে, কেউ সেই ভাষার অর্থ ব্যাখ্যা করে, তবে সব কিছুই গড়ে তুলবার জন্য করুক।
27 যদি কেউ বিশেষ ভাষায় কথা বলে, তবে দু’জন, কিংবা অধিক হলে তিনজন বলুক, পালানুক্রমেই বলুক, আর একজন অর্থ বুঝিয়ে দিক।
28 কিন্তু অর্থকারক না থাকলে সেই ব্যক্তি মণ্ডলীতে নীরব হয়ে থাকুক, কেবল নিজের ও আল্লাহ্র উদ্দেশে কথা বলুক।
29 আর নবীরা দুই কিংবা তিনজন করে কথা বলুক, অন্য সকলে সেই সব কথার বিচার করে দেখুক।
30 কিন্তু এমন আর কারো কাছে যদি কিছু প্রকাশিত হয়, যে বসে রয়েছে, তবে প্রথম ব্যক্তি নীরব থাকুক।
31 কারণ তোমরা সকলে এক এক করে ভবিষ্যদ্বাণী বলতে পার, যেন সবাই শিক্ষা পায় ও সকলেই উৎসাহিত হয়।
32 আর নবীদের রূহ্ নবীদের বশে থাকে;
33 কেননা আল্লাহ্ গোলযোগের আল্লাহ্ নন, কিন্তু শান্তির আল্লাহ্।
34
যেমন পবিত্র লোকদের সমস্ত মণ্ডলীতে হয়ে থাকে, স্ত্রীলোকেরা মণ্ডলীতে নীরব থাকুক, কেননা কথা বলবার অনুমতি তাদের দেওয়া যায় না, বরং যেমন শরীয়তের বলে, তারা বশীভূতা হয়ে থাকুক।
35 আর যদি তারা কিছু শিখতে চায়, তবে নিজ নিজ স্বামীকে ঘরে জিজ্ঞাসা করুক, কারণ মণ্ডলীতে স্ত্রীলোকের কথা বলা লজ্জার বিষয়।
36 বল দেখি, আল্লাহ্র কালাম কি তোমাদেরই কাছ থেকে প্রকাশ পেয়েছিল? কিংবা কেবল তোমাদেরই কাছে এসেছিল?
37
কেউ যদি নিজেকে নবী কিংবা রূহানিক বলে মনে করে, তবে সে বুঝুক, আমি তোমাদের কাছে যা যা লিখলাম, তা সবই প্রভুর হুকুম।
38 কিন্তু কেউ যদি না জানে, সে না জানুক।
39
অতএব, হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা ভবিষ্যদ্বাণী বলবার জন্য উদ্যোগী হও এবং বিশেষ বিশেষ ভাষা বলতে বারণ করো না।
40 কিন্তু সকলই উপযুক্তভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে করা হোক।
1
হে ভাইয়েরা, তোমাদের সেই ইঞ্জিল জানাচ্ছি, যে ইঞ্জিল তোমাদের কাছে তবলিগ করেছি, যা তোমরা গ্রহণও করেছ, যার উপর তোমরা দাঁড়িয়ে আছ;
2 আর তারই দ্বারা, আমি তোমাদের কাছে যে কালাম তবলিগ করেছি, তা যদি ধরে রাখ, তবে নাজাত পাচ্ছ; নতুবা তোমরা বৃথাই ঈমানদার হয়েছ।
3 ফলত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পণ করেছি এবং তা নিজেও পেয়েছি যে, কিতাব অনুসারে মসীহ্ আমাদের গুনাহ্র জন্য প্রাণ দিলেন ও কবর প্রাপ্ত হলেন,
4 আর কিতাব অনুসারে তিনি তৃতীয় দিবসে উত্থাপিত হয়েছেন;
5 আর তিনি কৈফাকে, পরে সেই বারোজনকে দেখা দিলেন;
6 তারপর একেবারে পাঁচশোর বেশী ভাইকে দেখা দিলেন, তাদের অধিকাংশ লোক এখন পর্যন্ত বেঁচে রয়েছে, কিন্তু কেউ কেউ ইন্তেকাল করেছে।
7 তারপর তিনি ইয়াকুবকে, পরে সকল প্রেরিতকে দেখা দিলেন।
8 সকলের শেষে অসময়ে জন্মেছি যে আমি, আমাকেও দেখা দিলেন।
9 কেননা প্রেরিতদের মধ্যে আমি সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র, বরং প্রেরিত নামে আখ্যাত হবার অযোগ্য, কারণ আমি আল্লাহ্র মণ্ডলীকে তাড়না করতাম।
10 কিন্তু আমি যা হয়েছি, আল্লাহ্র রহমতেই হয়েছি; এবং আমার প্রতি দত্ত তাঁর রহমত নিরর্থক হয় নি, বরং তাঁদের সকলের অপেক্ষা আমি অধিক পরিশ্রম করেছি; আমিই যে করেছি তা নয়, কিন্তু আমার সহবর্তী আল্লাহ্র মেহেরবানীই করেছে;
11 অতএব আমিই হই, আর তাঁরাই হোন, আমরা এরূপ তবলিগ করি এবং তোমরা এরূপ বিশ্বাস করেছ।
12
ভাল, মসীহ্ যখন এই বলে তবলিগকৃত হচ্ছেন যে, তিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, তখন তোমাদের কেউ কেউ কেমন করে বলছো যে, মৃতদের পুনরুত্থান নেই?
13 মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে মসীহ্ও তো পুনরুত্থিত হন নি।
14 আর মসীহ্ যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তা হলে তো আমাদের তবলিগও বৃথা আর তোমাদের ঈমানও বৃথা।
15 আবার আমরা যে আল্লাহ্র সম্বন্ধে মিথ্যা সাক্ষী, তা-ই প্রকাশ পাচ্ছে; কারণ আমরা আল্লাহ্র বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিয়েছি যে, তিনি মসীহ্কে মৃত্যু থেকে জীবিত করেছেন; কিন্তু যদি মৃতদের পুনরুত্থান না হয়, তা হলে তিনি তাঁকে পুনরুত্থিত করেন নি।
16 কেননা মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে মসীহ্ও পুনরুত্থিত হন নি।
17 আর মসীহ্ যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তা হলে তোমাদের ঈমান মিথ্যা, এখনও তোমরা নিজ নিজ গুনাহের মধ্যে রয়েছ।
18 সুতরাং যারা মসীহে ইন্তেকাল করেছে, তারাও বিনষ্ট হয়েছে।
19 শুধু এই জীবনে যদি মসীহে প্রত্যাশা করে থাকি, তবে আমরা সকল মানুষের মধ্যে অধিক দুর্ভাগা।
20
কিন্তু বাস্তবিক মসীহ্ মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তিনি তাদের অগ্রিমাংশ।
21 কেননা মানুষের মধ্য দিয়ে যখন মৃত্যু এসেছে, তখন আবার মানুষের মধ্য দিয়েই মৃতদের পুনরুত্থান এসেছে।
22 কারণ আদমে যেমন সকলের মৃত্যু হয়, তেমনি আবার মসীহেই সকলে জীবনপ্রাপ্ত হবে।
23 কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ পালাক্রমে; মসীহ্ অগ্রিমাংশ, পরে মসীহের পুনরাগমন কালে মসীহের নিজের লোকেরা।
24 অতঃপরে শেষকাল উপস্থিত হবে; তখন তিনি সমস্ত আধিপত্য এবং সমস্ত কর্তৃত্ব ও পরাক্রম লোপ করার পর পিতা আল্লাহ্র হস্তে রাজ্য সমর্পণ করবেন।
25 কেননা যতদিন তিনি “সমস্ত শত্রুকে তাঁর পদতলে না রাখবেন,” তাঁকে রাজত্ব করতেই হবে।
26 শেষ শত্রু যে মৃত্যু, সেও বিলুপ্ত হবে।
27 কারণ পাক-কিতাবে লেখা আছে, “তিনি সবই বশীভূত করে তাঁর পায়ের তলায় রাখলেন”। কিন্তু যখন পাক-কিতাব বলে যে, সকলই বশীভূত করা হয়েছে, তখন স্পষ্ট দেখা যায়, যিনি সকলই মসীহের বশীভূত করলেন, সেই আল্লাহ্ নিজেকে বাদ দিয়েই তা করলেন।
28 আর সমস্তই তাঁর অধীনে আনা হলে পর পুত্র নিজেও তাঁর অধীন হবেন, যিনি সব কিছুই তাঁর বশে রেখেছিলেন; যেন আল্লাহ্ই সর্বেসর্বা হন।
29 নতুবা, মৃতদের জন্য যারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে, তারা কি করবে? মৃতেরা যদি একেবারেই পুুনরুত্থিত না হয়, তা হলে ওদের জন্য তারা আবার কেন বাপ্তিস্ম নেয়?
30 আর আমরাই বা কেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিপদে পড়ি?
31 ভাইয়েরা, আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসাতে তোমাদের বিষয়ে আমার যে গর্ব, তার দোহাই দিয়ে বলছি, আমি প্রতিদিন মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছি।
32 ইফিষে পশুদের সঙ্গে যে যুদ্ধ করেছি, তা যদি মানুষের মত করে থাকি, তবে তাতে আমার কি লাভ হল? মৃতেরা যদি পুনরুত্থিত না হয়, তবে “এসো, আমরা ভোজন পান করি, কেননা আগামীকল্য মারা যাব”।
33 ভ্রান্ত হয়ো না, কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে।
34 ধার্মিক হবার জন্য সচেতন হও, গুনাহ্ করো না, কেননা কারো কারো আল্লাহ্-জ্ঞান নাই; আমি তোমাদের লজ্জার জন্য এই কথা বলছি।
35
কিন্তু কেউ বলবে, মৃতেরা কিভাবে পুনরুত্থিত হয়? কি রকম দেহেই বা আসে?
36 হে নির্বোধ, তুমি নিজে যা বপন কর, তা না মরলে সেখান থেকে জীবন বের হয়ে আসে না।
37 আর যা বপন কর, যে দেহ উৎপন্ন হবে, তুমি তা বপন কর না; বরং গমেরই হোক, কি অন্য কোন কিছুরই হোক, বীজমাত্র বপন করেছ;
38 আর আল্লাহ্ তাকে যে দেহ দিতে ইচ্ছা করলেন, তা-ই দেন; আর তিনি প্রত্যেক বীজকে তার নিজের দেহ দেন।
39 সকল মাংস এক রকম মাংস নয়; কিন্তু মানুষের এক রকম, পশুর মাংস অন্য প্রকার, পাখীর মাংস অন্য রকম ও মাছের অন্য রকম।
40 আর বেহেশতী দেহ আছে ও দুনিয়াবী দেহ আছে; কিন্তু বেহেশতী দেহগুলোর এক রকম তেজ ও দুনিয়াবী দেহগুলোর অন্য রকম।
41 সূর্যের এক রকম তেজ, চন্দ্রের আর এক রকম তেজ, ও নক্ষত্রগণের আর এক রকম তেজ; কারণ তেজ সম্বন্ধে এক নক্ষত্র থেকে অন্য নক্ষত্র ভিন্ন।
42 মৃতদের পুনরুত্থানও সেই একই রকম। ক্ষয়ে বপন করা যায়, অক্ষয়তায় উত্থাপন করা হয়;
43 অনাদরে বপন করা যায়, গৌরবে উত্থাপন করা হয়; দুর্বলতায় বপন করা যায়, শক্তিতে উত্থাপন করা হয়;
44 দুনিয়াবী দেহ বপন করা যায়, রূহানিক দেহ উত্থাপন করা হয়। যখন দুনিয়াবী দেহ আছে, তখন রূহানিক দেহও আছে।
45 এরূপ লেখাও আছে, প্রথম “মানুষ” আদম “সজীব প্রাণী হলেন;” শেষ আদম জীবনদায়ক রূহ্ হলেন।
46 কিন্তু যা রূহানিক তা প্রথম নয়, বরং যা দুনিয়াবী তা-ই প্রথম তারপরে রূহানিক।
47 প্রথম মানুষ মাটি থেকে, মাটির মানুষ, দ্বিতীয় মানুষ বেহেশত থেকে।
48 মাটির তৈরি ব্যক্তিরা সেই মাটির তুল্য এবং বেহেশতী ব্যক্তিরা সেই বেহেশতের তুল্য।
49 আর আমরা যেমন সেই মাটির প্রতিমূর্তি ধারণ করেছি, তেমনি সেই বেহেশতী ব্যক্তির প্রতিমূর্তিও ধারণ করবো।
50
আমি এই বলি, ভাইয়েরা, রক্তমাংস আল্লাহ্র রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না; এবং যা ধ্বংস হয় তা এমন কিছুর অধিকারী হতে পারে না যা ধ্বংস হয় না।
51 দেখ, আমি তোমাদের এক নিগূঢ়তত্ত্ব বলি; আমরা সকলে যে মারা যাব তা নয়, কিন্তু সকলে রূপান্তরিকৃত হব;
52 এক মুহূর্তের মধ্যে, চোখের পলকে, শেষ তূরীধ্বনির সংগে সংগে রূপান্তরিকৃত হব; কেননা সেই তূরী যখন বাজবে, তখন মৃতেরা ধ্বংসহীন জীবন নিয়ে পুনরুত্থিত হবে এবং আমরা রূপান্তরিত হব।
53 কারণ যা কিছু ধ্বংস হয় তাকে এমন কিছু পরিধান করতে হবে যা ধ্বংস হয় না এবং যা কিছু মরণশীল তাকে অমরতা লাভ করতে হবে।
54 আর এই ধ্বংসহীনতা যখন এমন কিছু লাভ করবে যা ধ্বংস হয় না এবং এই মরণশীলতা যখন অমরতা প্রাপ্ত হবে, তখন এই যে, কথা লেখা আছে, তা সফল হবে, “মৃত্যু জয়ে কবলিত হল।”
55 “মৃত্যু, তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু, তোমার হুল কোথায়?”
56 মৃত্যুর হুল গুনাহ্ ও গুনাহ্র শক্তি শরীয়ত।
57 কিন্তু আল্লাহ্র শুকরিয়া হোক, তিনি আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ দ্বারা আমাদেরকে জয় প্রদান করেন।
58 অতএব, হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, সুস্থির হও, অবিচল হও, প্রভুর কাজে সব সময় উপ্চে পড়, কেননা তোমরা জান যে, প্রভুতে তোমাদের পরিশ্রম নিষ্ফল নয়।
1
আর পবিত্র লোকদের জন্য দান তুললবার সম্বন্ধে বলছি, আমি গালাতিয়া দেশস্থ মণ্ডলী সকলকে যে হুকুম দিয়েছি, সেই অনুসারে তোমরাও কর।
2 সপ্তাহের প্রথম দিনে তোমরা প্রত্যেকে নিজেদের কাছে কিছু কিছু রেখে নিজ নিজ সঙ্গতি অনুসারে অর্থ সঞ্চয় কর; যেন আমি যখন আসবো, তখনই চাঁদা তুলতে না হয়।
3 পরে আমি আসলে পর, তোমরা যাদেরকে যোগ্য মনে করবে, আমি তাদেরকে পত্র দিয়ে তাদের দ্বারা তোমাদের সেই দান জেরুশালেমে পাঠিয়ে দেব।
4 আর আমারও যদি যাওয়া প্রয়োজন হয়, তবে তারা আমার সঙ্গে যাবে।
5
ম্যসিডোনিয়া দেশ দিয়ে যাত্রা সমাপ্ত হলেই আমি তোমাদের ওখানে যাব, কেননা আমি ম্যসিডোনিয়া দেশ দিয়ে যেতে উদ্যত আছি।
6 আর হয় তো তোমাদের কাছে কিছু দিন অবস্থান করবো, কি জানি শীতকালও যাপন করবো; তা হলে আমি যেখানেই যাই, তোমরা আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসতে পারবে।
7 কেননা তোমাদের সঙ্গে এবার যাবার পথে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করতে বাসনা করি না; কারণ আমার প্রত্যাশা এই যে, যদি প্রভুর অনুমতি হয়, আমি তোমাদের কাছে কিছু কাল থাকব।
8 কিন্তু পঞ্চাশত্তমী-ঈদ পর্যন্ত আমি ইফিষে থাকব;
9 কারণ আমার সম্মুখে একটি কার্যসাধক বৃহৎ খোলা দরজা রয়েছে এবং অনেকে এর বিপক্ষতাও করছে।
10
তীমথি যদি আসেন, তবে দেখো যেন তিনি তোমাদের কাছে নির্ভয়ে থাকেন, কেননা যেমন আমি করি, তেমনি তিনি প্রভুর কাজ করছেন; অতএব কেউ তাঁকে হেয়জ্ঞান না করুক।
11 কিন্তু তাঁকে শান্তিতে এগিয়ে দেবে, যেন তিনি আমার কাছে আসতে পারেন, কারণ আমি অপেক্ষা করছি যে, তিনি ভাইদের সঙ্গে আসবেন।
12
আর আপল্লো ভাইয়ের বিষয়ে বলছি; আমি তাঁকে অনেক ফরিয়াদ করেছিলাম, যেন তিনি ভাইদের সঙ্গে তোমাদের কাছে যান; কিন্তু এখন কোন ভাবেই যেতে তাঁর ইচ্ছা হল না, কিন্তু সুযোগ পেলেই যাবেন।
13
তোমরা জেগে থাক, ঈমানে দাঁড়িয়ে থাক, সাহসী হও ও বলবান হও।
14 তোমাদের সমস্ত কাজ মহব্বতে সম্পন্ন হোক।
15
আর হে ভাইয়েরা, তোমাদেরকে নিবেদন করছি; তোমরা স্তিফানের পরিজনকে জান, তাঁরা আখায়া দেশের প্রথম ঈমানদার এবং পবিত্র লোকদের পরিচর্যায় নিজেদের নিযুক্ত করেছেন;
16 তোমরাও এই প্রকার লোকদের এবং যত জন এই কাজে সাহায্য করেন ও পরিশ্রম করেন তাদের অধীনতা স্বীকার কর।
17 স্তিফান, ফর্তুনাত ও আখায়িকের আগমনে আমি আনন্দ করছি, কেননা তোমাদের অভাব তাঁরা পূর্ণ করেছেন;
18 কারণ তাঁরা আমার এবং তোমাদেরও রূহ্কে সজীব করেছেন। অতএব তোমরা এই প্রকার লোকদের চিনে মান্য করো।
19
এশিয়ার মণ্ডলী সকল তোমাদের সালাম জানাচ্ছে। আক্কিলা ও প্রিষ্কা এবং তাঁদের গৃহস্থিত মণ্ডলী তোমাদের প্রভুতে অনেক সালাম জানাচ্ছেন।
20 ভাইয়েরা সকলে তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন। তোমরা পবিত্র চুম্বনে পরস্পর সালাম জানাও।
21
আমার শুভেচ্ছা আমি পৌল স্বহস্তে লিখলাম।
22 কোন ব্যক্তি যদি প্রভুকে ভাল না বাসে, তবে সে বদদোয়াপ্রাপ্ত হোক; ‘মারাণ আথা’ [প্রভু আসছেন]।
23 ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
24 মসীহ্ ঈসাতে আমার মহব্বত তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
1
আমি পৌল, আল্লাহ্র ইচ্ছায় মসীহ্ ঈসার প্রেরিত এবং ভাই তীমথি, করিন্থে আল্লাহ্র যে মণ্ডলী আছে এবং সমস্ত আখায়া দেশে যেসব পবিত্র লোক আছেন, তাঁদের সকলে সমীপে।
2 আমাদের পিতা আল্লাহ্ এবং ঈসা মসীহের কাছ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
ধন্য আমাদের ঈসা মসীহের আল্লাহ্ ও পিতা; তিনিই করুণাময় পিতা এবং সমস্ত সান্ত্বনার আল্লাহ্;
4 তিনি আমাদের সমস্ত ক্লেশের মধ্যে আমাদের সান্ত্বনা দেন, যেন আমরা নিজে আল্লাহ্-দত্ত যে সান্ত্বনায় সান্ত্বনা প্রাপ্ত হই, সেই সান্ত্বনা দ্বারা সমস্ত ক্লেশের পাত্রদের সান্ত্বনা দিতে পারি।
5 কেননা মসীহের দুঃখভোগ যেমন আমাদের প্রতি উপচে পড়ে, তেমনি মসীহ্ দ্বারা আমাদের সান্ত্বনাও উপচে পড়ে।
6 আর আমরা যদি ক্লেশ ভোগ করি, তবে তা তোমাদের সান্ত্বনা ও নাজাতের জন্য; অথবা যদি সান্ত্বনা পাই তবে তা তোমাদের সান্ত্বনার জন্য; সেই সান্ত্বনা সেই একই প্রকার ধৈর্যযুক্ত দুঃখভোগে কার্য সাধন করছে, যে প্রকার দুঃখ আমরাও ভোগ করছি।
7 আর তোমাদের বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা বেশ দৃঢ়; কেননা আমরা জানি, তোমরা যেমন দুঃখভোগের, তেমনি সান্ত্বনারও সহভাগী।
8
কারণ, হে ভাইয়েরা, এশিয়ায় আমাদের যে ক্লেশ ঘটেছিল, তোমরা যে সেই বিষয় অজ্ঞাত থাক তা আমাদের ইচ্ছা নয়; ফলত অতিরিক্ত দুঃখের ভারে আমরা শক্তির অতিরিক্তরূপে ভারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; এমন কি, জীবনের আশাও ছেড়ে দিয়েছিলাম;
9 বরং আমরা নিজেদের অন্তরে এই উত্তর পেয়েছিলাম যে, মৃত্যু আসছে, যেন নিজেদের উপরে নির্ভর না করে যিনি মৃতদেরকে জীবিত করে তোলেন সেই আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করি।
10 তিনিই এত বড় মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করেছেন ও করবেন; আমরা তাঁর উপরেই আশা রেখেছি যে, এর পরেও তিনি উদ্ধার করবেন;
11 এতে তোমরাও তোমাদের মুনাজাত দ্বারা আমাদের সাহায্য করছো, যেন অনেকের দ্বারা যে মেহেরবানী-দান আমাদের দেওয়া হয়েছে, তার জন্য অনেক মুখ থেকে আমাদের পক্ষে শুকরিয়া প্রদান করা হয়।
12
আমাদের শ্লাঘা এই, আমাদের বিবেক সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ্-দত্ত পবিত্রতায় ও সরলতায়, পার্থিব বিজ্ঞতায় নয়, কিন্তু আল্লাহ্র রহমতে, আমরা দুনিয়াতে এবং আরও বাহুল্যরূপে তোমাদের প্রতি আচরণ করেছি;
13 আমরা তো আর কোন বিষয় তোমাদের লিখছি না, কেবল তা-ই লিখছি, যা তোমরা পাঠ করে থাক, অথবা স্বীকার করে থাক, আর আশা করি, তোমরা শেষ পর্যন্ত তা স্বীকার করবে।
14 বাস্তবিক তোমরা কতগুলো পরিমাণে আমাদের এই বলে স্বীকার করেছ যে, আমরা যেমন তোমাদের শ্লাঘার কারণ, তেমনি আমাদের প্রভু ঈসার আসার দিনে তোমরাও আমাদের শ্লাঘার কারণ হবে।
15
আর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জন্য আমার এই অভিপ্রায় ছিল যে, আমি আগে তোমাদের কাছে যাব, যেন তোমরা দ্বিতীয় বার রহমত প্রাপ্ত হও;
16 আর তোমাদের কাছ দিয়ে ম্যাসিডোনিয়ায় গমন করবো, পরে ম্যাসিডোনিয়া থেকে আবার তোমাদের কাছে যাব, আর তোমরা আমাকে এহূদিয়ার পথে এগিয়ে দিয়ে আসবে।
17 ভাল, এরূপ অভিপ্রায় করায় কি আমি চাঞ্চল্য প্রকাশ করেছিলাম? অথবা আমি যেসব মনস্থ করি, সেই সব মনস্থ কি পার্থিব মতে করে থাকি যে, আমার কাছে ‘হাঁ’ হ্যাঁ, ও ‘না’ না হবে?
18 বরং আল্লাহ্ যেমন বিশ্বাস্য, তেমনি তোমাদের প্রতি আমাদের কথা ‘হাঁ’ আবার ‘না’ হয় না।
19 ফলত ইবনুল্লাহ্ ঈসা মসীহ্, যিনি আমাদের দ্বারা, অর্থাৎ আমার, সীল ও তীমথির দ্বারা তোমাদের কাছে তবলিগকৃত হয়েছেন, তিনি ‘হাঁ’ আবার ‘না’ হন নি, কিন্তু তাঁতেই সবসময় ‘হাঁ’ হয়েছে;
20 কারণ আল্লাহ্র যত ওয়াদা, তাঁর জন্যেই সেসবের ‘হাঁ’ হয়, সেজন্য তাঁর দ্বারা ‘আমিন’ও হয়, যেন আমাদের দ্বারা আল্লাহ্র গৌরব হয়।
21 আর যিনি তোমাদের সঙ্গে আমাদেরকে মসীহে স্থির করেছেন এবং আমাদেরকে অভিষিক্ত করেছেন, তিনি আল্লাহ্;
22 আর তিনি আমাদেরকে মুদ্রাঙ্কিতও করেছেন এবং আমাদের অন্তরে তাঁর রূহ্কে আসন দিয়েছেন।
23
কিন্তু আমি আপন প্রাণের কসম দিয়ে আল্লাহ্কে সাক্ষী মেনে বলছি, তোমাদের অব্যাহতি দেবার জন্যই এখনও পর্যন্ত আমি করিন্থে আসি নি।
24 আমরা যে তোমাদের ঈমানের উপরে প্রভুত্ব করি এমন নয়, বরং তোমাদের আনন্দের সহকারী হই; কারণ ঈমানেই তোমরা দাঁড়িয়ে আছ।
1
আর আমি নিজে এই স্থির করেছিলাম যে, পুনর্বার মনোদুঃখ নিয়ে তোমাদের কাছে যাব না।
2 কেননা আমি যদি তোমাদের দুঃখিত করি, তবে আমার আনন্দদায়ক কে? কেবল সেই, যে আমার কাছ থেকে দুঃখিত হয়।
3 আর এই অভিপ্রায়ে সেই কথা লিখেছিলাম, যেন আমি আসলে যাদের থেকে আমার আনন্দিত হওয়া কথা, তাদের থেকে যেন মনোদুঃখ না পাই; কেননা তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, আমার আনন্দে তোমাদের সকলেরই আনন্দ।
4 কারণ অনেক ক্লেশ ও মনোবেদনার মধ্যে অনেক অশ্রুপাত করতে করতে তোমাদেরকে লিখেছিলাম; তোমরা যেন দুঃখিত হও সেজন্য নয়, কিন্তু তোমাদের প্রতি আমার মহব্বত যে কত গভীর তা যেন জ্ঞাত হও।
5
কিন্তু কেউ যদি দুঃখ দিয়ে থাকে, তবে সে আমাকে দুঃখ দেয় নি, কিন্তু কতক পরিমাণে তোমাদের সকলকেই দিয়েছে, সে কথা বলা অত্যুক্তি হবে না।
6 অধিকাংশ লোকের দ্বারা সেরূপ ব্যক্তি যে দণ্ড পেয়েছে, তা-ই তার পক্ষে যথেষ্ট।
7 অতএব তোমরা বরং তাকে মাফ করলে ও সান্ত্বনা দিলে ভাল হয়, পাছে অতিরিক্ত মনোদুঃখে সেই ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে।
8 এই কারণে ফরিয়াদ করি, তার প্রতি তোমাদের মহব্বতের যথার্থ প্রমাণ দাও।
9 কারণ তোমরা সর্ববিষয়ে বাধ্য কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবার জন্য তোমাদেরকে লিখেছিলাম।
10 যদি তোমরা কোন লোকের দোষ মাফ করে থাক তবে আমিও মাফ করি; কেননা আমি যদি কোন কিছু মাফ করে থাকি, তবে তোমাদের জন্য মসীহের সাক্ষাতে তা মাফ করেছি,
11 যেন আমরা শয়তান কর্তৃক প্রতারিত না হই; কেননা তার পরিকল্পনা সকল আমরা অজ্ঞাত নই।
12
আমি যখন মসীহের ইঞ্জিলের জন্য ত্রোয়াতে গিয়েছিলাম, আর প্রভুতে আমার সম্মুখে একটি দ্বার খোলা হয়েছিল,
13 তখন আমার ভাই তীতকে না পাওয়াতে আমার মনে কোন শান্তি পাই নি; কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ম্যাসিডোনিয়ায় চলে গেলাম।
14 আর আল্লাহ্র শুকরিয়া হোক যে, তিনি সর্বদা আমাদের নিয়ে মসীহে বিজয়-যাত্রা করেন এবং তাঁর সম্বন্ধীয় জ্ঞানের সুগন্ধ আমাদের দ্বারা সমস্ত জায়গায় প্রকাশ করেন;
15 কারণ যারা নাজাত পাচ্ছে ও যাদের বিনাশ হচ্ছে, উভয়ের কাছে আমরা আল্লাহ্র পক্ষে মসীহের সুগন্ধস্বরূপ।
16 এক পক্ষের প্রতি আমরা মৃত্যুমূলক মৃত্যুজনক গন্ধ, অন্য পক্ষের প্রতি জীবন-মূলক জীবনদায়ক গন্ধ। আর এই সব কিছুর জন্য উপযুক্ত কে?
17 আমরা তো অনেকের মত আল্লাহ্র কালাম নিয়ে ব্যবসা করি না; কিন্তু সরলভাবে, আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে, আমরা আল্লাহ্র সম্মুখে মসীহের কথা বলছি।
1
আমরা কি পুনর্বার নিজেদের প্রশংসা করতে আরম্ভ করছি? অথবা তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রশংসা পাবার কিংবা তোমাদের কাছ থেকে যেমন অন্য কারো কারো প্রশংসা-পত্র প্রয়োজন হয়ে পড়ে সেরকম কি আমাদেরও প্রয়োজন আছে?
2 তোমরাই তো আমাদের পত্র, আমাদের অন্তরে লেখা পত্র, যা সকল মানুষ জানে ও পাঠ করে;
3 ফলত তোমরা মসীহের পত্র, আমাদের পরিচর্যায় সাধিত পত্র বলে প্রকাশ পাচ্ছ; তা কালি দিয়ে নয়, কিন্তু জীবন্ত আল্লাহ্র রূহ্ দিয়ে, প্রস্তরফলকে নয়, কিন্তু মানুষের হৃদয়-ফলকে লেখা হয়েছে।
4
আর মসীহের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রতি আমাদের এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে।
5 আমরা নিজেরাই যে কোনো কিছুর মীমাংসা করতে নিজের গুণে উপযুক্ত তা নয়; কিন্তু আমাদের যোগ্যতা আল্লাহ্ থেকে আসে;
6 তিনিই আমাদেরকে নতুন নিয়মের পরিচারক, অক্ষরের নয়, কিন্তু রূহের পরিচারক হবার উপযুক্তও করেছেন; কারণ অক্ষর, কিন্তু মৃত্যু নিয়ে আসে কিন্তু রূহ্ জীবনদায়ক।
7 মৃত্যুর যে পরিচর্যা-পদ পাথরে লেখা ও খোদাই করা, তা এমন মহিমার সংগে এসেছিল যে, বনি-ইসরাইল মূসার মুখের মহিমার উজ্জ্বলতার কারণে তাঁর মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকাতে পারছিল না,
8 কিন্তু তবুও সেই মহিমার উজ্জ্বলতা লোপ পাচ্ছিল, তবে কেন পাক-রূহের পরিচর্যা-পদ বরং আরও মহিমাযুক্ত হবে না?
9 কেননা দণ্ডাজ্ঞার পরিচর্যা-পদ যদি এত মহিমাস্বরূপ হয়, তবে ধার্মিকতার পরিচর্যা-পদ মহিমায় আরও কত না অধিক উপচে পড়ে।
10 কারণ যা একদা মহিমাযুক্ত করা হয়েছিল, এখনকার মহান মহিমার কারণে তার সেই মহিমা হারিয়ে ফেলেছিল।
11 কেননা যা লোপ পাচ্ছে, তা যদি মহিমা-যুক্ত হয়, তবে যা স্থায়ী, তা কত অধিক মহিমাযুক্ত।
12
অতএব, আমাদের এরূপ প্রত্যাশা থাকাতে আমরা অতি স্পষ্ট কথা ব্যবহার করি;
13 আর মূসার মত করি না; তিনি তো তাঁর মুখে আবরণ দিতেন, যেন বনি-ইসরাইল একদৃষ্টে চেয়ে যা লোপ পাচ্ছিল, তার পরিণাম না দেখে।
14 কিন্তু তাদের মন কঠিন হয়েছিল। কেননা অদ্যাপি পর্যন্ত এখনও যারা পুরাতন নিয়মের পাঠ শোনে, সেই আবরণ অদ্য পর্যন্ত রয়েছে, খোলা যায় না, কেননা সেই আবরণ মাত্র মসীহেই লোপ পায়;
15 কিন্তু অদ্য পর্যন্ত যে কোন সময়ে মূসার শরীয়ত পাঠ করা হয়, তখন তাদের হৃদয়ের উপরে আবরণ থাকে।
16 কিন্তু কোন ব্যক্তির অন্তর যখন প্রভুর প্রতি ফেরে, তখন সেই আবরণ অপসারিত করা হয়।
17 আর প্রভুই সেই রূহ্; এবং যেখানে প্রভুর রূহ্, সেখানে স্বাধীনতা।
18 কিন্তু আমরা সকলে অনাবৃত মুখে প্রভুর মহিমা আয়নার মত প্রতিফলিত করতে করতে মহিমা থেকে মহিমা পর্যন্ত যেমন তা প্রভু থেকে, অর্থাৎ রূহ্ থেকে হয়ে থাকে, তেমনি সেই প্রতিমূর্তিতে স্বরূপান্তরিত হচ্ছি।
1
এজন্য আল্লাহ্র করুণায় আমরা এই পরিচর্যা-পদ প্রাপ্ত হওয়ার ফলে আর নিরুৎসাহিত হই না;
2 বরং লজ্জার গুপ্ত কার্যসমূহ জলাঞ্জলি দিয়েছি; ধূর্ততায় চলতে অস্বীকার করি ও আল্লাহ্র কালাম বিকৃত করি না, কিন্তু সত্য প্রকাশ দ্বারা আল্লাহ্র সাক্ষাতে মানুষের বিবেকের কাছে নিজেদের যোগ্যপাত্র হিসাবে দেখাচ্ছি।
3 কিন্তু আমাদের ইঞ্জিল যদি ঢাকা থাকে, তবে যারা বিনাশ পাচ্ছে, তাদেরই কাছে ঢাকা থাকে।
4 তাদের মধ্যে এই যুগের দেবতা অ-ঈমানদারদের মন অন্ধ করে রেখেছে, যেন আল্লাহ্র প্রতিমূর্তি যে মসীহ্, তাঁর গৌরবের ইঞ্জিল-নূর তাদের কাছে উদ্ভাসিত না হয়।
5 বস্তুতঃ আমরা নিজেদের নয়, কিন্তু মসীহ্ ঈসাকেই প্রভু বলে তবলিগ করছি এবং নিজেদেরকে ঈসার জন্য তোমাদের গোলাম বলে দেখাচ্ছি।
6 কারণ যে আল্লাহ্ বলেছিলেন, ‘অন্ধকারের মধ্য থেকে আলো প্রকাশিত হোক, তিনিই আমাদের অন্তরে আলো প্রকাশ করলেন, যেন ঈসা মসীহের মুখমণ্ডলে আল্লাহ্র গৌরবের জ্ঞানের আলো প্রকাশ পায়।
7
কিন্তু এই ধন মাটির পাত্রে করে আমরা ধারণ করছি, যেন এই অসাধারণ মহাশক্তি আল্লাহ্র হয়, আমাদের থেকে নয়।
8 আমরা সর্বপ্রকারে ক্লিষ্ট হচ্ছি, কিন্তু উদ্ধিগ্ন হই না; হতবুদ্ধি হচ্ছি, কিন্তু নিরাশ হই না;
9 তাড়িত হচ্ছি, কিন্তু পরিত্যক্ত হই না; আঘাত করা হচ্ছে, কিন্তু বিনষ্ট হই না।
10 আমরা সর্বদা এই দেহে ঈসার মৃত্যু বহন করে বেড়াচ্ছি, যেন ঈসার জীবনও আমাদের দেহে প্রকাশ পায়।
11 কেননা আমরা জীবিত হয়েও ঈসার জন্য সর্বদাই মৃত্যুর মুখে সমর্পিত হচ্ছি, যেন আমাদের মরণশীল দেহে ঈসার জীবনও প্রকাশ পায়।
12 এরূপে আমাদের মধ্যে মৃত্যু কাজ করছে, কিন্তু তোমাদের মধ্যে জীবন কাজ করছে।
13
কিন্তু ঈমানের সেই রূহ্ আমাদের আছে, যেরূপ পাক-কিতাবে লেখা আছে, “আমি ঈমান এনেছি, তাই কথা বললাম;” তেমনি আমরাও ঈমান এনেছি, তাই কথাও বলছি;
14 কেননা আমরা জানি, যিনি প্রভু ঈসাকে পুনরুত্থিত করেছেন, তিনি ঈসার সঙ্গে আমাদেরকেও পুনরুত্থিত করবেন এবং তোমাদের সঙ্গে আমাদেরও নিজের সম্মুখে উপস্থিত করবেন।
15 কারণ সব কিছুই তোমাদের জন্য, যেন আল্লাহ্র রহমত অধিক লোকের দ্বারা বৃদ্ধি পেয়ে আল্লাহ্র গৌরবার্থে প্রচুর শুকরিয়ার কারণ হয়ে ওঠে।
16
এজন্য আমরা নিরুৎসাহ হই না, কিন্তু আমাদের বাইরের সত্তা যদিও ক্ষীণ হচ্ছে, তবুও অন্তরের সত্তা দিন দিন নতুনীকৃত হচ্ছে।
17 বস্তুতঃ আমাদের যে লঘুতর ক্লেশ হয়ে থাকে, তা আমাদের অনন্তকাল স্থায়ী মহিমার জন্য প্রস্তুত করছে; সেই মহিমা এত বেশি যে তা মাপা যায় না।
18 আমরা তো দৃশ্য বস্তু লক্ষ্য না করে অদৃশ্য বস্তু লক্ষ্য করছি; কারণ যা দৃশ্য তা ক্ষণকালস্থায়ী, কিন্তু যা যা অদৃশ্য তা অনন্তকালস্থায়ী।
1
কারণ আমরা জানি, যদি আমাদের এই তাঁবুর মত দুনিয়াবী গৃহ ভেঙ্গে যায়, তবে আল্লাহ্দত্ত এক গাঁথনি আমাদের আছে, সেই গৃহ হস্তনির্মিত নয়, তা অনন্তকালস্থায়ী ও বেহেশতে অবস্থিত।
2 কারণ বাস্তবিক আমরা এই তাঁবুর মধ্যে থেকে আর্তস্বর করছি, এর উপরে বেহেশত থেকে প্রাপ্য আবাস-পরিহিত হবার আকাঙক্ষা করছি;
3 পরিহিত হলে পর আমরা তো উলঙ্গ থাকব না।
4 আর বাস্তবিক এই তাঁবুতে থেকে আমরা ভারাক্রান্ত হওয়াতে আর্তস্বর করছি; কেননা আমরা পরিচ্ছদ-বিহীন হতে বাসনা করি না, কিন্তু এর উপরে পরিহিত হতে বাসনা করি, যেন যা মরণশীল, তা জীবনের দ্বারা কবলিত হয়।
5 আর যিনি আমাদেরকে এরই জন্য প্রস্তত করেছেন, তিনি আল্লাহ্, তিনি আমাদের পাক-রূহ্কে বায়না হিসাবে দান করেছেন।
6 অতএব আমরা সর্বদা সাহস করছি, আর জানি, যত দিন এই দেহে বাস করছি, তত দিন প্রভুর কাছ থেকে দূরে প্রবাস করছি;
7 কেননা আমরা ঈমান দ্বারা চলি, বাহ্যিক দৃশ্য দ্বারা নয়।
8 আমরা সাহস করছি এবং দেহ থেকে দূরে প্রবাস ও প্রভুর কাছে বাস করাকে অধিক বাঞ্ছনীয় জ্ঞান করছি।
9 আর সেজন্য আমরা নিজ দেহে বাস করি, কিংবা প্রবাসী হই, আমাদের লক্ষ্য হল তাঁকে খুশি করা।
10 কারণ আমাদের সকলকেই মসীহের বিচারাসনের সম্মুখে হাজির হতে হবে, যেন সৎকার্য হোক, কি অসৎকার্য হোক, প্রত্যেকে তার নিজের কৃতকর্ম অনুসারে দেহ দ্বারা উপার্জিত ফল পায়।
11
অতএব, প্রভুর ভয় কি তা জানি বলে আমরা মানুষকে বুঝাবার চেষ্টা করছি, কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের সকলকে ভালভাবেই জানেন; আর আমি প্রত্যাশা করি যে, তোমাদের বিবেকও আমাদের ভালভাবে জানে।
12 আমরা পুনরায় তোমাদের কাছে নিজেদেরকে যোগ্য পাত্র বলে প্রমাণ করছি না, কিন্তু আমাদের নিয়ে গর্ববোধ করার সুযোগ তোমাদের দিচ্ছি, যেন, যারা অন্তরে নয় কিন্তু বাইরের বিষয় নিয়ে গর্ব করে, তোমরা তাদেরকে উত্তর দিতে পার।
13 কেননা যদি আমরা হতবুদ্ধি হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহ্র জন্যই হয়েছি এবং যদি সুবুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে থাকি তবে তা তোমাদের জন্যই হয়েছি।
14 কারণ মসীহের মহব্বত আমাদের বশে রেখে চালাচ্ছে; কেননা আমরা নিশ্চিত ভাবে বুঝেছি যে, একজন সকলের জন্য মরলেন, সুতরাং সকলেই মারা গেল;
15 আর তিনি সকলের জন্য মরলেন, যেন, যারা জীবিত আছে তারা আর নিজেদের উদ্দেশে নয় কিন্তু যিনি তাদের জন্য মরেছিলেন ও পুনরুত্থিত হলেন তাঁরই উদ্দেশে জীবন ধারণ করে।
16 অতএব এখন থেকে আমরা আর কাউকেও বাহ্যিক অবস্থা অনুসারে বিচার করি না; যদিও মসীহ্কে বাহ্যিক অবস্থা অনুসারে বিচার করেছিলাম, তবুও এখন আর সেভাবে বিচার করি না।
17 ফলত কেউ যদি মসীহে থাকে তবে নতুন সৃষ্টি হল; তার পুরানো বিষয়গুলো অতীত হয়েছে, দেখ, সেগুলো নতুন হয়ে উঠেছে।
18 সব কিছুই আল্লাহ্ থেকেই হয়েছে; তিনি মসীহ্ দ্বারা নিজের সঙ্গে আমাদের সম্মিলন করেছেন এবং সম্মিলনের পরিচর্যা-পদ আমাদের দিয়েছেন;
19 বস্তুতঃ আল্লাহ্ মসীহে নিজের সঙ্গে দুনিয়ার সম্মিলন করিয়ে দিচ্ছিলেন, তাদের অপরাধ সকল তাদের বলে গণনা করলেন না; এবং সেই সম্মিলনের বার্তা আমাদের জানিয়েছেন।
20 অতএব মসীহের পক্ষেই আমরা রাজ-দূতের কর্ম করছি; আল্লাহ্ যেন আমাদের মাধ্যমেই নিবেদন করছেন; আমরা মসীহের পক্ষে এই ফরিয়াদ করছি, তোমরা আল্লাহ্র সঙ্গে সম্মিলিত হও।
21 যিনি গুনাহ্ করেন নি, তাঁকে তিনি আমাদের পক্ষে গুনাহ্স্বরূপ করলেন, যেন আমরা তাঁতে আল্লাহ্র ধার্মিকতাস্বরূপ হই।
1
আর যেহেতু আমরা তাঁর সহকর্মী সেজন্য আমরা এই নিবেদনও করছি যে, তোমরা আল্লাহ্র রহমত ব্যর্থ হতে দিও না।
2 কেননা তিনি বলেন,
“আমি প্রসন্নতার সময়ে তোমার মুনাজাত শুনলাম
এবং নাজাতের দিবসে তোমার সাহায্য করলাম।”
দেখ, এখন সুপ্রসন্নতার সময়; দেখ, এখন নাজাতের দিবস।
3 আমরা কোন বিষয়ে যেন কোন ব্যাঘাত না জন্মাই, যেন সেই পরিচর্যা-পদ কলঙ্কিত না হয়;
4 কিন্তু আল্লাহ্র পরিচারক বলে সর্ব বিষয়ে নিজদেরকে যোগ্য পাত্র হিসাবে প্রমাণ করছি, বিপুল ধৈর্যে, নানা প্রকার ক্লেশে, অনটনে, সঙ্কটে,
5 প্রহারে, কারাবাসে, দাংঙ্গা-হাঙ্গামায়, পরিশ্রমে, অনিদ্রায়, অনাহারে;
6 শুদ্ধতায়, জ্ঞানে, চিরসহিষ্ণুতায়, দয়ার ভাবে, পাক-রূহে, অকপট মহব্বতে,
7 সত্যের কালামে, আল্লাহ্র পরাক্রমে; ডান ও বাম হস্তে ধার্মিকতার অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা;
8 সম্মান ও অসম্মানে, অখ্যাতি ও সুখ্যাতি-ক্রমে। আমরা নাকি প্রবঞ্চক, অথচ সত্যবাদী;
9 অপরিচিতের মত, অথচ সুপরিচিত; মৃতপ্রায়, অথচ দেখ, জীবিত আছি; দণ্ড দান করা হচ্ছে, অথচ হত্যা করা হচ্ছে না;
10 অনেক দুঃখ পাচ্ছি, কিন্তু সর্বদা আনন্দিত; দীনহীনের মত, কিন্তু অনেকের ধনদাতা; আমাদের যেন কিছুই নেই, অথচ আমরা সর্বাধিকারী।
11
হে করিন্থীয়েরা, তোমাদের কাছ আমরা খোলামনেই কথা বলেছি, আমাদের অন্তর উন্মুক্ত রয়েছে।
12 আমরা আমাদের অন্তর তোমাদের জন্য উম্মুক্ত রেখেছি, কিন্তু তোমরা তোমাদের অন্তর আমাদের বিরুদ্ধে বদ্ধ করে রেখেছ।
13 আমি তোমাদের সন্তানের মত জেনে বলছি, অনুরূপ প্রতিদানের জন্য তোমরাও অন্তর উম্মুক্ত রাখ।
14
তোমরা অ-ঈমানদারদের সঙ্গে অসম-ভাবে যোয়ালিতে আবদ্ধ হয়ো না; কেননা ধর্মে ও অধর্মে পরস্পর কি সহযোগিতা হয়? অন্ধকারের সঙ্গে দীপ্তিরই বা কি সহভাগিতা?
15 আর বলীয়ারের [গুনাহ্দেবতার] সঙ্গে মসীহের কি ঐক্য আছে? অ-ঈমানদারদের সঙ্গে ঈমানদারদেরই বা কি অংশ আছে?
16 আর প্রতিমাদের সঙ্গে আল্লাহ্র গৃহেরই বা কি সম্পর্ক আছে? আমরাই তো জীবন্ত আল্লাহ্র গৃহ, যেমন আল্লাহ্ বলেছেন, “আমি তাদের মধ্যে বসতি করবো ও গমনাগমন করবো; এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব ও তারা আমার লোক হবে।”
17 অতএব “তোমরা তাদের মধ্য থেকে বের হয়ে এসো ও পৃথক হও, এটা প্রভু বলছেন এবং তোমরা নাপাক বস্তু স্পর্শ করো না; তাতে আমিই তোমাদের গ্রহণ করবো,
18 এবং তোমাদের পিতা হব, ও তোমরা আমার পুত্র কন্যা হবে, এই কথা সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন।”
1
অতএব, প্রিয়তমেরা এসব প্রতিজ্ঞার অধিকারী হওয়াতে এসো, আমরা দৈহিক ও রূহের সমস্ত মলিনতা থেকে নিজেদের পাক-পবিত্র করি, আল্লাহ্ভয়ে নিজেদেরকে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র করি।
2
তোমরা আমাদেরকে তোমাদের মনে স্থান দাও; আমরা কারো প্রতি অন্যায় করি নি, কাউকে নষ্ট করি নি, কাউকেও ঠকাই নি।
3 আমি তোমাদেরকে দোষী করার জন্য এই কথা বলছি, তা নয়; কেননা পূর্বে বলেছি, তোমরা আমাদের অন্তরে এমনভাবে গাঁথা রয়েছ যে, মরবো তো একসঙ্গে মরবো, বাঁচব তো একসঙ্গে বাঁচব।
4 তোমাদের উপর আমার বড়ই আস্থা আছে; তোমাদের জন্যে আমি খুবই গর্বিত; আমাদের সমস্ত ক্লেশের মধ্যে আমি সান্ত্বনাতে পরিপূর্ণ, আমি আনন্দে উথলে পড়ছি।
5
কারণ যখন আমরা ম্যাসিডোনিয়াতে এসেছিলাম তখনও আমাদের দেহের কোন বিশ্রাম ছিল না; কিন্তু সর্বদিকে ক্লিষ্ট হচ্ছিলাম; বাইরে যুদ্ধ, অন্তরে ভয় ছিল।
6 তবুও আল্লাহ্, যিনি অবনতদের সান্ত্বনা দেন, তিনি তীতের আগমন দ্বারা আমাদের সান্ত্বনা দিলেন;
7 আর কেবল তাঁর আগমন দ্বারা নয়, কিন্তু তোমাদের মধ্যে তিনি যে সান্ত্বনায় সান্ত্বনা লাভ করেছিলেন, তা দ্বারাও সান্ত্বনা দিলেন, কারণ তিনি তোমাদের অনুরাগ, তোমাদের শোক, ও আমার পক্ষে তোমাদের গভীর আগ্রহের বিষয়ে সংবাদ দিলেন, তাতে আমি আরও আনন্দিত হলাম।
8 কেননা যদিও আমার পত্র দ্বারা তোমাদেরকে দুঃখ দিয়েছিলাম, তবু অনুশোচনা করি না— যদিও অনুশোচনা করেছিলাম কেননা আমি দেখতে পাচ্ছি যে, সেই পত্র তোমাদের মনোদুঃখ জন্মিয়েছে, কিন্তু তা কেবল অল্প কালের জন্য।
9 এখন আমি আনন্দ করছি; তোমাদের মনোদুঃখ হয়েছে, সেজন্য নয়, কিন্তু তোমাদের সেই মনোদুঃখ যে তোমাদের মনে অনুতাপজনিত পরিবর্তন এনেছে, সেজন্য; কারণ আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুসারেই তোমাদের মনোদুঃখ হয়েছে, যেন আমাদের দ্বারা কোন বিষয়ে তোমাদের ক্ষতি না হয়।
10 কারণ আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুসারে যে মনোদুঃখ, তা নাজাত লাভের জন্য মন পরিবর্তন ঘটায় এবং তাতে আমাদের দুঃখ করার কিছু নেই; কিন্তু দুনিয়ার দেওয়া মনোদুঃখ মৃত্যু ডেকে আনে।
11 কারণ দেখ, আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুসারে যে মনোদুঃখ তোমাদের হয়েছে, তা তোমাদের পক্ষে কত একাগ্রতা সাধন করেছে, আর নির্দোষ বলে প্রমাণ করার কেমন ইচ্ছা, কেমন বিরক্তি, কেমন ভয়, কেমন অনুরাগ, কেমন গভীর আগ্রহ, আর অন্যায়ের শাস্তি দেবার কেমন ইচ্ছা হয়েছিল! সর্ববিষয়ে তোমরা নিজেদেরকে ঐ ব্যাপারে নির্দোষ দেখিয়েছ।
12 অতএব আমি যদিও তোমাদের কাছে লিখেছিলাম, তবুও অপরাধীর জন্য কিংবা যার বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে তার জন্য নয়, কিন্তু আমাদের জন্য তোমাদের যে গভীর আগ্রহ আছে, তা যেন আল্লাহ্র সাক্ষাতে সুস্পষ্ট-ভাবে প্রকাশ পায়।
13 সেই কারণে আমরা সান্ত্বনা পেলাম; আর আমাদের সেই সান্ত্বনার উপরে তীতের আনন্দে আরও প্রচুর আনন্দ লাভ করলাম, কারণ তোমাদের সকলের দ্বারা তিনি মনে খুবই শন্তি লাভ করেছেন।
14 কেননা তাঁর কাছে আমি কোন বিষয়ে যদি তোমাদের জন্য গর্ব করে থাকি, তাতে লজ্জিত হই নি; কিন্তু আমরা যেমন তোমাদের কাছে সব কথাই সত্যভাবে বলেছি তেমনি তীতের কাছে আমাদের কৃত সেই গর্বও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
15 আর তোমরা সকলে কেমন বাধ্য ছিলে, কেমন সভয়ে ও সকম্পে তাঁকে গ্রহণ করেছিলে, তা স্মরণ করতে করতে তোমাদের প্রতি তাঁর স্নেহ অধিক প্রবল হয়েছে।
16 আমি আনন্দ করছি, কারণ সর্ববিষয়ে তোমাদের উপরে আমি নির্ভর করতে পারি।
1
আর ভাইয়েরা, ম্যাসিডোনিয়া দেশস্থ মণ্ডলীসমূহে আল্লাহ্র যে রহমত দেওয়া হয়েছে, তা আমরা তোমাদের জানাচ্ছি।
2 যদিও ভীষণ কষ্টভোগের মধ্য দিয়ে তাদের উপর মহাপরীক্ষা চলছিল তবুও তাদের মধ্যে আনন্দের প্রাচুর্য ছিল এবং তাদের চরম দীনতার মধ্যেও মুক্ত হস্তে দান করেছিল।
3 কেননা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা সাধ্য পর্যন্ত, বরং সাধ্যের অতিরিক্ত পরিমাণে স্বেচ্ছায় দান করেছিল,
4 খুবই আগ্রহ সহকারে তারা আমাদের কাছে অনুরোধ করেছিল যেন পবিত্র লোকদের পরিচর্যায় তারা অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।
5 এতে তারা যে আমাদের আশা অনুযায়ী কর্ম করলো কেবল তা নয়, বরং আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুসারে নিজদেরকেই প্রথমে প্রভু এবং আমাদের উদ্দেশে প্রদান করলো।
6 সেজন্য আমরা তীতকে অনুরোধ করলাম যেন তিনি ইতিমধ্যেই দানশীলতার যে কার্য আরম্ভ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই কার্য সমাপ্তও করেন।
7
ভাল, তোমরা যেমন সর্ববিষয়ে অর্থাৎ বিশ্বাসে, বক্তৃতায়, জ্ঞানে, সমস্ত রকম যত্নে এবং আমাদের প্রতি তোমাদের মহব্বতে উপচে পড়ছো তেমনি যেন এই দানশীলতার-কাজেও উপচে পড়।
8
আমি হুকুম হিসেবে বলছি না, কিন্তু অন্য লোকদের যত্ন দ্বারা তোমাদের মহব্বতেরও যথার্থতা পরীক্ষা করছি।
9 কেননা তোমরা আমাদের ঈসা মসীহের রহমতের কাজের কথা জ্ঞাত আছ; তিনি ধনবান হলেও তোমাদের জন্য দরিদ্র হলেন, যেন তোমরা তাঁর দরিদ্রতায় ধনবান হও।
10 আর এই বিষয়ে আমার অভিমত জানাচ্ছি; কারণ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলকর, যেহেতু তোমরা গত বৎসর থেকে কেবল কাজ করতে নয়, কিন্তু কাজের ইচ্ছা করতেও প্রথমে সঙ্কল্প করেছ।
11 আর এখন সেই কাজও সমাপ্ত কর; যেমন ইচ্ছা করায় আগ্রহ ছিল, তদ্রূপ যার যা আছে, সেই অনুসারে যেন সমাপ্তিও হয়।
12 কেননা যদি দান করার আগ্রহ থাকে, তবে যার যা আছে সেই অনুসারে তা গ্রাহ্য হয়; যার যা নেই, তা চাওয়া হয় নি।
13 কেননা আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে, অন্য সকলে আরামে থাকুক ও তোমরা কষ্টে থাক, বরং সাম্যতার নিয়মানুসারে হোক;
14 বর্তমান সময়ে তোমাদের প্রাচুর্যে ওদের অভাব পূর্ণ হোক, যেন আবার ওদের প্রাচুর্যের সময়ে তোমাদের অভাব পূর্ণ হয়, এরূপে যেন সাম্যভাব হয়;
15 যেমন লেখা আছে, “যে অধিক সংগ্রহ করলো, তার অতিরিক্ত হল না; এবং যে অল্প সংগ্রহ করলো, তার অভাব হল না।”
16
কিন্তু আল্লাহ্র শুকরিয়া হোক, তিনি তীতের অন্তরে তোমাদের জন্য সেই প্রকার যত্ন প্রদান করেছেন;
17 তীত আমাদের অনুরোধ গ্রাহ্য করলেন বটে কিন্তু তিনি নিজে অধিক যত্নবান হওয়াতে স্বেচ্ছায় তোমাদের কাছে যাচ্ছেন।
18 আর আমরা তাঁর সঙ্গে সেই ভাইকে পাঠালাম, ইঞ্জিল সম্বন্ধীয় যাঁর প্রশংসা সমুদয় মণ্ডলীতে পরিব্যাপ্ত হয়েছে;
19 কেবল তাই নয়, কিন্তু তিনি সেই দানশীলতার কাজ সম্বন্ধে আমাদের সহচর হবার জন্য মণ্ডলীগুলো কর্তৃক নির্বাচিতও হয়েছেন, যে কাজ প্রভুর গৌরবের জন্য ও আমাদের আগ্রহ প্রকাশের জন্য আমাদের পরিচর্যায় সমপাদিত হচ্ছে।
20 আমরা সাবধানে চলছি যেন এই যে মহাদানের পরিচর্যা আমাদের দ্বারা সমপাদিত হচ্ছে, তার বিষয়ে কেউ আমাদের উপরে দোষারোপ করতে না পারে।
21 কারণ কেবল প্রভুর সাক্ষাতে নয় মানুষের সাক্ষাতে যা উত্তম, তাও আমরা চিন্তা করি।
22 আর ওঁদের সঙ্গে আমাদের সেই ভাইকে পাঠালাম, যাঁকে আমরা অনেকবার অনেক বিষয়ে পরীক্ষা করে যত্নবান দেখেছি এবং তোমাদের প্রতি তাঁর দৃঢ় ঈমানের মধ্য দিয়ে এবার আরও যত্নবান দেখছি।
23 তীতের বিষয় যদি বলতে হয়, তবে তিনি আমার সহভাগী ও তোমাদের পক্ষে আমার সহকারী। আমাদের ভাইদের বিষয় যদি বলতে হয়, তাঁরা মণ্ডলীগুলোর প্রেরিত, মসীহের গৌরব।
24 অতএব তোমাদের মহব্বতের এবং তোমাদের বিষয়ে আমাদের গর্বের প্রমাণ মণ্ডলীগুলোর সাক্ষাতে তাঁদেরকে প্রদর্শন কর।
1
অবশ্য পবিত্র লোকদের পরিচর্যা করার বিষয়ে তোমাদেরকে আমার লেখার কোন প্রয়োজন নেই,
2 কারণ আমি তোমাদের আগ্রহ জানি এবং তোমাদের পক্ষে সেই বিষয়ে ম্যাসিডোনিয়ার লোকদের কাছে এই গর্ব করে থাকি যে, গত বৎসর থেকে আখায়ার ভাইয়েরা প্রস্তুত হয়ে রয়েছে; আর তোমাদের গভীর আগ্রহ তাদের অধিকাংশ লোককে উৎসাহিত করে তুলেছে।
3 কিন্তু আমি এই ভাইদেরকে পাঠাচ্ছি, যেন তোমাদের বিষয়ে আমাদের যে গর্ব তা এই বিষয়ে বিফল না হয়, যেন আমি যেমন বলেছি, সেই অনুসারে তোমরা প্রস্তুত হও;
4 নতুবা কি জানি, ম্যাসিডোনিয়ার কোন লোক আমার সঙ্গে এসে যদি তোমাদের প্রস্তুত না দেখে তবে সেই দৃঢ় প্রত্যাশার বিষয়ে আমাদের লজ্জা জন্মাবে— অবশ্য তোমরাও লজ্জা পাবে।
5 এজন্য আমি ভাইদেরকে এই অনুরোধ করা প্রয়োজন মনে করলাম যেন তাঁরা আগে তোমাদের কাছে যান এবং পূর্বে ওয়াদাকৃত তোমাদের সেই দান ঠিকঠাক করেন, যেন এরূপে তা বাধ্যতামূলক বলে নয়, কিন্তু বদান্যতার বিষয় বলে প্রস্তুত থাকে।
6
মনে রেখ, যে অল্প পরিমাণে বীজ বপন করে সে অল্প পরিমাণে শস্য কাটবে; আর যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে বীজ বপন করে সে অধিক পরিমাণে শস্যও কাটবে।
7 প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ অন্তরে যেরূপ সঙ্কল্প করেছে সেই অনুসারে দান করুক, মনোদুঃখপূর্বক কিংবা আবশ্যক বলে না দিক; কেননা আল্লাহ্ হৃষ্টচিত্ত দাতাকে মহব্বত করেন।
8 আর আল্লাহ্ তোমাদের সর্ব প্রকার রহমতের উপচয় দিতে সমর্থ; যেন সর্ব বিষয়ে সর্বদা সর্ব প্রকার প্রাচুর্য থাকায় তোমরা সর্ব প্রকার সৎকর্মের জন্য উপচে পড়।
9 যেমন লেখা আছে,
“সে বিতরণ করেছে, দরিদ্রদের দান করেছে,
তার ধার্মিকতা চিরস্থায়ী।”
10
আর যিনি বপনকারীকে বীজ ও খাবারের জন্য খাদ্য যুগিয়ে থাকেন তিনি তোমাদের বপনের বীজ যোগাবেন এবং তা প্রচুর করবেন, আর তোমাদের ধার্মিকতার ফল বৃদ্ধি করবেন;
11 এরূপে তোমরা সর্ব প্রকার দানশীলতার জন্য সর্ববিষয়ে ধনবান হবে, আর এই দানশীলতা আমাদের দ্বারা আল্লাহ্র প্রতি শুকরিয়া সম্পন্ন করে।
12 কেননা এই সেবারূপ পরিচর্যা-কর্ম কেবল পবিত্র লোকদের অভাব পূর্ণ করছে তা নয়, বরং আল্লাহ্র উদ্দেশে গভীর কৃতজ্ঞতাও উপচে পড়ছে।
13 কেননা তোমাদের এই পরিচর্যায় তোমাদের যোগ্যতার প্রমাণ পেয়ে তারা আল্লাহ্র গৌরব করবে এবং তোমরা মসীহের ইঞ্জিলের প্রতি যে স্বীকৃত বাধ্যতা দেখাচ্ছ এবং তাদের ও সকলের সংগে সহভাগী হয়ে যে দানশীলতা দেখাচ্ছ তার জন্যও তারা তাঁর গৌরব করবে;
14 আর তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অপার রহমতের জন্য তারা তোমাদের জন্য মুনাজাত করতে করতে তোমাদের জন্য আকাঙক্ষা করছে।
15 আল্লাহ্র বর্ণনাতীত দানের জন্য তাঁর শুকরিয়া হোক।
1
আর আমি পৌল নিজে মসীহের মৃদুতা ও সৌজন্যের দোহাই দিয়ে তোমাদেরকে অনুরোধ করছি। আমি নাকি যখন তোমাদের সম্মুখে থাকি তখন বিনত থাকি, কিন্তু যখন তোমাদের সম্মুখে থাকি না তখন তোমাদের প্রতি সাহসী হয়ে উঠি।
2 কিন্তু আমি ফরিয়াদ করছি, কারো কারো বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ভাবে যে সাহস দেখানো প্রয়োজন মনে করি, সাক্ষাৎ হলে যেন আমাকে সেই সাহস দেখাতে না হয়; তারা আমাদের বিষয়ে মনে করে যে, আমরা দুনিয়ার বশে চলে থাকি।
3 অবশ্য আমরা দুনিয়াতে চলছি বটে, কিন্তু দুনিয়ার বশে যুদ্ধযাত্রা করছি না;
4 কারণ আমাদের যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র দুনিয়াবী নয়, কিন্তু দুর্গসমূহ ভেঙ্গে ফেলবার জন্য আল্লাহ্র সাক্ষাতে পরাক্রমী। আমরা লোকদের বাজে বিতর্ক সকল ধ্বংস করছি,
5 এবং আল্লাহ্-জ্ঞানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত গর্বজনক বাধা ভেঙ্গে ফেলছি এবং সমুদয় চিন্তাকে বন্দী করে মসীহের বাধ্য করছি;
6 আর তোমাদের বাধ্যতা সমপূর্ণ হলে পর সমস্ত অবাধ্যতার সমুচিত দণ্ড দিতে প্রস্তুত আছি।
7
যা সম্মুখে আছে, তোমরা তা-ই নিরীক্ষণ করছো। কেউ যদি নিজের উপরে বিশ্বাস রেখে বলে, আমি মসীহের লোক, তবে সে পুনর্বার নিজে নিজেই বিচার করে বুঝুক, সে যেমন, আমরাও তেমনি মসীহের লোক।
8 বাস্তবিক আমাদের কর্তৃত্বের বিষয়ে কিছুটা বেশি গর্ব করলেও আমি লজ্জা পাব না; প্রভু তোমাদের উৎপাটনের জন্য নয়, কিন্তু তোমাদেরকে গেঁথে তুলবার জন্য সেই কর্তৃত্ব দিয়েছেন;
9 আমি পত্রগুলোর দ্বারা যে তোমাদের ভয় দেখাচ্ছি এমন মনে করো না।
10 কেউ কেউ বলে, তাঁর পত্রগুলো ভারযুক্ত ও তেজস্বী বটে, কিন্তু সাক্ষাতে তাঁর শরীর দুর্বল এবং তাঁর বাক্য শ্রবণ করার মত এমন কিছু নয়।
11 এই রকম লোকেরা বুঝুক যে, আমরা অনুপস্থিতিকালে পত্র দ্বারা বাক্যে যেমন, উপস্থিতিকালে কাজেও তেমনি।
12 কেননা এমন কোন কোন লোকের সঙ্গে আমরা নিজদেরকে গণনা করতে বা তুলনা করতে সাহস করি না, যারা নিজেরাই নিজেদের প্রশংসা করে; কিন্তু ওরা নিজেদের পরিমাপ-দণ্ডে নিজদেরকে পরিমাপ করে এবং নিজেদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে বলে ওদের অত বোধশক্তি নেই।
13 আমরা কিন্তু সীমার অতিরিক্ত গর্ব করবো না, বরং আল্লাহ্ পরিমাণ হিসাবে আমাদের পক্ষে যে সীমা নির্ধারণ করেছেন, তার পরিমাণ অনুসারে গর্ব করবো; আর সেই সীমানার মধ্যে তোমরাও রয়েছ।
14 আমরা যখন তোমাদের কাছ পর্যন্ত গিয়েছি তখন যে আমরা সীমা অতিক্রম করছি এমন নয়, কেননা মসীহের ইঞ্জিল নিয়ে আমরা তোমাদের কাছ পর্যন্তও প্রথমে উপস্থিত হয়েছিলাম।
15 আমরা সীমা না মেনে যে পরের পরিশ্রমের গর্ব করি তা নয়; কিন্তু প্রত্যাশা করি যে, তোমাদের ঈমান বৃদ্ধি পেলে আমাদের কাজের সীমা অনুসারে তোমাদের মধ্যে আরও পর্যাপ্তরূপে প্রসারিত হব;
16 তাতে তোমাদের পরবর্তী অঞ্চলেও ইঞ্জিল তবলিগ করতে পারব; পরের সীমার মধ্যে যা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেই জন্য আমরা গর্ব করবো না।
17 তবে “যে গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক;”
18 কেননা যে নিজের প্রশংসা করে সে নয়, কিন্তু প্রভু যার প্রশংসা করেন সেই পরীক্ষাসিদ্ধ।
1
আমার ইচ্ছা এই যে, আমার একটু নির্বুদ্ধিতার বিষয়ে তোমরা আমার প্রতি একটু সহিষ্ণুতা প্রদর্শন কর; অবশ্য তোমরা তো আমার প্রতি সহিষ্ণুতা করছই।
2 কারণ খোদায়ী এক জ্বালায় তোমাদের জন্য আমি এক গভীর জ্বালায় জ্বলছি, কেননা আমি তোমাদেরকে সতী কন্যা হিসাবে একমাত্র বর মসীহের হস্তে সমর্পণ করার জন্য বাগদান করেছি।
3 কিন্তু আশঙ্কা হচ্ছে, সেই সর্প যেমন নিজের ধূর্ততায় হাওয়াকে প্রতারণা করেছিল, তেমনি তোমাদের মনে মসীহের প্রতি যে সরলতা ও শুদ্ধতা আছে তা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে না যায়।
4 কোন আগন্তুক যদি এমন আর এক ঈসাকে তবলিগ করে, যাকে আমরা তবলিগ করি নি, কিংবা তোমরা যে পাক-রূহ্কে পেয়েছ তা ছাড়া যদি এমন অন্য কোন রূহ্ পাও, বা যে ইঞ্জিল তোমরা পূর্বে গ্রহণ করেছ তা থেকে যদি ভিন্ন কিছু পাও, তবে তো তোমরা সেসব মেনে নিতে খুবই ইচ্ছুক!
5 কারণ আমার বিচার এই যে, সেই প্রেরিত-চূড়ামণিদের থেকে আমি একটুও পিছনে নই।
6 কিন্তু যদিও আমি বক্তৃতায় সামান্য তবুও জ্ঞানে সামান্য নই, এই কথা আমরা সর্ববিষয়ে সব লোকের মধ্যে তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছি।
7
তোমাদের উন্নতির জন্য নিজেকে বিনত করেছি বলে আমি কি গুনাহ্ করেছি কারণ বিনা বেতনে তোমাদের কাছে আল্লাহ্র ইঞ্জিল তবলিগ করেছি?
8 তোমাদের পরিচর্যা করার জন্য আমি অন্যান্য মণ্ডলীকে লুণ্ঠন করেই যেন বেতন গ্রহণ করেছি;
9 এবং যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন আমার অভাব হলেও কারো ভারস্বরূপ হই নি, কেননা ম্যাসিডোনিয়া থেকে ভাইয়েরা এসে আমার অভাব দূর করলেন। হ্যাঁ, আমি যাতে কোন বিষয়ে তোমাদের ভারস্বরূপ না হই নিজেকে সেভাবে রক্ষা করেছি এবং রক্ষা করবো।
10 মসীহের সত্য যখন আমার মধ্যে আছে, তখন আখায়ার কোন অঞ্চলে কেউ আমার এই গর্ব ভেঙ্গে ফেলতে পারবে না।
11 কেন? আমি তোমাদেরকে মহব্বত করি না বলে কি? আল্লাহ্ জানেন আমি তোমাদের মহ্ববত করি।
12 কিন্তু যা করছি তা আরও করবো; যারা সুযোগ পেতে ইচ্ছা করে তাদের সুযোগ যেন খণ্ডন করতে পারি; তারা যে বিষয়ের গর্ব করে সেই বিষয়ে যেন তারা আমাদের সমান হয়ে পড়ে।
13 কেননা এ রকম লোকেরা ভণ্ড প্রেরিত, প্রতারক কার্যকারী, তারা মসীহের প্রেরিতদের ছদ্ম-বেশ ধারণ করে।
14 আর এতে আশ্চর্য হবার কোন কারণ নেই যে, শয়তান নিজে দীপ্তিময় ফেরেশতার বেশ ধারণ করে।
15 সুতরাং তার পরিচারকেরাও যে ধার্মিকতার পরিচারকদের বেশ ধারণ করে, এটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। তাদের পরিণাম তাদের কর্ম অনুসারে হবে।
16
আমি পুনর্বার বলছি, কেউ আমাকে যেন নির্বোধ মনে না করে; কিন্তু তোমরা যদি কর, তবে আমাকে নির্বোধ বলেই গ্রহণ কর যেন আমিও একটুখানি গর্ব করতে পারি।
17 তবুও আমি এই যে কথা বলছি তা প্রভুর মত অনুসারে বলছি না, কিন্তু এক প্রকার নির্বুদ্ধিতায় এই গর্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই বলছি।
18 অনেকে যখন মানবীয় মান অনুসারে গর্ব করছে, তখন আমিও গর্ব করবো।
19 কেননা তোমরা নিজে বুদ্ধিমান বলে নির্বোধ লোকদের আনন্দের সঙ্গে সহিষ্ণুতা দেখিয়ে থাক;
20 কারণ কেউ যদি তোমাদের গোলাম বানায়, যদি তোমাদের শিকার করে, যদি তোমাদের ধরে নেয়, যদি তোমাদের কাছে উদ্ধত কথা বলে, যদি তোমাদের গালে চড় মারে, তবে তোমরা সহ্য করে থাক।
21 আমি লজ্জার সঙ্গে স্বীকার করছি যে, আমরা ভীষণ দুর্বল ছিলাম; তবুও যে বিষয়ে অন্য কেউ সাহস করে— নির্বোধের মত কথা বলছি— সেই বিষয়ে আমিও সাহস করি।
22 ওরা কি ইবরানী? আমিও তা-ই। ওরা কি ইসরাইল? আমিও তা-ই। ওরা কি ইব্রাহিমের বংশ? আমিও তা-ই।
23 ওরা কি মসীহের পরিচারক? হতবুদ্ধির মত বলছি— আমিও অধিকতররূপে তা-ই; আমি অধিক পরিশ্রমে, বহুবার কারাবন্ধনে, অতিরিক্ত প্রহারে এবং বহুবার প্রাণ বিপন্ন করেছি।
24 ইহুদীদের থেকে পাঁচবার ঊনচল্লিশ ঘা চাবুকের আঘাত পেয়েছি।
25 তিনবার বেত্রাঘাত, একবার প্রস্তরাঘাত, তিনবার নৌকাভঙ্গ সহ্য করেছি, এক দিন ও এক রাত্রি অগাধ পানিতে কাটিয়েছি;
26 যাত্রায় অনেকবার, নদীসঙ্কটে, দস্যুসঙ্কটে, স্বজাতি-ঘটিত সঙ্কটে, অ-ইহুদী ঘটিত সঙ্কটে, নগরসঙ্কটে, মরুসঙ্কটে, সমুদ্রসঙ্কটে,
27 ভণ্ড ভাইদের মধ্যে ঘটিত সঙ্কটে, পরিশ্রমে ও আয়াসে, অনেকবার নিদ্রার অভাবে, ক্ষুধায় ও তৃষ্ণায়, অনেকবার অনাহারে, শীতে ও বস্ত্রের অভাবে কষ্টভোগ করেছি।
28 আর এসব বাহ্যিক বিষয় ছাড়াও একটি বিষয় প্রতিদিন আমার উপর চাপ পড়ছে, তা হল সমস্ত মণ্ডলীর চিন্তা।
29 কে দুর্বল হলে আমি দুর্বল না হই? কে বিঘ্ন পেলে আমি জ্বলে পুড়ে না যাই?
30 যদি গর্ব করতে হয়, তবে আমার নানা দুর্বলতার বিষয়ে গর্ব করবো।
31 প্রভু ঈসার আল্লাহ্ ও পিতা, যিনি যুগে যুগে ধন্য, তিনি জানেন যে, আমি মিথ্যা কথা বলছি না।
32 দামেস্কে আরিতা বাদশাহ্র নিযুক্ত শাসনকর্তা আমাকে ধরবার চেষ্টায় দামেস্কবাসীদের সেই নগরে পাহারার নিয়ম করেছিলেন;
33 আর একটি ঝুড়িতে করে প্রাচীরের মধ্যকার জানালা দিয়ে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর হাত থেকে পালাতে পেরেছিলাম।
1
গর্ব করা আমার পক্ষে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যদিও তা মঙ্গলজনক নয়, কিন্তু তবুও প্রভুর নানা দর্শন ও প্রত্যাদেশের কথা বলবো।
2 আমি মসীহে আশ্রিত এক ব্যক্তিকে জানি, চৌদ্দ বৎসর হল সশরীরে কি না জানি না; অশরীরে কি না জানি না; আল্লাহ্ জানেন এমন ব্যক্তি তৃতীয় বেহেশত পর্যন্ত নীত হয়েছিল।
3 আর এমন ব্যক্তির বিষয়ে আমি জানি সশরীরে বা অশরীরে, তা আমি জানি না,
4 আল্লাহ্ জানেন সে পরমদেশে নীত হয়ে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এমন কথা শুনেছিল, তা বলা মানুষের উচিত নয়।
5 এমন ব্যক্তির জন্য গর্ব করবো; কিন্তু নিজের জন্য গর্ব করবো না, কেবল নানা দুর্বলতার গর্ব করবো।
6 বাস্তবিক গর্ব করতে চাইলেও আমি নির্বোধ হব না, কারণ সত্যি কথাই বলবো। তবুও গর্ব করা থেকে বিরত রইলাম, যেন কেউ আমাকে যেরূপ দেখেছে ও আমার মুখে যেরূপ কথা শুনেছে আমাকে তদপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে জ্ঞান না করে।
7
আর ঐ প্রত্যাদেশের অতি মহত্বের কারণে আমি যেন অতিমাত্রায় অহংকার না করি সেজন্য আমার দেহে একটা কণ্টক, শয়তানের এক দূত, আমাকে কষ্ট দেবার জন্য দেওয়া হয়েছে, যেন আমি অতিমাত্রায় অহংকার না করি।
8 এই বিষয়টি নিয়ে আমি প্রভুর কাছে তিনবার ফরিয়াদ করেছিলাম যেন ওটা আমাকে ছেড়ে যায়।
9 আর তিনি আমাকে বলেছেন, আমার রহমত তোমার পক্ষে যথেষ্ট; কেননা আমার শক্তি দুর্বলতায় সিদ্ধি পায়। অতএব আমি বরং অতিশয় আনন্দের সঙ্গে নানা দুর্বলতায় গর্ব করবো, যেন মসীহের শক্তি আমার উপরে অবস্থিতি করে।
10 তাই মসীহের জন্য নানা দুর্বলতা, অপমান, অনটন, তাড়না, সঙ্কট ঘটলে আমি প্রীত হই, কেননা যখন আমি দুর্বল তখনই বলবান।
11
আমি নির্বোধ হলাম! তোমরাই তা হতে বাধ্য করেছ; কারণ আমার প্রশংসা করা তোমাদেরই উচিত ছিল; কেননা যদিও আমি কিছুই নই, তবু সেই মহা প্রেরিতদের থেকে কিছুতেই ছোট নই।
12 প্রেরিতের চিহ্ন সকল তোমাদের মধ্যে সমপূর্ণ ধৈর্য সহকারে, নানা চিহ্ন-কার্য, অদ্ভুত লক্ষণ ও কুদরতি-কাজ দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে।
13 বল দেখি, অন্যান্য মণ্ডলী অপেক্ষা তোমরা কোন দিক দিয়ে ছোট? একটা বিষয়ে কেবল এই যে, আমি নিজে তোমাদের গলগ্রহ হই নি; আমার এই অন্যায়টি মাফ কর।
14
দেখ, এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে যেতে প্রস্তুত আছি; আর আমি তোমাদের গলগ্রহ হব না; কেননা আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন কিছুর পাবার চেষ্টা করি নি কিন্তু তোমাদেরই পাবার চেষ্টা করছি; কারণ পিতামাতার জন্য ধন সঞ্চয় করা সন্তানদের কর্তব্য নয়, বরং সন্তানদের জন্য সঞ্চয় করা পিতামাতার কর্তব্য।
15 আর আমি অতিশয় আনন্দের সঙ্গেই তোমাদের প্রাণের জন্য ব্যয় করবো এবং নিজেকেও দিয়ে দেব। আমি যখন তোমাদেরকে অধিক মহব্বত করি তখন কি তোমরা আমাকে অল্প মহব্বত লাভ করবে?
16
যা হোক, আমি তোমাদেরকে ভারগ্রস্ত করি নি, কিন্তু ধূর্ত হওয়াতে ছলনায় নাকি তোমাদেরকে ভুলিয়েছি!
17 আমি তোমাদের কাছে যাঁদের পাঠিয়েছিলাম তাঁদের কারো দ্বারা কি তোমাদের ঠকিয়েছি?
18 আমি তীতকে অনুরোধ করেছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে সেই ভাইকে পাঠিয়েছিলাম; তীত কি তোমাদের ঠকিয়েছেন? আমরা কি একই রূহে ও একই পদচিহ্নে চলি নি?
19
এই পর্যন্ত তোমরা কি মনে করছো যে, আমরা তোমাদেরই কাছে দোষ কাটাবার কথা বলছি? আমরা আল্লাহ্রই সাক্ষাতে মসীহে কথা বলছি; আর প্রিয়তমেরা, সমস্ত কথাই তোমাদের গেঁথে তুলবার জন্য বলছি।
20 কেননা আমার ভয় হয়, আমি উপস্থিত হলে তোমাদের যেরূপ দেখতে চাই যদি সেরূপ দেখতে না পাই এবং তোমরা আমাকে যেরূপ দেখতে না চাও যদি সেরূপ দেখতে না পাও। আমার ভয় হচ্ছে যে, তোমাদের মধ্যে ঝগড়া, ঈর্ষা, রাগ, প্রতিযোগিতা, পরনিন্দা, কুৎসা, অহংকার, বিশৃঙ্খলা দেখতে পাব;
21 আমার ভয় হচ্ছে, আমি পুনর্বার আসলে আমার আল্লাহ্ তোমাদের সম্মুখে আমাকে নত করেন এবং যারা পূর্বে গুনাহ্ করেছে কিন্তু তাদের নিজেদের কৃত সেই নাপাক কাজ, জেনা ও লমপটতার বিষয়ে অনুতাপ করে নি, আর এমন অনেক লোকের জন্য আমাকে মাতম করতে হয়।
1
এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে যাচ্ছি। “দুই কিংবা তিন সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুসারে সমস্ত কথা নিষপন্ন হবে।”
2 দ্বিতীয়বার যখন আমি উপস্থিত হয়েছিলাম তখন যারা পূর্বে গুনাহ্ করেছে, তাদেরকে ও অন্য সকলকে আমি আগেই যেমন বলেছি এখন উপস্থিত না হয়েও আবার বলছি, যদি আবার আসি, আমি কিন্তু মমতা করবো না;
3 কারণ মসীহ্ যিনি আমার মধ্যে কথা বলেন, তোমরা তো তাঁরই বিষয়ে প্রমাণ খুঁজছো; তিনি তোমাদের পক্ষে দুর্বল নন, বরং তোমাদের মধ্যে শক্তিমান।
4 কেননা তিনি দুর্বল অবস্থায় ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন বটে কিন্তু আল্লাহ্র শক্তিতে তিনি জীবিত আছেন। আর আমরাও তাঁতে দুর্বল কিন্তু তোমাদের পক্ষে আল্লাহ্র শক্তিতে তাঁর সঙ্গে জীবিত থাকব।
5 নিজেদেরকে পরীক্ষা করে দেখ, তোমরা ঈমানে আছ কি না; প্রমাণের জন্য নিজেদেরকে পরীক্ষা কর। তোমরা কি নিজেদের সম্বন্ধে জান না যে, ঈসা মসীহ্ তোমাদের মধ্যে আছেন? অবশ্য যদি তোমরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য না হও।
6 আমি আশা করি, তোমরা দেখতে পাবে যে, আমরা অকৃতকার্য হই নি।
7 আর আমরা আল্লাহ্র কাছে এই মুনাজাত করি, যেন তোমরা কোন মন্দ কাজ না কর, পরীক্ষায় আমাদের কৃতকার্যতা যেন প্রমাণিত হয় এই জন্য নয়, বরং এই জন্য যে, যদিও আমরা অকৃতকার্যের মত হই তবুও তোমরা যেন সৎকর্ম কর।
8 কারণ আমরা সত্যের বিপক্ষে কিছুই করতে পারি না, কেবল সত্যের সপক্ষে করতে পারি।
9 বাস্তবিক আমরা যখন দুর্বল হই আর তোমরা বলবান হও তখন আমরা আনন্দ করি; আর এর জন্য মুনাজাতও করি যেন তোমরা পরিপক্ক হও।
10 এই কারণেই আমি অনুপস্থিত থেকে এসব কথা লিখলাম যেন উপস্থিত হলে প্রভুর দত্ত ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে না হয়; সেই ক্ষমতা তিনি ভেঙ্গে ফেলবার জন্য নয় কিন্তু গেঁথে তোলার জন্যই আমাকে দিয়েছেন।
11
শেষে বলি, হে ভাইয়েরা, এবার বিদায়; তোমরা পরিপক্ক হও, আমি যা বলেছি তা গ্রহণ কর, একভাববিশিষ্ট হও ও শান্তিতে থাক; তাতে মহব্বতের ও শান্তির আল্লাহ্ তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন।
12 পবিত্র চুম্বনে পরস্পরকে সালাম জানাও।
13 পবিত্র লোক সকল তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন।
14
ঈসা মসীহের রহমত ও আল্লাহ্র মহব্বত এবং পাক-রূহের সহভাগিতা তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
1
পৌল এক জন প্রেরিত— মানুষের পক্ষ থেকে নয়, মানুষের দ্বারাও নয়, কিন্তু ঈসা মসীহের দ্বারা এবং যিনি মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে উত্থাপিত করেছেন সেই পিতা আল্লাহ্র দ্বারা নিযুক্ত—
2 এবং যে সকল ভাইয়েরা আমার সঙ্গে রয়েছে তারাও, গালাতিয়ার মণ্ডলীগুলোর সমীপে লিখছি।
3 আমাদের পিতা আল্লাহ্ এবং ঈসা মসীহের কাছ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক;
4 ইনি আমাদের গুনাহের জন্য নিজেকে দান করলেন যেন আমাদের আল্লাহ্ ও পিতার ইচ্ছানুসারে আমাদের এই উপস্থিত মন্দ যুগ থেকে উদ্ধার করেন।
5 যুগপর্যায়ের যুগে যুগে আল্লাহ্র মহিমা হোক। আমিন।
6
আমি আশ্চর্য হচ্ছি যে, মসীহের রহমতে যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, তোমরা এত শীঘ্র তাঁর থেকে অন্য রকম ইঞ্জিলের দিকে ফিরে যাচ্ছ।
7 আসলে অন্য ইঞ্জিল বলতে কিছু নেই; কেবল এমন কতগুলো লোক আছে যারা তোমাদের অস্থির করে তোলে এবং মসীহের ইঞ্জিল বিকৃত করতে চায়।
8 কিন্তু আমরা তোমাদের কাছে যে ইঞ্জিল তবলিগ করেছি তা ছাড়া অন্য কোন রকম ইঞ্জিল যদি কেউ তবলিগ করে— তা আমরাই করি, কিংবা বেহেশত থেকে আগত কোন ফেরেশতাই করুক— তবে সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক।
9 আমরা আগে যেমন বলেছি, এখনও আবার আমি বলছি, তোমরা যা গ্রহণ করেছ তা ছাড়া আর কোন ইঞ্জিল যদি কেউ তোমাদের কাছে তবলিগ করে তবে সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক।
10
আমি কি এখন মানুষের অনুমোদন পাবার চেষ্টা করছি না আল্লাহ্র অনুমোদন পাবার চেষ্টা করছি? অথবা আমি কি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করছি? যদি এখনও মানুষকে সন্তুষ্ট করতাম তবে মসীহের গোলাম হতাম না।
11
কেননা, হে ভাইয়েরা, আমার দ্বারা যে ইঞ্জিল তবলিগ করা হয়েছে সেই বিষয়ে তোমাদেরকে জানাচ্ছি যে, তা মানুষের মত অনুযায়ী করা হয় নি।
12 কেননা আমি মানুষের কাছ থেকে তা গ্রহণও করি নি এবং শিক্ষাও পাই নি; কিন্তু ঈসা মসীহের প্রত্যাদেশ দ্বারা পেয়েছি।
13
ইহুদী-ধর্ম পালন করার সময় তোমরা তো আমার আগেকার আচার ব্যবহারের কথা শুনেছ; আমি আল্লাহ্র মণ্ডলীকে ভীষণভাবে নির্যাতন করতাম ও তা উৎপাটন করতাম;
14 আর পরমপরাগত পূর্বপুরুষের রীতিনীতি পালনে আমি অতিশয় উদ্যোগী হওয়াতে আমার স্বজাতির সমবয়স্ক অনেক লোকের চেয়ে আমি ইহুদী-ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছিলাম।
15 কিন্তু যিনি আমাকে আমার মায়ের গর্ভ থেকে পৃথক করেছেন এবং আপন রহমত দ্বারা আহ্বান করেছেন,
16 তিনি যখন তাঁর পুত্রকে আমার কাছে প্রকাশ করার সুবাসনা করলেন যেন আমি অ-ইহুদী— দের মধ্যে তাঁর বিষয়ে তবলিগ করি তখন আমি কোনও মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করলাম না,
17 এবং জেরুশালেমে আমার পূর্ববর্তী প্রেরিতদের কাছে গেলাম না, কিন্তু আরব দেশে চলে গেলাম এবং পরে দামেস্কে ফিরে এলাম।
18
তারপর তিন বছর গত হলে পর কৈফার সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য জেরুশালেমে গেলাম এবং পনেরো দিন তাঁর কাছে রইলাম।
19 কিন্তু সেখানে প্রেরিতদের মধ্যে অন্য কারো সঙ্গে দেখা হয় নি, কেবল প্রভুর ভাই ইয়াকুবের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।
20 এই যেসব কথা তোমাদেরকে লিখছি, দেখ, আল্লাহ্র সাক্ষাতে বলছি, আমি মিথ্যা বলছি না।
21 তারপর আমি সিরিয়া ও কিলিকিয়ার অঞ্চলগুলোতে গেলাম।
22 আর তখনও আমি এহুদিয়ায় অবস্থিত মসীহে আশ্রিত মণ্ডলীগুলোর সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না।
23 তারা কেবল এই কথা শুনতে পেয়েছিল, যে ব্যক্তি আগে আমাদের নির্যাতন করতো সে এখন সেই ঈমানের বিষয়ে তবলিগ করছে যা আগে উৎপাটন করতো;
24 এবং তারা আমার দরুন আল্লাহ্র গৌরব করতো।
1
পরে চৌদ্দ বছর পর আমি বার্নাবাসের সঙ্গে পুনরায় জেরুশালেমে গেলাম এবং তীতকেও সঙ্গে নিলাম।
2 আর প্রত্যাদেশ অনুসারে গমন করলাম এবং যে ইঞ্জিল অ-ইহুদীদের মধ্যে তবলিগ করে থাকি, সেখানকার লোকদের কাছে তার ব্যাখ্যা করলাম, কিন্তু যাঁরা গণ্যমান্য তাঁদের কাছে গোপনে বললাম, পাছে দেখা যায় যে আমি বৃথা দৌড়াচ্ছি বা দৌড়েছি।
3 এমন কি তীত, যিনি আমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি গ্রীক হলেও তাঁকে খৎনা করতে বাধ্য করা হয় নি।
4 গুপ্তভাবে নিয়ে আসা সেই কয়েকজন ভণ্ড ঈমানদারদের জন্য এরকম হল; মসীহ্ ঈসাতে আমাদের যে স্বাধীনতা আছে, সেই স্বাধীনতার দোষ ধরবার জন্যই তারা গোপনে প্রবেশ করেছিল যেন আমাদের গোলাম করে রাখতে পারে।
5 কিন্তু আমরা এক মুহূর্তের জন্যও তাদের অধীনতা স্বীকার করে তাদের বশবর্তী হলাম না, যেন ইঞ্জিলের সত্য তোমাদের কাছে থাকে।
6 আর যাঁরা গণ্যমান্য বলে খ্যাত— তাঁরা কেমন লোক ছিলেন, এতে আমার কিছু যায়-আসে না, আল্লাহ্ মানুষের মুখাপেক্ষা করেন না— বস্তুত সেই গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমি নতুন কিছুই জানতে পারি নি;
7 বরং পক্ষান্তরে যখন দেখলেন, খৎনা করানো লোকদের মধ্যে যেমন পিতরকে, তেমনি খৎনা-না-করানো লোকদের মধ্যে আমাকে ইঞ্জিলের ভার দেওয়া হয়েছে—
8 কারণ খৎনা-করানো লোকদের কাছে প্রৈরেতিক-কাজের জন্য যিনি পিতরের মধ্য দিয়ে কাজ করলেন, তিনি অ-ইহুদীদের জন্য আমার মধ্য দিয়েও কাজ করলেন—
9 যখন তাঁরা আমাকে দেওয়া সেই রহমতের বিষয় বুঝতে পারলেন, তখন ইয়াকুব, কৈফা ও ইউহোন্না— যাঁরা স্তম্ভ হিসেবে মান্য— আমাকে ও বার্নাবাসকে সহভাগিতার ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন যেন আমরা অ-ইহুদীদের কাছে যাই আর তাঁরা খৎনা-করানো লোকদের কাছে যান;
10 কেবল চাইলেন যেন আমরা দরিদ্রদের কথা স্মরণে রাখি; আর তা করতে আমিও যত্নবান ছিলাম।
11
কিন্তু কৈফা যখন এণ্টিয়কে আসলেন তখন আমি মুখের উপরেই তাঁর প্রতিরোধ করলাম, কারণ তিনি দোষী হয়েছিলেন।
12 ফলত ইয়াকুবের কাছ থেকে কয়েক জনের আসার আগে তিনি অ-ইহুদীদের সঙ্গে আহার করতেন, কিন্তু ওরা আসলে পর তিনি খৎনা-করানো লোকদের ভয়ে পিছিয়ে পড়তে ও নিজেকে পৃথক রাখতে লাগলেন।
13 আর তাঁর সঙ্গে অন্য সকল ইহুদীও কপট ব্যবহার করলো; এমন কি, বার্নাবাসও তাঁদের কপটতার টানে আকর্ষিত হলেন।
14 কিন্তু আমি যখন দেখলাম, তাঁরা ইঞ্জিলের সত্য অনুসারে সরল পথে চলেন না তখন আমি সকলের সাক্ষাতে কৈফাকে বললাম, আপনি নিজে ইহুদী হয়ে যদি ইহুদীদের মত নয়, কিন্তু অ-ইহুদীদের মত আচরণ করেন, তবে কেন অ-ইহুদীদেরকে ইহুদীদের মত আচরণ করতে বাধ্য করছেন?
15
আমরা জাতিতে ইহুদী, আমরা অ-ইহুদী গুনাহ্গার নই;
16 তবুও বুঝেছি, শরীয়ত অনুযায়ী কাজের জন্য নয়, কেবল ঈসা মসীহে ঈমান আনার মধ্য দিয়েই মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়। সেজন্য আমরাও মসীহ্ ঈসাতে ঈমানদার হয়েছি, যেন শরীয়ত অনুযায়ী কাজের জন্য নয়, কিন্তু মসীহে ঈমান আনার জন্য ধার্মিক বলে গৃহিত হই; কারণ শরীয়ত অনুযায়ী কাজের জন্য কোন মানুষকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হবে না।
17 কিন্তু আমরা মসীহে ধার্মিক বলে গৃহীত হবার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা নিজেরাও যদি গুনাহ্গার বলে প্রতিপন্ন হয়ে থাকি তা হলে মসীহ্ কি গুনাহ্র পরিচারক? তা দূরে থাক।
18 কারণ আমি যা ভেঙ্গে ফেলেছি তা-ই যদি পুনর্বার গাঁথি তবে নিজেকেই অপরাধী বলে দাঁড় করাই।
19 আমি তো শরীয়তের দ্বারা শরীয়তের উদ্দেশে মরেছি, যেন আল্লাহ্র উদ্দেশে জীবিত থাকতে পারি।
20 মসীহের সঙ্গে আমি ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছি, আমি আর জীবিত নই, কিন্তু মসীহ্ই আমার মধ্যে জীবিত আছেন; আর এখন এই দেহে আমার যে জীবন আছে তা আমি ইব্নুল্লার উপর ঈমানের মাধ্যমেই যাপন করছি; তিনিই আমাকে মহব্বত করলেন এবং আমার জন্য নিজেকে দান করলেন।
21 আমি আল্লাহ্র রহমত বিফল করি না; কারণ শরীয়ত পালন করার মধ্য দিয়ে যদি ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়, তা হলে মসীহ্ অকারণে মৃত্যুবরণ করলেন।
1
হে অবোধ গালাতীয়েরা! কে তোমাদের মুগ্ধ করলো? তোমাদেরই চোখের সামনে তো ঈসা মসীহ্কে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার কথা স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছিল।
2 কেবল এই কথা তোমাদের কাছে জানতে চাই, তোমরা কি শরীয়ত পালন করার জন্য পাক-রূহ্কে পেয়েছ? না কি সুখবরের বার্তা শুনে পাক-রূহ্কে পেয়েছ?
3 তোমরা কি এমন অবোধ? পাক-রূহে আরম্ভ করে এখন কি তোমরা দৈহিক চেষ্টায় সমাপ্ত করতে চাইছ?
4 তোমরা এত দুঃখ কি বৃথাই ভোগ করেছ? আমি আশা করি তা বৃথা যাবে না।
5
বল দেখি, যিনি তোমাদের পাক-রূহ্ যুগিয়ে দেন ও তোমাদের মধ্যে কুদরতি-কাজ সাধন করেন, তিনি কি শরীয়ত পালনের জন্য তা করেন? না কি সুখবরের যে বার্তা শুনেছিল সেজন্য করেন?
6
যেমন ইব্রাহিম “আল্লাহ্র উপর ঈমান আনলেন, আর তা-ই তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণিত হল।”
7 অতএব জেনো, যারা ঈমান অবলম্বন করে তারাই ইব্রাহিমের সন্তান।
8 আর ঈমানের কারণে আল্লাহ্ অ-ইহুদীদের ধার্মিক গণনা করেন, পাক-কিতাব আগেই তা দেখে ইব্রাহিমের কাছে পূর্বেই ইঞ্জিল জানানো হয়েছিল, যথা, “তোমাতে সমস্ত জাতি দোয়া লাভ করবে”।
9 অতএব যারা ঈমানকে অবলম্বন করে তারা ঈমানদার ইব্রাহিমের সঙ্গে দোয়া লাভ করে।
10
বাস্তবিক যারা শরীয়তের কাজ অবলম্বন করে তারা সকলে বদদোয়ার অধীন, কারণ লেখা আছে, “যে কেউ শরীয়ত কিতাবে লেখা সমস্ত কথা পালন করার জন্য তাতে স্থির না থাকে, সে বদদোয়াগ্রস্ত”।
11 কিন্তু শরীয়তের দ্বারা কেউই আল্লাহ্র সাক্ষাতে ধার্মিক গণিত হয় না, এই কথা সুস্পষ্ট, কারণ “ধার্মিক ব্যক্তি ঈমান দ্বারাই বাঁচবে”।
12 কিন্তু শরীয়ত ঈমানমূলক নয়, বরং “যে কেউ এ সকল পালন করে, সেই তাতে বাঁচবে”।
13 মসীহ্ই মূল্য দিয়ে আমাদের শরীয়তের বদদোয়া থেকে মুক্ত করেছেন, কারণ তিনি আমাদের জন্য শাপস্বরূপ হলেন; কেননা লেখা আছে, “যাকে গাছে টাঙ্গানো হয়, সে বদদোয়া-গ্রস্ত”;
14 যেন ইব্রাহিম যে দোয়া লাভ করেছিলেন সেই দোয়া মসীহ্ ঈসাতে অ-ইহুদীদের প্রতি বর্তে, আর যেন আমরা ঈমান দ্বারা অঙ্গীকৃত পাক-রূহ্কে লাভ করি।
15
হে ভাইয়েরা, মানুষের জীবনে সাধারণত যা ঘটে তেমনি একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। একবার যখন মানুষের চুক্তিপত্র স্থিরীকৃত হয় তখন কেউ তা বাতিল করে না, কিংবা তাতে নতুন কথা যোগ করে না।
16 ভাল, ইব্রাহিমের প্রতি ও তাঁর বংশের প্রতি ওয়াদাগুলো বলা হয়েছিল। তিনি বহুবচনে ‘আর বংশ সকলের প্রতি’ না বলে, একবচনে বলেন, “আর তোমার বংশের প্রতি;” সেই বংশ হলেন মসীহ্।
17 আমি এই কথা বলি, যে নিয়ম আল্লাহ্-কর্তৃক আগে স্থির হয়েছিল, চার শত ত্রিশ বছর পরে উৎপন্ন শরীয়ত সেই নিয়মকে উঠিয়ে দিতে পারে না, যা প্রতিজ্ঞাকে বিফল করবে।
18 কারণ উত্তরাধিকার যদি শরীয়তের উপর নির্ভর করে হত তবে আর ওয়াদার উপর নির্ভর করে দেওয়া হত না; কিন্তু আল্লাহ্ ওয়াদা দ্বারাই তা ইব্রাহিমকে দান করেছেন।
19
তবে শরীয়ত কিসের জন্য? অপরাধের কারণে শরীয়ত যোগ করা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না সেই বংশ আসেন, যাঁর কাছে ওয়াদা করা হয়েছিল; আর তা ফেরেশতাদের মাধ্যমে, এক জন মধ্যস্থের দ্বারা তা বহাল করা হয়েছিল।
20 একজনের জন্য মধ্যস্থের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু আল্লাহ্ এক।
21
তবে শরীয়ত কি আল্লাহ্র প্রতিজ্ঞাগুলোর বিরুদ্ধে যায়? অবশ্যই না! ফলত যদি এমন শরীয়ত দেওয়া হত যা জীবন দান করতে পারে, তবে ধার্মিকতা অবশ্যই শরীয়তের মধ্য দিয়ে আসত।
22 কিন্তু পাক-কিতাব সমস্তই গুনাহ্র শক্তির অধীনে বন্দী করে রেখেছে, যেন প্রতিজ্ঞার ফল ঈসা মসীহে ঈমানের মধ্য দিয়েই ঈমানদারদেরকে দেওয়া যায়।
23
এই ঈমান আসবার আগ পর্যন্ত আমরা শরীয়তের অধীনে রক্ষিত হচ্ছিলাম, যতক্ষণ না পর্যন্ত ঈমান প্রকাশিত হয় তার অপেক্ষায় বন্দী ছিলাম।
24 এই রকম শরীয়ত মসীহের কাছে আনবার জন্য আমাদের পরিচালক গোলাম হয়ে উঠলো, যেন আমরা ঈমান দ্বারা ধার্মিক গণিত হই।
25 কিন্তু যখন থেকে ঈমান আসলো সেই থেকে আমরা আর পরিচালক গোলামের অধীন নই।
26 কেননা তোমরা সকলে মসীহ্ ঈসাতে ঈমানের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্র সন্তান হয়েছ;
27 কারণ তোমরা যত লোক মসীহের উদ্দেশে বাপ্তিস্ম নিয়েছ, সকলে মসীহ্কে পরিধান করেছ।
28 ইহুদী বা গ্রীক, গোলাম বা স্বাধীন, নর ও নারীর মধ্যে আর কোন পার্থক্য নেই, কেননা মসীহ্ ঈসাতে তোমরা সকলেই এক হয়েছ।
29 আর তোমরা যদি মসীহের হও তবে ইব্রাহিমের বংশ, ওয়াদা অনুসারে উত্তরাধিকারী।
1
আমার কথার অর্থ হল এই যে, উত্তরাধিকারী যতকাল বালক থাকে, ততকাল সর্বস্বের মালিক হলেও তার ও গোলামের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না;
2 কিন্তু পিতার নিরূপিত সময় পর্যন্ত সে অভিবাবক ও ধনাধ্যক্ষদের অধীন থাকে।
3 তেমনি আমরাও যখন বালক ছিলাম তখন দুনিয়ার নানা রীতিনীতির গোলাম ছিলাম।
4 কিন্তু কাল সমপূর্ণ হলে আল্লাহ্ তাঁর কাছ থেকে তাঁর পুত্রকে প্রেরণ করলেন। তিনি স্ত্রীলোকের গর্ভে জন্ম নিলেন, শরীয়তের অধীনে জন্মগ্রহণ করলেন,
5 যাতে তিনি মূল্য দিয়ে শরীয়তের অধীনে থাকা লোকদের মুক্ত করেন আর আমরা দত্তক-পুত্রত্ব লাভ করি।
6 আর এই কারণে তোমরা সন্তান, আল্লাহ্ তাঁর পুত্রের রূহ্কে নিজের কাছ থেকে আমাদের অন্তরে প্রেরণ করলেন, আর ইনি “আব্বা, পিতা” বলে ডাকেন।
7 অতএব তুমি আর গোলাম নও বরং সন্তান; আর যখন সন্তান তখন আল্লাহ্ কর্তৃক উত্তরাধিকারীও হয়েছ।
8
আগে যখন তোমরা আল্লাহ্কে জানতে না তখন তোমরা যাদের গোলাম ছিলে তারা স্বভাবত কোন দেবতাই নয়।
9 কিন্তু এখন তোমরা আল্লাহ্র পরিচয় পেয়েছ, বরং আল্লাহ্ কর্তৃক পরিচিত হয়েছ; তবে কেমন করে পুনর্বার ঐ দুর্বল ও নিষ্ফল রীতিনীতির প্রতি ফিরছ? তোমরা কি আবার ফিরে সেগুলোর গোলাম হতে চাইছ?
10 তোমরা বিশেষ বিশেষ দিন, মাস, ঋতু ও বছর পালন করছো।
11 তোমাদের বিষয়ে আমার ভয় হচ্ছে যে, কি জানি, তোমাদের মধ্যে আমি বৃথাই পরিশ্রম করেছি।
12
হে ভাইয়েরা, আমি তোমাদের এই অনুরোধ করছি, তোমরা আমার মত হও, কেননা আমিও তোমাদের মত হয়েছি।
13 তোমরা আমার কোন অপকার কর নি; আর তোমরা জান, আমি আমার শারীরিক দুর্বলতার জন্যই প্রথমবার তোমাদের কাছে ইঞ্জিল তবলিগ করেছিলাম;
14 আর আমার দুর্বলতার কারণে তোমরা যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলে তাতে তোমরা আমাকে হেয়জ্ঞান কর নি, ঘৃণাবোধও কর নি, বরং আল্লাহ্র এক জন ফেরেশতার মত, মসীহ্ ঈসার মত, আমাকে গ্রহণ করেছিলে।
15 তবে তোমাদের সেই আত্ম-সন্তুষ্টি কোথায় গেল? কেননা আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সাধ্য থাকলে তোমরা নিজ নিজ চোখ উৎপাটন করে আমাকে দিতে।
16 তবে তোমাদের কাছে সত্যি কথা বলবার জন্য কি এখন আমি তোমাদের দুশমন হয়েছি?
17 তারা তোমাদের প্রতি অনেক যত্ন দেখাচ্ছে বটে কিন্তু তার উদ্দেশ্য ভাল নয়; বরং তারা তোমাদেরকে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়, যেন তোমরা তাদেরই যত্ন কর।
18 অবশ্য যত্ন করা ভাল যদি তা সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়; কেবল তোমাদের কাছে আমার উপস্থিতির কালে নয়, কিন্তু সব সময়ই উত্তম বিষয়ে যত্ন করা ভাল।
19 আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমি পুনরায় তোমাদেরকে নিয়ে প্রসব-যন্ত্রণা ভোগ করছি, যতদিন না তোমাদের মধ্যে মসীহ্ মূর্তিমান হন;
20 কিন্তু আমার ইচ্ছা এই যে, এখন তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়ে অন্য স্বরে কথা বলি; কেননা আমি তোমাদের বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।
21
বল দেখি, তোমরা যারা শরীয়তের অধীন থাকতে ইচ্ছা করছো, তোমরা কি শরীয়তের কথা শুন নি?
22 কারণ লেখা আছে যে, ইব্রাহিমের দুই পুত্র ছিল, এক জন বাঁদীর পুত্র, আরেকজন স্বাধীন স্ত্রীলোকের পুত্র।
23 কিন্তু ঐ বাঁদীর পুত্র সাধারণ নিয়ম অনুসারে আর স্বাধীন স্ত্রীলোকের পুত্র প্রতিজ্ঞার গুণে জন্মেছিল।
24 এসব কথার রূপক হচ্ছে— ঐ দুই স্ত্রী দুই নিয়ম; একটি তুর পর্বত থেকে উৎপন্ন ও গোলামীর জন্য প্রসবকারিণী; সে হাজেরা।
25 আর এই হাজেরা আরব দেশস্থ তুর পর্বত; এবং সে এখনকার জেরুশালেমের সমতূল্য, কেননা সে নিজের সন্তানদের নিয়ে গালামী করছে।
26 কিন্তু বেহেশতের জেরুশালেম স্বাধীন, আর সে আমাদের জননী।
27 কেননা লেখা আছে,
“হে বন্ধ্যা নারী, তোমরা যারা সন্তানের জন্ম দাও নি, আনন্দ কর,
তোমরা যারা কখনও প্রসব যন্ত্রণা ভোগ কর নি,
তোমরা উচ্চধ্বনি কর ও আনন্দে চিৎকার কর,
কেননা সধবার সন্তানের চেয়ে বরং পরিত্যক্তার সন্তান বেশি।”
28
হে ভাইয়েরা, ইস্হাকের মত তোমরা প্রতিজ্ঞার সন্তান।
29 কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে জাত ব্যক্তি যেমন সেকালে পাক-রূহের শক্তিতে জাত ব্যক্তিকে নির্যাতন করতো, তেমনি এখনও হচ্ছে।
30 তবুও পাক-কিতাবে কি বলে? “ঐ বাঁদী ও তার পুত্রকে বের করে দাও; কেননা ঐ বাঁদীর পুত্র কোনক্রমে স্বাধীন স্ত্রীলোকের পুত্রের সঙ্গে উত্তরাধিকারী হবে না।”
31 অতএব, হে ভাইয়েরা, আমরা বাঁদীর সন্তান নই, আমরা স্বাধীন স্ত্রীলোকের সন্তান।
1
স্বাধীনতার উদ্দেশ্যেই মসীহ্ আমাদের স্বাধীন করেছেন; অতএব তোমরা স্থির থাক এবং গোলামীর জোয়ালিতে আর আবদ্ধ হয়ো না।
2
দেখ, আমি পৌল তোমাদেরকে বলছি, যদি তোমাদের খৎনা করানো হয় তবে মসীহের কাছ থেকে তোমাদের কোনই উপকার হবে না।
3 আমি পুনরায় সকলের কাছে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যাকে খৎনা করানো হয়, সে সমস্ত শরীয়ত পালন করতে বাধ্য।
4 তোমরা যারা শরীয়ত দ্বারা ধার্মিক গণিত হতে চেষ্টা করছো, তোমরা মসীহ্ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছ, আল্লাহ্র রহমত থেকে দূরে সরে গেছ।
5 কারণ আমরা পাক-রূহের দ্বারা ঈমানের মধ্য দিয়ে ধার্মিকতা লাভের প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছি।
6 কারণ মসীহ্ ঈসাতে খৎনা করানো বা খৎনা না করানোর কোন মূল্য নেই, কিন্তু মহব্বত দ্বারা কার্যকর ঈমানই মূল্যবান।
7
তোমরা সুন্দরভাবে দৌড়াচ্ছিলে; তবে সত্যের বাধ্য হতে কে তোমাদেরকে বাধা দিল?
8 এই প্ররোচনা আল্লাহ্র কাছ থেকে আসে নি, যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন।
9 অল্প খামি ময়দার সমস্ত তালটিকে ফাঁপিয়ে তোলে।
10 তোমাদের বিষয়ে প্রভু আমাকে এমন দৃঢ় প্রত্যয় দেন যে, তোমরা কোন ভুল শিক্ষা গ্রহণ করবে না; কিন্তু যে তোমাদের মন অস্থির করে তুলে, সে ব্যক্তি যেই হোক না কেন, সে অবশ্যই আল্লাহ্র দেওয়া শাস্তি ভোগ করবে।
11 হে ভাইয়েরা, আমি যদি এখনও খৎনা তবলিগ করি তবে আর নির্যাতন ভোগ করছি কেন? তা হলে তো ক্রুশের বাধা দূর হয়ে গেছে।
12 যারা তোমাদের অস্থির করে তুলছে, তারা নিজদেরকে একেবারে নপুংসক করে ফেলুক।
13
কারণ, হে ভাইয়েরা, তোমরা স্বাধীনতার জন্য আহ্বান পেয়েছ; কেবল দেখো, সেই স্বাধীনতাকে গুনাহ্-স্বভাবের পক্ষে ব্যবহার করো না, বরং মহব্বতের দ্বারা এক জন অন্যের গোলাম হও।
14 যেহেতু সমস্ত শরীয়ত মিলিয়ে এই একটি কথায় বলা হয়েছে, যথা, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে।”
15 কিন্তু তোমরা যদি পরস্পর ঝগড়াঝাটি ও হিংসা-হিংসি কর, তবে দেখো, তোমরা যেন একে অন্যকে ধ্বংস করে না ফেল।
16
তাই আমি বলি যে, তোমরা পাক-রূহের বশে চল। তা করলে তোমরা গুনাহ্-স্বভাবের অভিলাষ পূর্ণ করবে না।
17 কেননা গুনাহ্-স্বভাব পাক-রূহের বিরুদ্ধে এবং পাক-রূহ্ গুনাহ্-স্বভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে; কারণ এই দু’টি একটি অন্যটির বিরুদ্ধে বলে তোমরা যা করতে চাও তা কর না।
18 কিন্তু যদি পাক-রূহ্ দ্বারা চালিত হও তবে তোমরা শরীয়তের অধীন নও।
19 আবার গুনাহ্-স্বভাবের কাজগুলো হচ্ছে; পতিতা-গমন, নাপাকীতা, লমপটতা,
20 মূর্তিপূজা, যাদুবিদ্যা, নানা রকম শত্রুতা, ঝগড়া, ঈর্ষা, রাগ, স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্খা, বিচ্ছিন্নতা, দলভেদ,
21 হিংসা, মত্ততা, রঙ্গরস ও সেই রকম অন্যান্য দোষ। এই সব বিষয় সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করছি, যেমন আগে করেছিলাম, যারা এই রকম আচরণ করে তারা আল্লাহ্র রাজ্যে অধিকার পাবে না।
22
কিন্তু পাক-রূহের ফল হল মহব্বত, আনন্দ, শান্তি, র্দীঘসহিষ্ণুতা, মাধুর্য, দয়া, বিশ্বস্ততা,
23 মৃদুতা, ইন্দ্রিয়দমন; এই রকম গুণের বিরুদ্ধ আইন নেই।
24 আর যারা মসীহ্ ঈসার, তারা গুনাহ্-স্বভাবকে তার যত কামনা-বাসনাসুদ্ধ ক্রুশে দিয়েছে।
25 আমরা যদি পাক-রূহের বশে জীবন ধারণ করি, তবে এসো, আমরা পাক-রূহের অধীনে চলাফেরা করি।
26 আমরা যেন অনর্থক অহংকার না করি, পরস্পরকে জ্বালাতন না করি, পরস্পরকে হিংসা না করি।
1
ভাইয়েরা, যদি কেউ কোন অপরাধে ধরা পড়ে তবে তোমরা যারা রূহানিক, তোমরা তেমন ব্যক্তিকে মৃদুতার রূহে সুস্থ কর। তোমরা নিজের বিষয়ে সতর্ক থেকো যেন তোমরাও পরীক্ষাতে না পড়।
2 তোমরা পরস্পর এক জন অন্য জনের ভার বহন কর; এভাবে মসীহের শরীয়ত সমপূর্ণভাবে পালন কর।
3 কেননা যদি কেউ মনে করে থাকে যে, আমি একটা কিছু, কিন্তু আসলে সে কিছুই নয়, তবে সে নিজে নিজেকে ভুলায়।
4 কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজ পরীক্ষা করে দেখুক, তা হলে সে কেবল নিজের কাছে গর্ব করার কোন কারণ খুঁজে পাবে, অপরের কাছে নয়;
5 কারণ প্রত্যেকে নিজ নিজ ভার বহন করবে।
6 যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কালামের বিষয়ে শিক্ষা পায়, সে তার শিক্ষককে সমস্ত উত্তম বিষয়ে সহভাগী করুক।
7
তোমরা ভ্রান্ত হয়ো না, আল্লাহ্কে পরিহাস করা যায় না; কেননা মানুষ যা কিছু বুনবে তা-ই কাটবে।
8 যদি কেউ নিজের গুনাহ্-স্বভাবের উদ্দেশে বুনে, সে গুনাহ্-স্বভাব থেকে বিনাশরূপ ফসল পাবে; কিন্তু পাক-রূহের উদ্দেশে যে বুনে, সে পাক-রূহ্ থেকে অনন্ত জীবনরূপ ফসল পাবে।
9 আর এসো, আমরা সৎকর্ম করতে নিরুৎসাহ না হই; কেননা নিরুৎসাহিত না হয়ে তা করতে থাকলে যথাসময়ে ফসল পাব।
10 এজন্য এসো, আমরা যেমন সুযোগ পাই, তেমনি সকলের মঙ্গল সাধন করি, বিশেষভাবে যারা ঈমানদার পরিবারের লোকজন তাদের মঙ্গল করি।
11
দেখ, আমি কত বড় অক্ষরে নিজের হাতে তোমাদের লিখলাম।
12 যেসব লোক বাহ্যিকভাবে সুন্দর দেখাতে চায়, তারাই খৎনা করাবার জন্য তোমাদের বাধ্য করছে। তারা এ রকম করছে যেন মসীহের ক্রুশের কারণে তাদের প্রতি নির্যাতন না ঘটে।
13 কেননা যাদের খৎনা করানো হয় তারা নিজেরাও শরীয়ত পালন করে না; বরং তারা তোমাদের খৎনা করাতে চায়, যেন তোমরা তাদের দলে এসেছ বলে তারা গর্ব করতে পারে।
14 কিন্তু আমাদের ঈসা মসীহের ক্রুশ ছাড়া আমি যে আর কোন বিষয়ে গর্ব করি, তা দূরে থাক; তারই দ্বারা আমার জন্য দুনিয়া এবং দুনিয়ার জন্য আমি ক্রুশবিদ্ধ।
15 কারণ খৎনা কিছুই নয়, অখৎনাও নয়, কিন্তু নতুন সৃষ্টিই আসল বিষয়।
16 আর যেসব লোক এই নিয়ম অনুসারে চলবে তাদের উপরে শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, আল্লাহ্র ইসরাইলের উপরে বর্ষিত হোক।
17
এখন থেকে কেউ আমাকে কষ্ট না দিক, কেননা আমি ঈসার ক্ষত-চিহ্নগুলো নিজের দেহে বহন করছি।
18
হে ভাইয়েরা, আমাদের ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের রূহের সহবর্তী হোক। আমিন।
1
পৌল, আল্লাহ্র ইচ্ছায় মসীহ্ ঈসার প্রেরিত— ইফিষে অবস্থিত পবিত্র লোক ও যারা মসীহ্ ঈসাতে বিশ্বস্ত তাদের সমীপে।
2 আমাদের পিতা আল্লাহ্ এবং ঈসা মসীহের কাছ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
ধন্য আমাদের ঈসা মসীহের আল্লাহ্ ও পিতা, যিনি আমাদের সমস্ত রূহানিক দোয়ায় বেহেশতী স্থানে মসীহে দোয়া করেছেন;
4 কারণ তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করবার আগে মসীহে আমাদেরকে মনোনীত করেছিলেন যেন আমরা তাঁর সাক্ষাতে মহব্বতে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই।
5 তিনি আমাদের ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে তাঁর দত্তক সন্তান হিসেবে তাঁর নিজের জন্য গ্রহণ করলেন যা তিনি আগে থেকেই নিরূপণ করে রেখেছিলেন; এই কাজ তিনি নিজের ইচ্ছার মঙ্গলময় সঙ্কল্প অনুসারে করেছিলেন।
6 তিনি তাঁর রহমতের মহিমার প্রশংসার জন্যই তা করেছিলেন, যে রহমতে তিনি আমাদের সেই প্রিয়তমের দ্বারা রহমত দান করেছেন;
7 তাঁর মধ্যে আমরা তাঁর রক্ত দ্বারা মুক্তি পেয়েছি, অর্থাৎ আমাদের সকল অপরাধের মাফ হয়েছে; এসব তাঁর সেই মেহেরবানীরূপ ধন অনুসারে হয়েছে,
8 যা তিনি সমস্ত জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে আমাদের প্রতি উপচে পড়তে দিয়েছেন।
9 তাঁর সেই মঙ্গলময় সঙ্কল্প অনুসারে তিনি আমাদেরকে তাঁর ইচ্ছার নিগূঢ়তত্ত্ব জানিয়েছেন, যা তিনি মসীহে স্থির করে রেখেছিলেন।
10 আল্লাহ্ তাঁর নিরূপিত কালে এই পরিকল্পনা করেছিলেন যে, সমস্ত কিছুই তাঁতে সংগ্রহ করা যাবে— বেহেশতের সমস্ত কিছু ও দুনিয়ার সমস্ত কিছু।
11 এছাড়া, মসীহে আমরা একটি উত্তরাধিকারও লাভ করেছি, বাস্তবিক যিনি সমস্ত কিছুই তাঁর ইচ্ছা ও মন্ত্রণা অনুসারে সাধন করেন, তাঁর পরিকল্পনা অনুসারে আমরা মসীহে আগে থেকেই নিরূপিত হয়েছিলাম;
12 উদ্দেশ্য এই যে, আগে থেকে মসীহে প্রত্যাশা করেছি যে আমরা, আমাদের দ্বারা যেন আল্লাহ্র মহিমার প্রশংসা হয়।
13 আর মসীহে তোমরাও সত্যের কালাম, তোমাদের নাজাতের ইঞ্জিল শুনে এবং তাঁর উপর ঈমান এনে সেই অঙ্গীকৃত পাক-রূহ্ দ্বারা তোমাদের সীলমোহর করা হয়েছ;
14 সেই রূহ্ আল্লাহ্র নিজস্ব লোকের মুক্তির জন্য, তাঁর মহিমার প্রশংসার জন্য আমাদের উত্তরাধিকারের বায়না হিসেবে দান করা হয়েছে।
15
এজন্য ঈসা মসীহে যে ঈমান এবং সমস্ত পবিত্র লোকের প্রতি যে মহব্বত তোমাদের মধ্যে আছে তার কথা শুনে,
16 আমিও তোমাদের জন্য শুকরিয়া আদায় করতে ক্ষান্ত হই না, আমার মুনাজাতের সময়ে তোমাদের কথা স্মরণ করি,
17 মুনাজাত করি, যেন আমাদের ঈসা মসীহের আল্লাহ্, মহিমার পিতা, তাঁর প্রজ্ঞার ও প্রত্যাদেশের রূহ্ তোমাদের দান করেন, যাতে তোমরা তাঁকে জানতে পার;
18 যাতে তোমাদের হৃদয়ের চোখ আলোকময় হয়, যেন তোমরা জানতে পার তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা কি, পবিত্র লোকদের মধ্যে তাঁর উত্তরাধিকারের মহিমারূপ ধন কি,
19 এবং আমরা যারা ঈমান এনেছি, আমাদের প্রতি তাঁর পরাক্রমের অনুপম মহত্ত্ব কি— এসবই তাঁর মহাশক্তির কাজ অনুসারে হয়েছে।
20 এই মহাশক্তি দ্বারা তিনি মসীহে কার্য-সাধন করেছেন, যখন তিনি তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন এবং বেহেশতে নিজের ডান পাশে বসিয়েছেন,
21 সমস্ত আধিপত্য, কর্তৃত্ব, পরাক্রম ও প্রভুত্বের উপরে এবং যত নাম কেবল ইহযুগে নয়, কিন্তু পরযুগেও উল্লেখ করা যায়, তার সবকিছুর উপরে মসীহের নাম প্রতিষ্ঠিত করলেন।
22 আর তিনি সবকিছুই তাঁর পায়ের নিচে রাখলেন এবং তাঁকেই সকলের উপরে মস্তকস্বরূপ করে মণ্ডলীকে দান করলেন;
23 সেই মণ্ডলী তাঁর দেহ, তাঁরই পূর্ণতাস্বরূপ, যিনি সমস্ত বিষয়ে সমস্তই পূরণ করেন।
1
তোমরা নিজ নিজ অপরাধ ও গুনাহে মৃত ছিলে;
2 ঐ সমস্ত গুনাহে তোমরা আগে জীবন-যাপন করতে, এই দুনিয়ার যুগ অনুসারে, আসমানের অধিপতির ক্ষমতা অনুসারে, যে রূহ্ অবাধ্যতার সন্তানদের মধ্যে এখন কাজ করছে সেই রূহের অধিপতির ইচ্ছা অনুসারে জীবন-যাপন করতে।
3 সেই লোকদের মধ্যে আমরাও সকলে আগে নিজ নিজ দৈহিক অভিলাষ অনুসারে আচরণ করতাম এবং দৈহিক ও মনের বিবিধ ইচ্ছা পূর্ণ করতাম। এই স্বভাবের কারণে অন্য সকলের মত আমরাও গজবের সন্তান ছিলাম।
4 কিন্তু আল্লাহ্ করুণাধনে ধনবান বলে, তাঁর যে মহা মহব্বতে আমাদের মহব্বত করলেন,
5 সেই কারণে, এমন কি আমরা যখন আমাদের অপরাধে মৃত ছিলাম তখন তিনি মসীহের সঙ্গে আমাদের জীবিত করলেন— রহমতেই তোমরা নাজাত পেয়েছ—
6 এবং তিনি মসীহ্ ঈসাতে আমাদের তাঁর সঙ্গে জীবিত করলেন ও তাঁর সঙ্গে বেহেশতী স্থানে বসালেন;
7 যেন মসীহ্ ঈসাতে আমাদের প্রতি তাঁর যে দয়া দেখিয়েছেন তা দ্বারা আগামী যুগ যুগ ধরে তিনি তাঁর অনুপম অনুগ্রহরূপ ধন প্রকাশ করেন।
8 কেননা রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ এবং তা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহ্রই দান;
9 তা কাজের ফল নয়, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে।
10 কারণ আমরা তাঁরই হাতের তৈরি, মসীহ্ ঈসাতে সৎ-কর্মের জন্য সৃষ্ট; এই সৎকর্ম আল্লাহ্ আগে প্রস্তুত করেছিলেন যেন আমরা সেই পথে চলি।
11
অতএব স্মরণ কর, আগে জন্মগত-ভাবে তোমরা অ-ইহুদী ছিলে, তোমাদের “খৎনা-না-করানো লোক” বলে যারা অভিহিত করতো তারা “খৎনা-করানো” বলে আখ্যাত ছিল— যাদের মানুষের হাতে দৈহিকভাবে খৎনা করানো হয়েছিল।
12 সেই সময়ে তোমরা মসীহ্ থেকে পৃথক ছিলে, ইসরাইলের লোক হিসেবে যে অধিকার সেই অধিকারের বাইরে ছিলে এবং প্রতিজ্ঞাযুক্ত নিয়মগুলোর সঙ্গে তোমাদের কোন সম্পর্ক ছিল না; তোমাদের কোন আশা ছিল না আর তোমরা দুনিয়াতে আল্লাহ্বিহীন ছিলে।
13 কিন্তু এখন মসীহ্ ঈসাতে, এক কালে দূরে ছিলে যে তোমরা— তোমাদের মসীহের রক্ত দ্বারা কাছে আনা হয়েছ।
14 কেননা তিনি আমাদের শান্তি; তিনিই নিজ দেহে উভয়কে এক করেছেন এবং এই দুইয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের যে দেওয়াল আমাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি করতো তা ভেঙ্গে ফেলেছেন।
15 তিনি শরীয়তের সমস্ত হুকুম ও অনুশাসনকে বাতিল করেছেন; যেন তিনি নিজে এই দু’টিকে দিয়ে একটি নতুন মানুষ সৃষ্টি করেন, যেন এভাবে দু’য়ের মধ্যে শান্তি হয়;
16 এবং ক্রুশে শত্রুতাকে বধ করে সেই ক্রুশ দ্বারা এক দেহে আল্লাহ্র সঙ্গে উভয় পক্ষের মিলন করে দেন।
17 আর তিনি এসে তোমরা যারা দূরে ছিলে এবং তারা যারা কাছে ছিল, তাদের সকলের কাছেই শান্তির সুসমাচার জানিয়েছেন।
18 কেননা তাঁরই দ্বারা আমরা উভয় পক্ষের লোক এক পাক-রূহে পিতার কাছে উপস্থিত হবার ক্ষমতা পেয়েছি।
19
অতএব তোমরা আর এখন আগন্তক ও বিদেশী নও, কিন্তু পবিত্র লোকদের সহপ্রজা এবং আল্লাহ্র গৃহের লোক হয়েছ।
20 তোমাদেরকে প্রেরিত ও নবীদের ভিত্তি-মূলের উপর গেঁথে তোলা হয়েছে; আর সেই ভিত্তির প্রধান পাথর স্বয়ং মসীহ্ ঈসা।
21 তাঁতেই সমস্ত গাঁথুনি সংযুক্ত হয়ে প্রভুতে এক পবিত্র এবাদতখানা হবার জন্য গড়ে উঠছে;
22 তাঁতে পাক-রূহের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্র আবাস হবার জন্য তোমাদেরকেও একসঙ্গে গেঁথে তোলা হচ্ছে।
1
এজন্য আমি পৌল, তোমরা যারা অ-ইহুদী, তোমাদের জন্য আমি মসীহ্ ঈসার বন্দী হয়েছি।
2 আল্লাহ্র রহমতের যে ব্যবস্থা তোমাদের উদ্দেশে আমাকে দেওয়া হয়েছে তার কথা তো তোমরা ইতিমধ্যেই শুনেছ।
3 ফলত প্রত্যাদেশ দ্বারা সেই নিগূঢ়তত্ত্ব আমাকে জানানো হয়েছে, যেমন আমি একটু আগে সংক্ষেপে লিখেছি;
4 তোমরা তা পাঠ করলে মসীহ্ বিষয়ক নিগূঢ়তত্ত্বে আমার যে অভিজ্ঞতা তা বুঝতে পারবে।
5 আগের যুগের মানুষের কাছে সেই নিগূঢ়তত্ত্ব এভাবে জানানো হয় নি, যেভাবে এখন পাক-রূহের মধ্য দিয়ে তাঁর পবিত্র প্রেরিত ও নবীদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে।
6 ফলত ইঞ্জিলের মধ্য দিয়ে মসীহ্ ঈসাতে অ-ইহুদীরাও উত্তরাধিকারের সহভাগী, দেহের একই অঙ্গের সহভাগী ও প্রতিজ্ঞার সহভাগী হয়;
7 আল্লাহ্র রহমতের যে দান তাঁর পরাক্রমের কর্মশক্তি গুণে আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুসারে আমি সেই ইঞ্জিলের পরিচারক হয়েছি।
8 যদিও আমি সমস্ত পবিত্র লোকদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম তবুও আমাকে এই রহমত দেওয়া হয়েছে, যাতে অ-ইহুদীদের কাছে আমি মসীহের সেই ধনের বিষয়ে সুখবর তবলিগ করি, যে ধনের অনুসন্ধান করে ওঠা যায় না;
9 এবং আদি থেকে সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্তে যা গুপ্ত ছিল, সেই নিগূঢ়তত্ত্বের পরিকল্পনা যে কি তাও যেন তাদের চোখের সামনে প্রকাশ করি;
10 উদ্দেশ্য এই, যেন এখন মণ্ডলীর মধ্য দিয়ে বেহেশতী স্থানের সমস্ত শাসনকর্তা ও ক্ষমতার অধিকারীদের কাছে আল্লাহ্র বহুবিধ প্রজ্ঞা জানানো যায়।
11 এটা ছিল তাঁর অনন্তকালীন সঙ্কল্প, যে সঙ্কল্প তিনি আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসাতে পূর্ণ করেছেন,
12 তাঁতেই আমরা তাঁর উপরে ঈমানের মধ্য দিয়ে সাহস এবং পূর্ণ ভরসায় আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হবার ক্ষমতা পেয়েছি।
13 অতএব আমার মুনাজাত এই, তোমাদের জন্য আমি যেসব দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছি, তাতে যেন নিরুৎসাহ না হও; সেই সব তোমাদের গৌরব।
14
এজন্য সেই পিতার কাছে আমি হাঁটু পেতেছি,
15 যাঁর কাছ থেকে বেহেশত ও দুনিয়ার সমস্ত পরিবার তাদের নাম পেয়েছে।
16 আমি মুনাজাত করছি যেন তিনি তাঁর মহিমা-ধন অনুসারে তোমাদের এই বর দেন, যাতে তাঁর রূহের মধ্য দিয়ে তোমাদের অন্তর শক্তিশালী হয়;
17 যেন ঈমানের মধ্য দিয়ে মসীহ্ তোমাদের অন্তরে বাস করেন; যেন তোমরা মহব্বতে দৃঢ়-রোপিত ও দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হও।
18 আমি মুনাজাত করি যেন তোমরা সমস্ত পবিত্র লোকদের সঙ্গে বুঝতে সমর্থ হও যে, সেই প্রশস্ততা, দীর্ঘতা, উচ্চতা ও গভীরতা কি,
19 এবং জ্ঞানাতীত যে মসীহের মহব্বত, তা যেন জানতে সমর্থ হও আর এইভাবে যেন আল্লাহ্র সমস্ত পূর্ণতার উদ্দেশে পূর্ণ হও।
20
যে শক্তি আমাদের মধ্যে কাজ করে, সেই শক্তি অনুসারে যিনি আমাদের সমস্ত চাওয়া ও চিন্তার চেয়েও অতিরিক্ত কাজ করতে পারেন,
21 মণ্ডলীতে এবং মসীহ্ ঈসাতে যুগপর্যায়ের যুগে যুগে সমস্ত পুরুষানুক্রমে তাঁরই মহিমা হোক। আমিন।
1
অতএব প্রভুতে বন্দী আমি তোমাদের কাছে এই ফরিয়াদ করছি, তোমরা যে আহ্বানে আহূত হয়েছ তার যোগ্যরূপে চল।
2 সমপূর্ণ নম্রতা, মৃদুতা ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে চল; মহব্বতে পরস্পরের প্রতি ধৈর্যশীল হও,
3 শান্তির যোগবন্ধনে পাক-রূহের ঐক্য রক্ষা করতে যত্নবান হও।
4 দেহ এক এবং পাক-রূহ্ও এক— যেমন তোমরা তোমাদের আহ্বানের একই প্রত্যাশায় আহ্বান লাভ করেছ।
5 প্রভু এক, ঈমান এক, বাপ্তিস্ম এক,
6 সকলের আল্লাহ্ ও পিতা এক, তিনি সকলের উপরে, সকলের কাছে ও সকলের মধ্যে আছেন।
7 কিন্তু মসীহের দানের পরিমাণ অনুসারে আমাদের প্রত্যেক জনকে রহমত দান করা হয়েছে।
8 সেজন্য পাক-কিতাবে বলা হয়েছে, “তিনি ঊর্ধ্বে উঠে বন্দীদেরকে বন্দীদশায় নিয়ে গেলেন, তাঁর লোকদের নানা বর দান করলেন।”
9
ভাল, তিনি ‘উঠলেন’, এর অর্থ কি এই নয় যে, তিনি দুনিয়ার গভীরতম স্থানে নেমেছিলেন?
10 যিনি নেমেছিলেন, তিনিই সকল বেহেশতের অনেক উপরে উঠেছেন, যেন তিনি সমস্ত কিছু পূর্ণ করতে পারেন।
11 আর তিনি কয়েকজনকে প্রেরিত, কয়েক জনকে নবী, কয়েকজনকে সুসমাচার-তবলিগকারী ও কয়েকজনকে ইমাম ও শিক্ষক করে মনোনীত করেছেন।
12 তিনি তা করেছেন যেন পবিত্র লোকেরা পরিচর্যা কাজ করার জন্য পরিপক্ক হয় আর এভাবে মসীহের দেহ গড়ে ওঠে,
13 যেন আমরা সকলে আল্লাহ্র পুত্র বিষয়ক ঈমান ও তত্ত্ব জ্ঞানের ঐক্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, আর মসীহের পূর্ণতার পূর্ণমাত্রা অনুযায়ী পরিপক্ক লোক হতে পারি।
14 তা হলে আমরা আর বালক থাকব না, মানুষের ঠকামিতে, ধূর্ততায়, ভ্রান্তির ছলচাতুরীতে বিভ্রান্ত হব না এবং যে কোন মতবাদের বায়ুতে পরিচালিত হব না।
15 কিন্তু আমরা মহব্বতে সত্যনিষ্ঠ হয়ে যিনি মস্তক, যিনি মসীহ্ সমস্ত বিষয়ে তাঁর উদ্দেশে বৃদ্ধি পাব।
16 তাঁর প্রভাবে সমস্ত দেহটা সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত হয়ে, সমস্ত গ্রন্থির সহযোগিতায় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা অনুসারে দেহের বৃদ্ধি সাধন করছে, যেন নিজেকেই মহব্বতে গেঁথে তুলছে।
17
অতএব আমি এই কথা বলছি ও প্রভুতে দৃঢ়ভাবে হুকুম করছি, তোমরা আর অ-ইহুদীদের মত চলো না; তারা নিজ নিজ মনের অসার ভাবে চলে;
18 তাদের অন্তর অন্ধকারে পড়ে আছে, তাদের অন্তরের অজ্ঞতা ও হৃদয়ের কঠিনতার জন্য তারা আল্লাহ্ দেওয়া জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
19 তারা অসার হয়ে পড়েছে এবং লোভের বশবর্তী হয়ে সব রকম নাপাক কাজ করার জন্য লাগামহীন কামনার হাতে নিজেদের তুলে দিয়েছে।
20 কিন্তু তোমরা মসীহের বিষয়ে এরকম শিক্ষা পাও নি;
21 তোমরা তাঁর বিষয় শুনেছ এবং ঈসাতে যে সত্য আছে সেই অনুসারে তাঁতেই শিক্ষা লাভ করেছ।
22 তোমরা এই শিক্ষা লাভ করেছ যেন তোমরা পুরানো জীবন-পথ, সেই পুরানো মানুষকে ত্যাগ কর, যা প্রতারণার নানা রকম অভিলাষ দ্বারা ভ্রষ্ট হয়ে পড়ছে।
23 আর তোমরা নিজ নিজ মনকে ক্রমশ নতুন করে গড়ে তোল,
24 এবং সেই নতুন মানুষকে বরণ কর, যা সত্যের ধার্মিকতায় ও সাধুতায় আল্লাহ্র সাদৃশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।
25
অতএব তোমরা মিথ্যা ত্যাগ কর এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর সঙ্গে সত্য কথা বলো; কারণ আমরা পরস্পর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।
26 তোমরা ক্রুদ্ধ হলে গুনাহ্ করো না; সূর্য অস্ত যাবার আগেই তোমাদের ক্রুদ্ধ মন শান্ত হোক;
27 আর শয়তানকে কোন সুযোগ দিও না।
28 চোর আর চুরি না করুক, বরং নিজের হাতে সৎভাবে পরিশ্রম করুক, যেন দীনহীনকে দেবার জন্য তার হাতে কিছু থাকে।
29 তোমাদের মুখ থেকে কোন রকম খারাপ কথা বের না হোক, কিন্তু প্রয়োজনে গেঁথে তুলবার জন্য ভাল কথা বের হোক, যেন যারা শোনে তারা রহমত পায়।
30 আর যাঁর দ্বারা তোমাদের মুক্তির দিনের অপেক্ষায় সীলমোহর করা হয়েছে আল্লাহ্র সেই পাক-রূহ্কে দুঃখ দিও না।
31 সব রকম তিক্ততা, রোষ, ক্রোধ, কলহ, নিন্দা এবং সব রকম হিংসা তোমাদের থেকে দূর হোক।
32 তোমরা একে অন্যের প্রতি দয়ালু ও উদারমনা হও, একে অন্যকে মাফ কর, যেমন আল্লাহ্ও মসীহের মধ্য দিয়ে তোমাদের মাফ করেছেন।
1
অতএব প্রিয় সন্তানের মত তোমরা আল্লাহ্র অনুকারী হও।
2 আর মহব্বতে চল, যেমন মসীহ্ তোমাদেরকে মহব্বত করলেন এবং আমাদের জন্য আল্লাহ্র উদ্দেশে নৈবেদ্য ও সৌরভযুক্ত কোরবানী হিসেবে নিজেকে কোরবানী করলেন।
3
কিন্তু পতিতাগমন ও সব রকম নাপাকীতা বা লোভের নামও যেন তোমাদের মধ্যে শোনা না যায়; পবিত্র লোকদের পক্ষে এ সব উপযুক্ত নয়।
4 আর কুৎসিত ব্যবহার এবং বোকামি ও তামাশার কথাবার্তা যেন তোমাদের মধ্যে না হয়, কিন্তু এর পরিবর্তে যেন শুকরিয়া দেওয়া হয়।
5 কেননা তোমরা নিশ্চয় জেনো যে, পতিতাগামী বা নাপাক বা লোভী, যাদের একরকম মূর্তিপূজক বলা যায় তাদের কেউই মসীহের ও আল্লাহ্র রাজ্যে অধিকার পায় না।
6 অনর্থক কথা দ্বারা কেউ যেন তোমাদের না ভুলায়; কেননা এসব দোষের জন্য অবাধ্যতার সন্তানদের উপরে আল্লাহ্র গজব নেমে আসে।
7 অতএব তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ো না;
8 কারণ তোমরা একসময়ে অন্ধকার ছিলে, কিন্তু এখন প্রভুতে আলো হয়েছ; আলোর সন্তানদের মত চল—
9 কেননা যা কিছু ভাল, ধর্মময় ও সত্য তার সমস্ত কিছুতে আলোর ফল দেখা যায়।
10 কিসে প্রভু প্রীত হন তা জানতে চেষ্টা কর।
11 আর অন্ধকারের ফলহীন কর্মকাণ্ডে কোন অংশ নিও না, বরং সেগুলোর দোষ দেখিয়ে দাও।
12 কেননা এ সব লোকেরা গোপনে যেসব কাজ করে তা উচ্চারণ করাও লজ্জার বিষয়।
13 কিন্তু আলো দ্বারা দোষ দেখিয়ে দেওয়া হলে পর সমস্তই প্রকাশ হয়ে পড়ে;
14 বস্তুত যা প্রকাশ হয়ে পড়ে তা সমস্তই আলোময়। এজন্য পাক-কিতাবে লেখা আছে, “হে ঘুমন্ত ব্যক্তি জেগে ওঠ এবং মৃতদের মধ্য থেকে ওঠ, তাতে মসীহ্ তোমার উপরে আলো দান করবেন।”
15
সেজন্য তোমরা কিভাবে চলছো সেই বিষয়ে সাবধান হও; অজ্ঞানের মত না চলে জ্ঞানবানের মত চল;
16 বর্তমান সুযোগের সদ্ব্যবহার কর, কেননা এই কাল মন্দ।
17 এজন্য নির্বোধ হয়ো না, কিন্তু প্রভুর ইচ্ছা কি তা বুুঝে নাও।
18 আর আঙ্গুর-রসে মাতাল হয়ো না, কারণ তাতে উচ্ছৃঙ্খলতা থাকে; কিন্তু পাক-রূহে পরিপূর্ণ হও;
19 জবুর শরীফের গজল, প্রশংসা-সংগীত ও রূহানিক কাওয়ালীর মধ্য দিয়ে পরস্পর আলাপ কর; নিজ নিজ অন্তঃকরণে বাদ্যের ঝঙ্কারে প্রভুর উদ্দেশে সঙ্গীত কর;
20 সব সময় সব কিছুর জন্য আমাদের ঈসা মসীহের নামে পিতা আল্লাহ্র শুকরিয়া কর;
21 মসীহের প্রতি ভক্তিপূর্ণ ভয়ে পরস্পরের প্রতি অনুগত হও।
22
তোমরা যারা স্ত্রী, তোমরা যেমন প্রভুর, তেমনি নিজ নিজ স্বামীর অধীনতা স্বীকার কর।
23 কেননা স্বামী যেমন স্ত্রীর মাথা, মসীহ্ও তেমনি মণ্ডলীর মাথা— তাঁর দেহের নাজাতদাতা;
24 কিন্তু মণ্ডলী যেমন মসীহের বশীভূত, তেমনি স্ত্রীরা সমস্ত বিষয়ে নিজ নিজ স্বামীর বশীভূতা হোক।
25 তোমরা যারা স্বামী, তোমরা নিজ নিজ স্ত্রীকে মহব্বত কর, যেমন মসীহ্ও মণ্ডলীকে মহব্বত করলেন আর তার জন্য নিজেকে দান করলেন;
26 যেন তিনি কালাম দ্বারা পানিতে ধুয়ে তাকে পাক-পবিত্র করেন,
27 যেন তিনি মহিমান্বিত অবস্থায় তাঁর নিজের কাছে মণ্ডলীকে উপস্থিত করেন, যেন তার কলঙ্ক বা খুঁত বা এই রকম কোন কিছু না থাকে, বরং সে যেন পবিত্র ও অনিন্দনীয় হয়।
28 এভাবে স্বামীরাও নিজ নিজ স্ত্রীকে নিজ নিজ দেহ বলে মহব্বত করতে বাধ্য। নিজের স্ত্রীকে যে মহব্বত করে, সে নিজেকেই মহব্বত করে।
29 কেউ তো কখনও নিজের দেহের প্রতি ঘৃণা করে না, বরং সকলে তার ভরণ-পোষণ ও লালন-পালন করে, যেমন মসীহ্ও মণ্ডলীর প্রতি করছেন;
30 কেননা আমরা তাঁর দেহের অংশ।
31 “এজন্য মানুষ তার পিতা-মাতাকে ত্যাগ করে তার স্ত্রীতে আসক্ত হবে এবং সেই দু’জন একাঙ্গ হবে।”
32 এই নিগূঢ়তত্ত্ব মহৎ, কিন্তু আমি মসীহ্ ও মণ্ডলীর উদ্দেশে এই কথা বললাম।
33 যাহোক, তোমরাও প্রত্যেকে নিজের মত করে নিজ নিজ স্ত্রীকে মহব্বত কর; আর স্ত্রীরও উচিত যেন সে স্বামীকে সম্মান করে।
1
তোমরা যারা সন্তান, তোমরা প্রভুতে পিতা-মাতার বাধ্য হও, কেননা তা ন্যায্য।
2 “তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সমাদর করো,” — এটাই তো প্রথম হুকুম যার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা রয়েছে:
3 “যেন তোমার মঙ্গল হয় এবং তুমি দেশে দীর্ঘায়ু হও।”
4
আর তোমরা যারা পিতা, তোমরা নিজ নিজ সন্তানদের ক্ষুব্ধ করো না, বরং প্রভুর শাসনে ও চেতনা প্রদানে তাদেরকে মানুষ করে তোল।
5
তোমরা যারা গোলাম, তোমরা যেমন মসীহের বাধ্য, তেমনি আন্তরিকতার সঙ্গে সভয়ে ও কম্পিত হৃদয়ে এই দুনিয়ার মালিকদের বাধ্য হও;
6 যখন মালিকদের চোখের সম্মুখে আছ মাত্র তখন নয়, এমন কি, তাদের তুষ্ট করার জন্যও নয়, বরং মসীহের গোলামের মত প্রাণের সঙ্গে আল্লাহ্র ইচ্ছা পালন করছো বলে তা করো।
7 তোমরা মানুষের সেবা বলে নয়, বরং প্রভুরই সেবা করছো বলে সন্তুষ্ট মনে গোলামীর কাজ কর;
8 জেনে রাখ, কোন সৎকর্ম করলে প্রত্যেক ব্যক্তি, সে গোলাম হোক বা স্বাধীন হোক, প্রভুর কাছ থেকে তার ফল পাবে।
9
আর তোমরা যারা মালিক, তোমরা তাদের প্রতি তেমনি ব্যবহার কর, ভর্ৎসনা ত্যাগ কর এবং জেনে রাখ, তাদের এবং তোমাদেরও প্রভু বেহেশতে আছেন, আর তিনি কারো মুখাপেক্ষা করেন না।
10
শেষ কথা এই, তোমরা প্রভুতে ও তাঁর শক্তির পরাক্রমে বলবান হও।
11 আল্লাহ্র সমস্ত যুদ্ধের সাজ-পোশাক পর যেন শয়তানের নানা রকম চাতুরীর সম্মুখে দাঁড়াতে পার।
12 কেননা রক্তমাংসের সঙ্গে নয়, কিন্তু আধিপত্য সকলের সঙ্গে, কর্তৃত্ব সকলের সঙ্গে, এই অন্ধকারের দুনিয়ার অধিপতিদের সঙ্গে, আসমানের গুনাহ্গার রূহ্দের সঙ্গে আমাদের মল্লযুদ্ধ হচ্ছে।
13 এজন্য তোমরা আল্লাহ্র সমস্ত যুদ্ধের সাজ-পোশাক গ্রহণ কর, যেন সেই অধর্মের দিনের প্রতিরোধ করতে এবং সকলই সম্পন্ন করে দাঁড়িয়ে থাকতে পার।
14 অতএব সত্যের কোমরবন্ধনী কোমরে বেঁধে, ধার্মিকতার বুকপাটা পরে,
15 এবং শান্তির ইঞ্জিল তবলিগের জন্য পায়ে জুতা পরে দাঁড়িয়ে থাক;
16 এসব ছাড়া ঈমানের ঢালও গ্রহণ কর, যার দ্বারা তোমরা সেই শয়তানের সমস্ত জ্বলন্ত তীর নিভিয়ে ফেলতে পারবে;
17 এবং নাজাতের শিরস্ত্রাণ ও পাক-রূহের তলোয়ার, অর্থাৎ আল্লাহ্র কালাম গ্রহণ কর।
18 সব রকম মুনাজাত ও ফরিয়াদ সহকারে পাক-রূহের দ্বারা চালিত হয়ে সব সময়ে মুনাজাত কর। এজন্য সমপূর্ণ সজাগ থাক ও সমস্ত পবিত্র লোকের জন্য ফরিয়াদ সহকারে মিনতি কর।
19 আমার জন্যও মুনাজাত কর যেন মুখ খুলবার উপযুক্ত বক্তৃতা আমাকে দেওয়া হয়, যাতে আমি সাহসপূর্বক সেই ইঞ্জিলের নিগূঢ়তত্ত্ব জানাতে পারি,
20 যার জন্য আমি শিকলে বাঁধা পড়েও রাজদূতের কাজ করছি; যেমন কথা বলা আমার উচিত, তেমনি যেন সেই বিষয়ে সাহস দেখাতে পারি।
21
আর আমি কেমন আছি ও কি কি কাজ করছি তা যেন তোমরাও জানতে পার তা তুখিক, যিনি প্রভুতে প্রিয় ভাই ও বিশ্বস্ত পরিচারক, তিনি তোমাদের সকলই জানাবেন।
22 আমি তাঁকে তোমাদের কাছে সেজন্যই পাঠালাম যেন তোমরা আমাদের সমস্ত সংবাদ জানতে পার এবং তিনি যেন তোমাদের অন্তরে উৎসাহ দেন।
23
পিতা আল্লাহ্ এবং প্রভু ঈসা মসীহ্ থেকে শান্তি এবং ঈমানের সঙ্গে মহব্বত ভাইদের প্রতি বর্ষিত হোক।
24 আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্কে যারা অক্ষয়ভাবে মহব্বত করে, তাদের সকলের প্রতি রহমত সহবর্তী হোক।
1
পৌল ও তীমথি, মসীহ্ ঈসার গোলাম— মসীহ্ ঈসাতে স্থিত যত পবিত্র লোক ফিলিপীতে আছেন, তাঁদের এবং বিশপদের ও পরিচারকদের সমীপে।
2 আমাদের পিতা আল্লাহ্ ও প্রভু ঈসা মসীহ্ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
তোমাদের কথা স্মরণ হলেই আমি আমার আল্লাহ্কে শুকরিয়া জানাই,
4 সব সময় আমার সমস্ত মুনাজাতে তোমাদের সকলের জন্য আনন্দ সহকারে মুনাজাত করে থাকি,
5 কারণ প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত ইঞ্জিলের পক্ষে তোমরা সহভাগী আছ।
6 আর এতে আমার দৃঢ় ভরসা আছে যে, তোমাদের অন্তরে যিনি উত্তম কাজ আরম্ভ করেছেন, তিনি ঈসা মসীহের দিন পর্যন্ত তা সুসম্পন্ন করবেন।
7 আর তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার এই মনোভাব রাখা ন্যায় সঙ্গত, কেননা তোমরা আমার হৃদয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছ; কারাগারে আমার বন্দী থাকা সম্বন্ধে এবং ইঞ্জিলের পক্ষ সমর্থন ও নিশ্চিতকরণ সম্বন্ধে— এই দুই বিষয়েই তোমরা সকলে আমার সঙ্গে রহমতের সহভাগী হয়েছ।
8 কারণ আল্লাহ্ আমার সাক্ষী যে, মসীহ্ ঈসার স্নেহে আমি তোমাদের সকলের জন্য কেমন আকাঙক্ষী।
9 আর আমি মুনাজাত করি তোমাদের মহব্বত যেন তত্ত্বজ্ঞানে ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে উত্তরোত্তর উপচে পড়ে;
10 এভাবে তোমরা যেন যা যা উত্তম তা বেছে নিতে পার এবং মসীহের আসার দিন পর্যন্ত যেন তোমরা খাঁটি ও নিখুঁত থাকতে পার,
11 যেন ধার্মিকতার সেই ফলে পূর্ণ হও, যা ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে পাওয়া যায়, এভাবে যেন আল্লাহ্র গৌরব ও প্রশংসা হয়।
12
হে ভাইয়েরা, আমার ইচ্ছা এই যেন তোমরা জানতে পার যে, আমার সম্বন্ধে যা যা ঘটেছে তা দ্বারা প্রকৃতপক্ষে ইঞ্জিল তবলিগের কাজ সম্প্রসারিত হয়েছে;
13 বিশেষত বাদশাহ্র সমস্ত রক্ষীদল এবং অন্যান্য সকলে জানতে পেরেছে যে, মসীহের জন্যই আমি বন্দী অবস্থায় আছি;
14 এবং প্রভুতে স্থিত অধিকাংশ ভাই আমার এই বন্দী অবস্থার কারণে দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে নির্ভয়ে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করতে বেশি সাহসী হয়েছে।
15
অবশ্য এদের মধ্যে কেউ কেউ, এমন কি, হিংসা ও ঝগড়া-বিবাদ বশতঃ, আর কেউ কেউ সৎ মনোভাব নিয়ে মসীহ্কে তবলিগ করছে।
16 এরা মহব্বতে সঙ্গেই মসীহ্কে তবলিগ করছে, কারণ জানে যে, আমি ইঞ্জিলের পক্ষ সমর্থন করতে নিযুক্ত রয়েছি।
17 কিন্তু অন্যেরা স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্খা বশতঃ মসীহ্কে তবলিগ করছে, আন্তরিকভাবে নয়, তারা মনে করছে বন্দীদশায় তারা আমাকে আরও কষ্ট দিতে পারবে।
18 কিন্তু তাতে কি? কপটতা বা সত্যভাবে, যে কোন ভাবে হোক, আসল কথা হল মসীহ্ তবলিগকৃত হচ্ছেন; আর এতেই আমি আনন্দ করছি, হ্যাঁ, পরেও আনন্দ করবো।
19
কেননা আমি জানি, তোমাদের মুনাজাত এবং ঈসা মসীহের রূহের সহায়তায় তা আমার মুক্তির সপক্ষ হবে।
20 হ্যাঁ, আমার ঐকান্তিক আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা এই যে, আমি কোনভাবে লজ্জিত হব না, বরং সমপূর্ণ সাহস সহকারে যেমন আগে তেমনি এখনও আমার জীবন দ্বারা হোক, বা মৃত্যু দ্বারা হোক, মসীহ্ আমার দেহে মহিমান্বিত হবেন।
21 কেননা আমার পক্ষে জীবন মসীহ্ এবং মরণ লাভ।
22 কিন্তু এই দেহে থাকতে যে জীবন, তাতে যদি আমার ফলবান কাজের সুযোগ হয়, তবে কোন্টি মনোনীত করবো তা বলতে পারি না।
23 অথচ আমি দুইয়ের মধ্যেই সঙ্কুচিত হচ্ছি; আমার বাসনা এই যে, প্রস্থান করে মসীহের সঙ্গে থাকি, কেননা তা বহুগুণে বেশি শ্রেয়;
24 কিন্তু এই দেহে জীবিত থাকা তোমাদের জন্য আরও বেশি প্রয়োজনীয়।
25 আর আমি নিশ্চিত-ভাবে এই বিষয় জানি যে, আমি বেঁচে থাকব, এমন কি, ঈমানে তোমাদের বৃদ্ধি ও আনন্দের জন্য তোমাদের সকলের কাছে থাকব,
26 যেন তোমাদের কাছে আমার ফিরে আসবার মধ্য দিয়ে মসীহ্ ঈসাতে তোমাদের যে গর্ব তা আমার মধ্যে উপচে পড়ে।
27
কেবল, মসীহের ইঞ্জিলের যোগ্যরূপে তাঁর লোকদের মত জীবন-যাপন কর; আমি এসে তোমাদের দেখি বা অনুপস্থিত থাকি, আমি যেন তোমাদের বিষয়ে শুনতে পাই যে, তোমরা এক রূহে স্থির আছ, এক প্রাণে ইঞ্জিলের ঈমানের পক্ষে মল্লযুদ্ধ করছো;
28 এবং কোন বিষয়েই বিপক্ষদের ভয় পাচ্ছো না। এটা ওদের জন্য বিনাশের, কিন্তু তোমাদের জন্য নাজাতের প্রমাণ, আর এটি আল্লাহ্র দেওয়া।
29 যেহেতু তোমাদের মসীহের খাতিরে এই রহমত দান করা হয়েছে যেন কেবল তাঁর উপর ঈমান আনতে পার তা নয়, কিন্তু তাঁর জন্য দুঃখভোগও করতে পার;
30 কারণ আমার মধ্যে যেরকম দেখেছ এবং এখনও আমার মধ্যে হচ্ছে বলে শুনতে পাচ্ছ তোমরাও সেই একই রকম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ।
1
অতএব মসীহে যদি কোন উৎসাহ, মহব্বতের কোন সান্ত্বনা, রূহের কোন সহভাগিতা, কোন স্নেহ ও করুণা থাকে,
2 তবে তোমরা আমার আনন্দ পূর্ণ কর— একই বিষয় ভাব, এক মহব্বতে মহব্বত কর, এক প্রাণ ও এক ভাববিশিষ্ট হও।
3 স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্খা কিংবা অহংকারের বশে কিছুই করো না, বরং নম্রভাবে প্রত্যেকে নিজের চেয়ে অন্যকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান কর;
4 এবং প্রত্যেক জন নিজের স্বার্থের দিকে নয় কিন্তু পরের স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখ।
5 মসীহ্ ঈসার মধ্যে যে মনোভাব ছিল তা তোমাদের মধ্যেও থাকুক।
6
যিনি আল্লাহ্র স্বরূপবিশিষ্ট থাকলেও,
আল্লাহ্র সঙ্গে সমান থাকা ধরে নেবার বিষয় জ্ঞান করলেন না,
7
কিন্তু নিজেকে শূন্য করলেন,
গোলামের রূপ ধারণ করলেন,
মানুষের সাদৃশ্যে জন্মগ্রহণ করলেন,
আকার প্রকারে মানুষ হলেন,
8
তিনি নিজেকে অবনত করলেন,
মৃত্যু পর্যন্ত, এমন কি, ক্রুশীয় মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য হলেন।
9
এই কারণে আল্লাহ্ তাঁকে সবচেয়ে উঁচু পদ দান করলেন
এবং তাঁকে সেই নাম দান করলেন
যা সমুদয় নামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ;
10
যেন বেহেশতে, দুনিয়ায় ও পাতালে,
প্রত্যেকেই ঈসার নামে হাঁটু পাতে,
11
এবং সমস্ত জিহ্বা যেন স্বীকার করে যে, ঈসা মসীহ্ই প্রভু,
এভাবে পিতা আল্লাহ্ যেন মহিমান্বিত হন।
12
অতএব, হে আমার প্রিয়তমেরা, তোমরা সব সময় যেমন বাধ্য হয়ে এসেছ তেমনি কেবল আমার উপস্থিতির সময়ে নয় বরং এখন আরও বেশি করে আমার অনুপস্থিতির সময়েও, সভয়ে ও সকমেপ নিজ নিজ নাজাতের অনুশীলন কর।
13 কারণ আল্লাহ্ তাঁর মঙ্গলময় সঙ্কল্প অনুযায়ী তোমাদের অন্তরে ইচ্ছা ও কাজ উভয়ের সাধনকারী।
14
তোমরা বচসা ও তর্ক না করে সমস্ত কাজ কর,
15 যেন তোমরা অনিন্দনীয় ও নির্দোষ হও, এই কালের সেই কুটিল ও বিপথগামী লোকদের মধ্যে আল্লাহ্র নিষ্কলঙ্ক সন্তান হও, যাদের মধ্যে তোমরা দুনিয়াতে তারাগুলোর মত উজ্জ্বল হয়ে আছ।
16 সেই লোকদের সম্মুখে তোমরা জীবনের কালাম ধরে রাখ; এতে মসীহের দিনে আমি এই বলে গর্ব করতে পারব যে, আমি বৃথা দৌড়াই নি, বৃথা পরিশ্রমও করি নি।
17 কিন্তু তোমাদের ঈমানের কোরবানী ও সেবাকর্মের উপর যদি আমার রক্ত পেয় কোরবানী হিসেবে সেচন করা হয় তবুও আনন্দ করছি, আর তোমাদের সকলের সঙ্গে আনন্দ করছি।
18 সেই ভাবে তোমরাও আনন্দ কর, আর আমার সঙ্গে আনন্দ কর।
19
আমি ঈসা মসীহে প্রত্যাশা করছি যে, তীমথিকে শীঘ্রই তোমাদের কাছে পাঠাব যেন তোমাদের অবস্থা জেনে আমারও প্রাণ জুড়ায়।
20 কারণ আমার কাছে এমন আর কেউ নেই যে, তীমথির মত করে প্রকৃত-ভাবে তোমাদের বিষয় চিন্তা করে।
21 কেননা অন্য সকলে ঈসা মসীহের বিষয় নয় কিন্তু নিজ নিজ বিষয় চেষ্টা করে।
22 কিন্তু তোমরা তীমথির পক্ষে এই প্রমাণ পেয়েছ যে, পিতার সঙ্গে সন্তান যেমন, আমার সঙ্গে ইনি তেমনি ইঞ্জিলের জন্য গোলামীর কাজ করেছেন।
23 অতএব আশা করি, আমার প্রতি কি ঘটে তা দেখতে পাওয়া মাত্রই তাঁকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব।
24 আর প্রভুতে আমার দৃঢ় প্রত্যয় এই যে, আমি নিজেও শীঘ্রই উপস্থিত হবো।
25
আমার ভাই, সহকর্মী ও সহসেনা ইপাফ্রদীত, যাকে তোমারা আমার সেবাকারী হিসেবে ও আমার প্রয়োজন মিটাবার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলে, তাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া আমি দরকার মনে করলাম।
26 কেননা তিনি তোমাদের সকলকে দেখবার জন্য আকাঙক্ষী ছিলেন এবং তোমরা তাঁর অসুস্থতার সংবাদ শুনেছ বলে তিনি ব্যাকুল হয়েছিলেন।
27 আর বাস্তবিক তিনি অসুস্থতায় মরণাপন্ন অবস্থায় পরেছিলেন; কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর প্রতি করুণা করেছেন, আর কেবল তাঁর প্রতি নয়, আমার প্রতিও রহম করেছেন যেন দুঃখের উপর দুঃখ আমার না হয়।
28 এজন্য আমি খুব আগ্রহের সঙ্গেই তাঁকে পাঠালাম, যেন তোমরা তাঁকে দেখে পুনর্বার আনন্দ কর, আমারও দুঃখের লাঘব হয়।
29 অতএব তোমরা তাঁকে প্রভুতে সম্পূর্ণ আনন্দ সহকারে গ্রহণ করো এবং এই রকম লোকদের সমাদর করো;
30 কেননা মসীহের সেবাকর্মের জন্য তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, আমার জন্য যে কাজ করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না তখন তিনি নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেই সেবার কাজ করেছিলেন।
1
শেষ কথা এই, হে আমার ভাইয়েরা, প্রভুতে আনন্দ কর।
তোমাদের কাছে একই কথা বার বার লিখতে আমার কষ্ট বোধ হয় না এবং তা তোমাদের জন্য রক্ষা-কবচ।
2 সেই কুকুরদের থেকে সাবধান, সেই দুষ্ট কার্যকারীদের থেকে সাবধান, সেই খৎনা-পন্থীদের থেকে সাবধান!
3 আমরাই তো সত্যিকারের খৎনা করানো লোক, আমরা যারা আল্লাহ্র রূহে এবাদত করি ও মসীহ্ ঈসাতে গর্ব করি এবং বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করি না।
4 তবুও আমি বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে পারতাম। যদি অন্য কেউ মনে করে যে, সে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে পারে, তবে আমি আরও বেশি করে তা করতে পারি।
5
অষ্টম দিনে আমার খৎনা করানো হয়েছে, আমি ইসরাইলের বিন্ইয়ামীন-বংশীয়, ইবরানীর বাড়িতে জন্মপ্রাপ্ত ইবরানী, শরীয়তের সম্বন্ধে ফরীশী,
6 গভীর আগ্রহ সম্বন্ধে মণ্ডলীর নির্যাতনকারী, শরীয়ত পালনের ধার্মিকতা সম্বন্ধে কেউ আমার নিন্দা করতে পারত না।
7 কিন্তু তাতে আমার যে সব লাভ হয়েছিল, সেসব আমি মসীহের জন্য ক্ষতি বলে গণ্য করলাম।
8 আর বাস্তবিক আমার প্রভু মসীহ্ ঈসার জ্ঞানের শ্রেষ্ঠতার কারণে আমি সবই ক্ষতি বলে গণ্য করছি; তাঁর জন্য সব কিছুতেই ক্ষতি সহ্য করেছি এবং তা মলবৎ গণ্য করছি, যেন আমি মসীহ্কে লাভ করতে পারি,
9 এবং মসীহ্তেই যেন আমাকে দেখতে পাওয়া যায়; আমার নিজের ধার্মিকতা, যা শরীয়ত থেকে প্রাপ্য, তা যেন আমার না হয়, কিন্তু যে ধার্মিকতা মসীহের উপর ঈমানের মধ্য দিয়ে আসে— ঈমানের উপর ভিত্তি করে যে ধার্মিকতা আল্লাহ্ থেকে পাওয়া যায়, তা-ই যেন আমার হয়।
10 আমি মসীহ্কে ও তাঁর পুনরুত্থানের পরাক্রমকে এবং তাঁর দুঃখ-ভোগের সহভাগিতাকে যেন জানতে চাই, আর এভাবে যেন তাঁর মৃত্যুর সমরূপ হতে পারি;
11 যেন কোন মতে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের ভাগী হতে পারি।
12
আমি যে এখন তা পেয়েছি, কিংবা এখনই লক্ষ্যে পৌঁছেছি তা নয়; কিন্তু যার জন্য মসীহ্ ঈসা কর্তৃক ধৃত হয়েছি, কোনক্রমে তা ধরবার চেষ্টায় দৌড়াচ্ছি।
13 ভাইয়েরা, আমি যে তা নিজের চেষ্টায় ধরেছি, নিজের বিষয়ে এমন মনে করি না; কিন্তু একটি কাজ করি, অতীতের বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে সম্মুখস্থ বিষয়ের চেষ্টায় একাগ্র হয়ে,
14 লক্ষ্যের অভিমুখে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি মসীহ্ ঈসাতে আল্লাহ্র বেহেশতী আহ্বানের পুরস্কার পাবার জন্য চেষ্টা করছি।
15 অতএব এসো, আমরা যত লোক পরিপক্ক, সকলেরই যেন একই মনোভাব থাকে; আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের অন্যরকম মনোভাব থাকে তবে আল্লাহ্ তোমাদের কাছে তাও প্রকাশ করবেন।
16 অতএব এসো, আমরা যে পর্যন্ত এসে পৌঁছেছি, সেই একই ধারায় চলি।
17
ভাইয়েরা, তোমরা সকলে মিলে আমার অনুকারী হও এবং আমরা যেমন তোমাদের আদর্শ, তেমনি আমাদের মত যারা চলে, তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখ।
18 কেননা অনেকে এমন চলছে, যাদের বিষয়ে তোমাদের বার বার বলেছি এবং এখনও কাঁদতে কাঁদতে বলছি, তারা মসীহের ক্রুশের দুশমন;
19 তাদের শেষ পরিণাম হল বিনাশ; তাদের উদরই হল তাদের আল্লাহ্ এবং যা কিছু তাদের লজ্জার বিষয় তাতেই তাদের গৌরব; দুনিয়াবী বিষয়ে তাদের মন পড়ে আছে।
20 কিন্তু আমাদের নাগরিকত্ব তো বেহেশতে; আর সেখান থেকে আমরা নাজাতদাতার, ঈসা মসীহের, আগমনের প্রতীক্ষা করছি;
21 তিনি আমাদের দীনতার দেহকে রূপান্তর করে নিজের প্রতাপের দেহের সমরূপ করবেন— যে কার্যসাধক-শক্তিতে তিনি সবকিছুই নিজের বশীভূত করেন সেই শক্তির গুণেই তা করবেন।
1
অতএব, হে আমার ভাইয়েরা, যাদের আমি মহব্বত করি ও দেখতে আকাঙক্ষা করি, যারা আমার আনন্দ ও মুকুটস্বরূপ, আমার সেই প্রিয়তমেরা, তোমরা এই ভাবেই প্রভুতে স্থির থাক।
2
আমি উবদিয়াকে ও সুন্তুখীকে ফরিয়াদ করে বলছি, প্রভুতে তোমাদের একই মনোভাব থাকুক।
3 হে আমার প্রকৃত সহকর্মী, হ্যাঁ, তোমাকেও বিনয় করছি, তুমি এঁদের সাহায্য কর, কেননা এঁরা ইঞ্জিলের কাজে আমার সঙ্গে পরিশ্রম করেছিলেন, ক্লীমেন্ত এবং আমার অন্যান্য সহকর্মীরাও তা করেছিলেন, তাঁদের নাম জীবন-কিতাবে লেখা আছে।
4
তোমরা প্রভুতে সব সময় আনন্দ কর; পুনরায় বলবো, আনন্দ কর।
5 তোমাদের অমায়িক স্বভাব মানুষের কাছে প্রকাশিত হোক। প্রভু নিকটবর্তী।
6 কোন বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না, কিন্তু সমস্ত বিষয়ে মুনাজাত ও ফরিয়াদ দ্বারা শুকরিয়া সহকারে তোমাদের সমস্ত চাওয়ার বিষয় আল্লাহ্কে জানাও।
7 তাতে সমস্ত চিন্তার অতীত যে আল্লাহ্র শান্তি তা তোমাদের অন্তর ও মন মসীহ্ ঈসাতে রক্ষা করবে।
8
অবশেষে, হে ভাইয়েরা, যা যা সত্যি, আদরণীয়, ন্যায্য, বিশুদ্ধ, প্রীতিজনক, যা যা সুখ্যাতিযুক্ত, যে কোন সদ্গুণ ও যে কোন কীর্তি হোক, সেসব বিষয় নিয়ে চিন্তা কর।
9 তোমরা আমার কাছে যা যা শিখেছ, গ্রহণ করেছ, শুনেছ ও দেখেছ, সেসব করতে নিজেদের ব্যস্ত রাখ; তাতে শান্তির আল্লাহ্ তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন।
10
কিন্তু আমি প্রভুতে বড়ই আনন্দিত হলাম যে, এত কাল পর এখন তোমরা আমার জন্য চিন্তা করতে নতুন উদ্দীপনা পেয়েছ; অবশ্য আমার বিষয়ে তোমরা চিন্তা করছিলে বটে, কিন্তু তা দেখাবার সুযোগ পাও নি।
11 এই কথা আমি আমার অনটন সম্বন্ধে বলছি না, কেননা আমি যে অবস্থায় থাকি, তাতে সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছি।
12 আমি অবনত হতে জানি, উপচয় ভোগ করতেও জানি; প্রত্যেক বিষয়ে ও সমস্ত বিষয়ে আমি তৃপ্ত বা ক্ষুধিত হতে এবং উপচয় বা অনটন ভোগ করতে শিক্ষা লাভ করেছি।
13 যিনি আমাকে শক্তি দেন তাঁর জন্য আমি সবই করতে পারি।
14 তবুও তোমরা আমার কষ্টের সহভাগী হয়ে ভালই করেছ।
15
হে ফিলিপীয়েরা, তোমরাও জান, ইঞ্জিল তবলিগের প্রথম লগ্নে, যখন আমি ম্যাসিডোনিয়া থেকে প্রস্থান করেছিলাম, তখন কোন মণ্ডলী দেনা-পাওনার বিষয়ে আমার সহভাগী হয় নি কেবল তোমরাই হয়েছিলে।
16 বাস্তবিক যখন আমি থিষলনীকীতে ছিলাম তখন তোমরা একবার, বরং দু’বার সাহায্য পাঠিয়ে আমার অভাব পূরণ করেছিলে।
17 আমি উপহার পাবার চেষ্টা করছি না, কিন্তু সেই ফলের চেষ্টা করছি যা তোমাদের পক্ষে অনেক লাভজনক হবে।
18 আমার সবকিছুই আছে, বরং উপচে পড়ছে; আমি তোমাদের কাছ থেকে ইপাফ্রদীতের হাতে যা যা পেয়েছি তাতে পরিপূর্ণ হয়েছি। এই উপহারগুলো ছিল সৌরভস্বরূপ আল্লাহ্র প্রীতিজনক গ্রহণযোগ্য কোরবানী।
19 আর আমার আল্লাহ্ মসীহ্ ঈসাতে স্থিত আপন গৌরবের ধন অনুসারে তোমাদের সমস্ত অভাব পরিপূর্ণভাবে মিটিয়ে দেবেন।
20 আমাদের আল্লাহ্ ও পিতার মহিমা যুগপর্যায়ের যুগে যুগে হোক। আমিন।
21
তোমরা মসীহ্ ঈসাতে প্রত্যেক পবিত্র লোককে সালাম জানাও। আমার সঙ্গী ভাইয়েরা তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন।
22 সকল পবিত্র লোক, বিশেষত যাঁরা সম্রাটের বাড়ির লোক, তাঁরা তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন।
23
ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের রূহের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, আল্লাহ্র ইচ্ছায় মসীহ্ ঈসার প্রেরিত এবং ভাই তীমথি— কলসীতে যেসব পবিত্র লোক ও বিশ্বস্ত ভাই মসীহে আছেন, তাঁদের সমীপে।
2 আমাদের পিতা আল্লাহ্র রহমত ও শান্তি তোমাদের উপরে বর্ষিত হোক।
3
আমরা সব সময় তোমাদের জন্য মুনাজাতের সময় আমাদের ঈসা মসীহের পিতা আল্লাহ্র শুকরিয়া করছি;
4 কেননা মসীহ্ ঈসাতে যে ঈমান এবং সমস্ত পবিত্র লোকের প্রতি যে মহব্বত তোমাদের আছে, তার সংবাদ শুনেছি;
5 এর মূল সেই প্রত্যাশিত বিষয়, যা তোমাদের জন্য বেহেশতে রাখা হয়েছে। এই প্রত্যাশিত বিষয় সম্বন্ধে তোমরা ইঞ্জিল, অর্থাৎ সত্যের কালাম থেকে আগেই শুনতে পেয়েছ,
6 যে ইঞ্জিল তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে। এটি যেমন সমস্ত দুনিয়াতে ফলবান হচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি যেদিন তোমরা তা শুনেছিলে এবং আল্লাহ্র রহমত সত্যিকারভাবে জেনেছিলে, তোমাদের মধ্যেও সেদিন থেকে তা ফলবান হচ্ছে।
7 তোমরা আমাদের প্রিয় সহ-গোলাম ইপাফ্রার কাছে সেরকম শিক্ষাই পেয়েছ; তিনি তোমাদের পক্ষে মসীহের বিশ্বস্ত পরিচারক;
8 পাক-রূহে তোমাদের মহব্বতের বিষয়ও তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন।
9
এই কারণে আমরাও যেদিন সেই সংবাদ শুনেছি, সেদিন থেকে তোমাদের জন্য মুনাজাত ও ফরিয়াদ করতে ক্ষান্ত হই নি, যেন তোমরা সমস্ত রূহানিক জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে আল্লাহ্র ইচ্ছার তত্ত্বজ্ঞানে পূর্ণ হও,
10 এতে যেন তোমরা প্রভুর যোগ্যরূপে জীবন-যাপন ও সর্বতোভাবে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পার, আর তোমরা সমস্ত সৎকর্মে ফলবান ও আল্লাহ্র তত্ত্বজ্ঞানে সমৃদ্ধ হও।
11 তোমরা আনন্দের সঙ্গে সমপূর্ণ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা প্রকাশ করার জন্য তাঁর মহিমার পরাক্রম অনুসারে সমস্ত শক্তিতে শক্তিমান হও;
12 আর পিতার শুকরিয়া কর, যিনি পবিত্র লোকদের আলোতে যে উত্তরাধিকার, তাতে তোমাদের অংশী হবার জন্য উপযুক্ত করেছেন।
13 তিনিই আমাদের অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে উদ্ধার করে আপন প্রিয় পুত্রের রাজ্যে আনয়ন করেছেন।
14 এই পুত্রেই আমরা মুক্তি, গুনাহ্র ক্ষমা লাভ করেছি।
15
ইনিই অদৃশ্য আল্লাহ্র প্রতিমূর্তি, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত; কেননা তাঁর দ্বারাই সব-কিছুই সৃষ্ট হয়েছে;
16 বেহেশতে ও দুনিয়াতে, দৃশ্য বা অদৃশ্য যা কিছু আছে, সিংহাসন হোক বা প্রভুত্ব হোক, বা আধিপত্য হোক, বা কর্তৃত্ব হোক, সকলই তাঁর দ্বারা ও তাঁর জন্য সৃষ্ট হয়েছে;
17 আর তিনিই সকলের আগে আছেন ও তাঁর মধ্য দিয়েই সমস্ত কিছু টিকে আছে।
18 আর তিনিই দেহের অর্থাৎ মণ্ডলীর মাথা; তিনিই আদি, মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত, যেন সমস্ত বিষয়ে তিনি অগ্রগণ্য হন।
19 কারণ আল্লাহ্ চেয়েছিলেন যেন সমস্ত পূর্ণতা মসীহের মধ্যেই বাস করে,
20 এবং তাঁর ক্রুশের রক্ত দ্বারা সন্ধি করে তাঁর দ্বারা যেন নিজের সঙ্গে বেহেশতের হোক, বা দুনিয়ার হোক, সকলই সম্মিলিত করেন, তাঁর দ্বারাই করেন।
21
আর এক সময়ে তোমরা আল্লাহ্র কাছ থেকে দূরবর্তী ছিলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের মনে শত্রুভাব ছিল ও তোমরা দুষ্কর্ম করছিলে,
22 তোমাদের তিনি এখন মসীহের মাংসময় দেহে মৃত্যু দ্বারা সম্মিলিত করলেন, যেন তোমাদেরকে পবিত্র, নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ করে নিজের সাক্ষাতে উপস্থিত করেন,
23 যদি তোমরা ঈমানে বদ্ধমূল ও অটল হয়ে স্থির থাক এবং সেই ইঞ্জিলের প্রত্যাশা থেকে বিচলিত না হও যা তোমরা শুনেছ, যা আসমানের নিচে সমস্ত সৃষ্টির কাছে তবলিগ করা হয়েছে, আমি পৌল যার পরিচারক হয়েছি।
24
এখন তোমাদের জন্য আমার যেসব দুঃখভোগ হয়ে থাকে, তাতে আনন্দ করছি এবং মসীহের দুঃখভোগের যে অংশ অপূর্ণ রয়েছে তা আমার দেহে তাঁর দেহের জন্য পূর্ণ করছি; সেই দেহ মণ্ডলী।
25 তোমাদের জন্য আল্লাহ্র যে দেওয়ানী কাজ আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুসারে আমি মণ্ডলীর পরিচারক হয়েছি, যেন আমি আল্লাহ্র কালাম সমপূর্ণভাবে তবলিগ করি;
26 তা সেই নিগূঢ়তত্ত্ব, যা যুগযুগানুক্রমে ও পুরুষানুক্রমে গুপ্ত ছিল, কিন্তু এখন তাঁর পবিত্র লোকদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে;
27 কারণ অ-ইহুদীদের মধ্যে সেই নিগূঢ়-তত্ত্বের গৌরব-ধন কি, তা পবিত্রগণকে জানাতে আল্লাহ্র বাসনা হল; সেই নিগূঢ়তত্ত্ব হল তোমাদের মধ্যে মসীহ্, গৌরবের আশা।
28 তাঁকেই আমরা ঘোষণা করছি, সমস্ত জ্ঞানে প্রত্যেক মানুষকে সচেতন করছি ও প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছি, যেন প্রত্যেক মানুষকে মসীহে পরিপক্ক করে উপস্থিত করি;
29 এই উদ্দেশ্যেই তাঁর যে মহাশক্তি আমার মধ্যে সপরাক্রমে কাজ করছে, সেই শক্তি অনুসারে প্রাণপণ পরিশ্রমও করছি।
1
কারণ আমি চাই যেন তোমরা জানতে পার যে, তোমাদের ও লায়দিকেয়াস্থ লোকদের জন্য ও যত লোক আমাকে সম্মুখাসম্মুখি দেখে নি, তাদের জন্য আমি কত দূর প্রাণপণ করছি।
2 আমি চাই যেন তাদের অন্তরে উৎসাহ পায়, তারা মহব্বতে পরস্পর সংযুক্ত হয়ে জ্ঞানের নিশ্চয়তারূপ সমস্ত ধনে ধনী হয়ে উঠে, যেন আল্লাহ্র নিগূঢ়তত্ত্ব, অর্থাৎ মসীহ্কে জানতে পায়।
3 মসীহের মধ্যে জ্ঞানের ও বিদ্যার সমস্ত ধন গুপ্ত রয়েছে।
4 এই কথা বলছি, যেন কেউ মন ভুলানো যুক্তিতর্ক দিয়ে তোমাদেরকে না ভুলায়।
5 কেননা যদিও আমি দৈহিকভাবে অনুপস্থিত, তবুও রূহে তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি এবং আনন্দ-পূর্বক তোমাদের সুশৃঙ্খলা ও মসীহে ঈমানরূপ সুদৃঢ় গাঁথুনি দেখতে পাচ্ছি।
6
অতএব তোমরা যেমন প্রভু মসীহ্ ঈসাকে গ্রহণ করেছ, তেমনি তাঁরই মধ্যে তোমরা জীবন-যাপন কর;
7 তাঁরই মধ্যে বদ্ধমূল ও দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যে শিক্ষা লাভ করেছ সেই অনুসারে ঈমানে দৃঢ় থাক এবং শুকরিয়া সহকারে উপ্চে পড়।
8
দেখো, দর্শন বিদ্যার অসার প্রতারণা দ্বারা কেউ যেন তোমাদেরকে বন্দী করে নিয়ে না যায়; তা মানুষের পরমপরাগত শিক্ষা থেকে আসে, জগতের নিষ্ফল রীতি-নীতি থেকে আসে, মসীহের কাছ থেকে আসে না।
9 কেননা মসীহের মধ্যেই আল্লাহ্র সমস্ত পূর্ণতা দৈহিকরূপে বাস করে;
10 এবং তোমরা তাঁরই মধ্যে পূর্ণতা পেয়েছ, যিনি সমস্ত আধিপত্যের ও কর্তৃত্বের মস্তক।
11 আর গুনাহ্-স্বভাব ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে তাঁরই মধ্যে তোমাদের খৎনা করানো হয়েছে, এই খৎনা কোন মানুষের হাতে করানো হয় নি, মসীহ্ নিজেই তা করেছেন।
12 ফলত তোমাদেরও বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে মসীহের সঙ্গে দাফন করা হয়েছে এবং যিনি তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন সেই আল্লাহ্র শক্তির উপর ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমাদেরও মসীহের সঙ্গে উত্থাপিত করা হয়েছ।
13 আর তোমরা অপরাধে ও খৎনা না করার দরুন মৃত ছিলে, কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদেরকে মসীহের সঙ্গে জীবিত করেছেন এবং আমাদের সমস্ত অপরাধ মাফ করেছেন;
14 যে আইনগত দাবী-দাওয়া আমাদের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে ছিল তা মুছে ফেলেছেন। তিনি সেই দাবী-দাওয়া প্রেক দিয়ে ক্রুশে লটকিয়ে দূর করে দিয়েছেন।
15 আর তিনি আধিপত্য ও কর্তৃত্ব সকলের ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়ে ক্রুশেই সেই সমস্তের উপরে বিজয়-যাত্রা করে তাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলেন।
16
অতএব ভোজন বা পান, বা উৎসব, বা অমাবস্যা, বা বিশ্রামবার, এই সমস্ত বিষয়ে কেউ তোমাদের বিচার না করুক;
17 এসব তো আগামী বিষয়ের ছায়ামাত্র, কিন্তু আসল বস্তু মসীহের অধিকারেই আছে।
18 যারা নিজের শরীরকে কষ্ট দেয় ও ফেরেশতাদের এবাদত করে এমন কোন ব্যক্তি তোমাদেরকে বিজয়-মুকুট থেকে বঞ্চিত না করুক; সে যা যা দেখেছে বলে মনে করে সেগুলোতেই বিচরণ করে, নিজের মানবীয় মনের গর্বে বৃথা গর্বিত হয়,
19 কিন্তু সেই মাথাকে শক্ত করে ধরে রাখে না, যে মাথার পরিচালনায় সমস্ত দেহ, গ্রন্থি ও বন্ধন দ্বারা পরিপুষ্ট ও সংযুক্ত হয়ে আল্লাহ্র ইচ্ছাক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
20
তোমরা যখন দুনিয়ার নিষ্ফল রীতি-নীতির ছেড়ে মসীহের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছ, তখন কেন দুনিয়ার লোকদের মত এসব নিয়মের অধীন হচ্ছ,
21 যথা, ধরো না, আস্বাদ নিও না, স্পর্শ করো না?
22 সেসব বস্তু তো ব্যবহার করার দ্বারা ক্ষয় পাবার জন্যই হয়েছে। ঐ সমস্ত নিয়ম মানুষের বিবিধ হুকুম ও ধর্মসূত্র মাত্র।
23 জোরপূর্বক নিজেকে এবাদতে নিয়োজিত করা, কৃচ্ছ্রসাধন ও দেহের প্রতি নির্দয়তা— এই সমস্ত বিষয়গুলো দেখতে বেশ জ্ঞানে পূর্ণ মনে হয়, তবুও দৈহিক প্রবৃত্তি বশ করার ব্যপারে এগুলো কিছুরই মধ্যে গণ্য নয়।
1
অতএব তোমরা যখন মসীহের সঙ্গে উত্থাপিত হয়েছ, তখন সেই ঊর্ধ্বস্থানের বিষয় চেষ্টা কর, যেখানে মসীহ্ আল্লাহ্র ডান পাশে বসে আছেন।
2 ঊর্ধ্বস্থ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দাও, দুনিয়ার বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিও না।
3 কেননা তোমরা তো মৃত্যুবরণ করেছ এবং তোমাদের জীবন মসীহের সঙ্গে আল্লাহ্তে গুপ্ত রয়েছে।
4 যিনি তোমাদের জীবনস্বরূপ সেই মসীহ্ যখন প্রকাশিত হবেন, তখন তোমরাও তাঁর সঙ্গে মহিমায় প্রকাশিত হবে।
5
অতএব তোমাদের মধ্যে যে সমস্ত দুনিয়াবী বিষয় সকল রয়েছে তা ধ্বংস কর— যথা পতিতাগমন, নাপাকীতা, মোহ, কুঅভিলাষ এবং লোভ; এই সমস্ত তো এক রকম মূর্তিপূজা।
6 এই সকলের কারণে অবাধ্যতার সন্তানদের প্রতি আল্লাহ্র গজব উপস্থিত হয়।
7 আগে যখন তোমরা ঐ রকম জীবন-যাপন করতে তখন তোমরাও এই সকলের মধ্যে চলতে।
8 কিন্তু এখন তোমরাও এসব ত্যাগ কর— রাগ, ক্রোধ, হিংসা, নিন্দা ও তোমাদের মুখ থেকে বের হওয়া কুৎসিত আলাপ।
9 এক জন অন্য জনের কাছে মিথ্যা কথা বলো না; কেননা তোমরা পুরানো মানুষকে তার কাজসুদ্ধ কাপড়ের মত ত্যাগ করেছ,
10 এবং সেই নতুন মানুষকে পরেছ, যে আপন সৃষ্টিকর্তার প্রতিমূর্তি অনুসারে পূর্ণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে নতুনীকৃত হচ্ছে।
11 এই নতুনী-করণের মধ্যে গ্রীক বা ইহুদী, খৎনা-করানো বা খৎনা-না-করানো, বর্বর, স্কুথীয়, গোলাম বা স্বাধীন বলে আর কিছু নেই, কিন্তু মসীহ্ই সর্বেসর্বা আর তিনিই সমস্ত কিছুর মধ্যে আছেন।
12
অতএব তোমরা আল্লাহ্র মনোনীত জন, তাঁর পবিত্র ও প্রিয় লোক হিসেবে করুণার অন্তর, দয়ার ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর।
13 পরস্পর সহনশীল হও এবং যদি কাউকেও দোষ দেবার কারণ থাকে, তবে পরস্পর মাফ কর; প্রভু যেমন তোমাদেরকে মাফ করেছেন, তোমরাও তেমনি মাফ কর।
14 আর এই সব গুণগুলোর উপরে মহব্বত পরিধান কর, যে মহব্বত ঐসব গুণগুলোকে একত্রে যথাযথ ঐক্যে বেঁধে রাখে।
15 আর মসীহের শান্তি তোমাদের অন্তরে কর্তৃত্ব করুক; তোমাদের তো তারই জন্য এক দেহে আহ্বান করা হয়েছে; আর কৃতজ্ঞ হও।
16
মসীহের কালাম প্রচুররূপে তোমাদের অন্তরে বাস করুক; তোমরা সমস্ত বিজ্ঞতায় জবুর শরীফের গজল, প্রশংসা গজল ও রূহানিক গজল দ্বারা পরস্পর শিক্ষা ও চেতনা দান কর; অনুগ্রহে নিজ নিজ অন্তরে আল্লাহ্র উদ্দেশে গজল গাও।
17 আর কথায় কি কাজে যা কিছু কর সমস্ত কিছুই প্রভু ঈসার নামে কর, তাঁর দ্বারা পিতা আল্লাহ্র শুকরিয়া করতে থাক।
18
স্ত্রীরা, তোমরা নিজ নিজ স্বামীর বশীভূতা হও, যেমন প্রভুতে উপযুক্ত।
19 স্বামীরা, তোমরা নিজ নিজ স্ত্রীকে মহব্বত কর, তাদের প্রতি কটু ব্যবহার করো না।
20
সন্তানেরা, তোমরা সমস্ত বিষয়ে পিতা-মাতার বাধ্য হও, কেননা তা-ই প্রভুতে তুষ্টিজনক।
21 পিতারা, তোমরা নিজ নিজ সন্তানদেরকে ক্রুদ্ধ করো না, পাছে তাদের মনোভঙ্গ হয়।
22 গোলামেরা, যারা এই দুনিয়াতে তোমাদের প্রভু, তোমরা তাদের বাধ্য হও; চাক্ষুষ সেবা দ্বারা মানুষকে তুষ্ট করার মত নয়, কিন্তু অন্তঃকরণের সরলতায় প্রভুকে ভয় করে বাধ্য হও।
23 যা কিছু কর না কেন, মন-প্রাণ দিয়ে কাজ কর, মানুষের কাজ বলে নয়, কিন্তু প্রভুরই কাজ বলে কর;
24 কেননা তোমরা জান, প্রভুর কাছ থেকে তোমরা উত্তরাধিকাররূপ প্রতিদান পাবে; তোমরা প্রভু মসীহেরই সেবা করছো;
25 বস্তুত যে অন্যায় করে, সে তার অন্যায় কাজের প্রতিফল পাবে; আর প্রভু কারো মুখাপেক্ষা করেন না।
1
মালিকেরা, তোমরা গোলামদের প্রতি ন্যায় ও সৎ ব্যবহার কর, এই কথা জেনো যে, তোমাদেরও এক প্রভু বেহেশতে আছেন।
2
তোমরা মুনাজাতে নিবিষ্ট থাক, শুকরিয়া সহকারে এই বিষয়ে জেগে থাক।
3 আর সেই সঙ্গে আমাদের জন্যও মুনাজাত কর, যেন আল্লাহ্ আমাদের জন্য কালামের দ্বার খুলে দেন, যেন মসীহের সেই নিগূঢ়তত্ত্ব জানাতে পারি, যার জন্য আমি বন্দী অবস্থায় আছি,
4 যেন আমার যেমন বলা উচিত তেমনি তা প্রকাশ করতে পারি।
5
তোমরা বাইরের লোকদের প্রতি বুদ্ধি-পূর্বক আচরণ কর, সুযোগ কিনে নাও।
6 তোমাদের কথাবার্তা সব সময় রহমত সহযুক্ত হোক, লবণে আস্বাদযুক্ত হোক, কাকে কেমন উত্তর দিতে হয় তা যেন তোমরা জানতে পার।
7
প্রভুতে প্রিয় ভাই, বিশ্বস্ত পরিচারক ও সহ-গোলাম তুখিক আমার বিষয়ে সমস্ত সংবাদ তোমাদের জানাবেন।
8 তোমাদের কাছে তাঁকে এই কারণে পাঠালাম যেন তোমরা জানতে পার যে, আমরা কেমন আছি এবং তিনি যেন তোমাদের অন্তরে উৎসাহ দান করেন।
9 আর বিশ্বস্ত ও প্রিয় ভাই ওনীষিমকেও তাঁর সঙ্গে পাঠালাম, যিনি তোমাদেরই এক জন। এঁরা এখানকার সমস্ত সংবাদ তোমাদেরকে জানাবেন।
10
আমার সহবন্দী আরিষ্টার্খ এবং বার্নাবার আত্মীয়, মার্ক তোমাদের সালাম জানাচ্ছেন। মার্কের বিষয়ে তোমরা হুকুম পেয়েছ যে, তিনি যদি তোমাদের কাছে উপস্থিত হন তবে তাঁকে গ্রহণ করো।
11 যুষ্ট নামে আখ্যাত ইউসা তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন; খৎনা-করানো লোকদের মধ্যে কেবল এই কয়েক জন আল্লাহ্র রাজ্যের পক্ষে আমার সহকারী; এঁরা আমার সান্ত্বনাজনক হয়েছেন।
12 ইপাফ্রা তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন, তিনি তো তোমাদেরই এক জন, মসীহ্ ঈসার গোলাম; তিনি সব সময় মুনাজাতে তোমাদের পক্ষে মল্লযুদ্ধ করছেন, যেন তোমরা পরিপক্ক হও ও আল্লাহ্র ইচ্ছায় সমপূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাক।
13 কারণ আমি তাঁর বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমাদের জন্য এবং যাঁরা লায়দিকেয়াতে ও যাঁরা হিয়রাপলিতে আছেন, তাঁদের জন্য তিনি খুবই পরিশ্রম করে থাকেন।
14 লূক, সেই প্রিয় চিকিৎসক এবং দীমা, তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছেন।
15 তোমরা লায়দিকেয়া-নিবাসী ভাইদেরকে এবং নুম্ফাকে ও তাঁর গৃহস্থিত মণ্ডলীকে আমার সালাম জানাও।
16 আর তোমাদের মধ্যে এই পত্র পাঠ হলে পর দেখো, যেন লায়দিকেয়াস্থ মণ্ডলীতে এই পত্র পাঠ করা হয়; এবং লায়দিকেয়া থেকে যে পত্র পাবে, তা যেন তোমরাও পাঠ কর।
17 আর আর্খিপ্পকে বলো, তুমি প্রভুতে যে পরিচারকের পদ পেয়েছ তা সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ দিও।
18
এই শুভেচ্ছা আমি পৌল নিজের হাতে লিখলাম। তোমরা মনে রেখো, আমি বন্দী আছি। রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, সীল ও তীমথি— পিতা আল্লাহ্তে ও প্রভু ঈসা মসীহে স্থিত থিষলনীকীয়দের মণ্ডলীর সমীপে। রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
2
আমরা মুনাজাতের সময়ে তোমাদের নাম উল্লেখ করে তোমাদের সকলের জন্য সতত আল্লাহ্র শুকরিয়া করে থাকি;
3 আমরা তোমাদের ঈমানের কাজ, মহব্বতের পরিশ্রম ও আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ বিষয়ক প্রত্যাশার ধৈর্য আমাদের আল্লাহ্ ও পিতার সাক্ষাতে অবিরত স্মরণ করে থাকি;
4 কারণ হে ভাইয়েরা, আল্লাহ্র মহব্বতের পাত্ররা, আমরা জানি তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন,
5 কেননা আমাদের ইঞ্জিল তোমাদের কাছে কেবল কথায় নয়, কিন্তু শক্তিতে ও পাক-রূহে ও পূর্ণ নিশ্চয়তায় উপস্থিত হয়েছিল; তোমরা তো জান, আমরা তোমাদের কাছে তোমাদের জন্য কি রকম লোক হয়েছিলাম।
6 আর তোমরা অনেক নির্যাতনের মধ্যেও পাক-রূহের আনন্দে সেই কালাম গ্রহণ করে আমাদের এবং প্রভুরও অনুকারী হয়েছ;
7 এভাবে ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়াস্থ সমস্ত ঈমানদারদের আদর্শ হয়েছ;
8 কেননা তোমাদের কাছ থেকে প্রভুর কালাম ধ্বনিত হয়েছে, কেবল ম্যাসিডোনিয়াতে ও আখায়াতে নয়, কিন্তু আল্লাহ্র উপরে তোমাদের যে ঈমান, তার সংবাদ সমস্ত স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে; এই ব্যাপারে আমাদের কিছু বলবার প্রয়োজন নেই।
9 কারণ তারা নিজেরা আমাদের বিষয়ে এই কথা বলে থাকে যে, তোমাদের কাছে আমরা কিভাবে উপস্থিত হয়েছিলাম, আর তোমরা কিভাবে মূর্তিগুলোর কাছ থেকে ফিরে আল্লাহ্র কাছে এসেছ, যেন জীবন্ত সত্য আল্লাহ্র সেবা করতে পার,
10 এবং বেহেশত থেকে তাঁর সেই পুত্রের অর্থাৎ ঈসার অপেক্ষা করতে পার, যাঁকে তিনি মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন এবং যিনি আগামীতে যে গজব নেমে আসছে তা থেকে আমাদের উদ্ধার করবেন।
1
ভাইয়েরা, তোমরা নিজেরাই জান, তোমাদের কাছে আমাদের উপস্থিত হওয়াটা নিষ্ফল হয় নি।
2 বরং তোমরা জান, এর আগে ফিলিপীতে দুঃখভোগ ও অপমান ভোগ করার পরেও আমরা আমাদের আল্লাহ্তে সাহসী হয়ে অতিশয় প্রাণপণে তোমাদের কাছে আল্লাহ্র ইঞ্জিলের কথা বলেছিলাম।
3 কেননা আমাদের উপদেশ ভ্রান্তি থেকে বা নাপাক উদ্দেশ্য থেকে বা ছলনা থেকে আসে নি।
4 কিন্তু আল্লাহ্ যেমন আমাদেরকে পরীক্ষাসিদ্ধ করে আমাদের উপরে ইঞ্জিলের ভার দিয়েছেন, সেই হিসাবেই আমরা কথা বলছি; মানুষকে সন্তুষ্ট করবো বলে নয়, কিন্তু আল্লাহ্, যিনি আমাদের অন্তঃকরণ পরীক্ষা করেন তাঁকে সন্তুষ্ট করবো বলেই বলছি।
5 তোমরা তো জান, আমরা কখনও তোষামোদ করে কথা বলি নি কিংবা লোভের বশে ছলনায় লিপ্ত হই নি— স্বয়ং আল্লাহ্ এর সাক্ষী;
6 আর মানুষের কাছ থেকে সম্মান পেতে চেষ্টা করি নি, তোমাদের কাছ থেকেও নয়, অন্যদের থেকেও নয়,
7 যদিও আমরা মসীহের প্রেরিত বলে ভারস্বরূপ হলেও হতে পারতাম। কিন্তু যেমন মা তার নিজের সন্তানদের লালন-পালন করে তেমনি তোমাদের মধ্যে স্নেহ-মমতা দেখিয়েছিলাম।
8 আমরা তোমাদেরকে গভীরভাবে স্নেহ-মমতা করাতে কেবল আল্লাহ্র ইঞ্জিল নয়, কিন্তু নিজ নিজ প্রাণও দিতে রাজী ছিলাম, যেহেতু তোমরা আমাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলে।
9
হে ভাইয়েরা, আমাদের পরিশ্রম ও কষ্ট তোমাদের স্মরণে আছে; তোমাদের কারো ভারস্বরূপ যেন না হই, সেজন্য আমরা দিনরাত কাজ করতে করতে তোমাদের কাছে আল্লাহ্র ইঞ্জিল তবলিগ করেছিলাম।
10 আর তোমরা যারা ঈমানদার, তোমাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবহার কেমন খাঁটি, ধর্মসম্মত ও নির্দোষ ছিল, তার সাক্ষী তোমরাও আছ আর আল্লাহ্ও আছেন।
11 তোমরা তো জান, পিতা যেমন আপন সন্তানদের প্রতি করেন, তেমনি আমরা তোমাদের প্রত্যেক জনকে উৎসাহ দিতাম,
12 সান্ত্বনা দিতাম ও দৃঢ়ভাবে হুকুম দিতাম, যেন তোমরা আল্লাহ্র যোগ্যরূপে চল, যিনি তাঁর নিজের রাজ্যে ও প্রতাপে তোমাদেরকে আহ্বান করছেন।
13
আর এজন্য আমরাও অবিরত আল্লাহ্র শুকরিয়া করছি যে, যখন তোমরা আমাদের কাছ থেকে শুনে আল্লাহ্র কালাম গ্রহণ করেছ তখন তোমরা তা মানুষের কালাম বলে নয়, কিন্তু আল্লাহ্র কালাম বলেই গ্রহণ করেছিলে। আর সত্যিই তা আল্লাহ্র কালাম এবং তোমরা যারা ঈমানদার, তোমাদের মধ্যে সেই কালামই কাজ করছে।
14 কারণ, হে ভাইয়েরা, এহুদিয়ায় মসীহ্ ঈসাতে আল্লাহ্র যেসব মণ্ডলী আছে, তোমরা তাদের অনুকারী হয়েছ; কেননা ওরা ইহুদীদের কাছ থেকে যে রকম দুঃখ পেয়েছে, তোমরাও তোমাদের স্বজাতির লোকদের কাছ থেকে সেই রকম দুঃখ পেয়েছ;
15 ইহুদীরা প্রভু ঈসাকে এবং নবীদেরকে হত্যা করেছিল, আবার আমাদেরকেও নির্যাতন করেছিল; তারা আল্লাহ্কে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা সকল মানুষেরও বিরুদ্ধে থাকে;
16 তারা আমাদেরকে অ-ইহুদীদের নাজাতের জন্য তাদের কাছে কথা বলতে বারণ করছে; এভাবে সতত নিজেদের গুনাহ্র পরিমাণ পূর্ণ করছে; কিন্তু পরিশেষে আল্লাহ্র গজব সমপূর্ণভাবে তাদের উপর উপস্থিত হল।
17
হে ভাইয়েরা, আমরা হৃদয়ের দিক থেকে না হলেও শারীরিকভাবে তোমাদের কাছ থেকে অল্পকালের জন্য পৃথক হলে পর, অতিশয় আকাঙক্ষা সহকারে তোমাদের মুখ দেখবার জন্য আরও বেশি যত্ন করেছিলাম।
18 কারণ আমরা, বিশেষত আমি পৌল বারবার তোমাদের কাছে যেতে বাসনা করেছিলাম, কিন্তু শয়তান আমাদের বাধা দিল।
19 কেননা আমাদের প্রত্যাশা, বা আনন্দ, বা গর্বের মুকুট কি? আমাদের প্রভু ঈসার সাক্ষাতে তাঁর আগমনকালে তোমরাই কি নও?
20 সত্যি, তোমরাই আমাদের গৌরব ও আনন্দভূমি!
1
এজন্য আমরা আর ধৈর্য ধরতে না পারাতে এথেন্সে একাকী থাকা স্থির করেছিলাম,
2 এবং আমাদের ভাই ও মসীহের ইঞ্জিল তবলিগের কাজে আল্লাহ্র সহকর্মী তীমথিকে পাঠিয়েছিলাম যেন তিনি তোমাদেরকে সুস্থির করেন এবং তোমাদের ঈমানের বিষয়ে উৎসাহ দেন,
3 যেন এসব দুঃখ-কষ্টে কেউ বিচলিত না হয়। অবশ্য তোমরা নিজেরাই জান যে, এই সমস্ত দুঃখ-কষ্ট আমাদের জন্য নিরূপিত।
4 আর বাস্তবিক আমাদের প্রতি যে দুঃখ-কষ্ট ঘটবে সেই কথা আমরা যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন আগেই তোমাদেরকে বলেছিলাম, আর তা-ই ঘটেছে এবং তোমরা তা জান।
5 এজন্য আমিও আর ধৈর্য ধরতে না পারাতে তোমাদের ঈমান সম্বন্ধে কিছু জানবার জন্য ওঁকে পাঠিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো শয়তান কোন না কোনভাবে তোমাদের প্রলোভন দেখিয়েছে আর আমাদের পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেছে।
6
কিন্তু এখন তীমথি তোমাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে এসে তোমাদের ঈমান ও মহব্বতের শুভ সংবাদ আমাদেরকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা সব সময় মহব্বতের মনোভাব নিয়ে আমাদেরকে স্মরণ করছো, যেমন আমরাও তোমাদেরকে দেখতে চাইছি, তেমনি তোমরাও আমাদেরকে দেখতে আকাঙক্ষা করছো।
7 এজন্য, হে ভাইয়েরা, তোমাদের বিষয়ে আমরা সমস্ত সঙ্কটের ও দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও তোমাদের ঈমানের কথা শুনে উৎসাহ পেলাম;
8 কেননা তোমরা প্রভুতে স্থির থাকলেই আমরা বেঁচে যাই।
9 বাস্তবিক তোমাদের কারণে আমরা আমাদের আল্লাহ্র সাক্ষাতে যেসব আনন্দে আনন্দ করি, তার প্রতিদানে তোমাদের জন্য আল্লাহ্কে কিভাবে শুকরিয়া জানাতে পারি?
10 আমরা যেন তোমাদের মুখ দেখতে পাই এবং তোমাদের ঈমানের মধ্যে যে সকল অভাব আছে তা পূর্ণ করতে পারি, সেজন্য দিনরাত খুব বেশি বেশি মুনাজাত করছি।
11
আর আমাদের আল্লাহ্ ও পিতা নিজে এবং আমাদের প্রভু ঈসা তোমাদের কাছে আমাদের পথ সুগম করুন।
12 আর যেমন আমরাও তোমাদের প্রতি উপ্চে পড়ি, তেমনি প্রভু তোমাদেরকে পরস্পরের ও সকলের প্রতি মহব্বতে বৃদ্ধি করুন ও উপ্চে পড়তে দিন;
13 এভাবে নিজের সমস্ত পবিত্রগণ সহ আমাদের প্রভু ঈসার আগমন কালে যেন তিনি আমাদের আল্লাহ্ ও পিতার সাক্ষাতে তোমাদের অন্তর পবিত্রতায় অনিন্দনীয়রূপে সুস্থির করে তোলেন।
1
অবশেষে হে ভাইয়েরা, কিভাবে চলে আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করতে হয় এই বিষয়ে তোমরা আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছ, আর তোমরা তো সেভাবেই চলছো। তবুও আমরা প্রভু ঈসাতে তোমাদেরকে বিনয় করছি, উৎসাহ দিয়ে বলছি, তোমরা আরও বেশি করে সেইভাবে চল।
2 কেননা প্রভু ঈসার মধ্য দিয়ে আমরা তোমাদেরকে কি কি হুকুম দিয়েছি তা তো তোমরা জান।
3 কেননা আল্লাহ্র ইচ্ছা এই, তোমরা পবিত্র হও, অর্থাৎ তোমরা জেনা থেকে দূরে থাক,
4 তোমরা প্রত্যেকে জান কেমন করে পবিত্রতায় ও সমাদরে নিজ নিজ দেহ দমনে রাখতে হয়,
5 কিন্তু যারা আল্লাহ্কে জানে না, সেই অ-ইহুদীদের মত কামাভিলাষে নয়;
6 যেন কেউ অন্যায় করে এই ব্যাপারে কোন ভাইকে না ঠকায়; কেননা প্রভু এই সমস্ত অন্যায়ের প্রতিফল দিয়ে থাকেন; এই কথা তো আমরা আগে তোমাদেরকে বলেছি ও সাবধান করে দিয়েছি।
7 কারণ আল্লাহ্ আমাদেরকে নাপাকীতার জন্য নয়, কিন্তু পবিত্রতায় আহ্বান করেছেন।
8 এজন্য যে ব্যক্তি এই সমস্ত কথা অগ্রাহ্য করে, সে মানুষকে অগ্রাহ্য করে তা নয়, বরং আল্লাহ্কেই অগ্রাহ্য করে, যিনি নিজের পাক-রূহ্ তোমাদেরকে দান করেন।
9
আর ভাইদের মহব্বত সম্বন্ধে তোমাদেরকে কিছু লেখার প্রয়োজন নেই, কারণ তোমরা নিজেরা পরস্পর মহব্বত করার জন্য আল্লাহ্র কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছ;
10 আর বাস্তবিক সমস্ত ম্যাসিডোনিয়া-নিবাসী সমস্ত ভাইদের প্রতি তোমরা তা করছো। কিন্তু তোমাদেরকে বিনয় করে বলছি, প্রিয় ভাইয়েরা, মহব্বতে তোমরা আরও বেশি উপ্চে পড়,
11 আর শান্তভাবে থাকতে ও নিজ নিজ কাজ করতে এবং নিজের হাতে পরিশ্রম করতে যত্নবান হও— যেমন আমরা তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছি—
12 যেন বাইরের লোকদের প্রতি তোমাদের ব্যবহার উপযুক্ত হয় এবং তোমরা পর-নির্ভরশীল না হও।
13
কিন্তু, হে ভাইয়েরা, আমরা চাই না যে, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিষয়ে তোমাদের অজানা থাকে; যেন যাদের কোন প্রত্যাশা নেই সেই সমস্ত লোকের মত তোমরা দুঃখে ভেঙ্গে না পড়।
14 কেননা আমরা যখন বিশ্বাস করি যে, ঈসা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, তখন এও বিশ্বাস করি যে, ঈসার মাধ্যমে যারা মৃত্যুবরণ করেছে আল্লাহ্ সেই লোকদেরকেও সেভাবে তাঁর সঙ্গে আনয়ন করবেন।
15 কেননা আমরা প্রভুর কালাম দ্বারা তোমাদেরকে এই কথা ঘোষণা করছি যে, আমরা যারা জীবিত আছি, যারা প্রভুর আগমন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকব, আমরা কোনক্রমে সেই মৃত লোকদের আগে যাব না।
16 কারণ প্রভু স্বয়ং আনন্দধ্বনি সহ, প্রধান ফেরেশতার স্বর সহ এবং আল্লাহ্র তূরীবাদ্য সহ বেহেশত থেকে নেমে আসবেন, আর যারা মসীহে মৃত্যুবরণ করেছে, তারা প্রথমে জীবিত হয়ে উঠবে।
17 পরে আমরা যারা জীবিত আছি, যারা অবশিষ্ট থাকব, আসমানে প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তাদের সঙ্গে একত্রে আমাদেরও মেঘযোগে তুলে নেওয়া হবে। আর আমরা এভাবে সব সময় প্রভুর সঙ্গে থাকব।
18 অতএব তোমরা এসব কথা বলে এক জন অন্য জনকে উৎসাহ দাও।
1
হে ভাইয়েরা, বিশেষ বিশেষ কালের ও সময়ের বিষয়ে তোমাদেরকে কিছু লেখার প্রয়োজন নেই।
2 কারণ তোমরা নিজেরা ভাল করেই জান, রাতের বেলায় যেমন চোর আসে তেমনি প্রভুর দিন আসছে।
3 লোকে যখন বলে, “শান্তি ও নিরাপত্তা”, তখনই তাদের কাছে আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়, যেমন গর্ভবতী স্ত্রীলোকের প্রসব-বেদনা উপস্থিত হয়ে থাকে, আর তারা কোনক্রমে তা এড়াতে পারবে না।
4 কিন্তু ভাইয়েরা, তোমরা অন্ধকারে নও যে, সেই দিন চোরের মত করে তোমাদের উপরে এসে পড়বে।
5 তোমরা তো সকলে আলোর সন্তান ও দিনের সন্তান; আমরা রাতের লোকও নই, অন্ধকারের লোকও নই।
6 অতএব এসো, আমরা অন্য সকলের মত ঘুমিয়ে না পড়ি, বরং জেগে থাকি ও মিতাচারী হই।
7 কারণ যারা ঘুমায় তারা রাতেই ঘুমায় এবং যারা মদ্যপায়ী তারা রাতেই মাতাল হয়।
8 কিন্তু আমরা দিনের বলে এসো, মিতাচারী হই, ঈমান ও মহব্বতরূপ বুকপাটা পরি এবং নাজাতের আশারূপ শিরস্ত্রাণ মাথায় দিই;
9 কেননা আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর গজবের জন্য নিযুক্ত করেন নি, কিন্তু আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ দ্বারা নাজাত লাভের জন্য নিযুক্ত করেছেন।
10 তিনি আমাদের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন, যেন আমরা জেগে থাকি বা ঘুমিয়ে থাকি, তাঁর সঙ্গেই জীবিত থাকি।
11 অতএব তোমরা যেমন করেও থাক, তেমনি তোমরা পরস্পরকে উৎসাহ দাও এবং এক জন অন্যকে গেঁথে তোল।
12
কিন্তু, হে ভাইয়েরা, আমরা তোমাদেরকে নিবেদন করছি, যাঁরা তোমাদের মধ্যে পরিশ্রম করেন ও প্রভুতে তোমাদের উপরে নিযুক্ত আছেন এবং তোমাদেরকে চেতনা দেন, তাঁদেরকে সম্মান কর,
13 আর মহব্বতের সঙ্গে তাঁদের কাজের জন্য তাঁদেরকে সম্মান কর। তোমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে থাক।
14 হে ভাইয়েরা, আমরা তোমাদেরকে বিনয় করছি, যারা অলস তাদের সাবধান কর, যাদের সাহস নেই তাদেরকে উৎসাহ দাও, দুর্বলদের সাহায্য কর, সকলের প্রতি দীর্ঘসহিষ্ণু হও।
15 দেখো, যেন তোমরা অপকারের প্রতিদানে কেউ কারো অপকার না কর, কিন্তু পরস্পরের এবং সকলের প্রতি সব সময় সদাচরণের জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা কর।
16 সতত আনন্দ কর;
17 অবিরত মুনাজাত কর;
18 সমস্ত বিষয়ে শুকরিয়া জানাও; কারণ মসীহ্ ঈসাতে এ-ই তোমাদের জন্য আল্লাহ্র ইচ্ছা।
19 রূহ্কে নিভিয়ে ফেলবে না।
20 নবীদের বাণী তুচ্ছ করো না।
21 কিন্তু সমস্ত বিষয় পরীক্ষা করে দেখ; যা ভাল, তা ধরে রাখ।
22 সব রকম মন্দ বিষয় থেকে দূরে থাক।
23
আর শান্তির আল্লাহ্ নিজে তোমাদেরকে সর্বতোভাবে পবিত্র করুন; এবং তোমাদের সমপূর্ণ রূহ্, প্রাণ ও দেহ আমাদের ঈসা মসীহের আগমন কালে অনিন্দনীয়রূপে রক্ষিত হোক।
24 যিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন তিনি বিশ্বস্ত, তিনিই তা করবেন।
25
ভাইয়েরা, আমাদের জন্য মুনাজাত কর।
26 সকল ভাইকে পবিত্র চুম্বনে সালাম জানাও।
27 আমি তোমাদেরকে প্রভুর দোহাই দিয়ে বলছি, সমস্ত ভাইয়ের কাছে যেন এই পত্র পাঠ করা হয়।
28
আমাদের ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, সীল ও তীমথি— আমাদের পিতা আল্লাহ্ ও প্রভু ঈসা মসীহে স্থিত থিষলনীকীয়দের মণ্ডলী সমীপে।
2 পিতা আল্লাহ্ ও প্রভু মসীহ্ ঈসার কাছ থেকে রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
হে ভাইয়েরা, আমরা তোমাদের জন্য সব সময় আল্লাহ্কে শুকরিয়া দিতে বাধ্য; আর তা করা উপযুক্তও বটে, কেননা তোমাদের ঈমান অতিশয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরস্পরের প্রতি তোমাদের প্রত্যেক জনের মহব্বত উপ্চে পড়ছে।
4 এজন্য আল্লাহ্র মণ্ডলীগুলোর মধ্যে আমরা নিজেরা তোমাদের নিয়ে গর্ব করছি, কেননা তোমরা যেসব নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করছো তার মধ্যেও তোমাদের ধৈর্য ও ঈমান স্থির আছে।
5
আর এটি আল্লাহ্র ন্যায়বিচারের স্পষ্ট প্রমাণ, যাতে তোমরা আল্লাহ্র সেই রাজ্যের যোগ্য বলে গণ্য হবে, যার জন্য দুঃখভোগও করছো।
6 বাস্তবিক আল্লাহ্র কাছে এটাই ন্যায্য যে, যারা তোমাদেরকে দুঃখ-কষ্ট দেয় তিনি তাদেরকে প্রতিফল স্বরূপ দুঃখ-কষ্ট দেবেন।
7 এখন তোমরা যারা দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছো, তোমাদেরকেও আমাদের সঙ্গে বিশ্রাম দেবেন। এটা তখনই হবে যখন প্রভু ঈসা বেহেশত থেকে নিজের পরাক্রমের ফেরেশতাদের সঙ্গে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে প্রকাশিত হবেন,
8 এবং যারা আল্লাহ্কে জানে না ও যারা আমাদের প্রভু ঈসার ইঞ্জিলের বাধ্য হয় না, তাদেরকে সমুচিত দণ্ড দেবেন।
9 তারা প্রভুর সম্মুখ থেকে ও তাঁর শক্তির মহিমা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনন্তকালস্থায়ী বিনাশরূপ দণ্ড ভোগ করবে,
10 তা সেদিন ঘটবে যেদিন তিনি আপন পবিত্র লোকদের মাঝে মহিমান্বিত হবার এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের সকলের মাঝে বিস্ময়ের পাত্র হবার জন্য আগমন করবেন; কেননা তোমাদের কাছে আমাদের সাক্ষ্যদান বিশ্বাসে গৃহীত হয়েছে।
11 এজন্য আমরা তোমাদের জন্য সব সময় এই মুনাজাতও করছি, যেন আমাদের আল্লাহ্ তোমাদেরকে তাঁর আহ্বানের যোগ্য বলে গণ্য করেন, আর তোমাদের মঙ্গলকর সমস্ত বাসনা ও ঈমানের কাজ তাঁর পরাক্রম গুণে সমপূর্ণ করে দেন;
12 যেন আমাদের আল্লাহ্র ও ঈসা মসীহের রহমত অনুসারে আমাদের প্রভু ঈসার নাম তোমাদের মধ্যে মহিমান্বিত হয় এবং তাঁরই মধ্যে তোমরাও মহিমান্বিত হও।
1
হে ভাইয়েরা, আমাদের ঈসা মসীহের আগমন ও তাঁর কাছে আমাদের সংগৃহীত হবার বিষয়ে তোমাদেরকে এই ফরিয়াদ করছি;
2 প্রভুর দিন উপস্থিত হয়েছে ভেবে তোমরা কোন রূহ্ দ্বারা বা কোন কথা দ্বারা অথবা আমরা লিখেছি মনে করে কোন পত্র দ্বারা, মনের স্থিরতা থেকে বিচলিত হয়ো না বা ভয় পেয়ো না।
3 তোমাদেরকে যেন কেউ কোন মতে ভুল পথে নিয়ে না যায়; কেননা প্রথমে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মহা বিদ্রোহ উপস্থিত হবে এবং সেই গুনাহ্-পুরুষ, সেই বিনাশ-সন্তান প্রকাশিত হবে।
4 সে বিরোধিতা করবে ও ‘আল্লাহ্’ নামে আখ্যাত বা যা কিছুর এবাদত করা হয় সেই সকলের থেকে নিজেকে বড় করে দেখাবে, এমন কি, আল্লাহ্র এবাদতখানায় বসে নিজেকে আল্লাহ্ বলে ঘোষণা করবে।
5 তোমাদের কি মনে পড়ে না যে, আমি আগে যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন তোমাদেরকে এসব বলেছিলাম?
6 আর সে যেন উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ পায়, এজন্য কিসে তাকে বাধা দিয়ে রাখছে তা তো তোমরা জান।
7 কারণ অধর্মের নিগূঢ়তত্ত্ব এখনই কাজ করছে, কিন্তু কেবল এক জন, যে পর্যন্ত না তিনি দূরীভূত হন, তিনি তাকে বাধা দিয়ে রাখছেন।
8 আর তখন সেই অধার্মিকতার পুরুষ প্রকাশ পাবে, যাকে প্রভু ঈসা তাঁর মুখের নিঃশ্বাস দ্বারা সংহার করবেন ও তাঁর আগমনের প্রকাশ দ্বারা তাকে শেষ করে দেবেন।
9 সেই অধার্মিক ব্যক্তির আগমন শয়তানের কাজ অনুসারে মিথ্যার সমস্ত পরাক্রম ও নানা চিহ্ন-কাজ ও অদ্ভুত লক্ষণ সহকারে হবে,
10 এবং যারা বিনাশ পাচ্ছে, তাদের সম্বন্ধে অধার্মিকতার সমস্ত প্রতারণা সহকারে হবে; কারণ তারা নাজাত পাবার জন্য সত্যকে মহব্বত করে নি।
11 আর সেজন্য আল্লাহ্ তাদের কাছে ভ্রান্তির এক শক্তি পাঠাবেন যাতে তারা সেই মিথ্যায় বিশ্বাস করে;
12 যেন যারা সত্যে বিশ্বাস করতো না, কিন্তু অধার্মিকতায় প্রসন্ন হত তাদের বিচার হয়।
13
কিন্তু ভাইয়েরা, প্রভুর প্রিয়তমেরা, আমরা তোমাদের জন্য সব সময় আল্লাহ্কে শুকরিয়া দিতে বাধ্য; কেননা আল্লাহ্ প্রথম ফসল হিসেবে তোমাদেরকে রূহের দ্বারা পবিত্র করে ও সত্যে ঈমান আনার মধ্য দিয়ে নাজাতের জন্য মনোনীত করেছেন।
14 এই অভিপ্রায়ে আমাদের ঘোষিত সুসমাচার দ্বারা তিনি তোমাদেরকে আহ্বানও করেছেন যেন তোমরা আমাদের ঈসা মসীহের মহিমা লাভ করতে পার।
15 অতএব ভাইয়েরা, স্থির থাক এবং আমাদের কথা দ্বারা অথবা পত্র দ্বারা যেসব শিক্ষা পেয়েছ তা ধরে রাখ।
16
আর আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ নিজে ও আমাদের পিতা আল্লাহ্ যিনি আমাদেরকে মহব্বত করেছেন এবং রহমত দ্বারা অনন্তকাল স্থায়ী সান্ত্বনা ও উত্তম প্রত্যাশা দিয়েছেন,
17 তিনি তোমাদের হৃদয়কে সান্ত্বনা দিন এবং সমস্ত উত্তম কাজে ও কালামে স্থির রাখুন।
1
পরিশেষে হে ভাইয়েরা, আমাদের জন্য মুনাজাত কর, যেন তোমাদের মধ্যে যেমন হচ্ছে, তেমনি প্রভুর কালাম দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে ও মহিমান্বিত হয়,
2 আর আমরা যেন দুষ্ট ও মন্দ লোকদের হাত থেকে উদ্ধার পাই; কেননা সকল লোকেরই যে ঈমান আছে তা নয়।
3 কিন্তু প্রভু বিশ্বস্ত; তিনিই তোমাদেরকে স্থির রাখবেন ও সেই শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
4 আর তোমাদের সম্বন্ধে প্রভুতে আমাদের এই দৃঢ় প্রত্যয় আছে যে, আমরা যা যা হুকুম করি সেসব তোমরা পালন করছো ও করবে।
5 আর প্রভু তোমাদের হৃদয়কে আল্লাহ্র মহব্বতের পথে ও মসীহের ধৈর্যের পথে চালিয়ে নিয়ে যান।
6
এখন হে ভাইয়েরা, আমরা আমাদের ঈসা মসীহের নামে তোমাদেরকে এই হুকুম দিচ্ছি, যে কোন ভাই অলসভাবে চলে এবং তোমরা আমাদের কাছ থেকে যে পরম্পরাগত শিক্ষা পেয়েছ সেই অনুসারে চলে না তার সঙ্গ ত্যাগ কর;
7 কারণ কিভাবে আমাদের অনুকরণ করতে হয় তা তোমরা নিজেরাই জান; কেননা তোমাদের মধ্যে থাকবার সময়ে আমরা অলসভাবে জীবন কাটাই নি;
8 আর বিনামূল্যে কারো খাদ্য ভোজন করতাম না, বরং তোমাদের কারো ভারস্বরূপ যেন না হই সেজন্য পরিশ্রম ও কষ্ট সহকারে রাত দিন কাজ করতাম।
9 আমাদের যে সেই অধিকার ছিল না তা নয়; কিন্তু তোমাদের কাছে নিজদেরকে আদর্শ হিসেবে দেখাতে চেয়েছি যেন তোমরা আমাদের অনুকরণ করতে পার।
10 কারণ আমরা যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন তোমাদেরকে এই হুকুম দিয়েছিলাম যে, যদি কেউ কাজ করতে না চায় তবে সে আহারও না করুক।
11 বাস্তবিক আমরা শুনতে পাচ্ছি, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অলসভাবে চলছে, কোন কাজকর্ম না করে অন্যের ব্যাপারে অনধিকারচর্চা করে থাকে।
12 এই রকম লোকদেরকে আমরা ঈসা মসীহের নামে হুকুম ও উপদেশ দিচ্ছি, তারা শান্তভাবে কাজ করে নিজেদের খাদ্য নিজেরাই যোগাড় করুক।
13 হে ভাইয়েরা, তোমরা সৎকর্ম করতে নিরুৎসাহিত হয়ো না।
14 আর যদি কেউ এই পত্র দ্বারা কথিত আমাদের কথা না মানে তবে তাকে চিহ্নিত করে রাখ, তার সঙ্গে মেলামেশা করো না যেন সে লজ্জিত হয়।
15 কিন্তু তাকে শত্রু বলেও মনে করো না, কিন্তু ভাই হিসেবে চেতনা দাও।
16
শান্তির প্রভু স্বয়ং সব সময় সমস্ত রকম ভাবে তোমাদেরকে শান্তি দান করুন। প্রভু তোমাদের সকলের সহবর্তী হোন।
17
এই শুভেচ্ছা আমি পৌল নিজের হাতে লিখলাম। প্রত্যেক পত্রে এটাই আমার চিহ্ন; আমি এইভাবেই লিখে থাকি।
18 আমাদের ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, আমাদের নাজাতদাতা আল্লাহ্র এবং আমাদের প্রত্যাশা-ভূমি মসীহ্ ঈসার হুকুম অনুসারে, মসীহ্ ঈসার প্রেরিত—
2 ঈমান সম্বন্ধে আমার প্রকৃত সন্তান তীমথির সমীপে। পিতা আল্লাহ্ ও আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসার কাছ থেকে রহমত, করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক।
3
ম্যাসিডোনিয়ায় যাবার সময়ে যেমন আমি তোমাকে অনুরোধ করেছিলাম যে, তুমি ইফিষে থেকে কতগুলো লোককে এই হুকুম দাও, যেন তারা অন্য রকম শিক্ষা না দেয়,
4 এবং গল্পকথা ও সীমাহীন বংশ-তালিকায় মনোযোগ না দেয়, কেননা সেগুলো তর্ক-বিতর্ক উপস্থিত করে কিন্তু আল্লাহ্র কর্মপরিকল্পনা উপস্থিত করে না, যা ঈমানের মধ্য দিয়ে জানা যায়।
5 কিন্তু সেই হুকুমের শেষ লক্ষ্য হল মহব্বত, যা পবিত্র অন্তর, সৎবিবেক ও সত্যিকারের ঈমান থেকে উৎপন্ন হয়;
6 কতগুলো লোক এই সকল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে অর্থহীন কথাবার্তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
7 তারা শরীয়তের শিক্ষক হতে চায়, অথচ যা বলে ও যার বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলে তা বুঝে না।
8 কিন্তু আমরা জানি শরীয়ত উত্তম, অবশ্য কেউ যদি সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করে।
9 আমরা এটা বুঝি যে, শরীয়ত সৎ লোকের জন্য দেওয়া হয় নি, কিন্তু যারা আইন অমান্যকারী ও অবাধ্য, আল্লাহ্বিহীন ও গুনাহ্গার, অপবিত্র ও ভক্তিহীন, পিতৃহন্তা ও মাতৃহন্তা, নরহন্তা,
10 জেনাকারী, পুঙ্গামী, গোলাম ব্যবসায়ী, মিথ্যাবাদী, মিথ্যা শপথকারী, তাদের জন্য শরীয়ত দেওয়া হয়েছ; আর যা কিছু নিরাময় শিক্ষার বিপরীত, তার জন্যও শরীয়ত দেওয়া হয়েছে।
11 সেই শিক্ষা পরম ধন্য আল্লাহ্র সেই গৌরবের ইঞ্জিল অনুসারে, যা আমার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
12
আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসার শুকরিয়া করি, যিনি আমাকে শক্তি দিয়েছেন, কেননা তিনি আমাকে বিশ্বস্ত জ্ঞান করে তাঁর সেবাকর্মে নিযুক্ত করেছেন,
13 যদিও আগে আমি ধর্মনিন্দুক, নির্যাতনকারী, অপমানকারী ছিলাম, কেননা না বুঝে অবিশ্বাসের বশে আমি সেসব কাজ করতাম;
14 কিন্তু আমি এখন করুণা পেয়েছি, আর আমাদের প্রভুর রহমত লাভ করেছি এবং এর সঙ্গে মসীহ্ ঈসাতে ঈমান ও মহব্বত অতি প্রচুররূপে উপ্চে পড়েছে।
15 এই কথা বিশ্বাসযোগ্য ও সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য যে, মসীহ্ ঈসা গুনাহ্গারদের নাজাত করার জন্য দুনিয়াতে এসেছেন; তাদের মধ্যে আমি অগ্রগণ্য;
16 কিন্তু এজন্য করুণা পেয়েছি, যেন অগ্রগণ্য যে আমি, আমার মধ্য দিয়েই ঈসা মসীহ্ তাঁর সীমাহীন ধৈর্য দেখাতে পারেন, যাতে যারা অনন্ত জীবনের জন্য তাঁর উপর ঈমান আনবে আমি তাদের আদর্শ হতে পারি।
17 যিনি সর্বযুগের বাদশাহ্, অক্ষয়, অদৃশ্য, একমাত্র আল্লাহ্, যুগপর্যায়ের যুগে যুগে তাঁরই সমাদর ও মহিমা হোক। আমিন।
18
আমার সন্তান তীমথি, তোমার বিষয়ে অতীতের সকল ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে আমি তোমাকে এই হুকুম দিলাম, যেন তুমি সেই সকল অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে উত্তমভাবে যুদ্ধ করতে পার,
19 আর ঈমান ও সৎ বিবেক রক্ষা কর। কিছু লোক সৎ বিবেক বর্জন করার ফলে তাদের ঈমানরূপ নৌকা ডুবে গেছে।
20 সেই লোকদের মধ্যে হুমিনায় ও আলেকজাণ্ডার রয়েছে; আমি তাদেরকে শয়তানের হাতে তুলে দিলাম, যেন তারা শাসিত হয়ে কুফরী ত্যাগ করতে শিক্ষা পায়।
1
আমার সর্বপ্রথম নিবেদন এই, যেন সকল মানুষের জন্য ফরিয়াদ, মুনাজাত, অনুরোধ, শুকরিয়া করা হয়;
2 বিশেষত বাদশাহ্দের ও উচ্চপদস্থ সকলের জন্য; যেন আমরা সমপূর্ণ ভক্তিতে ও সততায় স্থির ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারি।
3 আমাদের নাজাতদাতা আল্লাহ্র সম্মুখে তা উত্তম ও গ্রহণযোগ্য;
4 তাঁর ইচ্ছা এই, যেন সমস্ত মানুষ নাজাত পায় ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছিতে পারে।
5 কারণ আল্লাহ্ মাত্র এক জনই আছেন আর আল্লাহ্র ও মানবজাতির মধ্যে মধ্যস্থও মাত্র এক জন আছেন— তিনি মানুষ মসীহ্ ঈসা,
6 যিনি সকলের জন্য মুক্িতর মূল্য হিসেবে নিজেকে দান করেছেন; এই সাক্ষ্য তিনি নির্ধারিত সময়েই দান করেছেন।
7 আর এই উদ্দেশ্যে আমি এক জন তবলিগকারী ও প্রেরিত নিযুক্ত হয়েছি— আমি সত্যি বলছি, মিথ্যা বলছি না— ঈমানে ও সত্যে আমি অ-ইহুদীদের শিক্ষক।
8 অতএব আমার ইচ্ছা সমস্ত স্থানে পুরুষেরা কোন রকম ক্রোধ ও বির্তক ছাড়াই পবিত্র হাত তুলে মুনাজাত করুক।
9 সেইভাবে স্ত্রীলোকেরাও ভদ্র ও মার্জিতভাবে পরিপাটি বেশে নিজদেরকে ভূষিত করুক; নানা রকমে চুলের বেনী বেঁধে, সোনা, বা মুক্তা, বা বহুমূল্য পরিচ্ছদ দ্বারা নয়,
10 কিন্তু— যারা আল্লাহ্ ভক্তির দাবী রাখে এমন স্ত্রীলোকদের যোগ্য— সৎকাজে ভূষিত হোক।
11 সমপূর্ণ বাধ্য থেকে মৌনভাবে স্ত্রীলোকেরা শিক্ষা গ্রহণ করুক।
12 আমি উপদেশ দেবার কিংবা পুরুষের উপরে কর্তৃত্ব করার অনুমতি স্ত্রীলোকে দেই না, কিন্তু মৌনভাবে থাকতে বলি।
13 কারণ প্রথমে আদমকে, পরে হাওয়াকে নির্মাণ করা হয়েছিল।
14 আর আদম যে ছলনায় ভুলেছিলেন তা নয়, কিন্তু স্ত্রীলোক ছলনায় ভুলে আল্লাহ্র হুকুম অমান্য করেছিলেন।
15 তবুও যদি আত্মসংযমের সঙ্গে ঈমান, মহব্বত ও পবিত্রতায় স্থির থাকে তবে স্ত্রীলোক সন্তান প্রসবের মধ্য দিয়ে উদ্ধার পাবে।
1
এই কথা বিশ্বাসযোগ্য যে, যদি কেউ নেতৃত্ব পদের আকাঙক্ষী হন তবে তিনি উত্তম কাজ করতে ইচ্ছা করেন।
2 অতএব এটা আবশ্যক যে, বিশপ অনিন্দনীয়, এক স্ত্রীর স্বামী, মিতাচারী, আত্ম-সংযমী, সম্মানের যোগ্য, মেহমান সেবক এবং শিক্ষাদানে নিপুণ হবেন;
3 তিনি যেন মদ্যপানে আসক্ত কিংবা প্রহারক না হন, কিন্তু শান্তভাব, নির্বিরোধ ও অর্থলোভ-শূন্য হন,
4 আর নিজের ঘরের শাসন উত্তমরূপে করেন এবং সমপূর্ণ শিষ্টতার সঙ্গে সন্তানদেরকে বশে রাখেন।
5 কিন্তু যদি কেউ ঘর শাসন করতে না জানে, সে কেমন করে আল্লাহ্র মণ্ডলীর তত্ত্বাবধান করবে?
6 তিনি যেন নতুন ঈমানদার না হন, পাছে গর্বে স্ফীত হয়ে ইবলিসকে দেওয়া শাস্তির যোগ্য হবেন।
7 আর বাইরের লোকদের কাছেও তাঁর সুনাম থাকা আবশ্যক, পাছে নিন্দার পাত্র হন ও ইবলিসের ফাঁদে না পড়েন।
8
তেমনি পরিচারকদেরও বেলায়ও এটি আবশ্যক, যেন তাঁরা সম্মানের যোগ্য হন, এক কথার মানুষ হন, বহু মদ্যপানে আসক্ত না হন, কুৎসিত লাভের আকাঙক্ষী না হন,
9 এবং পবিত্র বিবেকে ঈমানের নিগূঢ়তত্ত্ব ধারণ করেন।
10 আর প্রথমে তাঁদেরও পরীক্ষা করে দেখা হোক, যদি তাঁরা অনিন্দনীয় প্রমাণিত হন তবে তাঁদের পরিচারক পদে ন্যস্ত করা হোক।
11 তেমনি স্ত্রীলোকেরাও যেন সম্মানের যোগ্য হন, অন্যের অপবাদ না করেন এবং মিতাচারণী ও সমস্ত বিষয়ে বিশ্বস্ত হন।
12 পরিচারকেরা এক এক জন এক এক স্ত্রীর স্বামী হবেন এবং সন্তান সন্ততি ও নিজ নিজ ঘর উত্তমরূপে শাসন করবেন।
13 কেননা যাঁরা উত্তমরূপে পরিচারকের কাজ করেন তাঁরা নিজেদের জন্য সম্মানের উঁচু আসন লাভ করেন এবং মসীহ্ ঈসা সম্বন্ধীয় ঈমানে অতিশয় সাহস লাভ করেন।
14
আমি শীঘ্রই তোমার কাছে উপস্থিত হব, এমন আশা করে তোমাকে এসব লিখলাম;
15 কিন্তু যদি আমার বিলম্ব হয় তবে যেন তুমি জানতে পার যে, আল্লাহ্র গৃহের মধ্যে কেমন আচার ব্যবহার করতে হয়; সেই গৃহ তো জীবন্ত আল্লাহ্র মণ্ডলী, সত্যের স্তম্ভ ও দৃঢ় ভিত্তি।
16 আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ভক্তির নিগূঢ়তত্ত্ব মহৎ,
যিনি রক্ত-মাংসে প্রকাশিত হলেন,
রূহে ধার্মিক প্রতিপন্ন হলেন,
ফেরেশতারা তাঁকে দেখেছিলেন,
জাতিদের মধ্যে তবলিগকৃত হলেন,
ঈমানের মধ্য দিয়ে দুনিয়াতে গৃহীত হলেন,
মহিমার সঙ্গে ঊর্ধ্বে নীত হলেন।
1
পাক-রূহ্ স্পষ্টভাবেই বলছেন, ভবিষ্যতে কতগুলো লোক ভ্রান্তিজনক রূহ্দের ও বদ-রূহ্দের শিক্ষামালায় মন দিয়ে ঈমান থেকে সরে পড়বে।
2 যাদের নিজের বিবেক তপ্ত লোহার দাগের মত দাগযুক্ত হয়েছে এমন মিথ্যাবাদীদের কপটতার জন্যই তা ঘটবে।
3 তারা বিয়ে করতে নিষেধ করে এবং কোন কোন খাদ্য ভোজন করতে নিষেধ করে, অথচ সেই খাদ্য আল্লাহ্ এই অভিপ্রায়ে সৃষ্টি করেছেন, যেন যারা ঈমানদার ও সত্যের তত্ত্ব জানে, তারা শুকরিয়াপূর্বক তা ভোজন করে।
4 বাস্তবিক আল্লাহ্র সৃষ্ট সমস্ত বস্তুই ভাল; শুকরিয়া সহকারে গ্রহণ করলে কিছুই বর্জনীয় নয়,
5 কেননা আল্লাহ্র কালাম এবং মুনাজাত দ্বারা তা পবিত্রীকৃত হয়।
6
এসব কথা ভাইদেরকে মনে করিয়ে দিলে তুমি মসীহ্ ঈসার উত্তম পরিচারক হবে; এবং ঈমানের যে কালাম ও উত্তম শিক্ষার অনুসরণ করে আসছ তার দ্বারা পরিপুষ্ট হতে থাকবে।
7 কিন্তু ভক্তিহীন যত পৌরাণিক গল্প ও বুড়িদের বানানো গল্প অগ্রাহ্য কর। তার চেয়ে বরং ভক্তিতে দক্ষ হতে অভ্যাস কর;
8 কেননা শারীরিক দক্ষতার অভ্যাস অল্প বিষয় সুফলদায়ক হয়; কিন্তু আল্লাহ্-ভক্তি সমস্ত বিষয়ে সুফলদায়ক, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিজ্ঞা-যুক্ত।
9 এই কথা বিশ্বাসযোগ্য এবং সর্বতোভাবে গ্রহণেরও যোগ্য।
10 এইজন্যই আমরা পরিশ্রম ও প্রাণপণ করছি; কেননা আমরা সেই জীবন্ত আল্লাহ্র উপরেই প্রত্যশা রেখেছি, যিনি সমস্ত মানুষের, বিশেষত ঈমানদারদের নাজাতদাতা।
11
তুমি এসব বিষয় হুকুম দাও ও শিক্ষা দাও।
12 তুমি যুবক বলে যেন কেউ তোমাকে তুচ্ছ না করে; কিন্তু কথাবার্তায়, আচার ব্যবহারে, মহব্বতে ও শুদ্ধতায় ঈমানদারদের আদর্শ হও।
13 আমি না আসা পর্যন্ত তুমি পাক-কিতাব পাঠে, উপদেশ দানে ও শিক্ষা দিতে নিজেকে নিবিষ্ট রাখ।
14 তোমার অন্তরস্থ সেই অনুগ্রহ-দান অবহেলা করো না, যা ভবিষ্যদ্বাণী দ্বারা প্রাচীনদের হস্তার্পণ সহকারে তোমাকে দেওয়া হয়েছে।
15 এসব বিষয়ে যত্নবান হও ও তাতে স্থির থাক যেন তোমার উন্নতি সকলের প্রত্যক্ষ হয়।
16 নিজের বিষয়ে ও তোমার শিক্ষার বিষয়ে সাবধান হও, এই সমস্ত বিষয়ে স্থির থাক; কেননা তা করলে তুমি নিজেকে এবং যারা তোমার কথা শুনে তাদেরকেও রক্ষা করতে পারবে।
1
তুমি কোন বৃদ্ধ লোককে তিরস্কার করো না, কিন্তু তাকে পিতার মত অনুনয় কর এবং যুবকদেরকে ভাইয়ের মত,
2 বৃদ্ধাদেরকে মায়ের মত, যুবতীদেরকে সমপূর্ণ শুদ্ধভাবে বোনের মত জেনে তাদের সঙ্গে ব্যবহার কর।
3
যেসব বিধবাদের দেখাশুনা করার কেউ নেই, তাদের সম্মান কর।
4 কিন্তু যদি কোন বিধবার সন্তান বা নাতিনাতনি থাকে তবে তারা প্রথমত নিজের বাড়ির লোকদের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করতে ও পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধ করতে শিক্ষা করুক; কেননা তা-ই আল্লাহ্র সাক্ষাতে গ্রহণীয়।
5 যে বিধবার দেখাশোনা করার কেউ নেই ও এতিম, সে আল্লাহ্র উপরে প্রত্যাশা রেখে দিনরাত ফরিয়াদ ও মুনাজাত করতে থাকে।
6 কিন্তু যে ভোগ-বিলাসে জীবন কাটায় সে জীবিত অবস্থায়ও মৃতের মত।
7 এ সব বিষয়ে হুকুম কর, যেন তারা অনিন্দনীয় হয়।
8 কিন্তু কেউ যদি নিজের সম্পর্কীয় লোকদের বিশেষত নিজের আত্মীয়-পরিজনের দেখাশোনা না করে, তা হলে সে ঈমান অস্বীকার করেছে এবং অ-ঈমানদারদের চেয়ে অধম হয়েছে।
9
বিধবা বলে কেবল তাকেই গণনা করা হোক, যার বয়স ষাট বছরের নিচে নয় ও যার একমাত্র স্বামী ছিল,
10 এবং যার পক্ষে নানা সৎকর্মের প্রমাণ পাওয়া যায়; অর্থাৎ যদি সে সন্তানদের লালন-পালন করে থাকে, যদি মেহমানদের সেবা করে থাকে, যদি পবিত্র লোকদের পা ধুয়ে থাকে, যদি কষ্ট-পাওয়া লোকদের উপকার করে থাকে, যদি সমস্ত সৎকর্মের অনুসরণ করে থাকে।
11 কিন্তু যুবতী বিধবাদেরকে বিধবার তালিকায় গণনা করো না, কেননা তারা ইন্দ্রিয়তাড়িত হয়ে মসীহের বিরুদ্ধচারী হলে তারা বিয়ে করতে চায়;
12 এতে তারা প্রথম ঈমান অগ্রাহ্য করেছে বলে নিজেদের উপর শাস্তি ডেকে আনে।
13 এছাড়া, তারা বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়ে অলস হতে শেখে; কেবল অলসও নয়, বরং বাচাল ও অনধিকার চর্চাকারিণী হতে ও অনুচিত কথা বলতে শিখে।
14 অতএব আমার ইচ্ছা যেন এই যুবতী বিধবারা বিয়ে করে, সন্তান প্রসব করে, বাড়িতে কর্তৃত্ব করে, বিপক্ষকে নিন্দা করার কোন সুযোগ না দেয়।
15 কেননা ইতোপূর্বেও কেউ কেউ শয়তানের পিছনে গমন করে বিপথগামিনী হয়েছে।
16 যদি কোন ঈমানদার স্ত্রীলোকের পরিবারে কয়েকজন বিধবা থাকে তবে তিনিই তাদের দেখাশোনা করুন; মণ্ডলী ভারগ্রস্ত না হোক, যেন যারা প্রকৃত বিধবা, মণ্ডলী তাদের দেখাশোনা করতে পারে।
17
যে প্রাচীনেরা উত্তমরূপে শাসন করেন, বিশেষত যাঁরা কালাম তবলিগ ও শিক্ষা দান করার জন্য পরিশ্রম করেন, তাঁরা দ্বিগুণ সমাদরের যোগ্য বলে গণিত হোন।
18 কারণ পাক-কিতাবে বলে, “শস্য-মাড়াইকারী বলদের মুখে জাল্তি বেঁধো না;” আর কার্যকারী নিজের বেতনের যোগ্য।
19 দুই তিন জন সাক্ষী ছাড়া কোন প্রাচীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রাহ্য করো না।
20 যারা গুনাহ্ করে তাদেরকে সকলের সাক্ষাতে অনুযোগ কর; যেন অন্য সকলেও ভয় পায়।
21 আমি আল্লাহ্র, মসীহ্ ঈসার ও মনোনীত ফেরেশতাদের সাক্ষাতে তোমাকে এই দৃঢ় হুকুম দিচ্ছি, তুমি পূর্বধারণা ছাড়া এসব বিধি পালন কর, পক্ষপাতের বশে কিছুই করো না।
22 তাড়াতাড়ি করে কারো উপরে হস্তার্পণ করো না এবং অন্যের গুনাহ্র ভাগী হয়ো না, নিজেকে খাঁটি রেখো।
23 এখন থেকে কেবল পানি পান করো না, কিন্তু তোমার পেটের জন্য ও তোমার বার বার অসুখ হয় বলে কিঞ্চিৎ আঙ্গুর-রস পান করো।
24 কোন কোন লোকের গুনাহ্ বিচারের আগেই সুস্পষ্ট, আবার কোন কোন লোকের গুনাহ্ তাদের বিচারের পরেই প্রকাশ পায়।
25 সৎকর্মও সেরকম সুস্পষ্ট; আর যা যা স্পষ্ট নয়, সেগুলো গুপ্ত থাকে না।
1
যেসব লোক জোয়ালের অধীন গোলাম, তারা নিজ নিজ মালিকদেরকে সমপূর্ণ সমাদরের যোগ্য জ্ঞান করুন, যেন আল্লাহ্র নাম এবং শিক্ষা নিন্দিত না হয়।
2 আর যারা ঈমানদার মালিকের অধীনে আছে, তারা তাঁদেরকে ঈমানদার ভাই বলে তুচ্ছ জ্ঞান না করুক; বরং আরও যত্ন সহকারে গোলামীর কাজ করুক, কেননা যাঁরা সেই সদ্ব্যবহারের ফল ভোগ করেন তাঁরা ঈমানদার ও মহব্বতের পাত্র। এসব শিক্ষা দাও ও অনুনয় কর।
3
যদি কেউ অন্য রকম শিক্ষা দেয় এবং নিরাময় কালাম, অর্থাৎ আমাদের ঈসা মসীহের কালাম ও ভক্তির অনুরূপ শিক্ষা স্বীকার না করে,
4 তবে সে গর্বে অন্ধ হয়ে গেছে, কিছুই জানে না, কিন্তু ঝগড়া-বিবাদ ও তর্ক-বিতর্ক করা তার একটা রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে; এই সবের ফল হল হিংসা, ঝগড়া, নিন্দা, কুসন্দেহ,
5 এবং বিকৃতমনা ও সত্যবিহীন লোকদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া-বিবাদ; এই রকম লোকেরা আল্লাহ্-ভক্তিকে একটা লাভের উপায় বলে মনে করে।
6 বাস্তবিকই আল্লাহ্-ভক্তি সন্তোষযুক্ত হলে মহালাভের উপায় হয়,
7 কেননা আমরা দুনিয়াতে কিছুই সঙ্গে আনি নি আর কিছুই সঙ্গে করে নিয়ে যেতেও পারি না;
8 অতএব খাবার ও কাপড়-চোপড় থাকলে আমরা তাতেই সন্তুষ্ট থাকব।
9 কিন্তু যারা ধনী হতে বাসনা করে, তারা পরীক্ষায় ও ফাঁদে পড়ে এবং নানা ধরনের বোধশূন্য ও ক্ষতিকর কামনার হাতে ধরা পড়ে, যা মানুষকে সংহারে ও বিনাশে নিমজ্জিত করে।
10 কেননা ধনাসক্তি সমস্ত মন্দতার একটা মূল; তাতে রত হওয়াতে অনেক লোক ঈমান থেকে সরে বিপথগামী হয়েছে এবং নিজেরা নিজদের উপর অনেক যাতনা ডেকে এনেছে।
11
কিন্তু তুমি, হে আল্লাহ্র লোক, এসব থেকে পালিয়ে যাও; এবং ধার্মিকতা, ভক্তি, ঈমান, মহব্বত, ধৈর্য, মৃদুভাব— এই সমস্ত বিষয়ের জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা কর।
12 ঈমানের উত্তম যুদ্ধে প্রাণপণ কর; যে অনন্ত জীবনের জন্য তুমি আহ্বান পেয়েছ এবং অনেক সাক্ষীর সাক্ষাতে সেই উত্তম স্বীকারোক্তি উচ্চারণ করেছ, সেই অনন্ত জীবন ধরে রাখ।
13 সকলের জীবনদাতা আল্লাহ্র সাক্ষাতে এবং যিনি পন্তীয় পীলাতের কাছে সেই উত্তম স্বীকারোক্তি উচ্চারণ করেছিলেন, সেই মসীহ্ ঈসার সাক্ষাতে, আমি তোমাকে এই হুকুম করছি,
14 প্রভু ঈসা মসীহ্ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি হুকুমটি নিষ্কলঙ্ক ও অনিন্দনীয় রাখ;
15 সেই পরমধন্য ও একমাত্র শাসনকর্তা, বাদশাহ্দের বাদশাহ্ ও প্রভুদের প্রভু, উপযুক্ত সময়ে মসীহ্কে প্রকাশ করবেন।
16 তিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী, এমন আলোতে বাস করেন যেখানে কেউ যেতে পারে না, যাঁকে মানুষের মধ্যে কেউ কখনও দেখতে পায় নি, দেখতে সক্ষমও নয়; তাঁরই সমাদর ও অনন্তকালস্থায়ী পরাক্রম হোক। আমিন।
17
যারা এই যুগে ধনবান তাদেরকে এই হুকুম দাও যেন তারা অহংকারী না হয় এবং অস্থায়ী ধনের উপরে নয়, কিন্তু যিনি ধনবানের মত সমস্ত কিছুই আমাদের ভোগের জন্য যুগিয়ে দেন সেই আল্লাহ্রই উপরে প্রত্যাশা রাখে;
18 যেন পরের উপকার করে, সৎ কাজরূপ ধনে ধনবান হয়, দানশীল হয়, সহভাগীকরণে তৎপর হয়;
19 এভাবে তারা নিজেদের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য উত্তম ভিত্তিমূলস্বরূপ সম্পদ প্রস্তুত করুক যেন যা প্রকৃতরূপে জীবন তা-ই ধরে রাখতে পারে।
20
হে তীমথি, তোমার কাছে যা গচ্ছিত হয়েছে তা সাবধানে রাখ; যাকে মিথ্যাভাবে জ্ঞান নামে আখ্যাত করা হয় সেই সব ভক্তিহীন অসার প্রলাপ ও স্ববিরোধী শিক্ষা থেকে দূরে থাক;
21 কেউ কেউ সেই জ্ঞান স্বীকার করে ঈমান সম্বন্ধে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, মসীহ্ ঈসাতে জীবনের ওয়াদা অনুসারে আল্লাহ্র ইচ্ছায় মসীহ্ ঈসার প্রেরিত—
2 আমার প্রিয় সন্তান তীমথির সমীপে। পিতা আল্লাহ্ ও আমাদের প্রভু মসীহ্ ঈসার কাছ থেকে রহমত, করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক।
3
আল্লাহ্, যাঁর এবাদত আমার পূর্ব-পুরুষরা করতেন আমিও পবিত্র বিবেকে তাঁর এবাদত করে থাকি। আমি যখন দিনরাত অবিরত তোমার জন্য মুনাজাত করে থাকি তখন আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি।
4 তোমার চোখের পানি স্মরণ করে দিনরাত তোমাকে দেখবার আকাঙক্ষা করছি, যেন আমি আনন্দে পূর্ণ হই;
5 তোমার অন্তরস্থ কল্পনাতীত ঈমানের কথা স্মরণ করছি, যা আগে তোমার নানী লোয়ীর ও তোমার মা উনীকীর অন্তরে বাস করতো এবং আমি নিশ্চিত যে, এই ঈমান তোমার অন্তরেও বাস করছে।
6 এই কারণে তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আমার হস্তার্পণ দ্বারা আল্লাহ্র যে অনুগ্রহ-দান তোমাতে আছে তা জ্বালিয়ে রাখ।
7 কেননা আল্লাহ্ আমাদেরকে ভীরুতার রূহ্ দেন নি, কিন্তু শক্তির, মহব্বতের ও সুবুদ্ধির রূহ্ দিয়েছেন।
8
অতএব আমাদের প্রভুর সম্বন্ধে সাক্ষ্যের বিষয়ে এবং তাঁর বন্দী যে আমি, আমার বিষয়ে তুমি লজ্জিত হয়ো না, কিন্তু আল্লাহ্র শক্তি অনুসারে ইঞ্জিলের জন্য আমার সঙ্গে দুঃখভোগ স্বীকার কর;
9 তিনিই আমাদেরকে নাজাত দিয়েছেন এবং পবিত্র আহ্বানে আহ্বান করেছেন। আমাদের কোন কাজের জন্য তা করেন নি, কিন্তু তাঁর নিজের সঙ্কল্প ও রহমত অনুসারে করেছেন; সেই রহমত অনাদিকালের আগে মসীহ্ ঈসাতে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল,
10 এবং এখন আমাদের নাজাতদাতা মসীহ্ ঈসার আর্বিভাবের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হল, যিনি মৃত্যুকে শক্তিহীন করেছেন এবং ইঞ্জিলের মধ্য দিয়ে জীবন ও অমরত্বকে আলোতে এনেছেন।
11 সেই ইঞ্জিলের জন্যই আমি তবলিগকারী, প্রেরিত ও শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি।
12 এই কারণে এত দুঃখভোগও করছি; তবুও আমি লজ্জিত নই, কেননা যাঁর উপর ঈমান এনেছি, তাঁকে জানি এবং দৃঢ়ভাবে প্রত্যয় করছি যে, আমি তাঁর কাছে যা গচ্ছিত রেখেছি, তিনি সেই দিনের জন্য তা রক্ষা করতে সমর্থ।
13 তুমি আমার কাছে নিরাময় শিক্ষার যা যা শুনেছ, মসীহ্ ঈসাতে ঈমান ও মহব্বতের সঙ্গে তা আদর্শ হিসেবে ধরে রাখ।
14 তোমার কাছে যে উত্তম ধন গচ্ছিত আছে, আমাদের অন্তরে বাস করেন, সেই পাক-রূহ্ দ্বারা তা রক্ষা কর।
15
তুমি জান, এশিয়াতে যারা আছে তারা সকলে আমার কাছ থেকে সরে পড়েছে; তাদের মধ্যে ফুগিল্ল ও হর্মগিনি আছে।
16 প্রভু অনীষিফরের পরিবারকে করুণা দান করুন, কেননা তিনি বার বার আমার প্রাণ জুড়িয়েছেন এবং আমার শিকল হেতু লজ্জিত হন নি;
17 বরং তিনি রোমে আসবার পর যত্নপূর্বক অনুসন্ধান করে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
18 প্রভু তাঁকে এই বর দিন, যেন সেদিন তিনি প্রভুর কাছ থেকে করুণা পান— আর ইফিষে তিনি কত পরিচর্যা করেছিলেন, তা তুমি বিলক্ষণ জান।
1
অতএব হে আমার সন্তান, তুমি মসীহ্ ঈসাতে স্থিত অনুগ্রহে বলবান হত্ত।
2 আর অনেক সাক্ষীর মুখে আমার যেসব শিক্ষার কথা শুনেছ, সেসব এমন বিশ্বস্ত লোকদেরকে দাও, যারা অন্য লোকদেরকেও শিক্ষা দিতে সক্ষম হবে।
3 তুমি মসীহ্ ঈসার উত্তম যোদ্ধার মত আমার সঙ্গে দুঃখভোগ স্বীকার কর।
4 কেউ যুদ্ধ করার সময়ে সাংসারিক ব্যাপারে নিজেকে জড়িত হতে দেয় না, যেন তাকে যে ব্যক্তি যোদ্ধা করে নিযুক্ত করেছে, তারই তুষ্টিকর হতে পারে।
5 আবার কোন ব্যক্তি যদি মল্লযুদ্ধ করে, সে যদি নিয়ম মত যুদ্ধ না করে তবে জয়ের মুকুটে বিভূষিত হয় না।
6 যে কৃষক পরিশ্রম করে, তারই প্রথমে ফসলের ভাগ পাওয়া উচিত।
7 আমি যা বলি, তা বিবেচনা কর; কারণ প্রভু সমস্ত বিষয়ে তোমাকে বুদ্ধি দেবেন।
8
স্মরণে রেখো, দাউদের বংশজাত ঈসা মসীহ্ মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন— এটাই আমার ইঞ্জিল।
9 এই ইঞ্জিল তবলিগের জন্যই দুঃখভোগ করছি, এমন কি, দুষ্কর্মকারীর মত আমাকে শিকলে বাঁধা হয়েছে; কিন্তু আল্লাহ্র কালাম তো শিকল দিয়ে বাঁধা হয় নি।
10 এই জন্য আমি মনোনীতদের জন্য সমস্ত কিছুই সহ্য করি, যেন তারাও অনন্তকালীন মহিমার সঙ্গে মসীহ্ ঈসাতে স্থিত নাজাত লাভ করে।
11 এই কথা বিশ্বাসযোগ্য যে,
আমরা যদি তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে
থাকি,
তবে তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব;
12
যদি সহ্য করি, তাঁর সঙ্গে রাজত্বও
করবো;
যদি তাঁকে অস্বীকার করি,
তবে তিনিও আমাদেরকে অস্বীকার
করবেন।
13
আমরা যদি অবিশ্বস্ত হই,
তবুও তিনি বিশ্বস্ত থাকেন;
কারণ তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে
পারেন না।
14
এসব কথা সকলকে স্মরণ করিয়ে দাও, প্রভুর সাক্ষাতে তাদের সাবধান কর, যেন লোকেরা তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলে, কেননা তাতে কোন ফল হয় না, বরং যারা শোনে তাদের সর্বনাশ হয়।
15 তুমি আল্লাহ্র কাছে পরীক্ষাসিদ্ধ লোক হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা কর; এমন কার্যকারী হও, যার লজ্জা পাবার কোন কারণ নেই, যে সত্যের কালাম যথার্থভাবে ব্যবহার করতে জানে।
16 কিন্তু ভক্তিহীন অসার কথাবার্তা থেকে দূরে থাক; কেননা সেই সমস্ত কথাবার্তা লোকদেরকে ভক্তি লঙ্ঘনে বেশি অগ্রসর করে তোলে;
17 এবং তাদের কথাবার্তা দুষ্ট ক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়বে। এদের মধ্যে আছে হুমিনায় ও ফিলীত।
18 এরা সত্যের সম্বন্ধে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, বলছে, পুনরুত্থান ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে এবং কারো কারো ঈমান উল্টে ফেলছে।
19 তবুও আল্লাহ্-স্থাপিত দৃঢ় ভিত্তিমূল স্থির রয়েছে, তার উপরে এই কথা সীলমোহর করা হয়েছে, “প্রভু জানেন, কারা তাঁর লোক” এবং “যে কেউ প্রভুকে ডাকে, সে অধার্মিকতা থেকে দূরে থাকুক।”
20 কিন্তু কোন বড় বাড়িতে কেবল সোনার ও রূপার পাত্র নয়, কাঠের ও মাটির পাত্রও থাকে; তার কতগুলো সমাদরের, কতগুলো অনাদরের পাত্র।
21 অতএব যদি কেউ নিজেকে ঐসব মন্দতা থেকে পাক-পবিত্র রাখে, তবে সে এমন পাত্রের মত যা সমাদরের, উৎসর্গীকৃত, মালিকের কাজের উপযোগী এবং সমস্ত সৎকর্মের জন্য প্রস্তুত হবে।
22 কিন্তু তুমি যৌবনকালের অভিলাষ থেকে পালিয়ে যাও; এবং যারা পবিত্র অন্তরে প্রভুকে ডাকে তাদের সঙ্গে ধার্মিকতা, ঈমান, মহব্বত ও শান্তির জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা কর।
23 কিন্তু মূঢ় ও অজ্ঞান তর্ক-বিতর্ক থেকে দূরে থাক; তুমি তো জান এসব শেষ পর্যন্ত ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি করে।
24 আর ঝগড়া-বিবাদ করা প্রভুর গোলামের উপযুক্ত নয়; কিন্তু তাকে হতে হবে সকলের প্রতি কোমল, শিক্ষাদানে নিপুণ, সহনশীল;
25 এবং কোমলভাবে বিরোধীদেরকে শাসন করা তার উচিত। হয় তো আল্লাহ্ তাদেরকে মন পরিবর্তনের সুযোগ দান করবেন যেন তারা সত্যের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করে,
26 যেন ইবলিসের ফাঁদ থেকে পালিয়ে আসতে পারে, কারণ ইবলিস তার ইচ্ছা পালন করার জন্য তাদের বন্দী করে রেখেছে।
1
কিন্তু এই কথা জেনো যে, শেষ কালে ভীষণ সময় উপস্থিত হবে।
2 কেননা মানুষেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, অহংকারী, গর্বিত, ধর্মনিন্দুক, পিতা-মাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, নাপাক,
3 নির্মম, ক্ষমাহীন, অপবাদক, উচ্ছৃঙ্খল, নিষ্ঠুর, মঙ্গলের দুশমন,
4 বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্বে স্ফীত এবং আল্লাহ্প্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হবে।
5 লোকেরা ভক্তির অবয়ব-ধারী হবে, কিন্তু তার শক্তিকে অস্বীকার করবে; তুমি এরকম লোকদের কাছ থেকে দূরে থেকো।
6 এদেরই মধ্যে এমন লোক আছে, যারা ছলনাপূর্বক বাড়িতে বাড়িতে প্রবেশ করে গুনাহে ভারাক্রান্ত ও নানা রকম অভিলাষে চালিত স্ত্রীলোকদের বন্দী করে ফেলে।
7 তারা সব সময় সবকিছু শিখতে আগ্রহী বটে, তবুও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
8 আর যান্নি ও যাম্ব্রি যেমন মূসার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি এরা সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। এই লোকদের বিবেক নষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা তাদের ঈমানের প্রমাণ দিতে অপারগ।
9 কিন্তু এরা আর অগ্রসর হতে পারবে না; কারণ যেমন ওদেরও হয়েছিল, তেমনি এদের মূর্খতা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
10
কিন্তু তুমি আমার শিক্ষা, আচার ব্যবহার, সঙ্কল্প, ঈমান, ধৈর্য, মহব্বত, স্থিরতা ভাল করেই লক্ষ্য করেছ।
11 এছাড়া, এণ্টিয়কে, ইকনিয়ে, লুস্ত্রায় আমার প্রতি যে সমস্ত নির্যাতন ও দুঃখভোগ ঘটেছে তাও তুমি লক্ষ্য করেছ; কত নির্যাতন আমি সহ্য করেছি! আর সেসব থেকে প্রভু আমাকে উদ্ধার করেছেন।
12 আর যত লোক ভক্তিভাবে মসীহ্ ঈসাতে জীবন-যাপন করতে ইচ্ছা করে তাদের সকলের প্রতি নির্যাতন আসবে।
13 কিন্তু দুষ্ট লোকেরা ও প্রবঞ্চকেরা পরের ভ্রান্তি জন্মিয়ে ও নিজেরা ভ্রান্ত হয়ে কুপথ থেকে অধিকতর কুপথে অগ্রসর হবে।
14 কিন্তু তুমি যা যা শিখেছ ও নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছ তাতে স্থির থাক; তুমি তো জান কাদের কাছ থেকে তুমি শিখেছ।
15 এছাড়া, তুমি শিশুকাল থেকে পাক-কিতাবগুলোর সঙ্গে পরিচিত; এই কিতাবগুলোই তোমাকে মসীহ্ ঈসা সম্বন্ধীয় ঈমান দ্বারা নাজাতের জন্য জ্ঞানবান করতে পারে।
16 সমগ্র পাক-কিতাব আল্লাহ্র নিঃশ্বসিত এবং তা শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের জন্য উপকারী,
17 যেন আল্লাহ্র লোক পরিপক্ক, সমস্ত সৎকর্মের জন্য সুসজ্জীভূত হয়।
1
আমি আল্লাহ্র সাক্ষাতে এবং যিনি জীবিত ও মৃতদের বিচার করবেন সেই মসীহ্ ঈসার সাক্ষাতে, তাঁর ফিরে আসা ও তাঁর রাজ্যের দোহাই দিয়ে তোমাকে এই দৃঢ় হুকুম দিচ্ছি—
2 তুমি কালাম তবলিগ কর, সময়ে হোক বা অসময়ে হোক কাজে নিয়োজিত থাক, সমপূর্ণ ধৈর্য সহকারে শিক্ষাদান-পূর্বক অনুযোগ কর, ভর্ৎসনা কর, চেতনা দাও।
3 কেননা এমন সময় আসবে, যে সময় লোকেরা নিরাময় শিক্ষা সহ্য করবে না, কিন্তু নতুন কিছু শুনবার জন্য কান চুলকাবে আর নিজ নিজ অভিলাষ অনুসারে নিজেদের জন্য অনেক শিক্ষক জোগাড় করবে।
4 তারা সত্য থেকে কান ফিরিয়ে রূপকথা শুনবার দিকে মনোযোগ দেবে।
5 কিন্তু তুমি সমস্ত বিষয়ে মিতাচারী হও, দুঃখভোগ স্বীকার কর, সুসমাচার-তবলিগের কাজ কর, তোমার পরিচর্যা কাজ সম্পন্ন কর।
6
কেননা এখন আমাকে ঢালন-কোরবানীর মত ঢেলে দেওয়া হচ্ছে এবং আমার প্রস্থানের সময় উপস্থিত হয়েছে।
7 আমি উত্তম যুদ্ধে প্রাণপণ করেছি, নিরূপিত পথের শেষ পর্যন্ত দৌড়েছি, ঈমান রক্ষা করেছি।
8 এখন থেকে আমার জন্য ধার্মিকতার মুকুট তোলা রয়েছে যা প্রভু, সেই ধর্মময় বিচারকর্তা, সেদিন আমাকে দেবেন। কেবল আমাকে নয়, বরং যত লোক তাঁর ফিরে আসার জন্য ব্যাকুলভাবে আকাঙ্খা করছে তাদের সকলকেও দেবেন।
9
তুমি শীঘ্র আমার কাছে আসতে চেষ্টা কর;
10 কেননা দীমা এই বর্তমান যুগ ভালবাসাতে আমাকে ত্যাগ করেছে এবং থিষলনীকীতে গেছে; ক্রীষ্কেন্ত গালাতিয়াতে, তীত দাল্মাতিয়াতে গেছেন।
11 একা লূক মাত্র আমার সঙ্গে আছেন। তুমি মার্ককে সঙ্গে করে নিয়ে এসো, কেননা আমার পরিচর্যা কাজে তিনি বড় উপকারী।
12 আর তুখিককে আমি ইফিষে পাঠিয়েছি।
13 ত্রোয়াতে কার্পের কাছে যে শালটি রেখে এসেছি, তুমি আসার সময়ে সেটি এবং কিতাবগুলো, বিশেষত গুটিয়ে-রাখা কিতাব কয়টি সঙ্গে করে এনো।
14 যে আলেকজাণ্ডার কাঁসার কাজ করে সে আমার বিস্তর অপকার করেছে; প্রভু তার কাজের সমুচিত প্রতিফল তাকে দেবেন।
15 তুমিও সেই ব্যক্তি থেকে সাবধান থেকো, কেননা সে আমাদের তবলিগ কাজের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লেগেছিল।
16
আমার প্রথমবার আত্মপক্ষ সমর্থন কালে কেউ আমার পক্ষে উপস্থিত হয় নি। সকলে আমাকে পরিত্যাগ করে চলে গেছে; তা যেন তাদের বিরুদ্ধে গণনা করা না হয়।
17 কিন্তু প্রভু আমার পাশে দাঁড়ালেন এবং আমাকে বলবান করলেন এবং এর ফলে আমার মধ্য দিয়ে তবলিগ কাজ সুসম্পন্ন হয়েছিল এবং অ-ইহুদী সবাই তা শুনতে পেয়েছিল। আর আমি সিংহের মুখ থেকে রক্ষা পেলাম।
18 প্রভু আমাকে সমস্ত মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাঁর বেহেশতী রাজ্যে উত্তীর্ণ করবেন। যুগপর্যায়ের যুগে যুগে তাঁর মহিমা হোক। আমিন।
19
প্রিষ্কাকে ও আক্কিলাকে এবং অনীষিফরের পরিবারকে সালাম জানাও।
20 ইরাস্ত করিন্থে রয়েছেন এবং ত্রফিম অসুস্থ হওয়াতে আমি তাঁকে মিলেটাস বন্দরে রেখে এসেছি।
21 তুমি শীতকালের আগে আসতে চেষ্টা করো। ঊবুল, পুদেন্ত, লীন, ক্লৌদিয়া এবং সকল ভাইয়েরা তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন।
22
প্রভু তোমার রূহের সহবর্তী হোন। রহমত তোমাদের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, আল্লাহ্র গোলাম ও ঈসা মসীহের প্রেরিত, যেন যারা আল্লাহ্র মনোনীত তাদের ঈমানের পথে নিয়ে আসতে পারি এবং সত্যের তত্ত্বজ্ঞান দিতে পারি, যে সত্য তাদের আল্লাহ্ভক্তির পথে চালিত করে,
2 যে সত্য সেই অনন্ত জীবনের আশাযুক্ত, যিনি কখনও মিথ্যা বলেন না, সেই আল্লাহ্ অনেক কাল আগে যা ওয়াদা করেছিলেন,
3 এবং ঘোষণার মধ্য দিয়ে যথা সময়ে তাঁর কালাম প্রকাশ করলেন, যা আমাদের নাজাতদাতা আল্লাহ্র হুকুম অনুসারে সেই ঘোষণার ভার আমার কাছে দেওয়া হয়েছে—
4 একই ঈমানে আমরা যে ঈমানদার, আমার সেই যথার্থ সন্তান তীতের সমীপে। পিতা আল্লাহ্ এবং আমাদের নাজাতদাতা মসীহ্ ঈসার কাছ থেকে রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
5
আমি তোমাকে এই কারণে ক্রীট দ্বীপে রেখে এসেছি যেন যা যা অসম্পূর্ণ তুমি তা ঠিক করে দাও এবং যেমন আমি তোমাকে হুকুম দিয়েছিলাম সেই অনুসারে প্রত্যেক নগরে প্রাচীনদেরকে নিযুক্ত কর;
6 যে ব্যক্তি অনিন্দনীয় ও কেবল এক স্ত্রীর স্বামী, যাঁর সন্তানেরা ঈমানদার, নষ্টামি দোষে অপবাদিত বা অবাধ্য নয়, তাকে নিযুক্ত কর।
7 কেননা বিশপ আল্লাহ্র ধনাধ্যক্ষ হিসেবে অনিন্দনীয় হবেন। তিনি যেন স্বেচ্ছাচারী বা আশুক্রোধী বা মদ্যে আসক্ত বা প্রহারক বা কুৎসিত লাভের লোভী না হন।
8 কিন্তু তিনি যেন মেহমানসেবক, সৎ কাজ ভালবাসেন, সংযত, ন্যায়পরায়ণ, ধার্মিক হন ও নিজেকে দমনে রাখেন।
9 তাঁকে এমন ব্যক্তি হতে হবে যিনি আমাদের শিক্ষা অনুসারে বিশ্বাসযোগ্য কালাম ধরে রাখেন, যেন তিনি নিরাময় শিক্ষায় উপদেশ দিতে এবং বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তি খণ্ডন করতে সমর্থ হন।
10
কারণ এমন অনেক লোক আছে যারা অবাধ্য, অসার বাক্যবাদী ও ছলনাকারী, বিশেষ করে আমি সেই লোকদের কথা বলছি যারা খৎনা করানোর উপর জোর দিয়ে থাকে;
11 তাদের মুখ বন্ধ করা চাই। তারা কুৎসিত লাভের জন্য অনুপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে কখন কখন একেবারে পরিবারগুলোকে উল্টে ফেলে।
12 তাদের এক জন, তাদের এক স্বদেশীয় নবী বলেছেন, ‘ক্রীট দ্বীপের লোকেরা নিয়ত মিথ্যাবাদী, হিংস্র জন্তু, অলস পেটুক’।
13 এই সাক্ষ্য সত্য। এজন্য তুমি তাদেরকে তীক্ষ্নভাবে অনুযোগ কর যেন তারা ঈমানে নিরাময় হয়,
14 ইহুদীদের গল্প-কথায় ও যারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেই লোকদের হুকুমে মনোযোগ না দেয়।
15 যারা পাক-পবিত্র তাদের পক্ষে সকলেই পাক-পবিত্র; কিন্তু কলুষিত ও অ-ঈমানদারদের পক্ষে কিছুই পাক-পবিত্র নয়, বরং তাদের মন ও বিবেক উভয়ই কলুষিত হয়ে পড়েছে।
16 তারা স্বীকার করে যে, তারা আল্লাহ্কে জানে, কিন্তু কাজকর্মে তাঁকে অস্বীকার করে; তারা ঘৃণাস্পদ ও অবাধ্য এবং কোন সৎকর্ম করার যোগ্য নয়।
1
কিন্তু তুমি এমনভাবে শিক্ষা দাও যার সঙ্গে নিরাময় শিক্ষার সাদৃশ্য আছে।
2 বৃদ্ধদেরকে বল, যেন তাঁরা মিতাচারী, ধীর, সংযত এবং ঈমানে, মহব্বতে, ধৈর্যে নিরাময় হন।
3
সেভাবে বৃদ্ধাদেরকে বল, যেন তাঁরা আচার ব্যবহারে সম্মানের যোগ্য হন, অপবাদিকা বা পানাসক্তির বাঁদী হয়ে না পরেন, সুশিক্ষাদায়িনী হন;
4 তাহলে তাঁরা যুবতীদেরকে উৎসাহিত করতে পারবেন যেন তারা স্বামী ও সন্তানদের ভালবাসে,
5 সংযত হয়, সতী থাকে, নিজের সংসার ভালভাবে পরিচালনা করে, দয়ালু হয় ও নিজ নিজ স্বামীর বশীভূত হয়, যাতে কেউ আল্লাহ্র কালামের নিন্দা করতে না পারে।
6
সেভাবে যুবকদেরকে উপদেশ দাও যাতে তারা নিজেদের দমনে রাখে।
7 আর তুমি নিজে সমস্ত বিষয়ে সৎকর্মের আদর্শ হও, শিক্ষায় সাধুতা ও গাম্ভীর্যতা বজায় রাখ,
8 এবং এমনভাবে নিরাময় কালাম শিক্ষা দাও যেন কেউ দোষ ধরতে না পারে, যেন বিপক্ষ আমাদের বিষয়ে মন্দ বলবার কোন সুযোগ না পাওয়াতে লজ্জিত হয়।
9
গোলামদেরকে বল, যেন তারা নিজ নিজ মালিকের বশীভূত থাকে ও সমস্ত বিষয়ে তাদের সন্তুষ্ট রাখে, প্রতিবাদ না করে,
10 কিছুই আত্মসাৎ না করে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বিশ্বস্ত থাকে; আর এভাবে তারা আমাদের নাজাতদাতা আল্লাহ্র শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
11
কেননা আল্লাহ্র রহমত প্রকাশিত হয়েছে যা সমস্ত মানুষের জন্য নাজাত আনয়ন করে,
12 তা আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে যেন আমরা ভক্তিহীনতা ও সাংসারিক অভিলাষগুলো অস্বীকার করে সংযত, ধার্মিক ও ভক্তিভাবে এই বর্তমান যুগে জীবন যাপন করি,
13 এবং পরমধন্য আশাসিদ্ধির অপেক্ষা করি এবং মহান আল্লাহ্ ও আমাদের নাজাতদাতা ঈসা মসীহের মহিমার প্রকাশ প্রাপ্তির অপেক্ষা করি।
14 ইনি আমাদের জন্য নিজেকে দান করলেন, যেন মূল্য দিয়ে আমাদেরকে সমস্ত অধার্মিকতা থেকে মুক্ত করেন এবং নিজের জন্য এমন লোকদেরকে পাক-পবিত্র করেন যারা তাঁর নিজস্ব লোক হবে এবং সৎকর্ম করতে গভীরভাবে আগ্রহী হবে।
15
তুমি এসব কথা বল এবং সমপূর্ণ ক্ষমতার সঙ্গে উপদেশ দাও ও অনুযোগ কর; কেউ যেন তোমাকে তুচ্ছ করতে না পারে।
1
তুমি লোকদেরকে স্মরণ করিয়ে দাও যেন তারা তারা শাসনকর্তা ও যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তাদের অধীনে থাকে, বাধ্য হয় এবং সমস্ত রকম সৎকর্মের জন্য প্রস্তুত থাকে।
2 তারা যেন কারো নিন্দা না করে, নির্বিরোধ ও শান্ত স্বভাব বিশিষ্ট হয় এবং সকল মানুষের কাছে সমপূর্ণ মৃদুতা দেখায়।
3
কেননা আগে আমরাও নির্বোধ, অবাধ্য, ভ্রান্ত, নানা রকম অভিলাষের ও সুখভোগের গোলাম, হিংসা ও বিদ্বেষে কালক্ষেপকারী, ঘৃণার ও পরস্পর দ্বেষকারী ছিলাম।
4 কিন্তু যখন আমাদের নাজাতদাতা আল্লাহ্র দয়ার স্বভাব এবং মানবজাতির প্রতি মহব্বত প্রকাশিত হল,
5 তখন তিনি আমাদের কৃত ধর্মকর্মের জন্য নয়, কিন্তু তাঁর করুণা অনুসারে, নতুন জন্মের গোসল ও পাক-রূহের নতুনীকরণ দ্বারা আমাদেরকে নাজাত করলেন,
6 সেই রূহ্কে তিনি আমাদের নাজাতদাতা ঈসা মসীহ্ দ্বারা আমাদের উপরে প্রচুররূপে ঢেলে দিলেন;
7 যেন তাঁরই অনুগ্রহে ধার্মিক গণিত হয়ে আমরা অনন্ত জীবনের প্রত্যাশা অনুসারে উত্তরাধিকারী হয়ে উঠতে পারি।
8 এই কথা বিশ্বাসযোগ্য। আর আমার বাসনা এই যে, এসব বিষয়ে তুমি দৃঢ় নিশ্চয়তার সঙ্গে কথা বল, যেন যারা আল্লাহ্র উপরে ঈমান এনেছে তারা নিজেদের সৎকর্মে ব্যস্ত রাখবার কথা চিন্তা করে। এসব বিষয় মানুষের পক্ষে উত্তম ও সুফলদায়ক।
9 কিন্তু তুমি মূঢ়তার সকল তর্ক-বিতর্ক, বংশ-তালিকা, ঝগড়া-বিবাদ এবং শরীয়ত বিষয়ক বাগ্যুদ্ধ থেকে দূরে থাক; কেননা এসব নিষ্ফল ও অসার।
10 যে ব্যক্তি দলাদলির সৃষ্টি করে তাকে দুই এক বার চেতনা দেবার পর অগ্রাহ্য কর।
11 তুমি তো জান যে, এই রকম লোকেরা পথভ্রষ্ট এবং সে গুনাহ্ করতে করতে নিজেই নিজেকে দোষী বলে সাব্যস্ত করে।
12
আমি যখন তোমার কাছে আর্তিমাকে কিংবা তুখিককে পাঠাই, তখন তুমি নীকপলিতে আমার কাছে আসতে বিশেষভাবে চেষ্টা কোরো; কেননা সেই স্থানে আমি শীতকাল যাপন করবো বলে ঠিক করেছি।
13 উকিল সীনাকে এবং আপল্লোকে যত্ন-পূর্বক পাঠিয়ে দাও, আর দেখো, তাঁদের যেন কোন বিষয়ের অভাব না হয়।
14 আর আমাদের লোকেরা সৎকর্মে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে অভ্যাস করুক যেন তারা অন্যদের জরুরী প্রয়োজন মিটাতে পারে, যেন ফলহীন হয়ে না পড়ে।
15
আমার সঙ্গীরা সকলে তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন। যাঁরা ঈমান সম্বন্ধে আমাদেরকে ভালবাসেন, তাঁদেরকে শুভেচ্ছা দাও।
রহমত তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
1
পৌল, মসীহ্ ঈসার বন্দী এবং ভাই তীমথি— আমাদের মহব্বতের পাত্র ও সহকর্মী ফিলীমন,
2 বোন আপ্পিয়া ও আমাদের সহসেনা আর্খিপ্প এবং তোমার গৃহস্থিত মণ্ডলী সমীপে।
3 আমাদের পিতা আল্লাহ্ ও ঈসা মসীহের কাছ থেকে তোমাদের উপরে রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
4
আমি আমার মুনাজাতের সময় তোমার নাম উল্লেখ করে সব সময় আমার আল্লাহ্র শুকরিয়া করে থাকি,
5 কেননা সমস্ত পবিত্র লোকের প্রতি তোমার যে মহব্বত আছে ও প্রভু ঈসার প্রতি তোমার যে ঈমান আছে, সে কথা আমি শুনতে পাচ্ছি।
6 আমি মুনাজাত করছি যে, আমাদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত উত্তম বিষয়ের জ্ঞান ধারণ করে তোমার ঈমানের সহভাগিতা যেন মসীহের জন্য কার্যকরী হয়।
7 হে আমার ভাই, তোমার মহব্বত থেকে আমি অনেক আনন্দ ও উৎসাহ পেয়েছি, কারণ তোমার দ্বারা পবিত্রগণের প্রাণ জুড়িয়েছে।
8
অতএব, তোমার যা করণীয় সেই বিষয়ে তোমাকে হুকুম দিতে যদিও মসীহে আমার সমপূর্ণ সাহস আছে,
9 তবুও আমি মহব্বতের দরুন বরং ফরিয়াদ করছি— আমি পৌল, এক জন বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং এখন মসীহ্ ঈসার জন্য এক জন বন্দী—
10 আমি নিজের সন্তানের বিষয়ে, কারাগারে বন্দী অবস্থায় যাকে জন্ম দিয়েছি, সেই ওনীষিমের বিষয়ে তোমাকে ফরিয়াদ করছি।
11 সে আগে তোমার অনুপযোগী ছিল কিন্তু এখন তোমার ও আমার, উভয়ের উপযোগী।
12 তাকেই আমি তোমার কাছে ফিরে পাঠালাম, অর্থাৎ আমার নিজের প্রাণতুল্য ব্যক্তিকে পাঠালাম।
13 আমি তাকে আমার কাছে রাখতে চেয়েছিলাম যেন ইঞ্জিল তবলিগের জন্য আমার বন্দী অবস্থায় সে তোমার পরিবর্তে আমার পরিচর্যা করে।
14 কিন্তু তোমার সম্মতি ছাড়া কিছু করতে চাইলাম না, যেন তোমার সৎকাজ বাধ্যবাধকতার নয় বরং স্ব-ইচ্ছার ফল হয়।
15 কারণ হয়তো সে এই জন্যই অল্প সময়ের জন্য পৃথক হয়েছিল যেন তুমি অনন্তকালের জন্য তাকে পেতে পার।
16 কিন্তু তুমি তাকে পুনরায় গোলামের মত নয় বরং গোলামের চেয়ে বেশি কিছু, প্রিয় ভাইয়ের মত পাবে; বিশেষভাবে সে আমার প্রিয় এবং দৈহিক সমর্পকে ও প্রভুতে, উভয়ের সম্বন্ধে তোমার কত বেশি প্রিয়!
17
অতএব যদি তুমি আমাকে তোমার সহভাগী বলে জান তবে আমাকে যেভাবে গ্রহণ করতে তাকেও ঠিক সেভাবে গ্রহণ করো।
18 আর যদি সে তোমার প্রতি কোন অন্যায় করে থাকে কিংবা তোমার কাছে কোন বিষয়ে ঋণী থাকে তবে তা আমার বলে গণ্য কর;
19 আমি পৌল নিজের হাতে এই কথা লিখলাম; আমিই তা পরিশোধ করবো— তুমি যে নিজের বিষয়ে আমার কাছে ঋণে আবদ্ধ তোমাকে সেই কথা বলতে চাই না।
20 হ্যাঁ, ভাই, প্রভুতে তোমার কাছ থেকে আমার লাভ হোক; তুমি মসীহে আমার প্রাণ জুড়াও।
21
তোমার বাধ্যতায় আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে বলে তোমাকে লিখলাম। আমি যা বলেছি, আমি জানি যে, তুমি তার চেয়েও বেশি করবে।
22
আর একটা কথা বলছি— আমার জন্য বাসাও প্রস্তুত করে রেখো, কেননা আশা রাখি যে, তোমাদের মুনাজাতের ফলে আমাকে তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
23
মসীহ্ ঈসাতে আমার সহবন্দী ইপাফ্রা তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন,
24 মার্ক, আরিষ্টার্খ, দীমা ও লূক, আমার এই সহকর্মীরাও তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন।
25
ঈসা মসীহের রহমত তোমাদের রূহের সহবর্তী হোক। আমিন।
1
আল্লাহ্ আগেকার দিনে বহুবার ও বহুরূপে নবীদের দ্বারা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের কাছে কথা বলেছেন;
2 কিন্তু এই শেষ কালে তাঁর পুত্রের মাধ্যমে আমাদের কাছে কথা বলেছেন, যাঁকে তিনি সর্ব বিষয়ের উত্তরাধিকারী করে নিযুক্ত করেছেন এবং যাঁর দ্বারা এই বিশ্বভূমণ্ডল সৃষ্টিও করেছেন।
3 এই পুত্র হলেন আল্লাহ্র মহিমার প্রভা ও তাঁর পূর্ণ ছবি এবং তিনি তাঁর পরাক্রমের কালাম দ্বারা সমস্ত সৃষ্টি ধারণ করে আছেন। তিনি মানুষের গুনাহ্ ধুয়ে পরিষ্কার করে ঊর্ধ্বলোকে মহিমাময়ের ডান পাশে বসলেন।
4 তিনি ফেরেশতাদের চেয়ে যে পরিমাণে উৎকৃষ্ট নামের অধিকার পেয়েছেন, তিনি সেই পরিমাণে তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।
5
কারণ আল্লাহ্ কোন ফেরেশতাকে কি কোন সময়ে এই কথা বলেছেন,
“তুমি আমার পুত্র,
আমি আজ তোমাকে জন্ম দিয়েছি,”
আবার
“আমি তাঁর পিতা হব
ও তিনি আমার পুত্র হবেন”?
6
আর যখন তিনি প্রথমজাতকে আবার দুনিয়াতে আনয়ন করেন, তখন বলেন,
“আল্লাহ্র সকল ফেরেশতা তাঁর
এবাদত করুক”।
7
আর ফেরেশতাদের বিষয়ে তিনি বলেন,
“তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে বায়ুস্বরূপ করেন,
তাঁর সেবকদেরকে আগুনের শিখাস্বরূপ করেন।”
8
কিন্তু পুত্রের বিষয়ে তিনি বলেন,
“হে আল্লাহ্, তোমার সিংহাসন অনন্তকাল স্থায়ী;
আর ন্যায়ের শাসনদণ্ডই তাঁর রাজ্যের
শাসনদণ্ড।
9
তুমি ধার্মিকতাকে মহব্বত করেছ ও
নাফরমানীকে ঘৃণা করেছ;
এই কারণে আল্লাহ্, তোমার আল্লাহ্,
তোমার সাথীদের চেয়ে বেশি পরিমাণে
আনন্দ-তেলে
তোমাকে অভিষিক্ত করেছেন।”
10
আর,
“হে প্রভু, তুমিই আদিতে দুনিয়ার
ভিত্তিমূল স্থাপন করেছ,
আসমানও তোমার হাতের রচনা।
11
সেগুলো বিনষ্ট হবে,
কিন্তু তুমিই নিত্যস্থায়ী;
সেগুলো কাপড়ের মত পুরানো হয়ে যাবে,
12
তুমি কাপড়ের মত সেসব গুটিয়ে
রাখবে,
কাপড়ের মত সেগুলোকে বদল করা হবে;
কিন্তু তুমি যে, সেই আছ
এবং তোমার বছরগুলো কখনও শেষ
হবে না।”
13
কিন্তু তিনি কোন ফেরেশতাকে কি কোন সময়ে বলেছেন,
“তুমি আমার ডান পাশে বস,
যতক্ষণ না আমি তোমার দুশমনদেরকে
তোমার পায়ের তলায় রাখি”?
14
ফেরেশতারা কি সকলে সেবাকারী রূহ্ নন? যারা নাজাতের অধিকারী হবে, তাঁরা কি তাদের পরিচর্যার জন্য প্রেরিত হন নি?
1
এজন্য যা যা শুনেছি তাতে আরও আগ্রহের সঙ্গে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত, যেন কোনক্রমেই তা থেকে দূরে সরে না যাই।
2 কেননা ফেরেশতাদের দ্বারা যে কালাম বলা হয়েছিল তা যখন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং লোকে কোনভাবে তা লঙ্ঘন করলে, কিংবা তার অবাধ্য হলে যখন উচিত শাস্তি দেওয়া হয়েছিল,
3 তা হলে এমন মহৎ এই নাজাত অবহেলা করলে আমরা কিভাবে রক্ষা পাব? এই কথা তো প্রথমে প্রভুর দ্বারা ঘোষণা করা হয়েছিল ও যারা তা শুনেছিল তাদের দ্বারা আমাদের কাছে যখন তা প্রমাণিত হল;
4 তখন আল্লাহ্ও নানা চিহ্ন-কাজ, অদ্ভুত লক্ষণ ও নানা রকম কুদরতি-কাজ এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে পাক-রূহের নানা রকম বর দান করার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
5
বাস্তবিক যে ভাবী দুনিয়ার কথা আমরা বলছি, তা তিনি ফেরেশতাদের অধীন করেন নি।
6 বরং কোন এক ব্যক্তি কোন এক স্থানে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন,
“মানুষ কি যে তুমি তাকে স্মরণ কর?
মানুষের সন্তানই বা কি যে তার
তত্ত্বাবধান কর?
7
তুমি ফেরেশতাদের চেয়ে তাকে সামান্য
নিচু করেছ,
মহিমা ও সমাদরের মুকুটে বিভূষিত
করেছ;
8
আর সকলই তার পদতলে তার অধীন
করেছ।”
বস্তুত সকলই তিনি তার অধীন করেছেন এবং অবশিষ্ট এমন কিছুই রাখেন নি যা তার অধীন করেন নি; কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা সমস্ত কিছুই মানুষের অধীন দেখতে পাচ্ছি না।
9 কিন্তু ঈসাকে দেখতে পাচ্ছি, যাঁকে অল্পক্ষণের জন্য ফেরেশতাদের চেয়ে সামান্য নিচু করা হয়েছে, তাঁর মৃত্যুভোগ হেতু এখন তিনি মহিমা ও সমাদর-মুকুটে বিভূষিত হয়েছেন, যেন তিনি আল্লাহ্র রহমতে সকলের পক্ষে মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করেন।
10
কেননা এটাই উপযুক্ত ছিল যে, আল্লাহ্, যাঁর উদ্দেশে ও যাঁর দ্বারা সমস্ত কিছুই সৃষ্টি হয়েছে, তিনি অনেক সন্তানকে মহিমার ভাগী করার উদ্দেশ্যে তাদের নাজাতের আদিকর্তাকে দুঃখভোগ দ্বারা পূর্ণতা দান করেন।
11 কারণ যিনি পবিত্র করেন ও যারা পবিত্রীকৃত হয়, সকলেরই এক জন পিতা আছেন; এজন্য তিনি তাদেরকে ভাই বলতে লজ্জা পান না।
12 তিনি বলেন,
“আমি আমার ভাইদের কাছে তোমার
নাম তবলিগ করবো,
মণ্ডলীর মধ্যে তোমার প্রশংসা-গান
করব।”
13
আবার,
“আমি তাঁরই উপরে ভরসা রাখব।”
আবার,
“দেখ, আমি ও সেই সন্তানেরা,
যাদেরকে আল্লাহ্ আমায় দিয়েছেন।”
14
ভাল, সেই সন্তানেরা যখন রক্ত-মাংসের মানুষ, তখন তিনি নিজেও তেমনি রক্ত-মাংসের মানুষ হলেন; যেন মৃত্যু দ্বারা মৃত্যুর অধিপতিকে অর্থাৎ শয়তানকে শক্তিহীন করেন,
15 এবং যারা মৃত্যুর ভয়ে সারা জীবন গোলামির অধীন ছিল তাদেরকে উদ্ধার করেন।
16 কারণ তিনি তো ফেরেশতাদের সাহায্য করেন না, কিন্তু ইব্রাহিমের বংশের লোকদের সাহায্য করেন।
17 অতএব সমস্ত বিষয়ে তাঁর ভাইদের মত হওয়া তাঁর উচিত ছিল, যেন তিনি লোকদের গুনাহ্র কাফ্ফারা দেবার জন্য আল্লাহ্র এবাদতের কাজে দয়ালু ও বিশ্বস্ত মহা-ইমাম হন।
18 কেননা তিনি নিজে পরীক্ষিত হয়ে দুঃখ-ভোগ করেছেন বলে যারা পরীক্ষিত হয় তাদের সাহায্য করতে পারেন।
1
অতএব, হে পবিত্র ভাইয়েরা, বেহেশতী আহ্বানের অংশীদারেরা, যিনি আমাদের ঈমানের স্বীকারোক্তির প্রেরিত ও মহা-ইমাম, তোমরা সেই ঈসার প্রতি দৃষ্টি রাখ।
2 মূসা যেমন আল্লাহ্র সমস্ত গৃহের মধ্যে বিশ্বস্ত ছিলেন, তেমনি ঈসাও আপন নিয়োগকর্তার কাছে বিশ্বস্ত ছিলেন।
3 বস্তুত গৃহ নির্মাতা যেমন গৃহের চেয়ে বেশি সম্মান পান, ঈসা ঠিক একইভাবে মূসার চেয়ে বেশি গৌরবের যোগ্যপাত্র বলে গণিত হয়েছেন।
4 কেননা প্রত্যেক গৃহ কারো দ্বারা তৈরি হয়, কিন্তু যিনি সকলই তৈরি করেছেন তিনি আল্লাহ্।
5 আর মূসা আল্লাহ্র সমস্ত গৃহের মধ্যে সেবাকারী হিসেবে বিশ্বস্ত ছিলেন; ভবিষ্যতে যে সব বিষয় বলা হবে, যেন সেই সব বিষয়ে সাক্ষ্য দান করেন;
6 কিন্তু মসীহ্ তাঁর গৃহের উপরে পুত্র হিসেবে বিশ্বস্ত ছিলেন; আর আমরাই তাঁর সেই গৃহ, যদি আমরা আমাদের গর্বের বস্তু সেই প্রত্যাশাকে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ করি।
7
অতএব পাক-রূহ্ যেমন বলেন,
“আজ যদি তোমরা তাঁর স্বর শুনতে পাও,
8
তবে নিজ নিজ অন্তর কঠিন করো না,
যেমন সেই বিদ্রোহ স্থানে,
মরুভূমির মধ্যে সেই পরীক্ষার দিনে
ঘটেছিল;
9
সেখানে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা
আমাকে যাচাই করলো
এবং চল্লিশ বছর ধরে আমার কাজগুলো
দেখেও আমায় পরীক্ষা করলো;
10
এজন্য আমি এই জাতির প্রতি অসন্তুষ্ট
হলাম,
আর বললাম, এরা সব সময় অন্তরে
ভ্রান্ত হয়;
আর তারা আমার পথ জানল না;
11
তখন আমি আপন ক্রোধে এই শপথ
করলাম,
এরা আমার বিশ্রামস্থানে প্রবেশ
করবে না।”
12
ভাইয়েরা দেখো, তোমাদের মধ্যে কারও যেন অবিশ্বাসের এমন মন্দ অন্তর না থাকে যে, তোমরা জীবন্ত আল্লাহ্র কাছ থেকে সরে পড়।
13 বরং তোমরা দিন দিন একে অন্যকে চেতনা দাও, যতদিন ‘আজ’ নামে আখ্যাত সময় থাকে, যেন তোমাদের মধ্যে কেউ গুনাহ্র প্রতারণায় কঠিন হয়ে না পড়ে।
14 কেননা আমরা মসীহের সহভাগী হয়েছি— অবশ্য যদি আমাদের আদি ভরসা শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ করি।
15 ফলত বলা হয়েছে,
“আজ যদি তোমরা তাঁর স্বর শুনতে পাও,
তবে নিজ নিজ অন্তর কঠিন করো না,
যেমন ঘটেছিল সেই বিদ্রোহ স্থানে।”
16
তখন যারা শুনে বিদ্রোহ করেছিল তারা কারা ছিল? মূসার নেতৃত্বে যারা মিসর থেকে বের হয়ে এসেছিল সেসব লোক কি নয়?
17 কাদের প্রতিই বা তিনি চল্লিশ বছর অসন্তুষ্ট ছিলেন? তাদের প্রতি কি নয়, যারা গুনাহ্ করেছিল, যাদের লাশ মরুভূমিতে পড়ে ছিল?
18 তিনি কাদের বিরুদ্ধেই বা এই শপথ করেছিলেন যে, “এরা আমার বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ করবে না,” তারা কি সেই সব লোক নয় যারা অবাধ্য হয়েছিল?
19 এতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ঈমানহীনতার জন্যই তারা সেই বিশ্রাম-স্থানে প্রবেশ করতে পারে নি।
1
অতএব তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করার ওয়াদা যখন এখনও কার্যকর, সেজন্য আমাদের সাবধান হতে হবে যেন আমাদের মধ্যে কেউ সেই বিশ্রামে প্রবেশ করা থেকে বঞ্চিত না হয়।
2 কেননা সুসমাচার তাদের কাছে যেমন, তেমনি আমাদের কাছেও তবলিগ করা হয়েছে, কিন্তু তারা যে সুসমাচার শুনেছিল তাতে তাদের কোন উপকার হয় নি, কেননা যারা তা শুনেছিল তেমন শ্রোতাদের সঙ্গে তারা ঈমানে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে নি।
3 বাস্তবিক ঈমান এনেছি যে আমরা, আমরা সেই বিশ্রামে প্রবেশ করতে পারছি; যেমন তিনি বলেছেন,
“তখন আমি আপন ক্রোধে এই কসম
খেলাম,
এরা আমার বিশ্রামে প্রবেশ করবে না,”
যদিও তাঁর কাজ দুনিয়া পত্তনের সময় থেকেই সমাপ্ত হয়েছিল।
4 কেননা পাক-কিতাবের এক স্থানে সপ্তম দিন সম্বন্ধে বলা হয়েছে,
“এবং সপ্তম দিনে আল্লাহ্ তাঁর সমস্ত
কাজ থেকে বিশ্রাম করলেন।”
5
আবার এই স্থানে তিনি বলেন,
“এরা আমার বিশ্রামে প্রবেশ করবে না।”
6
অতএব বাকি রইলো এই যে, কতগুলো লোক বিশ্রামে প্রবেশ করবে, আর যাদের কাছে সুসমাচার আগে তবলিগ করা হয়েছিল, তারা অবাধ্যতার কারণে বিশ্রামে প্রবেশ করতে পারে নি;
7 আবার তিনি পুনরায় একটি দিন “আজ” নির্ধারণ করে দাউদের মধ্য দিয়ে অনেক দিন পর বলেন,
“আজ,” যেমন আগে বলা হয়েছে,
আজ যদি তোমরা তাঁর স্বর শুনতে পাও,
তবে নিজ নিজ অন্তর কঠিন করো না।”
8
বস্তুতঃ ইউসা যদি তাদেরকে বিশ্রাম দিতেন, তবে আল্লাহ্ তারপর অন্য দিনের কথা বলতেন না।
9 সুতরাং আল্লাহ্র লোকদের জন্য এখনও একটি বিশ্রামকাল ভোগ করা বাকী রয়েছে।
10 কেননা যেমন আল্লাহ্ তাঁর নিজের কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, তেমনি যে ব্যক্তি তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করেছে সেও তার নিজের কাজ থেকে বিশ্রাম পায়।
11 অতএব এসো, আমরা সেই বিশ্রামস্থানে প্রবেশ করতে সচেষ্ট হই, যেন কেউ অবাধ্যতার সেই দৃষ্টান্ত অনুসারে সেই বিশ্রাম থেকে বাদ না পড়ে।
12
কেননা আল্লাহ্র কালাম জীবন্ত ও কার্যকর এবং দু’দিকে ধার আছে এমন তলোয়ারের চেয়ে ধারালো এবং প্রাণ ও রূহ্, গ্রন্থি ও মজ্জার গভীরে কেটে বসে এবং হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছা ও চিন্তা পরীক্ষা করে দেখে;
13 আর তাঁর সাক্ষাতে কোন সৃষ্ট বস্তু অপ্রকাশিত নয়; কিন্তু তাঁর চোখের সম্মুখে সকলই নগ্ন ও অনাবৃত রয়েছে, যাঁর কাছে আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে।
14
ভাল, আমরা এক মহান মহা-ইমামকে পেয়েছি, যিনি বেহেশতগুলো দিয়ে গমন করেছেন, তিনি ঈসা, আল্লাহ্র পুত্র; অতএব এসো, আমরা ধর্ম প্রতিজ্ঞাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করি।
15 কেননা আমরা এমন মহা-ইমামকে পাই নি, যিনি আমাদের দুর্বলতা ঘটিত দুঃখে দুঃখিত হতে পারেন না, কিন্তু তিনি সমস্ত বিষয়ে আমাদের মত পরীক্ষিত হয়েছেন অথচ গুনাহ্ করেন নি।
16 অতএব এসো, আমরা সাহসপূর্বক অনুগ্রহ-সিংহাসনের কাছে উপস্থিত হই, যেন করুণা লাভ করি এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্যের জন্য রহমত পাই।
1
বস্তুত প্রত্যেক মহা-ইমামকে মানুষের মধ্য থেকে বেছে নিয়ে মানুষের পক্ষে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে কাজে নিযুক্ত করা হয়, যেন তিনি উপহার উৎসর্গ ও গুনাহ্র জন্য পশু কোরবানী করেন।
2 তিনি অজ্ঞ ও ভ্রান্ত সকলের প্রতি কোমল ব্যবহার করতে সমর্থ, কারণ তাঁর মধ্যেও দুর্বলতা আছে;
3 এবং সেই দুর্বলতার কারণে যেমন জনগণের গুনাহের জন্য, তেমনি নিজের গুনাহ্র জন্যও নৈবেদ্য কোরবানী করা তাঁর অবশ্য কর্তব্য।
4
আর কেউ সেই সম্মান নিজের উপর আরোপ করে না, কিন্তু আল্লাহ্ কর্তৃক আহ্বান পেয়েই তা পায়; হারুনও সেইভাবে পেয়েছিলেন।
5
তেমনি মসীহ্ও মহা-ইমাম হবার জন্য নিজে নিজেকে গৌরবান্বিত করেন নি, কিন্তু তিনিই করেছিলেন, যিনি তাঁকে বললেন,
“তুমি আমার পুত্র,
আমি আজ তোমাকে জন্ম দিয়েছি।”
6
একই ভাবে অন্য গজলেও তিনি বলেন,
“তুমিই মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে
অনন্তকালীন ইমাম।”
7
যিনি মৃত্যু থেকে তাঁকে রক্ষা করতে সমর্থ, তাঁরই কাছে ঈসা এই দুনিয়াতে থাকবার সময়ে তীব্র আর্তনাদ ও অশ্রুপাত সহকারে মুনাজাত ও ফরিয়াদ করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তির কারণে তিনি তাঁর মুনাজাতের উত্তর পেয়েছিলেন।
8 যদিও তিনি আল্লাহ্র পুত্র ছিলেন, তবুও দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে বাধ্যতা শিক্ষা করেছিলেন;
9 এবং নিজ সিদ্ধতায় চালিত হয়ে যারা তাঁর বাধ্য তাদের সকলের অনন্ত নাজাতের কারণ হয়ে উঠলেন;
10 আল্লাহ্ কর্তৃক মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুযায়ী মহা-ইমাম বলে আখ্যায়িত হলেন।
11
এই সমস্ত বিষয়ে আমাদের অনেক কথা বলার আছে, তার অর্থ ব্যক্ত করা দুষ্কর, কারণ তোমরা সহজে বুঝতে পার না।
12 বস্তুত এতকালের মধ্যে শিক্ষক হওয়া তোমাদের উচিত ছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে তোমাদেরকে আল্লাহ্র দৈববাণীর প্রাথমিক নীতিগুলো শিক্ষা দেয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তোমরা এমন লোক হয়ে পড়েছ, যাদের দুধের প্রয়োজন, শক্ত খাবার নয়।
13 কেননা যে দুগ্ধপোষ্য, সে তো ধার্মিকতার শিক্ষায় অভ্যস্ত নয়; কারণ সে শিশু।
14 কিন্তু শক্ত খাবার সেই পরিপক্ক বয়স্কদেরই জন্য, যারা প্রচুর অভ্যাস করার মধ্য দিয়ে ভাল-মন্দ বিচার করতে শিখেছে।
1
অতএব এসো, আমরা মসীহ্ বিষয়ক প্রাথমিক শিক্ষার কথা পিছনে ফেলে পরিপক্কতা লাভের চেষ্টায় অগ্রসর হই এবং পুনর্বার এই ভিত্তিমূল স্থাপন না করি, যার মধ্যে রয়েছে: নিষ্ফল কাজকর্ম থেকে মন পরিবর্তন ও আল্লাহ্র উপরে ঈমান,
2 নানা বাপ্তিস্ম ও হস্তার্পণের শিক্ষা, মৃতদের পুনরুত্থান ও অনন্তকালীন বিচার।
3 অবশ্য আল্লাহ্র অনুমতি হলে আমরা তা-ই করবো।
4 কেননা যারা একবার আলোকিত হয়েছে, বেহেশতী দানের স্বাদ পেয়েছে, পাক-রূহের ভাগী হয়েছে,
5 এবং আল্লাহ্র মঙ্গলের কালামের ও ভাবী যুগের নানা পরাক্রমের স্বাদ গ্রহণ করেছে,
6 পরে ধর্মভ্রষ্ট হয়েছে, তবে মন পরিবর্তনের পথে আবার তাদেরকে নতুন করে আনা যায় না; কেননা তারা নিজেদের বিষয়ে আল্লাহ্র পুত্রকে পুনরায় ক্রুশে দেয় ও প্রকাশ্যে নিন্দা করে।
7 কারণ যে জমি বার বার বৃষ্টির পানি পান করেছে, আর যাদের জন্য সেটি চাষ করা হয়েছে, তাদের জন্য উপযুক্ত ফসল উৎপন্ন করে, সেই জমি আল্লাহ্ থেকে দোয়া লাভ করে;
8 কিন্তু যদি কাঁটাবন ও কাঁটাঝোপ উৎপন্ন করে তবে তা অকর্মণ্য ও সেই জমিতে বদদোয়া পড়বার ভয় থাকে; আগুনে ধ্বংস হওয়াই তার পরিণাম।
9
প্রিয়তমেরা, যদিও আমরা এরকম বলছি, তবুও তোমাদের বিষয়ে আমরা সুনিশ্চিত যে, তোমাদের অবস্থা এর চেয়ে ভাল এবং যা তোমাদের নাজাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
10 কেননা আল্লাহ্ অন্যায়কারী নন; তোমাদের কাজ এবং তোমরা পবিত্র লোকদের যে পরিচর্যা করেছ ও করছো, তা দ্বারা তাঁর নামের প্রতি তোমরা যে মহব্বত দেখিয়েছ, তা তিনি ভুলে যাবেন না।
11 আমাদের বাসনা মাত্র এই, তোমাদের প্রত্যেক জন যেন একই রকম যত্ন দেখায়, যাতে তোমাদের প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করে;
12 যাতে তোমরা শিথিল না হও, কিন্তু যারা ঈমান ও ধৈর্য দ্বারা প্রতিজ্ঞাগুলোর উত্তরাধিকারী, তাদের অনুকারী হও।
13
কেননা আল্লাহ্ যখন ইব্রাহিমের কাছে ওয়াদা করলেন, তখন মহত্তর কোন ব্যক্তির নামে শপথ করতে না পারাতে নিজের নামেই শপথ করলেন, বললেন,
14 “আমি অবশ্যই তোমাকে দোয়া করবো এবং তোমার অতিশয় বংশ বৃদ্ধি করব।”
15 আর এভাবে তিনি অটলভাবে ধৈর্য ধরে প্রতিজ্ঞা লাভ করলেন।
16 মানুষ তো নিজের চেয়ে মহত্তর কোন ব্যক্তির নাম নিয়ে শপথ করে এবং সেই শপথ এই নিশ্চয়তা দেয় যে, তা সত্যি আর এতে সমস্ত বাদ-প্রতিবাদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।
17 একইভাবে, আল্লাহ্ যখন প্রতিশ্রুত উত্তরাধিকারীদেরকে নিজের অপরিবর্তনীয় উদ্দেশ্য অধিকতর সপষ্টভাবে দেখাবার বাসনা করলেন এবং শপথের দ্বারা তা দৃঢ় করলেন।
18 আল্লাহ্ এরকম করলেন যেন এমন দু’টি অপরিবর্তনীয় ব্যাপার, যে ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলা আল্লাহ্র পক্ষে অসম্ভব, তা দ্বারা আমরা যারা আশ্রয় পাবার জন্য পালিয়ে গিয়েছি— সেই আমাদের সম্মুখে যে প্রত্যাশা আছে তা অবলম্বন করার জন্য প্রচুর উৎসাহ লাভ করি।
19 আমাদের সেই প্রত্যাশা আছে, তা প্রাণের নোঙ্গর-স্বরূপ, অটল ও দৃঢ় এবং তা মহা-পবিত্র স্থানের পর্দার ভিতর পর্যন্ত পৌঁছায়।
20 আর সেই স্থানে আমাদের জন্য অগ্রগামী হয়ে ঈসা প্রবেশ করেছেন, মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুযায়ী অনন্তকালীন মহা-ইমাম হয়েছেন।
1
এই “শালেমের বাদশাহ্ মাল্কীসিদ্দিক, সর্বশক্তিমান আল্লহ্র ইমাম, যিনি, ইব্রাহিম যখন বাদশাহ্দের হারিয়ে দিয়ে ফিরে আসলেন, তিনি তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ও তাঁকে দোয়া করলেন”,
2 এবং ইব্রাহিম তাঁকে “সমস্ত জিনিসের দশ ভাগের এক ভাগ” দিলেন। প্রথমে তাঁর নামের তাৎপর্য হল, তিনি “ধার্মিকতার বাদশাহ্”, পরে “শালেমের বাদশাহ্”, অর্থাৎ “শান্তির বাদশাহ্”;
3 তাঁর পিতা নেই, মাতা নেই, বংশ-তালিকাও নেই, আয়ুর আদি বা জীবনের অন্ত নেই; কিন্তু তিনি আল্লাহ্র পুত্রের মত; তিনি চিরকালের ইমাম।
4
বিবেচনা করে দেখ, তিনি কেমন মহান, যাঁকে সেই পিতৃকুলপতি ইব্রাহিম উত্তম উত্তম লুটদ্রব্য নিয়ে দশ ভাগের এক ভাগ দান করেছিলেন।
5 আর লেবীর সন্তানদের মধ্যে যারা ইমামত্ব লাভ করে, তারা শরীয়ত অনুসারে লোকদের কাছ থেকে অর্থাৎ নিজের ভাইদের কাছ থেকে দশ ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করার বিধি পেয়েছে, যদিও তারা ইব্রাহিমের বংশ থেকে উৎপন্ন হয়েছে;
6 কিন্তু এই মাল্কীসিদ্দিক তাদের বংশের না হয়েও ইব্রাহিমের কাছ থেকে দশ ভাগের এক ভাগ নিয়েছিলেন এবং প্রতিজ্ঞাগুলোর সেই অধিকারী ইব্রাহিমকে দোয়া করেছিলেন।
7 এতে কোন সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, নিম্নতম ব্যক্তি উচ্চতম ব্যক্তি কর্তৃক দোয়া লাভ করে।
8 আবার একদিকে দেখা যায়, মরণশীল মানুষ দ্বারাই দশ ভাগের এক ভাগ আদায় করা হয়, কিন্তু অন্য দিকে দেখা যায়, তিনি দশ ভাগের এক ভাগ আদায় করেছেন, যাঁর বিষয়ে এমন সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে যে, তিনি নিত্যজীবী।
9 আবার এই কথাও বলা যেতে পারে যে, ইব্রাহিমের দ্বারা দশমাংশ আদায়কারী লেবি নিজেও দশ ভাগের এক ভাগ দিয়েছেন,
10 কারণ যখন মাল্কীসিদ্দিক ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন লেবি তাঁর এই পিতৃপুরুষের দেহের মধ্যে ছিলেন।
11
অতএব যদি লেবীয় ইমামত্ব দ্বারা পূর্ণতা পেতে পারতো— সেই ইমামতির অধীনেই তো লোকেরা শরীয়ত পেয়েছিল— তবে আবার কি প্রয়োজন ছিল যে, মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে অন্য আর এক জন ইমাম উৎপন্ন হবেন এবং তাঁকে হারুনের রীতি অনুয়াযী বলে ধরা হবে না?
12 এটা আবশ্যক যে, ইমামত্ব যখন পরিবর্তিত হয় তখন শরীয়তেরও পরিবর্তন হয়।
13 এসব কথা যাঁর উদ্দেশ্যে বলা যায়, তিনি তো অন্য এক বংশভুক্ত; সেই বংশের কেউ কখনও কোরবানগাহের সেবাকর্মের দায়িত্ব পালন করেন নি।
14 ফলত এটি সুস্পষ্ট যে, আমাদের প্রভু এহুদা বংশ থেকে এসেছেন; কিন্তু সেই বংশের ইমামত্বের বিষয়ে মূসা কিছুই বলেন নি।
15
আমাদের কথা আরও সুস্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়, যখন মাল্কীসিদ্দিকের সাদৃশ্য অনুযায়ী আর এক জন ইমাম উৎপন্ন হন,
16 যিনি মানবীয় বংশের নিয়ম অনুযায়ী হন নি, কিন্তু অবিনশ্বর জীবনের শক্তি অনুযায়ী হয়েছেন।
17 কেননা তাঁর বিষয়ে এই সাক্ষ্য রয়েছে,
মাল্কীসিদ্দিকের রীতি অনুসারে অনন্তকালীন ইমাম।”
18
কারণ এক দিকে আগের নিয়ম দুর্বল ও নিষ্ফল ছিল বলে তার লোপ হচ্ছে—
19 কেননা শরীয়ত কোন কিছুকেই পূর্ণতা দান করে নি— অন্য দিকে এমন এক শ্রেষ্ঠ প্রত্যাশা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হই।
20
উপরন্তু, শপথের মধ্য দিয়েই তা স্থির করা হয়েছে। লেবীর বংশধরেরা তো বিনা শপথে ইমাম হয়ে আসছে;
21 কিন্তু ইনি শপথ সহকারে তাঁরই দ্বারা নিযুক্ত, যিনি তাঁর বিষয়ে বললেন,
“প্রভু এই শপথ করলেন,
আর তিনি অনুশোচনা করবেন না,
তুমিই অনন্তকালীন ইমাম।”
22
অতএব এই শপথের কারণে ঈসা আরও উৎকৃষ্টতর নিয়মের জামিন হয়েছেন।
23
আর লেবীয়রা সংখ্যায় অনেকে ইমাম হয়ে আসছে, কারণ মৃত্যু তাদেরকে চিরকাল থাকতে দেয় না।
24 কিন্তু তিনি ‘অনন্তকাল’ থাকেন, তাই তাঁর ইমামত্ব অপরিবর্তনীয়।
25 এজন্য, যারা তাঁর মধ্য দিয়ে আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হয়, তাদেরকে তিনি সমপূর্ণ-ভাবে নাজাত করতে পারেন, কারণ তাদের জন্য অনুরোধ করার জন্য তিনি সব সময় জীবিত আছেন।
26
বস্তুত আমাদের জন্য এমন এক মহা-ইমাম উপযুক্ত ছিলেন, যিনি পবিত্র, নির্দোষ, নিষ্কলুষ, গুনাহ্গারদের থেকে পৃথক্কৃত এবং আল্লাহ্ তাঁকেই বেহেশতগুলোর চেয়েও উপরে তুলেছেন।
27 ঐ মহা-ইমামদের মত প্রতিদিন প্রথমে নিজের গুনাহ্র, পরে লোকদের গুনাহ্র জন্য নৈবেদ্য কোরবানী করা তাঁর দরকার ছিল না, কারণ নিজেকে কোরবানী করে ইনি সেই কাজ একবারে সাধন করেছেন।
28 কেননা শরীয়ত যে মহা-ইমামদেরকে নিযুক্ত করে, তারা দুর্বলতা-বিশিষ্ট মানুষ; কিন্তু শরীয়তের পরবর্তী ঐ শপথের কালাম যাঁকে নিযুক্ত করে, তিনি অনন্তকালের জন্য পূর্ণতাপ্রাপ্ত পুত্র।
1
এ সব কথার সার এই, আমাদের এমন এক মহা-ইমাম আছেন, যিনি বেহেশতে, মহিমা-সিংহাসনের ডান পাশে, উপবিষ্ট হয়েছেন।
2 তিনি পবিত্র স্থানের এবং যে তাঁবু মানুষ কর্তৃক নয়, কিন্তু প্রভু কর্তৃক স্থাপিত হয়েছে সেই প্রকৃত তাঁবুর সেবক।
3 প্রত্যেক মহা-ইমাম উপহার উৎসর্গ ও পশু-কোরবানী করতে নিযুক্ত হন, তাই তাঁরও কোরবানী করার জন্য কিছু থাকা আবশ্যক।
4 বস্তুত তিনি যদি দুনিয়াতে থাকতেন তবে ইমামই হতে পারতেন না; কারণ এখানে শরীয়ত অনুসারে উপহারাদি কোরবানী করার ইমাম আছেন।
5 তারা পবিত্র স্থানে যে এবাদত করে তা বেহেশতী বিষয়ের দৃষ্টান্ত ও ছায়া মাত্র, যেমন মূসা যখন এবাদত-তাঁবুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন এই হুকুম পেয়েছিলেন, আল্লাহ্ বলেন, “দেখ, পর্বতে তোমাকে যে আদর্শ দেখান হল, তেমনি সমস্ত কিছু কোরো।”
6 কিন্তু এখন ঈসা এই ইমামদের চেয়ে উৎকৃষ্টতর এক পরিচর্যা কাজ পেয়েছেন এবং পুরানো নিয়মের চেয়ে এমন এক শ্রেষ্ঠ নিয়মের মধ্যস্থ হয়েছেন, যা শ্রেষ্ঠ প্রতিজ্ঞাগুলোর উপরে স্থাপিত হয়েছে।
7 কারণ ঐ প্রথম নিয়ম যদি নিখুঁত হত, তবে দ্বিতীয় এক নিয়মের প্রয়োজন হত না।
8
বাস্তবিক আল্লাহ্ লোকদেরকে দোষ দিয়ে বলেন,
“প্রভু বলেন, দেখ, এমন সময় আসছে,
যখন আমি ইসরাইল-কুলের সঙ্গে ও
এহুদাকুলের সঙ্গে
এক নতুন নিয়ম সম্পন্ন করবো,
9
সেই নিয়ম অনুসারে নয়,
যা আমি সেদিন তাদের পূর্বপুরুষদের
সঙ্গে করেছিলাম,
যেদিন মিসর দেশ থেকে
তাদেরকে বের করে আনবার জন্য
তাদের হাত ধরেছিলাম;
কেননা তারা আমার নিয়মে স্থির
রইলো না,
আর আমিও তাদের প্রতি অবহেলা
করলাম,
প্রভু এই কথা বলেন।
10
কিন্তু সেই কালের পর আমি
ইসরাইল-কুলের সঙ্গে
এই নিয়ম স্থির করবো, এই কথা প্রভু
বলেন;
আমি তাদের মনের মধ্যে আমার
শরীয়ত রাখব,
আর তাদের হৃদয়ে তা লিখব
এবং আমি তাদের আল্লাহ্ হব,
ও তারা আমার লোক হবে।
11
আর তারা প্রত্যেকে নিজের
প্রতিবেশীকে
এবং নিজের ভাইকে এই বলে শিক্ষা
দেবে না যে,
‘তুমি প্রভুকে জান’;
কারণ তারা ক্ষুদ্র ও মহান সকলেই
আমাকে জানবে।
12
কেননা আমি তাদের অপরাধগুলো
মাফ করবো
এবং তাদের গুনাহ্ আর কখনও স্মরণে
আনবো না।”
13
‘নতুন’ বলাতে তিনি প্রথমটি পুরানো করেছেন; কিন্তু যা পুরানো ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা অদৃশ্য হয়ে যাবে।
1
ভাল, ঐ প্রথম নিয়ম অনুসারেও এবাদতের জন্য নানা রকম ধর্মীয় নিয়ম এবং দুনিয়াবী একটি পবিত্র স্থান ছিল।
2 কারণ একটি তাঁবু নির্মিত হয়েছিল, সেটির প্রথম ভাগে প্রদীপ-আসন, টেবিল ও দর্শন-রুটির শ্রেণী ছিল, এর নাম পবিত্র স্থান।
3 আর দ্বিতীয় ভাগে পর্দার পিছনে তাঁবুর আর একটা অংশ ছিল যার নাম মহা-পবিত্র স্থান,
4 সেখানে সোনার ধূপগাহ্ ও সমস্ত দিক দিয়ে সোনায় মোড়ানো শরীয়ত-সিন্দুক ছিল; ঐ সিন্দুকে ছিল সোনার পাত্রে রাখা মান্না ও হারুনের যে লাঠিতে ফুল ফুটেছিল সেই লাঠি ও শরীয়তের দু’টি পাথর-ফলক,
5 এবং তার উপরে মহিমার সেই দু’টি কারুবী ছিল, যাদের ডানা দিয়ে গুনাহ্ আবরণটি ঢেকে রাখত। অবশ্য এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া এখন নিষ্প্রয়োজন।
6
এভাবে সমস্ত বস্তু প্রস্তুত হলে পর, ইমামেরা এবাদতের কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রতি দিন তাঁবুর এই প্রথম অংশে প্রবেশ করতেন;
7 কিন্তু তাঁবুর দ্বিতীয় অংশে বছরের মধ্যে এক বার মহা-ইমাম একাকী প্রবেশ করতেন; তিনি আবার রক্ত ছাড়া প্রবেশ করতেন না, সেই রক্ত তিনি নিজের জন্য ও লোকেরা না জেনে যে সব গুনাহ্ করেছে তার জন্য কোরবানী করতেন।
8 এতে পাক-রূহ্ যা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছেন তা এই, সেই প্রথম তাঁবু যতদিন স্থাপিত থাকে ততদিন পবিত্র স্থানে প্রবেশের পথ খোলা থাকবে না।
9 সেই তাঁবু এই উপস্থিত সময়ের জন্য দৃষ্টান্ত; সেই দৃষ্টান্ত অনুসারে এমন উপহার ও কোরবানী করা হয়, যা এবাদতকারীর বিবেককে পরিষ্কার করতে পারে না;
10 সেই সমস্ত কিছু খাদ্য, পানীয় ও নানা রকম বাপ্তিস্মের বিষয়ে যা কেবল দেহ সম্বন্ধীয় ধর্মীয় নিয়ম মাত্র। এগুলো সংশোধনের সময় আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা ছিল।
11
কিন্তু মসীহ্ আগত উত্তম উত্তম বিষয়ের মহা-ইমাম হিসেবে উপস্থিত হয়ে, যে তাঁবু মহত্তর ও উৎকৃষ্টতর, যা মানুষের হাতের তৈরি নয়, অর্থাৎ এই সৃষ্টির অসম্পর্কীয়, সেই তাঁবু দিয়ে—
12 ছাগল ও বাছুরের রক্তের গুণে নয়, কিন্তু নিজের রক্তের গুণে— একবারে মহা-পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেছেন ও অনন্তকালীয় মুক্তি অর্জন করেছেন।
13 কারণ ছাগল ও ষাঁড়ের রক্ত এবং যারা নাপাক হত তাদের উপরে ছিটানো বক্না বাছুরের ভস্ম যদি দৈহিকভাবে তাদের পাক-সাফ করে থাকে,
14 তবে, যিনি অনন্তজীবী রূহ্ দ্বারা নির্দোষ কোরবানী হিসেবে নিজেকেই আল্লাহ্র উদ্দেশে কোরবানী করেছেন, সেই মসীহের রক্ত তোমাদের বিবেককে মৃত ক্রিয়াকলাপ থেকে নিশ্চয়ই কত না বেশি পাক-সাফ করবেন, যেন তোমরা জীবন্ত আল্লাহ্র এবাদত করতে পার।
15
আর এই কারণে তিনি এক নতুন নিয়মের মধ্যস্থ হয়েছেন, যেন প্রথম নিয়মের অধীনে যারা অপরাধ করেছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের তিনি সেই গুনাহ্ থেকে মুক্তি দিতে পারেন, আর যারা আহ্বান পেয়েছে তারা অনন্তকালীন উত্তরাধিকার বিষয়ক প্রতিজ্ঞার ফল লাভ করে।
16 কেননা যেখানে উইল থাকে, সেখানে যিনি উইল করেছেন তার মৃত্যু হওয়া আবশ্যক।
17 কারণ মৃত্যু হলেই উইল স্থির হয়, যেহেতু উইলকারী জীবিত থাকতে তা কখনও বলবৎ হয় না।
18
সেজন্য ঐ প্রথম নিয়মের সংস্কারও রক্ত ছাড়া হয় নি।
19 কারণ মূসার মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে শরীয়তের সমস্ত হুকুম দেওয়া শেষ হলে পর, তিনি পানি ও লাল রংয়ের ভেড়ার লোম ও এসোবের সঙ্গে বাছুর ও ছাগলের রক্ত নিয়ে কিতাবটিতে ও সমস্ত লোকদের শরীরে ছিটিয়ে দিলেন,
20 বললেন, “এটি সেই নিয়মের রক্ত, যে নিয়ম আল্লাহ্ তোমাদের উদ্দেশে হুকুম করলেন।”
21 আর তিনি তাঁবুতে ও সেবাকাজের সমস্ত সামগ্রীতেও সেভাবে রক্ত ছিটিয়ে দিলেন।
22 আর শরীয়ত অনুসারে প্রায় সমস্ত কিছুই রক্ত দ্বারা পাক-পবিত্র হয় এবং রক্তসেচন ছাড়া গুনাহের মাফ হয় না।
23
ভাল, যে সমস্ত জিনিস বেহেশতী বিষয়ের দৃষ্টান্ত, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঐ সমস্ত বিষয় দ্বারা পাক-পবিত্র হওয়া আবশ্যক ছিল; কিন্তু যে সমস্ত বিষয় স্বয়ং বেহেশতী, সেগুলোর তা থেকে শ্রেষ্ঠ কোরবানী দ্বারা পাক-পবিত্র হওয়া আবশ্যক।
24 কেননা মসীহ্ মানুষের হাতের তৈরি পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন নি— এ তো প্রকৃত বিষয়গুলোর প্রতিরূপ মাত্র— কিন্তু বেহেশতেই প্রবেশ করেছেন, যেন তিনি এখন আমাদের পক্ষে আল্লাহ্র সাক্ষাতে দাঁড়াতে পারেন।
25 আর মহা-ইমাম যেমন প্রতি বছর পরের রক্ত নিয়ে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন, তেমনি মসীহ্ যে অনেক বার নিজেকে কোরবানী করবেন তা নয়;
26 কেননা তা হলে দুনিয়া সৃষ্টির সময় থেকে অনেক বার তাঁকে মৃত্যু ভোগ করতে হত। কিন্তু বাস্তবিক তিনি এক বার, যুগের শেষ সময়ে, নিজেকে কোরবানী দিয়ে গুনাহ্ দূর করার জন্য প্রকাশিত হয়েছেন।
27 আর যেমন মানুষের জন্য এক বার মৃত্যু, তারপর বিচার নিরূপিত আছে,
28 তেমনি মসীহ্ও ‘অনেকের গুনাহ্র ভার তুলে নেবার’ জন্য একবারই কোরবানী হয়েছেন; তিনি দ্বিতীয় বার আসবেন, গুনাহ্ মাফের জন্য নয়, কিন্তু যারা আগ্রহ সহকারে তাঁর অপেক্ষা করে, তাদের নাজাতের জন্য আসবেন।
1
কারণ শরীয়ত আগামী উত্তম উত্তম বিষয়ের ছায়াবিশিষ্ট, তা সেই সমস্ত বিষয়ের অবিকল মূর্তি নয়; সুতরাং একই রকমভাবে যেসব বার্ষিক কোরবানী নিয়ত কোরবানী করা যায়, তার মধ্য দিয়ে যারা কাছে উপস্থিত হয়, তাদেরকে শরীয়ত কখনও সিদ্ধ করতে পারে না।
2 যদি পারতো, তবে ঐ কোরবানী কি শেষ হত না? কেননা এবাদতকারীরা একবার পাক-পবিত্র হলে তাদের কোন গুনাহ্-বিবেক আর থাকতো না।
3 কিন্তু ঐ সমস্ত কোরবানী দ্বারা প্রতি বছর পুনর্বার গুনাহ্ স্মরণ করা হয়।
4 কারণ ষাঁড়ের বা ছাগলের রক্ত যে গুনাহ্ দূর করে দেবে তা হতেই পারে না।
5 এই কারণ মসীহ্ দুনিয়াতে আসবার সময়ে বলেন,
“তুমি কোরবানী ও নৈবেদ্য চাও নি,
কিন্তু আমার জন্য একটি দেহ প্রস্তুত
করেছ;
6
পোড়ানো কোরবানী ও গুনাহ্-
কোরবানীতে তুমি প্রীত হও নি।
7
তখন আমি বললাম, দেখ, আমি
এসেছি,
পাক-কিতাবে আমার বিষয় লেখা আছে—
হে আল্লাহ্, যেন তোমার ইচ্ছা পালন
করি।”
8
উপরে তিনি বলেন, “কোরবানী, নৈবেদ্য, পোড়ানো-কোরবানী ও গুনাহ্-কোরবানী তুমি চাও নি এবং তাতে প্রীতও হও নি”—
9 এসব শরীয়ত অনুসারে কোরবানী করা হয়— তারপর তিনি বললেন, “দেখ, তোমার ইচ্ছা পালন করার জন্য এসেছি।” তিনি প্রথম বিষয় লোপ করছেন, যেন দ্বিতীয় বিষয় স্থির করেন।
10 সেই ইচ্ছাক্রমে, ঈসা মসীহের দেহ একবার কোরবানী করার মধ্য দিয়ে আমাদের পবিত্র করা হয়েছে।
11
আর প্রত্যেক ইমাম প্রতিদিন সেবাকর্ম করার এবং একই রকম নানা কোরবানী বার বার দেবার জন্য দাঁড়ায়; সেসব কোরবানী কখনও গুনাহ্ দূর করতে পারে না।
12 কিন্তু ইনি গুনাহ্র জন্য একই কোরবানী চিরকালের জন্য কোরবানী করে আল্লাহ্র ডানে উপবিষ্ট হলেন,
13 যে পর্যন্ত তাঁর দুশমনদেরকে তাঁর পায়ের তলায় রাখা না হয়, সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
14 কারণ যারা পবিত্রীকৃত হয়, তাদেরকে তিনি একই নৈবেদ্য দ্বারা চিরকালের জন্য সিদ্ধ করেছেন।
15 আর পবিত্র রূহ্ও আমাদের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, কারণ আগে তিনি বলেন,
“সেই কালের পর, প্রভু বলেন,
16
আমি তাদের সঙ্গে এই নিয়ম স্থির
করবো,
আমি তাদের অন্তরে আমার শরীয়ত দেব,
আর তাদের হৃদয়ে তা লিখব,”
17
তারপর তিনি বলেন,
“এবং তাদের গুনাহ্ ও অধর্মগুলো
আর কখনও স্মরণে আনবো না।”
18
তাই, যে স্থলে এই সকল মাফ করা হয়, সেই স্থলে গুনাহ্র জন্য নৈবেদ্য বলে আর কিছু নেই।
19
অতএব, হে ভাইয়েরা, ঈসা আমাদের জন্য যে ‘পর্দা’ দিয়ে অর্থাৎ আপন দেহের মধ্য দিয়ে, যে জীবন্ত পথ খুলে দিয়েছেন,
20 আমরা সেই নতুন ও জীবন্ত পথে, ঈসার রক্তের গুণে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে সাহস পেয়েছি;
21 এবং আল্লাহ্র গৃহের উপরে নিযুক্ত মহান এক ইমামও আমাদের আছেন;
22 এজন্য এসো, আমরা খাঁটি অন্তরে বিশ্বাসের পূর্ণ নিশ্চয়তায় আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হই; আমাদের অন্তরকে তো রক্ত ছিটিয়ে মন্দ থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে আমাদের শরীরকে ধোয়া হয়েছে;
23 এসো, আমাদের প্রত্যাশার অঙ্গীকার অটল করে ধরি, কেননা যিনি ওয়াদা করেছেন, তিনি বিশ্বস্ত;
24 এবং এসো, আমরা পরস্পরের প্রতি মনোযোগ করি, যেন মহব্বত ও সৎকর্মের সম্বন্ধে পরস্পরকে উদ্দীপিত করে তুলতে পারি;
25 এবং যেমন কারো কারো অভ্যাস আছে তেমনি নিজেরা সভায় এক সঙ্গে মিলিত হওয়া বাদ না দিই— বরং পরস্পরকে চেতনা দিই; আর তোমরা মসীহের দিন যত বেশি সন্নিকট হতে দেখছো, ততই যেন বেশি এই বিষয়ে তৎপর হই।
26
কারণ সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পেলে পর যদি আমরা স্বেচ্ছাপূর্বক গুনাহ্ করি, তবে গুনাহ্র জন্য আর কোন কোরবানী অবশিষ্ট থাকে না,
27 কেবল থাকে বিচারের ভয়ঙ্কর প্রতীক্ষা এবং বিপক্ষদেরকে গ্রাস করতে উদ্যত আগুনের প্রচণ্ডতা।
28 কেউ মূসার শরীয়ত অমান্য করলে তাকে দুই বা তিন জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ফলে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়;
29 ভেবে দেখ, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পুত্রকে পদতলে দলিত করেছে এবং নিয়মের যে রক্ত দ্বারা সে পবিত্র হয়েছিল, তা অপবিত্র জ্ঞান করেছে এবং রহমতের রূহের অপমান করেছে, সে কত না বেশি নিশ্চয় ঘোরতর দণ্ডের যোগ্য হবে!
30 কেননা এই কথা যিনি বলেছেন, তাঁকে আমরা জানি, “প্রতিশোধ দেওয়া আমারই কাজ, আমিই প্রতিফল দেব;” আবার, “প্রভু তাঁর লোকবৃন্দের বিচার করবেন।”
31 জীবন্ত আল্লাহ্র হাতে পড়া কি ভয়ানক বিষয়!
32
তোমরা বরং আগের সেই বিষয় স্মরণ কর, যখন তোমরা আলো পেয়ে নানা দুঃখভোগরূপ ভারী সংগ্রাম সহ্য করেছিলে,
33 একে তো তিরস্কারে ও কষ্ট ভোগে কৌতুকাস্পদ হয়েছিলে, তাতে আবার সেই রকম দুর্দশাপন্ন লোকদের সহভাগী হয়েছিলে।
34 কেননা তোমরা বন্দীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলে এবং নিজ নিজ সম্পত্তির লুট হয়ে যাওয়াকে আনন্দের সঙ্গেই মেনে নিয়েছিলে, কারণ তোমরা জানতে, তোমাদের আরও উত্তম সম্পত্তি আছে, আর তা চিরস্থায়ী।
35 অতএব তোমাদের সেই সাহস ত্যাগ করো না, যা মহা পুরস্কারযুক্ত।
36 কেননা তোমাদের ধৈর্য ধরা প্রয়োজন আছে, যেন আল্লাহ্র ইচ্ছা পালন করে প্রতিজ্ঞার ফল লাভ কর।
37 কারণ
“আর অতি অল্পকাল বাকি আছে,
যিনি আসছেন, তিনি আসবেন,
বিলম্ব করবেন না।
38
কিন্তু আমার ধার্মিক ব্যক্তি ঈমানের
মধ্য দিয়েই বাঁচবে,
আর যদি সরে পড়ে,
তবে আমার প্রাণ তাতে প্রীত হবে না।”
39
কিন্তু আমরা বিনাশের জন্য সরে পড়বার লোক নই, বরং প্রাণ-রক্ষার জন্য ঈমানের লোক।
1
আর ঈমান হল প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।
2 কারণ এই সম্বন্ধেই প্রাচীনদের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল।
3 ঈমান আনার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে, এই আসমান-জমিন আল্লাহ্র কালাম দ্বারা রচিত হয়েছে, সুতরাং কোন প্রত্যক্ষ বস্তু থেকে এসব দৃশ্য বস্তুর উৎপত্তি হয় নি।
4
ঈমানে হাবিল আল্লাহ্র উদ্দেশে কাবিলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোরবানী করলেন। এর দ্বারা তাঁর পক্ষে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি ধার্মিক; আল্লাহ্ তাঁর উপহারের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন; এবং তিনি ইন্তেকাল করলেও তাঁর মধ্য দিয়ে এখনও কথা বলছেন।
5 ঈমানের জন্যই হনোক লোকান্তরে নীত হলেন, যেন মৃত্যু না দেখতে পান; তাঁর উদ্দেশ আর পাওয়া গেল না, কেননা আল্লাহ্ তাঁকে নিয়ে গেলেন। বস্তুত তাঁকে নিয়ে যাবার আগে তাঁর পক্ষে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি আল্লাহ্র প্রীতির পাত্র ছিলেন।
6 কিন্তু ঈমান ছাড়া প্রীতির পাত্র হওয়া কারো সাধ্য নয়; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হয়, তার এটি বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, আল্লাহ্ আছেন এবং যারা তাঁর খোঁজ করে, তিনি তাদের পুরস্কারদাতা।
7 ঈমানের জন্যই নূহ্, যা যা তখন দেখা যাচ্ছিল না, এমন বিষয়ে হুকুম পেয়ে ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হয়ে আপন পরিবারের রক্ষার জন্য একটি জাহাজ নির্মাণ করলেন এবং দুনিয়াকে তা দ্বারা দোষী করলেন ও নিজে ঈমান অনুরূপ ধার্মিকতার অধিকারী হলেন।
8
ঈমানের জন্যই ইব্রাহিম, যখন আহ্বান পেলেন তখন যে স্থান অধিকার হিসেবে লাভ করবেন, সেই স্থানে যাবার হুকুম মান্য করলেন এবং কোথায় যাচ্ছেন তা না জেনে যাত্রা করলেন।
9 ঈমানের জন্যই তিনি বিদেশের মত প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবাসী হলেন, তিনি সেই প্রতিজ্ঞার সহাধিকারী ইস্হাক ও ইয়াকুবের সঙ্গে তাঁবুতেই বাস করতেন;
10 কারণ তিনি ভিত্তিমূল বিশিষ্ট সেই নগরের অপেক্ষা করছিলেন, যার স্থাপনকর্তা ও নির্মাতা আল্লাহ্।
11 ঈমানের জন্যই স্বয়ং সারাও বংশ উৎপাদনের শক্তি পেলেন, যদিও তাঁর অতিরিক্ত বয়স হয়েছিল, কেননা যিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তাঁকে তিনি বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞান করেছিলেন।
12 এজন্য এক ব্যক্তি থেকে, এমন কি মৃতকল্প ব্যক্তি থেকে, এত লোক উৎপন্ন হল, যারা সংখ্যায় আসমানের তারাগুলোর মত অসংখ্য এবং সাগর পারের গণনাতীত বালুকণার মত অসংখ্য।
13
এঁরা সকলে ঈমানের মধ্যে জীবন কাটিয়ে ইন্তেকাল করেছেন; এঁরা প্রতিজ্ঞাগুলোর ফল পান নি, কিন্তু দূর থেকে তা দেখতে পেয়ে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছিলেন এবং নিজেরা যে দুনিয়াতে বিদেশী ও প্রবাসী তা স্বীকার করেছিলেন।
14 কারণ যাঁরা এভাবে কথা বলেন, তাঁরা এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা নিজেদের জন্য একটি দেশের খোঁজ করছেন।
15 আর যে দেশ থেকে বের হয়েছিলেন, সেই দেশ যদি মনে রাখতেন, তবে ফিরে যাবার সুযোগ অবশ্য পেতেন।
16 কিন্তু এখন তাঁরা আরও উত্তম দেশের, অর্থাৎ বেহেশতী দেশের, আকাঙক্ষা করছেন। এজন্য আল্লাহ্ নিজেকে তাঁদের আল্লাহ্ বলতে লজ্জিত নন; কারণ তিনি তাঁদের জন্য একটি নগর প্রস্তুত করেছেন।
17
ঈমানের জন্যই ইব্রাহিম পরীক্ষিত হয়ে ইস্হাককে কোরবানী করেছিলেন; এমন কি, যিনি ওয়াদাগুলো সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি নিজের সেই একজাত পুত্রকে কোরবানী করছিলেন,
18 যাঁর বিষয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, “ইস্হাকের বংশই তোমার বংশ বলে আখ্যাত হবে”;
19 তিনি মনে স্থির করেছিলেন, আল্লাহ্ মৃতদের মধ্য থেকেও উত্থাপন করতে সমর্থ; আবার তিনি সেখান থেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তাঁকে ফিরে পেলেন।
20 ঈমানের জন্যই ইস্হাক আগামী বিষয়ের উদ্দেশেও ইয়াকুবকে ও ইস্কে দোয়া করলেন।
21 ঈমানের জন্যই ইয়াকুব মৃত্যুকালে ইউসুফের উভয় পুত্রকে দোয়া করলেন এবং তাঁর লাঠির অগ্রভাগে ভর করে আল্লাহ্র এবাদত করলেন।
22 ঈমানের জন্যই ইউসুফ মৃত্যুকালে বনি-ইসরাইলদের প্রস্থানের বিষয়ে উল্লেখ করলেন এবং তাঁর মৃতদেহের বিষয়ে হুকুম দিলেন।
23
ঈমানের জন্যই মূসা জন্ম নিলে পর, তিন মাস পর্যন্ত তাঁর পিতা-মাতা গোপনে প্রতিপালন করলেন, কেননা তাঁরা দেখলেন শিশুটি সুন্দর; আর বাদশাহ্র হুকুমকে ভয় করলেন না।
24 ঈমানের জন্যই মূসা বড় হবার পর ফেরাউনের কন্যার পুত্র বলে আখ্যাত হতে অস্বীকার করলেন;
25 তিনি গুনাহের অস্থায়ী সুখভোগের চেয়ে বরং আল্লাহ্র লোকদের সঙ্গে দুঃখভোগ মনোনীত করলেন;
26 তিনি মিসরের সমস্ত ধনের চেয়ে মসীহের দুর্নাম মহাধন জ্ঞান করলেন, কেননা তিনি পুরস্কারদানের প্রতি দৃষ্টি রাখতেন।
27 ঈমানের জন্যই তিনি মিসর ত্যাগ করলেন, বাদশাহ্র রাগকে ভয় করেন নি, কারণ যিনি অদৃশ্য তাঁকে যেন দেখেই স্থির থাকলেন।
28 ঈমানের জন্যই তিনি ঈদুল ফেসাখ ও রক্ত ছিটাবার নিয়ম পালন করেছিলেন, যেন প্রথমজাতদের সংহারকর্তা তাদেরকে স্পর্শ না করেন।
29
ঈমানের জন্যই লোকেরা শুকনো ভূমির মত লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে গমন করলো, কিন্তু মিসরীয়রা সেই চেষ্টা করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মরলো।
30 ঈমানের জন্যই জেরিকোর প্রাচীর সাত দিন প্রদক্ষিণ করা হলে পর তা পড়ে গেল।
31 ঈমানের জন্যই পতিতা রাহব শান্তির সঙ্গে গুপ্তচরদের অভ্যর্থনা করাতে, অবাধ্যদের সঙ্গে বিনষ্ট হল না।
32
আর বেশি কি বলবো? গিদিয়োন, বারক, শামাউন, যিপ্তহ এবং দাউদ ও শামুয়েল ও নবীদের কথা বলতে গেলে সময়ের অকুলান হবে।
33 ঈমান দ্বারা এঁরা নানা রাজ্য পরাজিত করলেন, ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করলেন, নানা প্রতিজ্ঞার ফল লাভ করলেন, সিংহদের মুখ বন্ধ করলেন,
34 আগুনের তেজ নিভিয়ে ফেললেন, তলোয়ারের মুখ এড়ালেন, দুর্বলতা থেকে শক্তি লাভ করলেন, যুদ্ধে বিক্রমশালী হলেন, বিজাতীয়দের সৈন্যশ্রেণী তাড়িয়ে দিলেন।
35 নারীরা নিজ নিজ মৃত লোককে পুনরুত্থান দ্বারা ফিরে পেয়েছিলেন; অন্যেরা প্রহার দ্বারা নিহত হলেন, মুক্তি গ্রহণ করেন নি, যেন শ্রেষ্ঠ পুনরুত্থানের ভাগী হতে পারেন।
36 আর অন্যেরা বিদ্রূপের ও কশাঘাতের, এমন কি, বন্ধনের ও কারাগারের পরীক্ষা ভোগ করলেন;
37 তাঁরা প্রস্তরাঘাতে হত, পরীক্ষিত, করাত দ্বারা বিদীর্ণ, তলোয়ার দ্বারা নিহত হলেন; তাঁরা ভেড়ার ও ছাগলের চামড়া পরে ঘুরে বেড়াতেন, দীনহীন, ক্লিষ্ট, নির্যাতিত হতেন;
38 এই দুনিয়া যাঁদের যোগ্য ছিল না, তারা মরুভূমিতে মরু-ভূমিতে, পাহাড়ে পাহাড়ে, গুহায় গুহায় ও দুনিয়ার গহ্বরে গহ্বরে ঘুরে বেড়াতেন।
39 আর ঈমানের জন্যই এঁদের সকলের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এঁরা প্রতিজ্ঞার ফল পান নি;
40 কেননা আল্লাহ্ আমাদের জন্য আরও কোন শ্রেষ্ঠ বিষয় ঠিক করে রেখেছিলেন, যেন তাঁরা আমাদের ছাড়া পূর্ণতা না পান।
1
অতএব এমন বড় সাক্ষীমেঘে বেষ্টিত হওয়াতে এসো, আমরাও সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক গুনাহ্ ফেলে দিয়ে আমাদের সম্মুখের দৌড় প্রতিযোগিতায় ধৈর্যপূর্বক দৌড়াই;
2 ঈমানের আদিকর্তা ও সিদ্ধিকর্তা ঈসার প্রতি দৃষ্টি রাখি; তিনিই তাঁর সম্মুখস্থ আনন্দের জন্য ক্রুশীয় মৃত্যু সহ্য করলেন, অপমান তুচ্ছ করলেন এবং আল্লাহ্র সিংহাসনের ডান পাশে উপবিষ্ট হয়েছেন।
3
তাঁর বিষয়েই আলোচনা কর, যিনি নিজের বিরুদ্ধে গুনাহ্গারদের এত বড় শত্রুতা সহ্য করেছিলেন, যেন তোমরা প্রাণের ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে না পড়।
4 তোমরা গুনাহ্র সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে এখনও পর্যন্ত এমন প্রতিরোধ কর নি, যাতে তোমাদের রক্তপাত হতে পারে।
5
আল্লাহ্ তাঁর সন্তান হিসেবে তোমাদের সঙ্গে যে কথাবার্তা বলেছেন তোমরা সেই উৎসাহের কালাম ভুলে গেছ, তিনি বলেছেন,
“হে আমার পুত্র, প্রভুর শাসন তুচ্ছ
করো না,
তিনি অনুযোগ করলে ক্লান্ত হয়ো না।
6
কেননা প্রভু যাকে মহব্বত করেন,
তাকেই শাসন করেন,
সন্তান হিসেবে যাকে গ্রহণ করেন,
তাকেই শাস্তি দেন।”
7
শাসনের জন্যই তোমরা সহ্য করছো; যেমন সন্তানদের প্রতি, তেমনি আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি ব্যবহার করছেন; কেননা পিতা যাকে শাসন না করেন, এমন সন্তান কোথায়?
8 প্রত্যেক সন্তানকে যেমন শাসন করা হয় তেমনি তোমাদের যদি শাসন করা না হয় তবে তো তোমরা জারজ সন্তান, সত্যিকারের সন্তান নও।
9
আবার আমাদের দুনিয়াবী পিতারা আমাদের শাসনকারী ছিলেন এবং আমরা তাঁদেরকে সম্মান করতাম; তবে যিনি রূহ্ সকলের পিতা, আমরা কি অনেক গুণ বেশি পরিমাণে তাঁর অধীনতা স্বীকার করে জীবন ধারণ করবো না?
10 পিতারা তো অল্প দিনের জন্য, তাঁরা যা ভাল মনে করতেন তেমনি শাসন করতেন, কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের মঙ্গলের জন্যই শাসন করছেন যেন আমরা তাঁর পবিত্রতার ভাগী হই।
11 কোন শাসনই আপাতত আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না, কিন্তু দুঃখের বিষয় বলে মনে হয়; তবুও শাসনের মধ্য দিয়ে যাদের অভ্যাস জন্মেছে, তা পরে তাদেরকে ধার্মিকতার শান্তিযুক্ত ফল দান করে।
12
অতএব তোমাদের শিথিল হাত ও অবশ হাঁটু সবল কর;
13 এবং নিজ নিজ চরণের জন্য সরল পথ প্রস্তুত কর, যেন যারা খঞ্জ তাদের অবস্থা আরও খারাপ না হয়, বরং সুস্থ হয়।
14
সকলের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে কঠোরভাবে চেষ্টা কর এবং যা ছাড়া কেউই প্রভুর দর্শন পাবে না সেই পবিত্রতার জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা কর;
15 দেখো, কেউ যেন আল্লাহ্র রহমত থেকে বঞ্চিত না হয়; পাছে তিক্ততার কোন মূল অঙ্কুরিত হয়ে তোমাদেরকে উৎপীড়িত করে এবং এতে অধিকাংশ লোক নাপাক হয়;
16 পাছে কেউ জেনাকারী বা ধর্ম বিরূপক হয়, যেমন ইস্, সে তো এক বারের খাদ্যের জন্য নিজের জ্যেষ্ঠাধিকার বিক্রি করেছিল।
17 তোমরা তো জান, তারপর যখন সে দোয়ার অধিকারী হতে বাসনা করলো, তখন সজল নয়নে সযত্নে তার চেষ্টা করলেও তাঁকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল, কারণ সে মন পরিবর্তনের সুযোগ পেল না।
18
কারণ তোমরা স্পর্শ করা যায় এমন জ্বলন্ত আগুনের পর্বত, কালো রংয়ের মেঘ, অন্ধকার, ঝড়, তূরীর ধ্বনি,
19 ও কথা বলার আওয়াজের কাছে উপস্থিত হও নি। সেই আওয়াজ যারা শুনেছিল, তারা ফরিয়াদ করেছিল, যেন তাদের কাছে আর কথা বলা না হয়;
20 কারণ এই হুকুম তারা সহ্য করতে পারল না, “যদি কোন পশু পর্বত স্পর্শ করে, তবে তাকেও পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবে”;
21 এবং সেই দর্শন এমন ভয়ঙ্কর ছিল যে, মূসা বললেন, “আমি ভয়ে কাঁপছি”।
22 কিন্তু তোমরা এই সকলের কাছে উপস্থিত হয়েছ, যথা সিয়োন পর্বত, জীবন্ত আল্লাহ্র পুরী বেহেশতী জেরুশালেম, অযুত অযুত ফেরেশতা,
23 বেহেশতে লেখা প্রথমজাতদের সাধারণ সভা ও মণ্ডলী, সকলের বিচারকর্তা আল্লাহ্, সিদ্ধতায় উন্নীত ধার্মিকদের রূহ্,
24 নতুন নিয়মের মধ্যস্থ ঈসা এবং ছিটানো রক্ত, যা হাবিলের রক্ত থেকেও উত্তম কথা বলে।
25
দেখো, যিনি কথা বলেন, তাঁর কথা শুনতে অসম্মত হয়ো না; কারণ যিনি দুনিয়াতে সাবধানবাণী বলেছিলেন, তাঁর কথা শুনতে অসম্মত হওয়াতে যখন ঐ লোকেরা রক্ষা পায় নি, তখন যিনি বেহেশত থেকে আমাদের সাবধান করছেন, তাঁর কথা অগ্রাহ্য করলে আমরা যে রক্ষা পাব না, তা কত না নিশ্চিত!
26 সেই সময়ে তাঁর কণ্ঠস্বর দুনিয়াকে কাঁপিয়ে তুলেছিল; কিন্তু এখন তিনি এই ওয়াদা করেছেন,
“আমি আর একবার কেবল দুনিয়াকে
নয়,
আসমানকেও কাঁপিয়ে তুলবো।”
27
এখানে “আর এক বার,” এই শব্দ দু’টি দ্বারা নির্দেশ করা হচ্ছে, সেই কমপমান বিষয়গুলো সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তা দূরীকৃত হবে, যেন অকমপমান বিষয়গুলো স্থায়ী হয়।
28 অতএব অকমপনীয় রাজ্য পাবার অধিকারী হওয়াতে, এসো, আমরা আল্লাহ্র কাছে কৃতজ্ঞ হই, যা দ্বারা ভক্তি ও ভয় সহকারে আল্লাহ্র প্রীতিজনক এবাদত করতে পারি।
29 কেননা আমাদের আল্লাহ্ গ্রাসকারী আগুনের মত।
1
একে অন্যকে ভাইয়ের মত মহব্বত করতে স্থির থাক। তোমরা মেহমানদের সেবা করতে ভুলে যেও না।
2 কেননা কেউ কেউ না জেনে এভাবে ফেরেশতাদেরও মেহমানদারী করেছেন।
3 তোমাদের নিজেদের সহবন্দী জেনে বন্দীদের স্মরণ করো এবং যারা অত্যচারিত হচ্ছে তাদের সঙ্গে যেন তোমরাও অত্যাচারিত হচ্ছ, এভাবে তাদের স্মরণ করো।
4 সকলের মধ্যে বিয়ে আদরণীয় ও সেই বিছানা বিমল হোক; কেননা জেনাকারীদের ও পতিতাগামীদের বিচার আল্লাহ্ করবেন।
5 টাকা-পয়সাকে ভালবাসা থেকে নিজেদের দূরে রেখো; তোমাদের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাক; কারণ তিনিই বলেছেন, “আমি কোন-ক্রমে তোমাকে ছাড়বো না ও কোনক্রমে তোমাকে ত্যাগ করবো না।”
6 অতএব আমরা সাহসপূর্বক বলতে পারি, “প্রভু আমার সহায়, আমি ভয় করবো না; মানুষ আমার কি করতে পারে?”
7
যাঁরা তোমাদেরকে আল্লাহ্র কালাম বলে গেছেন, তোমাদের সেই নেতাদেরকে স্মরণ কর এবং তাঁদের আচরণের শেষগতি আলোচনা করতে করতে তাঁদের ঈমানের অনুকারী হও।
8 ঈসা মসীহ্ গতকাল ও আজ এবং অনন্তকাল যেরকম, সেই রকমই আছেন।
9 তোমরা নানা রকম অদ্ভুত শিক্ষা দ্বারা বিপথে চালিত হয়ো না; কেননা হৃদয় যে রহমত দ্বারা শক্তিশালী হয় তা ভাল, খাদ্যের বিষয়ে নানা নিয়ম-কানুনের দ্বারা নয়, কারণ যারা খাদ্যের নিয়ম-কানুনের উপর নির্ভর করে চলতো তাদের কোন লাভ হয় নি।
10 আমাদের একটি কোরবানগাহ্ আছে এবং তাঁবুর সেবকদের সেই কোরবানগাহ্র সামগ্রী ভোজন করার কোন অধিকার নেই।
11 কারণ যে যে পশুর রক্ত গুনাহ্-কোরবানীর জন্য মহা-ইমাম পবিত্র স্থানের ভিতরে নিয়ে যান, সেই সমস্ত পশুর দেহ শিবিরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
12 এই কারণে ঈসাও নিজের রক্ত দ্বারা লোকবৃন্দকে পবিত্র করার জন্য নগর-দ্বারের বাইরে মৃত্যু ভোগ করলেন।
13 অতএব এসো, আমরা তাঁর দুর্নাম বহন করতে করতে শিবিরের বাইরে তাঁর কাছে গমন করি।
14 কারণ এখানে আমাদের চিরস্থায়ী নগর নেই; কিন্তু আমরা সেই ভাবী নগরের খোঁজ করছি।
15 অতএব এসো, আমরা তাঁরই দ্বারা আল্লাহ্র উদ্দেশে নিয়মিতভাবে প্রশংসা-গজল উৎসর্গ করি, অর্থাৎ ওষ্ঠাধরের ফল যা তার নাম স্বীকার করে।
16 আর উপকার ও সহভাগিতার কাজ ভুলে যেও না, কেননা সেই রকম কোরবানীতে আল্লাহ্ প্রীত হন।
17
তোমরা তোমাদের নেতাদের হুকুম পালন কর ও বশীভূত হও, কারণ হিসাব দিতে হবে বলে তাঁরাই তোমাদের প্রাণের জন্য প্রহরীর কাজ করছেন। তাঁরা যেন আনন্দপূর্বক সেই কাজ করতে পারেন, দুঃখিত মনে তা না করেন। যদি দুঃখের সঙ্গে তা করতে হয় তবে তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক হবে না।
18
আমাদের জন্য মুনাজাত কর, কেননা আমরা নিশ্চয় জানি, আমাদের সৎবিবেক আছে, সমস্ত বিষয়ে সদাচরণ করতে ইচ্ছা করছি।
19 আমি বিনতিপূর্বক তোমাদেরকে মুনাজাত করতে বলছি যেন আমাকে শীঘ্রই তোমাদের কাছে পুনরায় দেওয়া হয়।
20
আর শান্তির আল্লাহ্, যিনি অনন্তকাল স্থায়ী নিয়মের রক্ত দ্বারা সেই মহান পাল-রক্ষককে, আমাদের প্রভু ঈসাকে, মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়ে এনেছেন,
21 তিনি নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করার জন্য তোমাদেরকে সমস্ত উত্তম বিষয়ে পরিপক্ক করুন। তাঁর দৃষ্টিতে যা প্রীতিজনক ঈসা মসীহ্ দ্বারা তা আমাদের অন্তরে সম্পন্ন করুন। যুগে যুগে তাঁর মহিমা হোক। আমিন।
22
হে ভাইয়েরা, তোমাদেরকে ফরিয়াদ করছি, তোমরা এই উপদেশ সহ্য কর; আমি তো সংক্ষেপে তোমাদেরকে লিখলাম।
23 এই কথা জেনো যে, আমাদের ভাই তীমথি মুক্তি পেয়েছেন; তিনি যদি শীঘ্র আসেন, তবে আমি তাঁর সঙ্গে তোমাদেরকে দেখতে আসবো।
24
তোমরা তোমাদের সকল নেতাকে ও সকল পবিত্র লোককে সালাম জানিয়ো। ইতালির লোকেরা তোমাদেরকে সালাম জানাচ্ছে।
25
রহমত তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক। আমিন।
1
আল্লাহ্র ও ঈসা মসীহের গোলাম ইয়াকুব — নানা দেশে ছড়িয়ে পড়া বারো বংশের সমীপে সালাম জানাচ্ছি।
2
হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা যখন নানা রকম পরীক্ষায় পড় তখন তা সর্বতোভাবে আনন্দের বিষয় বলে মনে করো;
3 জেনো, তোমাদের ঈমানের পরীক্ষা ধৈর্য উৎপন্ন করে।
4 আর সেই ধৈর্যকে সমপূর্ণভাবে কাজ করতে দাও, যেন তোমরা পরিপক্ক ও সমপূর্ণ হও, কোন বিষয়ে তোমাদের অভাব না থাকে।
5
যদি তোমাদের কারো জ্ঞানের অভাব হয়, তবে সে আল্লাহ্র কাছে যাচ্ঞা করুক, তাকে দেওয়া হবে; কেননা তিনি তিরস্কার না করে সকলকে অকাতরে দিয়ে থাকেন।
6 কিন্তু সে সন্দেহ না করে ঈমান সহকারে যাচ্ঞা করুক; কেননা যে সন্দেহ করে, সে বাতাসে দুলে উঠা সমুদ্রের ঢেউয়ের মত।
7 সেই ব্যক্তি যে প্রভুর কাছ থেকে কিছু পাবে, এমন আশা না করুক;
8 সে দ্বিমনা লোক, নিজের সকল পথে সে অস্থির।
9
যে ভাই অবনত, তাকে উন্নত করা হয়েছে বলে সে গর্ব করুক;
10 আর যে ভাই ধনবান, তাকে অবনত করা হয়েছে বলে সেও গর্ব করুক, কেননা সে ফুলের মতই ঝরে যাবে।
11 ফলত সূর্য যখন জ্বলন্ত তাপ নিয়ে উঠে তখন ঘাস শুকিয়ে যায়, তাতে তার ফুল ঝরে পড়ে এবং তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়; তেমনি ধনবানও তার জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই ম্লান হয়ে পড়বে।
12
ধন্য সেই ব্যক্তি যে পরীক্ষা সহ্য করে; কারণ যোগ্য প্রমাণিত হলে পর সে জীবন-মুকুট লাভ করবে, প্রভু তাদেরকেই তা দিতে অঙ্গীকার করেছেন, যারা তাঁকে মহব্বত করে।
13 পরীক্ষার সময়ে কেউ না বলুক, আল্লাহ্ থেকে আমার পরীক্ষা হচ্ছে; কেননা মন্দ বিষয়ের দ্বারা আল্লাহ্র পরীক্ষা করা যায় না, আর তিনি কারো পরীক্ষা করেন না;
14 কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কামনা দ্বারা আকর্ষিত ও প্ররোচিত হয়ে পরীক্ষিত হয়।
15 পরে কামনা সগর্ভা হয়ে গুনাহ্ প্রসব করে এবং গুনাহ্ পরিপক্ক হয়ে মৃত্যুকে জন্ম দেয়।
16
হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা ভ্রান্ত হয়ো না।
17 সমস্ত উত্তম দান এবং সমস্ত সিদ্ধ বর উপর থেকে আসে, জ্যোতির্মণ্ডলের সেই পিতা থেকে নেমে আসে, যাঁতে কোনও পরিবর্তন নেই কিংবা তিনি ছায়ার মত বদলে যান না।
18 তিনি নিজের বাসনায় সত্যের কালাম দ্বারা আমাদেরকে জন্ম দিয়েছেন, যেন আমরা তাঁর সৃষ্ট বস্তুগুলোর মধ্যে এক রকম অগ্রিমাংশ হই।
19
হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা তো এই কথা জান। কিন্তু তোমারা প্রত্যেকে শুনবার জন্য আগ্রহী হও, কথাবার্তায় ধীর, ক্রোধে ধীর হও,
20 কারণ মানুষের ক্রোধ আল্লাহ্র ধার্মিকতা উপন্ন করে না।
21 অতএব তোমরা সকল নাপাকীতা এবং নাফরমানীর উচ্ছ্বাস ফেলে দিয়ে, মৃদুভাবে সেই রোপিত কালাম গ্রহণ কর, যা তোমাদের প্রাণের নাজাত সাধন করতে পারে।
22
আর কালামের কার্যকারী হও, নিজদেরকে ভুলিয়ে শ্রোতামাত্র হয়ো না।
23 কেননা যে কেউ কালামের শ্রোতামাত্র, কার্যকারী নয়, সে এমন ব্যক্তির মত যে আয়নায় নিজের স্বাভাবিক মুখ দেখে;
24 কারণ সে নিজেকে দেখলো, চলে গেল আর সে কিরূপ লোক, তা তখনই ভুলে গেল।
25 কিন্তু যে কেউ হেঁট হয়ে সিদ্ধ শরীয়তের, স্বাধীনতার শরীয়তের, প্রতি দৃষ্টিপাত করে ও তাতে নিবিষ্ট থাকে, ভুলে যাবার শ্রোতা না হয়ে কার্যকারী হয়, সেই নিজের কাজে ধন্য হবে।
26 যে ব্যক্তি নিজেকে ধার্মিক বলে মনে করে, আর নিজের জিহ্বাকে বলগা দ্বারা বশে না রাখে, কিন্তু নিজের হৃদয়কে ভুলায় তার ধর্ম মিথ্যা।
27 দুঃখ-কষ্টের সময়ে এতিমদের ও বিধবাদের তত্ত্বাবধান করা এবং সংসার থেকে নিজেকে নিষ্কলঙ্করূপে রক্ষা করাই হল পিতা আল্লাহ্র কাছে পবিত্র ও বিমল ধর্ম।
1
হে আমার ভাইয়েরা, আমাদের ঈসা মসীহের উপর— মহিমাময় প্রভুর উপর— তোমাদের যে ঈমান তা যেন পক্ষপাতদুষ্ট না হয়।
2 কেননা যদি তোমাদের মজলিস-খানায় সোনার আংটি হাতে দিয়ে ও সুন্দর কাপড়-চোপড় পরে কোন ব্যক্তি আসে এবং ময়লা কাপড় পরা কোন দরিদ্রও আসে,
3 আর তোমরা সেই সুন্দর কাপড়-চোপড় পরা ব্যক্তির মুখ চেয়ে বল, ‘আপনি এখানে উত্তম স্থানে বসুন,’ কিন্তু সেই দরিদ্রকে যদি বল, ‘তুমি ওখানে দাঁড়াও, কিংবা আমার পায়ের কাছে বস,’
4 তা হলে তোমরা কি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ করছো না এবং মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে বিচারকর্তা হচ্ছো না?
5 হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা শোন, সংসারে যারা দরিদ্র, আল্লাহ্ কি তাদেরকে মনোনীত করেন নি, যেন তারা ঈমানে ধনবান হয় এবং যারা তাঁকে মহব্বত করে, তারা যেন অঙ্গীকৃত রাজ্যের অধিকারী হয়?
6 কিন্তু তোমরা সেই দরিদ্রকে অসম্মান করেছ। ধনবানেরাই কি তোমাদের প্রতি জুলুম করে না? তারাই কি তোমাদেরকে টেনে নিয়ে বিচার-স্থানে যায় না?
7 যে উত্তম নাম তোমাদের উপরে কীর্তিত হয়েছে, তারাই কি সেই নামের নিন্দা করে না?
8
যা হোক, “তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত কোরো,” পাক-কিতাবের এই কথা অনুসারে যদি তোমরা রাজকীয় শরীয়ত পালন কর, তবে ভাল করছো।
9 কিন্তু যদি পক্ষপাতিত্ব কর, তবে গুনাহ্ করছো এবং শরীয়ত দ্বারা তোমাদেরকে হুকুম লঙ্ঘনকারী বলে দোষী করা হচ্ছে।
10 কারণ যে কেউ সমস্ত শরীয়ত পালন করে, কেবল একটি বিষয়ে হোঁচট খায়, সে সকলেরই দায়ী হয়েছে।
11 কেননা যিনি বলেছেন, “জেনা করো না,” তিনিই আবার বলেছেন, “নরহত্যা করো না;” ভাল, তুমি যদি জেনা না করে খুন কর, তা হলে শরীয়তের লঙ্ঘনকারী হয়েছ।
12 তোমরা স্বাধীনতার শরীয়ত দ্বারা বিচারিত হবে বলে তদনুরূপ কথা বল ও কাজ কর।
13 কেননা যে ব্যক্তি করুণা করে নি, বিচার তার প্রতি নির্দয়; করুণাই বিচারের উপর জয়ী হয়।
14
হে আমার ভাইয়েরা, যদি কেউ বলে, আমার ঈমান আছে, আর তার কাজ না থাকে, তবে তাতে তার কি লাভ হবে? সেই ঈমান কি তাকে নাজাত দিতে পারে?
15 কোন ভাই কিংবা বোনের কাপড়-চোপড় না থাকলে ও প্রতিদিন যে খাবার প্রয়োজন তা না থাকে আর যদি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি তাদেরকে বলে,
16 সহি-সালামতে যাও, উষ্ণ ও তৃপ্ত হও, কিন্তু তোমরা তাদেরকে দেহের প্রয়োজনীয় বস্তু না দাও, তবে তাতে কি লাভ হবে?
17 তেমনি ঈমানের সঙ্গে কাজ যুক্ত না থাকলে নিজে একা বলে তা মৃত।
18 কিন্তু কেউ বলবে তোমার ঈমান আছে, আর আমার কাজ আছে; তোমার কাজ ছাড়া ঈমান আমাকে দেখাও, আর আমি তোমাকে আমার কাজের মধ্য দিয়ে ঈমান দেখাব।
19 তুমি ঈমান এনেছো যে, আল্লাহ্ এক, ভালই করছো; বদ-রূহ্রাও তা বিশ্বাস করে এবং ভয়ে কাঁপে।
20 কিন্তু হে অসার মানুষ, তুমি কি জানতে চাও যে, কাজ ছাড়া ঈমান কোন কাজের নয়?
21 আমাদের পিতা ইব্রাহিমকে তাঁর কাজের জন্য, অর্থাৎ কোরবানগাহ্র উপরে তাঁর পুত্র ইস্হাককে কোরবানী করার জন্য কি ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয় নি?
22 তুমি দেখছো, ঈমান তাঁর কাজের সহকারী ছিল এবং কাজের জন্য তাঁর ঈমান সিদ্ধ হল;
23 তাতে পাক-কিতাবের এই কথা পূর্ণ হল, “ইব্রাহিম আল্লাহ্র উপরে ঈমান আনলেন এবং তা তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণনা করা হল”, আর তিনি “আল্লাহ্র বন্ধু” এই নাম পেলেন।
24 তোমরা দেখছো, কাজের জন্য মানুষকে ধার্মিক বলে গণনা করা হয়, শুধু ঈমানের মধ্য দিয়ে নয়।
25 আবার পতিতা রাহবকেও কি সেইভাবে কাজের জন্য ধার্মিক বলে গণনা করা হয় নি? তিনি তো দূতদের মেহমানদারী করেছিলেন; এবং অন্য পথ দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
26 বাস্তবিক যেমন রূহ্ ছাড়া দেহ মৃত, তেমন কাজ ছাড়া ঈমানও মৃত।
1
হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা অনেকে ওস্তাদ হতে যেয়ো না; তোমরা জান, অন্যদের চেয়ে আমাদের আরও কঠিনভাবে বিচার করা হবে।
2 কারণ আমরা অনেকভাবে হোঁচট খাই। যদি কেউ কথা দ্বারা হোঁচট না খায়, তবে সে সিদ্ধপুরুষ, সমস্ত শরীরকেই বল্গা দ্বারা বশে রাখতে সমর্থ।
3 ঘোড়াগুলোকে বাধ্য রাখতে আমরা যদি তাদের মুখে বল্গা দিই, তবে তাদের সমস্ত শরীরও ইচ্ছামত ঘুরাতে পারি।
4 আর দেখ, যদিও জাহাজগুলো অতি প্রকাণ্ড এবং প্রচণ্ড বাতাস সেটি ঠেলে নিয়ে যায়, তবুও সেটিকে একটি ছোট হাল দ্বারা নাবিকের মনের ইচ্ছা যে দিকে হয়, সেই দিকে ফিরাতে পারে।
5 তেমনি জিহ্বাও ক্ষুদ্র অঙ্গ বটে, কিন্তু মহাদর্পের কথা বলে। দেখ, কেমন অল্প আগুন কেমন বড় বন-জঙ্গলকে জ্বালিয়ে দেয়!
6 জিহ্বাও আগুনের মত; আমাদের অঙ্গগুলোর মধ্যে জিহ্বা অধর্মের দুনিয়া হয়ে রয়েছে; তা সমস্ত দেহকে কলঙ্কিত করে ও প্রকৃতির চক্রকে প্রজ্বলিত করে এবং নিজে দোজখের আগুনে জ্বলে উঠে।
7 কারণ সমস্ত রকম পশু ও পাখি, সরীসৃপ ও সমুদ্রচর জন্তুকে মানুষ দমন করতে পারে ও দমন করেছে;
8 কিন্তু জিহ্বাকে দমন করতে কোন মানুষের সাধ্য নেই; সেটি অশান্ত মন্দ বিষয়, মৃত্যুজনক বিষে পরিপূর্ণ।
9 এই জিহ্বা দ্বারাই আমরা প্রভু পিতার শুকরিয়া আদায় করি, আবার এর দ্বারাই আল্লাহ্র সাদৃশ্যে জাত মানুষকে বদদোয়া দিই।
10 একই মুখ থেকে শুকরিয়া ও বদদোয়া বের হয়। হে আমার ভাইয়েরা, এই রকম হওয়া অনুচিত।
11 ফোয়ারা কি একই ছিদ্র দিয়ে মিষ্ট ও তিক্ত দু’রকম পানি বের করে?
12 হে আমার ভাইয়েরা, ডুমুরগাছে কি জলপাই ফল, অথবা আঙ্গুরলতায় কি ডুমুর ফল ধরতে পারে? নোনা পানির মধ্যে মিষ্টি পানি পাওয়া যায় না।
13
তোমাদের মধ্যে জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান কে? সে সদাচরণ দ্বারা জ্ঞানের মৃদুতায় নিজের কাজ দেখিয়ে দিক।
14 কিন্তু তোমাদের অন্তর যদি ঈর্ষায় তিক্ত হয় ও স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্খায় ভরা থাকে, তবে সত্যের বিরুদ্ধে গর্ব করো না ও মিথ্যা বলো না।
15 সেই জ্ঞান এমন নয়, যা উপর থেকে নেমে আসে বরং তা দুনিয়াবী, রূহানিক নয় এবং তা শয়তান থেকে আসে।
16 কেননা যেখানে ঈর্ষা ও স্বার্থপরতা, সেখানে অস্থিরতা ও সমস্ত দুষ্কর্ম থাকে।
17 কিন্তু যে জ্ঞান উপর থেকে আসে, তা প্রথমে পাক-পবিত্র, পরে শান্তিপ্রিয়, নম্র, সহ্যগুণ সম্পন্ন, করুণা ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ, ভেদাভেদ-বিহীন ও ভণ্ডামীশূন্য।
18 আর যারা শান্তির চেষ্টা করে, তাদের জন্য শান্তিতে ধার্মিকতা-ফলের বীজ বপন করা যায়।
1
তোমাদের মধ্যে কোথা থেকে যুদ্ধ ও কোথা থেকে ঝগড়া উৎপন্ন হয়? তোমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যেসব সুখাভিলাষ যুদ্ধ করে, সেসব থেকে কি নয়?
2 তোমরা অভিলাষ করছো, কিন্তু পাও না; তোমরা খুন করছো ও ঈর্ষা করছো, কিন্তু যা চাও তা পাও না; তোমরা ঝগড়া ও যুদ্ধ করে থাক, কিছু পাও না, কারণ তোমরা আল্লাহ্র কাছে যাচ্ঞা কর না।
3 যাচ্ঞা করছো, তবুও ফল পাচ্ছ না; কারণ মন্দভাবে যাচ্ঞা করছো, যেন নিজ নিজ সুখাভিলাষে ব্যয় করতে পার।
4
হে জেনাকারিণীরা, তোমরা কি জান না যে, দুনিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব হল আল্লাহ্র সঙ্গে শত্রুতা? সুতরাং যে কেউ দুনিয়ার বন্ধু হতে বাসনা করে, সে নিজেকে আল্লাহ্র শত্রু করে তোলে।
5 অথবা তোমরা কি মনে কর যে, পাক-কিতাব বৃথাই বলছে যে, তিনি যে রূহ্ আমাদের অন্তরে বাস করিয়েছেন, তাঁর জন্য আগ্রহের সঙ্গে আকাঙ্খা করেন?
6 বরং তিনি আরও রহমত দান করেন; এজন্য পাক-কিতাব বলে, “আল্লাহ্ অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদেরকে রহমত দান করেন।”
7 অতএব তোমরা আল্লাহ্র বশীভূত হও, আর শয়তানকে প্রতিরোধ কর, তাতে সে তোমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।
8 আল্লাহ্র নিকটবর্তী হও, তাতে তিনিও তোমাদের নিকটবর্তী হবেন। হে গুনাহ্গারেরা, তোমাদের হাত পাক-পবিত্র কর; হে দ্বিমনা লোকেরা, তোমাদের অন্তর বিশুদ্ধ কর।
9 মাতম কর ও শোকার্ত হও এবং কাঁদ; তোমাদের হাসি শোকে এবং আনন্দ বিষাদে পরিণত হোক।
10 প্রভুর সাক্ষাতে নত হও, তাতে তিনি তোমাদেরকে উন্নত করবেন।
11
হে ভাইয়েরা, পরস্পর নিন্দা করো না; যে ব্যক্তি ভাইয়ের নিন্দা করে, কিংবা ভাইয়ের বিচার করে, সে শরীয়তের নিন্দা করে ও শরীয়তের বিচার করে। কিন্তু তুমি যদি শরীয়তের বিচার কর, তবে শরীয়তের পালনকারী না হয়ে বিচারকর্তা হয়েছ।
12 একমাত্র শরীয়তদাতা ও বিচারকর্তা আছেন, তিনিই নাজাত করতে ও বিনষ্ট করতে পারেন। কিন্তু তুমি কে যে প্রতিবেশীর বিচার কর?
13
এখন দেখ, তোমাদের কেউ কেউ বলে, আজ কিংবা আগামীকাল, আমরা অমুক নগরে যাব এবং সেখানে এক বছর যাপন করবো, বাণিজ্য করে লাভ করবো।
14 তোমরা তো আগামীকালের বিষয়ে জান না: তোমাদের জীবন কি রকম? তোমরা তো বাষ্পস্বরূপ, যা কিছুক্ষণের জন্য থাকে, পরে অন্তর্হিত হয়।
15 ওর পরিবর্তে বরং এই কথা বল, ‘প্রভুর ইচ্ছা হলেই আমরা বেঁচে থাকব এবং এই কাজটি বা ও কাজটি করবো’।
16 কিন্তু এখন তোমরা নিজ নিজ অহংকারে গর্ব করছো; এই রকমের সমস্ত গর্ব মন্দ।
17 বস্তুত যে কেউ সৎকর্ম করতে জানে, অথচ করে না, সে গুনাহ্ করে।
1
এখন দেখ, হে ধনবানেরা, তোমাদের উপরে যেসব দুর্দশা আসছে, সেই সবের জন্য কান্নাকাটি ও হাহাকার কর।
2 তোমাদের ধন নষ্ট হয়ে গেছে ও তোমাদের কাপড়গুলো পোকায় কেটেছে; তোমাদের সোনা ও রূপায় মরিচা ধরেছে;
3 আর সেই মরিচাই তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে এবং আগুনের মত তোমাদের মাংস খাবে। তোমরা শেষকালের জন্যই ধন সঞ্চয় করেছ।
4 দেখ, যে মজুরেরা তোমাদের ক্ষেতের শস্য কেটেছে, তোমরা তাদের যে মজুরি থেকে বঞ্চিত করেছ, সেই মজুরি এখন চিৎকার করছে এবং সেই শস্যকর্তনকারীদের আর্তনাদ বাহিনীগণের প্রভুর কানে প্রবেশ করেছে।
5 তোমরা দুনিয়াতে সুখভোগ ও ভোগ-বিলাস করেছ, তোমরা নিহত হবার দিনের জন্য নিজেদের কেবল তাজাই করেছ।
6 তোমরা ধার্মিককে দোষী করেছ এবং খুন করেছ; সে তোমাদের প্রতিরোধ করে নি।
7
অতএব হে ভাইয়েরা, তোমরা প্রভুর আগমন পর্যন্ত ধৈর্য ধর। দেখ, কৃষক ভূমির বহুমূল্য ফলের অপেক্ষা করে এবং যত দিন তা প্রথম ও শেষ বর্ষা না পায়, ততদিন তার বিষয়ে ধৈর্য ধরে থাকে।
8 তোমরাও ধৈর্য ধর, নিজ নিজ হৃদয় সুস্থির কর, কেননা প্রভুর আগমন সন্নিকট।
9 হে ভাইয়েরা, তোমরা এক জন অন্য জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলো না, যেন তোমাদের বিচার করা না হয়; দেখ, বিচারকর্তা দরজার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
10 হে ভাইয়েরা, যে নবীরা প্রভুর সাক্ষাতে কথা বলেছিলেন, তাদেরকে দুঃখভোগের ও ধৈর্য ধারণ করার দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ কর।
11 দেখ, যারা স্থির রয়েছে, তাদেরকে আমরা ধন্য বলি। তোমরা আইউবের ধৈর্যের কথা শুনেছ; প্রভুর পরিণামও দেখেছ, ফলত প্রভু স্নেহপূর্ণ ও দয়াময়।
12
আবার, হে আমার ভাইয়েরা, আমি বিশেষভাবে এই কথা বলি, তোমরা কসম খেয়ো না; বেহেশতের বা দুনিয়ার বা অন্য কিছুরই নামে কসম খেয়ো না। বরং তোমাদের হ্যাঁ, যেন হ্যাঁ এবং না যেন না হয়, যেন তোমরা বিচারের দায়ে না পড়।
13
তোমাদের মধ্যে কেউ কি দুঃখভোগ করছে? সে মুনাজাত করুক। কেউ কি প্রফুল্ল আছে? সে প্রশংসা-কাওয়ালী করুক।
14 তোমাদের মধ্যে কেউ কি রোগগ্রস্ত? সে মণ্ডলীর প্রাচীন নেতাদেরকে আহ্বান করুক; এবং তাঁরা প্রভুর নামে তাকে তৈলাভিষিক্ত করে তার উপরে মুনাজাত করুন।
15 তাতে বিশ্বাসের মুনাজাত সেই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করবে এবং প্রভু তাকে উঠাবেন; আর সে যদি গুনাহ্ করে থাকে, তবে তা মাফ করা হবে।
16 অতএব তোমরা এক জন অন্য জনের কাছে নিজ নিজ গুনাহ্ স্বীকার কর ও এক জন অন্য জনের জন্য মুনাজাত কর, যেন সুস্থ হতে পার। ধার্মিকের মুনাজাত মহা শক্তিযুক্ত এবং কার্যকরী।
17 ইলিয়াস আমাদের মত সুখ-দুঃখভোগী মানুষ ছিলেন; আর তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মুনাজাত করলেন, যেন বৃষ্টি না হয় এবং তিন বছর ছয় মাস ভূমিতে বৃষ্টি হয় নি।
18 পরে তিনি আবার মুনাজাত করলেন; আর আসমান থেকে বৃষ্টি পড়লো এবং ভূমি নিজের ফল উৎপন্ন করলো।
19
হে আমার ভাইয়েরা, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ সত্য থেকে দূরে সরে যায় এবং কেউ তাকে ফিরিয়ে আনে,
20 তবে জেনো, যে ব্যক্তি কোন গুনাহ্গারকে তার ভ্রান্ত-পথ থেকে ফিরিয়ে আনে, সে তার প্রাণকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করবে এবং অনেক গুনাহ্ ঢেকে রাখবে।
1
পিতর, ঈসা মসীহের প্রেরিত— পন্ত, গালাতিয়া, কাপ্পাদকিয়া, এশিয়া ও বিথুনিয়া দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যে প্রবাসীরা আছেন,
2 যারা পিতা আল্লাহ্র পূর্বজ্ঞান অনুসারে মনোনীত এবং ঈসা মসীহের বাধ্য ও তাঁর রক্তে সিঞ্চিত হওয়ার জন্য পাক-রূহের দ্বারা পাক-পবিত্র, তাঁদের সমীপে।
রহমত ও শান্তি প্রচুররূপে তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
ধন্য আমাদের ঈসা মসীহের আল্লাহ্ ও পিতা! তিনি তাঁর মহা করুণা অনুসারে মৃতদের মধ্য থেকে ঈসা মসীহের পুনরুত্থান দ্বারা, জীবন্ত প্রত্যাশার জন্য আমাদেরকে নতুন জন্ম দান করেছেন,
4 যেন আমরা এমন এক উত্তরাধিকার লাভ করি, যা অক্ষয়, নিষ্কলঙ্ক ও অম্লান; তা বেহেশতে তোমাদের জন্য সঞ্চিত রয়েছে;
5 এবং আল্লাহ্র শক্তিতে তোমাদেরকেও নাজাতের জন্য ঈমান দ্বারা রক্ষা করা হচ্ছে, যে নাজাত শেষকালে প্রকাশিত হবার জন্য প্রস্তুত আছে।
6 এতে তোমরা উল্লাস কর, যদিও অল্প সময়ের জন্য এখন নানা রকম পরীক্ষায় তোমাদের দুঃখ পেতে হয়।
7 যে সোনা ক্ষয়শীল, তাও আগুন দ্বারা পরীক্ষা করা হয়, তোমাদের ঈমানের পরীক্ষাসিদ্ধতা তার চেয়েও মহামূল্যবান, যা ঈসা মসীহের প্রকাশিত হবার সময় প্রশংসা, গৌরব ও সম্মানজনক বলে প্রত্যক্ষ হবে।
8 তোমরা তাঁকে না দেখেও মহব্বত করছো; এখন দেখতে পাচ্ছ না, তবুও তাঁর উপর ঈমান এনে এমন আনন্দ করছো যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না ও যে আনন্দ মহিমায় পরিপূর্ণ,
9 এবং তোমাদের ঈমানের পরিণাম, অর্থাৎ রূহের নাজাত পাচ্ছ।
10
সেই নাজাতের বিষয় নবীরা সযত্নে আলোচনা ও অনুসন্ধান করেছিলেন, তাঁরা তোমাদের জন্য নিরূপিত রহমতের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী বলতেন।
11 মসীহের রূহ্, যিনি তাঁদের অন্তরে ছিলেন, তিনি যখন মসীহের জন্য নিরূপিত নানা দুঃখভোগ ও পরবর্তী সমস্ত গৌরবের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি কোন্ ও কি রকম সময়ের প্রতি নির্দেশ করছিলেন, তাঁরা সেই বিষয় অনুসন্ধান করতেন।
12 তাঁদের কাছে এটা প্রকাশিত হয়েছিল যে, তাঁরা নিজেদের জন্য নয় কিন্তু তোমাদেরই জন্য ঐ সব বিষয়ের পরিচারক ছিলেন; আর এখন, বেহেশত থেকে প্রেরিত পাক-রূহের গুণে যাঁরা তোমাদের কাছে সুসমাচার তবলিগ করেছেন, তাঁদের দ্বারা এখন তোমাদেরকে সেই সব বিষয় জানানো হয়েছে; আর ফেরেশতারা অবনত হয়ে তা দেখবার আকাঙ্খা করছেন।
13
অতএব তোমরা নিজ নিজ মন প্রস্তুত করে মিতাচারী হও এবং ঈসা মসীহের আবির্ভাবকালে যে রহমত তোমাদের কাছে আনা হবে, তার উপর সমপূর্ণ প্রত্যাশা রাখ।
14 বাধ্যতার সন্তান বলে তোমরা তোমাদের আগের অজ্ঞানতার কামনা-বাসনা অনুসারে চলো না,
15 কিন্তু যিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেছেন, সেই পবিত্রতমের মত নিজেদের সমস্ত আচার ব্যবহারে পবিত্র হও;
16 কেননা লেখা আছে, “তোমরা পবিত্র হবে, কারণ আমি পবিত্র”।
17
আর যিনি পক্ষপাতিত্ব না করে প্রত্যেক ব্যক্তির কাজ অনুযায়ী বিচার করেন, তাঁকে যদি পিতা বলে ডাক, তবে সভয়ে নিজ নিজ প্রবাসকাল যাপন কর।
18 তোমরা তো জান, তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া কোন অলীক আচার ব্যবহার থেকে সোনা ও রূপার মত কোন ক্ষয়শীল বস্তু দ্বারা মুক্ত হও নি,
19 কিন্তু নিখুঁত ও নিষ্কলঙ্ক মেষশাবক সেই মসীহের বহুমূল্য রক্ত দ্বারা মুক্ত হয়েছ।
20 তিনি দুনিয়া সৃষ্টির আগেই এর জন্য নির্দিষ্ট হয়েছিলেন, কিন্তু এই শেষকালে তিনি তোমাদের জন্য প্রকাশিত হলেন;
21 তোমরা তাঁরই দ্বারা সেই আল্লাহ্র উপরে ঈমান এনেছ, যিনি তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে তুলেছেন ও গৌরব দান করেছেন; এভাবে তোমাদের ঈমান ও প্রত্যাশা আল্লাহ্র প্রতি রয়েছে।
22
এখন, তোমরা সত্যের প্রতি বাধ্য হয়ে নিজ নিজ প্রাণকে বিশুদ্ধ করেছ, যেন ভাইদের প্রতি তোমাদের মহব্বত অকপট হয় এবং তোমরা অন্তঃকরণে পরষ্পরকে একাগ্রভাবে মহব্বত কর;
23 কারণ তোমরা ক্ষয়শীল বীর্য থেকে নয়, কিন্তু অক্ষয় বীর্য থেকে আল্লাহ্র জীবন্ত ও চিরস্থায়ী কালাম দ্বারা নতুন জন্ম পেয়েছ।
24 কেননা
“মানুষ মাত্র ঘাসের মত
ও তার সমস্ত সৌন্দর্য ফুলের মত;
ঘাস শুকিয়ে গেল এবং ফুল ঝরে পড়লো,
25
কিন্তু প্রভুর কালাম চিরকাল থাকে।”
আর এই সেই সুসমাচারের কালাম, যা তোমাদের কাছে তবলিগ করা হয়েছে।
1
অতএব তোমরা সমস্ত নাফরমানী ও সমস্ত ছল এবং কপটতা ও হিংসা ও সমস্ত অপবাদ ত্যাগ কর।
2 তোমরা নবজাত শিশুদের মত সেই খাঁটি ও রূহানিক দুধের জন্য আগ্রহী হও, যেন তার গুণে নাজাতের জন্য বৃদ্ধি পাও,
3 যদি তোমরা এমন আস্বাদ পেয়ে থাক যে, প্রভু মঙ্গলময়,
4 তবে তোমরা তাঁরই কাছে— জীবন্ত পাথরের কাছে এসো, যিনি মানুষ কর্তৃক অগ্রাহ্য, কিন্তু আল্লাহ্র দৃষ্টিতে মনোনীত ও মহামূল্য সম্পদ।
5 তোমরা তাঁর কাছে এসেছ বিধায় তোমাদের জীবন্ত পাথরের মত রূহানিক গৃহ হিসেবে গেঁথে তোলা যাচ্ছে, যেন পবিত্র ইমামবর্গ হয়ে ঈসা মসীহ্ দ্বারা আল্লাহ্র গ্রাহ্য রূহানিক কোরবানী দিতে পার।
6 কেননা পাক-কিতাবে এই কথা পাওয়া যায়,
“দেখ, আমি সিয়োনে কোণের এক
মনোনীত মহামূল্য পাথর স্থাপন করি;
তাঁর উপর যে ঈমান আনে,
সে লজ্জিত হবে না।”
7
অতএব তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের কাছে ঐ পাথর মহা মূল্যবান; কিন্তু যারা ঈমান আনে না, তাদের জন্য—
“যে পাথর রাজমিস্ত্রিরা অগ্রাহ্য করেছে,
তা-ই কোণের প্রধান পাথর হয়ে উঠলো;”
8
আবার তা হয়ে উঠলো,
“এমন পাথর যাতে লোকে উচোট খায়
ও এমন পাষাণ যাতে লোকে বাধা পায়।”
কালামের অবাধ্য হওয়াতে তারা মনে বাধা পায় এবং এরই জন্য তারা ঠিক হয়ে আছে।
9 কিন্তু তোমরা “মনোনীত বংশ, রাজকীয় ইমামবর্গ, পবিত্র জাতি, আল্লাহ্র নিজস্ব লোকবৃন্দ যেন তাঁরই প্রশংসা ঘোষণা কর,” যিনি তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে তাঁর আশ্চর্য নূরের মধ্যে আহ্বান করেছেন।
10 আগে তোমরা “আল্লাহ্র লোক ছিলে না, কিন্তু এখন তাঁর লোক হয়েছ; আগে করুণা পাও নি, কিন্তু এখন করুণা পেয়েছ।”
11
প্রিয়তমেরা আমি নিবেদন করি, তোমরা বিদেশী ও প্রবাসী বলে গুনাহ্-স্বভাবের অভিলাষগুলো থেকে নিবৃত্ত হও, সেগুলো রূহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
12 আর অ-ইহুদীদের মধ্যে নিজ নিজ আচার ব্যবহার উত্তম রাখ; তা হলে তারা যে বিষয়ে দুষ্কর্মকারী বলে তোমাদের অপবাদ দেয়, স্বচক্ষে তোমাদের সৎ কাজ দেখলে সেই বিষয়ের তত্ত্বাবধানের দিনে আল্লাহ্র গৌরব করবে।
13
তোমরা প্রভুর জন্য মানব-সৃষ্ট সমস্ত নিয়োগের বশীভূত হও, সম্রাটের অধীনতা স্বীকার কর, তিনি প্রধান;
14 শাসনকর্তাদের অধীনে থাক, তাঁরা দুরাচারীদের প্রতিফল দেবার ও যারা সৎকর্ম করে তাদের প্রশংসার জন্য সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত।
15 কেননা আল্লাহ্র ইচ্ছা এই, যেন এভাবে তোমরা সদাচরণ করতে করতে নির্বোধ মানুষের অজ্ঞানতাকে নিরুত্তর কর।
16 স্বাধীন লোক হিসেবে জীবন কাটাও; আর স্বাধীনতাকে নাফরমানী ঢাকবার জন্য ব্যবহার করো না, কিন্তু আল্লাহ্র গোলাম হিসেবে জীবন কাটাও।
17 সকলকে সম্মান কর, ঈমানদার ভাইদেরকে মহব্বত কর, আল্লাহ্কে ভয় কর, বাদশাহ্কে সম্মান কর।
18
হে গোলামেরা, তোমরা সমপূর্ণ ভয়ের সঙ্গে নিজ নিজ মালিকদের বশীভূত হও; কেবল সজ্জন ও শান্ত মালিকদের নয়, কিন্তু কুটিল মালিকদেরও বশীভূত হও।
19 কেননা কেউ যদি আল্লাহ্র উদ্দেশে বিবেক অনুযায়ী অন্যায় ভোগ করে দুঃখ সহ্য করে, তবে তা-ই সাধুবাদের বিষয়।
20 বস্তুত গুনাহ্ করে মার খেয়ে যদি তোমরা সহ্য কর, তবে তাতে প্রশংসা করার কি আছে? কিন্তু সদাচরণ করে দুঃখভোগ করলে যদি সহ্য কর, তবে তা-ই হবে আল্লাহ্র কাছে সাধুবাদের বিষয়।
21 কারণ তোমরা এরই জন্য আহ্বান পেয়েছ; কেননা মসীহ্ও তোমাদের জন্য দুঃখভোগ করলেন, এই বিষয়ে তোমাদের জন্য একটি আদর্শ রেখে গেছেন, যেন তোমরা তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ কর;
22
“তিনি গুনাহ্ করেন নি,
তার মুখে কোন ছলও পাওয়া যায় নি”।
23
তিনি অপমানিত হলে প্রতিউত্তরে অপমান করতেন না; দুঃখভোগের সময় প্রতিশোধ নেবার ভয়ও দেখান নি, কিন্তু যিনি ন্যায় অনুসারে বিচার করেন, তাঁর উপর আস্থা রাখতেন।
24 তিনি নিজের দেহে আমাদের সমস্ত গুনাহ্ ক্রুশের উপরে বহন করলেন, যেন আমরা গুনাহ্র পক্ষে মৃত্যুবরণ করে ধার্মিকতার পক্ষে জীবিত হই; তাঁরই ক্ষত দ্বারা তোমরা সুস্থতা লাভ করেছ।
25 কেননা তোমরা ভেড়ার মত ভ্রান্ত হয়েছিলে, কিন্তু এখন তোমাদের প্রাণের পালক ও নেতার কাছে ফিরে এসেছ।
1
তেমনি তোমরা যারা স্ত্রী, তোমরা নিজ নিজ স্বামীর বশীভূতা হও; তাদের মধ্যে কেউ কেউ যদিও আল্লাহ্র কালাম বিশ্বাস না করে, তবুও তোমাদের আচার-ব্যবহার দ্বারা তাদেরকে লাভ করা যেতে পারে। এতে তোমাদের একটি কথাও বলতে হবে না,
2 কারণ তারা তোমাদের বিশুদ্ধ আচার-ব্যবহার স্বচক্ষে দেখতে পায়।
3 আর চুলের বেণী ও গয়নাগাটি কিংবা সুন্দর পোশাক— এসব বাহ্যিক সাজসজ্জায় নয়,
4 কিন্তু যার সৌন্দর্য ধ্বংস হয়ে যায় না, সেই নরম ও শান্ত রূহ্ দিয়ে হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সাজাও; তা-ই আল্লাহ্র দৃষ্টিতে বহুমূল্য।
5 কেননা আগেকার দিনের যে পবিত্র নারীরা আল্লাহ্র উপরে প্রত্যাশা রাখতেন, তাঁরাও সেইভাবে নিজেদের সাজাতেন, নিজ নিজ স্বামীর অধীনে থাকতেন;
6 যেমন সারা ইব্রাহিমের হুকুম মানতেন ও তাঁকে প্রভু বলে ডাকতেন; তোমরা যদি সৎকর্ম কর ও কোন ভয়ে ভীত না হও, তবে তাঁরই সন্তান হয়ে উঠেছ।
7
তেমনি তোমরা যারা স্বামী, তোমরা বুদ্ধি-বিবেচনা করে স্ত্রীর সঙ্গে বাস কর; তারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাত্র বলে এবং তাদেরকে নিজেদের সঙ্গে জীবনের রহমতের সহাধিকারিণী জেনে সম্মান কর; যেন তোমাদের মুনাজাত বাধা না পায়।
8
অবশেষে বলি, তোমরা সকলে সমমনা, পরদুঃখে দুঃখিত, ভাইদের মহব্বতকারী, স্নেহবান ও নম্রমনা হও।
9 মন্দের বদলে মন্দ করো না এবং নিন্দার বদলে নিন্দা করো না; বরং দোয়া কর, কেননা দোয়ার অধিকারী হবার জন্যই তোমাদের আহ্বান করা হয়েছে।
10 কারণ,
“যে ব্যক্তি জীবন ভালবাসতে ও মঙ্গলের দিন দেখতে চায়,
সে মন্দ থেকে নিজের জিহ্বাকে,
ছলনার কথা থেকে নিজের ঠোঁটকে নিবৃত্ত করুক।
11
সে মন্দ থেকে ফিরে আসুক ও সদাচরণ করুক,
শান্তির চেষ্টা করুক ও এর জন্য কঠোরভাবে চেষ্টা করুক।
12
কেননা ধার্মিকদের প্রতি প্রভুর দৃষ্টি আছে;
তাদের বিনতির প্রতি তাঁর কান আছে;
কিন্তু প্রভুর মুখ দুরাচারদের প্রতিকূল।”
13
আর যদি তোমরা উত্তম কাজের পক্ষে উদ্যোগী হও, তবে কে তোমাদের অনিষ্ট করবে?
14 কিন্তু যদিও ধার্মিকতার জন্য দুঃখভোগ কর, তবু তোমরা ধন্য। আর তোমরা ওদের ভয়ে ভীত এবং অস্থির হয়ো না,
15 বরং অন্তরের মধ্যে মসীহ্কে প্রভু হিসেবে স্থান দাও। যে কেউ তোমাদের অন্তরস্থ প্রত্যাশার কারণ জিজ্ঞাসা করে, তাকে উত্তর দিতে সব সময় প্রস্তুত থাক। কিন্তু নম্রতা ও ভয় সহকারে উত্তর দিও, সৎ বিবেক রক্ষা করো,
16 যেন যারা তোমাদের মসীহেতে সদাচরণের দুর্নাম করে, তারা তোমাদের অপবাদ করে বলে লজ্জা পায়।
17 কারণ মন্দ কাজের জন্য দুঃখভোগ করার চেয়ে বরং— আল্লাহ্র যদি এমন ইচ্ছা হয়— উত্তম কাজের জন্য দুঃখভোগ করা আরও ভাল।
18 কারণ মসীহ্ও একবার গুনাহের জন্য দুঃখভোগ করেছিলেন— সেই ধার্মিক ব্যক্তি অধার্মিকদের জন্য— যেন আমাদের আল্লাহ্র কাছ নিয়ে যান। তিনি মাংসে হত, কিন্তু রূহে জীবিত হলেন।
19 আবার রূহে গমন করে সেই বন্দী রূহ্দের কাছে ঘোষণা করলেন,
20 যারা আগেকার দিনে, নূহের সময়ে, জাহাজ প্রস্তুত হতে হতে যখন আল্লাহ্ সহনশীল হয়ে বিলম্ব করছিলেন তখন অবাধ্য হয়েছিল। সেই জাহাজে অল্প লোক অর্থাৎ আট জন ব্যক্তি, পানির মধ্য থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
21 আর এখন এর প্রতীকীরূপ বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পাও। এই বাপ্তিস্ম তো শরীরের মলিনতা ত্যাগ নয়, কিন্তু আল্লাহ্র কাছে সৎবিবেকের নিবেদন— সেই ঈসা মসীহের পুনরুত্থান দ্বারা,
22 যিনি বেহেশতে গমন করে আল্লাহ্র ডান পাশে আছেন, যেখানে সমস্ত ফেরেশতা ও কর্তৃত্বগুলো ও পরাক্রমগুলো তাঁর বশীভূত রয়েছে।
1
অতএব মসীহ্ দৈহিকভাবে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন বলে তোমরাও সেই-ভাবে নিজেদের সাজাও— কেননা যারা দৈহিকভাবে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছে, সে গুনাহের অভ্যেস ছেড়ে দিয়েছে—
2 যেন সে তার অবশিষ্ট জীবনে আর দুনিয়াবী কামনা-বাসনা পূরণের জন্য নয়, কিন্তু আল্লাহ্র ইচ্ছা পালনের জন্য জীবন-যাপন করে।
3 কেননা অ-ইহুদীরা যা করে থাকে সেই-ভাবে লমপটতা, সুখাভিলাষ, মদ্যপান, রঙ্গরসপূর্ণ ভোজ-উৎসব ও ঘৃণ্য মূর্তিপূজা করে যে কাল তোমরা কাটিয়েছ, তা-ই যথেষ্ট।
4 এখন তারা এই দেখে আশ্চর্য হয় যে, তোমরা আর ওদের সঙ্গে ভীষণ উচ্ছৃঙ্খলতায় যোগ দিচ্ছ না, আর সেইজন্য তারা তোমাদের নিন্দা করে।
5 কিন্তু যিনি জীবিত ও মৃত সকলের বিচার করতে প্রস্তুত হয়ে আছেন, তাঁরই কাছে ওদেরকে হিসাব দিতে হবে।
6 কারণ এই অভিপ্রায়ে মৃতদের কাছেও ইঞ্জিল তবলিগ করা হয়েছিল, যেন তারা দৈহিকভাবে মানুষের মত বিচারাধীন হলেও, রূহে তারা আল্লাহ্র মতই জীবিত থাকে।
7
কিন্তু সকল বিষয়ের শেষকাল সন্নিকট; অতএব তোমরা নিজেদের দমনে রাখ যেন মুনাজাত করতে পার।
8 সর্বোপরি, তোমরা পরস্পরকে একাগ্রভাবে মহব্বত কর; কেননা “মহব্বত অনেক গুনাহ্ ঢেকে রাখে।”
9 কোনরূপ অভিযোগ না করে পরস্পর পরস্পরের মেহমানদারী কর।
10 তোমরা যে যেমন দান পেয়েছ, সেই অনুসারে আল্লাহ্র বহুবিধ রহমতের-ধনের উত্তম ধনাধক্ষ্যের মত একে অন্যের পরিচর্যা কর।
11 যদি কেউ কথা বলে, সে এমনভাবে বলুক, যেন আল্লাহ্র বাণী বলছে; যদি পরিচর্যা করে, সে আল্লাহ্ দেওয়া শক্তি অনুসারে পরিচর্যা করুক; যেন সমস্ত বিষয়ে ঈসা মসীহের দ্বারা আল্লাহ্ মহিমান্বিত হন। মহিমা ও পরাক্রম যুগপর্যায়ের যুগে যুগে তাঁরই। আমিন।
12
প্রিয়েরা, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে আগুন তোমাদের মধ্যে জ্বলছে, তা অদ্ভুত ঘটনা বলে আশ্চর্য জ্ঞান করো না;
13 বরং যে পরিমাণে মসীহের দুঃখভোগের সহভাগী হচ্ছ, সেই পরিমাণে আনন্দ কর, যেন তাঁর মহিমার প্রকাশকালে উল্লাস সহকারে আনন্দ করতে পার।
14 তোমরা যদি মসীহের নামের জন্য তিরস্কৃত হও, তবে তোমরা ধন্য; কেননা মহিমার রূহ্, এমন কি, আল্লাহ্র রূহ্ তোমাদের উপরে অবস্থান করছেন।
15 তোমাদের মধ্যে যেন কেউ নর-হন্তা, চোর, দুষ্কর্মকারী বা পরের অধিকারে হস্তক্ষেপকারী বলে দুঃখভোগ না করে।
16 কিন্তু যদি কেউ ঈসায়ী বলে দুঃখভোগ করে, তবে সে লজ্জিত না হোক; বরং এই নাম আছে বলে আল্লাহ্র গৌরব করুক।
17 কেননা আল্লাহ্র গৃহে বিচার আরম্ভ হবার সময় হল; আর যদি তা প্রথমে আমাদের মধ্য থেকেই আরম্ভ হয়, তবে যারা আল্লাহ্র ইঞ্জিলের অবাধ্য, তাদের পরিণাম কি হবে?
18 আর ধার্মিকের নাজাত পাওয়া যদি এত শক্ত হয়, তবে ভক্তিহীন ও গুনাহ্গার লোকদের অবস্থা কি হবে?
19 অতএব যারা আল্লাহ্র ইচ্ছাক্রমে দুঃখভোগ করে, তারা সদাচরণ করতে করতে নিজ নিজ প্রাণকে বিশ্বস্ত সৃষ্টিকর্তার হাতে গচ্ছিত রাখুক।
1
অতএব তোমাদের মধ্যে যে প্রাচীন-বর্গ আছেন, তাঁদেরকে আমি এক জন সহপ্রাচীন, মসীহের দুঃখভোগের সাক্ষী এবং যে মহিমা ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে তার সহভাগী হিসেবে ফরিয়াদ করছি;
2 আল্লাহ্র যে পাল তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, তা পালন কর; তাদের দেখাশোনা কর, আবশ্যক বলে নয়, কিন্তু ইচ্ছাপূর্বক, আল্লাহ্র অভিমতে এই কাজ কর। কোনরূপ কুৎসিত লাভের জন্য এই কাজ করো না বরং আগ্রহ সহকারে তাদের দেখাশোনা কর।
3 তোমার অধীনস্থ লোকদের উপর প্রভুত্ব করো না কিন্তু পালের আদর্শ হয়েই দায়িত্ব পালন কর।
4 তাতে প্রধান পালক যখন প্রকাশিত হবেন তখন তোমরা এমন মহিমার মুকুট পাবে যা কখনও ম্লান হবে না।
5 সেভাবে হে যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশীভূত হও; আর তোমরা সকলেই এক জন অন্যের সেবা করার জন্য নম্রতার পোশাক পর; কেননা
“আল্লাহ্ অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন,
কিন্তু নম্রদেরকে রহমত দান করেন।”
6
অতএব তোমরা আল্লাহ্র পরাক্রমশালী হাতের নিচে নত হও, যেন তিনি উপযুক্ত সময়ে তোমাদেরকে উন্নত করেন;
7 তোমাদের সমস্ত ভাবনার ভার তাঁর উপরে ছেড়ে দাও; কেননা তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন।
8 তোমরা সংযমী হও, জেগে থাক; তোমাদের বিপক্ষ শয়তান গর্জনকারী সিংহের মত কাকে গ্রাস করবে, তার খোঁজ করে বেড়াচ্ছে।
9 তোমরা ঈমানে অটল থেকে তার প্রতিরোধ কর; তোমরা জান, দুনিয়াতে অবস্থিত তোমাদের ভাইয়েরাও সেই রকম নানা দুঃখভোগ করছে।
10 আর সমস্ত রহমতের আল্লাহ্, যিনি তোমাদেরকে মসীহে নিজের অনন্ত মহিমা দেবার জন্য আহ্বান করেছেন, তিনি নিজে তোমাদের ক্ষণিক দুঃখভোগের পর তোমাদেরকে পরিপক্ক, সুস্থির, সবল, বদ্ধমূল করবেন।
11 যুগপর্যায়ের যুগে যুগে তাঁরই পরাক্রম হোক। আমিন।
12
সীলবান, যাঁকে আমি আমার বিশ্বস্ত ভাই মনে করি, তাঁর দ্বারা সংক্ষেপে তোমাদেরকে এই পত্র পাঠালাম যাতে তোমরা উৎসাহ পাও এবং এটাই যে আল্লাহ্র সত্য রহমত এমন সাক্ষ্যও দিলাম। তোমরা এই রহমতে স্থির হয়ে বাস কর।
13
তোমাদের সহমনোনীতা ব্যাবিলনস্থ মণ্ডলী এবং আমার পুত্র মার্ক তোমাদের মঙ্গল কামনা করছেন।
14 তোমরা মহব্বতের চুম্বনে পরস্পর মঙ্গল কামনা কর। তোমরা যত লোক মসীহে আছ, তোমাদের সকলের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
1
শিমোন পিতর, ঈসা মসীহের গোলাম ও প্রেরিত— যাঁরা আমাদের আল্লাহ্র ও নাজাতদাতা ঈসা মসীহের ধার্মিকতায় আমাদের সঙ্গে সমরূপ বহুমূল্য ঈমান লাভ করেছেন, তাঁদের সমীপে।
2 আল্লাহ্র এবং আমাদের প্রভু ঈসার তত্ত্বজ্ঞানে রহমত ও শান্তি প্রচুররূপে তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
কারণ যিনি নিজের গৌরব ও সদ্গুণে আমাদেরকে আহ্বান করেছেন, তাঁর তত্ত্ব-জ্ঞান দ্বারা তাঁর খোদায়ী শক্তি আমাদেরকে জীবন ও ভক্তি সম্বন্ধীয় সমস্ত বিষয় দান করেছে।
4 আর ঐ গৌরবে ও উৎকর্ষে তিনি আমাদেরকে মহামূল্য অথচ অতি মহৎ অনেক প্রতিজ্ঞা দান করেছেন, যেন তা দ্বারা তোমরা দুনিয়াবী কামনা-বাসনার দরুন দুনিয়াতে যে সমস্ত নোংরামি জমা হয়েছে তা থেকে পালিয়ে গিয়ে খোদায়ী স্বভাবের সহভাগী হও।
5 আর এরই জন্য তোমরা সমপূর্ণ যত্নের সাথে চেষ্টা কর যাতে নিজেদের ঈমানের সঙ্গে সদ্গুণ ও সদ্গুণের সঙ্গে জ্ঞান
6 ও জ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে দমন ও নিজেকে দমনের সঙ্গে ধৈর্য,
7 ও ধৈর্যের সঙ্গে ভক্তি ও ভক্তির সঙ্গে ভাইদের প্রতি স্নেহ ও ভাইদের প্রতি স্নেহের সঙ্গে মহব্বত যোগ করতে পার।
8 কেননা এ সব যদি তোমাদের মধ্যে থাকে ও উপচে পড়ে, তবে তা আমাদের ঈসা মসীহের তত্ত্বজ্ঞান সম্বন্ধে তোমাদের অলস বা ফলহীন থাকতে দেবে না।
9 কারণ এই সমস্ত যার নেই, সে অন্ধ ও অদূরদর্শী। তাকে যে তার আগের গুনাহ্গুলো থেকে মাফ করা হয়েছে তা ভুলে গেছে।
10 অতএব, হে ভাইয়েরা, তোমরা যে আহ্বান পেয়েছ ও মনোনীত, তা নিশ্চিত করে তুলবার জন্য আরও বেশি চেষ্টা কর, কেননা এসব করলে তোমরা কখনও হোঁচট খাবে না;
11 কারণ এভাবে আমাদের প্রভু ও নাজাতদাতা ঈসা মসীহের অনন্ত রাজ্যে প্রবেশ করার অধিকার তোমাদেরকে প্রচুর দেওয়া যাবে।
12
এই কারণ আমি তোমাদেরকে সব সময় এসব স্মরণ করিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকব; যদিও তোমরা এসব জান এবং বর্তমান সত্যে সুস্থিরও আছ।
13 আর আমি যত দিন এই দেহে থাকি, ততদিন তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাগিয়ে রাখা কর্তব্য বলে মনে করি।
14 কারণ আমি জানি, আমার এই দেহ খুব শীঘ্রই আমাকে পরিত্যাগ করতে হবে, তা আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ই আমাকে জানিয়েছেন।
15
আর তোমরা যাতে আমার গত হওয়ার পরে সব সময় এসব স্মরণ করতে পার, এমন যত্নও করবো।
16
কারণ আমাদের ঈসা মসীহের পরাক্রম ও আগমনের বিষয় যখন তোমাদের জানিয়েছিলাম, তখন আমরা কৌশল-কল্পিত পৌরাণিক গল্পের অনুগামী হই নি, কিন্তু তাঁর মহিমার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়েছিলাম।
17 ফলত তিনি পিতা আল্লাহ্র কাছ থেকে সম্মান ও গৌরব পেয়েছিলেন, সেই মহিমাযুক্ত মহিমা কর্তৃক তাঁর কাছে এই বাণী উপনীত হয়েছিল, “ইনিই আমার পুত্র, আমার প্রিয়তম, এতেই আমি প্রীত।”
18 আর বেহেশত থেকে উপনীত সেই বাণী আমরাই শুনেছি, যখন তাঁর সঙ্গে পবিত্র পর্বতে ছিলাম।
19
আর নবীদের কালাম আরও দৃঢ় হয়ে আমাদের কাছে রয়েছে; তোমরা যে সেই কালামের প্রতি মনোযোগ করছো, তা ভালই করছো; তা এমন প্রদীপের মত, যা যে পর্যন্ত দিনের আরম্ভ না হয় এবং প্রভাতী তারা তোমাদের হৃদয়ে উদিত না হয়, সেই পর্যন্ত অন্ধকারময় স্থানে আলো দেয়।
20 প্রথমে এই কথা জেনো যে, পাক-কিতাবের কোন ভবিষ্যদ্বাণী বক্তার নিজের ব্যাখ্যার বিষয় নয়;
21 কারণ ভবিষ্যদ্বাণী কখনও মানুষের ইচ্ছাক্রমে উপনীত হয় নি, কিন্তু মানুষেরা পাক-রূহ্ দ্বারা চালিত হয়ে আল্লাহ্ থেকে যা পেয়েছেন, তা-ই বলেছেন।
1
কিন্তু লোকদের মধ্যে যেমন ভণ্ড নবীরা উঠেছিল; সেইভাবে তোমাদের মধ্যেও ভণ্ড শিক্ষকরা উপস্থিত হবে, তারা গোপনে ধ্বংসকারী দলভেদ উপস্থিত করবে, যিনি তাদেরকে ক্রয় করেছেন, সেই অধিপতিকেও অস্বীকার করবে, এভাবে শীঘ্র নিজেদের বিনাশ ঘটাবে।
2 আর অনেকে লমপটতার অনুগামী হবে; তাদের কারণে সত্যের পথ নিন্দিত হবে।
3 লোভের বশে তারা ছলনার কথা দ্বারা তোমাদের কাছ থেকে অর্থলাভ করবে; দীর্ঘকাল আগে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চারিত বিচারাজ্ঞা বৃথা হবে না এবং ধ্বংসের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।
4
কারণ যে ফেরেশতারা গুনাহ্ করেছিল আল্লাহ্ তাদেরকে মাফ করেন নি, কিন্তু দোজখের অন্ধকার কারাকূপে ফেলে দিয়ে বিচারের জন্য রেখে দিয়েছেন।
5 আর তিনি পুরানো দুনিয়ার প্রতি মমতা করেন নি, কিন্তু যখন ভক্তিহীনদের দুনিয়াতে বন্যা আনলেন, তখন আর সাতজনের সঙ্গে ধার্মিকতার তবলিগকারী নূহ্কে রক্ষা করলেন।
6 আর সাদুম ও আমুরা নগর আগুন দিয়ে ধ্বংস করে সেই নগরের লোকদের শাস্তি দিলেন, আর যারা ভক্তিবিরুদ্ধ আচরণ করবে, তাদের দৃষ্টান্তস্বরূপ করলেন;
7 আর সেই ধার্মিক লূতকে উদ্ধার করলেন, যিনি ধর্মহীনদের লমপটতায় কষ্ট পেতেন।
8 কেননা সেই ধার্মিক ব্যক্তি তাদের মধ্যে বাস করার সময়, তাদের অধর্মের কাজ দেখে-শুনে প্রতিদিন তাঁর ধর্মশীল প্রাণ ভীষণ কষ্ট পেত।
9 এতে জানি, প্রভু আল্লাহ্ভক্তদেরকে পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করতে এবং অধার্মিকদেরকে শাস্তি পাবার জন্য বিচার-দিন পর্যন্ত রাখতে জানেন।
10 বিশেষত যারা গুনাহ্-স্বভাবের বশবর্তী হয়ে গুনাহ্-স্বভাবের নাপাক অভিলাষে চলে ও প্রভুত্ব অবজ্ঞা করে, তাদেরকে শাস্তি দেবেন। এরা দুঃসাহসী, স্বেচ্ছাচারী; যারা গৌরবের পাত্র, এরা তাদের নিন্দা করতে ভয় করে না।
11
ফেরেশতারা যদিও শক্তিতে ও পরাক্রমে মহত্তর, তবুও প্রভুর কাছে তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে নিন্দাপূর্ণ বিচার উপস্থিত করেন না।
12 কিন্তু যে সমস্ত বুদ্ধিবিহীন জীবজন্তু স্বভাবত ধরে মেরে ফেলবার জন্যই যাদের জন্ম, এই লোকেরা তাদের মতই। তারা যা বোঝে না, তার নিন্দা করে; যেমন ঐ পশুরা বিনষ্ট হয় তারাও তেমনি বিনষ্ট হবে।
13 অন্যায়ের বেতন হিসেবে তাদের সেই অন্যায় ভোগ করতে হবে। তারা দিনের বেলা উদরতৃপ্তিকে সুখ জ্ঞান করে; তারা কলঙ্ক ও ময়লার মত, তারা তোমাদের সঙ্গে ভোজন পান করে নিজেদের ভোগ-বিলাসকেই প্রকাশ করছে।
14 তাদের চোখ জেনায় পরিপূর্ণ এবং গুনাহ্ থেকে বিরত হয় না; তারা অস্থিরমনাদেরকে প্রলোভিত করে; তাদের অন্তর অর্থলালসায় অভ্যস্ত; তারা বদদোয়ার সন্তান।
15 তারা সোজা পথ ত্যাগ করে বিপথগামী হয়েছে, বিয়োরের পুত্র বালামের পথ ধরেছে; সেই ব্যক্তি তো অধার্মিকতার বেতন ভালবাসত;
16 কিন্তু সে নিজের অপরাধের জন্য তিরষ্কৃত হল; একটি বাক্শক্তিহীন গাধা মানুষের মত কথা বলে সেই নবীর উম্মত্ততা নিবারণ করলো।
17
এই লোকেরা পানিশূন্য ফোয়ারা, ঝড়ো হাওয়ায় বয়ে যাওয়া কুয়াশার মত, তাদের জন্য ঘোরতর অন্ধকার জমা রয়েছে,
18 কারণ তারা অসার গর্বের কথা বলে গুনাহ্-স্বভাবের সুখাভিলাষে, লমপটতায়, সেই লোকদেরকে প্রলোভিত করে, যারা বিপথগামীদের কাছ থেকে সমপ্রতি পালিয়ে যাচ্ছে।
19 তারা তাদের কাছে স্বাধীনতার ওয়াদা করে, কিন্তু নিজেরাই অনাচারের গোলাম; কেননা যে যার দ্বারা পরাভূত, সে তার গোলামীতে আবদ্ধ।
20 কারণ আমাদের প্রভু ও নাজাতদাতা ঈসা মসীহের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার ফলে দুনিয়ার মন্দতাগুলো থেকে পালিয়ে আসবার পর যদি তারা পুনরায় তাতে জড়িত হয়ে পরাভূত হয়, তবে তাদের প্রথম দশার চেয়ে শেষ দশা আরও খারাপ হয়ে পড়ে।
21 কেননা ধার্মিকতার পথ জানার পর তাদের যে পবিত্র হুকুম দেওয়া হয়েছে তা থেকে সরে যাওয়ার চেয়ে বরং সেই পথ অজ্ঞাত থাকা তাদের পক্ষে আরও ভাল ছিল।
22 তাদের সম্পর্কে এই প্রবাদ এই সত্য বলে প্রমাণিত হল,
“কুকুর তার বমির দিকে ফেরে,”
আর শূকরকে ধোয়ানো হলেও
সে কাদায় গড়াগড়ি দেয়।
1
এখন প্রিয়তমেরা, আমি এই দ্বিতীয় পত্র তোমাদেরকে লিখছি। উভয় পত্রে তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তোমাদের সরল চিত্তকে জাগিয়ে তুলছি,
2 যেন তোমরা পবিত্র নবীরা যে সব কথা বলে গেছেন সেই কালামগুলো এবং তোমাদের প্রেরিতদের মধ্য দিয়ে দেওয়া নাজাতদাতা প্রভুর হুকুমগুলো স্মরণ কর।
3 প্রথমে এই কথা জেনো যে, শেষকালে উপহাসকারীরা উপহাস করার জন্য উপস্থিত হবে; তারা নিজ নিজ অভিলাষ অনুসারে চলবে,
4 এবং বলবে, তাঁর আগমনের ওয়াদা কোথায়? কেননা সৃষ্টির আরম্ভ থেকে যেমন চলছে, ঠিক তেমনি আমাদের পূর্বপুরুষদের মৃত্যুর পর থেকে একই রকমভাবে সমস্ত কিছু চলছে।
5 বস্তুত সেই লোকেরা ইচ্ছা করেই এই কথা ভুলে যায় যে, বহু দিন আগেই আল্লাহ্র কালামের গুণে আসমান সৃষ্টি হয়েছিল ছিল এবং পানি থেকে ও পানি দ্বারা এই দুনিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
6 তখনকার সেই দুনিয়া বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
7 আবার সেই কালামের গুণে এই বর্তমান কালের আসমান ও দুনিয়া আগুনে পুড়িয়ে দেবার জন্য রাখা হয়েছে, ভক্তিহীন মানুষের বিচার ও বিনাশের দিন পর্যন্ত তা রক্ষা করা হচ্ছে।
8
কিন্তু প্রিয়তমেরা, তোমরা এই একটি বিষয় ভুলে যেও না, প্রভুর কাছে একদিন হাজার বছরের সমান এবং হাজার বছর এক দিনের সমান।
9 প্রভু নিজের ওয়াদা পালনে বিলম্ব করেন না, যেমন কেউ কেউ মনে করেন তিনি বিলম্ব করেন— কিন্তু তোমাদের পক্ষে তিনি দীর্ঘসহিষ্ণু; কেউ যে বিনষ্ট হয়, তা তিনি চান না, বরং তিনি চান যেন সকলে মন পরিবর্তন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
10 কিন্তু প্রভুর দিন চোরের মত আসবে; তখন আসমান হূহূ আওয়াজ করে উড়ে যাবে এবং মূলবস্তুগুলো পুড়ে গিয়ে বিলীন হবে এবং দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সমস্তই পুড়ে যাবে।
11
এভাবে যখন এ সবই বিলীন হবে, তখন তোমাদেরও পবিত্র আচার ব্যবহার ও ভক্তিতে কি রকম লোক হওয়া উচিত!
12 আল্লাহ্র সেই দিনের আগমনের অপেক্ষা ও আকাঙ্খা করতে করতে সেরকম হওয়া চাই, যে দিনে আসমান আগুনে জ্বলে বিলীন হবে এবং মূলবস্তুগুলো পুড়ে গলে যাবে।
13 কিন্তু তাঁর ওয়াদা অনুসারে আমরা এমন নতুন আসমানের ও নতুন দুনিয়ার অপেক্ষায় আছি, যার মধ্যে ধার্মিকতা বাস করে।
14
অতএব, প্রিয়তমেরা, তোমরা যখন এই সকলের অপেক্ষা করছো, তখন যত্ন কর যেন তাঁর কাছে তোমাদেরকে নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ অবস্থায় শান্তিতে দেখতে পাওয়া যায়।
15 আর আমাদের প্রভুর ধৈর্যকে নাজাত পাবার সুযোগ বলে মনে কর; যেমন আমাদের প্রিয় ভাই পৌলও তাঁকে দেওয়া জ্ঞান অনুসারে তোমাদের লিখেছেন,
16 আর যেমন তাঁর সকল পত্রেও এই বিষয়ের প্রসঙ্গ করে তিনি এই রকম কথা বলেন; তার মধ্যে কোন কোন কথা বোঝা কষ্টকর; অজ্ঞান ও চঞ্চল লোকেরা যেমন অন্য সমস্ত কিতাবের কথা, তেমনি সেই কথাগুলোরও বিরূপ অর্থ করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে।
17
অতএব, প্রিয়তমেরা, তোমরা এসব আগে জেনেছ বলে সাবধান থাক, যেন ধর্মহীনদের ভ্রান্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নিজের স্থিরতা থেকে পদস্খলিত না হও;
18 কিন্তু আমাদের প্রভু ও নাজাতদাতা ঈসা মসীহের রহমত ও জ্ঞানে বৃদ্ধি লাভ কর। এখন ও অনন্তকাল পর্যন্ত তাঁর গৌরব হোক। আমিন।
1
যা আদি থেকে ছিল, যা আমরা শুনেছি, স্বচক্ষে দেখেছি, নিরীক্ষণ করেছি এবং নিজের হাতে স্পর্শ করেছি, জীবনের সেই কালামের বিষয় লিখছি—
2 আর সেই জীবন প্রকাশিত হলেন এবং আমরা তা দেখেছি ও সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি; এবং যিনি পিতার কাছে ছিলেন ও আমাদের কাছে প্রকাশিত হলেন, তোমাদেরকে সেই অনন্ত জীবনের কথাই জানাচ্ছি—
3 আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি, তার সংবাদ তোমাদেরকেও দিচ্ছি, যেন আমাদের সঙ্গে তোমাদেরও সহভাগিতা থাকে। আর আমাদের যে সহভাগিতা তা পিতার এবং তাঁর পুত্র ঈসা মসীহের সঙ্গে।
4 আমাদের আনন্দ যেন সমপূর্ণ হয়, এজন্য এসব লিখছি।
5
আমরা যে বার্তা তাঁর কাছে শুনে তোমাদের জানাচ্ছি তা এই, আল্লাহ্ হচ্ছেন নূর এবং তাঁর মধ্যে অন্ধকারের লেশমাত্র নেই।
6 আমরা যদি বলি যে, তাঁর সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা আছে, আর যদি অন্ধকারে চলি, তবে মিথ্যা বলি, সত্য আচরণ করি না।
7 কিন্তু তিনি যেমন নূরে আছেন, আমরাও যদি তেমনি নূরে চলি, তবে পরস্পরের মধ্যে আমাদের সহভাগিতা আছে এবং তাঁর পুত্র ঈসার রক্ত আমাদেরকে সমস্ত গুনাহ্ থেকে পাক-পবিত্র করে।
8 আমরা যদি বলি যে, আমাদের মধ্যে গুনাহ্ নেই, তবে নিজেরা নিজেদের ভুলাই এবং সত্য আমাদের অন্তরে নেই।
9 যদি আমরা নিজ নিজ গুনাহ্ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্মিক, সুতরাং আমাদের গুনাহ্ মাফ করবেন এবং আমাদের সমস্ত অধার্মিকতা থেকে পাক-পবিত্র করবেন।
10 যদি আমরা বলি যে, গুনাহ্ করি নি, তবে তাঁকে মিথ্যাবাদী বানাই এবং তাঁর কালাম আমাদের অন্তরে নেই।
1
হে আমার সন্তানেরা, তোমাদেরকে এই সব লিখছি, যেন তোমরা গুনাহ্ না কর। আর যদি কেউ গুনাহ্ করে, তবে পিতার কাছে আমাদের এক সহায় আছেন, তিনি ধার্মিক ঈসা মসীহ্।
2 আর তিনিই আমাদের গুনাহ্র কাফ্ফারা দিয়েছেন, কেবল আমাদের নয়, কিন্তু সমস্ত দুনিয়ার গুনাহ্র কাফ্ফারা দিয়েছেন।
3 আর আমরা যদি তাঁর হুকুমগুলো পালন করি, তবে এতেই জানতে পারি যে, আমরা তাঁকে জানি।
4 যে ব্যক্তি বলে, আমি তাঁকে জানি, তবুও তাঁর হুকুমগুলো পালন করে না, সে মিথ্যাবাদী এবং তাঁর অন্তরে সত্য নেই।
5 কিন্তু যে তাঁর কালাম পালন করে, তার অন্তরে সত্যিই আল্লাহ্র মহব্বত পূর্ণতা লাভ করেছে। এতেই আমরা জানতে পারি যে, আমরা তাঁর সঙ্গে আছি;
6 যে বলে, “আমি তাঁর সঙ্গে আছি”, তবে যেভাবে তিনি চলতেন সেভাবে তারও চলা উচিত।
7
প্রিয়তমেরা, আমি তোমাদের কাছে কোন নতুন হুকুমের কথা লিখছি না; বরং এমন এক পুরানো হুকুমের কথা লিখছি, যা তোমরা আদি থেকে পেয়েছ; তোমরা যে কালাম শুনেছ, তা-ই এই পুরানো হুকুম।
8 আবার আমি তোমাদের কাছে একটি নতুন হুকুমের কথা লিখছি, তা তাঁর ও তোমাদের মধ্যে দেখা গেছে; কারণ অন্ধকার ঘুঁচে যাচ্ছে এবং প্রকৃত নূর এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
9 যে বলে, আমি নূরে আছি, আর আপন ভাইকে ঘৃণা করে, সে এখনও অন্ধকারে রয়েছে।
10 যে আপন ভাইকে মহব্বত করে সে নূরে বাস করে এবং তার মধ্যে উচোট খাওয়ার কোন কারণ নেই।
11 কিন্তু যে আপন ভাইকে ঘৃণা করে সে অন্ধকারে আছে এবং অন্ধকারে চলে, আর কোথায় যায় তা জানে না, কারণ অন্ধকার তার চোখ অন্ধ করে দিয়েছে।
12
সন্তানেরা, আমি তোমাদেরকে লিখছি, কারণ তাঁর নামের গুণে তোমাদের গুনাহের মাফ হয়েছে।
13 পিতারা, তোমাদেরকে লিখছি, কারণ যিনি আদি থেকে আছেন, তোমরা তাঁকে জান। যুবকেরা, তোমাদেরকে লিখছি, কারণ তোমরা সেই ইবলিসকে জয় করেছ।
14 শিশুরা তোমাদেরকে লিখলাম, কারণ তোমরা পিতাকে জান। পিতারা, তোমাদের লিখলাম, কারণ যিনি আদি থেকে আছেন, তোমরা তাঁকে জান। যুবকেরা, তোমাদের লিখলাম, কারণ তোমরা বলবান এবং আল্লাহ্র কালাম তোমাদের অন্তরে বাস করে, আর তোমরা সেই ইবলিসকে জয় করেছ।
15
তোমরা দুনিয়াকে মহব্বত করো না, দুনিয়ার বিষয়গুলোকেও মহব্বত করো না। কেউ যদি দুনিয়াকে মহব্বত করে, তবে পিতার মহব্বত তার অন্তরে নেই।
16 কেননা দুনিয়াতে যা কিছু আছে— গুনাহ্-স্বভাবের অভিলাষ, চোখের অভিলাষ ও সাংসারিক বিষয়ে অহংকার— এসব পিতা থেকে নয়, কিন্তু দুনিয়া থেকে হয়েছে।
17 আর দুনিয়া ও তার অভিলাষ লোপ পেতে চলেছে; কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ইচ্ছা পালন করে, সে অনন্তকাল স্থায়ী।
18
শিশুরা, শেষকাল উপস্থিত, আর তোমরা যেমন শুনেছ যে, দজ্জাল আসছে, তেমনি এখনই অনেক দজ্জাল বের হয়েছে; এতে আমরা জানি যে, শেষকাল উপস্থিত।
19 তারা আমাদের মধ্য থেকে বের হয়েছে; কিন্তু আমাদের লোক ছিল না; কেননা যদি আমাদের হত তবে আমাদের সঙ্গে থাকতো; কিন্তু তারা বের হয়ে গেছে, যেন প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, সকলে আমাদের নয়।
20
আর তোমরা সেই পবিত্রতম থেকে অভিষেক পেয়েছ ও সকলেই জ্ঞান লাভ করেছ।
21 তোমরা সত্য জান না বলে যে আমি তোমাদেরকে লিখলাম, তা নয়; বরং তোমরা সত্যকে জান এবং এও জান যে, সত্য থেকে কোন মিথ্যা কথা বের থেকে হয় না, তাই তোমাদের কাছে লিখলাম।
22 ঈসা-ই মসীহ্, এই কথা যে অস্বীকার করে, সে ছাড়া আর মিথ্যাবাদী কে? সেই ব্যক্তি দজ্জাল, যে পিতা ও পুত্রকে অস্বীকার করে।
23 যে কেউ পুত্রকে অস্বীকার করে, সে পিতাকেও পায় নি; যে ব্যক্তি পুত্রকে স্বীকার করে, সে পিতাকেও পেয়েছে।
24 তোমরা আদি থেকে যা শুনেছ, তা তোমাদের অন্তরে থাকুক; আদি থেকে যা শুনেছ, তা যদি তোমাদের অন্তরে থাকে, তবে তোমরাও পুত্রে ও পিতার মধ্যে থাকবে।
25 আর এটা তাঁরই সেই ওয়াদা, যা তিনি নিজে আমাদের কাছে করেছেন, আর তা হল অনন্ত জীবন।
26
যারা তোমাদের ভুল পথে নিয়ে যেতে চায়, তাদের বিষয়ে এসব তোমাদের লিখলাম।
27 আর তোমরা তাঁর কাছ থেকে যে অভিষেক পেয়েছ, তা তোমাদের হৃদয়ে রয়েছে এবং কেউ যে তোমাদেরকে শিক্ষা দেয়, এতে তোমাদের প্রয়োজন নেই; কিন্তু তাঁর সেই অভিষেক যেমন সমস্ত বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছে এবং তা যেমন সত্য, মিথ্যা নয়, এমন কি তা যেমন তোমাদের শিক্ষা দিয়েছে, তেমনি তোমরা তাঁর সংস্পর্শেই থাক।
28
আর এখন, হে সন্তানেরা, তাঁর সান্নিধ্যেই থাক, যেন তিনি যখন প্রকাশিত হন তখন আমরা সাহস পাই, তাঁর আগমন কালে তাঁর সামনে লজ্জিত না হই।
29 যদি তোমরা জান যে, তিনি ধার্মিক, তবে এও জেনে রেখো যে, যে কেউ সঠিক কাজ করে, তাঁর থেকেই তার জন্ম হয়েছে।
1
দেখ, পিতা আমাদেরকে কেমন মহব্বত দিয়েছেন যে, আমরা আল্লাহ্র সন্তান বলে আখ্যাত হই; আর আমরা তা-ই বটে। এজন্য দুনিয়া আমাদের জানে না, কারণ সে তাঁকে জানে নি।
2
প্রিয়তমেরা, এখন আমরা আল্লাহ্র সন্তান এবং পরে কি হব তা এই পর্যন্ত প্রকাশিত হয় নি। আমরা জানি, তিনি যখন প্রকাশিত হবেন তখন আমরা তাঁর সমরূপ হব; কারণ তিনি যেমন আছেন তাঁকে তেমনি দেখতে পাব।
3 তাঁর উপরে যার এই প্রত্যাশা আছে, সে নিজেকে বিশুদ্ধ করে, যেমন তিনি বিশুদ্ধ।
4
যে কেউ গুনাহ্ করে সে অধর্মের কাজ করে, আর এই অধর্মই হল গুনাহ্।
5 আর তোমরা জান, গুনাহ্র ভার নিয়ে যাবার জন্য তিনি প্রকাশিত হলেন এবং তাঁর মধ্যে কোন গুনাহ্ নেই।
6 যে কেউ তাঁর মধ্যে থাকে সে গুনাহ্ করে না; যে কেউ গুনাহ্ করে সে তাঁকে দেখে নি এবং জানেও নি।
7 সন্তানেরা, কেউ যেন তোমাদেরকে ভ্রান্ত না করে; যে সঠিক কাজ করে সে ধার্মিক, যেমন তিনি ধার্মিক।
8 যে গুনাহ্ করতেই থাকে, সে শয়তানের সন্তান; কেননা শয়তান আদি থেকে গুনাহ্ করছে, আল্লাহ্র পুত্র এজন্যই প্রকাশিত হলেন, যেন শয়তানের কাজগুলো লোপ করেন।
9
যে কেউ আল্লাহ্ থেকে জাত সে গুনাহ্ করতে থাকে না, কারণ তাঁর বীর্য তার অন্তরে থাকে; এবং সে গুনাহ্ করতে পারে না কারণ সে আল্লাহ্ থেকে জাত।
10 এতে কারা আল্লাহ্র সন্তান এবং কারা শয়তানের সন্তান তা প্রকাশ হয়ে পড়ে; যে কেউ সঠিক কাজ না করে এবং যে ব্যক্তি আপন ভাইকে মহব্বত না করে, সে আল্লাহ্র লোক নয়।
11
কেননা তোমরা আদি থেকে যে বার্তা শুনেছ তা এই, আমাদের একে অন্যকে মহব্বত করা কর্তব্য;
12 কাবিল যেমন সেই শয়তানের লোক এবং আপন ভাইকে খুন করেছিল, আমরা যেন তেমন না হই। আর সে কেন তাঁকে খুন করেছিল? কারণ এই যে, তার নিজের কাজ ছিল মন্দ, কিন্তু তার ভাইয়ের কাজ ছিল ধর্মসম্মত।
13
ভাইয়েরা, দুনিয়া যদি তোমাদেরকে ঘৃণা করে তবে আশ্চর্য হয়ো না।
14 আমরা জানি যে, মৃত্যু থেকে আমরা জীবনে উত্তীর্ণ হয়েছি, কারণ আমরা ভাইদেরকে মহব্বত করি; যে কেউ মহব্বত না করে সে মৃত্যুর মধ্যে থাকে।
15 যে কেউ আপন ভাইকে ঘৃণা করে, সে নরহন্তা। তোমরা জান, কোন নরঘাতকের অন্তরে অনন্ত জীবন অবস্থান করে না।
16 তিনি আমাদের জন্য আপন প্রাণ দিলেন, এতে আমরা মহব্বত কি তা জানতে পেরেছি; এবং আমরাও ভাইদের জন্য নিজ নিজ প্রাণ দিতে বাধ্য।
17 কিন্তু এই দুনিয়াতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবার মত অবস্থা যার আছে, সে আপন ভাইকে দীনহীন দেখলে যদি তার প্রতি আপন করুণা রোধ করে, তবে আল্লাহ্র মহব্বত কেমন করে তার অন্তরে থাকে?
18
সন্তানেরা, এসো, আমরা কথায় কিংবা জিহ্বাতে নয়, কিন্তু কাজে ও সত্যে মহব্বত করি।
19 এতে জানবো যে, আমরা সত্যের এবং তাঁর সাক্ষাতে নিজেদের অন্তর উৎসাহ-যুক্ত করবো,
20 কারণ আমাদের অন্তর যদি আমাদের দোষী করে, আল্লাহ্ আমাদের অন্তরের চেয়ে মহান এবং সকলই জানেন।
21 প্রিয়তমেরা, আমাদের অন্তর যদি আমাদের দোষী না করে, তবে আল্লাহ্র উদ্দেশে আমাদের সাহস লাভ হয়;
22 এবং যা কিছু যাচ্ঞা করি তা তাঁর কাছে পাই; কেননা আমরা তাঁর হুকুমগুলো পালন করি এবং তাঁর দৃষ্টিতে যা যা প্রীতিজনক, তা করি।
23 আর তাঁর হুকুম এই, যেন আমরা তাঁর পুত্র ঈসা মসীহের নামে ঈমান আনি এবং একে অন্যকে মহব্বত করি, যেমন তিনি আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন।
24 আর যে ব্যক্তি তাঁর হুকুমগুলো পালন করে, সে তাঁতে থাকে ও তিনি তাতে থাকেন; আর তিনি আমাদেরকে যে রূহ্ দিয়েছেন তাঁর দ্বারা আমরা জানি যে, তিনি আমাদের মধ্যেই বিরাজ করেন।
1
প্রিয়তমেরা, তোমরা সকল রূহ্কে বিশ্বাস করো না, বরং রূহ্গুলোকে পরীক্ষা করে দেখ, তারা আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে কি না; কারণ অনেক ভণ্ড নবী দুনিয়াতে বের হয়েছে।
2 এতে তোমরা আল্লাহ্র রূহ্কে জানতে পারবে; যে রূহ্ ঈসা মসীহ্কে মানব দেহে আগত বলে স্বীকার করে, সে আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে।
3 আর যে রূহ্ ঈসাকে স্বীকার না করে, সে আল্লাহ্ থেকে আসে নি; আর তা-ই দজ্জালের রূহ্, যার বিষয়ে তোমরা শুনেছ যে, তা আসছে এবং এখনই তা দুনিয়াতে আছে।
4 সন্তানেরা, তোমরা আল্লাহ্ থেকে এসেছ এবং ওদেরকে জয় করেছ; কারণ যিনি তোমাদের মধ্যবর্তী, তিনি দুনিয়ার মধ্যবর্তী ব্যক্তির চেয়ে মহান।
5 ওরা দুনিয়া থেকে এসেছে, এই কারণে দুনিয়ার কথা বলে এবং দুনিয়া ওদের কথা শোনে।
6 আমরা আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছি; আল্লাহ্কে যে জানে, সে আমাদের কথা শোনে; যে আল্লাহ্ থেকে আসে নি, সে আমাদের কথা শোনে না। এতেই আমরা সত্যের রূহ্কে ও ভ্রান্তির রূহ্কে জানতে পারি।
7
প্রিয়তমেরা, এসো, আমরা একে অন্যকে মহব্বত করি; কারণ মহব্বত আল্লাহ্র; এবং যে কেউ মহব্বত করে, সে আল্লাহ্ থেকে জাত এবং সে আল্লাহ্কে জানে।
8 যে মহব্বত করে না, সে আল্লাহ্কে জানে না, কারণ আল্লাহ্ মহব্বত।
9 আমাদের মধ্যে এতেই আল্লাহ্র মহব্বত প্রকাশিত হয়েছে যে, আল্লাহ্ তাঁর একজাত পুত্রকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, যেন আমরা তাঁর মধ্য দিয়ে জীবন লাভ করতে পারি।
10 এতেই মহব্বত আছে; আমরা যে আল্লাহ্কে মহব্বত করেছিলাম তা নয়; কিন্তু তিনিই আমাদেরকে মহব্বত করলেন এবং আপন পুত্রকে আমাদের গুনাহের কাফ্ফারা হবার জন্য প্রেরণ করলেন।
11 প্রিয়তমেরা, আল্লাহ্ যখন আমাদের এমন মহব্বত করেছেন, তখন আমরাও পরস্পর মহব্বত করতে বাধ্য।
12 আল্লাহ্কে কেউ কখনও দেখে নি; যদি আমরা একে অন্যকে মহব্বত করি, তবে আল্লাহ্ আমাদের অন্তরে থাকেন এবং তাঁর মহব্বত আমাদের মধ্যে সিদ্ধ হয়।
13
এতে আমরা জানি যে, আমরা তাঁর মধ্যে থাকি এবং তিনি আমাদের অন্তরে থাকেন, কারণ তিনি তাঁর রূহ্ আমাদেরকে দান করেছেন।
14 আর আমরা দেখেছি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পিতা পুত্রকে দুনিয়ার নাজাতদাতা করে প্রেরণ করেছেন।
15 যে কেউ স্বীকার করবে যে, ঈসা আল্লাহ্র পুত্র, আল্লাহ্ তার মধ্যে থাকেন এবং সেও আল্লাহ্র মধ্যে থাকে।
16 আর আল্লাহ্র যে মহব্বত আমাদের মধ্যে আছে, তা আমরা জানি ও বিশ্বাস করেছি। আল্লাহ্ মহব্বত; আর মহব্বতে যে থাকে, সে আল্লাহ্র মধ্যে থাকে এবং আল্লাহ্ তার মধ্যে থাকেন।
17
এতেই মহব্বত আমাদের মধ্যে সিদ্ধ হয়েছে, যেন বিচার-দিনে আমাদের সাহস লাভ হয়; কেননা তিনি যেমন আছেন, আমরাও এই দুনিয়াতে তেমনি আছি।
18 এই মহব্বতের মধ্যে ভয় নেই, বরং সিদ্ধ মহব্বত ভয়কে দূর করে দেয়, কেননা ভয়ের সঙ্গে শাস্তির চিন্তা যুক্ত থাকে, আর যে ভয় করে, সে মহব্বতে পূর্ণতা লাভ করে নি।
19 আমরা মহব্বত করি, কারণ তিনিই প্রথমে আমাদের মহব্বত করেছেন।
20
যদি কেউ বলে, আমি আল্লাহ্কে মহব্বত করি আর আপন ভাইকে ঘৃণা করে, সে মিথ্যাবাদী; কেননা যাকে দেখেছে, নিজের সেই ভাইকে যে মহব্বত না করে, সে যাঁকে দেখে নি, সেই আল্লাহ্কে মহব্বত করতে পারে না।
21 আর আমরা তাঁর কাছ থেকে এই হুকুম পেয়েছি যে, আল্লাহ্কে যে মহব্বত করে, সে আপন ভাইকেও মহব্বত করুক।
1
যে কেউ বিশ্বাস করে যে, ঈসা-ই সেই মসীহ্ সে আল্লাহ্ থেকে জাত; এবং যে জন্মদাতাকে মহব্বত করে সে তাঁর মাধ্যমে জাত ব্যক্তিকেও মহব্বত করে।
2 এতে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ্র সন্তানদেরকে মহব্বত করি— যখন আল্লাহ্কে মহব্বত করি ও তাঁর হুকুমগুলো পালন করি।
3 কেননা আল্লাহ্র প্রতি মহব্বত এই, যেন আমরা তাঁর হুকুমগুলো পালন করি; আর তাঁর হুকুমগুলো ভারী বোঝার মত নয়;
4 কারণ যা কিছু আল্লাহ্ থেকে জাত তা দুনিয়াকে জয় করে; এবং দুনিয়াকে যা জয় করেছে তা হল আমাদের ঈমান।
5 কে দুনিয়াকে জয় করে? কেবল সেই, যে বিশ্বাস করে, ঈসা আল্লাহ্র পুত্র।
6
তিনি সেই ঈসা মসীহ্, যিনি পানি ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছিলেন; কেবল পানির মধ্যে দিয়ে নয়, কিন্তু পানি ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছিলেন।
7 আর পাক-রূহ্ই সাক্ষ্য দিচ্ছে, কারণ পাক-রূহ্ সেই সত্য।
8 বস্তুত তিনটি বিষয় সাক্ষ্য দিচ্ছে, পাক-রূহ্, পানি ও রক্ত এবং সেই তিনের সাক্ষ্য একই।
9 আমরা যদি মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করি, তবে আল্লাহ্র সাক্ষ্য তার চেয়েও বড়; ফলত আল্লাহ্র সাক্ষ্য এই যে, তিনি আপন পুত্রের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
10 আল্লাহ্র পুত্রে যে ঈমান আনে, ঐ সাক্ষ্য তার অন্তরে থাকে; আল্লাহ্র উপরে যে ঈমান না আনে, সে তাঁকে মিথ্যাবাদী করেছে; কারণ আল্লাহ্ আপন পুত্রের বিষয়ে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা সে বিশ্বাস করে নি।
11 আর সেই সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে অনন্ত জীবন দিয়েছেন এবং সেই জীবন তাঁর পুত্রের মধ্যে আছে।
12 পুত্রকে যে পেয়েছে, সে সেই জীবন পেয়েছে; আল্লাহ্র পুত্রকে যে পায় নি, সে সেই জীবনও পায় নি।
13
তোমরা যারা আল্লাহ্র পুত্রের নামে ঈমান এনেছ, আমি তোমাদের এসব কথা লিখলাম, যেন তোমরা জানতে পার যে, তোমরা অনন্ত জীবন পেয়েছ।
14
আর তাঁর উদ্দেশে আমরা এই সাহস পেয়েছি যে, যদি তাঁর ইচ্ছানুসারে কিছু যাচ্ঞা করি, তবে তিনি আমাদের যাচ্ঞা শোনেন।
15 আর যদি জানি যে, আমরা যা যাচ্ঞা করি, তিনি তা শোনেন তবে এও জানি যে, আমরা তাঁর কাছে যা যাচ্ঞা করেছি তার সবই পেয়েছি।
16
যদি কেউ আপন ভাইকে এমন গুনাহ্ করতে দেখে যা মৃত্যুজনক নয়, তবে সে যাচ্ঞা করবে এবং আল্লাহ্ তাকে জীবন দেবেন— যারা মৃত্যুজনক গুনাহ্ করে না, তাদেরকেই দেবেন। মৃত্যুজনক গুনাহ্ আছে, সেই বিষয়ে আমি বলি না যে, তাকে ফরিয়াদ করতে হবে।
17 সমস্ত অধার্মিকতাই গুনাহ্; আর এমন গুনাহ্ আছে, যা মৃত্যুজনক নয়।
18
আমরা জানি, যে কেউ আল্লাহ্ থেকে জাত সে গুনাহ্ করে না, কিন্তু যে আল্লাহ্ থেকে জাত সে নিজেকে রক্ষা করে এবং সেই শয়তান তাকে স্পর্শ করে না।
19 আমরা জানি যে, আমরা আল্লাহ্র সন্তান; আর সমস্ত দুনিয়া সেই শয়তানের মধ্যে শুয়ে রয়েছে।
20 আর আমরা জানি যে, আল্লাহ্র পুত্র এসেছেন এবং আমাদেরকে এমন বুদ্ধি দিয়েছেন, যাতে আমরা সেই সত্যময়কে জানি; এবং আমরা সেই সত্যময়ে, তাঁর পুত্র ঈসা মসীহে আছি; তিনিই সত্যময় আল্লাহ্ এবং অনন্ত জীবন।
21
সন্তানেরা, তোমরা মূর্তিগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখ।
1
এই প্রাচীন— মনোনীতা মহিলা ও তাঁর সন্তানদের সমীপে; যাঁদেরকে আমি সত্যে মহব্বত করি। কেবল আমি নই, বরং যত লোক সত্য জানে, সকলেই মহব্বত করে;
2 সেই সত্যের দরুন, যে সত্য আমাদের মধ্যে বাস করছে এবং অনন্তকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে।
3 পিতা আল্লাহ্ থেকে এবং সেই পিতার পুত্র ঈসা মসীহ্ থেকে সত্যে ও মহব্বতে রহমত, করুণা ও শান্তি আমাদের সঙ্গে থাকবে।
4
আমরা পিতার কাছ থেকে যে হুকুম পেয়েছি, তোমার সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তেমনি সত্যের পথে চলছে দেখতে পেয়ে আমি অতিশয় আনন্দিত হয়েছি।
5 আর এখন, প্রিয় বোন, আমি তোমাকে নতুন হুকুম লিখবার মত নয়, কিন্তু আদি থেকে আমরা যে হুকুম পেয়েছি, সেই অনুসারে তোমাকে এই ফরিয়াদ করছি, যেন আমরা একে অন্যকে মহব্বত করি।
6 আর মহব্বত এই— আমরা যেন তাঁর হুকুম অনুসারে চলি; এই হুকুমটি তোমরা আদি থেকে শুনেছ, যেন তোমরা সেই পথে চল।
7
কারণ অনেক ছলনাকারী লোক দুনিয়াতে বের হয়েছে; ঈসা মসীহ্ মানব দেহে আগমন করেছেন, এই কথা তারা স্বীকার করে না; এরাই তো সেই ছলনাকারী ও দজ্জাল।
8 নিজেদের বিষয়ে সাবধান হও; আমরা যা সাধন করেছি, তা যেন তোমরা না হারাও, কিন্তু যেন সমপূর্ণ পুরস্কার পাও।
9 যে কেউ মসীহের শিক্ষাতে না থাকে কিন্তু তার সীমা ছাড়িয়ে যায়, সে আল্লাহ্কে পায় নি; সেই শিক্ষাতে যে থাকে, সে পিতা ও পুত্র উভয়কে পেয়েছে।
10 যদি কেউ সেই শিক্ষা না নিয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে তাকে বাড়িতে গ্রহণ করো না এবং তাকে ‘মঙ্গল হোক’ বলো না।
11 কেননা যে তাকে ‘মঙ্গল হোক’ বলে, সে তার দুষ্কর্মের সহভাগী হয়।
12
তোমাদেরকে লিখবার অনেক কথা ছিল; কাগজ ও কালি ব্যবহার করতে আমার ইচ্ছা হল না। কিন্তু প্রত্যাশা করি যে, আমি তোমাদের কাছে গিয়ে সম্মুখাসম্মুখি হয়ে কথাবার্তা বলবো, যেন আমাদের আনন্দ সমপূর্ণ হয়।
13 তোমার মনোনীতা বোনের সন্তানেরা তোমাকে সালাম জানাচ্ছে।
1
এই প্রাচীন— প্রিয়তম গায়ের সমীপে, যাঁকে আমি সত্যে মহব্বত করি।
2
প্রিয়তম, মুনাজাত করি, যেমন তোমার প্রাণ কুশলপ্রাপ্ত, সমস্ত বিষয়ে তুমি তেমনি কুশলপ্রাপ্ত ও সুস্থ থাক।
3 কারণ আমি অতিশয় আনন্দিত হলাম যে, ভাইয়েরা এসে তোমার বিশ্বস্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, তুমি সত্যে চলছো।
4 আমার সন্তানেরা সত্যে চলে, এই কথা শুনলে যে আনন্দ হয়, তার চেয়ে বড় কোন আনন্দ আমার নেই।
5
প্রিয়তম, সেই ভাইদের, এমন কি, সেই বিদেশীদের প্রতি তুমি যা যা করে থাক তা ঈমানদারের উপযুক্ত কাজ।
6 তাঁরা মণ্ডলীর সাক্ষাতে তোমার মহব্বতের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন; তুমি যদি আল্লাহ্র উপযোগীরূপে তাঁদের সযত্নে পাঠিয়ে দাও তবে ভালই করবে।
7 কারণ সেই নামের অনুরোধে তাঁরা বের হয়েছেন এবং অ-ইহুদীদের কাছ থেকে তাঁরা কিছুই গ্রহণ করেন না।
8 অতএব আমরা এই রকম লোকদেরকে সাদরে গ্রহণ করতে বাধ্য, যেন সত্যের সহকারী হতে পারি।
9
আমি মণ্ডলীকে কিছু লিখেছিলাম, কিন্তু তাদের মধ্যে প্রধান হতে চায় যে দিয়ত্রিফেস, সে আমাদের স্বীকার করে না।
10 এজন্য যদি আমি আসি, তবে সে যেসব কাজ করে তা স্মরণ করাব। সে মন্দ কথা বলে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে এবং তাতেও সে সন্তুষ্ট নয়, সে নিজেও ভাইদেরকে গ্রহণ করে না আর যারা গ্রহণ করতে ইচ্ছা করে তাদেরকেও বারণ করে এবং মণ্ডলী থেকে বের করে দেয়।
11
প্রিয়তম, যা মন্দ তার অনুকারী হয়ো না, কিন্তু যা উত্তম তার অনুকারী হও। যে উত্তম কাজ করে সে আল্লাহ্ থেকে; যে মন্দ কাজ করে সে আল্লাহ্কে দেখে নি।
12 দীমীত্রিয়ের পক্ষে সকলে, এমন কি, স্বয়ং সত্য সাক্ষ্য দিয়েছে; এবং আমরাও সাক্ষ্য দিচ্ছি; আর তুমি জান যে, আমাদের সাক্ষ্য সত্য।
13
তোমাকে লিখবার অনেক কথা ছিল, কিন্তু কালি ও লেখনী দ্বারা লিখতে ইচ্ছা হয় না।
14 আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে দেখব, তখন আমরা সম্মুখাসম্মুখি হয়ে কথাবার্তা বলবো।
15 তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। বন্ধুরা তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন। তুমি প্রত্যেকের নাম করে বন্ধুদেরকে সালাম জানাও।
1
এহুদা, ঈসা মসীহের গোলাম এবং ইয়াকুবের ভাই— যারা আহ্বান পেয়েছে তাদের সমীপে, যাদেরকে পিতা আল্লাহ্ মহব্বত করেন এবং যাদেরকে ঈসা মসীহের জন্য রক্ষা করা হয়েছে।
2 করুণা, শান্তি ও মহব্বত প্রচুররূপে তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
3
প্রিয়তমেরা, আমাদের সকলের নাজাতের বিষয়ে তোমাদেরকে কিছু লিখতে খুবই উৎসুক হওয়াতে আমি বুঝতে পারলাম যে, পবিত্র লোকদের কাছে যে ঈমান চিরকালের জন্য সমর্পণ করা হয়েছে তার পক্ষে প্রাণপণ চেষ্টা করতে তোমাদের উৎসাহ দিয়ে কিছু লেখা আবশ্যক।
4 যেহেতু এমন কয়েকজন ভক্তিহীন লোক গোপনে অনুপ্রবেশ করেছে, যাদের আজাবের কথা আগেই লেখা হয়েছিল। আমাদের আল্লাহ্র রহমতকে তারা লম্পটতায় পরিণত করে এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি ও প্রভু সেই ঈসা মসীহ্কে অস্বীকার করে।
5
কিন্তু যদিও তোমরা এ সব বিষয় একবারে জেনেছ, তবুও আমার বাসনা এই, যেন তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিই যে, প্রভু মিসর দেশ থেকে তাঁর লোকদেরকে উদ্ধার করে আনবার পরে যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের ধ্বংস করেছিলেন।
6 আর যে ফেরেশতারা নিজেদের অধিকারের সীমা রক্ষা না করে নিজের বাসস্থান পরিত্যাগ করেছিল, তাদেরকে তিনি মহাদিনের বিচারের জন্য ঘোর অন্ধকারের অধীনে অনন্তকালীন শিকলে বেঁধে রেখেছেন।
7 সেই রকম সাদুম ও আমুরা এবং চারপাশের নগরের লোকদের মত ভীষণ জেনা এবং অস্বাভাবিক লমপটতায় বিপথগামী হয়ে, অনন্ত আগুনের দণ্ড ভোগ করছে ও দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
8 তবুও এরাও সেভাবে স্বপ্ন দেখতে দেখতে নিজেদের দেহকে নাপাক করে, প্রভুত্ব অগ্রাহ্য করে এবং যারা গৌরবের পাত্র তাদের নিন্দা করে।
9 কিন্তু প্রধান ফেরেশতা মিকাইল যখন মূসার দেহের বিষয়ে শয়তানের সঙ্গে বাদানুবাদ করলেন, তখন অপবাদের অভিযোগ আরোপ করতে সাহস করলেন না, কিন্তু বললেন, প্রভু তোমাকে ভর্ৎসনা করুন।
10 কিন্তু এরা যা যা বোঝে না, তারই নিন্দা করে এবং বুদ্ধিবিহীন পশুদের মত সহজাত প্রবৃত্তিবশত নিজে থেকেই যা বোঝে তার দ্বারাই বিনষ্ট হয়।
11 ধিক্ তাদেরকে! কারণ তারা কাবিলের পথে চলে গেছে এবং বেতনের লোভে বালামের ভ্রান্ত-পথে গিয়ে পড়েছে এবং কারুনের প্রতিবাদে বিনষ্ট হয়েছে।
12 তারা তোমাদের সঙ্গে ভোজন পান করার সময়ে তোমাদের প্রেম-ভোজে কলঙ্কস্বরূপ, তারা কেবল নিজেদেরই তুষ্ট করে; তারা বায়ু-চালিত পানিহীন মেঘের মত; হেমন্তকালের ফলহীন, দু’বার মৃত ও শিকড় সুদ্ধ উপ্ড়ে ফেলা গাছের মত;
13 তারা সমুদ্রের ঝড়ের ফেনার মত; তাদের লজ্জার কাজগুলো ফেনার মতই ভেসে ওঠে; তারা ভ্রাম্যমান তারার মত, যাদের জন্য অনন্তকালের ঘোরতর অন্ধকার জমা করে রাখা হয়েছে।
14
আর আদমের সপ্তম পুরুষ যে হনোক, তিনিও এই লোকদের উদ্দেশে এই ভবিষ্যদ্বাণী বলেছেন, “দেখ, প্রভু তাঁর অযুত অযুত পবিত্র ফেরেশতার সঙ্গে আসলেন, যেন সকলের বিচার করেন;
15 আর ভক্তিহীন লোকেরা তাদের যেসব ভক্তিবিরুদ্ধ কাজ দ্বারা ভক্তিহীনতা দেখিয়েছে এবং ভক্তিহীন গুনাহ্গার লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে যেসব শক্ত কথা বলেছে, তার জন্য তাদেরকে দোষী করেন।”
16 এরা বচসাকারী, নিজেদের ভাগ্যের দোষ দিয়ে নিজ নিজ অভিলাষের অনুগামী হয়; আর তাদের মুখ মহাদম্ভের কথা বলে এবং লাভের আশায় তারা মানুষের তোষামোদ করে।
17
কিন্তু প্রিয়তমেরা, ইতোপূর্বে আমাদের ঈসা মসীহের প্রেরিতরা যেসব কথা বলেছেন, তোমরা সেই সব স্মরণ কর;
18 তাঁরা তো তোমাদেরকে বলতেন, শেষকালে উপহাসকারীরা উপস্থিত হবে, তারা নিজ নিজ ভক্তিবিরুদ্ধ অভিলাষ অনুসারে চলবে।
19 ওরা দলভেদকারী, দুনিয়াবী, এবং তাদের অন্তরে পাক-রূহ্ নেই।
20
কিন্তু, প্রিয়তমেরা, তোমরা তোমাদের পরম পবিত্র ঈমানের উপরে নিজেদের গেঁথে তুলতে তুলতে, পাক-রূহে মুনাজাত করতে করতে,
21 আল্লাহ্র মহব্বতে নিজেদেরকে রক্ষা কর এবং অনন্ত জীবনের জন্য আমাদের ঈসা মসীহের করুণার অপেক্ষায় থাক।
22 আর কতগুলো লোকের প্রতি, যারা সন্দিহান, তাদের প্রতি করুণা কর;
23 আগুন থেকে টেনে নিয়ে রক্ষা কর; আর কতগুলো লোকের প্রতি সভয়ে করুণা কর; গুনাহ্-স্বভাবের দ্বারা কলঙ্কিত কাপড়ও ঘৃণা কর।
24
আর যিনি তোমাদেরকে হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং আপন মহিমার সাক্ষাতে নির্দোষ অবস্থায় সানন্দে উপস্থিত করতে পারেন,
25 যিনি একমাত্র আল্লাহ্ আমাদের নাজাতদাতা, আমাদের প্রভু ঈসা মসীহ্ দ্বারা তাঁরই প্রতাপ, মহিমা, পরাক্রম ও কর্তৃত্ব হোক, সকল যুগের পূর্বাবধি, আর এখন এবং সমস্ত যুগপর্যায়ে হোক। আমিন।
1
ঈসা মসীহের প্রকাশিত কালাম, আল্লাহ্ যা তাঁকে দান করলেন, যেন যা যা শীঘ্র ঘটবে, সেসব তিনি তাঁর গোলামদের দেখিয়ে দেন; আর তিনি নিজের ফেরেশতা প্রেরণ করে তাঁর গোলাম ইউহোন্নাকে তা জানালেন।
2 ইউহোন্না আল্লাহ্র কালাম এবং ঈসা মসীহের সাক্ষ্যের সম্বন্ধে যা যা দেখেছেন সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন।
3 ধন্য, যে এই ভবিষ্যদ্বাণীর কালামগুলো পাঠ করে ও যারা শোনে এবং এতে লেখা হুকুমগুলো পালন করে; কেননা কাল সন্নিকট।
4
ইউহোন্না— এশিয়ায় অবস্থিত সাতটি মণ্ডলীর সমীপে। যিনি আছেন ও যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন, তাঁর কাছ থেকে এবং তাঁর সিংহাসনের সম্মুখবর্তী সাতটি রূহ্ থেকে এবং
5 যিনি “বিশ্বস্ত সাক্ষী,” মৃতদের মধ্যে “প্রথমজাত” ও “দুনিয়ার বাদশাহ্দের শাসনকর্তা,” সেই ঈসা মসীহ্ থেকে, রহমত ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক। যিনি আমাদের মহব্বত করেন ও নিজের রক্তে আমাদের গুনাহ্ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন,
6 এবং আমাদের দিয়ে একটি রাজ্য গড়ে তুলেছেন ও তাঁর আল্লাহ্ ও পিতার সেবার জন্য ইমাম করেছেন, তাঁর মহিমা ও পরাক্রম যুগপর্যায়ের যুগে যুগে হোক। আমিন।
7
দেখ, তিনি “মেঘ সহকারে আসছেন,” আর প্রত্যেক চোখ তাঁকে দেখবে এবং “যারা তাঁকে বিদ্ধ করেছিল, তারাও দেখবে;” আর দুনিয়ার “সমস্ত বংশ তাঁর জন্য মাতম” করবে। তা-ই হোক, আমিন।
8
এই কথা প্রভু আল্লাহ্ বলছেন, আমি আল্ফা এবং ওমেগা, যিনি আছেন ও যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন, যিনি সর্বশক্তিমান।
9
আমি ইউহোন্না, তোমাদের ভাই এবং তোমাদের সঙ্গে ঈসাতে একই দুঃখভোগ, রাজ্য ও ধৈর্যের সহভাগী। আমি আল্লাহ্র কালাম ও ঈসার সাক্ষ্যের জন্য পাট্ম নামক দ্বীপে উপস্থিত হলাম।
10 আমি প্রভুর দিনে রূহ্বিষ্ট হলাম এবং আমার পিছনে তূরী-ধ্বনির মত একটি মহারব শুনলাম।
11 কেউ বললেন, তুমি যা দেখছ, তা একটি কিতাবে লেখ এবং ইফিষ, স্মুর্ণা, পর্গাম, থুয়াতীরা, সার্দি, ফিলাদিল্ফিয়া ও লায়দিকেয়া— এই সাতটি মণ্ডলীর কাছে পাঠিয়ে দাও।
12
তাতে আমার প্রতি যাঁর বাণী হচ্ছিল, তাঁকে দেখবার জন্য আমি মুখ ফিরালাম; মুখ ফিরিয়ে সাতটি সোনার প্রদীপ-আসন দেখলাম,
13 ও সেসব প্রদীপ-আসনের মধ্যে ইবনুল-ইন্সানের মত এক ব্যক্তি, পা পর্যন্ত পোশাকে ঢাকা এবং “বক্ষঃস্থলে সোনার পটি বাঁধা ছিল;
14 তাঁর মাথা ও চুল সাদা রংয়ের ভেড়ার লোমের মত, হিমের মত সাদা রংয়ের এবং তাঁর চোখ আগুনের শিখার মত,
15 এবং তাঁর পা আগুনে পোড়ানো পরিষ্কার করা উজ্জ্বল ব্রোঞ্জের মত এবং তাঁর গলার আওয়াজ পানির স্রোতের শব্দের মত।
16
আর তাঁর ডান হাতে সাতটি তারা আছে এবং তাঁর মুখ থেকে ধারালো দ্বিধার তরবারি বের হচ্ছে এবং তাঁর মুখমণ্ডল পূর্ণ তেজে জ্বলন্ত সূর্যের মত।
17 তাঁকে দেখামাত্র আমি মরার মত হয়ে তাঁর পায়ে পড়লাম। তখন তিনি ডান হাত দিয়ে আমাকে স্পর্শ করে বললেন, ভয় করো না, আমি প্রথম ও শেষ; আমি জীবন্ত;
18 আমি মারা গিয়েছিলাম, আর দেখ, আমি যুগ-পর্যায়ের যুগে যুগে জীবন্ত; আর মৃত্যু ও পাতালের চাবি আমার হাতে আছে।
19 অতএব তুমি যা যা দেখলে এবং যা যা আছে ও এর পরে যা যা হবে, সেসবই লিখে রাখবে।
20 আমার ডান হাতে যে সাতটি তারা এবং সাতটি সোনার প্রদীপ-আসন দেখলে তার নিগূঢ়তত্ত্ব এই— সেই সাতটি তারা ঐ সাতটি মণ্ডলীর ফেরেশতা এবং সেই সাতটি প্রদীপ-আসন ঐ সাতটি মণ্ডলী।
1
ইফিষে অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি নিজের ডান হাতে সেই সাতটি তারা ধারণ করেন, যিনি সেই সাতটি সোনার প্রদীপ-আসনের মধ্যে যাতায়াত করেন, তিনি এই কথা বলেন;
2 আমি জানি তোমার কাজগুলো এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য; আরও আমি জানি যে, তুমি দুর্বৃত্তকে সহ্য করতে পার না এবং নিজেদের প্রেরিত বললেও যারা প্রেরিত নয়, তাদেরকে পরীক্ষা করেছ ও মিথ্যাবাদী বলে জেনেছ।
3 আমি আরও জানি যে, তোমার ধৈর্য আছে, আর তুমি আমার নামের জন্য ভার বহন করেছ, ক্লান্ত হও নি।
4 তবুও তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে, তুমি তোমার প্রথম মহব্বত পরিত্যাগ করেছ।
5 অতএব স্মরণ কর, কোথা থেকে পড়ে গেছ; মন ফিরাও ও প্রথমে যে সব কাজ করতে সেসব কাজ কর। যদি মন না ফিরাও, তবে আমি তোমার কাছে আসবো ও তোমার প্রদীপ-আসন স্বস্থান থেকে দূর করে দেব।
6 কিন্তু একটি গুণ তোমার আছে; আমি যে নীকলায়তীয়দের কাজ ঘৃণা করি, তা তুমিও ঘৃণা কর।
7 যার কান আছে, সে শুনুক, পাক-রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন। যে জয় করে, তাকে আমি আল্লাহ্র “পরমদেশস্থ জীবন-বৃক্ষের” ফল ভোজন করতে দেব।
8
আর স্মুর্ণায় অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি প্রথম ও শেষ, যিনি মরেছিলেন, আর জীবিত হলেন, তিনি এই কথা বলেন।
9 আমি জানি তোমার দুঃখ-কষ্ট ও দীনতা, তবুও তুমি ধনবান; এবং নিজেদের ইহুদী বললেও যারা ইহুদী নয়, কিন্তু শয়তানের সমাজ, তাদের ধর্ম-নিন্দাও আমি জানি।
10 তোমাকে যেসব দুঃখ ভোগ করতে হবে, তাতে ভয় করো না। দেখ, তোমাদের পরীক্ষার জন্য শয়তান তোমাদের কাউকে কাউকেও কারাগারে নিক্ষেপ করতে উদ্যত আছে, তাতে দশ দিন পর্যন্ত তোমরা কষ্ট ভোগ করবে। তুমি মরণ পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাক, তাতে আমি তোমাকে জীবন-মুকুট দেব।
11 যার কান আছে, সে শুনুক, রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন। যে জয় করে, দ্বিতীয় মৃত্যু তার অনিষ্ট করবে না।
12
আর পর্গামে অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি ধারালো দ্বিধার তলোয়ার ধারণ করেন, তিনি এই কথা বলেন;
13 আমি জানি, তুমি কোথায় বাস করছো, সেখানে শয়তানের সিংহাসন রয়েছে। আর তুমি আমার নাম দৃঢ়ভাবে ধারণ করছো, আমাতে তোমার ঈমান অস্বীকার কর নি; আমার সেই সাক্ষী, আমার সেই বিশ্বস্ত লোক আন্তিপা যখন তোমাদের মধ্যে সেখানে নিহত হয়েছিল, যেখানে শয়তান বাস করে, তখনও ঈমান অস্বীকার কর নি।
14 তবুও তোমার বিরুদ্ধে আমার কয়েকটি কথা আছে, কেননা সেই স্থানে তোমার কাছে বালামের শিক্ষাবলম্বী কয়েকজন লোক আছে; সেই বালাম বনি-ইসরাইলদের সম্মুখে বাধাজনক পাথর ফেলে রাখতে বালাককে শিক্ষা দিয়েছিল, যেন তারা মূর্তির কাছে উৎসর্গ-করা খাবার ভোজন ও পতিতা-গমন করে।
15 সেরকমভাবে নীকলায়তীয়দের শিক্ষা অনুসারে যারা চলে এমন কয়েকজনও তোমার কাছে আছে।
16 অতএব মন ফিরাও, নতুবা আমি শীঘ্রই তোমার কাছে আসবো এবং আমার মুখের তরবারি দ্বারা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবো।
17 যার কান আছে, সে শুনুক, রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন। যে জয় করে তাকে আমি গুপ্ত “মান্না” এবং একখানি শ্বেত পাথর দেব, সেই পাথরের উপরে “নতুন একটি নাম” লেখা আছে; আর কেউই সেই নাম জানে না, কেবল যে তা গ্রহণ করে, সেই জানে।
18
আর থুয়াতীরায় অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি আল্লাহ্র পুত্র, যাঁর চোখ আগুনের শিখার মত ও যাঁর পা উজ্জ্বল ব্রোঞ্জের মত, তিনি এই কথা বলেন;
19 আমি জানি তোমার কাজগুলো ও তোমার মহব্বত ও ঈমান ও পরিচর্যা ও ধৈর্য, আর তোমার প্রথম কাজের চেয়ে শেষ কাজ যে বেশি তাও আমি জানি।
20 তবুও তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে; ঈষেবল নাম্নী যে নারী নিজেকে মহিলা-নবী বলে, তুমি তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছ এবং সে আমারই গোলামদেরকে পতিতাগমন ও মূর্তির কাছে উৎসর্গ-করা খাবার ভোজন করতে শিক্ষা দিয়ে ভুলাচ্ছে।
21 আমি তাকে মন ফিরাবার জন্য সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে নিজের জেনা থেকে মন ফিরাতে চায় না।
22 দেখ, আমি তাকে বিছানায় ফেলে রাখব এবং যারা তার সঙ্গে জেনা করে, তারা যদি তার কাজ থেকে মন না ফিরায়, তবে তাদেরকে ভীষণ কষ্টের মধ্যে ফেলে দেব;
23 আর আমি তার সন্তানদেরকে আঘাত করে হত্যা করবো; তাতে সমস্ত মণ্ডলী জানতে পারবে, “আমি মর্মের ও হৃদয়ের অনুসন্ধানকারী, আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তাদের কাজ অনুসারে ফল দিব”।
24 কিন্তু থুয়াতীরাতে অবশিষ্ট তোমাদের যত জন সেই শিক্ষা গ্রহণ করে নি, লোকে যাকে গভীরতত্ত্ব বলে, শয়তানের সেই গভীরতত্ত্বগুলো যারা জানে নি— তাদের বলছি, তোমাদের উপরে আমি অন্য কোন ভার অর্পণ করি না;
25 কেবল যা তোমাদের আছে, তা আমার আগমন পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ কর।
26 আর যে জয় করে ও শেষ পর্যন্ত আমার হুকুম করা কাজগুলো পালন করে, তাকে আমি নিজে পিতা থেকে যেমন পেয়েছি, তেমনি জাতিদের উপরে কর্তৃত্ব দেব;
27 তাতে সে লোহার দণ্ড দ্বারা তাদের এমনি শাসন করবে যে, কুমারের মাটির পাত্রের মত চুরমার করে ফেলবে।
28 আর আমি প্রভাতী তারা তাকে দেব।
29 যার কান আছে, সে শুনুক, পাক-রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন।
1
আর সার্দিতে অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি আল্লাহ্র সাতটি রূহ্ এবং সাতটি তারা ধারণ করেন, তিনি এই কথা বলেন; আমি তোমার কাজগুলোর কথা জানি; তোমার জীবন নামমাত্র; তুমি মৃত।
2 তুমি জাগ্রত হও এবং অবশিষ্ট যেসব বিষয় মৃতপ্রায় হয়েছে তা সুস্থির কর; কেননা আমি তোমার কোন কাজ আমার আল্লাহ্র সাক্ষাতে সিদ্ধ হতে দেখি নি।
3 অতএব তুমি স্মরণ কর, কিভাবে পেয়েছ ও শুনেছ, আর তা পালন কর এবং মন ফিরাও। যদি জাগ্রত না হও, তবে আমি চোরের মত আসবো; এবং কোন্ মুহূর্তে তোমার কাছে আসবো, তা তুমি জানতে পারবে না।
4 তবুও সার্দিতে তোমার এমন কয়েকজন লোক আছে, যারা নিজ নিজ পোশাক মলিন করে নি; তারা সাদা পোশাক পরে আমার সঙ্গে যাতায়াত করবে; কেননা তারা যোগ্য।
5 যে জয় করে, সে এই রকম সাদা পোশাক পরবে এবং আমি তার নাম কোনক্রমেই জীবন-কিতাব থেকে মুছে ফেলবো না, কিন্তু আমার পিতার ও তাঁর ফেরেশতাদের সাক্ষাতে তার নাম স্বীকার করবো।
6 যার কান আছে, সে শুনুক, রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন।
7
আর ফিলাদিল্ফিয়ায় অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে লিখ—
যিনি পবিত্র, যিনি সত্যময়, যিনি “দাউদের চাবি ধারণ করেন, যিনি খুললে কেউ রুদ্ধ করে না ও রুদ্ধ করলে কেউ খোলে না,” তিনি এই কথা বলেন;
8 আমি তোমার কাজগুলোর কথা জানি; দেখ, আমি তোমার সম্মুখে একটি উম্মুক্ত দ্বার রাখলাম, তা রুদ্ধ করতে কারো সাধ্য নেই; কেননা তোমার কিঞ্চিৎ শক্তি আছে, আর তুমি আমার কালাম পালন করেছ, আমার নাম অস্বীকার কর নি।
9 শয়তানের সমাজের যে লোকেরা নিজেদের ইহুদী বললেও ইহুদী নয়, কিন্তু মিথ্যা কথা বলে, তুমি দেখবে, তাদের দশা আমি কি করি। দেখ, আমি তোমার পায়ের কাছে তাদেরকে উপস্থিত করে অবনত করাব; এবং তারা জানতে পারবে যে, আমি তোমাকে মহব্বত করেছি।
10 তুমি আমার ধৈর্যের কথা রক্ষা করেছ, এজন্য আমিও তোমাকে সেই পরীক্ষাকাল থেকে রক্ষা করবো, যা দুনিয়া-নিবাসীদের পরীক্ষা করার জন্য সারা দুনিয়াতে উপস্থিত হবে।
11 আমি শীঘ্র আসছি; তোমার যা আছে, তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, যেন কেউ তোমার মুকুট অপহরণ না করে।
12 যে জয় করে, তাকে আমি আমার আল্লাহ্র গৃহের স্তম্ভস্বরূপ করবো এবং সে আর কখনও সেখান থেকে বাইরে যাবে না; এবং তার উপরে আমার আল্লাহ্র নাম লিখব এবং আমার আল্লাহ্র নগরী যে নতুন জেরুশালেম বেহেশত থেকে, আমার আল্লাহ্র কাছ থেকে নেমে আসবে, তার নাম এবং আমার নতুন নাম লিখব।
13 যার কান আছে, সে শুনুক, পবিত্র রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন।
14
আর লায়দিকেয়ায় অবস্থিত মণ্ডলীর ফেরেশতাকে এই কথা লিখ—
যিনি আমিন, যিনি বিশ্বাস্য ও সত্যময় সাক্ষী, যিনি আল্লাহ্র সৃষ্টির আদি, তিনি এই কথা বলেন;
15 আমি তোমার কাজগুলোর কথা জানি, তুমি না ঠাণ্ডা না গরম; তুমি হয় ঠাণ্ডা হলে, নয় গরম হলে ভাল হত।
16 এভাবে তুমি ঈষদুষ্ণ, না গরম না ঠাণ্ডা, এজন্য আমি নিজের মুখ থেকে তোমাকে বমি করে ফেলে দিতে উদ্যত হয়েছি।
17 তুমি বলছো আমি ধনবান, ধন সঞ্চয় করেছি, আমার কিছুরই অভাব নেই; কিন্তু জান না যে, তুমিই দুর্ভাগা, কৃপাপাত্র, দরিদ্র, অন্ধ ও উলঙ্গ।
18 আমি তোমাকে একটি পরামর্শ দিই; তুমি আমার কাছ থেকে এসব দ্রব্য ক্রয় কর— আগুনে পুড়িয়ে পরিষ্কার করা সোনা, যেন ধনবান হও; সাদা কোর্তা, যেন তা দিয়ে আচ্ছাদিত হলে পর আর তোমার উলঙ্গতার লজ্জা প্রকাশিত না হয়; চোখে লেপনীয় অঞ্জন, যেন দেখতে পাও।
19 আমি যত লোককে মহব্বত করি, সেই সকলকে অনুযোগ করি ও শাসন করি; অতএব উদ্যোগী হও ও মন ফিরাও।
20 দেখ, আমি দরজায় দাঁড়িয়ে আছি ও আঘাত করছি; কেউ যদি আমার গলার আওয়াজ শুনে ও দরজা খুলে দেয়, তবে আমি তার কাছে প্রবেশ করবো ও তার সঙ্গে ভোজন করবো এবং সেও আমার সঙ্গে ভোজন করবে।
21 যে জয় করে, তাকে আমার সঙ্গে আমার সিংহাসনে বসতে দেব, যেমন আমি নিজে জয় করেছি এবং আমার পিতার সঙ্গে তাঁর সিংহাসনে বসেছি।
22 যার কান আছে, সে শুনুক, পাক-রূহ্ মণ্ডলীগুলোকে কি বলছেন।
1
এর পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, বেহেশতে একটি দ্বার খোলা রয়েছে! তূরীর আওয়াজের মত যার গলার আওয়াজ আমি প্রথমে শুনেছিলাম, সেই আওয়াজ শুনলাম, যেন কেউ বলছেন, এই স্থানে উঠে এসো, এর পরে যা যা অবশ্য ঘটবে, সেই সব আমি তোমাকে দেখাই।
2 আমি তখনই রূহে আবিষ্ট হলাম; আর দেখ, বেহেশতে একটি সিংহাসন স্থাপিত, সেই সিংহাসনের উপরে এক ব্যক্তি বসে আছেন।
3 যিনি বসে আছেন, তিনি দেখতে সূর্যকান্তের ও সার্দীয় মণির মত; আর সেই সিংহাসনের চারদিকে মেঘধনুক, তা দেখতে মরকত মণির মত;
4 আর সেই সিংহাসনের চারদিকে চব্বিশটি সিংহাসন আছে, সেসব সিংহাসনে চব্বিশ জন প্রাচীন বসে আছেন, তাঁরা সাদা কাপড় পরা এবং তাঁদের মাথার উপরে সোনার মুকুট।
5 সেই সিংহাসন থেকে বিদ্যুৎ, ভয়ংকর আওয়াজ ও মেঘ-গর্জন বের হচ্ছে; এবং সেই সিংহাসনের সম্মুখে সাতটি প্রদীপ জ্বলছে, তা আল্লাহ্র সাতটি রূহ্।
6 আর সেই সিংহাসনের সম্মুখে যেন স্ফটিকের মত স্বচ্ছ একটি কাচের সমুদ্র আছে এবং সিংহাসনের মধ্যে ও সিংহাসনের চারদিকে চার জন প্রাণী আছেন; তাঁরা সম্মুখে ও পিছনে চোখে পরিপূর্ণ।
7
প্রথম প্রাণী সিংহের মত, দ্বিতীয় প্রাণী বাছুরের মত, তৃতীয় প্রাণী মানুষের মত মুখমণ্ডলবিশিষ্ট এবং চতুর্থ প্রাণী উড়ন্ত ঈগল পাখির মত।
8 সেই চারটি প্রাণীর প্রত্যেকের ছয় ছয়টি করে পাখা এবং তাঁরা চারদিকে ও ভিতরে চোখে পরিপূর্ণ; আর তাঁরা দিনরাত বিরামহীনভাবে এই কথা বলছেন,
‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র প্রভু আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান,
যিনি ছিলেন, যিনি আছেন ও যিনি আসছেন।’
9
আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, যিনি যুগপর্যায়ের যুগে যুগে জীবন্ত, সেই প্রাণীরা যখন তাঁকে মহিমা ও সমাদর ও শুকরিয়া জানাবেন,
10 তখন যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, তাঁর সম্মুখে ঐ চব্বিশ জন প্রাচীন সেজ্দা করবেন এবং যিনি যুগপর্যায়ের যুগে যুগে জীবন্ত, তাঁর এবাদত করবেন, আর নিজ নিজ মুকুট সিংহাসনের সম্মুখে নিক্ষেপ করে বলবেন,
11
‘হে আমাদের প্রভু ও আমাদের আল্লাহ্,
তুমিই মহিমা ও সমাদর ও পরাক্রম গ্রহণের যোগ্য;
কেননা তুমিই সকলের সৃষ্টি করেছ,
এবং তোমার ইচ্ছাতে সকলই অস্তিত্ব লাভ করেছে ও সৃষ্ট হয়েছে।
1
আর, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, আমি তাঁর ডান হাতে একটি কিতাব দেখলাম; তা ভিতরে ও বাইরে লেখা এবং সাতটি মোহর দিয়ে সীলমোহর করা ছিল।
2 পরে আমি দেখলাম, এক শক্তিশালী ফেরেশতা জোর গলায় এই কথা ঘোষণা করছেন, ঐ কিতাব ও তার সীলমোহরগুলো খুলবার যোগ্য কে?
3 কিন্তু বেহেশতে বা দুনিয়াতে বা দুনিয়ার নিচে সেই কিতাব খুলতে অথবা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করতে কারো সাধ্য হল না।
4 তখন আমি ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলাম, কারণ সেই কিতাব খুলবার ও তার প্রতি দৃষ্টিপাত করার যোগ্য কাউকেও পাওয়া গেল না।
5 তাতে সেই প্রাচীনদের মধ্যে এক জন আমাকে বললেন, কেঁদো না; দেখ, যিনি এহুদা-বংশীয় সিংহ, দাউদের মূলস্বরূপ, তিনি ঐ কিতাব ও তার সাতটি সীলমোহর খুলবার জন্য বিজয়ী হয়েছেন।
6
পরে আমি দেখলাম, ঐ সিংহাসন ও চার জন প্রাণীর মধ্যে ও প্রাচীনদের মধ্যে একটি মেষশাবক দাঁড়িয়ে আছে, তাঁকে যেন হত্যা করা হয়েছিল; তাঁর সাতটি শিং ও সাতটি চোখ; সেই চোখ সারা দুনিয়াতে প্রেরিত আল্লাহ্র সাতটি রূহ্।
7 পরে তিনি এসে, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, তাঁর ডান হাত থেকে সেই কিতাবটি গ্রহণ করলেন।
8 তিনি যখন কিতাবখানি গ্রহণ করেন, তখন ঐ চার প্রাণী ও চব্বিশ জন প্রাচীন মেষশাবককের সাক্ষাতে সেজ্দা করলেন; তাঁদের প্রত্যেকের কাছে একটি বীণা ও সুগন্ধি ধূপে পরিপূর্ণ সোনার বাটি ছিল; সেই ধূপ পবিত্র লোকদের মুনাজাত-স্বরূপ।
9 আর তাঁরা একটি নতুন গজল গাইলেন, বললেন,
‘তুমি ঐ কিতাব গ্রহণ করার
ও তার সীলমোহরগুলো খুলবার
যোগ্য;
কেননা তুমি হত হয়েছ
এবং নিজের রক্ত দ্বারা সমস্ত বংশ
ও ভাষা ও জাতি ও লোকবৃন্দ থেকে
আল্লাহ্র জন্য লোকদেরকে ক্রয় করেছ;
10
এবং আমাদের আল্লাহ্র উদ্দেশে
তাদেরকে রাজ্য দিয়েছ ও ইমাম করেছ;
আর তারা দুনিয়ার উপরে রাজত্ব করবে।’
11
পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম এবং সেই সিংহাসন ও প্রাণীদের ও প্রাচীনদের চারদিকে অনেক ফেরেশতার কণ্ঠস্বর শুনলাম; তাঁদের সংখ্যা হাজার হাজার, কোটি কোটি। তাঁরা উচ্চৈঃস্বরে বললেন,
12
‘মেষশাবক, যিনি হত হয়েছিলেন,
তিনিই পরাক্রম ও ধন ও জ্ঞান ও
শক্তি ও সমাদর ও গৌরব ও শুকরিয়া,
এসব গ্রহণ করার যোগ্য।’
13
পরে আমি আরও শুনলাম, বেহেশতে ও দুনিয়াতে ও দুনিয়ার নিচে ও সমুদ্রের উপরে যেসব সৃষ্ট বস্তু এবং এই সকলের মধ্যে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছুই এই কথা বলছে,
‘যিনি সিংহাসনে বসে আছেন,
তাঁর প্রতি ও মেষশাবকের প্রতি
শুকরিয়া
ও সমাদর ও গৌরব ও কর্তৃত্ব
যুগপর্যায়ের যুগে যুগে বর্তুক।’
14
আর সেই চার জন প্রাণী বললেন, আমিন। আর সেই প্রাচীনেরা ভূমিতে উবুড় হয়ে সেজদা করলেন।
1
পরে আমি দেখলাম, যখন সেই মেষশাবক সেই সাতটি সীলমোহরের মধ্যে প্রথম সীলমোহরটি খুললেন, তখন আমি সেই চার জন প্রাণীর মধ্যে এক জন প্রাণীর মেঘ-গর্জনের মত এই বাণী শুনলাম, এসো।
2 আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, একটি সাদা রংয়ের ঘোড়া এবং তার উপরে যিনি বসে আছেন, তিনি ধনুকধারী ও তাঁকে একটি মুকুট দেওয়া হল; এবং তিনি জয় করতে করতে ও জয় করার জন্য বের হলেন।
3
আর তিনি যখন দ্বিতীয় সীলমোহরটি খুললেন, তখন আমি দ্বিতীয় প্রাণীর এই বাণী শুনলাম, এসো।
4 পরে আর একটি ঘোড়া বের হল, সেটি লাল রংয়ের এবং যে তার উপরে বসে আছে, তাকে ক্ষমতা দেওয়া হল, যেন সে দুনিয়া থেকে শান্তি অপহরণ করে, আর যেন মানুষেরা পরস্পরকে হত্যা করে; এবং একটি বড় তলোয়ার তাকে দেওয়া হল।
5
পরে তিনি যখন তৃতীয় সীলমোহরটি খুললেন, তখন আমি তৃতীয় প্রাণীর এই বাণী শুনলাম, এসো। পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, একটি কালো রংয়ের ঘোড়া এবং যে তার উপরে বসে আছে, তার হাতে একটি দাঁড়িপাল্লা।
6 পরে আমি চার জন প্রাণীর মধ্য থেকে বের হওয়া এরকম বাণী শুনলাম, এক সের গমের মূল্য এক সিকি, আর তিন সের যবের মূল্য এক সিকি এবং তুমি তেল ও আঙ্গুর-রসের ক্ষতি করো না।
7
পরে তিনি যখন চতুর্থ সীলমোহরটি খুললেন, তখন আমি চতুর্থ প্রাণীর এই বাণী শুনলাম, এসো।
8 পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, একটি ফ্যাকাশে রংয়ের ঘোড়া এবং যে তার উপরে বসে আছে, তার নাম মৃত্যু এবং পাতাল তার পিছনে চলেছে; আর তাদের দুনিয়ার চতুর্থ অংশের উপরে কর্তৃত্ব দেওয়া হল, যেন তারা তরবারি, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ও বন্য পশু দ্বারা হত্যা করে।
9
পরে তিনি যখন পঞ্চম সীলমোহরটি খুললেন, তখন আমি দেখলাম, কোরবানগাহ্র নিচে সেই লোকদের প্রাণ আছে, যাঁরা আল্লাহ্র কালামের জন্য এবং তাঁরা যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সেই কারণে হত্যা করা হয়েছিল।
10 তাঁরা জোরে চিৎকার করে ডেকে বললেন, হে পবিত্র সত্যময় অধিপতি, বিচার করতে এবং দুনিয়া-নিবাসীদেরকে আমাদের রক্তপাতের প্রতিফল দিতে কত কাল বিলম্ব করবে?
11 তখন তাঁদের প্রত্যেককে সাদা কাপড় দেওয়া হল এবং তাঁদেরকে বলা হল যে, তাঁদের যে সহ-গোলাম ও ভাইদেরকে তাঁদের মত নিহত হতে হবে, যে পর্যন্ত তাঁদের সংখ্যা পূর্ণ না হয় সেই পর্যন্ত তাদের কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।
12
পরে আমি দেখলাম, তিনি যখন ষষ্ঠ সীলমোহরটি খুললেন, তখন মহা ভূমিকমপ হল; এবং সূর্য চটের মত কালো রংয়ের ও পূর্ণচন্দ্র রক্তের মত হল;
13 আর ডুমুর গাছে প্রবল বায়ু বইলে ডুমুর যেমন অসময়ে পড়ে যায়, তেমনি আসমানের তারাগুলো দুনিয়ার উপর খসে পড়লো;
14 আর আসমান গুটানো পুস্তকের মত অপসারিত হল এবং সমস্ত পর্বত ও সমস্ত দ্বীপ স্থানচ্যুত হল।
15 আর দুনিয়ার বাদশাহ্রা, সম্ভ্রান্ত লোকেরা, সহস্রপতিরা, ধনবানেরা, বিক্রমশালীরা এবং সমস্ত গোলাম ও স্বাধীন লোকেরা গুহা ও পর্বতের শৈলে গিয়ে লুকাল,
16 আর পর্বত ও শৈলগুলোকে বলতে লাগল, আমাদের উপরে পড়, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, তাঁর সম্মুখ থেকে এবং মেষশাবকের গজব থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখ;
17 কেননা তাঁদের গজব নাজেলের সেই মহাদিন এসে পড়লো, আর কে দাঁড়াতে পারে?
1
তারপর আমি দেখলাম, দুনিয়ার চার কোণে চার জন ফেরেশতা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা দুনিয়ার চার কোণের বায়ু ধরে রাখছেন, যেন দুনিয়া কিংবা সাগরে কিংবা কোন গাছের উপরে বায়ু প্রবাহিত না হয়।
2 পরে দেখলাম, আর এক জন ফেরেশতা সূর্যের উদয় স্থান থেকে উঠে আসছেন, তাঁর কাছে জীবন্ত আল্লাহ্র সীলমোর আছে; তিনি চিৎকার করে ডেকে, যে চার জন ফেরেশতাকে দুনিয়া ও সমুদ্রের ক্ষতি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদেরকে বললেন,
3 আমরা যে পর্যন্ত আমাদের আল্লাহ্র গোলামদের ললাটে সীলমোহর না দিই, সেই পর্যন্ত তোমরা দুনিয়া কিংবা সমুদ্র কিংবা গাছগুলোর কোন ক্ষতি করো না।
4
পরে আমি ঐ সীলমোহর করা লোকদের সংখ্যা শুনলাম; বনি-ইসরাইলদের সমস্ত বংশের এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোককে সীলমোহর করা হয়েছিল।
5
এহুদা-বংশের বারো হাজার লোককে সীলমোহর করা হয়েছিল;
রূবেণ-বংশের বারো হাজার;
গাদ-বংশের বারো হাজার;
6
আশের-বংশের বারো হাজার;
নপ্তালি-বংশের বারো হাজার;
মানশা-বংশের বারো হাজার;
7
শিমিয়োন-বংশের বারো হাজার;
লেবি-বংশের বারো হাজার;
ইষাখর-বংশের বারো হাজার;
8
সবূলূন-বংশের বারো হাজার;
ইউসুফ-বংশের বারো হাজার;
বিন্ইয়ামীন-বংশের বারো হাজার লোককে সীলমোহর করা
হয়েছিল।
9
এর পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, প্রত্যেক জাতি, বংশ ও লোকবৃন্দ ও ভাষার অনেক লোক, তাদের গণনা করতে সমর্থ কেউ ছিল না; তারা সিংহাসন ও মেষশাবকের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে; তারা সাদা কাপড় পরা ও তাদের হাতে খেজুরের পাতা;
10 এবং তারা জোরে চিৎকার করে বলছে, ‘নাজাত আমাদের আল্লাহ্র, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন এবং মেষশাবকের দান।’
11 আর ফেরেশতা সকলেই সিংহাসন ও প্রাচীনদের ও চার জন প্রাণীর চারদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন; তাঁরা সিংহাসনের সম্মুখে অধোমুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে আল্লাহ্র এবাদত করে বললেন,
12 ‘আমিন; শুকরিয়া ও গৌরব ও জ্ঞান ও প্রশংসা ও সমাদর ও পরাক্রম ও শক্তি যুগপর্যায়ের যুগে যুগে আমাদের আল্লাহ্র প্রতি বর্তুক। আমিন।’
13
পরে প্রাচীনদের মধ্যে এক জন আমাকে বললেন, সাদা কাপড় পরা এই লোকেরা কে ও কোথা থেকে আসল?
14 আমি তাঁকে বললাম, হে আমার প্রভু, তা আপনিই জানেন। তিনি আমাকে বললেন, এরা সেই লোক, যারা সেই মহাকষ্টের মধ্য থেকে এসেছে এবং মেষশাবকের রক্তে নিজ নিজ কাপড় ধুয়ে সাদা করেছে।
15 এজন্য এরা আল্লাহ্র সিংহাসনের সম্মুখে আছে; এবং তারা দিনরাত তাঁর এবাদতখানায় তাঁর এবাদত করে, আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন তিনি এদের উপরে তাঁর তাঁবু খাটাবেন।
16 “এরা আর কখনও ক্ষুধিত হবে না, আর কখনও তৃষ্ণার্তও হবে না এবং এদের কোন রৌদ্র বা কোন উত্তাপ লাগবে না;
17 কারণ সিংহাসনের মধ্যস্থিত মেষ-শাবক এদেরকে পালন করবেন এবং জীবন-পানির ফোয়ারার কাছে নিয়ে যাবেন, আর আল্লাহ্ এদের চোখের সমস্ত পানি মুছে দেবেন।
1
আর তিনি যখন সপ্তম সীলমোহরটি খুললেন, তখন বেহেশতে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত নিঃশব্দতা বিরাজ করলো।
2 পরে আমি সেই সাত জন ফেরেশতাকে দেখলাম, যাঁরা আল্লাহ্র সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন; তাঁদেরকে সাতটি তূরী দেওয়া হল।
3
পরে আর এক জন ফেরেশতা এসে কোরবানগাহ্র কাছে দাঁড়ালেন, তাঁর হাতে সোনার ধূপদানি ছিল; এবং তাঁকে প্রচুর ধূপ দেওয়া হল, যেন তিনি তা সিংহাসনের সম্মুখস্থ সোনার ধূপগাহের উপরে সকল পবিত্র লোকের মুনাজাতে যোগ করেন।
4 তাতে পবিত্র লোকদের মুনাজাতের সঙ্গে ফেরেশতার হাত থেকে ধূপের ধোঁয়া আল্লাহ্র সম্মুখে উঠলো।
5 পরে ঐ ফেরেশতা ধূপদানি নিয়ে কোরবানগাহ্র আগুনে পূর্ণ করে দুনিয়াতে নিক্ষেপ করলেন; তাতে মেঘ-গর্জন, ভয়ঙ্কর আওয়াজ, বিদ্যুৎ ও ভূমিকমপ হল।
6
পরে সাতটি তূরীধারী সেই সাত জন ফেরেশতা তূরী বাজাতে প্রস্তুত হলেন।
7
প্রথম ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর রক্ত মিশানো শিলা ও আগুন দুনিয়াতে নিক্ষেপ করা হল, তাতে দুনিয়ার এক তৃতীয়াংশ পুড়ে গেল ও গাছগুলোর এক তৃতীয়াংশ পুড়ে গেল এবং সমস্ত সবুজ রংয়ের ঘাস পুড়ে গেল।
8
পরে দ্বিতীয় ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর যেন জ্বলন্ত আগুনের একটি মহাপর্বত সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করা হল;
9 তাতে সমুদ্রের এক তৃতীয়াংশ রক্ত হয়ে গেল ও সমুদ্রের মধ্যস্থ এক তৃতীয়াংশের জীবন্ত প্রাণী মারা গেল এবং জাহাজগুলোর এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেল।
10
পরে তৃতীয় ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর প্রদীপের মত জ্বলন্ত একটি বড় তারা আসমান থেকে পড়ে গেল এবং তা নদ নদীর এক তৃতীয়াংশের উপরে ও পানির ফোয়ারাগুলোর উপরে পড়লো।
11 সেই তারার নাম সোমরাজ, তাতে এক তৃতীয়াংশ পানি সোমরাজের মত তিক্ত হয়ে উঠলো এবং পানি তিক্ত হওয়ার দরুন অনেক লোক মারা গেল।
12
পরে চতুর্থ ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর সূর্যের এক তৃতীয়াংশ ও চন্দ্রের এক তৃতীয়াংশ ও তারাগুলোর এক তৃতীয়াংশ আঘাত পেল, তাতে প্রত্যেকের এক তৃতীয়াংশ অন্ধকার হয়ে গেল এবং দিনের এক তৃতীয়াংশে কোন আলো রইল না, আর রাতের বেলাও তেমনি হল।
13
পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর আসমানের মধ্যপথে উড়ে যাচ্ছে, এমন এক ঈগল পাখির বাণী শুনলাম, সে চিৎকার করে বললো, অবশিষ্ট যে তিন ফেরেশতা তূরী বাজাবেন, তাঁরা তূরী বাজালে পর দুনিয়া-নিবাসীদের বিপর্যয়, বিপর্যয়, বিপর্যয় হবে।
1
পরে পঞ্চম ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর আমি আসমান থেকে দুনিয়াতে একটা তারা পড়তে দেখলাম; তাকে অতল গহ্বরের চাবি দেওয়া হল।
2 তাতে সে অতল গহ্বরটি খুলল, আর ঐ গহ্বরটি থেকে বড় ভাটির ধোঁয়ার মত ধোঁয়া উঠলো; গহ্বর থেকে বের হওয়া সেই ধোঁয়ায় সূর্য ও আসমান অন্ধকার হয়ে গেল।
3 পরে ঐ ধোঁয়া থেকে পঙ্গপাল বের হয়ে দুনিয়াতে আসল, আর তাদেরকে দুনিয়ার বৃশ্চিকের ক্ষমতার মত ক্ষমতা দেওয়া হল।
4 আর তাদেরকে বলা হল, দুনিয়ার ঘাসের বা সবুজ রংয়ের শাকের বা কোন গাছের ক্ষতি করো না, কেবল সেই মানুষদেরই ক্ষতি কর, যাদের ললাটে আল্লাহ্র সীলমোহর নেই।
5 ওদেরকে হত্যা করার অনুমতি নয়, কেবল পাঁচ মাস পর্যন্ত যাতনা দেবার অনুমতি তাদেরকে দেওয়া হল; তারা যে যাতনা দেবে তা মানুষের দেহে বৃশ্চিকের দশংনের মতই হবে।
6 সেই সময় মানুষেরা মৃত্যুর খোঁজ করবে, কিন্তু কোন মতে তার উদ্দেশ পাবে না; তারা মৃত্যুর আকাঙক্ষা করবে, কিন্তু মৃত্যু তাদের থেকে পালিয়ে যাবে।
7
ঐ পঙ্গপালের আকৃতি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা ঘোড়াগুলোর মত। তাদের মাথায় সোনার মুকুটের মত এক রকম জিনিস ছিল এবং তাদের মুখ মানুষের মুখের মত;
8 আর তাদের চুল স্ত্রীলোকের চুলের মত ও তাদের দাঁত সিংহের দাঁতের মত।
9 আর তাদের বুকপাটা লোহার বুকপাটার মত ও তাদের পাখার আওয়াজ রথের, যুদ্ধে ধাবমান অনেক ঘোড়ার শব্দের মত।
10 আর বৃশ্চিকের মত তাদের লেজ ও হুল আছে; এবং পাঁচ মাস মানুষের ক্ষতি করতে তাদের ক্ষমতা ঐ লেজে রয়েছে।
11 ঐ পঙ্গপালের বাদশাহ্ অতল গহ্বরের ফেরেশতা, তার নাম ইবরানী ভাষায় আবদ্দোন ও গ্রীক ভাষায় তার নাম আপল্লুয়োন [বিনাশক]।
12
প্রথম বিপর্যয় শেষ হল, দেখ এর পরে আরও দু’টি বিপর্যয় আসছে।
13
পরে ষষ্ঠ ফেরেশতা তূরী বাজালেন, আর আমি আল্লাহ্র সম্মুখস্থ সোনার ধূপগাহের চারটি শৃঙ্গ থেকে একটি বাণী শুনতে পেলাম;
14 তা সেই ষষ্ঠ তূরীধারী ফেরেশতাকে বললো, ফোরাত মহানদীর মধ্যে যে চার জন ফেরেশতা বাঁধা আছে, তাদেরকে মুক্ত কর।
15 তখন মানবজাতির এক তৃতীয় অংশকে হত্যা করার জন্য যে চার জন ফেরেশতাকে সেই দণ্ড, দিন ও মাস ও বছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, তারা মুক্ত হল।
16 ঐ ঘোড়সওয়ার সৈন্যের সংখ্যা বিশ কোটি; আমি তাদের সেই সংখ্যা শুনলাম।
17 আর দর্শনে আমি সেই ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ার ব্যক্তিদের এরকম দেখতে পেলাম, তাদের বুকপাটা আগুনের মত লাল ও নীল রংয়ের ও গন্ধকের মত হলুদ রংয়ের এবং ঘোড়াগুলোর মাথা সিংহের মাথার মত ও তাদের মুখ থেকে আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধক বের হচ্ছে।
18 ঐ তিনটি আঘাত দ্বারা, তাদের মুখ থেকে বের হওয়া আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধক দ্বারা, এক তৃতীয়াংশ মানবজাতিকে হত্যা করা হল।
19 কেননা সেই ঘোড়াগুলোর শক্তি তাদের মুখে ও তাদের লেজে; কারণ তাদের লেজ সাপের মত এবং মাথাবিশিষ্ট; তার দ্বারাই তারা ক্ষতি করে।
20 এসব আঘাতের পরেও যারা বেঁচে রইল, সেই অবশিষ্ট মানবজাতিরা নিজ নিজ হাতের কাজ থেকে মন ফিরালো না, (অর্থাৎ) বদ-রূহ্দের এবাদত থেকে এবং “যে মূর্তিগুলো দেখতে বা শুনতে বা চলতে পারে না, সেসব সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ, পাথর ও কাঠের তৈরি মূর্তিগুলোর” এবাদত থেকে নিবৃত্ত হল না।
21 আর তারা নিজ নিজ হত্যা, নিজ নিজ কুহক, নিজ নিজ জেনা ও চুরি থেকেও মন ফিরালো না।
1
পরে আমি আর এক শক্তিমান ফেরেশতাকে বেহেশত থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর পোশাক ছিল মেঘ, তাঁর মাথার উপরে মেঘধনুক, তাঁর মুখ সূর্যের মত, তাঁর পা আগুনের স্তম্ভের মত,
2 এবং তাঁর হাতে খোলা একখানি ক্ষুদ্র কিতাব ছিল। তিনি সাগরে ডান পা ও স্থলে বাম পা রাখলেন;
3 এবং সিংহ গর্জনের মত হুঙ্কারে চিৎকার করলেন; আর তিনি চিৎকার করলে সাতটি বজ্রধ্বনি হল।
4 সেই সাতটি বজ্রধ্বনির আওয়াজ হলে পর আমি লিখতে উদ্যত হলাম; আর বেহেশত থেকে এই বাণী শুনলাম, ঐ সাতটি বজ্রধ্বনি যা বললো, তা সীলমোহর কর, লিখো না।
5 পরে সেই ফেরেশতা, যাঁকে আমি সমুদ্রের উপরে ও স্থলের উপরে দাঁড়াতে দেখেছিলাম, তিনি বেহেশতের প্রতি “তাঁর ডান হাত উঠালেন,
6 আর যিনি যুগপর্যায়ের যুগে যুগে জীবন্ত, যিনি আসমান ও তার ভেতকার সমস্ত বস্তু এবং দুনিয়া ও তার ভেতরকার সমস্ত বস্তু এবং সমুদ্র ও তার ভেতরকার সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁর নামে এই শপথ করলেন” আর বিলম্ব হবে না;
7 কিন্তু সপ্তম ফেরেশতার ধ্বনির দিনগুলোতে, যখন তিনি তূরী বাজাতে উদ্যত হবেন, তখন আল্লাহ্র নিগূঢ়তত্ত্ব সমাপ্ত হবে, যেমন তিনি তাঁর গোলাম নবীদেরকে এই মঙ্গলবার্তা জানিয়েছিলেন।
8
পরে, বেহেশত থেকে যে বাণী শুনেছিলাম, তা আমার সঙ্গে আবার আলাপ করে বললো, যাও, সমুদ্র ও স্থলের উপরে দণ্ডায়মান ঐ ফেরেশতার হাত থেকে সেই খোলা কিতাবখানি নাও।
9 তখন আমি সেই ফেরেশতার কাছে গিয়ে তাঁকে বললাম, ঐ ক্ষুদ্র কিতাবখানি আমাকে দিন। তিনি আমাকে বললেন, নাও, খেয়ে ফেল; এটি তোমার উদর তিক্ত করে তুলবে কিন্তু তোমার মুখে মধুর মত মিষ্টি লাগবে।
10 তখন আমি ফেরেশতার হাত থেকে সেই ক্ষুদ্র কিতাব গ্রহণ করে খেয়ে ফেললাম। আমার মুখে তা মধুর মত মিষ্ট লাগল কিন্তু খেয়ে ফেলার পর আমার উদর তিক্ত হয়ে গেল।
11
পরে তাঁরা আমাকে বললেন, অনেক লোকবৃন্দ, জাতি, ভাষা ও বাদশাহ্র বিষয়ে তোমাকে আবার ভবিষ্যদ্বাণী বলতে হবে।
1
পরে মাপকাঠির মত একটি নল আমাকে দেওয়া হল; এক জন বললেন, ওঠ, আল্লাহ্র এবাদতখানা ও কোরবানগাহ্ ও যারা তার মধ্যে এবাদত করে, তাদেরকে পরিমাপ কর।
2 কিন্তু বায়তুল-মোকাদ্দসের বাইরের প্রাঙ্গণ বাদ দাও, তা পরিমাপ করো না, কারণ তা জাতিদেরকে দেওয়া হয়েছে; বিয়াল্লিশ মাস পর্যন্ত তারা পবিত্র নগরকে পদতলে দলিত করবে।
3 আর আমি আমার দুই সাক্ষীকে কাজ দেব, তাঁরা চট পরে এক হাজার দুই শত ষাট দিন পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী বলবেন।
4
তাঁরা সেই দুই জলপাই গাছ ও দুই প্রদীপ-আসনস্বরূপ, যাঁরা দুনিয়ার প্রভুর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
5 আর যদি কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে চায়, তবে তাঁদের মুখ থেকে আগুন বের হয়ে তাঁদের দুশমনদেরকে গ্রাস করবে; যদি কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে চায়, তবে সেভাবে তাকে হত হতে হবে।
6 আসমান রুদ্ধ করতে তাঁদের ক্ষমতা আছে, যেন তাঁদের কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর সমস্ত দিন বৃষ্টি না হয়; এবং পানিকে রক্ত করার জন্য পানির উপরে ক্ষমতা এবং যতবার ইচ্ছা করেন দুনিয়াকে সমস্ত আঘাতে আঘাত করার ক্ষমতা তাঁদের আছে।
7
তাঁরা তাদের সাক্ষ্য সমাপ্ত করার পর, অতল গহ্বর থেকে যে পশু উঠবে, সে তাঁদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে, আর তাঁদেরকে জয় করে হত্যা করবে।
8 আর তাঁদের লাশ সেই মহানগরের চকে পড়ে থাকবে, যে নগরকে রূহানিকভাবে সাদুম ও মিসর বলে, আবার যেখানে তাঁদের প্রভু ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন।
9 আর বিভিন্ন লোকসমাজ, বংশ, ভাষা ও জাতির লোক সাড়ে তিন দিন পর্যন্ত তাঁদের লাশ দেখবে, আর তাঁদের লাশ কবরে রাখার অনুমতি দেবে না।
10 আর দুনিয়া-নিবাসীরা তাঁদের বিষয়ে আনন্দিত হবে, আমোদ-প্রমোদ করবে ও একে অন্যের কাছে উপহার পাঠাবে, কেননা এই দুই নবী দুনিয়া-নিবাসীদের যন্ত্রণা দিতেন।
11
পরে সেই সাড়ে তিন দিন গত হলে, “আল্লাহ্ থেকে জীবনের নিঃশ্বাস তাঁদের মধ্যে প্রবেশ করলো, তাতে তাঁরা পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন,” এবং যারা তাঁদের দেখলো, তারা ভীষণ ভয় পেল।
12 পরে তাঁরা শুনলেন, বেহেশত থেকে তাঁদের প্রতি জোরে জোরে এই কথা বলা হচ্ছে, এই স্থানে উঠে এসো; তখন তাঁরা মেঘযোগে বেহেশতে উঠে গেলেন এবং তাঁদের দুশমনরা তাঁদেরকে দেখল।
13 সেই দণ্ডে মহাভূমিকমপ হল, তাতে নগরের দশ ভাগের এক ভাগ ভেঙ্গে পড়ে গেল; সেই ভূমিকমেপ সাত হাজার মানুষ মারা গেল এবং অবশিষ্ট সকলে ভয় পেল ও বেহেশতের আল্লাহ্র গৌরব করলো।
14
দ্বিতীয় বিপর্যয় গত হল; দেখ, তৃতীয় বিপর্যয় শীঘ্রই আসছে।
15
পরে সপ্তম ফেরেশতা তূরী বাজালেন, তখন বেহেশতে জোরে জোরে এরকম বাণী হল,
‘দুনিয়ার রাজ্য আমাদের প্রভুর ও তাঁর মসীহের হল
এবং তিনি যুগপর্যায়ের যুগে যুগে রাজত্ব করবেন।’
16
পরে সেই চব্বিশ জন প্রাচীন, যাঁরা আল্লাহ্র সম্মুখে নিজ নিজ সিংহাসনে বসে থাকেন, তাঁরা অধোমুখে ভূমিতে উবুড় হয়ে আল্লাহ্র এবাদত করে বলতে লাগলেন,
17
‘হে প্রভু আল্লাহ্, সর্বশক্তিমান, তুমি আছ ও ছিলে,
আমরা তোমার শুকরিয়া করছি,
কেননা তুমি আপন মহাপরাক্রম গ্রহণ করে রাজত্ব করেছ।
18
আর জাতিরা ক্রুদ্ধ হয়েছিল,
কিন্তু তোমার গজব নাজেল করবার সময় উপস্থিত হল,
আর মৃত লোকদের বিচার করার সময়
এবং তোমার গোলাম নবীদের ও পবিত্র লোকদেরকে ও যারা তোমার নাম ভয় করে,
তাদের ক্ষুদ্র ও মহান সকলকে পুরস্কার দেবার
এবং দুনিয়া ধ্বংসকারীদের ধ্বংস করার সময় উপস্থিত হল।’
19
পরে আল্লাহ্র বেহেশতী এবাদতখানার দ্বার মুক্ত হল, তাতে তাঁর এবাদতখানার মধ্যে তাঁর শরীয়ত-সিন্দুক দেখা গেল এবং বিদ্যুৎ, গর্জন, মেঘধ্বনি, ভূমিকমপ ও মহা-শিলাবৃষ্টি হল।
1
আর বেহেশতের মধ্যে একটি মহৎ চিহ্ন দেখা গেল। একটি স্ত্রীলোক ছিল, সূর্য তার পরিচ্ছদ ও চন্দ্র তার পায়ের নিচে এবং তার মাথার উপরে বারোটি তারার একটি মুকুট।
2 সে গর্ভবতী আর ব্যথায় চিৎকার করছে, সন্তান প্রসবের জন্য ব্যথা খাচ্ছে।
3 আর বেহেশতের মধ্যে আর একটি চিহ্ন দেখা গেল, দেখ, এক প্রকাণ্ড লাল রংয়ের নাগ, তার সাতটি মাথা ও দশটি শিং এবং সাতটি মাথায় সাতটি রাজমুকুট,
4 আর তার লেজ আসমানের এক তৃতীয়াংশ নক্ষত্র আকর্ষণ করে দুনিয়াতে নিক্ষেপ করলো। যে স্ত্রীলোকটি সন্তান প্রসব করতে উদ্যত, সেই নাগ তার সম্মুখে দাঁড়াল যেন সে প্রসব করবামাত্র তার সন্তানকে গ্রাস করতে পারে।
5 পরে সেই স্ত্রীলোক “একটি পুত্র-সন্তান প্রসব করলো; যিনি লোহার দণ্ড দ্বারা সমস্ত জাতিকে শাসন করবেন।” আর তার সন্তানটি আল্লাহ্ ও তাঁর সিংহাসনের কাছে নীত হলেন।
6 আর সেই স্ত্রীলোকটি মরুভূমিতে পালিয়ে গেল; সেখানে এক হাজার দুই শত ষাট দিন পর্যন্ত প্রতিপালিত হবার জন্য আল্লাহ্ কর্তৃক প্রস্তুত তার একটি স্থান আছে।
7
আর বেহেশতে যুদ্ধ হল; মিকাইল ও তাঁর ফেরেশতারা ঐ নাগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন। তাতে সেই নাগ ও তার দূতেরাও যুদ্ধ করলো,
8 কিন্তু জয়ী হল না এবং বেহেশতে তাদের স্থান আর পাওয়া গেল না।
9 আর সেই মহানাগকে ফেলে দেওয়া হল; এই সেই পুরানো সাপ, যাকে ইবলিস [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলা হয়, সে সমস্ত দুনিয়াকে বিপথে নিয়ে যায়। তাকে দুনিয়াতে ফেলে দেওয়া হল এবং তার দূতদেরও তার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হল।
10 তখন আমি বেহেশত থেকে জোরে জোরে এই কথা বলতে শুনলাম,
‘এখন নাজাত ও পরাক্রম ও আমাদের আল্লাহ্র রাজ্য
এবং তাঁর মসীহের কর্তৃত্ব উপস্থিত হল;
কেননা আমাদের ভাইদের উপরে যে দোষারোপকারী,
যে দিনরাত আমাদের আল্লাহ্র সম্মুখে তাদের নামে দোষারোপ করে,
সে নিপাতিত হল।
11
আর মেষশাবকের রক্ত দ্বারা এবং নিজ নিজ সাক্ষ্য দ্বারা,
তারা তাকে জয় করেছে;
আর তারা মৃত্যু পর্যন্ত নিজ নিজ প্রাণও প্রিয় জ্ঞান করে নি।
12
অতএব, হে বেহেশত ও বেহেশত-বাসীরা, আনন্দ কর; দুনিয়া ও সমুদ্রের সন্তাপ হবে; কেননা শয়তান তোমাদের কাছে নেমে গেছে; সে অতিশয় রাগান্বিত, সে জানে, তার কাল সংক্ষিপ্ত।’
13
পরে যখন ঐ নাগ দেখলো, তাকে দুনিয়াতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তখন যে স্ত্রীলোকটি পুত্র-সন্তানটি প্রসব করেছিল, সে সেই স্ত্রীলোকটির প্রতি তাড়না করতে লাগল।
14 তখন সেই স্ত্রীলোকটিকে মস্ত বড় ঈগল পাখির দু’টি পাখা দেওয়া হল, যেন সে মরুভূমিতে, নিজের স্থানে উড়ে যায়, যেখানে ঐ নাগের দৃষ্টি থেকে দূরে ‘এক কাল ও দুই কাল ও অর্ধেক কাল’ পর্যন্ত সে প্রতিপালিত হয়।
15 পরে সেই সাপ তার মুখ থেকে স্ত্রীলোকটির পিছনে নদীর মত পানির স্রোত বমি করে ফেলে দিল যেন তাকে পানির স্রোতে ভাসিয়ে দিতে পারে।
16 আর দুনিয়া সেই স্ত্রীলোকটিকে সাহায্য করলো, দুনিয়া আপন মুখ খুলে নাগের মুখ থেকে মুখনিঃসৃত নদী গ্রাস করলো।
17 আর সেই স্ত্রীলোকটির প্রতি নাগ ভীষণ ক্রুদ্ধ হল, আর তার বংশের সেই অবশিষ্ট লোকদের সঙ্গে যারা আল্লাহ্র হুকুম পালন ও ঈসার সাক্ষ্য ধারণ করে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল।
18 আর সে সমুদ্রের বালুকণার উপরে দাঁড়ালো।
1
আর আমি দেখলাম, “সমুদ্রের মধ্য থেকে একটি পশু উঠছে; তার দশটি শিং” ও সাতটি মাথা; এবং তার শিংগুলোতে দশটি রাজমুকুট এবং তার মাথাগুলোতে আল্লাহ্-নিন্দার কতিপয় নাম।
2 সেই যে পশুকে আমি দেখলাম, সে “চিতাবাঘের মত, আর তার পা ভল্লুকের মত এবং মুখ সিংহমুখের মত”; আর সেই নাগ নিজের পরাক্রম ও নিজের সিংহাসন ও মহৎ কর্তৃত্ব তাকে দান করলো।
3 পরে দেখলাম, তার ঐ সমস্ত মাথার মধ্যে একটা মাথা যেন মৃত্যুজনিত আঘাতে আহত হয়েছিল, আর তার সেই আঘাতের প্রতিকার করা হল; আর সারা দুনিয়া চমৎকার জ্ঞান করে সেই পশুর পিছনে চলতে লাগলো।
4 আর তারা নাগকে সেজদা করলো, কেননা সে সেই পশুকে তার কর্তৃত্ব দিয়েছিল; আর তারা সেই পশুকে সেজদা করে বললো, এই পশুর মত কে আছে? এবং এর সঙ্গে কে যুদ্ধ করতে পারে?
5
আর এমন একটি মুখ তাকে দেওয়া হল, যা অহংকার ও কুফরী করে এবং তাকে বিয়াল্লিশ মাস পর্যন্ত কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হল।
6 তাতে সে আল্লাহ্র কুফরী করতে মুখ খুলল, তাঁর নাম ও তাঁর বাসস্থানের এবং বেহেশতবাসী সকলের নিন্দা করতে লাগল।
7 আর পবিত্র লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ ও তাদেরকে জয় করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হল; এবং তাকে সমস্ত বংশ, লোকবৃন্দ, ভাষা ও জাতির উপরে কর্তৃত্ব দেওয়া হল।
8 তাতে দুনিয়া-নিবাসীদের সমস্ত লোক, যাদের নাম দুনিয়া সৃষ্টির সময় থেকে হত মেষশাবকের জীবন কিতাবে লেখা নেই, তারা তার এবাদত করবে।
9 যদি কারো কান থাকে, সে শুনুক।
10
যদি কেউ বন্দীত্বের পাত্র হয়,
তবে সে বন্দীত্বে যাবে;
যদি কেউ তলোয়ার দ্বারা হত হবার কথা থাকে,
তবে তাকে তলোয়ার দ্বারা হত হতে হবে।
এজন্য পবিত্র লোকদের ধৈর্য ও ঈমান থাকা প্রয়োজন।
11
পরে আমি আর একটি পশুকে দেখলাম, সে স্থল থেকে উঠলো এবং মেষ-শাবকের মত তার দু’টি শিং ছিল, আর সে নাগের মত কথা বলতো।
12 সে ঐ প্রথম পশুর পক্ষে তার সমস্ত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে; এবং যে প্রথম পশুর মৃত্যুজনিত আঘাতের প্রতিকার করা হয়েছিল, দুনিয়া ও তার অধিবাসীদেরকে তার এবাদত করায়।
13 আর সে মহৎ মহৎ চিহ্ন-কাজ করে; এমন কি মানুষের সাক্ষাতে বেহেশত থেকে দুনিয়াতে আগুন নামিয়ে আনে।
14 এভাবে সেই পশুর সাক্ষাতে যেসব চিহ্ন-কাজ করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে, তা দ্বারা সে দুনিয়া-নিবাসীদের ভুল পথে নিয়ে যায়; সে দুনিয়া-নিবাসীদেরকে বলে, ‘যে পশু তলোয়ার দ্বারা আহত হয়েও বেঁচেছিল, তার একটি মূর্তি তৈরি কর।’
15 আর তাকে এই ক্ষমতা দেওয়া হল যে, সে ঐ পশুর মূর্তির মধ্যে প্রাণ-বায়ু দেয়, যেন ঐ পশুর মূর্তি কথা বলতে পারে ও এমন করতে পারে যে, যারা সেই পশুর মূর্তির এবাদত করবে না, তাদেরকে হত্যা করতে পারে।
16 আর সে ক্ষুদ্র ও মহান, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও গোলাম, সকলকেই ডান হাতে কিংবা ললাটে চিহ্ন ধারণ করায়;
17 আর ঐ পশুর চিহ্ন অর্থাৎ নাম কিংবা নামের সংখ্যা যে কেউ ধারণ না করে, তার ক্রয় বিক্রি করার অধিকার খর্ব করে।
18 এই সব বুঝতে জ্ঞান দরকার। যে বুদ্ধিমান, সে ঐ পশুর সংখ্যা গণনা করুক; কেননা তা এক জন মানুষের সংখ্যা এবং সেই সংখ্যা ছয় শত ছেষট্টি।
1
পরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, সেই মেষশাবক সিয়োন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর সঙ্গে এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোক, তাদের ললাটে তাঁর নাম ও তাঁর পিতার নাম লেখা।
2 পরে বেহেশত থেকে স্রোতের আওয়াজের ধ্বনি ও মহামেঘধ্বনির মত আওয়াজ শুনলাম; যে আওয়াজ শুনলাম, তাতে মনে হল, যেন বীণাবাদক দল নিজ নিজ বীণা বাজাচ্ছে;
3 আর তারা সিংহাসনের সম্মুখে ও সেই চার জন প্রাণী ও প্রাচীনদের সম্মুখে নতুন একটি গজল গাইছিল; দুনিয়া থেকে ক্রয় করা সেই এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার লোক ছাড়া আর কেউ সেই গজল শিখতে পারল না।
4 এরা রমণীদের সংসর্গে কলুষিত হয় নি, কারণ এরা অমৈথুন। যে কোন স্থানে মেষশাবক গমন করেন, সেই স্থানে এরা তাঁর অনুগামী হয়। এরা আল্লাহ্র ও মেষশাবকের জন্য অগ্রিমাংশ বলে মানব জাতির মধ্য থেকে ক্রয় করা হয়েছে।
5 আর “তাদের মুখে কোন মিথ্যা কথা পাওয়া যায় নি;” তারা নির্দোষ।
6
পরে আমি আর এক জন ফেরেশতাকে দেখলাম, তিনি আসমানের মধ্য পথে উড়ছেন, তাঁর কাছে অনন্তকালীন ইঞ্জিল আছে, যেন তিনি দুনিয়া-নিবাসীদেরকে অর্থাৎ, প্রত্যেক জাতি, বংশ, ভাষা ও লোকবৃন্দকে, সুসমাচার জানান;
7 তিনি জোরে জোরে এই কথা বললেন, আল্লাহ্কে ভয় কর ও তাঁর গৌরব কর, কেননা তাঁর বিচার-সময় উপস্থিত; যিনি বেহেশত, দুনিয়া, সমুদ্র ও পানির ফোয়ারাগুলো উৎপন্ন করেছেন, তাঁর এবাদত কর।
8
পরে তাঁর পিছনে দ্বিতীয় এক জন ফেরেশতা আসলেন, তিনি বললেন,
“পড়লো, পড়লো সেই মহতী ব্যাবিলন, যে সমস্ত জাতিকে
তার বেশ্যাক্রিয়ার গজবের-মদ পান করিয়েছে।”
9
পরে তৃতীয় এক ফেরেশতা ওঁদের পিছনে আসলেন, তিনি জোরে জোরে এই কথা বললেন, যদি কেউ সেই পশু ও তার মূর্তির এবাদত করে, আর নিজের ললাটে বা হাতে চিহ্ন ধারণ করে,
10 তবে সেই ব্যক্তিও আল্লাহ্র সেই “গজবের-মদ পান করবে, যা তাঁর গজবের পানপাত্রে অমিশ্রিতরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে”; এবং পবিত্র ফেরেশতাদের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে “আগুনে ও গন্ধকে যাতনা পাবে।
11 তাদের যাতনার ধোঁয়া যুগপর্যায়ের যুগে যুগে ওঠে”; যারা সেই পশু ও তার প্রতিমূর্তির এবাদত করে এবং যে কেউ তার নামের চিহ্ন ধারণ করে, তারা দিনে বা রাতে কখনও বিশ্রাম পায় না।
12
যারা আল্লাহ্র হুকুম পালন করে ও ঈসার ঈমান ধারণ করে সেই পবিত্র লোকদের এজন্য ধৈর্য থাকা দরকার।
13
পরে আমি বেহেশত থেকে এই বাণী শুনলাম, তুমি লেখ, ধন্য সেই মৃতেরা যারা এখন থেকে প্রভুতে মৃত্যুবরণ করে, হ্যাঁ, পাক-রূহ্ বলছেন, তারা নিজ নিজ পরিশ্রম থেকে বিশ্রাম পাবে; কারণ তাদের কাজগুলো তাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে।
14
আর আমি দৃষ্টিপাত করলাম, আর দেখ, সাদা রংয়ের একখানি মেঘ, “সেই মেঘের উপরে ইবনুল-ইনসানের মত এক ব্যক্তি” বসে আছেন, তাঁর মাথায় সোনা মুকুট ও তাঁর হাতে একখানি ধারালো কাস্তে।
15 পরে এবাদতখানা থেকে আর এক জন ফেরেশতা বের হয়ে, যিনি মেঘের উপরে বসে আছেন, তাঁকে জোরে চিৎকার করে বললেন, “আপনার কাস্তে লাগান, শস্য কাটুন, কারণ শস্য কাটবার সময় এসেছে;” কেননা দুনিয়ার শস্য পেকে গেছে।
16 তাতে, যিনি মেঘের উপরে বসে আছেন, তিনি তাঁর কাস্তে দুনিয়াতে লাগালেন ও দুনিয়ার শস্য কাটা হল।
17
পরে বেহেশতী এবাদতখানা থেকে আর এক জন ফেরেশতা বের হলেন; তাঁর হাতেও একখানি ধারালো কাস্তে ছিল।
18 আর কোরবানগাহ্ থেকে অন্য এক জন ফেরেশতা বের হলেন, তিনি আগুনের উপরে কর্তৃত্ববিশিষ্ট, তিনি ঐ ধারালো কাস্তেধারী ব্যক্তিকে জোরে ডেকে এই কথা বললেন, তোমার ধারালো কাস্তে লাগাও, দুনিয়ার আঙ্গুরলতার গুচ্ছগুলো কেটে ফেল, কেননা তার ফল পেকে গেছে।
19 তাতে ঐ ফেরেশতা দুনিয়াতে তাঁর কাস্তে লাগিয়ে দুনিয়ার আঙ্গুর-গুচ্ছ কেটে ফেললেন, আর আল্লাহ্র গজবের মহাকুণ্ডে নিক্ষেপ করলেন।
20 পরে নগরের বাইরে ঐ কুণ্ডে তা দলন করা গেল, তাতে কুণ্ড থেকে রক্ত বের হল এবং ঘোড়াগুলোর বল্গা পর্যন্ত উঠে দুই শত মাইল পর্যন্ত সমস্ত জায়গা রক্তে ডুবে গেল।
1
পরে আমি বেহেশতে আর একটি চিহ্ন দেখলাম, তা মহৎ ও অদ্ভুত। আমি সাত জন ফেরেশতাকে সাতটি আঘাত নিয়ে আসতে দেখলাম; সেগুলো সবই শেষ আঘাত, কেননা সেগুলোর মধ্য দিয়ে আল্লাহ্র গজব সমাপ্ত হল।
2
আর আমি দেখলাম, যেন আগুন মিশানো কাচের সমুদ্র; এবং যারা সেই পশু ও তার মূর্তি ও তার নামের সংখ্যার উপরে বিজয়ী হয়েছে, তারা ঐ কাচের সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের হাতে আল্লাহ্র বীণা।
3 আর তারা আল্লাহ্র গোলাম মূসার গজল ও মেষশাবকের গজল গায়, বলে,
“মহৎ ও আশ্চর্য তোমার কাজগুলো,
হে প্রভু আল্লাহ্, সর্বশক্তিমান;
ন্যায্য ও সত্য তোমার পথগুলো,
হে জাতিদের বাদশাহ্!
4
হে প্রভু, কে না ভয় পাবে?
এবং তোমার নামের গৌরব কে না করবে?
কেননা একমাত্র তুমিই পবিত্র,
কেননা সমস্ত জাতি এসে তোমার সম্মুখে এবাদত করবে,
কেননা তোমার ন্যায়বিচার প্রকাশিত হয়েছে।”
5
আর তারপর আমি দেখলাম, বেহেশতে শরীয়ত-তাঁবুর এবাদতখানাটি খুলে দেওয়া হল;
6 তাতে ঐ সাতটি আঘাতের মালিক সাত জন ফেরেশতা এবাদতখানা থেকে বাইরে আসলেন, তাঁরা বিমল ও উজ্জ্বল মসীনার কাপড় পরা এবং তাঁদের বক্ষঃস্থলে সোনার পটুকা বাঁধা।
7 পরে চার জন প্রাণীর মধ্যে এক জন প্রাণী ঐ সাত জন ফেরেশতাকে সাতটি সোনার বাটি দিলেন, সেগুলো যুগপর্যায়ের যুগে যুগে জীবন্ত আল্লাহ্র গজবে পরিপূর্ণ।
8 তাতে আল্লাহ্র মহিমা ও তাঁর পরাক্রম থেকে উৎপন্ন ধোঁয়ায় এবাদতখানাটি পরিপূর্ণ হল; এবং ঐ সাত জন ফেরেশতার সাতটি আঘাত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কেউ এবাদতখানায় প্রবেশ করতে পারল না।
1
পরে আমি এবাদতখানা থেকে জোরে জোরে বলা একটি বাণী শুনলাম, তা ঐ সাত জন ফেরেশতাকে বললো, তোমরা যাও, আল্লাহ্র গজবের ঐ সাতটি বাটি দুনিয়াতে ঢেলে দাও।
2
পরে প্রথম ফেরেশতা গিয়ে দুনিয়ার উপরে তাঁর বাটিটি ঢাললেন, তাতে সেই পশুর চিহ্নবিশিষ্ট ও তার মূর্তির এবাদতকারী লোকদের শরীরে ব্যথাজনক দুষ্ট ক্ষত জন্মগ্রহণ করলো।
3
পরে দ্বিতীয় ফেরেশতা সমুদ্রের উপরে তাঁর বাটিটি ঢাললেন, তাতে তা মৃত লোকের রক্তের মত হল এবং সমুদ্রের সমস্ত জীবিত প্রাণী মারা গেল।
4
পরে তৃতীয় ফেরেশতা নদ-নদী ও পানির ফোয়ারাগুলোর উপরে তাঁর বাটিটি ঢাললেন, তাতে সেসব রক্ত হয়ে গেল।
5 তখন আমি পানির উপরে যে ফেরেশতা ক্ষমতা পেয়েছে তাঁর এই বাণী শুনলাম,
হে পবিত্র জন, তুমি ন্যায়পরায়ণ;
তুমি আছ ও তুমি ছিলে,
কারণ তুমি এই সব শাস্তি দিয়েছ;
6
কেননা ওরা পবিত্র লোকদের
ও নবীদের রক্তপাত করেছিল;
আর তুমি ওদেরকে পান করার জন্য রক্ত দিয়েছ;
তারা এর যোগ্য।
7
পরে আমি কোরবানগাহ্র এই বাণী শুনলাম, হ্যাঁ, হে প্রভু আল্লাহ্, সর্বশক্তিমান, তোমার বিচার সত্য ও ন্যায়ে পূর্ণ।
8
পরে চতুর্থ ফেরেশতা সূর্যের উপরে তাঁর বাটিটি ঢাললেন; তাতে আগুন দ্বারা মানুষকে পুড়িয়ে দেবার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হল।
9 তখন ভীষণ তাপে মানুষের শরীর পুড়ে গেল হল এবং যিনি এসব আঘাতের উপরে কর্তৃত্ব করেন, সেই আল্লাহ্র নামের কুফরী করলো; তাঁর গৌরব করার জন্য মন ফিরাল না।
10
পরে পঞ্চম ফেরেশতা সেই পশুর সিংহাসনের উপরে তাঁর বাটিটি ঢাললেন; তাতে তার রাজ্য অন্ধকারময় হল এবং লোকেরা যন্ত্রণার দরুন নিজ নিজ জিহ্বা কামড়াতে লাগলো;
11 এবং নিজেদের যন্ত্রণা ও ক্ষতের জন্য বেহেশতের আল্লাহ্র নিন্দা করলো এবং তাদের খারাপ কাজ থেকে মন ফিরালো না।
12
পরে ষষ্ঠ ফেরেশতা ফোরাত মহা-নদীতে তাঁর বাটিটি ঢাললেন; তাতে নদীর পানি শুকিয়ে গেল, যেন পূর্ব দেশ থেকে আগমনকারী বাদশাহ্দের জন্য পথ প্রস্তুত করা যেতে পারে।
13 পরে আমি দেখলাম, সেই নাগের মুখ ও পশুর মুখ ও ভণ্ড নবীর মুখ থেকে ব্যাঙের মত তিনটি নাপাক রূহ্ বের হল।
14 তারা বদ-রূহ্দের রূহ্, নানা চিহ্ন-কাজ করে; তারা সমস্ত দুনিয়ার বাদশাহ্দের কাছে গিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র সেই মহাদিনের যুদ্ধের জন্য তাদেরকে একত্র করে।
15 — দেখ, আমি চোরের মত আসছি; ধন্য সেই ব্যক্তি, যে জেগে থাকে এবং তার পোশাক পরে থাকে, যেন সে উলঙ্গ হয়ে না বেড়ায় এবং লোকে তার লজ্জা না দেখে।—
16 পরে ওরা, ইবরানী ভাষায় যাকে হর্মাগিদোন বলে, সেই স্থানে তাদের একত্র করলো।
17
পরে সপ্তম ফেরেশতা আসমানের উপরে তাঁর বাটি ঢাললেন, তাতে এবাদতখানার মধ্য থেকে, সিংহাসন থেকে, এই মহাবাণী বের হল, ‘হয়েছে’।
18 আর বিদ্যুৎ, আওয়াজ ও মেঘধ্বনি হল এবং এক মহা-ভূমিকমপ হল, দুনিয়াতে মানুষের উৎপত্তি কাল থেকে যেরকম কখনও হয় নি, সেই রকম প্রচণ্ড মহাভূমিকমপ হল।
19 তাতে মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হল এবং জাতিদের নগরগুলো ভেঙ্গে পড়ে গেল; এবং মহতী ব্যাবিলনকে আল্লাহ্র সাক্ষাতে স্মরণ করা গেল, যেন আল্লাহ্র গজবের ভয়ংকর মদে পূর্ণ পানপাত্র তাকে দেওয়া যায়।
20 আর প্রত্যেক দ্বীপ পালিয়ে গেল ও পর্বতমালাকে আর পাওয়া গেল না।
21 আর আসমান থেকে মানুষের উপরে বড় বড় শিলাবর্ষণ হল, তার এক একটি এক এক তালন্ত পরিমাণ; এই শিলাবৃষ্টিরূপ আঘাতের জন্য মানুষেরা আল্লাহ্র কুফরী করলো; কারণ সেই আঘাত ছিল ভীষণ ভয়ংকর।
1
পরে ঐ সাতটি বাটি যাঁদের হাতে ছিল, সেই সাত জন ফেরেশতার মধ্যে এক জন এসে আমার সঙ্গে আলাপ করে বললেন, এসো, অনেক পানির উপরে বসে আছে যে ঐ মহাবেশ্যা, আমি তোমাকে তার বিচারসিদ্ধ দণ্ড দেখাই,
2 যার সঙ্গে দুনিয়ার বাদশাহ্রা জেনা করেছে এবং দুনিয়া-নিবাসীরা যার বেশ্যাক্রিয়ার মদে মাতাল হয়েছে।
3 পরে তিনি রূহে আমাকে মরুভূমির মধ্যে নিয়ে গেলেন; তাতে আমি এক জন নারীকে দেখলাম, সে লাল রংয়ের পশুর উপরে বসে আছে; সেই পশু ধর্মনিন্দার নামে পরিপূর্ণ এবং তার সাতটি মাথা ও দশটি শিং আছে।
4 আর সেই নারী বেগুনি ও লাল কাপড় পরা এবং সোনা, মূল্যবান মণি ও মুক্তায় ভূষিত এবং তার হাতে সোনার একটি পানপাত্র আছে, তা এই ঘৃণার দ্রব্যে ও তার বেশ্যাক্রিয়ার ময়লায় পরিপূর্ণ।
5 আর তার ললাটে এক নাম, এক নিগূঢ়তত্ত্ব লেখা আছে—
‘মহতী ব্যাবিলন, দুনিয়ার পতিতাদের
ও ঘৃণাস্পদ সকলের জননী।’
6
আর আমি দেখলাম, সেই নারী পবিত্র লোকদের রক্তে ও ঈসার সাক্ষীদের রক্তে মত্ত। তাকে দেখে আমার অতিশয় আশ্চর্য বোধ হল।
7
আর সেই ফেরেশতা আমাকে বললেন, তুমি আশ্চর্য জ্ঞান করলে কেন? আমি ঐ নারী ও ওর বাহনের অর্থাৎ যার সাতটি মাথা ও দশটি শিং আছে, সেই পশুর নিগূঢ়তত্ত্ব তোমাকে জানাই।
8 তুমি যে পশুকে দেখলে, সে ছিল কিন্তু এখন নেই; সে অতল গহ্বর থেকে উঠবে ও বিনাশে যাবে। আর দুনিয়া-নিবাসী যত লোকের নাম দুনিয়ার আরম্ভ থেকে জীবন-কিতাবে লেখা হয় নি, তারা যখন সেই পশুকে দেখবে যে ছিল, এখন নেই, পরে হবে, তখন আশ্চর্য জ্ঞান করবে।
9
এখানে জ্ঞানযুক্ত মনের প্রয়োজন। ঐ সাতটি মাথা হল সাতটি পর্বত, তাদের উপরে ঐ নারী বসে আছে; এবং তারা সাত জন বাদশাহ্;
10 তাদের পাঁচ জন আগেই শেষ হয়ে গেছে, এক জন আছে, আর এক জন এই পর্যন্ত আসে নি; আসলে তাকে অল্পকাল থাকতে হবে।
11 আর যে পশু ছিল, এখন নেই, সে নিজে অষ্টম; সে সেই সাতটির একটি এবং সে বিনাশে যাবে।
12 আর তুমি যে দশটি শিং দেখলে, সেগুলো হল দশ জন বাদশাহ্; তারা এই পর্যন্ত রাজ্য পায় নি, কিন্তু এক ঘণ্টার জন্য সেই পশুর সঙ্গে বাদশাহ্দের মত কর্তৃত্ব পাবে।
13 তারা একমনা এবং নিজেদের পরাক্রম ও কর্তৃত্ব সেই পশুকে দান করবে।
14 তারা মেষশাবকের সঙ্গে যুদ্ধ করবে, আর মেষ-শাবক তাদের জয় করবেন, কারণ “তিনি প্রভুদের প্রভু ও বাদশাহ্দের বাদশাহ্;” এবং যারা তাঁর সহবর্তী, আহ্বান পেয়েছে ও মনোনীত ও বিশ্বস্ত, তাঁরাও জয় করবেন।
15
আর তিনি আমাকে বললেন, তুমি যে পানি দেখলে, ঐ পতিতা যাতে বসে আছে, সেই পানি হল লোকবৃন্দ, লোকারণ্য, জাতি-বৃন্দ ও অনেক ভাষা।
16 আর তুমি যে ঐ দশটি শিং এবং পশুটা দেখলে তারা সেই পতিতাকে ঘৃণা করবে এবং তাকে ধ্বংস ও নগ্ন করবে, তার গোশ্ত ভোজন করবে এবং তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেবে।
17 কেননা আল্লাহ্ তাদের অন্তরে এই প্রবৃত্তি দিয়েছিলেন, যেন তারা তাঁরই মানস পূর্ণ করে এবং একমনা হয়; আর যে পর্যন্ত আল্লাহ্র কালামগুলো সিদ্ধ না হয়, সেই পর্যন্ত নিজ নিজ রাজ্য সেই পশুকে দেয়।
18 আর তুমি যে নারীকে দেখলে, সে ঐ মহানগরী, যা দুনিয়ার বাদশাহ্দের উপর রাজত্ব করছে।
1
এসব কিছুর পরে আমি বেহেশত থেকে আর এক জন ফেরেশতাকে নেমে আসতে দেখলাম; তিনি মহাক্ষমতা সম্পন্ন এবং তাঁর প্রতাপে দুনিয়া আলোতে পূর্ণ হল।
2 তিনি খুব জোরে ডেকে বললেন,
‘পড়লো, পড়লো মহতী ব্যাবিলন;
সে বদ-রূহ্দের আবাস, সমস্ত নাপাক রূহের কারাগার,
ও সমস্ত নাপাক ও ঘৃণ্য পাখির কারাগার হয়ে পড়েছে।
3
কেননা সমুদয় জাতি তার জেনার গজবের মদ পান করেছে,
এবং দুনিয়ার বাদশাহ্রা তার সঙ্গে জেনা করেছে,
এবং দুনিয়ার বণিকেরা তার বিলাসিতার প্রভাবে ধনবান
হয়েছে।’
4
পরে আমি বেহেশত থেকে এরকম আর একটি বাণী শুনলাম,
‘হে আমার লোকেরা, এর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো,
যেন ওর গুনাহ্গুলোর সহভাগী না হও,
এবং ওর আঘাতগুলো যেন না পাও।
5
কেননা ওর গুনাহ্ আসমান পর্যন্ত উঁচু হয়েছে,
এবং আল্লাহ্ ওর অপরাধগুলো স্মরণ করেছেন।
6
সে যেরকম ব্যবহার করতো,
তোমরাও তার প্রতি সেরকম ব্যবহার কর;
আর তার কাজ অনুসারে দ্বিগুণ, দ্বিগুণ প্রতিফল তাকে দাও;
সে যে পাত্রে পানীয় প্রস্তুত করতো,
সেই পাত্রে তার জন্য দ্বিগুণ পরিমাণে পানীয় প্রস্তুত কর।
7
সে যত নিজেকে মহিমান্বিত করতো ও বিলাসিতা করতো,
তাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দাও।
কেননা সে মনে মনে বলছে,
আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসে আছি;
আমি বিধবা নই,
কোন মতে শোক দেখবো না।
8
এজন্য একই দিনে তার আঘাতগুলো উপস্থিত হবে,
সেগুলো হল মৃত্যু, শোক ও দুর্ভিক্ষ,
এবং তাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে,
কারণ তার বিচারকর্তা প্রভু আল্লাহ্ শক্তিমান।
9
আর দুনিয়ার যেসব বাদশাহ্ তার সঙ্গে জেনা করতো,
তার সঙ্গে বিলাসিতায় বাস করতো,
তারা তার দাহের ধোঁয়া দেখে তার জন্য কান্নাকাটি করবে ও বুকে
করাঘাত করবে;
10
তার যন্ত্রণার ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে তারা বলবে,
হায়! হায়! সেই মহানগরী!
ব্যাবিলন, সেই পরাক্রান্ত নগরী!
কারণ এক ঘণ্টার মধ্যেই তোমার বিচার উপস্থিত!
11
আর দুনিয়ার বণিকেরা তার জন্য কান্নাকাটি ও মাতম করছে; কারণ তাদের বাণিজ্য-দ্রব্য কেউ আর ক্রয় করে না;
12 এসব বাণিজ্য-দ্রব্য — সোনা, রূপা, বহু-মূল্য মণি, মুক্তা, মসীনার কাপড়, বেগুনিয়া কাপড়, রেশমী কাপড়, লাল রংয়ের কাপড়; সমস্ত রকম চন্দন কাঠ, হাতির দাঁতের সমস্ত রকম পাত্র, বহুমূল্য কাঠের ও ব্রোঞ্জের লোহার ও মর্মরের সমস্ত রকম পাত্র,
13 এবং দারুচিনি, এলাচি, ধূপ, সুগন্ধি লেপ্যদ্রব্য, কুন্দুরু, আঙ্গুর-রস, তেল, উত্তম সুজি ও গম, পশু ও ভেড়া; এবং ঘোড়া, রথ ও গোলাম ও মানুষের প্রাণ।
14
আর তোমার প্রাণ যে সমস্ত ফল কামনা করতো,
তা তোমার কাছ থেকে দূর হয়েছে,
এবং তোমার সমস্ত ধন ও জাঁকজমক বিনষ্ট হয়েছে;
লোকে তা আর কখনও পাবে না।
15
ঐ সকলের যে বণিকেরা তার ধনে ধনবান হয়েছিল, তারা তার যন্ত্রণার ভয়ে দূরে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি ও মাতম করতে করতে বলবে,
16
হায়! হায়! সেই মহানগরীর দুর্ভাগ্য,
যে মসীনা-কাপড়, বেগুনি কাপড়,
ও লাল রংয়ের কাপড় পরা ছিল,
এবং সোনা ও বহুমূল্য মণি মুক্তায় ভূষিত ছিল!
17
কারণ এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মহা সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গেল। আর প্রত্যেক প্রধান কর্মকর্তা ও সমুদ্রপথে যে কেউ যাতায়াত করে এবং মাল্লারা ও সমুদ্রের ব্যবসায়ীরা সকলে দূরে দাঁড়িয়ে থাকল,
18 এবং তার দাহের ধোঁয়া দেখে চিৎকার করে বললো, আর কোন্ নগর আছে এই মহানগরীর মত?
19 আর তারা মাথায় ধূলা ছড়িয়ে কান্নাকাটি ও মাতম করতে করতে চিৎকার বলতে লাগল,
হায়! হায়! সেই মহানগরীর দুর্ভাগ্য,
যার ঐশ্বর্য দ্বারা সমুদ্রগামী জাহাজের কর্তারা সকলে ধনবান হত;
কারণ এক ঘণ্টার মধ্যেই সে ধ্বংস হয়ে গেল।
20
হে বেহেশত আনন্দ কর,
হে পবিত্র লোকেরা, হে প্রেরিতেরা, নবীরা,
তোমরা তার বিষয়ে আনন্দ কর;
কেননা সে তোমাদের প্রতি যে অন্যায় করেছে,
আল্লাহ্ তার প্রতিকার করেছেন।
21
পরে এক শক্তিমান ফেরেশতা বড় এক পাটি জাঁতার মত একখানি পাথর নিয়ে সাগরে নিক্ষেপ করে বললেন,
এর মত মহানগরী ব্যাবিলন মহাবলে নিপাতিত হবে,
আর কখনও তার উদ্দেশ পাওয়া যাবে না।
22
বীণাবাদকদের, গায়কদের এবং যারা বাঁশী বাজায় ও তূরী বাজায়
তাদের ধ্বনি তোমার মধ্যে আর কখনও শোনা যাবে না;
এবং আর কখনও কোন রকম শিল্পকারকে তোমার মধ্যে পাওয়া
যাবে না;
এবং যাঁতার আওয়াজ আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না;
23
এবং প্রদীপের শিখা আর কখনও তোমার মধ্যে জ্বলবে না;
এবং বর কন্যার আওয়াজ আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না;
কারণ তোমার বণিকেরা দুনিয়ার সম্ভ্রান্ত ছিল,
কারণ তোমার মায়াশক্তিতে সমস্ত জাতি ভ্রান্ত হত।
24
আর নবী ও পবিত্র লোকদের রক্ত
এবং যত লোক দুনিয়াতে হত হয়েছে,
সেই সবের রক্ত এর মধ্যে পাওয়া গেল।
1
এই সকলের পরে আমি যেন বেহেশতে স্থিত বিশাল জনসমাগমের মহাধ্বনি শুনলাম, তারা বলছে—
হাল্লিলূয়া!
নাজাত ও মহিমা ও পরাক্রম আমাদের আল্লাহ্রই;
2
কেননা তাঁর বিচারাজ্ঞাগুলো সত্য ও ন্যায্য;
কারণ যে মহাবেশ্যা তার বেশ্যাক্রিয়া দ্বারা দুনিয়াকে ভ্রষ্ট করতো,
তিনি তার বিচার করেছেন,
তার হাত থেকে তাঁর গোলামদের
রক্তপাতের পরিশোধ নিয়েছেন।
3
পরে তারা দ্বিতীয়বার বললো,
হাল্লিলূয়া!
আর যুগপর্যায়ের যুগে যুগে সেই পতিতার ধোঁয়া উঠছে।
4
পরে সেই চব্বিশজন প্রাচীন ও চার প্রাণী ভূমিতে উবুড় হয়ে সিংহাসনে উপবিষ্ট আল্লাহ্র এবাদত করলেন, বললেন,
আমিন। হাল্লিলূয়া!
5
পরে সেই সিংহাসন থেকে এই বাণী বের হল,
হে আল্লাহ্র গোলামেরা,
তোমরা যারা তাঁকে ভয় কর,
তোমরা ক্ষুদ্র বা মহান সকলে আমাদের আল্লাহ্র
প্রশংসা-গজল কর।
6
পরে আমি বড় লোকারণ্যের কোলাহল ও অনেক পানির কল্লোল ও প্রবল মেঘ-গর্জনের মত এই বাণী শুনলাম,
হাল্লিলূয়া!
কেননা আমাদের আল্লাহ্ প্রভু,
যিনি সর্বশক্তিমান, তিনি রাজত্ব গ্রহণ করলেন।
7
এসো, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি
এবং তাঁকে গৌরব প্রদান করি,
কারণ মেষশাবকের বিয়ে উপস্থিত হল
এবং তাঁর ভার্যা নিজেকে প্রস্তুত করলো।
8
আর তাকে এই বর দেওয়া হল যে,
সে উজ্জ্বল ও পবিত্র মসীনার কাপড়ে নিজেকে সজ্জিত করে,
কারণ সেই মসীনার কাপড় পবিত্র লোকদের ধর্মময়তা।
9
পরে তিনি আমাকে বললেন, তুমি এই কথা লেখ, ধন্য তারা, যারা মেষশাবকের বিয়ের ভোজে দাওয়াত পেয়েছে। আবার তিনি আমাকে বললেন, এসব আল্লাহ্র সত্য কালাম।
10 তখন আমি তাঁকে সেজ্দা করার জন্য তাঁর পায়ে পড়লাম। তাতে তিনি আমাকে বললেন, দেখো, এমন কাজ করো না; আমি তোমার সহগোলাম এবং তোমার যে ভাইয়েরা ঈসার সাক্ষ্য ধারণ করে, তাদেরও সহগোলাম; আল্লাহ্কেই সেজ্দা কর; কেননা ঈসার যে সাক্ষ্য, তা-ই ভবিষ্যদ্বাণীর রূহ্।
11
পরে আমি দেখলাম, বেহেশত খুলে গেল, আর দেখ, সাদা রংয়ের একটি ঘোড়া; যিনি তার উপরে বসে আছেন, তিনি বিশ্বাস্য ও সত্যময় নামে আখ্যাত এবং তিনি ধর্মশীলতায় বিচার ও যুদ্ধ করেন।
12 তাঁর চোখ আগুনের শিখা এবং তাঁর মাথায় অনেক রাজমুকুট; এবং তাঁর একটি লেখা নাম আছে, যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ জানে না।
13 আর তিনি রক্তে ডুবানো কাপড় পরা; এবং “আল্লাহ্র কালাম”— এই নামে আখ্যাত।
14 আর বেহেশতের সৈন্যরা তাঁর পিছনে পিছনে যায়, তারা সাদা রংয়ের ঘোড়ায় আরোহী এবং সাদা পবিত্র মসীনার কাপড় পরা।
15 আর তাঁর মুখ থেকে একটি ধারালো তরবারি বের হয়, যেন তা দ্বারা তিনি জাতিদেরকে আঘাত করেন; আর তিনি লোহার দণ্ড দ্বারা তাদেরকে শাসন করবেন; এবং তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র প্রচণ্ড গজবরূপ আঙ্গুরের কুণ্ড দলন করেন।
16 আর তাঁর পরিচ্ছদে ও ঊরুদেশে এই নাম লেখা আছে—
“বাদশাহ্দের বাদশাহ্ ও প্রভুদের প্রভু।”
17
পরে আমি দেখলাম, এক জন ফেরেশতা সূর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন; আর তিনি জোরে চিৎকার করে, আসমানের মধ্যপথে যেসব পাখি উড়ে যাচ্ছে তাদের সবাইকে বললেন, এসো, আল্লাহ্র মহা-ভোজে জমায়েত হও,
18 যেন বাদশাহ্দের গোশ্ত, সহস্রপতিদের গোশ্ত, শক্তিমান লোকদের গোশ্ত, ঘোড়াগুলোর ও ঘোড়-সওয়ারদের গোশ্ত এবং স্বাধীন ও গোলাম, ক্ষুদ্র ও মহান সকল মানুষের গোশ্ত ভোজন কর।
19
পরে আমি দেখলাম, ঐ ঘোড়সওয়ার ব্যক্তি ও তাঁর সৈন্যের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সেই পশু ও দুনিয়ার বাদশাহ্রা ও তাদের সৈন্যেরা একত্র হল।
20 তাতে সেই পশু ধরা পড়লো এবং যে ভণ্ড নবী তার সাম্মুখে চিহ্ন-কাজ করে পশুর চিহ্নধারী ও তার মূর্তির এবাদতকারীদের ভ্রান্তি জন্মাত, সেও তার সঙ্গে ধরা পড়লো; তারা উভয়ে জীবন্তই জ্বলন্ত গন্ধকের আগুনের হ্রদে নিক্ষিপ্ত হল।
21 আর অবশিষ্ট সকলে সেই ঘোড়সওয়ার ব্যক্তির মুখ থেকে বের হওয়া তরবারি দ্বারা হত হল; এবং সমস্ত পাখি তাদের মাংসে তৃপ্ত হল।
1
পরে আমি বেহেশত থেকে এক জন ফেরেশতাকে নেমে আসতে দেখলাম, তাঁর হাতে অতল গহ্বরের চাবি এবং বড় একটি শিকল ছিল।
2 তিনি সেই নাগকে ধরলেন; এই সেই পুরানো সাপ, ইবলিস [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ]; তিনি তাকে এক হাজার বছরের জন্য বাঁধলেন,
3 আর তাকে অতল গহ্বরের মধ্যে ফেলে দিয়ে সেই স্থানের মুখ বন্ধ করে তা সীলমোহর করলেন, যেন এক হাজার বছর সমপূর্ণ না হলে সে জাতিবৃন্দকে আর ভ্রান্ত করতে না পারে; তারপর অল্পকালের জন্য তাকে মুক্ত হতে হবে।
4
পরে আমি কয়েকটি সিংহাসন দেখলাম; সেগুলোর উপরে কেউ কেউ বসলেন, তাঁদেরকে বিচার করার ভার দেওয়া হল। আর ঈসার সাক্ষ্য ও আল্লাহ্র কালামের জন্য যারা কুঠার দ্বারা হত হয়েছিল এবং যারা সেই পশুকে ও তার মূর্তির পূজা করে নি, আর নিজ নিজ ললাটে ও হাতে তার চিহ্ন ধারণ করে নি তাদের প্রাণও দেখলাম; তারা জীবিত হয়ে হাজার বছর মসীহের সঙ্গে রাজত্ব করলেন।
5 যে পর্যন্ত সেই হাজার বছর সমাপ্ত না হল, সেই পর্যন্ত অবশিষ্ট মৃতেরা জীবিত হল না।
6 এটিই প্রথম পুনরুত্থান। যে কেউ এই প্রথম পুরুত্থানের অংশী হয়, সে ধন্য ও পবিত্র; তাদের উপরে দ্বিতীয় মৃত্যুর কোন কর্তৃত্ব নেই; কিন্তু তারা আল্লাহ্ ও মসীহের ইমাম হবে এবং সেই হাজার বছর তাঁর সঙ্গে রাজত্ব করবে।
7
সেই হাজার বছর সমাপ্ত হলে শয়তানকে তার কারাগার থেকে মুক্ত করা যাবে।
8 তাতে সে “দুনিয়ার চার কোণে অবস্থিত জাতিদেরকে, ইয়াজুজ ও মাজুজকে” ভ্রান্ত করে যুদ্ধে একত্র করার জন্য বের হবে; তাদের সংখ্যা সমুদ্রের বালুকণার মত।
9 তারা বিস্তীর্ণ দুনিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে পবিত্র লোকদের শিবির এবং প্রিয় নগরটি ঘেরাও করলো; তখন বেহেশত থেকে আগুন পড়ে তাদের গ্রাস করলো।
10 আর তাদের ভ্রান্তিজনক ইবলিসকে আগুন ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল, যেখানে ঐ পশু ও ভণ্ড নবীরাও আছে; আর তারা যুগের পর যুগ ধরে সেখানে দিনরাত যন্ত্রণা ভোগ করবে।
11
পরে আমি একটি বড় সাদা রংয়ের সিংহাসন ও যিনি তার উপরে বসে আছেন, তাঁকে দেখতে পেলাম; তাঁর সম্মুখ থেকে আসমান ও জমিন পালিয়ে গেল; তাদের জন্য আর স্থান পাওয়া গেল না।
12 আর আমি দেখলাম, ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে; পরে কয়েকখানি কিতাব খোলা হল এবং আর একখানি কিতাব, অর্থাৎ জীবন-কিতাব খোলা হল এবং মৃতদের কিতাবগুলোতে যেমন লেখা হয়েছিল তাদের সেই কাজ অনুসারে বিচার করা হল।
13 আর সমুদ্র তার মধ্যবর্তী মৃতদেরকে তুলে দিল এবং মৃত্যু ও পাতাল তাদের মধ্যবর্তী মৃতদেরকে তুলে দিল এবং তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ কাজ অনুসারে বিচার করা হল।
14 পরে মৃত্যু ও পাতালকে আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল; এই আগুনের হ্রদই হল দ্বিতীয় মৃত্যু।
15 আর জীবন-কিতাবে যার নাম লেখা পাওয়া গেল না, তাকে আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল।”
1
পরে আমি একটি নতুন আসমান ও একটি নতুন দুনিয়া দেখলাম; কেননা প্রথম আসমান ও প্রথম দুনিয়া বিলুপ্ত হয়েছে এবং সমুদ্র আর ছিল না।
2
আর আমি দেখলাম, পবিত্র নগরী, নতুন জেরুশালেম, বেহেশত থেকে, আল্লাহ্র কাছ থেকে নেমে আসছে; সে তার বরের জন্য সুসজ্জিত কনের মত প্রস্তুত হয়েছিল।
3 পরে আমি সিংহাসন থেকে জোরে এই কথা বলতে শুনলাম,
দেখ, মানুষের সঙ্গে আল্লাহ্র আবাস;
তিনি তাদের সঙ্গে বাস করবেন
তারা তাঁর লোক হবে।
আল্লাহ্ নিজে তাদের সঙ্গে থাকবেন
ও তাদের আল্লাহ্ হবেন।
4
আর তিনি তাদের চোখের সমস্ত পানি মুছে দেবেন;
মৃত্যু আর হবে না;
শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথাও আর হবে না;
কারণ প্রথম বিষয়গুলো বিলুপ্ত হল।
5
আর যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, তিনি বললেন, দেখ, আমি সকলই নতুন করে তৈরি করছি। পরে তিনি বললেন, লেখ, কেননা এসব কথা বিশ্বাসযোগ্য ও সত্য।
6 পরে তিনি আমাকে বললেন, হয়েছে; আমি আল্ফা এবং ওমেগা আদি এবং অন্ত; যে পিপাসিত, আমি তাকে জীবন-পানির ফোয়ারা থেকে বিনামূল্যে পানি দেব।
7 যে জয় করে, সে এই সবকিছুর অধিকারী হবে; এবং আমি তার আল্লাহ্ হব ও সে আমার পুত্র হবে।
8 কিন্তু যারা ভীরু, অবিশ্বাসী, ঘৃণার যোগ্য, নরহন্তা, পতিতাগামী, মায়াবী, মূর্তিপূজক তাদের এবং সমস্ত মিথ্যাবাদীর স্থান হবে আগুন ও গন্ধকে জ্বলন্ত হ্রদে; এটিই দ্বিতীয় মৃত্যু।
9
আর যে সাত জন ফেরেশতার কাছে সাতটি শেষ আঘাতে পরিপূর্ণ সাতটি বাটি ছিল, তাঁদের মধ্যে এক জন ফেরেশতা এসে আমার সঙ্গে আলাপ করে বললেন, এসো, আমি তোমাকে সেই কনেকে, মেষশাবকের ভার্যাকে দেখাই।
10 পরে তিনি রূহে আমাকে একটি উঁচু মহাপর্বতে নিয়ে গিয়ে পবিত্র নগরী জেরুশালেমকে দেখালেন, সেটি বেহেশত থেকে, আল্লাহ্র কাছ থেকে নেমে আসছিল।
11 সেটি আল্লাহ্র মহিমা-বিশিষ্ট; তার উজ্জ্বলতা বহুমূল্য মণির, স্ফটিকের মত নির্মল সূর্যকান্তমণির মত।
12 সেই নগরের একটি বড় ও উঁচু প্রাচীর আছে এবং বারোটি তোরণদ্বার আছে। সেসব তোরণদ্বারে বারোজন ফেরেশতা থাকেন। সেই সব তোরণদ্বারে বনি-ইসরাইলদের বারো বংশের নাম লেখা আছে।
13 তোরণদ্বারগুলোর মধ্যে আছে পূর্ব দিকে তিনটি দ্বার, উত্তর দিকে তিনটি দ্বার, দক্ষিণ দিকে তিনটি দ্বার ও পশ্চিম দিকে তিনটি দ্বার।
14 আর নগরের প্রাচীরের বারোটি ভিত্তিমূল আছে, সেগুলোর উপরে মেষশাবকের বারো জন প্রেরিতের বারোটি নাম লেখা আছে।
15
আর যিনি আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন, তাঁর হাতে ঐ নগর ও তার তোরণদ্বারগুলো ও তার প্রাচীর মাপবার জন্য একটি সোনার নল ছিল।
16 ঐ নগরটি চারকোনা বিশিষ্ট— লম্বা ও চওড়ায় সমান। আর তিনি সেই নল দ্বারা নগর মাপলে পর পনের শত মাইল হল; সেটি লম্বা, চওড়া ও উচ্চতা এক সমান।
17 পরে তার প্রাচীর মাপলে, মানুষের অর্থাৎ ফেরেশতার পরিমাপ অনুসারে একশত চুয়াল্লিশ হাত হল।
18 প্রাচীরের গাঁথুনি সূর্যকান্তমণির এবং নগর নির্মল কাচের মত পরিষ্কার করা সোনার তৈরি।
19 নগরের প্রাচীরের ভিত্তিমূলগুলো সব রকম মূল্যবান মণিতে ভূষিত; প্রথম ভিত্তিমূল সূর্যকান্তের, দ্বিতীয়টি নীলকান্তের, তৃতীয়টি তাম্রমণির, চতুর্থটি মরকতের,
20 পঞ্চমটি বৈদুর্যের, ষষ্ঠটি সার্দ্দীয় মণির, সপ্তমটি পোখরাজের, অষ্টমটি গোমেদকের, নবমটি পদ্মরাগের, দশমটি লশুনীয়ের, একাদশটি পেরোজের, দ্বাদশটি কটাহেলার।
21 আর বারোটি তোরণদ্বার বারোটি মুক্তা, এক একটি তোরণদ্বার এক একটি মুক্তা দিয়ে তৈরি হয়েছে; এবং নগরের চক স্বচ্ছ কাচের মত খাঁটি সোনার।
22
আর আমি নগরের মধ্যে কোন এবাদতখানা দেখলাম না; কারণ সর্বশক্তিমান প্রভু আল্লাহ্ এবং মেষশাবক স্বয়ং তার এবাদতখানাস্বরূপ।
23 সেই নগরে আলো দেবার জন্য সূর্য বা চন্দ্রের কোন প্রয়োজন নেই; কারণ আল্লাহ্র মহিমা তা আলোকময় করে এবং মেষশাবক তার প্রদীপস্বরূপ।
24 আর জাতিরা তার আলোতে চলাচল করবে; এবং দুনিয়ার বাদশাহ্রা তার মধ্যে নিজ নিজ মহিমা নিয়ে আসবেন।
25 ঐ নগরের তোরণদ্বারগুলো দিনের বেলা কখনও বন্ধ হবে না, বাস্তবিক সেখানে রাত আর হবে না।
26 আর সমস্ত জাতির মহিমা ও ঐশ্বর্য তার মধ্যে আনা হবে।
27 আর নাপাক কিছু অথবা ঘৃণ্য ও মিথ্যাচারী কেউ কখনও তাতে প্রবেশ করতে পারবে না; কেবল মেষ-শাবকের জীবন-কিতাবে যাদের নাম লেখা আছে, তারাই সেখানে প্রবেশ করবে।
1
আর তিনি আমাকে জীবন-পানির নদী দেখালেন, তা স্ফটিকের মত উজ্জ্বল, তা আল্লাহ্ ও মেষ-শাবকের সিংহাসন থেকে বের হয়ে সেখানকার চকের মধ্যস্থানে বইছে;
2 নদীর এপারে ও ওপারে জীবন-বৃক্ষ আছে তা বারো বার ফল উৎপন্ন করে, এক এক মাসে নিজ নিজ ফল দেয় এবং সেই গাছের পাতা সমস্ত জাতির সুস্থতার জন্য।
3 সেখানে কোন বদদোয়া আর থাকবে না। আল্লাহ্ ও মেষশাবকের সিংহাসন তার মধ্যে থাকবে এবং তাঁর গোলামেরা তাঁর এবাদত করবে,
4 ও তাঁর মুখ দর্শন করবে এবং তাঁর নাম তাদের ললাটে থাকবে।
5 সেখানে রাত আর হবে না এবং লোকদের আর প্রদীপের আলোর কিংবা সূর্যের আলোর প্রয়োজন হবে না, কারণ প্রভু আল্লাহ্ তাদেরকে আলোকিত করবেন এবং তারা যুগপর্যায়ের যুগে যুগে রাজত্ব করবে।
6
পরে তিনি আমাকে বললেন, এসব কথা বিশ্বাসযোগ্য ও সত্য। যা যা শীঘ্র ঘটবে তা তাঁর গোলামদেরকে দেখাবার জন্য প্রভু, নবীদের রূহ্ সকলের আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাকে প্রেরণ করেছেন।
7
আর দেখ, আমি শীঘ্রই আসছি; ধন্য সেই জন, যে এই কিতাবের ভবিষ্যদ্বাণীর কালামগুলো পালন করে।
8
আমি ইউহোন্না এ সব দেখলাম ও শুনলাম। এই সব দেখা ও শোনার পর, যে ফেরেশতা আমাকে এ সব দেখাচ্ছিলেন আমি সেজ্দা করার জন্য তাঁর পায়ে পড়লাম।
9 আর তিনি আমাকে বললেন, দেখো, এমন কাজ করো না; আমি তোমার সহগোলাম এবং তোমার ভাই নবীদের ও কিতাবে লেখা সব কথা পালনকারীদের সহগোলাম; আল্লাহ্কেই সেজ্দা কর।
10
আর তিনি আমাকে বললেন, তুমি এই কিতাবের ভবিষ্যদ্বাণীর সমস্ত কথা সীলমোহর করো না; কেননা সময় সন্নিকট।
11 যে অধর্মচারী, সে এর পরেও অধর্মের কাজ করুক; এবং যে কলুষিত, সে এর পরেও কলুষিত হোক; এবং যে ধার্মিক, সে এর পরেও সঠিক কাজ করুক; এবং যে পবিত্র, সে এর পরেও পবিত্র থাকুক।
12
দেখ, আমি শীঘ্র আসছি; এবং আমার দাতব্য পুরস্কার আমার সঙ্গে আছে, যার যেমন কাজ, তাকে তেমন ফল দেব।
13 আমি আলফা এবং ওমেগা, প্রথম ও শেষ, আদি এবং অন্ত।
14
ধন্য তারা, যারা নিজ নিজ পোশাক ধুয়ে ফেলে, যেন তারা জীবন-বৃক্ষের অধিকারী হয় এবং তোরণদ্বারগুলো দিয়ে নগরে প্রবেশ করে।
15 সমস্ত কুকুর, মায়াবী, বেশ্যাগামী, নরঘাতক ও মূর্তিপূজকেরা এবং যে কেউ মিথ্যা কথা ভালবাসে ও রচনা করে তারা বাইরে পড়ে আছে।
16
আমি ঈসা আমার ফেরেশতাকে পাঠালাম, যেন সে মণ্ডলীগুলোর জন্য তোমাদের কাছে এসব সাক্ষ্য দেয়। আমি দাউদের মূল ও বংশ, উজ্জ্বল প্রভাতী নক্ষত্র।
17
আর পাক-রূহ্ ও কন্যা বলছেন, এসো। যে শোনে, সেও বলুক, এসো। আর যে পিপাসিত, সে আসুক; যে ইচ্ছা করে, সে বিনামূল্যেই জীবন-পানি গ্রহণ করুক।
18 যারা এই কিতাবের ভবিষ্যদ্বাণীর সমস্ত কথা শোনে, তাদের প্রত্যেক জনের কাছে আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, যদি কেউ এর সঙ্গে আর কিছু যোগ করে, তবে আল্লাহ্ সেই ব্যক্তিতে এই কিতাবে লেখা সমস্ত আঘাত যোগ করবেন;
19 আর যদি কেউ এই ভবিষ্যদ্বাণীর কিতাবের কথা থেকে কিছু হরণ করে, তবে আল্লাহ্ এই কিতাবে লেখা জীবন-বৃক্ষ ও পবিত্র নগর থেকে তার অংশ হরণ করবেন।
20
যিনি এসব কথার সাক্ষ্য দেন, তিনি বলছেন, সত্যি, আমি শীঘ্র আসছি। আমিন; প্রভু ঈসা, এসো।
21 প্রভু ঈসার রহমত পবিত্র লোকদের সঙ্গে থাকুক। আমিন।